(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: -)
إحكام الأحكام شرح عمدة الأحكام   (ابن دقيق العيد)

القسم: شروح الحديث


الكتاب: إحكام الإحكام شرح عمدة الأحكام

المؤلف: تقي الدين ابن دقيق العيد (625 - 702 هـ)

الناشر: دار عالم الكتب بيروت - بالاتفاق مع دار الكتب السلفية بالقاهرة

عام النشر: 1407 هـ - 1987 م

عدد الأجزاء: 2

وهذه الطبعة: إعادةُ صَفّ لنشرة مطبعة السنة المحمدية، بحرف جديد وترقيم صفحات مختلف

والتي هي بتحقيق وتعليق: محمد حامد الفقي [ت 1378 هـ]

وشاركه في تحقيقها ومراجتها وكتب مُقدّمتَها: أحمد محمد شاكر [ت 1377 هـ؛ انظر ص 9 و 15 - 17 من المقدمة]

[تنبيه]:

نُسِب هذا التحقيق في بعض المطبوعات للشيخ أحمد شاكر (منفرِدًا)! وفيه نظَر كما سبق، بل إن الشيخ شاكر نفسه قد صَرّح بنسبته أصالةً للشيخ الفقي في تعليقه على مسند أحمد

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম   (ইবনু দাকীকিল ঈদ)

বিভাগ: হাদিসের ব্যাখ্যাগ্রন্থ


গ্রন্থ: ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম

লেখক: তাকিউদ্দীন ইবনু দাকীকিল ঈদ (৬২৫ - ৭০২ হিজরি)

প্রকাশক: দারু আলামিল কুতুব বৈরুত - কায়রোর দারুল কুতুব আস-সালাফিয়্যাহ-এর সাথে যৌথভাবে

প্রকাশের বছর: ১৪০৭ হিজরি - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

এই সংস্করণটি: এটি সুন্নাহ মুহাম্মাদিয়্যাহ প্রেসের সংস্করণের একটি পুনর্মুদ্রণ, যা নতুন হরফ এবং ভিন্ন পৃষ্ঠাসংখ্যায় প্রকাশিত

যার তাহকীক ও তালীক করেছেন: মুহাম্মাদ হামিদ আল-ফিকী [মৃত্যু ১৩৭৮ হিজরি]

তার সাথে তাহকীক ও পুনর্নিরীক্ষণে অংশগ্রহণ করেছেন এবং এর ভূমিকা লিখেছেন: আহমাদ মুহাম্মাদ শাকির [মৃত্যু ১৩৭৭ হিজরি; ভূমিকার ৯ এবং ১৫ - ১৭ নম্বর পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য]

[সতর্কীকরণ]:

কিছু মুদ্রণে এই সম্পাদনাটি শায়খ আহমাদ শাকিরের দিকে (এককভাবে) সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে! পূর্বে যেমনটি বলা হয়েছে এতে বিতর্কের অবকাশ রয়েছে, বরং শায়খ শাকির নিজেই মুসনাদে আহমাদ-এর টীকায় এটি মূলত শায়খ আল-ফিকীর কাজ বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।

[গ্রন্থের পৃষ্ঠাসংখ্যা মূল মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৫৯)
‌‌[كِتَابُ الطَّهَارَةِ] ‌‌[حَدِيثُ إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ]

1 - الْحَدِيثُ الْأَوَّلُ: عَنْ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ «إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» وَفِي رِوَايَةٍ: «بِالنِّيَّةِ وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى، فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إلَى مَا هَاجَرَ إلَيْهِ» ..

ـــــــــــــــــــــــــــــ

أَبُو حَفْصٍ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ بْنِ نُفَيْلِ بْنِ عَبْدِ الْعُزَّى بْنِ رِيَاحٍ بِكَسْرِ الرَّاءِ الْمُهْمَلَةِ بَعْدَهَا يَاءٌ آخِرُ الْحُرُوفِ وَبَعْدَهَا حَاءٌ مُهْمَلَةٌ ابْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرْطِ بْنِ رَزَاحٍ بِفَتْحِ الرَّاءِ الْمُهْمَلَةِ بَعْدَهَا زَاي مُعْجَمَةٍ وَحَاءٍ مُهْمَلَةٍ ابْنِ عَدِيّ بْنِ كَعْبٍ الْقُرَشِيُّ الْعَدَوِيُّ يَجْتَمِعُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي كَعْبِ بْنِ لُؤَيٍّ أَسْلَمَ بِمَكَّةَ قَدِيمًا، وَشَهِدَ الْمَشَاهِدَ كُلَّهَا، وَوَلِيَ الْخِلَافَةَ بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ الصِّدِّيقِ، وَقُتِلَ سَنَةَ
[পবিত্রতা অধ্যায়] [নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল সংক্রান্ত হাদিস]

১ - প্রথম হাদিস: উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "নিয়তের সাথে (সম্পৃক্ত)। আর প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করবে তাই সে পাবে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার জন্য হবে, তবে তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" ..

ـــــــــــــــــــــــــــــ

আবু হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব ইবনে নুফাইল ইবনে আবদিল উযযা ইবনে রিয়াহ। রিয়াহ শব্দটি ‘র’ বর্ণের নিচে কাসরা (যের) যোগে, এরপর বর্ণমালার শেষ অক্ষর ‘ইয়া’ এবং তারপর ‘হা’ বর্ণ দ্বারা গঠিত। ইবনে আবদিল্লাহ ইবনে কুরত ইবনে রাজাহ। রাজাহ শব্দটি ‘র’ বর্ণের ওপর ফাতহা (জবর) যোগে, এরপর নুকতাহযুক্ত ‘যা’ এবং তারপর ‘হা’ বর্ণ দ্বারা গঠিত। ইবনে আদি ইবনে কাব আল-কুরাশি আল-আদাভি। তাঁর বংশধারা কাব ইবনে লুয়াই-এ গিয়ে রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে মিলিত হয়েছে। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে মক্কায় ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সকল সমরাঙ্গনে উপস্থিত ছিলেন। আবু বকর সিদ্দিকের পর তিনি খিলাফতের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং নিহত হন ... সনে।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

ثَلَاثٍ وَعِشْرِينَ مِنْ الْهِجْرَةِ فِي ذِي الْحِجَّةِ لِأَرْبَعٍ مَضَيْنَ، وَقِيلَ لِثَلَاثٍ.

ثُمَّ الْكَلَامُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ وُجُوهٍ:

أَحَدُهَا: أَنَّ الْمُصَنِّفَ رحمه الله بَدَأَ بِهِ لِتَعَلُّقِهِ بِالطَّهَارَةِ، وَامْتَثَلَ قَوْلَ مَنْ قَالَ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ: إنَّهُ يَنْبَغِي أَنْ يُبْتَدَأَ بِهِ فِي كُلِّ تَصْنِيفٍ وَوَقَعَ مُوَافِقًا لِمَا قَالَهُ.

الثَّانِي: كَلِمَةُ إنَّمَا لِلْحَصْرِ، عَلَى مَا تَقَرَّرَ فِي الْأُصُولِ، فَإِنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما فَهِمَ الْحَصْرَ مِنْ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «إنَّمَا الرِّبَا فِي النَّسِيئَةِ» وَعُورِضَ بِدَلِيلٍ آخَرَ يَقْتَضِي تَحْرِيمَ رِبَا الْفَضْلِ، وَلَمْ يُعَارَضْ فِي فَهْمِهِ لِلْحَصْرِ وَفِي ذَلِكَ اتِّفَاقٌ عَلَى أَنَّهَا لِلْحَصْرِ.

وَمَعْنَى الْحَصْرِ فِيهَا: إثْبَاتُ الْحُكْمِ فِي الْمَذْكُورِ، وَنَفْيِهِ عَمَّا عَدَاهُ.

وَهَلْ نَفْيُهُ عَمَّا عَدَاهُ: بِمُقْتَضَى مَوْضُوعِ اللَّفْظِ، أَوْ هُوَ مِنْ طَرِيقِ الْمَفْهُومِ؟ فِيهِ بَحْثٌ.

الثَّالِثُ: إذَا ثَبَتَ أَنَّهَا لِلْحَصْرِ: فَتَارَةً تَقْتَضِي الْحَصْرَ الْمُطْلَقَ، وَتَارَةً تَقْتَضِي حَصْرًا مَخْصُوصًا.

وَيُفْهَمُ ذَلِكَ بِالْقَرَائِنِ وَالسِّيَاقِ.

كَقَوْلِهِ تَعَالَى {إِنَّمَا أَنْتَ مُنْذِرٌ} [الرعد: 7] وَظَاهِرُ ذَلِكَ: الْحَصْرُ لِلرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم فِي النِّذَارَةِ.

وَالرَّسُولُ لَا يَنْحَصِرُ فِي النِّذَارَةِ، بَلْ لَهُ أَوْصَافٌ جَمِيلَةٌ كَثِيرَةٌ، كَالْبِشَارَةِ وَغَيْرِهَا.

وَلَكِنَّ مَفْهُومَ الْكَلَامِ يَقْتَضِي حَصْرَهُ فِي النِّذَارَةِ لِمَنْ يُؤْمِنُ، وَنَفْي كَوْنِهِ قَادِرًا عَلَى إنْزَالِ مَا شَاءَ الْكُفَّارُ مِنْ الْآيَاتِ.

وَكَذَلِكَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «إنَّمَا أَنَا بَشَرٌ وَإِنَّكُمْ تَخْتَصِمُونَ إلَيَّ» مَعْنَاهُ: حَصْرُهُ فِي الْبَشَرِيَّةِ بِالنِّسْبَةِ إلَى الِاطِّلَاعِ عَلَى بَوَاطِنِ الْخُصُومِ، لَا بِالنِّسْبَةِ إلَى كُلِّ شَيْءٍ.

فَإِنَّ لِلرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم أَوْصَافًا أُخَرَ كَثِيرَةً.

وَكَذَلِكَ قَوْله تَعَالَى {إِنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ} [محمد: 36] يَقْتَضِي - وَاَللَّهُ أَعْلَمُ - الْحَصْرَ بِاعْتِبَارِ مَنْ آثَرَهَا. وَأَمَّا بِالنِّسْبَةِ إلَى مَا هُوَ فِي نَفْسِ الْأَمْرِ: فَقَدْ تَكُونُ سَبِيلًا إلَى الْخَيْرَاتِ، أَوْ يَكُونُ ذَلِكَ مِنْ بَابِ التَّغْلِيبِ لِلْأَكْثَرِ فِي الْحُكْمِ عَلَى الْأَقَلِّ.

فَإِذَا وَرَدَتْ لَفْظَةُ " إنَّمَا " فَاعْتَبِرْهَا، فَإِنْ دَلَّ السِّيَاقُ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

তেইশ হিজরীর যিলহজ মাসে, যখন চার দিন অতিক্রান্ত হয়েছিল, আর কেউ কেউ বলেছেন তিন দিন।

অতঃপর এই হাদিসের ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

প্রথমত: গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) এটি দিয়ে শুরু করেছেন কারণ পবিত্রতার সাথে এর সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি পূর্বসূরিদের মধ্য থেকে যারা বলেছেন যে প্রত্যেক সংকলনের শুরুতেই এটি আনা উচিত, তাদের কথা পালন করেছেন এবং যা বলা হয়েছে তার সাথে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: 'ইন্নামা' শব্দটি সীমাবদ্ধতা বা কেবল বুঝানোর জন্য (হাসর), যেমনটি উসুল বা মূলনীতি শাস্ত্রে প্রতিষ্ঠিত। কেননা ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী "সুদ কেবল বাকিতেই হয়" থেকে সীমাবদ্ধতা বুঝেছিলেন। যদিও এটি অন্য দলিলের মাধ্যমে খণ্ডন করা হয়েছে যা 'রিবা আল-ফদল' (নগদ লেনদেনে অতিরিক্ত গ্রহণ) হারাম হওয়াকে আবশ্যক করে, কিন্তু সীমাবদ্ধতা বোঝার ক্ষেত্রে তার এই বুঝকে কেউ আপত্তি করেননি। এতে এই বিষয়ের ওপর ঐকমত্য রয়েছে যে, এই শব্দটি সীমাবদ্ধতার অর্থ প্রদান করে।

আর এতে সীমাবদ্ধতার অর্থ হলো: যা উল্লেখ করা হয়েছে তার জন্য বিধানটি সাব্যস্ত করা এবং যা উল্লেখ করা হয়নি তা থেকে বিধানটিকে নাকচ করা।

আর যা উল্লেখ করা হয়নি তা থেকে বিধান নাকচ হওয়া কি শব্দের সরাসরি প্রয়োগের দাবি অনুযায়ী হয়, নাকি তা পরোক্ষ অর্থের (মাফহুম) মাধ্যমে হয়? এ নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা রয়েছে।

তৃতীয়ত: যখন এটি প্রমাণিত হলো যে শব্দটি সীমাবদ্ধতার অর্থ দেয়, তখন কখনো এটি নিরঙ্কুশ সীমাবদ্ধতা দাবি করে, আবার কখনো নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ের সীমাবদ্ধতা দাবি করে।

আর এটি পারিপার্শ্বিক আলামত এবং প্রসঙ্গের মাধ্যমে বোঝা যায়।

যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি তো কেবল একজন সতর্ককারী} [রা'দ: ৭]। এর বাহ্যিক অর্থ হলো: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দায়িত্ব কেবল সতর্ক করার মাঝেই সীমাবদ্ধ।

অথচ রাসূলের দায়িত্ব কেবল সতর্ক করার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর অনেক সুন্দর বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যেমন সুসংবাদ দান করা এবং আরও অন্যান্য।

কিন্তু কথার মর্ম এটি দাবি করে যে, তাঁর দায়িত্ব সতর্ক করার মাঝে সীমাবদ্ধ রাখা তাদের জন্য যারা ঈমান আনবে, আর কাফিররা যেসব নিদর্শন দাবি করে তা নাযিল করার ক্ষেত্রে তাঁর সক্ষমতাকে নাকচ করা।

একইভাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণী: "আমি তো কেবল একজন মানুষ এবং তোমরা আমার কাছে বিচার নিয়ে আসো", এর অর্থ হলো: বিবাদীদের অন্তরের গোপন বিষয়গুলো জানার ক্ষেত্রে তাঁর সীমাবদ্ধতা কেবল একজন মানুষ হওয়ার স্তরে, সব বিষয়ের ক্ষেত্রে নয়।

কেননা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আরও অনেক বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

একইভাবে মহান আল্লাহর বাণী: {দুনিয়ার জীবন তো কেবল খেলাধুলা} [মুহাম্মদ: ৩৬] এটি দাবি করে—আল্লাহই ভালো জানেন—সেই ব্যক্তির বিবেচনায় সীমাবদ্ধতা যে দুনিয়াকে আখেরাতের ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃত বিচারে এটি কল্যাণের পথও হতে পারে, অথবা এটি হতে পারে অধিকাংশের অবস্থা বিবেচেনায় সাধারণ বিধান দেওয়ার নিয়ম অনুযায়ী।

সুতরাং যখন "ইন্নামা" শব্দটি আসবে, তখন তা বিবেচনা করো। যদি প্রেক্ষাপট নির্দেশ করে...
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

وَالْمَقْصُودُ مِنْ الْكَلَامِ عَلَى الْحَصْرِ فِي شَيْءٍ مَخْصُوصٍ: فَقُلْ بِهِ.

وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِي شَيْءٍ مَخْصُوص: فَاحْمِلْ الْحَصْرَ عَلَى الْإِطْلَاقِ.

وَمِنْ هَذَا: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[مَا يَتَعَلَّقُ بِالْجَوَارِحِ وَبِالْقُلُوبِ] 1

الرَّابِعُ: مَا يَتَعَلَّقُ بِالْجَوَارِحِ وَبِالْقُلُوبِ، قَدْ يُطْلَقُ عَلَيْهِ عَمَلٌ، وَلَكِنَّ الْأَسْبَقَ إلَى الْفَهْمِ: تَخْصِيصُ الْعَمَلِ بِأَفْعَالِ الْجَوَارِحِ، وَإِنْ كَانَ مَا يَتَعَلَّقُ بِالْقُلُوبِ فِعْلًا لِلْقُلُوبِ أَيْضًا.

وَرَأَيْتُ بَعْضَ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ أَهْلِ الْخِلَافِ خَصَّصَ الْأَعْمَالَ بِمَا لَا يَكُونُ قَوْلًا.

وَأَخْرَجَ الْأَقْوَالَ مِنْ ذَلِكَ وَفِي هَذَا عِنْدِي بُعْدٌ.

وَيَنْبَغِي أَنْ يَكُونَ لَفْظُ " الْعَمَلِ " يَعُمُّ جَمِيعَ أَفْعَالِ الْجَوَارِحِ.

نَعَمْ لَوْ كَانَ خُصِّصَ بِذَلِكَ لَفْظُ " الْفِعْلِ " لَكَانَ أَقْرَبَ.

فَإِنَّهُمْ اسْتَعْمَلُوهُمَا مُتَقَابِلَيْنِ، فَقَالُوا: الْأَفْعَالُ، وَالْأَقْوَالُ.

وَلَا تَرَدُّدَ عِنْدِي فِي أَنَّ الْحَدِيثَ يَتَنَاوَلُ الْأَقْوَالَ أَيْضًا.

وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[الْأَعْمَالِ بِالنِّيَّاتِ] 1

الْخَامِسُ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» لَا بُدَّ فِيهِ مِنْ حَذْفِ مُضَافٍ.

فَاخْتَلَفَ الْفُقَهَاءُ فِي تَقْدِيرِهِ.

فَاَلَّذِينَ اشْتَرَطُوا النِّيَّةَ، قَدَّرُوا: " صِحَّةُ الْأَعْمَالِ بِالنِّيَّاتِ " أَوْ مَا يُقَارِبُهُ.

وَاَلَّذِينَ لَمْ يَشْتَرِطُوهَا: قَدَّرُوهُ " كَمَالُ الْأَعْمَالِ بِالنِّيَّاتِ " أَوْ مَا يُقَارِبُهُ.

وَقَدْ رُجِّحَ الْأَوَّلُ بِأَنَّ الصِّحَّةَ أَكْثَرُ لُزُومًا لِلْحَقِيقَةِ مِنْ الْكَمَالِ، فَالْحَمْلُ عَلَيْهَا أَوْلَى؛ لِأَنَّ مَا كَانَ أَلْزَمَ لِلشَّيْءِ: كَانَ أَقْرَبَ إلَى خُطُورِهِ بِالْبَالِ عِنْدَ إطْلَاقِ اللَّفْظِ. فَكَانَ الْحَمْلُ عَلَيْهِ أَوْلَى.

وَكَذَلِكَ قَدْ يُقَدِّرُونَهُ " إنَّمَا اعْتِبَارُ الْأَعْمَالِ بِالنِّيَّاتِ " وَقَدْ قَرَّبَ ذَلِكَ بَعْضُهُمْ بِنَظَائِرَ مِنْ الْمُثُلِ، كَقَوْلِهِمْ: إنَّمَا الْمُلْكُ بِالرِّجَالِ؛ أَيْ قِوَامُهُ وَوُجُودُهُ.

وَإِنَّمَا الرِّجَالُ بِالْمَالِ.

وَإِنَّمَا الْمَالُ بِالرَّعِيَّةِ.

وَإِنَّمَا الرَّعِيَّةُ بِالْعَدْلِ.

كُلُّ ذَلِكَ يُرَادُ بِهِ: أَنَّ قِوَامَ هَذِهِ الْأَشْيَاءِ بِهَذِهِ الْأُمُورِ.

 

‌‌[مَنْ نَوَى شَيْئًا حصل لَهُ]

السَّادِسُ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى» يَقْتَضِي أَنَّ مَنْ نَوَى شَيْئًا يَحْصُلُ لَهُ، وَكُلُّ مَا لَمْ يَنْوِهِ لَمْ يَحْصُلْ لَهُ فَيَدْخُلَ تَحْتَ ذَلِكَ مَا لَا يَنْحَصِرُ مِنْ الْمَسَائِلِ.

وَمِنْ هَذَا عَظَّمُوا هَذَا الْحَدِيثَ.

فَقَالَ بَعْضُهُمْ: يَدْخُلُ فِي حَدِيثِ «الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» ثُلُثَا الْعِلْمِ.

فَكُلُّ مَسْأَلَةٍ خِلَافِيَّةٍ حَصَلَتْ فِيهَا نِيَّةٌ، فَلَكَ أَنْ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর সীমাবদ্ধ করার আলোচনার উদ্দেশ্য হলো: তবে তুমি তা বলো।

আর যদি তা কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে না হয়: তবে সীমাবদ্ধতাকে নিঃশর্তভাবে প্রয়োগের ওপর স্থির করো।

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং অন্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলী] ১

চতুর্থত: অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এবং অন্তরের সাথে যা সংশ্লিষ্ট, তাকে 'আমল' বলা যেতে পারে। কিন্তু বোঝার ক্ষেত্রে যা অগ্রগণ্য তা হলো আমলকে অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজের জন্য নির্দিষ্ট করা, যদিও অন্তরের সাথে যা সংশ্লিষ্ট তাও অন্তরের কাজ হিসেবে গণ্য।

আমি পরবর্তী যুগের একদল ইখতিলাফকারী আলেমকে দেখেছি যারা আমলকে এমন বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা কথা (বাণী) নয়।

এবং তারা কথাকে এর থেকে বের করে দিয়েছেন, তবে আমার নিকট এটি সঠিক থেকে দূরে।

উচিত হলো যে "আমল" শব্দটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সকল কাজকে অন্তর্ভুক্ত করবে।

হ্যাঁ, যদি এর জন্য "কাজ" (ফেল) শব্দটিকে নির্দিষ্ট করা হতো তবে তা নিকটতর হতো।

কারণ তারা এই দুটির ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিপরীত অর্থ গ্রহণ করেছেন, তাই তারা বলেন: কাজসমূহ এবং কথা বা বাণীসমূহ।

আর আমার নিকট এতে কোনো দ্বিধা নেই যে, হাদিসটি কথা বা বাণীকেও অন্তর্ভুক্ত করে।

আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[নিয়তের সাথে আমলসমূহ] ১

পঞ্চমত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল", এতে অবশ্যই একটি ঊহ্য শব্দ (মুদাফ) বিদ্যমান।

ফকিহগণ এটি নির্ধারণে মতভেদ করেছেন।

যারা নিয়তকে শর্ত করেছেন, তারা অনুমান করেছেন: "আমলের বিশুদ্ধতা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" অথবা এর কাছাকাছি কিছু।

আর যারা একে শর্ত করেননি, তারা অনুমান করেছেন: "আমলের পূর্ণতা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" অথবা এর কাছাকাছি কিছু।

আর প্রথমটিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এই যুক্তিতে যে, পূর্ণতার তুলনায় বিশুদ্ধতা বাস্তবতার অধিক অপরিহার্য অংশ। সুতরাং একে গ্রহণ করাই উত্তম; কেননা যা কোনো বিষয়ের জন্য বেশি অপরিহার্য, শব্দটির সাধারণ ব্যবহারের সময় তা-ই অধিকতর দ্রুত মনে আসে। তাই একে গ্রহণ করাই শ্রেয়।

অনুরূপভাবে তারা অনুমান করেছেন যে "নিশ্চয়ই আমলের গ্রহণযোগ্যতা নিয়তের ওপর নির্ভরশীল"। কেউ কেউ কিছু অনুরূপ দৃষ্টান্ত দিয়ে একে নিকটবর্তী করেছেন, যেমন তাঁদের উক্তি: "নিশ্চয়ই রাজতন্ত্র টিকে থাকে লোকবল দিয়ে"; অর্থাৎ এর স্থায়িত্ব এবং অস্তিত্ব।

আর লোকবল টিকে থাকে অর্থ দিয়ে।

আর অর্থ আসে প্রজাদের মাধ্যমে।

আর প্রজারা টিকে থাকে ন্যায়বিচারের মাধ্যমে।

এগুলোর প্রতিটি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: এই জিনিসগুলোর স্থায়িত্ব এই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল।

 

‌‌[যে ব্যক্তি যা নিয়ত করবে সে তা পাবে]

ষষ্ঠত: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আর নিশ্চয়ই প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য তাই রয়েছে যা সে নিয়ত করেছে", এটি দাবি করে যে ব্যক্তি যা নিয়ত করবে সে তা লাভ করবে, আর যা সে নিয়ত করবে না তা সে লাভ করবে না। এর ফলে অগণিত মাসআলা এর অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়।

এ কারণেই তাঁরা এই হাদিসটিকে মহান মর্যাদা দিয়েছেন।

তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল" হাদিসটির মধ্যে ইলমের দুই-তৃতীয়াংশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সুতরাং প্রতিটি মতভেদপূর্ণ মাসআলা যাতে নিয়ত পাওয়া যায়, তাতে আপনার সুযোগ আছে যে
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

تَسْتَدِلَّ بِهَذَا عَلَى حُصُولِ الْمَنْوِيِّ.

وَكُلُّ مَسْأَلَةٍ خِلَافِيَّةٍ لَمْ تَحْصُلْ فِيهَا نِيَّةٌ، فَلَكَ أَنْ تَسْتَدِلَّ بِهَذَا عَلَى عَدَمِ حُصُولِ مَا وَقَعَ فِي النِّزَاعِ.

[وَسَيَأْتِي مَا يُقَيَّدُ بِهِ هَذَا الْإِطْلَاقُ] فَإِنْ جَاءَ دَلِيلٌ مِنْ خَارِجٍ يَقْتَضِي أَنَّ الْمَنْوِيَّ لَمْ يَحْصُلْ، أَوْ أَنَّ غَيْرَ الْمَنْوِيِّ يَحْصُلُ، وَكَانَ رَاجِحًا: عُمِلَ بِهِ وَخَصَّصَ هَذَا الْعُمُومَ.

 

‌‌[أَنْوَاع الْهِجْرَة] 1

السَّابِعُ: قَوْلُهُ " فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ " اسْمُ " الْهِجْرَةِ " يَقَعُ عَلَى أُمُورٍ، الْهِجْرَةُ الْأُولَى: إلَى الْحَبَشَةِ.

عِنْدَمَا آذَى الْكُفَّارُ الصَّحَابَةَ.

الْهِجْرَةُ الثَّانِيَةُ: مِنْ مَكَّةَ إلَى الْمَدِينَةِ.

الْهِجْرَةُ الثَّالِثَةُ: هِجْرَةُ الْقَبَائِلِ إلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم لِتَعْلَمَ الشَّرَائِعَ، ثُمَّ يَرْجِعُونَ إلَى الْمَوَاطِنِ، وَيُعَلِّمُونَ قَوْمَهُمْ.

الْهِجْرَةُ الرَّابِعَةُ: هِجْرَةُ مَنْ أَسْلَمَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ لِيَأْتِيَ إلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَرْجِعَ إلَى مَكَّةَ.

الْهِجْرَةُ الْخَامِسَةُ: هِجْرَةُ مَا نَهَى اللَّهُ عَنْهُ.

وَمَعْنَى الْحَدِيثِ وَحُكْمُهُ يَتَنَاوَلُ الْجَمِيعَ، غَيْرَ أَنَّ السَّبَبَ يَقْتَضِي: أَنَّ الْمُرَادَ بِالْحَدِيثِ الْهِجْرَةُ مِنْ مَكَّةَ إلَى الْمَدِينَةِ؛ لِأَنَّهُمْ نَقَلُوا أَنَّ رَجُلًا هَاجَرَ مِنْ مَكَّةَ إلَى الْمَدِينَةِ، لَا يُرِيدُ بِذَلِكَ فَضِيلَةَ الْهِجْرَةِ وَإِنَّمَا هَاجَرَ لِيَتَزَوَّجَ امْرَأَةً تُسَمَّى أُمَّ قَيْسٍ.

فَسُمِّيَ مُهَاجِرَ أُمِّ قَيْسٍ وَلِهَذَا خُصَّ فِي الْحَدِيثِ ذِكْرُ الْمَرْأَةِ، دُونَ سَائِرِ مَا تُنْوَى بِهِ الْهِجْرَةُ مِنْ أَفْرَادِ الْأَغْرَاضِ الدُّنْيَوِيَّةِ، ثُمَّ أُتْبِعَ بِالدُّنْيَا.

الثَّامِنُ: الْمُتَقَرَّرُ عِنْدَ أَهْلِ الْعَرَبِيَّةِ: أَنَّ الشَّرْطَ وَالْجَزَاءَ وَالْمُبْتَدَأَ أَوْ الْخَبَرَ، لَا بُدَّ وَأَنْ يَتَغَايَرَا.

وَهَهُنَا وَقَعَ الِاتِّحَادُ فِي قَوْلِهِ «فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ» وَجَوَابُهُ: أَنَّ التَّقْدِيرَ: فَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ نِيَّةً وَقَصْدًا، فَهِجْرَتُهُ إلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ حُكْمًا وَشَرْعًا.

التَّاسِعُ: شَرَعَ بَعْضُ الْمُتَأَخِّرِينَ مِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي تَصْنِيفٍ فِي أَسْبَابِ الْحَدِيثِ، كَمَا صُنِّفَ فِي أَسْبَابِ النُّزُولِ لِلْكِتَابِ الْعَزِيزِ.

فَوَقَفْتُ مِنْ ذَلِكَ عَلَى شَيْءٍ يَسِيرٍ لَهُ.

وَهَذَا الْحَدِيثُ - عَلَى مَا قَدَّمْنَا مِنْ الْحِكَايَةِ عَنْ مُهَاجِرِ أُمِّ قَيْسٍ - وَاقِعٌ عَلَى سَبَبٍ يُدْخِلُهُ فِي هَذَا الْقَبِيلِ.

وَتَنْضَمُّ إلَيْهِ نَظَائِرُ كَثِيرَةٌ لِمَنْ قَصَدَ تَتَبُّعَهُ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

আপনি এর মাধ্যমে যা নিয়ত করা হয়েছে তা অর্জিত হওয়ার পক্ষে দলিল গ্রহণ করতে পারেন।

আর প্রতিটি মতভেদপূর্ণ মাসয়ালা যেক্ষেত্রে নিয়ত পাওয়া যায়নি, সেক্ষেত্রে আপনি বিবাদমান বিষয়টি অর্জিত না হওয়ার স্বপক্ষে এর মাধ্যমে দলিল পেশ করতে পারেন।

[এই ব্যাপকতাকে যা দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হবে তা সামনে আসবে] যদি বাইরে থেকে এমন কোনো দলিল আসে যা দাবি করে যে, যা নিয়ত করা হয়েছিল তা অর্জিত হয়নি, অথবা নিয়ত না করা বিষয়টি অর্জিত হয়েছে, এবং সেই দলিলটি যদি অগ্রগণ্য হয়: তবে সে অনুযায়ী আমল করা হবে এবং তা এই সাধারণতাকে বিশিষ্ট করবে।

 

‌‌[হিজরতের প্রকারভেদ] ১

সপ্তম: তাঁর বাণী "অতএব যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য হবে", "হিজরত" শব্দটি কয়েকটি বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয়। প্রথম হিজরত: আবিসিনিয়া অভিমুখে।

যখন কাফেররা সাহাবীদের কষ্ট দিচ্ছিল।

দ্বিতীয় হিজরত: মক্কা থেকে মদিনায়।

তৃতীয় হিজরত: বিভিন্ন গোত্রের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হিজরত করা শরিয়তের বিধানসমূহ শেখার জন্য, অতঃপর তারা নিজ নিজ বসতিতে ফিরে যেতেন এবং তাদের কওমকে শিক্ষা দিতেন।

চতুর্থ হিজরত: মক্কাবাসীদের মধ্যে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আসা এবং পুনরায় মক্কায় ফিরে যাওয়া।

পঞ্চম হিজরত: আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা।

হাদিসের অর্থ ও বিধান এই সবগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে, তবে এর প্রেক্ষাপট দাবি করে যে: হাদিস দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত; কারণ তাঁরা বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেছিলেন, তার উদ্দেশ্য হিজরতের ফজিলত অর্জন ছিল না, বরং তিনি উম্মে কায়স নামক এক নারীকে বিবাহ করার জন্য হিজরত করেছিলেন।

ফলে তাকে 'উম্মে কায়সের মুহাজির' নামকরণ করা হয়। আর এই কারণেই পার্থিব অন্যান্য লক্ষ্য-উদ্দেশ্যের মাঝে বিশেষভাবে নারীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে যার জন্য হিজরত করা হয়, অতঃপর তাকে দুনিয়ার অনুগামী করা হয়েছে।

অষ্টম: আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞদের নিকট এটি সাব্যস্ত যে: শর্ত ও জাযা (প্রতিদান), এবং মুবতাদা (উদ্দেশ্য) ও খবর (বিধেয়) পরস্পর ভিন্ন হতে হবে।

আর এখানে তাঁর বাণী "অতএব যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য হবে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য" এ অভিন্নতা বা ঐক্য ঘটেছে। এর উত্তর হলো: এর প্রচ্ছন্ন অর্থ হচ্ছে: অতএব যার হিজরত নিয়ত ও সংকল্পের দিক থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্য হবে, তবে তার হিজরত বিধান ও শরয়ি দৃষ্টিভঙ্গিতে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের জন্যই হবে।

নবম: পরবর্তী যুগের হাদিস বিশারদগণের কেউ কেউ 'আসবাবুল হাদিস' (হাদিসের প্রেক্ষাপট) বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় প্রবৃত্ত হয়েছেন, যেমনটি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের 'আসবাবুন নুযুল' (নাজিলের প্রেক্ষাপট) বিষয়ে করা হয়েছে।

আমি এ বিষয়ে তাঁর সামান্য কিছু রচনার খোঁজ পেয়েছি।

আর এই হাদিসটি—উম্মে কায়সের মুহাজির সম্পর্কে আমরা পূর্বে যে ঘটনা উল্লেখ করেছি সেই অনুযায়ী—এমন এক প্রেক্ষাপটে অবস্থিত যা একে এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করে।

যারা এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে আগ্রহী, তাদের জন্য এর সাথে আরও অনেক সদৃশ উদাহরণ যুক্ত হবে।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৩)
2 - الْحَدِيثُ الثَّانِي: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ أَحَدِكُمْ إذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ» .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

الْعَاشِرُ: فَرْقٌ بَيْنَ قَوْلِنَا " مَنْ نَوَى شَيْئًا لَمْ يَحْصُلْ لَهُ غَيْرُهُ " وَبَيْنَ قَوْلِنَا " مَنْ لَمْ يَنْوِ الشَّيْءَ لَمْ يَحْصُلْ لَهُ " وَالْحَدِيثُ مُحْتَمِلٌ لِلْأَمْرَيْنِ.

