(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: -)
الروض المربع شرح زاد المستقنع - ط المؤيد والرسالة   (البهوتي)

القسم: الفقه الحنبلي


الكتاب: الروض المربع شرح زاد المستقنع

المؤلف: منصور بن يونس البهوتى

ومعه حاشية نفيسة: للشيخ العالم محمد بن صالح العثيمين [وقد خَلَتْ منها هذه النسخة الإلكترونية]

وتعليقات مفيدة مِن نُسْخة: العلامة الشيخ عبدالرحمن بن ناصر السعدي [وقد خَلَتْ منها أيضا هذه النسخة الإلكترونية]

خرج أحاديثه: عبد القدوس محمد نذير

حققه: المكتب العِلْمي لمؤسسة الرسالة

الناشر: (دار المؤيد- الرياض)، (مؤسسة الرسالة - بيروت)

الطبعة: الأولى 1417 هـ - 1996 م

عدد الصفحات: 735 (في مجلد واحد)

تنبيهات:

1 - نص هذه النسخة الإلكترونية مأخوذ عن طبعة أخرى للكتاب؛ فلْيراجَع المطبوع للتحقق من نصها على وجه الدقة

2 - قام كل من الناشرَين أعلاه بطباعة هذه الطبعة مرارا (كل منهما على حِدة) بنفس الصف

كما أعاد الناشران طباعة الكتاب (طبعة ثانية) عام 1418 هـ 1997 م في (مجلدين) بصَفّ جديد

ثم أعادَتْ (صَفّه) مؤسسة الرسالة (ناشرون) بحرف جديد (بعناية: محمد مِرابي) عام 1432 هـ - 2011 م في (مجلد واحد)

كما أن لمكتبة المؤيد (بالطائف) و (مكتبة دار البيان بدمشق) طبعة أخرى سابقة (بتحقيق: بشير عيون) عام 1411 هـ-1990 م (بصَفّ مختلف)

و (لمكتبة) المؤيد بالطائف نشرةً أقدَم عام 1389 هـ 1969 م (بصَفّ مختلف)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আর-রওযুল মুরবি' শারহু জাদিল মুস্তাকনি' - আল-মুয়ায়্যাদ ও আর-রিসালাহ সংস্করণ   (আল-বাহুতি)

বিভাগ: হাম্বলি ফিকহ


বই: আর-রওযুল মুরবি' শারহু জাদিল মুস্তাকনি'

লেখক: মানসুর বিন ইউনুস আল-বাহুতি

এবং এর সাথে রয়েছে একটি মূল্যবান পাদটীকা: বিজ্ঞ শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল-উসাইমীন কর্তৃক [তবে এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি তা থেকে মুক্ত অর্থাৎ এটিতে তা নেই]

এবং একটি সংস্করণ থেকে সংগৃহীত উপকারী টীকা: আল্লামা শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী কর্তৃক [এই ইলেকট্রনিক সংস্করণটি তা থেকেও মুক্ত অর্থাৎ এটিতে তা নেই]

হাদিস তখরিজ করেছেন: আব্দুল কুদ্দুস মুহাম্মদ নাজির

সম্পাদনা ও তাহকিক করেছেন: মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ-এর বৈজ্ঞানিক দপ্তর

প্রকাশক: (দারুল মুয়ায়্যাদ- রিয়াদ), (মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ - বৈরুত)

সংস্করণ: প্রথম সংস্করণ ১৪১৭ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৩৫ (এক খণ্ডে)

সতর্কবাণী:

১ - এই ইলেকট্রনিক সংস্করণের টেক্সট বইটির অন্য একটি সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে; তাই টেক্সটের সঠিকতা নিশ্চিত করতে মূল মুদ্রিত কপির সাথে মিলিয়ে দেখা উচিত

২ - উপরের প্রকাশকদের প্রত্যেকেই এই সংস্করণটি একই সেট-আপে বারবার মুদ্রণ করেছেন (উভয়েই আলাদাভাবে)

প্রকাশকদ্বয় বইটির একটি দ্বিতীয় সংস্করণ ১৪১৮ হিজরি ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দে নতুন সেট-আপে (দুই খণ্ডে) পুনরায় মুদ্রণ করেছেন

অতঃপর মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ (পাবলিশার্স) নতুন হরফে (সম্পাদনা করেছেন: মুহাম্মাদ মিরাবি) ১৪৩২ হিজরি - ২০১১ খ্রিস্টাব্দে পুনরায় (এক খণ্ডে) কম্পোজ করেছে

এছাড়াও মাকতাবাতুল মুয়ায়্যাদ (তায়েফ) এবং (মাকতাবাতু দারুল বায়ান, দামেস্ক) এর অধীনে একটি পূর্ববর্তী সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে (সম্পাদনায়: বাশির উয়ুন) ১৪১১ হিজরি - ১৯৯০ খ্রিস্টাব্দে (ভিন্ন সেট-আপে)

এবং তায়েফের মুয়ায়্যাদ লাইব্রেরি থেকে একটি প্রাচীন সংস্করণ ১৩৮৯ হিজরি ১৯৬৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত হয়েছে (ভিন্ন সেট-আপে)

[বইটির পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১)
‌‌[مقدمة]

بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ وبه ثقتي

الحمد لله الذي شرح صدر من أراد هدايته للإسلام، وفقه في الدين من أراد به خيرا وفهمه فيما أحكمه من الأحكام، أحمده أن جعلنا من خير أمة أخرجت للناس، وخلع علينا خلعة الإسلام خير لباس. وشرع لنا من الدين ما وصى به نوحا وإبراهيم وموسى وعيسى، وأوحاه إلى محمد صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ، وعليهم أفضل الصلاة والسلام، وأشكره، وشكر المنعم واجب على الأنام، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له ذو الجلال والإكرام، وأشهد أن سيدنا ونبينا محمدا عبده ورسوله وحبيبه وخليله المبعوث لبيان الحلال والحرام، - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَعَلَى آلِهِ - وأصحابه وتابعيهم الكرام.

أما بعد: فهذا شرح لطيف على " مختصر المقنع للشيخ الإمام العلامة والعمدة القدوة الفهامة، هو شرف الدين أبو النجا موسى بن أحمد بن موسى بن سالم بن عيسى بن سالم المقدسي الحجاوي ثم الصالحي الدمشقي، تغمده الله برحمته، وأباحه بحبوحة جنته. يبين حقائقه، ويوضح معانيه ودقائقه. مع ضم قيود يتعين التنبيه عليها، وفوائد يحتاج إليها. مع العجز وعدم الأهلية لسلوك تلك المسالك، لكن ضرورة كونه لم يشرح اقتضت ذلك. والله المسئول بفضله أن ينفع به كما نفع بأصله، وأن يجعله خالصا لوجهه الكريم، وزلفى لدينه في جنات النعيم المقيم.

(بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) أي ابتداء بكل اسم للذات الأقدس، المسمى بهذا الاسم الأنفس، الموصوف بكمال الأنعام وما دونه، أو بإرادة ذلك، أؤلف مستعينا أو ملابسا على وجه التبرك.
[ভূমিকা]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে এবং তাঁর ওপরই আমার পূর্ণ ভরসা।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি ইসলামের দিকে যার হিদায়াত চেয়েছেন তার বক্ষ উন্মোচন করে দিয়েছেন; যার জন্য তিনি কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেছেন এবং যেসব বিধান তিনি সুসংহত করেছেন সেগুলোর বিষয়ে তাকে গভীর সমঝ দান করেছেন। আমি তাঁর প্রশংসা করছি এই কারণে যে, তিনি আমাদের সেই শ্রেষ্ঠ উম্মত বা জাতিভুক্ত করেছেন যাদের মানুষের কল্যাণের জন্য আবির্ভূত করা হয়েছে এবং আমাদের ওপর ইসলামের পোশাক পরিধান করিয়ে দিয়েছেন যা সর্বোত্তম পোশাক। তিনি আমাদের জন্য দ্বীনের সেই বিধানই প্রবর্তন করেছেন যার অসিয়ত তিনি নূহ, ইবরাহীম, মুসা ও ঈসাকে করেছিলেন এবং যা তিনি মুহাম্মাদ (তাঁর ওপর ও তাঁদের ওপর সর্বোত্তম দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর প্রতি ওহী করেছেন। আমি তাঁর শুকরিয়া আদায় করছি, আর দাতা বা নেয়ামতদাতার শুকরিয়া আদায় করা সৃষ্টির ওপর ওয়াজিব। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই, তিনি মহিমাময় ও মহানুভব। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমাদের নেতা ও আমাদের নবী মুহাম্মাদ তাঁর বান্দা, তাঁর রাসুল, তাঁর প্রিয়ভাজন ও অন্তরঙ্গ বন্ধু, যাকে হালাল ও হারাম বর্ণনার জন্য প্রেরণ করা হয়েছে—আল্লাহর দরুদ ও সালাম তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁদের অনুসারী সম্মানিত ব্যক্তিদের ওপর বর্ষিত হোক।

অতঃপর: এটি ইমাম, আল্লামা, অবলম্বন, আদর্শ ও বিজ্ঞ শায়খ শরফুদ্দীন আবু নাজা মুসা বিন আহমাদ বিন মুসা বিন সালিম বিন ঈসা বিন সালিম আল-মাকদিসি আল-হিজ্জাবি অতঃপর আস-সালেহি আদ-দিমাশকি (আল্লাহ তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন এবং জান্নাতের প্রশস্ততায় স্থান দিন) রচিত "মুখতাসারুল মুকনি" গ্রন্থের এক সাবলীল ব্যাখ্যা। এটি গ্রন্থটির হাকিকতসমূহ বর্ণনা করে এবং এর অর্থ ও সূক্ষ্ম বিষয়সমূহ স্পষ্ট করে। এর পাশাপাশি এতে এমন কিছু সীমাবদ্ধতা বা শর্ত যুক্ত করা হয়েছে যেগুলোর দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করা জরুরি এবং এমন কিছু ফায়দা বা উপকারিতা আনা হয়েছে যার প্রয়োজন রয়েছে। যদিও এ পথে চলার মতো আমার অক্ষমতা ও অযোগ্যতা রয়েছে, কিন্তু গ্রন্থটির কোনো ব্যাখ্যা না থাকার প্রয়োজনীয়তা আমাকে এটি ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করেছে। আল্লাহর নিকট তাঁর অনুগ্রহের উসিলায় প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর দ্বারা মানুষকে উপকৃত করেন যেমনটি এর মূল গ্রন্থ দ্বারা করেছেন এবং একে তাঁর মহান সন্তুষ্টির জন্য নিবেদিত করেন ও চিরস্থায়ী নেয়ামতের জান্নাতে তাঁর দ্বীনের নৈকট্য লাভের মাধ্যম বানান।

(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) অর্থাৎ সেই অতি পবিত্র সত্তার প্রতিটি নামের মাধ্যমে শুরু করছি, যিনি এই পরম প্রিয় নামে নামান্বিত এবং যিনি পূর্ণাঙ্গ নেয়ামত দান ও তার নিম্নস্তরের নেয়ামত দান অথবা তা প্রদানের ইচ্ছা দ্বারা গুণান্বিত; বরকত কামনায় অথবা সাহায্য প্রার্থনায় সংশ্লিষ্ট হয়ে আমি এই গ্রন্থ রচনা করছি।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২)
وفي إيثار هذين الوصفين المفيدين للمبالغة في الرحمة إشارة لسبقها من حيث ملاصقتها لاسم الذات وغلبتها من حيث تكرارها على أضدادها وعدم انقطاعها. وقدم الرحمن لأنه علم في قول أو كالعلم من حيث إنه لا يوصف به غيره تعالى؛ لأن معناه المنعم الحقيقي البالغ في الرحمة غايتها، وذلك لا يصدق على غيره.

وابتدأ بها تأسيا بالكتاب العزيز وعملا بحديث «كل أمر ذي بال لم يبدأ فيه ببسم الله فهو أبتر» أي ناقص البركة، وفي

رواية " بالحمد لله " فلذلك جمع بينهما فقال: (الحمد لله) أي جنس الوصف بالجميل أو كل فرد منه مملوك أو مستحق للمعبود بالحق المتصف بكل كمال على الكمال.

والحمد: هو الثناء بالصفات الجميلة والأفعال الحسنة سواء كان في مقابلة نعمة أم لا. وفي الاصطلاح: فعل ينبئ عن تعظيم المنعم بسبب كونه منعما على الحامد أو غيره.

والشكر لغة: هو الحمد، واصطلاحا: صرف العبد جميع ما أنعم الله به عليه لما خلق لأجله. قال تعالى: {وَقَلِيلٌ مِنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ} [سبأ: 13] . وآثر لفظ الجلالة دون باقي الأسماء كالرحمن والخالق إشارة إلى أنه كما يحمد لصفاته يحمد لذاته؛ ولئلا يتوهم اختصاص استحقاقه الحمد بذلك الوصف دون غيره. (حمدا) مفعول مطلق مبين لنوع الحمد لوصفه بقوله: (لا ينفد) بالدال المهملة وفتح الفاء ماضي " نفد " بكسرها أي لا يفرغ (أفضل ما ينبغي) أي يطلب (أن يحمد) أي يثنى عليه ويوصف، و " أفضل " منصوب على أنه بدل من حمدا أو صفته أو حال منه، و " ما " موصول اسمي أو نكرة موصوفه، أي أفضل الحمد الذي ينبغي، أو أفضل حمد ينبغي حمده به.

(وصلى الله) قال الأزهري معنى الصلاة من الله تعالى الرحمة، ومن الملائكة
রহমতের আতিশয্য জ্ঞাপক এই বিশেষ গুণ দুটির নির্বাচনের মধ্যে রহমতের অগ্রগণ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে—যেহেতু এটি সত্তাগত নাম 'আল্লাহর' সাথে সরাসরি যুক্ত এবং এটি স্বীয় বিপরীত গুণাবলির ওপর বারবার উল্লিখিত হওয়ার মাধ্যমে প্রবল ও অবিচ্ছিন্ন। 'আর-রহমান' শব্দটিকে আগে আনা হয়েছে কারণ এটি একটি মতানুসারে আল্লাহর জন্য নির্ধারিত নাম, অথবা এটি এই অর্থে নামের সমতুল্য যে আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কাউকে এই বিশেষণে বিশেষিত করা যায় না; কেননা এর অর্থ হলো এমন প্রকৃত নেয়ামত দানকারী যিনি রহমতের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছেন, আর এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ক্ষেত্রে সত্য হতে পারে না।

তিনি বরকতময় কিতাবের (কুরআন) অনুসরণ করে এবং হাদিসের ওপর আমল করার উদ্দেশ্যে এর মাধ্যমে আরম্ভ করেছেন: "প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ যা বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা হয় না তা আবতার অর্থাৎ বরকতহীন," এবং এক

বর্ণনায় "আলহামদুলিল্লাহ" শব্দটিও এসেছে। এ কারণে তিনি উভয়টিকে একত্রিত করে বলেছেন: (আলহামদুলিল্লাহ) অর্থাৎ সকল প্রকার সুন্দর প্রশংসা অথবা প্রশংসার প্রতিটি একক অংশ সেই সত্য মাবুদের মালিকানাধীন বা তাঁরই প্রাপ্য, যিনি প্রতিটি পূর্ণতায় পূর্ণাঙ্গভাবে ভূষিত।

আর হামদ (প্রশংসা) হলো: সুন্দর গুণাবলি এবং উত্তম কার্যাবলির দ্বারা প্রশংসা করা, তা কোনো নেয়ামতের বিনিময়ে হোক বা না হোক। আর পারিভাষিক অর্থে: এমন এক কাজ যা নেয়ামত দানকারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে, যেহেতু তিনি প্রশংসাকারী বা অন্যের ওপর নেয়ামত দানকারী।

আর আভিধানিক অর্থে শোকর (কৃতজ্ঞতা) হলো হামদ বা প্রশংসা। আর পারিভাষিক অর্থে শোকর হলো: আল্লাহ বান্দাকে যে সকল নেয়ামত দান করেছেন, সেগুলোকে বান্দা সেই উদ্দেশ্যে ব্যয় করা যে উদ্দেশ্যে তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ" [সাবা: ১৩]। আর তিনি অন্যান্য নাম যেমন আর-রহমান বা আল-খালিক বাদ দিয়ে 'আল্লাহ' শব্দটি গ্রহণ করেছেন এই ইঙ্গিত দিতে যে, আল্লাহকে যেমন তাঁর গুণাবলির কারণে প্রশংসা করা হয়, তেমনি তাঁর সত্তার জন্যেও প্রশংসা করা হয়; আর যাতে কেউ এমন ধারণা না করে যে, তাঁর প্রশংসার হকদার হওয়া কেবল ওই বিশেষ গুণটির সাথেই নির্দিষ্ট, অন্য গুণের সাথে নয়। (হামদান) শব্দটি এখানে মাফউলে মুতলাক যা প্রশংসার ধরন বর্ণনা করছে, যেহেতু একে (লা ইয়ানফাদু) কথাটি দ্বারা বিশেষিত করা হয়েছে। এটি 'দাল' বর্ণবিশিষ্ট এবং 'ফা' বর্ণের জবরযুক্ত (এর অতীতকাল হলো 'নাফিদা' যা 'ফা' বর্ণের যের বিশিষ্ট), যার অর্থ—তা নিঃশেষ হবে না। (আফদালা মা ইয়ানবাগী) অর্থাৎ যা কাম্য বা যা চাওয়া হয়। (আন ইউহমাদা) অর্থাৎ যার দ্বারা প্রশংসা ও গুণকীর্তন করা হয়। আর 'আফদালা' শব্দটি মানসুব হয়েছে 'হামদান' শব্দের বদল অথবা সিফাত অথবা হাল হিসেবে। আর 'মা' শব্দটি ইসমে মাওসুল অথবা নাকেরা-এ-মাওসুফাহ। অর্থাৎ সেই সর্বোত্তম প্রশংসা যা সমীচীন, অথবা এমন সর্বোত্তম প্রশংসা যা দ্বারা তাঁর প্রশংসা করা সমীচীন।

(ওয়া সাল্লাল্লাহু) আযহারী বলেন: আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সালাত হওয়ার অর্থ হলো রহমত বা দয়া, আর ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে সালাত হওয়ার অর্থ...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
الاستغفار، ومن الآدميين التضرع والدعاء. (وسلم) من السلام بمعنى التحية أو السلامة من النقائص والرذائل أو الأمان. والصلاة عليه صلى الله عليه وسلم مستحبة تتأكد يوم الجمعة وليلتها، وكذا كلما ذكر اسمه. وقيل بوجوبها إذ قال الله تعالى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [الأحزاب: 56] ، وروي: «من صلى علي في كتاب لم تزل الملائكة تستغفر له ما دام اسمي في ذلك الكتاب» وأتى بالحمد بالجملة الاسمية الدالة على الثبوت والدوام لثبوت مالكية الحمد أو استحقاقه له أزلا وأبدا، وبالصلاة بالفعلية الدالة على التجدد أي الحدوث لحدوث المسئول وهو الصلاة أي الرحمة من الله (على أفضل المصطفين محمد) بلا شك لقوله صلى الله عليه وسلم: «أنا سيد ولد آدم ولا فخر» وخص ببعثه إلى الناس كافة وبالشفاعة والأنبياء تحت لوائه. والمصطفون جمع مصطفى وهو المختار من الصفوة،

وطاؤه منقلبة عن تاء، ومحمد من أسمائه صلى الله عليه وسلم، سمي به لكثرة خصاله الحميدة، سمي به قبله سبعة عشر شخصا على ما قاله ابن الهائم عن بعض الحفاظ بخلاف أحمد فإنه لم يسم به قبله.

