(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: -)
تمهيد القواعد بشرح تسهيل الفوائد القسم: النحو والصرف
الكتاب: شرح التسهيل المسمى «تمهيد القواعد بشرح تسهيل الفوائد»
المؤلف: محمد بن يوسف بن أحمد، محب الدين الحلبي ثم المصري، المعروف بناظر الجيش (ت 778 هـ)
دراسة وتحقيق: أ. د. علي محمد فاخر وآخرون
الناشر: دار السلام للطباعة والنشر والتوزيع والترجمة، القاهرة - جمهورية مصر العربية
الطبعة: الأولى، 1428 هـ
عدد الأجزاء: 11 (متسلسلة الترقيم) (10 ومجلد للفهارس)
تنبيه: أواخر الباب 74 وكذا كامل الأبواب 75 و 77 إلى 80 ليست من قلم ناظر الجيش، إنما أكملها المحققون على نهجه
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 24 صفر 1437
তাসহীলুল ফাওয়াইদ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ তামহীদুল কাওয়াইদ বিভাগ: নাহু ও সরফ
বই: তাসহীলের ব্যাখ্যাগ্রন্থ যার নাম «তামহীদুল কাওয়াইদ বি-শারহি তাসহীলিল ফাওয়াইদ»
লেখক: মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আহমদ، মুহিব্বুদ্দীন আল-হালাবী অতঃপর আল-মিসরী، নাযিরুল জয়শ হিসেবে পরিচিত (মৃত্যু: ৭৭৮ হিজরী)
গবেষণা ও সম্পাদনা: অধ্যাপক ডক্টর আলী মুহাম্মদ ফাখের এবং অন্যান্য
প্রকাশক: দারুস সালাম লি-তিবাআ ওয়াল-নাশর ওয়াত-তাওযী ওয়াত-তারজামা، কায়রো - আরব প্রজাতন্ত্র মিশর
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৮ হিজরী
খণ্ড সংখ্যা: ১১ (ধারাবাহিক সংখ্যায়ন) (১০টি এবং একটি নির্ঘণ্ট খণ্ড)
সতর্কবাণী: ৭৪ নম্বর অধ্যায়ের শেষাংশ এবং সেই সাথে ৭৫ ও ৭৭ থেকে ৮০ নম্বর পর্যন্ত সম্পূর্ণ অধ্যায়গুলো নাযিরুল জয়শ-এর লেখনী নয়، বরং সম্পাদকগণ তাঁর পদ্ধতি অনুসরণ করে সেগুলো সম্পন্ন করেছেন
[বইয়ের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৪ সফর ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: -)
شرح التسهيل المسمى
«تمهيد القواعد بشرح تسهيل الفوائد»
تأليف
محب الدين محمد بن يوسف بن أحمد المعروف بناظر الجيش المتوفى سنة 778 هـ
دراسة وتحقيق
• أ. د. علي محمد فاخر (كلية اللغة العربية بالمنصورة - جامعة الأزهر)
• أ. د. جابر محمد البراجة (كلية اللغة العربية بالزقازيق- جامعة الأزهر)
• أ. د. إبراهيم جمعة العجمي (كلية اللغة العربية بإيتاي البارود - جامعة الأزهر)
• أ. د. جابر السيد المبارك (كلية الدراسات الإسلامية والعربية بالمنصورة - جامعة الأزهر)
• أ. د. علي السنوسي محمد (كلية اللغة العربية بأسيوط - جامعة الأزهر)
• أ. د. محمد راغب نزال (كلية اللغة العربية والعلوم الاجتماعية - جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية)
[المجلد الأول]
আত-তাশহীল-এর ব্যাখ্যা, যার নাম
«তামহীদুল কাওয়ায়িদ বিশারহি তাশহীলিল ফাওয়ায়িদ»
রচনায়
মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন আহমাদ, যিনি নাযিরুল জাইশ নামে পরিচিত, মৃত্যু ৭৭৮ হিজরী
গবেষণা ও তাহকীক
• প্রফেসর ড. আলী মুহাম্মাদ ফাখির (আরবি ভাষা অনুষদ, মানসুরা - আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়)
• প্রফেসর ড. জাবির মুহাম্মাদ আল-বাররাজাহ (আরবি ভাষা অনুষদ, যাকযীক - আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়)
• প্রফেসর ড. ইবরাহীম জুমুআ আল-আজামী (আরবি ভাষা অনুষদ, ইতাই আল-বারুদ - আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়)
• প্রফেসর ড. জাবির আস-সাইয়্যিদ আল-মুবারক (ইসলামি ও আরবি শিক্ষা অনুষদ, মানসুরা - আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়)
• প্রফেসর ড. আলী আস-সানুসী মুহাম্মাদ (আরবি ভাষা অনুষদ, আসয়ুত - আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয়)
• প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ রাগিব নাযযাল (আরবি ভাষা ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদ - ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়)
[প্রথম খণ্ড]
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৫)
مقدمةالحمد لله الذي علم بالقلم .. علم الإنسان ما لم يعلم .. والصلاة والسّلام على من أوحى إليه أن: اقرأ .. فقرأ وهو خير من قرأ، ونطق وهو خير من نطق، وأفصح وهو سيد من أفصح
… اللهم صلّ وسلم وبارك عليه وعلى آله وصحابته ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين ..
وبعد ..
فلقد اهتم علماؤنا الأوائل بدراسة اللغة العربية .. لغتهم العزيزة التي بها يتكلمون وبها يتخاطبون، وزاد اهتمامهم بها حين وجدوا الأيدي العابثة قد امتدت عليها ودبّ اللحن على الألسنة، فخشي الغيورون على لغة القرآن الكريم من ضياعها، وإمحاء آثارها، فأرسوا قواعدها، ونظموا أصولها، حتى كثرت المؤلفات التي تعنى بقواعد النحو والصرف، فوضع سيبويه «كتابه» الذي يعد بمثابة المنارة التي يهتدي بنورها الدارسون لهذا الفن .. ولا يزال التأليف مستمرّا حتى وجدنا المبرّد يقدم بين أيدي الدارسين كتبه: المقتضب والكامل وغيرهما من نفائس الكتب والمؤلفات ..
وتتابعت حركة التأليف حتى جاء القرن السابع الهجري ليسعد بعلم من أبرز علماء النحو والصرف، ذلكم هو العالم الجليل الشيخ جمال الدين محمد بن عبد الله بن مالك، صاحب الألفية التي اشتهرت في الأوساط العلمية وفاقت كل مؤلف، وأقبل عليها طلاب العلم حفظا وفهما، حتى استولت على عقولهم وأفهامهم.
هذا إلى جانب الكافية الشافية وشرحها، والتسهيل، وغيرها من المؤلفات التي وضعها ابن مالك. وإذا كانت الألفية قد حظيت باهتمام كثير من العلماء، فتسابقوا إلى شرحها والتعليق عليها - فإن «التسهيل» أيضا قد حظي بهذا الاهتمام نفسه؛ حتى وجدناه يسيطر على العقول ويأخذ بمجامع الألباب، فهبّ الجميع يتسابقون إلى شرحه وحلّ الغموض الذي اكتنفه؛ لأن إيجازه بلغ
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন... মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না... দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর প্রতি যাঁর প্রতি ওহি অবতীর্ণ হয়েছে যে: পড়ুন... অতঃপর তিনি পাঠ করেছেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ পাঠক; তিনি কথা বলেছেন এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ বক্তা; তিনি প্রাঞ্জল ভাষায় কথা বলেছেন এবং তিনি প্রাঞ্জলভাষীদের নেতা
… হে আল্লাহ! আপনি রহমত, শান্তি ও বরকত অবতীর্ণ করুন তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের ওপর।
অতঃপর...
আমাদের পূর্বসূরি ওলামায়ে কেরাম আরবি ভাষা চর্চার প্রতি গভীর মনোযোগ দিয়েছেন... এটি তাঁদের প্রিয় ভাষা ছিল যার মাধ্যমে তাঁরা কথা বলতেন এবং ভাব বিনিময় করতেন। যখন তাঁরা দেখলেন যে বিকৃতকারী হাতগুলো এই ভাষার দিকে প্রসারিত হচ্ছে এবং জিহ্বায় ব্যাকরণিক অশুদ্ধি (লাহন) দেখা দিচ্ছে, তখন এই ভাষার প্রতি তাঁদের গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়। পবিত্র কুরআনের ভাষার প্রতি অনুরাগীগণ এর বিলুপ্তি ও এর প্রভাব মুছে যাওয়ার আশঙ্কা করলেন। ফলে তাঁরা এর ব্যাকরণিক নিয়মাবলি প্রতিষ্ঠা করলেন এবং এর মূলনীতিগুলো বিন্যস্ত করলেন, যার ফলে নাহু (বাক্যতত্ত্ব) ও সরফ (শব্দতত্ত্ব) শাস্ত্রের নিয়মাবলি সংশ্লিষ্ট প্রচুর গ্রন্থ রচিত হলো। সিবওয়াইহি তাঁর ‘আল-কিতাব’ রচনা করলেন যা এই শিল্পের শিক্ষার্থীদের জন্য আলোকবর্তিকা হিসেবে বিবেচিত হয় যার আলোয় তারা সঠিক পথ খুঁজে পায়... গ্রন্থ রচনার এই ধারা অব্যাহত ছিল, এমনকি আমরা দেখতে পাই আল-মুবররাদ শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর গ্রন্থসমূহ পেশ করছেন: আল-মুক্তাদাব, আল-কামিল এবং অন্যান্য মূল্যবান কিতাব ও রচনাবলি...
গ্রন্থ রচনার এই ধারা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে যতক্ষণ না সপ্তম হিজরি শতাব্দী নাহু ও সরফ শাস্ত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আলিমের আগমনে ধন্য হয়। তিনি হলেন মহান আলিম শায়খ জামালুদ্দিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন মালিক, বিখ্যাত ‘আলফিয়া’-এর রচয়িতা যা ইলমি অঙ্গনে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং অন্য সব রচনাকে ছাড়িয়ে গেছে। শিক্ষার্থীরা এটি মুখস্থ ও অনুধাবনের প্রতি একনিষ্ঠভাবে মনোনিবেশ করেছিল, এমনকি এটি তাদের মেধা ও মনন দখল করে নিয়েছিল।
এর পাশাপাশি রয়েছে ‘আল-কাফিয়াহ আল-শাফিয়াহ’ ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ‘আল-তাসহিল’ এবং ইবনে মালিকের রচিত অন্যান্য গ্রন্থসমূহ। আলফিয়া যদি বহু আলিমের মনোযোগ লাভ করে থাকে—যার ফলে তাঁরা এর ব্যাখ্যা ও টীকা লিখার ক্ষেত্রে একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছেন—তবে ‘আল-তাসহিল’ও ঠিক একইরূপ মনোযোগ লাভ করেছে; এমনকি আমরা দেখতে পাই যে এটি বিদগ্ধজনদের মেধা ও মনন জয় করে নিয়েছে। তাই প্রত্যেকে এর ব্যাখ্যা করতে এবং এর মধ্যে বিদ্যমান অস্পষ্টতা নিরসনে দ্রুত এগিয়ে এসেছেন; কারণ এর সংক্ষিপ্ততা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ বিস্তারিত ব্যাখ্যার দাবি রাখে।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৬)
حد الغموض كما جاء في دائرة المعارف الإسلامية (1) .. ولهذا السبب؛ فإن ابن مالك نفسه أحسّ أن هذا الكتاب لا يكمل نفعه، ولا يعم خيره إلا إذا أكمل بشرح يزيل غموضه، ويبين المراد من عباراته واصطلاحاته وقواعده؛
فقام بشرحه حتى يسهل الانتفاع به (2).
وتتابعت شروح هذا الكتاب بعد شرح مصنفه من أمثال: الشيخ أبي حيان (ت 745 هـ) والمرادي (ت 749 هـ) والسمين الحلبي (ت 756 هـ) وابن هشام (ت 761 هـ) وابن عقيل والدماميني، ومحب الدين محمد بن يوسف بن أحمد المعروف بناظر الجيش .. ولقد استوقفتنا شخصية هذا العالم الأخير الذي جمع بين دراسة هذا الفن ومنصب «ناظر الجيش».
ولما كان إحياء تراثنا العربي الخالد من موجبات الحياة ومقتضيات الزمن - فقد شمرنا عن ساعد الجد؛ لننفض الغبار الذي تراكم على هذا الشرح، الذي نعتقد أنه من أعظم شروح التسهيل كما سنرى إن شاء الله تعالى، وقد أحببنا أن يخرج إلى الحياة ويشهد نورها بعد أن ظل حبيسا في بطون المكتبات؛ فاخترنا بعون الله وتوفيقه - نحن الستة - هذا الشرح؛ ليكون تحقيقه ودراسته سبيلا لنيل درجة العالمية «الدكتوراه» من كلية اللغة العربية جامعة الأزهر بالقاهرة .. هذا، ويمكننا أن نلخص الدوافع التي حفزتنا إلى تحقيق هذا السفر العظيم فيما يلي:
1 - الإسهام والمشاركة في إحياء جزء من تراثنا العربي الخالد الذي يسهم بدوره في المحافظة على لغة القرآن الكريم دستور الإسلام العظيم.
2 - التعرف على شخصية ابن مالك عن قرب بدراسة مؤلف من مؤلفاته وهو «التسهيل»، من خلال شرح ناظر الجيش له.
3 - التعرف على شخصية ناظر الجيش التي لم تحظ بعناية كثير من العلماء أو الدارسين؛ فأردنا أن نكشف الغموض الذي اكتنف هذه الشخصية العظيمة
--------------------------------------------
এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইসলামে যেভাবে অস্পষ্টতার সীমা বর্ণিত হয়েছে (১)... এবং এই কারণে; ইবনে মালিক নিজেই অনুভব করেছিলেন যে এই কিতাবটির উপযোগিতা পূর্ণ হবে না এবং এর কল্যাণ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে না, যতক্ষণ না এটি এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাধ্যমে পূর্ণ করা হয় যা এর অস্পষ্টতা দূর করবে এবং এর শব্দাবলী, পরিভাষা ও নিয়মাবলির উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট করবে;
ফলে তিনি এটি ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন যাতে এর দ্বারা উপকৃত হওয়া সহজ হয় (২)।
মূল লেখকের ব্যাখ্যার পর এই কিতাবটির আরও অনেক ব্যাখ্যাগ্রন্থ ধারাবাহিকভাবে রচিত হয়েছে, যেমন: শায়খ আবু হাইয়ান (মৃত্যু ৭৪৫ হি.), আল-মুরাদি (মৃত্যু ৭৪৯ হি.), আস-সামীন আল-হালাবি (মৃত্যু ৭৫৬ হি.), ইবনে হিশাম (মৃত্যু ৭৬১ হি.), ইবনে আকীল, আদ-দামামিনি এবং মুহিব্বুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আহমদ—যিনি ‘নাজিরুল জাইশ’ নামে পরিচিত... এই শেষোক্ত আলিমের ব্যক্তিত্ব আমাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে, যিনি এই শাস্ত্রের জ্ঞান অর্জন এবং ‘নাজিরুল জাইশ’ (সেনাবাহিনীর পরিদর্শক) পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছিলেন।
যেহেতু আমাদের শাশ্বত আরবি ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করা জীবনের অনিবার্য দাবি এবং সময়ের আবশ্যকতা—তাই আমরা কঠোর পরিশ্রমের জন্য কোমর বেঁধেছি; যেন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ওপর জমে থাকা ধুলোবালি ঝেড়ে ফেলা যায়। আমরা বিশ্বাস করি যে এটি ‘আত-তাসহিল’-এর শ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর অন্যতম, যা আমরা ইনশাআল্লাহ সামনে দেখতে পাব। এটি দীর্ঘকাল পাঠাগারগুলোর নির্জনে বন্দি থাকার পর আমরা চেয়েছি এটি জনসমক্ষে আসুক এবং আলোর মুখ দেখুক। তাই আল্লাহর সাহায্য ও তাওফিকে আমরা—ছয়জন—এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি নির্বাচন করেছি; যেন এর তাহকিক ও অধ্যয়ন কায়রোর জামেয়াতুল আজহারের আরবি ভাষা অনুষদ থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম হয়। আমরা এই মহান গ্রন্থটির তাহকিক করার পেছনে আমাদের অনুপ্রেরণাগুলোকে নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করতে পারি:
১ - আমাদের শাশ্বত আরবি ঐতিহ্যের একটি অংশ পুনরুজ্জীবিত করার ক্ষেত্রে অবদান রাখা এবং অংশীদার হওয়া, যা ইসলামের মহান সংবিধান পবিত্র কুরআনের ভাষা সংরক্ষণে ভূমিকা রাখে।
২ - নাজিরুল জাইশ কৃত ব্যাখ্যার মাধ্যমে ইবনে মালিকের অন্যতম রচনা ‘আত-তাসহিল’ অধ্যয়নের মাধ্যমে তাঁর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে নিবিড়ভাবে পরিচিত হওয়া।
৩ - নাজিরুল জাইশ-এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে জানা, যিনি অনেক আলিম বা গবেষকদের তেমন মনোযোগ পাননি; তাই আমরা এই মহান ব্যক্তিত্বকে ঘিরে থাকা অস্পষ্টতা উন্মোচন করতে চেয়েছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৭)
ذات القدرة الفائقة على فهم القواعد النحوية والصرفية.