أَعْنِي قَوْلَهُ صلى الله عليه وسلم «إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ» وَآخِرُهُ يُشِيرُ إلَى الْمَعْنَى الْأَوَّلِ، أَعْنِي قَوْلَهُ «وَمَنْ كَانَتْ هِجْرَتُهُ إلَى دُنْيَا يُصِيبُهَا أَوْ امْرَأَةٍ يَتَزَوَّجُهَا، فَهِجْرَتُهُ إلَى مَا هَاجَرَ إلَيْهِ» .

 

‌‌[حَدِيثُ لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ أَحَدِكُمْ إذَا أَحْدَثَ حَتَّى يَتَوَضَّأَ]

" أَبُو هُرَيْرَةَ " فِي اسْمِهِ اخْتِلَافٌ شَدِيدٌ. وَأَشْهُرُهُ: عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ صَخْرٍ. أَسْلَمَ عَامَ خَيْبَرَ سَنَةَ سَبْعٍ مِنْ الْهِجْرَةِ، وَلَزِمَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ مِنْ أَحْفَظِ الصَّحَابَةِ، سَكَنَ الْمَدِينَةَ. وَتُوُفِّيَ - قَالَ خَلِيفَةُ: سَنَةَ سَبْعٍ وَخَمْسِينَ. وَقَالَ الْهَيْثَمُ: سَنَةَ ثَمَانٍ، وَقَالَ الْوَاقِدِيُّ: سَنَةَ تِسْعٍ.

الْكَلَامُ عَلَيْهِ مِنْ وُجُوهٍ:

أَحَدُهَا: " الْقَبُولُ " وَتَفْسِيرُ مَعْنَاهُ.

قَدْ اسْتَدَلَّ جَمَاعَةٌ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ بِانْتِفَاءِ الْقَبُولِ عَلَى انْتِفَاءِ الصِّحَّةِ، كَمَا قَالُوا فِي قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «لَا يَقْبَلُ اللَّهُ صَلَاةَ حَائِضٍ إلَّا بِخِمَارٍ» أَيْ مَنْ بَلَغَتْ سِنَّ الْمَحِيضِ.

وَالْمَقْصُودُ بِهَذَا الْحَدِيثِ: الِاسْتِدْلَال عَلَى اشْتِرَاطِ الطَّهَارَةِ مِنْ الْحَدَثِ فِي صِحَّةِ الصَّلَاةِ.

وَلَا يَتِمُّ ذَلِكَ إلَّا بِأَنْ يَكُونَ انْتِفَاءُ الْقَبُولِ دَلِيلًا عَلَى انْتِفَاءِ الصِّحَّةِ.

وَقَدْ حَرَّرَ الْمُتَأَخِّرُونَ فِي هَذَا بَحْثًا.

؛ لِأَنَّ انْتِفَاءَ الْقَبُولِ قَدْ وَرَدَ فِي مَوَاضِعَ مَعَ ثُبُوتِ الصِّحَّةِ، كَالْعَبْدِ إذَا أَبَقَ لَا تُقْبَلُ لَهُ صَلَاةٌ، وَكَمَا وَرَدَ فِيمَنْ أَتَى عَرَّافًا.

وَفِي شَارِبِ الْخَمْرِ.

فَإِذَا أُرِيدَ تَقْرِيرُ الدَّلِيلِ عَلَى انْتِفَاءِ الصِّحَّةِ مِنْ انْتِفَاءِ الْقَبُولِ.

فَلَا بُدَّ مِنْ تَفْسِيرِ مَعْنَى الْقَبُولِ، وَقَدْ فُسِّرَ بِأَنَّهُ تَرَتُّبُ الْغَرَضِ الْمَطْلُوبِ مِنْ الشَّيْءِ عَلَى الشَّيْءِ.

يُقَالُ: قَبِلَ فُلَانٌ عُذْرَ فُلَانٍ: إذَا رَتَّبَ عَلَى عُذْرِهِ الْغَرَضَ الْمَطْلُوبَ مِنْهُ.

وَهُوَ مَحْوُ الْجِنَايَةِ وَالذَّنْبِ.
২ - দ্বিতীয় হাদিস: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: "তোমাদের কারো নামাজ কবুল করা হবে না যখন সে অপবিত্র হয়, যতক্ষণ না সে অজু করে।"

ـــــــــــــــــــــــــــــ

দশম: আমাদের এই উক্তি: "যে ব্যক্তি কোনো কিছুর নিয়ত করল, তার জন্য তা ব্যতীত অন্য কিছু অর্জিত হবে না" এবং আমাদের এই উক্তি: "যে ব্যক্তি কোনো কিছুর নিয়ত করল না, তার জন্য তা অর্জিত হবে না" - এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আর হাদিসটি উভয় অর্থ বহন করার সম্ভাবনা রাখে।

আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীটি বুঝাচ্ছি: "নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।" আর এর শেষাংশ প্রথম অর্থের দিকে ইঙ্গিত করে, অর্থাৎ তাঁর বাণী: "আর যার হিজরত দুনিয়া হাসিল করার উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হবে, তার হিজরত সেই উদ্দেশ্যেই হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।"

 

‌‌[তোমাদের কারো নামাজ কবুল করা হবে না যখন সে অপবিত্র হয় যতক্ষণ না সে অজু করে - সংক্রান্ত হাদিস]

"আবু হুরায়রা" তাঁর নাম নিয়ে প্রবল মতপার্থক্য রয়েছে। তাঁর সবচেয়ে প্রসিদ্ধ নাম হলো: আবদুর রহমান ইবনে সাখর। তিনি হিজরি সপ্তম সনে খায়বারের যুদ্ধের বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সান্নিধ্যে সার্বক্ষণিক অবস্থান করেন। তিনি সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ হাফেজ (স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন) ছিলেন। তিনি মদিনায় বসবাস করতেন। তিনি ইন্তেকাল করেন - খলিফা বলেন: সাতান্ন হিজরি সনে; হাইসাম বলেন: আটান্ন সনে; এবং ওয়াকিদি বলেন: ঊনষাট সনে।

এই হাদিসের আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

প্রথমত: "কবুল" (কবুলিয়াত) এবং এর অর্থের ব্যাখ্যা।

পূর্ববর্তী আলেমদের একটি দল 'কবুল' না হওয়াকে 'শুদ্ধ (সহিহ)' না হওয়ার দলিল হিসেবে পেশ করেছেন। যেমনটি তারা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেছেন: "আল্লাহ ঋতুবতী নারীর নামাজ ওড়না ছাড়া কবুল করেন না।" অর্থাৎ যে নারী ঋতুবতী হওয়ার বয়সে পৌঁছেছে।

এই হাদিসের উদ্দেশ্য হলো: নামাজ শুদ্ধ হওয়ার জন্য অপবিত্রতা থেকে পবিত্রতা অর্জনের শর্ত হওয়ার ওপর দলিল পেশ করা।

আর এটি ততক্ষণ পূর্ণ হয় না যতক্ষণ না 'কবুল' না হওয়াকে 'শুদ্ধ' না হওয়ার দলিল হিসেবে গণ্য করা হয়।

পরবর্তী যুগের গবেষকগণ এই বিষয়ে একটি বিশ্লেষণ দাঁড় করিয়েছেন।

কারণ, 'কবুল' না হওয়ার কথাটি এমন কিছু ক্ষেত্রেও এসেছে যেখানে নামাজ শুদ্ধ হয়। যেমন: পলাতক দাসের নামাজ কবুল হয় না; এবং যে ব্যক্তি গণকের কাছে যায় তার ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে;

এবং মদ্যপায়ীর ক্ষেত্রেও।

অতএব, যখন 'কবুল' না হওয়া থেকে 'শুদ্ধ' না হওয়ার দলিল সাব্যস্ত করার ইচ্ছা করা হবে,

তখন অবশ্যই 'কবুল' শব্দের অর্থের ব্যাখ্যা করতে হবে। এর ব্যাখ্যা এভাবে করা হয়েছে যে, কোনো বস্তু থেকে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়া।

বলা হয়: অমুক ব্যক্তি অমুকের ওজর কবুল করেছে—যখন সে তার ওজরের ওপর ভিত্তি করে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য সম্পন্ন করে।

আর তা হলো অপরাধ ও গুনাহ মোচন করা।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

فَإِذَا ثَبَتَ ذَلِكَ فَيُقَالُ، مَثَلًا فِي هَذَا الْمَكَانِ: الْغَرَضُ مِنْ الصَّلَاةِ: وُقُوعُهَا مُجْزِئَةً بِمُطَابَقَتِهَا لِلْأَمْرِ.

فَإِذَا حَصَلَ هَذَا الْغَرَضُ: ثَبَتَ الْقَبُولُ، عَلَى مَا ذُكِرَ مِنْ التَّفْسِيرِ.

وَإِذَا ثَبَتَ الْقَبُولُ عَلَى هَذَا التَّفْسِيرِ: ثَبَتَتْ الصِّحَّةُ.

وَإِذَا انْتَفَى الْقَبُولُ عَلَى هَذَا التَّفْسِيرِ: انْتَفَتْ الصِّحَّةُ.

وَرُبَّمَا قِيلَ مِنْ جِهَةِ بَعْضِ الْمُتَأَخِّرِينَ: إنَّ " الْقَبُولَ " كَوْنُ الْعِبَادَةِ بِحَيْثُ يَتَرَتَّبُ الثَّوَابُ وَالدَّرَجَاتُ عَلَيْهَا.

وَ " الْإِجْزَاءُ " كَوْنُهَا مُطَابِقَةً لِلْأَمْرِ وَالْمَعْنَيَانِ إذَا تَغَايَرَا، وَكَانَ أَحَدُهُمَا أَخَصُّ مِنْ الْآخَرِ: لَمْ يَلْزَمْ مِنْ نَفْيِ الْأَخَصِّ نَفْيِ الْأَعَمِّ.

و" الْقَبُولُ " عَلَى هَذَا التَّفْسِيرِ: أَخَصُّ مِنْ الصِّحَّةِ، فَإِنَّ كُلَّ مَقْبُولٍ صَحِيحٌ، وَلَيْسَ كُلُّ صَحِيحٍ مَقْبُولًا.

وَهَذَا - إنْ نَفَعَ فِي تِلْكَ الْأَحَادِيثِ الَّتِي نُفِيَ عَنْهَا الْقَبُولُ مَعَ بَقَاءِ الصِّحَّةِ فَإِنَّهُ يَضُرُّ فِي الِاسْتِدْلَالِ بِنَفْيِ الْقَبُولِ عَلَى نَفْيِ الصِّحَّةِ، كَمَا حَكَيْنَا عَنْ الْأَقْدَمِينَ.

اللَّهُمَّ إلَّا أَنْ يُقَالَ: دَلَّ الدَّلِيلُ عَلَى كَوْنِ الْقَبُولِ مِنْ لَوَازِمِ الصِّحَّةِ.

فَإِذَا انْتَفَى انْتَفَتْ، فَيَصِحُّ الِاسْتِدْلَال بِنَفْيِ الْقَبُولِ عَلَى نَفْيِ الصِّحَّةِ حِينَئِذٍ.

وَيُحْتَاجُ فِي تِلْكَ الْأَحَادِيثِ الَّتِي نُفِيَ عَنْهَا الْقَبُولُ مَعَ بَقَاءِ الصِّحَّةِ إلَى تَأْوِيلٍ، أَوْ تَخْرِيجِ جَوَابٍ.

عَلَى أَنَّهُ يَرُدُّ عَلَى مَنْ فَسَّرَ " الْقَبُولَ " بِكَوْنِ الْعِبَادَةِ مُثَابًا عَلَيْهَا، أَوْ مَرْضِيَّةً، أَوْ مَا أَشْبَهَ ذَلِكَ - إذَا كَانَ مَقْصُودُهُ بِذَلِكَ: أَنْ لَا يَلْزَمَ مِنْ نَفْي الْقَبُولِ نَفْي الصِّحَّةِ: أَنْ يُقَالَ: الْقَوَاعِدُ الشَّرْعِيَّةُ تَقْتَضِي: أَنَّ الْعِبَادَةَ إذَا أُتِيَ بِهَا مُطَابِقَةً لِلْأَمْرِ كَانَتْ سَبَبًا لِلثَّوَابِ وَالدَّرَجَاتِ وَالْإِجْزَاءِ.

وَالظَّوَاهِرُ فِي ذَلِكَ لَا تَنْحَصِرُ.

 

‌‌[رَفْع الْحَدَثِ] 1

الْوَجْهُ الثَّانِي: فِي تَفْسِيرِ مَعْنَى: " الْحَدَثِ " فَقَدْ يُطْلَقُ بِإِزَاءِ مَعَانٍ ثَلَاثَةٍ:

أَحَدُهَا: الْخَارِجُ الْمَخْصُوصُ الَّذِي يَذْكُرُهُ الْفُقَهَاءُ فِي بَابِ نَوَاقِضِ الْوُضُوءِ. وَيَقُولُونَ: الْأَحْدَاثُ كَذَا وَكَذَا.

الثَّانِي: نَفْسُ خُرُوجِ ذَلِكَ الْخَارِجِ.

الثَّالِثُ: الْمَنْعُ الْمُرَتَّبُ عَلَى ذَلِكَ الْخُرُوجِ.

وَبِهَذَا الْمَعْنَى يَصِحُّ قَوْلُنَا " رَفَعْت الْحَدَثَ " وَ " نَوَيْت رَفْعَ الْحَدَثِ " فَإِنَّ كُلَّ وَاحِدٍ مِنْ الْخَارِجِ وَالْخُرُوجِ قَدْ وَقَعَ.

وَمَا وَقَعَ يَسْتَحِيلُ رَفْعُهُ، بِمَعْنَى أَنْ لَا يَكُونَ وَاقِعًا.

وَأَمَّا الْمَنْعُ الْمُرَتَّبُ عَلَى الْخُرُوجِ: فَإِنَّ الشَّارِعَ حَكَمَ بِهِ.

وَمَدَّ غَايَتَهُ إلَى اسْتِعْمَالِ الْمُكَلَّفِ الطَّهُورَ، فَبِاسْتِعْمَالِهِ يَرْتَفِعُ الْمَنْعُ.

فَيَصِحُّ قَوْلُنَا " رَفَعْت الْحَدَثَ " وَ " ارْتَفَعَ الْحَدَثُ " أَيْ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

সুতরাং যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন উদাহরণস্বরূপ এই স্থানে বলা যায়: সালাতের উদ্দেশ্য হলো—আদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তা পর্যাপ্ত বা যথেষ্ট হিসেবে গণ্য হওয়া।

যদি এই উদ্দেশ্য অর্জিত হয়, তবে বর্ণিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী তা কবুল হওয়া সাব্যস্ত হবে।

আর যদি এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী কবুল হওয়া সাব্যস্ত হয়, তবে তার শুদ্ধতা বা বৈধতাও সাব্যস্ত হবে।

আর যদি এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী কবুল হওয়া নাকচ হয়ে যায়, তবে তার বৈধতাও নাকচ হয়ে যাবে।

পরবর্তী যুগের (মুতাআখখিরীন) কোনো কোনো আলেমের পক্ষ থেকে সম্ভবত বলা হয়েছে যে: ‘কবুল’ হওয়া মানে হলো ইবাদতটি এমন হওয়া যার ওপর সওয়াব ও মর্যাদা বিন্যস্ত হয়।

আর ‘পর্যাপ্ত হওয়া’ (ইজযা) হলো তা আদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া। আর এই দুটি অর্থ যখন ভিন্ন হয় এবং তাদের একটি অন্যটির চেয়ে অধিক সুনির্দিষ্ট (খাছ) হয়, তখন সুনির্দিষ্টটি নাকচ হওয়ার দ্বারা সাধারণটি (আম) নাকচ হওয়া আবশ্যক হয় না।

এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী ‘কবুল’ হওয়া বৈধতা অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট; কেননা প্রতিটি কবুলযোগ্য ইবাদতই বৈধ, কিন্তু প্রতিটি বৈধ ইবাদতই কবুলযোগ্য নয়।

আর এটি—যদিও সেই সকল হাদিসের ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে যেগুলোতে বৈধতা বহাল থাকা সত্ত্বেও কবুল হওয়াকে নাকচ করা হয়েছে—তবুও এটি কবুল হওয়া নাকচ হওয়ার মাধ্যমে বৈধতা নাকচ হওয়ার দলিল প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর, যা আমরা পূর্ববর্তীদের (আকদামীন) পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছি।

হে আল্লাহ! তবে যদি এটি বলা হয় যে: দলিল দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে যে কবুল হওয়া হলো বৈধতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

সুতরাং যখন এটি নাকচ হবে তখন অন্যটিও নাকচ হয়ে যাবে; এমতাবস্থায় কবুল হওয়া নাকচ হওয়ার মাধ্যমে বৈধতা নাকচ হওয়ার দলিল প্রদান করা শুদ্ধ হবে।

আর যে সকল হাদিসে বৈধতা থাকা সত্ত্বেও কবুল হওয়া নাকচ করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবে অথবা কোনো উত্তর বের করার প্রয়োজন হবে।

অধিকন্তু, যারা ‘কবুল’ হওয়াকে ইবাদতের ওপর সওয়াব পাওয়া বা সন্তুষ্টি লাভ করা অথবা অনুরূপ কিছু দ্বারা ব্যাখ্যা করেছেন—যদি তাদের উদ্দেশ্য হয় কবুল হওয়া নাকচ হলে বৈধতা নাকচ হওয়া আবশ্যক নয়—তবে তাদের বিরুদ্ধে আপত্তি উত্থাপন করে বলা যাবে যে: শরয়ি নীতিমালার দাবি হলো ইবাদত যখন আদেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পালন করা হয়, তখন তা সওয়াব, উচ্চ মর্যাদা এবং যথেষ্ট হওয়ার কারণ হয়ে থাকে।

এই বিষয়ে সুস্পষ্ট প্রমাণাদির কোনো সীমাবদ্ধতা নেই।

 

‌‌[হাদাছ বা অপবিত্রতা দূর করা] ১

দ্বিতীয় দিক: ‘হাদাছ’ শব্দের অর্থের ব্যাখ্যা। এটি তিনটি অর্থের বিপরীতে ব্যবহৃত হতে পারে:

প্রথমত: সেই নির্দিষ্ট নির্গত বস্তু যা ফকিহগণ অজু ভঙ্গের অধ্যায়ে উল্লেখ করে থাকেন। তারা বলেন: হাদাছসমূহ হলো এই এই বিষয়।

দ্বিতীয়ত: সেই বস্তুটির নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়াটি।

তৃতীয়ত: সেই বস্তু নির্গত হওয়ার কারণে যে বিধিনিষেধ বা প্রতিবন্ধকতা আরোপিত হয়।

আর এই অর্থেই আমাদের কথা—‘আমি হাদাছ দূর করেছি’ এবং ‘আমি হাদাছ দূর করার নিয়ত করেছি’—বলা সঠিক হয়। কারণ নির্গত বস্তু এবং নির্গত হওয়ার প্রক্রিয়া উভয়েই ইতিপূর্বে ঘটে গেছে।

আর যা ঘটে গেছে তা দূর করা অসম্ভব—অর্থাৎ তা ঘটেনি এমনটি করে দেওয়া অসম্ভব।

পক্ষান্তরে নির্গত হওয়ার কারণে আরোপিত বিধিনিষেধ বা প্রতিবন্ধকতা: শরয়ি বিধানদাতা সেটির নির্দেশ দিয়েছেন।

এবং তিনি এর শেষ সীমা নির্ধারণ করেছেন মুকাল্লাফ ব্যক্তির পবিত্রতা বা পবিত্রকারী বস্তু ব্যবহারের সময় পর্যন্ত। সুতরাং তার ব্যবহারের মাধ্যমে সেই বিধিনিষেধ অপসারিত হয়ে যায়।

এজন্যই আমাদের কথা ‘আমি হাদাছ দূর করেছি’ এবং ‘হাদাছ দূর হয়ে গেছে’ বলা সঠিক হয়, অর্থাৎ
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

ارْتَفَعَ الْمَنْعُ الَّذِي كَانَ مَمْدُودًا إلَى اسْتِعْمَالِ الْمُطَهِّرِ.

وَبِهَذَا التَّحْقِيقِ يَقْوَى قَوْلُ مَنْ يَرَى أَنَّ التَّيَمُّمَ يَرْفَعُ الْحَدَثَ.

؛ لِأَنَّا لَمَّا بَيَّنَّا أَنَّ الْمُرْتَفِعَ: هُوَ الْمَنْعُ مِنْ الْأُمُورِ الْمَخْصُوصَةِ، وَذَلِكَ الْمَنْعُ مُرْتَفِعٌ بِالتَّيَمُّمِ.

فَالتَّيَمُّمُ يَرْفَعُ الْحَدَثَ.

غَايَةُ مَا فِي الْبَابِ: أَنَّ رَفْعَهُ لِلْحَدَثِ مَخْصُوصٌ بِوَقْتٍ مَا، أَوْ بِحَالَةٍ مَا.

وَهِيَ عَدَمُ الْمَاءِ. وَلَيْسَ ذَلِكَ بِبِدْعٍ، فَإِنَّ الْأَحْكَامَ قَدْ تَخْتَلِفُ بِاخْتِلَافِ مَحَالِّهَا. وَقَدْ كَانَ الْوُضُوءُ فِي صَدْرِ الْإِسْلَامِ وَاجِبًا لِكُلِّ صَلَاةٍ، عَلَى مَا حَكَوْهُ وَلَا نَشُكُّ أَنَّهُ كَانَ رَافِعًا لِلْحَدَثِ فِي وَقْتٍ مَخْصُوصٍ.

وَهُوَ وَقْتُ الصَّلَاةِ.

وَلَمْ يَلْزَمْ مِنْ انْتِهَائِهِ بِانْتِهَاءِ وَقْتِ الصَّلَاةِ فِي ذَلِكَ الزَّمَنِ: أَنْ لَا يَكُونَ رَافِعًا لِلْحَدَثِ.

ثُمَّ نُسِخَ ذَلِكَ الْحُكْمُ عِنْدَ الْأَكْثَرِينَ.

وَنُقِلَ عَنْ بَعْضِهِمْ؛ أَنَّهُ مُسْتَمِرٌّ.

وَلَا شَكَّ أَنَّهُ لَا يَقُولُ: إنَّ الْوُضُوءَ لَا يَرْفَعُ الْحَدَثَ.

نَعَمْ هَهُنَا مَعْنًى رَابِعٌ، يَدَّعِيهِ كَثِيرٌ مِنْ الْفُقَهَاءِ، وَهُوَ أَنَّ الْحَدَثَ وَصْفٌ حُكْمِيٌّ مُقَدَّرٌ قِيَامُهُ بِالْأَعْضَاءِ عَلَى مُقْتَضَى الْأَوْصَافِ الْحِسِّيَّةِ.

وَيُنْزِلُونَ ذَلِكَ الْحُكْمِيَّ مَنْزِلَةَ الْحِسِّيِّ فِي قِيَامِهِ بِالْأَعْضَاءِ.

فَمَا نَقُولُ: إنَّهُ يَرْفَعُ الْحَدَثَ - كَالْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ - يُزِيلُ ذَلِكَ الْأَمْرَ الْحُكْمِيَّ.

فَيَزُولُ الْمَنْعُ الْمُرَتَّبُ عَلَى ذَلِكَ الْأَمْرِ الْمُقَدَّرِ الْحُكْمِيِّ.

وَمَا نَقُولُ بِأَنَّهُ لَا يَرْفَعُ الْحَدَثَ، فَذَلِكَ الْمَعْنَى الْمُقَدَّرُ الْقَائِمُ بِالْأَعْضَاءِ حُكْمًا بَاقٍ لَمْ يَزُلْ.

وَالْمَنْعُ الْمُرَتَّبُ عَلَيْهِ زَائِلٌ.

فَبِهَذَا الِاعْتِبَارِ نَقُولُ: إنَّ التَّيَمُّمَ لَا يَرْفَعُ الْحَدَثَ، بِمَعْنَى أَنَّهُ لَمْ يَزُلْ ذَلِكَ الْوَصْفُ الْحُكْمِيُّ الْمُقَدَّرُ وَإِنْ كَانَ الْمَنْعُ زَائِلًا.

وَحَاصِلُ هَذَا: أَنَّهُمْ أَبْدَوْا لِلْحَدَثِ مَعْنًى رَابِعًا، غَيْرَ مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ الثَّلَاثَةِ الْمَعَانِي.

وَجَعَلُوهُ مُقَدَّرًا قَائِمًا بِالْأَعْضَاءِ حُكْمًا، كَالْأَوْصَافِ الْحِسِّيَّةِ، وَهُمْ مُطَالَبُونَ بِدَلِيلٍ شَرْعِيٍّ يَدُلُّ عَلَى إثْبَاتِ هَذَا الْمَعْنَى الرَّابِعِ، الَّذِي ادَّعَوْهُ مُقَدَّرًا قَائِمًا بِالْأَعْضَاءِ، فَإِنَّهُ مَنْفِيٌّ بِالْحَقِيقَةِ، وَالْأَصْلُ مُوَافَقَةُ الشَّرْعِ لَهَا، وَيَبْعُدُ أَنْ يَأْتُوا بِدَلِيلٍ عَلَى ذَلِكَ.

وَأَقْرَبُ مَا يُذْكَرُ فِيهِ: أَنَّ الْمَاءَ الْمُسْتَعْمَلَ قَدْ انْتَقَلَ إلَيْهِ الْمَانِعُ، كَمَا يُقَالُ، وَالْمَسْأَلَةُ مُتَنَازَعٌ فِيهَا.

فَقَدْ قَالَ جَمَاعَةٌ بِطَهُورِيَّةِ الْمَاءِ الْمُسْتَعْمَلِ.

وَلَوْ قِيلَ بِعَدَمِ طَهُورِيَّتِهِ أَوْ بِنَجَاسَتِهِ: لَمْ يَلْزَمْ مِنْهُ انْتِقَالُ مَانِعٍ إلَيْهِ.

فَلَا يَتِمُّ الدَّلِيلُ.

وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

الْوَجْهُ الثَّالِثُ: اسْتَعْمَلَ الْفُقَهَاءُ " الْحَدَثَ " عَامًّا فِيمَا يُوجِبُ الطَّهَارَةَ، فَإِذَا حُمِلَ الْحَدِيثُ عَلَيْهِ - أَعْنِي قَوْلَهُ «إذَا أَحْدَثَ» - جَمَعَ أَنْوَاعَ النَّوَاقِضِ عَلَى
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

পবিত্রকারী বস্তু ব্যবহারের পূর্ব পর্যন্ত যে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ ছিল, তা দূরীভূত হয়েছে।

আর এই বিশ্লেষণের মাধ্যমে তাদের মত জোরালো হয় যারা মনে করেন যে, তায়াম্মুম অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করে।

কেননা আমরা যখন স্পষ্ট করেছি যে, যা দূরীভূত হয় তা হলো নির্দিষ্ট বিষয়সমূহ পালনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা, আর সেই নিষেধাজ্ঞা তায়াম্মুমের মাধ্যমে দূরীভূত হয়ে যায়।

সুতরাং তায়াম্মুম অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করে।

এই প্রসঙ্গের মূল কথা হলো: তায়াম্মুমের মাধ্যমে অপবিত্রতা দূর হওয়া একটি নির্দিষ্ট সময় অথবা একটি নির্দিষ্ট অবস্থার সাথে খাস বা নির্দিষ্ট।

আর তা হলো পানির অনুপস্থিতি। এটি কোনো নজিরবিহীন বিষয় নয়, কারণ বিধানসমূহ স্থান ও পাত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। ইসলামের প্রাথমিক যুগে বর্ণিত বর্ণনা অনুযায়ী প্রতিটি সালাতের জন্য ওযু করা ওয়াজিব ছিল, এবং আমরা এ ব্যাপারে নিশ্চিত যে তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপবিত্রতা দূরকারী ছিল।

আর তা হলো সালাতের সময়।

তৎকালীন সময়ে সালাতের সময় শেষ হওয়ার সাথে সাথে সেই পবিত্রতা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে এটি আবশ্যক হয় না যে, তা অপবিত্রতা দূরকারী ছিল না।

এরপর জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের নিকট এই বিধানটি রহিত হয়ে গেছে।

তবে কারো কারো থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি এখনো অব্যাহত রয়েছে।

আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, তিনি (সেই বর্ণনাকারী) এমনটি বলেন না যে ওযু অপবিত্রতা দূর করে না।

হ্যাঁ, এখানে চতুর্থ একটি অর্থ রয়েছে যার দাবি অনেক ফকিহ করেন। তা হলো, অপবিত্রতা (হাদাস) হলো একটি হুকমি বা শরয়ি গুণ, যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণের ন্যায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান বলে ধরে নেওয়া হয়।

তারা এই শরয়ি হুকুমকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান থাকার ক্ষেত্রে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অবস্থার স্থলাভিষিক্ত মনে করেন।

সুতরাং যে সম্পর্কে আমরা বলি যে তা অপবিত্রতা দূর করে—যেমন ওযু ও গোসল—তা সেই শরয়ি বিষয়টিকেই দূরীভূত করে দেয়।

ফলে সেই নির্ধারিত শরয়ি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপিত ছিল, তাও দূরীভূত হয়।

আর যার সম্পর্কে আমরা বলি যে তা অপবিত্রতা দূর করে না, সেক্ষেত্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান সেই নির্ধারিত শরয়ি অর্থটি হুকুমত অবশিষ্ট থাকে, তা দূরীভূত হয় না।

যদিও তার ওপর ভিত্তি করে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা দূরীভূত হয়ে যায়।

এই বিবেচনায় আমরা বলি যে, তায়াম্মুম অপবিত্রতা দূর করে না; অর্থাৎ নিষেধাজ্ঞা দূরীভূত হলেও সেই নির্ধারিত শরয়ি গুণটি দূরীভূত হয় না।

এর সারকথা হলো: তারা অপবিত্রতা বা হাদাসের ক্ষেত্রে আমাদের উল্লিখিত তিনটি অর্থ ছাড়াও চতুর্থ একটি অর্থ উপস্থাপন করেছেন।

তারা বিষয়টিকে ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য গুণের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান একটি নির্ধারিত শরয়ি বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন। অথচ তাদের কাছে এমন শরয়ি দলীল দাবি করা হবে যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে বিদ্যমান এই চতুর্থ অর্থটির সত্যতা প্রমাণ করে। কারণ বাস্তবে এর কোনো অস্তিত্ব নেই, আর মূলনীতি হলো শরীয়ত বাস্তবতার অনুগামী হওয়া, এমতাবস্থায় তাদের পক্ষে এর স্বপক্ষে কোনো দলীল পেশ করা সুদূরপরাহত।

এই বিষয়ে সবচেয়ে কাছাকাছি যে যুক্তিটি দেওয়া হয় তা হলো, ব্যবহৃত পানিতে (মায়ে মুস্তা’মাল) নিষেধাজ্ঞা স্থানান্তরিত হয়—যেমনটি বলা হয়ে থাকে—অথচ এই মাসআলাটি নিয়ে মতভেদ রয়েছে।

কেননা একদল আলেম ব্যবহৃত পানি পবিত্র ও পবিত্রকারী হওয়ার কথা বলেছেন।

আর যদি এর পবিত্রকারিতা না থাকা বা নাপাক হওয়ার কথা বলাও হয়, তবে তা থেকে নিষেধাজ্ঞা স্থানান্তরিত হওয়া আবশ্যক হয় না।

সুতরাং দলীলটি পূর্ণাঙ্গ হয় না।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

তৃতীয় দিক: ফকিহগণ 'হাদাস' শব্দটিকে পবিত্রতা অর্জন ওয়াজিব করে এমন সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে ব্যবহার করেছেন। সুতরাং যখন হাদিসটিকে এর ওপর প্রয়োগ করা হবে—অর্থাৎ রাসুলুল্লাহর বাণী "যখন কেউ অপবিত্র হয়"—তখন তা সকল প্রকার ওযু ভঙ্গকারী বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে...
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৬)
3 - الْحَدِيثُ الثَّالِثُ: عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعَائِشَةَ رضي الله عنهم قَالُوا: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ» .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

مُقْتَضَى هَذَا الِاسْتِعْمَالِ، لَكِنْ أَبُو هُرَيْرَةَ قَدْ فَسَّرَ الْحَدَثَ فِي بَعْضِ الْأَحَادِيثِ - لَمَّا سُئِلَ عَنْهُ - بِأَخَصَّ مِنْ هَذَا الِاصْطِلَاحِ، وَهُوَ الرِّيحُ، إمَّا بِصَوْتٍ أَوْ بِغَيْرِ صَوْتٍ، فَقِيلَ لَهُ: " يَا أَبَا هُرَيْرَةَ، مَا الْحَدَثُ؟ فَقَالَ: فُسَاءٌ أَوْ ضُرَاطٌ " وَلَعَلَّهُ قَامَتْ لَهُ قَرَائِنُ حَالِيَّةٌ اقْتَضَتْ هَذَا التَّخْصِيصَ.

