(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح القواعد السعدية   (عبد المحسن الزامل)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: شرح القواعد السعدية

المؤلف: عبد المحسن بن عبد الله الزامل

اعتنى بها وخرج أحاديثها: عبد الرحمن بن سليمان العبيد، أيمن بن سعود العنقري

الناشر: دار أطلس الخضراء للنشر والتوزيع، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2001 م

عدد الصفحات: 288

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 24 محرم 1437

শারহুল কাওয়ায়েদ আস-সাদিয়্যাহ   (আব্দুল মুহসিন আয-যামিল)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: শারহুল কাওয়ায়েদ আস-সাদিয়্যাহ

লেখক: আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ আয-যামিল

সম্পাদনা ও হাদিসসমূহের তাহরিজ (تخريج): আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আল-উবাইদ، আইমান বিন সাউদ আল-আনকারি

প্রকাশক: দার আতলাস আল-খাদরা প্রকাশনা ও বিতরণ কেন্দ্র، রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২৮৮

[গ্রন্থের সংখ্যায়ন মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা সফটওয়্যারে প্রকাশের তারিখ: ২৪ মুহররম ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح القواعد السعدية

 

شرح

فضيلة الشيخ عبد المحسن بن عبد الله الزامل

 

اعتنى بها وخرج أحاديثها

عبد الرحمن بن سليمان العبيد

أيمن بن سعود العنقري

 

دار أطلس
আল-কাওয়ায়েদ আস-সাদিয়ার ব্যাখ্যা

 

ব্যাখ্যা করেছেন

শ্রদ্ধেয় শায়খ আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ আল-যামিল

 

সম্পাদনা ও এর হাদিসসমূহের সূত্র নিরূপণ (تخريج) করেছেন

আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান আল-উবাইদ

আয়মান বিন সাউদ আল-আনকারি

 

দার আতলাস
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩)
شَرْح القَواعِد السَّعدِيَّة
আস-সাদী নীতিমালাসমূহের ব্যাখ্যা
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৪)
(ح) دَار أطلس للنشر والتوزيع، 1422 هـ

 

فهرسة الْملك فَهد الوطنية أثْنَاء النشر

الزامل، عبد المحسن بن عبد الله

شرح الْقَوَاعِد السعدية - الرياض

300 ص، 17؛ 24 سم

ردمك: 5 - 7 - 9137 - 9960

1 - أصُول الْفِقْه … أ - العنوان

ديوي 251.6 … 0285/ 22

 

رقم الْإِيدَاع: 0285/ 22

ردمك: 5 - 7 - 9137 - 9960

 

حُقوقُ الطَّبع محْفُوظَة للِنَّاشِر

الطَّبَعة الأولى

1422 هـ - 2001 م

 

دَارُ أَطْلَس لِلنَّشْرِ وَالتَّوزِيع

المملكة الْعَرَبيَّة السعودية - الرياض: 11362 ص. ب: 162

هَاتِف: 4266963 - 4266104 فاكس: 4257906

الْموقع الالكتروني: www.dar-atlas.com

الْبَرِيد الالكتروني: info@dar-atlas.com
(গ) দার আতলাস প্রকাশনী ও বিতরণ, ১৪২২ হিজরি

 

প্রকাশনাধীন অবস্থায় বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের তালিকাভুক্তি

আয-যামিল, আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ

শারহুল কাওয়াইদ আস-সা’দিয়্যাহ - রিয়াদ

৩০০ পৃষ্ঠা, ১৭; ২৪ সেমি

আইএসবিএন: ৫ - ৭ - ৯১৩৭ - ৯৯৬০

১ - ইসলামি আইনতত্ত্বের মূলনীতি … ক - শিরোনাম

ডিউই ২৫১.৬ … ০২৮৫/ ২২

 

জমাদান নম্বর: ০২৮৫/ ২২

আইএসবিএন: ৫ - ৭ - ৯১৩৭ - ৯৯৬০

 

সর্বস্বত্ব প্রকাশকের নিকট সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

১৪২২ হিজরি - ২০০১ খ্রিস্টাব্দ

 

দার আতলাস প্রকাশনী ও বিতরণ

সৌদি আরব কিংডম - রিয়াদ: ১১৩৬২ ডাকবাক্স: ১৬২

ফোন: ৪২৬৬৯৬৩ - ৪২৬৬১০৪ ফ্যাক্স: ৪২৫৭৯০৬

ওয়েবসাইট: www.dar-atlas.com

ইমেইল: info@dar-atlas.com
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৫)
الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فقد قام الأخوان الكريمان كلّ من الشيخ/ عبد الرحمن ابن سليمان العُبيد والشيخ أيمن بن سعود العنقري بالعناية بكتاب "شرح القواعد السعدية" والذي أصله دروس أقيمت في مسجد شيخ الإسلام بن تيمية رحمه الله وذلك عام 1415 هـ، فكان من أخينا عبد الرحمن العبيد لاجتهاد في تفريغه من الأشرطة المسجلة من الإذن له في حذف ما يرى حذفه مناسباً فاجتهد في ذلك، جزاه الله خيراً. ثم كان من أخينا أيمن العنقري العناية به من جهة التخريج لأحاديثه، جزاه الله خيرًا.

وقبل ذلك قرأه عليَّ أخونا عبد الرحمن بعد تفريغه، فكان مني النظر في بعض المواضع أثناء القراءة، فزدتُ فيه ونقصت ما يحتاج إلى ذلك.

أسأل الله سبحانه أن يجعله عملاً خالصاً لوجهه الكريم، آمين، إنه جواد كريم. وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم

كتبه

عبد المحسن بن عبد الله الزامل

15/ 11/ 1421 هـ
সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:

দুইজন সম্মানিত ভাই—শাইখ আব্দুর রহমান ইবনে সুলাইমান আল-উবাইদ এবং শাইখ আয়মান বিন সাউদ আল-আনকারি ‘শরহুল কাওয়ায়িদ আস-সাদিয়্যাহ’ নামক গ্রন্থটির যত্ন ও সম্পাদনা করেছেন। এর মূল উৎস ছিল শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) মসজিদে ১৪১৫ হিজরিতে অনুষ্ঠিত কিছু পাঠ। আমাদের ভাই আব্দুর রহমান আল-উবাইদ রেকর্ডকৃত অডিও ক্যাসেট থেকে এটি প্রতিলিপি করার ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালিয়েছেন এবং তাকে যথাযথ মনে হওয়া অংশগুলো বাদ দেওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল, তাই তিনি সে ক্ষেত্রে পরিশ্রম করেছেন; আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। অতঃপর আমাদের ভাই আয়মান আল-আনকারি এর হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করার মাধ্যমে এর কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন; আল্লাহ তাকেও উত্তম প্রতিদান দান করুন।

এর আগে, প্রতিলিপি সম্পন্ন করার পর আমাদের ভাই আব্দুর রহমান এটি আমাকে পড়ে শুনিয়েছিলেন। পাঠ চলাকালীন আমি কিছু স্থানে পর্যালোচনা করেছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তাতে কিছু অংশ সংযোজন ও বিয়োজন করেছি।

আমি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত একনিষ্ঠ আমল হিসেবে কবুল করেন। আমিন। নিশ্চয়ই তিনি মহানুভব ও দয়াবান। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর।

লিখেছেন

আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ আয-যামিল

১৫/ ১১/ ১৪২১ হিজরি
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৬)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين، أما بعد:

فقد وفقنا الله تعالى ويسَّرَ لنا الاعتناء بدروس شيخنا الشيخ/ عبد المحسن بن عبد الله الزامل - حفظه الله -، وقمنا بإخراج شرح شيخنا على كتاب "القواعد والأصول الجامعة للشيخ العلاّمة عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله والذي كان بمسجد شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله بمدينة الرياض في الدورة العلمية في صيف عام 1415 هـ.

وسيلي هذا الشرح - بإذن الله - ما تيسَّر من شروحات بعض المتون العلمية لفضيلة شيخنا - وفقه الله -. أعاننا الله تعالى على إخراجها وطبعها.

هذا، ونسأله سبحانه أن يجزيه خير الجزاء وكلَّ من أسهم في إخراج هذا الكتاب المبارك، إنه وليّ ذلك والقادر عليه.

وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

وكتبه

عبد الرحمن بن سليمان بن محمد العبيّد وأيمن بن سعود بن عبد العزيز العنقري

ص. ب 74 ضرماء 11923 … ص. ب 446 الرياض 11391
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সঙ্গীর ওপর। অতঃপর:

আল্লাহ তাআলা আমাদের তাওফিক দিয়েছেন এবং আমাদের শাইখ, শাইখ আব্দুল মুহসিন বিন আব্দুল্লাহ আয-যামিল—হাফিযাহুল্লাহ—এর দরসসমূহের প্রতি যত্নবান হওয়াকে সহজ করে দিয়েছেন। আমরা শাইখুল আল্লামা আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাব "আল-কাওয়ায়িদ ওয়াল-উসুল আল-জামিআ"-এর ওপর আমাদের শাইখের ব্যাখ্যা (شرح) প্রকাশ করেছি, যা রিয়াদ শহরের শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) মসজিদে ১৪১৫ হিজরীর গ্রীষ্মকালীন ইলমী কোর্স (الدورة العلمية)-এ প্রদান করা হয়েছিল।

আল্লাহর ইচ্ছায় এই ব্যাখ্যা (شرح)-এর পর আমাদের সম্মানিত শাইখ—আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন—এর কিছু ইলমী মূল পাঠ (المتون)-এর ব্যাখ্যাসমূহ যা সহজসাধ্য হয়, তা ক্রমান্বয়ে প্রকাশিত হবে। আল্লাহ তাআলা এগুলোর সংকলন ও মুদ্রণে আমাদের সাহায্য করুন।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন তাঁকে (শাইখকে) এবং এই বরকতময় কিতাবটি প্রকাশের ক্ষেত্রে যারা অবদান রেখেছেন তাদের সকলকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর সক্ষম।

আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সঙ্গীদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন।

এটি লিখেছেন—

আব্দুর রহমান বিন সুলাইমান বিন মুহাম্মাদ আল-উবাইদ এবং আয়মান বিন সাউদ বিন আব্দুল আযীয আল-আনকারী

পি.ও. বক্স ৭৪, দারমা ১১৯২৩ … পি.ও. বক্স ৪৪৬, রিয়াদ ১১৩৯১
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌مقدمة

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين.

أما بعد:

ففي هذا الكتاب نتناول علماً مهماً من العلوم التى اجتهد العلماء في سائر المذاهب بتحصيله وكتابته وتدوينه، وهو علمُ قواعد الفقه.

وهذا العلمُ من أهم العلوم، ومن ضَبَطَ الأصول في قواعد الفقه وجملة مما يتفرع عنها فإن مسائل الفقه تنضبط عليه، ويَحسُن فهمُه، ويَحسُن إدراكه، ويكون سبباً في أن يحصل له مَلَكة في الفقه يستطيع أن يُلحق المسائل بنظائرها وأشباهها وأمثالها، وهذا يُعينَه على ضَبْطِ مسائل كثيرة، ويحفظ عليه وقتاً كثيراً في تتبع المسائل، فتكون لديه مَلَكَةٌ في معرفة المسائل إذا وردت عليه في سائر أبواب الفقه، فلا يحتاج إلى تتبع كل مسألة؛ بل إذا عرف الأصول في القواعد المبنية على الأدلة الصحيحة فإنه ينضبط قوله وتنضبط فتواه وهذا ليس معناه أن لا يوجد مسألة إلا وهى مُدْرَجَةٌ تحت قاعدة من القواعد التي ذكرها أهل العلم، بل هذه لها استثناءات، وقد تكون بعض القواعد خرج منها كثير من المسائل بأدلة، وقد تكون بعض القواعد مبنية على دليل ضعيف أو استنباط لا يَصحّ إلى غير ذلك.

وكتابنا هذا هو شرح القواعد والأصول الجامعة، وهو لفضيلة الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي رحمه الله وهذا الكتاب مُبَسَّطٌ جداً ومُيَسَّرٌ، وعباراته واضحة.
উপক্রমণিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুলগণের ওপর।

অতঃপর:

এই কিতাবে আমরা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্র নিয়ে আলোচনা করব, যা অর্জনে, রচনায় এবং সংকলনে সকল মাযহাবের ওলামায়ে কেরাম আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন; আর তা হলো ‘কাওয়ায়েদুল ফিকহ’ বা ফিকহী মূলনীতি শাস্ত্র।

এই শাস্ত্রটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত। যে ব্যক্তি ফিকহী মূলনীতিসমূহের উসুল এবং তা থেকে নির্গত শাখাসমূহ আয়ত্ত করতে পারে, তার জন্য ফিকহী মাসআলাসমূহ সুবিন্যস্ত হয়ে যায় এবং তার অনুধাবন ও উপলব্ধি অত্যন্ত উন্নত হয়। এটি তার মধ্যে ফিকহী প্রজ্ঞা তৈরি হওয়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, যার মাধ্যমে সে নতুন কোনো মাসআলাকে তার সদৃশ ও অনুরূপ বিষয়ের সাথে যুক্ত করতে পারে। এটি তাকে অসংখ্য মাসআলা আয়ত্ত করতে সহায়তা করে এবং প্রতিটি মাসআলা পৃথকভাবে অনুসন্ধান করার ক্ষেত্রে অনেক সময় বাঁচিয়ে দেয়। ফলে ফিকহ শাস্ত্রের যেকোনো অধ্যায় থেকে মাসআলা সামনে আসুক না কেন, তা জানার ক্ষেত্রে তার একটি বিশেষ যোগ্যতা তৈরি হয়; তখন তাকে প্রতিটি মাসআলা পৃথকভাবে খুঁজতে হয় না। বরং সে যখন সঠিক (صحيحة) দলিলের ওপর ভিত্তি করে রচিত এই মূলনীতিগুলো জানবে, তখন তার বক্তব্য ও ফতোয়া সুশৃঙ্খল হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রতিটি মাসআলাই ওলামায়ে কেরাম বর্ণিত কোনো না কোনো মূলনীতির অধীনে দাখিল হবে; বরং এর কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। আবার কোনো কোনো মূলনীতি থেকে দলিলের ভিত্তিতে অনেক মাসআলা বহির্ভূত হতে পারে, আবার কিছু মূলনীতি দুর্বল (ضعيف) দলিলের ওপর ভিত্তি করে অথবা এমন কোনো গবেষণার ওপর ভিত্তি করে রচিত হতে পারে যা সঠিক (يصح) নয়—ইত্যাদি।

আমাদের এই কিতাবটি হলো ‘আল-কাওয়ায়েদ ওয়াল উসুলুল জামিয়া’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা শায়খ আবদুর রহমান ইবনে নাসির আস-সা’দী (রহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত। এই কিতাবটি অত্যন্ত সহজবোধ্য ও সাবলীল এবং এর ভাষাশৈলী অত্যন্ত স্পষ্ট।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৮)
وكتب القواعد كثيرة، وما من مذهب من المذاهب إلا وفيه جملة من كتب القواعد، منها البسيط، ومنها الوسيط، ومنها المختصر.

فمنهم من يطيل في التخريج جداً، ومنهم من يختصر جداً، فإذا ذكر القاعدة لا يذكر تحتها شيئاً من الأمثلة أو يذكر مثالاً، ولا يوضح القاعدة ولا يبيّنها.

وهذا الكتاب بناه مؤلفه رحمه الله على ستين قاعدة، فيذكر القاعدة مختصرة ثم يُتْبعُهَا بشرح مُيسَّر، ونحن نشرح هذه القواعد التى ذكرها فنأخذ القاعدة ثم نشير إليها بشيء مما يقتضيه المقام.

وهذه القواعد التى جمعها رحمه الله غالبها مأخوذ من كلام شيخ الإسلام رحمه الله والعلاّمة ابن القيم، وكذلك من قواعد ابن رجب وغيرها من كتب القواعد.

وسوف نشير في البداية إلى جملة مهمة ومختصرة تتعلق بعلم القواعد:

 

*‌‌ أولاً: تعريف القاعدة:

‌‌القاعدة معناها لغة: الأساس، وهي أصل الشيء الذي يُبنى عليه، حسياً كان أم معنوياً.

‌‌فالحسي: كقواعد البيت وهي أركانه التى يُبنى عليها.

‌‌والمعنوي: كقواعد الدين، أي أسس الدين.

‌‌واصطلاحاً: اختلف فيه كثيراً، في خصوص قواعد الفقه قيل: إنها حكم أغلبي
মূলনীতির (القواعد) কিতাবসমূহ সংখ্যায় অনেক। এমন কোনো মাজহাব নেই যাতে বেশ কিছু মূলনীতির কিতাব বিদ্যমান নেই; যার মধ্যে কোনোটি বিস্তারিত, কোনোটি নাতিদীর্ঘ এবং কোনোটি সংক্ষিপ্ত।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ গবেষণা ও সূত্রায়নের (التخريج) ক্ষেত্রে অনেক দীর্ঘ আলোচনা করেন, আবার কেউ কেউ অত্যন্ত সংক্ষেপ করেন। ফলে যখন তিনি কোনো মূলনীতি উল্লেখ করেন, তখন তার অধীনে কোনো উদাহরণ দেন না অথবা মাত্র একটি উদাহরণ দেন, কিন্তু মূলনীতিটিকে স্পষ্ট বা ব্যাখ্যা করেন না।

এই কিতাবটি এর লেখক (রহিমাহুল্লাহ) ষাটটি মূলনীতির (القاعدة) ওপর ভিত্তি করে রচনা করেছেন। তিনি মূলনীতিটি সংক্ষেপে উল্লেখ করেন এবং এরপর একটি সহজ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। আমরা তাঁর বর্ণিত এই মূলনীতিগুলোর ব্যাখ্যা করব; আমরা একেকটি মূলনীতি গ্রহণ করব এবং প্রেক্ষাপটের প্রয়োজন অনুযায়ী তা আলোচনা করব।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) যে মূলনীতিগুলো (القواعد) সংকলন করেছেন, তার অধিকাংশ শাইখুল ইসলাম (রহিমাহুল্লাহ) এবং আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিমের বক্তব্য থেকে গৃহীত। একইভাবে ইবনে রজবের কাওয়াইদ এবং মূলনীতির অন্যান্য কিতাব থেকেও নেওয়া হয়েছে।

আমরা শুরুতে মূলনীতি শাস্ত্র (علم القواعد) সংশ্লিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও সংক্ষিপ্ত বিষয় উল্লেখ করব:

 

*‌‌ প্রথমত: মূলনীতির (القاعدة) সংজ্ঞা:

‌‌আভিধানিক অর্থে মূলনীতির (القاعدة) অর্থ হলো: ভিত্তি (الأساس), আর এটি হলো কোনো বস্তুর মূল উৎস যার ওপর তা দাঁড়িয়ে থাকে—তা দৃশ্যমান হোক বা ভাবগত।

‌‌দৃশ্যমান হলো: যেমন ঘরের ভিত্তি (قواعد البيت), যা হলো তার স্তম্ভসমূহ যার ওপর ঘরটি নির্মিত হয়।

‌‌ভাবগত হলো: যেমন দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (قواعد الدين), অর্থাৎ দ্বীনের ভিত্তি।

‌‌পারিভাষিক অর্থে: এ বিষয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। বিশেষ করে ফিকহী মূলনীতির (قواعد الفقه) ক্ষেত্রে বলা হয়েছে: এটি হলো একটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান (حكم أغلبي)
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৯)
ينطبق على معظم جزئياتها. . هذا تعريف من تعريفات قواعد الفقه.

