(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: -)
سؤالات السلمي للدارقطني القسم: العلل والسؤلات الحديثية
الكتاب: سؤالات السلمي للدارقطني
المؤلف: محمد بن الحسين بن محمد بن موسى بن خالد بن سالم النيسابوري، أبو عبد الرحمن السلمي (ت 412هـ)
تحقيق: فريق من الباحثين بإشراف وعناية د/ سعد بن عبد الله الحميد و د/ خالد بن عبد الرحمن الجريسي
الطبعة: الأولى، 1427 هـ
عدد الصفحات: 457
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
দারাকুতনীর প্রতি আস-সুলামীর প্রশ্নাবলী বিভাগ: ইল্লাল এবং হাদিস বিষয়ক প্রশ্নাবলী
কিতাব: দারাকুতনীর প্রতি আস-সুলামীর প্রশ্নাবলী
লেখক: মুহাম্মাদ ইবনুল হুসাইন বিন মুহাম্মাদ বিন মুসা বিন খালিদ বিন সালিম আন-নিসাবুরী، আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী (মৃত্যু ৪১২ হিজরি)
তাহকীক: ড. সা'দ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ এবং ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসী এর তত্ত্বাবধানে ও যত্নে একদল গবেষক
সংস্করণ: প্রথম، ১৪২৭ হিজরি
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৫৭
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১)
سُؤالات السُّلمي للدَّارقُطني
تأليف: أبي عبد الرحمن محمَّد بن الحُسين السُّلمي المتوفى (412هـ)
تحقيق: فريق من الباحثين، بإشراف وعناية
د. سعد بن عبد الله الحُمَيِّد
ود. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
আদ-দারা কুতনীর নিকট আস-সুলামীর প্রশ্নসমূহ
রচনা: আবু আবদুর রহমান মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আস-সুলামী, মৃত্যু (৪১২ হিজরি)
তাহকীক: একদল গবেষক, তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায়
ড. সাদ বিন আবদুল্লাহ আল-হুমাইয়িদ
এবং ড. খালিদ বিন আবদুর রহমান আল-জুরায়সী
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
مُقَدِّمَةُ التَّحْقِيقِالحَمْدُ للهِ الَّذِي ظهر لأوليائِهِ بنُعوتِ جلالِهْ، وأنارَ قلوبَهم بمشاهدةِ صفاتِ كمالِهْ، وتَعرَّفَ إليهم بما أسداه إليهم من إنعامِهِ وإِفضالِهْ؛ فعلموا أنه الواحدُ الأحَدْ، الفردُ الصَّمدْ؛ الذي لا شريكَ له في ذاتِهِ ولا في صفاتِهِ ولا في أفعالِهْ، بل هو كما وصف به نفسَهُ وفوقَ ما يَصفُهُ به أحدٌ من خلقِهِ في إكثارِهِ وإقلالِهْ، لا يحصي أحدٌ ثناءً عليه، بل هو كما أثنى على نفسِه على لسانِ مَن أكرمهم بإرسالِهْ.
ونشهدُ أنْ لا إله إلا اللهُ وحدَهُ لا شريكَ له إلهًا واحدًا أحدًا فردًا صمدًا جَلَّ عن الأشباه والأمثالْ، وتَقدَّسَ عن الأضدادِ والأندادِ والشركاءِ والأشكالْ، ونشهد أن محمدًا عبدُهُ ورَسولُهُ القائمُ له بحقِّهْ، وأمينُه على وحيِهْ، وخِيرته مِن خلقِهْ، أرسلَه رحمةً للعالمينْ، وإمامًا للمتَّقينْ، وحسرةً على الكافرينْ، وحُجَّةً على العبادِ أجمعينْ، بعثَه على حينِ فَتْرةٍ مِن الرُّسُلْ، فهدى به إلى أقومِ الطُّرُقِ وأوضحِ السُّبُلْ، وافترض على العبادِ طاعتَهُ ومحبَّتَهُ وتعظيمَه وتوقيرَهُ والقيامَ بحقوقِهْ، وسدَّ إلى جنتِهِ جميعَ الطُّرُقِ فلم يفتحْ لأحدٍ إلا من طريقِهْ، فشَرَح له صدرَهْ، ووضع عنه وِزْرَهْ، ورَفع له ذِكْرَهْ، وجعل الذُّلَّ والصَّغارَ على مَن خالَف أمرَهْ، فلم يزلْ صلى الله عليه وسلم قائمًا بأمرِ الله لا يَرُدُّه عنه رادّ، مُشَمِّرًا في مرضاةِ اللهِ لا يَصُدُّه عن ذلك صادّ، إلى أن أشرقتِ الدنيا برسالتِهِ ضياءً وابتهاجَا، ودخل الناسُ في دينِ اللهِ أفواجًا أفواجَا. بلَّغ الرسالةْ، وأَدَّى الأمانةْ، ونَصَح الأمةْ، وجاهد في اللهِ حقَّ الجهادِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
গবেষণামূলক ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বন্ধুদের নিকট তাঁর মহিমার গুণাবলীতে প্রকাশিত হয়েছেন, এবং তাঁদের অন্তরসমূহকে তাঁর পূর্ণতার গুণাবলী দর্শনের মাধ্যমে আলোকিত করেছেন, এবং তাঁদের প্রতি তাঁর নিয়ামত ও অনুগ্রহ প্রদানের মাধ্যমে তাঁদের নিকট নিজের পরিচয় দিয়েছেন; ফলে তাঁরা জানতে পেরেছেন যে তিনি এক, অদ্বিতীয়, একক ও অমুখাপেক্ষী; যাঁর সত্তা, গুণাবলী কিংবা কার্যাবলীতে কোনো অংশীদার নেই। বরং তিনি ঠিক তেমনই যেমনটি তিনি নিজের সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টির কেউ তাঁর যতটা বর্ণনা করুক না কেন—বেশি বা কম—তিনি তার ঊর্ধ্বে। কেউ তাঁর প্রশংসার ইয়ত্তা করতে পারে না, বরং তিনি তেমনই যেমনটি তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন সেই সব মহান ব্যক্তিদের মুখে যাঁদেরকে তিনি রসূল হিসেবে পাঠিয়ে সম্মানিত করেছেন।
আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো অংশীদার নেই; তিনি একক, অদ্বিতীয় এবং অমুখাপেক্ষী ইলাহ, যিনি সাদৃশ্য ও উপমা থেকে সুমহান, এবং তিনি বিরোধী, সমকক্ষ, অংশীদার ও প্রতিরূপ থেকে পবিত্র। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসূল, যিনি আল্লাহর হক আদায়কারী, তাঁর ওহীর আমানতদার এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম মনোনীত ব্যক্তি। তিনি তাঁকে জগতসমূহের জন্য রহমত হিসেবে, মুত্তাকীদের ইমাম হিসেবে, কাফিরদের জন্য অনুতাপের কারণ হিসেবে এবং সকল বান্দার ওপর অকাট্য প্রমাণ হিসেবে পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁকে এমন এক সময়ে পাঠিয়েছেন যখন দীর্ঘকাল কোনো রসূলের আগমন ঘটেনি, অতঃপর তাঁর মাধ্যমে তিনি সরলতম পথ ও স্পষ্টতম পন্থার দিকে হিদায়াত দিয়েছেন। তিনি বান্দাদের ওপর তাঁর আনুগত্য, ভালোবাসা, সম্মান, মর্যাদা এবং তাঁর প্রাপ্য অধিকারসমূহ আদায় করা ফরজ করেছেন। তিনি তাঁর জান্নাতের দিকে যাওয়ার সকল পথ রুদ্ধ করে দিয়েছেন, ফলে তাঁর পথ ছাড়া অন্য কারো জন্য তা উন্মুক্ত করবেন না। তিনি তাঁর বক্ষ প্রশস্ত করেছেন, তাঁর বোঝা অপসারিত করেছেন এবং তাঁর আলোচনাকে উচ্চ করেছেন। আর যে তাঁর আদেশের বিরোধিতা করবে, তার জন্য লাঞ্ছনা ও অবমাননা নির্ধারণ করেছেন। অতঃপর আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক—তিনি সর্বদা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠায় অটল ছিলেন, কোনো বাধাদানকারীই তাঁকে তা থেকে ফিরিয়ে রাখতে পারেনি। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে তিনি ছিলেন সদাপ্রস্তুত, কোনো প্রতিবন্ধকই তাঁকে তা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। অবশেষে তাঁর রিসালাতের মাধ্যমে পৃথিবী আলোকোজ্জ্বল ও আনন্দময় হয়ে উঠল এবং মানুষ দলে দলে আল্লাহর দ্বীনে প্রবেশ করল। তিনি রিসালাতের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত রক্ষা করেছেন, উম্মতকে কল্যাণকর উপদেশ দিয়েছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৬)
وأقام الدِّينْ، وترك أمتَهُ على البيضاءِ الواضحةِ البينةِ للسالكينْ، وقال: {قُلْ هَذِهِ سَبِيلِي أَدْعُو إِلَى اللَّهِ عَلَى بَصِيرَةٍ أَنَا وَمَنِ اتَّبَعَنِي وَسُبْحَانَ اللَّهِ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ *} [يُوسُف: 108]
(1) .
فصلَّى الله على نبيِّنا كلَّما ذكره الذاكرون، وغفَلَ عن ذِكْره الغافلون، أفضلَ وأكثَرَ وأزكى ما صلَّى على أحدٍ مِنْ خَلْقِه، وجزاه اللهُ عنا أفضَلَ ما جزى مُرْسَلاً عَمَّنْ أُرْسِلَ إليه.
أما بعد:
فيسرُّنا أن نضعَ بين يديكَ- أخي القارئ- أحدَ كتبِ السُّؤالاتِ المهمَّة، وهو "سؤالاتُ السُّلَميِّ للدارقطنيِّ"؛ في جرحِ الرُّواةِ وتعديلِهم.
وكتبُ السُّؤالات نمَطٌ من التصنيفِ معروفٌ؛ يجمع فيه مُصَنِّفُه مايوجِّهُه إلى شيخِه من أسئلةٍ عمَّا يُشْكِلُ عليه من المسائلِ في الفنِّ الذي اشتُهِرَ به الشيخ، أو ما يهمُّه معرفةُ رأي شيخِهِ فيه.
وتوجيهُ الأسئلةِ إلى أهلِ العلمِ والذِّكْرِ أصلٌ دلَّت عليه نصوصُ الكتابِ والسنَّةِ:
فقد أَمرَنا اللهُ في مُحكَمِ التنزيلِ بسؤالِ أهلِ الذِّكْرِ واستفتائِهم؛ قال سبحانه: {فَاسْأَلُوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ} [النّحل: 43] .
وقد وردتْ آياتٌ كثيرةٌ فيها ذِكْرُ أسئلةٍ وُجِّهتْ إلى النبيِّ صلى الله عليه وسلم؛
--------------------------------------------
তিনি দীন প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং তাঁর উম্মতকে পথিকদের জন্য এক সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল শুভ্র পথের ওপর রেখে গেছেন। এবং তিনি বলেছেন: {বলুন, এটাই আমার পথ। আমি আল্লাহর দিকে আহ্বান করি জাগ্রত জ্ঞান নিয়ে—আমি এবং যারা আমার অনুসরণ করেছে তারা। আর আল্লাহ পবিত্র এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।} [ইউসুফ: ১০৮]
(১)।
অতঃপর আল্লাহ আমাদের নবীর ওপর সালাত বর্ষণ করুন যতক্ষণ স্মরণকারীরা তাঁকে স্মরণ করে এবং গাফেলরা তাঁর স্মরণ থেকে গাফেল থাকে—এমন সালাত যা তাঁর সৃষ্টির অন্য যে কারো ওপর বর্ষিত সালাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠতম, অধিকতম ও পবিত্রতম। এবং আল্লাহ তাঁকে আমাদের পক্ষ থেকে এমন সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন যা তিনি কোনো রাসুলকে সেই উম্মতের পক্ষ থেকে দান করেছেন যাদের প্রতি তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছিল।
অতঃপর:
হে পাঠক ভাই, রাবীদের সমালোচনা ও প্রশংসার (জারহ ও তাদীল) ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর বিষয়ক গ্রন্থ ‘আদ-দারাকুতনীর প্রতি আস-সুলামীর প্রশ্নাবলী’ আপনার হাতে তুলে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।
আর ‘সুআলাত’ (প্রশ্নোত্তর) গ্রন্থসমূহ একটি সুপরিচিত রচনাশৈলী; যেখানে সংকলক তাঁর শাইখের নিকট সেই ইলম বা বিষয়ের জটিল মাসআলাসমূহ সম্পর্কে প্রশ্ন করেন যাতে শাইখ প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, অথবা যেসব বিষয়ে শাইখের মতামত জানা তাঁর নিকট গুরুত্বপূর্ণ।
আহলে ইলম ও জিকিরপ্রাপ্তদের নিকট প্রশ্ন পেশ করা একটি মূলনীতি যার প্রমাণ কুরআন ও সুন্নাহর দলিলাদিতে রয়েছে:
কেননা আল্লাহ তাআলা তাঁর সুদৃঢ় অবতীর্ণ গ্রন্থে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন আহলে জিকিরকে (আলেমদের) প্রশ্ন করতে ও ফাতাওয়া নিতে। তিনি সুবহানাহু বলেছেন: {সুতরাং তোমরা জিকিরপ্রাপ্তদের (আলেমদের) জিজ্ঞাসা করো যদি তোমরা না জানো} [আন-নাহল: ৪৩]।
এবং এমন অনেক আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে যাতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি করা বিভিন্ন প্রশ্নের উল্লেখ রয়েছে;
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৭)
كما في قوله تعالى: {يَسْأَلُونَكَ عَنِ الأَْهِلَّةِ قُلْ هِيَ مَوَاقِيتُ لِلنَّاسِ وَالْحَجِّ} [البقرة: 189]
(1) .
