(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: -)
طرق الكشف عن مقاصد الشارع   (نعمان جغيم)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: طرق الكشف عن مقاصد الشارع

المؤلف: الدكتور نعمان جغيم

الناشر: دار النفائس للنشر والتوزيع، الأردن

الطبعة: الأولى، 1435 هـ - 2014 م

عدد الصفحات: 345

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1437

শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ উদঘাটনের পদ্ধতিসমূহ   (নুমান জুগাইম)

বিভাগ: উসূলে ফিকহ


গ্রন্থ: শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ উদঘাটনের পদ্ধতিসমূহ

লেখক: ডক্টর নুমান জুগাইম

প্রকাশক: দারুন নাফায়েস পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন, জর্ডান

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪৫

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: -)
طرق الكشف عن مقاصد الشارع

 

تأليف

الدكتور نعمان جغيم

 

دار النفائس
শরীয়তদাতার উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচনের পদ্ধতিসমূহ

 

রচনায়

ডক্টর নুমান জুগাইম

 

দারুন নাফায়েস
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২)
بسم الله الرحمن الرحيم

هذا الكتاب

يعد علم المقاصد الشرعية من أهم العلوم التي يتطرق اليها الباحث، وهذا الكتاب جاء لبيان أهمية البُعْد المقاصدي في الإجتهاد، وضرورة إنضاج المعالم الأساسية لنظرية المقاصد.

أثمرت جهود الباحث في بيان الكشف عن مقاصد الشارع، فكان هذا الكتاب ثمرة جهد كبير

وفي الأصل هذ الكتاب أطروحة، قدمت استكمالاً للحصول على درجة الدكتوراه، وقد أجازت اللجنة المشرفة هذه الرسالة.
পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে

এই গ্রন্থটি

মাকাসিদে শরীয়াহ বা শরীয়তের উদ্দেশ্য সংক্রান্ত ইলম একজন গবেষকের আলোচিত অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত। এই গ্রন্থটি ইজতিহাদের ক্ষেত্রে উদ্দেশ্যগত দিকের গুরুত্ব এবং মাকাসিদ তত্ত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহকে পরিপক্ক করার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করার জন্য রচিত হয়েছে।

শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচনের বর্ণনায় গবেষকের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়েছে, ফলে এই গ্রন্থটি এক বিশাল পরিশ্রমের ফসল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।

মূলত এই গ্রন্থটি একটি অভিসন্দর্ভ, যা ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের পূর্ণতা হিসেবে পেশ করা হয়েছিল এবং তত্ত্বাবধায়ক কমিটি এই গবেষণাপত্রটি অনুমোদন করেছে।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৩)
طُرقُ الكَشفِ عن مقاصد الشارع
বিধানদাতার উদ্দেশ্যসমূহ উদঘাটনের পদ্ধতিসমূহ
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৪)
حقوق الطبع محفوظة ©

copyrights reserved publisher: Dar Alnafaes-jordan

 

الطبعة الأولى

1435 هـ - 2014 م

 

رقم الإيداع لدى دائرة المكتبة الوطنية

1733/ 5/ 2013

 

277.56

جغيم، نعمان

طرق الكشف عن مقاصد الشارع/ نعمان جغيم - عمان - دار النفائس للنشر والتوزيع، 2013.

() ص.

ر. إ: 1773/ 5/ 2013

الواصفات: / الشريعة الإِسلامية// الإجتهاد (فقه إسلامي) // الإِسلام/

 

تنويه مهم

يمنع تصوير هذا الكتاب أو استخدامه بكافة أنواع النشر العادي أو الإلكتروني، تحت طائلة المسؤولية القانونية

 

دار النفائس

للنشر والتوزيع - الأردن

ردمك: 0 - 141 - 80 - 9957 - 978 ISBN

 

العبدلي - مقابل مركز جوهرة القدس

ص. ب: 927511 عمان 11190 الأردن

هاتف: 0096265693940

فاكس: 0096265693941

Email: alnafaes@hotmail.com

www.al-nafaes.com
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ©

স্বত্ব সংরক্ষিত প্রকাশক: দার আল-নাফায়েস-জর্ডান

 

প্রথম সংস্করণ

১৪৩৫ হিজরি - ২০১৪ খ্রিস্টাব্দ

 

জাতীয় গ্রন্থাগার বিভাগে জমাদান নম্বর

১৭৩৩/ ৫/ ২০১৩

 

২৭৭.৫৬

জগিম, নুমান

শারীয়াহ প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ উদঘাটনের পদ্ধতিসমূহ/ নুমান জগিম - আম্মান - দার আল-নাফায়েস প্রকাশনা ও বিতরণ সংস্থা, ২০১৩।

() পৃষ্ঠা।

রে. নং: ১৭৭৩/ ৫/ ২০১৩

সূচকসমূহ: / ইসলামি শরীয়াহ // ইজতিহাদ (ইসলামি ফিকহ) // ইসলাম /

 

গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি

আইনি দায়বদ্ধতার অধীনে এই বইটির চিত্রগ্রহণ বা সাধারণ কিংবা ইলেকট্রনিক কোনো প্রকার প্রকাশনায় এর ব্যবহার করা নিষিদ্ধ।

 

দার আল-নাফায়েস

প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য - জর্ডান

আইএসবিএন: ০ - ১৪১ - ৮০ - ৯৯৫৭ - ৯৭৮ ISBN

 

আল-আবদালি - জাওয়াহারা আল-কুদস সেন্টারের বিপরীতে

পো. বক্স: ৯২৭৫১১ আম্মান ১১১৯০ জর্ডান

টেলিফোন: ০০৯৬২৬৫৬৯৩৯৪০

ফ্যাক্স: ০০৯৬২৬৫৬৯৩৯৪১

ইমেইল: alnafaes@hotmail.com

www.al-nafaes.com
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌شكر وتقدير

أتقدم بخالص الشكر والتقدير إلى: فضيلة الأستاذ الدكتور عبد الله الجبوري على ما أفادني به من إرشادات وتوجيهات قيِّمة، وعلى ما بذله من جهد ووقت في قراءة مادة هذا الكتاب. والشكر موصول إلى الأستاذ الفاضل محمد الطاهر الميساوي الذي فتح لي باب مكتبته الخاصة واسعًا، فآوتْنِي اللّياليّ الطوال، وأسعفتْني بما لم تسعفني به مكتبة الجامعة .. وإلى الدكتور محمد بن نصر الذي وفَّر لي ملجأ آوي إليه طلبًا للسكينة والهدوء لجمع شتات أفكاري .. وإلى رفيقي الدَّرب: صالح سبوعي وحسن لحساسنة على دفعهما المتواصل، وتشجيعهما الذي لم ينقطع، وبذل ما في وسعهما لتوفير أسباب الراحة لي .. وإلى كلّ من كانت له يد علينا … فجزى الله تعالى الجميع خير الجزاء في الدنيا والآخرة.
কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা

আমি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা জ্ঞাপন করছি: শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক ডক্টর আব্দুল্লাহ আল-জুবুরীকে, তাঁর মূল্যবান দিকনির্দেশনা ও উপদেশের মাধ্যমে আমাকে উপকৃত করার জন্য, এবং এই বইয়ের বিষয়বস্তু পাঠ করার ক্ষেত্রে তিনি যে শ্রম ও সময় ব্যয় করেছেন তার জন্য। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি শ্রদ্ধেয় উস্তাদ মুহাম্মদ আত-তাহির আল-মিসাউয়ীকে, যিনি তাঁর ব্যক্তিগত পাঠাগারের দরজা আমার জন্য প্রশস্ত করে দিয়েছিলেন, যা আমাকে দীর্ঘ রজনীগুলোতে আশ্রয় দিয়েছিল এবং আমাকে এমনভাবে সাহায্য করেছিল যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারও করতে পারেনি... এবং ডক্টর মুহাম্মদ বিন নাসরকে, যিনি আমার বিক্ষিপ্ত চিন্তাগুলোকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশান্তি ও নিস্তব্ধতার খোঁজে আমার অবস্থানের জন্য একটি আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন... এবং আমার পথচলার দুই সঙ্গী: সালিহ সাবুয়ী ও হাসান লাহসাসানাহকে, তাঁদের অবিরাম প্রেরণা এবং নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহের জন্য, আর আমার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যের উপকরণ নিশ্চিত করতে তাঁদের সাধ্যমতো চেষ্টার জন্য... এবং প্রত্যেকের প্রতি যাদের হাত আমাদের ওপর ছিল … আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে সবাইকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌المقدمة

من المتفق عليه بين العلماء المسلمين أن الأحكام الشرعية إنما شُرعت لتحقيق مقاصد سامية، سواء على مستوى الأفراد أو الجماعات، وأنه ينبغي على المجتهد تحرّي هذه المقاصد في ممارسته الإجتهاد، والإفتاء على مقتضى ما يوافقها ويخدمها.

ولم يكن الصحابة رضي الله عنهم في حاجة إلى تدوين علم أصول الفقه وضبط مباحثه والكتابة في مقاصد الشريعة والبحث فيها، وذلك لأمرين:

الأول: أنهم عايشوا طور التشريع، وليس من عايش كمن سمع، فمعايشة صدور النص التشريعي يعني معايشة المقام الذي صدر فيه ذلك النص والظروف والملابسات التي أحاطت به، وذلك يكاد يكون كافيًّا في إدراك مقصد الشارع من ذلك النص أو الفعل النبوي، وتظهر أهمية المعايشة في خفاء مقصد الشارع من بعض النصوص وأفعال النبي صلى الله عليه وسلم على من لم يعايشها منهم، ولكن من كانت حاله كذلك منهم كان يتدارك الأمر بالإستفسار ممن شهد وعايش، ومن أخطأ منهم في فهم مقصد من المقاصد بسبب غياب عنصر المشاهدة، استدرك عليه من شهد ذلك كما هو معلوم فيما استدرك الصحابة بعضهم على بعض.

الثاني: سلامة اللسان وسعة الإطلاع على مقاصد العرب من كلامها.

فإن أشكل عليهم أمر بعد هاتين الميزتين لجؤوا إلى النبي صلى الله عليه وسلم للإستفسار منه.

وكذلك كان التابعون لِمَا وَرِثُوُه من علم الصحابة، فضلًا عن أنهم كانوا ما زالوا على قدر كبير من سلامة اللسان وصفاء القريحة، فأحاطوا بكليات الدين ومبادئه العامة ومقاصده الكلية، وإن غاب عن بعضهم شيء من نصوص السنّة أو لم يصلهم من طريق تصحّ به الرواية.
ভূমিকা

মুসলিম আলিমদের মধ্যে এটি সর্বসম্মত বিষয় যে, শরয়ি বিধানসমূহ ব্যক্তি বা সামষ্টিক—উভয় পর্যায়েই মহান উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের লক্ষ্যে বিধিবদ্ধ করা হয়েছে। একজন মুজতাহিদের জন্য উচিত হলো তাঁর ইজতিহাদ চর্চায় এই উদ্দেশ্যসমূহ অনুসন্ধান করা এবং যা সেগুলোর অনুকূল ও সহায়ক হয়, সেই অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করা।

সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) উসূলে ফিকহ শাস্ত্র সংকলন করা, এর আলোচ্য বিষয়সমূহ সুবিন্যস্ত করা এবং মাকাসিদুশ শারিয়াহ বা শরয়ি বিধানের উদ্দেশ্যসমূহ নিয়ে লেখালেখি ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। এর পেছনে দুটি কারণ ছিল:

প্রথমত: তাঁরা বিধান প্রবর্তনের কালটি প্রত্যক্ষ করেছেন। আর প্রত্যক্ষদর্শী কখনো শ্রবণকারীর সমান নয়। কোনো আইনি নস (মূল পাঠ) অবতীর্ণ হওয়ার সময় উপস্থিত থাকার অর্থ হলো সেই প্রেক্ষাপট, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং আনুষঙ্গিক ঘটনাপ্রবাহের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা। উক্ত নস বা নববী কর্ম থেকে বিধানদাতার উদ্দেশ্য অনুধাবনের জন্য এটি প্রায় যথেষ্ট ছিল। প্রত্যক্ষ করার গুরুত্ব তখনই স্পষ্ট হয়ে ওঠে, যখন কোনো কোনো নস বা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কর্মের পেছনে বিধানদাতার উদ্দেশ্য তাঁদের মধ্যে যারা উপস্থিত ছিলেন না, তাদের নিকট অস্পষ্ট থেকে যেত। এমতাবস্থায় তাঁরা যারা প্রত্যক্ষ করেছেন তাদের কাছে জিজ্ঞাসার মাধ্যমে বিষয়টি সংশোধন করে নিতেন। আর চাক্ষুষ উপস্থিত না থাকার কারণে যদি তাঁদের কেউ কোনো একটি উদ্দেশ্য বুঝতে ভুল করতেন, তবে যারা উপস্থিত ছিলেন তাঁরা তা শুধরে দিতেন; যেমনটি সাহাবীদের একে অপরকে সংশোধন করে দেওয়ার ঘটনায় প্রসিদ্ধ রয়েছে।

দ্বিতীয়ত: ভাষার বিশুদ্ধতা এবং আরবদের বাকভঙ্গি ও কথোপকথনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তাঁদের গভীর জ্ঞান।

এই দুটি বৈশিষ্ট্য থাকা সত্ত্বেও যদি কোনো বিষয়ে তাঁদের নিকট জটিলতা সৃষ্টি হতো, তবে তাঁরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শরণাপন্ন হয়ে তাঁর কাছ থেকে বিষয়টি পরিষ্কার করে নিতেন।

অনুরূপভাবে তাবিঈগণও সাহাবীদের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জ্ঞানের কারণে এবং তাঁদের মাঝে তখনও ভাষার বিশুদ্ধতা ও প্রখর মেধা বিদ্যমান থাকার ফলে দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহ, এর সাধারণ নীতিমালা এবং সামগ্রিক উদ্দেশ্যসমূহ উপলব্ধি করেছিলেন; যদিও তাঁদের কারো কারো কাছে সুন্নাহর কোনো কোনো নস অজানা ছিল কিংবা সহীহ সূত্রে তা তাঁদের নিকট পৌঁছেনি।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৮)
ولَمَّا اتسعت رقعة الإِسلام وبدأ يظهر فساد في اللسان وضعف في القريحة، ظهرت الحاجة إلى ضبط قواعد فهم النصوص الشرعية واستنباط الأحكام منها، وهو الذي جُمِع بعد ذلك فيما اصطُلِح عليه بعلم أصول الفقه، وكان متضمنًا لأهم الأسس والقواعد التي تُدْرَكُ بها مقاصد الشارع من خطابه. وقد أعطى ذلك مع ما شهدته تلك الفترة من ازدهار في حركة التدوين دفعًا قويًّا للعلوم الشرعية لتعيش بعد ذلك قرونًا من الإزدهار نَبَغَ فيها عدد كبير من العلماء في شتى العلوم.

وجاء عصر الجمود الذي اتّسم بفساد في اللسان، وضعف في الهمم، وقلة من تأهّل للاجتهاد، وفشوّ التقليد المشوب بالتعصب المذهبي، وكان من مساوئ ذلك شيوع الحيل الفقهية التي كانت في أصلها مخارج شرعية، وتلك علامة ظاهرة على الإنحراف عن مقاصد الشارع من أحكامه وغياب تصور واضح للكليات الشرعية، وفي ذلك يقول محمد الطاهر بن عاشور: "كان إهمال المقاصد سببًا في جمودٍ كبيرٍ للفقهاء ومعولًا لنقض أحكام نافعة، وأشأم ما نشأ عنه مسألة الحيل، التي ولع بها الفقهاء بين مكثر ومُقِلّ". (1) وقد حاولت حركةُ التقعيد الفقهي تدارك هذا النقص بوضع قواعد فقهية عامة تضبط الجزئيات وترجعها إلى أصولها الكلية، ومع نجاحها إلى حدٍّ ما فإنها

لم تكن كافية للتخلص من ذلك.

وكما كان الإستحسان مخرجًا مما قد ينتج عن الإلتزام الصوري بالقياس من إخراج لبعض الأحكام عن القواعد الكلية للشريعة ومقاصدها العامة؛ إذْ هو في جوهره عدول عن قياس ظاهر توفرت فيه كلّ شروط القياس لأن نتيجته قد تؤدي إلى مخالفة قواعد الشريعة ومقاصدها العامة، فقد جاء إبراز مقاصد الشريعة وإفرادها بالتأليف للتخفيف من غلواء التقليد والتعصب المذهبي والإهتمام بالجزئيات على حساب الكليات ليتمّ الرجوع بالفقه إلى ما كان عليه في زمان الصحابة والتابعين وكبار الأئمة. وقد كان من رواد هذه الحركة الجويني، والغزالي، وابن تيمية، وابن القيم، والعز بن عبد السلام، والقرافي لِتُتَوَّجَ تلك الجهود على يد

--------------------------------------------

(1) ابن عاشور، محمد الطاهر: أليس الصبح بقريب، (تونس: الشركة التونسية لفنون الرسم، ط 2، 1988 م)، ص 200.
যখন ইসলামের ভূখণ্ড সম্প্রসারিত হলো এবং ভাষার বিকৃতি ও মেধার দুর্বলতা দেখা দিতে শুরু করল, তখন শারঈ ভাষ্যসমূহ (নসুস) বোঝা এবং তা থেকে বিধান আহরণের নিয়মাবলি সুবিন্যস্ত করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। এটিই পরবর্তীতে উসুলুল ফিকহ শাস্ত্র হিসেবে সংকলিত ও পরিভাষিত হয়েছিল, যা এমন সব গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি ও নিয়মের সমন্বয়ে গঠিত ছিল যার মাধ্যমে শরীয়তদাতার সম্বোধন থেকে তাঁর উদ্দেশ্যসমূহ অনুধাবন করা যায়। সেই সময়কার সংকলন আন্দোলনের সমৃদ্ধির পাশাপাশি এটি শারঈ বিজ্ঞানসমূহকে এক শক্তিশালী প্রেরণা জুগিয়েছিল, যার ফলে পরবর্তী কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকে এবং বিভিন্ন শাস্ত্রে বহু সংখ্যক প্রাজ্ঞ আলেম জন্মলাভ করেন।

এরপর স্থবিরতার যুগ এল, যার বৈশিষ্ট্য ছিল ভাষার বিকৃতি, সংকল্পের দুর্বলতা, ইজতিহাদের যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তির স্বল্পতা এবং মাযহাবী গোঁড়ামি মিশ্রিত তাকলীদের ব্যাপক বিস্তার। এর অন্যতম কুফল ছিল ফিকহী হীলা-বাহানার (কৌশল) প্রচলন, যা মূলত ছিল শারঈ পথ বের করার উপায়। আর এটি ছিল শরীয়তদাতার বিধানের উদ্দেশ্যসমূহ থেকে বিচ্যুতি এবং শারঈ সামগ্রিক বিষয়াবলি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার অনুপস্থিতির এক প্রকাশ্য লক্ষণ। এ প্রসঙ্গে মুহাম্মদ আল-তাহির ইবনে আশুর বলেন: "মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) উপেক্ষা করা ফকীহদের মধ্যে এক বিরাট স্থবিরতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এবং তা ছিল কল্যাণকর বিধানগুলো নস্যাৎ করার হাতিয়ার। এর মাধ্যমে উদ্ভূত সবচেয়ে অশুভ বিষয় ছিল 'হীলা' বা কৌশলের মাসআলাসমূহ, যা নিয়ে ফকীহদের মাঝে বাড়াবাড়ি বা ছাড়াছাড়ির প্রবণতা দেখা গিয়েছিল।" (১) ফিকহী মূলনীতি প্রণয়ন (তাকঈদ) আন্দোলন এই ঘাটতি দূর করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল এমন কিছু সাধারণ ফিকহী কায়েদা তৈরির মাধ্যমে যা খুঁটিনাটি বিষয়গুলোকে সুশৃঙ্খল করবে এবং সেগুলোকে তাদের মূল ভিত্তির দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তবে এটি কিছুটা সফল হলেও

সেই অবস্থা থেকে পুরোপুরি উত্তরণের জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।

যেভাবে ইস্তিহসান ছিল এমন একটি পথ যা কিয়াসের বাহ্যিক ও আনুষ্ঠানিক অনুসরণের ফলে কিছু বিধানকে শরীয়তের সামগ্রিক মূলনীতি ও সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করে; কারণ ইস্তিহসান মূলত এমন এক প্রকাশ্য কিয়াস থেকে সরে আসা যাতে কিয়াসের সমস্ত শর্ত বিদ্যমান ছিল, কিন্তু তার ফলাফল শরীয়তের মূলনীতি ও সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহের পরিপন্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছিল। ঠিক তেমনি শারীআতের উদ্দেশ্যসমূহকে ফুটিয়ে তোলা এবং এ বিষয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনার ধারা শুরু হয় তাকলীদের বাড়াবাড়ি, মাযহাবী গোঁড়ামি এবং সামগ্রিক বিষয়ের পরিবর্তে খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে ব্যস্ত থাকার প্রবণতা কমিয়ে আনার জন্য, যাতে ফিকহশাস্ত্রকে সাহাবী, তাবিঈ এবং মহান ইমামগণের যুগের অবস্থানে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। এই আন্দোলনের অগ্রপথিকদের মধ্যে ছিলেন জুওয়াইনী, গাযালী, ইবনে তাইমিয়্যাহ, ইবনুল কাইয়্যিম, ইযযুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম এবং কারাফী, যাতে এই প্রচেষ্টাসমূহ পূর্ণতা লাভ করে... এর হাতে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আশুর, মুহাম্মদ আল-তাহির: আলাইসা আস-সুবহু বি-কারীীব, (তিউনিস: আশ-শারিকাহ আত-তিউনিসিয়্যাহ লি-ফুনুনির রাসম, ২য় সংস্করণ, ১৯৮৮ খ্রি.), পৃষ্ঠা ২০০।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৯)
الإمام الشاطبي في كتابيه الموافقات والإعتصام اللذين كَانَا ثمرة المعاناة التي عاشها هو ذاته في الصراع مع تيار التعصب المذهبي المذموم والإبتداع، وقد حكى طرفًا من ذلك في كتاب الموافقات ومقدمة الإعتصام.

