(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: -)
معيد النعم ومبيد النقم القسم: السياسة الشرعية والقضاء
الكتاب: معيد النعم ومبيد النقم
المؤلف: تاج الدين عبد الوهاب بن تقي الدين السبكي (ت 771 هـ)
الناشر: مؤسسة الكتب الثقافية، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1407 هـ - 1986 م
عدد الصفحات: 124
أعده للشاملة:فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 21 محرم 1437
মুইদুন নিআম ওয়া মুবিদুন নিকাম বিভাগ: শরয়ী রাজনীতি ও বিচারব্যবস্থা
গ্রন্থ: মুইদুন নিআম ওয়া মুবিদুন নিকাম
লেখক: তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব বিন তাকিউদ্দীন আস-সুবকি (মৃ. ৭৭১ হিজরি)
প্রকাশক: মুআসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১২৪
শামেলার জন্য প্রস্তুতকরণ: রাবিতাতুন নাসসাখ দল, তত্ত্বাবধানে (মারকাযুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ)
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২১শে মুহররম ১৪৩৭
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: -)
معيد النعم ومبيد النقم
تأليف
الشيخ الإمام قاضي القضاة تاج الدين عبد الوهاب السبكي
المتوفى سنة 771 هـ
مؤسسة الكتب الثقافية
মুয়িদুল নিয়াম ওয়া মুবিদুল নিকাম
রচনায়
শায়খুল ইমাম, প্রধান বিচারপতি তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহহাব আস-সুবকী
মৃত্যু: ৭৭১ হিজরী
মুয়াসসাসাতুল কুতুব আস-সাকাফিয়্যাহ
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২)
ملتزم الطبع والنشر والتوزيع
مؤسسة الكتب الثقافية فقط
الطبعة الأولى
1407 هـ - 1986 م
مؤسسة الكتب الثقافية
الصنائع - بناية الإتحاد الوطني - الطابق السابع - شقة 78
هاتف المكتب: 248263 - 244361 - المنزل: 315759
ص. ب: 5115/ 114 - برقيا: الكتبكو - تلكس: 40459
بيروت - لبنان
মুদ্রণ, প্রকাশনা ও বিতরণে দায়বদ্ধ
কেবল মুআসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ
প্রথম সংস্করণ
১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দ
মুআসসাসাতুল কুতুব আল-সাকাফিয়্যাহ
আস-সানায়ে - আল-ইত্তিহাদ আল-ওয়াতানি ভবন - সপ্তম তলা - ফ্ল্যাট ৭৮
কার্যালয় ফোন: ২৪৮২৬৩ - ২৪৪৩৬১ - বাসভবন: ৩১৫৭৫৯
পো.ব.: ৫১১৫/ ১১৪ - টেলিগ্রাম: আল-কুতুবকো - টেলেক্স: ৪০৪৫৯
বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
مُعيد النِّعَم وَمُبيد النّقَم
নেয়ামতসমূহের পুনরুদ্ধারকারী এবং বিপদ-আপদের বিনাশকারী
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে (শুরু করছি)
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
نحمدك اللهمَّ، ونصلِّي ونسلِّم على نبيّك محمد المبعوثُ رحمةً للعالمين، وهاديًا للمسترشدين، وعلى آله وصحبه الهداةِ المهديين.
وبعد؛ فإنَّا نقدِّم للناس كتاب "معيد النعم، ومبيد النِقم" لأبي نصر تاج الدين السبكيّ، في مِعرض جديد، وثوب قشيب، بعد أن بذلنا في تصحيحه وضبطه، وتحقيق متنه، ما يحسُّه القارئ، ونرجو المثوبة من اللَّه عليه.
وقد كانت طبعاته السالفة مشحونة بشتَّى أنواع التحريف والتصحيف وضروب الإِحالة والتغيير!
وإنَّا لنرجو أن يلاقي هذا الكتاب من النَّفاق والإِقبال عليه والانتفاع به ما هو أهله؛ فإنَّه من خير الأسفار، وأجلّ الآثار التي أخرجت للناس.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
হে আল্লাহ, আমরা আপনার প্রশংসা করছি এবং আপনার নবি মুহাম্মাদের প্রতি দরুদ ও সালাম পেশ করছি, যাঁকে বিশ্বজগতের জন্য রহমতস্বরূপ এবং পথপ্রত্যাশীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করা হয়েছে; আর তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবিগণের প্রতিও, যাঁরা সঠিক পথের দিশারি ও হিদায়াতপ্রাপ্ত।
অতঃপর, আমরা পাঠকদের জন্য আবু নাসর তাজউদ্দীন আস-সুবকির 'মুয়ীদুল নিয়াম ওয়া মুবীদুল নিকাম' বইটি একটি নতুন আঙ্গিকে ও মনোরম অবয়বে উপস্থাপন করছি। এর সংশোধন (تصحيح), বিন্যাস (ضبط) এবং মূল পাঠের (متن) গবেষণালব্ধ সম্পাদনার (تحقيق) ক্ষেত্রে আমরা যে শ্রম ব্যয় করেছি, পাঠক তা অনুধাবন করতে পারবেন; আমরা আল্লাহর কাছে এর প্রতিদান প্রত্যাশা করি।
এর পূর্ববর্তী সংস্করণগুলো বিভিন্ন প্রকারের বিচ্যুতি (تحريف), শব্দের বিকৃতি (تصحيف) এবং নানা ধরনের অসংগতি ও পরিবর্তনের ভারে ন্যুব্জ ছিল!
আমরা আশা করি যে, এই বইটি এর উপযুক্ত প্রচার, গ্রহণযোগ্যতা ও উপকারিতা লাভ করবে; কারণ এটি প্রকাশিত শ্রেষ্ঠ গ্রন্থসমূহ এবং সুমহান জ্ঞানতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের (الآثار) অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ৭)
ترجمة المؤلف
اسمه ومولده ونشأته:هو عبد الوهاب بن عليّ بن عبد الكافي المعروف بتاج الدين السبكي، ولد بالقاهرة سنة 728 هـ، وقال آخرون سنة 729 هـ. وقد نشأ في بيت عريق في التقى والعلم فأبوه كان قاضي القضاة تقي الدين السبكي الذي تلقَّى العلم منه ومن علماء مصر كأبي حيان النحوي.
ولما أسند إلى والده قضاء الشام سنة 739 هـ رحل معه واستقرَّ بدمشق واتَّخذها وطنه، وأخذ عن ضيوفها ومحدِّثيها كالذهبيّ والمزي وتفقَّه شافعيًا بابن النقيب، وقد أجازه بالفتيا ولم يبلغ العشرين بعد من عمره، كما تولَّى بعض وظائف التدريس في مدارس دمشق، ولمَّا توفي والده أخذ مكانه في قضاء الشام.
أقوال العلماء فيه:قال عنه ابن حبيب في كتابه "درَّة الأسلاك في تاريخ الأملاك": "إمامٌ كبير، وحاكمٌ حبير، ورئيسُ فَلَك مآثره أثير، وماجدُ فخر علومه في الآفاق مستطير. أغصان مكارمه باسقة، وأنهارُ فضائله دافقة، ولسانُ عبارته فصيحٌ تبجحت بمرافقته أرباب السياسة، وافتخرت بمقارنة تاجه رؤوس الرياسة، وانشرحَت بأحكامه صدور المجالس، وتأرَّجت بأنفاسه أرجاء المنابر والمدارس. سمع وقرأَ وكتب، وأخذ عهد والده قدوة أهل العلم والأدب. وأفادَ المشتغلين والطلّاب، وانتفعَ به كثير من الأولياء والأصحاب. درَّس بالعادلية والغزالية، والأمينية والناصرية، ودار الحديث الأشرفيّة، والشاميّة البرانيّة. وباشرَ القضاء بدمشق أربع مرَّات، ونالَ بخطابة الجامع الأمويّ أنواعًا من المسرَّات، وله مصنَّفات جمَّة الفوائد، منتظمة العقود والقلائد".
লেখকের জীবনীতাঁর নাম, জন্ম ও বেড়ে ওঠা:তিনি হলেন আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আলী ইবনে আব্দুল কাফী, যিনি তাজউদ্দীন আল-সুবকী নামে পরিচিত। তিনি ৭২৮ হিজরিতে কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন, আবার কেউ কেউ বলেছেন ৭২৯ হিজরিতে। তিনি তাকওয়া ও ইলমের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা ছিলেন প্রধান বিচারপতি তাকীউদ্দীন আল-সুবকী, যাঁর কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেন; এ ছাড়াও তিনি মিশরের আলেমগণ যেমন আবু হাইয়ান আল-নাহবী থেকে জ্ঞান লাভ করেন।
৭৩৯ হিজরিতে যখন তাঁর পিতাকে শাম অঞ্চলের বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব অর্পণ করা হয়, তখন তিনি তাঁর সাথে সফর করেন এবং দামেস্কে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন ও সেটিকে নিজের স্বদেশ বানিয়ে নেন। সেখানে আগত মেহমান এবং সেখানকার হাদিসবেত্তাদের (محدثين) নিকট থেকে তিনি হাদিস গ্রহণ করেন, যেমন আল-জাহাবী ও আল-মিযযী। তিনি ইবনুন নাকীবের নিকট শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। তিনি বিশ বছর বয়সে পৌঁছানোর আগেই ফতোয়া প্রদানের অনুমতি (إجازة) লাভ করেন। এছাড়াও তিনি দামেস্কের বিভিন্ন মাদরাসায় শিক্ষকতার দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর পিতার মৃত্যুর পর তিনি শাম অঞ্চলের বিচারপতির স্থলাভিষিক্ত হন।
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের মন্তব্য:ইবনে হাবিব তাঁর ‘দুররাতুল আসলাক ফী তারিখিল আমলাক’ গ্রন্থে তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: “তিনি একজন মহান ইমাম (إمام), একজন প্রাজ্ঞ বিচারক এবং এমন এক ব্যক্তিত্ব যাঁর শ্রেষ্ঠত্বের আলোকবর্তিকা সুদূরপ্রসারী এবং যাঁর ইলমের গৌরব দিগন্ত বিস্তৃত। তাঁর উদারতার শাখাগুলো সমুন্নত, তাঁর ফযীলতের ঝর্ণাধারা প্রবাহমান এবং তাঁর বর্ণনাশৈলী অত্যন্ত প্রাঞ্জল। প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ তাঁর সাহচর্য লাভে তৃপ্ত হতেন এবং শাসনকর্তাগণ তাঁর সান্নিধ্য লাভে গর্ববোধ করতেন। তাঁর বিচারিক রায়ে মজলিসসমূহ প্রশান্ত হতো এবং তাঁর উপস্থিতিতে মিম্বর ও মাদরাসাসমূহ সুবাসিত হতো। তিনি হাদিস শ্রবণ (سمع) করেছেন, পাঠ করেছেন এবং লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি তাঁর পিতার নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন যিনি ছিলেন ইলম ও আদবের অধিকারীদের জন্য আদর্শ। তিনি গবেষক ও ছাত্রদের উপকৃত করেছেন এবং তাঁর মাধ্যমে বহু পুণ্যবান ও অনুসারী উপকৃত হয়েছেন। তিনি আল-আদিলিয়াহ, আল-গাজালিয়াহ, আল-আমীনিয়াহ, আল-নাসিরিয়াহ, দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়াহ এবং আশ-শামিয়াহ আল-বাররানিইয়াহ মাদরাসাসমূহে শিক্ষকতা করেছেন। তিনি দামেস্কে চারবার বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং উমাইয়া জামে মসজিদের খতিব হিসেবে বহু সম্মাননা লাভ করেন। তাঁর অনেকগুলো উপকারী গ্রন্থ রয়েছে, যা মুক্তার মালার ন্যায় সুবিন্যস্ত।”
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ৮)
مؤلفاته:1 - جمع الجوامع في أصول الفقه، وقد ختمَ بنبذة في أصول الدين. وهو كتاب حافل جمعَ فيه زُهاء مائة كتاب في الأصول، وخدمه العلماء بالشروح والحواشي، وكان يدرس إلى عهد قريب في الأزهر.
2 - تكملة شرح منهاج القاضي البيضاوي في الأصول.
3 - شرح مختصر ابن الحاجب، في الأصول. وسمَّاه: رفع الحاجب، عن مختصر ابن الحاجب. (لم يطبع)
4 - الترشيح، في اختيارات والده في الفقه. (لم يطبع)
5 - التوشيح على التنبيه. (لم يطبع)
6 - الأشباه والنظائر الفقهية. (لم يطبع)
7 - طبقات الشافعية الصغري. (لم يطبع)
8 - طبقات الشافعية الوسطى. (لم يطبع)
9 - طبقات الشافعية الكبرى. طبع في ستة مجلدات.
10 - معيد النعم ومبيد النقم. وهو الكتاب الذي بين أيدينا.
كلمة موجزة عن الكتاببنى المؤلِّف كتابه على ذكر ما يحفظ على الإِنسان في هذه الحياة النعمة التي أسدَاها اللَّه إليه، ويدفع عنه السوء والبأساء. ومردُّ ذلك إلى أن يقوم كل امرئٍ بما يجب عليه، ويؤدِّي حقَّ العمل الذي خصَّص نفسه به، ويراعي ما رسمَ الشرع في أمره. وقد استتبع ذلك أن يذكر الأعمال في عصره والوظائف الديوانيّة وغيرها، ويفصِّل ما يطلب في كل عمل ووظيفة، ويذكر ما يقضي به القانون الشرعي حتى يفضي العمل إلى غايته الصحيحة، ويتكوَّن مجتمع صالح في هذه الحياة.
তাঁর রচনাবলি:১ - জমউল জাওয়ামি ফি উসুল আল-ফিকহ, তিনি এটি উসুল আদ-দীনের একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন। এটি একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ যাতে তিনি উসুল শাস্ত্রের প্রায় একশতটি কিতাব একত্রিত করেছেন। উলামায়ে কিরাম ব্যাখ্যা ও টীকা রচনার মাধ্যমে এর খিদমত করেছেন এবং নিকট অতীত পর্যন্ত এটি আল-আজহারে পাঠ্য ছিল।
২ - উসুল শাস্ত্রের ওপর কাযী বায়যাবীর মিনহাজ-এর ব্যাখ্যার পরিশিষ্ট।
৩ - উসুল শাস্ত্রের ওপর মুখতাসার ইবনে হাজিব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ। তিনি এর নামকরণ করেছেন: রাফউল হাজিব আন মুখতাসার ইবনে হাজিব। (মুদ্রিত হয়নি)
৪ - আত-তারশীহ, ফিকহ শাস্ত্রের ক্ষেত্রে তাঁর পিতার চয়নকৃত মতামতের সংকলন। (মুদ্রিত হয়নি)
৫ - আত-তাওশীহ আলাত তানবীহ। (মুদ্রিত হয়নি)
৬ - আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির আল-ফিকহিয়্যাহ। (মুদ্রিত হয়নি)
৭ - তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আস-সুগরা। (মুদ্রিত হয়নি)
৮ - তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-উসতা। (মুদ্রিত হয়নি)
৯ - তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা। এটি ছয় খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।
১০ - মুঈদুন নিয়াম ওয়া মুবীদুন নিকাম। এটিই সেই গ্রন্থ যা বর্তমানে আমাদের সম্মুখে রয়েছে।
গ্রন্থটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কথালেখক তাঁর গ্রন্থটি এই পার্থিব জীবনে মানুষের ওপর আল্লাহর দানকৃত নিয়ামতসমূহ রক্ষা করা এবং তার থেকে অনিষ্ট ও বিপদ-আপদ দূর করার বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন। এর সারকথা হলো, প্রত্যেক ব্যক্তি যেন তার ওপর অর্পিত আবশ্যকীয় দায়িত্ব পালন করে এবং সে যে কাজের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করেছে তার হক আদায় করে এবং সেই বিষয়ে শরয়ি বিধি-বিধান মেনে চলে। এর ফলশ্রুতিতে তিনি তাঁর যুগের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, দাপ্তরিক ও অন্যান্য পদের কথা উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটি কাজ ও পদের প্রয়োজনীয়তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। সেই সাথে তিনি শরয়ি বিধানসমূহও উল্লেখ করেছেন যাতে করে কর্মটি তার সঠিক (صحيح) লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে এবং এই জীবনে একটি নেককার সমাজ গঠিত হয়।
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقد أيَّده وأعانه على هذا سعة فقهه، وخبرته بأحوال عصره، وشؤون الدولة وطبقات الناس؛ فقد ولي وظائف تجعلة بسبب قويّ من الحكام، وسواد الناس وعامة الشعب.
وفاته:بقي تاج الدين السُّبكي في القضاء ووظائف أخرى في دمشق إلى أن أصيبَ بالطاعون سنة 177 هـ في منزله بدمشق ودفن رحمه اللَّه تعالى في سفح جبل مشرف على دمشق يُقال له قاسيون في مقبرة السبكية ويُقال أيضًا في مقبرة أهل الصلاح.
তাঁর ফিকহের বিশালতা, সমকালীন পরিস্থিতির ওপর তাঁর অভিজ্ঞতা এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও জনস্তরের বিন্যাস সম্পর্কে তাঁর প্রজ্ঞা তাঁকে এ কাজে সমর্থন ও সাহায্য করেছিল; কারণ তিনি এমন সব পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন যা তাঁকে শাসকগোষ্ঠী এবং সাধারণ মানুষ ও আপামর জনসাধারণের সাথে নিবিড় সম্পর্কের সুযোগ করে দিয়েছিল।
ইন্তেকাল:তাজুদ্দীন আল-সুবকী দামেস্কে বিচার বিভাগীয় এবং অন্যান্য দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। অবশেষে ১৭৭ হিজরি সালে দামেস্কে নিজ বাসভবনে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন। তাঁকে দামেস্কের অভিমুখে অবস্থিত কাসিউন নামক পাহাড়ের পাদদেশে সুবকীয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়, যা পুণ্যবানদের কবরস্থান নামেও পরিচিত।
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
بسم الله الرحمن الرحيم
قال الشيخ الإِمام العلَّامة قاضي القضاة شيخ الإِسلام تاج الدين السبكي الشافعي تغمَّده اللَّه تعالى برحمته:
أمَّا بعد حمد اللَّه معيد النعم، ومبيد النِقم، بمزيد الشكر ومديد الكرم، والصلاة والسلام على نبيِّه سيدنا محمد خير العرب والعجم، والهادي إلى أرشد طريق وأقوم أُمَم وعلى آله وأصحابه وصالحي أمته خير الأمَم، فقد ورد عليَّ سؤال مضمونه: هل من طريق لمن سلُب نعمة دينية أو دنيوية، إذا سلكها عادت إليه، ورُدَّت عليه؟ فكان الجواب: طريقه أن يعرف: من أين أتى فيتوبُ منه ويعترف بما في المحنة بذلك من الفوائد فيرضى بها، ثم يتضرَّع إلى اللَّه تعالى بالطريق التي تذكرها.
هذه ثلاثة أمور هي طريقه التي يحصل بمجموعها دواءُ مرضه ويعقُبها زوال علَّته، بعضها مرتَّب على بعض لا يتقدَّم ثالثها على ثانيها، ولا ثانيها على أولها.
فعاد إليّ السائل قائلًا: اشرح لنا هذه الأمور شرحًا مبينًا مختصرًا، وصِف لنا هذا الدواء وصفًا واضحًا؛ لنستعمله.
فقلت: هذا سرٌّ غريب، جمهور الخلق لا يحيطون بعلمه، ونبأ عظيم أكثر الناس معرِضون عن فهمه؛ لاستيلاء الغفلة على القلوب، ولغلبة الجهل بما يجب للربّ على المربوب.
