(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: -)
بغية النقاد النقلة   (ابن المواق)

القسم: العلل والسؤلات الحديثية


الكتاب: بغية النقاد النقلة فيما أخل به كتاب «البيان» وأغفله أو ألم به فما تممه ولا كمله

المؤلف: أبو عبد الله محمد بن أبي بكر بن خلف بن فرج بن صاف المراكشي المالكي المعروف بابن المواق (ت 642 هـ)

دراسة وتحقيق وتعليق: الدكتور محمد خرشافي

أصل التحقيق: أطروحة دكتوراة للمحقق

الناشر: مكتبة أضواء السلف، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1425 هـ - 2004 م

عدد الأجزاء: 2

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 21 محرم 1437

বুগইয়াতুন নুক্কাদ আন-নুক্বালাহ   (ইবনুল মাওয়াক)

বিভাগ: হাদীসের ইলল (নিগূঢ় ত্রুটি) ও প্রশ্নাবলী


গ্রন্থ: বুগইয়াতুন নুক্কাদ আন-নুক্বালাহ ফীমা আখাল্লা বিহি কিতাবুল «আল-বায়ান» ওয়া আগফালাহু আও আল্লামা বিহি ফামা তাম্মামাহু ওয়ালা কাম্মালাহু (আল-বায়ান গ্রন্থে যা কিছু বাদ পড়েছে, উপেক্ষিত হয়েছে অথবা অসম্পূর্ণ রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে বর্ণনাকারী সমালোচকদের আকাঙ্ক্ষা)

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি বকর বিন খালাফ বিন ফারাজ বিন সাফ আল-মাররাকুশি আল-মালিকি, ইবনুল মাওয়াক নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬৪২ হিজরি)

গবেষণা, সম্পাদনা ও টীকা: ডক্টর মুহাম্মদ খারশাফি

সম্পাদনার উৎস: সম্পাদকের ডক্টরেট থিসিস

প্রকাশক: মাকতাবাতু আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২৫ হিজরি - ২০০৪ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২১ মুহাররম ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২)
أصل هَذَا الْكتاب أطروحة قدمت لنيل دكتوراه الدولة فِي الدراسات الإسلامية "تخصص الحَدِيث وعلومه" بقسم الدراسات الإسلامية - كُلية الْآدَاب عين الشق - الدَّار الْبَيْضَاء

 

بإشراف د. زين العابدين بِلَا فريج

بتاريخ 28 صفر الْخَيْر 1418 هـ الْمُوَافق 4/ 7/ 1997

وأحرزت على تَقْدِير "حسن جدا"
এই বইটির মূল ভিত্তি হলো ইসলামি স্টাডিজ বিভাগে (হাদিস ও হাদিস শাস্ত্র বিশেষজ্ঞতায়) 'স্টেট ডক্টরেট' অর্জনের লক্ষ্যে পেশকৃত একটি অভিসন্দর্ভ — কলা অনুষদ, আইন আল-শাক, কাসাব্লাঙ্কা।

 

ড. যয়নুল আবেদিন বিলা ফরিজ-এর তত্ত্বাবধানে

তারিখ: ২৮ সফরুল খায়ের ১৪১৮ হিজরি, মোতাবেক ৪/ ৭/ ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দ

এবং এটি 'খুব ভালো' মান অর্জন করেছে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌تصدير

الحمد لله، والصلاة على رسول الله وآله وصحبه ومن اتبع هداه.

أما بعد: فقد شهد تاريخ العلم عند المغاربة ميلاد مدارس عنيت بنقد الحديث النبوي، ومدارسة ثبوته أو عدم ثبوته وفق الصناعة النقدية التي ابتكرها نقاد الحديث وصيارفته، وكانت من إملاء الفؤاد وجود المخاطر، وتكلفت بصيانة السنة ووصولها إلى الناس غضة طرية، وكانت مستجيبة لقاعد الحفظ ومحققة لما وعد الله به: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} [الحجر: 9].

إن قواعد النقد لدى المسلمين قامت على القابلية الساذجة للقبول، وعلمت الناس ما يقبلون وما يردون، ونبهت على أن القبول منوط بشروط وأوصاف لابد من توفرها، وكان تكامل المنهج النقدي واستقامته في الجمع بين ركنين أساسيين في الرواية: العدالة والضبط. فالعدالة: هي السيرة الذاتية من لزوم الفرائض وترك النواهي، وهي باطنة وظاهرة، والضبط: هو القدرة العلمية من صحة الذهن في حفظه وصحة كتبه، وندرة الغلط أو انعدامه.

إلى شروط اتصال السند: وهي تحقق الرواية بين الرواة على صفة مرضية للحديث أو الجزء المروي، وبراءة السند من التدليس؛ الذي هو ضرب من التعمية والإيهام، وخلوه من الشذوذ والنكارة، وهما المخالفة والإضطراب المؤذن بالضعف فتقديم الأوثق الأحفظ على من دونه، وتقدم الجماعة من الثقات على الواحد عند المخالفة هو الملحظ النقدي الذي يدل عليه العلم والعقل، فإن خالف الضعيف الثقة أدعى للرد.

لقد دخل الحديث إلى بلاد الأندلس بواسطة معاوية بن صالح الحضرمي (ت
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূল, তাঁর পরিবারবর্গ, তাঁর সঙ্গী-সাথী এবং যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।

অতঃপর: মাগরিববাসীদের জ্ঞানতাত্ত্বিক ইতিহাসে এমন সব জ্ঞানপিঠের বা মাদরাসার উদ্ভব ঘটেছে যারা হাদিস বিশারদ ও সমঝদারদের উদ্ভাবিত সমালোচনামূলক পদ্ধতির আলোকে নববী হাদিসের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং তার বিশুদ্ধতা বা অসারতা নিয়ে গবেষণা করেছে। এটি ছিল হৃদয়ের গভীর থেকে উৎসারিত এবং প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে সুন্নাহকে অবিকৃত ও সতেজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক নিরন্তর প্রয়াস। এটি মূলত সংরক্ষণের সেই মূলনীতিরই প্রতিফলন এবং আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন: "নিশ্চয় আমি এই জিকির (কুরআন ও সুন্নাহ) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।" [আল-হিজর: ৯]।

নিশ্চয়ই মুসলমানদের নিকট হাদিস পর্যালোচনার মূলনীতিগুলো নিছক সরল গ্রহণের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি, বরং এটি মানুষকে শিখিয়েছে যে তারা কোনটি গ্রহণ করবে আর কোনটি বর্জন করবে। এটি সতর্ক করেছে যে, কোনো বর্ণনা গ্রহণ করা নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও গুণাবলির ওপর নির্ভরশীল যা বিদ্যমান থাকা আবশ্যক। বর্ণনার ক্ষেত্রে দুটি মৌলিক স্তম্ভের সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই সমালোচনা পদ্ধতির পূর্ণতা ও সঠিকতা অর্জিত হয়েছে: আদল (ন্যায়পরায়ণতা) এবং দ্বাবত (সংরক্ষণ ক্ষমতা)। আদল হলো: ব্যক্তিগত চারিত্রিক গুণাবলি যার মাধ্যমে আবশ্যিক বিধানসমূহ পালন এবং নিষিদ্ধ বিষয়সমূহ বর্জন করা হয়, যা বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়ই হতে পারে। আর দ্বাবত হলো: বর্ণনাকারীর ইলমি সক্ষমতা, যা তার মেধার প্রখরতায় হেফজের সঠিকতা, তার লিখিত পাণ্ডুলিপির বিশুদ্ধতা এবং ভুল-ভ্রান্তির অনুপস্থিতি বা বিরলতার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।

এর সাথে যুক্ত হয়েছে সনদের নিরবচ্ছিন্নতার শর্তাবলি: যা বর্ণনাকারীদের মাঝে সন্তোষজনক পদ্ধতিতে হাদিস বা বর্ণিত অংশের আদান-প্রদান নিশ্চিত করে। এছাড়া সনদকে 'তাদলিস' (তথ্য গোপন) থেকে মুক্ত হতে হয়; যা এক প্রকার অস্পষ্টতা ও বিভ্রান্তি তৈরির নামান্তর। আরও প্রয়োজন হলো 'শুযূয' (বিচ্যুতি) ও 'নাকারাহ' (অগ্রহণযোগ্যতা) থেকে মুক্ত থাকা; যা মূলত এমন বিরোধিতা ও অস্থিরতা যা বর্ণনার দুর্বলতাকে নির্দেশ করে। অপেক্ষাকৃত কম নির্ভরযোগ্যদের ওপর অধিক নির্ভরযোগ্য ও প্রখর স্মৃতিসম্পন্নদের প্রাধান্য দেওয়া এবং বিরোধের ক্ষেত্রে একজনের তুলনায় একদল বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হলো সেই সমালোচনামূলক মানদণ্ড যা ইলম ও আকল দ্বারা প্রমাণিত। সুতরাং যদি কোনো দুর্বল বর্ণনাকারী কোনো বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর বিরোধিতা করে, তবে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যানের দাবি রাখে।

মুয়াবিয়া বিন সালেহ আল-হাদরামি (মৃত্যু... এর মাধ্যমে আন্দালুস ভূখণ্ডে হাদিসের আগমন ঘটে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৪)
168 هـ) رحمه الله في القرن الثاني الهجرىِ، وشهدت تلك البقاع نبوغ أساطين في نقد السنن، وأعلامًا في صناعهَ النقد الحديثي، برزوا وتميزوا في تاريخ العلم والسنة؛ ذكرهم محاط بالإجلال ويفتح علينا صرحًا من صروح العلم، ويدلنا على قلعة من قلاعه، منهم أبي عبد الرحمن بقي بن مخلد (ت 276 هـ)، وابن وضاح (ت 277 هـ) القرطبيين، وأبي عمر الطلمنكي (ت 429 هـ) وابن أبي زمنين الإلبيري (ت 399 هـ)، وابن عبد البر القرطبي (ت 463 هـ) ..

إلى عبد الحق الإشبيلي الشهير بابن الخراط (ت 582 هـ)؛ صاحب الأحكام الثلاثة: الكبرى والوسطى والصغرى، فقد ظهرت عنايته بأحاديث الأحكام واشتملت كتبه على صناعة واستدلال.

وكان ممنِ برز في نقد استدلالات ابن الخراط في أحكامه الناقد البصير علي بن الحسن ابن القطان الكتامي رأس طلحة العلم بمراكش - المراكشي الفاسي المتوفى سنة 628 هـ. في كتاب حافل اشتمل على صناعة حديثية عالية ترجمت مستوى النقد في الغرب الإسلامي وحفلت بصنوف النقود ودراسه المنيفة، وأصبح عند المتأخرين ركنا يعولون عليه؛ وقد رد ابن القطان على ابن الخراط بعض ما صححه أو حسنه؛ فخطأه فيه وكلها دارت على مخالفاته له في أحكامه على الأحاديث تصحيحًا أو تحسينًا أو تضعيفًا.

فكان كتاب ابن القطان ديوان نقد عالي القدر عند المعاصرين واللاحقين، واعتمده كبار نقاد عصره من المتأخرين كالذهبي (ت 748 هـ)، والزيلعي (ت 762 هـ)، وابن حجر (ت 852 هـ) وغيرهم.

ولم يقف الأمر عند هذا الحدُ بل تسلسل المسلسل؛ إذ أن حضور النقد وتمكنه من علماء الحديث لا يدعهم يسكنون على المساجلات العلمية والمطارحات النقدية ويلح عليهم دائماً منهج الرد والتعقيب والإستدراك، مما يشير إلى حيوية العلم ومواكبات تطوراته ومناقشة مناهجه وطرائقه، وأن العلم كان ولا يزال عند المسلمين يتميز بحراسة أصوله وقواعده، فلا يمكن استمرار الجميع في خطأ لا
১৬৮ হিজরি) আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, দ্বিতীয় হিজরি শতাব্দীতে। সেই অঞ্চলগুলো সুন্নাহর সমালোচনায় দিকপালদের এবং হাদিস সমালোচনা শিল্পে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মেধার বিকাশ প্রত্যক্ষ করেছে, যারা ইলম ও সুন্নাহর ইতিহাসে প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন এবং অনন্য বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত হয়েছেন। তাঁদের আলোচনা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে করা হয় এবং তা আমাদের সামনে ইলমের এক বিশাল প্রাসাদ উন্মোচন করে ও আমাদের ইলমের দুর্গের পথ দেখায়। তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবু আবদুর রহমান বাকি বিন মাখলাদ (মৃত্যু ২৭৬ হিজরি), ইবনে ওয়াদদাহ (মৃত্যু ২৭৭ হিজরি) আল-কুরতুবিদ্বয়, আবু উমর আত-তালামনকি (মৃত্যু ৪২৯ হিজরি), ইবনে আবি যামানিন আল-ইলবিরি (মৃত্যু ৩৯৯ হিজরি) এবং ইবনে আবদুল বার আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি)...

আবদুল হক আল-ইশবিলি পর্যন্ত, যিনি ইবনুল খেররাত (মৃত্যু ৫৮২ হিজরি) নামে পরিচিত; তিনি তিনটি 'আহকাম' (আল-কুবরা, আল-উস্তা এবং আস-সুগরা) এর রচয়িতা। আহকামের হাদিসসমূহের প্রতি তাঁর বিশেষ যত্ন পরিলক্ষিত হয়েছে এবং তাঁর গ্রন্থসমূহ শাস্ত্রীয় সূক্ষ্মতা ও দালিলিক আলোচনায় সমৃদ্ধ।

ইবনুল খেররাতের 'আহকাম' গ্রন্থের দালিলিক আলোচনার সমালোচনায় যারা শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তীক্ষ্ণদৃষ্টির অধিকারী সমালোচক আলী বিন হাসান ইবনুল কাত্তান আল-কুতামি, যিনি মারাকোশের ইলমের শীর্ষ ব্যক্তিত্ব— আল-মারাকুশি আল-ফাসি (মৃত্যু ৬২৮ হিজরি)। তিনি একটি সমৃদ্ধ গ্রন্থ রচনা করেছেন যা উচ্চমানের হাদিস শাস্ত্রীয় নৈপুণ্য সমৃদ্ধ, যা ইসলামি বিশ্বের পশ্চিমাঞ্চলে সমালোচনার মানকে ফুটিয়ে তোলে এবং তা বিভিন্ন প্রকার সমালোচনা ও চমৎকার গবেষণায় পরিপূর্ণ। এটি পরবর্তী যুগের আলেমদের কাছে একটি নির্ভরযোগ্য স্তম্ভে পরিণত হয়েছে। ইবনুল কাত্তান ইবনুল খেররাতের সহিহ বা হাসান সাব্যস্ত করা কিছু বিষয়ের প্রতিবাদ করেছেন এবং সেগুলোকে ভুল সাব্যস্ত করেছেন; যার সবই হাদিস সহিহ, হাসান বা জয়িফ বলার ক্ষেত্রে তাঁর সাথে মতপার্থক্যের ওপর আবর্তিত হয়েছে।

ফলে ইবনুল কাত্তানের কিতাবটি সমসাময়িক এবং পরবর্তী আলেমদের কাছে উচ্চমানের সমালোচনার একটি সংকলন হিসেবে গণ্য হয়েছে। পরবর্তী যুগের বড় বড় সমালোচকগণ এর ওপর নির্ভর করেছেন, যেমন আয-যাহাবি (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি), আয-যাইলায়ি (মৃত্যু ৭৬২ হিজরি), ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) এবং অন্যান্যগণ।

বিষয়টি কেবল এখানেই থেমে থাকেনি, বরং এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে; কেননা হাদিস বিশারদদের মাঝে সমালোচনার উপস্থিতি ও তাতে পারদর্শিতা তাঁদেরকে ইলমি বিতর্ক ও সমালোচনামূলক আলোচনার ওপর স্থির থাকতে দেয় না। বরং তা সবসময় তাঁদেরকে প্রতিবাদ, পর্যালোচনা ও সংশোধনের পদ্ধতির প্রতি উৎসাহিত করে। এটি ইলমের প্রাণবন্ততা, এর বিবর্তনের সাথে তাল মিলিয়ে চলা এবং এর পদ্ধতি ও পন্থা নিয়ে আলোচনার ইঙ্গিত দেয়। ইলম মুসলিমদের কাছে সর্বদা এর মূলনীতি ও নিয়মাবলির পাহারাদারির মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ছিল এবং আছে; সুতরাং কোনো একটি ভুলের ওপর সবার অটল থাকা সম্ভব নয়।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
يتأهل أو لا يهتدي أحد إلى كشفه وبيانه، بل عيون النقاد جاحظة وقلوبهم واعية .. يقظة. لم تقف السلسلة الثنائية حتى انبرى تلميذ أبي الحسن ابن القطان: أبو عبد الله ابن المواق المتوفى سنة (642 هـ) عصري الجماعة المتأخرين الذين تكلموا على أحاديث لم يسبق لمن تقدمهم فيها كلام؛ وهم الزكي المنذري (ت 656 هـ) والضياء المقدسي (ت 643 هـ) وابن القطان الكتامي، والدمياطي المصري (ت 705).

برز التلميذ أيضًا آخذًا بالإمام، لاحقاً بالركب، فأخرج من بنيانه علومًا نقدية، ومعايير صناعية، واضعًا نفسه بين شيوخه ضاربًا لنفسه بحظه من العلم والنقد، على قاعدة: كم أبقى الأول للآخر. فخرج ديوان نقد على شيخه ابن القطان فيصلا بين المتخاصمين، وحكما بين المتجادلين، قطع فيه بأمور خطأ فيها شيخه وصوب ابن الخراط.

وقد أشاد بعلوم هذا الناقد المغمور (1) جماعة من كبار علماء المتأخرين كالزين العراقي (ت 804 هـ) وابن حجر (ت 852 هـ) والسخاوي (ت 902 هـ)، والسيوطى (ت 911 هـ)؛ فنقولهم عنه في الإتصال والتدليس وغيره من أعز النقول في علم ومصطح الحديث وأغزرها فائدة، وغلب على منهج ابن المواق الإستقراء لتقرير النتائج النقدية المتوخاة. وديوان النقد الذي فتح به الناقد ابن المواق بين ابن الخراط وابن القطان هو كتاب: ((بغية النقاد النقلة، فيما أخل به كتاب "البيان" وأغفله، أو ألم؛ به فما تممه ولا كمله)).

ولا توجد منه إلا قطعة معروفة في خزانة الأسكوريال بمدريد.