إشكالية البحث:

مع التسليم بأهمية البُعْد المقاصدي في الإجتهاد، وضرورة إنضاج المعالم الأساسية لنظرية المقاصد، يبقى السؤال: كيف نتعرّف على مقاصد الشارع؟ ما المسالك والأدوات المنهجيّة التي ينبغي استخدامها لتحديد مقاصد الشارع التي تشكَّلُ بعد ذلك أسس وضوابط الإجتهاد؟ ثمّ بعد معرفة هذه المسالك، ما السبيل إلى تنزيلها على الواقع لإستخراج المقاصد الشرعية بأنواعها: العامة والخاصة، والكلية والجزئية؟ كيف استخدمها الفقهاء والأصوليون في اجتهاداتهم، كيف يمكن أن نستخدمها اليوم؟ وبناءً على أهمية هذا الموضوع ومحوريّته في نظرية المقاصد فإنه في حاجة إلى مزيد من الدراسة والتحليل؛ ذلك أن نظرية المقاصد لا يكتمل بناؤها، ولا تؤتي ثمرتها تنزيلاً على الواقع إلّا إذا حُدّدت تلك المسالك والوسائل المنهجية التي يستخدمها المجتهد في استخراج مقاصد الشارع التي تكون هاديًا له في اجتهاده.

أهمية الموضوع:

لم يكن الإمام الشاطبي مخالفًا لسلفه من العلماء عندما جعل العلم بمقاصد الشريعة والإحاطة بها، ثُمّ القدرة على تنزيلها على الواقع. خلاصة الشروط الواجب توفرها في المجتهد، ذلك أنهم فَصَّلُوا فعدَّدُو الوسائل التي يُعِينُ توفرُها المجتهدَ على تحصيل إمكانية فهم النصوص وإدراك مقاصد الشارع منها والإحاطة بها، وتجاوز الشاطبي التفاصيل، وصوَّب نظره إلى الجوهر، فلخّص شروط المجتهد في الإتصاف بوصفين: أحدهما: فهم مقاصد الشريعة على كمالها، والثاني: التمكن من الإستنباط بناءً على فهمه فيها. (1)

--------------------------------------------

(1) انظر الشاطبي، أبا إسحاق: الموافقات، تعليق عبد الله دراز، وضع تراجمه محمد عبد الله دراز وخرج آياته وفهرس موضوعاته عبد السلام عبد الشافي محمد، (بيروت: دار الكتب العلمية، د. ط، د. ت) مج 2، ج 4، ص 76.
ইমাম শাতিবি তাঁর ‘আল-মুওয়াফাকাত’ এবং ‘আল-ইতিসাম’ গ্রন্থদ্বয়ে, যা ছিল সেই কষ্টের ফসল যা তিনি নিজে মাযহাবী গোঁড়ামি এবং নব উদ্ভাবিত বিষয়ের (বিদআত) নিন্দনীয় ধারার সাথে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করেছিলেন। তিনি ‘আল-মুওয়াফাকাত’ গ্রন্থ এবং ‘আল-ইতিসাম’-এর ভূমিকায় এর কিছু অংশ বর্ণনা করেছেন।

গবেষণার সমস্যা:

ইজতিহাদের ক্ষেত্রে মাকাসিদি (উদ্দেশ্যভিত্তিক) দিকের গুরুত্ব এবং মাকাসিদ তত্ত্বের মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলো পরিপক্ক করার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে নেওয়ার পাশাপাশি একটি প্রশ্ন থেকে যায়: আমরা কীভাবে শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ চিনতে পারব? শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ নির্ধারণের জন্য কোন পদ্ধতি ও পদ্ধতিগত সরঞ্জামসমূহ ব্যবহার করা উচিত, যা পরবর্তীতে ইজতিহাদের ভিত্তি ও নিয়ামক হিসেবে গঠিত হবে? অতঃপর এই পদ্ধতিগুলো জানার পর, শরয়ী উদ্দেশ্যসমূহের প্রকারভেদ—সাধারণ ও বিশেষ, এবং সামগ্রিক ও আংশিক—বের করার জন্য সেগুলোকে বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করার উপায় কী? ফকীহ এবং উসুলবিদগণ তাঁদের ইজতিহাদে এগুলো কীভাবে ব্যবহার করেছেন এবং বর্তমানে আমরা কীভাবে সেগুলো ব্যবহার করতে পারি? এই বিষয়টির গুরুত্ব এবং মাকাসিদ তত্ত্বে এর কেন্দ্রীয় অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এটি আরও অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে। কারণ, মাকাসিদ তত্ত্বের কাঠামো পূর্ণতা পায় না এবং বাস্তবে এর সুফলও পাওয়া যায় না, যতক্ষণ না সেই পদ্ধতি ও পদ্ধতিগত মাধ্যমগুলো নির্দিষ্ট করা হয় যা একজন মুজতাহিদ শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ বের করতে ব্যবহার করেন, যা তাঁর ইজতিহাদে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।

বিষয়ের গুরুত্ব:

ইমাম শাতিবি তাঁর পূর্বসূরি আলেমদের মতের বিরোধী ছিলেন না যখন তিনি শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ জানা এবং সেগুলোকে বেষ্টন করা, অতঃপর সেগুলোকে বাস্তবে প্রয়োগ করার ক্ষমতাকে একজন মুজতাহিদের জন্য আবশ্যকীয় শর্তাবলীর সারসংক্ষেপ হিসেবে নির্ধারণ করেছিলেন। কারণ, তাঁরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এমন সব উপকরণের তালিকা দিয়েছেন যার উপস্থিতি মুজতাহিদকে নস (মূল পাঠ) বোঝার সক্ষমতা অর্জন করতে এবং তা থেকে শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ উপলব্ধি ও আয়ত্ত করতে সাহায্য করে। শাতিবি সেই বিস্তারিত বিষয়গুলো এড়িয়ে গিয়ে সারমর্মের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করেছেন। ফলে তিনি মুজতাহিদের শর্তাবলীকে দুটি বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সংক্ষিপ্ত করেছেন: প্রথমটি হলো শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে বোঝা, এবং দ্বিতীয়টি হলো সেই বোঝার ওপর ভিত্তি করে মাসআলা উদ্ভাবন করার সক্ষমতা অর্জন করা। (১)

--------------------------------------------

(১) দেখুন শাতিবি, আবু ইসহাক: আল-মুওয়াফাকাত, আব্দুল্লাহ দিরাজ-এর টীকা সহ, জীবনী লিখেছেন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দিরাজ, আয়াতসমূহের উৎস নির্দেশ এবং বিষয়সূচির নির্ঘণ্ট তৈরি করেছেন আব্দুল সালাম আব্দুল শাফি মুহাম্মদ, (বৈরুত: দার আল-কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন) খণ্ড ২, ভাগ ৪, পৃষ্ঠা ৭৬।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১০)
والحديث عن موضوع المقاصد الشرعية يطرح قضية في غاية الأهمية في فهم نصوص الشريعة، هي أهميّة الإعتماد على الكلّيّات الشرعيّة وتحكيمها في فهم النصوص الجزئية وتوجيهها، والتعامل مع النصوص الشرعية بوصفها وحدة متكاملة يكمل بعضُها بعضًا ويعضِده، وهو نوع من أنواع ردِّ المتشابهات إلى المحكمات، والجزئيات إلى الكليات. فكليات الشريعة -وهي مقاصدها العامة- هي الأصول القطعية الحاكمة لكلّ اجتهاد وتفكير إسلامي.

ولَمّا كان الكلام في مقاصد الشريعة كلامًا فضفاضًا قد يحمله البعض على غير وجهه الصحيح، فيُدْخِل في مقاصد الشريعة ما ليس منها ويخرج منها ما هو من صميمها، جاءت أهمية الكتابة في بيان المسالك والطرق التي يمكن بها التعرّف على تلك المقاصد، وضبطها حتى لا يتحوّل الإحتجاج بمقاصد الشريعة إلى ثغرة يدخل منها خصوم الإِسلام لتدميره باسمه.

وقد كانت هذه الأهمية التي تكتسبها مقاصد الشريعة هي التي دفعت الباحث إلى اختيار هذا الموضوع، فضلاً عن أنه -حسب اطلاع الباحث- لم يُفْرد إلى الآن ببحث أكاديمي متكامل يتناول جميع جوانبه بالبحث والتحليل، ولم يتعرض له بالبحث المستقلّ سوى الشاطبي في الموافقات، ومحمد الطاهر بن عاشور في مقاصد الشريعة الإِسلامية، إلّا أنه كان تناولًا موجزًا، وهو موضوع يحتاج إلى كثير من البحوث والدراسات حتى يمكن تحديد معالمه وضوابطه والوصول به إلى مرحلة النضج.

الدراسات السابقة:

لم يكن الحديث عن المقاصد الشرعية وسبل التعرف عليها غائبًا عن علماء الصدر الأول (1)، ولكن أوّل من أفرد هذه المسالك بمبحث مستقلّ في مؤلفاته هو

--------------------------------------------

(1) انظر في ذلك مثلًا ما ذكره أبو حامد الغزالي في باب الإستصلاح من أن الطرق التي تعرف بها مقاصد الشرع هي الكتاب والسنة والإجماع. انظر الغزالي، أبا حامد: المستصفى من علم الأصول، تصحيح نجوى ضو، (بيروت: دار إحياء التراث العربي/ مؤسسة التاريخ العربي، ط 1، 1418 هـ/ 1997 م)، ج 1، ص 222، وما ذكره العز ابن عبد السلام من أن مصالح الدارين وأسبابها ومفاسدها تعرف بالكتاب والسنة والإجماع والقياس والإستدلال الصحيح والعقل. انظر ابن عبد السلام، عز الدين بن عبد العزيز: قواعد الأحكام في مصالح الأنام، (بيروت: مؤسسة الريان، 1410 هـ/ 1990 م)، ج 1، ص 10.
শরীয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) সংক্রান্ত আলোচনা শরীয়তের নসসমূহ (বক্তব্যসমূহ) অনুধাবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়কে সামনে নিয়ে আসে; আর তা হলো শরীয়তের কুল্লিয়াত (সার্বজনীন মূলনীতিসমূহ)-এর ওপর নির্ভর করা এবং জুযইয়াত (আংশিক নসসমূহ) অনুধাবন ও সেগুলোকে প্রয়োগের ক্ষেত্রে কুল্লিয়াতকে মানদণ্ড হিসেবে সাব্যস্ত করা। এছাড়া শরীয়তের নসসমূহকে একটি সুসংগত একক হিসেবে বিবেচনা করা, যার একটি অংশ অন্য অংশকে পূর্ণতা দান করে ও শক্তিশালী করে। এটি মূলত মুতাশাবিহাতকে (অস্পষ্ট বিষয়সমূহ) মুহকামাতের (সুস্পষ্ট বিষয়সমূহ) দিকে এবং আংশিক বিষয়গুলোকে মৌলিক বিষয়গুলোর দিকে ফিরিয়ে নেওয়ারই একটি পদ্ধতি। শরীয়তের কুল্লিয়াত—যা এর সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ—হলো প্রতিটি ইজতিহাদ ও ইসলামী চিন্তাধারার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক চূড়ান্ত মূলনীতি।

যেহেতু মাকাসিদুশ শরীয়াহ বিষয়ক আলোচনাটি অত্যন্ত ব্যাপক, যা কেউ কেউ ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারে, ফলে শরীয়তের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়কে এতে অন্তর্ভুক্ত করে ফেলতে পারে অথবা এর মৌলিক অংশ হওয়া সত্ত্বেও কোনো বিষয়কে এর বাইরে ঠেলে দিতে পারে; তাই সেই সকল মাসালিক (পন্থা) ও পদ্ধতি বর্ণনা করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে যার মাধ্যমে এই উদ্দেশ্যগুলোকে চেনা ও সুশৃঙ্খল করা যায়। যাতে মাকাসিদুশ শরীয়াহর দোহাই দেওয়া এমন কোনো ছিদ্রপথে পরিণত না হয় যা দিয়ে ইসলামের শত্রুরা ইসলামের নামেই তাকে ধ্বংস করার জন্য প্রবেশ করতে পারে।

মাকাসিদুশ শরীয়াহর এই গুরুত্বই গবেষককে এই বিষয়টি বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এছাড়া গবেষকের জানামতে, এখন পর্যন্ত এমন কোনো পূর্ণাঙ্গ একাডেমিক গবেষণা সম্পন্ন হয়নি যা এর সকল দিককে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তুলে ধরে। আল-মুয়াফাকাত গ্রন্থে শাতবি এবং মাকাসিদুশ শরীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ গ্রন্থে মুহাম্মদ আত-তাহির বিন আশুর ব্যতীত আর কেউ একে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করেননি, তবে তাও ছিল সংক্ষিপ্ত আলোচনা। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আরও অনেক গবেষণা ও অধ্যয়ন প্রয়োজন, যাতে এর সীমানা ও নিয়মাবলী সুনির্দিষ্ট করা যায় এবং একে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দান করা সম্ভব হয়।

পূর্ববর্তী গবেষণা:

শরীয়তের উদ্দেশ্য এবং তা জানার উপায়সমূহ নিয়ে আলোচনা প্রথম যুগের (১) আলেমদের কাছে অনুপস্থিত ছিল না। তবে সর্বপ্রথম যিনি তাঁর গ্রন্থসমূহে এই পদ্ধতিগুলোকে স্বতন্ত্র আলোচনার বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন তিনি হলেন

--------------------------------------------

(১) এ প্রসঙ্গে দেখুন, উদাহরণস্বরূপ আবু হামিদ আল-গাজালি 'আল-ইসতিসলাহ' অধ্যায়ে যা উল্লেখ করেছেন যে, শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ জানার উপায় হলো কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা। দেখুন: আল-গাজালি, আবু হামিদ: আল-মুসতাসফা মিন ইলমিল উসুল, সম্পাদনা: নাজওয়া দাউ, (বৈরুত: দারু ইহয়ায়িত তুরাসিল আরাবি/ মুয়াসসাসাতুত তারিখিল আরাবি, ১ম প্রকাশ, ১৪১৮ হিজরি/ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২২২। এবং ইজ্জ ইবনু আবদিস সালাম যা উল্লেখ করেছেন যে, উভয় জগতের কল্যাণ ও অকল্যাণসমূহ কুরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস, সঠিক ইস্তিদলাল ও বিবেকের মাধ্যমে জানা যায়। দেখুন: ইবনু আবদিস সালাম, ইজ্জুদ্দিন বিন আব্দুল আজিজ: কাওয়াইদুল আহকাম ফি মাসালিহিল আনাম, (বৈরুত: মুয়াসসাসাতুর রায়ান, ১৪১০ হিজরি/ ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ), খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১১)
الإمام الشاطبي، الذي خصص الجزء الثاني من كتابه الموافقات لموضوع المقاصد الشرعية دراسةً وتحليلاً. وبعد دراسة طويلة ومتشعّبة للمقاصد تنظيرًا وتدليلًا، وصل أخيرًا إلى الحديث عن المسالك التي يمكن من خلالها التعرّف على تلك المقاصد، فقال: "فإنّ للقائل أنْ يقول: إنّ ما تقدم من المسائل في هذا الكتاب مبنيّ على المعرفة بمقصود الشارع؛ فبماذا يُعرف ما هو مقصود له مما ليس بمقصود له؟ " (1)

استهلّ الشاطبي حديثه عن هذا الموضوع بمسألة في غاية الحساسية، وهي علاقة مقاصد الشارع بنصوصه، حيث أشار إلى وجود ثلاثة اتجاهات في ذلك: الإتجاه الظاهري الذي يَقْصِر مسالك الكشف عن مقاصد الشارع على ما صرّحت به ظواهر النصوص دون أن يُعطي كبيرَ اهتمام لعلل الأحكام، والمقامات التي صدرت فيها، والظروف والملابسات التي صاحبتها، وما يمكن أن يكون لذلك من تأثير في فهمها وتنزيلها على ما يَجِدُّ بعد ذلك من وقائع. والإتجاه الباطني الذي يُهْدر ظواهر النصوص، ويسعى إلى التخلص منها بدعوى أنها ليست مقصودة لذاتها، ويجعل عمدته في اكتشاف مقاصد الشارع معاني باطنية يزعمها أصحاب هذا الإتجاه من غير أن تسندها أدلّة يُعتَدُّ بها، وإنما هي مجرد دعاوى ليست لها على أضدادها مزيّة. ويبرز هذا الإتجاه عند الفِرَق الباطنية القديمة ومن يُعدُّ امتدادًا لهم من بعض العلمانيين من المعاصرين الذين لم يجرؤوا على ردَّ النصوص الشرعية صراحة، فراموا التخلص منها بدعوى أنها لم يُقْصد منها ظواهرها، وإنما قُصِد بها تحقيق المصلحة التي تتغير بتغير الأزمان والظروف. والاتجاه الثالث، وهو منهج التوسط، وهو اعتبار ظواهر النصوص ومعانيها في مسلك توافقي لا يسمح بإهدار أحد الجانبين على حساب الآخر ولا بطغيان أحدهما على الآخر؛ فيعطي للنص حقّه وأبعاده التي يكون قد قصدها الشارع، وذلك من خلال عدم إهمال الأدوات المُعِينة على حسن فهم النص وتطبيقه مِنْ عللٍ، وقرائنَ، ومقاماتٍ، وعقلٍ، وجمعِ النصوص الجزئيّة بعضها إلى بعض لتتضح الصورة الكلية.