ونحن نعرف أن غالب الحدود لا تنضبط تماماً بل يَرِدُ عليها أشياء ليست منها، ويخرج منها أشياء هي منها، فعلى هذا قولهم: إن القاعدة هي حكم أغلبي فهذا تعريف عام يشمل القواعد في الفقه وغير الفقه، ولأجل هذا عبَّر غيرهم مكان هذا التعريف فقال: هي حكم كلي يدخل فيه جميع جزئياته. . لكن التعريف الأول أقرب لأن كثيراً من القواعد يحصل لها استثناءات.

 

*‌‌ ثانياً: يذكر العلماء في باب القواعد ما يسمى الضابط، فهل هو ومسمى القاعدة واحد أو بينهما فرق؟

طريقة جمهور من يصنف في قواعد الفقه لا يفرقون بحسب التَّتَبع، فتجدهم يذكرون كتب القواعد ويقولون قاعدة، فيذكرون قاعدة كُليّة في أبواب الفقه كلها أو في أكثرها، أو يذكرون قاعدة في باب واحد، وهي إذا كانت في باب واحد فإنها تكون ضابطاً، ومع هذا هم يسمونه قاعدة، وهذا يقع كثيراً في قواعد الحافظ ابن رجب رحمه الله، وكذلك كتاب الفروق للقرافي، وغيرهم ممن كتب في قواعد الفقه، فتجدهم لا يفرقون بين القاعدة والضابط.

بل بعضهم قد يذكر ضوابط كثيرة، وقلَّ أن يذكر قاعدة ويسميه كتاب القواعد، أو قواعد الفقه، أو عبارة نحو هذا، فلهذا تجدهم لا يفرقون، وكثير منهم فرّق من جهة الاصطلاح، لكن من جهة العمل والتطبيق لا يفرقون، فكثير منهم يقولون: إن القاعدة تكون في جميع أبواب الفقه أو في أكثرها، فمثلاً قاعدة
যা এর অধিকাংশ খুটিনাটি বিষয়ের ওপর প্রয়োগ হয়। এটি ফিকহি মূলনীতিসমূহের (قواعد الفقه) অন্যতম একটি সংজ্ঞা।

আমরা জানি যে অধিকাংশ সংজ্ঞাই (حدود) সম্পূর্ণ সুশৃঙ্খল হয় না; বরং তাতে এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় যা তার অংশ নয় এবং এমন কিছু বিষয় বাদ পড়ে যায় যা তার অংশ। এই প্রেক্ষাপটে তাদের বক্তব্য হলো: মূলনীতি (قاعدة) হলো একটি অধিকাংশের ওপর প্রযোজ্য বিধান (حكم أغلبي)। এটি একটি সাধারণ সংজ্ঞা যা ফিকহ এবং ফিকহ বহির্ভূত সকল শাস্ত্রের মূলনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই অন্যরা এই সংজ্ঞার পরিবর্তে বলেছেন: এটি একটি সামগ্রিক বিধান (حكم كلي) যার অধীনে এর সকল খুটিনাটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়। তবে প্রথম সংজ্ঞাটি অধিকতর সঠিক, কারণ অনেক মূলনীতির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম (استثناءات) পরিলক্ষিত হয়।

 

*‌‌ দ্বিতীয়ত: উলামায়ে কেরাম মূলনীতির আলোচনায় 'যাবিত' (ضابط) নামক একটি পরিভাষা উল্লেখ করেন। প্রশ্ন হলো, এটি এবং মূলনীতির (قاعدة) সংজ্ঞা কি অভিন্ন নাকি এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে?

অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের (تتبع) আলোকে দেখা যায় যে, ফিকহি মূলনীতি (قواعد الفقه) বিষয়ে যারা গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাদের অধিকাংশের পদ্ধতি হলো তারা এ দুটির মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না। আপনি দেখবেন যে তারা মূলনীতির কিতাবসমূহে 'কায়দা' শব্দই ব্যবহার করেন; ফলে তারা ফিকহের সকল বা অধিকাংশ অধ্যায়ে প্রযোজ্য কোনো সামগ্রিক মূলনীতি (قاعدة كليّة) উল্লেখ করেন, অথবা কেবল একটি অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো মূলনীতি উল্লেখ করেন। অথচ এটি যখন কেবল একটি অধ্যায়ের ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকে, তখন তা যাবিত (ضابط) হিসেবে গণ্য হয়। তা সত্ত্বেও তারা একে মূলনীতি (قاعدة) হিসেবেই অভিহিত করেন। হাফেজ ইবনে রজব (রহ.)-এর কাওয়ায়িদ গ্রন্থে এটি প্রচুর লক্ষ্য করা যায়। একইভাবে কারাফির আল-ফুরূক এবং ফিকহি মূলনীতি বিষয়ে যারা গ্রন্থ লিখেছেন তাদের ক্ষেত্রেও এটি দেখা যায়; তারা মূলনীতি (قاعدة) ও যাবিত (ضابط)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না।

এমনকি তাদের কেউ কেউ অনেক যাবিত (ضوابط) উল্লেখ করেন এবং খুব কমই মূলনীতি (قاعدة) উল্লেখ করেন, তবুও কিতাবটির নাম দেন কিতাবুল কাওয়ায়িদ, বা কাওয়ায়িদুল ফিকহ, অথবা এই জাতীয় কোনো নাম। এই কারণে আপনি দেখবেন যে তারা পার্থক্য করেন না। যদিও তাদের অনেকে পারিভাষিক (اصطلاح) দিক থেকে পার্থক্য করেছেন, কিন্তু প্রয়োগ ও অনুশীলনের ক্ষেত্রে তারা কোনো পার্থক্য করেন না। তাদের অনেকে বলেন: মূলনীতি (قاعدة) ফিকহের সকল বা অধিকাংশ অধ্যায়ে কার্যকর হয়। উদাহরণস্বরূপ মূলনীতি (قاعدة)
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১০)
"اليقين لا يزول بالشك"، وقاعدة "العادة محكِّمة"، وقاعدة "لا ضرر ولا ضرار"، وقاعدة "المشقة تجلب التيسر"، وقاعدة "الأمور بمقاصدها"، هذه قواعد كُليّة في أبواب الفقه كلها أو في أغلبها، هذه هي التي تسمى قواعد، أما إذا كان في باب خاص من أبواب الفقه فإنه في الغالب يسمى ضابطاً، ويسمى ضابطاً لأننا قصدنا إلى مسائل هذا الباب فضبطناها بضابط معين، ثم رتبنا لها عبارات تضبطها، فمثلاً يقولون: كل كفارة سببها المعصية فهي على الفور، ككفارة الجماع في نهار رمضان عمداً، وكفارة الظهار، فهذه خاصة في باب الكفارات، فلذلك هذا لا يسمى قاعدة بل يسمى ضابطاً، وإن سُمّيَ قاعدة فلا حرج، لا مُشاحة في الاصطلاح كما يقولون.

لكن تسميته ضابطاً أضبط عند كثير من أهل العلم في قواعد الفقه، ثم الضوابط تختلف بحسب الخلاف في المذاهب، مثلاً حينما نقول في باب سجود السهو: كل زيادة في الصلاة فمحل السجود بعد السلام، وكل نقص قبل السلام، فهذا ضابط في باب سجود السهو (1) وإن سمَّيته قاعدة فلا بأس، مثلاً في أبواب المياه: الماء طهور ما لم يتغير طعمه أو لونه أو ريحه، فهذا ضابط في أبواب المياه، لكن التغير يختلف، بعضهم يجعله إذا تغيّر بشيء من الطهور يسلبه وصف الطهورية.

إذن الضابط يختلف بحسب اختلاف المذاهب، وكذلك القاعدة كما سيأتي - إن شاء الله -، مثلاً فيما ذكرنا قَبْلُ في باب سجود السهو حينما قلنا كل زيادة في

--------------------------------------------

(1) عند بعض المذاهب، وبعضهم يقول كل سجود قبل السلام إلا في موضعين.
"নিশ্চয়তা সংশয় দ্বারা দূরীভূত হয় না" (اليقين لا يزول بالشك), "প্রথা বিচার্য" (العادة محكمة) মূলনীতি (قاعدة), "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতি করা যাবে না" (لا ضرر ولا ضرار) মূলনীতি (قاعدة), "কষ্টসাধ্যতা সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে" (المشقة تجلب التيسر) মূলনীতি (قاعدة) এবং "কার্যাবলি সংকল্প বা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল" (الأمور بمقاصدها) মূলনীতি (قاعدة) — এইগুলো হলো ফিকহশাস্ত্রের (أبواب الفقه) সমস্ত বা অধিকাংশ অধ্যায়ের সামগ্রিক মূলনীতি (قواعد كُليّة)। এগুলোকেই মূলত মূলনীতি (قواعد) বলা হয়। তবে যদি এটি ফিকহের কোনো বিশেষ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়, তবে তাকে সাধারণত উপ-নীতিমালা (ضابطاً) বলা হয়। একে উপ-নীতিমালা (ضابطاً) এই কারণে বলা হয় যে, আমরা ওই বিশেষ অধ্যায়ের মাসআলাসমূহকে (مسائل) সুসংহত করার সংকল্প করেছি এবং একটি সুনির্দিষ্ট বিধানের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করেছি। এরপর আমরা এমন কিছু বাক্য বিন্যাস করেছি যা সেগুলোকে সুশৃঙ্খল করে। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: যে সকল কাফফারা (كفارة) পাপের (المعصية) কারণে ওয়াজিব হয়, তা অবিলম্বে (على الفور) আদায় করা আবশ্যক। যেমন—রমজানের দিন (نهار رمضان) ইচ্ছাকৃতভাবে (عمداً) সহবাসের (الجماع) কাফফারা কিংবা যিহারের (الظهار) কাফফারা। এটি যেহেতু বিশেষভাবে কাফফারা অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, তাই একে মূলনীতি (قاعدة) না বলে বরং উপ-নীতিমালা (ضابطاً) বলা হয়। আর যদি একে মূলনীতি (قاعدة) বলা হয় তাতে কোনো দোষ নেই; কেননা প্রাজ্ঞজনরা যেমনটি বলেন—"পরিভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে কোনো বিবাদ নেই" (لا مُشاحة في الاصطلاح)।

কিন্তু ফিকহি মূলনীতি (قواعد الفقه) বিশারদ অধিকাংশ আলেমদের (أهل العلم) নিকট একে উপ-নীতিমালা (ضابطاً) হিসেবে অভিহিত করাই অধিকতর নিখুঁত। এরপর বিভিন্ন মাযহাবের (المذاهب) মতভেদ অনুযায়ী এই উপ-নীতিমালাগুলো (الضوابط) ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। যেমন—যখন আমরা সিজদায়ে সাহুর (سجود السهو) অধ্যায়ে বলি: সালাতে প্রত্যেক আধিক্যের (زيادة) ক্ষেত্রে সিজদার স্থান হলো সালামের পর, আর প্রত্যেক ঘাটতির (نقص) ক্ষেত্রে সালামের পূর্বে; তবে এটি সিজদায়ে সাহু (سجود السهو) অধ্যায়ের একটি উপ-নীতিমালা (ضابط) (১)। আপনি চাইলে একে মূলনীতি (قاعدة) হিসেবে অভিহিত করতে পারেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। উদাহরণস্বরূপ—পানির অধ্যায়সমূহে একটি নীতি হলো: পানি ততক্ষণ পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور) থাকে যতক্ষণ না এর স্বাদ, রং অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়; এটি পানির অধ্যায়গুলোর একটি উপ-নীতিমালা (ضابط)। তবে এই পরিবর্তন বা রূপান্তরের ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে; কেউ কেউ মনে করেন যদি কোনো পবিত্র (طهور) বস্তুর মাধ্যমে পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়, তবে তা পানি থেকে পবিত্র করার বৈশিষ্ট্যটি (وصف الطهورية) ছিনিয়ে নেয়।

অতএব, মাযহাবের (المذاهب) ভিন্নতা অনুযায়ী উপ-নীতিমালা (الضابط) পরিবর্তিত হয়। অনুরূপভাবে মূলনীতিও (القاعدة) ভিন্ন হতে পারে যা ইনশাআল্লাহ সামনে আলোচিত হবে। উদাহরণস্বরূপ—পূর্বে আমরা সিজদায়ে সাহুর (سجود السهو) অধ্যায়ে যা উল্লেখ করেছি যে, প্রত্যেক আধিক্যের (زيادة) ক্ষেত্রে...

--------------------------------------------

(১) এটি কোনো কোনো মাযহাবের (المذاهب) নিকট প্রযোজ্য; আবার কারো মতে দুটি স্থান ব্যতীত সকল সিজদা সালামের পূর্বেই প্রদান করতে হবে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১১)
الصلاة فإن سجودها بعد السلام، فهذا يختلف، فبعضهم لا يسلِّم بهذا الضابط في مسمى الزيادة.

وهناك ضابط آخر في باب سجود السهو وهو أقرب من جهة الدليل وهو قولهم: كل سجود في الصلاة فهو قبل السلام إلا ما كان مبنياً على غلبة الظن، أو سلّم في صلب الصلاة، هذا فيما يتعلق في الفرق بين القاعدة والضابط الفقهي.

 

*‌‌ ثالثاً:‌‌ الأشباه والنظائر هل هي مختلفة، أو معناها واحد؟:

هناك كتاب اسمه الأشباه والنظائر للسبكي، وللسيوطى، ولابن نُجيم الحنفي، ففي هذا الباب عندنا ثلاث كلمات: الأشباه والنظائر و‌‌الأمثال.

الأمثال: هي المسائل المتشابهة من كل وجه، مثل ما نقول: هذا الكتاب مثل هذا الكتاب، هذا الثوب مثل هذا الثوب أي أنه مثله من جميع الوجوه.

 

الأشباه: هى المسائل المتشابهة في أكثر الوجوه، فإذا كان عندنا مسألتان مشتبهتان من ثلاثة أوجه، وتختلفان من وجهين كانت من الأشباه؛ لأن وجوه الاتفاق أكثر من وجوه الاختلاف.

ومن هذا ما يسمونه قياس الأشباه، أو قياس الشبه، على الخلاف في صحته وفساده ومدى حجّيته، ومعناه أن يختلف في الشيء هل يلحق بهذا الشيء أو يلحق بهذا الشيء، فإذا أشبه هذا الشيء في أكثر المسائل ألحق به، فمن الأمثلة التي ذكروها في هذا: المملوك هل يلحق بالمال أو بالحر؟ فهو من جهة أنه يباع
নামাযের ক্ষেত্রে যদি সালামের পরে সিজদা করা হয়, তবে এক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে; কেননা কেউ কেউ ‘অতিরিক্ত’ (زيادة) পরিভাষার ক্ষেত্রে এই বিশেষ মূলনীতিটি (ضابط) স্বীকার করেন না।

সাহু সিজদার অধ্যায়ে অন্য একটি বিশেষ মূলনীতি (ضابط) রয়েছে যা দলিলের দিক থেকে অধিকতর নিকটবর্তী, আর তা হলো তাদের এই কথা: নামাযের প্রতিটি সিজদাই সালামের পূর্বে হবে, তবে যা প্রবল ধারণার (غلبة الظن) ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে অথবা নামাযের মৌলিক অবস্থার মধ্যে সালাম ফেরানো হয়েছে—এমন ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত। এটি সাধারণ মূলনীতি (قاعدة) এবং ফিকহি বিশেষ মূলনীতির (ضابط) মধ্যকার পার্থক্যের সাথে সংশ্লিষ্ট।

 

*‌‌ তৃতীয়ত:‌‌ সদৃশাবলি (الأشباه) এবং সমরূপাবলি (النظائر) কি ভিন্ন, নাকি এগুলোর অর্থ এক?:

ইমাম সুবকি, সুয়ুতি এবং ইবনে নুজাইম আল-হানাফি কর্তৃক ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর’ শিরোনামে কিতাব রয়েছে। এই অধ্যায়ে আমাদের সামনে তিনটি শব্দ রয়েছে: সদৃশাবলি (الأشباه), সমরূপাবলি (النظائر) এবং অনুরূপাবলি (الأمثال)।

অনুরূপাবলি (الأمثال): এগুলো হলো এমন সব মাসআলা যা প্রতিটি দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন আমরা বলি: এই কিতাবটি এই কিতাবটির মতো, এই পোশাকটি এই পোশাকটির মতো; অর্থাৎ এটি সব দিক থেকেই সেটির সদৃশ।

 

সদৃশাবলি (الأشباه): এগুলো হলো এমন সব মাসআলা যা অধিকাংশ দিক থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সুতরাং আমাদের সামনে যদি এমন দুটি মাসআলা থাকে যেগুলোর মাঝে তিনটি দিক থেকে মিল এবং দুটি দিক থেকে অমিল থাকে, তবে তা সদৃশাবলি (الأشباه) এর অন্তর্ভুক্ত হবে; কারণ এক্ষেত্রে ঐকমত্যের দিকগুলো পার্থক্যের দিকগুলোর চেয়ে বেশি।

আর এখান থেকেই তারা যাকে ‘কিয়াসুল আশবাহ’ বা ‘কিয়াসুশ শিবহ’ বলে অভিহিত করেন তার উৎপত্তি হয়েছে—এর শুদ্ধতা (صحة) ও অসারতা (فساد) এবং এর প্রামাণিকতার (حجية) পরিধির বিষয়ে মতভেদ থাকা সত্ত্বেও। এর অর্থ হলো—কোনো বিষয় সম্পর্কে এই দ্বিমত হওয়া যে, সেটি কি এই বিষয়ের সাথে যুক্ত হবে নাকি অন্য বিষয়ের সাথে যুক্ত হবে? অতঃপর যদি সেটি অধিকাংশ মাসআলার ক্ষেত্রে এই বিষয়ের সদৃশ হয়, তবে সেটিকে এর সাথে যুক্ত করা হবে। এ ক্ষেত্রে তারা যে উদাহরণগুলো উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে একটি হলো: একজন দাসকে কি সম্পদের সাথে যুক্ত করা হবে নাকি স্বাধীন ব্যক্তির সাথে? কেননা বিক্রয়যোগ্য হওয়ার দিক থেকে সেটি...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১২)
ويشترى يُشبه الحيوان في مسائل، ومن جهة أنه مُتعبَّد ومكلّف يُشبه الحر.

