(খণ্ড: ১)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الطبقات الكبرى - متمم الصحابة - الطبقة الخامسة القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الجزء المتمم لطبقات ابن سعد (الطبقة الخامسة في من قبض رسول الله صلى الله عليه وسلم. وهم أحداث الأسنان)
المؤلف: محمد بن سعد بن منيع الزهري (ت 230 هـ)
المحقق: محمد بن صامل السلمي
(وكيل كلية الشريعة والدراسات الإسلامية بجامعة أم القرى)
أصل التحقيق: أطروحة دكتوراة، قسم الدراسات العليا التاريخية والحضارية، كلية الشريعة والدراسات الإسلامية، جامعة أم القرى، بإشراف د حسام الدين السامرائي، 1409 هـ
الناشر: مكتبة الصديق - الطائف
الطبعة: الأولى، 1414 هـ - 1993 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তাবাকাতুল কুবরা - সাহাবীদের পরিপূরক - পঞ্চম স্তর বিভাগ: জীবনী এবং স্তরসমূহ
গ্রন্থ: ইবনে সাদের তাবাকাতের পরিপূরক অংশ (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের সময় যারা জীবিত ছিলেন তাদের বিষয়ে পঞ্চম স্তর। এবং তারা ছিলেন অল্পবয়স্ক)
লেখক: মুহাম্মদ বিন সাদ বিন মানি আল-জুহরি (মৃত্যু ২৩০ হিজরি)
গবেষক/সম্পাদনা: মুহাম্মদ বিন সামিল আস-সুলামি
(উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের প্রতিনিধি)
সম্পাদনার উৎস: পিএইচডি থিসিস، উচ্চতর ঐতিহাসিক ও সভ্যতা শিক্ষা বিভাগ، শরীয়াহ ও ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ، উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়، ডক্টর হুসামুদ্দিন আস-সামাররাঈ-এর তত্ত্বাবধানে، ১৪০৯ হিজরি
প্রকাশক: মাকতাবাতুস সিদ্দিক - তায়েফ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৪ হিজরি - ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
المقدمة الحمد لله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، كما يحب ربنا ويرضى، ونستعينك اللهم استعانة العاجز المفتقر الذي يعلم أنه لا قوام له إلا بك، ونستهديك هداية توصلنا إلى رضوانك وسلوك صراطك المستقيم ونستغفرك لما أزلفنا من الخطأ والتقصير.
ونشكرك لما أنعمت به علينا وأمددتنا به من الخير الكثير، فأنت أهل لأن تُذكر فلا تُنْسى، وتطاع فلا تُعْصى، وتُشكر فلا تُكْفر.
والصلاة والسلام على الهادي البشير والسراج المنير، مُعَلِّمِ الإنسانية الخير، محمد بن عبد الله، أرسله ربه بالهدى ودين الحق ليظهره على الدين كله ولو كره الكافرون، فهدى الله به قلوبا غُلْفا، وعيونا عُمْيا، وآذانا صُمّا، وأخرج الله به هذه الأمة من الظلمات إلى النور، ومن الشتات والتفرق إلى التجمع والوحدة والاعتصام بحبل الله، ومن الجهل والضلال إلى العلم والإيمان، ومن الفوضى والسلب والغارات والحروب إلى الأمن والطمأنينة والنظام الشامل، ومن الفقر وحياة البداوة، إلى الغنى وبناء الدولة المستقرة، ومن عبادة الأوثان والطواغيت إلى عبادة الله رب العالمين، ومن تشريعات البشر الجائرة الناقصة إلى التشريع الإلهي الكامل العادل، ومن المناهج والأهواء المتضاربة إلى المنهج الرباني الشامل المُوَحَّد.
قال تعالى: {هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ (2)}
(1).
--------------------------------------------
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা, যেমনটি আমাদের প্রতিপালক পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন। হে আল্লাহ! আমরা আপনার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি সেই অক্ষম ও মুখাপেক্ষী ব্যক্তির ন্যায়, যে জানে যে আপনি ছাড়া তার কোনো অস্তিত্ব বা স্থায়িত্ব নেই। আমরা আপনার নিকট এমন হিদায়াত কামনা করি যা আমাদের আপনার সন্তুষ্টি এবং আপনার সরল সঠিক পথে চলার দিকে পৌঁছে দেয়; এবং আমরা আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি আমাদের পূর্বকৃত ভুলভ্রান্তি ও অবহেলার জন্য।
আমরা আপনার শুকরিয়া আদায় করছি সেই সকল নি’আমতের জন্য যা আপনি আমাদের দান করেছেন এবং যে প্রভূত কল্যাণ দ্বারা আপনি আমাদের ধন্য করেছেন। কেননা আপনিই এর যোগ্য যে আপনাকে স্মরণ করা হবে—কখনো বিস্মৃত হওয়া হবে না, আপনার আনুগত্য করা হবে—অবাধ্য হওয়া হবে না, এবং আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হবে—অকৃতজ্ঞ হওয়া হবে না।
দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক হিদায়াতকারী, সুসংবাদদাতা ও উজ্জ্বল প্রদীপ এবং মানবতার কল্যাণের শিক্ষক মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর ওপর। তাঁর প্রতিপালক তাঁকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি একে সকল দ্বীনের ওপর বিজয়ী করেন, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। অতঃপর আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে আচ্ছাদিত অন্তরসমূহকে হিদায়াত দান করেছেন, অন্ধ চোখসমূহকে দৃষ্টি এবং বধির কানসমূহকে শ্রবণশক্তি দান করেছেন। আল্লাহ তাঁর মাধ্যমে এই উম্মতকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে এনেছেন, বিক্ষিপ্ততা ও অনৈক্য থেকে বের করে এনে ঐক্য, সংহতি ও আল্লাহর রজ্জু শক্তভাবে আঁকড়ে ধরার দিকে নিয়ে এসেছেন, মূর্খতা ও পথভ্রষ্টতা থেকে জ্ঞান ও ঈমানের দিকে, অরাজকতা, লুণ্ঠন, আক্রমণ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ থেকে শান্তি, স্থৈর্য ও পূর্ণাঙ্গ ব্যবস্থার দিকে, দারিদ্র্য ও যাযাবর জীবন থেকে সচ্ছলতা ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র বিনির্মাণের দিকে, মূর্তি ও তাগুতের ইবাদত থেকে বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদতের দিকে, মানুষের তৈরি অবিচারমূলক ও অসম্পূর্ণ আইন থেকে মহান আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ ও ন্যায়নিষ্ঠ বিধানের দিকে, এবং পরস্পরবিরোধী মতাদর্শ ও প্রবৃত্তির অনুসরণ থেকে আল্লাহর দেওয়া একীভূত ও ব্যাপকতর জীবন ব্যবস্থার দিকে নিয়ে এসেছেন।
মহান আল্লাহ বলেন: “তিনিই নিরক্ষরদের মধ্য হতে একজন রাসূল পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের কাছে তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেন; যদিও ইতিপূর্বে তারা ঘোর পথভ্রষ্টতায় লিপ্ত ছিল।” (২)
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
ورضي الله عن أصحابه الكرام البررة، من المهاجرين، والأنصار، والذين اتبعوهم بإحسان، فقد أثنى عليهم ربهم بقوله: {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسَانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ}
(1).
ووصفهم بقوله: {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا}
(2).
وقال صلى الله عليه وسلم عنهم: "خيْرُ أُمَتِي قَرنِي ثم الذين يَلُونَهم ثم الذين يلونهم
… " الحديث
(3).
وأخرج أبو نعيم عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال: "إنّ الله نَظَرَ في قلوب العِبَادِ فاختار محمدًا صلى الله عليه وسلم فَبَعَثَهُ إلى خَلْقِه برسالَتِهِ، وانتخبه
--------------------------------------------
এবং আল্লাহ তাঁর সম্মানিত ও পুণ্যবান সাহাবীগণের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন—যারা মুহাজির, আনসার এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন। কেননা তাঁদের প্রতিপালক তাঁদের প্রশংসা করে বলেছেন: {আর যারা মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে প্রথম অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন; আর তিনি তাঁদের জন্য এমন জান্নাত প্রস্তুত করেছেন যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটিই মহাসাফল্য।}
(১).
এবং তিনি তাঁদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; আর তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে সহানুভূতিশীল। আপনি তাঁদের রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাঁদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্নের প্রভাব বিদ্যমান। তাওরাতে তাঁদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইনজিলে তাঁদের দৃষ্টান্ত হলো একটি চারাগাছের মতো, যা থেকে অঙ্কুর বের হয়, অতঃপর তা একে শক্তিশালী করে, ফলে তা পুষ্ট হয় এবং নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে দাঁড়ায়, যা কৃষকদের আনন্দ দেয়, যেন তিনি তাঁদের মাধ্যমে কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাঁদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাঁদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।}
(২).
এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের সম্পর্কে বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম যুগ হচ্ছে আমার যুগ, এরপর যারা তাদের পরবর্তী, এরপর যারা তাদের পরবর্তী..." হাদীস
(৩).
আবু নুয়াইম আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের অন্তরের দিকে লক্ষ্য করেছেন, অতঃপর তিনি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করেছেন এবং তাঁকে তাঁর রিসালাত দিয়ে তাঁর সৃষ্টির নিকট প্রেরণ করেছেন, এবং তাঁকে নির্বাচিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
بعلمه، ثم نظر في قلوبِ النّاسِ بَعْدَهُ فاختار اللهُ لَهُ أصحابًا فجعلهم أنصار دِينِهِه ووزراء نبيه صلى الله عليه وسلم"
(1).
وقال ابن مسعود أيضا: "من كان مُسْتَنًّا فليستَنَّ بِمَنْ قَدْ مَاتَ، فَإِنَّ الحي لا تُؤْمن عليه الفتنة، أولئك أصحاب محمد صلى الله عليه وسلم، كانوا أفضل هذه الأمة: أبرها قلوبا وأعمقها علما، وأقلها تكلفا، اختارهم الله لصحبة نبيه، ولإقامة دينه، فاعرفوا لهم فضلهم، واتَّبِعُوهم على أثرهم، وتمسكوا بما استطعتم مِنْ أخلاقهم وسيرهم، فإنّهم كانوا على الهدى المستقيم"
(2).
فهذه النصوص من الكتاب، والسنة، وأقوال علماء الصحابة رضي الله عنهم، توضح سمات ذلك الجيل الفريد، الذي تربى في أحضان النبوة، وعلى تعاليم الوحي، فكان جيلا فاضلا، وأمة فريدة، هي بحق خير أمة أخرجت للناس.
إنه جيل النصر وثلة الخير، وأئمة الدعوة، وجيل القدوة، والأسوة، والمُثل السامقة والمشرقة في تاريخ الإنسانية الطويل، فلقد احتل الصحابة رضوان الله عليهم بعد الأنبياء عليهم السلام، الصدارة، والقيادة، في موكب البشرية جمعاء، ولهذا جعلهم المولى سبحانه وتعالى المثل الأعلى الذي تطمح البشرية إلى الوصول إلى مستواه، {وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا}
(3) وقال: {كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ} الآية
(4) والصحابة هم أول من يدخل في هذا الوصف والخطاب، ولا يعرف عظمة جيل الصحابة إلا من قرأ سيرتهم وتابع حركتهم في نشر الإسلام والعمل به.
--------------------------------------------
তাঁর ইলম দিয়ে। অতঃপর তিনি মানুষের অন্তরের দিকে দৃষ্টিপাত করলেন এবং তাঁর জন্য সাহাবীদের বেছে নিলেন। ফলে তিনি তাঁদেরকে তাঁর দ্বীনের সাহায্যকারী এবং তাঁর নবীর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত করলেন
(১).
ইবনে মাসউদ আরও বলেন: "যে ব্যক্তি অনুসরণ করতে চায়, সে যেন তাদের অনুসরণ করে যারা ইন্তেকাল করেছেন, কারণ জীবিত ব্যক্তি ফিতনা থেকে নিরাপদ নয়। তাঁরা হলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। তাঁরা এই উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন: তাঁদের অন্তর ছিল সবচেয়ে পবিত্র, তাঁদের জ্ঞান ছিল সবচেয়ে গভীর এবং তাঁদের কৃত্রিমতা ছিল সবচেয়ে কম। আল্লাহ তাঁদেরকে তাঁর নবীর সাহচর্য এবং তাঁর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য মনোনীত করেছেন। অতএব, তোমরা তাঁদের মর্যাদা অনুধাবন করো, তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করো এবং সাধ্যমতো তাঁদের চরিত্র ও জীবনপদ্ধতি আঁকড়ে ধরো। নিশ্চয়ই তাঁরা সঠিক হিদায়াতের ওপর ছিলেন"
(২).
কিতাব, সুন্নাহ এবং সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের আলেমদের এই বাণীসমূহ সেই অনন্য প্রজন্মের বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট করে, যাঁরা নবুওয়াতের ছায়াতলে এবং ওহীর শিক্ষার ওপর লালিত-পালিত হয়েছিলেন। ফলে তাঁরা এক শ্রেষ্ঠ প্রজন্ম এবং এক অনন্য জাতিতে পরিণত হয়েছিলেন, যাঁরা প্রকৃতপক্ষে মানুষের জন্য প্রেরিত সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি।
এটি ছিল বিজয়ের প্রজন্ম, কল্যাণের এক দল, দাওয়াতের ইমাম এবং মানবজাতির দীর্ঘ ইতিহাসে আদর্শ, অনুকরণীয় এবং সুউচ্চ ও উজ্জ্বল এক অনন্য দৃষ্টান্ত। আম্বিয়া আলাইহিমুস সালামের পর সাহাবীগণ রাদিয়াল্লাহু আনহুম সমগ্র মানবজাতির কাফেলায় শীর্ষস্থান ও নেতৃত্ব দখল করেছিলেন। এ কারণেই মহান রব সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁদেরকে সেই সর্বোচ্চ আদর্শ বানিয়েছেন যার স্তরে পৌঁছানোর জন্য মানবজাতি আকাঙ্ক্ষা করে, "আর এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী জাতি বানিয়েছি, যাতে তোমরা মানুষের ওপর সাক্ষী হও এবং রাসূল তোমাদের ওপর সাক্ষী হন"
(৩) এবং তিনি বলেছেন: "তোমরাই হলে সর্বোত্তম জাতি যাদের মানুষের (কল্যাণের) জন্য বের করা হয়েছে" আয়াত
(৪)। আর সাহাবীগণই সর্বপ্রথম এই বর্ণনা ও সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত। সাহাবী প্রজন্মের মাহাত্ম্য কেবল তারাই অনুধাবন করতে পারবে যারা তাঁদের জীবনী পাঠ করেছে এবং ইসলাম প্রচার ও তার ওপর আমল করার ক্ষেত্রে তাঁদের কর্মতৎপরতা অনুসরণ করেছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
إن المتأمل في تاريخ الصحابة رضي الله عنهم، ليرى إخلاصهم، وصدق إيمانهم، ومحبتهم لله ولرسوله صلى الله عليه وسلم، وأنهم قد بلغوا في ذلك درجة لم يبلغها أحد ممن بعدهم، مع تقيدهم بنصوص الوحي، "كتاب وسنة" ووقوفهم عندها، ومتابعتهم لها، فلا يتقدمون بين يدي الله ورسوله، برأي، أو عادة، أو تقليد، أو رغبة وشهوة، ولا يُحدِثون أمرا إلا بعد التلقي عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، ومعرفة أمره ونهيه، كما يَرَى حَمَاسَهم، وعُلُوّ هِمَمهم، ورغبتهم القوية في نشر الدين والجهاد في سبيل الله والقيام بواجب الأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، وهذه الخصال الثلاث (الإخلاص والمتابعة والهمة العالية) هي أساس وجود العمل وصلاحه، وعناصر الإحسان والبناء الحضاري المُثْمِر والنافع، ولذا فإنه لا يَخْطُر ببالهم المساومة على العقيدة وحرماتها، ولا الموازنة بينها وبين غيرها، لأنهم قد انْصَبَعُوا بالصبغة الربانية، والتعاليم النبوية حتى كأن أحدهم في تَحَرُّكِهِ وعمله، قرآن يُتْلَى وَسُنّة تُحْتَذَى، ومثل واقعية في حركة أشخاص يَدُبّون على الأرض، ورغبتهم في الآخرة وتعلقهم بها أعلى من وجودهم المادي، حتى كأن أنفسهم قد خرجت من حصّ أنفسهم الدنيوي، كما يرى أثرهم القيادي والمؤثر في تاريخ البشرية وتوجيهها إلى منهج الله وبناء الحضارة على مقتضى ذلك.