(وعلى آله) أي أتباعه على دينه نص عليه أحمد وعليه أكثر الأصحاب، ذكره في " شرح التحرير "، وقدمهم بالأمر بالصلاة عليهم، وإضافته إلى الضمير جائزة عند الأكثر وعمل أكثر المصنفين عليه، ومنعه جمع منهم الكسائي والنحاس والزبيدي. (وأصحابه) جمع صحب جمع صاحب بمعنى الصحابي وهو من اجتمع بالنبي صلى الله عليه وسلم مؤمنا ومات على ذلك. وعطفهم على الآل من عطف الخاص على العام، وفي الجمع بين الصحب والآل مخالفة للمبتدعة؛ لأنهم يوالون الآل دون الصحب.
ক্ষমা প্রার্থনা, আর মানুষের পক্ষ থেকে তা হলো কাকুতি-মিনতি ও দোয়া। (এবং তাসলিম) যা ‘আস-সালাম’ থেকে নির্গত, যার অর্থ হলো অভিবাদন অথবা ত্রুটি ও চারিত্রিক হীনতা থেকে সুরক্ষা অথবা নিরাপত্তা। তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি দরূদ পাঠ করা মুস্তাহাব, যা জুমার দিন ও রাতে এবং যখনই তাঁর নাম উল্লেখ করা হয় তখনই বিশেষভাবে তাকিদপূর্ণ। কেউ কেউ একে ওয়াজিব বলেছেন, যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "হে মুমিনগণ! তোমরা তাঁর প্রতি দরূদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম জানাও।" [আল-আহযাব: ৫৬] এবং বর্ণিত আছে: "যে ব্যক্তি কোনো কিতাবে আমার প্রতি দরূদ লিখেছে, ফেরেশতারা তার জন্য ততক্ষণ ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে যতক্ষণ সেই কিতাবে আমার নাম বিদ্যমান থাকে।" আর তিনি হামদ (প্রশংসা) প্রকাশ করেছেন 'জুমলা ইসমিয়াহ' (বিশেষ্যমূলক বাক্য) দ্বারা যা স্থায়িত্ব ও চিরন্তনতা বুঝায়, কারণ হামদ বা প্রশংসার মালিকানা আল্লাহর জন্য অনাদি ও অনন্তকাল ধরে সাব্যস্ত ও তিনি এর যোগ্য। আর দরূদ পাঠ করেছেন 'জুমলা ফেইলিয়াহ' (ক্রিয়ামূলক বাক্য) দ্বারা যা নবায়ন বা নতুনভাবে ঘটা বুঝায়; কারণ যা চাওয়া হচ্ছে তা নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া উদ্দেশ্য, আর তা হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত (নির্বাচিতগণের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর), এতে কোনো সন্দেহ নেই; কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমি আদম সন্তানের সর্দার, আর এতে অহংকারের কিছু নেই।" তাঁকে সমস্ত মানুষের কাছে প্রেরণের মাধ্যমে, শাফায়াত (সুপারিশ) প্রদানের মাধ্যমে এবং সকল নবীকে তাঁর পতাকাতলে সমবেত করার মাধ্যমে বিশিষ্ট করা হয়েছে। আর ‘মুসতাফুন’ হলো ‘মুসতাফা’-এর বহুবচন, যার অর্থ আভিজাত্য বা শ্রেষ্ঠত্ব থেকে মনোনীত ব্যক্তি।

এর (মুসতাফা শব্দের) ‘ত্ব’ (ط) বর্ণটি ‘তা’ (ت) থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। আর ‘মুহাম্মাদ’ হলো তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামসমূহের একটি; তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলীর প্রাচুর্যের কারণে তাঁকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে। ইবনুল হাইম জনৈক হাফেজ থেকে যা বর্ণনা করেছেন সেই অনুযায়ী, তাঁর আগে সতেরোজন ব্যক্তিকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছিল; তবে ‘আহমাদ’ নামের বিষয়টি ভিন্ন, কেননা তাঁর পূর্বে আর কাউকে এই নামে নামকরণ করা হয়নি।

(এবং তাঁর পরিবার-পরিজন বা আলের ওপর) অর্থাৎ তাঁর দ্বীনের অনুসারীদের ওপর; ইমাম আহমাদ একথার ওপর সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করেছেন এবং অধিকাংশ আসহাবও (হাম্বলী মাযহাবের ইমামগণ) এর ওপর রয়েছেন, যা ‘শারহুত তাহরির’-এ উল্লেখ করা হয়েছে। আর তাদেরকে দরূদ পাঠের নির্দেশে অগ্রগণ্য করেছেন; আর ‘আল’ (আহল) শব্দটিকে সর্বনামের (জমিরের) দিকে ইজাফাত (সম্বন্ধ) করা অধিকাংশের মতে জায়েয এবং অধিকাংশ লেখকই এর ওপর আমল করেছেন। তবে একদল আলিম একে নিষেধ করেছেন, যাদের মধ্যে আল-কিসায়ী, আন-নাহহাস এবং আয-যাবিদী অন্যতম। (এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর) ‘সাহব’ হলো ‘সাহিব’-এর বহুবচন, যা ‘সাহাবী’ অর্থে ব্যবহৃত হয়; আর সাহাবী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমান অবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন। আর ‘আল’ (পরিবার)-এর পর তাঁদেরকে (সাহাবীগণকে) উল্লেখ করা হলো সাধারণের পর বিশেষের সংযোজন (আতফে খাস আলাল আম)। আর ‘আহল’ ও ‘সাহব’কে একত্রে উল্লেখ করার মাধ্যমে বিদআতিদের বিরোধিতা করা হয়েছে; কারণ তারা কেবল আলের (পরিবারের) সাথে সখ্যতা রাখে কিন্তু সাহাবীদের সাথে রাখে না।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
(ومن تعبد) أي عبد الله تعالى. والعبادة ما أمر به شرعا من غير اطراد عرفي ولا اقتضاء عقلي.

(أما بعد) أي بعد ما ذكر من حمد الله والصلاة والسلام على رسوله. وهذه الكلمة يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى غيره، ويستحب الإتيان بها في الخطب والمكاتبات اقتداء به صلى الله عليه وسلم فإنه كان يأتي بها في خطبه ومكاتباته حتى رواه الحافظ عبد القاهر الرهاوي في الأربعين التي له عن أربعين صحابيا، ذكره ابن قندس في " حواشي المحرر " وقيل: إنها فصل الخطاب المشار إليه في الآية. والصحيح أنه الفصل بين الحق والباطل. والمعروف بناء " بعد " على الضم وأجاز بعضهم تنوينها مرفوعة ومنصوبة والفتح بلا تنوين على تقدير المضاف إليه.

(فهذا) إشارة إلى ما تصوره في الذهن، وأقامه مقام المكتوب المقروء الموجود بالعيان (مختصر) أي موجز، وهو ما قل لفظه وكثرت معناه، قال علي رضي الله عنه: خير الكلام ما قل ودل ولم يطل فيمل. (في الفقه) وهو لغة الفهم، واصطلاحا: معرفة الأحكام الشرعية الفرعية بالاستدلال بالفعل أو بالقوة القريبة. (من مقنع) أي من الكتاب المسمى بالمقنع تأليف (الإمام) المقتدى به شيخ المذهب (الموفق أبي محمد) عبد الله بن أحمد بن محمد بن قدامة المقدسي تغمده الله برحمته وأعاد علينا من بركته (على قول واحد) وكذلك صنعت في شرحه فلم أتعرض للخلاف طلبا للاختصار. (وهو) أي ذلك القول الواحد الذي يذكره ويحذف ما سواه من الأقوال إن كانت، هو القول (الراجح) أي المعتمد

(في مذهب) إمام الأئمة وناصر السنة أبي عبد الله (أحمد) بن محمد بن حنبل الشيباني نسبة لجده شيبان بن ذهل بن ثعلبة.
(যিনি ইবাদত করেন) অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করেন। ইবাদত হলো সেই বিষয় যার নির্দেশ শরিয়ত প্রদান করেছে, যা কেবল প্রচলিত অভ্যাস বা বুদ্ধিবৃত্তিক চাহিদার ওপর নির্ভরশীল নয়।

(অতঃপর) অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালার প্রশংসা এবং তাঁর রাসূলের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করার পর যা উল্লেখ করা হয়েছে। এই শব্দটি এক প্রসঙ্গ থেকে অন্য প্রসঙ্গে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করা হয়। খুতবা এবং পত্রাবলীতে এটি ব্যবহার করা মুস্তাহাব, যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুসরণস্বরূপ। কারণ তিনি তাঁর খুতবা এবং পত্রাবলীতে এটি ব্যবহার করতেন। এমনকি হাফেজ আব্দুল কাহের আর-রুহাউয়ী তাঁর 'আরবাঈন' গ্রন্থে চল্লিশ জন সাহাবী থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে কুন্দুস 'হাওয়াশিল মুহাররার' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন যে, এটিই সেই 'ফাসলুল খিতাব' (মীমাংসাকারী ভাষণ) যার দিকে আয়াতে ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে সঠিক মত হলো, এটি সত্য ও মিথ্যার মধ্যকার পার্থক্য। সুপরিচিত রীতি হলো 'বাদু' শব্দটিকে পেশ দিয়ে পড়া। কেউ কেউ একে পেশ ও যবরসহ তানভীন দিয়ে পড়ার এবং মুদাফ ইলাইহি উহ্য রেখে তানভীন ছাড়া যবর দিয়ে পড়ার অনুমতি দিয়েছেন।

(এটি) মনের মধ্যে যা কল্পনা করা হয়েছে এবং যা লিখিত ও চাক্ষুষ বিদ্যমান বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, তার দিকে ইঙ্গিত। (সংক্ষিপ্ত সার) অর্থাৎ যা সংক্ষেপ করা হয়েছে; যার শব্দ কম কিন্তু অর্থ ব্যাপক। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: সর্বোত্তম কথা হলো যা সংক্ষিপ্ত ও নির্দেশক এবং দীর্ঘ নয় যা বিরক্তির উদ্রেক করে। (ফিকহ শাস্ত্রের ওপর) ফিকহ-এর আভিধানিক অর্থ হলো বুঝজ্ঞান। আর পারিভাষিক অর্থ হলো: দলীল-প্রমাণের ভিত্তিতে শরিয়তের শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত বিধানাবলি সম্পর্কে প্রকৃতপক্ষে বা নিকটবর্তী সক্ষমতার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা। (আল-মুকনি থেকে) অর্থাৎ 'আল-মুকনি' নামক কিতাব থেকে সংগৃহীত, যা রচনা করেছেন (ইমাম) অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব, মাযহাবের শায়খ (আল-মুওয়াফফাক আবু মুহাম্মদ) আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন কুদামা আল-মাকদিসী, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমতে সিক্ত করুন এবং আমাদের ওপর তাঁর বরকত বর্ষণ করুন। (একটি মতের ভিত্তিতে) একইভাবে আমি এর ব্যাখ্যা গ্রন্থেও করেছি, সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে আমি কোনো মতপার্থক্য উল্লেখ করিনি। (আর তা হলো) অর্থাৎ সেই একটি মত যা তিনি উল্লেখ করবেন এবং অন্য সকল মত বর্জন করবেন যদি থেকে থাকে, তা হলো (প্রবল) অর্থাৎ নির্ভরযোগ্য মত।

(মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত) ইমামদের ইমাম এবং সুন্নাহর সাহায্যকারী আবু আব্দুল্লাহ (আহমদ) বিন মুহাম্মদ বিন হাম্বল আশ-শাইবানীর মাযহাবে। তাঁর দাদা শাইবান বিন যুহল বিন ছা'লাবা-এর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে তাঁকে শাইবানী বলা হয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
والمذهب في الأصل أي في اللغة: الذهاب أو زمانه أو مكانه، ثم أطلق على ما قاله المجتهد بدليل ومات قائلا به، وكذا ما أجري مجرى قوله من فعل أو إيماء أو نحوه.

(وربما حذفت منه مسائل) جمع مسألة من السؤال وهي ما يبرهن عنه في العلم (نادرة) أي قليله (الوقوع) لعدم شدة الحاجة إليها (وزدت) على ما قال في " المقنع " من الفوائد (ما على مثله يعتمد) أي يعول عليه لموافقته الصحيح. (إذ الهمم قد قصرت) تعليل لاختصاره " المقنع ". والهمم جمع همة بفتح الهاء وكسرها يقال: هممت بالشيء: إذا أردته. (والأسباب) جمع سبب وهو ما يتصل به إلى المقصود (المثبطة) أي الشاغلة (عن نيل) أي إدراك (المراد) أي المقصود (قد كثرت) لسبق القضاء بأنه «لا يأتي عليكم زمان إلا وما بعده شر منه حتى تلقوا ربكم» . (و) هذا المختصر (مع صغر حجمه حوى) أي جمع (ما يغني عن التطويل) لاشتماله على جل المهمات التي يكثر وقوعها ولو بمفهومه (ولا حول ولا قوة إلا بالله) أي لا تحول من حال إلى حال، ولا قدرة على ذلك إلا بالله وقيل: لا حول عن معصية الله إلا بمعونة الله ولا قوة على طاعة الله إلا بتوفيق الله. والمعنى الأول أجمع وأشمل. (وهو حسبنا) أي كافينا (ونعم الوكيل) جل جلاله أي المفوض إليه تدبير خلقه والقائم بمصالحهم أو الحافظ. ونعم الوكيل إما معطوف على الأول " وهو حسبنا " والمخصوص محذوف أو على "حسبنا " والمخصوص هو الضمير المتقدم.

* * *
মাযহাব-এর মূল আভিধানিক অর্থ হলো: গমন করা অথবা গমনের সময় বা স্থান। পরিভাষায় এটি এমন বিষয়কে বলা হয় যা মুজতাহিদ দলিলের ভিত্তিতে বলেছেন এবং সেই মতের ওপরই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। অনুরূপভাবে মুজতাহিদের আমল, ইশারা বা এ জাতীয় যা কিছু তাঁর কথার স্থলাভিষিক্ত করা হয়, তাও এর অন্তর্ভুক্ত।

(এবং কখনও কখনও এ থেকে কিছু মাসআলা বাদ দেওয়া হয়েছে) 'মাসআলা' শব্দটি 'সুয়াল' (প্রশ্ন) এর বহুবচন, যা জ্ঞানের শাখায় দালিলিক প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত করা হয়। (বিরল) অর্থাৎ যা ঘটার সম্ভাবনা খুব কম (ঘটা), কারণ এগুলোর প্রতি অত্যন্ত তীব্র প্রয়োজন নেই। (এবং আমি বৃদ্ধি করেছি) "আল-মুকনি" গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তার অতিরিক্ত কিছু ফায়েদা বা উপকারিতা, (যার ওপর নির্ভর করা যায়) অর্থাৎ যা গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য হওয়ার কারণে তার ওপর ভিত্তি করা হয়, কারণ তা সঠিক মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। (যেহেতু হিম্মত বা সংকল্পসমূহ কমে গেছে) এটি "আল-মুকনি" গ্রন্থকে সংক্ষেপ করার কারণ। 'হিমাম' শব্দটি 'হিম্মত' (হা বর্ণে জবর বা যের যোগে)-এর বহুবচন। বলা হয়: 'আমি বিষয়টি নিয়ে সংকল্প করেছি' যখন আমি সেটি করতে ইচ্ছা করি। (এবং উপকরণসমূহ) 'আসবাব' শব্দটি 'সাবাব'-এর বহুবচন, আর তা হলো যার মাধ্যমে উদ্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়। (বাধাদানকারী) অর্থাৎ ব্যস্ত করে রাখা বা নিবৃত করা (অর্জনে) অর্থাৎ অনুধাবনে (কাঙ্ক্ষিত বিষয়) অর্থাৎ উদ্দেশ্যের পথে। (যা অধিক হয়ে গেছে) কারণ পূর্বনির্ধারিত ফয়সালা অনুযায়ী: "তোমাদের কাছে এমন কোনো কাল আসবে না যার পরবর্তী কাল তার চেয়ে মন্দ হবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের রবের সাথে মিলিত হবে।" (এবং) এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থটি (আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও ধারণ করেছে) অর্থাৎ এটি একত্রিত করেছে (যা দীর্ঘ আলোচনা থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়) কারণ এটি অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছে যা সচরাচর ঘটে থাকে, এমনকি তা এর পরোক্ষ অর্থ বা মাফহুমের মাধ্যমেও হতে পারে। (আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো পরিবর্তন হওয়ার শক্তি নেই এবং কোনো সামর্থ্যও নেই) অর্থাৎ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন এবং সেই ক্ষমতা আল্লাহর সাহায্য ছাড়া সম্ভব নয়। কারো মতে এর অর্থ হলো: আল্লাহর নাফরমানি থেকে ফিরে থাকার কোনো উপায় নেই আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত এবং আল্লাহর ইবাদত করার কোনো শক্তি নেই তাঁর তাওফিক ব্যতীত। প্রথম অর্থটিই অধিকতর ব্যাপক ও অর্থবহ। (তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট) অর্থাৎ আমাদের জন্য পর্যাপ্ত (এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক) তাঁর মহিমা অতি মহান, অর্থাৎ যাঁর নিকট তাঁর সৃষ্টির যাবতীয় ব্যবস্থাপনা অর্পণ করা হয়েছে এবং যিনি তাদের কল্যাণ সাধনকারী অথবা হিফাজতকারী। 'কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক' কথাটি হয় প্রথম বাক্য 'তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট'-এর ওপর সংযোজিত হয়েছে এবং এখানে 'মাখসুস' বা বিশেষায়িত উদ্দেশ্যটি উহ্য রয়েছে; অথবা তা 'আমাদের জন্য যথেষ্ট' কথাটির ওপর সংযোজিত এবং এখানে 'মাখসুস' হলো উল্লিখিত সর্বনামটি।

* * *
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌[كتاب الطهارة]

(كتاب) هو من المصادر السيالة أي التي توجد شيئا فشيئا، يقال: كتب كتابا وكتبا وكتابة، وسمي المكتوب به مجازا، ومعناه لغة: الجمع من تكتب بنو فلان: إذا اجتمعوا، ومنه قيل لجماعة الخيل: كتيبة. والكتابة بالقلم لاجتماع الكلمات والحروف. والمراد به هنا المكتوب أي هذا مكتوب جامع لمسائل (الطهارة) مما يوجبها ويتطهر به ونحو ذلك.

بدأ بها؛ لأنها مفتاح الصلاة التي هي آكد أركان الإسلام بعد الشهادتين، ومعناها لغة: النظافة والنزاهة عن الأقذار، مصدر طهر يطهر بضم الهاء فيهما، وأما طهر - بفتح الهاء- فمصدره طهر كحكم حكما، وفي الاصطلاح ما ذكره بقوله: (وهي ارتفاع الحدث) أي زوال الوصف القائم بالبدن المانع من الصلاة ونحوها، (وما في معناه) أي معنى ارتفاع الحدث كالحاصل بغسل الميت والوضوء والغسل المستحبين وما زاد على المرة الأولى في الوضوء ونحوه، وغسل يدي القائم من نوم الليل ونحو ذلك، أو بالتيمم عن وضوء أو غسل (وزوال الخبث) أي النجاسة أو حكمها بالاستجمار أو بالتيمم في الجملة على ما يأتي في بابه.
[পবিত্রতা অধ্যায়]

(কিতাব বা গ্রন্থ) এটি প্রবাহমান মূলধাতুসমূহের (মাসদার) অন্তর্ভুক্ত, অর্থাৎ যা ক্রমে ক্রমে অস্তিত্ব লাভ করে। বলা হয়: সে কিতাব, কুতুব এবং কিতাবাত লিখেছে। আর রূপকার্থে যা লেখা হয়েছে তাকেই 'কিতাব' নামকরণ করা হয়েছে। এর শাব্দিক অর্থ হলো: একত্রিত করা। এটি 'তাকাত্তাবা বানু ফুলান' থেকে এসেছে, যার অর্থ: যখন তারা একত্রিত হলো। আর এখান থেকেই অশ্বারোহী বাহিনীকে 'কাতিবাহ' বলা হয়। কলম দ্বারা লেখাকে 'কিতাবাত' বলা হয় শব্দ ও অক্ষরসমূহকে একত্রিত করার কারণে। এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো লিখিত বিষয়। অর্থাৎ, এটি এমন একটি লিখিত বিষয় যা (পবিত্রতা) সংক্রান্ত মাসআলাসমূহকে একত্রিত করে, যেমন যা পবিত্রতাকে আবশ্যক করে এবং যার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয় ইত্যাদি।

তিনি এটি দিয়ে শুরু করেছেন; কারণ এটি সালাতের চাবিকাঠি, যা শাহাদাতদ্বয়ের পর ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রুকন। এর শাব্দিক অর্থ হলো: পরিচ্ছন্নতা এবং ময়লা-আবর্জনা থেকে পবিত্র থাকা। এটি 'ত্বাহারা ইয়াত্হুরু' (উভয় ক্ষেত্রে 'হা' বর্ণে পেশসহ) এর মাসদার। পক্ষান্তরে 'ত্বাহারা' ('হা' বর্ণে জবরসহ) হলে তার মাসদার হয় 'তুহ্র', যেমন 'হাকামা' এর মাসদার 'হুক্'ম'। আর শরয়ি পরিভাষায় পবিত্রতা হলো যা তিনি এই বলে উল্লেখ করেছেন: (তা হলো হাদাস বা নাপাকি দূরীভূত হওয়া) অর্থাৎ শরীরের সাথে সম্পৃক্ত এমন বৈশিষ্ট্যের বিলুপ্তি যা সালাত ও তদ্রূপ কার্যাবলিতে বাধা প্রদান করে। (এবং যা এর সমার্থবোধক) অর্থাৎ নাপাকি দূরীভূত হওয়ার হুকুম রাখে এমন বিষয়, যেমন মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া, মুস্তাহাব অজু ও গোসল, অজুর ক্ষেত্রে প্রথম বারের অতিরিক্ত ধৌত করা এবং তদ্রূপ বিষয়সমূহ। এছাড়া রাতে ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দুই হাত ধৌত করা এবং অনুরুপ বিষয়সমূহ, অথবা অজু বা গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা। (এবং নাপাকি বা খাবাস দূর হওয়া) অর্থাৎ অপবিত্রতা বা তার বিধান দূর হওয়া, তা পাথর ব্যবহারের মাধ্যমে হোক কিংবা সামগ্রিকভাবে তায়াম্মুমের মাধ্যমে হোক, যেমনটি সামনে নিজ অধ্যায়ে আলোচিত হবে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
فالطهارة ما ينشأ عن التطهير. وربما أطلقت على الفعل كالوضوء والغسل.

