(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: -)
الأشباه والنظائر - ابن نجيم   (زين الدين ابن نجيم)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: الْأَشْبَاهُ وَالنَّظَائِرُ عَلَى مَذْهَبِ أَبِيْ حَنِيْفَةَ النُّعْمَانِ

المؤلف: زين الدين بن إبراهيم بن محمد، الشهير بابن نجيم (ت 970 هـ)

وضع حواشيه وخرج أحاديثه: الشيخ زكريا عميرات

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت - لبنان

الطبعة: الأولى، 1419 هـ - 1999 م

عدد الصفحات: 373

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম   (জয়নুদ্দীন ইবনে নুজাইম)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহী মূলনীতিসমূহ


গ্রন্থ: আবু হানীফা আন-নু'মানের মাযহাব অনুযায়ী আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর

লেখক: জয়নুদ্দীন বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ, ইবনে নুজাইম নামে পরিচিত (মৃত্যু ৯৭০ হিজরি)

টীকা সংযোজন ও হাদীস যাচাই: শায়খ যাকারিয়া উমাইরাত

প্রকাশক: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ, বৈরুত - লেবানন

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৯ হিজরি - ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৭৩

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ১৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌الْمُقَدِّمَةُ

الْحَمْدُ لِلَّهِ عَلَى مَا أَنْعَمَ.

وَصَلَّى اللَّهُ عَلَى سَيِّدِنَا مُحَمَّدٍ وَسَلَّمَ.

وَبَعْدُ!

فَإِنَّ الْفِقْهَ أَشْرَفُ الْعُلُومِ قَدْرًا، وَأَعْظَمُهَا أَجْرًا، وَأَتَمُّهَا عَائِدَةً، وَأَعَمُّهَا فَائِدَةً، وَأَعْلَاهَا مَرْتَبَةً، وَأَسْنَاهَا مَنْقَبَةً، يَمْلَأُ الْعُيُونَ نُورًا، وَالْقُلُوبَ سُرُورًا، وَالصُّدُورَ انْشِرَاحًا، وَيُفِيدُ الْأُمُورَ اتِّسَاعًا وَانْفِتَاحًا.

هَذَا لِأَنَّ مَا بِالْخَاصِّ وَالْعَامِّ مِنْ الِاسْتِقْرَارِ عَلَى سُنَنِ النِّظَامِ وَالِاسْتِمْرَارِ عَلَى وَتِيرَةِ الِاجْتِمَاعِ وَالِالْتِئَامِ، إنَّمَا هُوَ بِمَعْرِفَةِ الْحَلَالِ مِنْ الْحَرَامِ، وَالتَّمْيِيزُ بَيْنَ الْجَائِزِ وَالْفَاسِدِ فِي وُجُوهِ الْأَحْكَامِ، بُحُورُهُ زَاخِرَةٌ، وَرِيَاضُهُ نَاضِرَةٌ، وَنُجُومُهُ زَاهِرَةٌ، وَأُصُولُهُ ثَابِتَةٌ وَفُرُوعُهُ نَابِتَةٌ، لَا يَفْنَى بِكَثْرَةِ الْإِنْفَاقِ كَنْزُهُ، وَلَا يَبْلَى عَلَى طُولِ الزَّمَانِ عِزُّهُ.

وَإِنِّي لَا أَسْتَطِيعُ كُنْهَ صِفَاتِهِ … وَلَوْ أَنَّ أَعْضَائِي جَمِيعًا تَكَلَّمُ

وَأَهْلُهُ قِوَامُ الدِّينِ وَقُوَّامُهُ، وَبِهِمْ ائْتِلَافُهُ وَانْتِظَامُهُ، وَإِلَيْهِمْ الْمَفْزَعُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ، وَالْمَرْجِعُ فِي التَّدْرِيسِ وَالْفَتْوَى، خُصُوصًا أَنَّ أَصْحَابَنَا رحمهم الله لَهُمْ خُصُوصِيَّةُ السَّبَقِ فِي هَذَا الشَّأْنِ، وَالنَّاسُ لَهُمْ أَتْبَاعٌ؛ وَالنَّاسُ فِي الْفِقْهِ عِيَالٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ رضي الله عنه.

وَلَقَدْ أَنْصَفَ الْإِمَامُ الشَّافِعِيُّ رحمه الله حَيْثُ قَالَ: مِنْ أَرَادَ أَنْ يَتَبَحَّرَ فِي الْفِقْهِ فَلْيَنْظُرْ إلَى كُتُبِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله" كَمَا نَقَلَهُ ابْنُ وَهْبَانَ عَنْ حَرْمَلَةَ، وَهُوَ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

‌‌ভূমিকা

আল্লাহর প্রশংসা যে তিনি নিয়ামত দান করেছেন।

আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর!

নিশ্চয়ই ফিকহ শাস্ত্র মর্যাদার দিক থেকে ইলমসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম, পুরস্কারের দিক থেকে মহানতম, উপকারের দিক থেকে পূর্ণাঙ্গতম, কল্যাণের দিক থেকে সর্বাধিক ব্যাপক, সম্মানের দিক থেকে সর্বোচ্চ এবং গুণের দিক থেকে সর্বাধিক উজ্জ্বল। এটি দৃষ্টিকে নূর দিয়ে, অন্তরকে আনন্দ দিয়ে এবং বক্ষকে প্রশস্ততা দিয়ে পূর্ণ করে দেয় এবং সকল কাজে প্রশস্ততা ও উন্মুক্ততা দান করে।

কারণ সাধারণ ও বিশিষ্ট মানুষের যে সুশৃঙ্খল স্থিতি এবং সামাজিক ঐক্য ও সংহতির যে ধারাবাহিকতা, তা কেবল হালাল ও হারামের জ্ঞান এবং আহকামের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈধ ও ফাসেদ-এর পার্থক্যের মাধ্যমেই সম্ভব। এর সমুদ্র উত্তাল, এর উদ্যানসমূহ সজীব, এর নক্ষত্রসমূহ উজ্জ্বল, এর মূলসমূহ সুদৃঢ় এবং এর শাখাসমূহ বর্ধনশীল। এর জ্ঞানভাণ্ডার অধিক ব্যয়ে নিঃশেষ হয় না এবং কালপরিক্রমায় এর মর্যাদা মলিন হয় না।

আর আমি এর গুণের প্রকৃত রূপ বর্ণনা করতে সক্ষম নই … যদিও আমার প্রতিটি অঙ্গ কথা বলত।

আর ফিকহবিদগণ দ্বীনের ভিত্তি ও স্তম্ভ; তাঁদের মাধ্যমেই দ্বীনের সংহতি ও শৃঙ্খলা বজায় থাকে। দুনিয়া ও আখেরাতে তাঁদের কাছেই আশ্রয় নেওয়া হয় এবং পাঠদান ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে তাঁরাই প্রত্যাবর্তনস্থল। বিশেষ করে আমাদের সাথীবৃন্দ—আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন—এই ক্ষেত্রে অগ্রগামী হওয়ার বিশেষ মর্যাদার অধিকারী এবং মানুষ তাঁদের অনুসারী; আর ফিকহের ক্ষেত্রে সকল মানুষই ইমাম আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর পরিবারভুক্ত (মুখাপেক্ষী)।

আর ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) যথার্থই বলেছেন: "যে ব্যক্তি ফিকহ শাস্ত্রে পাণ্ডিত্য অর্জন করতে চায়, সে যেন আবু হানিফা (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন)-এর কিতাবসমূহের প্রতি দৃষ্টি দেয়"—যেমনটি ইবনে ওয়াহবান হারমালা থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তিনি...
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ১৪)
كَالصِّدِّيقِ رضي الله عنه، لَهُ أَجْرُهُ وَأَجْرُ مِنْ دَوَّنَ الْفِقْهَ وَأَلَّفَهُ وَفَرَّعَ أَحْكَامَهُ عَلَى أُصُولِهِ إلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.

وَإِنَّ الْمَشَايِخَ الْكِرَامَ قَدْ أَلَّفُوا مَا بَيْنَ مُخْتَصَرٍ وَمُطَوَّلٍ مِنْ مُتُونٍ وَشُرُوحٍ وَفَتَاوَى، وَاجْتَهَدُوا فِي الْمَذْهَبِ وَالْفَتْوَى وَحَرَّرُوا وَنَقَّحُوا، شَكَرَ اللَّهُ سَعْيَهُمْ، إلَّا أَنِّي لَمْ أَرَ لَهُمْ كِتَابًا يَحْكِي كِتَابَ الشَّيْخِ تَاجِ الدِّينِ السُّبْكِيّ الشَّافِعِيّ مُشْتَمِلًا عَلَى فُنُونٍ فِي الْفِقْهِ. وَقَدْ كُنْت لَمَّا وَصَلْت فِي شَرْحِ الْكَنْزِ إلَى تَبْيِيضِ الْبَيْعِ الْفَاسِدِ، أَلَّفْت كِتَابًا مُخْتَصَرًا فِي الضَّوَابِطِ وَالِاسْتِثْنَاءَات مِنْهَا، سَمَّيْته بِـ"الْفَوَائِدِ الزَّيْنِيَّةِ فِي الْفِقْهِ الْحَنَفِيَّةِ" وَصَلَ إلَى خَمْسِمِائَةِ ضَابِطَةٍ، فَ‌‌أُلْهِمْتُ أَنْ أَصْنَعَ كِتَابًا عَلَى النَّمَطِ السَّابِقِ مُشْتَمِلًا عَلَى سَبْعَةِ فُنُونٍ.

يَكُونُ هَذَا الْمُؤَلَّفُ النَّوْعُ الثَّانِي
مِنْهَا:

الْأَوَّلُ: مَعْرِفَةُ الْقَوَاعِدِ الَّتِي تُرَدُّ إلَيْهَا وَفَرَّعُوا الْأَحْكَامَ عَلَيْهَا

وَهِيَ أُصُولُ الْفِقْهِ فِي الْحَقِيقَةِ، وَبِهَا يَرْتَقِي الْفَقِيهُ إلَى دَرَجَةِ الِاجْتِهَادِ وَلَوْ فِي الْفَتْوَى، وَأَكْثَرُ فُرُوعِهَا ظَفِرْت بِهِ فِي كُتُبٍ غَرِيبَةٍ أَوْ عَثَرْت بِهِ فِي غَيْرِ مَظِنَّةٍ إلَّا أَنِّي بِحَوْلِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ لَا أَنْقُلُ إلَّا الصَّحِيحَ الْمُعْتَمَدَ فِي الْمَذْهَبِ، وَإِنْ كَانَ مُفَرَّعًا عَلَى قَوْلٍ ضَعِيفٍ أَوْ رِوَايَةٍ ضَعِيفَةٍ نَبَّهْت عَلَى ذَلِكَ غَالِبًا.

وَحُكِيَ أَنَّ الْإِمَامَ أَبَا طَاهِرٍ الدَّبَّاسَ جَمَعَ قَوَاعِدَ مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله سَبْعَ عَشْرَةَ قَاعِدَةً وَرَدَّهُ إلَيْهَا.

وَلَهُ حِكَايَةٌ مَعَ أَبِي سَعِيدٍ الْهَرَوِيِّ الشَّافِعِيِّ رحمه الله، فَإِنَّهُ لَمَّا بَلَغَهُ ذَلِكَ سَافَرَ إلَيْهِ وَكَانَ

أَبُوطَاهِرٍ ضَرِيرًا، يُكَرِّرُ كُلَّ لَيْلَةٍ تِلْكَ الْقَوَاعِدِ بِمَسْجِدِهِ بَعْدَ أَنْ يَخْرُجَ النَّاسُ مِنْهُ، فَالْتَفَّ الْهَرَوِيُّ بِحَصِيرٍ وَخَرَجَ النَّاسُ وَأَغْلَقَ أَبُو طَاهِرٍ بَابَ الْمَسْجِدِ وَسَرَدَ مِنْهَا سَبْعَةً فَحَصَلَتْ لِلْهَرَوِيِّ سَعْلَةٌ فَأَحَسَّ بِهِ أَبُو طَاهِرٍ فَضَرَبَهُ وَأَخْرَجَهُ مِنْ الْمَسْجِدِ، ثُمَّ لَمْ
যেমন সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু), তাঁর জন্য রয়েছে তাঁর নিজস্ব প্রতিদান এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা ফিকহ সংকলন করেছেন, তা রচনা করেছেন এবং এর মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে শাখা বিধানসমূহ বের করেছেন তাদের সমপরিমাণ প্রতিদান।

নিশ্চয়ই সম্মানিত মাশায়েখগণ সংক্ষিপ্ত ও বিস্তারিত মূলগ্রন্থ, ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং ফতোয়া গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন; তাঁরা মাযহাব ও ফতোয়ার ক্ষেত্রে ইজতিহাদ করেছেন এবং তা পরিমার্জন ও পরিশোধন করেছেন—আল্লাহ তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন। তবে ফিকহশাস্ত্রের বিভিন্ন শাখা-প্রশাখা সংবলিত শায়খ তাজউদ্দীন সুবকী শাফিয়ী-এর গ্রন্থের অনুরূপ কোনো গ্রন্থ আমি তাঁদের মাঝে দেখিনি। আমি যখন ‘কানয’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ‘বায়এ ফাসিদ’ (ত্রুটিপূর্ণ ক্রয়-বিক্রয়) অধ্যায়ের পাণ্ডুলিপি তৈরি করছিলাম, তখন আমি কায়দা-কানুন ও সেগুলোর ব্যতিক্রমসমূহ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ রচনা করি, যার নাম দিয়েছি ‘আল-ফাওয়ায়েদুয যাইনিয়্যাহ ফিল ফিকহিল হানাফিয়্যাহ’। এটি পাঁচশত মূলনীতি পর্যন্ত পৌঁছেছিল। অতঃপর আমি পূর্ববর্তী সেই ধারায় একটি গ্রন্থ রচনার অনুপ্রেরণা লাভ করলাম যা সাতটি বিষয়ের ওপর সংবলিত হবে।

এই সংকলনটি হবে সেগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় প্রকার
সেখান থেকে:

প্রথম: সেই সকল মূলনীতি সম্পর্কে জানা যেগুলোর দিকে শাখা মাসআলাসমূহ প্রত্যাবর্তন করানো হয় এবং যার ওপর ভিত্তি করে তাঁরা শাখা বিধানসমূহ উদ্ভাবন করেছেন।

আর এগুলোই মূলত প্রকৃত উসূলে ফিকহ, যার মাধ্যমে একজন ফকীহ ইজতিহাদের স্তরে উন্নীত হন, যদিও তা কেবল ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে হয়। এর অধিকাংশ শাখা বিধান আমি দুষ্প্রাপ্য কিতাবসমূহে পেয়েছি অথবা এমন সব স্থানে পেয়েছি যেখানে পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল না। তবে আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের সাহায্যে আমি কেবল মাযহাবের সহীহ ও নির্ভরযোগ্য বিষয়গুলোই উদ্ধৃত করছি। আর যদি কোনো শাখা বিধান দুর্বল মত বা দুর্বল বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে আমি সাধারণত সে বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছি।

বর্ণিত আছে যে, ইমাম আবু তাহের আদ-দাব্বাস ইমাম আবু হানিফা (রহিমাহুল্লাহ)-এর মাযহাবের সতেরোটি মূলনীতি একত্রিত করেছিলেন এবং মাযহাবকে সেগুলোর দিকে ফিরিয়েছেন।

আবু সাঈদ আল-হিরাভী শাফিয়ী (রহিমাহুল্লাহ)-এর সাথে তাঁর একটি ঘটনা রয়েছে। যখন তিনি এই সংবাদ পেলেন, তখন তিনি তাঁর নিকট সফর করলেন। আর

আবু তাহের অন্ধ ছিলেন; তিনি প্রতি রাতে মানুষ মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর সেখানে সেই মূলনীতিগুলো পুনরাবৃত্তি করতেন। তখন হিরাভী একটি চাটাই দিয়ে নিজেকে মুড়িয়ে নিলেন এবং মানুষ বেরিয়ে গেলে আবু তাহের মসজিদের দরজা বন্ধ করে দিলেন। তিনি সেগুলোর মধ্য থেকে সাতটি গড়গড় করে পড়ে শোনালেন। এমতাবস্থায় হিরাভীর কাশি উঠল, ফলে আবু তাহের তাঁর উপস্থিতি টের পেয়ে তাকে প্রহার করলেন এবং মসজিদ থেকে বের করে দিলেন। এরপর আর...
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ১৫)
يُكَرِّرْهَا فِيهِ بَعْدَ ذَلِكَ، فَرَجَعَ الْهَرَوِيُّ إلَى أَصْحَابِهِ وَتَلَاهَا عَلَيْهِمْ.

الثَّانِي: الضَّوَابِطُ وَمَا دَخَلَ فِيهَا وَمَا خَرَجَ عَنْهَا

وَهُوَ أَنْفَعُ الْأَقْسَامِ لِلْمُدَرِّسِ وَالْمُفْتِي وَالْقَاضِي، فَإِنَّ بَعْضَ الْمُؤَلَّفِينَ يَذْكُرُ ضَابِطَهُ وَيَسْتَثْنِي مِنْهُ أَشْيَاءَ، فَأَذْكُرُ فِيهَا أَنِّي زِدْت عَلَيْهِ أَشْيَاءَ أُخَرَ، فَمَنْ لَمْ يَطَّلِعْ عَلَى الْمَزِيدِ ظَنَّ الدُّخُولَ وَهِيَ خَارِجَةٌ كَمَا سَتَرَاهُ

وَلِهَذَا وَقَعَ مَوْقِعًا حَسَنًا عِنْدَ ذَوِي الْإِنْصَافِ، وَابْتَهَجَ بِهِ مَنْ هُوَ مِنْ أُولِي الْأَلْبَابِ.

الثَّالِثُ: مَعْرِفَةُ الْجَمْعِ وَالْفَرْقِ

الرَّابِعُ: مَعْرِفَةُ الْأَلْغَازِ.

الْخَامِسُ: الْحِيَلُ

السَّادِسُ: الْأَشْبَاهُ وَالنَّظَائِرُ

السَّابِعُ: مَا حُكِيَ عَنْ الْإِمَامِ الْأَعْظَمِ وَصَاحِبِيهِ وَالْمَشَايِخِ الْمُتَقَدِّمِينَ، وَالْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ الْمُطَارَحَاتِ وَالْمُكَاتَبَاتِ وَالْمُرَاسَلَاتِ وَالْغَرِيبَاتِ

وَأَرْجُو مِنْ كَرَمِ اللَّهِ الْفَتَّاحِ أَنَّ هَذَا الْكِتَابَ إذَا تَمَّ بِحَوْلِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ

يَصِيرُ نُزْهَةً لِلنَّاظِرِينَ، وَمَرْجِعًا لَلْمُدَرِّسِينَ، وَمَطْلَبًا لِلْمُحَقِّقِينَ، وَمُعْتَمَدًا لِلْقُضَاةِ وَالْمُفْتِينَ، وَغَنِيْمَةً

لِلْمُحَصِّلِينَ وَكَشْفًا لِكَرْبِ الْمَلْهُوفِينَ.

هَذَا لِأَنَّ الْفِقْهَ أَوَّلُ فُنُونِي، طَالَ مَا أَسْهَرْتُ فِيهِ عُيُونِي وَأَعْمَلْت بَدَنِي إعْمَالَ الْجِدِّ مَا بَيْنَ بَصَرِي وَيَدِي وَظُنُونِي،

وَلَمْ أَزَلْ مُنْذُ زَمَنِ الطَّلَبِ أَعْتَنِي بِكُتُبِهِ قَدِيمًا وَحَدِيثًا، وَأَسْعَى فِي تَحْصِيلِ مَا هُجِرَ مِنْهَا سَعْيًا حَثِيثًا، إلَى أَنْ وَقَفْت مِنْهَا عَلَى الْجَمِّ الْغَفِيرِ، وَأَحَطْتُ بِغَالِبِ الْمَوْجُودِ فِي بَلَدِنَا (الْقَاهِرَةِ) مُطَالَعَةً وَتَأَمُّلًا بِحَيْثُ لَمْ يَفُتْنِي مِنْهَا إلَّا النَّزْرُ الْيَسِيرُ، َمَا سَتَرَاهُ عِنْدَ سَرْدِهَا، مَعَ ضَمِّ الِاشْتِغَالِ وَالْمُطَالَعَةِ لَكُتُبِ الْأُصُولِ مِنْ ابْتِدَاءِ أَمْرِي، كَـ:

كِتَابِ الْبَزْدَوِيِّ لِلْإِمَامِ السَّرَخْسِيِّ، وَالتَّقْوِيمُ لِأَبِي زَيْدٍ الدَّبُوسِيِّ، وَالتَّنْقِيحُ وَشَرْحُهُ وَشَرْحُ شَرْحِهِ وَحَوَاشِيهِ،
এরপর তিনি সেখানে তা পুনরাবৃত্তি করলেন, তারপর হারাউয়ী তাঁর সঙ্গীদের কাছে ফিরে গেলেন এবং তাদের সামনে তা পাঠ করলেন।

দ্বিতীয়: মূলনীতিসমূহ (দ্বওয়াবিত) এবং এর অন্তর্ভুক্ত ও বহির্ভূত বিষয়াদি

আর এটি শিক্ষক, মুফতি ও বিচারকের জন্য সর্বাধিক উপকারী অংশ; কেননা কোনো কোনো লেখক কোনো মূলনীতি উল্লেখ করেন এবং তা থেকে কিছু বিষয়কে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেন। তাই আমি এতে উল্লেখ করছি যে, আমি এর ওপর আরও কিছু বিষয় বৃদ্ধি করেছি। ফলে যে ব্যক্তি এই অতিরিক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে অবগত নন, তিনি সেগুলোকে মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত মনে করবেন অথচ সেগুলো বহির্ভূত, যেমনটি আপনি সামনে দেখতে পাবেন।

এই কারণে এটি ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তিদের নিকট উত্তম গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে এবং প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিরা এতে আনন্দিত হয়েছেন।

তৃতীয়: সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য (জাম' ও ফারক) সম্পর্কে জ্ঞান

চতুর্থ: ধাঁধাসমূহ (আলগায) সম্পর্কে জ্ঞান।

পঞ্চম: কৌশলসমূহ (হিয়াল)

ষষ্ঠ: সদৃশ ও সমজাতীয় বিষয়াবলি (আশবাহ ও নাযাইর)

সপ্তম: ইমামে আজম, তাঁর দুই সঙ্গী এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মাশায়েখদের থেকে বর্ণিত তাত্ত্বিক আলোচনা, পত্রবিনিময়, যোগাযোগ এবং বিরল ঘটনাবলি

আর আমি মহাবিজয়ী আল্লাহর অনুগ্রহে আশা পোষণ করছি যে, যখন এই কিতাবটি আল্লাহর সামর্থ্য ও শক্তিতে সম্পন্ন হবে,

তখন তা পাঠকদের জন্য বিনোদনের খোরাক, শিক্ষকদের জন্য রেফারেন্স, গবেষকদের জন্য অন্বেষার বস্তু, বিচারক ও মুফতিদের জন্য নির্ভরস্থল এবং এক বিশেষ সম্পদ

শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিশেষ পাথেয় এবং বিপদগ্রস্তদের কষ্ট দূরকারী হবে।

এটি এ কারণে যে, ফিকহ শাস্ত্রই ছিল আমার প্রথম বিদ্যা। দীর্ঘকাল আমি এতে আমার চোখকে বিনিদ্র রেখেছি এবং আমার দৃষ্টি, হাত ও চিন্তাশক্তির সমন্বয়ে আমার শরীরকে কঠোর পরিশ্রমে নিয়োজিত করেছি।

ছাত্রজীবন থেকেই আমি সর্বদা এর প্রাচীন ও আধুনিক গ্রন্থাবলির প্রতি যত্নশীল ছিলাম এবং সেগুলোর মধ্যে যেসব পরিত্যক্ত ছিল তা সংগ্রহে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়েছি। শেষ পর্যন্ত আমি এর বিশাল ভাণ্ডারের সন্ধান পেয়েছি এবং আমাদের শহর কায়রোতে বিদ্যমান গ্রন্থাবলির অধিকাংশ সম্পর্কে অধ্যয়ন ও চিন্তাগবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করেছি, যার ফলে সামান্য কিছু অংশ ব্যতীত কিছুই আমার হাতছাড়া হয়নি—যেমনটি আপনি গ্রন্থতালিকা বর্ণনার সময় দেখতে পাবেন। এর পাশাপাশি আমার সূচনালগ্ন থেকেই উসূল শাস্ত্রের কিতাবসমূহের অধ্যয়ন ও চর্চায় লিপ্ত থাকার কথা তো আছেই, যেমন:

ইমাম সারাখসি রচিত বাজদাওয়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আবু যায়েদ আদ-দাবূসীর আত-তাকভীম, আত-তানকীহ এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ব্যাখ্যার ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও এর টীকাগ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ১৬)
وَشُرُوحُ الْبَزْدَوِيِّ مِنْ الْكَشْفِ الْكَبِيرِ وَالتَّقْرِيرُ، حَتَّى اخْتَصَرْتُ تَحْرِيرَ الْمُحَقِّقِ ابْنَ الْهُمَامِ وَسَمَّيْته" لُبَّ الْأُصُولِ".

ثُمَّ شَرَحْت الْمَنَارَ شَرْحًا جَاءَ، بِحَوْلِ اللَّهِ وَقُوَّتِهِ، فَائِقًا عَلَى نَوْعِهِ فَنَشْرَعُ إنْ شَاءَ اللَّهُ تَعَالَى بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ، فِيمَا قَصَدْنَاهُ مِنْ هَذَا التَّأْلِيفِ بَعْدَ تَسْمِيَتِهِ (بِالْأَشْبَاهِ وَالنَّظَائِرِ) تَسْمِيَةً لَهُ بِاسْمِ بَعْضِ فُنُونِهِ، سَائِلًا اللَّهَ تَعَالَى الْقَبُولَ وَأَنْ يَنْفَعَ بِهِ مُؤَلِّفَهُ وَمَنْ نَظَرَ فِيهِ إنَّهُ خَيْرُ مَأْمُولٍ وَإِنَّهُ يَدْفَعُ عَنْهُ كَيْدَ الْحَاسِدِينَ وَافْتِرَاءَ الْمُتَعَصِّبِينَ.

وَلَعَمْرِي إنَّ هَذَا الْفَنَّ لَا يُدْرَكُ بِالتَّمَنِّي، وَلَا يُنَالُ، بِسَوْفَ وَلَعَلَّ، وَلَوْ أَنِّي، وَلَا يَنَالُهُ إلَّا مَنْ كَشَفَ عَنْ سَاعِدِ الْجِدِّ، وَشَمَّرَ وَاعْتَزَلَ أَهْلَهُ، وَشَدَّ الْمِئْزَرَ، وَخَاضَ الْبِحَارَ، وَخَالَطَ الْعَجَاجَ، يَدْأَبُ فِي التَّكْرَارِ وَالْمُطَالَعَةِ بُكْرَةً وَأَصِيلًا، وَيُنَصِّبُ نَفْسَهُ لِلتَّأْلِيفِ وَالتَّحْرِيرِ بَيَانًا وَمَقِيلًا، لَيْسَ لَهُ هِمَّةٌ إلَّا مُعْضِلَةً وَبِحِلِّهَا، أَوْ مُسْتَصْعَبَةً عَزَّتْ عَلَى الْقَاصِرِينَ إلَّا وَيَرْتَقِي إلَيْهَا وَيَحِلُّهَا، عَلَى أَنَّ ذَلِكَ لَيْسَ مِنْ كَسْبِ الْعَبْدِ وَإِنَّمَا هُوَ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ يُؤْتِيه مَنْ يَشَاءُ.

‌‌[مَصَادِرُ كِتَابِ الْأَشْبَاهِ والنَّظَائِرِ]

وَهَأَنَذَا أَذْكُرُ الْكُتُبَ الَّتِي نَقَلْت مِنْهَامُؤَلَّفَاتِي الْفِقْهِيَّةَ الَّتِي اجْتَمَعَتْ عِنْدِي فِي أَوَاخِرِ سَنَةِ ثَمَانٍ وَسِتِّينَ وَتِسْعمِائَةٍ.

فَمِنْ شُرُوحِ الْهِدَايَةِ: النِّهَايَةُ وَغَايَةُ الْبَيَانِ، وَالْعِنَايَةُ، وَمِعْرَاجُ الدِّرَايَةِ وَالْبِنَايَةُ، وَالْغَايَةُ، وَفَتْحُ الْقَدِيرِ.

وَمِنْ شُرُوحِ الْكَنْزِ: الزَّيْلَعِيُّ وَالْعَيْنِيُّ وَمِسْكِينٌ.

وَمِنْ شُرُوحِ الْقُدُورِيِّ: السِّرَاجُ الْوَهَّاجُ، وَالْجَوْهَرَةُ، وَالْمُجْتَبَى وَالْأَقْطَعُ.

وَمِنْ شُرُوحِ الْمَجْمَعِ: لِلْمُصَنِّفِ وَابْنِ الْمَلِكِ، وَرَأَيْت شَرْحًا لِلْعَيْنِيِّ

وَقْفًا، وَشَرْحُ مُنْيَةِ الْمُصَلِّي لِابْنِ أَمِيرِ الْحَاجِّ، وَشَرْحُ الْوَافِي لِلْكَافِي، وَشَرْحُ الْوُقَايَةِ وَالنُّقَايَةِ، وَإِيضَاحُ الْإِصْلَاحِ، وَشَرْحُ تَلْخِيصِ الْجَامِعِ الْكَبِيرِ لِلْعَلَّامَةِ الْفَارِسِيِّ، وَتَلْخِيصُ الْجَامِعِ لِلصَّدْرِ الشَّهِيدِ وَالْبَدَائِعُ لِلْكَاسَانِيِّ، وَشَرْحُ التُّحْفَةِ وَالْمَبْسُوطُ شَرْحُ الْكَافِي، وَالْكَافِي لِلْحَاكِمِ الشَّهِيدِ وَشَرْحُ الدُّرَرِ وَالْغُرَرِ لِمُلَّا خُسْرو وَالْهِدَايَةُ، وَشَرْحُ الْجَامِعِ الصَّغِيرِ لِقَاضِي خَانْ، وَشَرْحُ مُخْتَصَرِ الطَّحَاوِيِّ وَالِاخْتِيَارُ.

وَمِنْ الْفَتَاوَى: الْخَانِيَّةُ، وَالْخُلَاصَةُ، وَالْبَزَّازِيَّةُ، وَالظَّهِيرِيَّةُ، وَالْوَلْوالِجِيَّة، وَالْعُمْدَةُ، وَالْعُدَّةُ، وَالصُّغْرَى، وَالْوَاقِعَاتُ لِلْحُسَامِ الشَّهِيدِ، وَالْقُنْيَةُ، وَالْمُنْيَةُ وَالْغُنْيَةُ، وَمَآلُ الْفَتَاوَى، وَالتَّلْقِيحُ لِلْمَحْبُوبِيِّ، وَالتَّهْذِيبُ لِلْقَلَانِسِيِّ، وَفَتَاوَى قَارِي الْهِدَايَةِ، وَالْقَاسِمِيَّةُ وَالْعِمَادِيَّةُ، وَجَامِعُ الْفُصُولَيْنِ وَالْخَرَاجُ لِأَبِي يُوسُفَ، وَأَوْقَافُ الْخَصَّافِ، وَالْإِسْعَافُ وَالْحَاوِي الْقُدْسِيُّ، وَالْيَتِيمَةُ وَالْمُحِيطُ الرَّضَوِيُّ، وَالذَّخِيرَةُ وَشَرْحُ مَنْظُومَةِ النَّسَفِيِّ، وَشَرْحُ مَنْظُومَةِ ابْنِ وَهْبَانَ لَهُ وَلِابْنِ الشِّحْنَةِ، وَالصَّيْرَفِيَّةُ، وَخِزَانَةُ الْفَتَاوَى، وَبَعْضُ خِزَانَةِ الْأَكْمَلِ، وَبَعْضُ السِّرَاجِيَّةِ وَالتَّتَارْخَانِيَّة، وَالتَّجْنِيسُ، وَخِزَانَةُ الْفِقْهِ، وَحَيْرَةُ الْفُقَهَاءِ، وَمَنَاقِبُ الْكَرْدَرِيِّ، وَطَبَقَاتُ عَبْدِ الْقَادِرِ
আল-বাজদাওয়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ যেমন আল-কাশফ আল-কাবীর এবং আত-তাকরীর; এমনকি আমি গবেষক ইবনুল হুমামের 'আত-তাহরীর' এর সারসংক্ষেপ করেছি এবং তার নাম রেখেছি 'লুব্বুল উসুল'।

এরপর আমি 'আল-মানার'-এর এমন একটি ব্যাখ্যা লিখেছি যা আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে নিজ শ্রেণির মাঝে অনন্য হয়েছে। অতঃপর আমরা আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যে ইনশাআল্লাহ এই কিতাবটি রচনার যে সংকল্প করেছি তা শুরু করছি, এর নামকরণ 'আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির' করার পর; এর অন্তর্ভুক্ত কোনো কোনো শাস্ত্রের নামে এর নাম রাখা হয়েছে। আমি মহান আল্লাহর নিকট কবুলিয়ত প্রার্থনা করছি এবং যাতে তিনি এর দ্বারা লেখক ও পাঠককে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি সর্বোত্তম আশার স্থল এবং তিনিই এর থেকে হিংসুকদের চক্রান্ত ও গোঁড়াদের অপবাদ দূর করবেন।

আমার জীবনের শপথ, এই শাস্ত্র নিছক কামনা-বাসনার দ্বারা আয়ত্ত করা যায় না এবং 'পরে করব', 'হয়তো হবে' কিংবা 'যদি আমি পারতাম'—এমন অবাস্তব কথায় এটি অর্জন করা সম্ভব নয়। এটি কেবল সেই ব্যক্তিই অর্জন করতে পারে যে কঠোর পরিশ্রমের জন্য কোমর বেঁধেছে, প্রস্তুতি নিয়েছে, পরিজন থেকে নির্জনতা অবলম্বন করেছে, কোমর মজবুত করে বেঁধেছে, সমুদ্র মন্থন করেছে এবং ধূলিঝড়ের মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যা পুনরাবৃত্তি ও অধ্যয়নে নিরলস প্রচেষ্টা চালায় এবং বর্ণনা ও লিখনশৈলীর মাধ্যমে নিজেকে রচনা ও সম্পাদনার কাজে উৎসর্গ করে। তার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা থাকে না কেবল জটিল সমস্যা এবং তা সমাধান করা ছাড়া, অথবা এমন কোনো কঠিন বিষয় যা অক্ষমদের নিকট দুর্ভেধ্য, সে তার শিখরে আরোহণ করে এবং তা সমাধান করে। তদুপরি, এটি বান্দার উপার্জনের মাধ্যমে হয় না, বরং এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ অনুগ্রহ যা তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন।

‌‌[আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির কিতাবটির উৎসসমূহ]

আর এই যে আমি সেই কিতাবসমূহের নাম উল্লেখ করছি যেখান থেকে আমি আমার ফিকহী রচনাবলি উদ্ধৃত করেছি, যা ৯৬৮ হিজরি সনের শেষভাগে আমার নিকট সংগৃহীত ছিল।

হিদাযার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আন-নিহায়াহ, গায়াতুল বায়ান, আল-ইনayah, মিরাজুদ দিরাযাহ, আল-বিনায়াহ, আল-গায়াহ এবং ফাতহুল কাদির।

কানয-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: যায়লায়ী, আয়নী এবং মিসকীন।

কুদুরী-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ, আল-জাওহারাহ, আল-মুজতবা এবং আল-আকতা।

মাজমা'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: গ্রন্থকার ও ইবনুল মালিকের ব্যাখ্যাগ্রন্থ। আমি আয়নীর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ পাণ্ডুলিপি হিসেবে দেখেছি;

এবং ইবনু আমিরুল হজ্জের 'মুনিয়াতুল মুসাল্লি'-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আল-কাফীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-ওয়াফী', আল-উয়াকায়াহ ও আন-নুকাযাহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ঈযাহুল ইসলাহ, আল্লামা ফারিসীর তালখীসুল জামেউল কবীর-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, সদরুশ শহীদের তালখীসুল জামে, কাসানীর বাদায়েউস সানায়ে, তুহফার ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আল-কাফীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-মাবসুত, হাকিমুশ শহীদের আল-কাফী, মোল্লা খসরুর দুরার ও গুরার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, আল-হিদাযাহ, কাযী খানের জামেউস সগীর-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, মুখতাসারুত তাহাবীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ এবং আল-ইখতিয়ার।

ফাতাওয়াগ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে: খানিয়াহ, খুলাসাতুল ফাতাওয়া, বাযযাযিয়া, জহিরিয়া, ওয়ালওয়ালিজিয়া, আল-উমদাহ, আল-উদ্দাহ, আস-সুগরা, হুসামুশ শহীদের আল-ওয়াকিআত, আল-কুনিয়া, আল-মুনিয়া ও আল-গুনিয়া, মাআলুল ফাতাওয়া, মাহবুবীর আত-তালকীহ, কালানিসীর আত-তাহযীব, ক্বারীউল হিদাযার ফাতাওয়া, কাসিমিয়া ও ইমাদিয়া, জামেউল ফুসুলাইন, আবু ইউসুফের আল-খারাজ, খাসসাফের আওকাফ, আল-ইসআফ, আল-হাভী আল-কুদসী, আল-ইয়াতিমাহ, আল-মুহীত আর-রাদাবী, আয-যাখীরাহ, নাসাফীর মানযূমাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, ইবনু ওয়াহবানের মানযূমাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ যা তিনি নিজে এবং ইবনুশ শিহনা লিখেছেন, আস-সাইরাফিয়াহ, খিযানাতুল ফাতাওয়া, খিযানাতুল আকমাল-এর কিয়দাংশ, আস-সিরাজিয়াহ ও আত-তাতারখানিয়ার কিয়দাংশ, আত-তাজনীর, খিযানাতুল ফিকহ, হাইরাতুল ফুকাহা, কারদারীর মানাকিবা এবং আবদুল কাদিরের তাবাকাত।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الْفَنُّ الْأَوَّلُ: الْقَوَاعِدُ الْكُلِّيَّةُ

النَّوْعُ الْأَوَّلُ مِنْ هَذِهِ الْقَوَاعِدِ

 

‌‌الْقَاعِدَةُ الْأُولَى: لَا ثَوَابَ إلَّا بِالنِّيَّةِ

صَرَّحَ بِهِ الْمَشَايِخُ فِي مَوَاضِعَ مِنْ الْفِقْهِ أَوَّلُهَا فِي الْوُضُوءِ، سَوَاءٌ قُلْنَا إنَّهَا شَرْطُ الصِّحَّةِ كَمَا فِي الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصَّوْمِ وَالْحَجِّ أَوْ لَا كَمَا فِي الْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ.

وَعَلَى هَذَا قَرَّرُوا حَدِيثَ {إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ} أَنَّهُ مِنْ بَابِ الْمُقْتَضَى، إذْ لَا يَصِحُّ بِدُونِ التَّقْدِيرِ لِكَثْرَةِ وُجُودِ الْأَعْمَالِ بِدُونِهَا، فَقَدَّرُوا مُضَافًا أَيْ حُكْمَ الْأَعْمَالِ.

وَهُوَ نَوْعَانِ أُخْرَوِيٌّ، وَهُوَ الثَّوَابُ وَاسْتِحْقَاقُ الْعِقَابِ، وَدُنْيَوِيٌّ، وَهُوَ الصِّحَّةُ وَالْفَسَادُ.

وَقَدْ أُرِيدَ الْأُخْرَوِيُّ بِالْإِجْمَاعِ، لِلْإِجْمَاعِ عَلَى أَنَّهُ لَا ثَوَابَ وَلَا عِقَابَ إلَّا بِالنِّيَّةِ، فَانْتَفَى الْآخَرُ أَنْ يَكُونَ مُرَادًا، إمَّا لِأَنَّهُ مُشْتَرَكٌ وَلَا عُمُومَ لَهُ، أَوْ لِانْدِفَاعِ الضَّرُورَةِ بِهِ مِنْ صِحَّةِ الْكَلَامِ بِهِ، فَلَا حَاجَةَ إلَى الْآخَرِ.

وَالثَّانِي أَوْجَهُ لِأَنَّ الْأَوَّلَ لَا يُسَلِّمُهُ الْخَصْمُ لِأَنَّهُ قَائِلٌ بِعُمُومِ الْمُشْتَرَكِ، فَحِينَئِذٍ لَا يَدُلُّ عَلَى اشْتِرَاطِهَا فِي الْوَسَائِلِ لِلصِّحَّةِ وَلَا عَلَى الْمَقَاصِدِ أَيْضًا

وَفِي بَعْضِ الْكُتُبِ أَنَّ الْوُضُوءَ الَّذِي لَيْسَ بِمَنْوِيٍّ، لَيْسَ بِمَأْمُورٍ بِهِ وَلَكِنَّهُ مِفْتَاحٌ لِلصَّلَاةِ.

وَإِنَّمَا اُشْتُرِطَتْ فِي الْعِبَادَاتِ بِالْإِجْمَاعِ أَوْ بِآيَةِ {وَمَا أُمِرُوا إلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ}

وَالْأَوَّلُ أَوْجُهُ، لِأَنَّ الْعِبَادَةَ فِيهَا بِمَعْنَى التَّوْحِيدِ بِقَرِينَةِ
প্রথম শিল্প: সর্বজনীন মূলনীতিসমূহ

এই মূলনীতিসমূহের প্রথম প্রকার

 

প্রথম মূলনীতি: নিয়ত ব্যতীত কোনো সওয়াব নেই

মাশায়েখগণ ফিকহ শাস্ত্রের বিভিন্ন স্থানে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন, যার প্রথমটি হলো অজুর অধ্যায়ে; চাই আমরা নিয়তকে বিশুদ্ধতার শর্ত বলি—যেমনটি সালাত, যাকাত, রোজা ও হজের ক্ষেত্রে বলা হয়—অথবা না বলি—যেমনটি অজু ও গোসলের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

এর ওপর ভিত্তি করেই তাঁরা "নিশ্চয়ই সকল কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" শীর্ষক হাদিসটিকে 'আবশ্যিক উহ্য অর্থের' (মুক্বতাদা) অন্তর্ভুক্ত বলে সাব্যস্ত করেছেন। কারণ নিয়ত ছাড়াও বাস্তবে বহু কাজের অস্তিত্ব বিদ্যমান থাকার দরুন কোনো শব্দ উহ্য ধরা ব্যতীত বাক্যটি সঠিক হয় না। তাই তাঁরা এখানে একটি সম্বন্ধযুক্ত শব্দ উহ্য ধরেছেন, অর্থাৎ—"কাজের বিধান"।

আর এই বিধান দুই প্রকার: পরলৌকিক—যা হলো সওয়াব লাভ ও শাস্তির উপযুক্ত হওয়া; এবং ইহলৌকিক—যা হলো বিশুদ্ধতা ও অসারতা।

ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এখানে পরলৌকিক বিধানই উদ্দেশ্য নেওয়া হয়েছে, কারণ নিয়ত ব্যতীত কোনো সওয়াব বা আজাব নেই—এই বিষয়ে সকলের ঐক্যমত রয়েছে। ফলে অন্যটি (ইহলৌকিক বিধান) উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ হয়ে যায়; হয় এজন্য যে শব্দটি 'বহু অর্থবোধক' এবং এতে 'সাধারণ ব্যাপকতা' নেই, অথবা এজন্য যে একটির মাধ্যমে বাক্যের সঠিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা পূরণ হয়ে যাওয়ায় অন্যটির আর প্রয়োজন থাকে না।

দ্বিতীয় মতটিই অধিক যুক্তিযুক্ত, কারণ প্রথমটি প্রতিপক্ষ মেনে নেবে না; যেহেতু তারা 'বহু অর্থবোধক' শব্দের ক্ষেত্রে 'ব্যাপকতা' বা উমুম-এর প্রবক্তা। এমতাবস্থায় এটি বিশুদ্ধতার জন্য 'মাধ্যমসমূহ' কিংবা 'মূল লক্ষ্যসমূহ'-এর ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করবে না।

কিছু কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, নিয়তবিহীন অজুর আদেশ দেওয়া হয়নি, তবে তা সালাতের চাবিকাঠি।

ইবাদতসমূহে নিয়তকে শর্ত করা হয়েছে হয় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে, অথবা আল্লাহর এই বাণীর কারণে: "তাদেরকে কেবল এই নির্দেশই দেওয়া হয়েছিল যে তারা যেন আল্লাহর ইবাদত করে তাঁর আনুগত্যে একনিষ্ঠ হয়ে এবং সত্যনিষ্ঠ হয়ে।"

প্রথমটিই অধিক যুক্তিযুক্ত, কারণ এখানে সংশ্লিষ্ট অনুষঙ্গের কারণে 'ইবাদত' শব্দটির অর্থ হলো আল্লাহর একত্ববাদ...
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ১৮)
عَطْفِ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ،

فَلَا تُشْتَرَطُ فِي الْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ وَمَسْحِ الْخُفَّيْنِ وَإِزَالَةِ النَّجَاسَةِ الْخَفِيفَةِ عَنْ الثَّوْبِ وَالْبَدَنِ وَالْمَكَانِ وَالْأَوَانِي لِلصِّحَّةِ.

وَأَمَّا اشْتِرَاطُهَا فِي التَّيَمُّمِ فَلِدَلَالَةِ آيَتِهِ عَلَيْهَا لِأَنَّهُ الْقَصْدُ،

وَأَمَّا غَسْلُ الْمَيِّتِ، فَقَالُوا لَا تُشْتَرَطُ لِصِحَّةِ الصَّلَاةِ عَلَيْهِ وَتَحْصِيلِ طَهَارَتِهِ، وَإِنَّمَا هِيَ شَرْطٌ لِإِسْقَاطِ الْفَرْضِ مِنْ ذِمَّةِ الْمُكَلَّفِينَ.

وَيَتَفَرَّعُ عَلَيْهِ: أَنَّ الْغَرِيقَ يُغَسَّلُ ثَلَاثًا فِي قَوْلِ أَبِي يُوسُفَ، وَفِي رِوَايَةٍ عَنْ مُحَمَّدٍ أَنَّهُ إنْ نُوِيَ عِنْدَ الْإِخْرَاجِ مِنْ الْمَاءِ يُغَسَّلْ مَرَّتَيْنِ، وَإِنْ لَمْ يُنْوَ فَثَلَاثًا، وَعَنْهُ يُغَسَّلُ مَرَّةً وَاحِدَةً، كَمَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ.