ودواوينُ السنةِ مليئةٌ بالأسئلةِ التي كان يوجِّهُها الصحابةُ رضي الله عنهم إلى النبيِّ صلى الله عليه وسلم، وكان يمكنُ أن تكونَ أكثرَ من ذلك، لولا نهيُ الله سبحانه وتعالى لهم بقولِه: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلُوا عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ *} [المائدة: 101] .
فمن ذلك ما أخرجه مسلمٌ في "صحيحِه"
(2) من روايةِ محمَّدِ بنِ زيادٍ، عن أبي هريرةَ رضي الله عنه قال: خطبنا رسولُ الله صلى الله عليه وسلم فقال: «يا أيُّها الناسُ قَدْ فَرض اللهُ عليكم الحجَّ فحُجُّوا» ، فقال رجلٌ: أَكُلَّ عامٍ يا رسولَ الله؟ فسكت حتى قالها ثلاثًا، فقال رسولُ الله صلى الله عليه وسلم: «لو قلتُ: نعم، لوجَبَتْ، ولمَا استطعتُمْ» ، ثم قال: «ذروني ما تَركتُكم؛ فإنما هلك مَن كان قبلَكم بسؤالهِم واختلافِهم على أنبيائِهم، فإذا أمرتُكم بشيءٍ فأْتوا منه ما استطعتم، وإذا نهيتكم عن شيءٍ فدَعُوه» .
وخرَّجه الدارقطنيُّ من وجهٍ آخرَ مختصرًا وقال فيه: فنزل قولُهُ تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَسْأَلُوا عَنْ أَشْيَاءَ إِنْ تُبْدَ لَكُمْ تَسُؤْكُمْ وَإِنْ تَسْأَلُوا
--------------------------------------------
যেমন মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: {তারা আপনাকে নতুন চাঁদসমূহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বলুন, তা মানুষের জন্য এবং হজের জন্য সময়ের পরিমাপক} [আল-বাকারা: ১৮৯]
(১) ।
আর সুন্নাহর সংকলনসমূহ সেইসব প্রশ্নে ভরপুর যা সাহাবীগণ (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে করতেন। মহান আল্লাহ যদি তাঁর এই বাণীর মাধ্যমে তাদের নিষেধ না করতেন, তবে এই প্রশ্নের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারত: {হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। আর যদি তোমরা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় সেসব বিষয়ে প্রশ্ন করো, তবে তা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হবে। আল্লাহ সেসব ক্ষমা করেছেন এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও পরম সহনশীল।} [আল-মায়িদাহ: ১০১] ।
এর মধ্যে রয়েছে যা মুসলিম তার "সহীহ"
(২) গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিলেন এবং বললেন: «হে লোকসকল! আল্লাহ তোমাদের ওপর হজ ফরয করেছেন, সুতরাং তোমরা হজ করো» , তখন এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল, প্রতি বছর কি? তিনি চুপ থাকলেন, এমনকি লোকটি তিনবার তা বলল। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: «আমি যদি 'হ্যাঁ' বলতাম তবে তা আবশ্যক হয়ে যেত এবং তোমরা তা করতে সক্ষম হতে না» , এরপর তিনি বললেন: «আমি তোমাদের যে অবস্থায় ছেড়েছি সে অবস্থায় আমাকে থাকতে দাও; কারণ তোমাদের পূর্ববর্তীরা তাদের নবীদের অধিক প্রশ্ন করা এবং তাদের সাথে মতভেদ করার কারণেই ধ্বংস হয়েছে। সুতরাং আমি যখন তোমাদের কোনো নির্দেশ দেই, তখন তোমরা সাধ্যমতো তা পালন করো, আর যখন তোমাদের কোনো কিছু থেকে নিষেধ করি, তখন তা বর্জন করো» ।
আর দারা কুতনী এটি অন্য এক সূত্রে সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন এবং তাতে বলেছেন: তখন মহান আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হয়: {হে মুমিনগণ! তোমরা এমন সব বিষয়ে প্রশ্ন করো না, যা তোমাদের কাছে প্রকাশ করা হলে তোমাদের খারাপ লাগবে। আর যদি তোমরা প্রশ্ন করো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৮)
عَنْهَا حِينَ يُنَزَّلُ الْقُرْآنُ تُبْدَ لَكُمْ عَفَا اللَّهُ عَنْهَا وَاللَّهُ غَفُورٌ حَلِيمٌ *}
(1) [المائدة: 101] .
وغيرُ ذلك من الأحاديثِ التي تدلُّ على النهيِ عن السؤالِ عما لا يُحتاج إليه مما يسوءُ السائلَ جوابُه، وعلى النهيِ عن السؤالِ على وجهِ التَّعَنُّتِ والعبثِ والاستهزاءِ، والسؤالِ عما أخفاه اللهُ عن عبادِهِ ولم يُطلِعْهم عليه، كما تدل أيضًا على نهيِ المسلمينَ عن السؤال عن كثيرٍ من الحلالِ والحرامِ مما يُخشى أن يكونَ السؤالُ سببًا لنزولِ التشديدِ فيه
(2) .
وقد كثرتْ كُتُبُ السؤالاتِ في كلِّ فَنٍّ من الفنونِ، ومنها علمُ الجرحِ والتعديلِ، وكتابُنا هذا واحدٌ من هذه الكتبِ في هذا الفنِّ
(3) .
وقد طُبِع هذا الكتابُ- حَسَبَ عِلمِنا- ثلاثَ طبعاتٍ:
1) الأولى بتحقيق د. سليمان آتش.
2) والثانيةُ بتحقيق مجدي فتحي السيد.
3) والثالثةُ بتحقيق محمد بن علي الأزهري.
--------------------------------------------
...সেগুলো সম্পর্কে যখন কুরআন নাজিল হওয়ার সময় তোমাদের সামনে প্রকাশ করা হবে, আল্লাহ তা ক্ষমা করেছেন এবং আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও ধৈর্যশীল।
(১) [আল-মায়িদাহ: ১০১]।
এছাড়া অন্যান্য এমন অনেক হাদিস রয়েছে যা এমন বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করে যার প্রয়োজন নেই এবং যার উত্তর প্রশ্নকারীর জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে। আরও নিষেধ করা হয়েছে হঠকারিতা, অনর্থক এবং উপহাসচ্ছলে প্রশ্ন করতে, এবং আল্লাহ তাঁর বান্দাদের নিকট থেকে যা গোপন রেখেছেন এবং যা তাদের অবগত করেননি সে সম্পর্কে প্রশ্ন করতে। তদুপরি, এসব হাদিস মুসলমানদেরকে অনেক হালাল ও হারাম বিষয়ে প্রশ্ন করতে নিষেধ করার ব্যাপারেও প্রমাণ বহন করে, যেক্ষেত্রে আশঙ্কা থাকে যে প্রশ্নটি সেই বিষয়ে কঠোর বিধান নাজিলের কারণ হয়ে দাঁড়াবে
(২)।
জ্ঞানের প্রতিটি শাখায় 'প্রশ্নোত্তর' (সুয়ালাত) বিষয়ক গ্রন্থের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে 'বর্ণনাকারী সমালোচনা ও মূল্যায়ন বিদ্যা' (জারহ ওয়া তাদিল) অন্যতম। আমাদের এই বইটি এই শাস্ত্রের অনুরূপ গ্রন্থগুলোর মধ্যে একটি
(৩)।
আমাদের জানামতে এই বইটি তিনবার মুদ্রিত হয়েছে:
১) প্রথমটি ড. সুলাইমান আতাশের সম্পাদনায়।
২) দ্বিতীয়টি মাজদি ফাতহি আল-সাইয়্যিদের সম্পাদনায়।
৩) তৃতীয়টি মুহাম্মদ বিন আলী আল-আযহারীর সম্পাদনায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৯)
وسيأتي التعريفُ بهذه الطبعاتِ لاحقًا
(1) .
ومما حَمَلَنا على إعادةِ تحقيقِ هذا الكتابِ وإخراجه: حصولُنا على نسخةٍ خَطِّيَّةٍ مختصرةٍ منه لم يقفْ عليها أحدٌ من المحقِّقين السابقين، وفيها فروقٌ وزياداتٌ مُهِمَّةٌ تؤكِّد أنّ في الأصلِ المخطوط نقصًا، وقد استدركنا من هذا النقص ما وجدناه في ذلك المختصر، ووقفنا في بعض المصادر على نصوص أخرى مَرْوِيَّةٍ عن الدارقطني من طريقِ السُّلميِّ وليست في المخطوطتين المعتمدتين في تحقيقنا هذا؛ مما يشير إلى احتمال وجود نقص آخر يحتاج إلى نسخة تامة منه، والله أعلم
(2) .
وقد أَتْحفَنا بهذه النسخةِ المختصرةِ فضيلةُ الدكتور الشيخ محمد ابن تُرْكي التُّرْكي، فله منا الشكرُ والدعاءُ بأن يجزلَ اللهُ له الثوابَ.
وآخِرُ دَعوانا أنِ الحَمدُ للهِ ربِّ العالَمين.
د. سعد بن عبد الله الحُمَيِّد ود. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
--------------------------------------------
এই সংস্করণগুলোর পরিচয় পরবর্তীতে প্রদান করা হবে
(১)।
এবং এই গ্রন্থটির পুনরায় সম্পাদনা ও প্রকাশের পেছনে যে বিষয়টি আমাদের উৎসাহিত করেছে তা হলো: এর একটি সংক্ষিপ্ত পাণ্ডুলিপি আমাদের হস্তগত হওয়া যা পূর্ববর্তী কোনো সম্পাদক পাননি। এতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য ও অতিরিক্ত অংশ রয়েছে যা নিশ্চিত করে যে মূল পাণ্ডুলিপিতে কিছু ঘাটতি ছিল। আমরা সেই অসম্পূর্ণতা থেকে যতটুকু ঐ সংক্ষিপ্তসারে পেয়েছি তা পূরণ করেছি। এছাড়া আমরা অন্য কিছু উৎসে ইমাম দারা কুতনী থেকে আস-সুলামীর সূত্রে বর্ণিত আরও কিছু পাঠ পেয়েছি যা আমাদের এই সম্পাদনায় ব্যবহৃত নির্ভরযোগ্য পাণ্ডুলিপিদ্বয়ে নেই; যা ইঙ্গিত দেয় যে এতে আরও কোনো ঘাটতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে যার জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি প্রয়োজন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ
(২)।
এই সংক্ষিপ্ত পাণ্ডুলিপিটি দিয়ে আমাদের ধন্য করেছেন সম্মানিত ডক্টর শাইখ মুহাম্মদ ইবনে তুর্কি আত-তুর্কি। আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি এবং দোয়া করছি আল্লাহ যেন তাঁকে এর জন্য প্রচুর সওয়াব দান করেন।
আমাদের সর্বশেষ ঘোষণা হলো, সকল প্রশংসা সারা জাহানের রব আল্লাহর জন্য।
ড. সা’দ বিন আবদুল্লাহ আল-হুমাইদ এবং ড. খালিদ বিন আবদুর রহমান আল-জুরাইসী
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১১)
التعريف بالدارقطني (1)اسمهُ ونسبُهُ ومَولدُه:
هو: الإمام الحافظُ عليُّ بنُ عمرَ بنِ أحمدَ بنِ مهديِّ بنِ مسعود ابنِ النُّعمانِ بنِ دينارِ بنِ عبدِاللهِ، الدَّارَقُطْنيُّ، البغداديُّ.
كُنيته: أبو الحسَن.
--------------------------------------------
আদ-দারাকুতনীর পরিচিতি (১)তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:
তিনি হলেন: ইমাম হাফিয আলী ইবনে উমর ইবনে আহমাদ ইবনে মাহদী ইবনে মাসউদ ইবনে আন-নুমান ইবনে দীনার ইবনে আব্দুল্লাহ, আদ-দারাকুতনী, আল-বাগদাদী।
তাঁর উপনাম: আবু আল-হাসান।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১২)
ونسبتُه «الدَّارَقُطْنيُّ» : إلى مَحَلَّةِ «دارِ القُطْن» ببغدادَ
(1) .
كان مولدُه ببغدادَ سنة ستٍّ وثلاثِ مئةٍ كما أخبرَ هو عن نفسِه، ونقله عنه أبو عبد الرحمن السُّلميُّ في كتابنا هذا
(2) . وقيل: وُلدَ سنة خمسٍ وثلاثِ مئةٍ، ورجَّح الخطيبُ البغدادي
(3) الأوَّلَ.
