(খণ্ড: ১)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
الطبقات الكبرى - ط العلمية القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: الطبقات الكبرى
المؤلف: محمد بن سعد بن منيع الهاشمي البصري المعروف بابن سعد
دراسة وتحقيق: محمد عبد القادر عطا
الناشر: دار الكتب العلمية - بيروت
الطبعة: الأولى، 1410 هـ - 1990 م
عدد الأجزاء: 9 (8 والفهارس)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
আত-তাবাকাতুল কুবরা - আল-ইলমিয়্যাহ সংস্করণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমষ্টি
বই: আত-তাবাকাতুল কুবরা
লেখক: মুহাম্মদ বিন সাদ বিন মানি আল-হাশিমী আল-বসরী, যিনি ইবনে সাদ নামে পরিচিত
গবেষণা ও তাহকীক: মুহাম্মদ আব্দুল কাদির আতা
প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ - বৈরুত
সংস্করণ: প্রথম، ১৪১০ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৯ (৮ খণ্ড এবং নির্ঘণ্টসমূহ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১ হিজরি
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة التحقيقإن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتد ومن يضلل فلن تجد له ولياً مرشداً. وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، بلغ الرسالة، وأدى الأمانة، ونصح الأمة، ودعا إلى صراط مستقيم، صلى الله عليه وعلى آله وصحبه والتابعين لهم بإحسان إلى يوم الدين.
أما بعد: فإن من نعم الله سبحانه وتعالى على هذه الأمة أن هيأ لها رجالاً مخلصين لخدمة سنة نبيه محمد صلى الله عليه وسلم يتعاقبون هذا الأمر خلفاً عن سلف حتى يأتي أمر الله.
ومن أولئك الحفاظ الأعلام محمد بن سعد كاتب الواقدي الذي ألف كتابه الطبقات الكبرى الذي نحن بصدد التقديم له وكتاب الطبقات هذا يعد من أقدم الكتب التي وصلت إلينا في الطبقات، فهو بحق موسوعة تاريخية ذات قيمة شديدة الأهمية.
فمن الجدير بالذكر أن كتاب الطبقات قد سبق إلى نشره جماعة من المستشرقين، وعلى الرغم مما بذلوه من جهد فقد جاءت هذه الطبعة ناقصة في العديد من المواضع نبهوا عليها في مكانها، ثم نشرته دار صادر ببيروت مجرداً من التحقيقات والشروح، ثم بمصر في دار التحرير عن الطبعة الأوروبية أيضاً، فكل هذه الطبعات ناقصة عدداً من التراجم كبير يبلغ 407 تراجم تقع خلال ترجمة عمر بن عبد العزيز وتنتهي بترجمة محمد بن الفضل بن عبيد الله بن رافع، فقد وفقني الله تعالى إلى الحصول
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সম্পাদকের ভূমিকানিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ দেখান, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তার জন্য আপনি কোনো পথপ্রদর্শনকারী অভিভাবক পাবেন না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল; তিনি রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং সরল পথের দিকে আহ্বান করেছেন। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।
অতঃপর: এই উম্মতের ওপর মহান আল্লাহর অন্যতম নিয়ামত হলো যে, তিনি তাঁর নবী মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর খিদমতের জন্য এমন কিছু মুখলিস বা একনিষ্ঠ ব্যক্তিকে নিয়োজিত করেছেন, যারা পূর্বসূরীদের উত্তরসূরী হিসেবে আল্লাহর নির্দেশ আসা পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত রাখবেন।
সেই সমস্ত প্রখ্যাত হাফেজদের মধ্যে অন্যতম হলেন মুহাম্মদ ইবনে সাদ, যিনি ওয়াকিদীর লেখক হিসেবে পরিচিত। তিনি তাঁর 'আত-তাবাকাতুল কুবরা' গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যার ভূমিকা আমরা পেশ করতে যাচ্ছি। তাবাকাত বা জীবনী অভিধান বিষয়ক আমাদের কাছে পৌঁছানো প্রাচীনতম গ্রন্থগুলোর মধ্যে এই তাবাকাত গ্রন্থটি অন্যতম। এটি প্রকৃতপক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মূল্যের একটি ঐতিহাসিক বিশ্বকোষ।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, একদল প্রাচ্যবিদ ইতিপূর্বে এই তাবাকাত গ্রন্থটি প্রকাশ করেছিলেন। তাদের শ্রম সত্ত্বেও সেই সংস্করণটি অনেক স্থানে অপূর্ণাঙ্গ থেকে গিয়েছিল, যা তারা সংশ্লিষ্ট স্থানে উল্লেখও করেছেন। এরপর বৈরুতের দার সাদির কোনো প্রকার সম্পাদনা বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এটি প্রকাশ করে। পরবর্তীতে মিশরের দারুত তাহরিরও ইউরোপীয় সংস্করণের ভিত্তিতে এটি প্রকাশ করে। এই সমস্ত সংস্করণগুলোতেই বিপুল সংখ্যক জীবনী বাদ পড়েছে, যার সংখ্যা ৪০৭টি। এই বাদ পড়া অংশগুলো উমর ইবনে আব্দুল আজিজের জীবনী থেকে শুরু করে মুহাম্মদ ইবনে ফাদল ইবনে উবাইদুল্লাহ ইবনে রাফি-এর জীবনী পর্যন্ত বিস্তৃত। আল্লাহ তাআলা আমাকে তা লাভে তাওফিক দান করেছেন...
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٤)
على نسخة مصورة لهذا الجزء أثناء دراستي للكتاب فلم أتردد لحظة في إضافتها إلى الكتاب لتمهيد الطريق نحو استكمال هذا العمل القيم فقمت بتحقيق الكتاب على الوجه الذي سنبينه فيما بعد إن شاء الله تعالى راجياً من الله أن يسدد خطانا ويرحمنا ويهدينا إلى سواء السبيل والله ولي التوفيق.
বইটি অধ্যয়নকালে এই অংশের একটি অনুলিপি বা ছায়ালিপি আমার হস্তগত হওয়ায় এই মূল্যবান কাজটিকে পূর্ণাঙ্গ করার পথ প্রশস্ত করার লক্ষ্যে আমি তা কিতাবটির সাথে যুক্ত করতে মুহূর্তের জন্যও দ্বিধা করিনি। অতঃপর আল্লাহ তাআলা চাইলে পরবর্তীতে আমরা যেভাবে বর্ণনা করব সেই পদ্ধতিতে আমি কিতাবটির সম্পাদনার কাজ সম্পন্ন করেছি। আল্লাহর কাছে এই আশা রাখছি যে তিনি আমাদের পদক্ষেপসমূহ সঠিক করবেন, আমাদের প্রতি দয়া করবেন এবং আমাদের সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করবেন। আর আল্লাহই তাওফীক দাতা ও অভিভাবক।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٥)
المؤلف في سطور
اسمه ونسبه ومولده:هو محمد بن سعد بن منيع، أبو عبد الله البصري الهاشمي مولاهم المعروف
بابن سعد وكاتب الواقدي محمد بن عمر
(1).
ولد ابن سعد في البصرة سنة 168 هـ فنشأ بها في البيئة العلمية التي كانت في
هذا الوقت إلى أن سافر إلى بغداد حيث لزم شيخه الواقدي.
أقوال العلماء فيه:شهد العلماء لابن سعد بالعلم والفضل والمعرفة التامة بالحديث والكثير من العلوم.
فقال ابن تغري بردي في النجوم الزاهرة (258/ 2): «كان إماماً فاضلاً عالماً حسن التصانيف ونقلنا عنه كثيراً من العلم».
وقال الخطيب في تاريخ بغداد (321/ 5): «كان من أهل العلم والفضل». وقال ابن النديم في الفهرست (145): «كان عالماً بأخبار الصحابة والتابعين».
إلى آخر ذلك من أقوال تعظم من قدره وقد دل على ذلك تبحره في الحديث والسير، والأخبار، وكذلك الفقه والأنساب، وغير ذلك من علوم دينية.
أما عن ما أشيع عنه بأنه كذاب كما قال ابن معين فقد دافع عنه غير واحد من العلماء البارزين في علم الجرح والتعديل، وردّوا قول ابن معين بأن ابن معين يعد من المتشددين في النقد، ولذا لا يُقبل قوله إذا انفرد بالجرح وخالفه باقي العلماء.
--------------------------------------------
সংক্ষেপে লেখক পরিচিতিতাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন সাদ বিন মানি‘, আবু আবদুল্লাহ আল-বসরি আল-হাশেমি (তাদের মুক্তকৃত দাস), যিনি ইবনে সাদ এবং ওয়াকিদি মুহাম্মদ বিন ওমরের লেখক হিসেবে পরিচিত
(১)।
ইবনে সাদ ১৬৮ হিজরি সনে বসরায় জন্মগ্রহণ করেন। সেখানেই তৎকালীন ইলমি পরিবেশে তিনি বেড়ে ওঠেন এবং অবশেষে বাগদাদে সফর করেন, যেখানে তিনি তাঁর শাইখ আল-ওয়াকিদির সান্নিধ্যে অবস্থান করেন।
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের উক্তি:আলেমগণ ইবনে সাদের ইলম, মর্যাদা এবং হাদিসসহ আরও বহু শাস্ত্রে তাঁর পূর্ণ পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ইবনে তাগরি বারদি ‘আন-নুজুমুজ জাহেরা’ (২/২৫৮) গ্রন্থে বলেন: «তিনি ছিলেন একজন শ্রেষ্ঠ ইমাম, বিদগ্ধ আলেম এবং চমৎকার গ্রন্থসমূহের রচয়িতা; আমরা তাঁর থেকে প্রচুর ইলম বর্ণনা করেছি।»
খতিব বাগদাদি ‘তারিখে বাগদাদ’ (৫/৩২১) গ্রন্থে বলেন: «তিনি ইলম ও ফযিলতের অধিকারী ছিলেন।» ইবনে নাদিম ‘আল-ফিহরিস্ট’ (১৪৫) গ্রন্থে বলেন: «তিনি সাহাবী ও তাবেয়ীগণের ইতিহাস ও জীবনচরিত সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন।»
এভাবে আরও বহু উক্তি রয়েছে যা তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়। হাদিস, সিরাত, ইতিহাস এবং অনুরূপভাবে ফিকহ ও বংশবিদ্যার মতো অন্যান্য ধর্মীয় বিদ্যায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্য এর সাক্ষ্য বহন করে।
আর ইবনে মঈন তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছেন বলে যে কথা ছড়ানো হয়েছে, জারাহ-তাদিল শাস্ত্রের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আলেম তাঁর পক্ষ অবলম্বন করেছেন। তাঁরা ইবনে মঈনের বক্তব্যকে এই বলে খণ্ডন করেছেন যে, ইবনে মঈন সমালোচনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর (মুতাশাদ্দিদ) হিসেবে গণ্য হন; তাই যখন তিনি এককভাবে কারও সমালোচনা করেন এবং অন্যান্য আলেমগণ তাঁর বিরোধিতা করেন, তখন তাঁর সেই কথা গ্রহণযোগ্য হয় না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٦)
فإذا عرضنا أقوال النقاد في ابن سعد تبين لنا إنصافهم له ودفاعهم عنه.
فقال السمعاني في الأنساب (470): «حُكي أن ابن معين رماه بالكذب، ولعل الناقل عنه غلط أو وهم لأنه من أهل العدالة وحديثه يدل على صدقه، فإنه يتحرى في كثير من رواياته».
وقال ابن الصلاح في المقدمة (599): «هو ثقة غير أنه كثير الرواية في الطبقات عن الضعفاء ومنهم الواقدي محمد بن عمر».
وقال الذهبي في الميزان (560/ 3): «ثبت أنه صدوق».
وقال أبو حاتم في الجرح والتعديل (262/ 2/3): «يصدق».
وقال ابن تغري بردي في النجوم الزاهرة (258/ 2): «وثقه غالب الحفاظ إلا يحيى بن معين».
وقال ابن النديم في الفهرست (145): «كان ثقة مستوراً عالماً بأخبار الصحابة والتابعين».
وقال الصفدي في الوافي (88/ 3): «وكان صدوقاً ثقة».
وقال ابن حجر في التهذيب: «أحد الحفاظ الكبار والثقات المتحرين».
وقال ابن خلكان في وفيات الأعيان (351/ 4): «وكان أحد الفضلاء النبلاء الأجلاء وكان صدوقاً ثقة».
إلى آخر ذلك من أقوال توثق الرجل وتبعد عنه شبهة التجريح.
شيوخ ابن سعد:تعدد الشيوخ الذين نقل عنهم ابن سعد، نذكر منهم على سبيل المثال لا الحصر ما يلي:
1 - أحمد بن عبدالله بن يونس الكوفي.
2 - أحمد بن محمد بن الوليد الأزرقي المكي.
3 - إسماعيل بن إبراهيم بن مقسم الكوفي، المعروف بابن علية.
4 - حجاج بن محمد المصيصي الأعور.
5 - حجاج بن منهال الأنماطي البصري.
আমরা যখন ইবনে সা'দ সম্পর্কে সমালোচকদের উক্তিগুলো পেশ করি, তখন তাদের নিরপেক্ষতা এবং তার পক্ষে তাদের প্রতিরক্ষার বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আল-সাম'আনী 'আল-আনসাব' (৪৭০) গ্রন্থে বলেন: «বলা হয়ে থাকে যে, ইবনে মা'ঈন তাকে মিথ্যাচারের অপবাদ দিয়েছেন, তবে সম্ভবত যিনি এটি বর্ণনা করেছেন তিনি ভুল করেছেন বা বিভ্রান্ত হয়েছেন; কারণ তিনি একজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন এবং তার বর্ণিত হাদীসগুলো তার সত্যবাদিতার প্রমাণ দেয়। তিনি তার অনেক বর্ণনার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন»।
ইবনুস সালাহ 'আল-মুকাদ্দিমাহ' (৫৯৯) গ্রন্থে বলেন: «তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে তিনি 'তাবাকাত' গ্রন্থে দুর্বল বর্ণনাকারীদের থেকে অধিক বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে ওয়াকিদী মুহাম্মদ বিন উমর অন্যতম»।
আয-যাহাবী 'আল-মিযান' (৩/৫৬০) গ্রন্থে বলেন: «প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী»।
আবু হাতিম 'আল-জারহ ওয়াত তা'দীল' (২/৩/২৬২) গ্রন্থে বলেন: «তিনি সত্যবাদী»।
ইবনে তাগরি বারদি 'আন-নুজুম আয-যাহিরাহ' (২/২৫৮) গ্রন্থে বলেন: «অধিকাংশ হাফেজ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন, শুধু ইয়াহইয়া বিন মা'ঈন ব্যতীত»।
ইবনু নাদীম 'আল-ফিহরিস্ত' (১৪৫) গ্রন্থে বলেন: «তিনি নির্ভরযোগ্য, সচ্চরিত্র এবং সাহাবী ও তাবেয়ীগণের জীবনী সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন»।
আস-সাফাদী 'আল-ওয়াফী' (৩/৮৮) গ্রন্থে বলেন: «তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন»।
ইবনে হাজার 'আত-তাহযীব' গ্রন্থে বলেন: «তিনি বড় হাফেজদের অন্তর্ভুক্ত এবং অতি সতর্ক নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের একজন»।
ইবনে খাল্লিকান 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' (৪/৩৫১) গ্রন্থে বলেন: «তিনি মর্যাদাশীল, মহানুভব ও সম্মানিত ব্যক্তিদের একজন ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত সত্যবাদী ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন»।
এই পর্যন্ত এ ধরনের আরও অনেক বক্তব্য রয়েছে যা এই ব্যক্তিকে নির্ভরযোগ্য সাব্যস্ত করে এবং তার থেকে সমালোচনার সন্দেহ দূর করে।
ইবনে সা'দের শিক্ষকগণ:ইবনে সা'দ যাদের থেকে বর্ণনা করেছেন এমন শিক্ষকদের সংখ্যা অনেক, আমরা উদাহরণস্বরূপ তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করছি:
১ - আহমদ বিন আবদুল্লাহ বিন ইউনুস আল-কুফী।
২ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-ওয়ালিদ আল-আযরাকী আল-মাক্কী।
৩ - ইসমাঈল বিন ইব্রাহিম বিন মিকসাম আল-কুফী, যিনি ইবনে উলাইয়্যাহ নামে পরিচিত।
৪ - হাজ্জাজ বিন মুহাম্মদ আল-মিসসীসী আল-আ'ওয়ার।
৫ - হাজ্জাজ বিন মিনহাল আল-আনমাতী আল-বাসরী।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٧)
6 - إسحاق بن أبي إسرائيل المروزي.
7 - الحسين بن المتوكل بن عبد الرحمن الهاشمي مولاهم العسقلاني
8 - سعد بن إبراهيم بن سعد بن إبراهيم الزهري البغدادي.
9 - سعيد بن سليمان الضبي الواسطي البزاز المعروف بسعدويه.
10 - سفيان بن عيينة الكوفي المكي.
11 - شعيب بن حرب الخراساني البغدادي.
12 - عبد الرحمن بن مهدي البصري.
13 - عبد العزيز بن عبدالله بن يحيى الأويسي.
14 - عبد الله بن صالح المصري كاتب الليث بن سعد.
15 - عبد الله بن وهب بن مسلم المصري الفقيه.
16 - العلاء بن عبد الجبار البصري العطار.
17 - عمرو بن الهيثم بن قطن البصري، أبو قطن.
18 - الفضل بن دكين الكوفي
19 - قبيصة بن عقبة بن محمد السوائي.
20 - محمد بن عمر بن واقد الأسلمي، الواقدي.
21 - محمد بن الفضل السدوسي، المعروف بعارم بن الفضل البصري.
22 - مطرف بن عبدالله اليساري الأصم المدني.
23 - معن بن عيسى بن يحيى الأشجعي القزاز المدني.
24 - يحيى بن سعيد القطان البصري.
25 - يزيد بن هارون مولى بني سليم الواسطي وغير ذلك الكثير، ذكرنا منهم ما سبق على سبيل المثال.
تلاميذ ابن سعد:1 - الحارث بن محمد بن أبي أسامة البغدادي وهو راوي «الطبقات الكبرى» عنه
2 - الحسين بن محمد بن عبد الرحمن بن فهم البغدادي. وروى عنه أيضاً الطبقات الكبرى».
৬ - ইসহাক বিন আবি ইসরাইল আল-মারওয়াজি।
৭ - হুসাইন বিন আল-মুতাওয়াক্কিল বিন আবদুর রহমান আল-হাশেমি মাওলাহুম আল-আসকালানি
৮ - সাদ বিন ইবরাহিম বিন সাদ বিন ইবরাহিম আজ-জুহরি আল-বাগদাদি।
৯ - সাঈদ বিন সুলাইমান আদ-দাব্বি আল-ওয়াসিতি আল-বাজ্জাজ, যিনি সাদওয়াইহি নামে পরিচিত।
১০ - সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ আল-কুফি আল-মাক্কি।
১১ - শুয়াইব বিন হারব আল-خুরাসানি আল-বাগদাদি।
১২ - আবদুর রহমান বিন মাহদি আল-বাসরি।
১৩ - আবদুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া আল-উওয়াইসি।
১৪ - আব্দুল্লাহ বিন সালিহ আল-মিসরি, যিনি লাইস বিন সাদের লেখক ছিলেন।
১৫ - আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব বিন মুসলিম আল-মিসরি আল-ফকিহ।
১৬ - আল-আলা বিন আব্দুল জাব্বার আল-বাসরি আল-াত্তার।
১৭ - আমর বিন আল-হাইসাম বিন কাতান আল-বাসরি, আবু কাতান।
১৮ - আল-ফাদল বিন দুকাইন আল-কুফি
১৯ - কাবিাসাহ বিন উকবাহ বিন মুহাম্মদ আস-সুওয়াই।
২০ - মুহাম্মদ বিন উমর বিন ওয়াকিদ আল-আসলামি, আল-ওয়াকিদি।
২১ - মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আস-সাদুসি, যিনি আরিম বিন আল-ফাদল আল-বাসরি নামে পরিচিত।
২২ - মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ আল-ইয়াসারি আল-আসাম আল-মাদানি।
২৩ - মান বিন ঈসা বিন ইয়াহইয়া আল-আশজাঈ আল-কাযযায আল-মাদানি।
২৪ - ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান আল-বাসরি।
২৫ - ইয়াজিদ বিন হারুন, বনু সুলাইমের মুক্তদাস, আল-ওয়াসিতি এবং আরও অনেকে; আমরা উদাহরণ হিসেবে তাদের মধ্য থেকে উপরের নামগুলো উল্লেখ করেছি।
ইবনে সাদের ছাত্রগণ:১ - আল-হারিস বিন মুহাম্মদ বিন আবি উসামাহ আল-বাগদাদি; তিনি তাঁর নিকট থেকে ‘আত-তবাকাতুল কুবরা’ গ্রন্থের বর্ণনাকারী।
২ - হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন ফাহম আল-বাগদাদি। তিনিও তাঁর নিকট থেকে ‘আত-তবাকাতুল কুবরা’ বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٨)
3 - أبو بكر عبدالله بن محمد بن عبيد بن سفيان بن أبي الدنيا، البغدادي.