وَأَمَّا فِي الْعِبَادَاتِ كُلِّهَا فَهِيَ شَرْطُ صِحَّتِهَا إلَّا الْإِسْلَامَ، فَإِنَّهُ يَصِحُّ بِدُونِهَا بِدَلِيلِ قَوْلِهِمْ: إنَّ إسْلَامَ الْمُكْرَهِ صَحِيحٌ.

وَلَا يَكُونُ مُسْلِمًا بِمُجَرَّدِ نِيَّةِ الْإِسْلَامِ بِخِلَافِ الْكُفْرِ،

كَمَا سَنُبَيِّنُهُ فِي بَحْثِ التُّرُوكِ

وَأَمَّا الْكُفْرُ فَيُشْتَرَطُ لَهُ النِّيَّةُ لِقَوْلِهِمْ: إنَّ كُفْرَ الْمُكْرَهِ غَيْرُ صَحِيحٍ وَأَمَّا قَوْلُهُمْ: إنَّهُ إذَا تَكَلَّمَ بِكَلِمَةِ الْكُفْرِ هَازِلًا يُكَفَّرُ.

إنَّمَا هُوَ بِاعْتِبَارِ أَنَّ عَيْنَهُ كُفْرٌ، كَمَا عُلِمَ فِي الْأُصُولِ مِنْ بَحْثِ الْهَزْلِ.

فَلَا تَصِحُّ صَلَاةٌ مُطْلَقًا، وَلَوْ صَلَاةَ جِنَازَةٍ، إلَّا بِهَا، فَرْضًا أَوْ وَاجِبًا أَوْ سُنَّةً أَوْ نَفْلًا.

وَإِذَا نَوَى قَطَعَهَا لَا يَخْرُجُ عَنْهَا إلَّا بِمُنَافٍ، وَلَوْ نَوَى الِانْتِقَالَ عَنْهَا إلَى غَيْرِهَا، فَإِنْ كَانَتْ الثَّانِيَةُ غَيْرَ الْأُولَى وَشَرَعَ بِالتَّكْبِيرِ، صَارَ مُنْتَقِلًا وَإِلَّا فَلَا وَلَا يَصِحُّ الِاقْتِدَاءُ بِإِمَامٍ إلَّا بِنِيَّةٍ وَتَصِحُّ الْإِمَامَةُ بِدُونِ نِيَّتِهَا خِلَافًا لِلْكَرْخِيِّ وَأَبِي حَفْصٍ الْكَبِيرِ، كَمَا فِي الْبِنَايَةِ إلَّا إذَا صَلَّى خَلْفَهُ نِسَاءٌ، فَإِنَّ اقْتِدَاءَهُنَّ بِهِ بِلَا نِيَّةِ الْإِمَامِ لِلْإِمَامَةِ غَيْرُ صَحِيحٍ.

وَاسْتَثْنَى بَعْضُهُمْ الْجُمُعَةَ وَالْعِيدَيْنِ، وَهُوَ الصَّحِيحُ كَمَا فِي الْخُلَاصَةِ وَلَوْ حَلَفَ أَنْ لَا يَؤُمَّ أَحَدًا فَاقْتَدَى بِهِ إنْسَانٌ صَحَّ الِاقْتِدَاءُ.

وَهَلْ يَحْنَثُ؟ قَالَ فِي الْخَانِيَّةِ: يَحْنَثُ قَضَاءً لَا دِيَانَةً إلَّا إنْ أَشْهَدَ قَبْلَ الشُّرُوعِ فَلَا يَحْنَثُ قَضَاءً، وَكَذَا لَوْ أَمَّ النَّاسَ هَذَا الْحَالِفُ فِي صَلَاةِ الْجُمُعَةِ صَحَّتْ وَحَنِثَ قَضَاءً، وَلَا يَحْنَثُ أَصْلًا إذَا أَمَّهُمْ فِي صَلَاةِ الْجِنَازَةِ وَسَجْدَةِ التِّلَاوَةِ

وَلَوْ حَلَفَ أَنْ لَا يَؤُمَّ فُلَانًا فَأَمَّ النَّاسَ نَاوِيًا أَنْ لَا يَؤُمَّهُ وَيَؤُمَّ غَيْرَهُ فَاقْتَدَى بِهِ فُلَانٌ حَنِثَ وَإِنْ لَمْ يَعْلَمْ بِهِ (انْتَهَى) .

وَلَكِنْ لَا ثَوَابَ لَهُ عَلَى الْإِمَامَةِ.

وَسُجُودُ التِّلَاوَةِ كَالصَّلَاةِ

وَكَذَا سَجْدَةُ الشُّكْرِ عَلَى قَوْلِ مِنْ يَرَاهَا مَشْرُوعَةً.

وَالْمُعْتَمَدُ أَنَّ الْخِلَافَ فِي نِيَّتِهَا لَا فِي الْجَوَازِ

وَكَذَا سُجُودُ السَّهْوِ، وَلَا تَضُرُّهُ نِيَّةُ عَدَمِهِ وَقْتَ السَّلَامِ.

وَأَمَّا النِّيَّةُ لِلْخُطْبَةِ فِي الْجُمُعَةِ فَشَرْطٌ لِصِحَّتِهَا، حَتَّى لَوْ عَطَسَ بَعْدَ صُعُودِ الْمِنْبَرِ فَقَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ لِلْعُطَاسِ غَيْرُ قَاصِدٍ لَهَا لَمْ تَصِحُّ، كَمَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ وَغَيْرِهِ

وَخُطْبَةُ الْعِيدَيْنِ كَذَلِكَ لِقَوْلِهِمْ: يُشْتَرَطُ لَهَا مَا يُشْتَرَطُ لِخُطْبَةِ الْجُمُعَةِ، سِوَى تَقْدِيمِ الْخُطْبَةِ.

وَأَمَّا الْأَذَانُ فَلَا تُشْتَرَطُ لِصِحَّتِهِ وَإِنَّمَا هِيَ شَرْطٌ لِلثَّوَابِ عَلَيْهِ

وَأَمَّا اسْتِقْبَالُ الْقِبْلَةِ،
নামায ও যাকাতের অনুবর্তী হওয়া স্বরূপ,

ওজু, গোসল, মোজার ওপর মাসাহ এবং পোশাক, শরীর, স্থান ও পাত্র থেকে হালকা নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে তা সহীহ হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত নয়।

পক্ষান্তরে তায়াম্মুমে এটি শর্ত হওয়ার কারণ হলো এর আয়াত এ বিষয়ে প্রমাণ পেশ করে, কেননা এটি হলো সংকল্প করা।

আর মৃত ব্যক্তির গোসলের ক্ষেত্রে ফকীহগণ বলেছেন, তার ওপর জানাযার নামায সহীহ হওয়া এবং তার পবিত্রতা অর্জনের জন্য এটি শর্ত নয়; বরং এটি মুকাল্লাফ বা দায়িত্বশীলদের জিম্মা থেকে ফরয দায়িত্ব পালন হওয়ার জন্য শর্ত।

এর ওপর ভিত্তি করে এই মাসয়ালা নির্গত হয় যে: ইমাম আবু ইউসুফের মতে পানিতে ডুবে যাওয়া ব্যক্তিকে তিনবার গোসল করানো হবে। ইমাম মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত আছে যে, পানি থেকে তোলার সময় যদি নিয়ত করা হয় তবে দুইবার ধোয়া হবে, আর নিয়ত না করা হলে তিনবার। তাঁর থেকে আরও একটি বর্ণনা আছে যে একবারই ধোয়া হবে, যেমনটি ফাতহুল কদীরে রয়েছে।

আর ইসলাম ব্যতীত সকল ইবাদতের ক্ষেত্রে নিয়ত সহীহ হওয়ার শর্ত। কারণ ইসলাম নিয়ত ছাড়াও সহীহ হয়, যার দলিল হলো উলামাদের এই উক্তি: "জোর জবরদস্তির শিকার ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ সহীহ।"

তবে নিছক ইসলামের নিয়ত করলেই কেউ মুসলিম হয়ে যায় না, যা কুফরের বিপরীত বিষয়।

যেমনটি আমরা 'পরিত্যাজ্য বিষয়াবলী'র আলোচনায় অচিরেই ব্যাখ্যা করব।

আর কুফরের ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত, কারণ উলামাদের বক্তব্য হলো: "জোর জবরদস্তির শিকার ব্যক্তির কুফর সহীহ নয়।" আর তাঁদের এই কথা যে, যদি কেউ ঠাট্টাচ্ছলে কুফরি বাক্য উচ্চারণ করে তবে তাকে কাফির গণ্য করা হবে—

তা মূলত এই বিবেচনায় যে, উক্ত কাজ বা বাক্যটিই মূলত কুফর, যেমনটি উসূলের 'ঠাট্টা-তামাশা' অধ্যায় থেকে জানা যায়।

সুতরাং সাধারণভাবে কোনো নামাযই নিয়ত ছাড়া সহীহ হবে না, হোক তা জানাযার নামায, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নাত কিংবা নফল।

আর যদি কেউ নামায ভেঙে দেওয়ার নিয়ত করে, তবে নামাযের পরিপন্থী কোনো কাজ না করা পর্যন্ত সে নামায থেকে বের হবে না। আর যদি নামায থেকে অন্য নামাযে স্থানান্তরের নিয়ত করে, তবে দ্বিতীয়টি যদি প্রথমটি থেকে আলাদা হয় এবং সে তাকবীর বলে শুরু করে, তবে তা স্থানান্তরিত বলে গণ্য হবে, অন্যথায় নয়। আর ইমামের ইক্তিদা বা অনুসরণ নিয়ত ছাড়া সহীহ হয় না। তবে ইমামতি করা নিয়ত ছাড়াও সহীহ হয়, যা ইমাম কারখী এবং ইমাম আবু হাফস আল-কাবীরের মতের বিপরীত, যেমনটি আল-বিনায়া কিতাবে রয়েছে। তবে যদি তাঁর পেছনে মহিলারা নামায পড়ে, তবে ইমামের পক্ষ থেকে ইমামতির নিয়ত না থাকলে তাদের ইক্তিদা সহীহ হবে না।

তাঁদের কেউ কেউ জুমু'আ এবং দুই ঈদকে এর ব্যতিক্রম বলেছেন এবং এটিই সঠিক মত, যা আল-খুলাসায় বর্ণিত হয়েছে। আর যদি কেউ শপথ করে যে সে কারো ইমামতি করবে না, অতঃপর কোনো ব্যক্তি তাঁর ইক্তিদা করে, তবে ইক্তিদা সহীহ হবে।

সে কি শপথ ভঙ্গকারী হবে? আল-খানিয়া কিতাবে বলা হয়েছে: সে বিচারিক দিক থেকে শপথ ভঙ্গকারী হবে, কিন্তু ধর্মীয় দিক থেকে নয়; তবে যদি সে শুরু করার আগে সাক্ষী রাখে তবে বিচারিক হিসেবেও শপথ ভঙ্গকারী হবে না। একইভাবে এই শপথকারী ব্যক্তি যদি জুমু'আর নামাযে ইমামতি করে তবে তা সহীহ হবে এবং বিচারিক হিসেবে সে শপথ ভঙ্গকারী গণ্য হবে। তবে জানাযার নামায এবং তিলাওয়াতে সিজদায় ইমামতি করলে সে মোটেও শপথ ভঙ্গকারী হবে না।

আর যদি সে শপথ করে যে সে অমুকের ইমামতি করবে না, অতঃপর সে মানুষের ইমামতি করে এবং নিয়ত করে যে সে তাঁর ইমামতি করবে না বরং অন্যদের ইমামতি করবে, কিন্তু সেই ব্যক্তিই তাঁর ইক্তিদা করে, তবে সে শপথ ভঙ্গকারী হবে যদিও সে তাঁর সম্পর্কে অবগত না হয় (সমাপ্ত)।

তবে ইমামতির জন্য সে কোনো সওয়াব লাভ করবে না।

এবং তিলাওয়াতে সিজদা নামাযেরই অনুরূপ।

অনুরূপভাবে শুকরিয়ার সিজদাও, যারা একে শরীয়তসম্মত মনে করেন তাদের মতে।

এবং নির্ভরযোগ্য মত হলো, মতপার্থক্য এর নিয়তের ক্ষেত্রে, এর বৈধতার ক্ষেত্রে নয়।

অনুরূপভাবে সাহু সিজদাও; আর সালামের সময় তা না করার নিয়ত তাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।

আর জুমু'আর খুতবার জন্য নিয়ত করা এর সহীহ হওয়ার শর্ত। এমনকি মিম্বরে আরোহণের পর যদি কেউ হাঁচি দেয় এবং খুতবার নিয়ত ছাড়াই হাঁচির কারণে 'আলহামদুলিল্লাহ' বলে, তবে তা সহীহ হবে না, যেমনটি ফাতহুল কদীর এবং অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ আছে।

দুই ঈদের খুতবার বিধানও একই রূপ, কারণ উলামাদের বক্তব্য হলো: খুতবা আগে প্রদান করা ব্যতিরেকে জুমু'আর খুতবার জন্য যা যা শর্ত, এর জন্যও তাই শর্ত।

আর আযানের ক্ষেত্রে নিয়ত সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত নয়, বরং এটি কেবল সওয়াব পাওয়ার শর্ত।

আর কিবলামুখী হওয়ার বিষয়টি হলো,
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ১৯)
فَشَرْطُ الْجُرْجَانِيِّ لِصِحَّتِهِ النِّيَّةَ، وَالصَّحِيحُ خِلَافُهُ كَمَا فِي الْمَبْسُوطِ، وَحَمَلَ بَعْضُهُمْ الْأَوَّلَ عَلَى مَا إذَا كَانَ يُصَلِّي فِي الصَّحْرَاءِ، وَالثَّانِي عَلَى مَا إذَا كَانَ يُصَلِّي إلَى مِحْرَابٍ، كَذَا فِي الْبِنَايَةِ.

وَأَمَّا سِتْرُ الْعَوْرَةِ فَلَا تُشْتَرَطُ لِصِحَّتِهِ وَلَمْ أَرَ فِيهِ خِلَافًا.

وَلَا تُشْتَرَطُ لِلثَّوَابِ صِحَّةُ الْعِبَادَةِ، بَلْ يُثَابُ عَلَى نِيَّتِهِ، وَإِنْ كَانَتْ فَاسِدَةً بِغَيْرِ تَعَمُّدِهِ كَمَا لَوْ صَلَّى مُحْدِثًا عَلَى ظَنِّ طَهَارَتِهِ، وَسَيَأْتِي تَحْقِيقُهُ

وَأَمَّا الزَّكَاةُ؛ فَلَا يَصِحُّ أَدَاؤُهَا إلَّا بِالنِّيَّةِ، وَعَلَى هَذَا فَمَا ذَكَرَهُ الْقَاضِي الْإِسْبِيجَابِيُّ: أَنَّ مَنْ امْتَنَعَ عَنْ أَدَائِهَا أَخَذَهَا الْإِمَامُ كَرْهًا وَوَضَعَهَا فِي أَهْلِهَا، وَتُجْزِيهِ لِأَنَّهُ لِلْإِمَامِ وِلَايَةَ أَخْذِهَا، فَقَامَ أَخْذُهُ مَقَامَ دَفْعِ الْمَالِكِ بِاخْتِيَارِهِ.

فَهُوَ ضَعِيفٌ.

وَالْمُعْتَمَدُ فِي الْمَذْهَبِ عَدَمُ الْإِجْزَاءِ كَرْهًا.

قَالَ فِي الْمُحِيطِ: وَمَنْ امْتَنَعَ عَنْ أَدَاءِ الزَّكَاةِ فَالسَّاعِي لَا يَأْخُذُ مِنْهُ الزَّكَاةَ كَرْهًا، وَلَوْ أَخَذَ لَا يَقَعُ عَنْ الزَّكَاةِ لِكَوْنِهَا بِلَا اخْتِيَارٍ، وَلَكِنْ يُجْبِرُهُ بِالْحَبْسِ لِيُؤَدِّيَ بِنَفْسِهِ (انْتَهَى) وَخَرَجَ عَنْ اشْتِرَاطِهَا لَهَا.، مَا إذَا تَصَدَّقَ بِجَمِيعِ النِّصَابِ بِلَا نِيَّةٍ فَإِنَّ الْفَرْضَ يَسْقُطُ عَنْهُ.

وَاخْتَلَفُوا فِي سُقُوطِ زَكَاةِ الْبَعْضِ إذَا تَصَدَّقَ بِهِ، وَقَالُوا وَتُشْتَرَطُ نِيَّةُ التِّجَارَةِ فِي الْعُرُوضِ وَلَا بُدَّ أَنْ تَكُونَ مُقَارِنَةً لِلتِّجَارَةِ، فَلَوْ اشْتَرَى شَيْئًا لِلْقَنِيَّةِ نَاوِيًا أَنَّهُ إنْ وَجَدَ رِبْحًا بَاعَهُ لَا زَكَاةَ عَلَيْهِ.

وَلَوْ نَوَى التِّجَارَةَ فِيمَا خَرَجَ مِنْ أَرْضِهِ الْعُشْرِيَّةُ أَوْ الْخَرَاجِيَّةُ أَوْ الْمُسْتَأْجَرَةُ أَوْ الْمُسْتَعَارَةُ لَا زَكَاةَ عَلَيْهِوَلَوْ قَارَنَتْ مَا لَيْسَ بَدَلَ مَالٍ بِمَالِ، كَالْهِبَةِ وَالصَّدَقَةِ وَالْخَلْعِ وَالْمَهْرِ وَالْوَصِيَّةِ، لَا تَصِحُّ عَلَى الصَّحِيحِ.

وَفِي السَّائِمَةِ لَا بُدَّ مِنْ قَصْدِ إسَامَتِهَا لِلدَّرِّ وَالنَّسْلِ أَكْثَرُ الْحَوْلِ، فَإِنْ قُصِدَ بِهِ التِّجَارَةُ فَفِيهَا زَكَاةُ التِّجَارَةِ إنْ قَارَنَتْ الشِّرَاءَ وَإِنْ قُصِدَ بِهِ الْحَمْلُ وَالرُّكُوبُ أَوْ الْأَكْلُ فَلَا زَكَاةَ أَصْلًا.

وَأَمَّا النِّيَّةُ فِي الصَّوْمِ فَشَرْطُ صِحَّتِهِ لِكُلِّ يَوْمٍ وَلَوْ عَلَّقَهَا بِالْمَشِيئَةِ صَحَّتْ لِأَنَّهَا إنَّمَا تُبْطِلُ الْأَقْوَالَ، وَالنِّيَّةُ لَيْسَتْ مِنْهَا، وَالْفَرْضُ وَالسُّنَّةُ وَالنَّفَلُ فِي أَصْلِهَا سَوَاءٌ.

وَأَمَّا النِّيَّةُ فِي الْحَجِّ فَهِيَ شَرْطُ صِحَّتِهِ أَيْضًا فَرْضًا كَانَ أَوْ نَفْلًا وَالْعُمْرَةُ كَذَلِكَ، وَلَا تَكُونُ إلَّا سُنَّةً

وَالْمَنْذُورُ كَالْفَرْضِوَلَوْ نَذَرَ حَجَّةَ الْإِسْلَامِ لَا تَلْزَمُهُ إلَّا حَجَّةُ الْإِسْلَامِ كَمَا لَوْ نَذَرَ الْأُضْحِيَّةَ.

وَالْقَضَاءُ فِي الْكُلِّ كَالْأَدَاءِ مِنْ جِهَةِ أَصْلِ النِّيَّةِ.

وَأَمَّا الِاعْتِكَافُ فَهِيَ شَرْطُ صِحَّتِهِ وَاجِبًا كَانَ أَوْ سُنَّةً أَوْ نَفْلًا. أَمَّا الْكَفَّارَاتُ فَالنِّيَّةُ شَرْطُ صِحَّتِهَا عِتْقًا أَوْ صِيَامًا أَوْ إطْعَامًا. وَأَمَّا الضَّحَايَا فَلَا بُدَّ فِيهَا مِنْ النِّيَّةِ، لَكِنْ عِنْدَ الشِّرَاءِ لَا عِنْدَ الذَّبْحِ. وَتَفَرَّعَ عَلَيْهِ أَنَّهُ لَوْ اشْتَرَاهَا بِنِيَّةِ الْأُضْحِيَّةِ فَذَبَحَهَا غَيْرُهُ بِلَا إذْنٍ، فَإِنْ أَخَذَهَا مَذْبُوحَةً وَلَمْ يَضْمَنْهُ أَجْزَأَتْهُ، وَإِنْ ضَمِنَهُ لَا
জুরজানির শর্তানুসারে এর শুদ্ধতার জন্য নিয়ত করা আবশ্যক, তবে সঠিক মতটি এর বিপরীত যেমন 'আল-মাবসুত' গ্রন্থে রয়েছে। কেউ কেউ প্রথম মতটিকে সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে গ্রহণ করেছেন যখন কেউ মরুভূমিতে সালাত আদায় করে, আর দ্বিতীয়টিকে যখন কেউ মেহরাবের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করে তার জন্য নির্ধারণ করেছেন। 'আল-বিনায়াহ' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

আর সতর ঢাকার ক্ষেত্রে (নিয়ত) শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত নয় এবং এতে আমি কোনো মতভেদ দেখিনি।

ইবাদত শুদ্ধ হওয়া সওয়াব পাওয়ার জন্য শর্ত নয়, বরং বান্দা তার নিয়তের ওপর সওয়াব পাবে; যদিও তা অনিচ্ছাকৃতভাবে ত্রুটিপূর্ণ হয়। যেমন কেউ যদি পবিত্র মনে করে অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায় করে। এর বিস্তারিত তাহকীক সামনে আসবে।

আর যাকাত প্রসঙ্গে কথা হলো, নিয়ত ছাড়া যাকাত আদায় শুদ্ধ হবে না। এর ওপর ভিত্তি করেই কাজী আল-ইসবি জাবি যা উল্লেখ করেছেন তা হলো: যে ব্যক্তি যাকাত দিতে অস্বীকার করবে, ইমাম তা জোরপূর্বক গ্রহণ করবেন এবং তা যাকাতের হকদারদের মাঝে বণ্টন করবেন। এটি তার পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে, কারণ যাকাত গ্রহণের ব্যাপারে ইমামের কর্তৃত্ব রয়েছে। সুতরাং ইমামের গ্রহণ করাটা মালিকের স্বেচ্ছায় প্রদানের স্থলাভিষিক্ত হবে।

কিন্তু এই মতটি দুর্বল।

আর মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মত হলো, জোরপূর্বক গ্রহণের মাধ্যমে যাকাত আদায় হবে না।

‘আল-মুহিত’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যে ব্যক্তি যাকাত দিতে অস্বীকার করবে, যাকাত আদায়কারী তার থেকে জোর করে যাকাত গ্রহণ করবে না। আর যদি জোর করে নেয়ও, তবে তা যাকাত হিসেবে গণ্য হবে না; কেননা এটি স্বেচ্ছায় সম্পাদিত হয়নি। তবে আদায়কারী তাকে কারারুদ্ধ করার মাধ্যমে বাধ্য করবে যাতে সে নিজেই তা আদায় করে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর যাকাতে নিয়ত শর্ত হওয়ার বিষয়টি থেকে ওই অবস্থাটি স্বতন্ত্র যখন কেউ নিয়ত ছাড়াই তার সমস্ত নিসাব সদকা করে দেয়, তখন তার ওপর থেকে ফরজ দায়িত্ব রহিত হয়ে যায়।

নিসাবের একাংশ সদকা করলে যাকাত রহিত হবে কি না এ ব্যাপারে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: ব্যবসায়িক পণ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসার নিয়ত করা শর্ত এবং এই নিয়ত ব্যবসার সাথে যুক্ত হতে হবে। সুতরাং কেউ যদি নিজের ব্যবহারের জন্য কোনো কিছু ক্রয় করে এবং এই নিয়ত রাখে যে লাভ পেলে তা বিক্রি করে দেবে, তবে তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে না।

আর যদি কেউ তার উশরি, খরাজি, ভাড়া করা বা ধার নেওয়া জমি থেকে উৎপন্ন ফসলে ব্যবসার নিয়ত করে, তবুও তার ওপর যাকাত ওয়াজিব হবে না। আর যদি ব্যবসার নিয়ত এমন বিষয়ের সাথে যুক্ত হয় যা মালের বিনিময়ে মাল নয়—যেমন হেবা, সদকা, খোলা, মোহর এবং অসিয়ত—তবে সঠিক মতানুসারে তা (যাকাত হিসেবে) শুদ্ধ হবে না।

আর চারণভূমিতে বিচরণকারী পশুর (সায়িমাহ) ক্ষেত্রে বছরের অধিকাংশ সময় দুধ ও বংশবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে পালন করার ইচ্ছা থাকতে হবে। আর যদি তাতে ব্যবসার নিয়ত থাকে এবং তা ক্রয়ের সময় থেকেই হয়, তবে তাতে ব্যবসার যাকাত ওয়াজিব হবে। কিন্তু যদি মাল বহন, আরোহণ বা খাওয়ার উদ্দেশ্য থাকে, তবে তাতে কোনো যাকাত নেই।

রোযার ক্ষেত্রে নিয়ত হলো প্রতিটি দিনের জন্য তা শুদ্ধ হওয়ার শর্ত। যদি কেউ নিয়তকে আল্লাহর ইচ্ছার (মাশিয়াহ) সাথে যুক্ত করে, তবে তা শুদ্ধ হবে; কারণ এটি কেবল মৌখিক বক্তব্যকেই বাতিল করে, আর নিয়ত তার অন্তর্ভুক্ত নয়। রোযার ক্ষেত্রে ফরজ, সুন্নাত ও নফল এর মূল হুকুমের দিক থেকে সমান।

আর হজের ক্ষেত্রেও নিয়ত হলো তা শুদ্ধ হওয়ার শর্ত, চাই তা ফরজ হোক বা নফল। উমরার ক্ষেত্রেও একই বিধান, আর তা কেবল সুন্নাত হিসেবেই হয়ে থাকে।

মানত করা হজ ফরজের মতোই। কেউ যদি 'হজ্জাতুল ইসলাম' আদায়ের মানত করে, তবে তার ওপর কেবল হজ্জাতুল ইসলামই আবশ্যক হবে, যেমনটি কোরবানির মানত করার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।

আর নিয়তের মূল বিধানের ক্ষেত্রে সবকিছুর কাজা আদায় করার মতোই।

আর ইতিকাফের ক্ষেত্রে তা শুদ্ধ হওয়ার শর্ত হলো নিয়ত করা, চাই তা ওয়াজিব, সুন্নাত বা নফল হোক। কাফফারার ক্ষেত্রেও নিয়ত শুদ্ধ হওয়ার শর্ত, চাই তা দাস মুক্তি, রোযা রাখা বা খাবার খাওয়ানো হোক। আর কোরবানির ক্ষেত্রেও নিয়ত থাকা আবশ্যক, তবে তা ক্রয়ের সময় হতে হবে, জবেহ করার সময় নয়। এর থেকে এই মাসআলাটি বের হয়ে আসে যে, কেউ যদি কোরবানির নিয়তে পশু ক্রয় করে এবং অন্য কেউ তার অনুমতি ছাড়া তা জবেহ করে দেয়, এমতাবস্থায় সে যদি জবেহ করা পশুটি গ্রহণ করে এবং তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি না করে, তবে কোরবানি আদায় হয়ে যাবে। আর যদি ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করে, তবে আদায় হবে না।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২০)
تُجْزِيهِ

كَمَا فِي أُضْحِيَّةِ الذَّخِيرَةِ، وَهَذَا إذَا ذَبَحَهَا عَنْ نَفْسِهِ، وَأَمَّا إذَا ذَبَحَهَا عَنْ مَالِكِهَا فَلَا ضَمَانَ عَلَيْهِ.

وَهَلْ تَتَعَيَّنُ الْأُضْحِيَّةُ بِالنِّيَّةِ؟ قَالُوا: إنْ كَانَ فَقِيرًا وَقَدْ اشْتَرَاهَا بِنِيَّتِهَا تَعَيَّنَتْ فَلَيْسَ لَهُ بَيْعُهَا وَإِنْ كَانَ غَنِيًّا لَمْ تَتَعَيَّنْ.

وَالصَّحِيحُ أَنَّهَا تَتَعَيَّنُ مُطْلَقًا فَيَتَصَدَّقُ بِهَا الْغَنِيُّ بَعْدَ أَيَّامِهَا حَيَّةً.

وَلَكِنْ لَهُ أَنْ يُقِيمَ غَيْرَهَا مَقَامَهَا، كَمَا فِي الْبَدَائِعِ مِنْ الْأُضْحِيَّةِ.

قَالُوا: وَالْهَدَايَا كَالضَّحَايَا وَأَمَّا الْعِتْقُ فَعِنْدَنَا لَيْسَ بِعِبَادَةٍ وَضْعًا بِدَلِيلِ صِحَّتِهِ مِنْ الْكَافِرِ وَلَا عِبَادَةَ لَهُ.

فَإِنْ نَوَى وَجْهَ اللَّهِ تَعَالَى كَانَ عِبَادَةً مُثَابًا عَلَيْهَا، وَإِنْ أَعْتَقَ بِلَا نِيَّةٍ صَحَّ وَلَا ثَوَابَ لَهُ إنْ كَانَ صَرِيحًا. وَأَمَّا الْكِنَايَاتُ فَلَا بُدَّ لَهَا مِنْ النِّيَّةِ فَإِنْ أَعْتَقَ لِلصَّنَمِ أَوْ لِلشَّيْطَانِ صَحَّ وَأَثِمَ.

وَإِنْ أَعْتَقَ لِأَجْلِ مَخْلُوقٍ صَحَّ، وَكَانَ مُبَاحًا لَا ثَوَابَ وَلَا إثْمَ.

وَيَنْبَغِي أَنْ يُخَصَّصَ الْإِعْتَاقُ لِلصَّنَمِ بِمَا إذَا كَانَ الْمُعْتِقُ كَافِرًا، أَمَّا الْمُسْلِمُ إذَا أَعْتَقَ لَهُ قَاصِدًا تَعْظِيمَهُ كَفَرَ، كَمَا يَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ الْإِعْتَاقُ لِمَخْلُوقٍ مَكْرُوهًا.

وَالتَّدْبِيرُ وَالْكِنَايَةُ كَالْعِتْقِ. وَأَمَّا الْجِهَادُ، فَمِنْ أَعْظَمِ الْعِبَادَاتِ، فَلَا بُدَّ لَهُ مِنْ خُلُوصِ النِّيَّةِ

وَأَمَّا الْوَصِيَّةُ فَكَالْعِتْقِ إنْ قَصَدَ التَّقَرُّبَ فَلَهُ الثَّوَابُ، وَإِلَّا فَهِيَ صَحِيحَةٌ فَقَطْ.

وَأَمَّا الْوَقْفُ فَلَيْسَ بِعِبَادَةٍ وَضْعًا بِدَلِيلِ صِحَّتِهِ مِنْ الْكَافِرِ، فَإِنْ نَوَى الْقُرْبَةَ فَلَهُ الثَّوَابُ، وَإِلَّا فَلَا

وَأَمَّا النِّكَاحُ فَقَالُوا إنَّهُ أَقْرَبُ إلَى الْعِبَادَاتِ حَتَّى أَنَّ الِاشْتِغَالَ بِهِ أَفْضَلُ مِنْ التَّخَلِّي لِمَحْضِ الْعِبَادَةِ، وَهُوَ عِنْدَ الِاعْتِدَالِ سُنَّةٌ مُؤَكَّدَةٌ عَلَى الصَّحِيحِ، فَيَحْتَاجُ إلَى النِّيَّةِ لِتَحْصِيلِ الثَّوَابِ؛ وَهُوَ أَنْ يَقْصِدَ إعْفَافَ نَفْسِهِ وَتُحْصِينَهَا وَحُصُولَ وَلَدٍ.

وَفَسَّرْنَا الِاعْتِدَالَ فِي الشَّرْحِ الْكَبِيرِ شَرْحِ الْكَنْزِ، لَمْ تَكُنْ النِّيَّةُ فِيهِ شَرْطُ صِحَّتِهِ، قَالُوا: يَصِحُّ النِّكَاحُ مَعَ الْهَزْلِ، لَكِنْ قَالُوا حَتَّى لَوْ عَقَدَ بِلَفْظٍ لَا يَعْرِفُ مَعْنَاهُ فَفِيهِ خِلَافٌ.

وَالْفَتْوَى عَلَى صِحَّتِهِ، عَلِمَ الشُّهُودُ أَوْ لَا، كَمَا فِي الْبَزَّازِيَّةِ.

وَعَلَى هَذَا سَائِرُ الْقُرُبِ لَا بُدَّ فِيهَا مِنْ النِّيَّةِ، بِمَعْنَى تَوَقُّفِ حُصُولِ الثَّوَابِ عَلَى قَصْدِ التَّقَرُّبِ بِهَا إلَى اللَّهِ تَعَالَى مِنْ نَشْرِ الْعِلْمِ تَعْلِيمًا وَإِفْتَاءً وَتَصْنِيفًا. وَأَمَّا الْقَضَاءُ، فَقَالُوا إنَّهُ مِنْ الْعِبَادَاتِ، فَالثَّوَابُ عَلَيْهِ مُتَوَقِّفٌ عَلَيْهَا

وَكَذَلِكَ إقَامَةُ الْحُدُودِ وَالتَّعَازِيرِ، وَكُلِّ مَا يَتَعَاطَاهُ الْحُكَّامُ

وَالْوُلَاةُ، وَكَذَا تَحَمُّلُ الشَّهَادَةِ وَأَدَاؤُهَا وَأَمَّا الْمُبَاحَاتُ فَإِنَّهَا تَخْتَلِفُ صِفَتُهَا بِاعْتِبَارِ مَا قُصِدَتْ لِأَجْلِهِ.

فَإِذَا قُصِدَ بِهَا التَّقَوِّي عَلَى الطَّاعَاتِ أَوْ التَّوَصُّلُ إلَيْهَا كَانَتْ عِبَادَةً، كَالْأَكْلِ وَالنَّوْمِ وَاكْتِسَابِ الْمَالِ وَالْوَطْءِ وَأَمَّا الْمُعَامَلَاتُ فَأَنْوَاعٌ: فَالْبَيْعُ لَا يَتَوَقَّفُ عَلَيْهَا، وَكَذَا الْإِقَالَةُ وَالْإِجَارَةُ، لَكِنْ قَالُوا: إنْ عَقَدَ بِمُضَارِعٍ لَمْ يُصَدَّرْ بِسَوْفَ أَوْ السِّينِ تَوَقَّفَ عَلَى النِّيَّةِ فَإِنْ نَوَى بِهِ
এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে, যেমনটি 'জখিরা'র কুরবানি অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি তখন প্রযোজ্য যখন সে নিজের পক্ষ থেকে জবেহ করবে। আর যদি সে তা মালিকের পক্ষ থেকে জবেহ করে, তবে তার ওপর কোনো জরিমানা বর্তাবে না।

কুরবানির পশু কি নিয়তের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হয়ে যায়? ফকিহগণ বলেছেন: যদি সে ব্যক্তি দরিদ্র হয় এবং কুরবানির নিয়তেই তা ক্রয় করে থাকে, তবে তা নির্দিষ্ট হয়ে যাবে; সুতরাং তা বিক্রি করার অধিকার তার থাকবে না। আর যদি সে ধনী হয়, তবে তা নির্দিষ্ট হবে না।

এবং বিশুদ্ধ মত হলো এটি নিঃশর্তভাবে নির্দিষ্ট হয়ে যাবে; ফলে ধনী ব্যক্তি কুরবানির দিনগুলো অতিবাহিত হওয়ার পর তা জীবন্ত অবস্থায় সদকা করে দিবে।

তবে তার জন্য সেটির পরিবর্তে অন্য একটিকে স্থলাভিষিক্ত করার সুযোগ রয়েছে, যেমনটি 'বাদায়ি' কিতাবের কুরবানি অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।

ফকিহগণ বলেছেন: উপঢৌকন বা হাদিয়ার বিধান কুরবানির মতোই। আর দাসমুক্তির বিষয়টি আমাদের মতে মূলত ইবাদত নয়; যার প্রমাণ হলো কাফিরের পক্ষ থেকেও এটি শুদ্ধ হওয়া, অথচ তার জন্য কোনো ইবাদত নেই।

তবে যদি সে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত করে, তবে তা ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে এবং সে জন্য প্রতিদান লাভ করবে। আর যদি সে নিয়ত ছাড়াই মুক্ত করে দেয়, তবে তা শুদ্ধ হবে কিন্তু কোনো সওয়াব পাবে না, যদি তা স্পষ্ট শব্দে হয়। তবে ইঙ্গিতমূলক শব্দের ক্ষেত্রে নিয়ত করা আবশ্যক। সুতরাং যদি সে মূর্তির নামে বা শয়তানের নামে মুক্ত করে, তবে মুক্তি কার্যকর হবে কিন্তু সে গুনাহগার হবে।

আর যদি সে কোনো সৃষ্টির জন্য মুক্ত করে, তবে তাও শুদ্ধ হবে এবং এটি মুবাহ (বৈধ) হিসেবে গণ্য হবে; এতে কোনো সওয়াব বা গুনাহ নেই।

মূর্তির উদ্দেশ্যে দাসমুক্ত করার বিষয়টি কেবল তখনই নির্দিষ্ট হওয়া উচিত যখন মুক্তিদাতা কাফির হয়। পক্ষান্তরে কোনো মুসলিম যদি মূর্তিকে সম্মান করার উদ্দেশ্যে তাকে মুক্ত করে, তবে সে কাফির হয়ে যাবে। অনুরূপভাবে কোনো সৃষ্টির জন্য মুক্ত করা মাকরূহ হওয়া উচিত।

তাদবির (মৃত্যুর পর মুক্তির ঘোষণা) এবং ইঙ্গিতমূলক শব্দাবলি দাসমুক্তির মতোই। আর জিহাদ হলো অন্যতম মহান ইবাদত, তাই এতে নিয়তের একনিষ্ঠতা আবশ্যক।

আর অসিয়তের বিষয়টি দাসমুক্তির মতোই; যদি আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করে তবে সওয়াব পাবে, নতুবা তা কেবল শুদ্ধ বলেই গণ্য হবে।

আর ওয়াকফ মূলত ইবাদত নয়; যার প্রমাণ হলো কাফিরের পক্ষ থেকে এটি শুদ্ধ হওয়া। সুতরাং যদি সে আল্লাহর নৈকট্যের নিয়ত করে তবে সওয়াব পাবে, অন্যথায় নয়।

আর বিবাহের ব্যাপারে ফকিহগণ বলেছেন যে, এটি ইবাদতের অধিক নিকটবর্তী, এমনকি এটিতে লিপ্ত থাকা কেবল নফল ইবাদতের জন্য নিঃসঙ্গ হওয়ার চেয়েও উত্তম। স্বাভাবিক অবস্থায় বিশুদ্ধ মতানুসারে এটি সুন্নাতে মুয়াক্কাদা; সুতরাং সওয়াব অর্জনের জন্য এতে নিয়তের প্রয়োজন রয়েছে। আর সেই নিয়ত হলো নিজের চারিত্রিক পবিত্রতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং সন্তান লাভ করা।

আমরা ‘কানজ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘শারহুল কাবীর’-এ স্বাভাবিক অবস্থার (ই’তিদাল) ব্যাখ্যা দিয়েছি। বিবাহের ক্ষেত্রে নিয়ত শুদ্ধ হওয়ার শর্ত নয়। ফকিহগণ বলেছেন: ঠাট্টা-বিদ্রূপের ছলে বিবাহ করলেও তা শুদ্ধ হয়ে যায়। তবে তারা আরও বলেছেন, এমনকি যদি এমন কোনো শব্দে বিবাহ সম্পন্ন করে যার অর্থ সে জানে না, তবে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে।

এবং এটি শুদ্ধ হওয়ার ওপরই ফতোয়া প্রদান করা হয়েছে, সাক্ষীগণ তা জানুক বা না জানুক, যেমনটি 'বাজজাজিয়া'য় রয়েছে।

একইভাবে অন্যান্য নেক আমলের ক্ষেত্রেও নিয়ত থাকা আবশ্যক; অর্থাৎ শিক্ষা প্রদান, ফতোয়া দান এবং কিতাব রচনার মাধ্যমে দ্বীনি জ্ঞান প্রচার করে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের নিয়তের ওপরই সওয়াব প্রাপ্তি নির্ভর করে। আর বিচার কার্যের (কাজগিরি) ব্যাপারে ফকিহগণ বলেছেন যে, এটি ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত, তাই এর সওয়াব নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।

অনুরূপভাবে দণ্ডবিধি (হুদুদ) ও শাসনমূলক শাস্তি (তা’যির) কার্যকর করা এবং শাসকরা যা কিছু পরিচালনা করেন তার বিধানও একই।

এবং দায়িত্বশীলগণ, তেমনিভাবে সাক্ষ্য গ্রহণ ও সাক্ষ্য প্রদানও এর অন্তর্ভুক্ত। আর মুবাহ বা বৈধ কাজগুলোর বৈশিষ্ট্য তার উদ্দেশ্যের পার্থক্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।

সুতরাং যখন এগুলোর মাধ্যমে ইবাদতের শক্তি অর্জন বা ইবাদত পর্যন্ত পৌঁছানোর উদ্দেশ্য করা হয়, তখন সেগুলো ইবাদত হিসেবে গণ্য হয়; যেমন আহার করা, নিদ্রা যাওয়া, অর্থ উপার্জন করা এবং স্ত্রী সহবাস করা। আর লেনদেন বা মুয়ামালাত কয়েক প্রকার: ক্রয়-বিক্রয় নিয়তের ওপর নির্ভরশীল নয়, তেমনিভাবে চুক্তি বাতিল (ইকালা) ও ইজারাও নয়। তবে ফকিহগণ বলেছেন: যদি বর্তমান বা ভবিষ্যৎবাচক (মুদারে) শব্দ দিয়ে চুক্তি করা হয় এবং শুরুতে 'সাওফা' বা 'সীন' না থাকে, তবে তা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল হবে। অতঃপর যদি সে এর মাধ্যমে নিয়ত করে...
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২১)
الْإِيجَابَ لِلْحَالِ كَانَ بَيْعًا، وَإِلَّا لَا.

بِخِلَافِ صِيغَةِ الْمَاضِي فَإِنَّ الْبَيْعَ لَا يَتَوَقَّفُ عَلَى النِّيَّةِ،

وَأَمَّا الْمُضَارِعُ الْمُتَمَحِّضُ لِلِاسْتِقْبَالِ فَهُوَ كَالْأَمْرِ لَا يَصِحُّ الْبَيْعُ بِهِ وَلَا بِالنِّيَّةِ.

وَقَدْ أَوْضَحْنَاهُ فِي شَرْحِ الْكَنْزِ.

وَقَالُوا لَا يَصِحُّ مَعَ الْهَزْلِ لِعَدَمِ الرِّضَى بِحُكْمِهِ مَعَهُ. وَأَمَّا الْهِبَةُ، فَلَا تَتَوَقَّفُ عَلَى النِّيَّةِ.

قَالُوا لَوْ وَهَبَ مُمَازِحًا صَحَّتْ، كَمَا فِي الْبَزَّازِيَّةِ، وَلَكِنْ لَوْ لُقِّنَ الْهِبَةَ وَلَمْ يَعْرِفْهَا لَمْ تَصِحَّ، لَا لِأَجْلِ أَنَّ النِّيَّةَ شَرْطُهَا، وَإِنَّمَا هُوَ لِفَقْدِ شَرْطِهَا وَهُوَ الرِّضَى.

وَكَذَا لَوْ أُكْرِهَ عَلَيْهَا لَمْ تَصِحَّ، بِخِلَافِ الطَّلَاقِ وَالْعَتَاقِ؛ فَإِنَّهُمَا يَقَعَانِ بِالتَّلْقِينِ مِمَّنْ لَا يَعْرِفُهُمَا، لِأَنَّ الرِّضَى لَيْسَ شَرْطَهُمَا وَلِذَا لَوْ أُكْرِهَ عَلَيْهِمَا يَقَعَانِ. وَأَمَّا الطَّلَاقُ، فَصَرِيحٌ وَكِنَايَةٌ.

فَالْأَوَّلُ لَا يَحْتَاجُ فِي وُقُوعِهِ إلَيْهَا؛ فَلَوْ طَلَّقَ غَافِلًا أَوْ سَاهِيًا أَوْ مُخْطِئًا وَقَعَ، حَتَّى قَالُوا.

إنَّ الطَّلَاقَ يَقَعُ بِالْأَلْفَاظِ الْمُصَحَّفَةِ قَضَاءً، وَلَكِنْ لَا بُدَّ أَنْ يَقْصِدَهَا بِاللَّفْظِ.

قَالُوا لَوْ كَرَّرَ مَسَائِلَ الطَّلَاقِ بِحَضْرَتِهَا وَيَقُولُ فِي كُلِّ مَرَّةٍ: أَنْتِ طَالِقٌ، لَمْ يَقَعْ وَلَوْ كَتَبْت امْرَأَتِي طَالِقٌ أَوْ أَنْتِ طَالِقٌ وَقَالَتْ لَهُ اقْرَأْ عَلَيَّ فَقَرَأَ عَلَيْهَا لَمْ يَقَعْ عَلَيْهَا لِعَدَمِ قَصْدِهَا بِاللَّفْظِ.

وَلَا يُنَافِيهِ قَوْلُهُمْ: إنَّ الصَّرِيحَ لَا يَحْتَاجُ إلَى النِّيَّةِ. وَقَالُوا: لَوْ قَالَ أَنْتِ طَالِقٌ؛ نَاوِيًا الطَّلَاقَ مِنْ وَثَاقٍ لَمْ يَقَعْ دِيَانَةً وَوَقَعَ قَضَاءً، وَفِي عِبَارَةِ بَعْضِ الْكُتُبِ أَنَّ طَلَاقَ الْمُخْطِئِ وَاقِعٌ قَضَاءً لَا دِيَانَةً، فَظَهَرَ بِهَذَا أَنَّ الصَّرِيحَ لَا يَحْتَاجُ إلَيْهَا قَضَاءً وَيَحْتَاجُ إلَيْهَا دِيَانَةً، وَلَا يَرُدُّ عَلَيْهِ قَوْلُهُمْ إنَّهُ لَوْ طَلَّقَهَا هَازِلًا يَقَعُ قَضَاءً وَدِيَانَةً، لِأَنَّ الشَّارِعَ، جَعَلَ هَزْلَهُ بِهِ جِدًّا.