وأنا أبحث عن هذه الأمور في هذا المجموع الذي سمّيته: (معيد النعم، ومبيد النقم) بحثًا مختصرًا، لا أرخِي فيه عِنان الإِطناب؛ فإنَّه بحر لا ساحل له، لو ركبت فيه الصعب والذلول، وشمَّرت فيه عن ساق البيان، وخضت فيه لجج الدقائق، لذكرت ما يعسر فهمه على أكثر الخلائق، ولانتهينا إلى ما لم يؤذن لنا في إظهاره من الأسرار العلمية. وإنَّما أذكر من ذلك ما تشترك الخاصة والعامَّة في فهمه؛ وأخصُّ فيه النعم الدنيوية؛ إذ كانت محطَّ غرض السائل؛ عسى اللَّه أن
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
শায়খ, ইমাম, আল্লামা, প্রধান বিচারপতি, শাইখুল ইসলাম তাজউদ্দীন আস-সুবকী আশ-শাফিঈ (আল্লাহ তাআলা তাঁকে তাঁর রহমতে আবৃত করুন) বলেছেন:
অতঃপর, আল্লাহর সমস্ত প্রশংসা—যিনি নেয়ামতসমূহ পুনরায় দানকারী এবং বিপদসমূহ বিনাশকারী; অধিকতর কৃতজ্ঞতা ও সুদীর্ঘ বদান্যতার মাধ্যমে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী আমাদের সরদার মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর, যিনি আরব ও অনারবদের মধ্যে সর্বোত্তম, এবং সঠিক পথ ও সুদৃঢ় উম্মাহর দিকে পথপ্রদর্শক। আর সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং তাঁর উম্মতের পুণ্যবান ব্যক্তিদের ওপর, যারা সকল উম্মতের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। আমার নিকট একটি প্রশ্ন এসেছে যার বিষয়বস্তু হলো: যদি কারো কোনো দ্বীনি অথবা দুনিয়াবী নেয়ামত ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তবে তার জন্য কি এমন কোনো পথ আছে যা অবলম্বন করলে তা তার নিকট পুনরায় ফিরে আসবে এবং তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে? উত্তর ছিল: তার পথ হলো এটি জানা যে—কোথা থেকে বা কোন কারণে তার ওপর এই বিপদ এসেছে, অতঃপর তা থেকে তওবা করা এবং এই পরীক্ষার মধ্যে যে সব উপকারিতা নিহিত রয়েছে তা স্বীকার করে নিয়ে তাতে সন্তুষ্ট হওয়া, অতঃপর আল্লাহ তাআলার নিকট সেই পন্থায় কাতর প্রার্থনা করা যা আমরা বর্ণনা করব।
এই তিনটি বিষয়ই হলো তার সেই পথ, যার সমন্বয়ে তার ব্যাধির ঔষধ অর্জিত হবে এবং যার ফলশ্রুতিতে তার অসুস্থতা দূর হবে। এগুলোর একটির ওপর অপরটি এমনভাবে বিন্যস্ত যে, তৃতীয়টি দ্বিতীয়টির আগে আসবে না এবং দ্বিতীয়টি প্রথমটির আগে আসবে না।
অতঃপর প্রশ্নকারী পুনরায় আমার নিকট ফিরে এসে বললেন: আমাদের নিকট এই বিষয়গুলো সুস্পষ্ট ও সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করুন এবং এই ঔষধটির বিবরণ আমাদের নিকট পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করুন যেন আমরা তা ব্যবহার করতে পারি।
আমি বললাম: এটি এক নিগূঢ় রহস্য, সাধারণ সৃষ্টিজীব এর জ্ঞান আয়ত্ত করতে পারে না; এটি এক মহা সংবাদ যা বুঝতে অধিকাংশ মানুষ বিমুখ, কারণ হৃদয়ে উদাসীনতা ছেয়ে গেছে এবং প্রতিপালকের প্রতি বান্দার যা অবশ্যপালনীয় সে বিষয়ে অজ্ঞতা প্রবল হয়ে পড়েছে।
আমি এই সংকলনটিতে—যার নাম দিয়েছি: 'মুইদুন নিয়াম ওয়া মুবিদুল নিকাম'—এই বিষয়গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব। এতে আমি বর্ণনার অতিশয্য করব না; কারণ এটি এমন এক কূলহীন সমুদ্র যে, যদি আমি এর দুর্গম ও সুগম সকল পথ পাড়ি দিতাম, পূর্ণ সাবলীলতায় বর্ণনা করতাম এবং সূক্ষ্ম তত্ত্বের গভীরে অবগাহন করতাম, তবে এমন সব বিষয় আলোচনা করতে হতো যা অধিকাংশ মানুষের পক্ষে অনুধাবন করা দুঃসাধ্য হতো এবং আমরা এমন সব জ্ঞানতাত্ত্বিক রহস্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যেতাম যা প্রকাশ করার অনুমতি আমাদের দেওয়া হয়নি। আমি এখান থেকে কেবল সেই বিষয়গুলোই উল্লেখ করব যা সাধারণ ও বিশিষ্ট সকলে বুঝতে সক্ষম; আর এতে আমি বিশেষভাবে দুনিয়াবী নেয়ামতগুলো আলোচনা করব; যেহেতু এটিই ছিল প্রশ্নকারীর মূল উদ্দেশ্য। আশা করা যায় আল্লাহ...
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
ينبِّهه بها للنعم الأخروية؛ إذ هي غاية الوسائل وأنا أرجو أن من كانت عنده نعمة للَّه تعالى في دينه أودنياه وزالت، فنظرَ هذا الكتاب نظر معتقد، وفهمه، وعمل بما تضمَّنه بعد الاعتقاد، عادت إليه تلك النعمة أو خير منها، وزالَ همَّه بأجمعه، وانقلبَ فرحًا مسرورًا فمن شكَّ فليستعمل هذا الدواء، لا على قصد التجربة والافتقاد ونظرَ الاختبار والانتقاد، بل بحسن الظنِّ وجميل الاعتقاد، فإنه عند ذلك يظفر بغاية المراد. أسأل اللَّه أن يصرف إليه عزمة مستحقيه ويصرف عنه هِمَّة من لا يستحقه ولا يدريه.
(الأمر الأوَّل) أن تعلم أين أُتِيت، وما السبب الذي زالت به عنك النعمة؟ فإن النعمة لا تزول عنك سُدًى وإن اللَّه لا يغيِّر ما بقومٍ حتَّى يغيِّروا ما بأنفُسِهِم.
اعلم أنها لم تزل عنك إِلَّا لإِخلالك بالقيام بما يجب عليك من حقوقها، وهو الشكر؛ فإنَّ كل نعمة لا تُشكر جديرة بالزوال. ومن كلامهم: النعمة إذا شُكِرت قرَّت، وإذا كُفِرت فرَّت. وقيل: لا زوال للنعمة إذا شكرت، ولا بقاءَ لها إذا كفرت. وقيل النعمة وحْشيّة فاشْكلوها بالشكر. والأدلّة على أنَّ كفران النعم يوجب انزواءها كثيرة، فلا نطيلُ بذكرها. والحاصل أنَّ كتاب اللَّه وسنَّة رسوله صلى الله عليه وسلم دالَّان على أنَّ كفران النعمة يؤذن بزوالها، وشكرها يقضي بمزيدها. وذكرَ العارفون أنَّ الرب قطع بالمزيد مع الشكر، ولم يستثن فيه، واستثني في خمسة أشياء: في الإغناء والإِجابة والرزق والمغفرة والتوبة فقال تعالى: {فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ إِنْ شَاءَ} (1) وقال تعالى: {فَيَكْشِفُ مَا تَدْعُونَ إِلَيْهِ إِنْ شَاءَ} (2) وقال تعالى: {يَرْزُقُ مَنْ يَشَاءُ} (3) {وَيَغْفِرُ لِمَنْ يَشَاءُ} (4) وقال تعالى: {ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ مِنْ بَعْدِ ذَلِكَ عَلَى مَنْ يَشَاءُ} (5) وقال في الشكر من غير استثناء: {لَئِنْ شَكَرْتُمْ لَأَزِيدَنَّكُمْ} (6) فإن قلت: فما الشكر؟ قلت: قد شرحه العارفون. وبيَّنوا حقيقته. وأنا أختصر لك القول فيه، وآتي بما يقرِّب من فهمك؛ فأقول: الشكر يكون بالقلب واللسان والأفعال. هذه أركانه، الثلاثة: أما القلب -وهو أعظمها- فالمراد منه أن تعلم وتعتقد أن الله هو الذي منحك النعمة لا أحد سواه شاركه، فإنَّ كل من تقدره من كبير وأمير ووزير وصاحب وخليل ووالد
--------------------------------------------
এর মাধ্যমে তিনি তাকে পরকালীন নিয়ামতসমূহ সম্পর্কে সচেতন করেন; কেননা তা-ই হলো সকল মাধ্যমের চূড়ান্ত লক্ষ্য। আর আমি আশা করি, যার কাছে তার দ্বীন বা দুনিয়া বিষয়ে মহান আল্লাহর কোনো নিয়ামত ছিল এবং তা চলে গেছে, এরপর সে যদি একনিষ্ঠ বিশ্বাসের সাথে এই কিতাবটি পাঠ করে, এটি অনুধাবন করে এবং দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এতে যা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সে অনুযায়ী আমল করে, তবে সেই নিয়ামত তার কাছে পুনরায় ফিরে আসবে অথবা তার চেয়েও উত্তম কিছু অর্জিত হবে। তার যাবতীয় দুশ্চিন্তা দূরীভূত হবে এবং তা আনন্দ ও খুশিতে রূপান্তরিত হবে। সুতরাং যার মনে সন্দেহ জাগে সে যেন এই মহৌষধটি গ্রহণ করে; তবে তা কেবল পরীক্ষা বা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে এবং সমালোচনা বা পরখ করার দৃষ্টিতে নয়, বরং সুধারণা ও সুন্দর বিশ্বাসের সাথে। তবেই সে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যের চূড়ান্ত সফলতা লাভে সমর্থ হবে। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এই কিতাবের প্রতি এর যোগ্য ব্যক্তিদের সংকল্পকে ধাবিত করেন এবং যারা এর অযোগ্য ও এটি সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের আগ্রহকে এ থেকে ফিরিয়ে দেন।
(প্রথম বিষয়) আপনাকে জানতে হবে যে আপনার এই বিপর্যয় কোথা থেকে এসেছে এবং কোন কারণে আপনার থেকে নিয়ামতটি বিলুপ্ত হয়েছে? কেননা কোনো নিয়ামত আপনার থেকে অহেতুক চলে যায় না; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থার পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেরা নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে।
জেনে রাখুন যে, সেই নিয়ামতটি আপনার থেকে কেবল এজন্যই চলে গেছে যে, আপনি তার হকের যথাযথ আঞ্জাম দিতে তথা তার শুকরিয়া আদায়ে ত্রুটি করেছেন; কেননা যে নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হয় না, তা বিলুপ্ত হওয়ারই যোগ্য। মনীষীদের একটি উক্তি হলো: নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা হলে তা স্থিতি লাভ করে, আর অকৃতজ্ঞতা করা হলে তা পলায়ন করে। আরও বলা হয়েছে: শুকরিয়া আদায় করলে নিয়ামতের কোনো বিনাশ নেই, আর অকৃতজ্ঞতা করলে তার কোনো স্থিতি নেই। আরও বলা হয়েছে: নিয়ামত হলো বন্য পশুর মতো, তাই শুকরিয়ার শিকল দিয়ে তাকে বেঁধে রাখো। নিয়ামতের অকৃতজ্ঞতা যে তার বিলুপ্তি ঘটায়, এ বিষয়ে অসংখ্য দলিল বিদ্যমান, তাই তা উল্লেখ করে আলোচনা দীর্ঘ করছি না। সারকথা হলো, আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ এ কথাই প্রমাণ করে যে, নিয়ামতের প্রতি অকৃতজ্ঞতা তার বিলুপ্তির পূর্বাভাস দেয় এবং শুকরিয়া তার বৃদ্ধির ফয়সালা করে। আল্লাহ সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞানের অধিকারী আরিফগণ উল্লেখ করেছেন যে, মহান প্রতিপালক শুকরিয়ার সাথে নিয়ামত বৃদ্ধির বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছেন এবং এতে কোনো ব্যতিক্রম (استثناء) রাখেননি; অথচ তিনি পাঁচটি বিষয়ে ব্যতিক্রম (استثناء) রেখেছেন: অভাবমুক্তি, দোয়া কবুল করা, রিজিক, ক্ষমা এবং তওবা। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তবে আল্লাহ চাইলে তাঁর নিজ অনুগ্রহে তোমাদের অভাবমুক্ত করবেন} (১)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতঃপর তিনি চাইলে তা দূর করেন যার জন্য তোমরা তাঁকে ডাকো} (২)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক দান করেন} (৩)। {এবং তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন} (৪)। আল্লাহ তাআলা আরও বলেছেন: {অতঃপর আল্লাহ এরপর যাকে ইচ্ছা তার তওবা কবুল করবেন} (৫)। কিন্তু শুকরিয়ার ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম (استثناء) ছাড়াই বলেছেন: {যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় করো তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেব} (৬)। আপনি যদি প্রশ্ন করেন: শুকরিয়া আসলে কী? আমি বলব: আরিফগণ তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন এবং এর প্রকৃত রূপ বর্ণনা করেছেন। আমি আপনার নিকট এ বিষয়ে সংক্ষেপে এমন কিছু তুলে ধরব যা আপনার বোধগম্যতার সহজতর হবে। আমি বলছি: শুকরিয়া সম্পন্ন হয় অন্তর, জিহ্বা এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের মাধ্যমে। এগুলোই হলো এর তিনটি মূল ভিত্তি (أركان)। এর মধ্যে অন্তরের বিষয়টিই হলো প্রধান—আর তা হলো আপনি এ কথা জানবেন ও বিশ্বাস করবেন যে, একমাত্র আল্লাহই আপনাকে নিয়ামত দান করেছেন, এতে অন্য কেউ তাঁর শরিক নেই। কেননা আপনি উচ্চমর্যাদাশীল কোনো ব্যক্তি, আমির, মন্ত্রী, বন্ধু, অন্তরঙ্গ সুহৃদ বা পিতা-মাতা যাকেই বিবেচনা করেন না কেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
وغيرهم لا يقدر على فعل شيء لنفسه فضلًا عن غيره وإن جرى على يديه خير فاللَّه تعالى هو الذي أجراه على يديه؛ وإلَّا فهو لا مدخل له فيه ولا صنع. فمن أنعمَ عليه ملك من الملوك بشيء فإن رأى لوزير الملك أو لحاشيته مدخلًا في تيسير ذلك وإيصاله فهو إشراكٌ بالملك في النعمة، إذ لم ير النعمة منه من كل وجه، بل رآها منه ومن غيره فيتوزَّع فرحه عيهما، فلا يكون موحدًا في حق الملك فمن حقّ الملك أن يعاقبه على هذا الاعتقاد.
فإن قلت: ما علاج هذا الداء فإنِّي أرى أناسًا لي عليهم خدمة، ولي عندهم يد، وبيني وبينهم صداقة، يصدر على أيديهم نفعى في ديني ودنياي فلا أستطيع أن أدفعهم عن قلبي؟ قلت: من الذي سخَّرهم لك، وألقى في قلبهم الدَّاعية، ويسَّر الأسباب عليهم حتى أوصلوا النفع إليك؟ هات قل لي. فإن قلت: اللَّه الذي سخَّرهم وسخَّر الشمس والقمر كلّ يجري بأمره، فاعلم أنهم مسخَّرون تحت قبضته.
فإن كنت تعتقدهم فاعلين شيئًا فهلَّا اعتقدت القلم والحبر والكاغَد (1) التي كتب بها منشورك فاعلًا! ولم لا اعتقدت الموقِّع فاعلًا؟ ولم لا اعتقدت الخازن الذي يُخرج لك الدراهم فاعلًا؟ فإذا كنت تعتقد أنَّ كل واحد من هؤلاء مقهور مِن الملك مجبور، ولو خلِّي ونفسه لما أعطاك ذَرَّة، فافهم أنَّ كل من وصل لك على يديه خير من المخلوقين فهو كذلك في قبضة ربِّ العالمين. فاشكره وحده ولا تُشرك به أحدًا.
واعلم أنَّ المخلوق مضطرٌّ سلَّط اللَّه عليه الإِرادة، وهيَّج عليه الدواعي، وألقى في قلبه أن يعطيك، فلم يجد بعد ذلك سبيلًا إلى دفعك؛ ولا يعطيك والحالة هذه إِلَّا لغرض نفسه لا لغرضك. ولو لم يكن له غرض في الإِعطاء لما أعطاك. ولو لم يعتقد أن له نفعًا في نفعك لما نفعك. فهو إذًا إنَّما يطلب نفع نفسه بنفعك. ويتَّخذك وسيلة إلى نعمة أخرى يرجوها لنفسه. وما أنعمَ عليك إلَّا الذي سخَّره لك وألقى في قلبه ما حمله على الإِحسان إليك. فإن قلت: فلم ورد الشرع بشكري إياه حيث قال أبو هريرة رضي الله عنه: قال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: "لا
--------------------------------------------
এবং অন্য কেউ নিজের জন্য কোনো কিছু করার ক্ষমতা রাখে না, অন্য কারোর জন্য করা তো বহু দূরের বিষয়। আর যদি তার হাতে কোনো কল্যাণ সাধিত হয়, তবে মহান আল্লাহই তা তার হাতে প্রবাহিত করেছেন; অন্যথায় এতে তার কোনো হাত বা করার কিছু নেই। সুতরাং কোনো বাদশাহ যদি কাউকে কোনো কিছু দিয়ে ধন্য করেন, আর সে যদি সেই বাদশাহর উজির বা তার অনুচরবর্গের কোনো ভূমিকা তা সহজতর করা বা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে দেখতে পায়, তবে তা নিআমতের ক্ষেত্রে বাদশাহর সাথে শিরক করারই নামান্তর। যেহেতু সে নিআমতটিকে সর্বতোভাবে বাদশাহর পক্ষ থেকে দেখেনি, বরং তা বাদশাহ এবং অন্যদের পক্ষ থেকে এসেছে বলে মনে করেছে; ফলে তার আনন্দ উভয়ের মাঝে বণ্টিত হয়ে যায়। এমতাবস্থায় সে বাদশাহর হকের ক্ষেত্রে প্রকৃত একত্ববাদী হতে পারে না। আর এই বিশ্বাসের কারণে তাকে দণ্ড প্রদান করা বাদশাহর জন্য সংগত।
আপনি যদি বলেন: এই রোগের প্রতিকার কী? আমি তো এমন কিছু লোক দেখছি যারা আমার সেবা করছে, আমার প্রতি তাদের অনুগ্রহ রয়েছে এবং আমার ও তাদের মাঝে বন্ধুত্ব বিদ্যমান; তাদের মাধ্যমেই আমার দ্বীন ও দুনিয়ার উপকার সাধিত হয়, এমতাবস্থায় আমি কীভাবে তাদেরকে আমার অন্তর থেকে সরিয়ে দেব? আমি বলব: কে তাদেরকে আপনার অনুগত করেছেন, কে তাদের অন্তরে কাজের প্রেরণা জাগ্রত করেছেন এবং কে তাদের জন্য উপায়-উপকরণ সহজ করেছেন যাতে তারা আপনার নিকট কল্যাণ পৌঁছে দিতে পারে? বলুন তো দেখি। যদি আপনি বলেন: আল্লাহ তাদের অনুগত করেছেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকেও অনুগত করেছেন, সবকিছুই তাঁর আদেশে পরিচালিত হয়—তবে জেনে রাখুন যে, তারা তাঁরই কুদরতের অধীনে আজ্ঞাবহ।
এখন আপনি যদি তাদেরকে কোনো কার্যের কর্তা মনে করেন, তবে আপনার ফরমান যে কলম, কালি এবং কাগজ (১) দিয়ে লেখা হয়েছে, সেগুলোকে কেন কর্তা মনে করেন না? কেন স্বাক্ষরকারীকে কর্তা মনে করেন না? কেন সেই কোষাধ্যক্ষকে কর্তা মনে করেন না যে আপনার জন্য দিরহামগুলো বের করে দেয়? সুতরাং আপনি যদি মনে করেন যে এদের প্রত্যেকেই বাদশাহর আদেশে পরাভূত ও বাধ্য, আর তাকে যদি তার নিজের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো তবে সে আপনাকে এক অণু পরিমাণও দান করত না; তবে বুঝে নিন যে, সৃষ্টির মধ্য থেকে যার হাতেই আপনার নিকট কোনো কল্যাণ পৌঁছেছে, সেও তেমনিভাবে রাব্বুল আলামীনের কুদরতের কবজায় রয়েছে। সুতরাং কেবল তাঁরই শোকর আদায় করুন এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করবেন না।
আর জেনে রাখুন যে, সৃষ্টি জীব হলো নিরুপায়, আল্লাহ তার ওপর ইচ্ছাশক্তি প্রবল করে দিয়েছেন এবং তার ভেতর প্রেরণা জাগ্রত করেছেন এবং তার অন্তরে দান করার ইচ্ছা ঢেলে দিয়েছেন, ফলে এরপর আপনাকে দান করা ছাড়া সে আর কোনো উপায় খুঁজে পায় না। এমতাবস্থায় সে কেবল নিজের উদ্দেশ্যেই আপনাকে দান করে, আপনার স্বার্থে নয়। যদি দান করার মাঝে তার নিজস্ব কোনো উদ্দেশ্য না থাকত, তবে সে আপনাকে দান করত না। আর যদি সে মনে না করত যে আপনার উপকারে তার নিজের উপকার নিহিত রয়েছে, তবে সে আপনার উপকার করত না। সুতরাং সে আপনার উপকারের মাধ্যমে মূলত নিজেরই উপকার অন্বেষণ করছে এবং একে তার নিজের প্রত্যাশিত অন্য কোনো নিআমত লাভের উসিলা হিসেবে গ্রহণ করছে। বস্তুত যিনি তাকে আপনার জন্য অনুগত করেছেন এবং তার অন্তরে এমন বিষয় ঢেলে দিয়েছেন যা তাকে আপনার প্রতি ইহসান করতে উদ্বুদ্ধ করেছে, কেবল তিনিই আপনাকে নিআমত দান করেছেন। আপনি যদি বলেন: তবে শরীয়তে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের নির্দেশ কেন এসেছে? যেখানে আবু হুরায়রা (রাদিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
يشكر اللَّه من لا يشكر الناس" رواه أبو داود بهذا اللفظ والترمذي بلفظين: أحدهما: "من لا يشكر الناس لا يشكر اللَّه" والآخر: "من لم يشكر الناس لم يشكر اللَّه". وفي حديث النُّعمان بن بَشِير أنَّ النَّبيّ صلى الله عليه وسلم قال: "من لم يشكر القليل لم يشكر الكثير ومن لم يشكر الناس لم يشكر اللَّه. والتحدُّث بنعمة اللَّه شكر، وتركِهِ كُفْر" الحديث في إسناده الجراح بن مليح والد وكيع تكلَّم فيه بعضهم، والعمل على توثيقه وأخرج له مسلم. وفي حديث الأشعث بن قيس الكندي: "إن أشكر الناس للَّه أشكرهم للناس" أخرجه أحمد بن منيع في مسنده. قلت: ورد بذلك لكونه أجرى النعمة على يديه فيكون شكرك إيّاه داعيًا له إلى أن يزيد من فعل الخير ولك أن تشكر الفاعل بالحقيقة الذي هو الربُّ تعالى ولغير ذلك من الأسباب التي لا غرض الآن في شرحها، فعليكَ شكره لأجل أمر اللَّه تعالى لا لاعتقاد أنه فاعل. بل لو شكرته بذلك الاعتقاد كنت مشركًا لا شاكرًا. فاشكره واعلم أنَّه لا ينفع ولا يضر، وأنَّه ربَّما تغيَّر عليك بأيسرِ الأسباب، وانقلبَ حبه بغضًا، ومالت تلك الدواعي وتبدَّلت بضدِّها. وإنَّما المحسن الذي لا يتغير ولا يحول ولا يزول رب الأرباب. والواسطة بين الخلق والحق الذي هو بنا رؤوفٌ رحيم لا تتغيَّر حالته محمد المصطفى صلى الله عليه وسلم. فلا فاعلَ إلَّا اللَّه ولا سبب لخير إلَّا نبيه المصطفى الأمين خير الخلق أجمعين محمد سيد المرسلين والنبيين، عليه أفضل الصلاة والسلام من ربِّ العالمين.