"وبهذا كانوا مَوْضِعَ محبّة كل مؤمن جاء بعدهم، وعرف كل مسلم لهم فضلهم ومنتهم، وأنهم سبب في وصول نعمة الإيمان والإسلام إليه، فينطق جَنَانه ولسانه بما عَلّمه ربه نحوهم {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنَا وَلِإِخْوَانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونَا بِالْإِيمَانِ وَلَا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنَا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا إِنَّكَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ}
(1) إذ لا يطعن في الصحابة إلا ذو غلّ في قلبه ودغل في عقيدته ودينه وكراهية لما بلغوه من هذا الدين العظيم - نعوذ
--------------------------------------------
সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর ইতিহাসের প্রতি মনোযোগী পর্যবেক্ষক অবশ্যই তাঁদের নিষ্ঠা, ঈমানের সত্যতা এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি তাঁদের ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করবেন। তাঁরা এই ক্ষেত্রে এমন এক স্তরে পৌঁছেছিলেন যেখানে তাঁদের পরবর্তী কেউ পৌঁছাতে পারেনি। সেইসাথে তাঁরা ওহীর ভাষ্য—"কিতাব ও সুন্নাহ"—দ্বারা সীমাবদ্ধ ছিলেন, সেগুলোর ওপর অটল ছিলেন এবং সেগুলোর অনুসরণ করতেন। তাঁরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তের আগে নিজেদের কোনো মতামত, প্রথা, অন্ধ অনুসরণ কিংবা খেয়াল-খুশি ও প্রবৃত্তিকে স্থান দিতেন না। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ জানার আগে কোনো বিষয় উদ্ভাবন করতেন না। একইভাবে পর্যবেক্ষক তাঁদের উদ্দীপনা, সুউচ্চ হিম্মত এবং দ্বীন প্রচার, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের আবশ্যিক দায়িত্ব পালনে তাঁদের প্রবল আকাঙ্ক্ষা দেখতে পাবেন। এই তিনটি বৈশিষ্ট্য (নিষ্ঠা, অনুসরণ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা) হলো আমলের অস্তিত্ব ও তার বিশুদ্ধতার ভিত্তি এবং ইহসান ও ফলপ্রসূ ও উপকারী সভ্যতা বিনির্মাণের উপাদান। একারণেই আকিদা এবং এর পবিত্রতার বিষয়ে আপস করার কথা তাঁদের মনেও আসত না, কিংবা আকিদা ও অন্য কিছুর মধ্যে তাঁরা কোনো তুলনা বা ভারসাম্য করতেন না। কারণ তাঁরা রব্বানী রঙে এবং নববী শিক্ষায় এমনভাবে রঞ্জিত হয়েছিলেন যে, তাঁদের চলাফেরা ও কাজকর্মে মনে হতো যেন তাঁরা একেকজন পঠিত কুরআন এবং অনুসরণযোগ্য সুন্নাহ। তাঁরা ছিলেন পৃথিবীর বুকে বিচরণকারী ব্যক্তিবর্গের বাস্তব নমুনা। আখিরাতের প্রতি তাঁদের আকাঙ্ক্ষা এবং আসক্তি তাঁদের পার্থিব অস্তিত্বের চেয়েও ঊর্ধ্বে ছিল, যেন তাঁদের আত্মা তাঁদের দুনিয়াবী খোলস থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও মানব ইতিহাসে তাঁদের নেতৃত্ব ও প্রভাবশালী ভূমিকা এবং মানবজাতিকে আল্লাহর মানহাজের দিকে পরিচালিত করা ও তদনুযায়ী সভ্যতা বিনির্মাণে তাঁদের অবদান প্রত্যক্ষ করা যায়।
"এভাবেই তাঁরা তাঁদের পরবর্তী প্রত্যেক মুমিনের ভালোবাসার পাত্রে পরিণত হয়েছেন। প্রত্যেক মুসলিম তাঁদের মর্যাদা ও অনুগ্রহের কথা স্বীকার করে এবং জানে যে তাঁরাই তাদের নিকট ঈমান ও ইসলামের নেয়ামত পৌঁছানোর মাধ্যম। ফলে মুমিনের অন্তর ও জিহ্বা তাঁদের প্রতি সেই কথাই উচ্চারণ করে যা তার রব তাকে শিখিয়েছেন: {আর যারা তাদের পরে এসেছে তারা বলে: হে আমাদের রব! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের সাথে আমাদের আগে অতিক্রান্ত হয়েছেন, আর যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের রব! নিশ্চয় আপনি অত্যন্ত স্নেহশীল, পরম দয়ালু।}
(১) কেননা সাহাবায়ে কেরামের সমালোচনা কেবল সেই ব্যক্তিই করে যার অন্তরে বিদ্বেষ রয়েছে এবং যার আকিদা ও দ্বীনে কপটতা আছে, আর ঘৃণা পোষণ করে সেই মহান দ্বীনের প্রতি যা তাঁরা পৌঁছে দিয়েছেন—আমরা আশ্রয় প্রার্থনা করছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
بالله من الخذلان
(1) - وفي هذا يقول أبو زرعة الرازي: "إذا رأيت الرجل ينتقص أحدا أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم فاعلم أنه زنديق، وذلك أن من الرسول عندنا حق، والقرآن حق، وإنما أدى إلينا هذا القرآن والسنن أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما يريدون أن يجرحوا شهودنا ليبطلوا الكتاب والسنة، والجرح بهم أولى وهم زنادقة"
(2).
ولأجل هذه المعاني والسمات وغيرها في تاريخ الصحابة رضي الله عنهم مع مالهم على المسلمين من الحق الواجب الرعاية، فإنه يتوجب على الدارسين، العناية بتاريخهم، والتعرف على فضائلهم وجهادهم وجهودهم في نشر الدين وتحقيق ذلك وتنقيته مما أُدْخِل عليه من أصحاب الأهواء والأغراض، حتى يبقى مشرقًا صالحًا للأسوة والقدوة كما هو الواقع الحقيقي.
ومساهمة مِنّي في هذا الميدان، اخترت تحقيق ودراسة "الطبقة الخامسة من طبقات الصحابة" في كتاب الطبقات الكبرى لأبي عبد الله محمد بن سعد كاتب الواقدي ليكون موضوع الرسالة التي أتقدم بها للحصول على درجة "الدكتوراه" في التاريخ الإسلامي، وهذه الطبقة لم يسبق نشرها، فقد سقطت من الطبعات السابقة لكتاب الطبقات الكبرى، ولا شك أن نشرها يُسهم في إكمال واحدٍ من أهم وأقدم كتبنا التراثية، بل ربما كان أقدم كتاب وصل إلينا في علم الطبقات وتراجم الصحابة - لا تكاد تخلو منه مكتبة عامة، ولا خاصة، فكل هذه الدوافع كانت سببا في اختياري لهذا الموضوع، وقد علمت نقص هذه الطبقة من كتاب الطبقات الكبرى أثناء دراستي للكتاب ضمن المؤرخين الذي درست مناهجهم في القرون الثلاثة الأولى في الرسالة التي أعددتها لنيل درجة "الماجستير" في التاريخ الإسلامي،
--------------------------------------------
আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই সহায়তাহীনতা থেকে
(১) - এই বিষয়ে আবু যুরআ আর-রাজি বলেন: "যখন আপনি দেখবেন কোনো ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোনো সাহাবীকে খাটো করছে, তখন জেনে রাখুন সে একজন যিন্দিক (ধর্মত্যাগী)। এর কারণ হলো, আমাদের কাছে রাসূল সত্য এবং কুরআন সত্য। আর এই কুরআন ও সুন্নাহ আমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণ। মূলত তারা আমাদের সাক্ষীদের বিতর্কিত করতে চায় যাতে কিতাব ও সুন্নাহকে বাতিল করা যায়। অথচ তাদেরকেই বিতর্কিত করা অধিকতর শ্রেয় এবং তারাই যিন্দিক"
(২).
সাহাবীদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইতিহাসে বিদ্যমান এসব অর্থ ও বৈশিষ্ট্য এবং মুসলমানদের ওপর তাদের যে অধিকার বজায় রাখা অপরিহার্য, তার পরিপ্রেক্ষিতে গবেষকদের জন্য তাদের ইতিহাসের প্রতি গুরুত্ব প্রদান এবং তাদের মর্যাদা, জিহাদ ও দ্বীন প্রচারের প্রচেষ্টার সাথে পরিচিত হওয়া আবশ্যক। সেই সাথে একে প্রবৃত্তি ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ব্যক্তিদের দ্বারা অনুপ্রবেশকৃত বিষয় থেকে যাচাই-বাছাই ও পবিত্র করা প্রয়োজন, যাতে এটি প্রকৃত বাস্তবতার মতো উজ্জ্বল হয়ে আদর্শ ও অনুসরণের যোগ্য হয়ে থাকে।
এই ময়দানে আমার সামান্য অবদান স্বরূপ, আমি আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সা'দ কাতিব আল-ওয়াকিদির 'কিতাবুত তাবাকাত আল-কুবরা'-এর "সাহাবীদের পঞ্চম স্তর"-এর সম্পাদনা ও গবেষণাকে বেছে নিয়েছি, যাতে এটি ইসলামি ইতিহাসে আমার "ডক্টরেট" ডিগ্রির জন্য উপস্থাপিত অভিসন্দর্ভের বিষয় হয়। এই স্তরটি ইতিপূর্বে কখনো প্রকাশিত হয়নি, এটি তাবাকাত আল-কুবরা কিতাবের পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল। নিঃসন্দেহে এর প্রকাশনা আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী কিতাবকে পূর্ণতা দিতে সহায়তা করবে; বরং সম্ভবত এটিই তাবাকাত শাস্ত্র ও সাহাবীদের জীবনীর ওপর আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম কিতাব, যা কোনো সাধারণ বা বিশেষ লাইব্রেরিতে নেই বললেই চলে। এই সমস্ত কারণই আমাকে এই বিষয়টি নির্বাচনে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি ইসলামি ইতিহাসে আমার "মাস্টার্স" ডিগ্রির জন্য প্রস্তুতকৃত অভিসন্দর্ভে প্রথম তিন শতাব্দীর ঐতিহাসিকদের পদ্ধতিসমূহ অধ্যয়নকালে এই তাবাকাত আল-কুবরা কিতাব থেকে এই স্তরের অনুপস্থিতির কথা জানতে পারি,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وكانت بعنوان "منهج كتابة التاريخ الإسلامي، مع دراسة لتطور التدوين ولمناهج المؤرخين في القرون الثلاثة الأولى"، ثم أوقفني أحد الفضلاء على الناقص من مخطوطة الطبقات وذلك في مكتبة الشيخ المرحوم: عبد الرحيم بن صِدّيق، والتي آلت بعد وفاته إلى مكتبة الحرم المكي الشريف فلما اطلعت عليها أدركت أهميتها وعزمت على العمل على نشرها وتحقيقها وطلبت منه صورة عنها، ولكن تبين لي أن نسخته غير مرتبة الأوراق، مما جعلني أبحث عن أصل المخطوطة، وجلبت عنها صورة كاملة في ثمانية مجلدات كبيرة، وذلك بعد جهد ومشقة، كما أنه قد واجهني من الصعوبات كثرة الأسماء المبهمة في الأسانيد مما يحتاج إلى دُرْبَة ومراس في معرفة الرجال، ونظرا لأهمية المخطوطة وكونها في تاريخ الصحابة رضي الله عنهم ولحساسية الموضوعات التي تعرضت لها، ولكن مصنفها روى ما فيها من معلومات بالأسانيد على منهج الجمع والتقميش لا على منهج التحديث والتفتيش، كما قال يحيى بن معين: "إذا كتبت فقمِّش وإذا حدثت ففتِّش"
(1).
فقد رأيت أن أتبع في تحقيقها أعلى المناهج وأدقها، "منهج المحدثين" وذلك بدراسة الأسانيد والحكم عليها، وجمع الطرق والروايات لمعرفة الشواهد والمتابعات، وما في المتون من الشذوذ والغرابة، وهذه صعوبة جديدة ومِحْنَة قادت إلى مِنْحَة، حيث يسر الله لي دراسة أصول هذه العلم على المتخصصين فيه، ثم قراءة كثير من مصادره المختصرة والمطولة، والحمد لله على ذلك وقد جاءت خطة البحث في قسمين: -
- القسم الأول: الدراسة.
- القسم الثاني: التحقيق.
وجعلت الدراسة في ثلاثة فصول.
الفصل الأول: عن حياة المؤلف.
--------------------------------------------
এর শিরোনাম ছিল "ইসলামি ইতিহাস রচনার পদ্ধতি: সংকলনের বিবর্তন এবং প্রথম তিন শতাব্দীর ঐতিহাসিকদের পদ্ধতিসমূহের একটি পর্যালোচনা", এরপর জনৈক গুণী ব্যক্তি আমাকে 'তবাকাত' পাণ্ডুলিপির অসম্পূর্ণ অংশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করান, যা মরহুম শেখ আবদুর রহীম বিন সিদ্দীকের লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ছিল। যা তাঁর মৃত্যুর পর মক্কার মসজিদুল হারামের লাইব্রেরিতে স্থানান্তরিত হয়। যখন আমি এটি পর্যবেক্ষণ করলাম, তখন এর গুরুত্ব উপলব্ধি করলাম এবং এটি সম্পাদনা ও প্রকাশের সংকল্প করলাম এবং তাঁর কাছে এর একটি অনুলিপি চাইলাম। কিন্তু আমার কাছে স্পষ্ট হলো যে, তাঁর কাছে থাকা অনুলিপিটির পাতাগুলো সুবিন্যস্ত নয়, যা আমাকে মূল পাণ্ডুলিপি অনুসন্ধানে উদ্বুদ্ধ করল। অনেক প্রচেষ্টা ও কষ্টের পর আমি আটটি বড় খণ্ডে এর একটি পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সংগ্রহ করলাম। এছাড়া সনদগুলোর মধ্যে প্রচুর অস্পষ্ট নামের কারণে আমাকে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে, যার সমাধান বর্ণনাকারীদের পরিচিতি সম্পর্কে গভীর অভিজ্ঞতা ও নিবিড় অনুশীলনের দাবি রাখে। পাণ্ডুলিপিটির গুরুত্ব এবং এটি সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) ইতিহাসের ওপর রচিত হওয়া এবং এতে আলোচিত বিষয়গুলোর স্পর্শকাতরতার কারণে এটি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু এর গ্রন্থকার এতে থাকা তথ্যসমূহ কেবল সংগ্রহ ও সংকলনের পদ্ধতিতে সনদসহ বর্ণনা করেছেন, হাদিস বর্ণনা ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাইয়ের পদ্ধতিতে নয়, যেমন ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: "যখন তুমি লিখবে তখন সবকিছু সংগ্রহ করবে, আর যখন বর্ণনা করবে তখন যাচাই-বাছাই করবে"
(১)।
তাই আমি এর সম্পাদনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ও সূক্ষ্মতম পদ্ধতি তথা "মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি" অনুসরণের সিদ্ধান্ত নিলাম। আর তা হলো— সনদগুলো নিয়ে গবেষণা করা ও সেগুলোর মান নির্ণয় করা, এবং শওয়াহিদ ও মুতাবিআত জানার জন্য বিভিন্ন সূত্র ও বর্ণনাগুলো একত্রিত করা, এবং মূল পাঠে (মতন) কোনো বিচ্যুতি বা অস্বাভাবিকতা আছে কি না তা খতিয়ে দেখা। এটি ছিল একটি নতুন জটিলতা ও পরীক্ষা, যা শেষ পর্যন্ত একটি নেয়ামতে পরিণত হলো; কারণ আল্লাহ আমার জন্য এই শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এর মূলনীতিগুলো অধ্যয়ন করা সহজ করে দিলেন। এরপর এর সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত অনেক মূল উৎস পাঠ করার সুযোগ হলো। এর জন্য সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর। গবেষণার পরিকল্পনাটি দুটি অংশে বিভক্ত করা হয়েছে: -
- প্রথম অংশ: পর্যালোচনা।
- দ্বিতীয় অংশ: সম্পাদনা।
আমি পর্যালোচনা অংশটিকে তিনটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি।
প্রথম অধ্যায়: লেখকের জীবনী।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
وقد حضرت ما استطعت من مصادر ترجمته ورتبتها ترتيبا تاريخيا حتى تعرف المصادر الأصلية للمعلومات، ومن له فضل السبق، ثم ذكرت اسمه، ونسبه، وولادته، ونشأته، ورحلاته، وثقافته، وعقيدته، ومنزلته العلمية، وشيوخه، وتلاميذه، ومؤلفاته، ووفاته، وذلك كله على سبيل الإيجاز.
والفصل الثاني: جعلته عن دراسة الكتاب وعرضت فيه للموضوعات التالية: -
الأول: منهج المؤلف في ترتيب كتاب الطبقات.
الثاني: منهجه في عرض المادة العلمية، وقد تعرضت فيه المعالم منهجه دون الدخول في التفاصيل - والتي منها الجمع والاستقصاء للروايات، وهذا يحقق قدرًا كبيرًا من الموضوعية والأمانة.