4 - أنه إذا كان القرن الثامن الهجري قد حظي بالأفذاذ من العلماء من أمثال: أبي حيان والمرادي والسمين الحلبي وابن هشام وابن عقيل - فإننا قصدنا إلى معرفة مكان شرح ناظر الجيش بين هذه الشروح.
5 - أننا وجدنا صاحب «كشف الظنون» وغيره حين تحدث عن هذا الشرح لناظر الجيش - ذكر أنه اعتنى بالأجوبة الجيدة عن اعتراضات أبي حيان على ابن مالك .. فأردنا أن نقف على تلك الإجابات والتعرف عليها والاستفادة
منها.
6 - أن هذا الشرح يعد لونا من ألوان النقد في النحو العربي .. فهو لم يكتف بسرد آراء السابقين ومذاهبهم .. وإنما تعرض لها بالشرح والتعليق؛ وبخاصة شرح ابن مالك وشرح الشيخ أبي حيان الذي تعقبه مع كل فكرة وكل رأي .. فأردنا أن يتعرف معشر الدارسين لهذا الفن على هذا اللون الجديد من هذه الدراسة.
لهذه الأسباب مجتمعة اخترنا تحقيق هذا الكتاب ودراسته؛ إسهاما إيجابيّا منّا في هذا العمل النبيل، في إضافة شرح من أرقى شروح التسهيل إلى المكتبة العربية.
ولقد ساعدنا في طبع هذا الكتاب الكبير والسفر العظيم الذي يجمع ثلاثة شروح للتسهيل (ابن مالك - أبو حيان - ناظر الجيش) هذا الرجل الذي يعنى بنشر التراث العربي في مختلف مجالاته من لغة وأدب ودين وهو الأستاذ/ عبد القادر محمود البكار، صاحب ومدير مكتبة دار السّلام بشارع الأزهر تلك المكتبة التي حازت على جائزة أفضل ناشر للتراث في مصر لثلاثة أعوام متتالية (1999 - 2000 - 2001 م) هي عمر الجائزة.
وكان عملنا الكبير هذا مقسما إلى قسمين:
قسم للدراسة كشفنا فيه النقاب عن الكتاب وعن صاحبه، وقسم للتحقيق أخرجنا فيه الكتاب الذي حجب عن طلاب العربية طوال سبعة قرون؛ أخرجناه إلى النور؛ لينتفع به الناس.
ব্যাকরণগত এবং রূপমূলতত্ত্বীয় নিয়মাবলী বোঝার ক্ষেত্রে অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারী।
৪ - যেহেতু অষ্টম হিজরি শতাব্দী আবু হাইয়ান, আল-মুরাদি, আস-সামিন আল-হালাবি, ইবনে হিশাম এবং ইবনে আকিলের মতো অসামান্য আলেমদের দ্বারা ধন্য হয়েছিল, সেহেতু এই ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোর মধ্যে নাযির আল-জাইশের ব্যাখ্যাগ্রন্থের স্থান কোথায় তা জানাই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল।
৫ - আমরা দেখতে পেয়েছি যে, 'কাশফুয যুনুন'-এর লেখক এবং অন্যান্যরা যখন নাযির আল-জাইশের এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা করেছেন, তখন উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইবনে মালিকের ওপর আবু হাইয়ানের উত্থাপিত আপত্তিসম্মূহের চমৎকার উত্তর প্রদানের ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন। তাই আমরা সেই উত্তরগুলো অবগত হতে, সেগুলো সম্পর্কে জানতে এবং তা থেকে উপকৃত হতে চেয়েছি।
নিঃসন্দেহে তা থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব।
৬ - এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি আরবি ব্যাকরণে সমালোচনার একটি বিশেষ ধরণ হিসেবে বিবেচিত। এটি কেবল পূর্ববর্তীদের মতামত ও মাযহাব বর্ণনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং সেগুলোর ব্যাখ্যা ও পর্যালোচনাও করেছে; বিশেষ করে ইবনে মালিকের ব্যাখ্যা এবং শেখ আবু হাইয়ানের ব্যাখ্যা—যাকে তিনি প্রতিটি ধারণা ও মতামতের ক্ষেত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসরণ করেছেন। তাই আমরা চেয়েছি এই শাস্ত্রের গবেষক সমাজ এই নতুন ধরণের গবেষণার সাথে পরিচিত হোক।
এই সকল সমবেত কারণে আমরা এই গ্রন্থটি সম্পাদনা (তাহকীক) ও অধ্যয়নের জন্য নির্বাচন করেছি; এই মহৎ কর্মে আমাদের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক অবদান হিসেবে এবং আরবি লাইব্রেরিতে 'আত-তাসহিল'-এর অন্যতম শ্রেষ্ঠ একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ যুক্ত করার লক্ষ্যে।
এই বিশাল গ্রন্থ এবং মহান সংকলন যা তাসহিলের তিনটি ব্যাখ্যাকে (ইবনে মালিক - আবু হাইয়ান - নাযির আল-জাইশ) একত্রিত করেছে, তা মুদ্রণে আমাদের সাহায্য করেছেন সেই ব্যক্তি যিনি ভাষা, সাহিত্য ও ধর্ম সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরবি ঐতিহ্য (তুরাস) প্রসারে নিবেদিত; তিনি হলেন উস্তাদ আব্দুল কাদির মাহমুদ আল-বাক্কার, আল-আযহার স্ট্রিটে অবস্থিত দারুস সালাম লাইব্রেরির স্বত্বাধিকারী ও পরিচালক। এই লাইব্রেরিটি মিশরে টানা তিন বছর (১৯৯৯ - ২০০০ - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ) শ্রেষ্ঠ ঐতিহ্য প্রকাশক হিসেবে পুরস্কার লাভ করেছে, যা ছিল এই পুরস্কার প্রবর্তনের মোট সময়কাল।
আমাদের এই বৃহৎ কর্মটি দুই ভাগে বিভক্ত ছিল:
একটি গবেষণা বিভাগ, যেখানে আমরা গ্রন্থ ও গ্রন্থকার সম্পর্কে বিস্তারিত উন্মোচন করেছি; এবং একটি সম্পাদনা (তাহকীক) বিভাগ, যেখানে আমরা সেই গ্রন্থটিকে আলোর মুখ দেখিয়েছি যা দীর্ঘ সাত শতাব্দী ধরে আরবি ভাষার শিক্ষার্থীদের নিকট অপ্রকাশিত ছিল, যেন মানুষ এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৮)
أما قسم الدراسة فقد جعلناه في: تمهيد وعشرة فصول.
ذكرنا في التمهيد الحالة السياسية والعلمية في عصر ناظر الجيش وأما الفصول العشرة فكانت كالآتي:
الفصل الأول: كان حديثا موجزا عن ابن مالك صاحب التسهيل؛ فلا يجوز أن نشرح المتن دون أن نعرف بصاحبه.
وأما الفصل الثاني: فكان حديثا عن ناظر الجيش صاحب الشرح: من اسمه ومولده وشيوخه وتلاميذه وصفاته وأخلاقه ومؤلفاته والمناصب التي تولاها، ثم وفاته.
وأما الفصل الثالث: فكان عن كتاب التسهيل وقيمته العلمية وشروحه الكثيرة.
وأما الفصل الرابع: فكان عن كتاب شرح التسهيل لناظر الجيش وقيمته العلمية أيضا، وسبب تأليفه، وزمن التأليف في حياة صاحبه، وصحة نسبته إليه.
وأما الفصل الخامس: فكان عن مصادر ومراجع كتاب التسهيل من رجال كثيرين وكتب مختلفة.
وأما الفصل السادس: فكان عن منهج ناظر الجيش في شرحه للتسهيل.
وقد سردنا فيه ما يقرب من عشر نقاط في ذلك.
وأما الفصل السابع: فكان عن شخصية ناظر الجيش النحوية؛ حيث عرضنا عشرة أعلام من رجال النحو صحبهم ناظر الجيش دائما في كتابه على مدى سنين طويلة.
ثم كان الفصل الثامن: عن موقف ناظر الجيش من قضية الاستشهاد والأدلة النحوية.
وكان الفصل التاسع: عن مذهبه النحوي وبعض اختياراته.
والعاشر: في تأثر الشرح بمن قبله، وتأثيره فيمن بعده، ثم خاتمة أتبعناها منهج التحقيق ووصف نسخ التحقيق وصورا منها.
অধ্যয়ন পর্বের ক্ষেত্রে, আমরা তা একটি ভূমিকা এবং দশটি অধ্যায়ে বিন্যস্ত করেছি।আমরা ভূমিকায় নাযির আল-জাইশের যুগের রাজনৈতিক ও জ্ঞানতাত্ত্বিক অবস্থা উল্লেখ করেছি। আর দশটি অধ্যায় ছিল নিম্নরূপ:
প্রথম অধ্যায়: এটি ছিল তাসহিল গ্রন্থের রচয়িতা ইবনে মালিক সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা; কেননা মূল গ্রন্থকারের পরিচয় না জেনে মূল পাঠের (মাতন) ব্যাখ্যা করা সমীচীন নয়।
দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি ছিল এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের (শারহ) লেখক নাযির আল-জাইশ সম্পর্কিত আলোচনা: তাঁর নাম, জন্ম, শিক্ষকগণ, ছাত্রবৃন্দ, তাঁর গুণাবলি ও চরিত্র, তাঁর রচনাবলি এবং তিনি যেসব পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন, অতঃপর তাঁর মৃত্যু।
তৃতীয় অধ্যায়: এটি ছিল তাসহিল গ্রন্থ, এর জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব এবং এর বহুবিধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ সম্পর্কে।
চতুর্থ অধ্যায়: এটি ছিল নাযির আল-জাইশ রচিত শারহুত তাসহিল গ্রন্থ এবং এর জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব, এটি রচনার কারণ, লেখকের জীবদ্দশায় এর রচনাকাল এবং তাঁর প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের সঠিকতা সম্পর্কে।
পঞ্চম অধ্যায়: এটি ছিল তাসহিল গ্রন্থের উৎস ও তথ্যসূত্র সম্পর্কে, যা বহু মনীষী ও বিভিন্ন গ্রন্থ থেকে সংগৃহীত।
ষষ্ঠ অধ্যায়: এটি ছিল তাসহিল-এর ব্যাখ্যায় নাযির আল-জাইশের অনুসৃত পদ্ধতি সম্পর্কে।
এ প্রসঙ্গে আমরা প্রায় দশটি পয়েন্ট বর্ণনা করেছি।
সপ্তম অধ্যায়: এটি ছিল ব্যাকরণবিদ হিসেবে নাযির আল-জাইশের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে; যেখানে আমরা ব্যাকরণ শাস্ত্রের দশজন প্রথিতযশা ব্যক্তিত্বকে উপস্থাপন করেছি, যাঁদের মতাদর্শ নাযির আল-জাইশ দীর্ঘ বছর ধরে তাঁর গ্রন্থে সর্বদা অনুসরণ করেছেন।
অষ্টম অধ্যায়: প্রামাণ্য উপস্থাপন (ইস্তিশহাদ) এবং ব্যাকরণিক দলীলসমূহের বিষয়ে নাযির আল-জাইশের অবস্থান সম্পর্কে।
নবম অধ্যায়: তাঁর ব্যাকরণিক মাযহাব (মতাদর্শ) এবং তাঁর কিছু নিজস্ব পছন্দের মত সম্পর্কে।
দশম অধ্যায়: পূর্ববর্তী আলেমদের দ্বারা এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি কীভাবে প্রভাবিত হয়েছে এবং পরবর্তী আলেমদের ওপর এর প্রভাব কতখানি, তা নিয়ে। এরপর একটি উপসংহার রয়েছে, যার সাথে আমরা সম্পাদনা (তাহকিক) পদ্ধতি, পাণ্ডুলিপিগুলোর বর্ণনা এবং সেগুলোর কিছু চিত্র যুক্ত করেছি।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৯)
وأما القسم الثاني وهو «التحقيق» فقد سرنا فيه وفق الخطوات التالية:1 - قمنا بتقويم النص تقويما سليما؛ وفق القواعد النحوية والصرفية والإملائية، وضبط ما يحتاج منه إلى ضبط.
2 - قمنا أيضا بمطابقة النسخة الأصل التي اعتمدنا عليها في التحقيق على غيرها من النسخ، وقد أشرنا إلى مواطن الزيادة، والنقص بينها حتى خرج النص متكاملا.
3 - قمنا بتوثيق الشواهد على اختلافها، وتخريجها من مصادرها الأصلية على النحو التالي:
أ - الشواهد القرآنية: نسبنا كل آية إلى سورتها وذكرنا اسم السورة ورقم الآية فيها.
ب - القراءات القرآنية: قمنا بتخريجها وتوثيقها من مصادرها الأصلية؛ معتمدين في ذلك على أمهات كتب القراءات مثل: الكشف عن وجوه القراءات السبع لمكي بن أبي طالب القيسي، والنشر في القراءات العشر لابن الجزري، وحجة القراءات لابن زنجلة، والسبعة لابن مجاهد، والحجة في القراءات السبع لابن خالويه، والبديع في مختصر شواذ القرآن لابن خالويه، والمحتسب في القراءات الشاذة لابن جني، وغيرها من الكتب التي اهتمت بهذا الشأن.
جـ - شواهد الحديث الشريف: قمنا بتوثيقها وتخريجها من الكتب الصحاح مثل: صحيح البخاري وصحيح مسلم وسنن النسائي وغيرها.
د - أقوال العرب وأمثالهم: قمنا أيضا بتخريجها وتوثيقها من مصادرها الأصلية مثل: مجمع الأمثال للميداني والمستقصي في الأمثال للزمخشري.
هـ - الشواهد الشعرية: وقد اتبعنا فيها المنهج الآتي:
1 - الإشارة إلى اسم قائل البيت إذا كان له قائل معروف، أو الإشارة إلى أن قائله مجهول.
আর দ্বিতীয় অংশটি হলো ‘তাহকীক’ (সম্পাদনা); এক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করেছি:১ - আমরা ব্যাকরণগত, রূপমূলতাত্ত্বিক এবং বানানরীতি অনুযায়ী পাঠ্যটি সঠিকভাবে সংশোধন করেছি এবং যেখানে প্রয়োজন সেখানে যথাযথ চিহ্ন (হরকত) প্রদান করেছি।
২ - তাহকীকের ক্ষেত্রে আমরা যে মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, সেটিকে অন্যান্য কপির সঙ্গেও মিলিয়ে দেখেছি। সেগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত অংশ এবং ঘাটতিগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি, যাতে পাঠ্যটি একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ লাভ করে।
৩ - আমরা বিভিন্ন প্রকারের উদ্ধৃতি ও প্রমাণাদি (শাওয়াহিদ) যাচাই করেছি এবং সেগুলোর মূল উৎস থেকে নিম্নোক্ত পদ্ধতিতে উৎস-নির্দেশ (তাখরীজ) করেছি:
ক - কুরআনী উদ্ধৃতি: আমরা প্রতিটি আয়াতকে তার সংশ্লিষ্ট সূরার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করেছি এবং সূরার নাম ও আয়াত নম্বর উল্লেখ করেছি।
খ - কুরআনী কিরাআত: আমরা এগুলোকে এদের মূল উৎস থেকে যাচাই ও উৎস-নির্দেশ করেছি; এক্ষেত্রে আমরা কিরাআত শাস্ত্রের মৌলিক গ্রন্থাবলির ওপর নির্ভর করেছি, যেমন: মাক্কী ইবনে আবি তালিব আল-কায়সীর ‘আল-কাশফু আন উজুহিল কিরাআতিল সাবআ’, ইবনুল জাযারীর ‘আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশর’, ইবনে যানজালার ‘হুজ্জাতুল কিরাআত’, ইবনে মুজাহিদের ‘আস-সাবআ’, ইবনে খালওয়াইহ-র ‘আল-হুজ্জাতু ফিল কিরাআতিল সাবআ’, ইবনে খালওয়াইহ-র ‘আল-বাদিউ ফী মুখতাসারি শাওয়াযযিল কুরআন’, ইবনে জিন্নীর ‘আল-মুহতাসিবু ফিল কিরাআতিল শাযযাহ’ এবং এই বিষয়ের ওপর রচিত অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ।
গ - হাদীস শরীফের উদ্ধৃতি: আমরা এগুলোকে বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থসমূহ থেকে যাচাই ও উৎস-নির্দেশ করেছি, যেমন: সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনানে নাসাঈ এবং অন্যান্য।
ঘ - আরবদের উক্তি ও প্রবাদ-প্রবচন: আমরা এগুলোকেও সেগুলোর মূল উৎস থেকে যাচাই ও উৎস-নির্দেশ করেছি, যেমন: আল-মাইদানীর ‘মাজমাউল আমছাল’ এবং আয-যামাখশারীর ‘আল-মুস্তাকসা ফিল আমছাল’।
ঙ - কাব্যিক উদ্ধৃতি: এক্ষেত্রে আমরা নিম্নোক্ত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:
১ - কোনো কাব্য পঙ্ক্তির রচয়িতা যদি পরিচিত হন তবে তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, নতুবা তার রচয়িতা অজ্ঞাত বলে নির্দেশ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১০)
2 - الإشارة إلى موضعه في الديوان إذا كان لقائله ديوان، وذكر موضوع القصيدة وغير ذلك.