وَقَالُوا لَا تَصِحُّ نِيَّةُ الثَّلَاثِ فِي أَنْتِ طَالِقٌ، وَلَا نِيَّةُ الْبَائِنِ،

وَلَا تَصِحُّ نِيَّةُ الثِّنْتَيْنِ فِي الْمَصْدَرِ؛ أَنْتِ الطَّلَاقُ إلَّا أَنْ تَكُونَ الْمَرْأَةُ أَمَةً، وَتَصِحُّ نِيَّةُ الثَّلَاثِ. وَأَمَّا كِنَايَاتُهُ فَلَا يَقَعُ بِهَا إلَّا بِالنِّيَةِ دِيَانَةً، سَوَاءً

كَانَ مَعَهَا مُذَاكَرَةُ الطَّلَاقِ أَوْ لَا.

وَالْمُذَاكَرَةُ إنَّمَا تَقُومُ مَقَامَ النِّيَّةِ فِي الْقَضَاءِ إلَّا فِي لَفْظِ الْحَرَامِ، فَإِنَّهُ كِنَايَةٌ وَلَا يَحْتَاجُ إلَيْهَا فَيَنْصَرِفُ إلَى الطَّلَاقِ إذَا كَانَ الزَّوْجُ مِنْ قَوْمٍ يُرِيدُونَ بِالْحَرَامِ الطَّلَاقَ وَأَمَّا تَفْوِيضُ الطَّلَاقِ وَالْخُلْعِ وَالْإِيلَاءِ وَالظِّهَارِ، فَمَا كَانَ مِنْهُ صَرِيحًا لَا تُشْتَرَطُ لَهُ النِّيَّةُ، وَمَا كَانَ كِنَايَةً اُشْتُرِطَتْ لَهُ.

وَأَمَّا الرَّجْعَةُ فَكَالنِّكَاحِ لِأَنَّهَا اسْتِدَامَتُهُ، لَكِنْ مَا كَانَ مِنْهَا صَرِيحًا لَا يَحْتَاجُ إلَيْهَا، وَكِنَايَتُهَا تَحْتَاجُ إلَيْهَا

وَأَمَّا الْيَمِينُ بِاَللَّهِ؛ فَلَا يَتَوَقَّفُ عَلَيْهَا فَيَنْعَقِدُ إذَا حَلَفَ عَامِدًا أَوْ سَاهِيًا أَوْ مُخْطِيًا أَوْ مُكْرَهًا.

وَكَذَا إذَا فَعَلَ الْمَحْلُوفُ عَلَيْهِ كَذَلِكَ. وَأَمَّا نِيَّةُ تَخْصِيصِ الْعَامِّ فِي الْيَمِينِ فَمَقْبُولَةٌ دِيَانَةً اتِّفَاقًا، وَقَضَاءً عِنْدَ الْخَصَّافِ، وَالْفَتْوَى عَلَى قَوْلِهِ إنْ كَانَ الْحَالِفُ مَظْلُومًا. وَكَذَلِكَ اُخْتُلِفَ هَلْ الِاعْتِبَارُ لِنِيَّةِ الْحَالِفِ أَوْ لِنِيَّةِ الْمُسْتَحْلِفْ؟ وَالْفَتْوَى عَلَى
বর্তমান সময়ের জন্য প্রস্তাব হলে তা কেনাবেচা হিসেবে গণ্য হবে, অন্যথায় নয়।

অতীতকালের শব্দের ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এতে কেনাবেচা নিয়তের ওপর নির্ভর করে না।

আর যা কেবল ভবিষ্যৎ কাল বুঝায় এমন মুদারে (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক) শব্দ আদেশের মতোই, তার দ্বারা কেনাবেচা শুদ্ধ হয় না এবং নিয়তের মাধ্যমেও নয়।

আর আমি এটি ‘শারহুল কানয’-এ স্পষ্ট করেছি।

ফকিহগণ বলেছেন, উপহাস বা তামাশার সাথে এটি শুদ্ধ হয় না, কারণ এমতাবস্থায় এর বিধানের প্রতি সন্তুষ্টির অভাব থাকে। আর হেবা (দান)-এর ক্ষেত্রে তা নিয়তের ওপর নির্ভর করে না।

তাঁরা বলেছেন, যদি কেউ কৌতুকবশত দান করে তবে তা শুদ্ধ হবে, যেমনটি ‘বাযযাযিয়া’-তে রয়েছে। কিন্তু যদি তাকে দান করার কথা মুখস্থ করিয়ে দেওয়া হয় আর সে তা না বুঝে বলে, তবে তা শুদ্ধ হবে না; এটি এজন্য নয় যে নিয়ত এর শর্ত, বরং এজন্য যে এর একটি শর্ত অনুপস্থিত আর তা হলো সন্তুষ্টি।

একইভাবে যদি দানের ওপর বাধ্য করা হয় তবে তা শুদ্ধ হবে না। তালাক ও গোলাম আজাদ করার বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ এই দুটি বিষয় এমন ব্যক্তির মুখে তুলে দিলেও তা কার্যকর হয়ে যায় যে তা বুঝে না। কেননা সন্তুষ্টি এ দুটির শর্ত নয়, এ কারণেই যদি এ দুটির ওপর বাধ্য করা হয় তবুও তা কার্যকর হয়ে যায়। আর তালাক হলো দুই প্রকার: স্পষ্ট (সারিহ) ও অস্পষ্ট (কিনায়া)।

প্রথম প্রকার (সারিহ) কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন হয় না; সুতরাং যদি কেউ অমনোযোগী অবস্থায় বা অসাবধানতাবশত অথবা ভুলবশত তালাক দেয় তবে তা কার্যকর হয়ে যাবে, এমনকি তাঁরা বলেছেন—

বিচারিক রায়ে (কাজাদান) ভুল উচ্চারিত শব্দের মাধ্যমেও তালাক পতিত হয়, তবে শর্ত হলো শব্দ দ্বারা সেই উদ্দেশ্য থাকতে হবে।

তাঁরা বলেছেন, যদি কেউ স্ত্রীর উপস্থিতিতে তালাকের মাসআলাগুলো পুনরাবৃত্তি করে এবং প্রতিবার বলে: 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা', তবে তালাক হবে না। আর যদি কেউ লিখে 'আমার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা' বা 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' এবং স্ত্রী তাকে বলে 'এটি আমাকে পড়ে শোনাও' আর সে তা পড়ে শোনায়, তবে তালাক হবে না; কারণ শব্দ দ্বারা তালাক প্রদানের উদ্দেশ্য ছিল না।

এটি তাঁদের এই উক্তির পরিপন্থী নয় যে: 'সারিহ বা স্পষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন নেই'। তাঁরা বলেছেন: যদি কেউ বলে 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' এবং এর দ্বারা বন্ধন থেকে মুক্তির নিয়ত করে, তবে দিয়ানাতান (আল্লাহর নিকট) তালাক হবে না কিন্তু কাজাদান (বিচারিক রায়ে) তালাক হয়ে যাবে। কোনো কোনো কিতাবের ইবারতে রয়েছে যে, ভুলকারীর তালাক কাজাদান কার্যকর হয় কিন্তু দিয়ানাতান নয়। এর দ্বারা স্পষ্ট হলো যে, সারিহ শব্দ কাজাদান নিয়তের মুখাপেক্ষী নয় কিন্তু দিয়ানাতান মুখাপেক্ষী। আর তাঁদের এই উক্তি এর ওপর কোনো আপত্তি সৃষ্টি করে না যে: যদি কেউ কৌতুকবশত তালাক দেয় তবে তা কাজাদান ও দিয়ানাতান উভয়ভাবেই কার্যকর হয়; কারণ শররিয়ত প্রণেতা এই বিষয়ের কৌতুককেও গুরুত্বের পর্যায়ে রেখেছেন।

তাঁরা বলেছেন, 'তুমি তালাকপ্রাপ্তা' বাক্যে তিন তালাকের নিয়ত করা সহিহ নয় এবং বায়েন তালাকের নিয়তও সহিহ নয়।

আর মাসদার (মূল শব্দ) যোগে যেমন 'তুমি তালাক' বলার ক্ষেত্রে দুই তালাকের নিয়ত সহিহ নয়; তবে স্ত্রী যদি দাসী হয় তবে ভিন্ন কথা। আর তিন তালাকের নিয়ত সহিহ। কিন্তু তালাকের কিনায়া বা অস্পষ্ট শব্দের মাধ্যমে দিয়ানাতান তালাক হওয়ার জন্য নিয়ত শর্ত, চাই

তার সাথে তালাক সংক্রান্ত আলোচনা চলুক বা না চলুক।

আর তালাকের আলোচনা কাজাদান (বিচারিক ক্ষেত্রে) নিয়তের স্থলাভিষিক্ত হয়, তবে 'হারাম' শব্দের বিষয়টি ভিন্ন; কেননা এটি কিনায়া হওয়া সত্ত্বেও এতে নিয়তের প্রয়োজন হয় না, বরং তা তালাকের দিকেই ধাবিত হবে যদি স্বামী এমন গোত্রের লোক হয় যারা 'হারাম' শব্দ দ্বারা তালাকই উদ্দেশ্য নেয়। আর তালাকের ক্ষমতা অর্পণ (তাফউইয), খুলা, ঈলা ও যিহারের ক্ষেত্রে যা সারিহ তাতে নিয়ত শর্ত নয়, আর যা কিনায়া তাতে নিয়ত শর্ত।

আর রজআত (প্রত্যাবর্তন) নিকাহর মতোই, কারণ এটি নিকাহকে স্থায়ী করা। তবে এক্ষেত্রে যা সারিহ তাতে নিয়তের প্রয়োজন নেই, আর যা কিনায়া তাতে নিয়তের প্রয়োজন আছে।

আর আল্লাহর নামে শপথের ক্ষেত্রে তা নিয়তের ওপর নির্ভর করে না; সুতরাং ইচ্ছাকৃত হোক, ভুলে হোক, ভুলক্রমে হোক বা বাধ্য হয়ে হোক—শপথ করলে তা সম্পন্ন হয়ে যাবে।

একইভাবে যদি শপথকৃত কাজটি উক্ত অবস্থায় করা হয় (তবে শপথ ভঙ্গ হবে)। আর শপথে সাধারণ শব্দকে বিশেষ করার নিয়ত দিয়ানাতান সর্বসম্মতভাবে গ্রহণযোগ্য, আর খাসসাফের মতে কাজাদানও গ্রহণযোগ্য; এবং ফতোয়া তাঁর মতের ওপরই যদি শপথকারী মজলুম হয়। অনুরূপভাবে এক্ষেত্রেও মতভেদ রয়েছে যে, শপথকারীর নিয়ত ধর্তব্য হবে নাকি শপথ গ্রহণকারীর নিয়ত? আর ফতোয়া হলো—
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২২)
اعْتِبَارِ نِيَّةِ الْحَالِفِ إنْ كَانَ مَظْلُومًا خُصُوصًا، لَا إنْ كَانَ ظَالِمًا، كَمَا فِي الْوَلْوَالِجيَّةِ وَالْخُلَاصَةِ.

وَأَمَّا الْإِقْرَارُ وَالْوَكَالَةُ فَيَصِحَّانِ بِدُونِهَا، وَكَذَا الْإِيدَاعُ وَالْإِعَارَةُ وَالْإِجَازَةُ وَكَذَا الْقَذْفُ وَالسَّرِقَةُ

وَأَمَّا الْقِصَاصُ فَمُتَوَقِّفٌ عَلَى قَصْدِ الْقَاتِلِ الْقَتْلَ، قَالُوا: لَمَّا كَانَ الْقَصْدُ أَمْرًا بَاطِنِيًّا أُقِيمَتْ الْآلَةُ مَقَامَهُ، فَإِنْ قَتَلَهُ بِمَا يُفَرِّقُ الْأَجْزَاءَ عَادَةً كَانَ عَمْدًا وَوَجَبَ الْقِصَاصُ، وَإِلَّا فَإِنْ قَتَلَهُ بِمَا لَا يُفَرِّقُ الْأَجْزَاءَ عَادَةً، لَكِنَّهُ يَقْتُلُ غَالِبًا فَهُوَ شِبْهُ عَمْدٍ لَا قِصَاصَ فِيهِ عِنْدَ الْإِمَامِ الْأَعْظَمِ.

وَأَمَّا الْخَطَأُ بِأَنْ يَقْصِدَ مُبَاحًا فَيُصِيبُ آدَمِيًّا كَمَا عُلِمَ فِي بَابِ الْجِنَايَاتِ. وَأَمَّا قِرَاءَةُ الْقُرْآنِ، قَالُوا: إنَّ الْقُرْآنَ يَخْرُجُ عَنْ كَوْنِهِ بِالْقَصْدِ، فَجَوَّزُوا لِلْجُنُبِ وَالْحَائِضِ قِرَاءَةَ مَا فِيهِ مِنْ الْأَذْكَارِ بِقَصْدِ الذِّكْرِ، وَالْأَدْعِيَةِ بِقَصْدِ الدُّعَاءِ، لَكِنْ أَشْكَلَ عَلَيْهِ قَوْلُهُمْ: لَوْ قَرَأَ بِقَصْدِ الذِّكْرِ لَا تَبْطُلُ صَلَاتُهُ.

وَأَجَبْنَا عَنْهُ فِي شَرْحِ الْكَنْزِ بِأَنَّهُ فِي مَحِلِّهِ فَلَا يَتَغَيَّرُ بِعَزِيمَتِهِ. وَقَالُوا: إنَّ الْمَأْمُومَ إذَا قَرَأَ الْفَاتِحَةَ فِي صَلَاةِ الْجِنَازَةِ بِنِيَّةِ الذِّكْرِ لَا تَحْرُمُ عَلَيْهِ، مَعَ أَنَّهُ تَحْرُمُ عَلَيْهِ قِرَاءَتُهَا فِي الصَّلَاةِ.

وَأَمَّا الضَّمَانُ؛ فَهَلْ يَتَرَتَّبُ فِي شَيْءٍ بِمُجَرَّدِ النِّيَّةِ مِنْ غَيْرِ فِعْلٍ؟ فَقَالُوا فِي الْمُحْرِمِ: إذَا لَبِسَ ثَوْبًا ثُمَّ نَزَعَهُ وَمِنْ قَصْدِهِ أَنْ يَعُودَ إلَيْهِ لَا يَتَعَدَّدُ الْجَزَاءُ، وَإِنْ قَصَدَ أَنْ لَا يَعُودَ إلَيْهِ تَعَدَّدَ الْجَزَاءُ بِلُبْسِهِ.

وَقَالُوا فِي الْمُودَعِ إذَا لَبِسَ ثَوْبَ الْوَدِيعَةِ ثُمَّ نَزَعَهُ وَفِي نِيَّتِهِ أَنْ يَعُودَ إلَى لُبْسِهِ لَمْ يَبْرَأْ مِنْ الضَّمَانِ.

وَأَمَّا التُّرُوكُ؛ كَتَرْكِ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ فَذَكَرُوهُ فِي الْأُصُولِ فِي بَحْثِ، مَا تُتْرَكُ بِهِ الْحَقِيقَةُ،

عِنْدَ الْكَلَامِ عَلَى حَدِيثِ {إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ} فَذَكَرُوهُ فِي نِيَّةِ الْوُضُوءِ؛ وَحَاصِلُهُ أَنَّ تَرْكَ الْمَنْهِيِّ عَنْهُ لَا يَحْتَاجُ إلَى نِيَّةٍ لِلْخُرُوجِ عَنْ عُهْدَةِ النَّهْيِ، وَأَمَّا لِحُصُولِ الثَّوَابِ.

فَإِنْ كَانَ كَفًّا، وَهُوَ أَنْ تَدْعُوَهُ النَّفْسُ إلَيْهِ قَادِرًا عَلَى فِعْلِهِ فَيَكُفَّ نَفْسَهُ عَنْهُ خَوْفًا مِنْ رَبِّهِ فَهُوَ مُثَابٌ، وَإِلَّا فَلَا ثَوَابَ عَلَى تَرْكِهِ، فَلَا يُثَابُ عَلَى تَرْكِ الزِّنَا وَهُوَ يُصَلِّي، وَلَا يُثَابُ الْعِنِّينُ عَلَى تَرْكِ الزِّنَا، وَلَا الْأَعْمَى عَلَى تَرْكِ النَّظَرَ إلَى الْمُحَرَّمِ.

وَعَلَى هَذَا قَالُوا فِي الزَّكَاةِ: لَوْ نَوَى مَا لِلتِّجَارَةِ أَنْ يَكُونَ لِلْخِدْمَةِ كَانَ لِلْخِدْمَةِ وَإِنْ لَمْ يَعْمَلْ بِخِلَافِ عَكْسِهِ، وَهُوَ مَا إذَا نَوَى فِيمَا كَانَ لِلْخِدْمَةِ أَنْ يَكُونَ لِلتِّجَارَةِ لَا يَكُونُ لِلتِّجَارَةِ حَتَّى يَعْمَلَ لِأَنَّ التِّجَارَةَ عَمَلٌ، فَلَا تَتِمُّ بِمُجَرَّدِ النِّيَّةِ، وَالْخِدْمَةُ تَرْكُ التِّجَارَةِ فَتَتِمُّ بِهَا. قَالُوا وَنَظِيرُهُ الْمُقِيمُ وَالصَّائِمُ وَالْكَافِرُ وَالْمَعْلُوفَةُ وَالسَّائِمَةُ.

حَيْثُ لَا يَكُونُ مُسَافِرًا وَلَا مُفْطِرًا وَلَا مُسْلِمًا وَلَا سَائِمَةً بِمُجَرَّدِ النِّيَّةِ، وَيَكُونُ مُقِيمًاوَصَائِمًا وَكَافِرًا بِمُجَرَّدِ النِّيَّةِ لِأَنَّهَا تَرْكُ الْعَمَلِ، كَمَا ذَكَرَهُ الزَّيْلَعِيُّ،

وَمِنْ هُنَا وَمِمَّا قَدَّمْنَاهُ يَعْنِي فِي الْمُبَاحَاتِ، وَمِمَّا سَنَذْكُرُهُ عَنْ الْمَشَايِخِ، صَحَّ لَنَا وَضْعُ قَاعِدَةٍ لِلْفِقْهِ؛

هِيَ الثَّانِيَةُ:
শপথকারীর নিয়ত ধর্তব্য হবে বিশেষভাবে যখন সে মজলুম (অত্যাচারিত) হয়, কিন্তু যখন সে জালেম (অত্যাচারী) হয় তখন নয়; যেমনটি 'আল-ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ' ও 'আল-খুলাসাহ' গ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।

পক্ষান্তরে স্বীকারোক্তি ও প্রতিনিধিত্ব নিয়ত ছাড়াই সহীহ হয়। অনুরূপভাবে আমানত রাখা, ধার দেওয়া, অনুমতি প্রদান এবং তদ্রূপ অপবাদ ও চুরির ক্ষেত্রেও একই বিধান।

আর কিসাস নির্ভর করে হত্যাকারীর হত্যার সংকল্প বা ইচ্ছার ওপর। ফুকাহাগণ বলেছেন: যেহেতু সংকল্প বা ইচ্ছা একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়, তাই এর স্থলে ব্যবহৃত অস্ত্রকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। সুতরাং যদি এমন বস্তু দ্বারা হত্যা করা হয় যা সাধারণত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, তবে তা 'আমদ' বা ইচ্ছাকৃত হত্যা হিসেবে গণ্য হবে এবং তাতে কিসাস ওয়াজিব হবে। অন্যথায়, যদি এমন বস্তু দিয়ে হত্যা করা হয় যা সাধারণত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন করে না, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা দিয়ে মৃত্যু ঘটে, তবে তা 'শুবহে আমদ' (সদৃশ ইচ্ছাকৃত হত্যা) হিসেবে গণ্য হবে, ইমামে আযম (রহ.)-এর নিকট এতে কোনো কিসাস নেই।

আর ভুলবশত হত্যা (খাতা) হলো—বৈধ কোনো লক্ষ্যবস্তু শিকার করতে গিয়ে কোনো মানুষের গায়ে বিদ্ধ হওয়া, যেমনটি অপরাধ অধ্যায়ে (কিতাবুল জিনায়াত) জানা গেছে। আর কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে ফুকাহাগণ বলেছেন: সংকল্পের মাধ্যমে কুরআন তার কুরআনি সত্তা থেকে বেরিয়ে যায়। তাই তারা অপবিত্র (জুনুবি) ও ঋতুবতী নারীর জন্য কুরআনের ওইসব অংশ যিকর ও দোয়ার নিয়তে পাঠ করা জায়েয বলেছেন যা যিকর ও দোয়ার অন্তর্ভুক্ত। তবে এতে তাদের ওই উক্তিটি সমস্যার সৃষ্টি করে যে, যদি কেউ যিকরের নিয়তে তিলাওয়াত করে তবে তার সালাত বাতিল হবে না।

আমরা 'শারহুল কাঞ্জ' গ্রন্থে এর উত্তর দিয়েছি যে, এটি তার আপন স্থানেই রয়েছে, তাই সংকল্পের কারণে তা পরিবর্তিত হবে না। ফুকাহাগণ আরও বলেছেন: মুক্তাদি যখন জানাযার সালাতে যিকরের নিয়তে সূরা ফাতিহা পাঠ করে, তখন তা তার জন্য হারাম হয় না, যদিও সাধারণ সালাতে তার জন্য এটি পাঠ করা হারাম।

আর জামানত বা ক্ষতিপূরণের ক্ষেত্রে কি কেবল নিয়তের কারণে কোনো কিছু সাব্যস্ত হয়? এ সম্পর্কে মুহরিম ব্যক্তি (ইহরামকারী) প্রসঙ্গে ফুকাহাগণ বলেছেন: সে যদি কোনো পোশাক পরিধান করার পর তা খুলে ফেলে এবং পুনরায় তা পরিধান করার নিয়ত রাখে, তবে দণ্ড বা কাফফারা একাধিক হবে না। কিন্তু যদি পুনরায় না পরার সংকল্প করে, তবে তা পুনরায় পরিধানের ফলে দণ্ড একাধিক হবে।

গচ্ছিত মালের রক্ষক সম্পর্কে ফুকাহাগণ বলেছেন: সে যদি আমানতের পোশাক পরিধান করার পর তা খুলে ফেলে এবং পুনরায় তা পরার নিয়ত রাখে, তবে সে জামানত বা দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হবে না।

আর বর্জনীয় বিষয়াবলি; যেমন—নিষিদ্ধ কাজ বর্জন করা; উসূলে ফিকহের শাস্ত্রবিদগণ 'যা দ্বারা হাকীকত বা প্রকৃত অর্থ বর্জিত হয়' নামক আলোচনায় এটি উল্লেখ করেছেন।

'নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল'—এই হাদীসের আলোচনার সময় তারা ওযুর নিয়তের প্রসঙ্গে এটি উল্লেখ করেছেন। এর সারকথা হলো: নিষেধের দায়বদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য নিষিদ্ধ কাজ বর্জনের ক্ষেত্রে নিয়তের প্রয়োজন নেই, তবে সওয়াব লাভের জন্য নিয়ত প্রয়োজন।

যদি সেই বর্জন আত্মসংযম হিসেবে হয়—অর্থাৎ প্রবৃত্তি তাকে সেই কাজের দিকে আহ্বান করছে এবং সে তা করতে সক্ষমও বটে, অতঃপর সে কেবল তার রবের ভয়ে নিজেকে বিরত রাখল—তবে সে সওয়াব পাবে। অন্যথায় তা বর্জনের কারণে কোনো সওয়াব পাওয়া যাবে না। সুতরাং সালাতরত অবস্থায় ব্যভিচার বর্জনের কারণে কোনো সওয়াব পাওয়া যাবে না, ব্যভিচার বর্জনের জন্য পুরুষত্বহীন ব্যক্তি সওয়াব পাবে না এবং হারামের দিকে দৃষ্টিপাত না করার জন্য অন্ধ ব্যক্তি সওয়াব পাবে না।

এরই ওপর ভিত্তি করে যাকাতের মাসআলায় ফুকাহাগণ বলেছেন: ব্যবসার নিয়তে রক্ষিত মালকে যদি কেউ ব্যক্তিগত ব্যবহারের (খিদমত) নিয়ত করে, তবে কোনো কাজ ছাড়াই তা ব্যক্তিগত ব্যবহারের মালে পরিণত হবে। কিন্তু এর বিপরীত ক্ষেত্রে—অর্থাৎ ব্যক্তিগত ব্যবহারের মালকে যদি কেউ ব্যবসার মালে পরিণত করার নিয়ত করে, তবে যতক্ষণ না সে ব্যবসা শুরু করবে ততক্ষণ তা ব্যবসার মাল হিসেবে গণ্য হবে না। কারণ ব্যবসা একটি কাজ, যা কেবল নিয়তের মাধ্যমে পূর্ণ হয় না। আর ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হলো ব্যবসা বর্জন করা, যা কেবল নিয়তের মাধ্যমেই পূর্ণ হয়ে যায়। তারা বলেছেন: এর দৃষ্টান্ত হলো মুকীম (অবস্থানকারী), সায়েম (রোযাদার), কাফির, মা’লুফাহ (গৃহপালিত পশু) এবং সা-ইমাহ (তৃণচারী পশু)।

যেখানে কেবল নিয়ত করলেই কেউ মুসাফির, ইফতারকারী (রোযা ভঙ্গকারী), মুসলিম কিংবা সা-ইমাহ (তৃণচারী পশু) হয়ে যায় না; কিন্তু কেবল নিয়তের মাধ্যমেই সে মুকীম, সায়েম ও কাফিরে পরিণত হয়। কেননা এগুলো হলো কোনো কাজ বর্জন করা; যেমনটি যায়লায়ী (রহ.) উল্লেখ করেছেন।

এখান থেকে এবং আমরা পূর্বে মুবাহ বা বৈধ কার্যাবলি সম্পর্কে যা আলোচনা করেছি এবং ভবিষ্যতে মাশায়েখদের থেকে যা বর্ণনা করব, তার ভিত্তিতে আমাদের জন্য ফিকহের একটি মূলনীতি প্রণয়ন করা সঠিক হয়েছে;

যা হলো দ্বিতীয় মূলনীতি:
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২৩)
‌‌الْقَاعِدَةُ الثَّانِيَةُ: الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا

كَمَا عَلِمْت فِي التُّرُوكِ. وَذَكَرَ قَاضِي خَانَ فِي فَتَاوَاهُ

إنَّ بَيْعَ الْعَصِيرِ مِمَّنْ يَتَّخِذُهُ خَمْرًا إنْ قَصَدَ بِهِ التِّجَارَةَ فَلَا يَحْرُمُ وَإِنْ قَصَدَ بِهِ لِأَجْلِ التَّخْمِيرِ حَرُمَ وَكَذَا غَرْسُ الْكَرْمِ عَلَى هَذَا (انْتَهَى) .

وَعَلَى هَذَا عَصِيرُ الْعِنَبِ بِقَصْدِ الْخَلِّيَّةِ أَوْ الْخَمْرِيَّةِ

وَالْهَجْرُ فَوْقَ ثَلَاثٍ دَائِرٌ مَعَ الْقَصْدِ، فَإِنْ قَصَدَ هَجْرَ الْمُسْلِمِ

حَرُمَ وَإِلَّا لَا

وَالْإِحْدَادُ لِلْمَرْأَةِ عَلَى مَيِّتٍ غَيْرِ زَوْجِهَا فَوْقَ ثَلَاثٍ دَائِرٌ مَعَ الْقَصْدِ، فَإِنْ قَصَدَتْ تَرْكَ الزِّينَةِ وَالتَّطَيُّبِ لِأَجْلِ الْمَيِّتِ حَرُمَ عَلَيْهَا، وَإِلَّا فَلَا. وَكَذَا قَوْلُهُمْ إنَّ الْمُصَلِّيَ

إذَا قَرَأَ آيَةً مِنْ الْقُرْآنِ جَوَابًا لِكَلَامٍ بَطُلَتْ صَلَاتُهُ.

وَكَذَا إذَا أُخْبِرَ الْمُصَلِّي بِمَا يَسُرُّهُ فَقَالَ: الْحَمْدُ لِلَّهِ قَاصِدًا الشُّكْرَ بَطُلَتْ، أَوْ بِمَا يَسُوءُهُ فَقَالَ: لَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إلَّا بِاَللَّهِ، أَوْ بِمَوْتِ إنْسَانٍ فَقَالَ: إنَّا لِلَّهِ وَإِنَّا إلَيْهِ رَاجِعُونَ، قَاصِدًا لَهُ بَطَلَتْ صَلَاتُهُ وَكَذَا قَوْلُهُمْ بِكُفْرِهِ إذَا قَرَأَ الْقُرْآنَ فِي مَعْرِضِ كَلَامٍ النَّاسِ، كَمَا إذَا اجْتَمَعُوا فَقَرَأَ {فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا} ، وَكَذَا إذَا قَرَأَ {وَكَأْسًا دِهَاقًا} عِنْدَ رُؤْيَةِ كَأْسٍ.

وَلَهُ نَظَائِرُ كَثِيرَةٌ فِي أَلْفَاظِ التَّكْفِيرِ، كُلُّهَا تَرْجِعُ إلَى قَصْدِ الِاسْتِخْفَافِ بِهِ

وَقَالَ قَاضِي خَانْ: الْفُقَّاعِيُّ إذَا قَالَ عِنْدَ فَتْحِ الْفُقَّاعِ لِلْمُشْتَرِي: صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ: قَالُوا يَكُونُ آثِمًا، وَكَذَا الْحَارِسُ إذَا قَالَ فِي الْحِرَاسَةِ: لَا إلَهَ إلَّا اللَّهُ يَعْنِي لِأَجْلِ الْإِعْلَامِ، بِأَنَّهُ مُسْتَيْقِظٌ بِخِلَافِ الْعَالِمِ إذَا قَالَ فِي الْمَجْلِسِ: صَلَّوْا عَلَى النَّبِيِّ.

فَإِنَّهُ يُثَابُ عَلَى ذَلِكَ

وَكَذَا الْقَارِئُ إذَا قَالَ: كَبَّرُوا يُثَابُ.

لِأَنَّ الْحَارِسَ وَالْفُقَّاعِيَّ يَأْخُذَانِ بِذَلِكَ أَجْرًا.

رَجُلٌ جَاءَ إلَى بَزَّازٍ لِيَشْتَرِيَ مِنْهُ ثَوْبًا فَلَمَّا فَتَحَ الْمَتَاعَ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ، أَوْ قَالَ اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ.

إنْ أَرَادَ بِذَلِكَ إعْلَامَ الْمُشْتَرِي جَوْدَةَ ثِيَابِهِ وَمَتَاعِهِ كُرِهَ (انْتَهَى) وَفِيهَا أَيْضًا إذَا قَالَ الْمُسْلِمُ لِلذِّمِّيِّ: أَطَالَ اللَّهُ بَقَاءَك.

قَالُوا إنْ نَوَى بِقَلْبِهِ أَنْ يُطِيلَ اللهُ

 

بَقَاءَهُ.

لَعَلَّهُ أَنْ يُسْلِمَ أَوْ يُؤَدِّيَ الْجِزْيَةَ عَنْ ذُلٍّ وَصَغَارٍ لَا بَأْسَ بِهِ لِأَنَّ هَذَا دُعَاءٌ لَهُ إلَى الْإِسْلَامِ أَوْ لِمَنْفَعَةِ الْمُسْلِمِينَ.

ثُمَّ قَالَ (انْتَهَى) .

رَجُلٌ أَمْسَكَ الْمُصْحَفَ فِي بَيْتِهِ وَلَا يَقْرَأُ قَالُوا إنْ نَوَى بِهِ الْخَيْرَ وَالْبَرَكَةَ لَا يَأْثَمُ وَيُرْجَى لَهُ الثَّوَابُ. ثُمَّ قَالَ: رَجُلٌ يَذْكُرُ اللَّهَ فِي مَجْلِسِ الْفِسْقِ قَالُوا إنْ نَوَى أَنَّ الْفَسَقَةَ يَشْتَغِلُونَ بِالْفِسْقِ وَأَنَا أَشْتَغِلُ بِالتَّسْبِيحِ فَهُوَ أَفْضَلُ وَأَحْسَنُ وَإِنْ سَبَّحَ فِي السُّوقِ نَاوِيًا أَنَّ النَّاسَ يَشْتَغِلُونَ بِأُمُورِ الدُّنْيَا، وَأَنَا أُسَبِّحُ
দ্বিতীয় নীতি: বিষয়সমূহ তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল

যেমনটি আপনি বর্জনীয় বিষয়সমূহের ক্ষেত্রে জেনেছেন। এবং কাজী খান তার ফাতাওয়ায় উল্লেখ করেছেন

নিশ্চয়ই তার কাছে ফলের রস বিক্রি করা যে তা দিয়ে মদ তৈরি করে, যদি তার উদ্দেশ্য ব্যবসা হয় তবে তা হারাম হবে না, আর যদি মদ তৈরির উদ্দেশ্যে বিক্রি করে তবে তা হারাম হবে। একইভাবে আঙ্গুর গাছ রোপণের বিধানও এর ওপর নির্ভরশীল (সমাপ্ত)।

এবং এ অনুযায়ীই আঙ্গুরের রস সিরকা তৈরির উদ্দেশ্যে অথবা মদ তৈরির উদ্দেশ্যে হওয়া।

এবং তিন দিনের অধিক সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা উদ্দেশ্যের সাথে আবর্তিত হয়; যদি কোনো মুসলিমের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের নিয়ত করে

তবে তা হারাম, অন্যথায় নয়

স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো মৃত ব্যক্তির জন্য নারীর তিন দিনের অতিরিক্ত শোক পালন করা উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল; যদি সে মৃত ব্যক্তির জন্য সাজসজ্জা এবং সুগন্ধি বর্জন করার নিয়াত করে তবে তা তার জন্য হারাম হবে, অন্যথায় নয়। একইভাবে ফকীহগণের অভিমত হলো, সালাত আদায়কারী

যদি কোনো কথার উত্তর হিসেবে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

একইভাবে সালাত আদায়কারীকে যদি আনন্দদায়ক কোনো সংবাদ দেওয়া হয় এবং সে শুকরিয়া বা কৃতজ্ঞতার নিয়তে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ (সকল প্রশংসা আল্লাহর) বলে তবে তার সালাত বাতিল হবে; অথবা দুঃখজনক সংবাদে যদি বলে: ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই), অথবা কারো মৃত্যুর সংবাদ শুনে যদি তাকে উদ্দেশ্য করে বলে: ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ (নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাব), তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। একইভাবে ফকীহগণ তার কুফরির কথা বলেছেন যদি সে মানুষের কথাবার্তার ধাঁচে কুরআন পাঠ করে, যেমন লোকজন সমবেত হলে সে পাঠ করল: {অতঃপর আমি তাদেরকে একত্রে সমবেত করলাম}, একইভাবে পানপাত্র দেখার সময় যদি পাঠ করে: {এবং পূর্ণ পানপাত্র}।

কুফরি বাক্যসমূহের ক্ষেত্রে এর অনেক নজির রয়েছে, যার সবকটিই কুরআনকে তুচ্ছজ্ঞান করার সংকল্পের দিকে ফিরে যায়।

কাজী খান বলেন: পানীয় বিক্রেতা যখন ক্রেতার জন্য পানীয়র পাত্র খোলার সময় বলে: ‘মুহাম্মাদের ওপর দরুদ পাঠ করুন’, ফকীহগণ বলেন সে গুনাহগার হবে। একইভাবে পাহারাদার যদি পাহারার সময় বলে: ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ (আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই) অর্থাৎ এই সংবাদ দেওয়ার জন্য যে সে জাগ্রত আছে; তবে আলেম যখন মজলিসে বলেন: ‘নবীর ওপর দরুদ পাঠ করুন’, বিষয়টি তার বিপরীত।

কেননা এতে তিনি সওয়াব লাভ করবেন

একইভাবে তিলাওয়াতকারী যদি বলে: ‘তাকবীর দিন’, তবে সে সওয়াব পাবে।

কারণ পাহারাদার এবং পানীয় বিক্রেতা এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করে।

এক ব্যক্তি কাপড় বিক্রেতার কাছে কাপড় কেনার জন্য আসলো, অতঃপর যখন বিক্রেতা মালামাল খুলল তখন বলল: ‘সুবহানাল্লাহ’ (আল্লাহ পবিত্র), অথবা বলল ‘আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদ’ (হে আল্লাহ, মুহাম্মাদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন)।

যদি এর দ্বারা সে ক্রেতাকে তার কাপড় ও মালের গুণগত মান সম্পর্কে অবগত করতে চায় তবে তা মাকরূহ হবে (সমাপ্ত)। এবং তাতে এও রয়েছে যে, যদি কোনো মুসলিম জিম্মিকে বলে: আল্লাহ আপনার হায়াত দীর্ঘ করুন।

ফকীহগণ বলেন, যদি সে মনে মনে এই নিয়ত করে যে আল্লাহ তার হায়াত দীর্ঘ করুন

 

হয়ত

সে ইসলাম গ্রহণ করবে অথবা হীনতা ও লাঞ্ছনার সাথে জিজিয়া প্রদান করবে, তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ এটি তার ইসলামের জন্য অথবা মুসলিমদের উপকারের জন্য একটি দোয়া।

অতঃপর তিনি বলেন (সমাপ্ত)।

এক ব্যক্তি তার ঘরে কুরআন মাজিদ রাখল কিন্তু সে তিলাওয়াত করে না; ফকীহগণ বলেন, যদি সে এর দ্বারা কল্যাণ ও বরকতের নিয়াত করে তবে সে গুনাহগার হবে না এবং তার জন্য সওয়াবের আশা করা যায়। অতঃপর তিনি বলেন: এক ব্যক্তি পাপাচারের মজলিসে আল্লাহকে স্মরণ করছে; ফকীহগণ বলেন, যদি সে এই নিয়াত করে যে পাপাচারীরা পাপাচারে লিপ্ত আর আমি তাসবিহ পাঠে লিপ্ত, তবে তা অতি উত্তম ও সুন্দর। আর যদি কেউ বাজারে এই নিয়তে তাসবিহ পাঠ করে যে মানুষ দুনিয়াদারিতে লিপ্ত আর আমি তাসবিহ পাঠ করছি।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২৪)
اللَّهَ تَعَالَى فِي هَذَا الْمَوْضِعِ، فَهُوَ أَفْضَلُ وَأَحْسَنُ مِنْ أَنْ يُسَبِّحَ وَحْدَهُ فِي غَيْرِ السُّوقِ.

وَإِنْ سَبَّحَ عَلَى وَجْهِ الِاعْتِبَارِ يُؤْجَرُ عَلَى ذَلِكَ، وَإِنْ سَبَّحَ عَلَى أَنَّ الْفَاسِقَ يَعْمَلُ الْفِسْقَ كَانَ آثِمًا.

ثُمَّ قَالَ:

إنْ سَجَدَ لِلسُّلْطَانِ فَإِنْ كَانَ قَصْدُهُ التَّحِيَّةَ وَالتَّعْظِيمَ دُونَ الصَّلَاة لَا يَكْفُرُ.

أَصْلُهُ أَمْرُ الْمَلَائِكَةَ بِالسُّجُودِ لِآدَمَ وَسُجُودُ إخْوَةِ يُوسُفَ عليه السلام

وَلَوْ أُكْرِهَ عَلَى السُّجُودِ لِلْمَلِكِ بِالْقَتْلِ فَإِنْ أَمَرُوهُ بِهِ عَلَى وَجْهِ الْعِبَادَةِ

فَالْأَفْضَلُ الصَّبْرُ، كَمَنْ أُكْرِهَ عَلَى الْكُفْرِ وَإِنْ كَانَ لِلتَّحِيَّةِ فَالْأَفْضَلُ السُّجُودُ (انْتَهَى)

وَقَالُوا: الْأَكْلُ فَوْقَ الشِّبَعِ حَرَامٌ بِقَصْدِ الشَّهْوَةِ وَإِنْ قَصَدَ بِهِ التَّقَوِّي عَلَى الصَّوْمِ أَوْ مُؤَاكَلَةَ الضَّيْفِ فَمُسْتَحَبٌّوَقَالُوا: الْكَافِرُ إذَا تَتَرَّسَ بِمُسْلِمٍ فَإِنْ رَمَاهُ مُسْلِمٌ فَإِنْ قَصَدَ قَتْلَ الْمُسْلِمِ حَرُمَ، وَإِنْ قَصَدَ قَتْلَ الْكَافِرِ لَا.

وَلَوْلَا خَوْفُ الْإِطَالَةِ لَأَوْرَدْنَا فُرُوعًا كَثِيرَةً شَاهِدَةً لِمَا أَسَّسْنَاهُ مِنْ الْقَاعِدَةِ وَهِيَ الْأُمُورُ بِمَقَاصِدِهَا.

وَقَالُوا فِي بَابِ اللُّقَطَةِ؛ إنْ أَخَذَهَا بِنِيَّةِ رَدِّهَا حَلَّ رَفْعُهَا وَإِنْ أَخَذَهَا بِنِيَّةِ نَفْسِهِ كَانَ غَاصِبًا آثِمًاوَفِي التَّتَارْخَانِيَّة مِنْ الْحَظْرِ وَالْإِبَاحَةِ: إذَا تَوَسَّدَ الْكِتَابَ فَإِنْ قَصَدَ الْحِفْظَ لَا يُكْرَهُ وَإِلَّا كُرِهَ

وَإِنْ غَرَسَ فِي الْمَسْجِدِ فَإِنْ قَصَدَ الظِّلَّ لَا يُكْرَهُ وَإِنْ قَصَدَ مَنْفَعَةً أُخْرَى يُكْرَهُ. وَكِتَابَةُ اسْمِ اللَّهِ تَعَالَى عَلَى الدَّرَاهِمِ، وَإِنْ كَانَ يُقْصَدُ الْعَلَامَةُ لَا يُكْرَهُ وَلِلتَّهَاوُنِ يُكْرَهُوَالْجُلُوسُ عَلَى جَوَالِقَ فِيهِ مُصْحَفٌ، إنْ قَصَدَ الْحِفْظَ لَا يُكْرَهُ وَإِلَّا يُكْرَهُ.

ثُمَّ اعْلَمْ أَنَّ هَاتَيْنِ الْقَاعِدَتَيْنِ يَشْمَلُهُمَا الْكَلَامُ عَلَى النِّيَّةِ.

‌‌وَفِيهَا مَبَاحِثُ عَشَرَةُ:

الْأَوَّلُ فِي بَيَانِ حَقِيقَتِهَا

الثَّانِي فِي بَيَانِ مَا شُرِعَتْ لِأَجْلِهِ

الثَّالِثُ فِي بَيَانِ تَعْيِينِ الْمَنْوِيِّ وَعَدَمِ تَعْيِينِهِ

الرَّابِعُ فِي بَيَانِ التَّعَرُّضِ لِصِفَةِ الْمَنْوِيِّ مِنْ الْفَرْضِيَّةِ وَالنَّفْلِيَّةِ وَالْأَدَاءِ وَالْقَضَاءِ

الْخَامِسُ فِي بَيَانِ الْإِخْلَاصِ فِيهَا

السَّادِسُ فِي بَيَانِ الْجَمْعِ بَيْنَ عِبَادَتَيْنِ بِنِيَّةٍ وَاحِدَةٍ

السَّابِعُ فِي بَيَانِ وَقْتِهَا

الثَّامِنُ فِي بَيَانِ عَدَمِ اشْتِرَاطِ اسْتِمْرَارِهَا وَفِيهِ حُكْمُهَا فِي كُلِّ رُكْنٍ مِنْ الْأَرْكَانِ

التَّاسِعُ فِي مَحِلِّهَا

الْعَاشِرُ فِي شُرُوطِهَا.

أَمَّا‌‌ الْأَوَّلُ: (في بيان حقيقة النية)

فَهِيَ، فِي اللُّغَةِ، الْقَصْدُ.

كَمَا فِي الْقَامُوسِ نَوَى الشَّيْءَ يَنْوِيهِ نِيَّةً

مُشَدَّدَةٌ وَتُخَفَّفُ قَصَدَهُ.