--------------------------------------------

(1) انظر الشاطبي: الموافقات، مج 1، ج 2، ص 297.
ইমাম শাতবি, যিনি তাঁর 'আল-মুওয়াফাকাত' গ্রন্থের দ্বিতীয় অংশটি শারীয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) বিষয়ের অধ্যয়ন ও বিশ্লেষণের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। তাত্ত্বিক এবং দলীলভিত্তিক দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনার পর তিনি অবশেষে সেই পদ্ধতিসমূহের আলোচনায় উপনীত হয়েছেন যার মাধ্যমে এই মাকাসিদগুলো চেনা সম্ভব। তিনি বলেন: "কোনো প্রশ্নকারীর বলার সুযোগ রয়েছে যে: এই গ্রন্থে পূর্বে আলোচিত মাসআলাসমূহ মূলত শারীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যের মারেফাত বা পরিচয়ের ওপর ভিত্তি করে রচিত; তাহলে শারীয়ত প্রণেতার কোনটি উদ্দেশ্য এবং কোনটি উদ্দেশ্য নয় তা কিসের মাধ্যমে জানা যাবে?" (১)

শাতবি এই প্রসঙ্গের আলোচনা অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি মাসআলার মাধ্যমে শুরু করেছেন, যা হলো শারীয়তের নসুস বা পাঠ্যদলীলের সাথে শারীয়ত প্রণেতার মাকাসিদের সম্পর্ক। এখানে তিনি তিনটি ধারার দিকে ইঙ্গিত করেছেন: জাহিরি ধারা, যারা শারীয়ত প্রণেতার মাকাসিদ উদ্ঘাটনের পদ্ধতিকে কেবল নসুসের বাহ্যিক শব্দাবলির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখে। তারা বিধানের ইল্লত বা কারণসমূহ, যে প্রেক্ষাপটে সেগুলো অবতীর্ণ হয়েছে এবং যে সকল পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি ও আনুষঙ্গিক বিষয় সেখানে বিদ্যমান ছিল—সেগুলোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করে না। অথচ পরবর্তীতে উদ্ভূত ঘটনাবলির ক্ষেত্রে ঐসব নসুস বোঝা এবং প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে এগুলোর ব্যাপক প্রভাব থাকতে পারে। বাতিনি ধারা, যারা নসুসের বাহ্যিক অর্থকে বাতিল করে দেয় এবং তা থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে এই দাবি তুলে যে, বাহ্যিক অর্থটি স্বয়ং উদ্দেশ্য নয়। তারা শারীয়ত প্রণেতার মাকাসিদ উদ্ঘাটনের জন্য এমন কিছু অভ্যন্তরীণ বা বাতিনি অর্থের ওপর নির্ভর করে যা এই মতাদর্শের অনুসারীরা দাবি করে থাকে, কিন্তু এর সপক্ষে কোনো গ্রহণযোগ্য দলীল নেই; বরং এগুলো নিছক দাবি ছাড়া আর কিছু নয় যার বিপরীতে থাকা মতের ওপর এর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। এই ধারাটি প্রাচীন বাতিনি দলসমূহ এবং তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আধুনিক যুগের কিছু ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয় যারা সরাসরি শারঈ নসুস প্রত্যাখ্যান করার সাহস পায় না। তাই তারা নসুস থেকে মুক্তি পেতে চায় এই অজুহাতে যে, এগুলোর বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়, বরং এর উদ্দেশ্য হলো জনকল্যাণ (মাসলাহাত) নিশ্চিত করা যা কাল ও পরিস্থিতির পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়। এবং তৃতীয় ধারাটি হলো মধ্যপন্থা, যা একটি সমন্বিত পদ্ধতির মাধ্যমে নসুসের বাহ্যিক রূপ এবং এর অর্থসমূহ উভয়কেই বিবেচনা করে। এটি এক দিককে রক্ষা করতে গিয়ে অন্য দিককে বিসর্জন দেয় না এবং একটিকে অন্যটির ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে দেয় না। এটি নসুসকে তার প্রাপ্য মর্যাদা ও সেই সকল মাত্রা প্রদান করে যা শারীয়ত প্রণেতা উদ্দেশ্য করেছেন। এটি সম্ভব হয় নসুসের সঠিক অনুধাবন ও প্রয়োগে সহায়ক মাধ্যমসমূহ যেমন—ইল্লত (কারণ), আলামত, প্রেক্ষাপট, বুদ্ধি এবং খণ্ডিত নসুসসমূহকে একত্রিত করার মাধ্যমে, যাতে একটি সামগ্রিক চিত্র ফুটে ওঠে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন শাতবি: আল-মুওয়াফাকাত, খণ্ড ১, ভাগ ২, পৃষ্ঠা ২৯৭।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১২)
ثم انتقل إلى الحديث عن تلك المسالك، فذكر منها أربعة: (1)

الأول: مجرّد الأمر والنهي الابتدائي التصريحي؛ فالأمر دالّ بذاته على قصد الشارع إلى إيقاع المأمور به، والنهي كذلك دالّ بذاته على قصد الإنتهاء عن المنهي عنه.

وتقييد كلًّ من الأمر والنهي بوصف الصراحة يُقصَدُ منه الإحتراز من الأمر أو النهي الضمني، كالنهي عن أضداد المأمور به؛ إذ الأمر بالشيء يتضمن النهي عن كلّ ما يحول دون تحصيل ذلك المأمور به، والأمر الذي يتضمنه النهي عن الشيء؛ فإن النهي عن الشيء قد يتضمن الأمر بإيقاع ضده، ولكن كلاّ منهما غير مقصود بالقصد الأول، وإنما هو تابع لصريح الأمر أو النهي ومُتَضَمَّن فيهما، وقد لا يكون مقصودًا للآمر أو الناهي تحصيلهما، خاصة في حال إمكان انفكاك أحدهما عن الآخر.

والأمر أو النهي الصريح مُتَّفَق على كون الأمر أو النهي فيه مقصودًا للآمر أو الناهي، أما ما يمكن أن يتضمنه الأمر أو النهي من معاني ومقاصد فهو غير ظاهر في ذلك، ويحتاج في التعرف على كون 5 مقصودًا أو غير مقصود إلى قرائن وشروط أخرى، وهو مُدْرَج ضمن ما يحتاج في فهمه إلى معرفة ما يحفّ به من قرائن، وما ورد فيه من سياق للتأكد من كونه مقصودًا للشارع أو غير مقصود.

أما تقييدهما بالإبتداء فهو احتراز من الأمر أو النهي الذي قُصِدَ به غيره؛ وهو ما كان وسيلة إلى تحقيق مقصد أو خادمًا له. ومثّل له الشاطبي بقول الله تعالى: {فَاسْعَوْا إِلَى ذِكْرِ اللهِ وَذَرُوا الْبَيْعَ} [الجمعة: 9]، "فإن النهي عن البيع ليس نهيًا مبتدأً، بل هو تأكيد للأمر بالسعي، فهو من النهي المقصود بالقصد الثاني، فالبيع ليس منهيًّا عنه بالقصد الأول، كما نهي عن الربا والزنى مثلاً". (2)

ولكن هذا وإن لم يكن مقصودًا بالقصد الأول فهو مع ذلك يبقى مقصدًا من

--------------------------------------------

(1) انظر الشاطبي: الموافقات، مج 1، ج 2، ص 298 - 313.

(2) انظر الشاطبي: الموافقات، مج 1، ج 2، ص 298.
এরপর তিনি সেই পদ্ধতিসমূহ নিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং সেগুলোর মধ্যে চারটি উল্লেখ করেন: (১)

প্রথমত: নিছক প্রাথমিক ও প্রত্যক্ষ আদেশ ও নিষেধ; কেননা আদেশ তার নিজস্ব সত্তা দ্বারাই আদিষ্ট বিষয়টি কার্যকর করার ক্ষেত্রে শরীয়তদাতার উদ্দেশ্যের ওপর প্রমাণ পেশ করে, আর নিষেধও একইভাবে নিজস্ব সত্তা দ্বারাই নিষিদ্ধ বিষয়টি থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যের ওপর প্রমাণ পেশ করে।

আদেশ ও নিষেধের প্রতিটিকে 'প্রত্যক্ষ' (সরাহাহ) বিশেষণে বিশেষিত করার মাধ্যমে মূলত পরোক্ষ আদেশ বা নিষেধ থেকে বেঁচে থাকা উদ্দেশ্য, যেমন আদিষ্ট বিষয়ের বিপরীত বিষয়গুলো থেকে নিষেধ করা; কেননা কোনো বিষয়ের আদেশ সেই আদিষ্ট বিষয়টি অর্জনে বাধা দানকারী প্রতিটি বিষয় থেকে নিষেধকেও অন্তর্ভুক্ত করে, আবার কোনো বিষয়ের নিষেধ যে আদেশকে অন্তর্ভুক্ত করে; কেননা কোনো বিষয় থেকে নিষেধ করা তার বিপরীতটি সম্পন্ন করার আদেশকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, তবে এর কোনোটিই প্রাথমিক উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য নয়, বরং তা প্রত্যক্ষ আদেশ বা নিষেধের অনুগামী এবং তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। অনেক সময় আদেশদাতা বা নিষেধকারীর নিকট সেগুলো অর্জন করা উদ্দেশ্য নাও হতে পারে, বিশেষত যখন একটি থেকে অপরটি পৃথক হওয়া সম্ভব হয়।

প্রত্যক্ষ আদেশ বা নিষেধের ক্ষেত্রে আদেশদাতা বা নিষেধকারীর নিকট তা উদ্দেশ্যমূলক হওয়ার বিষয়টি সর্বসম্মত, কিন্তু আদেশ বা নিষেধ যে সকল অর্থ ও উদ্দেশ্যকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে সেগুলো সেভাবে স্পষ্ট নয়। আর ৫ নম্বর বিষয়টি উদ্দেশ্যমূলক কি না তা শনাক্ত করতে অন্যান্য লক্ষণ ও শর্তাবলির প্রয়োজন হয়। এটি এমন বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা বোঝার জন্য পারিপার্শ্বিক আলামত এবং কোন প্রেক্ষাপটে তা বর্ণিত হয়েছে সেটি জানা আবশ্যক, যাতে করে এটি শরীয়তদাতার উদ্দেশ্য কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়।

আর সেগুলোকে 'প্রাথমিক' (ইবতিদা) হিসেবে বিশেষিত করার কারণ হলো এমন আদেশ বা নিষেধ থেকে বেঁচে থাকা যার দ্বারা ভিন্ন কিছু উদ্দেশ্য করা হয়েছে; যা কোনো মাকসাদ বা উদ্দেশ্য অর্জনের মাধ্যম বা তার সহায়ক মাত্র। শাতবি এর উদাহরণ হিসেবে আল্লাহর এই বাণী উল্লেখ করেছেন: {তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় বর্জন করো} [জুমুআ: ৯], "কেননা ক্রয়-বিক্রয় থেকে নিষেধ করাটি কোনো প্রাথমিক নিষেধ নয়, বরং তা (জিকিরের দিকে) ধাবিত হওয়ার আদেশের একটি তাকিদ বা জোরালো সমর্থন মাত্র। সুতরাং এটি দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্দেশ্যমূলক নিষেধের অন্তর্ভুক্ত। অতএব, ক্রয়-বিক্রয় এখানে প্রাথমিক উদ্দেশ্য হিসেবে নিষিদ্ধ নয়, যেমনটি উদাহরণস্বরূপ সুদ ও ব্যভিচারকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।" (২)

কিন্তু এটি প্রাথমিক উদ্দেশ্য না হলেও তা সত্ত্বেও এটি একটি উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হয়...

--------------------------------------------

(১) দেখুন শাতবি: আল-মুওয়াফাকাত, খণ্ড ১, ভাগ ২, পৃষ্ঠা ২৯৮ - ৩১৩।

(২) দেখুন শাতবি: আল-মুওয়াফাকাত, খণ্ড ১, ভাগ ২, পৃষ্ঠা ২৯৮।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১৩)
مقاصد الشارع؛ لأن الأول لا يتحقق إلّا بالثاني، فهو طريق للكشف عن مقاصد الشارع، ولا بأس في ذلك من كونه إنما يُعرف به ما قُصِد بالقصد الثاني لا بالقصد الأول.

والملاحظ أن هذا المسلك يمثل جزءًا من مسلك أوسع، هو مسلك استخلاص المقاصد من ظواهر النصوص الشرعية التي ثبت عدم صرفها عن ظاهرها، وبناءً على ذلك سيدرجه الباحث ضمن هذا المسلك.

الثاني: اعتبار علل الأمر والنهي. والعلة إما أن تكون معلومة أو لا تكون كذلك، فإذا كانت معلومة لزم اعتبارها، فحيث وُجِدَت وُجِد مقتضى الأمر أو النهي. أما إذا لم تُعْلَم العلّة فإنه ينبغي التوقف عن القول بأن الشارع قاصد إلى تعديّة ذلك الحكم من المنصوص عليه إلى المسكوت عنه. (1)

الثالث: أن للشارع في شرع الأحكام مقاصد أصليّة ومقاصد تبعيّة، ومع كون المقاصد الأصلية هي الأساس، إلّا أنها لا يمكن أن تقوم بمفردها، ولا يمكن أن تتحقق على التَّمام إلّا إذا تحقّقَ ما يخدمها ويكمِّلها، ومن ثَمّ فكلّ ما ثبت كونُه خادمًا ومحققًا للمقاصد الأصلية عُدَّ مقصودًا للشارع، ولزم مراعاته والعمل على تحقيقه، من باب ما لا يتمّ الواجب إلّا به فهو واجب، فهذا مسلك يُستَدلّ به على أن كلّ ما لم يُنصّ عليه مما شأنه كذلك فهو مقصود للشارع أيضاً. (2)

الرابع: سكوت الشارع عن شرع التسبُّب أو عن شرعيّة العمل مع قيام المعنى المقتضي له. فهذا الضرب من السكوت يُنزَّلُ منزلة النصّ على أن الشارع يريد الإلتزام بما كان معروفًا في زمن التشريع من غير زيادة عليه ولا نقصان منه. (3)

ولكن سيتبيّن أن هذا إنما يصدق على العبادات، أو المعاملات التي ظهر فيها معنى التّعبّد دون غيرها من المعاملات التي بُنيت على التعليل ومعقوليّة المعنى.

--------------------------------------------

(1) انظر المصدر السابق، مج 1، ج 2، ص 299 - 300.

(2) انظر المصدر السابق، مج 1، ج 2، ص 300 - 303.

(3) انظر المصدر السابق، مج 1، ج 2، ص 310 - 313.
শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ; কারণ প্রথমটি দ্বিতীয়টি ছাড়া অর্জিত হয় না, ফলে এটি শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যসমূহ উন্মোচনের একটি পথ। এতে কোনো অসুবিধা নেই যে, এর মাধ্যমে কেবল তা-ই জানা যায় যা দ্বিতীয় পর্যায়ের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত, প্রথম পর্যায়ের উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত নয়।

লক্ষণীয় যে, এই পদ্ধতিটি একটি বৃহত্তর পদ্ধতির অংশ, যা হলো শরয়ী পাঠের প্রকাশ্য রূপ থেকে উদ্দেশ্যসমূহ নিরূপণ করা, যেগুলোর প্রকাশ্য অর্থ থেকে বিচ্যুত না হওয়া প্রমাণিত। এর ওপর ভিত্তি করে গবেষক একে এই পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত করবেন।

দ্বিতীয়: আদেশ ও নিষেধের কারণসমূহ বিবেচনায় নেওয়া। কারণটি হয় জানা থাকবে অথবা থাকবে না। যদি তা জানা থাকে, তবে তা বিবেচনা করা আবশ্যক; সুতরাং যেখানে কারণটি পাওয়া যাবে, সেখানে আদেশ বা নিষেধের দাবিও কার্যকর হবে। আর যদি কারণটি জানা না থাকে, তবে শরীয়ত প্রণেতা সেই বিধানটিকে বর্ণিত বিষয় থেকে অনুল্লিখিত বিষয়ের দিকে প্রসারিত করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন—একথা বলা থেকে বিরত থাকা উচিত। (১)

তৃতীয়: বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে শরীয়ত প্রণেতার কিছু মূল উদ্দেশ্য এবং কিছু অনুবর্তী উদ্দেশ্য থাকে। যদিও মূল উদ্দেশ্যগুলোই ভিত্তি, তবে সেগুলো একা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না এবং ততক্ষণ পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হতে পারে না যতক্ষণ না তা অর্জনে সহায়ক ও পরিপূরক বিষয়গুলো অর্জিত হয়। অতএব, যা কিছু মূল উদ্দেশ্যসমূহের সহায়ক ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে প্রমাণিত, তা শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হবে; এবং 'ওয়াজিব যা ছাড়া পূর্ণ হয় না তাও ওয়াজিব'—এই মূলনীতি অনুযায়ী তা রক্ষা করা এবং তা অর্জনে সচেষ্ট হওয়া আবশ্যক। সুতরাং এটি এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয় যে, পাঠে উল্লেখ নেই এমন বিষয়গুলোও যদি এই প্রকৃতির হয়, তবে সেগুলোও শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য। (২)

চতুর্থ: কোনো কারণ বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকারণ বা আমল প্রবর্তন করা থেকে শরীয়ত প্রণেতার নীরব থাকা। এই ধরণের নীরবতাকে এমন স্পষ্ট পাঠের মর্যাদায় গণ্য করা হয় যা নির্দেশ করে যে, শরীয়ত প্রণেতা আইন প্রণয়নের যুগে যা প্রচলিত ছিল তার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকতে চান, তাতে কোনো হ্রাস বা বৃদ্ধি না করে। (৩)

তবে এটি স্পষ্ট হবে যে, এটি কেবল ইবাদত অথবা এমন লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাতে নিছক আনুগত্যের অর্থ প্রকাশ পায়, এমন লেনদেনের ক্ষেত্রে নয় যা কারণ ও যৌক্তিক অর্থের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, খণ্ড ১, ভাগ ২, পৃষ্ঠা ২৯৯ - ৩০০।

(২) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, খণ্ড ১, ভাগ ২, পৃষ্ঠা ৩০০ - ৩০৩।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, খণ্ড ১, ভাগ ২, পৃষ্ঠা ৩১০ - ৩১৩।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১৪)
ومع أن ما كتبه الشاطبي يمثّل أساس موضوع مسالك الكشف عن مقاصد الشارع، إلّا أن دراسته -شأن الدراسات المؤسِّسة في كلّ العلوم- جاءت مجملة غير محيطة إحاطة كاملة بالموضوع فهي -مع إمكان اعتمادها أساسًا لدراسة هذا الموضوع- تبقى في حاجة إلى تفصيل، وتمحيص، وزيادة، وهو ما سعى إليه محمد الطاهر بن عاشور وآخرون بعد ذلك، ويسعى هذا المبحث إلى الإسهام فيه.

ومن أبرز ما يلاحظ على المسالك التي أوردها الشاطبي أنها مسالك جزئية قد لا تصلح لإستخراج المقاصد العامة والكلية، وإنما مجالها استخراج المقاصد الجزئية، اللهُمَّ إلّا المسلك الأول، وهو تبيُّن قصد الشارع من مجرد الأمر والنهي الواردين في ظواهر النصوص الشرعية؛ إذْ يمكن استخدامه في استخراج بعض المقاصد العامة والكلية، خاصة إذا تعلق الأمر بالآيات التي نصّت على مبادئ تشريعية كلّية، وبجوامع الكَلِم من السنّة، أما المسالك الأخرى فإنه لا يمكن استخدامها في استخراج المقاصد العامة والكلية إلّا إذا أضيف إليها عنصر الاستقراء.

والغريب أن الإمام الشاطبي مع كونِ عمدته الأساسية في الكشف عن مقاصد الشارع تمثلت في الاستقراء، وقد سارع إلى بيان ذلك منذ خطبة الكتاب، حيث يقول: " … لم أزل أقيّد من أوابده، وأضمّ من شوارده، تفاصيل وجملاً، وأسوق من شواهده، في مصادر الحكم وموارده، مبينًا لا مجملاً، معتمدًا على الاستقراءات الكلية، غير مقتصر على الأفراد الجزئية … "، (1) وأعطاه مكانة بارزة لم يعطها له أحد من علماء الشريعة قبله، إلّا أنه عندما جاء إلى بيان المسالك التي تُعرف بها المقاصد أهمل بالكلية هذا المسلك، ولم يورد له ذكرا.