3 - تعيين البحر العروضي لكل شاهد.
4 - ضبط البيت ضبطا صحيحا.
5 - شرح الألفاظ الغربية والغامضة في الشاهد؛ معتمدين في ذلك على كتب شرح الشواهد مثل: شرح أبيات سيبويه للأعلم بهامش الكتاب، وشرح أبيات سيبويه لابن السيرافي، والمفضل لأبي فراس الغساني بهامش المفصل للزمخشري، وغيرها، كما اعتمدنا في شرح بعض الألفاظ على المعاجم مثل:
لسان العرب، والصحاح للجوهري، والقاموس المحيط، ومختار الصحاح، وأساس البلاغة للزمخشري، وغيرها.
6 - الإشارة إلى موطن الشاهد في البيت.
7 - ذكر بعض المصادر التي ورد فيها الشاهد ليعود إليها من يريد ذلك.
4 - قمنا بالترجمة للأعلام التي وردت في الشرح وكذا الأماكن مع ذكر البيانات والتفصيل لهذه التراجم.
5 - تتبعنا بدقة كل ما ورد في النص من آراء وأقوال وإحالات طرحها المؤلف، وذلك بالإشارة إلى أماكنها في مصادرها الأصلية من مؤلفات أصحابها إن وجدت، وإن لم توجد فمن كتب نحوية أخرى.
6 - قمنا بالتعليق على كثير من المسائل التي ذكرها المؤلف مع الوقوف أمام بعض القضايا التي احتاجت إلى ذلك.
7 - قمنا بالتعليق على بعض إجابات المؤلف عن اعتراضات أبي حيان على ابن مالك، وبخاصة الإجابات التي تمحل فيها للدفاع عن ابن مالك ورددناها عليه، وتركنا الإجابات الجيدة دون تعليق لأنها واضحة وظاهرة.
8 - قمنا بشرح الألفاظ الغامضة الواردة في الشرح وتوضيح المسائل المبهمة
২ - যদি রচয়িতার কোনো দীওয়ান থাকে তবে সেই দীওয়ানে তার অবস্থান নির্দেশ করা এবং কবিতার বিষয়বস্তু ও অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করা।
৩ - প্রতিটি শাহিদের (প্রমাণবাক্য) জন্য ছন্দশাস্ত্রীয় বাহর (ছন্দ) নির্ধারণ করা।
৪ - পঙ্ক্তিটি সঠিকভাবে স্বরচিহ্ন (হরকত) প্রদানপূর্বক বিন্যস্ত করা।
৫ - শাহিদে বিদ্যমান বিরল এবং অস্পষ্ট শব্দসমূহের ব্যাখ্যা করা; এক্ষেত্রে আমরা শাহিদ ব্যাখ্যামূলক গ্রন্থসমূহের ওপর নির্ভর করেছি যেমন: কিতাবের টীকায় আল-আলামের 'শারহু আবইয়াতি সিবওয়াইহ', ইবনুস সিরাফির 'শারহু আবইয়াতি সিবওয়াইহ', যামাখশারির 'আল-মুফাসসাল'-এর টীকায় আবু ফিরাদ আল-গাস্সানির 'আল-মুফাদ্দাল' ইত্যাদি। তদ্রূপ কিছু শব্দের ব্যাখ্যায় আমরা অভিধানসমূহের ওপরও নির্ভর করেছি যেমন: লিসানুল আরব, জওহরির আস-সিহাহ, আল-কামুসুল মুহিত, মুখতারুস সিহাহ, যামাখশারির আসাসুল বালাগাহ ইত্যাদি।
লিসানুল আরব, জওহরির আস-সিহাহ, আল-কামুসুল মুহিত, মুখতারুস সিহাহ, যামাখশারির আসাসুল বালাগাহ ইত্যাদি।
৬ - কাব্য পঙ্ক্তিতে শাহিদের মূল অংশটি নির্দেশ করা।
৭ - শাহিদটি যেসব উৎসে বর্ণিত হয়েছে তার কিছু উৎসের কথা উল্লেখ করা যাতে আগ্রহী ব্যক্তি সেদিকে প্রত্যাবর্তন করতে পারেন।
৪ - আমরা আলোচনায় আসা ব্যক্তিবর্গ এবং স্থানসমূহের পরিচিতি প্রদান করেছি, সাথে এই জীবনীগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করেছি।
৫ - মূল পাঠে লেখক কর্তৃক উপস্থাপিত প্রতিটি অভিমত, উক্তি এবং উদ্ধৃতি আমরা নিখুঁতভাবে অনুসরণ করেছি; এবং সেগুলোকে তাদের মূল উৎসে (রচয়িতাদের নিজস্ব গ্রন্থাবলীতে) নির্দেশ করেছি যদি তা বিদ্যমান থাকে, অন্যথায় অন্যান্য ব্যাকরণ গ্রন্থ থেকে তা দেখিয়েছি।
৬ - লেখক উল্লিখিত অনেক মাসআলার ওপর আমরা টীকা প্রদান করেছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু বিষয়ের ওপর সবিশেষ আলোচনা করেছি।
৭ - ইবনে মালিকের ওপর আবু হাইয়ানের আপত্তির প্রেক্ষিতে লেখক যেসব উত্তর দিয়েছেন তার মধ্যে কিছু উত্তরের ওপর আমরা মন্তব্য করেছি; বিশেষ করে সেই উত্তরগুলো যা তিনি ইবনে মালিকের পক্ষাবলম্বন করতে গিয়ে টেনেহিঁচড়ে তৈরি করেছেন এবং আমরা সেগুলো খণ্ডন করেছি। তবে উত্তম উত্তরগুলোকে কোনো মন্তব্য ছাড়াই রেখে দিয়েছি কারণ সেগুলো সুস্পষ্ট ও প্রতীয়মান।
৮ - আমরা ব্যাখ্যার মধ্যে আসা অস্পষ্ট শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করেছি এবং জটিল মাসআলাসমূহ স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১১)
ليقف القارئ عليها.
ثم ذيلنا كل جزء بفهرس للموضوعات التي يحتويها؛ ليسهل الرجوع إليها مراعين في ذلك وضع عنوان لكل جزء مشروح من المتن ليكون فهرسا مشتملا على بعض التفصيل ثم ذيلنا الكتاب كله بالفهارس الفنية التي تعين الباحث على الوصول إلى بغيته من هذا الشرح؛ لأن الفهارس مفاتيح الكتب فوضعنا فهرسا للشواهد القرآنية، وآخر للحديث الشريف، وثالثا للشواهد الشعرية، ثم فهرسا للمصادر والمراجع التي اعتمدنا عليها في الدراسة والتحقيق مرتبة ترتيبا أبجديّا حسب اسم الكتاب.
ثم ختمنا هذه الفهارس بوضع فهرس مجمل لما احتواه هذا الشرح العظيم وما ضمته أجزاؤه من الأبواب ليسهل أيضا الرجوع إلى الموضوع والباب في مكانه من الأجزاء.
وبعد:
فمن الإنصاف والإقرار بالفضل لأهله وذويه، أن نقدم خالص الشكر وعظيم التقدير إلى هذا الرجل الذي كان سببا في نشر هذا الكتاب، والذي يحمل في سبيل ذلك أعباء مادية ضخمة؛ ليرى كتابنا النور ولينتفع به الباحثون وهو الأستاذ/ عبد القادر البكار، الذي لو لاه ما طبع الكتاب، كما لا يفوتنا - نحن الخمسة - أن ننوه بعمل أخينا الدكتور علي محمد فاخر؛ حيث جمعنا من أماكن مختلفة ومدن متفرقة؛ لنتفق جميعا على طبع الكتاب والذي ما نام له جفن حتى تحقق له ذلك؛ ثم بعد ذلك كله أشرف على عملية الطباعة من تنقيح وتهذيب ونخل وغربلة، ووضع مراجع وكتب حديثة مكان مراجع ومخطوطات قديمة، تلك المرحلة التي استمرت عامين طويلين والتي ندب نفسه إليها ولم يكل أو يمل منها؛ بل كان يعمل وهو راض كل الرضا مع الجهد المبذول ليلا ونهارا وكان هدفه الوحيد أن يخرج الكتاب إلى النور ذلك الحلم الذي ظل يراودنا جميعا عشرين عاما، فجزاه الله أيضا عن ذلك العمل الجليل خير الجزاء وجعله في ميزان حسناته.
যাতে পাঠক তা প্রত্যক্ষ করতে পারেন।
অতঃপর আমরা প্রতিটি খণ্ডের শেষে একটি করে বিষয়সূচি যুক্ত করেছি; যাতে সেগুলোর দিকে ফিরে আসা সহজ হয়। এক্ষেত্রে আমরা মূল পাঠের প্রতিটি ব্যাখ্যা করা অংশের জন্য একটি করে শিরোনাম দেওয়ার বিষয়টি খেয়াল রেখেছি, যাতে তা বিস্তারিত বর্ণনাসমৃদ্ধ একটি সূচি হয়। এরপর আমরা পুরো বইটির শেষে কিছু কারিগরি সূচি যুক্ত করেছি, যা গবেষককে এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ থেকে তার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টি খুঁজে পেতে সহায়তা করবে; কারণ সূচি হলো বইয়ের চাবিকাঠি। তাই আমরা কুরআনের উদ্ধৃতিসমূহের একটি সূচি, হাদিস শরিফের জন্য একটি এবং কাব্যিক উদ্ধৃতিসমূহের জন্য তৃতীয় একটি সূচি তৈরি করেছি। এরপর অধ্যয়ন ও সম্পাদনার কাজে আমরা যেসব উৎস ও রেফারেন্সের ওপর নির্ভর করেছি, গ্রন্থের নামের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস অনুযায়ী তার একটি সূচি প্রদান করেছি।
অতঃপর আমরা এই সূচিগুলোর সমাপ্তি ঘটিয়েছি এই মহান ব্যাখ্যাগ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত বিষয়াদি এবং এর খণ্ডসমূহে বিদ্যমান অধ্যায়গুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সূচি প্রদানের মাধ্যমে, যাতে খণ্ডগুলোর নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিষয় ও অধ্যায় খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
অতঃপর:
ইনসাফের দাবি এবং গুণীজনের গুণের স্বীকৃতিস্বরূপ আমাদের উচিত সেই ব্যক্তিকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও পরম শ্রদ্ধা জানানো, যিনি এই বইটি প্রকাশের কারণ হয়েছেন এবং এই পথে বিশাল আর্থিক বোঝা বহন করেছেন; যাতে আমাদের বইটি আলোর মুখ দেখে এবং গবেষকরা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারেন। তিনি হলেন উস্তাদ আব্দুল কাদির আল-বাকার, যিনি না থাকলে বইটি মুদ্রিত হতো না। একইভাবে—আমরা পাঁচজন—আমাদের ভাই ডক্টর আলী মুহাম্মদ ফাখিরের কর্মতৎপরতার কথা উল্লেখ করতে ভুলছি না; যিনি আমাদের বিভিন্ন স্থান ও শহর থেকে একত্রিত করেছেন যাতে আমরা সকলে বইটি মুদ্রণের বিষয়ে একমত হতে পারি। এই কাজ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তার চোখের পাতা এক হয়নি। এরপর তিনি মুদ্রণ প্রক্রিয়ার যাবতীয় সংশোধন, পরিমার্জন, যাচাই-বাছাই এবং প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও সূত্রের স্থলে আধুনিক রেফারেন্স ও কিতাবাদি স্থাপনের কাজ তত্ত্বাবধান করেছেন। এই পর্যায়টি দীর্ঘ দুই বছর স্থায়ী হয়েছিল, যাতে তিনি নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন এবং কোনো প্রকার ক্লান্তি বা বিরক্তি বোধ করেননি; বরং দিনরাত পরিশ্রমের মাঝেও তিনি পূর্ণ সন্তুষ্টির সাথে কাজ করে গেছেন। তার একমাত্র লক্ষ্য ছিল বইটি প্রকাশ করা—সেই স্বপ্ন যা দীর্ঘ বিশ বছর ধরে আমাদের সবার মনে ঘুরপাক খাচ্ছিল। আল্লাহ তাকেও এই মহান কাজের জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন এবং একে তার নেকির পাল্লায় গণ্য করুন।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১২)
ويجب أن ننوه هنا أن هذا الكتاب بأجزائه الكثيرة كان ست رسائل دكتوراه سجلناها وحصلنا عليها من جامعة الأزهر بتقدير مرتبة الشرف الأولى، كان هذا من عشرين عاما مضت وبتنا نحلم بطبع الكتاب وكيف يطبع وكل منا في مكان وكلّ منا انصرف لحياته الخاصة؟ فوق التكاليف المادية للطباعة، إلى أن تحقق حلمنا واستجاب الله دعانا ووفقنا - نحن الستة الذين حققوا الكتاب - فاجتمعنا جميعا وكان سابعنا صاحب المكتبة الذي تحمس لطبع الكتاب وإخراجه للنور حين عرضنا عليه الفكرة ولم يأل جهدا ماديّا أو أدبيّا في ذلك.
وأخيرا: فمن العيب أن يزهو الإنسان بعلمه .. ولكن من الحسن بمكان أن يذكر نعم الله عليه ويحدث بها .. فلقد هدانا الله إلى هذا العمل الشريف الذي بذلنا فيه قصارى جهدنا .. ولم ندخر وسعا في سبيل إخراجه على صورة تليق بمكانته .. ولسنا ندعي لجهدنا هذا العصمة من الخطأ؛ فالكمال لله وحده، والعصمة لأنبيائه ورسله .. فإن نكن قد وفقنا فذلك فضل الله يؤتيه من يشاء والله ذو الفضل العظيم .. وإن كانت الأخرى فحسبنا أننا لم نتعمد التقصير ونرجو الله تعالى أن يغفر لنا خطايانا وأن يهدينا إلى سواء السبيل؛ إنه على كل شيء قدير وبالإجابة جدير، وآخر دعوانا أن الحمد لله رب العالمين.
المحققون
المحرم سنة 1424 هـ
القاهرة في:
مارس سنة 2003 م
* * *
এখানে আমাদের উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বহু খণ্ডে বিভক্ত এই বইটি মূলত ছয়টি পিএইচডি গবেষণাপত্র ছিল, যা আমরা আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রথম শ্রেণীর সম্মানসহ অর্জন করেছি। এটি বিশ বছর আগের কথা; তখন থেকেই আমরা বইটি মুদ্রণের স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু বইটি কীভাবে মুদ্রিত হবে, যেখানে আমরা প্রত্যেকেই ভিন্ন ভিন্ন স্থানে ছিলাম এবং প্রত্যেকেই নিজ নিজ ব্যক্তিগত জীবনে নিবিষ্ট ছিলাম? তদুপরি মুদ্রণের বিশাল আর্থিক ব্যয়ের বিষয়টি তো ছিলই। অবশেষে আমাদের স্বপ্ন পূরণ হলো এবং আল্লাহ আমাদের দুআ কবুল করলেন ও তাওফিক দান করলেন—আমরা ছয়জন যারা বইটি সম্পাদনা (তাহকীক) করেছি। আমরা সকলে একত্রিত হলাম এবং আমাদের সাথে সপ্তম ব্যক্তি হিসেবে ছিলেন লাইব্রেরির মালিক, যিনি বইটি মুদ্রণ ও প্রকাশের ব্যাপারে অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন যখন আমরা তার কাছে এই ধারণাটি পেশ করি। এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো আর্থিক বা নৈতিক প্রচেষ্টায় ত্রুটি করেননি।
পরিশেষে: মানুষের জন্য তার জ্ঞান নিয়ে গর্ব করা শোভনীয় নয়... তবে আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করা এবং তা বর্ণনা করা অত্যন্ত উত্তম কাজ... আল্লাহ আমাদের এই মহান কর্মের দিকে পরিচালিত করেছেন যাতে আমরা আমাদের সাধ্যের সর্বোচ্চ চেষ্টা ব্যয় করেছি... এবং এর মর্যাদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপে এটি প্রকাশের জন্য কোনো চেষ্টার ত্রুটি করিনি... আমরা আমাদের এই প্রচেষ্টাকে ভুল-ত্রুটিমুক্ত হওয়ার দাবি করি না; কেননা পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্য এবং নির্ভুলতা কেবল তাঁর নবী ও রাসূলগণের জন্য... সুতরাং আমরা যদি সফল হয়ে থাকি, তবে তা আল্লাহরই অনুগ্রহ, যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন এবং আল্লাহ মহা অনুগ্রহশীল... আর যদি অন্য কিছু হয়, তবে আমাদের জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমরা ইচ্ছাকৃত কোনো অবহেলা করিনি। আমরা মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের ভুল-ত্রুটিগুলো ক্ষমা করে দেন এবং আমাদের সঠিক পথে পরিচালিত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান এবং দুআ কবুলের যোগ্য। আমাদের শেষ কথা হলো, সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
গবেষকবৃন্দ (তাহকীককারীগণ)
মহররম ১৪২৪ হিজরি
কায়রো:
মার্চ ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ
* * *
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
شرح التّسهيل المسمّى تمهيد القواعد بشرح تسهيل الفوائد
القسم الأول «الدراسة» وتتكون من تمهيد وعشرة فصول
শারহুত তাসহীল যা ‘তামহীদুল কাওয়াইদ বি-শারহি তাসহীলিল ফাওয়াইদ’ নামে পরিচিত
প্রথম অংশ «গবেষণা» যা একটি ভূমিকা এবং দশটি অধ্যায়ের সমন্বয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
تمهيد
العصر الثقافي أو الحياة العلمية في عصر ناظر الجيش:في الوقت الذي سقطت فيه بغداد سنة 656 هـ على يد التتار - أصبح المسلمون في حيرة من أمرهم، فإذا بهم يلتفتون في مشارق الأرض ومغاربها يبحثون لأنفسهم عن ملجأ يلجأون إليه ومأوى يأوون إليه؛ فلم يجدوا أمامهم غير مصر والشام؛ حيث أسس المماليك لهم ملكا وأقاموا لأنفسهم سلطانا، وكونوا لعرشهم جندا يذود عنه ويدفع كيد الأعداء.
