(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: -)
مختصر الإنصاف والشرح الكبير (مطبوع ضمن مجموعة مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثاني)   (محمد بن عبد الوهاب)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: مختصر الإنصاف والشرح الكبير (مطبوع ضمن مجموعة مؤلفات الشيخ محمد بن عبد الوهاب، الجزء الثاني)

المؤلف: محمد بن عبد الوهاب بن سليمان التميمي النجدي (ت 1206هـ)

المحقق: عبد العزيز بن زيد الرومي، د. محمد بلتاجي، د. سيد حجاب

الناشر: مطابع الرياض - الرياض

الطبعة: الأولى

عدد الصفحات: 783

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

মুখতাসার আল-ইনসাফ ওয়াশ-শারহুল কাবীর (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত, দ্বিতীয় খণ্ড)   (মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব)

বিভাগ: হানবালি ফিকহ


বই: মুখতাসার আল-ইনসাফ ওয়াশ-শারহুল কাবীর (শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাবের রচনাসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত, দ্বিতীয় খণ্ড)

লেখক: মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব বিন সুলাইমান আত-তামিমি আন-নাজদি (মৃত্যু ১২০৬ হি.)

তাহকীক: আব্দুল আজিজ বিন যাইদ আর-রুমি, ড. মুহাম্মাদ বালতাজি, ড. সাইয়্যিদ হিজাব

প্রকাশক: মাতাবিউ রিয়াদ - রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮৩

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৩)
مختصر الإنصاف والشرح الكبير

تأليف: أبي عبد الله الشيخ محمد بن عبد الوهاب

ال‌‌مقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله، والصلاة والسلام على رسول الله، وعلى آله وصحابته ومن دعا بدعوته واهتدى بهداه. أما بعد، فإن شيخ الإسلام محمد بن عبد الوهاب، رحمه الله وأكرم مثواه، (1115-1206هـ) ، قد جدد ما اندرس من عقيدة التوحيد في البلاد النجدية، كما هو معلوم مشهود من حال الناس قبل قيامه لله داعياً إلى الدين الخالص، وما آلت إليه حالهم بدعوته المباركة، حيث صفت عقائدهم من شوائب الشرك، وتحقق ما أراد الله على يديه من خير لهذه البلاد. فبجهاده ومؤازرة الإمام (محمد بن سعود) له، انقشعت غيوم الشرك المتراكمة على سماء العقيدة، وأشرقت شمس الحق بنور التوحيد، فمزقت سحب الجهل، وبددت فلول الباطل؛ فلا مكان لطاغوت مضل، أو قبر يُعبد، أو وثن له يسجد. ولا قرار لمشعوذ يستخف عقول الناس، ويروج أباطيل الخرافة.

ولقد امتدت آثار هذه الدعوة الميمونة إلى الأقطار، فمدت ظلالها على ربوع تلك الديار التي كانت هي الأخرى تعاني من فساد المعتقد، وتتخبط في ليل غابت نجومهن واعتكر ظلامهن لا يهتدي السائر فيه سبيلاً، ولا يجد الحائر إلى غايته دليلاً.

ولئن كان الشيخ، يرحمه الله، معنياً بالدرجة الأولى بتصحيح تصور الناس نحو العقيدة، وتثبيت قواعدها، وتجريدها من الشوائب التي أُدخلت عليها، حتى ظن أنها من الدين، لئن كان يولي هذا الأمر جل اهتمامه، فإن له، أيضاً، المؤلفات والفتاوى والردود في المسائل الفروعية،
আল-ইনসাফ ও আশ-শারহুল কাবীরের সংক্ষিপ্তসার

রচনায়: আবু আব্দুল্লাহ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব

‌‌ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর এবং যারা তাঁর দাওয়াতের পথে দাওয়াত দেয় ও তাঁর হেদায়েত অনুসরণ করে তাদের ওপর। অত:পর, শাইখুল ইসলাম মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন এবং তাঁর বাসস্থানকে সম্মানিত করুন) (১১১৫-১২০৬ হিজরি), নজদ ভূখণ্ডে তাওহীদের আকিদার যে অংশগুলো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল তা পুনর্জীবিত করেছেন, যেমনটি বিশুদ্ধ দ্বীনের দিকে দাওয়াত দেওয়ার জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্যে তাঁর দাঁড়ানোর পূর্বে মানুষের অবস্থা সম্পর্কে সবারই জানা এবং প্রত্যক্ষ করা হয়েছে। এবং তাঁর বরকতময় দাওয়াতের মাধ্যমে তাদের অবস্থা কী হয়েছিল তা-ও জানা যায়, যেখানে শিরকের আবর্জনা থেকে তাদের আকিদা বিশুদ্ধ হয়েছিল এবং আল্লাহ তাঁর হাতের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডের জন্য যে কল্যাণ চেয়েছিলেন তা বাস্তবায়িত হয়েছিল। তাঁর জিহাদ এবং ইমাম (মুহাম্মাদ বিন সাউদ)-এর সহযোগিতায় আকিদার আকাশে জমাটবদ্ধ শিরকের মেঘমালা অপসারিত হয়েছিল এবং তাওহীদের আলোয় সত্যের সূর্য উদিত হয়েছিল; ফলে অজ্ঞতার মেঘ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়েছিল এবং বাতিলের অবশিষ্টাংশ দূরীভূত হয়েছিল। পথভ্রষ্টকারী কোনো তাগুত, বা উপাসনা করা হয় এমন কোনো কবর, অথবা সিজদা করা হয় এমন কোনো মূর্তির জন্য আর কোনো স্থান রইল না। আর মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিকে তুচ্ছ জ্ঞানকারী এবং কুসংস্কারের বাতিল বিষয় প্রচারকারী কোনো জাদুকর বা প্রতারকের আর কোনো ঠাঁই রইল না।

এবং এই বরকতময় দাওয়াতের প্রভাব বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল, ফলে তা ঐ সকল জনপদের ওপর ছায়া বিস্তার করেছিল যেগুলো আকিদার ভ্রষ্টতায় ভুগছিল এবং অন্ধকার রাতে হাতড়ে বেড়াচ্ছিল যেখানে নক্ষত্ররাজি অস্তমিত হয়েছিল এবং অন্ধকার ঘনীভূত হয়েছিল; যেখানে পথচারী কোনো পথের দিশা পাচ্ছিল না এবং দিশেহারা ব্যক্তি তার গন্তব্যের কোনো প্রমাণ পাচ্ছিল না।

যদিও শাইখ (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) প্রথমত আকিদার প্রতি মানুষের ধারণা সংশোধন করা, এর মূলভিত্তিগুলো সুদৃঢ় করা এবং এতে অনুপ্রবেশকারী আবর্জনা থেকে একে মুক্ত করার বিষয়ে যত্নবান ছিলেন—এমনকি মানুষ মনে করতে শুরু করেছিল যে সেই আবর্জনাগুলোই দ্বীনের অংশ—যদিও তিনি এই বিষয়টিতে তাঁর সর্বোচ্চ মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিলেন, তথাপি শাখা-প্রশাখাগত মাসআলাসমূহেও তাঁর বেশ কিছু রচনা, ফতোয়া এবং জবাব রয়েছে,
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৪)
وإليه يرجع فيها، وعلى ما قرره يعوّل. وكان من أبعد الناس عن التعصب والتقليد الأعمى، يدعو إلى التحاكم إلى كتاب الله وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، يتوخى الدليل، ويرى الاقتداء بالأئمة فيما لم يقم الدليل على خلافه من اجتهاداتهم. والناظر في مؤلفاته يرى أنها على قسمين: منها ما ألّفه ابتداء، ومنها ما اختصره من أصوله المطولة لتيسير الانتفاع به. وقد اتجهت الرغبة منه، رحمه الله، إلى اختصار كتابين من أشهر وأوسع ما صنف في الفقه الحنبلي، لما رأى في زمنه من الحاجة لذلك. هذان الكتابان هما: "الإنصاف في معرفة الراجح من الخلاف" على مذهب الإمام أحمد ابن حنبل. ومؤلفه العلامة الفقيه علاء الدين علي بن سليمان المرداوي الحنبلي (817-885هـ) . والثاني: "الشرح الكبير" ومؤلفه شمس الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن أبي عمر بن قدامة المقدسي (597-682 هـ) . وكلا الكتابين شرح لكتاب "المقنع" لموفق الدين عبد الله بن قدامة المقدسي (541-620 هـ) . وتم ما أراده، رحمه الله، بمختصر لطيف، بدأ كل باب منه بما اختاره الشرح، وختمه بما استدركه من الإنصاف.

وبحق، لقد أحسنت جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية حين تفضلت بطباعة ما تيسر من مؤلفات هذا الإمام، انطلاقاً من سياستها القائمة على الدعوة إلى الإسلام، والعناية بكل ما يهم المسلمين، ويربطهم بدينهم عقيدة وسلوكاً ومنهج حياة. فجزى الله القائمين عليها خيراً، ووفقهم لما فيه صلاح المسلمين.

ثم إنه عهد إلينا من قِبل "أمانة أسبوع الشيخ محمد بن عبد الوهاب" بتصحيح كتاب "مختصر الإنصاف والشرح الكبير"، فلم نجد بداً من الإسهام
এসব বিষয়ে তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয় এবং তাঁর নির্ধারিত বিষয়ের ওপরই নির্ভর করা হয়। তিনি গোঁড়ামি ও অন্ধ অনুকরণ থেকে মানুষের মধ্যে সর্বাধিক দূরে ছিলেন; তিনি আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর বিধানের দিকে আহ্বান জানাতেন। তিনি দলিলের অনুসন্ধান করতেন এবং ইমামদের ইজতিহাদসমূহের ক্ষেত্রে ততক্ষণ তাদের অনুসরণ করা সমীচীন মনে করতেন যতক্ষণ তার বিপরীতে কোনো দলিল প্রতিষ্ঠিত না হয়। তাঁর রচনাবলির প্রতি দৃষ্টিপাতকারী দেখতে পাবেন যে তা দুই প্রকার: যার কিছু তিনি মৌলিকভাবে রচনা করেছেন এবং কিছু তিনি দীর্ঘ মূলগ্রন্থসমূহ থেকে সংক্ষিপ্ত করেছেন যাতে তা থেকে উপকৃত হওয়া সহজ হয়। আর তাঁর (আল্লাহ তাঁকে রহম করুন) ইচ্ছা হয়েছিল হাম্বলী ফিকহ শাস্ত্রের সর্বাধিক প্রসিদ্ধ ও বিস্তৃত দুটি কিতাবকে সংক্ষিপ্ত করার, যেহেতু তিনি তাঁর সময়ে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। এই কিতাব দুটি হলো: ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বলের মাযহাব অনুযায়ী রচিত "আল-ইনসাফ ফি মারিফাতিল রাজিহ মিনাল খিলাফ"। এর লেখক হলেন আল্লামা ফকিহ আলাউদ্দীন আলী বিন সুলায়মান আল-মারদাওয়ি আল-হাম্বলী (৮১৭-৮৮৫ হিজরি)। দ্বিতীয়টি হলো: "আশ-শারহুল কাবীর", যার লেখক হলেন শামসুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আবি উমর বিন কুদামা আল-মাকদিসি (৫৯৭-৬৮২ হিজরি)। উভয় কিতাবই মুওয়াফফাকুদ্দীন আব্দুল্লাহ বিন কুদামা আল-মাকদিসি (৫৪১-৬২০ হিজরি) রচিত "আল-মুকনি" কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আর তাঁর কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি একটি চমৎকার মুখতাসার বা সংক্ষিপ্তসার রচনার মাধ্যমে পূর্ণতা পায়, যেখানে তিনি প্রতিটি অধ্যায় "আশ-শারহ" থেকে পছন্দকৃত মত দিয়ে শুরু করেছেন এবং "আল-ইনসাফ" থেকে গৃহীত সংযোজনী দ্বারা শেষ করেছেন।

প্রকৃতপক্ষে, ইমাম মুহাম্মদ বিন সাউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এই ইমামের সহজলভ্য রচনাবলি মুদ্রণ করার মাধ্যমে একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছে। এটি তাদের ইসলামের দিকে দাওয়াত দেওয়া এবং মুসলমানদের গুরুত্বপূর্ণ সকল বিষয়ের প্রতি যত্ন নেওয়া এবং আকিদা, আচরণ ও জীবন পদ্ধতির ক্ষেত্রে তাদের দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত করার নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। আল্লাহ এর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উত্তম প্রতিদান দিন এবং মুসলমানদের কল্যাণে তাদের তাওফিক দান করুন।

অতঃপর "শাইখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব সপ্তাহ সচিবালয়"-এর পক্ষ থেকে আমাদের ওপর "মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াশ শারহুল কাবীর" কিতাবটি সম্পাদনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয়। তাই এই কাজে অংশগ্রহণ করা ব্যতীত আমাদের কোনো গত্যন্তর ছিল না।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৫)
بهذا العمل بقدر المستطاع. وهذا الكتاب قد طبع طبعته الأولى بالمطبعة السلفية بمصر عن نسخة خطية، ذكر ناشره محب الدين الخطيب في مقدمته أنه أرسلها إليه الشيخ عبد الرحمن بن الشيخ محمد بن عبد اللطيف، وأنها معاصرة للطبقة الأولى من أبناء الشيخ، رحمه الله، كتبها سعد بن محمد الأخ الرشيد مرشد بن أحمد بن هوين، وفرغ من كتابتها يوم الثلاثاء لثلاث وعشرين خلون من جمادى الآخرة، أحد شهور سنة (1224هـ) . وفي آخرها أيضاً، ذكر اسم كاتبها وتاريخ الكتابة، إلا أنه قال: "بقلم … عبده سعد بن محمد، كتبه للأخ الرشيد … بن هوير" فليحرر. كما وجد لهذا الكتاب أصل مخطوط بالمكتبة السعودية بالرياض برقم (465/86) يقع في (312) 1 صفحة من الحجم المتوسط، على صفحة الغلاف اسم الكتاب ومؤلفه. وفي أعلى الصفحة الأولى: "سم الله الرحمن الرحيم، هذا منقول من الشرح الكبير والإنصاف أول كل باب من الشرح وآخر كل باب من الإنصاف". وفي آخره النص التالي: "آخره والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم، بلغ مقابلة في ملكه عبد الرحمن بن أحمد بن قاسم، غفر الله له ولوالديه". لذا كان عملنا في جملته لا يعدو مقابلة إحدى النسختين على الأخرى، واستدراك ما أهمل في الطبعة السلفية مما تقتضيه أصول الطباعة الحديثة، وتلافي أخطاء الطباعة فيها، مع ترقيم الآيات، وتصويب الأخطاء الإملائية مما لم تخل منه النسختان. وقد تبين لنا نقص في مواضع متعددة من المطبوعة أثبتناه بين قوسين ونبهنا

--------------------------------------------

1 بين لنا أثناء المقابلة سقط بين صحيفتي 311، 312 بما يعادل ورقتين تقريباً تلافيناه من المطبوعة ومخطوطة أخرى مخرومة توجد في المكتبة السعودية برقم (89/86) .
এই কাজের মাধ্যমে সাধ্যানুযায়ী। এই বইটি মিশরের সালাফিয়া প্রেস থেকে পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে প্রথমবার মুদ্রিত হয়েছে। এর প্রকাশক মুহিব্বুদ্দীন আল-খতীব তার ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে, এটি তার নিকট শেখ আবদুর রহমান বিন শেখ মুহাম্মদ বিন আব্দুল লতিফ পাঠিয়েছেন এবং এটি (পাণ্ডুলিপিটি) শেখ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর সন্তানদের প্রথম প্রজন্মের সমসাময়িক। এটি লিখেছেন সা'দ বিন মুহাম্মদ, সুপথপ্রাপ্ত ভাই মুর্শিদ বিন আহমদ বিন হুওয়াইন এবং ১২২৪ হিজরি সনের মাসগুলোর অন্যতম জমাদিউল আখিরাত মাসের তেইশ তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পর মঙ্গলবার এর লিখন সম্পন্ন হয়েছে। এর শেষেও লেখকের নাম এবং লিখনকাল উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি বলেছেন: "কলমে … তাঁর বান্দা সা'দ বিন মুহাম্মদ, এটি লিখেছেন সুপথপ্রাপ্ত ভাই … বিন হুয়াইর" - এটি যেন যাচাই করা হয়। একইভাবে এই বইটির একটি মূল পাণ্ডুলিপি রিয়াদের সৌদি লাইব্রেরিতে ৪৬৫/৮৬ নম্বরে পাওয়া গেছে। এটি মাঝারি আকারের (৩১২) ১ পৃষ্ঠায় বিন্যস্ত, যার মলাটের পাতায় বইয়ের নাম ও লেখকের নাম রয়েছে। প্রথম পৃষ্ঠার উপরিভাগে রয়েছে: "পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে, এটি আশ-শারহুল কাবীর এবং আল-ইনসাফ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে; প্রতিটি অধ্যায়ের শুরুতে আশ-শারহুল কাবীর থেকে এবং শেষে আল-ইনসাফ থেকে।" এবং এর শেষে নিচের পাঠটি রয়েছে: "এটি সমাপ্ত, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার ও তাঁর সাথীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক। এটি তার মালিকানাধীন থাকা অবস্থায় মেলানো সম্পন্ন হয়েছে, (তিনি হলেন) আবদুর রহমান বিন আহমদ বিন কাসিম, আল্লাহ তাকে এবং তার পিতামাতাকে ক্ষমা করুন।" তাই আমাদের কাজ সামগ্রিকভাবে এক পাণ্ডুলিপির সাথে অন্যটির মিলকরণ, আধুনিক মুদ্রণরীতির দাবি অনুযায়ী সালাফিয়া সংস্করণে যা বাদ পড়েছে তা সংযোজন করা এবং এর মুদ্রণজনিত ভুলগুলো সংশোধন করা; সেই সাথে আয়াতসমূহের নম্বর প্রদান এবং বানান ভুল সংশোধন করা, যা থেকে উভয় সংস্করণই মুক্ত ছিল না। মুদ্রিত কপিটির বিভিন্ন স্থানে আমাদের কাছে অসম্পূর্ণতা ধরা পড়েছে, যা আমরা বন্ধনীতে উল্লেখ করেছি এবং সে ব্যাপারে সতর্ক করেছি।

--------------------------------------------

১ মেলানোর সময় আমাদের কাছে ৩১১ ও ৩১২ পৃষ্ঠার মাঝে প্রায় দুই পাতার সমপরিমাণ অংশ বাদ পড়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে, যা আমরা মুদ্রিত সংস্করণ এবং সৌদি লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত ৮৯/৮৬ নম্বরের অন্য একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি থেকে পূরণ করেছি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৬)
عليه في الحاشية، إما بقولنا: "ساقط من النسخة السلفية أو زيادة من المخطوطة". وعند الاشتباه أو التردد في لفظ أو جملة، نرجع إلى الأصل فنثبت عبارته، ما لم يكن أدخل عليها شيء من التصرف، فعندئذٍ نترك عبارة المختصر على ما هي عليه، وننقل عبارة الأصل في الهامش، وننبه إلى أننا حينما نطلق كلمة "الأصل" نعنى بها "الشرح الكبير" أو "الإنصاف"، كما نعني بالمطبوعة: نسخة المطبعة السلفية، وبالمخطوطة أو المختصر: نسخة المكتبة السعودية المنوه عنها، والتي اعتمدت أصلاً في طباعة هذا الكتاب.

نسأل الله بأسمائه وصفاته أن يجزي مؤلفي الأصلين والمختصر خيراً، وأن ينفع بعلومهم، كما نسأله أن يجعل العمل خالصاً لوجهه الكريم، وأن يغفر لنا الزلات، ويتجاوز عن السيئات. وهو حسبنا ونعم الوكيل، والحمد لله رب العالمين، وصلى الله على نبينا محمد وآله وسلم إلى يوم الدين.

عبد العزيز بن زيد الرومي صالح بن محمد الحسن

الرياض في 22/ 1/ 1398 هـ
এ বিষয়ে পাদটীকায় আমাদের মন্তব্য হবে: "সালাফিয়্যাহ সংস্করণ থেকে বাদ পড়েছে অথবা পাণ্ডুলিপি থেকে অতিরিক্ত অংশ"। কোনো শব্দ বা বাক্যের ক্ষেত্রে সন্দেহ বা দ্বিধা দেখা দিলে আমরা মূল গ্রন্থের (আল-আসল) দিকে ফিরে গিয়েছি এবং তার বক্তব্যটিই বহাল রেখেছি, যদি না তাতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়ে থাকে; এমতাবস্থায় আমরা সংক্ষিপ্তসার (আল-মুখতাসার)-এর বক্তব্যটি যেভাবে আছে সেভাবেই রেখেছি এবং মূল গ্রন্থের বক্তব্যটি পাদটীকায় উল্লেখ করেছি। আমরা এ বিষয়ে সতর্ক করে দিচ্ছি যে, যখনই আমরা "মূল" (আল-আসল) শব্দটি ব্যবহার করব, তার দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য হবে "আশ-শারহুল কাবির" অথবা "আল-ইনসাফ"; তেমনিভাবে "মুদ্রিত" (আল-মাতবুআহ) বলতে উদ্দেশ্য সালাফিয়্যাহ ছাপাখানার সংস্করণ এবং "পাণ্ডুলিপি" (আল-মাখতুতাহ) বা "সংক্ষিপ্তসার" (আল-মুখতাসার) বলতে সৌদি লাইব্রেরির সেই কপির কথা বুঝানো হয়েছে যার কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যা এই কিতাবটি মুদ্রণের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হিসেবে গৃহীত হয়েছে।

আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলির মাধ্যমে প্রার্থনা করছি যেন তিনি মূল গ্রন্থদ্বয়ের লেখকগণ এবং সংক্ষিপ্তসারের লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁদের ইলমের মাধ্যমে কল্যাণ দান করেন। তেমনিভাবে আমরা তাঁর কাছে প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই আমলটিকে কেবল তাঁর মহান চেহারার জন্য একনিষ্ঠ করেন, আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করেন এবং পাপসমূহ মার্জনা করেন। তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। সমস্ত প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকলের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

আব্দুল আজিজ ইবনে যাইদ আর-রুমি, সালেহ ইবনে মুহাম্মদ আল-হাসান

রিয়াদ, ২২/ ১/ ১৩৯৮ হিজরি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌كتاب الطهارة

‌‌باب المياه

…

باب المياه 1

وهي ثلاثة: طهور، وهو الباقي على خلقته. وجملته أن كل صفة خلق عليها الماء وبقي عليها فهو طهور، لقوله صلى الله عليه وسلم: "اللهم طهّرني بالثلج والبرد والماء البارد"، 2 وفي البحر: "هو الطهور ماؤه، الحلُّ ميتته" 3.

وهذا قول أهل العلم إلا ما روي عن ابن عمرو في ماء البحر: "التيمم أعجب إليَّ منه"، والأول أولى، لقوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً} ، 4 وهذا واجد للماء.