ومنها استخدام الإسناد والمحافظة عليه في غالب الكتاب، وخاصة في طبقات الصحابة، مما يُيسّر على الباحثين عملية النقد. ومنها الإطالة في بعض التراجم والاختصار في أخرى.
الثالث: جعلته دراسة تحليلية للطبقة التي أحققها "الخامسة من الصحابة) وقد بينت فيها شرطه لمن يدخل في هذه الطبقة، وحاكمته إلى شرطه، وهل وَفَّى به؟ وهل استقصى كل من ينطبق عليه شرطه؟ وهل التزم في ترتيب التراجم في هذه الطبقة منهج الترتيب على الأنساب الذي سار عليه في الطبقات السابقة؟ ولماذا أطال في بعض التراجم وقصر في أخرى؟ وما هي المعلومات التي يهتم بها في الترجمة؟ وما هي أبرز القضايا التاريخية التي تعرض لها؟ وما مصادره في ذلك؟ وما قيمة هذه المصادر؟ وكم من الروايات صح وكم منها لم يصح؟ وهل الروايات التي ذكرها في كامل الطبقة تعطي اتجاها فكريًا ومذهبيًا محددًا للمصنف؟ أم أنه أراد أن يورد كامل الروايات التي بَلَغَتْه وَكَمَا بَلَغَتْه، ويترك الأمر للباحث ليدقق ويحقق ويتعرّف على اتجاهات الرواة،
আমি তাঁর জীবনীর যতদূর সম্ভব উৎসসমূহ সংগ্রহ করেছি এবং সেগুলোকে কালানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেছি, যাতে তথ্যের মূল উৎসসমূহ এবং কাদের অগ্রগামিতা রয়েছে তা জানা যায়। অতঃপর আমি তাঁর নাম, বংশপরিচয়, জন্ম, বেড়ে ওঠা, সফরসমূহ, পাণ্ডিত্য, আকিদা, ইলমি মর্যাদা, উস্তাদগণ, ছাত্রবৃন্দ, তাঁর রচনাবলী এবং তাঁর মৃত্যু—এই সবকিছুই সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি আমি গ্রন্থটি পর্যালোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি এবং এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো উপস্থাপন করেছি: -
প্রথম: তাবাকাত গ্রন্থটি বিন্যাসে লেখকের পদ্ধতি।
দ্বিতীয়: ইলমি উপাদান উপস্থাপনে তাঁর পদ্ধতি। এতে আমি বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে তাঁর পদ্ধতির বৈশিষ্ট্যগুলো তুলে ধরেছি—যার মধ্যে রয়েছে বর্ণনাগুলোর সংকলন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান; এটি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বস্তুনিষ্ঠতা ও আমানতদারি নিশ্চিত করে।
এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে অধিকাংশ গ্রন্থে ইসনাদ বা বর্ণনাপরম্পরার ব্যবহার ও তার সংরক্ষণ, বিশেষ করে সাহাবিদের স্তরের বর্ণনায়; যা গবেষকদের জন্য সমালোচনা বা পর্যালোচনার প্রক্রিয়াকে সহজ করে দেয়। এছাড়া কোনো কোনো জীবনীর বিস্তারিত বর্ণনা এবং অন্যগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণও এর অন্তর্ভুক্ত।
তৃতীয়: এটি আমি যে স্তরটি (সাহাবিদের পঞ্চম স্তর) সম্পাদনা করছি তার একটি বিশ্লেষণাত্মক পর্যালোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি। এতে আমি এই স্তরে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য তাঁর শর্তাবলি বর্ণনা করেছি এবং তাঁর শর্তের নিরিখে তাঁকে বিচার করেছি—তিনি কি তা পূরণ করেছেন? তাঁর শর্ত যাদের ওপর প্রযোজ্য হয় তাদের সবাইকে কি তিনি অনুসন্ধান করেছেন? এই স্তরের জীবনীগুলো বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে তিনি কি বংশপরম্পরা অনুযায়ী সাজানোর সেই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন যা তিনি পূর্ববর্তী স্তরগুলোতে করেছিলেন? কেন তিনি কিছু জীবনী দীর্ঘ করেছেন এবং অন্যগুলো সংক্ষিপ্ত করেছেন? জীবনীর ক্ষেত্রে তিনি কোন তথ্যাবলির প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন? তাঁর আলোচিত প্রধান ঐতিহাসিক বিষয়গুলো কী কী? এ ক্ষেত্রে তাঁর উৎসসমূহ কী কী? এই উৎসগুলোর মান কেমন? কতটি বর্ণনা সহিহ এবং কতটি সহিহ নয়? এই পুরো স্তরে তিনি যেসব বর্ণনা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো কি গ্রন্থকারের কোনো নির্দিষ্ট বুদ্ধিবৃত্তিক বা মাযহাবি ঝোঁক প্রকাশ করে? নাকি তিনি তাঁর কাছে পৌঁছানো সমস্ত বর্ণনা যেভাবে পৌঁছেছে সেভাবেই উল্লেখ করতে চেয়েছেন এবং বিষয়টি গবেষকদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন যাতে তাঁরা সূক্ষ্মভাবে যাচাই-বাছাই, বিশ্লেষণ এবং বর্ণনাকারীদের ঝোঁক সম্পর্কে অবগত হতে পারেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
ومدى ضبطهم للأحداث والأخبار، مع العلم أن ابن سعد قد أسهم في بيان شيء من ذلك في تراجم غير الصحابة.
الرابع: موارده في الطبقة الخامسة.
الخامس: أهمية هذا القسم من كتاب الطبقات، إذ أن معرفة صغار الصحابة الذين لم يكن لهم إلا رؤية للنبي صلى الله عليه وسلم، أمرٌ مُهِمّ في علوم الحديث، وكذا الحال بالنسبة للروايات والآثار والتي بلغت خمسة عشر وسبعمائة في هذا المصدر القديم. وقد اشتملت هذه الطبقة على تراجم مجموعة من الشخصيات المؤثرة في الحياة العلمية والفكرية والسياسية والاجتماعية، مثل ابن عباس، والحسن، والحسين، وابن الزبير، فقد شاركوا في كثير من الأحداث المهمة، والتي وقع في عرضها عند كثير من الأخباريين والمؤرخين قديما وحديثًا خلط وتشويه يحتاج إلى تحقيق وتحرير، وإيراد المصنف للأخبار بالأسانيد يساعد على ذلك ويبين المصادر الأولية للنصوص، والتي تم نقلها فيما بعد من مصدر إلى آخر مفصولة عن الأسانيد وعن القائلين بها أول مرة، حتى إذا تواردت عليها المصادر المتأخرة، وكثر ناقلوها ظُنّ أنها حقائق مُسَلّمة، بينما هي من صياغة راو واحدٍ ربما حمله اتجاهه الفكري على اختراع ذلك، أو التزيد فيه، أو وضعه في غير سياقه، حتى يعطي صورة مغايرة للواقع، و، وتخدم الاتجاه الفكري لمن صاغ الخبر أول مرّة.
كما أنها اشتلمت على نصوص في غاية الأهمية من أقوال الصحابة رضي الله عنهم، واهتماماتهم في الحياة، ومواقفهم من الأحداث والفتن، وسلوكياتهم في المجتمع، ودورهم في التعليم والتوجيه، وسلوكياتهم الخاصة في العبادة، والطاعة وتزكية النفس، والقرب من الله، إلى غير ذلك مما ينبغي الإفادة منه واقتباس الدروس والعبر، والاقتداء والاهتداء بهديهم وطريقتهم.
والفصل الثالث: خصص لدراسة المخطوطة والمنهج المتبع في تحقيقها.
এবং ঘটনা ও সংবাদ সংরক্ষণে তাদের নির্ভুলতার মাত্রা, যদিও এটি সুবিদিত যে ইবনে সা'দ সাহাবী ব্যতীত অন্যদের জীবনী আলোচনাতেও এর কিছুটা ব্যাখ্যায় অবদান রেখেছেন।
চতুর্থ: পঞ্চম স্তরের ক্ষেত্রে তাঁর তথ্যের উৎসসমূহ।
পঞ্চম: কিতাবুত তাবাকাত-এর এই অংশের গুরুত্ব; কেননা সেই অল্পবয়স্ক সাহাবীগণ—যাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে কেবল দেখার সৌভাগ্য হয়েছিল—তাদের সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা হাদীসশাস্ত্রে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই প্রাচীন উৎসে বর্ণিত বর্ণনা ও আসারসমূহের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যার সংখ্যা সাতশত পনেরটিতে পৌঁছেছে। এই স্তরটিতে এমন একদল প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের জীবনী স্থান পেয়েছে যারা জ্ঞানতাত্ত্বিক, বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন; যেমন ইবনে আব্বাস, হাসান, হুসাইন এবং ইবনে আল-জুবায়ের। তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় অংশ নিয়েছেন, যা প্রাচীন ও আধুনিক অনেক সংবাদদাতা ও ঐতিহাসিকের বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও বিকৃতির শিকার হয়েছে, যা নিবিড় যাচাই-বাছাই ও সম্পাদনার দাবি রাখে। গ্রন্থকার কর্তৃক সনদসহ সংবাদসমূহ বর্ণনা করা এই কাজে সহায়তা করে এবং মূল পাঠের প্রাথমিক উৎসগুলো উন্মোচন করে। এসব বর্ণনা পরবর্তীতে এক উৎস থেকে অন্য উৎসে স্থানান্তরের সময় সনদ ও মূল প্রবক্তার নাম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। ফলে যখন পরবর্তী সময়ের উৎসগুলোতে এগুলোর আধিক্য দেখা যায় এবং বর্ণনাকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন সেগুলোকে ধ্রুব সত্য বলে ধরে নেওয়া হয়; অথচ বাস্তবে সেগুলো হয়তো একজন মাত্র বর্ণনাকারীর সংকলিত, যার বুদ্ধিবৃত্তিক ঝোঁক তাকে এমন কিছু উদ্ভাবন করতে, অথবা তাতে অতিরঞ্জন করতে, কিংবা সেটিকে ভুল প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করতে প্ররোচিত করেছে। এর উদ্দেশ্য ছিল বাস্তবতার একটি ভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলা এবং যিনি প্রথম সংবাদটি সাজিয়েছেন তার বুদ্ধিবৃত্তিক মতাদর্শের সেবা করা।
অনুরূপভাবে এটি সাহাবীগণের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উক্তি, জীবনঘনিষ্ঠ বিবিধ বিষয়, বিভিন্ন ঘটনা ও ফিতনার ক্ষেত্রে তাদের অবস্থান, সামাজিক আচরণ, শিক্ষা ও দিকনির্দেশনায় তাদের ভূমিকা এবং ইবাদত, আনুগত্য, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে তাদের ব্যক্তিগত আমল সংক্রান্ত বর্ণনা ধারণ করেছে। এসব বিষয় থেকে শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা এবং তাদের আদর্শ ও পথের অনুসরণ ও অনুকরণ করা একান্ত আবশ্যক।
এবং তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পাণ্ডুলিপি অধ্যয়ন এবং এটি সম্পাদনায় অনুসৃত পদ্ধতি আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
أما القسم الثاني من الرسالة فقد أُفْرد لتحقيق النص، مع دراسة الأسانيد والترجمة لرجالها، والحكم على السند، وتخريج الأحاديث والآثار والنصوص، وذكر الطرق والشواهد والمتابعات، إذا وجدت من المصادر الأصلية والتعليق على ما يلزم التعليق عليه، وشرح الغريب من الألفاظ والترجمة والتعريف بالأعلام في المتن وبيان المواضع الجغرافية إلى غير ذلك مما أوضحته في منهج التحقيق.
هذا وقد صنعت للبحث الفهارس الفنية اللازمة.
وختامًا فإني أشكر المولى جلّت قدرته على فضله وتوفيقه، وأسأله سبحانه أن يمدنا بعونه ويهدينا صراطه المستقيم ويجنبنا الزلل إنه ولي ذلك والقادر عليه، وأن يجعل عملنا خالصا لوجهه الكريم، والحمد لله رب العالمين.
المحقق
مكة المكرمة في 20/ 8/ 1409 هـ
অভিসন্দর্ভের দ্বিতীয় অংশটি মূল পাঠের সম্পাদনার জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যার সাথে রয়েছে সনদসমূহের পর্যালোচনা ও বর্ণনাকারীদের জীবনী আলোচনা, সনদের মান নির্ণয়, হাদিস, আছার ও উদ্ধৃতিসমূহের উৎসনির্দেশ এবং মূল উৎসসমূহ থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন সূত্র, সাক্ষী ও সম্পূরক বর্ণনা উল্লেখকরণ। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা-টীকা, কঠিন শব্দসমূহের অর্থ বিশ্লেষণ, মূল পাঠে উল্লিখিত ব্যক্তিবর্গের পরিচয় প্রদান এবং ভৌগোলিক স্থানসমূহের বর্ণনাসহ অন্যান্য বিষয় যা আমি সম্পাদনা পদ্ধতিতে স্পষ্ট করেছি।
গবেষণার সুবিধার্থে আমি এতে প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্ঘণ্টসমূহ যুক্ত করেছি।
পরিশেষে, আমি মহান প্রতিপালকের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি তাঁর অনুগ্রহ ও তাওফিকের জন্য যাঁর ক্ষমতা সুমহান। আমি তাঁর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদের সাহায্য করেন, আমাদের সরল পথে পরিচালিত করেন এবং পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। তিনি যেন আমাদের এই আমলকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
সম্পাদক
মক্কা মুকাররমা, ২০/ ০৮/ ১৪০৯ হিজরি
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
الدّرَاسَة
•
الفصل الأول: حَيَاة المؤلف •
• مصادر ترجمته
• اسمه ونسبه
• ولادته
• نشأته ورحلاته
• ثقافته
• عقيدته
• منزلته العلمية
• شيوخه
• تلاميذه
• مؤلفاته
• وفاته
অধ্যয়ন
•
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের জীবনী •
• তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ
• তাঁর নাম ও বংশপরিচয়
• তাঁর জন্ম
• তাঁর লালন-পালন ও সফরসমূহ
• তাঁর শিক্ষা ও জ্ঞানার্জন
• তাঁর আকিদা
• তাঁর ইলমি মর্যাদা
• তাঁর শিক্ষকবৃন্দ
• তাঁর ছাত্রবৃন্দ
• তাঁর রচনাবলি
• তাঁর মৃত্যু
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
• حياة المؤلف •
•
مصادر ترجمته: -
إن أقدم ترجمة وصلت إلينا عن مؤلف كتاب الطبقات، محمد بن سعد (168 - 230 هـ) هي تلك الترجمة الموجزة في كتاب الطبقات
(1) للمصنف ذاته، ولكنها قطعًا لم تكن من تدوين ابن سعد عن نفسه، حيث قد اشتملت على تحديد تاريخ وفاته ومكانه دفنه. ولكن من المحتمل أنها من تدوين أحد تلميذيه اللذين وصلت إلينا نسخة الطبقات من روايتهما وهما: -
- الحارث بن محمد بن أبي أسامة (186 - 282 هـ)
- الحسين بن محمد بن فهْم (211 - 289 هـ).
والمرجح أن الذي كتبها هو الحسين بن محمد بن فهم، بدلالة رواية الخطيب البغدادي لنص الترجمة في "تاريخ بغداد"
(2) من طريق الحسين بن فهم.
أما الترجمة الثانية لابن سعد فقد أوردها ابن أبي حاتم (240 - 327 هـ) في كتاب "الجرح والتعديل"
(3)، لكنها مختصرة، وقد حدد فيها تاريخ وفاته وذكر اثنين من شيوخه، كما نقل توثيقه عن والده.
وفي النصف الثاني من القرن الرابع يورد محمد بن إسحاق النديم (كان
حيًّا سنة 377 هـ) ترجمة واسعة لابن سعد في كتابه: "الفهرست"
(4)،
--------------------------------------------
• লেখকের জীবনী •
•
তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ: -
‘তাবাকাত’ গ্রন্থের লেখক মুহাম্মদ ইবনে সা'দ (১৬৮ - ২৩০ হি.) সম্পর্কে আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম জীবনীটি হলো খোদ গ্রন্থকারেরই ‘তাবাকাত’
(১) গ্রন্থে বর্ণিত সেই সংক্ষিপ্ত জীবনীটি। তবে এটি নিশ্চিতভাবেই ইবনে সা'দ নিজে লিপিবদ্ধ করেননি, কারণ এতে তাঁর মৃত্যুর তারিখ ও দাফনের স্থান নির্ধারিত রয়েছে। বরং সম্ভাবনা রয়েছে যে, এটি তাঁর সেই দুই ছাত্রের কোনো একজনের লিপিবদ্ধ করা, যাঁদের বর্ণনার মাধ্যমে ‘তাবাকাত’-এর পাণ্ডুলিপি আমাদের কাছে পৌঁছেছে; তাঁরা হলেন: -
- আল-হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি উসামা (১৮৬ - ২৮২ হি.)
- আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাহম (২১১ - ২৮৯ হি.)।
আর প্রবল ধারণা হলো যে, এটি আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ফাহমই লিখেছেন; যার প্রমাণ হলো আল-খতিব আল-বাগদাদি কর্তৃক আল-হুসাইন ইবনে ফাহমের সূত্রে ‘তারিখ বাগদাদ’
(২) গ্রন্থে এই জীবনীর পাঠ বর্ণনা করা।
ইবনে সা'দের দ্বিতীয় জীবনীটি ইবনে আবি হাতিম (২৪০ - ৩২৭ হি.) তাঁর ‘আল-জারহ ওয়াত তা'দিল’
(৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; তবে সেটি সংক্ষিপ্ত। সেখানে তিনি তাঁর মৃত্যুর তারিখ নির্ধারণ করেছেন এবং তাঁর দুইজন শিক্ষকের কথা উল্লেখ করেছেন, পাশাপাশি তাঁর পিতার নিকট থেকে তাঁর নির্ভরযোগ্যতার (তাওসিক) বর্ণনাও উদ্ধৃত করেছেন।
আর চতুর্থ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক আন-নাদিম (যিনি ৩৭৭ হিজরিতে জীবিত ছিলেন) তাঁর ‘আল-ফিহরিস্ট’
(৪) গ্রন্থে ইবনে সা'দের একটি বিস্তারিত জীবনী উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
وردت في الفن الأول من المقالة الثالثة، وهي التي تختص "بالأخباريين والنسابين وأصحاب السير والأحداث"، ويذكر فيها، اسمه، وكنيته، وتوثيقه، ووفاته، وقائمة بأسماء كتبه، كما يقدّم تفصيلا شاملا عن محتويات كتابه "الطبقات الكبرى".
وفي القرن الخامس نجد له ترجمة أوفى مما سبق، يدوّنها الخطيب البغدادي (392 - 463 هـ) في "تاريخ بغداد"
(1)، وقد ذكر فيها اسمه ونسبه وشيوخه وتلاميذه والأقوال في جرحه وتعديله وتاريخ وفاته وعمره.
وفي القرن السادس نجد له ترجمة عند أبي سعيد عبد الكريم بن محمد السمعاني (506 - 562 هـ) في كتاب "الأنساب"
(2)، لكنها لا تضيف جديدا عما في كتاب تاريخ بغداد، ويغلب على الظن أنها منقولة عنه.
وفي القرن السابع نجد له ذكرًا عند ابن الأثير (555 - 630 هـ) في كتاب "الكامل"
(3) يقتصر على ذكر تاريخ وفاته وإشارة إلى كتابه "الطبقات الكبرى".
كما نجد عنه إشارة خاطفة عند الإمام النووي (ت: 676 هـ) في كتاب "تهذيب الأسماء واللغات"
(4) تشمل توثيقه وذكرًا لبعض كتبه.
أما القاضي ابن خلكان (608 - 681 هـ) فقد ترجم له في كتابه: "وفيات الأعيان"
(5) غير أن المعلومات التي أوردها لا تزيد عما أورده الخطيب في تاريخ بغداد، وقد صرح بالنقل عنه، ووصف كتاب "الطبقات الكبرى" بأنه "يدخل في خمسة عشر مجلدا".
وفي القرن الثامن ألف أبو الحجاج يوسف بن عبد الرحمن المزي (654 -
--------------------------------------------
এটি তৃতীয় প্রবন্ধের প্রথম পরিচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে, যা মূলত "সংবাদদাতা, বংশতাত্ত্বিক এবং সীরাত ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলী রচয়িতাদের" জন্য নির্ধারিত। এতে তাঁর নাম, উপনাম (কুনিয়া), নির্ভরযোগ্যতা (তাওসিক), মৃত্যু এবং তাঁর গ্রন্থসমূহের একটি তালিকা উল্লেখ করা হয়েছে; পাশাপাশি তাঁর গ্রন্থ 'আত-তাবাকাত আল-কুবরা'-এর বিষয়বস্তুর একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণও পেশ করা হয়েছে।
পঞ্চম শতাব্দীতে আমরা তাঁর পূর্বের চেয়ে অধিকতর বিস্তারিত একটি জীবনী খুঁজে পাই, যা খতীব আল-বাগদাদী (৩৯২ - ৪৬৩ হিজরী) তাঁর 'তারীখে বাগদাদ'
(১) গ্রন্থে লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি এতে তাঁর নাম, বংশপরিচয়, উস্তাদগণ, ছাত্রবৃন্দ, তাঁর সমালোচনা ও নির্ভরযোগ্যতা (জারহ ও তা’দীল) সংক্রান্ত মন্তব্যসমূহ, মৃত্যুর তারিখ এবং তাঁর বয়স উল্লেখ করেছেন।
ষষ্ঠ শতাব্দীতে আমরা আবু সাঈদ আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ আস-সাম’আনী (৫০৬ - ৫৬২ হিজরী)-এর 'আল-আনসাব'
(২) গ্রন্থে তাঁর একটি জীবনী পাই, তবে তা 'তারীখে বাগদাদ' গ্রন্থে যা আছে তার বাইরে নতুন কিছু যোগ করেনি এবং প্রবল ধারণা এই যে, এটি সেই গ্রন্থ থেকেই উদ্ধৃত করা হয়েছে।
সপ্তম শতাব্দীতে ইবনুল আসীর (৫৫৫ - ৬৩০ হিজরী)-এর 'আল-কামিল'
(৩) গ্রন্থে আমরা তাঁর উল্লেখ পাই, যা কেবল তাঁর মৃত্যুর তারিখ উল্লেখ এবং তাঁর গ্রন্থ 'আত-তাবাকাত আল-কুবরা'-এর প্রতি ইশারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
ইমাম আন-নববী (ওফাত: ৬৭৬ হিজরী)-এর 'তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত'
(৪) গ্রন্থেও আমরা তাঁর সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত পাই, যাতে তাঁর নির্ভরযোগ্যতা এবং তাঁর কিছু গ্রন্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পক্ষান্তরে কাযী ইবনে খাল্লিকান (৬০৮ - ৬৮১ হিজরী) তাঁর 'ওয়াফায়াতুল আ’য়ান'
(৫) গ্রন্থে তাঁর জীবনী বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি যে তথ্য প্রদান করেছেন তা খতীবের 'তারীখে বাগদাদ'-এ প্রদত্ত তথ্যের অতিরিক্ত কিছু নয়। তিনি সেই গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার কথা স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন এবং 'আত-তাবাকাত আল-কুবরা' গ্রন্থটিকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যে তা "পনেরো খণ্ডে সমাপ্ত"।
অষ্টম শতাব্দীতে আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আব্দুর রহমান আল-মিযযী (৬৫৪ -
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
742 هـ)، كتاب "تهذيب الكمال في أسماء الرجال"، وهو إكمال وتهذيب لكتاب الحافظ عبد الغني بن عبد الواحد المقدسي (544 - 600 هـ) الذي خَصّصه لتراجم رواة الكتب الستة، وترجم المزي لابن سعد
(1)، باعتباره أحد الرواة في سنن أبي داود. ونحن لا ندري هل ترجم له صاحب كتاب الكمال أم لا، حيث لم يتيسر الوقوف عليه. وقد ذكر المزي أنه قد فات صاحب الكمال كثير من الأسماء تزيد على مئات عديدة
(2).
ثم ترجم له بعد المزّي أغلب المؤلفين الذين دارت كتبهم حول كتاب "تهذيب الكمال"، مثل الذهبي (673 - 748 هـ) في "تذهيب التهذيب"
(3)، وفي "الكاشف"
(4)، وفي بقية كتبه في التراجم مثل "تاريخ الإسلام"
(5) و "سير أعلام النبلاء"
(6) و "تذكرة الحفاظ"
(7) و "العبر
(8)، و "ميزان الاعتدال"
(9). وغالب تراجمه في هذه الكتب مختصرة، وأطول ترجمة هي التي في سير أعلام النبلاء.
وابن حجر العسقلاني (773 - 852 هـ) في "تهذيب التهذيب"
(10) و "تقريب التهذيب"
(11) والخزرجي (900 - بعد 923 هـ) في "خلاصة تذهيب تهذيب الكمال"
(12).
--------------------------------------------
৭৪২ হি.), "তাহযিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল" গ্রন্থটি হাফেজ আব্দুল গনি বিন আব্দুল ওয়াহেদ আল-মাকদিসি (৫৪৪ - ৬০০ হি.)-এর গ্রন্থের একটি পরিমার্জন ও পূর্ণতা প্রদানকারী সংস্করণ, যা তিনি কুতুবে সিত্তাহর বর্ণনাকারীদের জীবনী পর্যালোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছিলেন। মিযযি ইবনে সা’দ
(১)-এর জীবনী আলোচনা করেছেন, যেহেতু তিনি সুনানে আবু দাউদের অন্যতম একজন বর্ণনাকারী। "আল-কামাল" গ্রন্থের লেখক তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন কি না তা আমাদের জানা নেই, কারণ সেই গ্রন্থটি আমাদের নিকট দেখার সুযোগ হয়নি। আর মিযযি উল্লেখ করেছেন যে, "আল-কামাল" গ্রন্থের লেখকের হাত থেকে কয়েকশত অধিক নাম বাদ পড়ে গিয়েছিল
(২)।
অতঃপর মিযযির পরে "তাহযিবুল কামাল" গ্রন্থকে কেন্দ্র করে রচিত অধিকাংশ গ্রন্থের লেখকগণ তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন। যেমন: আয-যাহাবি (৬৭৩ - ৭৪৮ হি.) তাঁর "তাযহিবুত তাহযিব"
(৩), "আল-কাশিফ"
(৪) এবং জীবনীর ওপর লেখা তাঁর অন্যান্য গ্রন্থ যেমন "তারিখুল ইসলাম"
(৫), "সিয়ারু আলামিন নুবালা"
(৬), "তাযকিরাতুল হুফফাজ"
(৭), "আল-ইবার"
(৮) এবং "মিযানুল ইতিদাল"
(৯) গ্রন্থে তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। এসকল গ্রন্থে তাঁর জীবনী অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংক্ষিপ্ত, তবে দীর্ঘতম জীবনীটি পাওয়া যায় "সিয়ারু আলামিন নুবালা" গ্রন্থে।
এবং ইবনে হাজার আল-আসকালানি (৭৭৩ - ৮৫২ হি.) "তাহযিবুত তাহযিব"
(১০) ও "তাকরিবুত তাহযিব"
(১১) গ্রন্থে এবং আল-খাযরাজি (৯০০ - ৯২৩ হি.-এর পরে) তাঁর "খুলাসাতু তাযহিবি তাহযিবিল কামাল"
(১২) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
كما أورد له وبتراجم موجزة، مجموعة ممّن عنوا بالوفيات مثل الصفدي (ت 764 هـ) في "الوافي بالوفيات"
(1)، واليافعي (ت 768 هـ) في "مرآة الجنان"
(2)، وابن كثير (774 هـ) في "البداية والنهاية"
(3)، وابن تغري بردي (ت: 874 هـ) في "النجوم الزاهرة"
(4)، وابن العماد الحنبلي (ت: 1089 هـ) في "شذرات الذهب"
(5).
كما ذكره وذكر مؤلفاته السخاوي (ت: 902 هـ) في كتاب: "الإعلان بالتوبيخ لمن ذم التاريخ" وفي كتاب: "فتح المغيث شرح ألفية الحديث"
(6) وحاج خليفة (ت: 1067 هـ) في "كشف الظنون
(7).
كما ترجم له ابن الجزري (ت: 833 هـ) في غاية النهاية في طبقات القراء"
(8) باعتباره من قراء القرآن الذين تلقوا حروفه وعلّموها لمن بعدهم. وكذا السيوطي (ت: 911 هـ) في "طبقات الحفاظ"
(9).
وفي العصر الحديث ترجم له بعض الباحثين تراجم موجزة مثل الكتاني (ت: 1345 هـ) في "الرسالة المستطرفة لمشهور كتب السنة"
(10)، ويوسف هورفتش في "المغازي الأولى ومؤلفوها"
(11)، والزركلي في
--------------------------------------------
একইভাবে তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী এমন একদল লেখক উল্লেখ করেছেন যারা মৃত্যুর তারিখ বা জীবনীবিষয়ক গ্রন্থ সংকলনে গুরুত্ব দিয়েছেন, যেমন আস-সাফাদি (মৃত্যু ৭৬৪ হিজরি) 'আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত' গ্রন্থে
(১), আল-ইয়াফেয়ি (মৃত্যু ৭৬৮ হিজরি) 'মিরআতুল জিনান' গ্রন্থে
(২), ইবনে কাসির (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরি) 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' গ্রন্থে
(৩), ইবনে তাগরি বারদি (মৃত্যু ৮৭৪ হিজরি) 'আন-নুজুমুজ জাহিরা' গ্রন্থে
(৪) এবং ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি (মৃত্যু ১০৮৯ হিজরি) 'শাযারাতুয যাহাব' গ্রন্থে
(৫)।
তদ্রূপ আস-সাখাভি (মৃত্যু ৯০২ হিজরি) 'আল-ইলান বিত-তাওবিখ লিমান জাম্মাত তারিখ' এবং 'ফাতহুল মুগিস শারহু আলফিয়াতিল হাদিস'
(৬) গ্রন্থে তাঁর এবং তাঁর রচনাবলির কথা উল্লেখ করেছেন। আর হাজী খলিফা (মৃত্যু ১০৬৭ হিজরি) 'কাশফুয যুনুন'
(৭) গ্রন্থে তাঁর আলোচনা করেছেন।
অনুরূপভাবে ইবনুল জাযারি (মৃত্যু ৮৩৩ হিজরি) 'গায়াতুন নিহায়া ফি তাবাকাতিল কুররা'
(৮) গ্রন্থে তাঁকে কুরআনের এমন একজন ক্বারী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন যিনি পূর্ববর্তীদের থেকে কিরাআত গ্রহণ করেছেন এবং পরবর্তীদের নিকট তা শিক্ষা দিয়েছেন। তেমনিভাবে আস-সুয়ুতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি) 'তাবাকাতুল হুফফায'
(৯) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন।
বর্তমান যুগেও আধুনিক গবেষকদের কেউ কেউ তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী সংকলন করেছেন, যেমন আল-কাত্তানি (মৃত্যু ১৩৪৫ হিজরি) 'আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফা লি মাশহুরি কুতুবিস সুন্নাহ'
(১০) গ্রন্থে, ইয়োসেফ হোরোভিৎস 'আল-মাগাযিল উলা ওয়া মুয়াল্লিফুহা'
(১১) গ্রন্থে এবং আয-যিরিকলি তাঁর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
"الأعلام"
(1)، ورضا كحالة في معجم المؤلفين
(2) وفؤاد سركين في "تاريخ التراث العربي"
(3)، وإحسان عباس في "مقدمة كتاب الطبقات
(4) وأكرم ضياء العمري في "بحوث في تاريخ السنة" (*). ومحمد السلمي في "منهج كتابة التاريخ الإسلامي"
(5).
كما أفرده بدراسة كل من: زياد محمد منصور، في مقدمته للقسم الذي حققه من كتاب الطبقات الكبرى (القسم المتمم لتابعي أهل المدينة ومن بعدهم)
(6) وهي أوسع دراسة قدمت عنه رغم أنها لم تكن شاملة. وعز الدين عمر موسى، وذلك في كتيب من الحجم الصغير يقع في تسعين صفحة بعنوان: ابن سعد وطبقاته
(7) قدم فيها ترجمة للمؤلف، ودراسة لمصادره، وملحقا بأسماء شيوخه، وعدد مروياتهم في طبقات الصحابة والتابعين، وآخر بعدد التراجم في كتاب الطبقات، وعدد من ذكر ولم يترجم، وعدد مرات ورود الشعر، والجدير بالذكر أن دراسته وإحصائياته اعتمدَتْ طَبعَة الطبقات الكبرى المنشورة في بيروت والمعتمدة أصلا على طبعة (ليدن) وهي طبعة ناقصة.