وكان من حسن سياسة سلاطين المماليك أن أفسحوا في مصر مكانا للخلافة جديدا يؤوون فيه أحد سلائل خلفاء بني العباس بعد ثبوت نسبه وبذلك أعادوا للخلافة سيرتها.
وبذلك كله اكتسبت مصر مكانا جديدا في الحياة .. وانتقل النشاط العلمي من العراق وبغداده إلى مصر وقاهرتها، ونشرت القاهرة زعامتها العلمية وقيادتها الأدبية على البلاد الإسلامية تقريبا زهاء هذه القرون الثلاثة التي عاشت فيها دولة المماليك (1).
ولقد تجمعت عدة عوامل (2) جعلت مصر رائدة للثقافة في هذا العصر نوجزها فيما يلي:
1 - وقوع كثير من البلاد الإسلامية في يد المغول:
طغى سيل المغول الجارف من أواسط آسيا إلى شمالها، مكتسحا ما أمامه من بلاد المسلمين حتى وصل العراق وبلاد الشام، وعمل بها الكثير مما تقشعر له الأبدان؛ فكان لا بد للمسلمين من أن تلتف قلوبهم حول المدافعين عنهم من سلاطين المماليك ملتمسين فيهم الزعامة التي تدافع عنهم، وأن يشد أزرهم ويدعموا ملكهم ما استطاعوا إلى
ذلك سبيلا، ومن أهم وسائل تدعيم الملك
--------------------------------------------
ভূমিকানাযিরুল জাইশ-এর যুগের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বা জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন:যে সময় ৬৫৬ হিজরীতে তাতারীদের হাতে বাগদাদের পতন ঘটে—তখন মুসলমানরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ে। ফলে তারা পৃথিবীর পূর্ব ও পশ্চিমে নিজেদের জন্য এমন এক আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে থাকে যেখানে তারা আশ্রয় নিতে পারে এবং যেখানে তারা নিরাপদ থাকতে পারে। তখন তারা নিজেদের সামনে মিশর ও শামের (সিরিয়া অঞ্চল) বিকল্প পায়নি; যেখানে মামলুকরা নিজেদের রাজত্ব কায়েম করেছিল এবং নিজেদের জন্য এক সালতানাত প্রতিষ্ঠা করেছিল। তারা তাদের সিংহাসনের সুরক্ষায় এবং শত্রুদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় একটি সেনাবাহিনীও গঠন করেছিল।
মামলুক সুলতানদের উত্তম রাজনীতির অংশ ছিল যে, তারা মিশরে খিলাফতের জন্য একটি নতুন স্থান করে দিয়েছিলেন, যেখানে তারা বংশপরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আব্বাসী খলীফাদের এক বংশধরকে আশ্রয় দেন এবং এর মাধ্যমে তারা খিলাফতের সেই ধারাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনেন।
এই সবকিছুর মধ্য দিয়ে মিশর যাপিত জীবনে এক নতুন অবস্থান অর্জন করে। জ্ঞানতাত্ত্বিক কর্মকাণ্ড ইরাক ও তার বাগদাদ থেকে মিশর ও তার কায়রোতে স্থানান্তরিত হয়। কায়রো তার জ্ঞানতাত্ত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং সাহিত্যিক নেতৃত্ব প্রায় এই তিন শতাব্দী ধরে মুসলিম দেশগুলোতে ছড়িয়ে দেয়, যে সময় পর্যন্ত মামলুক রাষ্ট্র বিদ্যমান ছিল (১)।
বেশ কিছু কারণ (২) একত্রিত হয়ে এই যুগে মিশরকে সংস্কৃতির পথপ্রদর্শক হিসেবে গড়ে তুলেছিল, যা আমরা নিম্নে সংক্ষেপে উল্লেখ করছি:
১ - অধিকাংশ মুসলিম দেশ মঙ্গোলদের হাতে চলে যাওয়া:
মধ্য এশিয়া থেকে উত্তর এশিয়া পর্যন্ত মঙ্গোলদের প্রচণ্ড প্লাবন ধেয়ে আসে এবং সামনের সকল মুসলিম জনপদকে তছনছ করে দেয়, এমনকি তারা ইরাক ও শাম দেশেও পৌঁছে যায়। তারা সেখানে এমন সব নৃশংসতা চালায় যা শরীরকে শিউরে দেয়। ফলে মুসলমানদের জন্য এটি অনিবার্য হয়ে পড়েছিল যে, তাদের অন্তরগুলো তাদের রক্ষাকারী মামলুক সুলতানদের চারপাশে আবর্তিত হবে এবং তাদের মধ্যেই এমন নেতৃত্বের অন্বেষণ করবে যারা তাদের প্রতিরক্ষা করবে। আর তারা যেন যথাসম্ভব তাদের হাতকে শক্তিশালী করে এবং তাদের রাজত্বকে সমর্থন জোগায়। আর রাজত্ব সুদৃঢ় করার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
إحياء العلوم والمعارف، فجهد في ذلك علماء المسلمين آنذاك وأتوا بما يعد مزيدا في بابه عجيبا في صنعه.
2 - قتل العلماء وإتلاف الكتب العلمية:
لقد لقي العلماء الفارون من وجه التتار أن المقام لا يستقر بهم إلا في كنف سلاطين مصر، وقد لقواهم ومن لف لفهم من رجال الأمم الأخرى في جوار هؤلاء السلاطين - الأمن والدعة والسلامة والعيش الهادئ، كما وجدوا أنفسهم بعد هذه الكارثة العلمية الرهيبة؛ مسئولين أمام الله عن دينه فدفعهم ذلك إلى الجد في العمل.
3 - وفود العلماء والأدباء إلى مصر والشام؛ حيث كان الأمن والأمان لهم عوضا عما لاقوه في البلاد الأخرى.
4 - زوال الخلافة العباسية وسقوط بغداد في أيدي التتار.
5 - غيرة السلاطين والأمراء على هذا التراث الضائع الذي لم يعرف قيمته هؤلاء الغزاة، ثم تعظيم هؤلاء السلاطين لأهل العلم وحبهم أياهم.
6 - شعور العلماء بواجبهم وتنافسهم في أداء هذا الواجب المنوط بهم وهو إحياء التراث العربي.
7 - انصراف العناية إلى اللغة العربية.
8 - إنشاء دور التعليم ونظامها وإنشاء دور الكتب.
9 - العناية باختيار العلماء وتشجيع المؤلفين (1).
وكان من نتائج هذه الحركة العلمية أن وفد طلاب العلم إلى دور التعليم، وأدى ذلك أيضا إلى كثرة العلماء والأدباء، ونشطت حركة التأليف.
وبذلك يبدو لنا أن الدراسات النحوية في مصر بدأت في وقت مبكر ولم تتقاعس تقاعس غيرها من الأمصار الأخرى.
--------------------------------------------
জ্ঞান ও বিজ্ঞানের পুনর্জাগরণ; সে সময় মুসলিম আলেমগণ এই লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করেন এবং এমন কিছু অবদান রাখেন যা স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অধিকতর এবং শিল্পশৈলীতে বিস্ময়কর হিসেবে বিবেচিত।
২ - আলেমদের হত্যা এবং জ্ঞানমূলক গ্রন্থরাজির বিনাশ:
তাতারদের হাত থেকে পলায়নরত আলেমগণ দেখতে পেলেন যে, মিসরের সুলতানদের আশ্রয় ছাড়া তাদের আর কোনো স্থিতিশীল আবাসস্থল নেই। তারা এবং অন্যান্য জাতির মধ্য হতে তাদের অনুসারীরা এই সুলতানদের সান্নিধ্যে নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য, প্রশান্তি ও শান্তিময় জীবনের সন্ধান পেয়েছিলেন। সেই সাথে এই ভয়াবহ জ্ঞানতাত্ত্বিক বিপর্যয়ের পর তারা নিজেদের আল্লাহর নিকট তাঁর দ্বীনের ব্যাপারে দায়বদ্ধ অনুভব করলেন; যা তাদেরকে কর্মতৎপরতায় ব্রতী হতে উৎসাহিত করেছিল।
৩ - মিসর ও শামে আলেম এবং সাহিত্যিকদের আগমন; যেখানে অন্যান্য দেশে তারা যা ভোগ করেছিলেন তার বিপরীতে নিরাপত্তা ও নির্ভয় পরিবেশ বিদ্যমান ছিল।
৪ - আব্বাসীয় খিলাফতের অবসান এবং তাতারদের হাতে বাগদাদের পতন।
৫ - এই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের প্রতি সুলতান ও আমিরদের মমতা ও গুরুত্ববোধ, যার মূল্য ওই সকল আক্রমণকারীরা অনুধাবন করতে পারেনি। এছাড়া জ্ঞানীদের প্রতি এই সুলতানদের সম্মান প্রদর্শন এবং তাদের প্রতি ভালোবাসা।
৬ - আলেমদের নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা এবং তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ, যা ছিল মূলত আরবি ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ।
৭ - আরবি ভাষার প্রতি মনোযোগ নিবদ্ধ হওয়া।
৮ - শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তার শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং পাঠাগার স্থাপন।
৯ - আলেমদের নির্বাচনে যত্নশীলতা এবং লেখকদের উৎসাহ প্রদান (১)।
এই জ্ঞানতাত্ত্বিক আন্দোলনের অন্যতম ফলাফল ছিল এই যে, জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসতে শুরু করে এবং এর ফলে আলেম ও সাহিত্যিকদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পায় এবং গ্রন্থ রচনার ধারা গতিশীল হয়ে ওঠে।
এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে, মিসরে ব্যাকরণ চর্চা বেশ প্রাচীনকালেই শুরু হয়েছিল এবং অন্যান্য নগরীর মতো তা পিছিয়ে পড়েনি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
خصائص المدرسة النحوية في عصر «ناظر الجيش»:1 - وضع المتون النحوية: لقد كثر في هذا العصر وضع المتون النحوية، وربما كان مرجع ذلك إلى سقوط بغداد وذهاب كثير من المؤلفات النحوية، فأراد علماء النحو أن يحفظوا أصول هذا العلم؛ فوضعوا هذه المختصرات حتى لا تضيع المصادر النحوية التي يستمدون منها نحوهم (1).
2 - كثرة الشروح: يمكن القول بأن هذا العصر عصر الشروح، شروح المؤلفات النحوية التي وضعها مشاهير العلماء السابقين من أمثال: سيبويه، وابن عصفور، والجرجاني، والزجاجي، وأبي علي الفارسي، وابن بابشاذ، والجزولي، والزمخشري، وشروح المؤلفات النحوية التي وضعها النحاة المعاصرون من أمثال: ابن الحاجب، وابن مالك، وابن هشام (2).
3 - كثرة المنظومات النحوية: فقد نظم ابن معط ألفيته، ثم جاء ابن مالك ونظم ألفيته على مثالها، وهذا يعد لونا من ألوان الحفاظ على أصول هذا الفن (3).
4 - نثر المنظومات: كما نظموا المنثور كانوا كذلك ينثرون المنظوم؛ من أجل إظهار البراعة وتسهيل النحو كما يبدو لهم.
5 - التدريب على الإعراب: من هؤلاء الذين أعربوا الألفية الشيخ: شهاب الدين أحمد بن الحسن الرملي الشافعي المتوفى سنة (844 هـ) (4).
6 - الألغاز النحوية: لقد كثرت الألغاز النحوية في هذا العصر والتباري في وضعها، ولكثرتها ألف فيها رسائل ووضعت من أجلها كتب، ومن تراث ابن هشام في هذا الميدان رسالته في الألغاز التي ألفها لخزانة السلطان الملك الكامل، وله أيضا شرح للقصيدة اللغزية في الحسان النحوية، طبعت ضمن كتاب السيوطي «الأشباه والنظائر».
--------------------------------------------
‘নাজির আল-জাইশ’-এর যুগে ব্যাকরণিক ধারার বৈশিষ্ট্যসমূহ:১ - ব্যাকরণিক মূলপাঠ (মুতুন) প্রণয়ন: এই যুগে ব্যাকরণিক মূলপাঠ রচনার ব্যাপকতা পরিলক্ষিত হয়। সম্ভবত এর কারণ ছিল বাগদাদের পতন এবং অনেক ব্যাকরণিক পাণ্ডুলিপি হারিয়ে যাওয়া। ফলে ব্যাকরণবিদগণ এই শাস্ত্রের মূলনীতিগুলো সংরক্ষণ করতে চেয়েছিলেন; তাই তাঁরা এই সংক্ষিপ্ত পাঠগুলো রচনা করেন যাতে যে ব্যাকরণিক উৎসসমূহ থেকে তাঁরা জ্ঞান আহরণ করেন তা হারিয়ে না যায় (১)।
২ - ব্যাখ্যাগ্রন্থের আধিক্য: বলা যেতে পারে যে, এই যুগটি ছিল ব্যাখ্যাগ্রন্থের যুগ। সিবাওয়াইহ, ইবন আসফুর, জুরজানি, জুজাজি, আবু আলি আল-ফারিসি, ইবন বাবশায, জুযুলি এবং যামাখশারির মতো পূর্ববর্তী প্রখ্যাত আলেমদের রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের ব্যাখ্যা এবং ইবনুল হাজিব, ইবন মালিক ও ইবন হিশামের মতো সমসাময়িক ব্যাকরণবিদদের রচিত ব্যাকরণগ্রন্থের ব্যাখ্যা এই যুগে রচিত হয়েছে (২)।
৩ - ব্যাকরণিক কাব্যগ্রন্থের আধিক্য: ইবন মু’তি তাঁর ‘আলফিয়্যাহ’ কাব্যাকারে রচনা করেন, এরপর ইবন মালিক তাঁর অনুকরণে নিজের ‘আলফিয়্যাহ’ কাব্যাকারে লেখেন। এটি এই শিল্পের মূলনীতিগুলো সংরক্ষণের অন্যতম একটি পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত (৩)।
৪ - কাব্যগ্রন্থের গদ্যরূপ প্রদান: তাঁরা যেমন গদ্যকে পদ্য রূপ দিতেন, তেমনি পদ্যকেও গদ্যে রূপান্তর করতেন; যাতে তাদের পাণ্ডিত্য প্রকাশ পায় এবং তাঁদের নিকট ব্যাকরণ সহজতর বোধ হয়।
৫ - বাক্য বিশ্লেষণ (ইরাব)-এর অনুশীলন: যাঁরা আলফিয়্যাহ-এর ইরাব বা বিশ্লেষণ করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শেখ শিহাবউদ্দিন আহমদ বিন হাসান আল-রামলি আশ-শাফিয়ি, যিনি ৮৪৪ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন (৪)।
৬ - ব্যাকরণিক ধাঁধা: এই যুগে ব্যাকরণিক ধাঁধা এবং তা তৈরিতে প্রতিযোগিতার ব্যাপকতা দেখা দেয়। এর আধিক্যের কারণে এ বিষয়ে অনেক পুস্তিকা ও গ্রন্থ রচিত হয়েছে। এই ক্ষেত্রে ইবন হিশামের একটি উল্লেখযোগ্য অবদান হলো ধাঁধা বিষয়ক তাঁর সেই পুস্তিকা যা তিনি সুলতান আল-মালিক আল-কামিলের গ্রন্থাগারের জন্য রচনা করেছিলেন। এছাড়াও ‘আল-হিসান আন-নাহউইয়্যাহ’ নামক ধাঁধামূলক কবিতার একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ তাঁর রয়েছে, যা সুয়ুতির ‘আল-আশবাহ ওয়া আন-নাযাইর’ গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
7 - الاهتمام بشواهد الشعر النحوية: مثل: شرح أبيات سيبويه لأبي جعفر النحاس، وشرح شواهد جمل الزجاجي
لابن هشام، وشرح شواهد شروح الألفية للعيني.