 

‌‌النظائر: هي المسائل التي يكون بينها شبه في أقل الوجوه، فهذا نظير هذا يعني أنه مثله في وجه من الوجوه.

*‌‌ رابعاً: ال‌‌قواعد الأصولية و‌‌القواعد الفقهية:

أحكام الشرع مدارها على أصلين: قواعد الأصول، وقواعد الفقه.

 

* قواعد الأصول: هي المسائل التي تحتها أنواع من الأدلة الفقهية، وهذه عبارات يختلف فيها ويختلف في بيانها، وهي وإن كانت واضحة، لكن يختلف في الفرق بينها وبين القواعد الفقهية، وكثير منهم لم يفرق بينها بفرق واضح، لكن هي من جهة التطبيق تختلف.

 

* ف‌‌القواعد الأصولية: هي التي يندرج تحتها أنواع من الأدلة، مثل قولنا الأمر للوجوب، النهي للتحريم، المبَيَّن مقدم على المُجمل، الخاص يقضي على العام، النص مقدم على الظاهر، الظاهر مقدّم على المُؤوَّل، وما أشبه ذلك من قواعد الأصول التى هى أنواع من الأدلة يُحكم بها، فيقال هذا للوجوب، هذا للتحريم، هذا خاص، هذا عام، وما أشبه ذلك.

 

* القواعد الفقهية: هي المسائل التي يندرج تحتها أحكام فقهية، فإذا نظرت مثلاً إلى قولنا "الأمور بمقاصدها" فرق بينه وبين قولك "الأمر للوجوب"، "الأمور بمقاصدها" يندرج تحتها أنواع من المسائل الفقهية، فمن أخرج مالاً وأعطاه
তাকে ক্রয় করা হয়; কিছু বিষয়ে সে পশুর সাদৃশ্যপূর্ণ, আর ইবাদতকারী ও শরয়ি বিধানের অনুসারী হওয়ার দিক থেকে সে স্বাধীন ব্যক্তির সদৃশ।

 

‌‌সদৃশ বিষয়াবলি (النظائر): হলো এমন সব মাসআলা যেগুলোর মধ্যে ন্যূনতম কোনো দিক থেকে মিল থাকে। সুতরাং 'এটি সেটির সদৃশ' মানে হলো, এটি কোনো না কোনো দিক থেকে তার মতো।

*‌‌ চতুর্থত: উসূলের মূলনীতিসমূহ (القواعد الأصولية) এবং ‌ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية):

শরীয়তের বিধানসমূহ দুটি ভিত্তির ওপর আবর্তিত হয়: উসূলের মূলনীতি এবং ফিকহের মূলনীতি।

 

* উসূলের মূলনীতি: এগুলো হলো এমন সব মাসআলা যেগুলোর অধীনে বিভিন্ন প্রকারের ফিকহী দলীল অন্তর্ভুক্ত থাকে। এগুলো এমন কিছু পরিভাষা যেগুলোর বিষয়ে এবং সেগুলোর বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। যদিও এগুলো স্পষ্ট, কিন্তু এগুলো এবং ফিকহী মূলনীতিসমূহের মধ্যবর্তী পার্থক্যের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। তাদের অনেকেই এগুলোর মধ্যে সুষ্পষ্ট পার্থক্য করেননি, তবে প্রয়োগের দিক থেকে এগুলোর মধ্যে ভিন্নতা রয়েছে।

 

* সুতরাং উসূলের মূলনীতিসমূহ (القواعد الأصولية): হলো সেগুলোই যার অধীনে বিভিন্ন প্রকারের দলীল অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন আমাদের কথা: নির্দেশ আবশ্যকতা বুঝায় (الأمر للوجوب), নিষেধ হারাম হওয়া বুঝায় (النهي للتحريم), সুস্পষ্ট বিষয় (المبَيَّن) অস্পষ্ট বিষয়ের (المُجمل) ওপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, বিশেষ (الخاص) সাধারণের (العام) ওপর সিদ্ধান্ত প্রদানকারী হয়, অকাট্য পাঠ (النص) প্রকাশ্য অর্থের (الظاهر) ওপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত, প্রকাশ্য অর্থ (الظاهر) ব্যাখ্যাসম্বলিত অর্থের (المُؤوَّل) ওপর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত। অনুরূপভাবে উসূলের অন্যান্য মূলনীতিসমূহ যা দলীলের প্রকারভেদের অন্তর্ভুক্ত এবং যেগুলোর মাধ্যমে বিধান প্রদান করা হয়। তখন বলা হয় যে, এটি ওয়াজিব হওয়ার জন্য, এটি হারাম হওয়ার জন্য, এটি বিশেষ, এটি সাধারণ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়।

 

* ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية): এগুলো হলো এমন সব মাসআলা যেগুলোর অধীনে ফিকহী বিধানসমূহ অন্তর্ভুক্ত হয়। উদাহরণস্বরূপ, যখন আপনি আমাদের কথা "সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (الأمور بمقاصدها)"-এর দিকে লক্ষ্য করবেন, তখন এর এবং আপনার কথা "নির্দেশ আবশ্যকতা বুঝায় (الأمر للوجوب)"-এর মধ্যে পার্থক্য দেখতে পাবেন। "সমস্ত কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (الأمور بمقاصدها)"-এর অধীনে বিভিন্ন প্রকার ফিকহী মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন কেউ সম্পদ বের করল এবং তা প্রদান করল...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
رجلاً، إن كان أعطاه إياه بنية الزكاة أجزأ عنه، وإن كان أعطاه للهبة لم يكن للزكاة، وإن كان قضاء دين لم يكن للزكاة ولم يكن هبة. . وهكذا في الصلاة: فمن صلى الظهر بنية الظهر كانت ظهراً ومن صلى العصر بنية العصر كانت عصراً. . وهكذا في مسائل كثيرة، فهذه تدخل فيها جميع أبواب الفقه أو غالب أبواب الفقه.

أما قواعد الأصول فيندرج تحتها الأدلة مثل ما نقول: "الأمر للوجوب" فهل نستفيد من قولنا الأمر للوجوب حكماً فقهياً عملياً؟، لا نستفيد من هذا حكماً فقهياً عملياً إلا بواسطة دليل خاص.

أما قولنا "الأمور بمقاصدها"، أو "اليقين لا يزول بالشك"، فهذا نستفيد منه أحكاماً فقهية، فمن صلى ثم لما فرغ شك في صلاته فصلاته صحيحة، ومن توضأ ثم بعد ذلك شك هل انتقض وضوءه أم لم ينتقض؟ نقول: وضوءه صحيح.

 

*‌‌ خامساً: كيف تصاغ القواعد الفقهية:

القواعد الفقهية تختلف، منها ما هو نص دليل، ومنها ما هو مستنبط من الدليل، وهذا أيضاً فيه تفصيل، لكن هذا من جهة القواعد الصحيحة التي تُقبَل ويُحتَج بها، مثلاً قاعدة "لا ضرر ولا ضرار" هذه أصلها حديث ثبت عن النبي عليه الصلاة والسلام أنه قال: "لا ضرر ولا ضرار" (1)، وهذه أعلى أنواع

--------------------------------------------

(1) هذا الحديث له عدة طُرق منها:

الطريق الأول: ما أخرجه ابن ماجه في سننه في كتاب الأحكام (2340)، والإمام أحمد في=
...একজন ব্যক্তি, যদি সে এটি যাকাতের নিয়তে প্রদান করে থাকে, তবে তা তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আর যদি সে এটি উপহার হিসেবে প্রদান করে থাকে, তবে তা যাকাত হিসেবে গণ্য হবে না। আর যদি তা ঋণ পরিশোধ হিসেবে হয়, তবে তা যাকাত হবে না এবং উপহারও হবে না। ...নামাজের ক্ষেত্রেও বিষয়টি এরূপ: যে ব্যক্তি জোহরের নিয়তে জোহর আদায় করল, তা জোহর হিসেবে গণ্য হলো; আর যে আসরের নিয়তে আসর আদায় করল, তা আসর হিসেবে গণ্য হলো। ...এভাবে আরও অনেক মাসআলায় এটি প্রযোজ্য। সুতরাং এর অধীনে ফিকহ শাস্ত্রের সকল অধ্যায় বা অধিকাংশ অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

পক্ষান্তরে উসুলের (মূলনীতি) নিয়মাবলির অধীনে দলিলসমূহ (أدلة) অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন আমাদের এই উক্তি: "আদেশ আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে"। এখন প্রশ্ন হলো, আমরা কি আমাদের এই উক্তি "আদেশ আবশ্যকতা (وجوب) নির্দেশ করে" থেকে সরাসরি কোনো ব্যবহারিক ফিকহি বিধান লাভ করি? না, আমরা এখান থেকে বিশেষ কোনো দলিল (دليل) ছাড়া সরাসরি কোনো ব্যবহারিক ফিকহি বিধান লাভ করতে পারি না।

তবে আমাদের এই উক্তি: "কার্যাবলি নিয়তের ওপর নির্ভরশীল", অথবা "নিশ্চয়তা সন্দেহের (شك) দ্বারা দূরীভূত হয় না"—এগুলো থেকে আমরা ফিকহি বিধান লাভ করি। যেমন: কেউ নামাজ পড়ল, অতঃপর নামাজ শেষ করার পর তার মনে সন্দেহ (شك) জাগল, তবে তার নামাজ সঠিক (صحيح) হিসেবে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি অজু করল, এরপর তার সন্দেহ (شك) হলো যে তার অজু কি ভেঙেছে নাকি ভাঙেনি? আমরা বলব: তার অজু সঠিক (صحيح) রয়েছে।

 

*‌‌ পঞ্চম: ফিকহি নিয়মাবলি কীভাবে প্রণয়ন করা হয়:

ফিকহি নিয়মাবলি বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। এর মধ্যে কোনোটি সরাসরি দলিলে বর্ণিত পাঠ (نص), আবার কোনোটি দলিল (دليل) থেকে উৎসারিত। এ বিষয়েও বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। তবে এটি গ্রহণযোগ্য ও দলিল হিসেবে পেশযোগ্য সঠিক (صحيح) নিয়মাবলির দিক থেকে। উদাহরণস্বরূপ: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না"—এই নিয়মটির মূল ভিত্তি হলো একটি হাদিস, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত (ثابت) যে তিনি বলেছেন: "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্তও হওয়া যাবে না" (১)। আর এটি সর্বোচ্চ প্রকারের...

--------------------------------------------

(১) এই হাদিসটির একাধিক সূত্র (طرق) রয়েছে, তার মধ্যে:

প্রথম সূত্র (طريق): যা ইবনে মাজাহ তার সুনানে কিতাবুল আহকাম (২৩৪০) অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম আহমদ তার=
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= مسنده (5/ 326 - 327) من طريق موسى بن عقبة حدثنا إسحاق بن يحيى بن الوليد عن عبادة بن الصامت رضي الله عنه. . فذكره.

فالحديث ضعيف؛ لأن في سنده انقطاعاً بين إسحاق وعبادة، ولذا قال البوصيري في الزوائد: في حديث عباده هذا إسناد رجاله ثقات، إلَاّ أنه منقطع لأن إسحاق بن الوليد، قال عنه الترمذي وابن عدى: "لم يُدرك عبادة بن الصامت"، وقال البخاري: "لم يلقَ عبادة".

وقال الحافظ في الدراية ص 373: "وفيه انقطاع".

وإسحاق بن يحيى بن الوليد، قال الحافظ في التقريب: "أرسل عن عبادة وهو مجهول الحال"، وقال في التهذيب (1/ 164): "روى عن عبادة ولم يدركه"، وقال الذهبي في الميزان (1/ 204): "قال ابن عدي: عامة أحاديثه غير محفوظة.

الطريق الثاني: وهو من حديث عبد الله بن عباس رضي الله عنه، ويرويه عنه عكرمة وله عنه طريقان:

(1) عن جابر الجعفي عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما به فذكره.

أخرجه ابن ماجة في سننه في كتاب الأحكام (2/ 2340، 2341، واخرجه أحمد في مسنده (1/ 313) رقم (2867) وفيه: جابر الجعفي، وهو متروك الحديث، ذكره البخاري في الضعفاء الصغير (49) وقال: "تركه يحيى، وابن مهدى". وقال النسائى في الضعفاء والمتروكين: "جابر بن يزيد الجعفي متروك، كوفي".

(2) عن داود بن الحصين عن عكرمة عن ابن عباس أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "للجار أن يضع خشبته على جدار جاره وإن كره، والطريق الميتاء سبعة أذرع، ولا ضرر ولا ضرار".

وهذا الطريق عند الدارقطني في سننه (4/ 84)، وداود بن الحصين ثقة إلا في روايته عن عكرمة كما قاله الحافظ، وقال ابن معين: ثقة، وقال على بن المدينى: ما روى عن عكرمة فمنكر، قال: وقال ابن عيينة: كنا نتقي حديث داود، وقال أبو داود: أحاديثه عن شيوخه مستقيمة، وأحاديثه عن عكرمة مناكير". انظر: التهذيب (2/ 296)، الميزان (2/ 36).

فيتلخَّص مما سبق من كلام الحفَّاظ: أن روايته عن عكرمة منكرة.

الطريق الثالث: حديث أبى سعيد الخدري رضي الله عنه. . . ".
. . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= মুসনাদ (৫/ ৩২৬ - ৩২৭) মুসা বিন উকবা এর সূত্রে, তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইসহাক বিন ইয়াহইয়া বিন আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, তিনি উবাদাহ বিন সামিত (রা.) থেকে। . . অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

সুতরাং হাদিসটি দুর্বল (ضعيف); কারণ তার সনদে (سنده) ইসহাক এবং উবাদাহর মধ্যে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে। এ কারণে বুসাইরি 'আল-জাওয়াইদ'-এ বলেছেন: উবাদাহর এই হাদিসটির সনদ (إسناد) এমন যে তার বর্ণনাকারীগণ (رجاله) নির্ভরযোগ্য (ثقات), তবে এটি বিচ্ছিন্ন (منقطع); কারণ ইসহাক বিন আল-ওয়ালিদ সম্পর্কে তিরমিযী এবং ইবনে আদি বলেছেন: "তিনি উবাদাহ বিন সামিতকে পাননি", এবং বুখারি বলেছেন: "তিনি উবাদাহর সাথে সাক্ষাৎ করেননি"।

এবং হাফিজ 'আদ-দিরায়া' পৃষ্ঠা ৩৭৩-এ বলেছেন: "এবং এতে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع) রয়েছে"।

আর ইসহাক বিন ইয়াহইয়া বিন আল-ওয়ালিদ সম্পর্কে হাফিজ 'আত-তাকরীব'-এ বলেছেন: "তিনি উবাদাহ থেকে মুরসাল বর্ণনা করেছেন (أرسل) এবং তিনি অজ্ঞাত অবস্থা সম্পন্ন (مجهول الحال)"। তিনি 'আত-তাহজীব' (১/ ১৬৪)-এ বলেছেন: "তিনি উবাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন অথচ তাকে পাননি"। যাহাবি 'আল-মিজান' (১/ ২০৪)-এ বলেছেন: "ইবনে আদি বলেছেন: তার অধিকাংশ হাদিসই সংরক্ষিত নয় (غير محفوظة)"।

দ্বিতীয় সূত্র: এটি আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণিত, তার থেকে ইকরিমা এটি বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে এর দুটি সূত্র রয়েছে:

(1) জাবির আল-জুফি থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে—এর মাধ্যমে তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

এটি ইবনে মাজাহ তার সুনান-এর কিতাবুল আহকাম-এ (২/ ২৩৪০, ২৩৪১) বর্ণনা করেছেন এবং আহমাদ তার মুসনাদ-এ (১/ ৩১৩) নম্বর (২৮৬৭) বর্ণনা করেছেন। এতে রয়েছেন জাবির আল-জুফি, আর তিনি পরিত্যক্ত হাদিস বর্ণনাকারী (متروك الحديث)। বুখারি 'আদ-দুয়াফা আস-সগির' (৪৯)-এ তাকে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "ইয়াহইয়া এবং ইবনে মাহদি তাকে বর্জন করেছেন (تركه)"। নাসায়ি 'আদ-দুয়াফা ওয়াল মাতরুকিন'-এ বলেছেন: "জাবির বিন ইয়াজিদ আল-জুফি পরিত্যক্ত (متروك), তিনি কুফাবাসী"৷

(2) দাউদ বিন আল-হুসাইন থেকে, তিনি ইকরিমা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "প্রতিবেশীর জন্য তার কাঠ তার প্রতিবেশীর দেয়ালের ওপর রাখা বৈধ যদিও সে অপছন্দ করে, এবং চলাচলের মূল রাস্তা সাত হাত চওড়া হবে, আর নিজের ক্ষতি করা যাবে না এবং অন্যের ক্ষতিও করা যাবে না।"

এই সূত্রটি দারাকুতনি তার সুনান-এ (৪/ ৮৪) উল্লেখ করেছেন। দাউদ বিন আল-হুসাইন নির্ভরযোগ্য (ثقة), তবে ইকরিমা থেকে তার বর্ণনার ক্ষেত্র ব্যতিরেকে—যেমনটি হাফিজ বলেছেন। ইবনে মাইন বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة)। আলি বিন আল-মাদিনি বলেছেন: ইকরিমা থেকে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা অপরিচিত (منكر)। তিনি বলেন: ইবনে উয়াইনা বলেছেন: "আমরা দাউদের হাদিস এড়িয়ে চলতাম"। আবু দাউদ বলেছেন: "তার শায়খদের থেকে তার হাদিসগুলো সঠিক (مستقيمة), কিন্তু ইকরিমা থেকে তার হাদিসগুলো অপরিচিত (مناكير)"। দেখুন: আত-তাহজীব (২/ ২৯৬), আল-মিজান (২/ ৩৬)।

সুতরাং হাফিজগণের উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটিই সারসংক্ষেপ দাঁড়ায় যে: ইকরিমা থেকে তার বর্ণনাটি অপরিচিত (منكرة)।

তৃতীয় সূত্র: আবু সাঈদ আল-খুদরি (রা.)-এর হাদিস. . . "।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
القواعد وأقواها؛ لأنها من قوله عليه الصلاة والسلام، كذلك قاعدة "الخراج بالضمان"، وهذا نصّ حديث ثبت عنه عليه الصلاة والسلام أنه قال: "الخراج بالضمان" (1)، هذا هو النوع الأول الذي هو نص دليل.