وقد انتدب لخدمة هذا الكتاب وتحقيقه ودراسته زميلنا الفاضل الأستاذ الوقور

--------------------------------------------

(1) إنما كان كذلك لأنه على بروزه في نقد السنة وتركه هذه القطعة من رده على شيخه، إلا أنه لم تحظ ترجمته بالمكانة اللائقة بها حتى خلط بعض المترجمين بينه ويين آخر من شراح خليل في فروع المالكية من وفيات (ت 897 هـ).
কেউ একে উন্মোচন বা ব্যাখ্যা করার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি বা পথ খুঁজে পায়নি, বরং সমালোচকদের দৃষ্টি ছিল নিবদ্ধ এবং তাদের অন্তর ছিল সচেতন ও জাগ্রত। এই দ্বৈত ধারাটি ততক্ষণ থামেনি যতক্ষণ না আবুল হাসান ইবনুল কাত্তানের ছাত্র আবু আবদুল্লাহ ইবনুল মাওয়াক (মৃত্যু ৬৪২ হিজরি) এগিয়ে আসেন। তিনি ছিলেন পরবর্তীকালের সেই বিদগ্ধ মণ্ডলীর সমসাময়িক, যারা এমন সব হাদিস নিয়ে আলোচনা করেছেন যে বিষয়ে তাদের পূর্ববর্তীরা কোনো কথা বলেননি; তারা হলেন যাকিউল মুনযিরি (মৃত্যু ৬৫৬ হিজরি), যিয়াউল মাকদিসি (মৃত্যু ৬৪৩ হিজরি), ইবনুল কাত্তান আল-কুতামি এবং দিময়াতি আল-মিসরি (মৃত্যু ৭০৫ হিজরি)।

এই ছাত্রও তার ইমামের পদাঙ্ক অনুসরণ করে আত্মপ্রকাশ করেন এবং কাফেলার সাথে যুক্ত হন। তিনি তার জ্ঞানজগত থেকে সমালোচনামূলক জ্ঞান ও শাস্ত্রীয় মানদণ্ড বের করে আনেন এবং এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে নিজেকে তার উস্তাদদের কাতারে শামিল করেন যে: "পূর্ববর্তীরা পরবর্তীদের জন্য কত কিছুই না রেখে গেছেন।" এভাবে তার উস্তাদ ইবনুল কাত্তানের ওপর একটি সমালোচনা সংকলন তৈরি হয়, যা বিবাদমান পক্ষগুলোর মধ্যে মীমাংসাকারী এবং বিতর্ককারীদের মধ্যে বিচারক হিসেবে আবির্ভূত হয়। এতে তিনি এমন কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন যেখানে তিনি তার উস্তাদকে ভুল প্রমাণ করেন এবং ইবনুল খাররাতকে সঠিক সাব্যস্ত করেন।

পরবর্তী যুগের একদল প্রথিতযশা আলেম এই স্বল্প পরিচিত সমালোচকের (১) জ্ঞানের প্রশংসা করেছেন, যেমন যয়নুল ইরাকি (মৃত্যু ৮০৪ হিজরি), ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি), সাখাভি (মৃত্যু ৯০২ হিজরি) এবং সুয়ূতি (মৃত্যু ৯১১ হিজরি)। হাদিসের সনদ নিরবচ্ছিন্ন হওয়া (ইত্তিসাল), তাদলিস এবং হাদিস শাস্ত্র ও এর পরিভাষার অন্যান্য বিষয়ে তার থেকে তাদের উদ্ধৃতিগুলো অত্যন্ত মূল্যবান এবং অত্যন্ত উপকারী। ইবনুল মাওয়াকের পদ্ধতিতে কাঙ্ক্ষিত সমালোচনামূলক ফলাফল নির্ধারণের জন্য আরোহী পদ্ধতির (ইস্তিকরা) প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়। ইবনুল মাওয়াক ইবনুল খাররাত এবং ইবনুল কাত্তানের মধ্যে যে সমালোচনা সংকলনের সূচনা করেছিলেন তা হলো: "বুগইয়াতুন নুক্কাদিন নাকালাহ, ফিমা আখাল্লা বিহি কিতাবুল বায়ান ওয়া আগফালাহু, আও আল্লামা বিহি ফামা তাম্মামাহু ওয়ালা কাম্মালাহু"।

এর কেবল একটি পরিচিত খণ্ড মাদ্রিদের এস্কোরিয়াল লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত আছে।

এই কিতাবটির খিদমত, তাহকিক এবং গবেষণার জন্য আমাদের সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় সহকর্মী নিয়োজিত হয়েছেন।

--------------------------------------------

(১) তাকে স্বল্প পরিচিত বলা হয়েছে কারণ সুন্নাহর সমালোচনায় তার পারদর্শিতা এবং তার উস্তাদের ওপর এই প্রতিবাদমূলক খণ্ডটি রেখে যাওয়া সত্ত্বেও তার জীবনী যথাযথ মর্যাদা পায়নি। এমনকি কিছু জীবনীকার তার সাথে মালিকি ফিকহের খলিলের শরাহকারদের মধ্য থেকে অন্য একজনের নাম গুলিয়ে ফেলেছেন যিনি ৮৯৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
محمد خرشافي الذي عرف بجده وهمته العالية في خدمة حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فما إن أريته النسخة من كتاب بغية النقاد حتى وجدت الإستعداد والترحاب يعلو محياه، وأشرقت أسارير وجهه فرحًا بهذا الكتاب، كما هي أخلاق طلبة العلم.

فبذل وسعه في تخريج أحاديثه وتتبع الطرق والروايات وإرجاعها إلى مظانها وكان قيمتها من قبول ورد، وأخرج النص سليماً من النسخة الفريدة، وقدم بمقدمة دراسية للمؤلف وعصره وللكتاب؛ فجاء عملًا جيداً مشرفًا وأظهر لنا كنزًا من كنوز العلم، وميراثاً من مواريث الحديث النبوي، أجزل الله له المثوبة وبارك فيه. وفي ختام هذه الكلمة نشكر صاحب مكتبة أضواء السلف بالرياض الأخ الفاضل الدؤوب علي صنهات الحربي على تتبعه نفائس التراث الإسلامي وسعيه في إخراجه وطباعته، بارك الله في جهوده وأكثر من أمثاله.

والله من وراء القصد.

 

وكتبه

زين العابدين بن محمد بلافريج

أستاذ التعليم العالي بجامعة الحسن الثاني

كلية الآداب والعلوم الإنسانية

الدار البيضاء - المغرب
মুহাম্মাদ খুরশাফী, যিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসের খিদমতে তাঁর একাগ্রতা ও উচ্চ হিম্মতের জন্য পরিচিত। যখনই আমি তাঁকে 'বুগইয়াতুন নুক্কাদ' গ্রন্থের পাণ্ডুলিপিটি দেখালাম, তখনই তাঁর চোখেমুখে আমি গভীর প্রস্তুতি ও সাদর সম্ভাষণের ছাপ দেখতে পেলাম; আর এই কিতাবটি দেখে তাঁর চেহারা আনন্দে উজ্জ্বল হয়ে উঠল, যেমনটি ইলম অন্বেষণকারীদের শিষ্টাচার হয়ে থাকে।

তিনি এর হাদীসসমূহের তাখরীজ, সনদ ও রেওয়ায়াতসমূহের অনুসন্ধান এবং সেগুলোকে মূল উৎসের দিকে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর সর্বোচ্চ সামর্থ্য ব্যয় করেছেন এবং সেগুলোর গ্রহণ ও বর্জনের মান নির্ধারণ করেছেন। তিনি একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি থেকে মূল পাঠ্যটি নির্ভুলভাবে বের করে এনেছেন এবং লেখক, তাঁর সমকাল ও গ্রন্থটি সম্পর্কে একটি গবেষণাধর্মী ভূমিকা পেশ করেছেন। ফলে এটি একটি চমৎকার ও সম্মানজনক কাজ হিসেবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আমাদের সামনে ইলমের এক অমূল্য ভাণ্ডার ও নববী হাদীসের এক মহান উত্তরাধিকার উন্মোচিত হয়েছে। আল্লাহ তাঁকে এর জন্য সর্বোত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁর মাঝে বরকত দান করুন। এই বক্তব্যের শেষে আমরা রিয়াদের 'মাকতাবাতু আদওয়াইস সালাফ'-এর স্বত্বাধিকারী, পরম শ্রদ্ধেয় ও কর্মঠ ভাই আলী সানহাত আল-হারবীকে ধন্যবাদ জানাই; ইসলামী ঐতিহ্যের অমূল্য সম্পদসমূহ অনুসন্ধান এবং সেগুলো প্রকাশ ও মুদ্রণে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার জন্য। আল্লাহ তাঁর প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন এবং তাঁর মতো মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি করুন।

আল্লাহই অভীষ্ট লক্ষ্যের সহায়।

 

এটি লিখেছেন:

যায়নুল আবেদীন বিন মুহাম্মাদ বালাফরীজ

হাসান দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক

কলা ও মানবিক অনুষদ

কাসাব্লাঙ্কা - মরক্কো
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مُقَدِّمَةٌ

إن الحمد لله نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا ومن سيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي نه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ} (1).

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا} (2).

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا} (3).

إن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار. أما بعد: فإن من منة الله على عباده المؤمنين أن أنزل كتابه الكريم هداية مبينة تنير لهم سبيل السعادة في دنياهم وأخراهم، وجعله أعظم رسالة سماوية وأعلاها مكانة، كما جعله معجزة خالدة إلى يوم الدين، فكان هو المصدر الأول للتشريع الإسلامي، وقد خصه بمميزات، منها أنه سبحانه وتعالى تكفل بحفظه، قال عز وجل: {إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ} (4)، في حين أوكل حفظ كتبه

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران: 102.

(2) سورة النساء: 1.

(3) سورة الأحزاب: 70، 71.

(4) سورة الحجر، الآية 9.
বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম

 

‌‌ভূমিকা

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি, তাঁর কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের মন্দ দিক ও আমাদের আমলসমূহের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তাকে পথ প্রদর্শনকারী কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম হওয়া ছাড়া মৃত্যুবরণ করো না} (১)।

{হে মানুষ! তোমরা তোমাদের সেই প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদের এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার দাবি করো এবং রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন} (২)।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। (৭০) তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করেছে} (৩)।

নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো ভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি ভ্রষ্টতা জাহান্নামে যাবে। অতঃপর: মুমিন বান্দাদের ওপর মহান আল্লাহর একটি বিশেষ অনুগ্রহ এই যে, তিনি তাঁর সম্মানিত কিতাবকে সুস্পষ্ট হিদায়াত হিসেবে অবতীর্ণ করেছেন, যা তাদের দুনিয়া ও আখিরাতের সৌভাগ্যের পথকে আলোকিত করে। তিনি একে সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বোচ্চ মর্যাদার আসমানি বার্তা বানিয়েছেন এবং একে কিয়ামত পর্যন্ত এক চিরস্থায়ী মুজিজা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ফলে এটিই হয়েছে ইসলামি শরিয়তের প্রধান উৎস। তিনি একে বিশেষ কিছু বৈশিষ্ট্য দান করেছেন, যার অন্যতম হলো যে মহান আল্লাহ স্বয়ং এটি সংরক্ষণের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেছেন: {নিশ্চয়ই আমি এই উপদেশ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষক} (৪)। যেখানে তিনি তাঁর কিতাবসমূহ সংরক্ষণের ভার অর্পণ করেছিলেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল ইমরান: ১০২।

(২) সূরা আন-নিসা: ১।

(৩) সূরা আল-আহজাব: ৭০, ৭১।

(৪) সূরা আল-হিজর, আয়াত ৯।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
اِلسماوية السالفة للعلماء والمؤمنين بها من أتباع الرسل السابقين؛ قال تِعالى: {إِنَّا أَنْزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ}. (1)

ومن تمام منة الله على هذه الأمة أن جعل السنة النبوية مبينة للقرآن الكريم، مفصِلة لمجمل أحكامه شارحة لما يحتاج للشرح منه، وفي ذِلك يقول عز وجل: {وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ} (2) كما يقول سبحانه: {وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ} (3) وهذا المعنى الذي ذكرته الآيتان هو ما نص عليه صلى الله عليه وسلم في كثير من أحاديثه، منها قوله صلى الله عليه وسلم: (ألا إنِّي أوتيت الكتاب ومثله معه، ألا يوشك رجل شبعان على أريكته، يقول: عليكم بهذا القرآن فما وجدتم فيه من حلال فأحلوه، وما وجدتم فيه من حرام فحرموه ..) الحديث. (4)

وجاء في حديث أبي رافع -وغيره- مرفوعًا: (لا ألفين أحدكم متكئًا على أريكته؛ يأتيه أمر مما أمرت به أو نهيت عنه، فيقول: لا أدري، ما وجدنا في كتاب الله اتبعناه) (5).

فالسنة النبوية قسم من أقسام الوحي الموحى به للنبي صلى الله عليه وسلم ولا يجوز مخالفتها؛

--------------------------------------------

(1) سورة المائدة، الآية 44.

(2) سورة النحل، الآية 44.

(3) سورة النحل، الآية 64.

(4) الحديث رواه أبو داود في سننه عن القدام بن معد يكرب: كتاب السنة. باب لزوم السنة (5/ 10 ح: 4604)، ورواه الإمام أحمد في مسنده بنحره (4/ 131). أما رواية الترمذي في آخره وهي: (وأن ما حرم رسول الله صلى الله عليه وسلم -كما حرم الله) وعقب عليه بقوله: هذا حديث حسن غريب من هذا الرجه. (كتاب العلم. باب ما نهي عنه أين يقال عند حديث النبي صلى الله عليه وسلم (5/ 38 ح: 2664).

(5) الحديث رواه الترمذي في جامعه، وعقب عليه بقوله: (حديث حسن صحيح). كتاب العلم. باب ما نهى عنه أن يقال عند حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، كما رواه ابن ماجة في سننه بنحوه، المقدمة. باب تعظيم حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم والتغليظ على من عارضه (1/ 6)، وأحمد في مسنده 4/ 132.
পূর্ববর্তী রাসূলগণের অনুসারী আলেম ও মুমিনদের জন্য বিদ্যমান আসমানি কিতাবসমূহ; মহান আল্লাহ বলেন: {নিশ্চয়ই আমি তাওরাত অবতীর্ণ করেছি, যাতে রয়েছে পথনির্দেশ ও আলো। যারা আত্মসমর্পণকারী নবি ছিলেন তারা এর মাধ্যমে ইহুদিদের জন্য ফয়সালা দিতেন এবং রব্বানি ও পণ্ডিতরাও (ফয়সালা দিতেন), কারণ তাদের আল্লাহর কিতাব সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এবং তারা এর ওপর সাক্ষী ছিল।}। (১)

আর এই উম্মতের প্রতি আল্লাহর পূর্ণ অনুগ্রহের অন্তর্ভুক্ত হলো তিনি সুন্নাহকে পবিত্র কুরআনের বর্ণনাকারী, এর সংক্ষিপ্ত বিধানসমূহের বিস্তারিত ব্যাখ্যাকারী এবং যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন তার বিশদ বর্ণনাকারী করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ বলেন: {আর আমি আপনার প্রতি এই ‘জিকর’ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি মানুষের নিকট বর্ণনা করে দেন যা তাদের প্রতি নাযিল করা হয়েছে এবং যাতে তারা চিন্তা করে} (২) মহান আল্লাহ আরও বলেন: {আমি আপনার প্রতি এই কিতাব কেবল এজন্যই অবতীর্ণ করেছি যাতে আপনি তাদের নিকট তা স্পষ্ট করে দেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছিল, আর এটি মুমিন কওমের জন্য পথনির্দেশ ও রহমত} (৩) আর এই দুই আয়াতে বর্ণিত অর্থটিই সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর অনেক হাদিসে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী হলো: (জেনে রেখো, আমাকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং তার সাথে তার অনুরূপ কিছুও দেওয়া হয়েছে। সাবধান! শীঘ্রই এমন এক পেটভরা লোক আসবে যে তার সোফায় হেলান দিয়ে বলবে: তোমরা কেবল এই কুরআনকেই গ্রহণ করো; এতে যা হালাল পাবে কেবল তাকেই হালাল মানবে এবং এতে যা হারাম পাবে কেবল তাকেই হারাম মানবে...) হাদিস। (৪)

আবু রাফে (রা.) ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসে এসেছে: (আমি যেন তোমাদের কাউকেও এমন অবস্থায় না পাই যে সে তার সোফায় হেলান দিয়ে আছে; এমতাবস্থায় তার নিকট আমার কোনো আদেশ বা নিষেধ পৌঁছায়, তখন সে বলে: আমি জানি না, আমরা আল্লাহর কিতাবে যা পেয়েছি কেবল তারই অনুসরণ করেছি) (৫)।

সুতরাং সুন্নাহ নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি নাযিলকৃত ওহীরই একটি অংশ এবং এর বিরোধিতা করা বৈধ নয়;

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-মায়েদাহ, আয়াত ৪৪।

(২) সূরা আন-নাহল, আয়াত ৪৪।

(৩) সূরা আন-নাহল, আয়াত ৬৪।

(৪) হাদিসটি ইমাম আবু দাউদ তাঁর সুনানে মিকদাম বিন মাদিকারিব থেকে বর্ণনা করেছেন: কিতাবুস সুন্নাহ। পরিচ্ছেদ: সুন্নাহ আঁকড়ে ধরা অপরিহার্য (৫/ ১০ হা: ৪৬০৪), এবং ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন (৪/ ১৩১)। আর তিরমিযীর বর্ণনার শেষে রয়েছে: (আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করেছেন তা আল্লাহর হারাম করার মতোই) এবং তিনি এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: এটি একটি হাসান গরীব হাদিস। (কিতাবুল ইলম। পরিচ্ছেদ: নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের সামনে যা বলা নিষিদ্ধ (৫/ ৩৮ হা: ২৬৬৪)।

(৫) হাদিসটি তিরমিযী তাঁর জামি' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর ওপর মন্তব্য করে বলেছেন: (হাসান সহীহ হাদিস)। কিতাবুল ইলম। পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের সামনে যা বলা নিষিদ্ধ। ইমাম ইবনে মাজাহ তাঁর সুনানে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, মুকাদ্দিমা। পরিচ্ছেদ: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসের মর্যাদা প্রদান এবং যে এর বিরোধিতা করে তার প্রতি কঠোরতা (১/ ৬), এবং আহমাদ তাঁর মুসনাদে ৪/ ১৩২।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
وقد أوجب الله على المؤمنين طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، وأمر بذلك في آيات كثيرة؛ منها قوله تعالى: {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا} (1)، وجاء الِتحذِير من مخالفة أوامره صلى الله عليه وسلم في قوله عز من قائل: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} (2) بل إننا نجد الله سبحانه وتعالى ينص على أن طاعته في طاعة رسوله صلى الله عليه وسلم، وبالتالي فعصيان الرسول عصيان لله عز وجل؛ قال تعالى: {مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ} الآية (3).

