(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: -)
الفروق الفقهية للباحسين - ط 1   (يعقوب الباحسين)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: الفروق الفقهية والأصولية، مُقوّمَاتُها- شرُوطُهَا- نشأتُهَا- تطوّرُهَا (دراسَة نظريَّة - وَصفيَّة- تَاريخيّة)

المؤلف: يعقوب بن عبد الوهاب بن يوسف الباحسين

(كلية الشريعة - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية)

الناشر: مكتبة الرشد - الرياض

الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1998 م

عدد الصفحات: 167

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 جُمادَى الأولى 1437

আল-বাহুসাইন কৃত ফিকহী পার্থক্যসমূহ - ১ম সংস্করণ   (ইয়াকুব আল-বাহুসাইন)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিমালা


গ্রন্থ: ফিকহী ও উসূলী পার্থক্যসমূহ, এর মৌলিক ভিত্তি- শর্তাবলি- উদ্ভব- ক্রমবিকাশ (তাত্ত্বিক - বর্ণনামূলক - ঐতিহাসিক পর্যালোচনা)

লেখক: ইয়াকুব বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন ইউসুফ আল-বাহuসাইন

(শরীয়াহ অনুষদ - ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়)

প্রকাশক: মাকতাবাতুর রুশদ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ জুমাদাল উলা ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১)
الفروق الفقهية والأصولية

مُقوّمَاتُها- شرُوطُهَا- نشأتُهَا- تطوّرُهَا

دراسَة نظريَّة - وَصفيَّة- تَاريخيّة

للدّكتور

يَعقُوب بن عبد الوهاب البَاحسين

كليّة الشريعَة - جَامعَة الإمَام محمَّد بن سعُود الإسلَاميَّة

 

مكتبة الرشد

الرياض

 

شركَة الرياض

للنشر وَالتوزيع
ফিকহ ও উসুল সংক্রান্ত পার্থক্যসমূহ

এর উপাদানসমূহ - শর্তাবলি - উদ্ভব - ক্রমবিকাশ

তাত্ত্বিক - বর্ণনামূলক - ঐতিহাসিক পর্যালোচনা

ডক্টর

ইয়াকুব বিন আব্দুল ওয়াহাব আল-বাহুসাইন

শরীয়াহ অনুষদ - ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়

 

মাকতাবাতুর রুশদ

রিয়াদ

 

রিয়াদ কোম্পানি

প্রকাশনা ও বিতরণের জন্য
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৩)
جميع الحقوق محفوظة

الطبعة الأولى

1419 هـ - 1998 م

(ح) مكتبة الرشد، 1418 هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

الباحسين، يعقوب عبد الوهاب

الفروق الفقهية والأصولية: مقوماتها، شروطها، نشأتها - الرياض.

… ص؛ … سم

ردمك 7 - 093 - 01 - 9960

1 - الفقه المقارن أ- العنوان

ديوي 6، 251 1849/ 18

رقم الإيداع: 1849/ 18

ردمك: 7 - 093 - 01 - 9960

مكتبة الرشد للنشر والتوزيع

المملكة العربية السعودية - الرياض - طريق الحجاز

ص ب 17522 الرياض 11494 هاتف 4583712

تلكس 405798 فاكس ملي 4573381

 

فرع القصيم: بريدة - حي الصفراء - طريق المدينة

ص ب 2376 هاتف 3242214 - فاكس ملي 3241358

فرع المدينة المنورة - شارع أبي ذر الغفاري- هاتف 8340600

 

شركة الرياض للنشر والتوزيع

ص ب: 33620 - الرياض: 11458 - هَاتف: 4594779
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

(স্বত্ব) মাকতাবাতুর রুশদ, ১৪১৮ হিজরি

প্রকাশনাকালে কিং ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং (فهرسة)

আল-বাহুসাইন, ইয়াকুব আব্দুল ওয়াহাব

আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ ওয়াল উসুলিয়্যাহ: এর উপাদানসমূহ, শর্তাবলি ও উদ্ভব - রিয়াদ।

... পৃষ্ঠা; ... সেমি

আইএসবিএন ৭ - ০৯৩ - ০১ - ৯৯৬০

১ - তুলনামূলক ফিকহ ক- শিরোনাম

ডিউই ৬, ২৫১ ১৮৪৯/ ১৮

জমাদান নম্বর: ১৮৪৯/ ১৮

আইএসবিএন: ৭ - ০৯৩ - ০১ - ৯৯৬০

মাকতাবাতুর রুশদ প্রকাশনা ও বিতরণ

সৌদি আরব সাম্রাজ্য - রিয়াদ - হিজাজ রোড

পি.ও. বক্স ১৭৫২২ রিয়াদ ১১৪৯৪ ফোন ৪৫৮৩৭১২

টেলেক্স ৪০৫৭৯৮ ফ্যাক্স ৪৫৭৩৩৮১

 

কাসিম শাখা: বুরাইদাহ - আস-সাফরা এলাকা - মদিনা রোড

পি.ও. বক্স ২৩৭৬ ফোন ৩২৪২২১৪ - ফ্যাক্স ৩২৪১৩৫৮

মদিনা মুনাওয়ারা শাখা - আবু যার আল-গিফারি সড়ক - ফোন ৮৩৪০৬০০

 

রিয়াদ প্রকাশনা ও বিতরণ কোম্পানি

পি.ও. বক্স: ৩৩৬২০ - রিয়াদ: ১১৪৫৮ - ফোন: ৪৫৯৪৭৭৯
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقَدّمَة

الحمد لله والصلاة والسلام على رسول الله، وبعد:

فإِن البحث في الفروق يُعَدّ من مكمّلات العلوم، إِن لم يكن من ضروراتها، إِذ به يقع التمييز بين المتشابهات، وإليه يستند التفريق بين الأحكام، وعليه يعتمد العلماء في كثير من القضايا والواقعات.

وقد استهوى البحث عن الفروق العلماء من كلّ صنف، فظهرت فيه المؤلفات المتنوّعة، والأبحاث الكثيرة، في العلوم الشرعيّة، والعلوم اللغويّة، والعلوم الأخرى (1).

--------------------------------------------

(1) ومن المؤلفات التي تدخل في هذا الإِطار:

• الفروق اللغوية لأبي هلال العسكري (ت 395 هـ)

• والفرق بين الخاصّ والمشترك من معاني الشعر لحسن بن بشر الآمدي (ت 371 هـ)،

• والفرة بين الراء والعين لأبي سعيد محمَّد بن علي الجاواني (ت 561 هـ)،

• والفرقان بين الآل والأمة لأبي موسى عيسى بن مهران المستعطف الشيعي.

• ومن ذلك: الفرق بين النحو والمنطق لأبي العبّاس أحمد بن محمَّد السرخسي الطبيب (ت 286 هـ)

• ومن المؤلفات في الفروق في الطبّ، الفرق بينالعلل التي تشتبه أسبابها، وتختلف أعراضها لأحمد بن إِبراهيم الطبيب المعروف

بابن الجزّار المتوفى قبل سنة (400 هـ).

• ومن المؤلفات في العلوم الإِسلامية والفلسفية: الفرق بين الحق والبطلان لشيخ الإِسلام ابن تيمية (ت 728 هـ)،

• والفرق بين الصوفي والفقير لفخر الدين أبي عبد الله محمَّد بن إِبراهيم الفارسي الشيرازي المتوفى سنة (622 هـ).

• والجمع والتفريق في آداب الطريقة لأبي سعيد أحمد بن محمَّد البصري المعروف بابن الأعرابي المتوفى سنة (340 هـ)،

• وتحقيق القضية في الفرق بين الرشوة والهدية لعبد الغني بن إِسماعيل النابلسي المتوفى سنة (1143 هـ).

• ومما يدخل في هذا المجال: الفارق بين المصنّف والسارق لجلال
ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, অতঃপর:

নিশ্চয়ই পার্থক্যসমূহ (الفروق) নিয়ে গবেষণা ইলমের পূর্ণতাদানকারী বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যদি তা অপরিহার্য বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নাও হয়। কেননা এর মাধ্যমেই সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা সম্ভব হয় এবং বিধানসমূহের (الأحكام) মধ্যে বিভাজন এর ওপরই ভিত্তি করে তৈরি হয়। আলেমগণ অনেক তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ঘটনার ক্ষেত্রে এর ওপরই নির্ভর করে থাকেন।

আর এই পার্থক্যসমূহ (الفروق) বিষয়ক অনুসন্ধান সব শ্রেণির আলেমগণকেই আকৃষ্ট করেছে; ফলে শরয়ি বিজ্ঞান, ভাষাতত্ত্ব এবং অন্যান্য বিজ্ঞানে এ বিষয়ে বৈচিত্র্যময় গ্রন্থাবলি ও প্রচুর গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে (১)।

--------------------------------------------

(১) এই কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত কিছু গ্রন্থাবলি হলো:

• আবু হিলাল আল-আসকারি (মৃত্যু ৩৯৫ হি.) রচিত ‘আল-ফুরুক আল-লুগাবিয়্যাহ’

• হাসান ইবনে বিশর আল-আমিদি (মৃত্যু ৩৭১ হি.) রচিত ‘আল-ফারকু বাইনাল খাস ওয়াল মুশতারাক মিন মাআনিশ শির’

• আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-জাওয়ানি (মৃত্যু ৫৬১ হি.) রচিত ‘আল-ফারকু বাইনার রা ওয়াল আইন’

• শিয়া মতাবলম্বী আবু মুসা ঈসা ইবনে মিহরান আল-মুসতাতিফ রচিত ‘আল-ফুরকান বাইনাল আল ওয়াল উম্মাহ’

• এর মধ্যে আরও রয়েছে: চিকিৎসক আবু আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সারাখসি (মৃত্যু ২৮৬ হি.) রচিত ‘আল-ফারকু বাইনান নাহাও ওয়াল মানতিক’

• চিকিৎসা বিজ্ঞানে পার্থক্য বিষয়ক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে: ইবনুল জাযযার নামে পরিচিত প্রখ্যাত চিকিৎসক আহমদ ইবনে ইবরাহিম (মৃত্যু ৪০০ হিজরির পূর্বে) রচিত ‘আল-ফারকু বাইনাল ইলালিল্লাতি তাশতাবিহু আসবাবুহা ওয়া তাখতালিফু আরাদুহা’

• ইসলামি বিজ্ঞান ও দর্শনের ওপর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে: শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (মৃত্যু ৭২৮ হি.) রচিত ‘আল-ফারকু বাইনাল হাক্কি ওয়াল বুতলান’

• ফখরুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-ফারিসি আশ-শিরাজি (মৃত্যু ৬২২ হি.) রচিত ‘আল-ফারকু বাইনাস সুফি ওয়াল ফাকির’

• ইবনুল আরাবি নামে পরিচিত আবু সাঈদ আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-বাসরি (মৃত্যু ৩৪০ হি.) রচিত ‘আল-জামউ ওয়াত তাফরিক ফি আদাবিত তরিকাহ’

• আব্দুল গনি ইবনে ইসমাইল আন-নাবুলুসি (মৃত্যু ১১৪৩ হি.) রচিত ‘তাহকিকুল কদিয়্যাহ ফিল ফারকি বাইনার রিশওয়াহ ওয়াল হাদিয়্যাহ’

• এই বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত আরও একটি গ্রন্থ হলো: জালাল... রচিত ‘আল-ফারিকে বাইনাল মুসান্নিফ ওয়াস সারিক’
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৬)
وكان الاهتمام بذلك في العلوم الشرعية كبيرًا، ولاسيّما في ميداني الفقه والأصول.

وقد جعل الزركشي (ت 794 هـ) الفرق والجمع واحدًا من أنواع الفقه العشرة، بحسب ما رآه، والتي هي:

1 - معرفة أحكام الحوادث نصًا واستنباطًا.

2 - معرفة الجمع والفرق.

3 - بناء المسائل بعضها على بعض، لاجتماعها في مأخذ واحد.

4 - المطارحات.

5 - المغالطات.

6 - الممتحنات.

7 - الألغاز.

8 - الحيل.

9 - معرفة الأفراد، أي معرفة ما لكلّ من الأصحاب من الأوجه القريبة.

--------------------------------------------

= الدين السيوطي المتوفي سنة (911 هـ)،

• والفارق بين المخلوق والخالق لعبد الرحمن بن سليم الموصلي المعروف بابن الباجة جي المولود سنة (1248 هـ)، وهو في الردّ

على النصارى،

• ومن ذلك الفرق والمعيار بين الأرقاء والأحرار لأبي الفرج علي بن حسن الأصفهاني المتوفى سنة (356 هـ)،.

• والفرق المؤذن بالطرب في الفرق بين المعجم والعرب للشيخ مصطفي البكري المتوفّى سنة (1162 هـ)،

• والفرق بين المقامين وتشبّه علي كرّم الله وجهه بذي القرنين لأبي سعيد محمَّد بن الحسن الخزاعي النيسابوري المتوفى في حدود سنة (540 هـ).

انظر في بعض ذلك: كشف الظنون (2/ 1255 و 1256)، وِإيضاح المكنون (1/ 367 و 368، و 2/ 187 و 188).
শরয়ি জ্ঞানসমূহের ক্ষেত্রে এই বিষয়ে গুরুত্ব ছিল অপরিসীম, বিশেষ করে ফিকহ ও উসুল (মূলনীতি) এর উভয় ক্ষেত্রে।

ইমাম যারকাশি (মৃত্যু ৭৯৪ হিজরি) তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী সাদৃশ্য ও পার্থক্য নিরূপণকে ফিকহের দশটি প্রকারের মধ্যে অন্যতম একটি হিসেবে গণ্য করেছেন, যা হলো:

১ - অকাট্য পাঠ (نص) এবং মাসআলা উদ্ভাবন (استنباط) এর ভিত্তিতে উদ্ভূত ঘটনাবলির বিধানসমূহ জানা।

২ - সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য (الجمع والفرق) সম্পর্কে জ্ঞান।

৩ - একটি মাসআলাকে অন্যটির ওপর বিন্যস্ত করা, যেহেতু সেগুলো একই উৎসে মিলিত হয়।

৪ - আল-মুতারাআত (গূঢ় তাত্ত্বিক মাসআলাসমূহ)।

৫ - আল-মুগালাতাত (বিভ্রান্তিকর মাসআলাসমূহ)।

৬ - আল-মুমতাহানাত (পরীক্ষামূলক মাসআলাসমূহ)।

৭ - আল-আলগায (ধাঁধাসমূহ)।

৮ - আল-হিয়াল (কৌশলসমূহ)।

৯ - অনন্য বিষয়সমূহ (الأفراد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, অর্থাৎ ফিকহবিদগণের প্রত্যেকের এমন দৃষ্টিভঙ্গিগুলো জানা যা (মাযহাবের মূলনীতির) নিকটবর্তী।

--------------------------------------------

= জালালুদ্দিন সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি),

• এবং আবদুর রহমান বিন সালিম আল-মাওসিলি, যিনি ইবনুল বাজাজি নামে পরিচিত (জন্ম ১২৪৮ হিজরি) কর্তৃক রচিত 'আল-ফারিক বাইনাল মাখলুক ওয়াল খালিক', যা খ্রিস্টানদের খণ্ডন করে লিখিত,

• এবং আবু আল-ফারাজ আলী বিন হাসান আল-আস্পাহানি (মৃত্যু ৩৫৬ হিজরি) রচিত 'আল-ফারক ওয়াল মিয়ার বাইনাল আরিক্কা ওয়াল আহরার',

• এবং শেখ মুস্তফা আল-বাকরি (মৃত্যু ১১৬২ হিজরি) রচিত 'আল-ফারকুল মুয়াজ্জিন বিত-তরাব ফি ফারক বাইনাল মু'জাম ওয়াল আরাব',

• এবং আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আল-হাসান আল-খুজায়ি আন-নিসাবুরি (মৃত্যু আনুমানিক ৫৪০ হিজরি) রচিত 'আল-ফারক বাইনাল মাকামাইন ওয়া তাশাব্বুহু আলি কাররামানিল্লাহু ওয়াজহাহু বি-যিল করনাইন'।

এসবের কিছু কিয়দাংশ দেখুন: কাশফুয যুনুন (২/ ১২৫৫ ও ১২৫৬) এবং ইযাহুল মাকনুন (১/ ৩৬৭ ও ৩৬৮ এবং ২/ ১৮৭ ও ১৮৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৭)
10 - معرفة الضوابط والقواعد (1).

وترجع أهمية ذلك إِلى أنّ معرفة الفروق ممّا تترتب عليها معرفة الأحكام الشرعية والمآخذ التي تتوجه إِلى ما يبدو أنه جامع بين أحكام الفروع الفقهية، حتى أنّهم جعلوه من أقوى الاعتراضات على العلّة، وأجدرها بالاعتناء به (2).

وعلى الرغم من وفرة الكتب المؤلفة في المجال التطبيقي لهذا العلم، إِلا أنّني لم أجد دراسة مستقلة تبحث عن هذا العلم، من حيث هو، بحيث أنّها تبين موضوعه ومقوّماته، ونشأته، وتطوّره، ومناهجه. وجلّ ما رأيته كان مقدّمات لكتب محقّقة، تتناول هذا الموضوع، بتعريفه، وبيان

أهمّيّته، وتعداد طائفة من مؤلفاته. وهي مقدّمات ليست بمستوى واحد، منها ما تتّصف بالسطحية والعجلة في التأليف، ومنها ما كانت مقدمات فيها نوع من الجديّة والالتزام بالمنهج العلمي.

وأورد كثير من الباحثين كلامهم عن الفروق، في ضمن كلامهم عن القواعد الفقهية، بعَدِّها نوعًا منها، أو متفرّعة عنها. وقد يكون لما فعله علماء السلف، من جمعهم بين القواعد والفروق، في كتبهم المؤلّفة في الأشباه والنظائر، سندٌ في صنيعهم هذا، وليس ذلك ببعيد؛ للعلاقة

القائمة بين الجمع والفرق.

ولذلك رأيت أنّ الكتابة في هذا الموضوع، على وجه الاستقلال، بإِقامة دعامة له، تُؤصّله وتبيّن حدوده، وموضوعه، ومباحثه، ونشأته، وتطوره،

--------------------------------------------

(1) المنثور في القواعد (1/ 69 - 71).