الْوَجْهُ الرَّابِعُ: اُسْتُدِلَّ بِهَذَا الْحَدِيثِ عَلَى أَنَّ الْوُضُوءَ لَا يَجِبُ لِكُلِّ صَلَاةٍ.

وَوَجْهُ الِاسْتِدْلَالِ بِهِ: أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم نَفَى الْقَبُولَ مُمْتَدًّا إلَى غَايَةِ الْوُضُوءِ.

وَمَا بَعْدَ الْغَايَةِ مُخَالِفٌ لِمَا قَبْلَهَا.

فَيَقْتَضِي ذَلِكَ قَبُولَ الصَّلَاةِ بَعْدَ الْوُضُوءِ مُطْلَقًا.

وَتَدْخُلُ تَحْتَهُ الصَّلَاةُ الثَّانِيَةُ قَبْلَ الْوُضُوءِ لَهَا ثَانِيًا.

 

‌‌[حَدِيثُ وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ]

الْحَدِيثُ فِيهِ دَلِيلٌ عَلَى وُجُوبِ تَعْمِيمِ الْأَعْضَاءِ بِالْمُطَهِّرِ، وَأَنْ تَرْكَ الْبَعْضِ مِنْهَا غَيْرُ مُجْزِئٍ.

وَنَصُّهُ إنَّمَا هُوَ فِي الْأَعْقَابِ.

وَسَبَبُ التَّخْصِيصِ: أَنَّهُ وَرَدَ عَلَى سَبَبٍ.

وَهُوَ أَنَّهُ صلى الله عليه وسلم " رَأَى قَوْمًا وَأَعْقَابُهُمْ تَلُوحُ ".

وَالْأَلِفُ وَاللَّامُ يُحْتَمَلُ أَنْ تَكُونَ لِلْعَهْدِ.

وَالْمُرَادُ: الْأَعْقَابُ الَّتِي رَآهَا كَذَلِكَ لَمْ يَمَسَّهَا الْمَاءُ.

وَيُحْتَمَلُ أَنْ لَا تُخَصَّ بِتِلْكَ الْأَعْقَابِ الَّتِي رَآهَا كَذَلِكَ.

وَتَكُونُ الْأَعْقَابُ الَّتِي صِفَتُهَا هَذِهِ الصِّفَةُ، أَيْ الَّتِي لَا تُعَمَّمُ بِالْمُطَهِّرِ.

وَلَا يَجُوزُ أَنْ تَكُونَ الْأَلِفُ وَاللَّامُ لِلْعُمُومِ الْمُطْلَقِ.

وَقَدْ وَرَدَ فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ «رَآنَا وَنَحْنُ نَمْسَحُ عَلَى أَرْجُلِنَا فَقَالَ: وَيْلٌ لِلْأَعْقَابِ مِنْ النَّارِ» فَاسْتُدِلَّ بِهِ عَلَى أَنَّ مَسْحَ الْأَرْجُلِ غَيْرُ مُجْزِئٍ.

وَهُوَ عِنْدِي لَيْسَ بِجَيِّدٍ.

؛ لِأَنَّهُ قَدْ فُسِّرَ فِي الرِّوَايَةِ الْأُخْرَى " أَنَّ الْأَعْقَابَ كَانَتْ تَلُوحُ لَمْ يَمَسَّهَا الْمَاءُ " وَلَا شَكَّ أَنَّ هَذَا مُوجِبٌ لِلْوَعِيدِ بِالِاتِّفَاقِ.
৩ - তৃতীয় হাদিস: আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস, আবু হুরায়রা এবং আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত, তাঁরা বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "অগ্নিতে গোড়ালিগুলোর জন্য দুর্ভোগ রয়েছে।"

—————————————

এই ব্যবহারের দাবি এটিই, তবে আবু হুরায়রা কোনো কোনো হাদিসে 'হাদাস' বা অপবিত্রতার ব্যাখ্যা করেছেন—যখন এ সম্পর্কে তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল—এই পারিভাষিক অর্থের চেয়ে আরও বিশেষ অর্থে, আর তা হলো বায়ু নির্গত হওয়া, চাই তা শব্দসহ হোক বা শব্দহীন। তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: "হে আবু হুরায়রা, হাদাস কী?" তিনি বললেন: "শব্দহীন বায়ু বা শব্দযুক্ত বায়ু।" সম্ভবত কোনো পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ভিত্তিতে তিনি এই বিশেষায়িত ব্যাখ্যাটি দিয়েছিলেন।

চতুর্থ দিক: এই হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করা হয়েছে যে, প্রত্যেক নামাজের জন্য অজু করা ওয়াজিব নয়।

দলিলের প্রকৃতি হলো: তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অজু করা পর্যন্ত নামাজের গ্রহণযোগ্যতা অস্বীকার করেছেন।

আর সীমার পরের বিষয় সীমার আগের বিষয়ের বিপরীত হয়।

সুতরাং এটি অজু করার পর নামাজ কবুল হওয়ার বিষয়টি সাধারণভাবে সাব্যস্ত করে।

এবং এর অধীনে দ্বিতীয়বারের মতো অজু করার পূর্বেই দ্বিতীয় নামাজ আদায় করাও অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

‌‌[গোড়ালিগুলোর জন্য আগুনের দুর্ভোগ সংক্রান্ত হাদিস]

এই হাদিসটি পবিত্রকারী পানি দ্বারা অঙ্গসমূহ পরিপূর্ণভাবে ধৌত করার আবশ্যকতা প্রমাণ করে এবং কোনো অংশ বাদ রাখা যথেষ্ট হবে না বলে নির্দেশ করে।

এর ভাষ্য কেবল গোড়ালিগুলোর ক্ষেত্রে এসেছে।

এই বিশেষায়নের কারণ হলো: এটি একটি বিশেষ প্রেক্ষাপটে বর্ণিত হয়েছে।

আর তা হলো, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এক সম্প্রদায়কে দেখেছিলেন যাদের গোড়ালিগুলো (শুষ্কতার কারণে) চিকচিক করছিল।

আর এখানে 'আলিফ-লাম' নির্দিষ্টকরণের (আহদ) জন্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এর অর্থ হলো: সেই গোড়ালিগুলো যেগুলো তিনি দেখেছিলেন এবং সেগুলোতে পানি পৌঁছেনি।

আবার এ সম্ভাবনাও রয়েছে যে, এটি কেবল তাঁর দেখা সেই গোড়ালিগুলোর জন্য নির্দিষ্ট নয়।

বরং এমন সব গোড়ালিই উদ্দেশ্য হবে যেগুলোর গুণাবলী এরকম, অর্থাৎ যেগুলোকে পবিত্রকারী পানি দ্বারা পরিপূর্ণ ভেজানো হয় না।

আর এখানে 'আলিফ-লাম' নিরঙ্কুশ ব্যাপকতা (উমুম মুতলাক) অর্থে হওয়া বৈধ নয়।

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: "তিনি আমাদের দেখেছিলেন যখন আমরা আমাদের পায়ের ওপর মাসাহ করছিলাম, তখন তিনি বললেন: 'গোড়ালিগুলোর জন্য আগুনের দুর্ভোগ রয়েছে'।" এর দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, পা মাসাহ করা যথেষ্ট নয়।

তবে এটি আমার নিকট খুব একটা শক্তিশালী দলিল নয়।

কারণ অন্য বর্ণনায় এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, "গোড়ালিগুলো চিকচিক করছিল যেগুলোতে পানি পৌঁছেনি।" আর নিঃসন্দেহে এটি সর্বসম্মতিক্রমে শাস্তির হুঁশিয়ারির কারণ।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৭)
4 - الْحَدِيثُ الرَّابِعُ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم «إذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً، ثُمَّ لِيَنْتَثِرْ، وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ، وَإِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلْيَغْسِلْ يَدَيْهِ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَهُمَا فِي الْإِنَاءِ ثَلَاثًا فَإِنَّ أَحَدَكُمْ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ» . وَفِي لَفْظٍ لِمُسْلِمٍ «فَلْيَسْتَنْشِقْ بِمَنْخِرَيْهِ مِنْ الْمَاءِ» وَفِي لَفْظٍ «مَنْ تَوَضَّأَ فَلْيَسْتَنْشِقْ» .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

وَاَلَّذِينَ اسْتَدَلُّوا عَلَى أَنَّ الْمَسْحَ غَيْرُ مُجْزِئٍ إنَّمَا اعْتَبَرُوا لَفْظَ هَذِهِ الرِّوَايَةِ فَقَطْ، وَقَدْ رُتِّبَ فِيهَا الْوَعِيدُ عَلَى مُسَمَّى الْمَسْحِ.

وَلَيْسَ فِيهَا تَرْكُ بَعْضِ الْعُضْوِ.

وَالصَّوَابُ - إذَا جُمِعَتْ طُرُقُ الْحَدِيثِ -: أَنْ يَسْتَدِلُّ بَعْضُهَا عَلَى بَعْضٍ، وَيُجْمَعُ مَا يُمْكِنُ جَمْعُهُ.

فَبِهِ يَظْهَرُ الْمُرَادُ.

وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

وَيُسْتَدَلُّ بِالْحَدِيثِ عَلَى أَنَّ " الْعَقِبَ " مَحَلٌّ لِلتَّطْهِيرِ، فَيَبْطُلُ قَوْلُ مَنْ يَكْتَفِي بِالتَّطْهِيرِ فِيمَا دُونَ ذَلِكَ.

 

‌‌[حَدِيثُ إذَا تَوَضَّأَ أَحَدُكُمْ فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ مَاءً]

فِيهِ مَسَائِلُ: الْأُولَى: فِي هَذِهِ الرِّوَايَةِ: " فَلْيَجْعَلْ فِي أَنْفِهِ " وَلَمْ يَقُلْ " مَاءً " وَهُوَ مُبَيَّنٌ فِي غَيْرِهَا وَتَرَكَهُ لِدَلَالَةِ الْكَلَامِ عَلَيْهِ.

الثَّانِيَةُ: تَمَسَّكَ بِهِ مَنْ يَرَى وُجُوبَ الِاسْتِنْشَاقِ، وَهُوَ مَذْهَبُ أَحْمَدَ، وَمَذْهَبُ الشَّافِعِيِّ وَمَالِكٍ: عَدَمُ الْوُجُوبِ.

وَحَمَلَا الْأَمْرَ عَلَى النَّدْبِ، بِدَلَالَةِ مَا جَاءَ فِي الْحَدِيثِ مِنْ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم لِلْأَعْرَابِيِّ «تَوَضَّأْ كَمَا أَمَرَكَ اللَّهُ» فَأَحَالَهُ عَلَى الْآيَةِ.

وَلَيْسَ فِيهَا ذِكْرُ الِاسْتِنْشَاقِ.

الثَّالِثَةُ: الْمَعْرُوفُ أَنَّ " الِاسْتِنْشَاقَ " جَذْبُ الْمَاءِ إلَى الْأَنْفِ.
৪ - চতুর্থ হাদিস: আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, "তোমাদের মধ্যে কেউ যখন অজু করে, তখন সে যেন তার নাকে পানি দেয় এবং তা ঝেড়ে ফেলে। আর যে ব্যক্তি পাথর ব্যবহার করে (ইস্তিঞ্জা করে), সে যেন বিজোড় সংখ্যায় পাথর নেয়। আর তোমাদের কেউ যখন তার ঘুম থেকে জাগে, সে যেন পাত্রের মধ্যে হাত প্রবেশের আগে তিনবার হাত ধুয়ে নেয়; কারণ তোমাদের কেউ জানে না যে, রাতে তার হাত কোথায় ছিল।" মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, "সে যেন তার দুই নাসারন্ধ্রে পানি টেনে নেয়।" অন্য এক বর্ণনায় আছে, "যে ব্যক্তি অজু করে সে যেন নাক ঝেড়ে ফেলে।"

ـــــــــــــــــــــــــــــ

যারা এই দলিল দিয়েছেন যে কেবল মাসেহ করা যথেষ্ট নয়, তারা মূলত কেবল এই বর্ণনার শব্দমালার প্রতি লক্ষ্য করেছেন। এখানে মূলত মাসেহ নামক কার্যের ওপর শাস্তির হুমকি দেওয়া হয়েছে।

এতে অঙ্গের কোনো অংশ বাদ দেওয়ার কথা নেই।

সঠিক পদ্ধতি হলো—হাদিসের সকল সূত্র একত্রিত করলে—একটিকে অন্যটির ব্যাখ্যা হিসেবে গ্রহণ করা এবং যতটুকু সম্ভব সমন্বয় করা।

এর মাধ্যমেই প্রকৃত উদ্দেশ্য ফুটে ওঠে।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।

এই হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয় যে "গোড়ালি" ধোয়া বা পবিত্র করা আবশ্যক; ফলে যারা এর চেয়ে কম কিছু ধোয়াকে যথেষ্ট মনে করেন, তাদের বক্তব্য বাতিল হয়ে যায়।

 

‌‌[হাদিস: যখন তোমাদের কেউ অজু করে, সে যেন নাকে পানি দেয়]

এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে: প্রথম: এই বর্ণনায় রয়েছে: "সে যেন তার নাকে দেয়", এখানে "পানি" শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি। তবে অন্যান্য বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, আর এখানে প্রসঙ্গের কারণে তা উহ্য রাখা হয়েছে।

দ্বিতীয়: যারা নাকে পানি দেওয়াকে (ইসতিনশাক) ওয়াজিব মনে করেন তারা এই হাদিসটি গ্রহণ করেছেন, আর এটি ইমাম আহমাদের মাযহাব। পক্ষান্তরে ইমাম শাফেঈ ও ইমাম মালিকের মাযহাব হলো এটি ওয়াজিব নয়।

তারা উভয় এই আদেশকে মুস্তাহাব অর্থে গ্রহণ করেছেন। এর সপক্ষে দলিল হলো হাদিসে বর্ণিত আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সেই বাণী যা তিনি এক বেদুঈনকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন: "তুমি অজু করো সেভাবে যেভাবে আল্লাহ তোমাকে আদেশ দিয়েছেন।" এভাবে তিনি তাকে কুরআনের আয়াতের দিকে নির্দেশ করেছেন।

আর সেই আয়াতে নাকে পানি দেওয়ার কোনো উল্লেখ নেই।

তৃতীয়: সুপরিচিত অর্থ হলো "ইসতিনশাক" মানে নাকের ভেতর পানি টেনে নেওয়া।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

وَ " الِاسْتِنْثَارُ " دَفْعُهُ لِلْخُرُوجِ. وَمِنْ النَّاسِ مَنْ جَعَلَ الِاسْتِنْثَارَ لَفْظًا يَدُلُّ عَلَى الِاسْتِنْشَاقِ الَّذِي هُوَ الْجَذْبُ وَأَخَذَهُ مِنْ النَّثْرَةِ، وَهِيَ طَرَفُ الْأَنْفِ. وَالِاسْتِفْعَالُ مِنْهَا يَدْخُلُ تَحْتَهُ الْجَذْبُ وَالدَّفْعُ مَعًا.

وَالصَّحِيحُ: هُوَ الْأَوَّلُ.

؛ لِأَنَّهُ قَدْ جَمَعَ بَيْنَهُمَا فِي حَدِيثٍ وَاحِدٍ وَذَلِكَ يَقْتَضِي التَّغَايُرَ.

 

‌‌[اسْتِعْمَالُ الْأَحْجَارِ فِي الِاسْتِطَابَةِ] 1

الرَّابِعَةُ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «وَمَنْ اسْتَجْمَرَ فَلْيُوتِرْ» الظَّاهِرُ: أَنَّ الْمُرَادَ بِهِ: اسْتِعْمَالُ الْأَحْجَارِ فِي الِاسْتِطَابَةِ وَإِيتَارٌ فِيهَا بِالثَّلَاثِ وَاجِبٌ عِنْدَ الشَّافِعِيِّ.

فَإِنَّ الْوَاجِبَ عِنْدَهُ رحمه الله فِي الِاسْتِجْمَارِ أَمْرَانِ.

أَحَدُهُمَا: إزَالَةُ الْعَيْنِ.

وَالثَّانِي: اسْتِيفَاءُ ثَلَاثِ مَسَحَاتٍ.

وَظَاهِرُ الْأَمْرِ الْوُجُوبُ.

لَكِنَّ هَذَا الْحَدِيثَ لَا يَدُلُّ عَلَى الْإِيتَارِ بِالثَّلَاثِ.

فَيُؤْخَذُ مِنْ حَدِيثٍ آخَرَ.

وَقَدْ حَمَلَ بَعْضُ النَّاسِ الِاسْتِجْمَارَ عَلَى اسْتِعْمَالِ الْبَخُورِ لِلتَّطَيُّبِ.

فَإِنَّهُ يُقَالُ فِيهِ: تَجَمَّرَ وَاسْتَجْمَرَ.

فَيَكُونُ الْأَمْرُ لِلنَّدْبِ عَلَى هَذَا.

وَالظَّاهِرُ: هُوَ الْأَوَّلُ، أَعْنِي أَنَّ الْمُرَادَ: هُوَ اسْتِعْمَالُ الْأَحْجَارِ.

 

‌‌[غَسْل الْيَدَيْنِ قَبْلَ إدْخَالِهِمَا فِي الْإِنَاءِ] 1

الْخَامِسَةُ: ذَهَبَ بَعْضُهُمْ إلَى وُجُوبِ غَسْلِ الْيَدَيْنِ قَبْلَ إدْخَالِهِمَا فِي الْإِنَاءِ فِي ابْتِدَاءِ الْوُضُوءِ، عِنْدَ الِاسْتِيقَاظِ مِنْ النَّوْمِ، لِظَاهِرِ الْأَمْرِ.

وَلَا يُفَرِّقُ هَؤُلَاءِ بَيْنَ نَوْمِ اللَّيْلِ وَنَوْمِ النَّهَارِ، لِإِطْلَاقِ قَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «إذَا اسْتَيْقَظَ مِنْ نَوْمِهِ» وَذَهَبَ أَحْمَدُ إلَى وُجُوبِ ذَلِكَ مِنْ نَوْمِ اللَّيْلِ، دُونَ نَوْمِ النَّهَارِ.

لِقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ؟» وَالْمَبِيتُ يَكُونُ بِاللَّيْلِ. وَذَهَبَ غَيْرُهُمْ إلَى عَدَمِ الْوُجُوبِ مُطْلَقًا.

وَهُوَ مَذْهَبُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ.

وَالْأَمْرُ مَحْمُولٌ عَلَى النَّدْبِ.

وَاسْتُدِلَّ عَلَى ذَلِكَ بِوَجْهَيْنِ.

أَحَدُهُمَا: مَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ حَدِيثِ الْأَعْرَابِيِّ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

এবং "ইসতিনসার" হলো (নাক থেকে পানি) বের করে দেওয়ার জন্য ঝেড়ে ফেলা। আর কিছু মানুষ ইসতিনসারকে এমন একটি শব্দ হিসেবে গণ্য করেছেন যা ইসতিনশাক বা (নাক দিয়ে পানি) টেনে নেওয়াকেও বুঝায়। তারা একে "নাসরাহ" শব্দ থেকে গ্রহণ করেছেন, যার অর্থ নাকের অগ্রভাগ। আর এই মূলধাতু থেকে উৎসারিত শব্দের মধ্যে পানি টানা এবং বের করে দেওয়া উভয়ই অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

আর সঠিক মত হলো প্রথমটি।

কারণ একটি হাদিসে এই দুটির কথা একত্রে বর্ণিত হয়েছে, যা এ দুটোর ভিন্নতাকে দাবি করে।

 

‌‌[শৌচকার্যে পাথর ব্যবহার করা] ১

চতুর্থ মাসআলা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী "এবং যে পাথর ব্যবহার করবে সে যেন তা বেজোড় সংখ্যায় করে"। এর বাহ্যিক অর্থ হলো: শৌচকার্যে পাথর ব্যবহার করা এবং ইমাম শাফিঈর নিকট এতে তিনবার পাথর ব্যবহারের মাধ্যমে বেজোড় করা ওয়াজিব।

কেননা তাঁর (রাহিমাহুল্লাহ) নিকট পাথর ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হলো দুটি বিষয়।

এক: অপবিত্রতার মূল বস্তু দূর করা।

দুই: তিনবার মোছা পূর্ণ করা।

আর নির্দেশের বাহ্যিক দাবি হলো ওয়াজিব হওয়া।

তবে এই হাদিসটি সরাসরি তিনবারের মাধ্যমে বেজোড় করার বিষয়টি নির্দেশ করে না।

তাই এটি অন্য হাদিস থেকে গ্রহণ করতে হবে।

কিছু মানুষ "ইসতিজমার" শব্দটিকে সুগন্ধি গ্রহণের জন্য ধূপ বা আগরবাতি ব্যবহারের অর্থে গ্রহণ করেছেন।

কেননা সেই অর্থেও "তাজাম্মারা" এবং "ইসتাজমারা" শব্দ ব্যবহৃত হয়।

এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী নির্দেশটি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় হওয়ার অর্থ প্রদান করবে।

কিন্তু বাহ্যিক ও প্রবল অর্থ হলো প্রথমটি, অর্থাৎ আমার উদ্দেশ্য হলো: পাথর ব্যবহার করা।

 

‌‌[পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে উভয় হাত ধৌত করা] ১

পঞ্চম মাসআলা: একদল ফকিহ ঘুমের পর জাগ্রত হয়ে ওযুর শুরুতে পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে উভয় হাত ধৌত করা ওয়াজিব বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন, নির্দেশের বাহ্যিক রূপের কারণে।

তারা রাতের ঘুম এবং দিনের ঘুমের মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণীটি সাধারণ: "যখন কেউ তার ঘুম থেকে জাগ্রত হয়"। তবে ইমাম আহমাদ এটি রাতের ঘুমের ক্ষেত্রে ওয়াজিব বলেছেন, দিনের ঘুমের ক্ষেত্রে নয়।

কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তার হাত কোথায় রাত অতিবাহিত করেছে (সে তা জানে না)?" আর রাত অতিবাহিত করা কেবল রাতেই হয়ে থাকে। অন্য ফকিহগণ এটি মোটেও ওয়াজিব নয় বলে মত দিয়েছেন।

আর এটি ইমাম মালিক এবং ইমাম শাফিঈর মাযহাব।

এখানে নির্দেশটি মুস্তাহাব বা পছন্দনীয় অর্থে গ্রহণ করা হবে।

এর সপক্ষে দুটি দলীল পেশ করা হয়েছে।

প্রথমটি: গ্রাম্য ব্যক্তির যে হাদিসটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৬৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

وَالثَّانِي: أَنَّ الْأَمْرَ - وَإِنْ كَانَ ظَاهِرَهُ الْوُجُوبُ - إلَّا أَنَّهُ يُصْرَفُ عَنْ الظَّاهِرِ لِقَرِينَةٍ وَدَلِيلٍ، وَقَدْ دَلَّ الدَّلِيلُ، وَقَامَتْ الْقَرِينَةُ هَهُنَا.

فَإِنَّهُ صلى الله عليه وسلم عَلَّلَ بِأَمْرٍ يَقْتَضِي الشَّكَّ.

وَهُوَ قَوْلُهُ «فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ؟» وَالْقَوَاعِدُ تَقْتَضِي أَنَّ الشَّكَّ لَا يَقْتَضِي وُجُوبًا فِي الْحُكْمِ، إذَا كَانَ الْأَصْلُ الْمُسْتَصْحَبُ عَلَى خِلَافِهِ مَوْجُودًا.

وَالْأَصْلُ: الطَّهَارَةُ فِي الْيَدِ، فَلْتُسْتَصْحَبْ [وَفِيهِ احْتِرَازٌ عَنْ مَسْأَلَةِ الصَّيْدِ] .

السَّادِسَةُ، قِيلَ: إنَّ سَبَبَ هَذَا الْأَمْرِ: أَنَّهُمْ كَانُوا يَسْتَنْجُونَ بِالْأَحْجَارِ، فَرُبَّمَا وَقَعَتْ الْيَدُ عَلَى الْمَحِلِّ وَهُوَ عَرِقٌ، فَتَنَجَّسَتْ.

فَإِذَا وُضِعَتْ فِي الْمَاءِ نَجَّسَتْهُ؛ لِأَنَّ الْمَاءَ الْمَذْكُورَ فِي الْحَدِيثِ: هُوَ مَا يَكُونُ فِي الْأَوَانِي الَّتِي يُتَوَضَّأُ مِنْهَا.

وَالْغَالِبُ عَلَيْهَا الْقِلَّةُ.

وَقِيلَ: إنَّ الْإِنْسَانَ لَا يَخْلُو مِنْ حَكِّ بَثْرَةٍ فِي جِسْمِهِ، أَوْ مُصَادَفَةِ حَيَوَانٍ ذِي دَمٍ فَيَقْتُلُهُ، فَيَتَعَلَّقُ دَمُهُ بِيَدِهِ.

السَّابِعَةُ: الَّذِينَ ذَهَبُوا إلَى أَنَّ الْأَمْرَ لِلِاسْتِحْبَابِ: اسْتَحَبُّوا غَسْلَ الْيَدِ قَبْلَ إدْخَالِهَا فِي الْإِنَاءِ فِي ابْتِدَاءِ الْوُضُوءِ مُطْلَقًا، سَوَاءً قَامَ مِنْ النَّوْمِ أَمْ لَا.

وَلَهُمْ فِيهِ مَأْخَذَانِ.

أَحَدُهُمَا: أَنَّ ذَلِكَ: وَارِدٌ فِي صِفَةِ وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ غَيْرِ تَعَرُّضٍ لِسَبْقِ نَوْمٍ.

وَالثَّانِي: أَنَّ الْمَعْنَى الَّذِي عُلِّلَ بِهِ فِي الْحَدِيثِ - وَهُوَ جَوَلَان الْيَدِ مَوْجُودٌ فِي حَالِ الْيَقَظَةِ.

فَيَعُمُّ الْحُكْمُ لِعُمُومِ عِلَّتِهِ.

الثَّامِنَةُ: فَرَّقَ أَصْحَابُ الشَّافِعِيِّ، أَوْ مَنْ فَرَّقَ مِنْهُمْ، بَيْنَ حَالِ الْمُسْتَيْقِظِ مِنْ النَّوْمِ وَغَيْرِ الْمُسْتَيْقِظِ.

فَقَالُوا فِي الْمُسْتَيْقِظِ مِنْ النَّوْمِ: يُكْرَهُ أَنْ يَغْمِسَ يَدَهُ فِي الْإِنَاءِ، قَبْلَ غَسْلِهَا ثَلَاثًا.

وَفِي غَيْرِ الْمُسْتَيْقِظِ مِنْ النَّوْمِ: يُسْتَحَبُّ لَهُ غَسْلُهَا، قَبْلَ إدْخَالِهَا فِي الْإِنَاءِ.

وَلْيُعْلَمْ الْفَرْقُ بَيْنَ قَوْلِنَا " يُسْتَحَبُّ فِعْلُ كَذَا " وَبَيْنَ قَوْلِنَا " يُكْرَهُ تَرْكُهُ " فَلَا تَلَازُمَ بَيْنَهُمَا.

فَقَدْ يَكُونُ الشَّيْءُ مُسْتَحَبَّ الْفِعْلِ، وَلَا يَكُونُ مَكْرُوهَ التَّرْكِ، كَصَلَاةِ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

দ্বিতীয়ত: নির্দেশটি - যদিও তার বাহ্যিক রূপ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে - তবে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক লক্ষণ ও দলিলের ভিত্তিতে একে বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে, আর এখানে দলিল স্পষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক লক্ষণও বিদ্যমান।

কেননা তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন একটি কারণ বর্ণনা করেছেন যা সন্দেহের দাবি রাখে।

আর তা হলো তাঁর বাণী: "কেননা সে জানে না তার হাত কোথায় রাত কাটিয়েছে?" আর মূলনীতিসমূহ দাবি করে যে, সন্দেহ বিধানের ক্ষেত্রে ওয়াজিব হওয়াকে অবধারিত করে না, যখন তার বিপরীতে মূল অবস্থা (ইস্তিসহাব) বিদ্যমান থাকে।

আর মূল অবস্থা হলো: হাতের পবিত্রতা, সুতরাং সেটিকেই বহাল রাখা উচিত [আর এতে শিকারের মাসআলা থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে]।

ষষ্ঠত: বলা হয়েছে যে, এই নির্দেশের কারণ হলো: তারা পাথর দিয়ে ইস্তিনজা করতেন, ফলে সম্ভবত ঘামযুক্ত অবস্থায় হাত সেই স্থানে লেগে যেত এবং হাত অপবিত্র হয়ে যেত।

ফলে সেই হাত যখন পানিতে রাখা হতো, তখন তা পানিকে অপবিত্র করে দিত; কারণ হাদিসে উল্লিখিত পানি হলো সেই পানি যা এমন পাত্রে থাকে যা দিয়ে অজু করা হয়।

আর অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাত্রের পানি অল্প হয়ে থাকে।

আবার এও বলা হয়েছে যে: মানুষ তার শরীরের কোনো ফোঁড়া চুলকানো অথবা রক্তধারী কোনো পোকা মারার কাজ থেকে মুক্ত থাকে না, ফলে তার রক্ত হাতের সাথে লেগে যায়।

সপ্তমত: যারা এই নির্দেশটিকে মুস্তাহাব হওয়ার অর্থে গ্রহণ করেছেন: তারা অজুর শুরুতে পাত্রে হাত ঢোকানোর আগে হাত ধোয়াকে সাধারণভাবে মুস্তাহাব বলেছেন, চাই সে ঘুম থেকে উঠুক বা না উঠুক।

এ বিষয়ে তাদের দুটি ভিত্তি রয়েছে।

প্রথমটি হলো: এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অজুর পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে যেখানে আগে ঘুমের কোনো উল্লেখ নেই।

দ্বিতীয়টি হলো: হাদিসে যে কারণটি (ইল্লত) উল্লেখ করা হয়েছে—যা হলো হাতের নড়াচড়া—তা জাগ্রত অবস্থাতেও পাওয়া যায়।

সুতরাং কারণটি ব্যাপক হওয়ার কারণে বিধানটিও ব্যাপক হবে।

অষ্টমত: শাফেয়ি মাযহাবের অনুসারীরা, অথবা তাদের মধ্যে যারা পার্থক্য করেছেন, তারা ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তি এবং ঘুম ছাড়া অন্য অবস্থার মধ্যে পার্থক্য করেছেন।

ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তারা বলেছেন: তিনবার ধোয়ার আগে পাত্রের পানিতে হাত চুবানো মাকরূহ।

আর ঘুম থেকে জাগ্রত হওয়া ছাড়া অন্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে: পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে তা ধুয়ে নেওয়া মুস্তাহাব।

আর আমাদের এই কথা "অমুক কাজ করা মুস্তাহাব" এবং "তা বর্জন করা মাকরূহ" এর মধ্যকার পার্থক্য জেনে রাখা উচিত, কারণ এই দুইয়ের মধ্যে কোনো অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক নেই।

কেননা কোনো কাজ করা মুস্তাহাব হতে পারে, কিন্তু তা বর্জন করা মাকরূহ নাও হতে পারে, যেমন নামাজ
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭০)
5 - الْحَدِيثُ الْخَامِسُ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لَا يَجْرِي، ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ» وَلِمُسْلِمٍ «لَا يَغْتَسِلُ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

الضُّحَى مَثَلًا، وَكَثِيرٍ مِنْ النَّوَافِلِ.