وَفِي الشَّرْعِ كَمَا فِي التَّلْوِيحِ قَصْدُ الطَّاعَةِ وَالتَّقَرُّبِ إلَى اللَّهِ تَعَالَى فِي إيجَادِ الْفِعْلِ.
আল্লাহ তাআলা [এর জিকির করা] এই স্থানে, তা বাজারের বাইরে একা তাসবিহ পাঠ করার চেয়ে অধিক উত্তম ও শ্রেষ্ঠ।

আর যদি সে শিক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তাসবিহ পাঠ করে তবে এর জন্য সে সওয়াব পাবে, কিন্তু যদি সে পাপাচারীর পাপ কাজের দিকে লক্ষ্য করে তাসবিহ পাঠ করে তবে সে গুনাহগার হবে।

এরপর তিনি বলেছেন:

যদি কেউ সুলতানকে সেজদা করে এবং তার উদ্দেশ্য যদি হয় অভিবাদন ও সম্মান জানানো—নামাজ হিসেবে নয়—তবে সে কাফির হবে না।

এর মূল ভিত্তি হলো ফেরেশতাদের প্রতি আদমকে সেজদা করার নির্দেশ এবং ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর ভাইদের সেজদা করা।

আর যদি কাউকে হত্যার ভয় দেখিয়ে বাদশাহকে সেজদা করতে বাধ্য করা হয়, আর তারা যদি তাকে ইবাদত হিসেবে সেজদা করতে নির্দেশ দেয়

তবে ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম; যেমনটি কুফরিতে বাধ্য করা ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর যদি তা অভিবাদনের উদ্দেশ্যে হয়, তবে সেজদা করাই উত্তম (সমাপ্ত)।

তাঁরা বলেছেন: কামনার বশবর্তী হয়ে তৃপ্ত হওয়ার পর অতিরিক্ত আহার করা হারাম; তবে যদি তার উদ্দেশ্য হয় রোজার জন্য শক্তি অর্জন করা কিংবা মেহমানের সাথে একত্রে আহার করা, তবে তা মুস্তাহাব। তাঁরা বলেছেন: কাফির যখন কোনো মুসলিমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তখন কোনো মুসলিম যদি তাকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে আর তার উদ্দেশ্য যদি হয় ওই মুসলিমকে হত্যা করা তবে তা হারাম হবে; কিন্তু যদি কাফিরকে হত্যার উদ্দেশ্য থাকে তবে তা হবে না।

দীর্ঘ হওয়ার ভয় না থাকলে আমরা এই কায়েদা বা মূলনীতির স্বপক্ষে আরও অনেক শাখা-মাসয়ালা উল্লেখ করতাম যা আমরা প্রতিষ্ঠিত করেছি, আর মূলনীতিটি হলো—কার্যাবলি তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল।

কুড়িয়ে পাওয়া বস্তুর অধ্যায়ে তাঁরা বলেছেন; যদি কেউ তা ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়তে তুলে নেয় তবে তা তোলা বৈধ, আর যদি নিজের জন্য নেওয়ার নিয়তে তোলে তবে সে দখলকারী হিসেবে গুনাহগার হবে। আর তাতারখানিয়া কিতাবের নিষিদ্ধ ও বৈধ অধ্যায়ে রয়েছে: যদি কেউ কিতাবকে বালিশ হিসেবে ব্যবহার করে, তবে তার উদ্দেশ্য যদি হয় তা সংরক্ষণ করা তবে তা মাকরুহ হবে না, অন্যথায় মাকরুহ হবে।

আর যদি মসজিদে চারা রোপণ করা হয়, তবে যদি ছায়া লাভের উদ্দেশ্য থাকে তবে তা মাকরুহ নয়, আর অন্য কোনো উপকারের উদ্দেশ্য হলে মাকরুহ হবে। দিরহামের ওপর আল্লাহ তাআলার নাম লেখা, যদি তা চিহ্ন হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে হয় তবে তা মাকরুহ নয়, আর যদি অবজ্ঞার উদ্দেশ্যে হয় তবে মাকরুহ হবে। আর এমন বস্তার ওপর বসা যাতে মুসহাফ রয়েছে, যদি তা সংরক্ষণের নিয়তে হয় তবে মাকরুহ নয়, অন্যথায় মাকরুহ হবে।

অতঃপর জেনে রাখুন যে, এই দুটি মূলনীতিই নিয়ত সংক্রান্ত আলোচনার অন্তর্ভুক্ত।

এতে দশটি আলোচনা রয়েছে:

প্রথমটি এর স্বরূপ বা হাকিকত বর্ণনায়

দ্বিতীয়টি যে উদ্দেশ্যে এটি বিধিবদ্ধ করা হয়েছে তার বর্ণনায়

তৃতীয়টি নিয়তকৃত বিষয়টি নির্দিষ্ট করা এবং নির্দিষ্ট না করার বর্ণনায়

চতুর্থটি নিয়তকৃত বিষয়ের ধরন—অর্থাৎ ফরজ, নফল, আদায় কিংবা কাজা হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করার বর্ণনায়

পঞ্চমটি নিয়তের মধ্যে ইখলাস বা নিষ্ঠা বর্ণনায়

ষষ্ঠটি এক নিয়তে দুই ইবাদতকে একত্র করার বর্ণনায়

সপ্তমটি নিয়তের সময় বর্ণনায়

অষ্টমটি নিয়ত অব্যাহত থাকার শর্ত না হওয়া এবং এর প্রতিটি রুকনের হুকুম বর্ণনায়

নবমটি এর স্থান বর্ণনায়

দশমটি এর শর্তাবলি বর্ণনায়।

তবে প্রথমটি: (নিয়তের স্বরূপ বর্ণনায়)

শাব্দিক অর্থে তা হলো সংকল্প করা।

যেমন কামুস গ্রন্থে রয়েছে, কোনো বিষয়ের নিয়ত করা বলতে তার সংকল্প করা বোঝায়;

শব্দটি তাসদিদসহ বা তাসদিদ ছাড়া উভয়ভাবেই পঠিত হয়; অর্থ হলো সংকল্প করা।

আর শরিয়তের পরিভাষায়—যেমন তালউইহ গ্রন্থে রয়েছে—কোনো কাজ করার ক্ষেত্রে আনুগত্যের সংকল্প করা এবং আল্লাহ তাআলার নৈকট্য লাভের ইচ্ছা করা।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২৫)
وَلَا يَرِدُ عَلَيْهِ النِّيَّةَ فِي التُّرُوكِ لِأَنَّهُ كَمَا قَدَّمْنَاهُ لَا يَتَقَرَّبُ بِهَا إلَّا إذَا صَارَ التَّرْكُ كَفًّا وَهُوَ فِعْلٌ وَهُوَ الْمُكَلَّفُ بِهِ فِي النَّهْي لَا التَّرْكِ بِمَعْنَى الْعَدَمِ لِأَنَّهُ لَيْسَ دَاخِلًا تَحْتَ الْقُدْرَةِ لِلْعَبْدِ كَمَا فِي التَّحْرِيرِ وَعَرَّفَهَا الْقَاضِي الْبَيْضَاوِيُّ بِأَنَّهَا شَرْعًا الْإِرَادَةُ الْمُتَوَجِّهَةُ نَحْوَ الْفِعْلِ ابْتِغَاءً لِوَجْهِ اللَّهِ تَعَالَى وَامْتِثَالًا لِحُكْمِهِ.

وَلُغَةً انْبِعَاثُ الْقَلْبِ نَحْوَ مَا يَرَاهُ مُوَافِقًا لِغَرَضٍ مِنْ جَلْبِ نَفْعٍ أَوْ دَفْعِ ضَرٍّ حَالًا أَوْ مَآلًا

 

‌‌الثَّانِي: فِي بَيَانِ مَا شُرِعَتْ لِأَجْلِهِ

قَالُوا الْمَقْصُودُ مِنْهَا تَمْيِيزُ الْعِبَادَاتِ مِنْ الْعَادَاتِ وَتَمْيِيزُ بَعْضِ الْعِبَادَاتِ عَنْ بَعْضٍ كَمَا فِي النِّهَايَةِ وَفَتْحِ الْقَدِيرِ كَالْإِمْسَاكِ عَنْ الْمُفْطِرَاتِ.

قَدْ يَكُونُ حِمْيَةً أَوْ تَدَاوِيًا

أَوْ لِعَدَمِ الْحَاجَةِ إلَيْهِ وَالْجُلُوسُ فِي الْمَسْجِدِ قَدْ يَكُونُ لِلِاسْتِرَاحَةِ وَقَدْ يَكُونُ قُرْبَةً.

وَدَفْعُ الْمَالِ قَدْ يَكُونُ هِبَةً أَوْ لِغَرَضٍ دُنْيَوِيٍّ وَقَدْ يَكُونُ قُرْبَةً، زَكَاةً أَوْ صَدَقَةً وَالذَّبْحُ قَدْ يَكُونُ لِأَكْلٍ فَيَكُونُ مُبَاحًا

أَوْ مَنْدُوبًا

أَوْ لِلْأُضْحِيَّةِ فَيَكُونُ عِبَادَةً أَوْ لِقُدُومِ أَمِيرٍ فَيَكُونُ حَرَامًا أَوْ كُفْرًا عَلَى قَوْلٍ ثُمَّ التَّقَرُّبُ إلَى اللَّهِ تَعَالَى يَكُونُ بِالْفَرْضِ وَالنَّفَلِ وَالْوَاجِبِ.

فَشُرِعَتْ لِتَمْيِيزِ بَعْضِهَا عَنْ بَعْضٍ

فَتَفَرَّعَ عَلَى ذَلِكَ أَنَّ مَا لَا يَكُونُ عِبَادَةً أَوْ مَا لَا يَلْتَبِسُ بِغَيْرِهِ لَا تُشْتَرَطُ فِيهِ كَالْإِيمَانِ بِاَللَّهِ تَعَالَى كَمَا قَدَّمْنَاهُ وَالْمَعْرِفَةِ وَالْخَوْفِ وَالرَّجَاءِ وَالنِّيَّةِ وَقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ

وَالْأَذْكَارِ لِأَنَّهَا مُتَمَيِّزَةٌ لَا تَلْتَبِسُ بِغَيْرِهَا

وَمَا عَدَا الْإِيمَانَ لَمْ أَرَهُ صَرِيحًا وَلَكِنَّهُ يُخَرَّجُ عَلَى الْإِيمَانِ الْمُصَرَّحِ بِهِ ثُمَّ رَأَيْت ابْنَ وَهْبَانَ فِي شَرْحِ الْمَنْظُومَةِ قَالَ إنَّ مَا لَا يَكُونُ إلَّا عِبَادَةً لَا يَحْتَاجُ إلَى النِّيَّةِ، وَذَكَرَ أَيْضًا أَنَّ النِّيَّةَ لَا تَحْتَاجُ إلَى نِيَّةٍ

وَنَقَلَ الْعَيْنِيُّ فِي شَرْحِ الْبُخَارِيِّ الْإِجْمَاعَ عَلَى أَنَّ التِّلَاوَةَ وَالْأَذْكَارَ وَالْآذَانَ لَا تَحْتَاجُ إلَى النِّيَّةِ

 

‌‌الثَّالِثُ فِي بَيَانِ تَعْيِينِ الْمَنْوِيِّ وَعَدَمِهِ

الْأَصْلُ عِنْدَنَا أَنَّ الْمَنْوِيَّ أَنْ يَكُونَ مِنْ الْعِبَادَاتِ أَوْ لَا فَإِنْ كَانَ عِبَادَةً فَإِنْ كَانَ وَقْتُهَا ظَرْفًا لِلْمُؤَدِّي بِمَعْنَى أَنَّهُ يَسَعَهُ وَغَيْرَهُ

فَلَا بُدَّ مِنْ التَّعْيِينِ كَالصَّلَاةِ كَأَنْ يَنْوِيَ الظُّهْرَ فَإِنْ قَرَنَهُ بِالْيَوْمِ كَظُهْرِ الْيَوْمِ صَحَّ وَإِنْ خَرَجَ الْوَقْتُ

أَوْ بِالْوَقْتِ وَلَمْ يَكُنْ خَرَجَ الْوَقْتُ.

فَإِنْ خَرَجَ وَنَسِيَهُ لَا يُجْزِيهِ فِي الصَّحِيحِ وَفَرْضُ الْوَقْتِ كَظُهْرِ الْوَقْتِ إلَّا فِي الْجُمُعَةِ فَإِنَّهَا بَدَلٌ لَا أَصْلٌ

إلَّا أَنْ يَكُونَ اعْتِقَادَهُ أَنَّهَا فَرْضُ الْوَقْتِ فَإِنْ نَوَى الظُّهْرَ لَا غَيْرَ اُخْتُلِفَ فِيهِ.

وَالْأَصَحُّ الْجَوَازُ قَالُوا وَعَلَامَةُ التَّعْيِينِ لِلصَّلَاةِ أَنْ نَكُونَ بِحَيْثُ لَوْ سُئِلَ أَيُّ صَلَاةٍ تُصَلِّي يُمْكِنُهُ أَنْ يُجِيبَ بِلَا تَأَمُّلٍ

وَإِنْ كَانَ وَقْتُهَا مِعْيَارًا
বর্জনীয় বিষয়সমূহে নিয়ত করার বিষয়টি তার ওপর আপতিত হয় না; কারণ আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, কোনো কিছু বর্জন করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন করা যায় না যতক্ষণ না সেই বর্জন করাটি একটি ক্রিয়ায় (সংকল্পবদ্ধ বিরত থাকা) পরিণত হয়। আর সেটিই হলো নিষিদ্ধ বিষয়ের ক্ষেত্রে শরয়ি বিধানের অনুসারীর (মুকাল্লাফ) দায়িত্ব, যা কেবল অস্তিত্বহীনতা অর্থে বর্জন নয়। কারণ স্রেফ অস্তিত্বহীনতা বান্দার সক্ষমতার আওতাভুক্ত নয়, যেমনটি 'আত-তাহরির' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর কাজী বায়যাভী নিয়তের শরয়ি সংজ্ঞা দিয়ে বলেছেন যে, এটি হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর হুকুম পালনের লক্ষ্যে কোনো কাজের প্রতি ধাবিত হওয়া বা সংকল্প করা।

আর আভিধানিক অর্থে এটি হলো—মানুষ কোনো বিষয়কে যখন নিজের কোনো উদ্দেশ্য সাধনের উপযোগী মনে করে, চাই তা কোনো উপকার লাভ কিংবা কোনো ক্ষতি রোধ করার জন্যই হোক না কেন, বর্তমান বা ভবিষ্যতে—সেই বিষয়ের প্রতি অন্তরের ধাবিত হওয়া।

 

‌‌দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যা অর্জনের জন্য নিয়ত প্রবর্তিত হয়েছে তার বর্ণনায়

আলেমগণ বলেছেন যে, নিয়তের উদ্দেশ্য হলো অভ্যাস থেকে ইবাদতকে পৃথক করা এবং এক ইবাদত থেকে অন্য ইবাদতকে আলাদা করা, যেমনটি 'আন-নিহায়া' এবং 'ফাতহুল কাদির' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পানাহার থেকে বিরত থাকা।

এটি কখনো ডায়েট বা রোগমুক্তির উদ্দেশ্যে হতে পারে।

অথবা খাবারের প্রতি প্রয়োজন না থাকার কারণে হতে পারে। আবার মসজিদে বসা কখনো বিশ্রামের জন্য হতে পারে, আবার কখনো ইবাদত হিসেবেও হতে পারে।

অর্থ প্রদান করা কখনো উপহার হিসেবে বা কোনো পার্থিব উদ্দেশ্যে হতে পারে, আবার কখনো ইবাদত যেমন—যাকাত বা সাদকা হিসেবে হতে পারে। তেমনি পশু জবাই করা কখনো খাওয়ার জন্য হতে পারে, যা একটি বৈধ কাজ।

অথবা মুস্তাহাব হতে পারে।

অথবা কুরবানির উদ্দেশ্যে হতে পারে, যা তখন ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। অথবা কোনো আমিরের আগমনে হতে পারে, যা কোনো কোনো মতানুসারে হারাম বা কুফর। এরপর মহান আল্লাহর নৈকট্য অর্জন কখনো ফরযের মাধ্যমে, কখনো নফলের মাধ্যমে আবার কখনো ওয়াজিবের মাধ্যমে হয়ে থাকে।

সুতরাং এগুলোর একটিকে অপরটি থেকে পৃথক করার জন্যই নিয়ত প্রবর্তিত হয়েছে।

এর ওপর ভিত্তি করে এ মাসআলা বের হয়েছে যে, যা স্বতন্ত্রভাবে ইবাদত নয় অথবা যা অন্য কিছুর সাথে মিশে যাওয়ার অবকাশ নেই, তাতে নিয়ত শর্ত নয়; যেমন মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনা—যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি—আল্লাহর পরিচয় লাভ (মা'রিফাত), ভয়, আশা, স্বয়ং নিয়ত করা এবং কুরআন তিলাওয়াত করা।

এবং জিকিরসমূহ; কারণ এগুলো স্বতন্ত্র এবং অন্য কিছুর সাথে মিশে যায় না।

ঈমান ব্যতীত অন্যান্য বিষয়গুলো আমি স্পষ্টভাবে কোথাও পাইনি, তবে ঈমানের স্পষ্ট বর্ণনার ওপর ভিত্তি করেই এগুলো প্রতিপাদন করা হয়। অতঃপর আমি ইবন ওয়াহবানকে 'শারহুল মানযূমাহ' গ্রন্থে বলতে দেখেছি যে, যা ইবাদত ছাড়া অন্য কিছু হওয়ার সুযোগ নেই, তাতে নিয়তের প্রয়োজন নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নিয়তের জন্য পুনরায় নিয়ত করার প্রয়োজন নেই।

আল্লামা আইনি 'শারহুল বুখারি'তে এ বিষয়ে ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, তিলাওয়াত, জিকির এবং আজানের জন্য নিয়তের প্রয়োজন নেই।

 

‌‌তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যার নিয়ত করা হচ্ছে তা নির্দিষ্ট করা এবং না করার বর্ণনায়

আমাদের নিকট মূলনীতি হলো—যার নিয়ত করা হচ্ছে তা ইবাদত হতে পারে অথবা নাও হতে পারে। যদি তা ইবাদত হয় এবং তার সময়টি আদায়কারীর জন্য প্রশস্ত (জরফ) হয়—অর্থাৎ ওই সময়ে সেই ইবাদত এবং অন্য ইবাদতও সম্পন্ন করার অবকাশ থাকে।

তবে সেখানে ইবাদতটি নির্দিষ্ট করা আবশ্যক, যেমন সালাতের ক্ষেত্রে যোহরের নিয়ত করা। যদি কেউ দিনের সাথে মিলিয়ে নিয়ত করে, যেমন 'আজকের যোহর', তবে তা সঠিক হবে, এমনকি সময় শেষ হয়ে গেলেও।

অথবা সময়ের সাথে মিলিয়ে নিয়ত করে এবং তখনো সময় শেষ না হয়ে থাকে।

তবে যদি সময় শেষ হয়ে যায় এবং সে তা ভুলে যায়, তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে তা যথেষ্ট হবে না। তেমনি ওয়াক্তের ফরযের নিয়ত করা, যেমন 'ওয়াক্তের যোহর', তবে জুমার ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম; কারণ জুমা হলো স্থলাভিষিক্ত, মূল নয়।

তবে যদি তার বিশ্বাস এমন হয় যে এটিই ওয়াক্তের ফরয। আর যদি সে কেবল যোহরের নিয়ত করে অন্য কিছুর নয়, তবে এ ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

আর বিশুদ্ধতর মত হলো তা বৈধ। আলেমগণ বলেছেন যে, সালাতের নিয়ত নির্দিষ্ট করার আলামত হলো—তাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয় যে আপনি কোন সালাত পড়ছেন, তবে সে যেন কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই উত্তর দিতে সক্ষম হয়।

আর যদি সময়টি নির্দিষ্ট পরিমাপের (মিয়ার) হয়।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২৬)
لَهَا بِمَعْنَى أَنَّهُ لَا يَتَّسِعُ غَيْرَهَا كَالصَّوْمِ فِي يَوْمِ رَمَضَانَ فَإِنَّ التَّعْيِينَ لَيْسَ بِشَرْطٍ إنْ كَانَ الصَّائِمُ صَحِيحًا مُقِيمًا فَيَصِحُّ بِمُطْلَقِ النِّيَّةِ وَنِيَّةِ النَّفْلِ وَوَاجِبٌ آخَرُ لِأَنَّ التَّعْيِينَ فِي الْمُتَعَيَّنِ لَغْوٌ وَإِنْ كَانَ مَرِيضًا فَفِيهِ رِوَايَتَانِ وَالصَّحِيحُ وُقُوعُهُ عَنْ رَمَضَانَ سَوَاءٌ نَوَى وَاجِبًا آخَرَ أَوْ نَفْلًا وَأَمَّا الْمُسَافِرُ فَإِنْ نَوَى عَنْ وَاجِبٍ آخَرَ وَقَعَ عَمَّا نَوَاهُ لَا عَنْ رَمَضَانَ.

وَفِي النَّفْلِ رِوَايَتَانِ.

وَالصَّحِيحُ وُقُوعُهُ عَنْ رَمَضَانَ

وَإِنْ كَانَ وَقْتُهَا مُشْكِلًا كَوَقْتِ الْحَجِّ يُشْبِهُ الْمِعْيَارَ بِاعْتِبَارِ أَنَّهُ لَا يَصِحُّ فِي السَّنَةِ إلَّا حَجَّةً وَاحِدَةً.

وَالظَّرْفُ بِاعْتِبَارِ أَنَّ أَفْعَالَهُ لَا تَسْتَغْرِقُ وَقْتَهُ فَيُصَابُ بِمُطْلَقِ النِّيَّةِ نَظَرًا إلَى الْمِعْيَارِيَّةِ.

وَإِنْ نَوَى نَفْلًا وَقَعَ عَمَّا نَوَى نَظَرًا إلَى الظَّرْفِيَّةِ وَلَا يَسْقُطُ التَّعْيِينُ فِي الصَّلَاةِ لِضِيقِ الْوَقْتِ لِأَنَّ السَّعَةَ بَاقِيَةٌ؛ بِمَعْنَى أَنَّهُ لَوْ شَرَعَ مُتَنَفِّلًا صَحَّ.

وَإِنْ كَانَ حَرَامًا وَلَا يَتَعَيَّنُ جُزْءٌ مِنْ أَجْزَاءِ الْوَقْتِ بِتَعْيِينِ الْعَبْدِ قَوْلًا وَإِنَّمَا

يَتَعَيَّنُ بِفِعْلِهِ كَالْحَانِثِ فِي الْيَمِينِ لَا يَتَعَيَّنُ وَاحِدٌ مِنْ خِصَالِ الْكَفَّارَةِ إلَّا فِي ضِمْنِ فِعْلِهِ هَذَا فِي الْأَدَاءِ؛

وَأَمَّا فِي الْقَضَاءِ فَلَا بُدَّ مِنْ التَّعْيِينِ صَلَاةً وَصَوْمًا

أَوْ حَجًّا وَأَمَّا إنْ كَثُرَتْ الْفَوَائِتُ فَاخْتَلَفُوا فِي اشْتِرَاطِ التَّعْيِينِ لِتَمْيِيزِ الْفُرُوضِ الْمُتَّحِدَةِ مِنْ جِنْسٍ وَاحِدٍ وَالْأَصَحُّ أَنَّهُ إنْ كَانَ عَلَيْهِ قَضَاءُ يَوْمٍ مِنْ رَمَضَانَ وَاحِدٍ فَصَامَ يَوْمًا نَاوِيًا عَنْهُ وَلَكِنْ لَمْ يُعَيِّنْ أَنَّهُ عَنْ يَوْمِ كَذَا فَإِنَّهُ يَجُوزُ،

وَلَا يَجُوزُ فِي رَمَضَانَيْنِ مَا لَمْ يُعَيِّنْ أَنَّهُ صَائِمٌ عَنْ رَمَضَانَ سَنَةَ كَذَا وَأَمَّا قَضَاءُ الصَّلَاةِ فَلَا يَجُوزُ مَا لَمْ يُعَيِّنْ الصَّلَاةَ وَيَوْمَهَا

بِأَنْ يُعَيِّنَ ظُهْرَ يَوْمِ كَذَا

وَلَوْ نَوَى أَوَّلَ ظُهْرٍ عَلَيْهِ أَوْ آخِرَ ظُهْرٍ عَلَيْهِ جَازَ وَهَذَا هُوَ الْمَخْلَصُ لِمَنْ لَمْ يَعْرِفْ الْأَوْقَاتَ الْفَائِتَةَ أَوْ اشْتَبَهَتْ عَلَيْهِ

أَوْ أَرَادَ التَّسْهِيلَ عَلَى نَفْسِهِ.

وَذُكِرَ فِي الْمُحِيطِ أَنَّ نِيَّةَ التَّعْيِينِ فِي الصَّلَاةِ لَمْ تُشْتَرَطْ بِاعْتِبَارِ أَنَّ الْوَاجِبَ مُخْتَلِفٌ مُتَعَدِّدٌ بَلْ بِاعْتِبَارِ أَنَّ مُرَاعَاةَ التَّرْتِيبِ وَاجِبٌ عَلَيْهِ وَلَا يُمْكِنُهُ مُرَاعَاةُ التَّرْتِيبِ إلَّا بِنِيَّةِ التَّعْيِينِ حَتَّى لَوْ سَقَطَ التَّرْتِيبُ بِكَثْرَةِ الْفَوَائِتِ تَكْفِيهِ نِيَّةُ الظُّهْرِ لَا غَيْرُ

وَهَذَا مُشْكِلٌ وَمَا ذَكَرَهُ أَصْحَابُنَا كَقَاضِي خَانْ وَغَيْرُهُ خِلَافَهُ وَهُوَ الْمُعْتَمَدُ.

كَذَا فِي التَّبْيِينِ

وَقَالُوا فِي التَّيَمُّمِ لَا يَجُوزُ التَّمْيِيزُ بَيْنَ الْحَدَثِ وَالْجَنَابَةِ حَتَّى لَوْ تَيَمَّمَ الْجُنُبُ يُرِيدُ بِهِ الْوُضُوءَ جَازَ خِلَافًا لِلْخَصَّافِ لِكَوْنِهِ يَقَعُ لَهُمَا عَلَى صِفَةٍ وَاحِدَةٍ فَيُمَيَّزُ بِالنِّيَّةِ كَالصَّلَاةِ الْمَفْرُوضَةِ.

قَالُوا وَلَيْسَ بِصَحِيحٍ لِأَنَّ الْحَاجَةَ إلَيْهَا لِيَقَعَ طَهَارَةً وَإِذَا وَقَعَ طَهَارَةً جَازَ أَنْ يُؤَدِّيَ بِهِ مَا شَاءَ لِأَنَّ الشُّرُوطَ يُرَاعَى وُجُودُهَا لَا غَيْرُ.

أَلَا تَرَى أَنَّهُ لَوْ تَيَمَّمَ لِلْعَصْرِ جَازَ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ بِهِ غَيْرُهُ.
এর অর্থ হলো এতে অন্য কিছুর অবকাশ নেই, যেমন রমজানের দিনের রোজা। কেননা রোজা পালনকারী যদি সুস্থ ও মুকিম হন, তবে নির্দিষ্ট করা (তাইয়িন) শর্ত নয়; ফলে সাধারণ নিয়ত, নফল বা অন্য কোনো ওয়াজিবের নিয়ত করলেও তা সঠিক হবে। কারণ যা সুনির্দিষ্ট, তাতে পুনরায় নির্ধারণ করা নিরর্থক। আর যদি সে অসুস্থ হয়, তবে এ বিষয়ে দুটি বর্ণনা রয়েছে। সঠিক মত হলো, সে অন্য কোনো ওয়াজিব বা নফলের নিয়ত করলেও তা রমজানের পক্ষ থেকেই গণ্য হবে। কিন্তু মুসাফিরের ক্ষেত্রে যদি সে অন্য কোনো ওয়াজিবের নিয়ত করে, তবে সে যা নিয়ত করেছে তা-ই হবে, রমজানের পক্ষ থেকে নয়।

আর নফলের ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

সঠিক মত হলো এটি রমজানের পক্ষ থেকেই গণ্য হবে।

আর যদি এর সময়টি জটিল হয় যেমন হজের সময়, তবে এটি মেয়ারের (পরিমাপক) সদৃশ, এই বিবেচনায় যে বছরে একটির বেশি হজ শুদ্ধ হয় না।

এবং এটি জরফ (সময়-আধার) হিসেবেও গণ্য, এই বিবেচনায় যে হজের কার্যাবলি পুরো সময়টিকে ব্যাপৃত করে না। সুতরাং মেয়ারিয়্যাহ (পরিমাপক গুণ) বিবেচনা করে সাধারণ নিয়ত করলেই তা আদায় হয়ে যাবে।

আর যদি সে নফলের নিয়ত করে তবে জরফিয়্যাহ (আধারিক গুণ) বিবেচনায় সে যা নিয়ত করেছে তা-ই আদায় হবে। আর সময়ের সংকীর্ণতার কারণে সালাতে নির্ধারণের (তাইয়িন) আবশ্যকতা রহিত হয় না, কারণ অবকাশ তখনও অবশিষ্ট থাকে; এর অর্থ হলো যদি সে নফল শুরু করে তবে তা সহীহ হবে।

যদিও তা হারাম হয়। আর বান্দার মৌখিক নির্ধারণের মাধ্যমে সময়ের কোনো অংশ নির্দিষ্ট হয় না বরং

এটি তার কার্যের মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়, যেমন শপথ ভঙ্গকারীর ক্ষেত্রে কাফফারার প্রকারগুলোর মধ্য থেকে কোনোটিই নির্ধারিত হয় না যতক্ষণ না সে তা সম্পাদন করে। এটি আদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য;

কিন্তু কাজার ক্ষেত্রে সালাত, রোজা

অথবা হজের বিষয়টি নির্দিষ্ট করা আবশ্যক। কিন্তু যদি কাজার সংখ্যা অনেক হয়, তবে একই জাতীয় ফরজের মাঝে পার্থক্য করার জন্য তা নির্ধারণ (তাইয়িন) করার শর্তের ব্যাপারে ফকিহগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন। সঠিক মত হলো, যদি তার জিম্মায় রমজানের একদিনের কাজা থাকে এবং সে নির্দিষ্ট দিনের উল্লেখ না করে কেবল কাজার নিয়তে একদিন রোজা রাখে, তবে তা জায়েজ হবে;

কিন্তু দুই রমজানের কাজা থাকলে নির্দিষ্ট করে বলতে হবে যে সে অমুক বছরের রমজানের রোজা রাখছে, অন্যথায় তা জায়েজ হবে না। আর সালাতের কাজার ক্ষেত্রে সালাত এবং এর দিন নির্দিষ্ট না করলে তা জায়েজ হবে না

যেমন নির্দিষ্ট করা যে এটি অমুক দিনের জোহর।

আর যদি সে তার জিম্মায় থাকা প্রথম জোহর অথবা শেষ জোহরের নিয়ত করে তবে তাও জায়েজ হবে। যারা কাজা হওয়া সালাতের সময় জানে না বা যাদের নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে গেছে

অথবা যে নিজের জন্য সহজ করতে চায়, তাদের জন্য এটাই নিষ্কৃতির পথ।

'মুহিত' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সালাতে নির্ধারণের নিয়ত শর্ত হওয়ার কারণ এই নয় যে ওয়াজিবগুলো ভিন্ন ভিন্ন ও একাধিক, বরং কারণ হলো তার ওপর তারতিব (ক্রম) রক্ষা করা ওয়াজিব। আর নির্ধারণের নিয়ত ছাড়া তারতিব রক্ষা করা সম্ভব নয়। এমনকি কাজার আধিক্যের কারণে যদি তারতিব রহিত হয়ে যায়, তবে তার জন্য কেবল জোহরের নিয়ত করাই যথেষ্ট হবে, অন্য কিছু নয়।

এটি একটি জটিল বিষয়। আমাদের সাথীবর্গ যেমন কাজি খান এবং অন্যান্যরা এর বিপরীত মত উল্লেখ করেছেন এবং সেটিই নির্ভরযোগ্য।

'তাবয়িন' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে ফকিহগণ বলেছেন যে, হদস (অজুহীনতা) এবং জানাবাত (গোসল ফরজ হওয়া)-এর মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি নয়। এমনকি কোনো জুনুবী ব্যক্তি যদি ওজুর নিয়তে তায়াম্মুম করে তবে তা জায়েজ হবে; যদিও ইমাম খাসসাফ এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন। কারণ উভয় ক্ষেত্রেই তায়াম্মুম একই পদ্ধতিতে হয়ে থাকে, ফলে ফরজ সালাতের মতো নিয়তের মাধ্যমে পার্থক্য করা হয়।

তারা বলেছেন, এটি সঠিক নয়; কারণ নিয়তের প্রয়োজন কেবল একে পবিত্রতা হিসেবে গণ্য করার জন্য। আর একবার পবিত্রতা অর্জিত হয়ে গেলে তা দিয়ে সে যা ইচ্ছা আদায় করতে পারবে। কারণ শর্তের ক্ষেত্রে কেবল এর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেই যথেষ্ট।

আপনি কি দেখছেন না যে, কেউ যদি আসরের জন্য তায়াম্মুম করে তবে তা দিয়ে অন্য সালাত আদায় করাও তার জন্য জায়েজ হয়?
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الضَّابِطُ فِي هَذَا الْبَحْثِ: التَّعْيِينُ لِتَمْيِيزِ الْأَجْنَاسِ

فَنِيَّةُ التَّعْيِينِ فِي الْجِنْسِ الْوَاحِدِ لَغْوٌ؛ لِعَدَمِ الْفَائِدَةِ.

وَالتَّصَرُّفُ إذَا لَمْ يُصَادِفْ مَحَلَّهُ كَانَ لَغْوًا

وَيُعْرَفُ اخْتِلَافُ الْجِنْسِ بِاخْتِلَافِ السَّبَبِ وَالصَّلَاةُ كُلُّهَا مِنْ قَبِيلِ الْمُخْتَلِفِ حَتَّى الظُّهْرَيْنِ مِنْ يَوْمَيْنِ أَوْ الْعَصْرَيْنِ مِنْ يَوْمَيْنِ بِخِلَافِ أَيَّامِ رَمَضَانَ

فَإِنَّهُ يَجْمَعُهَا شُهُودُ الشَّهْرِ فَتَفَرَّعَ عَلَى ذَلِكَ أَنَّهُ لَوْ كَانَ عَلَيْهِ قَضَاءُ يَوْمٍ بِعَيْنِهِ

فَصَامَ بِنِيَّةِ يَوْمٍ آخَرَ

أَوْ كَانَ عَلَيْهِ قَضَاءُ صَوْمِ يَوْمَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ فَصَامَ يَوْمًا عَنْ قَضَاءِ صَوْمِ يَوْمَيْنِ أَوْ أَكْثَرَ بِخِلَافِ مَا إذَا نَوَى عَنْ رَمَضَانَيْنِ حَيْثُ لَا يَجُوزُ لِاخْتِلَافِ السَّبَبِ كَمَا إذَا نَوَى ظُهْرَيْنِ أَوْ ظُهْرًا عَنْ عَصْرٍ أَوْ نَوَى ظُهْرَ يَوْمِ السَّبْتِ وَعَلَيْهِ ظُهْرُ يَوْمِ الْخَمِيسِ

وَعَلَى هَذَا أَدَاءُ الْكَفَّارَاتِ لَا يُحْتَاجُ فِيهِ إلَى التَّعْيِينِ فِي جِنْسٍ وَاحِدٍ وَلَوْ عَيَّنَ لُغِيَ.

وَفِي الْأَجْنَاسِ لَا بُدَّ مِنْهُ كَمَا حَقَّقْنَاهُ فِي الظِّهَارِ مِنْ كِتَابِنَا شَرْحِ الْكَنْزِ وَأَمَّا فِي الزَّكَاةِ فَقَالُوا لَوْ عَجَّلَ خَمْسَةَ سُودٍ عَنْ مِائَتَيْ دِرْهَمٍ سُودٍ فَهَلَكَتْ السُّودُ قَبْلَ الْحَوْلِ

وَعِنْدَهُ نِصَابٌ آخَرُ كَانَ الْمُعَجَّلُ عَنْ الْبَاقِي.

وَفِي فَتْحِ الْقَدِيرِ فِي الصَّوْمِ: وَلَوْ وَجَبَ عَلَيْهِ قَضَاءُ يَوْمَيْنِ مِنْ رَمَضَانَ وَاحِدٍ فَالْأَوْلَى أَنْ يَنْوِيَ أَوَّلَ يَوْمٍ وَجَبَ عَلَيْهِ قَضَاؤُهُ مِنْ هَذَا الرَّمَضَانِ وَإِنْ لَمْ يُعَيِّن جَازَ

وَكَذَا لَوْ كَانَ مِنْ رَمَضَانَيْنِ عَلَى الْمُخْتَارِ

حَتَّى لَوْ نَوَى الْقَضَاءَ لَا غَيْرُ جَازَ وَلَوْ وَجَبَتْ عَلَيْهِ كَفَّارَةُ فِطْرٍ فَصَامَ وَاحِدًا وَسِتِّينَ يَوْمًا عَنْ الْقَضَاءِ وَالْكَفَّارَةِ وَلَمْ يُعَيَّنْ يَوْمَ الْقَضَاءِ جَازَ

وَفِي الْخَانِيَّةِ لَوْ عَجَّلَ الزَّكَاةَ عَنْ أَحَدِ الْمَالَيْنِ فَاسْتُحِقَّ مَا عَجَّلَ عَنْهُ قَبْلَ الْحَوْلِ لَمْ يَكُنْ الْمُعَجَّلُ عَنْ الْبَاقِي وَكَذَا لَوْ اُسْتُحِقَّ بَعْدَ الْحَوْلِ.

لِأَنَّ فِي الِاسْتِحْقَاقِ عَجَّلَ عَمَّا لَمْ يَكُنْ مِلْكَهُ فَبَطَلَ التَّعْجِيلُ وَفِيهَا أَيْضًا لَوْ كَانَ لَهُ خَمْسٌ مِنْ الْإِبِلِ الْحَوَامِلِ يَعْنِي الْحَبَالَى فَعَجَّلَ شَاتَيْنِ عَنْهَا وَعَمَّا فِي بُطُونِهَا ثُمَّ اُسْتُحِقَّتْ خَمْسٌ قَبْلَ الْحَوْلِ أَجْزَأَهُ عَمَّا عَجَّلَ وَإِنْ عَجَّلَ عَمَّا تَحْمِلُ فِي السَّنَةِ الثَّانِيَةِ لَا يَجُوزُ.

هَذَا كُلُّهُ فِي الْفَرَائِضِ وَالْوَاجِبَاتِ كَالْمَنْذُورِ وَالْوِتْرِ عَلَى قَوْلِ الْإِمَامِ وَالْعِيدِ عَلَى الصَّحِيحِ وَرَكْعَتَيْ الطَّوَافِ عَلَى الْمُخْتَارِ وَيَنْوِي الْوِتْرَ لَا الْوِتْرَ الْوَاجِبَ لِلِاخْتِلَافِ فِيهِ.

وَفِي صَلَاةِ الْجِنَازَةِ يَنْوِي الصَّلَاةَ لِلَّهِ تَعَالَى وَالدُّعَاءَ لِلْمَيِّتِ

وَلَا يَلْزَمُهُ التَّعْيِينُ فِي سُجُودِ التِّلَاوَةِ لِأَيِّ تِلَاوَةٍ سَجَدَ لَهَا كَمَا فِي الْقُنْيَةِ

وَأَمَّا النَّوَافِلُ فَاتَّفَقَ أَصْحَابُنَا أَنَّهَا تَصِحُّ بِمُطْلَقِ النِّيَّةِ

وَأَمَّا السُّنَنُ الرَّوَاتِبُ فَاخْتَلَفُوا فِي اشْتِرَاطِ تَعْيِينِهَا.

وَالصَّحِيحُ الْمُعْتَمَدُ عَدَمُ الِاشْتِرَاطِ لِأَنَّهَا تَصِحُّ بِنِيَّةِ النَّفْلِ وَبِمُطْلَقِ النِّيَّةِ
এই আলোচনার মূলনীতি: প্রকারভেদের পার্থক্য নিরূপণের জন্য নির্দিষ্টকরণ (তা’য়ীন)

একই প্রকারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্টকরণের নিয়ত করা অনর্থক; কারণ এতে অতিরিক্ত কোনো ফায়দা নেই।

আর কোনো কর্ম যদি তার উপযুক্ত ক্ষেত্রে প্রযুক্ত না হয়, তবে তা অনর্থক গণ্য হয়।

কারণের ভিন্নতা দ্বারা প্রকারের ভিন্নতা অনুধাবন করা যায়। সমস্ত নামাজই ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, এমনকি দুই দিনের দুই যোহর কিংবা দুই দিনের দুই আসর নামাজের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে রমজানের দিনগুলো এর ব্যতিক্রম।

কেননা পুরো মাস উপস্থিত হওয়াই এই রোজাগুলোর অভিন্ন কারণ। এর ওপর ভিত্তি করে এই মাসআলা নির্গত হয় যে, যদি কারো জিম্মায় নির্দিষ্ট কোনো একদিনের রোজা কাজা থাকে,

আর সে অন্য কোনো দিনের নিয়তে রোজা রাখে,

অথবা তার জিম্মায় দুই বা ততোধিক দিনের রোজা কাজা ছিল, এমতাবস্থায় সে দুই বা ততোধিক দিনের কাজার পক্ষ থেকে একদিন রোজা রাখল (তবে তা জায়েজ হবে)। কিন্তু দুই রমজানের কাজার নিয়ত করলে তা জায়েজ হবে না; কারণ সেখানে কারণ (সাবাব) ভিন্ন। যেমন কেউ যদি দুই যোহরের নিয়ত করে, অথবা আসরের পরিবর্তে যোহরের নিয়ত করে, কিংবা শনিবারের যোহরের নিয়ত করল অথচ তার জিম্মায় বৃহস্পতিবারের যোহর বাকি ছিল (তবে তা আদায় হবে না)।

এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই কাফফারা আদায়ের ক্ষেত্রে একই প্রকারের মধ্যে নির্দিষ্টকরণের প্রয়োজন নেই; আর যদি নির্দিষ্ট করা হয়ও, তবে তা অনর্থক বলে গণ্য হবে।

তবে ভিন্ন ভিন্ন প্রকারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্টকরণ আবশ্যক, যেমনটি আমরা আমাদের ‘শরহুল কানজ’ গ্রন্থের ‘জিহার’ অধ্যায়ে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছি। আর জাকাতের ক্ষেত্রে ফকিহগণ বলেছেন, যদি কেউ দুইশত ‘সুদ’ দিরহামের জাকাত হিসেবে অগ্রিম পাঁচটি ‘সুদ’ দিরহাম প্রদান করে, আর বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই সেই ‘সুদ’ দিরহামগুলো ধ্বংস হয়ে যায়,

অথচ তার কাছে অন্য একটি নিসাব বিদ্যমান থাকে, তবে সেই অগ্রিম প্রদানকৃত অংশ অবশিষ্ট মালের পক্ষ থেকে গণ্য হবে।

‘ফাতহুল কাদির’-এর রোজা অধ্যায়ে রয়েছে: যদি কারো জিম্মায় একই রমজানের দুই দিনের রোজা কাজা থাকে, তবে উত্তম হলো এই রমজানে তার ওপর প্রথম যে দিনটির কাজা ওয়াজিব হয়েছিল সেটির নিয়ত করা। তবে যদি সে তা নির্দিষ্ট না করে, তবুও তা জায়েজ হবে।

নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী দুই রমজানের কাজা হওয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান।

এমনকি সে যদি অন্য কোনো কিছু ছাড়া কেবল কাজার নিয়ত করে, তবুও তা জায়েজ হবে। আর যদি কারো ওপর রোজা ভঙ্গের কাফফারা ওয়াজিব হয় এবং সে কাজা ও কাফফারা হিসেবে মোট একষট্টিটি রোজা রাখে, কিন্তু কাজার দিনটিকে নির্দিষ্ট না করে, তবে তাও জায়েজ হবে।

‘খানিয়া’ গ্রন্থে রয়েছে, যদি কেউ দুই প্রকার মালের কোনো একটির জাকাত অগ্রিম প্রদান করে, অতঃপর বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি সেই মালটি (যার জাকাত দেওয়া হয়েছিল) অন্য কারো হক সাব্যস্ত হয়, তবে সেই অগ্রিম প্রদানকৃত জাকাত অবশিষ্ট মালের পক্ষ থেকে গণ্য হবে না। বছর পূর্ণ হওয়ার পর হক সাব্যস্ত হলেও একই বিধান প্রযোজ্য হবে।

কারণ হক সাব্যস্ত হওয়ার অর্থ হলো—সে এমন মালের জাকাত অগ্রিম দিয়েছে যা প্রকৃতপক্ষে তার মালিকানাধীন ছিল না, ফলে সেই অগ্রিম প্রদান বাতিল হয়ে যাবে। উক্ত কিতাবে আরও রয়েছে, যদি কারো পাঁচটি গর্ভবতী উট থাকে এবং সে সেই উটগুলো ও তাদের গর্ভস্থ বাচ্চার পক্ষ থেকে অগ্রিম দুটি ছাগল জাকাত হিসেবে প্রদান করে, অতঃপর বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই যদি পাঁচটি উট অন্য কারো হক সাব্যস্ত হয়, তবে সে যা অগ্রিম দিয়েছে তা তার অন্য মালের জাকাত হিসেবে যথেষ্ট হবে। কিন্তু যদি সে দ্বিতীয় বছর যা গর্ভধারণ করবে তার পক্ষ থেকে অগ্রিম প্রদান করে, তবে তা জায়েজ হবে না।

এই সমস্ত আলোচনা ফরজ ও ওয়াজিব ইবাদতসমূহ সম্পর্কে; যেমন মান্নতকৃত ইবাদত, ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে বিতর নামাজ, সঠিক মতানুযায়ী ঈদের নামাজ এবং নির্ভরযোগ্য মতানুযায়ী তাওয়াফের দুই রাকাত নামাজ। বিতর নামাজের ক্ষেত্রে কেবল ‘বিতর’-এর নিয়ত করবে, ‘ওয়াজিব বিতর’ বলবে না; কারণ এর ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

জানাজার নামাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নামাজ এবং মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়ার নিয়ত করবে।

‘কুনইয়া’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, তিলাওয়াতে সিজদার ক্ষেত্রে কোন আয়াতের তিলাওয়াতের জন্য সিজদা করা হচ্ছে, তা নির্দিষ্ট করা আবশ্যক নয়।

আর নফল ইবাদতের ব্যাপারে আমাদের ফকিহগণ একমত হয়েছেন যে, তা সাধারণ নিয়তের মাধ্যমেই শুদ্ধ হয়।

তবে সুন্নতে মুয়াক্কাদা (সুন্নানে রাওয়াতিব) গুলোর ক্ষেত্রে সেগুলো নির্দিষ্ট করে নিয়ত করা শর্ত কি না, সে ব্যাপারে ফকিহগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।

এক্ষেত্রে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য মত হলো—নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়; কেননা নফলের নিয়তে কিংবা সাধারণ নিয়তেও তা শুদ্ধ হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌وَتَفَرَّعَ عَلَيْهِ لَوْ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ عَلَى ظَنٍّ أَنَّهَا تَهَجُّدٌ بِظَنِّ بَقَاءِ اللَّيْلِ فَتَبَيَّنَ أَنَّهَا بَعْدَ

طُلُوعِ الْفَجْرِ كَانَتْ عَنْ سُنَّةِ الْفَجْرِ عَلَى الصَّحِيحِ فَلَا يُصَلِّيهَا بَعْدَهُ لِلْكَرَاهَةِ وَأَمَّا مَنْ قَالَ إذَا صَلَّى رَكْعَةً قَبْلَ الطُّلُوعِ وَأُخْرَى بَعْدَهُ كَانَتَا عَنْ السُّنَّةِ فَبَعِيدٌ

لِأَنَّ السُّنَّةَ لَا بُدَّ مِنْ الشُّرُوعِ فِيهَا فِي الْوَقْتِ؛ وَلَمْ يُوجَدْ. وَقَالُوا لَوْ قَامَ إلَى الْخَامِسَةِ فِي الظُّهْرِ سَاهِيًا بَعْدَ مَا قَعَدَ لِلْأَخِيرَةِ فَإِنَّهُ يَضُمُّ سَادِسَةً وَتَكُونُ الرَّكْعَتَانِ نَفْلًا

وَلَا تَكُونَانِ عَنْ سُنَّةِ الظُّهْرِ عَلَى الصَّحِيحِ وَهَذَا لَا يَدُلُّ عَلَى اشْتِرَاطِ التَّعْيِينِ لِأَنَّ عَدَمَ الْإِجْزَاءِ لِكَوْنِ السُّنَّةِ لَمْ تُشْرَعْ إلَّا بِتَحْرِيمِهِ مُبْتَدَئِهِ وَلَمْ تُوجَدْ

وَاخْتَلَفَ التَّصْحِيحُ فِي التَّرَاوِيحِ هَلْ تَقَعُ التَّرَاوِيحُ بِمُطْلَقِ النِّيَّةِ أَوْ لَا بُدَّ مِنْ التَّعْيِينِ؟ فَصَحَّحَ قَاضِي خَانْ الِاشْتِرَاطَ وَالْمُعْتَمَدُ خِلَافُهُ كَالسُّنَنِ الرَّوَاتِبِ وَتَفَرَّعَ أَيْضًا عَلَى اشْتِرَاطِ التَّعْيِينِ لِلسُّنَنِ الرَّوَاتِبِ وَعَدَمِهِ مَسْأَلَةٌ أُخْرَى هِيَ: لَوْ صَلَّى بَعْدَ الْجُمُعَةِ أَرْبَعًا فِي مَوْضِعٍ يَشُكُّ فِي صِحَّةِ الْجُمُعَةِ نَاوِيًا آخِرَ ظُهْرٍ عَلَيْهِ أَوْ أَوَّلَ.