(2) الإِبهاج (3/ 134) بإشراف جماعة من العلماء.
১০ - নীতিমালা ও মূলনীতি (الضوابط والقواعد) সম্পর্কে জ্ঞান (১)।

এর গুরুত্ব এই যে, পার্থক্যসমূহ (الفروق) নিরূপণের ওপর শরয়ি বিধানসমূহের জ্ঞান এবং ফিকহ শাস্ত্রের শাখাগত মাসআলাগুলোর (الفروع الفقهية) বিধানের মধ্যে আপাতদৃষ্টিতে বিদ্যমান সাধারণ বিষয়গুলোর ওপর আপত্তির ভিত্তিগুলো নির্ভরশীল। এমনকি তারা একে ইল্লাতের (العلّة) ওপর উত্থাপিত সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বিশেষভাবে গুরুত্বযোগ্য আপত্তি হিসেবে গণ্য করেছেন (২)।

এই শাস্ত্রের প্রয়োগিক ক্ষেত্রে প্রচুর কিতাব রচিত হওয়া সত্ত্বেও আমি এর ওপর কোনো স্বতন্ত্র গবেষণা পাইনি যা এর বিষয়বস্তু, উপাদান, উৎপত্তি, বিকাশ ও পদ্ধতিসমূহ আলোচনা করে। আমি যা দেখেছি তার অধিকাংশ ছিল সম্পাদিত কিতাবসমূহের ভূমিকা, যেখানে বিষয়টির সংজ্ঞা, গুরুত্ব এবং এ বিষয়ের একগুচ্ছ কিতাবপত্রের তালিকা দেওয়া হয়েছে। এই ভূমিকাগুলো সব এক পর্যায়ের নয়; কোনোটি ভাসাভাসা ও তাড়াহুড়ো করে সংকলিত, আবার কোনোটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে লেখা।

অনেক গবেষকই ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতির (القواعد الفقهية) আলোচনার মধ্যেই পার্থক্যসমূহ (الفروق) নিয়ে আলোচনা করেছেন; একে সেই মূলনীতিরই একটি প্রকার বা তার একটি শাখা হিসেবে গণ্য করেছেন। পূর্বসূরী উলামায়ে কেরাম তাদের রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর ঘরানার কিতাবগুলোতে মূলনীতি ও পার্থক্যের আলোচনা যেভাবে সমন্বয় করেছেন, গবেষকদের এই কাজের ভিত্তি সম্ভবত সেটিই হতে পারে; আর এটি অসম্ভব নয়; কারণ একত্রীকরণ ও পৃথকীকরণের (الجمع والفرق) মধ্যে একটি নিবিড় সম্পর্ক বিদ্যমান।

একারণেই আমি এই বিষয়ে স্বতন্ত্রভাবে লেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি, যেন এর একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করা যায়, যা এর সংজ্ঞা (حدود), বিষয়বস্তু, পরিধি, উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশকে সুপ্রতিষ্ঠিত করবে,

--------------------------------------------

(১) আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়েদ (১/ ৬৯ - ৭১)।

(২) আল-ইবজাহ (৩/ ১৩৪), একদল আলিমের তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৮)
من الأمور المفيدة - إِن شاء الله.

وأغلب ما في هذا الموضوع الذي أقدّمه للقاريء، كان في ثمرات تدريسي لموضوع القواعد الفقهية لطلبة الدراسات العليا في كلية الشريعة في جامعة الإِمام محمَّد بن سعود الإِسلامية، خلال أعوام كثيرة.

وهو وإِن لم يكن من الموضوعات التي درّستها، لكنه كان يأتي ضمنًا وتبعًا، من خلال اطلاعي على مباحث العلماء في القواعد والضوابط الفقهية، وفي أحيان أخرى على مباحث التخريج والتفريع عند العلماء.

وقد رأيت أنّ موضوع البحث في الفروق الفقهية يختلف عن موضوع البحث في الفروق الأصولية، وإِن كان يجمعهما المعنى العامّ للفروق.

ولهذا فقد جعلت هذا البحث في فصلين، أحدهما لعلم الفروِق الفقهية، وآخرهما لعلم الفروق الأصوليّة، وجعلتُ في كلّ فصل تمهيدًا وطائفة من المباحث تناسب مسائله، وما يتناوله هذا العلم.

وقد شجّعني على نشر هذا البحث وإِخراج مسوداته من أدراج مكتبتي، أنني لم أجد، في حدود اطلاعي، بحثًا مستقلًا يتناول هذا الموضوع، كما أشرت إِلى ذلك آنفًا.

وإِنّني على ثقة بأن هذا الموضوع في حاجة إِلى دراسة أوسع ممّا قدّمت، وأنّ بحثي هذا ربّما كان نواة لبحوث أكثر تجلية لمسائل هذا العلم. على أنه مهما يكن من أمر هذا البحث، فإِني لم أقصد منه غير النفع، وتنبيه الباحثين إِلي أهميته، وضرورة العناية به. فإِن تحققّ منه ذلك فلله الحمد أولًا وآخرًا، وإِن كانت الأخرى فنعتذر لمن لم يجد فيه ذلك، وأن ينظر إِلى ما قصدناه منه، والأعمال بالنيّات، وصلّى الله على نبينا محمَّد.

 

د. يعقوب عبد الوهاب الباحسين
ইনশাআল্লাহ, এটি একটি উপকারী বিষয় হতে পারে।

আমি পাঠকদের সামনে এই গবেষণার যা কিছু উপস্থাপন করছি, তা মূলত দীর্ঘ বহু বছর যাবত ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদে উচ্চতর গবেষণারত শিক্ষার্থীদের ফিকহি মূলনীতি পাঠদানেরই ফলশ্রুতি।

যদিও বিষয়টি সরাসরি আমার পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তবে ফিকহি মূলনীতি ও নীতিমালা বিষয়ে আলেমদের আলোচনার পর্যালোচনার পাশাপাশি মাসআলা আহরণ ও শাখা-প্রশাখা বিন্যাস সংক্রান্ত তাঁদের গবেষণাসমূহ অধ্যয়নকালে এটি প্রাসঙ্গিকভাবে উঠে এসেছে।

আমি লক্ষ্য করেছি যে, ‘ফিকহি বৈসাদৃশ্য’ সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়টি ‘উসুলি বৈসাদৃশ্য’ বিষয়ক গবেষণা থেকে ভিন্ন, যদিও ‘বৈসাদৃশ্য’ বা পার্থক্যের সাধারণ সংজ্ঞায় উভয়ের মাঝে সমন্বয় রয়েছে।

এ কারণে আমি এই গবেষণাকে দুটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি; একটি ফিকহি বৈসাদৃশ্য বিষয়ক ইলমের জন্য এবং অপরটি উসুলি বৈসাদৃশ্য বিষয়ক ইলমের জন্য। প্রতিটি অধ্যায়ে আমি একটি ভূমিকা এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ের মাসআলা ও ওই ইলমের পরিধি অনুযায়ী আনুষঙ্গিক আলোচনার সমাবেশ ঘটিয়েছি।

আমার জানামতে এই বিষয়ে কোনো স্বতন্ত্র গবেষণা নেই—যেমনটি আমি ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—যা আমাকে গবেষণাপত্রটি প্রকাশ করতে এবং দীর্ঘদিনের খসড়াগুলো লাইব্রেরির দেরাজ থেকে বের করে আনতে উৎসাহিত করেছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, এই বিষয়টি আমার বর্তমান উপস্থাপনার চেয়ে আরও বিস্তৃত ও গভীর গবেষণার দাবি রাখে; সম্ভবত আমার এই ক্ষুদ্র প্রয়াস উক্ত ইলমের মাসআলাগুলোকে আরও স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই গবেষণার প্রেক্ষাপট যাই হোক না কেন, আমার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো কল্যাণ সাধন এবং এই বিষয়ের গুরুত্ব ও এর প্রতি মনোনিবেশ করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা। যদি তা সফল হয় তবে সর্বাবস্থায় আল্লাহরই প্রশংসা, আর যদি ব্যর্থ হয় তবে যারা এতে কাঙ্ক্ষিত প্রাপ্তি খুঁজে পাবেন না তাদের নিকট আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তাঁরা যেন আমার উদ্দেশ্যের দিকে দৃষ্টি দেন, কারণ প্রতিটি কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

 

ড. ইয়াকুব আব্দুল ওয়াহাব আল-বাহুসাইন
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌الفصل الأول: علم الفروق الفقهية
প্রথম পরিচ্ছেদ: ফিকহী বৈসাদৃশ্য বিষয়ক জ্ঞান
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌تمهيد

تعريف علم الفروق الفقهية - موضوعه- مسائله ومباحثه- الفائدة منه- العلوم التي استمدّ منها- حكمه.

التعريف: تُعَد معرفة علم الفروق الفقهية تابعة لمعرفة الفروق الفقهية نفسها وما يعتدّ بها منها، وما لا يُعْتَدّ. ولهذا فلا بُدّ من تقديم تعريف الفروق الفقهية في اللغة والاصطلاح.

معنى الفروق في اللغة:

الفروق في اللغة جمع فَرْق، وهو ما يُميَّزُ به بين الشيئين. وذكر ابن فارس (ت 395 هـ) (1). أن مادة الكلمة أي الفاء والراء والقاف أصل صحيح يدلّ على تمييز وتزييل (2). وفي هذه المادة كلمات كثيرة تدل على معانٍ مُتعددة (3)، يُحتاج في إدخالها في المعنى الذي ذكره ابن فارس إلى نوع من التفسير والتأويل المتعسف، إضافة إلى المعاني التي ذكر ابن فارس أنها مما شذّت عن الأصل.

--------------------------------------------

(1) هو أبو الحسن أحمد بن فارس بن زكريا القزويني الرازي. كان إماماً في علم اللغة، ومشاركاً في علوم شتى. أصله من قزوين، أقام في همدان مدة، ثم انتقل إلى الري فنسب إليها. توفي سنة (395 هـ). وقيل: سنة (390 هـ)، وقيل سنة (369 هـ). ومن مؤلفاته: معجم مقاييس اللغة، والمجمل في اللغة، والصاحبي، والفصيح، وتمام الفصيح، وجامع التأويل في تفسير القرآن وغيرها.

راجع في ترجمته: وفيات الأعيان (1/ 100)، ومعجم الأدباء (4/ 80)، والأعلام (1/ 193)، ومعجم المؤلفين (2/ 40).

(2) معجم مقاييس اللغة (4/ 493).

(3) انظر في هذه المعاني لسان العرب والقاموس المحيط.
ভূমিকা

ফিকহী পার্থক্য শাস্ত্রের (علم الفروق الفقهية) সংজ্ঞা - এর আলোচ্য বিষয় - এর মাসয়ালা ও আলোচনাগুলো - এর উপকারিতা - যে সকল জ্ঞানশাখা থেকে এটি সংগৃহীত - এর বিধান।

সংজ্ঞা: ফিকহী পার্থক্য শাস্ত্রের (علم الفروق الفقهية) পরিচয় জানা মূলত ফিকহী পার্থক্যের (الفروق الفقهية) স্বরূপ এবং এর মধ্যে কোনটি গ্রহণযোগ্য আর কোনটি গ্রহণযোগ্য নয় তা জানার অনুগামী। এ কারণে আভিধানিক ও পারিভাষিক অর্থে ফিকহী পার্থক্যের (الفروق الفقهية) সংজ্ঞা প্রদান করা অপরিহার্য।

আভিধানিক অর্থে 'আল-ফুরুক' (الفروق) এর মর্মার্থ:

আভিধানিক অর্থে 'ফুরুক' (الفروق) শব্দটি 'ফারক' (فَرْق) এর বহুবচন (جمع), যা দুটি বিষয়ের মধ্যে পার্থক্যকারী বিষয়কে বোঝায়। ইবনে ফারিস (মৃত্যু ৩৯৫ হিজরি) (১) উল্লেখ করেছেন যে, এই শব্দের মূল উপাদান অর্থাৎ 'ফা', 'রা' এবং 'কাফ' একটি বিশুদ্ধ মূল (أصل صحيح), যা পার্থক্য করা এবং পৃথকীকরণ (تمييز وتزييل) (২) নির্দেশ করে। এই মূলবর্ণ থেকে উদ্ভূত অনেক শব্দ রয়েছে যা বহুবিধ অর্থ (معانٍ مُتعددة) (৩) প্রকাশ করে, যা ইবনে ফারিস বর্ণিত অর্থের অন্তর্ভুক্ত করতে হলে এক প্রকার ব্যাখ্যা এবং কষ্টকল্পিত ব্যাখ্যার (تأويل متعسف) প্রয়োজন হয়। এছাড়া এমন কিছু অর্থও রয়েছে যা ইবনে ফারিসের বর্ণনা অনুযায়ী মূল নিয়ম থেকে বিচ্যুত (شذّت)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবুুল হাসান আহমদ বিন ফারিস বিন যাকারিয়া আল-কাযভিনী আর-রাযী। তিনি ভাষাতত্ত্বে একজন ইমাম (إمام) ছিলেন এবং বিভিন্ন জ্ঞানশাখায় পারদর্শী ছিলেন। তাঁর আদি নিবাস কাযভিন, তিনি কিছুকাল হামাদানে অবস্থান করেন, তারপর রাই শহরে চলে যান এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করার কারণে রাই-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হন। তিনি ৩৯৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। মতান্তরে: ৩৯০ হিজরিতে, আবার বলা হয় ৩৬৯ হিজরিতে। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ, আল-মুজমাল ফিল লুগাহ, আস-সাহিবী, আল-ফাসিহ, তামামুল ফাসিহ, জামিউত তাবীল ফি তাফসিরিল কুরআন এবং অন্যান্য গ্রন্থ।

তাঁর জীবনী দেখুন: ওয়াফায়াতুল আইয়ান (১/১০০), মু'জামুল উদাবা (৪/৮০), আল-আ'লাম (১/১৯৩), মু'জামুল মুয়াল্লিফীন (২/৪০)।

(২) মু'জাম মাকায়িসুল লুগাহ (৪/৪৯৩)।

(৩) এই অর্থগুলোর জন্য লিসানুল আরব এবং আল-কামুস আল-মুহিত দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১২)
على أنه مهما يكن الأمر فإن الكثير من كلمات هذه المادة، تدل على التمييز بين الأشياء، والفصل بينها. وللعلماء آراء مختلفة بشأن تخفيف المادة وتثقيلها، فيرى بعضهم أن فَرَق فَرْقاً بالتخفيف للصلاح، وفَرَّق تفريقاً للإفساد (1): ويرى آخرون أنه بالتخفيف للمعاني والألفاظ، وبالتثقيل للأجسام. قال الجوهري (ت 393 هـ) (2). فَرَقْتُ أفرق بين الكلام، وفرّقت بين الأجسام (3). وهذا المعنى هو ما ذكره القرافي (ت 684 هـ) (4) عن بعض مشايخه الذين ذكر عنهم، أيضاً، أن وجه المناسبة في ذلك أن كثرة المبني، عند العرب، تدل على كثرة المعنى (5). لكنَّ

--------------------------------------------

(1) لسان العرب.

(2) هو أبو نصر إسماعيل بن حماد الجوهري الفارابي. من أئمة علماء اللغة. تنقل في البلدان واستقر في نيسابور، وأخذ عن مشاهير علماء عصره كأبي علي الفارسي، وأبي سعيد السيرافي. قال عنه ياقوت: إنه من أعاجيب الزمان ذكاء وفطنة وعلماً، توفي في نيسابور سنة (393 هـ). وقيل غير ذلك. وأصله من الفاراب في بلاد الترك.

من مؤلفاته: الصحاح، والمقدمة في النحو، وكتاب في العروض اسمه الورقة.

راجع في ترجمته: يتيمة الدهر (4/ 406)، ومعجم الأدباء (6/ 151)، والأعلام (1/ 313)، ومعجم المؤلفين (2/ 267).

(3) لسان العرب، والمصباح المنير.

(4) هو أبو العباس أحمد بن إدريس بن عبد الرحمن الصنهاجي البهنسي المالكي، المشهور بالقرافي، والملقب بشهاب الدين، ولد في مصر ونشأ فيها، وبرع في الفقه والأصول والتفسير وعلوم أخرى. توفي في القاهرة سنة (684 هـ).

من مؤلفاته: أنوار البروق في أنواء الفروق، ونفائس الأصول في شرح المحصول، وشرح التنقيح في الأصول، والذخيرة في الفقه، وغيرها.

(5) الفروق (1/ 4).
যাই হোক না কেন, এই শব্দমূলের (مادة) অধিকাংশ শব্দই বস্তুসমূহের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ এবং সেগুলোকে পৃথক করার অর্থ প্রকাশ করে। এই শব্দমূলের হালকা রূপ (تخفيف) এবং ভারী রূপ (تثقيل) নিয়ে আলেমদের (علماء) বিভিন্ন অভিমত রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে, সংশোধন বা কল্যাণের ক্ষেত্রে হালকা রূপ (فرق) এবং অনিষ্ট বা বিশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে ভারী রূপ (فرّق) ব্যবহৃত হয় (১)। আবার অন্যরা মনে করেন যে, অর্থ ও শব্দের ক্ষেত্রে হালকা রূপ এবং দৃশ্যমান বস্তুর ক্ষেত্রে ভারী রূপ ব্যবহৃত হয়। আল-জাওহারি (মৃত্যু: ৩৯৩ হিজরি) (২) বলেন: "আমি কথার মাঝে পার্থক্য করলাম এবং বস্তুসমূহের মাঝে পৃথকীকরণ করলাম" (৩)। এই বিষয়টিই আল-কারাফি (মৃত্যু: ৬৮৪ হিজরি) (৪) তাঁর জনৈক শিক্ষকের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এর তাৎপর্য হলো—আরবদের নিকট শব্দের গাঠনিক আধিক্য (كثرة المبني) অর্থের আধিক্য (كثرة المعنى) নির্দেশ করে (৫)। কিন্তু...