--------------------------------------------

= أخرجه الدارقطنى في سننه (522)، والحاكم (2/ 57 - 58)، والبيهقى (6/ 69) وقال: "تفرّد به عثمان بن محمد" وهو ضعيف، وهو من طريق عثمان بن محمد بن عثمان بن ربيعة حدثنا عبد العزيز الدراوردي عن عمرو بن يحيى المازنى عن أبيه عن أبى سعيد الخدرى رضي الله عنه، وزاد: "من ضارّ ضرَّهُ الله، ومن شاقّ شقَّ الله عليه"، مع أن الحاكم في مستدركه (3/ 65) قال: "صحيح الإسناد على شرط مسلم"، ووافقه الذهبى، ولكن الحديث بهذا الطريق ضعيف لوجود هذا الرجل فيه وهو عثمان.

الطريق الرابع: من حديث جابر رضي الله عنه عند الطبرانى في الأوسط (1/ 141) من طريق محمد بن إسحاق عن محمد بن يحيى بن حَبَّان عن عمه واسع بن حَبَّان عن جابر رضى الله عنه بلفظ: "لا ضرر ولا ضرار في الإسلام". قال الطبرانى بعد أن ساقه: "لم يروه عن محمد بن يحيى إلا ابن إسحاق " ومحمد بن إسحاق صدوق لكنه مدلس وقد عنعنه، وقال عنه المناوى فى فيض القدير: "حسّنه النووي في الأربعين قال: ورواه مالك مرسلاً وله طرق يقوي بعضها بعضاً". وقال العلائى: "للحديث شواهد ينتهى مجموعها إلى درجة الصحة أو الحسن المحتج به".

فالحديث يرتقى لدرجة الصحيح بمجموع طرقه وشواهده.

(1) أخرجه أبو داود في سننه فى كتاب البيع من سننه (3508)، والنسائى (2/ 215)، والترمذي (1/ 242)، وابن ماجه (2242)، وأحمد (6/ 49 - 161)، والحاكم في المستدرك (2/ 15) كلهم من طريق ابن أبى ذئب عن مخلد بن خُفاف عن عروة عن عائشة رضي الله عنها. قال الترمذى: "حديث حسن صحيح غريب".

والحديث في سنده مخلد بن خفاف، لم يوثقه غير ابن حبان.

قال الحافظ فى التهذيب (5/ 7609): مخلد بن خُفاف بن إيماء بن رحضة الغفاري، لأبيه وجده صحبةٌ روى عن عروة عن عائشة حديث: "الخراج بالضمان"، وعنه ابن أبى ذئب قال أبو حاتم: لم يرو عنه غيره، وليس هذا بإسناد تقوم بمثله الحجة"، وقال ابن عدى: لا يعرف له غير هذا الحديث، وذكره ابن حبان في=
নীতিমালাগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে শক্তিশালী; কারণ এটি তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) বাণী থেকে গৃহীত, অনুরূপভাবে "আয় বা লভ্যাংশ দায়বদ্ধতার বিনিময়ে" (আল-খারাজু বিদ-দমান) নীতিমালাটিও। এটি একটি হাদিসের পাঠ যা তাঁর (সালাত ও সালাম তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) পক্ষ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আয় বা লভ্যাংশ দায়বদ্ধতার বিনিময়ে" (১), এটি হলো প্রথম প্রকার যা সরাসরি দলিলের পাঠ (نص)।

--------------------------------------------

= এটি দারাকুতনি তাঁর সুনানে (৫২২), হাকেম (২/ ৫৭ - ৫৮) এবং বায়হাকি (৬/ ৬৯) বর্ণনা করেছেন। তিনি (বায়হাকি) বলেছেন: "উসমান বিন মুহাম্মাদ এটি একাকী বর্ণনা করেছেন (تفرّد به)" এবং তিনি দুর্বল (ضعيف)। এটি উসমান বিন মুহাম্মাদ বিন উসমান বিন রাবিয়াহ-এর সূত্রে বর্ণিত... তিনি আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এতে অতিরিক্ত অংশ রয়েছে: "যে ব্যক্তি অন্যের ক্ষতি করবে, আল্লাহ তার ক্ষতি করবেন; আর যে ব্যক্তি অন্যকে কষ্টে ফেলবে, আল্লাহ তাকে কষ্টে ফেলবেন।" যদিও হাকেম তাঁর মুস্তাদরাকে (৩/ ৬৫) বলেছেন: "এর সনদ মুসলিমের শর্তানুসারে সহিহ (صحيح الإسناد)", এবং যাহাবি তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, কিন্তু এই সূত্রের হাদিসটি দুর্বল (ضعيف); কারণ এতে উসমান নামক এই ব্যক্তি রয়েছেন।

চতুর্থ সূত্র: জাবির (রা.)-এর হাদিস থেকে তাবারানি তাঁর আল-আউসাত (১/ ১৪১) গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন... জাবির (রা.) থেকে এই শব্দে বর্ণিত হয়েছে: "ইসলামে নিজের বা অন্যের ক্ষতি করা নেই।" তাবারানি এটি উল্লেখ করার পর বলেছেন: "মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া থেকে ইবনে ইসহাক ব্যতীত অন্য কেউ এটি বর্ণনা করেননি।" মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া সত্যবাদী (صدوق) কিন্তু তিনি তাদলীসকারী (مدلس) এবং তিনি এখানে 'আন' (عنعنة) শব্দে বর্ণনা করেছেন। মানাবি 'ফায়দুল কাদির' গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: "নববী তাঁর আরবাঈনে একে হাসান (حسّنه) বলেছেন এবং তিনি বলেছেন: মালেক এটি বিচ্ছিন্ন (مرسلاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং এর একাধিক সূত্র রয়েছে যা একে অপরকে শক্তিশালী করে।" আলাঈ বলেছেন: "হাদিসটির একাধিক সমর্থক বর্ণনা (شواهد) রয়েছে যার সমষ্টি একে সহিহ (الصحة) অথবা দলিলযোগ্য হাসান (الحسن المحتج به) স্তরে পৌঁছে দেয়।"

সুতরাং হাদিসটি এর সকল সূত্র ও সমর্থক বর্ণনার (شواهد) সমষ্টিতে সহিহ (الصحيح) স্তরে উন্নীত হয়।

(1) এটি আবু দাউদ তাঁর সুনানে ক্রয়-বিক্রয় অধ্যায়ে (৩৫০৮), নাসায়ি (২/ ২১৫), তিরমিজি (১/ ২৪২), ইবনে মাজাহ (২২৪২), আহমাদ (৬/ ৪৯ - ১৬১) এবং হাকেম মুস্তাদরাকে (২/ ১৫) বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই ইবনে আবি জিব-এর সূত্রে মাখলাদ বিন খুফাফ থেকে, তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি বলেছেন: "হাদিসটি হাসান (حسن), সহিহ (صحيح) এবং অনন্য (غريب)।"

হাদিসটির সনদে (إسناد) মাখলাদ বিন খুফাফ রয়েছেন, যাকে ইবনে হিব্বান ছাড়া আর কেউ নির্ভরযোগ্য (وثقه) বলেননি।

হাফেজ তাহজিব (৫/ ৭৬০৯) গ্রন্থে বলেছেন: মাখলাদ বিন খুফাফ বিন ইমা বিন রাখদাহ আল-গিফারি; তাঁর পিতা ও দাদার সাহাবি হওয়ার মর্যাদা ছিল। তিনি উরওয়াহ থেকে এবং তিনি আয়েশা (রা.) থেকে "আয় বা লভ্যাংশ দায়বদ্ধতার বিনিময়ে" হাদিসটি বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে ইবনে আবি জিব বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: "তিনি (ইবনে আবি জিব) ছাড়া আর কেউ তাঁর থেকে বর্ণনা করেননি এবং এটি এমন কোনো সনদ (إسناد) নয় যার দ্বারা দলিল (الحجة) প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।" ইবনে আদি বলেছেন: "এই একটি হাদিস ছাড়া তাঁর আর কোনো হাদিস পরিচিত নয়" এবং ইবনে হিব্বান তাঁকে উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
النوع الثاني: القواعد المستنبطة: والاستنباط في هذه الباب واسع، قد يكون الاستنباط قوياً وقد يكون ضعيفاً، لكن الأصل أنها مستنبطة، مثلاً قاعدة "اليقين

--------------------------------------------

= الثقات، وقال فيه البخاري: "فيه نظر".

قال الحافظ: وفي سماع ابن أبى ذئب منه عندي نظر، وقال عنه في التقريب: مقبول.

وذكر الذهبى في الميزان (4/ 82) عن الترمذي قوله: "لا يعرف بغير هذا الحديث". فالحديث فيه علتان:

1) جهالة مخلد بن خُفاف لعدم توثيقه توثيقاً معتبراً.

2) عدم سماع ابن أبى ذئب من مخلد.

ولكن قد تُوبع مخلد، فقد تابعه مسلم بن خالد الزنجى، عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضى الله عنها به. . ". وهذه المتابعة عند أبى داود (3510)، وابن ماجه (2243)، والحاكم (2/ 15) في المستدرك وقال: "صحيح الإسناد" ووافقه الذهبى، وفيه مسلم بن خالد الزنجى المكي الفقيه، قال البخاري: منكر الحديث. وقال أبو حاتم: لا يُحتج به وضعّفه أبو داود، وقال ابن المدينى: ليس بشيء، ونُقل عن ابن عون ثلاث روايات فيه: فمرة قال: ليس به بأس، ومرة قال: ثقة، ومرة قال: ضعيف".

وقد ساق له الذهبى في الميزان (4/ 12) بعض الأحاديث التى استنكرت عليه، ثمَّ قال بعد ذلك: "فهذه الأحاديث وأمثالها تُرَدُّ بها قوة الرجل ويُضعَّف"، وذكره الذهبى في المغني في الضعفاء (2/ 6209). انظر ترجمته في: تهذيب الكمال (3/ 1325)، تهذيب التهذيب (5/ 7708)، الميزان (4/ 102).

ولكن تابع مسلماً هذا عمر بن على المقدَّمى عن هشام بن عروة عن أبيه عن عائشة رضى الله عنها به. . . "وهذه المتابعة عند البيهقى في السنن الكبرى (5/ 322) وهو ثقة كما قال الحافظ: "لكنه كان يُدلِّس تدليساً شديداً". وقال عنه الإمام أحمد: كان يدلِّس، وقد أثنى عليه خيراً كما نقل ذلك عنه ابنه عبد الله، وقال أبو حاتم: محله الصدق، ولولا تدليسه لحكمنا له إذا جاء بزيادة، غير أنَّا نخاف أن يكون أخذه عن غير ثقة".

فالحديث بهذه المتابعات يرتقى لدرجة الحسن، وقد حسّنه الألبانى في الإرواء (5/ 1315) وقال: يتقوى الحديث من الطريق الذي قبله" لاسيما وقد تلقاه العلماء بالقبول كما ذكر الطحاوي.
দ্বিতীয় প্রকার: উদ্ভাবিত নীতিমালা (القواعد المستنبطة): এই অধ্যায়ে গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন (الاستنباط) বেশ ব্যাপক; কোনো উদ্ভাবন হতে পারে শক্তিশালী (قوياً) আবার কোনোটি হতে পারে দুর্বল (ضعيفاً)। তবে মূল কথা হলো এগুলো উদ্ভাবিত, যেমন "নিশ্চয়তা" (اليقين)

--------------------------------------------

= আস-সিকাত (الثقات), আর ইমাম বুখারি তার সম্পর্কে বলেছেন: "তার ব্যাপারে পর্যবেক্ষণ রয়েছে (فيه نظر)"।

হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: ইবনে আবি যিব তার থেকে শুনেছেন কি না এ ব্যাপারে আমার নিকট সংশয় (نظر) রয়েছে। আর তিনি 'আত-তাকরীব' গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেছেন: গ্রহণযোগ্য (مقبول)।

ইমাম দাহাবি 'আল-মিজান' (৪/ ৮২) গ্রন্থে ইমাম তিরমিজি থেকে তার এই উক্তিটি উল্লেখ করেছেন: "এই হাদিসটি ছাড়া তিনি পরিচিত নন"। সুতরাং হাদিসটিতে দুটি ত্রুটি (علتان) রয়েছে:

১) মাখলাদ ইবনে খুফাফ-এর পরিচয়হীনতা (جهالة), কারণ তার ব্যাপারে কোনো নির্ভরযোগ্য পর্যায়ের নির্ভরযোগ্যতা প্রদান (توثيقاً معتبراً) করা হয়নি।

২) মাখলাদ থেকে ইবনে আবি যিব-এর হাদিস শ্রবণ না করা (عدم سماع)।

তবে মাখলাদ-এর সমর্থনকারী বর্ণনাকারী পাওয়া গেছে; মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জানজি তাকে হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে হাদিসটির বর্ণনায় সমর্থন (تابعه) করেছেন। এই সমর্থনমূলক বর্ণনাটি (المتابعة) আবু দাউদ (৩৫১০), ইবনে মাজাহ (২২৪৩) এবং আল-হাকিম 'আল-মুস্তাদরাক' (২/ ১৫) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং আল-হাকিম বলেছেন: "সনদটি সহিহ (صحيح الإسناد)" এবং ইমাম দাহাবি তার সাথে একমত হয়েছেন। এই সনদে মক্কার ফকিহ মুসলিম ইবনে খালিদ আজ-জানজি রয়েছেন, যার সম্পর্কে ইমাম বুখারি বলেছেন: তিনি অপরিচিত হাদিস বর্ণনাকারী (منكر الحديث)। আবু হাতিম বলেছেন: তাকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না (لا يُحتج به) এবং আবু দাউদ তাকে দুর্বল (ضعّفه) বলেছেন। ইবনুল মাদিনি বলেছেন: "তিনি কিছুই নন (ليس بشيء)"। ইবনে আওন থেকে তার সম্পর্কে তিনটি মত বর্ণিত হয়েছে: একবার তিনি বলেছেন, "তার বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই (ليس به بأس)", একবার বলেছেন, "নির্ভরযোগ্য (ثقة)", এবং আরেকবার বলেছেন, "দুর্বল (ضعيف)"।

ইমাম দাহাবি 'আল-মিজান' (৪/ ১২) গ্রন্থে তার এমন কিছু হাদিস উল্লেখ করেছেন যেগুলো প্রত্যাখ্যানযোগ্য (استنكرت) গণ্য হয়েছে। এরপর তিনি বলেছেন: "এই হাদিসগুলো এবং এর অনুরূপ বর্ণনাসমূহের কারণে বর্ণনাকারীর গ্রহণযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হয় এবং তাকে দুর্বল (يُضعَّف) গণ্য করা হয়"। দাহাবি তাকে 'আল-মুগনি ফিজ-জুয়াফা' (২/ ৬২০৯) গ্রন্থেও উল্লেখ করেছেন। তার জীবনী দেখুন: তাহজিবুল কামাল (৩/ ১৩২৫), তাহজিবুত তাহজিব (৫/ ৭৭০৮), আল-মিজান (৪/ ১০২)।

তবে এই মুসলিমকেও উমর ইবনে আলি আল-মুকাদ্দামি সমর্থন (تابع) করেছেন, যিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এই সমর্থনমূলক বর্ণনাটি (المتابعة) ইমাম বায়হাকি 'আস-সুনান আল-কুবরা' (৫/ ৩২২) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), যেমনটি হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "তবে তিনি কঠোরভাবে তাদলিস (يُدلِّس تدليساً شديداً) করতেন"। ইমাম আহমাদ তার সম্পর্কে বলেছেন: তিনি তাদলিস (يدلِّس) করতেন। যদিও তিনি তার প্রশংসা করেছেন যেমনটি তার পুত্র আবদুল্লাহ বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম বলেছেন: "তিনি সত্যনিষ্ঠার স্তরে রয়েছেন (محله الصدق), যদি তার মধ্যে তাদলিস (تدليسه) না থাকত তবে তিনি অতিরিক্ত কোনো তথ্য বর্ণনা করলে আমরা তা গ্রহণ করতাম। কিন্তু আমাদের আশঙ্কা হয় যে, তিনি হয়তো কোনো অনির্ভরযোগ্য (غير ثقة) ব্যক্তি থেকে তা গ্রহণ করেছেন।"

সুতরাং হাদিসটি এই সমর্থনমূলক বর্ণনাসমূহের (المتابعات) মাধ্যমে হাসান (الحسن) পর্যায়ে উন্নীত হয়। আলবানি 'আল-ইরওয়া' (৫/ ১৩১৫) গ্রন্থে একে হাসান (حسّنه) বলেছেন এবং বলেছেন: "পূর্ববর্তী সূত্রের মাধ্যমে হাদিসটি শক্তিশালী হয় (يتقوى)"। বিশেষ করে ওলামাগণ এটিকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন যেমনটি ইমাম ত্বহাবি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
لا يزول بالشك" هذه قاعدة مستنبطة من حديثين عن النبي عليه الصلاة والسلام من حديث عبد الله بن زيد في الصحيحين، ومن حديث أبي هريرة في صحيح مسلم، ففي حديث عبد الله بن زيد أنه قال: شكى إلى النبي صلى الله عليه وسلم الرجل يخيل إليه أنه يجد الشيء في الصلاة، فقال: "لا ينصرف حتى يسمع صوتاً أو يجد ريحاً" (1)، وجاء معناه - أيضاً - في حديث أبي هريرة رضي الله عنه، فصاغ أهل العلم من هذا الباب قاعدة وهي قولنا "اليقين لا يزول بالشك" وهو استنباط صحيح وواضح، وهي قاعدة متفق عليها.