أَدْرَكَ وَقْتَهُ وَلَمْ يُؤَدِّهِ ثُمَّ تَبَيَّنَ صِحَّةَ الْجُمُعَةِ.

فَعَلَى الصَّحِيحِ الْمُعْتَمَدِ تَنُوبُ عَنْ سُنَّةِ الْجُمُعَةِ حَيْثُ لَمْ يَكُنْ عَلَيْهِ ظُهْرٌ فَائِتٌ وَعَلَى الْقَوْلِ الْآخَرِ لَا؛ كَمَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ؛ وَهُوَ أَيْضًا يَتَفَرَّعُ عَلَى أَنَّ الصَّلَاةَ إذَا بَطَلَ وَصْفُهَا لَا يَبْطُلُ أَصْلُهَا عَلَى قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ.

خِلَافًا لِمُحَمَّدٍ رحمه الله فَيَنْبَغِي أَنْ يُقَالَ فِيهَا إنَّهَا تَكُونُ عَنْ السُّنَّةِ إلَّا عَلَى قَوْلِ مُحَمَّدٍ رحمه الله وَيَنْبَغِي أَنْ تُلْحَقَ الصِّيَامَاتُ الْمَسْنُونَةُ بِالصَّلَاةِ الْمَسْنُونَةِ فَلَا يُشْتَرَطُ لَهَا التَّعْيِينُ وَلَمْ أَرَ مَنْ نَبَّهَ عَلَيْهِ

 

‌‌تَكْمِيلُ

السُّنَن الرَّوَاتِب فِي الْيَوْمِ وَاللَّيْلَةِ اثْنَتَا عَشْرَةَ رَكْعَةً.

رَكْعَتَانِ قَبْلَ الْفَجْرِ وَأَرْبَعٌ قَبْلَ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَانِ بَعْدَهَا وَرَكْعَتَانِ بَعْدَ الْمَغْرِبِ وَرَكْعَتَانِ بَعْدَ الْعِشَاءِ وَفِي صَلَاةِ الْجُمُعَةِ أَرْبَعٌ قَبْلَهَا وَأَرْبَعٌ بَعْدَهَا

وَالتَّرَاوِيحُ عِشْرُونَ رَكْعَةً بِعَشْرِ تَسْلِيمَاتٍ

بَعْدَ الْعِشَاءِ فِي لَيَالِي رَمَضَانَ وَصَلَاةُ الْوِتْرِ عَلَى قَوْلِهِمَا وَصَلَاةُ الْعِيدَيْنِ فِي إحْدَى الرِّوَايَتَيْنِ وَصَلَاةُ الْكُسُوفِ عَلَى الصَّحِيحِ وَقِيلَ وَاجِبَةٌ وَصَلَاةُ الْخُسُوفِ وَالِاسْتِسْقَاءِ عَلَى قَوْلٍ

وَأَمَّا الْمُسْتَحَبُّ:

فَأَرْبَعٌ قَبْلَ الْعَصْرِ

وَأَرْبَعٌ قَبْلَ الْعِشَاءِ وَبَعْدِهَا وَرَكْعَتَانِ بَعْدَ رَكْعَتَيْ الظُّهْرِ وَرَكْعَتَيْنِ بَعْدَ رَكْعَتَيْ الْعِشَاءِ وَسِتٌّ بَعْدَ رَكْعَتَيْ الْمَغْرِبِ

وَسُنَّةُ الْوُضُوءِ وَتَحِيَّةُ الْمَسْجِدِ

وَيَنُوبُ عَنْهَا كُلُّ صَلَاةٍ أَدَّاهَا عِنْدَ الدُّخُولِ وَقِيْلَ: وبَعْدَ الْقُعُودِ وَرَكْعَتَا الْإِحْرَامِ،

كَذَلِكَ

تَنُوبُ عَنْهَا كُلُّ صَلَاةٍ فَرْضًا كَانَتْ أَوْ نَفْلًا.

وَصَلَاةُ الضُّحَى وَأَقَلُّهَا أَرْبَعٌ وَأَكْثَرُهَا ثِنْتَا عَشَرَ رَكْعَةٍ

وَصَلَاةُ الْحَاجَةِ وَصَلَاةُ الِاسْتِخَارَةِ كَمَا فِي
‌‌এর থেকে একটি মাসআলা নির্গত হয় যে, যদি কেউ রাত অবশিষ্ট আছে এই ধারণায় দুই রাকাত নামাজ পড়ে যে এটি তাহাজ্জুদ, এরপর প্রকাশ পায় যে তা

ফজর উদয়ের পর ছিল, তবে সহীহ মতানুসারে তা ফজরের সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং মাকরূহ হওয়ার কারণে এরপর আর ওই সুন্নাত পড়বে না। আর যে ব্যক্তি বলে যে, যদি সুবহে সাদিকের আগে এক রাকাত এবং পরে এক রাকাত পড়ে তবে তা সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে, এই কথাটি সুদূরপরাহত (অগ্রহণযোগ্য),

কারণ সুন্নাত নামাজের জন্য সময়ের ভেতরে প্রারম্ভিক নিয়ত (তাহরীমা) করা অপরিহার্য; যা এখানে পাওয়া যায়নি। ফকিহগণ বলেছেন, যোহরের শেষ বৈঠকে বসার পর যদি কেউ ভুলবশত পঞ্চম রাকাতে দাঁড়িয়ে যায়, তবে সে ষষ্ঠ রাকাত মিলিয়ে নেবে এবং এই দুই রাকাত নফল হিসেবে গণ্য হবে

সহীহ মতানুসারে তা যোহরের সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে না। এটি সুনির্দিষ্ট নিয়ত (তায়ীন) শর্ত হওয়ার প্রমাণ বহন করে না; কারণ এটি যথেষ্ট না হওয়ার কারণ হলো সুন্নাত কেবল তার প্রারম্ভিক নিয়ত দ্বারাই শরীয়তসম্মত হয়, যা এখানে পাওয়া যায়নি

তারাবীহ সম্পর্কে শুদ্ধিকরণে মতভেদ রয়েছে; তারাবীহ কি সাধারণ নিয়তে আদায় হবে নাকি নির্দিষ্ট নিয়ত করা আবশ্যক? কাজী খান নির্দিষ্ট নিয়ত করাকে শর্ত বলে সহীহ সাব্যস্ত করেছেন, তবে নির্ভরযোগ্য মত এর বিপরীত, যেমনটি সুন্নাত-এ-রাওয়াতীবের ক্ষেত্রে। সুন্নাত-এ-রাওয়াতীবের জন্য নির্দিষ্ট নিয়ত শর্ত হওয়া এবং না হওয়া থেকে আরেকটি মাসআলা নির্গত হয়, তা হলো: যদি কেউ জুমুআর পরে এমন স্থানে চার রাকাত নামাজ পড়ে যেখানে জুমুআ শুদ্ধ হওয়া সম্পর্কে সন্দেহ আছে, এবং সে তার জিম্মায় থাকা শেষ যোহর বা প্রথম যোহরের নিয়ত করে

যার সময় সে পেয়েছে কিন্তু আদায় করেনি, এরপর জুমুআ শুদ্ধ হওয়া প্রমাণিত হয়।

নির্ভরযোগ্য সহীহ মতানুসারে, যদি তার জিম্মায় কোনো কাজা যোহর না থাকে তবে তা জুমুআর সুন্নাতের স্থলাভিষিক্ত হবে। অন্য মতানুসারে তা হবে না; যেমনটি ফাতহুল কাদীর-এ রয়েছে। এটি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর এই নীতির ওপরও ভিত্তি করে যে, নামাজের সিফাত (বৈশিষ্ট্য) বাতিল হলেও মূল (আসল) নামাজ বাতিল হয় না।

ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত এর বিপরীত। সুতরাং বলা উচিত যে, ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মত ব্যতীত অন্য সবার মতে এটি সুন্নাত হিসেবে গণ্য হবে। আর সুন্নাত রোজাকে সুন্নাত নামাজের সাথে সংযুক্ত করা উচিত, ফলে তাতেও নির্দিষ্ট নিয়ত শর্ত হবে না। আমি কাউকে এ বিষয়ে সতর্ক করতে দেখিনি

 

‌‌পরিশিষ্ট

দিন ও রাতের সুন্নাত-এ-রাওয়াতীব মোট বারো রাকাত।

ফজরের পূর্বে দুই রাকাত, যোহরের পূর্বে চার রাকাত ও পরে দুই রাকাত, মাগরিবের পরে দুই রাকাত এবং এশার পরে দুই রাকাত। জুমুআর নামাজের ক্ষেত্রে জুমুআর পূর্বে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত

আর তারাবীহ হলো বিশ রাকাত যা দশ সালামে আদায় করতে হয়

রমজানের রাতে এশার নামাজের পর। এছাড়া ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতে বিতর নামাজ, এক বর্ণনা অনুযায়ী দুই ঈদের নামাজ, সহীহ মতানুসারে সূর্যগ্রহণের (কুসূফ) নামাজ—কেউ কেউ একে ওয়াজিব বলেছেন—এবং চন্দ্রগ্রহণের (খুসূফ) নামাজ ও এক মতানুসারে বৃষ্টি প্রার্থনার (ইস্তিসকা) নামাজ

আর মুস্তাহাব নামাজসমূহ হলো:

আসরের পূর্বে চার রাকাত

এশার পূর্বে চার রাকাত ও পরে চার রাকাত, যোহরের দুই রাকাত সুন্নাতের পর আরও দুই রাকাত, এশার দুই রাকাত সুন্নাতের পর আরও দুই রাকাত এবং মাগরিবের দুই রাকাত সুন্নাতের পর ছয় রাকাত

ওযুর সুন্নাত এবং তাহিয়্যাতুল মাসজিদ

মসজিদে প্রবেশের সময় আদায়কৃত যেকোনো নামাজই এর স্থলাভিষিক্ত হবে। কেউ কেউ বলেছেন: বসার পরেও (আদায় করা যায়)। একইভাবে ইহরামের দুই রাকাতও,

তেমনিভাবে

যেকোনো নামাজ—চাই তা ফরজ হোক বা নফল—তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে যায়।

চাশতের (দুহা) নামাজ, যার সর্বনিম্ন চার রাকাত এবং সর্বোচ্চ বারো রাকাত

এবং হাজতের নামাজ ও ইস্তিখারার নামাজ যেমনটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ২৯)
شَرْحِ مُنْيَةِ الْمُصَلِّي وَتَمَامِهَا مَعَ الْكَلَامِ عَلَى صَلَاةِ الرَّغَائِبِ وَلَيْلَةُ الْبَرَاءَةِ مَذْكُورَةٌ فِيهِ لِابْنِ أَمِيرِ الْحَاجِّ الْحَلَبِيِّ.

 

‌‌ضَابِطٌ فِيمَا إذَا عَيَّنَ وَأَخْطَأَ

الْخَطَأَ فِيمَا لَا يُشْتَرَطُ التَّعْيِينُ لَهُ لَا يَضُرُّ كَتَعْيِينِ مَكَانِ الصَّلَاةِ وَزَمَانِهَا وَعَدَدِ الرَّكَعَاتِ فَلَوْ عَيَّنَ عَدَدَ رَكَعَاتٍ ثَلَاثًا أَوْ خَمْسًا صَحَّ لِأَنَّ التَّعْيِينَ لَيْسَ بِشَرْطٍ فَالْخَطَأُ فِيهِ لَا يَضُرُّهُ قَالَ فِي النِّهَايَةِ وَنِيَّةُ عَدَدِ الرَّكَعَاتِ وَالسَّجَدَاتِ لَيْسَتْ بِشَرْطٍ وَلَوْ نَوَى الظُّهْرَ ثَلَاثًا وَخَمْسًا صَحَّتْ وَتَلْغُو نِيَّةُ التَّعْيِينِ.

وَكَمَا إذَا عَيَّنَ الْإِمَامُ مَنْ يُصَلِّي بِهِ فَبَانَ غَيْرُهُ وَمِنْهُ مَا إذَا عَيَّنَ الْأَدَاءَ فَبَانَ أَنَّ الْوَقْتَ خَرَجَ أَوْ الْقَضَاءَ فَبَانَ أَنَّهُ بَاقٍ وَعَلَى هَذَا الشَّاهِدِ إذَا ذَكَرَ مَا لَا يَحْتَاجُ إلَيْهِ فَالْخَطَأُ فِيهِ لَا يَضُرُّهُ وَقَالَ فِي الْبَزَّازِيَّةِ لَوْ سَأَلَهُمْ الْقَاضِي عَنْ لَوْنِ الدَّابَّةِ فَذَكَرُوا لَوْنًا

ثُمَّ شَهِدُوا عِنْدَ الدَّعْوَى وَذَكَرُوا لَوْنًا آخَرَ تُقْبَلُ.

وَالتَّنَاقُضُ فِيمَا لَا يَحْتَاجُ إلَيْهِ لَا يَضُرُّ.

وَأَمَّا فِيمَا يُشْتَرَطُ فِيهِ التَّعْيِينُ كَالْخَطَأِ مِنْ الصَّوْمِ إلَى الصَّلَاةِ وَعَكْسِهِ وَمَنْ صَلَاةِ الظُّهْرِ إلَى الْعَصْرِ فَإِنَّهُ يَضُرُّ.

وَمِنْ ذَلِكَ مَا إذَا نَوَى الِاقْتِدَاءَ بِزَيْدٍ فَإِذَا هُوَ عَمْرٌو، الْأَفْضَلُ أَنْ لَا يُعَيَّنَ الْإِمَامُ عِنْدَ كَثْرَةِ الْجَمَاعَةِ كَيْ لَا يَظْهَرَ كَوْنُهُ غَيْرُ الْمُعَيَّنِ فَلَا يَجُوزُ.

فَيَنْبَغِي أَنْ يَنْوِيَ الْقَائِمَ فِي الْمِحْرَابِ

كَائِنًا مَنْ كَانَ وَلَوْ لَمْ يَخْطُرْ بِبَالِهِ أَنَّهُ زَيْدٌ أَوْ عَمْرٌو

جَازَ الِاقْتِدَاءُ بِهِ وَلَوْ نَوَى الِاقْتِدَاءَ بِالْإِمَامِ الْقَائِمِ وَهُوَ يَرَى أَنَّهُ زَيْدٌ وَهُوَ عَمْرٌو صَحَّ اقْتِدَاؤُهُ لِأَنَّ الْعِبْرَةَ لِمَا نَوَى لَا لِمَا رَأَى.

وَهُوَ نَوَى الِاقْتِدَاءَ بِالْإِمَامِ.

وَفِي التَّتَارْخَانِيَّة:

صَلَّى الظُّهْرَ وَنَوَى أَنَّ هَذَا ظُهْرُ يَوْمِ الثُّلَاثَاءِ فَتَبَيَّنَ أَنَّهُ مِنْ يَوْمِ الْأَرْبِعَاءِ جَازَ ظُهْرُهُ فَالْغَلَطُ فِي تَعْيِينِ الْوَقْتِ لَا يَضُرُّ.

وَمِثْلُهُ فِي الصَّوْمِ لَوْ نَوَى قَضَاءَ يَوْمِ الْخَمِيسِ فَإِذَا عَلَيْهِ غَيْرُهُ

لَا يَجُوزُ،

وَلَوْ نَوَى قَضَاءَ مَا عَلَيْهِ مِنْ الصَّوْمِ وَهُوَ يَظُنُّهُ يَوْمَ الْخَمِيسِ وَهُوَ غَيْرُهُ جَازَ، وَلَوْ كَانَ يَرَى شَخْصَهُ فَنَوَى الِاقْتِدَاءَ بِهَذَا الْإِمَامِ الَّذِي هُوَ زَيْدٌ فَإِذَا هُوَ خِلَافُهُ جَازَ لِأَنَّهُ عَرِفَهُ بِالْإِشَارَةِ فَلَغَتْ التَّسْمِيَةُ.

وَكَذَا لَوْ كَانَ آخِرُ الصُّفُوفِ لَا يَرَى شَخْصَهُ فَنَوَى الِاقْتِدَاءَ بِالْإِمَامِ الْقَائِمِ فِي الْمِحْرَابِ الَّذِي هُوَ زَيْدٌ فَإِذَا هُوَ غَيْرُهُ جَازَ أَيْضًا.

وَمِثْلُه

مَا ذَكَرْنَا مِنْ الْخَطَأِ فِي تَعْيِينِ الْمَيِّتِ فَعِنْدَ الْكَثْرَةِ يَنْوِي الْمَيِّتَ الَّذِي يُصَلِّي عَلَيْهِ الْإِمَامُ.

كَذَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ. وَفِي الْفَتَاوَى الْعُمَدِ لَوْ قَالَ اقْتَدَيْت بِهَذَا الشَّابِّ فَإِذَا هُوَ شَيْخٌ لَمْ يَصِحَّ وَلَوْ قَالَ اقْتَدَيْت بِهَذَا الشَّيْخِ

فَإِذَا هُوَ شَابٌّ صَحَّ

لِأَنَّ الشَّابَّ يُدْعَى شَيْخًا لِعِلْمِهِ بِخِلَافِ عَكْسِهِ.

وَالْإِشَارَةُ هُنَا لَا تَكْفِي لِأَنَّهَا لَمْ تَكُنْ إشَارَةً إلَى الْإِمَامِ إنَّمَا هِيَ إلَى شَابٍّ أَوْ شَيْخٍ فَتَأَمَّلْ

وَعَلَى هَذَا لَوْ نَوَى الصَّلَاةَ عَلَى الْمَيِّتِ الذَّكَرِ فَبَانَ أَنَّهُ أُنْثَى لَوْ عَكَسَهُ لَمْ يَصِحَّ وَلَمْ أَرَ حُكْمَ
ইবনে আমিরুল হাজ আল-হালাবি রচিত 'শারহু মুনয়াতিল মুসাল্লি ওয়া তামামিহা', এতে সালাতুর রাগায়িব এবং লাইলাতুল বারাআত (শবে বরাত) সম্পর্কেও আলোচনা রয়েছে।

 

‌‌কোনো বিষয় নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে ভুল হয়ে গেলে তার বিধান

যেসব বিষয়ে নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়, সেগুলোতে ভুল হওয়া ক্ষতিকর নয়; যেমন নামাজের স্থান, সময় এবং রাকাতের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা। সুতরাং যদি কেউ রাকাত সংখ্যা তিন বা পাঁচ হিসেবে নির্দিষ্ট করে, তবে তা সহিহ হবে। কারণ নির্দিষ্ট করা শর্ত নয়, তাই এতে ভুল হওয়া ক্ষতিকর নয়। 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: রাকাত সংখ্যা এবং সিজদার সংখ্যার নিয়ত করা শর্ত নয়। যদি কেউ যোহরের নামাজ তিন বা পাঁচ রাকাতের নিয়ত করে, তবে তা সহিহ হবে এবং রাকাত নির্দিষ্ট করার নিয়তটি বাতিল বলে গণ্য হবে।

অনুরূপভাবে যখন ইমামকে নির্দিষ্ট করল যার পেছনে সে নামাজ পড়ছে, কিন্তু পরে অন্য কেউ প্রকাশ পেল। এর অন্তর্ভুক্ত আরও হলো: যদি কেউ আদায়ের নিয়ত করে কিন্তু দেখা যায় ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেছে, অথবা কাজার নিয়ত করে কিন্তু দেখা যায় ওয়াক্ত এখনও অবশিষ্ট আছে। এর ওপর ভিত্তি করেই সাক্ষীর বিধান: সে যদি এমন কিছুর উল্লেখ করে যার প্রয়োজন নেই, তবে তাতে ভুল হওয়া ক্ষতিকর হবে না। 'আল-বাযযাযিয়্যাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি বিচারক সাক্ষীদের কাছে পশুর রঙ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন এবং তারা একটি রঙের কথা উল্লেখ করে,

অতঃপর মামলার সাক্ষ্য প্রদানের সময় অন্য কোনো রঙের কথা বলে, তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে।

যেসব বিষয়ে প্রয়োজন নেই, তাতে বৈপরীত্য বা অসঙ্গতি ক্ষতিকর নয়।

তবে যেসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করা শর্ত, যেমন রোজা থেকে নামাজের ক্ষেত্রে ভুল করা অথবা এর বিপরীত, কিংবা যোহরের নামাজ থেকে আসরের নামাজে ভুল করা—তবে তা ক্ষতিকর হবে।

এরই অন্তর্ভুক্ত হলো যদি কেউ যায়েদের ইক্তেদা করার নিয়ত করে কিন্তু দেখা যায় সে আমর। জামাত বড় হলে ইমামকে নির্দিষ্ট না করাই উত্তম, যাতে করে সে নির্দিষ্ট ব্যক্তির বাইরে অন্য কেউ প্রমাণিত না হয় এবং নামাজ নাজায়েজ হওয়ার সুরত না ঘটে।

সুতরাং মেহরাবে দাঁড়ানো ব্যক্তির নিয়ত করা উচিত

সে যেই হোক না কেন। এমনকি যদি তার মনে সে যায়েদ নাকি আমর—এমন কোনো চিন্তা না আসে,

তবুও তার ইক্তেদা করা জায়েজ হবে। আর যদি কেউ দণ্ডায়মান ইমামের ইক্তেদার নিয়ত করে এবং সে মনে করে যে তিনি যায়েদ, অথচ তিনি আসলে আমর, তবে তার ইক্তেদা সহিহ হবে। কারণ নিয়তের গুরুত্ব দেওয়া হয়, দেখার ওপর নয়।

আর সে তো ইমামের ইক্তেদার নিয়ত করেছিল।

'তাতারখানিয়াহ' গ্রন্থে আছে:

যদি কেউ যোহরের নামাজ পড়ে এবং নিয়ত করে যে এটি মঙ্গলবারের যোহর, কিন্তু পরে প্রকাশ পায় যে এটি বুধবারের যোহর ছিল, তবে তার যোহর নামাজ হয়ে যাবে। কেননা সময় নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে ভুল ক্ষতিকর নয়।

রোজার ক্ষেত্রেও একই বিধান: যদি কেউ বৃহস্পতিবারের কাজার নিয়ত করে অথচ তার জিম্মায় অন্য কোনো দিনের রোজা ছিল,

তবে তা জায়েজ হবে না।

কিন্তু যদি সে তার জিম্মায় থাকা কাজা রোজার নিয়ত করে এবং মনে করে যে এটি বৃহস্পতিবারের রোজা ছিল, অথচ পরে অন্য কোনো দিনের প্রমাণিত হয়, তবে তা জায়েজ হবে। আর যদি সে ইমামের শরীর দেখতে পায় এবং নিয়ত করে যে "আমি এই ইমামের ইক্তেদা করছি যিনি যায়েদ", কিন্তু পরে অন্য কেউ দেখা যায়, তবে তা জায়েজ হবে। কারণ সে ইশারার মাধ্যমে তাকে চিহ্নিত করেছে, তাই নাম উল্লেখ করাটি অসার বলে গণ্য হবে।

অনুরূপভাবে যদি কেউ কাতারের শেষে থাকে এবং ইমামের শরীর দেখতে না পায়, অতঃপর সে মেহরাবে দণ্ডায়মান ইমামের ইক্তেদার নিয়ত করে এই মনে করে যে তিনি যায়েদ, কিন্তু পরে অন্য কেউ প্রকাশ পায়, তবে সেটিও জায়েজ হবে।

এর মতোই

হলো মৃত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে ভুলের বিষয়টি যা আমরা উল্লেখ করেছি। সুতরাং মৃতদেহ বেশি হলে সেই লাশের নিয়ত করবে যার ওপর ইমাম জানাজা পড়ছেন।

'ফাতহুল কাদির'-এ এভাবেই বর্ণিত আছে। আর 'ফাতাওয়া আল-উমাদ' গ্রন্থে আছে: যদি কেউ বলে, "আমি এই যুবকের ইক্তেদা করলাম", কিন্তু পরে দেখা যায় তিনি একজন বৃদ্ধ, তবে তা সহিহ হবে না। কিন্তু যদি বলে, "আমি এই বৃদ্ধের ইক্তেদা করলাম",

পরে দেখা যায় তিনি যুবক, তবে তা সহিহ হবে।

কারণ যুবককেও তার ইলমের কারণে 'শাইখ' বলা হয়, কিন্তু এর বিপরীতটি নয়।

এখানে ইশারা যথেষ্ট হবে না, কারণ এটি সরাসরি ইমামের প্রতি ইশারা ছিল না, বরং একজন যুবক বা বৃদ্ধের প্রতি ছিল; বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন।

এর ওপর ভিত্তি করে যদি কেউ পুরুষ লাশের ওপর জানাজা পড়ার নিয়ত করে কিন্তু পরে তা নারী বলে প্রকাশ পায়, অথবা এর বিপরীত হয়, তবে তা সহিহ হবে না। আর আমি এর হুকুম (অসম্পূর্ণ)...
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩০)
مَا إذَا يَضُرُّ إلَّا إذَا بَانَ أَنَّهُمْ أَكْثَرُ لِأَنَّ فِيهِمْ مَنْ لَمْ يَنْوِ الصَّلَاةَ عَلَيْهِ وَهُوَ الزَّائِدُ.

 

‌‌مَسْأَلَةٌ

لَيْسَ لَنَا وَأَنْ يَنْوِيَ خِلَافَ مَا يُؤَدِّي إلَّا عَلَى قَوْلِ مُحَمَّدٍ رحمه الله فِي الْجُمُعَةِ، فَإِنَّهُ إذَا أَدْرَكَ الْإِمَامَ فِي التَّشَهُّدِ أَوْ فِي سُجُودِ السَّهْوِ نَوَاهَا جُمُعَةً وَيُصَلِّيهَا ظُهْرًا، عِنْدَهُ.

وَالْمَذْهَبُ أَنَّهُ يُصَلِّيهَا جُمُعَةً فَلَا اسْتِثْنَاءَوَأَمَّا إذَا لَمْ يَكُنْ الْمَنْوِيُّ مِنْ الْعِبَادَاتِ الْمَقْصُودَةِ وَإِنَّمَا هُوَ مِنْ الْوَسَائِلِ كَالْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ وَالتَّيَمُّمِ؛ قَالُوا فِي الْوُضُوءِ لَا يَنْوِيهِ لِأَنَّهُ لَيْسَ بِعِبَادَةٍ.

وَاعْتَرَضَ الشَّارِحُ الزَّيْلَعِيُّ عَلَى الْكَنْزِ فِي قَوْلِهِ وَنِيَّةَ بِنَاءً عَلَى عَوْدِ الضَّمِيرِ إلَى الْوُضُوءِ وَكَذَا اعْتَرَضُوا عَلَى الْقُدُورِيِّ فِي قَوْلِهِ يَنْوِي الطَّهَارَةَ.

وَالْمَذْهَبُ أَنْ يَنْوِيَ مَا لَا يَصِحُّ إلَّا بِالطَّهَارَةِ مِنْ الْعِبَادَاتِ، أَوْ رَفْعُ الْحَدَثِ.

وَعِنْدَ الْبَعْضِ نِيَّةُ الطَّهَارَةِ تَكْفِي وَأَمَّا فِي التَّيَمُّمِ فَقَالُوا إنَّهُ يَنْوِي عِبَادَةً مَقْصُودَةً لَا تَصِحُّ إلَّا بِالطَّهَارَةِ مِثْلَ سَجْدَةِ التِّلَاوَةِ وَصَلَاةِ الظُّهْرِ قَالُوا لَوْ تَيَمَّمَ لِدُخُولِ الْمَسْجِدِ أَوْ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ لَا تُؤَدَّى بِهِ الصَّلَاةُ لِأَنَّهَا لَيْسَتْ بِعِبَادَةٍ مَقْصُودَةٍ وَإِنَّمَا هِيَ اتِّبَاعٌ لِغَيْرِهَا وَفِي التَّيَمُّمِ لِقِرَاءَةِ الْقُرْآنِ رِوَايَتَانِ

فَعِنْدَ الْعَامَّةِ لَا يَجُوزُ كَمَا فِي الْخَانِيَّةِ.

وَهُوَ مَحْمُولٌ عَلَى مَا إذَا كَانَ مُحْدِثًا.

وَأَمَّا إذَا كَانَ جُنُبًا فَتَيَمَّمَ لَهَا جَازَ لَهُ أَنْ يُصَلِّيَ بِهِ كَمَا فِي الْبَدَائِعِ وَقَدْ أَوْضَحْنَاهُ فِي شَرْحِ الْكَنْزِ

 

‌‌الرَّابِعُ، فِي صِفَةِ الْمَنْوِيِّ مِنْ الْفَرِيضَةِ وَالنَّافِلَةِ وَالْأَدَاءِ وَالْقَضَاءِ

أَمَّا الصَّلَاةُ فَقَالَ فِي الْعِنَايَةِ أَنَّهُ يَنْوِي الْفَرِيضَةَ فِي الْفَرْضِ فَقَالَ مَعْزِيًّا إلَى الْمُجْتَبَى لَا بُدَّ مِنْ نِيَّةِ الصَّلَاة وَنِيَّةِ الْفَرْضِ وَنِيَّةِ التَّعْيِينِ.

حَتَّى لَوْ نَوَى الْفَرْضَ يُجْزِيهِ

وَالْوَاجِبَاتُ كَالْفَرَائِضِ كَمَا فِي التَّتَارْخَانِيَّة وَأَمَّا النَّافِلَةُ وَالسُّنَّةُ الرَّاتِبَةُ.

فَقَدَّمْنَا أَنَّهَا تَصِحُّ بِمُطْلَقِ النِّيَّةِ، وَبِنِيَّةٍ مُبَايِنَة وَتَفَرَّعَ عَلَى اشْتِرَاطِ نِيَّةِ الْفَرِيضَةِ أَنَّهُ لَوْ لَمْ يَعْرِفْ افْتِرَاضَ الْخَمْسِ إلَّا أَنَّهُ يُصَلِّيهَا فِي أَوْقَاتِهَا لَا تَجُوزُ وَكَذَا لَوْ اعْتَقَدَ أَنَّ مِنْهَا فَرْضًا وَنَفْلًا وَلَا يُمَيِّزُ وَلَمْ يَنْوِ الْفَرْضَ فِيهَا فَإِنْ نَوَى الْفَرْضَ فِي الْكُلِّ جَازَ

وَلَوْ ظَنَّ الْكُلَّ فَرْضًا جَازَ وَإِنْ لَمْ يَظُنَّ ذَلِكَ فَكُلُّ صَلَاةٍ صَلَّاهَا مَعَ الْإِمَامِ جَازَ إنْ نَوَى صَلَاةَ الْإِمَامِ كَذَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ

وَفِي الْقُنْيَةِ‌‌ الْمُصَلُّونَ سِتَّةٌ
যা কেবল তখনই ক্ষতি করে যখন এটি স্পষ্ট হয় যে তারা সংখ্যায় অধিক, কারণ তাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছে যে তার উপর সালাত আদায়ের নিয়ত করেনি, আর সেই ব্যক্তিই অতিরিক্ত।

 

‌‌একটি মাসআলা

আমাদের নিকট এমন কোনো সুযোগ নেই যে আদায়কৃত বিষয়ের বিপরীত নিয়ত করা হবে, কেবল জুমুআর ক্ষেত্রে ইমাম মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন)-এর মত ভিন্ন। কেননা তাঁর মতে, যদি কেউ ইমামকে তাশাহহুদে অথবা সিজদায়ে সাহুর সময় পায়, তবে সে জুমুআর নিয়ত করবে কিন্তু সেটি জোহর হিসেবে আদায় করবে।

আর মাযহাব হলো, সে তা জুমুআ হিসেবেই আদায় করবে, সুতরাং এক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম নেই। তবে নিয়তকৃত বিষয়টি যদি উদ্দেশ্যমূলক ইবাদতসমূহের অন্তর্ভুক্ত না হয়ে বরং মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত হয়, যেমন অজু, গোসল ও তায়াম্মুম; এমতাবস্থায় অজুর ক্ষেত্রে আলেমগণ বলেছেন যে, এর জন্য নিয়ত করার প্রয়োজন নেই, কারণ এটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ইবাদত নয়।

আর ব্যাখ্যাকারক যাইলায়ী 'কানয' গ্রন্থের 'এবং নিয়ত' উক্তিটির উপর আপত্তি করেছেন এই ভিত্তিতে যে, এর সর্বনামটি অজুর দিকে ফিরেছে। অনুরূপভাবে আলেমগণ কুদুরী-র 'পবিত্রতার নিয়ত করবে' উক্তিটির উপরও আপত্তি করেছেন।

আর মাযহাব হলো, সেই সকল ইবাদতের নিয়ত করা যা পবিত্রতা ব্যতীত শুদ্ধ হয় না, অথবা অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করা।

কারো কারো মতে পবিত্রতার নিয়তই যথেষ্ট। আর তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে তারা বলেছেন যে, এমন কোনো উদ্দেশ্যমূলক ইবাদতের নিয়ত করতে হবে যা পবিত্রতা ব্যতীত সহিহ হয় না, যেমন তিলাওয়াতের সিজদাহ এবং জোহরের সালাত। তারা বলেছেন, যদি কেউ মসজিদে প্রবেশের জন্য অথবা আযান ও ইকামতের জন্য তায়াম্মুম করে, তবে তার দ্বারা সালাত আদায় হবে না, কারণ তা কোনো উদ্দেশ্যমূলক ইবাদত নয় বরং অন্য কিছুর অনুগামী মাত্র। আর কুরআন তিলাওয়াতের জন্য তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে দুটি বর্ণনা রয়েছে।

অধিকাংশ ফকিহর মতে তা জায়েয নেই, যেমনটি 'খানিয়্যাহ' গ্রন্থে রয়েছে।

আর এটি ওই অবস্থার উপর প্রযুক্ত হবে যখন সে ব্যক্তি অজুহীন থাকে।

পক্ষান্তরে সে যদি নাপাক হয় এবং তিলাওয়াতের জন্য তায়াম্মুম করে, তবে তার জন্য তা দিয়ে সালাত আদায় করা জায়েয হবে, যেমনটি 'বাদায়ি' গ্রন্থে রয়েছে এবং আমরা 'কানয'-এর ব্যাখ্যায় এটি স্পষ্ট করেছি।

 

‌চতুর্থ (পরিচ্ছেদ): ফরজ, নফল, আদায় ও কাজার ক্ষেত্রে নিয়তকৃত বিষয়ের বিবরণ প্রসঙ্গে

সালাতের ব্যাপারে 'ইনায়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, ফরজের ক্ষেত্রে ফরজের নিয়ত করবে। অতঃপর 'মুজতাবা' গ্রন্থের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে: সালাতের নিয়ত, ফরজের নিয়ত এবং নির্ধারিত করার নিয়ত থাকা আবশ্যক।

এমনকি যদি সে ফরজের নিয়ত করে, তবে তা যথেষ্ট হবে।

আর ওয়াজিবসমূহ ফরজের মতোই, যেমনটি 'তাতারখানিয়্যাহ' গ্রন্থে রয়েছে। আর নফল ও সুন্নতে রাতিবা-র ক্ষেত্রে—

আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, তা সাধারণ নিয়ত এবং ভিন্নতর নিয়তের মাধ্যমেও শুদ্ধ হয়। ফরজের নিয়ত শর্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে এই মাসআলাটি বের হয় যে, যদি কেউ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ হওয়ার কথা না জানে, কেবল নির্ধারিত সময়ে সেগুলো আদায় করে, তবে তা জায়েয হবে না। তদ্রূপ যদি সে বিশ্বাস করে যে এর মধ্যে কিছু ফরজ এবং কিছু নফল রয়েছে কিন্তু সেগুলোকে আলাদা করতে পারে না এবং ফরজের নিয়তও করে না, তবে তা হবে না; কিন্তু যদি সে সবগুলোতে ফরজের নিয়ত করে তবে তা জায়েয হবে।

আর যদি সে সবগুলোকে ফরজ মনে করে তবে তা জায়েয হবে। আর যদি তা মনে না করে, তবে ইমামের সাথে যে সালাতই সে আদায় করেছে তা জায়েয হবে যদি সে ইমামের সালাতের নিয়ত করে থাকে। 'ফাতহুল কাদির' গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে।

এবং 'কুনিয়াহ' গ্রন্থে রয়েছে: ‌‌সালাত আদায়কারীগণ ছয় প্রকার
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩১)
الْأَوَّلُ مَنْ عَلِمَ الْفُرُوضَ مِنْهَا وَالسُّنَنَ مِنْهَاوَعَلِمَ مَعْنَى الْفَرْضِ أَنَّهُ مَا يَسْتَحِقُّ الثَّوَابَ بِفِعْلِهِ وَالْعِقَابَ بِتَرْكِهِ. وَالسُّنَّةُ مَا يَسْتَحِقُّ الثَّوَابَ بِفِعْلِهَا وَلَا يُعَاقَبُ عَلَى تَرْكِهَا فَنَوَى الظُّهْرَ أَوْ الْفَجْرَ أَجْزَأَتْهُ وَأَغْنَتْ نِيَّةَ الظُّهْرِ عَنْ نِيَّةِ الْفَرْضِ

وَالثَّانِي مَنْ يَعْلَمُ ذَلِكَ وَيَنْوِي الْفَرْضَ فَرْضًا.

وَلَكِنْ لَا يَعْلَمُ مَا فِيهِ مِنْ الْفَرَائِضِ وَالسُّنَنِ تُجْزِيهِ

وَالثَّالِثُ يَنْوِي الْفَرْضَ وَيَعْلَمُ مَعْنَاهُ لَا تُجْزِيهِ

وَالرَّابِعُ عَلِمَ أَنَّ فِيمَا يُصَلِّيهِ النَّاسُ فَرَائِضَ وَنَوَافِلَ فَيُصَلِّي كَمَا يُصَلِّي النَّاسُ وَلَا يُمَيِّزُ الْفَرَائِضَ مِنْ النَّوَافِلِ لَا تُجْزِيهِ، لِأَنَّ تَعْيِينَ النِّيَّةِ فِي الْفَرْضِ شَرْطٌ وَقِيلَ يُجْزِيهِ مَا صَلَّى فِي الْجَمَاعَةِ وَنَوَى الصَّلَاةَ الْإِمَامُ.

وَالْخَامِسُ اعْتَقَدَ أَنَّ الْكُلَّ فَرْضٌ جَازَتْ صَلَاتُهُ

وَالسَّادِسُ لَا يَعْلَمُ أَنَّ لِلَّهِ تَعَالَى عَلَى عِبَادِهِ صَلَاةٌ مَفْرُوضَةٌ وَلَكِنَّهُ كَانَ يُصَلِّيهَا لِأَوْقَاتِهَا لَمْ يُجْزِهِ وَأَمَّا فِي الصَّوْمِ فَقَدْ عَلِمَتْ أَنَّهُ يَصِحُّ بِنِيَّةٍ مُبَايِنَةٍ وَبِمُطْلَقِ النِّيَّةِ، فَلَا يُشْتَرَطُ لِصَوْمِ رَمَضَانَ أَدَاءُ نِيَّةِ الْفَرْضِيَّةِ حَتَّى قَالُوا لَوْ نَوَى لَيْلَةَ الشَّكِّ صَوْمَ آخِرَ شَعْبَانَ ثُمَّ ظَهَرَ بَعْدَ الصَّوْمِ أَنَّهُ أَوَّلُ رَمَضَانَ أَجْزَأَهُ وَأَمَّا الزَّكَاةُ فَتُشْتَرَطُ لَهَا نِيَّةُ الْفَرْضِيَّةِ لِأَنَّ الصَّدَقَةَ مُتَنَوِّعَةٌ وَلَمْ أَرَ حُكْمَ نِيَّةِ الزَّكَاةِ الْمُعَجَّلَةِ.

وَظَاهِرُ كَلَامِهِمْ أَنَّهُ لَا بُدَّ مِنْ نِيَّةِ الْفَرْضِ لِأَنَّهُ تَعْجِيلٌ بَعْدَ أَصْلِ الْوُجُوبِ لِأَنَّ سَبَبَهُ

هُوَ النِّصَابُ النَّامِي.

وَقَدْ وُجِدَ بِخِلَافِ الْحَوْلِ فَإِنَّهُ شَرْطٌ لِوُجُوبِ الْأَدَاءِ بِخِلَافِ تَعْجِيلِ الصَّلَاةِ عَلَى وَقْتِهَا فَإِنَّهُ غَيْرُ جَائِزٍ لِكَوْنِ وَقْتِهَا سَبَبًا لِلْوُجُوبِ وَشَرْطًا لِصِحَّةِ الْأَدَاءِوَأَمَّا الْحَجُّ فَقَدَّمْنَا أَنَّهُ يَصِحُّ بِمُطْلَقِ النِّيَّةِ وَلَكِنْ عَلَّلُوهُ

بِمَا يَقْتَضِي أَنَّهُ نَوَى فِي نَفْسِ الْأَمْرِ الْفَرِيضَةَ؛ قَالُوا لِأَنَّهُ لَا يَتَحَمَّلُ الْمَشَاقَّ الْكَثِيرَةَ إلَّا لِأَجْلِ الْفَرْضِ.

فَاسْتَنْبَطَ مِنْهُ الْمُحَقِّقُ ابْنُ الْهُمَامِ رحمه الله، أَنَّهُ لَوْ كَانَ الْوَاقِعُ أَنَّهُ لَمْ يَنْوِ الْفَرْضَ لَمْ يُجْزِهِ.

لِأَنَّ صَرْفَهُ إلَى الْفَرْضِ حَمْلًا لَهُ عَلَيْهِ عَمَلًا بِالظَّاهِرِ وَهُوَ حَسَنٌ جِدًّا.

فَلَا بُدَّ فِيهِ مِنْ نِيَّةِ الْفَرْضِ لِأَنَّهُ لَوْ نَوَى النَّفَلَ فِيهِ وَعَلَيْهِ حَجَّةُ الْإِسْلَامِ كَانَ نَفْلًا

وَلَا بُدَّ مِنْ نِيَّةِ الْفَرْضِ فِي الْكَفَّارَاتِ وَلِذَا قَالُوا أَنَّ صَوْمَ الْكَفَّارَاتِ وَقَضَاءَ رَمَضَانَ يَحْتَاجُ إلَى تَبْيِيتِ النِّيَّةِ مِنْ اللَّيْلِ لِأَنَّ الْوَقْتَ صَالِحٌ لِصَوْمِ النَّفْلِ؛ وَأَمَّا الْوُضُوءُ وَالْغُسْلُ فَلَا دَخْلَ لَهُمَا فِي هَذَا الْمَبْحَثِ.

لِعَدَمِ اشْتِرَاطِ النِّيَّةِ فِيهِمَا
প্রথম ব্যক্তি হলেন তিনি, যিনি এগুলোর মধ্য থেকে ফরজ এবং সুন্নতগুলো জানেন এবং ফরজের অর্থও জানেন যে, এটি এমন কাজ যা করলে সওয়াব পাওয়া যায় আর বর্জন করলে শাস্তির যোগ্য হতে হয়। আর সুন্নত হলো এমন কাজ যা করলে সওয়াব পাওয়া যায় কিন্তু বর্জন করলে শাস্তির সম্মুখীন হতে হয় না। সুতরাং তিনি যদি জোহর বা ফজরের নিয়ত করেন তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে এবং জোহরের নিয়ত ফরজের নিয়তের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করবে।

দ্বিতীয় ব্যক্তি হলেন তিনি, যিনি এ সম্পর্কে জানেন এবং ফরজকে ফরজ হিসেবেই নিয়ত করেন।

কিন্তু এর মধ্যে কোনটি ফরজ আর কোনটি সুন্নত তা জানেন না; এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে।

তৃতীয় ব্যক্তি ফরজের নিয়ত করেন এবং এর অর্থ জানেন; এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে না।

চতুর্থ ব্যক্তি জানেন যে মানুষ যা পড়ছে তার মধ্যে ফরজ ও নফল রয়েছে, তাই তিনি মানুষের মতো নামাজ পড়েন কিন্তু ফরজ ও নফলের মধ্যে পার্থক্য করেন না; এটি তার জন্য যথেষ্ট হবে না। কারণ ফরজের ক্ষেত্রে নিয়ত নির্দিষ্ট করা শর্ত। তবে বলা হয়েছে যে, তিনি যদি জামাতে নামাজ পড়েন এবং ইমাম নামাজ পড়ার নিয়ত করেন তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

পঞ্চম ব্যক্তি বিশ্বাস করেন যে পুরো নামাজই ফরজ; তার নামাজ বৈধ হবে।

ষষ্ঠ ব্যক্তি জানেন না যে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দাদের ওপর নামাজ ফরজ করা হয়েছে, তবে তিনি সময়মতো নামাজ পড়েন; তার জন্য তা যথেষ্ট হবে না। তবে রোজার ক্ষেত্রে আপনি জেনেছেন যে তা ভিন্ন নিয়তে বা সাধারণ নিয়তেও সহীহ হয়। তাই রমজানের রোজার জন্য ফরজ হওয়ার নিয়ত করা শর্ত নয়। এমনকি ফকিহগণ বলেছেন, যদি কেউ সন্দেহের রাতে শাবানের শেষ দিনের রোজা রাখার নিয়ত করে এবং পরে রোজা শেষে প্রকাশ পায় যে তা রমজানের প্রথম দিন ছিল, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু জাকাতের ক্ষেত্রে ফরজ হওয়ার নিয়ত শর্ত, কারণ সদকা বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। আর আমি অগ্রিম প্রদানকৃত জাকাতের নিয়তের হুকুম কোথাও দেখিনি।

ফকিহগণের কথার বাহ্যিক অর্থ হলো, ফরজের নিয়ত করা আবশ্যক; কারণ এটি ওয়াজিব হওয়ার মূল কারণ বিদ্যমান থাকার পর সময়ের আগে প্রদান করা।

আর সেই কারণটি হলো বর্ধনশীল নেসাব।

আর তা পাওয়া গেছে, যা বছর পূর্ণ হওয়ার বিপরীত; কেননা বছর পূর্ণ হওয়া তো আদায় ওয়াজিব হওয়ার শর্ত। এটি ওয়াক্ত হওয়ার আগে নামাজ পড়ার মতো নয়; কারণ তা জায়েজ নয়, যেহেতু ওয়াক্ত হলো ওয়াজিব হওয়ার কারণ এবং আদায় সহীহ হওয়ার শর্ত। আর হজের ক্ষেত্রে আমরা আগেই বলেছি যে এটি সাধারণ নিয়তেই সহীহ হয়ে যায়, কিন্তু তাঁরা এর কারণ দর্শিয়েছেন

এমন কিছু দিয়ে যা দাবি করে যে তিনি আসলে মনে মনে ফরজেরই নিয়ত করেছেন; তাঁরা বলেছেন, কারণ মানুষ এত কষ্ট সহ্য করে না একমাত্র ফরজ আদায়ের উদ্দেশ্য ছাড়া।

এর থেকে গবেষক ইবনুল হুমাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যে, যদি বাস্তবতা এমন হয় যে তিনি ফরজের নিয়ত করেননি, তবে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে না।

কারণ একে ফরজের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বাহ্যিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে, আর এটি অত্যন্ত চমৎকার।

সুতরাং এতে ফরজের নিয়ত থাকা আবশ্যক; কারণ যদি তিনি এতে নফলের নিয়ত করেন অথচ তার ওপর হজ্জুল ইসলাম (ফরজ হজ) বাকি থাকে, তবে তা নফল হিসেবেই গণ্য হবে।

কাফফারা সমূহের ক্ষেত্রেও ফরজের নিয়ত আবশ্যক। এই কারণেই ফকিহগণ বলেছেন যে, কাফফারার রোজা এবং রমজানের কাজা রোজার জন্য রাত থেকেই নিয়ত করা প্রয়োজন, কারণ সেই সময়টি নফল রোজার জন্যও উপযুক্ত। আর অজু ও গোসলের ক্ষেত্রে এই আলোচনার কোনো অবকাশ নেই

যেহেতু এ দুটির ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত নয়।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩২)
وَأَمَّا التَّيَمُّمُ فَلَا تُشْتَرَطُ لَهُ نِيَّةُ الْفَرْضِيَّةِ لِأَنَّهُ مِنْ الْوَسَائِلِ.