وجاء في حديث العرباض بن سارية رضي الله عنه: (صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ذات يوم، ثم أقبل علينا فوعظنا موعظة بليغة ذرفت منها العيون، ووجلت منها القلوب، فقال قائل: يا رسول الله، كأن هذه موعظة مودع، فما تعهد إلينا؟ قال: "أوصيكم بتقوى الله والسمع والطاعة، وإن عبداً حبشيا، فإنّه من يعش منكم بعدي، فسيرى اختلافاً كثيرًا، فعليكم بسنتي وسنة الخلفاء المهديين الراشدين تمسكوا بها وعضوا عليها بالنواجذ، وإياكم ومحدثات الأمور، فإن كل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة") (4).

وقد نص غير واحد من العلماء على أنه يستفاد من هذا الحديث -وغيره كثير- وجوب الأخذ بهديه صلى الله عليه وسلم في كل شيء، واجتناب كل البدع المستحدثة.

ولا كان للسنة النبوية هذه المكانة السامقة، وكانت المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي وجدنا أن الأمة الإسلامية قد خصتها بالرعاية الفائقة والعناية التامة، واستعملت في المحافظة عليها أسلوبًا فريدًا لم يسبق لأمة من الأمم أن سلكته في سبيل الحفاظ على أحاديث رسولها؛ نلمس ذلك في خصيصة

--------------------------------------------

(1) سورة الحشر، الآية 7.

(2) سورة النور، الآية 63.

(3) سورة النساء، الآية 80.

(4) الحديث أخرجه أبو داود: كتاب السنة. باب في لزوم السنة (5/ 13 ح: 4607)، والترمذي بنحوه: كتاب العلم. باب ما جاء في الأخذ بالسنة واجتناب البدع (5/ 45 ح: 2676).
আল্লাহ মুমিনদের ওপর তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্য করা আবশ্যক করেছেন এবং অনেক আয়াতে এর নির্দেশ দিয়েছেন; তার মধ্যে মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল তোমাদের যা প্রদান করেন তা গ্রহণ করো এবং যা থেকে তোমাদের নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো} (১), আর মহান সত্তার এই বাণীতে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আদেশের বিরোধিতা করার ব্যাপারে সতর্কতা এসেছে: {সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরোধিতা করে তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো ফিতনা আপতিত হবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আসবে} (২) বরং আমরা দেখতে পাই যে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর আনুগত্য তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আনুগত্যের মধ্যেই নিহিত, আর ফলশ্রুতিতে রাসূলের অবাধ্যতা আল্লাহরই অবাধ্যতা; আল্লাহ তায়ালা বলেন: {যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো সে আল্লাহরই আনুগত্য করলো} আয়াত (৩)।

ইরবাজ ইবনে সারিয়াহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে: (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, তারপর আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং আমাদের এক অত্যন্ত সারগর্ভ উপদেশ দিলেন যাতে চোখগুলো অশ্রুসিক্ত হলো এবং অন্তরগুলো প্রকম্পিত হলো। তখন জনৈক ব্যক্তি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, মনে হচ্ছে এটি যেন বিদায়ী উপদেশ, সুতরাং আপনি আমাদের কী নির্দেশ দিচ্ছেন? তিনি বললেন: "আমি তোমাদের আল্লাহভীতি এবং শ্রবণ ও আনুগত্য করার উপদেশ দিচ্ছি, যদিও সে একজন হাবশী দাসও হয়। কেননা তোমাদের মধ্যে যারা আমার পরে বেঁচে থাকবে, তারা অনেক মতভেদ দেখতে পাবে। সুতরাং তোমরা আমার সুন্নাহ এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশেদীনের সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরবে, একে দাঁত দিয়ে শক্তভাবে কামড়ে ধরবে। আর তোমরা দ্বীনের মধ্যে নতুন উদ্ভাবিত বিষয়সমূহ থেকে বেঁচে থাকবে, কারণ প্রতিটি নব উদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা") (৪)।

একাধিক আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই হাদিস এবং অন্য অনেক হাদিস থেকে এই শিক্ষা পাওয়া যায় যে, প্রতিটি বিষয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আদর্শ অনুসরণ করা এবং সকল নব উদ্ভাবিত বিদআত বর্জন করা আবশ্যক।

যেহেতু নববী সুন্নাহর এই সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে এবং এটি ছিল ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস, তাই আমরা দেখতে পাই যে, মুসলিম উম্মাহ একে অত্যন্ত গুরুত্ব ও পূর্ণ যত্নের সাথে বিশেষায়িত করেছে এবং একে সংরক্ষণের ক্ষেত্রে তারা এমন এক অনন্য পদ্ধতি ব্যবহার করেছে যা অন্য কোনো জাতি তাদের রাসূলের বাণী সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কখনো অনুসরণ করেনি; আমরা তা এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে অনুধাবন করতে পারি

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-হাশর, আয়াত ৭।

(২) সূরা আন-নূর, আয়াত ৬৩।

(৩) সূরা আন-নিসা, আয়াত ৮০।

(৪) হাদিসটি বের করেছেন আবু দাউদ: কিতাবুস সুন্নাহ। অনুচ্ছেদ: সুন্নাহর অপরিহার্যতা (৫/১৩ হা: ৪৬০৭), এবং তিরমিযীও অনুরূপ: কিতাবুল ইলম। অনুচ্ছেদ: সুন্নাহ গ্রহণ ও বিদআত বর্জন (৫/৪৫ হা: ২৬৭৬)।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الإسناد وما صاحبه من متابعة أحوال الرواة والكشف عن عدالتهم أو تجريحهم، وكذا ضبطهم أو غفلتهم، بل قد يسلم الحديث من سائر القوادح الظاهرة، ولكن فحول هذه الصناعة الحديثية يستطعون الكشف عما خفي على غيرهم من علل مؤثرة في صحته والإحتجاج به.

بدأت بذور الإهتمام بالسند في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم -كما يبدو ذلك في حديث ضمام بن ثعلبة حينما بلغته دعوة الإسلام، فلم يقنع بما وصله حتى جاء عند رسول الله صلى الله عليه وسلم؛ ليسمع منه بنفسه؛ فيتحقق له السند العالي في هذا الحديث:

روى البخاري بسنده إلى أنس بن مالك؛ قال: (بينما نحن جلوس مع النبي صلى الله عليه وسلم في المسجد دخل رجل على جمل فأناخه في المسجد، ثم عقله، ثم قال لهم: أيكم محمد - والنبي صلى الله عليه وسلم -متكئ بين ظهرانيهم- فقلنا: هذا الرجل الأبيض المتكئ، فقال له الرجل: ابن عبد المطلب، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: قد أجبتك. فقال الرجل للنبي صلى الله عليه وسلم: إني سائلك فمشدد عليك في المسألة، فلا تجد علي في نفسك. فقال: سل عما بدا لك. فقال: أسألك بربك ورب من قبلك، آلله أرسلك إلى الناس كلهم؟ فقال: اللهم نعم. فقال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصلي الصلوات الخمس في اليوم والليلة؟ قال: اللهم نعم. قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن نصوم هذا الشهر من السنة؟ قال: اللهم نعم. قال: أنشدك بالله، آلله أمرك أن تأخذ هذه الصدقة من أغنيائنا، فتقسمها على فقرائنا؟ فقال النبي صلى الله عليه وسلم: اللهم نعم. فقال الرجل: آمنت بما جئت به، وأنا رسول من ورائي من قومي، وأنا ضمام بن ثعلبة ..) الحديث. (1)

ثم صارت بوادر التثبت في الرواية تظهر في عهد الخليفة أبي بكر رضي الله عنه، ثم من جاء بعده من الخلفاء الراشدين، ولما ظهرت الفتنة وما صاحبها من الكذب على رسول الله صلى الله عليه وسلم انبرى نقاد المحدثين للوضاعين يفضحونهم،

--------------------------------------------

(1) صحيح البخاري: كتاب العلم، باب ما جاء في العلم وقوله تعالى: (وقل رب زدني علماً) (طه 114). الفتح 1/ 148 ح: 63.
সনদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বর্ণনাকারীদের অবস্থার পর্যবেক্ষণ, তাদের নির্ভরযোগ্যতা উন্মোচন বা তাদের দোষত্রুটি শনাক্ত করা, একইভাবে তাদের স্মৃতিশক্তির প্রখরতা বা অসতর্কতা যাচাই করা; বরং অনেক সময় হাদিস বাহ্যিক সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকে, কিন্তু হাদিস শাস্ত্রের এই শিল্পের বিশারদগণ এমন সব সূক্ষ্ম দোষ (ইল্লাত) উদঘাটন করতে সক্ষম হন যা অন্যদের কাছে গোপন থাকে, যা হাদিসের বিশুদ্ধতা এবং তা দ্বারা দলিল গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে।

সনদের প্রতি গুরুত্ব প্রদানের বীজ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগেই রোপিত হয়েছিল—যেমনটি দিমাম ইবনে সালাবার হাদিসে প্রকাশ পায় যখন তাঁর কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছেছিল। তাঁর কাছে যা পৌঁছেছিল তাতে তিনি সন্তুষ্ট হননি, যতক্ষণ না তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আসলেন যাতে তিনি নিজে সরাসরি তাঁর থেকে শুনতে পারেন; ফলে এই হাদিসে তাঁর জন্য উচ্চতর সনদ (আস-সানাদুল আলী) নিশ্চিত হয়:

ইমাম বুখারি তাঁর সনদে আনাস ইবনে মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: (আমরা যখন মসজিদে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বসা ছিলাম, তখন এক ব্যক্তি উটের পিঠে চড়ে প্রবেশ করল এবং মসজিদের ভেতর উটটি বসিয়ে সেটিকে বাঁধল। তারপর সে তাদের বলল: তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ কে? আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাদের মাঝে হেলান দিয়ে বসা ছিলেন—আমরা বললাম: এই যে ফর্সা ব্যক্তিটি হেলান দিয়ে আছেন। তখন লোকটি তাঁকে বলল: হে আব্দুল মুত্তালিবের পুত্র! নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: আমি তোমার আহবানে সাড়া দিয়েছি। তখন লোকটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলল: আমি আপনাকে কিছু প্রশ্ন করব এবং প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে আপনার ওপর কঠোর হব, তাই আপনি মনে কিছু নেবেন না। তিনি বললেন: তোমার মনে যা আসে জিজ্ঞাসা করো। সে বলল: আমি আপনাকে আপনার রবের এবং আপনার পূর্ববর্তীদের রবের দোহাই দিয়ে বলছি, আল্লাহ কি আপনাকে সকল মানুষের নিকট পাঠিয়েছেন? তিনি বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ। সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, আল্লাহ কি আপনাকে দিনে ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ। সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, আল্লাহ কি আপনাকে বছরের এই মাসে রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন? তিনি বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ। সে বলল: আমি আপনাকে আল্লাহর দোহাই দিচ্ছি, আল্লাহ কি আপনাকে আমাদের ধনীদের থেকে এই সদকা গ্রহণ করে আমাদের দরিদ্রদের মাঝে বণ্টন করার নির্দেশ দিয়েছেন? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: হে আল্লাহ, হ্যাঁ। তখন লোকটি বলল: আপনি যা নিয়ে এসেছেন তার ওপর আমি ঈমান আনলাম, আর আমি আমার গোত্রের যারা পেছনে রয়েছে তাদের প্রতিনিধি, আর আমি হলাম দিমাম ইবনে সালাবা...) হাদিস। (১)

অতঃপর বর্ণনা যাচাই-বাছাই করার ধারা খলিফা আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে প্রকাশ পেতে শুরু করে, এরপর তাঁর পরবর্তী খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগেও। আর যখন ফিতনা প্রকাশ পেল এবং এর সাথে সাথে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর মিথ্যারোপের সূচনা হলো, তখন মুহাদ্দিস সমালোচকগণ জালকারিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেন এবং তাদের স্বরূপ উন্মোচন করতে লাগলেন,

--------------------------------------------

(১) সহিহ বুখারি: কিতাবুল ইলম (জ্ঞান অধ্যায়), পরিচ্ছেদ: জ্ঞান সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে এবং মহান আল্লাহর বাণী: (আর বলো: হে আমার রব! আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করে দিন) (ত্বহা ১১৪)। আল-ফাতহ ১/১৪৮, হাদিস নং: ৬৩।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
ويتابعون كذبهم لكشفه وتبرئة ساحة السنة من بهتانهم. روى الإمام مسلم عن محمد بن سيرين رحمه الله أنه قال: (لم يكونوا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة قالوا: سموا لنا رجالكم، فينظر إلى أهل السنة فيؤخذ حديثهم، وينظر إلى أهل البدع فلا يؤخذ حديثهم) (1). وقيل للإمام عبد الله بن المبارك: (هذه الأحاديث المصنوعة؟ قال: يعيش لها الجهابذة) (2).

وهكذا بارك الله في جهود علماء الحديث حتى غدوا سدًا منيعًا وصخرة صلبة تكسرت عليها نصال الفتن وسهام الأهواء فرد كيد الكائدين وتم للبشرية لأول مرة في تاريخها إحصاء الكلمات والعبارات والأفعال والإشارات وأسماء الصغار والكبار والكذبة والأخيار، ومن حل ومن ارتحل؛ كل هذا -وغيره كثير- دُوِّنَ وصُنّفَ وضُبِطَ بقواعد دقيقة لم تعرفها أمة قبل، حتى أصبح لكل راو من الرواة سجل تفصيلي يحدد مرتبته بين الرواة وطبقاتهم؛ سواء من حيث العدالة والضبط، أو الجرح والوهم أو الغفلة.

ولم يفت كبار أعلام الحديث أن الثقة العدل مهما علت مكانته وسمت مرتبته فإنّه معرض للخطأ والوهم، وأن هذا وإن كان نادرًا إلا أنه من الثقة العدل خطر؛ لأن روايته مقبولة عند الناس، وهو حجة عندهم في جميع منقولاته، ولمثل هذا أوجد علم العلل.

يقول الدكتور محمد مصطفى السباعي، رحمه الله، في وصف جهود العلماء في مجال النقد: (لا يستطع من يدرس موقف العلماء -منذ عصر الصحابة إلى أن تم تدوين السنة- من الوضع والوضاعين وجهودهم في سبيل السنة، وتمييز صحيحها من فاسدها، إلا أن يحكم بأن الجهد الذي بذلوه في ذلك لا مزيد عليه، وأن الطرق التي سلكوها هي أقوم الطرق العلمية للنقد والتمحيص، حتى لنستطيع أن نجزم بأن علماءنا، رحمهم الله، هم أول من

--------------------------------------------

(1) مقدمة صحيح مسلم: 1/ 15.

(2) الكفاية في علم الرواية، للخطب البغدادي، ص: 80.
তারা তাদের মিথ্যাচার উন্মোচনের এবং সুন্নাহর প্রাঙ্গণকে তাদের অপবাদ থেকে মুক্ত করার কাজ অব্যাহত রেখেছেন। ইমাম মুসলিম মুহাম্মদ ইবনে সিরিন (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: (তারা সনদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন না, তবে যখন ফিতনা সংঘটিত হলো, তখন তারা বললেন: আমাদের নিকট তোমাদের বর্ণনাকারীদের নাম উল্লেখ করো। তখন আহলুস সুন্নাহর দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো, আর বিদআতিদের দিকে লক্ষ্য করা হতো এবং তাদের হাদিস গ্রহণ করা হতো না) (১)। ইমাম আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারককে বলা হয়েছিল: (এই জাল হাদিসগুলোর কী হবে? তিনি বললেন: এগুলোর রহস্য উন্মোচনের জন্য প্রাজ্ঞ বিশারদগণ বেঁচে আছেন) (২)।

এভাবেই আল্লাহ তাআলা হাদিস বিশারদগণের প্রচেষ্টায় বরকত দান করেছেন, এমনকি তারা এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর এবং সুদৃঢ় পাথরে পরিণত হয়েছেন, যার ওপর ফিতনার ফলা এবং প্রবৃত্তির তীরগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে ষড়যন্ত্রকারীদের চক্রান্ত নস্যাৎ হয়েছে এবং মানব ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কথা, উক্তি, কর্ম, ইঙ্গিত, ছোট ও বড়দের নাম, মিথ্যাবাদী ও নেককারদের নাম এবং কে অবস্থান করেছেন ও কে চলে গেছেন—তার পরিসংখ্যান সম্পন্ন হয়েছে। এই সবকিছু—এবং আরও অনেক কিছু—নথিভুক্ত করা হয়েছে, শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে এবং এমন সূক্ষ্ম নিয়মের মাধ্যমে সুসংবদ্ধ করা হয়েছে যা ইতিপূর্বে কোনো জাতি জানত না। এমনকি প্রত্যেক বর্ণনাকারীর জন্য একটি বিস্তারিত রেকর্ড তৈরি হয়েছে যা বর্ণনাকারীদের মাঝে তার স্তর এবং তাদের শ্রেণী বিন্যাস নির্ধারণ করে; তা ন্যায়পরায়ণতা ও সংরক্ষণ ক্ষমতার দিক থেকে হোক, কিংবা জরাহ (দোষারোপ), সংশয় অথবা গাফিলতির দিক থেকে হোক।

হাদিস শাস্ত্রের মহান ইমামগণ এ বিষয়ে গাফেল ছিলেন না যে, একজন বিশ্বস্ত ও ন্যায়পরায়ণ বর্ণনাকারী, তার মর্যাদা ও অবস্থান যতই উচ্চে হোক না কেন, তিনিও ভুল এবং সংশয়ের সম্মুখীন হতে পারেন। আর এটি যদিও বিরল, তবুও একজন বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে তা বিপজ্জনক; কারণ মানুষের নিকট তার বর্ণনা গ্রহণযোগ্য এবং তার বর্ণিত সকল বিষয়ে তিনি তাদের নিকট দলিল। আর এ ধরণের বিষয়ের জন্যই 'ইলমুল ইলাল' (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান)-এর উদ্ভব হয়েছে।

ডক্টর মুহাম্মদ মুস্তফা আস-সিবাঈ (রাহিমাহুল্লাহ) সমালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আলেমদের প্রচেষ্টার বর্ণনায় বলেন: (সাহাবিদের যুগ থেকে সুন্নাহ সংকলন সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত হাদিস জালকরণ ও জালিয়াতদের বিরুদ্ধে আলেমদের অবস্থান, সুন্নাহর পথে তাদের প্রচেষ্টা এবং সঠিক ও ত্রুটিপূর্ণ হাদিসের মধ্যে পার্থক্য করার বিষয়টি যারা অধ্যয়ন করেন, তাদের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই যে, তারা যে প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন তার ঊর্ধ্বে আর কোনো প্রচেষ্টা হতে পারে না। আর তারা যে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করেছেন তা হলো সমালোচনা ও যাচাই-বাছাইয়ের সবচেয়ে সঠিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। এমনকি আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, আমাদের আলেমরাই (রাহিমাহুমুল্লাহ) সর্বপ্রথম...