4 - أحمد بن عبيد بن ناصح البغدادي النحوي المعروف بأبي عصيدة.
وغير ذلك ممن تلقى العلم عنه.
آثاره العلمية:1 - التاريخ
(1).
2 - الزخرف القصري في ترجمة أبي الحسن البصري
(2).
3 - الطبقات الصغير
(3)4 - الطبقات الكبرى
(4).
5 - القصيدة الحلوانية في افتخار القحطانيين على العدنانيين
(5)
وفاته:توفي محمد بن سعد - على أصح الأقوال - ببغداد يوم الأحد لأربع خلون من جمادى الآخرة سنة ثلاثين ومائتين ودفن في مقبرة باب الشام، وهو ابن اثنتين وستين سنة
(6)وقد جاء هذا التحديد لتاريخ وفاته على لسان تلميذه الحسين بن فهم الذي وضع له ترجمة في كتابه الطبقات هذا.
رحم الله ابن سعد وأسكنه فسيح جناته وأثابه عن المسلمين خير الثواب
--------------------------------------------
৩ - আবু বকর আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ বিন সুফিয়ান বিন আবিদ দুনিয়া, আল-বাগদাদি।
৪ - আহমদ বিন উবাইদ বিন নাসিহ আল-বাগদাদি আন-নাহবি, যিনি আবু আসিদা নামে পরিচিত।
এবং এ ছাড়া আরও অনেকে তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন।
তাঁর জ্ঞানগর্ভ রচনাবলি:১ - আল-তারিখ
(১)।
২ - আল-জুখরুফ আল-কাসরি ফি তারজামাত আবি হাসান আল-বাসরি
(২)।
৩ - আত-তাবাকাত আস-সাগির
(৩)৪ - আত-তাবাকাত আল-কুবরা
(৪)।
৫ - আল-কাসিদাতুল হুলওয়ানিয়া ফি ইফতিখার আল-কাহতানিয়্যিন আলা আল-আদনানিয়্যিন
(৫)
তাঁর মৃত্যু:মুহাম্মদ বিন সাদ - বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী - ২৩০ হিজরি সালের জমাদিউল আখিরা মাসের চার দিন অতিবাহিত হওয়ার পর রবিবার বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে বাবুশ শাম কবরস্থানে দাফন করা হয়; তখন তাঁর বয়স ছিল বাষট্টি বছর
(৬)তাঁর মৃত্যুর এই সুনির্দিষ্ট তারিখ তাঁর ছাত্র হুসাইন বিন ফাহমের বর্ণনায় এসেছে, যিনি তাঁর এই ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থে তাঁর জীবনী অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
আল্লাহ ইবনে সাদের ওপর রহম করুন, তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে স্থান দান করুন এবং মুসলিমদের পক্ষ থেকে তাঁকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٩)
الكتاب ومنهج التحقيقيعد كتاب طبقات ابن سعد من أهم وأقدم المصادر الهامة عن تاريخ محمد صلى الله عليه وسلم والصحابة والتابعين. وقد عني الأستاذ المستشرق ساخاو ومعه تلاميذه بتحقيق كتاب الطبقات عن ثمانية مخطوطات توفرت لديهم وعكفوا على تحقيقها محاولين إقامة النص والمفاضلة بين قراءات المخطوطات واستمر صدور طبعة المستشرقين أربعة عشر عامًا من سنة 1904 حتى 1918 في ثمانية أجزاء يشمل كل منها قسمين ما عدا الجزءين الخامس والسادس فلم يشملا تقسيمًا. ثم ظهر القسم الأول من الجزء التاسع الذي خصص للفهارس سنة 1920، ثم صدر القسم الثاني بعد ثماني سنوات أي عام 1928 وبه فهارس الأماكن والقبائل والأحاديث القولية للرسول صلى الله عليه وسلم، والقوافي وآيات القرآن المستشهد بها في الكتاب.
وفي عام 1940 ظهر القسم الثالث من الجزء التاسع، وهو فهرس لأسماء الأعلام الذين ورد ذكرهم بالكتاب ولكنهم ليسوا ضمن سلاسل الإسناد.
وقد صدرت طبعة ليدن هذه في تسعة أجزاء، فالجزء الأول بقسميه بدأه المصنف بمقدمة تناول فيها تاريخ الأنبياء السابقين وتاريخ أجداد محمد صلى الله عليه وسلم، ثم تعرض لتاريخ حياة الرسول صلى الله عليه وسلم في طفولته وشبابه حتى بعثته، وانتهى القسم الأول عند الهجرة.
أما القسم الثاني فيبدأ بالحديث عن العهد المدني وبعثه الرسل بكتبه ووفود القبائل عليه وطريقة معيشته.
أما الجزء الثاني القسم الأول منه تعرض لغزوات الرسول صلى الله عليه وسلم، أما القسم الثاني فتحدث فيه عن باقي سيرة النبي صلى الله عليه وسلم ومرضه ووفاته وميراثه وما قيل فيه من المراثي، وينهي الجزء الثاني بالحديث عن أبرز الفقهاء بالمدينة.
কিতাব এবং সম্পাদনা পদ্ধতিইবনে সা’দ-এর ‘তাবাকাত’ কিতাবটি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, সাহাবী এবং তাবেয়ীগণের ইতিহাস সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রাচীনতম উৎসসমূহের অন্যতম হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রাচ্যবিদ অধ্যাপক সাখাউ এবং তাঁর ছাত্ররা তাদের নিকট সংরক্ষিত আটটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে ‘তাবাকাত’ কিতাবটির সম্পাদনার (তাহকীক) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারা মূল পাঠ্য নির্ধারণ এবং বিভিন্ন পাণ্ডুলিপির পাঠান্তরের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব নিরূপণের চেষ্টা করে এটি সম্পাদনার কাজে নিবিষ্ট হন। প্রাচ্যবিদদের এই সংস্করণটি ১৯০৪ থেকে ১৯১৮ সাল পর্যন্ত চৌদ্দ বছর ধরে আটটি খণ্ডে প্রকাশিত হয়, যার প্রতিটিতে দুটি করে অংশ ছিল; তবে পঞ্চম ও ষষ্ঠ খণ্ড কোনো অংশে বিভক্ত ছিল না। এরপর ১৯২০ সালে সূচিপত্রের জন্য নির্ধারিত নবম খণ্ডের প্রথম অংশ প্রকাশিত হয়। এর আট বছর পর অর্থাৎ ১৯২৮ সালে এর দ্বিতীয় অংশ প্রকাশিত হয়, যাতে স্থান, গোত্র, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাচনিক হাদীসসমূহ, কবিতার অন্ত্যমিল এবং কিতাবটিতে উদ্ধৃত কুরআনের আয়াতসমূহের সূচি বিদ্যমান ছিল।
১৯৪০ সালে নবম খণ্ডের তৃতীয় অংশটি প্রকাশিত হয়, যা মূলত কিতাবে উল্লিখিত সেই সকল ব্যক্তিবর্গের নামের সূচি যারা সনদ বা বর্ণনাকারী পরম্পরার অন্তর্ভুক্ত নন।
লাইডেন সংস্করণটি নয়টি খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। এর প্রথম খণ্ডের উভয় অংশে গ্রন্থকার একটি ভূমিকা দিয়ে শুরু করেছেন, যেখানে তিনি পূর্ববর্তী নবীগণের ইতিহাস এবং মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পূর্বপুরুষদের ইতিহাস আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শৈশব ও যৌবন থেকে শুরু করে তাঁর নবুওয়াত প্রাপ্তি পর্যন্ত জীবনচরিত বর্ণনা করেছেন এবং প্রথম অংশটি হিজরতের বর্ণনায় গিয়ে শেষ হয়েছে।
আর দ্বিতীয় অংশটি মাদানী জীবন, পত্রসহ দূত প্রেরণ, বিভিন্ন গোত্রের প্রতিনিধি দলের আগমন এবং তাঁর জীবনযাপন পদ্ধতির আলোচনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয় খণ্ডের প্রথম অংশটি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধবিগ্রহ (গাযওয়াত) নিয়ে আলোচনা করেছে। আর দ্বিতীয় অংশে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সীরাতের অবশিষ্ট অংশ, তাঁর অসুস্থতা, মৃত্যু, উত্তরাধিকার এবং তাঁর স্মরণে রচিত শোকগাথা বর্ণিত হয়েছে। মদীনার প্রখ্যাত ফকীহগণের আলোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় খণ্ডটি সমাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
أما الجزء الثالث فقد ترجم في قسميه لجميع من شهدوا بدرًا من المكيين والمدنيين.
وفي الجزء الرابع ترجم ابن سعد في القسم الأول للمهاجرين والأنصار ممن لم يشهدوا بدرًا ولهم إسلام قديم، وفي القسم الثاني ترجم للصحابة الذين أسلموا قبل فتح مكة.
وفي الجزء الخامس ترجم للطبقتين الأولى والثانية من أهل المدينة من التابعين وقد سقط من المطبوع من الطبقة الثالثة إلى الطبقة السادسة وهو ما أضفناه في هذه الطبعة بعد العثور على مخطوط يضمها. وتعرض أيضًا لتسمية من نزل اليمن من أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم ومن نزلها بعدهم من المحدثين ثم انتهى إلى تسمية من نزل اليمامة أيضًا من أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم ومن نزلها بعدهم من الفقهاء والمحدثين، وختم الجزء الخامس بالحديث عن تسمية من كان بالبحرين من أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم.
أما الجزء السادس فقد أورد فيه تسمية من نزل الكوفة من الصحابة ومن كان بها بعدهم من التابعين وغيرهم من أهل الفقه والعلم ثم ترجم للطبقة الأولى من أهل الكوفة بعد الصحابة ممن روى عن الخلفاء الراشدين الأربعة وعن عبد الله بن مسعود، وغيره وانتهى إلى الحديث عن الطبقة الثانية التي روت عن عبد الله بن عمر، وعبد الله بن عباس وعبد الله بن، عمرو، وجابر بن عبد الله والنعمان بن بشير وأبي هريرة وغيرهم.
أما الجزء السابع فتضمن الحديث عن الطبقات الثالثة حتى التاسعة، ثم بدأ في تسمية من نزل البصرة من أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم ومن كان بعدهم من التابعين وأهل صلى الله عليه وسلم العلم والفقه وكذلك الحديث عن الفقهاء والمحدثين والتابعين من أهل البصرة من أصحاب عمر بن الخطاب، وكذا الحديث عن الطبقات الثانية حتى الثامنة من أهل البصرة، واتبع المنهج نفسه في الحديث عن أهل، خراسان، ثم أهل الشام وأهل الجزيرة ومصر وأنهى هذا الجزء بالحديث عمن كان بأيلة وإفريقيا والأندلس.
أما الجزء الثامن فقد خصصه لتراجم النساء اللاتي شاركن في حياة النبي صلى الله عليه وسلم العامة والخاصة واللاتي روين عنه الحديث، وبذلك تم كتاب الطبقات.
তৃতীয় খণ্ডের ক্ষেত্রে বলা যায়, তিনি এর উভয় অংশে মক্কী ও মাদানী সাহাবীদের মধ্যে যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের সকলের জীবনী বর্ণনা করেছেন।
এবং চতুর্থ খণ্ডে ইবনে সাদ প্রথম অংশে ঐসব মুহাজির ও আনসারদের জীবনী বর্ণনা করেছেন যারা বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি কিন্তু প্রাচীনকালে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, আর দ্বিতীয় অংশে ঐসব সাহাবীদের জীবনী বর্ণনা করেছেন যারা মক্কা বিজয়ের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন।
এবং পঞ্চম খণ্ডে তিনি মদীনার তাবেয়ীদের প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের জীবনী বর্ণনা করেছেন। ইতিপূর্বে মুদ্রিত সংস্করণ থেকে তৃতীয় স্তর হতে ষষ্ঠ স্তর পর্যন্ত বাদ পড়ে গিয়েছিল, যা আমরা এই সংস্করণে এগুলো সম্বলিত একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়ার পর যুক্ত করেছি। তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐসব সাহাবীদের নামও উল্লেখ করেছেন যারা ইয়ামেনে অবস্থান করেছিলেন এবং তাদের পরবর্তী মুহাদ্দিসগণের নামও যারা সেখানে অবস্থান করেছিলেন। এরপর তিনি ইয়ামামায় অবস্থানকারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের এবং তাদের পরবর্তী ফকীহ ও মুহাদ্দিসগণের নাম উল্লেখ করেছেন। সবশেষে তিনি বাহরাইনে অবস্থানকারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের নাম আলোচনার মাধ্যমে পঞ্চম খণ্ডটি সমাপ্ত করেছেন।
ষষ্ঠ খণ্ডের ক্ষেত্রে তিনি ঐসব সাহাবীদের নাম উল্লেখ করেছেন যারা কুফায় অবস্থান করেছিলেন এবং তাদের পরবর্তী তাবেয়ী ও ফিকহ ও ইলমের অধিকারী অন্যদের নামও। এরপর তিনি সাহাবীদের পরবর্তী কুফাবাসীদের প্রথম স্তরের জীবনী বর্ণনা করেছেন যারা চারজন খোলাফায়ে রাশেদীন এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি দ্বিতীয় স্তর সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন যারা আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস, আবদুল্লাহ ইবনে আমর, জাবির ইবনে আবদুল্লাহ, নুমান ইবনে বশির, আবু হুরায়রা ও অন্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন।
সপ্তম খণ্ডে তৃতীয় হতে নবম স্তর পর্যন্ত আলোচনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরপর তিনি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঐসব সাহাবীদের নাম উল্লেখ শুরু করেছেন যারা বসরায় অবস্থান করেছিলেন এবং তাদের পরবর্তী তাবেয়ী এবং ইলম ও ফিকহের অধিকারীদের নাম। একইভাবে তিনি বসরাবাসী উমর ইবনুল খাত্তাবের সাথীদের মধ্য থেকে ফকীহ, মুহাদ্দিস এবং তাবেয়ীদের আলোচনা করেছেন। তেমনিভাবে তিনি বসরাবাসীদের দ্বিতীয় হতে অষ্টম স্তর পর্যন্ত আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি খোরাসানবাসী, অতঃপর সিরিয়া, জাজিরা এবং মিশরবাসীদের আলোচনার ক্ষেত্রে একই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন এবং এই খণ্ডটি আইলা, আফ্রিকা ও আন্দালুসে অবস্থানকারীদের আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন।
অষ্টম খণ্ডটি তিনি ঐসব নারীদের জীবনীর জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রকাশ্য ও ব্যক্তিগত জীবনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং যারা তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। এভাবেই কিতাবুত তাবাকাত সমাপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١١)
أما عن المخطوطات التي اعتمدت عليها طبعة ليدن فهي ثماني مخطوطات:
النسخة الأولى:وهي أهم المخطوطات التي اعتمد عليها المستشرقون في هذه الطبعة وهي مخطوطة الدار الهندية بلندن، وهي نسخة نقلت في أمانة ودقة عن النسخة المخطوطة التي أتم نقلها أحمد الحكاري سنة 718 هـ. وقد اعتمد عليها في الجزء الأول والثاني والثالث والرابع.
النسخة الثانية:وهي مخطوطة المكتبة الملكية ببرلين وهي منقولة عن النسخة الأولى، وقد اعتمد عليها في الجزء الأول والثاني والثالث والرابع.
النسخة الثالثة:وهي نسخة مكتبة القاضي ولي الدين جار الله أفندي بإسطنبول، وكتبت بواسطة أحد العلماء، وفي آخر المخطوطة إجازة تقول بأن هذا النص هو ما أجازه بهاء الدين عبد المحسن لابن سيد الناس بالقاهرة، وأنه فرغ من نقله في 9 من شعبان سنة 701 هـ عن نسخة الشيخ بهاء الدين. وكان الأصل المنقول عنه في حوزة شرف الدين محمد بن فضل الله الدمشقي، وهو يشمل النص الذي تلقاه الدمياطي سنة 647 هـ عن يوسف بن خليل بن عبد الله الدمشقي في حلب، وقد اعتمد عليها في الجزء الثالث والرابع والسابع.
النسخة الرابعة:وهي نسخة المكتبة الملكية، بجوتا وهي رديئة الخط، وقد رجع سخاو أنها كتبت فيما بين سنتي 555، 648، كما أنها لا تحوي أي دليل على أصلها أو أي إجازة، وقد اعتمد عليها في الجزء الأول والثالث والخامس والسادس والسابع.
النسخة الخامسة:وهي نسخة مكتبة آيا صوفيا بإسطنبول، تحت رقم (3305)، وتبدأ بالطبقة السابعة بالمدينة، وتتكون من (272) ورقة كتبت بخط نسخي جميل مع العناية بالنقط والشكل، وتحتوي كل صفحة على 17 سطرًا، وكتب عليها: الجزء العاشر من
লাইডেন সংস্করণে যে পাণ্ডুলিপিগুলোর ওপর নির্ভর করা হয়েছে, সেগুলো হলো আটটি পাণ্ডুলিপি:
প্রথম পাণ্ডুলিপি:এটি এই সংস্করণে প্রাচ্যবিদদের নির্ভর করা পাণ্ডুলিপিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যা লন্ডনের ইন্ডিয়া হাউসের পাণ্ডুলিপি। এটি একটি অনুলিপি যা বিশ্বস্ততা ও নিখুঁতভাবে সেই পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে, যার নকলের কাজ ৭১৮ হিজরি সালে আহমদ আল-হাক্কারি সম্পন্ন করেছিলেন। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ খণ্ডে এর ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি:এটি বার্লিনের রয়্যাল লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি এবং এটি প্রথম পাণ্ডুলিপি থেকে নকল করা হয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ খণ্ডে এর ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
তৃতীয় পাণ্ডুলিপি:এটি ইস্তাম্বুলের কাজী ওয়ালিউদ্দিন জারুল্লাহ এফেন্দি লাইব্রেরির অনুলিপি, যা একজন আলেম দ্বারা লিখিত। পাণ্ডুলিপির শেষে একটি ইজাজত রয়েছে যাতে বলা হয়েছে যে, এই পাঠটি কায়রোতে বাহাউদ্দিন আব্দুল মুহসিন ইবনে সাইয়িদুন নাসকে অনুমতি প্রদান করেছিলেন এবং তিনি ৭০১ হিজরি সালের ৯ই শাবান শেখ বাহাউদ্দিনের অনুলিপি থেকে এর নকল সম্পন্ন করেছিলেন। যে মূল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি নকল করা হয়েছে তা শরফুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে ফজলুল্লাহ আদ-দিমাশকির মালিকানাধীন ছিল। এতে সেই পাঠ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে যা আদ-দামিয়াতি ৬৪৭ হিজরি সালে আলেপ্পোতে ইউসুফ ইবনে খলিল ইবনে আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকির নিকট থেকে গ্রহণ করেছিলেন। তৃতীয়, চতুর্থ এবং সপ্তম খণ্ডে এর ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
চতুর্থ পাণ্ডুলিপি:এটি গোথা-র রয়্যাল লাইব্রেরির অনুলিপি এবং এর হাতের লেখা নিম্নমানের। সাখাউ ধারণা করেছেন যে এটি ৫৫৫ থেকে ৬৪৮ হিজরি সালের মধ্যে লেখা হয়েছে। এতে এর উৎস সম্পর্কে কোনো প্রমাণ বা কোনো ইজাজত নেই। প্রথম, তৃতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ এবং সপ্তম খণ্ডে এর ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
পঞ্চম পাণ্ডুলিপি:এটি ইস্তাম্বুলের আয়া সোফিয়া লাইব্রেরির অনুলিপি, যার নম্বর (৩৩০৫)। এটি মদিনার সপ্তম স্তর থেকে শুরু হয়েছে এবং এটি ২৭২টি পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত যা নুকতা ও হরকতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সুন্দর নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে। প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৭টি লাইন রয়েছে এবং এর ওপর লেখা রয়েছে: দশম খণ্ড এর...