فَغَسْلُهَا لِغَيْرِ الْمُسْتَيْقِظِ مِنْ النَّوْمِ، قَبْلَ إدْخَالِهَا الْإِنَاءَ: مِنْ الْمُسْتَحَبَّاتِ.

وَتَرْكُ غَسْلِهَا لِلْمُسْتَيْقِظِ مِنْ النَّوْمِ: مِنْ الْمَكْرُوهَاتِ.

وَقَدْ وَرَدَتْ صِيغَةُ النَّهْيِ عَنْ إدْخَالِهَا فِي الْإِنَاءِ قَبْلَ الْغَسْلِ فِي حَقِّ الْمُسْتَيْقِظِ مِنْ النَّوْمِ.

وَذَلِكَ يَقْتَضِي الْكَرَاهَةَ عَلَى أَقَلِّ الدَّرَجَاتِ.

وَهَذِهِ التَّفْرِقَةُ هِيَ الْأَظْهَرُ.

 

‌‌[وُرُود الْمَاءِ عَلَى النَّجَاسَةِ وَوُرُودِ النَّجَاسَةِ عَلَى الْمَاءِ]

التَّاسِعَةُ: اُسْتُنْبِطَ مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ: الْفَرْقُ بَيْنَ وُرُودِ الْمَاءِ عَلَى النَّجَاسَةِ، وَوُرُودِ النَّجَاسَةِ عَلَى الْمَاءِ.

وَوَجْهُ ذَلِكَ: أَنَّهُ قَدْ نَهَى عَنْ إدْخَالِهَا فِي الْإِنَاءِ قَبْلَ غَسْلِهَا، لِاحْتِمَالِ النَّجَاسَةِ.

وَذَلِكَ يَقْتَضِي: أَنَّ وُرُودَ النَّجَاسَةِ عَلَى الْمَاءِ مُؤَثِّرٌ فِيهِ. وَأَمَرَ بِغَسْلِهَا بِإِفْرَاغِ الْمَاءِ عَلَيْهَا لِلتَّطْهِيرِ.

وَذَلِكَ يَقْتَضِي: أَنَّ مُلَاقَاتَهَا لِلْمَاءِ عَلَى هَذَا الْوَجْهِ غَيْرُ مُفْسِدٍ لَهُ بِمُجَرَّدِ الْمُلَاقَاةِ، وَإِلَّا لَمَا حَصَلَ الْمَقْصُودُ مِنْ التَّطْهِيرِ.

 

‌‌[الْمَاءَ الْقَلِيلَ يَنْجَسُ بِوُقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهِ] 1

الْعَاشِرَةُ: اُسْتُنْبِطَ مِنْهُ: أَنَّ الْمَاءَ الْقَلِيلَ يَنْجَسُ بِوُقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهِ.

فَإِنَّهُ مُنِعَ مِنْ إدْخَالِ الْيَدِ فِيهِ، لِاحْتِمَالِ النَّجَاسَةِ، وَذَلِكَ دَلِيلٌ عَلَى أَنَّ تَيَقُّنَهَا مُؤَثِّرٌ فِيهِ، وَإِلَّا لَمَا اقْتَضَى احْتِمَالُ النَّجَاسَةِ الْمَنْعَ.

وَفِيهِ نَظَرٌ عِنْدِي.

؛ لِأَنَّ مُقْتَضَى الْحَدِيثِ: أَنَّ وُرُودَ النَّجَاسَةِ عَلَى الْمَاءِ مُؤَثِّرٌ فِيهِ، وَمُطْلَقُ التَّأْثِيرِ أَعَمُّ مِنْ التَّأْثِيرِ بِالتَّنْجِيسِ.

وَلَا يَلْزَمُ مِنْ ثُبُوتِ الْأَعَمِّ ثُبُوتُ الْأَخَصِّ الْمُعَيَّنِ. فَإِذَا سَلَّمَ الْخَصْمُ أَنَّ الْمَاءَ الْقَلِيلَ بِوُقُوعِ النَّجَاسَةِ فِيهِ يَكُونُ مَكْرُوهًا، فَقَدْ ثَبَتَ مُطْلَقُ التَّأْثِيرِ.

فَلَا يَلْزَمُ مِنْهُ ثُبُوتُ خُصُوصِ التَّأْثِيرِ بِالتَّنْجِيسِ.

وَقَدْ يُورَدُ عَلَيْهِ: أَنَّ الْكَرَاهَةَ ثَابِتَةٌ عِنْدَ التَّوَهُّمِ.

فَلَا يَكُونُ أَثَرُ الْيَقِينِ هُوَ الْكَرَاهَةُ.

وَيُجَابُ عَنْهُ: بِأَنَّهُ ثَبَتَ عِنْدَ الْيَقِينِ زِيَادَةٌ فِي رُتْبَةِ الْكَرَاهَةِ.

وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.
৫ - পঞ্চম হাদিস: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে যা প্রবাহিত হয় না, তাতে প্রস্রাব না করে, অতঃপর সেখান থেকে গোসল করে।” আর মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: “তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে।”

-----------------------------

উদাহরণস্বরূপ চাশতের সালাত এবং অনেক নফল সালাত।

সুতরাং ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারোর জন্য পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে তা ধৌত করা মুস্তাহাব বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।

আর ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির জন্য হাত ধৌত না করা মাকরূহ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত।

ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির ক্ষেত্রে হাত ধৌত করার আগে তা পাত্রে প্রবেশ করানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার শব্দাবলি বর্ণিত হয়েছে।

আর এটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে মাকরূহ হওয়ার দাবি রাখে।

এবং এই পার্থক্যটিই অধিক স্পষ্ট।

 

‌‌[নাপাকির ওপর পানি আসা এবং পানির ওপর নাপাকি আসার বিধান]

নবম বিষয়: এই হাদিস থেকে নাপাকির ওপর পানি আসা এবং পানির ওপর নাপাকি আসার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করা হয়েছে।

এর কারণ হলো: তিনি নাপাকির আশঙ্কায় হাত ধৌত করার আগে তা পাত্রে প্রবেশ করাতে নিষেধ করেছেন।

এটি দাবি করে যে: পানির ওপর নাপাকির আগমন তাতে প্রভাব ফেলে। আর তিনি পবিত্র করার জন্য হাতের ওপর পানি ঢেলে তা ধৌত করার আদেশ দিয়েছেন।

এটি এই দাবি রাখে যে: এই পদ্ধতিতে পানির সাথে এর সংস্পর্শ হওয়া মাত্রই তা পানিকে নষ্ট করে ফেলে না, অন্যথায় পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশ্য হাসিল হতো না।

 

‌‌[অল্প পানিতে নাপাকি পড়লে তা নাপাক হয়ে যাওয়া] ১

দশম বিষয়: এ থেকে নিরূপিত হয়েছে যে: অল্প পানিতে নাপাকি পড়লে তা নাপাক হয়ে যায়।

কেননা নাপাকির আশঙ্কায় তাতে হাত প্রবেশ করানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা এই বিষয়ের দলিল যে নাপাকির নিশ্চয়তা পানিতে প্রভাব ফেলে; অন্যথায় নাপাকির কেবল আশঙ্কা নিষেধাজ্ঞাকে দাবি করত না।

তবে আমার নিকট এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে।

কেননা হাদিসের দাবি হলো: পানির ওপর নাপাকির আগমন তাতে প্রভাব ফেলে, আর সাধারণ প্রভাবের বিষয়টি নাপাক হওয়ার প্রভাবের চেয়ে অধিক ব্যাপক।

আর কোনো ব্যাপক বিষয় সাব্যস্ত হলে তা থেকে নির্দিষ্ট কোনো বিশেষ বিষয় সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয় না। সুতরাং প্রতিপক্ষ যদি স্বীকার করে নেন যে, অল্প পানিতে নাপাকি পড়লে তা মাকরূহ হয়, তবে তো সাধারণ প্রভাবের বিষয়টি সাব্যস্ত হয়ে গেল।

তাই এর মাধ্যমে বিশেষভাবে নাপাক হওয়ার প্রভাব সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হয় না।

এর ওপর আপত্তি তোলা হতে পারে যে: মাকরূহ হওয়ার বিষয়টি তো কেবল সন্দেহের সময়ও সাব্যস্ত হয়।

সুতরাং নিশ্চয়তার প্রভাব কেবল মাকরূহ হওয়া হতে পারে না।

এর উত্তরে বলা হয়েছে: নিশ্চয়তার সময় মাকরূহের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।

আল্লাহই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

‌‌[حَدِيثُ لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ]

الْكَلَامُ عَلَيْهِ مِنْ وُجُوهٍ:

الْأَوَّلُ: " الْمَاءُ الدَّائِمُ " هُوَ الرَّاكِدُ.

وَقَوْلُهُ " الَّذِي لَا يَجْرِي " تَأْكِيدٌ لِمَعْنَى الدَّائِمِ.

وَهَذَا الْحَدِيثُ مِمَّا يَسْتَدِلُّ بِهِ أَصْحَابُ أَبِي حَنِيفَةَ عَلَى تَنْجِيسِ الْمَاءِ الرَّاكِدِ، وَإِنْ كَانَ أَكْثَرَ مِنْ قُلَّتَيْنِ؛ فَإِنَّ الصِّيغَةَ صِيغَةُ عُمُومٍ.

وَأَصْحَابُ الشَّافِعِيِّ: يَخُصُّونَ هَذَا الْعُمُومَ، وَيَحْمِلُونَ النَّهْيَ عَلَى مَا دُونَ الْقُلَّتَيْنِ. وَيَقُولُونَ بِعَدَمِ تَنْجِيسِ الْقُلَّتَيْنِ - فَمَا زَادَ - إلَّا بِالتَّغَيُّرِ: مَأْخُوذٌ مِنْ حَدِيثِ الْقُلَّتَيْنِ. فَيُحْمَلُ هَذَا الْحَدِيثُ الْعَامُّ فِي النَّهْيِ عَلَى مَا دُونَ الْقُلَّتَيْنِ، جَمْعًا بَيْنَ الْحَدِيثَيْنِ. فَإِنَّ حَدِيثَ الْقُلَّتَيْنِ يَقْتَضِي عَدَمَ تَنْجِيسِ الْقُلَّتَيْنِ فَمَا فَوْقَهُمَا.

وَذَلِكَ أَخَصُّ مِنْ مُقْتَضَى الْحَدِيثِ الْعَامِّ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ.

وَالْخَاصُّ مُقَدَّمٌ عَلَى الْعَامِّ.

وَلِأَحْمَدَ طَرِيقَةٌ أُخْرَى: وَهِيَ الْفَرْقُ بَيْنَ بَوْلِ الْآدَمِيِّ، وَمَا فِي مَعْنَاهُ، مِنْ عَذِرَتِهِ الْمَائِعَةِ، وَغَيْرِ ذَلِكَ مِنْ النَّجَاسَاتِ.

فَأَمَّا بَوْلُ الْآدَمِيِّ، وَمَا فِي مَعْنَاهُ: فَيُنَجِّسُ الْمَاءَ، وَإِنْ كَانَ أَكْثَرَ مِنْ قُلَّتَيْنِ.

وَأَمَّا غَيْرُهُ مِنْ النَّجَاسَاتِ: فَتُعْتَبَرُ فِيهِ الْقُلَّتَانِ، وَكَأَنَّهُ رَأَى الْخَبَثَ الْمَذْكُورَ فِي حَدِيثِ الْقُلَّتَيْنِ عَامًّا بِالنِّسْبَةِ إلَى الْأَنْجَاسِ.

وَهَذَا الْحَدِيثُ خَاصٌّ بِالنِّسْبَةِ إلَى بَوْلِ الْآدَمِيِّ.

فَيُقَدَّمُ الْخَاصُّ عَلَى الْعَامِّ، بِالنِّسْبَةِ إلَى النَّجَاسَاتِ الْوَاقِعَةِ فِي الْمَاءِ الْكَثِيرِ. وَيَخْرُجُ بَوْلُ الْآدَمِيِّ وَمَا فِي مَعْنَاهُ مِنْ جُمْلَةِ النَّجَاسَاتِ الْوَاقِعَةِ فِي الْقُلَّتَيْنِ بِخُصُوصِهِ.

فَيُنَجِّسُ الْمَاءَ دُونَ غَيْرِهِ مِنْ النَّجَاسَاتِ.

وَيَلْحَقُ بِالْبَوْلِ الْمَنْصُوصِ عَلَيْهِ: مَا يُعْلَمُ أَنَّهُ فِي مَعْنَاهُ.

وَاعْلَمْ أَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ لَا بُدَّ مِنْ إخْرَاجِهِ عَنْ ظَاهِرِهِ بِالتَّخْصِيصِ أَوْ التَّقْيِيدِ.

؛ لِأَنَّ الِاتِّفَاقَ وَاقِعٌ عَلَى أَنَّ الْمَاءَ الْمُسْتَبْحِرَ الْكَثِيرَ جِدًّا: لَا تُؤَثِّرُ فِيهِ النَّجَاسَةُ.

وَالِاتِّفَاقُ وَاقِعٌ عَلَى أَنَّ الْمَاءَ إذَا غَيَّرَتْهُ النَّجَاسَةُ: امْتَنَعَ اسْتِعْمَالُهُ.

فَمَالِكٌ رحمه الله -
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

‌‌[তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব না করে - এই হাদিসের আলোচনা]

এর ওপর আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে:

প্রথমত: "আবদ্ধ পানি" (আল-মাউ আদ-দাইম) হলো স্থির পানি।

এবং তাঁর বাণী "যা প্রবাহিত হয় না" অংশটি "আবদ্ধ" শব্দের অর্থকে জোরালো করার জন্য এসেছে।

এই হাদিসটি ইমাম আবু হানিফার অনুসারীগণ (হানাফীগণ) আবদ্ধ পানি অপবিত্র হওয়ার স্বপক্ষে দলীল হিসেবে পেশ করেন, যদিও তা দুই কুল্লার বেশি হয়; কারণ হাদিসের বাক্যটি সাধারণ ও ব্যাপক অর্থবোধক (আম)।

আর ইমাম শাফিঈর অনুসারীগণ: এই সাধারণ অর্থকে বিশেষায়িত (খাস) করেন এবং এই নিষেধকে দুই কুল্লার কম পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলে গণ্য করেন। তারা দুই কুল্লা বা তার বেশি পানির ক্ষেত্রে বলেন যে, রঙের পরিবর্তন হওয়া ছাড়া তা অপবিত্র হবে না: যা দুই কুল্লা বিষয়ক হাদিস থেকে গৃহীত। সুতরাং উভয় হাদিসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে, এই সাধারণ নিষেধাজ্ঞামূলক হাদিসটিকে দুই কুল্লার কম পানির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়। কেননা দুই কুল্লার হাদিসটি দুই কুল্লা বা তার বেশি পানি অপবিত্র না হওয়ার দাবি রাখে।

আর এটি আমাদের উল্লিখিত সাধারণ হাদিসের দাবি অপেক্ষা অধিক সুনির্দিষ্ট (খাস)।

আর সাধারণ দলীলের ওপর বিশেষায়িত (খাস) দলীল অগ্রগণ্য হয়।

ইমাম আহমদের আরেকটি পদ্ধতি রয়েছে: আর তা হলো মানুষের প্রস্রাব এবং এই জাতীয় জিনিস—যেমন তরল বিষ্ঠা—ও অন্যান্য অপবিত্রতার (নাজাসাত) মধ্যে পার্থক্য করা।

মানুষের প্রস্রাব এবং এই জাতীয় জিনিসের ক্ষেত্রে: তা পানিকে অপবিত্র করে দেবে, যদিও তা দুই কুল্লার অধিক হয়।

আর অন্যান্য নাপাকির ক্ষেত্রে: দুই কুল্লার পরিমাপকে বিবেচনা করা হবে। যেন তিনি দুই কুল্লার হাদিসে উল্লিখিত 'নাপাকি' (খাবাস) শব্দটিকে সকল নাপাকির ক্ষেত্রে সাধারণ হিসেবে দেখেছেন।

আর বর্তমান হাদিসটি মানুষের প্রস্রাবের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট (খাস)।

সুতরাং অধিক পানির মধ্যে নিপতিত নাপাকির ক্ষেত্রে সাধারণ দলীলের ওপর বিশেষায়িত (খাস) দলিলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। আর মানুষের প্রস্রাব এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো দুই কুল্লার মধ্যে নিপতিত সাধারণ নাপাকিগুলোর তালিকা থেকে বিশেষভাবে বেরিয়ে আসবে।

ফলে অন্যান্য নাপাকির বিপরীতে এটি পানিকে অপবিত্র করবে।

আর দলিলে উল্লিখিত প্রস্রাবের সাথে ঐসব বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে যেগুলোকে নিশ্চিতভাবে একই অর্থবোধক হিসেবে জানা যায়।

জেনে রাখুন যে, এই হাদিসটিকে তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে সুনির্দিষ্টকরণ (তাখসিস) অথবা শর্তযুক্ত (তাকয়িদ) করা আবশ্যক;

কারণ এ বিষয়ে ঐক্যমত (ইজমা) প্রতিষ্ঠিত যে, সমুদ্রসম বিশাল পরিমাণ পানিতে নাপাকি কোনো প্রভাব ফেলে না।

আর এ বিষয়েও ঐক্যমত রয়েছে যে, নাপাকি যদি পানির (রঙ, স্বাদ বা গন্ধ) পরিবর্তন করে দেয়, তবে তার ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়ে যায়।

অতঃপর ইমাম মালিক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) -
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

إذَا حَمَلَ النَّهْيَ عَلَى الْكَرَاهَةِ - لِاعْتِقَادِهِ أَنَّ الْمَاءَ لَا يَنْجَسُ إلَّا بِالتَّغَيُّرِ - لَا بُدَّ أَنْ يَخْرُجَ عَنْهُ صُورَةُ التَّغَيُّرِ بِالنَّجَاسَةِ، أَعْنِي عَنْ الْحُكْمِ بِالْكَرَاهِيَةِ، فَإِنَّ الْحُكْمَ ثَمَّ: التَّحْرِيمُ، فَإِذًا لَا بُدَّ مِنْ الْخُرُوجِ عَنْ الظَّاهِرِ عِنْدَ الْكُلِّ.

فَلِأَصْحَابِ أَبِي حَنِيفَةَ أَنْ يَقُولُوا: خَرَجَ عَنْهُ الْمُسْتَبْحِرُ الْكَثِيرُ جِدًّا بِالْإِجْمَاعِ، فَيَبْقَى مَا عَدَاهُ عَلَى حُكْمِ النَّصِّ، فَيَدْخُلُ تَحْتَهُ مَا زَادَ عَلَى الْقُلَّتَيْنِ.

وَيَقُولُ أَصْحَابُ الشَّافِعِيِّ: خَرَجَ الْكَثِيرُ الْمُسْتَبْحِرُ بِالْإِجْمَاعِ الَّذِي ذَكَرْتُمُوهُ.

وَخَرَجَ الْقُلَّتَانِ فَمَا زَادَ، بِمُقْتَضَى حَدِيثِ الْقُلَّتَيْنِ، فَيَبْقَى مَا نَقَصَ عَنْ الْقُلَّتَيْنِ دَاخِلًا تَحْتَ مُقْتَضَى الْحَدِيثِ.

وَيَقُولُ مَنْ نَصَرَ قَوْلَ أَحْمَدَ الْمَذْكُورِ: خَرَجَ مَا ذَكَرْتُمُوهُ، وَبَقِيَ مَا دُونَ الْقُلَّتَيْنِ دَاخِلًا تَحْتَ النَّصِّ، إلَّا أَنَّ مَا زَادَ عَلَى الْقُلَّتَيْنِ، مُقْتَضَى حَدِيثِ الْقُلَّتَيْنِ فِيهِ عَامٌّ فِي الْأَنْجَاسِ، فَيُخَصُّ بِبَوْلِ الْآدَمِيِّ.

وَلِمُخَالِفِهِمْ أَنْ يَقُولَ: قَدْ عَلِمْنَا جَزْمًا أَنَّ هَذَا النَّهْيَ إنَّمَا هُوَ لِمَعْنًى فِي النَّجَاسَةِ، وَعَدَمِ التَّقَرُّبِ إلَى اللَّهِ بِمَا خَالَطَهَا.

وَهَذَا الْمَعْنَى يَسْتَوِي فِيهِ سَائِرُ الْأَنْجَاسِ، وَلَا يَتَّجِهُ تَخْصِيصُ بَوْلِ الْآدَمِيِّ مِنْهَا، بِالنِّسْبَةِ إلَى هَذَا الْمَعْنَى، فَإِنَّ الْمُنَاسِبَ لِهَذَا الْمَعْنَى - أَعْنِي التَّنَزُّهَ عَنْ الْأَقْذَارِ - أَنْ يَكُونَ مَا هُوَ أَشَدُّ اسْتِقْذَارًا أَوْقَعَ فِي هَذَا الْمَعْنَى وَأَنْسَبَ لَهُ، وَلَيْسَ بَوْلُ الْآدَمِيِّ بِأَقْذَرَ مِنْ سَائِرِ النَّجَاسَاتِ، بَلْ قَدْ يُسَاوِيهِ غَيْرُهُ، أَوْ يَرْجَحُ عَلَيْهِ فَلَا يَبْقَى لِتَخْصِيصِهِ دُونَ غَيْرِهِ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْمَنْعِ مَعْنًى.

فَيُحْمَلُ الْحَدِيثُ عَلَى أَنَّ ذِكْرَ الْبَوْلِ وَرَدَ تَنْبِيهًا عَلَى غَيْرِهِ، مِمَّا يُشَارِكُهُ فِي مَعْنَاهُ مِنْ الِاسْتِقْذَارِ. وَالْوُقُوفُ عَلَى مُجَرَّدِ الظَّاهِرِ هَهُنَا - مَعَ وُضُوحِ الْمَعْنَى، وَشُمُولِهِ لِسَائِرِ الْأَنْجَاسِ - ظَاهِرِيَّةٌ مَحْضَةٌ.

وَأَمَّا مَالِكٌ - رَحِمَهُ اللَّهُ تَعَالَى -: فَإِذَا حَمَلَ النَّهْيَ عَلَى الْكَرَاهِيَةِ يَسْتَمِرُّ حُكْمُ الْحَدِيثِ فِي الْقَلِيلِ وَالْكَثِيرِ، غَيْرِ الْمُسْتَثْنَى بِالِاتِّفَاقِ [وَهُوَ الْمُسْتَبْحِرُ] مَعَ حُصُولِ الْإِجْمَاعِ عَلَى تَحْرِيمِ الِاغْتِسَالِ بَعْدَ تَغَيُّرِ الْمَاءِ بِالْبَوْلِ.

فَهَذَا يَلْتَفِتُ إلَى حَمْلِ اللَّفْظِ الْوَاحِدِ إلَى مَعْنَيَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ، وَهِيَ مَسْأَلَةٌ أُصُولِيَّةٌ.

فَإِنْ جَعَلْنَا النَّهْيَ لِلتَّحْرِيمِ: كَانَ اسْتِعْمَالُهُ فِي الْكَرَاهَةِ وَالتَّحْرِيمِ اسْتِعْمَالُ اللَّفْظِ الْوَاحِدِ فِي حَقِيقَتِهِ وَمَجَازِهِ.

وَالْأَكْثَرُونَ عَلَى مَنْعِهِ.

وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

যদি কেউ এই নিষেধকে অপছন্দনীয়তা (কারাহাত) হিসেবে গ্রহণ করেন—যেহেতু তিনি বিশ্বাস করেন যে পানির বর্ণ, গন্ধ বা স্বাদ পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত তা নাপাক হয় না—তবে নাপাকির কারণে পানি পরিবর্তিত হওয়ার সুরতটি অবশ্যই এই বিধান থেকে বাদ দিতে হবে। অর্থাৎ অপছন্দনীয়তার বিধান থেকে তা বেরিয়ে যাবে; কারণ এমতাবস্থায় বিধানটি হবে হারাম। সুতরাং দেখা যাচ্ছে, সকল মতানুসারীর নিকটেই বাহ্যিক অর্থ (জাহির) থেকে বের হওয়া অপরিহার্য।

আবু হানিফার অনুসারীগণ (হানাফীগণ) বলতে পারেন যে: ইজমার ভিত্তিতে অত্যন্ত বিপুল ও বিশাল জলরাশি এই বিধানের বাইরে চলে গেছে, ফলে অবশিষ্ট অংশগুলো নসের (মূল পাঠের) বিধানের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অতএব, দুই কুল্লা (দুই মটকা) অপেক্ষা অধিক পানিও এর অধীনে দাখিল হবে।

শাফেয়ীর অনুসারীগণ (শাফেয়ীগণ) বলেন: আপনাদের উল্লিখিত ইজমার মাধ্যমে বিপুল ও বিশাল জলরাশি বিধানের বাইরে চলে গেছে।

আর দুই কুল্লা বা তার অধিক পানিও 'দুই কুল্লা' সংক্রান্ত হাদিসের দাবি অনুযায়ী বহির্ভূত হয়েছে। সুতরাং দুই কুল্লার কম পানিই কেবল হাদিসের এই বিধানের অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

ইমাম আহমাদ (রাহ.)-এর উল্লিখিত মতের সমর্থকদের মতে: আপনারা যা উল্লেখ করেছেন তা তো বিধান থেকে বেরিয়ে গেছেই এবং দুই কুল্লার কম পানি নসের অন্তর্ভুক্ত রয়ে গেছে। তবে দুই কুল্লার বেশি পানির ক্ষেত্রে 'দুই কুল্লা' সংক্রান্ত হাদিসের দাবিটি সব ধরণের নাপাকির ক্ষেত্রে সাধারণ (আম), যা কেবল মানুষের প্রস্রাবের দ্বারা নির্দিষ্ট (খাস) করা হবে।

তাদের বিরোধীরা বলতে পারেন: আমরা সুনিশ্চিতভাবে জানি যে, এই নিষেধের কারণ হলো নাপাকির অস্তিত্ব এবং নাপাকি মিশ্রিত বস্তু দিয়ে আল্লাহর সান্নিধ্য অর্জনে অনীহা।

আর এই কারণটি সকল প্রকার নাপাকির ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। এই প্রেক্ষাপটে নাপাকির মধ্য থেকে কেবল মানুষের প্রস্রাবকে নির্দিষ্ট করা যুক্তিসঙ্গত নয়। কেননা এই কারণের উপযুক্ততা—অর্থাৎ অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাকা—এর দাবি হলো যা অধিক ঘৃণ্য তা এই বিধানের জন্য অধিক প্রযোজ্য ও উপযুক্ত হওয়া। অথচ মানুষের প্রস্রাব অন্য সকল নাপাকির চেয়ে বেশি ঘৃণ্য নয়; বরং অন্য নাপাকিও এর সমান হতে পারে বা এর চেয়েও বেশি হতে পারে। সুতরাং নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে অন্য নাপাকি বাদ দিয়ে কেবল একে নির্দিষ্ট করার কোনো যৌক্তিক অর্থ অবশিষ্ট থাকে না।

অতএব হাদিসটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, এখানে প্রস্রাবের উল্লেখ এসেছে অন্যান্য বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত স্বরূপ, যা অপবিত্র হওয়ার দিক থেকে এর সমপর্যায়ভুক্ত। অর্থ স্পষ্ট হওয়া এবং সকল নাপাকির ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য হওয়া সত্ত্বেও এখানে নিছক বাহ্যিক শব্দের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হবে চরম আক্ষরিকতাবাদ।

পক্ষান্তরে ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহু তাআলা)-এর মতে: তিনি যখন এই নিষেধকে অপছন্দনীয়তার অর্থে গ্রহণ করেন, তখন হাদিসের বিধান অল্প ও অধিক উভয় প্রকার পানির ক্ষেত্রে কার্যকর থাকে; কেবল ঐ পরিমাণ পানি ছাড়া যা ঐকমত্যের ভিত্তিতে বাদ দেওয়া হয়েছে [আর তা হলো বিশাল জলরাশি]। এর পাশাপাশি প্রস্রাবের দ্বারা পানির পরিবর্তন ঘটে গেলে গোসল করা হারাম হওয়ার ওপর ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এটি মূলত একটি শব্দকে দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহারের দিকে ইঙ্গিত করে, যা একটি উসূলি মাসআলা।

যদি আমরা নিষেধকে হারামের জন্য নির্ধারণ করি, তবে একে অপছন্দনীয়তা ও হারাম উভয় অর্থে ব্যবহার করা হবে একটি শব্দকে তার প্রকৃত (হাকিকত) ও রূপক (মাজায) অর্থে ব্যবহারের নামান্তর।

আর অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এটি নিষিদ্ধ বলে মনে করেন।

আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

وَقَدْ يُقَالُ عَلَى هَذَا: إنَّ حَالَةَ التَّغَيُّرِ مَأْخُوذَةٌ مِنْ غَيْرِ هَذَا اللَّفْظِ. فَلَا يَلْزَمُ اسْتِعْمَالُ اللَّفْظِ الْوَاحِدِ فِي مَعْنَيَيْنِ مُخْتَلِفَيْنِ. وَهَذَا مُتَّجِهٌ، إلَّا أَنَّهُ يَلْزَمُ مِنْهُ التَّخْصِيصُ فِي هَذَا الْحَدِيثِ. وَالْمُخَصِّصُ: الْإِجْمَاعُ عَلَى نَجَاسَةِ الْمُتَغَيِّرِ] .

الْوَجْهُ الثَّانِي: اعْلَمْ أَنَّ النَّهْيَ عَنْ الِاغْتِسَالِ لَا يَخُصُّ الْغُسْلَ، بَلْ التَّوَضُّؤُ فِي مَعْنَاهُ.

وَقَدْ وَرَدَ مُصَرَّحًا بِهِ فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ «لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ، ثُمَّ يَتَوَضَّأُ مِنْهُ» وَلَوْ لَمْ يَرِدْ لَكَانَ مَعْلُومًا قَطْعًا، لِاسْتِوَاءِ الْوُضُوءِ وَالْغُسْلِ فِي هَذَا الْحُكْمِ، لِفَهْمِ الْمَعْنَى الَّذِي ذَكَرْنَاهُ، وَأَنَّ الْمَقْصُودَ: التَّنَزُّهُ عَنْ التَّقَرُّبِ إلَى اللَّهِ سُبْحَانَهُ بِالْمُسْتَقْذِرَاتِ.