 

*‌‌ سادسًا: كم عدد القواعد؟:

اختلف أهل العلم في عددها، منهم من جعلها بالمئات، ومنهم من ردّها إلى قاعدة واحدة، وهذا الاختلاف في الحقيقة ليس اختلافاً معنوياً، مثلاً: العز بن عبد السلام رحمه الله ردّ الشريعة كلها إلى تحصيل المصالح، فهذه القاعدة عنده هي الأصل في هذا الباب وتجمع القواعد كلها، فالشريعة جاءت بتحصيل المصالح ودرء المفاسد، ويقول: إن تحصيل المصالح لا يحصل إلا بدرء المفاسد، فإذا وجدت المفاسد لم تحصل المصالح فهو راجع إلى تحصيل المصالح، وبعضهم

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري في صحيحه في كتاب الوضوء (1/ 46)، باب: لا يتوضأ من الشك حتى يستيقن، ومسلم في صحيحه في كتاب الحيض (3/ 50)، كلاهما من طريق الزهري عن سعيد بن المسيب عن عبَّاد بن تميم عن عمه عبد الله بن زيد رضى الله عنه به فذكره. . "، وله شاهد من حديث أبى هريرة في صحيح مسلم من طريق سهيل بن أبى صالح عن أبيه عن أبى هريرة رضى الله عنه به مرفوعاً: "إذا وجد أحدكم في بطنه شيئاً فأشكل عليه، أَخرَجَ منه شيء أم لا. . . الحديث".
"সন্দেহের কারণে দূরীভূত হয় না" এটি নবী (সা.)-এর দুটি হাদিস থেকে উৎসারিত একটি নীতিমালা। এর একটি আবদুল্লাহ বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত যা সহীহাইনে রয়েছে এবং অন্যটি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত যা সহীহ মুসলিমে রয়েছে। আবদুল্লাহ বিন যায়েদের হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন: নবী (সা.)-এর নিকট এমন এক ব্যক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করা হলো যার মনে হয় যেন সে সালাতের মধ্যে কিছু অনুভব করছে। তিনি (সা.) বললেন: "সে যেন সালাত ত্যাগ না করে যতক্ষণ না সে কোনো শব্দ শোনে অথবা কোনো ঘ্রাণ পায়" (১)। এর সমার্থক অর্থ আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিসেও এসেছে। তাই আলেমগণ এই পরিচ্ছেদ থেকে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করেছেন, যা হলো: "নিশ্চিত বিশ্বাস সন্দেহের মাধ্যমে দূরীভূত হয় না"। এটি একটি সঠিক (صحيح) ও সুস্পষ্ট উদ্ভাবন এবং এটি একটি সর্বসম্মত (متفق عليها) নীতিমালা।

 

*‌‌ ষষ্ঠত: নীতিমালার সংখ্যা কত?:

আলেমগণ এর সংখ্যা নিয়ে মতভেদ করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ একে শত শত বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ কেউ একে একটিমাত্র নীতিমালার দিকে ফিরিয়ে নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে এই মতভেদটি অর্থগত কোনো মতভেদ নয়। উদাহরণস্বরূপ: ইযয ইবনে আবদুস সালাম (রহ.) সমগ্র শরীয়াহকে জনকল্যাণ অর্জনের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর নিকট এই নীতিমালাটিই এই বিষয়ের মূল এবং এটি সমস্ত নীতিমালাকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ শরীয়াহ এসেছে জনকল্যাণ অর্জন এবং অনিষ্ট দূর করার জন্য। তিনি বলেন: অনিষ্ট দূর করা ব্যতীত জনকল্যাণ অর্জন সম্ভব নয়, তাই যখন অনিষ্ট বিদ্যমান থাকে তখন জনকল্যাণ অর্জিত হয় না; সুতরাং এটি মূলত জনকল্যাণ অর্জনের দিকেই ফিরে যায়। আর তাদের কেউ কেউ

--------------------------------------------

(১) এটি বুখারি তাঁর সহীহ গ্রন্থে অযু অধ্যায়ে (১/ ৪৬), পরিচ্ছেদ: নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সন্দেহ থেকে অযু করবে না-এ বর্ণনা করেছেন; এবং মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে হায়েয অধ্যায়ে (৩/ ৫০) বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়েই যুহরি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে, তিনি আব্বাদ ইবনে তামিম থেকে, তিনি তাঁর চাচা আবদুল্লাহ বিন যায়েদ (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। এর একটি সমার্থক সাক্ষী (شاهد) আবু হুরায়রা (রা.) এর হাদিস থেকে সহীহ মুসলিমে সুহাইল ইবনে আবি সালিহ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে মারফু (مرفوعًا) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে: "যদি তোমাদের কেউ তার পেটে কিছু অনুভব করে এবং তার কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে যায় যে, শরীর থেকে কিছু নির্গত হয়েছে কি না... হাদিস"।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
جعلها أربعاً:

(1) اليقين لا يزول بالشك.

(2) العادة محكِّمة.

(3) المشقّة تجلب التيسير.

(4) لا ضرر ولا ضرار.

وهذا اعتمده السُّبكى في كتابه الأشباه والنظائر، وبعضهم زاد قاعدة "الأمور بمقاصدها"، والذين يجعلونها أربعاً يقولون إن هذه القاعدة وهي الأمور بمقاصدها داخلة في واحدة من هذه القواعد، وكذلك من جعلها خمساً أو أربعاً أو واحدة لا ينكر تلك القواعد لكنه يقول إنها داخلة ضمن تلك القواعد وأنها مستخلصة منها، ولأجل هذا يذكرون هذه القواعد الكلية ويفرّعون عليها قواعد عظيمة وكثيرة كما هو مُدَوّن في كتبهم.

وهذه القواعد الخمس التى سبق ذكرها وهي "اليقين لا يزول بالشك"، "المشقة تجلب التيسر"، "لا ضرر ولا ضرار"،"الأمور بمقاصدها، أو إنما الأعمال بالنيات"، "العادة محكَّمة"، هذه قواعد مقطوع بها ومتفق عليها، ويِلحق بها قواعد كلية متفق عليها، لكن يختلف في تفاريع بعض المسائل، هل تدخل في هذه القاعدة أو لا تدخل؟.

أما أصل هذه القواعد فمتفق عليها، وهي الأصل في هذا الباب وهي هذه القواعد الخمس، ويلحق بها قواعد كثيرة متفق عليها مثل قولهم "الاجتهاد لا ينقض
তিনি এগুলোকে চারটি হিসেবে নির্ধারণ করেছেন:

(১) নিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) সংশয় (الشك) দ্বারা দূরীভূত হয় না।

(২) অভ্যাস বা প্রথা (العادة) বিচারক হিসেবে গণ্য হয়।

(৩) কষ্ট (المشقة) সহজীকরণ (التيسير) বয়ে আনে।

(৪) ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না (لا ضرر ولا ضرار)।

ইমাম সুবকী তাঁর 'আল-আশবাত ওয়ান নাজা'ইর' গ্রন্থে এর ওপর নির্ভর করেছেন। কেউ কেউ "কাজসমূহ উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল" (الأمور بمقاصدها) নীতিমালাটি বৃদ্ধি করেছেন। যারা এগুলোকে চারটি বলেন, তারা বলেন যে—এই নীতিমালাটি অর্থাৎ 'কাজসমূহ উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল' (الأمور بمقاصدها) এই মূলনীতিগুলোরই কোনো একটির অন্তর্ভুক্ত। একইভাবে যারা এগুলোকে পাঁচটি, চারটি বা একটি বলেন, তারা ওই মূলনীতিগুলোকে অস্বীকার করেন না, বরং তারা বলেন যে এগুলো ওই নীতিগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং সেগুলো থেকে আহরিত। একারণেই তারা এই মৌলিক নীতিমালাগুলো (القواعد الكلية) উল্লেখ করেন এবং এগুলোর ওপর ভিত্তি করে অনেক মহান ও বহু শাখা-উপশাখা বের করেন, যেমনটি তাঁদের গ্রন্থসমূহে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

পূর্বে উল্লেখিত এই পাঁচটি নীতিমালা, যা হলো "নিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) সংশয় (الشك) দ্বারা দূরীভূত হয় না", "কষ্ট (المشقة) সহজীকরণ (التيسير) বয়ে আনে", "ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না", "কাজসমূহ উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল (الأمور بمقاصدها) অথবা আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল (إنما الأعمال بالنيات)", "অভ্যাস বা প্রথা (العادة) বিচারক হিসেবে গণ্য"—এই নীতিমালাগুলো অকাট্য (مقطوع بها) এবং সর্বসম্মত (متفق عليها)। এগুলোর সাথে আরও কিছু সর্বসম্মত (متفق عليها) মৌলিক নীতিমালা (قواعد كلية) যুক্ত করা হয়, তবে কিছু বিষয়ের শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে যে, তা কি এই নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত হবে নাকি হবে না?

তবে এই নীতিমালাগুলোর মূল ভিত্তি সর্বসম্মত (متفق عليها), এবং এই অধ্যায়ে এগুলোই মূল ভিত্তি অর্থাৎ এই পাঁচটি নীতিমালা। এগুলোর সাথে আরও অনেক সর্বসম্মত (متفق عليها) নীতিমালা যুক্ত করা হয়, যেমন তাঁদের উক্তি "ইজতিহাদ বা গবেষণা (الاجتهاد) বাতিল হয় না
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
باجتهاد" وما أشبه ذلك، ثم قد يكون دليلها نص حديث عن النبى صلى الله عليه وسلم مثل قولهم "الخراج بالضمان" فهذا نص حديث عن النبى عليه الصلاة والسلام وما جاء في هذا المعنى من أدلة هى كالقواعد في هذا الباب، بل هي قواعد في بابها.

وقد يكون دليلها عمل الصحابة - رضى الله عنهم - فمثلاً قولهم "الاجتهاد لا ينقض بالاجتهاد" هذا ذكر أهل العلم أنه محل اتفاق من الصحابة رضي الله عنهم، وأن عمر - رضى الله عنه - قضى في المشركة بمشاركة الإخوة الأشقاء مع الإخوة لأم (1)، قال أهل العلم إنَّ فِعْلَ عمر - رضى الله عنه - وموافقة

--------------------------------------------

(1) أثر عمر - رضى الله عنه - في مسألة المشركة:

أخرجه الدارقطنى في سننه (4/ 88) من طريق عبد الرزاق عن معمر عن سماك بن الفضل عن وهب بن منبه عن مسعود بن الحكم الثقفي قال: "أتى عمر بن الخطاب - رضى الله عنه - في امرأة ماتت وتركت زوجها وأمها وإخواتها لأمها وإخوتها لأبيها وأمها فشرَّك بين الإخوة للأم وبين الإخوة للأم والأب بالثلث. . . " الحديث.

قال في التعليق المغنى: وأخرجه عبد الرزاق في مصنفه، وأخرجه البيهقى من طريق ابن المبارك عن معمر لكن قال: عن الحكم بن مسعود وصوَّبهُ النسائى".

وأخرجه البيهقى في السنن الكبرى (6/ 255) من طريق ابن المبارك عن معمر به.

والأثر من هذا الطريق صحيح الإسناد.

وقد أخرجه الحاكم في المستدرك (4/ 337) من طريق أبى أمية بن يعلى الثقفي عن أبى الزناد عن عمرو بن وهب عن أبيه عن زيد بن ثابت في المشركة قال: "هبوا أنَّ أباهم كان حماراً ما زادهم الأب إلا قرباً، وأشرك بينهم في الثلث".

قال الحاكم: "صحيح الإسناد"، ووافقه الذهبى.

لكن تعقبه الحافظ في التلخيص (3/ 86) فقال: "فيه أبو أمية بن يعلى الثقفى، وهو ضعيف".
"গবেষণার (اجتهاد) মাধ্যমে" এবং এ জাতীয় শব্দাবলি। অতঃপর এর দলীল হতে পারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসের পাঠ (نص), যেমন তাদের বক্তব্য: "উৎপন্ন সম্পদ দায়বদ্ধতার বিনিময়ে", এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত একটি হাদিসের পাঠ (نص)। এই অর্থে যেসব প্রমাণাদি এসেছে সেগুলো এই অধ্যায়ে মূলনীতির (قواعد) মতো, বরং এগুলো নিজ নিজ ক্ষেত্রে একেকটি মূলনীতি (قواعد)।

আবার এর দলীল হতে পারে সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর আমল। উদাহরণস্বরূপ তাদের বক্তব্য: "একটি গবেষণা (اجتهاد) অন্য গবেষণা (اجتهاد) দ্বারা বাতিল হয় না।" আলেমগণ উল্লেখ করেছেন যে, এটি সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-এর মাঝে ঐকমত্যের (اتفاق) বিষয়। ওমর (রা.) 'মুশাররাকাহ' মাসআলায় সহোদর ভাইদের মা-শরিক ভাইদের সাথে অংশীদার করেছিলেন, আলেমগণ বলেছেন যে ওমর (রা.)-এর এই কাজ এবং তাতে সম্মতি...

--------------------------------------------

(১) 'মুশাররাকাহ' মাসআলায় ওমর (রা.)-এর আসার (অসার):

দারা কুতনি তার সুনান গ্রন্থে (৪/৮৮) আব্দুর রাজ্জাক, তিনি মা'মার থেকে, তিনি সিমাক বিন ফাদল থেকে, তিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে, তিনি মাসউদ বিন হাকাম সাকাফি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর নিকট এমন এক মহিলার (উত্তরাধিকার) বিষয়ে আসা হলো যিনি মারা গেছেন এবং স্বামী, মা, মা-শরিক ভাইবোন এবং আপন ভাইবোন রেখে গেছেন। তখন তিনি মা-শরিক ভাইবোন এবং আপন ভাইবোনদের এক-তৃতীয়াংশে অংশীদার করে দিলেন..." হাদিস।

'আত-তালিকুল মুগনি'তে বলা হয়েছে: আব্দুর রাজ্জাক তার মুসান্নাফ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন এবং বায়হাকি ইবনুল মুবারাক এর সূত্রে মা'মার থেকে বর্ণনা করেছেন, তবে সেখানে তিনি হাকাম বিন মাসউদ বলেছেন এবং নাসায়ি একেই সঠিক বলেছেন।

বায়হাকি তার সুনানুল কুবরা (৬/২৫৫) গ্রন্থে ইবনুল মুবারাক এর সূত্রে মা'মার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

এই সূত্রের বর্ণনাটি সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট।

হাকিম তার আল-মুস্তাদরাক (৪/৩৩৭) গ্রন্থে আবু উমাইয়াহ বিন ইয়ালা সাকাফি থেকে, তিনি আবুল জিনাদ থেকে, তিনি আমর বিন ওয়াহাব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি জায়েদ বিন সাবিত থেকে 'মুশাররাকাহ' মাসআলায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তোমরা মনে করো তাদের পিতা একজন গাধা ছিল, পিতা তো তাদের নৈকট্যই বৃদ্ধি করেছে।" এবং তিনি তাদের এক-তৃতীয়াংশে অংশীদার করে দেন।

হাকিম বলেছেন: "এটি সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট" এবং জাহাবি তার সাথে একমত পোষণ করেছেন।

তবে হাফেজ (ইবনে হাজার) আত-তালখিস (৩/৮৬) গ্রন্থে এর সমালোচনা করে বলেছেন: "এতে আবু উমাইয়াহ বিন ইয়ালা সাকাফি রয়েছেন, আর তিনি দুর্বল (ضعيف)।"
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الصحابة له يدل على اتفاق في هذه القاعدة، ولو تأملت لوجدت قواعد أخرى جاءت عن الصحابة رضي الله عنهم تشبهها في هذا الباب.

 

النوع الثالث: قواعد موضع خلاف.

النوع الرابع: قواعد ضعيفة لا دليل عليها.

إذن تكون القواعد في هذا الباب على أربعة أقسام:

القسم الأول: ما كان نص دليل، فهذا له الرتبة الأولى من القوة.

القسم الثاني: ما كان مستنبطاً، أو كان عن اجتهاد الصحابة رضي الله عنهم.

القسم الثالث: ما كان موضع خلاف، فهذه قد تُقبل أحياناً وقد لا تُقبل بحسب قوة الدليل وضعفه.

القسم الرابع: قواعد فقهية مذهبية بُنيت على قول مذهبي، فهذه لا تُقبل لأنها قواعد مذهبية تخالف الدليل؛ لأنها تُصاغ وفق المسائل في المذهب دون النظر إلى الدليل.