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
الطبقات الكبير تأليف أبي عبد الله محمد بن سعد بن منيع الكاتب رواية الحارث بن أبي أسامة لبعضه، وابن الحسين بن فهم الفقيه لبعضه - كلاهما عنه رواية أبي أيوب سليمان بن إسحاق الحلاب عن الحارث وأبي الحسن أحمد بن معروف الخشاب، عن ابن فهم رواية أبي عمر محمد بن العباس بن حيوية الخزاز عنهما رواية أبي محمد الحسن بن علي بن محمد الجوهري عنه رواية القاضي أبي بكر محمد بن عبد الباقي الأنصاري، وأبي طالب عبد الله بن عبد القادر بن محمد بن يوسف، وأبي محمد بن عبد الباقي الدوري ثلاثتهم عنه إجازة وسماعًا رواية عبد الله بن دهبل عن القاضي أبي بكر الأنصاري وأبي القاسم ذاكر بن كافل الخفاف، عن أبي طالب وأبي عبد الله الدوري، رواية شيخنا الحافظ شمس الدين أبي الحجاج يوسف بن خليل الدمشقي نزيل حلب عنهما. ويوجد في كثير من المواضع سقط بعض المفردات من الناسخ، وقد اعتمد عليها في الجزء الخامس والسادس.
النسخة السادسة:وهي مخطوطة المكتبة الوطنية بباريس وهي مكونة من (343) ورقة كتبت بخط واضح مع الشكل أحيانًا في كل صفحة عشرة أسطر، وجاء في أولها: الجزء الثاني عشر من الطبقات الكبير تأليف أبي عبد الله محمد بن سعد الكاتب، رواية أبي محمد الحارث بن محمد بن أبي أسامة التميمي عنه رواية أبي الحسن أحمد بن معروف بن جزء بن موسى الخشابي عنه رواية أبي عمير محمد بن العباس بن محمد بن زكريا بن حيوية عنه رواية أبي محمد الحسن بن علي بن محمد الجوهري عنه، رواية القاضي أبي بكر محمد بن عبد الباقي بن محمد الأنصاري عنه. وقد اعتمد عليها في الجزء الثامن.
النسخة السابعة:وهي نسخة مكتبة كوبريلي تحت رقم (262) بإسطنبول، وهي ناقصة، وقد فرغ كاتبها من كتابتها في ربيع الأول من سنة 570 بالجانب الغربي من بغداد، وهي من (190) ورقة، في كل صفحة 21 سطرًا، ومكتوبة بخط غير منقوط في أغلب الأحيان وكثيرًا ما تتشابك الحروف فيها إلا أن كاتبها حرص على التفرقة بين الراء والزاي. وقد ترك الكاتب عددا من الفراغات الصغيرة أكملها أحد القراء فيما بعد. =
আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাদ ইবনে মানি আল-কাতিব রচিত আত-তাবাকাতুল কাবির; এর কিছু অংশ হারিস ইবনে আবু উসামার বর্ণনা এবং কিছু অংশ ইবনুল হোসেন ইবনে ফাহম আল-ফাকিহের বর্ণনা - তারা উভয়েই তার থেকে বর্ণনা করেছেন। হারিসের মাধ্যমে আবু আইয়ুব সুলাইমান ইবনে ইসহাক আল-হাল্লাব এবং ইবনে ফাহমের মাধ্যমে আবুল হাসান আহমদ ইবনে মারুফ আল-খাশশাবের বর্ণনা। তাদের উভয়ের সূত্রে আবু উমর মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনে হাইয়্যুইয়্যাহ আল-খাযযাযের বর্ণনা। তার সূত্রে আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জওহরীর বর্ণনা। তার সূত্রে কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি আল-আনসারী, আবু তালিব আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল কাদির ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ এবং আবু মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি আদ-দাওরী - এই তিনজনের ইজাজত ও শ্রবণের (সামা) মাধ্যমে বর্ণনা। কাজী আবু বকর আল-আনসারীর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে দেহবাল এবং আবু তালিব ও আবু আব্দুল্লাহ আদ-দাওরীর সূত্রে আবুল কাসিম জাকির ইবনে কাফিল আল-খাফফাফের বর্ণনা। তাদের থেকে আমাদের শায়খ হাফেজ শামস উদ্দিন আবু হাজ্জাজ ইউসুফ ইবনে খলিল আদ-দিমাশকী (যিনি আলেপ্পোতে বসবাস করতেন) এর বর্ণনা। অনেক স্থানে লিপিকারের অসাবধানতায় কিছু শব্দ বাদ পড়েছে, যা পঞ্চম ও ষষ্ঠ খণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছে।
ষষ্ঠ পাণ্ডুলিপি:এটি প্যারিসের জাতীয় গ্রন্থাগারের একটি পাণ্ডুলিপি যা (৩৪৩) টি পৃষ্ঠার সমন্বয়ে গঠিত। এটি স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা এবং মাঝে মাঝে হরকত ব্যবহার করা হয়েছে, প্রতি পৃষ্ঠায় দশটি করে লাইন রয়েছে। এর শুরুতে উল্লেখ আছে: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে সাদ আল-কাতিব রচিত আত-তাবাকাতুল কাবিরের দ্বাদশ খণ্ড। তার সূত্রে আবু মুহাম্মদ হারিস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু উসামা আত-তামিমীর বর্ণনা। তার সূত্রে আবুল হাসান আহমদ ইবনে মারুফ ইবনে জুয ইবনে মুসা আল-খাশশাবীর বর্ণনা। তার সূত্রে আবু উমায়ের মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস ইবনে মুহাম্মদ ইবনে জাকারিয়া ইবনে হাইয়্যুইয়্যাহর বর্ণনা। তার সূত্রে আবু মুহাম্মদ হাসান ইবনে আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জওহরীর বর্ণনা। তার সূত্রে কাজী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারীর বর্ণনা। অষ্টম খণ্ডে এর ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
সপ্তম পাণ্ডুলিপি:এটি ইস্তাম্বুলের কোপ্রুলু লাইব্রেরিতে (২৬২) নম্বরের অধীনে থাকা একটি পাণ্ডুলিপি। এটি অসম্পূর্ণ। এর লেখক ৫৭০ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে বাগদাদের পশ্চিম অংশে এটি লিখে শেষ করেন। এটি (১৯০) টি পৃষ্ঠার এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২১টি করে লাইন রয়েছে। এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে নুকতাহীন হস্তাক্ষরে লেখা এবং অনেক সময় অক্ষরগুলো একে অপরের সাথে মিশে যায়, তবে লেখক 'রা' এবং 'যা' অক্ষরের মধ্যে পার্থক্য করার ক্ষেত্রে সচেষ্ট ছিলেন। লেখক কিছু ছোট ছোট শূন্যস্থান রেখে গিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে একজন পাঠক পূরণ করেছিলেন।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
النسخة الثامنة:وهي مخطوطة المتحف البريطاني، شرقيات (3010)، وقد اعتمد عليها في الجزء الثامن أيضًا.
طبعة دار الشعب المصرية:فقد حرصت الدار على إصدار هذه الطبعة في نفس الصورة التي ظهرت بها طبعة ليدن، واكتفت بترجمة ما ورد بالتعليق إلى العربية دون مراجعة لأرقام الصفحة والأسطر التي يحيل المحقق بأي كتاب من الكتب إلا أن الدكتور عوني عبد الرؤوف - مترجم التعليقات والشروح - قام بتعديل أرقام الآيات القرآنية الوارد ذكرها بالتعليق حتى تطابق الأرقام الواردة بالمصاحف.
الطبعة البيروتية:أما الطبعة البيروتية التي قدم لها الدكتور إحسان عباس، والتي أصدرتها دار صادر فلم تزد على الطبعتين شيئًا؛ إلا أنها حذفت التعليقات والشروح، وأضافت جزءًا تاسعًا للفهارس إلا أنها غير دقيقة وسنتحدث عنها في جزء الفهارس في طبعتنا هذه.
***
منهج التحقيقأما عن عملي في الكتاب، فقد اتخذت الطبعات السابقة أصلًا، مع إضافة الجزء الذي عثرت عليه في معهد المخطوطات والذي به أتم النقص الموجود في الجزء الخامس والذي يبدأ أثناء ترجمة عمر بن عبد العزيز حتى ترجمة محمد بن الفضل بن عبيد الله وقد تم الإشارة إليه ومقارنة النص بالمخطوطات الآتية:
النسخة الأولى:وهي نسخة مكتبة أحمد الثالث المحفوظة بها تحت رقم (2835)، وكتبت هذه النسخة في القرن السابع بخط نسخي مشكول وعرضت على الشيخ شرف الدين الدمياطي، وتشتمل على الأجزاء التالية:
الجزء الأول: ويبتدئ بذكر من انتمى إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وينتهي بفصل في ذكر ما كان يعاف رسول الله صلى الله عليه وسلم، وهي من (247) ورقة.
অষ্টম পাণ্ডুলিপি:এটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামের পাণ্ডুলিপি, অরিয়েন্টাল (৩০১০), এবং অষ্টম খণ্ডেও এর ওপর নির্ভর করা হয়েছে।
মিশরীয় দারুশ শা’ব সংস্করণ:প্রকাশনীটি এই সংস্করণটি ঠিক সেই রূপেই প্রকাশ করতে সচেষ্ট ছিল যে রূপে লাইডেন সংস্করণটি প্রকাশিত হয়েছিল। তারা টীকাগুলোর বিষয়বস্তু কেবল আরবিতে অনুবাদ করেই ক্ষান্ত হয়েছে; সম্পাদক কোনো কিতাব থেকে যে পৃষ্ঠা ও লাইন নম্বর উদ্ধৃত করেছেন তা যাচাই করেনি। তবে টীকা ও ব্যাখ্যাগুলোর অনুবাদক ডক্টর আউনি আবদুর রউফ টীকায় উল্লিখিত কুরআনের আয়াতগুলোর নম্বর সংশোধন করেছেন যাতে তা মাসহাফসমূহের আয়ত নম্বরের সাথে সংগতিপূর্ণ হয়।
বৈরুত সংস্করণ:ডক্টর ইহসান আব্বাসের ভূমিকা সম্বলিত এবং দারু সাদির কর্তৃক প্রকাশিত বৈরুত সংস্করণটি পূর্বোক্ত দুই সংস্করণের তুলনায় বাড়তি কিছু যোগ করেনি; বরং এটি টীকা ও ব্যাখ্যাসমূহ বাদ দিয়ে দিয়েছে এবং নির্ঘণ্টের জন্য নবম একটি খণ্ড যোগ করেছে। তবে তা নির্ভুল নয় এবং আমাদের এই সংস্করণের নির্ঘণ্ট খণ্ডে আমরা সে সম্পর্কে আলোচনা করব।
***
সম্পাদনা পদ্ধতিবইটিতে আমার কাজের ব্যাপারে বলতে গেলে, আমি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। এর সাথে আমি পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট থেকে প্রাপ্ত সেই অংশটুকু যোগ করেছি যার মাধ্যমে পঞ্চম খণ্ডের বিদ্যমান অসম্পূর্ণতা পূর্ণ হয়েছে। এই অংশটি উমর ইবনে আবদুল আজিজের জীবনী চলাকালীন সময় থেকে শুরু করে মুহাম্মদ ইবনুল ফজল ইবনে উবায়দুল্লাহর জীবনী পর্যন্ত বিস্তৃত। বিষয়টি নির্দেশ করা হয়েছে এবং নিম্নোক্ত পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে মূল পাঠ্যটি তুলনা করা হয়েছে:
প্রথম পাণ্ডুলিপি:এটি আহমাদ আস-সালিছ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপি, যা সেখানে (২৮৩৫) নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটি সপ্তম শতাব্দীতে হরকতযুক্ত নাসখ লিপিতে লেখা হয়েছে এবং এটি শেখ শারাফুদ্দীন আদ-দিময়াতির নিকট পেশ করা হয়েছিল। এটি নিম্নোক্ত অংশগুলো নিয়ে গঠিত:
প্রথম খণ্ড: এটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বংশপরম্পরার বর্ণনা দিয়ে শুরু হয়েছে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা অপছন্দ করতেন তার বর্ণনার পরিচ্ছেদে গিয়ে শেষ হয়েছে। এটি (২৪৭) পত্র সম্বলিত।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
الجزء الثالث: يبدأ من ذكر سد الأبواب غير باب أبي بكر، وينتهي إلى آخر صفة أبي بكر رضي الله عنه، وهو في (247) ورقة.
الجزء الرابع: ويبتدئ بذكر ميتة أبي بكر رضي الله عنه، وينتهي بترجمة حبيب بن سعد، وهو في (266) ورقة.
الجزء الخامس: ويبتدئ بترجمة بشر بن البراء وينتهي بترجمة صلحة بن عتبة، وهو في (267) ورقة.
الجزء السادس: ويبتدئ بأثناء الطبقة الثانية، وأول ما فيه ترجمة حارثة بن سهل، وينتهي أثناء ترجمة زيد بن ثابت وهو في (273) ورقة.
الجزء السابع: يبتدئ بترجمة قيس بن فهد، وينتهي بترجمة تمام بن العباس بن عبد المطلب وهو في (266) ورقة.
الجزء الثامن: يبتدئ بترجمة الحسن بن علي بن أبي طالب، وينتهي بترجمة الوليد بن الوليد وهو في (266) ورقة.
الجزء التاسع: يبتدئ بالطبقة الثانية من أهل المدينة من التابعين، وأولها عروة بن الزبير وينتهي بترجمة عبد الله بن عبد الرحمن بن القاسم بن محمد بن أبي بكر الصديق، وهو آخر الطبقة السادسة، وهو في (266) ورقة.
الجزء الحادي عشر: يبتدئ بترجمة محمد بن عبد الرحمن بن أبي ليلى من الطبقة الخامسة وينتهي بترجمة عبد الرحمن بن شماسة من الطبقة الأولى من أهل مصر بعد أصحاب الرسول صلى الله عليه وسلم.
الجزء الأخير: جزء في طبقات النساء يبتدئ بتسمية النساء المسلمات والمهاجرات، وينتهي بترجمة حجة بنت قرط واسمها رقية بنت عبد الرحمن، وفي آخر الجزء كتب: "آخر طبقات النساء وبتمامه تم جميع الكتاب والحمد لله وحده"، وهو في (196) ورقة.
النسخة الثانية:وهي نسخة طهران كتبخانة ملي (424)، وهي نسخة كتبت بخط نسخي جيد مشكول، سنة 679 هـ، وعلى هوامشها تقييدات كتبها محمد بن حسن الهرقلي، ومسطرتها 17 سطرًا، وتشتمل على الأجزاء التالية:
তৃতীয় খণ্ড: এটি আবু বকরের দরজা ব্যতীত অন্য সকল দরজা বন্ধ করার উল্লেখ থেকে শুরু হয়েছে এবং আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর গুণাবলির শেষ পর্যন্ত সমাপ্ত হয়েছে; এটি (২৪৭) পত্রবিশিষ্ট।
চতুর্থ খণ্ড: এটি আবু বকর (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মৃত্যুর উল্লেখের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং হাবীব ইবনে সা'দ-এর জীবনীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে; এটি (২৬৬) পত্রবিশিষ্ট।
পঞ্চম খণ্ড: এটি বিশর ইবনুল বারা-এর জীবনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং সলহা বিনতে উতবাহ-এর জীবনীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে; এটি (২৬৭) পত্রবিশিষ্ট।
ষষ্ঠ খণ্ড: এটি দ্বিতীয় স্তরের মধ্যভাগ থেকে শুরু হয়েছে এবং এর শুরুতে হারিসা ইবনে সাহল-এর জীবনী রয়েছে; এটি যায়দ ইবনে সাবিত-এর জীবনীর মধ্যভাগে সমাপ্ত হয়েছে এবং এটি (২৭৩) পত্রবিশিষ্ট।
সপ্তম খণ্ড: এটি কায়স ইবনে ফাহদ-এর জীবনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং তাম্মাম ইবনুল আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব-এর জীবনীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে; এটি (২৬৬) পত্রবিশিষ্ট।
অষ্টম খণ্ড: এটি হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিব-এর জীবনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং ওয়ালিদ ইবনুল ওয়ালিদ-এর জীবনীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে; এটি (২৬৬) পত্রবিশিষ্ট।
নবম খণ্ড: এটি মদিনাবাসী তাবেঈগণের দ্বিতীয় স্তর থেকে শুরু হয়েছে, যার শুরুতে রয়েছে উরওয়াহ ইবনুল যুবায়ের-এর জীবনী এবং এটি ষষ্ঠ স্তরের শেষ জীবনী আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনুল কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সিদ্দিক-এর জীবনীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে; এটি (২৬৬) পত্রবিশিষ্ট।
একাদশ খণ্ড: এটি পঞ্চম স্তরের মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আবি লায়লা-এর জীবনীর মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণের পরবর্তী মিশরবাসীদের প্রথম স্তরের আব্দুর রহমান ইবনে শুমাসাহ-এর জীবনীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে।
সর্বশেষ খণ্ড: এটি মহিলাদের স্তর বিষয়ক খণ্ড; এটি মুসলিম ও হিজরতকারী মহিলাদের নাম উল্লেখের মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং হিজ্জাহ বিনতে কুরত—যার নাম রুকাইয়াহ বিনতে আব্দুর রহমান—তার জীবনীর মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে। খণ্ডের শেষে লেখা আছে: "মহিলাদের স্তরের সমাপ্তি এবং এর মাধ্যমেই সম্পূর্ণ কিতাবটি সমাপ্ত হলো, যাবতীয় প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।" এটি (১৯৬) পত্রবিশিষ্ট।
দ্বিতীয় পাণ্ডুলিপি:এটি তেহরান জাতীয় গ্রন্থাগারের (কেতাবখানে মিলি) ৪২৪ নম্বর পাণ্ডুলিপি। এটি ৬৭৯ হিজরীতে সুললিত ও হরকতযুক্ত নাসখ লিপিতে অনুলিখিত হয়েছে। এর মার্জিনে মুহাম্মদ ইবনে হাসান আল-হারকালী কর্তৃক লিখিত টীকা রয়েছে। এর প্রতি পৃষ্ঠায় ১৭টি করে লাইন রয়েছে এবং এটি নিম্নলিখিত খণ্ডসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
الجزء الأول: أوله في ذكر من انتمى إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم، وآخره في ذكر العقبة الآخرة، وهو في (203) ورقة.
الجزء الثاني: أوله ذكر مقام رسول الله صلى الله عليه وسلم بمكة، وآخره في ذكر ما كان يعاف رسول الله صلى الله عليه وسلم من الطعام، وهو في (71) ورقة.
الجزء الثالث: أوله ذكر ما حبب إلى رسول الله له من النساء والطيب، وآخره غزوة الأبواء، وهو في (200) ورقة.
الجزء الرابع: أوله في غزوة بواط، وآخره في غزوة الحديبية، وهو في (110) ورقة.
النسخة الثالثة:وهي نسخة دار الكتب المصرية كتبت بخط نسخي قديم، وهي في (156) ورقة، ومسطرتها 19 سطرًا، وتبدأ بذكر ما حبب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم من النساء والطيب وتنتهي في ذكر تقبيل أبي بكر الصديق رسول الله صلى الله عليه وسلم بعد وفاته.
النسخة الرابعة:وهي نسخة المكتبة الأحمدية بالزيتونة بتونس، وتتضمن الجزء السادس والسابع من أصل أبي عمرو بن حيوية، وتبدأ من ذكر من كان يفتي بالمدينة ويقتدى به من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم وبعد ذلك وإلى من انتهى علمهم، وينتهي بترجمة شماس بن عثمان، وهي بخط قديم جيد، وبآخر السادس سماع مؤرخ سنة 533، وهي في (95) ورقة.
النسخة الخامسة:وهي النسخة المحفوظة بمكتبة شهيد علي تحت رقم 1905، وهي الجزء السادس وفيه طبقات التابعين من أهل المدينة وعليه سماع مؤرخ في سنة 529، كتبت بخط جميل، وهي من (131) ورقة من القياس المتوسط.