وإذا نظرنا إلى ما كتبه الشاطبي من الناحية المنهجية، فإنه يمكن القول إنه كان على الشاطبي أن يصدَّر كتاب الموافقات ببيان هذه المسالك، ذلك أن من مقتضيات التأليف والبحث المنهجيين أن يصدَّر المؤلَّف مؤلَّفَه ببيان الوسائل والمناهج التي سيعتمدها في بحثه، فكان الأجدر بالشاطبي -قبل أن يشرع في بيان واستخراج مقاصد الشارع- أن يبيَّن منهجه في ذلك.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق، مج 1، ج 1، ص 16.
যদ্যপি শাতবি যা লিখেছেন তা শরীয়তের উদ্দেশ্য উদঘাটনের পদ্ধতিসমূহের মূল ভিত্তি স্বরূপ, তবুও তাঁর এই অধ্যয়ন—সকল বিজ্ঞানের মৌলিক অধ্যয়নসমূহের ন্যায়—সংক্ষিপ্ত আকারে এসেছে যা বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গভাবে পরিবেষ্টন করেনি। ফলে এটি—এই বিষয়ের অধ্যয়নের ভিত্তি হিসেবে গৃহীত হওয়ার যোগ্যতা রাখা সত্ত্বেও—বিস্তারিত ব্যাখ্যা, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ও পরিবর্ধনের মুখাপেক্ষী রয়ে গেছে। আর এটিই সেই লক্ষ্য যা মুহাম্মাদ আত-তহির বিন আশুর এবং পরবর্তীগণ অর্জনের প্রয়াস পেয়েছেন এবং বর্তমান আলোচনাটিও সেই ক্ষেত্রে অবদান রাখতে সচেষ্ট।

শাতবি বর্ণিত পদ্ধতিগুলোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ হলো যে, এগুলো আংশিক পদ্ধতি যা সম্ভবত সাধারণ ও সামষ্টিক উদ্দেশ্যসমূহ আহরণের জন্য উপযোগী নয়, বরং এগুলোর ক্ষেত্র হলো আংশিক উদ্দেশ্যসমূহ আহরণ করা। তবে প্রথম পদ্ধতিটি এর ব্যতিক্রম, যা হলো শরয়ী পাঠের বাহ্যিক নির্দেশ ও নিষেধ থেকে বিধানদাতার উদ্দেশ্য অনুধাবন করা; কেননা এটি কিছু সাধারণ ও সামষ্টিক উদ্দেশ্য আহরণে ব্যবহার করা সম্ভব, বিশেষত যখন বিষয়টি এমন আয়াতসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট হয় যাতে সামষ্টিক আইনি মূলনীতি বিধৃত হয়েছে এবং সুন্নাহর ব্যাপক অর্থবোধক সংক্ষিপ্ত বাণীসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর অন্যান্য পদ্ধতিগুলোর ক্ষেত্রে আরোহী পদ্ধতির (ইস্তিকরা) উপাদান যুক্ত করা ব্যতীত সেগুলো সাধারণ ও সামষ্টিক উদ্দেশ্য আহরণে ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

বিস্ময়কর বিষয় হলো যে, ইমাম শাতবি যদিও বিধানদাতার উদ্দেশ্য উদঘাটনে তাঁর প্রধান অবলম্বন হিসেবে আরোহী পদ্ধতিকে নির্ধারণ করেছেন এবং গ্রন্থের ভূমিকার শুরুতেই তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি বলেন: "... আমি এর দুর্লভ বিষয়সমূহ লিপিবদ্ধ করতে এবং এর বিক্ষিপ্ত তথ্যাদি—বিস্তারিত ও সংক্ষেপ—একত্রিত করতে ক্ষান্ত হইনি। বিধানের উৎস ও প্রয়োগস্থলে এর প্রমাণাদি অস্পষ্টভাবে নয় বরং বিশদভাবে উপস্থাপন করেছি; যেখানে আমি সামষ্টিক আরোহী পদ্ধতির ওপর নির্ভর করেছি এবং কেবল আংশিক একক বিষয়গুলোর ওপর সীমাবদ্ধ থাকিনি ...", (১) এবং তিনি একে এমন উচ্চমর্যাদা দান করেছেন যা তাঁর পূর্বে শরীয়তের আলেমদের মাঝে অন্য কেউ করেননি, অথচ যখন তিনি উদ্দেশ্যসমূহ জানার পদ্ধতিগুলো বর্ণনা করতে আসলেন, তখন তিনি এই পদ্ধতিটিকে সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করলেন এবং এর কোনো উল্লেখই করলেন না।

যদি আমরা শাতবির লেখনীকে পদ্ধতিগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখি, তবে বলা যায় যে শাতবির উচিত ছিল তাঁর 'আল-মুওয়াফাকাত' গ্রন্থটি এই পদ্ধতিসমূহ বর্ণনার মাধ্যমে শুরু করা। কারণ, পদ্ধতিগত রচনা ও গবেষণার দাবি হলো লেখক তাঁর গ্রন্থে সেই সকল উপায় ও পদ্ধতির বর্ণনা প্রথমেই প্রদান করবেন যা তিনি তাঁর গবেষণায় অবলম্বন করবেন। সুতরাং শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ বর্ণনা ও আহরণ শুরু করার পূর্বেই শাতবির জন্য এই বিষয়ে তাঁর পদ্ধতি স্পষ্ট করা অধিকতর সমীচীন ছিল।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, খণ্ড ১, ভাগ ১, পৃষ্ঠা ১৬।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
أما الشيخ محمد الطاهر بن عاشور فإنه -على خلاف الشاطبي- قد جعل مسالك الكشف عن مقاصد الشارع في بداية كتابه. فبعد إثبات أن للشريعة مقاصد من شرع الأحكام، وبيان حاجة الفقيه إلى معرفة هذه المقاصد انتقل إلى الحديث عن طرق إثبات المقاصد الشرعية، فعدَّد منها ثلاثة طرق، هي: (1)

1 - استقراء الشريعة في تصرفاتها، وهو على نوعين:

الأول: استقراء الأحكام المشتركة في علّة واحدة ليحصل من ذلك يقين بأن تلك العلة مقصد مراد للشارع، وفي ذلك يقول: "أعظمها استقراء الأحكام المعروفةِ عللُها، الآيل إلى استقراء تلك العلل المثبتة بطرق مسالك العلة. فإن باستقراء العلل حصولَ العلمِ بمقاصد الشريعة بسهولة، لأننا إذا استقرينا عللاً كثيرة متماثلة في كونها ضابطًا لحكمة متّحدة، أمكن أن نستخلص منها حِكْمة واحدة فنجزم بأنها مقصد شرعي، كما يُسْتَنْتَجُ من استقراء الجزئيات تحصيلُ مفهوم كُلّيٍّ حسب قواعد المنطق". (2)

والثاني: "استقراء أدلّة أحكام اشتركت في علّة بحيث يحصل لنا اليقين بأن تلك العلة مقصد مراد للشارع". (3)

2 - الإستخلاص المباشر لمقاصد الشارع من ظواهر النصوص القرآنية الواضحة الدلالة إلى درجة يضعف فيها احتمال كون المراد منها غير ظاهرها، وأعلى المقاصد التي تُستنبط من هذا الطريق هي التي تؤخذ من نصوص تجتمع فيها قطعية الثبوت مع قوة الظهور إلى درجة تقترب من اليقين. (4)

3 - الإستخلاص المباشر من السنّة المتواترة، وهو على قسمين:

الأول: من السنّة التي حصل تواترها المعنوي من مشاهدة عموم الصحابة عملاً

--------------------------------------------

(1) ابن عاشور، محمد الطاهر: مقاصد الشريعة الإِسلامية، تحقيق ودراسة محمد الطاهر الميساوي، (د. م: البصائر للإنتاج العلمي، ط 1، 1418 هـ / 1998 م)، ص 124 - 129.

(2) المصدر السابق، ص 125.

(3) المصدر السابق، ص 126.

(4) انظر المصدر السابق، ص 127.
পক্ষান্তরে শায়খ মুহাম্মদ তাহির বিন আশুর—আশ-শাতিবীর বিপরীতে—শরীয়তের মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) উন্মোচনের পথগুলোকে তার গ্রন্থের শুরুতে স্থান দিয়েছেন। বিধান প্রবর্তনের পেছনে শরীয়তের যে উদ্দেশ্য রয়েছে তা প্রমাণ করার পর এবং এই উদ্দেশ্যসমূহ জানার ক্ষেত্রে ফকিহ বা আইনবিদের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনার পর তিনি শরীয়তের মাকাসিদ প্রমাণের পদ্ধতিসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এক্ষেত্রে তিনি তিনটি পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো: (১)

১ - শরীয়তের কার্যাবলীর ক্ষেত্রে আরোহী অনুসন্ধান (ইস্তিকরা), আর এটি দুই প্রকার:

প্রথমটি: একটি অভিন্ন ইল্লত বা কারণের অন্তর্ভুক্ত বিধানসমূহের আরোহী অনুসন্ধান করা যাতে এটি নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই ইল্লতটিই বিধানদাতার অভিপ্রেত লক্ষ্য বা মাকসাদ, এ সম্পর্কে তিনি বলেন: "এর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো সেইসব বিধানের আরোহী অনুসন্ধান করা যাদের কারণসমূহ (ইল্লত) সুপরিচিত, যা মূলত সেই কারণগুলোর অনুসন্ধানের দিকে ধাবিত করে যা কারণ নির্ণয়ের পথসমূহ দ্বারা প্রমাণিত। কেননা কারণসমূহের আরোহী অনুসন্ধানের মাধ্যমে শরীয়তের উদ্দেশ্যসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা সহজ হয়। কারণ যখন আমরা কোনো একটি অভিন্ন হিকমতের মানদণ্ড হিসেবে অনেকগুলো সদৃশ কারণ অনুসন্ধান করি, তখন সেখান থেকে একটি একক হিকমত বা প্রজ্ঞা আহরণ করা সম্ভব হয়। ফলে আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে পারি যে এটিই শরীয়তের একটি মাকসাদ, যেমনটি যুক্তিবিদ্যার নিয়ম অনুযায়ী বিশেষ বিশেষ বিষয়ের অনুসন্ধানের মাধ্যমে একটি সামগ্রিক ধারণা লাভ করা হয়"। (২)

দ্বিতীয়টি: "বিধানের এমন দলীলগুলোর আরোহী অনুসন্ধান করা যা একটি অভিন্ন ইল্লতে বা কারণে অংশীদার, যাতে আমাদের কাছে এটি নিশ্চিত হয় যে ওই ইল্লতটিই বিধানদাতার অভিপ্রেত লক্ষ্য বা মাকসাদ"। (৩)

২ - কুরআনের এমন সুস্পষ্ট অর্থবোধক নস বা বক্তব্যসমূহের প্রকাশ্য অর্থ থেকে সরাসরি বিধানদাতার উদ্দেশ্যসমূহ আহরণ করা যার অর্থ প্রকাশ্য অর্থের বিপরীতে হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। এই পদ্ধতিতে উদ্ভাবিত উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ হলো সেগুলো যা এমন নস থেকে নেওয়া হয় যেখানে সুসাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি অকাট্য হওয়ার পাশাপাশি অর্থের স্পষ্টতাও এমন পর্যায়ে থাকে যা প্রায় নিশ্চিত জ্ঞানের কাছাকাছি। (৪)

৩ - সুন্নাহে মুতাওয়াতিরা থেকে সরাসরি আহরণ, যা দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথমটি: এমন সুন্নাহ থেকে যা সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপক কর্মতৎপরতা প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে মর্মগতভাবে অবিচ্ছিন্নতা (তাওয়াতুরে মানাভী) লাভ করেছে।

--------------------------------------------

(১) ইবনে আশুর, মুহাম্মদ তাহির: মাকাসিদুশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, তাহকিক ও অধ্যয়ন মুহাম্মদ তাহির আল-মিসাভি, (স্থান উল্লেখ নেই: আল-বাসায়ির লিল-ইনতাজ আল-ইলমি, ১ম সংস্করণ, ১৪১৮ হিজরি / ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ), পৃ. ১২৪ - ১২৯।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ১২৫।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ১২৬।

(৪) দ্রষ্টব্য: পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ১২৭।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১৬)
من أعمال النبي صلى الله عليه وسلم فيحصل لهم علمٌ بتشريعٍ في ذلك يستوي فيه جميع المشاهدين، وهو الطريق الذي تثبت منه المعلومات من الدين بالضرورة.

الثاني: تواتر عملي يحصل لآحاد الصحابة من تكرّر مشاهدة أعمال رسول الله صلى الله عليه وسلم، بحيث يستخلص من مجموعها مقصدًا شرعيًا. (1)

ويبدو أن ابن عاشور يقصر هذا المسلك على الصحابة فقط لما يحصل لهم من تواتر في تلك السنن وتعذُّر ذلك على من جاء بعدهم إلّا من خلال القيام بعملية استقراء، وهو الذي أشار إليه في المسلك الأول.

وقد عدّ ابن عاشور "طريقة السلف في رجوعهم إلى مقاصد الشريعة وتمحيص ما يصلح لأن يكون مقصوداً لها" طريقًا يُنزّل منزلة طرق الكشف عن المقاصد، إلّا أنه لم يدرجه ضمن تلك الطرق من حيث إنه لم تثبت حجيّة كلّ أقوال السلف، بل منها ما هو حجّة، ومنها ما هو مجرّد رأي من صاحبه في فهم الشريعة، ولكن التأمل في أقوالهم يُبيِّن وجوب اعتبار مقاصد الشريعة على الجملة. (2)

وعلى أهمية ما كتبه ابن عاشور - حيث يمكن أن يضاف إلى ما كتبه الشاطبي ليكونا معًا أساس دراسة مسالك الكشف عن المقاصد - إلّا أنه لا يمكن اعتباره دراسة وافية، بل مجرد تمهيد لطريق المبحث في هذا الموضوع. ويبدو أن ابن عاشور اعتنى بتطبيق منهجه هذا عمليًّا في كتاباته أكثر من اهتمامه بالتنظير له.

وقد أجرى الدكتور عبد المجيد النجار دراسة مقارنة بعنوان: مسالك الكشف عن مقاصد الشريعة بين الشاطبي وابن عاشور (3) استعرض فيها موضوع الكشف عن مقاصد الشريعة: مقدماته، ومسالكه عند كلٍّ من الإمام الشاطبي، والشيخ محمد الطاهر بن عاشور ثُمّ المقارنة بينهما، حيث أشار إلى أن المسالك التي أوردها الشاطبي

--------------------------------------------

(1) انظر المصدر السابق، ص 127 - 129.

(2) انظر المصدر السابق، ص 130 - 134.

(3) وهو في أصله مقال نشر في العدد الأول من مجلة العلوم الإِسلامية التي تصدرها جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإِسلامية بقسنطينة، الجزائر. ثم نشره ضمن كتابه: فصول في الفكر الإِسلامي بالمغرب، (بيروت: دار الغرب الإِسلامي، ط 1، 1992 م)، ص 139 - 161.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলি থেকে, যার ফলে তাদের মাঝে সেই বিষয়ক বিধান সম্পর্কে এমন জ্ঞান অর্জিত হয় যাতে সকল প্রত্যক্ষদর্শী সমানভাবে অংশীদার হয়। এটিই সেই পথ যার মাধ্যমে দ্বীনের তথ্যসমূহ অকাট্যভাবে (জরুরিভাবে) প্রমাণিত হয়।

দ্বিতীয়ত: কর্মগত তাওয়াতুর (তওয়াতুরে আমালি), যা ব্যক্তিগতভাবে সাহাবীদের নিকট রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কার্যাবলি বারবার প্রত্যক্ষ করার মাধ্যমে অর্জিত হয়, যাতে সেই সামগ্রিক কার্যাবলি থেকে একটি শরয়ি মাকসাদ (উদ্দেশ্য) নিংড়ে বের করা যায়। (১)

মনে হয় ইবনে আশুর এই পদ্ধতিটিকে কেবল সাহাবীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন; কারণ সেই সুন্নাহসমূহের ক্ষেত্রে তাদের যে তাওয়াতুর (নিরবচ্ছিন্নতা) অর্জিত হয়েছিল, পরবর্তীতে আগতদের জন্য তা অর্জন করা অসম্ভব—ব্যতীত আরোহী পদ্ধতি (ইস্তিকরা) অবলম্বন করা ছাড়া, যা তিনি প্রথম পদ্ধতিতে ইঙ্গিত করেছেন।

ইবনে আশুর "শরীয়তের মাকসাদসমূহের দিকে সলফদের ফিরে আসা এবং মাকসাদ হওয়ার যোগ্য বিষয়গুলোকে যাচাই-বাছাই করার পদ্ধতিকে" মাকসাদ উন্মোচনের পদ্ধতিসমূহের স্তরে গণ্য করেছেন। তবে তিনি একে সরাসরি সেই পদ্ধতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেননি এই বিবেচনায় যে, সলফদের সকল কথা দলিল (হুজ্ঝত) হিসেবে প্রমাণিত নয়; বরং তাদের কিছু কথা দলিল এবং কিছু কথা শরীয়ত বুঝার ক্ষেত্রে নিছক ব্যক্তিগত মত। তবে তাদের উক্তিগুলো নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, সামগ্রিকভাবে শরীয়তের মাকসাদসমূহকে বিবেচনা করা আবশ্যক। (২)

ইবনে আশুরের লেখার গুরুত্ব অনস্বীকার্য—যা শাত্বেবীর লেখার সাথে যুক্ত হয়ে একত্রে মাকসাদ উন্মোচনের পদ্ধতিসমূহ অধ্যয়নের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে—তবুও একে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা বলা যায় না; বরং এটি এই বিষয়ের আলোচনার পথপ্রদর্শক মাত্র। এবং প্রতীয়মান হয় যে, ইবনে আশুর তার লেখায় এই পদ্ধতির তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার চেয়ে এর প্রায়োগিক ব্যবহারের দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।

ডক্টর আব্দুল মাজীদ নাজ্জার 'শাত্বেবী ও ইবনে আশুরের মাঝে শরীয়তের মাকসাদসমূহ উন্মোচনের পদ্ধতিসমূহ' (৩) শিরোনামে একটি তুলনামূলক গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। সেখানে তিনি শরীয়তের মাকসাদ উন্মোচনের বিষয়টি পর্যালোচনা করেছেন: এর ভূমিকা এবং ইমাম শাত্বেবী ও শায়খ মুহাম্মদ তাহের বিন আশুর—উভয়ের নিকট বিদ্যমান পদ্ধতিসমূহ এবং তাদের মধ্যে তুলনা। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে শাত্বেবী যেসব পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ১২৭ - ১২৯।

(২) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ১৩০ - ১৩৪।

(৩) এটি মূলত আলজেরিয়ার কন্সটান্টিনে অবস্থিত প্রিন্স আব্দুল কাদির ইউনিভার্সিটি অফ ইসলামিক সায়েন্সেস থেকে প্রকাশিত 'ইসলামিক সায়েন্স জার্নাল'-এর প্রথম সংখ্যায় প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ। পরবর্তীতে এটি তাঁর গ্রন্থ: 'মাগরেবের ইসলামি চিন্তাধারার পরিচ্ছেদসমূহ' (বৈরুত: দারুল গারব আল-ইসলামি, ১ম সংস্করণ, ১৯৯২ খ্রি.), পৃষ্ঠা ১৩৯ - ১৬১-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে প্রকাশিত হয়।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
تتسم بكونها جزئية في الغالب، "حيث اتجهت إلى رسم الطريق في المبحث عن المقاصد في نطاق آحاد الأحكام، لا في نطاق المقاصد الكلية العامة، وهو ما يظهر بجلاء في المسالك الثلاثة الأخيرة". (1) وقد أرجع سبب ذلك إلى طبيعة العمل الذي قام به الشاطبي بكونه "عملاً مبتكرًا أو يكاد، وهو ما جعله ينحو منحى التجزئة والتفصيل والتدقيق في بسط المقاصد وتحليلها، وبيان حقائقها وأوضاعها، فجاء مؤَلَّفُه متكاثرة مسائله متنوعة متعددة قضاياه". (2)

أما ابن عاشور فإنه قد وجد أساس علم المقاصد مرفوعًا فعمد إلى البناء عليه مع تهذيبه، والسعي إلى الوصول به إلى مرحلة النضج، فكان تركيزه على الطرق التي تعرف بها المقاصد العليا، ولذلك نجده قد جعل الاستقراء أولها وأعظمها.

