(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: -)
قرة العين بالمسرة بوفاء الدين   (العراقي)

القسم: مسائل فقهية


الكتاب: قرة العين بالمسرة بوفاء الدين

المؤلف: أبو الفضل زين الدين عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم العراقي (ت 806 هـ)

تحقيق وتعليق: قسم التحقيق بدار الصحابة للتراث

الناشر: دار الصحابة للتراث، طنطا - جمهورية مصر العربية

الطبعة: الأولى، 1411 هـ - 1991 م

عدد الصفحات: 104

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 ربيع الآخر 1437

কুররাতুল আইন বিল মাসাররাহ বি ওফায়িদ দাইন   (আল-ইরাকি)

বিষয়: ফিকহী মাসআলাসমূহ


কিতাব: কুররাতুল আইন বিল মাসাররাহ বি ওফায়িদ দাইন

লেখক: আবু ফজল জয়নুদ্দীন আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান বিন আবু বকর বিন ইবরাহীম আল-ইরাকি (মৃত ৮০৬ হি.)

তাহকিক ও টীকা: দারুস সাহাবাহ লিত তুরাস-এর তাহকিক বিভাগ

প্রকাশক: দারুস সাহাবাহ লিত তুরাস, তান্তা - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১১ হি. - ১৯৯১ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০৪

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ-এর তত্ত্বাবধানে রাবিতাতুন নুসসাখ টিম (মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)

[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ রবিউল আখির ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: -)
قرة العين بالمسرة بوفاء الدين

 

تأليف

الحافظ زين الدين عبد الرحيم أبي الحسين العراقي (المتوفى سنة 806 هـ)

 

التحقيق

قسم التحقيق بدار الصحابة للتراث بطنطا
কুররাতুল আইন বিল মাসাররাহ বি অফাইদ দিন

 

রচনায়

হাফিজ (الحافظ) জয়নুদ্দিন আবদুর রহিম আবি আল-হুসাইন আল-ইরাকি (মৃত্যু: ৮০৬ হিজরি)

 

তাহকিক

দারুস সাহাবাহ লিত-তুরাস (তান্তা)-এর তাহকিক বিভাগ
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২)
كِتابٌ قَد حَوى دُرَرًّا … بِعَيْنِ الحُسْنِ مَلحُوظَة

لِهَذا قلت تنبيهًا

 

حُقُوق الطَّبْع مَحْفُوظَة

لدار الصَحَابَةِ للِتُّراثِ بطنطا

للنَشْرِ - والتّحقِيقِ - والتَوزيع

 

المُرَاسَلات:

طنطا ش المديرية - أمَام محَطة بَنزين التعاونِ

ت: 331587 - ص. ب: 477

 

الطبعَة الأولى

1411 هـ - 1991 م
একটি কিতাব যা মুক্তাসমূহ ধারণ করেছে … সৌন্দর্যের দৃষ্টিতে যা সুনিপুণভাবে পরিদৃষ্ট

এ কারণেই আমি সতর্কতাস্বরূপ বলেছি

 

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

তান্তাস্থিত দারুস সাহাবাহ লিত-তুরাস-এর জন্য

প্রকাশনা, সম্পাদনা ও পরিবেশনার জন্য

 

যোগাযোগ:

তান্তা, আল-মুদিরিয়া রোড - তাআউন পেট্রোল পাম্পের সামনে

ফোন: ৩৩১৫৮৭ - পোস্ট বক্স: ৪৭৭

 

প্রথম সংস্করণ

১৪১১ হিজরি - ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة التحقيق

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادى له، وأشهد أن لا إله إلا الله، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، أرسله الله بالهدى ودين الحق، فبلغ الرسالة وأدى الأمانة، ونصح الأمة.

قال تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ}.

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا}.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا}.

وبعد:

فبين أيدينا كتاب قيم للحافظ العراقي ألا وهو كتاب [قرة العين بالمسرة بوفاء الدين] ولعظم أمر الدَّيْنِ فقد أفرد الحافظ العراقي له تصنيفاً ممتعاً هو الذى بين أيدينا الآن.

فإن الدَّيْنَ أمره عظيم وخطبه جليل فقد ترك النبى صلى الله عليه وآله وسلم الصلاة على المدين حتى يقضى عنه دينه.

وقد جُعل الدين مانعاً للذى يقاتل فى سبيل الله من دخول الجنة حتى يقضى عنه، لأن الجهاد والشهادة وغيرهما من أعمال البر لا تكفر حقوق الآدميين إنما
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথপ্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। আল্লাহ তাকে হিদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন; ফলে তিনি রিসালাত পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতকে নসিহত করেছেন।

মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন: {হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।}

{হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর দোহাই দিয়ে তোমরা একে অপরের নিকট যাচ্ঞা করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন।}

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য লাভ করবে।}

অতঃপর:

আমাদের সম্মুখে হাফিজ (الحافظ) ইরাকির একটি মূল্যবান গ্রন্থ রয়েছে, আর তা হলো [কুররাতুল আইন বিল মাসাররাহ বি ওয়াফায়িদ দাইন]। ঋণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার কারণে হাফিজ (الحافظ) ইরাকি এর ওপর একটি চমৎকার গ্রন্থনা (تصنيف) রচনা করেছেন যা এখন আমাদের সম্মুখে বিদ্যমান রয়েছে।

নিশ্চয়ই ঋণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং এর গুরুত্ব অপরিসীম। এমনকি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির জানাজার সালাত আদায় করা ছেড়ে দিয়েছিলেন যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হয়।

আর আল্লাহর রাস্তায় লড়াইকারী ব্যক্তির জান্নাতে প্রবেশের ক্ষেত্রে ঋণকে একটি প্রতিবন্ধক হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়। কারণ জিহাদ, শাহাদাত এবং এ জাতীয় অন্যান্য নেক আমল মানুষের পাওনা (حقوق الآدميين) মিটিয়ে দেয় না, বরং...
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৪)
تكفر حقوق الله تعالى، ولكن هذا التشديد ليس في حق من مات وليس عنده وفاؤه كما ثبت في بعض الأحاديث الصحيحة وهو قول العراقي وغيره.

أما الكتاب الذي بين أيدينا للحافظ العراقي فقد قسمه إلى مقدمة، وسبعة أبواب.

أما المقدمة: فقد اشتملت على أن الله عز وجل قد قسم الأرزاق بين العباد وجعل فيهم الغنى والفقير لحكمة عظيمة ألا وهي شكره سبحانه وتعالى، وجعل للفقراء في أموال الأغنياء نصيباً معلوماً وجعل بعض العباد فتنة لبعض فأرشدهم النبي صلى الله عليه وسلم إلى الأمن بن هذه الفتنة بالنظر إلى من دونهم في المال والرزق فإن ذلك أحق أن لا يحقر نعمة الله عز وجل لأن الإِنسان إن رأى مَنْ فُضِّل عليه في الدنيا. طلبت نفسه مثل ذلك واستصغر ما عنده من نعمة الله تعالى، وحرص على الازدياد ليلحق بذلك أو يقاربه هذا هو الموجود في غالب الناس وأما إذا نظر في أمور الدنيا إلى من هو دونه فيها ظهرت له نعمة الله تعالى عليه فيشكرها، ومع ذلك فإن الواجب على الناس أن يتواسوا فيها بينهم بالأموال كما كان يفعل الرسول صلى الله عليه وسلم وأصحابه رضوان الله عليهم، ولقد استدان النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه بنية الوفاء فأعانهم الله عز وجل على أداء الدين.

أما الباب الأول: فقد شدد النبي صلى الله عليه وسلم في الدين حتى جعله من إخافة النفوس بعد أمنها، وأن الجهاد والشهادة وغيرهما من أعمال البر لا تكفر حقوق الآدميين وإنما يكفر حقوق الله تعالى، وجعل الدين مانعاً للذى يقاتل في سبيل الله من دخول الجنة حتى يقضى عنه دينه، ولكن هذا التشديد في حق من كان عليه الدين وعنده وفاؤه.

أما الباب الثاني: ففيه الترغيب لأصحاب الأموال بالإِقراض وأن الإِقراض كالصدقة وترغيب أصحاب الأموال في إقراض المحتاجين وذوى العسرة من الناس وفى ذلك من الثواب العظيم يوم القيامة.

أما الباب الثالث: ففيه الترغيب في إنظار المعسر والوضع عنه وما في ذلك من الثواب العظيم، والتجاوز عن المدين فإن الله عز وجل يتجاوز عنه يوم القيامة، فإن الله عز وجل ييسر هذا اليوم على من يسر على معسر والتيسير على
আল্লাহ তাআলার হকসমূহ মোচন করে, কিন্তু এই কঠোরতা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয় যে এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে যে তার কাছে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা ছিল না, যেমনটি কিছু সহিহ (صحيحة) হাদিসে প্রমাণিত হয়েছে এবং এটিই আল-ইরাকি ও অন্যদের অভিমত।

হাফিজ আল-ইরাকির আমাদের হাতে থাকা এই কিতাবটিকে তিনি একটি ভূমিকা এবং সাতটি অধ্যায়ে বিভক্ত করেছেন।

ভূমিকা সম্পর্কে: এতে আলোচিত হয়েছে যে, আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বান্দাদের মাঝে রিজিক বণ্টন করেছেন এবং তাদের মধ্যে ধনী ও দরিদ্র নির্ধারণ করেছেন এক মহান হিকমতের কারণে, আর তা হলো তাঁর শুকরিয়া আদায় করা। তিনি ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের জন্য একটি নির্দিষ্ট অংশ রেখেছেন এবং কিছু বান্দাকে অন্যদের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের এই ফেতনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য সম্পদ ও রিজিকের ক্ষেত্রে নিজেদের চেয়ে নিম্নতর অবস্থার লোকদের দিকে তাকানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ এটিই অধিক উপযোগী যাতে আল্লাহর নেয়ামতকে তুচ্ছজ্ঞান না করা হয়। কেননা মানুষ যদি এমন কাউকে দেখে যাকে দুনিয়াবি বিষয়ে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে তার নফস তেমনটাই পেতে চায় এবং তার কাছে আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতকে তুচ্ছ মনে করে, আর সেটির সমকক্ষ হতে বা তার কাছাকাছি পৌঁছাতে অধিক লোভী হয়ে পড়ে। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই এমনটি ঘটে থাকে। পক্ষান্তরে, যদি সে পার্থিব বিষয়ে তার চেয়ে নিম্নতর কারো দিকে তাকায়, তবে তার ওপর আল্লাহর নেয়ামতগুলো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তা সত্ত্বেও মানুষের ওপর আবশ্যক হলো সম্পদের মাধ্যমে পরস্পরের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করা, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ পরিশোধের নিয়তে ঋণ গ্রহণ করতেন, ফলে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা ঋণ পরিশোধে তাঁদের সাহায্য করতেন।

প্রথম অধ্যায় সম্পর্কে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঋণ সম্পর্কে এমন কঠোরতা আরোপ করেছেন যে একে নিরাপত্তার পর নফসকে আতঙ্কিত করার শামিল করেছেন। জিহাদ, শাহাদাত এবং অন্যান্য নেক আমল মানুষের অধিকারসমূহ মোচন করে না, বরং কেবল আল্লাহ তাআলার হকসমূহ মোচন করে। তিনি ঋণকে আল্লাহর পথে লড়াইকারীর জান্নাতে প্রবেশের পথে বাধা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে ঋণ পরিশোধ করা হয়। তবে এই কঠোরতা সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার ওপর ঋণ রয়েছে এবং তা পরিশোধের সামর্থ্যও তার কাছে রয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায় সম্পর্কে: এতে সম্পদশালীদের ঋণ দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং জানানো হয়েছে যে ঋণ প্রদান সদকার ন্যায়। অভাবী ও অসচ্ছল ব্যক্তিদের ঋণ প্রদানে সম্পদশালীদের উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এতে কিয়ামতের দিন মহান সওয়াবের কথা উল্লেখ রয়েছে।

তৃতীয় অধ্যায় সম্পর্কে: এতে অসচ্ছল ঋণগ্রহীতাকে সময় দেওয়া এবং ঋণের বোঝা কমিয়ে দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে এবং এতে যে মহান সওয়াব রয়েছে তার বর্ণনা রয়েছে। ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতি উদারতা প্রদর্শন করলে আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা কিয়ামতের দিন তার প্রতি উদারতা প্রদর্শন করবেন। কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সেই ব্যক্তির জন্য কিয়ামতের দিনকে সহজ করে দেবেন যে কোনো অসচ্ছল ব্যক্তির জন্য সহজ করে দেয়...
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৫)
المعسر في الدنيا من جهة المال يكون بأحد أمرين إما بإنظاره إلى الميسرة، وذلك واجب كما قال تعالى: {وَإِنْ كَانَ ذُو عُسْرَةٍ فَنَظِرَةٌ إِلَى مَيْسَرَةٍ}: وتارة بالوضع عنه وإن كان غريماً، وإلا فبإعطائه ما يزول به إعساره، وكلاهما له فضل عظيم.

أما الباب الرابع: ففيه أن الله عز وجل يعين صاحب الدين الذي ينوى أداءه، ومن أخذ الدين وينوى وفاءه فالله عز وجل معه حتى يؤديه: وذلك ما لم يكن فيما يكره الله عز وجل فهذا هو الذي يكون الله في عونه ويؤديه عنه، أما المستدين في مكروه لله كراهة تحريم أو تنزيه ولا يجد لقضائه سبيلاً، ونوى ترك القضاء فهو المستعيذ منه صلى الله عليه وسلم، فعلم أن من أخذ أموال الناس يريد أداءها فإن الله عز وجل يتكفل بأدائها عنه أما من أخذها يريد إتلافها أتلفه الله.

أما الباب الخامس: ففيه الترهيب من أن نفس المؤمن مرتهنة بدينه ومعلقة حتى يقضى عنه فإن روحه محبوسة عن مقامها الكريم من دخولها الجنة في زمرة الصالحين حتى يقضى دينه، فإن الرجل يكون مأسوراً بدينه حتى يقضى عنه.

أما الباب السادس: ففيه استعاذته صلى الله عليه وسلم من ضلع الدين ومن الفقر والقلة والذلة، وأن الدين يعادل في العقاب بالكفر والذلة والإهانة وغلبة صاحب الدين عليه وسلطانه على المدين ولهذا كان النبي صلى الله عليه وسلم يستعيذ بالله من ضلع الدين.

أما الباب السابع: فقد ختم به المصنف كتابه وجاء فيه ببعض الأدعية المأثورة عن النبي صلى الله عليه وسلم لوفاء الدين.

فدونك هذا الكتاب ففز به.
পার্থিব জীবনে আর্থিক দিক থেকে অসচ্ছল ব্যক্তির ক্ষেত্রে করণীয় দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে হতে পারে: হয় সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত তাকে অবকাশ দেওয়া, যা আবশ্যক (واجب); যেমনটি মহান আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর যদি সে অসচ্ছল হয়, তবে তাকে সচ্ছলতা আসা পর্যন্ত অবকাশ দাও।" আর অন্যটি হলো—তার ঋণ ক্ষমা করে দেওয়া যদি সে দেনাদার হয়, অন্যথায় তাকে এমন কিছু প্রদান করা যার মাধ্যমে তার অসচ্ছলতা দূর হয়ে যায়। এ উভয়টিরই রয়েছে বিশাল ফযিলত।

চতুর্থ অধ্যায়: এতে বর্ণিত হয়েছে যে, মহান আল্লাহ সেই ঋণগ্রস্ত ব্যক্তিকে সাহায্য করেন যে তা পরিশোধ করার নিয়ত রাখে। আর যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করে এবং তা পরিশোধের ইচ্ছা পোষণ করে, মহান আল্লাহ তার সাথে থাকেন যতক্ষণ না সে তা আদায় করে। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত প্রযোজ্য যতক্ষণ না সেই ঋণ আল্লাহর অপছন্দনীয় (مكروه) কোনো কাজে ব্যয় হয়। এমন ব্যক্তির সাহায্যকারী স্বয়ং আল্লাহ এবং তিনি তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করে দেন। তবে যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট অপছন্দনীয় (مكروه) কোনো কাজে—তা হারামের সমপর্যায়ভুক্ত অপছন্দনীয় (مكروه تحريم) হোক বা সাধারণ অপছন্দনীয় (مكروه تنزيه) হোক—ঋণ গ্রহণ করে এবং তা পরিশোধের কোনো উপায় খুঁজে পায় না, আর পরিশোধ না করার নিয়ত রাখে, সে-ই হলো ওই ব্যক্তি যার থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর নিকট পানাহ চেয়েছেন। সুতরাং এটি জানা গেল যে, যে ব্যক্তি মানুষের ধন-সম্পদ তা পরিশোধ করার ইচ্ছায় গ্রহণ করে, মহান আল্লাহ তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধের জিম্মাদার হন; আর যে ব্যক্তি তা আত্মসাতের ইচ্ছায় গ্রহণ করে, আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন।

পঞ্চম অধ্যায়: এতে এই ভীতি প্রদর্শন (ترهيب) করা হয়েছে যে, মুমিনের আত্মা তার ঋণের কারণে দায়বদ্ধ ও ঝুলন্ত থাকে যতক্ষণ না তা পরিশোধ করা হয়। তার আত্মা সৎকর্মশীলদের দলের সাথে জান্নাতে প্রবেশের ন্যায় মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করা থেকে অবরুদ্ধ থাকে যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়। কেননা ব্যক্তি ঋণের কারণে বন্দি থাকে যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তা শোধ করা হয়।

ষষ্ঠ অধ্যায়: এতে রয়েছে ঋণের বোঝা, দারিদ্র্য, স্বল্পতা ও লাঞ্ছনা থেকে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আশ্রয় প্রার্থনা। আর এটি যে, ঋণ শাস্তির দিক থেকে কুফর, অপমান, লাঞ্ছনা এবং ঋণদাতার আধিপত্য ও কর্তৃত্বের সমতুল্য। এই কারণেই নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঋণের বোঝা থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করতেন।

সপ্তম অধ্যায়: এর মাধ্যমে লেখক তার কিতাবটি সমাপ্ত করেছেন। এতে ঋণ পরিশোধের জন্য নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত দুআসমূহ (الأدعية المأثورة) নিয়ে আসা হয়েছে।

সুতরাং এই কিতাবটি তোমার সম্মুখে, এর দ্বারা সফলকাম হও।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৬)
‌‌ترجمة المصنف

‌‌اسمه ومولده ونشأته:

هو عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن بن أبي بكر بن إبراهيم المِهرَاني المولد، العراقيّ الأصل، الكردي، الشيخ زين الدين العراقي حافظ العصر وُلد في جمادى الأولى سنة خمس وعشرين وسبعمائة نشأ نشأة صالحة وحفظ كثيراً من متون الفقه والحديث: ككتاب الإِمام ابن دقيق العيد، واشتغل بكافة علوم الشريعة وأحب الحديث، فصار حافظ وقته، رحل إلى الحجاز والشام وفلسطين، وأراد رحمه الله أن يرحل إلى بغداد فعاقه ذلك خوف الطريق وقلة الرواة في بغداد آنذاك.