فإذا استقرَّت هذه القاعدة عندك بحيث صرت تتلقَّى كل ما يأتيك من اللَّه تعالى لا من أحد من خلقه فهذا شكرٌ عظيم للنعمة وهو أعظم أركان الشكر، ولذلك أطلق عليه كثير من المحققين أنَّه نفس الشكر، حيث قالوا: الشكر الاعتراف بنعمة المنعم على وجه الخضوع. وإنَّما أطلقوا عليه ذلك لكونه أعظم الأركان، كما في قوله صلى الله عليه وسلم: "الحجُّ عرفة" و"الندم توبة" ونحوَ ذلك. أخبرنا داود بن سليمان بن داود الآباري إذنا أخبرنا عم أبي أبو الطاهر يوسف بن عمر بن يوسف سماعًا أنا بركات بن إبراهيم الخُشُوعيّ أنا هبة اللَّه بن الأكفاني أنا أحمد بن عبد الواحد بن محمد، ومحمد بن عقيل بن أحمد قالا: أخبرنا أبو بكر محمد بن أحمد بن عثمان بن أبي الحديد أنَّا أبو بكر محمد بن جعفر الخرائطيّ السَّامرِّي
"যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।" আবু দাউদ এই শব্দে এবং তিরমিজি দুটি পাঠে এটি বর্ণনা করেছেন: একটি হলো, "যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না" এবং অন্যটি হলো, "যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি।" নুমান ইবনে বশীরের হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে অল্পের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে বেশির প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আর যে মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না, সে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না। আল্লাহর নেয়ামত সম্পর্কে আলোচনা করা কৃতজ্ঞতা (শোকর), আর তা বর্জন করা অকৃতজ্ঞতা (কুফর)।" এই হাদিসের সনদে (إسناد) ওয়াকি-এর পিতা আল-জাররাহ ইবনে মালিহ রয়েছেন, যার ব্যাপারে কেউ কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন, তবে তার নির্ভরযোগ্যতা প্রদানের (توثيق) ওপরই আমল করা হয় এবং ইমাম মুসলিম তার থেকে হাদিস গ্রহণ করেছেন। আশআস ইবনে কায়স আল-কিনদির হাদিসে এসেছে: "আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ বান্দাদের মধ্যে সেই শ্রেষ্ঠ, যে মানুষের প্রতি অধিক কৃতজ্ঞ।" আহমদ ইবনে মানি এটি তার মুসনাদে বর্ণনা করেছেন। আমি বলি: এটি এই কারণে বর্ণিত হয়েছে যে, আল্লাহ সেই ব্যক্তির হাত দিয়েই নেয়ামতটি প্রবাহিত করেছেন, ফলে আপনার পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানানো তার জন্য কল্যাণকর কাজের পরিধি বাড়াতে উৎসাহী হওয়ার কারণ হবে। আপনার উচিত প্রকৃত কর্তা মহান রবের প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া; এ ছাড়াও আরও অনেক কারণ রয়েছে যা এখানে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই। অতএব, আপনার ওপর তার প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া আবশ্যক আল্লাহর নির্দেশের খাতিরে, এই বিশ্বাসে নয় যে সে-ই প্রকৃত কর্তা। বরং যদি আপনি তাকে প্রকৃত কর্তা মনে করে ধন্যবাদ জানান, তবে আপনি কৃতজ্ঞ হওয়ার পরিবর্তে মুশরিক (অংশীবাদী) হয়ে যাবেন। সুতরাং তাকে ধন্যবাদ দিন এবং জেনে রাখুন যে সে কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না, আর অতি সামান্য কারণেও আপনার প্রতি তার মনোভাব বদলে যেতে পারে; তার ভালোবাসা ঘৃণায় রূপ নিতে পারে এবং তার অনুকূল অবস্থাগুলো পরিবর্তিত হয়ে বিপরীতে রূপ নিতে পারে। প্রকৃত অনুগ্রহকারী তো তিনিই, যাঁর কোনো পরিবর্তন, রূপান্তর বা বিনাশ নেই—তিনি হলেন রব্বুল আরবাব (প্রভুদের প্রভু)। আর সৃষ্টি ও সত্যের (আল্লাহর) মাঝে যোগসূত্র হলেন তিনি, যিনি আমাদের প্রতি অত্যন্ত দয়াবান ও করুণাময় এবং যাঁর অবস্থার কোনো পরিবর্তন হয় না—মুহাম্মদ আল-মুস্তফা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আল্লাহ ছাড়া আর কোনো প্রকৃত কর্তা নেই এবং নবী আল-মুস্তফা আল-আমিন ছাড়া কল্যাণের আর কোনো মাধ্যম নেই, যিনি সকল সৃষ্টির সেরা, মুহাম্মদ—সকল নবী ও রাসূলদের সর্দার, তাঁর ওপর রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে সর্বোত্তম দুরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।
যখন এই মূলনীতিটি আপনার হৃদয়ে বদ্ধমূল হবে যে, আপনার কাছে যা কিছু আসে তা একমাত্র আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকেই আসে, সৃষ্টির কারো পক্ষ থেকে নয়, তখন এটি হবে নেয়ামতের প্রতি এক মহান কৃতজ্ঞতা এবং এটি কৃতজ্ঞতার শ্রেষ্ঠ স্তম্ভ (ركن)। এই কারণে অনেক গবেষক (محقق) একেই প্রকৃত কৃতজ্ঞতা হিসেবে অভিহিত করেছেন; তারা বলেছেন: কৃতজ্ঞতা হলো বিনয়ের সাথে দাতার নেয়ামতকে স্বীকার করা। তারা এর ওপর কৃতজ্ঞতার সংজ্ঞা আরোপ করেছেন কারণ এটিই এর প্রধান স্তম্ভ, যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীতে এসেছে: "হজ হলো আরাফা" এবং "অনুশোচনা হলো তওবা" ইত্যাদি। দাউদ ইবনে সুলাইমান ইবনে দাউদ আল-আবারি আমাদের অনুমতিপ্রাপ্ত (إذنا) হয়ে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আমার পিতার চাচা আবু আল-তহির ইউসুফ ইবনে উমর ইবনে ইউসুফ আমাদের সরাসরি শ্রবণের (سماع) মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, বারাকাত ইবনে ইব্রাহিম আল-খুশুয়ি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, হিবাতুল্লাহ ইবনে আল-আকফানি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আহমদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ ইবনে আকিল ইবনে আহমদ উভয়ে বলেছেন: আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে উসমান ইবনে আবিল হাদিদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-খরাইতি আল-সামারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ثَنا (1) يحيى بن أبي طالب ثنا علي بن عاصم ثنا إسماعيل بن أبي خالد عن أبي عمرو الشيباني قال: قال موسى عليه السلام يوم الطور: يا رب إن أنا صلَّيت فمن قِبلِك، وإن أنا تصدَّقت فمن قِبَلك، وإن أنا بلَّغت رسالتك فمن قِبَلِك، فكيف أشكرك؟ قال: (يا موسى الآن شكرْتَني). وفي لفظ: إذا عرفت أنَّ النعم مِنِّي فقد رضيتُ بذلك منك شكرًا. وهذا حق فجميع ما نتعاطاه باختيارنا نعمة من اللَّه تعالن علينا؛ إذ جوارحنا وقدرتنا وإرادتنا ودواعينا وسائر الأمور التي هي أسباب حركاتنا وسكناتنا من خلق اللَّه ونعمته فنحن نشكر بنعمته نعمته. وإلى هذا المنزع أشارَ خطيب العلماء الشافعيّ رضي الله عنه حيث قال: الحمد للَّه الذي لا يؤدَّى شكر نعمة من نعمه إِلَّا بنعمة منه توجب على مؤدِّي ماضي شكر نعمه بأدائها نعمة حادثة يجب عليه شكرها ولا يبلغ الواصفون كنه عظمته؛ الذي هو كما وصف نفسه وفوق ما يصفه به خلقه. انتهى وأنشد محمود الورَّاق لنفسه:
إذا كان شكري نعمة اللَّه نعمة
… عليَّ له في مثلها يجب الشكر
فكيف بلوغ الشكر إِلَّا بفضلهِ؟
… وإن طالت الأيام واتصل العمر
ولم يزد العلماء في هذا الركن أكثر ممَّا ذكرناه. وعندي أنَّه يتعيَّن على ذي النعمة أيضًا أن ينظرَ إليها -وإن قلَّت- بعينِ التعظيم، لكونها من قِبَلِ اللَّه تعالى؛ فإنَّ قليله لا يُقال له قليل، وإلى نفسه بالتحقير بالإِضافة إليها معترفًا بأنه ليس أهلًا لها وأن أصله نطفة من منيّ تُمْنَى (2) وقد وصَّله اللَّه إليها لا باستحقاق عليه بل بفضل منه ولا يخفى عليك أن من وصلت إليه هدية من ملك فاستقلَّها ولم يعبأ بها فإنَّ الملك ينقم عليه ويشدِّد عقوبته، ويأخذ في نفسه منه، ويمنع عنه العطاء؛ وإن استعظمها واستحقرَ نفسه بالنسبة إليها فإنَّ الملك يحب ذلك منه، ويحمله هذا الأمر على إسداء نعمة أخرى. والربُّ تعالى لا تخفى عليه خافية. فمهما وقع في
--------------------------------------------
আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) (১) ইয়াহইয়া ইবনে আবি তালিব, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) আলি ইবনে আসিম, তিনি বলেন আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন (حدثنا) ইসমাইল ইবনে আবি খালিদ, তিনি আবু আমর আশ-শায়বানি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুসা আলাইহিস সালাম তূর পাহাড়ের দিনে বলেছিলেন: হে আমার প্রতিপালক! আমি যদি সালাত আদায় করি তবে তা আপনার পক্ষ থেকেই (তাওফিকপ্রাপ্ত), আমি যদি সদকা প্রদান করি তবে তাও আপনার পক্ষ থেকে, আর আমি যদি আপনার রিসালাত পৌঁছে দিই তবে তাও আপনার পক্ষ থেকেই; এমতাবস্থায় আমি কীভাবে আপনার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করব? তিনি (আল্লাহ) বললেন: (হে মুসা, এখনই তুমি আমার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলে)। অন্য একটি পাঠে (لفظ) এসেছে: যখন তুমি জানলে যে সকল নেয়ামত আমার পক্ষ থেকে, তখন আমি তোমার পক্ষ থেকে তাকেই শুকরিয়া হিসেবে কবুল করে নিলাম। আর এটিই যথার্থ; কেননা আমরা আমাদের ইচ্ছায় যা কিছু করি তা আমাদের ওপর মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামতস্বরূপ; কারণ আমাদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, আমাদের সক্ষমতা, আমাদের ইচ্ছা, আমাদের প্রেরণা এবং অন্যান্য সকল বিষয় যা আমাদের নড়াচড়া ও স্থিরতার কারণ, তা আল্লাহর সৃষ্টি ও তাঁর নেয়ামত। সুতরাং আমরা তাঁর নেয়ামতের মাধ্যমেই তাঁর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি। উলামাদের খতিব শাফেয়ি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এই প্রসঙ্গের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন যেখানে তিনি বলেছেন: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নেয়ামতসমূহের কোনো একটির শুকরিয়া তাঁর পক্ষ থেকে অন্য এক নেয়ামত ব্যতীত আদায় করা সম্ভব নয়, যা ওই নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়কারীর ওপর পুনরায় শুকরিয়া আদায়ের আবশ্যকতা তৈরি করে এবং বর্ণনাকারীরা তাঁর মহত্ত্বের প্রকৃত স্বরূপ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না; তিনি তেমনই যেমনটি তিনি নিজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর সৃষ্টি তাঁর যে প্রশংসা করে তিনি তারও ঊর্ধ্বে। সমাপ্ত। মাহমুদ আল-ওয়াররাক নিজের একটি কবিতা আবৃত্তি করেছেন:
যদি আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা নিজেই একটি নেয়ামত হয়
… তবে আমার ওপর অনুরূপ আরেকটি শুকরিয়া ওয়াজিব হয়ে যায়।
তবে কীভাবে শুকরিয়া আদায় পূর্ণ হবে তাঁর অনুগ্রহ ব্যতীত?