--------------------------------------------

(১) মুকাদ্দিমা সহিহ মুসলিম: ১/ ১৫।

(২) আল-কিফায়াহ ফি ইলমির রিওয়ায়াহ, খতিব বাগদাদী কৃত, পৃষ্ঠা: ৮০।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
وضعوا قواعد النقد العلمي الدقيق للأخبار والمرويات بين أمم الأرض كلها، وأن جهدهم في ذلك جهد تفاخر به الأجيال، وتتيه به على الأمم، وذلك فضل الله يؤتيه من يشاء والله واسع عليم) (1).

وهذا الكتاب الذي بين أيدينا (بغية النقاد النقلة، فيما أخل به كتاب "البيان" وأغفله، أو أَلَمَّ به، فما تممه ولا كمله. للحافظ أبي عبد الله محمد بن أبي يَحْيَى؛ الشهير بابن المواق). هو ثمرة للجهود العلمية النقدية الحديثية التي ابتدأت بعبد الحق الإشبيلي بكتابه "الأحكام الوسطى"، ثم أينعت على يد أبي الحسن ابن القطان الفاسي بكتابه: "بيان الوهم والإيهام الواقعين في كتاب الأحكام" ونضجت بمؤلَّف "البغية" هذا.

 

‌‌منهج التحقيق

تنوعت مناهج المحققين بين اتجاهين:

أحدهما: استشراقي غربي هدفه إخراج النص المحقق بغض النهار عن الرجوع إلى مواطن النقل والتخريج، ولا يتناول تراجم لأعلام النص، ولا التعليق على أفكار المصنفٌ، ومن سار على هذا المنهج آثر إخراج النص خلوا من الحواشي والتعليقات والتخريجات.

الثاني: يهتم بالرجوع إلى موارد المؤلف ومقابلتها بالمنقول عنها فيه، وتخريج نصوصها، وبيان عزوها.

والمنهج الأول قد يتواءم مع طبيعة بعض النصوص ويتناسب معها، فلا ضير في تحقيقها بالإعتماد عليه، في حين أن المنهج الثاني قد يكون هو الأنسب لنصوص أخرى.

--------------------------------------------

(1) السنة ومكانتها في التشريع الإسلامي: د. مصطفى السباعي ص: 89.
তারা বিশ্বের সকল জাতির মধ্যে সংবাদ এবং বর্ণনাসম্মত তথ্যের সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক সমালোচনার মূলনীতিসমূহ প্রণয়ন করেছেন। এই ক্ষেত্রে তাদের প্রচেষ্টা এমন এক গৌরবময় কাজ যা নিয়ে পরবর্তী প্রজন্মসমূহ গর্ব করবে এবং অন্য সকল জাতির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করবে। আর এটি আল্লাহর অনুগ্রহ, তিনি যাকে ইচ্ছা তা দান করেন, আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। (১)

আমাদের সম্মুখস্থ এই গ্রন্থটি (বুগইয়াতুন নুক্কাদিন নাকালাহ, ফীমা আখাল্লা বিহি কিতাবুল 'বায়ান' ওয়া আগফালাহু, আও আল্লাম্মা বিহি, ফামা তাম্মামাহু ওয়ালা কাম্মালাইু। এটি হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আবি ইয়াহইয়া-এর রচনা; যিনি ইবনুল মাওয়াক নামে পরিচিত)। এটি সেই ইলমী ও হাদিস বিষয়ক সমালোচনামূলক প্রচেষ্টার ফসল যা আব্দুল হক আল-ইশবিলী তার 'আল-আহকাম আল-উসতা' গ্রন্থের মাধ্যমে শুরু করেছিলেন, অতঃপর আবুল হাসান ইবনুল কাত্তান আল-ফাসীর 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহমি আল-ওয়াকিঈন ফি কিতাবিল আহকাম' গ্রন্থের মাধ্যমে তা পল্লবিত হয়েছিল এবং এই 'আল-বুগইয়াহ' রচনার মাধ্যমে তা পূর্ণতা লাভ করেছে।

 

‌‌সম্পাদনা পদ্ধতি

পাণ্ডুলিপি সম্পাদকদের পদ্ধতিসমূহ মূলত দুটি ধারায় বিন্যস্ত:

প্রথমটি: পশ্চিমা প্রাচ্যবাদী ধারা, যার লক্ষ্য হলো উদ্ধৃতি বা তখরিজের মূল উৎসগুলোর দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে কেবল সম্পাদিত পাঠটি প্রকাশ করা। এটি গ্রন্থের উল্লেখিত ব্যক্তিদের জীবনী আলোচনা করে না, কিংবা লেখকের চিন্তাধারার ওপর কোনো মন্তব্যও প্রদান করে না। যারা এই পথ অনুসরণ করেন, তারা কোনো ধরনের টীকা, মন্তব্য বা তখরিজ ছাড়াই মূল পাঠটি প্রকাশ করাকে প্রাধান্য দেন।

দ্বিতীয়টি: এটি লেখকের ব্যবহৃত উৎসসমূহের অনুসন্ধান এবং সেগুলোর সাথে উদ্ধৃত অংশের তুলনা করা, পাঠ্যের তখরিজ করা এবং সেগুলোর উদ্ধৃতি নিশ্চিত করার প্রতি গুরুত্ব প্রদান করে।

প্রথম পদ্ধতিটি কোনো কোনো পাঠ্যের প্রকৃতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও মানানসই হতে পারে, ফলে তার ওপর ভিত্তি করে সম্পাদনা করায় কোনো দোষ নেই। পক্ষান্তরে, অন্যান্য পাঠ্যের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই অধিকতর উপযুক্ত হতে পারে।

--------------------------------------------

(১) আস-সুন্নাহ ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরী'িল ইসলামী: ড. মুস্তফা আস-সিবাঈ, পৃষ্ঠা: ৮৯।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
ولما كان كتاب "بغية النقاد" من فصيلة التعقيبات العلمية بين العلماء، ثم إنه اشتمل على كثير من الأحاديث التي يدور موضوع تعقيبها على علم العلل، وهذه للعلماء فيها مآخذ قد تختلف بين هذا وذاك.

ثم إن موضوع الكتاب يتناول أحاديث الأحكام، والحكم على الحديث فيها بالصحة أو الحسن أو الضعف يترتب عليه أمور أخرى تتعلق بالحكم الشرعي في أفعال العباد وبالحلال والحرام؛ …

كل هذا وغيره كفيل بأن يجعل أمر تحقيق هذا المخطوط يتطلب المنهج الثاني.

ولهذا لا ضير إذا توقفت عند التعقيبات الواردة في الكتاب بالرجوع إلى مظانها واستحضار ونصوصها من مصادرها المنقولة منها، ثم تتبع جزئياتها لتمحيصها وبيان وجهها، بل ومناقشتها -حسب ما يتطلبه المقام- لاستصواب ما كان صوابًا، والتعقيب على ما يحتاج لذلك.

وهذا مجمل هذه الخطوات:

1 - لما كانت نسخة المخطوط فريدة فإني اعتمدت في المقابلة ببنها وبين الأصول التي نقلت منها، كما قابلت بينها ويين النصوص المنقولة عنها، كما أمكنني ذلك. وهذا ما جعلني في كثير من الأحيان أطمئن لسلامة النص.

2 - قمت بوضع ترقيم مسلسل للأحاديث الواردة في المخطوط، باعتبار أنه يتكلم على كل حديث منها وما فيه من وهم أو علة …

3 - جعلت بداية كل حديث من الأحاديث المتعقبة في صفحة جديدة إشعارًا مني بالمنهج الذي سار عليه المصنف في تعقيبه؛ حيث جمع الأحاديث المتعقبة التي يجمعها جامع واحد في فصل أو باب، وفصل بينها بعبارة دالة على

هذا الفصل مثل: (وذكر)، ونحوها، وذلك عند ذكر كل حديث.

4 - خرجت الأحاديث تخريجًا مسهباً -في قسم التحقيق- تناولت فيه أموراً؛ منها:
যেহেতু 'বুগইয়াতুন নুক্কাদ' গ্রন্থটি আলেমদের মধ্যকার জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনার অন্তর্ভুক্ত, আর এটি এমন অনেক হাদিস সংবলিত যেগুলোর পর্যালোচনার বিষয়টি 'ইলমুল ইলাল' (হাদিসের নিগূঢ় ত্রুটি বিষয়ক বিদ্যা) কেন্দ্রিক আবর্তিত হয়েছে, আর এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে।

তদুপরি কিতাবটির বিষয়বস্তু আহকাম বা বিধিবিধান সংক্রান্ত হাদিসসমূহ নিয়ে আলোচনা করে। এসকল হাদিসকে সহিহ (বিশুদ্ধ), হাসান (উত্তম) কিংবা যয়িফ (দুর্বল) হিসেবে সাব্যস্ত করার ওপর বান্দাদের কার্যাবলি এবং হালাল-হারাম সংক্রান্ত শরয়ি বিধানের অন্যান্য বিষয়াদি নির্ভরশীল; …

এই সকল কারণ এবং এর বাইরে অন্যান্য বিষয়াদি এই পাণ্ডুলিপিটির তাহকিক বা সম্পাদনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় পদ্ধতিটি গ্রহণ করা আবশ্যক করে তোলে।

একারণে কিতাবটিতে বর্ণিত পর্যালোচনাগুলোর ক্ষেত্রে সেগুলোর মূল উৎসস্থলের দিকে ফিরে যাওয়া এবং যেসকল উৎস থেকে সেগুলো উদ্ধৃত করা হয়েছে তা সামনে উপস্থিত করে সেগুলোর খুঁটিনাটি বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে মনোনিবেশ করায় কোনো বাধা নেই। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে যাতে সঠিক বিষয়টিকে সঠিক হিসেবে গ্রহণ করা যায় এবং যেখানে পর্যালোচনার প্রয়োজন সেখানে তা করা যায়।

এই পদক্ষেপগুলোর সংক্ষিপ্ত রূপ নিচে দেওয়া হলো:

১ - যেহেতু পাণ্ডুলিপির কপিটি ছিল অনন্য বা একক, তাই আমি এটি যে সকল মূল উৎস থেকে সংগৃহীত হয়েছে সেগুলোর সাথে এবং এর থেকে উদ্ধৃত অন্যান্য পাঠ্যের সাথে সাধ্যমতো তুলনা করেছি। এটি আমাকে অনেক ক্ষেত্রে পাঠ্যের বিশুদ্ধতার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে সাহায্য করেছে।

২ - আমি পাণ্ডুলিপিতে বর্ণিত হাদিসগুলোর জন্য একটি ধারাবাহিক ক্রমিক নম্বর প্রদান করেছি, যেহেতু এটি প্রতিটি হাদিস এবং তাতে থাকা ভ্রম বা ত্রুটি সম্পর্কে আলোচনা করে …

৩ - পর্যালোচিত প্রতিটি হাদিসের শুরু আমি নতুন পৃষ্ঠায় রেখেছি যাতে গ্রন্থকার তার পর্যালোচনায় যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন তা ফুটে ওঠে; যেখানে তিনি একই বিষয়ভুক্ত পর্যালোচিত হাদিসগুলোকে একটি অনুচ্ছেদ বা অধ্যায়ে একত্রিত করেছেন এবং প্রতিটি হাদিস আলোচনার সময় এই অনুচ্ছেদের নির্দেশক শব্দ যেমন: (এবং তিনি উল্লেখ করেছেন) এবং এর সমজাতীয় শব্দ দ্বারা সেগুলোকে পৃথক করেছেন।

৪ - আমি তাহকিক (সম্পাদনা) অংশে হাদিসগুলোর বিস্তারিত তাখরিজ (উৎস নির্ণয়) করেছি, যেখানে আমি বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি; তার মধ্যে রয়েছে:
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
أ - عزو الحديث المذكور إلى مصدره المنقول منه، بذكر اسم المصنف، وكتابه، وبابه، والجزء والصفحة، ورقم الحديث فيه، إن كان مرقمًا.

ب - تخريج الأحاديث التي لم يعثر عليها المصنف، أو التي تركها دون عزو بعد أن بذل مجهوده ولم يقف على موضعها.

ج - في تخريج الأحاديث حرصت على معرفة طرق الحديث التي لم يقف عليها المؤلف، والتي قد تفيد في ذكر متابعة لراو، أو شاهد لحديث، أو تعضيد لرواية، مما يسهل معرفة درجة الحديث المتناول للتعقيب.

5 - متابعة المصنف في أقواله ونقوله، وأحكامه على الأحاديث، والتعقيب على ما يستحق التعقيب منها.

6 - الأحاديث التي ذكرها المصنف في موضعين من كتابه، تناولت التعليق عليها في الموضع الأول، ثم إذا وصلت إلى موضعها الثاني اكتفيت بالإحالة في الحاشية إلى كون الحديث قد سبق ذكره برقم كذا، وذلك تجنبا للتكرار.

7 - درست رجال سند كل حديث من الأحاديث التي أوردها المصنف في كتابه، مما يسر لي أن أقف على أحكام رجال التعديل والتجريح للرواة في مصادرها الأصلية وفي أمهات الكتب، وكثيرا ما أكتفي بحكم الحافظ ابن حجر على الراوي، إذا كان ذلك هو الأنسب.

8 - الصحابة، رضي الله عنهم، كلهم عدول؛ لذلك لم أترجم لهم، اللهم إلا لمن كان غير مشتهر منهم، أو لمن ذكر بكنيته منهم، أو لنكتة علمية.

9 - قد يظهر لي مخالفة المصنف فيما ذهب إليه من حكم، أو تعليل، أو غير ذلك، فأذكره في موضعه عند دراسة الحديث والتعليق عليه. وقد يظهر لي تأخير ذلك إلى الدراسة، وفي هذه الحالة قد أشير إلى ذلك في الهامش.

10 - عملت على الحفاظ على النص على الصورة التي وجدتها عليه، ولم أسمح لنفسي بالتدخل إلا فيما تسمح به ضوابط التحقيق ومناهجه؛ مثل
ক - উল্লিখিত হাদিসকে তার মূল উৎসের সাথে সম্পৃক্ত করা, যেখানে গ্রন্থকারের নাম, তাঁর কিতাব, অধ্যায়, খণ্ড, পৃষ্ঠা এবং নম্বর থাকলে হাদিস নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে।

খ - ঐ সকল হাদিসের তাখরিজ করা যেগুলোর উৎস গ্রন্থকার পাননি, অথবা যেগুলোকে তিনি সাধ্যমতো চেষ্টার পর উৎস উল্লেখ না করেই ছেড়ে দিয়েছেন।

গ - হাদিসের তাখরিজের ক্ষেত্রে আমি হাদিসের এমন সব সূত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি যা লেখক পাননি; যা কোনো রাবির সমর্থনকারী বর্ণনা (মুতাবায়াত) অথবা হাদিসের সাক্ষ্য প্রদানকারী বর্ণনা (শাহিদ) অথবা বর্ণনার শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক হতে পারে, যা পর্যালোচনার অধীন হাদিসটির মান নির্ণয় সহজ করে দেয়।

৫ - গ্রন্থকারের বক্তব্য, উদ্ধৃতি এবং হাদিসের ওপর তাঁর প্রদত্ত সিদ্ধান্তসমূহের অনুসরণ করা এবং যেখানে পর্যালোচনার প্রয়োজন সেখানে প্রয়োজনীয় মন্তব্য করা।

৬ - যে সকল হাদিস গ্রন্থকার তাঁর কিতাবের দুই স্থানে উল্লেখ করেছেন, আমি প্রথম স্থানে সেটির ওপর টীকা প্রদান করেছি। এরপর যখন দ্বিতীয় স্থানে পৌঁছেছি, তখন পুনরাবৃত্তি এড়ানোর জন্য কেবল পাদটীকায় সংশ্লিষ্ট হাদিসটি ইতিপূর্বে এত নম্বর হাদিসের অধীনে বর্ণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছি।

৭ - গ্রন্থকার তাঁর কিতাবে যে সকল হাদিস এনেছেন সেগুলোর প্রত্যেকটি সনদের বর্ণনাকারীদের সম্পর্কে আমি গবেষণা করেছি। এটি আমার জন্য মূল উৎস এবং প্রধান কিতাবসমূহ হতে বর্ণনাকারীদের ব্যাপারে প্রশংসা ও সমালোচনার (জারহ-ওয়াত-তাদিল) সিদ্ধান্তসমূহ অবগত হওয়া সহজ করে দিয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে হাফেজ ইবনে হাজারের সিদ্ধান্তকেই আমি বর্ণনাকারীর ব্যাপারে যথেষ্ট মনে করেছি, যখন তা অধিকতর উপযুক্ত হয়েছে।

৮ - সাহাবীগণ (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন) সকলেই নির্ভরযোগ্য; তাই আমি তাঁদের জীবনী বর্ণনা করিনি। তবে তাঁদের মধ্যে যারা প্রসিদ্ধ নন, অথবা যাদের উপনামে উল্লেখ করা হয়েছে, অথবা কোনো বিশেষ জ্ঞানগর্ভ কারণে তাঁদের জীবনী উল্লেখ করা হয়েছে।

৯ - গ্রন্থকারের কোনো সিদ্ধান্ত, কারণ দর্শানো বা অন্য কোনো বিষয়ে আমার ভিন্নমত পরিলক্ষিত হতে পারে; সেক্ষেত্রে হাদিস পর্যালোচনা ও টীকা প্রদানের সময় আমি তা উল্লেখ করেছি। আবার কখনও তা মূল গবেষণার জন্য রেখে দিয়েছি এবং সেক্ষেত্রে পাদটীকায় সেদিকে ইঙ্গিত করেছি।

১০ - আমি মূল পাঠ্যকে যে অবস্থায় পেয়েছি সে অবস্থায় বজায় রাখার চেষ্টা করেছি। পাণ্ডুলিপি সম্পাদনার নীতিমালা ও পদ্ধতি যেটুকু অনুমতি দেয়, তা ব্যতীত অন্য কোনো ক্ষেত্রে আমি নিজে কোনো হস্তক্ষেপ করিনি; যেমন-
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
تصحيح ما لم يكتب وفق القواعد الإملائية الصحيحة، أو ما خالف في الرسم؛ مثل إضافة المد لكلمة (الحرث)، فأثبتها: (الحارث)، ونحو إضافة حرف الهمزة في آخر اسم (زكرياء).