وَقَدَّمْنَا أَنَّ نِيَّةَ رَفْعِ الْحَدَثِ كَافِيَةٌ وَعَلَى هَذَا الشُّرُوطِ كُلِّهَا لَا تُشْتَرَطُ لَهَا نِيَّةُ الْفَرْضِيَّةِ لِقَوْلِهِمْ إنَّمَا يُرَاعَى حُصُولُهَا لَا تَحْصِيلِهَا.

وَكَذَا الْخُطْبَةُ لَا تُشْتَرَطُ لَهَا نِيَّةُ الْفَرْضِيَّةِ وَإِنْ شَرَطْنَا لَهَا النِّيَّةَ لِأَنَّهُ لَا يَتَنَفَّلُ بِهَا وَيَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ صَلَاةُ الْجِنَازَةِ كَذَلِكَ لِأَنَّهَا لَا تَكُونُ إلَّا فَرْضًا كَمَا صَرَّحُوا بِهِ وَلِذَا لَا تُعَادُ نَفْلًاوَلَمْ أَرَ حُكْمَ صَلَاةِ الصَّبِيِّ فِي نِيَّةِ الْفَرْضِيَّةِ وَيَنْبَغِي أَنْ لَا تُشْتَرَطَ لِكَوْنِهَا غَيْرَ فَرْضٍ فِي حَقِّهِ لَكِنْ يَنْبَغِي أَنْ يَنْوِيَ صَلَاةَ كَذَا الَّتِي فَرَضَهَا اللَّهُ تَعَالَى عَلَى الْمُكَلَّفِ فِي هَذَا الْوَقْتِ.

وَلَمْ أَرَ أَيْضًا حُكْمَ نِيَّةِ فَرْضِ الْعَيْنِ فِي فَرْضِ الْعَيْنِ وَفَرْضِ الْكِفَايَةِ فِيهِ وَالظَّاهِرُ عَدَمُ الِاشْتِرَاطِ

وَأَمَّا الصَّلَاةُ الْمُعَادَةُ لِارْتِكَابِ مَكْرُوهٍ أَوْ تَرْكِ وَاجِبٍ، فَلَا شَكَّ إنَّهَا جَائِزَةٌ لَا فَرْضَ.

لِقَوْلِهِمْ بِسُقُوطِ الْفَرْضِ بِالْأُولَى، فَعَلَى هَذَا يَنْوِي كَوْنَهَا جَائِزَةً لِنَقْضِ الْفَرْضِ عَلَى أَنَّهَا نَفْلٌ تَحْقِيقًا وَأَمَّا عَلَى الْقَوْلِ بِأَنَّ الْفَرْضَ لَا يَسْقُطُ بِهَا فَلَا خَفَاءَ فِي اشْتِرَاطِ نِيَّةِ الْفَرْضِيَّةِ.

وَأَمَّا نِيَّةُ الْأَدَاءِ وَالْقَضَاءِ فَفِي التَّتَارْخَانِيَّة إذَا عَيَّنَ الصَّلَاةَ الَّتِي يُؤَدِّيَهَا صَحَّ.

نَوَى الْأَدَاءَ أَوْ الْقَضَاءَ وَقَالَ فَخْرُ الْإِسْلَامِ وَغَيْرُهُ فِي الْأُصُولِ فِي بَحْثِ الْأَدَاءِ وَالْقَضَاءِ: أَنَّ أَحَدَهُمَا يُسْتَعْمَلُ مَكَانَ الْآخَرِ حَتَّى يَجُوزُ الْأَدَاءُ بِنِيَّةِ الْقَضَاءِ وَبِالْعَكْسِ؛ وَبَيَانُهُ أَنَّ مَا لَا يُوصَفُ بِهِمَا لَا تُشْتَرَطُ لَهُ كَالْعِبَادَةِ الْمُطْلَقَةِ عَنْ الْوَقْتِ كَالزَّكَاةِ وَصَدَقَةِ الْفِطْرِ وَالْعُشْرِ وَالْخَرَاجِ وَالْكَفَّارَاتِ

وَكَذَا مَا لَا يُوصَفُ بِالْقَضَاءِ كَصَلَاةِ الْجُمُعَةِ فَلَا الْتِبَاسَ لِأَنَّهَا إذَا فَاتَتْ مَعَ الْإِمَامِ يُصَلِّي الظُّهْرَ، وَأَمَّا مَا يُوصَفُ بِهِمَا كَصَلَاةِ الْخَمْسِ فَقَالُوا لَا تُشْتَرَطُ أَيْضًا.

قَالَ فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ لَوْ نَوَى الْأَدَاءَ.

عَلَى ظَنِّ بَقَاءِ الْوَقْتِ فَتَبَيَّنَ خُرُوجَهُ أَجْزَأَهُ وَكَذَا عَكْسُهُ.

وَفِي الْبِنَايَةِ لَوْ نَوَى فَرْضَ الْوَقْتِ بَعْدَ مَا خَرَجَ الْوَقْتُ لَا يَجُوزُ وَإِنْ شَكَّ فِي خُرُوجِهِ فَنَوَى فَرْضَ الْوَقْتِ جَازَ وَفِي الْجُمُعَةِ يَنْوِيَهَا وَلَا يَنْوِيَ فَرْضَ الْوَقْتِ لِلِاخْتِلَافِ فِيهِ وَفِي التَّتَارْخَانِيَّة

كُلُّ وَقْتٍ شَكَّ فِي خُرُوجِهِ فَنَوَى ظُهْرَ الْوَقْتِ مَثَلًا، فَإِذَا هُوَ قَدْ خَرَجَ.

الْمُخْتَارُ الْجَوَازُ وَاخْتَلَفُوا أَنَّ الْوَقْتِيَّةَ هَلْ تَجُوزُ بِنِيَّةِ الْقَضَاءِ؟ وَالْمُخْتَارُ الْجَوَازُ إذَا كَانَ فِي قَلْبِهِ فَرْضُ الْوَقْتِ وَكَذَا الْقَضَاءُ بِنِيَّةِ الْأَدَاءِ هُوَ الْمُخْتَارُ.

وَذَكَرَ فِي كَشْفِ الْأَسْرَارِ وَشَرْحِ أُصُولِ فَجْرِ الْإِسْلَامِ أَنَّ الْأَدَاءَ يَصِحُّ بِنِيَّةِ الْقَضَاءِ حَقِيقَةً.

كَنِيَّةِ مَنْ نَوَى أَدَاءَ ظُهْرِ الْيَوْمِ بَعْدَ خُرُوجِ الْوَقْتِ عَلَى ظَنٍّ أَنَّ الْوَقْتَ بَاقٍ

وَكَنِيَّةِ الْأَسِيرِ الَّذِي اشْتَبَهَ عَلَيْهِ شَهْرُ رَمَضَانَ فَتَحَرَّى شَهْرًا وَصَامَهُ بِنِيَّةِ الْأَدَاءِ فَوَقَعَ صَوْمُهُ بِشَهْرِ رَمَضَانَ.

وَعَكْسُهُ كَنِيَّةِ مَنْ نَوَى قَضَاءَ الظُّهْرِ عَلَى ظَنٍّ أَنَّ الْوَقْتَ قَدْ خَرَجَ وَلَمْ
তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে ফরজ হওয়ার নিয়ত করা শর্ত নয়, কারণ এটি ইবাদতের মাধ্যমসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, হাদাছ (অপবিত্রতা) দূর করার নিয়ত করাই যথেষ্ট। আর এসব শর্তের ক্ষেত্রেও ফরজ হওয়ার নিয়ত করা শর্ত নয়; কেননা ফকীহগণ বলেছেন, এসব ক্ষেত্রে শর্ত অর্জিত হওয়াই ধর্তব্য, তা (নিয়তের মাধ্যমে) অর্জন করা নয়।

তদ্রূপ খুতবার ক্ষেত্রেও ফরজ হওয়ার নিয়ত শর্ত নয়, যদিও আমরা খুতবার জন্য নিয়ত করাকে শর্ত বলে থাকি। কারণ খুতবা নফল হিসেবে আদায় হয় না। জানাজার নামাজের ক্ষেত্রেও অনুরূপ হওয়া উচিত; কারণ তা কেবল ফরজই হয়ে থাকে, যেমনটি ফকীহগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। একারণেই তা নফল হিসেবে পুনরায় পড়া হয় না। আর আমি শিশুর নামাজের ক্ষেত্রে ফরজ হওয়ার নিয়তের হুকুম (কিতাবে) দেখিনি; তবে তার ক্ষেত্রে তা শর্ত না হওয়াই উচিত, কারণ এটি তার ক্ষেত্রে ফরজ নয়। কিন্তু তার এমন নামাজের নিয়ত করা উচিত যা আল্লাহ তাআলা এই সময়ে মুকাল্লাফ বা প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর ফরজ করেছেন।

আমি ফরজ আল-আইন নামাজের মধ্যে ফরজ আল-আইন হওয়ার নিয়ত এবং ফরজ আল-কিফায়া নামাজের মধ্যে ফরজ আল-কিফায়া হওয়ার নিয়তের হুকুমও দেখিনি; তবে বাহ্যত এটি শর্ত নয়।

আর কোনো মাকরূহ কাজ করা বা ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার কারণে যে নামাজ পুনরায় পড়া হয়, তা নিঃসন্দেহে নফল হিসেবে গণ্য, ফরজ নয়।

কেননা ফকীহগণ বলেন, প্রথম নামাজের মাধ্যমেই ফরজ দায়িত্ব নিপতিত বা আদায় হয়ে গেছে। সুতরাং এমতাবস্থায় সে ফরজের ত্রুটি সংশোধনের উদ্দেশ্যে এটি নফল হওয়ার নিয়ত করবে, যাতে এটি প্রকৃতপক্ষে নফল হিসেবে গণ্য হয়। তবে যাদের মতে এই নামাজের দ্বারা ফরজ দায়িত্ব নিপতিত হয় না, তাদের নিকট ফরজ হওয়ার নিয়ত শর্ত হওয়ার বিষয়টি সুস্পষ্ট।

আদায় ও কাজার নিয়তের ক্ষেত্রে তাতারখানিয়ায় উল্লেখ আছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি যে নামাজ আদায় করছে তা নির্দিষ্ট করে নেয়, তবে তা সহিহ হবে।

সে আদায়ের নিয়ত করুক বা কাজার। ফখরুল ইসলাম ও অন্যান্য উসুলবিদগণ উসুলের কিতাবে আদায় ও কাজা অধ্যায়ে বলেছেন যে, এই দুইটির একটি অপরটির স্থলে ব্যবহৃত হয়। এমনকি কাজার নিয়তে আদায় এবং আদায়ের নিয়তে কাজা করাও জায়েজ। এর ব্যাখ্যা হলো: যেসব ইবাদতকে এই দুই গুণে (আদায় ও কাজা) গুণান্বিত করা যায় না, সেগুলোর জন্য তা শর্ত নয়; যেমন সময়ের সাথে নির্দিষ্ট নয় এমন ইবাদতসমূহ—যথা জাকাত, সদকায়ে ফিতর, উশর, খারাজ ও কাফফারাসমূহ।

তদ্রূপ যা কাজা হিসেবে অভিহিত হয় না, যেমন জুমার নামাজ। এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই; কারণ ইমামের সাথে তা ছুটে গেলে জোহর আদায় করতে হয়। আর যেসব নামাজ এই দুই গুণের (আদায় ও কাজা) অধিকারী, যেমন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, সেগুলোর ক্ষেত্রেও তারা বলেছেন যে, আদায়ের নিয়ত শর্ত নয়।

ফাতহুল কদীরে বলা হয়েছে, যদি কেউ আদায়ের নিয়ত করে।

সময় বাকি আছে এই ধারণায়, কিন্তু পরে প্রকাশ পেল যে সময় পার হয়ে গেছে, তবে তা যথেষ্ট হবে। তদ্রূপ এর বিপরীত হলেও একই হুকুম।

আল-বিনায়াহ গ্রন্থে আছে যে, সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর যদি কেউ ওয়াক্তের ফরজের নিয়ত করে তবে তা জায়েজ হবে না। কিন্তু যদি সময় শেষ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ থাকে এবং ওয়াক্তের ফরজের নিয়ত করে তবে তা জায়েজ হবে। জুমার ক্ষেত্রে জুমারই নিয়ত করবে, ওয়াক্তের ফরজের নিয়ত করবে না, কারণ এ বিষয়ে মতভেদ আছে। আর তাতারখানিয়ায় উল্লেখ আছে,

যখনই কোনো ওয়াক্ত শেষ হওয়ার ব্যাপারে সন্দেহ হয় এবং কেউ উদাহরণস্বরূপ সেই ওয়াক্তের জোহরের নিয়ত করে, অথচ দেখা গেল যে ওয়াক্ত শেষ হয়ে গেছে।

এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মত হলো তা জায়েজ হওয়া। আর আলেমগণ মতভেদ করেছেন যে, কাজার নিয়তে ওয়াক্তিয়া (চলতি ওয়াক্তের নামাজ) জায়েজ হবে কি না? পছন্দনীয় মত হলো তা জায়েজ হবে, যদি তার অন্তরে ওয়াক্তের ফরজের সংকল্প থাকে। তদ্রূপ আদায়ের নিয়তে কাজা করাও গ্রহণযোগ্য মত অনুযায়ী জায়েজ।

কাশফুল আসরার এবং ফখরুল ইসলামের উসুলের ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কাজার নিয়তে আদায় প্রকৃতপক্ষে সহিহ হয়।

যেমন সেই ব্যক্তির নিয়ত, যে সময় শেষ হওয়ার পর সময় বাকি আছে মনে করে আজকের জোহরের আদায়ের নিয়ত করেছে।

তদ্রূপ সেই বন্দীর নিয়ত যার কাছে রমজান মাস অস্পষ্ট হয়ে গেছে, অতঃপর সে প্রবল ধারণার ভিত্তিতে একটি মাস নির্ধারণ করে আদায়ের নিয়তে রোজা রেখেছে এবং তার রোজা রমজান মাসেই সংঘটিত হয়েছে।

এবং এর বিপরীত হলো সেই ব্যক্তির নিয়ত, যে সময় শেষ হয়ে গেছে মনে করে জোহরের কাজার নিয়ত করেছে, অথচ সময় তখনও শেষ হয়নি।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩৩)
يَخْرُجْ بَعْدُ.

وَكَنِيَّةِ الْأَسِيرِ الَّذِي صَامَ رَمَضَانَ بِنِيَّةِ الْقَضَاءِ عَلَى ظَنٍّ أَنَّهُ قَدْ مَضَى.

وَالصِّحَّةُ فِيهِ بِاعْتِبَارَاتِهِ الَّتِي بِأَصْلِ النِّيَّةِ، وَلَكِنَّهُ أَخْطَأَ فِي الظَّنِّ وَالْخَطَأُ فِي مِثْلِهِ مَعْفُوٌّ (انْتَهَى) .

وَأَمَّا الْحَجُّ

فَيَنْبَغِي أَنْ لَا تُشْتَرَطَ فِيهِ نِيَّةُ التَّمْيِيزِ بَيْنَ الْأَدَاءِ وَالْقَضَاءِ

َ‌‌الْخَامِسُ فِي بَيَانِ الْإِخْلَاصِ:

صَرَّحَ الزَّيْلَعِيُّ بِأَنَّ الْمُصَلِّيَ يَحْتَاجُ إلَى نِيَّةِ الْإِخْلَاصِ فِيهَا وَلَمْ أَرَ مَنْ أَوْضَحَهُ.

لَكِنْ صَرَّحَ فِي الْخُلَاصَةِ بِأَنَّهُ

لَا رِيَاءَ فِي الْفَرَائِضِ؛ وَفِي الْبَزَّازِيَّةِ شَرَعَ فِي الصَّلَاةِ بِالْإِخْلَاصِ ثُمَّ خَالَطَهُ الرِّيَاءُ فَالْعِبْرَةُ لِلسَّابِقِ وَلَا رِيَاءَ فِي الْفَرَائِضِ فِي حَقِّ سُقُوطِ الْوَاجِبِ.

ثُمَّ قَالَ:

الصَّلَاةُ

لِإِرْضَاءِ الْخُصُومِ لَا تُفِيدُ بَلْ يُصَلِّي لِوَجْهِ اللَّهِ تَعَالَى فَإِنْ كَانَ خَصْمَهُ لَمْ يَعْفُ يُؤْخَذُ مِنْ حَسَنَاتِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

جَاءَ فِي بَعْضِ الْكُتُبِ أَنَّهُ

يُؤْخَذُ لِدَانَقٍ ثَوَابُ سَبْعِ مِائَةِ صَلَاةٍ بِالْجَمَاعَةِ فَلَا فَائِدَةَ فِي النِّيَّةِ وَإِنْ كَانَ عَفَا

فَلَا يُؤَاخَذُ بِهِ فَمَا الْفَائِدَةُ حِينَئِذٍ.

وَقَدْ أَفَادَ الْبَزَّازِيُّ بِقَوْلِهِ فِي حَقِّ سُقُوطِ الْوَاجِبِ أَنَّ الْفَرَائِضَ مَعَ الرِّيَاءِ صَحِيحَةٌ مُسْقِطَةٌ لِلْوَاجِبِ

وَلَكِنْ ذَكَرُوا فِي كِتَابِ الْأُضْحِيَّةِ بِأَنَّ الْبَدَنَةَ تَجْزِي عَنْ سَبْعَةٍ إنْ كَانَ الْكُلُّ مُرِيدًا الْقُرْبَةَ وَإِنْ اخْتَلَفَ جِهَاتُهَا مِنْ ضَحِيَّةٍ وَقِرَانٍ وَمُتْعَةٍ قَالُوا فَلَوْ كَانَ أَحَدُهُمْ مُرِيدًا لَحْمًا لِأَهْلِهِ أَوْ كَانَ نَصْرَانِيًّا لَمْ يُجْزِ عَنْ وَاحِدٍ مِنْهُمْ وَعَلَّلُوا بِأَنَّ الْبَعْضَ إذَا لَمْ يَقَعْ قُرْبَةً خَرَجَ الْكُلُّ عَنْ أَنْ يَكُونَ قُرْبَةً

لِأَنَّ الْإِرَاقَةَ لَا تَتَجَزَّأُ فَعَلَى هَذَا لَوْ ذَبَحَهَا أُضْحِيَّةً لِلَّهِ تَعَالَى وَلِغَيْرِهِ لَا تُجْزِيهِ بِالْأُولَى.

وَيَنْبَغِي أَنْ تُحَرَّمَ. وَصَرَّحَ فِي الْبَزَّازِيَّةِ مِنْ أَلْفَاظِ التَّكْفِيرِ أَنَّ الذَّبْحَ لِلْقَادِمِ مِنْ حَجٍّ أَوْ غَزْوٍ أَوْ أَمِيرٍ أَوْ غَيْرِهِ يَجْعَلُ الْمَذْبُوحَ مَيْتَةً.

وَاخْتَلَفُوا فِي كُفْرِ الذَّابِحِ فَالشَّيْخُ السفكردري وَعَبْدُ الْوَاحِدِ الدَّرَقِيُّ الْحَدِيدِيُّ وَالنَّسَفِيُّ وَالْحَاكِمُ عَلَى أَنَّهُ يُكَفَّرُ وَالْفَضْلِيُّ وَإِسْمَاعِيلُ الزَّاهِدُ عَلَى أَنَّهُ لَا يُكَفَّرُ

وَفِي التَّتَارْخَانِيَّة لَوْ افْتَتَحَ خَالِصًا لِلَّهِ تَعَالَى ثُمَّ دَخَلَ فِي قَلْبِهِ الرِّيَاءُ فَهُوَ عَلَى مَا افْتَتَحَ.

وَالرِّيَاءُ أَنَّهُ لَوْ خَلَّى عَنْ النَّاسِ لَا يُصَلِّي وَلَوْ كَانَ مَعَ النَّاسِ يُصَلِّي، فَأَمَّا لَوْ صَلَّى مَعَ النَّاسِ يُحْسِنُهَا وَلَوْ صَلَّى وَحْدَهُ لَا يُحْسِنُهَا فَلَهُ ثَوَابُ أَصْلِ الصَّلَاةِ دُونَ الْإِحْسَانِ

وَلَا يَدْخُلُ الرِّيَاءُ فِي الصَّوْمِ وَفِي الْيَنَابِيعِ قَالَ إبْرَاهِيمُ بْنُ يُوسُفَ رحمه الله لَوْ صَلَّى رِيَاءً فَلَا أَجْرَ لَهُ وَعَلَيْهِ الْوِزْرُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ يُكَفَّرُ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَا أَجْرَ لَهُ وَلَا وِزْرَ عَلَيْهِ.

وَهُوَ كَأَنَّهُ لَمْ يُصَلِّ.
(এখনো) বের হয়নি।

এবং সেই বন্দির নিয়তের মতো যে রমজানের রোজা কাজা করার নিয়তে রেখেছে এই ধারণায় যে রমজান অতিবাহিত হয়ে গেছে।

এতে নিয়তের মূল বিবেচনার ভিত্তিতে তা সহিহ হবে, তবে সে ধারণায় ভুল করেছে এবং এ জাতীয় ভুল ক্ষমার যোগ্য। (সমাপ্ত)

আর হজ প্রসঙ্গে কথা হলো

এতে আদায় এবং কাজার মধ্যে পার্থক্য করার নিয়ত শর্ত না হওয়াই সমীচীন।

পঞ্চম: ইখলাসের বর্ণনা প্রসঙ্গে:

জাইলায়ি স্পষ্ট করেছেন যে, নামাজে মুসল্লির ইখলাসের নিয়তের প্রয়োজন রয়েছে, তবে আমি কাউকে দেখিনি যিনি বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন।

তবে 'খুলাসা' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে

ফরজ ইবাদতসমূহে লোকদেখানো ভাব (রিয়া) নেই। আর 'বাজজাজিয়া' গ্রন্থে রয়েছে, কেউ যদি ইখলাসের সাথে নামাজ শুরু করে অতঃপর তাতে লোকদেখানো ভাবের সংমিশ্রণ ঘটে, তবে প্রাথমিক অবস্থারই বিবেচনা হবে এবং ওয়াজিব জিম্মা থেকে সাকিত হওয়ার ক্ষেত্রে ফরজ ইবাদতসমূহে লোকদেখানো ভাব ধর্তব্য নয়।

অতঃপর তিনি বলেন:

নামাজ

প্রতিপক্ষকে সন্তুষ্ট করার জন্য আদায় করলে কোনো উপকার দেবে না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই নামাজ পড়তে হবে। কারণ যদি তার প্রতিপক্ষ তাকে ক্ষমা না করে, তবে কিয়ামতের দিন তার নেকি থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।

কোনো কোনো কিতাবে এসেছে যে

এক দানাক (মুদ্রার একক) পরিমাণের বিনিময়ে সাতশত জামাতের নামাজের সওয়াব নিয়ে নেওয়া হবে। সুতরাং (প্রতিপক্ষকে সন্তুষ্ট করার) নিয়তে কোনো ফায়দা নেই। আর যদি সে ক্ষমা করে দেয়

তবে তার জন্য পাকড়াও করা হবে না; তাহলে তখন (প্রতিপক্ষকে খুশি করার) নিয়তের সার্থকতা কী?

বাজজাজি তার বক্তব্যে এই ফায়দা দিয়েছেন যে, ওয়াজিব সাকিত হওয়ার ক্ষেত্রে লোকদেখানো ভাব থাকা সত্ত্বেও ফরজ ইবাদত সহিহ হবে এবং জিম্মা থেকে ওয়াজিব দূর হবে।

কিন্তু ফকিহগণ 'কিতাবুল উযহিয়্যা' (কোরবানি অধ্যায়)-এ উল্লেখ করেছেন যে, একটি উট সাতজনের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে যদি তারা সকলেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চায়, যদিও তাদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন হয়—যেমন কুরবানি, হজ্জে কিরান বা হজ্জে তামাত্তু। তারা বলেন, যদি তাদের মধ্যে কেউ পরিবারের জন্য গোশত পাওয়ার ইচ্ছা করে অথবা কেউ খ্রিস্টান হয়, তবে তাদের কারও পক্ষ থেকেই তা আদায় হবে না। তারা এর কারণ হিসেবে বলেছেন যে, পশুর কোনো অংশ যখন ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় না, তখন পুরো পশুটিই ইবাদত হওয়া থেকে বেরিয়ে যায়।

কারণ রক্ত প্রবাহিত করা বিভাজিত হয় না। অতএব, এর ভিত্তিতে যদি কেউ একই পশু আল্লাহ তাআলার জন্য এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য কুরবানি হিসেবে জবেহ করে, তবে তা তো আরও জোরালোভাবে যথেষ্ট হবে না।

এবং এটি হারাম হওয়া আবশ্যক। বাজজাজিয়া গ্রন্থে কুফরি বাক্যসমূহের বর্ণনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হজ বা যুদ্ধ থেকে আগত ব্যক্তির সম্মানে কিংবা কোনো আমির বা অন্য কারও জন্য জবেহ করা হলে জবেহকৃত পশুটি মৃত (হারাম) হয়ে যায়।

জবেহকারীর কাফের হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণ দ্বিমত করেছেন। শায়খ আস-সাফকারদরি, আব্দুল ওয়াহিদ আদ-দারাতি আল-হাদিদি, আন-নাসাফি এবং আল-হাকিম মনে করেন যে সে কাফের হয়ে যাবে। আর ফাদলি ও ইসমাইল আজ-জাহিদ মনে করেন যে সে কাফের হবে না।

তাতারখানিয়া গ্রন্থে আছে, যদি কেউ নিছক আল্লাহর জন্য (ইবাদত) শুরু করে এবং পরবর্তীতে তার অন্তরে লোকদেখানো ভাব প্রবেশ করে, তবে তা শুরুর অবস্থার ওপরই গণ্য হবে।

আর রিয়া (লোকদেখানো ভাব) হলো এমন যে, যদি মানুষ না থাকে তবে সে নামাজ পড়বে না, আর যদি মানুষের সাথে থাকে তবে নামাজ পড়বে। কিন্তু যদি সে মানুষের সাথে নামাজ পড়লে তা সুন্দরভাবে আদায় করে আর একা পড়লে সুন্দরভাবে না পড়ে, তবে সে মূল নামাজের সওয়াব পাবে, কিন্তু সুন্দরভাবে আদায়ের (অতিরিক্ত) সওয়াব পাবে না।

রোজায় লোকদেখানো ভাব প্রবেশ করে না। 'আল-ইয়ানাবি' গ্রন্থে ইবরাহিম ইবনে ইউসুফ (রহ.) বলেছেন, কেউ যদি লোকদেখানোর জন্য নামাজ পড়ে তবে তার কোনো সওয়াব নেই বরং তার গুনাহ হবে। কেউ কেউ বলেছেন তাকে কাফের বলা হবে, আবার কেউ কেউ বলেছেন তার কোনো সওয়াবও নেই, গুনাহও নেই।

আর তার অবস্থা এমন হবে যেন সে নামাজই পড়েনি।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وَفِي الْوَلْوَالِجيَّةِ وَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُصَلِّيَ أَوْ يَقْرَأَ الْقُرْآنَ فَيَخَافُ أَنْ يَدْخُلَ عَلَيْهِ الرِّيَاءُ.

فَلَا يَنْبَغِي أَنْ يَتْرُكَ لِأَنَّهُ أَمْرٌ مَوْهُومٌ وَصَرَّحُوا فِي كِتَابِ السِّيَرِ بِأَنَّ السُّوقِيَّ لَا سَهْمَ لَهُ لِأَنَّهُ عِنْدَ الْمُجَاوَزَةِ لَمْ يَقْصِدْ إلَّا التِّجَارَةَ لَا إعْزَازَ الدِّينِ وَإِرْهَابَ الْعَدُوِّ.

فَإِنْ قَاتَلَ اسْتَحَقَّهُ لِأَنَّهُ ظَهَرَ بِالْمُقَاتَلَةِ أَنَّ قَصْدَهُ الْقِتَالُ، وَالتِّجَارَةُ تَبَعٌ فَلَا تَضُرُّهُ كَالْحَاجِّ إذَا أَتْجَرَ فِي طَرِيقِ الْحَجِّ

لَا يَنْقُصُ أَجْرُهُ.

ذَكَرَهُ الزَّيْلَعِيُّ.

وَظَاهِرُهُ أَنَّ الْحَاجَّ إذَا خَرَجَ تَاجِرًا فَلَا أَجْرَ لَهُ وَصَرَّحُوا بِأَنَّهُ لَوْ طَافَ غَرِيمُهُ لَا يُجْزِيهِ وَلَوْ وَقَفَ بِعَرَفَةَ طَالِبًا غَرِيمَهُ أَجْزَأَهُ.

وَالْفَرْقُ ظَاهِرٌ وَقَالُوا لَوْ فَتَحَ الْمُصَلِّي عَلَى غَيْرِ إمَامِهِ بَطَلَتْ صَلَاتُهُ.

لِقَصْدِ التَّعْلِيمِ.

وَرَأَيْت فَرْعًا فِي بَعْضِ كُتُبِ الشَّافِعِيَّةِ حَكَاهُ النَّوَوِيُّ فِيمَنْ قَالَ لَهُ إنْسَانٌ صَلِّ الظُّهْرَ وَلَك دِينَارٌ فَصَلَّى بِهَذِهِ النِّيَّةِ أَنَّهُ تُجْزِيهِ صَلَاتَهُ.

وَلَا يَسْتَحِقُّ الدِّينَارَ.

وَلَمْ أَرَ مِثْلَهُ لِأَصْحَابِنَا رحمهم الله وَيَنْبَغِي عَلَى قَوَاعِدِنَا أَنْ يَكُونَ كَذَلِكَ

أَمَّا الْإِجْزَاءُ فَلَمَّا قَدَّمْنَا أَنَّ الرِّيَاءَ لَا يَدْخُلُ الْفَرَائِضَ فِي حَقِّ سُقُوطِ الْوَاجِبِ أَمَّا عَدَمُ اسْتِحْقَاقِ الدِّينَارِ فَلِأَنَّ أَدَاءَ الْفَرْضِ لَا يَدْخُلُ تَحْتَ عَقْدِ الْإِجَارَةِ أَلَا تَرَى إلَى قَوْلِهِمْ لَوْ اسْتَأْجَرَ الْأَبُ ابْنَهُ لِلْخِدْمَةِ لَا أَجْرَ لَهُ.

ذَكَرَهُ فِي الْبَزَّازِيَّةِ لِأَنَّ الْخِدْمَةَ عَلَيْهِ وَاجِبَةً بَلْ أَفْتَى الْمُتَقَدِّمُونَ بِأَنَّ الْعِبَادَاتِ لَا تَصِحُّ الْإِجَارَةُ عَلَيْهَا كَالْإِمَامَةِ وَالْأَذَانِ وَتَعْلِيمِ الْقُرْآنِ وَالْفِقْهِ وَلَكِنَّ الْمُعْتَمَدَ مَا أَفْتَى بِهِ الْمُتَأَخِّرُونَ مِنْ الْجَوَازِ

وَقَدَّمْنَا أَنَّهُ إذَا نَوَى الْإِعْتَاقَ لِرَجُلٍ كَانَ مُبَاحًا

وَلَمْ أَرَ حُكْمَ مَا إذَا نَوَى الصَّوْمَ وَالْحِمْيَةَ وَيَشْمَلُهَا مَا إذَا أَشْرَكَ بَيْنَ عِبَادَةٍ وَغَيْرِهَا فَهَلْ تَصِحُّ الْعِبَادَةُ؟ وَإِذَا صَحَّتْ فَهَلْ يُثَابُ بِقَدْرِهِ أَوْ لَا ثَوَابَ لَهُ أَصْلًا؟

وَأَمَّا الْخُشُوعُ فِيهَا بِظَاهِرِهِ وَبَاطِنِهِ فَمُسْتَحَبٌّ

وَفِي الْقُنْيَةِ شَرَعَ فِي الْفَرْضِ وَشَغَلَهُ الْفِكْرُ فِي التِّجَارَةِ أَوْ الْمَسْأَلَةِ حَتَّى أَتَمَّ صَلَاتَهُ لَا تُسْتَحَبُّ إعَادَتُهُ وَفِي بَعْضِ الْكُتُبِ لَا يُعِيدُ وَفِي بَعْضِهَا لَمْ يَنْقُصْ أَجْرُهُ إذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ تَقْصِيرٍ مِنْهُ

 

‌‌السَّادِسُ فِي بَيَانِ الْجَمْعِ بَيْنَ عِبَادَتَيْنِ

وَحَاصِلُهُ أَنَّهُ إمَّا أَنْ يَكُونَ فِي الْوَسَائِلِ أَوْ فِي الْمَقَاصِدِ فَإِنْ كَانَ فِي الْوَسَائِلِ فَالْكُلُّ صَحِيحٌ.

قَالُوا لَوْ اغْتَسَلَ الْجُنُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ لِلْجُمُعَةِ وَلِرَفْعِ الْجَنَابَةِ ارْتَفَعَتْ جَنَابَتُهُ وَحَصَلَ لَهُ ثَوَابُ غُسْلِ الْجُمُعَةِ.

وَإِنْ كَانَ فِي الْمَقَاصِدِ

فَإِمَّا أَنْ يَنْوِيَ فَرْضَيْنِ أَوْ نَفَلَيْنِ أَوْ فَرْضًا وَنَفْلًا.

أَمَّا الْأَوَّلُ فَلَا يَخْلُو إمَّا أَنْ يَكُونَ فِي الصَّلَاةِ أَوْ فِي غَيْرِهَا

فَإِنْ كَانَ فِي الصَّلَاةِ لَمْ تَصِحَّ وَاحِدَةٌ مِنْهُمَا.

قَالَ فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ لَوْ نَوَى صَلَاتَيْ
আল-ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ গ্রন্থে রয়েছে: যদি কেউ সালাত আদায় করতে বা কুরআন তিলাওয়াত করতে চায় এবং এই আশঙ্কা করে যে তার মধ্যে লৌকিকতা প্রবেশ করবে।

তবে তা পরিত্যাগ করা উচিত নয়, কারণ এটি একটি কাল্পনিক বা অমূলক বিষয়। ফকিহগণ 'কিতাবুস সিয়ার'-এ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ ব্যবসায়ীর জন্য (গনিমতের) কোনো অংশ নেই; কারণ সীমান্ত অতিক্রমের সময় সে কেবল ব্যবসার উদ্দেশ্যই পোষণ করেছিল, দ্বীনকে সম্মানিত করা বা শত্রুকে আতঙ্কিত করার উদ্দেশ্য নয়।

তবে যদি সে যুদ্ধ করে, তবে সে এর হকদার হবে; কারণ যুদ্ধের মাধ্যমে এটি প্রকাশ পেয়েছে যে তার উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধ করা, আর ব্যবসা ছিল তার অনুগামী বিষয়। ফলে এটি তার কোনো ক্ষতি করবে না, যেমন হজ্জ পালনকারী ব্যক্তি যদি হজ্জের সফরে ব্যবসা করে তবে তার সওয়াব হ্রাস পায় না।

এটি যাইলায়ী উল্লেখ করেছেন।

এর প্রকাশ্য অর্থ হলো, হজ্জ পালনকারী যদি কেবল ব্যবসায়ী হিসেবে বের হয়, তবে তার জন্য কোনো সওয়াব নেই। ফকিহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যদি কেউ (পাওনা আদায়ের জন্য) তার ঋণদাতার তালাশে তাওয়াফ করে তবে তা যথেষ্ট হবে না; কিন্তু যদি সে ঋণদাতার তালাশে আরাফাতে অবস্থান করে তবে তা যথেষ্ট হবে।

এই পার্থক্যের কারণ সুস্পষ্ট। ফকিহগণ বলেছেন, যদি কোনো মুসাল্লি নিজ ইমাম ব্যতীত অন্য কাউকে (কুরআন পাঠে লোকমা দিয়ে) সংশোধন করে, তবে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে;

কারণ এখানে তার উদ্দেশ্য শিক্ষা দান।

আমি শাফেয়ী মাযহাবের কোনো কোনো কিতাবে একটি মাসআলা দেখেছি যা ইমাম নববী বর্ণনা করেছেন। তা হলো—যদি কোনো ব্যক্তি অন্য একজনকে বলে যে, 'তুমি যোহরের সালাত আদায় করো তবে তোমাকে এক দীনার দেওয়া হবে', আর সে এই নিয়তেই সালাত আদায় করে, তবে তার সালাত আদায় হয়ে যাবে।

তবে সে ঐ দীনারটি পাওয়ার হকদার হবে না।

আমি আমাদের (হানাফী) ইমামদের (আল্লাহ তাঁদের রহম করুন) পক্ষ থেকে এর অনুরূপ কোনো বক্তব্য দেখিনি। তবে আমাদের মূলনীতি অনুযায়ী এমনটিই হওয়া উচিত।

সালাত আদায় বা যথেষ্ট হওয়ার কারণ হলো, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ওয়াজিব দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে লৌকিকতা ফরয বিধানটি রহিত হওয়ার পথে বাধা হয় না। আর দীনারের হকদার না হওয়ার কারণ হলো, ফরয আদায় করা ইজারা বা পারিশ্রমিক চুক্তির অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। আপনি কি দেখেন না ফকিহগণের এই বক্তব্য যে, পিতা যদি তার পুত্রকে খিদমতের জন্য মজুর হিসেবে নিয়োগ দেয় তবে সে কোনো পারিশ্রমিক পাবে না?

বাযযাযিয়্যাহ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ খিদমত করা তার ওপর ওয়াজিব। বরং পূর্ববর্তী ফকিহগণ এই ফতোয়া দিয়েছেন যে, ইবাদতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ নয়, যেমন ইমামতি, আযান এবং কুরআন ও ফিকহ শিক্ষা দেওয়া। কিন্তু পরবর্তী ফকিহগণ যে বৈধতার ফতোয়া দিয়েছেন, সেটিই নির্ভরযোগ্য।

আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, কেউ যদি কোনো ব্যক্তির জন্য দাস মুক্ত করার নিয়ত করে তবে তা মুবাহ হবে।

তবে রোযা এবং ডায়েট (স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রণ) উভয়টির নিয়ত করলে তার হুকুম কী হবে তা আমি দেখিনি। ইবাদত এবং দুনিয়াবী উদ্দেশ্যকে একত্র করার বিষয়টি এর অন্তর্ভুক্ত। এমতাবস্থায় ইবাদত কি সহীহ হবে? আর যদি সহীহ হয়, তবে কি সে সেই অনুপাতে সওয়াব পাবে নাকি আদৌ কোনো সওয়াব পাবে না?

আর ইবাদতে জাহেরী ও বাতেনী উভয় দিক থেকে খুশু (বিনয় ও একাগ্রতা) অবলম্বন করা মুস্তাহাব।

'আল-কুনইয়াহ' গ্রন্থে আছে, যদি কেউ ফরয সালাত শুরু করে এবং সালাত শেষ করা পর্যন্ত ব্যবসা বা কোনো মাসআলা নিয়ে চিন্তায় বিভোর থাকে, তবে সেই সালাত পুনরায় আদায় করা মুস্তাহাব নয়। কোনো কোনো কিতাবে এসেছে, সে পুনরায় আদায় করবে না। আবার কোনো কোনো কিতাবে আছে, যদি এটি তার অবহেলার কারণে না হয়ে থাকে তবে তার সওয়াব হ্রাস পাবে না।

 

‌ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: দুই ইবাদতের সমন্বয় প্রসঙ্গে

এর সারকথা হলো, এটি হয়তো 'ওয়াসায়িল' (মাধ্যম) অথবা 'মাকাসিদ' (উদ্দেশ্য)-এর ক্ষেত্রে হবে। যদি এটি মাধ্যমের ক্ষেত্রে হয়, তবে তা সর্বাবস্থায় সহীহ।

ফকিহগণ বলেছেন, যদি কোনো অপবিত্র ব্যক্তি জুমার দিনে জুমা এবং অপবিত্রতা দূর করার উভয় নিয়তে গোসল করে, তবে তার অপবিত্রতা দূর হয়ে যাবে এবং জুমার গোসলের সওয়াবও সে লাভ করবে।

আর যদি তা উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে হয়,

তবে তা হয়তো দুই ফরযের নিয়ত হবে, অথবা দুই নফলের, অথবা একটি ফরয ও একটি নফলের।

প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে (অর্থাৎ দুই ফরয) হয় এটি সালাতের মধ্যে হবে নতুবা সালাতের বাইরে।

যদি তা সালাতের মধ্যে হয়, তবে উভয়ের কোনোটিই সহীহ হবে না।

'সিরাজুল ওয়াহহাজ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি কেউ দুই সালাতের নিয়ত করে...
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩৫)
فَرْضٍ كَالظُّهْرِ وَالْعَصْرِ لَمْ تَصِحَّا اتِّفَاقًا

وَلَوْ نَوَى فِي الصَّوْمِ الْقَضَاءَ وَالْكَفَّارَةَ كَانَ عَنْ الْقَضَاءِ وَقَالَ مُحَمَّدٌ رحمه الله يَكُونُ تَطَوُّعًا وَإِنْ نَوَى كَفَّارَةَ الظِّهَارِ وَكَفَّارَةَ الْيَمِينِ يَجْعَلُهُ لِأَيِّهِمَا شَاءَ وَقَالَ مُحَمَّدٌ رحمه الله يَكُونُ تَطَوُّعًا

وَلَوْ نَوَى الزَّكَاةَ وَكَفَّارَةَ الظِّهَارِ جَعَلَهُ عَنْ أَيِّهِمَا شَاءَ

وَلَوْ نَوَى الزَّكَاةَ وَكَفَّارَةَ الْيَمِينِ فَهُوَ عَنْ الزَّكَاةِ

وَلَوْ نَوَى مَكْتُوبَةً وَصَلَاةَ جِنَازَةٍ فَهِيَ عَنْ الْمَكْتُوبَةِ وَقَدْ ظَهَرَ بِهَذَا أَنَّهُ إذَا نَوَى فَرْضَيْنِ

فَإِنْ كَانَ أَحَدُهُمَا أَقْوَى انْصَرَفَ إلَيْهِ، فَصَوْمُ الْقَضَاءِ أَقْوَى مِنْ صَوْمِ الْكَفَّارَةِ، فَإِنْ اسْتَوَيَا فِي الْقُوَّةِ فَإِنْ كَانَ فِي الصَّوْمِ فَلَهُ الْخِيَارُ كَكَفَّارَةِ الظِّهَارِ وَكَفَّارَةِ الْيَمِينِ

وَكَذَا الزَّكَاةُ وَكَفَّارَةُ الظِّهَارِ وَأَمَّا الزَّكَاةُ مَعَ كَفَّارَةِ الْيَمِينِ، فَالزَّكَاةُ أَقْوَى وَأَمَّا فِي الصَّلَاةِ فَيُقَدِّمُ الْأَقْوَى أَيْضًا

وَلِذَا قَدَّمْنَا الْمَكْتُوبَةَ عَلَى صَلَاةِ الْجِنَازَةِ

وَلِذَا قَالَ فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ لَوْ نَوَى مَكْتُوبَتَيْنِ

فَهِيَ لِلَّتِي دَخَلَ وَقْتُهَا وَلَوْ نَوَى فَائِتَتَيْنِ فَهِيَ لِلْأُولَى مِنْهُمَا وَلَوْ نَوَى فَائِتَةً وَوَقْتِيَّةً فَهِيَ لِلْفَائِتَةِ إلَّا أَنْ يَكُونَ فِي آخِرِ الْوَقْتِ وَلَوْ نَوَى

الظُّهْرَ وَالْفَجْرَ وَعَلَيْهِ الْفَجْرُ مِنْ يَوْمِهِ، فَإِنْ كَانَ فِي أَوَّلِ وَقْتِ الظُّهْرِ فَهِيَ عَنْ الْفَجْرِ وَإِنْ كَانَ فِي آخِرِهِ فَهِيَ عَنْ الظُّهْرِ

وَنَفَى مَا إذَا كَبَّرَ نَاوِيًا لِلتَّحْرِيمَةِ وَلِلرُّكُوعِ وَمَا إذَا طَافَ لِلْفَرْضِ وَلِلْوَدَاعِ، وَإِنْ نَوَى فَرْضًا وَنَفْلًا فَإِنْ نَوَى الظُّهْرَ وَالتَّطَوُّعَ، قَالَ أَبُو يُوسُفَ رحمه الله تُجْزِيهِ عَنْ الْمَكْتُوبَةِ وَيَبْطُلُ التَّطَوُّعُ.