وفي نهاية المبحث خلص إلى القول: "لا شك أن ما قدّمه الإمامان يُعتبر مادة ثريّة في الإستكشاف المقاصدي لا غنى لباحث أصولي عنها، كما أنه يُعتبر قفزة نوعية في جنس البحوث الأصولية، ولحن تطور الأوضاع، واستجداد الملابسات تدعو إلى أن تكرم هذه الثروة بتزكيتها بالبحث للبناء عليها أسًّا متينًا، وفي مستجدات العلوم اليوم: لغوية واجتماعية ونفسية واقتصادية ما يعين على تطوير البحوث في مسالك الكشف عن مقاصد الشريعة". (3)

منهجية البحث:

يشتمل البحث على مقدمة وبابين وخاتمة.

جاءت المقدمة في بيان أهمية الموضوع، وملخص لأبرز الدراسات السابقة حوله.

أما الباب الأول فهو في كيفية استخلاص المقاصد من منطوق النصوص ومفهومها ومعقولها، وقد اشتمل على خمسة فصول.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق، ص 158.

(2) المصدر السابق، الصفحة نفسها.

(3) المصدر السابق، ص 160.
এটি প্রধানত আংশিক হওয়ার বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, "যেহেতু এটি মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ) অনুসন্ধানে ব্যক্তিগত বিধানের পরিধিতে পথ নির্ধারণের দিকে মনোনিবেশ করেছে, সাধারণ সামগ্রিক মাকাসিদের পরিধিতে নয়, যা শেষ তিনটি পদ্ধতিতে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়।" (১) আর এর কারণ হিসেবে তিনি ইমাম শাতিবি-র সম্পাদিত কাজের প্রকৃতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, এটি ছিল "একটি উদ্ভাবনী কাজ অথবা প্রায় তেমন কিছু, যা তাঁকে মাকাসিদসমূহ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ এবং এগুলোর স্বরূপ ও অবস্থান বর্ণনায় বিভাজন, বিস্তারিত বিবরণ এবং সূক্ষ্ম পর্যালোচনার পথ অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করেছে। ফলে তাঁর গ্রন্থটি হয়ে উঠেছে বহুবিধ মাসআলা এবং বিচিত্র ও বহুমুখী বিষয়ের সমাহার।" (২)

অন্যদিকে ইবনে আশুর মাকাসিদ বিজ্ঞানের ভিত্তিটি স্থাপিত অবস্থায় পেয়েছেন, তাই তিনি একে পরিমার্জিত করার পাশাপাশি এর ওপর ভিত্তি করে জ্ঞানসৌধ নির্মাণের এবং একে পরিপক্কতার পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। ফলে তাঁর মূল মনোযোগ ছিল সেই পদ্ধতিগুলোর ওপর যার মাধ্যমে উচ্চতর মাকাসিদসমূহ জানা যায়। এ কারণেই আমরা তাঁকে দেখতে পাই যে, তিনি আরোহ পদ্ধতিকে (ইস্তিকরা) প্রথম ও শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।

আলোচনার শেষে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে: "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই দুই ইমাম যা পেশ করেছেন তা মাকাসিদ অনুসন্ধানে একটি সমৃদ্ধ উপাদান হিসেবে বিবেচিত, যা থেকে কোনো উসূলি গবেষক বিমুখ হতে পারেন না। তেমনি এটি উসূলি গবেষণার ক্ষেত্রে একটি গুণগত উল্লম্ফন হিসেবেও গণ্য। পরিস্থিতির পরিবর্তন ও নিত্যনতুন পারিপার্শ্বিকতার উদ্ভব এই সম্পদকে যথাযথ সম্মান দিয়ে গবেষণার মাধ্যমে পরিশুদ্ধ করে এর ওপর এক মজবুত ভিত্তি স্থাপনের দাবি রাখে। বর্তমান যুগের ভাষাতাত্ত্বিক, সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক ও অর্থনৈতিক বিজ্ঞানের নতুন নতুন উদ্ভাবনগুলো শরীয়তের মাকাসিদ উন্মোচনের পথে গবেষণার মানোন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।" (৩)

গবেষণার পদ্ধতি:

এই গবেষণাটি একটি ভূমিকা, দুটি মূল পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহার নিয়ে গঠিত।

ভূমিকার মধ্যে বিষয়ের গুরুত্ব এবং এর ওপর উল্লেখযোগ্য পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহের সংক্ষিপ্ত সার বর্ণনা করা হয়েছে।

আর প্রথম পরিচ্ছেদটি হলো টেক্সট বা নصوصের (নাস) বাচনিক অর্থ (মানতুক), ভাবার্থ (মাফহুম) এবং যৌক্তিক ভিত্তি (মাকুল) থেকে কীভাবে মাকাসিদ আহরণ করা যায় সে সম্পর্কে; যা পাঁচটি অধ্যায় নিয়ে গঠিত।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৫৮।

(২) পূর্বোক্ত উৎস, একই পৃষ্ঠা।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৬০।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الفصل الأول: وهو بمثابة تمهيد للموضوع، حيث يتناول التعريف بمقاصد الشريعة، وبيان أنواعها وتقسيماتها، ثم يعرض بشيء من التفصيل إلى بيان أهمية العلم بمقاصد الشريعة خاصة لمن يتصدى للفتوى والإجتهاد، حيث تكون عونًا وهاديًّا له في حسن فهم النصوص وإدراك ما خفي من المعاني، والترجيح بين ما يبدو فيه تعارض منها، وحسن تنزيلها على الواقع بمراعاة مآلات تلك الأحكام ومدى تحقيقها لما قصده الشارع منها.

أما الفصل الثاني: فهو في بيان أن أوّل ما تُستخلَص منه مقاصد الشارع هي ظواهر نصوصه، لأنها هي وعاء أمره ونهيه، وهي المتضمن لإرادته.

فإذا تبيّن أن تلك الظواهر غير مقصودة، أو لم تكن واضحة إلى الدرجة التي تُستخلص منها المقاصد استخلاصًا مباشرًا، انتقل الباحث إلى البحث عن القرائن والظروف والملابسات التي ورد فيها ذلك الخطاب للإستعانة بها على تحديد المقصود منه، وهو موضوع الفصل الثالث.

فإذا لم يكن منطوق النص وافيًّا بمقصد الشارع انتُقِلَ إلى معقوله، وذلك من خلال البحث عن علل النصوص وحِكَمها، وتكون بعض مسالك العلة طريقَ المجتهد في استخراج مقاصد الشارع من معقولِ نصوصه، وهو موضوع الفصل الرابع.

أما الفصل الخامس: فقد خصص لدراسة كيفية دلالة سكوت الشارع على مقاصده من خطاباته، وبيان ما يصلح منه ليكون كذلك وما لا يصلح.

أما الباب الثاني فهو مخصص لمسلك الاستقراء، وقد تَمّ إفراده بباب مستقلّ لأهميته في الكشف عن المقاصد العامة واستخراج الكليات الشرعية، ولأنه لم ينل حظه من الحث في الدراسات الشرعية، ولِمَا يكتنفه من خلاف حول أهميته في هذه الدراسات وحول إمكانية التوصل من طريقه إلى نتائج قطعية أو قريبة من القطع. وقد جاء في ستة فصول.

الفصل الأول: في تعريف الاستقراء قديمًا وحديثًا، وبيان أقسامه ودلالة كلّ قسم
প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি বিষয়ের ভূমিকা স্বরূপ, যেখানে মাকাসিদুশ শারিয়াহর (শরীয়তের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য) পরিচয় এবং এর প্রকারভেদ ও শ্রেণিবিভাগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এরপর কিছুটা বিস্তারিতভাবে মাকাসিদুশ শারিয়াহর জ্ঞান অর্জনের গুরুত্ব বর্ণনা করা হয়েছে, বিশেষ করে যারা ফতোয়া প্রদান ও ইজতিহাদ করেন তাদের জন্য; যাতে করে এটি নস (মূল পাঠ) সঠিকভাবে বুঝতে, লুকায়িত অর্থ উপলব্ধি করতে এবং আপাত বিরোধপূর্ণ বিষয়ের মধ্যে প্রাধান্যযোগ্য বিষয় নির্বাচন করতে তাদের জন্য সহায়ক ও দিশারি হতে পারে। সেই সাথে বাস্তব প্রেক্ষাপটে বিধানসমূহ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সেগুলোর পরিণতি এবং শরীয়ত প্রণেতা এর মাধ্যমে যা উদ্দেশ্য করেছেন তা অর্জনের বিষয়টি বিবেচনা করার ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হয়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি এই বিষয়ের বর্ণনায় যে, শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য নির্ধারণের প্রাথমিক উৎস হলো নসের বাহ্যিক অর্থ, কারণ এটিই তাঁর আদেশ ও নিষেধের আধার এবং তাঁর ইচ্ছার ধারক।

যদি স্পষ্ট হয় যে সেই বাহ্যিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়, অথবা তা মাকাসিদ সরাসরি আহরণ করার মতো যথেষ্ট স্পষ্ট নয়, তখন গবেষক সেই সম্বোধনের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাসঙ্গিক নিদর্শন, পরিস্থিতি এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে গবেষণার দিকে অগ্রসর হন, যাতে এর উদ্দেশ্য নির্ধারণে সেগুলোর সহায়তা নেওয়া যায়। এটিই তৃতীয় পরিচ্ছেদের বিষয়বস্তু।

যদি নসের সুস্পষ্ট উচ্চারণ শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য বোঝার জন্য যথেষ্ট না হয়, তবে এর যুক্তিনির্ভর অর্থের দিকে অগ্রসর হতে হবে। এটি নসের ইল্লত (কারণ) ও হিকমত (প্রজ্ঞা) অনুসন্ধানের মাধ্যমে সম্ভব। আর ইল্লত নির্ণয়ের কিছু পদ্ধতি মুজতাহিদের জন্য নসের যুক্তিনির্ভর অর্থ থেকে শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য আহরণের পথ হিসেবে কাজ করে। এটি চতুর্থ পরিচ্ছেদের বিষয়বস্তু।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শরীয়ত প্রণেতার নীরবতা কীভাবে তাঁর সম্বোধনের উদ্দেশ্যসমূহ নির্দেশ করে এবং এ ক্ষেত্রে কোনটি নির্ভরযোগ্য আর কোনটি নয়, তা পর্যালোচনার জন্য এই পরিচ্ছেদটি নির্ধারিত।

দ্বিতীয় অধ্যায়টি ইস্তিকরা (পর্যবেক্ষণমূলক আরোহ) পদ্ধতির জন্য নির্ধারিত। সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ উদ্ঘাটন এবং শরীয়তের সামগ্রিক নীতিমালা আহরণের ক্ষেত্রে এর গুরুত্বের কারণে এটিকে একটি স্বতন্ত্র অধ্যায় হিসেবে রাখা হয়েছে। এছাড়া শরীয়ত বিষয়ক গবেষণায় এটি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি এবং এই গবেষণাসমূহে এর গুরুত্ব এবং এর মাধ্যমে নিশ্চিত বা প্রায় নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিদ্যমান মতপার্থক্যের কারণেও একে আলাদা করা হয়েছে। এটি ছয়টি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত।

প্রথম পরিচ্ছেদ: প্রাচীন ও আধুনিক প্রেক্ষাপটে ইস্তিকরার সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ এবং প্রত্যেক প্রকারের নির্দেশক অর্থ বর্ণনা।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
منه.

الفصل الثاني: في لمحة عن الاستقراء في العلوم الشرعية، حيث يتبيَّن أن الإستدلال الإستقرائي استدلال أصيل في العلوم الشرعية، وليس وليدَ انتقالِ التراث اليوناني إلى العالم الإِسلامي، فهو حاضر بجلاء في المجال التطبيقي عند علماء المسلمين وإن لم يُعْتَنَ به كثيرًا في المجال النظري.

ولَمّا كان الشاطبيّ أبرز من اعتنى من الأصوليين بمبحث الاستقراء، وأعطاه بعدًا تطبيقيًّا واسعًا في مجال المقاصد الشرعية كان من اللازم إفراده بالدراسة، فخُصَّص لذلك الفصل الثالث من هذا الباب.

أما الفصل الرابع فقد خُصص لرأي ابن عاشور في الإستدلال الإستقرائي في مجال مقاصد الشريعة، وكيفيّة تطبيقه إياه.

وبعد هذه الدراسة المستفيضة للإستدلال الإستقرائي جاء الفصل الخامس لتقييمه: ما له وما عليه، وليبيَّن الفروق التي يجب مراعاتها بين الاستقراء في العلوم الطبيعية والاستقراء في العلوم الشرعية خصوصًا والعلوم الإجتماعية عموما.

أما الفصل السادس فهو دراسة تطبيقية لبيان كيفية استثمار الإستدلال الإستقرائي في المقاصد العامة للشريعة الإِسلامية، واستخلاص الكليات من جزئيات النصوص والأحكام.

ثم تأتي خاتمة البحث لإبراز بعض الخلاصات والتوصيات.
এর থেকে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি জ্ঞানবিজ্ঞানে আরোহ পদ্ধতির (Induction) সংক্ষিপ্ত আলোচনা; যেখানে স্পষ্ট হয় যে, আরোহমূলক প্রমাণ পদ্ধতি শরয়ি জ্ঞানবিজ্ঞানে একটি মৌলিক ও স্বকীয় পদ্ধতি। এটি গ্রিক ঐতিহ্য মুসলিম বিশ্বে স্থানান্তরের ফল নয়; বরং তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে খুব বেশি গুরুত্ব না পেলেও মুসলিম আলেমদের প্রায়োগিক ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিল।

যেহেতু উসুলবিদদের মধ্যে ইমাম শাতবি আরোহ পদ্ধতির আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বারোপ করেছিলেন এবং শরয়ি মাকাসিদের (উদ্দেশ্যের) ক্ষেত্রে একে একটি ব্যাপক প্রায়োগিক মাত্রা দান করেছিলেন, তাই তাঁকে নিয়ে স্বতন্ত্র অধ্যয়ন প্রয়োজন ছিল। ফলশ্রুতিতে, এই অধ্যায়ের তৃতীয় পরিচ্ছেদটি তাঁর জন্য নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদটি শরিয়তের উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে আরোহমূলক প্রমাণ পদ্ধতিতে ইবনে আশুরের মতামত এবং তাঁর এটি প্রয়োগের পদ্ধতির জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

আরোহমূলক প্রমাণ পদ্ধতির এই বিস্তারিত পর্যালোচনার পর পঞ্চম পরিচ্ছেদে এর মূল্যায়ন করা হয়েছে: এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকসমূহ; এবং প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের আরোহ পদ্ধতি এবং বিশেষ করে শরয়ি বিজ্ঞান ও সাধারণভাবে সমাজবিজ্ঞানে ব্যবহৃত আরোহ পদ্ধতির মধ্যে যে পার্থক্যগুলো বজায় রাখা জরুরি, তা এখানে স্পষ্ট করা হয়েছে।

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদটি একটি প্রায়োগিক অধ্যয়ন, যেখানে ইসলামি শরিয়তের সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহে আরোহমূলক প্রমাণ পদ্ধতি ব্যবহারের পন্থা এবং বিভিন্ন বর্ণনা ও বিধিবিধানের আংশিক বিষয়াদি থেকে সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ আহরণের পদ্ধতি আলোচনা করা হয়েছে।

অতঃপর গবেষণার উপসংহার আসবে, যেখানে কিছু সারসংক্ষেপ ও সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌البَابُ الأَوّل

استخلاص المقاصد من منطوق النصوص ومفهومها

وفيه خمسة فصول:

الفصل الأول: تعريف مقاصد الشريعة وبيان أقسامها، وفائدة العلم بها

الفصل الثاني: استخلاص المقاصد من ظواهر النصوص

الفصل الثالث: وظيفة السياق والمقام في تحديد المقصود من الخطاب الشرعي

الفصل الرابع: استخلاص المقاصد من خلال معرفة علل الأحكام الشرعية

الفصل الخامس: سكوت الشارع ودلالته على مقاصده
প্রথম অধ্যায়

নসসমূহের বাচনিক ও মর্মগত অর্থ থেকে মাকাসিদ আহরণ

এতে পাঁচটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: মাকাসিদুশ শরীয়াহর সংজ্ঞা, এর প্রকারভেদ বর্ণনা এবং এর জ্ঞানের উপকারিতা

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নসসমূহের বাহ্যিক পাঠ থেকে মাকাসিদ আহরণ

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শরয়ি সম্বোধনের উদ্দেশ্য নির্ধারণে প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতির ভূমিকা

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শরয়ি বিধানসমূহের কারণসমূহ (ইল্লাত) জানার মাধ্যমে মাকাসিদ আহরণ

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শরিয়তদাতার নীরবতা এবং তাঁর উদ্দেশ্যসমূহের ওপর এর নির্দেশনা
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الفصل الأول

تعريف مقاصد الشريعة وبيان أقسامها، وفائدة العلم بها

‌‌المبحث الأول: تعريف مقاصد الشريعة وبيان أقسامها

‌‌المطلب الأول: تعريف مقاصد الشريعة

التعريف اللغوي:

القصد والمقصد مشتقان من الفعل "قصد"، والقصد: استقامة الطريق، والإعتماد، والأَمُّ، والعدل، والتوسط، وإتيان الشيء. يقال: قصده، وله، وإليه، يقصده. (1)

قال ابن جِنّي: "أصل (ق ص د) ومواقعها في كلام العرب الإعتزام والتوجه والنهود والنهوض نحو الشيء، على اعتدال كان ذلك أو جور، هذا أصله في الحقيقة وإن كان قد يُخَصّ في بعض المواضع بقصد الإستقامة دون الميل". (2)

والمقصِد اسم المكان. وجمعه مقاصد، أما جمعه على قُصُود فقد ذكر الفيومي أن بعض الفقهاء قد استعمله، وهو على خلاف القياس عند النحاة. (3) ومنه جاء تعبير الفقهاء والأصوليين بمقاصد الشارع عن المعاني والحِكَم التي قصد الشارع إلى تحقيقها من وراء تشريعاته وأحكامه.

وقد ذكر الدكتور طه عبد الرحمن أن لفظ "المقاصد" مشترك بين معان ثلاثة:

[1 - يُستعمل لفظ "قصد" بمعنى هو ضد الفعل "لغا - يلغو". لَمّا كان اللغو هو

--------------------------------------------

(1) انظر ابن منظور، أبا الفضل جمال الدين محمد بن مكرم: لسان العرب، (بيروت: دار صادر، ط 1، 1410 هـ / 1990 م)، ج 3، ص 353 - 354؛ الزاوي، الطاهر أحمد: ترتيب القاموس المحيط على طريقة المصباح المنير وأساس البلاغة، (بيروت: دار الفكر، ط 3، د. ت)، ج 3، ص 628.

(2) ابن منظور: لسان العرب، ج 3، ص 355.