 

‌‌[أنواع المياه]

(المياه) باعتبار ما تتنوع إليه في الشرع (ثلاثة) :

أحدها (طهور) أي مطهر. قال ثعلب: طهور - بفتح الطاء - الطاهر في ذاته المطهر لغيره. اهـ قال تعالى: {وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُمْ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً لِيُطَهِّرَكُمْ بِهِ} [الأنفال: 11] (لا يرفع الحدث) غيره. والحدث ليس نجاسة بل معنى يقوم بالبدن يمنع الصلاة ونحوها. والطاهر ضد المحدث والنجس (ولا يزيل النجس الطارئ) على محل طاهر فهو النجاسة الحكمية (غيره) أي غير الماء الطهور. والتيمم مبيح لا رافع وكذا الاستجمار، (وهو) أي الطهور (الباقي على خلقته) أي صفته التي خلق عليها، إما حقيقة بأن يبقى على ما وجد عليه من برودة أو حرارة أو ملوحة ونحوها، أو حكما كالمتغير بمكث أو طحلب ونحوه مما يأتي ذكره.

(فإن تغير بغير ممازج) أي مخالط (كقطع كافور) وعود قماري (أو دهن) طاهر على اختلاف أنواعه قال في الشرح: وفي معناه ما تغير بالقطران والزفت والشمع؛ لأن فيه دهنية يتغير بها الماء (أو بملح مائي) لا معدني فيسلبه الطهورية (أو سخن بنجس كره) مطلقا إن لم يحتج إليه سواء ظن وصوله إليه أو كان
পবিত্রতা হলো তা-ই যা পবিত্রকরণ প্রক্রিয়া থেকে উৎপন্ন হয়। কখনো কখনো ওজু ও গোসলের মতো কাজের ক্ষেত্রেও এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

 

‌‌[পানির প্রকারভেদ]

শরিয়তের পরিভাষায় (পানি) যে সকল ভাগে বিভক্ত হয়, তা (তিন) প্রকার:

তার একটি হলো (তহুর) অর্থাৎ পবিত্রকারী। ছালাব বলেন: 'ত্বহুর' শব্দটি ত্ব-এ জবরসহ (অর্থাৎ ত্বাহুর)—যা নিজেই পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী। সমাপ্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং তিনি আকাশ থেকে তোমাদের ওপর পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করতে পারেন" [আনফাল: ১১]। তা (তহুর পানি) ছাড়া অন্য কিছু (হাদাস বা অপবিত্রতা দূর করে না)। হাদাস কোনো দৃশ্যমান নাপাকি নয়, বরং এটি শরীরের সাথে সংশ্লিষ্ট এমন একটি অবস্থা যা নামাজ ও অনুরূপ ইবাদত আদায়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। আর 'পবিত্র' হলো হাদাসগ্রস্ত ও নাপাক ব্যক্তির বিপরীত অবস্থা। (এবং পবিত্র স্থানে আপতিত নাপাকিও) যা হুকমি নাপাকি হিসেবে গণ্য, (তহুর পানি ছাড়া অন্য কিছু তা দূর করতে পারে না)। তায়াম্মুম ইবাদতের অনুমতি প্রদানকারী, তা হাদাস দূরকারী নয়; ইস্তেজমারের ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। (আর তা) অর্থাৎ তহুর পানি হলো (যা নিজ প্রকৃতির ওপর অটল রয়েছে), অর্থাৎ যে বৈশিষ্ট্যের ওপর তা সৃষ্টি করা হয়েছে। তা হতে পারে প্রকৃতভাবে—যেমন ঠান্ডা, গরম কিংবা লবণাক্ততা ইত্যাদি যে অবস্থায় পাওয়া গেছে সে অবস্থায় থাকা। অথবা হুকমি বা পরোক্ষভাবে—যেমন দীর্ঘক্ষণ এক স্থানে জমে থাকার কারণে কিংবা শ্যাওলা অথবা অনুরূপ কোনো কারণে পানির বর্ণ বা গুণে পরিবর্তন আসা, যা সামনে বর্ণিত হবে।

(তবে যদি পানিতে এমন কিছু মিশে যায় যা পানির সাথে পুরোপুরি মিশে যায় না) অর্থাৎ যা পৃথক করা সম্ভব (যেমন কর্পূরের টুকরো), কুমারি আগর (কিংবা পবিত্র তেল), তেলের বিভিন্ন প্রকার নির্বিশেষে। শারহ্ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আলকাতরা, পিচ ও মোমের মাধ্যমে পরিবর্তিত হওয়ার বিধানও একই; কেননা এর মধ্যে তৈলাক্ততা রয়েছে যা পানিকে পরিবর্তিত করে দেয়। (কিংবা জলজ লবণের মাধ্যমে) খনিজ লবণ নয়, তবে তা এর পবিত্রকারী গুণ ছিনিয়ে নেয়। (অথবা যদি নাপাক বস্তু দিয়ে পানি গরম করা হয়, তবে তা অপছন্দনীয় বা মাকরুহ হবে) সাধারণভাবে যদি এর প্রয়োজন না থাকে, চাই তাতে নাপাকি পৌঁছানোর প্রবল ধারণা থাকুক বা না থাকুক...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
الحائل حصينا أو لا، ولو بعد أن يبرد؛ لأنه لا يسلم غالبا من صعود أجزاء لطيفه إليه، وكذا ما سخن بمغصوب وماء بئر بمقبرة وبقلها وشوكها، واستعمال ماء زمزم في إزالة خبث، لا وضوء وغسل.

 

(وإن تغير بمكثه) أي بطول إقامته في مقره وهو الآجن لم يكره؛ لأنه عليه الصلاة والسلام توضأ بماء آجن، وحكاه ابن المنذر إجماع من يحفظ قوله من أهل العلم سوى ابن سيرين. (أو بما) أي بطاهر (يشق صون الماء عنه من نابت فيه وورق شجر) وسمك وما تلقيه الريح أو السيول من تبن ونحوه وطحلب، فإن وضع قصدا وتغير به الماء عن ممازجة سلبه الطهورية (أو) تغير (بمجاورة ميتة) أي بريح ميتة إلى جانبه فلا يكره. قال في " المبدع ": بغير خلاف نعلمه. (أو سخن بالشمس أو بطاهر) مباح ولم يشتد حره (لم يكره) لأن الصحابة دخلوا الحمام ورخصوا فيه، ذكره في " المبدع ". ومن كره الحمام، فعلة الكراهة خوف مشاهدة العورة أو قصد التنعم بدخوله لا كون الماء مسخنا، فإن اشتد حره أو برده كره لمنعه كمال الطهارة. (وإن استعمل) قليل (في طهارة مستحبة كتجديد وضوء وغسل جمعة) أو عيد ونحوه (وغسله ثانية وثالثة) في وضوء أو غسل (كره) للخلاف في سلبه الطهورية، فإن لم تكن الطهارة مشروعة كالتبرد لم يكره.

 

(وإن بلغ) الماء (قلتين) تثنية قلة، وهي اسم لكل ما ارتفع وعلا، والمراد هنا: الجرة الكبيرة من قلال هجر، وهي قرية كانت قرب المدينة. (وهو الكثير) اصطلاحا (وهما) أي القلتان (خمسمائة رطل) بكسر الراء وفتحها
প্রতিবন্ধক শক্তিশালী হোক বা না হোক, এমনকি তা শীতল হওয়ার পরেও; কারণ সাধারণত এর মধ্যে সূক্ষ্ম অংশসমূহ প্রবিষ্ট হওয়া থেকে তা মুক্ত থাকে না। অনুরূপভাবে যা জবরদখলকৃত বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা হয়েছে এবং কবরস্থানের কূপের পানি ও তার উদ্ভিদ ও কাঁটা, আর অপবিত্রতা দূর করতে জমজমের পানির ব্যবহার [মাকরূহ], ওজু ও গোসলের ক্ষেত্রে নয়।

 

(আর যদি তা দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের কারণে পরিবর্তিত হয়) অর্থাৎ নিজ স্থানে দীর্ঘকাল অবস্থানের ফলে, যা হলো স্থবির পানি, তবে তা মাকরূহ হবে না; কারণ নবী (তাঁর ওপর শান্তি ও আশীর্বাদ বর্ষিত হোক) স্থবির পানি দিয়ে ওজু করেছিলেন। ইবনে আল-মুনযির একে ইবনে সিরিন ব্যতীত অন্য সকল আলেম, যাঁদের মত সংরক্ষিত আছে, তাঁদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত (এজমা) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। (অথবা এমন কিছু দ্বারা) অর্থাৎ এমন পবিত্র বস্তু দ্বারা (যা থেকে পানিকে রক্ষা করা দুঃসাধ্য, যেমন পানিতে জন্মানো উদ্ভিদ ও গাছের পাতা) এবং মাছ, আর বাতাস বা স্রোত যা বয়ে নিয়ে আসে যেমন খড়কুটা ও অনুরূপ বস্তু এবং শ্যাওলা। তবে যদি তা ইচ্ছাকৃতভাবে ফেলা হয় এবং পানির সাথে মিশে তা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা পানির পবিত্রকারিতা গুণকে নষ্ট করে দেবে। (অথবা) পরিবর্তিত হয় (পার্শ্ববর্তী মৃতদেহের কারণে) অর্থাৎ পাশে থাকা মৃতদেহের দুর্গন্ধের কারণে, তবে তা মাকরূহ হবে না। "আল-মুবদি" গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমাদের জানা মতে এতে কোনো মতভেদ নেই। (অথবা রোদে বা পবিত্র) বৈধ কোনো বস্তু দ্বারা উত্তপ্ত করা হয় এবং তার তাপ প্রচণ্ড না হয় (তবে তা মাকরূহ হবে না), কারণ সাহাবীগণ হাম্মামে প্রবেশ করতেন এবং তার অনুমতি দিতেন, যা "আল-মুবদি" গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। আর যারা হাম্মামকে অপছন্দ করেছেন, তাদের অপছন্দ করার কারণ হলো সতর উন্মুক্ত হওয়ার ভয় অথবা বিলাসিতার উদ্দেশ্যে সেখানে প্রবেশ করা, পানি উত্তপ্ত হওয়ার কারণে নয়। তবে যদি তাপ বা শীতলতা প্রচণ্ড হয় তবে তা মাকরূহ হবে, কারণ এটি পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা অর্জনে বাধা দেয়। (আর যদি ব্যবহৃত হয়) অল্প পানি (মুস্তাহাব পবিত্রতার কাজে, যেমন নতুন করে ওজু করা এবং জুমার গোসল) অথবা ঈদের গোসল ও অনুরূপ কাজে (এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করার কাজে) ওজু বা গোসলের ক্ষেত্রে, (তবে তা মাকরূহ হবে); এর পবিত্রকারিতা গুণ অবশিষ্ট থাকার বিষয়ে মতভেদ থাকার কারণে। তবে যদি সেই পবিত্রতা শরিয়তসম্মত না হয় যেমন শরীর শীতল করা, তবে তা মাকরূহ হবে না।

 

(আর যদি পৌঁছে যায়) পানি (দুই কুল্লায়), যা কুল্লা শব্দের দ্বিবচন। এটি এমন প্রত্যেক বস্তুর নাম যা উঁচুতে অবস্থান করে। আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: হাজারের মটকাগুলোর মধ্যে বড় মটকা, যা মদিনার নিকটবর্তী একটি গ্রাম ছিল। (আর পারিভাষিকভাবে এটিই হলো প্রচুর পানি) (এবং তা) অর্থাৎ দুই কুল্লা (হলো পাঁচশত রতল) 'র' বর্ণে কাসরা বা ফাতহা যোগে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
(عراقي تقريبا) فلا يضر نقص يسير كرطل ورطلين، وأربع مائة وستة وأربعون رطلا وثلاثة أسباع رطل مصري، ومائة وسبعة وسبع رطل دمشقي وخمسة وثمانون وسبعا رطل حلبي، وثمانون رطلا وسبعان ونصف سبع رطل قدسي وما وافقه. فالرطل العراقي تسعون مثقالا: سبع القدسي وثمن سبعه وسبع الحلبي

وربع سبعه، وسبع الدمشقي ونصف سبعه، ونصف المصري وربعه وسبعه (فخالطته نجاسة) قليلة أو كثيرة (غير بول آدمي أو عذرته المائعة) أو الجامدة إذا ذابت (فلم تغيره) فطهور لقوله صلى الله عليه وسلم: «إذا بلغ الماء قلتين لم ينجسه شيء. وفي رواية: لم يحمل الخبث» رواه أحمد وغيره، قال الحاكم: على شرط الشيخين، وصححه الطحاوي، وحديث «إن الماء طهور لا ينجسه شيء» وحديث «الماء لا ينجسه شيء إلا ما غلب على ريحه أو طعمه أو لونه» يحملان على المقيد السابق، وإنما خصت القلتان بقلال هجر لوروده في بعض ألفاظ الحديث؛ ولأنها كانت مشهورة الصفة معلومة المقدار. قال ابن جريج: رأيت قلال هجر فرأيت القلة تسع قربتين وشيئا. والقربة مائة رطل بالعراقي. والاحتياط أن يجعل الشيء نصفا فكانت القلتان خمسمائة رطل بالعراقي. (أو خالطة البول أو العذرة) من آدمي.

(ويشق نزحه كمصانع طريق مكة فطهور) ما
(ইরাকী হিসেবে প্রায়) তাই সামান্য ঘাটতি যেমন এক বা দুই রতল কোনো ক্ষতি করে না; এবং চারশত ছেচল্লিশ রতল ও এক রতলের সাত ভাগের তিন ভাগ মিসরীয় রতলে, এবং একশত সাত রতল ও এক রতলের সাত ভাগের এক ভাগ দামেশকী রতলে, এবং পঁচাশি রতল ও এক রতলের সাত ভাগের দুই ভাগ হালাবি রতলে, এবং আশি রতল ও এক রতলের সাত ভাগের দুই ভাগ ও এক সপ্তমাংশের অর্ধেক কুদসী রতলে এবং এর সমমানের পরিমাপে। ইরাকী রতল হলো নব্বই মিছকাল: যা কুদসী রতলের সাত ভাগের এক ভাগ এবং এক সপ্তমাংশের আট ভাগের এক ভাগ, এবং হালাবি রতলের সাত ভাগের এক ভাগ

এবং এক সপ্তমাংশের চার ভাগের এক ভাগ, এবং দামেশকী রতলের সাত ভাগের এক ভাগ ও এক সপ্তমাংশের অর্ধেক, এবং মিসরীয় রতলের অর্ধেক ও তার এক চতুর্থাংশ ও এক সপ্তমাংশ। (অতঃপর তাতে নাপাকি মিশে যায়) অল্প হোক বা বেশি (মানুষের প্রস্রাব বা তার তরল মল ব্যতীত) অথবা কঠিন মল যা গলে গিয়েছে (এবং তা পানিকে পরিবর্তন না করে) তবে তা পবিত্রকারক। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «যখন পানি দুই কুল্লায় পৌঁছে, তখন কোনো কিছুই তাকে নাপাক করে না। অন্য বর্ণনায় রয়েছে: তা অপবিত্রতা বহন করে না» এটি আহমাদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আল-হাকিম বলেছেন: এটি শায়খাইনের (বুখারী ও মুসলিম) শর্তানুসারে সহীহ, এবং আত-তাহাবী একে সহীহ বলেছেন। আর এই হাদীস যে: «নিশ্চয়ই পানি পবিত্র, কোনো কিছুই তাকে নাপাক করে না» এবং এই হাদীস: «পানিকে কোনো কিছু নাপাক করে না, কেবল তা ব্যতীত যা তার ঘ্রাণ, স্বাদ বা রঙের ওপর প্রবল হয়» এই উভয় হাদীসকে পূর্বোক্ত সীমাবদ্ধতার (দুই কুল্লার বিধানের) ওপর প্রয়োগ করা হবে। আর দুই কুল্লাকে বিশেষভাবে হাজর অঞ্চলের কুল্লার সাথে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, কারণ হাদীসের কিছু শব্দে তা বর্ণিত হয়েছে; এবং যেহেতু তা গুণাগুণে প্রসিদ্ধ ও পরিমাণে সুপরিচিত ছিল। ইবনে জুরাইজ বলেন: আমি হাজর অঞ্চলের কুল্লা দেখেছি এবং আমি দেখেছি যে, একটি কুল্লায় দুই মশক ও আরও কিছু পানি ধরে। আর এক মশক হলো ইরাকী হিসেবে একশত রতল। সতর্কতাস্বরূপ সেই 'কিছু' অংশকে অর্ধেক ধরা হয়েছে, ফলে দুই কুল্লা ইরাকী হিসেবে পাঁচশত রতল। (অথবা তাতে প্রস্রাব বা মল মিশে যায়) যা মানুষের।

(এবং তা সেচে ফেলা কষ্টকর হয়, যেমন মক্কার পথের জলাধারগুলো, তবে তা পবিত্রকারক) যা...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
لم يتغير. قال في " الشرح " لا نعلم فيه خلافا. ومفهوم كلامه أن ما لا يشق نزحه ينجس ببول الآدمي أو عذرته المائعة أو الجامدة إذا ذابت فيه ولو بلغ قلتين، وهو قول أكثر المتقدمين والمتوسطين. قال في " المبدع ": ينجس على المذهب وإن لم يتغير لحديث أبي هريرة يرفعه «لا يبولن أحدكم في الماء الدائم الذي لا يجري ثم يغتسل منه» متفق عليه. وروى الخلال بإسناده أن عليا رضي الله عنه سئل عن صبي بال في بئر فأمرهم بنزحها. وعنه أن البول والعذرة كسائر النجاسات، فلا ينجس بهما ما بلغ قلتين إلا بالتغير، قال في " التنقيح ": اختاره أكثر المتأخرين وهو أظهر. اهـ. لأن نجاسة بول الآدمي لا تزيد على نجاسة بول الكلب.

 

(ولا يرفع حدث رجل) وخنثى (طهور يسير) دون القلتين (خلت به) كخلوة نكاح

(امرأة) مكلفة ولو كافرة (لطهارة كاملة عن حدث) «لنهي النبي صلى الله عليه وسلم " أن يتوضأ الرجل بفضل طهور المرأة» رواه أبو داود وغيره، وحسنه الترمذي، وصححه ابن حبان. قال أحمد في رواية أبي طالب: أكثر أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم يقولون ذلك، وهو تعبدي. وعلم مما تقدم أنه يزيل النجس مطلقا وأنه يرفع حدث المرأة والصبي وأنه لا أثر لخلوتها بالتراب، ولا بالماء الكثير ولا بالقليل إذا كان عندها من يشاهدها، أو كانت صغيرة أو لم تستعمله في طهارة كاملة ولا لما خلت به لطهارة خبث، فإن لم يجد الرجل غير ما خلت به لطهارة الحدث استعمله ثم يتيمم.

 

النوع الثاني من المياه - الطاهر غير المطهر، وقد أشار إليه بقوله: (وإن تغير لونه أو طعمه أو ريحه) أو كثير من صفة من تلك الصفات لا يسير منها (بطبخ) طاهر فيه (أو)
পরিবর্তিত হয়নি। "আশ-শারহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমরা এ বিষয়ে কোনো মতভেদ জানি না। তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ হলো, যে পরিমাণ পানি সেচে ফেলা কষ্টসাধ্য নয়, তা মানুষের প্রস্রাব অথবা তরল বা জমাটবদ্ধ পায়খানা (যদি তাতে গলে যায়) পড়ার কারণে অপবিত্র হয়ে যাবে, যদিও তা দুই কুল্লা পরিমাণ হয়। এটি অধিকাংশ পূর্ববর্তী (মুতাকাদ্দিমীন) এবং মধ্যবর্তী (মুতাওয়াসসিতীন) আলেমদের অভিমত। "আল-মুবদি" গ্রন্থে বলা হয়েছে: মাযহাব অনুযায়ী এটি অপবিত্র হয়ে যাবে যদিও এর কোনো পরিবর্তন না ঘটে। কারণ আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত মারফূ হাদীসে এসেছে, «তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই সেই স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না, অতঃপর সেখান থেকে গোসল করে»। এটি বুখারী ও মুসলিম কর্তৃক সর্বসম্মতভাবে বর্ণিত। আল-খাল্লাল তাঁর সনদসহ বর্ণনা করেছেন যে, আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-কে একটি কূয়ায় শিশুর প্রস্রাব করা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি তাদের সেটি সেচে ফেলার নির্দেশ দেন। তাঁর (ইমাম আহমাদ) থেকে বর্ণিত অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, প্রস্রাব ও পায়খানা অন্য সব নাপাকির মতোই; সুতরাং দুই কুল্লা পরিমাণ পানি এগুলোর মাধ্যমে অপবিত্র হবে না যতক্ষণ না তার পরিবর্তন ঘটে। "আত-তানকীহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: অধিকাংশ পরবর্তী (মুতাআখখিরীন) আলেমগণ এটিই গ্রহণ করেছেন এবং এটিই অধিকতর স্পষ্ট। (সমাপ্ত)। কারণ মানুষের প্রস্রাবের নাপাকি কুকুরের প্রস্রাবের চেয়ে বেশি নয়।

 

(এবং পুরুষের অপবিত্রতা দূর হবে না) এবং হিজড়াদেরও, এমন (অল্প পবিত্রকারী পানির মাধ্যমে) যা দুই কুল্লার কম, (যার সাথে নির্জনতা অবলম্বন করেছে) বিবাহের নির্জনতার মতো, (একজন নারী) যিনি শরয়ি বিধান পালনের উপযুক্ত (মুকাল্লাফাহ), যদিও তিনি অমুসলিম হন, (নাপাকি থেকে পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনের জন্য)। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিষেধ করেছেন যে, «পুরুষ যেন নারীর পবিত্রতা অর্জনের অবশিষ্ট পানি দিয়ে ওযু না করে»। এটি আবু দাউদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন, তিরমিযী একে হাসান বলেছেন এবং ইবনে হিব্বান একে সহীহ বলেছেন। আবু তালিবের বর্ণনায় ইমাম আহমাদ বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধিকাংশ সাহাবী একথাই বলতেন এবং এটি একটি ইবাদতমূলক বিধান (তাআব্বুদী)। পূর্বালোচিত আলোচনা থেকে জানা গেল যে, এই পানি নিঃশর্তভাবে নাপাকি দূর করে এবং এটি নারী ও শিশুর অপবিত্রতা দূর করে। মাটির সাথে নির্জনতা অবলম্বনের কোনো প্রভাব নেই, এমনকি প্রচুর পানির ক্ষেত্রেও নয়, কিংবা অল্প পানির ক্ষেত্রেও নয় যদি সেখানে তাকে দেখার মতো কেউ উপস্থিত থাকে, অথবা সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হয়, অথবা সে তা পূর্ণ পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহার না করে থাকে, কিংবা নাপাকি দূর করার জন্য নির্জনে ব্যবহার করে থাকে। তবে যদি পুরুষ সেই পানি ছাড়া অন্য কিছু না পায় যা নারী নাপাকি থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য নির্জনে ব্যবহার করেছিল, তবে সে সেটিই ব্যবহার করবে এবং অতঃপর তায়াম্মুম করবে।

 

পানির দ্বিতীয় প্রকার - পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়। তিনি তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন: (যদি এর রঙ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণ পরিবর্তিত হয়ে যায়) অথবা এই গুণাগুণগুলোর কোনো একটির উল্লেখযোগ্য অংশ, সামান্য অংশ নয়, তাতে পবিত্র কোনো কিছু (রান্না করার মাধ্যমে) (অথবা)
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
بطاهر من غير جنس الماء لا يشق صونه عنه (ساقط فيه) كزعفران لا تراب ولو قصدا ولا ما لا يمازجه مما تقدم فطاهر؛ لأنه ليس بماء مطلق (أو رفع بقليله حدث) مكلف أو صغير فطاهر لحديث أبي هريرة «لا يغتسلن أحدكم في الماء الدائم وهو جنب» رواه مسلم. وعلم منه أن المستعمل في الوضوء والغسل المستحبين طهور كما تقدم، وأن المستعمل في رفع الحدث إذا كان كثيرا طهور لكن يكره الغسل في الماء الراكد، ولا يضر اغتراف المتوضئ لمشقة تكرره، بخلاف من عليه حدث أكبر، فإن نوى وانغمس هو أو بعضه في قليل لم يرتفع حدثه وصار الماء مستعملا، ويصير الماء مستعملا في الطهارتين بانفصاله لا قبله ما دام مترددا على الأعضاء (أو غمس فيه) أي في الماء القليل كل (يد) مسلم مكلف (قائم من نوم ليل ناقض لوضوء) قبل غسلها ثلاثا فطاهر نوى الغسل بذلك الغمس أو لا، وكذا إذا حصل الماء في كلها ولو باتت مكتوفة أو في جراب ونحوه، لحديث: «إذا استيقظ أحدكم من نومه فليغسل يديه قبل أن يدخلهما في الإناء ثلاثا، فإن أحدكم لا يدري أين باتت يده» رواه مسلم ولا أثر لغمس يد كافر وصغير ومجنون، وقائم من نوم نهار أو ليل إذا كان

نومه يسيرا لا ينقض الوضوء. والمراد باليد هنا إلى الكوع. ويستعمل هذا الماء إن لم يوجد غيره ثم يتيمم وكذا ما غسل به الذكر والأنثيان لخروج مذي دونه؛ لأنه في معناه، وأما ما غسل به المذي فعلى ما يأتي (أو كان آخر غسلة زالت النجاسة بها) وانفصل غير متغير (فطاهر) لأن المنفصل بعض المتصل والمتصل طاهر.
এমন পবিত্র বস্তু যা পানির জাতীয় নয় এবং যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন নয় (তাতে পতিত হওয়ার মাধ্যমে), যেমন জাফরান; মাটি নয় যদিও তা উদ্দেশ্যমূলকভাবে মেশানো হয়, আর এমন বস্তুও নয় যা পানির সাথে মিশে যায় না যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তবে তা পবিত্র; কারণ এটি আর মুতলাক পানি (বিশুদ্ধ পানি) নয়। (অথবা অল্প পরিমাণ পানির মাধ্যমে দূর করা হয়েছে এমন কোনো অপবিত্রতা) কোনো শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুর, তবে তা পবিত্র; আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় আবদ্ধ পানিতে গোসল না করে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। এ থেকে জানা যায় যে, মুস্তাহাব অজু এবং গোসলে ব্যবহৃত পানি পবিত্রকারী যেমনটা আগে অতিবাহিত হয়েছে। আর অপবিত্রতা দূর করতে ব্যবহৃত পানি যদি পরিমাণে অনেক হয় তবে তা পবিত্রকারী, কিন্তু আবদ্ধ পানিতে গোসল করা মাকরুহ। ওজুকারীর পানি পাত্র থেকে তুলে নেওয়া কোনো ক্ষতি করে না কারণ এটি বারবার করার ক্ষেত্রে কাঠিন্য রয়েছে; তবে যার ওপর বড় নাপাকি রয়েছে তার বিষয়টি ভিন্ন। যদি সে নিয়ত করে এবং সে নিজে বা তার শরীরের একাংশ অল্প পানিতে ডুবিয়ে দেয়, তবে তার অপবিত্রতা দূর হবে না এবং পানিটি ব্যবহৃত হয়ে যাবে। পানি উভয় প্রকার পবিত্রতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হিসেবে গণ্য হয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর, তার আগে নয় যতক্ষণ পর্যন্ত তা অঙ্গের ওপর প্রবাহিত থাকে। (অথবা তাতে ডুবানো হয়েছে) অর্থাৎ অল্প পানিতে কোনো মুসলিম প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির পুরো (হাত) যে (এমন রাতের ঘুম থেকে জেগেছে যা অজু ভঙ্গকারী), তা তিনবার ধোয়ার আগে; ফলে তা পবিত্র হয়ে যাবে, চাই সে ওই ডুবানোর মাধ্যমে ধোয়ার নিয়ত করুক বা না করুক। একই বিধান প্রযোজ্য হবে যদি সমস্ত হাতে পানি পৌঁছে যায় যদিও হাতটি বাঁধা অবস্থায় রাত অতিবাহিত করে অথবা কোনো থলি বা অনুরূপ কিছুর মধ্যে থাকে। কারণ হাদিসে এসেছে: "যখন তোমাদের কেউ ঘুম থেকে জাগ্রত হয়, তখন সে যেন পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে তা তিনবার ধুয়ে নেয়, কারণ তোমাদের কেউ জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে।" এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন। কাফের, শিশু এবং উন্মাদের হাত ডুবানোর কোনো প্রভাব নেই। তেমনি দিনের ঘুম বা রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির হাত ডুবানোরও কোনো প্রভাব নেই যদি সেই ঘুম সামান্য হয় যা অজু ভঙ্গ করে না। আর এখানে হাত বলতে কবজি পর্যন্ত বোঝানো হয়েছে। অন্য পানি না পাওয়া গেলে এই পানি ব্যবহার করা হবে এবং এরপর তায়াম্মুম করতে হবে। অনুরূপভাবে সেই পানির বিধানও একই যা দিয়ে লিঙ্গ এবং অণ্ডকোষ ধোয়া হয়েছে মজি নির্গত হওয়ার কারণে; কারণ এটিও একই অর্থ বহন করে। আর মজি ধোয়ার পানির বিধান সামনে আসবে। (অথবা যদি এমন শেষ ধোয়ার পানি হয় যার মাধ্যমে নাপাকি দূর হয়েছে) এবং তা অপরিবর্তিত অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তবে তা (পবিত্র); কারণ বিচ্ছিন্ন অংশটি সংযুক্ত অংশেরই অংশবিশেষ, আর সংযুক্ত অংশটি পবিত্র।

(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
النوع الثالث - النجس، وهو ما المشار إليه بقوله: (والنجس ما تغير بنجاسة) قليلا كان أو كثيرا، وحكى ابن المنذر الإجماع عليه (أو لاقاها) أي لاقى النجاسة (وهو يسير) دون القلتين فينجس بمجرد الملاقاة ولو جاريا لمفهوم حديث «إذا بلغ الماء قلتين لم ينجسه شيء» (أو انفصل عن محل نجاسة) متغيرا أو (قبل زوالها) فنجس، فما انفصل قبل السابعة نجس، وكذا ما انفصل قبل زوال عين النجاسة ولو بعدها أو متغيرا، (فإن أضيف إلى الماء النجس) قليلا كان أو كثيرا (طهور كثير) بصب أو إجراء ساقية إليه ونحو ذلك طهر؛ لأن هذا القدر المضاف يدفع النجاسة عن نفسه وعما اتصل به (غير تراب ونحوه) فلا يطهر به نجس (أو زال تغير) الماء (النجس الكثير بنفسه) من غير إضافة ولا نزح (أو نزح منه) أي من النجس الكثير (فبقي بعده) أي بعد المنزوح (كثير غير متغير طهر) لزوال علة تنجسه وهي التغير، والمنزوح الذي زال مع نزحه التغير طهور إن لم تكن عين النجاسة به، وإن كان النجس قليلا أو كثيرا مجتمعا من متنجس يسير فتطهيره بإضافة كثير مع زوال تغيره إن كان. ولا يجب غسل جوانب بئر نزحت للمشقة.

تنبيه محل ما ذكر إن لم تكن النجاسة بول آدمي أو عذرته فتطهير ما تنجس
তৃতীয় প্রকার - অপবিত্র (নাজিস); এবং এটিই যার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: (নাজিস হলো তা যা অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়) তা অল্প হোক বা বেশি, এবং ইবনুল মুনযির এ বিষয়ে ইজমা (ঐক্যমত) বর্ণনা করেছেন। (অথবা তা স্পর্শ করে) অর্থাৎ অপবিত্র বস্তুর সাথে মিলিত হয় (এমতাবস্থায় যে পানি অল্প) যা দুই কুল্লা-র কম, ফলে তা কেবল স্পর্শ করার মাধ্যমেই অপবিত্র হয়ে যাবে, যদিও তা প্রবাহমান হয়; কারণ এই হাদীসের মর্মার্থ হচ্ছে— "যখন পানি দুই কুল্লায় পৌঁছায়, তখন কোনো কিছু একে অপবিত্র করতে পারে না"। (অথবা অপবিত্র স্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে) পরিবর্তিত অবস্থায় অথবা (তা দূর হওয়ার পূর্বে), ফলে তা অপবিত্র হবে। সুতরাং সপ্তম ধোয়ার আগে যা বিচ্ছিন্ন হয় তা নাপাক, এবং অনুরূপভাবে যা অপবিত্রতার মূল বস্তু দূর হওয়ার আগে বিচ্ছিন্ন হয়, যদিও তা এরপরও ঘটে বা পরিবর্তিত অবস্থায় হয়। (অতঃপর যদি অপবিত্র পানির সাথে)—তা অল্প হোক বা বেশি—(অধিক পরিমাণ পবিত্রকারী পানি যোগ করা হয়) ঢালার মাধ্যমে বা সেখানে পানির নালা প্রবাহিত করার মাধ্যমে অথবা অনুরূপ কোনো পদ্ধতিতে, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে; কারণ এই অতিরিক্ত পরিমাণ পানি নিজের থেকে এবং তার সাথে সংযুক্ত বস্তু থেকে অপবিত্রতা দূর করে দেয়। (মাটি বা অনুরূপ বস্তু ব্যতীত), সুতরাং এগুলো দ্বারা কোনো অপবিত্র বস্তু পবিত্র হবে না। (অথবা পরিবর্তন দূর হয়ে যায়) অর্থাৎ (বেশি পরিমাণ অপবিত্র পানির) পরিবর্তন (স্বয়ংক্রিয়ভাবে) কোনো কিছু যোগ করা বা পানি সেচে ফেলা ছাড়াই। (অথবা তা থেকে সেচে ফেলা হলো) অর্থাৎ অধিক পরিমাণ অপবিত্র পানি থেকে, (অতঃপর এরপর অবশিষ্ট থাকল) অর্থাৎ সেচে ফেলার পর (অপরিবর্তিত অবস্থায় অধিক পরিমাণ পানি, তবে তা পবিত্র হয়ে যাবে) কারণ এর অপবিত্র হওয়ার কারণ অর্থাৎ 'পরিবর্তন' দূরীভূত হয়েছে। আর যে পানি সেচে ফেলা হয়েছে এবং যার পরিবর্তনের কারণ সেচে ফেলার মাধ্যমে দূর হয়েছে, তা পবিত্রকারী হিসেবে গণ্য হবে যদি তাতে অপবিত্রতার মূল বস্তু না থাকে। আর যদি নাপাক পানি অল্প হয় অথবা অল্প নাপাক পানির মিলনে অধিক পরিমাণ হয়, তবে তা পবিত্র করার পদ্ধতি হলো অধিক পরিমাণ পানি যোগ করা এবং যদি কোনো পরিবর্তন থাকে তবে তা দূর হওয়া। আর কষ্টের কারণে সেচে ফেলা কূপের চারপাশ ধোয়া আবশ্যক নয়।

সতর্কতা: যা উল্লেখ করা হয়েছে তা তখন প্রযোজ্য যখন অপবিত্রতা মানুষের প্রস্রাব বা বিষ্ঠা না হয়, এমতাবস্থায় যা অপবিত্র হয়েছে তা পবিত্র করা...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
بهما من الماء إضافة ما يشق نزحه إليه أو نزح يبقى بعده ما يشق نزحه، أو زوال تغير ما يشق نزحه بنفسه على قول أكثر المتقدمين ومن تابعهم على ما تقدم.

 

(وإن شك في نجاسة ماء أو غيره) من الطاهرات (أو) شك في (طهارته) أي طهارة شيء علمت نجاسته قبل الشك (بني على اليقين) الذي علمه قبل الشك، ولو مع سقوط عظم أو روث شك في نجاسته؛ لأن الأصل بقاؤه على ما كان عليه، وإن أخبره عدل بنجاسته وعين السبب لزم قبول خبره (وإن اشتبه طهور بنجس حرم استعمالهما) إن لم يمكن تطهير النجس بالطهور، فإن أمكن بأن كان هذا الطهور قلتين فأكثر وكان عنده إناء يسعهما

وجب خلطهما واستعمالهما. (ولم يتحر) أي لم ينظر أيهما يغلب على ظنه أنه الطهور فيستعمله ولو زاد عدد الطهور، ويعدل إلى التيمم إن لم يجد غيرهما (ولا يشترط للتيمم إراقتهما ولا خلطهما) لأنه غير قادر على استعمال الطهور أشبه ما لو كان الماء في بئر لا يمكنه الوصول إليه، وكذا لو اشتبه مباح بمحرم فيتيمم إن لم يجد غيرهما. ويلزم من علم النجس إعلام من أراد أن يستعمله.

 

(وإن اشتبه) طهور (بطاهر) أمكن جعله طهورا به أم لا (توضأ منهما وضوءا واحدا) ولو مع طهور بيقين (من هذا غرفة ومن هذا غرفة) ويعم بكل واحدة من الغرفتين المحل (وصلى صلاة واحدة) قال في (المغني والشرح) : بغير خلاف نعلمه، فإن احتاج أحدهما للشرب تحرى وتوضأ بالطهور وتيمم ليحصل له اليقين (وإن اشتبهت ثياب طاهرة بـ) ثياب (نجسة) يعلم عددها (أو) اشتبهت ثياب مباحة (بـ)
সেই দুই উপায়ে পানির সাথে এমন পানি যোগ করা যা সেচ করা কষ্টসাধ্য, অথবা এমন সেচ করা যার পর এমন পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে যা সেচ করা কষ্টকর, অথবা যা সেচ করা কষ্টসাধ্য তার পরিবর্তন স্বয়ংক্রিয়ভাবে দূরীভূত হওয়া; এটি অধিকাংশ পূর্ববর্তী আলেম এবং তাদের অনুসারীদের অভিমত যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

 

(যদি পানি বা অন্য কোনো পবিত্র বস্তুর অপবিত্রতা সম্পর্কে সন্দেহ হয়) পবিত্র বস্তুসমূহের মধ্য থেকে (অথবা) যদি (তার পবিত্রতা সম্পর্কে) সন্দেহ হয়, অর্থাৎ এমন কোনো বস্তুর পবিত্রতা যার অপবিত্রতা সন্দেহের পূর্বে জানা ছিল, (তবে তা নিশ্চিত বিষয়ের উপর ভিত্তি করবে) যা সে সন্দেহের পূর্বে জানত। এমনকি যদি কোনো হাড় বা গোবর পতিত হয় যার অপবিত্রতা সম্পর্কে সন্দেহ থাকে, (তবুও মূল অবস্থার ওপর ভিত্তি করবে); কারণ মূলনীতি হলো কোনো বস্তু যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় অবশিষ্ট থাকা। আর যদি কোনো নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি তাকে সেটির অপবিত্রতা সম্পর্কে সংবাদ দেয় এবং তার কারণ নির্দিষ্ট করে দেয়, তবে তার সংবাদ গ্রহণ করা আবশ্যক। (আর যদি পবিত্র-শুচি পানি অপবিত্র পানির সাথে মিশে যায় তবে উভয়টির ব্যবহার হারাম হবে) যদি পবিত্র পানি দ্বারা অপবিত্র পানিকে পবিত্র করা সম্ভব না হয়। তবে যদি সম্ভব হয়, যেমন উক্ত পবিত্র পানি যদি দুই কুল্লা বা তার বেশি হয় এবং তার নিকট এমন পাত্র থাকে যাতে উভয়টি সংকুলান হয়,

তবে উভয়টি মিশ্রিত করা এবং ব্যবহার করা ওয়াজিব। (এবং সে অনুসন্ধান করবে না) অর্থাৎ সে দেখবে না যে তার প্রবল ধারণা অনুযায়ী কোনটি পবিত্র-শুচি পানি যাতে সে তা ব্যবহার করতে পারে, এমনকি যদি পবিত্র-শুচি পানির সংখ্যা বেশিও হয়। আর যদি এই দুটি ছাড়া অন্য কোনো পানি না পায় তবে সে তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাবে। (এবং তায়াম্মুমের জন্য পানি দুটি ঢেলে ফেলা বা মিশ্রিত করা শর্ত নয়) কারণ সে পবিত্র-শুচি পানি ব্যবহারে সক্ষম নয়, যা অনেকটা কূয়ায় পানি থাকার মতো যেখানে সে পৌঁছাতে সক্ষম নয়। তদ্রূপ যদি বৈধ বস্তু ও হারাম বস্তু মিশে যায়, তবে অন্য কিছু না পেলে সে তায়াম্মুম করবে। আর যে ব্যক্তি অপবিত্রতা সম্পর্কে জানে, তার জন্য অনিবার্য হলো যে তা ব্যবহার করতে চায় তাকে অবহিত করা।

 

(আর যদি মিশে যায়) পবিত্র-শুচি পানি (পবিত্র পানির সাথে), চাই তা দ্বারা তাকে পবিত্র-শুচি করা সম্ভব হোক বা না হোক, (তবে উভয়টি থেকে একবারই ওজু করবে) এমনকি নিশ্চিতভাবে পবিত্র-শুচি পানি থাকা সত্ত্বেও; (এখান থেকে এক আজলা এবং ওখান থেকে এক আজলা নিয়ে) এবং প্রতি আজলা দ্বারা সংশ্লিষ্ট অঙ্গটি পুরোপুরি ধৌত করবে। (এবং এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করবে)। 'আল-মুগনী' এবং 'আশ-শারহে' বলা হয়েছে: এটি আমাদের জানা মতে কোনো মতভেদ ছাড়াই। আর যদি পান করার জন্য কোনো একটির প্রয়োজন হয়, তবে সে অনুসন্ধান করবে এবং পবিত্র-শুচি পানি দিয়ে ওজু করবে ও তায়াম্মুম করবে যাতে তার জন্য নিশ্চিত অবস্থা অর্জিত হয়। (আর যদি পবিত্র কাপড় অপবিত্র কাপড়ের সাথে মিশে যায়) যার সংখ্যা জানা আছে (অথবা) যদি বৈধ পোশাকের সাথে মিশে যায়...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
ثياب (محرمة) يعلم عددها (صلى في كل ثوب صلاة بعدد النجس) من الثياب، أو المحرمة منها ينوي بها الفرض احتياطا، كمن نسي صلاة من يوم (وزاد) على العدد (صلاة) ليؤدي فرضه بيقين، فإن لم يعلم عدد النجسة أو المحرمة لزمه أن يصلي في كل ثوب صلاة حتى يتيقن أنه صلى في ثوب طاهر ولو كثرت، ولا تصح في ثياب مشتبهة مع وجود طاهر يقينا، وكذا حكم أمكنة ضيقة، ويصلي في واسعة حيث شاء بلا تحر.