8 - الاستشهاد بالقراءات: ومن أهم الدعائم التي استند إليها علم القراءات بمصر ما نظم الشاطبي المشهور المتوفى سنة (590 هـ). وكثر علماء فن القراءات، وأكب كثير منهم على تدريسه بدور العلم، وأكب بعضهم أيضا على التأليف فيه وتوضيح مسائله، ومن كتب هذا الفن (1):
أ - كتاب القراءات: لمعين الدين عبد الله بن محمد بن عبد الله أبي بكر النكراوي الإسكندراني المتوفى سنة (683 هـ).
ب - شرح الشاطبية: لشهاب الدين أحمد بن يوسف بن عبد الدائم الحلبي السمين المتوفى سنة (756 هـ).
جـ - شرح الشاطبية: لشهاب الدين أبي شامة المتوفى سنة (665 هـ).
د - المقدمة الجزرية: وهي منظومة في التجويد، وضعها شمس الدين أبو الخير محمد بن الجزري الدمشقي القرشي المتوفى سنة (833 هـ)، وله أيضا كتاب «النشر في القراءات العشر» وقد كان لهذه المؤلفات الأثر الكبير في المؤلفات النحوية والصرفية؛ حيث استشهد علماء النحو والصرف بالقراءات القرآنية على صحة القواعد وتخريج الآراء، وكان هذا واضحا في مؤلفات أبي حيان والمرادي وابن هشام والسمين الحلبي وناظر الجيش.
9 - الاحتجاج بالحديث الشريف: وكان الإمام جمال الدين بن مالك أول من جوز الاحتجاج بالحديث النبوي الشريف، وتبعه في ذلك كثير من أئمة النحو بعده؛ من أمثال العلامة المحقق الرضي (2)، وقد تبعهما كثير من المتأخرين كالمرادي وناظر الجيش والدماميني (3).
--------------------------------------------
৭ - ব্যাকরণিক কাব্যিক নিদর্শনের (শাওয়াহিদ) প্রতি গুরুত্বারোপ: যেমন: আবু জাফর আন-নাহহাস রচিত 'শারহু আবইয়াতি সিবাহওয়াইহ', এবং ইবনে হিশাম রচিত 'শারহু শাওয়াহিদি জুমালিল জাজ্জাজি'
ও আল-আইনি রচিত 'শারহু শাওয়াহিদি শুরূহিল আলফিয়্যাহ'।
৮ - কিরাআতকে দলিল হিসেবে গ্রহণ: মিশরে কিরাআত বিজ্ঞান যে প্রধান স্তম্ভগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তার মধ্যে হিজরি ৫৯০ সালে মৃত্যুবরণকারী ইমাম আশ-শাতিবির বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটি অন্যতম। কিরাআত শাস্ত্রের পণ্ডিতদের সংখ্যা সেখানে বৃদ্ধি পায় এবং তাঁদের অনেকেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এর পাঠদানে মনোনিবেশ করেন। আবার কেউ কেউ এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা ও এর মাসআলাসমূহ স্পষ্ট করার প্রতিও নিবিষ্ট হন। এ শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে (১):
ক - কিতাবুল কিরাআত: মুঈন উদ্দিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আবু বকর আন-নাকরাওয়ি আল-ইস্কান্দারি (মৃত ৬৮৩ হিজরি)।
খ - শারহুশ শাতিবিয়্যাহ: শিহাব উদ্দিন আহমদ বিন ইউসুফ বিন আব্দুল দায়িম আল-হালাবি আস-সামিন (মৃত ৭৫৬ হিজরি)।
গ - শারহুশ শাতিবিয়্যাহ: শিহাব উদ্দিন আবু শামা (মৃত ৬৬৫ হিজরি)।
ঘ - আল-মুকাদ্দিমাতুল জাজারিয়্যাহ: এটি তাজবিদ বিষয়ক একটি কাব্যগ্রন্থ, যা শামস উদ্দিন আবুল খায়ের মুহাম্মাদ বিন আল-জাজারি আদ-দিমাশকি আল-কুরাশি (মৃত ৮৩৩ হিজরি) রচনা করেছেন। তাঁর 'আন-নাশরু ফিল কিরাআতিল আশর' নামক একটি গ্রন্থও রয়েছে। এই গ্রন্থগুলো ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্বের (নাহু ও সরফ) গ্রন্থসমূহে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে; যেখানে ব্যাকরণবিদ ও রূপতত্ত্ববিদগণ ব্যাকরণিক নিয়মের বিশুদ্ধতা প্রমাণে এবং বিভিন্ন মতামতের বিশ্লেষণে কুরআনের কিরাআতসমূহকে দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। এটি আবু হাইয়ান, আল-মুরাদি, ইবনে হিশাম, আস-সামিন আল-হালাবি এবং নাজির আল-জাইশের গ্রন্থসমূহে সুস্পষ্ট ছিল।
৯ - হাদিস শরিফকে দলিল হিসেবে গ্রহণ: ইমাম জামাল উদ্দিন ইবনে মালিক ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি হাদিস শরিফকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা বৈধ সাব্যস্ত করেছিলেন। পরবর্তীকালে ব্যাকরণ শাস্ত্রের অনেক ইমাম তাঁকে অনুসরণ করেন; যেমন বিজ্ঞ গবেষক আর-রাদি (২)। তাঁদের পরবর্তীকালের অনেকেই তাঁদের অনুসরণ করেছেন, যেমন আল-মুরাদি, নাজির আল-জাইশ এবং আদ-দামামিনি (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
10 - الموازنة والاختيار: وهذه سمة واضحة من سمات هذا العصر - عصر ناظر الجيش - فليس هناك من جديد؛ فاتجه النحاة إلى الاعتماد على المتقدمين ينقلون عنهم ثم يعقدون الموازنات وأخيرا يتم اختيار الآراء الصحيحة وطرح الفاسد منها، وخير مثال على ذلك ما نراه في شرح التسهيل لناظر الجيش، وكذا ما نراه في مؤلفات المرادي وابن هشام والدماميني.
11 - الاجتهاد (1): وأيضا هذه سمة ظاهرة من سمات هذا العصر جاءت نتيجة للموازنات والاختيارات؛ فلم يكن بد من الاجتهاد في هذه الاختيارات؛ حتى يصل العلماء إلى بغيتهم، ولعل خير مثال على ذلك ما نراه في شرح
التسهيل لناظر الجيش وهو الكتاب الذي بين أيدينا.
* * *
--------------------------------------------
১০ - তুলনা ও নির্বাচন: এটি এই যুগের একটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য - নাযির আল-জাইশের যুগ - এখানে নতুন কিছু নেই; তাই ব্যাকরণবিদগণ পূর্ববর্তীদের ওপর নির্ভর করার দিকে ঝুঁকেছেন, তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন, তারপর তুলনা করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত সঠিক মতগুলো বেছে নিয়েছেন ও ভুলগুলো বর্জন করেছেন। এর সর্বোত্তম উদাহরণ আমরা নাযির আল-জাইশের শরহুত তাসহিল-এ দেখতে পাই, আর তেমনিভাবে আল-মুরাদী, ইবনে হিশাম এবং আদ-দামামীনীর রচনাবলীতেও তা দেখতে পাই।
১১ - ইজতিহাদ (১): এটিও এই যুগের একটি প্রকাশ্য বৈশিষ্ট্য যা তুলনা ও নির্বাচনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে; তাই এই নির্বাচনগুলোর ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করা ছাড়া উপায় ছিল না; যাতে আলেমগণ তাঁদের উদ্দীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন। সম্ভবত এর সর্বোত্তম উদাহরণ আমরা শরহ
আত-তাসহিল লি নাযিরিল জাইশ-এ দেখতে পাই, যা আমাদের সামনে থাকা এই কিতাবটি।
* * *
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفصل الأول حديث موجز عن ابن مالك صاحب «التسهيل»* لا نريد في هذا الفصل أن نتحدث عن الإمام جمال الدين بن مالك حديثا مستفيضا؛ فهذا أمر مضى أوانه .. حيث سبقنا ببحث ودراسة هذه الشخصية العظيمة الفذة علماء أجلاء وأساتذة أفاضل، اهتموا بشأن هذا الرجل ووفوه حقه من البحث والدراسة وأظهروه في ثوبه اللائق به .. ومع ذلك فقد قصدنا إلى ذكر حديث موجز عن العلامة ابن مالك؛ لئلا يقال: إنه صاحب التسهيل صاحب المتن المشروح الذي ملأ الدنيا وشغل الناس فأين المرور عليه والترجمة القصيرة له؟
اسمه ونسبه:لقد اختلف العلماء في سلسلة نسب ابن مالك (1) .. واختصارا للكلام كما نريد من هذه العجالة السريعة فنقول: هو أبو عبد الله جمال الدين محمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الله بن مالك الطائي الجيّاني المالكي حين كان بالمغرب، الشافعي حين انتقل إلى المشرق (2).
كنيته ولقبه:أجمعت المراجع التي ترجمت لابن مالك على أن كنيته: «أبو عبد الله»، ولقبه: «جمال الدين».
مولده وموطن ولادته:اضطرب المؤرخون في تحديد السنة التي ولد فيها ابن مالك على نحو فصله
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: «আত-তাসহিল»-এর রচয়িতা ইবনে মালিক সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা* আমরা এই পরিচ্ছেদে ইমাম জামালুদ্দিন ইবনে মালিক সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাচ্ছি না; কারণ সেই সময় পার হয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই প্রথিতযশা ওলামায়ে কেরাম এবং শ্রেষ্ঠ শিক্ষকবৃন্দ এই মহান ও অনন্য ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে গভীর গবেষণা ও অধ্যয়ন করেছেন। তাঁরা এই মহৎ ব্যক্তির ব্যাপারে যথেষ্ট গুরুত্ব প্রদান করেছেন এবং গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে তাঁকে তাঁর উপযুক্ত মহিমায় ফুটিয়ে তুলেছেন। তা সত্ত্বেও, আমরা আল্লামা ইবনে মালিক সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার অবতারণা করেছি যাতে কেউ এ কথা বলতে না পারে যে: তিনি তো সেই «আত-তাসহিল»-এর রচয়িতা ও ব্যাখ্যাত মূলপাঠের (মতন) লেখক, যা দুনিয়া জুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে এবং মানুষকে ব্যস্ত রেখেছে, তবে তাঁর জীবনীর উপর কোনো আলোকপাত বা সংক্ষিপ্ত পরিচিতি কোথায়?
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:ইবনে মালিকের বংশপরম্পরা নিয়ে ওলামায়ে কেরামের মধ্যে মতভেদ রয়েছে (১)। এই সংক্ষিপ্ত আলোচনায় আমরা সংক্ষেপে বলতে পারি যে: তিনি হলেন আবু আব্দুল্লাহ জামালুদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে মালিক আত-তাঈ আল-জাইয়ানি। তিনি মাগরিবে (পশ্চিমাঞ্চল) থাকাকালীন মালিকি মাজহাবের অনুসারী ছিলেন এবং মাশরিকে (পূর্বাঞ্চল) হিজরত করার পর শাফিয়ি মাজহাব গ্রহণ করেন (২)।
তাঁর কুনিয়াত (উপনাম) ও লকব (উপাধি):ইবনে মালিকের জীবনী আলোচনা করা সকল উৎসগ্রন্থ একমত হয়েছে যে, তাঁর কুনিয়াত ছিল: «আবু আব্দুল্লাহ», এবং তাঁর লকব ছিল: «জামালুদ্দিন»।
তাঁর জন্ম ও জন্মস্থান:ইবনে মালিকের জন্ম সাল নির্ধারণে ঐতিহাসিকগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন এবং তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২১)
أحد الباحثين، وانتهى إلى أن ابن مالك لا يستحق كل هذه الاختلافات الكبيرة. والذي يعنينا من هذا الميلاد، أنه ولد في نهاية القرن السادس الهجري ومفتتح القرن السابع ليكون نجمه الساطع وبريقه اللامع (1).
وبناء على ما ذكر يمكن أن نطمئن إلى أن الأقرب إلى الصواب أن ابن مالك ولد في سنة (600 هـ). وهذا ما عليه أكثر الروايات، أو سنة (601 هـ) كما ذكر الشيخ يس في حاشيته على شرح التصريح (2)، والسبكي في طبقات الشافعية (3)، والمقري في نفح الطيب (4).
هذا وقد اتفق المؤرخون على أن ابن مالك ولد بمدينة: جيّان (5)، ونسب إليها في جميع المراجع التي ترجمت له.
ثناء الناس على ابن مالك:لقد ذكر أحد الباحثين أنه لا ينكر أحد قدر ابن مالك ولا سمو منزلته؛ فقد كان رحمه الله أسطع نجم لمع في سماء العلم في القرن السابع الهجري، وكان إماما له منزلة كبرى يقدرها علماء عصره كل التقدير رغم حساده وعوازله (6).
وقال عنه السيوطي: «هذا مع ما هو عليه من الدين المتين، وصدق اللهجة، وكثرة النوافل، وحسن السمت، ورقة القلب، وكمال العقل، والوقار والتؤدة» (7).
وقال عنه صلاح الدين الصفدي: «وكان كثير العبادة، كثير النوافل، حسن السمت، كامل العقل، وانفرد عن المغاربة بشيئين: الكرم ومذهب الإمام الشافعي» (8).
--------------------------------------------
জনৈক গবেষক এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, ইবনে মালিক এই সকল বিশাল মতভেদের যোগ্য নন। এই জন্ম তারিখের ক্ষেত্রে আমাদের নিকট যা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো, তিনি ষষ্ঠ হিজরি শতাব্দীর শেষভাগে এবং সপ্তম শতাব্দীর প্রারম্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন, যাতে তিনি এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ও দ্যুতিময় প্রভা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন (১)।
উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে আমরা এই বিষয়ে আশ্বস্ত হতে পারি যে, সঠিকের অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো ইবনে মালিক ৬০০ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছেন। অধিকাংশ বর্ণনা এই মতের উপরেই প্রতিষ্ঠিত। অথবা ৬০১ হিজরি সনে, যেমনটি শেখ ইয়াসীন 'শারহুত তাসরিহ'-এর উপর তাঁর হাশিয়াতে (২), সুবকী 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ'-তে (৩) এবং মাক্কারি 'নাফহুত তীব'-এ (৪) উল্লেখ করেছেন।
ঐতিহাসিকগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, ইবনে মালিক 'জিয়ান' (৫) শহরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর জীবনী সংক্রান্ত সকল তথ্যসূত্রে তাঁর নিসবত বা সম্বন্ধ এই শহরের দিকেই করা হয়েছে।
ইবনে মালিকের প্রতি মানুষের প্রশংসা:জনৈক গবেষক উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে মালিকের মর্যাদা ও তাঁর সুউচ্চ অবস্থান কেউ অস্বীকার করে না; কেননা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) সপ্তম হিজরি শতাব্দীতে ইলমের আকাশে উদিত হওয়া সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন। তিনি ছিলেন এমন এক ইমাম, যার ছিল সুউচ্চ মর্যাদা, যা তাঁর সমসাময়িক আলেমগণ পূর্ণভাবে মূল্যায়ন করতেন, যদিও তাঁর প্রতি ঈর্ষাপরায়ণ ও নিন্দুকেরা বিদ্যমান ছিল (৬)।
তাঁর সম্পর্কে সুয়ূতী বলেছেন: «এর পাশাপাশি তিনি সুদৃঢ় দ্বীনদারি, সত্যবাদিতা, অধিক নফল ইবাদত, উত্তম চালচলন, কোমল হৃদয়, পূর্ণাঙ্গ বুদ্ধি, গাম্ভীর্য ও ধীরস্থিরতার অধিকারী ছিলেন» (৭)।
তাঁর সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আস-সাফাদী বলেছেন: «তিনি অধিক ইবাদতগুজার, প্রচুর নফল ইবাদতকারী, উত্তম স্বভাবসম্পন্ন ও নিখুঁত বুদ্ধির অধিকারী ছিলেন। তিনি মাগরেববাসীদের (মরক্কো ও আন্দালুস অঞ্চল) থেকে দুটি বিষয়ে স্বতন্ত্র ছিলেন: দানশীলতা এবং ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব গ্রহণ» (৮)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
وكان الشيخ ركن الدين بن القويع يقول: «إن ابن مالك ما خلى للنحو حرمة» (1).