… যদিও দিন দীর্ঘ হয় এবং জীবন অতিবাহিত হয়ে যায়।
বিদ্বানগণ এই রুকন বা স্তম্ভের বিষয়ে আমরা যা উল্লেখ করেছি তার চেয়ে বেশি কিছু বলেননি। আমার মতে, নেয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য অপরিহার্য হলো নেয়ামতটির দিকে—তা অল্প হলেও—সম্মানের দৃষ্টিতে তাকানো, যেহেতু তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে; কেননা তাঁর পক্ষ থেকে আসা অল্প কিছুকেও অল্প বলা যায় না। এবং নেয়ামতের তুলনায় নিজেকে তুচ্ছ জ্ঞান করা এবং এটি স্বীকার করা যে সে এর যোগ্য নয়, আর তার মূল হলো নিক্ষিপ্ত বীর্য (২); আল্লাহ তাকে এর (নেয়ামতের) নাগাল পাইয়ে দিয়েছেন কোনো অধিকারের কারণে নয় বরং তাঁর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ হিসেবে। আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, যার কাছে বাদশাহর পক্ষ থেকে কোনো উপহার আসে এবং সে যদি তাকে নগণ্য মনে করে ও ভ্রূক্ষেপ না করে, তবে বাদশাহ তার ওপর রাগান্বিত হন এবং তার শাস্তি কঠোর করেন, তার প্রতি মনে অসন্তুষ্টি পোষণ করেন এবং তাকে দান করা থেকে বিরত থাকেন। আর যদি সে উপহারটিকে মহান মনে করে এবং তার তুলনায় নিজেকে তুচ্ছ মনে করে, তবে বাদশাহ তার এই আচরণ পছন্দ করেন এবং এই বিষয়টি তাকে আরও নেয়ামত প্রদানের দিকে ধাবিত করে। আর মহান রবের কাছে কোনো কিছুই গোপন থাকে না। সুতরাং যা কিছু ঘটে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
نفسك فهو مطلع عليه: فإن وقع في قلبك استقلالها فإنَّه يخشى عليك زوالها وافتقارك إليها، وإن وقع في نفسك استعظامها فأبشر بدوامها والازدياد. سمعت الشيخ الإِمام رحمه الله يقول: أعطَيْت بعض الناس عطاء فاستقلَّه فعلمت أن اللَّه يسلبه إيّاه ويحوجه إليه. فإن قلت: ما علاج هذا الداء؟ فإنَّ كثيرًا من الناس يعطون ما يرونه قليلًا بالنسبة إليهم؟ قلت: علاجه أن ينظر إلى نفسه ويرى هل يستحق على اللَّه شيئًا! وما أصله؟ وكيف وصل إلى ما وصل؟ فما من أحد يعتبر حاله من أول منشئه إلى إيصال النعمة التي هو فيها مفكِّر ولها مستقلٌّ إلَّا ويجدها نعمة ليست في حسابه وكثيرةً عليه. فهذا دواء من أدوية هذا المرض. ودواء آخر وهو أن تأخذ النعمة من اللَّه تعالى وتعلم أن العظيم إذا أسدى إلى عبده الحقير معروفًا وإن قلَّ فقد ذكره. وما حقرك من ذكرك، وما ذكرك الكريم إلَّا وفي نيّته أن يَجْبرك. فتلقَّ ما يأتي منه بالبشرى، واحذَر الأخرى. وإن كان ما أسداهُ إليكَ قليلًا عليك فهو بالنسبة إلى أنَّه من عطائه كثير عليك، وبالنسبة إلى أنَّه طريق إلى عطاء آخر أكثر منه إذا شكرته كثير أيضًا. وإنَّما يجيئك الاستقلال من نظرك إلى النعمة دون المنعم. ونحن نضرب لك مثلًا فنقول: الملك إذا عزم على السفر وأنعمَ على بعض حاشيته بفرس، ففرحه بالفرس يُفرَض على وجوه: أعلاها أن يفرح بها لأنها طريق إلى خروجه في خدمة الملك ونزوله بقربه، وحلوله منه بالمنزلة الدانية، وصيرورته من الخاصَّة بعد أن كان من العامَّة. فهذا فرحه بالفرس لأنها طريقٌ إلى مشاهدة الملك ومنادمته، لا لأنها فرس. ودون هذا أن يفرح بالفرس لا لكونها فرسًا، ولكن لما يدل عليه من عناية الملك به، وذكره له وشفقته عليه. فهذا يفرح بها لا لكونها فرسًا بل لأمور أخر تترتَّب عليها. وأخسَّها وأحقرها أن يفرح بها لكونها فرسًا يركبها. فهذا إنَّما فرح بالفرس ولم ينظر إلى المعطى، ولا فرق عنده بين أن يكون الملك هو الذي أعطاه، أو أن يجد الفرس في الصحراء. وثمَّ وجه رابع: وهوأن يفرح بها لمجموع هذه الأمور: فيفرح بها لأنها توصّل إلى منادمته الملك، ولأنها تُؤْذن بغيرها، ولأنها تنفعه. فهذا أيضًا لا بأسَ به، ولكنه دون المقام الأوَّل؛ لأن الأول لا غرض له إلَّا الملك وحده، ولكن ذاك مقام عال يترفَّع عن هِمَم أكثرِ أهل الدنيا الذين وضعنا لهم هذا الكتاب فلذلك لا نطنب في شرحه، وإنَّما نقتصر على إفهام الأكثر؛ حتى إذا حصلوا على
আপনার নফস, তিনি (আল্লাহ) তার ওপর পরিদর্শক: সুতরাং যদি আপনার অন্তরে নেয়ামতকে তুচ্ছজ্ঞান করার বিষয়টি উদয় হয়, তবে আপনার ওপর সেই নেয়ামত বিলীন হওয়া এবং সেটির প্রতি আপনার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর যদি আপনার নফসে নেয়ামতকে মহান মনে করার বিষয়টি উদয় হয়, তবে তার স্থায়িত্ব ও উত্তরোত্তর বৃদ্ধির সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আমি শায়খ ইমাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিকে বলতে শুনেছি: 'আমি কোনো এক ব্যক্তিকে কিছু দান করলাম, অতঃপর সে তাকে তুচ্ছজ্ঞান করল। তখন আমি বুঝতে পারলাম যে, আল্লাহ তাআলা তার নিকট থেকে তা ছিনিয়ে নেবেন এবং তাকে সেটির মুখাপেক্ষী করবেন।'
যদি আপনি বলেন: এই রোগের প্রতিকার কী? কেননা অনেক মানুষই যা প্রদান করা হয়, তা তাদের নিজেদের তুলনায় সামান্য মনে করে। আমি বলব: এর প্রতিকার হলো নিজের নফসের দিকে দৃষ্টিপাত করা এবং দেখা যে, আল্লাহর নিকট তার কোনো কিছুর অধিকার আছে কি না! তার মূল উৎস কী? আর সে কীভাবে বর্তমান অবস্থায় উপনীত হলো? যে ব্যক্তিই তার সৃষ্টির সূচনা থেকে নিয়ে বর্তমান প্রাপ্ত নেয়ামত পর্যন্ত নিজের অবস্থা নিয়ে চিন্তা করবে—যে নেয়ামত নিয়ে সে ভাবছে এবং যাকে তুচ্ছ মনে করছে—সে অবশ্যই একে এমন এক নেয়ামত হিসেবে দেখতে পাবে যা তার হিসাবের অতীত এবং তার জন্য অনেক বেশি। এটি হলো এই রোগের একটি ঔষধ।
অন্য একটি ঔষধ হলো, নেয়ামতটি আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে গ্রহণ করা এবং এটি অনুধাবন করা যে, মহান সত্তা যখন তাঁর অতি নগণ্য বান্দার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করেন, তা সামান্য হলেও এর অর্থ হলো তিনি তাকে স্মরণ করেছেন। যিনি আপনাকে স্মরণ করেছেন তিনি আপনাকে তুচ্ছ করেননি। আর মহান দাতা আপনাকে স্মরণ করেছেন কেবল আপনাকে সংশোধন করার ও আপনার অভাব পূরণের উদ্দেশ্যেই। সুতরাং তাঁর পক্ষ থেকে যা আসে তা আনন্দের সাথে গ্রহণ করুন এবং অন্যটি (অকৃতজ্ঞতা) থেকে সতর্ক থাকুন। আপনার প্রতি তিনি যা দান করেছেন তা যদি আপনার বিবেচনায় সামান্যও হয়, তবে তা তাঁর দান হওয়ার বিবেচনায় আপনার জন্য অনেক বড়। আবার যদি আপনি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন, তবে এটি আরও অধিকতর নেয়ামত লাভের পথ হওয়ার কারণেও এটি অনেক বড়। নেয়ামতদাতার পরিবর্তে কেবল নেয়ামতের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করার কারণেই মূলত আপনার মাঝে তুচ্ছজ্ঞানের উদয় হয়।
আমরা আপনার জন্য একটি উদাহরণ দিচ্ছি: কোনো বাদশাহ যখন সফরের সংকল্প করেন এবং তাঁর কোনো এক অনুচরের প্রতি একটি ঘোড়া প্রদানের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেন, তখন সেই ঘোড়া প্রাপ্তিতে তার আনন্দ কয়েকভাবে হতে পারে: সর্বোচ্চ স্তর হলো, সে ঘোড়াটি পেয়ে আনন্দিত হবে এই কারণে যে, এটি বাদশাহর খেদমতে বের হওয়ার, তাঁর নৈকট্য লাভের, তাঁর নিকটবর্তী মর্যাদায় আসীন হওয়ার এবং সাধারণ স্তর থেকে বিশেষ স্তরে উন্নীত হওয়ার একটি মাধ্যম। এক্ষেত্রে ঘোড়ার প্রতি তার আনন্দ মূলত বাদশাহর দিদার এবং তাঁর সান্নিধ্য লাভের মাধ্যম হওয়ার কারণে, ঘোড়া হিসেবে নয়।
এর নিচের স্তর হলো, ঘোড়া হিসেবে আনন্দিত না হয়ে বরং বাদশাহর পক্ষ থেকে তার প্রতি বিশেষ মনোযোগ, তাকে স্মরণ করা এবং তাঁর মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আনন্দিত হওয়া। অর্থাৎ সে ঘোড়ার সত্তার কারণে নয়, বরং এর সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের কারণে আনন্দিত হয়।
সবচেয়ে নিকৃষ্ট ও নগণ্য স্তর হলো, সে কেবল আরোহণের জন্য একটি ঘোড়া পেয়েছে—এই হিসেবে আনন্দিত হওয়া। সে মূলত কেবল ঘোড়ার কারণেই আনন্দিত হয়েছে এবং দাতার প্রতি লক্ষ্য করেনি। বাদশাহ তাকে এটি দিয়েছেন নাকি সে মরুভূমিতে এটি কুড়িয়ে পেয়েছে—তার নিকট উভয়ের মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
চতুর্থ একটি দিকও রয়েছে: তা হলো এই সবগুলোর সমষ্টির কারণে আনন্দিত হওয়া। সে আনন্দিত হয় কারণ এটি বাদশাহর সান্নিধ্য পর্যন্ত পৌঁছে দেয়, কারণ এটি আরও নেয়ামতের আগাম বার্তা দেয় এবং এটি তার উপকারে আসে। এতেও কোনো দোষ নেই, তবে এটি প্রথম স্তরের নিচে। কারণ প্রথম স্তরে বাদশাহ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। কিন্তু সেটি এক সুউচ্চ মাকাম, যা দুনিয়াদার অধিকাংশ মানুষের হিম্মতের ঊর্ধ্বে—যাদের জন্য আমরা এই কিতাবটি লিখেছি। তাই আমরা এর ব্যাখ্যায় দীর্ঘ আলোচনা করব না, বরং আমরা কেবল সাধারণদের বোধগম্য করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকব; যেন তারা যখন এটি লাভ করবে...
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
ما نودِعه في هذا الكتاب ترقوا منه إلى النظر في المقام الأعلى فباب الرحمة مفتوح، والربُّ منادٍ فأين المشمّرون!
وأمَّا اللسان فالمراد منه حمد اللَّه تعالى عليها والتحدُّث بها بقوله تعالى: {وأَمَّا بِنِعْمَةِ ربِّكِ فَحَدِّثْ} (1) فيتحدَّث بها لا لرياء وسمعة وخيلاء، بل للثَّناء على الرب تبارك وتعالى. بيان جماعة من السلف يجلسون فيتطارحون حديث نعمهم حتى ينتهي مجلسهم وهم على ذلك. وذكر الأستاذ أبو القاسم القشيري أنَّ بعضهم قال: رأيت في بعض الأسفار شيخًا كبيرًا قد طعنَ في السن، فسألته عن حاله فقال: إنِّي كنت في ابتداء عمري أهوى ابنة عم لي، وهي كذلك كانت تهواني فاتَّفق أنَّها زُوّجت مني؛ فليلة زفافها قلنا: تعالي حتى نحيي هذه الليلة شكرًا للَّه تعالى على ما جمعنا. فصلَّينا تلك الليلة ولم يتفرَّغ أحد منا إلى صاحبه. فلمَّا كانت الليلة الثانية قلنا مثل ذلك. فمنذ سبعين أو ثمانين سنة نحن على تلك الحالة. أليس كذلك يا فلانة! فقالت العجوز: كما يقول الشيخ. فهذا الشيخ تحدَّث بنعمة اللَّه تعالى عليه الذي ألهمه لهذا الشكر العظيم. وذلك أيضًا من الشكر. وروي أنَّ وفدًا قدموا على عمر بن عبد العزيز رحمه الله فقام شابّ ليتكلَّم. فقال عمر: الكُبْر (2) الكبر. فقال: يا أمير المؤمنين: لو كانَ الأمر بالسن لكان في المسلمين من هو أسَنُّ منك. فقال: تكلَّم. فقال: لسنا وفد الرغبة، ولا وفد الرهبة: أمَّا الرغبة فقد أوصلها إلينا فضلك، وأمَّا الرهبة فقد آمَننا منها عدلك. وإنَّما نحن وفد الشكر جئناك نشكرك باللسان. والأخبار في هذا كثيرة، وليس استيعابها من غرض كتابنا.
واعلم أنَّ هذين الأمرين أعني الشكر بالجَنَان واللسان يشملان كل نعمة. ونسبة النعم إليهما على حد سواء. وأمَّا الأفعال فالمُراد منها امتثال أوامر المنعِم واجتناب نواهيه. وهذا يخصّ كل نعمة بما يليقُ بها. فلكلِّ نعمة شكر يخصُّها. والضابط أن تستعمل نعم اللَّه تعالى في طاعته وتتوقَّى من الاستعانة بها على
--------------------------------------------
আমরা এই গ্রন্থে যা উপস্থাপন করছি, তা থেকে আপনারা উচ্চতর মকামের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করতে পারেন; কেননা রহমতের দ্বার উন্মুক্ত এবং প্রতিপালক আহ্বান করছেন—তাহলে সচেষ্টরা কোথায়!
আর জিহ্বার উদ্দেশ্য হলো প্রাপ্ত নেয়ামতের জন্য আল্লাহ তাআলার প্রশংসা জ্ঞাপন করা এবং মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে তা বর্ণনা করা: {আর আপনার রবের নেয়ামতসমূহ বর্ণনা করুন} (১)। অতএব, লোকদেখানো, খ্যাতি অর্জন বা অহংকারের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং বরকতময় রবের প্রশংসার নিমিত্তেই তা বর্ণনা করা বাঞ্ছনীয়। এটি সালাফ (سلف)-দের এক জামাতের বর্ণনা, যারা একত্রে বসতেন এবং মজলিস শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের নেয়ামতসমূহ নিয়ে পরস্পর আলোচনা (হাদিস) করতেন। উস্তাদ আবু কাসেম আল-কুশাইরী উল্লেখ করেছেন যে, তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: আমি জনৈক সফরে একজন অতি বৃদ্ধ শায়খকে দেখলাম যিনি বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছেন। আমি তাঁকে তাঁর অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: আমি আমার জীবনের শুরুতে আমার এক চাচাতো বোনকে ভালোবাসতাম এবং সেও আমাকে ভালোবাসত। অতঃপর ঘটনাক্রমে আমাদের বিয়ে হয়ে যায়। বাসর রাতে আমরা বললাম: এসো, আল্লাহ তাআলা আমাদের একত্রিত করেছেন বলে তাঁর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ আজকের রাতটি ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করি। ফলে আমরা সেই রাতে সালাত আদায় করলাম এবং আমাদের কেউ কারও দিকে মনোযোগ দেওয়ার ফুরসত পেল না। যখন দ্বিতীয় রাত এলো, তখনও আমরা একই কথা বললাম। গত সত্তর বা আশি বছর যাবত আমরা এই অবস্থাতেই আছি। হে অমুক! বিষয়টি কি এমন নয়? তখন বৃদ্ধা বললেন: শায়খ যা বলছেন তা-ই সত্য। সুতরাং এই শায়খ আল্লাহ তাআলার সেই নেয়ামতের কথা বর্ণনা করেছেন যা তাঁকে এই মহান কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনে অনুপ্রাণিত করেছিল। আর এটিও কৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত। বর্ণিত আছে যে, একটি প্রতিনিধি দল উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট আগমন করল, তখন এক যুবক কথা বলার জন্য দাঁড়িয়ে গেল। উমর (রহ.) বললেন: বড়দের (আল-কুবর) সুযোগ দাও, বড়দের সুযোগ দাও। যুবকটি বলল: হে আমিরুল মুমিনীন! বিষয়টি যদি কেবল বয়সের হতো, তবে মুসলমানদের মাঝে আপনার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ আরও অনেকে ছিল। তখন উমর (রহ.) বললেন: তবে কথা বলো। যুবকটি বলল: আমরা কোনো চাওয়া-পাওয়া বা ভয়ের বশবর্তী হয়ে আসিনি। চাওয়া-পাওয়ার কথা যদি বলেন, তবে আপনার বদান্যতা আমাদের পর্যন্ত পৌঁছে গেছে; আর ভয়ের কথা বললে, আপনার ন্যায়বিচার আমাদের তা থেকে নিরাপত্তা দিয়েছে। আমরা মূলত কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনকারী একটি দল, আপনার নিকট এসেছি জিহ্বার মাধ্যমে আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে। এ বিষয়ে সংবাদসমূহ (أخبار) প্রচুর, তবে সেসবের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ আমাদের এই গ্রন্থের লক্ষ্য নয়।
জেনে রাখুন যে, এই দুটি বিষয়—অর্থাৎ অন্তর ও জিহ্বার মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন—প্রতিটি নেয়ামতকেই অন্তর্ভুক্ত করে। আর নেয়ামতসমূহের সম্বন্ধও এ দুটির প্রতি সমান। তবে কার্যাবলীর ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য হলো নেয়ামতদাতার আদেশসমূহ পালন করা এবং তাঁর নিষেধসমূহ বর্জন করা। এটি প্রতিটি নেয়ামতের সাথে তার উপযুক্ততা অনুযায়ী নির্দিষ্ট হয়। সুতরাং প্রতিটি নেয়ামতের জন্য একটি স্বতন্ত্র কৃতজ্ঞতা রয়েছে। এর মূলনীতি হলো আল্লাহ তাআলার নেয়ামতসমূহকে তাঁর আনুগত্যের কাজে ব্যবহার করা এবং সেই নেয়ামতের সাহায্যে তাঁর অবাধ্য হওয়া থেকে বেঁচে থাকা...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
معصيته. فليس من شكر النعمة أن تهملها وتشكر على وجه غير الوجه الذي عليه بُنيت. فمن عَدَلَ عنها إلى نوعٍ آخر من الشكر فقد قصَّر، وترك الأهم. وإنَّما الرشيد من جمعَ بين الأمرين. فإن كان لا بدَّ من التفرقة فالأنسب استعمال كل نعمة فيما خلقت له، وهذا يتَّضح بأمثلة:
المثال الأول
من شكرَ نعمة العينين أن تستركل عيب تراه لمسلم وتغضّهما عن كل قبيح إلى غير ذلك من أحكام النظر. فإن أنتَ أخذت تصلِّي كل ليلة ركعتين على شكر نعمة العينين؛ وأنت مع ذلك تستعملهما في النظر إلى المحرَّم، فلستَ بشاكرٍ هذه النعمة حقَّ شكرها.
المثال الثاني
من شكرَ نعمة الأذنين ألَّا تسمع حرامًا، وأن تستر كل عيب تسمعه. فإن أنت تصدَّقت بدرهمين شكرًا للَّه تعالى على نعمة الأذنين وهتكتَ كل قبيح سمعته وأصغيت إلى كلِّ حرامٍ وَعَيته فلستَ من الشاكرين.
المثال الثالث
وهو يشمل الخليفة فمن دونه من السلطان ونوَّابه والقضاة وسائر أرباب الأمور. وسنخصّ لكل فرد منهم مثالًا.