 

‌‌[باب الآنية]

هي الأوعية جمع إناء. لما ذكر الماء ذكر ظرفه (كل إناء طاهر) كالخشب والجلود والصفر والحديد (ولو) كان (ثمينا) كجوهر وزمرد (يباح اتخاذه واستعماله) بلا كراهة، غير جلد آدمي وعظمه فيحرم، (إلا آنية ذهب وفضة ومضببا بهما) أو بأحدهما غير ما يأتي، وكذا المموه والمطلي والمطعم والمكفت بأحدهما (فإنه يحرم اتخاذها) لما فيه من السرف والخيلاء وكسر قلوب الفقراء (واستعمالها) في أكل وشرب وغيرهما (ولو على أنثى) لعموم الأخبار وعدم المخصص. وإنما أبيح التحلي للنساء لحاجتهن إلى التزين للزوج، وكذا الآلات كلها كالدواة والقلم والمسعط والقنديل والمجمرة والمدخنة حتى الميل ونحوه.
(হারামকৃত) কাপড় যার সংখ্যা জানা আছে, (সে অপবিত্র কাপড়ের সংখ্যা অনুযায়ী প্রতিটি কাপড়ে একটি করে সালাত আদায় করবে), অথবা হারাম কাপড়ের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম, যেখানে সে সতর্কতাস্বরূপ ফরজ সালাতের নিয়ত করবে; যেমন কোনো ব্যক্তি দিনের কোনো একটি সালাত ভুলে গেল (এবং সংখ্যার উপর একটি সালাত বৃদ্ধি করল) যাতে সে নিশ্চিতভাবে তার ফরজ আদায় করতে পারে। আর যদি সে অপবিত্র বা হারাম কাপড়ের সংখ্যা না জানে, তবে তার জন্য প্রতিটি কাপড়ে সালাত আদায় করা আবশ্যক যতক্ষণ না সে নিশ্চিত হয় যে সে একটি পবিত্র কাপড়ে সালাত আদায় করেছে, যদিও কাপড়ের সংখ্যা অনেক হয়। নিশ্চিতভাবে পবিত্র কাপড় বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সন্দেহযুক্ত কাপড়ে সালাত আদায় করা শুদ্ধ হবে না। সংকীর্ণ স্থানের বিধানও অনুরূপ। তবে প্রশস্ত স্থানে সে কোনো প্রকার অনুসন্ধান ছাড়াই যেখানে ইচ্ছা সালাত আদায় করতে পারবে।

 

‌‌[পাত্রের অধ্যায়]

এটি হলো আধারের সমষ্টি, যা 'ইনা' (পাত্র) শব্দের বহুবচন। যেহেতু পানির আলোচনা করা হয়েছে, তাই এখন তার পাত্রের আলোচনা করা হচ্ছে। (প্রত্যেক পবিত্র পাত্র) যেমন কাঠ, চামড়া, পিতল এবং লোহা, (যদিও) তা (মূল্যবান) হয় যেমন জহরত ও পান্না, (তা সংগ্রহ করা এবং ব্যবহার করা বৈধ) কোনো অপছন্দনীয়তা ছাড়াই; তবে মানুষের চামড়া ও হাড় ব্যতীত, যা ব্যবহার করা হারাম। (তবে সোনা ও রুপার পাত্র এবং এ দুটি দ্বারা জোড়া লাগানো পাত্র ব্যতীত) অথবা এ দুটির কোনো একটি দ্বারা জোড়া লাগানো, যা সামনে আসবে তা ছাড়া। অনুরূপভাবে সোনা বা রুপার প্রলেপ দেওয়া, গিল্টি করা, খচিত বা তাতে জড়ানো পাত্রও (তা সংগ্রহ করা হারাম) কারণ এতে অপচয়, অহংকার এবং দরিদ্রদের মনে কষ্ট দেওয়া হয়। (এবং তা ব্যবহার করাও হারাম) পানাহার ও অন্যান্য কাজে, (এমনকি নারীর জন্য হলেও) সাধারণ হাদিসসমূহের কারণে এবং এর বিপরীতে কোনো বিশেষ প্রমাণের অনুপস্থিতির ফলে। নারীদের জন্য অলংকার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কেবল স্বামীর জন্য সাজসজ্জার প্রয়োজনে। একইভাবে অন্যান্য সকল সরঞ্জামও (হারাম), যেমন দোয়াত, কলম, নস্যদানি, প্রদীপ, ধূপদানি, ধোঁয়াদানি, এমনকি সুরমাদানি এবং এই জাতীয় অন্যান্য বস্তু।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
(وتصح الطهارة منها) أي من الآنية المحرمة وكذا الطهارة بها وفيها وإليها، وكذا آنية مغصوبة (إلا ضبة يسيرة) عرفا لا كبيرة (من فضة) لا ذهب (لحاجة) وهي أن يتعلق بها غرض غير الزينة فلا بأس بها، لما روى البخاري عن أنس رضي الله عنه: «أن قدح النبي

صلى الله عليه وسلم انكسر فاتخذ مكان الشعب سلسلة من فضة» وعلم منه أن المضبب بذهب حرام مطلقا وكذا المضبب بفضة لغير حاجه أو بضبة كبيرة عرفا ولو لحاجة لحديث ابن عمر «من شرب في إناء ذهب أو فضه أو إناء فيه شيء من ذلك فإنما يجرجر في بطنه نار جهنم» رواه الدارقطني. (وتكره مباشرتها) أي الضبة المباحة (لغير حاجة) لأن فيها استعمالا للفضة فإن احتاج إلى مباشرتها كتدفق الماء أو نحو ذلك لم يكره. (وتباح آنية الكفار) إن لم تعلم نجاستها (ولو لم تحل ذبائحهم) كالمجوس لأنه - «صلى الله عليه وسلم توضأ من مزادة مشركة» ، متفق عليه (و) تباح (ثيابهم) أي ثياب الكفار ولو وليت عوراتهم كالسراويل (إن جهل حالها) ولم تعلم نجاستها؛ لأن الأصل الطهارة فلا تزول بالشك، وكذا ما صبغوه أو نسجوه وآنية من لابس النجاسة كثيرا كمدمني الخمر وثيابهم، وبدن الكافر طاهر، وكذا طعامه وماؤه، لكن تكره الصلاة في ثياب المرضع
(এবং তা থেকে পবিত্রতা অর্জন করা সহীহ হবে) অর্থাৎ নিষিদ্ধ পাত্র থেকে, অনুরূপভাবে সেই পাত্র দ্বারা, তাতে এবং তার দিকে পবিত্রতা অর্জন করাও সহীহ। আর জবরদখলকৃত পাত্রের হুকুমও অনুরূপ (তবে ছোট একটি জোড়া বা তালি ব্যতীত) যা প্রথাগতভাবে ছোট, বড় নয়, (রূপার তৈরি) স্বর্ণের নয়, (প্রয়োজনের খাতিরে) আর প্রয়োজন বলতে বুঝায় যখন তার সাথে সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য সংশ্লিষ্ট থাকে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ ইমাম বুখারী আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন: "নবী

(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর একটি পেয়ালা ভেঙে গিয়েছিল, তখন তিনি ফাটলের স্থানে রূপার একটি শিকল লাগিয়েছিলেন।" এ থেকে জানা গেল যে, স্বর্ণ দিয়ে জোড়া লাগানো পাত্র সাধারণভাবে হারাম। অনুরূপভাবে প্রয়োজনে ব্যতীত রূপার জোড়া লাগানো বা প্রথাগতভাবে বড় জোড়া লাগানো পাত্রও হারাম, এমনকি তা প্রয়োজনের খাতিরে হলেও; ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) বর্ণিত হাদীসের কারণে: "যে ব্যক্তি সোনা বা রূপার পাত্রে অথবা এমন কোনো পাত্রে পান করে যাতে এগুলোর কিছু বিদ্যমান রয়েছে, সে মূলত তার পেটে জাহান্নামের আগুন ঢোকায়।" এটি দারা কুতনী বর্ণনা করেছেন। (এবং সরাসরি তা স্পর্শ করা মাকরুহ) অর্থাৎ বৈধ জোড়াটি (বিনা প্রয়োজনে) স্পর্শ করা মাকরুহ, কারণ এতে রূপার ব্যবহার রয়েছে। তবে যদি তা সরাসরি স্পর্শ করার প্রয়োজন হয়, যেমন পানি ঢালা বা অনুরূপ কিছু, তবে তা মাকরুহ হবে না। (এবং কাফিরদের পাত্র ব্যবহার করা বৈধ) যদি তার অপবিত্রতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া না যায়, (যদিও তাদের জবাইকৃত পশু হালাল না হয়) যেমন অগ্নিপূজক, কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জনৈক মুশরিক মহিলার পানির মশক থেকে ওযু করেছিলেন। এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি। (এবং) বৈধ (তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ) অর্থাৎ কাফিরদের পোশাক-পরিচ্ছদ, এমনকি যদি তা তাদের লজ্জাস্থান সংলগ্ন হয় যেমন পায়জামা, (যদি সেগুলোর অবস্থা অজানা থাকে) এবং তাতে নাপাকি থাকার কথা জানা না থাকে; কারণ মূল নীতি হলো পবিত্রতা, যা সন্দেহের কারণে দূর হয়ে যায় না। অনুরূপভাবে তাদের রঙ করা বা বোনা কাপড়, এবং যারা সর্বদা নাপাকির সাথে লিপ্ত থাকে তাদের পাত্র যেমন মদ্যপায়ী এবং তাদের কাপড়। আর কাফিরের শরীর পবিত্র, অনুরূপভাবে তাদের খাবার ও পানিও পবিত্র। তবে স্তন্যদানকারী মহিলার কাপড়ে নামাজ পড়া মাকরুহ।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
والحائض والصبي ونحوهم.

 

(ولا يطهر جلد ميتة بدباغ) ، روي عن عمر وابنه وعائشة وعمران بن حصين رضي الله عنهم. وكذا لا يطهر جلد غير مأكول بذكاة كلحمه. (ويباح استعماله) أي استعمال الجلد (بعد الدبغ) بطاهر منشف للخبث. قال في " الرعاية " ولا بد فيه من زوال الرائحة الخبيثة وجعل المصران والكرش وترا دباغ. ولا يحصل بتشميس ولا تتريب ولا يفتقر إلى فعل آدمي، فلو وقع في مدبغة فاندبغ جاز استعماله (في يابس) لا مائع، ولو وسع قلتين من الماء (إذا كان) الجلد (من حيوان طاهر في الحياة) مأكولا كان كالشاة أو لا كالهر. أما جلود السباع كالذئب ونحوه مما خلقته أكبر من الهر ولا يؤكل فلا يباح دبغه ولا استعماله قبل الدبغ ولا بعده ولا يصح بيعه. ويباح استعمال منخل من شعر نجس في يابس (ولبنها) أي لبن الميتة (وكل أجزائها) كقرنها وظفرها وعصبها وحافرها وإنفحتها وجلدتها (نجسة) فلا

يصح بيعها (غير شعر ونحوه) كصوف ووبر وريش من طاهر في الحياة فلا ينجس بموت فيجوز استعماله. ولا ينجس باطن بيضة مأكول صلب قشرها بموت الطائر (وما أبين من) حيوان (حي فهو كميتته) طهارة ونجاسة فما قطع من السمك
...এবং ঋতুবতী নারী, শিশু ও তাদের সদৃশ ব্যক্তিগণ।

 

(মৃত পশুর চামড়া পাকা করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না), এটি উমর, তাঁর পুত্র, আয়েশা এবং ইমরান বিন হুসাইন (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে, অখাদ্য প্রাণীর চামড়া যবেহ করার মাধ্যমে পবিত্র হয় না, যেমন তার গোশত (পবিত্র হয় না)। (এবং এটি ব্যবহার করা বৈধ) অর্থাৎ চামড়া ব্যবহার করা (পাকা করার পর) এমন পবিত্র বস্তু দ্বারা যা নাপাকি দূর করে শুকিয়ে ফেলে। "আর-রিআয়াহ" গ্রন্থে বলা হয়েছে: এতে দুর্গন্ধ দূর হওয়া আবশ্যক এবং নাড়িভুঁড়ি ও পাকস্থলী দিয়ে তন্তু বা রশি তৈরি করা পাকা করার অন্তর্ভুক্ত। এটি রোদে শুকানো বা মাটি মাখানোর মাধ্যমে অর্জিত হয় না এবং এতে মানুষের কর্মের প্রয়োজন পড়ে না; সুতরাং, যদি তা কোনো পাকা করার স্থানে পড়ে যায় এবং পাকা হয়ে যায়, তবে তা ব্যবহার করা জায়েয (শুষ্ক বস্তুর ক্ষেত্রে), তরল পদার্থের ক্ষেত্রে নয়, যদিও তা দুই কুল্লা পরিমাণ পানি ধারণ করার মতো প্রশস্ত হয়। (যখন) চামড়াটি (জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল এমন প্রাণীর হয়), চাই তা ভক্ষণযোগ্য হোক যেমন ছাগল, অথবা না হোক যেমন বিড়াল। পক্ষান্তরে হিংস্র প্রাণীর চামড়া যেমন নেকড়ে এবং তার অনুরূপ যা শারীরিক আকৃতিতে বিড়ালের চেয়ে বড় এবং ভক্ষণ করা হয় না, তার চামড়া পাকা করা বৈধ নয় এবং পাকা করার আগে বা পরে তা ব্যবহার করাও বৈধ নয় এবং তার ক্রয়-বিক্রয় সহীহ নয়। এবং শুষ্ক বস্তুর ক্ষেত্রে নাপাক চুল দ্বারা নির্মিত চালনি ব্যবহার করা বৈধ। (এবং তার দুধ) অর্থাৎ মৃত পশুর দুধ (এবং তার সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ) যেমন তার শিং, নখ, স্নায়ু, খুর, ইনফাহা (পনির জমাট বাঁধার বস্তু) এবং চামড়া (নাপাক); ফলে তা

বিক্রি করা সহীহ নয়। (চুল ও তার সদৃশ বস্তু ব্যতীত) যেমন পশম, লোম ও পালক যা জীবিত অবস্থায় পবিত্র ছিল, তা মৃত্যুর কারণে অপবিত্র হয় না, ফলে তা ব্যবহার করা জায়েয। আর ভক্ষণযোগ্য পাখির ডিমের ভেতরটা—যার খোসা শক্ত হয়ে গেছে—পাখির মৃত্যুর কারণে অপবিত্র হয় না। (এবং জীবিত) প্রাণী (থেকে যা বিচ্ছিন্ন করা হয় তা তার মৃতদেহের অনুরূপ) পবিত্রতা ও অপবিত্রতার বিচারে। সুতরাং মাছ থেকে যা কেটে নেওয়া হয়...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
طاهر، وما قطع من بهيمة الأنعام ونحوها مع بقاء حياتها نجس، غير مسك وفأرته والطريدة وتأتي في الصيد.

 

‌‌[باب الاستنجاء]

من نجوت الشجرة أي قطعتها، فكأنه قطع الأذى. والاستنجاء: إزالة خارج من سبيل بماء أو إزالة حكمه بحجر أو نحوه، ويسمى الثاني استجمارا من الجمار وهي الحجارة الصغيرة. (يستحب عند دخول الخلاء) ونحوه، وهو بالمد الموضع المعد لقضاء الحاجة (قول بسم الله) لحديث على: «ستر ما بين الجن وعورات بني آدم إذا دخل الكنيف أن يقول: بسم الله» رواه ابن ماجه والترمذي، وقال: ليس إسناده بالقوي، (أعوذ بالله من الخبث) بإسكان الباء، قال القاضي عياض: وهو أكثر روايات الشيوخ وفسره بالشر، (والخبائث) الشياطين فكأنه استعاذ من الشر وأهله، قال الخطابي: وهو بضم الباء وهو جمع خبيث والخبائث جمع خبيثة، فكأنه استعاذ من ذكرانهم وإناثهم، واقتصر المصنف على ذلك تبعا " للمحرر " و " الفروع " وغيرهما لحديث أنس: «أن النبي صلى الله عليه وسلم كان إذا دخل الخلاء قال: " اللهم إني أعوذ بك من الخبث والخبائث» متفق عليه. وزاد في " الإقناع " و " المنتهى " تبعا " للمقنع " وغيره " الرجس النجس الشيطان الرجيم " لحديث أبي
পবিত্র, এবং চতুষ্পদ গবাদি পশু বা তদ্রূপ প্রাণী জীবিত থাকা অবস্থায় যা কিছু তা থেকে কেটে আলাদা করা হয় তা অপবিত্র, তবে কস্তুরী ও এর নাভি এবং পলায়নপর শিকারকৃত পশু এর ব্যতিক্রম; যা শিকার অধ্যায়ে আলোচিত হবে।

 

‌‌[ইস্তিনজার অধ্যায়]

এটি 'নাজাওতুশ শাজারাহ' থেকে গৃহীত যার অর্থ আমি গাছটি কেটে ফেলেছি, সুতরাং এটি যেন কষ্টদায়ক বস্তু (নাপাকি) কেটে দূর করে দেওয়া। আর ইস্তিনজা হলো: রাস্তা দিয়ে নির্গত বস্তু পানি দ্বারা দূর করা অথবা পাথর বা তদ্রূপ বস্তুর মাধ্যমে তার হুকুম দূর করা; আর দ্বিতীয় পদ্ধতিটিকে 'ইস্তিজমার' বলা হয় যা 'জিমার' শব্দ থেকে উদ্ভূত, আর জিমার হলো ছোট ছোট পাথর। (শৌচাগারে প্রবেশের সময় মুস্তাহাব) এবং তদ্রূপ স্থানে, আর 'আল-খালা' দীর্ঘ স্বরযোগে ঐ স্থানকে বলা হয় যা হাজত পূরণের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। (বিসমিল্লাহ বলা) আলীর বর্ণিত হাদিসের কারণে: "জিনদের চোখ এবং বনী আদমের লজ্জাস্থানের মধ্যে পর্দা হলো, যখন কেউ শৌচাগারে প্রবেশ করে তখন বিসমিল্লাহ বলা।" এটি ইবনে মাজাহ ও তিরমিজি বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম তিরমিজি বলেছেন: এর সনদ শক্তিশালী নয়। (আমি আল্লাহর নিকট অপবিত্রতা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি) 'বা' বর্ণে সুকুন যোগে; কাজী ইয়াজ বলেন: এটিই অধিকাংশ শায়খদের বর্ণনা এবং তিনি এর অর্থ করেছেন মন্দ বা অনিষ্ট। (এবং অপবিত্র বিষয়সমূহ থেকে) অর্থাৎ শয়তান থেকে, ফলে এটি যেন অনিষ্ট ও অনিষ্টকারীদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা। খাত্তাবী বলেন: এটি 'বা' বর্ণে পেশ যোগে পড়া হয় যা 'খাবিস' (পুরুষ শয়তান)-এর বহুবচন এবং 'খাবাইস' হলো 'খাবিসাহ' (নারী শয়তান)-এর বহুবচন; সুতরাং এটি যেন তাদের পুরুষ ও নারীদের থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা। লেখক 'আল-মুহাররার' ও 'আল-ফুরু' এবং অন্যান্য গ্রন্থের অনুসরণে এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন আনাস বর্ণিত হাদিসের কারণে: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন শৌচাগারে প্রবেশ করতেন তখন বলতেন: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্রতা ও অপবিত্র বিষয়সমূহ থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" হাদিসটি সর্বসম্মত। আর 'আল-ইকনা' ও 'আল-মুনতাহা' গ্রন্থে 'আল-মুকনি' ও অন্যান্য গ্রন্থের অনুসরণে অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে: "নোংরা, অপবিত্র ও অভিশপ্ত শয়তান থেকে" যা আবু... এর হাদিসের কারণে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
أمامة: «لا يعجز أحدكم إذا دخل مرفقه أن يقول: اللهم إني أعوذ بك من الرجس النجس الشيطان الرجيم» (و) يستحب أن يقول (عند الخروج منه) أي من الخلاء ونحوه (غفرانك) أي أسألك غفرانك من الغفر وهو الستر لحديث عائشة: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خرج من الخلاء قال: غفرانك» رواه الترمذي وحسنه. وسن له أيضا أن يقول: (الحمد لله الذي