•
اسمه ونسبه: -
محمد بن سعد بن مَنِيع، الكاتب
(8)، الزهري
(9)، مولي بني
--------------------------------------------
"আল-আলাম"
(১), এবং রিদা কাহহালা "মু'জামুল মুয়াল্লিফীন"
(২) গ্রন্থে, ফুয়াদ সেজগিন "তারিখুত তুরাসিল আরাবি"
(৩) গ্রন্থে, ইহসান আব্বাস "মুকাদ্দিমাতু কিতাবিত তাবাকাত"
(৪) গ্রন্থে, আকরাম যিয়া আল-উমরি "বুহুসুন ফি তারিখিস সুন্নাহ" (*) গ্রন্থে এবং মুহাম্মদ আস-সুলামি "মানহাজু কিতাবাতিত তারিখিল ইসলামি"
(৫) গ্রন্থে (তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন)।
একইভাবে তাঁর ওপর স্বতন্ত্র গবেষণা করেছেন: যিয়াদ মুহাম্মদ মনসুর, কিতাবুত তাবাকাতুল কুবরার তাঁর সম্পাদিত অংশের (মদীনার তাবিঈন এবং তাঁদের পরবর্তীগণের পরিশিষ্ট অংশ)
(৬) ভূমিকায়। এটি তাঁর সম্পর্কে করা সবচেয়ে বিস্তৃত গবেষণা, যদিও তা পূর্ণাঙ্গ ছিল না। এবং ইজ্জুদ্দীন উমর মুসা, নব্বই পৃষ্ঠার একটি ছোট পুস্তিকায় যার শিরোনাম: "ইবনে সাদ ও তাঁর তাবাকাত"
(৭); এতে তিনি লেখকের জীবনী উপস্থাপন করেছেন, তাঁর উৎসসমূহ নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং তাঁর উস্তাদদের নামের একটি তালিকা ও সাহাবী এবং তাবিঈদের স্তরে তাঁদের বর্ণিত বর্ণনার সংখ্যা যুক্ত করেছেন। সেই সাথে "তাবাকাত" গ্রন্থের জীবনীসমূহের সংখ্যা, যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু জীবনী দেওয়া হয়নি তাঁদের সংখ্যা এবং কবিতার উদ্ধৃতির হার উল্লেখ করেছেন। উল্লেখ্য যে, তাঁর এই গবেষণা ও পরিসংখ্যানগুলো বৈরুতে প্রকাশিত "তাবাকাতুল কুবরা" সংস্করণের ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে, যা মূলত (লাইডেন) সংস্করণের ওপর নির্ভরশীল এবং সেটি একটি অপূর্ণাঙ্গ সংস্করণ।
•
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়: -
মুহাম্মদ বিন সাদ বিন মানী‘, আল-কাতিব
(৮), আজ-জুহরি
(৯), বনু (এর) মাওলা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
هاشم
(1)، البصري مولدا ونشأة، أبو عبد الله، البغدادي إقامة ووفاة، واشتهر بابن سعد، ولقب بكاتب الواقدي وصاحب الواقدي
(2)، وغلام الواقدي
(3).
•
ولادته: -
لم تنص المصادر على تاريخ ولادته سوى ما ذكر الذهبي في "سير أعلام النبلاء" بأنه ولد بعد الستين ومائة وقيل: مولده سنة ثمان وستين
(4). ولكن غالبها يحدد وفاته: بسنة ثلاثين ومائتين عن اثنتين وستين سنة
(5) وبذلك يتضح أن مولده سنة ثمان وستين ومائة، وكانت ولادته في البصرة
(6)، وهي في ذلك الوقت تمثل إحدى المراكز العلمية الهامة وتمتلئ بكبار العلماء التابعين من وأتباعهم في علوم الشريعة والعربية والأخبار والأنساب.
•
نشأته ورحلاته: -
نشأ ابن سعد في البصرة كما ينشأ أمثاله في ذلك الزمن، وتلقى تعليمه الأوّلي على أيدي علماء البصرة، ولكن لا نعلم بالتحديد على من تلقى من العلماء أول مرة، إذ لا تسعفنا المصادر بمعلومات في هذا الشأن، وكذا أسرته التي لا نعلم عنها شيئًا، ولكن من شيوخه البصريين: أبو عاصم النبيل، وعارم بن الفضل، وإسماعيل بن عُلَيّة، وعفّان بن مسلم، وأبو الوليد الطيالسي وغيرهم.
--------------------------------------------
হাশেম
(1), জন্ম ও বেড়ে ওঠা বসরায়, আবু আব্দুল্লাহ, বসবাস ও মৃত্যু বাগদাদে; তিনি ইবনে সাদ নামে প্রসিদ্ধি লাভ করেন এবং তাকে ‘কাতিব আল-ওয়াকিদি’ (ওয়াকিদির লেখক), ‘সাহিব আল-ওয়াকিদি’ (ওয়াকিদির সঙ্গী)
(2) এবং ‘গুলাম আল-ওয়াকিদি’ (ওয়াকিদির খাদেম)
(3) উপাধিতে ভূষিত করা হয়।
•
জন্ম: -
আয-যাহাবি তার ‘সিয়ারু আলামিন নুবালা’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কোনো উৎস তার জন্মের তারিখ সুনির্দিষ্টভাবে বর্ণনা করেনি; তিনি বলেছেন যে, তিনি একশ ষাট হিজরির পর জন্মগ্রহণ করেছেন এবং বলা হয়: তার জন্ম একশ ৬৮ হিজরি সনে
(4)। তবে অধিকাংশ উৎসই তার মৃত্যুর সময় নির্ধারণ করেছে: বাষট্টি বছর বয়সে দুইশ ত্রিশ হিজরি সনে
(5)। এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, তার জন্ম একশ ৬৮ হিজরি সনে। তার জন্ম বসরায় হয়েছিল
(6), যা সেই সময়ে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল এবং শরিয়াহ, আরবি ভাষা, ইতিহাস ও বংশবিদ্যা বিষয়ক শীর্ষস্থানীয় তাবিঈ ও তাদের অনুসারী আলেমদের পদচারণায় মুখরিত ছিল।
•
বেড়ে ওঠা ও সফরসমূহ: -
ইবনে সাদ বসরায় বেড়ে ওঠেন যেমনিভাবে সে আমলের সমসাময়িকরা বেড়ে উঠতেন এবং তিনি বসরার আলেমদের কাছে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। কিন্তু আমরা সুনির্দিষ্টভাবে জানি না যে তিনি সর্বপ্রথম কোন আলেমদের নিকট শিক্ষাগ্রহণ করেছিলেন, কারণ উৎসগ্রন্থগুলো এই বিষয়ে আমাদের কোনো তথ্য প্রদান করে না। তেমনিভাবে তার পরিবার সম্পর্কেও আমরা কিছু জানতে পারি না। তবে তার বসরিয় শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন: আবু আসিম আন-নাবিল, আরিম বিন আল-ফাদল, ইসমাইল বিন উলাইয়্যাহ, আফফান বিন মুসলিম, আবুল ওয়ালিদ আত-তায়ালিসি এবং আরও অনেকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
وقد قدم بغداد، واستقر بها، ولازم شيخه محمد بن عمر الواقدي، وكتب له مدة من الزمن حتى عرف به.
كما قدم الكوفة ورحل إلى المدينة النبوية وإلى مكة وأخذ من علماء تلك البلدان، ولا نجد في المصادر ما يفيدنا عن تاريخ رحلاته إلى هذه الأمصار إلا ما ذكر هو خلال ترجمة أبي علقمة الفَرَوي مولي آل عثمان بن عفان، حيث ذكر أنه لقيه بالمدينة سنة تسع وثمانين ومائة
(1)، وعمره في ذلك الوقت لا يتجاوز إحدى وعشرين سنة، مما يدل على رحلاته المبكرة في طلب العلم.
وابن سعد لا يتحدث عن نفسه في كتاب الطبقات ولا يشير إلى تاريخ رحلاته ولقياه للعلماء مِمّا حَرَمنا من مثل هذه المعلومات التي يمكن الاستفادة منها في دراسة حياته.
والأمر يحتاج إلى معرفة وفيات شيوخه في البلدان التي زارها وترتيبها ترتيبا تاريخيا ليعرف على وجه التقريب تاريخ دخوله لكل مصر من هذه الأمصار التي رحل إليها.
•
ثقافته: -
شيوخ ابن سعد في كتاب الطبقات يزيد عددهم على مائتين وخمسين شيخا
(2)، ويمثلون مساحة واسعة من التخصصات العلمية المتنوعة، مثل علم الحديث والرجال، والجرح والتعديل، والفقه وعلوم القرآن، والسير والأخبار والمغازي والفتوح والأحداث، وكذلك الأدب والأنساب والشعر واللغة.
--------------------------------------------
তিনি বাগদাদে আসেন, সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং তাঁর শায়খ মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদির সান্নিধ্য গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ সময় তাঁর লেখক হিসেবে কাজ করেন, এমনকি শেষ পর্যন্ত তিনি তাঁর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেন।
একইভাবে তিনি কুফায় আসেন এবং মদিনা ও মক্কায় সফর করেন এবং ওই সকল জনপদের আলেমদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁর এই শহরগুলোতে সফরের তারিখ সম্পর্কে উৎস গ্রন্থগুলোতে আমরা কোনো তথ্য পাই না; কেবল আবু আলকামা আল-ফারাবি (যিনি উসমান ইবনে আফফানের পরিবারের মুক্তদাস ছিলেন)-এর জীবনী বর্ণনায় তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা ছাড়া। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি তাঁর সাথে ১৮৯ হিজরিতে মদিনায় সাক্ষাৎ করেন। সে সময় তাঁর বয়স একুশ বছরের বেশি ছিল না, যা তাঁর জ্ঞান অন্বেষণে প্রাথমিক সময়ের সফরের প্রমাণ দেয়।
ইবনে সাদ তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে নিজের সম্পর্কে আলোচনা করেননি এবং তাঁর সফরের তারিখ বা আলেমদের সাথে তাঁর সাক্ষাতের কোনো ইঙ্গিত দেননি, যার ফলে আমরা এমন সব তথ্য থেকে বঞ্চিত হয়েছি যা তাঁর জীবনবৃত্তান্ত অধ্যয়নে কাজে আসতে পারত।
বিষয়টি অনুধাবন করার জন্য তিনি যে শহরগুলো সফর করেছেন সেখানকার শায়খদের মৃত্যুসন জানা এবং সেগুলোকে কালানুক্রমিকভাবে সাজানো প্রয়োজন, যাতে করে তিনি ওই শহরগুলোর প্রত্যেকটিতে আনুমানিক কোন সময়ে প্রবেশ করেছিলেন তা জানা যায়।
•
তাঁর পাণ্ডিত্য: -
'তাবাকাত' গ্রন্থে ইবনে সাদের শায়খদের সংখ্যা দুইশ পঞ্চাশের অধিক, যাঁরা ইলমের বহুমুখী ও বিশাল একটি ক্ষেত্রের প্রতিনিধিত্ব করেন; যেমন—হাদিস শাস্ত্র ও রিজাল শাস্ত্র, জারহ ও তাদিল, ফিকহ ও কুরআন সংশ্লিষ্ট জ্ঞান, সিরাত, ইতিহাস, যুদ্ধাভিযান (মাগাজি), বিজয়গাথা ও ঐতিহাসিক ঘটনাবলি, সেই সাথে সাহিত্য, বংশলতিকা, কবিতা এবং ভাষা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ولذلك فقد كانت ثقافته متنوعة وواسعة، وكتاب الطبقات الكبرى يُمَثّل سعة علمه وثقافته. وقد شهد له العلماء بسعة العلم وطُولِ الباع فيه، فقال تلميذه وأحد رواة كتاب الطبقات، الحسين بن فهم: "كان كثير العلم، كثير الحديث والرواية، كثير الكتب، كتب الحديث وغيره من كتب الغريب والفقه
(1)، وقال الخطيب البغدادي: "وصنّف كتابا كبيرا في طبقات الصحابة والتابعين والخالفين إلى وقته فأجاد فيه وأحسن"
(2)، وقال الذهبي: "كان من أوعية العلم ومن نظر في الطبقات خضع لعلمه"
(3).
والمادة التي دونها ابن سعد في كتاب الطبقات تدل على سعة علمه وتعدد معارفه ومشاركته في كثير من الميادين العلمية، ففي الطبقات معلومات في الأنساب واسعة ودقيقة، وكذا في الأخبار والحوادث، وفي معرفة الرجال وجرحهم وتعديلهم، وفي رواية الحديث وطرقه وفي الأحكام الفقهية، والسنن والآداب التي اتصف بها السلف من الصحابة والتابعين، وفي الخطط والمباني والمزارع والآبار والمحاصيل الزراعية، كما نجد معلومات طيبة عن أنواع الأطعمة والألبسة والأثاث المستخدم في المنازل، بل نجد ابن سعد يهتم بجمع المعلومات عن الصفات الشخصية لِلْعَلَم الذي يترجم له، فيذكر صِفَةَ شَعْرِهِ وكثافته، وشيبه، وصبغه للشعر، وهيئة ونوع لباسه، ومقدار ثمنه، والطيب الذي يستخدمه، ومواصفاته الجسمية فيما إذا كان الشخص طويلًا أو قصيرًا، وما أُصيبَ به من العاهات، إلى غير ذلك الصفات الخَلْقية والخُلُقِيّة، من مما يدل على اهتمام بهذا النوع من المعرفة الذي من الممكن أن تقوم عليه اليوم دراسات اجتماعية نافعة.
--------------------------------------------
এ কারণে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল বৈচিত্র্যময় ও বিস্তৃত, এবং 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থটি তাঁর জ্ঞান ও সংস্কৃতির ব্যাপকতার প্রতিনিধিত্ব করে। উলামায়ে কেরাম তাঁর ইলমের বিশালতা এবং এই ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর ছাত্র এবং 'তাবাকাত' গ্রন্থের অন্যতম বর্ণনাকারী হুসাইন ইবনে ফাহম বলেন: "তিনি ছিলেন অগাধ ইলমের অধিকারী, প্রচুর হাদিস ও বর্ণনা সংরক্ষণকারী এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি হাদিস এবং এছাড়া 'গারিব' (দুর্লভ শব্দাবলি) ও ফিকহ বিষয়ক অন্যান্য কিতাবাদি রচনা করেছেন
(১)। খতিব আল-বাগদাদি বলেন: "তিনি সাহাবী, তাবিঈ এবং তাঁর সময় পর্যন্ত পরবর্তী উত্তরসূরিদের জীবনী (তাবাকাত) নিয়ে একটি বিশাল গ্রন্থ রচনা করেছেন, যাতে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছেন"
(২)। আয-যাহাবি বলেন: "তিনি ছিলেন ইলমের আধারসমূহের অন্যতম। যে ব্যক্তি 'তাবাকাত' গ্রন্থের ওপর দৃষ্টিপাত করবে, সে তাঁর ইলমের সামনে নত হতে বাধ্য হবে"
(৩)।
ইবনে সাদ 'তাবাকাত' গ্রন্থে যে বিষয়বস্তু লিপিবদ্ধ করেছেন, তা তাঁর ইলমের বিশালতা, বহুমুখী জ্ঞান এবং বহুবিধ ইলমি অঙ্গনে তাঁর পদচারণার প্রমাণ দেয়। 'তাবাকাত' গ্রন্থে বংশগতি (নাসাব) সংক্রান্ত ব্যাপক ও নিখুঁত তথ্য রয়েছে। তেমনি রয়েছে সংবাদ ও ঘটনাবলি, বর্ণনাকারীদের পরিচয় এবং তাঁদের জারাহ-তাদিল (ত্রুটি ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই) বিষয়ক জ্ঞান, হাদিস বর্ণনা ও এর সূত্রসমূহ, ফিকহি আহকাম এবং সাহাবী ও তাবিঈদের মধ্য থেকে পূর্বসূরি সালাফগণ যেসব সুন্নাহ ও আদব বা শিষ্টাচারের অধিকারী ছিলেন সেই সংক্রান্ত তথ্যাদি। এছাড়া নগর পরিকল্পনা, ভবন, খামার, কূপ ও কৃষিজাত পণ্য সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যায়। একইভাবে আমরা এতে বিভিন্ন ধরনের খাবার, পোশাক এবং ঘরে ব্যবহৃত আসবাবপত্র সম্পর্কেও চমৎকার তথ্য পাই। এমনকি আমরা দেখতে পাই যে, ইবনে সাদ যাঁর জীবনী (তরজমা) বর্ণনা করছেন, তাঁর ব্যক্তিগত গুণাবলি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। ফলে তিনি তাঁর চুলের বৈশিষ্ট্য ও ঘনত্ব, বার্ধক্যজনিত শুভ্রতা, চুলে খেজাব লাগানো, পোশাকের ধরন ও আকৃতি, এর মূল্যমান, ব্যবহৃত সুগন্ধি এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য—যেমন ব্যক্তিটি দীর্ঘদেহী নাকি খাটো ছিলেন এবং তিনি কোনো শারীরিক প্রতিবন্ধকতায় আক্রান্ত ছিলেন কি না—সেসব উল্লেখ করেন। এছাড়া তাঁর সৃষ্টিগত ও চারিত্রিক গুণাবলিও বর্ণিত হয়েছে, যা এই ধরনের জ্ঞানের প্রতি তাঁর আগ্রহের পরিচয় দেয়, যার ওপর ভিত্তি করে বর্তমানে অত্যন্ত উপকারী সামাজিক গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
•
عقيدته:•
عاصر ابن سعد حركة انتعاش المذهب الاعتزالي الذي تبنته السلطة الحاكمة وحاولت فرضه على الأمة بقوة السلطان، وذلك في عهد الخلفاء العباسيين، المأمون، والمعتصم، والواثق (198 - 232 هـ) وكانت أكبر المسائل في هذا المذهب القول بخلق القرآن الكريم إنكارًا منهم لصفات الله سبحانه وتعالى، ومنها صفة الكلام، وقد واجه علماء السنة والأثر هذه المقولة بشدة وأنكروها وكفروا القائل بها
(1)، فحاول المأمون انتزاع إقرار العلماء بالقوة وامتحانهم بهذه المسألة وأن لا يتولى القضاء والشهود والتدريس إلّا من أقر بها
(2).