الثَّالِثُ: وَرَدَ فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ " ثُمَّ يَغْتَسِلُ مِنْهُ " وَفِي بَعْضِهَا " ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ " وَمَعْنَاهُمَا مُخْتَلِفٌ، يُفِيدُ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا حُكْمًا بِطَرِيقِ النَّصِّ وَآخَرَ بِطَرِيقِ الِاسْتِنْبَاطِ، وَلَوْ لَمْ يَرِدْ فِيهِ لَفْظَةُ " فِيهِ " لَاسْتَوَيَا، لِمَا ذَكَرْنَا.

الرَّابِعُ: مِمَّا يُعْلَمُ بُطْلَانُهُ قَطْعًا: مَا ذَهَبَتْ إلَيْهِ الظَّاهِرِيَّةُ الْجَامِدَةُ: مِنْ أَنَّ الْحُكْمَ مَخْصُوصٌ بِالْبَوْلِ فِي الْمَاءِ حَتَّى لَوْ بَالَ فِي كُوزٍ وَصَبَّهُ فِي الْمَاءِ: لَمْ يَضُرَّ عِنْدَهُمْ. أَوْ لَوْ بَالَ خَارِجَ الْمَاءِ فَجَرَى الْبَوْلُ إلَى الْمَاءِ: لَمْ يَضُرَّ عِنْدَهُمْ أَيْضًا. وَالْعِلْمُ الْقَطْعِيُّ حَاصِلٌ بِبُطْلَانِ قَوْلِهِمْ.

لِاسْتِوَاءِ الْأَمْرَيْنِ فِي الْحُصُولِ فِي الْمَاءِ وَأَنَّ الْمَقْصُودَ: اجْتِنَابُ مَا وَقَعَتْ فِيهِ النَّجَاسَةُ مِنْ الْمَاءِ.

وَلَيْسَ هَذَا مِنْ مَجَالِ الظُّنُونِ، بَلْ هُوَ مَقْطُوعٌ بِهِ.

وَأَمَّا الرِّوَايَةُ الثَّانِيَةُ: وَهِيَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «لَا يَغْتَسِلْ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ وَهُوَ جُنُبٌ» فَقَدْ اُسْتُدِلَّ بِهِ عَلَى مَسْأَلَةِ الْمُسْتَعْمَلِ وَأَنَّ الِاغْتِسَالَ فِي الْمَاءِ يُفْسِدُهُ.

؛ لِأَنَّ النَّهْيَ وَارِدٌ هَهُنَا عَلَى مُجَرَّدِ الْغُسْلِ.

فَدَلَّ عَلَى وُقُوعِ الْمَفْسَدَةِ بِمُجَرَّدِهِ.

وَهِيَ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

এ প্রসঙ্গে বলা যেতে পারে যে: পরিবর্তনের অবস্থা এই শব্দ থেকে গ্রহণ করা হয়নি। সুতরাং একটি শব্দকে দুটি ভিন্ন অর্থে ব্যবহার করা আবশ্যক নয়। এটি একটি সঠিক অভিমত, তবে এর ফলে এই হাদিসে বিশেষীকরণ (তাখসিস) আবশ্যক হয়ে পড়ে। আর বিশেষীকরণকারী বিষয়টি হলো: পরিবর্তিত পানির অপবিত্রতার ব্যাপারে ঐকমত্য (ইজমা)।

দ্বিতীয় দিক: জেনে রাখুন যে, গোসল করার ব্যাপারে যে নিষেধাজ্ঞা এসেছে তা কেবল গোসলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অজুও এর অর্থের অন্তর্ভুক্ত।

কিছু বর্ণনায় এটি স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে যে, “তোমাদের কেউ যেন স্থির পানিতে প্রস্রাব না করে, অতঃপর তা থেকে অজু করে।” যদি এই বর্ণনা না-ও থাকত, তবুও বিষয়টি অকাট্যভাবে জানা যেত; কেননা এই বিধানের ক্ষেত্রে অজু এবং গোসল সমান পর্যায়ের। কারণ আমরা যে অর্থ উল্লেখ করেছি তা থেকে এটিই বোঝা যায় যে, উদ্দেশ্য হলো: নোংরা বা ঘৃণিত বস্তুর মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার নৈকট্য লাভের প্রচেষ্টা থেকে পবিত্র থাকা।

তৃতীয়: কিছু বর্ণনায় এসেছে “অতঃপর তা থেকে গোসল করে” এবং কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে “অতঃপর তার মধ্যে গোসল করে”। এই দুটির অর্থ ভিন্ন। তাদের প্রত্যেকটিই সরাসরি ভাষ্যের মাধ্যমে একটি বিধান এবং গবেষণালব্ধ পদ্ধতির মাধ্যমে অন্য একটি বিধান প্রদান করে। যদি তাতে “তার মধ্যে” শব্দটি না থাকত, তবে আমাদের বর্ণিত কারণে উভয় বিষয় সমান হতো।

চতুর্থ: যে বিষয়টি বাতিল হওয়া অকাট্যভাবে নিশ্চিত, তা হলো স্থবির জাহেরি মতাবলম্বীদের অভিমত: যে এই বিধানটি কেবল সরাসরি পানিতে প্রস্রাব করার সাথেই নির্দিষ্ট; এমনকি যদি কেউ কোনো পাত্রে প্রস্রাব করে তা পানিতে ঢেলে দেয়, তবে তাদের নিকট তা পানির কোনো ক্ষতি করবে না। অথবা কেউ যদি পানির বাইরে প্রস্রাব করে এবং সেই প্রস্রাব গড়িয়ে পানিতে গিয়ে পড়ে, তবে তাদের নিকট তাও কোনো ক্ষতিকর নয়। অথচ তাদের এই বক্তব্যের অসারতা অকাট্যভাবে প্রমাণিত।

কারণ পানিতে নাপাকি পৌঁছানোর ক্ষেত্রে উভয় পদ্ধতিই সমান। আর মূল উদ্দেশ্য হলো: যে পানিতে নাপাকি পড়েছে তা পরিহার করা।

এটি নিছক ধারণার বিষয় নয়, বরং এটি একটি নিশ্চিত বিষয়।

আর দ্বিতীয় বর্ণনার ক্ষেত্রে: যা হলো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী “তোমাদের কেউ যেন অপবিত্র অবস্থায় স্থির পানিতে গোসল না করে”, এর মাধ্যমে ব্যবহৃত পানি সংক্রান্ত মাসআলায় দলিল পেশ করা হয়েছে যে, পানির মধ্যে গোসল করা পানিকে নষ্ট করে দেয়।

কেননা এখানে নিষেধাজ্ঞা কেবল গোসল করার ওপরই আরোপিত হয়েছে।

এটি প্রমাণ করে যে, কেবল গোসলের মাধ্যমেই পানির ক্ষতি বা নষ্ট হওয়া সংঘটিত হয়। আর তা হলো-
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৪)
6 - الْحَدِيثُ السَّادِسُ: عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ «إذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا» وَلِمُسْلِمٍ «أُولَاهُنَّ بِالتُّرَابِ» وَلَهُ فِي حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم: قَالَ: «إذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي الْإِنَاءِ فَاغْسِلُوهُ سَبْعًا وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ بِالتُّرَابِ» .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

خُرُوجُهُ عَنْ كَوْنِهِ أَهْلًا لِلتَّطْهِيرِ بِهِ: إمَّا لِنَجَاسَتِهِ، أَوْ لِعَدَمِ طَهُورِيَّتِهِ وَمَعَ هَذَا فَلَا بُدَّ فِيهِ مِنْ التَّخْصِيصِ.

فَإِنَّ الْمَاءَ الْكَثِيرَ - إمَّا الْقُلَّتَانِ فَمَا زَادَ عَلَى مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ، أَوْ الْمُسْتَبْحِرُ عَلَى مَذْهَبِ أَبِي حَنِيفَةَ - لَا يُؤَثِّرُ فِيهِ الِاسْتِعْمَالُ.

وَمَالِكٌ لِمَا رَأَى أَنَّ الْمَاءَ الْمُسْتَعْمَلَ طَهُورٌ، غَيْرَ أَنَّهُ مَكْرُوهٌ: يَحْمِلُ هَذَا النَّهْيَ عَلَى الْكَرَاهَةِ.

وَقَدْ يُرَجِّحُهُ: أَنَّ وُجُوهَ الِانْتِفَاعِ بِالْمَاءِ لَا تَخْتَصُّ بِالتَّطْهِيرِ.

وَالْحَدِيثُ عَامٌّ فِي النَّهْيِ.

فَإِذَا حُمِلَ عَلَى التَّحْرِيمِ لِمَفْسَدَةِ خُرُوجِ الْمَاءِ عَنْ الطَّهُورِيَّةِ: لَمْ يُنَاسَبْ ذَلِكَ؛ لِأَنَّ بَعْضَ مَصَالِحِ الْمَاءِ تَبْقَى بَعْدَ كَوْنِهِ خَارِجًا عَنْ الطَّهُورِيَّةِ، وَإِذَا حُمِلَ عَلَى الْكَرَاهَةِ: كَانَتْ الْمَفْسَدَةُ عَامَّةً؛ لِأَنَّهُ يُسْتَقْذَرُ بَعْدَ الِاغْتِسَالِ فِيهِ.

وَذَلِكَ ضَرَرٌ بِالنِّسْبَةِ إلَى مَنْ يُرِيدُ اسْتِعْمَالَهُ فِي طَهَارَةٍ أَوْ شُرْبٍ، فَيَسْتَمِرُّ النَّهْيُ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْمَفَاسِدِ الْمُتَوَقَّعَةِ، إلَّا أَنَّ فِيهِ حَمْلَ اللَّفْظِ عَلَى الْمَجَازِ، أَعْنِي حَمْلَ النَّهْيِ عَلَى الْكَرَاهَةِ.

فَإِنَّهُ حَقِيقَةٌ فِي التَّحْرِيمِ.

 

‌‌[حَدِيثُ إذَا شَرِبَ الْكَلْبُ فِي إنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيَغْسِلْهُ سَبْعًا]

فِيهِ مَسَائِلُ.

الْأُولَى: الْأَمْرُ بِالْغَسْلِ ظَاهِرٌ فِي تَنْجِيسِ الْإِنَاءِ. وَأَقْوَى مِنْ هَذَا الْحَدِيثِ فِي الدَّلَالَةِ عَلَى ذَلِكَ: الرِّوَايَةُ الصَّحِيحَةُ.

وَهِيَ قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «طُهُورُ إنَاءِ أَحَدِكُمْ، إذَا وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ: أَنْ يُغْسَلَ سَبْعًا» فَإِنَّ لَفْظَةَ " طُهُورُ " تُسْتَعْمَلُ إمَّا عَنْ الْحَدَثِ، أَوْ عَنْ الْخَبَثِ.

وَلَا حَدَثَ عَلَى الْإِنَاءِ بِالضَّرُورَةِ.

فَتَعَيَّنَ الْخَبَثُ.

وَحَمَلَ مَالِكٌ هَذَا الْأَمْرَ عَلَى التَّعَبُّدِ، لِاعْتِقَادِهِ طَهَارَةَ الْمَاءِ وَالْإِنَاءِ.

وَرُبَّمَا رَجَّحَهُ أَصْحَابُهُ
৬ - ষষ্ঠ হাদিস: আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "তোমাদের কারো পাত্রে যদি কুকুর পান করে, তবে সে যেন তা সাতবার ধৌত করে।" এবং মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে: "তাদের প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে।" এবং মুসলিমেরই আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে আছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যখন কুকুর পাত্রে মুখ দেয়, তখন তোমরা তা সাতবার ধৌত করো এবং অষ্টম বার মাটি দিয়ে মেজো।"

ـــــــــــــــــــــــــــــ

এর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের যোগ্যতা থেকে বের হয়ে যাওয়া: হয় এর নাপাকির কারণে, অথবা এর পবিত্র করার ক্ষমতা না থাকার কারণে। তবুও এতে নির্দিষ্টকরণের (তাখসিস) প্রয়োজন রয়েছে।

কেননা অধিক পানি—শাফিয়ী মাযহাব অনুযায়ী দুই কুল্লা বা তার বেশি, অথবা হানাফী মাযহাব অনুযায়ী বিশাল জলাধার (মুস্তাবাহির)—তা ব্যবহারের ফলে কোনো প্রভাব পড়ে না।

আর ইমাম মালিক যেহেতু ব্যবহৃত পানিকে পবিত্র মনে করেন, যদিও তা মাকরূহ, তাই তিনি এই নিষেধকে মাকরূহ হওয়ার ওপর প্রয়োগ করেন।

এটি একটি বিষয়ের দ্বারা প্রাধান্য পায় যে, পানি ব্যবহারের দিকগুলো কেবল পবিত্রতা অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।

এবং হাদিসটি নিষেধের ক্ষেত্রে ব্যাপক।

সুতরাং যদি পানির পবিত্র করার ক্ষমতা চলে যাওয়ার ক্ষতির কারণে একে হারাম হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে না; কারণ পবিত্র করার ক্ষমতা হারানোর পরও পানির কিছু উপকারিতা অবশিষ্ট থাকে। আর যদি মাকরূহ হওয়ার ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে সেই ক্ষতিটি হবে সাধারণ; কারণ এতে গোসল করার পর তা নোংরা মনে হয়।

এটি সেই ব্যক্তির জন্য ক্ষতিকর যে তা পবিত্রতা অর্জন বা পান করার কাজে ব্যবহার করতে চায়। ফলে সম্ভাব্য ক্ষতিগুলোর নিরিখে নিষেধটি বলবৎ থাকে, তবে এতে শব্দের রূপক অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে, অর্থাৎ নিষেধকে মাকরূহ অর্থে গ্রহণ করা হয়েছে।

কেননা মূলত নিষেধ হারামের অর্থই প্রকাশ করে।

 

‌‌[হাদিস: যখন তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর পান করে তখন সে যেন তা সাতবার ধৌত করে]

এতে কয়েকটি মাসআলা রয়েছে।

প্রথমত: ধৌত করার আদেশ পাত্রটি নাপাক হয়ে যাওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ। আর এর চেয়েও জোরালো প্রমাণ বহনকারী একটি সহীহ বর্ণনা রয়েছে।

তা হলো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী: "তোমাদের কারো পাত্রের পবিত্রতা, যখন তাতে কুকুর মুখ দেয়, তা হলো সাতবার ধৌত করা।" এখানে "পবিত্রতা" (তুহুর) শব্দটি হয় অপবিত্রতা (হাদাস) দূর করার ক্ষেত্রে অথবা বাহ্যিক নাপাকি (খাবাস) দূর করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

কিন্তু পাত্রের ওপর কোনো অবস্থায়ই 'হাদাস' থাকে না।

ফলে এটি 'খাবাস' (বাহ্যিক নাপাকি) হওয়া নিশ্চিত হয়ে যায়।

তবে ইমাম মালিক পানি ও পাত্রের পবিত্রতায় বিশ্বাসী হওয়ার কারণে এই আদেশকে নিছক ইবাদত বা দাসত্বের (তা'আববুদ) ওপর প্রয়োগ করেছেন।

এবং সম্ভবত তাঁর অনুসারীরা একেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

بِذِكْرِ هَذَا الْعَدَدِ الْمَخْصُوصِ، وَهُوَ السَّبْعُ؛ لِأَنَّهُ لَوْ كَانَ لِلنَّجَاسَةِ: لَاكْتَفَى بِمَا دُونَ السَّبْعِ فَإِنَّهُ لَا يَكُونُ أَغْلَظَ مِنْ نَجَاسَةِ الْعَذِرَةِ.

وَقَدْ اكْتَفَى فِيهَا بِمَا دُونَ السَّبْعِ.

وَالْحَمْلُ عَلَى التَّنْجِيسِ أَوْلَى.

؛ لِأَنَّهُ مَتَى دَارَ الْحُكْمُ بَيْنَ كَوْنِهِ تَعَبُّدًا، أَوْ مَعْقُولَ الْمَعْنَى، كَانَ حَمْلُهُ عَلَى كَوْنِهِ مَعْقُولَ الْمَعْنَى أَوْلَى.

لِنُدْرَةِ التَّعَبُّدِ بِالنِّسْبَةِ إلَى الْأَحْكَامِ الْمَعْقُولَةِ الْمَعْنَى.

وَأَمَّا كَوْنُهُ لَا يَكُونُ أَغْلَظَ مِنْ نَجَاسَةِ الْعَذِرَةِ، فَمَمْنُوعٌ عِنْدَ الْقَائِلِ بِنَجَاسَتِهِ، نَعَمْ لَيْسَ بِأَقْذَرَ مِنْ الْعَذِرَةِ، وَلَكِنْ لَا يَتَوَقَّفُ التَّغْلِيظُ عَلَى زِيَادَةِ الِاسْتِقْذَارِ.

وَأَيْضًا فَإِذَا كَانَ أَصْلُ الْمَعْنَى مَعْقُولًا قُلْنَا بِهِ.

وَإِذَا وَقَعَ فِي التَّفَاصِيلِ مَا لَمْ يُعْقَلْ مَعْنَاهُ فِي التَّفْصِيلِ، لَمْ يَنْقُصْ لِأَجْلِهِ التَّأْصِيلُ.

وَلِذَلِكَ نَظَائِرُ فِي الشَّرِيعَةِ، فَلَوْ لَمْ تَظْهَرْ زِيَادَةُ التَّغْلِيظِ فِي النَّجَاسَةِ لَكُنَّا نَقْتَصِرُ فِي التَّعَبُّدِ عَلَى الْعَدَدِ، وَنَمْشِي فِي أَصْلِ الْمَعْنَى عَلَى مَعْقُولِيَّةِ الْمَعْنَى.

 

‌‌[نَجَاسَة عَيْنِ الْكَلْبِ] 1

الْمَسْأَلَةُ الثَّانِيَةُ: إذَا ظَهَرَ أَنَّ الْأَمْرَ بِالْغَسْلِ لِلنَّجَاسَةِ: فَقَدْ اُسْتُدِلَّ بِذَلِكَ عَلَى نَجَاسَةِ عَيْنِ الْكَلْبِ.

وَلَهُمْ فِي ذَلِكَ طَرِيقَانِ.

أَحَدُهُمَا: أَنَّهُ إذَا ثَبَتَتْ نَجَاسَةُ فَمِهِ مِنْ نَجَاسَةِ لُعَابِهِ، فَإِنَّهُ جُزْءٌ مِنْ فَمِهِ، وَفَمُهُ أَشْرَفُ مَا فِيهِ.

فَبَقِيَّةُ بَدَنِهِ أَوْلَى.

الثَّانِي: إذَا كَانَ لُعَابُهُ نَجِسًا - وَهُوَ عَرَقُ فَمِهِ - فَفَمُهُ نَجِسٌ.

وَالْعَرَقُ جُزْءٌ مُتَحَلَّبٌ مِنْ الْبَدَنِ. فَجَمِيعُ عَرَقِهِ نَجِسٌ.

فَجَمِيعُ بَدَنِهِ نَجِسٌ، لِمَا ذَكَرْنَاهُ مِنْ أَنَّ الْعَرَقَ جُزْءٌ مِنْ الْبَدَنِ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

এই নির্দিষ্ট সংখ্যার উল্লেখ করার মাধ্যমে, আর তা হলো সাত; কারণ যদি এটি নাপাকির কারণে হতো, তবে সাতের কমেই যথেষ্ট হতো, কেননা এটি মানুষের মলের নাপাকির চেয়ে বেশি গুরুতর নয়।

অথচ সেটির ক্ষেত্রে সাতের কমেই যথেষ্ট করা হয়েছে।

আর (ধৌত করার নির্দেশকে) নাপাক হওয়ার ওপর প্রয়োগ করাই উত্তম।

; কারণ যখন কোনো বিধান স্রেফ ইবাদতগত (তাআব্বুদি) হওয়া নাকি যুক্তিগ্রাহ্য অর্থবোধক (মা'কুলুল মা'না) হওয়ার মধ্যে আবর্তিত হয়, তখন তাকে যুক্তিগ্রাহ্য অর্থবোধক হওয়ার ওপর প্রয়োগ করাই শ্রেয়।

কেননা যুক্তিগ্রাহ্য অর্থবোধক বিধানসমূহের তুলনায় স্রেফ ইবাদতগত বিধানের সংখ্যা বিরল।

আর (কুকুরের লালা) মলের নাপাকির চেয়ে গুরুতর নয় বলে যে দাবি করা হয়েছে, যারা একে নাপাক বলেন তাদের নিকট তা অগ্রহণযোগ্য; হ্যাঁ, এটি মলের চেয়ে অধিক নোংরা নয়, কিন্তু বিধান কঠোর হওয়া কেবল অধিক নোংরামির ওপর নির্ভরশীল নয়।

অধিকন্তু, যখন মূল অর্থটি যুক্তিগ্রাহ্য হয়, তখন আমরা সেটিই গ্রহণ করি।

আর যখন বিস্তারিত বিবরণীর মধ্যে এমন কিছু ঘটে যার অর্থ বিস্তারিতভাবে বোঝা যায় না, তখন তার কারণে মূলনীতিটি বাতিল হয়ে যায় না।

শরীয়তে এর অনেক নজির রয়েছে। সুতরাং নাপাকির ক্ষেত্রে কঠোরতার আধিক্য যদি প্রকাশ না-ও পায়, তবুও আমরা ইবাদতগত দিক থেকে কেবল সংখ্যার ওপর সীমাবদ্ধ থাকব এবং মূল অর্থের ক্ষেত্রে আমরা এর যৌক্তিকতার ওপরই অটল থাকব।

 

‌‌[কুকুরের দেহের অপবিত্রতা] 1

দ্বিতীয় মাসআলা: যখন এটি স্পষ্ট হলো যে, ধৌত করার নির্দেশটি নাপাক হওয়ার কারণে, তখন এর মাধ্যমে কুকুরের মূল দেহের নাপাক হওয়ার ওপর দলিল পেশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তাদের দুটি পদ্ধতি রয়েছে।

প্রথমটি হলো: যখন তার লালা নাপাক হওয়ার কারণে তার মুখ নাপাক হওয়া সাব্যস্ত হলো, আর লালা হচ্ছে তার মুখেরই অংশ, অথচ তার মুখমণ্ডল হলো তার দেহের সবচেয়ে সম্মানিত অংশ।

অতএব তার শরীরের অবশিষ্ট অংশ নাপাক হওয়া আরও জোরালোভাবে প্রমাণিত হয়।

দ্বিতীয়টি: যখন তার লালা নাপাক - যা মূলত মুখের ঘাম - তখন তার মুখও নাপাক।

আর ঘাম হলো শরীর থেকে নিংড়ে আসা অংশ। সুতরাং তার শরীরের সমস্ত ঘামই নাপাক।

অতএব তার পুরো শরীরই নাপাক, কারণ আমরা উল্লেখ করেছি যে ঘাম শরীরেরই একটি অংশ।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

فَتَبَيَّنَ بِهَذَا: أَنَّ الْحَدِيثَ إنَّمَا دَلَّ عَلَى النَّجَاسَةِ فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِالْفَمِ، وَأَنَّ نَجَاسَةَ بَقِيَّةِ الْبَدَنِ بِطَرِيقِ الِاسْتِنْبَاطِ.

وَفِيهِ بَحْثٌ.

وَهُوَ أَنْ يُقَالَ: إنَّ الْحَدِيثَ إنَّمَا دَلَّ عَلَى نَجَاسَةِ الْإِنَاءِ الْوُلُوغُ.

وَذَلِكَ قَدْرٌ مُشْتَرَكٌ بَيْنَ نَجَاسَةِ عَيْنِ اللُّعَابِ وَعَيْنِ الْفَمِ، أَوْ تَنَجُّسِهِمَا بِاسْتِعْمَالِ النَّجَاسَةِ غَالِبًا.

وَالدَّالُ عَلَى الْمُشْتَرَكِ لَا يَدُلُّ عَلَى أَحَدِ الْخَاصَّيْنِ.

فَلَا يَدُلُّ الْحَدِيثُ عَلَى نَجَاسَةِ عَيْنِ الْفَمِ، أَوْ عَيْنِ اللُّعَابِ.

فَلَا تَسْتَقِيمُ الدَّلَالَةُ عَلَى نَجَاسَةِ عَيْنِ الْكَلْبِ كُلِّهِ.

وَقَدْ يُعْتَرَضُ عَلَى هَذَا بِأَنْ يُقَالَ: لَوْ كَانَتْ الْعِلَّةُ تَنْجِيسَ الْفَمِ أَوْ اللُّعَابِ - كَمَا أَشَرْتُمْ إلَيْهِ - لَزِمَ أَحَدُ أَمْرَيْنِ.

وَهُوَ إمَّا وُقُوعُ التَّخْصِيصِ فِي الْعُمُومِ، أَوْ ثُبُوتُ الْحُكْمِ بِدُونِ عِلَّتِهِ لِأَنَّا إذَا فَرَضْنَا تَطْهِيرَ فَمِ الْكَلْبِ بِمَاءٍ كَثِيرٍ، أَوْ بِأَيِّ وَجْهٍ كَانَ، فَوَلَغَ فِي الْإِنَاءِ: فَإِمَّا أَنْ يَثْبُتَ وُجُوبُ غَسْلِهِ أَوْ لَا.

فَإِنْ لَمْ يَثْبُتْ وَجَبَ تَخْصِيصُ الْعُمُومِ.

وَإِنْ ثَبَتَ لَزِمَ ثُبُوتُ الْحُكْمِ بِدُونِ عِلَّتِهِ.

وَكِلَاهُمَا عَلَى خِلَافِ الْأَصْلِ.

وَاَلَّذِي يُمْكِنُ أَنْ يُجَابَ بِهِ عَنْ هَذَا السُّؤَالِ، أَنْ يُقَالَ: الْحُكْمُ مَنُوطٌ بِالْغَالِبِ وَمَا ذَكَرْتُمُوهُ مِنْ الصُّوَرِ نَادِرٌ، لَا يُلْتَفَتُ إلَيْهِ.

وَهَذَا الْبَحْثُ إذَا انْتَهَى إلَى هُنَا يُقَوِّي قَوْلَ مَنْ يَرَى أَنَّ الْغَسْلَ لِأَجْلِ قَذَارَةِ الْكَلْبِ.

 

‌‌[اعْتِبَارِ السَّبْعِ فِي عَدَدِ الْغَسَلَاتِ مِنْ ولوغ الْكَلْب] 1

الْمَسْأَلَةُ الثَّالِثَةُ: الْحَدِيثُ نَصٌّ فِي اعْتِبَارِ السَّبْعِ فِي عَدَدِ الْغَسَلَاتِ.

وَهُوَ حُجَّةٌ عَلَى أَبِي حَنِيفَةَ، فِي قَوْلِهِ: يَغْسِلُ ثَلَاثًا.

 

‌‌[الزِّيَادَةُ مِنْ الثِّقَةِ فِي رواية الْحَدِيث]

الْمَسْأَلَةُ الرَّابِعَةُ: فِي رِوَايَةِ ابْنِ سِيرِينَ زِيَادَةُ " التُّرَابِ " وَقَالَ بِهَا الشَّافِعِيُّ وَأَصْحَابُ الْحَدِيثِ.

وَلَيْسَتْ فِي رِوَايَةِ مَالِكٍ هَذِهِ الزِّيَادَةُ: فَلَمْ يَقُلْ بِهَا.

وَالزِّيَادَةُ مِنْ الثِّقَةِ مَقْبُولَةٌ.

وَقَالَ بِهَا غَيْرُهُ.

 

‌‌[غَسْلَة التَّتْرِيبِ مِنْ ولوغ الْكَلْب] 1

الْمَسْأَلَةُ الْخَامِسَةُ: اخْتَلَفَتْ الرِّوَايَاتُ فِي غَسْلَةِ التَّتْرِيبِ، فَفِي بَعْضِهَا " أُولَاهُنَّ " وَفِي بَعْضِهَا " أُخْرَاهُنَّ " وَفِي بَعْضِهَا " إحْدَاهُنَّ " وَالْمَقْصُودُ عِنْدَ الشَّافِعِيِّ وَأَصْحَابِهِ: حُصُولُ التَّتْرِيبِ فِي مَرَّةٍ مِنْ الْمَرَّاتِ، وَقَدْ يُرَجَّحُ كَوْنُهُ فِي الْأُولَى: بِأَنَّهُ إذَا تَرَّبَ أَوَّلًا، فَعَلَى تَقْدِيرِ أَنْ يَلْحَقَ بَعْضَ الْمَوَاضِعِ الطَّاهِرَةِ رَشَاشُ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে: হাদিসটি মূলত মুখের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নাপাকির ওপরই প্রমাণ পেশ করে, আর শরীরের অবশিষ্ট অংশের নাপাকি গবেষণালব্ধ অনুধাবনের (ইস্তিনবাত) মাধ্যমে সাব্যস্ত।

এতে আলোচনার অবকাশ রয়েছে।

আর তা হলো এই বলা: হাদিসটি কুকুরের চেটে দেওয়ার (উলুগ) কারণে পাত্র নাপাক হওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে।

আর তা হলো লালা ও মুখের নিজস্ব নাপাকি, অথবা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নাপাকি ব্যবহারের ফলে এ দুটির নাপাক হয়ে যাওয়ার মধ্যকার একটি সাধারণ বিষয়।

আর যা সাধারণ বিষয়ের ওপর প্রমাণ বহন করে, তা বিশেষ দুটির কোনোটির ওপর প্রমাণ পেশ করে না।

সুতরাং হাদিসটি সরাসরি মুখের বা লালার নিজস্ব নাপাকির ওপর প্রমাণ দেয় না।

ফলে কুকুরের পুরো শরীরই নিজস্বভাবে নাপাক হওয়ার বিষয়ের দলিলটি সুসংগত হয় না।

এর ওপর এই বলে আপত্তি তোলা যেতে পারে যে: যদি নাপাক হওয়ার কারণ (ইল্লত) মুখ বা লালাকে নাপাক করা হতো—যেভাবে আপনারা ইঙ্গিত করেছেন—তবে দুটি বিষয়ের যেকোনো একটি অপরিহার্য হয়ে পড়ত।

তা হয় সাধারণ বিধানের (উমুম) মধ্যে সীমাবদ্ধকরণ (তাখসিস) হওয়া, অথবা কারণ (ইল্লত) ছাড়াই বিধান (হুকুম) সাব্যস্ত হওয়া। কেননা আমরা যদি ধরে নিই যে কুকুরের মুখ প্রচুর পানি বা যেকোনো পদ্ধতিতে পবিত্র করা হলো, এরপর সে পাত্রে মুখ দিল: তবে কি তা ধৌত করার আবশ্যকতা সাব্যস্ত হবে কি হবে না?