إذا ولَّاك اللَّه تعالى أمرًا على الخلق فعليك البحث عن الرعيَّة، والعدلَ بينهم في القضية، والحكم فيهم بالسويّة، ومجانبة الهوى والميل، وعدم سماع بعضهم في بعض، إلَّا أن يأتي بحجة مبينة وعدم الركون إلى الأسبق. فإن وجدت نفسك تصغي إلى الأسبق وتميلُ إلى صدقه؛ فاعلم أنك ظالم للخلق، وأنَّ قلبك إلى الآن متقلّب مع الأغراض يُميله الهوى كيف شاء. وإن وجدت الأسبق والآخر سواء إلَّا من جاء بحق فأنت أنت. وقد اعتبرتُ كثيرًا من الأتراك فوجدتهم يميلون إلى أول شاكّ. وما ذاك إلَّا للغفلة المستولية على قلوبهم، التي
তাঁর নাফরমানি। নিয়ামতের শোকরগুজারি এটি নয় যে, আপনি তাকে অবহেলা করবেন এবং এমন পন্থায় শোকর আদায় করবেন যা তার মূল ভিত্তির পরিপন্থী। সুতরাং যে ব্যক্তি নিয়ামতের প্রকৃত ব্যবহারের পথ ছেড়ে অন্য কোনো প্রকারের শোকর আদায়ের দিকে ধাবিত হলো, সে ত্রুটি করল এবং অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বর্জন করল। প্রকৃতপক্ষে বুদ্ধিমান তো সেই ব্যক্তি, যে উভয় বিষয়ের সমন্বয় সাধন করে। আর যদি পার্থক্য করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, তবে প্রতিটি নিয়ামতকে তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য অনুযায়ী ব্যবহার করাই অধিকতর সংগত; আর এটি কিছু উদাহরণের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে:
প্রথম উদাহরণ
চক্ষুরূপ নিয়ামতের শোকরগুজারি হলো কোনো মুসলমানের দোষত্রুটি দেখলে তা গোপন রাখা এবং সকল কদর্য বিষয় হতে দৃষ্টি অবনত রাখা—দৃষ্টি সম্পর্কিত অন্যান্য বিধানের ক্ষেত্রেও অনুরূপ। এখন আপনি যদি চক্ষুর নিয়ামতের শোকর হিসেবে প্রতি রাতে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন, অথচ সেই সাথে সেই চোখ দুটিকে হারাম বিষয়ের প্রতি দৃষ্টিপাতে ব্যবহার করেন, তবে আপনি এই নিয়ামতের যথাযথ শোকর আদায়কারী নন।
দ্বিতীয় উদাহরণ
কর্ণদ্বয় রূপ নিয়ামতের শোকরগুজারি হলো কোনো হারাম কথা শ্রবণ না করা এবং শ্রুত সকল দোষ গোপন রাখা। এখন আপনি যদি কানের নিয়ামতের শোকর হিসেবে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য দুই দিরহাম সদকা করেন, অথচ শ্রুত কোনো মন্দ কথা ফাঁস করে দেন কিংবা কোনো হারামের প্রতি কর্ণপাত করেন ও তা হৃদয়ে ধারণ করেন, তবে আপনি শোকরগুজারদের অন্তর্ভুক্ত নন।
第三 উদাহরণ
এটি খলিফা থেকে শুরু করে সুলতান, তাঁর প্রতিনিধিগণ, বিচারকবৃন্দ এবং সকল পদস্থ কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমরা তাঁদের প্রত্যেকের জন্য একটি করে বিশেষ উদাহরণ প্রদান করব।
আল্লাহ তাআলা যখন আপনাকে সৃষ্টির ওপর কোনো বিষয়ের কর্তৃত্ব প্রদান করেন, তখন আপনার কর্তব্য হলো প্রজাসাধারণের অবস্থা অনুসন্ধান করা, বিবাদমান বিষয়ে তাদের মাঝে ইনসাফ কায়েম করা, সমতার ভিত্তিতে তাদের মাঝে ফয়সালা করা, খেয়াল-খুশি ও পক্ষপাত বর্জন করা এবং একজনের বিরুদ্ধে অন্যজনের অভিযোগ শ্রবণ না করা—যদি না সে সুস্পষ্ট প্রমাণ (حجة) পেশ করতে পারে, এবং প্রথম পক্ষের ওপর নির্ভর না করা। আপনি যদি নিজেকে প্রথম অভিযোগকারীর প্রতি কর্ণপাতকারী এবং তার সত্যতার দিকে ঝুঁকে পড়তে দেখেন, তবে জেনে রাখুন যে আপনি সৃষ্টির প্রতি জুলুম করছেন এবং আপনার অন্তর এখনও ব্যক্তিগত হীন স্বার্থের আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে, যা কুপ্রবৃত্তি দ্বারা তাড়িত হচ্ছে। আর যদি দেখেন যে প্রথম পক্ষ ও দ্বিতীয় পক্ষ আপনার নিকট সমান, কেবল যে সত্য নিয়ে এসেছে সে ব্যতীত, তবেই আপনি সার্থক। আমি তুর্কিদের অনেককেই পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি যে, তারা প্রথম অভিযোগকারীর দিকেই ঝুঁকে পড়ে। আর এটি তাদের অন্তরে জেঁকে বসা সেই গাফেলতিরই বহিঃপ্রকাশ, যা
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
صيّرت قلوبهم كالأرض الترابية التي لم تروَ بالماء فإذا أتاها ماء رويت: سواء أكان ذلك الماء صافيًا أم كدرًا زُلالًا باردًا أم كدِرًا حارًّا. ثم إذا رويت، وجاء ماء آخر صافٍ حسن لم تشربه، وصار مائعًا عليها. فهذه هي القلوب الغافلة عن الحقّ نسأل اللَّه السلامة. فعليك شكر نعمة الولاية بما ذكرناه وأن تعرف أنك أنت والرعيّة سواء لم تتميز عنهم بنفسك، بل بفعل اللَّه تعالى الذي لو شاءَ لأعطاهم ومنعك فإذا كان قد أعطاك الولاية عليهم ومنعهم فما ينبغي أن تتمرّد وتستعين بنعمته على معصيته وأذاهم، بل لا أقلّ من أن تتجنب أذاهم وتكفّ عنهم شرّك وتجانب الهوى والميل والغرض بنعمة الولاية لا تطلب منك غير ذلك. ولو أنك تركت الناس هملًا يأكل بعضهم بعضًا وجلست في دارك تصلّي وتبكي على ذنوبك لكنت مسيئًا على ربك. فملِكك لم يطلب منك أن تتهجد بالليل ولا أن تصوم الدهر وإنَّما يطلب منك ما ذكرناه. فإن ضممت إليه أعمالًا أخر صالحة كان ذلك نورًا على نور، وإلَّا فهذا هو شكر نعمة الولاية التي بها تدوم. ولعلَّك تقول: فإن قمت بحقوق الرعية مع التقصير في حق اللَّه تعالى هل أنا محمود؟ فاعلم أنك محمود من تلك الجهة، مذموم من هذه الجهة، وتيقَّظ لأمر عظيم نُنبهك عليه. وهو أن مَن هذا شأنه يخشى عليه إن هو زاد من التقصير في جانب اللَّه تعالى أن يُظلم قلبُه ظلامًا يورث الطَبْعَ (1) على قلبه، وينشأ عنه التقصير في تلك الجهة الأخرى، فيصير مذمومًا في الجهتين. فلا يخطر لك أنَّه يمكن اجتماع التقصير في حق اللَّه تعالى من كل وجه، والقيام بحق العباد من كل وجه، بل هذا مستحيل عادة؛ فقد جرت عادة اللَّه سبحانه وتعالى بأن من أهمل جانبه من كل وجه سُلِّط عليه الشيطان فاستولاه واستزلَّه وصيَّره يضيع جانب العباد أيضًا. ومن رشيق عبارات الشافعي رضي اللَّه تعالى عنه؛ وقد ذكر أنَّ الرشد صلاح الدين والمال معًا: من ضيَّع حق اللَّه تعالى فهو لما سواه أضْيَع. فعليك أن تتعهد نفسك بالعبادة ومراقبة الحق. وليس مقصدنا الآن البحث عن هذا؛ إنَّما الذي عقدنا له
--------------------------------------------
তাদের অন্তরসমূহকে এমন ধূলিময় ভূমির মতো করা হয়েছে যা পানি দ্বারা সিক্ত হয়নি; ফলে যখনই সেখানে পানি আসে, তা সিক্ত হয়ে যায়: চাই সেই পানি স্বচ্ছ হোক বা ঘোলাটে, সুপেয় শীতল হোক বা পঙ্কিল তপ্ত। অতঃপর যখন তা সিক্ত হয়ে যায় এবং পুনরায় অন্য কোনো স্বচ্ছ ও উত্তম পানি আসে, তখন তা আর পান করে না, বরং তা উপরিভাগে তরল অবস্থায় রয়ে যায়। এরাই হলো সত্য বিমুখ অসতর্ক অন্তর; আমরা আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি। অতএব, আমরা যা উল্লেখ করেছি তার মাধ্যমে কর্তৃত্ব (الولاية) এর নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা আপনার জন্য আবশ্যক। আপনার জানা উচিত যে, আপনি এবং আপনার প্রজাসাধারণ সমান; আপনি আপনার নিজের কারণে তাদের চেয়ে স্বতন্ত্র হননি, বরং মহান আল্লাহর কর্মের মাধ্যমেই তা হয়েছে, যিনি চাইলে তাদেরকে তা দান করতেন এবং আপনাকে বঞ্চিত রাখতেন। সুতরাং যখন তিনি আপনাকে তাদের ওপর কর্তৃত্ব (الولاية) প্রদান করেছেন এবং তাদেরকে বঞ্চিত করেছেন, তখন আপনার জন্য সমীচীন নয় যে আপনি বিদ্রোহী হবেন এবং তাঁর দেওয়া নেয়ামতকে তাঁর অবাধ্যতা ও তাদের কষ্টের কারণ হিসেবে ব্যবহার করবেন। বরং ন্যূনতম কর্তব্য হলো আপনি তাদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন, নিজের অনিষ্ট থেকে তাদেরকে রক্ষা করবেন এবং প্রবৃত্তি, পক্ষপাতিত্ব ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য পরিহার করবেন; কর্তৃত্ব (الولاية) এর নেয়ামত আপনার কাছে এছাড়া অন্য কিছু দাবি করে না। আর আপনি যদি মানুষকে লক্ষ্যহীনভাবে ছেড়ে দেন যেখানে একে অপরকে গ্রাস করবে, আর আপনি নিজের ঘরে বসে সালাত আদায় করেন ও নিজের গুনাহের জন্য ক্রন্দন করেন, তবে আপনি আপনার রবের প্রতি অন্যায্য আচরণকারী হিসেবে গণ্য হবেন। কেননা আপনার রাজত্ব আপনার কাছে গভীর রাতে তাহাজ্জুদ বা সারাবছর রোজা রাখা দাবি করেনি, বরং তা কেবল আমরা যা উল্লেখ করেছি তাই দাবি করে। এরপর যদি আপনি এর সাথে অন্যান্য নেক আমল যুক্ত করেন, তবে তা হবে নূরের ওপর নূর; অন্যথায়, এটাই হলো কর্তৃত্ব (الولاية) এর নেয়ামতের শুকরিয়া, যার মাধ্যমে তা স্থায়িত্ব পায়। হয়তো আপনি বলবেন: "আমি যদি মহান আল্লাহর হকের ব্যাপারে ত্রুটি করা সত্ত্বেও প্রজাসাধারণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি, তবে কি আমি প্রশংসিত হব?" জেনে রাখুন যে, আপনি সেই দিক থেকে প্রশংসিত এবং এই দিক থেকে নিন্দিত। একটি মহান বিষয়ের প্রতি সজাগ হোন যা আমি আপনাকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। বিষয়টি হলো, যার অবস্থা এমন তার ব্যাপারে আশঙ্কা করা হয় যে, সে যদি আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে ত্রুটি বাড়িয়ে দেয়, তবে তার অন্তর এমনভাবে অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে যা তার অন্তরে মোহর (الطبع) মেরে দেওয়ার কারণ হবে, এবং এর ফলে অন্য দিকের ক্ষেত্রেও ত্রুটির সৃষ্টি হবে। ফলে সে উভয় দিক থেকেই নিন্দিত হবে। সুতরাং আপনার মনে যেন এই ধারণা না আসে যে, আল্লাহর হকের ক্ষেত্রে পুরোপুরি ত্রুটি করা এবং বান্দার হকের ক্ষেত্রে পুরোপুরি সজাগ থাকা সম্ভব; বরং এটি অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব। কারণ মহান আল্লাহর নিয়ম হলো, যে ব্যক্তি তাঁর দিকটি সর্বতোভাবে অবহেলা করে, তার ওপর শয়তানকে বিজয়ী করে দেওয়া হয়; ফলে শয়তান তাকে কুক্ষিগত করে ও পদস্খলন ঘটায় এবং তাকে বান্দার হক নষ্ট করার দিকেও পরিচালিত করে। ইমাম শাফিঈ-এর চমৎকার উক্তিগুলোর মধ্যে একটি হলো—যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে সঠিক পথ (الرشد) হলো দ্বীন ও সম্পদ উভয়ের সংশোধন—"যে ব্যক্তি আল্লাহর হক নষ্ট করে, সে অন্য সবকিছুর ব্যাপারে আরও বেশি অবহেলাকারী হয়।" অতএব আপনার কর্তব্য হলো ইবাদত ও হকের প্রতি সচেতনতা বা পর্যবেক্ষণ (مراقبة) এর মাধ্যমে নিজের নফসকে পরিশুদ্ধ রাখা। তবে আমাদের বর্তমান উদ্দেশ্য এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা নয়; বরং আমরা যে কারণে এটি অবতারণা করেছি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
الفصل أن ذا النعمة يجب عليه اعتقاد أنها من اللَّه تعالى، وحمد اللَّه عليها والوفاء بحقها. وقد جمع الشاعر هذه الأمور في قوله:
أفادتكم النعماءُ مني ثلاثة
… يدي ولساني والضميرُ المحجبا
والشاعر وإن لم يقل: إن هذا شكر فقد جمع أصنافه. وقد بيَّنا لك أن مجموعها الشكر. ومن كلامهم: الشكر ثلاث منازل: ضمير القلب، وثناء اللسان، والمكافأة بالفعل. والتعبير بالمكافأة عندي غير سديد؛ فإن أحدًا لا يقدر على مكافأة المنعم بالحقيقة. وإنَّما المعنيّ به استعمال الجوارح بقدر الاستطاعة في التكاليف حسبما شرحناه.
المثال الرابع
إذا كنت مقبول الكلمة عند ولي الأمر فالمطلوب منك أن تنصحه، وتنهى إليه ما يصحّ ويثبت عندك من حال الرعايا، وتساعد عنده على الحقّ بما تصل إليه قدرتك. ولا يكن حظّك منه الاقتصار على حُطَام تجمعه لنفسك أو دنيا تضمها إليك؛ فإن ذلك سبب زواله عنك بل المقتضى لدوام ما عندك منه ما ذكرناه من النصيحة والمساعدة في الحق؛ لتدوم لك نعمتُه التي هي سبب نعمتك، ومودَّته التي بها وَصَلت إلى ما وصلت، وليدوم لك منه ما أسده إليك. وما أحمق من كانت له كلمة نافذة عند وليّ أمر فوجد مظلومًا يستغيث فقام يصلِّي شكرًا للَّه تعالى على أن جعله ذا كلمة نافذة عند ولي الأمر، وترك المظلوم يتخبطه الظلم ولا يجد منجدًا، وهو قادر على إنجاده. فذاك الذي صلاته وبال عليه؛ كما قال الفقهاء فيمن كان يصلِّي فمرَّ به غريق تتلاطمه أمواج البحر، وهو قادر على إنقاذه، فإنه يجب عليه قطع الصلاة وإنقاذه. وذاك وهذا سِيّان.
واعلم أنَّ هذين المثالين أعني الثالث والرابع يشملان كل وليّ أمر، وكل مقبول الكلمة عند وليّ أمر: صغير أو كبير. ونحن نرى أن نحضَّ غالب الناس بأمثلة تستوعب معظم الوظائف التي استقرَّت عليها قواعد المسلمين في هذا الزمان، ونذكر ممَّا يطالب به صاحب تلك الوظائف يوم القيامة، ويخشى عليه في الدنيا والدين سوء العاقبة بسبب التفريط فيه، ما يكون موقظًا له من سِنَّة الغفلة
পরিচ্ছেদ: নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তির ওপর এটি বিশ্বাস করা অপরিহার্য যে, তা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত; আর সেই নিয়ামতের জন্য আল্লাহর প্রশংসা করা এবং তার হক আদায় করা। জনৈক কবি এই বিষয়গুলো তাঁর পঙক্তিতে এভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন:
তোমাদের দেওয়া নিয়ামতসমূহ আমার কাছ থেকে তিনটি জিনিস লাভ করেছে
… আমার হাত, আমার জিহ্বা এবং আমার গোপন অন্তঃকরণ।
কবি যদিও একে ‘শোকর’ হিসেবে অভিহিত করেননি, তবুও তিনি এর সকল প্রকারকে এখানে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আমরা ইতিমধ্যে আপনার নিকট ব্যাখ্যা করেছি যে, এই সবকিছুর সমষ্টিই হলো শোকর। মনিষীদের একটি উক্তি হলো: শোকর তিনটি স্তরে বিভক্ত—অন্তরের বিশ্বাস, জিহ্বার প্রশংসা এবং কর্মের মাধ্যমে তার প্রতিদান প্রদান। আমার মতে, ‘প্রতিদান প্রদান’ (মুকাফাত) শব্দটি ব্যবহার করা সঠিক নয়; কারণ প্রকৃতপক্ষে নিয়ামতদাতার প্রকৃত প্রতিদান প্রদান করার ক্ষমতা কারো নেই। বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আমাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী সামর্থ্য অনুযায়ী অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোকে শরয়ি দায়িত্বসমূহের (تكاليف) পালনে নিয়োজিত করা।
চতুর্থ উদাহরণ
যদি আপনি কোনো শাসকের নিকট গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হন, তবে আপনার কর্তব্য হলো তাকে নসিহত করা এবং প্রজাদের অবস্থা সম্পর্কে আপনার নিকট যা সত্য ও প্রমাণিত তা তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া। সত্যের পথে আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁকে সহযোগিতা করা। আপনার লক্ষ্য যেন কেবল নিজের জন্য তুচ্ছ পার্থিব সম্পদ সংগ্রহ করা বা দুনিয়া গুছিয়ে নেওয়ায় সীমাবদ্ধ না থাকে; কারণ এটি আপনার নিকট থেকে নিয়ামত চলে যাওয়ার কারণ হতে পারে। বরং আপনার কাছে যা আছে তার স্থায়িত্বের দাবি হলো আমরা যা উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ নসিহত করা এবং সত্যের পথে সাহায্য করা; যাতে আপনার জন্য তাঁর সেই নিয়ামত স্থায়ী হয় যা আপনার নিয়ামতের উৎস, এবং তাঁর সেই ভালোবাসা বজায় থাকে যার মাধ্যমে আপনি বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছেন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অর্পিত হয়েছে তা অব্যাহত থাকে। সেই ব্যক্তির চেয়ে বড় নির্বোধ আর কে হতে পারে, যার শাসকের কাছে প্রভাব রয়েছে এবং সে একজন মজলুমকে আর্তনাদ করতে দেখল, এমতাবস্থায় সে আল্লাহর দরবারে শোকর আদায় করে নামাজ পড়তে শুরু করল এই কারণে যে আল্লাহ তাকে শাসকের নিকট গ্রহণযোগ্য করেছেন, কিন্তু সে মজলুমকে জুলুমের শিকার হতে দেখেও তাকে একা ফেলে রাখল—অথচ সে তাকে উদ্ধারে সক্ষম ছিল। সেই নামাজ তার জন্য অকল্যাণ বয়ে আনবে; যেমন ফকিহগণ (فقهاء) সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন, যে নামাজ পড়ছিল এবং তার পাশ দিয়ে সাগরের ঢেউয়ে হাবুডুবু খাওয়া এক ডুবন্ত ব্যক্তি অতিবাহিত হচ্ছিল, আর সে তাকে উদ্ধারে সক্ষম ছিল; এমতাবস্থায় তার ওপর ওয়াজিব হলো নামাজ ভেঙে তাকে উদ্ধার করা। ঐ ব্যক্তি এবং এই ব্যক্তির অবস্থা একই।
জেনে রাখুন যে, এই দুটি উদাহরণ অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থটি প্রতিটি শাসক এবং শাসকের নিকট গ্রহণযোগ্য প্রত্যেক ছোট-বড় ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আমাদের অভিমত হলো, আমরা অধিকাংশ মানুষকে এমন কিছু উদাহরণের মাধ্যমে উৎসাহিত করব যা বর্তমান যুগে মুসলমানদের প্রতিষ্ঠিত নিয়মাবলীর অধীনে অধিকাংশ দায়িত্বকে অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা সেই সকল বিষয় উল্লেখ করব যা এই দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের নিকট থেকে কিয়ামতের দিন চাওয়া হবে এবং দুনিয়া ও দ্বীনের ক্ষেত্রে অবহেলার কারণে অশুভ পরিণতির যে আশঙ্কা রয়েছে, যা তাকে গাফলতের তন্দ্রা থেকে জাগ্রত করবে।
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
ومرشدًا إن شاء اللَّه تعالى، لعلَّ اللَّه ينفع به أقوامًا.
المثال الخامس
السلطان أعني الإِمام الأعظم. وقد أكثر الفقهاء في باب الإِمامة، وأفردَ كثيرون منهم الأحكام السلطانية بالتصنيص. ونحن ننبِّه على مهمات أهملها الملوك أو قصَّروا فيها. فمن وظائف السلطان تجنيد الجنود، وإقامة فَرْض الجهاد لإِعلاء كلمة اللَّه تعالى؛ فإن اللَّه تعالى لم يولِّه على المسلمين ليكون رئيسًا آكلًا شاربًا مستريحًا. بل لينصر الدين ويُعلِيَ الكلمة. فمن حقِّه ألَّا يدع الكفار يكفرون أنعُم اللَّه ولا يؤمنون باللَّه ولا برسوله. فإذا رأينا ملكًا تقاعد عن هذا الأمر، وأخذ يظلم المسلمين، ويأكل أموالهم بغير حق، ثم سلبه اللَّه نعمته وجاء يعتب الزمان، ويشكو الدهر، أفليس هو الظالم، وقد كان يمكنه بدل أخذ أموال المسلمين وظلمهم أن يقيم جماعة في البحر يتلصصون أهل الحرب؛ فإن كان هذا الملك شجاعًا ناهضًا فليرنا همته في أعداء اللَّه الكفار، ويجاهدهم ويتلصّصهم، ويُعمل الحيلة في أخذ أموالهم حِلًّا وبِلًّا ويدع عنه أذيّة المسلمين.
ومن وظائفه أن ينظر في الإِقطاعات، ويضعها مواضعها، ويستخدم من ينفع المسلمين، ويحمي حوزة الدين، ويكفّ أيدي المعتدين. فإن فَرَّق الإِقطاعات على مماليك اصطفاها وزيّنها بأنواع الملابس، والزراكش المحرَّمة، وافتخرَ بركوبها بين يديه، وترك الذين ينفعون الإِسلام جياعًا في بيوتهم، ثم سلبه اللَّه النعمة، وأخذ يبكي ويقول: ما بالُ نعمتي زالت، وأيامي قصرت! فيقال له: يا أحمق، أما علمت السبب! أَوَلست الجاني على نفسك!