11 - قمت بشرح المفردات الغريبة في النص في الهامش، معتمدًا في ذلك

على كتب شرح الغريب، وعلي المعاجم اللغوية.

12 - قد يكون بالنص سقط واضح أو معنى مضطرب فأحتاج إلى إثبات السقط أو توضيح المضطرب بكلمة أو نحوها، وفي هذه الحالة أجعل ما أضفت مما ليس في الأصل بين معقوفتين (..) وأضع بعدها مباشرة رقم إحالة في الهامش لبيان أن الإضافة ليست بالمخطوط.

13 - حافظت على ما ورد في النص المخطوط من رموز اصطلاحية حديثية دالة على صيغ التحديث وغيره: فإذا عبر بـ (ني) عن حدثني، أو بعبارة (نا) عن حدثنا، أبو بعبارة (أنا) عن أخبرنا، أو بـ (اهـ) عن انتهى؛ أبقيتها كما ذكرها، ولم أغيرها.

14 - عزوت الآيات الواردة في النص إلى أرقامها في السور المذكورة فيها، معتمدًا على رواية ورش عن نافع.

15 - سرت على المنهج المعروف في ترقيم أوراق المخطوط، كما قسمته إلى لوحات؛ وفي كل لوحة وجه أ، ثم وجه ب، وأشير إليها بخطين مائلين (//)؛ أضع بينهما رقم اللوحة والوجه.

16 - وضعت بعض الخرائط المساعدة على تصور سلسلة السند والاختلافات بين روايات الحديث الواحد، وذلك إذا كان الأمر يستدعي ذلك.

17 - وضعت فهارس فنية لتقريب البحث؛ منها: فهرس الآيات، وفهرس الأحاديث، وفهرس الأعلام، وفهرس الرواة المذكورين بجرح أو تعديل في بغية النقاد، وفهرس مصطلح الحديث، وفهرس الأمكنة والبقاع، وفهرس الغريب، وفهرس المصادر والمراجع.
সঠিক বানানরীতি অনুযায়ী যা লেখা হয়নি বা যেগুলোর অঙ্কনশৈলী (রসম) ভিন্ন ছিল তা সংশোধন করা; যেমন (আল-হারস) শব্দে মাদ্দ যোগ করা হয়েছে এবং আমি তা (আল-হারিস) হিসেবে সাব্যস্ত করেছি, এবং একইভাবে (জাকারিয়া) নামের শেষে হামজা বর্ণ যোগ করা।

১১ - আমি টেক্সটের কঠিন বা অপরিচিত শব্দগুলোর ব্যাখ্যা টীকায় প্রদান করেছি, এক্ষেত্রে আমি 'শরহুল গারীব' এবং ভাষাতাত্ত্বিক অভিধানসমূহের ওপর নির্ভর করেছি।

১২ - টেক্সটে কোনো স্পষ্ট বিচ্যুতি বা অস্পষ্ট অর্থ থাকতে পারে, সেক্ষেত্রে বিচ্যুতিটি পূরণ করার বা অস্পষ্ট অর্থটিকে কোনো শব্দ বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে স্পষ্ট করার প্রয়োজন হয়েছে। এমতাবস্থায়, আমি মূল পাণ্ডুলিপিতে নেই এমন অতিরিক্ত অংশটি বন্ধনীর (..) মধ্যে রেখেছি এবং তার পরপরই টীকায় একটি রেফারেন্স নম্বর দিয়েছি যাতে বোঝা যায় যে এই সংযোজনটি মূল পাণ্ডুলিপিতে ছিল না।

১৩ - আমি মূল পাণ্ডুলিপিতে উল্লিখিত হাদীসশাস্ত্রীয় পরিভাষার সংক্ষিপ্ত চিহ্নগুলো যা বর্ণনার পদ্ধতি নির্দেশ করে, তা অপরিবর্তিত রেখেছি। যেমন: যদি (নি) দ্বারা 'হাদ্দাসানি', অথবা (না) দ্বারা 'হাদ্দাসানা', অথবা (আনা) দ্বারা 'আখবারানা', অথবা (আহ) দ্বারা 'ইনতাহা' (সমাপ্ত) বোঝানো হয়; তবে আমি সেগুলোকে সেভাবেই রেখেছি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে এবং কোনো পরিবর্তন করিনি।

১৪ - টেক্সটে বর্ণিত আয়াতগুলোকে সংশ্লিষ্ট সূরার নম্বরসহ উদ্ধৃত করেছি এবং এক্ষেত্রে নাফে'র সূত্রে ওয়ার্শের কেরাত (রেওয়ায়েত)-এর ওপর নির্ভর করেছি।

১৫ - পাণ্ডুলিপির পৃষ্ঠা নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে আমি সুপরিচিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছি। আমি একে বিভিন্ন পত্রে (লোহা) বিভক্ত করেছি; প্রতিটি পত্রের একটি সম্মুখ ভাগ 'ক', এবং একটি বিপরীত ভাগ 'খ' রয়েছে। আমি এগুলোকে দুটি বাঁকা রেখা (//) দিয়ে নির্দেশ করেছি, যার মাঝখানে পত্র নম্বর ও পৃষ্ঠার দিক বসিয়েছি।

১৬ - সনদের ধারা এবং একই হাদীসের বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যবর্তী পার্থক্যসমূহ অনুধাবন করার জন্য আমি কিছু সহায়ক ডায়াগ্রাম বা মানচিত্র যুক্ত করেছি, যেখানে বিষয়টি তার দাবি রাখে।

১৭ - অনুসন্ধান সহজতর করার জন্য আমি কিছু শাস্ত্রীয় নির্ঘণ্ট (সূচিপত্র) যুক্ত করেছি। তার মধ্যে রয়েছে: আয়াত নির্ঘণ্ট, হাদীস নির্ঘণ্ট, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের (আলাম) নির্ঘণ্ট, 'বুগইয়াতুন নুুক্কাদ' গ্রন্থে জরাহ ও তাদীলসহ উল্লিখিত রাবীদের নির্ঘণ্ট, হাদীসশাস্ত্রীয় পরিভাষার নির্ঘণ্ট, স্থান ও জনপদের নির্ঘণ্ট, কঠিন শব্দের (গারীব) নির্ঘণ্ট এবং উৎস ও তথ্যসূত্র সমূহের নির্ঘণ্ট।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌الصعوبات التي واجهتني:

- لعل أول الصعوبات التي واجهتني كون هذا المخطوط لا يوجد منه سوى نسخة وحيدة، وهي على يتمها مبتورة الأول والآخر، وهذا يجعل العمل فيها عسيرا.

- صعوبة البحث عن النصوص المنقولة في الكتاب من مواردها التي نقل منها المصنف لمقابلتها بما في المخطوط، وكذا صعوبة العثور على جميع ما نقل المحدثون عن ابن المواق - سواء ما نسب منه للبغية بالنص الصريح، أو ما نسب لإبن المواق دون ذكر اسم الكتاب الذي نقل منه، وهذا ما جعلني ملزماً بجرد (1) عدة كتب؛ منها: ملء العيبة، لأبي عبد الله محمد بن عمر بن رشيد الفهري السبتي، والنكت على كتاب ابن الصلاح، للزركشي، والتقييد والإيضاح، للحافظ زين الدين العراقي، والتبصرة والتذكرة له أيضًا -وهو شرحه لألفيته- وفتح الباري، لإبن حجر العسقلاني، والنكت على كتاب ابن الصلاح، لإبن حجر كذلك، والتلخيص الحبير، له أيضًا، وفتح المغيث، للسخاوي، وتدريب الراوي، للسيوطي، وفتح الباقي على ألفية العراقي، لزكرياء الأنصاري، وتوضيح الأفكار لمعاني تنقيح الأنظار للصنعاني، والتعليق المغني على سنن الدارقطني، لأبي الطيب محمد شمس الحق آبادي، وكشف الخفاء ومزيل الإلباس عما اشتهر من الأحاديث على ألسنة الناس، لإسماعيل بن محمد العجلوني.

- لم يقيد على النسخة سماع ولا رواية؛ وذلك بسبب البتر.

- عدم استطاعة الجزم -في أول الأمر- بمؤلف هذا الكتاب: "بغية النقاد"، هل هو لإبن المواق، أو لإبن رشيد السبتي؟

- ترجمة ابن الواق نادرة، وليس في المصادر ما يشفي الغليل عن الحياة العلمية لهذا العَلَم. وعدم وجود دراسة عن ابن الواق تسلط الضوء على منهجه أو تتناول التعريف به.

--------------------------------------------

(1) قمت بهذا الجرد حسب ما تيسر لي؛ فالأغلب الأعم منها تتبعته تتبعاً كاملاً، والبعض منها اعتمدت فيه على الفهارس الموضوعة له.
আমি যে সকল সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি:

- সম্ভবত আমি প্রথম যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি তা হলো, এই পাণ্ডুলিপিটির কেবল একটিই কপি বিদ্যমান। এছাড়া পাণ্ডুলিপিটি অসম্পূর্ণ হওয়ার পাশাপাশি এর শুরু এবং শেষ উভয় দিকই কর্তিত, যা এতে কাজ করাকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে।

- পাণ্ডুলিপিতে থাকা পাঠ্যগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখার জন্য গ্রন্থকার যে সকল উৎস থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, সেই উৎসগুলোতে উক্ত উদ্ধৃতিগুলো খুঁজে বের করার কঠিন কাজ। অনুরূপভাবে, মুহাদ্দিসগণ ইবনুল মাউওয়াক থেকে যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার সবটুকু খুঁজে বের করার কাঠিন্য—চাই তা স্পষ্টভাবে ‘আল-বুগইয়াহ’ গ্রন্থের নামে হোক অথবা গ্রন্থের নাম উল্লেখ ছাড়াই ইবনুল মাউওয়াকের দিকে নিসবত করে হোক। আর এ কারণেই আমি বেশ কিছু কিতাব আদ্যোপান্ত পাঠ (১) করতে বাধ্য হয়েছি; যার মধ্যে রয়েছে: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন রুশদ আল-ফিহরি আস-সাবতি-র ‘মিলউল আইবাহ’, যারকাশির ‘আন-নুকাত আলা কিতাবিবনিস সালাহ’, হাফেজ যাইনুদ্দিন ইরাকির ‘আত-তাকয়িদ ওয়াল ঈযাহ’ এবং তাঁরই রচিত ‘আত-তাবসিরাহ ওয়াত তাযকিরাহ’—যা তাঁর আলফিয়্যাহর ব্যাখ্যাগ্রন্থ—ইবনে হাজার আল-আসকালানির ‘ফাতহুল বারী’, ইবনে হাজারের ‘আন-নুকাত আলা কিতাবিবনিস সালাহ’, তাঁরই রচিত ‘আত-তালখিসুল হাবির’, সাখাওয়ির ‘ফাতহুল মুগিস’, সুয়ুতির ‘তাদরীবুর রাবী’, জাকারিয়া আনসারির ‘ফাতহুল বাকি আলা আলফিয়্যাতিল ইরাকি’, সান'আনির ‘তাওযীহুল আফকার লি-মাআনি তানকীহিল আনযার’, আবু তৈয়িব মুহাম্মদ শামসুল হক আজিমাবাদির ‘আত-তালিকুল মুগনি আলা সুনানিদ দারা কুতনি’ এবং ইসমাইল বিন মুহাম্মদ আল-আজলুনির ‘কাশফুল খাফা ওয়া মুজিলুল ইলবাস আম্মাশতাহারা মিনাল আহাদিস আলা আলসিনাতিন নাস’।

- পাণ্ডুলিপিটি কর্তিত হওয়ার কারণে এতে কোনো ‘সামা’ (শ্রবণ) বা ‘রিওয়ায়াত’ (বর্ণনা) লিপিবদ্ধ ছিল না।

- শুরুর দিকে এই গ্রন্থের লেখক সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব ছিল না যে, ‘বুগইয়াতুন নুক্কাদ’ গ্রন্থটি কি ইবনুল মাউওয়াকের নাকি ইবনে রুশদ আস-সাবতির?

- ইবনুল মাউওয়াকের জীবনী অত্যন্ত দুর্লভ এবং উৎসগ্রন্থগুলোতে এই মনীষীর ইলমি জীবন সম্পর্কে তৃপ্তিদায়ক কোনো তথ্য নেই। এছাড়া ইবনুল মাউওয়াকের মানহাজ (পদ্ধতি) বা তাঁর পরিচিতি তুলে ধরে এমন কোনো গবেষণামূলক কাজও বিদ্যমান নেই।

--------------------------------------------

(১) আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এই অনুসন্ধান কাজ সম্পন্ন করেছি; এগুলোর অধিকাংশ আমি পূর্ণাঙ্গভাবে তালাশ করেছি এবং কয়েকটির ক্ষেত্রে আমি তাতে বিন্যস্ত নির্ঘণ্ট বা সূচিপত্রের ওপর নির্ভর করেছি।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌خطة العمل

قسمت الكتاب إلى قسمين:

- قسم للدراسة.

- وقسم للتحقيق والتعليق.

أما قسم الدراسة:

فيحتوي على: مقدمة وبابين.

المقدمة: وقد تناولت فيها:

- أسباب اختيار الموضوع.

- وبيان المنهج الذي سلكته في تحقيق النص.

مع الإشارة إلى الصعوبات التي واجهتني في هذا البحث.

أما الباب الأول: فقد افتتحته بمدخل تمهيدي لعلم الحديث بالمغرب.

وقسمت هذا الباب إلى قسمين، وجعلت في القسم الأول ثلاثة فصول.

الفصل الأول: منها عقدته لعبد الحق الإشبيلي، وتحته المباحث الآتية:

المبحث الأول: التعريف بعبد الحق الإشبيلي

المبحث الثاني: شيوخ عبد الحق الإشبيلي

المبحث الثالث: تلاميذ عبد الحق الإشبيلي

المبحث الرابع: مصنفات عبد الحق الإشبيلي

المبحث الخامس: المكانة العلمية لعبد الحق الإشبيلي
‌কর্মপরিকল্পনা

আমি গ্রন্থটিকে দুটি অংশে বিভক্ত করেছি:

- একটি গবেষণা অংশ।

- এবং একটি সম্পাদনা ও টীকা প্রদান অংশ।

গবেষণা অংশ সম্পর্কে:

এতে রয়েছে: একটি ভূমিকা এবং দুটি অধ্যায়।

ভূমিকা: এতে আমি আলোচনা করেছি:

- বিষয়টি নির্বাচনের কারণসমূহ।

- এবং মূলপাঠ সম্পাদনায় আমি যে পদ্ধতি অনুসরণ করেছি তার বর্ণনা।

সেইসাথে এই গবেষণায় আমি যেসব প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি সেগুলোর উল্লেখসহ।

প্রথম অধ্যায় সম্পর্কে: আমি এটি মরক্কোর হাদিস শাস্ত্রের উপর একটি প্রারম্ভিক উপক্রমণিকার মাধ্যমে শুরু করেছি।

আমি এই অধ্যায়টিকে দুটি ভাগে বিভক্ত করেছি এবং প্রথম ভাগে তিনটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করেছি।

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি আমি আব্দুল হক আল-ইশবিলির জন্য বরাদ্দ করেছি এবং এর অধীনে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আব্দুল হক আল-ইশবিলির পরিচয়

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আব্দুল হক আল-ইশবিলির শিক্ষকবৃন্দ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আব্দুল হক আল-ইশবিলির ছাত্রবৃন্দ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: আব্দুল হক আল-ইশবিলির রচনাবলী

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আব্দুল হক আল-ইশবিলির জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أما الفصل الثاني: فقد خصصته لإبن القطان الفاسي، وتحته المباحث الآتية:

المبحث الأول: التعريف بابن القطان الفاسي

المبحث الثاني: نشأته العلمية

المبحث الثالث: شيوخ ابن القطان الفاسي

المبحث الرابع: تلاميذ ابن القطان

المبحث الخامس: مصنفات ابن القطان

المبحث السادس: المكانة العلمية لإبن القطان

المبحث السابع: أبو الحسن بن القطان محافظ مكتبة القصر الموحدي

 

أما الفصل الثالث: فقد عقدته لإبن رُشَيْد السبتي، وتحته المباحث التالية:

المبحث الأول: التعريف بابن رشيد السبتي

المبحث الثاني: شيوخ ابن رشيد السبتي

المبحث الثالث: تلاميذ ابن رشيد السبتي

المبحث الرابع: مذهب ابن رشيد الفقهي

المبحث الخامس: رحلة ابن رشيد إلى الأندلس وفاس

المبحث السادس: مصنفات ابن رشيد

المبحث السابع: مكانة ابن رشيد العلمية

 

أما القسم الثاني من هذا الباب، ففيه تفصيل لحركة التأليف الحديثية من "الأحكام" إلى "البغية". صدرته بتمهيدين، يتلوهما فصلان

التمهيد الأول: علم العلل
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আমি এটি ইবনে আল-কাত্তান আল-ফাসির জন্য সুনির্দিষ্ট করেছি এবং এর অধীনে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবনে আল-কাত্তান আল-ফাসির পরিচয়

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক বিকাশ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইবনে আল-কাত্তান আল-ফাসির শিক্ষকবৃন্দ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইবনে আল-কাত্তানের ছাত্রবৃন্দ

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: ইবনে আল-কাত্তানের রচনাবলি

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: ইবনে আল-কাত্তানের জ্ঞানগত মর্যাদা

সপ্তম অনুচ্ছেদ: আবুল হাসান ইবনে আল-কাত্তান, মুওয়াহহিদি রাজপ্রাসাদ গ্রন্থাগারের সংরক্ষক

 

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আমি এটি ইবনে রুশাইদ আস-সাবতির জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং এর অধীনে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: ইবনে রুশাইদ আস-সাবতির পরিচয়

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: ইবনে রুশাইদ আস-সাবতির শিক্ষকবৃন্দ

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইবনে রুশাইদ আস-সাবতির ছাত্রবৃন্দ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইবনে রুশাইদের ফিকহি মাযহাব

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: আন্দালুস ও ফাসে ইবনে রুশাইদের সফর

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: ইবনে রুশাইদের রচনাবলি

সপ্তম অনুচ্ছেদ: ইবনে রুশাইদের জ্ঞানগত মর্যাদা

 

আর এই অধ্যায়ের দ্বিতীয় অংশে 'আল-আহকাম' থেকে 'আল-বুগইয়াহ' পর্যন্ত হাদিস বিষয়ক গ্রন্থ রচনার ধারার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। আমি এর শুরুতে দুটি উপক্রমণিকা উপস্থাপন করেছি, যার পর দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম উপক্রমণিকা: ইলমুল ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি বিষয়ক জ্ঞান)
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
التمهيد الثاني: الكتب المؤلفة في أحاديث الأحكام

 

الفصل الأول: عقدته لكتابي: الأحكام ("الكبرى" و"الصغرى") لعبد الحق الإشبيلي

ابتدأته بتمهيد فيه وإن لسبب تأليف عبد الحق لكتب الأحكام

بعده المباحث الآتية:

المبحث الأول: الأحكام الكبرى

المبحث الثاني: الأحكام الصغرى

المبحث الثالث: الكتب المصنفة على الأحكام الصغرى

 

الفصل الثاني وهو خاص بـ"الأحكام الشرعية الوسطى"

وفيه المباحث التالية:

المبحث الأول: التعريف بـ"الأحكام الوسطى".