যদি সাব্যস্ত না হয়, তবে সাধারণ বিধানে সীমাবদ্ধকরণ আবশ্যক হবে।

আর যদি সাব্যস্ত হয়, তবে কারণ (ইল্লত) ছাড়াই বিধান সাব্যস্ত হওয়া আবশ্যক হবে।

আর উভয়টিই মূলনীতির পরিপন্থী।

এই প্রশ্নের উত্তরে যা বলা সম্ভব তা হলো: বিধানটি (হুকুম) অধিকাংশ সময় যা ঘটে তার ওপর নির্ভরশীল, আর আপনারা যে সুরত বা অবস্থার কথা উল্লেখ করেছেন তা বিরল, যা ধর্তব্য নয়।

আর এই আলোচনা যখন এখানে এসে পৌঁছে, তখন এটি সেই ব্যক্তির মতকে শক্তিশালী করে যিনি মনে করেন যে, ধৌত করার কারণ হলো কুকুরের অপরিচ্ছন্নতা।

 

‌‌[কুকুরের মুখ দেওয়ার ক্ষেত্রে ধৌত করার সংখ্যায় সাতের বিবেচনা] 1

তৃতীয় মাসআলা: ধৌত করার সংখ্যায় সাতের বিবেচনার ব্যাপারে হাদিসটি একটি সুস্পষ্ট ভাষ্য (নস)।

আর এটি ইমাম আবু হানিফার বিরুদ্ধে দলিল, কেননা তাঁর মত হলো: তিনবার ধৌত করতে হবে।

 

‌‌[হাদিসের বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত অংশ]

চতুর্থ মাসআলা: ইবনে সিরিনের বর্ণনায় 'মাটি' ব্যবহারের কথা অতিরিক্ত রয়েছে এবং ইমাম শাফিয়ী ও হাদিস বিশারদগণ তা গ্রহণ করেছেন।

ইমাম মালিকের বর্ণনায় এই অতিরিক্ত অংশটি নেই, তাই তিনি তা বলেননি।

আর নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর অতিরিক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য।

আর তিনি ছাড়া অন্যরাও তা বলেছেন।

 

‌‌[কুকুরের মুখ দেওয়ার কারণে মাটি দিয়ে ধৌত করা] 1

পঞ্চম মাসআলা: মাটি মিশ্রিত ধোলাইয়ের ব্যাপারে বর্ণনাগুলোতে ভিন্নতা রয়েছে; কোনো বর্ণনায় এসেছে 'তাদের প্রথমবার', কোনোটিতে 'তাদের শেষবার', আবার কোনোটিতে 'তাদের যেকোনো একবার'। আর ইমাম শাফিয়ী ও তাঁর অনুসারীদের মতে উদ্দেশ্য হলো: যেকোনো একবার মাটি ব্যবহার সম্পন্ন করা; তবে প্রথমবারে হওয়াকেই প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। কারণ যদি প্রথমে মাটি ব্যবহার করা হয়, তবে কোনো পবিত্র স্থানে যদি ছিটা পড়ার সম্ভাবনা থাকে
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

بَعْضِ الْغَسَلَاتِ لَا يَحْتَاجُ إلَى تَتْرِيبِهِ، وَإِذَا أُخِّرَتْ غَسْلَةُ التَّتْرِيبِ، فَلَحِقَ رَشَاشُ مَا قَبْلَهَا بَعْضَ الْمَوَاضِعِ الطَّاهِرَةِ: اُحْتِيجَ إلَى تَتْرِيبِهِ، فَكَانَتْ الْأُولَى أَرْفَقَ بِالْمُكَلَّفِ.

فَكَانَتْ أَوْلَى.

1 -

الْمَسْأَلَةُ السَّادِسَةُ: الرِّوَايَةُ الَّتِي فِيهَا «وَعَفِّرُوهُ الثَّامِنَةَ بِالتُّرَابِ» تَقْتَضِي زِيَادَةَ مَرَّةٍ ثَامِنَةٍ ظَاهِرًا، وَبِهِ قَالَ الْحَسَنُ الْبَصْرِيُّ، وَقِيلَ: لَمْ يَقُلْ بِهِ غَيْرُهُ، وَلَعَلَّهُ الْمُرَادُ بِذَلِكَ مِنْ الْمُتَقَدِّمِينَ.

وَالْحَدِيثُ قَوِيٌّ فِيهِ، وَمَنْ لَمْ يَقُلْ بِهِ: احْتَاجَ إلَى تَأْوِيلِهِ بِوَجْهٍ فِيهِ اسْتِكْرَاهٌ.

 

الْمَسْأَلَةُ السَّابِعَةُ: قَوْلُهُ صلى الله عليه وسلم «فَاغْسِلُوهُ سَبْعًا، أُولَاهُنَّ، أَوْ أُخْرَاهُنَّ بِالتُّرَابِ» قَدْ يَدُلُّ لِمَا قَالَهُ بَعْضُ أَصْحَابِ الشَّافِعِيِّ: إنَّهُ لَا يَكْتَفِي بِذَرِّ التُّرَابِ عَلَى الْمَحِلِّ، بَلْ لَا بُدَّ أَنْ يَجْعَلَهُ فِي الْمَاءِ، وَيُوَصِّلَهُ إلَى الْمَحِلِّ.

وَوَجْهُ الِاسْتِدْلَالِ: أَنَّهُ جَعَلَ مَرَّةَ التَّتْرِيبِ دَاخِلَةً فِي قِسْمِ مُسَمَّى الْغَسَلَاتِ، وَذَرُّ التُّرَابِ عَلَى الْمَحِلِّ لَا يُسَمَّى غَسْلًا، وَهَذَا مُمْكِنٌ.

وَفِيهِ احْتِمَالٌ؛ لِأَنَّهُ إذَا ذَرَّ التُّرَابَ عَلَى الْمَحِلِّ، وَأَتْبَعَهُ بِالْمَاءِ يَصِحُّ أَنْ يُقَالَ: غَسَلَ بِالتُّرَابِ، وَلَا بُدَّ مِنْ مِثْلِ هَذَا فِي أَمْرِهِ صلى الله عليه وسلم فِي غُسْلِ الْمَيِّتِ بِمَاءٍ وَسِدْرٍ، عِنْدَ مَنْ يَرَى أَنَّ الْمَاءَ الْمُتَغَيِّرَ بِالطَّاهِرِ غَيْرُ طَهُورٍ، إنْ جَرَى عَلَى ظَاهِرِ الْحَدِيثِ فِي الِاكْتِفَاءِ بِغَسْلَةٍ وَاحِدَةٍ؛ لِأَنَّهَا تُحَصِّلُ مُسَمَّى الْغَسْلِ [وَهَذَا جَيِّدٌ] .

إلَّا أَنَّ قَوْلَهُ " وَعَفِّرُوهُ " قَدْ يُشْعِرُ بِالِاكْتِفَاءِ بِالتَّتْرِيبِ بِطَرِيقِ ذَرِّ التُّرَابِ عَلَى
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

কতক ধৌত করার ক্ষেত্রে মাটি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। আর যদি মাটি দিয়ে ধৌত করার প্রক্রিয়াটি বিলম্বিত করা হয় এবং এর আগের ধৌত করার ছিটা কোনো পবিত্র স্থানে লাগে, তবে সেই স্থানটিতেও মাটি ব্যবহারের প্রয়োজন দেখা দেবে। সুতরাং প্রথমবারই মাটি ব্যবহার করা মুকাল্লাফের জন্য অধিক সহজতর।

তাই এটিই অধিক শ্রেয়।

১ -

ষষ্ঠ মাসআলা: যে বর্ণনায় রয়েছে "অষ্টমবার মাটি দিয়ে ঘষবে", তা বাহ্যিকভাবে অষ্টম বার বৃদ্ধির দাবি রাখে। হাসান বসরী এই মত পোষণ করেছেন। বলা হয়ে থাকে যে, তিনি ছাড়া অন্য কেউ এই মত দেননি; সম্ভবত পূর্ববর্তীদের মধ্যে তিনিই এর দ্বারা উদ্দিষ্ট।

এই বিষয়ে হাদীসটি শক্তিশালী। আর যারা এই মত পোষণ করেননি, তাদের একে এমনভাবে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন হয়েছে যাতে কিছুটা জটিলতা রয়েছে।

 

সপ্তম মাসআলা: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী— "তোমরা তা সাতবার ধৌত করো, যার প্রথমবার বা শেষবার হবে মাটি দিয়ে"—শাফেঈ মাযহাবের কোনো কোনো অনুসারীর বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ হতে পারে যে, কেবল আক্রান্ত স্থানে মাটি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং মাটিতে পানি মিশিয়ে তা উক্ত স্থানে পৌঁছানো আবশ্যক।

দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি হলো: তিনি মাটি ব্যবহারের সময়টিকে ধৌত করার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেছেন। আর কোনো স্থানে কেবল মাটি ছিটিয়ে দেওয়াকে 'ধৌত করা' বলা হয় না। এই সম্ভাবনাটি যৌক্তিক।

এতে আরও একটি সম্ভাবনা রয়েছে; কারণ যদি কেউ আক্রান্ত স্থানে মাটি ছিটিয়ে দেয় এবং এরপর পানি প্রবাহিত করে, তবে তাকে "মাটি দিয়ে ধৌত করা" বলা শুদ্ধ হবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মৃত ব্যক্তিকে পানি ও বরই পাতা দিয়ে গোসল করানোর যে নির্দেশ দিয়েছেন, সেই নির্দেশের ক্ষেত্রেও এমনটি প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক—তাদের নিকট যারা মনে করেন যে, কোনো পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে পানির গুণাগুণ পরিবর্তিত হয়ে গেলে তা আর পবিত্রকারী থাকে না—যদি হাদীসের বাহ্যিক মর্ম অনুযায়ী একবার ধৌত করাকেই যথেষ্ট মনে করা হয়; কারণ এতে ধৌত করার নাম পাওয়া যায় [এবং এটি উত্তম]।

তবে তাঁর বাণী "মাটি দিয়ে ঘষো" দ্বারা কেবল মাটি ছিটিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে মাটি ব্যবহারের বিষয়টি যথেষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

الْمَحِلِّ، فَإِنْ كَانَ خَلْطُهُ بِالْمَاءِ لَا يُنَافِي كَوْنَهُ تَعْفِيرًا لُغَةً، فَقَدْ ثَبَتَ مَا قَالُوهُ، وَلَكِنْ لَفْظَةُ " التَّعْفِيرِ " حِينَئِذٍ تَنْطَلِقُ عَلَى ذَرِّ التُّرَابِ عَلَى الْمَحِلِّ، وَعَلَى إيصَالِهِ بِالْمَاءِ إلَيْهِ، وَالْحَدِيثُ الَّذِي دَلَّ عَلَى اعْتِبَارِ مُسَمَّى الْغَسْلَةِ، إذْ دَلَّ عَلَى خَلْطِهِ بِالْمَاءِ وَإِيصَالِهِ إلَى الْمَحِلِّ بِهِ.

فَذَلِكَ أَمْرٌ زَائِدٌ عَلَى مُطْلَقِ التَّعْفِيرِ، عَلَى التَّقْدِيرِ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ مِنْ شُمُولِ اسْمِ " التَّعْفِيرِ " لِلصُّورَتَيْنِ مَعًا، أَعْنِي ذَرَّ التُّرَابِ وَإِيصَالَهُ بِالْمَاءِ.

 

‌‌[اتَّخَذَ مَا أُبِيحَ لَهُ اتِّخَاذُهُ مِنْ الْكِلَاب فولغ فِي الْإِنَاء] 1

الْمَسْأَلَةُ الثَّامِنَةُ: الْحَدِيثُ عَامٌّ فِي جَمِيعِ الْكِلَابِ.

وَفِي مَذْهَبِ مَالِكٍ: قَوْلٌ بِتَخْصِيصِهِ بِالْمَنْهِيِّ عَنْ اتِّخَاذِهِ.

وَالْأَقْرَبُ: الْعُمُومُ.

؛ لِأَنَّ الْأَلِفَ وَاللَّامِ إذَا لَمْ يَقُمْ دَلِيلٌ عَلَى صَرْفِهَا إلَى الْمَعْهُودِ الْمُعَيَّنِ، فَالظَّاهِرُ كَوْنُهَا لِلْعُمُومِ، وَمَنْ يَرَى الْخُصُوصَ قَدْ يَأْخُذُهُ مِنْ قَرِينَةٍ تَصْرِفُ الْعُمُومَ عَنْ ظَاهِرِهِ فَإِنَّهُمْ نُهُوا عَنْ اتِّخَاذِ الْكِلَابِ إلَّا لِوُجُوهٍ مَخْصُوصَةٍ.

وَالْأَمْرُ بِالْغَسْلِ مَعَ الْمُخَالَطَةِ عُقُوبَةٌ يُنَاسِبُهَا الِاخْتِصَاصُ بِمِنْ ارْتَكَبَ النَّهْيَ فِي اتِّخَاذِ مَا مُنِعَ مِنْ اتِّخَاذِهِ.

وَأَمَّا مَنْ اتَّخَذَ مَا أُبِيحَ لَهُ اتِّخَاذُهُ، فَإِيجَابُ الْغَسْلِ عَلَيْهِ مَعَ الْمُخَالَطَةِ عُسْرٌ وَحَرَجٌ، وَلَا يُنَاسِبُهُ الْإِذْنُ وَالْإِبَاحَةُ فِي الِاتِّخَاذِ.

وَهَذَا يَتَوَقَّفُ عَلَى أَنْ تَكُونَ هَذِهِ الْقَرِينَةُ مَوْجُودَةً عِنْدَ النَّهْيِ.

1 -

الْمَسْأَلَةُ التَّاسِعَةُ: الْإِنَاءُ عَامٌّ بِالنِّسْبَةِ إلَى كُلِّ إنَاءٍ.

وَالْأَمْرُ بِغَسْلِهِ لِلنَّجَاسَةِ.

إذَا ثَبَتَ ذَلِكَ يَقْتَضِي تَنْجِيسَ مَا فِيهِ، فَيَقْتَضِي الْمَنْعَ مِنْ اسْتِعْمَالِهِ.

وَفِي مَذْهَبِ مَالِكٍ: قَوْلٌ: إنَّ ذَلِكَ يَخْتَصُّ بِالْمَاءِ، وَأَنَّ الطَّعَامَ الَّذِي وَلَغَ فِيهِ الْكَلْبُ لَا يُرَاقُ وَلَا يُجْتَنَبُ.

وَقَدْ وَرَدَ الْأَمْرُ بِالْإِرَاقَةِ مُطْلَقًا فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ الصَّحِيحَةِ.

 

‌‌[ظَاهِرُ الْأَمْرِ الْوُجُوبُ]

الْمَسْأَلَةُ الْعَاشِرَةُ: ظَاهِرُ الْأَمْرِ الْوُجُوبُ.

وَفِي مَذْهَبِ مَالِكٍ قَوْلٌ: إنَّهُ لِلنَّدْبِ وَكَأَنَّهُ لَمَّا اعْتَقَدَ طَهَارَةَ الْكَلْبِ - بِالدَّلِيلِ الَّذِي دَلَّهُ عَلَى ذَلِكَ - جَعَلَ ذَلِكَ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

স্থানটি, যদি পানির সাথে এর (মাটির) মিশ্রণ ভাষাগতভাবে 'মাটি মাখানো' (তা'ফির) হওয়ার পরিপন্থী না হয়, তবে তারা যা বলেছেন তা সাব্যস্ত হলো। কিন্তু সেক্ষেত্রে 'তা'ফির' শব্দটি তখন স্থানের উপর মাটি ছিটানো এবং পানির মাধ্যমে সেখানে মাটি পৌঁছানো—উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। আর যে হাদিসটি ধৌতকরণের নাম বিবেচনার দলিল দেয়, তা এটিকে পানির সাথে মেশানো এবং তার মাধ্যমে স্থানে পৌঁছানোর প্রমাণ দেয়।

সুতরাং আমরা যে সম্ভাবনাটি উল্লেখ করেছি, অর্থাৎ 'তা'ফির' শব্দটি মাটি ছিটানো এবং পানির মাধ্যমে তা পৌঁছানো—উভয় অবস্থাকেই অন্তর্ভুক্ত করে, সেই হিসেবে এটি সাধারণ 'তা'ফির'-এর অতিরিক্ত একটি বিষয়।

 

‌‌[বৈধ কোনো কুকুর পালন করা এবং সেটি পাত্রে মুখ দেওয়া] 1

অষ্টম মাসআলা: হাদিসটি সকল কুকুরের ক্ষেত্রে সাধারণ।

মালিকি মাযহাবে একটি মত রয়েছে যে, এটি কেবল ওইসব কুকুরের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যেগুলোর পালন নিষিদ্ধ।

আর অধিকতর নিকটবর্তী মত হলো: এটি সাধারণ।

কারণ, 'আলিফ ও লাম' যখন নির্দিষ্ট কোনো পরিচিত অর্থের দিকে ফিরিয়ে নেয়ার দলিল না থাকে, তখন বাহ্যত তা ব্যাপকতা বা সাধারণ অর্থই প্রকাশ করে। যারা একে নির্দিষ্ট মনে করেন, তারা হয়তো এমন কোনো প্রেক্ষাপট থেকে তা গ্রহণ করেন যা সাধারণ অর্থকে তার বাহ্যিক রূপ থেকে সরিয়ে দেয়। কেননা সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কুকুর পালন করতে নিষেধ করা হয়েছে।

আর সংস্পর্শের কারণে ধৌত করার আদেশটি একটি শাস্তি হিসেবে গণ্য হতে পারে, যা তাদের জন্য প্রযোজ্য হওয়া যুক্তিযুক্ত যারা নিষিদ্ধ কুকুর পালন করে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেছে।

পক্ষান্তরে, যাকে কুকুর পালনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তার জন্য সংস্পর্শের কারণে ধৌত করা আবশ্যক করা একটি কষ্ট ও সংকীর্ণতার বিষয়; যা কুকুর পালনের অনুমতি ও বৈধতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

আর এটি এই প্রেক্ষাপটের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে যা নিষেধাজ্ঞার সময় বিদ্যমান ছিল।

1 -

নবম মাসআলা: পাত্র শব্দটি প্রতিটি পাত্রের ক্ষেত্রে সাধারণ।

আর এটি ধৌত করার আদেশ নাপাকির কারণে।

যদি এটি সাব্যস্ত হয়, তবে তা পাত্রে যা আছে তাকেও নাপাক করে দেয়, যা তার ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞাকে আবশ্যক করে।

মালিকি মাযহাবে একটি মত রয়েছে যে, এটি পানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট এবং কুকুর যে খাবারে মুখ দিয়েছে তা ফেলে দেওয়া হবে না এবং তা বর্জন করা হবে না।

অথচ কিছু সহিহ রেওয়ায়েতে সাধারণভাবে তা ফেলে দেওয়ার আদেশ বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌[আদেশের বাহ্যিক রূপ হলো আবশ্যকতা]

দশম মাসআলা: আদেশের বাহ্যিক রূপ হলো ওয়াজিব বা আবশ্যকতা।

মালিকি মাযহাবে একটি মত রয়েছে যে, এটি মুস্তাহাব হওয়ার জন্য। যেন তিনি যখন কুকুরের পবিত্র হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করেছেন—যে দলিল তাকে সেদিকে পরিচালিত করেছে তার ভিত্তিতে—তখন তিনি একে বানিয়েছেন
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৭৯)
7 - الْحَدِيثُ السَّابِعُ: عَنْ حُمْرَانَ مَوْلَى عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ رضي الله عنهما «أَنَّهُ رَأَى عُثْمَانَ دَعَا بِوَضُوءٍ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إنَائِهِ، فَغَسَلَهُمَا ثَلَاثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ أَدْخَلَ يَمِينَهُ فِي الْوَضُوءِ، ثُمَّ تَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، وَيَدَيْهِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثَلَاثًا، ثُمَّ مَسَحَ بِرَأْسِهِ، ثُمَّ غَسَلَ كِلْتَا رِجْلَيْهِ ثَلَاثًا، ثُمَّ قَالَ: رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَوَضَّأُ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا وَقَالَ مَنْ تَوَضَّأَ نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، لَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»

ـــــــــــــــــــــــــــــ

قَرِينَةً صَارِفَةً لِلْأَمْرِ عَنْ ظَاهِرِهِ.

مِنْ الْوُجُوبِ إلَى النَّدْبِ.

وَالْأَمْرُ قَدْ يُصْرَفُ عَنْ ظَاهِرِهِ بِالدَّلِيلِ.

 

‌‌[الصَّابُون وَالْأُشْنَان وَالْغَسْلَةُ الثَّامِنَةُ تَقُومُ مَقَامَ التُّرَابِ] 1

الْمَسْأَلَةُ الْحَادِيَةَ عَشْرَةَ: قَوْلُهُ " بِالتُّرَابِ " يَقْتَضِي تَعَيُّنَهُ.

وَفِي مَذْهَبِ الشَّافِعِيِّ قَوْلٌ - أَوْ وَجْهٌ - إنَّ الصَّابُونَ وَالْأُشْنَانَ وَالْغَسْلَةُ الثَّامِنَةُ، تَقُومُ مَقَامَ التُّرَابِ، بِنَاءً عَلَى أَنَّ الْمَقْصُودَ بِالتُّرَابِ: زِيَادَةُ التَّنْظِيفِ، وَأَنَّ الصَّابُونَ وَالْأُشْنَانَ يَقُومَانِ مَقَامَهُ فِي ذَلِكَ.

وَهَذَا عِنْدَنَا ضَعِيفٌ.

؛ لِأَنَّ النَّصَّ إذَا وَرَدَ بِشَيْءٍ مُعَيَّنٍ، وَاحْتَمَلَ مَعْنًى يَخْتَصُّ بِذَلِكَ الشَّيْءِ لَمْ يَجُزْ إلْغَاءُ النَّصِّ، وَاطِّرَاحُ خُصُوصِ الْمُعَيَّنِ فِيهِ.

وَالْأَمْرُ بِالتُّرَابِ - وَإِنْ كَانَ مُحْتَمِلًا لِمَا ذَكَرُوهُ، وَهُوَ زِيَادَةُ التَّنْظِيفِ - فَلَا نَجْزِمُ بِتَعْيِينِ ذَلِكَ الْمَعْنَى.

فَإِنَّهُ يُزَاحِمُهُ مَعْنًى آخَرُ، وَهُوَ الْجَمْعُ بَيْنَ مُطَهِّرَيْنِ، أَعْنِي الْمَاءَ وَالتُّرَابَ، وَهَذَا الْمَعْنَى مَفْقُودٌ فِي الصَّابُونِ وَالْأُشْنَانِ.

وَأَيْضًا، فَإِنَّ هَذِهِ الْمَعَانِي الْمُسْتَنْبَطَةَ إذَا لَمْ يَكُنْ فِيهَا سِوَى مُجَرَّدِ الْمُنَاسَبَةِ، فَلَيْسَتْ بِذَلِكَ الْأَمْرِ الْقَوِيِّ.

فَإِذَا وَقَعَتْ فِيهَا الِاحْتِمَالَاتُ، فَالصَّوَابُ اتِّبَاعُ النَّصِّ.

وَأَيْضًا، فَإِنَّ الْمَعْنَى الْمُسْتَنْبَطَ إذَا عَادَ عَلَى النَّصِّ بِإِبْطَالٍ أَوْ تَخْصِيصٍ: مَرْدُودٌ عِنْدَ جَمْعٍ مِنْ الْأُصُولِيِّينَ.
৭ - সপ্তম হাদিস: উসমান ইবন আফফান (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর মুক্তদাস হুমরান থেকে বর্ণিত যে, «তিনি উসমানকে ওযুর পানি আনানোর জন্য ডাকতে দেখলেন। অতঃপর তিনি পাত্র থেকে তার দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং সেগুলো তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তিনি তার ডান হাত ওযুর পানির পাত্রে প্রবেশ করালেন। তারপর কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন এবং নাক পরিষ্কার করলেন। এরপর তিনবার তার মুখমণ্ডল ধৌত করলেন এবং দুই হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধৌত করলেন। এরপর তার মাথা মাসাহ করলেন। এরপর তার দুই পা তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর তিনি বললেন: আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে ঠিক আমার এই ওযুর মতোই ওযু করতে দেখেছি। এবং তিনি (নবী) বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর মতো ওযু করবে, তারপর দুই রাকাত সালাত আদায় করবে, যাতে সে নিজের সাথে কোনো কথা (পার্থিব চিন্তা) বলবে না, তবে তার পূর্ববর্তী গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে»

ـــــــــــــــــــــــــــــ

এমন একটি প্রাসঙ্গিক নির্দেশক যা নির্দেশকে (আম্‌র) তার বাহ্যিক অর্থ থেকে সরিয়ে দেয়।

আবশ্যকতা (উজুব) থেকে পছন্দনীয়তা (নাদব) এর দিকে।

আর নির্দেশকে (আম্‌র) দলিলের মাধ্যমে তার বাহ্যিক অর্থ থেকে বিচ্যুত করা হতে পারে।

 

‌‌[সাবান, উশনান এবং অষ্টম ধৌতকরণ কি মাটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে] ১

একাদশ মাসআলা: তাঁর বাণী "মাটি দ্বারা" এটি মাটির নির্ধারিত হওয়াকেই দাবি করে।

আর শাফেঈ মাযহাবে একটি মত—অথবা দৃষ্টিভঙ্গি—রয়েছে যে, সাবান, উশনান (এক প্রকার পরিষ্কারক উদ্ভিদ) এবং অষ্টম বার ধৌত করা মাটির স্থলাভিষিক্ত হবে। এর ভিত্তি হলো মাটির উদ্দেশ্য হচ্ছে অতিরিক্ত পরিষ্কার করা, আর সাবান ও উশনান এক্ষেত্রে মাটির স্থলাভিষিক্ত হতে পারে।

আর এটি আমাদের নিকট দুর্বল।

কারণ যখন কোনো নস (সুস্পষ্ট পাঠ) নির্দিষ্ট কোনো জিনিসের ব্যাপারে আসে এবং তাতে যদি এমন কোনো অর্থ বিদ্যমান থাকার সম্ভাবনা থাকে যা সেই জিনিসের সাথে খাস (নির্দিষ্ট), তবে সেই নসকে বাতিল করা এবং তাতে উল্লিখিত নির্দিষ্ট জিনিসের বিশেষত্বকে বর্জন করা বৈধ নয়।

আর মাটি দ্বারা পরিষ্কার করার নির্দেশ—যদিও তারা যা উল্লেখ করেছেন (অর্থাৎ অতিরিক্ত পরিষ্কার করা) তার সম্ভাবনা রাখে—তবুও আমরা সেই নির্দিষ্ট অর্থটিই নির্ধারিত বলে নিশ্চিত নই।

কারণ তার সাথে অন্য একটি অর্থও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, আর তা হলো দুটি পবিত্রকারী বস্তুকে একত্রিত করা, অর্থাৎ পানি এবং মাটি। আর এই অর্থটি সাবান ও উশনানের মধ্যে অনুপস্থিত।

অধিকন্তু, এই উদ্ভূত অর্থগুলোর মধ্যে যদি কেবল নিছক সামঞ্জস্যতা ছাড়া আর কিছু না থাকে, তবে তা খুব একটা শক্তিশালী বিষয় নয়।

সুতরাং যখন এগুলোতে বিভিন্ন সম্ভাবনার উদ্ভব হয়, তখন সঠিক পথ হলো নসের অনুসরণ করা।

এছাড়াও, উদ্ভূত অর্থ যদি নসকে বাতিল করার বা সীমাবদ্ধ (তাখসিস) করার পর্যায়ে নিয়ে যায়, তবে একদল উসুলবিদদের (মূলনীতি বিশারদদের) মতে তা প্রত্যাখ্যাত।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

‌‌[حَدِيثُ عُثْمَان دَعَا بِوَضُوءٍ فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ إنَائِهِ]

" عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ بْنِ أُمَيَّةَ بْنِ عَبْدِ شَمْسِ بْنِ عَبْدِ مَنَافٍ، يَجْتَمِعُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي عَبْدِ مَنَافٍ. أَسْلَمَ قَدِيمًا. وَهَاجَرَ الْهِجْرَتَيْنِ. وَتَزَوَّجَ بِنْتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم. وَوَلِيَ الْخِلَافَةَ بَعْدَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رضي الله عنه وَقُتِلَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، لِثَمَانِي عَشَرَةَ خَلَوْنَ مِنْ ذِي الْحِجَّةِ سَنَةَ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ مِنْ الْهِجْرَةِ.

وَمَوْلَاهُ " حُمْرَانُ بْنُ أَبَانَ بْنِ خَالِدٍ كَانَ مِنْ سَبْيِ عَيْنِ التَّمْرِ.

ثُمَّ تَحَوَّلَ إلَى الْبَصْرَةِ.

احْتَجَّ بِهِ الْجَمَاعَةُ.

وَكَانَ كَبِيرًا.

الْكَلَامُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ مِنْ وُجُوهٍ.

أَحَدُهَا: " الْوَضُوءُ " بِفَتْحِ الْوَاوِ: اسْمٌ لِلْمَاءِ، وَبِضَمِّهَا: اسْمٌ لِلْفِعْلِ عَلَى الْأَكْثَرِ.

وَإِذَا كَانَ بِفَتْحِ الْوَاوِ اسْمًا لِلْمَاءِ - كَمَا ذَكَرْنَاهُ - فَهَلْ هُوَ اسْمٌ لِمُطْلَقِ الْمَاءِ، أَوْ لِلْمَاءِ بِقَيْدِ كَوْنِهِ مُتَوَضِّئًا بِهِ، أَوْ مُعَدًّا لِلْوُضُوءِ بِهِ؟ فِيهِ نَظَرٌ يَحْتَاجُ إلَى كَشْفٍ.

وَيَنْبَنِي عَلَيْهِ فَائِدَةٌ فِقْهِيَّةٌ.

وَهُوَ أَنَّهُ فِي بَعْضِ الْأَحَادِيثِ الَّتِي اُسْتُدِلَّ بِهَا عَلَى أَنَّ الْمَاءَ الْمُسْتَعْمَلَ طَاهِرٌ: قَوْلُ جَابِرٍ " فَصَبَّ عَلَيَّ مِنْ وَضُوئِهِ " فَإِنَّا إنْ جَعَلْنَا " الْوَضُوءِ " اسْمًا لِمُطْلَقِ الْمَاءِ لَمْ يَكُنْ فِي قَوْلِهِ " فَصَبَّ عَلَيَّ مِنْ وَضُوئِهِ " دَلِيلٌ عَلَى طَهَارَةِ الْمَاءِ الْمُسْتَعْمَلِ.

؛ لِأَنَّهُ يَصِيرُ التَّقْدِيرُ: فَصَبَّ عَلَيَّ مِنْ مَائِهِ.

وَلَا يَلْزَمُ أَنْ يَكُونَ مَاؤُهُ هُوَ الَّذِي اُسْتُعْمِلَ فِي أَعْضَائِهِ.

؛ لِأَنَّا نَتَكَلَّمُ عَلَى أَنَّ " الْوَضُوءَ " اسْمٌ لِمُطْلَقِ الْمَاءِ.

وَإِذَا لَمْ يَلْزَمْ ذَلِكَ: جَازَ أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ بِوَضُوئِهِ: فَضْلَةَ مَائِهِ الَّذِي تَوَضَّأَ بِبَعْضِهِ، لَا مَا اسْتَعْمَلَهُ فِي أَعْضَائِهِ.

فَلَا يَبْقَى فِيهِ دَلِيلٌ مِنْ جِهَةِ اللَّفْظِ عَلَى مَا ذُكِرَ مِنْ طَهَارَةِ الْمَاءِ الْمُسْتَعْمَلِ.

وَإِنْ جَعَلْنَا " الْوَضُوءَ " بِالْفَتْحِ: الْمَاءَ مُقَيَّدًا بِالْإِضَافَةِ إلَى الْوُضُوءِ - بِالضَّمِّ " أَعْنِي اسْتِعْمَالَهُ فِي الْأَعْضَاءِ، أَوْ إعْدَادَهُ لِذَلِكَ: فَهَاهُنَا يُمْكِنُ أَنْ يُقَالَ: فِيهِ دَلِيلٌ.

؛ لِأَنَّ " وَضُوءَهُ " بِالْفَتْحِ مُتَرَدِّدٌ بَيْنَ مَائِهِ الْمُعَدِّ لِلْوُضُوءِ بِالضَّمِّ، وَبَيْنَ مَائِهِ الْمُسْتَعْمَلِ فِي الْوَضُوءِ.

وَحَمْلُهُ عَلَى الثَّانِي أَوْلَى؛ لِأَنَّهُ الْحَقِيقَةُ، أَوْ الْأَقْرَبُ إلَى الْحَقِيقَةِ وَاسْتِعْمَالُهُ بِمَعْنَى الْمُعَدِّ مَجَازٌ.

وَالْحَمْلُ عَلَى الْحَقِيقَةِ أَوْ الْأَقْرَبِ إلَى الْحَقِيقَةِ أَوْلَى.