 

*‌‌ سابعاً: القاعدة هل يُحتج بها أو لا يُحتج بها؟:

أي هل هى دليل أم ليست دليلاً؟، إذا نظرنا إلى ما سبق تبين أنها تختلف، فمنها ما هو دليل ويحتج بها، ومنها ما هو مستنبط، فإذا كانت مستنبطة استنباطاً

--------------------------------------------

=وذكره الذهبي في الميزان (4/ 493) وقال: "ضعَّفه الدارقطنى، وقال ابن حبان: لا تحلُّ عنه إلاّ للخواص، روى عن هشام بن عروة وأبى الزناد وعنه الصلت بن مسعود وغيره". اهـ.

وعليه فالأثر عن عمر صحيحٌ، أما عن زيد بن ثابت فيه أبو أمية بن يعلى وهو ضعيف.
সাহাবীদের কর্মকাণ্ড এই মূলনীতির বিষয়ে তাদের ঐকমত্য নির্দেশ করে। আপনি যদি গভীর চিন্তা করেন, তবে সাহাবীদের থেকে এই অধ্যায়ে বর্ণিত এমন আরও অনেক মূলনীতি খুঁজে পাবেন যা এর সদৃশ।

 

তৃতীয় প্রকার: মতপার্থক্যপূর্ণ (موضع خلاف) মূলনীতিসমূহ।

চতুর্থ প্রকার: দুর্বল (ضعيفة) মূলনীতিসমূহ যেগুলোর সপক্ষে কোনো দলিল নেই।

অতএব, এই অধ্যায়ের মূলনীতিসমূহ চারটি ভাগে বিভক্ত:

প্রথম ভাগ: যা সরাসরি দলিলের পাঠ (نص دليل); শক্তির দিক থেকে এর মর্যাদা সবার উপরে।

দ্বিতীয় ভাগ: যা উদ্ভাবিত (مستنبط) অথবা সাহাবীদের ইজতিহাদ (اجتهاد) থেকে গৃহীত।

তৃতীয় ভাগ: যা মতপার্থক্যপূর্ণ (موضع خلاف); দলিলের শক্তি ও দুর্বলতা (ضعفه) অনুযায়ী এগুলো কখনো গ্রহণ করা হতে পারে আবার কখনো না।

চতুর্থ ভাগ: মাযহাবভিত্তিক ফিকহি মূলনীতি যা নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের মতামতের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এগুলো গ্রহণযোগ্য নয় কারণ এগুলো মাযহাবি মূলনীতি যা দলিলের পরিপন্থী; কেননা এগুলো দলিলের দিকে লক্ষ্য না করে মাযহাবের মাসয়ালা অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে।

 

*‌‌ সপ্তম: মূলনীতি কি দলিল হিসেবে পেশযোগ্য (يُحتج بها) হবে নাকি হবে না?:

অর্থাৎ, এটি কি দলিল নাকি দলিল নয়? ইতিপূর্বে যা আলোচিত হয়েছে সেদিকে তাকালে স্পষ্ট হয় যে, এ ক্ষেত্রে ভিন্নতা রয়েছে। সেগুলোর কোনটি দলিল এবং দলিল হিসেবে পেশযোগ্য (يحتج بها), আবার কোনটি উদ্ভাবিত (مستنبط)। যদি তা সঠিকভাবে উদ্ভাবিত (مستنبطة استنباطاً) হয়ে থাকে...

--------------------------------------------

=ইমাম দাহাবি এটি আল-মিযান (৪/৪৯৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "দারাকুতনি তাকে দুর্বল (ضعَّفه) বলেছেন। ইবনে হিব্বান বলেছেন: বিশেষ ব্যক্তিগণ ছাড়া অন্য কারো জন্য তার থেকে বর্ণনা করা বৈধ নয়। তিনি হিশাম ইবনে উরওয়াহ ও আবু যিনাদ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তার থেকে সালত ইবনে মাসউদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন।" সমাপ্ত।

এর ওপর ভিত্তি করে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত আসার (الأثر) সহিহ (صحيح); কিন্তু যায়িদ ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত বর্ণনায় আবু উমাইয়া ইবনে ইয়ালা রয়েছেন, যিনি দুর্বল (ضعيف)।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২১)
صحيحاً فهي حجة - أيضاً - أما إذا كانت القاعدة مبنية على قول مذهبي فإنها لا تُقبل.

 

*‌‌ ثامناً: إذا خالف الحاكم أو القاضي القاعدة، هل يقبل حكمه أو لا يُقبل؟

ذكر القَرَافي أن الحاكم والقاضي إذا خالف القاعدة فإنه لا يُقبل حكمه ويرد حكمه، قال: ما معناه: "إن المخالف للقاعدة الفقهية. مخالفة لما أتُّفق عليه، أو لما أجمع عليه، أو مخالفة للدليل فجعل القاعدة دليلاً"، وهذا فيه تفصيل حسب ما ذكر قبل.

فإن كانت المخالفة للقاعدة لأجل دليل فإن هذا الحكم أو الفتيا لا تُرد، مثلاً: عندنا "اليقين لا يزول بالشك" هذه قاعدة وأصل في أن جميع مسائلها تندرج تحتها، والأصل بقاء ما كان على ما كان وما أشبه ذلك، فإذا جاءت مسألة من المسائل وقلنا بها على خلاف هذا الأصل، في هذه الحالة ننظر إن كانت مُخالفتنا لهذا الأصل وهو اليقين لأجل دليل آخر عَمِلنا به وإن لم يكن هنالك دليل فإن هذا القول يُردُّ ويعمل بالقاعدة المبنية على الدليل الصحيح، ويكون هذا الدليل مخرجاً لهذه المسألة من عموم القاعدة التى هى أصل في هذا الباب.
সহীহ (صحيح) হয়, তবে তাও একটি দলিল (حجة) —আরও— পক্ষান্তরে, যদি মূলনীতিটি কোনো মাযহাবি মতামতের ওপর ভিত্তি করে রচিত হয়, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।

 

*‌‌ অষ্টম: যদি কোনো শাসক বা বিচারক মূলনীতির বিরোধিতা করেন, তবে কি তাঁর রায় কবুল করা হবে নাকি তা গ্রহণযোগ্য হবে না?

কারাফি উল্লেখ করেছেন যে, শাসক বা বিচারক যদি কোনো মূলনীতির বিরোধিতা করেন, তবে তাঁর রায় কবুল করা হবে না এবং তা প্রত্যাখ্যান করা হবে। তিনি যা বলেছেন তার মর্মার্থ হলো: "ফেকহ শাস্ত্রের কোনো মূলনীতির বিরোধিতা করা মানে হলো কোনো সর্বসম্মত বিষয়ের বিরোধিতা করা, অথবা ইজমা (إجماع) ভিত্তিক কোনো বিষয়ের বিরোধিতা করা, অথবা কোনো দলিলের (دليل) বিরোধিতা করা; কেননা তিনি মূলনীতিকে একটি দলিল হিসেবে গণ্য করেছেন।" আর এ বিষয়ে পূর্বে উল্লিখিত বর্ণনা অনুযায়ী বিস্তারিত ব্যাখ্যা রয়েছে।

যদি মূলনীতির এই বিরোধিতা কোনো দলিলের (دليل) কারণে হয়, তবে সেই রায় বা ফতোয়া (فتوى) প্রত্যাখ্যান করা হবে না। উদাহরণস্বরূপ: আমাদের নিকট একটি মূলনীতি হলো— "নিশ্চয়তা সন্দেহের দ্বারা দূরীভূত হয় না", এটি একটি মূলনীতি এবং মূলভিত্তি (أصل), যার অধীনে এর সংশ্লিষ্ট সকল মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়। আর এর মূল ভিত্তি হলো— কোনো বিষয় অতীতে যে অবস্থায় ছিল বর্তমানেও সে অবস্থায় বিদ্যমান থাকা, এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ। সুতরাং যদি কোনো একটি মাসআলা আমাদের সামনে আসে এবং আমরা এই মূলভিত্তির পরিপন্থী কোনো কথা বলি, তবে এক্ষেত্রে আমরা লক্ষ্য করব যে, আমাদের এই মূলভিত্তি অর্থাৎ 'নিশ্চয়তা'-এর বিরোধিতা কি অন্য কোনো দলিলের (دليل) ভিত্তিতে হয়েছে? যদি অন্য কোনো দলিলের ভিত্তিতে হয় তবে আমরা সেই অনুযায়ী আমল করব। আর যদি সেখানে কোনো দলিল না থাকে, তবে এই বক্তব্যটি প্রত্যাখ্যান করা হবে এবং সহীহ (صحيح) দলিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত মূলনীতি অনুযায়ী আমল করা হবে। আর উক্ত দলিলটি এই মাসআলাটিকে সাধারণ মূলনীতির গণ্ডি থেকে বের করে আনবে, যা এই অধ্যায়ের মূলভিত্তি (أصل) হিসেবে গণ্য।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
القواعد الفقهية

 

‌‌القاعدة الأولى الشارع لا يأمر إلا بما مصلحته خالصة أو راجحة، ولا ينهى إلا عما مفسدته خالصة أو راجحة

هذه القاعدة محل إجماع من أهل العلم قاطبة، بل هي كما قال كثير من أهل العلم إن الشريعة ترجع إليها وأن ما سواها من القواعد مأخوذ منها ومتفرع عليها وقال بعض أهل العلم إن الشريعة ترجع إلى جلب المصالح لأنه لا يمكن أن تُجلب المصالح إلا إذا دُرئت المفاسد.

دلّ على هذه القاعدة أدلة كثيرة من القرآن والسنة والإجماع، قال تعالى: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ} (1).

فهذه الآية يدل أولها على تحصيل المصالح في قوله: {إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالْإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَى} وآخرها يدل على درء المفاسد في قوله: {وَيَنْهَى عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنْكَرِ وَالْبَغْيِ}.

أما الأحاديث النبوية فيمكن أن يستدل لذلك بحديث: "إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق" (2)، وفي لفظ: "لأتمم صالح الأخلاق".

--------------------------------------------

(1) سورة النحل، آية 90.

(2) أخرجه الإمام أحمد في مسنده (3/ 323) من طريق سعيد بن منصور قال: حدثنا عبد العزيز بن محمد الدراوردي عن محمد بن عجلان عن القعقاع بن حكيم عن أبى صالح عن أبى هريرة رضى الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: "إنما بُعثت لأتِّمم صالح الأخلاق".=
ফিকহি মূলনীতিসমূহ

 

‌‌প্রথম মূলনীতি: বিধানদাতা কেবল সেই বিষয়েরই আদেশ দেন যার কল্যাণ নিরঙ্কুশ অথবা প্রবল, এবং কেবল সেই বিষয় থেকেই নিষেধ করেন যার অকল্যাণ নিরঙ্কুশ অথবা প্রবল।

এই মূলনীতিটি সমস্ত আলেমদের নিকট একটি ঐকমত্য (إجماع)-পূর্ণ বিষয়। বরং অনেক আলেম যেমনটি বলেছেন যে, শরিয়ত এই মূলনীতির দিকেই প্রত্যাবর্তন করে এবং অন্যান্য সকল মূলনীতি এখান থেকেই গৃহীত ও এর শাখা-প্রশাখা স্বরূপ। কিছু আলেম বলেছেন যে, শরিয়ত মূলত কল্যাণ অর্জনের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে, কারণ অকল্যাণসমূহ প্রতিহত করা ব্যতীত কল্যাণ অর্জন করা সম্ভব নয়।

কুরআন, সুন্নাহ এবং ঐকমত্য (إجماع) থেকে এই মূলনীতির পক্ষে বহু দলিল বিদ্যমান। মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন} (১)।

সুতরাং এই আয়াতের প্রথমাংশ কল্যাণ অর্জনের প্রতি নির্দেশ করে, যা আল্লাহর এই বাণীতে বিদ্যমান: {নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, ইহসান ও নিকটাত্মীয়দের দান করার নির্দেশ দেন}। আর আয়াতের শেষাংশ অকল্যাণ প্রতিরোধের নির্দেশ দেয়, যা আল্লাহর এই বাণীতে বিদ্যমান: {এবং অশ্লীলতা, অসৎ কাজ ও সীমা লঙ্ঘন থেকে নিষেধ করেন}।

আর নববীয় হাদিসসমূহের মধ্য থেকে এর স্বপক্ষে এই হাদিসটি দলিল হিসেবে পেশ করা যায়: "আমি কেবল সচ্চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি" (২), অন্য শব্দে এসেছে: "উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা প্রদানের জন্য"।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নাহল, আয়াত ৯০।

(২) ইমাম আহমাদ তার মুসনাদ (৩/৩২৩) গ্রন্থে সাঈদ ইবনে মানসুর-এর সূত্র (طريق) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আব্দুল আজিজ ইবনে মুহাম্মাদ আদ-দারাওয়ারদী, তিনি মুহাম্মাদ ইবনে আজলান থেকে, তিনি আল-কা'কা ইবনে হাকিম থেকে, তিনি আবু সালিহ থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "আমি কেবল উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা প্রদানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।"=
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وكذلك ثبت في الصحيحين أن النبى صلى الله عليه وسلم قال: "إنما مَثَلي ومَثَل الأنبياء قبلي كمَثَلِ رجل بنى داراً إلا موضع لَبِنة، فجعل الناس يطوفون في هذه الدار فيقولون: ما أحسن هذا لولا موضع اللَّبِنة، فأنا تلك اللَبِنة" (1).

ففى هذا الحديث إشارة إلى أنه أتى بجميع المصالح والأخلاق الحسنة التي جاء بها الرسل قبله - عليهم الصلاة والسلام -، وأنه كمّل هذا النقص كما جاء في الحديث "لأتمم مكارم الأخلاق"، وأنه جاء آمراً بما جاءت به تلك الرسالات من الخير والإحسان والعدل وجاء ليتم ذلك.

وإذا تأمّلتَ هذه القاعدة وجدتها تشتمل على أربعة أقسام في صياغتها وهي:

1 - الأمر بالمصلحة الخالصة.

--------------------------------------------

= فالحديث فيه محمد بن عجلان وهو صدوق إلا أنه قد اختلطت عليه أحاديث أبى هريرة رضى الله عنه، كما نصَّ على ذلك الحافظ ابن حجر في التقريب (6136).

وقال في التهذيب (5/ 219): "وقال يحيى القطان عن ابن عجلان: كان سعيد المقبري يحدث عن أبى هريرة وعن أبيه عن أبى هريرة وعن رجل عن أبى هريرة فاختلطت عليه فجعلها كلها عن أبى هريرة، ولما ذكر ابن حبان في كتاب الثقات هذه القصة قال: ليس هذا بوهن يوهن الإنسان به لأن الصحيفة كلها في نفسها صحيحة".

ورواه مالك في الموطأ بلاغاً عن النبى صلى الله عليه وسلم، وقال ابن عبد البر: هو متصل من وجوه صحاح عن أبي هريرة وغيره، ومنها ما رواه أحمد والخرائطي في أول المكارم بسند صحيح عن أبي هريرة مرفوعاً بلفظ "إنما بُعثت لأتمم صالح الأخلاق "ومنها ما رواه الطبراني في الأوسط بسند فيه عمر بن إبراهيم القرشى وهو ضعيف، لكن معناه صحيح". انظر: كشف الخفاء (1/ 244).

(1) أخرجه البخاري في صحيحه في مناقب النبى صلى الله عليه وسلم (2/ 228)، باب خاتم النبيين، ومسلم في صحيحه في كتاب فضائل النبى صلى الله عليه وسلم (7/ 64 - 65) كلاهما من طريق عبد الله بن دينار عن أبى صالح عن أبي هريرة رضى الله عنه به فذكره. . ".
অনুরূপভাবে সহীহাইন-এ প্রমাণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমার এবং আমার পূর্ববর্তী নবীদের উদাহরণ হলো এমন এক ব্যক্তির মতো যে একটি ঘর নির্মাণ করল, কিন্তু একটি ইটের জায়গা বাদ রাখল। মানুষ সেই ঘরের চারপাশে ঘুরতে লাগল এবং বলতে লাগল: এই ইটের জায়গাটি না থাকলে ঘরটি কতই না সুন্দর হতো! আমিই হলাম সেই ইট" (১)।

এই হাদিসে এই মর্মে ইঙ্গিত রয়েছে যে, তিনি তাঁর পূর্ববর্তী রাসুলগণের—তাঁদের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক—আনীত সকল কল্যাণ ও উত্তম চরিত্রের সমাবেশ ঘটিয়েছেন এবং তিনি এই অপূর্ণতাকে পূর্ণ করেছেন, যেমনটি হাদিসে এসেছে: "আমি উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্যই প্রেরিত হয়েছি।" তিনি ঐ সকল আসমানি বার্তার কল্যাণ, ইহসান ও ন্যায়বিচারের যে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছিল, তা পূর্ণতা দিতেই আগমন করেছেন।

আপনি যদি এই মূলনীতিটি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তবে এর কাঠামোতে চারটি ভাগ লক্ষ্য করবেন, সেগুলো হলো:

১ - বিশুদ্ধ কল্যাণের নির্দেশ প্রদান।

--------------------------------------------

= এই হাদিসের বর্ণনাকারী হিসেবে মুহাম্মদ ইবনে আজলান রয়েছেন, যিনি সত্যবাদী (صدوق); কিন্তু আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণিত হাদিসসমূহ তাঁর নিকট সংমিশ্রিত (اختلطت) হয়ে গিয়েছিল। যেমনটি হাফিজ ইবনে হাজার তাকরিব-এ (৬১৩৬) উল্লেখ করেছেন।

তিনি তাহজিব-এ (৫/ ২১৯) বলেছেন: "ইয়াহইয়া আল-কাত্তান ইবনে আজলান থেকে বর্ণনা করেছেন যে: সাঈদ আল-মাকবুরি আবু হুরায়রা থেকে, এবং তাঁর পিতা থেকে তিনি আবু হুরায়রা থেকে, এবং অন্য এক ব্যক্তি থেকে তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতেন। কিন্তু ইবনে আজলানের কাছে এগুলো সংমিশ্রিত হয়ে যায়, ফলে তিনি সবগুলোকে সরাসরি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতে থাকেন। ইবনে হিব্বান যখন কিতাবুস সিকাত-এ এই ঘটনাটি উল্লেখ করেন, তখন বলেন: এটি এমন কোনো দুর্বলতা নয় যার কারণে কোনো ব্যক্তিকে দুর্বল সাব্যস্ত করা যায়, কারণ এই পান্ডুলিপিটি নিজে থেকেই সহিহ (صحيحة)।"

ইমাম মালিক মুওয়াত্তা-এ এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে সরাসরি সূত্রবিহীন বর্ণনা (بلاغاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবদিল বার বলেন: এটি আবু হুরায়রা ও অন্যদের থেকে বিভিন্ন সহিহ (صحاح) সূত্রের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে বর্ণিত। এর মধ্যে একটি আহমাদ এবং আল-খারাইতি মাকারিমুল আখলাক-এর শুরুতে সহিহ (صحيح) সনদে আবু হুরায়রা থেকে মারফু (مرفوعاً) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার শব্দ হলো: "আমি কেবল সৎ চরিত্রের পূর্ণতা বিধানের জন্য প্রেরিত হয়েছি।" তাবারানি আল-আওসাত-এ একটি সনদে এটি বর্ণনা করেছেন যাতে উমর ইবনে ইব্রাহিম আল-কুরাশি রয়েছে, আর সে হলো দুর্বল (ضعيف); তবে এর অর্থ সঠিক (صحيح)। দেখুন: কাশফুল খাফা (১/ ২৪৪)।

(১) এটি বুখারি তাঁর সহিহ-এর মানাকিবুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধ্যায়ে (২/ ২২৮), 'খাতামুন নাবিয়্যিন' পরিচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। এবং মুসলিম তাঁর সহিহ-এর ফাদায়িলুন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধ্যায়ে (৭/ ৬৪-৬৫) বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ই আব্দুল্লাহ ইবনে দিনারের সূত্রে আবু সালিহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। . ".
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
2 - الأمر بالمصلحة الراجحة.