المبحث الثاني: منهج الإشبيلي في "الأحكام الوسطى"

المبحث الثالث: مصادر الكتاب

المبحث الرابع: القيمة العلمية للكتاب

 

الباب الثاني: وقد عقدته للتعريف بابن المواق وكتابه "بغية النقاد"

وقد اشتمل على خمسة فصول:

خصصت الفصل الأول للتعريف بابن المواق ومكانته العلمية

افتتحته بتمهيد: ركزت فيه على ندرة ترجمة ابن المواق وآثار ذلك على الباحثين، تلاه المباحث الآتية:
দ্বিতীয় ভূমিকা: আহকাম সংক্রান্ত হাদীসের ওপর রচিত গ্রন্থসমূহ

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি আমি আব্দুল হক আল-ইশবিলীর দুই কিতাব: আল-আহকাম ("আল-কুবরা" ও "আস-সুগরা")-এর জন্য নির্ধারণ করেছি

আমি এটি একটি ভূমিকার মাধ্যমে শুরু করেছি, যাতে আব্দুল হক কর্তৃক আহকামের কিতাবসমূহ রচনার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে

এরপর রয়েছে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ:

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল-আহকাম আল-কুবরা

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: আল-আহকাম আস-সুগরা

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: আল-আহকাম আস-সুগরা-এর ওপর ভিত্তি করে রচিত গ্রন্থসমূহ

 

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি "আল-আহকাম আশ-শারইয়্যাহ আল-উসতা" এর জন্য বিশেষায়িত

এবং এতে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: "আল-আহকাম আল-উসতা" এর পরিচিতি।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: "আল-আহকাম আল-উসতা" গ্রন্থে আল-ইশবিলীর পদ্ধতি

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: গ্রন্থটির উৎসসমূহ

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: গ্রন্থটির ইলমী গুরুত্ব ও মান

 

দ্বিতীয় অধ্যায়: এটি আমি ইবনুল মাওয়াক এবং তাঁর গ্রন্থ "বুগইয়াতুন নুক্কাদ"-এর পরিচিতির জন্য নির্ধারণ করেছি

এটি পাঁচটি পরিচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

আমি প্রথম পরিচ্ছেদটি ইবনুল মাওয়াকের পরিচিতি এবং তাঁর ইলমী মর্যাদার জন্য নির্দিষ্ট করেছি

আমি এটি একটি ভূমিকার মাধ্যমে শুরু করেছি: এতে আমি ইবনুল মাওয়াকের জীবনীগ্রন্থের দুষ্প্রাপ্যতা এবং গবেষকদের ওপর এর প্রভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি, এরপর রয়েছে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদসমূহ:
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
المبحث الأول: اسم ونسب ابن المواق

المبحث الثاني: البيئة العلمية التي نشأ بها ابن المواق

المبحث الثالث: شيوخ ابن المواق

المبحث الرابع: تلاميذ ابن المواق

المبحث الخامس: المذهب الفقهي لإبن المواق

المبحث السادس: المكانة العلمية لإبن المواق

المبحث السابع: ابن المواق والتصحيح والتضعيف

المبحث الثامن: ابن المواق وعلم الجرح والتعديل

المبحث التاسع: ابن المواق وعلم علل الحديث

المبحث العاشر: مصنفات ابن المواق

المبحث الحادي عشر: تأكيد نسبة كتاب "بغية النقاد" لإبن المواق

 

أما الفصل الثاني فقد عقدته لبيان مضمن كتاب: "بغية النقاد". وقد حاولت فيه أن أضع ملخصاً للتعقيبات التي وردت في كتاب: "بغية النقاد".

 

أما الفصل الثالث فقد خُصص لذكر موارد ابن الواق في "بغية النقاد"، وقد قسمتها إلى محاور كالآتي:

- كتب متون الحديث

- كتب العلل الحديثية

- كتب التواريخ

- كتب المعاجم
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াকের নাম ও বংশ পরিচয়

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াক যে জ্ঞানতাত্ত্বিক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াকের শিক্ষকবৃন্দ

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াকের ছাত্রবৃন্দ

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াকের ফিকহি মাযহাব

ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াকের জ্ঞানতাত্ত্বিক মর্যাদা

সপ্তম পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াক এবং হাদিস বিশুদ্ধকরণ ও দুর্বলকরণ (তাসহিহ ও তাদঈফ)

অষ্টম পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াক এবং জারহ ও তা'দীল (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) শাস্ত্র

নবম পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াক এবং হাদিসের গূঢ় ত্রুটি (ইলাল) শাস্ত্র

দশম পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াকের রচনাবলি

একাদশ পরিচ্ছেদ: ইবনুল মাওয়াকের প্রতি "বুগইয়াতুন নুক্কাদ" গ্রন্থটির সম্বন্ধের নিশ্চয়তা প্রদান

 

আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি আমি "বুগইয়াতুন নুক্কাদ" গ্রন্থের বিষয়বস্তু বর্ণনার জন্য সাজিয়েছি। এতে আমি "বুগইয়াতুন নুক্কাদ" গ্রন্থে আসা পর্যালোচনাসমূহের একটি সারসংক্ষেপ পেশ করার চেষ্টা করেছি।

 

আর তৃতীয় অধ্যায়টি "বুগইয়াতুন নুক্কাদ" গ্রন্থে ইবনুল মাওয়াকের তথ্যসূত্রের বর্ণনায় সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে, যা আমি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোতে ভাগ করেছি:

- হাদিসের মূলপাঠের (মতন) কিতাবসমূহ

- হাদিসের গূঢ় ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ক কিতাবসমূহ

- ইতিহাস গ্রন্থসমূহ

- অভিধান ও কোষগ্রন্থসমূহ
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
- كتب أطراف الحديث

- كتب الجرح والتعديل

- كتب المؤتلف، والمختلف، والمتفق والمفترق …

- كتب طبقات الصحابة

- كتب الفقه

- كتب في فنون وعلوم مختلفة

 

أما الفصل الرابع فقد عقدته لبيان جانب من مشاركة ابن المواق في تأسيس علوم الحديث عنونته بـ: جهود ابن المواق في علوم الحديث، وتحته المباحث التالية:

المبحث الأول: الحكم على السند المعنعن

المبحث الثاني: الحكم على السند المؤنن

المبحث الثالث: متى يحكم على الحديث بالانقطاع

المبحث الرابع: حكم مراسيل الصحابة

المبحث الخامس: حكم الرواية بالمكاتبة

المبحث السادس: حكم النسبة إلى الجد

المبحث السابع: هل سمع الحسن من ابن عباس، رضي الله عنهما؟

المبحث الثامن: شرط البخاري ومسلم

المبحث التاسع: الحديث الحسن

المبحث العاشر: الجهالة وحكمها
- আতরাফুল হাদিসের গ্রন্থসমূহ

- জারহ ও তা'দিলের গ্রন্থসমূহ

- মুতালিফ-মুখতালিফ এবং মুত্তাফিক-মুফতারিকের গ্রন্থসমূহ ...

- সাহাবায়ে কেরামের তবকাতের গ্রন্থসমূহ

- ফিকহশাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ

- বিভিন্ন শিল্প ও শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহ

 

চতুর্থ পরিচ্ছেদটি আমি হাদিস শাস্ত্রের ভিত্তি স্থাপনে ইবনুল মাওয়াকের অবদানের একটি দিক তুলে ধরার জন্য নির্ধারণ করেছি, যার শিরোনাম দিয়েছি: হাদিস শাস্ত্রে ইবনুল মাওয়াকের প্রচেষ্টাসমূহ। এর অধীনে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদগুলো রয়েছে:

প্রথম অনুচ্ছেদ: মু'আন'আন সনদের ওপর হুকুম

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: মু'আন্নান সনদের ওপর হুকুম

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: হাদিসকে কখন বিচ্ছিন্ন (ইনকিতা) হিসেবে গণ্য করা হবে

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: সাহাবীগণের মারাসিল হাদিসের হুকুম

পঞ্চম অনুচ্ছেদ: মুকাতাবার (পত্রের মাধ্যমে বর্ণনা) মাধ্যমে বর্ণনার হুকুম

ষষ্ঠ অনুচ্ছেদ: দাদার দিকে সম্বন্ধ করার হুকুম

সপ্তম অনুচ্ছেদ: হাসান কি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে শ্রবণ করেছেন?

অষ্টম অনুচ্ছেদ: বুখারি ও মুসলিমের শর্তাবলি

নবম অনুচ্ছেদ: হাসান হাদিস

দশম অনুচ্ছেদ: জাহালাত (পরিচয়হীনতা) এবং এর হুকুম
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
المبحث الحادي عشر: بم تثبت العدالة؟

المبحث الثاني عشر: الرواية بالمعنى

المبحث الثالث عشر: الإهتمام بنسبة روايات كتب الحديث إلى مؤلفيها

وآخر هذه الفصول هو الفصل الخامس، وقد تناولت فيه أمورًا متفرقة لها علاقة بـ"بغية النقاد"، من ذلك:

- التعقيب وآدابه عند ابن المواق

- ضوابط النقل عند ابن المواق

- أصول التخريج عند ابن المواق

- فوائد كتاب: "بغية النقاد"

- نقول عن ابن المواق

- مؤاخذات على ابن المواق

وبهذا ينتهي قسم الدراسة، ويليه قسم التحقيق والتعليق.

هذا وإني لا أدعي الكمال فيما قمت به، بل هو جهد المقل، فما كان منه صوابًا فهو من توفيق الله عز وجل، وما كان فيه من تقصير فأستغفر الله منه.

والله أسأل أن يثيبني على هذا العمل دنيا وأخرى؛ وأن ينفع به، إنه سميع مجيب.

ثم لا يفوتني أن أتقدم بالشكر والعرفان بالجميل لفضيلة أستاذي الدكتور زين العابدين بلافريج على إشرافه على هذه الرسالة، والأساتذة الكرام: والدكتور محمد يسف، والدكتور الحسن العبادي، والدكتور محمد بن عبد الرحمن المغراوي، والدكتور محمد أبو الفضل، جازاهم الله بأحسن الجزاء على ما
একাদশ পরিচ্ছেদ: আদালাত (নির্ভরযোগ্যতা) কিসের দ্বারা প্রমাণিত হয়?

দ্বাদশ পরিচ্ছেদ: অর্থগত বর্ণনা (রিওয়ায়াত বিল মা'না)

ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ: হাদিসগ্রন্থসমূহের বর্ণনাগুলোকে তাদের মূল লেখকদের সাথে সম্পৃক্ত করার গুরুত্ব

আর এই পরিচ্ছেদগুলোর মধ্যে সর্বশেষটি হলো পঞ্চম পরিচ্ছেদ, যাতে আমি 'বুগইয়াতুন নুক্কাদ' এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিবিধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি, যার মধ্যে রয়েছে:

- ইবনুল মাওয়াক্কের নিকট সমালোচনা ও এর শিষ্টাচারসমূহ

- ইবনুল মাওয়াক্কের নিকট উদ্ধৃতি প্রদানের নিয়মাবলি

- ইবনুল মাওয়াক্কের নিকট তাখরীজের মূলনীতিসমূহ

- 'বুগইয়াতুন নুক্কাদ' গ্রন্থের উপকারিতাসমূহ

- ইবনুল মাওয়াক্ক থেকে প্রাপ্ত উদ্ধৃতিসমূহ

- ইবনুল মাওয়াক্কের ওপর গৃহীত কিছু পর্যালোচনা

এর মাধ্যমেই গবেষণামূলক অংশ সমাপ্ত হলো, এবং এর পরেই পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও টীকা সংযোজন (তাহকিক ও তালীক) অংশটি শুরু হচ্ছে।

এক্ষেত্রে আমি পূর্ণতার দাবি করি না, বরং এটি এক নগণ্য প্রচেষ্টা মাত্র; এতে যা কিছু সঠিক হয়েছে তা মহান আল্লাহর তাওফীক এবং যা কিছু ত্রুটি হয়েছে সেজন্য আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাচ্ছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে আমাকে এই কাজের বিনিময় দান করেন এবং এর দ্বারা উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি শ্রবণকারী ও কবুলকারী।

অতঃপর আমার শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর যাইনুল আবিদিন বেলাফরিজ-এর প্রতি এই গবেষণাপত্রটি তত্ত্বাবধান করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ঋণ স্বীকার করছি, এবং সেই সাথে সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ: ডক্টর মুহাম্মদ ইয়াসিফ, ডক্টর আল-হাসান আল-আব্বাদি, ডক্টর মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মাগরাবি এবং ডক্টর মুহাম্মদ আবু আল-ফাদল-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি; আল্লাহ যেন তাদের সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন যা তারা...
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
قدموا من نصح وإرشاد.

كما أتوجه بالشكر العميم للأخوة الأساتذة الذين مكنوني من بعض المصادر والمراجع التي لم يكن لي أن أحصل عليها إلا من طريقهم، كما أسجل هنا شكري الخاص للشيخ الجليل العالم محمد بوخبزة الذي أمدني ببعض المخطوطات القيمة.

شكر الله لكل من تقدم ذكرهم ولغيرهم ممن لم أذكرهم، والله يتولى الصالحين.

والحمد لله الذي بنعمته تتم الصالحات، والصلاة والسلام الأتمان الأكملان على نبينا الكريم وعلي الله وصحبه أجمعين.

 

وكتبه د/ محمد خرشافي

أستاذ التعليم العالي بكلية الآداب والعلوم الإنسانية

جامعة الحسن الثاني الدار البيضاء - عين الشق - المغرب
যারা উপদেশ ও নির্দেশনা প্রদান করেছেন।

সেইসাথে আমি ঐ সকল শিক্ষক ভাইদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি, যারা আমাকে এমন কিছু উৎস ও তথ্যসূত্র পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন যা তাদের মাধ্যম ছাড়া সংগ্রহ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। আমি এখানে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সম্মানিত মহান আলিম শায়খ মুহাম্মদ বুখুবজাহ-এর প্রতি, যিনি আমাকে কিছু মূল্যবান পাণ্ডুলিপি সরবরাহ করেছেন।

যাঁদের নাম ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে এবং যাঁদের নাম আমি উল্লেখ করতে পারিনি, আল্লাহ তাঁদের সকলকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। আর আল্লাহই সৎকর্মপরায়ণদের অভিভাবক।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যাঁর অনুগ্রহে সকল নেক কাজ সম্পন্ন হয়। আর আমাদের সম্মানিত নবী এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর প্রতি বর্ষিত হোক পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাঙ্গীণ দরুদ ও সালাম।

 

এটি লিখেছেন ডক্টর মুহাম্মদ খারশাফি

উচ্চশিক্ষা স্তরের অধ্যাপক, কলা ও মানবিক অনুষদ

হাসান দ্বিতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কাসাব্লাঙ্কা - আইনুশ শাক - মরক্কো
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌الباب الأول

‌‌القسم الأول

حلقات المحدثين المغاربة

في القرنين السادس والسابع الهجريين

الفصل الأول: عبد الحق الإشبيلي

الفصل الثاني: ابن القطان الفاسي

الفصل الثالث: ابن رشيد السبتي
প্রথম অধ্যায়

প্রথম বিভাগ

হিজরী ষষ্ঠ ও সপ্তম শতাব্দীতে

মাগরেবী মুহাদ্দিসগণের জ্ঞানমজলিস

প্রথম পরিচ্ছেদ: আবদুল হক আল-ইশবিলি

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: ইবনে রুশাইদ আস-সাবতি
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌مدخل تمهيدي لعلم الحديث بالغرب:

كان دخول الحديث النبوي إلى بلاد المغرب والأندلس مع الفاتحين الأولى شأنه شأن القرآن الكريم، وكانت العناية به واضحة من أول يوم عرف المغاربة شريعة الإسلام، ذلك أنه أحد هذين الأصلين الذين بني عليها هذا الدين، ولكن لم يكن الأمر متسعاً بين سائر العلماء بالمغرب، ولهذا نلمس طائفة من المحدثين الذين يظهرون من حين لآخر؛ وهذه بعض من هذه النماذج:

- معاوية بن صالح بن حُدير الحضرمي (ت 168 هـ) راوية أهل الشام، دخل الأندلس سنة ثلاث وعشرين ومائة، قال عنه النباهي: كان من جلة أهل العلم، ورواة الحديث. تولى التحديث بالأندلس، وقصده الناس للرواية عنه من كل صوب. (1)

- داود بن جعفر بن أبي صغير، من أهل قرطبة، سمع من مالك بن أنس وسفيان الثوري، ومعاوية بن صالح، قال ابن وضاح: ورويت أنا عنه، وروى هو عني. ذكر أنه أملى على أحد تلامذته ثلاثة آلاف حديث. (2)

وظهور هذه العينات من المحدثين لم يكن يسمح بأن تكون صبغة الحديث صبغة عامة بالبلاد في هذه الفترة، ولكنها كانت بذوراً صالحة لأشجار باسقة فيما يعقبها من الزمن، وقد بدأ هذا التحول نحو هذه الغاية بعد العودة الثانية لمحمد بن وضاح بن بزيغ القرطبي (202 - 277 هـ) من رحلته المشرقية، حيث تم له الأخذ عن كبار المحدثين في عصره أمثال أحمد بن حنبل، ويحيى بن معين، وعلي بن المديني. لذا يمكن أن يقال إن ابن وضاح هو أول من أدخل علم الحديث إلى بلاد الأندلس. (3)

--------------------------------------------

(1) "تاريخ العلماء والرواة للعلم بالأندلس، لإبن الفرضى 2/ 137 … - سير أعلام النبلاء، للذهبي 7/ 158 - تاريخ قضاة الأندلس، للنباهي ص: 43.