 

‌‌[غَسْل الْيَدَيْنِ قَبْلَ إدْخَالِهِمَا فِي الْإِنَاءِ فِي ابْتِدَاءِ الْوُضُوءِ] 1
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

‌‌[উসমানের হাদিস: তিনি অজুর পানি চাইলেন এবং পাত্র থেকে তাঁর দুহাতের ওপর পানি ঢাললেন]

"উসমান ইবনে আফফান ইবনে আবিল আস ইবনে উমাইয়াহ ইবনে আব্দু শামস ইবনে আব্দু মানাফ; তিনি আব্দু মানাফের মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধারার সাথে মিলিত হন। তিনি ইসলামের প্রাথমিক যুগে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং দুইবার হিজরত করেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দুই কন্যাকে বিবাহ করেছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর পর তিনি খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। হিজরি পঁয়ত্রিশ সালের আঠারো জিলহজ শুক্রবার তিনি শহিদ হন।

এবং তাঁর আযাদকৃত গোলাম "হুমরান ইবনে আবান ইবনে খালিদ" ছিলেন আইনুত তামর যুদ্ধের যুদ্ধবন্দীদের অন্তর্ভুক্ত।

পরবর্তীতে তিনি বসরায় স্থানান্তরিত হন।

মুহাদ্দিসগণের জামাত (সিহাহ সিত্তাহর সংকলকগণ) তাঁর বর্ণিত হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন।

তিনি একজন বরেণ্য ব্যক্তি ছিলেন।

এই হাদিসের আলোচনা কয়েকটি দিক থেকে হতে পারে।

প্রথমত: ওয়াও বর্ণে যবরযোগে "ওয়াদূ" শব্দটি অধিকাংশের মতে অজুর পানির নাম, আর ওয়াও বর্ণে পেশযোগে "উযূ" শব্দটি অজুর কাজের (ক্রিয়ার) নাম।

যদি যবরযোগে শব্দটি পানির নাম হয়—যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—তবে তা কি কেবল সাধারণ পানির নাম, নাকি অজুর কাজে ব্যবহৃত পানি অথবা অজুর জন্য প্রস্তুতকৃত পানির নাম? বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে এবং এর স্পষ্টীকরণ প্রয়োজন।

এর ওপর ভিত্তি করে একটি ফিকহি মাসআলা উদ্ভাবিত হয়।

তা হলো, ব্যবহৃত পানি পবিত্র হওয়ার সপক্ষে যেসব হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়, তন্মধ্যে জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর এই উক্তিটি অন্যতম যে, "তিনি তাঁর অজুর পানি থেকে আমার ওপর ঢেলে দিলেন।" আমরা যদি 'ওয়াদূ' শব্দটিকে কেবল সাধারণ পানি অর্থে গ্রহণ করি, তবে "তিনি তাঁর অজুর পানি থেকে আমার ওপর ঢেলে দিলেন" কথাটির মধ্যে ব্যবহৃত পানি পবিত্র হওয়ার কোনো দলিল থাকবে না।

কারণ তখন বাক্যটির সারমর্ম হবে: "তিনি তাঁর পানি থেকে আমার ওপর ঢেলে দিলেন।"

এমতাবস্থায় সেই পানিটি তাঁর অঙ্গে ব্যবহৃত পানি হওয়া আবশ্যক নয়।

যেহেতু আমরা 'ওয়াদূ' শব্দটিকে সাধারণ পানির নাম হিসেবে ধরে আলোচনা করছি।

আর যখন এটি আবশ্যক নয়, তখন 'ওয়াদূ' বলতে অজুর সেই অবশিষ্ট পানিও উদ্দেশ্য হতে পারে যার একাংশ দ্বারা তিনি অজু করেছেন, অঙ্গে ব্যবহৃত পানি নয়।

সুতরাং ব্যবহৃত পানি পবিত্র হওয়ার সপক্ষে এই শব্দ থেকে শাব্দিক দিক দিয়ে কোনো দলিল অবশিষ্ট থাকে না।

পক্ষান্তরে আমরা যদি যবরযোগে 'ওয়াদূ' শব্দটিকে অজুর কাজের সাথে সম্পৃক্ত পানি হিসেবে ধরি—অর্থাৎ যা অঙ্গে ব্যবহার করা হয়েছে বা তার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে—তবে সেক্ষেত্রে বলা সম্ভব যে, এতে দলিল রয়েছে।

কেননা যবরযোগে ‘ওয়াদূ’ শব্দটি অজুর জন্য প্রস্তুতকৃত পানি এবং অজুতে ব্যবহৃত পানি—এই দুইয়ের মাঝে দোদুল্যমান।

তবে একে দ্বিতীয় অর্থে (ব্যবহৃত পানি) গ্রহণ করাই শ্রেয়; কারণ এটিই প্রকৃত অর্থ বা প্রকৃত অর্থের নিকটবর্তী, আর একে প্রস্তুতকৃত পানির অর্থে ব্যবহার করা রূপক মাত্র।

আর রূপক অপেক্ষা প্রকৃত বা প্রকৃতের নিকটবর্তী অর্থের ওপর প্রয়োগ করাই উত্তম।

 

‌‌[অজুর শুরুতে পাত্রে হাত ঢোকানোর আগে দুহাত ধৌত করা] ১
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

الثَّانِي: قَوْلُهُ " فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ " فِيهِ اسْتِحْبَابُ غَسْلِ الْيَدَيْنِ قَبْلَ إدْخَالِهِمَا فِي الْإِنَاءِ فِي ابْتِدَاءِ الْوُضُوءِ مُطْلَقًا.

وَالْحَدِيثُ الَّذِي مَضَى يُفِيدُ اسْتِحْبَابَهُ عِنْدَ الْقِيَامِ مِنْ النَّوْمِ.

وَقَدْ ذَكَرْنَا الْفَرْقَ بَيْنَ الْحُكْمَيْنِ، وَأَنَّ الْحُكْمَ عِنْدَ عَدَمِ الْقِيَامِ: الِاسْتِحْبَابُ، وَعِنْدَ الْقِيَامِ: الْكَرَاهِيَةُ لِإِدْخَالِهِمَا فِي الْإِنَاءِ قَبْلَ غَسْلِهِمَا

الثَّالِثُ: قَوْلُهُ " عَلَى يَدَيْهِ " يُؤْخَذُ مِنْهُ: الْإِفْرَاغُ عَلَيْهِمَا مَعًا.

وَقَدْ تَبَيَّنَ فِي رِوَايَةٍ أُخْرَى " أَنَّهُ أَفْرَغَ بِيَدِهِ الْيُمْنَى عَلَى الْيُسْرَى، ثُمَّ غَسَلَهُمَا ".

قَوْلُهُ: " غَسَلَهُمَا " قَدْرٌ مُشْتَرَكٌ بَيْنَ كَوْنِهِ غَسَلَهُمَا مَجْمُوعَتَيْنِ، أَوْ مُفْتَرِقَتَيْنِ.

وَالْفُقَهَاءُ اخْتَلَفُوا أَيُّهُمَا أَفْضَلُ؟ .

الرَّابِعُ: قَوْلُهُ " ثَلَاثَ مَرَّاتٍ " مُبَيِّنٌ لِمَا أُهْمِلَ مِنْ ذِكْرِ الْعَدَدِ فِي حَدِيثِ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الْأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ الْمُتَقَدِّمِ الذِّكْرِ فِي قَوْلِهِ " إذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ " رِوَايَةِ مَالِكٍ وَغَيْرِهِ. وَقَدْ وَرَدَ فِي حَدِيثِ أَبِي هُرَيْرَةَ أَيْضًا: ذِكْرُ الْعَدَدِ فِي الصَّحِيحِ.

وَقَدْ ذَكَرَ صَاحِبُ الْكِتَابِ.

 

‌‌[الْمَضْمَضَة فِي الْوُضُوءِ] 1

الْخَامِسُ: قَوْلُهُ " ثُمَّ تَمَضْمَضَ " مُقْتَضٍ لِلتَّرْتِيبِ بَيْنَ غَسْلِ الْيَدَيْنِ وَالْمَضْمَضَةِ.

وَأَصْلُ هَذِهِ اللَّفْظَةِ: مُشْعِرٌ بِالتَّحْرِيكِ.

وَمِنْهُ: مَضْمَضَ النُّعَاسُ فِي عَيْنَيْهِ.

وَاسْتُعْمِلَتْ فِي هَذِهِ السُّنَّةِ - أَعْنِي الْمَضْمَضَةَ فِي الْوُضُوءِ - لِتَحْرِيكِ الْمَاءِ فِي الْفَمِ.

وَقَالَ بَعْضُ الْفُقَهَاءِ: " الْمَضْمَضَةُ " أَنْ يَجْعَلَ الْمَاءَ فِي فِيهِ ثُمَّ يَمُجَّهُ - هَذَا أَوْ مَعْنَاهُ - فَأَدْخَلَ الْمَجَّ فِي حَقِيقَةِ الْمَضْمَضَةِ.

فَعَلَى هَذَا: لَوْ ابْتَلَعَهُ لَمْ يَكُنْ مُؤَدِّيًا لِلسُّنَّةِ.

وَهَذَا الَّذِي يَكْثُرُ فِي أَفْعَالِ الْمُتَوَضِّئِينَ [أَعْنِي الْجَعْلَ وَالْمَجَّ] وَيُمْكِنُ أَنْ يَكُونَ ذَكَرَ ذَلِكَ بِنَاءً عَلَى أَنَّهُ الْأَغْلَبُ وَالْعَادَةُ، لَا أَنَّهُ يَتَوَقَّفُ تَأْدِي السُّنَّةِ عَلَى مَجِّهِ.

وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

 

‌‌[التَّرْتِيب بَيْنَ غَسْلِ الْوَجْهِ وَالْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ]

السَّادِسُ: قَوْلُهُ " ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ " دَلِيلٌ عَلَى التَّرْتِيبِ بَيْنَ غَسْلِ الْوَجْهِ وَالْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ، وَتَأَخُّرِهِ عَنْهُمَا.

فَيُؤْخَذُ مِنْهُ التَّرْتِيبُ بَيْنَ الْمَفْرُوضِ وَالْمَسْنُونِ.

وَقَدْ قِيلَ فِي حِكْمَةِ تَقْدِيمِ الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ، عَلَى غَسْلِ الْوَجْهِ
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

দ্বিতীয়ত: তাঁর বাণী "অতঃপর তিনি তাঁর উভয় হাতের উপর (পানি) ঢাললেন"; এতে অযুর শুরুতে পাত্রে হাত প্রবেশের পূর্বে নিঃশর্তভাবে উভয় হাত ধোয়ার মুস্তাহাব হওয়ার প্রমাণ রয়েছে।

আর ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হাদিসটি ঘুম থেকে ওঠার সময় তা মুস্তাহাব হওয়ার ফায়দা প্রদান করে।

আমরা উভয় বিধানের মধ্যকার পার্থক্য উল্লেখ করেছি যে, ঘুম থেকে না ওঠার ক্ষেত্রে বিধান হলো মুস্তাহাব, আর ঘুম থেকে ওঠার ক্ষেত্রে (হাত) ধোয়ার পূর্বে পাত্রে প্রবেশ করানো মাকরুহ।

তৃতীয়ত: তাঁর বাণী "তাঁর উভয় হাতের উপর"; তা থেকে উভয় হাতের ওপর একত্রে পানি ঢালার বিষয়টি গৃহীত হয়।

তবে অন্য বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে যে, "তিনি তাঁর ডান হাত দিয়ে বাম হাতের ওপর পানি ঢাললেন, অতঃপর উভয়টি ধৌত করলেন।"

তাঁর উক্তি: "তিনি উভয়টি ধৌত করলেন" এটি উভয় হাত একত্রে অথবা পৃথকভাবে ধৌত করা—উভয় সম্ভাবনাকেই অন্তর্ভুক্ত করে।

আর ফকিহগণ এ বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, কোনটি অধিক উত্তম?

চতুর্থত: তাঁর বাণী "তিন বার"; এটি ইতিপূর্বে উল্লেখিত মালেক ও অন্যান্যদের বর্ণনায় আবুয যিনাদ-আরাজ-আবু হুরায়রা (রাযি.) সূত্রে বর্ণিত হাদিসের সেই অংশকে স্পষ্ট করে দেয় যেখানে সংখ্যার উল্লেখ বাদ পড়েছিল, অর্থাৎ তাঁর উক্তি: "যখন তোমাদের কেউ (ঘুম) থেকে জাগ্রত হবে"।

আবু হুরায়রা (রাযি.)-এর হাদিসেও সহিহ বর্ণনায় সংখ্যার উল্লেখ এসেছে।

এবং গ্রন্থকার তা উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌[অযুতে কুলি করা] 1

পঞ্চমত: তাঁর বাণী "অতঃপর তিনি কুলি করলেন" এটি উভয় হাত ধৌত করা এবং কুলি করার মধ্যে ধারাবাহিকতা (তরতিব) দাবি করে।

এই শব্দটির মূল অর্থ নড়াচড়া করা বা নাড়ানো বোঝায়।

তা থেকেই বলা হয়: "তন্দ্রা তার চোখের মধ্যে নড়াচড়া করছে।"

আর এই সুন্নতের ক্ষেত্রে—অর্থাৎ অযুর সময় কুলি করা—মুখের ভেতর পানি নাড়াচাড়া করার অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

কোনো কোনো ফকিহ বলেছেন: "কুলি করা" হলো মুখে পানি নেওয়া এবং অতঃপর তা মুখ থেকে বের করে দেওয়া—এটি বা এর সমজাতীয় অর্থ—তারা মূলত পানি বের করে দেওয়াকে কুলি করার সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

সেই অনুযায়ী, যদি কেউ পানি গিলে ফেলে, তবে সে সুন্নত আদায়কারী হবে না।

আর এটিই ওযুকারীদের কাজে অধিক দেখা যায় [অর্থাৎ পানি মুখে দেওয়া এবং তা বের করে দেওয়া], এবং হতে পারে এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে স্বাভাবিক অভ্যাসের ভিত্তিতেই উল্লেখ করা হয়েছে, এমন নয় যে সুন্নত আদায় হওয়া পানি বের করে দেওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

আর আল্লাহই ভালো জানেন।

 

‌‌[মুখমণ্ডল ধৌত করা, কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার মধ্যকার ধারাবাহিকতা]

ষষ্ঠত: তাঁর বাণী "অতঃপর তিনি তাঁর মুখমণ্ডল ধৌত করলেন" এটি মুখমণ্ডল ধৌত করা এবং কুলি ও নাকে পানি দেওয়ার মধ্যে ধারাবাহিকতার দলিল এবং এই দুটির পরে মুখমণ্ডল ধৌত করার প্রমাণ।

সুতরাং তা থেকে ফরজ এবং সুন্নতের মধ্যকার ধারাবাহিকতাও গৃহীত হয়।

আর মুখমণ্ডল ধৌত করার পূর্বে কুলি করা ও নাকে পানি দেওয়ার হিকমত সম্পর্কে বলা হয়েছে যে
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

الْمَفْرُوضِ: إنَّ صِفَاتِ الْمَاءِ ثَلَاثٌ أَعْنِي الْمُعْتَبَرَةَ فِي التَّطْهِيرِ - لَوْنٌ يُدْرَكُ بِالْبَصَرِ، وَطَعْمٌ يُدْرَكُ بِالذَّوْقِ وَرِيحٌ يُدْرَكُ بِالشَّمِّ، فَقُدِّمَتْ هَاتَانِ السُّنَّتَانِ لِيَخْتَبِرَ حَالَ الْمَاءِ، قَبْلَ أَدَاءِ الْفَرْضِ بِهِ وَبَعْضُ الْفُقَهَاءِ رَأَى التَّرْتِيبَ بَيْنَ الْمَفْرُوضَاتِ.

وَلَمْ يَرَهُ بَيْنَ الْمَفْرُوضِ وَالْمَسْنُونِ، كَمَا بَيْنَ الْمَفْرُوضَاتِ.

وَ " الْوَجْهُ " مُشْتَقٌّ مِنْ الْمُوَاجَهَةِ.

وَقَدْ اعْتَبَرَ الْفُقَهَاءُ هَذَا الِاشْتِقَاقَ، وَبَنَوْا عَلَيْهِ أَحْكَامًا.

وَقَوْلُهُ " ثَلَاثًا " يُفِيدُ اسْتِحْبَابَ هَذَا الْعَدَدِ فِي كُلِّ مَا ذُكِرَ فِيهِ.

 

‌‌[إدْخَال الْمِرْفَقَيْنِ فِي الْغَسْلِ] 1

السَّابِعُ: قَوْلُهُ " وَيَدَيْهِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ " الْمِرْفَقُ فِيهِ وَجْهَانِ.

أَحَدُهُمَا: بِفَتْحِ الْمِيمِ وَكَسْرِ الْفَاءِ.

وَالثَّانِي: عَكْسُهُ، لُغَتَانِ.

وَقَوْلُهُ " إلَى الْمِرْفَقَيْنِ " لَيْسَ فِيهِ إفْصَاحٌ بِكَوْنِهِ أَدْخَلَهُمَا فِي الْغَسْلِ، أَوْ انْتَهَى إلَيْهِمَا وَالْفُقَهَاءُ اخْتَلَفُوا فِي وُجُوبِ إدْخَالِهِمَا فِي الْغَسْلِ.

فَمَذْهَبُ مَالِكٍ وَالشَّافِعِيِّ: الْوُجُوبُ.

وَخَالَفَ زُفَرُ وَغَيْرُهُ. وَمَنْشَأُ الِاخْتِلَافِ فِيهِ: أَنَّ كَلِمَةَ " إلَى " الْمَشْهُورُ فِيهَا: أَنَّهَا لِانْتِهَاءِ الْغَايَةِ وَقَدْ تَرِدُ بِمَعْنَى " مَعَ " فَمِنْ النَّاسِ مَنْ حَمَلَهَا عَلَى مَشْهُورِهَا.

فَلَمْ يُوجِبْ إدْخَالَ الْمِرْفَقَيْنِ فِي الْغَسْلِ وَمِنْهُمْ مَنْ حَمَلَهَا عَلَى مَعْنَى " مَعَ " فَأَوْجَبَ إدْخَالَهَا.

وَقَالَ بَعْضُ النَّاسِ: يُفَرَّقُ بَيْنَ أَنْ تَكُونَ الْغَايَةُ مِنْ جِنْسِ مَا قَبْلَهَا أَوْ لَا.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

নির্ধারিত বিধানের ক্ষেত্রে: পানির গুণাবলী তিনটি, অর্থাৎ যা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে ধর্তব্য— রং যা দৃষ্টির মাধ্যমে অনুভূত হয়, স্বাদ যা জিহ্বার মাধ্যমে অনুভূত হয় এবং ঘ্রাণ যা নাসিকার মাধ্যমে অনুভূত হয়। সুতরাং এই দুটি সুন্নাতকে আগে রাখা হয়েছে যেন ফরজ পালনের পূর্বে পানির অবস্থা পরীক্ষা করা যায়। কোনো কোনো ফকিহ ফরজ বিধানগুলোর মাঝে ধারাবাহিকতা রক্ষা করাকে আবশ্যক মনে করেছেন।

তবে তারা ফরজ ও সুন্নাতের মাঝে তেমন ধারাবাহিকতা আবশ্যক মনে করেননি, যেমনটি ফরজগুলোর মাঝে দেখেছিলেন।

আর "মুখমণ্ডল" (ওয়াজহ) শব্দটি "সামনাসামনি হওয়া" (মুওয়াজাহাহ) হতে ব্যুৎপন্ন।

ফকিহগণ এই ব্যুৎপত্তিকে ধর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিধান প্রদান করেছেন।

এবং তাঁর উক্তি "তিনবার" দ্বারা সেসকল কার্যের ক্ষেত্রে এই সংখ্যার মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয় যেখানে এটি উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‌‌[ধৌত করার সময় কনুইদ্বয় অন্তর্ভুক্ত করা] 1

সপ্তম: তাঁর উক্তি "এবং কনুই পর্যন্ত তাঁর হস্তদ্বয়", এখানে "কনুই" (মিরফাক) শব্দটিতে দুটি রূপ রয়েছে।

তার একটি হলো: মীম বর্ণে ফাতহা (যবর) এবং ফা বর্ণে কাসরা (যের) সহকারে।

দ্বিতীয়টি: এর বিপরীত (অর্থাৎ মীম বর্ণে কাসরা ও ফা বর্ণে ফাতহা)। এ দুটিই ভাষাগত রূপ।

এবং তাঁর উক্তি "কনুই পর্যন্ত" এর মাঝে এটি স্পষ্টভাবে বলা হয়নি যে তিনি ধৌত করার সময় কনুইদ্বয়কে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন নাকি কনুই পর্যন্ত এসে শেষ করেছিলেন। আর ফকিহগণ ধৌত করার সময় কনুইদ্বয় অন্তর্ভুক্ত করার আবশ্যকতা নিয়ে মতভেদ করেছেন।

ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈর মাজহাব হলো: এটি ওয়াজিব।

ইমাম যুফার ও অন্যরা এর বিরোধিতা করেছেন। এই মতভেদের মূল কারণ হলো: "ইলা" (পর্যন্ত) শব্দটি প্রসিদ্ধ অর্থে সীমার সমাপ্তি বোঝাতে ব্যবহৃত হয়; তবে কখনও কখনও এটি "সাথে" অর্থ প্রকাশ করতেও ব্যবহৃত হয়। ফলে একদল আলেম একে এর প্রসিদ্ধ অর্থের ওপর প্রয়োগ করেছেন।

তাই তারা ধৌত করার সময় কনুইদ্বয় অন্তর্ভুক্ত করা ওয়াজিব মনে করেননি। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে "সাথে" অর্থে গ্রহণ করেছেন, ফলে তারা কনুই অন্তর্ভুক্ত করা ওয়াজিব বলেছেন।

এবং কোনো কোনো আলেম বলেছেন: শেষ সীমাটি তার পূর্ববর্তী বিষয়ের সমজাতীয় কি না, তার ভিত্তিতে পার্থক্য করা হবে।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

فَإِنْ كَانَتْ مِنْ الْجِنْسِ دَخَلَتْ، كَمَا فِي آيَةِ الْوُضُوءِ.

وَإِنْ كَانَتْ مِنْ غَيْرِ الْجِنْسِ لَمْ تَدْخُلْ، كَمَا فِي قَوْلِهِ عز وجل {ثُمَّ أَتِمُّوا الصِّيَامَ إِلَى اللَّيْلِ} [البقرة: 187] .

وَقَالَ غَيْرُهُ: إنَّمَا دَخَلَ الْمِرْفَقَانِ هَهُنَا؛ لِأَنَّ " إلَى " هَهُنَا غَايَةٌ لِلْإِخْرَاجِ، لَا لِلْإِدْخَالِ.

فَإِنَّ اسْمَ " الْيَدِ " يَنْطَلِقُ عَلَى الْعُضْوِ إلَى الْمَنْكِبِ.

فَلَوْ لَمْ تَرِدْ هَذِهِ الْغَايَةُ لَوَجَبَ غَسْلُ الْيَدِ إلَى الْمَنْكِبِ.

فَلَمَّا دَخَلَتْ: أَخْرَجَتْ عَنْ الْغَسْلِ مَا زَادَ عَلَى الْمِرْفَقِ.

فَانْتَهَى الْإِخْرَاجُ إلَى الْمِرْفَقِ، فَدَخَلَ فِي الْغَسْلِ.

وَقَالَ آخَرُونَ: لَمَّا تَرَدَّدَ لَفْظُ " إلَى " بَيْنَ أَنْ تَكُونَ لِلْغَايَةِ، وَبَيْنَ أَنْ تَكُونَ بِمَعْنَى " مَعَ " وَجَاءَ فِعْلُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أَنَّهُ أَدَارَ الْمَاءَ عَلَى مِرْفَقَيْهِ " كَانَ ذَلِكَ بَيَانًا لِلْمُجْمَلِ.

وَأَفْعَالُ الرَّسُولِ صلى الله عليه وسلم فِي بَيَانِ الْوَاجِبِ الْمُجْمَلِ مَحْمُولَةٌ عَلَى الْوُجُوبِ.

وَهَذَا عِنْدَنَا ضَعِيفٌ.

؛ لِأَنَّ " إلَى " حَقِيقَةٌ فِي انْتِهَاءِ الْغَايَةِ، مَجَازٌ بِمَعْنَى " مَعَ " وَلَا إجْمَالَ فِي اللَّفْظِ بَعْدَ تَبَيُّنِ حَقِيقَتِهِ وَيَدُلُّ عَلَى أَنَّهَا حَقِيقَةٌ فِي انْتِهَاءِ الْغَايَةِ: كَثْرَةُ نُصُوصِ أَهْلِ الْعَرَبِيَّةِ عَلَى ذَلِكَ.

وَمَنْ قَالَ: إنَّهَا بِمَعْنَى " مَعَ " فَلَمْ يَنُصَّ عَلَى أَنَّهَا حَقِيقَةٌ فِي ذَلِكَ.

فَيَجُوزُ أَنْ يُرِيدَ الْمَجَازَ.

 

‌‌[اسْتِيعَابُ الرَّأْسِ بِالْمَسْحِ] 1

الثَّامِنُ: قَوْلُهُ " ثُمَّ مَسَحَ رَأْسَهُ " ظَاهِرُهُ: اسْتِيعَابُ الرَّأْسِ بِالْمَسْحِ.

؛ لِأَنَّ اسْمَ " الرَّأْسِ " حَقِيقَةٌ فِي الْعُضْوِ كُلِّهِ.

وَالْفُقَهَاءُ اخْتَلَفُوا فِي الْقَدْرِ الْوَاجِبِ مِنْ الْمَسْحِ.

وَلَيْسَ فِي الْحَدِيثِ مَا يَدُلُّ عَلَى الْوُجُوبِ.

؛ لِأَنَّهُ فِي آخِرِهِ: إنَّمَا ذُكِرَ تَرْتِيبُ ثَوَابٍ مَخْصُوصٍ عَلَى هَذِهِ الْأَفْعَالِ.

وَلَيْسَ يَلْزَمُ مِنْ ذَلِكَ عَدَمُ الصِّحَّةِ عِنْدَ عَدَمِ كُلِّ جُزْءٍ مِنْ تِلْكَ الْأَفْعَالِ.

فَجَازَ أَنْ يَكُونَ ذَلِكَ الثَّوَابُ مُرَتَّبًا عَلَى إكْمَالِ مَسْحِ الرَّأْسِ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ وَاجِبًا إكْمَالُهُ، كَمَا يَتَرَتَّبُ عَلَى الْمَضْمَضَةِ وَالِاسْتِنْشَاقِ، وَإِنْ لَمْ يَكُونَا وَاجِبَيْنِ عِنْدَ كَثِيرٍ مِنْ الْفُقَهَاءِ، أَوْ الْأَكْثَرِينَ مِنْهُمْ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

যদি তা স্বগোত্রীয় হয় তবে তা অন্তর্ভুক্ত হবে, যেমনটি ওযুর আয়াতে হয়েছে।

আর যদি তা ভিন্ন জাতীয় বা ভিন্ন গোত্রীয় হয় তবে তা অন্তর্ভুক্ত হবে না, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর রাত পর্যন্ত সিয়াম পূর্ণ করো।" [সূরা আল-বাকারা: ১৮৭] ।

অন্য একজন বলেছেন: এখানে দুই কনুই অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; কারণ এখানে "ইলা" (পর্যন্ত) শব্দটি বর্জনের প্রান্তসীমা হিসেবে এসেছে, অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নয়।

কেননা "হাত" শব্দটি কাঁধ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অঙ্গের ওপর প্রযোজ্য হয়।

সুতরাং যদি এই প্রান্তসীমা উল্লেখ না থাকতো, তবে কাঁধ পর্যন্ত হাত ধৌত করা ওয়াজিব হতো।

যখন এটি (প্রান্তসীমা) এল, তখন তা কনুইয়ের অতিরিক্ত অংশকে ধৌত করার বিধান থেকে বাদ দিল।

ফলে বর্জনের সীমা কনুইতে গিয়ে শেষ হলো, তাই এটি ধৌত করার অন্তর্ভুক্ত থাকল।

অন্যরা বলেছেন: যেহেতু "ইলা" শব্দটি প্রান্তসীমা অর্থে এবং "মাআ" (সাথে) অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার মধ্যে দোলাচল ছিল, আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আমল বর্ণিত হয়েছে যে, "তিনি তাঁর দুই কনুইয়ের ওপর পানি ঘুরিয়েছেন", তাই এটি অস্পষ্টতার ব্যাখ্যা হিসেবে গণ্য হয়েছে।

আর অস্পষ্ট ওয়াজিবের বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলি ওয়াজিব হওয়ার অর্থ বহন করে।

আমাদের নিকট এই মতটি দুর্বল।

কারণ "ইলা" শব্দটির প্রকৃত অর্থ হলো প্রান্তসীমা শেষ হওয়া, আর "সাথে" অর্থে এটি রূপক; শব্দের প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট হওয়ার পর তাতে আর কোনো অস্পষ্টতা থাকে না। "ইলা" শব্দটি যে প্রান্তসীমা সমাপ্তির অর্থে প্রকৃতরূপে ব্যবহৃত হয়, তার প্রমাণ হলো আরবী ভাষাবিদদের অসংখ্য বর্ণনা।

আর যারা বলেন যে এটি "সাথে" অর্থে ব্যবহৃত হয়, তারা এটি যে প্রকৃত অর্থ—তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রমাণ করতে পারেননি।

সুতরাং এটি রূপক অর্থ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

 

‌‌[মাসেহের মাধ্যমে পুরো মাথা বেষ্টন করা] ১

অষ্টম: তাঁর বাণী "অতঃপর তিনি তাঁর মাথা মাসেহ করলেন" এর বাহ্যিক অর্থ হলো: মাসেহের মাধ্যমে পুরো মাথা বেষ্টন করা।

কেননা "মাথা" শব্দটি প্রকৃতার্থে পুরো অঙ্গটির ওপর প্রযোজ্য হয়।

আর ফকীহগণ মাসেহের ওয়াজিব পরিমাণের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন।

হাদিসের মধ্যে এমন কিছু নেই যা ওয়াজিব হওয়া নির্দেশ করে।

কারণ হাদিসের শেষে শুধুমাত্র এই কাজগুলোর ওপর বিশেষ সওয়াব নির্ধারিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আর এর মাধ্যমে এটি আবশ্যক হয় না যে, সেই কাজগুলোর প্রতিটি অংশ না পাওয়া গেলে আমলটি সহীহ হবে না।

অতএব, সম্ভব হতে পারে যে এই সওয়াবটি পুরো মাথা মাসেহ সম্পন্ন করার ওপর রাখা হয়েছে, যদিও পুরো মাথা মাসেহ করা ওয়াজিব নয়; যেমনটি কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে সওয়াব নির্ধারিত হয়েছে, যদিও অনেক ফকীহ বা তাঁদের অধিকাংশের নিকট এ দুটি ওয়াজিব নয়।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

فَإِنْ سَلَكَ سَالِكٌ مَا قَدَّمْنَاهُ فِي الْمِرْفَقَيْنِ - مِنْ ادِّعَاءِ الْإِجْمَالِ فِي الْآيَةِ، وَأَنَّ الْفِعْلَ بَيَانٌ لَهُ - فَلَيْسَ بِصَحِيحٍ.

؛ لِأَنَّ الظَّاهِرَ مِنْ الْآيَةِ: مُبَيَّنٌ.

إمَّا عَلَى أَنْ يَكُونَ الْمُرَادُ: مُطْلَقَ الْمَسْحِ، عَلَى مَا يَرَاهُ الشَّافِعِيُّ، بِنَاءً عَلَى أَنَّ مُقْتَضَى الْبَاءِ فِي الْآيَةِ التَّبْعِيضُ [أَوْ غَيْرُ ذَلِكَ] ، أَوْ عَلَى أَنَّ الْمُرَادَ: الْكُلُّ، عَلَى مَا قَالَهُ مَالِكٌ.

بِنَاءً عَلَى أَنَّ اسْمَ " الرَّأْسِ " حَقِيقَةٌ فِي الْجُمْلَةِ، وَأَنَّ " الْبَاءَ " لَا تُعَارِضُ ذَلِكَ.

وَكَيْفَمَا كَانَ: فَلَا إجْمَالَ.

 

‌‌[الْغَسْلُ فِي الرِّجْلَيْنِ]

التَّاسِعُ: قَوْلُهُ " ثُمَّ غَسَلَ كِلْتَا رِجْلَيْهِ " صَرِيحٌ فِي الرَّدِّ عَلَى الرَّوَافِضِ فِي أَنَّ وَاجِبَ الرِّجْلَيْنِ: الْمَسْحُ.

وَقَدْ تَبَيَّنَ هَذَا مِنْ حَدِيثِ عُثْمَانَ، وَجَمَاعَةٍ وَصَفُوا وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم.