لازم الحافظ صلاح الدين العلائي وانتفع به وأخذ عنه علم الحديث كذلك أخذ علم الحديث عن الحافظ علاء الدين ابن التركماني وابن عبد الهادي وأبي الفتح الميدومي وغيرهم ونظر في الفقه وأصوله ولازم الجمال الإِسنوي وعنه وعن الشمس بن اللبان أخذ الأصول وتقدم فيهما بحيث كان الإِسنوي يثنى على فهمه، ويستحسن كلامه في الأصول ويصغى لمباحثه فيه ويقول إن ذهنه صحيح لا يقبل الخطأ.

 

‌‌ثناء العلماء عليه:

قال ابن حجر:

"الشيخ زين الدين العراقي حافظ العصر".

وقال في صدر أسئلة له:

"سألت سيدنا وقدوتنا ومعلمنا ومفيدنا ومخرجنا شيخ الإِسلام وأحد الأعلام حسنة الأيام، حافظ الوقت. . . ".
গ্রন্থকারের জীবনী

তাঁর নাম, জন্ম ও বেড়ে ওঠা:

তিনি হলেন আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন বিন আব্দুর রহমান বিন আবি বকর বিন ইবরাহিম। তিনি মিহরানে জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর আদি নিবাস ইরাক এবং তিনি কুর্দি বংশোদ্ভূত। তিনি যুগের হাফিজ (حافظ) শায়খ জয়নুদ্দিন আল-ইরাকি। তিনি ৭২৫ হিজরি সালের জমাদিউল উলা মাসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অত্যন্ত নেকভাবে বেড়ে ওঠেন এবং ফিকহ ও হাদিসের অনেকগুলো মূল পাঠ (متون) মুখস্থ করেন: যেমন ইমাম ইবনে দাকীক আল-ঈদ-এর কিতাব। তিনি শরীয়তের সকল বিদ্যায় আত্মনিয়োগ করেন এবং হাদিস শাস্ত্রকে ভালোবাসেন, ফলে তিনি তাঁর সময়ের হাফিজ (حافظ) হিসেবে পরিগণিত হন। তিনি হিজাজ, শাম ও ফিলিস্তিন সফর করেন। আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি বাগদাদ সফরের ইচ্ছা করেছিলেন কিন্তু পথের নিরাপত্তা না থাকা এবং তৎকালীন সময়ে বাগদাদে বর্ণনাকারীদের (رواة) স্বল্পতার কারণে তিনি বিরত থাকেন।

তিনি হাফিজ (حافظ) সালাহউদ্দিন আল-আলায়ীর দীর্ঘ সাহচর্য লাভ করেন এবং তাঁর থেকে উপকৃত হন ও তাঁর নিকট থেকে হাদিস শাস্ত্রের ইলম গ্রহণ করেন। অনুরূপভাবে তিনি হাফিজ (حافظ) আলাউদ্দিন ইবনে তুর্কমানি, ইবনে আব্দুল হাদি, আবুল ফাতহ আল-মায়দুমি ও অন্যদের থেকে হাদিস শাস্ত্রের ইলম গ্রহণ করেন। তিনি ফিকহ ও এর উসুল (أصول) নিয়ে গবেষণা করেন এবং জামাল আল-ইসনাভীর সান্নিধ্যে থাকেন। তাঁর নিকট থেকে এবং শামস বিন আল-লাববানের নিকট থেকে তিনি উসুল (أصول) শিক্ষা করেন এবং এ বিষয়ে এতখানি পারদর্শিতা অর্জন করেন যে, ইসনাভী তাঁর বোধশক্তির প্রশংসা করতেন। উসুল সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যগুলোকে ইসনাভী পছন্দ করতেন এবং তাঁর গবেষণালব্ধ বিষয়গুলো মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। তিনি (ইসনাভী) বলতেন যে, তাঁর মেধা সঠিক (صحيح) এবং তা ভুল গ্রহণ করে না।

 

তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের প্রশংসা:

ইবনে হাজার বলেন:

"শায়খ জয়নুদ্দিন আল-ইরাকি হলেন যুগের হাফিজ (حافظ)"।

তিনি তাঁর নিকট পেশকৃত কিছু প্রশ্নের ভূমিকায় বলেন:

"আমি আমাদের সাইয়িদ, আমাদের আদর্শ, আমাদের শিক্ষক, আমাদের পথপ্রদর্শক, আমাদের হাদিসের সংকলক ও বর্ণনাকারী (مخرج), শায়খুল ইসলাম, অন্যতম প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব, কালের শ্রেষ্ঠ উপহার, সময়ের হাফিজ (حافظ)...কে জিজ্ঞাসা করেছি।"
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৭)
وقال التقي الفاسي في "ذيل التقييد":

"كان حافظاً متقناً عارفاً بفنون الحديث والفقه والعربية وغير ذلك، كثير الفضائل والمحاسن متواضعاً ظريفاً.

ومسموعاته وشيوخه في غاية الكثرة، وأخذ عنه علماء الديار المصرية وغيرهم، وأثنوا على فضائله، وأخذت عنه الكثير بقراءتي وسماعاً، وبعد انصرافه من المدينة أقام بالقاهرة مشتغلًا بالتصنيف والإِفادة والإِسماع حتى مضى لسبيله محموداً".

وذكره ابن الجزري في طبقات القراء فقال:

"حافظ الديار المصرية ومحدثها وشيخها".

وقال القاضي عز الدين بن جماعة:

"كل من يدعى الحديث في الديار المصرية سواه، فهو مدّع".

 

‌‌صفته وخُلُقه:

قال تلميذه ابن حجر:

"كان منور الشيبة، جميل الصورة، كثير الوقار، نزر الكلام طارحاً للتكلف، ضيق العيش، شديد التوقي في الطهارة، لا يعتمد إلا على نفسه أو على الهيثمي -وكان رفيقه وصهره- لطف المزاج، سليم الصدر، كثير الحياء، قل أن يواجه أحداً بما يكرهه ولو آذاه، متواضعاً، منجمعاً، حسن النادرة والفكاهة.

قال: وقد لازمته مدة فلم أره ترك قيام الليل، بل صار له كالمألوف، وإذا صلى الصبح استمر غالباً في مجلسه مستقبل القبلة تالياً ذاكراً إلى أن تطلع الشمس ويتطوع بصيام ثلاثة أيام من كل شهر وستة شوال، كثير التلاوة إذا ركب.

"وكان كثير الحياء والعلم والتواضع محافظاً على الطهارة نقي العرض، وافر الجلالة والمهابة، على طريق السلف، غالب أوقاته في تصنيف أو إسماع.
তাকি আল-ফাসি "যাইলুত তাকিদ" গ্রন্থে বলেছেন:

"তিনি ছিলেন একজন সুনিপুণ (متقن) হাফিজ (حافظ), হাদিস, ফিকহ (فقه) ও আরবি ভাষা এবং অন্যান্য শিল্পে বিজ্ঞ। তিনি বহু সদ্গুণ ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, অত্যন্ত বিনয়ী ও মার্জিত স্বভাবের ছিলেন।

তার শ্রুত বিষয়াদি এবং শায়খদের (شيوخ) সংখ্যা ছিল অত্যন্ত বেশি। মিশর ও অন্যান্য অঞ্চলের উলামাগণ তার থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তার গুণাবলির প্রশংসা করেছেন। আমিও নিজে পাঠ করে ও শ্রবণ (سماع) করে তার কাছ থেকে অনেক কিছু গ্রহণ করেছি। মদিনা থেকে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি কায়রোতে অবস্থান করেন এবং গ্রন্থ রচনা (تصنيف), জ্ঞান দান ও হাদিস শ্রবণ করানোর (إسماع) কাজে লিপ্ত থাকেন, অবশেষে প্রশংসিত অবস্থায় তিনি পরলোকগমন করেন।"

ইবনুল জাযারি তাকে 'তবকাতুল কুররা' গ্রন্থে উল্লেখ করে বলেছেন:

"তিনি মিশর অঞ্চলের হাফিজ (حافظ), মুহাদ্দিস (محدث) এবং শায়খ (شيخ)।"

কাজি ইজ্জুদ্দিন বিন জামাআহ বলেছেন:

"মিশর ভূখণ্ডে তিনি ব্যতীত হাদিস বিষয়ে যারাই পারদর্শিতার দাবি করে, তারা কেবল দাবিদার মাত্র।"

 

‌‌তার বৈশিষ্ট্য ও চরিত্র:

তার ছাত্র ইবনে হাজার বলেছেন:

"তিনি ছিলেন শুভ্র কেশধারী, সুশ্রী চেহারার ও অত্যন্ত গাম্ভীর্যপূর্ণ। তিনি স্বল্পভাষী ও লৌকিকতামুক্ত ছিলেন। তার জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ। পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে তিনি অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। তিনি নিজের অথবা হাইসামি—যিনি তার সঙ্গী ও জামাতা ছিলেন—ব্যতীত অন্য কারো ওপর নির্ভর করতেন না। তিনি ছিলেন কোমল মেজাজের, পবিত্র হৃদয়ের এবং অত্যন্ত লজ্জাশীল। কেউ তাকে কষ্ট দিলেও তিনি সচরাচর তার অপছন্দনীয় কোনো কিছু নিয়ে সরাসরি কারও মুখোমুখি হতেন না। তিনি বিনয়ী, সংযমী এবং সুন্দর রসিকতা ও কৌতুকবোধের অধিকারী ছিলেন।

তিনি আরও বলেন: আমি দীর্ঘকাল তার সান্নিধ্যে ছিলাম এবং তাকে কখনও তাহাজ্জুদ (قيام الليل) ত্যাগ করতে দেখিনি, বরং এটি তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছিল। ফজর সালাত আদায়ের পর তিনি সাধারণত কিবলামুখী হয়ে বসে তিলাওয়াত ও জিকিরে (ذكر) মশগুল থাকতেন যতক্ষণ না সূর্য উদিত হতো। তিনি প্রতি মাসে তিন দিন এবং শাওয়ালের ছয় দিন নফল রোজা রাখতেন। সওয়ারিতে আরোহণ অবস্থায় তিনি প্রচুর তিলাওয়াত করতেন।

"তিনি অত্যন্ত লাজুক, জ্ঞানবান ও বিনয়ী ছিলেন; পবিত্রতা বজায় রাখতেন এবং নিষ্কলঙ্ক চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাবান ও প্রভাবশালী এবং সালাফদের (سلف) পথ অনুসরণকারী। তার সময়ের অধিকাংশ ব্যয় হতো গ্রন্থ রচনা (تصنيف) অথবা হাদিস শ্রবণ করানোর (إسماع) কাজে।"
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৮)
وكان حسن الأدب والشكل ظاهر الوضاءة كأن وجهه مصباح ومن رآه عرف أنه رجل صالح".

 

‌‌مصنفاته:

1 - إخبار الأحياء بأخبار الإِحياء:

وهو تخريجه الكبير لإِحياء علوم الدين للغزالي، ذكره ابن فهد في لحظ الألحاظ، وقال إنه في أربع مجلدات.

2 - المغني عن حمل الأَسفار في الأسفار في تخريج ما في الإِحياء من الأخبار:

اختصره من أصل كتابه الإِخبار -وهو مطبوع مع "إحياء علوم الدين".

3 - الكشف المبين عن تخريج إحياء علوم الدين:

وهو وسط بين كتابه "إخبار الأحياء" و"المغني عن حمل الأسفار".

4 - إكمال شرح الترمذي لابن سيد الناس اليعمري:

أكمل فيه شرح "سنن الترمذي" للحافظ ابن سيد الناس الذي وصل فيه إلى باب: ما جاء أن الأرض كلها مسجد إلا المقبرة والحمار.

5 - الدرر السنية في نظم السيرة الزكية:

وهي ألفية في السيرة النبوية، طبع في القاهرة.

6 - الكلام على الأحاديث التي تكلم عليها بالوضع وهي في مسند الإِمام أحمد، ذكره ابن فهد.

7 - طرح التثريب في شرح التقريب:

شرع في شرح "التقريب له" ولم يكمله وأكمله الحافظ أبو زرعة ولد المؤلف -وهو مطبوع في أربعة مجلدات كبار.

8 - التقييد والإِيضاح لما أَطلق وأُغلق في كتاب ابن الصلاح.

9 - ألفية الحديث وهي مسماة بـ "التبصرة والتذكرة" وشرحها في "فتح المغيث".

10 - النكت علي مقدمة ابن الصلاح.

11 - النجم الوهاج في نظم المنهاج.

12 - إحياء القلب الميت بدخول البيت.
"তিনি শিষ্টাচার ও অবয়বে অত্যন্ত চমৎকার ছিলেন, তাঁর চেহারায় এক উজ্জ্বল দীপ্তি প্রকাশ পেত, যেন তাঁর মুখমণ্ডল একটি প্রদীপ। যে কেউ তাঁকে দেখত, সে বুঝতে পারত যে তিনি একজন নেককার (صالح) ব্যক্তি।"

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

১ - ইখবারুল আহইয়া বি-আখবারিল ইহইয়া:

এটি ইমাম গাজালির 'ইহয়াউ উলুমিদ্দিন'-এর ওপর তাঁর বৃহৎ তাখরিজ (تخريج); ইবনে ফাহাদ 'লাহজুল আলহাজ' গ্রন্থে এর উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে এটি চার খণ্ডে সমাপ্ত।

২ - আল-মুগনি আন হামলিল আসফার ফিল আসফার ফি তাখরিজি মা ফিল ইহয়া মিনাল আখবার:

তিনি এটি তাঁর মূল গ্রন্থ 'ইখবার' থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন—যা 'ইহয়াউ উলুমিদ্দিন'-এর সাথে মুদ্রিত হয়েছে।

৩ - আল-কাশফুল মুবিন আন তাখরিজি ইহয়াউ উলুমিদ্দিন:

এটি তাঁর 'ইখবারুল আহইয়া' এবং 'আল-মুগনি আন হামলিল আসফার' বই দুটির মধ্যবর্তী পর্যায়ের।

৪ - ইকমালু শারহিত তিরমিজি লি-ইবনি সাইয়িদিন নাস আল-ইয়ামুরি:

এতে তিনি হাফিজ ইবনে সাইয়িদিন নাসের 'সুনানে তিরমিজি'-এর সেই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি সম্পন্ন করেছেন, যা তিনি 'মা জাআ আন্নাল আরদা কুল্লাহু মাসজিদুন ইল্লাল মাকবারাতা ওয়াল হিমার' অনুচ্ছেদ পর্যন্ত লিখেছিলেন।

৫ - আদ-দুরারুস সানিয়্যাহ ফি নাজমিস সিরাতিয যাকিয়্যাহ:

এটি সিরাতুন্নবীর ওপর রচিত একটি আলফিয়্যাহ (ألفية), যা কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে।

৬ - আল-কালামু আলাল আহাদিসিল্লাতি তুকাল্লামা আলাইها বিল ওয়াদয়ি: মুসনাদে ইমাম আহমাদে বিদ্যমান যেসব হাদিসকে জাল (وضع) হওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে সেগুলোর ওপর পর্যালোচনা; ইবনে ফাহাদ এর উল্লেখ করেছেন।

৭ - তারহুত তাসরিব ফি শারহিত তাকরিব:

তিনি তাঁর স্বরচিত 'তাকরিব'-এর ব্যাখ্যা লিখতে শুরু করেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি, পরবর্তীতে লেখকের পুত্র হাফিজ আবু জুরআ এটি সম্পন্ন করেন—যা চারটি বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত।

৮ - আত-তাকিয়িদ ওয়াল ইজাহ লিমা আতলাকা ওয়া অগলাকা ফি কিতাবি ইবনিস সালাহ।

৯ - আলফিয়্যাতুল হাদিস: এটি 'আত-তাবসিরা ওয়াত তাজকিরা' নামেও পরিচিত; এবং এর ব্যাখ্যা হলো 'ফাতহুল মুগিস'।

১০ - আন-নুকাউ আলা মুকাদ্দিমাতি ইবনিস সালাহ।

১১ - আন-নাজমুল ওয়াহহাজ ফি নাজমিল মিনহাজ।

১২ - ইহয়াউল কালবিল মায়্যিত বি-দুখুলিল বাইত।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৯)
13 - المورد الهني في المولد السني.

14 - محجة القرب إلى محبة العرب.

15 - قرة العين بوفاء الدين (1). وهو كتابنا هذا.

قال في ذيل طبقات الحفاظ: وهو آخر مؤلفاته حدث به مراراً.

16 - الاستعاذة بالواحد من إقامة جمعتين في مكان واحد.

17 - تفضيل زمزم على كل ماء قليل زمزم.

18 - الكلام علي مسألة السجود لترك القنوت.

19 - مشيخة القاضي ناصر الدين بن التونسي.

20 - ذيل مشيخة القاضي أبي الحرم القلانسي.

21 - ترتيب من له ذكر تخريج أو تعديل في بيان الوهم والإِيهام.