(2) جذوة المقتبس في تاريخ علماء الأندلس، للحميدي 1/ 333 - تاريخ العلماء والرواة للعلم … لإبن الفرضي 1/ 169.

(3) تاريخ العلماء والرواة للعلم … لإبن الفرضي 2/ 17 ترجمة 1136 - تذكرة الحفاظ، للذهبي 2/ 646 ترجمة 670 - الديباج المذهب، لإبن فرحون ص: 239.
মাগরেবে হাদিস শাস্ত্রের একটি প্রাথমিক ভূমিকা:

মাগরেব (উত্তর আফ্রিকা) এবং আন্দালুস ভূখণ্ডে পবিত্র কুরআনের মতোই প্রথম বিজেতাদের হাত ধরে নববী হাদিসের আগমন ঘটে। মাগরেববাসীগণ যখন প্রথম ইসলামের শরিয়ত সম্পর্কে অবগত হন, তখন থেকেই এর প্রতি তাদের যত্ন ছিল সুস্পষ্ট; কারণ এটি সেই দুটি মূল ভিত্তির একটি যার ওপর এই দ্বীন প্রতিষ্ঠিত। তবে মাগরেবের সকল আলেমদের মধ্যে এই বিষয়টি তেমন বিস্তৃত ছিল না। এ কারণে আমরা মুহাদ্দিসদের একটি দলের দেখা পাই যারা সময়ে সময়ে আবির্ভূত হন; নিচে এর কিছু দৃষ্টান্ত দেওয়া হলো:

- মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ ইবনে হুদাইর আল-হাদরামি (মৃত্যু ১৬৮ হিজরি), শামের অধিবাসীদের হাদিস বর্ণনাকারী; তিনি ১২৩ হিজরিতে আন্দালুসে প্রবেশ করেন। আন-নুবাহি তার সম্পর্কে বলেন: তিনি ইলমের অধিকারী এবং হাদিস বর্ণনাকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তিনি আন্দালুসে হাদিস বর্ণনার দায়িত্ব পালন করেন এবং সকল দিক থেকে লোকেরা তার থেকে হাদিস শ্রবণের উদ্দেশ্যে তার নিকট আসত। (১)

- দাউদ ইবনে জাফর ইবনে আবি সাগির, কর্ডোভার (কুরতুবা) অধিবাসী; তিনি মালিক ইবনে আনাস, সুফিয়ান সাওরি এবং মুয়াবিয়া ইবনে সালিহ থেকে হাদিস শুনেছেন। ইবনুল ওয়াদদাহ বলেন: আমি তার থেকে বর্ণনা করেছি এবং তিনি আমার থেকে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি তার একজন ছাত্রকে তিন হাজার হাদিস শ্রুতলিপি হিসেবে লিখিয়েছিলেন। (২)

মুহাদ্দিসদের এই নমুনাগুলোর আবির্ভাব তৎকালীন সময়ে হাদিস চর্চাকে এই ভূখণ্ডে একটি সাধারণ রূপ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। তবে এগুলো পরবর্তী সময়ের বিশাল বৃক্ষগুলোর জন্য উপযুক্ত বীজ হিসেবে কাজ করেছিল। এই লক্ষ্যের দিকে রূপান্তর শুরু হয় মুহাম্মাদ ইবনে ওয়াদদাহ ইবনে বাযিগ আল-কুরতুবি (২০২ - ২৭৭ হিজরি)-র তার প্রাচ্য সফর থেকে দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তনের পর, যেখানে তিনি তার যুগের বড় বড় মুহাদ্দিস যেমন আহমদ ইবনে হাম্বল, ইয়াহইয়া ইবনে মাইন এবং আলি ইবনুল মাদিনি-র নিকট থেকে শিক্ষা লাভ করেন। তাই বলা যেতে পারে যে, ইবনুল ওয়াদদাহ-ই প্রথম ব্যক্তি যিনি আন্দালুস ভূখণ্ডে হাদিস শাস্ত্রের সূচনা করেন। (৩)

--------------------------------------------

(১) ইবনুল ফারদি রচিত 'তারিখুল উলামা ওয়ার রুয়াত লিল ইলমি বিল আন্দালুস' ২/১৩৭ … - আয-যাহাবি রচিত 'সিয়ারু আলামিন নুবালা' ৭/১৫৮ - আন-নুবাহি রচিত 'তারিখু কুদাতি আন্দালুস', পৃষ্ঠা: ৪৩।

(২) আল-হুমাইদি রচিত 'জাযওয়াতুল মুক্তাবিস ফি তারিখি উলামাইল আন্দালুস' ১/৩৩৩ - ইবনুল ফারদি রচিত 'তারিখুল উলামা ওয়ার রুয়াত লিল ইলমি...' ১/১৬৯।

(৩) ইবনুল ফারদি রচিত 'তারিখুল উলামা ওয়ার রুয়াত লিল ইলমি...' ২/১৭, জীবনী নং ১১৩৬ - আয-যাহাবি রচিত 'তাযকিরাতুল হুফফাজ' ২/৬৪৬, জীবনী নং ৬৭০ - ইবনে ফারহুন রচিত 'আদ-দিবাজুল মুজাহহাব', পৃষ্ঠা: ২৩৯।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
ويأتي بعد ابن وضاح أبو عبد الرحمن بقي بن مخلد القرطبي (201 - 276 هـ)، وله رحلتان إلى المشرق استغرق في الأولى عشرين سنة، وفي الثانية أربع عشرة سنة، وقد كانت الحصيلة العلمية لهاتين الرحلتين هامة، ويرجع الفضل لبقي بن مخلد في إدخال كثير من الكتب إلى الأندلس، منها: مصنف ابن أبي شيبة، كما كان له مزية الانتقال الفعلي للمغاربة من الإنكباب على الفقه المالكي بفروعه إلى دراسة الكتاب والسنة، واستخلاص الأحكام من هذين الأصلين، وقد ألف في التفسير والحديث وطبقات الصحابة. (1)

ومن أعلام المحدثين بعد هذه الفترة قاسم بن أصبغ البيَّاني (244 - 340 هـ)، وهو الآخر من الذين ارتحلوا إلى المشرق، وجابوا الآفاق، وأخذوا عن كبار محدثي العصر، وإليه يرجع الفضل في إدخال كثير من كتب الحديث وتواريخ الرجال إلى الأندلس؛ مثل: كتاب التاريخ لأحمد بن زهير بن حرب، كما أنه بلغ شأوا عالياً في علم الحديث، له مصنفات قيمة؛ منها مصنفه الخرج على كتاب أبي داود، وغيره. اشتغل بالإقراء والتحديث، ولما طال عمره في ذلك صارت الرحلة تشد إليه، فاجتمع في الأخذ عنه الكبار والصغار، والشيوخ والكهول والأحداث. (2)

وممن اشتهر من المحدتين المغاربة آنذاك: أبو القاسم، خالد بن سعد القرطبي (ت 352 هـ)، وكان له شأو وأي شأو في علم الحديث، حتى إن الحكم الستنصر (302 - 366 هـ) كان يقول في حقه: "إذا فاخرنا أهل المشرق بيحيى ابن معين (ت 233 هـ) فاخرناهم بخالد بن سعد". (3)

--------------------------------------------

(1) "تاريخ العلماء والرواة للعلم … لإبن الفرضي 1/ 107. ترجمة 283 - جذرة المقتبس في تاريخ علماء الأندلس، للحميدي 1/ 274 ترجمة 332 - تاريخ قضاة الأندلس، للنباهي. ص: 18.

(2) تاريخ العلماء والرواة. لإبن الفرضي 1/ 406 ترجمة 1070 - الديباج المذهب، لإبن فرحون - بتحقيق محمد الأحمدي - 2/ 145 .. الرسالة المستطرفة، لإبن جعفر الكتاني ص: 25.

(3) تاريخ العلماء والرواة .. لإبن الفرضي 1/ 154 ترجمة 396.
ইবনে ওয়াদদাহর পরে আসেন আবু আব্দুর রহমান বাকি ইবনে মাখলাদ আল-কুরতুবি (২০১ - ২৭৬ হিজরি)। তিনি প্রাচ্যে দু’বার সফর করেন, প্রথমবার ২০ বছর এবং দ্বিতীয়বার ১৪ বছর সময় অতিবাহিত করেন। এই দুই সফরের ইলমি অর্জন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্দালুসে অনেক কিতাব প্রবেশের কৃতিত্ব বাকি ইবনে মাখলাদের; তন্মধ্যে রয়েছে: মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবাহ। এছাড়া মাগরেববাসীদের মালেকি ফিকহের খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর পড়ে থাকার পরিবর্তে সরাসরি কিতাব ও সুন্নাহর অধ্যয়ন এবং এই দুই মূল উৎস থেকে বিধান আহরণের দিকে ধাবিত করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল। তিনি তাফসির, হাদিস এবং সাহাবিদের স্তরবিন্যাস (তবকাত) বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। (১)

এই সময়ের পরবর্তী প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগণের অন্তর্ভুক্ত হলেন কাসেম ইবনে আসবাগ আল-বায়্যানি (২৪৪ - ৩৪০ হিজরি)। তিনিও তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা প্রাচ্যে সফর করেছিলেন, দিগন্ত চষে বেড়িয়েছিলেন এবং সে যুগের মহান মুহাদ্দিসগণের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছিলেন। আন্দালুসে হাদিসের অনেক কিতাব এবং বর্ণনাকারীদের ইতিহাসের (রিজাল শাস্ত্র) কিতাব প্রবর্তনের কৃতিত্ব তাঁর; যেমন: আহমাদ ইবনে জুহাইর ইবনে হারবের ইতিহাস গ্রন্থ। এছাড়া তিনি হাদিস শাস্ত্রে এক সুউচ্চ শিখরে পৌঁছেছিলেন। তাঁর মূল্যবান কিতাবাদি রয়েছে; যার মধ্যে রয়েছে আবু দাউদের কিতাবের ওপর তাঁর মুসান্নাফ এবং আরও অন্যান্য। তিনি ইলম প্রদান ও হাদিস বর্ণনায় নিয়োজিত ছিলেন। যখন তাঁর বয়স বৃদ্ধি পেল এবং তিনি এই ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ হলেন, তখন তাঁর কাছে ইলমের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ সফর করে আসতে শুরু করল। ফলে তাঁর নিকট থেকে ইলম গ্রহণের জন্য বড়-ছোট, প্রবীণ-নবীন নির্বিশেষে সকলেই সমবেত হতো। (২)

সেই সময়ে মাগরেবের প্রখ্যাত মুহাদ্দিসগণের মধ্যে অন্যতম ছিলেন: আবুল কাসেম খালিদ ইবনে সাদ আল-কুরতুবি (মৃত্যু ৩৫২ হিজরি)। হাদিস শাস্ত্রে তাঁর মর্যাদা ছিল অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের, এমনকি হাকাম আল-মুসতানসির (৩০২ - ৩৬৬ হিজরি) তাঁর সম্পর্কে বলতেন: "যদি প্রাচ্যবাসীরা ইয়াহিয়া ইবনে মাঈন (মৃত্যু ২৩৩ হিজরি)-কে নিয়ে আমাদের কাছে গর্ব করে, তবে আমরা খালিদ ইবনে সাদকে নিয়ে তাদের কাছে গর্ব করি।" (৩)

--------------------------------------------

(১) ইবনুল ফারাযি রচিত 'তারিখুল উলামা ওয়ার রুওয়াত লিল ইলম...' ১/ ১০৭। জীবনী নং ২৮৩ - আল-হুমাইদি রচিত 'জাযওয়াতুল মুকতাবিস ফি তারিখি উলামাইল আন্দালুস', ১/ ২৭৪ জীবনী নং ৩৩২ - আন-নুবাহি রচিত 'তারিখু কুদাতিল আন্দালুস'। পৃষ্ঠা: ১৮।

(২) ইবনুল ফারাযি রচিত 'তারিখুল উলামা ওয়ার রুওয়াত', ১/ ৪০৬ জীবনী নং ১০৭০ - ইবনে ফারহুন রচিত 'আদ-দিবাজুল মুযাহহাব' - মুহাম্মাদ আল-আহমাদির সম্পাদনায় - ২/ ১৪৫... ইবনে জাফর আল-কাত্তানি রচিত 'আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ', পৃষ্ঠা: ২৫।

(৩) ইবনুল ফারাযি রচিত 'তারিখুল উলামা ওয়ার রুওয়াত', ১/ ১৫৪ জীবনী নং ৩৯৬।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
ومن المحدثين اللامعين في هذا العصر أحمد بن سعيد بن حزم الصدفي، كانت له رحلة إلى المشرق من أجل طلب الحديث، فلما رجع عنىِ بالآثار والسنن وجمع الحديث ونشره وروايته، ولم يزل كذلك بين أهل قرطبة حتى توفاه الله إليه سنة 350 هـ. (1)

وممن يذكر من محدثي المغرب في هذه الفترة: أبو عمر، أحمد بن محمد الطلمنكي (340 - 429 هـ) له رحلة إلى المشرق استفاد منها في علوم القرآن والحديث حتى صار إمامًا فيهما، وكان سيفاً مجرداً على أهل الأهواء والبدع، قامعاً لهم غيوراً على الشريعة شديدًا في ذات الله عز وجل. (2)

أما يونس بن عبد الله بن محمد بن مغيث (447 - 532 هـ) فقد علا كعبه في علمي الحديث والفقه، وكان -مع سابقه- أحد أئمة هذا الشأن، وإليه يرجع الفضل في تكوين جيل من المحدثين في هذه الحقبة؛ أمثال ابن حزم الظاهري، وأبي الوليد الباجي، وأبي عبد الله بن عتاب. (3)

ويشهد المغرب في القرن الخامس الهجري ازدهاراً ملحوظاً في علم الحديث على يد أبي عمر يوسف ابن عبد البر (368 - 463 هـ) صاحب التآليف العديدة والتصانيف الهامة مثل: "التمهيد" و"الإستذكار" و"الإستيعاب". قال أبو الوليد الباجي عنه: (لم يكن بالأندلس مثل أبي عمر بن عبد البر في الحديث، وهو أحفظ أهل المغرب). (4)

--------------------------------------------

(1) ترجم له ضمن رواة سنن أبي داود.

(2) الصلة، لأبي القاسم خلف بن عبد الملك، المعروف بابن بشكوال 1/ 48 ترجمة 92 - سير أعلام النبلاء؛ للذهبي 17/ 566.

(3) الصلة، لإبن بشكوال 2/ 646 ترجمة 1512 - سير أعلام النبلاء 20/ 123.

(4) للأستاذ محمد بن يعيش كتاب: الإمام أبو عمر بن عبد البر، حياته وآثاره في فقه السنة، وهو عبارة عن بحث لنيل دبلوم الدراسات العليا، كما أنه ألف رسالة أخرى لنيل شهادة الدكتوراه في موضوع: مدرسة الإمام أبي عمر بن عبد البر في الحديث والفقه، وآثارها في تدعيم المذهب المالكي بالمغرب - وكلاهما مطبوع-.
এই যুগের অন্যতম উজ্জ্বল হাদিসবেত্তা হলেন আহমদ বিন সাঈদ বিন হাজম আস-সাদাফি। তিনি হাদিস অন্বেষণের উদ্দেশ্যে প্রাচ্যে সফর করেছিলেন। যখন তিনি ফিরে আসেন, তখন তিনি আসার (সাহাবীদের বাণী ও আমল), সুনান এবং হাদিস সংগ্রহ, প্রচার ও বর্ণনার কাজে মনোনিবেশ করেন। তিনি কর্ডোবার (কুরতুবা) অধিবাসীদের মাঝে এভাবেই নিয়োজিত ছিলেন যতক্ষণ না ৩৫০ হিজরি সনে আল্লাহ তাকে নিজের কাছে তুলে নেন। (১)

এই সময়ে মাগরিবের (মরক্কো ও তৎসংলগ্ন অঞ্চল) হাদিসবেত্তাদের মধ্যে যাদের কথা উল্লেখ করা হয় তারা হলেন: আবু উমর, আহমদ বিন মুহাম্মদ আত-তালামাংকি (৩৪০ - ৪২৯ হিজরি)। তার প্রাচ্য সফরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি কুরআন ও হাদিস বিজ্ঞানে এমন বুৎপত্তি অর্জন করেন যে তিনি এই উভয় শাস্ত্রে ইমামে পরিণত হন। তিনি প্রবৃত্তিপূজারী এবং বিদআতিদের বিরুদ্ধে এক উন্মুক্ত তলোয়ার স্বরূপ ছিলেন, তাদের দমনকারী, শরীয়তের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মমর্যাদাশীল এবং মহান আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে কঠোর ছিলেন। (২)

পক্ষান্তরে ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন মুগীস (৪৪৭ - ৫৩২ হিজরি) হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছিলেন। তিনি এবং তার পূর্বসূরি এই বিষয়ের ইমামদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এই যুগে একদল হাদিসবেত্তা তৈরিতে তার বিশেষ অবদান রয়েছে; যেমন ইবনে হাজম আজ-জাহিরি, আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি এবং আবু আব্দুল্লাহ বিন আত্তাব। (৩)

পঞ্চম হিজরি শতাব্দীতে মাগরিবে হাদিস শাস্ত্রের এক লক্ষণীয় উন্নতি পরিলক্ষিত হয় আবু উমর ইউসুফ ইবনে আব্দুল বার (৩৬৮ - ৪৬৩ হিজরি)-এর হাত ধরে, যিনি অনেক কালজয়ী গ্রন্থ ও গুরুত্বপূর্ণ রচনার রচয়িতা, যেমন: ‘আত-তামহিদ’, ‘আল-ইস্তিজকার’ এবং ‘আল-ইসতিআব’। তার সম্পর্কে আবুল ওয়ালিদ আল-বাজি বলেন: (হাদিস শাস্ত্রে আন্দালুসে আবু উমর ইবনে আব্দুল বারের মতো আর কেউ ছিল না, আর তিনি ছিলেন মাগরিবের অধিবাসীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হাফেজ)। (৪)

--------------------------------------------

(১) তার জীবনী সুনানে আবু দাউদের বর্ণনাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে উদ্ধৃত হয়েছে।

(২) আস-সিলাহ, আবুল কাসিম খালাফ বিন আব্দুল মালিক, যিনি ইবনে বাশকুওয়াল নামে পরিচিত, ১/৪৮, জীবনী নং ৯২; সিয়ারু আলামিন নুবালা, আয-যাহাবি ১৭/৫৬৬।

(৩) আস-সিলাহ, ইবনে বাশকুওয়াল ২/৬৪৬, জীবনী নং ১৫১২; সিয়ারু আলামিন নুবালা ২০/১২৩।

(৪) অধ্যাপক মুহাম্মদ বিন ইয়াঈশ রচিত গ্রন্থ: ‘ইমাম আবু উমর বিন আব্দুল বার, তাঁর জীবন এবং সুন্নাহর ফিকহে তাঁর অবদান’, এটি উচ্চতর গবেষণার (ডিপ্লোমা) একটি অভিসন্দর্ভ। এছাড়াও তিনি পিএইচডি ডিগ্রির জন্য আরেকটি অভিসন্দর্ভ রচনা করেছেন যার বিষয় হলো: ‘হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রে ইমাম আবু উমর বিন আব্দুল বারের পাঠশালা এবং মাগরিবে মালিকি মাযহাবকে শক্তিশালীকরণে এর প্রভাব’ - এবং উভয়টিই বর্তমানে মুদ্রিত।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
ومن كبار أعلام محدثي هذا القرن كذلك: أبو الوليد؛ سليمان الباجي (403 - 474 هـ)، له رحلة إلى الشرق -استغرقت ثلاثة عشر عامًا- جاور بمكة ثلاثة أعوام، لازم فيها أبا ذر الهروي، كما كانت له رحلة إلى مصر وبغداد وغيرهما من البلدان، وما عاد إلى بلاده حتى كان له القدم الراسخ في علم الحديث وعلله، والدراية الواسعة بعلم الجرح والتعديل، كما كان له إلمام بالفقه ودقائقه وأموره الخلافية.