قال ابن المنذر: أجمع كل من نحفظ عنه: أن الوضوء بالماء الآجن جائز، سوى ابن سيرين، فإنه كره ذلك.

والماء المتغير بورق الشجر، وما ينبت في الماء، أو تحمله الريح أو السيول، أو ما تغير في آنية الأدم والنحاس ونحوه، يعفى عن ذلك كله، لأنه يشق التحرز منه، أو ما يخالطه كالعود والدهن والعنبر إذا لم يستهلك فيه ولم يتحلل، لأنه تغير عن مجاورة، أو ما أصله الماء كالملح البحري، فإن كان معدنياً فهو كالزعفران، وكذلك الماء المتغير بالتراب، لأنه يوافق الماء في صفته أشبه الملح، أو ما تروح بريح ميتة إلى جانبه، لا نعلم في ذلك خلافاً، أو سخن بالشمس.

وقال الشافعي: تكره الطهارة بماء قصد تشميسه، لحديث: "لا تفعلي فإنه يورث البرص"، رواه الدارقطني وقال: يرويه خالد بن إسماعيل، وهو متروك، وعمرو الأعسم، وهو منكر الحديث، ولأنه لو كره لأجل الضرر لما اختلف

--------------------------------------------

1 أول كل باب ملخص من الشرح الكبير، وآخره من الإنصاف.

2 مسلم: الصلاة (476) ، والترمذي: الدعوات (3547) ، والنسائي: الغسل والتيمم (402، 403) ، وأحمد (4/354) .

3 الترمذي: الطهارة (69) ، والنسائي: المياه (332) والصيد والذبائح (4350) ، وأبو داود: الطهارة (83) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (386) والصيد (3246) ، وأحمد (2/237، 2/361، 2/378) ، ومالك: الطهارة (43) ، والدارمي: الطهارة (729) .

4سورة المائدة آية: 6.
পবিত্রতা অধ্যায়

পানি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ

...

পানি সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ ১

পানি তিন প্রকার: তহুর (পবিত্র ও পবিত্রকারী), যা তার সৃষ্টিগত প্রকৃতির ওপর অবশিষ্ট রয়েছে। এর সারকথা হলো, পানির যে বৈশিষ্ট্যের ওপর তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তা সেই অবস্থায় বহাল থাকে, তবে তা তহুর। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "হে আল্লাহ! আমাকে বরফ, শিলা ও শীতল পানি দ্বারা পবিত্র করুন", ২ এবং সমুদ্র সম্পর্কে (তিনি বলেছেন): "এর পানি পবিত্রকারী এবং এর মৃত প্রাণী হালাল" ৩।

এটিই আলেমগণের অভিমত, কেবল সমুদ্রের পানি সম্পর্কে ইবনে আমর থেকে বর্ণিত উক্তি ব্যতীত যে: "সমুদ্রের পানি অপেক্ষা তায়াম্মুম করাই আমার নিকট অধিক পছন্দনীয়"। তবে প্রথম মতটিই অধিক অগ্রগণ্য, মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: "অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও", ৪ আর এটি (সমুদ্রের পানি ব্যবহারকারী) তো পানি পেয়েছে।

ইবনুল মুনযির বলেন: আমরা যাদের থেকে (ইলম) সংরক্ষণ করেছি, তারা সকলে একমত হয়েছেন যে: পচা বা দীর্ঘকাল জমে থাকা পানির দ্বারা উজু করা জায়েজ, কেবল ইবনে সীরিন ব্যতীত; কেননা তিনি একে অপছন্দ করেছেন।

আর গাছের পাতার কারণে পরিবর্তিত পানি, যা পানির মধ্যে জন্মে, অথবা বাতাস বা স্রোত যা বয়ে নিয়ে আসে, অথবা চামড়ার পাত্র, তামা বা এ জাতীয় জিনিসের কারণে পরিবর্তিত পানি—এসবই মার্জনীয়; কারণ এগুলো থেকে বেঁচে থাকা কঠিন। অথবা যার সাথে আগরকাঠ, তেল বা আম্বর মিশ্রিত হয়, যদি তা তাতে মিশে নিঃশেষ না হয়ে যায় এবং গলে না যায়; কারণ এটি পার্শ্ববর্তী হওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয়েছে। অথবা যার মূল উৎস পানি, যেমন সামুদ্রিক লবণ। তবে যদি তা খনিজ (লবণ) হয়, তবে তা জাফরানের মতো হবে। একইভাবে মাটির দ্বারা পরিবর্তিত পানিও (তহুর), কারণ এটি বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে পানির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং তা লবণের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথবা যা তার পাশে পড়ে থাকা মৃতদেহের দুর্গন্ধের কারণে দুর্গন্ধযুক্ত হয়েছে, এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই; অথবা যা রোদে উত্তপ্ত হয়েছে।

ইমাম শাফেঈ বলেছেন: ইচ্ছাকৃতভাবে রোদে গরম করা পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা অপছন্দনীয় (মাকরুহ), এই হাদিসের কারণে: "তুমি এমন করো না, কারণ এটি ধবল রোগ সৃষ্টি করে"। এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এটি খালিদ বিন ইসমাইল বর্ণনা করেছেন, যিনি পরিত্যক্ত (মাতরুক), এবং আমর আল-আসাম, যিনি মুনকারুল হাদিস। তাছাড়া, যদি এটি ক্ষতির কারণে অপছন্দনীয় হতো, তবে এ নিয়ে মতভেদ হতো না।

--------------------------------------------

১ প্রতিটি পরিচ্ছেদের শুরু 'আশ-শারহুল কাবীর' থেকে সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে এবং শেষ অংশ 'আল-ইনসাফ' থেকে।

২ মুসলিম: আস-সালাত (৪৭৬), তিরমিযী: আদ-দাওয়াত (৩৫৪৭), নাসাঈ: আল-গুসল ওয়াত-তায়াম্মুম (৪০২, ৪০৩), আহমাদ (৪/৩৫৪)।

৩ তিরমিযী: আত-তহারাত (৬৯), নাসাঈ: আল-মিয়াহ (৩৩২) এবং আস-সাইদ ওয়াজ-জাবাহ (৪৩৫০), আবু দাউদ: আত-তহারাত (৮৩), ইবনে মাজাহ: আত-তহারাত ওয়া সুনানুহা (৩৮৬) এবং আস-সাইদ (৩২৪৬), আহমাদ (২/২৩৭, ২/৩৬১, ২/৩৭৮), মালেক: আত-তহারাত (৪৩), দারেমী: আত-তহারাত (৭২৯)।

৪ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৮)
بقصد التشميس وعدمه، أو بطاهر كالحطب ونحوه، فلا يكره، لا نعلم فيه خلافاً، إلا ما روي عن مجاهد أنه كره الوضوء بالمسخن. وإن سخن بنجاسة فهل يكره؟ على روايتين. ولا يكره الغسل والوضوء بماء زمزم، لحديث أسامة، وعنه: يكره، لقول العباس: "لا أحلّها لمغتسل".

وإذا خالط الماء طاهر لم يغيره، لم يمنع الطهارة. قال شيخنا: لا نعلم فيه خلافاً. وإذا وقع فيه ماء مستعمل عُفي عن يسيره، وهذا ظاهر حاله صلى الله عليه وسلم وأصحابه، "لأنهم يتوضؤون من الأقداح". فإن كثر مُنع في إحدى الروايتين؛ وقال أصحاب الشافعي: إن كان الأكثر المستعمل مُنع، وإلا فلا. فإن كان معه ماء لا يكفيه لطهارته فكمله بمائع آخر لم يغيره، جاز الوضوء به، في إحدى الروايتين.

الثاني: طاهر غير مطهر: وهو كل ماء خالطه طاهر، فغير اسمه حتى صار صبغاً أو خلاً، أو طُبخ فيه فصار مرقاً، فلا يجوز الوضوء به، لا نعلم فيه خلافاً؛ إلا أنه حكي عن أصحاب الشافعي وجه في ماء الباقلاء المغلي أنه يجوز الوضوء به. وحكي عن ابن أبي ليلى جواز الوضوء بالمياه المعتصرة، وسائر أهل العلم على خلافه، لأن هذا لا يقع عليه اسم الماء. فإن غيّر أحد أوصافه ففيه روايتان:

إحداهما: أنه غير مطهّر، وهو قول مالك والشافعي، أشبه ماء الباقلاء المغلي. إذا ثبت هذا، فإن أصحابنا لا يفرّقون بين المذرور كالزعفران والأشنان وبين الحبوب من الباقلاء ونحوه. وقال الشافعية: ما كان مذروراً منع إذا غيّر،
রোদ পোহানোর উদ্দেশ্যে হোক বা না হোক, অথবা কাঠ বা এই জাতীয় কোনো পবিত্র বস্তু দিয়ে গরম করা হোক, তবে তা মাকরুহ নয়। এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আমাদের জানা নেই, তবে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি গরম করা পানি দিয়ে ওযু করা অপছন্দ করতেন। আর যদি অপবিত্র বস্তু দিয়ে গরম করা হয়, তবে কি তা মাকরুহ হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। যমযম পানি দিয়ে গোসল ও ওযু করা মাকরুহ নয়, উসামার হাদীসের কারণে। আর ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত আরেকটি বর্ণনায় এটি মাকরুহ; কেননা আব্বাস বলেছিলেন: "আমি গোসলকারীর জন্য এটি বৈধ করছি না।"

যখন পানির সাথে কোনো পবিত্র বস্তু মিশে যায় এবং তা পানিকে পরিবর্তিত না করে, তখন তা পবিত্রতা অর্জনে বাধা দেয় না। আমাদের শায়খ বলেছেন: এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আমাদের জানা নেই। আর যদি তাতে সামান্য পরিমাণ ব্যবহৃত পানি পড়ে তবে তা ক্ষমাযোগ্য ধরা হবে; এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের প্রকাশ্য অবস্থা থেকে বোঝা যায়, "কেননা তাঁরা ছোট পাত্র থেকে ওযু করতেন।" যদি ব্যবহৃত পানির পরিমাণ বেশি হয়, তবে দুটি বর্ণনার একটি অনুযায়ী তা নিষিদ্ধ; শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীরা বলেছেন: যদি অধিকাংশ পানি ব্যবহৃত পানি হয় তবে তা নিষিদ্ধ, অন্যথায় নয়। যদি তার কাছে এমন পরিমাণ পানি থাকে যা তার পবিত্রতা অর্জনের জন্য যথেষ্ট নয়, অতঃপর সে অন্য কোনো তরল পদার্থ যোগ করে তা পূর্ণ করে যা পানিকে পরিবর্তিত করে না, তবে একটি বর্ণনা অনুযায়ী তা দিয়ে ওযু করা জায়েজ।

দ্বিতীয় প্রকার: পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়: এটি হলো এমন পানি যার সাথে কোনো পবিত্র বস্তু মিশ্রিত হয়ে তার নাম বদলে দিয়েছে, এমনকি তা রং বা সিরকায় পরিণত হয়েছে, অথবা তাতে কিছু রান্না করা হয়েছে ফলে তা ঝোলে পরিণত হয়েছে; এমতাবস্থায় তা দিয়ে ওযু করা জায়েজ নয়। এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আমাদের জানা নেই; তবে শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারীদের থেকে সিদ্ধ করা শিমের পানির ব্যাপারে একটি অভিমত বর্ণিত হয়েছে যে, তা দিয়ে ওযু করা জায়েজ। ইবনে আবি লায়লা থেকে নিংড়ানো পানির মাধ্যমে ওযু জায়েজ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে অন্যান্য সকল আলেম এর বিপক্ষে, কারণ একে আর পানি বলা যায় না। যদি এটি পানির গুণাবলির কোনো একটিকে বদলে দেয়, তবে সে বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে:

তার একটি হলো: এটি পবিত্রকারী নয়, এবং এটি মালিক ও শাফেয়ীর অভিমত; যা সিদ্ধ করা শিমের পানির সদৃশ। এটি যখন সাব্যস্ত হলো, তখন আমাদের সাথীরা জাফরান ও উশনানের মতো চূর্ণ করা বস্তু এবং শিম ও এই জাতীয় শস্যদানা—এ দুইয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। শাফেয়ীগণ বলেছেন: যা চূর্ণ করা বস্তু, তা পানিকে পরিবর্তিত করলে ব্যবহার নিষিদ্ধ হবে,
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৯)
وما عداه لا يمنع، إلا أن ينحلّ في الماء، ووافقهم أصحابنا في الخشب والعيدان، وخالفوهم فيما ذكرنا. وشرط الخرقي الكثرة في الرائحة، لسرعة سرايتها، ولكونها تحصل عن مجاورة، فاعتبرت الكثرة ليعلم أنها عن مخالطة.

والرواية الثانية: أنه باق على طهوريته؛ نقلها عن أحمد جماعة، وهو مذهب أبي حنيفة وأصحابه، لأن الله تعالى قال: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً} 1 وهذا عام في كل ماء، لأنه نكرة في سياق النفي، و"لأن الصحابة كانوا يسافرون وغالب أسقيتهم الأدم، وهي تغيّر أوصاف الماء عادة، ولم يكونوا يتيممون معها".

واختلف في المنفصل من المتوضئ عن الحدث والمغتسل من الجنابة، فروي أنه طاهر غير مطهّر، وهو المشهور من مذهب أبي حنيفة والشافعي، وإحدى الروايتين عن مالك، لقوله صلى الله عليه وسلم: "لا يبولنّ أحدكم في الماء الدائم، ولا يغتسل فيه من الجنابة"، 2 رواه أبو داود، ولولا أنه يفيد منعاً لم ينه عنه، ولأنه أزال به مانعاً من الصلاة.

والثانية: أنه مطهّر، وهو قول الحسن وعطاء والنخعي، وإحدى الروايتين عن مالك، والقول الثاني للشافعي. وهو قول ابن المنذر. وروي عن علي وابن عمر: "فيمن نسي مسح رأسه، إذا وجد بللاً في لحيته: أجزأه أن يمسح رأسه به"، لما روي عنه صلى الله عليه وسلم: "الماء لا يجنب"، 3 و"أنه اغتسل من الجنابة فرأى لمعة لم يصبها الماء، فعصر شعره عليها"، رواه أحمد، ولأنه أدى به فرضاً، فجاز أن يؤدي به غيره، كالثوب يصلي فيه مراراً. وقال أبو يوسف:

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية: 6.

2 البخاري: الوضوء (239) ، ومسلم: الطهارة (282، 283) ، والترمذي: الطهارة (68) ، والنسائي: الطهارة (57، 58، 220، 221) والغسل والتيمم (397، 398، 399، 400) ، وأبو داود: الطهارة (70) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (344، 605) ، وأحمد (2/259، 2/265، 2/288، 2/316، 2/346، 2/362، 2/394، 2/433، 2/464، 2/529، 2/532) ، والدارمي: الطهارة (730) .

3 الترمذي: الطهارة (65) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (370) .
এবং এটি ব্যতীত অন্য কিছু (পবিত্রতা অর্জনে) বাধা দেয় না, যদি না তা পানিতে দ্রবীভূত হয়। আমাদের মাযহাবের সাথীরা কাঠ ও কঞ্চির ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হয়েছেন, তবে আমরা যা উল্লেখ করেছি সে বিষয়ে তাদের সাথে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। আর খিরাকী সুগন্ধির আধিক্যের শর্তারোপ করেছেন এর দ্রুত ব্যাপ্তির কারণে এবং তা সান্নিধ্যের প্রভাবে ঘটে থাকে বলে। ফলে আধিক্যকে ধর্তব্য ধরা হয়েছে যাতে প্রতীয়মান হয় যে এটি সংমিশ্রণের কারণে হয়েছে।

দ্বিতীয় বর্ণনাটি হলো: তা তার পবিত্রতা ও পবিত্রকারী গুণের ওপর বহাল থাকে; একদল উলামা এটি ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এটিই ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর অনুসারীদের মাযহাব। কারণ আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও} ১ এটি সকল পানির ক্ষেত্রে সাধারণ (আম), কারণ এটি না-বোধক বাক্যের প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট (নাকিরাহ) পদ। তাছাড়া সাহাবীগণ সফর করতেন এবং তাদের অধিকাংশ পানিপাত্র ছিল চামড়ার তৈরি, যা সাধারণত পানির বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করে দিত; তবুও তারা সে পানি থাকা অবস্থায় তায়াম্মুম করতেন না।

অপবিত্রতা (হাদাস) থেকে অজুকারী ও জানাবাত (অপবিত্রতা) থেকে গোসলকারীর শরীর থেকে ঝরে পড়া পানির ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। বর্ণিত আছে যে, তা পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়; এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম শাফেয়ীর মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত এবং ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটি। এর ভিত্তি হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "তোমাদের কেউ যেন আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে এবং তাতে জানাবাত থেকে গোসল না করে।" ২ আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। যদি তা (পবিত্রতা অর্জনে) প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করত, তবে তিনি তা থেকে নিষেধ করতেন না। তাছাড়া এর মাধ্যমে তিনি নামাজের একটি প্রতিবন্ধক দূর করেছেন।

দ্বিতীয় মতটি হলো: তা পবিত্রকারী। এটি হাসান, আতা ও নাখয়ীর বক্তব্য, ইমাম মালিকের দুটি বর্ণনার একটি এবং ইমাম শাফেয়ীর দ্বিতীয় উক্তি। এটি ইবনুল মুনযিরেরও অভিমত। আলী ও ইবনে উমর থেকে বর্ণিত আছে: "যে ব্যক্তি মাথা মাসাহ করতে ভুলে গেছে, যদি সে তার দাড়িতে আর্দ্রতা পায়, তবে তা দিয়ে মাথা মাসাহ করলে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।" এর দলিল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "পানি অপবিত্র (জুনুব) হয় না" ৩ এবং "তিনি জানাবাত থেকে গোসল করলেন, অতঃপর শরীরের একটি শুষ্ক অংশ দেখলেন যেখানে পানি পৌঁছায়নি, তখন তিনি তাঁর চুল থেকে সেখানে পানি চিপে দিলেন।" আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। তাছাড়া এর মাধ্যমে যেহেতু একটি ফরজ আদায় করা হয়েছে, ফলে এর মাধ্যমে অন্যটিও আদায় করা জায়েজ হবে, যেমন সেই কাপড় যাতে বারবার নামাজ পড়া যায়। আবু ইউসুফ বলেন:

--------------------------------------------

১ সুরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।

২ বুখারি: অজু (২৩৯), মুসলিম: পবিত্রতা (২৮২, ২৮৩), তিরমিজি: পবিত্রতা (৬৮), নাসায়ি: পবিত্রতা (৫৭, ৫৮, ২২০, ২২১) এবং গোসল ও তায়াম্মুম (৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯, ৪০০), আবু দাউদ: পবিত্রতা (৭০), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নতসমূহ (৩৪৪, ৬০৫), আহমাদ (২/২৫৯, ২/২৬৫, ২/২৮৮, ২/৩১৬, ২/৩৪৬, ২/৩৬২, ২/৩৯৪, ২/৪৩৩, ২/৪৬৪, ২/৫২৯, ২/৫৩২), দারেমি: পবিত্রতা (৭৩০)।

৩ তিরমিজি: পবিত্রতা (৬৫), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নতসমূহ (৩৭০)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১০)
هو نجس لأنه يسمى طهارة، وهي لا تعقل إلا عن نجاسة، وتطهير الطاهر محال، ووجه طهارته: "أن النبي صلى الله عليه وسلم صبّ على جابر من وضوئه"، والدليل على طهارة أعضاء المحدث: قول النبي صلى الله عليه وسلم: "المؤمن لا ينجس".

وأما المستعمل في طهارة مشروعة كالتجديد، ففيه روايتان، أو غمس فيه يد قائم من نوم الليل قبل غسلها ثلاثاً، فهل يسلب طهوريته؟ على روايتين:

إحداهما: لا يسلبه، وهو الصحيح، لأن الماء قبله طهور فبقي على الأصل، والنهي عن الغمس إن كان لوهم النجاسة، فالوهم لا يزيل الطهورية، وإن كان تعبداً اقتصر على النص.

والثانية: يسلبه للنهي، فلولا أنه يفيد منعاً لم ينه عنه، وروي عن أحمد: أحب إلي أن يريقه إذا غمس يده فيه. وهل يكون غمس بعض اليد كالجميع؟ فيه وجهان. ولا يجب غسلهما عند القيام من نوم النهار، وسوَّى الحسن بينهما، ولنا: قوله: "فإنّ أحدكم لا يدري أين باتت يده"، 1 والمبيت يكون في الليل خاصة. وإن كان القائم صبياً، ففيه وجهان. واختلفوا في النوم الذي يتعلق به هذا: فذكر القاضي أنه الذي ينقض الوضوء، وقال ابن عقيل: هو ما زاد على نصف الليل.

وتجب النية للغسل في أحد الوجهين، والثاني: لا يفتقر، لأنه علل بوهم النجاسة. ولا يفتقر الغسل إلى تسمية، وقال أبو الخطاب: يفتقر، قياساً على الوضوء، وهو بعيد، لأنها لو وجبت في الوضوء وجبت تعبداً. وإذا وجد ماء قليلاً ولم يمكنه الاغتراف، ويداه نجستان، فإن أمكنه الاغتراف بفيه ويصب

--------------------------------------------

1 البخاري: الوضوء (162) .
এটি অপবিত্র, কারণ একে পবিত্রকরণ বলা হয়, আর অপবিত্রতা ব্যতীত পবিত্রকরণের ধারণা করা যায় না; কেননা পবিত্র বস্তুকে পুনরায় পবিত্র করা অসম্ভব। এর পবিত্র হওয়ার দলিল হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওজুর পানি জাবেরের ওপর ঢেলে দিয়েছিলেন।" আর অপবিত্র ব্যক্তির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পবিত্র হওয়ার প্রমাণ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "মু'মিন অপবিত্র হয় না।"

আর যা শরিয়তসম্মত পবিত্রকরণের কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন ওজু নবায়ন করা, সে বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। অথবা রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তি তার হাত তিনবার ধোয়ার আগেই যদি পানির পাত্রে ডুবিয়ে দেয়, তবে কি তা তার পবিত্র করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে:

প্রথমটি হলো: এটি তার পবিত্র করার ক্ষমতা নষ্ট করে না, আর এটিই সঠিক মত। কারণ এর আগে পানিটি পবিত্র ও পবিত্রকারী ছিল, তাই তা মূল অবস্থার ওপরই বহাল থাকবে। আর হাত ডুবানোর ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা যদি নাপাক হওয়ার আশঙ্কায় হয়ে থাকে, তবে নিছক আশঙ্কা পবিত্র করার ক্ষমতাকে দূর করতে পারে না। আর যদি তা নিছক ইবাদতগত বা হুকুমগত (তা’আব্বুদি) হয়ে থাকে, তবে তা কেবল নস বা ভাষ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

দ্বিতীয়টি হলো: এটি তার পবিত্র করার ক্ষমতা কেড়ে নেয়, কারণ এখানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যদি এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বাধা প্রদান না করত, তবে তিনি তা থেকে নিষেধ করতেন না। ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কেউ তাতে হাত ডুবিয়ে দেয়, তবে তা ফেলে দেওয়াই আমার কাছে অধিক পছন্দনীয়। হাতের কিছু অংশ ডুবানো কি পুরো হাত ডুবানোর মতোই? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। দিনের ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার সময় হাত দুটি ধোয়া ওয়াজিব নয়, তবে হাসান (বাসরি) উভয়ের (রাত ও দিনের ঘুম) মধ্যে সমতা বজায় রেখেছেন। আমাদের দলিল হলো তাঁর (রাসূলের) বাণী: "কেননা তোমাদের কেউ জানে না তার হাত কোথায় রাত যাপন করেছে," ১ এবং রাত যাপন (মাবিত) কেবল রাতের বেলাতেই হয়। জাগ্রত ব্যক্তি যদি শিশু হয়, তবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। কোন ধরনের ঘুমের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন: আল-কাজী উল্লেখ করেছেন যে, এটি সেই ঘুম যা ওজু ভঙ্গ করে। আর ইবনুল আকীল বলেছেন: এটি হলো সেই ঘুম যা রাতের অর্ধেকের বেশি সময় জুড়ে থাকে।

হাত ধোয়ার জন্য নিয়ত করা কি ওয়াজিব? এক মতে ওয়াজিব, আর দ্বিতীয় মতে: এর প্রয়োজন নেই, কারণ এর কারণ হিসেবে নাপাক হওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। হাত ধোয়ার জন্য তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ বলা) জরুরি নয়। তবে আবু আল-খাত্তাব বলেছেন: ওজুর ওপর কিয়াস করে এটি জরুরি, কিন্তু এই মতটি দুর্বল; কারণ যদি তা ওজুতে ওয়াজিব হয়ে থাকে, তবে তা ইবাদত হিসেবেই (তা’আব্বুদি) ওয়াজিব হয়েছে। যদি কেউ অল্প পানি পায় এবং তা তোলা সম্ভব না হয়, এমতাবস্থায় তার হাত দুটি যদি নাপাক থাকে, তবে সে যদি মুখ দিয়ে পানি তুলে তা ঢালতে সক্ষম হয়...