3 - النهي عن المفسدة الخالصة.

4 - النهي عن المفسدة الراجحة.

 

فمثال المصالح الخالصة:

الإيمان بالله سبحانه وتعالى ورجاءه وتوحيده، والإخلاص له، هذه مصالح خالصة مقصودة بالذات أصالة، لم تقصد تبعاً.

 

ومثال المصالح الراجحة:

الجهاد في سبيل الله حيث إن فيه إعلاء الدين وتثبيته، ودحر الكفر وأهله؛ لأنه ليس مقصوداً أصالة، فقتل الكفار وسبيهم أمورٌ ليست مقصودة بالذات، إنما المقصود ما يترتب عليها من إعلاء دين الله، ولأجل هذا قال تعالى: {كُتِبَ عَلَيْكُمُ الْقِتَالُ وَهُوَ كُرْهٌ لَكُمْ} (1) فجعله مكروهاً للنفوس وغير محبب لها، لكن لما يترتب عليه من المصالح العاجلة في الدنيا والآجلة في الآخرة كان مكتوباً وكان واجباً.

 

ومثال المفاسد الخالصة:

الشرك فهو أكبر الكبائر وأكبر الذنوب فهو مفسدة خالصة ليست فيه أي مصلحة أو منفعة فهو مفسدة خالصة من جهة حكم الشرع، وإن كان أصحابه من جهة العادة ومن جهة ما يكسبون ما يحصل لهم بالشرك قد يكون لهم شيء من المنافع لكنها من جهة الشرع مفاسد خالصة.

كذلك السحر عند بعض أهل العلم هو مفسدة خالصة، وإن كان قد يحصل

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، آية: 216.
2 - প্রবল জনকল্যাণ (المصلحة الراجحة) এর আদেশ প্রদান।

3 - নিরঙ্কুশ অকল্যাণ (المفسدة الخالصة) থেকে নিষেধ করা।

4 - প্রবল অকল্যাণ (المفسدة الراجحة) থেকে নিষেধ করা।

 

নিরঙ্কুশ জনকল্যাণ (المصالح الخالصة) এর উদাহরণ:

মহান আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা, তাঁর প্রতি আশা পোষণ করা, তাঁর একত্ববাদ এবং তাঁর জন্য একনিষ্ঠতা বা ইখলাস; এগুলো হলো নিরঙ্কুশ জনকল্যাণ (مصالح خالصة) যা মূলত ও সরাসরি উদ্দিষ্ট, এগুলো গৌণভাবে উদ্দিষ্ট নয়।

 

প্রবল জনকল্যাণ (المصالح الراجحة) এর উদাহরণ:

আল্লাহর পথে জিহাদ করা, যেহেতু এতে দ্বীনকে সমুন্নত ও সুপ্রতিষ্ঠিত করা এবং কুফর ও কুফরি শক্তিকে দমিত করার বিষয় রয়েছে; কারণ এটি মূলত উদ্দেশ্য নয়। কাফেরদের হত্যা করা এবং তাদের বন্দি করা মূলত সরাসরি উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো এর মাধ্যমে আল্লাহর দ্বীনকে সমুন্নত করা। আর এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তোমাদের ওপর যুদ্ধ ফরজ করা হয়েছে, অথচ তা তোমাদের কাছে অপছন্দনীয়" (১)। সুতরাং তিনি একে মানুষের প্রবৃত্তির কাছে অপছন্দনীয় ও অপ্রিয় করেছেন, কিন্তু দুনিয়ার তাৎক্ষণিক এবং আখিরাতের পরবর্তী যে জনকল্যাণ (المصالح) এর ওপর নির্ভরশীল, তার কারণে এটি বিধিবদ্ধ ও আবশ্যক করা হয়েছে।

 

নিরঙ্কুশ অকল্যাণ (المفاسد الخالصة) এর উদাহরণ:

শিরক; এটি বড় গুনাহগুলোর মধ্যে সর্ববৃহৎ এবং সবচাইতে বড় পাপ। এটি একটি নিরঙ্কুশ অকল্যাণ (مفسدة خالصة), যাতে কোনো কল্যাণ বা উপকার নেই। শরয়ি বিধানের বিচারে এটি নিরঙ্কুশ অকল্যাণ (مفسدة خالصة), যদিও এর অনুসারীদের অভ্যাসগত দিক থেকে এবং শিরকের মাধ্যমে তারা যা লাভ করে সেই দিক থেকে তাদের কিছু উপকার হতে পারে, কিন্তু শরয়ি বিচারে সেগুলো নিরঙ্কুশ অকল্যাণ (مفاسد خالصة)।

অনুরূপভাবে কোনো কোনো আলেমদের মতে জাদুও হলো নিরঙ্কুশ অকল্যাণ (مفسدة خالصة), যদিও কখনো অর্জিত হতে পারে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ২১৬।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
للساحر شيء من المنافع في الدنيا لكنها غير معتبرة من جهة الشرع.

 

ومثال المفاسد الراجحة:

شرب الخمر واللعب بالميسر، قال تعالى: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ قُلْ فِيهِمَا إِثْمٌ كَبِيرٌ وَمَنَافِعُ لِلنَّاسِ} (1).

فأشار سبحانه إلى أن فيهما منافع لكنها إذا قيست مصالحها من التجارة بها وما يحصل من نشوة النفوس بشرب الخمر إلى جانب ما يتولد ويترتب عليها من المفاسد تكون تلك المصلحة مرجوحة ولا قيمة لها، فلا أثر، لكن هي من هذه الجهة ليست كمفسدة الشرك بل هى أقل.

 

والمسألة الثانية في هذه القاعدة:

هل هناك مفسدة خالصة ومصلحة خالصة؟.

ظاهر كلام كثير من المصنفين في أبواب القواعد وظاهر كلام كثير من أهل العلم أن من المفاسد مفاسد خالصة وأن من المصالح مصالح خالصة.

وذهب آخرون إلى أنه ليس في الوجود مفاسد خالصة، كما أنه ليست في الوجود مفاسد راجحة، وقالوا إن ما ذكر من كون الشرك مفسدة خالصة فإنه ليس بصحيح؛ لأنه لو كان مفسدة خالصة من كل وجه لم تمل إليه النفوس، ولم تشرك كثير من النفوس وتتبع الشرك.

وكذلك السحر فلو كان مفسدة خالصة من كل وجه فإنه تنفر منه الطباع ولا تقبله.

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة، آية: 219.
জাদুকরের জন্য দুনিয়াতে কিছু উপকারিতা রয়েছে, তবে শরিয়তের দৃষ্টিতে তা গ্রহণযোগ্য নয়।

 

আর প্রবল অনিষ্টের উদাহরণ হলো:

মদ্যপান এবং জুয়া খেলা। আল্লাহ তাআলা বলেন: {তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। বলো, এ দুটোর মধ্যে রয়েছে মহাপাপ এবং মানুষের জন্য কিছু উপকারিতাও} (১)।

সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইঙ্গিত করেছেন যে, এ দুটোর মধ্যে উপকারিতা রয়েছে; কিন্তু এগুলোর ব্যবসার মাধ্যমে অর্জিত কল্যাণ এবং মদ্যপানের ফলে উৎপন্ন মানসিক প্রফুল্লতাকে যদি এর থেকে সৃষ্টি হওয়া ও আনুষঙ্গিক অনিষ্টের সাথে তুলনা করা হয়, তবে সেই কল্যাণটি গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে এবং তার কোনো মূল্য থাকে না; ফলে এর কোনো কার্যকারিতা থাকে না। তবে এই দিক থেকে এটি শিরকের অনিষ্টের মতো নয়, বরং তার চেয়ে কম।

 

এই মূলনীতির দ্বিতীয় মাসআলা হলো:

বাস্তবে কি কোনো নিছক অনিষ্ট বা নিছক কল্যাণ রয়েছে?

মূলনীতি বিষয়ক গ্রন্থসমূহের অনেক লেখকের বক্তব্য এবং অনেক আহলুল ইলমের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো—অনিষ্টের মধ্যে কিছু রয়েছে নিছক অনিষ্ট এবং কল্যাণের মধ্যে কিছু রয়েছে নিছক কল্যাণ।

অন্যান্যরা এই মত পোষণ করেছেন যে, অস্তিত্বে নিছক অনিষ্ট বলতে কিছু নেই, যেমন অস্তিত্বে প্রবল অনিষ্ট বলতেও কিছু নেই। তাঁরা বলেছেন, শিরককে যে নিছক অনিষ্ট হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে তা সঠিক (صحيح) নয়; কারণ এটি যদি সকল দিক থেকে নিছক অনিষ্ট হতো, তবে মানুষের মন এর দিকে ধাবিত হতো না এবং অনেক মানুষ শিরকে লিপ্ত হতো না ও শিরকের অনুসরণ করতো না।

অনুরূপভাবে জাদু; এটি যদি সকল দিক থেকে নিছক অনিষ্ট হতো, তবে মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি তা থেকে বিমুখ হতো এবং তা গ্রহণ করতো না।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২১৯।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
وكذلك قالوا في مسألة أعمال الإيمان من التوحيد والصلاة والصيام وأعمال البِّر من الذكر وما أشبه ذلك، التي ذكروا أنها مصالح خالصة وأنها لا مفسدة فيها بوجه من الوجوه.

قال كثير من أهل العلم إنه ليست مصالح خالصة من كل وجه بل هى مصالح راجحة، وقالوا: إن ما يقترن بالعبادات وما يسبقها من الاستعداد لها من المشقة والتعب وإن كان يسيراً في التقدير فإنه نوع مشقة ونوع تعب يسلبها مسمى الخلوص في باب المصلحة، فإن هذا لا شك أن فيه تعباً ومشقةً، وإن كانت يسيرة، وإن كان الذي يأتي بالعبادة، وتتروض نفسه بالعبادة يحبها ويأنس بها لكن مع ذلك لابد أن يكون هناك شيء من المشقة، ولأجل هذا قال عليه الصلاة والسلام: "حُفّت الجنة بالمكاره" (1).

فجعل الأعمال الصالحة جميعها مكاره، وقال في حديث أبي هريرة: "فذلكم الرباط" (2) عندما ذكر إسباغ الوضوء على المكاره أي في المكروهات في الأحوال

--------------------------------------------

(1) أخرجه الإمام مسلم في صحيحه في كتاب صفة الجنة وصفة نعيمها وأهلها، من طريق حماد بن سلمة عن ثابت وحُميد عن أنس بن مالك رضى الله عنه. . . فذكره".

وأخرج له شاهداً آخر بعده من حديث أبي هريرة رضى الله عنه من طريق أبي الزناد عن الأعرج عن أبى هريرة رضى الله عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم بمثله. . . فدكره".

وأخرجه البخاري في صحيحه في كتاب الرقائق، باب حجبت النار بالشهوات (9/ 165) من طريق أبى الزناد عن الأعرج عن أبي هريرة رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: "حُجِبت النار بالشهوات، وحُجِبت الجنة بالمكاره" (4/ 2035).

(2) أخرجه مسلم في صحيحه في كتاب الوضوء (1/ 151) من حديث العلاء بن عبد الرحمن عن أبيه عن أبى هريرة رضى الله عنه به فذكره. . . ".
একইভাবে তাঁরা ইমানের আমলসমূহ যেমন তাওহিদ, সালাত, সিয়াম এবং জিকিরের মতো পুণ্যকর্ম ও এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রে বলেছেন, যা তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে এগুলো বিশুদ্ধ কল্যাণ এবং এতে কোনোভাবেই কোনো অনিষ্ট নেই।

অনেক আলেম বলেছেন যে, এগুলো সব দিক থেকে বিশুদ্ধ কল্যাণ নয় বরং এগুলো প্রাধান্য পাওয়া কল্যাণ। তাঁরা বলেছেন: ইবাদতের সাথে যা যুক্ত হয় এবং এর প্রস্তুতির জন্য তার পূর্বে যে কষ্ট ও ক্লান্তি অনুভূত হয়, যদিও তা বিচারে সামান্য হয়, তবুও এটি এক ধরনের কষ্ট ও ক্লান্তি যা কল্যাণের ক্ষেত্রে এর বিশুদ্ধতা নামক গুণটিকে বিলুপ্ত করে দেয়। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এর মধ্যে ক্লান্তি ও কষ্ট রয়েছে, যদিও তা সামান্য হয়। আর যদিও ইবাদতকারী ইবাদত করার মাধ্যমে তার নফসকে অভ্যস্ত করে তোলে এবং একে ভালোবাসে ও এর মাধ্যমে প্রশান্তি পায়, তবুও এর সাথে কিছু না কিছু কষ্ট অবশ্যই থাকবে। আর এ কারণেই তিনি (عليه الصلاة والسلام) বলেছেন: "জান্নাতকে কষ্টদায়ক বিষয়াদি দ্বারা পরিবেষ্টিত করা হয়েছে।" (১)।

তিনি সমস্ত নেক আমলকে কষ্টদায়ক বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন। আর আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত হাদিসে তিনি বলেছেন: "সেটাই হলো রিবাত (সীমান্ত পাহারা)" (২), যখন তিনি কষ্টের মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গভাবে অজু করার কথা উল্লেখ করেছিলেন, অর্থাৎ প্রতিকূল অবস্থায়।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ মুসলিম-এ জান্নাত, এর নেয়ামত ও জান্নাতবাসীদের বৈশিষ্ট্য কিতাবে, হাম্মাদ বিন সালামাহ-এর সূত্রে সাবিত ও হুমাইদ থেকে, তিনি আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন... অতপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

আর তিনি এর পরে আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদিস থেকে আবু জিনাদ-এর সূত্রে আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সূত্রে অনুরূপ আরেকটি সাক্ষী (شاهد) বর্ণনা করেছেন... অতপর তিনি তা উল্লেখ করেছেন।

আর বুখারি তাঁর সহিহ বুখারি-তে কিতাবুর রিকাক, 'জাহান্নামকে কুপ্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত করা হয়েছে' পরিচ্ছেদে (৯/১৬৫) আবু জিনাদ-এর সূত্রে আল-আ'রাজ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "জাহান্নামকে কুপ্রবৃত্তি দ্বারা আবৃত করা হয়েছে এবং জান্নাতকে কষ্টদায়ক বিষয়াদি দ্বারা আবৃত করা হয়েছে" (৪/২০৩৫)।

(২) মুসলিম তাঁর সহিহ মুসলিম-এ পবিত্রতা (অজু) কিতাবে (১/১৫১) আলা বিন আব্দুর রহমান-এর সূত্রে তাঁর পিতা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন...।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
التي تكرهها النفس ويشق عليها كشدة البرد والحر، وقال تعالى: {وَنَبْلُوكُمْ بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً} (1) فجعل في الخير كما هو في الشر، وهذا لا يكون في المصلحة الخالصة.

وتوسَّط آخرون كابن القيم في مفتاح دار السعادة فقال:" إنْ أريد بالمفسدة المشقة فإنه ليس في الوجود مصلحة خالصة، وإن أريد أن في نفس هذه المصالح وهي العبادة من صلاة وذكر وما أشبه ذلك من الأعمال الصالحة الخالصة أريد أن في نفس العبادة مفسدة فليس بصحيح، وإن أريد أنه قد يقارنها ويسبقها شيء من المشاق فلا حرج أن تسمى، فإذا سميت مفاسد بهذا الاعتبار فلا بأس فهي مشاق".

وقالوا: إن المصالح الخالصة لا تكون إلا في دار القرار في الجنة لأولياء الله، وإلا لو كانت مصالح خالصة في الدنيا لم يكن هناك فرق بين أهل الدنيا في نعيمهم بعبادتهم لله سبحانه وتعالى، وفي نعيمهم في دار الجنة والكرامة، فإن المصالح الخالصة لا تكون إلا في تلك الدار.

وكذلك المفاسد الخالصة هي لمن وجب عليه الخلود من الكفار في النار لا تكون إلا في تلك الدار في جهنم.