وكان ابن سعد من وجوه العلماء والمحدثين في بغداد في تلك الفترة، فقد كان أحد السبعة الذين أمر المأمون، في سنة ثمان عشرة ومائتين، وإليه على بغداد، إسحاق ابن إبراهيم، بإشخاصهم إليه في الرقة لكي يمتحنهم ويأخذ إقرارهم على هذه المسألة، فلما أحضروا عند المأمون سألهم عن خلق القرآن فأجابوا جميعا أن القرآن مخلوق فأعادهم إلى مدينة السلام وشهر إسحاق بن إبراهيم أمرهم بحضرة الفقهاء والمشائخ من أهل الحديث، فأقروا بمثل ما أجابوا به المأمون، فَخَلّى سبيلهم
(3)، وهذه
--------------------------------------------
তাঁর আকিদা:•
ইবনে সাদ মুতাজিলা মতবাদের পুনর্জাগরণের আন্দোলনের সমসাময়িক ছিলেন, যা তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী গ্রহণ করেছিল এবং রাজকীয় ক্ষমতার জোরে উম্মাহর ওপর তা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। এটি ছিল আব্বাসীয় খলিফা আল-মামুন, আল-মুতাসিম এবং আল-ওয়াসিক (১৯৮ - ২৩২ হি.)-এর শাসনামলে। এই মাযহাবের সবচেয়ে বড় বিতর্কিত বিষয়টি ছিল পবিত্র কুরআন সৃষ্টির দাবি, যার মাধ্যমে তারা মহান আল্লাহর গুণাবলি, বিশেষ করে তাঁর কথা বলার গুণকে (সিফাতে কালাম) অস্বীকার করত। সুন্নাহ ও আসারপন্থী ওলামায়ে কেরাম এই দাবির কঠোর মোকাবিলা করেছেন, একে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং এই মত পোষণকারীকে কাফির হিসেবে গণ্য করেছেন
(১)। ফলে মামুন ওলামাদের কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকৃতি আদায়ের চেষ্টা করেন এবং এই বিষয়ে তাঁদের পরীক্ষা (মিহনা) নিতে শুরু করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, যারা এই মতবাদ স্বীকার করবে না তারা বিচারিক কাজ, সাক্ষ্য প্রদান এবং শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করতে পারবে না
(২)।
ইবনে সাদ সেই সময়ে বাগদাদের বিশিষ্ট ওলামা ও মুহাদ্দিসদের একজন ছিলেন। তিনি ছিলেন সেই সাতজন ব্যক্তির একজন, যাদেরকে ২১৮ হিজরিতে মামুনের আদেশে বাগদাদের গভর্নর ইসহাক ইবনে ইবরাহিম রাক্কায় তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন, যাতে তিনি তাঁদের পরীক্ষা করতে পারেন এবং এই বিষয়ে তাঁদের স্বীকৃতি গ্রহণ করতে পারেন। যখন তাঁদেরকে মামুনের সামনে উপস্থিত করা হলো, তিনি তাঁদেরকে কুরআন সৃষ্টি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন এবং তাঁরা সকলেই উত্তর দিলেন যে কুরআন সৃষ্ট। এরপর তিনি তাঁদেরকে মাদিনাতুস সালামে (বাগদাদ) ফেরত পাঠান এবং ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ফকিহ ও আহলে হাদিস মাশায়েখদের উপস্থিতিতে তাঁদের বিষয়টি প্রকাশ করেন। সেখানে তাঁরা মামুনের কাছে যা উত্তর দিয়েছিলেন, তারই পুনরাবৃত্তি করেন। অতঃপর তিনি তাঁদেরকে মুক্তি দেন
(৩)। এবং এটি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
المسألة لا شك أن لها تأثيرًا في الاعتقاد، إذا كانت عن رضى واختيار، ولكن الواضح من أمرهم أنهم سُجِنوا وهُدّدوا، فأخذوا بالرخصة، وأجابوا تقية، وقد قال تعالى: {لَا يَتَّخِذِ الْمُؤْمِنُونَ الْكَافِرِينَ أَوْلِيَاءَ مِنْ دُونِ الْمُؤْمِنِينَ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ فِي شَيْءٍ إِلَّا أَنْ تَتَّقُوا مِنْهُمْ تُقَاةً وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ وَإِلَى اللَّهِ الْمَصِيرُ}
(1)، وقال تعالى: ? {مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ مِنْ بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَكِنْ مَنْ شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا
… } الآية
(2) فالله قد أذن لمن لم يستطع الصمود والصبر والأخذ بالعزيمة أن يأخذ بالرخصة إذا كان القلب مطمئنا بالإيمان، ومن المقرر أن الإيمان يزيد وينقص وأن المرء قد يضعف عن تحمّل بعض المواقف، وإن كان المأمول في العالم القدوة أن يأخذ بالعزائم ويصبر على ما يلاقي في سبيل الله، كما فعل الإمام أحمد بن حنبل في هذه القضية، ولعل ذلك ما يوضح سبب غضب الإمام أحمد من موقف الذين أجابوا في الفتنة من العلماء، وحلفه اليمين بأن لا يكلم أحدا ممن أجاب في المحنة حتى يلقى الله عز وجل، وكراهته الكتابة عنهم
(3).
ولكن رغم هذا الموقف من ابن سعد إلا أننا لم نجد أحدًا من العلماء الذين ترجموه، قد عابه بهذا الموقف، لأن الأمر فيه رخصة من الله وما فعله لا يتعدى القول باللسان وقت الإكراه والتهديد.
وقد أورد العلماء أقوال ابن سعد في جرح الرجال وتعديلهم في كتبهم
(4) ولم يَطْرَحُوا قوله بسبب هذا الموقف.
--------------------------------------------
নিঃসন্দেহে এই বিষয়টি আকিদার ওপর প্রভাব ফেলে, যদি তা সন্তুষ্টি ও স্বেচ্ছায় হয়ে থাকে। কিন্তু তাদের বিষয়টি থেকে স্পষ্ট যে তারা বন্দি হয়েছিলেন এবং হুমকির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তাই তারা অনুমোদিত ছাড় গ্রহণ করেছেন এবং আত্মরক্ষামূলকভাবে (তাকিয়া) উত্তর দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {মুমিনরা যেন মুমিনদের বাদ দিয়ে কাফিরদের বন্ধুরূপে গ্রহণ না করে; আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক থাকবে না। তবে ব্যতিক্রম হলো, যদি তোমরা তাদের পক্ষ থেকে কোনো অনিষ্টের আশঙ্কা করো। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল}
(১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {যে ব্যক্তি ঈমান আনার পর আল্লাহর সাথে কুফরি করে—তবে যাকে বাধ্য করা হয়েছে অথচ তার অন্তর ঈমানের ওপর স্থির—কিন্তু যে ব্যক্তি কুফরির জন্য বুক উন্মুক্ত করে দেয়…} আয়াত পর্যন্ত
(২)। সুতরাং আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে অনুমোদিত ছাড় গ্রহণ করার অনুমতি দিয়েছেন যে দৃঢ়তা, ধৈর্য এবং সংকল্প প্রদর্শনে সক্ষম নয়, যদি তার অন্তর ঈমানের ওপর স্থির থাকে। এটি সুপ্রতিষ্ঠিত যে ঈমান বৃদ্ধি পায় ও হ্রাস পায় এবং মানুষ কোনো কোনো পরিস্থিতির মোকাবিলায় দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। যদিও একজন আদর্শ আলেমের নিকট প্রত্যাশা হলো তিনি দৃঢ়তা অবলম্বন করবেন এবং আল্লাহর পথে যা কিছু আপতিত হয় তাতে ধৈর্য ধারণ করবেন, যেমনটি ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল এই ঘটনায় করেছিলেন। আর সম্ভবত এটিই ইমাম আহমাদ কেন ফিতনার সময় উত্তরদানকারী আলেমদের ওপর রাগান্বিত হয়েছিলেন তার কারণ স্পষ্ট করে, এমনকি তিনি শপথ করেছিলেন যে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লার সাথে সাক্ষাৎ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই সংকটে (মিহনা) উত্তরদানকারী কারো সাথে কথা বলবেন না, এবং তাদের থেকে হাদিস বা ইলম বর্ণনা করাও অপছন্দ করতেন
(৩)।
কিন্তু ইবনে সা’দ-এর পক্ষ থেকে এমন অবস্থান থাকা সত্ত্বেও, যেসব আলেম তাঁর জীবনী লিখেছেন তাঁদের কাউকে আমরা দেখিনি যে তাঁরা এই অবস্থানের জন্য তাঁর নিন্দা করেছেন। কারণ বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি অনুমোদিত ছাড় এবং তিনি যা করেছেন তা জবরদস্তি ও হুমকির মুখে কেবল মৌখিক উচ্চারণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।
আলেমগণ তাঁদের কিতাবসমূহে রাবীদের দোষ ও গুণ বর্ণনার (জারহ ও তা’দীল) ক্ষেত্রে ইবনে সা’দ-এর উক্তিগুলো উল্লেখ করেছেন
(৪) এবং এই অবস্থানের কারণে তাঁর বক্তব্যকে বর্জন করেননি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
•
منزلته العلمية:صحب محمد بن سعد شيخه محمد بن عمر الواقدي زمنا وكتب له حتى عرف به، ومحمد بن عمر الواقدي متكلم فيه، ونقاد الحديث لا يوثقونه، بل يتهمونه بالكذب، ولذا قال الذهبي: "انعقد الإجماع اليوم على أنه ليس بحجة وأن حديثه في عداد الواهي"
(1). وكاد ضعف الشيخ أن يؤثر على التلميذ، فقد روى الخطيب البغدادي: "أن مصعب الزبيري، سأل يحيى بن معين، عن حديث رواه محمد بن سعد، فقال: كذب قال الخطيب: قلت محمد سعد عندنا من أهل العدالة، وحديثه يدل على صدقه، فإنه يتحري في كثير من رواياته، ولعل مصعبًا الزبيري ذكر ليحيي عنه حديثا من المناكير التي يرويها الواقدي فنسبه إلى الكذب"
(2) غير أن ابن سعد بسبب تحريه وصدقه نجا مما وقع فيه شيخه، فأثنى عليه مجموعة من العلماء منهم راويته الحسين بن محمد بن فهم قال: كان كثير العلم كثير الحديث والرواية
(3)، وقال أبو حاتم: يصدق، جاء إلى القواريري فسأله عن أحاديث فحدثه
(4).
وقال الخطيب - إضافة إلى ما ذكر أعلاه -: كان من أهل الفضل والعلم، وصنّف كتابًا كبيرًا
… فأجاد فيه وأحسن
(5).
وقال النووي: محمد بن سعد كاتب الواقدي ثقة، وإن كان شيخه الواقدي ضعيفًا
(6).
--------------------------------------------
তাঁর জ্ঞানগত মর্যাদা:মুহাম্মাদ ইবনে সাদ তাঁর উস্তাদ মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদির সান্নিধ্যে দীর্ঘকাল অতিবাহিত করেন এবং তাঁর জন্য লিখনকার্য সম্পাদন করেন, যার ফলে তিনি তাঁর মাধ্যমেই পরিচিতি লাভ করেন। মুহাম্মাদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি এমন একজন ব্যক্তি যাঁর নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে; হাদিস সমালোচকগণ তাঁকে নির্ভরযোগ্য মনে করেন না, বরং তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যার অভিযোগ উত্থাপন করেন। এই কারণেই ইমাম আয-যাহাবি বলেছেন: "আজ এই মর্মে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তিনি দলিল (হুজ্জাত) হিসেবে গণ্য নন এবং তাঁর বর্ণিত হাদিস অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত।"
(১) উস্তাদের এই দুর্বলতা ছাত্রের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারত। খতিব আল-বাগদাদী বর্ণনা করেছেন: "মুসআব আল-যুবায়রি ইয়াহইয়া ইবনে মাঈনকে মুহাম্মাদ ইবনে সাদ বর্ণিত একটি হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: এটি মিথ্যা। খতিব বলেন: আমি বলছি, মুহাম্মাদ ইবনে সাদ আমাদের নিকট ন্যায়নিষ্ঠ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত এবং তাঁর বর্ণিত হাদিস তাঁর সততারই প্রমাণ দেয়; কেননা তিনি তাঁর অনেক বর্ণনায় অত্যন্ত সতর্কতার সাথে অনুসন্ধান করতেন। সম্ভবত মুসআব আল-যুবায়রি ইয়াহইয়ার নিকট ইবনে সাদের পক্ষ থেকে এমন কোনো 'মুনকার' (অপ্রসিদ্ধ ও অগ্রহণযোগ্য) হাদিসের কথা উল্লেখ করেছিলেন যা মূলত ওয়াকিদি বর্ণনা করেছিলেন, ফলে তিনি (ইয়াহইয়া) একে মিথ্যার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।"
(২) তবে ইবনে সাদ তাঁর সত্যনিষ্ঠা ও সতর্ক অনুসন্ধানের কারণে সেই ত্রুটি থেকে রক্ষা পেয়েছেন যাতে তাঁর উস্তাদ পতিত হয়েছিলেন। ওলামায়ে কেরামের একটি জামাত তাঁর প্রশংসা করেছেন, যাঁদের মধ্যে তাঁর বর্ণনাকারী হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে ফাহম অন্যতম। তিনি বলেছেন: তিনি ছিলেন অগাধ পাণ্ডিত্য এবং প্রচুর হাদিস ও বর্ণনার অধিকারী।
(৩) আবু হাতিম বলেছেন: তিনি সত্যবাদী। তিনি আল-কাওয়ারিরির নিকট এসে কিছু হাদিস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি তাঁকে হাদিস শুনিয়েছিলেন।
(৪)খতিব—উপরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা ছাড়াও—বলেছেন: তিনি ছিলেন ইলম ও ফযিলতের অধিকারী ব্যক্তি, তিনি একটি বৃহৎ কিতাব সংকলন করেছেন... এবং তাতে তিনি অত্যন্ত পারদর্শিতা ও শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছেন।
(৫)ইমাম আন-নওয়াবী বলেছেন: ওয়াকিদির লেখক মুহাম্মাদ ইবনে সাদ অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), যদিও তাঁর উস্তাদ ওয়াকিদি দুর্বল।
(৬)--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وقال ابن خلكان: كان أحد الفضلاء، النبلاء، الأجلاء
(1).
وقال الذهبي: الحافظ العلامة الحجة
(2)، ووصفه الحافظ ابن حجر بقوله: أحد الحفاظ الكبار الثقات المتحَرِّين
(3).
وقال في النجوم الزاهرة: كان إمامًا فاضلا عالمًا حسن التصانيف
(4)، وما روي من جرح ابن معين له، لا يعارض توثيق هؤلاء الأئمة له، وروايته في كتاب الطبقات عن الضعفاء من أمثال الواقدي وهشام الكلبي ومحمد بن مضعب القرقساني لا يَضيره ولا يكون سببًا في الطعن عليه
(5)، فقد شاركه في هذا المنهج كثير من الحفاظ الكبار، ولهذا قالوا: من أسند فقد بَرِئ من العُهدة.
وابن سعد ليس له رواية في الكتب الستة، إلا خبرًا واحدًا أخرجه أبو داود في إثبات صحبة قبيصة بن وقاص
(6).