22 - أطراف صحيح ابن حبان.

23 - رجال سنن الدارقطني.

إلى غير ذلك من المؤلفات النافعة

 

‌‌وفاته رحمه الله-:

(ت 806)

مات الشيخ عقب خروجه من الحمام في ثامن شعبان وله إحدى وثمانون سنة وربع سنة، نظير عمر شيخ الإِسلام سراج الدين".

 

‌‌مصادر الترجمة:

1 - الضوء اللامع لأهل القرن التاسع - للسخاوي (4/ 171).

2 - إنباء الغمر بأنباء العمر - لابن حجر (5/ 170).

3 - حسن المحاضرة - للسيوطي (1/ 360).

4 - ذيل طبقات الحفاظ ص 220.

5 - معجم المؤلفين لرضا كحالة (5/ 204).

6 - الأعلام للزركلي (3/ 344).

7 - شذرات الذهب - لابن العماد (7/ 55).

--------------------------------------------

(1) ذكره في ذيل طبقات الحفاظ بها الاسم، وذكره صاحب كشف الظنون [2/ 1324] باسم: قرة العين بالمسرة لوفاء الدين.
13 - আল-মাওরিদুল হানি ফিল মাওলিদিস সুন্নি।

14 - মাহাজ্জাতুল কুরবি ইলা মাহাব্বাতিল আরব।

15 - কুররাতুল আইন বি-ওয়াফায়িদ দীন (১)। আর এটিই হলো আমাদের বর্তমান এই কিতাব।

যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ-এ বলা হয়েছে: এটি তাঁর সর্বশেষ রচনাবলির অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এটি বারবার বর্ণনা (حدث) করেছেন।

16 - আল-ইসতিয়াযাতু বিল-ওয়াহিদি মিন ইকামাতিল জুমাআতাইনি ফী মাকানিন ওয়াহিদ।

17 - তাফদীলu যামযামা আলা কুল্লি মায়িন কালীলিন যামযাম।

18 - আল-কালামু আলা মাসআলাতিস সুজুদ লি-তারকিল কুনুত।

19 - মাশইয়াখাতুল কাদি নাসিরুদ্দীন ইবনুত তুনুসি।

20 - যাইলু মাশইয়াখাতুল কাদি আবিল হারাম আল-কালানিসি।

21 - বায়ানুল ওয়াহামি ওয়াল ইহহাম গ্রন্থে যাদের হাদিস নিষ্কাশন (تخريج) অথবা নির্ভরযোগ্যতা প্রতিপাদন (تعديل) উল্লেখ করা হয়েছে তাদের বিন্যাস।

22 - আতরাফ সহিহ ইবনে হিব্বান।

23 - রিজালু সুনানে দারা কুতনি।

এ ছাড়াও অন্যান্য আরও অনেক উপকারী রচনাবলি রয়েছে।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-:

(মৃত্যু ৮০৬ হি.)

শাইখ ৮ই শাবান গোসলখানা থেকে বের হওয়ার পরপরই ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স হয়েছিল একাশী বছর তিন মাস (এক বছরের চতুর্থাংশ), যা শাইখুল ইসলাম সিরাজুদ্দীনের বয়সের সমান।

 

‌‌জীবনীকারদের উৎসসমূহ:

1 - আদ-দাওউল লামি লি-আহলিল করনিত তাসি - সাখাভী রচিত (৪/১৭১)।

2 - ইনবাউল গুমর বি-আনবাউল উমর - ইবনে হাজার রচিত (৫/১৭০)।

3 - হুসনুল মুহাদারা - সুয়ুতি রচিত (১/৩৬০)।

4 - যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ, পৃষ্ঠা ২২০।

5 - মুজামুল মুআল্লিফিন - রিদা কাহহালা রচিত (৫/২০৪)।

6 - আল-আলাম - যিরিকলি রচিত (৩/৩৪৪)।

7 - শাযারাতুয যাহাব - ইবনুল ইমাদ রচিত (৭/৫৫)।

--------------------------------------------

(১) 'যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ' গ্রন্থে এই নামেই এটি উল্লেখ করা হয়েছে। আর 'কাশফুয যুনুন' [২/১৩২৪] এর রচয়িতা এটি 'কুররাতুল আইন বিল-মাসাররাতি লি-ওয়াফায়িদ দীন' নামে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌عملي في الكتاب:

1 - عزوت الآيات القرآنية إلي سورها.

2 - خرجت ما في الكتاب من الأحاديث النبوية المرفوعة مع ذكر درجة الحديث.

3 - علقت على بعض الأحاديث وما اشتملت عليه من فوائد علمية وذلك من كلام علمائنا.

4 - قمت بإصلاح بعض الأسماء والأنساب التي طرأ عليها التصحيف وذلك قدر الإمكان.

5 - علقت على بعض الكلمات الغريبة أو الغامضة المعنى حتى يتيسر فهم القارئ للمعنى.

6 - قدمت للكتاب بمقدمة عن الكتاب والمؤلف والمخطوط.

7 - قمت بعمل عناوين توضيحية ووضعتها بين معكوفتين.

8 - أعددت الفهارس العلمية للكتاب.

وبعد. . .

فهذا فضل الله وتوفيقه، أعاننا حتى خرج الكتاب إلى النور، بعد أن ظل حبيساً قروناً طوال، وها هو ينضم إلى سلسلة الكتب التراثية التي عزمنا على إخراجها إلى النور.

ولكن لا يفوتنى أن أذكر في هذا المقام أنه لابد أن يوجد في أي عمل بشري بعض النقص والهفوات التي يسبق القلم إليها أو يذهل عنها، والكمال لله وحده، فهذا جهد المقل.

وحسبي الله ونعم الوكيل، أن أريد إلا الإِصلاح ما استطعت وما توفيقي إلا بالله، عليه توكلت، وإليه أنيب.

المحقق

أبي أويس المصري
‌‌এই গ্রন্থে আমার সম্পাদিত কাজসমূহ:

১ - আমি কুরআনের আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সূত্রবদ্ধ করেছি।

২ - গ্রন্থে বিদ্যমান মারফু (مرفوع) পর্যায়ের নববী হাদিসগুলোর তাখরিজ (تخريج) করেছি এবং হাদিসের মান (درجة) উল্লেখ করেছি।

৩ - কতিপয় হাদিস এবং সেগুলোতে বিদ্যমান জ্ঞানতাত্ত্বিক উপকারিতা সম্পর্কে আমাদের ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যের আলোকে টীকা প্রদান করেছি।

৪ - সাধ্যানুযায়ী কতিপয় নাম ও বংশপরিচয় সংশোধন করেছি যেগুলোতে তাসহিফ (تصحيف) বা বর্ণবিভ্রাট ঘটেছিল।

৫ - কিছু বিরল (غريب) বা অস্পষ্ট শব্দের ব্যাখ্যা প্রদান করেছি যাতে পাঠকের পক্ষে অর্থ অনুধাবন করা সহজ হয়।

৬ - গ্রন্থ, গ্রন্থকার এবং পাণ্ডুলিপি সম্পর্কে একটি ভূমিকা পেশ করেছি।

৭ - ব্যাখ্যামূলক শিরোনাম তৈরি করেছি এবং সেগুলো তৃতীয় বন্ধনীর মধ্যে স্থাপন করেছি।

৮ - গ্রন্থটির জন্য জ্ঞানতাত্ত্বিক নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্র প্রস্তুত করেছি।

অতঃপর...

এটি আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিক; তিনি আমাদের সাহায্য করেছেন যাতে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী পাণ্ডুলিপি হিসেবে অবরুদ্ধ থাকার পর বইটি আলোর মুখ দেখতে পায়। এটি এখন সেই ঐতিহ্যের (তুরাস) বইয়ের সিরিজের অন্তর্ভুক্ত হলো যা আমরা প্রকাশের সংকল্প করেছি।

তবে এই পর্যায়ে আমি এটি উল্লেখ করা জরুরি মনে করি যে, যেকোনো মানবিক কাজে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকা অনিবার্য, যা অসাবধানতাবশত কলম থেকে বেরিয়ে যায় বা মনোযোগ এড়িয়ে যায়; পরিপূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্যই। এটি কেবল এক নগণ্য প্রচেষ্টামাত্র।

আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনি উত্তম কর্মবিধায়ক। আমি আমার সাধ্যমতো সংস্কার ছাড়া আর কিছুই চাই না। আমার সাফল্য কেবল আল্লাহরই সাহায্যে; তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই অভিমুখী হই।

মুহাক্কিক (محقق)

আবি উওয়াইস আল-মিসরি
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌[وصف مخطوطة الكتاب]

وتوثيقها

عثرنا بفضل الله تعالى على هذا المخطوط الطيب في دار الكتب المصرية العامرة، ويقع المخطوط تحت رمز حديث تيمور برقم (495) ومنه نسخة ميكروفيلمية (3784) عدد صفحات المخطوط 78 صفحة في كل صفحة 11 سطر، وقد كتبت المخطوطة بخط جيد.

لا ريب في صحة نسبة المخطوط إلى العراقي، فلقد عزاه إليه، كلُّ من حاجي خليفة في كشف الظنون والسيوطي في ذيل طبقات الحفاظ.
[গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির বর্ণনা]

এবং এর প্রামাণ্যতা

মহান আল্লাহর অনুগ্রহে আমরা এই মূল্যবান পাণ্ডুলিপিটি সমৃদ্ধ মিশরীয় কুতুবখানায় (দারুল কুতুব আল-মিসরিয়্যাহ) খুঁজে পেয়েছি। পাণ্ডুলিপিটি ‘হাদিস তয়মুর’ কোডের অধীনে ৪৯৫ নম্বরে সংরক্ষিত এবং এর একটি মাইক্রোফিল্ম কপিও (৩৭৮৪) বিদ্যমান। পাণ্ডুলিপিটির পৃষ্ঠা সংখ্যা ৭৮ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ১১টি করে লাইন রয়েছে। পাণ্ডুলিপিটি অত্যন্ত সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত।

আল-ইরাকির প্রতি এই পাণ্ডুলিপিটির সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিশুদ্ধতা (صحة) সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই। কেননা হাজি খলিফা ‘কাশফুয যুনুন’ গ্রন্থে এবং সুয়ূতি ‘যাইলু তাবাকাতিল হুফফাজ’ গ্রন্থে এটি তাঁরই রচনা বলে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১২)
[صورة من المخطوطة]
[পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি]
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
[صورة من المخطوطة]
[পাণ্ডুলিপির একটি চিত্র]
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
[صورة من المخطوطة]
[পাণ্ডুলিপির প্রতিলিপি]
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
كِتَابُ قُرَّةِ العَيْنِ بالمَسَرَّةِ بوَفَاءِ الدَّيْنِ

 

تَألِيفُ

الشَّيْخ الإِمَامِ العَالِمِ العَلَّامَةِ فَرِيد دَهْرِهَ وَوَحِيِد عَصْرِهِ وبَارِعَةِ زَمَانِه وَنابِغة أقرانه شيخ الْمُسلمين وَإِمَام الْمُحدثين ورحلة الطالبين

زين الدّين عبد الرَّحِيم أبي الْحُسَيْن الْعِرَاقِيّ الأثري

رحمه الله ورضى عَنهُ ونفعنا وَالْمُسْلِمين ببركته وبركة علومه آمين وَالْحَمْد لله رب الْعَالمين
কুররাতুল আইন বিল মাসাররাহ বি অফাইদ দাইন গ্রন্থ

 

রচনায়

শাইখ, ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, সুপণ্ডিত (علامة), নিজ সময়ের অনন্য, নিজ যুগের অদ্বিতীয়, সমকালের বিস্ময় এবং সমসাময়িকদের মধ্যে অতুলনীয় প্রতিভাধর, মুসলিমদের শাইখ, হাদিস বিশারদগণের ইমাম (إمام المحدثين) এবং জ্ঞানান্বেষীদের পরম আশ্রয়স্থল

যাইনুদ্দীন আবদুর রহীম আবু আল-হুসাইন আল-ইরাকি আল-আসারি (الأثري)

আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন এবং তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন; তাঁর ও তাঁর ইলমের বরকতে আমাদের এবং সকল মুসলিমকে উপকৃত করুন। আমিন। আর সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌[مقدمة المؤلف]

الحمد لله الذي قسم الآرزاق بين عباده بعدله، فوسع على من شاء منهم ورزقه بسعة من فضله، وقدر على من شاء رزقه، فله الحمد على ذلك كله، ورزق من شاء بغير حساب فلا يُسأل سبحانه عن فعله، ونشهد أن لا إله الا الله المنفرد بإبرامه وحله، وأَشهد أن محمداً عبده ورسوله، أفضل أنبيائه ورسله، والداعى إلى الله على بصيرة بأوضح سبله، صلى الله عليه وعلى آله وأصحابه الذين أمرهم بالتبليغ عنه فقاموا بأعباء حمله، صلاة دائمة باقية وسلاماً لا انقطاع لوصله، أما بعد. .

 

‌‌[حق الفقراء على الأغنياء]

فإن الله تعالى لما قسم الأرزاق بين عباده فقال في محكم التنزيل: {نَحْنُ قَسَمْنَا بَيْنَهُمْ مَعِيشَتَهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَرَفَعْنَا بَعْضَهُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجَاتٍ} (1) الآية، فكان فيهم الغني والفقير، فُرض للفقراء في أموال الأغنياء قدر ما يسعهم كما روى ذلك عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه وقد روى ذلك مرفوعاً من حديثه كما أخبرنا أبو الفتح محمد بن محمد بن إبراهيم الميدومي رحمه الله قال: أنبأنا الشريف إبراهيم بن محمد بن عبد الوهاب بن مناقب السني، وعبد الرحيم بن يوسف بن يحيى الدمشقي قالا: أنبأنا عمر بن محمد بن عمر، أنبأنا أبو القاسم هبة الله بن محمد بن عبد الواحد بن الحصين، أنبأنا محمد بن محمد بن إبراهيم بن غيلان، حدثنا أبو بكر محمد بن عبد الله الشافعي، حدثنا محمد [بن عبد الله] (2) ابن سعيد البورقي، حدثنا أحمد بن محمد بن مقاتل، حدثنا محمد بن مردويه، حدثنا أبو إسماعيل حفص بن عمر قال: حدثني عبيد قال: حدثني محمد بن

--------------------------------------------

(1) سورة الزخرف الآية: 32.

(2) كذا بالمخطوطة ولعلها أبو عبد الله وهي كنية محمد بن سعيد البورقي.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

 

‌‌[লেখকের ভূমিকা]

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি স্বীয় ন্যায়বিচারের মাধ্যমে তাঁর বান্দাদের মাঝে রিজিক বণ্টন করেছেন। ফলে তিনি তাঁদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা প্রশস্ততা দান করেছেন এবং তাঁর অনুগ্রহের বদৌলতে তাকে অঢেল রিজিক প্রদান করেছেন। আর তিনি যাকে ইচ্ছা তার রিজিক সংকুচিত করেছেন; এমতাবস্থায় এসকল অবস্থার জন্য একমাত্র তাঁরই প্রশংসা। তিনি যাকে ইচ্ছা কোনো হিসাব ছাড়াই রিজিক দান করেন; সুতরাং সুবহানাহু ওয়া তায়ালা তাঁর কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন না। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি এক ও অদ্বিতীয়, তাঁর হুকুম জারিকরণ ও রহিতকরণের ক্ষেত্রে। আমরা আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর বান্দা ও রাসুল, তাঁর সকল নবী ও রাসুলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, এবং আল্লাহর পথে সুস্পষ্টতম পন্থায় প্রজ্ঞার সাথে দাওয়াত দানকারী। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীগণের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, যাদেরকে তিনি তাঁর পক্ষ থেকে প্রচারের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁরা সেই গুরুদায়িত্ব পালন করেছিলেন—এমন সালাত যা চিরস্থায়ী ও অবিনশ্বর এবং এমন সালাম যার ধারা নিরবচ্ছিন্ন। অতঃপর...

 

‌‌[ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের অধিকার]

মহান আল্লাহ যখন তাঁর বান্দাদের মাঝে রিজিক বণ্টন করলেন, তখন তিনি তাঁর সুস্পষ্ট অবতীর্ণ কিতাবে বলেছেন: {আমিই তাদের মধ্যে তাদের জীবিকা বণ্টন করি পার্থিব জীবনে এবং একজনকে অপরের ওপর মর্যাদায় উন্নীত করি} (১) (সুরা আয-যুখরুফ: ৩২)। ফলে তাদের মধ্যে কেউ ধনী ও কেউ দরিদ্র হলো। তাই ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের জন্য তাদের প্রয়োজন মেটানোর মতো একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারিত করে দেওয়া হয়েছে, যেমনটি আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি তাঁর বর্ণনা থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أخبرنا) আবুল ফাতহ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আল-মাইদুমি (রহিমাহুল্লাহ)। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আশ-শরীফ ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব ইবনে মানাকিব আস-সুন্নি এবং আবদুর রহিম ইবনে ইউসুফ ইবনে ইয়াহইয়া আদ-দিমাশকি। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উমর। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনুল হুসাইন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (أنبأنا) মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে গাইলান। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আশ-শাফিয়ি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ [ইবনে আব্দুল্লাহ] (২) ইবনে সাঈদ আল-বুরকি। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) মুহাম্মদ ইবনে মারদুওয়াইহ। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আবু ইসমাইল হাফস ইবনে উমর। তিনি বলেন: উবায়েদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)। তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে... আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني)...