نشأتُه وطَلَبُه للعِلم:
بدأ الدارقطنيُّ بطلب العلم وهو ما يزال فتىً صغيرًا، فقد كان بَدءُ كتابته للحديث في أوَّل سنة خمسَ عشرةَ وثلاثِ مئةٍ كما أخبر هو عن نفسِه، ونقله عنه البَرقانيُّ
(4) . وروى ابنُ عساكر في "تاريخ دمشق" من طريق القوَّاس قال: «كنا نمرُّ إلى ابن مَنيع، والدارقطنيُّ صبيٌّ يمشي خلفَنا بيده رغيفٌ عليه كامَخ
(5) ، فدخَلنا إلى ابن مَنيع ومنعناه،
--------------------------------------------
তাঁর নিসবত «আদ-দারা কুতনী»: বাগদাদের «দারুল কুতন» নামক মহল্লার দিকে
(১) ।
তাঁর জন্ম ৩০৬ হিজরি সনে বাগদাদে হয়েছিল যেমনটি তিনি নিজেই নিজের সম্পর্কে জানিয়েছেন, এবং আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী আমাদের এই কিতাবে তাঁর থেকে তা বর্ণনা করেছেন
(২) । বলা হয়ে থাকে যে: তিনি ৩০৫ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেছেন, তবে খতীব আল-বাগদাদী
(৩) প্রথম মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন।
তাঁর বেড়ে ওঠা ও ইলম অর্জন:
আদ-দারা কুতনী ছোট কিশোর থাকা অবস্থাতেই ইলম অর্জন শুরু করেন। তিনি যখন প্রথম হাদিস লিখতে শুরু করেন তা ছিল ৩১৫ হিজরি সনের শুরুর দিকে, যেমনটি তিনি নিজেই নিজের সম্পর্কে জানিয়েছেন এবং আল-বারকানী
(৪) তাঁর থেকে তা বর্ণনা করেছেন। ইবনে আসাকির "তারিখে দিমাশক"-এ আল-কাওয়াসের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: «আমরা ইবনে মানী'-এর কাছে যেতাম, আর দারা কুতনী তখন বালক ছিলেন; তিনি আমাদের পেছনে পেছনে হাঁটতেন, তাঁর হাতে ছিল একটি রুটি যার ওপর কামাখ
(৫) মাখানো ছিল। অতঃপর আমরা ইবনে মানী'-এর কাছে প্রবেশ করলাম এবং তাঁকে বাধা দিলাম...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১৩)
فقَعَدَ على الباب يَبْكي»
(1) .
وقد سمعَ في صِباهُ من أبي القاسم البغويِّ، ويحيى بن محمد بن صاعِد، وأبي بكر بن أبي داود، وغيرهم
(2) .
أمَّا أبوه عمرُ بنُ أحمدَ فقد كان من المحدِّثينَ الثقات، سمع وحدَّث، إلى جانب معرفته بالقراءات
(3) .
وقد سمع منه ولده أبو الحسن الدارقطني الحديثَ، وحدَّث عنه في "سننه"
(4) ، كما عرض عليه القرآنَ
(5) .
ويبدو أن الدارقطنيَّ شرع في حفظ القرآن وإتقان تلاوته وهو غلامٌ حَدَثٌ، على عادة أهل عصره، وبَرَّزَ في ذلك وتفوَّق، حتى تنبَّأ له الناسُ أن يصيرَ شيخاً كبيراً من شيوخ الإقراء. يقول هو عن نفسه: «كنتُ أنا والكتَّاني
(6) نسمع الحديثَ، فكانوا يقولون: يخرج الكتانيُّ
--------------------------------------------
তিনি দরজায় বসে কাঁদতে লাগলেন।
(১)তিনি শৈশবে আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ী, ইয়াহইয়া ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে আবি দাউদ এবং আরও অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন।
(২)আর তাঁর পিতা উমর ইবনে আহমদ নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন; কিরাআত শাস্ত্রে পারদর্শিতার পাশাপাশি তিনি হাদিস শুনেছেন এবং বর্ণনাও করেছেন।
(৩)তাঁর পুত্র আবুল হাসান আদ-দারাকুতনি তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর "সুনান" গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর নিকট কুরআনও পেশ করেছিলেন।
(৪)প্রতীয়মান হয় যে, আদ-দারাকুতনি তাঁর যুগের প্রথা অনুযায়ী কিশোর বয়সেই কুরআন হিফজ ও তিলাওয়াতে পারদর্শিতা অর্জনে মনোনিবেশ করেন এবং এতে তিনি বিশেষত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। এমনকি মানুষ তাঁর ব্যাপারে ভবিষ্যদ্বাণী করেছিল যে, তিনি কিরাআত শাস্ত্রের একজন মহান শায়খ হবেন। তিনি নিজের সম্পর্কে বলেন: «আমি এবং আল-কাত্তানি
(৬) হাদিস শুনতাম, তখন তারা বলত: কাত্তানি বের হবে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১৪)
محدثَ البلد، ويخرج الدارقطنيُّ مقرئَ البلد، فخرجت أنا محدثًا والكتانيُّ مقرئًا»
(1) .
وقد ألَّف في القراءات كتاباً مختصرًا موجزًا، ذكره الخطيب البغدادي وقال عنه: «جمع الأصولَ في أبوابٍ عقدها أوَّلَ الكتاب، وسمعتُ بعض من يعتني بعلوم القرآن يقول: لم يُسبَق أبو الحسن إلى طريقَته التي سلكها في عَقْد الأبواب في أوَّل القراءات، وصار القُرَّاء بعده يسلكون طريقَتَه في تصانيفهم ويَحْذُون حَذْوَه»
(2) .
ولم يكن الدارقطنيُّ محدِّثًا ومُقْرِئًا فحسبُ، بل كان فقيهًا أيضًا، يقول الخطيب البغداديُّ في ذكره العلومَ التي تضلَّع منها الدارقطنيُّ سوى علمِ الحديث: «ومنها المعرفةُ بمذاهبِ الفقهاء، فإن كتابَ «السُّنَن» الذي صنَّفَه يدلُّ على أنه كان ممَّن اعتنى بالفقه؛ لأنه لا يَقْدرُ على جمع ما تضمَّن ذلك الكتابُ إلا من تقدَّمَت معرفتُه بالاختلاف في الأحكام، وبلغَني أنه درس فقهَ الشافعيِّ على أبي سعيد الإِصْطَخْري، وقيل: بل درسَ الفقه على صاحبٍ لأبي سعيد، وكتب الحديثَ عن أبي سعيدٍ نفسه»
(3) .
وقد كان للدارقطنيِّ عنايةٌ بمذهب الإمام الشافعيِّ، مع معرفةٍ بمذاهبِ الفقهاء، حيثُ عدَّه بعضُ من صنَّفَ في طبقات الشافعيَّة منهم. قال شيخُ الإسلام ابن تيميَّة: «والدارقطنيُّ هو أيضًا يميل إلى مذهب الشافعيِّ وأئمَّة السنة والحديث، لكن ليسَ هو في تقليد
--------------------------------------------
শহরের মুহাদ্দিস, এবং দারাকুতনী শহরের মুকরি হিসেবে আবির্ভূত হন; ফলে আমি মুহাদ্দিস হিসেবে এবং কাত্তানী মুকরি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করি।
(১) .
তিনি কিরাত বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত ও সারসংক্ষেপ গ্রন্থ রচনা করেছেন, যা খতীব বাগদাদী উল্লেখ করেছেন এবং সে সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি কিতাবের শুরুতে বিন্যস্ত অধ্যায়গুলোতে মূলনীতিগুলো একত্রিত করেছেন। আমি কুরআন শাস্ত্রের প্রতি যত্নবান কাউকে বলতে শুনেছি: আবু আল-হাসান যে পদ্ধতিতে কিরাতের শুরুতে অধ্যায় বিন্যাস করেছেন, তার আগে অন্য কেউ তা করেনি। তাঁর পরে ক্বারীগণ তাঁদের রচনায় তাঁর পদ্ধতিই অনুসরণ করেছেন এবং তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন»
(২) .
দারাকুতনী কেবল একজন মুহাদ্দিস এবং মুকরিই ছিলেন না, বরং তিনি একজন ফকিহও ছিলেন। খতীব বাগদাদী হাদীস শাস্ত্র ছাড়াও অন্য যেসব শাস্ত্রে দারাকুতনী পারদর্শী ছিলেন তা উল্লেখ করে বলেন: «তার মধ্যে একটি হলো ফকিহগণের মাযহাব সম্পর্কে জ্ঞান। কেননা তিনি «আস-সুনান» নামে যে গ্রন্থটি সংকলন করেছেন তা প্রমাণ করে যে, তিনি ফিকহ শাস্ত্রের প্রতি যত্নবান ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কারণ আহকামের ক্ষেত্রে বিদ্যমান মতপার্থক্য সম্পর্কে যার পূর্বজ্ঞান নেই, সে এই গ্রন্থে যা রয়েছে তা একত্রিত করতে সক্ষম হবে না। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তিনি আবু সাঈদ আল-ইসতাখরী-এর নিকট শাফিঈ ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন। আবার কেউ বলেছেন: বরং তিনি আবু সাঈদের একজন শিষ্যের নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেছেন এবং স্বয়ং আবু সাঈদের নিকট হাদীস লিখেছেন»
(৩) .
ইমাম শাফিঈর মাযহাবের প্রতি দারাকুতনীর বিশেষ মনোযোগ ছিল, পাশাপাশি ফকিহগণের মাযহাব সম্পর্কেও তাঁর জ্ঞান ছিল। ফলে শাফিঈ তবাকাত লেখকদের কেউ কেউ তাঁকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করেছেন। শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ বলেছেন: «দারাকুতনীও শাফিঈ মাযহাব এবং সুন্নাহ ও হাদীসের ইমামদের প্রতি অনুরাগী ছিলেন, তবে তিনি কেবল তাকলীদের মধ্যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الشافعيِّ كالبيهقيِّ، مع أن البيهقيَّ له اجتهادٌ في كثير من المسائل، واجتهادُ الدارقطنيِّ أقوى منه، فإنه كان أعلمَ وأفقَهَ منه»
(1) .
وكان للدارقطنيِّ أيضًا معرفةٌ باللغة والنَّحو والأدب والشِّعر؛ فقد روى الخطيبُ البغداديُّ عن الأزهريِّ: أن أبا الحسن لما دخل مِصْرَ كان بها شيخٌ عَلَوِيٌّ من أهل مدينة رسول الله صلى الله عليه وسلم يقالُ له: مُسَلَّم بن عُبَيدالله، وكان عنده كتابُ "النَّسَب" عن الخَضِر بن داود، عن الزُّبَير ابن بَكَّار، وكان مُسَلَّمٌ أحدَ الموصوفينَ بالفَصاحة المطبوعينَ على العربيَّة، فسأل الناسُ أبا الحسن أن يقرأَ عليه كتاب "النَّسَب"، ورغبوا في سماعه بقراءته، فأجابهم إلى ذلك، واجتَمَع في المجلس مَنْ كان بمِصْرَ من أهل العلم والأدب والفَضْل، فحَرَصُوا على أن يحفظوا على أبي الحسن لَحْنةً، أو يَظْفَروا منه بسَقْطَة، فلم يقدروا على ذلك حتَّى جعل مُسَلَّمٌ يَعْجَبُ ويقول له: وعربيَّةً أيضًا
(2) ؟!
ولم يكتَفِ الدارقطنيُّ بالقراءة على علماء بغداد، بل حملته رغبتُه الشَّديدةُ في طلب العلم وتحصيله على الرِّحلة والسَّفَر، قاصداً علماء عصره في مدن العراق المختَلِفَة وغيرها من البلدان والأمصار.
فمن مدن العراق التي ارتحل إليها: البصرة، وذلك في وقت مُبكِّر من عمره، في حدود سنة عشرينَ وثلاثِ مئة
(3) ، وله حينها أربعةَ عشرَ عامًا.
--------------------------------------------
শাফিয়ি (মাজহাবের অনুসারী) যেমন বায়হাকি, যদিও অনেক মাসয়ালায় বায়হাকির নিজস্ব ইজতিহাদ রয়েছে। তবে দারাকুতনির ইজতিহাদ তার চেয়েও শক্তিশালী, কেননা তিনি তার চেয়েও অধিক জ্ঞানী ও বিজ্ঞ ফকিহ ছিলেন।
(১) .
দারাকুতনির ভাষা, ব্যাকরণ, সাহিত্য ও কবিতার ওপরও গভীর পাণ্ডিত্য ছিল। খাতিব বাগদাদি আল-আজহারি থেকে বর্ণনা করেছেন যে: আবুল হাসান (দারাকুতনি) যখন মিশরে প্রবেশ করলেন, সেখানে আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শহর (মদিনা) থেকে আগত একজন আলওয়ী শাইখ ছিলেন, যাকে মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ বলা হতো। তার কাছে খদির ইবনে দাউদ থেকে বর্ণিত জুবাইর ইবনে বাক্কারের "আন-নাসাব" (বংশলতিকা) গ্রন্থটি ছিল। মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ ছিলেন সাবলীল ভাষা ও স্বভাবজাত আরবি পান্ডিত্যের অধিকারীদের মধ্যে অন্যতম। লোকেরা আবুল হাসানকে অনুরোধ করল যেন তিনি তার নিকট "আন-নাসাব" গ্রন্থটি পাঠ করেন এবং তারা তার কণ্ঠে তা শ্রবণের আগ্রহ প্রকাশ করল। তিনি তাদের সে আহবানে সাড়া দিলেন। সেই মজলিসে মিশরের তৎকালীন সকল বিদগ্ধ আলেম, সাহিত্যিক ও গুণীজন উপস্থিত হলেন। তারা আবুল হাসানের পাঠে সামান্যতম কোনো ব্যাকরণগত ভুল অথবা কোনো বিচ্যুতি খুঁজে পাওয়ার জন্য সচেষ্ট ছিলেন, কিন্তু তারা তাতে সক্ষম হলেন না। এমনকি মুসলিম ইবনে উবাইদুল্লাহ বিস্মিত হয়ে তাকে বলতে লাগলেন: আপনি কি আরবি ভাষাতেও (এতটা পারদর্শী)?!
(২) ?!