ولابن سعد مشاركة في الجرح والتعديل وهو من المعتدلين
(7)، وكتابه الطبقات ملئ بألفاظ الجرح والتعديل، ولكن لا يُعارِض توثيقه ولا تضعيفه كلام الأئمة الكبار من أمثال: ابن المديني، وأحمد بن حنبل، فقد قال الذهبي في ميزان الاعتدال في ترجمة هياج ابن عمران البرجمي، شيخ الحسن
--------------------------------------------
ইবনে খাল্লিকান বলেছেন: তিনি ছিলেন অন্যতম শ্রেষ্ঠ, অভিজাত এবং সুমহান ব্যক্তিত্ব।
(১)যাহাবি বলেছেন: হাফিজ, আল্লামা এবং হুজ্জাত (প্রমাণস্বরূপ)
(২), এবং হাফিজ ইবনে হাজার তাকে এই বলে বর্ণনা করেছেন: তিনি ছিলেন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন নির্ভরযোগ্য ও সতর্ক হাফিজদের অন্যতম।
(৩)‘আন-নুজুমুজ জাহেরা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ ইমাম, আলিম এবং চমৎকার রচনাবলির অধিকারী।
(৪) ইবনে মাঈন কর্তৃক তার ব্যাপারে যে সমালোচনা (জারহ) বর্ণিত হয়েছে, তা এই সকল ইমামদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তার নির্ভরযোগ্যতার (তাওসিক) পরিপন্থী নয়। আর ‘তাবাকাত’ গ্রন্থে ওয়াকিদি, হিশাম কালবি এবং মুহাম্মদ ইবনে মুসআব আল-কারকিসানির মতো দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে তার বর্ণনা গ্রহণ করা তার কোনো ক্ষতি করে না এবং এটি তার ওপর অপবাদ আরোপের কারণও নয়।
(৫) অনেক বড় বড় হাফিজ এই একই নীতি অনুসরণ করেছেন; একারণেই তারা বলেছেন: যে ব্যক্তি সনদ (সূত্র) উল্লেখ করে দিয়েছে, সে তার দায়ভার থেকে মুক্ত হয়েছে।
ইবনে সা’দের কুতুবে সিত্তা বা ছয়টি প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থে কোনো বর্ণনা নেই, কেবল একটি সংবাদ ছাড়া যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন কাবিযাহ ইবনে ওয়াক্কাসের সাহচর্য প্রমাণের বিষয়ে।
(৬)জারহ ও তা’দিল (বর্ণনাকারীদের যাচাই-বাছাই) শাস্ত্রের ক্ষেত্রেও ইবনে সা’দের অবদান রয়েছে এবং তিনি মধ্যমপন্থীদের অন্তর্ভুক্ত।
(৭) তার ‘তাবাকাত’ গ্রন্থটি জারহ ও তা’দিলের পরিভাষায় ভরপুর, তবে তার দেওয়া নির্ভরযোগ্যতা বা দুর্বলতার সিদ্ধান্তগুলো ইবনে মাদিনি এবং আহমদ ইবনে হাম্বলের মতো বড় ইমামদের বক্তব্যের বিরোধী নয়। যাহাবি ‘মিজানুল ইতিদাল’ গ্রন্থে হাসানের শিক্ষক হাইয়াজ ইবনে ইমরান আল-বুজুমির জীবনীতে বলেছেন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
البصري، وثقه ابن سعد، وقال ابن المديني: مجهول، فَصَدَقَ عَليّ
(1).
وقال في ترجمة نافع بن عمر الجمحي المكي، قال أحمد: ثقة ثبت. وقال ابن سعد: ثقة فيه شيء. قال الذهبي: هذا نوع من العنت، والرجل كما قال الإمام أحمد
(2).
•
شيوخه: -
روى ابن سعد عن عدد جَمٌ من الشيوخ، فقد أحصى أحد الباحثين شيوخه في المطبوع من الطبقات فبلغوا تسعة وثلاثين ومائتي شيخ
(3). وروى في القسم المتمم لطبقات المدنيين
(4) عن تسعة وأربعين شيخًا، منهم ثلاثة لم يدخلوا في الإحصاء المشار إليه، ومجموع ما ذكره المِزّي
(5)، والذهبي
(6)، وابن حجر
(7)، من شيوخه واحد وعشرون شيخا، منهم أربعة غير موجودين في الإحصاء المذكور، وقد أحصيت شيوخه في هذه الطبقة (الخامسة من الصحابة) فبلغوا تسعة وتسعين شيخًا، منهم ثلاثة عشر غير واردين في الإحصاء أعلاه.
وبذلك يصبح مجموع شيوخه تسعة وخمسين ومائتي شيخ على وجه التقريب، باستثناء الطبقة الرابعة من الصحابة وهي: من أسلم عند فتح مكة
--------------------------------------------
বাসরি, ইবনে সাদ তাকে বিশ্বস্ত বলেছেন, এবং ইবনে আল-মাদিনী বলেছেন: তিনি অজ্ঞাত, তবে আলীর কথা সত্য হয়েছে
(১).
নাফি ইবনে উমর আল-জুমাহি আল-মাক্কির জীবনীতে তিনি বলেছেন, আহমাদ বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ়। ইবনে সাদ বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত, তবে তার মধ্যে কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। যাহাবি বলেছেন: এটি এক ধরণের কঠোরতা, আর ব্যক্তিটি ইমাম আহমাদ যেমনটি বলেছেন তেমনই
(২).
•
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ: -
ইবনে সাদ বিপুল সংখ্যক শিক্ষকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। জনৈক গবেষক 'তাবাকাত'-এর মুদ্রিত সংস্করণে তাঁর শিক্ষকদের গণনা করেছেন এবং তাঁদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুইশত ঊনচল্লিশ জন শিক্ষকে
(৩)। তিনি 'তাবাকাতুল মাদানিয়্যিন'-এর পরিশিষ্ট অংশে
(৪) ঊনপঞ্চাশ জন শিক্ষকের নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে তিনজন উল্লিখিত গণনায় অন্তর্ভুক্ত হননি। আর আল-মিযযি
(৫), আয-যাহাবি
(৬) এবং ইবনে হাজার
(৭) তাঁর যে শিক্ষকদের কথা উল্লেখ করেছেন তাদের সংখ্যা একুশ জন, যাদের মধ্যে চারজন উল্লিখিত গণনায় বিদ্যমান নেই। আমি এই স্তরে (সাহাবীদের পঞ্চম স্তর) তাঁর শিক্ষকদের গণনা করেছি এবং তাঁরা নিরানব্বই জন শিক্ষকে পৌঁছেছেন, যাদের মধ্যে তেরো জন উপরের গণনায় অন্তর্ভুক্ত নন।
এর মাধ্যমে তাঁর মোট শিক্ষকের সংখ্যা আনুমানিকভাবে দুইশত ঊনষাট জন হয়, সাহাবীদের চতুর্থ স্তর ব্যতীত, আর তা হলো: যারা মক্কা বিজয়ের সময় ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
ومن بعدهم
(1): وليس من اليسير أن أترجمهم كلهم في هذا الموطن ولكن سأقتصر على ذكر شيوخه في الطبقة التي أحققها وسوف أترجم أربعة من شيوخه الذين أكثر عنهم في الطبقة الخامسة من الصحابة وأذكر البقية ذكرا، ومقدار ما رواه عن كل واحد وأرتبهم على حروف المعجم.
1 - محمد بن عمر الواقدي (130 - 207 هـ): -
ولد بالمدينة سنة ثلاثين ومائة وتلقى العلم بها ثم رحل كعادة أهل زمانه المشافهة العلماء والتلقي عنهم فأخذ عن صغار التابعين ومن بعدهم في الحجاز والعراق والشام، وقدم بغداد سنة ثمانين ومائة
(2) ثم رحل عنها إلى الرّقة والشام وعاد إلى المدينة ثم رجع إلى بغداد، فولاه الرشيد القضاء، وبقي بها إلى أن مات في شهر ذي الحجة من سنة سبع ومائتين
(3)، وله من العمر ثمان وسبعون سنة
(4)، وقد كان أخباريًا جامعًا، ألف كثيرا من الكتب في موضوعات متعددة، وقد ذكر ابن النديم: أن الواقدي خَلّف بعد وفاته ستمائة قمطر كُتُبا وكل قمطر منها حِمْلُ رجلين، وكان له غلامان مملوكان يكتبان له الليل والنهار، وقَبْلَ ذلك بيع له كتب بألفي دينار
(5).
وله من الكتب: كتاب المغازي، كتاب أخبار مكة، كتاب الطبقات، فتوح الشام، فتوح العراق، الجمل، صفين، الردة والدار، وفاة النبي مولد الحسن والحسين، مقتل الحسين مقتل الحسين، ضرب الدنانير والدراهم،
--------------------------------------------
এবং তাদের পরবর্তীগণ
(১): এই স্থানে তাদের সকলের জীবনী বর্ণনা করা সহজ নয়, তবে আমি যে স্তরের (তাবাকাহ) তাহকিক করছি, সেখানে তাঁর উস্তাদদের বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব। সাহাবীদের পঞ্চম স্তরে তাঁর যে চারজন উস্তাদ থেকে তিনি অধিক বর্ণনা করেছেন, আমি তাদের জীবনী উল্লেখ করব এবং বাকিদের কেবল নাম উল্লেখ করব। সেই সাথে প্রত্যেকের নিকট থেকে তিনি কতটুকু বর্ণনা করেছেন তাও উল্লেখ করব এবং তাদেরকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজাব।
১ - মুহাম্মদ ইবনে উমর আল-ওয়াকিদি (১৩০ - ২০৭ হিজরি): -
তিনি ১৩০ হিজরিতে মদিনায় জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই জ্ঞান অর্জন করেন। এরপর সেকালের মানুষের রীতি অনুযায়ী আলেমদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎ ও জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে সফর করেন। তিনি হিজাজ, ইরাক ও সিরিয়ায় ছোট তাবিঈ এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন। ১৮০ হিজরিতে তিনি বাগদাদে আসেন, তারপর সেখান থেকে রাক্কা ও সিরিয়া সফর করেন এবং মদিনায় ফিরে আসেন। পরবর্তীতে পুনরায় বাগদাদে ফিরে গেলে (খলিফা হারুন) আল-রশিদ তাকে বিচারকের দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি সেখানে ২০৭ হিজরির জিলহজ মাসে মৃত্যু পর্যন্ত অবস্থান করেন। সে সময় তার বয়স ছিল ৭৮ বছর। তিনি ছিলেন একজন ব্যাপক জ্ঞানসম্পন্ন ইতিহাসবিদ, যিনি বিভিন্ন বিষয়ে অসংখ্য কিতাব রচনা করেছেন। ইবনে নাদিম উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াকিদি তার মৃত্যুর পর ছয়শ সিন্দুক কিতাব রেখে গেছেন, যার প্রতিটি সিন্দুক বহন করার জন্য দুইজন মানুষের প্রয়োজন হতো। তার দুইজন ক্রীতদাস ছিল যারা দিনরাত তার জন্য লিখত। এর আগে তার কিছু কিতাব দুই হাজার দিনারে বিক্রি হয়েছিল
(৫)।
তাঁর রচিত কিতাবসমূহের মধ্যে রয়েছে: কিতাবুল মাগাজি, কিতাবুল আখবারে মক্কা, কিতাবুত তাবাকাত, ফুতুহুশ শাম, ফুতুহুল ইরাক, আল-জামাল, সিফফিন, আর-রিদ্দাহ ওয়াদ-দার, ওফাতুন নবী, মাওলিদুল হাসান ওয়াল হুসাইন, মাকতালুল হুসাইন, দরবুদ দানানির ওয়াদ দারাাহিম,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
التاريخ الكبير
(1)، كتاب الحرة
(2)، كتاب الصوائف (*).
ولا شك في أنه قد استفاد من هذه الكتب مَنْ جاء بعده، وأولهم كاتبه محمد بن سعد، قال محمد بن موسى: الذين اجتمعت عندهم كتب الواقدي أربعة أنفس: محمد بن سعد الكاتب أولهم
(3).
وابن سعد لا يصرح بأسماء كتب شيخه التي أخذ منها بالرواية والسماع أو بالإجازة. غير أن جمع الروايات التي أسندها من طريق الواقدي، وضم بعضها إلى بعض، يشكل الموضوعات التي ألف فيها الواقدي، فمولد الحسن والحسين، ويوم الدار، والجمل، وصفين، وفتوح الشام، والعراق، ومقتل الحسين، ومرج راهط، كلها موضوعات تحدث عنها ابن سعد في هذا القسم من طبقاته وأورد فيها روايات من طريق الواقدي، مما يدل على أنه استفاد من كتب شيخه، وقد كان أكبر شيخ أخذ عنه، فهذا القسم يحوي خمس عشرة وسبعمائة رواية منها سبع وثمانون ومائة رواية من طريق الواقدي، وهي تشكل نسبة 26 % من عدد الروايات، وهي نسبة عالية لم يصل إليها بل إلى نصفها أي شيخ آخر، فأبو نعيم الفضل بن دكين، يأتي في المرتبة الثانية بعد الواقدي ولكن نسبة المرويات من طريقه تمثل 10 % فقط. ولا غرابة في كثرة مرويات ابن سعد عن الواقدي إذا أخذنا في الاعتبار طول ملازمته له، وكتابته عنه، واجتماع كتبه عنده، واتحاد التخصص والاهتمام العلمي بينهما.
وهنا مسألة ينبغي أن لا نغفلها ونحن نترجم للواقدي، وهي أقوال أهل العلم في عدالته، فلقد استوعب الخطيب البغدادي في تاريخ بغداد
(4)،
--------------------------------------------
আত-তারিখুল কাবির
(১), কিতাবুল হাররাহ
(২), কিতাবুল সাওয়াইফ (*)।
এবং এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তাঁর পরবর্তীগণ এই বইগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে প্রথম হলেন তাঁর লেখক মুহাম্মদ ইবনে সাদ। মুহাম্মদ ইবনে মুসা বলেছেন: যাঁদের কাছে ওয়াকিদির বইগুলো একত্রিত হয়েছিল তাঁরা চারজন: মুহাম্মদ ইবনে সাদ আল-কাতিব তাঁদের মধ্যে প্রথম
(৩)।
ইবনে সাদ তাঁর উস্তাদের সেই বইগুলোর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি যা থেকে তিনি বর্ণনা, শ্রবণ বা ইজাজতের (অনুমতি) মাধ্যমে গ্রহণ করেছেন। তবে ওয়াকিদির সূত্রে তিনি যেসব বর্ণনা প্রদান করেছেন সেগুলোকে একত্রিত করলে এবং একে অপরের সাথে মিলালে তা সেই সব বিষয়ের রূপরেখা তৈরি করে যেগুলোতে ওয়াকিদি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। হাসান ও হুসাইনের জন্ম, ইয়াউমুত দাউর (অবরোধের দিন), জঙ্গে জামাল, সিফফিন, শাম ও ইরাক বিজয়, হুসাইনের শাহাদাত এবং মারজ রাহিত—এসবই এমন বিষয় যা নিয়ে ইবনে সাদ তাঁর তাবাকাতের এই অংশে আলোচনা করেছেন এবং ওয়াকিদির সূত্রে বর্ণনা পেশ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে তিনি তাঁর উস্তাদের বইগুলো থেকে উপকৃত হয়েছেন। আর তিনি ছিলেন তাঁর সবচেয়ে বড় উস্তাদ যাঁর নিকট থেকে তিনি জ্ঞান গ্রহণ করেছেন। এই অংশে সাতশত পনেরটি বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে একশত সাতাশিটি বর্ণনা ওয়াকিদির সূত্রে। এটি মোট বর্ণনার ২৬ শতাংশ, যা একটি উচ্চ হার এবং অন্য কোনো উস্তাদ এর অর্ধেক পর্যন্তও পৌঁছাতে পারেননি। আবু নুয়াইম আল-ফাদল ইবনে দুকাইন ওয়াকিদির পরে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন, কিন্তু তাঁর সূত্রের বর্ণনার হার মাত্র ১০ শতাংশ। ওয়াকিদির নিকট থেকে ইবনে সাদের বর্ণনার এই আধিক্য বিস্ময়কর নয় যদি আমরা তাঁর দীর্ঘ সাহচর্য, তাঁর হয়ে লিখনকার্য সম্পাদন, তাঁর বইসমূহ নিজের কাছে সংগ্রহ থাকা এবং তাঁদের মধ্যকার বিশেষায়িত ক্ষেত্র ও জ্ঞানতাত্ত্বিক আগ্রহের ঐক্যের কথা বিবেচনা করি।
এবং এখানে একটি বিষয় আমাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয় যখন আমরা ওয়াকিদির জীবনী আলোচনা করছি, তা হলো তাঁর ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কে আলেমদের মতামত। খতিব আল-বাগদাদী তারিখু বাগদাদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন
(৪),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٤)
والمِزّي في تهذيب الكمال
(1)، والذهبي في سير أعلام النبلاء
(2)، وميزان الاعتدال
(3)، وابن حجر في تهذيب التهذيب
(4)، الأقوال في عدالته وحكوا إجماع النقاد من أمثال الشافعي، وابن المديني، وابن حنبل، وابن معين والبخاري، ومسلم، وأبي داود، وأبي زُرْعَة، وأبي حاتم الرازي، والنسائي، والدارقطني وابن عدي، والعُقيلي، والدولابي، على وهذه وتركه، قال الذهبي: أَحَدُ أوعية العلم على ضعفه المتفق عليه
(5). وقال أيضا: جمع فأوعى، وخلط الغثّ بالسمين، والخرز بالدر الثمين فاطَّرَحُوه لذلك، ومع هذا فلا يستغنى عنه في المغازي وأيام الصحابة
(6).