--------------------------------------------

(১) সুরা আয-যুখরুফ, আয়াত: ৩২।

(২) পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, সম্ভবত এটি 'আবু আব্দুল্লাহ' (أبو عبد الله) হবে, যা মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বুরকির কুনিয়াহ (كنية)।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
على، عن أبيه، عن عمه محمد بن الحنفية قال: حدثني علي بن أبي طالب أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إن الله فرض للفقراء في أموال الأغنياء قدر ما يسعهم، فإن منعوهم حتى يجوعوا ويعروا ويجهدوا حاسبهما الله حساباً شديداً وعذبهم عذاباً نكراً" (3) وهذا حديث ضعيف لا تقوم به حجة، أورده ابن الجوزي في العلل المتناهية من طريق أبي بكر الشافعي وقال: هذا حديث لا يصح عن رسول الله صلى الله عليه وسلم والمتهم به البورقي. قلت: ولم ينفرد به البورقي فقد رويناه في الحلية لأبي نعيم من رواية الحسن الحلواني أحد الثقات عن حفص المذكور إلا أنه قال: حفص بن ميمون، نسبه إلى جده وهو حفص بن عمر بن

--------------------------------------------

(3) إسناده موضوع:

فيه محمد بن سعيد البورقي. قال حمزة السهمي: كذاب، حدث بغير حديث وضعه، قال الخطب البغدادي: ما كان أجرأ هذا الرجل على الكذب.

وقال الحاكم: وضع مالا يحصى، وقال الذهبي: كان أحد الوضاعين وأخرجه الخطيب في تاريخه (5/ 308) وابن الجوزي في العلل المتناهية (2/ 492) من طريق البورقي هذا.

وأخرجه الطبراني في المعجم الصغير (1/ 162) من طريق ثابت بن محمد الزاهدي، حدثنا عبد الرحمن بن محمد المحاربي عن حرب (*) ابن سريج المنقري، عن أبي جعفر (**) محمد ابن علي عن محمد بن الحنفية عن علي رضي الله عنه مرفوعاً.

وسنده ضعيف فيه ثلاث علل:

الأولى: ثابت بن محمد الزاهدي: ضعيف ضعفه البخاري وغيره.

الثانية: عبد الرحمن بن محمد المحاربي: مدلس قاله أحمد والعجلي. وقد عنعنه

الثالثة: حرب بن سريج: ضعيف قال البخاري: فيه نظر، وقال ابن حبان يخطئ كثيراً.

وأخرجه أبو نعيم في الحلية (3/ 178) حدثنا سليمان بن أحمد ثنا محمد بن محمد بن عقبة الشيباني ثنا الحسن (…) بن علي عن محمد بن الحنفية أنه سمع أباه علياً رضي الله تعالى عنه يقول فذكره.

_________

(*) وقع في المعجم الصغير للطبراني حرث بن سريج والصواب ما أثبتناه.

(**) وقع في المعجم الصغير عن أبي جعفر بن محمد بن علي والصواب ما أثبتناه.

(…) وقع في الحلية الحسين بن علي والصواب ما أثبتناه. =
আলী থেকে, তার পিতা থেকে, তার চাচা মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী ইবনে আবু তালিব আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ধনীদের সম্পদে দরিদ্রদের জন্য তাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ নির্ধারিত করে দিয়েছেন। যদি তারা তাদের তা থেকে বঞ্চিত করে যার ফলে তারা ক্ষুধার্ত, বস্ত্রহীন এবং কষ্টের শিকার হয়, তবে আল্লাহ তাদের কঠোর হিসাব গ্রহণ করবেন এবং তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন।" (৩) আর এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস যার মাধ্যমে কোনো প্রমাণ (حجة) সাব্যস্ত হয় না। ইবনুল জাওজি এটি আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ গ্রন্থে আবু বকর আশ-শাফিয়ীর সূত্রে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: এই হাদিসটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয় (لا يصح) এবং এর বর্ণনাকারী আল-বুরকী অভিযুক্ত (المتهم)। আমি বলছি: আল-বুরকী এটি বর্ণনায় একক ছিলেন না, আবু নুআইম আল-হিলইয়াহ গ্রন্থে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের একজন আল-হাসান আল-হুলওয়ানী-এর বর্ণনা থেকে উক্ত হাফস-এর সূত্রে এটি আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে তিনি হাফস ইবনে মাইমুন বলেছেন এবং তাকে তার দাদার দিকে সম্বন্ধ করেছেন, আর তিনি হলেন হাফস ইবনে উমর ইবনে...

--------------------------------------------

(৩) এর সানাদ (إسناد) জাল (موضوع):

এতে মুহাম্মদ ইবনে সাঈদ আল-বুরকী রয়েছে। হামযা আস-সাহমি বলেন: সে চরম মিথ্যাবাদী (كذاب), সে এমন অনেক হাদিস বর্ণনা করেছে যা সে নিজে জাল (وضع) করেছে। আল-খতিব আল-বাগদাদি বলেন: এই লোকটি মিথ্যার ওপর কতই না দুঃসাহসী ছিল!

আল-হাকিম বলেন: সে অগণিত হাদিস জাল (وضع) করেছে। আল-জাহাবি বলেন: সে জালকারীদের (الوضاعون) অন্যতম ছিল। আল-খতিব তার ইতিহাস গ্রন্থ তারিখ (৫/৩০৮) এবং ইবনুল জাওজি আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ (২/৪৯২) গ্রন্থে এই আল-বুরকীর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

তাবারানি আল-মুজাম আস-সগির (১/১৬২) গ্রন্থে সাবিত ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাহিদির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; (তিনি বলেন) আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি, হারব (*) ইবনে সুরাইজ আল-মিনকারি থেকে, তিনি আবু জাফর (**) মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে, তিনি আলী (রা.) থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর সানাদ (سند) দুর্বল (ضعيف), এতে তিনটি ত্রুটি (علل) রয়েছে:

প্রথম: সাবিত ইবনে মুহাম্মদ আজ-জাহিদি: তিনি দুর্বল (ضعيف), ইমাম বুখারি এবং অন্যরা তাকে দুর্বল (ضعيف) বলেছেন।

দ্বিতীয়: আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ আল-মুহারিবি: তিনি একজন মুদাল্লিস (مدلس), যা ইমাম আহমাদ ও আল-আজলি বলেছেন। আর তিনি এটি 'আন' শব্দযোগে বর্ণনা (عنعنة) করেছেন।

তৃতীয়: হারব ইবনে সুরাইজ: তিনি দুর্বল (ضعيف), ইমাম বুখারি বলেছেন: তার ব্যাপারে আপত্তি আছে (فيه نظر), আর ইবনে হিব্বান বলেছেন: সে প্রচুর ভুল করে।

আবু নুআইম আল-হিলইয়াহ (৩/১৭৮) গ্রন্থে এটি বের করেছেন; আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন সুলাইমান ইবনে আহমাদ, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উকবাহ আশ-শাইবানি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হাসান (…) ইবনে আলী, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে যে, তিনি তার পিতা আলী (রা.)-কে বলতে শুনেছেন, অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

_________

(*) তাবারানির আল-মুজাম আস-সগির গ্রন্থে 'হারাস ইবনে সুরাইজ' এসেছে, তবে সঠিক হলো যা আমরা সাব্যস্ত করেছি (হারব)।

(**) আল-মুজাম আস-সগির গ্রন্থে 'আবু জাফর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী' এসেছে, তবে সঠিক হলো যা আমরা সাব্যস্ত করেছি (আবু জাফর মুহাম্মদ)।

(…) আল-হিলইয়াহ গ্রন্থে 'আল-হুসাইন ইবনে আলী' এসেছে, তবে সঠিক হলো যা আমরা সাব্যস্ত করেছি (আল-হাসান)। =
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
ميمون العدني، وثقه محمد بن حماد الطهراني وقال أبو حاتم: ليس بالقوي، وقال النسائي: ليس بثقة.

وهذا الحديث وإن اختلف في بعض رواته وكان الراجح فيه التضعيف لكن معناه صحيح يشهد له ما أوجبه الله تعالى من الزكوات، وخصصها بمن سماهم في كتابه العزيز، وما أوجب من كفاية المضطرين على سبيل فروض الكفايات وربما

--------------------------------------------

= وهذا السند يحتمل أنه سقط منه حفص بن عمر بن ميمون وذلك لأمرين:

الأول: أن العراقي ذكر أن الحسن بن علي رواه عن حفص بن عمر بن ميمون.

الثاني: أن الحسن بن علي وهو الحلواني لم تعرف له رواية عن محمد بن الحنفية ولم يذكر أحد أن الحسن بن علي من تلاميذ محمد بن الحنفية فإن صح ذلك فحفص بن عمر بن ميمون ضعيف.

وقد روى هذا الحديث موقوفاً على عليّ ولا يصح أيضاً أخرجه البيهقي (7/ 23) وابن حزم في المحلى (6/ 228) من طريق أبي شهاب الحناط عن أبي عبد الله الثقفي عن محمد بن علي بن الحسين عن محمد بن علي بن أبي طالب أنه سمع علي بن أبي طالب يقول فذكره.

وهذا سند ضعيف.

فإن أبا عبد الله الثقفي من المحتمل أن يكون هو عبد الملك بن سفيان الثقفي فهو الذي يروي عن محمد بن علي بن الحسين -أبو جعفر الباقر- كما في التعجيل (265) فإن كان هو فإنه مجهول كما قال الحسيني وأقره ابن حجر كما في التعجيل.

فإن يك هو فهو كما علمت، وإن لم يكن هو فلم أعرفه.

وأخرجه أيضاً أبو عبيد في الأموال (1909) من طريق أبي شهاب الحناط عن أبي عبد الله الثقفي قال سمعت أبا جعفر محمد بن علي يحدث أن علياً يقول فذكره.

وهذا سند ضعيف أيضاً لعلتين:

الأولى: أبو عبد الله الثقفي وقد علمت ما فيه من كلام.

الثانية: الانقطاع بين محمد بن عليّ وعليّ بن أبي طالب رضي الله عنه، ولعل هذا من أوهام أبو شهاب الحناط فإنه كان صدوقاً يهم في حديثه كما قال الساجي، وقد قال الذهبي في الميزان (2/ 544): صدوق في حفظه شيء.
মিমুন আল-আদানি, মুহাম্মদ ইবন হাম্মাদ আল-তিহরানি তাকে নির্ভরযোগ্য (ثقة) বলে অভিহিত করেছেন এবং আবু হাতিম বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন (ليس بالقوي), আর নাসায়ি বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য নন (ليس بثقة)।

এই হাদিসটির কিছু বর্ণনাকারীর ব্যাপারে যদিও মতভেদ রয়েছে এবং এর ক্ষেত্রে দুর্বল সাব্যস্ত করাটাই অধিক গ্রহণযোগ্য (الراجح), তবে এর অর্থ সহিহ (صحيح)। মহান আল্লাহ যে জাকাত ফরজ করেছেন এবং তাঁর সম্মানিত কিতাবে যাদের নাম উল্লেখ করেছেন তাদের জন্য তা নির্দিষ্ট করেছেন, তা এর সপক্ষে সাক্ষ্য দেয়। এছাড়াও ফরজে কিফায়া (فروض الكفايات) হিসেবে অসহায়দের প্রয়োজন মেটানো যা আল্লাহ ওয়াজিব করেছেন এবং সম্ভবত...

--------------------------------------------

= এই সনদটি (سند) এমন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যে এটি থেকে হাফস ইবন উমর ইবন মিমুন বাদ পড়েছেন, আর তা দুটি কারণে:

প্রথমত: ইরাকি উল্লেখ করেছেন যে হাসান ইবন আলি এটি হাফস ইবন উমর ইবন মিমুন থেকে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয়ত: হাসান ইবন আলি, যিনি আল-হুলওয়ানি, মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে তাঁর কোনো বর্ণনা পরিচিত নয় এবং হাসান ইবন আলি যে মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহর ছাত্র ছিলেন এমনটি কেউ উল্লেখ করেননি। সুতরাং এটি সঠিক হলে হাফস ইবন উমর ইবন মিমুন দুর্বল (ضعيف)।

এই হাদিসটি আলি-র ওপর মাওকুফ (موقوفاً) হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে এবং এটিও সহিহ (يصح) নয়। বায়হাকি (৭/২৩) এবং ইবন হাজম আল-মুহাল্লা-তে (৬/২২৮) আবু শিহাব আল-হান্নাত এর সূত্রে আবু আব্দুল্লাহ আল-সাকাফি থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন আলি ইবনুল হুসাইন থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবন আলি ইবন আবি তালিব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি আলি ইবন আবি তালিবকে বলতে শুনেছেন..., অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (سند)।

কেননা আবু আব্দুল্লাহ আল-সাকাফি সম্ভবত আব্দুল মালিক ইবন সুফিয়ান আল-সাকাফি হতে পারেন। তিনিই মুহাম্মদ ইবন আলি ইবনুল হুসাইন —আবু জাফর আল-বাকির— থেকে বর্ণনা করেন, যেমনটি তাজিল (২৬৫) গ্রন্থে রয়েছে। যদি তিনি সেই ব্যক্তি হন, তবে তিনি অপরিচিত (مجهول), যেমনটি আল-হুসাইনি বলেছেন এবং ইবন হাজার তাজিল গ্রন্থে তা সমর্থন করেছেন।

যদি তিনি সেই ব্যক্তি হন তবে তাঁর অবস্থা আপনি জানলেন, আর যদি তিনি সেই ব্যক্তি না হন তবে আমি তাঁকে চিনতে পারিনি।

আবু উবাইদ আল-আমওয়াল (১৯০৯) গ্রন্থে এটি আবু শিহাব আল-হান্নাত এর সূত্রে আবু আব্দুল্লাহ আল-সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু জাফর মুহাম্মদ ইবন আলিকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, আলি বলছেন..., অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

দুটি কারণে এই সনদটিও (سند) দুর্বল (ضعيف):

প্রথমত: আবু আব্দুল্লাহ আল-সাকাফি, এবং তাঁর সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা আপনি জেনেছেন।

দ্বিতীয়ত: মুহাম্মদ ইবন আলি এবং আলি ইবন আবি তালিব (রা.)-এর মাঝে বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع)। সম্ভবত এটি আবু শিহাব আল-হান্নাতের অন্যতম বিভ্রম (أوهام), কারণ তিনি সত্যবাদী (صدوقاً) হলেও তাঁর হাদিসে বিভ্রম (يهم) ঘটত, যেমনটি আল-সাজি বলেছেন। জাহাবি আল-মিজান (২/৫৪৪) গ্রন্থে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর স্মৃতিশক্তিতে কিছু ত্রুটি রয়েছে।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২০)
تعين ذلك على بعض المكلفين لعدم قدرة غيره أو لعدم وجود غيره في ذلك المكان في ذلك الزمان والله أعلم.

 

‌‌[حكمة التفضيل بين الناس في الرزق]

وأما حكمة الله تعالى في خلقه بجعله تعالى بعضهم غنياً وبعضهم فقيراً، فروى أن آدم صلى الله عليه وسلم سأل ربه تعالى عن ذلك كما أخبرني أبو عبد الله محمد بن إسماعيل بن الخباز رحمه الله بقراءتي عليه بدمشق قال: أنبأنا المسلم بن محمد، أنبأنا حنبل، أنبأنا هبة الله بن محمد الشيباني، أنبأنا الحسن بن علي بن المذهب، أنبأنا أحمد بن جعفر القطيعي، حدثنا عبد الله بن أحمد بن محمد بن حنبل قال: حدثني محمد بن يعقوب [الربالي] (4)، حدثنا المعتمر بن سليمان قال: سمعت أبي يحدث عن الربيع بن أنس عن رفيع أبي العالية عن أُبي بن كعب رضي الله عنه في قوله عز وجل: {وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ} (5) قال: جمعهم فجعلهم أرواحاً ثم صورهم فاستنطقهم فتكلموا، ثم أخذ عليهم العهد والميثّاق وأشهدهم على أنفسهم ألست بربكم؟ قالوا: بلى. قال: فإني أشهد عليكم السموات السبع، وأشهد عليكم أباكم آدم أن تقولوا يوم القيامة لم نعلم بهذا اعلموا أنه لا إله غيرى ولا رب غيرى ولا تشركوا بي شيئاً إني سأرسل إليكم رسلي يذكرونكم عهدي وميثاقي وأنزل عليكم كتبي، قالوا: شهدنا بأنك ربنا وإلهنا لا رب لنا غيرك ولا إله لنا غيرك فأقروا ورفع عليهم آدم عليه السلام ينظر إليهم فرأى الغنى والفقير، وحسن الصورة ودون ذلك فقال: "يا رب لولا سويت بين عبادك؟ قال: إني أحب أن أشكر" (6).

--------------------------------------------

(4) كذا في مسند أحمد وجاء في تعجيل المنفعة: الزبالي بالزاي.

(5) سورة الأعراف الآية: 172.