দারাকুতনি কেবল বাগদাদের আলেমদের নিকট পাঠ গ্রহণ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং ইলম অর্জনের প্রবল আকাঙ্ক্ষা তাকে বিভিন্ন দেশ ও জনপদে জ্ঞান অন্বেষণের সফরে উদ্বুদ্ধ করেছিল। তিনি ইরাকের বিভিন্ন শহর এবং অন্যান্য দেশ ও জনপদের সমসাময়িক আলেমদের সাক্ষাতের সংকল্প করেছিলেন।
ইরাকের যেসব শহরে তিনি সফর করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম হলো বসরা। এটি ছিল তার জীবনের শুরুর দিকের কথা, আনুমানিক ৩২০ হিজরি সনের দিকে
(৩), এবং তখন তার বয়স ছিল মাত্র চৌদ্দ বছর।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وذكر الخطيبُ في "تاريخ بغداد" خروجَه إلى الكوفة في قصَّةٍ وقعت له مع أبي العبَّاس بن عُقْدَة، فقال: «أخبرنا البَرْقانيُّ، قال: سمعتُ أبا الحسن الدارقطنيَّ يقول: كتبتُ ببغدادَ من أحاديثِ السُّودانىِّ
(1) أحاديثَ تفرَّد بها، ثم مَضَيتُ إلى الكوفةِ لأسمعَ منه، فجئتُ إليه وعنده أبو العباس بنُ عُقدَة، فدفعتُ إليه الأحاديثَ في ورقةٍ، فنظر فيها أبو العبَّاس، ثم رمى بها واستَنْكَرَها وأبى أن يقرأَها، وقال: هؤلاءِ- البغداديين- يجيئوننا بما لا نَعرفُه. قال أبو الحسن: ثم قرأ أبو العبَّاس عليه فمَضى في جُملةِ ما قرأه حديثٌ منها، فقلتُ له: هذا الحديثُ من جُملةِ الأحاديثِ، ثم مضى آخرُ، فقلتُ: وهذا أيضًا من جُملتِها، ثم مضى ثالثٌ، فقلت: وهذا أيضاً منها، وانصرف، وانقطَعتُ عن العَوْدِ إلى المجلسِ؛ لحُمَّى نالَتْنى، فبينما أنا في الموضِعِ الذي كنتُ نزَلْتُه إذا أنا بداقٍّ يَدُقُّ عليَّ البابَ، فقلت: مَنْ هذا؟ فقال: ابنُ سعيد، فخرجتُ وإذا بأبي العباس، فوقعتُ في صدره أقبِّلُه، وقلت: يا سيدي لمَ تجَشَّمتَ المجيء؟ فقال: ما عَرَفناك إلا بعد انصِرافِك، وجعل يَعتذرُ إليَّ، ثم قال: ما الذي أخَّرك عن الحُضور؟ فذكرتُ له: أنِّي حُمِمتُ، فقال: تحضُر المجلسَ لتقرأ ما أحببتَ، فكنتُ بعدُ إذا حضَرتُ أكرمَني ورفعَني في المجلسِ، أو كما قال»
(2) .
--------------------------------------------
আল-খতীব "তারিখ বাগদাদ"-এ আবু আব্বাস ইবনে উকদাহর সাথে তাঁর ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কুফায় তাঁর গমনের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: «আল-বারকানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবুল হাসান আদ-দারা কুতনীকে বলতে শুনেছি: আমি বাগদাদে আস-সুদানীর
(১) বর্ণিত এমন কিছু হাদীস লিখেছিলাম যা কেবল তিনিই বর্ণনা করেছেন। তারপর সেগুলো তাঁর থেকে সরাসরি শোনার জন্য আমি কুফায় গমন করি। আমি তাঁর কাছে গেলাম, তখন তাঁর নিকট আবু আব্বাস ইবনে উকদাহ উপস্থিত ছিলেন। আমি হাদীসগুলো একটি কাগজে লিখে তাঁর কাছে পেশ করলাম। আবু আব্বাস সেদিকে তাকালেন, তারপর তা ছুড়ে ফেলে দিলেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করে পড়তে অস্বীকৃতি জানালেন। তিনি বললেন: "এই বাগদাদীরা আমাদের নিকট এমন সব বিষয় নিয়ে আসে যা আমরা চিনি না।" আবুল হাসান বলেন: এরপর আবু আব্বাস যখন তাঁর কাছে পাঠ করতে লাগলেন, তখন তাঁর পঠিত বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হাদীস এল। আমি তাঁকে বললাম: "এই হাদীসটি তো সেই হাদীসগুলোরই অন্তর্ভুক্ত।" এরপর আরেকটি অতিবাহিত হলো, আমি বললাম: "এটিও সেই তালিকার।" এরপর তৃতীয়টি এল, আমি বললাম: "এটিও সেই তালিকাভুক্ত।" এরপর তিনি প্রস্থান করলেন। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার কারণে পুনরায় মজলিসে ফিরে যাওয়া থেকে আমি বিরত থাকলাম। আমি আমার অবস্থানস্থলে থাকাকালীন হঠাৎ কেউ দরজায় করাঘাত করল। আমি বললাম: "কে?" তিনি বললেন: "ইবনে সাঈদ।" আমি বেরিয়ে দেখলাম আবু আব্বাস দাঁড়িয়ে আছেন। আমি তাঁকে বুকে জড়িয়ে ধরলাম এবং চুম্বন করলাম। আমি বললাম: "হে আমার মহানুভব! কেন আপনি আসার কষ্ট করলেন?" তিনি বললেন: "আপনি চলে যাওয়ার পরেই আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি।" এরপর তিনি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতে লাগলেন। তারপর তিনি বললেন: "মজলিসে আসতে কিসে আপনাকে বাধা দিল?" আমি তাঁকে জানালাম যে আমার জ্বর হয়েছিল। তিনি বললেন: "আপনি মজলিসে উপস্থিত হবেন এবং যা খুশি পাঠ করবেন।" এরপর থেকে যখনই আমি উপস্থিত হতাম, তিনি আমাকে সম্মান করতেন এবং মজলিসে উচ্চাসনে বসাতেন—অথবা তিনি যেমনটি বলেছেন»
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وإذا علمنا أن السُّودانيَّ مات في سنة ستٍّ وعشرينَ وثلاثِ مئة، أدركنا أن ذهابَ الدارقطنيِّ إلى الكوفة كان قبلَ هذا التاريخ يقينًا، أي قبل أن يبلغَ العشرينَ من عمره. ولا يخفى ما في هذه القصَّة أيضًا من دلالةٍ على مكانةِ الدارقطني ومنزلته الرفيعة وهو بعدُ في بواكير شبابه ورَيِّق فُتوَّته.
ومن الأمصار والبلدان التي قصَدها ويمَّم وجَهَهُ شَطرَها: خُوزِسْتان، ومنها مصرُ التي حطَّ رحالَه فيها سنة سبعٍ وخمسينَ وثلاث مئة كما أخبر عن نفسه
(1) ، وفي طريقه إليها دخل دمشقَ وحدَّث بها
(2) .
وتعدُّ رحلتُه إلى مصرَ أبرز تلك الرِّحْلات وأغناها؛ لأنَّها كانت في كُهولَتِه بعد أن علا كَعْبُه في العلم، وطالَ باعُه فيه، واستوى محدِّثاً بعيدَ الغَور حاذقَ الفهم ألمعيًّا. وقد قصد فيها إلى الوزيرِ أبي الفضل ابن حِنْزابةَ
(3) وزير كافورٍ الإخْشِيديِّ لمَّا بلغه أنَّه عازمٌ على
--------------------------------------------
আমরা যখন জানতে পারি যে আস-সুদানি ৩২৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন, তখন আমরা নিশ্চিতভাবে উপলব্ধি করতে পারি যে দারাকুতনির কুফা গমন অবশ্যই এই তারিখের আগে ছিল, অর্থাৎ তাঁর বয়স বিশ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে দারাকুতনির মর্যাদা এবং উচ্চ অবস্থানের প্রমাণও ফুটে ওঠে, যখন তিনি কেবল তাঁর প্রথম যৌবনে এবং নবীন বয়সে পদার্পণ করেছিলেন।
তিনি যেসকল বড় শহর ও দেশসমূহের দিকে যাত্রা করেছিলেন এবং গমনের ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: খুজিস্তান, এবং মিসর—যেখানে তিনি ৩৫৭ হিজরিতে পদার্পণ করেন, যেমনটি তিনি নিজেই সংবাদ দিয়েছেন
(১)। মিসর যাত্রার পথে তিনি দামেস্কে প্রবেশ করেন এবং সেখানে হাদিস বর্ণনা করেন
(২)।
তাঁর মিসর সফর সেই সকল সফরের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সমৃদ্ধ বলে বিবেচিত হয়; কারণ এটি ছিল তাঁর প্রৌঢ়ত্বের সময়, যখন ইলমের ময়দানে তাঁর অবস্থান সুউচ্চ হয়েছিল এবং তাঁর দক্ষতা সুদূরপ্রসারী রূপ নিয়েছিল। তিনি একজন সুগভীর গবেষক, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন এবং প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এই সফরে তিনি ইখশিদি শাসক কাফুর-এর উজির আবুল ফজল ইবনে হিনজাবা
(৩)-এর নিকট যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন, যখন তিনি সংবাদ পেলেন যে তিনি (উজির) সংকল্প করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১৮)
جمع "المسند"
(1) ، فمضى إليه ليُساعدَه عليه، وأقام عنده مُدَّة، وبالغ أبو الفضل في إكرامِه وأنفَقَ عليه نفقةً واسعةً وأعطاه شيئًا كثيرًا، وحَصَلَ له بسببه مالٌ جَزيلٌ، ولم يزَلْ عنده حتى فَرَغَ "المسند"، وكان يجتمعُ هو والحافظُ عبد الغنيِّ بن سعيد الأزديُّ
(2) على تخريج "المسند" وكتابتِه الى أن نَجَزَ
(3) .
وقد تعرَّض له بعضُ من ترجَمَ له بسبب هذه الرِّحلة وما أفاضَ عليه فيها ابنُ حِنْزابَة من مالٍ وافر، فقال اليافعيُّ: «قلت: فهذا ما لخَّصتُه من أقوال العلماء فى ترجمته، وكلُّ ذلك مدحٌ في حقِّه إلاَّ سفرَه إلى مصرَ من أجل الوزير المذكور؛ فإنَّه وإن كان ظاهرُه- كما قالوا- المساعدةُ له فى تخريج "المسند" المذكور، فلستُ أرى مثلَ هذا الإيقاع
(4) بأهل العلم ولا بأهل الدِّين، نعم لو كان مثلُ هذا لمُساعدةِ بعضِ أهل العلم والدِّين، لا يَشوبُه شيءٌ من أمور الدُّنيا، كان حسنًا منه وفضلاً وحِرصًا على نشر العلم والمساعدة فى الخير، وبعيدٌ أن تُطاوع النفوسُ لمثل هذا، إلاَّ إذا وفَّق الله، وذلك نادرٌ أومعدومٌ، وما على الفاضِل المتديِّن من أربابِ الولاياتِ ألَّفُوا أو
--------------------------------------------
"আল-মুসনাদ"
(১) সংকলন করা হচ্ছিল, তাই তিনি তাকে এ কাজে সহায়তা করার জন্য সেখানে গেলেন এবং তার নিকট বেশ কিছুকাল অবস্থান করলেন। আবু আল-ফজল তাকে সম্মান প্রদর্শনে কোনো ত্রুটি করেননি, তার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন এবং তাকে অনেক কিছু দান করেন। এর ফলে তার নিকট প্রচুর সম্পদ অর্জিত হয়। "আল-মুসনাদ" সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তার নিকট অবস্থান করেন। তিনি এবং হাফেজ আবদুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আজদি
(২) "আল-মুসনাদ"-এর তাখরিজ ও পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজে একত্রে নিয়োজিত থাকতেন, যতক্ষণ না তা সম্পন্ন হয়
(৩)।
তার জীবনীকারদের মধ্যে কেউ কেউ এই সফর এবং ইবনে হিনজাবাহ কর্তৃক তাকে অঢেল সম্পদ প্রদানের কারণে তার সমালোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে আল-ইয়াফি'য়ী বলেন: «আমি বলছি: তার জীবনীর ব্যাপারে উলামায়ে কিরামের বক্তব্য থেকে আমি এটাই সারসংক্ষেপ করেছি। এর প্রতিটিই তার প্রশংসাসূচক, কেবল উল্লিখিত উজিরের উদ্দেশ্যে তার মিশর সফর ব্যতীত। কারণ, যদিও বাহ্যিকভাবে এটি—যেমনটি তারা বলেছেন—উল্লিখিত "আল-মুসনাদ"-এর তাখরিজের কাজে তাকে সহায়তা করা ছিল, তবুও আমি ইলম ও দ্বীনের অধিকারীদের জন্য এ ধরণের আচরণ
(৪) সমীচীন মনে করি না। হ্যাঁ, যদি এ ধরণের কাজ কোনো ইলম ও দ্বীনের অধিকারীকে সহায়তার জন্য হতো, যেখানে পার্থিব কোনো স্বার্থের সংমিশ্রণ থাকতো না, তবে তা তার পক্ষ থেকে উত্তম, ফযিলতপূর্ণ এবং ইলম প্রচার ও নেক কাজে সহায়তার প্রতি আগ্রহের বহিঃপ্রকাশ হতো। কিন্তু নফস বা প্রবৃত্তি এ জাতীয় কাজে সচরাচর সায় দেয় না, যদি না আল্লাহ তাওফিক দান করেন। আর এমনটি ঘটা বিরল অথবা প্রায় অসম্ভব। আর শাসনকর্তাদের মধ্যে যারা গুণী ও ধর্মপ্রাণ, তারা গ্রন্থ রচনা করলে বা...»
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ১৯)
لم يُؤلِّفوا»
(1) .