--------------------------------------------

(১) লিসানুল আরব।

(২) তিনি হলেন আবু নাসর ইসমাইল ইবনে হাম্মাদ আল-জাওহারি আল-ফারাবি। তিনি ভাষাবিজ্ঞানের ইমামদের (أئمة) এবং আলেমদের (علماء) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে নিশাপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি তাঁর যুগের প্রখ্যাত আলেমদের (علماء) নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন, যেমন—আবু আলি আল-ফারিসি এবং আবু সাঈদ আস-সিরাফি। ইয়াকুত তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি মেধা, বিচক্ষণতা ও জ্ঞানের দিক থেকে তাঁর সময়ের এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ৩৯৩ হিজরি সালে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন। তবে এ ব্যাপারে অন্য মতও রয়েছে। তাঁর পৈত্রিক নিবাস ছিল তুর্কিস্তানের ফারাবে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি: আস-সিহাহ, আল-মুকাদ্দিমাহ ফিন নাহউ এবং ছন্দবিজ্ঞানের কিতাব আল-ওয়ারাকাহ।

তাঁর জীবনী দেখুন: ইয়াতীমাতুদ দাহর (৪/৪০৬), মুজামুল উদাবা (৬/১৫১), আল-আ'লাম (১/৩১৩) এবং মুজামুল মুয়াল্লিফীন (২/২৬৭)।

(৩) লিসানুল আরব এবং আল-মিসবাহুল মুনীর।

(৪) তিনি হলেন আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে ইদ্রিস ইবনে আব্দুর রহমান আস-সিনহাজি আল-বাহনাসি আল-মালিকি, যিনি আল-কারাফি নামে পরিচিত এবং তাঁর উপাধি হলো শিহাবুদ্দিন। তিনি মিশরে জন্মগ্রহণ ও লালিত-পালিত হন এবং ফিকহ (فقه), উসুল (أصول), তাফসির (تفسير) ও অন্যান্য শাস্ত্রে বিশেষ পাণ্ডিত্য অর্জন করেন। তিনি ৬৮৪ হিজরি সালে কায়রোতে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ: আনওয়ারুল বুরুক ফী আনওয়াইল ফুরুক, নাফাইসুল উসুল ফী শারহিল মাহসুল, শারহুত তানকিহ ফিল উসুল, আয-যাখীরাহ ফিল ফিকহ ইত্যাদি।

(৫) আল-ফুরুক (১/৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১৩)
هذه الدعوى يخدشها وينقضها استعمالات القرآن الكريم. قال تعالى: (وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ) (1).

فخفف في البحر، وهو جسم، وقال تعالى: (فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ) (2)، فخفف في ذلك، مع أنه في الأجسام.

الفروق في الاصطلاح:

لم أجد للفقهاء الذين تكلموا عن الفروق، تعريفاً لها، أو بياناً لمعناها، وإن كان بعضهم قد أشار إلى العلم نفسه، وذكر ما يشبه التعريف له، كما سنعلم ذلك فيما بعد.

ويغلب على الظن أنهمي قصدون بالفروق وجوه الاختلاف بين الفروع الفقهية التي يشبه بعضها بعضاً في الصورة، ولكنها تختلف فيما بينها في الأحكام. وقد تكلم الأصوليون والجدليون عن الفروق كثيراً، إذ هي من الأمور المتفرعة عن مباحث القياس عندهم، فالفروق من قوادح العلة، المانعة من جريان حكمها في الفرع (3). ولهذا فإن تعريف الفروق الفقهية ينبغي أن يبحث عنه في هذه المواضع، أي مباحث العلة في القياس. وقد

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة آية 50.

(2) سورة المائدة آية: 25.

(3) اختلفت آراء العلماء في بيان عدد ما يقدح بالعلة، فمنهم من ذكر خمسة وعشرين قادحاً كالآمدي (ت 631 هـ)، وابن الحاجب (ت 646 هـ)، ومنهم من اقتصر على ذكر ثمانية عوارض كإمام الحرمين (ت 478 هـ)، ومنهم من جعلها خمسة كفخر الدين الرازي (ت 606 هـ)، ومنهم من اتجه إلى غير ذلك.

انظر: الإحكام للآمدي (4/ 69) وما بعدها، ومختصر المنتهى الأصولي لابن الحاجب (2/ 257) والمحصول للرازي (2/ 360) وما بعدها، ومنهاج الوصول إلى علم الأصول للبيضاوي ص (156) وما بعدها، وروضة الناظر لابن قدامة ص (339) وما بعدها ..
এই দাবিটি পবিত্র কুরআনের প্রয়োগ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ও খণ্ডিত হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন: (আর যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে দ্বিধাভক্ত করেছিলাম) (১)।

এখানে সমুদ্রের ক্ষেত্রে সহজীকরণ (তাখফিফ) করা হয়েছে, যা একটি জড় বস্তু, এবং আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন: (অতএব আপনি আমাদের ও পাপাচারী সম্প্রদায়ের মধ্যে পার্থক্য করে দিন) (২); এখানেও সহজীকরণ করা হয়েছে, যদিও এটি জড় বস্তুর ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়েছে।

পারিভাষিক অর্থে পার্থক্যসমূহ (الفروق):

যে সকল ফকিহ 'ফুরুক' (পার্থক্যসমূহ) বিষয়ে আলোচনা করেছেন, আমি তাদের মধ্যে এর কোনো (সুনির্দিষ্ট) সংজ্ঞা বা এর অর্থের বর্ণনা খুঁজে পাইনি। যদিও তাদের কেউ কেউ এই শাস্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করেছেন এবং এর সংজ্ঞার অনুরূপ কিছু উল্লেখ করেছেন, যা আমরা পরবর্তীতে জানতে পারব।

প্রবল ধারণা এই যে, তারা 'ফুরুক' বলতে ফিকহি শাখা-মাসআলাগুলোর মধ্যকার পার্থক্যের দিকগুলোকে বুঝিয়েছেন, যেগুলোর বাহ্যিক রূপ একে অপরের সদৃশ হলেও বিধানের (الأحكام) ক্ষেত্রে তারা একে অপরের থেকে ভিন্ন। উসুলবিদগণ (الأصوليون) এবং তার্কিকগণ (الجدليون) 'ফুরুক' সম্পর্কে অনেক আলোচনা করেছেন; কেননা এটি তাদের নিকট কিয়াস (القياس) সংক্রান্ত আলোচনার একটি শাখা। সুতরাং 'ফুরুক' হলো কারণের ত্রুটিসমূহের (قوادح العلة) অন্তর্ভুক্ত, যা মূল বিধানকে শাখায় (الفرع) প্রয়োগ হতে বাধা প্রদান করে (৩)। এই কারণে ফিকহি 'ফুরুক'-এর সংজ্ঞা এই স্থানগুলোতেই অনুসন্ধান করা উচিত, অর্থাৎ কিয়াসের 'ইল্লত' বা কারণ সংক্রান্ত আলোচনায়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৫০।

(২) সূরা আল-মায়িদা, আয়াত: ২৫।

(৩) ইল্লত বা কারণের ত্রুটি সৃষ্টিকারী বিষয়গুলোর সংখ্যা বর্ণনায় উলামায়ে কেরামের মতভেদ রয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ পঁচিশটি ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছেন, যেমন আল-আমিদি (মৃত্যু ৬৩১ হিজরি) এবং ইবনুল হাজিব (মৃত্যু ৬৪৬ হিজরি)। তাদের মধ্যে কেউ আটটি প্রতিবন্ধকের বর্ণনায় সীমাবদ্ধ থেকেছেন, যেমন ইমামুল হারামাইন (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি)। আবার তাদের মধ্যে কেউ এগুলোকে পাঁচটি নির্ধারণ করেছেন, যেমন ফখরুদ্দিন আল-রাজি (মৃত্যু ৬০৬ হিজরি)। এছাড়াও অন্যান্যগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।

দেখুন: আল-আমিদি প্রণীত আল-ইহকাম (৪/৬৯) ও পরবর্তী অংশ; ইবনুল হাজিব প্রণীত মুখতাসারুল মুনতাহা আল-উসুলি (২/২৫৭); আল-রাজি প্রণীত আল-মাহসুল (২/৩৬০) ও পরবর্তী অংশ; আল-বায়দাভি প্রণীত মিনহাজুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল পৃষ্ঠা (১৫৬) ও পরবর্তী অংশ; এবং ইবনে কুদামা প্রণীত রওদাতুন নাজির পৃষ্ঠা (৩৩৯) ও পরবর্তী অংশ।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১৪)
اختلفت عبارات العلماء في تعريفها، وإن تلاقى أكثرها في المعنى. وقبل أن نذكر بعض تعريفات الفرق، ننبه إلى أن الفرق عندهم يعني الأمر المانع من إلحاق الفرع بالأصل في الحكم، مع وجود الوصف المشترك المدعي علة، سواء كان ذلك لوجود وصف مختصّ بالأصل هو شرط للعلّة، ولم يوجد في الفرع، أو لوجود وصف في الفرع هو مانع، ولم يوجد في الأصل (1)، وفيما يأتي نذكر طائفة من عبارات العلماء في تعريف الفرق: 1 - قال إمام الحرمين (ت 478 هـ) (2) الفرق (هو المعارضة المتضمِّنة لمخالفة الفرع الأصل في علة الحكم) (3)، وقال: (إن حقيقة الفرق هي الفصل بين المجتمعين في موجب الحكم، بما يخالف بين حكميهما) (4).

وفي هذين التعريفين اقتصار على ذكر الاختلاف بين الأصل والفرع

--------------------------------------------

(1) التحرير بشرح تيسير التحرير (4/ 166 و 167).

(2) هو أبو المعالي عبد الملك بن عبد الله بن يوسف الجويني النيسابوري الشافعي الأشعري الملقب بضياء الدين والمعروف بإمام الحرمين. من الفقهاء المتكلمين والأصوليين والمفسرين والأدباء. تنقل بين البلدان واستقر في نيسابور التي مات فيها سنة (478 هـ).

من مؤلفاته: البرهان في أصول الفقه، والورقات في أصول الفقه، والإرشاد إلى قواطع الأدلة في أصول الاعتقاد، والغياثي، ونهاية المطلب في دراية المذهب، وغيرها.

راجع في ترجمته: طبقات الشافعية الكبرى (3/ 249)، وطبقات الشافعية لابن هداية الله ص 174، وشذرات الذهب (3/ 358)، والفتح المبين (1/ 206)، ومعجم المؤلفين (6/ 184).

(3) الكافية في الجدل ص 69.

(4) المصدر السابق ص 298.
এর সংজ্ঞায়নে আলেমদের উক্তিগুলো ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে, যদিও অধিকাংশের অর্থ অভিন্ন। 'পার্থক্য (الفرق)'-এর কিছু সংজ্ঞা উল্লেখ করার আগে আমরা সতর্ক করছি যে, তাদের মতে 'পার্থক্য (الفرق)' বলতে এমন বিষয়কে বোঝায় যা বিধানের (الحكم) ক্ষেত্রে শাখা (الفرع)-কে মূল (الأصل)-এর সাথে যুক্ত করতে বাধা দেয়; যদিও সেখানে সাধারণ বৈশিষ্ট্য (وصف) বিদ্যমান থাকে যাকে কারণ (علة) হিসেবে দাবি করা হয়। চাই তা মূল (الأصل)-এর কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্যের (وصف) উপস্থিতির কারণে হোক যা কারণ (علة)-এর জন্য শর্ত (شرط) কিন্তু তা শাখা (الفرع)-তে পাওয়া যায়নি, অথবা শাখা (الفرع)-তে বিদ্যমান কোনো বৈশিষ্ট্যের (وصف) কারণে যা একটি প্রতিবন্ধক (مانع) কিন্তু তা মূল (الأصل)-এর মধ্যে বিদ্যমান নেই (১)। নিম্নে 'পার্থক্য (الفرق)'-এর সংজ্ঞায় আলেমদের একদলীয় উক্তি উল্লেখ করা হলো: ১- ইমামুল হারামাইন (মৃ. ৪৭৮ হিজরি) (২) বলেন, পার্থক্য (الفرق) হলো: (এমন প্রতিপক্ষতা (المعارضة) যা বিধানের (الحكم) কারণ (علة)-এর ক্ষেত্রে মূল (الأصل)-এর বিপরীতে শাখা (الفرع)-এর ভিন্নতাকে অন্তর্ভুক্ত করে) (৩)। তিনি আরও বলেন: (নিশ্চয়ই পার্থক্য (الفرق)-এর প্রকৃত রূপ হলো বিধানের দাবি (موجব الحكم)-এর ক্ষেত্রে একত্রিত দুটি বিষয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো, যা তাদের বিধানদ্বয়ের মধ্যে ভিন্নতা তৈরি করে) (৪)।

আর এই দুটি সংজ্ঞায় কেবল মূল (الأصل) ও শাখা (الفرع)-এর মধ্যকার পার্থক্যের বর্ণনাই সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) আত-তাহরির বিশরহ তায়সিরিত তাহরির (৪/ ১৬৬ ও ১৬৭)।

(২) তিনি হলেন আবু আল-মাআলী আবদুল মালিক ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আল-জুওয়াইনি আন-নিশাপুরি আশ-শাফিয়ি আল-আশআরি, যাকে ‘দিয়াউদ্দিন’ উপাধিতে ভূষিত করা হয় এবং তিনি ‘ইমামুল হারামাইন’ হিসেবে পরিচিত। তিনি ফকিহ, ধর্মতত্ত্ববিদ, উসুলবিদ, মুফাসসির এবং সাহিত্যিকদের অন্যতম ছিলেন। তিনি বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেন এবং নিশাপুরে স্থিতি লাভ করেন, যেখানে তিনি ৪৭৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তার রচনাবলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য: আল-বুরহান ফি উসুলিল ফিকহ, আল-ওয়ারাকাত ফি উসুলিল ফিকহ, আল-ইরশাদ ইলা কাওয়াতিইল আদিল্লাহ ফি উসুলিল ইতিখাদ, আল-গিয়াসি, নিহায়াতুল মাতলাব ফি দিরায়াতিল মাজহাব এবং অন্যান্য।

তার জীবনী সংক্রান্ত তথ্য দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল-কুবরা (৩/ ২৪৯), তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ লি-ইবনি হিদায়াতিল্লাহ পৃষ্ঠা ১৭৪, শাজারাতুজ জাহাব (৩/ ৩৫৮), আল-ফাতহুল মুবিন (১/ ২০৬), মুজামুল মুআল্লিফীন (৬/ ১৮৪)।

(৩) আল-কাফিয়াহ ফিল জাদাল পৃষ্ঠা ৬৯।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ২৯৮।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১৫)
في علة الحكم أو موجبه، دون بيان لنوع هذا الاختلاف. ولهذا نجد إمام الحرمين (ت 478 هـ) رحمه الله أتْبَعَ تعريفيه ببيان ضروب الفرق، فقال: (ثم هو على ضربين:

أحدهما: فصل الحكم عن العلة.

والثاني: فصل الفرع عن الأصل بمعنى يفرّق بينهما بيّن) (1).

ولم يكشف لنا عن هذا المعنى بإعطاء صفاته أو شروطه.

2 - وقال القرافي (ت 684 هـ): (هو إبداء معنى مناسب للحكم في إحدى الصورتين، مفقود في الأخرى) (2).

وفي هذا التعريف قصرٌ للفارق على المعنى الذي ذكره، وهو المناسبة في إحدى الصورتين دون الأخرى، وفيه احتراز عن الفروق الفاسدة التي لا يُعْتَدّ بها للتفريق بين الصورتين، أو المسألتين.

وقد ذكر القرافي (ت 684 هـ) في شرحه أمرين يقابلان المعنى المناسب للحكم، هما:

أ- المعنى غير المناسب، كقياس الأرز على البرّ، في حكم الربا، فيقول المعترض: الفرق بينهما أن الأرز أشد بياضاً، أو أيسر تقشيراً في سنبله، من البر (3). فمثل هذا يُعَد في الأوصاف الطردية غير المعتد بها (4).

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق.

(2) شرح تنقيح الفصول (ص 403).

(3) المصدر السابق (ص 403).

(4) رفع النقاب عن تنقيح الشهاب للشوشاوي ص (893 و 894) القسم الثاني بتحقيق عبد الرحمن الجبرين.
বিধানের হেতু (علة الحكم) অথবা এর প্রভাবকের (موجب) ক্ষেত্রে, এই পার্থক্যের ধরন বর্ণনা করা ছাড়াই। এই কারণেই আমরা দেখি ইমামুল হারামাইন (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি) -আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন- তাঁর প্রদত্ত দুটি সংজ্ঞার (تعريف) পরে পার্থক্যের প্রকারভেদ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: (অতঃপর এটি দুই প্রকার:

প্রথমটি: বিধানকে (حكم) কারণ (علة) থেকে পৃথক করা।

দ্বিতীয়টি: এমন এক অর্থের মাধ্যমে মূল (أصل) থেকে শাখাকে (فرع) পৃথক করা যা উভয়ের মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য তৈরি করে) (১)।

আর তিনি এই অর্থের গুণাবলি বা শর্তাদি উল্লেখ করে এটি আমাদের নিকট স্পষ্ট করেননি।

২ - ইমাম আল-কারাফি (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি) বলেছেন: (তা হলো এমন একটি সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ (معنى مناسب) প্রকাশ করা যা বিধানের জন্য দুই সুরতের (অবস্থার) একটিতে বিদ্যমান কিন্তু অন্যটিতে অনুপস্থিত) (২)।

এই সংজ্ঞায় 'ফারক' বা পার্থক্যকে কেবল তাঁর উল্লিখিত অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, আর তা হলো এক সুরতে সামঞ্জস্যতা (مناسبة) থাকা কিন্তু অন্যটিতে না থাকা। এর মাধ্যমে ঐ সকল ত্রুটিপূর্ণ পার্থক্য (فروق فاسدة) থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যা দুটি সুরত বা বিষয়ের মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে ধর্তব্য নয়।

আল-কারাফি (মৃত্যু ৬৮৪ হিজরি) তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বিধানের সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থের (معنى مناسب) বিপরীতে দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো:

ক- অসামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থ; যেমন সুদের বিধানের ক্ষেত্রে গমের ওপর চালের কিয়াস (قياس) করা। এক্ষেত্রে আপত্তিদানকারী বলেন: উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হলো, চাল গমের তুলনায় অধিকতর সাদা, অথবা এর শীষ থেকে খোসা ছাড়ানো গমের চেয়ে সহজ (৩)। এই ধরনের বিষয়গুলোকে অপ্রাসঙ্গিক বৈশিষ্ট্যসমূহের (الأوصاف الطردية) অন্তর্ভুক্ত করা হয় যা ধর্তব্য নয় (৪)।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস।

(২) শারহু তানকিহিল ফুসুল (পৃ. ৪০৩)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস (পৃ. ৪০৩)।

(৪) আশ-শুশাউয়ি কৃত রাফউল নিকাব আন তানকিহিশ শিহাব, পৃ. (৮৯৩ ও ৮৯৪), দ্বিতীয় খণ্ড, আব্দুর রহমান আল-জিবরিনের সম্পাদনা (تحقيق)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১৬)
ب- المعنى المناسب لحكم آخر غير الحكم المذكور. كقياس المساقاة على القراض في جواز المعاملة على جزء مجهول.

فيعترض على ذلك بوجود الفرق بينهما، إذ الشجر إذا ترك العمل فيه هلك، بخلاف النقدين فإنّ تركهما لا يؤدي إلى هلاكهما، وهذا معنى مناسب لأن يكون عقد المساقاة لازماً، وليس مناسباً لجوازه، لأن القول بجواز عقد المساقاة، وعدم لزومه يؤدي إلى جواز ردّه، بعد مدة، من غ ير عمل، مما يترتب عليه هلاك الشجر. وهذا الوصف لا مدخل له في الفرق بينهما باعتبار الغرر (1).

3 - وقال القاضي البيضاوي (ت 685 هـ) (2): هو جعل تعيّن الأصل علة، والفرع مانعاً (3). ومقتضى هذا التعريف أن الفرق ضربان:

الضرب الأول: تعيّن أصل القياس، وما فيه من خصوصية علة

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق ص (893 و 894).

(2) هو أبو سعيد، وقيل أبو الخير عبد الله بن عمر بن محمد بن علي البيضاوي الشيرازي الشافعي، الملقب بناصر الدين، والبيضاوي نسبة إلى البيضاء في بلاد فارس، على مقربة من شيراز. كان قاضياً عالماً بالفقه والأصول والعربية والمنطق والحديث، والتفسير، وملماً بعلوم أخرى. استقر في تبريز، وتوفي بها سنة (685 هـ)، وقيل سنة (691).

من مؤلفاته: منهاج الوصول إلى علم الأصول، وأسرار التأويل في التفسير، وطوالع الأنوار في علم الكلام.

راجع في ترجمته: مفتاح السعادة (1/ 478)، وشذرات الذهب (5/ 392)، والفتح المبين (2/ 88)، ومعجم المطبوعات (1/ 616)، ومعجم المؤلفين (6/ 98).

(3) الوصول بشرح نهاية السول (3/ 100).
খ- উল্লিখিত বিধান ব্যতিরেকে অন্য কোনো বিধানের জন্য উপযুক্ত অর্থ। যেমন—অজ্ঞাত অংশের বিনিময়ে লেনদেনের বৈধতার ক্ষেত্রে মুসাকাতকে কিরাযের সাথে কিয়াস (قياس) করা।

এতে আপত্তি উত্থাপন করা হয় যে, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য বিদ্যমান। কারণ বৃক্ষের পরিচর্যা বর্জন করলে তা ধ্বংস হয়ে যায়, যা নগদ অর্থের বিপরীত; কেননা নগদ অর্থ ফেলে রাখলে তা ধ্বংস হয় না। আর এটি এমন এক উপযুক্ত অর্থ যা মুসাকাত চুক্তিকে অপরিহার্য হওয়ার দাবি রাখে, তা কেবল বৈধ হওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ মুসাকাত চুক্তিকে কেবল বৈধ এবং অনাবশ্যক মনে করার অর্থ হলো কোনো কাজ না করেই নির্দিষ্ট সময় পর তা ফেরত দেওয়ার সুযোগ থাকা, যার ফলে বৃক্ষটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আর এই বৈশিষ্ট্যটি ধোঁকা বা অনিশ্চয়তার নিরিখে উভয়ের মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখে না (১)।

৩ - কাজী বায়যাবি (মৃত ৬৮৫ হিজরি) (২) বলেন: এটি হলো মূলকে (أصل) কার্যকারণ (علة) হিসেবে গণ্য করা এবং শাখাকে (فرع) প্রতিবন্ধক হিসেবে সাব্যস্ত করা (৩)। এই সংজ্ঞার দাবি হলো যে, পার্থক্য দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: কিয়াসের (قياس) মূলের (أصل) বৈশিষ্ট্য এবং এর বিশেষত্বকে কার্যকারণ (علة) হিসেবে নির্ধারণ করা।

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা (৮৯৩ ও ৮৯৪)।

(২) তিনি হলেন আবু সাঈদ, মতান্তরে আবুল খায়ের আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি আল-বায়যাবি আশ-শিরাজি আশ-শাফেয়ি, যিনি নাসিরুদ্দিন উপাধিতে ভূষিত। 'বায়যাবি' শব্দটি পারস্যের শিরাজের নিকটবর্তী 'বায়যা' নামক স্থানের সাথে সম্পৃক্ত। তিনি ফিকহ, উসুল (أصول), আরবি ভাষা, যুক্তিবিদ্যা, হাদিস ও তাফসির শাস্ত্রের একজন বিজ্ঞ বিচারক ও আলেম ছিলেন এবং অন্যান্য বিদ্যায়ও পারদর্শী ছিলেন। তিনি তাবরিজে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই ৬৮৫ হিজরিতে (মতান্তরে ৬৯১ হিজরি) মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে: মিনহাজুল উসুল ইলা ইলমিল উসুল, আনওয়ারুত তানজিল ওয়া আসরারুত তাবিল এবং তাওয়ালিউল আনওয়ার ফি ইলমিল কালাম।

তাঁর জীবনী দেখুন: মিফতাহুস সাআদাহ (১/৪৭৮), শাযারাতুয যাহাব (৫/৩৯২), আল-ফাতহুল মুবিন (২/৮৮), মুজামুল মাতবুআত (১/৬১৬) এবং মুজামুল মুআল্লিফিন (৬/৯৮)।

(৩) আল-উসুল বি-শারহি নিহায়াতিল সুল (৩/১০০)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لحكمه، فلا يلحق به الفرع.

والضرب الثاني: تعيّن الفرع، أو خصوصيته مانعاً من ثبوت حكم الأصل.

مثال الأول قول الحنفية إن الخارج النجس من غير السبيلين ناقضٌ للوضوء، قياساً على الخارج منهما، والوصف الجامع بينهما خروج النجاسة. فيقول خصومهم إن بينهما فرقاً؛ لأن العلة الناقضة للوضوء في الأصل هي خروج النجاسة من السبيلين، لا مطلق خروج النجاسة وهذا المعنى غير متحقق في الفرع.

ومثال الثاني قول الحنفية يجب القصاص على المسلم بقتل الذمي، قياساً على غير المسلم، والجامع هو القتل العمد العدوان. فيقول خصومهم إن بينهما فرقاً؛ لأن كون القاتل مسلماً مانعٌ من وجوب القصاص عليه، لشرفه (1). فقد جعل تعين الفرع مانعاً من الإلحاق.

4 - وقال صفي الدين الهندي (ت 715 هـ) (2): (الفرق عبارة عن إبداء

--------------------------------------------

(1) الوصول بشرح نهاية السول (3/ 100).

(2) هو أبو عبد الله محمد بن عبد الرحيم بن محمد الأرموي الملقب بصفي الدين الهندي. ولد بالهند سنة (644 هـ). ثم خرج من بلده دهلي وتنقّل في البلدان؛ فزار اليمن، ثم حجّ وأقام بمكة ثلاثة أشهر التقى فيها بابن سبعين وسمع منه، ثم زار القاهرة، وبلاد الروم، ثم استوطن دمشق، وفيها توفي سنة (715 هـ). وكانت له مع شيخ الإسلام ابن تيمية مناظرات.

من مؤلفاته: نهاية الوصول في دراية الأصول، الفائق في أصول الدين، الزبدة في علم الكلام.

راجع في ترجمته: الدُّرر الكامنة (5/ 262)، وشذرات الذهب (6/ 37)، والأعلام (6/ 200)، ومعجم المؤلفين (10/ 152).
এর বিধানের জন্য, সুতরাং উপশাখা (فرع) এর সাথে যুক্ত হবে না।

দ্বিতীয় প্রকার: উপশাখা (فرع)-এর নির্ধারিত হওয়া বা এর বৈশিষ্ট্য মূল (أصل)-এর বিধান সাব্যস্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক (مانع) হওয়া।

প্রথম প্রকারের উদাহরণ হলো হানাফিদের বক্তব্য যে, দুই পথ (سبيلين) ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো অংশ দিয়ে অপবিত্র বস্তু বের হওয়া অজু ভঙ্গকারী, যা দুই পথ দিয়ে নির্গত হওয়ার ওপর তুলনা (قياس) করা হয়েছে; আর উভয়ের মধ্যে সমন্বয়কারী বৈশিষ্ট্য (وصف جامع) হলো অপবিত্রতা নির্গত হওয়া। এমতাবস্থায় তাদের প্রতিপক্ষগণ বলেন যে, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কারণ মূলে (أصل) অজু ভঙ্গের কার্যকর কারণ (علة) হলো দুই পথ (سبيلين) দিয়ে অপবিত্রতা বের হওয়া, সাধারণভাবে অপবিত্রতা বের হওয়া নয়। আর এই বিষয়টি উপশাখা (فرع)-র ক্ষেত্রে বিদ্যমান নেই।

দ্বিতীয় প্রকারের উদাহরণ হলো হানাফিদের বক্তব্য যে, কোনো জিম্মিকে হত্যার কারণে মুসলমানের ওপর কিসাস (قصاص) ওয়াজিব হবে, যা অমুসলিমকে হত্যার ওপর তুলনা (قياس) করা হয়েছে; আর সমন্বয়কারী (جامع) বিষয়টি হলো ইচ্ছাকৃত ও অন্যায়ভাবে হত্যা। এমতাবস্থায় তাদের প্রতিপক্ষগণ বলেন যে, উভয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে; কারণ হত্যাকারী মুসলমান হওয়া তার ওপর কিসাস (قصاص) ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে একটি প্রতিবন্ধক (مانع), তার ধর্মীয় শ্রেষ্ঠত্বের কারণে (১)। এখানে উপশাখা (فرع)-র নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যকে মূলের সাথে যুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

৪ - সফিউদ্দীন আল-হিন্দি (ওফাত ৭১৫ হিজরি) (২) বলেন: (পার্থক্য (فرق) হলো প্রকাশ করা...

--------------------------------------------

(১) আল-উসুল বি-শারহি নিহায়াতিল সুল (৩/ ১০০)।

(২) তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহিম বিন মুহাম্মদ আল-আরমাওয়ি, যার উপাধি সফিউদ্দীন আল-হিন্দি। তিনি ৬৪৪ হিজরিতে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন। এরপর তিনি তার জন্মভূমি দিল্লি ত্যাগ করেন এবং বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন; তিনি ইয়ামেন সফর করেন, এরপর হজ পালন করেন এবং মক্কায় তিন মাস অবস্থান করেন যেখানে তিনি ইবনে সাবয়ীনের সাথে সাক্ষাৎ করেন ও তার নিকট থেকে জ্ঞানার্জন করেন। এরপর তিনি কায়রো এবং রোম সাম্রাজ্য সফর করেন। পরিশেষে তিনি দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানেই ৭১৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার সাথে তার বিভিন্ন বিতর্ক (مناظرات) হয়েছিল।

তার উল্লেখযোগ্য রচনাবলি: নিহায়াতুল উসুল ফি দিরায়াতিল উসুল, আল-ফাইক ফি উসুলিদ দ্বীন, আল-জুবদাহ ফি ইলমিল কালাম।

তার জীবনী দেখুন: আদ-দুরারুল কামিনাহ (৫/ ২৬২), শাজারাতুজ জাহাব (৬/ ৩৭), আল-আলাম (৬/ ২০০) এবং মুজামুল মুআল্লিফীন (১০/ ১৫২)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১৮)
وصف في الأصل يصلح أن يكون علة مستقلة للحكم، أو جزء علة) (1).

وفي هذا التعريف قَصْرُ الفرق على إبداء الخصوصية في الأصل، بإبداء وصف فيه يصلح أن يكون علة مستقلة، أو جزء علة، ولم يتطرق إلى ما في الفرع من خصوصية، تصلح أن تكون مانعاً من حكم العلة، كما هو في التعريفات السابقة.

وبذلك يكون الفرق عنده، راجعاً إلى المعارضة في الأصل فقط.

5 - وقال عضد الدين الإيجي (ت 756 هـ) (2): (الفرق إبداء خصوصية في الأصل، هو شرط … أو إبداء خصوصية في الفرع، هي مانع) (3).

والمراد من ذلك هو أن يُظْهر المعترض خصوصية في الأصل تُجْعَل شرطاً للحكم، بأن تُجعل من علته، أو إبداء خصوصية في الفرع تُجْعَلُ مانعاً من الحكم، فالفرق على هذا راجع إلى إحدى المعارضتين، المعارضة في الأصل في الحالة الأولى، والمعارضة في الفرع

--------------------------------------------

(1) نهاية الوصول في دراية الأصول (8/ 3469).

(2) هو عبد الرحمن بن أحمد بن عبد الغفار الإيجي الشيرازي الشافعي. قاضي القضاة المعروف بعضد الدين. كان من العلماء المبرزين في العلوم العقلية والأصول والمعاني والبيان والنحو والفقه وعلم الكلام. سجن في قلعة دريميان، بعد أن غضب عليه صاحب كرمان. توفي سنة (756 هـ).

من مؤلفاته: الرسالة العضدية في الوضع، وشرح مختصر منتهى السول والأمل في علمي الأصول والجدل لابن الحاجب، والمواقف في علم الكلام، وغيرها.

راجع في ترجمته: طبقات الشافعية الكبرى (6/ 108)، والدرر الكامنة (3/ 110)، والإعلام (3/ 295)، ومعجم المؤلفين (5/ 119).

(3) شرح مختصر المنتهى (2/ 276).
মূল বিষয়ের (أصل) এমন একটি গুণ যা বিধানের জন্য একটি স্বাধীন কার্যকর কারণ (علة) হওয়ার যোগ্যতা রাখে অথবা কার্যকর কারণের (علة) অংশ হওয়ার যোগ্যতা রাখে) (১)।

এই সংজ্ঞায় ‘পার্থক্য’ (الفرق) বিষয়টিকে কেবল মূল বিষয়ের (أصل) বৈশিষ্ট্য প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে—এমন একটি গুণের বর্ণনার মাধ্যমে যা একটি স্বাধীন কার্যকর কারণ (علة مستقلة) অথবা কার্যকর কারণের অংশ (جزء علة) হওয়ার যোগ্য। এতে শাখা বিষয়ের (فرع) বৈশিষ্ট্যের দিকে ইঙ্গিত করা হয়নি, যা কার্যকর কারণের (علة) বিধানের জন্য প্রতিবন্ধক (مانع) হতে পারে, যেমনটি পূর্ববর্তী সংজ্ঞাগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে তাঁর নিকট ‘পার্থক্য’ (الفرق) কেবল মূল বিষয়ের (أصل) ক্ষেত্রে বিরোধিতার (معارضة) দিকেই প্রত্যাবর্তন করে।

৫ - আদুদুদ্দীন আল-ইজি (মৃত্যু ৭৫৬ হি.) (২) বলেন: (পার্থক্য (الفرق) হলো মূল বিষয়ের (أصل) এমন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা যা একটি শর্ত (شرط)... অথবা শাখা বিষয়ের (فرع) এমন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করা যা একটি প্রতিবন্ধক (مانع)) (৩)।

এর উদ্দেশ্য হলো—আপত্তিকারী মূল বিষয়ের (أصل) এমন একটি বৈশিষ্ট্য জাহির করবেন যা বিধানের জন্য একটি শর্ত (شرط) হিসেবে গণ্য হবে, অর্থাৎ তা উক্ত বিধানের কার্যকর কারণের (علة) অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে। অথবা শাখা বিষয়ের (فرع) এমন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ করবেন যা বিধানের জন্য প্রতিবন্ধক (مانع) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং, এই সংজ্ঞা অনুযায়ী ‘পার্থক্য’ (الفرق) দুই প্রকার বিরোধিতার (معارضة) যেকোনো একটির দিকে প্রত্যাবর্তন করে; প্রথম অবস্থায় মূল বিষয়ের (أصل) ক্ষেত্রে বিরোধিতা (معارضة), এবং দ্বিতীয় অবস্থায় শাখা বিষয়ের (فرع) ক্ষেত্রে বিরোধিতা।

--------------------------------------------

(১) নিহায়াতুল উসুল ফি দিরায়াতিল উসুল (৮/ ৩৪৬৯)।

(২) তিনি হলেন আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন আব্দুল গাফফার আল-ইজি আশ-শিরাজি আশ-শাফিয়ি। প্রধান বিচারপতি (কাদি আল-কুদাত), যিনি ‘আদুদুদ্দীন’ নামে পরিচিত। তিনি আকলি বা যুক্তিনির্ভর শাস্ত্র, উসুল (أصول), মাআনি, বায়ান, নাহু, ফিকহ এবং ইলমুল কালামে অত্যন্ত দক্ষ ও প্রসিদ্ধ পণ্ডিত ছিলেন। কিরমানের অধিপতি তাঁর ওপর অসন্তুষ্ট হওয়ার পর তাঁকে ‘দারাইমিয়ান’ দুর্গে বন্দি করা হয়। তিনি (৭৫৬ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন।

তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-রিসালাহ আল-আদুদিয়্যাহ ফিল ওয়াদ’, ইবনুল হাজিবের ‘মুনতাহাস সুল ওয়াল আমাল ফি ইলমাইল উসুল ওয়াল জাদাল’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘শারহু মুখতাসারিল মুনতাহা’, ইলমুল কালামের ওপর ‘আল-মাওয়াকিফ’ ইত্যাদি।

তাঁর জীবনী দেখুন: তাবাকাতুশ শাফিয়িয়্যাহ আল-কুবরা (৬/ ১০৮), আদ-দুরাকুল কামিনাহ (৩/ ১১০), আল-আলাম (৩/ ২৯৫), মুজামুল মুআল্লিফিন (৫/ ১১৯)।

(৩) শারহু মুখতাসারিল মুনতাহা (২/ ২৭৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ১৯)
في الحالة الثانية (1).

وما ذكر مبنيٌّ على أنه ليس على المعترض أن يتعرض لعدم الخصوصية، الموجودة في الأصل، في الفرع، ولا أن يتعرض لعدم الخصوصية، الموجودة في الفرع، في الأصل.

لكن بعض العلماء ذهبوا إلى اشتراط ذلك فيكون الفرق مجموع المعارضتين المذكورتين (2). وقد ذكر الآمدي (ت 631 هـ) (3) أن القول بأن الفرق لا يخرج عن المعارضة في الأصل، أو الفرع، هو عند أبناء زمانه، أما المتقدمون فكانوا يرون أن الفرق هو مجموع الأمرين حتى لو اقتصر على أحدهما لا يكون فرقاً. وبنى اختلافهم في قبول الفرق ورفضه على ذلك (4).

6 - وجاء في كشاف اصطلاحات الفنون: إن الفرق، عند الأصوليين وأهل النظر، هو: (أن يُفرِّق المعترضُ بين الأصل والفرع، بإبداء ما يختص

--------------------------------------------

(1) شرح جمع الجوامع للمحلي بحاشية العطار (2/ 363).

(2) شرح مختصر المنتهى (2/ 276)، وشرح جمع الجوامع (2/ 363).

(3) هو سيف الدين علي بن أبي علي بن محمد التغلبي الآمدي الحنبلي، ثم الشافعي. جمع بين الحكمة والمنطق والكلام، والأصول والفقه، وبرع في الخلاف، وكان من الأذكياء. قيل عنه إنه لم يكن في زمانه أحفظ للعلوم منه. ولد بآمد، وأقام في بغداد، ثم انتقل إلى الشام ثم مصر، وكانت وفاته بدمشق سنة (631 هـ). ودفن بسفح جبل قاسيون.

من مؤلفاته: غاية المرام في علم الكلام، والإحكام في أصول الأحكام في أصول الفقه، وغاية الأمل في علم الجدل، وغيرها.

راجع في ترجمته: وفيات الأعيان (2/ 455)، ومفتاح السعادة (2/ 55)، وشذرات الذهب (5/ 144)، ومعجم المؤلفين (7/ 155).

(4) الإحكام (4/ 107).
দ্বিতীয় অবস্থায় (১)।

আর যা উল্লেখ করা হয়েছে তা এই ভিত্তির ওপর যে, প্রতিবাদকারীর (المعترض) জন্য এটি আবশ্যক নয় যে সে মূলের (الأصل) মধ্যে বিদ্যমান বিশেষত্বের অনুপস্থিতিকে শাখার (الفرع) মধ্যে উল্লেখ করবে, কিংবা শাখার (الفرع) মধ্যে বিদ্যমান বিশেষত্বের অনুপস্থিতিকে মূলের (الأصل) মধ্যে উল্লেখ করবে।

কিন্তু কিছু আলেম (العلماء) একে শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন, যার ফলে পার্থক্য (الفرق) হবে উল্লিখিত দুটি আপত্তির (المعارضتين) সমষ্টি (২)। আল-আমেদী (মৃত্যু ৬৩১ হিজরি) (৩) উল্লেখ করেছেন যে, পার্থক্য (الفرق) মূল (الأصل) অথবা শাখার (الفرع) আপত্তির (المعارضة) বাইরে নয়—এই অভিমতটি তাঁর সমসাময়িকদের। তবে পূর্বসূরিগণ (المتقدمون) মনে করতেন যে, পার্থক্য (الفرق) হলো উভয় বিষয়ের সমষ্টি; এমনকি যদি কেবল একটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা হয়, তবে তা পার্থক্য (الفرق) হিসেবে গণ্য হবে না। পার্থক্য (الفرق) গ্রহণ বা বর্জনের বিষয়ে তাঁদের মতভেদ তিনি এরই ওপর ভিত্তি করে বর্ণনা করেছেন (৪)।

৬ - কাশশাফু ইস্তিলাহাতিল ফুনুন গ্রন্থে এসেছে: উসুল শাস্ত্রবিদগণ (الأصوليين) এবং তাত্ত্বিকদের (أهل النظر) নিকট পার্থক্য (الفرق) হলো: (প্রতিবাদকারী (المعترض) কর্তৃক মূল (الأصل) এবং শাখার (الفرع) মধ্যে এমন বিষয়ের অবতারণার মাধ্যমে পার্থক্য করা যা বিশেষায়িত...

--------------------------------------------

(১) আত্তারের টীকা সম্বলিত মাহাল্লির শরহ জামউল জাওয়ামি (২/ ৩৬৩)।

(২) শরহ মুখতাসার আল-মুনতাহা (২/ ২৭৬) এবং শরহ জামউল জাওয়ামি (২/ ৩৬৩)।

(৩) তিনি হলেন সাইফুদ্দীন আলী ইবনে আবি আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-তাগলিবি আল-আমেদী আল-হানবালী, পরবর্তীতে শাফেয়ী। তিনি প্রজ্ঞা (الحكمة), যুক্তিবিদ্যা (المنطق), ইলমুল কালাম (الكلام), উসুল এবং ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের সমন্বয় করেছিলেন এবং মতভেদশাস্ত্রে (الخلاف) বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। তিনি অত্যন্ত মেধাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে, তাঁর সময়ে তাঁর চেয়ে অধিক শাস্ত্রজ্ঞ আর কেউ ছিল না। তিনি আমেদে জন্মগ্রহণ করেন এবং বাগদাদে অবস্থান করেন, অতঃপর সিরিয়া এবং পরে মিশরে স্থানান্তরিত হন। তাঁর মৃত্যু হয়েছিল দামেস্কে ৬৩১ হিজরিতে এবং তাঁকে কাসিউন পাহাড়ের পাদদেশে সমাহিত করা হয়।

তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: গায়াতুল মারাম ফি ইলমিল কালাম, আল-ইহকাম ফি উসুলিল আহকাম, গায়াতুল আমাল ফি ইলমিল জাদাল এবং অন্যান্য।

তাঁর জীবনী সংক্রান্ত তথ্যের জন্য দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান (২/ ৪৫৫), মিফতাহুস সা'আদাহ (২/ ৫৫), শাযারাতুয যাহাব (৫/ ১৪৪), মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (৭/ ১৫৫)।

(৪) আল-ইহকাম (৪/ ১০৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২০)
بأحدهما، لئلا يصح القياس، ويقابله الجمع) (1).

وهذا التعريف يصور الفرق، عند الأصوليين وأهل النظر، ويعبر عن ذلك بوضوح. وقد صوَّر إمام الحرمين (ت 478 هـ) ذلك، من قبل، بعبارة جامعة، بيّنت معنى الفرق والغاية منه، قال: (والقول الوجيز فيه أن قصد الجمع يَنْتَظِم بأصلٍ وفرعٍ، ومعنى رابط بينهما، على شرائط بينة، والفرق معنى يشتمل على ذكر أصل وفرع، وهما يفترقان فيه، وهذا يقع على نقيض غرض الجمع. ومن ضروراته معارضة معنى الأصل والفرع، ولكن الغرض منه مضادة الجمع بوجه فقه، أو بوجه شبه، إن كان القياس في فن الشبه، وعلى هذا لو سمى مسمٍّ الفرق معارضة لم يكن مبعداً، ولكن ليس الغرض من الإتيان بمعارضة على الطرد والعكس، لاتصال أحدهما بالآخر، بل القصد منه فقهٌ، ينتظم معارضتين، يشعر بمفارقة الأصل للفرع على مناقضة الجمع، فهذا سرّ الفرق) (2).

وقد سبق أن ذكرنا ما قاله الآمدي (ت 631 هـ) من أن الفرق، عند المتقدمين، هو مجموع الأمرين، أي المعارضة في الأصل وفي الفرع. (حتى أنه لو اقتصر على أحدهما لم يكن فرقاً) (3)، وأنه - أي الفرق- على ما انتهى إليه علماء زمانه، هو إحدى المعارضتين (3).

تعريف علم الفروق الفقهية:

لم يتكلم الأصوليون عما يُسمى علم أو فن الفروق الفقهية، بل اقتصر

--------------------------------------------

(1) (3/ 1129).

(2) البرهان (2/ 1068).

(3) الإحكام (4/ 103).
যেকোনো একটির মাধ্যমে, যাতে করে তুলনা (القياس) সঠিক না হয়, এবং এর বিপরীত হলো একত্রীকরণ (الجمع)। (১)

এই সংজ্ঞাটি উসুলবিদ (الأصوليين) এবং চিন্তাবিদদের (أهل النظر) নিকট পার্থক্যের (الفرق) চিত্র ফুটিয়ে তোলে এবং তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। ইমামুল হারামাইন (মৃত্যু: ৪৭৮ হি.) ইতিপূর্বে একটি সামগ্রিক বক্তব্যের মাধ্যমে এটি চিত্রিত করেছেন, যা পার্থক্যের (الفرق) অর্থ এবং এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করেছে। তিনি বলেন: (এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কথা হলো, একত্রীকরণের (الجمع) উদ্দেশ্য হলো মূল (أصل) ও শাখার (فرع) বিন্যাস এবং সুনির্দিষ্ট শর্তাবলীর ভিত্তিতে তাদের মধ্যে একটি সংযোগকারী অর্থের উপস্থিতি। আর পার্থক্য (الفرق) হলো এমন একটি অর্থ যা মূল (أصل) ও শাখার (فرع) উল্লেখকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং যে বিষয়ে তারা পরস্পর ভিন্ন হয়, আর এটি একত্রীকরণের (الجمع) উদ্দেশ্যের বিপরীতে ঘটে। এর অন্যতম আবশ্যিকতা হলো মূল (الأصل) ও শাখার (الفرع) অর্থের বৈপরীত্য (معارضة), তবে এর লক্ষ্য হলো ফিকহী পদ্ধতিতে অথবা সাদৃশ্যের (شبه) ভিত্তিতে একত্রীকরণের (الجمع) বিরোধিতা করা, যদি তুলনা (القياس) সাদৃশ্যবিদ্যার (فن الشبه) অন্তর্ভুক্ত হয়। এর ভিত্তিতে, কেউ যদি পার্থক্যকে (الفرق) বৈপরীত্য (معارضة) হিসেবে অভিহিত করে, তবে তা দূরবর্তী কিছু হবে না। কিন্তু বৈপরীত্য (معارضة) আনয়নের উদ্দেশ্য ইতিবাচক ও নেতিবাচক ব্যপ্তিসম্বন্ধ (الطرد والعكس) নয়, কারণ একটির সাথে অন্যটির সংযোগ রয়েছে; বরং এর উদ্দেশ্য হলো ফিকহী বোধ, যা দুটি বৈপরীত্যকে বিন্যস্ত করে এবং একত্রীকরণের (الجمع) বিপরীতে মূল (الأصل) থেকে শাখার (الفرع) ভিন্নতা অনুভব করায়; এটিই পার্থক্যের (الفرق) নিগূঢ় রহস্য)। (২)

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, আল-আমিদী (মৃত্যু: ৬৩১ হি.) বলেছেন যে, পূর্বসূরিদের (المتقدمين) নিকট পার্থক্য (الفرق) হলো দুটি বিষয়ের সমষ্টি, অর্থাৎ মূল (الأصل) এবং শাখার (الفرع) মধ্যে বৈপরীত্য (المعارضة)। (এমনকি যদি তা কেবল একটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে তবে তা পার্থক্য (فرقاً) হবে না) (৩)। আর তাঁর সময়কার আলেমগণ যে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন সেই অনুযায়ী পার্থক্য (الفرق) হলো দুটির মধ্যে যেকোনো একটি বৈপরীত্য (المعارضتين) (৩)।

ফিকহী পার্থক্য বিষয়ক শাস্ত্রের সংজ্ঞা:

উসুলবিদগণ (الأصوليون) তথাকথিত ফিকহী পার্থক্য বিষয়ক বিদ্যা বা শিল্প নিয়ে আলোচনা করেননি, বরং তাঁরা সীমাবদ্ধ ছিলেন...

--------------------------------------------

(১) (৩/ ১১২৯)।

(২) আল-বুরহান (২/ ১০৬৮)।

(৩) আল-ইহকাম (৪/ ১০৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২১)
حديثهم عنها، خلال كلامهم عن قوادح العلة في القياس، أو خلال كلامهم في موضوع الجدل، كما في الكافية في الجدل لإمام الحرمين (ت 478 هـ)، والجدل على طريقة الفقهاء لأبي الوفاء ابن عقيل (ت 513 هـ) (1). وعَلَم الجذل في علم الجدل لسليمان بن عبد القوي الطوفي (ت 716 هـ) (2)، وكالمعونة في الجدل لأبي إسحاق الشيرازي (ت 476 هـ) (3).

--------------------------------------------

(1) هو أبو الوفاء علي بن محمد بن عقيل البغدادي، من علماء الإسلام البارزين، ومن مجتهدي الحنابلة وأصولييهم، تتلمذ على عشرات العلماء، وكان من ملازمي القاضي أبي يعلى. اشتغل بمذهب المعتزلة ثم تركه، عرف بقوة الحجة، وحضور البديهة، والمناظرة والجدل. توفي سنة (513 هـ).

من مؤلفاته: الواضح في أصول الفقه، والجدل على طريقة الفقهاء، والفنون، وكفاية المفتي، وعمدة الأدلة وغيرها.

راجع في ترجمته: ذيل طبقات الحنابلة (1/ 142)، والمنهج الأحمد (2/ 252)، والأعلام (4/ 313).

(2) هو أبو الربيع سليمان بن عبد القوي بن عبد الكريم الطوفي الصرصري، نسبته إلى قرية طوفا من أعمال صرصر في العراق، من علماء الحنابلة المشهورين. عُرف بقوة الحافظة وشدة الذكاء.

اتهم بالرفض والانحراف، فعُزّر وضرب. تنقّل بين البلدان، وكان آخر عهده في مدينة الخليل التي توفي فيها سنة (716 هـ).

من مؤلفاته: البلبل في أصول الفقه، اختصر فيه كتاب روضة الناظر لابن قدامة، وشرح مختصره هذا، والذريعة إلى معرفة أسرار الشريعة، وشرح الأربعين النووية، وتعاليق على الأناجيل.

راجع في ترجمته: الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 366)، الدرر الكامنة (2/ 295)، شذرات الذهب (6/ 39) والأعلام (3/ 127)، والفتح المبين (2/ 120).

(3) هو أبو إسحاق إبراهيم بن علي بن يوسف الفيروز آبادي الشافعي، الملقب بجمال الدين. تفقه بشيراز، وقدم إلى البصرة، ثم بغداد، فاستوطنها، ولزم القاضي =
তাদের আলোচনা এসব সম্পর্কে, কিয়াস (القياس) এর ক্ষেত্রে কারণের ত্রুটিসমূহ (قوادح العلة) নিয়ে আলোচনার সময়, অথবা বিতর্কবিদ্যা (الجدل) সংক্রান্ত আলোচনার সময়; যেমনটি ইমামুল হারামাইন (মৃত্যু ৪৭৮ হিজরি)-এর আল-কাফিয়া ফিল জাদাল এবং আবু আল-ওয়াফা ইবনে আকিল (মৃত্যু ৫১৩ হিজরি)-এর আল-জাদাল আলা তরিকাতিল ফুকাহা-তে বর্ণিত হয়েছে (১)। এছাড়া সুলায়মান বিন আব্দুল কাওয়ী আল-তুফি (মৃত্যু ৭১৬ হিজরি)-এর আলামুল জাযাল ফি ইলমিল জাদাল (২) এবং আবু ইসহাক আশ-শিরাজি (মৃত্যু ৪৭৬ হিজরি)-এর আল-মাউনা ফিল জাদাল (৩)-এর মতো গ্রন্থগুলোতেও এর আলোচনা এসেছে।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবু আল-ওয়াফা আলী বিন মুহাম্মদ বিন আকিল আল-বাগদাদি, ইসলামের অন্যতম বিশিষ্ট আলেম এবং হাম্বলি মাযহাবের মুজতাহিদ (مجتهد) ও উসুলবিদদের (أصولي) অন্তর্ভুক্ত। তিনি বহু সংখ্যক আলেমের নিকট শিক্ষালাভ করেছেন এবং কাজি (القاضي) আবু ইয়া'লার ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন। তিনি মুতাজিলা মতাদর্শের চর্চায় নিয়োজিত ছিলেন, পরবর্তীতে তা বর্জন করেন। তিনি বলিষ্ঠ যুক্তি, উপস্থিত বুদ্ধি এবং বিতর্ক ও বাহাস (الجدل) করার ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত ছিলেন। তিনি ৫১৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে: আল-ওয়াদিহ ফি উসুলিল ফিকহ, আল-জাদাল আলা তরিকাতিল ফুকাহা, আল-ফুনুন, কিফায়াতুল মুফতি, উমদাতুল আদিল্লাহ এবং অন্যান্য।

তার জীবনী সংক্রান্ত সূত্র: যাইলু তাবাকাতিল হানাবিলা (১/ ১৪২), আল-মানহাজুল আহমাদ (২/ ২৫২) এবং আল-আলাম (৪/ ৩১৩)।

(২) তিনি হলেন আবু আল-রাবি' সুলায়মান বিন আব্দুল কাওয়ী বিন আব্দুল কারিম আল-তুফি আস-সারসারী। ইরাকের সারসার অঞ্চলের তুফা গ্রামের অধিবাসী হওয়ার কারণে তাকে তুফি বলা হয়। তিনি হাম্বলি মাযহাবের প্রখ্যাত আলেমদের একজন। তিনি প্রখর স্মৃতিশক্তি ও তীক্ষ্ণ মেধার জন্য সুপরিচিত ছিলেন।

তার বিরুদ্ধে রাফেজি মতবাদ (الرفض) ও বিচ্যুতির অভিযোগ আনা হয়েছিল, যার ফলে তাকে শাস্তি প্রদান ও প্রহার করা হয়েছিল। তিনি বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন এবং তার জীবনের শেষ সময়টি অতিবাহিত হয়েছে আল-খালিল শহরে, যেখানে তিনি ৭১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

তার গ্রন্থাবলীর মধ্যে রয়েছে: আল-বুলবুল ফি উসুলিল ফিকহ (এতে তিনি ইবনে কুদামার রাওদাতুন নাজির কিতাবটি সংক্ষেপ করেছেন এবং পরবর্তীতে এর ব্যাখ্যাগ্রন্থও লিখেছেন), আয-যারিয়াহ ইলা মারিফাতি আসরারিশ শারিয়াহ, শারহুল আরবাঈন আন-নববী এবং ইঞ্জিলসমূহের ওপর টীকা।

তার জীবনী সংক্রান্ত সূত্র: আয-যাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলা (২/ ৩৬৬), আদ-দুরারুল কামিনাহ (২/ ২৯৫), শাযারাতুয যাহাব (৬/ ৩৯), আল-আলাম (৩/ ১২৭) এবং আল-ফাতহুল মুবিন (২/ ১২০)।

(৩) তিনি হলেন আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আলী বিন ইউসুফ আল-ফায়রুজাবাদি আশ-শাফিয়ি, যিনি জামালুদ্দীন উপাধিতে ভূষিত। তিনি শিরাজে ফিকহ (الفقه) শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন, এরপর বসরায় আসেন এবং পরবর্তীতে বাগদাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি কাজি (القاضي) এর সান্নিধ্যে ছিলেন...
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২২)
والمنهاج في ترتيب الحجاج لأبي الوليد الباجي (ت 474 هـ) (1)، والإيضاح لقوانين الاصطلاح لأبي محمد يوسف بن عبد الرحمن بن الجوزي (ت 656 هـ) (2)، وسائر كتب أصول الفقه الباحثة عن قوادح

--------------------------------------------

= أبا الطيب الطبري، وكان من أفصح وأورع وأنظر أهل زمانه. رحل إليه الفقهاء، ودرّس بالنظامية، كان فقيراً متعففاً قانعاً باليسير، ذكر أنه لم يحج لعدم قدرته المالية. توفي في بغداد سنة (476 هـ).

من مؤلفاته: التنبيه والمهذب في الفقه، والتبصرة في أصول الفقه، واللمع وشرحه في أصول الفقه، وطبقات الشافعية.

راجع في ترجمته: وفيات الأعيان (1/ 9)، وطبقات الشافعية للأسنوي (2/ 83)، والأعلام (1/ 51)، ومعجم المؤلفين (1/ 68).

(1) هو أبو الوليد سليمان بن خلف بن سعد التجيبي الأندلسي المالكي الباجي، ولد ببطليوس ثم رحل إلى باجة، وأقام بها زمناً طويلاً، ثم رحل إلى مصر والشام والعراق، فأخذ العلم عمن لقيه فيها من العلماء. وكانت رحلته طويلة استغرقت ثلاث عشرة سنة، عاد بعدها إلى بلده، فدرّس وعلّم وذاع صيته. تولّى القضاء في الأندلس، وكان نظّاراً قوي الحجة. قال عنه ابن حزم: لم يكن للمذهب المالكي، بعد القاضي عبد الوهاب إلا أبو الوليد الباجي، توفي سنة (474 هـ).

من مؤلفاته: إحكام الفصول في أحكام الأصول، والمنتقى في شرح الموطأ، وكتاب الحدود، والإشارة، وغيرها.

راجع في ترجمته: وفيات الأعيان (2/ 142)، والديباج المذهب (ص 120)، وشذرات الذهب (3/ 344)، والفتح المبين (1/ 252).

(2) هو أبو المحاسن يوسف بن عبد الرحمن بن علي بن الجوزي، القرشي التيمي البكري البغدادي، الملقب بمحيي الدين، تفقه على أبيه، وولي الحسبة في جانبي بغداد، والنظر والوقوف العامة. حدّث في بلدان كثيرة منها مصر وبغداد، ودرس بالمستنصرية في بغداد، وأنشأ طائفة من المدارس في بلدان عدّة، منها المدرسة الجوزية في دمشق. قتله التتار صبراً، مع أولاده الثلاثة، يوم دخول هولاكو بغداد سنة (656 هـ).

من مؤلفاته: معادن الإبريز في تفسير الكتاب العزيز، والإيضاح في قوانين الاصطلاح، وغيرها. … =
এবং আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি (মৃত্যু ৪৭৪ হিজরি) রচিত 'আল-মিনহাজ ফি তারতিব আল-হিজজাজ' (১), এবং আবু মুহাম্মদ ইউসুফ বিন আবদুর রহমান বিন আল-জাওজি (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরি) রচিত 'আল-ইদাহ লি-কাওয়ানিন আল-ইস্তিলাহ' (২), এবং উসুল আল-ফিকহ-এর অন্যান্য কিতাবসমূহ যা বর্ণনাকারীর অযোগ্যতা বা ত্রুটিসমূহ (قوادح) নিয়ে আলোচনা করে...

--------------------------------------------

= আবু আল-তৈয়ব আল-তবারি; তিনি ছিলেন তাঁর সময়ের সবচেয়ে বাকপটু, পরহেজগার এবং সূক্ষ্মদর্শী ফকিহদের অন্তর্ভুক্ত। ফকিহগণ তাঁর নিকট সফর করতেন এবং তিনি নিজামিয়া মাদরাসায় পাঠদান করতেন। তিনি দরিদ্র ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন এবং অল্পে তুষ্ট থাকতেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় তিনি হজ করতে পারেননি। তিনি ৪৭৬ হিজরিতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি: ফিকহ শাস্ত্রের 'আল-তানবিহ' ও 'আল-মুহাজ্জাব', উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রের 'আল-তাবসিরাহ', উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রের 'আল-লুমা' ও এর শরহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ), এবং 'তাবাকাত আল-শাফিইয়্যাহ'।

তাঁর জীবনী দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান (১/৯), আল-আসনাবি রচিত তাবাকাত আল-শাফিইয়্যাহ (২/৮৩), আল-আ'লাম (১/৫১) এবং মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (১/৬৮)।

(1) তিনি হলেন আবু আল-ওয়ালিদ সুলায়মান বিন খালাফ বিন সাদ আল-তুজিবি আল-আন্দালুসি আল-মালিকি আল-বাজি। তিনি বাত্তালিওস-এ জন্মগ্রহণ করেন, এরপর বাজা-তে গিয়ে সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন। অতঃপর তিনি মিশর, সিরিয়া ও ইরাক সফর করেন এবং সেখানে যেসব আলেমদের সাক্ষাৎ পেয়েছেন তাদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তাঁর এই ইলমি সফর তেরো বছর স্থায়ী হয়েছিল, এরপর তিনি নিজ দেশে ফিরে এসে পাঠদান ও শিক্ষা প্রসারে আত্মনিয়োগ করেন এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি আন্দালুসে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন এবং তিনি একজন শক্তিশালী যুক্তিসম্পন্ন গবেষক ও তার্কিক ছিলেন। ইবনে হাজম তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: 'কাজী আব্দুল ওয়াহাবের পর আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি ব্যতীত মালিকি মাজহাবের আর কেউ (যোগ্য প্রতিনিধি) ছিল না।' তিনি ৪৭৪ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি: 'ইহকাম আল-ফুসুল ফি আহকাম আল-উসুল', মুয়াত্তা-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-মুন্তাকা', 'কিতাব আল-হুদুদ', 'আল-ইশারাহ' ইত্যাদি।

তাঁর জীবনী দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান (২/১৪২), আদ-দিবাজ আল-মুজাহহাব (পৃ. ১২০), শাজারাতুজ জাহাব (৩/৩৪৪) এবং আল-ফাতহুল মুবিন (১/২৫২)।

(2) তিনি হলেন আবু আল-মাহাসিন ইউসুফ বিন আবদুর রহমান বিন আলী বিন আল-জাওজি, আল-কুরাশি আল-তাইমি আল-বাকরি আল-বাগদাদি, যাঁর উপাধি ছিল মুহিউদ্দিন। তিনি তাঁর পিতার নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং বাগদাদের উভয় পার্শ্বের হিসবাহ (জনশৃঙ্খলা তদারকি) এবং ওয়াকফ ও জনকল্যাণমূলক বিষয়াদির তদারকির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মিশর ও বাগদাদসহ অনেক দেশেই হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বাগদাদের মুসতানসিরিয়া মাদরাসায় পাঠদান করেছেন। তিনি বিভিন্ন দেশে বেশ কিছু মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, যার মধ্যে দামেস্কের আল-জাওজিয়া মাদরাসা অন্যতম। হালাকু খাঁ যখন ৬৫৬ হিজরিতে বাগদাদে প্রবেশ করেন, তখন তাতাররা তাঁর তিন সন্তানসহ তাঁকে বন্দি অবস্থায় হত্যা করে।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলি: পবিত্র কুরআনের তাফসির 'মাআদিন আল-ইবরিজ ফি তাফসির আল-কিতাব আল-আজিজ', 'আল-ইদাহ ফি কাওয়ানিন আল-ইস্তিলাহ' ইত্যাদি। … =
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২৩)
العلة في القياس.

أما الفقهاء الذين ألفوا في الأشباه والنظائر، والتي من محتوياتها الفروق الفقهية، فقد أشار بعضهم إلى شيء من ذلك، وذكروا ما يشبه التعريف لهذا العلم، وأوردوا شيئاً من أوصافه، لكن هؤلاء كانوا محدودين وقليلي العدد، وفيما يأتي نذكر بعض تلك التعريفات التي اطلعنا عليها:

1 - قال جلال الدين السيوطي (ت 911 هـ) (1)، عن علم الفروق: إنه الفن (الذي يذكر فيه الفرق بين النظائر المتحدة تصويراً ومعنى، المختلفة حكماً وعلة) (2).

ولم يورد هذا الكلام على أنه تعريف فني، وإنما ذكره على أنه وصف لهذا العلم، استثمره بعضهم، وحوّله إلى تعريف له، بإجراء بعض التعديل اليسير في الصياغة.

--------------------------------------------

= راجع في ترجمته: الذيل على طبقات الحنابلة (2/ 258)، وشذرات الذهب (5/ 286)، والأعلام (8/ 236)، ومعجم المؤلفين (13/ 307).

(1) هو جلال الدين أبو الفضل عبد الرحمن بن أبي بكر بن محمد المصري الخضيري السيوطي الشافعي، ولد ونشأ في القاهرة، وقرأ على جماعة من العلماء. كان إماماً بارعاً في كثير من العلوم. فكان مفسراً ومحدثاً وفقيهاً ونحوياً وبلاغياً ولغوياً اعتزل التدريس والإفتاء والناس، وانصرف إلى التأليف. توفي سنة (911 هـ).

من مؤلفاته: الدر المنثور في التفسير بالمأثور، والمزهر في اللغة، والإتقان في علوم القرآن، والأشباه والنظائر في فروع الشافعية، والأشباه والنظائر النحوية، وحسن المحاضرة وغيرها.

راجع في ترجمته: شذرات الذهب (8/ 51)، والفتح المبين (3/ 65)، ومعجم المؤلفين (5/ 128).

(2) الأشباه والنظائر (ص 7)، وانظر مقدمة تحقيق الاعتناء في الفرق والاستثناء.
কিয়াসের ক্ষেত্রে ইল্লত (علة)।

পক্ষান্তরে যে সকল ফকিহগণ 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির' (সদৃশ ও তুল্য বিষয়াবলি) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন, যার অন্যতম বিষয়বস্তু হলো ফিকহি পার্থক্য (আল-ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ), তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন। তাঁরা এই ইলমের সংজ্ঞার ন্যায় কিছু কথা উল্লেখ করেছেন এবং এর কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁদের সংখ্যা ছিল সীমিত ও অল্প। নিম্নে আমাদের গোচরীভূত হওয়া সেই সংজ্ঞাগুলোর কিছু উল্লেখ করা হলো:

১ - জালালুদ্দিন সুয়ূতী (ওফাত: ৯১১ হি.) (১) ফুরুক শাস্ত্র সম্পর্কে বলেন: এটি এমন একটি শিল্প (যাতে চিত্র ও অর্থের দিক থেকে অভিন্ন, কিন্তু বিধান বা হুকুম ও ইল্লত (علة)-এর দিক থেকে ভিন্ন—এমন সদৃশ বিষয়াবলির মধ্যাকার পার্থক্য আলোচনা করা হয়) (২)।

তিনি এই কথাগুলো কোনো পারিভাষিক সংজ্ঞা হিসেবে উপস্থাপন করেননি, বরং এই ইলমের একটি বর্ণনা হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। পরবর্তীতে কেউ কেউ এটিকে গ্রহণ করেছেন এবং শব্দবিন্যাসে সামান্য পরিবর্তনের মাধ্যমে এটিকে একটি সংজ্ঞায় রূপান্তরিত করেছেন।

--------------------------------------------

= তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন: আদ-দাইলু আলা তাবাকাতিল হানাবিলাহ (২/ ২৫৮), শাযারাতুয যাহাব (৫/ ২৮৬), আল-আলাম (৮/ ২৩৬), এবং মুজামুল মুআল্লিফীন (১৩/ ৩০৭)।

(১) তিনি হলেন জালালুদ্দিন আবুল ফজল আবদুর রহমান বিন আবু বকর বিন মুহাম্মদ আল-মিসরি আল-খুদাইরি আস-সুয়ূতী আশ-শাফিয়ী। তিনি কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন এবং একদল উলামায়ে কেরামের নিকট শিক্ষালাভ করেন। তিনি বহু শাস্ত্রে পারদর্শী একজন ইমাম ছিলেন। তিনি একাধারে মুফাসসির, মুহাদ্দিস (محدث), ফকিহ, ব্যাকরণবিদ, আলঙ্কারিক ও ভাষাবিদ ছিলেন। জীবনের এক পর্যায়ে তিনি শিক্ষকতা, ফতোয়া প্রদান এবং জনসমাগম ত্যাগ করে গ্রন্থ রচনায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি (৯১১ হি.) সনে ইন্তেকাল করেন।

তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আদ-দুররুল মানসুর ফিত তাফসির বিল মাসুর, আল-মিযহার ফিল লুগাহ, আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির ফি ফুরুয়িশ শাফিয়্যাহ, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির আন-নাহবিয়্যাহ, হুসনুল মুহাযারাহ এবং আরও অনেক।

তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন: শাযারাতুয যাহাব (৮/ ৫১), আল-ফাতহুল মুবীন (৩/ ৬৫), এবং মুজামুল মুআল্লিফীন (৫/ ১২৮)।

(২) আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির (পৃ. ৭), এবং দেখুন: আল-ইতিনাউ ফিল ফারকি ওয়াস্ট ইসনা-এর তাহকিককৃত পাণ্ডুলিপির ভূমিকা।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২৪)
2 - وقال الشيخ محمد الفاذاني (ت 1410 هـ) (1): (هو معرفة الأمور الفارقة بين مسألتين متشابهتين، بحيث لا نسوي بينهما في الحكم) (2). وقال عن الجمع والفرق: (أي معرفة ما يجتمع مع آخر في حكم، ويفترق معه في حكم آخر، كالذمي والمسلم يجتمعان في أحكام ويفترقان) (2).

3 - واعترض بعض الباحثين على التعريفين السابقين بأنهما غير مانعين من دخول الفروق بين المسائل المتشابهة، في أي علم من العلوم، في التعريف؛ إذ لم تُقَيّد المسائل المتشابهة بالفقهية. وذكر تعريفاً من عنده، رأى أنه جامع مانع، هو قوله: (العلم ببيان الفرق بين مسألتين فقهيتين متشابهتين صورة، مختلفتين حكماً) (3).

والذي يبدو أن العلماء إنما كانوا يقصدون تعريف الفروق، بوجه عام، لا الفروق الفقهية، كما عرّفوا القاعدة بأنها قضية كلية، دون أن

--------------------------------------------

(1) هو الشيخ محمد ياسين بن الشيخ محمد عيسى الفاذاني، الأندنوسي أصلاً والمكي مولداً. والفاذاني نسبة إلى فاذان أحد أقاليم أندنوسيا، تلقى علومه في مكة على طائفة من العلماء، تولى تدريس علوم متعددة في المسجد الحرام. توفي في مكة سنة (1410 هـ).

من مؤلفاته: الفوائد الجنية، وبغية المشتاق في شرح لمع أبي إسحاق، والدر المنضود شرح سنن أبي داود وغيرها.

راجع في ترجمته: مقدمة المعتني بطبع كتاب الفوائد الجنية، رمزي سعد الدين دمشقية.

(2) الفوائد الجنية (ص 98).

(3) إيضاح الدلائل في الفرق بين المسائل لعبد الرحيم الزريراني - مقدمة المحقق د. عمر ابن محمد بن عبد الله السبيل (ص 19).
2 - এবং শায়খ মুহাম্মদ আল-ফাদানি (মৃ. ১৪১০ হি.) (১) বলেন: (তা হলো এমন সব পার্থক্যকারী বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যা দুটি সদৃশ মাসআলার (مسألة) মধ্যে বিদ্যমান, যাতে বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে আমরা উভয়ের মধ্যে সমতা তৈরি না করি) (২)। তিনি 'একত্রীকরণ ও পার্থক্যকরণ' (الجمع والفرق) সম্পর্কে বলেন: (অর্থাৎ এমন কিছু জানা যা বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে অপরের সাথে মিলিত হয় এবং অন্য একটি বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে তার থেকে পৃথক হয়; যেমন জিম্মি ও মুসলিম কতিপয় বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে এক হয় এবং অন্যগুলোতে পৃথক হয়) (২)।

3 - কতিপয় গবেষক পূর্বোক্ত সংজ্ঞা দুটির ওপর এই মর্মে আপত্তি জানিয়েছেন যে, সেগুলো সংজ্ঞার ভেতরে যেকোনো শাস্ত্রের সদৃশ মাসআলাসমূহের (مسألة) মধ্যবর্তী পার্থক্যের প্রবেশ রোধ করতে সক্ষম নয় (غير مانع); কারণ সেখানে সদৃশ মাসআলাগুলোকে (مسألة) ফিকহী বিষয়ের সাথে সীমাবদ্ধ করা হয়নি। তিনি নিজের পক্ষ থেকে একটি সংজ্ঞা উল্লেখ করেছেন যাকে তিনি সুসংহত ও পূর্ণাঙ্গ (جامع مانع) হিসেবে গণ্য করেছেন, তা হলো: (দৃশ্যত সদৃশ কিন্তু বিধানের (حكم) দিক থেকে ভিন্ন এমন দুটি ফিকহী মাসআলার (مسألة) মধ্যবর্তী পার্থক্য বর্ণনার জ্ঞান) (৩)।

আর যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, উলামায়ে কেরাম মূলত সাধারণভাবে পার্থক্যের সংজ্ঞা প্রদানই উদ্দেশ্য করেছিলেন, কেবল ফিকহী পার্থক্য নয়; যেমন তাঁরা মূলনীতির (قاعدة) সংজ্ঞা দিতে গিয়ে সেটিকে একটি সামগ্রিক বিষয় (قضية كلية) হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে সেটিকে...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন শায়খ মুহাম্মদ ইয়াসিন ইবনে শায়খ মুহাম্মদ ঈসা আল-ফাদানি, বংশগতভাবে ইন্দোনেশীয় এবং জন্মসূত্রে মক্কী। 'ফাদানি' শব্দটি ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রদেশ 'ফাদান'-এর দিকে সম্পৃক্ত। তিনি মক্কায় একদল আলেমের কাছে জ্ঞান অর্জন করেন এবং মসজিদে হারামে বিভিন্ন শাস্ত্রের পাঠদানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৪১০ হিজরি সনে মক্কায় ইন্তেকাল করেন।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আল-ফাওয়ায়িদুল জানিয়্যাহ, বুগয়াতুল মুশতাক ফি শারহি লুমায়ি আবি ইসহাক, আদ-দুররুল মানদুদ শারহু সুনান আবু দাউদ এবং অন্যান্য।

তাঁর জীবনী সম্পর্কে দেখুন: আল-ফাওয়ায়িদুল জানিয়্যাহ গ্রন্থের মুদ্রণ তত্ত্বাবধায়কের ভূমিকা, রামজি সাদ উদ্দিন দামাশকিয়াহ।

(২) আল-ফাওয়ায়িদুল জানিয়্যাহ (পৃ. ৯৮)।

(৩) আবদুর রহিম আল-জারিরাানি রচিত 'ঈজাহুদ দালায়িল ফিল ফারকি বাইনাল মাসায়িল' - গবেষক ড. উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আস-সাবিল-এর ভূমিকা (পৃ. ১৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২৫)
يحددوا مشتملاتها (1). لكن الذي يؤخذ على التعريفين المذكورين، وعلى تعريف المعترض د. عمر السبيل، أنها أدخلت في مادة التعريف ألفاظ المعرف، مما ترتب عليه أن يكون فيها الدور الممنوع، ولهذا فإنه لو أبدل لفظ الفرق أو الفارق، بغيره من الألفاظ التي تؤدي معناه، زال مثل ذلك الاعتراض، كأن يقال، مثلاً، هو العلم بوجوه الاختلاف بين مسألتين فقهيتين متشابهتين صورة، مختلفتين حكماً.

على أن هذا لا يُعد تعريفاً، أو قولاً شارحاً لعلم الفروق نفسه، لأن العلم المذكور أوسع دائرة من ذلك، ولهذا فإننا نقترح تصوير هذا العلم بأنه:

العلم الذي يُبْحَثُ فيه عن وجوه الاختلاف، وأسبابها، بين المسائل الفقهية المتشابهة في الصورة، والمختلفة في الحكم، من حيث بيان معنى تلك الوجوه، وماله صلة بها، ومن حيث صحتها وفسادها، وبيان شروطها ووجوه دفعها، ونشأتها وتطورها، وتطبيقاتها، والثمرات والفوائد المترتبة عليها.

وإنما قلنا إن هذا تصوير لهذا العلم، بسبب أنه يفتقد لبعض شروط الحد أو الرسم، لما فيه من التفصيلات، وذكر ما لا يذكر من ذلك، عند المنطقيين، ولكننا وجدنا أن التصريح بذلك قد يُلقي ضوءاً يزيد ما نريده من علم الفروق الفقهية وضوحاً والله أعلم.

--------------------------------------------

(1) نظر تفصيل الكلام عن هذا الأمر في كتابنا (القواعد الفقهية- المبادئ والمقومات- المصادر- الدليلية- التطور).
তাদের বিষয়বস্তু নির্ধারণ করেছেন (১)। তবে উল্লিখিত দুটি সংজ্ঞার এবং আপত্তি প্রদানকারী ড. উমর আল-সাবিলের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে যে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয় তা হলো, সংজ্ঞার মধ্যে সংজ্ঞায়িত শব্দেরই ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে সেখানে নিষিদ্ধ চক্রাকার বর্ণনা (الدور الممنوع) সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে যদি 'পার্থক্য' (الفرق) বা 'বৈসাদৃশ্য' (الفارق) শব্দের পরিবর্তে এর সমার্থক অন্য কোনো শব্দ ব্যবহার করা হতো, তবে এ ধরনের আপত্তি আর থাকতো না। যেমন উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে: এটি হলো এমন একটি ইলম বা জ্ঞান, যা বাহ্যিক দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ কিন্তু বিধানগতভাবে (حكماً) ভিন্ন এমন দুটি ফিকহী মাসআলার মধ্যে পার্থক্যের দিকগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান দান করে।

যদিও এটিকে ইলমে ফুরুক-এর একটি সংজ্ঞা (الحد) বা ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা (الرسم) হিসেবে গণ্য করা যায় না; কারণ উক্ত ইলম বা জ্ঞান এর চেয়েও ব্যাপক পরিধি সম্পন্ন। এ কারণে আমরা এই ইলমের একটি চিত্রায়ন নিম্নোক্তভাবে করার প্রস্তাব করছি যে:

এটি এমন একটি ইলম বা জ্ঞান যেখানে বাহ্যিক দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং বিধানের (الحكم) দিক থেকে ভিন্ন এমন ফিকহী মাসআলাসমূহের মধ্যে পার্থক্যের দিকসমূহ এবং এর কারণসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়—ওই পার্থক্যের দিকগুলোর অর্থ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি, সেগুলোর শুদ্ধতা (الصحة) ও অশুদ্ধতা (الفساد), সেগুলোর শর্তাবলি (الشروط) ও তা খণ্ডনের পদ্ধতিসমূহ, এগুলোর উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ, এর প্রায়োগিক দিক এবং এর ওপর ভিত্তি করে অর্জিত ফলাফল ও উপকারিতার বর্ণনার নিরিখে।

আমরা এটিকে এই ইলমের একটি চিত্রায়ন বলেছি কারণ এতে এমন কিছু বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে এবং এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে যা যুক্তিবিদদের (المنطقيين) পরিভাষায় সংজ্ঞার (الحد) বা বর্ণনার (الرسم) শর্তাবলির অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে, বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করলে ‘ইলমে ফুরুক আল-ফিকহিয়্যাহ’ সম্পর্কে আমাদের উদ্দেশ্য আরও স্পষ্টভাবে পরিস্ফুটিত হবে। আল্লাহই সর্বজ্ঞাত।

--------------------------------------------

(১) এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার জন্য আমাদের গ্রন্থ 'আল-কাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ: আল-মাবাদিউ ওয়াল মুকাওয়্যিমাত- আল-মাসাদির- আদ-দালিলিয়্যাহ- আত-তাতাওয়ুর' দেখুন।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২৬)
موضوعه (1):

إن بيان موضوع العلم يُعَدّ من الأمور الهامة، عند العلماء، وقد أولوه عنايتهم، وجعلوه أحد المبادئ العشرة، أو الرؤوس الثمانية في اصطلاحاتهم (2) ويعود ذلك إلى أنه المميز للعلم عن غيره، والمحدد لمجالاته التي لا ينبغي أن تتداخل مع غيرها.

ويريدون بموضوع العلم ما يُبْحَث في ذلك العلم عن عارضه الذاتية، كالكلمة فإنها موضوع علم النحو، إذ يبحث فيه عما يعرض لها من حيث الإعراب والبناء، وأنواع الإعراب من رفع ونصب وجر وجزم، وكالأدلة، أو الأدلة والأحكام، فإنها موضوع أصول الفقه؛ إذ يبحث فيه عما يعرض لها من حيث الحجية وعدمها، وكيفية الاحتجاج بها، وغير ذلك (1).

--------------------------------------------

(1) انظر معنى موضوع العلم، وأنواع العوارض في كتابنا: أصول الفقه- الحد والموضوع والغاية (ص 8).

(2) وهذه المبادئ هي: الاسم، الحد، والموضوع، والمسائل والمباحث، والعلوم التي استمد منها، ونسبته إلى العلوم الأخرى، وفضله، وفائدته، وواضعه، وحكمه الشرعي، وقد نظم هذه المبادئ أكثر من واحد، منهم ابن ذكري في كتابه تحصيل المقاصد، بقوله:

فأول الأبواب في المبادئ … وتلك عشرة على المراد

الحد، والموضوع، ثم الواضع، … والاسم، الاستمداد، حكم الشارع

تصور المسائل، الفضيلة … ونسبةٌ، فائدة جليلة

(انظر رد المحتار لابن عابدين 1/ 36).

كما نظمها العلامة الصبان، بقوله:

إن مبادئ كل فن عشره … الحد، والموضوع، ثم الثمره

وفضله، ونسبة، والواضع، … والاسم، الاستمداد، حكم الشارع

مسائل، والبعض بالبعض اكتفى … ومن درى الجميع حاز الشرفا

(انظر إيضاح القواعد الفقهية للشيخ عبد الله بن سعيد اللحجي ص 9).
এর আলোচ্য বিষয় (موضوع العلم) (১):

বিজ্ঞজনদের নিকট কোনো শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع العلم) বর্ণনা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত। তাঁরা এ বিষয়টির প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন এবং একে তাঁদের পরিভাষায় দশটি মৌলনীতি (المبادئ العشرة) অথবা আটটি প্রধান শিরোনামের (الرؤوس الثمانية) (২) অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এর কারণ হলো, এটিই এক শাস্ত্রকে অন্য শাস্ত্র থেকে পৃথক করে এবং এর এমন ক্ষেত্রসমূহ নির্ধারণ করে দেয়, যা অন্য শাস্ত্রের সাথে মিশে যাওয়া বা পরস্পর প্রবিষ্ট হওয়া অনুচিত।

শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع العلم) বলতে তাঁরা এমন বিষয়কে বোঝান, যার স্বকীয় বৈশিষ্ট্য বা আনুষঙ্গিক অবস্থা (عارضه الذاتية) সম্পর্কে উক্ত শাস্ত্রে আলোচনা করা হয়। যেমন: 'কালিমা' (শব্দ); এটি ইলমুন নাহু-র (ব্যাকরণ শাস্ত্র) আলোচ্য বিষয় (الموضوع)। কেননা এতে শব্দের গঠন (ই'রাব) ও অপরিবর্তনীয়তা (বিনা) সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এবং ই'রাবের বিভিন্ন প্রকার যেমন: রফ' (পেশ), নাসব (যবর), জার (যের) এবং জযম (সুকুন) নিয়ে আলোচনা করা হয়। তদ্রূপ দলিলসমূহ, অথবা দলিল ও বিধানসমূহ উসুলুল ফিকহ-র আলোচ্য বিষয় (الموضوع); কারণ এতে দলিলের প্রামাণ্যতা (حجية) ও অপ্রামাণ্যতা, দলিলের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপনের পদ্ধতি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় (১)।

--------------------------------------------

(১) শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় (موضوع العلم)-এর অর্থ এবং এর আনুষঙ্গিক প্রকারসমূহ দেখতে আমাদের গ্রন্থ: উসুলুল ফিকহ- আল-হাদ্দ ওয়াল মাওদু ওয়াল গায়াহ (পৃ. ৮) দেখুন।

(২) এই মৌলনীতিসমূহ হলো: নাম (الاسم), সংজ্ঞা (الحد), আলোচ্য বিষয় (الموضوع), মাসয়ালা ও পরিচ্ছেদসমূহ (المسائل والمباحث), যে সকল শাস্ত্র থেকে এটি গৃহীত হয়েছে বা উৎস (الاستمداد), অন্যান্য শাস্ত্রের সাথে এর সম্পর্ক (النسبة), এর শ্রেষ্ঠত্ব (الفضل), উপকারিতা (الفائدة), প্রবর্তক (الواضع) এবং এর শরয়ি বিধান (الحكم الشرعي)। এই মৌলনীতিসমূহকে একাধিক আলিম পদ্যাকারে সংকলিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে ইবনে যিকরি তাঁর 'তাহসিলুল মাকাসিদ' গ্রন্থে বলেছেন:

মৌলনীতিসমূহের আলোচনার মাধ্যমেই অধ্যায়সমূহের সূচনা... যা অভিপ্রায় অনুযায়ী দশটি।

সংজ্ঞা (الحد), আলোচ্য বিষয় (الموضوع), অতঃপর প্রবর্তক (الواضع)... নাম (الاسم), উৎস (الاستمداد) এবং বিধানদাতার হুকুম (حكم الشارع)।

মাসয়ালার কল্পনা, শ্রেষ্ঠত্ব... পারস্পরিক সম্পর্ক এবং মহান উপকারিতা।

(দেখুন: ইবনে আবিদিনের রাদ্দুল মুহতার ১/ ৩৬)।

আল্লামা সাব্বানও এগুলো পদ্যাকারে এভাবে সাজিয়েছেন:

নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের মৌলনীতি দশটি... সংজ্ঞা (الحد), আলোচ্য বিষয় (الموضوع) এবং এর ফলাফল (الثمرة)।

এর শ্রেষ্ঠত্ব (الفضل), পারস্পরিক সম্পর্ক (النسبة), প্রবর্তক (الواضع)... নাম (الاسم), উৎস (الاستمداد) এবং বিধানদাতার হুকুম (حكم الشارع)।

মাসয়ালাসমূহ (المسائل); কেউ কেউ কতিপয় বিষয়ের আলোচনায় তুষ্ট থাকেন, তবে যে সবকটি সম্পর্কে জ্ঞান রাখে সে সম্মান লাভ করে।

(দেখুন: শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে সাঈদ লাহাজির ইজাহুল কাওয়ায়েদ আল-ফিকহিয়্যাহ, পৃ. ৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وعلى هذا يكون موضوع علم الفروق الفقهية هو الفروع أو المسائل الفقهية المتشابهة في الصورة، والمختلفة في الحكم، من حيث بيان أسباب الافتراق، أو الاجتماع، فيما بينها، وما يتعلق بذلك من الأمور.

* * *
এর ওপর ভিত্তি করে, ফিকহি পার্থক্যবিদ্যার (علم الفروق الفقهية) আলোচ্য বিষয় হলো ফিকহের এমন সব শাখা (الفروع) বা মাসয়ালা (المسائل الفقهية) যা বাহ্যিক অবয়বে সদৃশ কিন্তু বিধানে (الحكم) ভিন্ন; এগুলোর পারস্পরিক পার্থক্যের (الافتراق) অথবা ঐক্যের (الاجتماع) কারণসমূহ এবং এ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়াবলি বর্ণনা করাই এর মূল প্রতিপাদ্য।

* * *
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২৮)
مسائله ومباحثه: (1)

يمكن القول إن مباحث ومسائل علم الفروق الفقهية ذات صلة وثيقة بموضوعه، لأن موضوعات المسائل والمباحث هي نفسها موضوعات العلم، أو أنواعها أو أعراضها الذاتية، أو ما تركب من هذه الأمور، أو بعضها.

ولما كان موضوع العلم، كما عرفنا، هو ما يبحث فيه عن الأحوال العارضة له، فإنَّ مسائله ومباحثه هي معرفة هذه الأحوال. وكما أن بدن الإنسان الذي هو موضوع علم الطب، بسبب أنه يبحث فيه عن الأعراض اللاحقة له، لا يدخل في حقيقة العلم، فكذلك المسائل الفقهية التي هي موضوع علم الفروق الفقهية، لا تدخل في حقيقة هذا العلم، لأن الذي يبحث فيه هو ما يعرض لها من الصفات الجامعة، أو المفرقة بينها.

ومهما يكن من أمر فإن ما كتبه العلماء في هذا الشأن، يدخل ضمن ما يأتي:

1 - الفروق بين أحكام الجزئيات الفقهية، أو بين المسائل الفقهية، كالفرق بين اشتراط إذن الولي في انعقاد إحرام الصبي في الحج، وعدم اشتراطه في الصلاة (2). واشتراط الطهارة في صحة الطواف، وعدم

--------------------------------------------

(1) مسائل كل علم هي المطالب التي يبرهن عليها في العلم، ويكون الغرض من ذلك العلم معرفتها (التعريفات ص 225)، كمسائل العبادات والمعاملات ونحوها للفقه، ومسائل الأمر والنهي والعام والخاص والإجماع والقياس ونحوها لأصول الفقه (البحر المحيط 1/ 73) وانظر الكلام عن ذلك في كتابنا: أصول الفقه الحد- والموضوع والغاية (ص 19).

(2) إيضاح الدلائل (1/ 257).
এর মাসআলা (مسائل) ও আলোচ্য বিষয়সমূহ (مباحث): (১)

বলা যেতে পারে যে, ফিকহি পার্থক্য বিষয়ক ইলম (علم الفروق الفقهية)-এর আলোচ্য বিষয় এবং মাসআলাসমূহ (مسائل) এর মূল বিষয়ের সাথে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। কেননা মাসআলা ও আলোচ্য বিষয়গুলোই হলো সেই ইলমের মূল বিষয়বস্তু, অথবা তার প্রকারভেদ কিংবা তার মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (أعراض ذاتية), অথবা এই বিষয়গুলোর সমষ্টি বা আংশিক রূপ।

যেহেতু কোনো শাস্ত্রের বিষয়বস্তু হলো—যেমনটি আমরা জেনেছি—সেটির উপর আপতিত অবস্থাসমূহ নিয়ে আলোচনা করা, সেহেতু তার মাসআলা (مسائل) এবং আলোচ্য বিষয়সমূহ (مباحث) হলো সেই অবস্থাসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। আর মানুষের শরীর যেমন চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিষয়বস্তু—কারণ এতে শরীরের উপর আপতিত উপসর্গসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়—এবং তা সেই বিজ্ঞানের প্রকৃত সত্তার অন্তর্ভুক্ত নয়, তেমনিভাবে ফিকহি মাসআলাসমূহ (مسائل فقهية), যা ফিকহি পার্থক্য বিষয়ক ইলম (علم الفروق الفقهية)-এর মূল বিষয়বস্তু, তা এই ইলমের মূল সত্তার অন্তর্ভুক্ত নয়। কারণ এখানে যা আলোচনা করা হয় তা হলো মাসআলাগুলোর মাঝে বিদ্যমান সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ অথবা সেগুলোর মধ্যকার পার্থক্যকারী গুণাবলি।

পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, এ বিষয়ে ওলামায়ে কেরাম যা কিছু লিখেছেন তা নিম্নোক্ত বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত:

১ - ফিকহি খুঁটিনাটি বিষয়সমূহের (جزئيات فقهية) বিধানের মধ্যকার পার্থক্য, অথবা ফিকহি মাসআলাসমূহের (مسائل فقهية) মধ্যকার পার্থক্য; যেমন হজের ক্ষেত্রে শিশুর ইহরাম (إحرام) সংগঠিত হওয়ার জন্য অভিভাবকের অনুমতির আবশ্যকতা এবং সালাতের ক্ষেত্রে তার অনাবশ্যকতা-এর মধ্যকার পার্থক্য (২)। এবং তাওয়াফ শুদ্ধ হওয়ার জন্য পবিত্রতা অর্জনের আবশ্যকতা এবং...

--------------------------------------------

(১) প্রতিটি শাস্ত্রের মাসআলা (مسائل) হলো সেই সব অন্বেষণযোগ্য বিষয় যা ওই শাস্ত্রে প্রমাণ করা হয় এবং সেই শাস্ত্রের উদ্দেশ্য থাকে সেগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা (আত-তা'রীফাত, পৃষ্ঠা ২২৫)। যেমন ফিকহ শাস্ত্রের জন্য ইবাদত (عبادات) ও মুয়ামালাতের (معاملات) মাসআলাসমূহ এবং উসুল আল-ফিকহ-এর জন্য আদেশ (أمر), নিষেধ (نهي), সাধারণ (عام), বিশেষ (خاص), ঐকমত্য (إجماع) ও তুলনা (قياس) ইত্যাদির মাসআলাসমূহ (আল-বাহরুল মুহিত ১/৭৩)। এ বিষয়ে আমাদের গ্রন্থ 'উসুল আল-ফিকহ: আল-হাদ্দ ওয়াল মাওদু ওয়াল গায়াহ' (পৃষ্ঠা ১৯) দেখুন।

(২) ঈজাহুদ দালািল (১/২৫৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ২৯)
اشتراطها في السعي (1). وكانتقاض الوضوء بأكل لحم الجزور، وعدم انتقاضه بأكل لحم الغنم (2).

2 - الفرق والاستثناء: وهذا النوع من المسائل داخل في موضوع الفروق بين أحكام المسائل الجزئية، لكن طريقة عرضه تتخذ صورة أخرى، هي ذكر القاعدة أو الضابط، أو المسائل الفقهية وبيان ما يستثنى منها، وإنما كان التأليف في هذا المجال داخلاً في الفروق؛ لكون حكم المستثنى مخالفاً لحكم ما استثني منه.

وقد يذكر سبب الاستثناء، وقد يهمل بأن يقتصر على ذكر المستثنيات التي تفارق حكم ما استثني منه، نحو قولهم: من وجبت عليه الجمعة اسْتُحِبَّ له التبكير فيها … إلا في مسألتين:

إحداهما: من به سلس البول.

المسألة الثانية: إمام الجمعة يُسَنُّ في حقه الحضور لوقت الصلاة (3).

أما الفروق بين المصطلحات الفقهية، أو الأصولية من حيث اختلاف ما يترتب عليها من أحكام، كالفرق بين الخطأ والنسيان، وبين الجهل الذي يُعْذر فيه والجهل الذي لا يُعْذر فيه، وبين الخبر والإنشاء، وبين الشرط والمانع، وبين العلة والسبب، وبين الشهادة والرواية وغير ذلك. فهو مما يدخل في الفروق الأصولية، التي سيرد الكلام عنها في الفصل الثاني من هذا البحث.

* * *

--------------------------------------------

(1) المصدر السابق (1/ 256).

(2) المصدر السابق (1/ 166).

(3) الاعتناء في الفرق والاستثناء (1/ 250).
সাঈর ক্ষেত্রে তার শর্তারোপ (১)। যেমন উটের মাংস ভক্ষণে ওজু ভঙ্গ হওয়া এবং ছাগলের মাংস ভক্ষণে তা ভঙ্গ না হওয়া (২)।

২ - পার্থক্য (الفرق) ও ব্যতিক্রম (الاستثناء): এই প্রকারের মাসয়ালাগুলো আংশিক মাসয়ালাসমূহের বিধানের মধ্যবর্তী পার্থক্যের বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু এর উপস্থাপনের পদ্ধতি ভিন্ন রূপ গ্রহণ করে। তা হলো কোনো মূলনীতি (القاعدة) বা নীতিমালা (الضابط) অথবা ফিকহি মাসয়ালাসমূহ উল্লেখ করা এবং তা থেকে যা যা ব্যতিক্রম করা হয়েছে তা বর্ণনা করা। মূলত এই ক্ষেত্রে গ্রন্থনাগুলো 'পার্থক্য' (الفروق)-এর অন্তর্ভুক্ত; কারণ ব্যতিক্রমকৃত বিষয়ের (المستثنى) বিধান, যা থেকে ব্যতিক্রম করা হয়েছে (المستثنى منه) তার বিধানের পরিপন্থী হয়ে থাকে।

কখনও ব্যতিক্রমের (الاستثناء) কারণ উল্লেখ করা হয়, আবার কখনও তা বাদ দেওয়া হয় শুধুমাত্র সেই বিষয়গুলো উল্লেখ করার মাধ্যমে যা তার মূলের বিধান থেকে পৃথক, যেমন তাদের উক্তি: যার ওপর জুমার নামাজ ওয়াজিব হয়েছে, তার জন্য জুমায় দ্রুত গমন করা মুস্তাহাব (مستحب) … তবে দুটি মাসয়ালার ক্ষেত্রে ব্যতীত:

তার একটি: যার মূত্র ঝরা (সিলসিল বোল) রোগ রয়েছে।

দ্বিতীয় মাসয়ালা: জুমার ইমামের ক্ষেত্রে নামাজের ওয়াক্তে উপস্থিত হওয়া সুন্নাত (يسن) (৩)।

আর ফিকহি বা উসুলি পরিভাষাগুলোর মধ্যকার পার্থক্য—সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে যে বিধানগত পার্থক্য সৃষ্টি হয় তার বিচারে—যেমন ভুল (الخطأ) ও বিস্মৃতির (النسيان) মধ্যকার পার্থক্য, ক্ষমারযোগ্য অজ্ঞতা ও ক্ষমার অযোগ্য অজ্ঞতার মধ্যকার পার্থক্য, সংবাদ (الخبر) ও সৃজনী বাক্যের (الإنشاء) মধ্যকার পার্থক্য, শর্ত (الشرط) ও প্রতিবন্ধকের (المانع) মধ্যকার পার্থক্য, কার্যকর কারণ (العلة) ও নিমিত্তের (السبب) মধ্যকার পার্থক্য, এবং সাক্ষ্য (الشهادة) ও বর্ণনার (الرواية) মধ্যকার পার্থক্য ইত্যাদি। এগুলো মূলত উসুলি পার্থক্যের অন্তর্ভুক্ত, যা নিয়ে এই গবেষণার দ্বিতীয় অধ্যায়ে আলোচনা করা হবে।

* * *

--------------------------------------------

(১) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ২৫৬)।

(২) পূর্বোক্ত উৎস (১/ ১৬৬)।

(৩) আল-ইতিনা ফিল ফারক ওয়াল ইসতিসনা (১/ ২৫০)।
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الفائدة من دراسة علم الفروق (1):

للتعرف على الفروق الفقهية فوائد متعددة، سواء كان ذلك للمجتهد، أو لمن هو دونه في المرتبة. ونذكر فيما يأتي بعض هذه الفوائد:

1 - إن في دراستها تتحقق إزالة الأوهام التي أثارها بعض من اتهموا الفقه بالتناقض، بسبب إعطائه الأمور المتماثلة أحكاماً مختلفة، وتسويته بين المختلفات. كقولهم إن الشارع فرض الغسل من المنيّ وأبطل به الصوم بإنزاله عمداً، وهو طاهر، دون البول والمذي وهو نجس، وأوجب غسل الثوب من بول الصبية، والنَّضح من بول الصبي، من تساويهما، فبمعرفة أسباب التفريق في الحكم بين الصور المتشابهة، يُدْرَكُ وَهَنُ مثل هذه الاعتراضات وسقوطها.

2 - إن التعرف على هذه الفروق يُبَصِّرُ العالم بحقائق الأحكام وينير الطريق أمامه، لينقذه من التعثر في الاجتهاد، فهي شَحْذٌ للذهن، وتنبيه له، لئلا يقع في الوهم، ويتسرّع فيما يفتيه، ويصدره من الأحكام، بناء على الشَّبَه الظاهري. ولهذا نجد أبا عبد الله المازري (ت 536 هـ) (2)، عدَّ معرفة الفروق من جملة ما ينبغي أن يتوفّر في

--------------------------------------------

(1) ذكر ابن القيم (ت 751 هـ) في أعلام الموقعين شُبَهاً مختلفة ومتنوعة، وأمثلة عديدة مما قيل إنها متماثلة، ولكنها افترقت في الأحكام، ومنها ما هي مختلفة واتفقت في الأحكام والذي يتصل بهذا الموضوع، هو النوع الأول.

(2) هو أبو عبد الله محمد بن علي بن عمر التميمي المازري، الملقب بالإمام، … =
'ইলমুল ফুরুক (পার্থক্য বিষয়ক শাস্ত্র) অধ্যয়নের উপকারিতা (১):

ফিকহী পার্থক্যগুলো (الفروق الفقهية) চিহ্নিত করার বহুমুখী উপকারিতা রয়েছে, চাই তা একজন মুজতাহিদ (مجتهد)-এর জন্য হোক কিংবা তার নিচের স্তরের কারও জন্য হোক। নিচে আমরা এ জাতীয় কিছু উপকারিতা উল্লেখ করছি:

১ - এর অধ্যয়নের মাধ্যমে সেই সব সংশয় দূর হয় যা ফিকহের ওপর স্ববিরোধিতার অভিযোগকারীদের মাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে; যারা মনে করে ফিকহ সদৃশ বিষয়গুলোতে ভিন্ন ভিন্ন বিধান প্রদান করে এবং ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের মাঝে সমতা বিধান করে। যেমন তাদের দাবি যে, শরিয়ত প্রণেতা বীর্য নির্গত হলে গোসল ফরজ করেছেন এবং ইচ্ছাকৃত বীর্যপাতের মাধ্যমে রোজা বাতিল করেছেন অথচ তা পবিত্র, কিন্তু প্রস্রাব ও মযীর ক্ষেত্রে তা করেননি অথচ সেগুলো অপবিত্র। আবার মেয়ে শিশুর প্রস্রাব থেকে কাপড় ধোয়া আবশ্যক করেছেন এবং ছেলে শিশুর প্রস্রাবের ক্ষেত্রে পানি ছিটানো যথেষ্ট বলেছেন অথচ উভয়ই সমান। সুতরাং বাহ্যিক সদৃশ বিষয়গুলোর মাঝে বিধানের পার্থক্যের কারণগুলো জানার মাধ্যমে এই জাতীয় আপত্তিগুলোর অসারতা ও ভিত্তিহীনতা উপলব্ধি করা যায়।

২ - এই পার্থক্যগুলো সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা একজন আলেমকে আহকামের প্রকৃত রহস্য সম্পর্কে অবগত করে এবং তার সামনের পথকে আলোকিত করে, যাতে তিনি ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর ক্ষেত্রে হোঁচট খাওয়া থেকে রক্ষা পান। এটি মেধার প্রখরতা বৃদ্ধি করে এবং তাকে সতর্ক করে, যাতে তিনি সংশয়ে নিপতিত না হন এবং বাহ্যিক সাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে ফতোয়া প্রদান ও হুকুম জারির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করেন। এই কারণেই আমরা দেখি যে, আবু আব্দুল্লাহ আল-মাজিরি (মৃত্যু: ৫৩৬ হি.) (২), এই পার্থক্যগুলোর জ্ঞানকে সেই সব গুণের অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাইয়্যিম (মৃত্যু: ৭৫১ হি.) আলামুল মুওয়াক্কিঈন গ্রন্থে বিভিন্ন ধরণের সংশয় এবং অনেক উদাহরণ উল্লেখ করেছেন যেগুলোকে সদৃশ মনে করা হতো কিন্তু বিধানের ক্ষেত্রে সেগুলো ভিন্ন হয়েছে। আবার এমন কিছু বিষয়ও রয়েছে যা ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও বিধানের ক্ষেত্রে এক হয়েছে। আর বর্তমান বিষয়ের সাথে যা সংশ্লিষ্ট তা হলো প্রথম প্রকার।

(২) তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলি বিন উমর আত-তামিমি আল-মাজিরি, যাকে ‘আল-ইমাম’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে, … =
(খণ্ড: ১) আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ লিল বাহিসীন - ত্বা ১ (পৃষ্ঠা: ৩১)
الفقيه الذي يفتي في زمانه (1). لئلا يقع في الخطأ، عند التخريج. قال أبو عبد الله القاسم البرزلي (ت 844 هـ) (2): (وقد يطرأ من يظن أنه بلغ رتبة الاجتهاد، فينظر المسائل بعضها ببعض، ويخرّج، وليس بصيراً بالفروق) (3).

3 - إن هذا العلم بكشفه عن الفروق بين المسائل يحققُ وضوحاً في علل الأحكام وما يعارض هذه العلل، ويدفعها، مما يهيئ للفقيه القياس الصحيح، ويحقّق له غلبة الظن في إلحاق الفروع بغيرها من الأصول. ويجعله مطمئناً إلى تخريجه.

--------------------------------------------

= ولد بمازر في جزيرة صقلية، وإليها نسب. كان من علماء المالكية البارزين في الفقه والأصول والكلام والحديث والأدب والطب، ومن المشاركين في علوم أخرى. كان حسن الخلق، وصاحب مجلس يؤنس حاضريه بما يذكره من النوادر والنكت، قالوا: إنه بلغ درجة الاجتهاد، ولم يفت بغير مشهور مالك. توفي سنة (536 هـ). من مؤلفاته: شرح التلقين للقاضي عبد الوهاب، وإيضاح المحصول من برهان الأصول في شرح كتاب البرهان لإمام الحرمين، والمعلم في شرح مسلم، والتعليقة على المدونة وغيرها.

راجع في ترجمته: الديباج المذهب (ص 279)، وشجرة النور الزكية (ص 127)، والفتح المبين (2/ 26).

(1) الفروق الفقهية للدمشقي- مقدمة المحقق (ص 33).

(2) هو أبو القاسم أحمد بن محمد المعتل البلوي القيرواني، ثم التونسي، المالكي الشهير بالبرزلي فقيه مشارك في علوم أخرى. رحل إلى القاهرة في طريقه إلى الحج، وأفتى ووعظ في تونس، وصار إماماً بالزيتونة. توفي في تونس سنة (844 هـ)، عن مائة وثلاث سنين، وقيل غير ذلك.

من مؤلفاته: الديوان الكبير في الفقه، والنوازل، والفتاوى.

راجع في ترجمته: نيل الابتهاج (ص 225)، ومعجم المؤلفين (2/ 158)، و (8/ 94).

(3) الفروق الفقهية للدمشقي - مقدمة المحقق (ص 33).
সমকালীন ফকিহ যিনি ফতোয়া প্রদান করেন (১), যাতে তিনি মাসআলা আহরণের (تخريج) সময় ভুলের শিকার না হন। আবু আবদুল্লাহ আল-কাসিম আল-বুরজুলি (মৃ. ৮৪৪ হি.) (২) বলেন: (কখনো এমন কারো আবির্ভাব ঘটে যে ধারণা করে সে ইজতিহাদের (اجتهاد) স্তরে পৌঁছেছে, ফলে সে একটি মাসআলার সাথে অন্য মাসআলার তুলনা করে এবং মাসআলা আহরণ (تخريج) করে, অথচ সে মাসআলাসমূহের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যের (فروق) ব্যাপারে পারদর্শী নয়) (৩)।

৩ - মাসআলাসমূহের মধ্যকার সূক্ষ্ম পার্থক্যগুলো (فروق) উন্মোচনের মাধ্যমে এই শাস্ত্রটি বিধানের কারণসমূহ (علل الأحكام) এবং যা এই কারণগুলোর বিরোধিতা করে বা তা প্রতিহত করে তার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে, যা ফকিহর জন্য সঠিক কিয়াস (قياس) করার পথ সুগম করে এবং শাখা মাসআলাসমূহকে (فروع) অন্যান্য মূলনীতির (أصول) সাথে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে প্রবল ধারণার (غلبة الظن) জন্ম দেয়। এবং এটি তাকে তার মাসআলা আহরণের (تخريج) বিষয়ে নিশ্চিত করে।

--------------------------------------------

= সিসিলি দ্বীপের মাজারে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই তার বংশপরম্পরা। তিনি ফিকহ, উসুল (أصول), কালাম (كلام), হাদিস, সাহিত্য ও চিকিৎসাশাস্ত্রে এবং অন্যান্য বিজ্ঞানে অংশগ্রহণকারী বিশিষ্ট মালিকি আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন এবং তিনি এমন মজলিসের অধিকারী ছিলেন যেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা তার বর্ণিত বিরল ও চমকপ্রদ আলোচনার মাধ্যমে আনন্দ পেতেন। বলা হয় যে, তিনি ইজতিহাদের (اجتهاد) স্তরে পৌঁছেছিলেন, কিন্তু মালিকি মাজহাবের প্রসিদ্ধ মতের বাইরে ফতোয়া দিতেন না। তিনি (৫৩৬ হিজরি) সনে মৃত্যুবরণ করেন। তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: কাজী আবদুল ওয়াহাবের শারহুত তালকিন, ইমামুল হারামাইনের কিতাবুল বুরহানের ব্যাখ্যায় ইজাহুল মাহসুল মিন বুরহানিল উসুল, সহিহ মুসলিম-এর ব্যাখ্যায় আল-মু'লিম এবং আল-মুদাওওয়ানার টীকা ইত্যাদি।

তার জীবনী দেখুন: আদ-দিবাজুল মুজাহহাব (পৃ. ২৭৯), শাজরাতুন নূরিয়াতুয যাকিয়্যাহ (পৃ. ১২৭) এবং আল-ফাতহুল মুবিন (২/২৬)।

(১) আদ-দামেস্কি রচিত আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ - সম্পাদকের ভূমিকা (পৃ. ৩৩)।

(২) তিনি হলেন আবুল কাসিম আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মু'তাল আল-বালাবি আল-কায়রাওয়ানি, পরবর্তীতে তিউনিসি, বুরজুলি নামে প্রসিদ্ধ মালিকি ফকিহ, যিনি অন্যান্য শাস্ত্রেও পারদর্শী ছিলেন। হজ পালনের পথে তিনি কায়রো সফর করেন এবং তিউনিসিয়ায় ফতোয়া প্রদান ও নসিহত করেন। তিনি যাইতুনা মসজিদের ইমাম হন। তিনি তিউনিসিয়ায় ৮৪৪ হিজরি সনে একশ তিন বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন, তবে এ নিয়ে অন্য মতও রয়েছে।

তার রচনাবলির মধ্যে রয়েছে: আদ-দিওয়ানুল কাবির ফিল ফিকহ, আন-নাওয়াযিল এবং আল-ফাতাওয়া।

তার জীবনী দেখুন: নীলুল ইবতিহাজ (পৃ. ২২৫), মু'জামুল মুয়াল্লিফিন (২/১৫৮) এবং (৮/৯৪)।

(৩) আদ-দামেস্কি রচিত আল-ফুরুকুল ফিকহিয়্যাহ - সম্পাদকের ভূমিকা (পৃ. ৩৩)।