(6) إسناده حسن موقوف:

أخرجه عبد الله بن أحمد في زياداته على المسند (5/ 135) من طريق محمد بن يعقوب الربالي ثنا المعتمر بن سليمان سمعت أبي يحدث عن الربيع بن أنس عن رفيع أبي العالية عن أبي بن كعب فذكره. =
এটি কিছু মুকাল্লাফ (শরিয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি)-এর ওপর সুনির্দিষ্ট হয়ে পড়ে কারণ অন্যের সক্ষমতা নেই অথবা সেই সময়ে সেই স্থানে অন্য কেউ নেই। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

 

‌‌[রিজিকের ক্ষেত্রে মানুষের মাঝে ব্যবধানের রহস্য]

আর সৃষ্টির ক্ষেত্রে মহান আল্লাহর রহস্য যে, তিনি তাদের কাউকে ধনী এবং কাউকে দরিদ্র করেছেন—সে বিষয়ে বর্ণিত আছে যে, আদম (আলাইহিস সালাম) তাঁর রবকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। যেমনটি আমাকে দামেস্কে পাঠ করে শোনানোর সময় আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল বিন আল-খাব্বাজ (রাহিমাহুল্লাহ) সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম বিন মুহাম্মদ, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হানবাল, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আশ-শাইবানি, তিনি সংবাদ দিয়েছেন হাসান বিন আলি বিন আল-মুজাহহাব, তিনি সংবাদ দিয়েছেন আহমদ বিন জাফর আল-কাতিয়ি, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন হানবাল, তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব [আর-রাব্বালি] (৪), আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন মুতামির বিন সুলাইমান, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে রবি বিন আনাস থেকে, তিনি রুফাই আবু আল-আলিয়া থেকে এবং তিনি উবাই বিন কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মহান আল্লাহর এই বাণীর বিষয়ে বর্ণনা করতে শুনেছি: {আর যখন তোমার রব আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করলেন} (৫)। তিনি বলেন: আল্লাহ তাদের একত্রিত করলেন এবং তাদের রুহ (আত্মা) বানালেন, তারপর তাদের অবয়ব দান করলেন এবং তাদের বাকশক্তি দান করলেন, ফলে তারা কথা বলল। এরপর তিনি তাদের থেকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করলেন এবং তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী রেখে বললেন—'আমি কি তোমাদের রব নই?' তারা বলল—'হ্যাঁ'। তিনি বললেন—'আমি তোমাদের বিরুদ্ধে সাত আসমান ও তোমাদের পিতা আদমকে সাক্ষী রাখছি যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা বলতে না পার যে আমরা এ সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। জেনে রেখো, আমি ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং আমি ছাড়া কোনো রব নেই, আর তোমরা আমার সাথে কোনো কিছুকে শরিক করো না। আমি অবশ্যই তোমাদের কাছে আমার রাসূলদের পাঠাব যারা তোমাদের আমার অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন এবং আমি তোমাদের ওপর আমার কিতাবসমূহ নাজিল করব।' তারা বলল—'আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনিই আমাদের রব ও ইলাহ, আপনি ছাড়া আমাদের কোনো রব নেই এবং আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।' তারা এর স্বীকৃতি প্রদান করল। এরপর আদম (আলাইহিস সালাম)-কে তাদের উপরে তোলা হলো যাতে তিনি তাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করতে পারেন। তখন তিনি ধনী ও দরিদ্র এবং সুন্দর অবয়বের অধিকারী ও এর বাইরের লোকদের দেখলেন। তখন তিনি বললেন—'হে আমার রব! আপনি কেন আপনার বান্দাদের মাঝে সমতা বিধান করলেন না?' আল্লাহ বললেন—'আমি চাই যে আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হোক' (৬)।

--------------------------------------------

(৪) মুসনাদ আহমদ-এ এভাবেই এসেছে, আর তাজিলুল মানফাআ গ্রন্থে এসেছে: 'যাব্বালি', যা 'ঝা' (ز) বর্ণ দিয়ে।

(৫) সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৭২।

(৬) এর সনদ (إسناد) হাসান (حسن) এবং এটি মাওকুফ (موقوف):

আব্দুল্লাহ বিন আহমদ এটি মুসনাদ-এর অতিরিক্ত অংশে (৫/১৩৫) মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব আর-রাব্বালির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। মুতামির বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে রবি বিন আনাস থেকে, তিনি রুফাই আবু আল-আলিয়া থেকে এবং তিনি উবাই বিন কাব থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি... অতপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন। =
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২১)
هكذا رواه عبد الله بن أحمد في زياداته علي المسند، وإسناده حسن، ورواية أبي العالية عن أُبي بن كعب عند أصحاب السنن الثلاثة حسن الترمذي بعضها، وأبو العالية قرأ القرآن على أُبي بن كعب كما رواه النسائي في فضائل القرآن، وفي المناقب من سننه، وأما الحديث الذي رويناه في الحلية من حديث أنس عن النبي صلى الله عليه وسلم عن جبريل عليه السلام عن ربه تعالى وتقدس في حديث فيه: "وإن من عبادي من لا يصلح إيمانه إلا الغنى ولو أفقرته لأفسده ذلك" (7) ومن عبادي من لا يصلح إيمانه إلا الفقر ولو بسطت له لأفسده ذلك" (7) الحديث فاسد لا يصح إسناده، وحديث أُبي بن كعب الذي قبله أصح إسناداً منه إذ قد أراد الله واختار تفضيل بعض الخلق على بعض وكان ذلك هو المرتضى عند أهل الرضا بالقضا فهم يشهدون الإِعطاء في المنع وكان منهم من لم تكن نفسه مطمئنة

--------------------------------------------

= هذا إسناد حسن موقوف لكنه في حكم المرفوع لأنه لا يقال من قبل الرأى.

محمد بن يعقوب الربالي لا ينزل إن شاء الله حديثه عن الحسن، والربيع بن أنس، لخص حاله ابن حجر في التقريب فقال: صدوق له أوهام.

والحديث أخرجه (2/ 324)، والطبري (9/ 115)، واللالكائي في أصول الاعتقاد (991) من طريق الربيع بن أنس عن أبي العالية عن أبي بن كعب بنحوه، وفي بعضها زيادة.

(7) إسناده ضعيف:

أخرجه ابن أبي الدنيا في الأولياء [1] وأبو نعيم في الحلية (8/ 318)، والبيهقي في الأسماء والصفات (121)، وابن الجوزي في العلل المتناهية (1/ 441) من طريق الحسن بن يحيى الخشني عن صدقة بن عبد الله الدمشقي عن هشام الكناني عن أنس بن مالك عن النبي صلى الله عليه وسلم عن جبريل عن ربه تعالى مطولًا.

وسنده ضعيف فيه علل:

1 - هشام الكناني لم أعرفه، وذكر ابن حبان في الثقات، وابن حجر في تهذيب التهذيب، هشام بن زيد بن أنس بن مالك يروى عن أنس وهو من رجال الشيخين، فلعله هو.

2 - صدقة بن عبد الله -وهو أبو معاوية السمين- ضعيف.

3 - الحسن بن يحيى الخشني، وهو صدوق كثير الغلط كما في التقريب.

আবদুল্লাহ বিন আহমাদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থের অতিরিক্ত অংশে (যিয়াদাত) এভাবেই এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান (حسن)। তিন সুনান গ্রন্থের সংকলকদের নিকট আবুল আলিয়াহর সূত্রে উবাই বিন কাব থেকে বর্ণিত বর্ণনাটি সম্পর্কে ইমাম তিরমিযী এর কিছু অংশকে হাসান (حسن) বলেছেন। আর আবুল আলিয়াহ উবাই বিন কাবের নিকট কুরআন পাঠ করেছিলেন, যেমনটি নাসায়ি তাঁর ফাদায়িলুল কুরআন এবং তাঁর সুনান গ্রন্থের মানাকিব অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। আর সেই হাদিসটি যা আমরা হিলিয়াহ গ্রন্থে আনাস (রা.)-এর সূত্রে নবী (সা.) থেকে, তিনি জিবরাঈল (আ.) থেকে, তিনি তাঁর মহান ও পবিত্র রবের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছি, যাতে রয়েছে: "নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান সচ্ছলতা ব্যতীত সঠিক থাকে না, আমি যদি তাকে দরিদ্র করে দিতাম তবে তা তাকে ফিতনায় ফেলত (৭) এবং আমার বান্দাদের মধ্যে এমন কেউ আছে যার ঈমান দারিদ্র্য ব্যতীত সঠিক থাকে না, আমি যদি তাকে প্রাচুর্য দিতাম তবে তা তাকে ফিতনায় ফেলত (৭)"। হাদিসটি অসার (فاسد), এর সনদ সহিহ নয় (لا يصح)। আর এর আগে উবাই বিন কাবের বর্ণিত হাদিসটির সনদ এর তুলনায় অধিক সহিহ (أصح); যেহেতু আল্লাহ ইচ্ছা করেছেন এবং সৃষ্টির এক অংশকে অন্য অংশের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদানের জন্য পছন্দ করেছেন। আর আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট ব্যক্তিদের (আহলুর রিদা) নিকট এটিই ছিল মনোনীত বিষয়; ফলে তাঁরা (আল্লাহর) না দেওয়ার মাঝেও প্রদানকে প্রত্যক্ষ করেন। আর তাঁদের মধ্যে এমন লোকও ছিলেন যাদের অন্তর প্রশান্ত ছিল না।

--------------------------------------------

= এটি একটি হাসান (حسن) মাওকুফ (موقوف) সনদ, তবে এটি মারফু (مرفوع) হাদিসের হুকুমভুক্ত; কেননা নিজস্ব রায় বা মতামতের ভিত্তিতে এটি বলা সম্ভব নয়।

মুহাম্মাদ বিন ইয়াকুব আল-রুবালির বর্ণিত হাদিস ইনশাআল্লাহ হাসান (حسن) পর্যায় থেকে নিচে নামবে না। আর রাবি বিন আনাস সম্পর্কে ইবনে হাজার তাকরীব গ্রন্থে সংক্ষেপে বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (صدوق), তবে তাঁর কিছু বিভ্রান্তি বা ভুল (له أوهام) রয়েছে।

হাদিসটি (২/৩২৪), তাবারী (৯/১১৫), এবং লালকায়ী তাঁর উসুলুল ইতিদাক (৯৯১) গ্রন্থে রাবি বিন আনাসের সূত্রে আবুল আলিয়াহ থেকে উবাই বিন কাবের মাধ্যমে অনুরূপভাবে বর্ণনা করেছেন, যার কোনো কোনোটিতে অতিরিক্ত অংশ রয়েছে।

(7) এর সনদ যয়িফ (ضعيف):

ইবন আবুদ দুনিয়া আল-আউলিয়া [১] গ্রন্থে, আবু নুয়াইম হিলিয়াহ (৮/৩১৮) গ্রন্থে, বায়হাকী আসমা ওয়াস-সিফাত (১২১) গ্রন্থে এবং ইবনুল জাওযী আল-ইলাল আল-মুতানাহিয়াহ (১/৪৪১) গ্রন্থে হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খুশানি—সাদাকা বিন আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকী—হিশাম আল-কিনানি—আনাস বিন মালিক—নবী (সা.)—জিবরাঈল—তাঁর মহান রবের সূত্রে দীর্ঘভাবে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

এর সনদ যয়িফ (ضعيف) এবং এতে ত্রুটি (علل) রয়েছে:

1 - হিশাম আল-কিনানিকে আমি চিনতে পারিনি। ইবনে হিব্বান আত-সিকাত গ্রন্থে এবং ইবনে হাজার তাহযীবুত তাহযীব গ্রন্থে হিশাম বিন যায়েদ বিন আনাস বিন মালিকের কথা উল্লেখ করেছেন, যিনি আনাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন এবং তিনি শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এর বর্ণনাকারী; সম্ভবত তিনি তিনিই।

2 - সাদাকা বিন আব্দুল্লাহ—যিনি আবু মুয়াবিয়া আস-সামীন—যয়িফ (ضعيف)।

3 - আল-হাসান বিন ইয়াহইয়া আল-খুশানি; তিনি সত্যবাদী কিন্তু অধিক ভুলকারী (صدوق كثير الغلط), যেমনটি তাকরীব গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২২)
وكان ذلك محل الابتلاء والفتنة كما قال الله تعالى: {وَجَعَلْنَا بَعْضَكُمْ لِبَعْضٍ فِتْنَةً أَتَصْبِرُونَ وَكَانَ رَبُّكَ بَصِيرًا} (8) وقد راضى النبي صلى الله عليه وسلم أمته من هذه الفتنة بقوله صلى الله عليه وسلم في الحديث الصحيح المتفق عليه من حديث أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة: "إذا نظر أحدكم إلى من فضل عليه في المال والجسم فلينظر إلى من دونه في المال والجسم" (9) ولما روى الترمذي من حديث عائشة أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لها: "إياك ومجالسة الأغنياء" (10) قال: هو نحو ما روى عن أبي

--------------------------------------------

(8) سورة الفرقان الآية: 20.

(9) أخرجه البخاري (6490/ فتح)، ومسلم (2963)، وأحمد (2/ 243)، وأبو يعلى (6261)، والبغوي (4100) من طريق أبي الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضي الله عنه مرفوعاً، واللفظ لأبي يعلي والبغوي.

أما لفظ البخاري ومسلم وأحمد (إذا نظر أحدكم إلى من فضل عليه في المال والخلق فلينظر إلى من هو أسفل منه ممن فضل عليه).

(10) إسناده ضعيف جداً:

أخرجه الترمذي (1780) من طريق سعيد بن محمد الوراق وأبي يحيى الحماني قالا: حدثنا صالح بن حسان عن عروة عن عائشة قالت قال لي: إذا أردت اللحوق بي فليكفك من الدنيا كزاد الراكب وإياك ومجالسة الأغنياء.

وقد ضعفه الترمذي بقوله: هذا حديث غريب لا نعرفه إلا من حديث صالح بن حسان -قال- وسمعت محمدًا -يعني البخاري- يقول صالح بن حسان منكر الحديث ا. هـ.

وإسناده ضعيف جداً فيه علل:

الأولى: سعيد بن محمد الوراق، ضعيف، ضعفه ابن معين وأبو داود.

الثانية: أبو يحيى الحماني: هو عبد الحميد بن عبد الرحمن وهو صدوق يخطئ كما في التقريب.

الثالثة: صالح بن حسان، قال البخاري: منكر الحديث، وقال النسائي: متروك.

والحديث أخرجه أيضاً الحاكم (4/ 312)، وابن سعد في الطبقات (8/ 52)، وابن أبي الدنيا في إصلاح المال (376)، والبيهقي في شعب الإِيمان (5/ 6181)، والبغوي في شرح =
আর এটিই ছিল পরীক্ষা ও ফিতনার ক্ষেত্র, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {আর আমি তোমাদের একজনকে অপরজনের জন্য পরীক্ষা স্বরূপ করেছি, তোমরা কি ধৈর্য ধারণ করবে? আর তোমার রব সর্বদ্রষ্টা} (৮)। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর উম্মতকে এই ফিতনা থেকে সতর্ক করেছেন তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে, যা আবু জেনাদ থেকে আল-আরাজ এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন এমন একটি সহিহ (صحيح) হাদিসে যা বুখারি ও মুসলিম উভয় কিতাবে বর্ণিত (متفق عليه): "তোমাদের কেউ যখন এমন ব্যক্তির দিকে তাকায় যাকে ধন-সম্পদ ও শারীরিক গঠনে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তখন সে যেন তার চেয়ে নিম্নস্তরের ব্যক্তির দিকে তাকায় যাকে ধন-সম্পদ ও শারীরিক গঠনে তার চেয়ে কম দেওয়া হয়েছে" (৯)। আর যখন তিরমিজি আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে বলেছিলেন: "তুমি ধনীদের মজলিস থেকে বেঁচে থাকো" (১০), তখন তিনি বলেছিলেন: এটি আবু হতে বর্ণিত হাদিসের অনুরূপ।

--------------------------------------------

(৮) সুরা আল-ফুরকান, আয়াত: ২০।

(৯) এটি বর্ণনা করেছেন বুখারি (৬৪৯০/ ফাতহ), মুসলিম (২৯৬৩), আহমদ (২/ ২৪৩), আবু ইয়ালা (৬২৬১) এবং বাগাউয়ি (৪১০০)। তারা এটি আবু জেনাদ, আল-আরাজ এবং আবু হুরায়রা (রা.)-এর সূত্রে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আর শব্দগুলো আবু ইয়ালা ও বাগাউয়ির।

তবে বুখারি, মুসলিম এবং আহমদের শব্দ হচ্ছে: (তোমাদের কেউ যখন এমন ব্যক্তির দিকে তাকায় যাকে ধন-সম্পদ ও দৈহিক অবয়বে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তবে সে যেন তার চেয়ে নিম্নস্তরের ব্যক্তির দিকে তাকায় যাকে তার চেয়ে কম শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে)।

(১০) এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً):

এটি তিরমিজি (১৭৮০) সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাক এবং আবু ইয়াহিয়া আল-হিমানির সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তারা বলেন: আমাদের কাছে সালেহ ইবনে হাসান বর্ণনা করেছেন উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বলেছিলেন: তুমি যদি আমার সাথে মিলিত হতে চাও, তবে দুনিয়া থেকে মুসাফিরের পাথেয় পরিমাণ তোমার জন্য যথেষ্ট হওয়া উচিত এবং তুমি ধনীদের মজলিস থেকে বেঁচে থেকো।

তিরমিজি একে এই বলে দুর্বল (ضعفه) আখ্যায়িত করেছেন: এটি একটি গরিব (غريب) হাদিস, যা সালেহ ইবনে হাসানের হাদিস ছাড়া অন্য কোনো সূত্রে আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন: আমি মুহাম্মদকে—অর্থাৎ বুখারিকে—বলতে শুনেছি যে, সালেহ ইবনে হাসান হলেন মুনকারুল হাদিস (منكر الحديث)। সমাপ্ত।

আর এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف جداً), এতে বেশ কিছু ত্রুটি (علل) রয়েছে:

প্রথমত: সাঈদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-ওয়াররাক, তিনি দুর্বল (ضعيف), ইবনে মাইন এবং আবু দাউদ তাঁকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন।

দ্বিতীয়ত: আবু ইয়াহিয়া আল-হিমানি: তিনি হলেন আব্দুল হামিদ ইবনে আব্দুর রহমান, তিনি সত্যবাদী কিন্তু ভুল করেন (صدوق يخطئ), যেমনটি তাকরিব-এ উল্লেখ আছে।

তৃতীয়ত: সালেহ ইবনে হাসান, বুখারি বলেছেন: তিনি মুনকারুল হাদিস (منكر الحديث), আর নাসায়ি বলেছেন: তিনি বর্জনীয় (متروك)।

হাদিসটি হাকেম (৪/ ৩১২), ইবনে সাদ 'তাবাকাত' গ্রন্থে (৮/ ৫২), ইবনে আবিদ দুনিয়া 'ইসলাহুল মাল' গ্রন্থে (৩৭৬), বায়হাকি 'শুআবুল ঈমান' গ্রন্থে (৫/ ৬১৮১) এবং বাগাউয়ি 'শারহুস সুন্নাহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: "من رأى من فضل عليه في الخلق والرزق فلينظر إلى من هو أسفل منه ممن فضل عليه -أي هو- فإنه أجدو أن لا تزدروا (*) نعمة الله عليكم" (11).

قال: وروى عن عون بن عبد الله بن عتبة قال: قال: "صحبت الأغنياء فلم أر أحداً أكثر هماً مني أرى دابة خيراً من دابتي وثوباً خيراً من ثوبي، وصحبت الفقراء فاسترحت" انتهى.