 

المسألة الثالثة في هذه القاعدة:

هل هناك قسم خامس وهو ما تساوت مصلحته ومفسدته؟

ظاهر كلام كثير من أهل العلم أن القسمة رباعية كما سبق، وأنه ليس هناك

--------------------------------------------

(1) سورة الأنبياء، آية: 35.
যা আত্মা অপছন্দ করে এবং যা তার জন্য কষ্টকর যেমন তীব্র শীত ও গরম। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আমি তোমাদেরকে মন্দ ও ভালোর মাধ্যমে পরীক্ষা (فتنة) করি} (১), এখানে তিনি মন্দের মতো ভালোর মধ্যেও পরীক্ষা রেখেছেন; আর এটি বিশুদ্ধ কল্যাণের (المصلحة الخالصة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।

ইবনুল কায়্যিম-এর মতো অন্যান্য আলেমগণ 'মিফতাহু দারিস সা'আদাহ' গ্রন্থে মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন। তিনি বলেছেন: "যদি অকল্যাণ (مفسدة) বলতে কষ্ট-ক্লেশ (مشقة) বোঝানো হয়, তবে বাস্তবে কোনো বিশুদ্ধ কল্যাণ (مصلحة خالصة) নেই। আর যদি এই কল্যাণসমূহ (المصالح), যা সালাত, জিকর এবং অনুরূপ বিশুদ্ধ নেক আমলের মতো ইবাদত—এগুলোর মাঝে অকল্যাণ (مفسدة) আছে বলে মনে করা হয়, তবে তা সঠিক নয়। আর যদি উদ্দেশ্য হয় যে, এর সাথে কিছু কষ্ট যুক্ত থাকতে পারে বা এর আগে কিছু কষ্ট হতে পারে, তবে তা সেভাবে অভিহিত করতে কোনো বাধা নেই; এই বিবেচনায় যদি একে অকল্যাণ (مفاسد) বলা হয় তবে তাতে সমস্যা নেই, কারণ এগুলো মূলত কষ্ট-ক্লেশ (مشاق)।"

তারা বলেছেন: বিশুদ্ধ কল্যাণ (المصالح الخالصة) কেবল জান্নাতে আল্লাহর বন্ধুদের জন্য চিরস্থায়ী নিবাসে সম্ভব। অন্যথায়, যদি দুনিয়াতে বিশুদ্ধ কল্যাণ (مصالح خالصة) বিদ্যমান থাকতো, তবে দুনিয়াবাসীদের আল্লাহর ইবাদতের মাধ্যমে প্রাপ্ত নি’য়ামত এবং জান্নাত ও সম্মানের আবাসের নি’য়ামতের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকতো না। কারণ, বিশুদ্ধ কল্যাণ (المصالح الخالصة) কেবল সেই আবাসেই সম্ভব।

অনুরূপভাবে, বিশুদ্ধ অকল্যাণ (المفاسد الخالصة) কেবল সেই কাফেরদের জন্য যারা জাহান্নামের আগুনে চিরকাল অবস্থান করতে বাধ্য, আর তা কেবল জাহান্নাম নামক সেই আবাসেই হবে।

 

এই মূলনীতির (قاعدة) আওতায় তৃতীয় মাসআলা:

এখানে কি পঞ্চম কোনো প্রকার আছে যাতে কল্যাণ (مصلحة) এবং অকল্যাণ (مفسدة) সমান?

অধিকাংশ আলেমদের কথার বাহ্যিক অর্থ হলো বিভাজনটি পূর্বোক্ত আলোচনার ন্যায় চতুর্মুখী, এবং সেখানে নেই...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আম্বিয়া, আয়াত: ৩৫।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
مفاسد تقابلها مصالح مساوية، وأن المفسدة تقابل المصلحة من كل وجه من الوجوه، بل لابد إذا وجد مصلحة ومفسدة لابد أن تترجح إحداهما على الأخرى.

ولا يليق بحكمته - سبحانه - أن يوجد في الكون شيء يتقابل تقابلاً تاماً مصلحته موافقة لمفسدته في كل شيء، أو مقابلة لها بل لابد أن يغلب أحدهما الآخر فهذا هو ظاهر الأدلة التى ذكرها أهل العلم في هذا الباب.

 

المسألة الرابعة في هذه القاعدة: المصالح على ثلاث مراتب.

1 - مصالح في الدرجة العليا وهى الأفضل في المصالح.

2 - مصالح في الدرجة التى بعدها وهي مصالح فاضلة.

3 - مصالح متوسطة.

فالشرع جاء بهذه الأنواع من المصالح كما جاء بما هو في الدرجة العليا من المصالح وهي المصالح الأفضل، وكذلك جاء بالمصالح التي بعدها وهي المصالح الفاضلة، وكذلك جاء بالمصالح التي تكون أدنى من ذلك فهى أفضل ومتوسط وفاضل.

ودلَّ عليها حدث النبى صلى الله عليه وسلم: أنه سُئل أي العمل أفضل؟. قال: "إيمانٌ بالله ورسوله". قيل: ثم ماذا؟. قال: "الجهاد في سبيل الله". قيل: ثم ماذا؟. قال: "حجٌ مبرور" (1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخارى في صحيحه في كتاب الحج (1/ 384)، باب فضل الحج المبرور، من طريق الزهري عن سعيد بن المسيب عن أبي هريرة رضي الله عنه به، فذكره. . .".
এমন কোনো অপকার নেই যার বিপরীতে সমান পর্যায়ের কল্যাণ বিদ্যমান এবং কোনো অপকারই সর্বতোভাবে কোনো কল্যাণের সমান হতে পারে না। বরং যখনই কল্যাণ ও অকল্যাণ উভয়টি বিদ্যমান থাকে, তখন অবশ্যই কোনো একটি অন্যটির ওপর প্রাধান্য পায়।

আর মহান আল্লাহর প্রজ্ঞার জন্য এটি সমীচীন নয় যে, মহাবিশ্বে এমন কোনো কিছুর অস্তিত্ব থাকবে যার কল্যাণ ও অকল্যাণ সব দিক থেকে পূর্ণরূপে সমান্তরাল বা একে অপরের সমান হবে। বরং অবশ্যই একটি অন্যটির ওপর প্রবল বা বিজয়ী হবে। এই বিষয়ে আলেমগণ যেসকল দলিল উল্লেখ করেছেন তার বাহ্যিক দিক এটাই নির্দেশ করে।

 

এই মূলনীতির চতুর্থ মাসআলা: কল্যাণ বা উপকারসমূহ তিনটি স্তরে বিভক্ত।

১ - সর্বোচ্চ স্তরের কল্যাণসমূহ, যা কল্যাণগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম।

২ - এর পরবর্তী স্তরের কল্যাণসমূহ, যা উত্তম কল্যাণ।

৩ - মধ্যম স্তরের কল্যাণসমূহ।

শরিয়ত এই সকল প্রকারের কল্যাণ নিয়েই আগমন করেছে; যেমন তা সর্বোচ্চ স্তরের সর্বোত্তম কল্যাণ নিয়ে এসেছে, তেমনি তার পরবর্তী স্তরের উত্তম কল্যাণসমূহও নিয়ে এসেছে। একইভাবে এর চেয়ে নিম্নস্তরের কল্যাণগুলোও নিয়ে এসেছে। সুতরাং এগুলো হলো সর্বোত্তম, মধ্যম ও উত্তম।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস এর প্রমাণ বহন করে: তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, কোন আমল সর্বোত্তম? তিনি বললেন: "আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আনা।" জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "আল্লাহর পথে জিহাদ করা।" জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "মকবুল (مبرور) হজ" (১)।

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি তাঁর সহিহ বুখারির হজ অধ্যায়ে (১/ ৩৮৪) বর্ণনা (أخرجه) করেছেন; অনুচ্ছেদ: মকবুল হজের ফজিলত। জুহরি থেকে সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিবের সূত্রে আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত সূত্র (طريق) থেকে হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
فرتّبها إلى ثلاث مراتب، فجعل الإيمان بالله أعظم المصالح وأفضلها وأعظمها لما يكون فيه من توحيد الله والإقرار له والعبودية له، وما يكون في القلب من الخوف والخشية والتوكل من أعمال القلوب العظيمة التي لا يَعْدِلُها شيء.

ثم ذكر بعد ذلك الجهاد في سبيل الله الذي هو مقصود بالتتبع ليس مقصوداً بالذات، ولأنه يترتب عليه من إعلاء كلمة الله، وقمع الكفر وأهله فجعله بعد ذلك، ثم ذكر بعد ذلك الحج؛ لأن مصلحته تكون لنفس الحاج، ولمن وجب عليه الحج فليست مصلحته كمصلحة الجهاد في سبيل الله، وتحت هذه المراتب رُتَبٌ كثيرة.

فالأفضل من المصالح تحته رُتب كثيرة، والمتوسط والأفضل كذلك، فما كان في أدنى الرتب من الأفضل كان قريباً من المتوسط حتى يكون متوسطاً.

وما كان الأعلى من المصالح المتوسطة يصل إلى رتبة الأدنى من المصالح الأفضل، كما أن ما كان في رتبةٍ أنزل في الفاضل قد يصل إلى درجة المستحب أو إلى درجةٍ أقل من ذلك، وما كان في الدرجة العليا يصل إلى درجة الأدنى من المتوسط منها، فهذه تختلف رتبها وتختلف بحسب اختلاف مصالحها وبحسب تعدِّيها.

فإذا نظرت إلى العبادات وجدتها تختلف، فالصلاة هي أفضل الأعمال البدنية، والزكاة هى أفضل الأعمال المالية، وهكذا، إذا نظرت إلى هذه الأعمال فالمقصود أن تحتها رُتباً كثيرة.

كذلك المفاسد مراتب، فيها الأكبر، وهو الشرك بالله سبحانه وتعالى، وهو
তিনি এগুলোকে তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। আল্লাহর প্রতি ঈমানকে তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ, সর্বোত্তম এবং মহান জনকল্যাণ (مصلحة) হিসেবে গণ্য করেছেন; কারণ এর মধ্যে রয়েছে আল্লাহর একত্ববাদ (توحيد), তাঁর প্রতি স্বীকৃতি প্রদান ও তাঁর দাসত্ব এবং অন্তরের সেই মহান আমলসমূহ যেমন ভয়, ভীতি ও তাওয়াক্কুল (নির্ভরতা) যার সমতুল্য অন্য কিছু নেই।

অতঃপর তিনি এর পরে আল্লাহর পথে জিহাদের কথা উল্লেখ করেছেন, যা মূলত অনুগামী উদ্দেশ্য (مقصود بالتتبع), স্বকীয় উদ্দেশ্য (مقصود بالذات) নয়; যেহেতু এর মাধ্যমে আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করা এবং কুফর ও কুফরি শক্তিকে দমন করা সম্ভব হয়, তাই তিনি একে পরবর্তী স্তরে রেখেছেন। এরপর তিনি হজের কথা উল্লেখ করেছেন; কারণ এর জনকল্যাণ (مصلحة) স্বয়ং হাজীর জন্য এবং যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে তার জন্য সীমাবদ্ধ। এর জনকল্যাণ (مصلحة) আল্লাহর পথে জিহাদের জনকল্যাণের (مصلحة) মতো নয়। আর এই স্তরগুলোর অধীনে আরও অনেক উপ-স্তর রয়েছে।

সুতরাং সর্বোত্তম জনকল্যাণগুলোর (مصالح) অধীনে অনেকগুলো স্তর রয়েছে। অনুরূপভাবে মধ্যম ও উত্তমগুলোর ক্ষেত্রেও তাই। সুতরাং সর্বোত্তমের নিম্নতম স্তরটি মধ্যম স্তরের নিকটবর্তী হয়, এমনকি তা মধ্যম স্তরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

আর মধ্যম সারির জনকল্যাণগুলোর (مصالح) মধ্যে যা উচ্চতর, তা সর্বোত্তম জনকল্যাণের (مصالح) নিম্নতম স্তরে পৌঁছে যায়। যেমনটি উত্তম বিষয়ের নিম্নতর স্তর অনেক সময় পছন্দনীয় (مستحب) পর্যায় বা তার চেয়েও নিম্নতর স্তরে পৌঁছাতে পারে। আবার যা উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে তা মধ্যম পর্যায়ের নিম্নতম স্তরে পৌঁছে যায়। অতএব, এগুলোর স্তর ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং তা তাদের জনকল্যাণ (مصالح) ও এর পরিব্যাপ্তির (تعدّي) ভিন্নতা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

আপনি যদি ইবাদতগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত করেন, তবে দেখবেন যে সেগুলো ভিন্ন ভিন্ন। যেমন: নামাজ হলো শারীরিক আমলগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম এবং জাকাত হলো আর্থিক আমলগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম। এভাবেই আপনি যখন এই আমলগুলোর দিকে লক্ষ্য করবেন, তখন এর মূল উদ্দেশ্য হলো যে এগুলোর অধীনে অনেক স্তর রয়েছে।

একইভাবে অপকারসমূহও (مفاسد) বিভিন্ন স্তরের হয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো মহান আল্লাহর সাথে শিরক করা, যা হলো...
(খণ্ড: ১) শারহুল কাওয়ায়িদিস সাদীইয়াহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
أعظم المفاسد وأقبحها لأنه إبطال للتوحيد، وهذا ضد ما خلق الله له الخلق كما قال تعالى: {وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلَّا لِيَعْبُدُونِ} (1).

وهو ضد ما أحبه سبحانه وتعالى من عباده، فعمد هذ المشرك إلى أقبح الأعمال وأكبر الكبائر فارتكبه فهو في أقبح الرتب من جهة المفاسد، ولهذا في حديث ابن مسعود في الصحيحين أنه عليه الصلاة والسلام سُئل أي الذنب أعظم؟. قال: "أن تجعل لله نداً وهو خلقك" قيل: ثم أي؟. قال: "أن تقتُل ولدَك خشية أن يَطعَم معك". قيل: ثم أي؟. قال: "أن تُزَاني بحليلة جارك" (2).

فرتَّب المفاسد عليه الصلاة والسلام إلى ثلاث مراتب، فجعل الشرك بالله أشد مفسدة، وهو أكبرها، ثم يتلوه بعد ذلك قتل الابن خشية أن يطعم معه؛ لأن فيه قتل للنفس بغير حق، ولأن فيه قطيعة للرحم، فجعله في الرتبة الثانية بعد الشرك بالله، ثم ذكر بعد ذلك الزنا، وذكر نوعاً خاصاً من الزنا وهو الزنا بحليلة الجار، فالجار له حقه من الاحترام والتوقير وحفظ فراشه وصيانته ومعاونته على الأعمال الصالحة وحفظ حقوقه الواجبة والمستحبة، فتعمد هذا إلى الزنا بحليلة جاره، فكان من أعظم أنواع الزنا.

--------------------------------------------

(1) سورة الذاريات، آية: 56.

(2) أخرجه البخاري في صحيحه (8/ 163) في كتاب التفسير، باب قوله تعالى: {فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَنْدَادًا}، وأخرجه مسلم في صحيحه، في كتاب الإيمان (2/ 141) كلاهما من طريق أبى وائل عن عمرو بن شرحبيل عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه به فذكره. .".
এটি সবচেয়ে বড় এবং জঘন্যতম অনিষ্ট, কারণ এটি তাওহীদকে বাতিল করে দেয়। এটি মহান আল্লাহর সৃষ্টির উদ্দেশ্যের পরিপন্থী, যেমনটি তিনি বলেছেন: {আমি জিন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদত করার জন্যই সৃষ্টি করেছি} (১)।

এটি তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে মহান আল্লাহ যা পছন্দ করেন তারও পরিপন্থী। ফলে এই মুশরিক নিকৃষ্টতম কাজ ও কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচাইতে বড়টির সংকল্প করল এবং তা সম্পাদন করল। তাই অনিষ্টের দিক থেকে সে নিকৃষ্টতম পর্যায়ে রয়েছে। এই কারণেই ইবনে মাসউদের বর্ণিত একটি হাদিসে যা সহীহাইন-এ এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—কোন পাপটি সবচাইতে বড়? তিনি বললেন: "আল্লাহর সাথে কাউকে সমকক্ষ সাব্যস্ত করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।" জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করা যে, সে তোমার সাথে খাবার খাবে।" জিজ্ঞাসা করা হলো: তারপর কোনটি? তিনি বললেন: "তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার করা" (২)।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনিষ্টসমূহকে তিনটি স্তরে বিন্যস্ত করেছেন। তিনি আল্লাহর সাথে শিরককে কঠোরতম অনিষ্ট হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এটিই বৃহত্তম। এরপর তিনি স্থান দিয়েছেন সন্তান হত্যাকে এই ভয়ে যে সে তার সাথে খাবে; কারণ এতে অন্যায়ভাবে প্রাণ হত্যা রয়েছে এবং এতে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়ও রয়েছে। তাই আল্লাহর সাথে শিরকের পর তিনি একে দ্বিতীয় স্তরে রেখেছেন। এরপর তিনি ব্যভিচারের কথা উল্লেখ করেছেন এবং ব্যভিচারের একটি বিশেষ প্রকারের কথা বলেছেন, যা হলো প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার। কেননা প্রতিবেশীর সম্মান, শ্রদ্ধা, তার শয্যার পবিত্রতা ও নিরাপত্তা রক্ষা, নেক কাজে তাকে সহযোগিতা করা এবং তার ওয়াজিব ও মুস্তাহাব হকসমূহ রক্ষা করার অধিকার রয়েছে। অথচ এই ব্যক্তি জেনেশুনে আপন প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হলো, তাই এটি ছিল ব্যভিচারের জঘন্যতম প্রকারগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত: ৫৬।

(২) এটি বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে (৮/ ১৬৩) তাফসীর অধ্যায়ে, মহান আল্লাহর বাণী: {তোমরা আল্লাহর জন্য সমকক্ষ স্থির করো না} শীর্ষক অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন; এবং মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে ঈমান অধ্যায়ে (২/ ১৪১) বর্ণনা করেছেন। তারা উভয়ই আবু ওয়ায়িল-এর সূত্র (طريق) থেকে আমর ইবনে শুরাহবিলের মাধ্যমে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।