--------------------------------------------

১. বুখারি: ওজু (১৬২)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১১)
عليهما فَعل، وإلا تيمم. وإن كانتا بعد نوم الليل، فمن قال: إن غمسهما لا يؤثر، قال: يتوضأ. ومن جعله مؤثراً، قال: يتوضأ ويتمم معه. فإن توضأ من ماء كثير أو اغتسل منه بغمس أعضائه ولم ينو غسل اليد، فعند من أوجب النية له يرتفع حدثه، ولا يجزيه عن غسل اليد، لأن غسلهما إما تعبداً وإما لوهم النجاسة، وبقاء النجاسة على العضو لا يمنع ارتفاع الحدث. وإذا انغمس الجنب أو المحدث في ماء دون القلتين ينوي رفع الحدث، صار مستعملاً ولم يرتفع حدثه؛ وقال الشافعي: يصير مستعملاً ويرتفع حدثه، لأنه إنما يصير مستعملاً بارتفاع الحدث. ولنا: قوله: "لا يغتسلنّ أحدكم في الماء الدائم وهو جنب"، 1 والنهي يقتضي الفساد. وإذا اجتمع ماء مستعمل إلى قلتين، صار الكل طهوراً. وإن بلغ قلتين باجتماعه، فيحتمل أن يزول المنع بحديث القلتين. وإن انضم مستعمل إلى مستعمل وبلغ قلتين، ففيه احتمالان. وإن أزيلت به النجاسة فانفصل غير متغير بعد زوالها، فهو طاهر، رواية واحدة، إن كان المحل أرضاً. وقال أبو بكر: إنما يحكم بطهارته إذا نشفت أعيان البول، فإن كانت قائمة فجرى الماء عليها فطهّرها، ففي المنفصل روايتان، كغير الأرض. ولنا: قوله: "صبّوا على بول الإعرابي ذنوباً من ماء"، فلو كان المنفصل نجسا، ً لكان تكثيراً للنجاسة، ولم يفرّق بين نشافه وعدمه. والظاهر أنه إنما أمر عقيب البول. وإن كان غير الأرض، فهو طاهر في أصح الوجهين؛ وهو مذهب الشافعي. وإن خلت بالطهارة منه امرأة فهو طهور، ولا يجوز للرجل الطهارة به، لحديث الحكم بن عمرو. قال أحمد: جماعة كرهوه.

--------------------------------------------

1 مسلم: الطهارة (283) ، والنسائي: الطهارة (220) والغسل والتيمم (396) ، وأبو داود: الطهارة (70) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (605) .
সে অনুযায়ী আমল করবে, অন্যথায় তায়াম্মুম করবে। আর যদি তা রাতের ঘুমের পর হয়, তবে যারা বলেন যে দুই হাত পানিতে ডুবানো পানির ওপর কোনো প্রভাব ফেলে না, তাদের মতে সে ওযু করবে। আর যারা একে প্রভাব বিস্তারকারী মনে করেন, তাদের মতে সে ওযু করবে এবং তার সাথে তায়াম্মুমও করবে। যদি কেউ প্রচুর পানি থেকে ওযু করে অথবা তাতে নিজ অঙ্গগুলো ডুবিয়ে গোসল করে কিন্তু হাত ধোয়ার নিয়ত না করে, তবে যাদের নিকট নিয়ত করা ওয়াজিব, তাদের মতে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে, তবে এটি হাত ধোয়ার নির্দেশের ক্ষেত্রে যথেষ্ট হবে না। কারণ হাত ধোয়া হয় হয় ইবাদত হিসেবে অথবা নাপাকির আশঙ্কায়; আর অঙ্গের ওপর নাপাকি অবশিষ্ট থাকা অপবিত্রতা (হাদাস) দূর হওয়ার পথে অন্তরায় নয়। আর যখন কোনো জানাবাতগ্রস্ত ব্যক্তি অথবা অপবিত্র ব্যক্তি দুই কুল্লার কম পানিতে অপবিত্রতা দূর করার নিয়তে ডুব দেয়, তখন পানিটি ব্যবহৃত হয়ে যায় এবং তার অপবিত্রতা দূর হয় না। ইমাম শাফেঈ বলেন: পানিটি ব্যবহৃত হবে এবং তার অপবিত্রতাও দূর হয়ে যাবে; কারণ অপবিত্রতা দূর হওয়ার মাধ্যমেই পানি ব্যবহৃত হিসেবে গণ্য হয়। আমাদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ পানিতে জানাবাত অবস্থায় গোসল না করে।" আর এই নিষেধাজ্ঞা উক্ত আমলটি বাতিল হওয়ার দাবি রাখে। যদি ব্যবহৃত পানি একত্রিত হয়ে দুই কুল্লা পরিমাণ হয়, তবে সবটুকু পানিই পবিত্রকারক হয়ে যায়। আর যদি তা একত্র হওয়ার মাধ্যমে দুই কুল্লা পরিমাণে পৌঁছে, তবে সম্ভাবনা রয়েছে যে দুই কুল্লার হাদিস অনুযায়ী এর নিষেধাজ্ঞা দূর হয়ে যাবে। আর যদি ব্যবহৃত পানির সাথে ব্যবহৃত পানি যুক্ত হয়ে দুই কুল্লা হয়, তবে সে বিষয়ে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সেই পানির মাধ্যমে নাপাকি দূর করা হয় এবং নাপাকি দূর হওয়ার পর পানিটি কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পৃথক হয়ে যায়, তবে সেটি পবিত্র; এটিই একমাত্র বর্ণনা, যদি স্থানটি মাটি হয়। আবু বকর বলেন: এর পবিত্রতার ফয়সালা তখনই হবে যখন প্রস্রাবের মূল উপাদান শুকিয়ে যাবে; কিন্তু যদি তা বিদ্যমান থাকে এবং তার ওপর পানি প্রবাহিত করে তা পবিত্র করা হয়, তবে পৃথক হওয়া পানির ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে, যা মাটি ছাড়া অন্য স্থানের মতই। আমাদের দলিল হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "তোমরা বেদুইনের প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দাও।" যদি পৃথক হওয়া পানি নাপাক হতো, তবে তা নাপাকিকে আরও বৃদ্ধি করত; অথচ তিনি শুকানো বা না শুকানোর মাঝে কোনো পার্থক্য করেননি। আর স্পষ্টত তিনি প্রস্রাব করার পরপরই এই নির্দেশ দিয়েছিলেন। যদি স্থানটি মাটি ছাড়া অন্য কিছু হয়, তবে দুটি মতের মধ্যে অধিক বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী তা পবিত্র; আর এটিই ইমাম শাফেঈর মাজহাব। যদি কোনো নারী সেই পানি দ্বারা নির্জনে পবিত্রতা অর্জন করে, তবে তা পবিত্রকারক; তবে হাকাম বিন আমর-এর হাদিসের কারণে পুরুষের জন্য তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করা জায়েজ নয়। ইমাম আহমাদ বলেন: একদল আলেম একে অপছন্দ করেছেন।

--------------------------------------------

১. মুসলিম: তাহারাহ (২৮৩), নাসায়ি: তাহারাহ (২২০) এবং গোসল ও তায়াম্মুম (৩৯৬), আবু দাউদ: তাহারাহ (৭০), ইবনে মাজাহ: তাহারাহ ও এর সুন্নতসমূহ (৬০৫)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১২)
وخصصناه بالخلوة لقول عبد الله بن سرجس: "توضأ أنت ههنا، وهي ههنا. فأما إذا خلت به فلا تقربنه". وفيه رواية: "يجوز، لحديث ميمونة". فإن خلت به في إزالة النجاسة، ففيه وجهان. وإن خلت به في بعض أعضائها أو تجديد أو استنجاء، فوجهان. وإن خلت به الذمية في غسل الحيض، فوجهان: أحدهما: المنع لأنها أبعد عن الطهارة، وقد تعلق به إباحة وطئها. والثاني: الجواز، لأن طهارتها لا تصح. ويجوز للرجل والمرأة أن يغتسلا ويتوضآ من إناء واحد من غير كراهة.

ولا يجوز رفع الحدث إلا بالماء. وقال عكرمة: النبيذ وضوء من لم يجد الماء. وعن أبي حنيفة كقول عكرمة، لحديث ابن مسعود: "ثمرة طيبة وماء طهور". 1 ولنا: قوله تعالى: {فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا} ، 2 أوجب الانتقال إلى التيمم عند عدم الماء، وحديثهم لا يثبت. فأما غير النبيذ، فلا نعلم بين أهل العلم خلافاً أنه لا يجوز الوضوء به، غير ما ذكرنا في الماء المعتصر.

القسم الثالث: نجس، وهو ما تغير بمخالطة النجاسة؛ فهو نجس بالإجماع؛ حكاه ابن المنذر. فإن لم يتغير، وهو يسير، فهل ينجس؟ على روايتين:

إحداهما: ينجس، لحديث القلتين، وتحديده بهما يدل على نجاسة ما دونهما وإلا لم يكن مفيداً، "ونهى النبي صلى الله عليه وسلم القائم من نومه عن غسل يده في الماء"، فدل على أنه يفيد منعاً، و"أمر بغسل الإناء من ولوغ الكلب وإراقة سؤره"، ولم يفرق بين ما تغير وبين ما لم يتغير.

--------------------------------------------

1 الترمذي: الطهارة (88) ، وأبو داود: الطهارة (84) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (384) ، وأحمد (1/449) .

2 سورة المائدة آية: 6.
আমরা একে নির্জনতার (খলওয়াহ) সাথে নির্দিষ্ট করেছি আবদুল্লাহ ইবনে সারজিসের উক্তির কারণে: "তুমি এখানে অজু করো এবং সে (নারী) এখানে। তবে সে যখন তা নিয়ে নির্জনতা অবলম্বন করবে, তখন তুমি তার নিকটবর্তী হয়ো না।" এ বিষয়ে একটি বর্ণনা রয়েছে যে: "এটি জায়েজ, মায়মুনার হাদিসের কারণে।" যদি সে নাপাকি দূর করার জন্য তা নিয়ে নির্জনতা অবলম্বন করে, তবে এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে। আর যদি সে তার শরীরের কোনো অঙ্গ ধোয়ার ক্ষেত্রে, বা নতুন করে অজু করার ক্ষেত্রে, অথবা ইস্তিঞ্জার ক্ষেত্রে তা নিয়ে নির্জনতা অবলম্বন করে, তবে দুটি অভিমত রয়েছে। আর যদি জিম্মি নারী হায়েযের গোসলের জন্য নির্জনতা অবলম্বন করে, তবে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো: নিষেধ, কারণ সে পবিত্রতা থেকে অধিক দূরবর্তী, অথচ তার সাথে সহবাস বৈধ হওয়ার বিষয়টি এর সাথে সংশ্লিষ্ট। দ্বিতীয়টি হলো: বৈধতা, কারণ তার পবিত্রতা অর্জন সহিহ নয়। এবং পুরুষ ও নারীর জন্য একই পাত্র থেকে কোনো অপছন্দনীয়তা (কারাহাত) ছাড়াই গোসল করা ও অজু করা জায়েজ।

পানি ব্যতীত অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করা জায়েজ নয়। ইকরিমা বলেন: নাবিয হলো সেই ব্যক্তির জন্য অজু যে পানি পায় না। আবু হানিফা থেকে ইকরিমার উক্তির অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, ইবনে মাসউদের হাদিসের কারণে: "পবিত্র ফল এবং পবিত্রকারী পানি"। আমাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো}, যা পানি না পাওয়ার সময় তায়াম্মুমের দিকে স্থানান্তরিত হওয়া ওয়াজিব করে দেয়। আর তাদের বর্ণিত হাদিসটি প্রমাণিত নয়। তবে নাবিয ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে অজু করা জায়েজ নয়—এ বিষয়ে আমরা আলেমদের মধ্যে কোনো মতভেদ জানি না, নিংড়ানো পানির ক্ষেত্রে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা ব্যতীত।

তৃতীয় প্রকার: অপবিত্র (নাজিস), আর তা হলো যা নাপাকি মিশ্রিত হওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয়ে গেছে; এটি সর্বসম্মতিক্রমে (ইজমা অনুযায়ী) অপবিত্র; যা ইবনুল মুনযির বর্ণনা করেছেন। যদি তা পরিবর্তিত না হয় এবং পরিমাণে অল্প হয়, তবে কি তা অপবিত্র হবে? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে:

তার একটি হলো: অপবিত্র হবে, দুই কুল্লা বিষয়ক হাদিসের কারণে। দুই কুল্লা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা এর চেয়ে কম পরিমাণ পানি অপবিত্র হওয়ার প্রমাণ বহন করে, অন্যথায় এটি অর্থবহ হতো না। "আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তিকে পাত্রের পানিতে হাত ধোয়া থেকে নিষেধ করেছেন", যা প্রমাণ করে যে এটি নিষেধাজ্ঞা নির্দেশ করে। এবং তিনি "কুকুরের মুখ দেওয়া পাত্র ধোয়ার এবং তার অবশিষ্টাংশ ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন", আর তিনি যা পরিবর্তিত হয়েছে এবং যা পরিবর্তিত হয়নি তার মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি।

--------------------------------------------

১ তিরমিজি: পবিত্রতা (৮৮), আবু দাউদ: পবিত্রতা (৮৪), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৩৮৪), আহমাদ (১/৪৪৯)।

২ সূরা আল-মায়িদাহ আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১৩)
والثانية: "لا ينجس الماء إلا بالتغير، روي عن حذيفة وأبي هريرة وابن عباس والحسن". وهو مذهب الثوري وابن المنذر، لحديث بضاعة.

وذهب أبو حنيفة إلى أن الكثير ينجس بالنجاسة من غير تغيّر، إلا أن يبلغ حداً يغلب على الظن أن النجاسة لا تصل إليه. واختلفوا في حده لقوله: "لا يبولنّ أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري، ثم يغتسل منه"، 1 ولم يفرّق بين قليله وكثيره. ولنا: خبر القلتين وبئر بضاعة. وحديثهم لا بد من تخصيصه بما زاد على الحد الذي ذكروه؛ فتخصيصه بقول النبي صلى الله عليه وسلم أولى من تخصيصه بالرأي والتحكم من غير أصل. وما ذكروه من الحد تقدير من غير توقيف، ولا يصار إليه من غير نص ولا إجماع، مع أن حديثهم خاص بالبول، وهو قولنا في إحدى الروايتين جمعاً بين الحديثين؛ فنقصر الحكم على ما تناوله النص وهو البول، لأن له من التأكيد والانتشار ما ليس لغيره، إلا أن تكون النجاسة بولاً أو عذرة مائعة، ففيه روايتان:

إحداهما: لا ينجس، وهو مذهب الشافعي وأكثر أهل العلم، لحديث القلتين. وحديث النهي عن البول فيه لا بد من تخصيصه بما لا يمكن نزحه إجماعاً. فتخصيصه بخبر القلتين أولى من تخصيصه بالرأي والتحكم.

والأخرى: ينجس، لحديث النهي عن البول فيه، وإن كوثر النجس بماء يسير أو بغير الماء كالتراب ونحوه، فأزال التغير، لم يطهر في أحد الوجهين، والثاني يطهر لأن علة النجاسة زالت.

فأما غير الماء إذا وقعت فيه نجاسة، ففيه ثلاث روايات:

إحداهن: ينجس وإن كثر، لقوله: "وإن كان مائعاً، فلا تقربوه"، 2 ولم يفرق بين قليله وكثيره.

الثانية: أنها كالماء، لا ينجس منها ما بلغ قلتين إلا بالتغير، قياساً على الماء.

--------------------------------------------

1 البخاري: الوضوء (239) ، ومسلم: الطهارة (282، 283) ، والنسائي: الطهارة (58، 221) والغسل والتيمم (397، 398، 399) ، وأبو داود: الطهارة (70) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (344) ، وأحمد (2/316، 2/346، 2/362، 2/394، 2/433، 2/464) ، والدارمي: الطهارة (730) .

2 النسائي: الفرع والعتيرة (4260) ، وأبو داود: الأطعمة (3842) .
দ্বিতীয় (মত): "পানি পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত অপবিত্র হয় না; এটি হুযাইফা, আবু হুরায়রা, ইবনে আব্বাস এবং হাসান থেকে বর্ণিত হয়েছে।" আর এটি আস-সাওরী এবং ইবনুল মুনযিরের মাযহাব, বুযাআহ (কূপের) হাদিসের কারণে।

আবু হানিফা এই মত পোষণ করেছেন যে, অধিক পরিমাণ পানিও পরিবর্তন ছাড়াই নাপাকি স্পর্শ করলে অপবিত্র হয়ে যায়, যতক্ষণ না তা এমন এক সীমায় পৌঁছায় যেখানে প্রবল ধারণা জন্মে যে নাপাকি সেখানে পৌঁছাবে না। আর তারা এর সীমানা নির্ধারণে মতভেদ করেছেন, তাঁর এই বাণীর কারণে: "তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে পেশাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সেখান থেকে গোসল না করে", ১ আর তিনি এর অল্প ও অধিকের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেননি। আর আমাদের দলিল হলো: দুই কুল্লার (পাত্রের) বর্ণনা এবং বিরে বুযাআহ-এর হাদিস। আর তাদের পেশকৃত হাদিসকে অবশ্যই তারা যে সীমা উল্লেখ করেছেন তার অতিরিক্তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করতে হবে; সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণীর মাধ্যমে তা নির্দিষ্ট করা, কোনো মূল ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত অভিমত ও স্বেচ্ছাচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার চেয়ে অধিক উত্তম। আর তারা যে সীমার কথা উল্লেখ করেছেন তা কোনো সরাসরি দলীল ব্যতিরেকেই একটি ধারণা মাত্র, এবং কোনো সরাসরি বর্ণনা বা ইজমা ছাড়া এর দিকে ফিরে যাওয়া যায় না; এর সাথে তাদের বর্ণিত হাদিসটি পেশাবের সাথে সুনির্দিষ্ট, আর দুই হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের উদ্দেশ্যে আমাদের দুই বর্ণনার একটিতে এই কথাটিই বলা হয়েছে; তাই আমরা হুকুমটিকে সেই পর্যন্তই সীমাবদ্ধ রাখব যা মূল পাঠ শামিল করে, আর তা হলো পেশাব; কারণ এর কঠোরতা ও ব্যাপ্তির এমন দিক রয়েছে যা অন্য কিছুর মধ্যে নেই। তবে যদি নাপাকিটি পেশাব কিংবা তরল মল হয়, তবে সে ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে:

একটি হলো: তা অপবিত্র হবে না, আর এটি শাফেঈ ও অধিকাংশ আহলে ইলমের মাযহাব, দুই কুল্লার হাদিসের কারণে। আর এতে পেশাব করতে নিষেধ করার হাদিসটিকে অবশ্যই এমন বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট করতে হবে যা ইজমা অনুযায়ী সেঁচে ফেলা সম্ভব নয়। সুতরাং এটিকে দুই কুল্লার সংবাদের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা, ব্যক্তিগত মত ও স্বেচ্ছাচারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করার চেয়ে অগ্রগণ্য।

অপরটি হলো: তা অপবিত্র হয়ে যাবে, সেখানে পেশাব করা থেকে নিষেধ করার হাদিসের কারণে। আর যদি অপবিত্রতাকে অল্প পানির মাধ্যমে কিংবা পানি ছাড়া অন্য কিছু যেমন মাটি বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে আধিক্য বাড়িয়ে এর পরিবর্তন দূর করা হয়, তবে দুই অভিমতের একটি অনুযায়ী তা পবিত্র হবে না, আর দ্বিতীয়টি অনুযায়ী তা পবিত্র হয়ে যাবে কারণ অপবিত্রতার কারণ দূরীভূত হয়েছে।

আর পানি ছাড়া অন্য কোনো বস্তুতে যদি নাপাকি পতিত হয়, তবে তাতে তিনটি বর্ণনা রয়েছে:

তার একটি হলো: তা অপবিত্র হয়ে যাবে যদিও তা পরিমাণে বেশি হয়, তাঁর এই বাণীর কারণে: "আর যদি তা তরল হয়, তবে তোমরা তার কাছে যেও না", ২ আর তিনি এর অল্প ও অধিকের মধ্যে পার্থক্য করেননি।

দ্বিতীয়টি: তা পানির মতোই, যা দুই কুল্লা পরিমাণ পৌঁছাবে তা পরিবর্তিত হওয়া ছাড়া অপবিত্র হবে না, পানির ওপর কিয়াস করে।

--------------------------------------------

১ বুখারী: ওযু (২৩৯), মুসলিম: পবিত্রতা (২৮২, ২৮৩), নাসাঈ: পবিত্রতা (৫৮, ২২১) এবং গোসল ও তায়াম্মুম (৩৯৭, ৩৯৮, ৩৯৯), আবু দাউদ: পবিত্রতা (৭০), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাহ (৩৪৪), আহমাদ (২/৩১৬, ২/৩৪৬, ২/৩৬২, ২/৩৯৪, ২/৪৩৩, ২/৪৬৪), দারেমী: পবিত্রতা (৭৩০)।

২ নাসাঈ: আল-ফার'ু ওয়াল 'আতীরা (৪২৬০), আবু দাউদ: খাদ্যদ্রব্য (৩৮৪২)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১৪)
قال حرب: سألت أحمد قلت: كلب ولغ في سمن أو زيت، قال: إذا كان في آنية كبيرة، مثل حُب أو نحوه، رجوت أن لا يكون به بأسٌ، يؤكل. وإن كان في آنية صغيرة، فلا يعجبني.