--------------------------------------------

= السنة (12/ 44) من طريق سعيد بن محمد الوراق عن صالح بن حسان (1) عن عروة بن الزبير عن عائشة رضي الله عنها مرفوعاً.

وقال الحاكم: صحيح الإِسناد ولم يخرجاه.

فتعقبه الذهبي بقوله الوراق واهٍ.

ولا يخفى ما في كلام الحاكم والذهبي من الضعف فالحديث فيه صالح بن حسان وقد تقدم الكلام عليه.

ولكن سعيد بن محمد الوراق وأبو يحيى الحماني قد خولفا فيه خالفهما إبراهيم بن عيينة فرواه عن صالح بن حسان عن هشام بن عروة، عن أبيه عن عائشة مرفوعاً عند أبي يعلى (8/ 4610).

فجعل شيخ صالح بن حسان فيه هو هشام بن عروة، قال ابن عدي كما في الكامل (4/ 52): ومن قال عن صالح عن عروة أصح.

(*) تزدروا: تحتقروا.

(11) أخرجه البخاري (6490)، ومسلم (2963)، وأحمد (2/ 243) من حديث أبي هريرة بلفظ (إذا نظر أحدكم إلى من فضل عليه في المال والخلق فلينظر إلى من هو أسفل منه ممن فضل عليه).

وأخرجه مسلم (4/ 2275/ عبد الباقي)، والترمذي (3/ 35)، وابن ماجة (4142)، والبغوي في شرح السنة (4101) من طرق عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم انظروا إلى من أسفل منكم ولا تنظروا إلى من هو فوقكم فهو أجدر أن لا تزدروا نعمة الله عليكم".

_________

(1) وقع عند ابن أبي الدنيا صالح بن حيان وهو خطأ والصواب ما أثبتناه.
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন: "সৃষ্টিগত বৈশিষ্ট্য ও জীবিকার ক্ষেত্রে যে ব্যক্তি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখবে, সে যেন তার চেয়ে নিচের স্তরের কারো দিকে তাকায় যাদের ওপর তাকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করা হয়েছে; কেননা এটি আল্লাহর নেয়ামতকে তুচ্ছজ্ঞান না করার জন্য অধিক উপযোগী।" (১১)।

তিনি বলেন: আউন বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: "আমি ধনীদের সঙ্গ লাভ করেছি, কিন্তু নিজের চেয়ে বেশি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কাউকে দেখিনি; আমি দেখতাম যে অন্যের সওয়ারি আমার সওয়ারির চেয়ে ভালো এবং অন্যের পোশাক আমার পোশাকের চেয়ে উন্নত। এরপর আমি দরিদ্রদের সঙ্গ লাভ করলাম এবং প্রশান্তি পেলাম।" সমাপ্ত।

--------------------------------------------

= আস-সুন্নাহ (১২/ ৪৪), সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক-এর সূত্রে সালিহ বিন হাসান (১) থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন আয-যুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

আর আল-হাকিম বলেছেন: এটি সহিহ সনদ (صحيح الإِسناد) বিশিষ্ট, তবে তারা (বুখারি ও মুসলিম) এটি উদ্ধৃত করেননি।

আয-যাহাবি তার সমালোচনা করে বলেছেন যে, আল-ওয়াররাক অত্যন্ত দুর্বল (واهٍ)।

আল-হাকিম ও আয-যাহাবির বক্তব্যে যে দুর্বলতা (الضعف) রয়েছে তা অস্পষ্ট নয়; কারণ হাদিসটিতে সালিহ বিন হাসান রয়েছেন এবং তার ব্যাপারে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে।

তবে সাঈদ বিন মুহাম্মদ আল-ওয়াররাক এবং আবু ইয়াহইয়া আল-হিমানির বর্ণনার বিরোধিতা করা হয়েছে; ইব্রাহিম বিন উয়াইনা তাদের বিরোধিতা করেছেন এবং তিনি এটি আবু ইয়ালা-তে (৮/ ৪৬১০) সালিহ বিন হাসান থেকে, তিনি হিশাম বিন উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ফলে এখানে সালিহ বিন হাসানের শায়খ হিসেবে হিশাম বিন উরওয়াহকে নির্ধারণ করা হয়েছে। ইবনে আদি আল-কামিল (৪/ ৫২) গ্রন্থে বলেছেন: যারা সালিহ থেকে উরওয়াহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন তা অধিক বিশুদ্ধ (أصح)।

(*) তুচ্ছজ্ঞান করা (تزدروا): অবজ্ঞা করা।

(11) এটি বুখারি (৬৪৯০), মুসলিম (২৯৬৩) এবং আহমদ (২/ ২৪৩) আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের কেউ যখন এমন কারো দিকে তাকায় যাকে সম্পদ ও শারীরিক গঠনে তার চেয়ে শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে, তখন সে যেন তার চেয়ে নিচের স্তরের কারো দিকে তাকায় যাকে তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া হয়েছে।"

এবং এটি মুসলিম (৪/ ২২৭৫/ আব্দুল বাকি), তিরমিজি (৩/ ৩৫), ইবনে মাজাহ (৪১৪২) এবং বাগাওয়ি শারহুস সুন্নাহ (৪১০১) গ্রন্থে আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের চেয়ে নিচের স্তরের লোকদের দিকে তাকাও এবং তোমাদের চেয়ে উপরের স্তরের লোকদের দিকে তাকিও না; এটিই আল্লাহর নেয়ামতকে তোমাদের তুচ্ছজ্ঞান না করার জন্য অধিক উপযোগী।"

_________

(1) ইবনে আবিদ দুনিয়ার কিতাবে 'সালিহ বিন হাইয়ান' হিসেবে এসেছে, যা একটি ভুল (خطأ); সঠিক হলো যা আমরা ইতিপূর্বে সাব্যস্ত করেছি।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
ولما كان الناس متفاوتين في الأرزاق كان أهل الزمن الأول يتواسون بينهم، كان الأشعريون يعملون في خلط أزوادهم وقسمتهم لها بالسوية بينهم، ومدحهم النبي صلى الله عليه وسلم بقوله: "هم مني وأنا منهم" (12) وكان النبي صلى الله عليه وسلم يقسم بين أصحابه بالعدل في الفئ وغيره كما روينا في سنن أبي داود من حديث عوف بن مالك أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا آتاه الفئ قسمه في يومه فأعطى الآهِل (*) حظين وأعطى العَزَبَ (*) حظاً (13). وزاد في رواية فدعيت فأعطاني حظين وكان لى أهل ثم دعى بعدي عمار بن ياسر فأعطى حظاً واحداً (14).

قال الإمام أحمد: إنه حديث حسن، ورواه أبو محمد بن الجارود في المنتقى بلفظ "كان إذا جاءه شيء" (15) الحديث، ثم كان الصحابة بعده كذلك كما روينا في مسند أحمد عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: مضى علينا زمان وما يرى أحدنا أنه أحق بالدرهم والدينار من أخيه المسلم، ثم قال رسول

--------------------------------------------

(12) أخرجه البخاري (2486)، ومسلم (2500)، وأحمد (4/ 129)، والبيهقي (10/ 132)، والبغوي (2156) من، حديث أبي موسى الأشعري مطولًا مرفوعاً.

(*) الآهل: المتزوج وله أهل.

(**) العَزَب: غير المتزوج.

(13) إسناده صحيح:

أخرجه أبو داود (2953)، والحاكم (2/ 141)، وأحمد (6/ 25)، والبيهقي في السنن الكبرى (6/ 356) من طرق عن صفوان بن عمرو عن عبد الرحمن بن جبير بن نفير عن أبيه، عن عوف بن مالك مرفوعاً.

(14) إسناده صحيح:

أخرجه أبو داود (2953)، وابن الجارود (1112).

(15) إسناده صحيح:

أخرجه ابن الجارود في المنتقى (1112) من طريق صفوان بن عمرو عن عبد الرحمن بن جبير ابن نفير عن أبيه عن عوف بن مالك مرفوعاً بلفظ (كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا جاءه شيء قسمه من يومه فأعطى. . .)
যেহেতু মানুষের রিজিক বা জীবনোপকরণের ক্ষেত্রে তারতম্য রয়েছে, তাই পূর্ববর্তী যুগের লোকেরা নিজেদের মধ্যে সহমর্মিতা প্রকাশ করতেন। আশআরী গোত্রের লোকেরা তাদের পাথেয় একত্রিত করতেন এবং নিজেদের মধ্যে তা সমানভাবে বণ্টন করে নিতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের প্রশংসা করে বলেন: "তারা আমার অন্তর্ভুক্ত এবং আমিও তাদের অন্তর্ভুক্ত।" (১২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবীদের মধ্যে ফায় (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) ও অন্যান্য সম্পদ ইনসাফের সাথে বণ্টন করতেন, যেমনটি আমরা সুনান আবি দাউদ-এ আউফ ইবন মালেক থেকে বর্ণিত হাদিসে পেয়েছি যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখন ফায় আসত, তিনি তা সেদিনই বণ্টন করে দিতেন। তিনি বিবাহিত ব্যক্তিকে (*) দুই অংশ এবং অবিবাহিত ব্যক্তিকে (*) এক অংশ প্রদান করতেন (১৩)। অন্য এক বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে যে, (আউফ বলেন) অতঃপর আমাকে ডাকা হলো এবং তিনি আমাকে দুই অংশ দিলেন, কারণ আমি বিবাহিত ছিলাম; এরপর আমার পরে আম্মার ইবন ইয়াসিরকে ডাকা হলো এবং তাকে এক অংশ দেওয়া হলো (১৪)।

ইমাম আহমাদ বলেন: এটি একটি হাসান (حسن) হাদিস। আবু মুহাম্মদ ইবনুল জারুদ আল-মুনতাকা গ্রন্থে "যখনই তাঁর কাছে কিছু আসত" (১৫) শব্দে হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তাঁর পরবর্তী সাহাবায়ে কেরামও অনুরূপ ছিলেন, যেমনটি আমরা মুসনাদ আহমাদ-এ আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছি, তিনি বলেন: আমাদের ওপর এমন এক সময় অতিবাহিত হয়েছে যখন আমাদের কেউ মনে করত না যে সে তার মুসলিম ভাইয়ের চেয়ে দিরহাম ও দিনারের বেশি হকদার। অতঃপর রাসুল বললেন

--------------------------------------------

(১২) বুখারি (২৪৮৬), মুসলিম (২৫০০), আহমাদ (৪/১২৯), বায়হাকি (১০/১৩২) এবং বাগাবি (২১৫৬) আবু মুসা আল-আশআরী থেকে দীর্ঘভাবে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(*) আল-আহিল: বিবাহিত এবং যার পরিবার আছে।

(**) আল-আজাব: অবিবাহিত।

(১৩) এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح):

আবু দাউদ (২৯৫৩), হাকেম (২/১৪১), আহমাদ (৬/২৫) এবং বায়হাকি সুনান আল-কুবরা (৬/৩৫৬) গ্রন্থে বিভিন্ন সূত্রে সাফওয়ান ইবন আমর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন জুবাইর ইবন নুফাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আউফ ইবন মালেক থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

(১৪) এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح):

আবু দাউদ (২৯৫৩) এবং ইবনুল জারুদ (১১১২) বর্ণনা করেছেন।

(১৫) এর সনদ (إسناد) সহিহ (صحيح):

ইবনুল জারুদ আল-মুনতাকা (১১১২) গ্রন্থে সাফওয়ান ইবন আমর থেকে, তিনি আবদুর রহমান ইবন জুবাইর ইবন নুফাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আউফ ইবন মালেক থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে এই শব্দে বর্ণনা করেছেন: (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে যখনই কোনো কিছু আসত, তিনি তা সেদিনই বণ্টন করে দিতেন এবং প্রদান করতেন...)
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
الله صلى الله عليه وسلم: "إذا الناس تبايعوا بالعينة (16) واتبعوا أذناب البقر، وتركوا الجهاد في سبيل الله أنزل الله بهم بلاء فلم يرفعه عنهم حتى يراجعوا دينهم" (17) وذكره أبو الحسن بن القطان في باب أحاديث ذكر أن أسانيدها صحاح وعزاه إلى كتاب الزهد للإِمام أحمد فلما آل الحال إلى أن كثيراً من أصحاب الأموال

--------------------------------------------

(16) العينة أن يبيع شيئاً من غيره بثمن مؤجل ويسلمه إلى المشتري، ثم يشتريه قبل قبض الثمن بثمن أقل من ذلك القدر يدفعه نقداً.

(17) صححه الألباني لمجموع طرقه:

وإني ناقل كلام الشيخ الألباني بنصه ونصه كما جاء في السلسلة الصحيحة (11): قال حفظه الله:

وهو حديث صحيح لمجموع طرقه، وقد وقفت على ثلاث منها كلها عن ابن عمر مرفوعاً:

الأولى: عن إسحاق أبي عبد الرحمن أن عطاء الخراساني حدثه أن نافعاً حدثه عن ابن عمر قال: فذكره.

أخرجه أبو داود (3462)، والدولابي في الكنى (2/ 65)، وابن عدي في "الكامل" (256/ 2)، والبيهقي في "السنن الكبرى" (5/ 316)، وتابعه فضالة بن حصين عن أيوب عن نافع به.

رواه ابن شاهين في جزء من "الأفراد" (1/ 1)، وقال "تفرد به فضالة".

وقال البيهقي:

" روى ذلك من وجهين عن عطاء بن أبي رباح عن ابن عمر" يشير بذلك إلى تقوية الحديث، وقد وقفت على أحد الوجهين المشار إليهما وهو الطريق:

الثانية: عن أبي بكر بن عياش عن الأعمش عن عطاء بن أبي رباح عن ابن عمر.

أخرجه أحمد (4825)، وفي الزهد (20/ 84/ (1) 2)، والطبراني في الكبير (3/ 207/ 1)، وأبو أمية الطرسوسي في "مسند ابن عمر (202/ 1).

والوجه الثاني أخرجه الطبراني في الكبير (3/ 107/ 1) عن ليث عن عبد الملك بن أبي سليمان عن عطاء، وأخرجه ابن أبي الدنيا في "العقوبات" (1/ 79) والروياني في "مسنده" (247/ 2) من وجه آخر عن ليث عن عطاء.

أسقط من بينهما ابن أبي سليمان، وكذا رواه أبو نعيم في "الحلية" (1/ (313) 314).

الثالثة: عن شهر بن حوشب عن ابن عمر، رواه أحمد (5007). =
আল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন মানুষ ‘ঈনাহ্’ (عينة) পদ্ধতিতে লেনদেন করবে, গরুর লেজ আঁকড়ে ধরবে এবং আল্লাহর পথে জিহাদ করা ছেড়ে দিবে, তখন আল্লাহ তাদের ওপর মুসিবত নাজিল করবেন এবং তা ততক্ষণ পর্যন্ত সরিয়ে নেবেন না, যতক্ষণ না তারা তাদের দ্বীনে ফিরে আসে।" (১৭) আবু হাসান ইবনুল কাত্তান এটি সেই অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি সেসব হাদিস বর্ণনা করেছেন যেগুলোর সনদসমূহ (أسانيد) সহিহ (صحاح); এবং তিনি একে ইমাম আহমদের 'কিতাবুজ জুহদ'-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। যখন অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছালো যে অনেক সম্পদশালী ব্যক্তি...

--------------------------------------------

(১৬) ‘ঈনাহ্’ (العينة) হলো অন্যের কাছে কোনো বস্তু বাকিতে উচ্চমূল্যে বিক্রি করে তা ক্রেতার কাছে হস্তান্তর করা, অতঃপর সেই মূল্য পরিশোধের আগেই বিক্রেতা কর্তৃক তা কম মূল্যে নগদ অর্থে পুনরায় ক্রয় করে নেয়া।

(১৭) আলবানী একে এর সকল সূত্রের (طرق) সমষ্টির ভিত্তিতে সহিহ (صححه) বলে আখ্যায়িত করেছেন:

আমি এখানে শায়খ আলবানীর বক্তব্যের মূল পাঠ তুলে ধরছি, যা 'সিলসিলাহ সহিহা' (১১) গ্রন্থে এসেছে। তিনি (হাফিযাহুল্লাহ) বলেছেন:

এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস এর সকল সূত্রের (طرق) সমষ্টির কারণে। আমি এর তিনটি সূত্র (طرق) পেয়েছি, যার সবগুলোই ইবনে উমর থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণিত:

প্রথমটি: ইসহাক আবু আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত যে, আতা আল-খুরাসানি তাকে হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, নাফে' তাকে ইবনে উমর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি এটি উল্লেখ করেন।

এটি বর্ণনা করেছেন আবু দাউদ (৩৪৬২), আদ-দুলাবি 'আল-কুনা' (২/৬৫) গ্রন্থে, ইবনে আদি 'আল-কামিল' (২৫৬/২) গ্রন্থে এবং বায়হাকি 'আস-সুনানুল কুবরা' (৫/৩১৬) গ্রন্থে। ফাদালাহ ইবনে হুসাইন একে আইয়ুব থেকে নাফে'-এর মাধ্যমে অনুসরণ (تابعه) করেছেন।

এটি ইবনে শাহিন 'আল-আফরাদ'-এর এক অংশে (১/১) বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "ফাদালাহ এককভাবে (تفرد) এটি বর্ণনা করেছেন।"

বায়হাকি বলেন:

"এটি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে ইবনে উমরের মাধ্যমে দুটি দিক থেকে বর্ণিত হয়েছে।" এর মাধ্যমে তিনি হাদিসটির শক্তি বৃদ্ধির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। আমি ইঙ্গিতকৃত দুটি দিকের একটি পথ (طريق) পেয়েছি, আর তা হলো:

দ্বিতীয়টি: আবু বকর ইবনে আইয়াশ থেকে, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আতা ইবনে আবি রাবাহ থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে।

এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (৪৮২৫), এবং তার 'জুহদ' (২০/৮৪/২ (১)) গ্রন্থে, তাবারানি তার 'কাবীর' (৩/২০৭/১) গ্রন্থে এবং আবু উমাইয়্যাহ আত-তারসুসি 'মুসনাদ ইবনে উমর' (২০২/১) গ্রন্থে।

আর দ্বিতীয় দিকটি তাবারানি তার 'কাবীর' (৩/১০৭/১) গ্রন্থে লাইস থেকে, তিনি আব্দুল মালিক ইবনে আবি সুলাইমান থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেছেন। এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া 'আল-উকুবাত' (১/৭৯) গ্রন্থে এবং রুয়ানি তার 'মুসনাদ' (২৪৭/২) গ্রন্থে অন্য একটি দিক থেকে লাইস থেকে আতার মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

তাদের মাঝ থেকে ইবনে আবি সুলাইমান বাদ পড়েছেন; আবু নুয়াইমও 'আল-হিলইয়াহ' (১/(৩১৩) ৩১৪) গ্রন্থে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

তৃতীয়টি: শাহর ইবনে হাওশাব থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে; এটি বর্ণনা করেছেন আহমদ (৫০০৭)। =
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
ضنوا (18) بأموالهم حتى بالزكوات المفروضة عليهم اختار بعضهم الانفراد بنفسه وترك الرغبة في الأهل حتى كان بعض من لقيناه من أهل العلم ربما قال في دعائه: رب ذرني فرداً وأنت خير الوارثين، اختار أمنه لقلة العيال كما رَوينا من حديث بكر بن عبد الله المزني عن أبيه عبد الله بن عمرو بن هلال مرفوعاً: "قلة العيال أحد اليسارين" (19) ولا يصح إسناده. ورويناه في مشيخة القاضي أبي بكر الأنصاري في آخر ترجمة أبي الغنايم بن المأمون عن سفيان الثوري قال: كثرة

--------------------------------------------

= ثم وجدت له شاهداً من رواية بشير بن زياد الخراساني: ثنا ابن جريج عن عطاء عن جابر: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم فذكره.

