(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: -)
العقد المذهب في طبقات حملة المذهب   (ابن الملقن)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: العقد المذهب في طبقات حملة المذهب

المؤلف: ابن الملقن سراج الدين أبو حفص عمر بن علي بن أحمد الشافعي المصري (ت 804 هـ)

المحقق: أيمن نصر الأزهري - سيد مهني

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولي، 1417 هـ - 1997 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 29 ذو الحجة 1436

মাযহাবের বাহকদের স্তরবিন্যাসে সুবর্ণ হার   (ইবনুল মুলাক্কিন)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


বই: মাযহাবের বাহকদের স্তরবিন্যাসে সুবর্ণ হার

লেখক: ইবনুল মুলাক্কিন সিরাজুদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আহমদ আশ-শাফিঈ আল-মিসরি (মৃত্যু ৮০৪ হি.)

সম্পাদক: আয়মান নাসর আল-আজহারি - সাইয়্যেদ মুহান্না

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৭ হি. - ১৯৯৭ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলার প্রকাশনার তারিখ: ২৯ জিলহজ্জ ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١)
العقد المذهب في طبقات حملة المذهب

تأليف

الإمام سراج الدين أبي حفص عمر بن علي بن أحمد الأندلسي التكروري الشافعي المعروف بابن الملقن

المتوفي سنة 804

حققه وعلق عليه

أيمن نصر الأزهري … سيد مهني
মাযহাবের বাহকদের স্তরবিন্যাস বিষয়ক স্বর্ণখচিত হার

রচনা

ইমাম সিরাজউদ্দীন আবু হাফস উমর বিন আলী বিন আহমদ আল-আন্দালুসি আল-তাকরুরি আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনুল মুলাক্কিন নামে পরিচিত

মৃত্যু: ৮০৪ হিজরি

সম্পাদনা ও টীকা প্রদান করেছেন

আয়মান নাসর আল-আজহারি … সাইয়্যিদ মুহান্নি
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢)
جميع الحقوق محفوظة

جميع حقوق الملكية الأدبية والفنية محفوظة لدار الكتب العلمية بيروت - لبنان ويحظر طبع أو تصوير أو ترجمة أو إعادة تنضيد الكتاب كاملا أو مجزأ أو تسجيله على أشرطة كاسيت أو إدخاله على الكمبيوتر أو برمجته على اسطوانات ضوئية إلا بموافقة الناشر خطيا.

الطبعة الأولي

1417 هـ - 1997 م

دار الكتب العلمية

بيروت - لبنان

العنوان: رمل الظريف، شارع البحتري، بناية ملكارت.

تليفون وفاكس: 264398 - 366135 - 602123 (9611) ..

صندوق بريد: 9424 - 11 بيروت - لبنان
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন-এর সকল সাহিত্য ও শিল্পগত মালিকানা স্বত্ব সংরক্ষিত। প্রকাশকের লিখিত অনুমতি ব্যতীত এই কিতাবটির সম্পূর্ণ বা আংশিক মুদ্রণ, অনুলিপি, অনুবাদ, পুনরায় বিন্যাস, ক্যাসেট ফিতায় ধারণ, কম্পিউটারে তথ্যভুক্তি অথবা অপটিক্যাল ডিস্কে প্রোগ্রাম করা নিষিদ্ধ।

প্রথম সংস্করণ

১৪১৭ হিজরী - ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ

বৈরুত - লেবানন

ঠিকানা: রামল আয-যারিফ, আল-বুহতুরি সড়ক, মেলকার্ট ভবন।

টেলিফোন ও ফ্যাক্স: ২৬৪৩৯৮ - ৩৬৬১৩৫ - ৬০২১২৩ (৯৬১১) ..

ডাক বাক্স: ৯৪২৪ - ১১ বৈরুত - লেবানন
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة التحقيق:

إن الحمد للَّه نستعينه ونستهديه ونستغفره، ونعوذ باللَّه من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، إنه من يهده اللَّه فلا مضل له ومن يضلل فلا هادي له. وأشهد أن لا إله إلا اللَّه وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله اللهم صل عليه وعلى آله وصحبه وسلم أما بعد. . . .

لقد رفع اللَّه تعالى منزلة أهل العلم، وميزهم على خلقه وخصهم بمزيد كرمه وعنايته، يقول اللَّه تعالى {يَرْفَعِ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا مِنْكُمْ وَالَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمَ دَرَجَاتٍ}. فلأهل العلم المنزلة الرفيعة في الدنيا والآخرة؛ لما بذلوه من جهد وطاقة في طلبهم للعلم الشرعى وقيامهم به، ونشره وتوصيله بأمانة للاُنام فبذلوا في ذلك كل غالٍ ونفيس، فكان حقا على أهل الإيمان أن يضعوا أهل العلم في مكانتهم التى وضعهم فيها ربهم عز وجل، وكان حق أهل العلم على أهل الإيمان:

أولًا: أن لا يذكروا إلا بالجميل الحسن.

ثانيًا: تعطير المجالس بذكر محاسنهم وفضائلهم.

ثالثًا: غض الطرف عن زلاتهم وما وقعوا فيه.

ولقد من اللَّه علينا ووفقنا في الوقوف على كتاب فيه من الكلام على أهل العلم بذكر محاسنهم وفضائلهم الكثير والكثير وهو كتاب:

"طبقات الفقهاء للإمام ابن الملقن".

فأهمية الاطلاع على كتب الطبقات وتراجم العلماء ترجع إلى أمور:

منها: أنه عند ذكر الصالحين من عباد اللَّه تعالى تتنزل رحمة اللَّه تعالى.

ومنها: معرفة مناقبهم وأحوالهم فنتأدب بآدابهم، ونقتبس المحاسن من آثارهم.

ومنها: معرفة مراتبهم ومنازلهم فينزلون منازلهم فلا يقصر بالعالى عن درجته، ولا يرفع غيره عن مرتبته.

ومنها: أنهم أئمتنا أسلافنا كالوالدين لنا، وأجدى علينا في مصالح آخرتنا، وأنصح لنا فيما يعود علينا فيقبح بنا أن نجهلهم وأن نهمل معرفتهم.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌সম্পাদকের ভূমিকা:

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর কাছেই হিদায়াত যাচ্ঞা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা ও আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। নিশ্চয়ই আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে হিদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। হে আল্লাহ, তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর...

নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আহলে ইলম বা আলেমদের মর্যাদা সমুন্নত করেছেন, এবং তাঁদেরকে তাঁর সৃষ্টির ওপর বিশিষ্টতা দান করেছেন এবং তাঁর অধিকতর করুণা ও বিশেষ অনুগ্রহের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন {তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং যাদেরকে জ্ঞান দান করা হয়েছে, আল্লাহ তাদের মর্যাদা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবেন}। সুতরাং দুনিয়া ও আখেরাতে আলেমদের জন্য রয়েছে সুউচ্চ মর্যাদা; কারণ তাঁরা শরয়ী জ্ঞান অন্বেষণে এবং তা পালনে তাঁদের শ্রম ও শক্তি ব্যয় করেছেন এবং আমানতদারিতার সাথে মানুষের কাছে তা প্রচার ও পৌঁছে দিয়েছেন। এই কাজে তাঁরা তাঁদের মূল্যবান ও দামী সবকিছু বিলিয়ে দিয়েছেন। অতএব, মুমিনদের ওপর কর্তব্য হলো আলেমদের সেই মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করা যা তাঁদের রব মহান আল্লাহ তাঁদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। আর মুমিনদের ওপর আলেমদের যে অধিকার রয়েছে তা হলো:

প্রথমত: তাঁদেরকে যেন সর্বদা কেবল সুন্দর ও উত্তমভাবেই স্মরণ করা হয়।

দ্বিতীয়ত: তাঁদের গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব আলোচনার মাধ্যমে মজলিসগুলোকে সুবাসিত করা।

তৃতীয়ত: তাঁদের বিচ্যুতি ও যেসব ভুলভ্রান্তি তাঁদের থেকে ঘটে গেছে তা এড়িয়ে চলা।

আল্লাহ আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং এমন একটি কিতাব অনুসন্ধান করার তাওফীক দিয়েছেন যাতে আহলে ইলমদের গুণাবলি ও শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে অনেক অনেক আলোচনা রয়েছে, আর তা হলো:

"ইমাম ইবনুল মুলাক্কিন রচিত তবাকাতুল ফুকাহা" (ফকীহগণের জীবনী)।

তবাকাত (আলেমদের স্তরভিত্তিক ইতিহাস) এবং আলেমদের জীবনীগ্রন্থসমূহ পাঠ করার গুরুত্ব বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে:

তন্মধ্যে একটি হলো: আল্লাহ তাআলার নেককার বান্দাদের স্মরণের সময় আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।

আরও একটি হলো: তাঁদের গুণাবলি ও অবস্থা সম্পর্কে জানার ফলে আমরা তাঁদের আদব ও শিষ্টাচার শিখতে পারি এবং তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে কল্যাণ গ্রহণ করতে পারি।

অন্যতম একটি হলো: তাঁদের স্তর ও মর্যাদা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যাতে করে তাঁদেরকে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া যায়। ফলে কোনো উচ্চ মর্যাদাবান ব্যক্তিকে তাঁর মর্যাদা থেকে নিচে নামানো না হয়, আবার অন্য কাউকে তার প্রাপ্য স্তরের ওপরে উঠানো না হয়।

আরেকটি হলো: তাঁরা আমাদের ইমাম ও আমাদের পূর্বসূরি, তাঁরা আমাদের কাছে পিতা-মাতার ন্যায়। আমাদের পরকালীন কল্যাণে তাঁরা অত্যন্ত উপকারী এবং আমাদের সংশোধনের বিষয়ে তাঁরা একনিষ্ঠ হিতাকাঙ্ক্ষী। সুতরাং তাঁদের সম্পর্কে অজ্ঞ থাকা এবং তাঁদের পরিচিতি লাভে অবহেলা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٤)
ومنها: أن يكون العمل والترجيح بقول أعلمهم وأورعهم وأرجحهم إذا تعارضت أقوالهم، ومنها: معرفة مصنفاتهم وما لها من الجلالة أو عدمها والتنبيه على مراتبها، وفي ذلك إشارة للطالب إلى تحصيلها وأن يصرف ما يعتمد منها ويحذر مما يخاف من الإغترار به.

 

‌‌أهمية الكتاب:

وكان كتابنا هذا "العقد المذهب في طبقات حملة المدهب" لابن الملقن. له منا لأهمية من بين كتب الطبقات ما يلى:

* تأخر وفاة ابن الملقن مما جعله يكثر من الاطلاع على كتب الطبقات المتقدمة كطبقات المطوعي، وابن باطيش، وابن الصلاح، والعبادي، وأبي الطيب الطبرى، والنووي، والسبكي، والإسنوي. فقام ابن الملقن بجمع شتاتهم في هذا الكتاب مع الزيادة على ذلك وأكثر من ذكر مصنفات وغرائب الشخص مما جعل للكتاب ميزة وأهمية كبرى من بين كتب الطبقات.

 

‌‌توثيق الكتاب:

نسبة هذا الكتاب إلى المؤلف -رحمه اللَّه تعالى عليه- مما لا شك فيها ولا يشك فيها أحد. فقد تكلم المؤلف بنفسه على هذا الكتاب، ونسبه إلى نفسه وفى هذا أبلغ دليل، وكذلك ذكره صاحب "كشف الظنون" ونسبه إليه.

 

‌‌وصف المخطوطة:

اعتمدنا على النسخة الموجودة في "معهد المخطوطات" التابع لجامعة الدول العربية برقم فيلم" 1139 تاريخ".

اسم الكتاب: العقد المذهب في طبقات حملة المذهب مع الذيل عليها.

اسم المؤلف: عمر بن أبى الحسن علي بن أحمد الأنصاري ابن الملقن.

تاريخ النسخ: صفحة العنوان بخط المؤلف، وكتبه عبد اللَّه بن محمد النسائي بلدًا الشافعي مذهبًا سنة 775 هـ.

عدد الأوراق: 502.

عدد الأسطر: 25 سطر.

مقاس: 130 × 205 سم.
এর মধ্যে একটি হলো: যখন তাদের বক্তব্যের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন তাদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বড় আলিম, সবচেয়ে বেশি পরহেযগার এবং সবচেয়ে অগ্রগণ্য, তার বক্তব্যের ওপর আমল করা এবং সেটাকেই অগ্রাধিকার প্রদান করা। আরেকটি হলো: তাদের রচনাবলি সম্পর্কে এবং সেগুলোর উচ্চ মর্যাদা বা এর অভাব সম্পর্কে জানা এবং তাদের স্তরসমূহ সম্পর্কে সতর্ক করা। এর মাধ্যমে ছাত্রের জন্য ওইসব কিতাব সংগ্রহের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে এবং সে যেন নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ কাজে লাগায় আর যেগুলোতে প্রতারিত হওয়ার ভয় রয়েছে সেগুলো থেকে সতর্ক থাকে।

 

‌‌কিতাবটির গুরুত্ব:

ইবনুল মুলাক্কিন বিরচিত আমাদের এই কিতাব "আল-ইকদ আল-মুযাহহাব ফি তাবাকাত হামালাতিল মাযহাব" তবাকাত বিষয়ক অন্যান্য কিতাবসমূহের মধ্যে আমাদের নিকট নিম্নোক্ত কারণে গুরুত্বপূর্ণ:

* ইবনুল মুলাক্কিনের মৃত্যু পরবর্তী সময়ে হওয়ার কারণে তিনি পূর্ববর্তী তবাকাত বিষয়ক কিতাবসমূহ যেমন— মুতাওয়িঈ, ইবনে বাতিশ, ইবনুস সালাহ, আব্বাদি, আবু তাইয়িব তাবারী, নববী, সুবকী এবং এসনবীর তবাকাত গ্রন্থসমূহ অধিক পরিমাণে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। ফলে ইবনুল মুলাক্কিন সেই সব গ্রন্থের বিক্ষিপ্ত বিষয়াবলি এই কিতাবে একত্রিত করেছেন এবং এর ওপর আরও সংযোজন করেছেন। এছাড়া তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রচনাবলি ও দুর্লভ তথ্যাদি অধিক পরিমাণে উল্লেখ করেছেন, যা এই কিতাবকে তবাকাত বিষয়ক কিতাবসমূহের মধ্যে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও ব্যাপক গুরুত্ব দান করেছে।

 

‌‌কিতাবটির প্রামাণ্যতা:

এই কিতাবটি লেখকের—আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন—প্রতি সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার বিষয়টি সন্দেহাতীত এবং এ ব্যাপারে কেউ সংশয় পোষণ করেন না। স্বয়ং লেখক নিজে এই কিতাব সম্পর্কে আলোচনা করেছেন এবং একে নিজের কাজ বলে উল্লেখ করেছেন, যা এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তদ্রূপ "কাশফুয যুনুন"-এর লেখক এটি উল্লেখ করেছেন এবং একে তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করেছেন।

 

‌‌পাণ্ডুলিপির বিবরণ:

আমরা "আরব লীগ"-এর অধীনস্থ "পাণ্ডুলিপি ইনস্টিটিউট"-এ সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যার ফিল্ম নম্বর "১১৩৯ তারিখ"।

কিতাবের নাম: আল-ইকদ আল-মুযাহহাব ফি তাবাকাত হামালাতিল মাযহাব মাআজ যাইলি আলাইহা।

লেখকের নাম: উমর বিন আবিল হাসান আলী বিন আহমাদ আল-আনসারী ইবনুল মুলাক্কিন।

অনুলিপির তারিখ: শিরোনাম পাতাটি লেখকের হস্তাক্ষরে লিখিত, এবং এটি অনুলিপি করেছেন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ আন-নাসায়ী, জন্মসূত্রে নাসায়ী এবং মাযহাবগতভাবে শাফিঈ, ৭৭৫ হিজরি সনে।

পত্রের সংখ্যা: ৫০২।

লাইনের সংখ্যা: ২৫ লাইন।

পরিমাপ: ১৩০ × ২০৫ সেমি।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٥)
‌‌عملنا في هذا الكتاب:

1 - نسخ المخطوطة بدقة مع مقابلتها.

2 - وضع رقم مسلسل أمام كل ترجمة يبدأ من (1) وينتهى إلى 1681.

3 - تخريج الآيات القرآنية.

4 - تخريج الأحاديث النبوية مع بيان درحتها من صحة أو ضعف أو حسن.

5 - شرح الغريب من الألفاظ وضبط المشكل من بعض الأسماء.

6 - عَزْو كلِّ ترجمة إلى كتب الطبقات خاصة وكتب الرجال بصفة عامة.

7 - وضع رقم كل ترجمة في أصل الكتاب في الهامش أمام عزوها إلى كتاب الطقات فمثلا رقم الترجمة (25) تجدها في الهامش بنفس الرقم (25) وأمامها مصادرها من كتب الطبقات والرجال.

8 - فهارس علمية لأسماء الرجال الواردة.

9 - فهارس علمية لجميع الكتب والمؤلفات مع بيان أصحابها ورقم الصحيفة.

10 - وكذلك فهارس لأسماء البلدان والأماكن والبقاع.

ونسأل اللَّه تعالى أن يتقبل هذا العمل خالصًا لوجهه الكريم، وأن يتحقق ما قصدنا من كثرة ذكر أهل العلم بالجميل وغض الطرف عن زلاتهم.

وآخر دعوانا أن الحمد للَّه رب العالمين.

وصل اللهم على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

المحققان

25/ 12/ 1416

القاهرة
এই গ্রন্থে আমাদের কাজ:

১ - পাণ্ডুলিপিটি নির্ভুলভাবে অনুলিপি করা এবং সেটির সাথে অন্যান্য পাণ্ডুলিপির তুলনা করা।

২ - প্রত্যেকটি জীবনীর সামনে ১ থেকে শুরু করে ১৬৮১ পর্যন্ত একটি ক্রমিক নম্বর প্রদান করা।

৩ - কুরআনের আয়াতসমূহের উৎস (তাখরীজ) উল্লেখ করা।

৪ - হাদীসসমূহের উৎস (তাখরীজ) উল্লেখের পাশাপাশি সেগুলোর বিশুদ্ধতা, দুর্বলতা কিংবা হাসান হওয়ার মান বর্ণনা করা।

৫ - কঠিন শব্দাবলীর ব্যাখ্যা প্রদান এবং কিছু নামের জটিল বানান ও উচ্চারণ নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা।

৬ - প্রতিটি জীবনীকে বিশেষত 'তাবাকাত' এবং সাধারণভাবে 'রিজাল' শাস্ত্রের কিতাবসমূহের উদ্ধৃতিভুক্ত করা।

৭ - মূল গ্রন্থের প্রতিটি জীবনীর নম্বর পার্শ্বটীকায় তাবাকাত বিষয়ক কিতাবের উদ্ধৃতির সামনে স্থাপন করা; উদাহরণস্বরূপ, ২৫ নম্বর জীবনীটি আপনি পার্শ্বটীকায় একই নম্বর (২৫) দিয়ে দেখতে পাবেন এবং তার সামনে তাবাকাত ও রিজাল শাস্ত্রের কিতাবসমূহ থেকে সেটির উৎসসমূহ থাকবে।

৮ - কিতাবে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের নামের জ্ঞানতাত্ত্বিক সূচীপত্র।

৯ - লেখক ও পৃষ্ঠা নম্বরসহ সকল কিতাব ও রচনার জ্ঞানতাত্ত্বিক সূচীপত্র।

১০ - একইভাবে বিভিন্ন দেশ, স্থান ও অঞ্চলের নামসমূহের সূচীপত্র।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন এই আমলটি কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করে নেন এবং জ্ঞানীদের উত্তম গুণাবলীর অধিক স্মরণের মাধ্যমে ও তাঁদের পদস্খলনগুলো এড়িয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমরা যে সদিচ্ছা পোষণ করেছি তা যেন বাস্তবায়িত হয়।

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

হে আল্লাহ! আমাদের নেতা মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার-পরিজন এবং তাঁর সাথীদের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

সম্পাদকদ্বয়

২৫/ ১২/ ১৪১৬

কায়রো
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٦)
صورة غلاف المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রচ্ছদের ছবি
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٧)
صورة الصفحة الأولى من المخطوط
পাণ্ডুলিপির প্রথম পৃষ্ঠার চিত্র
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٨)
صورة الصفحة الأخيرة من المخطوط
পাণ্ডুলিপির শেষ পৃষ্ঠার ছবি।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌ترجمة المؤلف

‌‌(1) اسمه ونسبه:

هو عمر بن على بن أحمد بن محمد بن عبد اللَّه، سراج الدين أبو حفص الأنصارى الأندلسى التكرورى المصرى الشافعى، ويعرف بابن النحوى لأن أباه عليًّا كان نحويا، اشتهر بذلك في بلاد اليمن، واشتهر أيضًا بابن المُلقِّن -بضم الميم وفتح اللام وكسر القاف المشددة- وكان رحمه الله يغضب من هذه التسمية.