وَقَالَ مُحَمَّدٌ رحمه الله وَلَا تُجْزِيهِ عَنْ الْمَكْتُوبَةِ وَلَا التَّطَوُّعَ وَإِنْ نَوَى الزَّكَاةَ وَالتَّطَوُّعَ يَكُونُ عَنْ الزَّكَاةِ وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ رحمه الله عَنْ التَّطَوُّعِ وَلَوْ نَوَى نَافِلَةً وَجِنَازَةً فَهِيَ عَنْ النَّافِلَةِ كَذَا فِي السِّرَاجِ

وَأَمَّا إذَا نَوَى نَافِلَتَيْنِ كَمَا إذَا نَوَى بِرَكْعَتَيْ الْفَجْرِ التَّحِيَّةَ وَالسُّنَّةَ أَجْزَأَتْ عَنْهُمَا وَلَمْ أَرَ حُكْمَ مَا إذَا نَوَى سُنَّتَيْنِ كَمَا إذَا نَوَى فِي يَوْمِ الِاثْنَيْنِ صَوْمَهُ عَنْهُ وَعَنْ يَوْمِ عَرَفَةَ إذَا وَافَقَهُ فَإِنَّ نَافِلَةَ التَّحِيَّةِ إنَّمَا كَانَتْ ضِمْنًا لِلسُّنَّةِ

لِحُصُولِ الْمَقْصُودِ وَأَمَّا التَّعَدُّدُ فِي الْحَجِّ فَقَالَ فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ مِنْ بَابِ الْإِحْرَامِ:

لَوْ أَحْرَمَ نَذْرًا وَنَفْلًا كَانَ نَفْلًا أَوْ فَرْضًا، وَتَطَوُّعَا كَانَ تَطَوُّعًا عِنْدَهُمَا فِي الْأَصَحِّ وَمِنْ بَابِ إضَافَةِ الْإِحْرَامِ إلَى الْإِحْرَامِ

وَلَوْ أَحْرَمَ بِحَجَّتَيْنِ مَعًا، أَوْ عَلَى التَّعَاقُبِ لَزِمَاهُ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ، وَعِنْدَ مُحَمَّدٍ رحمه الله فِي الْمَعِيَّةِ يَلْزَمُهُ إحْدَاهُمَا وَفِي التَّعَاقُبِ الْأُولَى فَقَطْ، وَإِذَا لَزِمَاهُ عِنْدَهُمَا ارْتَفَضَتْ إحْدَاهُمَا بِاتِّفَاقِهِمَا،

لَكِنْ اخْتَلَفَا فِي وَقْتِ الرَّفْضِ، فَعِنْدَ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله عَقِيبَ صَيْرُورَتِهِ مُحْرِمًا بِلَا مُهْلَةٍ، وَعِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله إذَا شَرَعَ فِي الْأَعْمَالِ، وَقِيلَ: إذَا تَوَجَّهَ سَائِرًا، وَنَصَّ فِي الْمَبْسُوطِ عَلَى أَنَّهُ ظَاهِرُ الرِّوَايَةِ.

وَثَمَرَةُ الْخِلَافِ فِيمَا إذَا جَنَى قَبْلَ الشُّرُوعِ، فَعَلَيْهِ دَمَانِ لِلْجِنَايَةِ عَلَى إحْرَامَيْنِ، وَدَمٌ وَاحِدٌ عِنْدَ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله، وَلَوْ جَامَعَ قَبْلَ الشُّرُوعِ، فَعَلَيْهِ دَمَانِ لِلْجِمَاعِ وَدَمٌ ثَالِثٌ لِلرَّفْضِ،
যোহরের মতো এবং আসরের মতো দুটি ফরযের (একসাথে নিয়ত করলে) সর্বসম্মতিক্রমে তা সঠিক হবে না।

আর রোযার ক্ষেত্রে যদি কেউ কাযা এবং কাফফারা উভয়ের নিয়ত করে, তবে তা কাযার পক্ষ থেকে আদায় হবে। ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি কেউ যিহারের কাফফারা এবং কসমের কাফফারার নিয়ত করে, তবে সে চাইলে এর যেকোনো একটির জন্য তা নির্ধারণ করতে পারবে। ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তা নফল হবে।

আর যদি কেউ যাকাত এবং যিহারের কাফফারার নিয়ত করে, তবে সে এর যেকোনো একটির জন্য তা নির্ধারণ করতে পারবে।

আর যদি কেউ যাকাত এবং কসমের কাফফারার নিয়ত করে, তবে তা যাকাতের পক্ষ থেকে আদায় হবে।

আর যদি কেউ ফরয নামায এবং জানাযার নামাযের নিয়ত করে, তবে তা ফরয নামাযের পক্ষ থেকে হবে। এর দ্বারা এটিই প্রকাশ পেল যে, যখন কেউ দুটি ফরযের নিয়ত করে—

তখন তাদের মধ্যে যেটি অধিক শক্তিশালী, সেটির দিকেই তা ফিরে যাবে। সুতরাং কাযা রোযা কাফফারার রোযার তুলনায় অধিক শক্তিশালী। আর যদি উভয়টি শক্তিতে সমান হয় এবং তা রোযার ক্ষেত্রে হয়, তবে তার পছন্দ করার সুযোগ থাকবে, যেমন যিহারের কাফফারা এবং কসমের কাফফারা।

একইভাবে যাকাত এবং যিহারের কাফফারার বিষয়টিও। আর কসমের কাফফারার সাথে যাকাতের ক্ষেত্রে যাকাত অধিক শক্তিশালী। আর নামাযের ক্ষেত্রেও একইভাবে অধিক শক্তিশালীটিকেই অগ্রগণ্য করা হবে।

এই কারণেই আমরা জানাযার নামাযের তুলনায় ফরয নামাযকে অগ্রগণ্য করেছি।

এ কারণেই ‘সিরাজুল ওয়াহহাজ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি কেউ দুটি ফরয নামাযের নিয়ত করে—

তবে যেটির ওয়াক্ত শুরু হয়েছে সেটিই আদায় হবে। আর যদি কেউ দুটি কাযা নামাযের নিয়ত করে, তবে তাদের মধ্যে প্রথমটির পক্ষ থেকে হবে। আর যদি কেউ কাযা এবং ওয়াক্তিয়া (বর্তমান ওয়াক্তের) নামাযের নিয়ত করে, তবে তা কাযার পক্ষ থেকে হবে; তবে ওয়াক্তের একেবারে শেষ সময় হলে ভিন্ন কথা। আর যদি কেউ—

যোহর এবং ফজর নামাযের নিয়ত করে, অথচ তার জিম্মায় সেদিনের ফজর কাযা রয়েছে; তবে যোহরের ওয়াক্তের শুরুতে নিয়ত করলে তা ফজরের পক্ষ থেকে হবে, আর যোহরের ওয়াক্তের শেষে হলে তা যোহরের পক্ষ থেকে হবে।

আর তিনি সেই অবস্থাকে নাকচ করেছেন যখন কেউ তাকবীরে তাহরীমা এবং রুকূ’ উভয়ের নিয়ত করে তাকবীর দেয়, অথবা ফরয এবং বিদায়ী তাওয়াফ উভয়ের নিয়ত করে তাওয়াফ করে। আর যদি কেউ ফরয এবং নফলের নিয়ত করে, যেমন সে যোহর এবং নফলের নিয়ত করল— ইমাম আবু ইউসুফ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তা ফরযের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে এবং নফল বাতিল হয়ে যাবে।

ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, তা ফরয বা নফল কোনোটির পক্ষ থেকেই যথেষ্ট হবে না। আর যদি যাকাত এবং নফলের নিয়ত করে, তবে তা যাকাতের পক্ষ থেকে হবে। আর ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে তা নফলের পক্ষ থেকে হবে। আর যদি কেউ নফল এবং জানাযার নিয়ত করে, তবে তা নফল হিসেবে গণ্য হবে। ‘সিরাজ’ গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে।

পক্ষান্তরে যদি কেউ দুটি নফলের নিয়ত করে, যেমন ফজরের দুই রাকাআতে তাহিয়্যাতুল মাসজিদ এবং সুন্নাতের নিয়ত করল, তবে তা উভয়ের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে। আর আমি এমন বিষয়ের হুকুম দেখিনি যেখানে কেউ দুটি সুন্নাতের নিয়ত করে, যেমন সোমবারের দিনে রোযা রাখার সময় সেটির নিয়ত এবং সাথে আরাফার দিনের নিয়তও করল যখন উভয়টি একই দিনে পড়ে। মূলত তাহিয়্যাত-এর নফলটি সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়—

উদ্দেশ্য হাসিল হওয়ার কারণে। আর হজ্জের ক্ষেত্রে একাধিক নিয়তের বিষয়ে ‘ফাতহুল কাদীর’-এর ইহরাম অধ্যায়ে বলা হয়েছে:

যদি কেউ মান্নত এবং নফলের ইহরাম বাঁধে, তবে তা নফল হবে; অথবা ফরয এবং নফলের ইহরাম বাঁধলে বিশুদ্ধতর অভিমত অনুযায়ী ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা)-এর নিকট তা নফল হবে। আর ‘এক ইহরামের সাথে অন্য ইহরামের সংযোগ’ অধ্যায় থেকে—

যদি কেউ একসাথে অথবা পর্যায়ক্রমে দুটি হজ্জের ইহরাম বাঁধে, তবে ইমাম আবু হানীফা এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা)-এর নিকট উভয়টিই তার ওপর আবশ্যক হবে। ইমাম মুহাম্মদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট একসাথে ইহরাম বাঁধলে একটি আবশ্যক হবে, আর পর্যায়ক্রমে বাঁধলে শুধুমাত্র প্রথমটি আবশ্যক হবে। যখন তাদের (ইমাম আবু হানীফা ও আবু ইউসুফ) নিকট উভয়টি আবশ্যক হয়, তখন তাদের উভয়ের ঐক্যমতে একটি বাতিল হয়ে যাবে।

তবে তারা বাতিলের সময় নিয়ে মতভেদ করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে, মুহরিম হওয়ার পরপরই কোনো বিলম্ব ছাড়াই তা বাতিল হবে। ইমাম আবু হানীফা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে, যখন সে হজ্জের কাজ শুরু করবে তখন। আবার কেউ বলেছেন, যখন সে ইহরাম অবস্থায় যাত্রা শুরু করবে। ‘মাবসূত’ গ্রন্থে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এটিই জাহিরুর রিওয়ায়াত।

আর এই মতভেদের ফলাফল সেই ক্ষেত্রে প্রকাশ পাবে যখন কেউ হজ্জের কাজ শুরু করার আগে কোনো নিষিদ্ধ কাজ (জিনা-য়াত) করবে; তখন তাকে দুটি ইহরামের অপরাধের জন্য দুটি ‘দম’ দিতে হবে। ইমাম আবু ইউসুফ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর নিকট একটি দম দিতে হবে। আর যদি কাজ শুরু করার আগেই সহবাস করে, তবে তাকে সহবাসের কারণে দুটি দম এবং একটি ইহরাম বর্জনের কারণে তৃতীয় আরেকটি দম দিতে হবে।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩৬)
فَإِنَّهُ يَرْفُضُ إحْدَاهُمَا وَيَمْضِي فِي الْأُخْرَى وَيَقْضِي الَّتِي مَضَى فِيهَا

وَحَجَّةٌ وَعُمْرَةٌ مَكَانَ الَّتِي رَفَضَهَا، وَلَوْ قَتَلَ صَيْدًا فَعَلَيْهِ قِيمَتَانِ، أَوْ أُحْصِرَ، فَدَمَانِ وَعَلَى هَذَا الْخِلَافِ، إذَا أَهَلَّ بِعُمْرَتَيْنِ مَعًا، أَوْ عَلَى التَّعَاقُبِ بِلَا فَصْلٍ، وَأَمَّا إذَا نَوَى عِبَادَةً، ثُمَّ نَوَى، فِي أَثْنَائِهَا الِانْتِقَالَ عَنْهَا إلَى غَيْرِهَا، فَإِنْ كَبَّرَ نَاوِيًا لِلِانْتِقَالِ عَنْهَا إلَى غَيْرِهَا، صَارَ خَارِجًا عَنْ الْأُولَى، وَإِنْ نَوَى وَلَمْ يُكَبِّرْ لَا يَكُونُ خَارِجًا،

كَمَا إذَا نَوَى تَجْدِيدَ الْأُولَى وَكَبَّرَ، وَتَمَامُهُ فِي مُفْسِدَاتِ الصَّلَاةِ فِي شَرْحِنَا عَلَى الْكَنْزِ

 

‌‌فَائِدَةٌ:

يَتَفَرَّعُ عَلَى الْجَمْعِ بَيْنَ الشَّيْئَيْنِ فِي النِّيَّةِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي الْعِبَادَاتِ مَا لَوْ قَالَ لِزَوْجَتِهِ: أَنْتِ عَلَيَّ حَرَامٌ نَاوِيًا الطَّلَاقَ وَالظِّهَارَ، أَوْ قَالَ لِزَوْجَتَيْهِ: أَنْتُمَا عَلَيَّ حَرَامٌ نَاوِيًا فِي إحْدَاهُمَا الطَّلَاقَ وَفِي الْأُخْرَى الظِّهَارَ.

وَقَدْ كَتَبْنَاهُ فِي بَابِ الْإِيلَاءِ مِنْ شَرْحِ الْكَنْزِ نَقْلًا عَنْ الْمُحِيطِ

 

‌‌السَّابِعُ: فِي وَقْتِهَا

الْأَصْلُ أَنَّ وَقْتَهَا أَوَّلُ الْعِبَادَاتِ، وَلَكِنَّ الْأَوَّلَ حَقِيقِيٌّ وَحُكْمِيٌّ، فَقَالُوا فِي الصَّلَاةِ: لَوْ نَوَى قَبْلَ الشُّرُوعِ فَعَنْ مُحَمَّدٍ رحمه الله لَوْ نَوَى عِنْدَ الْوُضُوءِ أَنَّهُ يُصَلِّي الظُّهْرَ، أَوْ الْعَصْرَ مَعَ الْإِمَامِ، وَلَمْ يَشْتَغِلْ بَعْدَ النِّيَّةِ بِمَا لَيْسَ مِنْ جِنْسِ الصَّلَاةِ إلَّا، أَنَّهُ لَمَّا انْتَهَى إلَى مَكَانِ الصَّلَاةِ لَمْ تَحْضُرْهُ النِّيَّةُ جَازَتْ صَلَاتُهُ بِتِلْكَ النِّيَّةِ، وَهَكَذَا رُوِيَ عَنْ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رَحِمَهُمَا اللَّهُ، كَذَا فِي الْخُلَاصَةِ، وَفِي التَّجْنِيسِ إذَا تَوَضَّأَ فِي مَنْزِلِهِ لِيُصَلِّيَ الظُّهْرَ، ثُمَّ حَضَرَ الْمَسْجِدَ وَافْتَتَحَ الصَّلَاةَ بِتِلْكَ النِّيَّةِ، فَإِنْ لَمْ يَشْتَغِلْ بِعَمَلٍ آخَرَ يَكْفِيهِ ذَلِكَ

هَكَذَا قَالَ مُحَمَّدٌ رحمه الله فِي الرُّقَيَّاتِ؛ لِأَنَّ النِّيَّةَ الْمُتَقَدِّمَةَ عَلَى الشُّرُوعِ تَبْقَى إلَى وَقْتِ الشُّرُوعِ حُكْمًا كَمَا فِي الصَّوْمِ، إذَا لَمْ يُبَدِّلْهَا بِغَيْرِهَا.

وَعَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سَلَمَةَ: إنْ كَانَ

عِنْدَ الشُّرُوعِ بِحَيْثُ لَوْ سُئِلَ: أَيَّةُ صَلَاةٍ تُصَلِّي يُجِيبُ عَلَى الْبَدَاهَةِ مِنْ غَيْرِ تَفَكُّرٍ، فَهِيَ نِيَّةٌ تَامَّةٌ، وَلَوْ احْتَاجَ إلَى التَّأَمُّلِ لَا تَجُوزُ، وَفِي فَتْحِ الْقَدِيرِ فَقَدْ شَرَطُوا عَدَمَ مَا لَيْسَ مِنْ جِنْسِ الصَّلَاةِ لِصِحَّةِ تِلْكَ النِّيَّةِ مَعَ تَصْرِيحِهِمْ بِأَنَّهَا صَحِيحَةٌ مَعَ الْعِلْمِ بِأَنَّهُ يَتَخَلَّلُ بَيْنَهَا وَبَيْنَ الشُّرُوعِ الْمَشْيُ إلَى مَقَامِ الصَّلَاةِ، وَهُوَ لَيْسَ مِنْ جِنْسِهَا، فَلَا بُدَّ مِنْ كَوْنِ الْمُرَادِ بِمَا لَيْسَ مِنْ جِنْسِهَا مَا يَدُلُّ عَلَى الْأَعْرَاضِ بِخِلَافِ مَا لَوْ اشْتَغَلَ بِكَلَامٍ، أَوْ أَكْلٍ، أَوْ تَقُولُ: عُدَّ الْمَشْيُ إلَيْهَا مِنْ أَفْعَالِهَا غَيْرَ قَاطِعٍ لِلنِّيَّةِ، وَفِي الْخُلَاصَةِ أَجْمَعَ أَصْحَابُنَا، أَنَّ الْأَفْضَلَ أَنْ تَكُونَ مُقَارِنَةً لِلشُّرُوعِ، وَلَا يَكُونُ شَارِعًا بِنِيَّةٍ مُتَأَخِّرَةٍ؛ لِأَنَّ مَا مَضَى لَا يَقَعُ عِبَادَةً لِعَدَمِ النِّيَّةِ، فَكَذَا الْبَاقِي لِعَدَمِ التَّجَزِّي، وَنَقَلَ ابْنُ وَهْبَانَ اخْتِلَافًا بَيْنَ الْمَشَايِخِ خَارِجًا عَنْ الْمَذْهَبِ مُوَافِقًا لِمَا
তিল্লাহি তিনি তাদের একটি ত্যাগ করবেন এবং অন্যটি পালন করবেন এবং যা পালন করেছেন তার কাজ সম্পাদন করবেন।

আর যেটিকে ত্যাগ করেছেন তার পরিবর্তে একটি হজ ও একটি উমরাহ আদায় করবেন। যদি তিনি শিকার হত্যা করেন তবে তার ওপর দুটি বিনিময় মূল্য ধার্য হবে, অথবা যদি অবরুদ্ধ হন তবে দুটি কুরবানি ওয়াজিব হবে। এই মতপার্থক্য অনুযায়ীই বিধান হবে যখন কেউ একসাথে দুটি উমরার ইহরাম বাঁধবে অথবা বিরতিহীনভাবে ধারাবাহিকভাবে ইহরাম বাঁধবে। আর যদি কেউ এক ইবাদতের নিয়ত করেন, অতঃপর এর মাঝে তা থেকে অন্য ইবাদতে স্থানান্তরের নিয়ত করেন; তবে যদি স্থানান্তরের নিয়তে তাকবির বলেন তবে তিনি প্রথমটি থেকে বের হয়ে যাবেন। আর যদি নিয়ত করেন কিন্তু তাকবির না বলেন তবে বের হবেন না,

যেমনটি হয় যখন কেউ প্রথম ইবাদতটি নবায়নের নিয়ত করেন এবং তাকবির বলেন। এর পূর্ণ বিবরণ আমাদের 'কানজ'-এর ভাষ্যগ্রন্থে 'নামাজ নষ্টকারী বিষয়সমূহ' অধ্যায়ে রয়েছে।

 

‌‌উপকারিতা:

নিয়তের ক্ষেত্রে দুটি বিষয় একত্র করার ওপর একটি মাসআলা নির্গত হয়, যদিও তা ইবাদত সংশ্লিষ্ট নয়। যেমন যদি কেউ তার স্ত্রীকে বলে: "তুমি আমার ওপর হারাম", এর মাধ্যমে সে তালাক ও জিহার উভয়ের নিয়ত করে। অথবা তার দুই স্ত্রীকে বলে: "তোমরা দুজনেই আমার ওপর হারাম", এর মাধ্যমে একজনের ক্ষেত্রে তালাক এবং অন্যজনের ক্ষেত্রে জিহারের নিয়ত করে।

আমরা এটি 'কানজ'-এর ভাষ্যগ্রন্থের 'ঈলা' অধ্যায়ে 'মুহীত' থেকে উদ্ধৃত করে লিখেছি।

 

‌‌সপ্তম: নিয়তের সময় প্রসঙ্গে

মূলনীতি হলো, ইবাদতের শুরুই হলো এর সময়। তবে শুরু দুই প্রকার: প্রকৃত ও হুকমী (আইনগত)। নামাজ সম্পর্কে ফকীহগণ বলেছেন: যদি কেউ শুরু করার পূর্বে নিয়ত করে, তবে ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি থেকে বর্ণিত যে, যদি কেউ ওজুর সময় নিয়ত করে যে সে ইমামের সাথে জোহর বা আসর নামাজ পড়বে, আর নিয়তের পর নামাজের পরিপন্থী কোনো কাজে লিপ্ত না হয়, কিন্তু নামাজের স্থানে পৌঁছার পর তার নিয়ত উপস্থিত বা স্মরণে না থাকে, তবে ওই নিয়তেই তার নামাজ জায়েজ হবে। ইমাম আবু হানিফা ও আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহিমা থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। 'খুলাসাহ' গ্রন্থে এমনই রয়েছে। 'তাজনিস' গ্রন্থে আছে, যদি কেউ তার ঘরে জোহর পড়ার জন্য ওজু করে, অতঃপর মসজিদে উপস্থিত হয়ে ওই নিয়তেই নামাজ শুরু করে, তবে সে যদি অন্য কোনো কাজে লিপ্ত না হয়ে থাকে, তবে এটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে।

ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি 'রুকিয়্যাত' গ্রন্থে এরূপই বলেছেন; কারণ শুরু করার পূর্বের নিয়ত হুকুমগতভাবে শুরু করার সময় পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে, যেমনটি রোজার ক্ষেত্রে হয়, যদি না সে তা অন্য কিছু দ্বারা পরিবর্তন করে।

মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ থেকে বর্ণিত: যদি শুরু করার সময় অবস্থা এমন হয় যে, তাকে যদি জিজ্ঞাসা করা হয়: "কোন নামাজ পড়ছেন?" তবে সে চিন্তা ছাড়াই তৎক্ষণাৎ উত্তর দিতে পারে, তবে তা পূর্ণাঙ্গ নিয়ত। আর যদি চিন্তা করার প্রয়োজন হয়, তবে তা জায়েজ হবে না। 'ফাতহুল কাদির' গ্রন্থে রয়েছে, তাঁরা ওই নিয়ত সহিহ হওয়ার জন্য নামাজের পরিপন্থী কাজ না থাকার শর্তারোপ করেছেন, অথচ তাঁরা এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, নিয়ত ও শুরু করার মাঝখানে নামাজের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যাওয়া সত্ত্বেও নিয়ত সহিহ হবে, যদিও হাঁটা নামাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। সুতরাং নামাজের পরিপন্থী বলতে এমন কিছু উদ্দেশ্য হতে হবে যা বিমুখতা নির্দেশ করে। এর বিপরীত হলো কথা বলা বা পানাহারে লিপ্ত হওয়া। অথবা আপনি বলতে পারেন: নামাজের দিকে হেঁটে যাওয়াকে নামাজের কার্যাবলীর অন্তর্ভুক্ত ধরা হয়েছে যা নিয়তকে বিচ্ছিন্ন করে না। 'খুলাসাহ' গ্রন্থে আছে, আমাদের ফকীহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, উত্তম হলো নিয়ত শুরু করার সাথে মিলিত হওয়া। আর পরবর্তী সময়ের নিয়ত দিয়ে নামাজ শুরুকারী হবে না; কারণ যা গত হয়েছে তা নিয়ত না থাকার কারণে ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে না, তেমনি অবশিষ্টাংশও ইবাদত হবে না অবিভাজ্যতার কারণে। ইবনে ওয়াহবান মাযহাবের বাইরের মাশায়েখদের থেকে একটি মতপার্থক্য বর্ণনা করেছেন যা সামঞ্জস্যপূর্ণ...
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩৭)
نُقِلَ عَنْ الْكَرْخِيِّ مِنْ جَوَازِ التَّأْخِيرِ عَنْ التَّحْرِيمَةِ، فَقِيلَ: إلَى الثَّنَاءِ، وَقِيلَ: إلَى التَّعَوُّذِ، وَقِيلَ: إلَى الرُّكُوعِ وَقِيلَ إلَى الرَّفْعِ، وَالْكُلُّ ضَعِيفٌ، وَالْمُعْتَمَدُ أَنَّهُ لَا بُدَّ مِنْ الْقِرَانِ حَقِيقَةً، أَوْ حُكْمًا،

وَفِي الْجَوْهَرَةِ: وَلَا مُعْتَبَرَ بِقَوْلِ الْكَرْخِيِّ.

، وَأَمَّا النِّيَّةُ فِي الْوُضُوءِ فَقَالَ فِي الْجَوْهَرَةِ: إنَّ مَحَلَّهَا عِنْدَ غَسْلِ الْوَجْهِ.

وَيَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ فِي أَوَّلِ السُّنَنِ عِنْدَ غَسْلِ الْيَدَيْنِ إلَى الرُّسْغَيْنِ؛ لِيَنَالَ ثَوَابَ السُّنَنِ الْمُتَقَدِّمَةِ عَلَى غَسْلِ الْوَجْهِ، وَقَالُوا: الْغُسْلُ كَالْوُضُوءِ فِي السُّنَنِ وَفِي التَّيَمُّمِ يَنْوِي عِنْدَ الْوَضْعِ عَلَى الصَّعِيدِ

وَلَمْ أَرَ وَقْتَ نِيَّةِ الْإِمَامَةِ

لِلثَّوَابِ، وَيَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ وَقْتَ اقْتِدَاءِ أَحَدٍ بِهِ لَا قَبْلَهُ كَمَا أَنَّهُ يَنْبَغِي أَنْ تَكُونَ وَقْتَ نِيَّةِ الْجَمَاعَةِ أَوَّلَ صَلَاةِ الْمَأْمُومِ، وَإِنْ كَانَ فِي أَثْنَاءِ صَلَاةِ الْإِمَامِ، هَذَا لِلثَّوَابِ وَأَمَّا لِصِحَّةِ الِاقْتِدَاءِ بِالْإِمَامِ فَقَالَ فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ: وَالْأَفْضَلُ أَنْ يَنْوِيَ الِاقْتِدَاءَ عِنْدَ افْتِتَاحِ الْإِمَامِ، فَإِنْ نَوَى حِينَ وَقَفَ.

عَالِمًا بِأَنَّهُ لَمْ يَشْرَعْ، جَازَ، وَإِنْ نَوَى ذَلِكَ عَلَى ظَنِّ أَنَّهُ شَرَعَ وَلَمْ يَشْرَعْ اُخْتُلِفَ فِيهِ قِيلَ: لَا يَجُوزُ

، وَأَمَّا نِيَّةُ التَّقَرُّبِ لِصَيْرُورَةِ الْمَاءِ مُسْتَعْمَلًا فَوَقْتُهَا عِنْدَ الِاغْتِرَافِ، وَأَمَّا وَقْتُهَا فِي الزَّكَاةِ فَقَالَ فِي الْهِدَايَةِ: وَلَا يَجُوزُ أَدَاءُ الزَّكَاةِ إلَّا بِنِيَّةٍ مُقَارِنَةٍ لِلْأَدَاءِ، أَوْ مُقَارِنَةٍ لِعَزْلِ مِقْدَارِ مَا وَجَبَ؛ لِأَنَّ الزَّكَاةَ عِبَادَةٌ فَكَانَتْ مِنْ شَرْطِهَا النِّيَّةُ، وَالْأَصْلُ فِيهَا الِاقْتِرَانُ إلَّا أَنَّ الدَّفْعَ يَتَفَرَّقُ، فَاكْتُفِيَ بِوُجُودِهَا حَالَةَ الْعَزْلِ تَيْسِيرًا كَتَقْدِيمِ النِّيَّةِ فِي الصَّوْمِ، وَقَدْ جَوَّزُوا التَّقْدِيمَ

عَلَى الْأَدَاءِ لَكِنْ عِنْدَ الْعَزْلِ، وَهَلْ تَجُوزُ بِنِيَّةٍ مُتَأَخِّرَةٍ عَنْ الْأَدَاءِ؟

فَقَالَ فِي شَرْحِ الْمَجْمَعِ لَوْ دَفَعَهَا بِلَا نِيَّةٍ، ثُمَّ نَوَى بَعْدَهُ، فَإِنْ كَانَ الْمَالُ قَائِمًا فِي يَدِ الْفَقِيرِ جَازَ، وَإِلَّا، فَلَا، وَأَمَّا صَدَقَةُ الْفِطْرِ.

فَكَالزَّكَاةِ نِيَّةً وَمَصْرِفًا قَالُوا: إلَّا الذِّمِّيَّ فَإِنَّهُ مَصْرِفٌ لِلْفِطْرِ دُونَ الزَّكَاةِ

، وَأَمَّا الصَّوْمُ فَلَا يَخْلُو إمَّا أَنْ يَكُونَ فَرْضًا، أَوْ نَفْلًا فَإِنْ كَانَ فَرْضًا فَلَا يَخْلُو إمَّا أَنْ يَكُونَ أَدَاءَ رَمَضَانَ، أَوْ غَيْرَهُ، فَإِنْ كَانَ أَدَاءَ رَمَضَانَ جَازَ نِيَّةٌ مُتَقَدِّمَةٌ مِنْ غُرُوبِ الشَّمْسِ وَبِمُقَارِنَةٍ، وَهُوَ الْأَصْلُ

وَبِمُتَأَخِّرَةٍ عَنْ الشُّرُوعِ إلَى مَا قَبْلَ نِصْفِ النَّهَارِ الشَّرْعِيِّ تَيْسِيرًا عَلَى الصَّائِمِينَ، وَإِنْ كَانَ غَيْرَ أَدَاءِ رَمَضَانَ مِنْ قَضَاءٍ، أَوْ نَذْرٍ، أَوْ كَفَّارَةٍ فَيَجُوزُ بِنِيَّةٍ مُتَقَدِّمَةٍ مِنْ غُرُوبِ الشَّمْسِ إلَى طُلُوعِ الْفَجْرِ

وَيَجُوزُ بِنِيَّةٍ مُقَارِنَةٍ لِطُلُوعِ الْفَجْرِ؛ لِأَنَّ الْأَصْلَ الْقِرَانُ كَمَا فِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ، وَإِنْ كَانَ نَفْلًا فَرَمَضَانُ أَدَاءً

وَأَمَّا الْحَجُّ فَالنِّيَّةُ فِيهِ سَابِقَةٌ عَلَى الْأَدَاءِ عِنْدَ الْإِحْرَامِ، وَهُوَ النِّيَّةُ عِنْدَ التَّلْبِيَةِ، أَوْ مَا يَقُومُ مَقَامَهَا مِنْ سَوْقِ الْهَدْيِ فَلَا يُمْكِنُ فِيهِ الْقِرَانُ وَالتَّأْخِيرُ؛ لِأَنَّهُ لَا تَصِحُّ أَفْعَالُهُ إلَّا إذَا تَقَدَّمَ الْإِحْرَامُ، وَهِيَ رُكْنٌ فِيهِ، أَوْ شَرْطٌ عَلَى قَوْلَيْنِ.
ইমাম আল-কারখী থেকে তাকবিরে তাহরিমা থেকে (নিয়ত) বিলম্বিত করার বৈধতার কথা বর্ণিত হয়েছে। এ সম্পর্কে বলা হয়েছে: সানা পর্যন্ত, আবার বলা হয়েছে: তাআউউয পর্যন্ত, আবার বলা হয়েছে: রুকু পর্যন্ত এবং এও বলা হয়েছে যে: রুকু থেকে মাথা উঠানো পর্যন্ত; তবে এই সবগুলো মতই দুর্বল। নির্ভরযোগ্য মত হলো হাকিকি (প্রকৃত) বা হুকমি (আইনগত) ভাবে তাকবীরের সাথে নিয়ত থাকা আবশ্যক।

‘আল-জাওহারা’ গ্রন্থে রয়েছে: ইমাম আল-কারখীর মতটি গ্রহণযোগ্য নয়।

আর ওযুর ক্ষেত্রে নিয়ত সম্পর্কে ‘আল-জাওহারা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এর স্থান হলো মুখমণ্ডল ধোয়ার সময়।

তবে মুখমণ্ডল ধোয়ার আগের সুন্নাতগুলোর সওয়াব পাওয়ার জন্য কবজি পর্যন্ত হাত ধোয়ার সময় অর্থাৎ সুন্নাত আমলগুলোর শুরুতেই নিয়ত করা উচিত। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: সুন্নাতসমূহের ক্ষেত্রে গোসল ওযুর মতোই। আর তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে পবিত্র মাটিতে হাত রাখার সময় নিয়ত করবে।

আমি সওয়াবের উদ্দেশ্যে ইমামতির নিয়তের নির্দিষ্ট কোনো সময় পাইনি।

তবে সওয়াবের জন্য উচিত হলো কারো ইক্তিদা করার সময় নিয়ত করা, তার আগে নয়। যেমন মুক্তাদীর সালাতের শুরুতে জামায়াতের নিয়ত করা উচিত, যদিও তা ইমামের সালাতের মাঝপথে হয়। এটি সওয়াব পাওয়ার জন্য। তবে ইমামের ইক্তিদা সহীহ হওয়ার জন্য ‘ফাতহুল কাদির’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইমামের সালাত শুরু করার সময় ইক্তিদার নিয়ত করা উত্তম। যদি সে দাঁড়ানোর সময় নিয়ত করে—

এমতাবস্থায় যে সে জানে ইমাম এখনো শুরু করেননি, তবে তা জায়েজ। কিন্তু যদি সে এই ধারণায় নিয়ত করে যে ইমাম শুরু করেছেন অথচ ইমাম তখনো শুরু করেননি, তবে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; বলা হয়েছে যে: তা জায়েজ নয়।

আর পানি ‘মুসতামাল’ বা ব্যবহৃত হওয়ার জন্য নৈকট্য অর্জনের (তাক্কারুব) নিয়তের সময় হলো পানি তোলার সময়। আর যাকাতের নিয়তের সময় সম্পর্কে ‘আল-হিদায়া’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যাকাত প্রদানের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নিয়ত অথবা ওয়াজিব হওয়া সমপরিমাণ মাল পৃথক করার সময়ের নিয়ত ব্যতীত যাকাত আদায় জায়েজ নয়; কারণ যাকাত একটি ইবাদত, তাই নিয়ত এর জন্য শর্ত। মূলত নিয়ত কাজের সাথে যুক্ত থাকা আবশ্যক, তবে যেহেতু যাকাত প্রদানের কাজ বিচ্ছিন্নভাবে হয়ে থাকে, তাই সহজ করার লক্ষ্যে মাল পৃথক করে রাখার সময়ের নিয়তকেই যথেষ্ট মনে করা হয়েছে, যেমন রোযার ক্ষেত্রে অগ্রিম নিয়ত করা হয়। তারা যাকাত প্রদানের আগে—

মাল পৃথক করে রাখার সময়ের নিয়তকে বৈধ বলেছেন। কিন্তু প্রদানের পরে নিয়ত করলে কি তা জায়েজ হবে?

‘শারহুল মাজমা’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি কেউ নিয়ত ছাড়াই যাকাত প্রদান করে এবং পরে নিয়ত করে, তবে যদি সেই মাল তখনো ফকিরের নিকট বিদ্যমান থাকে তবে তা জায়েজ হবে, অন্যথায় নয়। আর সদকাতুল ফিতরের বিধান—

নিয়ত এবং ব্যয়ের খাতের ক্ষেত্রে যাকাতের মতোই। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: জিম্মি (অমুসলিম নাগরিক) সদকাতুল ফিতরের খাত হতে পারে, কিন্তু যাকাতের নয়।

আর রোযা হয় ফরয হবে নতুবা নফল। যদি ফরয হয়, তবে তা হয় রমযানের রোযা হবে নতুবা অন্য কিছু। যদি রমযানের রোযা হয়, তবে সূর্যাস্তের পর থেকে করা অগ্রিম নিয়ত জায়েজ, আবার (ভোরের) সময়ের সাথে মিল রেখে করা নিয়তও জায়েজ—যা মূল নিয়ম।

এমনকি রোযাদারদের জন্য সহজ করার লক্ষ্যে রোযা শুরু করার পর থেকে শরয়ি দ্বিপ্রহরের পূর্ব পর্যন্ত কৃত বিলম্বিত নিয়তও জায়েজ। আর যদি রমযানের রোযা ছাড়া অন্য ফরয রোযা হয় যেমন—কাযা, মান্নত বা কাফফারা, তবে সূর্যাস্ত থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত সময়ের অগ্রিম নিয়তে তা জায়েজ হবে।

আবার সুবহে সাদেকের সাথে মিল রেখে করা নিয়তেও তা জায়েজ হবে; কারণ ‘ফাতাওয়া কাজী খান’-এ যেমনটি বলা হয়েছে যে, মূলত কাজের সাথে নিয়ত থাকাটাই মূল নীতি। আর যদি নফল রোযা হয়, তবে তা আদায়ী রমযানের রোযার মতোই।

হজ্জের ক্ষেত্রে নিয়ত আমল শুরু করার পূর্বেই ইহরাম বাঁধার সময় করতে হয়; যা তালবিয়া পাঠের সময় অথবা হাদি (কুরবানীর পশু) সাথে নেওয়ার সময় করা নিয়ত। এক্ষেত্রে নিয়ত ও আমল একসাথে হওয়া বা নিয়ত বিলম্বে করা সম্ভব নয়; কারণ ইহরাম আগে না হলে হজ্জের কোনো কাজই সহীহ হয় না। আর এই ইহরাম হজ্জের একটি রুকন নাকি শর্ত—এ বিষয়ে দুটি মত রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩৮)
‌‌فَائِدَةٌ:

هَلْ تَصِحُّ نِيَّةُ عِبَادَةٍ، وَهِيَ فِي عِبَادَةٍ أُخْرَى؟ قَالَ فِي الْقُنْيَةِ: نَوَى فِي صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ، أَوْ نَافِلَةٍ الصَّوْمَ

تَصِحُّ نِيَّتُهُ وَلَا تَفْسُدُ صَلَاتُهُ.

 

‌‌الثَّامِنُ فِي بَيَانِ عَدَمِ اشْتِرَاطِهَا فِي الْبَقَاءِ

وَحُكْمِهَا مَعَ كُلِّ رُكْنٍ قَالُوا: فِي الصَّلَاةِ لَا تُشْتَرَطُ النِّيَّةُ فِي الْبَقَاءِ لِلْحَرَجِ كَذَا فِي النِّهَايَةِ، فَكَذَا فِي بَقِيَّةِ الْعِبَادَاتِ وَفِي الْقُنْيَةِ لَا تَلْزَمُ نِيَّةُ الْعِبَادَةِ فِي كُلِّ جُزْءٍ إنَّمَا تَلْزَمُ فِي جُمْلَةِ مَا يَفْعَلُهُ فِي كُلِّ حَالٍ، وَفِي الْبِنَايَةِ افْتَتَحَ الْمَكْتُوبَةَ

وَمِنْ الْغَرِيبِ مَا فِي الْمُجْتَبَى: وَلَا بُدَّ مِنْ نِيَّةِ الْعِبَادَةِ، وَهِيَ التَّذَلُّلُ، وَالْخُضُوعُ عَلَى أَبْلَغِ الْوُجُوهِ وَنِيَّةِ الطَّاعَةِ، وَهِيَ فِعْلُ مَا أَرَادَ اللَّهُ تَعَالَى مِنْهُ وَنِيَّةِ الْقُرْبَةِ، وَهِيَ طَلَبُ الثَّوَابِ بِالْمَشَقَّةِ فِي

فِعْلِهَا وَيَنْوِي أَنَّهُ يَفْعَلُهَا مَصْلَحَةً لَهُ فِي دِينِهِ

وَأَنْ يَكُونَ أَقْرَبَ إلَى مَا وَجَبَ عِنْدَهُ عَقْلًا مِنْ الْفِعْلِ وَأَدَاءِ الْأَمَانَةِ وَأَبْعَدَ عَمَّا حُرِّمَ عَلَيْهِ مِنْ الظُّلْمِ وَكُفْرَانِ النِّعْمَةِ، ثُمَّ هَذِهِ النِّيَّاتُ مِنْ أَوَّلِ الصَّلَاةِ إلَى آخِرِهَا خُصُوصًا عِنْدَ الِانْتِقَال مِنْ رُكْنٍ إلَى رُكْنٍ، وَلَا بُدَّ مِنْ نِيَّةِ الْعِبَادَةِ فِي كُلِّ رُكْنٍ، وَالنَّفَلُ كَالْفَرْضِ فِيهَا إلَّا فِي وَجْهٍ وَاحِدٍ وَهُوَ أَنْ يَنْوِيَ فِي النَّوَافِلِ أَنَّهَا لُطْفٌ فِي الْفَرَائِضِ وَتَسْهِيلٌ لَهَا وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْمَذْهَبَ الْمُعْتَمَدَ أَنَّ الْعِبَادَةَ الَّتِي هِيَ ذَاتُ أَفْعَالٍ يَكْتَفِي بِالنِّيَّةِ فِي أَوَّلِهَا، وَلَا يَحْتَاجُ إلَيْهَا فِي كُلِّ فِعْلٍ اكْتِفَاءً بِانْسِحَابِهَا عَلَيْهَا، إلَّا إذَا نَوَى بِبَعْضِ الْأَفْعَالِ غَيْرَ مَا وُضِعَ لَهُ، قَالُوا لَوْ طَافَ طَالِبًا لِغَرِيمٍ لَا

يُجْزِيهِ، وَلَوْ وَقَفَ كَذَلِكَ بِعَرَفَاتٍ أَجْزَأَهُ وَقَدَّمْنَاهُ.

وَالْفَرْقُ أَنَّ الطَّوَافَ عَهْدُ قُرْبَةٍ مُسْتَقِلَّةٍ بِخِلَافِ الْوُقُوفِ، وَفَرَّقَ الزَّيْلَعِيُّ بَيْنَهُمَا بِفَرْقٍ آخَرَ، وَهُوَ أَنَّ النِّيَّةَ عِنْدَ الْإِحْرَامِ تَضَمَّنَتْ جَمِيعَ مَا

يَفْعَلُ فِي الْإِحْرَامِ فَلَا يَحْتَاجُ إلَى تَجْدِيدِ النِّيَّةِ، وَالطَّوَافُ يَقَعُ بَعْدَ التَّحَلُّلِوَفِي الْإِحْرَامِ مِنْ وَجْهٍ فَاشْتُرِطَ فِيهِ أَصْلُ النِّيَّةِ لَا تَعْيِينُ الْجِهَةِ، وَقَالُوا: لَوْ طَافَ بِنِيَّةِ التَّطَوُّعِ فِي أَيَّامِ النَّحْرِ وَقَعَ عَنْ الْفَرْضِ، وَلَوْ طَافَ بَعْدَ مَا حَلَّ النَّفْرُ، وَنَوَى التَّطَوُّعَ أَجْزَأَهُ عَنْ الصَّدْرِ كَمَا فِي فَتْحِ الْقَدِيرِ

وَهُوَ مَبْنِيٌّ عَلَى أَنَّ نِيَّةَ الْعِبَادَةِ تَنْسَحِبُ عَلَى أَرْكَانِهَا

وَاسْتُفِيدَ مِنْهُ أَنْ نِيَّةَ التَّطَوُّعِ فِي بَعْضِ الْأَرْكَانِ لَا تُبْطِلُهُ،
উপকারিতা:

একটি ইবাদতরত অবস্থায় অন্য ইবাদতের নিয়ত করা কি সঠিক? ‘আল-কুনিয়া’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি কেউ ফরয বা নফল সালাতরত অবস্থায় সিয়ামের নিয়ত করে,

তবে তার নিয়ত সহীহ হবে এবং তার সালাত নষ্ট হবে না।

 

অষ্টম: ইবাদত অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে নিয়ত শর্ত না হওয়া এবং প্রত্যেক রুকনের সাথে এর বিধান বর্ণনায়

ফকীহগণ বলেছেন: কষ্টের কারণে সালাত অব্যাহত থাকার ক্ষেত্রে (পুরো সময় জুড়ে) নিয়ত থাকা শর্ত নয়, ‘আন-নিহায়া’ গ্রন্থে এরূপই রয়েছে। অন্যান্য ইবাদতের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনুরূপ। ‘আল-কুনিয়া’ গ্রন্থে আছে যে, ইবাদতের প্রত্যেকটি অংশে নিয়ত থাকা আবশ্যক নয়, বরং প্রতিটি অবস্থায় ব্যক্তি যা করছে তার সামগ্রিকতার ক্ষেত্রে নিয়ত থাকা আবশ্যক। ‘আল-বিনায়া’ গ্রন্থে আছে, কেউ ফরয সালাত শুরু করল...