ومن وظائفه الفكرة في العلماء والفقراء وسائر المستحقين، وتنزيلهم منازلهم، وكفايتهم من بيت المال الذي هو في يده أمانة عنده، ليس هو فيه إلَّا كواحد منهم، ولدلوه نسبة دلاء المسلمين، فإن ترك العلماء والفقراء جياعًا في بيوتهم، يبيتون ومنهم من يطوي الليلة والليلتين هو وعياله، وأخذَ يمنّ بعظيم مُلكه ومحاسن سماطه وزينته ولباسه ولباس حاشيته، فذلك أحمق جهول. وإن ضمَّ إلى هذا أنَّه استكثر على الفقهاء ما بأيديهم، وتعرَّض لأوقاف وقفها أهل
এবং আল্লাহ তাআলা চাইলে পথপ্রদর্শক হিসেবে, সম্ভবত আল্লাহ এর দ্বারা অনেক কওমকে উপকৃত করবেন।
পঞ্চম উদাহরণ
সুলতান, অর্থাৎ ইমামে আজম। ফকিহগণ ইমামত অধ্যায়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং তাঁদের মধ্যে অনেকেই রাষ্ট্রীয় বিধান (আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ) সংক্রান্ত আলোচনাকে স্বতন্ত্র রূপ দিয়েছেন। আমরা এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্ক করছি যা রাজন্যবর্গ অবহেলা করেছেন বা তাতে ত্রুটি করেছেন। সুলতানের অন্যতম দায়িত্ব হলো সৈন্য সমাবেশ করা এবং আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করার জন্য জিহাদের ফরজ বিধান কায়েম করা; কারণ আল্লাহ তাআলা তাঁকে মুসলমানদের ওপর এ কারণে কর্তৃত্ব দান করেননি যে তিনি কেবল পানাহার ও আরাম-আয়েশকারী একজন প্রধান হবেন। বরং তিনি শাসক হয়েছেন দ্বীনকে সাহায্য করতে এবং আল্লাহর বাণীকে সমুন্নত করতে। সুতরাং তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তিনি যেন কাফেরদেরকে আল্লাহর নেয়ামত অস্বীকার করতে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান না এনে থাকতে না দেন। যখন আমরা এমন কোনো রাজাকে দেখি যিনি এই দায়িত্ব থেকে বিমুখ হয়েছেন এবং মুসলমানদের ওপর জুলুম করতে শুরু করেছেন ও অন্যায়ভাবে তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করছেন, এরপর আল্লাহ যখন তাঁর নেয়ামত ছিনিয়ে নেন এবং তিনি কাল ও সময়ের প্রতি অভিযোগ ও অনুযোগ করতে শুরু করেন, তখন তিনি কি নিজেই জালিম নন? অথচ মুসলমানদের সম্পদ লুণ্ঠন ও তাদের ওপর জুলুম করার পরিবর্তে তাঁর জন্য এটি সম্ভব ছিল যে, তিনি সমুদ্রে একটি বাহিনী মোতায়েন করবেন যারা হারবি (যুদ্ধরত শত্রু) সম্প্রদায়ের গতিরোধ করবে; যদি এই রাজা সাহসী ও উদ্যমী হতেন, তবে তিনি যেন আল্লাহর শত্রু কাফেরদের বিরুদ্ধে তাঁর হিম্মত প্রদর্শন করতেন, তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতেন এবং তাদের গতিরোধ করতেন এবং বৈধ ও হালাল উপায়ে তাদের সম্পদ হস্তগত করার কৌশল অবলম্বন করতেন এবং মুসলমানদের কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন।
তাঁর দায়িত্বের আরও অন্তর্ভুক্ত হলো ইক্তা (জমি বণ্টন) ব্যবস্থা তদারকি করা এবং তা সঠিক খাতে প্রয়োগ করা, এবং এমন ব্যক্তিদের নিয়োজিত করা যারা মুসলমানদের উপকার করবে, দ্বীনের সীমানা রক্ষা করবে এবং সীমালঙ্ঘনকারীদের হাত প্রতিহত করবে। কিন্তু তিনি যদি ইক্তাসমূহ তাঁর মনোনীত গোলামদের মধ্যে বণ্টন করে দেন এবং তাদেরকে বিভিন্ন প্রকারের পোশাক ও হারাম কারুকার্যে সুশোভিত করেন, আর তাঁর সামনে তাদের পদযাত্রা নিয়ে অহংকার করেন, অথচ ইসলামের জন্য যারা উপকারী তাঁদেরকে নিজের ঘরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেলে রাখেন; এরপর যদি আল্লাহ তাঁর নেয়ামত ছিনিয়ে নেন আর তিনি কাঁদতে থাকেন এবং বলেন: 'আমার নেয়ামত কেন চলে গেল এবং আমার রাজত্বের দিনগুলো কেন সংক্ষিপ্ত হয়ে গেল!' তবে তাঁকে বলা হবে: 'হে নির্বোধ! তুমি কি এর কারণ জানো না? তুমি কি নিজেই নিজের ওপর অপরাধী নও!'
তাঁর দায়িত্বের আরও অন্তর্ভুক্ত হলো আলেম, অভাবী এবং অন্যান্য হকদারদের বিষয়ে চিন্তা করা, তাঁদেরকে তাঁদের যোগ্য মর্যাদায় আসীন করা এবং বায়তুল মাল থেকে তাঁদের প্রয়োজনাদি পূরণ করা—যা তাঁর কাছে আমানতস্বরূপ। তিনি এতে সাধারণ মুসলমানদের মতোই একজন অংশীদার; বায়তুল মালে তাঁর বালতি (অংশ) মুসলমানদের বালতিসমূহের (অংশসমূহের) মতোই। যদি তিনি আলেম ও অভাবীদের তাঁদের ঘরে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ফেলে রাখেন, যেখানে তাঁরা এবং তাঁদের পরিবার এক বা দুই রাত অভুক্ত অবস্থায় কাটান, আর তিনি নিজের বিশাল সাম্রাজ্য, দস্তরখানের জাঁকজমক, সাজসজ্জা এবং নিজের ও তাঁর পারিষদবর্গের পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে গর্ব করেন, তবে তিনি অত্যন্ত নির্বোধ ও মূর্খ। আর এর সাথে তিনি যদি ফকিহদের নিকট যা আছে তাকেও অনেক বেশি মনে করেন এবং নেককারদের ওয়াকফকৃত সম্পদের ওপর হস্তক্ষেপ করেন—
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
الخير ممَّن تقدمه عليهم، فهو بلاء على بلاء. فإنَّ من حقه أن ينظر في مصالحهم وأوقافهم، وألَّا يكلهم إليها. بل يرزقهم من بيت المال ما تتم به الكفاية. فإذا تعرَّض لها فقد خرق حجاب الهيبة. فإن ضمَّ إلى ذلك أنَّه يبيعها بالبِرْطيل، ويضعها في غير مستحِقّها فما يكون جزاؤه!
ومن وظائفه بيت مال المسلمين. وقد قدَّر الشارع المصارف فيه، وجعل لكلّ مال أقوامًا وقدرًا. فإن تعدَّى هذا كله، وصرفه في شهواته ولذَّاته، وحسب أن المُلك عبارة عن ذلك، فلا يلوم إلَّا نفسه. وإذا جاء سهم رباني لا يستوحش؛ فإن أخذ يصرف الأموال على خواصّه ومن يريد استمالة قلوبهم إليه لبقاء ملكه، لا لإِعزاز الدين، وأعجبه مدائح الشعراء لكرمه، فذلك خُرْقٌ وقد امتلأت التواريخ ممَّن كان يهب الألوف للشعراء، والألوف للمماليك، والألوف للمغاني (1) وكل ذلك وبال على صاحبه فقد كان بيت المال في زمن عمر بن الخطاب رضي الله عنه أضعاف ما هو اليوم بما لا يحصى كثرة، وفتح اللَّه عليه من الفتوحات ما أمره مشهور، وجاءه مع ذلك أعرابيّ يستمنحه فقال:
يا عمرَ الخيرِ جُزيتَ الجنّة
… اكسُ بُنيَّاتي وأمّهنّه
وكن لنا من الزمان جُنَّه
… أُقسِم باللَّه لتفعلنَّه
فلم يرتح لترققه، ولا راعه قسمه عليه؛ بل قال: فإن لم أفعل يكون ماذا؟ قال:
* إذن أبا حفص لأذهَبَنَّه *
فقال: وإذا ذهبت يكون ماذا؟ فقال:
يكون عن حالي لتسألنَّه
… يوم تكون الأعطيات هنَّه
وموقف المسؤول بينهنَّه
… إمَّا إلى نارٍ وإمَّا جنَّه
فلمَّا ذكر له الجنة والنار، والموقف بين يديّ المولى الجبار، بكى حتى
--------------------------------------------
যাদের ওপর তাকে নেতৃত্ব প্রদান করা হয়েছে তাদের প্রতি অর্পিত কল্যাণ (আদায় না করা) বিপদের ওপর বিপদ। কেননা তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো তাদের জনস্বার্থ ও ওয়াকফকৃত সম্পদের দেখাশোনা করা এবং তাদের সেসবের ওপর অনিশ্চিতভাবে ছেড়ে না দেওয়া। বরং বায়তুল মাল থেকে তাদের জন্য পর্যাপ্ত জীবনোপকরণ প্রদান করা। সে যদি এগুলোতে হস্তক্ষেপ করে, তবে সে মর্যাদার আবরণ ছিন্ন করল। আর যদি এর সাথে সে ঘুষের বিনিময়ে পদ বিক্রয় করে এবং অযোগ্যদের ওপর তা ন্যস্ত করে, তবে তার শাস্তি কী ভয়াবহ হবে!
তার অন্যতম দায়িত্ব হলো মুসলিমদের বায়তুল মাল। শরিয়ত প্রণেতা এতে ব্যয়ের খাতসমূহ নির্ধারণ করে দিয়েছেন এবং প্রত্যেক প্রকার সম্পদের জন্য নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী ও পরিমাণ স্থির করেছেন। যদি সে এই সবকিছুর সীমা লঙ্ঘন করে এবং তা নিজ প্রবৃত্তি ও ভোগবিলাসে ব্যয় করে, আর ধারণা করে যে রাজত্ব মানেই হলো এটি, তবে সে যেন কেবল নিজেকেই তিরস্কার করে। আর যদি কোনো ঐশ্বরিক বিপর্যয় নেমে আসে, তবে সে যেন বিচলিত না হয়; কেননা যদি সে সম্পদ তার ঘনিষ্ঠজনদের পেছনে এবং যাদের অন্তরকে সে নিজ রাজত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য জয় করতে চায় তাদের পেছনে ব্যয় করতে থাকে—দীনের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য নয়—এবং কবির স্তুতিবাক্যে নিজের দানশীলতার প্রশংসা শুনে আনন্দিত হয়, তবে তা নিছক নির্বুদ্ধিতা। ইতিহাস এমন সব ব্যক্তিতে পরিপূর্ণ যারা কবিদের হাজার হাজার মুদ্রা দান করত, দাসদের হাজার হাজার এবং গায়িকাদের (১) হাজার হাজার দান করত; আর এই সবকিছুই তার অধিকারীর জন্য ধ্বংসের কারণ হয়েছে। উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর যুগে বায়তুল মাল বর্তমান সময়ের তুলনায় অগণিত গুণ বেশি ছিল এবং আল্লাহ তাঁর হাতে এমন সব বিজয় দান করেছিলেন যার বৃত্তান্ত সুবিদিত। এমতাবস্থায় এক বেদুইন ব্যক্তি তাঁর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে এসে বলল:
হে কল্যাণময় উমর, আপনি জান্নাতের প্রতিদান লাভ করুন
… আমার কন্যাকুল ও তাদের জননীকে বস্ত্র দান করুন।
এই কঠিন সময়ে আমাদের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়ান
… আল্লাহর কসম! আপনি অবশ্যই তা করবেন।
তার এই অনুনয়-বিনয়ে তিনি বিচলিত হলেন না এবং তার কসমও তাঁকে ভীত করল না; বরং তিনি বললেন: যদি আমি না করি, তবে কী হবে? সে বলল:
* হে আবু হাফস, তবে আমি অবশ্যই প্রস্থান করব। *
তিনি বললেন: তুমি চলে গেলে কী হবে? সে বলল:
তবে আমার অবস্থা সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হতে হবে
… যেদিন দানগুলো হবে সাক্ষ্যস্বরূপ।
আর সেখানে জিজ্ঞাসিত ব্যক্তির দাঁড়ানোর স্থানটি হবে
… হয় জাহান্নামের দিকে, নয় জান্নাতের দিকে।
যখন সে জান্নাত ও জাহান্নামের কথা এবং প্রতাপশালী প্রভুর সামনে দণ্ডায়মান হওয়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিল, তখন তিনি এতটাই কাঁদলেন যে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
اخضلَّت لحيته بدموعه، وقال: يا غلام، أعطه قميصي هذا لذلك اليوم لا لشعره. أمَّا واللَّه لا أملك غيره. فانظره مع ما حصل عنده من الرقَّة الدينية لم ينعم إلَّا بما هو من خاصة ماله، ولم يجد غير قميصه. وقد كانت خزائن الأموال مملوءة بين يديه.
قال العلماء: ولم يعطه من بيت مال المسلمين وإن كان الأعرابيّ فقيرًا مستحقًا؛ لأنه لما استنزله بشعره لم يكن العطاء لمصلحة المسلمين، فلم يعطه من مالهم. قالوا: أو أنَّه لم يثبت عنده أن الأعرابيّ من جملة مصارف مال الصدقات. وقال عليّ بن أبي طالب كرَّم اللَّه تعالى وجهه، والخزائن مملوءة بين يديه: من يشتري مني سيفي هذا؟ ولو وجدت رداء أستتر به ما بعته. فهذه سيرة أهل الحقّ والدين. ولسنا نطالب أهل زماننا بها؛ فإنَّهم لا يصلون إلى هذا المقام. ولكن نذكرهم لعلَّهم يرجعون أو يقصرون عمَّا هم فيه. فلا بد في الذكرى من نفعٍ إن شاءَ اللَّه تعالى.
ومن وظائفه النظر في الدين والصلوات. ولقد رأينا منهم من يعْمُرُ الجوامع ظانًّا أن ذلك من أعظم القُرَب. فينبغي أن يُفهم مثلُ هذا الملك أنَّ إقامة جمعتين في بلد لا تجوز عند الشافعي وأكثر العلماء؛ فإن قال: قد جوَّزها قوم، قلنا له: إذا فعلت ما هو واجبٌ عليك عند الكل فذاك الوقتَ أفعل الجائز عند البعض. وأمَّا أنك ترتكب ما نهى اللَّه عنه وتترك ما أمرَ به، ثم تريد أن تعمر الجوامع بأموال الرعايا؛ ليُقال: هذا جامع فلان، فلا، واللَّه لن يتقبله اللَّه تعالى أبدًا، وإنَّ اللَّه سبحانه طيّب لا يقبل إِلَّا طيّبًا. ومن أقبح البدع المحرَّمة تقبيل الأرض بين أيدي الملوك. فإن كان سجودًا بأن لاقى بجبهته الأرض قال النواوي: فسواء أكانَ إلى القبلة أو غيرها وسواء قصد السجود للَّه تعالى أو غفل هو حرام. وفي بعض صوره ما يقتضي الكفر أو يقاربه، عافانا اللَّه الكريم. انتهى. قال: وربَّما اغترَّ بعضهم بقوله تعالى: {وَرَفَعَ أَبَوَيْهِ عَلَى الْعَرْشِ وَخَرُّوا لَهُ سُجَّدًا} (1) والآية منسوخة أو متأوِّلة كما هو معروف في كتب العلماء. وسئِل ابن الصلاح عن هذا السجود فقال: هو من عظائم الذنوب، ونخشى أن يكون كفرًا. وفي بعض كتب الحنفية أن بعضهم قال: يكفر مطلقًا، وبعضهم قال: إن أراد التحية فهو حرام ولكن لا
--------------------------------------------
তাঁর দাড়ি চোখের পানিতে সিক্ত হলো এবং তিনি বললেন: "হে বৎস, তাকে আমার এই জামাটি দিয়ে দাও সেই দিনটির স্মরণে, তার কবিতার জন্য নয়। আল্লাহর কসম, এটি ছাড়া আমার আর কোনো সম্পদ নেই।" লক্ষ করুন, ধর্মীয় কোমলতা জাগ্রত হওয়ার পরও তিনি নিজের একান্ত ব্যক্তিগত সম্পদ ছাড়া অন্য কিছু দান করেননি এবং নিজের জামা ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পাননি, অথচ তাঁর সামনে ধনাগারসমূহ অর্থে পরিপূর্ণ ছিল।
আলেমগণ বলেন: তিনি তাকে মুসলমানদের বায়তুল মাল থেকে দান করেননি যদিও সেই বেদুইন দরিদ্র ও হকদার ছিল; কারণ সে যখন কবিতার মাধ্যমে তাঁকে বিগলিত করেছিল, তখন সেই দান মুসলমানদের জনস্বার্থে ছিল না, তাই তিনি তাদের সম্পদ থেকে তাকে কিছু দেননি। তাঁরা বলেন: অথবা তাঁর নিকট এটি প্রমাণিত (ثبت) হয়নি যে, সেই বেদুইন সদকার খাতের অন্তর্ভুক্ত ছিল। আলী ইবনে আবি তালিব (কাররামাল্লাহু তায়ালা ওয়াজহাহু) ধনাগারসমূহ সামনে থাকা অবস্থায় বলেছিলেন: "কে আমার কাছ থেকে এই তলোয়ারটি কিনবে? যদি আমি পরিধান করার মতো কোনো চাদর পেতাম, তবে এটি বিক্রি করতাম না।" এটিই হলো সত্যনিষ্ঠ ও ধর্মপরায়ণ ব্যক্তিদের আদর্শ। আমরা আমাদের যুগের মানুষের কাছে তা দাবি করছি না; কারণ তারা এই মাকামে পৌঁছাতে পারবে না। কিন্তু আমরা তাদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যাতে তারা ফিরে আসে অথবা বর্তমান অবস্থা থেকে কিছুটা সংকুচিত হয়। ইনশাআল্লাহ, উপদেশের মাঝে অবশ্যই কল্যাণ রয়েছে।
তাঁর অন্যতম দায়িত্ব হলো দ্বীন ও নামাজের বিষয়াবলি দেখাশোনা করা। আমরা তাদের মাঝে কাউকে কাউকে দেখেছি যারা এই বিশ্বাসে জামে মসজিদসমূহ নির্মাণ করেন যে, এটি শ্রেষ্ঠ ইবাদতসমূহের একটি। সুতরাং এই ধরনের রাজাকে এটি বোঝানো উচিত যে, ইমাম শাফেয়ী ও অধিকাংশ আলেমদের মতে এক শহরে দুটি জুমার জামাত কায়েম করা জায়েজ (جائز) নয়। যদি তিনি বলেন: "একদল আলেম এটি জায়েজ (جائز) বলেছেন", তবে আমরা তাঁকে বলব: "আপনি যখন এমন কাজ করবেন যা সকলের নিকট আপনার ওপর ওয়াজিব (واجب), তখন আপনি সেই কাজ করতে পারেন যা কারো কারো নিকট জায়েজ (جائز)।" কিন্তু আপনি আল্লাহর নিষেধকৃত কাজে লিপ্ত হবেন এবং তাঁর আদেশ বর্জন করবেন, অতঃপর প্রজাদের সম্পদ দিয়ে জামে মসজিদ নির্মাণ করবেন যাতে বলা হয়: "এটি অমুকের জামে মসজিদ", তবে আল্লাহর কসম, আল্লাহ এটি কখনোই কবুল করবেন না। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র (طيب), তিনি পবিত্র (طيب) ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করেন না। আর নিকৃষ্টতম হারাম বিদআত (بدعة) সমূহের একটি হলো রাজাদের সামনে জমিন চুম্বন করা। যদি তা কপাল মাটিতে ঠেকানোর মাধ্যমে সিজদা স্বরূপ হয়, তবে ইমাম নববী বলেন: "তা কিবলার দিকে হোক বা অন্য কোনো দিকে, আর সে আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদার নিয়ত করুক বা তা থেকে গাফেল থাকুক—তা হারাম (حرام)।" কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটি কুফর (كفر) এর শামিল বা তার নিকটবর্তী পর্যায়ে পৌঁছে দেয়, দয়াময় আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন। সমাপ্ত। তিনি বলেন: সম্ভবত তাদের কেউ কেউ আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে বিভ্রান্ত হয়েছে: {আর সে তার পিতামাতাকে সিংহাসনে উঠালো এবং তারা তাঁর সম্মানে সিজদায় লুটিয়ে পড়ল} (১)। অথচ এই আয়াতটি রহিত (منسوخ) হয়ে গেছে অথবা এটি ব্যাখ্যাযুক্ত (متأولة), যেমনটি আলেমদের কিতাবসমূহে সুপরিচিত। ইবনুল সালাহকে এই সিজদা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এটি কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত এবং আমরা তা কুফর (كفر) হওয়ার আশঙ্কা করি।" হানাফী মাযহাবের কোনো কোনো কিতাবে বর্ণিত আছে যে, তাদের কেউ কেউ বলেছেন: "এটি নিরঙ্কুশভাবে কুফর (كفر)", আবার কেউ কেউ বলেছেন: "যদি সম্মান প্রদর্শন উদ্দেশ্য হয় তবে তা হারাম (حرام) কিন্তু তা..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
يكفر، وإن لم يكن له نية كفر عند أكثرهم.
المثال السادس
نُوَّاب (1) السلطنة:
وعليهم مثل ما على السلطان، ويزدادون أن مِن حقهم مراجعته إذا أمرَ بما يخالف المصلحة، وازديادهم من تفقُّد حال الرعية صغيرهم وكبيرهم، جليلهم وحقيرهم، غنيهم وفقيرهم، والنظر في القرى والغَلَّات، ونحو ذلك، وإيصال الحقوق إلى مستحقيها من ذوي النهضة والكفاية والحاجة، وتولية المناصب لأهليها. فإن اعتذر نائب السلطان بأن الزمان لا يمكنه، قلنا له ولغيره: أنتم مطالبون من كل ما نأمركم به بما تصل إليه قدرتكم؛ فعليكم الجد والاجتهاد واللَّه يعين.