* ولد رحمه الله بالقاهرة يوم الخميس في شهر ربيع الأول سنة ثلاث وعشرين وسبعمائة توفى عنه والده وهو ابن عام فنشأ في كفالة الشيخ عيسى المغربى أحد أصدقاء والده، وكان رجلًا صالحًا يقرئ الناس القرآن في جامع ابن طولون، فتزوج بأمه وعاش سراج الدين في رعايته حتى صار كأنه ابنه فلذا كان يدعى بابن الملقن، وكان سراج الدين يدعوه بالوالد، ولقد كان له نعم الوالدُ حقًا بعد أبيه فقد أحسن تربيته والقيام علي تعليمه وتأديبه حتى بلغ من هذه المنزلة الكريمة بين أهل العلم.

 

‌‌(2) نشأته التعليمية:

قام الشيخ عيسى المغربى بتحفيظه القرآن فحفظه، ثم حفظ بعد ذلك "عمدة الأحكام" وأراد أن يقرئه على مذهب مالك فأشار عليه صديق والده ابن جماعة أن يقرئه على مذهب الشافعى فدرس "المنهاج" وحفظه وأسمعه على الحافظين أبى الفتح ابن سيد الناس والقطب الحلبى. وحبب اللَّه تعالى إليه علم الحديث فاتجه إليه وهو صغير، وأقبل عليه وسمع الكثير من الشيوخ حتى قال عن نفسه: سمعت ألف جزء حديثية.

وما زال رحمه الله يدأب في التحصيل والطلب، يقول عنه تلميذه البرهان الحلبى: إنه قرأ في كبره كتابا في كل مذهب وأجاز له بالإفتاء فيه.

ورحل ابن الملقن رحمه اللَّه تعالى في طلب العلم والحديث إلى بلاد عدّة فرحل إلى دمشق وحماه سنة سبعين وسبعمائة فسمع من متأخرى أصحاب فخر الدين بن البخارى، ورحل إلى الحرمين الشريفين، ورحل إلى بيت المقدس والتقى بالحافظ العلائى وسمع منه كتابه "جامع التحصيل".
লেখকের জীবনী

(১) তাঁর নাম ও বংশপরিচয়:

তিনি হলেন উমর ইবনে আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ, সিরাজুদ্দীন আবু হাফস আল-আনসারী আল-আন্দালুসী আত-তাকরুরী আল-মিসরী আশ-শাফিয়ী। তিনি ইবনুন নাহবী নামে পরিচিত ছিলেন কারণ তাঁর পিতা আলী একজন নাহুবিদ (ব্যাকরণবিদ) ছিলেন এবং তিনি ইয়ামেন দেশে এই নামেই প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। তিনি ইবনুল মুলাক্কিন (মীম-এর উপর পেশ, লাম-এর উপর যবর এবং তাশদীদযুক্ত ক্বফ-এর নীচে যেরসহ) নামেও প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন—আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন—আর তিনি এই উপনামে সম্বোধিত হলে রাগান্বিত হতেন।

* তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সাতশত তেইশ হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে বৃহস্পতিবার কায়রোতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর এক বছর বয়সে পিতার মৃত্যু হয়, ফলে তিনি তাঁর পিতার অন্যতম বন্ধু শায়খ ঈসা আল-মাগরিবীর তত্ত্বাবধানে লালিত-পালিত হন। তিনি (শায়খ ঈসা) একজন সৎ ব্যক্তি ছিলেন এবং ইবনে তুলুন মসজিদে মানুষকে কুরআন শিক্ষা দিতেন। তিনি তাঁর (সিরাজুদ্দীনের) মাকে বিয়ে করেন এবং সিরাজুদ্দীন তাঁরই আশ্রয়ে বড় হন এমনকি তিনি তাঁর নিজের সন্তানের মতো হয়ে যান, তাই তাঁকে ইবনুল মুলাক্কিন বলে ডাকা হতো। সিরাজুদ্দীন তাঁকে ‘পিতা’ বলে সম্বোধন করতেন, আর প্রকৃতপক্ষে পিতার পর তিনি তাঁর জন্য একজন উত্তম পিতাই ছিলেন। তিনি তাঁর লালন-পালন এবং শিক্ষা ও শিষ্টাচার শিক্ষার দায়িত্ব অত্যন্ত সুনিপুণভাবে সম্পন্ন করেছিলেন, এমনকি তিনি আলেমদের মাঝে এই সম্মানজনক মর্যাদায় আসীন হয়েছিলেন।

 

(২) তাঁর শিক্ষাজীবন:

শায়খ ঈসা আল-মাগরিবী তাঁকে কুরআন হিফজ করান, ফলে তিনি তা মুখস্থ করেন। এরপর তিনি "উমদাতুল আহকাম" মুখস্থ করেন। তিনি (শায়খ ঈসা) তাঁকে মালিকী মাযহাব অনুযায়ী পড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর পিতার বন্ধু ইবনে জামাআহ তাঁকে পরামর্শ দিলেন যেন তাঁকে শাফিয়ী মাযহাব অনুযায়ী পড়ানো হয়। এরপর তিনি "আল-মিনহাজ" অধ্যয়ন ও হিফজ করেন এবং হাফেজ আবুল ফাতহ ইবনে সাইয়্যিদুন নাস ও কুতুব আল-হালাবীর নিকট তা শোনান। মহান আল্লাহ তাঁর অন্তরে হাদীস শাস্ত্রের প্রতি ভালোবাসা সৃষ্টি করে দেন, ফলে তিনি ছোটবেলা থেকেই সেদিকে মনোনিবেশ করেন। তিনি হাদীস চর্চায় আত্মনিয়োগ করেন এবং অসংখ্য শায়খের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন, এমনকি তিনি নিজের সম্পর্কে বলেছেন: "আমি হাদীসের এক হাজার জুয (অংশ) শ্রবণ করেছি।"

তিনি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইলম অন্বেষণ ও অর্জনে সর্বদা সচেষ্ট ছিলেন। তাঁর ছাত্র বুরহান আল-হালাবী তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি পরিণত বয়সে প্রতিটি মাযহাবের একটি করে কিতাব পাঠ করেছিলেন এবং তাঁকে সেই মাযহাবগুলোতে ফতোয়া প্রদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ইবনুল মুলাক্কিন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইলম ও হাদীস অন্বেষণের জন্য বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি সাতশত সত্তর হিজরীর দামেস্ক ও হামাহ সফর করেন এবং সেখানে ফখরুদ্দীন ইবনুল বুখারীর পরবর্তী পর্যায়ের ছাত্রদের নিকট থেকে হাদীস শ্রবণ করেন। তিনি হারামাইন শরীফাইন সফর করেন এবং বায়তুল মাকদিসেও গমন করেন; সেখানে হাফেজ আল-আলাইয়ীর সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁর নিকট থেকে তাঁর রচিত গ্রন্থ "জামি’ আত-তাহসীল" শ্রবণ করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١٠)
‌‌(3) شيوخه:

التقى ابن الملقن بأكابر علماء عصره فأخذ عنهم، وانتفع بهم وكان لهم الأثر في رفعة منزلته العلمية منهم:

1 - إبراهيم بن إسحاق بن شرف الدين المناوى ت 757 هـ أخذ عنه الأصول.

2 - أحمد بن عمر بن أحمد النشائى كمال الدين أبو العباس الشافعى الخطيب ت 757 هـ أخذ عنه الفقه.

3 - أحمد بن محمد بن محمد بن قطب الدين محمد القسطلانى شهاب الدين ت 776 هـ. أجاز له ولولده.

4 - برهان الدين الرشيدى ت 749 هـ أخذ عنه القراءات.

5 - خليل بن كيكلدى العلائى صلاح الدين ت 761.

6 - عبد الرحيم بن الحسن بن على الإسنوى جمال الدين المصرى الشافعى ت 772 هـ.

7 - عبد العزيز بن محمد بن إبراهيم المعروف بابن حماعة أخذ عنه الفقه ت 767 هـ.

8 - عبد اللَّه بن يوسف بن عبد اللَّه جمال الدين المشهور بابن هشام ت 761 هـ أخذ عنه العربية.

9 - على بن عبد الكافى بن على السبكى الأنصارى نقى الدين ت 756 هـ أخذ عنه الفقه.

10 - محمد بن محمد بن محمد بن أحمد أبو الفتح اليعمرى الشهير بابن سيد الناس ت 734 هـ.

11 - محمد بن يوسف بن على الغرناطى أبو حيان الأندلسى ت 745 هـ "صاحب البحر المحيط" أخذ عنه العربية.

12 - مغلطاى بن قليج بن عبد اللَّه الحنفى الحافظ علاء الدين ت 762 هـ.

13 - يوسف بن الزكى عبد الرحمن بن يوسف المزى ت 742 هـ.

 

‌‌تلاميذه:

1 - إبراهيم بن أحمد الخجندي المدنى الحنفى ت 851 هـ.

2 - إبراهيم بن العز محمد بن أحمد الهاشمى النويرى المالكى الشافعى ت 819 هـ.
(৩) তাঁর শিক্ষকগণ:

ইবনুল মুলাক্কিন তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। তিনি তাঁদের দ্বারা উপকৃত হন এবং তাঁর উচ্চতর জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা লাভের ক্ষেত্রে তাঁদের বিশেষ প্রভাব ছিল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন:

১ - ইব্রাহিম বিন ইসহাক বিন শরাফ উদ্দিন আল-মুনাউয়ি (মৃত্যু ৭৫৭ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট থেকে উসুল শিক্ষা করেন।

২ - আহমদ বিন উমর বিন আহমদ আল-নাশায়ি কামাল উদ্দিন আবুল আব্বাস আশ-শাফিয়ি আল-খতিব (মৃত্যু ৭৫৭ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট থেকে ফিকহ শিক্ষা করেন।

৩ - আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন কুতুব উদ্দিন মুহাম্মদ আল-কাসতালানি শিহাব উদ্দিন (মৃত্যু ৭৭৬ হিজরি)। তিনি তাঁকে এবং তাঁর সন্তানকে ইজাযত প্রদান করেন।

৪ - বুরহান উদ্দিন আর-রশিদি (মৃত্যু ৭৪৯ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট থেকে কিরাআত শিক্ষা করেন।

৫ - খলিল বিন কাইকালদি আল-আলাই সালাহ উদ্দিন (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি)।

৬ - আব্দুর রহিম বিন আল-হাসান বিন আলী আল-ইসনাওয়ি জামাল উদ্দিন আল-মিসরি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৭৭২ হিজরি)।

৭ - আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম, যিনি ইবনুল জামায়া নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৬৭ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট থেকে ফিকহ শিক্ষা করেন।

৮ - আব্দুল্লাহ বিন ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ জামাল উদ্দিন, যিনি ইবনে হিশাম নামে প্রসিদ্ধ (মৃত্যু ৭৬১ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট থেকে আরবি ভাষা ও ব্যাকরণ শিক্ষা করেন।

৯ - আলী বিন আব্দুল কাফি বিন আলী আস-সুবকি আল-আনসারি তকি উদ্দিন (মৃত্যু ৭৫৬ হিজরি); তিনি তাঁর নিকট থেকে ফিকহ শিক্ষা করেন।

১০ - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ আবুল ফাতহ আল-ইয়ামুরি, যিনি ইবনে সাইয়্যিদুন নাস নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭৩৪ হিজরি)।

১১ - মুহাম্মদ বিন ইউসুফ বিন আলী আল-গারনাতি আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৪৫ হিজরি), "আল-বাহরুল মুহিত" গ্রন্থের রচয়িতা; তিনি তাঁর নিকট থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা করেন।

১২ - মুগলতাই বিন কলিজ বিন আব্দুল্লাহ আল-হানাফি আল-হাফিজ আলা উদ্দিন (মৃত্যু ৭৬২ হিজরি)।

১৩ - ইউসুফ বিন আল-জাকি আব্দুর রহমান বিন ইউসুফ আল-মিযযি (মৃত্যু ৭৪২ হিজরি)।

 

তাঁর ছাত্রগণ:

১ - ইব্রাহিম বিন আহমদ আল-খুজান্দি আল-মাদানি আল-হানাফি (মৃত্যু ৮৫১ হিজরি)।

২ - ইব্রাহিম বিন আল-ইযয মুহাম্মদ বিন আহমদ আল-হাশেমি আন-নুওয়াইরি আল-মালিকি আশ-শাফিয়ি (মৃত্যু ৮১৯ হিজরি)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١١)
3 - إبراهيم بن محمد بن خليل الطرابلسى المعروف بسبط ابن العجمى الإمام العلامة ت 841 هـ.

4 - أحمد بن عبد الرحيم بن الحسين العراقى أبو زرعة ت 826 هـ.

5 - أحمد بن علي المقريزى المؤرخ ت 845 هـ.

6 - أحمد بن علي العسقلانى الشهير بابن حجر ت 852 هـ.

7 - أحمد بن علي بن أبى الشارمسَاحى ثم الظاهرى ت 855 هـ.

8 - أحمد بن محمد بن أحمد الكنانى الزفتاوى المقرئ ت 861 هـ.

9 - أحمد بن موسى بن عبد اللَّه الشهاب المغربى الصنهاجى ت 858 هـ.

10 - أحمد بن نصر اللَّه بن أحمد بن محمد التستري البغدادى.

 

‌‌صفاته وأقوال العلماء فيه:

يقول المقريزى عنه: كان من أعذَبِ الناس ألفاظًا، وأحسنهم خلقاً، وأعظمهم محاضرة.

ووصفه ابن حجر في كتابه "إنباء الغمر": كان حسن الصورة، مديد القامة، يحب المزاح والمداعبة مع ملازمة الاشغال والكتابة، حسن المحاضرة، جميل الأخلاق كثير الإنصاف.

ووصفه تلميذه سبط ابن العجمى: وشكالته حسنة وكذلك خلقه مع التواضع والإحسان وقال: كان منقطعًا عن الناس، لا يركب إلا إلى درس أو نزهة. وقال عنه الحافظ العلائى: الشيخ الفقيه الإمام العالم المحدث. وقال عنه العلامة ابن فهد: الإمام العلامة الحافظ شيخ الإسلام وعلم الأئمة الأعلام عمدة المحدثين. وقال الحافظ العراقى الشيخ الإمام الحافظ. قال عنه البرهان الحلبى الشهير بسبط ابن العجمى: حفاظ مصر أربعة أشخاص وهم: البلقينى وهو أحفظهم لأحاديث الأحكام، والعراقى وهو أعلمهم بالصنيعة والهيثمى وهو أحفظهم للأحاديث وابن الملقن وهو أكثرهم فوائد في الكتابة على الحديث.

قال عنه السيوطى: الإمام الفقيه الحافظ ذو التصانيف الكثيرة. وقال عنه ابن حجر: وهؤلاء الثلاثة العراقى والبلقينى وابن الملقن كانوا أعجوبة هذا العصر؛ الأول في معرفة
৩ - ইব্রাহিম বিন মুহাম্মাদ বিন খলিল আত-তরাবুলসি, যিনি সিবত ইবনুল আজমি নামে পরিচিত, ইমাম আল্লামা, মৃত্যু ৮৪১ হিজরি।

৪ - আহমদ বিন আব্দুর রহিম বিন আল-হুসাইন আল-ইরাকি আবু জুরআহ, মৃত্যু ৮২৬ হিজরি।

৫ - আহমদ বিন আলি আল-মাকরিজি, ঐতিহাসিক, মৃত্যু ৮৪৫ হিজরি।

৬ - আহমদ বিন আলি আল-আসকালানি, যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮৫২ হিজরি।

৭ - আহমদ বিন আলি বিন আবি আশ-শারামসাহী অতঃপর আজ-জহিরি, মৃত্যু ৮৫৫ হিজরি।

৮ - আহমদ বিন মুহাম্মাদ বিন আহমদ আল-কিনানি আজ-জিফতাউয়ি আল-মুকরি, মৃত্যু ৮৬১ হিজরি।

৯ - আহমদ বিন মুসা bin আব্দুল্লাহ আশ-শিহাব আল-মাগরিবি আস-সিনহাজি, মৃত্যু ৮৫৮ হিজরি।

১০ - আহমদ বিন নাসরুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুহাম্মাদ আত-তুস্তারি আল-বাগদাদি।

 

‌‌তাঁর গুণাবলি এবং তাঁকে নিয়ে উলামায়ে কিরামের উক্তি:

আল-মাকরিজি তাঁর সম্পর্কে বলেন: তিনি মানুষের মধ্যে বাগ্মিতায় অন্যতম সুমিষ্টভাষী, চরিত্রে সর্বোত্তম এবং পাণ্ডিত্যপূর্ণ আলোচনায় শ্রেষ্ঠ ছিলেন।

ইবনে হাজার তাঁর "ইনবাউল গুমর" কিতাবে তাঁর বর্ণনা দিয়েছেন: তিনি সুদর্শন ও দীর্ঘদেহী ছিলেন; কাজ ও লেখালেখিতে মগ্ন থাকার পাশাপাশি হাসি-ঠাট্টা ও কৌতুক পছন্দ করতেন, চমৎকার আলোচনা করতেন, সচ্চরিত্রের অধিকারী এবং অত্যন্ত ন্যায়নিষ্ঠ ছিলেন।

তাঁর ছাত্র সিবত ইবনুল আজমি তাঁর বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন: তাঁর অবয়ব ছিল সুন্দর, তেমনি বিনয় ও সদাচারের সাথে তাঁর চরিত্রও ছিল মাধুর্যমণ্ডিত। তিনি আরও বলেন: তিনি লোকালয় থেকে বিমুখ থাকতেন, পাঠদান কিংবা ভ্রমণ ব্যতীত বের হতেন না। হাফেজ আল-আলায়ি তাঁর সম্পর্কে বলেন: শায়খ, ফকিহ, ইমাম, আলেম ও মুহাদ্দিস। আল্লামা ইবনে ফাহাদ তাঁর সম্পর্কে বলেন: ইমাম, আল্লামা, হাফেজ, শায়খুল ইসলাম, প্রখ্যাত ইমামদের নিদর্শন এবং মুহাদ্দিসদের প্রধান স্তম্ভ। হাফেজ ইরাকি বলেছেন: শায়খ, ইমাম, হাফেজ। বুরহান আল-হালাবি—যিনি সিবত ইবনুল আজমি নামে পরিচিত—বলেন: মিশরের হাফেজ হলেন চারজন: আল-বুলকিনি—যিনি আহকামের হাদিসসমূহে সবচেয়ে বড় হাফেজ; আল-ইরাকি—যিনি হাদিস শাস্ত্রে সবচেয়ে অভিজ্ঞ; আল-হাইতামি—যিনি হাদিস মুখস্থ রাখায় সবচেয়ে পারদর্শী; এবং ইবনুল মুলাক্কিন—যিনি হাদিসের উপর রচনায় সবচেয়ে বেশি তথ্যবহুল।

আস-সুয়ুতি তাঁর সম্পর্কে বলেন: ইমাম, ফকিহ, হাফেজ এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা। ইবনে হাজার তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: এই তিনজন—আল-ইরাকি, আল-বুলকিনি এবং ইবনুল মুলাক্কিন—ছিলেন এ যুগের বিস্ময়; প্রথমজন অর্থাৎ ইরাকি ছিলেন হাদিস পরিজ্ঞানে...
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١٢)
الحديث وفنونه، والثانى في التوسيع في معرفة مذهب الشافعى، والثالث في كثرة التصانيف.

قال عنه الحسينى في طبقات الشافعية: هو البحر الكامل كان من أفقه أهل زمانه وأفضل أقرانه.

 

‌‌مناصبه:

يقول الإمام السخاوى في "الضوء اللامع": أنه ولى قضاء الشرقية ثم تخلى عنه لولده على، وتولى الميعاد بجامع الحاكم سنة ثلاث وستين وسبعمائة، وتولى أمر دار الحديث الكاملية خلفا للزين العراقى، ورشح لقضاء القضاة الشافعية فما تم ذلك.

 

‌‌محنته:

ذكر الإمام السخاوى في "الضوء اللامع": أن برقوقاً -الملك الظاهر من ملوك مصر- صمم على ولاية ابن الملقن منصب قضاء القضاة الشافعية فعلم بعض الناس بذلك فزور ورقة على لسان ابن الملقق بدفع أربعة آلاف دينار إلى أحد الأمراء حتى يتم الأمر ووصلت إلى برقوق -الملك الظاهر- فجمع العلماء وسأل الشيخ ابن الملقن هذا خطك؟ فأنكر وصدق في إنكاره، فغضب الملك وأهانه وسجنه ثم خلصه اللَّه تعالى بعد مدة يسيرة بشفاعة البلقينى وطائفة من العلماء. وكانت هذه المحنة سنة ثمانين وسبعمائة.

 

‌‌محنة أخرى:

لقد كان ابن الملقن جمَّاعة للكتب فكان عنده الكثير من الكتب والأجزاء. ولقد أُبتلى في أواخر عمره باحتراق مكتبته واحترق معها الكثير من مسوداته ومصنفاته. فحزن عليها ابن الملقق أشدَّ الحزن وتأسف عليها غاية التأسف وتغيرت حاله بعد هذا الحريق، فأصيب بالذهول ولم يلبث إلَّا قليلا حتى مات.

 

‌‌مؤلفاته:

كان رحمه الله كثير التصانيف فقد وفقه اللَّه تعالى لكثرة التصنيف فإن تصانيفه تربوا على الثلاثمائة منها:

1 - شرح المنهاج في ستة أجزاء.
হাদিস ও এর বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা; দ্বিতীয়ত, শাফেয়ী মাজহাবের বিস্তৃত জ্ঞান অর্জন; এবং তৃতীয়ত, প্রচুর পরিমাণে গ্রন্থ রচনা।

হুসাইনি তার 'তাবাকাতুশ শাফেয়িয়্যাহ' গ্রন্থে তার সম্পর্কে বলেন: তিনি ছিলেন এক অতল সমুদ্র (জ্ঞানের দিক দিয়ে); তিনি ছিলেন তার সময়ের শ্রেষ্ঠ ফকিহদের একজন এবং তার সমসাময়িকদের মধ্যে সর্বোত্তম।

 

‌‌তার পদমর্যাদা ও দায়িত্বসমূহ:

ইমাম সাখাভি তার 'আদ-দাওউল লামে' গ্রন্থে বলেন: তিনি শারকিয়্যাহ প্রদেশের কাজির পদ লাভ করেন, পরবর্তীতে তার ছেলে আলীর জন্য সেই পদ ত্যাগ করেন। তিনি ৭৬৩ হিজরিতে জামে আল-হাকিমে ওয়াজ ও পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এছাড়া তিনি জয়নুদ্দিন আল-ইরাকির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে 'দারুল হাদিস আল-কামিলিয়্যাহ'র প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। তাকে শাফেয়ী মাজহাবের প্রধান বিচারপতি পদের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্পন্ন হয়নি।

 

‌‌তার কঠিন পরীক্ষা:

ইমাম সাখাভি 'আদ-দাওউল লামে' গ্রন্থে উল্লেখ করেন: মিশরের সুলতান আল-মালিকুজ জাহির বারকুক ইবনুল মুলাক্কিনকে শাফেয়ীদের প্রধান বিচারপতির পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত নেন। কিছু লোক যখন এটি জানতে পারল, তখন তারা ইবনুল মুলাক্কিনের নামে একটি মিথ্যা চিঠি জালিয়াতি করল যে, এই কাজের জন্য তিনি জনৈক আমিরকে চার হাজার দিনার প্রদান করবেন। চিঠিটি সুলতান বারকুকের কাছে পৌঁছালে তিনি আলেমদের একত্রিত করলেন এবং শেখ ইবনুল মুলাক্কিনকে জিজ্ঞাসা করলেন, "এটি কি আপনার হাতের লেখা?" তিনি তা অস্বীকার করলেন এবং তার এই অস্বীকার সত্য ছিল। কিন্তু সুলতান ক্রুদ্ধ হলেন, তাকে অপমান করলেন এবং কারারুদ্ধ করলেন। তবে অল্প সময় পরেই আল-বুলকিনি এবং একদল আলেমের সুপারিশে আল্লাহ তাআলা তাকে মুক্তি দিলেন। এই বিপদটি ঘটেছিল ৭৮০ হিজরি সনে।

 

‌‌অন্য আরেকটি পরীক্ষা:

ইবনুল মুলাক্কিন প্রচুর কিতাব সংগ্রহকারী ছিলেন, তার কাছে প্রচুর বই ও পাণ্ডুলিপি ছিল। জীবনের শেষভাগে তিনি তার লাইব্রেরিতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হন এবং এর ফলে তার অনেক খসড়া ও মূল পাণ্ডুলিপি পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ইবনুল মুলাক্কিন এতে অত্যন্ত মর্মাহত হন এবং গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন। এই অগ্নিকাণ্ডের পর তার অবস্থার পরিবর্তন ঘটে; তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন এবং এর অল্প কিছুকাল পরেই মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌তার রচনাবলি:

আল্লাহ তার ওপর রহম করুন, তিনি প্রচুর গ্রন্থ রচনা করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাকে অঢেল গ্রন্থ রচনার তাওফিক দিয়েছিলেন, তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা তিনশ’রও অধিক। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

১ - শারহুল মিনহাজ, ছয় খণ্ডে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١٣)
2 - عجالة المحتاج إلى توجيه المنهاج في مجلد.

3 - لغات المنهاج.

4 - أدلة المنهاج.

5 - البلغة في أحاديث الأحكام على أبواب المنهاج.

6 - الاعتراضات على المنهاج.

7 - زوائد الحاوى الصغير.

8 - شرح التنبيه في أربعة أجزاء.

9 - تصحيح التنبيه في مجلد.

10 - ما يرد على النووى والتنبيه.

11 - زوائد على تجريد التنبيه.

12 - الخلاصة في أدلة التنبيه.

13 - شرح الحاوى في جزئين.

14 - تصحيح الحاوى في حزء.

15 - شرح التبريزى.

16 - تخريج أحاديث الرافعى.

17 - تخريج أحاديث المهذب.

18 - تخريج أحاديث الوسيط.

19 - أسماء رجال الكتب الستة في جزئين.

20 - المؤتلف والمختلف في جزء.

21 - تخريج أحاديث المنهاج في الأصول.

22 - تخريج أحاديث ابن الحاجب.

23 - طبقات المحدثين.

24 - طبقات الفقهاء كتابنا هذا.

25 - المقنع في علوم الحديث مختصر كتاب ابن الصلاح.

26 - التذكرة في علوم الحديث.

27 - شرح فرائض الوسيط في جزء.
২ - এক খণ্ডে আল-মিনহাজের দিকনির্দেশনায় অভাবগ্রস্তের ত্বরিত পাথেয়।

৩ - আল-মিনহাজের শব্দাবলি।

৪ - আল-মিনহাজের দলীলসমূহ।

৫ - আল-মিনহাজের পরিচ্ছেদ অনুযায়ী আহকামের হাদিস বর্ণনায় আল-বুলগাহ।

৬ - আল-মিনহাজের ওপর উত্থাপিত আপত্তিগুলো।

৭ - আল-হাওয়ি আস-সাগিরের অতিরিক্ত মাসয়ালাসমূহ।

৮ - চার খণ্ডে আত-তানবিহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

৯ - এক খণ্ডে আত-তানবিহ-এর বিশুদ্ধিকরণ।

১০ - ইমাম নববী এবং আত-তানবিহ-এর ওপর যা প্রত্যুত্তর দেওয়া হয়েছে।

১১ - তাজরিদুত তানবিহ-এর অতিরিক্ত বিষয়াবলি।

১২ - আত-তানবিহ-এর দলীলসমূহের সারসংক্ষেপ।

১৩ - দুই খণ্ডে আল-হাওয়ি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

১৪ - এক খণ্ডে আল-হাওয়ি-এর বিশুদ্ধিকরণ।

১৫ - আত-তাবরিজি-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ।

১৬ - ইমাম রাফেয়ি বর্ণিত হাদিসসমূহের উৎস শনাক্তকরণ (তাখরিজ)।

১৭ - আল-মুহাজ্জাব-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ।

১৮ - আল-ওয়াসিত-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ।

১৯ - দুই খণ্ডে কুতুবে সিত্তার (ছয়টি প্রধান হাদিস গ্রন্থ) বর্ণনাকারীদের জীবনী।

২০ - এক খণ্ডে আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ (সদৃশ ও ভিন্ন নামসমূহ)।

২১ - উসুলুল ফিকহ বিষয়ক আল-মিনহাজের হাদিসসমূহের তাখরিজ।

২২ - ইবনুল হাজিব-এর হাদিসসমূহের তাখরিজ।

২৩ - মুহাদ্দিসদের জীবনী ও স্তরসমূহ।

২৪ - ফুকাহাদের জীবনী ও স্তরসমূহ (তবকাত)—আমাদের এই গ্রন্থটি।

২৫ - হাদিস বিজ্ঞানে আল-মুকনি; যা ইবনুস সালাহ-এর গ্রন্থের সংক্ষিপ্তসার।

২৬ - হাদিস বিজ্ঞানে আত-তাযকিরাহ।

২৭ - এক খণ্ডে আল-ওয়াসিত-এর উত্তরাধিকার বিধানের ব্যাখ্যা।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١٤)
28 - العدة في معرفة رجال العمدة.

29 - نساء الكتب الستة في جزء.

30 - غاية السول في خصائص الرسول صلى الله عليه وسلم.

31 - شرح العمدة.

32 - الإشراف على أطراف الكتب الستة.

33 - شرح فصيح ثعلب.

34 - منسك الحج.

35 - الاعتراضات على المستدرك.

36 - الكلام على سنة الجمعة.

37 - شرح منهاج الأصول.

38 - شرح الألفية.

39 - مختصر دلائل النبوة للبيهقى.

40 - تلخيص مسند الإمام أحمد.

41 - تلخيص صحيح ابن حبان.

42 - شرح صحيح البخارى.

43 - شرح الأربعين النواوية.

44 - طبقات القراء.

45 - طبقات الصوفية.

46 - أدلة الحاوى.

47 - تاريخ ملوك مصر الترك.

48 - الكافي.

49 - شرح زوائد الكتب الخمسة على البخارى،

50 - شرح مختصر ابن الحاجب.

 

‌‌وفاته:

توفى ابن الملقن ليلة الجمعة سادس عشر ربيع الأول سنة أربع وثمانمائة ودفن بجوار أبيه بحوش "سعيد السعداء". وحزن الناس لفراقه حزنا شديدًا، فعليه رحمة
২৮ - আল-উমদাহ গ্রন্থের বর্ণনাকারীদের পরিচিতি বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-উদ্দাহ’।

২৯ - এক খণ্ডে কুতুবে সিত্তার (ছয়টি কিতাবের) নারী বর্ণনাকারিগণ।

৩০ - রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্যসমূহ বিষয়ে ‘গায়াতুস সুল’।

৩১ - শরহুল উমদাহ (উমদাহর ব্যাখ্যা)।

৩২ - কুতুবে সিত্তার ‘আত্রাফ’ (প্রান্তিক বর্ণনা) বিষয়ক গ্রন্থ ‘আল-ইশরাফ’।

৩৩ - ফাসিহ ছালাবের ব্যাখ্যা।

৩৪ - হজের নিয়মাবলী।

৩৫ - আল-মুস্তাদরাকের ওপর আপত্তিসমূহ।

৩৬ - জুমার সুন্নাত বিষয়ক আলোচনা।

৩৭ - মিনহাজুল উসুলের ব্যাখ্যা।

৩৮ - আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যা।

৩৯ - বাইহাক্বীর দালালিউন নুবুওয়াহর সংক্ষিপ্তসার।

৪০ - ইমাম আহমাদের মুসনাদের সংক্ষিপ্তসার।

৪১ - সহীহ ইবনে হিব্বানের সংক্ষিপ্তসার।

৪২ - সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যা।

৪৩ - ইমাম নববীর চল্লিশ হাদিসের ব্যাখ্যা।

৪৪ - ক্বারীগণের জীবনী (তাবাকাতুল কুররা)।

৪৫ - সুফিগণের জীবনী (তাবাকাতুস সুফিয়্যাহ)।

৪৬ - আল-হাওয়ীর দলিলসমূহ।

৪৭ - মিশরের তুর্কি রাজাদের ইতিহাস।

৪৮ - আল-কাফী।

৪৯ - বুখারীর অতিরিক্ত হিসেবে অন্য পাঁচটি প্রধান হাদিস গ্রন্থের বর্ধিত বর্ণনাসমূহের ব্যাখ্যা।

৫০ - মুখতাসার ইবনুল হাজিবের ব্যাখ্যা।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

ইবনুল মুলাক্কিন ৮০৪ হিজরি সালের রবিউল আউয়াল মাসের ১৬ তারিখ শুক্রবার দিবাগত রাতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে তাঁর পিতার পাশে "সাঈদ আস-সুআদা" চত্বরে দাফন করা হয়। তাঁর বিয়োগে মানুষ অত্যন্ত শোকাহত হয়; তাঁর ওপর রহমত বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١٥)
اللَّه تعالى وجمعنا به في دار كرمته.

 

‌‌مصادر الترجمة:

إنباء الغمر وفيات سنة 804 هـ، الضوء اللامع (6/ 100). شذرات الذهب (7/ 44). المنهل الصافى (6/ 146). لحظ الألحاظ ص 197.
আল্লাহ তাআলা, এবং তিনি যেন তাঁর সম্মানপূর্ণ আবাসে তাঁর সাথে আমাদের একত্রিত করেন।

 

‌‌জীবনীর উৎসসমূহ:

ইনবাউল গুমর, ৮০৪ হিজরির মৃত্যুসংবাদ; আদ-দাউল লামি' (৬/ ১০০)। শাজারাতুজ জাহাব (৭/ ৪৪)। আল-মানহালুস সাফি (৬/ ১৪৬)। লাহজুল আলহাজ, পৃষ্ঠা ১৯৭।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١٧)
{بسم اللَّه الرحمن الرحيم}

ربنا آتنا من لدنك رحمة وهيئ لنا من أمرنا رشدًا

الحمد للَّه وسلام على عباده الذين اصطفى، والصلاة والسلام على الهادى إلى سبيل الخير، والداعى إلى الوفا، وعلى آله وأصحابه وسلم وكرم. أما بعد: فهذه جملة مهمة نافعة إن شاء اللَّه تعالى في معرفة طبقات الشافعية، يجب على الفقيه تحصيلها، ورتبتها ثلاث طبقات، الأولى: في أصحاب الوجوه ومن داناهم، وفى آخرهم جماعات أعيان ذكرتهم معهم، وهذه الطبقة رتبتها على أربع وثلاثين طبقة، كلّ طبقة منها مرتبة على حروف المعجم.

الثانية: في جماعات دونهم ورتبتهم على ستٍّ وثلاثين طبقة على الترتيب المذكور في الطبقة قبلها.

الثالثة: في جماعات من المتأخرين عاصرتهم، وأخذت عن بعضهم، ووصلتهم إلى نيّف وثمانين طبقة رتبتهم على حروف المعجم كما فعلت في الطبقة الأولى والثانية. وقد عنى بهذا الشأن جماعات من المتقدمين والمتأخرين وألفوا فيه، فأول من علمته ألف في ذلك الإمام أبو حفص المطوّعى، ولخصه الشيخ تقى الدين ابن الصلاح، ثم القاضى أبو الطيب الطبرى، ثم العبادى، ثم أبو إسحاق الشيرازى ثم أبو محمد الجرجانى، ثم القاضى عبد الوهاب الشيرازى، ثم البيهقى المعروف بقندق أحد أجداده، ثم أبو النجيب السهروردى، ثم ابن الصلاح وهذبه النووى، وأهمل خلقًا أفردتهم في جزء، وألف في ذلك ابن باطيش أيضًا، وهذا المصنف يجمع إن شاء اللَّه تعالى شتاتهم مع زيادات كثيرة عليهم على سبيل الاختصار والاعتناء بغرائب الشخص من الأصول والفروع وسميته:

"العقد المذهب في طبقات حملة المذهب"

والله أسأل ان ينفع به وأن يجعله خالصًا لوجهه موجبًا للفوز لديه فإنه حسبنا ونعم الوكيل.

 

الطبقة الأولى

أصحاب الوجوه ومن داناهم، وتشتمل على أربع وثلاثين طبقة ومجموع عددهم ينيف على خمسمائة. وترجمة الإمام الشافعى حذفناها في المؤلف لأنها أفردت بالتأليف
{পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।}

হে আমাদের রব! আপনার পক্ষ থেকে আমাদের রহমত দান করুন এবং আমাদের কর্মকাণ্ড সঠিক পথে পরিচালিত করার ব্যবস্থা করে দিন।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং শান্তি বর্ষিত হোক তাঁর সেই বান্দাদের ওপর যাদের তিনি মনোনীত করেছেন। আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক কল্যাণের পথের দিশারী এবং আনুগত্যের প্রতি আহ্বানকারীর ওপর, আর তাঁর পরিবার-পরিজন ও সঙ্গীদের ওপর। অতঃপর: এটি শাফেয়ী মাযহাবের স্তরসমূহ (তবকাত) পরিচিতি বিষয়ক আল্লাহ চাহেন তো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও উপকারী সংকলন, যা অর্জন করা একজন ফকিহর জন্য আবশ্যক। আমি একে তিনটি প্রধান স্তরে বিন্যস্ত করেছি। প্রথম স্তর: আসহাবুল উজুহ (শীর্ষস্থানীয় ফকিহগণ) এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে। তাঁদের শেষ পর্যায়ে এমন কিছু ব্যক্তিবর্গকে উল্লেখ করেছি যাদের আমি তাঁদের সাথে গণ্য করেছি। এই স্তরটিকে আমি চৌত্রিশটি উপ-স্তরে ভাগ করেছি এবং প্রতিটি উপ-স্তরকে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি।

দ্বিতীয় স্তর: তাঁদের পরবর্তী স্তরের জামাতসমূহ সম্পর্কে। একে আমি পূর্বোক্ত স্তরের বিন্যাস অনুযায়ী ছত্রিশটি উপ-স্তরে সাজিয়েছি।

তৃতীয় স্তর: পরবর্তী যুগের আলেমদের সম্পর্কে যাদের আমি পেয়েছি এবং তাঁদের কারো কারো নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছি। এদেরকে আমি আশিটিরও বেশি উপ-স্তরে বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি, যেভাবে আমি প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরে করেছি। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী আলেমদের এক বিশাল জামাত এই বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন এবং গ্রন্থ রচনা করেছেন। এ বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন বলে আমি যাকে জানতে পেরেছি তিনি হলেন ইমাম আবু হাফস আল-মুতাউয়ী। এরপর শায়খ তাকিউদ্দীন ইবনুল সালাহ তা সংক্ষেপ করেছেন। অতঃপর কাজি আবু আল-তাইয়িব আল-তাবারী, এরপর আল-আব্বাদী, এরপর আবু ইসহাক আল-শিরাজী, এরপর আবু মুহাম্মদ আল-জুরজানী, এরপর কাজি আব্দুল ওয়াহাব আল-শিরাজী, এরপর আল-বায়হাকী—যিনি তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষের নামানুসারে 'কুনদুক' নামে পরিচিত, এরপর আবু নাজীব আল-সুহরাওয়ার্দী, তারপর ইবনুল সালাহ এবং ইমাম নববী তা সংস্কার করেছেন। তবে তিনি এমন অনেককে বাদ দিয়েছেন যাদের আমি একটি পৃথক খণ্ডে সংকলিত করেছি। ইবনে বাতীশও এ বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। এই সংকলনটি ইনশাআল্লাহ তাঁদের ছড়িয়ে থাকা বিবরণগুলোকে সংক্ষেপে এবং অনেক বর্ধিত তথ্যের সাথে একত্রিত করবে। এতে ব্যক্তির উসুল ও ফুরু সংক্রান্ত বিরল বৈশিষ্ট্যগুলোর প্রতি বিশেষ নজর রাখা হয়েছে। আমি এর নাম দিয়েছি:

"আল-ইকদুল মুযাহহব ফি তাবকাত হামালাতিল মাযহাব" (মাযহাবের ধারকগণের স্তরবিন্যাসের স্বর্ণালঙ্কার)

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং একে কেবলমাত্র তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, যা তাঁর নিকট সফলতার কারণ হবে। নিশ্চয়ই তিনি আমাদের জন্য যথেষ্ট এবং কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক।

 

প্রথম স্তর

আসহাবুল উজুহ এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। এটি চৌত্রিশটি উপ-স্তর নিয়ে গঠিত এবং তাঁদের মোট সংখ্যা পাঁচশরও বেশি। ইমাম শাফেয়ীর জীবনী আমরা এই গ্রন্থে বাদ দিয়েছি, কারণ তাঁর জন্য স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١٨)
فبلغت أربعين مؤلفًا فأكثر.

 

‌‌الطبقة الأولى

فيمن روى عن الإمام الشافعى رضي الله عنه من الأعيان وقد أفردهم الدارقطنى في جزء.

 

‌‌1 - إبراهيم بن خالد أبو ثور الكلبى البغدادى.

أحد رواة القديم إمام بالإجماع، وتعنت أبو حاتم فيه فقال: ليس محله محل السماعين في الحديث، كان يتكلم بالرأى فيخطئ ويصيب. قلت: وأخرج له أبو داود وابن ماجه ومسلم في غير صحيحه. مات سنة أربعين ومائتين، ومن غرائبه: إباحة نكاح المجوس لكنه لم ينفرد به بل قاله أبو إسحاق المروزى والحربى وابن حربويه، ونقل عنه صاحب الحاوى أنه يجوز وطء كل من لا يناكح بملك اليمين قال أبو عاصم: سأل أبو ثور الشافعى عن رجل اشترى بيضة من رجل وبيضة من أخر ووضعهما في كمه فانكسرت إحداهما فخرجت مذرة فعلى من يرد البيضة، وقد أنكر ذلك قال: آمره حتى يدعى قال: يقول لا أدرى. قال: أقول انصرف فإنَّا مفتون.

 

‌‌2 - أحمد بن حنبل.

أحد الأئمة، مناقبه مفردة بالتصنيف وممن صنف فيها ابن الجوزى مجلدة ضخمة. وهو من جملة من روى عن الشافعى القديم، وروى في "مسنده" عنه. ثنا مالك عن الزهرى عن عبد الرحمن بن كعب بن مالك عن أبيه قال: قال صلى الله عليه وسلم: "إنَّما نَسمةُ المؤمن طائر يعلق في شجر الجنة حتى يرجعه اللَّه إلى جسده يوم يبعثه" (1).

--------------------------------------------

(1) أخرجه أحمد: المسند (3/ 455، 456)، والنسائى (4/ 108)، وابن ماجة (4271)، نا صالح عن ابن شهاب قال: حدثنى عبد الرحمن بن عبد اللَّه بن كعب أنه بلغه أن كعب بن مالك قال. . . فذكره. وأخرجه عن يونس عن الزهرى عن عبد الرحمن بن كعب عن أبيه مرفوعًا والإسناد الثانى على شرط الصحيح.

1 - سير أعلام النبلاء (12/ 72)، وطبقات الشافعية للسبكى (2/ 74)، وطبقات الشافعية للإسنوى (1/ 25 - 26)، وطبقات ابن الصلاح (1/ 299)، والعبادى (ص 22)، الشيرازى (ص 92)، تهذيب الأسماء واللغات (2/ 200 - 201)، وابن قاضى شهبة (1/ 3).

2 - سير أعلام النبلاء (11/ 177)، وطبقات الشيرازى (ص 91، 92)، وتاريخ بغداد (4/ 412)، وتذكرة الحفاظ (2/ 431)، ووفيات الأعيان (1/ 47)، والعبادى (14 - 15)، والسبكى (2/ 27 - 63)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 717)، وابن قاضى شهبة (1/ 4 - 7).
এটি চল্লিশ বা তার বেশি রচনায় পৌঁছেছে।

 

‌‌প্রথম স্তর

বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্য থেকে যাঁরা ইমাম শাফিঈ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন; দারাকুতনী তাঁদেরকে একটি পৃথক খণ্ডে সংকলিত করেছেন।

 

‌‌১ - ইব্রাহিম বিন খালিদ আবু সাওর আল-কালবী আল-বাগদাদী.

তিনি (শাফিঈ মাযহাবের) পুরাতন মতের অন্যতম বর্ণনাকারী এবং সর্বসম্মতিক্রমে একজন ইমাম। তবে আবু হাতিম তাঁর ব্যাপারে কঠোরতা প্রদর্শন করে বলেছেন: হাদীস শ্রবণের ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান হাদীস শ্রবণকারীদের (উচ্চ পর্যায়ের) সমতুল্য নয়; তিনি নিজস্ব রায়ের ভিত্তিতে কথা বলতেন, ফলে তাতে ভুল ও সঠিক উভয়ই থাকত। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: ইমাম আবু দাউদ, ইবনে মাজাহ এবং ইমাম মুসলিম তাঁর ‘সহীহ’ গ্রন্থ ব্যতীত অন্য গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা পেশ করেছেন। তিনি ২৪০ হিজরীতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর বিরল মতসমূহের মধ্যে একটি হলো: অগ্নিপূজকদের (মাজুস) সাথে বিবাহ বৈধ হওয়া; তবে তিনি এই মতে একক নন, বরং আবু ইসহাক আল-মারওয়াযী, আল-হারবী এবং ইবনে হারবুইয়াহ-ও একই কথা বলেছেন। 'আল-হাবী' গ্রন্থের লেখক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, যাদের সাথে বিবাহ বন্ধন জায়েজ নয়, দাসী হিসেবে মালিকানাভুক্ত করার মাধ্যমে তাদের সাথে সহবাস করা বৈধ। আবু আসিম বলেন: আবু সাওর ইমাম শাফিঈকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন যে একজন থেকে একটি ডিম এবং অন্যজন থেকে আরেকটি ডিম ক্রয় করল এবং উভয়টি তার আস্তিনে রাখল। অতঃপর একটি ভেঙে গেল এবং সেটি পচা বের হলো। এখন সে কার কাছে ডিমটি ফেরত দেবে? ইমাম শাফিঈ বিষয়টি অপছন্দ করলেন এবং বললেন: আমি তাকে নির্দেশ দেব যেন সে (উভয় বিক্রেতার বিরুদ্ধে) দাবি পেশ করে। আবু সাওর বললেন: সে তো বলছে যে সে জানে না (কোনটি কার ডিম)। ইমাম শাফিঈ বললেন: আমি বলছি তুমি বিদায় হও, কারণ আমরা ফিতনায় আক্রান্ত হয়েছি।

 

‌‌২ - আহমাদ বিন হাম্বল.

তিনি আইম্মাহ বা ইমামগণের অন্যতম, তাঁর মর্যাদা ও গুণাবলী নিয়ে স্বতন্ত্র গ্রন্থ রচিত হয়েছে; ইবনুল জাওযী এই বিষয়ে একটি বিশাল খণ্ড রচনা করেছেন। তিনি ইমাম শাফিঈর পুরাতন মতের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি তাঁর 'মুসনাদ' গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। মালিক আমাদের নিকট যুহরী থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আব্দুর রহমান বিন কাব বিন মালিক থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "নিশ্চয়ই মুমিনের আত্মা একটি পাখি যা জান্নাতের গাছের সাথে ঝুলে থাকে (বা ফল আহার করে), যতক্ষণ না আল্লাহ পুনরুত্থানের দিন তাকে তার শরীরে ফিরিয়ে দেন।" (১)।

--------------------------------------------

(১) আহমাদ এটি বর্ণনা করেছেন: আল-মুসনাদ (৩/৪৫৫, ৪৫৬), নাসায়ী (৪/১০৮), ইবনে মাজাহ (৪২৭১)। সালিহ আমাদের নিকট ইবনে শিহাব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন কাব আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে তাঁর কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে কাব বিন মালিক বলেছেন... অতঃপর তিনি তা উল্লেখ করেন। আর ইউনুস এটি বর্ণনা করেছেন যুহরী থেকে, তিনি আব্দুর রহমান বিন কাব থেকে তাঁর পিতা হতে মারফু সূত্রে; এবং দ্বিতীয় সনদটি সহীহ-এর শর্তানুযায়ী।

১ - সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/৭২), সুবকির তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ (২/৭৪), এসনাবীর তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ (১/২৫-২৬), ইবনুস সালাহ-এর তাবাকাত (১/২৯৯), আল-ইবাদি (পৃষ্ঠা ২২), শিরাজী (পৃষ্ঠা ৯২), তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (২/২০০-২০১), এবং ইবনে কাযী শুহবাহ (১/৩)।

২ - সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১১/১৭৭), শিরাজীর তাবাকাত (পৃষ্ঠা ৯১, ৯২), তারিখু বাগদাদ (৪/৪১২), তাযকিরাতুল হুফফায (২/৪৩১), ওয়াফায়াতুল আইয়ান (১/৪৭), আল-ইবাদি (১৪-১৫), সুবকি (২/২৭-৬৩), ইবনুস সালাহ মায়ায যাইল (২/৭১৭), এবং ইবনে কাযী শুহবাহ (১/৪-৭)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ١٩)
صححه الترمذى من حديث الزهرى، وقد اجتمع فيه ثلاث من الأئمة كما يروى، وفى "مسنده" من رواية ابنه عبد اللَّه ثنا سليمان بن داود الهاشمى، ثنا الشافعى عن يحيى بن سكيم عن عبد اللَّه عن نافع عن ابن عمر أنه عليه الصلاة والسلام: "صلى صلاة الكسوف أربع ركعات وأربع سجدات" (1) وللحافظ أبى بكر الحازمى كتاب "سلسلة الذهب" فيما رواه أحمد عن الشافعى. مات رضي الله عنه سنة إحدى وأربعين ومائتين عن سبع وسبعين سنة على المشهور. وروى أحمد عن الشافعى أنه يجوز بيع الباقلاء في قشره، وأنَّ السيد يلاعن أمته حكاه أبو عاصم في "الطبقات".

 

‌‌3 - إسحاق بن إبراهيم المعروف بابن راهويه.

أحد الأئمة الأعلام. روى عنه وناظره وكتب كتبه، مات سنة ثلاث وثلاثين ومائتين عن سبع وسبعين سنة قاله البخارى.

 

‌‌4 - إسماعيل بن يحيى المزنى.

الفقيه ناصر المذهب، ولد سنة خمس وسبعين ومائة، ومات سنة أربع وستين ومائتين بمصر، له "الجامع الصغير"، و"مختصر المختصر"، و"المنثور"، و"المسائل المعتبرة"، و"الترغيب في العلم" و"الوثائق". وكان يغسل الموتى تعبدًا ليرق قلبه، وهو

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخارى: في كتاب الكسوف - باب طول السجود في الكسوف، ومسلم في الكسوف - باب النداء لصلاة الكسوف. من حديث عبد اللَّه بن عمرو.

3 - طبقات السبكى (2/ 83)، وطبقات الشيرازى (ص 94)، وطبقات الحنابلة (1/ 109)، وتذكرة الحفاظ (2/ 433)، وميزان الاعتدال (1/ 182 - 183)، وفيات الأعيان (1/ 179 - 180)، وشذرات الذهب (2/ 89)، وطبقات ابن الصلاح مع الذيل (2/ 724).

4 - طبقات السبكى (2/ 93 - 109)، وسير أعلام النبلاء (12/ 492)، وطبقات ابن الصلاح مع الذيل (2/ 728)، والعبادى (ص 9)، والشيرازى (ص 97)، والإسنوى (1/ 34 - 36)، وابن قاضى شهبة (1/ 7) وابن هداية اللَّه (20 - 21).
তিরমিযী এটিকে যুহরী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস থেকে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন। এতে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী তিনজন ইমাম একত্রিত হয়েছেন। এবং তাঁর 'মুসনাদে' তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহর বর্ণনায় রয়েছে: সুলাইমান ইবন দাউদ আল-হাশিমী আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, শাফেঈ ইয়াহইয়া ইবন সুকাইম থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে' থেকে এবং তিনি ইবন উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম): "চার রুকু ও চার সিজদাহ সহকারে কুসূফের সালাত আদায় করেছেন।" (১) হাফেয আবু বকর আল-হাযিমীর 'সিলসিলাতুয যাহাব' (স্বর্ণসূত্র) নামে একটি গ্রন্থ রয়েছে যাতে ইমাম আহমাদ শাফেঈ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা সংকলিত হয়েছে। তিনি প্রসিদ্ধ মতানুসারে ৭৭ বছর বয়সে ২৪১ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)। এবং আহমাদ শাফেঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, খোসাসহ শিমের বিচি বিক্রি করা বৈধ এবং মালিক তার দাসীর সাথে লি'আন করতে পারে; আবু আসিম এটি 'আত-তবাকাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌৩ - ইসহাক ইবন ইব্রাহীম, যিনি ইবন রাহওয়াইহ নামে পরিচিত।

অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ইমাম। তিনি (ইমাম আহমাদ) তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, তাঁর সাথে মুনাজারা (বিতর্ক) করেছেন এবং তাঁর কিতাবসমূহ লিপিবদ্ধ করেছেন। বুখারীর ভাষ্যমতে তিনি ৭৭ বছর বয়সে ২৩৩ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌৪ - ইসমাইল ইবন ইয়াহইয়া আল-মুযানী।

ফকীহ এবং মাযহাবের সাহায্যকারী। তিনি ১৭৫ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৬৪ হিজরীতে মিশরে ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে: 'আল-জামি আস-সগীর', 'মুখতাসার আল-মুখতাসার', 'আল-মানসূর', 'আল-মাসাইল আল-মু'তাবারা', 'আত-তারগীব ফিল ইলম' এবং 'আল-ওয়াসাইক'। তিনি অন্তরকে নরম করার উদ্দেশ্যে ইবাদত হিসেবে মৃতদের গোসল দিতেন এবং তিনি...

--------------------------------------------

(১) বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন: কুসূফ অধ্যায় - কুসূফে সিজদাহ দীর্ঘ করা অনুচ্ছেদ; এবং মুসলিম: কুসূফ অধ্যায় - কুসূফ সালাতের জন্য আযানের অনুচ্ছেদ। আব্দুল্লাহ ইবন আমর বর্ণিত হাদীস হতে।

৩ - তবাকাতুস সুবকী (২/ ৮৩), তবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ৯৪), তবাকাতুল হানাবিলা (১/ ১০৯), তাযকিরাতুল হুফফায (২/ ৪৩৩), মীযানুল ইতিদাল (১/ ১৮২ - ১৮৩), ওফায়াতুল আ'য়ান (১/ ১৭৯ - ১৮০), শাযারাতুয যাহাব (২/ ৮৯), তবাকাতু ইবনিস সালাহ ও পরিশিষ্ট (২/ ৭২৪)।

৪ - তবাকাতুস সুবকী (২/ ৯৩ - ১০৯), সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/ ৪৯২), তবাকাতু ইবনিস সালাহ ও পরিশিষ্ট (২/ ৭২৮), আল-ইবাদি (পৃ. ৯), আশ-শিরাজী (পৃ. ৯৭), আল-এসনভী (১/ ৩৪ - ৩৬), ইবন কাযী শুহবা (১/ ৭) এবং ইবন হিদায়াতুল্লাহ (২০ - ২১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٠)
الذى تولى غسل الشافعى، ويقال: إنَّ الربيع الموادى أعانه وكان مجاب الدعاء، ومن الزهد على طريقة صحبه. قال القضاعى في "الخطط": ولم يكن أحد من أصحاب الشافعى يحدث نفسه بالتقدم عليه في شئ من الأشياء قال أبو الفوارس السندى: وكان المزنى والربيع قرينين.

 

‌‌5 - حرملة بن يحيى التُجيبى.

أحد الحفاظ ورواة الجديد، له "المبسوط"، و"المختصر"، روى له مسلم، ولد سنة ستة وستين ومائة، ومات سنة ثلاث وقيل أربع وأربعين ومائتين.

 

‌‌6 - الحسن بن محمد بن الصباح الزعفرانى.

أحد رواة القديم، قال الماوردى: هو أثبت رواته، ودرب الزعفرانى ببغداد ومنسوب إليه وفيه مسجد الشافعى، وكان صاحب "التنبيه" يدرس فيه. قال القاضى أبو حاتم المروزى: وكان الزعفرانى من أهل اللغة. روى له البخارى، مات سنة ستين ومائتين وقال ابن السمعانى في "الأنساب" سنة تسع وأربعين ومائتين.

 

‌‌7 - الحسين بن على الكرابيسى البغدادى.

أحد رواة القديم، وكان أولا على مذهب أهل الرأى، له "الخلافيات"، مات سنة خمس وأربعين ومائتين، وقيل سنة ثمان وأربعين ومائتين. قال ابن خلكان: وهو أشبه بالصواب. نقل أبو عاصم في "الطبقات": أنَّ أبا ثور والكرابيسى قالا: إنَّ من أعسر بالحق فحلف إنه ليس عليه شئ كان بارًّا في يمينه، لأنه مضطر وقال المزنى: يكون كاذبًا

--------------------------------------------

5 - سير أعلام النبلاء (11/ 389)، وطبقات الشيرازى (ص 99)، والسبكى (1/ 257)، وابن خلكان (1/ 353)، والأعلام (2/ 174).

6 - سير أعلام النبلاء (12/ 262)، وطبقات الشيرازى (ص 100 - 101)، وطبقات السبكى (2/ 114 - 117)، وابن خلكان (1/ 356)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 740)، والعبادى (ص 23)، والإسنوى (1/ 32، 33)، وابن قاضى شهبة (1/ 12 - 13)، ابن هداية اللَّه (27 - 28).

7 - سير أعلام النبلاء (12/ 79)، وطبقات الشيرازى (ص 102)، وطبقات الشافعية للسبكى (2/ 117 - 126)، والوافى بالوفيات (12/ 430)، ابن الصلاح مع الذيل (2/ 744)، والعبادى (ص 23)، والإسنوى (1/ 29 - 30)، وابن قاضى شهبة (1/ 14 - 15)، وابن هداية اللَّه (ص 26).
যিনি শাফিঈর গোসলের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বলা হয় যে, আর-রাবি আল-মুরাদি তাকে সাহায্য করেছিলেন এবং তিনি দোয়া কবুল হওয়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তার সাথীদের পদ্ধতিতে যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা) অবলম্বনকারী ছিলেন। আল-কুযায়ি 'আল-খিতাত' গ্রন্থে বলেছেন: শাফিঈর সাথীদের মধ্যে কেউ কোনো বিষয়েই তার অগ্রবর্তী হওয়ার চিন্তা করত না। আবু আল-ফাওয়ারিস আস-সিন্দি বলেছেন: আল-মুযানী এবং আর-রাবি সমসাময়িক ছিলেন।

 

‌‌৫ - হারমালা বিন ইয়াহইয়া আত-তুজিবি.

হাফিজগণের অন্যতম এবং (শাফিঈ মাযহাবের) জাদিদ বা নতুন মতের বর্ণনাকারী। তার 'আল-মাবসুত' এবং 'আল-মুখতাসার' নামক গ্রন্থ রয়েছে। ইমাম মুসলিম তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৬৬ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৪৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ২৪৪ হিজরিতে।

 

‌‌৬ - আল-হাসান বিন মুহাম্মদ বিন আস-সাব্বাহ আজ-জাফরানি.

পুরাতন (কদিম) মতের বর্ণনাকারীদের একজন। আল-মাওয়ার্দি বলেছেন: তিনি এর বর্ণনাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। বাগদাদে জাফরানি গলি (দারবে জাফরানি) তার নামানুসারে পরিচিত এবং সেখানেই ইমাম শাফিঈর মসজিদ অবস্থিত, যেখানে 'আত-তানবিহ' গ্রন্থের লেখক পাঠদান করতেন। কাজি আবু হাতিম আল-মারওয়াযি বলেছেন: আজ-জাফরানি ভাষাবিদদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। ইমাম বুখারি তার থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৬০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং ইবনে সামআনি 'আল-আনসাব' গ্রন্থে ২৪৯ হিজরি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌৭ - আল-হুসাইন বিন আলী আল-কারাবিসি আল-বাগদাদি.

পুরাতন (কদিম) মতের বর্ণনাকারীদের অন্যতম। তিনি প্রথমে আহলে রায়ের মাযহাবের অনুসারী ছিলেন। তার 'আল-খিলাফিয়াত' নামক গ্রন্থ রয়েছে। তিনি ২৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, মতান্তরে ২৪৮ হিজরিতে। ইবনে খিল্লিকান বলেছেন: এটাই সঠিক হওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী। আবু আসিম 'আত-তাবাকাত' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন যে, আবু সাওর এবং আল-কারাবিসি বলেছেন: যার নিকট পাওনা পরিশোধের সামর্থ্য নেই এবং সে কসম করে বলে যে তার কাছে কিছুই নেই, তবে সে তার কসমে সত্যবাদী হবে, কারণ সে নিরুপায়। আর আল-মুযানী বলেছেন: সে মিথ্যাবাদী হবে।

--------------------------------------------

৫ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১১/ ৩৮৯), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ৯৯), আস-সুবকি (১/ ২৫৭), ইবনে খিল্লিকান (১/ ৩৫৩), আল-আলাম (২/ ১৭৪)।

৬ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/ ২৬২), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ১০০ - ১০১), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লিস সুবকি (২/ ১১৪ - ১১৭), ইবনে খিল্লিকান (১/ ৩৫৬), ইবনুস সালাহ মাআয যাইল (২/ ৭৪০), আল-আবাদি (পৃ. ২৩), আল-ইসনাভি (১/ ৩২, ৩৩), ইবনে কাজি শুহবা (১/ ১২ - ১৩), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (২৭ - ২৮)।

৭ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/ ৭৯), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ১০২), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লিস সুবকি (২/ ১১৭ - ১২৬), আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (১২/ ৪৩০), ইবনুস সালাহ মাআয যাইল (২/ ৭৪৪), আল-আবাদি (পৃ. ২৩), আল-ইসনাভি (১/ ২৯ - ৩০), ইবনে কাজি শুহবা (১/ ১৪ - ১৫), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (পৃ. ২৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢١)
لأنه لو لم يكن شيء لما أنظر ولا صح إبراره بل ينظر فإن كان الحبس يجهده ويضره حلف، لأنه كان مضطر، وإن لم يجهده فلا يجوز للحلف، ونقل أبو عاصم أيضًا أنَّ الكرابيسى روى عن الشافعي أنه قال: من استدان فادعى بعده أنه معسر يقبل قوله، لأنَّ المال غاد ورائح. قال أبو عاصم: ومن الغريب الذي يشاكله ما روى أبو الطيب عن القديم: أنَّ القابض والمقبوض منه إذا اختلفا في جهة الأداء فالقول قول القابض.

 

‌‌8 - الربيع بن سليمان الجيزى.

أحد الرواة عنه، مات بالجمِزة كما قاله القضاعى قبل الربيع المرادى بأربع عشرة سنة.

 

‌‌9 - الربيع بن سليمان بن عبد الجبار المرادى.

المؤذن مولى لهم، أحد الرواة عنه. قال الشافعي: هو راوية كتبى. مات سنة سبعين ومائتين، ومولده سنة ثلاث أو أربع وسبعين ومائة، ومن شعره:

"صبرًا جميلا ما أَسرع الفرجا … مَن صدق اللَّه في الأمور نجا

من خشى اللَّه لم ينله أذى … ومن رجا اللَّه كان حيث رجا".

قال أبو عاصم: روى الربيع عن الشافعي أنه قال: في الأكل أربعة أشياء فرض وأربعة سنة وأربعة أدب، فالفرض: غسل اليدين والقصعة والسكين والمغرفة، والسنة: الجلوس على الرجل اليسرى وتصغير اللقمة والمضغ الشديد ولعق الأصابع، والأدب: أن لا تمد يدك حتى يمد من هو أكبر منك وتأكل مما يليك وقلة النظر في وجوه الناس وقلة الكلام. قال القضاعى في "الخطط": والربيع هذا أخر من روى عن الشافعي بمصر، وكان جليلًا مصنفًا يحدث بكتب الشافعي كلها ونقلها الناس عنه وحدثوا بها في الآفاق، ولما ذكر الحافظ أبو الفضل الهروى في معجمه "مشتبه أسامى المحدثين": الربيع المرادى وصف بصحبة الشافعي ثم ذكر الجيزى ولم يصفه بصحبة له ثم قال: وكلاهما كانا في عصر

--------------------------------------------

8 - طبقات الشيرازى (ص 99)، وطبقات السبكي (2/ 132)، وابن خلكان (2/ 53)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 750)، والعبادى (ص 16)، والإسنوى (1/ 30 - 31)، وابن قاضى شهبة (1/ 15 - 16)، وابن هداية اللَّه (ص 25).

9 - سير أعلام النبلاء (12/ 587)، وطبقات الشيرازى (ص 198)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 751)، والعبادى (ص 12)، والسبكي (2/ 132 - 139)، والإسنوى (1/ 39 - 40)، وابن قاضى شهبة (1/ 16 - 17)، وابن هداية اللَّه (ص 24).
কারণ যদি কিছু না থাকতো তবে অবকাশ দেওয়া হতো না এবং দায়মুক্তিও সঠিক হতো না; বরং দেখা হবে, যদি কারাবাস তাকে ক্লান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করে তবে সে শপথ করবে, কারণ সে নিরুপায় ছিল। আর যদি তা তাকে ক্লান্ত না করে, তবে শপথ করা বৈধ নয়। আবু আসিম আরও উল্লেখ করেছেন যে, আল-কারাবিসি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: যে ব্যক্তি ঋণ গ্রহণ করার পর দাবি করে যে সে নিঃস্ব, তবে তার কথা গ্রহণ করা হবে; কারণ সম্পদ আসে এবং যায়। আবু আসিম বলেন: এর সদৃশ একটি বিরল বিষয় হলো যা আবু তাইয়িব আল-কাদিম (ইমাম শাফিঈর প্রাচীন মাযহাব) থেকে বর্ণনা করেছেন: যখন গ্রহণকারী এবং যার নিকট থেকে গ্রহণ করা হয়েছে তারা প্রদানের মাধ্যমের ব্যাপারে মতভেদ করে, তখন গ্রহণকারীর কথাই গ্রহণযোগ্য হবে।

 

‌‌৮ - আর-রাবি ইবনে সুলাইমান আল-জিজি.

তিনি তাঁর অন্যতম বর্ণনাকারী। আল-কুদায়ী যেমনটি বলেছেন, তিনি আর-রাবি আল-মুরাদির চৌদ্দ বছর আগে আল-জিমিজাতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌৯ - আর-রাবি ইবনে সুলাইমান ইবনে আব্দুল জব্বার আল-মুরাদি.

তিনি ছিলেন মুয়াযযিন এবং তাঁদের মুক্তদাস, তাঁর অন্যতম বর্ণনাকারী। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: তিনি আমার কিতাবসমূহের বর্ণনাকারী। তিনি ২৭০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং তাঁর জন্ম ১৭৩ অথবা ১৭৪ হিজরিতে। তাঁর কবিতার অংশ বিশেষ:

"সুন্দর ধৈর্য ধারণ করো, মুক্তি কতই না নিকটবর্তী … যে ব্যক্তি সকল বিষয়ে আল্লাহর প্রতি সত্যবাদী থাকে সে নাজাত পায়।

যে আল্লাহকে ভয় করে কোনো অনিষ্ট তাকে স্পর্শ করে না … আর যে আল্লাহর নিকট আশা রাখে, আল্লাহ তার আশানুরূপই হন।"

আবু আসিম বলেন: আর-রাবি ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেছেন: আহারের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় ফরয, চারটি সুন্নত এবং চারটি আদব। ফরয হলো: দুই হাত ধোয়া, পেয়ালা ধোয়া, ছুরি ধোয়া এবং বড় চামচ ধোয়া। সুন্নত হলো: বাম পায়ের ওপর বসা, লোকমা ছোট করা, ভালোভাবে চিবানো এবং আঙুলসমূহ চেটে খাওয়া। আর আদব হলো: তোমার চেয়ে বয়সে বড় কেউ হাত বাড়ানোর আগে তুমি হাত বাড়াবে না, নিজের সম্মুখ থেকে খাবে, মানুষের মুখের দিকে কম তাকাবে এবং কথা কম বলবে। আল-কুদায়ী 'আল-খিতাত' গ্রন্থে বলেছেন: এই রাবিই মিসরে ইমাম শাফিঈ থেকে বর্ণনা প্রদানকারী সর্বশেষ ব্যক্তি। তিনি ছিলেন একজন মহান সংকলক, যিনি ইমাম শাফিঈর সমস্ত কিতাব বর্ণনা করতেন এবং মানুষ তাঁর নিকট থেকে সেগুলো গ্রহণ করে দিগদিগন্তে বর্ণনা করেছে। হাফিজ আবু ফাদল আল-হারাওয়ি যখন তাঁর 'মুশতাবিহ আসমাইল মুহাদ্দিসিন' নামক অভিধানে রাবি আল-মুরাদিকে উল্লেখ করেন, তখন তিনি তাকে ইমাম শাফিঈর সহচর্য প্রাপ্ত হিসেবে বর্ণনা করেন। এরপর তিনি আল-জিজিকে উল্লেখ করেন কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে সহচর্য লাভের কথা বলেননি। অতঃপর তিনি বলেন: তাঁরা উভয়েই একই যুগে ছিলেন।

--------------------------------------------

৮ - তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃষ্ঠা ৯৯), তাবাকাতুস সুবকি (২/ ১৩২), ইবনে খাল্লিকান (২/ ৫৩), ইবনুস সালাহ ও তার সংযোজনী (২/ ৭৫০), আল-আব্বাদি (পৃষ্ঠা ১৬), আল-ইসনাভি (১/ ৩০ - ৩১), ইবনে কাজি শুহবা (১/ ১৫ - ১৬), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (পৃষ্ঠা ২৫)।

৯ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/ ৫৮৭), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃষ্ঠা ১৯৮), ইবনুস সালাহ ও তার সংযোজনী (২/ ৭৫১), আল-আব্বাদি (পৃষ্ঠা ১২), আস-সুবকি (২/ ১৩২ - ১৩৯), আল-ইসনাভি (১/ ৩৯ - ৪০), ইবনে কাজি শুহবা (১/ ১৬ - ১৭), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (পৃষ্ঠা ২৪)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٢)
واحد.

 

‌‌10 - عبد اللَّه بن الزبير الحميدى.

صاحب الشافعى ورفيقه في الرحلة إلى مصر، وتلميذه بعد أن كان منحرفا قال: واستفاد منه وروى عنه، مات سنة تسع عشرة ومائتين، وقيل سنة عشرين.

 

‌‌11 - عبد الرحمن بن مهدى البصرى.

الإمام. ذكره ابن الصلاح والعبادى وابن باطيش، وقد مات قبل الشافعى سنة ثمان وتسعين ومائة وهو ابن ثلاث وستين، وبعث الشافعى إليه بالرسالة مع الحارث بن سريج النقال بالبون فلذلك سمى النقال، كما قاله التفليسى في "طبقاته".

 

‌‌12 - عبد العزيز بن عمران بن أيوب بن مقلاص.

روى عنه وكان من أصحاب ابن وهب، فلما قدم الشافعى مصر لزمه وأخذ عنه، مات سنة أربع وثلاثين ومائتين.

 

‌‌13 - عبد الملك بن قُرَيب الأصمعي.

أحد أئمة الأدب روى عنه، وعنه الشافعى أيضًا ومات قبله، لأنه مات سنة ثلاث عشرة على أحد الأقوال.

 

‌‌14 - عصام بن يوسف.

--------------------------------------------

10 - سير أعلام النبلاء (10/ 616)، وطبقات الشيرازى (99 - 100)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 788)، والعبادى (15 - 16)، والسبكي (2/ 140 - 143)، والإسنوى (1/ 39 - 40)، وابن هداية اللَّه (ص 24).

11 - سير أعلام النبلاء (9/ 192)، وطبقات الشيرازى (ص 91)، وطبقات الحفاظ (ص 139)، والأنساب (11/ 39)، وطبقات ابن سعد (7/ 50)، وابن الصلاح مع الذيل (1/ 543)، والعبادى (ص 36)، وتهذيب الأسماء واللغات (1/ 304 - 305)، والإسنوى (1/ 17 - 18).

12 - طبقات ابن الصلاح (2/ 693)، وطبقات العبادى (ص 25)، وتهذيب الأسماء (2/ 302)، وطبقات السبكي (2/ 143)، وطبقات الإسنوى (2/ 143).

13 - سير أعلام النبلاء (10/ 175)، وتهذيب الأسماء (6/ 415)، والأنساب (1/ 288)، والتاريخ الصغير (2/ 337)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 799).

14 - طبقات العبادى (ص 41).
এক।

 

‌‌১০ - আবদুল্লাহ বিন আয-যুবাইর আল-হুমায়দী.

তিনি ইমাম শাফিঈর সঙ্গী এবং মিশরে তাঁর সফরসঙ্গী ছিলেন। তিনি প্রথমে বিচ্যুত থাকলেও পরে শাফিঈর ছাত্র হন। বলা হয়েছে: তিনি তাঁর থেকে উপকৃত হয়েছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২১৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ বলেছেন ২২০ হিজরিতে।

 

‌‌১১ - আবদুর রহমান বিন মাহদী আল-বাসরী.

তিনি একজন ইমাম। ইবনুস সালাহ, আল-আবাদী এবং ইবনু বাতিশ তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি ইমাম শাফিঈর পূর্বে ১৯৮ হিজরিতে তেষট্টি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম শাফিঈ তাঁর কাছে আল-হারিস বিন সুরাইজ আন-নাক্কালের মাধ্যমে 'আর-রিসালা' (গ্রন্থটি) প্রেরণ করেছিলেন। এ কারণেই তাকে 'নাক্কাল' (বাহক) বলা হয়, যেমনটি আত-তাফলিসী তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌১২ - আবদুল আযীয বিন ইমরান বিন আইয়ুব বিন মিকলাস.

তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি ইবনে ওয়াহবের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। যখন ইমাম শাফিঈ মিশরে আসলেন, তিনি তাঁর সাথে সংলগ্ন হলেন এবং তাঁর থেকে ইলম গ্রহণ করলেন। তিনি ২৩৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌১৩ - আবদুল মালিক বিন কুরাইব আল-আসমাঈ.

আদব বা সাহিত্যের অন্যতম ইমাম। তিনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং শাফিঈও তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি শাফিঈর পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেন, কেননা বিভিন্ন মতের একটি অনুযায়ী তিনি ২১৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন।

 

‌‌১৪ - ইসাম বিন ইউসুফ.

--------------------------------------------

১০ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১০/ ৬১৬), তাবাকাতুশ শিরাজী (৯৯ - ১০০), ইবনুস সালাহ মা'আয যাইল (২/ ৭৮৮), আল-আবাদী (১৫ - ১৬), আস-সুবকী (২/ ১৪০ - ১৪৩), আল-ইসনাভী (১/ ৩৯ - ৪০), ইবনু হিদায়াতিল্লাহ (পৃ. ২৪)।

১১ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (৯/ ১৯২), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ৯১), তাবাকাতুল হুফফাজ (পৃ. ১৩৯), আল-আনসাব (১১/ ৩৯), তাবাকাতু ইবনি সাদ (৭/ ৫০), ইবনুস সালাহ মা'আয যাইল (১/ ৫৪৩), আল-আবাদী (পৃ. ৩৬), তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/ ৩০৪ - ৩০৫), আল-ইসনাভী (১/ ১৭ - ১৮)।

১২ - তাবাকাতু ইবনিস সালাহ (২/ ৬৯৩), তাবাকাতুল আবাদী (পৃ. ২৫), তাহযীবুল আসমা (২/ ৩০২), তাবাকাতুস সুবকী (২/ ১৪৩), তাবাকাতুল ইসনাভী (২/ ১৪৩)।

১৩ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১০/ ১৭৫), তাহযীবুল আসমা (৬/ ৪১৫), আল-আনসাব (১/ ২৮৮), আত-তারীখুস সাগীর (২/ ৩৩৭), ইবনুস সালাহ মা'আয যাইল (২/ ৭৯৯)।

১৪ - তাবাকাতুল আবাদী (পৃ. ৪১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٣)
ذكر الرافعى في الوصايا أنَّه روى عن الشافعى قولًا: إن ما أوصى به إلى الفقراء إلا يجوز صرفه التي المسكين ويجوز عكسه، وذكر النووي في "تهذيبه" ولم يزد، وينبغي أن يعلم أن هذا ليس من أصحابنا وإنما هو من أئمة الحنفية. وقد ذكره العبادى أيضًا في "طبقاته" لأجل هذه الحكاية فقط.

 

‌‌15 - على بن عبد اللَّه بن المدينى.

أحد الأئمة، كتب عن الشافعى الرسالة وحملها إلى ابن مهدى قاله الشيخ أبو إسحاق في "طبقاته"، وسيأتي في الطبقة الثانية بعد تقصى أصحاب الوجوه، وسلف قريبًا أن الحامل لها الحارث النقال عن كلام العبادى، فإن صح النقلان فيجوز أن يكون أحدهما حمل الرسالة القديمة والآخر الجديدة.

 

‌‌16 - القاسم بن سلام أبو عبيد البغدادى.

صاحب التصانيف روى عنه، ومات بمكة سنة أربع وعشرين ومائتين، من تصانيفه "التقريب"، و"الأموال"، و"الطهور".

 

‌‌17 - محمد بن عبد اللَّه بن الحكم.

صاحب الشافعى، ثم انتقل إلى مذهب مالك، ولد سنة اثنتين وثمانين ومائة ومات سنة ثمان، وقال ابن قانع: سنة تسع وستين ومائتين.

 

‌‌18 - محمد بن الإمام الشافعى.

--------------------------------------------

15 - طبقات الشوازى (ص 85 ، 103، 149، 164)، وسير أعلام النبلاء (11/ 41)، وتهذيب الأسماء (7/ 349)، وطبقات الحفاظ (ص 184)، وشذرات الذهب (2/ 81)، والعبر (1/ 418)، وتاريخ بغداد (11/ 458)، والسبكى (1/ 266)، والعبادى (ص 103).

16 - سير أعلام النبلاء (10/ 490)، وطبقات الشيرازى (ص 92)، تهذيب الأسماء (8/ 315)، ووفيات الأعيان (4/ 60)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 829)، والسبكى (2/ 153 - 160)، وابن قاضى شهبة (1/ 19).

17 - تقريب التهذيب (2/ 178)، وتهذيب التهذيب (9/ 260) والميزان (3/ 611)، وابن الصلاح (1/ 191)، والعبادى (ص 20)، والشيرازى (ص 99)، والسبكى (2/ 67 - 71)، والإسنوى (1/ 36 - 37) ، وابن قاضى شهبة (1/ 21)، وحسن المحاضرة (1/ 309).

18 - ابن الصلاح مع الذيل (2/ 870 - 871)، والعبادى (ص 26)، والسبكى (2/ 71 - 74)، والإسنوى (1/ 22)، وابن عبد البر (ص 111).
রাফেয়ি 'ওসায়া' (অসিয়তসমূহ) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি শাফেয়ি থেকে একটি মত বর্ণনা করেছেন: ফকিরদের জন্য যা অসিয়ত করা হয়েছে তা মিসকিনদের প্রদান করা জায়েজ নয়, তবে এর বিপরীতটি জায়েজ। নববি তাঁর 'তহজিব'-এ এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর বেশি কিছু বৃদ্ধি করেননি। এটি জেনে রাখা উচিত যে, তিনি আমাদের (শাফেয়ি) মাযহাবের অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত নন, বরং তিনি হানাফি ইমামদের একজন। আল-আব্বাদিও তাঁর 'তাবাকাত'-এ কেবল এই বর্ণনার খাতিরেই এটি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌১৫ - আলী বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-মাদিনি.

ইমামদের একজন। তিনি শাফেয়ি থেকে 'আল-রিসালা' গ্রন্থটি লিখেছিলেন এবং ইবনে মাহদির নিকট নিয়ে গিয়েছিলেন; শায়খ আবু ইসহাক তাঁর 'তাবাকাত'-এ এটি বলেছেন। অচিরেই 'আসহাবুল অজুহ' (মৌলিক মতের প্রবক্তাগণ) সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনার পর দ্বিতীয় স্তরে তাঁর বর্ণনা আসবে। ইতিপূর্বে গত হয়েছে যে, আব্বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী এটি বহনকারী ছিলেন হারিস আন-নাক্কাল। যদি উভয় বর্ণনা সঠিক হয়, তবে সম্ভব যে তাঁদের একজন 'রিসালা কাদিমা' (পুরাতন সংস্করণ) এবং অন্যজন 'রিসালা জাদিদা' (নতুন সংস্করণ) বহন করেছিলেন।

 

‌‌১৬ - আল-কাসিম বিন সাল্লাম আবু উবাইদ আল-বাগদাদি.

বহু গ্রন্থের প্রণেতা, তিনি তাঁর (শাফেয়ি) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২২৪ হিজরি সনে মক্কায় ইন্তেকাল করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে 'আত-তাকরিব', 'আল-আমওয়াল' এবং 'আত-তুহুর'।

 

‌‌১৭ - মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-হাকাম.

শাফেয়ির ছাত্র, পরবর্তীতে তিনি মালিকি মাযহাবে স্থানান্তরিত হন। তিনি ১৮২ হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০৮ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে কানি' বলেছেন: ২৬৯ হিজরি সনে।

 

‌‌১৮ - ইমাম শাফেয়ির পুত্র মুহাম্মাদ.

--------------------------------------------

১৫ - তাবাকাতুশ শিরাজি (পৃ. ৮৫, ১০৩, ১৪৯, ১৬৪), সিয়ারু আলামিন নুবালা (১১/৪১), তহজিবুল আসমা (৭/৩৪৯), তাবাকাতুল হুফফাজ (পৃ. ১৮৪), শাযারাতুয যাহাব (২/৮১), আল-ইবার (১/৪১৮), তারিখু বাগদাদ (১১/৪৫৮), আস-সুবকি (১/২৬৬), আল-আব্বাদি (পৃ. ১০৩)।

১৬ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১০/৪৯০), তাবাকাতুশ শিরাজি (পৃ. ৯২), তহজিবুল আসমা (৮/৩১৫), ওয়াফায়াতুল আইয়ান (৪/৬০), ইবনুস সালাহ ও পরিশিষ্ট (২/৮২৯), আস-সুবকি (২/১৫৩-১৬০), ইবনে কাজি শুহবা (১/১৯)।

১৭ - তাকরিবুত তহজিব (২/১৭৮), তহজিবুত তহজিব (৯/২৬০), আল-মিজান (৩/৬১১), ইবনুস সালাহ (১/১৯১), আল-আব্বাদি (পৃ. ২০), আশ-শিরাজি (পৃ. ৯৯), আস-সুবকি (২/৬৭-৭১), আল-ইসনাবি (১/৩৬-৩৭), ইবনে কাজি শুহবা (১/২১), হুসনুল মুহাযারা (১/৩০৯)।

১৮ - ইবনুস সালাহ ও পরিশিষ্ট (২/৮৭০-৮৭১), আল-আব্বাদি (পৃ. ২৬), আস-সুবকি (২/৭১-৭৪), আল-ইসনাবি (১/২২), ইবনে আব্দুল বার (পৃ. ১১১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٤)
ووى عن أبيه قاله الدارقطنى. مات سنة إحدى وثلاثين ومائتين، قال ابن يونس: وأخوه محمد أكبر منه يروى عن ابن عيينة، مات سنة خمس ومائتين بالثغر قلت: هو قاضى الجزيرة وأعمالها، ووهم من قال ولى بغداد، وكنيته أبو عثمان، عاتبه والده يوما فقال له: لو علمت أنَّ الماء البارد يثلم من مروءتى ما شربته إلَّا حارًّا.

 

‌‌19 - موسى بن أبي الجارود أبو الوليد المكى.

راوى "الأمالي" وغيره.

 

‌‌20 - يوسف بن يحيى أبو يعقوب البويطى.

راوية الشافعى وخليفته وأول من حمل كتبه إلى بخارى، امتحن فصبر، ومات في السجن سنة اثنتين وثلاثين ومائتين قاله ابن يونس، وقال غيره: سنة إحدى وصححه ابن خلكان، وجزم به النووى في "شرح المهذب"، وفي الصلة لمسلمة أمر غريب فانظره، قال: ألف على مذهب الشافعى كتابًا، سمعت أبا عمر وعثمان بن محمد العثمانى يقول: ليس بمرضى عند أصحابنا لأنه يَحسن تأليفه.

 

‌‌21 - يونس بن عبد الأعلى.

الثقة. أحد رواة الجديد، ومات سنة مات المزني، ودفن بمقابر الصدقب مصر وكان

--------------------------------------------

19 - طبقات الشيرازى (ص 100)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 890)، والعبادى (ص 25)، ابن عبد البر (ص 100)، والسبكى (2/ 161، 162)، والإسنوى (1/ 38)، وابن قاضى شهبة (1/ 22 - 23)، وابن هداية اللَّه (ص 29).

20 - سير أعلام النبلاء (12/ 58)، وطبقات الشيرازى (ص 98)، وطبقات السبكي (2/ 162 - 170)، والعبادى (ص 7)، والإسنوى (1/ 20 - 22)، وحسن المحاضرة (1/ 123)، تهذيب التهذيب (11/ 427)، وتاريخ بغداد (14/ 299)، وابن قاضى شهبة (1/ 23 - 25)، والإنساب (ص 340)، ووفيات الأعيان (7/ 61)، وابن هداية اللَّه (16 - 19).

21 - سير أعلام النبلاء (12/ 348)، وطبقات الشيرازى (ص 99)، وطبقات السبكى (2/ 170 - 180)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 906)، والعبادى (ص 18)، وتهذيب التهذيب (11/ 44)، وطبقات الحفاظ (ص 230)، والإسنوى (1/ 33 - 34)، والجرح والتعديل (9/ 1022)، والعبر (2/ 68)، وحسن المحاضرة (1/ 309)، وابن قاضى شهبة (1/ 25 - 26)، وابن هداية اللَّه (ص 28).
তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, দারা কুতনী এমনটিই বলেছেন। তিনি দুইশত একত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইবনে ইউনুস বলেছেন: তাঁর ভাই মুহাম্মদ তাঁর চেয়ে বড় ছিলেন, তিনি ইবনে উইয়াইনা থেকে বর্ণনা করেন এবং দুইশত পাঁচ হিজরিতে সীমান্ত এলাকায় মৃত্যুবরণ করেন। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি জাজিরা ও তৎসংলগ্ন অঞ্চলের কাজি ছিলেন। যিনি বলেছেন তিনি বাগদাদের দায়িত্ব পালন করেছেন, তিনি ভুল করেছেন। তাঁর উপনাম আবু উসমান। তাঁর পিতা একদিন তাঁকে তিরস্কার করলে তিনি বলেছিলেন: যদি আমি জানতাম যে ঠান্ডা পানি পান করা আমার ব্যক্তিত্বকে ক্ষুণ্ণ করবে, তবে আমি তা কেবল গরম অবস্থাতেই পান করতাম।

 

‌‌১৯ - মুসা বিন আবিল জারুদ আবু ওয়ালিদ আল-মাক্কি

তিনি "আল-আমালি" ও অন্যান্য গ্রন্থের বর্ণনাকারী।

 

‌‌২০ - ইউসুফ বিন ইয়াহইয়া আবু ইয়াকুব আল-বুয়াইতি

তিনি ইমাম শাফিঈর বর্ণনাকারী ও তাঁর স্থলাভিষিক্ত এবং প্রথম ব্যক্তি যিনি তাঁর কিতাবসমূহ বুখারায় বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি পরীক্ষার (ফিতনা) সম্মুখীন হন এবং ধৈর্য ধারণ করেন। তিনি দুইশত বত্রিশ হিজরিতে কারাগারে মৃত্যুবরণ করেন, ইবনে ইউনুস এমনটিই বলেছেন। অন্যরা বলেছেন: দুইশত একত্রিশ হিজরি, এবং ইবনে খালিকান একে সঠিক বলেছেন। ইমাম নববী "শারহুল মুহাযযাব" গ্রন্থে এটি নিশ্চিত করেছেন। মাসলামার "আস-সিলাহ" গ্রন্থে একটি আশ্চর্যজনক বিষয় রয়েছে, তা দেখে নিন। তিনি বলেছেন: তিনি শাফিঈ মাজহাবের ওপর একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমি আবু ওমর ও উসমান বিন মুহাম্মদ আল-উসমানিকে বলতে শুনেছি: তিনি আমাদের সাথীদের (মাযহাবের আলিমদের) নিকট সন্তোষজনক নন, কারণ তিনি তাঁর রচনাকে অত্যন্ত অলঙ্কৃত করতেন।

 

‌‌২১ - ইউনুস বিন আব্দুল আলা

তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। (ইমাম শাফিঈর) নতুন মতবাদের (জাদিদ) অন্যতম বর্ণনাকারী। তিনি সেই বছরই মৃত্যুবরণ করেন যে বছর আল-মুজানি মৃত্যুবরণ করেছিলেন এবং মিশরের মাকাবিরুস সিদক-এ তাঁকে দাফন করা হয়। তিনি ছিলেন...

--------------------------------------------

১৯ - তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ১০০), ইবনুস সালাহ ও তাঁর যাইল (২/ ৮৯০), আল-আবাদী (পৃ. ২৫), ইবনে আব্দুল বার (পৃ. ১০০), আস-সুবকী (২/ ১৬১, ১৬২), আল-ইসনাভী (১/ ৩৮), ইবনে কাজি শুহবা (১/ ২২-২৩), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (পৃ. ২৯)।

২০ - সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/ ৫৮), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ৯৮), তাবাকাতু আস-সুবকী (২/ ১৬২-১৭০), আল-আবাদী (পৃ. ৭), আল-ইসনাভী (১/ ২০-২২), হুসনুল মুহাদারা (১/ ১২৩), তাহযিবুত তাহযিব (১১/ ৪২৭), তারিখু বাগদাদ (১৪/ ২৯৯), ইবনে কাজি শুহবা (১/ ২৩-২৫), আল-আনসাব (পৃ. ৩৪০), ওয়াফায়াতুল আইয়ান (৭/ ৬১), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (১৬-১৯)।

২১ - সিয়ারু আ'লামিন নুবালা (১২/ ৩৪৮), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ৯৯), তাবাকাতু আস-সুবকী (২/ ১৭০-১৮০), ইবনুস সালাহ ও তাঁর যাইল (২/ ৯০৬), আল-আবাদী (পৃ. ১৮), তাহযিবুত তাহযিব (১১/ ৪৪), তাবাকাতুল হুফফাজ (পৃ. ২৩০), আল-ইসনাভী (১/ ৩৩-৩৪), আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (৯/ ১০২২), আল-ইবার (২/ ৬৮), হুসনুল মুহাদারা (১/ ৩০৯), ইবনে কাজি শুহবা (১/ ২৫-২৬), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (পৃ. ২৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٥)
مولده سنة ستين ومائة، قال القضاعى في "الخطط": ويقال إنه أقام ستين سنة شاهدًا، قال: وولده أحمد مات سنة اثنتين وثلاثمائة وولد ولده عبد الرحمن مات سنة سبع وأربعين وثلاثمائة.

 

فائدة: لهم يوسف بن عبد الأعلى ذكره العبادى وقال: كان أحد فقهاء عصره، أخذ عن المزنى وسيأتى في‌‌ الطبقة الثانية من الطبقة الثانية.

‌‌22 - أخت الإمام إسماعيل المزنى.

حكت عن الشافعى أنه يشترط الحول في زكاة المعدن نقله المزنى، قالوا: ولم يجب تسميتها، وقد قيل إنها كانت ممن تحضر مجلس الشافعى. وبقيت طبقة أخرى ممن روت عن الشافعى نذكرها إن شاء اللَّه تعالى في الطبقة الثانية بعد الفراغ من الطبقة بكمالها إن شاء اللَّه.

 

الطبقة الثانية

 

‌‌23 - إبراهيم بن إسحاق بن بشير أبو إسحاق العربى.

الفقيه الحافظ. ولد سنة ثمان وتسعين ومائة، سمع مسددًا وغيره، وعنه ابن صاعد وغيره، أثنى عليه الخطيب قال أبو عاصم: لم يكن ببغداد أفقه ولا أأدب منه، وذكر أنه أباح نكاح المجوسيات قال: وقيل إنه خالف الإجماع. قلت: لكن وافقه ابن حربويه وأبو إسحاق وأبو ثور كما سلف في تركته بناء على أنه ذو كتاب. مات سنة خمس وثمانين ومائتين قاله الشيخ أبو إسحاق.

 

‌‌24 - إبراهيم بن محمد البلدى أبو محمد.

روى عن الشافعى الرجوع عن نجاسة شعر الآدمى، كذا ذكره العبادى في هذه الطبقة وباسم والده، ولم ينفرد الغزالي في "وسيطه" بهذه الحكاية فقد حكاها العبادى

--------------------------------------------

22 - ابن الصلاح مع الذيل (2/ 723)، والإسنوي (1/ 44).

23 - سير أعلام النبلاء (13/ 356)، وطبقات الشيرازى (ص 171)، وطبقات العبادى (ص 50)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 699)، والسبكى (2/ 256 - 257)، والإسنوى (1/ 396 - 397)، وابن هداية اللَّه (ص 36).

24 - سير أعلام النبلاء (5/ 379)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 701)، والعبادى (ص 41)، والسبكى (2/ 255)، والإسنوى (1/ 216).
তাঁর জন্ম একশত ষাট হিজরি সনে। আল-কুদায়ী 'আল-খিতাত' গ্রন্থে বলেছেন: বলা হয় যে তিনি ষাট বছর সাক্ষী হিসেবে অবস্থান করেছিলেন। তিনি বলেন: তাঁর পুত্র আহমদ তিনশত দুই হিজরি সনে এবং তাঁর পৌত্র আবদুর রহমান তিনশত সাতচল্লিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

 

একটি বিশেষ তথ্য: তাঁদের মধ্যে ইউসুফ ইবনে আবদিল আ'লাও রয়েছেন, আল-আব্বাদি তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি তাঁর যুগের অন্যতম ফকিহ ছিলেন। তিনি আল-মুজানি থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন এবং তাঁর বর্ণনা দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত দ্বিতীয় স্তরে সামনে আসবে।

‌‌২২ - ইমাম ইসমাইল আল-মুজানির বোন।

তিনি ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন যে খনিজ সম্পদের জাকাতের ক্ষেত্রে এক বছর অতিক্রান্ত হওয়া শর্ত; আল-মুজানি এটি উদ্ধৃত করেছেন। তাঁরা বলেন: তাঁর নাম উল্লেখ করা জরুরি নয়। বলা হয় যে, তিনি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ইমাম শাফেয়ির মজলিসে উপস্থিত থাকতেন। ইমাম শাফেয়ি থেকে বর্ণনা করেছেন এমন আরও একটি স্তর অবশিষ্ট রয়েছে, যা ইনশাআল্লাহ তাআলা আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে এই স্তরটি শেষ করার পর দ্বিতীয় স্তরে উল্লেখ করব ইনশাআল্লাহ।

 

দ্বিতীয় স্তর

 

‌‌২৩ - ইব্রাহিম ইবনে ইসহাক ইবনে বাশির আবু ইসহাক আল-আরাবি।

ফকিহ ও হাফেজ। তিনি একশত আটানব্বই হিজরি সনে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মুসাদ্দাদ ও অন্যদের নিকট শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর থেকে ইবনে সায়িদ ও অন্যরা বর্ণনা করেছেন। আল-খতিব তাঁর প্রশংসা করেছেন। আবু আসিম বলেন: বাগদাদে তাঁর চেয়ে বিজ্ঞ ফকিহ ও শিষ্টাচারসম্পন্ন কেউ ছিল না। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি অগ্নিপূজক নারীদের বিবাহ বৈধ মনে করতেন। তিনি বলেন: বলা হয়েছে যে তিনি ইজমার বিরোধিতা করেছেন। আমি বলছি: তবে ইবনে হারবুয়াহ, আবু ইসহাক ও আবু সাওর তাঁর সাথে একমত পোষণ করেছেন, যেমনটি তাঁর মীরাস সংক্রান্ত আলোচনায় গত হয়েছে, এই ভিত্তিতে যে তারা কিতাবধারী ছিল। তিনি দুইশত পঁচাশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন; শায়খ আবু ইসহাক এটি বলেছেন।

 

‌‌২৪ - ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আল-বালাদি আবু মুহাম্মদ।

তিনি মানুষের চুলের নাপাক হওয়ার মত থেকে ইমাম শাফেয়ির প্রত্যাবর্তনের কথা বর্ণনা করেছেন। আল-আব্বাদি তাঁর পিতার নামসহ এই স্তরে এভাবেই উল্লেখ করেছেন। আল-গাজালি তাঁর 'ওয়াসিত' গ্রন্থে এককভাবে এই বর্ণনাটি দেননি, বরং আল-আব্বাদিও এটি বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

২২ - ইবনে সালাহ মাআয যায়ল (২/ ৭২৩) এবং আল-ইসনাভি (১/ ৪৪)।

২৩ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ৩৫৬), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ১৭১), তাবাকাতুল আব্বাদি (পৃ. ৫০), ইবনে সালাহ মাআয যায়ল (২/ ৬৯৯), আস-সুবকি (২/ ২৫৬-২৫৭), আল-ইসনাভি (১/ ৩৯৬-৩৯৭), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (পৃ. ৩৬)।

২৪ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (৫/ ৩৭৯), ইবনে সালাহ মাআয যায়ল (২/ ৭০১), আল-আব্বাদি (পৃ. ৪১), আস-সুবকি (২/ ২৫৫), আল-ইসনাভি (১/ ২১৬)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٦)
والماوردى والإمام.

 

‌‌25 - أحمد بن سيار المروزى.

له كتاب في "أخبار مَرْو" انفرد بقوله من بين الأصحاب إذا لم يرفع يديه للافتتاح أن صلاته تبطل، ولم ينفرد به من بين العلماء كما أوضحته في "شرح المنهاج" فراجعه منه فإنه من المهمات، ونقل عنه أيضًا ايجاب الأذان للجمعة دون غيرها، مات سنة ثمان وستين ومائتين عن سبعين سنة.

فائدة: المروزى نسبة إلى مرو زادوا عليها الزاى شذوذًا، وهي إحدى مدن خراسان الكبيرة، فإنها أربعة نيسابور وهراة وبلخ ومرو وهي أعظمها ولهذا يلقب أصحابنا بالخراسانيين تارة وبالمراوزة أخرى، والمراد بمرو إذا أطلقت مرو الشاهجان ومعناه روح الملك، فالشاه الملك وجان هو الروح إلَّا أنَّ العجم تقدم المضاف إليه على المضاف، وأما مرو الروذ فإنها تستعمل مهملة.

 

‌‌26 - أحمد بن شعيب بن على النسائى.

أحد الأئمة الجامعين بين الفقة والحديث له "السنن الكبرى" و"الصغرى" وغيرهما، سمع ابن راهويه وغيره، وأخذ عن يونس بن عبد الأعلى، مات سنة ثلاث وثلاثمائة، ودفن بالرملة وقيل بمكة.

 

‌‌27 - أحمد بن عبد اللَّه بن يوسف أبو بكر.

ذكره أبو عاصم العبادى وحكى عنه أنه قال: سمعت المزنى يقول وقد سئل عن رجل تزوج امرأة على بيت متعين فقال: يجوز إذا كان على معنى قول الشافعى إذا كان مثل

--------------------------------------------

25 - سير أعلام النبلاء (12/ 609)، وطبقات الشافعية للسبكى (2/ 183)، وطبقات الإسنوى (2/ 20)، وتهذيب الأسماء واللغات (1/ 146).

26 - سير أعلام النبلاء (14/ 125)، تهذيب التهذيب (1/ 36)، وطبقات العبادى (ص 51)، وطبقات الإسنوى (2/ 480)، وطبقات الشافعية للسبكى (2/ 83)، ووفيات الأعيان (1/ 59).

27 - سير أعلام النبلاء (14/ 426)، وطبقات العبادى (ص 60)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 708)، والسبكى (2/ 184)، والإسنوى (2/ 23 - 24)، وابن قاضى شهبة (1/ 47)، وابن هداية اللَّه (141 - 142).
এবং আল-মাওয়ার্দি ও আল-ইমাম।

 

‌‌২৫ - আহমাদ ইবনে সাইয়্যার আল-মারওয়াযি।

তাঁর 'আখবারু মারওয়' (মারওয়-এর সংবাদ) নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। তিনি শাফিঈ সাথীদের মধ্যে এই মতে একক ছিলেন যে, সালাত শুরুর সময় (তাকবীরে তাহরিমা) হাত না উঠালে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। তবে আলেমদের মধ্যে তিনি এই মতে একক নন, যেমনটি আমি 'শারহুল মিনহাজ'-এ স্পষ্ট করেছি; তাই সেখান থেকে এটি দেখে নিন, কারণ এটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত। তাঁর থেকে অন্য সালাত ব্যতীত কেবল জুমার জন্য আযান ওয়াজিব হওয়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে। তিনি ২৬৮ হিজরিতে সত্তর বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন।

টীকা: 'মারওয়াযি' নিসবতটি (সম্বন্ধ) মারওয়-এর দিকে, যেখানে ব্যাকরণ বহির্ভূতভাবে একটি 'যা' (য) যোগ করা হয়েছে। এটি খোরাসানের অন্যতম বৃহৎ শহর; কারণ খোরাসানের প্রধান শহর চারটি: নিশাপুর, হারাত, বলখ এবং মারওয়, আর এটিই তাদের মধ্যে সর্ববৃহৎ। এই কারণেই আমাদের সাথীদের কখনো 'খোরাসানি' আবার কখনো 'মারওয়াযি' উপাধিতে অভিহিত করা হয়। সাধারণত 'মারওয়' বলতে 'মারওয় আশ-শাহজাহান' বোঝানো হয়, যার অর্থ 'রাজার আত্মা'। এখানে 'শাহ' অর্থ রাজা এবং 'জান' অর্থ আত্মা; তবে অনারবীয় ব্যাকরণ অনুযায়ী তারা মুদাফ ইলাইহি-কে মুদাফের আগে ব্যবহার করে। আর 'মারওয় আর-রূদ'-এর ক্ষেত্রে নিসবতটি সাধারণত পূর্ণরূপেই ব্যবহৃত হয়।

 

‌‌২৬ - আহমাদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী আন-নাসায়ি।

তিনি ফিকহ ও হাদিস শাস্ত্রের সমন্বয়কারী ইমামদের একজন। তাঁর রচিত গ্রন্থের মধ্যে 'আস-সুনানুল কুবরা' ও 'আস-সুনানুল সুগরা' এবং অন্যান্য গ্রন্থ অন্যতম। তিনি ইবনে রাহওয়াইহ ও অন্যদের থেকে হাদিস শুনেছেন এবং ইউনুস ইবনে আবদিল আলা থেকে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তিনি ৩০৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং রামলায় সমাধিস্থ হন; মতান্তরে মক্কায়।

 

‌‌২৭ - আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে ইউসুফ আবু বকর।

আবু আসিম আল-আবাদি তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমি আল-মুজানিকে বলতে শুনেছি—যখন তাঁকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে একটি নির্দিষ্ট গৃহ মোহর হিসেবে নির্ধারণ করে কোনো নারীকে বিবাহ করেছে—তিনি বললেন: এটি জায়েজ হবে যদি তা ইমাম শাফিঈর সেই উক্তির মর্মার্থের অনুরূপ হয় যখন সেটি...

--------------------------------------------

২৫ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/ ৬০৯), তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ লিস-সুবকি (২/ ১৮৩), তাবাকাতুল ইসনাওয়ি (২/ ২০), তাহযিবুল আসমা ওয়াল লুগাত (১/ ১৪৬)।

২৬ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৪/ ১২৫), তাহযিবুত তাহযিব (১/ ৩৬), তাবাকাতুল আবাদি (পৃ. ৫১), তাবাকাতুল ইসনাওয়ি (২/ ৪৮০), তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ লিস-সুবকি (২/ ৮৩), ওয়াফায়াতুল আইয়ান (১/ ৫৯)।

২৭ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৪/ ৪২৬), তাবাকাতুল আবাদি (পৃ. ৬০), ইবনুস সালাহ মাআয যায়িল (২/ ৭০৮), আস-সুবকি (২/ ১৮৪), আল-ইসনাওয়ি (২/ ২৩ - ২৪), ইবনে কাদি শুহবাহ (১/ ৪৭), ইবনে হিদায়াতুল্লাহ (১৪১ - ১৪২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٧)
قول القائل:

"يقول المرءُ أن يعطى مُناه … ويأبى اللَّه إلا ما أرادا،

يقول المرء فائدتى ومالى … وتقوى اللَّه كثير ما استفادا".

والرافعى نقل هذه الحكاية عن القفال الشاشى عنه في الصداق، وروى عن المزنى قال: قال الشافعى فيمن تكشف في الحمام: إنها لا تقبل شهادته لأن الستر فرض. مات سنة ست عشرة وثلاثمائة، وقيل سنة خمس عشرة وهو وهم كما نبه عليه الخطيب.

 

‌‌28 - إسحاق بن أبى عمران الإسفرائينى.

والد أبى عوانة يعقوب الحافظ، تفقه بالمزنى وسمع "المبسوط" من الربيع، مالك باسفرائين سنة أربع وثمانين ومائتين.

 

‌‌29 - داود بن على الظاهرى.

إمام أهل الظاهر. ولد سنة مائتين، وقال الشيخ أبو إسحاق: سنة اثنتين ومائتين، وكان أبوه حنفيًّا، أخذ هو العلم عن أبى ثور وغيره، وكان من المتعصبين للشافعى، صنف كتابين في فضائله، وقيل كان في مجلسه أربع مائة صاحب طيلسان أخضر، مات سنة سبعين ومائتين ببغداد ذكره العبادى في طبقاته قال: ومن اختياراته أن الجمعة تصلى في مسجد العشائر يقول أبى ثور، ومنها: إذا قال الرجل لامرأتيه إذا ولدتما ولدًا فعبدى حر، يجب أن تلد كل واحدة منهما ولدًا، واختار المزنى أيهما ولدت عتق.

واختار غيره أنه محال، ووهم الأستاذ أبو منصور حيث قال فيما نقضه على أبى عبد اللَّه الجرجانى الحنفى: إن داود هذا من تلامذة الشافعى؛ لأنه كان عمره عند موت الشافعى أربعًا أو دونها ولعله أراد بالتلمذة كونه من أتباعه، وإنكاره القياس لا تخرجه عنهم.

--------------------------------------------

28 - سير أعلام النبلاء (13/ 456)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 724)، والسبكى (2/ 258 - 259).

29 - سير أعلام النبلاء (13/ 197)، وطبقات الشيرازى (ص 92)، وطبقات الحفاظ (ص 253)، والوافى بالوفيات (13/ 473)، وتاريخ بغداد (8/ 369)، ولسان الميزان (2/ 422)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 749)، والعبادى (ص 58)، والسبكى (2/ 284 - 293)، وابن قاضى شهبة (1/ 32 - 33).
বক্তার কথা:

"একজন মানুষ বলে যে তাকে যেন তার আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেওয়া হয় … কিন্তু আল্লাহ তিনি যা চান তা ছাড়া আর কিছু হতে দেন না,

মানুষ বলে আমার লাভ এবং আমার সম্পদ … অথচ আল্লাহর তাকওয়াই হলো তার সবচেয়ে বড় অর্জন।"

আর রাফেয়ি এই কাহিনীটি আল-কাফফাল আশ-শাশশি থেকে মোহর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। আর মুজানি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: ইমাম শাফেয়ি সেই ব্যক্তি সম্পর্কে বলেছেন যে গোসলখানায় নিজেকে অনাবৃত করে: তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে না, কারণ সতর ঢাকা ফরজ। তিনি ৩১৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ বলেছেন ৩১৫ হিজরি, তবে এটি একটি ভুল ধারণা যেমনটি খতিব আল-বাগদাদি সতর্ক করেছেন।

 

‌‌২৮ - ইসহাক ইবনে আবি ইমরান আল-ইসফারায়িনি।

তিনি হাফেজ আবু আওয়ানা ইয়াকুবের পিতা। তিনি মুজানির নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন এবং রাবি’র নিকট থেকে "আল-মাবসুত" শ্রবণ করেছেন। তিনি ২৮৪ হিজরিতে ইসফারায়িনে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌২৯ - দাউদ ইবনে আলী আদ-জাহিরি।

জাহিরি মাজহাবের ইমাম। তিনি ২০০ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন, এবং শেখ আবু ইসহাক বলেছেন: ২০২ হিজরিতে। তার পিতা হানাফি ছিলেন। তিনি আবু সাওর এবং অন্যদের কাছ থেকে জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি ইমাম শাফেয়ির কট্টর সমর্থকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তার গুণাবলীতে দুটি বই সংকলন করেছিলেন। বলা হয় যে তার মজলিসে চারশ জন সবুজ চাদর পরিহিত ব্যক্তি উপস্থিত থাকত। তিনি ২৭০ হিজরিতে বাগদাদে মৃত্যুবরণ করেন। আল-আবাদি তার 'তাবাকাত' গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তার পছন্দসই মতগুলোর মধ্যে একটি হলো জুমার নামাজ গোত্রীয় মসজিদেও পড়া যায়, যা আবু সাওরও বলেছেন। আরেকটি হলো: যদি কোনো ব্যক্তি তার দুই স্ত্রীকে বলে, 'যদি তোমরা সন্তান জন্ম দাও তবে আমার দাস মুক্ত', তবে শর্ত পূরণের জন্য তাদের প্রত্যেকের একটি করে সন্তান জন্ম দিতে হবে; অন্যদিকে মুজানি মত দিয়েছেন যে তাদের যে কেউ জন্ম দিলেই মুক্ত হয়ে যাবে। অন্য কেউ কেউ এটিকে অসম্ভব বলে মনে করেছেন। উস্তাদ আবু মনসুর যখন আবু আবদুল্লাহ আল-জুরজানি হানাফির খণ্ডন করছিলেন, তখন তিনি একটি ভুল করেছেন এই বলে যে, এই দাউদ শাফেয়ির সরাসরি ছাত্রদের অন্তর্ভুক্ত; কারণ শাফেয়ির মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর বা তারও কম। সম্ভবত তিনি 'ছাত্র' বলতে তার অনুসারী হওয়া বুঝিয়েছেন, আর তার কিয়াস অস্বীকার করা তাকে তাদের গণ্ডি থেকে বের করে দেয় না।

--------------------------------------------

২৮ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ৪৫৬), ইবনুস সালাহ মাসায যাইল (২/ ৭২৪), আস-সুবকি (২/ ২৫৮ - ২৫৯)।

২৯ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ১৯৭), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ৯২), তাবাকাতুল হুফফাজ (পৃ. ২৫৩), আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (১৩/ ৪৭৩), তারিখু বাগদাদ (৮/ ৩৬৯), লিসানুল মিজান (২/ ৪২২), ইবনুস সালাহ মাসায যাইল (২/ ৭৪৯), আল-আবাদি (পৃ. ৫৮), আস-সুবকি (২/ ২৮৪ - ২৯৩), ইবনু কাদি শুহবাহ (১/ ৩২ - ৩৩)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌30 - عبدان بن محمد المروزى.

الجنوجردى قرية من قرى مرو. قال السمعانى: اسمه عبد اللَّه ولقبه عبدان وهو أحد من أظهر مذهب الشافعى بخراسان، رحل إلى مصر وكتب كتب الشافعى لما منعه كما أحمد بن يسار، صنف "الموطأ" وغيره وقال السمعاني في "أماليه": هو أول من حمل المختصر إلى مرو، وقرأ على الربيع والمزنى. ولد سنة عشرين ومائتين ليلة عرفة ومات لسنة ثلاث وتسعين ليلة عرفة.

 

‌‌31 - عثمان بن سعيد بن بشار أبو القاسم الأنماطى.

أخذ الفقه عن المزنى والربيع، وعنه ابن سريج مات ببغداد لسنة ثمان وثمانين ومائتين، وخبط العبادى في اسمه فاجتنبه، قال الشيخ أبو إسحاق: وهو السبب في نشاط الناس للأخذ بمذهب الشافعى.

 

‌‌32 - عثمان بن سعيد بن خالد الدارمى.

أحد الحفاظ والأعلام. أخذ الفقه عن البويطى وصنف "المسند". مات سنة ثمانين ومائتين، ووهم من قال سنة اثنتين وثمانين. ذكره العبادى في "طبقاته" وغيره وقيل: إنه الذي قام على محمد بن كرَّام وطرده عن هراه.

 

‌‌33 - محمد بن إبراهيم بن يوسف السلمى الترمذى البغدادى أبو إسماعيل.

إمام كبير، جمع بين الفقه والحديث، رحل إلى الحجاز ومصر، وعنه الترمذى

--------------------------------------------

30 - سير أعلام النبلاء (14/ 13) ، وطبقات العبادى (ص 57)، والأنساب (8/ 345)، والعبر (2/ 95)، والإسنوى (2/ 202)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 796)، السبكى (2/ 297 - 198)، وابن قاضى شهبة (1/ 34).

31 - سير أعلام النبلاء (12/ 308)، وطبقات الشيرازى (ص 104)، وطبقات السبكى (2/ 301 - 302)، وابن الصلاح (2/ 589)، والعبادى (ص 51)، وتهذيب الأسماء (2/ 263)، والإسنوى (1/ 44 - 45)، وابن قاضى شبهة (1/ 35 - 36)، والبداية والنهاية (11/ 85)، وابن هداية اللَّه (32 - 33)، وشذرات الذهب (2/ 198)،

32 - سير أعلام النبلاء (13/ 319)، وطبقات الحنابلة (1/ 221)، وطبقات الشافعية (2/ 302 - 306)، وطبقات الحفاظ (ص 274)، والبداية والنهاية (11/ 69)، العبر (2/ 64)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 804)، والعبادى (ص 45) ، والإسنوى (1/ 1596.