وقال: وقد تقرر أن الواقدي ضعيف، يُحتاج إليه في الغزوات، والتاريخ، ونورد آثاره من غير احتجاج، أما في الفرائض، فلا ينبغي أن يذكر
(7) … إلى أن قال: ولا عبرة بتوثيق من وثّقه، كيزيد، وأبي عبيد، وأبي عبيد، والصاغاني والحربي، ومعنّ، وتمام عشرة محدثين، إذ انعقد الإجماع اليوم على أنه ليس
بحجة وأن حديثه في عداد الواهي
(8).
وأورد الحافظ ابن حجر قول الذهبي في ميزان الاعتدال: استقر الإجماع على وَهَنِ الواقدي
(9). قال: وتعقبه بعض مشائخنا بما لا يلاقي
--------------------------------------------
তাহযীবুল কামাল গ্রন্থে আল-মিযযী
(১), সিয়ারু আলামিন নুবালা
(২) ও মীযানুল ইতিদাল
(৩) গ্রন্থে আয-যাহাবী এবং তাহযীবুত তাহযীব
(৪) গ্রন্থে ইবনে হাজার তার ন্যায়পরায়ণতা সম্পর্কিত বিভিন্ন উক্তি উল্লেখ করেছেন এবং তারা শাফেয়ী, ইবনুল মাদীনী, ইবনে হাম্বল, ইবনে মাঈন, বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, আবু যুরআহ, আবু হাতিম আর-রাযী, নাসাঈ, দারা কুতনী, ইবনে আদী, উকায়লী ও দূলাবীর মতো সমালোচকদের ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন তার দুর্বলতা ও তাকে বর্জনের বিষয়ে। যাহাবী বলেন: তার সর্বসম্মত দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি ইলমের অন্যতম একটি আধার
(৫)। তিনি আরও বলেন: তিনি প্রচুর সংগ্রহ করেছেন, কিন্তু তিনি অসার বিষয়কে সারবত্তার সাথে এবং সাধারণ পুঁতিকে মূল্যবান মুক্তার সাথে মিশ্রিত করেছেন, যার ফলে তারা তাকে বর্জন করেছেন। তাসত্ত্বেও, মাগাযী (যুদ্ধবিগ্রহ) এবং সাহাবীদের ইতিহাস বর্ণনায় তাকে ছাড়া উপায় নেই
(৬)।
তিনি বলেন: এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে ওয়াকিদী দুর্বল, তাকে যুদ্ধবিগ্রহ ও ইতিহাসের ক্ষেত্রে প্রয়োজন পড়ে এবং আমরা তার বর্ণনাগুলো কোনো দলিল হিসেবে গ্রহণ করা ছাড়াই উল্লেখ করি। তবে ফারায়েযের (উত্তরাধিকার আইন) ক্ষেত্রে তার কথা উল্লেখ করাও সমীচীন নয়
(৭)... এরপর তিনি বলেন: যারা তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন তাদের সেই সমর্থনের কোনো গুরুত্ব নেই, যেমন ইয়াযীদ, আবু উবাইদ, আবু উবাইদ, সাগানী, হারবী, মান এবং সর্বমোট দশজন মুহাদ্দিস। কারণ আজ এই বিষয়ে ইজমা (ঐকমত্য) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তিনি হুজ্জাত (দলিল) নন এবং তার হাদীস অত্যন্ত দুর্বল বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত
(৮)।
হাফেয ইবনে হাজার মীযানুল ইতিদাল গ্রন্থে যাহাবীর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন যে: ওয়াকিদীর দুর্বলতার বিষয়ে ইজমা স্থির হয়েছে
(৯)। তিনি বলেন: আমাদের কিছু উস্তাদ এর এমন সমালোচনা করেছেন যা সঙ্গতিপূর্ণ নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٥)
كلامه
(1)، وقال في لسان الميزان: متروك سعة علمه
(2)، وبهذا يتضح ضعف الواقدي واطراح حديثه، إلا أنه في باب الأخبار والمغازي والسير تورد رواياته ولكن لا يحتج بها إذا انفرد خاصة إذا كان فيها ما يستغرب أو يستنكر ومن باب أولى أن لا يعارض بها الروايات الصحيحة.
وقال الحافظ ابن كثير: الواقدي عنده زيادات حَسَنَة، وتاريخ محرّر غالبا، فإنه من أئمة هذا الشأن الكبار، وهو صدوق في نفسه، مِكْثَار
(3).
وقد حاول ابن سيد الناس، توثيق الواقدي، وأن مآخذ الأئمة عليه بسبب الإغْرَاب والتفَّرَد، وقال: هو واسعُ العلم، وَسَعَةَ العلم، مَظِنّة لكثرة الإغراب، وكثرة الإغراب مَظنَّة للتهمة
(4) كما حاول أحد المعاصرين
(5) تقوية أمر الواقدي، ولكن هيهات أن ينقض الإجماع الذي نقله العلماء الحفاظ، أهل التتبع والاستقراء من أمثال: المزي، والذهبي، وابن حجر.
2 - أبو نُعَيم الفضل بن دُكَين(6) (130 - 219 هـ): -
هو الفضل بن عمرو - ودُكَين لقب
(7) - ابن حماد بن زهير بن درهم،
--------------------------------------------
তার বক্তব্য
(১), এবং লিসানুল মিজানে বলা হয়েছে: তার জ্ঞানের ব্যাপকতা সত্ত্বেও তিনি পরিত্যক্ত
(২)। এর মাধ্যমেই ওয়াকিদির দুর্বলতা এবং তার বর্ণিত হাদিস বর্জনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। তবে সংবাদ, যুদ্ধাভিযান (মাগাজি) এবং জীবনচরিতের (সিরাত) ক্ষেত্রে তার বর্ণনাগুলো উল্লেখ করা হয়, কিন্তু তিনি যখন কোনো বর্ণনায় একক হয়ে যান তখন সেগুলো দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয় না; বিশেষ করে যদি তাতে অদ্ভুত বা আপত্তিকর কিছু থাকে। আর সহীহ বর্ণনাগুলোর বিপরীতে তার বর্ণনা দিয়ে বিরোধিতা না করা তো আরও বেশি যুক্তিযুক্ত।
হাফেজ ইবনে কাসীর বলেন: ওয়াকিদির কাছে কিছু উত্তম অতিরিক্ত তথ্য রয়েছে এবং তার ইতিহাস সাধারণত সুবিন্যস্ত; কেননা তিনি এই শাস্ত্রের অন্যতম বড় ইমাম। তিনি ব্যক্তি হিসেবে সত্যবাদী এবং অধিক বর্ণনাকারী
(৩)।
ইবনে সাইয়্যেদ আন-নাস ওয়াকিদিকে নির্ভরযোগ্য প্রমাণের চেষ্টা করেছেন এবং বলেছেন যে, ইমামগণ তার ব্যাপারে যে আপত্তি তুলেছেন তা তার অদ্ভুত বর্ণনা এবং একক হওয়ার কারণে। তিনি বলেছেন: তিনি অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, আর জ্ঞানের ব্যাপকতা অদ্ভুত বর্ণনার আধিক্যের কারণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, আর অদ্ভুত বর্ণনার আধিক্য অভিযোগের কারণ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে
(৪)। যেমন একজন সমসাময়িক ব্যক্তি
(৫) ওয়াকিদির অবস্থানকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু হাফেজ আলেমগণ—যারা গভীর অনুসন্ধান ও পর্যালোচনার অধিকারী যেমন আল-মিযযি, আয-যাহাবি এবং ইবনে হাজার—যে ঐকমত্য (ইজমা) বর্ণনা করেছেন, তা খণ্ডন করা অসম্ভব।
২ - আবু নুআইম আল-ফজল বিন দুকাইন(৬) (১৩০ - ২১৯ হিজরি): -
তিনি হলেন আল-ফজল বিন আমর - আর দুকাইন হলো লকব (উপাধি) - বিন হাম্মাদ বিন জুহাইর বিন দিরহাম,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٦)
مولى آل طلحة بن عبيد الله التيمي، وكنيته أبو نعيم، من أهل الكوفة، كان شريكا لعبد السلام بن حرب في دُكّان واحدٍ يبيعان المُلَاء، ولذا يقال له: المُلائِي
(1)، وسمع أبو نعيم: الأعمش، ومسعر بن كدام، وابن أبي ليلى، ومالك بن أنس، والسفيانين، وشعبة بن الحجاج، والحمادين، وزهير بن معاوية، وشَرِيك بن عبد الله
(2)، وغيرهم، يقول عن نفسه: كتبت عن نيف ومائة شيخ ممن كتب عنه سفيان الثوري
(3). وقال الذهبي: عدد شيوخه في التهذيب مئتان وثلاثة أنفس
(4).
وروى عنه: أحمد بن حنبل، وأبو بكر وعثمان ابنا أبي شيبة، ومحمد بن عبد الله بن نُمَير، وإسحاق بن راهويه، وزهير بن حرب، ومحمد بن سعد كاتب الواقدي، والبخاري، وأبو زرعة وأبو حاتم الرازيان، ويعقوب بن شيبة وغيرهم
(5).
قال الذهبي: حدث عنه البخاري كثيرًا وهو من كبار مشيخته وروى هو والجماعة عن رجل عنه
(6).
وقد كان لأبي نعيم، موقف مُتَميّز ومُشَرِّف في المحنة، حيث أنه ثبت ولم يجب كما أجاب غيره، ولما أدخل على والي الكوفة ليمتحنه قال: أدركتُ الكوفة وبها أكثر من سبعمائة شيخ، الأعمش فَمَنْ دُونَه يقولون: القرآن كلام الله، وعنُقِي أَهْوَن عندي من زري هذا
(7)، ولهذا قال الإمام أحمد: شيخان
--------------------------------------------
তালহা বিন উবাইদুল্লাহ আত-তায়িমির পরিবারের মুক্তদাস, তাঁর উপনাম আবু নুয়াইম, তিনি কুফাবাসী ছিলেন। তিনি একটি দোকানে আবদুস সালাম বিন হারবের অংশীদার হিসেবে চাদর বিক্রি করতেন, এ কারণেই তাঁকে 'আল-মুলায়ি'
(১) বলা হয়। আবু নুয়াইম হাদীস শুনেছেন: আমাশ, মিসআর বিন কিদাম, ইবনে আবি লায়লা, মালিক বিন আনাস, দুই সুফিয়ান, শু'বা বিন হাজ্জাজ, দুই হাম্মাদ, জুহাইর বিন মুয়াবিয়া, শারীক বিন আবদুল্লাহ
(২) এবং অন্যদের থেকে। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: "আমি একশ-রও অধিক এমন শায়খের নিকট থেকে হাদীস লিখেছি যাদের থেকে সুফিয়ান সাওরি লিখেছিলেন"
(৩)। আয-যাহাবি বলেন: 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে তাঁর শায়খদের সংখ্যা দুইশ তিন জন
(৪)।
তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন: আহমাদ বিন হাম্বল, আবু বকর ও উসমান ইবনে আবি শায়বা, মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন নুমাইর, ইসহাক বিন রাহওয়াইহি, জুহাইর বিন হারব, ওয়াকিদির লেখক মুহাম্মদ বিন সাদ, বুখারি, আবু যুরআ ও আবু হাতিম আর-রাযিদ্বয়, ইয়াকুব বিন শায়বা এবং অন্যান্যরা
(৫)।
আয-যাহাবি বলেন: ইমাম বুখারি তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেছেন এবং তিনি তাঁর বড় শায়খদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইমাম বুখারি ও জামাআত (অন্যান্য ইমামগণ) জনৈক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন
(৬)।
পরীক্ষার (মিহনা) সময় আবু নুয়াইমের এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা ছিল। তিনি সেখানে অটল ছিলেন এবং অন্যদের মতো সায় দেননি। যখন তাঁকে পরীক্ষা করার জন্য কুফার গভর্নরের কাছে নিয়ে আসা হলো, তিনি বললেন: "আমি কুফায় সাতশ-রও বেশি শায়খকে পেয়েছি, আমাশ থেকে শুরু করে তাঁর পরবর্তী সকলেই বলতেন: কুরআন আল্লাহর কালাম। আর আমার এই জামার বোতামের চেয়েও আমার ঘাড় (কাটা যাওয়া) আমার কাছে তুচ্ছ"
(৭)। এই কারণেই ইমাম আহমাদ বলেছেন: "দুইজন শায়খ..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - মুতাম্মিমুস সাহাবাহ - আত-তাবাকাতুল খামিসাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٧)
كانوا يتكلمون فيهما ويذكرونهما، وكُنّا نَلْقَى من الناس في أمرهما ما الله به عليم، قَامَا الله بأمر لَمْ يَقُم به أحد - أو كثير أحد أحد - مثلما قاما به، عفان، وأبو نعيم
(1).
وأبو نُعيم، حافظ حُجّة، أخرج حديثه الأئمة الستة وغيرهم، إلا أنه كان يتشيع من غير غلوٍ ولا سَبٍّ
(2)، وقال الحافظ في التقريب: ثقة ثبت
(3).
وذكر ابن النديم له: كتاب المناسك، وكتاب المسائل في الفقه
(4). وقد أخرج ابن سعد من طريقه في الطبقة الخامسة ستّا وسبعين رواية وهي تمثل موضوعات في مناسك الحج
(5)، وفي بعض المسائل الفقهية مثل خضاب شعر اللحية والرأس، ولُبس الجُبّة، والطيلسان، والعِمَامَة، واتخاذ المِرْفَقَةُ الحرير، ولبس الخز، والرداء، والقميص
(6).
وبقية الروايات أحاديث في موضوعات متفرقة، وأخبار عن جنازة ابن عباس ومقتل الحسين، وهي قليلة قليلة. مما يمكن القول معه بأن ابن سعد قد استفاد من كتابي الفضل هذين مثلما استفاد من كتب الواقدي.
3 - عَفَّانُ بن مُسْلِم(7) (134 - 220 هـ): -
ابن عبد الله مولى عَزْرَة بن ثابت الأنصاري أبو عثمان البصري الصفار،
--------------------------------------------
তারা তাদের সম্পর্কে কথা বলতেন এবং তাদের কথা স্মরণ করতেন। তাদের ব্যাপারে আমরা মানুষের কাছ থেকে যা কিছুর সম্মুখীন হয়েছি সে সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। তারা আল্লাহর জন্য এমন এক কাজে দাঁড়িয়েছিলেন যা অন্য কেউ—বা খুব কম সংখ্যক কেউ—তাদের মতো করে করেনি; তারা হলেন আফফান এবং আবু নুআইম
(১)।
আর আবু নুআইম ছিলেন একজন হাফিজ ও হুজ্জাহ (প্রমাণস্বরূপ ব্যক্তিত্ব), ছয় ইমাম ও অন্যরা তাঁর হাদিস বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর মধ্যে চরমপন্থা বা গালিগালাজহীন শিয়া মতাদর্শ ছিল
(২)। হাফিজ (ইবনে হাজার) 'তাকরিব' গ্রন্থে বলেছেন: তিনি বিশ্বস্ত ও সুদৃঢ়
(৩)।
ইবনুন নাদিম তাঁর সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন: কিতাবুল মানাসিক এবং ফিকহ শাস্ত্রের কিতাবুল মাসাইল
(৪)। ইবনে সাদ তাঁর সূত্রে পঞ্চম স্তরে ছিয়াত্তরটি বর্ণনা সংকলন করেছেন, যা হজ্জের নিয়মাবলি সংক্রান্ত বিষয়াবলিকে তুলে ধরে
(৫)। এছাড়াও কিছু ফিকহি মাসআলা যেমন: দাড়ি ও মাথার চুলে খিযাব লাগানো, জুব্বা পরা, তাইলসান (মাথার চাদর), পাগড়ি, রেশমি বালিশ বা তাকিয়া ব্যবহার, খায (রেশমি বস্ত্র), চাদর এবং জামা পরিধান করা
(৬)।
অবশিষ্ট বর্ণনাগুলো বিভিন্ন বিষয়ের হাদিস এবং ইবনে আব্বাসের জানাজা ও হুসাইনের শাহাদাত বিষয়ক সংবাদ, যা সংখ্যায় খুবই সামান্য। এ থেকে বলা যেতে পারে যে, ইবনে সাদ আল-ফদলের এই দুটি বই থেকে তেমনিভাবে উপকৃত হয়েছেন যেমনটি তিনি আল-ওয়াকিদির বইগুলো থেকে হয়েছিলেন।
৩ - আফফান বিন মুসলিম(৭) (১৩৪ - ২২০ হিজরি): -
ইবনে আব্দুল্লাহ, আযরাহ বিন সাবিত আল-আনসারীর আযাদকৃত গোলাম, আবু উসমান আল-বাসরি আস-সাফফার,
--------------------------------------------