أخرجه ابن عدي في ترجمة بشير هذا من "الكامل" وقال "وهو غير معروف، في حديثه بعض النكرة"، وقال الذهبي "ولم يترك" انتهى كلام الشيخ الألباني حفظه الله.

قلت: ولفظ المصنف لأحمد في مسنده.

(18) ضنوا: بخلوا.

(19) إسناده ضعيف:

قال العراقي في تعليقه على الإِحياء (2/ 24)، والسخاوي في المقاصد (777)، والعجلوني في كشف الخفاء (1888)، والشوكاني في الفوائد المجموعة (72) أخرجه أبو منصور الديلمي في مسند الفردوس من حديث عبد الله بن عمرو بن هلال المزني بسند ضعيف ا. هـ.

وأخرجه القضاعي في مسند الشهاب (1/ 54) من طريق إسحاق بن إبراهيم الشامي قال: نا علي بن حرب قال: نا موسى بن داود الهاشمي قال: نا ابن لهيعة عن محمد بن عبد الرحمن بن نوفل عن عامر بن عبد الله بن الزبير عن أبيه عن عل رضي الله عنه مرفوعاً بلفظ "التدبير نصف العيش والتودد نصف العقل، والهمُّ نصف الهرم، وقلة العيال أحد اليسارين".

قال الشيخ الألباني في الضعيفة (4/ 64): وهذا إسناد ضعيف، ابن لهيعة واسمه عبد الله ضعيف.

وإسحاق بن إبراهيم الشامي، لم أعرفه، ويحتمل أن يكون واحداً من هؤلاء:

1 - إسحاق بن إبراهيم بن العلاء الحمصي المعروف بابن زبريق.

2 - إسحاق بن إبراهيم بن يزيد أبو النضر الدمشقي مولى عمر بن عبد العزيز. =
তারা তাদের সম্পদ এমনকি তাদের ওপর ফরযকৃত যাকাতের ক্ষেত্রেও কার্পণ্য করেছিল (ضنوا)। তাদের মধ্যে কেউ কেউ নির্জনতা বেছে নিয়েছিলেন এবং পরিবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করেছিলেন, এমনকি আমাদের সাক্ষাৎ পাওয়া কোনো কোনো আলেম হয়তো নিজের দোয়ায় বলতেন: "হে আমার রব! আমাকে একা রেখে দিন, আর আপনিই তো শ্রেষ্ঠ উত্তরাধিকারী।" অল্প পরিবারের কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা বেছে নিতেন, যেমনটি আমরা বকর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুযানী থেকে তার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হিলাল থেকে মারফূ (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণিত হাদিসে পেয়েছি: "অল্প পরিবার দুই সচ্ছলতার একটি।" তবে এর সনদ (إسناد) সহিহ নয়। আমরা এটি কাযী আবু বকর আল-আনসারীর 'মাশিয়াখাহ' গ্রন্থে আবু আল-গানায়িম ইবনুল মামুনের জীবনী আলোচনার শেষে সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে বর্ণনা করেছি যে, তিনি বলেন: "অধিক..."

--------------------------------------------

= অতঃপর আমি বাশির ইবনে যিয়াদ আল-খুরাসানীর বর্ণনা থেকে এর একটি সমর্থক বর্ণনা (شاهداً) পেয়েছি: ইবনে জুরাইজ আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন আতা থেকে, তিনি জাবির থেকে: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি... এরপর তিনি তা উল্লেখ করেন।

ইবনে আদি এই বাশিরের জীবনীর অধীনে 'আল-কামিল' গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "সে অপরিচিত (غير معروف), তার হাদিসে কিছু অস্বীকৃত বিষয় (النكرة) রয়েছে।" যাহাবী বলেছেন: "তাকে বর্জন করা হয়নি (لم يترك)।" শায়খ আলবানী (আল্লাহ তাকে হিফাযত করুন)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: মুসান্নিফের শব্দগুলো মুসনাদে আহমাদ-এর অনুরূপ।

(18) যন্নু (ضنوا): তারা কার্পণ্য করেছিল (بخلوا)।

(19) এর সনদ (إسناده) দুর্বল (ضعيف):

ইরাকী ইহয়াউ উলুমিদ দ্বীন-এর ওপর তাঁর তালীক-এ (২/২৪), সাখাভী আল-মাকাসিদ-এ (৭৭৭), আজলূনী কাশফুল খাফা-তে (১৮৮৮) এবং শাওকানী আল-ফাওয়ায়েদ আল-মাজমুআহ-তে (৭২) বলেছেন যে, আবু মানসুর আদ-দায়লামী মুসনাদুল ফিরদাউস-এ আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে হিলাল আল-মুযানী থেকে একটি দুর্বল সনদ (سند ضعيف)-এর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। (সমাপ্ত)

কুদায়ী মুসনাদুশ শিহাব-এ (১/৫৪) ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আশ-শামীর পথ (طريق) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে হারব আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসা ইবনে দাউদ আল-হাশেমী আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইবনে লাহিয়াহ আমাদের বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে নাওফাল থেকে, তিনি আমের ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে যুবাইর থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে মারফূ (مرفوعاً) হিসেবে এই শব্দে বর্ণনা করেন: "পরিমিত ব্যয় অর্ধেক জীবন, মানুষের সাথে সদ্ভাব অর্ধেক বুদ্ধি, দুশ্চিন্তা অর্ধেক বার্ধক্য এবং অল্প পরিবার দুই সচ্ছলতার একটি।"

শায়খ আলবানী আদ-দঈফাহ গ্রন্থে (৪/৬৪) বলেছেন: এটি একটি দুর্বল (ضعيف) সনদ (إسناد); ইবনে লাহিয়াহ, যার নাম আব্দুল্লাহ, তিনি দুর্বল (ضعيف)।

আর ইসহাক ইবনে ইবরাহিম আশ-শামী, তাকে আমি চিনতে পারিনি। সম্ভাবনা আছে যে সে এদের মধ্যে একজন হতে পারে:

1 - ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনুল আলা আল-হিমসী, যিনি ইবনে বিরিক নামে পরিচিত।

2 - ইসহাক ইবনে ইবরাহিম ইবনে ইয়াযীদ আবু আন-নযর আদ-দিমাশকী, যিনি ওমর ইবনে আব্দুল আজিজের আযাদকৃত গোলাম। =
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
العيال شؤم فمن تهيأ لطلب الدنيا فليتهيأ للذل، وكثيراً ما يسأل الناس عن حديث حذيفة مرفوعاً "خيركم في المائتين كل خفيف الحاذ. قيل: يا رسول الله ومن خفيف الحاذ؟ قال: من لا أهل له ولا مال" وفي رواية: "ولا ولد" (20) وهو حديث ضعيف رويناه في مسند أبي يعلى الموصلي، قال أبو حاتم الرازي: إنه

--------------------------------------------

= والأول: ضعيف والآخر حسن الحديث، وقد جزم المناوي بأنه هو ولم يظهر لي وجهه والله أعلم.

والحديث رواه أيضاً الديلمي في "مسند الفردوس" من حديث أنس بن مالك، قال المناوي:

" قال العراقي: فيه خلاد بن عيسى، جهله العقيلي، ووثقه ابن معين".

قلت: -أي الشيخ الألباني- هو عند الديلمي (2/ 1/ 50) وكذا الخطيب بعضه (12/ 11)، من طريق أبي الحسن يعقوب بن إسحاق بن إبراهيم المخرمي: حدثنا علي بن عيسى كاتب عكرمة القاضي: حدثنا خلاد بن عيسى عن ثابت عن أنس مرفوعاً به.

وفيه علة أخرى، وهي ضعف يعقوب هذا، فقد ترجمه الخطيب (14/ 290)، وروى عن الدارقطني أنه ضعيف، وعن ابن المنادي:

" كتبنا عنه في حياة جدي، ثم ظهر لنا من انبساطه في تصريح الكذب ما أوجب التحذير عنه، وذلك بعد معاتبة وتوقيف متواتر، فرمينا كل ما كتبنا عنه نحن وعدة من أهل الحديث".

وعلى بن عيسى كأنه مجهول، فإن الخطيب أورده في "التاريخ" (12/ 11) من أجل هذا الحديث، ولم يذكر فيه جرحاً ولا تعديلًا.

(20) منكر:

أخرجه أبو يعلى -كما في الجامع للسيوطي-، والعقيلي في "الضعفاء" (2/ 69)، وابن عدي في الكامل (3/ 1037)، والخطابي في العزلة (ص - 36)، والخطيب في "التاريخ" (6/ (197) 198، 11/ 225)، وابن الجوزي في الواهيات (2/ 635) من طريق رواد بن الجراح، عن سفيان الثوري عن ربعي بن حراش عن حذيفة مرفوعاً به.

قلت: وسنده ضعيف، وآفته رواد بن الجراح، قال البخاري "كان قد اختلط، لا يكاد يقوم حديثه، ليس له كثير حديث قائم". وقال الساجي: "يتفرد بحديث ضعفه الحفاظ فيه وخطؤوه وهو: خيركم بعد المائتين". =
পরিবার-পরিজন অমঙ্গলের কারণ, সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়া অন্বেষণের জন্য প্রস্তুত হয় সে যেন লাঞ্ছনার জন্য প্রস্তুত হয়। মানুষ প্রায়ই হুযাইফা (রা.) বর্ণিত মারফু (مرفوعاً) হাদিসটি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে: "দুইশ হিজরির পরে তোমাদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো সেই ব্যক্তি যার পিঠ হালকা (পরিবার ও সম্পদহীন)। জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! হালকা পিঠ বিশিষ্ট ব্যক্তি কে? তিনি বললেন: যার পরিবার নেই এবং সম্পদ নেই।" অন্য এক বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "এবং সন্তান নেই" (২০)। এটি একটি দুর্বল (ضعيف) হাদিস যা আমরা মুসনাদ আবু ইয়ালা আল-মাওসিলিতে বর্ণনা করেছি। আবু হাতিম আর-রাজি বলেছেন: তিনি

--------------------------------------------

= প্রথমজন: দুর্বল (ضعيف) এবং অন্যজন হাসানুল হাদিস (حسن الحديث), আল-মুনাউই দৃঢ়তার সাথে বলেছেন যে এটি তিনিই, তবে আমার কাছে এর কারণ স্পষ্ট নয়, আল্লাহ ভালো জানেন।

হাদিসটি আদ-দাইলামিও 'মুসনাদুল ফিরদাউস' গ্রন্থে আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন। আল-মুনাউই বলেছেন:

"আল-ইরাকি বলেছেন: এতে খাল্লাদ ইবনে ঈসা রয়েছেন, আল-উকাইলী তাকে অপরিচিত (جهله) বলেছেন এবং ইবনে মাঈন তাকে নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেছেন।"

আমি (অর্থাৎ শায়খ আলবানী) বলছি: এটি আদ-দাইলামির নিকট (২/১/৫০) এবং আল-খাতিবের নিকট এর কিছু অংশ (১২/১১) রয়েছে, যা আবুল হাসান ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম আল-মাখরামি-এর সূত্রে বর্ণিত: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে ঈসা, যিনি কাজী ইকরিমার কাতিব (লেখক): আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন খাল্লাদ ইবনে ঈসা, সাবিত থেকে, তিনি আনাস (রা.) থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে।

এতে অন্য একটি ত্রুটি (علة) রয়েছে, আর তা হলো এই ইয়াকুবের দুর্বলতা (ضعف)। আল-খাতিব তার জীবনী আলোচনা করেছেন (১৪/২৯০) এবং আদ-দারা কুতনি থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি দুর্বল (ضعيف)। ইবনুল মুনাদী থেকে বর্ণিত:

"আমরা আমার দাদার জীবদ্দশায় তার থেকে লিখেছিলাম, পরবর্তীতে তার মিথ্যাচারের (الكذب) স্পষ্ট প্রকাশ আমাদের নিকট প্রকাশ পায়, যা তার থেকে সতর্ক করার আবশ্যক করে দেয়। এটি অনেক অনুযোগ এবং ক্রমাগত বিরতির পর ঘটেছিল, ফলে আমি এবং হাদিস বিশারদদের একদল তার থেকে যা কিছু লিখেছিলাম তা ফেলে দিয়েছি।"

এবং আলী ইবনে ঈসা সম্ভবত অপরিচিত (مجهول)। কেননা আল-খাতিব তাকে 'তারিখ' গ্রন্থে (১২/১১) এই হাদিসের কারণে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তার সম্পর্কে কোনো প্রকার জরাহ (جرح) বা তাদিল (تعديل) উল্লেখ করেননি।

(20) মুনকার (منكر):

এটি আবু ইয়ালা বের করেছেন -যেমনটি সুয়ুতির আল-জামি' গ্রন্থে রয়েছে-, এবং আল-উকাইলী 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে (২/৬৯), ইবনে আদি 'আল-কামিল' গ্রন্থে (৩/১০৩৭), আল-খাত্তাবি 'আল-উযলাহ' গ্রন্থে (পৃ. ৩৬), আল-খাতিব 'তারিখ' গ্রন্থে (৬/১৯৭, ১৯৮; ১১/২২৫), এবং ইবনুল জাওযি 'আল-ওয়াহিয়াত' গ্রন্থে (২/৬৩৫) রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি রিবঈ ইবনে হিরাশ থেকে, তিনি হুযাইফা থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে।

আমি বলছি: এর সনদ (سنده) দুর্বল (ضعيف), আর এর সমস্যা হলো রাওয়াদ ইবনুল জাররাহ। বুখারি বলেছেন: "তিনি শেষ বয়সে বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিলেন, তার হাদিস সঠিক হয় না বললেই চলে, তার বর্ণিত সঠিক হাদিস খুব একটা নেই।" আস-সাজি বলেছেন: "তিনি এমন একক হাদিস বর্ণনা করেন যা হাফেজগণ দুর্বল (ضعفه) বলেছেন এবং ভুল (خطؤوه) হিসেবে গণ্য করেছেন, আর তা হলো: দুইশ বছরের পরে তোমাদের মধ্যে উত্তম ব্যক্তি..."।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
حديث منكر لا يشبه حديث الثقاة ولم ير أكثر العلماء والصلحاء ترك التزويج والانفراد للمحتاج إليه بل جروا على ما كان عليه الصدر الأول من الترغيب في اتخاذ الأهل وإن أدى إلى ذلك، فمنهم من كان يكتسب بيده وأحلُّ ما أكل الرجل من كسب يده، ومنهم من يتجر مع الرغبة في العلم كعبد الله بن المبارك، ومنهم من كان يأخذ جوائز الأمراء للحاجة لذلك، ومنهم من كان يستدين لحاجته بنية الوفاء، ومنهم من كان لا يرى الدين ويصبر على نفسه حتى يأتيه رزقه كعتبة الغلام، وقد استدان النبي صلى الله عليه وسلم لحاجة المسلمين ولعياله، واستدان جماعة من الصحابة كما سيأتي معتمدين على إعانة الله للمديون إذا استدان بنية الوفاء، واستعان بما ورد عن النبي صلى الله عليه وسلم لوفاء الدين من الدعاء. وقد استخرت الله تعالى في جمع ما ورد في ذلك ورتبته على سبعة أبواب:

الباب الأول: في النهي عن الاستدانة والتشديد في ذلك.

الباب الثاني: في ترغيب أصحاب الأموال في الإِقراض وما فيه من الثواب.

الباب الثالث: في إنتظار المعسر والوضع له.

الباب الرابع: فيمن رغب في الاستدانة طلباً للعون والإعانة.

الباب الخامس: في أن نفس المؤمن مرتهنة بدينه حتى يقضى عنه.

الباب السادس: في تعوذه صلى الله عليه وسلم من غلبة الدين وضلعه ومن الفقر والقلة والذلة.

الباب السابع: في الأدعية المأثورة لوفاء الدين وهو المقصود.

وسميته "قرة العين بالمسرة بوفاء الدين" وإلى الله أرغب وأبتهل في النفع به فهو خير من يُسأل وحسبنا الله ونعم الوكيل.