(3) انظر الفيومي، أحمد بن علي: المصباح المنير، (بيروت: مكتبة لبنان، 1987 م)، ص 192.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ

মাকাসিদুশ শরীয়াহর সংজ্ঞা, এর প্রকারসমূহের বর্ণনা এবং তা জানার উপকারিতা

‌‌প্রথম অনুচ্ছেদ: মাকাসিদুশ শরীয়াহর সংজ্ঞা এবং এর প্রকারসমূহের বর্ণনা

‌‌প্রথম পরিব্যক্তি: মাকাসিদুশ শরীয়াহর সংজ্ঞা

শাব্দিক সংজ্ঞা:

'আল-কাসদ' এবং 'আল-মাকাসিদ' শব্দ দুটি 'কাসাদা' (قصد) ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত। আর কাসদ মানে হলো: পথের সরলতা, নির্ভরতা, সংকল্প করা, ন্যায়বিচার, মধ্যপন্থা অবলম্বন এবং কোনো কিছুর দিকে আসা। বলা হয়ে থাকে: সে এটি সংকল্প করেছে, এর জন্য বা এর দিকে সংকল্প করেছে। (১)

ইবনে জিন্নি বলেন: "আরবদের কথাবার্তায় 'ক-স-দ' (ق ص د) এর মূল ধাতুগত অর্থ এবং প্রয়োগস্থল হলো কোনো কিছুর দিকে দৃঢ় সংকল্প করা, অভিমুখী হওয়া এবং অগ্রসর হওয়া, তা ন্যায়সঙ্গত হোক বা অন্যায়। প্রকৃতপক্ষে এটাই এর মূল অর্থ, যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিচ্যুতিহীনভাবে কেবল সঠিক পথের সংকল্প করা অর্থে এটি নির্দিষ্ট হতে পারে।" (২)

আর 'মাকাসিদ' হলো স্থানবাচক বিশেষ্য। এর বহুবচন হলো 'মাকাসিদ' (مقاصد), তবে এর বহুবচন হিসেবে 'কুসুদ' (قُصُود) শব্দটির ক্ষেত্রে আল-ফাইয়ুমি উল্লেখ করেছেন যে, কিছু ফকীহ এটি ব্যবহার করেছেন, যা ব্যাকরণবিদদের মতে নিয়মের পরিপন্থী। (৩) আর এখান থেকেই ফকীহ ও উসুলবিদগণ 'মাকাসিদুশ শারি' (বিধানদাতার উদ্দেশ্যসমূহ) পরিভাষাটি সেই অর্থ ও হিকমতসমূহের ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন, যা বিধানদাতা তাঁর বিধিবিধান ও শরীয়ত প্রবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সংকল্প করেছেন।

ডক্টর ত্বহা আবদুর রহমান উল্লেখ করেছেন যে, 'মাকাসিদ' শব্দটি তিনটি অর্থের মধ্যে সাধারণ:

[১ - 'কাসদ' শব্দটি এমন অর্থে ব্যবহৃত হয় যা 'অসার কাজ' (লাগা-ইয়ালগু) ক্রিয়ার বিপরীত। যেহেতু অসার কাজ হলো

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে মঞ্জুর, আবুল ফজল জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন মাকরাম: লিসানুল আরব, (বৈরুত: দারু সাদির, ১ম প্রকাশ, ১৪১০ হিজরি / ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৫৩ - ৩৫৪; আল-জাভী, তাহের আহমদ: তারতিবুল কামুসিল মুহিত আলা তরিকাতিল মিসবাহিল মুনির ওয়া আসাসিল বালাগাহ, (বৈরুত: দারুল ফিকর, ৩য় প্রকাশ, বি.দ্র.), খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৬২৮।

(২) ইবনে মঞ্জুর: লিসানুল আরব, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৩৫৫।

(৩) দেখুন: আল-ফাইয়ুমি, আহমদ বিন আলি: আল-মিসবাহুল মুনির, (বৈরুত: মাকতাবাতু লুবনান, ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ), পৃষ্ঠা ১৯২।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২৪)
الخلو عن الفائدة أو صرف الدلالة، فإن المقصد يكون -على العكس من ذلك- هو حصول الفائدة أو عقد الدلالة؛ واختص المقصد بهذا المعنى باسم "المقصود"، فيقال: المقصود بالكلام، ويراد به مدلول الكلام، وقد يجمع على مقصودات]. (1) فيكون المقصد هنا بمعنى المقصود، وهو المضمون الدلالي للكلام.

[2 - يُستعمل الفعل: "قصد" أيضًا بمعنى هو ضد الفعل: "سها - يسهو. لَمَّا كان السهو هو فقد التوجه أو الوقوع في النسيان، فإن المقصد يكون -على خلاف ذلك- هو حصول التوجه والخروج من النسيان؛ واختص المقصد بهذا المعنى باسم "القصد"، وقد يجمع على "قصود"؛ فيكون "المقصد بمعنى القصد هو المضمون الشعوري أو الإرادي]. (2)

[3 - يُستعمل الفعل: "قصد" كذلك بمعنى هو ضد الفعل: "لها - يلهو" لما كان اللهو هو الخلو عن الغرض الصحيح وفقد الباعث المشروع، فإن المقصد يكون -على العكس من ذلك- هو حصول الغرض الصحيح وقيام الباعث المشروع؛ واختص المقصد بهذا المعنى باسم "الحِكْمة"؛ فيكون "المقصد بهذا المعنى هو المضمون القيمي". (3)

"وعلى الجملة، فإن الفعل: "قصد"، قد يكون بمعنى "حصَّل فائدة"، أو بمعنى "حصَّل نيَّة"، أو بمعنى "حصَّل غرضًا"]. (4)

التعريف الإصطلاحي:

لم يرد تعريف اصطلاحي مضبوط للمقاصد عند المتقدمين من الأصوليين والفقهاء. ومع أن الإمام الشاطبي يُعَدّ أوَّل من أفرد المقاصد الشرعية بالتأليف وتوسع فيها بما لم يفعله أحد قبله، إلّا أنه لم يورد تعريفًا اصطلاحيًا لها، وربما كان ذلك

--------------------------------------------

(1) عبد الرحمن، طه: تجديد المنهج في تقويم التراث، (الدار البيضاء: المركز الثقافي العربي، ط 1، 1994 م)، ص 98.

(2) المصدر السابق، الصفحة نفسها.

(3) المصدر السابق، الصفحة نفسها.

(4) المصدر السابق، الصفحة نفسها.
উপযোগিতা বর্জিত হওয়া কিংবা অর্থের বিচ্যুতি ঘটা; এর বিপরীতে 'মাকসাদ' বা উদ্দেশ্য বলতে মূলত উপযোগিতা অর্জিত হওয়া কিংবা অর্থের সংযোগ ঘটানোকে বোঝায়। এই অর্থে 'মাকসাদ' শব্দটিকে বিশেষভাবে 'মাকসুদ' (উদ্দেশ্যকৃত) নামে অভিহিত করা হয়েছে। সুতরাং বলা হয়ে থাকে: 'কথার মাকসুদ', যার দ্বারা বাণীর লক্ষ্যার্থ বোঝানো হয়। এর বহুবচন 'মাকসুদাত'ও হতে পারে। (১) অতএব, এখানে 'মাকসাদ' শব্দটি 'মাকসুদ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা বাণীর অর্থগত বিষয়বস্তুকে নির্দেশ করে।

[২- 'কাসাদা' ক্রিয়াটি 'সাহা' (বিস্মৃত হওয়া) ক্রিয়ার বিপরীত অর্থ প্রকাশেও ব্যবহৃত হয়। যেহেতু 'সাহা' বা বিস্মৃতি মানে হলো মনোযোগের অভাব বা ভুলে যাওয়া, তাই এর বিপরীতে 'মাকসাদ' বলতে বোঝায় মনোযোগের উপস্থিতি এবং বিস্মৃতি থেকে মুক্তি। এই অর্থে 'মাকসাদ' শব্দটিকে 'কাসদ' (সংকল্প) নামে বিশেষায়িত করা হয়েছে এবং এর বহুবচন 'কুসুদ' ব্যবহৃত হতে পারে। সুতরাং 'কাসদ' অর্থে 'মাকসাদ' হলো অনুভূতিগত বা ইচ্ছামূলক বিষয়বস্তু।] (২)

[৩- 'কাসাদা' ক্রিয়াটি একইভাবে 'লাহা' (অনর্থক কাজ করা) ক্রিয়ার বিপরীত হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যেহেতু 'লাহউ' বা অনর্থক কাজ মানে হলো সঠিক লক্ষ্য-উদ্দেশ্য শূন্য হওয়া এবং শরয়ি প্রেরণার অভাব, তাই এর বিপরীতে 'মাকসাদ' হলো সঠিক লক্ষ্য হাসিল করা এবং শরয়ি প্রেরণা বিদ্যমান থাকা। এই অর্থে 'মাকসাদ'-কে 'হিকমাহ' (প্রজ্ঞা) নামে বিশেষায়িত করা হয়েছে। সুতরাং এই অর্থে 'মাকসাদ' হলো মূল্যবোধগত বিষয়বস্তু।] (৩)

"সারকথা হলো, 'কাসাদা' ক্রিয়াটি কখনও 'উপযোগিতা অর্জন', কখনও 'সংকল্প করা', আবার কখনও 'উদ্দেশ্য হাসিল করা' অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে।" (৪)

পারিভাষিক সংজ্ঞা:

পূর্ববর্তী উসুলবিদ ও ফকিহগণের নিকট মাকাসিদ-এর কোনো সুনির্দিষ্ট পারিভাষিক সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। যদিও ইমাম শাতিবি-কে প্রথম ব্যক্তি হিসেবে গণ্য করা হয় যিনি মাকাসিদে শারইয়াহ নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং এ বিষয়ে এমন বিস্তর আলোচনা করেছেন যা তাঁর পূর্বে আর কেউ করেননি, তা সত্ত্বেও তিনি এর কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করেননি। সম্ভবত এর কারণ হলো...

--------------------------------------------

(১) আবদুর রহমান, ত্বহা: তাজদিদুল মানহাজ ফি তাকউয়িমিত তুরাস, (কাসাব্লাঙ্কা: আল-মারকাজুস সাকাফি আল-আরাবি, ১ম সংস্করণ, ১৯৯৪ খ্রি.), পৃষ্ঠা ৯৮।

(২) প্রাগুক্ত উৎস, একই পৃষ্ঠা।

(৩) প্রাগুক্ত উৎস, একই পৃষ্ঠা।

(৪) প্রাগুক্ত উৎস, একই পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২৫)
راجعًا إلى نفور الإمام الشاطبي من التقيد بالحدود في المباحث الأصولية التي تحدث عنها ويؤيد ذلك انتقاده لنظرية الحد عند المناطقة، (1) وكذلك جريًا على منهجه في تأليف كتاب الموافقات، حيث إنه لم يقصد به تأليف كتاب يتناول كلّ موضوعات أصول الفقه، وإنما المقصود منه تحقيق بعض المسائل وبحث ما لم يسبق بحثه، أو ما بُحِث من قِبَل الأصوليين بحثًا خفيفًا لا يفي بحقه، ومن ثَمّ فإنه لا يُعنى بإيراد التعريفات والحدود.

أما الشيخ محمد الطاهر بن عاشور -وهو ثاني أبرز من كتب في مقاصد الشريعة بعد الشاطبي- فقد عرفها بقوله: "مقاصد التشريع العامة هي المعاني والحِكَم الملحوظة للشارع في جميع أحوال التشريع أو معظمها"، (2) وهو تعريف للمقاصد العامة أما المقاصد الخاصة فتكون بناءً على ذلك هي المعاني والحِكَم الملحوظة للشارع في باب من أبواب التشريع، أو في جملة أبواب متجانسة ومتقاربة.

--------------------------------------------

(1) انظر الشاطبي: الموافقات، مج 1، ج 1، ص 38 - 41، مج 2، ج 4، ص 249 - 251.

(2) انظر محمد الطاهر بن عاشور: مقاصد الشريعة الإِسلامية، ص 171.
ইমাম শাতবি তাঁর আলোচিত উসুল সংক্রান্ত বিষয়সমূহে সংজ্ঞার (হদ) সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ হওয়ার প্রতি যে বিমুখতা পোষণ করেছেন, তার কারণ এটিই। যুক্তিবিদদের নিকট সংজ্ঞায়ন (হদ) তত্ত্বের প্রতি তাঁর সমালোচনা এই বিষয়টিকেই সমর্থন করে। (১) তেমনি এটি আল-মুওয়াফাকাত গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তাঁর অনুসৃত পদ্ধতির অনুগামী, কেননা তিনি উসুলুল ফিকহের সমস্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে কোনো গ্রন্থ রচনার উদ্দেশ্য করেননি; বরং তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের তাহকিক করা এবং এমন বিষয় নিয়ে গবেষণা করা যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়নি, অথবা উসুলবিদগণ যে বিষয়গুলো নিয়ে অতি সামান্য আলোচনা করেছেন যা পর্যাপ্ত ছিল না। ফলে তিনি সংজ্ঞা ও সীমারেখা প্রদানের প্রতি বিশেষ মনোযোগী হননি।

পক্ষান্তরে শায়খ মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর—যিনি শাতবির পর মাকাসিদুশ শারিয়াহর বিষয়ে দ্বিতীয় প্রধান লেখক হিসেবে পরিচিত—তিনি এর সংজ্ঞা প্রদান করে বলেছেন: "বিধান প্রণয়নের সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদুশ শারিয়াহ আল-আম্মাহ) হলো সেই সকল অর্থ ও হিকমত (রহস্য), যা শরিয়ত প্রবর্তকের দৃষ্টিতে বিধান প্রণয়নের সকল বা অধিকাংশ অবস্থায় লক্ষণীয়।" (২) এটি সাধারণ উদ্দেশ্যসমূহের সংজ্ঞা। এর ওপর ভিত্তি করে বিশেষ উদ্দেশ্যসমূহ (মাকাসিদুশ শারিয়াহ আল-খাসসাহ) হবে সেই সকল অর্থ ও হিকমত, যা শরিয়ত প্রবর্তকের দৃষ্টিতে শরিয়তের কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অধ্যায়ে অথবা পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিকটবর্তী অধ্যায়সমূহের ক্ষেত্রে লক্ষণীয়।

--------------------------------------------

(১) দেখুন শাতবি: আল-মুওয়াফাকাত, খণ্ড ১, ভাগ ১, পৃষ্ঠা ৩৮ - ৪১, খণ্ড ২, ভাগ ৪, পৃষ্ঠা ২৪৯ - ২৫১।

(২) দেখুন মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর: মাকাসিদুশ শারিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭১।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২৬)
‌‌المطلب الثاني

أقسام المقاصد الشرعية

تنقسم المقاصد الشرعية إلى أقسام عديدة، باعتبارات مختلفة:

أولاً - باعتبار مدى شمولها لمجالات التشريع وأبوابه:

تنقسم بهذا الإعتبار إلى مقاصد عامة، ومقاصد خاصة، ومقاصد جزئية.

1 - المقاصد العامة: "هي المعاني والحِكَم الملحوظة للشارع في جميع أحوال التشريع، أو معظمها"، (1) أو في أنواع كثيرة منها.

ويدخل في المقاصد العامة: أوصاف الشريعة (مثل الفطرة، والسماحة واليسر)، وغايتها العامة (درء المفاسد وجلب المصالح)، والمعاني التي لا يخلو التشريع عن ملاحظتها (الحِكَم المراعاة في كلّ أبواب الشريعة أو في أكثرها، مثل رفع الحرج، ورفع الضرر، وغيرها). (2)

شروط اعتبار المقاصد العامة:

يرى محمد الطاهر بن عاشور أنه يشترط في المقاصد التي تُعَدّ من المقاصد العامة للشريعة الإِسلامية الشروط الآتية:

أ - أن تكون ثابتة: والمراد بالثبوت أن يكون تحقيقها للمصلحة (جلب نفع

عام، أو دفع ضرر عام) مجزومًا بتحققه، أو مظنونًا ظنًّا قريبًا من الجزم. (3)

ب - أن تكون ظاهرة: والمراد بالظهور أن يكون المقصد واضحًا، بحيث لا يختلف الفقهاء في تحديده والاعتداد به، (4) إذْ لا يُعْقَل أن يُوصَف مقصد مَا بالعموم

--------------------------------------------

(1) انظر محمد الطاهر بن عاشور: مقاصد الشريعة الإِسلامية، ص 171.

(2) انظر المصدر السابق، ص 171.

(3) انظر المصدر السابق، ص 172.

(4) انظر محمد الطاهر بن عاشور: مقاصد الشريعة الإِسلامية، ص 172.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

শরয়ি মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহের প্রকারভেদ

শরয়ি মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহ বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে কয়েক ভাগে বিভক্ত:

প্রথমত - শরিয়তের ক্ষেত্রসমূহ এবং এর অধ্যায়গুলোতে এর ব্যাপকতার নিরিখে:

এই দৃষ্টিকোণ থেকে এটি সাধারণ উদ্দেশ্য, বিশেষ উদ্দেশ্য এবং আংশিক উদ্দেশ্য—এই তিন ভাগে বিভক্ত।

১ - সাধারণ উদ্দেশ্য: "এগুলো হলো সেই সকল অর্থ ও রহস্য, যা বিধানদাতার পক্ষ থেকে শরিয়তের সকল ক্ষেত্রে বা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়", (১) অথবা শরিয়তের বহুবিধ প্রকারে তা বিদ্যমান থাকে।

সাধারণ উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো: শরিয়তের বৈশিষ্ট্যসমূহ (যেমন—ফিতরাত বা স্বভাবজাত হওয়া, এবং সহনশীলতা ও সহজতা), এর সাধারণ লক্ষ্য (ক্ষতি দূর করা এবং কল্যাণ বয়ে আনা), এবং এমন সব গূঢ় অর্থ যা থেকে বিধান প্রণয়ন কখনো বিচ্ছিন্ন থাকে না (অর্থাৎ শরিয়তের সকল বা অধিকাংশ অধ্যায়ে যে হিকমতগুলো রক্ষা করা হয়েছে, যেমন—কষ্ট দূর করা, ক্ষতি নিরসন করা ইত্যাদি)। (২)

সাধারণ উদ্দেশ্য হিসেবে গণ্য হওয়ার শর্তাবলি:

মুহাম্মদ আল-তাহির ইবনে আশুর মনে করেন যে, ইসলামি শরিয়তের সাধারণ উদ্দেশ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ার জন্য নিম্নলিখিত শর্তগুলো আবশ্যক:

ক - সুসাব্যস্ত হওয়া: আর সুসাব্যস্ত হওয়ার অর্থ হলো—উদ্দেশ্যটি যে জনকল্যাণ সাধন করবে (সাধারণ উপকার লাভ বা সাধারণ ক্ষতি প্রতিরোধ), সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া অথবা এমন প্রবল ধারণা থাকা যা নিশ্চিতের কাছাকাছি। (৩)

খ - সুস্পষ্ট হওয়া: আর সুস্পষ্ট হওয়ার অর্থ হলো—উদ্দেশ্যটি এমন স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন যাতে ফকিহগণ এটি নির্ধারণ ও বিবেচনার ক্ষেত্রে মতবিরোধ না করেন, (৪) কারণ কোনো উদ্দেশ্যকে 'সাধারণ' হিসেবে অভিহিত করা যুক্তিসঙ্গত হবে না যদি...

--------------------------------------------

(১) দেখুন, মুহাম্মদ আল-তাহির ইবনে আশুর: মাকাসিদুশ শরিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭১।

(২) দেখুন, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৭১।

(৩) দেখুন, পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৭২।

(৪) দেখুন, মুহাম্মদ আল-তাহির ইবনে আশুর: মাকাসিদুশ শরিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭২।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২৭)
مع خفائه وكونه محلّ خلاف كبير بين الفقهاء.

ج - أن تكون منضبطة: أي أن يكون للمقصد "حَدٌّ معتبر لا يتجاوزه، ولا يقصر عنه، بحيث يكون القدر الصالح منه لأن يُعتبر مقصدًا شرعيًّا قدرًا غير مشكك" (1)، أي غير متفاوت الوجود في أفراده.