قال عنه تلميذه أبو علي الصدفي: (ما رأيت مثل أبي الوليد الباجي، وما رأيت أحدًا على هيئته وسمته وتوقير مجلسه، وهو أحد أئمة المسلمين). لأبي الوليد الباجي مؤلفات جليلة منها: "التعديل والتجريح لمن خرج عنه البخاري في الجامع الصحيح". (1)

وعلي رأس حفاظ المحدثين المغاربة في هذا القرن: أبو علي الحسين بن محمد الغساني الجياني (427 - 498 هـ)، من شيوخه الذين أخذ عنهم، وتخرج على أيديهم: أبو عمر بن عبد البر، وأبو عمر بن الحذاء، وأبو الوليد الباجي. اهتم أبو علي الجياني بالحديث وكتبه، واشتهر بضبط رواياته مع المعرفة الكاملة بغريب اللغة والشعر والأنساب.

وترك من المؤلفات ما يشهد بعلو كعبه في علوم الحديث أمثال: تقييد المهمل وتمييز المشكل في رجال الصحيحين (2)، وكذا: التنبيه على الأوهام الواقعة في المسندين الصحيحين، وغيرهما.

ومن حفاظ الحديث ذوي المكانة العالية كذلك: الحافظ أبو علي حسين الصدفي السرقسطي (454 - 514 هـ)، له رحلة إلى المشرق استغرق فيها تسع

--------------------------------------------

(1) قام الأستاذ أحمد لبزار بتحقيق ودراسة كتاب: التعديل والتجريح، للباجي لنيل دكتوراه الدولة. وقد تم طبعه.

(2) قام الأستاذ الفاضل الدكتور محمد أبو الفصل بتحقيق ودراسة وتوثيق قسم من "تقييد المهمل وتمييز المشكل"، وهو: شيوخ البخاري المهملون. للحافظ أبي علي الحسين بن محمد بن أحمد الغساني، الجياني.
এই শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিসদের মধ্যে আরও রয়েছেন: আবু আল-ওয়ালিদ; সুলায়মান আল-বাজি (৪০৩ - ৪৭৪ হিজরি)। তার প্রাচ্যের দিকে একটি সফর ছিল—যা তেরো বছর স্থায়ী হয়েছিল—তিনি মক্কায় তিন বছর অবস্থান করেন, সেখানে তিনি আবু যার আল-হারাউই-এর সান্নিধ্য লাভ করেন। একইভাবে তার মিশর, বাগদাদ এবং অন্যান্য দেশেও সফর ছিল। তিনি নিজ দেশে ফিরে আসার সময় পর্যন্ত ইলমে হাদিস ও এর সূক্ষ্ম ত্রুটি (ইলাল) বিষয়ে সুদৃঢ় পা বা গভীর পারদর্শিতা এবং জারহ ও তাদিল শাস্ত্রে ব্যাপক পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। পাশাপাশি ফিকহ শাস্ত্রের সূক্ষ্ম বিষয় এবং এর মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোতেও তার গভীর জ্ঞান ছিল।

তার ছাত্র আবু আলী আস-সাদাফি তার সম্পর্কে বলেছেন: (আমি আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির মতো কাউকে দেখিনি, এবং তার মতো গাম্ভীর্য, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য এবং মজলিসের মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ আর কারো দেখিনি। তিনি মুসলিমদের অন্যতম ইমাম ছিলেন)। আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজির অনেক মহান গ্রন্থ রয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো: "আত-তাদিল ওয়াত-তাজরিহ লিমান খাররাজা আনহু আল-বুখারি ফিল জামি আস-সহিহ"। (১)

এই শতাব্দীতে মাগরিবের (মরক্কো ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চল) মুহাদ্দিস হাফেজদের শীর্ষে ছিলেন: আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ আল-গাসসানি আল-জাইয়ানি (৪২৭ - ৪৯৮ হিজরি)। তার শিক্ষকদের মধ্যে যাদের কাছ থেকে তিনি ইলম গ্রহণ করেছেন এবং শিক্ষা সমাপ্ত করেছেন তারা হলেন: আবু উমর ইবনে আব্দুল বার, আবু উমর ইবনে আল-হাদ্দা এবং আবু আল-ওয়ালিদ আল-বাজি। আবু আলী আল-জাইয়ানি হাদিস এবং হাদিসের কিতাবসমূহের প্রতি অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। ভাষার দুর্লভ শব্দ, কবিতা এবং বংশবিদ্যা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞানের পাশাপাশি বর্ণনার নির্ভুলতার জন্য তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন।

তিনি এমন সব রচনা রেখে গেছেন যা হাদিস শাস্ত্রে তার উচ্চ মর্যাদার সাক্ষ্য দেয়, যেমন: "তাকিয়িদুল মুহমাল ওয়া তাময়িযুল মুশকিল ফি রিজালিস সাহিহাইন" (২), এবং একইভাবে: "আত-তানবিহ আলাল আওহাম আল-ওয়াকিআ ফিল মুসনাদাইন আস-সাহিহাইন" ইত্যাদি।

উচ্চ মর্যাদাবান হাদিস হাফেজদের মধ্যে আরও ছিলেন: হাফেজ আবু আলী হুসাইন আস-সাদাফি আস-সারাগোস্তি (৪৫৪ - ৫১৪ হিজরি)। তার প্রাচ্যে একটি সফর ছিল যাতে নয় বছর সময় লেগেছিল

--------------------------------------------

(১) উস্তাদ আহমাদ লাবজার ডক্টরেট ডিগ্রির জন্য 'আত-তাদিল ওয়াত-তাজরিহ' কিতাবটি তাহকিক ও অধ্যয়ন করেছেন। এটি বর্তমানে মুদ্রিত হয়েছে।

(২) শ্রদ্ধেয় উস্তাদ ডক্টর মুহাম্মাদ আবুল ফাদল 'তাকিয়িদুল মুহমাল ওয়া তাময়িযুল মুশকিল' কিতাবের একটি অংশ তাহকিক, অধ্যয়ন এবং নথিবদ্ধ করেছেন, যা হলো: হাফেজ আবু আলী আল-হুসাইন ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-গাসসানি আল-জাইয়ানি রচিত 'শুয়ুখুল বুখারি আল-মুহমালুন'।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
سنوات، ولما عاد إلى بلاده كان ذا علم غزير، فانصرف للإقراء والتحديث حتى توفاه الله إليه. (1)

قال المقري عنه: (كان أبو علي عالمًا بالحديث وطرقه، عارفًا بعلله وأسماء رجاله ونقلته، بصيراً بالمعدلين والمجرحين، وكان حسن الخط جيد الضبط، وكتب بيده علماً كثيراً وقيده، وكان حافظاً لمصنفات الحديث قائمًا عليها، ذاكراً لمتونها وأساليبها ورواتها). (2)

وممن تتلمذ على أبي علي الصدفي: القاضي أبو بكر بن العربي، وأبو الفضل القاضي عياض.

وفي القرن السادس الهجري يبرز على الساحة العلمية بعض تلاميذ الحافظين أبي علي الجياني، وأبي علي الصدفي؛ وأخص بالذكر منهم: أبا بكر بن العربي المعافري (468 - 543 هـ)، وهذا له رحلة علمية إلى المشرق، تمكن فيها من الأخذ على طائفة؛ منهم الإمام الغزالي، وأبي بكر الشاشي. (3)

ومن كبار المحدثين المغاربة في هذا القرن -السادس-: أبو الفضل القاضي عياض اليحصبي، السبتي (476 - 544 هـ)، كانت رحلته بين الغرب والأندلس، وعني بلقاء العلماء والمحدثين والأخذ عنهم، قال ابن الأبار عنه: ((كان لا يدرك شأوه ولا يبلغ مداه في العناية بصناعة الحديث وتقييد الآثار وخدمة العلم، من حسن التفنن فيه، والتصرف الكامل في فهم معانيه، إلى اضطلاعه بالآداب، وتحققه بالنظم والنثر، ومهارته في الفقه، ومشاركته في اللغة العربية، وبالجملة فكان جمال العصر ومفخر الأفق، وينبوع المعرفة، ومعدن الإفادة، وإن عدت رجالات الغرب فضلاً عن الأندلس حسب فيهم صدراً،

--------------------------------------------

(1) الصلة، لإبن بشكوال: 1/ 143 ترجمة 330 - سير أعلام النبلاء 19/ 376.

(2) أزهار الرياض 3/ 152.

(3) تأتي ترجمة أبي بكر بن العربي ضمن شيوخ عبد الحق الإشبيلي.
বছর, যখন তিনি নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন, তখন তিনি অগাধ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। ফলে তিনি পাঠদান ও হাদিস বর্ণনায় আত্মনিয়োগ করলেন যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাকে নিজের কাছে তুলে নিলেন। (১)

মাক্বরী তার সম্পর্কে বলেন: (আবু আলী হাদিস ও এর সূত্রসমূহ সম্পর্কে বিজ্ঞ ছিলেন এবং হাদিসের ত্রুটিসমূহ (ইলাল), বর্ণনাকারীদের নাম ও বাহকদের সম্পর্কে জানতেন। তিনি বর্ণনাকারীদের গুণাগুণ বিচার ও দোষত্রুটি নির্ণয়ে (জারহ ও তাদীল) পারদর্শী ছিলেন। তার হাতের লেখা ছিল সুন্দর ও তার পাণ্ডিত্যপূর্ণ নির্ভুলতা ছিল চমৎকার। তিনি নিজ হাতে প্রচুর ইলম লিখেছেন এবং তা লিপিবদ্ধ করেছেন। তিনি হাদিস গ্রন্থসমূহের হাফেজ ও সেগুলোর ওপর সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন। তিনি সেগুলোর মূল পাঠ (মতন), ধারা ও বর্ণনাকারীদের কথা স্মরণ রাখতেন।) (২)

আবু আলী আস-সাফি’র নিকট যারা শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন: কাযী আবু বকর ইবনুল আরাবী এবং আবুল ফদল কাযী ইয়াদ।

হিজরি ষষ্ঠ শতাব্দীতে ইলমি ময়দানে হাফেজ আবু আলী আল-জায়্যানী এবং আবু আলী আস-সাফি’র কতিপয় ছাত্রের আত্মপ্রকাশ ঘটে। তাদের মধ্যে আমি বিশেষভাবে উল্লেখ করছি: আবু বকর ইবনুল আরাবী আল-মা’আফিরী (৪৬৮ - ৫৪৩ হি.), তার প্রাচ্য অভিমুখে একটি ইলমি সফর ছিল, যাতে তিনি একদল আলেমের নিকট থেকে ইলম অর্জনে সক্ষম হন; যাদের মধ্যে ছিলেন ইমাম গাজালী এবং আবু বকর আশ-শাশী। (৩)

এই ষষ্ঠ শতাব্দীর মরক্কোর বড় মুহাদ্দিসদের অন্যতম হলেন: আবুল ফদল কাযী ইয়াদ আল-ইয়াহসুবি আস-সাবতি (৪৭৬ - ৫৪৪ হি.)। তার সফর ছিল মাগরিব ও আন্দালুসের মধ্যে। তিনি আলেম ও মুহাদ্দিসদের সাথে সাক্ষাৎ এবং তাদের থেকে ইলম গ্রহণের ব্যাপারে সবিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ইবনুল আব্বার তার সম্পর্কে বলেন: ((হাদিস শাস্ত্রের চর্চা, আসার (পূর্বসূরিদের বর্ণনা) লিপিবদ্ধকরণ এবং ইলমের সেবায় তার উচ্চতায় পৌঁছানো বা তার সমকক্ষ হওয়া কারো পক্ষে সম্ভব ছিল না। এতে তার চমৎকার বৈচিত্র্যময় দক্ষতা এবং অর্থের মর্ম অনুধাবনে পূর্ণ পারদর্শিতা থেকে শুরু করে সাহিত্যে তার পাণ্ডিত্য, কাব্য ও গদ্যে তার গভীর জ্ঞান, ফিকহ শাস্ত্রে তার দক্ষতা এবং আরবি ভাষায় তার বুৎপত্তি ছিল অনন্য। সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি ছিলেন সমকালের শোভাবর্ধক এবং দিগন্তের গৌরব, জ্ঞানের ঝরনাধারা এবং উপকারের আধার। আন্দালুস ছাড়াও যদি মাগরিবের মণীষীদের গণনা করা হয়, তবে তাকে তাদের শীর্ষস্থানীয় মনে করা হবে।))

--------------------------------------------

(১) আস-সিলাহ, ইবনে বাশকুওয়াল: ১/১৪৩, জীবনী ৩৩০ - সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ১৯/৩৭৬।

(২) আজহারুর রিয়াদ ৩/১৫২।

(৩) আবু বকর ইবনুল আরাবীর জীবনী আব্দুল হক আল-ইশবিলীর শায়েখদের আলোচনার মধ্যে আসবে।
(খণ্ড: ১) বুগইয়াতুন নুয়াক্কাদান নাকলাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
لعياض تآليف مفيدة؛ كتبها الناس وانتفعوا بها، وكثر استعمال كل طائفة لها)). (1) من هذه المصنفات: مشارق الأنوار على صحاح الآثار، والإلماع إلى معرفة الرواية وتقييد السماع، وإكمال المعلم في شرح مسلم، والشفا في التعريف بحقوق المصطفى …

قال أبو الحسن النباهي: (وممن سما ذكرهم بعد وفاتهم، وانقضاء أمد حياتهم، فبهرت ولايتهم، واشتهرت في الآفاق درايتهم، ومنهم كان القاضيان: أبو بكر بن عبد الله بن العربي، وأبو الفضل عياض، فجرت عليهما محن، وأصابتهما فتن، ومات كل واحد منهما مغرباً عن أوطانه، محمولاً عليه من سلطانه). (2)

هؤلاء بعض رجالات المغرب في علم الحديث، يستدل بهم على غيرهم، ومن لم يذكر من هم أكثر ممن ذكروا.

--------------------------------------------

(1) المعجم في أصحاب أبي علي الصدفي، لإبن الآبار. ترجمة 279.

(2) المرقبة العليا فيمن يستحق القضاء والفتيا، لأبي الحسن النباهي. ص: 95.
ইয়াদ-এর বহু উপকারী গ্রন্থ রয়েছে; মানুষ তা অনুলিপি করেছে এবং এর দ্বারা উপকৃত হয়েছে, এবং প্রতিটি শ্রেণি এর অধিক ব্যবহার করেছে। (১) এই গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে: মাশারিকুল আনওয়ার আলা সিহাহিল আসার, আল-ইলমা’ ইলা মা’রিফাতির রিওয়ায়াহ ওয়া তাকয়িদিদ সামা’, ইকমালুল মু’লিম ফি শারহি মুসলিম, এবং আশ-শিফা বি-তা’রিফি হুকুকিল মুস্তাফা …

আবুল হাসান আন-নাবাহি বলেন: (এবং তাদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি আছেন যাদের মৃত্যু এবং জীবনাবসানের পরও যাদের আলোচনা উচ্চকিত থাকে, ফলে তাঁদের অভিভাবকত্ব মানুষকে মুগ্ধ করে এবং দিগন্তজুড়ে তাঁদের প্রজ্ঞা প্রসিদ্ধি লাভ করে। তাঁদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন দুই বিচারক: আবু বকর বিন আব্দুল্লাহ বিন আল-আরাবি এবং আবু ফজল ইয়াদ। তাঁদের উভয়ের ওপর দিয়ে নানাবিধ পরীক্ষা অতিবাহিত হয়েছে এবং তাঁরা ফিতনার শিকার হয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ মাতৃভূমি থেকে দূরদেশে নির্বাসিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, তাঁদের শাসকের পক্ষ থেকে তাঁদের ওপর কঠোরতা করা হয়েছিল।) (২)

এঁরা ইলমে হাদিসে মাগরিব অঞ্চলের কতিপয় ব্যক্তিত্ব, যাঁদের মাধ্যমে অন্যদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয়। আর যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তাঁদের সংখ্যা উল্লেখিতদের চেয়ে অনেক বেশি।

--------------------------------------------

(১) আল-মু’জাম ফি আসহাবি আবি আলি আস-সাদাফি, ইবনুল আব্বার রচিত। জীবনী নং ২৭৯।

(২) আল-মারকাবাতুল উলিয়া ফিম্যান ইয়াসতাহিক্কুল কাদা ওয়াল ফুতইয়া, আবুল হাসান আন-নাবাহি রচিত। পৃষ্ঠা: ৯৫।