ورثاه الشيخ بهاء الدين بن النحاس بقوله:
قل لابن مالك إن جرت بك أدمعي
… حمراء يحكيها النجيع القاني
فلقد جرحت القلب حين نعيت لي
… فتدفقّت بدمائه أجفاني
لكن يهوّن ما أجنّ من الأسى
… علمي بنقلته إلى رضوان (2)
وخلاصة القول في هذا الرجل العظيم: أنه كان أول مؤسس لمدرسة النحو في مصر والشام منذ أن أصبح هذان الإقليمان قبلة العلماء ومهد الحضارة الإسلامية بعد سقوط بغداد (3).
مؤلفات ابن مالك (النحوية فقط):لقد تعددت مؤلفات هذا العالم الجليل الذي يعد بحق أعظم نحاة القرن السابع شهرة؛ فقد رزقه الله قدرة فائقة على القراءة والبحث والاطلاع، فصنف مصنفات كثيرة العدد، مختلفة الفنون، ولسنا بصدد الاتساع في هذه الدراسة ولكننا - كما سبق أن ذكرنا - أردنا ألا نخلي كتابنا من حديث عن صاحب التسهيل.
أما عن هذه المؤلفات:
فأولها: كتاب «التسهيل» وهو الكتاب الوحيد من مؤلفات ابن مالك الذي يعنينا ذكره؛ لأنه محل الدراسة والتحقيق، فالموضوع يعالج شرحا من شروحه المتعددة، وقد أفردنا فصلا خاصّا من هذه الدراسة للحديث عن «التسهيل» وقيمته العلمية بين كتب النحو وشروحه المختلفة وقد نشر بتحقيق محمد كامل بركات سنة (1967 م).
ثانيها: كتاب شرح التسهيل الذي حققه د/ عبد الرحمن السيد ود/ محمد
--------------------------------------------
এবং শায়খ রুকনুদ্দিন বিন আল-কুওয়াই বলতেন: "নিশ্চয়ই ইবন মালিক নাহু (ব্যাকরণ)-এর জন্য কোনো মর্যাদা অবশিষ্ট রাখেননি" (১)।
এবং শায়খ বাহাউদ্দিন ইবনুন নাহহাস তাকে এই বলে শোকগাথা রচনা করেছেন:
ইবন মালিককে বলো, যদি তোমার বিরহে আমার অশ্রু প্রবাহিত হয়... তবে তা হবে লাল বর্ণে রঞ্জিত, যা গাঢ় লাল রক্তের ন্যায় দেখায়।
কারণ আপনি যখন আমার নিকট মৃত্যুবরণ করেছেন তখন আপনি আমার অন্তরকে ক্ষতবিক্ষত করেছেন... যার ফলে আমার চোখের পাতা থেকে রক্ত প্রবাহিত হয়েছে।
তবে আমার মনের যে শোক তা লাঘব করছে... আল্লাহর সন্তুষ্টির পানে আপনার পাড়ি জমানোর সংবাদ (২)।
এই মহান ব্যক্তি সম্পর্কে সারকথা হলো: বাগদাদের পতনের পর যখন মিশর ও শাম আলেমদের কেন্দ্রবিন্দু এবং ইসলামী সভ্যতার সূতিকাগারে পরিণত হয়েছিল, তখন থেকেই তিনি ছিলেন এই দুই অঞ্চলে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রের প্রথম প্রতিষ্ঠাতা (৩)।
ইবন মালিকের রচনাবলী (শুধুমাত্র নাহু বিষয়ক):এই মহান আলেমের রচনাবলী বহুবিধ, যিনি যথার্থই সপ্তম শতাব্দীর শ্রেষ্ঠতম প্রসিদ্ধ ব্যাকরণবিদ হিসেবে বিবেচিত হন; আল্লাহ তাকে অধ্যয়ন, গবেষণা ও পর্যালোচনার এক অনন্য ক্ষমতা দান করেছিলেন। ফলে তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রের ওপর অসংখ্য গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমরা এই গবেষণায় বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ রাখছি না, তবে—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—আমরা চেয়েছি যে আমাদের গ্রন্থটি 'তাসহিল'-এর রচয়িতা সম্পর্কে আলোচনা থেকে খালি না থাকুক।
এই রচনাসমূহ সম্পর্কে:
প্রথমটি হলো: 'আত-তাসহিল' গ্রন্থটি। ইবন মালিকের রচনাবলীর মধ্যে এটিই একমাত্র গ্রন্থ যা আমাদের আলোচনার মূল উদ্দেশ্য; কারণ এটিই আমাদের গবেষণা ও সম্পাদনার বিষয়। আলোচ্য বিষয়টি এর বহুবিধ ব্যাখ্যাগ্রন্থের একটি ব্যাখ্যা নিয়ে কাজ করে। এই গবেষণায় আমরা 'তাসহিল' এবং নাহু শাস্ত্রের অন্যান্য গ্রন্থ ও এর বিভিন্ন ব্যাখ্যাগ্রন্থের মাঝে এর ইলমি গুরুত্ব নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বিশেষ অধ্যায় বরাদ্দ করেছি। এটি ১৯৬৭ সালে মুহাম্মদ কামিল বারাকাতের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।
দ্বিতীয়টি হলো: 'শারহুত তাসহিল' গ্রন্থটি, যা ডক্টর আবদুর রহমান আল-সাইয়্যিদ এবং ডক্টর মুহাম্মদ সম্পাদনা করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
بدوي المختون وطبع في أربعة أجزاء كبيرة كان الرابع منها (باب إعراب الفعل وعوامله) بشرح ابنه بدر الدين (686 هـ).
ثالثها: شرح الكافية الشافية وهو سفر كبير في خمسة أجزاء طبع بتحقيق:
د/ عبد المنعم هريدي.
رابعها: شرح عمدة الحافظ وعدة اللافظ. وهو سفر كبير هو الآخر طبع في جزأين كبيرين بتحقيق: عبد الرحمن الدوري.
خامسها: شواهد التوضيح والتصحيح لمشكلات الجامع الصحيح (في إعراب مشكلات الحديث) وهو مطبوع مشهور.
سادسها: الخلاصة المشهورة بالألفية والتي طبقت شهرتها الآفاق بشروحها الكثيرة.
وغير ذلك من الكتب والمنظومات في النحو.
وفاته:اتفق المؤرخون على أن ابن مالك توفي في شعبان سنة (672 هـ) في مدينة دمشق وصلّي عليه بالجامع الأموي ودفن بسفح قاسيون.
* * *
বদউয়ী আল-মাখতুন এবং এটি চারটি বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে, যার চতুর্থ খণ্ডটি ছিল (ক্রিয়ার ইরাব ও এর আমিলসমূহ সংক্রান্ত অধ্যায়) যা তাঁর পুত্র বদরউদ্দীন (৬৮৬ হিজরি) এর ব্যাখ্যাসহ।
তৃতীয়টি: শারহু আল-কাফিয়াহ আশ-শাফিয়াহ, এটি পাঁচ খণ্ডের একটি বিশাল গ্রন্থ যা নিম্নোক্ত ব্যক্তির সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে:
ড. আবদুল মুনয়েম হারীদী।
চতুর্থটি: শারহু উমদাতিল হাফিয ওয়া উদদাতিল লাফিজ। এটিও অন্য একটি বিশাল গ্রন্থ যা আব্দুর রহমান আদ-দাওরী-এর সম্পাদনায় দুই বিশাল খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
পঞ্চমটি: শাওয়াহিুদুত তাওযিহ ওয়াত তাসহিহ লি-মুশকিলাতিল জামিইস সহিহ (হাদিসের জটিল বাক্যগুলোর ইরাব বিষয়ক), এটি একটি প্রসিদ্ধ মুদ্রিত গ্রন্থ।
ষষ্ঠটি: আল-খুলাসাহ যা আলফিয়্যাহ নামে প্রসিদ্ধ, যার খ্যাতি এবং এর অসংখ্য ব্যাখ্যাগ্রন্থ দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
এছাড়াও নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রে তাঁর আরও অনেক গ্রন্থ ও কাব্যগ্রন্থ রয়েছে।
তাঁর মৃত্যু:ঐতিহাসিকগণ একমত হয়েছেন যে, ইবনে মালিক ৬৭২ হিজরির শাবান মাসে দামেস্ক শহরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জানাজার নামাজ উমাইয়্যা জামে মসজিদে পড়ানো হয় এবং তাঁকে কাসিয়ুন পাহাড়ের পাদদেশে দাফন করা হয়।
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
الفصل الثاني حديث عن ناظر الجيش صاحب «شرح التسهيل»*
اسمه ونسبه:قال عنه ابن حجر: «محمد بن يوسف بن أحمد بن عبد الدائم الحلبي الأصل المصري محب الدين» (1).
وقال ابن تغري بردي: «القاضي محب الدين، أبو عبد الله محمد بن القاضي نجم الدين أبي المحاسن يوسف بن أحمد بن عبد الدائم التميمي المصري ناظر الجيوش المنصورة بالديار المصرية» (2).
وقال السيوطي: «ناظر الجيش محب الدين محمد بن يوسف بن أحمد بن عبد الدائم الحلبي» (3).
وفي كشف الظنون: «محب الدين محمد بن يوسف بن أحمد بن عبيد الدائم؛ المعروف بناظر الجيش الحلبي» (4).
من هنا يمكن أن نقول: إن هناك اتفاقا بين الذين ترجموا لناظر الجيش في سلسلة نسبه على هذا النحو: «محمد بن يوسف بن أحمد بن عبد الدائم الحلبي» (5).
لقبه وكنيته:اتفقت جميع المصادر التي ترجمت لناظر الجيش على أن لقبه: «محب الدين»، أما عن كنيته فلم يشر إلى ذلك إلا مصدران:
النجوم الزاهرة، قال: «القاضي محب الدين أبو عبد الله» (6).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ‘শারহুত তাসহিল’ এর রচয়িতা নাযিরুল জাইশ সম্পর্কে আলোচনা*
তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:তাঁর সম্পর্কে ইবনে হাজার বলেন: “মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন আহমদ ইবন আবদুল দায়িম, মূলত হালবি কিন্তু মিশরীয় অধিবাসী, মুহিব্বুদ্দিন” (১)।
ইবন তাগরি বারদি বলেন: “কাযী মুহিব্বুদ্দিন, আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবন কাযী নাজমুদ্দিন আবুল মাহাসিন ইউসুফ ইবন আহমদ ইবন আবদুল দায়িম আল-তামিমি আল-মিসরি, যিনি মিশরীয় ভূখণ্ডের বিজয়ী বাহিনীর পরিদর্শক (নাযিরুল জাইশ) ছিলেন” (২)।
আস-সুয়ূতী বলেন: “নাযিরুল জাইশ মুহিব্বুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন আহমদ ইবন আবদুল দায়িম আল-হালবি” (৩)।
কাশফুয যুনুন-এ রয়েছে: “মুহিব্বুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন আহমদ ইবন উবাইদুল দায়িম; যিনি নাযিরুল জাইশ আল-হালবি নামে পরিচিত” (৪)।
এখান থেকে বলা যায় যে: নাযিরুল জাইশ-এর জীবনীকারদের মাঝে তাঁর বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে এই ধারায় ঐকমত্য রয়েছে: “মুহাম্মদ ইবন ইউসুফ ইবন আহমদ ইবন আবদুল দায়িম আল-হালবি” (৫)।
তাঁর উপাধি ও কুনিয়াত (উপনাম):নাযিরুল জাইশ-এর জীবনী সম্বলিত সকল উৎস এই বিষয়ে একমত যে তাঁর উপাধি ছিল: “মুহিব্বুদ্দিন”, তবে তাঁর কুনিয়াত বা উপনামের বিষয়ে মাত্র দুটি উৎসে উল্লেখ পাওয়া যায়:
আন-নুজুম আয-যাহিরা-তে বলা হয়েছে: “কাযী মুহিব্বুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ” (৬)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
ومعجم المؤلفين، قال: «محمد بن يوسف بن أحمد بن عبد الدائم التميمي المصري الحلبي؛ المعروف بناظر الجيش محب الدين أبو عبد الله» (1).
ناظر الجيش: أما عن هذا اللقب، فقد عرف به بعد أن تولى نظارة الجيش، أي أنه اكتسبه في أخريات حياته.
ولكن ما طبيعة هذا العمل؟ وما هي وظيفة ناظر الجيش؟.
وملخص ذلك: أن عمل ناظر الجيش: «النظر في أمر الإقطاعات بمصر والشام، والكتابة بالكشف عنها، ومشاورة السلطان في أمرها، ويتصل بالنظر في شؤون المماليك السلطانية وله أتباع» (2).
مولده وموطن ولادته:ولد ناظر الجيش سنة (697 هـ) بالقاهرة، ولم يختلف في ذلك أحد ممن ترجموا له. ويبدو أن ناظر الجيش بعد أن ولد بالقاهرة انتقل إلى حلب مع أسرته واشتغل بها مدة من الزمان، ثم عاد إلى القاهرة محل ميلاده، وقد يفهم هذا من كلام السيوطي في: حسن المحاضرة حيث يقول: «واشتغل ببلاده ثم قدم القاهرة» (3).
وهذا ما تطمئن إليه النفس.
شيوخه:لقد تتلمذ ناظر الجيش على علماء أجلاء كثيرين في شتى الفنون .. فقد أتاحت له قدرته على الاستيعاب مع ذكائه
النادر، وصلاحه وفضله - أن يلازم كثيرا من العلماء والاستفادة من علومهم، ولقد ذكرت لنا المصادر التي ترجمت لناظر الجيش أنه تتلمذ على كثير من العلماء:
قال ابن حجر (4): «وسمع من الرشيد بن المعلم، والشريف موسى بن علي الموسوي، والشريف الزينبي، وابن هارون، وست الوزراء، وابن الشحنة،
--------------------------------------------
এবং মু'জামুল মুআল্লিফীন গ্রন্থে বলা হয়েছে: «মুহাম্মাদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আহমাদ ইবনে আব্দুল দায়িম আত-তামীমী আল-মিসরী আল-হালাবী; যিনি নাযিরুল জাইশ মুহিব্বুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ নামে পরিচিত» (১)।
নাযিরুল জাইশ: এই উপাধিটির ব্যাপারে বলা যায় যে, তিনি সেনাবাহিনীর পরিদর্শকের (নাযারাতুল জাইশ) দায়িত্বভার গ্রহণ করার পর এই উপাধিতে পরিচিতি লাভ করেন। অর্থাৎ তিনি তাঁর জীবনের শেষ ভাগে এটি অর্জন করেছিলেন।
কিন্তু এই কাজের প্রকৃতি কী ছিল? আর নাযিরুল জাইশের দায়িত্বই বা কী ছিল?
এর সারসংক্ষেপ হলো: নাযিরুল জাইশের কাজ ছিল: «মিসর ও শামের জায়গির সংক্রান্ত বিষয়াদি দেখাশোনা করা, সেগুলো উন্মোচন করে লিখে রাখা, সেই বিষয়ে সুলতানের সাথে পরামর্শ করা এবং এটি রাজকীয় মামলুকদের বিষয়াদি দেখাশোনার সাথেও সংশ্লিষ্ট ছিল, আর তাঁর অধীনে অনেক অনুসারী বা কর্মচারী ছিল» (২)।
তাঁর জন্ম ও জন্মস্থান:নাযিরুল জাইশ ৬৯৭ হিজরি সালে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন এবং যারা তাঁর জীবনী রচনা করেছেন তাদের কেউই এই বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেননি। প্রতীয়মান হয় যে, কায়রোতে জন্মগ্রহণ করার পর নাযিরুল জাইশ তাঁর পরিবারের সাথে আলেপ্পোতে (হালাব) চলে যান এবং সেখানে দীর্ঘ সময় জ্ঞানচর্চায় ব্যস্ত থাকেন। এরপর তিনি পুনরায় তাঁর জন্মস্থান কায়রোতে ফিরে আসেন। আল্লামা সুয়ূতী রহ.-এর 'হুসনুল মুহাদারা' গ্রন্থের বর্ণনা থেকে এটি বোঝা যায়, যেখানে তিনি বলেছেন: «তিনি স্বদেশে জ্ঞানচর্চায় নিমগ্ন ছিলেন এবং পরে কায়রোতে আগমন করেন» (৩)।
আর এটিই মনের নিকট অধিক গ্রহণযোগ্য মনে হয়।
তাঁর উস্তাদগণ:নাযিরুল জাইশ বিভিন্ন বিষয়ে অনেক মহান আলেমের নিকট শিক্ষা গ্রহণ করেছেন। তাঁর বিরল মেধা, আত্মস্থ করার ক্ষমতা, নেককার স্বভাব এবং শ্রেষ্ঠত্ব তাঁকে অনেক আলেমের সান্নিধ্যে থাকার এবং তাঁদের ইলম থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। যেসব উৎস থেকে নাযিরুল জাইশের জীবনী পাওয়া যায়, সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি অনেক আলেমের নিকট ছাত্রত্ব গ্রহণ করেছেন।
ইবনে হাজার রহ. (৪) বলেন: «তিনি রশীদ ইবনুল মুআল্লিম, শরীফ মূসা ইবনে আলী আল-মূসাভী, শরীফ আয-যায়নাবী, ইবনে হারুন, সিত্তুল উযারা এবং ইবনে আশ-শুহনার নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেছেন,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وحسن الكردي، وموسى بن عطوف وآخرين».