أذهب عني الأذى وعافاني) لما رواه ابن ماجه عن أنس: «كان رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا خرج من الخلاء قال: الحمد لله الذي أذهب عني الأذى وعافاني» . (و) يستحب له (تقديم رجله اليسرى دخولا) أي عند دخول الخلاء ونحوه من مواضع الأذى (و) يستحب له تقديم (اليمنى) رجليه (خروجا عكس مسجد) ومنزل (و) لبس (نعل) وخف، فاليسرى تقدم للأذى واليمنى لما سواه. وروى الطبراني في " المعجم الصغير " عن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إذا انتعل أحدكم فليبدأ باليمنى وإذا خلع فليبدأ باليسرى» وعلى قياسه القميص ونحوه. (و) يستحب له (اعتماده على رجله اليسرى) حال جلوسه لقضاء الحاجة، لما روى
উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত: "তোমাদের কেউ যখন শৌচাগারে প্রবেশ করে, সে যেন এটি বলতে অক্ষম না হয়: হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অপবিত্র, নাপাক, বিতাড়িত শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।" এবং মুস্তাহাব হলো (তা থেকে বের হওয়ার সময়) অর্থাৎ শৌচাগার বা অনুরূপ স্থান থেকে (বলা): "গুফরা-নাক" (আপনার ক্ষমা প্রার্থনা করছি); অর্থাৎ আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি। 'গুফর' শব্দ থেকে এর উৎপত্তি, যার অর্থ হলো ঢেকে রাখা। আয়েশা (রা.) বর্ণিত হাদিসের কারণে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: গুফরা-নাক।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি একে হাসান বলেছেন। এবং তার জন্য এটি বলাও সুন্নাত: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি

আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন।) ইবনে মাজাহ আনাস (রা.) থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন তার কারণে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন শৌচাগার থেকে বের হতেন, তখন বলতেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমার থেকে কষ্টদায়ক বস্তু দূর করেছেন এবং আমাকে সুস্থতা দান করেছেন।" এবং মুস্তাহাব হলো (প্রবেশের সময় বাম পা আগে দেওয়া) অর্থাৎ শৌচাগার বা অপবিত্রতার অনুরূপ স্থানে প্রবেশের সময়। এবং মুস্তাহাব হলো (বের হওয়ার সময়) তার দুই পায়ের মধ্যে (ডান পা) আগে দেওয়া; যা মসজিদ, বাড়ি এবং জুতা ও মোজা পরার বিপরীত। কারণ কষ্টদায়ক বা অপবিত্র স্থানের জন্য বাম পা অগ্রগণ্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে ডান পা অগ্রগণ্য। তাবারানি "আল-মু'জাম আস-সাগীর"-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের কেউ যখন জুতা পরিধান করবে, সে যেন ডান পা দিয়ে শুরু করে, আর যখন খুলবে, সে যেন বাম পা দিয়ে শুরু করে।" জামা এবং অনুরূপ পোশাকের ক্ষেত্রেও এই একই নিয়ম প্রযোজ্য। এবং তার জন্য মুস্তাহাব হলো হাজত পূরণের জন্য বসার সময় (বাম পায়ের ওপর ভর দেওয়া), কারণ বর্ণিত হয়েছে যে...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
الطبراني في " المعجم " والبيهقي عن سرقة بن مالك: «أمرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم أن نتكئ على اليسرى وأن ننصب اليمنى» . (و) يستحب (بعده) إذا كان (في فضاء) حتى لا يراه أحد لفعله صلى الله عليه وسلم رواه أبو داود من حديث جابر.

 

(و) يستحب (استتاره) لحديث أبي هريرة قال: «من أتى الغائط فليستتر» رواه أبو داود. (وارتياده لبوله مكانا رخوا) بتثليث الراء لينا هشا لحديث: «إذا بال أحدكم فليرتد لبوله» رواه أحمد وغيره. وفي " التبصرة " ويقصد مكانا علوا، ولعله لينحدر عنه البول فإن لم يجد مكانا رخوا ألصق ذكره ليأمن من رشاش البول. (و) يستحب (مسحه) أي أن يمسح (بيده اليسرى إذا فرغ من بوله من أصل ذكره) أي من حلقة دبره فيضع إصبعه الوسطى تحت الذكر والإبهام فوقه ويمر بهما (إلى رأسه) أي رأس الذكر (ثلاثا) لئلا يبقى من البول فيه شيء. (و) يستحب (نتره) بالمثناة (ثلاثا) أي نتر ذكره ثلاثا ليستخرج بقية البول منه لحديث «إذا بال أحدكم فلينتر ذكره ثلاثا» رواه أحمد وغيره. (و) يستحب

(تحوله من موضعه ليستنجي في غيره إن خاف تلوثا) باستنجائه في مكانه لئلا ينجس، ويبدأ ذكر وبكر بقبل لئلا تتلوث يده إذا بدأ بالدبر، وتخير ثيب.
তাবারানি 'আল-মুজাম' গ্রন্থে এবং বায়হাকি সুরাকা ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করেছেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বাম দিকের ওপর ভর দিয়ে বসতে এবং ডান পা খাড়া রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।" (আর) মোস্তাহাব হলো (এর পরে) যদি (তা কোনো উন্মুক্ত স্থানে হয়), যাতে তাকে কেউ দেখতে না পায়; এটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্মের কারণে প্রমাণিত। জাবির (রা.)-এর বর্ণিত হাদিস থেকে আবু দাউদ এটি বর্ণনা করেছেন।

 

(আর) মোস্তাহাব হলো (নিজেকে আড়াল করা); আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদিসের কারণে, তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি মলত্যাগের জন্য আসে, সে যেন পর্দা বা আড়াল গ্রহণ করে।" এটি আবু দাউদ বর্ণনা করেছেন। (আর প্রস্রাবের জন্য নরম স্থান খুঁজে নেওয়া) 'রা' বর্ণের তিন প্রকার হরকত সহযোগে যা কোমল ও ভঙ্গুর স্থান বোঝায়; হাদিসের কারণে: "তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করবে, তখন সে যেন তার প্রস্রাবের জন্য উপযুক্ত স্থান খুঁজে নেয়।" এটি আহমদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। 'আত-তাবসিরাহ' গ্রন্থে রয়েছে, সে যেন একটি উঁচু স্থানের সংকল্প করে, সম্ভবত যাতে প্রস্রাব তার থেকে ঢালু হয়ে গড়িয়ে যায়। যদি সে কোনো নরম জায়গা না পায়, তবে প্রস্রাবের ছিটা থেকে নিরাপদ থাকতে সে তার লিঙ্গ (জমিনের সাথে) ঠেকিয়ে রাখবে। (আর) মোস্তাহাব হলো (মাসাহ করা) অর্থাৎ সে (তার বাম হাত দিয়ে মাসাহ করবে যখন সে প্রস্রাব থেকে অবসর হবে, লিঙ্গের গোড়া থেকে) অর্থাৎ মলদ্বারের চক্রাকার অংশ থেকে; সে তার মধ্যমা আঙুলটি লিঙ্গের নিচে এবং বৃদ্ধাঙ্গুলি উপরে রাখবে এবং এই দুই আঙ্গুল দিয়ে (লিঙ্গের অগ্রভাগ পর্যন্ত) (তিনবার) টেনে আনবে, যাতে প্রস্রাবের অবশিষ্টাংশ সেখানে না থাকে। (আর) মোস্তাহাব হলো (তিনবার ঝাড়া) অর্থাৎ তার লিঙ্গকে তিনবার ঝাড়া যাতে প্রস্রাবের অবশিষ্টাংশ তা থেকে বেরিয়ে আসে; হাদিসের কারণে: "তোমাদের কেউ যখন প্রস্রাব করবে, সে যেন তার লিঙ্গকে তিনবার ঝেড়ে নেয়।" এটি আহমদ ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। (আর) মোস্তাহাব হলো

(নিজের স্থান পরিবর্তন করা যাতে অন্য স্থানে শৌচক্রিয়া করতে পারে, যদি সে অপবিত্র হওয়ার আশঙ্কা করে) নিজের স্থানে ইস্তিনজা করার কারণে যাতে সে নাপাক না হয়ে যায়। আর পুরুষ এবং কুমারী নারী সামনের দিক থেকে শুরু করবে যাতে মলদ্বার দিয়ে শুরু করলে তার হাত অপবিত্র না হয়। তবে বিবাহিতা নারী (পছন্দানুযায়ী যে কোনো একটি দিয়ে শুরু করার) ইখতিয়ার রাখে।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
(ويكره دخوله) أي دخول الخلاء ونحوه (بشيء فيه ذكر الله تعالى) غير مصحف فيحرم (إلا لحاجة) لا دراهم ونحوها، وحرز للمشقة، ويجعل فص خاتم احتاج للدخول به بباطن كف يمنى. (و) يكره استكمال (رفع ثوبه قبل دنوه) أي قربه (من الأرض) بلا حاجة فيرفع شيئا فشيئا. ولعله يجب إن كان ثم من ينظره، قاله في " المبدع ". (و) يكره (كلامه فيه) ولو برد سلام، وإن عطس حمد بقلبه. ويجب عليه تحذير ضرير وغافل عن هلكة. وجزم صاحب " النظم " بتحريم القراءة في الحش وسطحه وهو متوجه على حاجته (و) يكره (بوله في شق) بفتح الشين (ونحوه) كسرب وهو ما يتخذه الوحش والذئب بيتا في الأرض.

ويكره أيضا بوله في إناء بلا حاجة ومستحم غير مقير أو مبلط (ومس فرجه) أو فرج زوجته ونحوها (بيمينه و) يكره (استنجاؤه واستجماره بها) أي بيمينه لحديث أبي قتادة: «لا يمسكن أحدكم ذكره بيمينه وهو يبول، ولا يتمسح من الخلاء بيمينه» متفق عليه (واستقبال النيرين) أي الشمس والقمر لما فيهما من نور الله تعالى.

 

(ويحرم استقبال القبلة واستدبارها) حال قضاء الحاجة (في غير بنيان) لخبر أبي أيوب مرفوعا: «إذا أتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة ولا تستدبروها ولكن شرقوا أو غربوا» متفق عليه. ويكفي انحرافه عن جهة القبلة وحائل ولو كمؤخرة رحل ولا يعتبر القرب من الحائل، ويكره استقبالها حال الاستنجاء
(এবং তার জন্য প্রবেশ করা অপছন্দনীয়) অর্থাৎ শৌচাগার ও এই জাতীয় স্থানে প্রবেশ করা (এমন কোনো বস্তু সাথে নিয়ে যাতে মহান আল্লাহর জিকর রয়েছে) মুসহাফ ব্যতীত; কেননা মুসহাফ নিয়ে প্রবেশ করা হারাম, (তবে প্রয়োজন ছাড়া)। দিরহাম ও এই জাতীয় বস্তু এবং কষ্টসাধ্য হওয়ার কারণে রক্ষাকবচ এর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর যদি আংটি নিয়ে প্রবেশের প্রয়োজন হয়, তবে আংটির পাথরটি ডান হাতের তালুর ভেতরের দিকে রাখবে। (এবং) প্রয়োজন ছাড়া (মাটির নিকটবর্তী হওয়ার পূর্বে কাপড় পুরোপুরি তোলা) অপছন্দনীয়; বরং কাপড় অল্প অল্প করে তুলবে। আর যদি সেখানে এমন কেউ থাকে যে তাকে দেখছে, তবে (কাপড় তোলা থেকে বিরত থাকা) সম্ভবত ওয়াজিব; যা 'আল-মুবদি' গ্রন্থে বলা হয়েছে। (এবং) সেখানে (তার কথা বলা) অপছন্দনীয়, এমনকি সালামের উত্তর দেওয়াও। যদি হাঁচি দেয় তবে মনে মনে আল্লাহর প্রশংসা করবে। আর কোনো অন্ধ ব্যক্তি বা বিপদ সম্পর্কে অসতর্ক ব্যক্তিকে ধ্বংস থেকে সতর্ক করা তার জন্য ওয়াজিব। 'আন-নাজম' গ্রন্থের লেখক শৌচাগারে বা তার ছাদে মলমূত্র ত্যাগরত অবস্থায় কিরাআত পাঠ করা হারাম হওয়ার বিষয়ে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন। (এবং) (গর্তের মধ্যে প্রস্রাব করা) অপছন্দনীয় (এবং এই জাতীয় স্থানে) যেমন সুরঙ্গ; যা হিংস্র প্রাণী বা নেকড়ে বাঘ মাটিতে তাদের ঘর হিসেবে গ্রহণ করে।

প্রয়োজন ছাড়া কোনো পাত্রে এবং প্লাস্টার বা ইট-পাথর বিছানো নয় এমন গোসলখানায় প্রস্রাব করাও অপছন্দনীয়। (এবং নিজের লজ্জাস্থান) অথবা নিজের স্ত্রীর লজ্জাস্থান (ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করা) এবং ডান হাত দিয়ে (ইস্তিনজা এবং ইস্তিজমার করা) অপছন্দনীয়; আবু কাতাদা (রা.) বর্ণিত হাদীসের কারণে: "তোমাদের কেউ যেন প্রস্রাব করার সময় তার লিঙ্গ ডান হাত দিয়ে না ধরে এবং শৌচকার্য শেষে ডান হাত দিয়ে যেন না মোছে।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। (এবং উজ্জ্বল জ্যোতিষ্কদ্বয়ের দিকে মুখ করা) অর্থাৎ সূর্য এবং চাঁদের দিকে; কারণ তাতে আল্লাহর নূর রয়েছে।

 

(এবং কিবলার দিকে মুখ করা এবং কিবলার দিকে পিঠ দিয়ে বসা হারাম) মলমূত্র ত্যাগের সময় (যদি কোনো দালানকোঠা বা বেষ্টনী না থাকে); আবু আইয়ুব (রা.) থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত হাদীসের কারণে: "যখন তোমরা শৌচাগারে আসবে তখন কিবলামুখী হবে না এবং কিবলার দিকে পিঠ দিয়েও বসবে না; বরং তোমরা পূর্ব অথবা পশ্চিম দিকে মুখ করো।" (মুত্তাফাকুন আলাইহি)। কিবলার দিক থেকে বিচ্যুত হওয়া এবং কোনো আড়াল থাকাই যথেষ্ট, যদিও তা সওয়ারির পেছনের কাষ্ঠখণ্ডের ন্যায় ক্ষুদ্র হয়। আর আড়ালের অতি নিকটবর্তী হওয়া জরুরি নয়। ইস্তিনজা করার সময় কিবলার দিকে মুখ করা অপছন্দনীয়।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
(و) يحرم (لبثه فوق حاجته) لما فيه من كشف العورة بلا حاجة وهو مضر عند الأطباء (و) يحرم (بوله) وتغوطه (في طريق) مسلوك (وظل نافع) ومثله مشمس بزمن الشتاء ومتحدث الناس (وتحت شجرة عليها ثمرة) لأنه يقذرها، وكذا في موارد الماء وتغوطه بماء مطلقا.

(ويستجمر بحجر) أو نحوه (ثم يستنجي بالماء) لفعله صلى الله عليه وسلم رواه أحمد وغيره من حديث عائشة وصححه الترمذي، فإن عكس كره، (ويجزئه الاستجمار) حتى مع وجود الماء لكن الماء أفضل. (إن لم يعد) أي يتجاوز (الخارج موضع العادة) مثل أن ينتشر الخارج على شيء من الصفحة أو يمتد إلى الحشفة امتدادا غير معتاد فلا يجزئ فيه إلا الماء كقبلي الخنثى المشكل ومخرج غير فرج وتنجس مخرج بغير خارج، ولا يجب غسل نجاسة وجنابة بداخل فرج ثيب ولا داخل حشفة أقلف غير مفتوق.

 

(ويشترط للاستجمار بأحجار ونحوها) كخشب وخرق (أن يكون) ما يستجمر به (طاهرا) مباحا (منقيا غير عظم وروث) ولو طاهرين (وطعام) ولو لبهيمة (ومحترم) ككتب علم (ومتصل بحيوان) كذنب البهيمة وصوفها المتصل بها، ويحرم الاستجمار بهذه الأشياء وبجلد سمك أو حيوان مذكى مطلقا أو حشيش رطب. (ويشترط) للاكتفاء بالاستجمار (ثلاث مسحات منقية فأكثر) إن لم يحصل بثلاث، ولا يجزئ أقل منها ويعتبر أن تعم كل مسحة المحل (ولو) كانت الثلاث (بحجر ذي
(এবং) হারাম (প্রয়োজনের অতিরিক্ত সময় অবস্থান করা) যেহেতু এতে বিনা প্রয়োজনে সতর উন্মুক্ত রাখা হয় এবং এটি চিকিৎসকদের নিকট ক্ষতিকর। (এবং) হারাম (পেশাব করা) ও পায়খানা করা (চলাচলের রাস্তায়), (এবং উপকারী ছায়ায়)। এর অনুরূপ হলো শীতকালীন রোদ পোহানোর জায়গা এবং মানুষের কথা বলার জায়গা। (এবং ফলবান গাছের নিচে) কারণ এটি ফলকে অপবিত্র করে। তদ্রূপ পানির উৎসস্থলে এবং সাধারণভাবে পানিতে পায়খানা করা।

(এবং পাথর দিয়ে ইস্তিজমার করবে) বা অনুরূপ বস্তু দিয়ে, (অতঃপর পানি দিয়ে ইস্তিনজা করবে) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আমলের কারণে। এটি ইমাম আহমাদ ও অন্যান্যরা আয়েশা (রা.)-এর হাদিস থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী একে সহীহ বলেছেন। যদি এর বিপরীত করা হয় তবে তা মাকরূহ হবে। (এবং ইস্তিজমার করাই যথেষ্ট হবে) এমনকি পানি থাকা সত্ত্বেও, তবে পানি ব্যবহার করা উত্তম। (যদি না অতিক্রম করে) অর্থাৎ নির্গত বস্তু যদি (স্বাভাবিক সীমা অতিক্রম না করে); যেমন নির্গত বস্তু মলদ্বারের পার্শ্ববর্তী অংশে ছড়িয়ে পড়া কিংবা লিঙ্গাগ্রের এমন অংশ পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়া যা অস্বাভাবিক। এমতাবস্থায় পানি ব্যতীত অন্য কিছু যথেষ্ট হবে না। যেমন খুনসা মুশকিলের উভয় অঙ্গ, জননেন্দ্রিয় ব্যতীত অন্য কোনো নির্গমন পথ এবং নির্গত বস্তু ছাড়া অন্য কোনো কারণে নির্গমন পথ নাপাক হওয়া। আর বিবাহিত নারীর যোনিপথের অভ্যন্তরীণ অংশ ধোয়া এবং খতনাবিহীন ব্যক্তির লিঙ্গাগ্রের চামড়ার ভেতরের অংশ ধোয়া ওয়াজিব নয়, চাই তা নাপাকি ধোয়ার জন্য হোক বা জানাবাতের জন্য।

 

(এবং পাথর ও অনুরূপ বস্তু যেমন) কাঠ ও ন্যাকড়া (দ্বারা ইস্তিজমার করার জন্য শর্ত হলো) যা দিয়ে ইস্তিজমার করা হচ্ছে তা (পবিত্র), বৈধ (এবং পরিষ্কারকারী হতে হবে; হাড় ও গোবর হওয়া চলবে না) যদিও সেগুলো পবিত্র হয়। (এবং খাদ্যদ্রব্য হওয়া চলবে না) যদিও তা চতুষ্পদ জন্তুর খাদ্য হয়, (এবং সম্মানিত বস্তু হওয়া চলবে না) যেমন ইলমী কিতাবাদি, (এবং প্রাণীর সাথে সংযুক্ত কোনো অংশ হওয়া চলবে না) যেমন পশুর লেজ এবং তার শরীরের সাথে সংযুক্ত পশম। এসব বস্তু দ্বারা এবং মাছের চামড়া বা জবেহকৃত পশুর চামড়া কিংবা কাঁচা ঘাস দ্বারা ইস্তিজমার করা হারাম। (এবং শর্ত হলো) ইস্তিজমারের মাধ্যমে যথেষ্ট হওয়ার জন্য (পরিষ্কারকারী তিনটি মোছা বা তার অধিক) যদি তিনবারে পরিষ্কার না হয়। তিনবারের কম যথেষ্ট হবে না এবং প্রতিটি মোছা পুরো স্থানকে বেষ্টন করে নেওয়া ধর্তব্য। (যদিও) তিন মোছা (এমন এক পাথর দ্বারা হয় যার...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
شعب) أجزأت إن أنقت، وكيف ما حصل الإنقاء في الاستجمار أجزأ وهو أن يبقى أثر لا يزيله إلا الماء وبالماء عود خشونة المحل كما كان مع السبع غسلات ويكفي ظن الإنقاء. (ويسن قطعه) أي قطع ما زاد على الثلاث (على وتر) فإن أنقى برابعة زاد خامسة وهكذا. (ويجب الاستنجاء) بماء أو حجر ونحوه (لكل خارج) من سبيل إذا أراد الصلاة ونحوها (إلا الريح) والطاهر وغير الملوث، (ولا يصح قبله) أي قبل الاستنجاء بماء أو حجر ونحوه (وضوء ولا تيمم) لحديث المقداد المتفق عليه: «يغسل ذكره ثم يتوضأ» . ولو كانت النجاسة على غير السبيلين أو عليهما غير خارجة منهما صح الوضوء والتيمم قبل زوالها.