وَمِنْ أَحْسَنِ مَا جَاءَ فِيهِ: حَدِيثُ عَمْرِو بْنِ عَبَسَةَ - بِفَتْحِ الْعَيْنِ وَالْبَاءِ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ: «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ يُقَرِّبُ وَضُوءَهُ - إلَى أَنْ قَالَ - ثُمَّ يَغْسِلُ رِجْلَيْهِ، كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عز وجل» فَمِنْ هَذَا الْحَدِيثِ: انْضَمَّ الْقَوْلُ إلَى الْفِعْلِ.

وَتَبَيَّنَ أَنَّ الْمَأْمُورَ بِهِ: الْغَسْلُ فِي الرِّجْلَيْنِ.

 

‌‌[اسْتِحْبَاب التَّكْرَارِ فِي غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ ثَلَاثًا] 1

الْعَاشِرُ: قَوْلُهُ " ثَلَاثًا " يَدُلُّ عَلَى اسْتِحْبَابِ التَّكْرَارِ فِي غَسْلِ الرِّجْلَيْنِ ثَلَاثًا وَبَعْضُ الْفُقَهَاءِ لَا يَرَى هَذَا الْعَدَدَ فِي الرِّجْلِ، كَمَا فِي غَيْرِهَا مِنْ الْأَعْضَاءِ.

وَقَدْ وَرَدَ فِي بَعْضِ الرِّوَايَاتِ " فَغَسَلَ رِجْلَيْهِ حَتَّى أَنْقَاهُمَا " وَلَمْ يَذْكُرْ عَدَدًا.

فَاسْتُدِلَّ بِهِ لِهَذَا الْمَذْهَبِ.

وَأُكِّدَ مِنْ جِهَةِ الْمَعْنَى: بِأَنَّ الرِّجْلَ لِقُرْبِهَا مِنْ الْأَرْضِ فِي الْمَشْيِ عَلَيْهَا يَكْثُرُ فِيهَا الْأَوْسَاخُ وَالْأَدْرَانُ، فَيُحَالُ الْأَمْرُ فِيهَا عَلَى مُجَرَّدِ الْإِنْقَاءِ مِنْ غَيْرِ اعْتِبَارِ الْعَدَدِ.

وَالرِّوَايَةُ الَّتِي ذُكِرَ فِيهَا الْعَدَدُ: زَائِدَةٌ عَلَى الرِّوَايَةِ الَّتِي لَمْ يُذْكَرْ فِيهَا فَالْأَخْذُ بِهَا مُتَعَيِّنٌ وَالْمَعْنَى الْمَذْكُورُ لَا يُنَافِي اعْتِبَارَ الْعَدَدِ.

فَلْيُعْمَلْ بِمَا دَلَّ عَلَيْهِ لَفْظُ " مِثْلَ ".

 

‌‌[فَضْل الْوُضُوءِ] 1

الْحَادِيَ عَشَرَ: قَوْلُهُ " نَحْوَ وُضُوئِي هَذَا " لَفْظَةُ " نَحْوَ " لَا تُطَابِقُ لَفْظَةَ " مِثْلَ " فَإِنَّ لَفْظَةَ " مِثْلَ " يَقْتَضِي ظَاهِرُهَا الْمُسَاوَاةَ مِنْ كُلِّ وَجْهٍ، إلَّا فِي الْوَجْهِ الَّذِي يَقْتَضِي التَّغَايُرَ بَيْنَ الْحَقِيقَتَيْنِ، بِحَيْثُ يُخْرِجُهُمَا عَنْ الْوَحْدَةِ.

وَلَفْظَةُ " نَحْوَ "
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

যদি কোনো ব্যক্তি সেই পথ অবলম্বন করে যা আমরা ইতিপূর্বে কনুইয়ের আলোচনার ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছি—অর্থাৎ আয়াতে অস্পষ্টতা (ইজমাল) রয়েছে বলে দাবি করা এবং (রাসূলুল্লাহ সা.-এর) কর্মকে তার ব্যাখ্যা সাব্যস্ত করা—তবে তা সঠিক নয়।

কারণ আয়াতের প্রকাশ্য অর্থ সুস্পষ্ট।

হয় এর দ্বারা উদ্দেশ্য কেবল মাসেহ করা, যেমনটি ইমাম শাফিঈ মনে করেন এই ভিত্তিতে যে, আয়াতে 'বা' অব্যয়টি আংশিকতা বুঝায় [অথবা অন্য কিছু], অথবা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সম্পূর্ণ অংশ মাসেহ করা, যেমনটি ইমাম মালিক বলেছেন।

এটি এই ভিত্তিতে যে, 'মাথা' শব্দটি আক্ষরিকভাবে সমগ্র অংশের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় এবং 'বা' অব্যয়টি তার পরিপন্থী নয়।

আর বিষয়টি যেভাবেই হোক না কেন, এখানে কোনো অস্পষ্টতা নেই।

 

‌‌[উভয় পা ধৌত করা]

নবম: তাঁর উক্তি "অতঃপর তিনি তাঁর উভয় পা ধৌত করলেন" রাফেজিদের মত খণ্ডনে সুস্পষ্ট দলিল, যারা মনে করে যে পায়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত দায়িত্ব হলো কেবল মাসেহ করা।

বিষয়টি উসমান (রা.) এবং সেই সব সাহাবীদের জামাতের হাদিস দ্বারা স্পষ্ট হয়েছে যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওজুর বর্ণনা দিয়েছেন।

এ বিষয়ে বর্ণিত সর্বোত্তম বর্ণনাগুলোর একটি হলো আমর ইবনে আবাসাহ—আইন ও বা বর্ণের ওপর ফাতহা যোগে—বর্ণিত হাদিস যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার ওজুর পানি কাছে নেয়—অতঃপর তিনি বলেন—তারপর সে তার উভয় পা ধৌত করে, যেমনটি মহান আল্লাহ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন» সুতরাং এই হাদিসের মাধ্যমে (রাসূলের) উক্তি ও কর্মের সমন্বয় ঘটেছে।

এবং এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, আদিষ্ট বিষয়টি হলো উভয় পা ধৌত করা।

 

‌‌[উভয় পা তিনবার ধৌত করার পুনরাবৃত্তির মুস্তাহাব হওয়া] ১

দশম: তাঁর উক্তি "তিনবার" প্রমাণ করে যে, উভয় পা ধোয়ার ক্ষেত্রেও তিনবার পুনরাবৃত্তি করা মুস্তাহাব। তবে কিছু ফকিহ পায়ের ক্ষেত্রে অন্যান্য অঙ্গের ন্যায় এই নির্দিষ্ট সংখ্যাকে (তিনবার ধোয়াকে) গণ্য করেন না।

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে "অতঃপর তিনি তাঁর উভয় পা ধৌত করলেন যতক্ষণ না তা পরিষ্কার হলো" এবং সেখানে কোনো সংখ্যার উল্লেখ নেই।

এই বর্ণনার মাধ্যমেই উক্ত মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে।

যুক্তির দিক থেকেও বিষয়টিকে জোরালো করা হয়েছে এই বলে যে, হাঁটার সময় পা মাটির কাছাকাছি থাকার কারণে এতে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা লাগে, তাই এ ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল পরিষ্কার হওয়ার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সংখ্যার বিবেচনার ওপর নয়।

কিন্তু যে বর্ণনায় সংখ্যার উল্লেখ আছে, তা সেই বর্ণনার অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করে যাতে সংখ্যা উল্লেখ নেই; সুতরাং সেটি গ্রহণ করাই নির্ধারিত। আর উল্লেখিত যুক্তিটি সংখ্যার বিবেচনার পরিপন্থী নয়।

অতএব "অনুরূপ" শব্দটি যা নির্দেশ করে তার ওপর আমল করা উচিত।

 

‌‌[ওজুর ফজিলত] ১

একাদশ: তাঁর উক্তি "আমার এই ওজুর মতো" (নাহওয়া); এখানে "মতো" শব্দটি "অনুরূপ" (মিছলা) শব্দের সাথে হুবহু এক নয়। কারণ "অনুরূপ" শব্দটির প্রকাশ্য অর্থ সব দিক থেকে সমতা দাবি করে, কেবল সেই দিকটি ব্যতীত যা দুটি সত্তার মধ্যে ভিন্নতা সৃষ্টি করে, যা তাদের অভিন্ন হওয়া থেকে পৃথক করে দেয়।

আর "মতো" শব্দটি
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

لَا تُعْطِي ذَلِكَ وَلَعَلَّهَا اُسْتُعْمِلَتْ بِمَعْنَى الْمِثْلِ مَجَازًا أَوْ لَعَلَّهُ لَمْ يَتْرُكْ مِمَّا يَقْتَضِي الْمِثْلِيَّةَ إلَّا مَا لَا يَقْدَحُ فِي الْمَقْصُودِ.

يَظْهَرُ فِي الْفِعْلِ الْمَخْصُوصِ: أَنَّ فِيهِ أَشْيَاءَ مُلْغَاةٌ عَنْ الِاعْتِبَارِ فِي الْمَقْصُودِ مِنْ الْفِعْلِ: فَإِذَا تَرَكْتَ هَذِهِ الْأَشْيَاءَ لَمْ يَكُنْ الْفِعْلُ مُمَاثِلًا حَقِيقَةً لِذَلِكَ الْفِعْلِ، وَلَمْ يَقْدَحْ تَرْكُهَا فِي الْمَقْصُودِ مِنْهُ.

وَهُوَ رَفْعُ الْحَدَثِ، وَتَرَتُّبُ الثَّوَابِ.

وَإِنَّمَا احْتَجْنَا إلَى هَذَا وَقُلْنَا بِهِ؛ لِأَنَّ هَذَا الْحَدِيثَ ذُكِرَ لِبَيَانِ فِعْلٍ يُقْتَدَى بِهِ، وَيَحْصُلُ الثَّوَابُ الْمَوْعُودُ عَلَيْهِ.

فَلَا بُدَّ أَنْ يَكُونَ الْوُضُوءُ الْمَحْكِيُّ الْمَفْعُولُ مُحَصِّلًا لِهَذَا الْغَرَضِ.

فَلِهَذَا قُلْنَا: إمَّا أَنْ يَكُونَ اسْتَعْمَلَ " نَحْوَ " فِي حَقِيقَتِهَا، مَعَ عَدَمِ فَوَاتِ الْمَقْصُودِ، لَا بِمَعْنَى " مِثْلَ " أَوْ يَكُونَ تَرَكَ مَا عُلِمَ قَطْعًا أَنَّهُ لَا يُخِلُّ بِالْمَقْصُودِ.

فَاسْتَعْمَلَ " نَحْوَ " فِي " مِثْلَ " مَعَ عَدَمِ فَوَاتِ الْمَقْصُودِ.

وَاَللَّهُ أَعْلَمُ.

وَيُمْكِنُ أَنْ تُقَالَ: إنَّ الثَّوَابَ يَتَرَتَّبُ عَلَى مُقَارَنَةِ ذَلِكَ الْفِعْلِ، تَسْهِيلًا وَتَوْسِيعًا عَلَى الْمُخَاطَبِينَ، مِنْ غَيْرِ تَضْيِيقٍ وَنُقَيِّدُ بِمَا ذَكَرْنَاهُ أَوَّلًا، إلَّا أَنَّ الْأَوَّلَ أَقْرَبُ إلَى مَقْصُودِ الْبَيَانِ.

الثَّانِيَ عَشَرَ: هَذَا الثَّوَابُ الْمَوْعُودُ بِهِ يَتَرَتَّبُ عَلَى مَجْمُوعِ أَمْرَيْنِ:

أَحَدُهُمَا: الْوُضُوءُ عَلَى النَّحْوِ الْمَذْكُورِ.

وَالثَّانِي: صَلَاةُ رَكْعَتَيْنِ بَعْدَهُ بِالْوَصْفِ الْمَذْكُورِ بَعْدَهُ فِي الْحَدِيثِ، وَالْمُرَتَّبُ عَلَى مَجْمُوعِ أَمْرَيْنِ: لَا يَلْزَمُ تَرَتُّبُهُ عَلَى أَحَدِهِمَا إلَّا بِدَلِيلٍ خَارِجٍ.

وَقَدْ أَدْخَلَ قَوْمٌ هَذَا الْحَدِيثَ فِي فَضْلِ الْوُضُوءِ.

وَعَلَيْهِمْ فِي ذَلِكَ هَذَا السُّؤَالُ الَّذِي ذَكَرْنَاهُ.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

তা সেটি প্রদান করে না। সম্ভবত এটি রূপক অর্থে 'অনুরূপ' অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অথবা সম্ভবত তিনি সাদৃশ্যের দাবি রাখে এমন কোনো কিছু বর্জন করেননি কেবল সেসব বিষয় ছাড়া যা মূল উদ্দেশ্যের কোনো ক্ষতি করে না।

বিশেষ কার্যের ক্ষেত্রে এটি প্রতীয়মান হয় যে: এতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে যা কার্যের মূল উদ্দেশ্যের বিবেচনার বাইরে রাখা হয়েছে। সুতরাং আপনি যদি এই বিষয়গুলো বর্জন করেন, তবে কার্যটি প্রকৃত অর্থে সেই কার্যের হুবহু অনুরূপ হবে না, কিন্তু সেগুলো বর্জন করা এর মূল উদ্দেশ্যের কোনো ক্ষতি করবে না।

আর তা হলো অপবিত্রতা দূর হওয়া এবং সওয়াব লাভ হওয়া।

আমরা কেবল এজন্যই এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছি এবং এটি বলেছি; কারণ এই হাদিসটি এমন একটি আমল বর্ণনার জন্য উল্লেখ করা হয়েছে যা অনুসরণযোগ্য এবং যার ওপর প্রতিশ্রুত সওয়াব অর্জিত হয়।

সুতরাং বর্ণিত সম্পাদিত অজু অবশ্যই এই উদ্দেশ্য সাধনকারী হতে হবে।

এই কারণেই আমরা বলেছি: হয় তিনি 'অনুরূপ' শব্দটি তার প্রকৃত অর্থেই ব্যবহার করেছেন মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না করে, 'হুবহু অনুরূপ' অর্থে নয়; অথবা তিনি এমন কিছু বর্জন করেছেন যা নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে তা মূল উদ্দেশ্যে কোনো বিঘ্ন ঘটায় না।

ফলে তিনি মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত না করে 'হুবহু অনুরূপ' অর্থে 'অনুরূপ' শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

আল্লাহই ভালো জানেন।

এবং এটিও বলা সম্ভব যে: সম্বোধিত ব্যক্তিদের জন্য বিষয়টি সহজ ও প্রশস্ত করার লক্ষ্যে কোনো প্রকার সংকীর্ণতা না রেখে সেই আমলের কাছাকাছি হওয়ার ওপরই সওয়াব নির্ধারিত হবে। আর আমরা একে আমাদের পূর্বোল্লিখিত বিষয়ের মাধ্যমে সীমাবদ্ধ করছি, তবে প্রথমটিই ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যের অধিক নিকটবর্তী।

দ্বাদশ: এই প্রতিশ্রুত সওয়াব দুটি বিষয়ের সমষ্টির ওপর নির্ভরশীল:

প্রথমটি: উল্লিখিত পদ্ধতিতে অজু করা।

দ্বিতীয়টি: এরপর হাদিসে বর্ণিত বিশেষ গুণাবলীসহ দুই রাকাত নামাজ আদায় করা। আর যা দুটি বিষয়ের সমষ্টির ওপর নির্ভর করে, তা কোনো বহিঃস্থ দলিল ব্যতীত কেবল একটির ওপর ভিত্তি করে অবধারিত হয় না।

একদল আলেম এই হাদিসটিকে অজুর ফজিলতের অন্তর্ভুক্ত করেছেন।

আর তাদের ক্ষেত্রে আমাদের উল্লিখিত এই প্রশ্নটি উত্থাপিত হবে।
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

وَيُجَابُ عَنْهُ: بِأَنَّ كَوْنَ الشَّيْءِ جُزْءًا مِمَّا يَتَرَتَّبُ عَلَيْهِ الثَّوَابُ الْعَظِيمُ: كَافٍ فِي كَوْنِهِ ذَا فَضْلٍ.

فَيَحْصُلُ الْمَقْصُودُ مِنْ كَوْنِ الْحَدِيثِ دَالًا عَلَى فَضِيلَةِ الْوُضُوءِ.

وَيَظْهَرُ بِذَلِكَ الْفَرْقُ بَيْنَ حُصُولِ الثَّوَابِ الْمَخْصُوصِ، وَحُصُولِ مُطْلَقِ الثَّوَابِ.

فَالثَّوَابُ الْمَخْصُوصُ: يَتَرَتَّبُ عَلَى مَجْمُوعِ الْوُضُوءِ عَلَى النَّحْوِ الْمَذْكُورِ.

وَالصَّلَاةِ الْمَوْصُوفَةِ بِالْوَصْفِ الْمَذْكُورِ.

وَمُطْلَقُ الثَّوَابِ: قَدْ يَحْصُلُ بِمَا دُونَ ذَلِكَ.

 

‌‌[الْخَوَاطِر وَالْوَسَاوِس الْوَارِدَة عَلَى النَّفْسِ]

الثَّالِثَ عَشَرَ: قَوْلُهُ " وَلَا يُحَدِّثُ فِيهِمَا نَفْسَهُ " إشَارَةٌ إلَى الْخَوَاطِرِ وَالْوَسَاوِسِ الْوَارِدَةِ عَلَى النَّفْسِ.

وَهِيَ عَلَى قِسْمَيْنِ.

أَحَدُهُمَا: مَا يَهْجُمُ هَجْمًا يَتَعَذَّرُ دَفْعُهُ عَنْ النَّفْسِ.

وَالثَّانِي: مَا تَسْتَرْسِلُ مَعَهُ النَّفْسُ، وَيُمْكِنُ قَطْعُهُ وَدَفْعُهُ، فَيُمْكِنُ أَنْ يُحْمَلَ هَذَا الْحَدِيثُ عَلَى هَذَا النَّوْعِ الثَّانِي.

فَيَخْرُجُ عَنْهُ النَّوْعُ الْأَوَّلُ، لِعُسْرِ اعْتِبَارِهِ.

وَيَشْهَدُ لِذَلِكَ: لَفْظَةُ " يُحَدِّثُ نَفْسَهُ " فَإِنَّهُ يَقْتَضِي تَكَسُّبًا مِنْهُ، وَتَفَعُّلًا لِهَذَا الْحَدِيثِ.

وَيُمْكِنُ أَنْ يُحْمَلَ عَلَى النَّوْعَيْنِ مَعًا، إلَّا أَنَّ الْعُسْرَ إنَّمَا يَجِبُ دَفْعُهُ عَمَّا يَتَعَلَّقُ بِالتَّكَالِيفِ.

وَالْحَدِيثُ إنَّمَا يَقْتَضِي تَرَتُّبَ ثَوَابٍ مَخْصُوصٍ عَلَى عَمَلٍ مَخْصُوصٍ.

فَمَنْ حَصَلَ لَهُ ذَلِكَ الْعَمَلُ: حَصَلَ لَهُ ذَلِكَ الثَّوَابُ، وَمَنْ لَا، فَلَا. وَلَيْسَ ذَلِكَ مِنْ بَابِ التَّكَالِيفِ، حَتَّى يَلْزَمَ رَفْعُ الْعُسْرِ عَنْهُ.

نَعَمْ لَا بُدَّ وَأَنْ تَكُونَ تِلْكَ الْحَالَةُ مُمْكِنَةَ الْحُصُولِ - أَعْنِي الْوَصْفَ الْمُرَتَّبَ عَلَيْهِ الثَّوَابُ الْمَخْصُوصُ - وَالْأَمْرُ كَذَلِكَ.

فَإِنَّ الْمُتَجَرِّدِينَ عَنْ شَوَاغِلِ الدُّنْيَا، الَّذِينَ غَلَبَ ذِكْرُ اللَّهِ عز وجل عَلَى قُلُوبِهِمْ وَغَمَرَهَا: تَحْصُلُ لَهُمْ تِلْكَ الْحَالَةُ، وَقَدْ حُكِيَ عَنْ بَعْضِهِمْ ذَلِكَ.

 

‌‌[حَدِيثُ النَّفْسِ] 1

الرَّابِعَ عَشَرَ " حَدِيثُ النَّفْسِ " يَعُمُّ الْخَوَاطِرَ الْمُتَعَلِّقَةَ بِالدُّنْيَا، وَالْخَوَاطِرَ الْمُتَعَلِّقَةَ بِالْآخِرَةِ.

وَالْحَدِيثُ مَحْمُولٌ - وَاَللَّهُ أَعْلَمُ - عَلَى مَا يَتَعَلَّقُ بِالدُّنْيَا.

إذْ لَا بُدَّ مِنْ حَدِيثِ النَّفْسِ فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِالْآخِرَةِ، كَالْفِكْرِ فِي مَعَانِي الْمَتْلُوِّ مِنْ الْقُرْآنِ الْعَزِيزِ، وَالْمَذْكُورِ مِنْ الدَّعَوَاتِ وَالْأَذْكَارِ.

وَلَا نُرِيدُ بِمَا يَتَعَلَّقُ بِأَمْرِ الْآخِرَةِ: كُلَّ أَمْرٍ مَحْمُودٍ، أَوْ مَنْدُوبٍ إلَيْهِ.

فَإِنَّ كَثِيرًا مِنْ ذَلِكَ لَا يَتَعَلَّقُ بِأَمْرِ الصَّلَاةِ.

وَإِدْخَالُهُ فِيهَا أَجْنَبِيٌّ عَنْهَا.

وَقَدْ رُوِيَ عَنْ عُمَرَ رضي الله عنه أَنَّهُ قَالَ " إنِّي لَأُجَهِّزُ الْجَيْشَ وَأَنَا فِي الصَّلَاةِ " أَوْ كَمَا قَالَ. وَهَذِهِ قُرْبَةٌ، إلَّا أَنَّهَا أَجْنَبِيَّةٌ عَنْ مَقْصُودِ الصَّلَاةِ.

1 -
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

ـــــــــــــــــــــــــــــ

এর উত্তরে বলা হয় যে: কোনো বিষয় এমন কিছুর অংশ হওয়া যার ওপর মহান প্রতিদান অর্পিত হয়, তা ফজিলতপূর্ণ হওয়ার জন্য যথেষ্ট।

এর মাধ্যমেই ওজুর ফজিলতের ওপর হাদিসটি প্রমাণ হওয়ার উদ্দেশ্য অর্জিত হয়।

এর দ্বারা বিশেষ প্রতিদান লাভ এবং সাধারণ প্রতিদান লাভের মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হয়।

সুতরাং বিশেষ প্রতিদান: ওজুর সেই সমষ্টির ওপর অর্পিত হয় যা উল্লিখিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হয়েছে।

এবং সেই নামাজের ওপর যা উল্লিখিত গুণাবলীতে গুণান্বিত।

আর সাধারণ প্রতিদান: এর চেয়ে কম আমলেও অর্জিত হতে পারে।

 

‌‌[মনে উদিত হওয়া চিন্তা ও কুমন্ত্রণা]

ত্রয়োদশ: তাঁর বাণী "এবং মনে মনে কোনো কথা বলবে না" বলতে মনে উদিত হওয়া নানা চিন্তা ও কুমন্ত্রণাকে নির্দেশ করা হয়েছে।

এগুলো দুই প্রকার।

এক: যা এমনভাবে আক্রমণ করে যে মন থেকে তা দূর করা অসম্ভব হয়ে পড়ে।

দুই: যে চিন্তার সাথে মন জড়িয়ে পড়ে এবং যা বিচ্ছিন্ন ও প্রতিহত করা সম্ভব। সুতরাং এই হাদিসটি দ্বিতীয় প্রকারের ওপর প্রয়োগ করা সম্ভব।

ফলে প্রথম প্রকারটি এর আওতামুক্ত থাকবে, কারণ সেটি বিবেচনায় আনা অত্যন্ত কঠিন।

"মনে মনে কথা বলা" শব্দটি এর সাক্ষ্য দেয়; কারণ এটি ব্যক্তির পক্ষ থেকে কোনো কিছু অর্জন এবং সেই আলোচনার ক্রিয়াশীলতাকে দাবি করে।

এটিও সম্ভব যে এটি উভয় প্রকারের ওপরই প্রযোজ্য হবে, তবে যে বিষয়গুলো শরিয়তের আবশ্যিক বিধানের (তাকলিফ) সাথে সংশ্লিষ্ট, কেবল সেক্ষেত্রেই কাঠিন্য দূর করা আবশ্যক।

আর এই হাদিসটি কেবল একটি বিশেষ আমলের ওপর একটি বিশেষ প্রতিদান অর্পিত হওয়াকে দাবি করছে।

সুতরাং যার পক্ষ থেকে সেই আমলটি সম্পন্ন হবে, সে সেই প্রতিদান পাবে; আর যার হবে না, সে পাবে না। এটি শরিয়তের আবশ্যিক বিধানের অন্তর্ভুক্ত নয় যে এখান থেকে কাঠিন্য দূর করা আবশ্যক হবে।

হ্যাঁ, এটি অবশ্যই সম্ভব হতে হবে—অর্থাৎ বিশেষ প্রতিদান প্রাপ্তির সেই গুণটি থাকা সম্ভব হতে হবে—আর বিষয়টি তেমনই।

কারণ যারা দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে মুক্ত এবং যাদের অন্তরে আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-এর জিকির প্রবল হয়ে আছে ও আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তাদের ক্ষেত্রে এই অবস্থাটি অর্জিত হয় এবং তাদের কারো কারো থেকে এমনটি বর্ণিতও হয়েছে।

 

‌‌[মনের কল্পনা বা চিন্তা] ১

চতুর্দশ: "মনের কল্পনা বা চিন্তা" পার্থিব বিষয় সংক্রান্ত চিন্তা এবং পরকালীন বিষয় সংক্রান্ত চিন্তা উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

আর এই হাদিসটি—আল্লাহই ভালো জানেন—পার্থিব বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট চিন্তার ওপর প্রয়োগ করা হবে।

কারণ পরকালীন বিষয় সংক্রান্ত চিন্তা আসা তো স্বাভাবিক, যেমন মহাগ্রন্থ কুরআনের পঠিত আয়াতের মর্ম নিয়ে চিন্তা করা অথবা পঠিত দোয়া ও জিকিরসমূহ নিয়ে ভাবা।

আর পরকালীন বিষয় বলতে আমরা এমন প্রতিটি প্রশংসনীয় বা পছন্দনীয় কাজকে বোঝাচ্ছি না।

কারণ এগুলোর অনেকগুলোই নামাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়।

নামাজের মধ্যে সেগুলো নিয়ে আসা নামাজের সাথে সম্পর্কহীন।

ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছিলেন, "আমি নামাজের মধ্যে থাকা অবস্থায় সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করি" অথবা যেমন তিনি বলেছিলেন। এটি একটি নেক আমল হলেও নামাজের মূল উদ্দেশ্যের সাথে তা সম্পর্কহীন।

১ -
(খণ্ড: ১) ইহকামুল আহকাম শারহু উমদাতিল আহকাম (পৃষ্ঠা: ৮৭)
8 - الْحَدِيثُ الثَّامِنُ: عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى الْمَازِنِيِّ عَنْ أَبِيهِ قَالَ «شَهِدْتُ عَمْرَو بْنَ أَبِي حَسَنٍ سَأَلَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ زَيْدٍ عَنْ وُضُوءِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم؟ فَدَعَا بِتَوْرٍ مِنْ مَاءٍ، فَتَوَضَّأَ لَهُمْ وُضُوءَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَكْفَأَ عَلَى يَدَيْهِ مِنْ التَّوْرِ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ ثَلَاثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَمَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ وَاسْتَنْثَرَ ثَلَاثًا بِثَلَاثِ غَرْفَاتٍ، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلَاثًا، ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَغَسَلَهُمَا مَرَّتَيْنِ إلَى الْمِرْفَقَيْنِ ثُمَّ أَدْخَلَ يَدَهُ فِي التَّوْرِ، فَمَسَحَ رَأْسَهُ، فَأَقْبَلَ بِهِمَا وَأَدْبَرَ مَرَّةً وَاحِدَةً ثُمَّ غَسَلَ رِجْلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ بَدَأَ بِمُقَدَّمِ رَأْسِهِ، حَتَّى ذَهَبَ بِهِمَا إلَى قَفَاهُ، ثُمَّ رَدَّهُمَا حَتَّى رَجَعَ إلَى الْمَكَانِ الَّذِي بَدَأَ مِنْهُ» .

وَفِي رِوَايَةٍ «أَتَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْرَجْنَا لَهُ مَاءً فِي تَوْرٍ مِنْ صُفْرٍ»

التَّوْرُ: شِبْهُ الطَّسْتِ..

ـــــــــــــــــــــــــــــ

الْخَامِسَ عَشَرَ: قَوْلُهُ " غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ " ظَاهِرُهُ الْعُمُومِ فِي جَمِيعِ الذُّنُوبِ.

وَقَدْ خَصُّوا مِثْلَهُ بِالصَّغَائِرِ، وَقَالُوا: إنَّ الْكَبَائِرَ إنَّمَا تُكَفَّرُ بِالتَّوْبَةِ.

وَكَأَنَّ الْمُسْتَنَدَ فِي ذَلِكَ: أَنَّهُ وَرَدَ مُقَيَّدًا فِي مَوَاضِعَ، كَقَوْلِهِ صلى الله عليه وسلم «الصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ، وَالْجُمُعَةُ إلَى الْجُمُعَةِ، وَرَمَضَانُ إلَى رَمَضَانَ: كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ، مَا اُجْتُنِبَتْ الْكَبَائِرُ» فَجَعَلُوا هَذَا الْقَيْدَ فِي هَذِهِ الْأُمُورِ مُقَيِّدًا لِلْمُطْلَقِ فِي غَيْرِهَا.
৮ - অষ্টম হাদীস: আমর ইবনে ইয়াহইয়া আল-মাযিনী তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আমর ইবনে আবি হাসানকে আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে দেখেছি। তখন তিনি একটি পানির পাত্র আনতে বললেন এবং তাঁদের সামনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওযুর মতো ওযু করলেন। তিনি পাত্র থেকে তাঁর দুই হাতের ওপর পানি ঢাললেন এবং দুই হাত তিনবার ধুইলেন। এরপর তিনি পাত্রের ভেতর হাত প্রবেশ করালেন এবং তিন আঁজলা পানির মাধ্যমে তিনবার কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন ও নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনি পাত্রে হাত প্রবেশ করালেন এবং তিনবার মুখমণ্ডল ধুইলেন। এরপর পাত্রে হাত প্রবেশ করালেন এবং উভয় হাত কনুই পর্যন্ত দুইবার করে ধুইলেন। এরপর পাত্রে হাত প্রবেশ করালেন এবং মাথা মাসেহ করলেন; তিনি হাত দুটি সামনে থেকে পিছনে নিলেন এবং একবার পিছনে থেকে সামনে আনলেন। এরপর তাঁর দুই পা ধুইলেন। অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: তিনি মাথার সম্মুখভাগ থেকে শুরু করলেন, হাত দুটি ঘাড় পর্যন্ত নিয়ে গেলেন, এরপর হাত দুটি ফিরিয়ে আনলেন যেখান থেকে শুরু করেছিলেন।"

অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিকট আসলেন, তখন আমরা তাঁর জন্য একটি পিতলের পাত্রে পানি বের করে আনলাম।"

তাওর হলো: গামলা সদৃশ পাত্র।

ـــــــــــــــــــــــــــــ

পনেরোতম: তাঁর বাণী "তার পূর্ববর্তী গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে"—এর বাহ্যিক অর্থ হলো এটি সকল গুনাহের ক্ষেত্রে ব্যাপক।

তবে আলেমগণ এই জাতীয় বর্ণনাকে সগীরা বা ছোট গুনাহের সাথে নির্দিষ্ট করেছেন এবং তাঁরা বলেছেন: কবীরা গুনাহ কেবল তওবার মাধ্যমেই মোচন হয়।

এক্ষেত্রে ভিত্তি সম্ভবত এই যে: বিভিন্ন স্থানে বিষয়টি শর্তযুক্তভাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "পাঁচ ওয়াক্ত সালাত, এক জুমুআ থেকে অন্য জুমুআ এবং এক রমজান থেকে অন্য রমজান—এগুলো মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহসমূহের কাফফারা স্বরূপ, যদি কবীরা গুনাহ পরিহার করা হয়।" সুতরাং তাঁরা এই বিষয়গুলোতে বর্ণিত শর্তকে অন্যান্য সাধারণ বর্ণনার ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।