من حقهم إقامة فقيه في كل قرية لا فقيهَ فيها، يعلِّم أهلها أمر دينهم. ومن العجيب أن أولياء الأمور يستخدمون في كل حصن طبيبًا ويستصحبونه في أسفارهم بمعلوم من بيت المال، ولا يتَّخذون فقيهًا يعلّمهم الدين؛ وما ذاك إلّا لأن أمر أبدانهم أهم عندهم من أمر أديانهم. نعوِذُ باللَّه من الخذلان. ومن حقِّهم إلقاءُ مقاليد الأحكام إلى الشرع لأنه لا حاكمَ إلَّا اللَّه تعالى، ولن تفعل العقول شيئًا. فإذا رأيت من يعيب على نائب السلطنة انقياده للشرع وينسبه بذلك إلى اللين والرخاوة فاعلم أنَّه يخشى عليه أن يكون ممَّن طبع على قلبه وأن عاقبته وخيمة، بل حقَّ على كل مسلم الرضا بحكم اللَّه تعالى والانقياد له، ومن لم يحكم بما أنزلَ اللَّه فأولئك هم الفاسقون الكافرون الظالمون. وسنبسط في فصل
--------------------------------------------
কাফির (كافر) হয়ে যাবে, যদিও তাদের অধিকাংশের নিকট তার কুফরের নিয়ত না থাকে।
ষষ্ঠ উদাহরণ
সালতানাতের প্রতিনিধিগণ (১):
সুলতানের ওপর যা যা কর্তব্য, তাঁদের ওপরও অনুরূপ কর্তব্য বর্তায়। তদুপরি তাঁদের অতিরিক্ত দায়িত্ব হলো—সুলতান যদি জনস্বার্থবিরোধী কোনো আদেশ দেন, তবে তাঁকে পুনরায় বিবেচনা করতে বলা। এছাড়া আবালবৃদ্ধবনিতা, উঁচু-নিচু, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে প্রজাসাধারণের অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া, গ্রাম ও শস্যের তত্ত্বাবধান করা এবং এ জাতীয় আনুষঙ্গিক বিষয়াদি দেখাশোনা করা তাঁদের অতিরিক্ত দায়িত্ব। সেইসাথে সামর্থ্যবান, যোগ্য ও অভাবীদের মধ্যে যাঁদের পাওনা রয়েছে, তাঁদের কাছে তাঁদের অধিকার পৌঁছে দেওয়া এবং যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে প্রশাসনিক দায়িত্ব অর্পণ করাও তাঁদের কাজ। যদি সুলতানের প্রতিনিধি ওজর পেশ করেন যে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তা সম্ভব নয়, তবে আমরা তাঁকে ও অন্যদের বলব: আমরা আপনাদের যা যা আদেশ করি, তার মধ্য থেকে আপনাদের সাধ্যের ভেতর যা রয়েছে, তার জন্য আপনারা দায়বদ্ধ। সুতরাং আপনাদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও কঠোর সাধনা (اجتهاد) অব্যাহত রাখা আবশ্যক, আর আল্লাহ সাহায্যকারী।
তাঁদের অন্যতম দায়িত্ব হলো এমন প্রতিটি গ্রামে একজন ফকিহ (فقيه) নিযুক্ত করা যেখানে কোনো ফকিহ (فقيه) নেই, যিনি গ্রামবাসীকে দ্বীনি বিষয়াদি শিক্ষা দেবেন। এটি অত্যন্ত বিস্ময়কর যে, শাসকগোষ্ঠী প্রতিটি দুর্গে একজন করে চিকিৎসক নিয়োগ করেন এবং বায়তুল মাল থেকে নির্ধারিত ভাতার বিনিময়ে তাঁদের সফরে সাথে রাখেন, অথচ তাঁরা দ্বীন শিক্ষা দেওয়ার জন্য কোনো ফকিহ (فقيه) নিযুক্ত করেন না; এটি কেবল এ কারণেই যে, তাঁদের কাছে দ্বীনের বিষয়ের চেয়ে দৈহিক সুস্থতার বিষয়টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আল্লাহর কাছে লাঞ্ছনা ও অসারতা (خذلان) থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তাঁদের আরও একটি দায়িত্ব হলো বিচারের চাবিকাঠি শরীয়তের হাতে অর্পণ করা, কারণ আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো হুকুমদাতা (حاكم) নেই এবং মানুষের বুদ্ধি এক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। সুতরাং যখন আপনি কাউকে দেখবেন যে সুলতানের প্রতিনিধির শরীয়তের প্রতি আনুগত্যকে দোষারোপ করছে এবং এর কারণে তাকে দুর্বল ও শিথিল বলে আখ্যা দিচ্ছে, তখন জেনে রাখুন—সে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে যাদের অন্তরে মোহর মেরে দেওয়া হয়েছে এবং যার পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ। বরং আল্লাহর ফয়সালায় সন্তুষ্ট থাকা এবং তাঁর আনুগত্য করা প্রত্যেক মুসলিমের অনিবার্য কর্তব্য। আর যারা আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার করে না, তারাই ফাসেক (فاسق), কাফের (كافر) ও জালেম (ظالم)। আমরা একটি পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা করব—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الحجاب القول في هذا؛ لكونه أمسّ بهم. ومن حقهم دفع أهل البِدَع والأهواء، وكفّ شرهم عن المسلمين. ولا يسعهم في دين اللَّه تعالى الصبر على من يسُب الشيخين أبا بَكر وعمر رضي الله عنهما، ويقذف عائشة أم المؤمنين رضي الله عنها، ويفسد عقائد أهل الدين. بل يجب عليهم الغلظة على هؤلاء بحسب ما تقتضيه المذاهب. وهذه المذاهب الأربعة وللَّه الحمد في العقائد واحدة، إِلَّا من لحق منها بأهل الاعتزال والتجسيم. وإلَّا فجمهورها على الحق؛ يقرون عقيدة أبي جعفر الطحاوي التي تلقّاها العلماء سلفًا وخلفًا بالقبول، ويدينون اللَّه برأي شيخ السنّة أبي الحسن الأشعريّ الذي لم يعارضه إلَّا مبتدع. ومن مهماتهم النظر في أمر المفسدين من قطّاع الطريق وأهل الفتَن كالعشران (1) وغيرهم، والغلظة والتشديد عليهم. وإن رأى نائب السلطان تقليد بعض المذاهب في شدة تعزيرهم (2) والمبالغة في عقوبتهم على جرائمهم، وطول مكثهم في السجن فله ذلك بشرط أن يكون الحامل له علىِ ذلك المصلحة لا التشهّي وحظ النفس ومحبَّة شِيَاع الاسم بالانتقام؛ فإن ذلك فَنّ من الجنون. فقد كان مُلك الصحابة رضي الله عنهم أوسع، وأمرهم أنفذ، ولم يُحبوا أن يشيع اسمهم إلَّا بالعدل والرفق، لا بالعسف والظلم. ومنها سفك دم من ينتقص جناب سيدنا ومولانا وحبيبنا محمد المصطفى صلى الله عليه وسلم أو يسبه؛ فإن ذلك مرتدٌّ كافر، ذهب كثير من العلماء إلى أنَّ توبته لا تقبل. وهو اختيار طوائف من المتأخّرين. فإن كان الذي وقع منه هذا ممَّن يتكرر هذا الحال منه، أو عرف بسوء العقيدة وصحبة المشهورين بذلك، أو وقع منه ما وقع على وجه فظيع تشهد القرائن فيه بالخبث الباطن، فأرى أنَّه لا تقبل له
--------------------------------------------
এই বিষয়ে বক্তব্য হলো; যেহেতু এটি তাদের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নবউদ্ভাবন (بدع) ও কুপ্রবৃত্তির (أهواء) অনুসারীদের প্রতিহত করা এবং মুসলিমদের ওপর থেকে তাদের অনিষ্ট দূর করা তাদের অন্যতম কর্তব্য। মহান আল্লাহর দীনের ক্ষেত্রে যারা শায়খাইন (দুই প্রবীণ সাহাবী) আবু বকর ও উমর (রা.)-কে গালি দেয়, মুমিন জননী আয়েশা (রা.)-এর প্রতি অপবাদ আরোপ করে এবং ধর্মপ্রাণ মানুষের আকিদা বিনষ্ট করে, তাদের বিষয়ে ধৈর্য ধারণ করার সুযোগ তাদের নেই। বরং মাযহাবসমূহের দাবি অনুযায়ী এদের প্রতি কঠোর হওয়া তাদের জন্য আবশ্যক। আর আল্লাহর শুকরিয়া যে, এই চার মাযহাব আকিদার ক্ষেত্রে এক ও অভিন্ন; তবে সেই অংশটুকু ব্যতীত যারা ই'তিযাল (اعتزال) ও তাজসিম (تجسيم) তথা সাকারবাদের অনুসারী হয়েছে। অন্যথায় তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত; তারা ইমাম আবু জাফর আত-তাহাবীর আকিদাকে স্বীকার করেন, যা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমগণ সমাদরের সাথে গ্রহণ করেছেন। তারা শায়খুস সুন্নাহ আবু আল-হাসান আল-আশআরীর মতানুসারে আল্লাহর ইবাদত করেন, যার বিরোধিতা কেবল একজন বিদআতি (مبتدع)-ই করে থাকে। তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো পথচারীদের আক্রমণকারী ও ফিতনা সৃষ্টিকারী ব্যক্তি যেমন উশরান (১) এবং অন্যদের বিষয়টি তদারকি করা এবং তাদের ওপর কঠোরতা ও কড়াকড়ি আরোপ করা। যদি সুলতানের প্রতিনিধি তাদের অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে কঠোর শাস্তিমূলক দণ্ড (تعزير) প্রদান, সাজার ক্ষেত্রে কঠোরতা অবলম্বন এবং দীর্ঘমেয়াদী কারাবাসের বিষয়ে কোনো মাযহাবের অনুসরণ করা সমীচীন মনে করেন, তবে তিনি তা করতে পারেন—শর্ত থাকে যে, এর উদ্দেশ্য যেন কেবল জনস্বার্থ হয়, নিজের প্রবৃত্তি চরিতার্থ করা বা প্রতিশোধ গ্রহণের মাধ্যমে খ্যাতি অর্জনের লালসা না হয়; কেননা এটি এক প্রকার উন্মাদনা। সাহাবী (রা.)-গণের সাম্রাজ্য ছিল আরও বিশাল এবং তাঁদের নির্দেশ ছিল আরও বেশি কার্যকর, তবুও তাঁরা ন্যায়বিচার ও কোমলতা ব্যতীত অন্য কোনোভাবে নিজেদের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ুক তা পছন্দ করেননি, কোনোভাবেই জুলুম ও নিপীড়নের মাধ্যমে নয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই ব্যক্তির রক্তপাত বৈধ হওয়া, যে আমাদের সায়্যিদ, মাওলা ও প্রিয়তম মুহাম্মদ মোস্তফা (সা.)-এর মর্যাদাহানি করে বা তাঁকে গালি দেয়; কেননা সে একজন ধর্মত্যাগী (مرتد) কাফির (كافر), এবং অনেক আলেম এই মত পোষণ করেছেন যে তার তওবা কবুল করা হবে না। এটি পরবর্তী যুগের একদল আলেমের মনোনীত মত। যদি এই কাজ এমন কারো থেকে প্রকাশ পায় যার থেকে এমন কাজ বারবার ঘটে, অথবা সে মন্দ আকিদা ও এই ধরনের কাজের জন্য কুখ্যাত ব্যক্তিদের সংস্রবের জন্য পরিচিত হয়, অথবা তার থেকে এমন জঘন্য উপায়ে এটি প্রকাশ পায় যা তার অভ্যন্তরীণ কলুষতার সাক্ষ্য দেয়, তবে আমি মনে করি যে তার
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
توبة، ويسفك دمه، وهو رأي الشيخ الإِمام الوالد تغمده اللَّه تعالى برحمته. ومنها نظرهم في أمر دواداريتهم (1) فأكثر ما ينشأ فساد بابهم عنهم وهم غافلون. فإذا عرف نائب السلطنة أن ميزان بابه الدوادار، فحقَّ عليه الاحتياط في أمره، وعدم الإِصغاء إليه فيما يقوله، بل يستوضح الحال ويستكشفه من بطانة (2) الحير عنده، فقد قال النَّبيّ صلى الله عليه وسلم: "ما مِن ملِك أو أمير إلَّا وله بِطانتان: بطانة تأمره بالخير وتحضُّه عليه، وبطانة تأمره بالشر وتحضُّه عليه" (3) وممَّا يختصُّ بالإِمام، وليس لنوابه الاستبداد به من غير استئذانه، الحِمَى (4). فلا يحمي غير الإِمام الأعظم على الصحيح عند الوالد وكثيرين إلَّا بإذنه.
--------------------------------------------
তওবা (توبة), এবং তার রক্ত প্রবাহিত করা হবে (মৃত্যুদণ্ড); আর এটিই হলো শায়খ ইমাম পিতার অভিমত, আল্লাহ তায়ালা তাঁকে রহমত দ্বারা আবৃত করুন। এর মধ্যে একটি হলো তাদের দাওয়াদারিয়্যাহ (১) সংক্রান্ত বিষয় পর্যবেক্ষণ করা; কেননা তাদের অধিকাংশ বিশৃঙ্খলা তাদের মাধ্যমেই উদ্ভূত হয় অথচ তারা (শাসকরা) সে সম্পর্কে গাফেল বা উদাসীন থাকেন। যখন নায়েবে সুলতান জানতে পারবেন যে তার দরবারের মানদণ্ড হলো দাওয়াদার, তখন তার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং সে যা বলে তাতে কর্ণপাত না করা তার ওপর আবশ্যক হয়ে পড়ে। বরং তিনি তার নিকটস্থ বিশ্বস্ত কল্যাণকামী ব্যক্তিদের (২) থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করবেন এবং অনুসন্ধান করবেন। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "এমন কোনো রাজা বা আমির নেই যার দুইজন অন্তরঙ্গ সঙ্গী নেই: একদল তাকে কল্যাণের নির্দেশ দেয় এবং তার প্রতি উৎসাহিত করে, আর অন্য একদল তাকে অকল্যাণের নির্দেশ দেয় এবং তার প্রতি প্ররোচিত করে।" (৩) আর যা ইমামের জন্য নির্দিষ্ট, এবং তার অনুমতি ব্যতীত নায়েবদের তাতে একচ্ছত্র অধিকার নেই, তা হলো সংরক্ষিত চারণভূমি (الحمى) (৪)। কেননা পিতা এবং অনেকের মতে সঠিক (الصحيح) মত অনুযায়ী, প্রধান ইমাম ব্যতীত অন্য কেউ তার অনুমতি ছাড়া চারণভূমি সংরক্ষিত করতে পারবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
المثال السابع
الدوادار: فمن حقه الاستئذان على ذي الحاجة، وإنهاء ظلامته، وألَّا يتركه على الأبواب لا يجد ملجأ إلى الدخول على الملك. وليعلم أنَّ لصاحب الحاجة حقًّا عند أستاذه: لأنَّ من وظيفة أستاذه سماعَ كلامه، وقضاءَ حاجته إذا أمرَ بها الشرع؛ وليس لأستاذه حقّ عنده، والمِنَّة للَّه تعالى على أستاذه أن جعل حاجة الخلق إليه، وعليه أن جعله في بابه بالمرصاد لهذا الأمر. فإن هو قصَّر فيما وصفناه كان هو الظالمَ لأستاذه، المتسبّب في خراب دياره، الباغيَ على الرعِيَّة. وعليه المبادرة إلى تقديم الدواة عند ارتفاع القِصص، وتذكير مخدومه بها. فربَّما اشتغلَ بالُ الملك عن ذلك ولم يجد من يذكِّره. وهذه وظيفة الدوادار وكان الدوادار يسمَّى في الزمان القديم الحاجب.
المثال الثامن
الخازندار (1): وحقَّ عليه ألَّا يَمْطُل من أحيل إليه، بل يدفع إليه ما أمر له به مُهنّئًا مُيَسِّرًا. والخازندار أمين؛ فلو ادَّعى أنه دفع المال إلى مخدومه كان القول قوله بيمينه، وإن كان له على الخزندارية معلوم أو إقطاع: لأنه كالوكيل بجُعل.
--------------------------------------------
সপ্তম উদাহরণ
দাওয়াদার (الدوادار): তার কর্তব্য হলো অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির জন্য অনুমতি প্রার্থনা করা এবং তার অভিযোগের প্রতিকার করা, আর তাকে দরজায় এমনভাবে ফেলে না রাখা যাতে সে বাদশাহর দরবারে প্রবেশের কোনো উপায় খুঁজে না পায়। তাকে অবশ্যই জানতে হবে যে, অভাবগ্রস্ত ব্যক্তির তার মুনিবের নিকট একটি অধিকার রয়েছে; কারণ তার মুনিবের দায়িত্ব হলো তার কথা শোনা এবং শরিয়ত নির্দেশিত হলে তার প্রয়োজন পূরণ করা। এক্ষেত্রে মুনিবের তার ওপর কোনো অধিকার নেই। বরং এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তার মুনিবের ওপর একটি অনুগ্রহ যে, তিনি সৃষ্টির প্রয়োজনসমূহ তার প্রতি ধাবিত করেছেন এবং এই কাজের জন্য তাকে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তার দরজায় নিযুক্ত করেছেন। যদি সে এই বর্ণিত বিষয়ে অবহেলা করে, তবে সে তার মুনিবের প্রতি অবিচারকারী (ظالم), তার গৃহ ধ্বংসের কারণ এবং প্রজাদের ওপর নিপীড়নকারী হিসেবে গণ্য হবে। আর যখন আবেদনপত্রসমূহ (القصص) উত্থাপন করা হবে, তখন তার কর্তব্য হলো দোয়াত (الدواة) পেশ করতে দ্রুততা অবলম্বন করা এবং তার মখদুমকে (মালিককে) সে বিষয়ে স্মরণ করিয়ে দেওয়া। কারণ অনেক সময় বাদশাহ অন্য কাজে ব্যাপৃত হয়ে পড়েন এবং তাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মতো কাউকে খুঁজে পান না। এটিই দাওয়াদারের কাজ এবং প্রাচীনকালে দাওয়াদারকে হাজিব (الحاجب) বলা হতো।
অষ্টম উদাহরণ
খাজিনদার (الخازندار) (১): তার ওপর আবশ্যক হলো যার নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে তাকে যেন সে টালবাহানা (يمطل) না করে, বরং মোবারকবাদ জানিয়ে ও সহজভাবে তাকে তা প্রদান করে। খাজিনদার হলো আমানতদার (أمين); সুতরাং সে যদি দাবি করে যে সে অর্থ তার মখদুমকে (মালিককে) প্রদান করেছে, তবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তার কথাই গ্রহণযোগ্য হবে। আর যদি খাজিনদারির পদের বিপরীতে তার জন্য কোনো নির্ধারিত ভাতা বা ইকতা (إقطاع) বরাদ্দ থাকে, তবে তার অবস্থা পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত প্রতিনিধির (الوكيل بجُعل) মতো হবে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المثال التاسع
أستاذ الدار (1): وهو من يتكلَّم في إقطاع (2) الأمير مع الدواوين (3) والفلاحين وغيرهم. عليه ألَّا يُطعمه حرامًا، ولا يبيعُ أستاذه رخيصًا، وأن يرفق بأهل القرى ويؤدِّي أمانة اللَّه تعالى التي علَّقها في رقبته حيث دخل في هذه الوظيفة للفلاحين وغيرهم من رعيَّة الأمير، كما عليه أن يؤدِّي حقَّ الأمير. بل هؤلاء أحوجُ من الأمير إلى الرفق بهم، واعتمادِ الحق معهم. فأين يكون الأمير يوم يعض الظالم على يديه ولا آمر إلَّا اللَّه تعالى!
المثال العاشر
الوزير: وهو اليوم اسم لمن ينظر في المكوس (4) وغيرها من الأموال التي ترفع إلى السلطان وبيت المال. ومن حقِّه بذل النصيحة للملك، وكفّ أذاه عن أموالِ الرعيَّة، وتخفيفِ الوطأة عنهم ما أمكنه. وقد علم أنَّ المكوس حرام. فإن ضمَّ الوزيرِ إلى أخذها الإِجحاف في ذلك وتشديد الأمر فيه، والعقوبة عليه، فقد ضمَّ حرامًا إلى حرام. بل إذا لم يقدر على إبطال حرام، فلا يزيد الطين بِلَّة، بل لا أقل من الرفق والتخفيف. وممَّا يجب عليه التيقُّظ له الأموال التي تجتمع عنده، ومنها حلال ومنها حرام. فعليه ألَّا يخلطها بل يدع الحلال بمفرده،
--------------------------------------------
নবম উদাহরণ
উস্তাদ আল-দার (১): তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আমিরের বরাদ্দকৃত ভূমি (إقطاع), প্রশাসনিক দপ্তর (دواوين), কৃষক এবং অন্যান্যদের বিষয়ে তদারকি করেন। তার ওপর কর্তব্য হলো তিনি যেন আমিরকে হারাম (حرام) কিছু না খাওয়ান এবং তার উস্তাদের (মালিকের) সম্পদ সস্তায় বিক্রি না করেন। তাকে গ্রামবাসীদের প্রতি নম্র হতে হবে এবং আল্লাহ তাআলার সেই আমানত (أمانة) আদায় করতে হবে যা তিনি তার ঘাড়ে অর্পণ করেছেন, যেহেতু তিনি কৃষক ও আমিরের অন্যান্য প্রজাদের এই দায়িত্বে নিয়োজিত হয়েছেন; পাশাপাশি আমিরের হকও তাকে আদায় করতে হবে। বরং এই প্রজারা আমিরের চেয়েও বেশি দয়া ও সত্যনিষ্ঠ আচরণের মুখাপেক্ষী। সেই দিন আমিরের কী অবস্থা হবে, যেদিন জালিম নিজের হাত কামড়াবে এবং আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কোনো আদেশদাতা থাকবে না!