وما ذهبَ إليه هؤلاءِ المنتقدون فيه نظرٌ؛ وذلك أنه يترجَّحُ لنا أن الدارقطنيَّ لم يقصِد الوزيرَ ابن حِنْزابَة سعيًا وراء المال والعَطاء، بل قصده رغبةً في العلم والأجر، فلم يكن ابن حِنْزابَة وزيراً فحسب، بل كان قبل ذلك عالماً وحافظاً من أهل الحديث، قال فيه الذهبيُّ: «الإمام الحافظ الثقة الوزير الأكمل
… »
(2) . ونقل عن السِّلَفيِّ أنه قال فيه: «كان ابن حِنْزابةَ من الحفَّاظ الثقاث المتبجِّحينَ بصُحبة أصحاب الحديث، مع جَلالة ورياسة، يَروي ويُملي بمصرَ في حال وزارته، ولا يختار على العلم وصُحبة أهله شيئًا، وعندي من أماليه ومن كلامه على الحديث وتصرُّفه الدَّالِّ على حِدَّةِ فهمه ووُفور علمه»
(3) .
ولم يكتفِ الدارقطنيُّ في مصرَ بمساعدة ابن حِنْزابةَ في "مسنده"، بل تنقَّل فيها ولقيَ الشُّيوخَ، وسمع الكتبَ، وأفاد طلاَّب العلم، وحرص على لقاء الشيوخ وإن خفي مكانهم، ومن ذلك ما ذكره الذهبيُّ في ترجمة أبي بكر محمَّد بن علي النقَّاش
(4) : أن الدارقطنيَّ قد رحَلَ إليه إلى تِنِّيس
(5) ، وكان مُنزَويًا بها، فلهذا لم ينتشر حديثه
(6) .
--------------------------------------------
তারা রচনা করেননি»
(১) ।
এই সমালোচকরা যে মত গ্রহণ করেছেন তাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কারণ আমাদের কাছে এটিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত মনে হয় যে, দারাকুতনী উজির ইবনে হিনজাবার কাছে ধন-সম্পদ ও উপঢৌকনের লোভে যাননি, বরং তিনি তাঁর কাছে ইলম এবং সওয়াবের আশায় গিয়েছিলেন। ইবনে হিনজাবা কেবল একজন উজিরই ছিলেন না, বরং এর আগে তিনি ইলমে হাদীসের অনুসারীদের মধ্যে একজন হাফিয ও আলিম ছিলেন। তাঁর সম্পর্কে আয-যাহাবী বলেছেন: «ইমাম, হাফিয, নির্ভরযোগ্য এবং অত্যন্ত পূর্ণাঙ্গ উজির … »
(২) । এবং আস-সিলাফী থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: «ইবনে হিনজাবা ছিলেন সেই সব নির্ভরযোগ্য হাফিযদের অন্তর্ভুক্ত যারা হাদীস বিশারদদের সাহচর্য নিয়ে গৌরব বোধ করতেন। তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি উজির থাকাকালীন মিসরে হাদীস বর্ণনা করতেন এবং ইমলা (শ্রুতিলিপি প্রদান) করতেন। তিনি ইলম এবং ইলমধারীদের সাহচর্যের ওপর অন্য কোনো কিছুকেই প্রাধান্য দিতেন না। আমার কাছে তাঁর ইমলাকৃত পাণ্ডুলিপি এবং হাদীসের ওপর তাঁর এমন কিছু বক্তব্য ও বিশ্লেষণ রয়েছে যা তাঁর তীক্ষ্ণ বোধশক্তি এবং প্রচুর ইলমের প্রমাণ দেয়»
(৩) ।
দারাকুতনী মিসরে কেবল ইবনে হিনজাবাকে তাঁর "মুসনাদ" সংকলনে সহযোগিতা করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি সেখানে বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করেছেন, শায়খদের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, কিতাবসমূহ শ্রবণ করেছেন এবং তালিবে ইলমদের উপকৃত করেছেন। তিনি শায়খদের সাথে সাক্ষাতের ব্যাপারে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলেন, যদিও তাঁদের অবস্থান নির্জনে বা লোকচক্ষুর অন্তরালে হতো। এরই অংশ হিসেবে আয-যাহাবী আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আলী আন-নাক্কাশ-এর জীবনীতে উল্লেখ করেছেন যে
(৪) : দারাকুতনী তাঁর কাছে তিন্নীসে
(৫) সফর করেছিলেন, আর তিনি সেখানে নির্জনে বসবাস করতেন, যে কারণে তাঁর বর্ণিত হাদীস বেশি প্রচারিত হয়নি
(৬) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২০)
مَنزلةُ الدارَقُطني العلميَّةُ، وثناءُ العلماء عَلَيه:
تقدَّم فيما مضى بيانُ تميُّز الدارقطنيِّ من لِداته وأترابه، وتفوُّقه عليهم في وقتٍ مبكِّر من حياته العلميَّة؛ لما حَباه اللهُ به من همَّة عالية، وشَغَفٍ بالعلم، ودَأَبٍ في تحصيله.
وتقدَّم أيضًا أنه لم يبرِّز في علمٍ واحدٍ، بل أظهر براعةً وحِذقًا في غير ما علمٍ وفنٍّ، منها: القراءات القرآنيَّة، والفقه، وعلوم العربيَّة.
كلُّ ذلك بوَّأه المنزلةَ الساميةَ التي ارتقى إليها، حتى عُدَّ جبلاً في العلم قليلَ النظير.
ومن الأخبار والأقوال الدالَّة على منزلته ومكانته: ما رواه الخطيبُ البغداديُّ عن محمد بن على الصُّوري قال: سمعت أبا محمد رجاءَ بن محمد بن عيسى الأنصاري المعدل يقول: سألت أبا الحسن الدارقطنيَّ فقلت له: رأى الشيخُ مثلَ نفسه؟ فقال لي: قال الله تعالى: {فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ} [النجم: 32] . فقلت له: لم أُرِدْ هذا، وأنما أردتُّ أن أَعْلَمَهُ لأقولَ: رأيت شيخًا لم يرَ مثلَه، فقال لي: إن كان في فنٍّ واحد فقد رأيتُ من هو أفضَلُ مني، وأما من اجتمع فيه ما اجتَمَعَ فيَّ فلا
(1) .
وقال أبوعبد الله الحاكم في كتاب "مزكي الأخبار": «أبو الحسن صار واحدَ عصره في الحِفْظ والفَهْم والوَرَع، وإمامًا في القرَّاء
--------------------------------------------
দারাকুতনীর ইলমি মর্যাদা এবং তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:
পূর্বে দারাকুতনীর সমসাময়িক ও সমবয়সীদের থেকে তাঁর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং ইলমি জীবনের শুরুর দিকেই তাদের ওপর তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের বিবরণ অতিবাহিত হয়েছে; যা আল্লাহ তাঁকে উচ্চ হিম্মত, ইলমের প্রতি অনুরাগ এবং তা অর্জনে নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে দান করেছিলেন।
আরও অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি কেবল একটি বিষয়েই পারদর্শী ছিলেন না, বরং তিনি একাধিক শাস্ত্র ও বিদ্যায় দক্ষতা ও নিপুণতা প্রদর্শন করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে: কুরআন মাজিদের কিরাতসমূহ, ফিকহ এবং আরবি ভাষা বিজ্ঞান।
এসব কিছুই তাঁকে সেই উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে যাতে তিনি উন্নীত হয়েছিলেন, এমনকি তিনি ইলমের ময়দানে এমন এক সুউচ্চ পাহাড়ে পরিণত হয়েছিলেন যার দৃষ্টান্ত বিরল।
তাঁর মর্যাদা ও অবস্থানের পরিচায়ক সংবাদ ও উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো যা খতিব আল-বাগদাদি মুহাম্মদ বিন আলী আস-সুরি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আবু মুহাম্মদ রাজা বিন মুহাম্মদ বিন ঈসা আল-আনসারী আল-মুয়াদ্দালকে বলতে শুনেছি: আমি আবুল হাসান দারাকুতনীকে জিজ্ঞাসা করলাম, আমি তাঁকে বললাম: শায়খ কি নিজের মতো আর কাউকে দেখেছেন? তিনি আমাকে বললেন: আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা নিজেদের পবিত্রতা ঘোষণা করো না} [আন-নাজম: ৩২]। আমি তাঁকে বললাম: আমি এটি বোঝাতে চাইনি, বরং আমি এটি জানতে চেয়েছিলাম যেন বলতে পারি: আমি এমন এক শায়খকে দেখেছি যিনি নিজের মতো আর কাউকে দেখেননি। তখন তিনি আমাকে বললেন: যদি কেবল একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে হয় তবে আমি আমার চেয়েও শ্রেষ্ঠ কাউকে দেখেছি, কিন্তু আমার মাঝে যা কিছু একত্রিত হয়েছে তা যদি অন্য কারো মাঝে একত্রিত হওয়ার কথা বলো, তবে তা দেখিনি।
(১) .
আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম তাঁর ‘মুযাক্কিল আখবার’ গ্রন্থে বলেছেন: «আবুল হাসান হিফজ (স্মৃতিশক্তি), ফাহম (বোধশক্তি) ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর যুগের অদ্বিতীয় ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন এবং তিনি কারীদের মাঝে একজন ইমাম ছিলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২১)
والنَّحويِّين، أول ما دخلتُ بغدادَ كان يَحضُر المجالسَ وسنُّه دون الثلاثين، وكان أحدَ الحفَّاظ»
(1) .
وقال: «صار الدارقطنيُّ أوحدَ عصره فى الحفظ والفهم والوَرَع، وإمامًا فى القرَّاء والنحويِّين، وفي سنة سبعٍ وستِّينَ أقمتُ ببغداد أربعةَ أشهرٍ، وكثر اجتماعُنا بالليل والنهار، فصادَفتُه فوق ما وُصِف لي، وسألتُه عن العللِ والشيوخ، قال: وأشهدُ أنَّه لم يخلِّف على أَديمِ الأرض مثلَه»
(2) .
وقال أبو ذَرٍّ الهَرَويُّ: سمعت الحاكمَ أبا عبد الله محمد بن عبد الله، وسُئل عن الدارقطنيِّ؟ فقال: «ما رأى مثلَ نفسِه»
(3) .
وقال الحافظُ عبد الغني بن سعيد الأزديُّ: «أحسنُ الناس كلامًا على حديث رسولِ الله صلى الله عليه وسلم ثلاثةٌ: عليُّ بن المَديني في وقته، وموسى ابن هارونَ في وقته، وعليُّ بن عمر الدارقطنيُّ في وقته»
(4) .
ومن ذلك أيضًا: ما تذكُره المصادرُ من استفادةِ طلاَّب العلم والعلماء من الدارقطنيِّ بمصرَ واحتفائهم به، وأشهَرُ من استفادَ منه الحافظُ الكبير عبد الغني بن سعيد الأزديُّ المِصريُّ.
--------------------------------------------
...এবং ব্যাকরণবিদগণ। আমি যখন প্রথম বাগদাদে প্রবেশ করি, তখন তিনি মজলিসগুলোতে উপস্থিত হতেন এবং তাঁর বয়স ছিল ত্রিশের কম, আর তিনি হাফেযদের অন্যতম ছিলেন।
(১) .
তিনি আরও বলেন: «দারাকুতনী তাঁর যুগে মুখস্থশক্তি, প্রজ্ঞা ও পরহেযগারিতে অনন্য হয়ে ওঠেন এবং ক্বারী ও ব্যাকরণবিদদের ইমাম হিসেবে গণ্য হন। ৩৬৭ হিজরি সনে আমি চার মাস বাগদাদে অবস্থান করি এবং দিন-রাত আমাদের মাঝে প্রচুর সাক্ষাৎ ও আলোচনা হতো। আমি তাঁকে যেমনটা বর্ণনা শুনেছিলাম, তার চেয়েও উর্ধ্বে পেয়েছি। আমি তাঁকে হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইল্লাল) এবং শায়খদের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি। তিনি বলেন: আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি জমিনের বুকে তাঁর মতো কাউকে রেখে যাননি»
(২) .
আবু যর আল-হারাভী বলেন: আমি আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি, যখন তাঁকে দারাকুতনী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেন: «তিনি নিজের মতো আর কাউকে দেখেননি»
(৩) .
হাফেয আব্দুল গনি বিন সাঈদ আল-আযদি বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদিসের উপর আলোচনায় মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলেন তিনজন: তাঁর সময়ে আলী ইবনুল মাদিনী, তাঁর সময়ে মূসা ইবনে হারুন এবং তাঁর সময়ে আলী ইবনে উমর আদ-দারাকুতনী»
(৪) .
এর মধ্যে আরও রয়েছে যা উৎসসমূহ উল্লেখ করে যে, মিসরে জ্ঞানপিপাসু ছাত্র ও আলিমগণ দারাকুতনী থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁকে সমাদর করেছেন। তাঁর থেকে উপকৃতদের মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলেন প্রখ্যাত হাফেয আব্দুল গনি বিন সাঈদ আল-আযদি আল-মিসরি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২২)
قال البَرقانيُّ: «كنت أسمع عبدَ الغنيِّ بنَ سعيدٍ الحافظ كثيرًا إذا حكَى عن أبي الحسن الدارقطنيِّ شيئًا يقول: قال أستاذي، وسمعتُ أستاذي، فقلتُ له في ذلك، فقال: وهل تعلَّمنا هذَينِ الحَرْفَين من العلم إلاَّ من أبي الحسن الدارقطنيِّ»
(1) .