ثم قال (1): «وقرأ بالسبع على التقي الصائغ، وتخرج بالبرهان الرشيدي، وأخذ العربية عن أبي حيان والتلخيص عن الجلال مصنفه، وأخذ عن التقي السبكي، والقطب السنباطي، والتاج التبريزي».
وقال السيوطي (2): «ولازم أبا حيان والجلال القزويني، والتاج التبريزي، وتلا على التقي الصائغ». وقال ابن العماد (3): «ولازم أبا حيان، والتاج التبريزي، وغيرهما» ثم قال (4): «وتلا بالسبع على الصائغ» وقال (5): «وسمع من الشريف موسى وست الوزراء وغيرهما»، وهذه ترجمة موجزة لبعض شيوخه:
1 - أبو حيان:هو محمد بن يوسف بن علي بن يوسف بن حيان أثير الدين، الغرناطي المغربي المالكي ثم الشافعي. ولد بغرناطة في مدينة من مدنها تسمى:
مطخشارش (6) في شوال سنة 654 هـ.
ولقد تعددت مؤلفات الشيخ أبي حيان وتنوعت، وحسبنا من هذه المؤلفات كتابه في التفسير المسمى بـ «البحر المحيط» وكتاباه في النحو: التذييل والتكميل في شرح التسهيل، وارتشاف الضرب من كلام العرب - مشهوران معروفان وله كتب أخر غير ذلك: كالتذكرة، والنكت الحسان، وتلخيص المقرب والممتع لابن عصفور.
توفي الشيخ أبو حيان في الثامن عشر من شهر صفر سنة 745 هـ (7).
--------------------------------------------
এবং হাসান আল-কুর্দি, মুসা ইবনে আতুফ এবং অন্যান্যরা।
তারপর তিনি (১) বলেন: "তিনি তাকী আস-সায়িগ-এর নিকট সাত কেরাআতে পাঠ করেছেন, বুরহান আর-রাশিদী-র মাধ্যমে শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন, আবু হাইয়ানের নিকট আরবি ভাষা শিক্ষা করেছেন এবং জালাল-এর নিকট তাঁর রচিত কিতাব 'আত-তালখিস' গ্রহণ করেছেন। আরও গ্রহণ করেছেন তাকী আস-সুবকী, কুতুব আস-সুনবাতি এবং তাজ আত-তাবরিজি-র নিকট থেকে।"
আস-সুয়ুতি (২) বলেন: "তিনি আবু হাইয়ান, জালাল আল-কাযউইনি এবং তাজ আত-তাবরিজি-র সাহচর্যে ছিলেন এবং তাকী আস-সায়িগ-এর নিকট পাঠ করেছেন।" এবং ইবনুল ইমাদ (৩) বলেন: "তিনি আবু হাইয়ান, তাজ আত-তাবরিজি এবং অন্যদের সাহচর্যে ছিলেন।" তারপর তিনি (৪) বলেন: "তিনি আস-সায়িগ-এর নিকট সাত কেরাআতে পাঠ করেছেন।" তিনি আরও (৫) বলেন: "তিনি শরীফ মুসা এবং সিত আল-উযারা ও অন্যান্যদের নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন।" নিচে তাঁর কয়েকজন শাইখের সংক্ষিপ্ত জীবনী দেওয়া হলো:
১ - আবু হাইয়ান:তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে হাইয়ান আসীরুদ্দীন, আল-গারনাতি আল-মাগরিবি আল-মালিকি, পরবর্তীতে শাফেয়ী। তিনি ৬৫৪ হিজরির শাওয়াল মাসে গ্রানাডার একটি শহরে জন্মগ্রহণ করেন যার নাম হলো:
মাতখাশারিশ (৬), ৬৫৪ হিজরির শাওয়াল মাসে।
শাইখ আবু হাইয়ানের গ্রন্থসমূহ সংখ্যায় অনেক এবং বৈচিত্র্যময়। তাঁর এসকল গ্রন্থের মধ্যে আমাদের জন্য তাঁর তাফসির গ্রন্থ 'আল-বাহরুল মুহিত' এবং নাহু শাস্ত্রের ওপর তাঁর দুটি গ্রন্থ: 'আত-তাযয়ীল ওয়াত-তাকমীল ফি শারহিত তাস-হীল' ও 'ইরতিশাফুদ দারব মিন কালামিল আরাব'—যা অত্যন্ত সুপরিচিত ও প্রসিদ্ধ—উল্লেখ করাই যথেষ্ট। এ ছাড়াও তাঁর আরও কিছু কিতাব রয়েছে: যেমন আত-তাযকিরাহ, আন-নুকাতুল হিসান এবং ইবনে আসফুরের 'আল-মুকাররাব' ও 'আল-মুমতি' কিতাবদ্বয়ের সারসংক্ষেপ।
শাইখ আবু হাইয়ান ৭৪৫ হিজরির সফর মাসের আঠারো তারিখে ইন্তেকাল করেন (৭)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
2 - تاج الدين التبريزي:علي بن عبد الله بن أبي الحسن الأردبيلي التبريزي الشيخ تاج الدين - كان عديم النظير في عصره، أحد الأئمة الجامعين لأنواع العلوم، عالما كبيرا مشهورا في: الفقه والمعقول والعربية والحساب، وغير ذلك.
وكان من خيار العلماء دينا ومروءة فانتفع به الناس، وحدث وصنف في أنواع العلوم. ولقد صم التبريزي في آخر حياته وتوفي في (17 من رمضان سنة 746 هـ) (1).
3 - التقي السبكي:علي بن عبد الكافي بن علي بن تمام بن يوسف بن موسى بن تمام بن حامد ابن يحيى بن عمر بن عثمان بن علي بن مسوار بن سوار بن سليم السبكي تقي الدين أبو الحسن، الفقيه الشافعي المفسر الحافظ الأصولي النحوي اللغوي المقرئ البياني الجدلي الخلافي، النظار البارع شيخ الإسلام. ولد مستهل (صفر سنة 683 هـ)، وصنف نحو: مائة وخمسين كتابا مطولا ومختصرا. توفي التقي السبكي سنة (755 هـ) (2).
4 - التقي الصائغ:محمد بن عبد الرحمن بن علي بن أبي الحسن الزمردي، الشيخ شمس الدين بن الصائغ الحنفي النحوي .. ولد قبل سنة (710 هـ)، واشتغل بالعلم وبرع في اللغة والنحو والفقه.
وله من التصانيف: شرح المشارق في الحديث، شرح ألفية ابن مالك في غاية الحسن، والجمال والاختصار، التذكرة عدة مجلدات في النحو، المنهج القويم في القرآن الكريم، وغير ذلك.
توفي التقي الصائغ سنة (776 هـ) وخلف ثروة واسعة (3).
--------------------------------------------
২ - তাজউদ্দীন আত-তাবরিজি:আলী ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে আবিল হাসান আল-আরদাবিলি আত-তাবরিজি শায়খ তাজউদ্দীন—তিনি তাঁর যুগে অতুলনীয় ছিলেন, এবং নানা বিদ্যায় পারদর্শী ইমামগণের অন্যতম ছিলেন। তিনি ফিকহ, বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান (মা'কুল), আরবি ভাষা, গণিত এবং অন্যান্য বিষয়ে একজন প্রখ্যাত ও মহান আলেম ছিলেন।
তিনি দ্বীনদারি ও বীরোচিত গুণাবলির (মুরুয়্যত) দিক থেকে শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, ফলে মানুষ তাঁর দ্বারা উপকৃত হয়েছিল। তিনি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তাবরিজি তাঁর জীবনের শেষ দিকে বধির হয়ে গিয়েছিলেন এবং ৭৪৬ হিজরির ১৭ই রমজান ইন্তেকাল করেন (১)।
৩ - তাকিউদ্দীন আস-সুবকি:আলী ইবনে আব্দুল কাফি ইবনে আলী ইবনে তাম্মাম ইবনে ইউসুফ ইবনে মুসা ইবনে তাম্মাম ইবনে হামিদ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে উমর ইবনে উসমান ইবনে আলী ইবনে মিসওয়ার ইবনে সাওয়ার ইবনে সুলাইম আস-সুবকি তাকিউদ্দীন আবুল হাসান। তিনি শাফিয়ি ফকিহ, মুফাসসির, হাফেজ, উসুলবিদ, ব্যাকরণবিদ, ভাষাবিদ, ক্বারী, অলঙ্কারশাস্ত্রবিদ, তার্কিক ও গবেষক এবং পারদর্শী শায়খুল ইসলাম ছিলেন। তিনি ৬৮৩ হিজরির সফর মাসের শুরুতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি গ্রন্থ রচনা করেন। তাকিউদ্দীন আস-সুবকি ৭৫৫ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন (২)।
৪ - তাকিউদ্দীন আস-সাইগ:মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান ইবনে আলী ইবনে আবিল হাসান আজ-জুমুররুদি, শায়খ শামসুদ্দীন ইবনুল সাইগ আল-হানাফি ব্যাকরণবিদ... তিনি ৭১০ হিজরির পূর্বে জন্মগ্রহণ করেন এবং জ্ঞানার্জনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ভাষা, ব্যাকরণ ও ফিকহ শাস্ত্রে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: হাদিস শাস্ত্রে ‘শারহুল মাশারিক’, ইবনে মালিকের আলফিয়্যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ (যা অত্যন্ত সুন্দর, চমৎকার ও সংক্ষিপ্ত), ব্যাকরণ শাস্ত্রে কয়েক খণ্ডের ‘আত-তাযকিরাহ’, পবিত্র কুরআন বিষয়ে ‘আল-মানহাজুল ক্বউয়িম’ ইত্যাদি।
তাকিউদ্দীন আস-সাইগ ৭৭৬ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং বিপুল সম্পদ রেখে যান (৩)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
5 - الجلال القزويني:محمد بن عبد الرحمن بن عمر بن أحمد بن محمد بن عبد الكريم بن الحسن بن علي بن إبراهيم بن علي بن أحمد بن دلف بن أبي دلف العجلي أبو المعالي، قاضي القضاة جلال الدين القزويني الشافعي العلامة.
ولد سنة (666 هـ) .. واشتغل وتفقه حتى ولي قضاء ناحية بالروم، وله دون العشرين، ثم قدم دمشق واشتغل بالفنون، وأتقن الأصول والعربية، والمعاني والبيان.
له من التصانيف: تلخيص المفتاح في المعاني والبيان، وله أيضا التلخيص، والسور المرجاني في شعر الأرجاني.
توفي جلال الدين القزويني في منتصف جمادى الأولى سنة (739 هـ) (1).
تلاميذه:لم تحدثنا كتب التراجم عن أحد من تلاميذ ناظر الجيش .. ويبدو من عدم وجود تلاميذ له، أنه كان مشغولا بمناصب الدولة فلم يتفرغ للتدريس طويلا؛ اللهم إلا ما ذكره السيوطي من أنه درس التفسير بالمنصورية (2).
ولكن إذا فتشنا في بطون الكتب نجد أن هناك كثيرين ممن نقلوا عنه وتتلمذوا على مؤلفاته من أمثال: الشيخ خالد (3) والسيوطي (4) والصبان (5) والشنقيطي (6) والبغدادي (7) وغير ذلك وهم كثير.
ثقافته:إن رجلا تتلمذ على علماء أفذاذ لهم من الشهرة ما لهم؛ من أمثال: أبي حيان والتقي السبكي والجلال القزويني والتقي الصائغ والتاج التبريزي وغيرهم ممن
--------------------------------------------
৫ - জালাল আল-কাযউইনী:মুহাম্মাদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে উমর ইবনে আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল কারীম ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে ইব্রাহীম ইবনে আলী ইবনে আহমাদ ইবনে দুলফ ইবনে আবু দুলফ আল-ইজলী আবু আল-মাআলী, প্রধান বিচারপতি জালালুদ্দীন আল-কাযউইনী আশ-শাফিঈ আল-আল্লামাহ।
তিনি ৬৬৬ হিজরী সনে জন্মগ্রহণ করেন... তিনি জ্ঞানার্জন করেন এবং ফিকহশাস্ত্রে পারদর্শিতা লাভ করেন, এমনকি বিশ বছর বয়সের পূর্বেই তিনি রোম অঞ্চলের বিচারক নিযুক্ত হন। অতঃপর তিনি দামেস্কে আসেন এবং বিভিন্ন শাস্ত্র ও বিদ্যায় আত্মনিয়োগ করেন। তিনি উসূল (মূলনীতিশাস্ত্র), আরবী ভাষা এবং মাআনী ও বায়ান (অলঙ্কারশাস্ত্র)-এ ব্যুৎপত্তি অর্জন করেন।
তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: মাআনী ও বায়ান শাস্ত্রের ‘তালখিসুল মিফতাহ’, এবং তাঁর আরও রয়েছে ‘আল-তালখিস’ এবং আল-আরজানি-র কবিতার ওপর ‘আস-সুরুল মারজানি’ নামক গ্রন্থ।
জালালুদ্দীন আল-কাযউইনী ৭৩৯ হিজরী সনের জুমাদাল উলা মাসের মাঝামাঝি সময়ে মৃত্যুবরণ করেন (১)।
তাঁর ছাত্রগণ:জীবনী গ্রন্থগুলো আমাদের নাযিরুল জাইশ-এর কোনো ছাত্রের কথা জানায় না... তাঁর কোনো ছাত্রের উল্লেখ না থাকার কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি রাষ্ট্রের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ দায়িত্বে ব্যস্ত ছিলেন, ফলে দীর্ঘ সময় শিক্ষকতার জন্য ফুরসত পাননি; তবে সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি মানসুরিয়া মাদরাসায় তাফসীর পড়াতেন (২)।
কিন্তু আমরা যদি কিতাবসমূহের গভীরে অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাই যে এমন অনেকেই আছেন যারা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন, যেমন: শেখ খালিদ (৩), সুয়ূতী (৪), সাব্বান (৫), শানকিতি (৬), বাগদাদী (৭) এবং আরও অনেকে।
তাঁর জ্ঞান ও সংস্কৃতি:যিনি এমন সব অনন্য সাধারণ ও বিশ্ববিখ্যাত আলেমদের নিকট শিক্ষা লাভ করেছেন; যেমন: আবু হাইয়ান, তাকীউদ্দীন আস-সুবকী, জালাল আল-কাযউইনী, তাকীউদ্দীন আস-সাইগ, তাজ আদ-তাবারীযী এবং অন্যান্যদের নিকট যারা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
أسلفنا ذكرهم .. لا بد أن يكون تلميذا ذا ثقافة عالية نظرا لمجالسته لهؤلاء العلماء وملازمته لهم ينهل من علومهم ويرشف من فنونهم ويتغذى من ثقافاتهم الواسعة .. فاستفاد منهم الكثير الذي أودعه
مؤلفاته النحوية والبلاغية وغيرها.
هذا، وقد أشار السيوطي إلى أنه حدث، وأفاد، وكانت له يد طولى في الحساب (1).
وهذا يدل على تنوع ثقافة الرجل، وأنه لم يترك شيئا من العلوم إلا أقبل عليه وحصل منه.
مؤلفاته:
لقد اتفقت جميع المصادر التي ترجمت لناظر الجيش على أنه لم يؤلف سوى كتابين: أحدهما في النحو والآخر في البلاغة.
أما الأول فهو: شرح التسهيل الذي نحن بصدد تحقيقه. وقد أشارت بعض المصادر إلى أنه لم يتمه (2).
وأما الثاني: فهو: شرح تلخيص المفتاح في المعاني والبيان (3).
هذان هما الكتابان اللذان أشارت إليهما جميع المصادر التي ترجمت لناظر الجيش وأنهما من تأليفه.
وفي أثناء اطلاعنا على كتاب: عصر سلاطين المماليك - وجدنا أن المؤلف يشير إلى أن محب الدين محمد بن يوسف المعروف بناظر الجيش له «شرح على الألفية» (4).
ويبدو أن قلة مؤلفات ناظر الجيش ترجع إلى اشتغاله بالمناصب التي تولاها.