দশম উদাহরণ
উজির: বর্তমানে এটি সেই ব্যক্তির নাম যিনি শুল্ক (مكس) এবং সুলতান ও বাইতুল মালের নিকট জমাকৃত অন্যান্য অর্থ তদারকি করেন। তার ওপর অর্পিত হক হলো বাদশাহকে সুপরামর্শ দেওয়া, প্রজাদের ধন-সম্পদের ওপর থেকে বাদশাহর কষ্টদায়ক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা এবং সাধ্যমতো তাদের ওপর থেকে বোঝার ভার লাঘব করা। এটি সুনিশ্চিত যে, শুল্ক (مكس) গ্রহণ করা হারাম (حرام)। যদি উজির এই অর্থ সংগ্রহের সাথে অবিচার এবং কঠোরতা ও শাস্তির বিধান যুক্ত করেন, তবে তিনি হারামের (حرام) সাথে আরও হারাম (حرام) বৃদ্ধি করলেন। বরং তিনি যদি কোনো হারাম (حرام) কাজ বন্ধ করতে সক্ষম না হন, তবে তার উচিত নয় পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটানো, বরং কমপক্ষে দয়া ও শিথিলতা প্রদর্শন করা উচিত। তার ওপর আরও যা আবশ্যক তা হলো, তার নিকট জমাকৃত অর্থের ব্যাপারে সজাগ থাকা, যার মধ্যে হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) উভয়ই রয়েছে। সুতরাং তার কর্তব্য হলো এগুলোকে মিশ্রিত না করা, বরং হালাল (حلال) অংশকে পৃথক রাখা,
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
والحرام بمفرده، وإلَّا فمتى خلطهما ولم تتميَّز صارَ الكل حرامًا. وفي ذهن كثير من العامَّة أنَّ الأموال إذا خلطت ودخلت بيت المال صارت حلالًا. وهذا جهل؛ ما اجتمع الحلال والحرام إلَّا غلبَ الحرام الحلال. وبيت المال لا يُحِل ما حرَّم اللَّه تعالى. ثم إذا تميَّز الحلال عن الحرام صرف الحلالَ على أهل العلم والدين ومن يتحرى أكله. ويتعيَّن عليه التخفيف في العقوبات على من تتوجَّه عليه بغير حقّ إذا لم يمكنه دفعها. فليت شعري إذا جلس وزير يعاقب الرعايا ليستخرج منهم الخبائث التي لا يجوز له أخذها، ودَفعها إلى من يأخذها ظلمًا، ويصرفها فيما لا يحلّ فكيف يكون وجهه عند اللَّه تعالى! وكيف لا يتبادرَ إليه الوخم وسوء العاقبة في الدنيا! وكذلك ترى عواقب الوزراء وقبط الدواوين شر العواقب في الدنيا والآخرة.
المثال الحادي عشر
مشد الدواوين: ووظيفته استخلاص ما يتقرَّر في الديوان على من يعسر استخلاصه منه. والكلام فيه كالكلام في الوزير. وهو أشد حالًا؛ لأن الوزير يدَّعي أنَّه يعرف الحساب ولا يؤاخذ إلَّا بما تقرَّر في الديوان، وهذا يقلِّد الوزير: فيضرب ويعاقب على جهل بالشرع والعادة. بل حقَّ عليه لو رفع إليه من توجَّه عليه حق معيّن أن يرفق به. حكى أن المنصور رحمه الله بلَّغه عن جماعة من كتاب الدواوين خيانة فأمرَ بعقوبتهم فقال صبيّ منهم وهو يضرب:
أطالَ اللَّه عُمْرك في صلاح
… وعِزّ يا أمير المؤمنينا
بعفوك أستجيرُ فإن تجازي
… فإنك عصمةٌ للعالمينَا
ونحن الكاتبونَ وقد أسأنَا
… فهبنا للكرام الكاتبينا
المثال الثاني عشر
الدواوين (1) في سائرِ الجهات: وإلى الوزير إن كانوا دواوين
--------------------------------------------
এবং অবৈধ (حرام) একাকী [অবস্থায় গণ্য], অন্যথায় যখন এই দুইয়ের সংমিশ্রণ ঘটে এবং তাদের পৃথক করা সম্ভব হয় না, তখন সবকিছুই অবৈধ (حرام) হয়ে যায়। অনেক সাধারণ মানুষের মনে এই ধারণা রয়েছে যে, সম্পদ যদি মিশ্রিত হয়ে বায়তুল মাল (بيت المال)-এ প্রবেশ করে, তবে তা বৈধ (حلال) হয়ে যায়। এটি মূর্খতা; বৈধ (حلال) ও অবৈধ (حرام) যখনই একত্রিত হয়, তখন অবৈধ (حرام) অংশটি বৈধ (حلال)-এর ওপর প্রবল হয়ে যায়। আর আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন, বায়তুল মাল (بيت المال) তাকে হালাল করতে পারে না। অতঃপর যখন অবৈধ (حرام) থেকে বৈধ (حلال) পৃথক করা হবে, তখন বৈধ (حلال) অংশটি ইলম ও দীনের ধারক এবং যারা খাদ্যগ্রহণে সতর্কতা অবলম্বন করেন, তাদের জন্য ব্যয় করা হবে। আর যার ওপর অন্যায়ভাবে শাস্তি (عقوبات) ধার্য করা হয়েছে, তা প্রতিহত করা সম্ভব না হলে তার শাস্তি লাঘব করা [মন্ত্রীর জন্য] আবশ্যক। আমি বিস্ময়ের সাথে ভাবি সেই মন্ত্রীর কথা, যে প্রজাদের শাস্তি দিতে বসে তাদের থেকে সেই অপবিত্র সম্পদ বের করার জন্য যা গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ নয় এবং সে তা এমন ব্যক্তিকে প্রদান করে যে তা অন্যায়ভাবে গ্রহণ করে, আর সে তা এমন কাজে ব্যয় করে যা বৈধ (حلال) নয়; তবে আল্লাহ তাআলার নিকট তার চেহারা কেমন হবে! দুনিয়াতে তার শোচনীয় অবস্থা ও মন্দ পরিণতির কথা কেন তার মনে আসে না! তেমনিভাবে আপনি উজির ও দপ্তরের কর্মকর্তাদের পরিণাম দুনিয়া ও আখেরাতে অত্যন্ত নিকৃষ্ট দেখতে পাবেন।
একাদশ উদাহরণ
দপ্তরের ইনচার্জ (مشد الدواوين): তার দায়িত্ব হলো যাদের থেকে আদায় করা কঠিন, তাদের থেকে দপ্তরে নির্ধারিত পাওনা আদায় করা। তার ব্যাপারে আলোচনা মন্ত্রীর আলোচনার মতোই। বরং তার অবস্থা আরও ভয়াবহ; কারণ মন্ত্রী দাবি করেন যে তিনি হিসাব বোঝেন এবং দপ্তরে যা নির্ধারিত হয়েছে কেবল তাই গ্রহণ করেন, আর এই ব্যক্তি মন্ত্রীর অন্ধ অনুকরণ করে: ফলে সে শরিয়ত (الشرع) এবং প্রথা (عادة) সম্পর্কে অজ্ঞতা সত্ত্বেও প্রহার ও শাস্তি প্রদান করে। বরং তার ওপর কর্তব্য ছিল, যদি নির্দিষ্ট হকের দাবিদার কোনো ব্যক্তিকে তার কাছে আনা হতো, তবে তার সাথে কোমল আচরণ করা। বর্ণিত আছে যে, আল-মানসুর (রহ.) দপ্তরের একদল লেখকের আত্মসাৎ (خيانة) সম্পর্কে জানতে পেরে তাদের শাস্তির নির্দেশ দিলেন। তখন তাদের মধ্য থেকে এক কিশোর প্রহৃত হওয়া অবস্থায় বলল:
হে আমিরুল মুমিনীন (أمير المؤمنين)! আল্লাহ আপনাকে নেক আমল ও মর্যাদার সাথে দীর্ঘজীবী করুন...
আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি, কারণ আপনি যদি শাস্তি দেন... তবে আপনিই তো বিশ্ববাসীর জন্য রক্ষাকবচ।
আমরা লেখক এবং আমরা অপরাধ করেছি... অতএব, আপনি আমাদের কিরামান কাতিবিন (الكرام الكاتبينا)-দের খাতিরে ক্ষমা করে দিন।
দ্বাদশ উদাহরণ
বিভিন্ন অঞ্চলের দপ্তরসমূহ (১): আর মন্ত্রীর অধীনে যদি তারা দপ্তর হয়ে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
السلطان مرجعهم. وإن كانوا دواوين الأمراء فأمرَ كل ديوان إلى مخدومه. وعلم الكل الأمانة، وتجنُّب الخيانة. ويختصُّ ديوان الأمير بالرفقِ بالفلاحين. ويعمُّ الكلّ تجنُّبُ حُرمات اللَّه تعالى على ما وصفناه؛ فلقد كثر منهم اتخاذُ دُوِيّ الذهب أو المحلاة بالذهب والفضة والسكاكين المفضضة. والأصح تحريم ذلك كله، إلَّا أن يكون نوه بقدر لا يحصل منه شيء بالعرض على النار. سمعت بعضهم يقول وقد قرأَ منقوشًا على دُوِيّ بعض الكتاب:
دواتنا سعيدة
… ليس لها من مَتْرَبه (1)
عروس حسن جُليت (2)
… منقوشة مكَتَّبه (3)
قد انطلتْ حِلْيتها
… على الكرامِ الكتبه
لم تنطلِ إلَّا على اللصوص، الكتبة في المكوس. فإذا رأيت ديوانًا من وزير أو غيره يخرج من بيته بعد أن امتلَأ باطنه بالحرام، وهو لابس الحرام، وجلس على الحرام، وفتح الدواة الحرام، وأخذ يَمُدُّ (4) الأقلام للحرام، ثم عاقبَ للحرام، أفليسَ حقًّا إذا رأيته بعد زمن يسيرُ مضروبًا بالمقارعِ، يُطاف به في الأسواق ويجنى عليه.
المثال الثالث عشر
كاتب السرّ: ووظيفته التوقيع عن الملك والاطّلاع على أسراره التي يكاتِبُ بها، وعن تصدر التواقيع بالولايات والعزل. ومن حقِّه إنهاءُ القصص إلى الملِكِ وتفهيمُه إيّاها؛ فإنَّ أكثر الملوك يعسر عليهم الفهم، ويُؤتَون من قِبَل
--------------------------------------------
সুলতান তাদের আশ্রয়স্থল। আর যদি তারা আমিরদের দফতর হয়ে থাকে, তবে প্রত্যেক দফতরের বিষয় তার মখদুম বা মনিবের ওপর ন্যস্ত। এবং সবারই আমানতদারি শিক্ষা করা এবং খিয়ানত বর্জন করা উচিত। আমিরের দফতরের বৈশিষ্ট্য হলো কৃষকদের প্রতি নম্র আচরণ করা। এবং আমরা যা বর্ণনা করেছি সে অনুযায়ী মহান আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো বর্জন করা সবার জন্যই সাধারণ নিয়ম; কেননা তাদের অনেকের মধ্যে স্বর্ণের দোয়াত অথবা স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারযুক্ত দোয়াত এবং রূপাখচিত ছুরি ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এ সবের সবটুকুই নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়া বিশুদ্ধতম (الأصح) মত, তবে যদি তা এমন সামান্য পরিমাণের হয় যা আগুনের ওপর ধরলে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না। আমি তাদের কাউকে কাউকে কোনো এক লেখকের দোয়াতের ওপর খোদাই করা এই কবিতাটি পড়তে শুনেছি:
আমাদের দোয়াতটি সৌভাগ্যময় … যাতে কোনো ধুলোদানির (متربة) (১) প্রয়োজন নেই
এটি যেন এক সুসজ্জিত কনে যাকে প্রদর্শন (جليت) (২) করা হয়েছে … যার ওপর নকশা ও লিপি খোদাই (مكَتَّبه) (৩) করা হয়েছে
এর অলংকরণ প্রভাব বিস্তার করেছে … মহৎ লেখকদের ওপর
কিন্তু এটা কেবল সেই সব চোরদের ওপরই প্রভাব ফেলে যারা শুল্ক আদায়ের কাজে নিয়োজিত লেখক। সুতরাং তুমি যখন কোনো উজির বা অন্য কারো এমন দফতর দেখবে যারা তাদের পেট হারাম দ্বারা পূর্ণ করে ঘর থেকে বের হয়, হারাম পোশাক পরিধান করে, হারামের ওপর উপবেশন করে, হারামের দোয়াত খোলে এবং হারামের উদ্দেশ্যে কলম চালায় (৪), অতঃপর হারামের ভিত্তিতে দণ্ড প্রদান করে—তবে অল্প সময় পরেই তাকে চাবুক দ্বারা প্রহার করা, বাজারে ঘুরানো এবং লাঞ্ছিত হতে দেখা কি যথার্থ নয়?
তেরোতম উদাহরণ
গোপন বার্তার লেখক (কাতিব আল-সির): তার কাজ হলো বাদশাহর পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করা এবং বাদশাহ যেসব গোপন বিষয় লিখে পাঠান সে সম্পর্কে অবগত হওয়া, এবং বিভিন্ন প্রদেশের নিয়োগ ও বরখাস্তের পত্রে স্বাক্ষর প্রদান করা। তার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হলো বাদশাহর কাছে আবেদনপত্রগুলো পৌঁছানো এবং তাকে তা বুঝিয়ে দেওয়া; কেননা অধিকাংশ বাদশাহর পক্ষেই সব বিষয় বোঝা কঠিন হয় এবং তারা সংকটে পড়েন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুঈদান নিয়াম ওয়া মুবীদান নিকাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ذلك، لاسيّما إذا اشتبكت الأمور، وازدحمت الأشغال. فعلى كاتب السرّ التلطُّف في ذلك بحيث تصل إلى ذهن الملك. وإلَّا فمتى ظلم الملك واحدًا في واقعة لعدم فهمه، وكان كاتب السر هو الذي قرأَ عليه القصة فيها كان شريكًا له أو مستبدًا عنه بالظلم. ومن حقه أن يكتم ما أسِرّ إليه كما قال الشاعر:
ويُكاتم الأسرارَ حتى إنه
… ليصونها عن أن تمرُّ بخاطره
وأن يحترز من الكتابة في قطعِ الأرزاق؛ فقلَّما أفلحَ كاتبه. وما أحسن ما نقشه بعض كُتّاب السرّ على دواته فقال:
حلَّفت من يكتب بي
… بالواحدِ الفردِ الصمدِ
إلَّا يَمُدَّ مدةً
… في قطعِ رزقٍ لأحدِ
المثال الرابع عشر
الموقّعُون (1): وعليهم الرفقُ بالرعيَّة فيما يكتبونه، والتخفيف من التشديدات التي يُؤمَرون بكتابتها، ولا يسوغُ الأمر بها. فإن كان لا يقدر على التخفيف فلا أقل من ألَّا يزيد الطين بِلَّة وشمدد فلقد بلغني أنَّ بعض الملوك قال لموقِّع: اكتب إلى فلان بالحضورَ. فأبرقَ في الكتابة وأرعد، وقعقع في العبارة. فلمَّا وصل إليه الكتاب أرعده ذلك بحيث وضعت امرأته وكانت حاملًا، وأرمَى هو مصارينه من الخوف. ولذلك قال فيهم بعض الشعراء:
قومٌ إذا أخذوا الأقلامَ من غضبٍ
… ثم استمدُّوا بها ماء المنيّات
قالوا بها من أعاديهم وإن بعُدوا
… ما لا يُنال بحدِّ المشرفيّات (2)
ومن حقِّه ألَّا يستعمل وحشيّ اللغة ولا ما لا يفهمه الأكثر من الناس لاسيّما إذا كتب إلى من يبعد فهمه لذلك.
--------------------------------------------
তদ্রূপ, বিশেষ করে যখন বিষয়সমূহ জটিল হয়ে পড়ে এবং কর্মব্যস্ততা বৃদ্ধি পায়। এমতাবস্থায় গোপন সচিবের কর্তব্য হলো নম্রতা ও কৌশল অবলম্বন করা যাতে বিষয়টি বাদশাহর সঠিক বোধগম্য হয়। অন্যথায়, বাদশাহ যখন সঠিক বুঝের অভাবে কোনো ঘটনায় কারো প্রতি জুলুম করেন এবং গোপন সচিবই যদি তাকে সেই ঘটনাটি পড়ে শুনিয়ে থাকেন, তবে তিনি সেই জুলুমে তার অংশীদার হবেন অথবা বাদশাহর পরিবর্তে তিনিই জালিম হিসেবে গণ্য হবেন। আর তার দায়িত্ব হলো তার নিকট রক্ষিত গোপন বিষয়গুলো গোপন রাখা, যেমনটি কবি বলেছেন:
তিনি রহস্যসমূহকে এমনভাবে গোপন রাখেন যে
… এমনকি নিজের মনে সেগুলোর উদয় হওয়া থেকেও সেগুলোকে রক্ষা করেন।
আর জীবিকা কর্তন সংক্রান্ত বিষয়ে লেখালেখি থেকে তাকে সতর্ক থাকতে হবে; কেননা এ ধরনের বিষয়ের লেখক খুব কমই সফল হয়। জনৈক গোপন সচিব তার দোয়াতদানিতে কতই না চমৎকার কথা খোদাই করেছিলেন, তিনি বলেছিলেন:
আমি তাকে শপথ করিয়েছি যে আমাকে দিয়ে লিখবে
… এক, অদ্বিতীয় এবং অমুখাপেক্ষী সত্তার নামে
যেন সে সামান্য একটি আঁচড়ও না টানে
… কারো জীবিকা কর্তনের উদ্দেশ্যে।
চতুর্দশ উদাহরণ
স্বাক্ষরকারীগণ (১): তাদের কর্তব্য হলো তারা যা লিখবেন তাতে প্রজাদের প্রতি কোমলতা প্রদর্শন করা এবং তাদের যে কঠোরতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয় তা লাঘব করা, অথচ এমন কঠোরতার আদেশ প্রদান সংগত নয়। যদি তিনি তা লাঘব করতে সক্ষম না হন, তবে অন্তত যেন পরিস্থিতির আরও অবনতি না ঘটান। আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, জনৈক বাদশাহ একজন স্বাক্ষরকারীকে বলেছিলেন: ‘অমুক ব্যক্তিকে উপস্থিত হওয়ার জন্য লেখো।’ তখন সে তার লেখায় অত্যন্ত তর্জন-গর্জন করল এবং শব্দচয়নে ভীতিকর শব্দের আস্ফালন ঘটাল। যখন সেই পত্রটি তার নিকট পৌঁছাল, তখন তা তাকে এতোটাই আতঙ্কিত করল যে তার গর্ভবতী স্ত্রীর গর্ভপাত হয়ে গেল এবং সে নিজেও আতঙ্কে তার নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হলো। এজন্যই তাদের সম্পর্কে জনৈক কবি বলেছেন:
তারা এমন এক জাতি যারা ক্রোধের বশবর্তী হয়ে যখন কলম ধারণ করে
… তখন তারা যেন তা দিয়ে মৃত্যুর বারি আহরণ করে।
তারা এর মাধ্যমে তাদের শত্রুদের সম্পর্কে এমন কথা বলে যদিও তারা দূরে থাকে
… যা মাশরাফি তলোয়ারের (২) তীক্ষ্ণ ধার দিয়েও অর্জন করা সম্ভব নয়।
আর তার কর্তব্য হলো অপ্রচলিত বা দুর্বোধ্য ভাষা (وحشي اللغة) ব্যবহার না করা এবং যা অধিকাংশ মানুষ বোঝে না তা পরিহার করা, বিশেষ করে যখন সে এমন কারো নিকট লেখে যার পক্ষে তা অনুধাবন করা কঠিন।
--------------------------------------------