وقد أفاض الخطيبُ البغداديُّ في الثناء على الدارقطنيِّ وتعداد أوصافه الجليلة الرضِيِّة، ومن جملة ما قال: «وكان فريدَ عصره، وقريعَ دهره، ونسيجَ وَحْدِه، وإمامَ وقته، انتهى إليه علمُ الأثر، والمعرفةُ بعلل الحديث وأسماء الرجال وأحوال الرُّواة، مع الصِّدق والأمانة، والفِقْه والعَدالة، وقَبول الشَّهادة، وصِحَّة الاعتقاد، وسَلامة المذهَب، والاضْطِلاع بعُلومٍ سوى علم الحديث، منها: القراءات، ومنها المعرفةُ بمذاهب الفقهاء، ومنها أيضًا المعرفةُ بالأدب والشِّعر. وقيل: إنه كان يحفَظُ دواوينَ جماعةٍ من الشُّعَراء. وسمعتُ حمزةَ بن محمد ابن طاهر الدقَّاق يقول: كان أبو الحسن الدارقطنيُّ يحفظ ديوانَ السيِّد الحِمْيَري في جُملةِ ما يحفَظُ من الشعر، فنُسِبَ إلى التشيُّع لذلك»
(2) .
وقال الذهبيُّ: «كان من بُحور العلم، ومن أئمَّة الدنيا، انتهى إليه الحِفْظ ومعرفةُ علل الحديث ورجاله، مع التقدُّم في القراءات وطُرُقها، وقُوَّة المُشاركة في الفِقْه والاختلاف، والمَغازي وأيَّام الناس، وغير ذلك»
(3) .
--------------------------------------------
আল-বারকানি বলেন: «আমি হাফেজ আব্দুল গানি বিন সাঈদকে প্রায়ই শুনতাম, যখন তিনি আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি থেকে কোনো কিছু বর্ণনা করতেন, তখন বলতেন: আমার উস্তাদ বলেছেন, এবং আমি আমার উস্তাদকে বলতে শুনেছি। আমি এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন: আমরা ইলমের এই দুই অক্ষর কি আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি ছাড়া অন্য কারো কাছ থেকে শিখেছি?»
(১) ।
আল-খতিব আল-বাগদাদি আদ-দারাকুতনির প্রশংসায় এবং তাঁর মহান ও সন্তোষজনক গুণাবলি বর্ণনায় অনেক আলোচনা করেছেন। তিনি যা বলেছেন তার মধ্যে রয়েছে: «তিনি ছিলেন তাঁর যুগের অনন্য, তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠতম, উপমাহীন এবং তাঁর সময়ের ইমাম। আসার (পরম্পরাগত জ্ঞান), হাদিসের ইল্লত (ত্রুটি) ও আসমাউর রিজাল (বর্ণনাকারীদের পরিচয়) এবং বর্ণনাকারীদের অবস্থা বিষয়ক জ্ঞান তাঁর কাছেই এসে সমাপ্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁর মাঝে ছিল সততা ও আমানতদারি, ফিকহ ও ন্যায়পরায়ণতা, সাক্ষ্য গ্রহণের যোগ্যতা, আকিদার বিশুদ্ধতা, মাযহাবের সঠিকতা এবং ইলমে হাদিস ছাড়াও অন্যান্য জ্ঞানে পারদর্শিতা। যেমন: কিরাতসমূহ, ফকিহগণের মাযহাব সম্পর্কে জ্ঞান এবং সাহিত্য ও কবিতা সম্পর্কেও জ্ঞান। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি একদল কবির কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) মুখস্থ রাখতেন। আমি হামজা বিন মুহাম্মদ ইবনে তাহির আদ-দাক্কাককে বলতে শুনেছি: আবু আল-হাসান আদ-দারাকুতনি তাঁর মুখস্থ রাখা কবিতাগুলোর মধ্যে সাইয়্যেদ আল-হিমইয়ারির দিওয়ানও মুখস্থ রাখতেন, আর একারণেই তাঁকে শিয়া মতবাদের দিকে সম্বন্ধ করা হতো»
(২) ।
ইমাম আয-যাহাবি বলেন: «তিনি ছিলেন ইলমের সমুদ্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং পৃথিবীর ইমামদের অন্যতম। হাদিস মুখস্থ রাখা এবং হাদিসের ইল্লত ও রিজাল শাস্ত্রের জ্ঞান তাঁর কাছেই এসে সমাপ্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি কিরাত ও তার পদ্ধতিসমূহে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং ফিকহ ও ইখতিলাফ (মতভেদ), মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং আইয়ামুন নাস (আরবদের ইতিহাস) সহ অন্যান্য বিষয়েও তাঁর শক্তিশালী পদচারণা ছিল»
(৩) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهاهُنا خبرٌ طريفٌ تحسُنُ الإشارة إليه في هذا السِّياق، فقد نُقِلَ عن البَرْقانيِّ أنه قال: «كان الدارقطنيُّ يُمْلي عليَّ العللَ من حفظه» .
وقد عقَّب الذهبيُّ على ذلك بقوله: «إن كان كتابُ "العلل" الموجودُ قد أملاه الدارقطنيُّ من حِفْظه- كما دلَّت عليه هذه الحكايةُ- فهذا أمرٌ عظيمٌ يُقْضى به للدارقطنيِّ أنَّه أحفظُ أهل الدنيا، وإن كان قد أملى بعضَهُ من حِفْظه فهذا مُمكن، وقد جَمَعَ قبله كتابَ "العلل" عليُّ بن المَديني حافظُ زمانه»
(1) .
هذا، وإن استقصاءَ ما قيلَ في أبي الحسن الدارقطني يطولُ ويَعسُر، وحسبُنا ما أوردناهُ من كلام أهل العلم فيه لتَدُل هذه النصوصُ على ما وراءها، والله تعالى أعلم.
وَفاتُه:
اتَّفقت كلمةُ مَن ترجَمَ لأبي الحسن الدارقطنيِّ على أن وفاتَهُ كانت سنةَ خمسٍ وثمانينَ وثلاثِ مئة. وكان ذلك يوم الأربعاء لثمان خلون من ذي القعدة.
وقد دُفنَ رحمه الله في مَقْبَرة بابِ الدَّيْر قريبًا من قبر مَعْروفٍ الكَرْخي
(2) .
--------------------------------------------
এই প্রসঙ্গে একটি চমৎকার তথ্য রয়েছে যা এখানে উল্লেখ করা সমীচীন। আল-বারকানি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "দারাকুতনি তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে আমার নিকট 'আল-ইলাল' গ্রন্থটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে লিখাতেন।"
ইমাম যাহাবি এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন: "যদি বর্তমানে বিদ্যমান 'আল-ইলাল' গ্রন্থটি দারাকুতনি তাঁর মুখস্থ থেকেই লিখিয়ে থাকেন—যেমনটি এই বর্ণনা নির্দেশ করছে—তবে এটি একটি সুমহান বিষয়, যার দ্বারা এটিই প্রমাণিত হয় যে দারাকুতনি ছিলেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মুখস্থকারী। আর যদি তিনি এর কিছু অংশ মুখস্থ থেকে লিখিয়ে থাকেন তবে তা সম্ভবপর। তাঁর পূর্বে তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ হাফেজ আলী ইবনুল মাদিনি 'আল-ইলাল' গ্রন্থটি সংকলন করেছিলেন।"
(১)।
বস্তুত, আবুল হাসান দারাকুতনি সম্পর্কে যা কিছু বলা হয়েছে তার বিস্তারিত বিবরণ প্রদান দীর্ঘ ও দুরূহ কাজ। তাঁর সম্পর্কে আলেমগণের যে সকল বক্তব্য আমরা এখানে উল্লেখ করেছি তাই যথেষ্ট, যেন এই উদ্ধৃতিগুলো তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সম্পর্কে ইঙ্গিত প্রদান করে। আর আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে ভালো জানেন।
তাঁর মৃত্যু:
আবুল হাসান দারাকুতনির জীবনীকারগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, তাঁর মৃত্যু হয়েছিল তিনশ পঁচাশি হিজরি সনে। এটি ছিল যিলকদ মাসের আট তারিখ, বুধবার।
তাঁকে (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) 'বাবে দাইর' কবরস্থানে মারুফ আল-কারখির কবরের কাছে দাফন করা হয়েছে।
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২৪)
شُيوخُ الدارَقُطنيِّ:
شَرَع أبو الحسن عليُّ بن عمر الدارقطنيُّ في طلبِ العلم في وقتٍ مُبكِّر من حياته، وكثُرَت رحلاتُه في جَمعه وتَحصيله؛ فكثُر لذلك شُيوخُه الذين أخذَ عنهم وتخرَّج بهم.
وقد ذهب الدكتور محفوظ الرحمن زين الله السَّلَفي
(1) إلى أن شيوخَ الدارقطني في كتاب "العلل" يربو عدَدُهم على مئتين، ثم ذكرَ منهم اثنين وعشرين راويًا من أشهر شُيوخه.
كما قام الدكتور عبد الله بن ضَيْف الله الرُّحَيلي
(2) بإحصاء شُيوخه الذين روى عنهم في كتابه "السنن" وحدَه فبلغوا تسعينَ ومئتي راوٍ، في حين بلغوا زُهاءَ واحدٍ وخمسين وثلاث مئة راوٍ في الفِهرس الذي أعدَّه محقِّقو "سنن الدارقطني"
(3) .
وذكر الدكتور موفَّق عبد القادر في مقدمة تحقيقه لـ"المؤتلف والمختلف": أن لديه قائمة بأسماء شُيوخه الذين روى عنهُم في "السنن"، و"المؤتلف والمختلف"، و"العلل"، والذين ذكرهم الخطيبُ في "تاريخ بغداد" مرتَّبين على حروف المعجم، وفي نيَّتة إخراجُها في مشيخة الدارقطنيِّ.
ولأحد إخواننا من طلبة العلم في اليمن
(4) مُصَنَّف جمع فيه شيوخ
--------------------------------------------
আদ-দারা কুতনীর শিক্ষকগণ:
আবুল হাসান আলি বিন ওমর আদ-দারা কুতনী তাঁর জীবনের প্রাথমিক লগ্নেই ইলম অন্বেষণ শুরু করেন এবং ইলম অর্জন ও সংগ্রহের জন্য তাঁর সফরসমূহ ছিল বহুবিধ; ফলে তাঁর সেই সকল শিক্ষকদের সংখ্যাও অনেক যাদের নিকট হতে তিনি ইলম গ্রহণ করেছেন এবং পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন।
ড. মাহফুজুর রহমান জাইনুল্লাহ আস-সালাফী
(১) এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, "আল-ইলাল" গ্রন্থে আদ-দারা কুতনীর শিক্ষকের সংখ্যা দুইশরও অধিক, অতঃপর তিনি তাঁদের মধ্য থেকে তাঁর প্রসিদ্ধতম বাইশজন বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেছেন।
অনুরূপভাবে ড. আব্দুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আর-রুহাইলি
(২) কেবল তাঁর "আস-সুনান" গ্রন্থেই তাঁর বর্ণিত শিক্ষকদের সংখ্যা গণনা করেছেন এবং তা দুইশত নব্বই জনে পৌঁছেছে, যেখানে "সুনানে আদ-দারা কুতনী" এর গবেষকগণ কর্তৃক প্রস্তুতকৃত সূচিতে তাঁদের সংখ্যা প্রায় তিনশত একান্ন জনে উপনীত হয়েছে
(৩) ।
ড. মুওয়াফফাক আব্দুল কাদির তাঁর "আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ" গ্রন্থের তাহকিকের ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন যে: তাঁর নিকট আদ-দারা কুতনীর ঐ সকল শিক্ষকদের নামের একটি তালিকা রয়েছে যাদের থেকে তিনি "আস-সুনান", "আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ" এবং "আল-ইলাল" গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন, এবং যাদের কথা খতিব বাগদাদী "তারিখে বাগদাদ" গ্রন্থে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। এটি "মাশইয়াখাতুদ দারা কুতনী" (আদ-দারা কুতনীর শিক্ষক তালিকা) হিসেবে প্রকাশ করার ইচ্ছা তাঁর রয়েছে।
ইয়েমেনের আমাদের একজন তালিবে ইলম ভাইয়ের
(৪) একটি সংকলন রয়েছে যাতে তিনি শিক্ষকদের একত্রিত করেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الدارقطني، وترجم لمن استطاع العثور على ترجمة له منهم، ولما يطبع بعد.
لذا رأينا أن الجهودَ السابقةَ المبذولةَ في إحصاء شيوخ الدارقطني كفَتنا مؤونةَ جمعهم، فآثرنا الاقتصار على ذكر شُيوخِه الذين روى عنهم في كتابنا هذا "سؤالات السلمي"، وقد بلغوا خمسةً وعشرين شيخًا، نوردهُم مرتَّبينَ على حروف المعجم
(1) :
1- إبراهيم بن حمَّاد بن إسحاق، أبو إسحاق الأَزْدي البصري (ت 323هـ) . [261] .
2- إبراهيم بن محمَّد، أبو إسحاق المعدَّلُ النَّسَويُّ. [475] .
3- أحمد بن محمَّد بن عبد الله بن زياد، أبو سَهْل القطَّان البغدادي (ت 350هـ) . [50] .
4- أحمد بن المُطَّلب بن عبد الله بن هارون الواثق، أبو بكر الهاشِمي (ت 344هـ) . [116] و [346] .
5- أحمد بن نَصْر بن طالب، أبو طالب الحافظُ البغدادي (ت 323هـ) . [33] و [143] و [241] .
6- الحسين بن إسماعيلَ بن محمَّد، أبو عبد الله الضَّبِّي البغدادي المَحامِلي (ت 330هـ) . [274] .