* * *

‌‌[باب السواك وسنن الوضوء]

وما ألحق بذلك من الادهان والاكتحال

والاختتان والاستحداد ونحوها السواك والمسواك: اسم للعود الذي يستاك به. ويطلق السواك على الفعل أي دلك الفم بالعود لإزالة نحو تغير كالتسوك. (التسوك بعود لين) سواء كان رطبا أو يابسا مندى من أراك أو زيتون أو عرجون أو غيرها (منق) للفم (غير مضر) احترازا عن الرمان والآس وكل ماله رائحة طيبة (لا يتفتت) ولا يجرح، ويكره بعود يجرح أو يضر أو يتفتت. و (لا) يصيب السنة من استاك (بأصبع أو خرقة) ونحوها لأن الشرع لم يرد به، ولا يحصل به الإنقاء كالعود.
(শাখা) এটি যথেষ্ট হবে যদি তা পরিষ্কার করে। ইস্তিজমারে যেভাবে পরিষ্কার অর্জিত হবে তা-ই যথেষ্ট হবে, আর তা হলো কেবল এমন সামান্য চিহ্ন অবশিষ্ট থাকা যা পানি ব্যতীত দূর হয় না। আর পানির মাধ্যমে (পরিষ্কার হওয়ার মানদণ্ড হলো) স্থানের রুক্ষতা পূর্বের ন্যায় ফিরে আসা, যেমনটি সাতবার ধৌত করার মাধ্যমে হয়ে থাকে এবং পরিষ্কার হওয়ার প্রবল ধারণাই যথেষ্ট। (এবং এটি সমাপ্ত করা সুন্নাত) অর্থাৎ তিনের অধিক যা হবে তা (বিজোড় সংখ্যায়) সমাপ্ত করা। যদি চতুর্থবারের ব্যবহারে পরিষ্কার হয় তবে পঞ্চমবার বৃদ্ধি করবে এবং এভাবেই চলতে থাকবে। (এবং ইস্তিনজা করা ওয়াজিব) পানি অথবা পাথর বা তদ্রূপ বস্তুর মাধ্যমে (প্রত্যেক নির্গত বস্তুর জন্য) যা রাস্তা (মল-মূত্রদ্বার) থেকে বের হয়, যখন সে সালাত বা এই জাতীয় ইবাদতের ইচ্ছা করে (বায়ু ব্যতীত) এবং পবিত্র ও লেপন করে না এমন বস্তু ব্যতীত। (এবং এর পূর্বে সহীহ হবে না) অর্থাৎ পানি বা পাথর ইত্যাদি দ্বারা ইস্তিনজা করার পূর্বে (উযু বা তায়াম্মুম সহীহ হবে না), মিকদাদ (রা.)-এর মুত্তাফাকুন আলাইহি হাদীসের কারণে: "সে তার লিঙ্গ ধৌত করবে তারপর উযু করবে।" যদি নাপাকি দুই রাস্তা (মল-মূত্রদ্বার) ব্যতীত অন্য কোথাও থাকে অথবা এই দুই রাস্তার উপরেই থাকে কিন্তু ভেতর থেকে নির্গত না হয়, তবে তা দূর করার পূর্বেই উযু ও তায়াম্মুম সহীহ হবে।

* * *

‌‌[মিসওয়াক ও উযুর সুন্নাতসমূহের অধ্যায়]

এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহ যেমন তেল লাগানো, সুরমা লাগানো, খতনা করা, ক্ষৌরকর্ম এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়াবলি। মিসওয়াক ও মাসওয়াক: এটি সেই ডালের নাম যা দিয়ে দাঁত মাজা হয়। আর মিসওয়াক শব্দটি কার্যের ওপরও প্রয়োগ করা হয়, অর্থাৎ দুর্গন্ধ বা পরিবর্তন দূর করার জন্য ডাল দিয়ে মুখ ঘর্ষণ করা, যেমন ‘তাসাউউক’। (নরম ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা) চাই তা কাঁচা হোক অথবা শুকনো যা সিক্ত করে নেওয়া হয়েছে, আর তা আরাক, যয়তুন বা খেজুরের ডাল অথবা অন্য কিছুর হোক, যা মুখের জন্য (পরিষ্কারক) এবং (ক্ষতিকর নয়)। ডালিম, আস গাছ এবং সুগন্ধিযুক্ত ডাল থেকে বেঁচে থাকার জন্য এটি বলা হয়েছে; (যা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয় না) এবং জখম করে না। আর এমন ডাল দিয়ে মিসওয়াক করা মাকরূহ যা জখম করে, ক্ষতি করে অথবা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এবং যে ব্যক্তি (আঙুল বা কাপড়) অথবা এই জাতীয় কিছু দিয়ে মিসওয়াক করে সে সুন্নাত প্রাপ্ত হবে (না)। কারণ শরীয়তে এটি বর্ণিত হয়নি এবং এর দ্বারা ডালের ন্যায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জিত হয় না।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
(مسنون كل وقت) . خبر قوله: التسوك، أي يسن كل وقت لحديث: «السواك مطهرة للفم مرضاة للرب» رواه الشافعي وأحمد وغيرهما (لغير صائم بعد الزوال) فيكره فرضا كان الصوم أو نفلا وقبل الزوال يستحب له بيابس ويباح برطب لحديث: «إذا صمتم فاستاكوا بالغداة ولا تستاكوا بالعشي» أخرجه البيهقي عن علي رضي الله عنه (متأكد) خبر ثان للتسوك (عند صلاة) فرضا كانت أو نفلا (و) عند (انتباه) من نوم ليل أو نهار (و) عند (تغير) رائحة (فم) بمأكول أو غيره وعند وضوء وقراءة. زاد الزركشي والمصنف في " الإقناع ": ودخول منزل ومسجد وإطالة سكوت وخلو المعدة من الطعام واصفرار الأسنان.

 

(ويستاك عرضا) استحبابا بالنسبة إلى الأسنان بيده اليسرى على أسنانه ولثته ولسانه ويغسل السواك ولا بأس أن يستاك به اثنان فأكثر. قال في " الرعاية ": ويقول إذا استاك: اللهم طهر قلبي ومحص ذنوبي، قال بعض الشافعية: وينوي به الإتيان بالسنة (مبتدئا بجانب فمه الأيمن) فتسن البداءة بالأيمن في سواك وطهور وفي شأنه كله غير ما يستقذر
(প্রতিটি সময়েই সুন্নাত)। এটি তাঁর কথা ‘সিওয়াক’ এর খবর; অর্থাৎ প্রতিটি সময়েই তা সুন্নাত, এই হাদিসের কারণে: “সিওয়াক মুখের জন্য পবিত্রতা এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ।” এটি শাফেঈ, আহমাদ এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন। (রোজা পালনকারীর জন্য সূর্য ঢলে পড়ার পর ব্যতীত)। সুতরাং তখন তা মাকরূহ, রোজাটি ফরজ হোক বা নফল। আর সূর্য ঢলে পড়ার আগে শুকনা সিওয়াক দিয়ে করা মুস্তাহাব এবং কাঁচা সিওয়াক দিয়ে করা বৈধ; হাদিসের কারণে: “যখন তোমরা রোজা রাখো, তখন সকালে সিওয়াক করো এবং বিকেলে সিওয়াক করো না।” এটি বায়হাকী আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। (তাকিদযুক্ত) এটি সিওয়াক এর জন্য দ্বিতীয় খবর। (নামাজের সময়) তা ফরজ হোক বা নফল। (এবং) দিনের বা রাতের ঘুম থেকে (জেগে ওঠার সময়)। (এবং) খাবার বা অন্য কোনো কারণে (মুখের) গন্ধ (পরিবর্তিত হওয়ার সময়)। এবং অজুর সময় ও তিলাওয়াতের সময়। যারকাশী এবং ‘আল-ইকনা’ গ্রন্থে লেখক আরও যোগ করেছেন: বাড়ি ও মসজিদে প্রবেশের সময়, দীর্ঘ সময় নীরব থাকার কারণে, পাকস্থলী খাদ্যশূন্য হলে এবং দাঁত হলদে হয়ে গেলে।

 

(এবং সে আড়াআড়িভাবে সিওয়াক করবে) দাঁতের ক্ষেত্রে মুস্তাহাব হিসেবে; তার বাম হাত দিয়ে দাঁত, মাড়ি ও জিহ্বার ওপর সিওয়াক করবে এবং সিওয়াকটি ধুয়ে নেবে। একজনের সিওয়াক দুই বা ততোধিক ব্যক্তি ব্যবহার করলে কোনো অসুবিধা নেই। ‘আর-রিয়াহ’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: সে যখন সিওয়াক করবে তখন বলবে: “হে আল্লাহ, আমার অন্তর পবিত্র করুন এবং আমার পাপসমূহ মোচন করুন।” জনৈক শাফেঈ আলিম বলেছেন: এর মাধ্যমে সে সুন্নাত পালনের নিয়ত করবে। (নিজের মুখের ডান দিক থেকে শুরু করবে)। কেননা সিওয়াক, পবিত্রতা অর্জন এবং অপছন্দনীয় বিষয় ছাড়া অন্য সকল ক্ষেত্রে ডান দিক থেকে শুরু করা সুন্নাত।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
(ويدهن) استحبابا (غبا) يوما بعد يوم، أي يوما يدهن ويوما لا يدهن لأنه - «صلى الله عليه وسلم نهى عن الترجل إلا غبا» ، رواه الترمذي والنسائي وصححه. والترجيل: تسريح الشعر ودهنه (ويكتحل)

في كل عين (وترا) ثلاثا بالإثمد المطيب كل ليلة قبل أن ينام لفعله عليه السلام رواه أحمد وغيره عن ابن عباس. ويسن نظر في مرآة وتطيب، ويتفطن إلى نعم الله تعالى ويقول: «اللهم كما حسنت خلقي فحسن خلقي وحرم وجهي على النار» لحديث أبي هريرة.

 

(ويجب التسمية في الوضوء مع الذكر) أي أن يقول: بسم الله، لا يقوم غيرها مقامها لخبر أبي هريرة مرفوعا: «لا صلاة لمن لا وضوء له، ولا وضوء لمن لم يذكر اسم الله عليه» رواه أحمد وغيره، وتسقط مع السهو وكذا غسل وتيمم. (ويجب الختان) عند البلوغ (ما لم يخف على نفسه) ذكرا كان أو خنثى أو أنثى، فالذكر بأخذ جلدة الحشفة والأنثى بأخذ جلده فوق محل الإيلاج تشبه عرف الديك، ويستحب أن لا تؤخذ كلها والخنثى بأخذهما، وفعله زمن صغر أفضل، وكره في سابع يوم ومن الولادة إليه.

 

(ويكره القزع) وهو حلق بعض الرأس وترك بعض، وكذا حلق القفا لغير حجامة ونحوها،
(এবং তেল ব্যবহার করা) মুস্তাহাব (মাঝে মাঝে) একদিন পরপর। অর্থাৎ একদিন তেল ব্যবহার করবে এবং একদিন করবে না। কেননা তিনি—সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—মাঝে মাঝে ছাড়া চুল আঁচড়াতে নিষেধ করেছেন। এটি তিরমিযী ও নাসাঈ বর্ণনা করেছেন এবং একে সহীহ বলেছেন। আর 'তারজীল' হলো চুল আঁচড়ানো এবং তাতে তেল দেওয়া। (এবং সুরমা ব্যবহার করবে)

প্রতি চোখে তিনবার করে (বেজোড় সংখ্যায়) সুগন্ধযুক্ত ইসমীদ সুরমা দ্বারা, প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে। কেননা আলাইহিস সালাম এমনটি করতেন; এটি আহমাদ এবং অন্যান্যরা ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আয়নায় দেখা ও সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নাত। তখন আল্লাহর নিআমতসমূহের প্রতি মনোনিবেশ করবে এবং বলবে: "হে আল্লাহ, যেভাবে আপনি আমার গঠন সুন্দর করেছেন, সেভাবে আমার চরিত্রও সুন্দর করে দিন এবং আমার চেহারাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দিন।" এটি আবু হুরায়রার হাদীসের কারণে।

 

(এবং ওযুতে স্মরণ থাকা অবস্থায় 'বিসমিল্লাহ' বলা ওয়াজিব)। অর্থাৎ বলবে: বিসমিল্লাহ। এটি ছাড়া অন্য কিছু তার স্থলাভিষিক্ত হবে না। আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত মারফূ হাদীসের কারণে: "যার ওযু নেই তার নামায নেই, আর যে আল্লাহর নাম উল্লেখ করেনি তার ওযু নেই।" এটি আহমাদ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। তবে ভুলে গেলে তা ক্ষমাযোগ্য। গোসল এবং তায়াম্মুমের ক্ষেত্রেও একই বিধান। (এবং খাতনা করা ওয়াজিব) সাবালক হওয়ার সময় (যতক্ষণ না নিজের জীবনের আশঙ্কা থাকে), সে পুরুষ হোক বা হিজড়া অথবা নারী। পুরুষের ক্ষেত্রে লিঙ্গাগ্রের চামড়া ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে এবং নারীর ক্ষেত্রে প্রবেশের স্থানের উপরের চামড়া নেওয়ার মাধ্যমে যা মোরগের ঝুঁটির মতো। মুস্তাহাব হলো পুরো অংশ না নেওয়া। আর হিজড়ার ক্ষেত্রে উভয়টি করা। শৈশবে এটি করা উত্তম। সপ্তম দিনে এবং জন্ম থেকে সপ্তম দিন পর্যন্ত সময়ে করা মাকরূহ।

 

(এবং 'কাযা' মাকরূহ)। তা হলো মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা এবং কিছু অংশ ছেড়ে দেওয়া। অনুরূপভাবে হিজামা বা এই জাতীয় প্রয়োজন ছাড়া ঘাড়ের পেছনের অংশ মুণ্ডন করাও মাকরূহ।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
ويسن إبقاء شعر الرأس، قال أحمد: هو سنة لو تقوى عليه اتخذناه ولكن له كلفة ومؤونة، ويسرحه ويفرقه ويكون إلى أذنيه وينتهي إلى منكبيه كشعره عليه السلام، ولا بأس بزيادة وجعله ذؤابة، ويعفي لحيته ويحرم حلقها، ذكره الشيخ تقي الدين، ولا يكره أخذ ما زاد على القبضة منها وما تحت حلقه، ويحف شاربه وهو أولى من قصه، ويقلم أظفاره مخالفا، وينتف إبطه، ويحلق عانته وله إزالتها بما شاء. والتنوير فعله أحمد في العورة وغيرها. ويدفن ما يزيله من شعره وظفره ونحوه ويفعله كل أسبوع يوم الجمعة قبل الزوال ولا يتركه فوق أربعين يوما، وأما الشارب ففي كل جمعة.

 

(ومن سنن الوضوء) وهي جمع سنة، وهي في اللغة الطريقة، وفي الاصطلاح ما يثاب على فعله ولا يعاقب على تركه، وتطلق أيضا على أقواله وأفعاله وتقريراته صلى الله عليه وسلم، وسمي غسل الأعضاء على الوجه المخصوص وضوءا لتنظيفه المتوضئ وتحسينه. (السواك)

وتقدم أنه يتأكد فيه ومحله عند المضمضة (وغسل الكفين ثلاثا) في أول الوضوء ولو تحقق طهارتهما (ويجب) غسلهما ثلاثا بنية وتسمية (من نوم ليل ناقض لوضوء) لما تقدم في أقسام الماء ويسقط غسلهما والتسمية سهوا وغسلهما لمعنى فيهما، فلو استعمل الماء ولم يدخل
মাথার চুল রাখা সুন্নাত। ইমাম আহমাদ বলেন: এটি সুন্নাত; যদি আমাদের সামর্থ্য থাকত তবে আমরা এটি পালন করতাম, কিন্তু এতে শ্রম ও ব্যয় রয়েছে। চুল আঁচড়ানো এবং সিঁথি করা সুন্নাত। চুল কানের লতি পর্যন্ত হওয়া এবং ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছানো সুন্নাত, যেমনটি ছিল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চুল। চুল এর চেয়ে বড় রাখা বা ঝুঁটি কিংবা বেণী করে রাখাতে কোনো দোষ নেই। দাড়ি লম্বা রাখা কর্তব্য এবং তা মুণ্ডানো হারাম, শাইখ তাকীউদ্দীন এটি উল্লেখ করেছেন। দাড়ির এক মুষ্ঠির অতিরিক্ত অংশ এবং গলার নিচের পশম কাটলে কোনো অসুবিধা (মাকরূহ) নেই। মোচ এমনভাবে ছাঁটা উত্তম যাতে তা চামড়ার কাছাকাছি হয়ে যায় এবং এটি সাধারণ কাটার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। হাত-পায়ের নখ বিপরীতক্রমে বা ধারাবাহিকভাবে কাটবে, বগলের পশম উপড়ে ফেলবে এবং নাভির নিচের পশম কামাবে, তবে যে কোনো পদ্ধতিতেই তা দূর করা জায়েজ। ইমাম আহমাদ গুপ্তাঙ্গ ও শরীরের অন্যান্য স্থানে চুল পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহার করতেন। শরীরের কাটা চুল, নখ এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো মাটি চাপা দেওয়া বা দাফন করা উচিত। প্রতি সপ্তাহে জুমার দিন দ্বিপ্রহরের আগে এই কাজগুলো করা সুন্নাত এবং তা চল্লিশ দিনের বেশি ফেলে রাখা যাবে না। আর মোচ কাটার বিষয়টি প্রতি জুমায় হওয়া বাঞ্ছনীয়।

 

(এবং ওযুর সুন্নাতসমূহ) এটি সুন্নাত শব্দের বহুবচন। আভিধানিক অর্থে সুন্নাত হলো পথ বা পদ্ধতি। আর পরিভাষায় সুন্নাত হলো এমন কাজ যার পালনে সওয়াব পাওয়া যায় এবং বর্জনে শাস্তি হয় না। এটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী, কর্ম ও মৌন সম্মতির ওপরও প্রয়োগ করা হয়। নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করাকে ওযু বলা হয়, কারণ এটি ওযুকারীকে পরিচ্ছন্ন ও লাবণ্যময় করে। (মিসওয়াক)

পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ওযুর সময় মিসওয়াক করা অত্যন্ত গুরুত্ব পায় এবং এর স্থান হলো কুলি করার সময়। (দুই হাতের কব্জি পর্যন্ত তিনবার ধৌত করা) ওযুর শুরুতে কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা সুন্নাত, যদিও হাতের পবিত্রতার ব্যাপারে কেউ নিশ্চিত থাকে। (এবং ওয়াজিব) ওযু ভঙ্গকারী রাতের ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে নিয়ত ও তাসমিয়াহ (বিসমিল্লাহ) সহকারে তিনবার কব্জি পর্যন্ত ধৌত করা ওয়াজিব, যা পানির প্রকারভেদ আলোচনায় গত হয়েছে। তবে ভুলে গেলে কব্জি ধৌত করা এবং তাসমিয়াহর আবশ্যকতা রহিত হয়ে যায়। এই ধৌত করার বিষয়টি হাতের বিশেষ অবস্থার (পরিচ্ছন্নতার) কারণে। সুতরাং কেউ যদি পানি ব্যবহার করে কিন্তু হাত প্রবেশ না করিয়ে...
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
يده في الإناء لم يصح وضوؤه وفسد الماء.

 

(و) من سنن الوضوء (البداءة) قبل غسل الوجه (بمضمضة ثم استنشاق) ثلاثا ثلاثا بيمينه واستنثاره بيساره (و) من سننه (المبالغة فيهما) أي في المضمضة والاستنشاق (لغير صائم) فتكره والمبالغة في مضمضة إدارة الماء بجميع فمه، وفي الاستنشاق جذبه بنفس إلى أقصى الأنف، وفي بقية الأعضاء ذلك ما ينبو عنه الماء للصائم وغيره، (و) من سننه (تخليل اللحية الكثيفة) بالثاء المثلثة وهي التي تستر البشرة فيأخذ كفا من ماء يضعه من تحتها بأصابعه مشتبكة أو من جانبيها ويعركها، وكذا عنفقته وباقي شعور الوجه (و) من سننه تخليل (الأصابع) أي أصابع اليدين والرجلين، قال في الشرح: وهو في الرجلين آكد ويخلل أصابع رجليه بخنصر يده اليسرى من باطن رجله اليمنى من خنصرها إلى إبهامها، وفي اليسرى بالعكس، وأصابع يديه إحداهما بالأخرى، فإن كانت أو بعضها ملتصقة سقط.