بعد مقارنة النص بالكتاب وتصحيح الأخطاء الموجودة قمت بتخريج الآيات القرآنية وإثبات أرقامها من سورها، وكذا تخريج الأحاديث القولية، ثم قمت بترقيم التراجم بأرقام مسلسلة وإحالة كل ترجمة إلى كتب الرجال حتى يسهل الوقوف على
প্রথম খণ্ড: এর শুরুতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁর বংশোদ্ভূত তাঁর বর্ণনা রয়েছে, আর শেষ হয়েছে শেষ আকাবার বর্ণনার মাধ্যমে; এটি ২০৩টি পাতায় বিন্যস্ত।
দ্বিতীয় খণ্ড: এর শুরুতে মক্কায় আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের বর্ণনা এবং শেষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব খাবার অপছন্দ করতেন তার বর্ণনা রয়েছে; এটি ৭১টি পাতায় বিন্যস্ত।
তৃতীয় খণ্ড: এর শুরুতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নারী ও সুগন্ধির মধ্য থেকে যা প্রিয় করা হয়েছিল তার বর্ণনা এবং শেষে আবওয়া যুদ্ধের বর্ণনা রয়েছে; এটি ২০০টি পাতায় বিন্যস্ত।
চতুর্থ খণ্ড: এর শুরুতে বুওয়াত যুদ্ধ এবং শেষে হুদায়বিয়ার সন্ধির বর্ণনা রয়েছে; এটি ১১০টি পাতায় বিন্যস্ত।
তৃতীয় পাণ্ডুলিপি:এটি মিসরীয় দারুল কুতুবের পাণ্ডুলিপি যা প্রাচীন নাসখ লিপিতে লিখিত; এটি ১৫৬টি পাতায় বিন্যস্ত এবং এর প্রতিটি পৃষ্ঠায় ১৯টি করে লাইন রয়েছে। এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট নারী ও সুগন্ধির মধ্য থেকে যা প্রিয় করা হয়েছিল তার বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকালের পর আবু বকর সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু কর্তৃক তাঁকে চুম্বনের বর্ণনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে।
চতুর্থ পাণ্ডুলিপি:এটি তিউনিসিয়ার যাইতুনাহর আল-মাকতাবাতুল আহমাদিয়্যাহর পাণ্ডুলিপি; এটি আবু আমর বিন হাইওয়াইহ-এর মূল পাণ্ডুলিপির ষষ্ঠ ও সপ্তম খণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং তাঁর পরবর্তীতে মদিনায় ফতোয়া দিতেন ও যাঁদের অনুসরণ করা হতো এমন সাহাবায়ে কেরামের বর্ণনা এবং তাঁদের জ্ঞান কাদের কাছে গিয়ে পৌঁছেছে সেই বর্ণনার মাধ্যমে শুরু হয়েছে এবং শাম্মাস বিন উসমানের জীবনীর মাধ্যমে শেষ হয়েছে। এটি প্রাচীন ও সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত এবং ষষ্ঠ খণ্ডের শেষে ৫৩৩ হিজরির একটি শ্রবণলিপি (সামা‘) রয়েছে; এটি ৯৫টি পাতায় বিন্যস্ত।
পঞ্চম পাণ্ডুলিপি:এটি শহীদ আলী লাইব্রেরিতে ১৯০৫ নম্বরে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপি। এটি ষষ্ঠ খণ্ড, যাতে মদিনাবাসী তাবেয়ীগণের স্তরসমূহ (তাবাকাত) বর্ণিত হয়েছে এবং এতে ৫২৯ হিজরির একটি শ্রবণলিপি রয়েছে। এটি সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখিত এবং এটি মাঝারি আকারের ১৩১টি পাতায় বিন্যস্ত।
পাণ্ডুলিপির মূল পাঠের সাথে কিতাবের তুলনা ও বিদ্যমান ভুলত্রুটি সংশোধনের পর আমি কুরআনের আয়াতসমূহ ও সংশ্লিষ্ট সূরা থেকে সেগুলোর নম্বর নির্দেশ করেছি। একইভাবে বাচনিক হাদিসগুলোও যাচাই (তাখরিজ) করেছি। অতঃপর আমি জীবনীগুলোকে ক্রমানুসারে নম্বর প্রদান করেছি এবং প্রতিটি জীবনীকে রিজাল শাস্ত্রের গ্রন্থগুলোর দিকে নির্দেশ করেছি যাতে তা সহজে খুঁজে বের করা যায়।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
حال صاحب الترجمة من جرح أو تعديل.
أما بعد فإنني أحمد الله عز وجل أن أتاح لي فرصة للمساهمة في إخراج هذا العمل الجليل الذي يعتبر من أقدم وأول المصادر التي لا يمكن الاستغناء عنها، وآخر دعوانا أن الحمد لله.
{وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ وَالْمُؤْمِنُونَ وَسَتُرَدُّونَ إِلَى عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُونَ}. صدق الله العظيم
المحقق
যাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে তাঁর জারহ (সমালোচনা) ও তাদিল (প্রশংসা) সংক্রান্ত অবস্থা।
অতঃপর, আমি মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর প্রশংসা করছি যে তিনি আমাকে এই মহান কর্মটি প্রকাশের ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দান করেছেন, যা অন্যতম প্রাচীন ও প্রথম উৎস হিসেবে বিবেচিত এবং যা বর্জন করা সম্ভব নয়। আমাদের সর্বশেষ আহ্বান হলো—সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।
{আর আপনি বলুন, তোমরা আমল করো, অচিরেই আল্লাহ তোমাদের আমল দেখবেন এবং তাঁর রাসূল ও মুমিনগণও। আর তোমাদেরকে অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞাত সত্তার নিকট ফিরিয়ে নেওয়া হবে, অতঃপর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যা তোমরা করতে।}। মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন।
মুহাক্কিক (গবেষক ও সম্পাদক)
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين محمد النبي العربي الكريم. وعلى آله وصحبه. وسلم
أخبرنا الشيخ الإمام العالم الحافظ العلامة النسابة شرف الدين أبو محمد عبد المؤمن بن خلف بن أبي الحسن الدمياطي. رحمه الله. قراءة عليه وأنا أسمع قال:
أخبرنا الشيخ الإمام محدث الشام ومسنده شمس الدين أبو الحجاج يوسف بن خليل ابن عبد الله الدمشقي قال: أخبرنا أبو محمد عبد الله بن دهبل بن علي بن كارة قال:
أخبرنا القاضي أبو بكر بن محمد بن عبد الباقي بن محمد بن عبد الله الأنصاري قال:
أخبرنا أبو محمد الحسن بن علي بن محمد بن الحسن بن عبد الله الجوهري عن أبي عمر محمد بن العباس بن محمد بن زكريا بن يحيى بن معاذ بن حيويه الخزاز عن أبي الحسن أحمد بن معروف بن بشر بن موسى الخشاب عن أبي محمد الحارث بن محمد بن أبي أسامة التميمي عن أبي عبد الله محمد بن سعد بن منيع. رحمه الله.
قال:
ذكر من انتمى إليه رسول الله صلى الله عليه وسلم-
أخبرنا محمد بن مصعب القرقساني. أخبرنا الأوزاعي عن يحيى بن أبي كثير عن أبي سلمة بن عبد الرحمن عن أبي هريرة قال: وأخبرنا الحكم بن موسى. أخبرنا هقل بن زياد عن الأوزاعي. حدثني أبو عمار. حدثني عبد الله بن فروخ قال: حدثني أبو هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، أنا سيد ولد آدم،.
(1) وأخبرنا محمد بن مصعب. أخبرنا الأوزاعي عن شداد أبي عمار عن واثلة بن
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলদের সরদার আরবী নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম, আলিম, হাফিয, আল্লামা, বংশবিদ শরফউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুল মুমিন বিন খালাফ বিন আবিল হাসান আদ-দিমইয়াতি (রাহিমাহুল্লাহ)। তাঁর নিকট পাঠ করার সময় আমি শ্রবণ করেছি, তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাইখ ইমাম, শামের মুহাদ্দিস ও মুসনিদ শামসুদ্দীন আবু হাজ্জাজ ইউসুফ বিন খলিল ইবনে আবদুল্লাহ আদ-দিমাশকি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বিন দাহবাল বিন আলি বিন কারাহ। তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কাযী আবু বকর বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল বাকি বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আনসারী। তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ হাসান বিন আলি বিন মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আবদুল্লাহ আল-জাওহারী, তিনি আবু উমর মুহাম্মদ বিন আব্বাস বিন মুহাম্মদ বিন যাকারিয়া বিন ইয়াহইয়া বিন মুআয বিন হাইয়ুওয়াহ আল-খায্যায থেকে, তিনি আবুল হাসান আহমদ বিন মারুফ বিন বিশর বিন মুসা আল-খাশ্শাব থেকে, তিনি আবু মুহাম্মদ আল-হারিস বিন মুহাম্মদ বিন আবি উসামা আত-তামীমি থেকে, তিনি আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাদ বিন মানী’ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে।
তিনি বলেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাঁর বংশধরের অন্তর্ভুক্ত তাঁর বর্ণনা-
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুসআব আল-কারকিসানি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আওযাঈ, তিনি ইয়াহইয়া বিন আবি কাসীর থেকে, তিনি আবু সালামা বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাকাম বিন মুসা। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিকল বিন যিয়াদ, আওযাঈ থেকে। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আম্মার। আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবদুল্লাহ বিন ফাররুখ। তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আবু হুরায়রা। তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি আদম সন্তানের সরদার।"
(১) এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন মুসআব। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আওযাঈ, শাদ্দাদ আবু আম্মার থেকে, তিনি ওয়াসিলা বিন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
الأسقع قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، إن الله اصطفى من ولد إبراهيم إسماعيل واصطفى من ولد إسماعيل بني كنانة واصطفى من بني كنانة قريشا واصطفى من قريش بني هاشم واصطفاني من بني هاشم،
(1).
قال: وأخبرنا أبو ضمرة المدني أنس بن عياض الليثي. أخبرنا جعفر بن محمد ابن علي عن أبيه محمد بن علي بن أبي طالب أن النبي صلى الله عليه وسلم قال:، قسم الله الأرض نصفين فجعلني في خيرهما. ثم قسم النصف على ثلاثة فكنت في خير ثلث منها. ثم اختار العرب من الناس. ثم اختار قريشا من العرب. ثم اختار بني هاشم من قريش. ثم اختار بني عبد المطلب من بني هاشم. ثم اختارني من بني عبد المطلب،
(2).
أخبرنا عارم بن الفضل السدوسي ويونس بن محمد المؤدب قالا: أخبرنا حماد ابن زيد عن عمرو. يعني ابن دينار. عن محمد بن علي قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
، إن الله اختار العرب فاختار منهم كنانة أو النضر بن كنانة ثم اختار منهم قريشا ثم اختار منهم بني هاشم ثم اختارني من بني هاشم،
(3).
قال: أخبرنا يعقوب بن إسحاق الحضرمي. أخبرنا العلاء بن خالد. أخبرنا عبد الله بن عبيد الله بن عمير قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، إن الله اختار العرب فاختار كنانة من العرب واختار قريشا من كنانة واختار بني هاشم من قريش واختارني من بني هاشم،.
قال: أخبرنا إسماعيل بن إبراهيم الأسدي عن يونس عن الحسن قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، أنا سابق العرب،
(4).
--------------------------------------------
আসকা বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ ইব্রাহিমের সন্তানদের মধ্য থেকে ইসমাইলকে মনোনীত করেছেন এবং ইসমাইলের সন্তানদের মধ্য থেকে বনু কিনানাকে মনোনীত করেছেন এবং বনু কিনানা থেকে কুরাইশকে মনোনীত করেছেন এবং কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে মনোনীত করেছেন এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।"
(১).
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দামরা আল-মাদানি আনাস বিন ইয়াদ আল-লায়সি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন জাফর বিন মুহাম্মদ ইবনে আলী তার পিতা মুহাম্মদ বিন আলী বিন আবি তালিব থেকে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আল্লাহ জমিনকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ ভাগে রেখেছেন। এরপর সেই অর্ধাংশকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন এবং আমাকে তার মধ্যে শ্রেষ্ঠ এক-তৃতীয়াংশে রেখেছেন। এরপর তিনি মানুষের মধ্য থেকে আরবদের বেছে নিয়েছেন। এরপর আরবদের মধ্য থেকে কুরাইশদের বেছে নিয়েছেন। এরপর কুরাইশদের মধ্য থেকে বনু হাশিমকে বেছে নিয়েছেন। এরপর বনু হাশিম থেকে বনু আব্দুল মুত্তালিবকে বেছে নিয়েছেন। এরপর বনু আব্দুল মুত্তালিব থেকে আমাকে বেছে নিয়েছেন।"
(২).
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আরিম বিন আল-ফজল আস-সাদুসি এবং ইউনুস বিন মুহাম্মদ আল-মুয়াদ্দিব, তারা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে যাইদ আমর (অর্থাৎ ইবনে দিনার) থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আলী থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
"নিশ্চয়ই আল্লাহ আরবদের বেছে নিয়েছেন, এরপর তাদের মধ্য থেকে কিনানা অথবা আন-নদর বিন কিনানাকে বেছে নিয়েছেন, এরপর তাদের মধ্য থেকে কুরাইশদের বেছে নিয়েছেন, এরপর তাদের মধ্য থেকে বনু হাশিমকে বেছে নিয়েছেন, এরপর বনু হাশিম থেকে আমাকে বেছে নিয়েছেন।"
(৩).
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াকুব বিন ইসহাক আল-হাদরামি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-আলা বিন খালিদ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন উবাইদুল্লাহ বিন উমাইর, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আরবদের বেছে নিয়েছেন, এরপর আরবদের মধ্য থেকে কিনানাকে বেছে নিয়েছেন, এবং কিনানা থেকে কুরাইশকে বেছে নিয়েছেন, এবং কুরাইশ থেকে বনু হাশিমকে বেছে নিয়েছেন, এবং বনু হাশিম থেকে আমাকে বেছে নিয়েছেন।"
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল বিন ইব্রাহিম আল-আসাদি ইউনুস থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আরবদের অগ্রগামী।"
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
أخبرنا هشام بن محمد بن السائب الكلبي عن أبيه عن أبي صالح عن ابن عباس في قوله تعالى: «رَسُولٌ مِنْ أَنْفُسِكُمْ» التوبة: 128. قال: قد ولدتموه يا معشر العرب.
أخبرنا الفضل بن دكين أبو نعيم. أخبرنا العلاء بن عبد الكريم عن مجاهد قال:
كان النبي صلى الله عليه وسلم في سفر. فبينا هو يسير بالليل ومعه رجل يسايره إذ سمع حاديا يحدو وقوم أمامه فقال لصاحبه:، لو أتينا حادي هؤلاء القوم! فقربنا حتى غشينا القوم. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ممن القوم؟ قالوا: من مضر. فقال: وأنا من مضر. ونى حادينا فسمعنا حاديكم فأتيناكم،
(1).
أخبرنا عبيد الله بن موسى العبسي قال: أخبرنا سفيان بن سعيد الثوري عن حبيب بن أبي ثابت عن يحيى بن جعدة قال: لقي رسول الله صلى الله عليه وسلم ركبا فقال:، ممن القوم؟ فقالوا: من مضر. فقال: وأنا من مضر. قالوا: يا رسول الله. أنا رداف وليس معنا زاد إلا الأسودان. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: ونحن رداف ما لنا زاد إلا الأسودان التمر والماء،.
أخبرنا عبد الوهاب بن عطاء العجلي قال: أخبرنا حنظلة بن أبي سفيان الجمحي عن طاووس قال: بينما رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر إذ سمع صوت حاد فسار حتى أتاهم. فلما أتاهم قال:، ونى حادينا فسمعنا صوت حاديكم فجئنا نسمع حداءه.
فقال: من القوم؟ قالوا: مضريون. فقال صلى الله عليه وسلم: وأنا مضري. فقالوا: يا رسول الله إن أول من حدا. بينما رجل في سفر فضرب غلاما له على يده بعصا فانكسرت يده.
فجعل الغلام يقول وهو يسير الإبل: وا يداه
… وا يداه! وقال: هيبا هيبا. فسارت الإبل،.
أخبرنا معن بن عيسى الأشجعي القزاز. أخبرنا معاوية بن صالح عن يحيى بن جابر. وكان أدرك بعض أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم قال: جاءت بنو فهيرة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
হিশাম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুস সাইব আল-কালবি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: "তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল (এসেছেন)" [আত-তাওবা: ১২৮]। তিনি বলেন: হে আরব জাতি! তোমরা তাঁকে জন্ম দিয়েছ।
আল-ফাদল ইবনে দুকাইন আবু নুয়াইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আল-আলা ইবনে আবদিল কারিম আমাদের মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন:
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সফরে ছিলেন। তিনি যখন রাতে পথ চলছিলেন এবং তাঁর সাথে একজন লোকও চলছিল, তখন তিনি একজন উট চালকের গান এবং সামনে থাকা একটি কাফেলার শব্দ শুনতে পেলেন। তখন তিনি তাঁর সাথীকে বললেন: "আমরা যদি এই লোকগুলোর উট চালকের কাছে যেতাম!" এরপর আমরা তাদের নিকটবর্তী হলাম এমনকি তাদের সাথে মিশে গেলাম। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমরা কোন গোত্রের?" তারা বলল: "মুদার গোত্রের।" তিনি বললেন: "আমিও মুদার গোত্রের। আমাদের উট চালক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তাই আমরা তোমাদের চালকের গান শুনতে পেলাম এবং তোমাদের কাছে আসলাম।"
(১)।
উবায়দুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি আমাদের হাবিব ইবনে আবি সাবিত থেকে এবং তিনি ইয়াহইয়া ইবনে জাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক আরোহী দলের সাথে সাক্ষাৎ করলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমরা কোন গোত্রের?" তারা বলল: "মুদার গোত্রের।" তিনি বললেন: "আমিও মুদার গোত্রের।" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আরোহী (পিছনে বসা), আর আমাদের সাথে 'আল-আসওয়াদাইন' (দুটি কালো জিনিস) ছাড়া কোনো পাথেয় নেই।" তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমরাও আরোহী এবং আমাদের কাছেও 'আল-আসওয়াদাইন' অর্থাৎ খেজুর ও পানি ছাড়া আর কোনো পাথেয় নেই।"
আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আল-ইজলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হানজালা ইবনে আবি সুফিয়ান আল-জুমাহি আমাদের তাউস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন সফরে ছিলেন, তখন তিনি একজন উট চালকের শব্দ শুনতে পেলেন এবং তাদের কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত চলতে থাকলেন। যখন তিনি তাদের কাছে পৌঁছালেন, তখন বললেন: "আমাদের উট চালক ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল, তাই আমরা তোমাদের চালকের শব্দ শুনতে পেলাম এবং তার গান শোনার জন্য আসলাম।"
তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: "তোমরা কারা?" তারা বলল: "মুদার গোত্রের লোক।" তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: "আমিও মুদার গোত্রের লোক।" তারা বলল: "হে আল্লাহর রাসূল! সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি উট চালকের গান (হুদা) গেয়েছিল (তার কাহিনী হলো): এক ব্যক্তি সফরে থাকাকালীন তার এক গোলামের হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিল, ফলে তার হাত ভেঙে গিয়েছিল।"
তখন গোলামটি উট চালানোর সময় বলতে লাগল: "হায় আমার হাত!... হায় আমার হাত!" এবং সে বলতে লাগল: "হাইবা হাইবা"। ফলে উটগুলো চলতে শুরু করল।
মা'ন ইবনে ঈসা আল-আশজায়ি আল-কাযযায আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ আমাদের ইয়াহইয়া ইবনে জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কিছু সাহাবীকে পেয়েছিলেন—তিনি বলেন: বনু ফুহাইরা গোত্র রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কাছে এল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
قال:، فقالوا إنك منا. فقال: إن جبريل ليخبرني أني رجل من مضر،.
أخبرنا يزيد بن هارون قال: أخبرنا العوام بن حوشب قال: حدثني منصور بن المعتمر عن ربعي بن حراش عن حذيفة: أنه ذكر مضر في كلام له فقال: إن منكم سيد ولد آدم. يعني النبي صلى الله عليه وسلم.
أخبرنا عفان بن مسلم. أخبرنا عبد الواحد بن زياد. أخبرنا معمر عن الزهري قال: جاء وفد كندة إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم عليهم جباب الحبرة وقد لفوا جيوبها وأكمتها بالديباج. فقال:، أليس قد أسلمتم؟ قالوا: بلى. قال: فألقوا هذا عنكم.
قال: فخلعوا الجباب. قال: فقالوا للنبي عليه السلام: أنتم بنو عبد مناف بنو آكل المرار. قال: فقال لهم النبي صلى الله عليه وسلم: ناسبوا العباس وأبا سفيان. قال: فقالوا لا نناسب غيرك. قال: فلا! نحن بنو النضر بن كنانة لا نقفو أمنا ولا ندعي لغير أبينا،.
أخبرنا يعقوب بن إبراهيم بن سعد الزهري عن أبيه عن صالح بن كيسان عن ابن شهاب قال: بلغنا أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لوفد كندة حين قدموا عليه المدينة.
فزعموا أن بني هاشم منهم. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، بل نحن بنو النضر بن كنانة لن نقفو أمنا ولن ندعي لغير أبينا،.
قال: أخبرنا معن بن عيسى. أخبرنا ابن أبي ذئب عن أبيه أنه قيل لرسول الله.
صلى الله عليه وسلم: إن ههنا ناسا من كندة يزعمون أنك منهم. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، إنما ذلك شيء كان يقوله العباس بن عبد المطلب وأبو سفيان بن حرب ليأمنا باليمن. معاذ الله أن نزني أمنا أو نقفو أبانا. نحن بنو النضر بن كنانة. من قال غير ذلك فقد كذب،
(1).
أخبرنا عفان بن مسلم. أخبرنا حماد بن سلمة قال: أخبرنا عقيل بن أبي طلحة عن مسلم بن الهيصم عن الأشعث بن قيس قال: قدمت على رسول الله صلى الله عليه وسلم في وفد من كندة لا يروني أفضلهم. قال عفان: فقلت يا رسول الله أنا نزعم أنكم منا. قال فقال:، نحن بنو النضر بن كنانة لا نقفو أمنا ولا ننتفي من أبينا،. قال فقال الأشعث بن قيس: لا أسمع أحدا ينفي قريشا من النضر بن كنانة إلا جلدته الحد
(2) ..
--------------------------------------------
তিনি বললেন: তারা বলল যে, নিশ্চয়ই আপনি আমাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই জিবরাঈল আমাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, আমি মুদার গোত্রের একজন ব্যক্তি।
ইয়াজিদ ইবন হারুন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-আওয়াম ইবন হাওশাব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মানসুর ইবনুল মুতামির রিবঈ ইবন হিরাশ থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেন: তিনি তার এক বক্তব্যে মুদার গোত্র সম্পর্কে আলোচনা করেন এবং বলেন: নিশ্চয়ই তোমাদের মধ্য থেকেই রয়েছেন আদম সন্তানের নেতা। অর্থাৎ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
আফফান ইবন মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। আবদুল ওয়াহিদ ইবন যিয়াদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। মা'মার যুহরি থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: কিনদাহ গোত্রের একটি প্রতিনিধি দল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলো। তাদের পরিধানে ছিল ইয়েমেনি কারুকাজ করা জুব্বা, যার কলার এবং হাতা রেশমি কাপড় দিয়ে মোড়ানো ছিল। তিনি বললেন: তোমরা কি ইসলাম গ্রহণ করোনি? তারা বলল: অবশ্যই করেছি। তিনি বললেন: তাহলে এগুলো তোমাদের শরীর থেকে খুলে ফেলো।
বর্ণনাকারী বলেন: তারা জুব্বাগুলো খুলে ফেলল। বর্ণনাকারী বলেন: তারা নবী (আলাইহিস সালাম)-কে বলল: আপনারা আবদে মানাফের বংশধর, যারা আকিলুল মুররার বংশধর। বর্ণনাকারী বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বললেন: তোমরা আব্বাস ও আবু সুফিয়ানের সাথে বংশীয় সম্পর্কের বিষয়ে আলাপ করো। তারা বলল: আমরা আপনি ছাড়া অন্য কারো সাথে বংশীয় পরিচয় মেলাব না। তিনি বললেন: না! আমরা নাদর ইবন কিনানার বংশধর; আমরা আমাদের মায়ের ওপর অপবাদ আরোপ করব না এবং আমাদের পিতা ছাড়া অন্য কারো দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করব না।
ইয়াকুব ইবন ইব্রাহিম ইবন সা'দ যুহরি তার পিতা থেকে, তিনি সালিহ ইবন কাইসান থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিনদাহ গোত্রের প্রতিনিধি দলের নিকট বলেছিলেন যখন তারা মদীনায় তাঁর কাছে এসেছিল।
তারা ধারণা করেছিল যে, বনু হাশিম তাদের অন্তর্ভুক্ত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: বরং আমরা নাদর ইবন কিনানার সন্তান। আমরা কখনোই আমাদের মায়ের ওপর অপবাদ দেব না এবং আমাদের পিতা ছাড়া অন্য কারো দিকে নিজেদের সম্বন্ধ করব না।
তিনি বলেন: মা'ন ইবন ঈসা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। ইবন আবু যিব তার পিতা থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলা হলো: এখানে কিনদাহ গোত্রের কিছু লোক রয়েছে যারা ধারণা করে যে আপনি তাদের অন্তর্ভুক্ত। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: নিশ্চয়ই এটি এমন বিষয় যা আব্বাস ইবন আবদুল মুত্তালিব এবং আবু সুফিয়ান ইবন হারব বলতেন যাতে তারা ইয়েমেনে নিরাপদ থাকতে পারেন। আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই যে আমরা আমাদের মায়ের ওপর ব্যভিচারের অপবাদ দেব অথবা আমাদের পিতার পরিচয় অস্বীকার করব। আমরা নাদর ইবন কিনানার বংশধর। যে ব্যক্তি এর বাইরে কিছু বলবে সে মিথ্যা বলল,
(১)।
আফফান ইবন মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হাম্মাদ ইবন সালামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: উকাইল ইবন আবু তালহা মুসলিম ইবনুল হায়সাম থেকে, তিনি আশআছ ইবন কাইস থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি কিনদাহ গোত্রের এক প্রতিনিধি দলের সাথে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তারা আমাকে তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ মনে করত না। আফফান বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ধারণা করি যে আপনারা আমাদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বললেন: আমরা নাদর ইবন কিনানার সন্তান; আমরা আমাদের মায়ের ওপর অপবাদ আরোপ করি না এবং আমাদের পিতার পরিচয় অস্বীকার করি না। তখন আশআছ ইবন কাইস বললেন: আমি যদি কাউকে শুনতে পাই যে সে কুরাইশদেরকে নাদর ইবন কিনানার বংশ পরিচয় থেকে বিচ্যুত করছে, তবে আমি তাকে অবশ্যই হদ (শাস্তি) প্রয়োগ করব
(২)..
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
قال: أخبرنا ابن أبي ذئب عمن لا يتهم عن عمرو بن العاص أن رسول الله.
صلى الله عليه وسلم. قال:، أنا محمد بن عبد الله،. فانتسب حتى بلغ النضر بن كنانة.، فمن قال غير ذلك فقد كذب،.
أخبرنا يزيد بن هارون وعبد الله بن نمير قالا: أخبرنا إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم أن رجلا أتى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقام بين يديه فأخذه من الرعدة أفكل فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، هون عليك فإني لست بملك إنما أنا ابن امرأة من قريش كانت تأكل القديد،
(1).
قال: أخبرنا هشيم بن بشير قال: أخبرنا حصين عن أبي مالك قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم أوسط النسب في قريش. ليس من حي من أحياء قريش إلا وقد ولدوه.
قال فقال الله له:، قل لا أسألكم على ما أدعوكم إليه أجرا إلا أن تودوني في قرابتي منكم وتحفظوني،.
قال: أخبرنا سعيد بن منصور. أخبرنا هشيم قال: أخبرنا داود عن الشعبي قال: أكثروا علينا في هذه الآية: «قُلْ لا أَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبى» الشورى: 23. فكتب إلى ابن عباس. فكتب ابن عباس أن رسول الله صلى الله عليه وسلم كان أوسط النسب في قريش. لم يكن حي من أحياء قريش إلا وقد ولدوه. فقال الله.
تبارك وتعالى:، قل لا أسألكم على ما أدعوكم إليه أجرا إلا المودة. تودوني لقرابتي وتحفظوني في ذلك،.
أخبرنا يعقوب بن إسحاق الحضرمي. أخبرنا عمرو بن أبي زائدة قال: سمعت عكرمة يقول في قول الله تعالى: «قُلْ لا أَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبى».
الشورى: 23. قال: قل بطن من قريش إلا وقد كانت لرسول الله صلى الله عليه وسلم فيهم ولادة. فقال: إن لم تحفظوني فيما جئت به فاحفظوني لقرابتي.
أخبرنا أحمد بن عبد الله بن يونس. أخبرنا إسرائيل عن سالم عن سعيد بن جبير
--------------------------------------------
তিনি বলেন: ইবন আবি দি’ব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন এমন এক ব্যক্তি থেকে যার ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করা হয় না, তিনি আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। বলেছেন: "আমি মুহাম্মাদ ইবন আব্দুল্লাহ।" অতঃপর তিনি নিজের বংশ পরিচয় দিলেন নদর ইবন কিনানাহ পর্যন্ত। সুতরাং যে এর ব্যতিক্রম কিছু বলবে, সে মিথ্যা বলল।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াযীদ ইবন হারুন ও আব্দুল্লাহ ইবন নুমাইর, তাঁরা উভয়ে বলেন: ইসমাঈল ইবন আবি খালিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কায়স ইবন আবি হাযিম থেকে যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসল এবং তাঁর সামনে দাঁড়াল। তখন ভয়ে সে থরথর করে কাঁপতে লাগল। তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "তুমি সহজ হও, কারণ আমি কোনো রাজা নই। আমি তো কুরাইশ বংশের এমন এক মহিলার পুত্র, যিনি শুকনো গোশত আহার করতেন",
(১)।
তিনি বলেন: হুশাইম ইবন বাশীর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: হুসাইন আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মালিক থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বংশজাত ছিলেন। কুরাইশদের এমন কোনো শাখা ছিল না যাদের সাথে তাঁর জন্মের সম্পর্ক ছিল না।
তিনি বলেন, অতঃপর আল্লাহ তাঁকে বললেন: "বলুন, আমি যা তোমাদের প্রতি দাওয়াত দিচ্ছি, তার জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; তবে তোমরা তোমাদের সাথে আমার যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে তার কারণে আমাকে ভালোবাসবে এবং আমার অধিকার রক্ষা করবে।"
তিনি বলেন: সাঈদ ইবন মানসুর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হুশাইম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: দাউদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাবি থেকে, তিনি বলেন: এই আয়াতের ব্যাপারে আমাদের কাছে অনেকে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন: «বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল আত্মীয়তার হৃদ্যতা ব্যতীত» (আশ-শূরা: ২৩)। তখন ইবন আব্বাসের নিকট চিঠি লেখা হলো। ইবন আব্বাস লিখে পাঠালেন যে, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বংশের অধিকারী ছিলেন। কুরাইশদের এমন কোনো শাখা ছিল না যাদের সাথে তাঁর বংশীয় সম্পর্ক ছিল না। তখন আল্লাহ।
তাবারাকা ওয়া তা’আলা বললেন: "বলুন, আমি তোমাদের যে দাওয়াত দিচ্ছি তার জন্য কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল হৃদ্যতা ব্যতীত। তোমরা আমার আত্মীয়তার কারণে আমাকে ভালোবাসবে এবং এ বিষয়ে আমার অধিকার রক্ষা করবে।"
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াকুব ইবন ইসহাক আল-হাদরামি। আমর ইবন আবি যাইদা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি ইকরিমাহকে আল্লাহর তা’আলার এই বাণীর ব্যাপারে বলতে শুনেছি: «বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল আত্মীয়তার হৃদ্যতা ব্যতীত»।
আশ-শূরা: ২৩। তিনি বলেন: কুরাইশদের এমন কোনো শাখা নেই যাদের সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশীয় সম্পর্ক ছিল না। তাই তিনি বললেন: "আমি যা নিয়ে এসেছি সে ব্যাপারে যদি তোমরা আমাকে রক্ষা না করো, তবে অন্তত আমার আত্মীয়তার খাতিরে আমাকে রক্ষা করো।"
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ ইবন আব্দুল্লাহ ইবন ইউনুস। ইসরাঈল আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সালিম থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
في قوله: «قُلْ لا أَسْئَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْراً إِلَّا الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبى» الشورى: 23. قال:
إن تصلوا قرابة ما بيني وبينكم.
قال: أخبرنا وكيع بن الجراح عن أبيه عن إسرائيل عن أبي إسحاق عن البراء بن عازب قال: وأخبرنا عبيد الله بن موسى العبسي. وقبيصة بن عقبة السوائي. والضحاك ابن مخلد الشيباني أبو عاصم النبيل. قالوا: أخبرنا سفيان الثوري عن أبي إسحاق عن البراء بن عازب. وأخبرنا وهب بن جرير بن حازم وعفان بن مسلم وهشام بن عبد الملك أبو الوليد الطيالسي قالوا: أخبرنا شعبة عن أبي إسحاق عن البراء بن عازب أنه سمع النبي صلى الله عليه وسلم يوم حنين يقول:
أنا النبي لا كذب
… أنا ابن عبد المطلب
قال: وأخبرنا الضحاك بن مخلد الشيباني عن شبيب بن بشر عن عكرمة عن ابن عباس في قوله تعالى: «وَ تَقَلُّبَكَ فِي السَّاجِدِينَ» الشعراء: 219. قال: من نبي إلى نبي. ومن نبي إلى نبي حتى أخرجك نبيا.
قال: وأخبرنا سعيد بن سليمان الواسطي ومحمد بن الصباح البزاز عن إسماعيل ابن جعفر. أخبرنا عمرو. يعني ابن أبي عمرو مولى المطلب. عن سعيد. يعني المقبري. عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:، بعثت من خير قرون بني آدم قرنا فقرنا حتى بعثت من القرن الذي كنت فيه،
(1).
قال: أخبرنا عبد الوهاب بن عطاء العجلي عن سعيد بن أبي عروبة عن قتادة قال: ذكر لنا أن نبي الله صلى الله عليه وسلم قال:، إن الله إذا أراد أن يبعث نبيا نظر إلى خير أهل الأرض قبيلة فيبعث خيرها رجلا،.
ذكر من ولد رسول الله صلى الله عليه وسلم من الأنبياءقال: أخبرنا محمد بن حميد أبو سفيان العبدي عن سفيان بن سعيد الثوري عن هشام بن سعد عن سعيد المقبري عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، الناس
--------------------------------------------
তাঁর বাণী প্রসঙ্গে: «বলুন, আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না, কেবল আত্মীয়তার সৌহার্দ্য ছাড়া» আশ-শূরা: ২৩। তিনি বলেন:
তোমরা আমার ও তোমাদের মধ্যকার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করবে।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওকী' ইবনুল জাররাহ তাঁর পিতা থেকে, তিনি ইসরাঈল থেকে, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা আল-আবসি, ক্বাবীসা ইবনে উকবা আস-সুওয়ায়ী এবং আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ আশ-শায়বানি আবু আসিম আন-নাবীল। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান আস-সাওরি, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে। এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ওয়াহব ইবনে জারীর ইবনে হাযিম, আফফান ইবনে মুসলিম এবং হিশাম ইবনে আব্দুল মালিক আবু আল-ওয়ালীদ আত-তায়ালিসি। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বা, তিনি আবু ইসহাক থেকে, তিনি বারা ইবনে আযিব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হুনাইনের দিন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন:
আমি নবী, এতে কোনো মিথ্যা নেই
… আমি আব্দুল মুত্তালিবের বংশধর
তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আদ-দাহহাক ইবনে মাখলাদ আশ-শায়বানি, তিনি শাবীব ইবনে বিশর থেকে, তিনি ইকরিমাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মহান আল্লাহর বাণী: «এবং সিজদাকারীদের মধ্যে আপনার পদচারণা» আশ-শু'আরা: ২১৯ প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: এক নবী থেকে অন্য নবী পর্যন্ত, এবং এক নবী থেকে অন্য নবী পর্যন্ত, এভাবে আল্লাহ আপনাকে নবী হিসেবে বের করে এনেছেন।
তিনি বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ ইবনে সুলায়মান আল-ওয়াসিতি এবং মুহাম্মদ ইবন আস-সাব্বাহ আল-বাযযার, তাঁরা ইসমাইল ইবনে জাফর থেকে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর—অর্থাৎ ইবনে আবি আমর, মুত্তালিবের আযাদকৃত দাস—তিনি সাঈদ থেকে—অর্থাৎ আল-মাকবুরি—তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমি আদম সন্তানদের সর্বোত্তম যুগসমূহ থেকে যুগে যুগে প্রেরিত হয়েছি, শেষ পর্যন্ত আমি যে যুগে রয়েছি সেই যুগেই প্রেরিত হয়েছি",
(১)।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আতা আল-ইজলি, তিনি সাঈদ ইবনে আবি আরূবা থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে বর্ণিত হয়েছে যে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন কোনো নবী প্রেরণের ইচ্ছা করেন, তখন তিনি জমিনবাসীর মধ্যে বংশের দিক থেকে সর্বোত্তম গোত্রের দিকে দৃষ্টিপাত করেন এবং তাদের মধ্য থেকে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেন।"
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবীদের যে বংশধারা থেকে জন্মগ্রহণ করেছেন তার বিবরণতিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আবু সুফিয়ান আল-আবদি, তিনি সুফিয়ান ইবনে সাঈদ আস-সাওরি থেকে, তিনি হিশাম ইবনে সাদ থেকে, তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: মানুষ...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
ولد آدم وآدم من تراب،
(1).
أخبرنا الفضل بن دكين ومحمد بن عبد الله الأسدي قالا: أخبرنا سفيان عن عطاء بن السائب عن سعيد بن جبير قال: خلق آدم من أرض يقال لها دحناء.
قال: أخبرنا محمد بن عبد الله الأسدي وخلاد بن يحيى قالا: أخبرنا مسعر عن أبي حصين قال: قال لي سعيد بن جبير أتدري لم سمي آدم؟ لأنه خلق من أديم الأرض.
قال: أخبرنا هوذة بن خليفة. أخبرنا عوف عن قسامة بن زهير قال: سمعت أبا موسى الأشعري يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، إن الله خلق آدم من قبضة قبضها من جميع الأرض فجاء بنو آدم على قدر الأرض. جاء منهم الأحمر والأبيض والأسود وبين ذلك والسهل والحزن وبين ذلك والخبيث والطيب وبين ذلك،
(2).
قال: أخبرنا عمرو بن عاصم الكلابي. أخبرنا المعتمر بن سليمان عن عاصم الأحول عن أبي قلابة قال: خلق آدم من أديم الأرض كلها من أسودها وأحمرها وأبيضها وحزنها وسهلها. وقال الحسن مثله: وخلق جؤجؤه من ضرية.
قال: أخبرنا عمرو بن الهيثم أبو قطن. أخبرنا شعبة عن أبي حصين عن سعيد ابن جبير قال: إنما سمي آدم لأنه خلق من أديم الأرض وإنما سمي إنسانا لأنه نسي.
قال: أخبرنا حسين بن حسن الأشقري. أخبرنا يعقوب بن عبد الله القمي عن جعفر. يعني ابن أبي المغيرة. عن سعيد بن جبير عن ابن مسعود قال: إن الله بعث إبليس فأخذ من أديم الأرض من عذبها وملحها. فخلق منها آدم. فكل شيء خلقه من عذبها فهو صائر إلى الجنة وإن كان ابن كافر. وكل شيء خلقه من ملحها فهو صائر إلى النار وإن كان ابن تقي. قال فمن ثم قال إبليس: أأسجد لمن خلقت طينا. لأنه جاء بالطينة. قال فسمي آدم. لأنه خلق من أديم الأرض.
--------------------------------------------
আদমের সন্তানগণ এবং আদম মাটি থেকে সৃষ্ট,
(১)।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফজল ইবন দুকাইন ও মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-আসাদী, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুফিয়ান, আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদমকে 'দাহনা' নামক এক ভূখণ্ড থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ ইবন আবদুল্লাহ আল-আসাদী ও খাল্লাদ ইবন ইয়াহইয়া, তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মিসআর, আবু হুসাইন থেকে, তিনি বলেন: সাঈদ ইবন জুবাইর আমাকে বললেন: তুমি কি জানো কেন তাঁর নাম আদম রাখা হয়েছে? কারণ তাঁকে যমিনের উপরিভাগ (আদীম) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাওযাহ ইবন খলিফা। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আওফ, কাসামাহ ইবন যুহাইর থেকে, তিনি বলেন: আমি আবু মুসা আল-আশআরীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে এক মুষ্টি (মাটি) থেকে সৃষ্টি করেছেন যা তিনি সমগ্র যমিন থেকে গ্রহণ করেছেন। ফলে আদমের সন্তানরা যমিনের (মাটির) প্রকৃতি অনুযায়ী হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ লাল, কেউ সাদা, কেউ কালো, কেউ এর মাঝামাঝি; কেউ কোমল মেজাজের, কেউ কর্কশ মেজাজের, কেউ এর মাঝামাঝি; আবার কেউ পাপাচারী ও কেউ পুণ্যবান, এবং কেউবা এর মাঝামাঝি প্রকৃতির হয়েছে,
(২)।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবন আসিম আল-কিলাবি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুতামির ইবন সুলায়মান, আসিম আল-আহওয়াল থেকে, তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদমকে সমগ্র যমিনের উপরিভাগ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে—তার কালো, লাল, সাদা, কর্কশ ও কোমল অংশ থেকে। হাসান (বসরী) অনুরূপ বলেছেন এবং (আরও বলেছেন): তাঁর বক্ষদেশ 'দারিয়্যাহ' থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর ইবনুল হাইসাম আবু কাতান। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শু'বাহ, আবু হুসাইন থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তাঁর নাম আদম রাখা হয়েছে কেবল একারণে যে তিনি যমিনের উপরিভাগ (আদীম) থেকে সৃষ্ট, আর তাঁর নাম ইনসান রাখা হয়েছে কেবল একারণে যে তিনি ভুলে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন ইবন হাসান আল-আশকাররী। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াকুব ইবন আবদুল্লাহ আল-কুম্মী, জাফর—অর্থাৎ ইবন আবি আল-মুগীরা—থেকে, তিনি সাঈদ ইবন জুবাইর থেকে, তিনি ইবন মাসউদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ ইবলিসকে পাঠালেন, সে যমিনের উপরিভাগ থেকে সুপেয় ও লবণাক্ত মাটি সংগ্রহ করল। অতঃপর তা থেকে আদমকে সৃষ্টি করা হলো। সুতরাং যা কিছু সুপেয় মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা জান্নাতের দিকে ধাবিত হবে, যদিও সে কাফিরের সন্তান হয়। আর যা কিছু লবণাক্ত মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে, তা জাহান্নামের দিকে ধাবিত হবে, যদিও সে মুত্তাকীর সন্তান হয়। তিনি বলেন: এর ফলেই ইবলিস বলেছিল—'আমি কি তাকে সিজদাহ করব যাকে আপনি কাদা থেকে সৃষ্টি করেছেন?' যেহেতু সে মাটি নিয়ে এসেছিল। তিনি বলেন: আর তাঁর নাম আদম রাখা হলো কারণ তাঁকে যমিনের উপরিভাগ (আদীম) থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
قال: أخبرنا الحسن بن موسى الأشيب ويونس بن محمد المؤدب قالا: أخبرنا حماد بن سلمة عن ثابت البناني عن أنس بن مالك قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، إن الله لما صور آدم تركه ما شاء أن يتركه فجعل إبليس يطيف به. فلما رآه أجوف عرف أنه خلق لا يتمالك،
(1).
قال: أخبرنا معاذ بن معاذ العنبري. أخبرنا سليمان التيمي. أخبرنا أبو عثمان النهدي عن سلمان الفارسي أن ابن مسعود قال: خمر الله طينة آدم أربعين ليلة. أو قال أربعين يوما. ثم ضرب بيده فيه فخرج كل طيب في يمينه. وخرج كل خبيث في يده الأخرى. ثم خلط بينهما. قال: فمن ثم يخرج الحي من الميت والميت من الحي.
أخبرنا إسماعيل بن عبد الله بن أبي أويس المدني. حدثني أبي عن عون بن عبد الله بن الحارث الهاشمي عن أخيه عبد الله بن عبد الله بن الحارث عن أبيه قال:
قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، إن الله خلق آدم بيده،
(2).
قال: أخبرنا إسماعيل بن عبد الكريم الصنعاني قال: حدثني عبد الصمد بن معقل أنه سمع وهب بن منبه يقول: خلق الله ابن آدم كما شاء ومما شاء فكان كذلك.
تبارك الله أحسن الخالقين. خلق من التراب والماء. فمنه لحمه ودمه وشعره وعظامه وجسده كله. فهذا بدء الخلق الذي خلق الله منه ابن آدم. ثم جعلت فيه النفس. فبها يقوم ويقعد ويسمع ويبصر. ويعلم ما تعلم الدواب. ويتقى ما تتقي. ثم جعل فيه الروح. فبه عرف الحق من الباطل. والرشد من الغي. وبه حذر وتقدم. واستتر وتعلم. ودبر الأمور كلها.
قال: أخبرنا خلاد بن يحيى. أخبرنا هشام بن سعد. أخبرنا زيد بن أسلم عن أبي صالح عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، لما خلق الله آدم مسح ظهره فسقط من ظهره كل نسمة هو خالقها إلى يوم القيامة. ثم جعل بين عيني كل إنسان منهم وبيصا من نور ثم عرضهم على آدم فقال: أي رب من هؤلاء؟ قال: هؤلاء ذريتك. فرأى رجلا منهم أعجبه نور ما بين عينيه. فقال: أي رب من هذا؟ قال: هذا
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হাসান ইবনে মুসা আল-আশিব এবং ইউনুস ইবনে মুহাম্মাদ আল-মুয়াদ্দিব। তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, সাবিত আল-বুনানি থেকে, তিনি আনাস ইবনে মালিক হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "আল্লাহ যখন আদমকে আকৃতি দান করলেন, তখন তিনি তাঁকে যতটুকু সময় ইচ্ছা সেভাবেই রেখে দিলেন। তখন ইবলিস তাঁর চারপাশ ঘুরে দেখতে লাগল। যখন সে তাঁকে ফাঁপা দেখল, তখন সে বুঝতে পারল যে তাকে এমন সৃষ্টি হিসেবে তৈরি করা হয়েছে যা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না,"
(১).
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুয়ায ইবনে মুয়ায আল-আম্বারি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সুলাইমান আত-তাইমি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উসমান আন-নাহদি, সালমান আল-ফারসি থেকে যে ইবনে মাসউদ বলেছেন: আল্লাহ আদমের কাদামাটিকে চল্লিশ রাত (অথবা তিনি বলেছেন চল্লিশ দিন) মাখিয়ে রাখলেন। তারপর তিনি আল্লাহর হাত দিয়ে তাতে আঘাত করলেন, ফলে তাঁর ডান হাতে পবিত্র সব কিছু বের হয়ে এল। আর তাঁর অন্য হাতে অপবিত্র সব কিছু বের হয়ে এল। তারপর তিনি তাদের মধ্যে মিশ্রণ ঘটালেন। তিনি বলেন: এরপর থেকেই জীবিত থেকে মৃত এবং মৃত থেকে জীবিত নির্গত হয়।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি উওয়াইস আল-মাদানি। আমার পিতা আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আউন ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস আল-হাশিমি থেকে, তিনি তাঁর ভাই আব্দুল্লাহ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আল-হারিস থেকে, তিনি তাঁর পিতার সূত্রে বলেন:
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে আল্লাহর হাত দিয়ে সৃষ্টি করেছেন,"
(২).
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসমাইল ইবনে আব্দুল কারিম আস-সানআনি। তিনি বলেন: আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আব্দুল সামাদ ইবনে মা'কিল যে তিনি ওয়াহাব ইবনে মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ আদম সন্তানকে যেভাবে ইচ্ছা এবং যা থেকে ইচ্ছা সৃষ্টি করেছেন, আর তা তেমনই হয়েছে।
আল্লাহ বরকতময়, সর্বশ্রেষ্ঠ স্রষ্টা। তিনি মাটি ও পানি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তা থেকেই তাঁর গোশত, রক্ত, চুল, হাড় ও পুরো শরীর গঠিত। এটিই সৃষ্টির শুরু যা থেকে আল্লাহ আদম সন্তানকে সৃষ্টি করেছেন। এরপর তাতে প্রাণ (নফস) সঞ্চার করা হলো। যার মাধ্যমে সে দাঁড়ায়, বসে, শোনে ও দেখে। এবং পশুরা যা জানে সেও তা জানে। পশুরা যা থেকে বেঁচে থাকে সেও তা থেকে বেঁচে থাকে। এরপর তাতে রুহ (আত্মা) দেওয়া হলো। যার মাধ্যমে সে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করতে পারল এবং সঠিক পথ ও ভ্রষ্টতার পার্থক্য বুঝল। এর মাধ্যমেই সে সতর্ক হয় ও অগ্রসর হয়, আত্মগোপন করে ও জ্ঞান অর্জন করে এবং সকল বিষয় পরিচালনা করে।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম ইবনে সাদ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যায়েদ ইবনে আসলাম, আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তাঁর পিঠে মাসাহ করলেন, ফলে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ তিনি সৃষ্টি করবেন তাদের প্রতিটি আত্মা তাঁর পিঠ থেকে বের হয়ে এল। তারপর তিনি তাদের প্রত্যেকের দুই চোখের মাঝখানে নূরের এক দীপ্তি স্থাপন করলেন। তারপর তিনি তাদেরকে আদমের সামনে পেশ করলেন। তিনি বললেন: হে আমার রব, এরা কারা? তিনি বললেন: এরা তোমার বংশধর। তখন তিনি তাদের মধ্যে এক ব্যক্তিকে দেখলেন যার দুই চোখের মাঝখানের নূর তাঁকে মুগ্ধ করল। তিনি বললেন: হে আমার রব, এ কে? তিনি বললেন: এ হলো..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
رجل من ذريتك في آخر الأمم يقال له داود. قال: فزده من عمري أربعين سنة. قال:
إذا تكتب وتختم ولا تبدل. قال: فلما انقضى عمر آدم جاءه ملك الموت. قال: أولم يبق من عمري أربعون سنة؟ قال: أولم تعطها ابنك داود؟ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
فجحد فجحدت ذريته. ونسي آدم فنسيت ذريته. وخطئ آدم فخطئت ذريته،
(1).
أخبرنا الحسن بن موسى الأشيب. أخبرنا حماد بن سلمة عن علي بن زيد عن يوسف بن مهران عن ابن عباس قال: لما نزلت آية الدين قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، إن أول من جحد آدم عليه السلام. وكررها ثلاثا. إن الله لما خلق آدم مسح على ظهره فأخرج ذريته فعرضهم عليه. فرأى فيهم رجلا يزهر فقال: أي رب! أي بني هذا؟
قال: هذا ابنك داود. قال: فكم عمره؟ قال: ستون سنة. قال: أي رب زده في عمره. قال: لا إلا أن تزيده أنت من عمرك. قال وكان عمر آدم ألف سنة. قال: أي رب زده من عمري. قال: فزاده أربعين سنة وكتب عليه كتابا وأشهد عليه الملائكة.
فلما احتضر آدم أتته الملائكة لتقبض روحه فقال: إنه قد بقي من عمري أربعون سنة.
فقالوا: إنك جعلتها لابنك داود. فقال: أي رب ما فعلت؟ فأنزل الله عليه الكتاب وأقام عليه البينة. ثم أكمل الله. عز وجل. لآدم ألف سنة. وأكمل لداود مائة سنة،
(2).
قال: أخبرنا إسماعيل بن إبراهيم الأسدي. وهو ابن عليه. عن كلثوم بن جبر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس. في قوله: «وَ إِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَ أَشْهَدَهُمْ عَلى أَنْفُسِهِمْ أَ لَسْتُ بِرَبِّكُمْ قالُوا بَلى شَهِدْنا» الأعراف:
172. فمسح ربك ظهر آدم. فخرجت كل نسمة هو خالقها إلى يوم القيامة بنعمان هذا الذي وراء عرفة. فأخذ ميثاقهم: «أَ لَسْتُ بِرَبِّكُمْ قالُوا بَلى شَهِدْنا» الأعراف:
172 ..
--------------------------------------------
আপনার বংশধরদের মধ্যে শেষ জাতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত একজন লোক, যাকে দাউদ বলা হয়। তিনি (আদম) বললেন: তাহলে আমার আয়ু থেকে তাকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দিন। তিনি (আল্লাহ) বললেন:
যখন তা লিখে দেওয়া হবে এবং মোহর মারা হবে, তখন আর তা পরিবর্তন করা হবে না। বর্ণনাকারী বলেন: যখন আদমের আয়ু শেষ হয়ে এল, তখন মালাকুল মউত তাঁর কাছে এলেন। তিনি (আদম) বললেন: আমার আয়ুর কি আরও চল্লিশ বছর বাকি নেই? তিনি (ফেরেশতা) বললেন: আপনি কি তা আপনার পুত্র দাউদকে দিয়ে দেননি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন:
অতঃপর তিনি অস্বীকার করলেন, তাই তাঁর বংশধররাও অস্বীকার করে। আদম ভুলে গিয়েছিলেন, তাই তাঁর বংশধররাও ভুলে যায়। আদম ভুল করেছিলেন, তাই তাঁর বংশধররাও ভুল করে।
(১)।
হাসান ইবনে মুসা আল-আশইয়াব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে যায়িদ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: যখন ঋণের আয়াত নাজিল হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: নিশ্চয়ই প্রথম ব্যক্তি যিনি অস্বীকার করেছিলেন তিনি হলেন আদম আলাইহিস সালাম। তিনি এটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করলেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ যখন আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর পিঠের ওপর আল্লাহর হাত বুলিয়ে দিলেন এবং তাঁর বংশধরদের বের করলেন, অতঃপর তাদের তাঁর সামনে পেশ করলেন। তখন তিনি তাদের মধ্যে একজন উজ্জ্বল ব্যক্তিকে দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: হে আমার রব! এই সন্তানটি কে?
তিনি বললেন: এটি তোমার পুত্র দাউদ। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: তার আয়ু কত? তিনি বললেন: ষাট বছর। তিনি বললেন: হে আমার রব, তার আয়ু বাড়িয়ে দিন। তিনি বললেন: না, তবে তুমি যদি তোমার নিজের আয়ু থেকে তাকে বাড়িয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন: আদমের আয়ু ছিল এক হাজার বছর। তিনি বললেন: হে আমার রব, আমার আয়ু থেকে তাকে (চল্লিশ বছর) বাড়িয়ে দিন। বর্ণনাকারী বলেন: ফলে তিনি তাকে চল্লিশ বছর বাড়িয়ে দিলেন এবং তাঁর ওপর একটি দলিল লিখে দিলেন এবং ফেরেশতাদের এর ওপর সাক্ষী রাখলেন।
অতঃপর যখন আদমের অন্তিম সময় ঘনিয়ে এল, তখন ফেরেশতারা তাঁর প্রাণ কবজ করার জন্য তাঁর কাছে এলেন। তিনি বললেন: আমার আয়ুর তো আরও চল্লিশ বছর বাকি আছে।
তাঁরা বললেন: আপনি তো তা আপনার পুত্র দাউদকে দিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বললেন: হে আমার রব, আমি তো তা করিনি! তখন আল্লাহ তাঁর কাছে সেই লিখিত দলিলটি পাঠালেন এবং তাঁর ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করলেন। অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা আদমের জন্য এক হাজার বছর পূর্ণ করলেন এবং দাউদের জন্য একশ বছর পূর্ণ করলেন।
(২)।
তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে ইব্রাহিম আল-আসাদি—যিনি ইবনে উলাইয়্যাহ নামে পরিচিত—আমাদের সংবাদ দিয়েছেন কুলসুম ইবনে জাবর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর এই বাণীর বিষয়ে বর্ণনা করেন: «আর যখন তোমার প্রতিপালক আদম সন্তানদের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাদের বংশধরদের বের করে আনলেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের ওপর সাক্ষী করলেন যে, আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলেছিল: হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি» আল-আরাফ:
১৭২। অতঃপর আপনার রব আদমের পিঠে আল্লাহর হাত বুলিয়ে দিলেন। ফলে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষ তিনি সৃষ্টি করবেন, তাদের প্রত্যেককে আরাফাতের পিছনের নুমান নামক স্থানে বের করে আনলেন। অতঃপর তিনি তাদের থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করলেন: «আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলেছিল: হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি» আল-আরাফ:
১৭২।.
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
قال إسماعيل: فحدثنا ربيعة بن كلثوم عن أبيه في هذا الحديث: «قالُوا بَلى شَهِدْنا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيامَةِ» الأعراف: 172.
قال: أخبرنا سليمان بن حرب. أخبرنا حماد بن زيد عن كلثوم بن جبر عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: مسح ربك ظهر آدم بنعمان هذه. فأخرج منه كل نسمة هو خالقها إلى يوم القيامة. ثم أخذ عليهم الميثاق قال: ثم تلا: «وَ إِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِنْ بَنِي آدَمَ مِنْ ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَ أَشْهَدَهُمْ عَلى أَنْفُسِهِمْ أَ لَسْتُ بِرَبِّكُمْ قالُوا بَلى شَهِدْنا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هذا غافِلِينَ» الأعراف: 172 - 173. أو تقولوا إنما أشرك آباؤنا من قبل.
أخبرنا سعيد بن سليمان الواسطي. أخبرنا منصور. يعني ابن أبي الأسود. عن عطاء بن السائب عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: خلق الله آدم بدحناء فمسح ظهره. فأخرج كل نسمة هو خالقها إلى يوم القيامة. قال: «أَ لَسْتُ بِرَبِّكُمْ قالُوا بَلى» الأعراف: 172. قال: يقول الله: «شَهِدْنا أَنْ تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هذا غافِلِينَ» الأعراف: 172. قال سعيد: فيرون أن الميثاق أخذ يومئذ.
قال: أخبرنا موسى بن مسعود أبو حذيفة النهدي. أخبرنا زهير بن محمد عن عبد الله بن محمد بن عقيل عن عبد الرحمن بن يزيد الأنصاري عن أبي لبابة بن عبد المنذر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال:، يوم الجمعة سيد الأيام وأعظمها عند الله. خلق الله فيه آدم وأهبط فيه آدم إلى الأرض وفيه توفى الله آدم،
(1).
قال: أخبرنا عفان بن مسلم. أخبرنا حماد بن سلمة عن محمد بن عمر عن أبي سلمة عن عبد الله بن سلام قال: خلق الله آدم في آخر يوم الجمعة.
أخبرنا عمرو بن الهيثم. أخبرنا شعبة عن الحكم عن إبراهيم قال: قال سلمان إن أول ما خلق من آدم رأسه فجعل يخلق جسده وهو ينظر. قال: فبقيت رجلاه عند العصر. قال: يا رب الليل اعجل قد جاء الليل. قال الله: «و خُلِقَ الْإِنْسانُ مِنْ عَجَلٍ» الأنبياء: 37.
قال: أخبرنا محمد بن حميد العبدي عن معمر عن قتادة في قوله: من طين.
--------------------------------------------
ইসমাইল বলেন: রাবিআ ইবনে কুলসুম এই হাদীস সম্পর্কে তাঁর পিতার সূত্রে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন: "তারা বলল, 'হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি,' যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা না বলো..." (আল-আরাফ: ১৭২)।
তিনি বলেন: সুলাইমান ইবনে হারব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হাম্মাদ ইবনে যাইদ কুলসুম ইবনে জাবর থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আপনার প্রতিপালক এই নুমান নামক স্থানে আদমের পিঠে হাত বুলালেন। অতঃপর তা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত তিনি যত প্রাণ সৃষ্টি করবেন তাদের প্রত্যেককে বের করে আনলেন। এরপর তিনি তাদের কাছ থেকে অঙ্গীকার নিলেন। তারপর তিনি তিলাওয়াত করলেন: "আর যখন তোমার প্রতিপালক বনী আদমের পিঠ থেকে তাদের সন্তানদের বের করে আনলেন এবং তাদের নিজেদের উপর সাক্ষ্য রাখলেন যে, 'আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই?' তারা বলল, 'হ্যাঁ, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি,' যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা না বলো যে, 'আমরা তো এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম'।" (আল-আরাফ: ১৭২ - ১৭৩)। অথবা বলো যে, 'আমাদের পূর্বপুরুষরাই তো আগে শিরক করেছিল।'
সাঈদ ইবনে সুলাইমান আল-ওয়াসিতি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। মানসুর—অর্থাৎ ইবনে আবিল আসওয়াদ—আতা ইবনে সাইব থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ দাহনা নামক স্থানে আদমকে সৃষ্টি করলেন এবং তাঁর পিঠে হাত বুলালেন। অতঃপর কিয়ামত পর্যন্ত তিনি যত প্রাণ সৃষ্টি করবেন তাদের প্রত্যেককে বের করে আনলেন। তিনি (আল্লাহ) বললেন: "আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা বলল, 'হ্যাঁ'।" (আল-আরাফ: ১৭২)। তিনি বলেন: আল্লাহ বলেন: "সাক্ষ্য দিচ্ছি, যাতে কিয়ামতের দিন তোমরা না বলো যে, 'আমরা এ বিষয়ে গাফেল ছিলাম'।" (আল-আরাফ: ১৭২)। সাঈদ বলেন: তাঁরা মনে করেন যে সেই দিনই অঙ্গীকার গ্রহণ করা হয়েছিল।
তিনি বলেন: মুসা ইবনে মাসউদ আবু হুযাইফা আন-নাহদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। যুহাইর ইবনে মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আকীল থেকে, তিনি আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ আল-আনসারি থেকে এবং তিনি আবু লুবাবা ইবনে আব্দুল মুনযির থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: জুমার দিন দিনসমূহের নেতা এবং আল্লাহর কাছে তা সবচেয়ে মহান। আল্লাহ এই দিনে আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এই দিনে আদমকে পৃথিবীতে নামিয়েছেন এবং এই দিনে আল্লাহ আদমের মৃত্যু ঘটিয়েছেন,
(১)।
তিনি বলেন: আফফান ইবনে মুসলিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। হাম্মাদ ইবনে সালামাহ মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে এবং তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহ জুমার দিনের শেষ অংশে আদমকে সৃষ্টি করেছেন।
আমর ইবনুল হাইসাম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন। শু'বা হাকাম থেকে এবং তিনি ইব্রাহিম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সালমান বলেছেন, আদমের যে অংশটি প্রথম সৃষ্টি করা হয়েছিল তা হলো তাঁর মাথা। অতঃপর তাঁর দেহ সৃষ্টি করা হতে লাগল আর তিনি তা দেখছিলেন। তিনি বলেন: আসরের সময় তাঁর দুই পা বাকি ছিল। তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক! রাত আসার আগে দ্রুত করুন, রাত তো চলেই এসেছে। আল্লাহ বলেন: "মানুষকে সৃষ্টি করা হয়েছে তাড়াহুড়ো প্রবণ করে।" (আল-আম্বিয়া: ৩৭)।
তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আল-আবদি মা'মার থেকে এবং তিনি কাতাদা থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন: "কাদা মাটি থেকে।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
قال: استل آدم من الطين.
قال: أخبرنا محمد بن حميد العبدي عن معمر عن قتادة في قوله: أنشأناه خلقا آخر. قال: يقول بعضهم هو نبات الشعر. وقال بعضهم نفخ الروح.
أخبرنا حماد بن خالد الخياط عن معاوية بن صالح عن راشد بن سعد قال:
حدثني عبد الرحمن بن قتادة السلمي. وكان من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم يقول:، إن الله خلق آدم ثم أخذ الخلق من ظهره. فقال هؤلاء في الجنة ولا أبالي. وهؤلاء في النار ولا أبالي. فقال قائل: يا رسول الله على ماذا نعمل؟ قال: على مواقع القدر،
(1).
أخبرنا محمد بن مقاتل الخراساني قال: أخبرنا عبد الله بن المبارك قال: أخبرنا إسماعيل بن رافع أنه سمع سعيدا المقبري يقول: قال أبو هريرة: كان أول ما جرى فيه الروح من آدم. بصره وخياشيمه. فلما جرى الروح منه في جسده كله عطس.
فلقاه الله حمده فحمد ربه. فقال الله له: رحمك ربك. ثم قال الله له: اذهب يا آدم إلى أولئك الملإ فقل لهم: سلام عليكم. فانظر ماذا يردون عليك. ففعل ثم رجع إلى الجبار. فقال الله له. وهو أعلم: ماذا قالوا لك؟ فقال: قالوا وعليك السلام ورحمة الله. فقال له: هذا يا آدم تحيتك وتحية ذريتك.
قال: أخبرنا هشام بن محمد عن أبيه عن أبي صالح عن ابن عباس قال: لما نفخ في آدم الروح عطس فقال: الحمد لله رب العالمين. فقال الله له: يرحمك ربك. قال ابن عباس: سبقت رحمته غضبه.
قال: أخبرنا عفان بن مسلم والحسن بن موسى الأشيب قالا: أخبرنا حماد بن سلمة عن علي بن زيد عن يوسف بن مهران عن ابن عباس قال: لما خلق الله آدم كان يمس رأسه السماء. قال: فوطده الله إلى الأرض حتى صار ستين ذراعا في سبع أذرع عرضا.
قال: أخبرنا عبد الوهاب بن عطاء العجلي عن سعيد عن قتادة عن الحسن عن عتي عن أبي بن كعب عن النبي عليه السلام. أنه قال:، إن آدم كان رجلا طوالا كأنه
--------------------------------------------
তিনি বললেন: আদমকে কাদা মাটি থেকে নিষ্কাশন করা হয়েছে।
তিনি বললেন: মুহাম্মদ ইবনে হুমাইদ আল-আবাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মামার থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বলেন: "অতঃপর আমি তাকে অন্য এক সৃষ্টিরূপে গড়ে তুললাম।" তিনি বলেন: তাদের কেউ কেউ বলেন এটি হলো চুল গজানো। আবার কেউ কেউ বলেন এটি হলো রূহ ফুঁকে দেওয়া।
হাম্মাদ ইবনে খালিদ আল-খাইয়াত আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে, তিনি রাশিদ ইবনে সাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আব্দুর রহমান ইবনে কাতাদাহ আস-সুলামি আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীদের একজন ছিলেন, তিনি বলতেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করেছেন, এরপর তাঁর পিঠ থেকে সৃষ্টিরাজিকে বের করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন, এরা জান্নাতে যাবে এবং আমি এতে পরোয়া করি না। আর এরা জাহান্নামে যাবে এবং আমি এতে পরোয়া করি না। তখন এক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, তবে আমরা কিসের ওপর আমল করব? তিনি বললেন: যা তাকদীরে নির্ধারিত হয়েছে তার ওপর।
(১)।
মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আল-খুরাসানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইসমাইল ইবনে রাফি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে তিনি সাঈদ আল-মাকবুরিকে বলতে শুনেছেন: আবু হুরায়রা বলেছেন: আদমের শরীরে সর্বপ্রথম যেখানে রূহ সঞ্চারিত হয়েছিল, তা হলো তাঁর চোখ ও নাসারন্ধ্র। যখন রূহ তাঁর পূর্ণ শরীরে সঞ্চারিত হলো, তখন তিনি হাঁচি দিলেন।
তখন আল্লাহ তাকে তাঁর প্রশংসা শিক্ষা দিলেন এবং তিনি তাঁর রবের প্রশংসা করলেন। আল্লাহ তাকে বললেন: তোমার রব তোমার ওপর রহম করুন। এরপর আল্লাহ তাকে বললেন: হে আদম, তুমি ঐ দলটির কাছে যাও এবং তাদের বলো: তোমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। তারপর দেখ তারা তোমাকে কী উত্তর দেয়। তিনি তা-ই করলেন, অতঃপর জাব্বারের (আল্লাহর) কাছে ফিরে আসলেন। আল্লাহ তাকে জিজ্ঞেস করলেন—যদিও তিনি সর্বাধিক অবগত—তারা তোমাকে কী বলেছে? তিনি বললেন: তারা বলেছে এবং আপনার ওপরও শান্তি ও আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তখন আল্লাহ তাকে বললেন: হে আদম, এটিই তোমার এবং তোমার সন্তানদের অভিবাদন।
তিনি বললেন: হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আদমের মধ্যে রূহ ফুঁকে দেওয়া হলো, তখন তিনি হাঁচি দিলেন এবং বললেন: সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। তখন আল্লাহ তাকে বললেন: তোমার রব তোমার ওপর রহম করুন। ইবনে আব্বাস বলেন: আল্লাহর রহমত তাঁর ক্রোধের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে।
তিনি বললেন: আফফান ইবনে মুসলিম এবং হাসান ইবনে মুসা আল-আশইয়াব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তাঁরা বলেন: হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলি ইবনে যাইদ থেকে, তিনি ইউসুফ ইবনে মিহরান থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আল্লাহ আদমকে সৃষ্টি করলেন, তখন তাঁর মাথা আকাশ স্পর্শ করত। তিনি বলেন: অতঃপর আল্লাহ তাকে মাটির দিকে এমনভাবে চেপে ধরলেন যে তাঁর উচ্চতা ষাট হাত এবং প্রস্থ সাত হাত হয়ে গেল।
তিনি বললেন: আব্দুল ওয়াহাব ইবনে আতা আল-আজলি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি আতি থেকে, তিনি উবাই ইবনে কাব থেকে এবং তিনি নবী আলাইহিস সালাম থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: নিশ্চয়ই আদম ছিলেন একজন দীর্ঘকায় পুরুষ, মনে হতো তিনি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
نخلة سحوق كثير شعر الرأس. فلما ركب الخطيئة بدت له عورته وكان لا يراها قبل ذلك. فانطلق هاربا في الجنة. فتعلقت به شجرة. فقال لها: أرسليني. فقالت:
لست بمرسلتك. قال: وناداه ربه: يا آدم أمني تفر؟ قال: رب إني استحييتك،
(1).
قال: أخبرنا سعيد بن سليمان. أخبرنا عباد بن العوام عن سعيد بن أبي عروبة عن قتادة عن الحسن عن عتي عن أبي بن كعب بمثل هذا الحديث ولم يرفعه.
أخبرنا حفص بن عمر الحوضي. أخبرنا إسحاق بن الربيع أبو حمزة العطار عن الحسن عن عتي عن أبي بن كعب قال: كان آدم طوالا آدم جعدا كأنه نخلة سحوق.
قال: أخبرنا يحيى بن السكن قال: أخبرنا حماد بن سلمة قال: أخبرنا علي بن زيد بن جدعان عن سعيد بن المسيب قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:، يدخل أهل الجنة الجنة جردا مردا جعادا مكحلين أبناء ثلاث وثلاثين على خلق ستين ذراعا في سبع أذرع،
(2).
قال: أخبرنا أحمد بن عبد الله بن يونس. أخبرنا فضيل بن عياض عن هشام عن الحسن قال: بكى آدم على الجنة ثلاثمائة سنة.
أخبرنا عمرو بن الهيثم وهاشم بن القاسم الكناني قالا: أخبرنا المسعودي عن أبي عمر الشامي عن عبيد بن الخشخاش عن أبي ذر قال: قلت للنبي عليه السلام: أي الأنبياء أول؟ قال:، آدم،. قلت: أونبيا كان؟ قال:، نعم نبي مكلم،.
قال: قلت فكم المرسلون؟ قال:، ثلاثمائة وخمسة عشر جما غفيرا،.
قال: أخبرنا موسى بن إسماعيل أبو سلمة التبوذكي. أخبرنا حماد بن سلمة عن عبد الله بن عثمان بن خيثم عن سعيد بن جبير عن ابن عباس قال: كان لآدم أربعة أولاد توأم. ذكر وأنثى من بطن. وذكر وأنثى من بطن. فكانت أخت صاحب الحرث وضيئة.
وكانت أخت صاحب الغنم قبيحة. فقال صاحب الحرث: أنا أحق بها. وقال صاحب
--------------------------------------------
একটি সুউচ্চ দীর্ঘ তালগাছের মতো যার মাথায় প্রচুর চুল ছিল। যখন তিনি পাপে লিপ্ত হলেন, তখন তাঁর লজ্জাস্থান তাঁর কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ল, যা তিনি আগে কখনও দেখেননি। তখন তিনি জান্নাতের মধ্যে পালাতে লাগলেন। একটি গাছ তাঁর সাথে আটকে গেল। তিনি তাকে বললেন: আমাকে ছেড়ে দাও। সে বলল:
আমি তোমাকে ছাড়ব না। বর্ণনাকারী বলেন: তাঁর প্রতিপালক তাঁকে ডেকে বললেন: হে আদম! তুমি কি আমার থেকে পালাচ্ছ? তিনি বললেন: হে আমার প্রতিপালক, আমি আপনাকে লজ্জা পেয়েছি,
(১)।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাঈদ বিন সুলাইমান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্বাদ বিন আওয়াম, সাঈদ বিন আবি আরুবাহ থেকে, তিনি কাতাদাহ থেকে, তিনি হাসান থেকে, তিনি উতাই থেকে, তিনি উবাই বিন কাব থেকে এই হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং তিনি এটি মারফূ করেননি।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফস বিন উমর আল-হাওযী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক বিন রাবী আবু হামযা আল-আত্তার, হাসান থেকে, তিনি উতাই থেকে, তিনি উবাই বিন কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদম দীর্ঘদেহী, শ্যামবর্ণ ও কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট ছিলেন, যেন তিনি একটি সুউচ্চ দীর্ঘ তালগাছ।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া বিন আস-সাকান। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আলী বিন যায়েদ বিন জুদআন, সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: জান্নাতবাসীগণ জান্নাতে প্রবেশ করবেন লোমহীন দেহে, শ্মশ্রুহীন অবস্থায়, কোঁকড়ানো চুল নিয়ে এবং চোখে সুরমা পরা অবস্থায়; তেত্রিশ বছর বয়সে, ষাট হাত উচ্চতা এবং সাত হাত প্রশস্ত অবয়বে,
(২)।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইউনুস। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফুদাইল বিন ইয়াদ, হিশাম থেকে, তিনি হাসান থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদম জান্নাতের শোকে তিনশ বছর কেঁদেছিলেন।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমর বিন আল-হাইসাম এবং হিশাম বিন আল-কাসিম আল-কিনানী। তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-মাসউদী, আবু উমর আশ-শামী থেকে, তিনি উবাইদ বিন আল-খাশখাশ থেকে, তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি নবী (আলাইহিস সালাম)-কে জিজ্ঞাসা করলাম: নবীদের মধ্যে প্রথম কে? তিনি বললেন: আদম। আমি বললাম: তিনি কি নবী ছিলেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তিনি ছিলেন একজন নবী যাঁর সাথে কথা বলা হয়েছে।
তিনি বলেন: আমি বললাম, তবে রাসূলদের সংখ্যা কত? তিনি বললেন: তিনশত পনেরো জন, এক বিশাল দল।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা বিন ইসমাইল আবু সালামাহ আত-তাবুযাকী। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ বিন সালামাহ, আব্দুল্লাহ বিন উসমান বিন খাইসাম থেকে, তিনি সাঈদ বিন জুবায়ের থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আদমের সন্তানরা জোড়ায় জোড়ায় যমজ হয়ে জন্মগ্রহণ করত। এক গর্ভ থেকে একজন পুত্র ও একজন কন্যা, এবং অন্য গর্ভ থেকে একজন পুত্র ও একজন কন্যা। কৃষিজীবীর সাথে থাকা বোনটি ছিল সুন্দরী।
আর মেষপালকের সাথে থাকা বোনটি ছিল কদর্য। তখন কৃষিজীবী বলল: আমিই তার অধিক হকদার। এবং বলল—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
الغنم: أنا أحق بها. فقال صاحب الغنم: ويحك! أتريد أن تستأثر بوضاءتها علي؟ تعال حتى نقرب قربانا. فإن تقبل قربانك كنت أحق بها. وأن تقبل قرباني كنت أحق بها. قال:
فقربا قربانهما. فجاء صاحب الغنم بكبش أعين أقرن أبيض. وجاء صاحب الحرث بصبرة من طعامه. فقبل الكبش. فخزنه الله في الجنة أربعين خريفا. وهو الكبش الذي ذبحه إبراهيم صلى الله عليه وسلم فقال صاحب الحرث: «لَأَقْتُلَنَّكَ» المائدة: 27. فقال صاحب الغنم: «لَئِنْ بَسَطْتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي ما أَنَا بِباسِطٍ يَدِيَ إِلَيْكَ لِأَقْتُلَكَ» المائدة: 28. إلى قوله: «وَذلِكَ جَزاءُ الظَّالِمِينَ» المائدة: 29. فقتله فولد آدم كلهم من ذلك الكافر.
قال: أخبرنا موسى بن إسماعيل. أخبرنا حماد بن سلمة عن علي بن زيد عن يوسف بن مهران عن ابن عباس قال: كان آدم يزوج ذكر هذا البطن بأنثى هذا البطن.
وأنثى هذا البطن بذكر هذا البطن.
قال: أخبرنا حفص بن عمر الحوضي. أخبرنا إسحاق بن الربيع عن الحسن عن عتي عن أبي بن كعب أن آدم لما حضره الموت قال لبنيه: يا بني اطلبوا لي من ثمرة الجنة فإني قد اشتهيتها. فذهب بنوه. وذاك في مرضه. يطلبون له من ثمرة الجنة. فإذا هم بملائكة الله. قالوا لهم: يا بني آدم ما تطلبون؟ قالوا: إن أبانا اشتاق إلى ثمرة الجنة فنحن نطلبها. قالوا: ارجعوا. فقد قضي الأمر. فإذا أبوهم قد قبض.
فأخذت الملائكة آدم فغسلوه وحنطوه وكفنوه وحفروا له قبرا وجعلوا له لحدا. ثم إن ملكا من الملائكة تقدم فصلى عليه وخلفه الملائكة وبنو آدم خلفهم. ثم وضعوه في حفرته وسووا عليه. فقالوا: يا بني آدم هذا سبيلكم وهذه سنتكم.
قال: أخبرنا سعيد بن سليمان. أخبرنا هشيم قال: أخبرنا يونس بن عبيد عن حسن قال: أخبرنا عتي السعدي عن أبي بن كعب قال: لما احتضر آدم قال لبنيه:
انطلقوا فاجتنوا لي من ثمار الجنة. فخرج بنوه فاستقبلتهم الملائكة فقالوا: أين تريدون؟ قالوا: بعثنا أبونا لنجتني له من ثمار الجنة. قالوا: ارجعوا فقد كفيتم.
فرجعوا معهم حتى دخلوا على آدم. فلما رأتهم حواء ذعرت. فجعلت تدنو إلى آدم فتلزق به. فقال لها آدم: إليك عني فمن قبلك أتيت. خلي بيني وبين ملائكة ربي.
فقبضوا روحه. ثم غسلوه وكفنوه وحنطوه. ثم صلوا عليه وحفروا له. ثم دفنوه.
فقالوا: يا بني آدم. هذه سنتكم في موتاكم.
ভেড়া পালনকারী বলল: আমিই এর অধিক হকদার। অতঃপর ভেড়া পালনকারী বলল: তোমার দুর্ভোগ হোক! তুমি কি এর সৌন্দর্য একা ভোগ করতে চাও? এসো আমরা কুরবানি পেশ করি। যদি তোমার কুরবানি কবুল হয় তবে তুমিই এর অধিক হকদার হবে। আর যদি আমার কুরবানি কবুল হয় তবে আমিই এর অধিক হকদার হব। সে বলল:
অতঃপর তারা উভয়ে কুরবানি পেশ করল। ভেড়া পালনকারী একটি ডাগর চোখের শিংওয়ালা সাদা দুম্বা নিয়ে এল। আর শস্য চাষকারী তার খাদ্যের একটি স্তূপ নিয়ে এল। অতঃপর দুম্বাটি কবুল করা হলো। আল্লাহ জান্নাতে একে চল্লিশ বছর সংরক্ষণ করলেন। আর এটিই সেই দুম্বা যা ইব্রাহিম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জবেহ করেছিলেন। তখন শস্য চাষকারী বলল: ‘অবশ্যই আমি তোমাকে হত্যা করব’ (আল-মায়িদাহ: ২৭)। তখন ভেড়া পালনকারী বলল: ‘যদি তুমি আমাকে হত্যা করার জন্য তোমার হাত আমার দিকে প্রসারিত করো, তবে আমি তোমাকে হত্যা করার জন্য আমার হাত তোমার দিকে প্রসারিত করব না’ (আল-মায়িদাহ: ২৮)। ‘আর এটাই জালিমদের প্রতিদান’ (আল-মায়িদাহ: ২৯) পর্যন্ত। অতঃপর সে তাকে হত্যা করল। আদম-সন্তানদের সকলে সেই কাফিরের বংশধর হতে জন্ম নিয়েছে।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুসা ইবনে ইসমাইল। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ ইবনে সালামাহ, আলি ইবনে যাইদ থেকে, ইউসুফ ইবনে মিহরান থেকে, ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আদম এক গর্ভের পুত্রের সাথে অন্য গর্ভের কন্যার বিবাহ দিতেন।
এবং অন্য গর্ভের কন্যার সাথে এই গর্ভের পুত্রের বিবাহ দিতেন।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাফস ইবনে উমর আল-হাওজি। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইসহাক ইবনে রাবি, হাসান থেকে, আতি থেকে, উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, যখন আদমের মৃত্যু উপস্থিত হলো, তিনি তাঁর সন্তানদের বললেন: হে আমার সন্তানেরা! তোমরা আমার জন্য জান্নাতের কিছু ফল খুঁজে আনো, কেননা আমি তা পাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা করছি। অতঃপর তাঁর সন্তানেরা চলে গেল। আর তা ছিল তাঁর অসুস্থতার সময়। তারা তাঁর জন্য জান্নাতের ফল খুঁজতে লাগল। এমতাবস্থায় তারা আল্লাহর ফেরেশতাদের মুখোমুখি হলো। ফেরেশতারা তাদের বলল: হে বনী আদম! তোমরা কী খুঁজছো? তারা বলল: আমাদের পিতা জান্নাতের ফলের প্রতি তৃষ্ণার্ত হয়েছেন, তাই আমরা তা খুঁজছি। তারা বলল: তোমরা ফিরে যাও। কেননা ফয়সালা হয়ে গেছে। এমতাবস্থায় দেখা গেল তাদের পিতার জান কবজ করা হয়েছে।
অতঃপর ফেরেশতারা আদমকে গ্রহণ করলেন, তাঁকে গোসল করালেন, সুগন্ধি মাখালেন, কাফন পরালেন, তাঁর জন্য কবর খনন করলেন এবং তাঁর জন্য লাহাদ (পার্শ্ব-খাত) তৈরি করলেন। এরপর ফেরেশতাদের মধ্য থেকে একজন ফেরেশতা সামনে এগিয়ে গেলেন এবং তাঁর জানাজার নামাজ পড়ালেন, তাঁর পেছনে অন্যান্য ফেরেশতারা এবং তাদের পেছনে আদমের সন্তানেরা দাঁড়াল। অতঃপর তারা তাঁকে কবরে রাখলেন এবং মাটি সমান করে দিলেন। এরপর তারা বলল: হে বনী আদম! এটাই তোমাদের পথ এবং এটাই তোমাদের নিয়ম।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন সাইদ ইবনে সুলাইমান। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুশাইম, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস ইবনে উবাইদ, হাসান থেকে, আতি আস-সাদি থেকে, উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যখন আদমের অন্তিম সময় উপস্থিত হলো, তিনি তাঁর সন্তানদের বললেন:
তোমরা যাও এবং আমার জন্য জান্নাতের ফল পেড়ে নিয়ে এসো। তাঁর সন্তানেরা বের হলো, পথিমধ্যে ফেরেশতাদের সাথে তাদের সাক্ষাৎ হলো। তারা বলল: তোমরা কোথায় যেতে চাও? তারা বলল: আমাদের পিতা আমাদের পাঠিয়েছেন তাঁর জন্য জান্নাতের ফল পেড়ে আনতে। তারা বলল: তোমরা ফিরে যাও, তোমাদের প্রয়োজন পূর্ণ করা হয়েছে।
অতঃপর তারা তাদের সাথে ফিরে এল এবং আদমের নিকট প্রবেশ করল। হাওয়া যখন তাঁদের দেখলেন, তিনি ভীত হলেন। তিনি আদমের কাছে ঘেঁষতে লাগলেন এবং তাঁর সাথে লেপ্টে রইলেন। তখন আদম তাঁকে বললেন: তুমি আমার থেকে দূরে সরো, তোমার দিক থেকেই আমার কাছে বিপদ এসেছিল। আমার এবং আমার রবের ফেরেশতাদের মাঝে পথ ছেড়ে দাও।
অতঃপর ফেরেশতারা তাঁর রুহ কবজ করলেন। তারপর তাঁকে গোসল করালেন, কাফন পরালেন এবং সুগন্ধি মাখালেন। তারপর তাঁর জানাজার নামাজ পড়লেন এবং তাঁর জন্য কবর খুঁড়লেন। এরপর তাঁকে দাফন করলেন।
তারা বলল: হে বনী আদম! তোমাদের মৃতদের ব্যাপারে এটাই তোমাদের নিয়ম।
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
قال: أخبرنا خالد بن خداش بن عجلان. أخبرنا عبد الله بن وهب عن عمرو بن الحارث عن يزيد بن أبي حبيب عن من حدثه عن أبي ذر قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم.