--------------------------------------------
আদ-দারাকুতনী; এবং তিনি তাঁদের জীবনী উল্লেখ করেছেন যাঁদের জীবনী পাওয়া সম্ভব হয়েছে এবং যা এখনও মুদ্রিত হয়নি।
তাই আমরা মনে করি যে আদ-দারাকুতনীর শিক্ষকদের গণনার ক্ষেত্রে পূর্ববর্তী প্রচেষ্টাগুলো আমাদের তাঁদের একত্রিত করার পরিশ্রম লাঘব করেছে। ফলে আমরা আমাদের এই কিতাব "সুয়ালাত আস-সুলামী"-তে কেবল সেই শিক্ষকদের উল্লেখ করার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা পছন্দ করেছি যাঁদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন। তাঁদের সংখ্যা পঁচিশ জন। আমরা তাঁদেরকে বর্ণানুক্রমে উল্লেখ করছি
(১):
১- ইব্রাহিম বিন হাম্মাদ বিন ইসহাক, আবু ইসহাক আল-আজদি আল-বসরি (ওফাত ৩২৩ হি.)। [২৬১]।
২- ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ, আবু ইসহাক আল-মুআদ্দাল আন-নাসায়ি। [৪৭৫]।
৩- আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন জিয়াদ, আবু সাহল আল-কাত্তান আল-বাগদাদি (ওফাত ৩৫০ হি.)। [৫০]।
৪- আহমদ বিন আল-মুত্তালিব বিন আবদুল্লাহ বিন হারুন আল-ওয়াসিক, আবু বকর আল-হাশিমি (ওফাত ৩৪৪ হি.)। [১১৬] এবং [৩৪৬]।
৫- আহমদ বিন নাসর বিন তালিব, আবু তালিব আল-হাফিজ আল-বাগদাদি (ওফাত ৩২৩ হি.)। [৩৩], [১৪৩] এবং [২৪১]।
৬- আল-হুসাইন বিন ইসমাইল বিন মুহাম্মদ, আবু আবদুল্লাহ আদ-দব্বি আল-বাগদাদি আল-মাহামিলি (ওফাত ৩৩০ হি.)। [২৭৪]।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২৬)
7- دَعْلَج بن أحمد، أبو محمَّد السِّجْزِي المعدِّل الإمام الفقيه. (ت 351هـ) . [35] .
8- عبد الرَّحيم بن إسماعيلَ القاضي. [56] و [57] .
9- عبد الله بن محمَّد بن زياد، أبو بكر النَّيْسابوري الشافعي (ت 324هـ) . [46] و [365] و [382] و [418] .
10- عبد الله بن محمَّد بن عبد العزيز، أبو القاسِم البَغَويُّ (ت 317هـ) . [213] .
11- عبد الله بن محمَّد بن عبد الله بن الناصِح، أبو أحمدَ ابن المُفَسِّر الدمشقي، نزيل مِصْر (ت 365هـ) . [121] و [122] .
12- عبد الله بن يَحيى بن معاوية، أبو بكر الطَّلْحيُّ الكوفي (ت 358هـ) . [426] .
13- عثمان بن أحمدَ بن عبد الله، أبو عمرو ابن السمَّاك الدقَّاق (ت 344هـ) . [268] و [471] .
14- عليُّ بن موسى بن إسحاقَ، أبو الحسن، يُعرَف بـ «ابن الرزَّاز» . [415] .
15- القاسم بن إسماعيلَ، أبو عُبَيد الضَّبِّي (ت 323هـ) . [269] .
16- محمَّد بن أحمدَ بن إسحاقَ، أبو علي الصوَّاف (ت 359) . [472]
৭- দা’লাজ ইবনে আহমাদ, আবু মুহাম্মাদ আস-সিজযি আল-মুআদ্দিল, ইমাম ও ফকিহ। (মৃত্যু ৩৫১ হিজরি)। [৩৫]।
৮- আবদুর রহিম ইবনে ইসমাইল আল-কাদি। [৫৬] ও [৫৭]।
৯- আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে যিয়াদ, আবু বকর আন-নায়সাবুরি আশ-শাফেয়ি (মৃত্যু ৩২৪ হিজরি)। [৪৬] ও [৩৬৫] ও [৩৮২] ও [৪১৮]।
১০- আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল আজিজ, আবুল কাসিম আল-বাগাওয়ি (মৃত্যু ৩১৭ হিজরি)। [২১৩]।
১১- আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে আন-নাসিহ, আবু আহমাদ ইবনুল মুফাসসির আদ-দিমাশকি, মিশরে বসবাসকারী (মৃত্যু ৩৬৫ হিজরি)। [১২১] ও [১২২]।
১২- আবদুল্লাহ ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে মুআবিয়া, আবু বকর আত-তালহি আল-কুফি (মৃত্যু ৩৫৮ হিজরি)। [৪২৬]।
১৩- উসমান ইবনে আহমাদ ইবনে আবদুল্লাহ, আবু আমর ইবনুল সাম্মাক আদ-দাক্কাক (মৃত্যু ৩৪৪ হিজরি)। [২৬৮] ও [৪৭১]।
১৪- আলি ইবনে মুসা ইবনে ইসহাক, আবুল হাসান, তিনি ‘ইবনুর রাযযায’ নামে পরিচিত। [৪১৫]।
১৫- আল-কাসিম ইবনে ইসমাইল, আবু উবাইদ আদ-দাব্বি (মৃত্যু ৩২৩ হিজরি)। [২৬৯]।
১৬- মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইসহাক, আবু আলি আস-সওয়াফ (মৃত্যু ৩৫৯ হিজরি)। [৪৭২]
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২৭)
17- محمَّد بن أحمدَ بن عبد الله، أبو طاهر الذُّهْلي، قاضي الدِّيار المِصْرية (ت 367هـ) . [51] .
18- محمَّد بن أحمدَ بن محمَّد بن جعفر، أبو بكر الحدَّاد الكِناني المِصْري الشافعي (345هـ) . [477] .
19- محمَّد بن داودَ بن سليمانَ، أبو بكر النَّيْسابوري (ت 342هـ) . [45] .
20- محمَّد بن عبد الله بن زَكَريَّا بن حَيُّويَه، أبو الحسن المِصْري (ت 366هـ) . [130] و [166] .
21- محمَّد بن عُبَيد الله بن طاهر، أبو جعفر لقبه «مُسَلَّم» بالتشديد. [468]
22- محمَّد بن مَخْلَد بن حَفْص، أبو عبد الله الدُّوري العَطَّار (331هـ) . [115] و [181] و [249] و [293] و [401] .
23- محمَّد بن نوح، أبو الحسن الجُنْدَيْسابُوريُّ الفارِسيُّ نزيل بغداد (ت 321هـ) . [136]
24- محمَّد بن يَحيى بن عبد الله، أبو بكر الصُّولي البغدادي (ت 335) . [146] .
25- يحيى بن محمَّد بن صاعِد، أبو محمَّد الهاشميُّ البغدادي (318هـ) . [248] .
১৭- মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ, আবু তাহের আয-যুহলি, মিশরীয় ভূখণ্ডের বিচারক (মৃত্যু ৩৬৭ হিজরী)। [৫১]।
১৮- মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর, আবু বকর আল-হাদ্দাদ আল-কিনানি আল-মিসরি আশ-শাফিঈ (৩৪৫ হিজরী)। [৪৭৭]।
১৯- মুহাম্মদ বিন দাউদ বিন সুলাইমান, আবু বকর আন-নাইসাবুরি (মৃত্যু ৩৪২ হিজরী)। [৪৫]।
২০- মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন যাকারিয়া বিন হাইয়ুওয়াহ, আবুল হাসান আল-মিসরি (মৃত্যু ৩৬৬ হিজরী)। [১৩০] এবং [১৬৬]।
২১- মুহাম্মদ বিন উবায়দুল্লাহ বিন তাহের, আবু জাফর, তার উপাধি হলো «মুসাল্লাম» তাশদিদ সহকারে। [৪৬৮]
২২- মুহাম্মদ বিন মাখলাদ বিন হাফস, আবু আব্দুল্লাহ আদ-দুরি আল-আত্তার (৩৩১ হিজরী)। [১১৫] এবং [১৮১] এবং [২৪৯] এবং [২৯৩] এবং [৪০১]।
২৩- মুহাম্মদ বিন নুহ, আবুল হাসান আল-জুন্দাইসাবুরি আল-ফারিসি, বাগদাদে বসবাসকারী (মৃত্যু ৩২১ হিজরী)। [১৩৬]
২৪- মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন আব্দুল্লাহ, আবু বকর আস-সুলি আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৩৩৫ হিজরী)। [১৪৬]।
২৫- ইয়াহইয়া বিন মুহাম্মদ বিন সায়েদ, আবু মুহাম্মদ আল-হাশেমি আল-বাগদাদি (৩১৮ হিজরী)। [২৪৮]।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২৮)
تلاميذه:
عرف طلاَّبُ العلم المنزلةَ التي ارتقاها الدارقطنيُّ فسَعَوا إليه من كل صَوْبٍ، ووَفَدوا عليه من كل مِصر، راغبينَ في الأخذ عنه، وحريصينَ على السَّماع منه. وكثيرٌ ممَّن تلقَّى منه وتخرَّج به غَدوا من أعلام الأمَّة الكبار الذين يشارُ إليهم بالبَنان، ويؤخذ عنهم العلمُ والرِّواية. وقد ذكر الذهبيُّ جماعةً منهم في ترجمة الدارقطنيِّ في "سير أعلام النبلاء"، ونكتفي هنا بذكر أشهَرِهِم:
1- الحافظ أبو عبد الله محمَّد بن عبد الله الحاكم النَّيْسابوري (ت 405)
(1) .
2- الحافظ أبو محمَّد عبد الغني بن سعيد الأَزْدي المِصْري (ت 409)
(2) .
3- الحافظ أبو القاسِم تَمَّام بن محمَّد الرَّازي (ت 414)
(3) .
4- الحافظ أبو بكر أحمد بن محمد بن أحمد بن غالب البرقاني (ت 425 هـ)
(4) .
4- الحافظ أبو نُعَيم أحمدُ بن عبد الله الأَصْبَهاني (ت 430)
(5) .
--------------------------------------------
তাঁর ছাত্রগণ:
ইলম অন্বেষণকারীগণ ইমাম দারাকুতনী যে সুউচ্চ মর্যাদায় আরোহণ করেছিলেন তা অবগত ছিলেন, তাই তাঁরা চতুর্দিক থেকে তাঁর পানে ছুটে আসতেন এবং প্রতিটি জনপদ থেকে তাঁর কাছে উপস্থিত হতেন; তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল তাঁর থেকে জ্ঞান আহরণ করা এবং তাঁর নিকট থেকে হাদিস শ্রবণের প্রতি তাঁরা ছিলেন অত্যন্ত আগ্রহী। তাঁর নিকট থেকে যাঁরা শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং তাঁর সান্নিধ্যে থেকে যোগ্য হয়ে গড়ে উঠেছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকেই উম্মাহর এমন মহান ব্যক্তিত্ত্বে পরিণত হয়েছেন যাঁদের দিকে আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করা হয় এবং যাঁদের থেকে ইলম ও বর্ণনা গ্রহণ করা হয়। ইমাম যাহাবী ‘সিয়ারু আ’লামিন নুবালা’ গ্রন্থে দারাকুতনীর জীবনী আলোচনায় তাঁদের একটি দলের কথা উল্লেখ করেছেন, আমরা এখানে কেবল তাঁদের মধ্যে সর্বাধিক প্রসিদ্ধদের উল্লেখ করার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকছি:
১- হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হাকিম আন-নাইসাবুরি (মৃ. ৪০৫)
(১) ।
২- হাফেজ আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি বিন সাঈদ আল-আজদি আল-মিসরি (মৃ. ৪০৯)
(২) ।
৩- হাফেজ আবুল কাসিম তাম্মাম বিন মুহাম্মাদ আর-রাজি (মৃ. ৪১৪)
(৩) ।
৪- হাফেজ আবু বকর আহমাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন গালিব আল-বারকানি (মৃ. ৪২৫ হিজরি)
(৪) ।
৫- হাফেজ আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানি (মৃ. ৪৩০)
(৫) ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ২৯)
مُصَنَّفاتُ الدارَقُطنيِّ:
يعدُّ الدارقطنيُّ من المُكثرين من التصنيف، فقد خلَّفَ لنا عشراتِ الكتب الجليلة النافعة في غير ما علمٍ وفنٍّ، جُلُّها في علم الحديث ونقده.
وقد تَتبَّع كثيرٌ من الباحثين مصنفات الدارقطنيٍّ المطبوعة وغيرها، منهم الدكتور محفوظ الرحمن زين الله السَّلَفي في مقدمة تحقيقه لكتاب "العلل الواردة في الأحاديث النبويَّة" المعروف بـ"علل الدارقطني"، والدكتور موفَّق بن عبد القادر في مقدمة تحقيقه لكتاب "المُؤتَلف والمُختلف"، والدكتور عبد الله بن ضَيف الله الرُّحَيلي في كتابه: "الإمامُ أبو الحسن الدارقُطني وآثارُه العلميَّة"، جزاهم اللهُ خيرًا.
ونورد فيما يلي أشهر ما وقفنا عليه من مؤلَّفاته المطبوعة مرتَّبةً على حروف المعجم:
1- الأحاديثُ التي خُولفَ فيها إمامُ دار الهجرة مالكُ بن أنس.
2- أحاديثُ الموطَّأ، واتِّفاقُ الرُّواة عن مالك، واختلافُهم فيه، وزياداتُهم ونُقصانُهم، ويعرف أيضًا بـ"اختلاف الْمُوَطَّآت".
3- أخبارُ عمرو بن عُبَيد، وكلامُه في القرآن، وإظهارُ بدعته.
* اختلاف الْمُوَطَّآت = أحاديث الموطَّأ
4- الإخوَةُ والأخوات. مطبوعٌ بعضُه ومفقودٌ سائرُه.