--------------------------------------------

= وقال ابن أبي حاتم في العلل (2/ 132) عن أبيه: "حديث باطل" وقال في موضع آخر (2/ 420): "حديت منكر".

قال الذهبي في "الميزان" (2/ 56) عن أبي حاتم قال: "منكر لا يشبه حديث الثقات، وإنما كان بدو هذا الخبر فيما ذكر لي أنّ رجلًا جاء إلى روّاد فذكر له هذا الحديث فاستحسنه، وكتبه، ثم بعد حدث به، يظنُّ أنه من سماعه".
এটি একটি অস্বীকৃত (منكر) হাদিস, যা নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিদের হাদিসের সদৃশ নয়। অধিকাংশ আলেম ও নেককার ব্যক্তিগণ প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও বিবাহ বর্জন এবং একাকী থাকাকে সমীচীন মনে করেননি; বরং তারা প্রথম যুগের (সালাফদের) সেই রীতির অনুসরণ করেছেন যেখানে পরিবার গঠনের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে, যদিও তা ঋণের দিকে ধাবিত করে। তাদের মধ্যে কেউ নিজ হাতে উপার্জন করতেন, আর মানুষের জন্য নিজের হাতের উপার্জিত খাদ্যই সর্বোত্তম হালাল খাদ্য। তাদের কেউ কেউ জ্ঞানের প্রতি অনুরাগী হওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা করতেন, যেমন আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক। তাদের কেউ কেউ বিশেষ প্রয়োজনে আমীরদের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত পুরস্কার গ্রহণ করতেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ ঋণ পরিশোধের নিয়তে নিজের প্রয়োজনে ঋণ গ্রহণ করতেন। আবার কেউ কেউ ঋণ গ্রহণ করা পছন্দ করতেন না এবং নিজের ওপর ধৈর্য ধারণ করতেন যতক্ষণ না আল্লাহর পক্ষ থেকে রিজিক পৌঁছাত, যেমন উতবাহ আল-গুলাম। নবি (সা.) মুসলিমদের প্রয়োজনে এবং নিজের পরিবারের জন্য ঋণ গ্রহণ করেছেন। সাহাবীদের একটি দলও ঋণ গ্রহণ করেছেন—যেমন সামনে বর্ণিত হবে—তারা ঋণ পরিশোধের নিয়তে ঋণগ্রহীতার জন্য আল্লাহর সাহায্যের ওপর নির্ভর করতেন। নবি (সা.) থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য বর্ণিত দোয়াসমূহের মাধ্যমে তিনি সাহায্য প্রার্থনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তা সংকলন করার জন্য আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং একে সাতটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি:

প্রথম অধ্যায়: ঋণ গ্রহণ করতে নিষেধ এবং এ ব্যাপারে কঠোরতা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অধ্যায়: সম্পদশালীদের ঋণ দানে উৎসাহিত করা এবং এর সওয়াব প্রসঙ্গে।

তৃতীয় অধ্যায়: অভাবগ্রস্তকে সময় দেওয়া এবং ঋণ মওকুফ করা প্রসঙ্গে।

চতুর্থ অধ্যায়: সাহায্য প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে যারা ঋণ গ্রহণে আগ্রহী তাদের প্রসঙ্গে।

পঞ্চম অধ্যায়: ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত মুমিনের আত্মা তার ঋণের সাথে আবদ্ধ থাকে এ প্রসঙ্গে।

ষষ্ঠ অধ্যায়: ঋণের প্রাবল্য, অভাব, স্বল্পতা ও লাঞ্ছনা থেকে নবি (সা.)-এর আশ্রয় প্রার্থনা প্রসঙ্গে।

সপ্তম অধ্যায়: ঋণ পরিশোধের জন্য বর্ণিত দোয়া প্রসঙ্গে, আর এটিই মূল উদ্দেশ্য।

আমি এই সংকলনের নামকরণ করেছি "কুরাত আল-আইন বিল মাসাররাতি বি ওয়াফা আদ-দ্বীন"। আমি আল্লাহর কাছে এর মাধ্যমে উপকার লাভের আশা ও প্রার্থনা করছি, কেননা যাঁর কাছে চাওয়া হয় তিনি তাদের মধ্যে সর্বোত্তম। আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

--------------------------------------------

= ইবনে আবি হাতিম আল-ইলাল (২/১৩২) গ্রন্থে তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন: "এটি একটি ভিত্তিহীন (باطل) হাদিস"। তিনি অন্য স্থানে (২/৪২০) বলেছেন: "এটি একটি অস্বীকৃত (منكر) হাদিস"|

যাহাবি আল-মিজান (২/৫৬) গ্রন্থে আবু হাতিম থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: "এটি অস্বীকৃত (منكر), যা নির্ভরযোগ্য (الثقات) রাবিদের হাদিসের সদৃশ নয়। এই সংবাদটি প্রকাশের মূল কারণ যা আমাকে জানানো হয়েছে তা হলো, রওয়াদ নামক এক ব্যক্তির কাছে একজন লোক এসে হাদিসটি বর্ণনা করলে তিনি তা পছন্দ করেন এবং লিখে নেন। এরপর তিনি এটি বর্ণনা করতে থাকেন এই মনে করে যে তিনি তা (সরাসরি) শুনেছেন।"
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌الباب الأول

في النهي عن الاستدانة والتشديد فيه

أخبرني محمد بن إسماعيل بن إبراهيم بن الخباز الدمشقي رحمه الله بقراءتي عليه بها قال: أنبأنا المسلم بن محمد، أنبأنا حنبل، أنبأنا هبة الله بن محمد، أنبأنا الحصين بن علي، أنبأنا محمد بن جعفر، حدثنا عبد الله بن أحمد قال: حدثني أبي، حدثنا أبو عبد الرحمن، حدثنا حيوة، أخبرني بكر بن عمرو أن شعيب بن زرعة أخبره قال: حدثني عقبة بن عامر الجهني رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لأصحابه: "لا تخيفوا أنفسكم -أو قال الأنفس- فقيل": يا رسول الله، وما نخيف أنفسنا؟ قال: الدين" (21) وفي رواية لأحمد

--------------------------------------------

(21) إسناده حسن:

أخرجه أحمد (4/ 154)، والحاكم (2/ 26)، وأبو يعلى (1739)، والبيهقي في السنن الكبرى (5/ 355)، وفي شعب الإِيمان (5552) من طريق بكر بن عمرو عن شعيب بن زرعة عن عقبة بن عامر مرفوعاً وهذا إسناد حسن: بكر بن عمرو لخص ابن حجر حال في التقريب بقوله: صدوق.

وشعيب بن زرعة، ذكره البخاري في التاريخ الكبير (4/ 219)، وابن أبي حاتم في الجرح والتعديل (4/ 346)، ولم يذكرا فيه جرحاً ولا تعديلًا.

وأورده ابن حجر في تعجيل المنفعة (452)، وقال: روى عنه بكر بن عمرو، وأبو قبيل المعافري، ويزيد بن أبي حبيب، وعبد الكريم بن الحارث. قال البخاري سمع عقبة ووثقه ابن حبان ا. هـ. فحديثه على الحسن إن شاء الله.

ولفظ الحاكم: "لا تحتفوا أنفسكم فقيل يا رسول الله وما نحتف أنفسنا؟ قال بالدين".

ولفظ البيهقي في الشعب: "لا تخنقوا الأنفس أو قال: أنفسكم" فقيل: وما نخنق قال: الدين.

والحديث حسنه الشيخ الألباني كما في صحيح الجامع رقم (7259).
প্রথম পরিচ্ছেদ

ঋণ গ্রহণ করতে নিষেধ করা এবং এ ব্যাপারে কঠোরতা অবলম্বন প্রসঙ্গে

মুহাম্মদ ইবন ইসমাঈল ইবন ইবরাহীম ইবন আল-খাব্বায আদ-দিমাশকী (রহিমাহুল্লাহ) দামেস্কে তাঁর নিকট আমার কিরাআত (পাঠ) করার সময় আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসলিম ইবন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হানবাল, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিবাতুল্লাহ ইবন মুহাম্মদ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন ইবন আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন জাফর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ ইবন আহমাদ, তিনি বলেন: আমার পিতা আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদুর রহমান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হায়ওয়াহ, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন বাকর ইবন আমর যে, শুআইব ইবন যুরআহ তাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উকবাহ ইবন আমির আল-জুহানি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন: "তোমরা নিজেদেরকে ভীত-সন্ত্রস্ত করো না -অথবা তিনি বলেছেন: আত্মাগুলোকে-।" তখন জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আমরা নিজেদের ভীত-সন্ত্রস্ত করি? তিনি বললেন: "ঋণ (গ্রহণের মাধ্যমে)।" (২১) এবং আহমাদ-এর একটি বর্ণনায় রয়েছে:

--------------------------------------------

(২১) এর সনদটি হাসান (حسن):

ইমাম আহমাদ (৪/ ১৫৪), হাকিম (২/ ২৬), আবু ইয়ালা (১৭৩৯), বায়হাকি তাঁর সুনানুল কুবরা (৫/ ৩৫৫) এবং শুআবুল ঈমান (৫৫৫২) গ্রন্থে বাকর ইবন আমরের সূত্রে শুআইব ইবন যুরআহ থেকে, তিনি উকবাহ ইবন আমির থেকে মারফু (مرفوع) হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আর এই সনদটি হাসান (حسن): ইবন হাজার 'তাকরিব' গ্রন্থে বাকর ইবন আমরের অবস্থা সংক্ষেপে উল্লেখ করে তাকে সত্যবাদী (صدوق) বলেছেন।

শুআইব ইবন যুরআহ সম্পর্কে ইমাম বুখারী তাঁর আত-তারীখ আল-কাবীর (৪/ ২১৯) গ্রন্থে এবং ইবন আবি হাতিম আল-জারহ ওয়াত তাদিল (৪/ ৩৪৬) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে তাঁরা তাঁর বিষয়ে কোনো জারহ বা সমালোচনা (جرح) কিংবা তাদিল বা প্রশংসা (تعديل) উল্লেখ করেননি।

ইবন হাজার তাঁকে তাজীলুল মানফায়া (৪৫২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তাঁর থেকে বাকর ইবন আমর, আবু কুবাইল আল-মাআফিরি, ইয়াযিদ ইবন আবি হাবিব এবং আবদুল কারীম ইবন আল-হারিস বর্ণনা করেছেন। ইমাম বুখারী বলেছেন, তিনি উকবাহ থেকে হাদীস শুনেছেন এবং ইবন হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য (وثقة) বলেছেন। সুতরাং ইনশাআল্লাহ তাঁর বর্ণিত হাদীসটি হাসান (حسن) পর্যায়ের।

হাকিম-এর শব্দাবলি হলো: "তোমরা নিজেদের হরণ করো না।" জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল! কীভাবে আমরা নিজেদের হরণ করি? তিনি বললেন: "ঋণের মাধ্যমে।"

বায়হাকির শব্দাবলি শুআবুল ঈমান-এ রয়েছে: "তোমরা প্রাণগুলোকে -অথবা বলেছেন: নিজেদেরকে- শ্বাসরুদ্ধ করো না।" জিজ্ঞাসা করা হলো: কিসের মাধ্যমে শ্বাসরুদ্ধ করব? তিনি বললেন: "ঋণ।"

শায়খ আলবানি হাদীসটিকে হাসান (حسن) বলেছেন, যেমনটি সহীহুল জামি'-এর ৭২৫৯ নং হাদীসে এসেছে।
(খণ্ড: ১) কুররাতুল আইনি বিল মাসাররাতি বি ওয়াফায়িদ দ্বীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
"لا تخيفوا أنفسكم بعد أمنها" (22) هذا حديث صحيح رواه الحاكم في المستدرك من رواية عبد الله بن وهب عن حيوة بن شريح وقال: هذا حديث صحيح الإِسناد ولم يخرجاه.

أخبرنا أبو العباس أحمد بن محمد بن عبد الرحمن المرداوي رحمه الله بظاهر دمشق قال: أنبأنا الإِمام قاضي المسلمين أبو الفرج عبد الرحمن بن أبي عمر وآخرون قالوا: أنبأنا عمر بن محمد بن معمر البغدادي، أنبأنا هبة الله بن محمد الشيباني، أنبأنا أبو طالب بن غيلان، حدثنا محمد بن عبد الله الشافعي قال: حدثنا محمد بن غالب قال: حدثنا عبد الصمد قال: حدثنا مسلم بن خالد، عن العلاء، عن أبيه، عن أبي كثير، عن محمد بن جحش رضي الله عنه قال: كنا مع النبي صلى الله عليه وسلم بفناء المسجد إذ رفع رأسه إلى السماء ثم خفض فضرب بيده على جبهته ثم قال: سبحان الله ماذا أنزل من التشديد فهبنا أن نكلم النبي صلى الله عليه وسلم وتفرقنا عنه فلما كان الغد جاءه رجل ممن سمع مقالته بالأمس فقال: يا رسول الله التشديد الذي ينزل ما هو؟ قال: "في الدين، والذي نفس محمد بيده لو أن عبداً قتل في سبيل الله ثم عاش ثم قتل ما دخل الجنة حتى يقضى عنه

--------------------------------------------

(22) إسناده ضعيف وهو حسن:

أخرجه أحمد (4/ 246) من طريق رشدين ثنا بكر بن عمرو المعافري ثنا شعيب بن زرعة المعافري حدثه أنه سمع عقبة بن عامر يقول فذكره مرفوعاً.

وهذا إسناد ضعيف: رشدين وهو ابن سعد ضعيف، ضعفه ابن معين وأبو زرعة وغيرهما.

وبكر بن عمرو المعافري، وشعيب بن زرعة سبق الكلام عليهما في الحديث رقم (21) وأن حديثهما لا ينزل عن الحسن إن شاء الله تعالى.

لكنّ رشدين قد توبع عليه تابعه:

1 - حيوة بن شريح: ثقة.

أخرجه الطبراني (17/ 328).

2 - نافع بن يزيد: ثقة.

أخرجه الطبراني (17/ 328) والبيهقي (5/ 355).
"তোমরা নিজেদের নিরাপত্তার পর নিজেদের ভীত করো না" (২২) এটি একটি সহিহ (صحيح) হাদিস। এটি হাকেম আল-মুস্তাদরাক গ্রন্থে আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব থেকে, তিনি হায়ওয়াহ ইবনে শুরাইহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি (হাকেম) বলেছেন: এই হাদিসটির সনদ সহিহ (صحيح الإسناد), তবে তাঁরা উভয় (বুখারি ও মুসলিম) এটি সংকলন করেননি।

দামেস্কের উপকণ্ঠে আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মারদাওয়ি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুসলিমদের বিচারক ইমাম আবুল ফরাজ আবদুর রহমান ইবনে আবি ওমর এবং অন্যান্যরা আমাদের অবহিত করেছেন। তাঁরা বলেছেন: ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মা'মার আল-বাগদাদি আমাদের অবহিত করেছেন, হিবাতুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আল-শায়বানি আমাদের অবহিত করেছেন, আবু তালিব ইবনে গাইলান আমাদের অবহিত করেছেন, মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-শাফিঈ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে গালিব আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবদুস সামাদ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসলিম ইবনে খালিদ আমাদের হাদিস বর্ণনা করেছেন আলা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু কাসীর থেকে, তিনি মুহাম্মদ ইবনে জাহশ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মসজিদের আঙিনায় ছিলাম। তখন তিনি আসমানের দিকে মাথা তুললেন, তারপর তা নিচু করলেন এবং তাঁর হাত কপালে রেখে বললেন: "সুবহানাল্লাহ! কত কঠোর বিধান অবতীর্ণ করা হয়েছে!" আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে কথা বলতে ভয় পেলাম এবং তাঁর কাছ থেকে চলে গেলাম। পরদিন জনৈক ব্যক্তি, যে গতকাল তাঁর কথা শুনেছিল, তাঁর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল: "হে আল্লাহর রাসুল! যে কঠোর বিধান অবতীর্ণ হয়েছে তা কী?" তিনি বললেন: "তা ঋণের (বকেয়া পরিশোধ) বিষয়ে। যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ তাঁর কসম! যদি কোনো ব্যক্তি আল্লাহর পথে শহীদ হয়, এরপর সে জীবিত হয়, পুনরায় শহীদ হয়, এরপর আবার জীবিত হয় এবং পুনরায় শহীদ হয়—তবুও সে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না তার ঋণ পরিশোধ করা হয়।"

--------------------------------------------

(২২) এর সনদ দুর্বল (إسناده ضعيف), তবে এটি হাসান (حسن):

এটি ইমাম আহমদ (৪/২৪৬) রিশদিনের সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি বকর ইবনে আমর আল-মাআফিরি থেকে, তিনি শুআইব ইবনে জুরআহ আল-মাআফিরি থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি উকবাহ ইবনে আমিরকে বলতে শুনেছেন, অতঃপর তিনি তা মারফু (مرفوعاً) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এটি একটি দুর্বল সনদ (إسناد ضعيف); রিশদিন তথা ইবনে সাদ হলেন দুর্বল (ضعيف), ইবনে মাইন, আবু জুরআহ এবং অন্যান্যরা তাঁকে দুর্বল (ضعفه) বলেছেন।

বকর ইবনে আমর আল-মাআফিরি এবং শুআইব ইবনে জুরআহ সম্পর্কে ২১ নম্বর হাদিসে আলোচনা করা হয়েছে যে, ইনশাআল্লাহ তাঁদের বর্ণিত হাদিস হাসান (حسن) পর্যায়ের নিচে নামবে না।

তবে রিশদিনের অনুসরণ (تابعه) করা হয়েছে। তাঁর অনুসরণ করেছেন:

১ - হায়ওয়াহ ইবনে শুরাইহ: নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

এটি তাবারানি বর্ণনা করেছেন (১৭/৩২৮)।

২ - নাফে ইবনে ইয়াজিদ: নির্ভরযোগ্য (ثقة)।

এটি তাবারানি (১৭/৩২৮) এবং বায়হাকি (৫/৩৫৫) বর্ণনা করেছেন।