وقد أضاف ابن عاشور شرطًا رابعًا، وهو الإطراد، ويعني به أن لا يكون المقصد مختلفًا باختلاف أحوال الأقطار والقبائل، والأعصار. وقد مثَّل له ببعض الأوصاف التي راعاها بعض الفقهاء في شرط الكفاءة في النكاح مثل: الإِسلام، والقدرة على الإنفاق، واعتبرها من الأوصاف المنضبطة، والتماثل في الثراء والنسب، واعتبرها من الأوصاف غير المنضبطة. (2) والملاحظ أن في هذا خلطًا بين الوسائل والمقاصد، فما مثَّل به ابن عاشور هنا واضح أنه من الوسائل التي جعلت لتحقيق مقاصد النكاح، وليست هي في ذاتها مقاصد مرادة للشارع.

ويبدو للباحث أن المقاصد لا يمكن أن توصف بالإطراد، وإنما الذي يحتاج إلى الإطراد هي الوسائل، الي تتأثر بالظروف وتغير الأزمان في مدى إمكانية تحقيقها للمقاصد، ومن ثَمَّ تغيرت أحكامها واحتاجت إلى شرط الإنضباط. أما المقاصد فيكفي فيها أن تكون ثابتة، أي محققة للمصلحة في مختلف الأحوال والبيئات والأعصار، وأن يكون ذلك الثبوت منضبطًا، أي له حدّ لا يقصر عنه في مختلف الأحوال، وأن يكون واضحًا لا يختلف فيه اختلافًا معتبرًا.

2 - المقاصد الخاصة: ويمكن استخلاص تعريف لها من خلال تعريف ابن عاشور للمقاصد العامة فتكون هي: المعاني والحِكَم الملحوظة للشارع في باب من أبواب التشريع، أو في جملة أبواب متجانسة ومتقاربة، مثل مقاصد الشارع في العقوبات، أو في المعاملات المالية، أو في العبادات المالية، أو في إقامة نظام الأسرة، وغيرها.

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق، ص 172.

(2) انظر المصدر السابق، ص 172.
এর প্রচ্ছন্নতা এবং ফকিহগণের মধ্যে এটি বড় ধরনের মতপার্থক্যের বিষয় হওয়া সত্ত্বেও।

গ - সুশৃঙ্খল হওয়া: অর্থাৎ মাকসাদ বা উদ্দেশ্যের এমন একটি "স্বীকৃত সীমা থাকতে হবে যা অতিক্রম করা যাবে না এবং যা থেকে কমও হবে না, যাতে করে কোনো বিষয়কে শরয়ি মাকসাদ হিসেবে গণ্য করার মতো যোগ্য মাত্রাটি সন্দেহাতীত হয়" (১), অর্থাৎ এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলোতে এর অস্তিত্বের ক্ষেত্রে কোনো তারতম্য থাকবে না।

ইবনে আশুর একটি চতুর্থ শর্ত যোগ করেছেন, তা হলো ধারাবাহিকতা, এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন যে, দেশ, গোত্র এবং সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাকসাদ বা উদ্দেশ্য ভিন্ন হবে না। তিনি এর উদাহরণ দিতে গিয়ে বিবাহের ক্ষেত্রে সমতার (কাফায়াহ) শর্তে কিছু ফকিহ যে বিষয়গুলো বিবেচনা করেছেন তা উল্লেখ করেছেন, যেমন: ইসলাম এবং ভরণপোষণের সক্ষমতা; তিনি এগুলোকে সুশৃঙ্খল বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন। আর সম্পদ ও বংশের সমতাকে তিনি বিশৃঙ্খল বৈশিষ্ট্য হিসেবে গণ্য করেছেন। (২) লক্ষণীয় যে, এখানে উপায় (ওয়াসাইল) এবং উদ্দেশ্যের (মাকাসিদ) মধ্যে এক প্রকার সংমিশ্রণ ঘটেছে। কারণ ইবনে আশুর এখানে যা উদাহরণ হিসেবে পেশ করেছেন, তা স্পষ্টতই বিবাহের উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের উপায় মাত্র, সেগুলো স্বয়ং শারিয়াতদাতার মূল উদ্দেশ্য নয়।

গবেষকের কাছে এটি প্রতীয়মান হয় যে, মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যসমূহকে ধারাবাহিকতা দ্বারা বিশেষায়িত করা যায় না, বরং ধারাবাহিকতা প্রয়োজন উপায়ের ক্ষেত্রে। কারণ উদ্দেশ্যসমূহ অর্জনের সক্ষমতার ক্ষেত্রে উপায়গুলো পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং সময়ের পরিবর্তনের দ্বারা প্রভাবিত হয়। ফলে এগুলোর বিধান পরিবর্তিত হয় এবং সুশৃঙ্খল হওয়ার শর্তের প্রয়োজন পড়ে। অন্যদিকে মাকাসিদ বা উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে এটিই যথেষ্ট যে তা অপরিবর্তনীয় হওয়া, অর্থাৎ বিভিন্ন অবস্থা, পরিবেশ ও যুগে তা জনকল্যাণ নিশ্চিত করা। আর সেই অপরিবর্তনীয়তা সুশৃঙ্খল হতে হবে, অর্থাৎ বিভিন্ন অবস্থায় এর এমন একটি সীমা থাকবে যা থেকে তা কম হবে না, এবং এটি স্পষ্ট হতে হবে যাতে এতে কোনো উল্লেখযোগ্য মতভেদ না থাকে।

২ - বিশেষ উদ্দেশ্যসমূহ: ইবনে আশুরের সাধারণ উদ্দেশ্যের সংজ্ঞা থেকে এর একটি সংজ্ঞা বের করা সম্ভব। তা হলো: শরিয়তের কোনো একটি সুনির্দিষ্ট অধ্যায়ে অথবা সমজাতীয় ও ঘনিষ্ঠ অধ্যায়সমূহের ক্ষেত্রে শারিয়াতদাতার বিবেচিত অর্থ ও হিকমতসমূহ। যেমন: দণ্ডবিধি, আর্থিক লেনদেন, আর্থিক ইবাদত অথবা পারিবারিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শারিয়াতদাতার উদ্দেশ্যসমূহ ইত্যাদি।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৭২।

(২) দেখুন পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ১৭২।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২৮)
3 - المقاصد الجزئية: وهي الحِكَم والأسرار التي راعاها الشارع عند كلّ حكم من أحكامه المتعلقة بالجزئيات. (1)

ثانيًا - باعتبار آثارها في قوام أمر الأمة:

أي باعتبار أهميتها في قيام حياة الجماعة أو الأفراد واستقامتها، وتنقسم بهذا

الإعتبار إلى ثلاثة أقسام:

1 - مقاصد ضرورية: وهي "التي تكون الأمة بمجموعها وآحادها في ضرورة إلى تحصيلها"، (2) بحيث يختلّ نظام الحياة مع اختلالها، ويترتب على خرقها فساد عظيم في الدنيا والآخرة. والفساد في الدنيا ينتج عن خرق كلّيات حفظ النفوس، والعقول، والأموال، والأنساب، والفساد الأخروي ينتج عن خرق كلّية حفظ الدين؛ إذْ مع ما يترتب من فساد في الدنيا نتيجة خرق كلّية الدين إلّا أن أمور الحياة يمكن أن تستقيم إلى حَدِّ كبير من دون ذلك -كما هو الشأن في بلاد الغرب - أما ما يترتب على ذلك في الآخرة من كون مصير من ضيَّع الدين الجحيم فهو أعظم الخسران، ولا فرق بين أن يكون الخسران في الدنيا أو في الآخرة، إذ هما مرحلتان لحياة واحدة.

وقد فسَّر ابن عاشور اختلال نظام الحياة بانخرام الضروريات بأن "تصير أحوال الأمة شبيهة بأحوال الأنعام، بحيث لا تكون على الحالة التي أرادها الشارع منها". (3)

2 - مقاصد حاجية: "وهو ما تحتاج الأمة إليه لإقتناء مصالحها وانتظام أمورها على وجه حسن"، (4) فالحاجة إليه من حيث التوسعة على الناس ورفع الحرج عنهم. (5)

3 - مقاصد تحسينية: وهي ما يكون بها كمال الأمة في نظامها، فتبلغ بها مرتبة عالية من الرقي والتحضر، وحسن المعاملة والمظهر، فتكون أمة محترمة، التقربُ

--------------------------------------------

(1) انظر الفاسي، علال: مقاصد الشريعة الإِسلامية ومكارمها، (الدار البيضاء: مكتبة الوحدة العربية، د. ط، د. ت)، ص 3.

(2) محمد الطاهر بن عاشور: مقاصد الشريعة الإِسلامية، ص 210.

(3) محمد الطاهر بن عاشور: مقاصد الشريعة الإِسلامية، ص 210.

(4) المصدر السابق، ص 214.

(5) انظر الشاطبي: الموافقات، مج 1، ج 2، ص 326.
৩ - আংশিক উদ্দেশ্যসমূহ: এগুলো হলো সেই হিকমত ও রহস্যসমূহ যা বিধাতা তাঁর প্রতিটি আংশিক বিধানের ক্ষেত্রে লক্ষ্য রেখেছেন। (১)

দ্বিতীয়ত - উম্মাহর শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এর প্রভাবের বিচারে:

অর্থাৎ সমষ্টিগত বা ব্যক্তিগত জীবন প্রতিষ্ঠা ও এর সঠিক পরিচালনার ক্ষেত্রে এর গুরুত্বের বিচারে। এই বিবেচনায় একে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়:

১ - আবশ্যিক উদ্দেশ্যসমূহ: এগুলো হলো সেই সব বিষয় "যা অর্জন করা সামগ্রিকভাবে পুরো উম্মাহ এবং এর প্রতিটি সদস্যের জন্য অপরিহার্য", (২) যাতে এগুলো বিঘ্নিত হলে জীবন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং তা লঙ্ঘনের ফলে দুনিয়া ও আখেরাতে চরম বিপর্যয় নেমে আসে। দুনিয়াবী বিপর্যয় মূলত জীবন, বুদ্ধি, সম্পদ ও বংশধারা রক্ষার মূলনীতিসমূহ লঙ্ঘনের মাধ্যমে ঘটে থাকে। আর আখেরাতের বিপর্যয় ঘটে দ্বীন রক্ষার মূলনীতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে; কারণ, দ্বীন রক্ষার মূলনীতি লঙ্ঘনের ফলে দুনিয়াতে বিপর্যয় নেমে আসলেও জীবনের বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে এটি ছাড়াও অনেকাংশে স্থিতিশীল থাকতে পারে—যেমনটি পাশ্চাত্য দেশগুলোতে দেখা যায়—কিন্তু পরকালে এর ফলে যে পরিণতি হয়, অর্থাৎ দ্বীন বিসর্জনকারীর গন্তব্য জাহান্নাম হওয়া, তা-ই হলো সর্বশ্রেষ্ঠ ক্ষতি। আর দুনিয়া বা আখেরাতের ক্ষতির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ উভয়টিই এক অবিচ্ছেদ্য জীবনের দুটি পর্যায়।

ইবনে আশুর আবশ্যিক বিষয়গুলো লঙ্ঘনের ফলে জীবন ব্যবস্থার বিপর্যয়কে ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, "উম্মাহর অবস্থা চতুষ্পদ জন্তুর অবস্থার মতো হয়ে যাবে, যাতে তারা এমন অবস্থায় থাকবে না যা বিধাতা তাদের জন্য চেয়েছিলেন।" (৩)

২ - প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যসমূহ: "তা হলো এমন বিষয় যা উম্মাহর নিজেদের কল্যাণ অর্জন এবং বিষয়াবলি সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজন", (৪) সুতরাং মানুষের জন্য সুযোগের প্রশস্ততা নিশ্চিত করা এবং তাদের থেকে সংকীর্ণতা দূর করার ক্ষেত্রে এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। (৫)

৩ - সৌন্দর্যমন্ডিত উদ্দেশ্যসমূহ: এগুলো হলো সেই সব বিষয় যার মাধ্যমে উম্মাহর ব্যবস্থায় পূর্ণতা আসে, ফলে উম্মাহ উন্নতি, সভ্যতা, সুন্দর আচরণ ও বাহ্যিক অবয়বের এক উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়। এর মাধ্যমে এটি একটি সম্মানিত উম্মাহ হিসেবে গণ্য হয়, নৈকট্য...

--------------------------------------------

(১) দেখুন আল-ফাসি, আল্লাল: মাকাসিদুশ শারিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ ওয়া মাকারিমিহা, (কাসাব্লাঙ্কা: মাকতাবাতুল ওয়াহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ, সংস্করণ বিহীন, তারিখ বিহীন), পৃষ্ঠা ৩।

(২) মুহাম্মাদ আত-তাহির বিন আশুর: মাকাসিদুশ শারিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২১০।

(৩) মুহাম্মাদ আত-তাহির বিন আশুর: মাকাসিদuশ শারিয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২১০।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২১৪।

(৫) দেখুন আশ-শাতিবি: আল-মুয়াফাকাত, খণ্ড ১, ভাগ ২, পৃষ্ঠা ৩২৬।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ২৯)
إليها والإندماجُ فيها مرغوبٌ فيه. وذلك كمحاسن الأخلاق والعادات، الفردية منها والجماعية. (1)

تنبيه: يلاحظ الناظر في تقسيم الشاطبي للمقاصد (الكلّيات الثلاث) إلى ضرورية، وحاجية، وتحسينية، أنه عند التمثيل لكلّ مرتبة قد أدخل بعض الواجبات ضمن التحسينيات، في حين أدرج بعض المباحات أو المندوبات ضمن الضروريات، وقد يُشْكِل هذا؛ إذْ كيف تكون الفرائض والواجبات مجرد تحسينيات؟ وللإجابة على هذا الإشكال لابد من النظر إلى أمرين:

الأول: الأساس أو المعيار الذي اعتمده الشاطبي في هذا التقسيم، هل هو رتبة التكليف أم أمر آخر؟ فالظاهر أن الشاطبي لم يعتمد في تقسيمه هذا مراتبَ الحكم الشرعي من حيث الإقتضاء والتخيير، وإنما اعتمد معيارًا آخر، هو مدى أهمية كلّ مرتبة في إقامة الحياة الإنسانية -الفردية والجماعية- في أعمدتها الأساسية الخمس: حفظ الدين، والنفس، والنسل، والعقل، والمال؛ ولذلك فلا غرابة أن نجد بعض المباحات داخلة في الضروريات لأنها مباحة بالجزء واجبة بالكلّ، ولأن الحياة لا تقوم إلّا بالمحافظة عليها، وأن نجد بعض الواجبات ضمن التحسينيات لأن أساس الحياة يمكن أن يقوم بغيرها.

والثاني: هو فلسفة الشاطبي في كيفية ورود الأوامر والنواهي الشرعية وما بينهما من مراتب التكليف؛ إذْ يرى الشاطبي أن المطلوب الشرعي ينقسم إلى قسمين:

أ - ما كان شاهدُ الطبعِ خادمًا له ومعينًا عليه، بحيث يكون الطبع الإنساني باعثًا على مقتضى الطلب، ومن أمثلة ذلك الأكل، والشرب، والجماع، والبعدُ عن استعمال القاذورات وأكلها، وغير ذلك. وهذا النوع قد يكتفي الشارع في طلبه -عادةً- بمقتضى الجبلّة الطبعية، والعادات الجارية، فلا يؤكد طلبه تأكيده لغيره، اكتفاءً بالوازع الباعث على الموافقة دون المخالفة، فلذلك نجد هذا النوع على الجملة مطلوبًا طلب ندب لا طلب وجوب، بل كثيرًا ما يأتي في معرض الإباحة.

--------------------------------------------

(1) انظر المصدر السابق، ص 215.
এর প্রতি অগ্রসর হওয়া এবং এতে একীভূত হওয়া কাম্য। আর তা হলো উত্তম চরিত্র ও অভ্যাসসমূহের মতো, তা ব্যক্তিগত হোক বা সামষ্টিক। (১)

সতর্কবার্তা: লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, শাতবি মাকাসিদকে (তিনটি মৌলিক বিষয়) জরুরি (দারুরিয়াত), প্রয়োজনীয় (হাজিয়াত) ও পরিপূরক বা সৌন্দর্যবর্ধক (তাহসিনিয়াত) - এই তিন ভাগে ভাগ করার ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের উদাহরণ দিতে গিয়ে কিছু ওয়াজিব বা আবশ্যিক বিষয়কে তাহসিনিয়াতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। পক্ষান্তরে কিছু মুবাহ (বৈধ) বা মানদুব (পছন্দনীয়) বিষয়কে দারুরিয়াতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এটি একটি জটিলতা তৈরি করতে পারে; কারণ ফরজ ও ওয়াজিব বিষয়গুলো কীভাবে স্রেফ তাহসিনিয়াত বা সৌন্দর্যবর্ধক হতে পারে? এই জটিলতার উত্তর পেতে হলে দুটি বিষয়ের প্রতি লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন:

প্রথমত: শাতবি এই বিভাজনে যে ভিত্তি বা মানদণ্ড গ্রহণ করেছেন, তা কি তাকলিফ বা বিধানের পর্যায়ভুক্ত নাকি অন্য কিছু? প্রতীয়মান হয় যে, শাতবি তাঁর এই বিভাজনে দাবি (ইকতিদা) ও ইখতিয়ারের (তাখয়ির) নিরিখে শরয়ি হুকুমের স্তর বিন্যাসকে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেননি। বরং তিনি অন্য একটি মানদণ্ড গ্রহণ করেছেন, যা হলো মানবজীবনের—ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক—পাঁচটি মূল স্তম্ভ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রতিটি স্তরের গুরুত্বের মাত্রা। সেগুলো হলো: দ্বীন, জীবন, বংশধারা, বুদ্ধি ও সম্পদ রক্ষা। তাই এতে আশ্চর্যের কিছু নেই যে, আমরা কিছু মুবাহ বা বৈধ বিষয়কে 'দারুরিয়াত' বা জরুরি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত দেখতে পাই, কারণ সেগুলো আংশিকভাবে মুবাহ হলেও সামগ্রিকভাবে ওয়াজিব; এবং যেহেতু এগুলোর সংরক্ষণ ছাড়া জীবন টিকে থাকা সম্ভব নয়। আবার কিছু ওয়াজিব বিষয়কে 'তাহসিনিয়াত' বা পরিপূরক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত দেখা যায়, কারণ জীবনের মূল ভিত্তি সেগুলো ছাড়াও টিকে থাকতে পারে।

দ্বিতীয়ত: শরয়ি আদেশ ও নিষেধের আগমন এবং এগুলোর মধ্যবর্তী তাকলিফের পর্যায়সমূহ সম্পর্কে শাতবির দর্শন। কারণ শাতবি মনে করেন যে, শরয়ি চাহিদাকৃত বিষয়গুলো দুই ভাগে বিভক্ত:

ক - যার স্বপক্ষে মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি সহায়ক ও অনুগামী হিসেবে বিদ্যমান, যাতে মানুষের প্রকৃতিই তাকে সেই চাহিদার দিকে ধাবিত করে। এর উদাহরণ হলো আহার করা, পান করা, সহবাস করা এবং অপবিত্র বস্তু ব্যবহার ও ভক্ষণ থেকে দূরে থাকা ইত্যাদি। এই ধরনের বিষয়গুলো তলব বা দাবি করার ক্ষেত্রে শারে' (আইনদাতা) সাধারণত মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি ও প্রচলিত অভ্যাসের ওপরই নির্ভর করেন। তাই তিনি এর দাবির ক্ষেত্রে অন্য বিষয়ের মতো ততটা কঠোরতা আরোপ করেন না। কারণ অবাধ্যতার পরিবর্তে অনুকূল আচরণের জন্য মানুষের সহজাত প্রবৃত্তিই যথেষ্ট। এ কারণেই আমরা দেখি যে, এই ধরণের বিষয়গুলো সাধারণত মুস্তাহাব (পছন্দনীয়) হিসেবে চাওয়া হয়, ওয়াজিব (আবশ্যিক) হিসেবে নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বৈধতার (ইবাহাত) পর্যায়ে বর্ণনা করা হয়।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ২১৫।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ب - ما لم يكن شاهدُ الطبع خادمًا له ولا معينًا عليه، وإنما هو من باب التكاليف التي قد تجري على خلاف هوى الأنفس، ومثال ذلك العبادات، والجنايات، والرفق بالناس والإحسان إليهم، وهذا النوع قرره الشارع على مقتضا 5 من التأكيد في المؤكدات، والتخفيف في المخففات، ولذلك حَدَّ الشارع لهذا النوع حدودًا معلومة، ووضع له عقوبات معينة إبلاغًا في الزجر عَمّا تقتضيه الطباع. وما قيل في أنواع المطلوب الشرعي ينطبق تمامًا على المنهيات الشرعية.