يقول:، إن آدم خلق من ثلاث تربات سوداء وبيضاء وخضراء،
(1).
قال: أخبرنا خالد بن خداش. أخبرنا حماد بن زيد عن خالد الحذاء قال:
خرجت خرجة لي فجئت وهم يقولون: قال الحسن: فلقيته فقلت يا أبا سعيد! آدم للسماء خلق أم للأرض؟ فقال: ما هذا يا أبا منازل؟ للأرض خلق! قلت: أرأيت لو اعتصم فلم يأكل من الشجرة؟ قال: للأرض خلق. فلم يكن بد من أن يأكل منها.
أخبرنا خالد بن خداش. أخبرنا خالد بن عبد الله عن بيان عن الشعبي عن جعدة ابن هبيرة قال: الشجرة التي افتتن بها آدم الكرم. وجعلت فتنة لولده.
قال: أخبرنا خالد بن خداش. أخبرنا عبد الله بن وهب عن سعيد بن أبي أيوب عن جعفر بن ربيعة وزياد مولى مصعب قال: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن آدم: أنبيا كان أو ملكا؟ قال:، بل نبي مكلم،.
قال: أخبرنا خالد بن خداش. أخبرنا عبد الله بن وهب عن ابن الهيعة عن الحارث بن يزيد عن علي بن رباح عن عقبة بن عامر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه قال:
، الناس لآدم وحواء كطف الصاع لن يملؤوه. إن الله لا يسألكم عن أحسابكم ولا أنسابكم يوم القيامة. أكرمكم عند الله أتقاكم،.
قال: أخبرنا هشام بن محمد. أخبرني أبي عن أبي صالح عن ابن عباس. قال:
خرج آدم من الجنة بين الصلاتين. صلاة الظهر وصلاة العصر. فأنزل إلى الأرض.
وكان مكثه في الجنة نصف يوم من أيام الآخرة. وهو خمسمائة سنة من يوم كان مقداره اثنتي عشرة ساعة. واليوم ألف سنة مما يعد أهل الدنيا. فأهبط آدم على جبل بالهند يقال له نوذ. وأهبطت حواء بجدة. فنزل آدم معه ريح الجنة. فعلق بشجرها وأوديتها.
فامتلأ ما هنالك طيبا. فمن ثم يؤتى بالطيب من ريح آدم صلى الله عليه وسلم وقالوا: أنزل معه من آس الجنة أيضا. وأنزل معه بالحجر الأسود. وكان أشد بياضا من الثلج. وعصا موسى. وكانت من آس الجنة. طولها عشرة أذرع على طول موسى صلى الله عليه وسلم ومر ولبان ثم أنزل عليه بعد العلاة والمطرقة والكلبتان. فنظر آدم حين أهبط على الجبل إلى
--------------------------------------------
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ বিন খাদাশ বিন আজলান। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব, আমর বিন হারিস থেকে, ইয়াজিদ বিন আবি হাবিব থেকে, সেই ব্যক্তি থেকে যিনি তাকে সংবাদ দিয়েছেন, আবু যার থেকে, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি।
তিনি বলছিলেন: নিশ্চয়ই আদমকে তিন প্রকার মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে: কালো, সাদা এবং সবুজ।
(১).
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ বিন খাদাশ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হাম্মাদ বিন যায়েদ, খালিদ আল-হায্যা থেকে, তিনি বলেন:
আমি আমার এক সফরে বের হয়েছিলাম এবং আসলাম, তখন তারা বলছিল: হাসান বলেছেন: অতঃপর আমি তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করলাম এবং বললাম, হে আবু সাঈদ! আদমকে কি আসমানের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছিল নাকি জমিনের জন্য? তিনি বললেন: এটা কেমন প্রশ্ন হে আবু মানাজিল? জমিনের জন্যই তাকে সৃষ্টি করা হয়েছিল! আমি বললাম: আপনার কী অভিমত যদি তিনি বিরত থাকতেন এবং গাছ থেকে না খেতেন? তিনি বললেন: তাকে জমিনের জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছিল। তা থেকে ভক্ষণ না করে তাঁর কোনো উপায় ছিল না।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ বিন খাদাশ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ বিন আবদুল্লাহ, বায়ান থেকে, আশ-শা'বী থেকে, জা'দাহ ইবনে হুবাইরা থেকে, তিনি বলেন: যে গাছটি দ্বারা আদমকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছিল তা ছিল আঙ্গুর গাছ। আর একে তাঁর সন্তানদের জন্য পরীক্ষা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ বিন খাদাশ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব, সাঈদ বিন আবি আইয়ুব থেকে, জাফর বিন রাবিয়া এবং মুসআবের মুক্তদাস যিয়াদ থেকে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: তিনি কি নবী ছিলেন নাকি ফেরেশতা? তিনি বললেন: বরং তিনি ছিলেন কথা বলা হয়েছে এমন একজন নবী।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খালিদ বিন খাদাশ। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব, ইবনুল লাহিয়া থেকে, হারিস বিন ইয়াজিদ থেকে, আলি বিন রাবাহ থেকে, উকবা বিন আমির থেকে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যে তিনি বলেছেন:
মানুষ আদম ও হাওয়ার সন্তান হিসেবে সা’ (পরিমাপক পাত্রের) উপরিভাগের সেই অবশিষ্ট অংশের ন্যায় যা পাত্র পূর্ণ করে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ কিয়ামতের দিন তোমাদের মর্যাদা বা বংশপরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করবেন না। তোমাদের মধ্যে আল্লাহর নিকট সেই ব্যক্তিই অধিক সম্মানিত যে তোমাদের মধ্যে অধিক মুত্তাকী।
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হিশাম বিন মুহাম্মদ। আমাকে আমার পিতা সংবাদ দিয়েছেন আবু সালিহ থেকে, ইবনে আব্বাস থেকে। তিনি বলেন:
আদম জান্নাত থেকে জোহর ও আসরের নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে বের হয়েছিলেন। অতঃপর তাকে জমিনে নামিয়ে দেওয়া হয়।
জান্নাতে তাঁর অবস্থান ছিল পরকালের দিনসমূহের হিসেবে অর্ধ দিবস। যা বারো ঘণ্টার দিনের হিসেবে পাঁচশ বছরের সমান। আর পরকালের একদিন হলো দুনিয়াবাসীদের গণনার এক হাজার বছরের সমান। আদমকে ভারতের একটি পাহাড়ে নামিয়ে দেওয়া হয় যাকে 'নওয' বলা হয়। আর হাওয়াকে জেদ্দায় নামিয়ে দেওয়া হয়। আদম যখন নামলেন তখন তাঁর সাথে জান্নাতের সুগন্ধি ছিল। যা তাঁর চারপাশের গাছপালা ও উপত্যকায় ছড়িয়ে পড়ল।
ফলে সেখানকার সবকিছু সুগন্ধিতে পূর্ণ হয়ে গেল। আর সেখান থেকেই আদম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুবাস থেকে সুগন্ধি দ্রব্য সংগৃহীত হয়। তাঁরা বলেন: তাঁর সাথে জান্নাতের সুগন্ধি লতাও (আস) নামিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আরও নামানো হয়েছিল হাজরে আসওয়াদ, যা বরফের চেয়েও বেশি সাদা ছিল এবং মুসার লাঠি, যা ছিল জান্নাতের সুগন্ধি লতা (আস) থেকে তৈরি এবং এর দৈর্ঘ্য ছিল মুসা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উচ্চতা অনুযায়ী দশ হাত। আরও ছিল গন্ধরস ও ধূপ। অতঃপর তাঁর নিকট নেহাই (অ্যাভিল), হাতুড়ি এবং চিমটা নামিয়ে দেওয়া হয়। যখন তাঁকে পাহাড়ের উপর নামানো হলো তখন আদম তাকালেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আত-তাবাকাতুল কুবরা - ত্বাআ আল-ইলমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
قضيب من حديد نابت على الجبل. فقال: هذا من هذا. فجعل يكسر أشجارا عتقت ويبست بالمطرقة. ثم أوقد على ذلك الغصن حتى ذاب. فكان أول شيء ضرب منه مدية. فكان يعمل بها. ثم ضرب التنور وهو الذي ورثه نوح. وهو الذي فار بالهند بالعذاب. فلما حج آدم. وضع الحجر الأسود على أبي قبيس فكان يضيء لأهل مكة في ليالي الظلم كما يضيء القمر. فلما كان قبيل الإسلام بأربع سنين. وقد كان الحيض والجنب يصعدون إليه يمسحونه فأسود فأنزلته قريش من أبي قبيس. وحج آدم من الهند إلى مكة أربعين حجة على رجليه. وكان آدم حين أهبط يمسح رأسه السماء. فمن ثم صلع وأورث ولده الصلع. ونفرت من طوله دواب البر فصارت وحشا من يومئذ. فكان آدم وهو على ذلك الجبل قائما يسمع أصوات الملائكة ويجد ريح الجنة. فحط من طوله ذلك إلى ستين ذراعا. فكان ذلك طوله حتى مات. ولم يجمع حسن آدم لأحد من ولده إلا ليوسف. وأنشأ آدم يقول: رب كنت جارك في دارك ليس لي رب غيرك. ولا رقيب دونك. آكل فيها رغدا. وأسكن حيث أحببت. فأهبطتني إلى هذا الجبل المقدس. فكنت أسمع أصوات الملائكة وأراهم كيف يحفون بعرشك وأجد ريح الجنة وطيبها. ثم أهبطتني إلى الأرض وحططتني إلى ستين ذراعا. فقد انقطع عني الصوت والنظر. وذهب عني ريح الجنة.
فأجابه الله. تبارك وتعالى: لمعصيتك يا آدم فعلت ذلك بك. فلما رأى الله عري آدم وحواء أمره أن يذبح كبشا من الضأن من الثمانية الأزواج التي أنزل الله من الجنة. فأخذ آدم كبشا فذبحه. ثم أخذ صوفه فغزلته حواء ونسجه هو وحواء. فنسج آدم جبة لنفسه وجعل لحواء درعا وخمارا فلبساه. وقد كانا اجتمعا بجمع فسميت جمعا. وتعارفا بعرفة فسميت عرفة. وبكيا على ما فاتهما مائتي سنة. ولم يأكلا ولم يشربا أربعين يوما. ثم أكلا وشربا وهما يومئذ على نوذ. الجبل الذي أهبط عليه آدم.
ولم يقرب حواء مائة سنة. ثم قربها فتلقت فحملت. فولدت أول بطن قابيل وأخته لبود توأمته. ثم حملت فولدت هابيل وأخته إقليما توأمته. فلما بلغوا أمر الله آدم أن يزوج البطن الأول البطن الثاني. والبطن الثاني البطن الأول. يخالف بين البطنين في النكاح. وكانت أخت قابيل حسنة وأخت هابيل قبيحة. فقال آدم لحواء الذي أمر به.
فذكرته لابنيها. فرضي هابيل وسخط قابيل وقال: لا والله ما أمر الله بهذا قط. ولكن هذا عن أمرك يا آدم. فقال آدم: فقربا قربانا فأيكما كان أحق بها أنزل الله نارا من
পাহাড়ের উপর একটি লোহার দণ্ড গজিয়েছিল। তিনি বললেন: এটি তো এ থেকেই। অতঃপর তিনি হাতুড়ি দিয়ে পুরনো ও শুকিয়ে যাওয়া গাছগুলো ভাঙতে শুরু করলেন। তারপর সেই ডালটির নিচে আগুন জ্বালালেন যতক্ষণ না সেটি গলে গেল। তা থেকে তিনি প্রথম যে জিনিসটি তৈরি করলেন তা ছিল একটি ছুরি। তিনি সেটি দিয়ে কাজ করতেন। তারপর তিনি একটি তন্দুর (চুলা) তৈরি করলেন, যা নূহ উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছিলেন। আর এটিই ছিল সেই তন্দুর যা ভারতে আযাবসহ উথলে উঠেছিল। আদম যখন হজ করলেন, তখন তিনি হাজারে আসওয়াদকে আবু কুবাইস পাহাড়ের উপর স্থাপন করলেন। এটি অন্ধকার রাতে মক্কাবাসীদের জন্য চাঁদের আলোর মতো আলো দিত। ইসলাম আগমনের চার বছর পূর্বে, ঋতুবতী নারী ও অপবিত্র ব্যক্তিরা এর কাছে গিয়ে এটি স্পর্শ করত, ফলে এটি কালো হয়ে যায়। তখন কুরাইশরা একে আবু কুবাইস থেকে নামিয়ে আনে। আদম ভারত থেকে মক্কায় পায়ে হেঁটে চল্লিশবার হজ করেছিলেন। আদমকে যখন পৃথিবীতে নামানো হয়েছিল, তখন তাঁর মাথা আকাশ স্পর্শ করত। এ কারণেই তিনি টেকো হয়ে যান এবং তাঁর সন্তানদের মধ্যে টাকের উত্তরাধিকার রেখে যান। তাঁর দীর্ঘাকৃতির কারণে স্থলের পশুরা ভয় পেয়ে পালিয়ে যেত, ফলে সেদিন থেকেই তারা বন্য পশুতে পরিণত হয়। আদম যখন সেই পাহাড়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন, তখন ফেরেশতাদের আওয়াজ শুনতে পেতেন এবং জান্নাতের সুঘ্রাণ পেতেন। এরপর তাঁর সেই উচ্চতা কমিয়ে ষাট হাত করা হলো। মৃত্যু পর্যন্ত এটাই তাঁর উচ্চতা ছিল। আদমের সৌন্দর্য তাঁর সন্তানদের মধ্যে কেবল ইউসুফ ছাড়া আর কাউকে পূর্ণরূপে দেওয়া হয়নি। আদম বলতে লাগলেন: হে রব, আমি আপনার ঘরে আপনার প্রতিবেশী ছিলাম, আপনি ছাড়া আমার কোনো রব নেই এবং আপনি ছাড়া আমার কোনো পর্যবেক্ষক নেই। আমি সেখানে স্বচ্ছন্দে আহার করতাম এবং যেখানে ইচ্ছা বসবাস করতাম। কিন্তু আপনি আমাকে এই পবিত্র পাহাড়ে নামিয়ে দিলেন। আমি ফেরেশতাদের আওয়াজ শুনতাম এবং দেখতাম তারা কীভাবে আপনার আরশকে ঘিরে থাকে, আর আমি জান্নাতের সুঘ্রাণ ও সুবাস পেতাম। এরপর আপনি আমাকে জমিনে নামালেন এবং আমার উচ্চতা ষাট হাতে কমিয়ে দিলেন। ফলে এখন আমার শ্রবণ ও দর্শন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং জান্নাতের সুঘ্রাণও আমার কাছ থেকে চলে গেছে।
তখন আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁকে উত্তর দিলেন: হে আদম, তোমার অবাধ্যতার কারণেই আমি তোমার সাথে এমনটি করেছি। যখন আল্লাহ আদম ও হাওয়ার নগ্নতা দেখলেন, তখন তাঁকে জান্নাত থেকে আল্লাহ প্রেরিত আট জোড়া মেষের মধ্য থেকে একটি দুম্বা জবাই করার নির্দেশ দিলেন। আদম একটি দুম্বা নিয়ে তা জবাই করলেন। এরপর সেটির পশম নিয়ে হাওয়া তা সুতা কাটলেন এবং তিনি ও হাওয়া মিলে তা বুনলেন। আদম নিজের জন্য একটি জুব্বা বুনলেন এবং হাওয়ার জন্য একটি জামা ও ওড়না তৈরি করলেন, যা তাঁরা পরিধান করলেন। তাঁরা জাম' (মুযদালিফা) নামক স্থানে একত্রিত হয়েছিলেন বলে এর নাম জাম' রাখা হয়েছে। আর আরাফাতের ময়দানে একে অপরের পরিচয় লাভ করেছিলেন বলে এর নাম আরাফাহ রাখা হয়েছে। যা হারিয়েছেন তার জন্য তাঁরা দু’শ বছর ক্রন্দন করেছিলেন। তাঁরা চল্লিশ দিন পানাহার করেননি। এরপর তাঁরা পানাহার করলেন এবং তাঁরা তখন নূদ পাহাড়ে ছিলেন, যে পাহাড়ে আদমকে নামানো হয়েছিল।
তিনি একশ বছর হাওয়ার নিকটবর্তী হননি। এরপর তাঁর নিকটবর্তী হলে তিনি গর্ভবতী হলেন। প্রথম দফায় কাবিল ও তার যমজ বোন লুবুদ জন্মগ্রহণ করল। এরপর তিনি পুনরায় গর্ভবতী হলেন এবং হাবিল ও তার যমজ বোন ইকলিমা জন্মগ্রহণ করল। তারা যখন প্রাপ্তবয়স্ক হলো, তখন আল্লাহ আদমকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি প্রথম দফার সন্তানদের সাথে দ্বিতীয় দফার সন্তানদের এবং দ্বিতীয় দফার সন্তানদের সাথে প্রথম দফার সন্তানদের বিয়ে দেন। অর্থাৎ নিকাহের ক্ষেত্রে দুই দফার সন্তানদের মধ্যে অদল-বদল করেন। কাবিলের বোন ছিল সুন্দরী এবং হাবিলের বোন ছিল কুৎসিত। আল্লাহ যা আদেশ করেছিলেন আদম তা হাওয়ার নিকট ব্যক্ত করলেন।
হাওয়া তা তাঁর দুই ছেলেকে জানালেন। হাবিল এতে সন্তুষ্ট হলো কিন্তু কাবিল অসন্তুষ্ট হয়ে বলল: না, আল্লাহর কসম, আল্লাহ কখনোই এমন নির্দেশ দেননি। বরং হে আদম, এটি আপনার নিজের আদেশ। তখন আদম বললেন: তবে তোমরা উভয়ে কুরবানি পেশ করো, তোমাদের মধ্যে যে এর অধিক হকদার হবে, আল্লাহ আকাশ থেকে আগুন...