5- أربعونَ حديثًا من مسند بُرَيد بن عبد الله بن أبي بُرْدَة.
দারা কুতনীর রচনাবলী:
দারা কুতনী প্রভূত রচনার অধিকারী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি আমাদের জন্য বিভিন্ন জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শাস্ত্রের ওপর বহু মূল্যবান ও উপকারী কিতাব রেখে গেছেন, যার অধিকাংশই ইলমে হাদীস এবং এর সমালোচনা ও পর্যালোচনার ওপর।
অনেক গবেষক দারা কুতনীর মুদ্রিত এবং অমুদ্রিত রচনাবলী অনুসন্ধান করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ডক্টর মাহফূযুর রহমান যয়নুল্লাহ আস-সালাফী তার সম্পাদিত "আল-ইলাল আল-ওয়ারিদাহ ফিল আহাদিস আন-নাবাবিয়্যাহ" যা "ইলালুদ দারা কুতনী" নামে পরিচিত কিতাবটির ভূমিকায়; ডক্টর মুওয়াফফাক বিন আবদুল কাদির তার সম্পাদিত "আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ" কিতাবটির ভূমিকায়; এবং ডক্টর আবদুল্লাহ বিন দাইফুল্লাহ আর-রুহাইলী তার রচিত "আল-ইমাম আবুল হাসান আদ-দারা কুতনী ওয়া আসারুহুল ইলমিয়্যাহ" কিতাবে। আল্লাহ তাদের উত্তম প্রতিদান দিন।
নিম্নে আমরা তার রচিত যে সকল প্রসিদ্ধ মুদ্রিত কিতাবগুলোর সন্ধান পেয়েছি তা বর্ণানুক্রমে উল্লেখ করছি:
১- সেই হাদীসসমূহ যেগুলোতে দারুল হিজরাতের ইমাম মালিক বিন আনাসের বিরোধিতা করা হয়েছে।
২- মুয়াত্তার হাদীসসমূহ এবং মালিকের সূত্রে বর্ণনাকারীদের ঐকমত্য, তাদের মতভেদ, তাদের হাদীসের বর্ধিত অংশ ও সংক্ষিপ্ততা। এটি "ইখতিলাফুল মুয়াত্তআত" নামেও পরিচিত।
৩- আমর ইবনে উবাইদের সংবাদসমূহ, কুরআন সম্পর্কে তার বক্তব্য এবং তার বিদআত প্রকাশ করা।
* ইখতিলাফুল মুয়াত্তআত = মুয়াত্তার হাদীসসমূহ
৪- ভাই ও বোন। এর কিছু অংশ মুদ্রিত এবং বাকি অংশ নিখোঁজ।
৫- বুরাইদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবি বুরদার মুসনাদ থেকে সংগৃহীত চল্লিশটি হাদীস।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৩০)
6- الأسخياء والأجواد، طبع باسم: المستجاد من فعلات الأجواد.
7- أسماءُ التابعينَ ومن بعدَهُم ممَّن صَحَّت روايتُه عند مسلم.
8- الإلزاماتُ على صَحيحَي البخاريِّ ومسلم.
9- التتَبُّع: وهو في ذكر أحاديث معلولة اشتمل عليها كتاب البخاري ومسلم، أو أحدهما، بيَّن الدارقطني عللها والصواب فيها.
10- تعليقٌ واستدراكاتٌ للدارقطنيِّ على كتاب "المجروحين" لابن حبَّان.
11- الجُزء الثالثُ والعشرونَ من حديث أبي طاهِر محمَّد بن أحمدَ بن عبد الله الذُّهْلي القاضي.
12- جزء فيه علل أحاديث أودعها البخاري في صحيحه.
13- ذكرُ أسماء التابعينَ ومن بعدَهُم ممَّن صَحَّت روايتُه عند البخاريِّ.
14- ذكرُ قومٍ أخرجَ لهم البخاريُّ ومسلمٌ في صَحيحَيهما، وضعَّفهُم النسائيُّ في كتاب "الضعفاء".
15- رؤيةُ الله تعالى، وطبع مرة أخرى بعنوان: الرؤية
16- السُّنَن.
17- سُؤالاتُ البَرْقاني.
6- দানশীল এবং উদার ব্যক্তিবর্গ, যা 'আল-মুস্তাজাদ মিন ফালাতিল আজওয়াদ' নামে মুদ্রিত হয়েছে।
7- তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী ব্যক্তিবর্গ যাদের বর্ণনা মুসলিমের নিকট সহীহ।
8- বুখারী ও মুসলিমের দুই সহীহ গ্রন্থের ওপর আল-ইলযামাত।
9- আত-তাতাব্বু: এটি বুখারী ও মুসলিমের গ্রন্থদ্বয়ে অথবা তাদের যেকোনো একটিতে অন্তর্ভুক্ত ত্রুটিযুক্ত হাদিসসমূহের বর্ণনায় রচিত, যেখানে দারাকুতনী সেগুলোর ত্রুটি এবং সেগুলোর সঠিক রূপ স্পষ্ট করেছেন।
10- ইবনু হিব্বানের 'আল-মাজরুহীন' গ্রন্থের ওপর দারাকুতনীর টীকা ও সংশোধনী।
11- কাজী আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আবদুল্লাহ আয-যুহলীর হাদিসের ২৩তম খণ্ড।
12- একটি পুস্তিকা যাতে বুখারী তার সহীহ গ্রন্থে যে সকল হাদিস উল্লেখ করেছেন সেগুলোর ত্রুটিসমূহ বর্ণিত হয়েছে।
13- তাবেয়ী এবং তাদের পরবর্তী ব্যক্তিবর্গ যাদের বর্ণনা বুখারীর নিকট সহীহ।
14- এমন একদল লোকের বর্ণনা যাদেরকে বুখারী ও মুসলিম তাদের সহীহদ্বয়ে গ্রহণ করেছেন, অথচ নাসায়ী তার 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে তাদের দুর্বল বলেছেন।
15- আল্লাহ তায়ালার দর্শন, এবং এটি পুনরায় 'আর-রুয়্যাহ' শিরোনামে মুদ্রিত হয়েছে।
16- আস-সুনান।
17- আল-বারকানীর প্রশ্নাবলী।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৩১)
18- سُؤالاتٌ أُخْرى للبَرْقاني.
19- سُؤالاتُ أبي عبد الله الحاكم.
20- سُؤالاتُ السُّلَمي. وهو كتابُنا هذا.
21- سُؤالاتُ السَّهْمي.
22- سؤالات أبي عبد الله بن بكير للدار قطني.
23- الصِّفاتُ، أو أحاديثُ الصِّفات.
24- الضُّعَفاء والمتروكونَ من المُحدِّثين.
25- العِلَلُ، أو العِلَلُ الواردةُ في الأحاديث النبويَّة.
26- فَضائلُ الصَّحابة. مطبوع بعضُه ومفقودٌ سائرُه.
27- الفَوائدُ المُنتَخَبة من حديث أبي عليٍّ محمَّد بن أحمدَ بن الحسن المعروف بابن الصوَّاف.
28- المُؤتَلفْ والمُختَلفْ.
29- النُّزول. أو أحاديثُ النُّزول.
১৮- আল-বারকানির অন্যান্য প্রশ্নাবলি।
১৯- আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিমের প্রশ্নাবলি।
২০- আস-সুলামির প্রশ্নাবলি। এটিই আমাদের এই গ্রন্থ।
২১- আস-সাহমির প্রশ্নাবলি।
২২- আদ-দারা কুতনির নিকট আবু আবদুল্লাহ ইবন বুকাইরের প্রশ্নাবলি।
২৩- আল-সিফাত (গুণাবলি), অথবা সিফাত সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।
২৪- মুহাদ্দিসগণের মধ্যে যারা দুর্বল এবং পরিত্যক্ত।
২৫- আল-ইলাল (সুক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ), অথবা নবিজির হাদিসসমূহে বর্ণিত সুক্ষ্ম ত্রুটিসমূহ।
২৬- ফাদায়িলুস সাহাবা (সাহাবিদের মর্যাদা)। এর কিছু অংশ মুদ্রিত এবং অবশিষ্ট অংশ নিখোঁজ।
২৭- ইবন আস-সাউওয়াফ নামে পরিচিত আবু আলি মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আল-হাসানের বর্ণিত হাদিস থেকে সংকলিত নির্বাচিত ফাওয়াইদসমূহ।
২৮- আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ।
২৯- আন-নুজুল (আল্লাহর অবতরণ), অথবা অবতরণ সংক্রান্ত হাদিসসমূহ।
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
التَّعريف بالسُّلَمي (1) :
اسمُه ونَسَبُه ومَولدُه:
هو: محمَّد بن الحُسَين بن محمَّد بن موسى بن خالد بن سالِم بن راوِيَة بن سعيد بن قَبيصَة بن سُراقَة، أبو عبد الرحمن، الأَزْدي، السُّلَمي الصُّوفي.
والأَزْدي: نسبةٌ إلى «أَزْد شَنُوءَة» ، وهي قَبيلة أبيهِ، لكنَّه اشْتُهر بـ"السُّلمي"، وهي نسبةٌ إلى قَبيلة أُمِّه بني سُلَيم.
مَولدُه:
وُلدَ السُّلَمي في عاشِر جُمادى الآخِرَة، سنةَ خمسٍ وعشرينَ
--------------------------------------------
আস-সুলামীর পরিচিতি(১) :
তাঁর নাম, বংশপরিচয় ও জন্ম:
তিনি হলেন: মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন মুসা বিন খালিদ বিন সালিম বিন রাবিয়াহ বিন সাঈদ বিন কাবিদাহ বিন সুরাকাহ, আবু আবদুর রহমান, আল-আযদি, আস-সুলামী আস-সুফি।
‘আল-আযদি’ হলো ‘আযদি শানুয়াহ’-র সাথে সম্পৃক্ততা, যা তাঁর পিতার গোত্র; কিন্তু তিনি ‘আস-সুলামী’ হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন, যা তাঁর মাতার গোত্র ‘বনু সুলাইম’-এর সাথে সম্পৃক্ত।
তাঁর জন্ম:
আস-সুলামী তিনশ পঁচিশ হিজরি সনের দশই জুমাদাল আখিরা জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
সুয়ালাতুস সুলামি লিদ দারাকুতনী
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وثلاثِ مئة، على ما ذكر تلميذُه أبو سعيد محمَّد بن علي الخَشَّاب
(1) .
وقيل: وُلدَ يوم الثَّلاثاء، العاشرِ من جُمادى الآخِرَة، سنةَ ثلاثينَ وثلاثِ مئة.
نَشأتُه وطَلَبُه للعِلم:
نشأ أبو عبد الرحمن السُّلمي في بيتٍ يغلبُ عليه التصَوُّف والزُّهد؛ فأبوه الحسين بن محمَّد كان من الزَّاهِدينَ السَّالكين طرقَ التصوُّف، ولم يُعرَف عنه العنايةُ بطلب العلم أو رواية الحديث.
أمَّا جَدُّه لأمه فهو الشيخُ العالم المحدِّث الزاهد الصُّوفي الكبير أبو عمرو إسماعيل بن نُجَيد بن أحمد بن يوسُف السُّلمي
(2) . وأمَّا جدُّ جدِّه أحمد بنُ يوسفَ السُّلميُّ فكان من ثقاتِ المحدِّثينَ، سأل أبو عبد الرحمن السلمي عنه الدارقطنيَّ فقال: ثقةٌ نبيل
(3) .
ولقد لازمَ السُّلميُّ جدَّه أبا عمرو ملازمةً، فانتفع بذلك أيَّ نفع، فكان رفيقَه في حضور العلم ومجالس الرِّواية والتحديث. ولم ينتفع
--------------------------------------------
এবং তিনশত হিজরি, যেমনটি তাঁর ছাত্র আবু সাঈদ মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-খাশশাব
(১) উল্লেখ করেছেন।
আর বলা হয়েছে: তিনি ৩৩০ হিজরির ১০ জুমাদাল আখিরাহ মঙ্গলবার জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর বেড়ে ওঠা এবং জ্ঞান অন্বেষণ:
আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী এমন এক পরিবারে বেড়ে ওঠেন যেখানে তাসাউফ ও যুহদ (সংসারবিরাগ) প্রবল ছিল; কেননা তাঁর পিতা হুসাইন ইবনে মুহাম্মদ ছিলেন তাসাউফের পথে চলা যাহিদদের অন্তর্ভুক্ত, তবে জ্ঞান অন্বেষণ বা হাদীস বর্ণনার প্রতি তাঁর বিশেষ মনোযোগের কথা জানা যায় না।
তাঁর নানা ছিলেন প্রখ্যাত শাইখ, আলেম, মুহাদ্দিস, যাহিদ ও মহান সূফী আবু আমর ইসমাইল ইবনে নুজাইদ ইবনে আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামী
(২)। আর তাঁর পরদাদা আহমাদ ইবনে ইউসুফ আস-সুলামী ছিলেন নির্ভরযোগ্য মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত; আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী তাঁর সম্পর্কে আদ-দারা কুতনীকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন: তিনি একজন নির্ভরযোগ্য ও মহৎ ব্যক্তি
(৩)।
আস-সুলামী তাঁর নানা আবু আমরের সান্নিধ্যে সার্বক্ষণিক লেগে ছিলেন এবং এর মাধ্যমে তিনি প্রভূত উপকৃত হয়েছিলেন। তিনি জ্ঞান অর্জন ও হাদীস বর্ণনার মজলিসগুলোতে তাঁর সঙ্গী ছিলেন। এবং তিনি উপকৃত হননি
--------------------------------------------