إذًا، فالمعيار المعتمد في ورود الأمر وتأكيده ليس هو مدى أهمية الفعل في إقامة حياة الإنسان والمحافظة عليها، بقدر ما هو مدى وجود حوافز وبواعث طبيعية للإنسان على الفعل أو الترك، فتكون بعض الضروريات مباحة، ولم يوجبها الشارع اكتفاءً بالباعث الجبلي في السعي إلى تحصيلها، وتكون بعض الحاجيات أو التحسينيات واجبةً لضعف البواعث الجبلية التي تبعث الإنسان على تحصيلها أو لانعدامها. وفي ذلك يقول الشاطبي: "فإنه ربما وقع الأمر والنهي في الأمور الضرورية على الندب أو الإباحة والتنزيه فيما يفهم من مجاريها، فيقع الشك في كونها من الضروريات؛ كما تقدم تمثيله في الأكل والشرب واللباس والوقاع، وكذلك وجوه الاحتراس من المضرات والمهلكات وما أشبه ذلك، فيرى أن ذلك لا يلحق بالضروريات، وهو منها في الإعتبار الإستقرائي شرعًا، وربما وقع الأمر بالعكس من هذا؛ فلأجل ذلك وقع التنبيه عليه ليكون من المجتهد على بال … ". (1)

ثالثًا - باعتبار تعلقها بعموم الأمة أو جماعتها أو أفرادها:

وتنقسم بهذا الإعتبار إلى كلية وجزئية:

1 - المقاصد الكلية: وهي "ما كان عائدًا على عموم الأمة عَوْدًا متماثلًا، وما كان عائدًا على جماعة عظيمة من الأمة أو قطر". (2)

--------------------------------------------

(1) انظر الشاطبي: الموافقات، مج 2، ج 3، ص 102، وانظر أيضًا مج 1، ج 2، ص 138 وما بعدها.

(2) انظر محمد الطاهر بن عاشور: مقاصد الشريعة الإِسلامية، ص 220.
খ - যা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি তার অনুকূল বা সহায়ক নয়, বরং এটি সেই সকল দায়-দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত যা নফসের চাহিদার বিপরীতে পরিচালিত হয়। এর উদাহরণ হলো ইবাদত, অপরাধের দণ্ডবিধি, এবং মানুষের প্রতি কোমলতা ও অনুগ্রহ প্রদর্শন। শরীয়ত প্রণেতা এই প্রকারের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে জোরালোভাবে এবং শিথিলতার ক্ষেত্রে শিথিলতার সাথে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। এই কারণে শারী' (শরীয়ত প্রণেতা) এই বিষয়ের জন্য সুনির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করেছেন এবং স্বভাবজাত প্রবৃত্তির চাহিদা থেকে বিরত রাখার জন্য সুনিশ্চিত শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন। শরীয়তে কাম্য বা নির্দেশিত বিষয়ের ক্ষেত্রে যা বলা হয়েছে, তা শরীয়তে নিষিদ্ধ বিষয়গুলোর ক্ষেত্রেও পূর্ণরূপে প্রযোজ্য।

সুতরাং, কোনো নির্দেশ আসা এবং তা গুরুত্ববহ হওয়ার ক্ষেত্রে গৃহীত মানদণ্ডটি মানুষের জীবন ধারণ ও তা রক্ষায় সেই কাজের গুরুত্ব কতটুকু তার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং সেই কাজ করা বা বর্জন করার ক্ষেত্রে মানুষের স্বভাবজাত প্রেষণা ও চালিকাশক্তি কতটুকু বিদ্যমান তার ওপর নির্ভর করে। ফলে কিছু মৌলিক প্রয়োজনীয় (দারুরিয়্যাত) বিষয় 'মুবাহ' বা বৈধ হতে পারে; শারী' সেগুলো অর্জনে স্বভাবজাত অনুপ্রেরণার ওপর নির্ভর করে তা আর ওয়াজিব করেননি। আবার কিছু সাধারণ প্রয়োজনীয় (হাজিয়াত) বা পরিপূরক (তাহসিনিয়্যাত) বিষয় ওয়াজিব হতে পারে, কারণ সেগুলো অর্জনে মানুষের স্বভাবজাত প্রেরণা দুর্বল অথবা অনুপস্থিত। এ প্রসঙ্গে ইমাম শাতবি বলেন: "কখনও কখনও মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে নির্দেশ বা নিষেধের বিষয়টি বাহ্যিক বিচারে মুস্তাহাব, মুবাহ বা অপছন্দনীয়তার (তানজিহ) স্তরে হতে পারে, যার ফলে সেগুলো মৌলিক প্রয়োজনীয়তার অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিয়ে সন্দেহ দেখা দিতে পারে; যেমন ইতিপূর্বে আহার, পানীয়, পোশাক এবং দাম্পত্য মিলনের উদাহরণের মাধ্যমে অতিক্রান্ত হয়েছে। একইভাবে ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক বিষয় থেকে সতর্ক থাকার বিষয়টিও। ফলে কেউ মনে করতে পারে যে এগুলো মৌলিক প্রয়োজনীয়তার (দারুরিয়্যাত) সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, অথচ শরীয়তে আরোহী পদ্ধতিতে (ইস্তিকরা) পর্যালোচনায় এগুলো তার অন্তর্ভুক্ত। আবার কখনও কখনও এর বিপরীত নির্দেশও দেখা যায়; তাই এই বিষয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যাতে মুজতাহিদ বিষয়টি স্মরণে রাখেন ... "। (১)

তৃতীয়ত - সমগ্র উম্মাহ, কোনো গোষ্ঠী বা ব্যক্তির সাথে সংশ্লিষ্টতার বিবেচনায়:

এই বিবেচনায় এটি সামগ্রিক ও আংশিক এই দুই ভাগে বিভক্ত:

১ - সামগ্রিক উদ্দেশ্যসমূহ (আল-মাকাসিদ আল-কুল্লিয়্যাহ): এগুলো হলো "যা উম্মাহর সাধারণ জনগণের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য এবং যা উম্মাহর বড় কোনো গোষ্ঠী বা কোনো ভূখণ্ডের সাথে সংশ্লিষ্ট"। (২)

--------------------------------------------

(১) দেখুন শাতবি: আল-মুয়াফাকাত, খণ্ড ২, ভাগ ৩, পৃষ্ঠা ১০২; আরও দেখুন খণ্ড ১, ভাগ ২, পৃষ্ঠা ১৩৮ এবং পরবর্তী অংশ।

(২) দেখুন মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর: মাকাসিদুশ শারীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২২০।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৩১)
وقد مثَّل ابن عاشور لما يعود على عموم الأمة بحماية البيضة، وحفظ الجماعة من التفرق، وحفظ الدين -في مجمله- من الزوال، وغيرها مما قصد الشارع حفظه مما يتعلق بعموم الأمة بمختلف أقطارها وأجناسها. ومثَّل لما يعود على الجماعات العظيمة بما يحتاج إليه كلّ بلد من بلاد المسلمين من تشريعات قضائية لحفظ انتظام حياتهم، بتيسير طرق الخير، وسدّ منافذ الشر والظلم، وما تقيمه هذه الأقطار من اتفاقيات ومعاهدات اقتصادية وسياسية بما يخدم مصالحها. (1)

2 - المقاصد الجزئية: وهي المقاصد التي تعود على آحاد الأفراد، أو على المجموعات الصغيرة منهم، وهي التي شرعت أحكام المعاملات لحفظها. (2)

رابعًا - من حيث مدى القطع بكون الشارع قاصدًا إليها:

وتنقسم إلى قطعية، وظنية، ووهمية:

1 - المقاصد القطعية: وهي التي تثبت بأحد الطرق الآتية: (3)

أ - النص الذي لا يحتمل التأويل.

ب - استقراء أدلّة كثيرة من الشريعة.

ج - ما دلّ العقل على أن في تحصيله صلاحًا عظيما، وأن في حصول ضده ضرًّا عظيمًا على الأمة.

وتكون المقاصد قطعية -في نظر ابن عاشور- إذا توافرت فيها شروط: الثبوت، والظهور، والإنضباط، والإطراد. فإذا توافرت في معنًى من المعاني الحقيقية أو العرفية العامة هذه الشروط حصل اليقين بكونه مقصدًا. (4)

2 - المقاصد الظنية: وهي ما دلّ عليه دليل ظني من الشرع، أو ما اقتضى العقل

--------------------------------------------

(1) انظر المصدر السابق، ص 220.

(2) انظر المصدر السابق، ص 220.

(3) محمد الطاهر بن عاشور: مقاصد الشريعة الإِسلامية، ص 220 - 221.

(4) انظر المصدر السابق، ص 172 - 173
ইবনে আশুর উম্মাহর সামগ্রিক কল্যাণের উদাহরণ হিসেবে ভূখণ্ড বা অস্তিত্ব রক্ষা করা, জামাত বা ঐক্যকে বিভক্তি থেকে রক্ষা করা এবং দ্বীনকে—সামগ্রিকভাবে—বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করা ইত্যাদিকে উল্লেখ করেছেন, যা শরীয়ত প্রণেতা বিভিন্ন ভূখণ্ড ও বর্ণের সমগ্র উম্মাহর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় হিসেবে রক্ষা করার সংকল্প করেছেন। এবং তিনি বৃহৎ জনসমষ্টির কল্যাণের উদাহরণ হিসেবে মুসলিম দেশগুলোর বিচারিক বিধিবদ্ধ আইনের প্রয়োজনীয়তাকে উল্লেখ করেছেন, যা তাদের জীবনযাত্রার শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য, কল্যাণের পথসমূহ সহজ করার জন্য এবং মন্দ ও অন্যায়ের পথ বন্ধ করার জন্য জরুরি। এছাড়াও এই দেশগুলো তাদের স্বার্থ রক্ষায় যেসব অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চুক্তি ও সমঝোতা সম্পাদন করে, তাও এর অন্তর্ভুক্ত। (১)

২ - আংশিক বা বিশেষ মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ): এগুলো সেই উদ্দেশ্য যা একক ব্যক্তি বা ছোট জনগোষ্ঠীর কল্যাণের সাথে সম্পর্কিত, এবং এগুলোর সুরক্ষার জন্যই লেনদেন সংক্রান্ত (মুয়ামালাত) বিধানগুলো প্রবর্তিত হয়েছে। (২)

চতুর্থত - শরীয়ত প্রণেতা এই উদ্দেশ্যগুলো নিশ্চিতভাবে সংকল্প করেছেন কি না সেই নিশ্চয়তার মাত্রার বিচারে:

আর এটি অকাট্য, ধারণাপ্রসূত এবং কাল্পনিক এই তিন ভাগে বিভক্ত:

১ - অকাট্য মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ): এগুলো নিচের যেকোনো একটি উপায়ে প্রমাণিত হয়: (৩)

ক - এমন সুস্পষ্ট পাঠ বা দলীল যা ব্যাখ্যার অবকাশ রাখে না।

খ - শরীয়তের বহু দলীলের সমন্বিত পর্যবেক্ষণ বা আরোহী পদ্ধতি।

গ - যা বিবেকের মাধ্যমে প্রমাণিত যে, তা অর্জনের মধ্যে উম্মাহর জন্য মহৎ কল্যাণ রয়েছে এবং এর বিপরীতে লিপ্ত হওয়ার মধ্যে উম্মাহর জন্য ভয়াবহ ক্ষতি রয়েছে।

ইবনে আশুরের মতে, মাকাসিদসমূহ তখনই অকাট্য বলে গণ্য হবে যখন তাতে নিম্নোক্ত শর্তগুলো বিদ্যমান থাকবে: স্থায়িত্ব, স্পষ্টতা, সুশৃঙ্খলতা এবং সার্বজনীনতা। সুতরাং যখন কোনো প্রকৃত অর্থ বা সাধারণ প্রচলিত অর্থে এই শর্তগুলো পাওয়া যাবে, তখন সেটি যে একটি উদ্দেশ্য—সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। (৪)

২ - ধারণাপ্রসূত মাকাসিদ (উদ্দেশ্যসমূহ): যা শরীয়তের কোনো প্রবল ধারণামূলক দলীল দ্বারা প্রমাণিত, অথবা বিবেক যা দাবি করে...

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ২২০।

(২) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ২২০।

(৩) মুহাম্মদ আত-তাহির ইবনে আশুর: মাকাসিদুশ শরীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ২২০ - ২২১।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস দ্রষ্টব্য, পৃষ্ঠা ১৭২ - ১৭৩।
(খণ্ড: ১) তুরুকুল কাশফি আন মাকাসিদিশ শারী (পৃষ্ঠা: ৩২)
ظنه مصلحة ومقصدًا للشارع. (1)

3 - المقاصد الوهمية: وهي ما يُتَخَيّلُ فيها صلاحٌ وخيرٌ، إما لخفاء ضرها، أو لأنها مشوبة بمصلحة هي في الحقيقة مرجوحة مقابل ما فيها من مفسدة عظيمة. (2)

خامسًا - من حيث مدى تحققها في نفسها أو نسبية ثبوتها:

وتنقسم بهذا الإعتبار إلى أربعة أقسام:

1 - المقاصد الحقيقية: وهي "التي لها تحقُّق في نفسها، بحيث تدرك العقول السليمة ملاءمتها للمصلحة (بأن تكون جالبة لنفع عام)، أو منافرتها لها (بأن تكون جالبة ضررًا عامًا)، إدراكًا مستقلًا عن التوقف على معرفة عادة أو قانون، كإدراك كون العدل نافعًا، وكون الاعتداء على النفوس ضارا". (3) وبتعبير آخر هي المقاصد التي يمكن أن تدرك العقول حسنها أو قبحها ولو من غير استناد إلى شرع أو عرف.

2 - المقاصد الإعتبارية: وهي المعاني التي لها حقائق متميزة عن غيرها من الحقائق، ويمكن للعقل تَعَقُّلُهَا لِمَا لها من تعلق بالحقائق، لكنها غير قائمة بذاتها، بل وجودها تابع لوجود حقيقة أخري مثل الزمان والمكان، أو حقيقتين كالإضافات. ومثال ذلك اعتبار الرضاع سببًا لتحريم التزوج بالأخت منه، ومعاملته معاملة النسب في ذلك، وهذا النوع ملحق بالنوع الأول (المقاصد الحقيقية). (4)

3 - المقاصد العرفية العامة: وهي التي أدركت العقول حسنها بالتجربة، أي بعد تجريبها واكتشاف ملاءمتها لصلاح الجمهور، ومثال ذلك إدراك كون الإحسان معنى ينبغي تعامل الأمة به، وإدراك كون عقوبة الجاني رادعة إياه عن العود إلى مثل جنايته، ورادعة غيره عن الإجرام. (5)

--------------------------------------------

(1) انظر المصدر السابق، ص 220.

(2) انظر المصدر السابق، ص 221.

(3) محمد الطاهر بن عاشور: مقاصد الشريعة الإِسلامية، ص 171.

(4) انظر المصدر السابق، ص 174.

(5) انظر المصدر السابق، ص 172.
একে জনকল্যাণ এবং শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্য হিসেবে ধারণা করা। (১)

৩ - কাল্পনিক উদ্দেশ্যসমূহ: এগুলো হলো সেই সব বিষয় যাতে কল্যাণ ও মঙ্গল কল্পনা করা হয়, হয় এর ক্ষতি অস্পষ্ট হওয়ার কারণে, অথবা এটি এমন কোনো উপকারের সাথে মিশ্রিত হওয়ার কারণে যা বাস্তবে তার মধ্যস্থিত বিশাল ক্ষতির বিপরীতে নগণ্য বা অগ্রাহ্য। (২)

পঞ্চম - নিজস্ব সত্তায় এর বাস্তবায়ন বা এর প্রমাণের আপেক্ষিকতার দিক থেকে:

এই বিচারে একে চার ভাগে ভাগ করা যায়:

১ - প্রকৃত উদ্দেশ্যসমূহ: এগুলো হলো "যাদের নিজস্ব বাস্তব সত্তা রয়েছে, যার ফলে সুস্থ বিবেক ও বুদ্ধি এর জনকল্যাণের সাথে সামঞ্জস্যতা (সাধারণ কল্যাণ বয়ে আনার মাধ্যমে) অথবা তার সাথে বৈপরীত্য (সাধারণ ক্ষতি বয়ে আনার মাধ্যমে) উপলব্ধি করতে পারে; যা কোনো প্রথা বা আইন জানার ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে অর্জিত হয়, যেমন ন্যায়বিচার যে উপকারী এবং প্রাণের ওপর আক্রমণ যে ক্ষতিকর তা উপলব্ধি করা।" (৩) অন্য কথায়, এগুলো এমন উদ্দেশ্য যার ভালো বা মন্দ দিক বিবেক ও বুদ্ধি উপলব্ধি করতে পারে, যদিও তা শরীয়ত বা প্রথার ওপর নির্ভর না করে।

২ - ধারণাগত উদ্দেশ্যসমূহ: এগুলো এমন অর্থ যা অন্যান্য বাস্তবতার চেয়ে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, এবং বিবেক তা অনুধাবন করতে পারে কারণ বাস্তবতার সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু এগুলো স্বয়ংসম্পূর্ণ নয় বরং এর অস্তিত্ব অন্য কোনো বাস্তবতার অস্তিত্বের অনুগামী, যেমন কাল ও স্থান, অথবা দুটি বাস্তবতার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় যেমন সম্বন্ধ। এর উদাহরণ হলো দুগ্ধপানকে এর মাধ্যমে আপন বোনের সাথে বিবাহ হারাম হওয়ার কারণ হিসেবে বিবেচনা করা এবং এক্ষেত্রে একে বংশীয় সম্পর্কের মতো গণ্য করা। এই প্রকারটি প্রথম প্রকারের (প্রকৃত উদ্দেশ্যসমূহ) অন্তর্ভুক্ত। (৪)

৩ - সাধারণ প্রথাগত উদ্দেশ্যসমূহ: এগুলো হলো সেই সব বিষয় যার ভালো দিকটি বিবেক অভিজ্ঞতার মাধ্যমে উপলব্ধি করেছে, অর্থাৎ তা প্রয়োগ করার পর এবং জনকল্যাণের জন্য এর উপযুক্ততা আবিষ্কার করার পর। উদাহরণস্বরূপ, ইহসান বা সদাচরণ এমন একটি বিষয় যার মাধ্যমে উম্মাহর একে অপরের সাথে লেনদেন করা উচিত—তা উপলব্ধি করা, এবং অপরাধীর শাস্তি তাকে পুনরায় অপরাধ করা থেকে বিরত রাখে এবং অন্যদের অপরাধ করা থেকে নিবৃত্ত করে—তা অনুধাবন করা। (৫)

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, পৃষ্ঠা ২২০।

(২) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, পৃষ্ঠা ২২১।

(৩) মুহাম্মদ আত-তাহির বিন আশুর: মাকাসিদুশ শরীয়াহ আল-ইসলামিয়্যাহ, পৃষ্ঠা ১৭১।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, পৃষ্ঠা ১৭৪।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস দেখুন, পৃষ্ঠা ১৭২।