33 - ابن الصلاح مع الذيل (2/ 836)، والعبادى (ص 57) والإسنوى (1/ 308).
৩০ - আবদান ইবনে মুহাম্মাদ আল-মারওয়াযী.

জুনুজিরদ মার্ভের গ্রামগুলোর মধ্যে একটি। সামআনী বলেন: তাঁর নাম আব্দুল্লাহ এবং উপাধি আবদান। তিনি খুরাসানে শাফেয়ী মাযহাব প্রকাশকারী ব্যক্তিবর্গের একজন। তিনি মিশরে সফর করেন এবং শাফেয়ীর কিতাবসমূহ লিপিবদ্ধ করেন যখন আহমাদ ইবনে ইয়াসার তাঁকে তা থেকে বিরত রেখেছিলেন। তিনি "আল-মুয়াত্তা" ও অন্যান্য কিতাব রচনা করেন। সামআনী তাঁর "আমালি" গ্রন্থে বলেন: তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি মার্ভে "আল-মুখতাসার" নিয়ে যান এবং রাবী ও মুযানীর নিকট পাঠ করেন। তিনি দুইশত বিশ হিজরীর আরাফাত দিবসের রাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং দুইশত তিরানব্বই হিজরীর আরাফাত দিবসের রাতে ইন্তেকাল করেন।

 

৩১ - উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে বাশার আবু কাসেম আল-আনমাতী.

তিনি মুযানী ও রাবী থেকে ফিকহ অর্জন করেছেন, আর তাঁর থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন ইবনে সরাইজ। তিনি দুইশত আটাশি হিজরীতে বাগদাদে ইন্তেকাল করেন। আল-আব্বাদী তাঁর নামের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন, তাই তা পরিহার করুন। শাইখ আবু ইসহাক বলেন: তিনিই ছিলেন মানুষের মধ্যে শাফেয়ী মাযহাব গ্রহণের প্রতি উদ্দীপনা সৃষ্টির কারণ।

 

৩২ - উসমান ইবনে সাঈদ ইবনে খালিদ আদ-দারিমি.

তিনি অন্যতম হাফেজ ও শীর্ষস্থানীয় আলেম। তিনি বুয়াইতী থেকে ফিকহ অর্জন করেন এবং "আল-মুসনাদ" সংকলন করেন। তিনি দুইশত আশি হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। যারা দুইশত বিরাশি হিজরী বলেছেন তারা ভুল করেছেন। আব্বাদী তাঁর "তাবাকাত" ও অন্যান্য গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনিই মুহাম্মাদ ইবনে কাররামের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন এবং তাকে হেরাত থেকে বিতাড়িত করেছিলেন।

 

৩৩ - মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহীম ইবনে ইউসুফ আস-সুলামী আত-তিরমিযী আল-বাগদাদী আবু ইসমাঈল.

একজন মহান ইমাম, যিনি ফিকহ ও হাদীসের সমন্বয় করেছিলেন। তিনি হিজায ও মিশরে সফর করেন এবং তাঁর থেকে তিরমিযী বর্ণনা করেছেন

--------------------------------------------

৩০ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৪/ ১৩), তাবাকাতুল আব্বাদী (পৃ. ৫৭), আল-আনসাব (৮/ ৩৪৫), আল-ইবার (২/ ৯৫), আল-ইসনাবী (২/ ২০২), ইবনুস সালাহ ও তাঁর সংযুক্তি (২/ ৭৯৬), সুবকী (২/ ২৯৭ - ২৯৮), ইবনু কাজি শাহবা (১/ ৩৪)।

৩১ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১২/ ৩০৮), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ১০৪), তাবাকাতুস সুবকী (২/ ৩০১ - ৩০২), ইবনুস সালাহ (২/ ৫৮৯), আল-আব্বাদী (পৃ. ৫১), তাহযিবুল আসমা (২/ ২৬৩), আল-ইসনাবী (১/ ৪৪ - ৪৫), ইবনু কাজি শাহবা (১/ ৩৫ - ৩৬), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/ ৮৫), ইবনু হিদায়াতুল্লাহ (৩২ - ৩৩), শাযারাতুয যাহাব (২/ ১৯৮),

৩২ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ৩১৯), তাবাকাতুল হানাবিলা (১/ ২২১), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ (২/ ৩০২ - ৩০৬), তাবাকাতুল হুফফায (পৃ. ২৭৪), আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া (১১/ ৬৯), আল-ইবার (২/ ৬৪), ইবনুস সালাহ ও তাঁর সংযুক্তি (২/ ৮০৪), আল-আব্বাদী (পৃ. ৪৫), আল-ইসনাবী (১/ ১৫৯৬)।

৩৩ - ইবনুস সালাহ ও তাঁর সংযুক্তি (২/ ৮৩৬), আল-আব্বাদী (পৃ. ৫৭) আল-ইসনাবী (১/ ৩০৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٢٩)
والنسائي وغيرهما، مات سنة ثمانين ومائتين، وقبر عند أحمد بن حنبل قال العبادى: وهو الذى حمل كتب الشافعى من مصر فانتسخها إسحاق وصنف عليها جامعه الكبير لنفسه. وروى عن البويطى عن الشافعى أنه قال: لا أجعل في حلٍّ من روى عنّى الكتابَ العراقى.

 

‌‌34 - محمد بن أحمد بن نصر أبو جعفر الترمذى.

شيخ الشافعية بالعراق، ولد سنة ثمانين ومات سنة خمس وتسعين، وكان ورعا متقلِّلًا، كان يجرى عليه في الشهر أربعة دراهم ولا يسأل أحدا شيئًا، ومناقبه مشهورة في رجوعه عن مذهب أبى حنيفة، وقطع بطهارة شعر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وهو الحق، فإنه فرقه ولا يفرق غير طاهر. ونفى الضمان فيما إذا رمى إلى حربى فأسلم ثم أصابه السهم.

وقال: إن الساجد للتلاوة خارج الصلاة لا يكبر للافتتاح لا وجوبا ولا ندبًا والمعروف خلافهما.

 

‌‌35 - محمد بن إدريس الحنظلى أبو حاتم الرازى أحد الأئمة الحفاظ الأثبات.

ولد سنة خمس وتسعين ومائة، ورحل وهو ابن عشرين سنة من البحرين إلى مصر ماشيًا، ثم إلى الرملة ثم إلى غيرهما، وحدث عنه محمد بن أسامة الشامى الهروى أبو أحمد، وليس بأبى أحمد الشامى الفقيه الشاعر لكنه شيخ فقيه محدث متقن ذكره العبادى مع أبى على العطار وغيره، من شيوخه الربيع بن سليمان وغيره، مات سنة سبع وسبعين ومائتين.

--------------------------------------------

34 - سير أعلام النبلاء (13/ 545)، وطبقات الشيرازى (ص 105)، وطبقات السبكى (2/ 187 - 188)، والوافى بالوفيات (2/ 70)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 842)، والعبادى (ص 56)، والإسنوى (1/ 298 - 299)، وابن قاضى شهبة (1/ 38 - 40)، وابن هداية اللَّه (37 - 38).

35 - سير أعلام النبلاء (13/ 247)، وتهذيب التهذيب (9/ 31)، والجرح والتعديل (17/ 133)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 843)، والسبكى (2/ 207 - 711).
...এবং নাসাঈ ও অন্যান্যরা; তিনি দুইশ আশি হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁকে আহমদ ইবনে হাম্বলের কবরের পাশে দাফন করা হয়। আল-ইবাদি বলেন: তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি মিশর থেকে ইমাম শাফিঈর কিতাবসমূহ বহন করে আনেন, অতঃপর ইসহাক সেগুলো অনুলিপি করেন এবং সেগুলোর ভিত্তিতে নিজের জন্য তাঁর জামে আল-কাবীর সংকলন করেন। আর আল-বুয়াইতি থেকে বর্ণিত যে শাফিঈ বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে ইরাকি কিতাবসমূহ বর্ণনা করবে, তাকে আমি তা বর্ণনা করার বৈধতা দেব না (আমি তাকে ক্ষমা করব না)।

 

‌‌৩৪ - মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে নাসর আবু জাফর আত-তিরমিযী।

ইরাকের শাফিঈদের শাইখ, আশি হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং পঁচানব্বই হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি অত্যন্ত পরহেযগার ও অল্পেতুষ্ট ছিলেন। মাসে তাঁর চার দিরহাম ব্যয় হতো এবং তিনি কারও কাছে কোনো কিছু সওয়াল করতেন না। আবু হানিফার মাযহাব থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে তাঁর গুণাবলি প্রসিদ্ধ। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চুলের পবিত্রতার ব্যাপারে অকাট্য রায় প্রদান করেছেন এবং এটিই সত্য; কেননা তিনি চুল সিঁথি করতেন, আর অপবিত্র কোনো কিছু সিঁথি করা হয় না। আর তিনি সেই ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের বাধ্যবাধকতা নাকচ করেছেন যেখানে কেউ কোনো হারবিকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করল, অতঃপর সে ইসলাম গ্রহণ করল এবং এরপর তীরটি তাকে আঘাত করল।

তিনি বলেছেন: সালাতের বাইরে তিলাওয়াতের সিজদাকারীর জন্য প্রারম্ভিক তাকবীর নেই—না ওয়াজিব হিসেবে, না মুস্তাহাব হিসেবে; তবে প্রসিদ্ধ মত এর বিপরীত।

 

‌‌৩৫ - মুহাম্মদ ইবনে ইদরীস আল-হানজালী আবু হাতিম আর-রাযী, অন্যতম নির্ভরযোগ্য হাফেয ইমাম।

তিনি একশ পঁচানব্বই হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং বিশ বছর বয়সে বাহরাইন থেকে পায়ে হেঁটে মিশর সফর করেন, এরপর রামলাহ ও অন্যান্য স্থানে গমন করেন। তাঁর থেকে মুহাম্মদ ইবনে উসামাহ আশ-শামী আল-হারাবী আবু আহমদ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ফকীহ কবি আবু আহমদ আশ-শামী নন, বরং তিনি একজন শাইখ, ফকীহ, মুহাদ্দিস ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তি; আল-ইবাদি আবু আলী আল-আত্তার ও অন্যদের সাথে তাঁর উল্লেখ করেছেন। তাঁর উস্তাদদের মধ্যে রয়েছেন রাবী ইবনে সুলায়মান ও অন্যান্য। তিনি দুইশ ৭৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

৩৪ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ৫৪৫), তাবাকাতুশ শিরাজী (পৃ. ১০৫), তাবাকাতুস সুবকী (২/ ১৮৭ - ১৮৮), আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত (২/ ৭০), ইবনুস সালাহ ও তাঁর যাইল (২/ ৮৪২), আল-ইবাদি (পৃ. ৫৬), আল-ইসনাবী (১/ ২৯৮ - ২৯৯), ইবনু কাদি শুহবাহ (১/ ৩৮ - ৪০), ইবনু হিদায়াতিল্লাহ (৩৭ - ৩৮)।

৩৫ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৩/ ২৪৭), তাহযীবুত তাহযীব (৯/ ৩১), আল-জারহু ওয়াত তা'দীল (১৭/ ১৩৩), ইবনুস সালাহ ও তাঁর যাইল (২/ ৮৪৩), আস-সুবকী (২/ ২০৭ - ৭১১)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুম মুযহিব ফী তাবাকাতু হামালাতিল মাযহাব (পৃষ্ঠা: ٣٠)
‌‌36 - محمد بن عاصم بن يحيى أبو عبد اللَّه الأصبهانى.

أخذ الفقه عن أصحاب الشافعى، وصنف كتابًا كبيرًا، مات سنة تسع وتسعين ومائتين.

 

‌‌37 - محمد بن نصر المروزى.

قال القاضى حسين في الوصايا: ويقال السمرقندى وهو كما قال، فإنه سكن سمرقند وهو أحد الأعلام، وصنف كتاب "القسامة" و"تعظيم قدر الصلاة" و"قيام الليل" و"رفع اليدين"، وله كرامات، ولم يكن أولًا مقلدًا للشافعي ثم قلده لمنام عظيم ذكره ابن الصلاح في "طبقاته"، ولد سنة اثنتين ومائتين قبل موت الشافعى بسنتين، ومات سنة أربع وتسعين ومائتين. وكان من أحسن الناس صورة ذو لحية بيضاء وكان أبوه من مرو.

 

‌‌الطبقة الثالثة

‌‌38 - أحمد بن محمد الصابونى.

من غرائبه: أنَّ أم الزوجة لا تحرم إلَّا بالدخول بالزوج كعكسه، ذكره النووى في "تهذيبه" وذكره العبادى في "طبقاته" في أخر الطبقة المتقدمة على ابن سريج، وفي تاريخ الحاكم أحمد بن يوسف الصابونى أبو الحسن المناظر الجدلى المتعصب للسنة، وولد بنيسابور سنة ثلاث وثلاثمائة؛ فيجوز أن يكون هو صاحب الترجمة.

 

‌‌39 - أحمد بن عمر بن سريج.

--------------------------------------------

36 - تهذيب التهذيب (9/ 241)، وأصبهان (2/ 233)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 854)، والسبكى (2/ 421)، والإسنوى (1/ 416).

37 - سير أعلام النبلاء (14/ 33)، وتهذيب التهذيب (9/ 489)، والوافى بالوفيات (5/ 111)، وابن الصلاح مع الذيل (1/ 277)، والعبادى (49 - 50)، والشيراذى (106 - 107)، وتهذيب الأسماء (1/ 92 - 94)، والسبكى (2/ 246 - 255)، والإسنوى (2/ 372 - 374)، وابن قاضى شهبة (1/ 41 - 42)، وحسن المحاضرة (1/ 310 - 321).

38 - العبر (2/ 281)، وابن الصلاح مع الذيل (2/ 716)، والعبادى (ص 60)، والإسنوى (2/ 123 - 124)، وابن قاضى شهبة (1/ 50 - 51) ، وابن هداية اللَّه (ص 83).

39 - سير أعلام النبلاء (14/ 201)، وطبقات الشيرازى (ص 108 - 109)، وطبقات الشافعية للسبكى (3/ 21)، وطبقات العبادى (ص 62) وتهذيب الأسماء واللغات (2/ 251)، وطبقات الشافعية للإسنوى (2/ 20).
৩৬ - মুহাম্মদ বিন আসেম বিন ইয়াহইয়া আবু আব্দুল্লাহ আল-আসবাহানি.

তিনি শাফিঈর অনুসারীদের থেকে ফিকহ গ্রহণ করেছেন এবং একটি বৃহৎ গ্রন্থ রচনা করেছেন। তিনি ২৯৯ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

 

৩৭ - মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযি.

কাযি হুসাইন 'আল-ওয়াসায়া' গ্রন্থে বলেছেন: তাকে আস-সামারকান্দিও বলা হয়। বিষয়টি তেমনই যেমন তিনি বলেছেন, কারণ তিনি সমরকন্দে বসবাস করতেন। তিনি অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইমাম ছিলেন। তিনি 'আল-কাসামাহ', 'তাযিমু কদরিস সালাত', 'কিয়ামুল লাইল' এবং 'রাফউল ইয়াদাইন' গ্রন্থগুলো রচনা করেছেন। তার অনেক কারামত ছিল। শুরুতে তিনি ইমাম শাফিঈর মুকাল্লিদ (অনুসারী) ছিলেন না, পরবর্তীতে একটি মহান স্বপ্নের কারণে তার অনুসরণ শুরু করেন যা ইবনুস সালাহ তার 'তাবাকাত' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি ২০২ হিজরি সনে ইমাম শাফিঈর মৃত্যুর দুই বছর আগে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২৯৪ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মানুষের মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর অবয়বের অধিকারী ছিলেন এবং তার দাড়ি ছিল ধবধবে সাদা। তার পিতা মার্ভের অধিবাসী ছিলেন।

 

তৃতীয় স্তর

৩৮ - আহমাদ বিন মুহাম্মদ আস-সাবউনি.

তার বিরল অভিমতগুলোর মধ্যে একটি হলো: স্ত্রীর মা ততক্ষণ পর্যন্ত হারাম হন না যতক্ষণ না স্ত্রীর সাথে সহবাস করা হয়—যেমনটি এর বিপরীত ক্ষেত্রে (অর্থাৎ স্ত্রীর কন্যার ক্ষেত্রে) ঘটে থাকে। ইমাম নববী তার 'তাহযীব' গ্রন্থে এবং আল-আব্বাদি তার 'তাবাকাত' গ্রন্থে ইবনু সুরাইজের পূর্ববর্তী স্তরের শেষে এটি উল্লেখ করেছেন। আল-হাকিমের ইতিহাস গ্রন্থে রয়েছে—আহমাদ বিন ইউসুফ আস-সাবউনি আবুল হাসান ছিলেন একজন মুনাযির (তর্কবিদ), বিতার্কিক এবং সুন্নাহর ঘোর সমর্থক। তিনি ৩০৩ হিজরিতে নিশাপুরে জন্মগ্রহণ করেন; সুতরাং সম্ভব হতে পারে যে তিনিই এই জীবনীর ব্যক্তি।

 

৩৯ - আহমাদ বিন উমর বিন সুরাইজ.

--------------------------------------------

৩৬ - তাহযীবুত তাহযীব (৯/ ২৪১), আসবাহান (২/ ২৩৩), ইবনুস সালাহ ও তার পরিশিষ্ট (২/ ৮৫৪), আস-সুবকি (২/ ৪২১), আল-ইসনাভি (১/ ৪১৬)।

৩৭ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৪/ ৩৩), তাহযীবুত তাহযীব (৯/ ৪৮৯), আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত (৫/ ১১১), ইবনুস সালাহ ও তার পরিশিষ্ট (১/ ২৭৭), আল-আব্বাদি (৪৯ - ৫০), আশ-শিরাজি (১০৬ - ১০৭), তাহযীবুল আসমা (১/ ৯২ - ৯৪), আস-সুবকি (২/ ২৪৬ - ২৫৫), আল-ইসনাভি (২/ ৩৭২ - ৩৭৪), ইবনু কাযি শুহবাহ (১/ ৪১ - ৪২), হুসনুল মুহাদারা (১/ ৩১০ - ৩২১)।

৩৮ - আল-ইবার (২/ ২৮১), ইবনুস সালাহ ও তার পরিশিষ্ট (২/ ৭১৬), আল-আব্বাদি (পৃষ্ঠা ৬০), আল-ইসনাভি (২/ ১২৩ - ১২৪), ইবনু কাযি শুহবাহ (১/ ৫০ - ৫১), ইবনু হিদায়াতুল্লাহ (পৃষ্ঠা ৮৩)।

৩৯ - সিয়ারু আলামিন নুবালা (১৪/ ২০১), তাবাকাতুশ শিরাজি (পৃষ্ঠা ১০৮ - ১০৯), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লিস সুবকি (৩/ ২১), তাবাকাতুল আব্বাদি (পৃষ্ঠা ৬২), তাহযীবুল আসমা ওয়াল লুগাত (২/ ২৫১), তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ লিল ইসনাভি (২/ ২০)।