ويوضح ذلك ما ذكره في مقدمة هذا الشرح؛ حيث ذكر أنه توقف عن إتمامه قال (5): «وقد كنت شرعت في ذلك
والزمان غض، والشباب غير مبيض،
--------------------------------------------
আমরা ইতিপূর্বে যাদের কথা উল্লেখ করেছি.. এই আলেমদের সাহচর্য লাভ এবং তাঁদের সাথে নিরন্তর অবস্থানের কারণে তাঁকে অবশ্যই উচ্চ সংস্কৃতি ও জ্ঞানসম্পন্ন একজন ছাত্র হতে হয়েছে, যিনি তাঁদের জ্ঞান থেকে আহরণ করেছেন, তাঁদের শিল্পকলা থেকে আস্বাদন করেছেন এবং তাঁদের বিস্তৃত পাণ্ডিত্য থেকে পুষ্টি গ্রহণ করেছেন। ফলে তিনি তাঁদের নিকট থেকে প্রচুর উপকৃত হয়েছেন, যা তিনি তাঁর
ব্যাকরণ , অলঙ্কারশাস্ত্র এবং অন্যান্য বিষয়ক গ্রন্থাবলীতে নিহিত করেছেন।
অধিকন্তু, আস-সুয়ূতী উল্লেখ করেছেন যে, তিনি হাদীস বর্ণনা করেছেন, শিক্ষা দান করেছেন এবং গণিতশাস্ত্রে তাঁর সুদীর্ঘ হাত (বিশেষ দক্ষতা) ছিল (১)।
এটি উক্ত ব্যক্তির জ্ঞানের বহুমুখিতা প্রমাণ করে এবং তিনি জ্ঞান-বিজ্ঞানের এমন কোনো শাখা বাদ দেননি যার প্রতি তিনি ধাবিত হননি এবং তা থেকে অর্জন করেননি।
তাঁর রচনাবলী:
নাজির আল-জাইশের জীবনী বর্ণনাকারী সকল উৎস এ বিষয়ে একমত যে, তিনি মাত্র দুটি গ্রন্থ রচনা করেছেন: একটি নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্রে এবং অন্যটি বালাগাত (অলঙ্কারশাস্ত্র) শাস্ত্রে।
প্রথমটি হলো: শারহুত তাসহিল, যা আমরা বর্তমানে সম্পাদনা করছি। কিছু উৎস ইঙ্গিত দিয়েছে যে তিনি এটি সম্পন্ন করতে পারেননি (২)।
আর দ্বিতীয়টি হলো: মা'আনি ও বয়ান শাস্ত্রের ওপর শারহু তালখিসিল মিফতাহ (৩)।
এই দুটিই সেই গ্রন্থ যেগুলোর কথা নাজির আল-জাইশের জীবনী সংশ্লিষ্ট সকল উৎস উল্লেখ করেছে এবং এগুলো তাঁরই রচনা।
'আসরু সালাতিনিল মামালিক' গ্রন্থটি পর্যালোচনাকালে আমরা পেয়েছি যে, লেখক ইঙ্গিত করেছেন যে নাজির আল-জাইশ নামে পরিচিত মুহিব্বুদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ 'আলফিয়্যাহ'-র ওপর একটি 'শারহ' (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) লিখেছেন (৪)।
প্রতীয়মান হয় যে, নাজির আল-জাইশের গ্রন্থাবলীর স্বল্পতার কারণ ছিল তাঁর ওপর অর্পিত বিভিন্ন পদ ও দায়িত্বসমূহে ব্যস্ত থাকা।
এই ব্যাখ্যাগ্রন্থের ভূমিকায় তিনি যা উল্লেখ করেছেন তা বিষয়টি স্পষ্ট করে; যেখানে তিনি এটি সমাপ্ত করা থেকে বিরত থাকার কথা উল্লেখ করে বলেছেন (৫): "আমি যখন এটি শুরু করেছিলাম তখন সময় ছিল সজীব এবং যৌবন ছিল বার্ধক্যের শুভ্রতাহীন (অম্লান),
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
فلما عاقت عنه العوائق، وتقاصر العزم لما نبا الطلبة عن تلك الطرائق، وشغلتني الخدم (1)، وتحققت ما رأيته من قصور الهمم - أحجمت عن إتمامه من غير فترة، وتركت العمل فيه؛ وإن كانت الرغبة في ذلك مستمرة».
صفاته وأخلاقه:لقد تحلى ناظر الجيش بصفات غاية في الحسن والروعة ..
فها هو ذا ابن حجر يقول عنه: «وترقى إلى أن ولي نظر الجيش بالديار المصرية، ففاق من قبله من الأكابر؛ فضلا عن أقرانه في المروءة والعصبية لجميع الناس ممن يقصده؛ خصوصا طلبة العلم، فكان لهم في أيامه من المكارم والأفضال ما لا يعبر عنه ولا يحصى كثرة؛ حتى إني لم أدرك أحدا من المشايخ إلا ويحكي عنه في هذا الباب ما لا يحكيه الآخر، ولم يزل في عزه وجاهه ومهابته إلى أن مات» (2).
وقال عنه ابن تغري بردي: «وكان القاضي محب الدين رجلا صالحا فاضلا، وله سماع عال» (3).
وقال عنه ابن العماد في شذرات الذهب: «وكان كثير الظرف والنوادر، وبلغت مرتباته في الشهر ثلاثة آلاف، وكان من محاسن الدنيا مع الدين والصيانة» (4).
المناصب التي تولاها:لقد ذكرت المصادر أن ناظر الجيش ترقى إلى أن ولي نظر الجيش بالديار المصرية (5)، وهذا يدل على أنه تولى وظائف كثيرة كان آخرها نظر الجيش، ويشهد لذلك ما ذكره ابن تغري بردي في النجوم الزاهرة حيث قال:
«وكان في ابتداء أمره تولى ديوان «چنكلي» بن البابا، ثم خدم عند الأمير
--------------------------------------------
যখন নানা প্রতিবন্ধকতা একে বাধাগ্রস্ত করল এবং সেই পথগুলো থেকে অন্বেষণকারীদের বিমুখতা দেখে সংকল্প দুর্বল হয়ে পড়ল, আর নানা কাজে (১) আমি ব্যস্ত হয়ে পড়লাম এবং মানুষের হিম্মতের যে ঘাটতি আমি দেখেছি তা উপলব্ধি করলাম—তখন কোনো বিরতি ছাড়াই আমি এটি সম্পন্ন করা থেকে বিরত থাকলাম এবং এতে কাজ করা ছেড়ে দিলাম; যদিও এ ব্যাপারে আগ্রহ অব্যাহত ছিল।
তাঁর গুণাবলি ও চরিত্র:নাযিরুল জাইশ অত্যন্ত সুন্দর ও চমৎকার সব গুণে গুণান্বিত ছিলেন...
এই তো ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি পদোন্নতি লাভ করতে করতে মিশর ভূখণ্ডের সামরিক প্রশাসনের প্রধান (নাযিরুল জাইশ) পদে অধিষ্ঠিত হন। তিনি তাঁর পূর্ববর্তী বড় বড় ব্যক্তিবর্গকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন; আর তাঁর সমসাময়িকদের তুলনায় মানুষের প্রতি দাক্ষিণ্য ও সৌহার্দ্য প্রদর্শনের ক্ষেত্রে তো বটেই, বিশেষ করে যারা তাঁর কাছে আসত, বিশেষ করে ইলম অন্বেষণকারীগণ। তাঁর সময়ে তাদের প্রতি যে সম্মান ও অনুগ্রহ প্রদর্শিত হতো তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না এবং এর প্রাচুর্য গণনা করা সম্ভব নয়। এমনকি আমি এমন কোনো শায়খকে পাইনি যিনি এই বিষয়ে তাঁর সম্পর্কে এমন কিছু বর্ণনা করেননি যা অন্য কেউ করেননি। তিনি তাঁর মর্যাদা, প্রতিপত্তি ও গাম্ভীর্যের মাঝেই মৃত্যু অবধি অবস্থান করেছেন» (২)।
ইবনে তাগরি বারদি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «কাযী মুহিব্বুদ্দীন ছিলেন একজন নেককার ও গুণী মানুষ, এবং উচ্চ পর্যায়ের উস্তাদদের নিকট থেকে তাঁর হাদিস শ্রবণের সনদ ছিল» (৩)।
ইবনুল ইমাদ 'শাযারাতুয যাহাব'-এ তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি অত্যন্ত রসিক ও কৌতুকপ্রিয় ছিলেন। তাঁর মাসিক বেতন তিন হাজারে পৌঁছেছিল। তিনি দ্বীনদারি ও চারিত্রিক পবিত্রতার পাশাপাশি পার্থিব সৌন্দর্যের অধিকারী ছিলেন» (৪)।
তাঁর অলংকৃত পদসমূহ:বিভিন্ন ঐতিহাসিক উৎস উল্লেখ করেছে যে, নাযিরুল জাইশ পদোন্নতি পেতে পেতে মিশরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান পদে নিয়োজিত হয়েছিলেন (৫)। এটি নির্দেশ করে যে তিনি অনেক পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যার সর্বশেষটি ছিল নাযিরুল জাইশ। 'আন-নুজুম আয-যাহিরা' গ্রন্থে ইবনে তাগরি বারদি যা উল্লেখ করেছেন তা এর সাক্ষ্য দেয়, যেখানে তিনি বলেছেন:
«তিনি তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে ‘চাংকালী’ ইবনুল বাবার দপ্তরে কাজ করতেন, এরপর তিনি আমীরের অধীনে খিদমত করেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
«منكلي» الفخري فكتب إليه الشيخ صلاح الدين الصفدي يقول:
من چنكلي صرت إلى منكلي
… فكل خير أرتجي منك لي
وأنت لي كهف وما مقصدي
… من هذه الدنيا سوى أنت لي (1)
وقد سبق أن ذكرنا أن عمل «ناظر الجيش» هو: «النظر في أمر الإقطاعات بمصر والشام بالكشف عنها، ومشاورة السلطان في أمرها، ويتصل بالنظر في شؤون المماليك السلطانية؛ وله أتباع».
وبالبحث عرفنا أن مثل هذه الوظائف لا تكون إلا للأمراء، وهم من معتوقي المماليك الذين سمت بهم همتهم وحظهم إلى مرتبة الإمارة، فيعطى لكل واحد من هؤلاء إقطاع يمنحه فيستغله وفق هواه، أو يتناول منه مالا معينا:
ويتغير إقطاعه ويعطى أوسع منه كلما ترقى، ويرد الإقطاع إلى السلطان ليمنحه لأمير آخر إذا توفي صاحبه أو عطل (2).
ومن الوظائف التي يتولاها هؤلاء الأمراء وظيفة «ناظر الجيش».
ولنتساءل هل كان محب الدين محمد بن يوسف واحدا من هؤلاء الأمراء الذين هم من معتوقي المماليك حتى يتولى هذا المنصب؟ أو أنه تولاه نظرا لتفوقه العلمي؟.
أغلب الظن أن ناظر الجيش كان أميرا من أمراء المماليك؛ لأن هذه الوظيفة كانت مقصورة عليهم (3)، أما طبقة المثقفين - وكان يطلق عليهم في عهد المماليك اسم: المتعممين، وهم من أبناء الشعب المتخرجين في المساجد النابغين في علم أو أدب - فهؤلاء كان يختار منهم: قضاة القضاة ونوابهم ومساعدوهم، وكتاب الدواوين ومعاونوهم، وكتاب السر، وشيوخ المدارس والخوانق، إلى غير ذلك؛ أي تركت لهم مناصب القضاء والكتابة والتعليم وما يتصل بها، ولهؤلاء أجور ورواتب وضروب من المعونة يمنحونها من أوقاف أو نحوها لقاء
--------------------------------------------
'মানকালি' আল-ফাখরি, তার প্রতি শেখ সালাহউদ্দীন আস-সাফাদি লিখেছেন:
আমি 'চানকালি' হতে 'মানকালি'তে পরিণত হয়েছি
… তাই সকল কল্যাণ আমি তোমার নিকট থেকে আমার জন্য প্রত্যাশা করি।
আপনি আমার জন্য আশ্রয়স্থল, আর এই দুনিয়াতে আমার উদ্দেশ্য
… আপনি ছাড়া আর কিছু নয় (১)।
আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, 'নাজিরুল জাইশ' (সেনাবাহিনী পরিদর্শক)-এর কাজ হলো: «মিশর ও শামে ইকতা (জমি বন্টন) সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে তদারকি করা, এ বিষয়ে সুলতানের সাথে পরামর্শ করা এবং এটি সুলতানী মামলুকদের বিষয়াবলীর তদারকির সাথেও সংশ্লিষ্ট; তার অধীনে অনেক অনুসারী থাকত»।
গবেষণার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, এই ধরনের পদগুলো কেবল আমিরদের জন্যই নির্ধারিত ছিল। তারা ছিলেন সেইসব মুক্ত মামলুকদের অন্তর্ভুক্ত, যাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও ভাগ্য তাদেরকে আমির বা সেনাপতির স্তরে উন্নীত করেছিল। তাদের প্রত্যেককে একটি করে ইকতা প্রদান করা হতো, যা তারা নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী ভোগ করতেন অথবা সেখান থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করতেন:
পদোন্নতির সাথে সাথে তার ইকতা পরিবর্তিত হতো এবং তাকে আরও বড় ইকতা প্রদান করা হতো। যখন ইকতা গ্রহীতা মৃত্যুবরণ করতেন বা পদচ্যুত হতেন, তখন সেই ইকতা সুলতানের কাছে ফেরত আসত যাতে তিনি অন্য কোনো আমিরকে তা প্রদান করতে পারেন (২)।
এই আমিররা যেসকল পদ পরিচালনা করতেন, তার মধ্যে একটি হলো 'নাজিরুল জাইশ'-এর পদ।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে, মুহিব্বুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ কি সেইসব আমিরদের একজন ছিলেন যারা মুক্ত মামলুকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, যাতে তিনি এই পদটি লাভ করেন? নাকি তিনি তার জ্ঞানগত শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এই পদ লাভ করেছিলেন?
প্রবল ধারণা এই যে, নাজিরুল জাইশ মামলুক আমিরদের মধ্য থেকেই কেউ হতেন; কারণ এই পদটি কেবল তাদের জন্যই সংরক্ষিত ছিল (৩)। অন্যদিকে শিক্ষিত শ্রেণী—যাদের মামলুক আমলে 'মুতামাম্মিমিন' (পাগড়িধারী) বলা হতো এবং যারা ছিলেন জনসাধারণের মধ্য থেকে আসা মসজিদের গ্র্যাজুয়েট এবং জ্ঞান বা সাহিত্যে প্রতিভাবান—তাদের মধ্য থেকে প্রধান বিচারপতি, তাদের প্রতিনিধি ও সহকারী, দপ্তরের লেখক ও তাদের সহকারী, গোপনীয় লেখক, মাদ্রাসা ও খানকার শায়খ প্রভৃতি নির্বাচিত হতেন। অর্থাৎ বিচার বিভাগ, দাপ্তরিক কাজ, শিক্ষা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পদগুলো তাদের জন্য ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তাদের জন্য বেতন, ভাতা এবং বিভিন্ন ধরনের অনুদান ছিল, যা তারা তাদের কাজের বিনিময়ে ওয়াকফ বা অনুরূপ উৎস থেকে লাভ করতেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তামহীদুল কাওয়ায়িদি বিশারহি তাসহীলিল ফাওয়ায়িদ
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أعمالهم (1).
يضاف إلى ذلك؛ ما ذكره ابن تغري بردي (2) نقلا عن الشيخ صلاح الدين الصفدي من أنه خدم عند الأمير منكلي الفخري وهذا خاص بالمماليك ..
وعلى أية حال، فإن محب الدين محمد بن يوسف تولى نظر الجيش، سواء أكان من معتوقي المماليك، أم كان واحدا من مثقفي الشعب.
وفاته:اتفقت جميع المصادر على أن وفاة «ناظر الجيش» كانت في ثاني عشر من ذي الحجة سنة (778 هـ) عن إحدى وثمانين سنة، وكان ذلك في يوم الثلاثاء، في السنة الرابعة من سلطنة الملك الأشرف شعبان بن حسين، على مصر وهي السنة التي قتل فيها في ذي القعدة (3).
* * *
--------------------------------------------
তাদের কার্যাবলি (১)।
এর সাথে যুক্ত করা যেতে পারে যা ইবনে তাগরি বারদি (২) শেখ সালাহউদ্দিন আস-সাফাদির বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি আমির মানকালি আল-ফাখরির অধীনে কাজ করেছেন এবং এটি মামলুকদের একটি বৈশিষ্ট্য...
যা-ই হোক না কেন, মুহিব উদ্দিন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ 'নাজিরুল জাইশ' (সেনাবাহিনী পরিদর্শক) পদ গ্রহণ করেন, চাই তিনি মুক্তকৃত মামলুকদের অন্তর্ভুক্ত হন কিংবা জনগণের একজন বুদ্ধিজীবী হন।
তাঁর মৃত্যু:সকল উৎস এই বিষয়ে একমত যে, 'নাজিরুল জাইশ'-এর মৃত্যু ৭৭৮ হিজরি সনের ১২ই জিলহজ ৮১ বছর বয়সে হয়েছিল। দিনটি ছিল মঙ্গলবার, মিশরে সুলতান আল-মালিকুল আশরাফ শাবান বিন হুসাইনের রাজত্বের চতুর্থ বছরে; এটি ছিল সেই বছর যার জিলকদ মাসে তিনি নিহত হয়েছিলেন (৩)।
* * *
--------------------------------------------