(و) من سننه (التيامن) بلا خلاف (وأخذ ماء جديد للأذنين) بعد مسح رأسه ومجاوزة محل فرض. (و) من سننه (الغسلة الثانية والثالثة) وتكره الزيادة عليها. ويعمل في عدد الغسلات بالأقل، ويجوز الاقتصار على الغسلة الواحدة. والثنتان أفضل والثلاثة أفضل منهما. ولو غسل بعض أعضاء الوضوء أكثر من بعض لم يكره. ولا يسن مسح العنق ولا الكلام على الوضوء.

 

‌‌[باب فروض الوضوء وصفته]

الفرض لغة يقال لمعان أصلها الحز والقطع، وشرعا ما أثيب فاعله وعوقب تاركه. والوضوء استعمال ماء طهور في الأعضاء الأربعة على صفة مخصوصة،
পাত্রে তার হাত (ডুবিয়েছে), তার অজু সঠিক হবে না এবং পানি নষ্ট হয়ে যাবে।

 

(এবং) অজুর সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো মুখ ধোয়ার আগে (শুরু করা) (তিন বার কুলি করা এবং এরপর তিন বার নাকে পানি দেওয়া) তার ডান হাত দিয়ে এবং বাম হাত দিয়ে নাক ঝাড়া (এবং) এর সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো (উভয় ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন বা পূর্ণতা প্রদান করা) অর্থাৎ কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে (রোজাদার ব্যতীত), কারণ রোজাদারের জন্য তা মাকরুহ। কুলি করার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন হলো মুখের সমস্ত অংশে পানি সঞ্চালন করা, এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন হলো নিঃশ্বাসের মাধ্যমে নাকের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পানি টেনে নেওয়া। আর বাকি অঙ্গসমূহের ক্ষেত্রে তা হলো এমনভাবে ধোয়া যাতে রোজাদার বা অন্য কারো ক্ষেত্রে কোনো স্থান শুকনো না থাকে। (এবং) এর সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো (ঘন দাড়ি খিলাল করা) যা চামড়াকে ঢেকে রাখে; সুতরাং সে এক অঞ্জলি পানি নিয়ে দাড়ির নিচ থেকে আঙ্গুলসমূহ প্রবিষ্ট করে অথবা দাড়ির দুই পাশ থেকে হাত দিয়ে ঘষবে। একইভাবে তার ঠোঁটের নিচের পশম এবং মুখের অন্যান্য পশমের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। (এবং) অজুর সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো (আঙ্গুলসমূহ) খিলাল করা, অর্থাৎ হাত ও পায়ের আঙ্গুলসমূহ। 'শারহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: পায়ের আঙ্গুলের ক্ষেত্রে এটি অধিক গুরুত্ববহ। সে তার বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে ডান পায়ের তালুর দিক থেকে পায়ের কনিষ্ঠ আঙ্গুল থেকে শুরু করে বৃদ্ধাঙ্গুলি পর্যন্ত খিলাল করবে, আর বাম পায়ের ক্ষেত্রে এর বিপরীত ক্রমে করবে। এবং হাতের আঙ্গুলসমূহ একে অপরের মধ্যে প্রবিষ্ট করে খিলাল করবে। যদি আঙ্গুলগুলো বা তার কিছু অংশ জোড়া লাগানো থাকে, তবে খিলাল করার বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

(এবং) এর সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো (ডান দিক থেকে শুরু করা) এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই, (এবং কানের জন্য নতুন পানি গ্রহণ করা) মাথা মাসেহ করার পর এবং ফরজের সীমানা অতিক্রম করার পর। (এবং) এর সুন্নতসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো (দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার ধোয়া) এবং তিন বারের বেশি ধোয়া মাকরুহ। ধোয়ার সংখ্যার ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সংখ্যার ওপর ভিত্তি করা হবে। এক বার ধোয়ার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা জায়েজ, দুই বার ধোয়া উত্তম এবং তিন বার ধোয়া তার চেয়েও বেশি উত্তম। যদি অজুর কিছু অঙ্গ অন্য অঙ্গের চেয়ে বেশি বার ধোয়া হয় তবে তা মাকরুহ হবে না। ঘাড় মাসেহ করা এবং অজু করার সময় কথা বলা সুন্নত নয়।

 

‌‌[পরিচ্ছেদ: অজুর ফরজসমূহ ও তার পদ্ধতি]

শাব্দিক অর্থে 'ফরজ' শব্দটির বেশ কিছু অর্থ রয়েছে যার মূল হলো চিহ্ন করা ও কর্তন করা। আর শরয়ি পরিভাষায় ফরজ হলো এমন কাজ যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তির সম্মুখীন হয়। আর অজু হলো নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চারটি অঙ্গে পবিত্র পানি ব্যবহার করা।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
وكان فرضه مع فرض الصلاة كما رواه ابن ماجه ذكره في " المبدع ".

(فروضه ستة) .

أحدها (غسل الوجه) لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ} [المائدة: 6] (والفم والأنف منه) أي من الوجه لدخولهما في حده فلا تسقط المضمضة ولا الاستنشاق في وضوء ولا غسل لا عمدا ولا سهوا.

(و) الثاني (غسل اليدين) مع المرافقين لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ} [المائدة: 6] .

(و) الثالث (مسح الرأس) كله (ومنه الأذنان) لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ} [المائدة: 6] وقوله صلى الله عليه وسلم: «الأذنان من الرأس» رواه ابن ماجه.

(و) الرابع (غسل الرجلين) مع الكعبين لِقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ} [المائدة: 6] والخامس (الترتيب) على ما ذكر الله تعالى لأن الله تعالى أدخل الممسوح بين المغسولات ولا نعلم لهذا فائدة غير الترتيب، والآية سيقت لبيان الواجب والنبي صلى الله عليه وسلم رتب الوضوء وقال: «هذا وضوء لا يقبل الله الصلاة إلا به» فلو بدأ بشيء من الأعضاء قبل غسل الوجه لم يحسب له، وإن توضأ منكسا أربع مرات صح وضوءه إن قرب الزمن، ولو غسلها جميعا دفعة واحدة لم يحسب له غير الوجه، وإن انغمس ناويا في ماء وخرج مرتبا أجزأه وإلا فلا.

(و) السادس (الموالاة) لأنه صلى الله عليه وسلم «رأى رجلا يصلي وفي ظهر قدمه لمعة قدر الدرهم
এবং অজুর আবশ্যকতা নামাজের আবশ্যকতা বিধানের সাথেই ছিল, যেমনটি ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন এবং 'আল-মুবদি' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

(অজুর ফরজ ছয়টি) ।

তার একটি হলো (মুখমন্ডল ধৌত করা), মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {তোমরা তোমাদের মুখমন্ডল ধৌত করো} [আল-মায়িদাহ: ৬]। (মুখ ও নাক এর অন্তর্ভুক্ত) অর্থাৎ মুখমন্ডলের অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু এ দুটি এর সীমানার ভেতরে পড়ে। সুতরাং অজু বা গোসলে কুলি করা এবং নাকে পানি দেয়া বাদ যাবে না, ইচ্ছাকৃতভাবেও নয়, ভুলবশতও নয়।

(এবং) দ্বিতীয়টি হলো কনুইসহ (উভয় হাত ধৌত করা), মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের হাতগুলো কনুই পর্যন্ত} [আল-মায়িদাহ: ৬] ।

(এবং) তৃতীয়টি হলো সম্পূর্ণ (মাথা মাসেহ করা) (আর উভয় কান মাথারই অন্তর্ভুক্ত), মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের মাথা মাসেহ করো} [আল-মায়িদাহ: ৬], এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: «উভয় কান মাথার অন্তর্ভুক্ত», যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন।

(এবং) চতুর্থটি হলো টাখনুসহ (উভয় পা ধৌত করা), মহান আল্লাহর বাণীর কারণে: {এবং তোমাদের পাগুলো টাখনু পর্যন্ত} [আল-মায়িদাহ: ৬]। আর পঞ্চমটি হলো (ধারাবাহিকতা রক্ষা করা) যেভাবে আল্লাহ তাআলা উল্লেখ করেছেন। কারণ আল্লাহ তাআলা ধৌত করার অঙ্গগুলোর মাঝে মাসেহ করার অঙ্গকে প্রবেশ করিয়েছেন, আর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা ব্যতীত এর অন্য কোনো উপযোগিতা আমাদের জানা নেই। আর আয়াতটি ওয়াজিব বা আবশ্যক বিধান বর্ণনার জন্য অবতীর্ণ হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারাবাহিকভাবে অজু করেছেন এবং বলেছেন: «এটি এমন এক অজু যা ব্যতীত আল্লাহ নামাজ কবুল করেন না»। সুতরাং যদি মুখমন্ডল ধোয়ার আগে কোনো অঙ্গ ধোয়া শুরু করে তবে তা গণ্য হবে না। আর যদি কেউ বিপরীত ক্রমে চারবার অজু করে তবে তা সঠিক হবে যদি সময়ের ব্যবধান কম হয়। আর যদি সবগুলো অঙ্গ একযোগে ধৌত করে তবে মুখমন্ডল ব্যতীত অন্যগুলো গণ্য হবে না। আর যদি কেউ নিয়ত করে পানিতে ডুব দেয় এবং ধারাবাহিকতা রক্ষা করে বের হয় তবে তা যথেষ্ট হবে, অন্যথায় নয়।

(এবং) ষষ্ঠটি হলো (অঙ্গগুলো বিরতিহীনভাবে ধৌত করা), কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে নামাজ পড়তে দেখলেন যার পায়ের পাতায় দিরহাম পরিমাণ শুকনো জায়গা রয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
لم يصبها الماء فأمره أن يعيد الوضوء» رواه أحمد وغيره (وهي) أي الموالاة (أن لا يؤخر غسل عضو حتى ينشف الذي قبله) بزمن معتدل أو قدره من غيره، ولا يضر إن جف لاشتغاله بسنة كتخليل وإسباغ وإزالة وسوسة أو وسخ، ويضر لاشتغال بتحصيل ماء أو إسراف أو نجاسة أو وسخ لغير طهارة. وسبب وجوب الوضوء الحدث ويحل جميع البدن كجناية.

(والنية) لغة القصد. ومحلها القلب فلا يضر سبق لسانه بغير قصده، ويخلصها لله تعالى (شرط) هو لغة: العلامة واصطلاحا ما يلزم من عدمه العدم ولا يلزم من وجوده

وجود ولا عدم لذاته (لطهارة الأحداث كلها) لحديث: «إنما الأعمال بالنيات» فلا يصح وضوء وغسل وتيمم ولو مستحبات إلا بها (فينوي رفع الحدث أو) يقصد (الطهارة لما لا يباح إلا بها) أي بالطهارة كالصلاة والطواف ومس المصحف؛ لأن ذلك يستلزم رفع الحدث فإن نوى طهارة أو وضوءا أو أطلق أو غسل أعضاءه ليزيل عنها النجاسة أو ليعلم غيره أو للتبرد لم يجزه. وإن نوى صلاة معينة لا غيرها ارتفع مطلقا، وينوي من حدثه دائم استباحة الصلاة ويرتفع حدثه، ولا يحتاج إلى تعيين النية للفرض فلو نوى رفع الحدث لم يرتفع في الأقيس قاله في " المبدع "، ويستحب نطقه بالنية سرا.

 

تتمة: يشترط لوضوء وغسل أيضا إسلام وعقل وتميز وطهورية ماء وإباحته، وإزالة ما يمنع وصوله، وانقطاع موجب، ولوضوء فراغ استنجاء أو استجمار،
পানি পৌঁছেনি, তাই তিনি তাকে পুনরায় অজু করার নির্দেশ দিলেন। আহমদ ও অন্যান্যরা এটি বর্ণনা করেছেন। আর এটি (অর্থাৎ মুওয়ালাত বা ধারাবাহিকতা) হলো: (কোনো অঙ্গ ধুতে এত দেরি না করা যাতে তার আগের অঙ্গটি শুকিয়ে যায়) স্বাভাবিক সময়ে অথবা অন্য ঋতুতে তার সমপরিমাণ সময়ে। আর সুন্নাত পালনে ব্যস্ত থাকার কারণে যদি শুকিয়ে যায় তবে কোনো ক্ষতি নেই, যেমন আঙুল খিলাল করা, পরিপূর্ণভাবে ধৌত করা, ওয়াসওয়াসা বা ময়লা দূর করা। কিন্তু পানি সংগ্রহ করা, পানির অপচয় করা অথবা পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া অন্য কোনো নাপাকি বা ময়লা দূর করার কাজে লিপ্ত হওয়ার কারণে দেরি হলে তা ক্ষতিকর হবে। অজু ওয়াজিব হওয়ার কারণ হলো হদস (অপবিত্রতা), যা জানাবাতের (বড় অপবিত্রতা) মতো পুরো শরীরকে অন্তর্ভুক্ত করে।

(আর নিয়ত) শাব্দিক অর্থ হলো সংকল্প। এর স্থান হলো অন্তর, তাই অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখে অন্য কিছু উচ্চারিত হলে তাতে কোনো ক্ষতি নেই। আর নিয়তকে একমাত্র মহান আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ করতে হবে। এটি (শর্ত) যার শাব্দিক অর্থ: চিহ্ন। আর পারিভাষিক অর্থ: যার অনুপস্থিতিতে বিধানের অনুপস্থিতি আবশ্যক হয়, কিন্তু যার উপস্থিতিতে বিধানের উপস্থিতি বা অনুপস্থিতি কোনোটিই আবশ্যক হয় না (সব প্রকার হদস বা অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের জন্য)।

কারণ হাদিসে এসেছে: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" সুতরাং নিয়ত ছাড়া অজু, গোসল এবং তায়াম্মুম সহিহ হবে না, এমনকি সেগুলো মুস্তাহাব হলেও। (অতঃপর সে হদস দূর করার নিয়ত করবে অথবা) এমন কাজের জন্য (পবিত্রতা অর্জনের সংকল্প করবে যা পবিত্রতা ছাড়া বৈধ নয়), অর্থাৎ পবিত্রতা ছাড়া যা জায়েজ নেই যেমন নামাজ, তাওয়াফ এবং কোরআন স্পর্শ করার মতো ইবাদতের জন্য। কারণ এটি হদস দূর করাকে আবশ্যক করে। কিন্তু যদি সে কেবল পবিত্রতা বা অজুর নিয়ত করে অথবা কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য ছাড়া সাধারণভাবে অজু করে কিংবা নাপাকি দূর করার জন্য অথবা অন্যকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কিংবা শরীর ঠান্ডা করার জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধৌত করে, তবে তা যথেষ্ট হবে না। যদি সে কোনো নির্দিষ্ট নামাজের নিয়ত করে, অন্য কিছুর নয়, তবে সাধারণভাবে তার হদস দূর হয়ে যাবে। আর যার সর্বদা হদস জারি থাকে, সে নামাজ আদায়ের বৈধতা লাভের নিয়ত করবে এবং তার হদস দূর হয়ে যাবে। আর ফরজের জন্য নিয়ত নির্দিষ্ট করার প্রয়োজন নেই। তবে যদি সে কেবল হদস দূর করার নিয়ত করে, তবে অধিকতর সঠিক মত অনুযায়ী তা হদস দূর করবে না; যা 'আল-মুবদি' গ্রন্থে বলা হয়েছে। আর মনে মনে বা গোপনে নিয়ত উচ্চারণ করা মুস্তাহাব।

 

পরিশিষ্ট: অজু ও গোসলের জন্য আরও শর্ত হলো—ইসলাম, আকল (বিবেচনা শক্তি), তাময়িজ (ভালো-মন্দের পার্থক্য করার বয়স), পানির পবিত্রতা ও তার বৈধতা, পানি পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন বস্তু দূর করা এবং অপবিত্রতা সৃষ্টির কারণ বন্ধ হওয়া। আর অজুর জন্য শর্ত হলো এস্তেঞ্জা বা এস্তেজমারের কাজ সমাপ্ত করা।
(খণ্ড: ১) আর-রাওদুল মুরবি শারহু যাদিল মুস্তাকনি - ত্বাআ আল-মুআইয়াদ ওয়ার রিসালাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ودخول وقت على من حدثه دائم لفرضه (فإن نوى ما تسن له الطهارة كقراءة) قرآن وذكر وأذان ونوم وغضب ارتفع حدثه (أو) نوى (تجديدا مسنونا) بأن صلى بالوضوء الذي قبله (ناسيا حدثه ارتفع) حدثه؛ لأنه نوى طهارة شرعية، (وإن نوى) من عليه جنابة (غسلا مسنونا) كغسل الجمعة، قال في " الوجيز ": ناسيا (أجزأ عن واجب) كما مر فيمن نوى التجديد، (وكذا عكسه) أي إن نوى واجبا أجزأ عن المسنون، وإن نواهما حصلا، والأفضل أن يغتسل للواجب ثم للمسنون كاملا، (وإن اجتمعت أحداث) متنوعة ولو متفرقة (توجب وضوءا أو غسلا فنوى بطهارته أحدها) لا على أن لا يرتفع غيره (ارتفع سائرها) أي باقيها؛ لأن الأحداث تتداخل، فإذا ارتفع البعض ارتفع الكل. (ويجب الإتيان بها) أي بالنية (عند أول واجبات الطهارة وهو التسمية) فلو فعل شيئا من الواجبات قبل النية لم يعتد به، ويجوز تقديمها بزمن يسير كالصلاة ولا يبطلها عمل يسير.

 

(وتسن) النية (عند أول مسنوناتها) أي مسنونات الطهارة كغسل اليدين في أول الوضوء (إن وجد قبل واجب) أي قبل التسمية
যার অপবিত্রতা স্থায়ী (দায়েমুল হাদাস), তার ফরয আদায়ের জন্য ওয়াক্ত প্রবেশ করা শর্ত। (যদি সে এমন কিছুর নিয়ত করে যার জন্য পবিত্রতা অর্জন করা সুন্নত, যেমন) কুরআন পাঠ, যিকির, আযান, নিদ্রা এবং ক্রোধ, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে। (অথবা) যদি সে (সুন্নত হিসেবে ওযু নবায়নের) নিয়ত করে—এই হিসেবে যে সে আগের ওযু দিয়ে নামাজ পড়েছে—অতঃপর (তার মাঝখানের) অপবিত্রতার কথা (ভুলে গিয়ে ওযু করে, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে); কারণ সে শরয়ি পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করেছে। (আর যদি) জানাবাত অবস্থায় থাকা ব্যক্তি (সুন্নত গোসলের) নিয়ত করে, যেমন জুমআর গোসল—'আল-ওয়াজিজ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ভুলে যাওয়ার কারণে—(তবে তা ফরয গোসলের জন্য যথেষ্ট হবে), যেমনটি ওযু নবায়নের নিয়তকারীর ক্ষেত্রে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। (অনুরূপভাবে এর বিপরীতটিও প্রযোজ্য), অর্থাৎ যদি সে ফরযের নিয়ত করে, তবে তা সুন্নতের জন্য যথেষ্ট হবে। আর যদি সে উভয়টির নিয়ত করে, তবে উভয়টিই অর্জিত হবে। আর উত্তম হলো প্রথমে ফরযের জন্য গোসল করা, অতঃপর সুন্নতের জন্য পূর্ণাঙ্গভাবে গোসল করা। (যদি বিভিন্ন ধরণের একাধিক অপবিত্রতা একত্রিত হয়), এমনকি তা ভিন্ন ভিন্ন সময়েও ঘটে থাকে (যা ওযু বা গোসলকে ওয়াজিব করে, আর সে তার পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে সেগুলোর মধ্য থেকে একটির নিয়ত করে)—অন্যগুলো দূর হবে না এমন শর্তারোপ ব্যতিরেকে—(তবে অবশিষ্ট সবগুলো অপবিত্রতাই দূর হয়ে যাবে); কারণ অপবিত্রতাসমূহ একে অপরের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। সুতরাং যখন কিয়দাংশ দূর হয়, তখন সবটুকুই দূর হয়ে যায়। (আর নিয়ত করা ওয়াজিব) পবিত্রতার প্রথম ওয়াজিব কাজের সময়, (যা হলো তাসমিয়া বা বিসমিল্লাহ বলা)। সুতরাং যদি সে নিয়ত করার আগে ওয়াজিব কাজগুলোর কোনোটি সম্পাদন করে, তবে তা গণ্য হবে না। নামাজের ন্যায় সামান্য সময় আগে নিয়ত করা জায়েয এবং সামান্য কোনো কাজ নিয়তকে বাতিল করে না।

 

(আর নিয়ত করা সুন্নত) পবিত্রতার প্রথম সুন্নাত কাজগুলোর সময়, যেমন ওযুর শুরুতে দুই হাত ধোয়া, (যদি তা ওয়াজিব কাজের আগে হয়), অর্থাৎ তাসমিয়া বা বিসমিল্লাহ বলার আগে।