والثالثة: أن ما أصله الماء كالخل التمري، يدفع النجاسة، وما لا فلا.

والماء المستعمل في رفع الحدث وما كان طاهراً غير مطهِّر، ففيه احتمالان، ولا فرق بين يسير النجاسة وكثيرها، وما أدركه الطرف وما لم يدركه. وعن الشافعي: أن ما لا يدركه الطرف معفى عنه للمشقة، ولنا: أن دليل التنجس لا يفرق بين قليل النجاسة وكثيرها؛ فالتفريق تحكم، وما ذكروه من المشقة ممنوع، لأنا إنما نحكم بالنجاسة إذا علمنا وصولها، ثم إن المشقة بمجردها حكمة لا يجوز تعلق الحكم بها بمجردها، وجعل ما يدركه الطرف ضابطاً لها إنما يصحُّ بالتوقيف أو باعتبار الشرع له في موضع واحد، ولم يوجد واحد منهما.

والقلتان: خمسمائة رطل بالعراقي، وعنه: أربعمائة رطل، وهل ذلك تقريب أو تحديد؟ على وجهين.

ونقل عن أحمد التفريق بين الجاري والواقف، فإنه قال في حوض الحمام: قد قيل إنه بمنزلة الماء الجاري، وقال في البئر: تكون لها مادة وهو واقف ليس هو بمنزلة الجاري، فعلى هذا لا ينجس إلا بالتغير لأن الأصل طهارته، ولأنه بمجموعه يزيد على القلتين. فإن قيل فالجرية لا تبلغهما، قيل: تخصيص الجرية بهذا التقدير تحكم، وهذا اختيار شيخنا، وهو الصحيح إن شاء الله تعالى.

وإن اشتبهت ثيابٌ طاهرة بنجسة، صلى في كل ثوب صلاةن بعدد النجس، وزاد صلاة. وقال أبو ثور: لا يصلي في شيء منهما. وقال أبو حنيفة والشافعي: يتحرى، كقولهما في الأواني والقبلة.
হারব বলেন: আমি আহমদকে জিজ্ঞাসা করলাম: একটি কুকুর ঘি বা তেলের মধ্যে মুখ দিয়েছে। তিনি বললেন: যদি তা বড় কোনো পাত্রে থাকে, যেমন মটকা বা এই জাতীয় কিছুতে, তবে আমি আশা করি এতে কোনো সমস্যা নেই, তা খাওয়া যাবে। কিন্তু যদি তা ছোট পাত্রে হয়, তবে আমি তা পছন্দ করি না।

আর তৃতীয় মতটি হলো: যার মূল উপাদান পানি, যেমন খেজুরের সিরকা, তা নাপাকি দূর করে; আর যা এমন নয়, তা নাপাকি দূর করে না।

অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করতে ব্যবহৃত পানি এবং যা পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়, এ ব্যাপারে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। নাপাকির পরিমাণ অল্প হোক বা বেশি, কিংবা যা দৃষ্টিগোচর হোক বা না হোক—এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইমাম শাফেয়ী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, যা দৃষ্টিগোচর হয় না তা কষ্টের কারণে মার্জনীয়। আমাদের দলিল হলো: পানি নাপাক হওয়ার দলিল নাপাকির অল্প বা বেশির মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না; সুতরাং পার্থক্য করাটা হবে ভিত্তিহীন। আর কষ্টের কথা তারা যা উল্লেখ করেছেন তা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ আমরা কেবল তখনই নাপাকির বিধান দেই যখন আমরা নিশ্চিত হই যে তা পৌঁছেছে। তাছাড়া কষ্ট কেবল একটি হিকমত (রহস্য), যার ওপর ভিত্তি করে এককভাবে কোনো বিধান সাব্যস্ত করা বৈধ নয়। আর দৃষ্টিগোচর হওয়াকে এর মাপকাঠি নির্ধারণ করা কেবল তখনই সঠিক হতো যদি শরয়ি কোনো দলিলে (তাওকীফ) তা পাওয়া যেত অথবা শরীয়ত কোনো এক জায়গায় তা বিবেচনা করত; অথচ এর কোনোটিই পাওয়া যায়নি।

দুই কুল্লা হলো ইরাকি ওজনে পাঁচশ রতল। তাঁর (ইমাম আহমদ) থেকে চারশ রতলের বর্ণনাও রয়েছে। এটি কি আনুমানিক পরিমাণ নাকি সুনির্ধারিত? এ ব্যাপারে দুটি মত রয়েছে।

ইমাম আহমদ থেকে প্রবাহমান এবং স্থির পানির মধ্যে পার্থক্যের কথা বর্ণিত হয়েছে। গোসলখানার হাউজ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: বলা হয়ে থাকে যে এটি প্রবাহমান পানির পর্যায়ভুক্ত। আর কূপ সম্পর্কে তিনি বলেছেন: এর উৎস রয়েছে কিন্তু পানি স্থির, তাই এটি প্রবাহমান পানির মতো নয়। এর ভিত্তিতে, এটি পরিবর্তন (রঙ, স্বাদ বা গন্ধ) না হওয়া পর্যন্ত নাপাক হবে না; কারণ মূলত তা পবিত্র এবং কারণ সামগ্রিকভাবে তা দুই কুল্লার বেশি। যদি বলা হয় যে, পানির প্রতিটি প্রবাহ দুই কুল্লা পরিমাণ হয় না; তবে এর উত্তর হলো: প্রবাহকে এই পরিমাণের সাথে নির্দিষ্ট করা ভিত্তিহীন। এটিই আমাদের শায়খের পছন্দ এবং ইনশাআল্লাহ তাআলাই এটি সঠিক মত।

যদি পবিত্র কাপড় অপবিত্র কাপড়ের সাথে মিশে যায়, তবে অপবিত্র কাপড়ের সংখ্যা অনুযায়ী প্রতিটি কাপড়ে একবার করে নামাজ পড়বে এবং অতিরিক্ত আরও এক ওয়াক্ত নামাজ পড়বে। আবু সাওর বলেন: সে এর কোনোটিতেই নামাজ পড়বে না। আর আবু হানিফা ও শাফেয়ী বলেন: সে অনুসন্ধান (তাহারি) করবে, যেমনটি পাত্র এবং কিবলার ক্ষেত্রে তাদের অভিমত।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১৫)
فإن سقط عليه من طريقٍ ماء، لم يلزمه السؤال عنه. قال عمر: "يا صاحب الحوض لا تخبرنا؛ فإنا نرِد عليها وترد علينا"، رواه في الموطإ. قال ابن عقيل: لا يلزم ردّ الجواب، لخبر عمر.

قال شيخنا: يحتمل أن يلزمه، لأنه سئل عن شرط الصلاة، كما لو سئل عن القبلة؛ وخبر عمر يدل على أن سؤر السباع طاهر.

ومن هنا إلى آخر الباب: من "الإنصاف":

وعند الشيخ: أن كل ما هو طاهر تحصل به الطهارة. وقال في ماء زمزم: وعنه: يكره الغسل وحده، اختاره الشيخ. وذكر عنه أيضاً في الماء المستعمل والمغموسة به يد القائم من نوم الليل: ولو نوى جنب بانغماسه كله أو بعضه في ماء قليل راكد رفْعَ حدثه، لم يرتفع، وقيل: يرتفع، اختاره الشيخ.

والماء في محل التطهير لا يؤثر تغيّره، وقيل: يؤثر، اختاره الشيخ وقال: التفريق بينهما بوصف غير مؤثر لغة وشرعاً. وإن لم يتغير وهو يسير، فهل ينجس؟ الرواية الثانية: لا ينجس، اختارها الشيخ. وقيل بالفرق بين يسير الرائحة وغيرها، فيعفى عن يسير الرائحة، ذكره ابن البنا، ونصره ابن رجب في شرح البخاري. وأظن أنه اختيار الشيخ وابن القيم.

وإذا لاقت النجاسة مائعاً، فاختار الشيخ أن حكمه حكم الماء. واختار أن الثياب الطاهرة والنجسة إذا اشتبهت، صلى في واحد منها بالتحري.
যদি পথিমধ্যে কারো ওপর পানি পড়ে, তবে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা তার জন্য আবশ্যক নয়। উমর (রা.) বলেছিলেন: "হে হাউজের মালিক, আমাদের জানাবেন না; কারণ আমরা সেখানে আসি এবং পশুরাও সেখানে আসে", এটি মুয়াত্তা গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে আকীল বলেছেন: উমরের বর্ণনার কারণে জবাব প্রদান করা আবশ্যক নয়।

আমাদের শায়খ বলেছেন: সম্ভবত এটি আবশ্যক, কারণ তাকে নামাজের একটি শর্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, যেমনটি কিবলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে হয়; আর উমরের বর্ণনাটি প্রমাণ করে যে হিংস্র প্রাণীর উচ্ছিষ্ট পবিত্র।

এখান থেকে অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত: "আল-ইনসাফ" গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত:

শায়খের মতে: প্রতিটি পবিত্র বস্তু দ্বারাই পবিত্রতা অর্জিত হয়। যমযমের পানি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: তাঁর থেকে বর্ণিত যে, শুধু এটি দিয়ে গোসল করা মাকরূহ, শায়খ এটিই পছন্দ করেছেন। ব্যবহৃত পানি এবং রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির হাত ডুবানো পানির ক্ষেত্রেও তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি কোনো অপবিত্র ব্যক্তি তার পুরো শরীর বা শরীরের একাংশ অল্প স্থির পানিতে ডুবিয়ে তার অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করে, তবে তা দূর হবে না; আবার বলা হয়েছে: দূর হবে, শায়খ এটিই পছন্দ করেছেন।

পবিত্র করার স্থানে পানির পরিবর্তন কোনো প্রভাব ফেলে না; আবার বলা হয়েছে: প্রভাব ফেলে, শায়খ এটিই পছন্দ করেছেন এবং বলেছেন: ভাষা ও শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো প্রভাব ফেলে না এমন বৈশিষ্ট্য দ্বারা এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। আর যদি পানি অল্প হয় এবং পরিবর্তিত না হয়, তবে কি তা অপবিত্র হবে? দ্বিতীয় বর্ণনা হলো: নাপাক হবে না, শায়খ এটিই পছন্দ করেছেন। সামান্য গন্ধ এবং অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে পার্থক্যের কথা বলা হয়েছে, ফলে সামান্য গন্ধ ক্ষমাযোগ্য; এটি ইবনুল বান্না উল্লেখ করেছেন এবং ইবনে রজব বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটিকে সমর্থন করেছেন। আমার ধারণা এটি শায়খ এবং ইবনুল কাইয়্যিমের পছন্দ।

যখন কোনো তরল পদার্থের সাথে নাপাকি মিশে যায়, তখন শায়খ এই মত গ্রহণ করেছেন যে এর বিধান পানির বিধানের মতোই। তিনি আরও পছন্দ করেছেন যে, যখন পবিত্র ও নাপাক পোশাকের মধ্যে সংশয় দেখা দেয়, তখন যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সেগুলোর একটিতে নামাজ আদায় করবে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌باب الآنية

جميع الآنية الطاهرة يباح استعمالها، سواء كانت ثمينة أو لا، في قول عامة أهل العلم، إلا أنه روي عن ابن عمر أنه كره الوضوء في الصفر والنحاس والرصاص. وروي أن الملائكة تكره ريح النحاس. وقال الشافعي في أحد قوليه: ما كان ثميناً لنفاسة جوهره حرُم، لأن فيه نوع سرف، ولأن تحريم آنية الذهب والفضة تنبيه على تحريم ما هو أنفس منها. ولنا: ما روى البخاري: "أن النبي صلى الله عليه وسلم توضأ من تور من صفر". 1 وأما الجواهر فلا يصح قياسها على الأثمان، لأنها لا تُتخذ إلا نادراً. وجاز استعمال القصب من الثياب، وإن زادت قيمته على الحرير.

ولو جعل فص خاتمه جوهرة ثمينة جاز، ولو جعله ذهباً لم يجز. قال: ولا يختلف المذهب في تحريم اتخاذ آنية الذهب والفضة، وحكي عن الشافعي إباحته لتخصيص النهي بالاستعمال كاتخاذ ثياب الحرير.

وأما المضبب بهما، فإن كان كثيراً حرُم بكل حال. وقال أبو حنيفة: يباح لأنه تابع للمباح. ولنا: حديث: "من شرب في إناء من ذهب أو فضة أو إناء فيه شيء من ذلك … " الحديث رواه الدارقطني، 2 إلا أن تكون الضبة يسيرة من الفضة، كتشعيب القدح إذا لم يباشرها بالاستعمال؛ وممن رخص فيه طاووس وإسحاق وابن المنذر. و"كان ابن عمر لا يشرب

--------------------------------------------

1 البخاري: الوضوء (197) .

2 في هامش الأصل: ذكر ابن تيمية أن الحديث ضعيف.
পাত্র পরিচ্ছেদ

অধিকাংশ আলিমের মতে সকল পবিত্র পাত্র ব্যবহার করা বৈধ, তা মূল্যবান হোক বা না হোক। তবে ইবনে উমর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি পিতল, তামা এবং সিসার পাত্রে অযু করা অপছন্দ করতেন। আরও বর্ণিত হয়েছে যে, ফেরেশতারা তামার গন্ধ অপছন্দ করেন। ইমাম শাফিঈ তাঁর অন্যতম মতানুসারে বলেছেন: যা তার উপাদানের মূল্যবান হওয়ার কারণে দামী, তা হারাম হবে; কারণ এতে এক প্রকার অপব্যয় রয়েছে এবং সোনা ও রূপার পাত্রের নিষেধাজ্ঞা তার চেয়েও দামী বস্তুর নিষেধাজ্ঞার প্রতি একটি সতর্কবাণী। আমাদের সপক্ষে দলিল হলো: ইমাম বুখারী যা বর্ণনা করেছেন যে, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি পিতলের পাত্র থেকে অযু করেছিলেন।" ১ আর মণি-মুক্তাকে স্বর্ণ-রুপার মূল্যের ওপর কিয়াস করা সঠিক নয়, কারণ এগুলো খুব কমই (পাত্র হিসেবে) ব্যবহৃত হয়। কাসাব-এর (এক প্রকার সূক্ষ্ম কাপড়) পোশাক ব্যবহার করা জায়েয, যদিও তার মূল্য রেশমের চেয়ে বেশি হয়।

যদি কেউ তার আংটির পাথর মূল্যবান মণি-মুক্তা দিয়ে তৈরি করে তবে তা জায়েয, কিন্তু যদি সে তা সোনা দিয়ে তৈরি করে তবে তা জায়েয হবে না। তিনি বলেন: সোনা ও রূপার পাত্র তৈরি করা বা রাখার (ইত্তিখায) হারাম হওয়ার ব্যাপারে মাযহাবে কোনো দ্বিমত নেই। ইমাম শাফিঈ থেকে এর বৈধতার কথা বর্ণিত হয়েছে এই যুক্তিতে যে, রেশমি কাপড় রাখার মতো এক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞাটি কেবল ব্যবহারের সাথে নির্দিষ্ট।

আর যা সোনা বা রূপা দিয়ে তালি লাগানো বা প্রলেপ দেওয়া, তা যদি অধিক পরিমাণে হয় তবে সকল অবস্থায় তা হারাম। ইমাম আবু হানিফা বলেন: এটি জায়েয, কারণ এটি বৈধ (পাত্রের) অনুগামী। আমাদের সপক্ষে দলিল হলো হাদীস: "যে ব্যক্তি সোনা বা রূপার পাত্রে অথবা এমন পাত্রে পান করে যাতে এগুলোর কিছু রয়েছে …" হাদীসটি আদ-দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন। ২ তবে যদি তালিটি রূপার সামান্য অংশ হয়, যেমন পাত্রের ফাটল জোড়া দেওয়া, যদি ব্যবহারের সময় সরাসরি সেই তালির অংশ স্পর্শ না করা হয়; আর যারা এর অনুমতি দিয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন তাউস, ইসহাক এবং ইবনুল মুনযির। ইবনে উমর পান করতেন না...

--------------------------------------------

১ বুখারী: অযু (১৯৭)।

২ মূল পাণ্ডুলিপির টীকায় রয়েছে: ইবনে তাইমিয়্যাহ উল্লেখ করেছেন যে হাদীসটি দুর্বল।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১৭)
من قدح فيه فضة ولا ضبة". وكره الشرب في الإناء المفضض عطاء وسالم، ولعلهم كرهوا ما قصد به الزينة أو كان كثيراً.

ويباح طعام أهل الكتاب واستعمال آنيتهم، قال: وهل يكره؟ على روايتين:

إحداهما: لا يكره لقوله: {وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَكُمْ} ، 1 وحديث ابن المغفل، و"توضأ عمرُ من جرة نصرانية".

والثانية: يُكره، لحديث أبي ثعلبة المتفق عليه. وأما ثيابهم، فما ولي عوراتهم كالسراويل فروي عن أحمد أنه قال: أحب إلي أن يعيد إذا صلى فيه. وأما غير أهل الكتاب، فحكم ثيابهم حكم ثياب أهل الذمة عملاً بالأصل. وأما أوانيهم، فمذهب الشافعي أن حكمها حكم أواني أهل الكتاب، "لأنه صلى الله عليه وسلم توضأ من مزادة مشركة". وقال القاضي: "لا يستعمل ما استعملوه منها إلا بعد غسله"، لحديث أبي ثعلبة. ولا نعلم خلافاً في إباحة الثوب الذي نسجوه. وتباح الصلاة في ثياب الصبيان والمربيات وثوب المرأة الذي تحيض فيه، "لصلاته صلى الله عليه وسلم وهو حامل أمامة"، والتوقي لذلك أوْلى لاحتمال النجاسة.

ولأبي داود عن عائشة: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يصلّي في شعرنا ولحفنا". 2 ولا يجب غسل الثوب المصبوغ في حُب الصبّاغ، مسلماً كان أو كتابياً؛ فإن علمت نجاسته طهر بالغسل ولو بقي اللون، لقوله في الدم: "الماء يكفيك، ولا يضرّك أثره". 3 رواه أبو داود. ويستحب تخمير الأواني وإيكاء الأسقية، للحديث.

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية: 5.

2 الترمذي: الجمعة (600) ، والنسائي: الزينة (5366) ، وأبو داود: الصلاة (645) ، وأحمد (6/129) .

3 أبو داود: الطهارة (365) ، وأحمد (2/364) .
যাতে রৌপ্য বা রৌপ্যের পাত নেই এমন পাত্র ব্যবহার করা বৈধ। আতা এবং সালিম রৌপ্যখচিত পাত্রে পান করাকে অপছন্দ করেছেন; সম্ভবত তারা সেই পাত্রগুলোকে অপছন্দ করেছেন যা সাজসজ্জার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল অথবা যাতে রৌপ্যের পরিমাণ বেশি ছিল।

আহলে কিতাবদের খাবার গ্রহণ এবং তাদের পাত্র ব্যবহার করা বৈধ। তিনি বলেন: এটি কি মাকরূহ? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে:

প্রথমটি: এটি মাকরূহ নয়, কারণ আল্লাহর বাণী: {যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তাদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল} ১ এবং ইবনে মুগাফফাল বর্ণিত হাদিস, আর "উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু একজন খ্রিস্টান মহিলার মাটির পাত্র থেকে অজু করেছিলেন।"

দ্বিতীয়টি: এটি মাকরূহ, আবু সা'লাবা বর্ণিত মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদিসের কারণে। আর তাদের পোশাকের ক্ষেত্রে, যা তাদের লজ্জাস্থানের সাথে লেগে থাকে যেমন পায়জামা, সে সম্পর্কে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: আমার কাছে অধিক পছন্দনীয় হলো যদি কেউ তাতে সালাত আদায় করে তবে সে যেন তা পুনরায় আদায় করে। আর আহলে কিতাব ব্যতীত অন্যদের পোশাকের বিধান মূলনীতির ভিত্তিতে আহলে জিম্মাদের পোশাকের বিধানের মতোই। আর তাদের পাত্রের বিষয়ে ইমাম শাফিঈর মাযহাব হলো, সেগুলোর বিধান আহলে কিতাবদের পাত্রের বিধানের মতোই, "কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন মুশরিক মহিলার মশক থেকে অজু করেছিলেন।" কাজী বলেছেন: "তারা যা ব্যবহার করেছে তা ধৌত করা ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না", আবু সা'লাবার হাদিসের কারণে। আর তাদের বোনা কাপড়ের বৈধতার বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ নেই। শিশুদের পোশাক, লালনপালনকারিনীদের পোশাক এবং ঋতুবর্তী মহিলার পোশাকে সালাত আদায় করা বৈধ, "কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমামাহকে বহন করা অবস্থায় সালাত আদায় করেছিলেন।" তবে নাপাকি থাকার সম্ভাবনার কারণে তা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করাই উত্তম।

আবু দাউদে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের পশমি চাদর এবং লেপের মধ্যে সালাত আদায় করতেন না।" ২ রঞ্জকের পাত্রে রাঙানো কাপড় ধৌত করা ওয়াজিব নয়, সে রঞ্জক মুসলিম হোক বা কিতাবি হোক। তবে যদি তাতে নাপাকি থাকার কথা জানা যায়, তবে ধৌত করার মাধ্যমে তা পবিত্র হয়ে যাবে যদিও রঙের চিহ্ন থেকে যায়। কারণ রক্ত সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ বলেছেন: "পানিই তোমার জন্য যথেষ্ট, এর চিহ্ন তোমার কোনো ক্ষতি করবে না।" ৩ এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। হাদিসের কারণে পাত্র ঢেকে রাখা এবং মশকের মুখ বেঁধে রাখা মুস্তাহাব।

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৫।

২ তিরমিজি: জুমুআ (৬০০), নাসায়ি: জিনাত (৫৩৬৬), আবু দাউদ: সালাত (৬৪৫), আহমাদ (৬/১২৯)।

৩ আবু দাউদ: তাহারাত (৩৬৫), আহমাদ (২/৩৬৪)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১৮)
ولا يطهر جلد الميتة بالدباغ. وعنه: يطهر منها جلد ما كان طاهراً في الحياة. قال بعض أصحابنا: يطهر جلد مأكول اللحم؛ وهو مذهب الأوزاعي وإسحاق، لقوله: "ذكاة الأديم: دباغه"؛ 1 والذكاة إنما تُعمل في مأكول اللحم. والأول ظاهر كلام أحمد، لأن قوله: "أيما إهاب دُبغ، فقد طهر" 2 يتناول المأكول وغيره، خرج منه ما كان نجساً في الحياة، لكون الدبغ إنما يرفع نجاسة حادثة بالموت، وحديثهم يحتمل أنه أراد بالذكاة: الطيبة، كقولهم: رائحة ذكية. ويحتمل أنه أراد بها الطهارة؛ يدل عليه أنه لو أراد بالذكاة الذبح، لأضافه إلى الحيوان كله لا إلى الجلد. فأمّا جلود السباع، فلا يجوز الانتفاع بها، وبه قال الأوزاعي وإسحاق. وروي عن ابن سيرين وعروة: الرخصة في الركوب على جلود النمور. ومذهب الشافعي طهارة جلود الحيوانات كلها، إلا الكلب والخنزير. وحكي عن أبي يوسف طهارة كل جلد. وحكي عن مالك، لعموم: "أيما إهاب دُبغ، فقد طهر". 3 ولنا: "نهيه صلى الله عليه وسلم عن ركوب جلود النمور". رواه أبو داود.

وله في حديث آخر: "نهى عن جلود السباع والركوب عليها". وإذا قلنا بطهارته بالدباغ، لم يحل أكله. فظاهر كلام الشافعي أنه إن كان من مأكول جاز، لأن الدباغ ذكاة، والأول أصح، لقوله: "إنما حرّم أكلها". 4 ولا يلزم من الطهارة إباحة الأكل. ولا يجوز بيعه قبل الدبغ، لا نعلم فيه خلافاً، وهل يطهر بالدبغ قبل الغسل؟ قيل: لا، لقوله: "يطهِّرها الماء والقرظ". 5 رواه أبو داود. وقيل: بلى، لقوله: "أيما أهاب دُبغ، فقد طهر". 6 ولا يطهر جلد غير المأكول بالذكاة، وقال مالك: يطهر، لقوله: "ذكاة الأديم دباغه"، ولنا: أن النهي عن جلود السباع عام، ولأنه ذبح لا يبيح اللحم؛ وقياس الذكاة على الدبغ لا يصح لأنه أقوى.

ولبن الميتة نجسٌ لأنه مائع في وعاء نجس،

--------------------------------------------

1 أحمد (3/476) .

2 مسلم: الحيض (366) ، والترمذي: اللباس (1728) ، والنسائي: الفرع والعتيرة (4241) ، وأبو داود: اللباس (4123) ، وابن ماجة: اللباس (3609) ، وأحمد (1/219) ، ومالك: الصيد (1079) ، والدارمي: الأضاحي (1985) .

3 مسلم: الحيض (366) ، والترمذي: اللباس (1728) ، والنسائي: الفرع والعتيرة (4241) ، وأبو داود: اللباس (4123) ، وابن ماجة: اللباس (3609) ، وأحمد (1/219) ، ومالك: الصيد (1079) ، والدارمي: الأضاحي (1985) .

4 مسلم: الحيض (363) ، والنسائي: الفرع والعتيرة (4234) ، وأبو داود: اللباس (4120) ، وابن ماجة: اللباس (3610) ، وأحمد (6/329) .

5 النسائي: الفرع والعتيرة (4248) ، وأبو داود: اللباس (4126) .

6 الترمذي: اللباس (1728) ، والنسائي: الفرع والعتيرة (4241) ، وأبو داود: اللباس (4123) ، وابن ماجة: اللباس (3609) ، وأحمد (1/219) ، والدارمي: الأضاحي (1985) .
মৃত প্রাণীর চামড়া পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না। ইমাম আহমাদ থেকে অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল, তার চামড়া পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হবে। আমাদের কোনো কোনো সাথী (হাম্বলী ফকীহগণ) বলেছেন: ভক্ষণযোগ্য পশুর চামড়া পবিত্র হবে; আর এটি ইমাম আওযায়ি ও ইসহাকের মত। কারণ নবিজি বলেছেন: "চামড়া যবাই করাই হলো তা পাকা করা।" আর যবাই কেবল ভক্ষণযোগ্য পশুর ক্ষেত্রেই কার্যকর হয়। প্রথম মতটি ইমাম আহমাদের বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ, কারণ নবিজির বাণী: "যে কোনো কাঁচা চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়" - এই বক্তব্যটি ভক্ষণযোগ্য এবং অভক্ষণযোগ্য উভয়কেই শামিল করে। তবে যা জীবিত অবস্থায় অপবিত্র ছিল তা এর থেকে বাদ যাবে, কারণ চামড়া পাকা করা কেবল মৃত্যুর কারণে সৃষ্ট অপবিত্রতা দূর করে। আর তাঁদের (বিপক্ষীয়দের) উল্লিখিত হাদিসে 'যাকাত' (যবাই) শব্দ দ্বারা সুঘ্রাণ উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেমন আরবরা বলে থাকে: 'সুগন্ধি ঘ্রাণ'। আবার এটি দ্বারা পবিত্রতা উদ্দেশ্য হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে; এর প্রমাণ হলো যদি নবিজি 'যাকাত' দ্বারা যবাই উদ্দেশ্য করতেন, তবে তিনি তা সমগ্র পশুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করতেন, কেবল চামড়ার সাথে নয়। তবে হিংস্র প্রাণীর চামড়া ব্যবহারের অনুমতি নেই, ইমাম আওযায়ি ও ইসহাকও একই কথা বলেছেন। ইবনে সিরিন ও উরওয়াহ থেকে চিতাবাঘের চামড়ার ওপর আরোহণের অনুমতি বর্ণিত হয়েছে। ইমাম শাফিঈর মাযহাব হলো কুকুর ও শুকর ব্যতীত সকল প্রাণীর চামড়া পবিত্র হওয়া। আবু ইউসুফ থেকে প্রতিটি চামড়া পবিত্র হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। ইমাম মালিক থেকেও এটি বর্ণিত হয়েছে, কারণ হাদিসে সাধারণভাবে বলা হয়েছে: "যে কোনো কাঁচা চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" আমাদের দলীল হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চিতাবাঘের চামড়ার ওপর আরোহণ করতে নিষেধ করেছেন।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

অন্য এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি হিংস্র প্রাণীর চামড়া এবং তার ওপর আরোহণ করতে নিষেধ করেছেন।" আমরা যদি বলি যে পাকা করার মাধ্যমে চামড়া পবিত্র হয়, তবুও তা খাওয়া হালাল হবে না। ইমাম শাফিঈর বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ হলো যদি তা ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর হয় তবে খাওয়া জায়েয, কারণ চামড়া পাকা করা যবাইয়ের স্থলাভিষিক্ত। তবে প্রথম মতটিই অধিক সঠিক, কারণ হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই এর গোশত খাওয়া হারাম করা হয়েছে।" আর কোনো কিছু পবিত্র হওয়া মানেই তা খাওয়া বৈধ হওয়া জরুরি নয়। চামড়া পাকা করার আগে তা বিক্রি করা জায়েয নেই, এ বিষয়ে আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ নেই। ধোয়ার আগে কি কেবল পাকা করার মাধ্যমেই চামড়া পবিত্র হবে? কেউ বলেছেন: না, কারণ হাদিসে এসেছে: "পানি এবং বাবলা ফল তাকে পবিত্র করে।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। অন্যমতে বলা হয়েছে: হ্যাঁ, পবিত্র হবে; কারণ নবিজি বলেছেন: "যে কোনো কাঁচা চামড়া যখন পাকা করা হয়, তখন তা পবিত্র হয়ে যায়।" অভক্ষণযোগ্য পশুর চামড়া যবাইয়ের মাধ্যমে পবিত্র হয় না। তবে ইমাম মালিক বলেছেন পবিত্র হবে, কারণ হাদিসে এসেছে: "চামড়া যবাই করাই হলো তা পাকা করা।" আমাদের দলীল হলো: হিংস্র প্রাণীর চামড়া সংক্রান্ত নিষেধটি ব্যাপক। তাছাড়া এটি এমন এক যবাই যা গোশত হালাল করে না। আর যবাইকে পাকা করার ওপর কিয়াস করা সঠিক নয়, কারণ পাকা করা অধিক শক্তিশালী মাধ্যম।

মৃত প্রাণীর দুধ অপবিত্র, কারণ এটি একটি অপবিত্র পাত্রে থাকা তরল পদার্থ।

--------------------------------------------

১. আহমাদ (৩/৪৭৬)।

২. মুসলিম: হায়য (৩৬৬), তিরমিযী: পোশাক (১৭২৮), নাসাঈ: ফারা ও আতিরা (৪২৪১), আবু দাউদ: পোশাক (৪১২৩), ইবনে মাজাহ: পোশাক (৩৬০৯), আহমাদ (১/২১৯), মালিক: শিকার (১০৭৯), দারেমী: কুরবানি (১৯৮৫)।

৩. মুসলিম: হায়য (৩৬৬), তিরমিযী: পোশাক (১৭২৮), নাসাঈ: ফারা ও আতিরা (৪২৪১), আবু দাউদ: পোশাক (৪১২৩), ইবনে মাজাহ: পোশাক (৩৬০৯), আহমাদ (১/২১৯), মালিক: শিকার (১০৭৯), দারেমী: কুরবানি (১৯৮৫)।

৪. মুসলিম: হায়য (৩৬৩), নাসাঈ: ফারা ও আতিরা (৪২৩৪), আবু দাউদ: পোশাক (৪১২০), ইবনে মাজাহ: পোশাক (৩৬১০), আহমাদ (৬/৩২৯)।

৫. নাসাঈ: ফারা ও আতিরা (৪২৪৮), আবু দাউদ: পোশাক (৪১২৬)।

৬. তিরমিযী: পোশাক (১৭২৮), নাসাঈ: ফারা ও আতিরা (৪২৪১), আবু দাউদ: পোশাক (৪১২৩), ইবনে মাজাহ: পোশাক (৩৬০৯), আহমাদ (১/২১৯), দারেমী: কুরবানি (১৯৮৫)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ১৯)
وكذلك أنفحتها، وروي أنها طاهرة؛ وهو قول أبي حنيفة وداود، لأن الصحابة أكلوا الجبن لما دخلوا المدائن، وهو يُعمل بالأنفحة، وذبائحهم ميتة. والأول أوْلى لأنه قيل: إن جزارهم اليهود والنصارى، ولو لم ينقل ذلك لكان الاحتمال كافياً؛ فإنه قد كان فيهم اليهود والنصارى.

وقد روي "أن الصحابة لما قدموا العراق كسروا جيشاً منهم بعد أن وضعوا طعامهم، فلما فرغ المسلمون أكلوه"، وهو لا يخلو من اللحم ظاهراً. فلو حكم بنجاسة ما ذبح في بلدهم، لما أكلوا من لحمهم. وإن ماتت الدجاجة وفيها بيضة قد صلب قشرها، فهي طاهرة؛ وهو قول ابن المنذر. و"كرهها علي وابن عمر ومالك". وعظام الميتة نجسة، وهو قول مالك والشافعي. ورخص في الانتفاع بعظام الفيلة: ابن سيرين وابن جريج. وقال مالك: إن ذُكِّي الفيل فعظمه طاهر، لأنه مأكول عنده. وقال الثوري وأبو حنيفة: عظام الميتة طاهرة لأن الموت لا يحلها.

ولنا: قوله: {حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ} 1 وتحريم كلِّ ذي ناب من السباع، وقولهم: العظام لا يحلها الموت ممنوع، لقوله: {مَنْ يُحْيِي الْعِظَامَ وَهِيَ رَمِيمٌ} الآية 2، ولأن دليل الحياة: الإحساس والألم، وهو في العظم أشد منه في اللحم. والقرن والظفر والحافر كالعظم، لقوله: "ما يُقطع من البهيمة وهي حية، فهو كميته". 3 قال الترمذي: حسن غريب. ويحتمل أن هذا طاهر، والخبر أريد به ما يُقطع مما فيه حياة فيموت بفصله، بدليل الشعر. وصوفها وشعرها وريشها طاهر، وبه قال مالك وابن المنذر. وقال الشافعي: هو نجس لأنه ينمي من الحياة، فينجس بموته كأعضائه؛ وهذا

--------------------------------------------

1 سورة المائدة آية: 3.

2 سورة يس آية: 78.

3 الترمذي: الأطعمة (1480) ، وأبو داود: الصيد (2858) .
অনুরূপভাবে মৃত পশুর রেনেট (দুধ জমিয়ে পনির তৈরির উপাদান), এবং বর্ণিত আছে যে এটি পবিত্র; এটি ইমাম আবু হানিফা ও দাউদ (যাহিরি)-এর অভিমত। কারণ সাহাবীগণ যখন মাদায়েন শহরে প্রবেশ করেছিলেন, তখন তারা পনির খেয়েছিলেন, অথচ তা রেনেট দিয়ে তৈরি করা হতো এবং তাদের (তৎকালীন স্থানীয়দের) জবাই করা পশু মৃত হিসেবে গণ্য হতো। তবে প্রথম মতটি (অপবিত্র হওয়া) অধিকতর উত্তম; কারণ বলা হয়েছে যে, তাদের কসাইরা ছিল ইহুদি ও খ্রিস্টান। আর যদি এই বর্ণনা নাও থাকত, তবুও এই সম্ভাবনাটুকুই যথেষ্ট ছিল; কেননা তাদের মাঝে ইহুদি ও খ্রিস্টান বিদ্যমান ছিল।

আরও বর্ণিত আছে যে, "সাহাবীগণ যখন ইরাকে পৌঁছালেন, তারা শত্রুপক্ষের এক বাহিনীকে পরাজিত করলেন যারা খাবার প্রস্তুত করে রেখেছিল। যখন মুসলিমগণ অবসর হলেন, তারা তা খেলেন", এবং বাহ্যত এটি গোশতবিহীন ছিল না। যদি তাদের জনপদে জবাই করা পশুর অপবিত্রতার বিধান দেওয়া হতো, তবে তারা তাদের গোশত খেতেন না। আর যদি কোনো মুরগি মারা যায় এবং তার পেটে এমন ডিম থাকে যার খোসা শক্ত হয়ে গেছে, তবে তা পবিত্র; এটি ইবনুল মুনযিরের অভিমত। তবে "আলী (রা.), ইবনে উমর (রা.) এবং ইমাম মালিক এটিকে অপছন্দ করেছেন।" মৃত পশুর হাড় অপবিত্র, এটি ইমাম মালিক ও শাফিঈর অভিমত। তবে হাতির হাড় ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন ইবনে সীরীন এবং ইবনে জুরাইজ। ইমাম মালিক বলেন: যদি হাতিকে (শরিয়তসম্মতভাবে) জবাই করা হয়, তবে তার হাড় পবিত্র; কারণ তাঁর নিকট এটি ভক্ষণযোগ্য। ইমাম সাওরি ও আবু হানিফা বলেন: মৃত পশুর হাড় পবিত্র, কারণ মৃত্যু এর মাঝে প্রবেশ করে না।

আমাদের দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: {তোমাদের জন্য মৃত পশু হারাম করা হয়েছে} ১ এবং হিংস্র প্রাণীদের মধ্য থেকে প্রত্যেক দাঁতবিশিষ্ট প্রাণীর নিষেধাজ্ঞা। আর তাদের এই দাবি যে—হাড়ের মাঝে মৃত্যু প্রবেশ করে না—তা অগ্রহণযোগ্য; কারণ মহান আল্লাহর বাণী: {কে এই হাড়গুলোকে জীবিত করবে যখন তা জীর্ণশীর্ণ হয়ে যাবে?} আয়াত ২। তাছাড়া জীবনের প্রমাণ হলো সংবেদনশীলতা ও ব্যথা অনুভব করা, যা গোশতের চেয়ে হাড়ের মধ্যে অধিক তীব্র। আর শিং, নখ ও খুর হাড়ের পর্যায়ভুক্ত; কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর বাণী: "জীবন্ত পশুর শরীর থেকে যা কিছু বিচ্ছিন্ন করা হয়, তা মৃত পশুর সমতুল্য।" ৩ ইমাম তিরমিযী বলেন: এটি হাসান গরীব হাদিস। তবে সম্ভাবনা আছে যে এটি পবিত্র, আর এই হাদিস দ্বারা ঐ অংশ উদ্দেশ্য যাতে প্রাণ থাকে এবং বিচ্ছিন্ন করার ফলে যা মৃত হয়ে যায়; যার প্রমাণ হলো চুল। আর মৃত পশুর পশম, চুল ও পালক পবিত্র; এটিই ইমাম মালিক ও ইবনুল মুনযিরের অভিমত। ইমাম শাফিঈ বলেন: তা অপবিত্র, কারণ এটি জীবনের প্রভাবে বৃদ্ধি পায়, ফলে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ন্যায় মৃত্যুর কারণে এটিও অপবিত্র হয়ে যায়; আর এটি...

--------------------------------------------

১ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৩।

২ সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ৭৮।

৩ তিরমিযী: আল-আত'ইমাহ (১৪৮০), এবং আবু দাউদ: আস-সাইদ (২৮৫৮)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২০)
منتقض بالبيض. وشعر الآدمي طاهر في الحياة والموت. وقال الشافعي في أحد قوليه: ينجس بفصله. ولهم في شعر النبي صلى الله عليه وسلم وجهان. ولنا: "أنه صلى الله عليه وسلم فرّق شعره بين أصحابه"، وما كان طاهراً منه، كان طاهراً من غيره. وهل يجوز الخرز بشعر الخنزير؟ فيه روايتان. ورخص فيه الحسن ومالك والأوزاعي. وعن أحمد أنه قال: لا بأس به؛ ولعله قال ذلك لأنه لا يسلم منه الناس، وفي تكليف غسله إتلاف أموال الناس.

ومن هنا إلى آخر الباب: من "الإنصاف":

حكى ابن عقيل عن أبي الحسن التميمي أنه قال: إذا اتخذ مسعطاً أو قنديلاً أو نعلين أو مجمرة أو مدخنة ذهباً أو فضة كره، ولم يحرم.

وفي الضبة أربع مسائل: كونها يسيرة بالشروط المتقدمة فتباح، وكبيرة لغير حاجة فلا تباح. واختار الشيخ الإباحة إذا كانت أقل مما فيه، وكبيرة لحاجة، ويسيرة لغير حاجة فلا تباح. وقيل: لا تحرم، اختاره الشيخ. وقال أبو بكر: يباح يسير الذهب، واختاره الشيخ وقال: قد غلط طائفة من الأصحاب حيث حكت قولا بإباحة يسير الذهب تبعاً في الآنية عن أبي بكر، وأبو بكر إنما قال ذلك في باب اللباس والتحلي وهما أوسع. وقال الشيخ أيضاً: يباح الاكتحال بميل الذهب والفضة، لأنها حاجةٌ. وإذا قلنا: يطهر جلد الميتة بالدباغ، فهل يختص بالمأكول أو ما كان طاهراً في حال الحياة؟ فيه وجهان: أحدهما: يشمل، اختاره الشيخ، واختار في الفتاوى المصرية اختصاصه بالمأكول. وعلى القول بأن الدباغ لا يطهر اختار الشيخ الانتفاع به في المائعات إن لم ينجس العين.
এটি ডিমের মাধ্যমে খণ্ডিত হয়। মানুষের চুল জীবিত ও মৃত অবস্থায় পবিত্র। ইমাম শাফেয়ী তাঁর দুটি মতের একটিতে বলেছেন: এটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মাধ্যমে অপবিত্র হয়ে যায়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুলের ব্যাপারে তাঁদের (শাফেয়ীদের) মাঝে দুটি অভিমত রয়েছে। আমাদের (হাম্বলিদের) দলিল হলো: "নিশ্চয়ই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চুল সাহাবীদের মাঝে বণ্টন করে দিয়েছিলেন।" আর যা তাঁর ক্ষেত্রে পবিত্র ছিল, তা অন্যদের ক্ষেত্রেও পবিত্র হবে। শূকরের চুল দিয়ে সেলাই করা কি জায়েজ? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। হাসান (বসরি), মালিক এবং আওযায়ী এতে ছাড় দিয়েছেন। আহমাদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই; সম্ভবত তিনি এটি বলেছেন কারণ মানুষ এটি থেকে মুক্ত থাকতে পারে না, এবং তা ধোয়ার নির্দেশ দেওয়া মানুষের সম্পদ নষ্ট করার শামিল।

এখান থেকে অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত "আল-ইনসাফ" থেকে নেওয়া হয়েছে:

ইবনুল আকীল আবুল হাসান আত-তামীমী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: যদি কেউ স্বর্ণ বা রৌপ্যের নস্যদানী, প্রদীপ, জুতো, ধূপদানি বা ধোঁয়াদানকারী পাত্র গ্রহণ করে, তবে তা অপছন্দনীয় (মাকরূহ) হবে, হারাম নয়।

পাত্রের জোড়ার (ধাব্বা) ক্ষেত্রে চারটি মাসআলা রয়েছে: যদি তা পূর্বোক্ত শর্তানুযায়ী সামান্য হয় তবে তা বৈধ, আর যদি প্রয়োজন ছাড়া বড় হয় তবে তা বৈধ নয়। শাইখ (ইবনে তাইমিয়্যাহ) বৈধতার মত গ্রহণ করেছেন যদি তা পাত্রের তুলনায় কম হয়। আর যদি প্রয়োজনে বড় হয়, কিংবা প্রয়োজন ছাড়া ছোট হয় তবে তা বৈধ নয়। কেউ কেউ বলেছেন: এটি হারাম নয়, শাইখ এটিই গ্রহণ করেছেন। আবু বকর বলেছেন: সামান্য স্বর্ণ বৈধ, শাইখ এটি গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: আমাদের একদল সাথী ভুল করেছেন যখন তারা আবু বকর থেকে পাত্রের অনুসরণে সামান্য স্বর্ণ ব্যবহারের বৈধতার কথা বর্ণনা করেছেন; অথচ আবু বকর এটি কেবল পোশাক ও অলঙ্কারের অধ্যায়ে বলেছিলেন, যে দুটি বিষয় অধিক প্রশস্ত। শাইখ আরও বলেছেন: স্বর্ণ বা রৌপ্যের শলাকা দিয়ে সুরমা লাগানো বৈধ, কারণ এটি একটি প্রয়োজন। আমরা যদি বলি যে, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের (দাবাগাত) মাধ্যমে মৃত পশুর চামড়া পবিত্র হয়, তবে কি তা কেবল ভক্ষণযোগ্য পশুর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নাকি যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল তার ক্ষেত্রেও? এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি হলো, এটি সকল পশুকে অন্তর্ভুক্ত করে, শাইখ এটি পছন্দ করেছেন; তবে তিনি আল-ফাতাওয়া আল-মিসরিয়্যাহ গ্রন্থে একে কেবল ভক্ষণযোগ্য পশুর সাথে নির্দিষ্ট করেছেন। আর চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে পবিত্র হয় না—এই মতের ভিত্তিতে শাইখ তরল পদার্থের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন যদি তা মূল বস্তুকে অপবিত্র না করে।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২১)
ولا يطهر جلد غير المأكول بالذكاة، ولا يجوز ذبحه لأجل ذلك. قال الشيخ: ولو كان في النزع. وما طهر بدبغه جاز بيعه. وأطلق أبو الخطاب جواز بيعه مع نجاسته، قال في الفروع: فيتوجه منه جواز بيع نجاسة يجوز الانتفاع بها، ولا فرق ولا إجماع كما قيل. قال ابن قاسم المالكي: لا بأس ببيع الزبل. قال اللخمي: هذا من قوله يدل على بيع العذرة، وقال ابن الماجشون: لا بأس ببيع العذرة، لأنه من منافع الناس.

ولبن الميتة وأنفحتها نجس. وعنه: أنه طاهر مباح، اختاره الشيخ. واختار طهارة عظمها وقرنها وظفرها، نقل الميموني: صوف الميتة ما أعلم أحداً كرهه.
অভক্ষ্য প্রাণীর চামড়া যবেহ করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না এবং সে উদ্দেশ্যে তা যবেহ করাও জায়েজ নয়। শায়খ বলেন: এমনকি যদি তা প্রাণোৎক্রমণের (মৃত্যুযন্ত্রণা) অবস্থায়ও হয়। আর যা পাকা করার (দাবাগাত) মাধ্যমে পবিত্র হয়েছে, তা বিক্রি করা জায়েজ। আবু আল-খাত্তাব নাপাক থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি করা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে সাধারণ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। 'আল-ফুরু' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এখান থেকে এমন নাপাক বস্তু বিক্রি করার বৈধতা প্রতীয়মান হয় যা থেকে উপকার লাভ করা সম্ভব; আর এক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য নেই এবং যেমনটি দাবি করা হয়েছে তেমন কোনো ইজমা (ঐক্যমত) নেই। ইবনে কাসিম আল-মালিকি বলেন: সার বিক্রি করাতে কোনো সমস্যা নেই। আল-লাখমি বলেন: তাঁর এই বক্তব্য মল বিক্রি করার প্রমাণ বহন করে। ইবনে আল-মাজিশুন বলেন: মল বিক্রি করাতে কোনো দোষ নেই, কারণ এটি মানুষের উপকারের অন্তর্ভুক্ত।

মৃত পশুর দুধ এবং তার পনির তৈরির জমাট দুধ (রান্নেট) অপবিত্র। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অন্য বর্ণনা অনুযায়ী: তা পবিত্র ও মুবাহ; শায়খ এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। এবং তিনি (মৃত পশুর) হাড়, শিং ও নখ পবিত্র হওয়ার মতটি বেছে নিয়েছেন। আল-মাইমুনি বর্ণনা করেছেন: মৃত পশুর পশমের ব্যাপারে আমি কাউকে অপছন্দ করতে দেখিনি।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌باب الاستنجاء

يستحب لمن أراد دخول الخلاء أن يقول: "بسم الله"، لحديث علي، رواه ابن ماجة. ويقول: "اللهم إني أعوذ بك من الرجس النجس، الخبيث المخبث، الشيطان الرجيم"، لحديث أبي أمامة، رواه ابن ماجة، ويقول: "اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث"، لحديث أنس، متفق عليه، قال أبو عبيدة: الخبْث بسكون الباء: الشر، وبضمها وبضم الخاء: جمع خبيث، والخبائث: جمع خبيثة. استعاذ من ذكران الشياطين وإناثهم. ولا يدخله بشيء فيه ذكر الله، "لأنه صلى الله عليه وسلم كان إذا دخله وضع خاتمه"، 1 قال الترمذي: صحيح غريب.

ويقدم اليسرى في الدخول واليمنى في الخروج، ولا يرفع ثوبه حتى يدنو من الأرض، ولا يتكلم "لأنه صلى الله عليه وسلم لم يرد السلام في هذه الحال". رواه مسلم.

ولا يذكر الله بلسانه، "روي كراهته عن ابن عباس". وعن ابن سيرين: لا بأس به. ولنا: "أنه صلى الله عليه وسلم لم يرد السلام الذي يجب رده". فإن عطس، حمد الله بقلبه ولم يتكلم. وفي رواية: يحمد الله بلسانه.

وإذا خرج قال: "غفرانك"، لحديث الترمذي وحسنه، ويقولُ: "الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني"، لحديث ابن ماجة. ولا بأس أن يبول في الإناء، لحديث أميمة، رواه أبو داود.

وإن كان في الفضاء، أبعد، لما روى أبو داود في الاستتار والارتياد: "أنه صلى الله عليه وسلم إذا أراد البراز انطلق حتى لا يراه أحد، واستتر، وارتاد مكاناً رخواً". 2 ويستحب أن يبول قاعداً، قال

--------------------------------------------

1 الترمذي: اللباس (1746) ، والنسائي: الزينة (5213) ، وأبو داود: الطهارة (19) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (303) .

2 أبو داود: الطهارة (2) .
ইস্তিঞ্জা (শৌচকার্য) অধ্যায়

যে ব্যক্তি শৌচাগারে প্রবেশ করতে চায়, তার জন্য "আল্লাহর নামে শুরু করছি" (বিসমিল্লাহ) বলা মুস্তাহাব; আলীর বর্ণিত হাদীসের কারণে, যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এবং সে বলবে: "হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট অপবিত্র, নাপাক, মন্দ ও অনিষ্টকারী বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি"; আবু উমামার হাদীসের কারণে, যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন। এবং বলবে: "হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট পুরুষ ও নারী শয়তানদের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি"; আনাসের হাদীসের কারণে, যা মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম উভয়ই বর্ণনা করেছেন)। আবু উবাইদাহ বলেন: 'খুব্‌ছ' (বা অক্ষরে সুকুন সহ) অর্থ হলো মন্দ, আর (খ ও বা) উভয় অক্ষরে পেশ সহকারে এটি 'খবীছ'-এর বহুবচন; আর 'খাবাইছ' হলো 'খবীছাহ'-এর বহুবচন। তিনি পুরুষ ও নারী শয়তানদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করেছেন। আর আল্লাহর যিকির বা নাম রয়েছে এমন কিছু নিয়ে সেখানে প্রবেশ করবে না, "কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সেখানে প্রবেশ করতেন, তখন তাঁর আংটি খুলে রাখতেন।" ১ তিরমিযী একে সহীহ গরীব বলেছেন।

প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেবে এবং বের হওয়ার সময় ডান পা আগে দেবে। মাটির কাছাকাছি হওয়ার আগে কাপড় ওঠাবে না এবং কথা বলবে না, "কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই অবস্থায় সালামের উত্তর দেননি।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

জিহ্বা দিয়ে আল্লাহর যিকির করবে না। ইবনে আব্বাস থেকে এটি মাকরূহ হওয়ার কথা বর্ণিত হয়েছে। ইবনে সীরীন থেকে বর্ণিত যে, এতে কোনো অসুবিধা নেই। আমাদের দলিল হলো: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন সালামের উত্তর দেননি যা প্রদান করা ওয়াজিব ছিল।" যদি হাঁচি দেয়, তবে মনে মনে আল্লাহর প্রশংসা করবে কিন্তু মুখে কথা বলবে না। অন্য এক বর্ণনায় আছে: জিহ্বা দিয়ে আল্লাহর প্রশংসা করবে।

যখন বের হবে তখন বলবে: "আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি" (গুফরা-নাকা); তিরমিযীর হাদীসের কারণে এবং তিনি একে হাসান বলেছেন। আরো বলবে: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন"; ইবনে মাজাহর হাদীসের কারণে। পাত্রে প্রস্রাব করাতে কোনো দোষ নেই; উমাইমাহর হাদীসের কারণে, যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন।

যদি খোলা ময়দান হয়, তবে দূরে যাবে; আড়াল হওয়া এবং স্থান অন্বেষণের বিষয়ে আবু দাউদ বর্ণিত হাদীসের কারণে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মলত্যাগের ইচ্ছা করতেন, তখন অনেক দূরে চলে যেতেন যাতে কেউ তাঁকে দেখতে না পায়, তিনি আড়াল গ্রহণ করতেন এবং (প্রস্রাবের ছিটা থেকে বাঁচতে) নরম ও ঢালু জায়গা খুঁজতেন।" ২ বসে প্রস্রাব করা মুস্তাহাব। তিনি বলেন...

--------------------------------------------

১ তিরমিযী: পোশাক অধ্যায় (১৭৪৬), নাসায়ী: সৌন্দর্য অধ্যায় (৫২১৩), আবু দাউদ: পবিত্রতা অধ্যায় (১৯), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৩০৩)।

২ আবু দাউদ: পবিত্রতা অধ্যায় (২)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২৩)
ابن مسعود: "من الجفاء أن تبول وأنت قائم"، و"رويت فيه الرخصة عن عمر وغيره"، لحديث حذيفة، ولعله فعله ليبين الجواز، أو كان في موضع لا يتمكن من الجلوس فيه.

ولا يبول في شق ولا سرب ولا طريق ولا ظل نافع ولا تحت شجرة مثمرة، ومثلها موارد الماء، لما روى أبو داود: "أنه صلى الله عليه وسلم نهى أن يبال في الجحر"، 1 قال قتادة: يقال: إنها مساكن الجن، ولأنه صلى الله عليه وسلم قال: "اتقوا الملاعن الثلاثة: البراز في الموارد، وقارعة الطريق، والظل"، 2 والبول تحت الشجرة المثمرة ينجس الثمرة.

ويكره البول في الماء الراكد للنهي عنه، ولا يبول في المغتسل لما روى أبو داود عن رجل صحب النبي صلى الله عليه وسلم قال: "نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يمتشط أحدنا كل يوم، أو يبول في مغتسله". 3 وقد رُوي أن عامة الوسواس منه. قال أحمد: إن صب عليه الماء فجرى في البالوعة، فلا بأس. ولا يستقبل الريح لئلا يتنجس.

ولا يجوز أن يستقبل القبلة في الفضاء، وهذا قول أكثر أهل العلم، وفي استدبارها فيه واستقبالها في البنيان روايتان. ثم ذكر في النهي حديث أبي أيوب المتفق عليه وحديث أبي هريرة عند مسلم إلى أن قال: والثالثة: يجوز في البنيان، ولا يجوز في الفضاء، وهو الصحيح. ثم ذكر حديث مروان الأصغر عن ابن عمر، رواه أبو داود وقال: هذا تفسير للنهي العام، وفيه جمع بين الأحاديث. فإذا فرغ مسح بيسراه من أصل ذكره إلى رأسه، ثم ينتره ثلاثاً، لحديث: "إذا بال أحدكم، فلينتر ذكره ثلاث مرات ". 4 رواه أحمد. ولا يمسح ذكره بيمينه ولا يستجمر بها، لحديث: "لا يمسكن أحدكم ذكره بيمينه وهو يبول، ولا يتمسح من الخلاء بيمينه " 5.

--------------------------------------------

1 أبو داود: الطهارة (29) ، وأحمد (5/82) .

2 أبو داود: الطهارة (26) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (328) .

3 النسائي: الطهارة (238) ، وأبو داود: الطهارة (28) ، وأحمد (4/110، 5/369) .

4 ابن ماجة: الطهارة وسننها (326) ، وأحمد (4/347) .

5 البخاري: الوضوء (153، 154) والأشربة (5630) ، ومسلم: الطهارة (267) ، والترمذي: الطهارة (15) ، والنسائي: الطهارة (24، 25، 47) ، وأبو داود: الطهارة (31) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (310) ، وأحمد (4/383، 5/295، 5/296، 5/300، 5/309، 5/310، 5/311) ، والدارمي: الطهارة (673) .
ইবনে মাসউদ বলেন: "দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা রূঢ়তার অন্তর্ভুক্ত," তবে ওমর এবং অন্যদের থেকে এ বিষয়ে অনুমতির কথা বর্ণিত হয়েছে। এর ভিত্তি হলো হুযাইফার হাদীস। সম্ভবত তিনি এটি বৈধতা প্রদর্শনের জন্য করেছেন অথবা তিনি এমন স্থানে ছিলেন যেখানে বসা সম্ভব ছিল না।

আর গর্তে, সুড়ঙ্গে, চলাচলের পথে, উপকারী ছায়ায় কিংবা ফলন্ত গাছের নিচে প্রস্রাব করবে না। পানির উৎসগুলোও তদ্রূপ। আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গর্তে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।" ১ কাতাদাহ বলেন: বলা হয় যে, এগুলো জিনের বাসস্থান। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা অভিশপ্ত হওয়ার তিনটি কারণ থেকে বেঁচে থাকো: পানির উৎসে মলত্যাগ করা, রাস্তার মাঝখানে এবং ছায়ায়।" ২ ফলন্ত গাছের নিচে প্রস্রাব করা ফলকে অপবিত্র করে দেয়।

স্থির পানিতে প্রস্রাব করা মাকরূহ যেহেতু তা নিষেধ করা হয়েছে। গোসলখানায় প্রস্রাব করবে না, কারণ আবু দাউদ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সান্নিধ্যপ্রাপ্ত এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রতিদিন চুল আঁচড়াতে অথবা গোসলখানায় প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।" ৩ বর্ণিত আছে যে, অধিকাংশ কুমন্ত্রণা (ওয়াসওয়াসা) এর কারণে হয়ে থাকে। ইমাম আহমাদ বলেন: যদি এর উপর পানি ঢেলে দেওয়া হয় এবং তা নর্দমা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে যায়, তবে কোনো সমস্যা নেই। আর বাতাসের বিপরীত দিকে মুখ করে প্রস্রাব করবে না যেন শরীরে নাপাকি না লাগে।

উন্মুক্ত প্রান্তরে কিবলার দিকে মুখ করে বসা জায়েজ নয়; এটিই অধিকাংশ আলেমদের মত। ভবনের ভেতরে কিবলার দিকে মুখ করা বা কিবলার দিকে পিঠ দেওয়ার বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এরপর কিবলামুখী হওয়ার নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে আবু আইয়ুবের মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীস এবং মুসলিমের আবু হুরায়রা বর্ণিত হাদীস উল্লেখ করেছেন এবং অবশেষে বলেছেন: তৃতীয় মত হলো—ভবনের ভেতরে জায়েজ, কিন্তু উন্মুক্ত প্রান্তরে জায়েজ নয়; আর এটিই বিশুদ্ধ মত। অতঃপর তিনি ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত মারওয়ান আল-আসগারের হাদীস উল্লেখ করেছেন যা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: এটিই সাধারণ নিষেধাজ্ঞার ব্যাখ্যা এবং এর মাধ্যমে হাদীসগুলোর মাঝে সমন্বয় সাধিত হয়। কাজ শেষ হলে লিঙ্গের গোড়া থেকে মাথা পর্যন্ত বাম হাত দিয়ে মুছবে, অতঃপর তিনবার ঝাড়া দিবে; হাদীসে এসেছে: "যখন তোমাদের কেউ প্রস্রাব করে, সে যেন তার লিঙ্গ তিনবার ঝেড়ে নেয়।" ৪ আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন। ডান হাত দিয়ে লিঙ্গ মুছবে না এবং তা দিয়ে পাথর ব্যবহার (ইস্তিঞ্জা) করবে না; হাদীসে এসেছে: "তোমাদের কেউ যেন প্রস্রাব করার সময় তার লিঙ্গ ডান হাত দিয়ে না ধরে এবং ডান হাত দিয়ে শৌচকার্য সম্পাদন না করে।" ৫

--------------------------------------------

১ আবু দাউদ: তাহারাত (২৯), এবং আহমাদ (৫/৮২)।

২ আবু দাউদ: তাহারাত (২৬), এবং ইবনে মাজাহ: তাহারাত ও এর সুনান (৩২৮)।

৩ নাসায়ী: তাহারাত (২৩৮), আবু দাউদ: তাহারাত (২৮), এবং আহমাদ (৪/১১০, ৫/৩৬৯)।

৪ ইবনে মাজাহ: তাহারাত ও এর সুনান (৩২৬), এবং আহমাদ (৪/৩৪৭)।

৫ বুখারী: ওযু (১৫৩, ১৫৪) এবং পানীয় (৫৬৩০), মুসলিম: তাহারাত (২৬৭), তিরমিযী: তাহারাত (১৫), নাসায়ী: তাহারাত (২৪, ২৫, ৪৭), আবু দাউদ: তাহারাত (৩১), ইবনে মাজাহ: তাহারাত ও এর সুনান (৩১০), আহমাদ (৪/৩৮৩, ৫/২৯৫, ৫/২৯৬, ৫/৩০০, ৫/৩০৯, ৫/৩১০, ৫/৩১১), এবং দারেমী: তাহারাত (৬৭৩)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২৪)
متفق عليه. وإن فعل لغير حاجة أجزأه عند الأكثر. وحكي عن بعض أهل الظاهر أنه لا يجزئه، للنهي، كما لو استنجى بالروث. والأول أولى، لأن الروث آلة الاستجمار، وبشرطه: واليد إنما يتناول بها الحجر الملاقي للمحل.

والجمع بين الحجر والماء أفضل، قال أحمد: هو أحب إليَّ، لقول عائشة: "مرن أزواجكن أن يتبعوا الحجارة الماء من أثر الغائط والبول، فإني أستحييهم، وأن النبي صلى الله عليه وسلم كان يفعله". 1 قال الترمذي: حديث صحيح. ويجزئه أحدهما في قول الأكثر. وحكي عن سعد بن أبي وقاص وابن الزبير "أنهما أنكرا الاستنجاء بالماء"، قال ابن المسيب: وهل يفعل ذلك إلا النساء، وقال عطاء: غسل الدبر محدث.

وأما الاقتصار على الاستجمار فجائز بغير خلاف، إلا أن يعدو الخارج موضع العادة، فلا يجزئ إلا الماء، وبهذا قال الشافعي وابن المنذر. والثيب إن تعدى بولها إلى مخرج الحيض، فقال أصحابنا: يجب غسله، قال شيخنا: ويحتمل أن لا يجب، لأنه لو لزم لبينه صلى الله عليه وسلم لأزواجه.

و"إذا استنجى بالماء استحب له دلك يده بالأرض، لأنه صلى الله عليه وسلم فعله". رواه البخاري. قال حنبل: سألت أحمد قلت: أتوضأ وأستبرئ وأجد في نفسي أني قد أحدثت بعد، قال: إذا توضأت فاستبرئ، ثم خذ كفاً من ماء فرُشّه في فرجك ولا تلتفت إليه، فإنه يذهب إن شاء الله.

والاستجمار بالخشب والخرق وما في معناهما مما ينقي جائز في قول الأكثر، وعنه: لا يجزئ إلا الأحجار، وهو مذهب داود، وفي حديث سلمان عند مسلم: "نهانا أن نستنجي برجيع أو عظم"، وتخصيصهما بالنهي يدل على أنه أراد الحجارة وما قام مقامها. ويشترط فيما يستجمر به أن

--------------------------------------------

1 الترمذي: الطهارة (19) ، والنسائي: الطهارة (46) .
এটি সর্বসম্মত। যদি প্রয়োজন ছাড়া (ডান হাত দ্বারা) করা হয়, তবে অধিকাংশ আলিমের মতে তা যথেষ্ট হবে। যাহিরিগণের কারো কারো থেকে বর্ণিত আছে যে, তা যথেষ্ট হবে না; কেননা এটি নিষিদ্ধ, যেমনটি গোবর দিয়ে ইস্তিনজা করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে প্রথম মতটিই অগ্রাধিকারযোগ্য; কারণ গোবর হলো ইস্তিজমারের একটি উপকরণ (শর্তসাপেক্ষে), আর হাত কেবল পাথর ধরার জন্য ব্যবহৃত হয় যা সংশ্লিষ্ট স্থানের সংস্পর্শে আসে।

পাথর ও পানি উভয়ের সমন্বয় করা সর্বোত্তম। ইমাম আহমাদ বলেন: এটি আমার কাছে অধিক প্রিয়, কারণ আয়েশা (রা.) বলেছেন: "তোমরা তোমাদের স্বামীদের আদেশ করো যেন তারা মলমূত্রের চিহ্নের পরে পানি ব্যবহার করে; কেননা আমি তাদের নিকট এটি বলতে লজ্জা বোধ করছি, আর নবী (সা.) এটি করতেন।" ১ তিরমিযী বলেছেন: হাদিসটি সহিহ। অধিকাংশের মতে, এই দুটির যেকোনো একটি ব্যবহার করা যথেষ্ট। সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং ইবনুল জুবাইর (রা.) থেকে বর্ণিত যে, তাঁরা পানি দিয়ে ইস্তিনজা করার বিষয়টি অপছন্দ করতেন। ইবনুল মুসাইয়্যিব বলেন: নারীরা ছাড়া আর কি কেউ এমন করে? আতা বলেন: মলদ্বার ধৌত করা একটি নতুন উদ্ভাবিত বিষয়।

কেবল ইস্তিজমারের (পাথর ব্যবহারের) ওপর সীমাবদ্ধ থাকা সর্বসম্মতভাবে বৈধ, যদি না নির্গত বস্তু স্বাভাবিক স্থান অতিক্রম করে যায়। সেক্ষেত্রে পানি ছাড়া আর কিছু যথেষ্ট হবে না। ইমাম শাফিয়ী এবং ইবনুল মুনযিরও এই মত পোষণ করেছেন। কোনো বিবাহিতা নারীর প্রস্রাব যদি ঋতুস্রাবের রাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, তবে আমাদের (মাযহাবের) বিজ্ঞ সাথীরা বলেছেন: তা ধৌত করা ওয়াজিব। আমাদের শায়খ বলেছেন: এটি ওয়াজিব না হওয়ারও সম্ভাবনা আছে, কারণ যদি এটি আবশ্যক হতো তবে নবী (সা.) তাঁর স্ত্রীদের নিকট তা বর্ণনা করতেন।

"যখন কেউ পানি দিয়ে ইস্তিনজা করবে, তখন তার জন্য হাত মাটিতে ঘষে নেওয়া মুস্তাহাব, কারণ নবী (সা.) তা করেছেন।" এটি বুখারি বর্ণনা করেছেন। হাম্বল বলেন: আমি ইমাম আহমাদকে জিজ্ঞাসা করলাম: আমি ওযু করি এবং ইস্তিবরা (পবিত্রতা নিশ্চিত) করি, কিন্তু আমার মনে হয় যে এরপরও আমার অজু ভেঙে গেছে। তিনি বললেন: যখন তুমি ওযু করবে, তখন ইস্তিবরা করো, এরপর এক আজলা পানি নিয়ে তোমার লজ্জাস্থানের ওপর ছিটিয়ে দাও এবং এ বিষয়ে আর ভ্রুক্ষেপ করো না, ইনশাআল্লাহ এতে কুসংস্কার বা সন্দেহ দূর হয়ে যাবে।

কাঠ, কাপড় এবং এ জাতীয় যা পরিষ্কার করতে সক্ষম তা দিয়ে ইস্তিজমার করা অধিকাংশের মতে বৈধ। ইমাম আহমাদ থেকে অন্য একটি বর্ণনা হলো: পাথর ছাড়া আর কিছু যথেষ্ট হবে না, আর এটি দাউদ (জাহিরি)-এর মাযহাব। মুসলিমে বর্ণিত সালমান (রা.)-এর হাদিসে আছে: "তিনি আমাদের গোবর বা হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করতে নিষেধ করেছেন।" কেবল এই দুটি বস্তুকে নিষেধের জন্য সুনির্দিষ্ট করা প্রমাণ করে যে, তিনি পাথর এবং যা পাথরের স্থলাভিষিক্ত হয় তা-ই উদ্দেশ্য নিয়েছেন। ইস্তিজমারের উপকরণের জন্য শর্ত হলো যে—

--------------------------------------------

১ তিরমিযী: পবিত্রতা (১৯), এবং নাসাঈ: পবিত্রতা (৪৬)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২৫)
يكون طاهراً، فإن كان نجساً لم يجزئه، وبه قال الشافعي. وقال أبو حنيفة: يجزئه، ولنا: قوله في الروث: "هذا ركس" يعني: نجساً، رواه الترمذي.

ولا يجوز بالروث والعظم. وقال أبو حنيفة: يجوز، وأباح مالك الاستنجاء بالطاهر منها. ولنا: ما روى مسلم عن ابن مسعود، وكذلك الطعام لأنه علل النهي عن العظم والروث، بأنه زاد الجن، فزادنا أولى.

ولا يجزي أقل من ثلاث مسحات، إما بحجر ذي شعب أو ثلاثة أحجار، وعنه: لا يجزئ أقل من ثلاثة أحجار وهو قول ابن المنذر ويشترط الإنقاء وهو إزالة النجاسة وبلِّها، وقال مالك: يجزئ دون العدد إذا حصل الإنقاء، ولنا: حديث سلمان. ويقطع على وتر، لحديث أبي هريرة. ويجزئ في النادر كالمعتاد. ولأصحاب الشافعي وجه: أنه لا يجزئ في النادر; لأنه أمر بغسل الذكر من المذي.

ويجب من كل خارج إلا الريح، وهذا قول أكثر أهل العلم، أعني: وجوب الاستنجاء في الجملة. وحكي عن ابن سيرين فيمن صلى بقوم ولم يستنج: لا أعلم به بأساً، وهذا مذهب أبي حنيفة. فإن توضأ قبله، فهل يصح وضوؤه؟ على روايتين. الثانية: يصح، وهي أصح، وهو مذهب الشافعي.

ومن هنا إلى آخر الباب: من "الإنصاف":

قال أحمد في الدرهم إذا كان فيه اسم الله أو مكتوباً عليه {قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ} 1 يكره أن يدخل اسم الله الخلاء. ولا يرفع ثوبه حتى يدنو من الأرض، يحتمل الكراهة إذا لم تكن حاجة؛ جزم به الشيخ في شرح العمدة. ويحتمل التحريم، وهي رواية عن أحمد.

وحَمْدُ العاطس وإجابة المؤذن بقلبه، ويكره بلفظ؛ وعنه: لا يكره. قال الشيخ: يجيب المؤذن في الخلاء.

ولا يستقبل الشمس ولا القمر،

--------------------------------------------

1 سورة الإخلاص آية: 1.
এটি পবিত্র হওয়া আবশ্যক; যদি তা অপবিত্র হয়, তবে তা যথেষ্ট হবে না। ইমাম শাফেঈও এই মত পোষণ করেছেন। আর আবু হানিফা বলেছেন: এটি যথেষ্ট হবে। আমাদের দলিল হলো গোবর সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "এটি অপবিত্র", অর্থাৎ নাপাক। এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

গোবর এবং হাড় দিয়ে ইস্তিনজা করা জায়েজ নয়। আবু হানিফা বলেছেন: জায়েজ। আর ইমাম মালিক এগুলোর মধ্য থেকে যেগুলো পবিত্র, তা দিয়ে ইস্তিনজা করা বৈধ বলেছেন। আমাদের দলিল হলো যা ইমাম মুসলিম ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপভাবে খাদ্যের বিধানও তাই; কারণ তিনি (রাসূলুল্লাহ) হাড় ও গোবর দিয়ে ইস্তিনজা করতে নিষেধ করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, এগুলো জিনদের খাদ্য। সুতরাং আমাদের খাদ্য তো (নিষেধ হওয়ার ক্ষেত্রে) আরও বেশি অগ্রগণ্য।

তিনবার মোছার কম যথেষ্ট হবে না, চাই তা একটি পাথরের তিন কোণ দিয়ে হোক অথবা তিনটি পাথর দিয়ে। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অন্য মতে: তিনটি পাথরের কম যথেষ্ট হবে না, যা ইবনুল মুনযিরের অভিমত। আর 'ইনকা' বা পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা শর্ত, যা হলো নাপাকি ও তার আর্দ্রতা দূর করা। ইমাম মালিক বলেছেন: যদি পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয় তবে নির্ধারিত সংখ্যার কম হলেও যথেষ্ট হবে। আমাদের দলিল হলো সালমানের বর্ণিত হাদিস। আর বিজোড় সংখ্যায় শেষ করবে, আবু হুরাইরার হাদিসের কারণে। বিরলভাবে নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রেও স্বাভাবিক অভ্যাসের মতোই যথেষ্ট হবে। তবে ইমাম শাফেঈর অনুসারীদের একটি মত হলো: বিরলভাবে নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রে তা যথেষ্ট হবে না; কারণ তিনি (রাসূলুল্লাহ) মাযী নির্গত হলে লিঙ্গ ধৌত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

বায়ু ব্যতীত অন্য সকল নির্গত বস্তুর ক্ষেত্রে ইস্তিনজা করা ওয়াজিব। অধিকাংশ আলেমগণের এটিই অভিমত, অর্থাৎ সাধারণভাবে ইস্তিনজা ওয়াজিব হওয়া। ইবনে সিরিন থেকে বর্ণিত হয়েছে যে ব্যক্তি কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি করল কিন্তু ইস্তিনজা করেনি, তার ক্ষেত্রে তিনি বলেছেন: আমি এতে কোনো সমস্যা দেখি না। এটি আবু হানিফারও মাযহাব। যদি কেউ ইস্তিনজার পূর্বে অজু করে, তবে তার অজু কি সহিহ হবে? এ ব্যাপারে দুটি রেওয়ায়েত রয়েছে। দ্বিতীয়টি হলো: সহিহ হবে, আর এটিই অধিক বিশুদ্ধ এবং এটি ইমাম শাফেঈর মাযহাব।

এখান থেকে অধ্যায়ের শেষ পর্যন্ত "আল-ইনসাফ" গ্রন্থ থেকে গৃহীত:

ইমাম আহমাদ দিরহামের বিষয়ে বলেছেন যে, যদি তাতে আল্লাহর নাম থাকে অথবা তাতে লেখা থাকে {বলুন, তিনি আল্লাহ এক} ১ তবে আল্লাহর নাম নিয়ে শৌচাগারে প্রবেশ করা মাকরূহ। আর মাটির নিকটবর্তী হওয়ার আগে কাপড় ওঠাবে না। প্রয়োজন না থাকলে এটি মাকরূহ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে; শেখ 'শারহুল উমদাহ' গ্রন্থে এটি নিশ্চিতভাবে ব্যক্ত করেছেন। আবার এটি হারাম হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে, যা আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি রেওয়ায়েত।

হাঁচিদাতার প্রশংসা (আলহামদুলিল্লাহ বলা) এবং মুয়াজ্জিনের উত্তর মনে মনে দিবে। মুখে উচ্চারণ করা মাকরূহ; তাঁর (আহমাদ) থেকে বর্ণিত অন্য মতে: মাকরূহ নয়। শেখ বলেছেন: শৌচাগারে থাকাকালীন মুয়াজ্জিনের উত্তর দিবে।

সূর্য ও চন্দ্রকে সামনে রাখবে না,

--------------------------------------------

১. সূরা আল-ইখলাস, আয়াত: ১।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২৬)
وقيل: لا يكره، اختاره في الفائق. ويحرم استقبال القبلة واستدبارها في الفضاء والبنيان، اختاره الشيخ وابن القيم، ويكفي انحرافه. وظاهر كلام صاحب المحرر وحفيد: لا يكفي. وإذا فرغ مسح … إلخ. وقال الشيخ: يكره السلت والنتر.

وظاهر كلام المصنف: لا يتنحنح، ولا يمشي بعد فراغه وقبل الاستنجاء، قال الشيخ: كل ذلك بدعة. واختار أنه يستجمر في الصفحتين والحشفة وغير ذلك، للعموم. ولا يجب غسل ما أمكن من داخل فرج ثيب من نجاسة وجنابة، نص عليه، واختاره المجد وحفيده. وأثر الاستجمار نجس يعفى عن يسيره، وعنه: طاهر.

وظاهر كلام المصنف: جواز الاستجمار بالمغصوب، واختاره الشيخ في قواعده1. واختار الإجزاء بالروث والعظام، قال: لأنه لم ينه عنه لكونه لا ينقى، بل لإفساده. فإذا قيل يزول بطعامنا مع التحريم، فهذا أولى. واختار في قواعده الإجزاء بالمطعوم ونحوه.

--------------------------------------------

1 اختيار الشيخ في الإنصاف اشتراط إباحة المستجمر به.
এবং বলা হয়েছে: এটি অপছন্দনীয় নয়, যা 'আল-ফায়িক' গ্রন্থে পছন্দ করা হয়েছে। আর খোলা ময়দানে এবং দালানকোঠার ভেতরে কিবলার দিকে মুখ করা এবং কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া হারাম; শায়খ এবং ইবনুল কায়্যিম এই মতটিই পছন্দ করেছেন এবং সামান্য পাশ ফিরে থাকাই যথেষ্ট। 'আল-মুহাররার' গ্রন্থের লেখক ও তাঁর পৌত্রের কথার বাহ্যিক অর্থ হলো: এটি যথেষ্ট নয়। আর যখন সে অবসর হবে, তখন মুছবে … ইত্যাদি। শায়খ বলেছেন: (লিঙ্গ) নিংড়ানো এবং ঝাড়া অপছন্দনীয়।

লেখকের কথার বাহ্যিক অর্থ হলো: সে গলা খাঁকারি দেবে না এবং হাজত শেষ করার পর ও ইস্তিনজা করার আগে হাঁটবে না; শায়খ বলেছেন: এসবই বিদআত। তিনি পছন্দ করেছেন যে, নিতম্বের দুই পাশ, লিঙ্গাগ্র এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ইস্তিজমার করবে, ব্যাপকতার কারণে। আর সায়্যিবা (বিবাহিতা) নারীর লজ্জাস্থানের যতটুকু ভেতরের অংশ ধোয়া সম্ভব, অপবিত্রতা ও জানাবাত থেকে তা ধোয়া ওয়াজিব নয়; তিনি এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন এবং আল-মাজদ ও তাঁর পৌত্র এটি পছন্দ করেছেন। ইস্তিজমারের পর অবশিষ্ট চিহ্ন নাপাক যা সামান্য হলে ক্ষমার যোগ্য; তবে তাঁর থেকে অন্য বর্ণনায় রয়েছে যে: তা পাক।

লেখকের কথার বাহ্যিক অর্থ হলো: জোরপূর্বক দখলকৃত বস্তু দিয়ে ইস্তিজমার করা জায়েজ এবং শায়খ তাঁর 'কাওয়াইদ' গ্রন্থে এটিই পছন্দ করেছেন১। তিনি গোবর ও হাড় দিয়ে ইস্তিজমার করা যথেষ্ট হওয়ার মত গ্রহণ করেছেন; তিনি বলেন: কারণ এটি পরিষ্কার করতে পারে না বলে একে নিষিদ্ধ করা হয়নি, বরং এটি নষ্ট করার কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুতরাং যদি বলা হয় যে হারামের পাশাপাশি আমাদের খাদ্য দ্বারা নাপাকি দূরীভূত হয়, তবে এটি অধিক যুক্তিযুক্ত। তিনি তাঁর 'কাওয়াইদ' গ্রন্থে খাদ্যদ্রব্য ও তদ্রূপ বস্তু দিয়ে ইস্তিজমার করা যথেষ্ট হওয়ার মত পছন্দ করেছেন।

--------------------------------------------

১ 'আল-ইনসাফ' গ্রন্থে শায়খের পছন্দ হলো ইস্তিজমারে ব্যবহৃত বস্তুটি বৈধ হওয়ার শর্ত থাকা।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌باب السواك وسنية الوضوء

…

باب السواك وسنة الوضوء

والسواك مسنون في جميع الأوقات، لا نعلم خلافاً في استحبابه وتأكده، إلا للصائم بعد الزوال، ولا نعلم أحداً، قال بوجوبه إلا إسحاق وداود.

و"يتأكد استحبابه عند الصلاة وعند القيام من النوم"، لحديث حذيفة، وعند تغير رائحة الفم. ويستاك على أسنانه ولسانه، لقول أبي موسى: "رأيت النبي صلى الله عليه وسلم يستاك على لسانه"1. متفق عليه.

فإن استاك بأصبعه أو خرقة، فهل يصيب السنة؟ على وجهين: أحدهما: لا يصيب. والثاني: يصيب بقدر ما يحصل من الإنقاء. ولا يترك القليل من السنة للعجز عن كثيرها، وهو الصحيح، لحديث أنس، مرفوعاً: "يجزئ من السواك الأصابع". رواه البيهقي، قال محمد بن عبد الواحد الحافظ: هذا إسناده لا أرى به بأساً.

ويستاك عرضاً، فإن استاك على لسانه طولاً، فلا بأس، لحديث أبي موسى: "دخلت عليه وهو واضع طرف السواك على لسانه، يستن إلى فوق".

ويدّهن غباً، لنهيه عن الترجل إلا غباً، قال أحمد: معناه يدهن يوماً ويوماً، ولأبي داود عنه صلى الله عليه وسلم: "من اكتحل فليوتر، من فعل فقد أحسن، ومن لا فلا حرج" 2.

فصول في الفطرة.

روى أبو هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "الفطرة خمس: الختان، الاستحداد، وقص الشارب، وتقليم الأظافر، ونتف الإبط" 3.

--------------------------------------------

1 مسلم: الطهارة (254) ، والنسائي: الطهارة (3) ، وأبو داود: الطهارة (49) ، وأحمد (4/416) .

2 أبو داود: الطهارة (35) ، وأحمد (2/351، 2/356، 2/371) ، والدارمي: الطهارة (662) .

3 البخاري: اللباس (5891) ، ومسلم: الطهارة (257) .
মিসওয়াক এবং ওযুর সুন্নাতসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়

…

মিসওয়াক এবং ওযুর সুন্নাতসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়

মিসওয়াক করা সর্বাবস্থায় সুন্নাত। এর মুস্তাহাব হওয়া এবং তাকিদপূর্ণ হওয়ার ব্যাপারে আমাদের জানামতে কোনো মতভেদ নেই, কেবল রোযাদারের জন্য সূর্য ঢলে পড়ার (যাওয়াল) পরের সময়টি ব্যতীত। ইসহাক এবং দাউদ ব্যতীত অন্য কেউ এটি ওয়াজিব হওয়ার কথা বলেছেন বলে আমাদের জানা নেই।

আর "সালাতের সময় এবং ঘুম থেকে ওঠার সময় এর মুস্তাহাব হওয়ার গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়," হুযায়ফা বর্ণিত হাদীসের কারণে এবং মুখের দুর্গন্ধ পরিবর্তনের সময়। সে তার দাঁত ও জিহ্বার ওপর মিসওয়াক করবে, আবু মুসার এই উক্তির কারণে: "আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর জিহ্বার ওপর মিসওয়াক করতে দেখেছি।"১। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)।

যদি কেউ তার আঙুল দিয়ে অথবা কোনো ন্যাকড়া দিয়ে মিসওয়াক করে, তবে কি সুন্নাত আদায় হবে? এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে: প্রথমটি হলো—সুন্নাত আদায় হবে না। দ্বিতীয়টি হলো—পরিচ্ছন্নতা যতটুকু অর্জিত হবে, সেই পরিমাণ সুন্নাত আদায় হবে। আর অধিক পরিমাণ পালনে অক্ষমতার কারণে সুন্নাতের সামান্য অংশও ছেড়ে দেওয়া যাবে না; আর এটাই সঠিক মত। আনাস থেকে বর্ণিত মারফু হাদীসের কারণে: "আঙুলগুলো মিসওয়াকের অভাব পূরণ করবে।" এটি বাইহাকী বর্ণনা করেছেন; হাফেজ মুহাম্মদ ইবনুল আব্দুল ওয়াহিদ বলেন: এই সনদে আমি কোনো সমস্যা দেখছি না।

সে আড়াআড়িভাবে মিসওয়াক করবে। তবে যদি জিহ্বার ওপর লম্বালম্বিভাবে মিসওয়াক করে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। আবু মুসার হাদীসের কারণে: "আমি তাঁর নিকট প্রবেশ করলাম এমতাবস্থায় যে, তিনি মিসওয়াকের এক প্রান্ত তাঁর জিহ্বার ওপর রেখেছিলেন এবং উপরের দিকে ঘষছিলেন।"

সে একদিন অন্তর একদিন তেল ব্যবহার করবে; কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন অন্তর ছাড়া চুল আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন। ইমাম আহমাদ বলেন: এর অর্থ হলো—একদিন তেল মাখবে এবং একদিন মাখবে না। আবু দাউদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি সুরমা ব্যবহার করে, সে যেন বিজোড় সংখ্যা রক্ষা করে। যে তা করল সে উত্তম কাজ করল, আর যে করল না তার কোনো সমস্যা নেই।"২।

ফিতরাত (স্বভাবজাত সুন্নাত) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদসমূহ।

আবু হুরায়রা বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "ফিতরাত পাঁচটি: খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছোট করা, নখ কাটা এবং বগলের লোম উপড়ানো।"৩।

--------------------------------------------

১. মুসলিম: পবিত্রতা (২৫৪), নাসায়ী: পবিত্রতা (৩), আবু দাউদ: পবিত্রতা (৪৯), আহমাদ (৪/৪১৬)।

২. আবু দাউদ: পবিত্রতা (৩৫), আহমাদ (২/৩৫১, ২/৩৫৬, ২/৩৭১), দারেমী: পবিত্রতা (৬৬২)।

৩. বুখারী: পোশাক-পরিচ্ছদ (৫৮৯১), মুসলিম: পবিত্রতা (২৫৭)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২৮)
متفق عليه. ثم ذكر حديث ابن الزبير عن عائشة، مرفوعاً: "عشر من الفطرة". 1 أخرجه مسلم.

وسئل أحمد عن الرجل يأخذ من شعره وأظفاره، أيدفنه أم يلقيه؟ قال: يدفنه. قيل له: بلغك فيه شيء؟ قال: "كان ابن عمر يدفنه".

قيل لأحمد: ترى أن يأخذ الرجل سفلته - أي عانته – بالمقراض، وإن لم يستقص؟ قال: أرجو أن يجزيه، إن شاء الله.

ويستحب إعفاء اللحية، وهل يكره أخذ ما زاد على القبضة; فيه وجهان: أحدهما: يكره، لحديث ابن عمر، مرفوعاً: "خالفوا المشركين، احفو الشوارب وأوفوا اللحى". 2 متفق عليه. والثاني: "لا يكره، لأن ابن عمر كان يفعله"، رواه البخاري.

وسئل أحمد عن: الرجل يتخذ الشعر؟ قال: سنة حسنة، لو أمكننا اتخذناه. وقال: "كان للنبي صلى الله عليه وسلم جمة". و"يستحب أن يكون شعر الإنسان على صفة شعر النبي صلى الله عليه وسلم إذا طال فإلى المنكب، وإذا قصر فإلى شحمة الأذن". وإن طوّله فلا بأس نص عليه. وقال أبو عبيدة: "كان له عقيصتان، وعثمان كان له عقيصتان". ويستحب ترجيل الشعر وإكرامه، لقوله صلى الله عليه وسلم: "من كان له شعر فليكرمه". 3 رواه أبو داود. ويستحب فرقه، "لأنه صلى الله عليه وسلم فرق وذكره في الفطرة".

وهل يكره حلق الرأس في غير الحج والعمرة؟ فيه روايتان: إحداهما: يكره، لقوله في الخوارج: "سيماهم التحليق ". 4 والثانية: لا، "لنهيه صلى الله عليه وسلم عن القزع"، وقال: "احلقه كله، أو دعه كله". رواه أبو داود، قال ابن عبد البر: أجمع العلماء في جميع الأمصار على إباحة الحلق، وكفى بهذا حجة.

فأما أخذه بالمقراض، فلا بأس، رواية واحدة؛ قال أحمد: إنما كرهوا الحلق بالموسى، وأما المقراض فليس به بأس. وحلقه للمرأة

--------------------------------------------

1 مسلم: الطهارة (261) ، والترمذي: الأدب (2757) ، والنسائي: الزينة (5040، 5041، 5042) ، وأبو داود: الطهارة (53) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (293) ، وأحمد (6/137) .

2 مسلم: الطهارة (259) .

3 أبو داود: الترجل (4163) .

4 البخاري: التوحيد (7562) .
এটি সর্বসম্মত (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। এরপর তিনি আয়েশা (রা.) থেকে ইবনুল জুবাইরের বর্ণিত মারফু হাদীস উল্লেখ করেছেন: "দশটি বিষয় ফিতরাতের অন্তর্ভুক্ত।" ১ এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমাদকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে তার চুল ও নখ কাটে, সে কি তা দাফন করবে নাকি ফেলে দেবে? তিনি বললেন: সে তা দাফন করবে। তাকে বলা হলো: এ বিষয়ে কি আপনার কাছে কোনো বর্ণনা পৌঁছেছে? তিনি বললেন: "ইবনে উমর তা দাফন করতেন।"

আহমাদকে বলা হলো: আপনি কি মনে করেন যে একজন ব্যক্তি কাঁচি দিয়ে তার নিম্নাঙ্গের পশম—অর্থাৎ নাভির নিচের পশম—কাটতে পারে, যদিও তা পুরোপুরি পরিষ্কার না করা হয়? তিনি বললেন: আমি আশা করি ইনশাআল্লাহ এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে।

দাড়ি ছেড়ে দেওয়া মুস্তাহাব। আর এক মুষ্টির অতিরিক্ত অংশ কাটা মাকরূহ কি না; এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে: প্রথমটি: এটি মাকরূহ, কারণ ইবনে উমরের মারফু হাদীসে এসেছে: "তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা করো; গোঁফ ছোট করো এবং দাড়ি লম্বা করো।" ২ এটি সর্বসম্মত। দ্বিতীয়টি: "এটি মাকরূহ নয়, কারণ ইবনে উমর এমনটি করতেন", এটি বুখারী বর্ণনা করেছেন।

ইমাম আহমাদকে এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো যে চুল রাখে? তিনি বললেন: এটি একটি উত্তম সুন্নাত, যদি আমাদের জন্য সম্ভব হতো তবে আমরাও তা রাখতাম। তিনি আরও বললেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জুম্মাহ (কাঁধ পর্যন্ত লম্বা চুল) ছিল।" এবং "মানুষের চুল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুলের বৈশিষ্ট্যের অনুরূপ হওয়া মুস্তাহাব; যদি লম্বা হয় তবে কাঁধ পর্যন্ত, আর যদি ছোট হয় তবে কানের লতি পর্যন্ত।" আর যদি কেউ এর চেয়েও লম্বা করে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই, যা দালিলিক ভাষ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। আবু উবায়দাহ বলেন: "তাঁর দুটি বেণি ছিল এবং উসমানেরও দুটি বেণি ছিল।" চুল আঁচড়ানো এবং তার যত্ন নেওয়া মুস্তাহাব, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যার চুল আছে সে যেন তার যত্ন নেয়।" ৩ এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আর চুলে সিঁথি করা মুস্তাহাব, "কারণ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিঁথি করতেন এবং ফিতরাতের বর্ণনায় এটি উল্লেখ করেছেন।"

হজ্জ ও উমরাহ ছাড়া অন্য সময়ে মাথা মুণ্ডানো কি মাকরূহ? এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে: একটি হলো: এটি মাকরূহ, কারণ খারেজীদের সম্পর্কে বলা হয়েছে: "তাদের লক্ষণ হলো মাথা মুণ্ডানো।" ৪ দ্বিতীয়টি হলো: না, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'কাযা' (মাথার কিছু অংশ মুণ্ডানো এবং কিছু অংশ রাখা) থেকে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন: "হয় পুরোটা মুণ্ডন করো অথবা পুরোটা ছেড়ে দাও।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। ইবনে আব্দুল বার বলেন: সকল অঞ্চলের আলেমগণ মাথা মুণ্ডানো জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেছেন এবং এটিই প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।

আর কাঁচি দিয়ে চুল কাটার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা নেই, এটিই একমাত্র বর্ণনা; আহমাদ বলেছেন: তারা কেবল ক্ষুর দিয়ে মাথা মুণ্ডানো মাকরূহ মনে করতেন, আর কাঁচি দিয়ে কাটাতে কোনো সমস্যা নেই। আর নারীর জন্য মাথা মুণ্ডানো...

--------------------------------------------

১ মুসলিম: তাহারাত (২৬১), তিরমিজী: আদব (২৭৫৭), নাসাঈ: যিনাহ (৫০৪০, ৫০৪১, ৫০৪২), আবু দাউদ: তাহারাত (৫৩), ইবনে মাজাহ: তাহারাত ও তার সুন্নাতসমূহ (২৯৩), আহমাদ (৬/১৩৭)।

২ মুসলিম: তাহারাত (২৫৯)।

৩ আবু দাউদ: আত-তারাজ্জুল (৪১৬৩)।

৪ বুখারী: আত-তাওহীদ (৭৫৬২)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ২৯)
مكروه، رواية واحدة إلا لضرورة. قيل لأحمد: لا نقدر على الدهن وما يصلحه يقع فيه الدواب، فقال: إن كان لضرورة، فأرجو أن لا يكون به بأس.

ويكره نتف الشيب، لحديث عمرو بن شعيب، وروي عنه صلى الله عليه وسلم: "أنه لعن الواصلة والمستوصلة، والنامصة والمتنمصة، والواشرة والمستوشرة"، فهذه الخصال محرمة لأن النبي صلى الله عليه وسلم لعن فاعلها. وأما الواصلة بغير الشعر، فإن كان مما يشد به فلا بأس، وإن كان أكثر من ذلك ففيه روايتان.

والنامصة: التي تنتف الشعر من الوجه. وإن حلقه فلا بأس، لأن الخبر ورد في النتف، نص عليه. والواشرة: التي تبرد الأسنان لتحددها وتفلجها وتحسنها. وفي خبر آخر: "لعن الله الواشمة والمستوشمة" 1."ويستحب الطيب لأنه يعجبه صلى الله عليه وسلم".

والنظر في المرآة، قال حنبل: كان لأبي عبد الله صينية فيها مرآة ومكحلة ومشط، فإذا فرغ من قراءة حزبه نظر في المرآة واكتحل وامتشط. ولأحمد عن أبي أيوب، مرفوعا: ً "أربع من سنن المرسلين: الحياء والتعطر والسواك والنكاح" 2.

ويستحب خضاب الشيب بغير السواد. قيل لأحمد: تكره الخضاب بالسواد؟ قال: إي والله، لقوله صلى الله عليه وسلم في حديث أبي بكر: "وجنبوه السواد". ويكره القزع وهو: حلق بعض الرأس، لنهيه عنه. ويجب الختان ما لم يخف على نفسه، لقوله لرجل أسلم: "ألق عنك شعر الكفر، واختتن". 3 رواه أبو داود، قال أحمد: "كان ابن عباس يشدد

--------------------------------------------

1 البخاري: الطلاق (5347) ، وأحمد (4/308) .

2 الترمذي: النكاح (1080) ، وأحمد (5/421) .

3 أبو داود: الطهارة (356) ، وأحمد (3/415) .
মাকরূহ, এক বর্ণনা মতে এটি মাকরূহ, তবে প্রয়োজন ব্যতীত। আহমদকে বলা হলো: আমরা তেল এবং তার উপযুক্ত আধারের সামর্থ্য রাখি না, যাতে কীটপতঙ্গ পড়ে যায়। তিনি বললেন: যদি তা প্রয়োজনের কারণে হয়, তবে আমি আশা করি তাতে কোনো অসুবিধা নেই।

পাকা চুল উপড়ানো মাকরূহ, আমর বিন শুআইবের বর্ণিত হাদিসের কারণে। আর তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে: "তিনি অভিশাপ দিয়েছেন ওই নারীকে যে নিজের চুলে অন্য চুল জোড়া দেয় এবং যে জোড়া দেওয়ায়, আর ওই নারীকে যে ভ্রু বা মুখমন্ডলের লোম উপড়ায় এবং যে উপড়ানোয়, আর ওই নারীকে যে দাঁত ঘষে চিকন করে এবং যে তা করায়।" এই স্বভাবগুলো হারাম, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর সম্পাদনকারীকে অভিসম্পাত করেছেন। আর চুল ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে জোড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে, যদি তা এমন হয় যা দিয়ে চুল বেঁধে রাখা হয়, তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। আর যদি তা তার চেয়ে বেশি হয়, তবে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

‘নামিসাহ’ হলো: যে মুখমন্ডল থেকে লোম উপড়ায়। আর যদি তা মুণ্ডন করা হয় তবে কোনো অসুবিধা নেই, কারণ বর্ণনাটি উপড়ানোর বিষয়ে এসেছে, তিনি (আহমদ) এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। ‘ওয়াশিরাহ’ হলো: যে দাঁত ঘষে যাতে তা ধারালো হয়, ফাঁক তৈরি হয় এবং সুন্দর দেখায়। অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে: "আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন উল্কি অংকনকারী নারীকে এবং যে উল্কি করায়" ১। "সুগন্ধি ব্যবহার করা মুস্তাহাব, কারণ এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিকট পছন্দনীয় ছিল।"

আয়নায় তাকানো; হাম্বল বলেন: আবু আব্দুল্লাহর একটি তশতরি ছিল যাতে আয়না, সুরমাদানি এবং চিরুনি থাকত। তিনি যখন তাঁর দৈনিক পাঠ (হিজব) শেষ করতেন, তখন আয়নায় তাকাতেন, সুরমা লাগাতেন এবং চুল আঁচড়াতেন। আর আহমদের বর্ণনায় আবু আইয়ুব থেকে মারফু হাদিসে বর্ণিত: "চারটি বিষয় রাসূলদের সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত: লজ্জা, সুগন্ধি ব্যবহার, মিসওয়াক এবং বিবাহ" ২।

কালো রং ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে পাকা চুলে খেজাব লাগানো মুস্তাহাব। আহমদকে জিজ্ঞাসা করা হলো: আপনি কি কালো রং দিয়ে খেজাব লাগানো অপছন্দ করেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ আল্লাহর কসম, কারণ আবু বকরের হাদিসে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী হলো: "এবং তাকে কালো রং থেকে বাঁচিয়ে রেখো"। ‘কাযা’ (মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা) মাকরূহ, কারণ তা নিষেধ করা হয়েছে। খতনা করা ওয়াজিব যতক্ষণ না নিজের প্রাণের ভয় থাকে, কারণ ইসলাম গ্রহণকারী এক ব্যক্তিকে তিনি বলেছিলেন: "তোমার থেকে কুফরের চুল ফেলে দাও এবং খতনা করো" ৩। এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। আহমদ বলেন: "ইবনে আব্বাস এ বিষয়ে কঠোরতা করতেন...

--------------------------------------------

১. আল-বুখারি: আত-তালাক (৫৩৪৭), এবং আহমদ (৪/৩০৮)।

২. আত-তিরমিজি: আন-নিকাহ (১০৮০), এবং আহমদ (৫/৪২১)।

৩. আবু দাউদ: আত-তহারাহ (৩৫৬), এবং আহমদ (৩/৪১৫)।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৩০)
في أمره". وروي عنه: "لا حج له ولا صلاة". 1 ورخص الحسن في تركه قال: "قد أسلم الأسود والأبيض ولم يفتش واحد منهم، ولم يختتنوا". ويشرع في حق النساء، بقوله: "إذا التقى الختانان وجب الغسل". 2 قال مالك: يختتن يوم أسبوعه، وقال أحمد: لم أسمع فيه شيئاً. قال ابن المنذر: ليس فيه خبر حتى يرجع إليه ولا سنة تتبع، والأشياء على الإباحة.

ويتيامن في سواكه وطهوره وانتعاله ودخوله المسجد، لقول عائشة: "كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يحب التيمن في تنعله وترجله وطهوره، وفي شأنه كله". 3 متفق عليه.

(فصل) : وسنن الوضوء عشر:

السواك، لقوله: "لولا أن أشق على أمتي لأمرتهم مع كل وضوء بسواك". 4 رواه أحمد.

والتسمية، وعنه: أنها واجبة مع الذكر، لقوله: "لا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه". 5 رواه أبو داود، وقال أحمد: ليس في هذا حديث.

وغسل الكفين إن لم يكن قائما من نوم الليل، وإلا ففي وجوبه روايتان، لأن الذين وصفوا وضوءه صلى الله عليه وسلم ذكروا: "أنه غسَل كفيه ثلاثاً"، وأما عند القيام من نوم الليل، فروي عنه: أنه مستحب، وهو قول مالك والشافعي وابن المنذر، لأن الله قال: {إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ} 6 الآية. والحديث محمول على الاستحباب. وهذا هو الصحيح إن شاء الله.

--------------------------------------------

1 ابن ماجة: إقامة الصلاة والسنة فيها (1081) .

2 الترمذي: الطهارة (109) ، وأحمد (6/47، 6/97، 6/112، 6/123، 6/135، 6/161، 6/227، 6/239) ، ومالك: الطهارة (104، 105، 106) .

3 صحيح البخاري: كتاب الوضوء (168) ، وصحيح مسلم: كتاب الطهارة (268) .

4 أحمد (2/460) .

5 الترمذي: الطهارة (25) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (398) .

6 سورة المائدة آية: 6.
"তাঁর নির্দেশের ব্যাপারে"। এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে: "তার কোনো হজ নেই এবং কোনো সালাত নেই"। ১ আর হাসান (বাসরি) এটি বর্জন করার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করেছেন, তিনি বলেছেন: "কালো এবং সাদা বহু মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন অথচ তাদের কাউকেই তল্লাশি করা হয়নি এবং তারা খতনাও করেননি।" আর এটি নারীদের ক্ষেত্রেও বিধিবদ্ধ, তাঁর (রাসূলের) বাণীর কারণে: "যখন দুটি খতনাকৃত স্থান মিলিত হয়, তখন গোসল ওয়াজিব হয়।" ২ ইমাম মালিক বলেছেন: তার (জন্মের) সপ্তম দিনে খতনা করা হবে, আর ইমাম আহমাদ বলেছেন: আমি এ বিষয়ে কোনো কিছু শুনিনি। ইবনুল মুনযির বলেছেন: এ ব্যাপারে এমন কোনো বর্ণনা নেই যার দিকে প্রত্যাবর্তন করা যায় এবং এমন কোনো সুন্নাহ নেই যা অনুসরণ করা হবে, আর বিষয়গুলো মূলত বৈধতার মূলনীতির ওপর নির্ভরশীল।

আর মেসওয়াক করা, পবিত্রতা অর্জন করা, জুতা পরিধান করা এবং মসজিদে প্রবেশ করার সময় ডান দিক থেকে শুরু করা মুস্তাহাব। কারণ আয়েশা (রা.)-এর উক্তি: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জুতা পরিধান করা, চুল আঁচড়ানো, পবিত্রতা অর্জন করা এবং তাঁর প্রতিটি কাজেই ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করতেন।" ৩ এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

(পরিচ্ছেদ): ওজুর সুন্নাত দশটি:

মেসওয়াক করা, তাঁর বাণীর কারণে: "যদি না আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর মনে করতাম, তবে আমি তাদের প্রতি প্রতিটি ওজুর সাথে মেসওয়াক করার নির্দেশ দিতাম।" ৪ এটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন।

এবং তাসমিয়াহ (আল্লাহর নাম নেওয়া), আর তাঁর (আহমাদ) থেকে বর্ণিত যে: স্মরণে থাকলে এটি ওয়াজিব, রাসূলের (সা.) বাণীর কারণে: "তার ওজু নেই যে তাতে আল্লাহর নাম স্মরণ করেনি।" ৫ এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমাদ বলেছেন: এ বিষয়ে কোনো (সহিহ) হাদিস নেই।

আর দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত ধোয়া যদি রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার কারণে না হয়, অন্যথায় এর ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে দুটি বর্ণনা রয়েছে। কারণ যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজুর বর্ণনা দিয়েছেন তারা উল্লেখ করেছেন যে: "তিনি তাঁর কব্জি পর্যন্ত হাত দু'টি তিনবার ধুয়েছেন।" আর যখন রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়ার বিষয়টি আসে, তখন তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে যে এটি মুস্তাহাব। এটি ইমাম মালিক, শাফেয়ি এবং ইবনুল মুনযিরের অভিমত। কারণ আল্লাহ বলেছেন: {যখন তোমরা সালাতের জন্য দণ্ডায়মান হবে, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল এবং তোমাদের হাতগুলো ধৌত করো} ৬ - এই আয়াত। আর হাদিসটি মুস্তাহাব হওয়ার অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে। আর এটিই সঠিক মত, ইনশাআল্লাহ।

--------------------------------------------

১ ইবনে মাজাহ: ইকামাতুস সালাত ওয়াস-সুন্নাতু ফিহা (১০৮১)।

২ তিরমিযি: আত-তাহারাহ (১০৯), এবং আহমাদ (৬/৪৭, ৬/৯৭, ৬/১১২, ৬/১২৩, ৬/১৩৫, ৬/১৬১, ৬/২২৭, ৬/২৩৯), এবং মালিক: আত-তাহারাহ (১০৪, ১০৫, ১০৬)।

৩ সহিহ বুখারি: কিতাবুল ওজু (১৬৮), এবং সহিহ মুসলিম: কিতাবুত তাহারাহ (২৬৮)।

৪ আহমাদ (২/৪৬০)।

৫ তিরমিযি: আত-তাহারাহ (২৫), এবং ইবনে মাজাহ: আত-তাহারাহ ওয়া সুনানুহা (৩৯৮)।

৬ সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ৬।
(খণ্ড: ১) মুখতাসারুল ইনসাফ ওয়াস শারহুল কাবীর (মাতবু দিমনা মাজমুআতি মুয়াল্লাফাতিশ শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব, আল-জুযউস সানি) (পৃষ্ঠা: ৩১)
والبداءة بالمضمضة والاستنشاق والمبالغة فيهما، إلا أن يكون صائماً، لأن الذين وصفوا وضوءه صلى الله عليه وسلم ذكروا ذلك - أي الابتداء بهما - قبل الوجه.

والمبالغة سنة، لقوله: "أسبغ الوضوء، وخلل الأصابع، وبالغ في الاستنشاق، إلا أن تكون صائماً". 1 صححه الترمذي، وقسنا عليه المضمضة، لأنها من الإسباغ.

ويستحب المبالغة في سائر الأعضاء بالتخليل ودلك المواضع التي ينبو عنها الماء. و"يستحب مجاوزة موضع الوجوب بالغسل"، لحديث أبي هريرة، وتخليل اللحية، لحديث عثمان: "أنه صلى الله عليه وسلم كان يخلل لحيته". 2 صححه الترمذي. ويستحب أن يتعهد بقية شعور وجهه، ويمسح مآقيه، 3 لما روى أبو داود: "كان النبي صلى الله عليه وسلم يمسح المأقين"، 4 وتخليل أصابع اليدين والرجلين، لما تقدم، وهو في الرجلين آكد، لقول المستورد: "رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا توضأ دلك أصابع رجليه بخنصره". 5 رواه أبو داود. وذكر ابن عقيل في استحباب تخليل أصابع اليدين روايتين: إحداهما: يستحب، لقوله: "إذا توضأت فخلل أصابع يديك ورجليك". 6 حسنه الترمذي.

و"لا خلاف في استحباب البداءة باليمنى"، لحديث عائشة، قال أحمد: أنا أستحب أن يأخذ لأذنيه ماء جديداً؛ وهو قول مالك والشافعي. وقال ابن المنذر: ليس بمسنون. وحكى رواية عن أحمد، لأنه غير موجود في الأخبار، ولأن في حديث الرُّبيع: "مسح برأسه وأذنيه مرة واحدة". 7 رواه أبو داود. والغسلة الثانية والثالثة، أي: سنة وليس بواجب، لأنه توضأ مرة مرة. رواه البخاري

--------------------------------------------

1 الترمذي: الصوم (788) ، والنسائي: الطهارة (87، 114) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (407، 448) ، والدارمي: الطهارة (705) .

2 الترمذي: الطهارة (31) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (430) .

3 مأق العين: مقدمها. وجمعه مآق. ومؤقها: مؤخرها. وجمعه آماق.

4 أبو داود: الطهارة (134) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (444) .

5 الترمذي: الطهارة (40) ، وأبو داود: الطهارة (148) ، وابن ماجة: الطهارة وسننها (446) ، وأحمد (4/229) .

6 الترمذي: الطهارة (39) .

7 الترمذي: الطهارة (34) ، وأبو داود: الطهارة (129) .
কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার মাধ্যমে ওযু শুরু করা এবং এই দুই কাজে অতিরঞ্জন (গভীরভাবে করা) করা সুন্নাত, তবে রোজা রাখা অবস্থায় ব্যতীত। কেননা যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওযুর বর্ণনা দিয়েছেন, তারা মুখমণ্ডল ধোয়ার আগেই এ দুটি বিষয়—অর্থাৎ এ দুটি দিয়ে শুরু করার কথা—উল্লেখ করেছেন।

আর অতিরঞ্জন করা সুন্নাত, তাঁর এই বাণীর কারণে: "ওযু পূর্ণ করো, আঙুলসমূহ খিলাল করো এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন করো, যদি না তুমি রোজা অবস্থায় থাকো।" ১ তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন। আমরা কুলি করাকেও এর ওপর কিয়াস (অনুমান) করেছি, কারণ এটিও ওযু পূর্ণ করার অন্তর্ভুক্ত।

আর খিলাল করার মাধ্যমে অন্যান্য অঙ্গগুলোতে অতিরঞ্জন করা এবং যেসব স্থান থেকে পানি সরে যায় সেখানে ঘর্ষণ করা মুস্তাহাব। আর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসের কারণে "ধোয়ার ক্ষেত্রে ওয়াজিব সীমানা অতিক্রম করা মুস্তাহাব"। আর দাড়ি খিলাল করা মুস্তাহাব, ওসমানের হাদীসের কারণে: "নিশ্চয়ই তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দাড়ি খিলাল করতেন।" ২ তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন। আর চেহারার বাকি পশমগুলোর যত্ন নেওয়া এবং চোখের কোণসমূহ মোছা মুস্তাহাব, ৩ কেননা আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোখের দুই কোণ মুছতেন।" ৪ আর হাত ও পায়ের আঙুলসমূহ খিলাল করা মুস্তাহাব যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। পায়ের ক্ষেত্রে এটি অধিক তাকিদপূর্ণ, মুস্তাওরিদের বাণীর কারণে: "আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেছি, যখন তিনি ওযু করতেন তখন তাঁর কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে তাঁর পায়ের আঙুলগুলো ঘষতেন।" ৫ আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে আকীল হাতের আঙুল খিলাল করার মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে দুটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন: যার একটি হলো: এটি মুস্তাহাব, তাঁর এই বাণীর কারণে: "যখন তুমি ওযু করবে তখন তোমার হাত ও পায়ের আঙুলগুলো খিলাল করো।" ৬ তিরমিযী একে হাসান বলেছেন।

আর আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদীসের কারণে "ডান দিক দিয়ে শুরু করার মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই"। ইমাম আহমাদ বলেছেন: আমি কানের জন্য নতুন পানি নেওয়া মুস্তাহাব মনে করি; আর এটি ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ীরও অভিমত। ইবনুল মুনযির বলেছেন: এটি সুন্নাতসম্মত নয়। তিনি আহমাদ থেকে একটি বর্ণনাও উল্লেখ করেছেন (যে এটি সুন্নাত নয়), কারণ এটি হাদীসসমূহে বিদ্যমান নেই এবং রুবাই'র হাদীসে আছে: "তিনি তাঁর মাথা ও দুই কান একবার মাসাহ করেছেন।" ৭ আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন। আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার ধোয়া সুন্নাত, অর্থাৎ এটি সুন্নাত এবং ওয়াজিব নয়, কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার করেও ওযু করেছেন। বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

১ তিরমিযী: রোজা (৭৮৮), নাসায়ী: পবিত্রতা (৮৭, ১১৪), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৪০৭, ৪৪৮), দারেমী: পবিত্রতা (৭০৫)।

২ তিরমিযী: পবিত্রতা (৩১), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৪৩০)।

৩ মা’কুল আইন: চোখের সামনের অংশ। এর বহুবচন হলো মাআক। আর মু’কুহা: চোখের পেছনের অংশ। এর বহুবচন হলো আমাক।

৪ আবু দাউদ: পবিত্রতা (১৩৪), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৪৪৪)।

৫ তিরমিযী: পবিত্রতা (৪০), আবু দাউদ: পবিত্রতা (১৪৮), ইবনে মাজাহ: পবিত্রতা ও এর সুন্নাতসমূহ (৪৪৬), আহমাদ (৪/২২৯)।

৬ তিরমিযী: পবিত্রতা (৩৯)।

৭ তিরমিযী: পবিত্রতা (৩৪), আবু দাউদ: পবিত্রতা (১২৯)।