‘আল-মুজতাবা’ গ্রন্থের একটি বিরল বিষয় হলো: ইবাদতের নিয়ত থাকা আবশ্যক, আর তা হলো চরম পর্যায়ের বিনয় ও আনুগত্য প্রকাশ করা; এবং আনুগত্যের নিয়ত করা, যা হলো আল্লাহ তাআলা তার নিকট যা চেয়েছেন তা সম্পাদন করা; এবং নৈকট্য লাভের নিয়ত করা, যা হলো কষ্ট সহ্য করে আমল করার মাধ্যমে সওয়াব অন্বেষণ করা। আর সে নিয়ত করবে যে, সে তার দ্বীনের কল্যাণে এটি করছে

এবং তা যেন বুদ্ধিবিবেচনায় তার ওপর অবধারিত কর্ম ও আমানত আদায়ের অধিক নিকটবর্তী হয় এবং তার ওপর হারামকৃত জুলুম ও নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা থেকে অধিক দূরবর্তী হয়। অতঃপর সালাতের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই নিয়তগুলো বিদ্যমান থাকবে, বিশেষ করে এক রুকন থেকে অন্য রুকনে স্থানান্তরের সময়। প্রত্যেক রুকনেই ইবাদতের নিয়ত থাকা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে নফল সালাত ফরযের ন্যায়, তবে একটি বিষয় ব্যতীত; তা হলো নফল সালাতের ক্ষেত্রে সে নিয়ত করবে যে, এটি ফরযের জন্য সহায়ক ও তা সহজকারী। সারকথা হলো, মাযহাবের নির্ভরযোগ্য মতানুসারে যে ইবাদত একাধিক কার্যাবলীর সমষ্টি, তাতে শুরুতে নিয়ত করাই যথেষ্ট। প্রতিটি কাজের জন্য নতুন করে নিয়তের প্রয়োজন নেই, কারণ শুরুর নিয়তটিই পরবর্তী কাজগুলোর ওপর পরিব্যাপ্ত থাকে; তবে যদি কোনো কাজের মাধ্যমে সে শরীয়ত নির্ধারিত উদ্দেশ্য ছাড়া ভিন্ন কিছুর নিয়ত করে (তবে ভিন্ন কথা)। ফকীহগণ বলেছেন, যদি কেউ পাওনাদারকে খোঁজার উদ্দেশ্যে তওয়াফ করে, তবে তা

যথেষ্ট হবে না। কিন্তু যদি একইভাবে (পাওনাদারকে খোঁজার উদ্দেশ্যে) আরাফায় অবস্থান করে, তবে তা যথেষ্ট হবে, যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

পার্থক্য এই যে, তওয়াফ একটি স্বতন্ত্র ইবাদত, পক্ষান্তরে উকুফ (আরাফায় অবস্থান) তেমন নয়। যায়লায়ী রহ. এ দুইয়ের মাঝে অন্য একটি পার্থক্য করেছেন, আর তা হলো: ইহরামের সময়কার নিয়ত ইহরাম অবস্থায় যা কিছু করা হয় তার সবটুকুকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই নিয়ত নবায়নের প্রয়োজন হয় না। তওয়াফ এক দিক থেকে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার পর সংঘটিত হয়, তাই এতে মূল নিয়ত শর্ত করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো দিক নির্ধারণ নয়। ফকীহগণ বলেছেন: যদি কেউ নহরের দিনগুলোতে নফলের নিয়তে তওয়াফ করে, তবে তা ফরয হিসেবে আদায় হয়ে যাবে। আর যদি কেউ ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার পর নফলের নিয়তে তওয়াফ করে, তবে তা তওয়াফে সদর (বিদায়ী তওয়াফ) হিসেবে যথেষ্ট হবে, যেমনটি ‘ফাতহুল ক্বাদীর’ গ্রন্থে রয়েছে।

এটি এই নীতির ওপর ভিত্তি করে যে, ইবাদতের নিয়ত তার রুকনগুলোর ওপর পরিব্যাপ্ত থাকে।

এখান থেকে আরও জানা গেল যে, কোনো কোনো রুকনের মধ্যে নফলের নিয়ত করা তাকে বাতিল করে দেয় না।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৩৯)
وَفِي الْقُنْيَةِ: وَإِنْ تَعَمَّدَ أَنْ لَا يَنْوِيَ الْعِبَادَةَ بِبَعْضِ مَا يَفْعَلُهُ مِنْ الصَّلَاةِ لَا يَسْتَحِقُّ الثَّوَابَ، ثُمَّ إنْ كَانَ ذَلِكَ فِعْلًا لَا تَتِمُّ الْعِبَادَةُ بِدُونِهِ فَسَدَتْ وَإِلَّا فَلَا، وَقَدْ أَسَاءَ (انْتَهَى)

قِيلَ عَلَيْهِ: لَا يَخْفَى أَنَّ الْمَذْكُورَ كَوْنُ طَوَافِ الرُّكْنِ يَتَأَدَّى بِنِيَّةِ التَّطَوُّعِ، فَإِنْ أَرَادَ بِقَوْلِهِ نِيَّةَ التَّطَوُّعِ فِي بَعْضِ الْأَرْكَانِ، أَيْ فِي حَقِّ بَعْضِ الْأَرْكَانِ، بِمَعْنَى أَنَّهُ يَتَأَدَّى بِنِيَّةِ التَّطَوُّعِ، فَهُوَ الْمُصَرَّحُ بِهِ كَمَا تَرَى، وَإِنْ أَرَادَ أَنَّ نِيَّةَ التَّطَوُّعِ فِي خِلَالِ بَعْضِ الْأَرْكَانِ، فَفِي اسْتِفَادَتِهِ مِنْهُ نَظَرٌ قَدْ أَسَاءَ

 

‌‌التَّاسِعُ فِي مَحَلِّهَا:

مَحَلُّهَا الْقَلْبُ فِي كُلِّ مَوْضِعٍ وَقَدَّمْنَا حَقِيقَتَهَا، وَهُنَا أَصْلَانِ:

الْأَوَّلُ أَنَّهُ‌‌ لَا يَكْفِي التَّلَفُّظُ بِاللِّسَانِ دُونَهُ

وَفِي الْقُنْيَةِ، وَالْمُجْتَبَى، وَمَنْ لَا يَقْدِرُ أَنْ يُحْضِرَ قَلْبَهُ لِيَنْوِيَ بِقَلْبِهِ، أَوْ يَشُكُّ فِي النِّيَّةِ يَكْفِيهِ التَّكَلُّمُ بِلِسَانِهِ؛ لِأَنَّهُ لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إلَّا وُسْعَهَا (انْتَهَى) .

ثُمَّ قَالَ فِيهَا: وَلَا يُؤَاخَذُ بِالنِّيَّةِ حَالَ سَهْوِهِ؛ لِأَنَّ مَا يَفْعَلُهُ مِنْ الصَّلَاةِ فِيمَا يَسْهُو مَعْفُوٌّ عَنْهُ وَصَلَاتُهُ مُجْزِيَةٌ، وَإِنْ لَمْ يَسْتَحِقَّ بِهَا ثَوَابًا (انْتَهَى) .

وَمِنْ فُرُوعِ هَذَا الْأَصْلِ أَنَّهُ لَوْ اخْتَلَفَ اللِّسَانُ، وَالْقَلْبُ فَالْمُعْتَبَرُ مَا فِي الْقَلْبِ، وَخَرَجَ عَنْ هَذَا الْأَصْلِ الْيَمِينُ لَوْ سَبَقَ لِسَانُهُ إلَى لَفْظِ الْيَمِينِ بِلَا قَصْدٍ

إنْ عُقِدَتْ الْكَفَّارَةُ، أَوْ قَصَدَ الْحَلِفَ عَلَى شَيْءٍ فَسَبَقَ لِسَانُهُ إلَى غَيْرِهِ، هَذَا فِي الْيَمِينِ بِاَللَّهِ تَعَالَى، وَأَمَّا فِي الطَّلَاقِ، وَالْعَتَاقِ فَيَقَعُ قَضَاءً لَا دِيَانَةً

وَمِنْ فُرُوعِهِ، لَوْ قَصَدَ بِلَفْظٍ غَيْرَ مَعْنَاهُ الشَّرْعِيِّ

وَإِنَّمَا قَصَدَ مَعْنًى آخَرَ كَلَفْظِ الطَّلَاقِ إذَا أَرَادَ بِهِ الطَّلَاقَ عَنْ وَثَاقٍ لَمْ يُقْبَلْ قَضَاءً وَيُدَيَّنُ وَفِي الْخَانِيَّةِ قَالَ لِعَبْدِهِ: أَنْتَ حُرٌّ وَقَالَ: قَصَدْت بِهِ عَنْ عَمَلِ كَذَا لَمْ يُصَدَّقْ قَضَاءً، وَقَدْ حَكَى فِي الْبَسِيطِ أَنَّ بَعْضَ الْوُعَّاظِ طَلَبَ مِنْ الْحَاضِرِينَ شَيْئًا فَلَمْ يُعْطُوهُ، فَقَالَ مُتَضَجِّرًا مِنْهُمْ: طَلَّقْتُكُمْ ثَلَاثًا، وَكَانَتْ زَوْجَتُهُ فِيهِمْ، وَهُوَ لَا يَعْلَمُ فَأَفْتَى إمَامُ الْحَرَمَيْنِ بِوُقُوعِ الطَّلَاقِ.

قَالَ الْغَزَالِيُّ: وَفِي الْقَلْبِ مِنْهُ شَيْءٌ (انْتَهَى)

قُلْت يَتَخَرَّجُ عَلَى مَا فِي فَتَاوَى قَاضِي خَانْ مِنْ الْعِتْقِ.

رَجُلٌ قَالَ: عَبِيدُ أَهْلِ بَلْخِي أَحْرَارٌ، وَقَالَ: عَبِيدُ أَهْلِ بَغْدَادَ أَحْرَارٌ وَلَمْ يَنْوِ عَبْدَهُ، وَهُوَ مِنْ أَهْلِ بَغْدَادَ، وَقَالَ: كُلُّ عَبِيدِ أَهْلِ بَلْخِي، أَوْ قَالَ: كُلُّ عَبِيدِ أَهْلِ بَغْدَادَ أَحْرَارٌ، أَوْ قَالَ: كُلُّ عَبْدٍ فِي الْأَرْضِ، أَوْ قَالَ: كُلُّ عَبْدٍ فِي الدُّنْيَا، قَالَ أَبُو يُوسُفَ رحمه الله: لَا يُعْتَقُ عَبْدُهُ، وَقَالَ مُحَمَّدٌ رحمه الله: يُعْتَقُ، وَعَلَى هَذَا الْخِلَافِ فِي الطَّلَاقِ، وَبِقَوْلِ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله أَخَذَ عِصَامُ بْنُ يُوسُفَ، وَبِقَوْلِ مُحَمَّدٍ أَخَذَ شَدَّادٌ.

، وَالْفَتْوَى عَلَى قَوْلِ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله،

وَلَوْ قَالَ: كُلُّ عَبْدٍ فِي هَذِهِ السِّكَّةِ وَعَبْدُهُ فِي السِّكَّةِ، أَوْ قَالَ: كُلُّ عَبْدٍ فِي الْمَسْجِدِ الْجَامِعِ حُرٌّ، وَهُوَ فِيهِ فَهُوَ عَلَى هَذَا الْخِلَافِ،

وَلَوْ قَالَ: كُلُّ عَبْدٍ فِي هَذِهِ الدَّارِ حُرٌّ وَعَبِيدُهُ فِيهَا يُعْتَقُ عَبِيدُهُ فِي قَوْلِهِمْ جَمِيعًا، وَلَوْ قَالَ: وَلَدُ آدَمَ كُلُّهُمْ أَحْرَارٌ لَا يُعْتَقُ عَبِيدُهُ فِي قَوْلِهِمْ (انْتَهَى) .
কুনিয়া গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: যদি কেউ নামাজের এমন কিছু কর্মের মাধ্যমে ইবাদতের নিয়ত না করার সংকল্প করে যা সে করছে, তবে সে সওয়াবের অধিকারী হবে না। অতঃপর, যদি সেটি এমন কোনো কাজ হয় যা ছাড়া ইবাদত সম্পন্ন হয় না, তবে ইবাদত বাতিল হয়ে যাবে; অন্যথায় বাতিল হবে না, তবে সে অন্যায় করেছে। (সমাপ্ত)

এর ওপর বলা হয়েছে: এটি অস্পষ্ট নয় যে, যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো রুকন তাওয়াফ নফলের নিয়তের মাধ্যমে আদায় হয়ে যায়। সুতরাং যদি তিনি তার উক্তির মাধ্যমে কোনো একটি রুকনের ক্ষেত্রে নফল নিয়তের কথা বুঝিয়ে থাকেন—অর্থাৎ কোনো একটি রুকনের হকের ক্ষেত্রে, এই অর্থে যে তা নফলের নিয়তে আদায় হয়ে যায়—তবে সেটি সুস্পষ্ট যেমনটি আপনি দেখতে পাচ্ছেন। আর যদি তিনি রুকনের মাঝখানে নফল নিয়তের সংকল্প বুঝিয়ে থাকেন, তবে তা থেকে এটি গ্রহণ করার বিষয়টি চিন্তাসাপেক্ষ; তিনি অন্যায় করেছেন।

 

‌‌নবম পরিচ্ছেদ: নিয়তের স্থান প্রসঙ্গে:

প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিয়তের স্থান হলো অন্তর। আমরা ইতিপূর্বে এর প্রকৃত রূপ আলোচনা করেছি। এখানে দুটি মূলনীতি রয়েছে:

প্রথমটি হলো:‌‌ অন্তর ছাড়া কেবল মুখে উচ্চারণ করা যথেষ্ট নয়।

কুনিয়া ও মুজতাবা গ্রন্থে রয়েছে, যে ব্যক্তি তার অন্তরকে উপস্থিত করতে অক্ষম যাতে সে অন্তরে নিয়ত করতে পারে, অথবা নিয়তের ব্যাপারে সন্দিহান হয়, তার জন্য মুখে উচ্চারণ করা যথেষ্ট; কারণ আল্লাহ কোনো সত্তাকে তার সাধ্যের অতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না। (সমাপ্ত)।

অতঃপর তাতে বলা হয়েছে: ভুলবশত কোনো কাজ করার সময় নিয়তের অনুপস্থিতির জন্য তাকে পাকড়াও করা হবে না; কেননা নামাজের মধ্যে ভুলের কারণে সে যা করে তা ক্ষমাযোগ্য এবং তার নামাজ যথেষ্ট হবে, যদিও এর মাধ্যমে সে সওয়াবের অধিকারী হবে না। (সমাপ্ত)।

এই মূলনীতির একটি শাখা হলো: যদি জিহ্বা ও অন্তরের মধ্যে অমিল হয়, তবে অন্তরে যা আছে সেটিই ধর্তব্য হবে। তবে এই মূলনীতি থেকে শপথের বিষয়টি ব্যতিক্রম হবে, যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে তার মুখে শপথের শব্দ চলে আসে।

যদি কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার মতো শপথ সংঘটিত হয়, অথবা কোনো জিনিসের ওপর শপথ করার ইচ্ছা করে কিন্তু তার মুখে অন্য কিছু চলে আসে, তবে এটি মহান আল্লাহর নামে শপথের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর তালাক ও দাসমুক্তির ক্ষেত্রে বিচারিক পরিমণ্ডলে তা কার্যকর হবে, কিন্তু ধর্মীয় পরিমণ্ডলে নয়।

এর আরেকটি শাখা হলো, যদি কেউ কোনো শব্দের মাধ্যমে তার শরয়ী অর্থ ছাড়া অন্য কোনো অর্থ ইচ্ছা করে।

যদি সে অন্য কোনো অর্থ ইচ্ছা করে, যেমন তালাক শব্দের মাধ্যমে সে যদি কোনো বন্ধন থেকে মুক্ত করা বুঝাতে চায়, তবে বিচারিক ক্ষেত্রে তা গ্রহণ করা হবে না, কিন্তু ধর্মীয়ভাবে তাকে সত্যবাদী গণ্য করা হবে। খানিয়া গ্রন্থে রয়েছে, এক ব্যক্তি তার গোলামকে বলল: "তুমি স্বাধীন", এবং বলল: "আমি এর মাধ্যমে অমুক কাজ থেকে অব্যাহতি বুঝিয়েছি", তবে বিচারিক ক্ষেত্রে তাকে সত্যবাদী গণ্য করা হবে না। বাসিত গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, জনৈক ওয়ায়েজ উপস্থিতদের কাছে কিছু চাইলেন কিন্তু তারা তাকে কিছু দিল না। তখন তিনি তাদের ওপর বিরক্ত হয়ে বললেন: "আমি তোমাদের তিন তালাক দিলাম", অথচ তাদের মধ্যে তার স্ত্রীও ছিল কিন্তু তিনি তা জানতেন না। এমতাবস্থায় ইমামুল হারামাইন তালাক কার্যকর হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন।

ইমাম গাজালি বলেছেন: এ ব্যাপারে আমার অন্তরে খটকা রয়েছে। (সমাপ্ত)।

আমি বলছি, কাজী খানের ফতোয়ায় দাসমুক্তির বিষয়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে এর সমাধান বের করা যেতে পারে।

এক ব্যক্তি বলল: "বলখবাসীদের গোলামরা স্বাধীন", অথবা বলল: "বাগদাদবাসীদের গোলামরা স্বাধীন", অথচ সে তার নিজ গোলামের নিয়ত করেনি এবং সে বাগদাদের অধিবাসী ছিল। অথবা সে বলল: "বলখবাসীদের সকল গোলাম স্বাধীন", অথবা বলল: "বাগদাদবাসীদের সকল গোলাম স্বাধীন", অথবা বলল: "পৃথিবীর সকল গোলাম স্বাধীন", অথবা বলল: "দুনিয়ার সকল গোলাম স্বাধীন"। এমতাবস্থায় ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) বলেছেন: তার গোলাম মুক্ত হবে না। আর ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) বলেছেন: মুক্ত হয়ে যাবে। তালাকের ক্ষেত্রেও এই একই মতভেদ। ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতটি ইসাম ইবনে ইউসুফ গ্রহণ করেছেন এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)-এর মতটি শাদ্দাদ গ্রহণ করেছেন।

ফতোয়া ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতের ওপর।

আর যদি সে বলে: "এই গলিতে থাকা প্রতিটি গোলাম স্বাধীন", অথচ তার গোলাম সেই গলিতেই আছে; অথবা বলল: "জামে মসজিদে থাকা প্রতিটি গোলাম স্বাধীন", অথচ সে সেখানে আছে; তবে এটিও উপরোক্ত মতভেদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

কিন্তু যদি সে বলে: "এই ঘরের প্রতিটি গোলাম স্বাধীন", এবং তার গোলামরা সেখানে থাকে, তবে তাদের সকলের মতেই তার গোলামরা মুক্ত হয়ে যাবে। আর যদি সে বলে: "আদম সন্তানরা সকলেই স্বাধীন", তবে তাদের কারো মতেই তার গোলামরা মুক্ত হবে না। (সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৪০)
فَمُقْتَضَاهُ أَنَّ الْوَاعِظَ إذَا كَانَ فِي دَارٍ طَلُقَتْ، وَإِنْ كَانَ فِي الْجَامِعِ، أَوْ السِّكَّةِ فَعَلَى الْخِلَافِ، وَالْأَوْلَى تَخْرِيجُهَا عَلَى مَسْأَلَةِ الْيَمِينِ لَوْ حَلَفَ لَا يُكَلِّمُ زَيْدًا فَسَلَّمَ عَلَى جَمَاعَةٍ هُوَ فِيهِمْ قَالُوا حَنِثَ، وَإِنْ نَوَاهُمْ دُونَهُ دُيِّنَ دِيَانَةً لَا قَضَاءً (انْتَهَى) .

فَعِنْدَ عَدَمِ نِيَّةِ الْوَاعِظِ يَحِقُّ الطَّلَاقُ عَلَيْهَا، فَإِنَّ فِي مَسْأَلَةِ الْيَمِينِ لَا فَرْقَ بَيْنَ كَوْنِهِ يَعْلَمُ أَنَّ زَيْدًا فِيهِمْ، أَوْ لَا

وَتَتَفَرَّعُ عَلَى هَذَا فُرُوعٌ لَوْ قَالَ لَهَا: يَا طَالِقُ، وَهُوَ اسْمُهَا وَلَمْ يَقْصِدْ

الطَّلَاقَ قَالُوا: لَا يَقَعُ كَيَا حُرُّ، وَهُوَ اسْمُهُ كَمَا فِي الْخَانِيَّةِ وَفَرَّقَ الْمَحْبُوبِيُّ فِي التَّلْقِيحِ بَيْنَ الطَّلَاقِ فَلَا يَقَعُ، وَبَيْنَ الْعِتْقِ فَيَقَعُ خِلَافُ الْمَشْهُورِ.

وَلَوْ نَجَّزَ الطَّلَاقَ، وَقَالَ: أَرَدْت بِهِ التَّعْلِيقَ عَلَى كَذَا لَمْ يُقْبَلُ

قَضَاءً وَيَدِينُ، وَلَوْ قَالَ: كُلُّ امْرَأَةٍ لِي طَالِقٌ، وَقَالَ: أَرَدْت غَيْرَك فُلَانَةَ لَمْ يُقْبَلْ كَذَلِكَ، وَفِي الْكَنْزِ لَوْ قَالَتْ: تَزَوَّجْتَ عَلَيَّ، فَقَالَ: كُلُّ امْرَأَةٍ لِي طَالِقٌ طَلُقَتْ الْمُحَلِّفَةُ، وَفِي شَرْحِ الْجَامِعِ لِقَاضِي خَانْ وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله أَنَّهَا لَا تَطْلُقُ وَبِهِ أَخَذَ مَشَايِخُنَا، وَفِي الْمَبْسُوطِ: وَقَوْلُ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله أَصَحُّ عِنْدِي وَلَوْ قِيلَ لَهُ: أَلَكَ امْرَأَةٌ غَيْرُ هَذِهِ الْمَرْأَةِ فَقَالَ: كُلُّ امْرَأَةٍ لِي طَالِقٌ لَا تَطْلُقُ هَذِهِ وَالْفَرْقُ بَيْنَهَا وَبَيْنَ مَسْأَلَةِ الْكَنْزِ مَذْكُورٌ فِي الْوَلْوَالِجيَّةِ.

وَقَدْ فَرَّقَ بَعْضُ الْفُضَلَاءِ قَائِلًا: لَعَلَّ الْفَرْقَ أَنَّ قَوْلَهُ كُلُّ امْرَأَةٍ لِي طَالِقٌ نَصٌّ فِي الْعُمُومِ وَلَيْسَ فِي اللَّفْظِ مَا يَصْرِفُهُ عَنْهُ بِخِلَافِ الْمَسْأَلَةِ الثَّانِيَةِ؛ لِأَنَّ قَوْلَ السَّائِلِ أَلَكَ امْرَأَةٌ غَيْرُ هَذِهِ؟ اشْتَمَلَ عَلَى الصَّارِفِ، وَهُوَ قَوْلُهُ: غَيْرُ هَذِهِ فَكَأَنَّهُ قَالَ: كُلُّ امْرَأَةٍ لِي غَيْرَهَا عَلَى أَنَّ الْقَوْلَ بِعَدَمِ دُخُولِ الزَّوْجَةِ الْمُخَاطَبَةِ فِي مَسْأَلَةِ الْكَنْزِ غَيْرَ بَعِيدٍ؛ لِأَنَّ الْكَلَامَ يَتَقَيَّدُ بِقَرِينَةِ الْحَالِ كَمَا فِي يَمِينِ الْفَوْرِ، وَهِيَ مَسْأَلَةٌ يُقَالُ: تَغَدَّ مَعِي؛ فَقَالَ: إنْ

تَغَدَّيْت فَعَبْدِي حُرٌّ مَثَلًا حَيْثُ يَتَقَيَّدُ بِقَرِينَةِ الْحَالِ، أَوْ جَعَلَ الْمُرَادَ مِنْهُ إنْ تَغَدَّيْت مَعَك لِيَحْصُلَ الْمُرَادُ بِقَوْلِهِ فِي جَوَابِ قَوْلِهَا: تَزَوَّجْت عَلَيَّ امْرَأَةً، فَقَالَ: كُلُّ امْرَأَةٍ أَتَزَوَّجُهَا عَلَيْك طَالِقٌ، فَلَا تَطْلُقُ الْمُخَاطَبَةُ، وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْقَوْلَ بِعَدَمِ الْفَرْقِ لَهُ وَجْهٌ وَجِيهٌ. وَفِي الْكَنْزِ كُلُّ مَمْلُوكٍ لِي حُرٌّ، عَتَقَ عَبْدُهُ الْقِنُّ وَأُمَّهَاتُ، أَوْلَادِهِ وَمُدَبِّرُوهُ، وَفِي شَرْحِ الزَّيْلَعِيِّ: وَلَوْ قَالَ: أَرَدْت بِهِ الرِّجَالَ دُونَ النِّسَاءِ دِينَ، وَكَذَا لَوْ نَوَى غَيْرَ الْمُدَبِّرِ، وَلَوْ قَالَ: نَوَيْت السُّودَ دُونَ الْبِيضِ، أَوْ عَكْسَهُ لَا يَدَيْنِ؛ لِأَنَّ الْأَوَّلَ تَخْصِيصُ الْعَامِّ وَالثَّانِيَ تَخْصِيصُ الْوَصْفِ،

وَلَا عُمُومَ لِغَيْرِ اللَّفْظِ، فَلَا تَعْمَلُ فِيهِ نِيَّةُ التَّخْصِيصِ

وَلَوْ نَوَى النِّسَاءَ دُونَ الرِّجَالِ لَمْ يُدَيَّنْ وَفِي الْكَنْزِ: إنْ لَبِسْت، أَوْ أَكَلْت، أَوْ شَرِبْتُ وَنَوَى مُعَيَّنًا لَمْ يُصَدَّقْ أَصْلًا وَلَوْ زَادَ ثَوْبًا، أَوْ طَعَامًا، أَوْ شَرَابًا دُيِّنَ، وَفِي الْمُحِيطِ: لَوْ نَوَى جَمِيعَ الْأَطْعِمَةِ فِي لَا يَأْكُلُ طَعَامًا وَجَمِيعَ مِيَاهِ الْعَالَمِ فِي: لَا يُشْرِبُ شَرَابًا

يُصَدَّقُ قَضَاءً (انْتَهَى)

وَفِي الْكَشْفِ الْكَبِيرِ يُصَدَّقُ دَيَّانَةً لَا قَضَاءً وَقِيلَ قَضَاءً أَيْضًا.
এর দাবি হলো এই যে, ওয়াজকারী যদি ঘরে থাকাবস্থায় এমনটি বলেন তবে তালাক হয়ে যাবে। আর যদি তিনি মসজিদে বা রাস্তায় থাকেন তবে তাতে মতভেদ রয়েছে। এক্ষেত্রে উত্তম হলো একে শপথের মাসআলার ওপর ভিত্তি করে বের করা (তাখরিজ); যেমন কেউ যদি শপথ করে যে সে যায়িদের সাথে কথা বলবে না, অতঃপর সে এমন এক জামাতের ওপর সালাম দিল যাদের মধ্যে যায়িদও রয়েছে—ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন যে, সে শপথ ভঙ্গকারী হবে। আর যদি সে যায়িদ ছাড়া কেবল অন্যদের নিয়ত করে থাকে, তবে তা দিয়ানতদারির (আল্লাহর নিকট) ক্ষেত্রে কবুল করা হবে, কিন্তু বিচারিক (কাজা) ক্ষেত্রে নয়। (সমাপ্ত)।

সুতরাং ওয়াজকারীর কোনো নির্দিষ্ট নিয়ত না থাকলে তার স্ত্রীর ওপর তালাক কার্যকর হওয়া সাব্যস্ত হবে। কেননা শপথের মাসআলায় যায়িদ সেখানে উপস্থিত আছে কি নেই—ওয়াজকারী তা জানত কি না, তার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

এর ওপর ভিত্তি করে কিছু আনুষঙ্গিক মাসআলা (ফুরু) নির্গত হয়; যেমন—যদি সে তার স্ত্রীকে বলে: 'হে তালাকপ্রাপ্তা' (তালিবা), অথচ এটিই তার নাম এবং সে তালাকের উদ্দেশ্য করেনি, তবে ফুকাহায়ে কেরাম বলেছেন: তালাক পতিত হবে না। যেমন বলা হয় 'হে মুক্ত' (হুর), যা তার নাম; যেমন 'খানিয়া' গ্রন্থে রয়েছে। তবে মাহবুবি 'তালিকহ' গ্রন্থে তালাক ও দাসের মুক্তির মধ্যে পার্থক্য করেছেন; অর্থাৎ তালাক পতিত হবে না কিন্তু দাসের মুক্তি ঘটে যাবে, যা প্রসিদ্ধ মতের পরিপন্থী।

আর যদি সে স্পষ্টভাবে তালাক প্রদান করে এবং পরে বলে: 'আমি এর দ্বারা অমুক বিষয়ের ওপর ঝুলে থাকা (তালিক) উদ্দেশ্য করেছিলাম', তবে বিচারিক ক্ষেত্রে (কাজা) তা গ্রহণ করা হবে না, তবে দিয়ানতদারির ক্ষেত্রে সে সত্য বলে গণ্য হবে। আর যদি সে বলে: 'আমার প্রত্যেক স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা', আর পরে বলে: 'আমি তোমাকে ছাড়া অমুককে উদ্দেশ্য করেছিলাম', তবে একইভাবে তা বিচারিক ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হবে না। 'কানজ' গ্রন্থে রয়েছে—যদি স্ত্রী বলে: 'আপনি আমার ওপর (সতীন হিসেবে) বিয়ে করেছেন', তখন স্বামী বলল: 'আমার প্রত্যেক স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা', তবে যে স্ত্রী তাকে দিয়ে শপথ করিয়েছে তার ওপর তালাক হয়ে যাবে। 'কাজি খান'-এর 'শারহুল জামে' গ্রন্থে ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত আছে যে, ওই স্ত্রীর তালাক হবে না এবং আমাদের মাশায়েখগণ এটিই গ্রহণ করেছেন। 'মাবসুত' গ্রন্থে বলা হয়েছে: ইমাম আবু ইউসুফ (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতটিই আমার নিকট অধিক বিশুদ্ধ। আর যদি তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়: 'এই স্ত্রী ছাড়া আপনার কি অন্য কোনো স্ত্রী আছে?' উত্তরে সে বলল: 'আমার প্রত্যেক স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা', তবে এই স্ত্রীর তালাক হবে না। এই মাসআলা এবং 'কানজ'-এর মাসআলার মধ্যে পার্থক্য 'ওয়ালওয়ালিজিয়া' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

জনৈক শ্রেষ্ঠ আলেম পার্থক্য নির্দেশ করে বলেছেন: সম্ভবত পার্থক্যটি হলো—স্বামীর উক্তি 'আমার প্রত্যেক স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা' ব্যাপকতার (উমুম) ক্ষেত্রে একটি অকাট্য দলিল, এবং শব্দে এমন কিছু নেই যা একে ব্যাপকতা থেকে ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু দ্বিতীয় মাসআলাটি ভিন্ন; কারণ প্রশ্নকারীর কথা 'আপনার কি এই স্ত্রী ছাড়া অন্য কেউ আছে?' এর মধ্যে পরিবর্তনের কারণ বিদ্যমান, আর তা হলো তার কথা 'এই স্ত্রী ছাড়া'। ফলে বিষয়টি এমন দাঁড়াল যেন সে বলেছে: 'তাকে ছাড়া আমার অন্য সব স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা'। তদুপরি, 'কানজ'-এর মাসআলায় সম্বোধিত স্ত্রীর অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার মতটি অগ্রহণযোগ্য নয়; কারণ কথা পারিপার্শ্বিক অবস্থার (কারিনায়ে হাল) দ্বারা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, যেমনটি হয় তাৎক্ষণিক শপথের (ইয়ামিনে ফাউর) মাসআলায়। আর তা এমন একটি মাসআলা যেখানে বলা হয়: 'আমার সাথে দুপুরের খাবার খাও'; সে উত্তরে বলল: 'যদি আমি দুপুরের খাবার খাই তবে উদাহরণস্বরূপ—আমার দাস মুক্ত'। সেখানে কথাটি পারিপার্শ্বিক অবস্থার দ্বারা সীমাবদ্ধ হয়ে যায়। অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য সাব্যস্ত করা হবে—'যদি আমি তোমার সাথে দুপুরের খাবার খাই', যাতে তার স্ত্রীর কথার জবাবে উদ্দেশ্য হাসিল হয়। যেমন স্ত্রী বলল: 'আপনি আমার ওপর অন্য স্ত্রী বিয়ে করেছেন', স্বামী উত্তরে বলল: 'যে স্ত্রীই আমি তোমার ওপর বিয়ে করব সে তালাকপ্রাপ্তা', তবে সম্বোধিত স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে না। সারকথা হলো, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য না থাকার মতটির একটি বলিষ্ঠ দিক রয়েছে। 'কানজ' গ্রন্থে আছে: 'আমার মালিকানাধীন সবাই মুক্ত', তবে তার পূর্ণ দাস, উম্মে ওয়ালাদ এবং মুদাব্বার দাসগণ মুক্ত হয়ে যাবে। 'শারহু জাইলায়ি'-তে আছে: যদি সে বলে—'আমি এর দ্বারা পুরুষ দাসদের উদ্দেশ্য করেছি, নারীদের নয়', তবে তা দিয়ানতদারির ক্ষেত্রে গৃহীত হবে। অনুরূপভাবে সে যদি মুদাব্বার ছাড়া অন্যদের নিয়ত করে (তবেও তা গৃহীত হবে)। আর যদি সে বলে—'আমি কালোদের নিয়ত করেছি, সাদাদের নয়' অথবা এর উল্টোটা, তবে দিয়ানতদারির ক্ষেত্রে তা গৃহীত হবে না; কারণ প্রথমটি হলো ব্যাপক শব্দকে নির্দিষ্ট করা (তাখসিসুল আম), আর দ্বিতীয়টি হলো গুণের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট করা (তাখসিসুস সিফাত)।

আর শব্দ ছাড়া অন্য কিছুর ব্যাপকতা নেই, তাই তাতে নির্দিষ্টকরণের নিয়ত কার্যকর হবে না। আর যদি সে পুরুষ ছাড়া কেবল নারীদের নিয়ত করে, তবে দিয়ানতদারির ক্ষেত্রে তা গৃহীত হবে না। 'কানজ' গ্রন্থে আছে: 'যদি আমি পরিধান করি, বা আহার করি, বা পান করি' এবং সে নির্দিষ্ট কিছুর নিয়ত করে, তবে সে মোটেও সত্য বলে গণ্য হবে না। কিন্তু যদি সে সাথে 'পোশাক', 'খাবার' বা 'পানীয়' শব্দ যোগ করে, তবে দিয়ানতদারির ক্ষেত্রে সত্য বলে গণ্য হবে। 'মুহিত' গ্রন্থে আছে: 'সে খাবার খাবে না'—এক্ষেত্রে যদি সে সব ধরনের খাবার নিয়ত করে এবং 'সে পানীয় পান করবে না'—এক্ষেত্রে যদি সে পৃথিবীর সমস্ত পানীয় নিয়ত করে,

তবে বিচারিক ক্ষেত্রে তাকে সত্য বলে গণ্য করা হবে। (সমাপ্ত)

'কাশফুল কবির' গ্রন্থে আছে যে, সে দিয়ানতদারির ক্ষেত্রে সত্য বলে গণ্য হবে কিন্তু বিচারিক ক্ষেত্রে নয়; আবার কেউ কেউ বলেছেন, বিচারিক ক্ষেত্রেও সত্য বলে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ১) আল-আশবাহ ওয়ান নাযাইর - ইবনে নুজাইম (পৃষ্ঠা: ৪১)
وَفِي الْكَنْزِ وَلَوْ قَالَ لِمَوْطُوءَتِهِ: أَنْتِ طَالِقٌ ثَلَاثًا لِلسُّنَّةِ وَقَعَتْ عِنْدَ كُلِّ طُهْرٍ، وَإِنْ نَوَى أَنْ يَقَعَ الثَّلَاثُ السَّاعَةَ

لَوْ عِنْدَ كُلِّ شَهْرٍ وَاحِدَةٌ صَحَّتْ نِيَّتُهُ (انْتَهَى) ، وَفِي شَرْحِهِ أَنْتِ طَالِقٌ لِلسُّنَّةِ وَنَوَى ثَلَاثًا، أَوْ مُتَفَرِّقَةً عَلَى الْأَطْهَارِ صَحَّ خِلَافًا لِصَاحِبِ الْهِدَايَةِ فِي النِّيَّةِ الْجُمْلَةِ.

وَفِي الْخَانِيَّةِ: وَلَوْ جَمَعَ بَيْنَ مَنْكُوحَتِهِ وَرَجُلٍ فَقَالَ: إحْدَاكُمَا طَالِقٌ لَا يَقَعُ الطَّلَاقُ عَلَى امْرَأَتِهِ فِي قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ رحمه الله وَعَنْ أَبِي يُوسُفَ رحمه الله أَنَّهُ يَقَعُ.

، وَلَوْ جَمَعَ بَيْنَ امْرَأَتِهِ وَأَجْنَبِيَّةٍ وَقَالَ:

طَلَّقْت أَحَدَيْكُمَا طَلُقَتْ امْرَأَتُهُ

وَلَوْ قَالَ: إحْدَاكُمَا طَالِقٌ وَلَمْ يَنْوِ شَيْئًا لَا تَطْلُقُ امْرَأَتُهُ وَعَنْهُمَا أَنَّهَا تَطْلُقُ، وَلَوْ جَمَعَ بَيْنَ امْرَأَتِهِ وَمَا لَيْسَ بِمَحَلٍّ لِلطَّلَاقِ كَالْبَهِيمَةِ، وَالْحَجَرِ وَقَالَ: إحْدَاكُمَا طَالِقٌ طَلُقَتْ امْرَأَتُهُ فِي قَوْلِ أَبِي حَنِيفَةَ وَأَبِي يُوسُفَ رحمه الله، وَقَالَ مُحَمَّدٌ رحمه الله: لَا تَطْلُق

وَلَوْ جَمَعَ بَيْنَ امْرَأَتِهِ الْحَيَّةِ، وَالْمَيِّتَةِ، وَقَالَ: إحْدَاكُمَا طَالِقٌ لَا تَطْلُقُ الْحَيَّةُ (انْتَهَى)

وَلَا يَخْفَى أَنَّهُ إذَا نَوَى عَدَمَهُ فِيمَا قُلْنَا بِالْوُقُوعِ فِيهِ أَنَّهُ يُدَيَّنُ.

، وَفِيهَا لَوْ قَالَ لَهَا: يَا مُطَلَّقَةُ إنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا زَوْجٌ طَلَّقْتهَا قَبْلَهُ

أَوْ كَانَ لَهَا زَوْجٌ لَكِنْ مَاتَ وَقَعَ الطَّلَاقُ عَلَيْهَا، وَإِنْ كَانَ لَهَا زَوْجٌ طَلَّقَهَا قَبْلَهُ، إنْ لَمْ يَنْوِ الْإِخْبَارَ طَلُقَتْ

وَإِنْ نَوَى بِهِ الْإِخْبَارَ صُدِّقَ دِيَانَةً وَقَضَاءً عَلَى الصَّحِيحِ وَلَوْ نَوَى بِهِ الشَّتْمَ دِينَ فَقَطْ.

 

‌‌الْأَصْلُ الثَّانِي مِنْ التَّاسِعِ: وَهُوَ أَنَّهُ لَا يُشْتَرَطُ مَعَ نِيَّةِ الْقَلْبِ التَّلَفُّظُ فِي جَمِيعِ الْعِبَادَاتِ؛ وَلِذَا قَالَ فِي الْمَجْمَعِ: وَلَا مُعْتَبَرَ بِاللِّسَانِ، وَهَلْ

يُسْتَحَبُّ التَّلَفُّظُ، أَوْ يُسَنُّ، أَوْ يُكْرَهُ؟ أَقُولُ: اخْتَارَ فِي الْهِدَايَةِ الْأَوَّلَ لِمَنْ لَمْ تَجْتَمِعْ عَزِيمَتُهُ وَفِي فَتْحِ الْقَدِيرِ لَمْ يُنْقَلْ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم التَّلَفُّظُ بِالنِّيَّةِ لَا فِي حَدِيثٍ صَحِيحٍ وَلَا فِي ضَعِيفٍ

وَزَادَ ابْنُ أَمِيرِ الْحَاجِّ أَنَّهُ لَمْ يُنْقَلْ عَنْ الْأَئِمَّةِ الْأَرْبَعَةِ، وَفِي الْمُفِيدِ كَرِهَ بَعْضُ مَشَايِخِنَا النُّطْقَ بِاللِّسَانِ، وَرَآهُ الْآخَرُونَ سُنَّةً، وَفِي الْمُحِيطِ الذِّكْرُ بِاللِّسَانِ سُنَّةٌ فَيَنْبَغِي أَنْ يَقُولَ: اللَّهُمَّ إنِّي أُرِيدُ صَلَاةَ كَذَا فَيَسِّرْهَا لِي وَتَقَبَّلْهَا مِنِّي، وَنَقَلُوا فِي كِتَابِ الْحَجِّ أَنَّ طَلَبَ التَّيْسِيرِ لَمْ يُنْقَلْ إلَّا فِي الْحَجِّ بِخِلَافِ بَقِيَّةِ الْعِبَادَاتِ، وَقَدْ حَقَقْنَاهُ فِي شَرْحِ الْكَنْزِ وَفِي الْقُنْيَةِ، وَالْمُجْتَبَى، وَالْمُخْتَارُ أَنَّهُ مُسْتَحَبٌّ وَخَرَجَ عَنْ هَذَا الْأَصْلِ مَسَائِلُ: مِنْهَا النَّذْرُ لَا تَكْفِي فِي إيجَابِهِ النِّيَّةُ بَلْ لَا بُدَّ مِنْ التَّلَفُّظِ بِهِ صَرَّحُوا بِهِ فِي بَابِ الِاعْتِكَافِ.
কানয গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, যদি কোনো ব্যক্তি তার সহবাসকৃত স্ত্রীকে বলে: 'সুন্নাত অনুযায়ী তোমাকে তিন তালাক', তবে প্রতি তুহরে (পবিত্রাবস্থায়) একটি করে তালাক পতিত হবে। আর যদি সে একই সময়ে তিন তালাক পতিত হওয়ার নিয়ত করে

কিংবা প্রতি মাসে একটি করে হওয়ার নিয়ত করে, তবে তার নিয়ত সহীহ হবে (সমাপ্ত)। এর ব্যাখ্যা গ্রন্থে (শারহ) আছে, 'সুন্নাত অনুযায়ী তুমি তালাকপ্রাপ্তা' বলে যদি তিন তালাকের নিয়ত করে অথবা পবিত্রাবস্থাগুলোতে পৃথক পৃথক হওয়ার নিয়ত করে, তবে তা সহীহ হবে; যা ঢালাও নিয়তের ক্ষেত্রে হিদায়া গ্রন্থকারের মতের পরিপন্থী।

খানিয়া গ্রন্থে আছে: যদি কেউ তার বিবাহিতা স্ত্রী এবং একজন পুরুষকে একত্রে সম্বোধন করে বলে: 'তোমাদের একজন তালাকপ্রাপ্তা', তবে ইমাম আবু হানিফা (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে তার স্ত্রীর ওপর তালাক পতিত হবে না। আর ইমাম আবু ইউসুফ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) থেকে বর্ণিত আছে যে, তালাক পতিত হবে।

আর যদি সে তার স্ত্রী এবং একজন পরনারীকে একত্রে সম্বোধন করে বলে:

'আমি তোমাদের একজনকে তালাক দিলাম', তবে তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে।

যদি সে বলে: 'তোমাদের একজন তালাকপ্রাপ্তা' এবং কোনো নিয়ত না করে, তবে তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে না। আর তাঁদের (সাহেবাইন) মতে সে তালাকপ্রাপ্তা হবে। আর যদি সে তার স্ত্রী এবং তালাক গ্রহণের অযোগ্য কোনো কিছুকে (যেমন কোনো পশু বা পাথর) একত্রে সম্বোধন করে বলে: 'তোমাদের একজন তালাকপ্রাপ্তা', তবে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ (রহমতুল্লাহি আলাইহি)-এর মতে তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে। ইমাম মুহাম্মদ (রহমতুল্লাহি আলাইহি) বলেছেন: তালাক হবে না।

যদি সে তার জীবিত স্ত্রী এবং মৃত স্ত্রীকে একত্রে সম্বোধন করে বলে: 'তোমাদের একজন তালাকপ্রাপ্তা', তবে জীবিত স্ত্রী তালাকপ্রাপ্তা হবে না (সমাপ্ত)।

এটা অস্পষ্ট নয় যে, যেখানে আমরা তালাক পতিত হওয়ার কথা বলেছি, সেখানে যদি সে তালাক না হওয়ার নিয়ত করে, তবে দিয়ানতদারীর (আল্লাহর নিকট জবাবদিহিতার) ক্ষেত্রে তার কথা গ্রহণ করা হবে।

উক্ত গ্রন্থে আরও আছে, যদি সে তাকে বলে: 'হে তালাকপ্রাপ্তা!', এমতাবস্থায় যদি আগে তার এমন কোনো স্বামী না থেকে থাকে যে তাকে তালাক দিয়েছে

অথবা তার স্বামী ছিল কিন্তু সে মারা গেছে, তবে তার ওপর তালাক পতিত হবে। আর যদি আগে তার এমন স্বামী থেকে থাকে যে তাকে তালাক দিয়েছে, এমতাবস্থায় সংবাদ দেওয়ার (পূর্বের কথা জানানোর) নিয়ত না করলে তালাক হয়ে যাবে।

আর যদি সে এর দ্বারা সংবাদ দেওয়ার নিয়ত করে, তবে বিশুদ্ধ মতানুযায়ী দিয়ানতদারী ও বিচারিক—উভয় দিক থেকেই তাকে সত্যবাদী গণ্য করা হবে। আর যদি সে এর মাধ্যমে গালি দেওয়ার নিয়ত করে, তবে শুধু দিয়ানতদারীর ক্ষেত্রে তালাক না হওয়ার বিষয়টি গৃহীত হবে।

 

‌‌নবম অধ্যায়ের দ্বিতীয় মূলনীতি: তা হলো সমস্ত ইবাদতে অন্তরের নিয়তের সাথে মুখে উচ্চারণ করা শর্ত নয়। এই কারণেই 'মাজমা' গ্রন্থে বলা হয়েছে: মুখে উচ্চারণের কোনো নির্ভরযোগ্যতা নেই। তবে মুখে উচ্চারণ করা কি

মুস্তাহাব, নাকি সুন্নাত, নাকি মাকরূহ? আমি বলব: 'হিদায়া' গ্রন্থে প্রথমটি (মুস্তাহাব) পছন্দ করা হয়েছে তাদের জন্য যাদের সংকল্প দৃঢ় হয় না। 'ফাতহুল কাদির' গ্রন্থে আছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে কোনো সহীহ বা যঈফ হাদিসেই নিয়ত মুখে উচ্চারণ করার কথা বর্ণিত হয়নি।

ইবনুল আমিরুল হাজ্জ আরও যোগ করেছেন যে, এটি চার ইমাম থেকেও বর্ণিত হয়নি। 'মুফিদ' গ্রন্থে আছে, আমাদের কোনো কোনো মাশায়েখ মুখে উচ্চারণ করাকে মাকরূহ বলেছেন, আবার অন্যরা একে সুন্নাত মনে করেছেন। 'মুহিত' গ্রন্থে আছে, মুখে যিকির করা সুন্নাত, তাই এভাবে বলা উচিত: 'হে আল্লাহ! আমি অমুক নামাজের ইচ্ছা করছি, আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।' ফুকাহায়ে কেরাম হজ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, 'সহজ করে দেওয়ার' প্রার্থনা হজের ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য কোনো ইবাদতে বর্ণিত হয়নি। আমি 'কানয'-এর ব্যাখ্যায় এটি বিস্তারিতভাবে প্রমাণ করেছি। 'কুনিয়া' ও 'মুজতবা' গ্রন্থে আছে, পছন্দনীয় মত হলো এটি মুস্তাহাব। এই মূলনীতি থেকে কিছু মাসআলা ব্যতিক্রম: এর মধ্যে রয়েছে মানত (নযর); যা ওয়াজিব হওয়ার জন্য কেবল নিয়ত যথেষ্ট নয়, বরং মুখে উচ্চারণ করা আবশ্যক। ইতিকাফ অধ্যায়ে ফুকাহায়ে কেরাম এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন।