(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: -)
ارتشاف الضرب من لسان العرب   (أبو حيان الأندلسي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: ارتشاف الضرب من لسان العرب

المؤلف: أبو حيان محمد بن يوسف بن علي بن يوسف بن حيان أثير الدين الأندلسي (ت 745 هـ)

تحقيق وشرح ودراسة: رجب عثمان محمد

مراجعة: رمضان عبد التواب

الناشر: مكتبة الخانجي بالقاهرة

الطبعة: الأولى، 1418 هـ - 1998 م

عدد الأجزاء: 5 (متسلسلة الترقيم)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 13 جُمادَى الأولى 1437

আরবি ভাষা হতে মধুর সুধা আস্বাদন   (আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসি)

বিভাগ: নাহু ও সরফ (আরবি ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)


গ্রন্থ: আরবি ভাষা হতে মধুর সুধা আস্বাদন

লেখক: আবু হাইয়ান মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ ইবনে আলী ইবনে ইউসুফ ইবনে হাইয়ান আসিরুদ্দিন আল-আন্দালুসি (মৃত্যু ৭৪৫ হি.)

সম্পাদনা, ব্যাখ্যা ও গবেষণা: রজব উসমান মুহাম্মদ

পরিমার্জনা: রমাদান আবদুত তাওয়াব

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি, কায়রো

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৮ হি. - ১৯৯৮ খ্রি.

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (ধারাবাহিক সংখ্যায়নকৃত)

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সংগতিপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১৩ জুমাদাল উলা ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১)
ارتشاف الضرب من لسان العرب

 

لأبي حيان الأندلسي (المتوفى: 745 هـ)

 

تحقيق وشرح ودراسة: رجب عثمان محمد

مراجعة: رمضان عبد التواب

 

الناشر: مكتبة الخانجي بالقاهرة
ইরতশাফুয যারাব মিন লিসানিল আরব

 

আবু হাইয়ান আল-আন্দালুসী (মৃত্যু: ৭৪৫ হিজরি)

 

তাহকিক, ব্যাখ্যা ও গবেষণা: রজব উসমান মুহাম্মদ

সম্পাদনা: রমাদান আবদুল তাওয়াব

 

প্রকাশক: মাকতাবাতুল খানজি, কায়রো
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২)
الطبعة: الأولى

1418 هـ - 1998 م
প্রথম সংস্করণ

১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দ
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ৩)
‌‌[الجزء الأول]

بسم الله الرحمن الرحيم

قال سيدنا الشيخ العالم العلامة المحقق الصدر القدوة أثير الدين أبو حيان ابن سيدنا الشيخ أبي الحجاج محمد بن يوسف بن علي بن يوسف بن حيان الأندلسي النفزي غفر الله له.

الحمد لله رب العالمين، وصلاته وسلامه على سيدنا محمد خاتم النبيين. أما بعد:

فإن علم النحو صعب المرام، مستعص على الأفهام، لا ينفذ في معرفته إلا الذهن السليم، والفكر المرتاض المستقيم، وكان من تقدمنا قد انتزع من الكتاب تآليف قليلة الأحكام، عادمة الإتقان والإحكام، يحلها النقد، وينحل منها العقد، وربما أهملوا كثيرًا من الأبواب وأغفلوا ما فيه من الصواب، فتآليفهم تحتاج إلى تثقيف، وتصانيفهم مضطرة إلى تصنيف.

ولما كان كتابي المسمى بالتذييل والتكميل في شرح التسهيل قد جمع من هذا
[প্রথম খণ্ড]

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

আমাদের নেতা শাইখ, আলিম, সুপণ্ডিত, গবেষক, অগ্রগণ্য ও অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব আসীরুদ্দিন আবু হাইয়ান ইবনে আমাদের নেতা শাইখ আবুল হাজ্জাজ মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ বিন আলী বিন ইউসুফ বিন হাইয়ান আল-আন্দালুসি আন-নাফজি (আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন) বলেছেন।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা নবীগণের মোহর মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর। অতঃপর:

নিশ্চয়ই নাহু বা ব্যাকরণ শাস্ত্রের উদ্দেশ্য হাসিল করা কঠিন এবং তা অনুধাবন করা দুরূহ। সুস্থ মেধা ও সুশৃঙ্খল পরিশীলিত চিন্তা ব্যতীত এর জ্ঞানে গভীরতা অর্জন করা যায় না। আমাদের পূর্বসূরিগণ মূল কিতাব থেকে এমন কিছু সংকলন প্রস্তুত করেছিলেন যাতে বিধি-বিধান ছিল সামান্য এবং তাতে নিখুঁত ও মজবুত গাঁথুনির অভাব ছিল; সমালোচনা করলে যা খণ্ডিত হয় এবং যার যুক্তির বাঁধন আলগা হয়ে যায়। সম্ভবত তারা অনেক অধ্যায় বর্জন করেছেন এবং অনেক সঠিক বিষয় উপেক্ষা করেছেন। ফলে তাদের সংকলনগুলো সংস্কারের মুখাপেক্ষী এবং তাদের রচনাবলি নতুন বিন্যাসের দাবি রাখে।

যেহেতু ‘আত-তাযয়ীল ওয়াত-তাকমীল ফী শারহিত তাসহীল’ নামক আমার এই কিতাবটি এসকল বিষয় থেকে সংগ্রহ করেছে...
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ৪)
العلم ما لا يوجد في كتاب، وفرع بما حازه تآليف الأصحاب، رأيت أن أجرد أحكامه، عارية إلا في النادر من الاستدلال والتعليل، وحاوية لسلامة اللفظ، وبيان التمثيل؛ إذ كان الحكم إذا برز في صورة المثال، أغنى الناظر عن التطلب والتسآل.

ونفضت عليه بقية كتبي، لأستدرك ما أغفلته من فوائده، وليكون هذا المجرد مختصًا عن ذلك بزوائده، وقربت ما كان منه قاصيًا، وذللت ما كان عاصيا، حتى صارت معانيه تدرك بلمح البصر، لا تحتاج إلى إعمال فكر، ولا إكداد نظر، وحصرته في جملتين:

الأولى: في أحكام الكلم قبل التركيب.

الثانية: في أحكامها حالة التركيب.

وربما انجر بعض من أحكام هذه من أحكام الأخرى لضرورة التصنيف، وتناسب التأليف، وقصدت بذلك - يعلم الله - تسهيل ما عسر إدراكه على الطلاب، وتحصيل ما أرجوه في ذلك من الأجر والثواب.

ولما كمل هذا الكتاب خلوا مبانيه من التثبيج والتعقيد، حلوًا معانيه للمفيد والمستفيد، سميته «ارتشاف الضرب من لسان العرب»، ومن الله أستمد الإعانة، وأستعد من إحسانه لصواب المقال والإبانة
ইলম হলো এমন বিষয় যা কেবল কিতাবে নিহিত নয়, বরং তা বিদগ্ধজনদের সংকলিত রচনার একটি শাখা। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এর বিধানসমূহকে সারসংক্ষেপ করব এবং দলিল ও কারণ দর্শানোর বিরল ক্ষেত্র ব্যতীত অন্য সবকিছু থেকে একে মুক্ত রাখব। এটি শব্দের বিশুদ্ধতা ও উদাহরণের সুস্পষ্ট বর্ণনার ধারক হবে; কেননা যখন কোনো বিধান উদাহরণের অবয়বে প্রকাশিত হয়, তখন তা পাঠককে অতিরিক্ত অন্বেষণ ও জিজ্ঞাসার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্তি দেয়।

আমি আমার অন্যান্য কিতাবের অবশিষ্ট নির্যাস এতে নিংড়ে দিয়েছি, যাতে আমি ইতিপূর্বে যে সকল উপকারিতা এড়িয়ে গিয়েছিলাম তা এতে সংশোধন করে নিতে পারি এবং যাতে এই সারসংক্ষেপটি তার অতিরিক্ত বিষয়গুলোর মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়। আমি দূরহ বিষয়গুলোকে নিকটবর্তী করেছি এবং জটিল বিষয়গুলোকে সহজতর করেছি, যার ফলে এর অর্থসমূহ চোখের পলকেই অনুধাবন করা সম্ভব হবে এবং এর জন্য চিন্তার শ্রম বা দৃষ্টির ক্লান্তির প্রয়োজন হবে না। আমি একে দুটি অধ্যায়ে সীমাবদ্ধ করেছি:

প্রথমটি: বাক্য গঠনের পূর্বে শব্দের বিধানসমূহ।

দ্বিতীয়টি: বাক্য গঠনকালীন অবস্থায় শব্দের বিধানসমূহ।

রচনার বিন্যাসগত আবশ্যকতা ও সংকলনের সামঞ্জস্য রক্ষার্থে কখনো এক ভাগের কিছু বিধান অন্য ভাগের সাথে জড়িত হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে আমার উদ্দেশ্য—আল্লাহ জানেন—শিক্ষার্থীদের জন্য যা দুষ্কর তা সহজ করা এবং এর মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত সওয়াব ও প্রতিদান অর্জন করা।

যখন এই কিতাবটি পূর্ণ হলো, যার অবয়ব অস্পষ্টতা ও জটিলতা মুক্ত এবং যার অর্থসমূহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়ের জন্যই উপাদেয়, আমি এর নামকরণ করলাম 'আরবদের ভাষা থেকে মধু আস্বাদন' (ইরতিশাফুদ দারাব মিন লিসানিল আরব)। আল্লাহর নিকটই আমি সাহায্য প্রার্থনা করছি এবং তাঁর অনুগ্রহে সঠিক বক্তব্য ও সুস্পষ্ট বর্ণনার সামর্থ্য ভিক্ষা করছি।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ৫)
الجملة الأولى في الأحكام الإفرادية

ونقدم القول في مواد الكلم: وهي حروف الهجاء وتسمى حروف المعجم، وحروف العربية عددًا، ومخرجًا، وصفة فعددها سبعة وعشرون حرفًا، خلافًا للمبرد في زعمه أن الهمزة ليست منها، والمخارج ستة عشر، خلافًا لقطرب، والجرمي، والفراء، وابن دريد، في زعمهم أنها أربعة عشر.
একক বিধানাবলী সংক্রান্ত প্রথম পরিচ্ছেদ

আমরা শব্দের উপাদানসমূহ সম্পর্কে আলোচনা উপস্থাপন করছি: আর তা হলো বর্ণমালার অক্ষরসমূহ, যেগুলোকে মু'জাম বর্ণমালাও বলা হয়। আরবি বর্ণমালার সংখ্যা, উচ্চারণস্থল এবং বৈশিষ্ট্যের বিবরণ হলো—এগুলোর সংখ্যা সাতাশটি; আল-মুবররাদের দাবির বিপরীতে, যিনি মনে করেন হামযাহ এগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয়। আর উচ্চারণস্থলসমূহ হলো ষোলটি; কুতরুব, আল-জারমি, আল-ফাররা এবং ইবনে দুরাইদের দাবির বিপরীতে, কেননা তাদের দাবি অনুযায়ী এগুলো চৌদ্দটি।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ৬)
ومحل الخلاف هو: مخرج اللام، والنون، والراء: فمذهب هؤلاء أنه مخرج واحد، ومذهب الجمهور أنها ثلاثة مخارج، وهو الصحيح لتباينها عند الاختبار.

فالمخرج الأول أقصى الحلق وهو: الهمزة، والهاء، والألف على رتبة واحدة، خلافًا لأبي الحسن في زعمه أن الهمزة أول، وأن الهاء والألف في رتبة واحدة، وخلافًا لأبي العباس أحمد بن عمار المهدي، وغيره في زعمهم أن الهمزة أول وهي: من أول الصدر وآخر الحلق، وهي أبعد الحروف مخرجًا، ثم الألف تليها، وهي صوت لا يعتمد [له]، ثم الهاء بعدها، وخلافًا لمن زعم أن الهاء قبل الهمزة في المرتبة، وأنها أدخل إلى
মতভেদের ক্ষেত্রটি হলো: লাম, নূন এবং র-এর মাখরাজ (উচ্চারণস্থল)। তাঁদের মাযহাব হলো এটি একটি মাখরাজ, আর জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামার অভিমত হলো এগুলো তিনটি পৃথক মাখরাজ; আর পরীক্ষার সময় সেগুলোর মাঝে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হওয়ার কারণে এটিই সঠিক মত।

প্রথম মাখরাজ হলো কণ্ঠনালীর শেষ ভাগ, যা হলো: হামযাহ, হা এবং আলিফ—এগুলো একই স্তরে বিদ্যমান। এটি আবুল হাসানের দাবির বিপরীত, যিনি মনে করেন যে হামযাহ প্রথমে এবং হা ও আলিফ একই স্তরে। এটি আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে আম্মার আল-মাহদী এবং অন্যদের দাবিরও পরিপন্থী, যারা মনে করেন যে হামযাহ প্রথমে এবং এটি বক্ষের শুরু ও কণ্ঠনালীর শেষ প্রান্ত থেকে উচ্চারিত হয়; আর এটি মাখরাজ বা উচ্চারণস্থলের দিক থেকে দূরতম বর্ণ। এরপর আলিফ, যা এমন এক ধ্বনি যার জন্য কোনো নির্দিষ্ট আধারের উপর নির্ভর করতে হয় না। এরপর হলো হা। এটি তাদের মতের পরিপন্থী যারা মনে করেন যে স্তরের দিক থেকে হা বর্ণটি হামযাহর পূর্বে এবং এটি অধিকতর অভ্যন্তরে অবস্থিত...
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ৭)
الصدر، وخلافًا لأبي الحسن شريح في زعمه أن الألف هوائية لا مخرج لها، فحروف الحلق عنده ستة، وقد روى هذا عن الخليل.

المخرج الثاني: وسط الحلق وهو: العين والحاء، وظاهر كلام سيبويه أن الحاء بعد العين، وهو نص كلام مكي بن أبي طالب، ويظهر من كلام المهدوي أن العين بعد الحاء، وهو نص أبي الحسن شريح.

المخرج الثالث: أدنى الحلق إلى الفم، وهو للغين والخاء ويظهر من كلام سيبويه أن الغين قبل الخاء، وهو قول أبي الحسن، ونص مكي على تقدم الخاء فيه
বক্ষদেশ; এবং আবু আল-হাসান শুরাইহ-এর দাবির বিপরীতে যে আলিফ হলো বায়বীয় এবং এর কোনো মাখরাজ নেই, তাঁর মতে কণ্ঠনালীর বর্ণ ছয়টি, আর তিনি এটি খলিল থেকে বর্ণনা করেছেন।

দ্বিতীয় মাখরাজ: কণ্ঠনালীর মধ্যভাগ, আর তা হলো: আইন এবং হা। সিবওয়াইহের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে ‘হা’ হলো ‘আইন’-এর পরে, যা মাক্কি বিন আবি তালিবের সুস্পষ্ট বক্তব্য। মাহদাওয়ির বক্তব্য থেকে প্রকাশ পায় যে ‘আইন’ হলো ‘হা’-এর পরে, যা আবু আল-হাসান শুরাইহ-এরও সুনির্দিষ্ট বক্তব্য।

তৃতীয় মাখরাজ: মুখের নিকটবর্তী কণ্ঠনালীর প্রান্তভাগ, এটি গাইন এবং খা-এর জন্য। সিবওয়াইহের বক্তব্য থেকে প্রকাশ পায় যে ‘গাইন’ হলো ‘খা’-এর আগে, এটি আবু আল-হাসানের উক্তি; তবে মাক্কি এই ক্ষেত্রে ‘খা’-এর অগ্রবর্তিতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ৮)
على الغين، وزعم ابن خروف أن سيبويه لم يقصد ترتيبًا فيما هو من مخرج واحد.

المخرج الرابع: أول أقصى اللسان وهو للقاف، وهو مما يلي الحلق، وما فوقه من الحنك، وقال شريح: القاف مخرجها من أول اللهاة مما يلي الحلق، ومخرج الخاء.

المخرج الخامس: ثاني أقصى اللسان، وهو للكاف من أسفل مخرج القاف، من اللسان قليلاً، وما يليه من الحنك.

المخرج السادس: وهو للجيم والشين والياء، وهي من وسط اللسان بينه وبين وسط الحنك، خلافًا للخليل في الياء، إذ زعم أنها هوائية لا مخرج لها كالألف، ويظهر أن الجيم قبلها، خلافًا للمهدوي في زعمه أن الشين تلي الكاف، والجيم والياء يليان الشين.
গাইন-এর উপর, এবং ইবনে খারুফ দাবি করেছেন যে সিবওয়াইহ্ একই মাখরাজ থেকে নির্গত বর্ণগুলোর ক্ষেত্রে কোনো ক্রম নির্ধারণের উদ্দেশ্য করেননি।

চতুর্থ মাখরাজ: জিহ্বার গোড়ার শুরু এবং এটি ক্বাফ-এর জন্য, যা কণ্ঠনালীর নিকটবর্তী অংশ এবং তার উপরের তালু থেকে উচ্চারিত হয়; আর শুরাইহ্ বলেছেন: ক্বাফ-এর মাখরাজ হলো আলজিহ্বার শুরু থেকে যা কণ্ঠনালীর এবং খা-এর মাখরাজের নিকটবর্তী।

পঞ্চম মাখরাজ: জিহ্বার গোড়ার দ্বিতীয় অংশ, এবং এটি কাফ-এর জন্য যা ক্বাফ-এর মাখরাজের সামান্য নিচ থেকে এবং তার পার্শ্ববর্তী তালু থেকে উচ্চারিত হয়।

ষষ্ঠ মাখরাজ: এটি জিম, শিন এবং ইয়া-এর জন্য, যা জিহ্বার মধ্যভাগ এবং তালুর মধ্যভাগের মধ্যবর্তী স্থান থেকে উচ্চারিত হয়; তবে ইয়া-এর ক্ষেত্রে খলীল ভিন্নমত পোষণ করেছেন, কারণ তিনি দাবি করেছেন যে এটি আলিফ-এর মতো একটি বায়ুপ্রবাহীয় বর্ণ যার কোনো সুনির্দিষ্ট মাখরাজ নেই। আর এটি প্রতীয়মান হয় যে জিম এগুলোর আগে অবস্থিত, যা মাহদাওয়ীর দাবির বিপরীত, কারণ তিনি দাবি করেছিলেন যে শিন হলো কাফ-এর অনুবর্তী, এবং জিম ও ইয়া হলো শিন-এর অনুবর্তী।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ৯)
المخرج السابع: وهو للضاد، وهي من أول حافة اللسان وما يليه من الأضراس من الجانب الأيسر عند الأكثر، أو الأيمن عند الأقل، وكلام سيبويه يدل على أنها تكون من الجانبين، خلافًا لمن ذهب إلى أنها تختص بالجانب الأيمن، وخلافًا للخليل، في زعمه أنها شجرية من مخرج الجيم والشين.

المخرج الثامن: وهو للام وهي من حافة اللسان من أدناها إلى منتهى طرفه ما بينها وبين ما يليها من الحنك الأعلى مما فوق الضاحك، والناب، والرباعية والثنية.
সপ্তম মাখরাজ: এটি ‘দদ’ বর্ণের জন্য। এটি জিহ্বার পার্শ্বদেশের শুরু এবং এর সংলগ্ন মাড়িদাঁতসমূহ থেকে উচ্চারিত হয়; অধিকাংশের মতে বাম দিক থেকে, অথবা অল্প সংখ্যকের মতে ডান দিক থেকে। সিবওয়াইহ-এর বক্তব্য নির্দেশ করে যে এটি উভয় দিক থেকেই হতে পারে। এটি তাদের মতের পরিপন্থী যারা মনে করেন এটি কেবল ডান দিকের জন্য নির্দিষ্ট। এটি খলীল-এর দাবিরও পরিপন্থী যে এটি ‘শাজারিয়্যাহ’ বর্ণ এবং ‘জীম’ ও ‘শীন’-এর মাখরাজ থেকে উচ্চারিত হয়।

অষ্টম মাখরাজ: এটি ‘লাম’ বর্ণের জন্য। এটি জিহ্বার পার্শ্বদেশের নিকটতম অংশ থেকে এর অগ্রভাগের শেষ সীমানা পর্যন্ত এবং এর সম্মুখস্থ উপরের তালুর মধ্যবর্তী স্থান থেকে উচ্চারিত হয়, যা প্রমোদ দন্ত (যাহিক), ছেদক দন্ত (নাব), পার্শ্ব দন্ত (রুবাঈ) এবং সম্মুখ দন্তের (সানিয়্যাহ) উপরিভাগে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১০)
المخرج التاسع: وهو للنون، وهي من طرف اللسان بينه وبين ما فويق الثنايا متصلاً بالخيشوم تحت اللام قليلاً.

المخرج العاشر: هو للراء، وهي من مخرج النون من طرف اللسان بينه وبين ما فويق الثنايا العليا، غير أنها أدخل في ظهر اللسان قليلاً من النون، وتقدم مذهب الجرمي. ومن وافقه، وهو الظاهر من كلام الخليل.

المخرج الحادي عشر: وهو للدال والطاء والتاء، وثلاثتها تخرج مما بين طرف اللسان وأصول الثنايا العليا مصعدا إلى جهة الحنك.

المخرج الثاني عشر: وهو للزاي والسين والصاد، وثلاثتها ما بين طرف اللسان وفويق الثنايا السفلى ويقال في الزاي: زاء وزى.

المخرج الثالث عشر: وهو للظاء والذال والثاء، وثلاثتها من بين طرف اللسان وأطراف الثنايا العليا.

المخرج الرابع عشر: وهو للفاء، وهي من باطن الشفة السفلى وأطراف الثنايا العليا.

المخرج الخامس عشر: وهو للباء والميم والواو، وثلاثتها ما بين الشفتين،
নবম মাখরাজ: এটি নূনের জন্য। এটি জিহ্বার আগা এবং সামনের উপরের দাঁতগুলোর সামান্য উপরের অংশের মধ্যবর্তী স্থান থেকে উচ্চারিত হয়, যা নাসিকামূলের (খায়শুম) সাথে সংযুক্ত এবং লামের মাখরাজ থেকে সামান্য নিচে।

দশম মাখরাজ: এটি রা-এর জন্য। এটি নূনের মাখরাজ অর্থাৎ জিহ্বার আগা এবং সামনের উপরের দাঁতগুলোর সামান্য উপরের অংশের মধ্যবর্তী স্থান থেকে উচ্চারিত হয়; তবে এটি নূনের তুলনায় জিহ্বার পিঠের দিকে সামান্য একটু ভেতরে অবস্থিত। জুরমির মাযহাব এবং তাঁর অনুসারীদের মত ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, যা খলীলের বক্তব্য থেকেও স্পষ্ট হয়।

একাদশ মাখরাজ: এটি দাল, ত’ এবং তা-এর জন্য। এই তিনটি বর্ণ জিহ্বার আগা এবং সামনের উপরের দাঁতের গোড়ার মধ্যবর্তী স্থান থেকে তালুর দিকে একটু উপরে উঠে উচ্চারিত হয়।

দ্বাদশ মাখরাজ: এটি যা, সীন এবং সদ-এর জন্য। এই তিনটি বর্ণ জিহ্বার আগা এবং নিচের সামনের দাঁতগুলোর সামান্য উপরের অংশের মধ্যবর্তী স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। 'যা' বর্ণটিকে 'যা-উ' এবং 'যী'-ও বলা হয়।

ত্রয়োদশ মাখরাজ: এটি য’, যাল এবং সা-এর জন্য। এই তিনটি বর্ণ জিহ্বার আগা এবং সামনের উপরের দাঁতের অগ্রভাগের মধ্যবর্তী স্থান থেকে উচ্চারিত হয়।

চতুর্দশ মাখরাজ: এটি ফা-এর জন্য। এটি নিচের ঠোঁটের পেট এবং সামনের উপরের দাঁতের অগ্রভাগ থেকে উচ্চারিত হয়।

পঞ্চদশ মাখরাজ: এটি বা, মীম এবং ওয়াও-এর জন্য। এই তিনটি বর্ণ দুই ঠোঁটের মধ্যবর্তী স্থান থেকে উচ্চারিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১১)
فتنطبقان في الباء والميم لا في الواو خلافًا للخليل في الواو، إذ هي عنده هوائية لا مخرج لها، وخلافًا للمهدوي فيها، إذ فصلها من الباء والميم، وجعل لها على حدتها مخرجًا؛ وهي عنده السادس عشر مخرجًا.

المخرج السادس عشر: مخرج الخيشوم، وهو للنون الساكنة الخفيفة المخفاة التي لم يبق منها إلا الغنة.

وأما الساكنة سكونًا خالصًا كالنون في نحو: يضربن، فسيبويه بين أن مخرجها من مخرج النون المتحركة.

واختبار المخرج وتحققه يكون بابتداء همزة الوصل جائيًا بعدها بالحرف ساكنًا، ملحوظًا به صفة ذلك الحرف.
সুতরাং 'বা' এবং 'মিম'-এর ক্ষেত্রে উভয় ঠোঁট পরস্পরের সাথে মিলিত হয়, তবে 'ওয়াও'-এর ক্ষেত্রে নয়; এটি 'ওয়াও'-এর ব্যাপারে খলিলের মতের পরিপন্থী, কারণ তাঁর মতে এটি একটি হাওয়াইয়্যাহ (বাতাসীয়) বর্ণ যার কোনো নির্দিষ্ট মাখরাজ নেই। এটি আল-মাহদাওয়ীর মতের ক্ষেত্রেও বিপরীত, কারণ তিনি একে 'বা' এবং 'মিম' থেকে পৃথক করেছেন এবং এর জন্য একটি স্বতন্ত্র মাখরাজ সাব্যস্ত করেছেন; আর তাঁর নিকট এটিই হলো ষোড়শ মাখরাজ।

ষোড়শ মাখরাজ: নাসিকা গহ্বর (খাইশুম), যা সেই হালকা ও প্রচ্ছন্ন নূন সাকিন-এর জন্য প্রযোজ্য যার গুন্নাহ ব্যতীত আর কোনো কিছু অবশিষ্ট থাকে না।

আর যা পূর্ণরূপে সাকিন, যেমন 'য়াদরিবনা' শব্দের নূন-টি; সিবওয়াইহ স্পষ্ট করেছেন যে, এর মাখরাজ মূলত মুতাহাররিক (হরকতযুক্ত) নূন-এর মাখরাজ থেকেই।

মাখরাজ পরীক্ষা এবং তা নিশ্চিত করার পদ্ধতি হলো—শুরুতে একটি হামজাতুল ওয়াসল নিয়ে আসা এবং তার পরে কাঙ্ক্ষিত বর্ণটিকে সাকিন অবস্থায় উচ্চারণ করা, যেন ওই বর্ণের বৈশিষ্ট্য (সিফাত) স্পষ্টভাবে পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১২)
ولبعض الحروف فروع تستحسن، فمن ذلك الهمزة المسهلة، وهي فرع عن الهمزة المحققة، وهي عند سيبويه حرف واحد نظرًا إلى مطلق التسهيل، وعند السيرافي ثلاثة أحرف نظرًا إلى التقييد بالألف أو الواو أو الياء، والغنة فرع عن النون.

وألفا الإمالة والتفخيم، وهما فرعان عن الألف المنتصبة، والإمالة بين اللفظين، لم يعتدها سيبويه، وإنما اعتد الإمالة المحضة وقال: «التي تمال إمالة شديدة كأنها حرف آخر قريب من الياء».

والشين التي كالجيم فرع عن الجيم الخالصة، وذلك قولهم في «أشدق:
কোনো কোনো বর্ণের এমন কিছু শাখা বা উপবর্ণ রয়েছে যা সমাদৃত। তার মধ্যে একটি হলো সহজীকৃত হামজাহ, যা মূলত সুস্পষ্ট হামজাহ-র একটি শাখা। সীবওয়াইহ-র নিকট সাধারণ সহজীকরণের বিচারে এটি একটি একক বর্ণ, তবে সীরাফী-র মতে আলিফ, ওয়াও অথবা ইয়া-র সাথে সম্পৃক্ততার বিচারে এটি তিনটি বর্ণ। আর গুন্নাহ হলো নুন-এর একটি শাখা।

এছাড়া ইমালাহ ও তাফখীমযুক্ত আলিফদ্বয় হলো দণ্ডায়মান বা মূল আলিফের দুটি শাখা। সীবওয়াইহ 'দুই উচ্চারণের মধ্যবর্তী ইমালাহ'-কে গণ্য করেননি, বরং তিনি কেবল খাঁটি ইমালাহ-কে গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: "যা অত্যন্ত প্রবলভাবে আনত হয়, যেন তা ইয়া-র নিকটবর্তী ভিন্ন একটি বর্ণ।"

আর জীম-এর সদৃশ শীন হলো খাঁটি জীম-এর একটি শাখা। যেমন 'আশদাক' শব্দের ক্ষেত্রে তাদের উচ্চারণ:
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৩)
أجدق»، والصاد والجيم والسين اللواتي كالزاي فروع عن الزاي الخالصة، وذلك نحو: مزدر في مصدر بين الصاد والزاي، وفي زهير: سهير بين السين والزاي، وفي جابر: زابر بين الجيم والزاي.

واللام المفخمة فرع عن اللام المتوسطة بين الترقيق والتفخيم، وذلك في اسم الله تعالى، إذا كان قبلها مفتوح أو مضموم، وفيما قرأ به القراء، وأتت به الرواية الصحيحة من تفخيمها على ما نقله أهل الأداء.

وفروع تستقبح وهي: كاف كجيم فرع عن الكاف الخالصة، وهي لغة في اليمن كثيرة، وفي أهل بغداد يقولون في كمل: جمل، وجيم ككاف فرع عن
'আজদাক'; এবং সাদ, জিম ও সিন যা 'যা'-এর ন্যায় উচ্চারিত হয়, সেগুলো বিশুদ্ধ 'যা' থেকে উদ্ভূত শাখা ধ্বনি। যেমন: 'মাসদার' এর স্থলে 'মাযদার' যা সাদ ও যা-এর মধ্যবর্তী; 'যুহায়ের' এর স্থলে 'সুহায়ের' যা সিন ও যা-এর মধ্যবর্তী; এবং 'জাবির' এর স্থলে 'যাবির' যা জিম ও যা-এর মধ্যবর্তী।

মোটা বা ভারী 'লাম' হলো পাতলা এবং মোটা করার মধ্যবর্তী সাধারণ 'লাম' থেকে উদ্ভূত একটি শাখা ধ্বনি। এটি মহান আল্লাহর নামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় যখন তার পূর্ববর্তী বর্ণে ফাতহাহ (যবর) বা যম্মাহ (পেশ) থাকে। এছাড়া ক্বারীগণ যেভাবে পাঠ করেছেন এবং কিরাত বিশারদগণের বর্ণিত বিশুদ্ধ বর্ণনা অনুযায়ী একে মোটা করে পড়ার যে নিয়ম এসেছে, এটি তারই অন্তর্ভুক্ত।

আর কিছু শাখা ধ্বনি রয়েছে যা অশুদ্ধ বা অপছন্দনীয়, সেগুলো হলো: জিমের ন্যায় উচ্চারিত কাফ, যা মূল কাফ থেকে উদ্ভূত। এটি ইয়ামেনের উপভাষায় বহুল প্রচলিত। বাগদাদবাসীরা 'কামাল' এর স্থলে 'জামাল' বলে থাকে। আর কাফ-এর ন্যায় উচ্চারিত জিম হলো একটি শাখা ধ্বনি যা...
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৪)
الجيم الخالصة يقولون في رجل: ركل، يقربونها من الكاف، وعد سيبويه هذا حرفًا واحدًا، لأن النطق لا يختلف، وراعى ابن جني الأصل، فعد ذلك حرفين، وتبعه ابن عصفور، وابن مالك، وجيم كشين فرع عن [الجيم الخالصة، وأكثر ذلك إذا سكنت وبعدها دال نحو: قولهم في الأجدر: الأشدر، وقالوا في اجتمعوا: اشتمعوا، وصاد كسين فرع عن] الصاد الخالصة نحو: سابر في صابر، وطاء كتاء فرع عن الطاء الخالصة نحو: تال في طال؛ وهي تسمع من عجم أهل المشرق، ظاء كثاء فرع عن الظاء الخالصة نحو: ثالم

বিশুদ্ধ জিম; তারা ‘রাজুল’ শব্দের ক্ষেত্রে ‘রাকুল’ বলে থাকে, যেখানে তারা জিম বর্ণটিকে কাফ-এর নিকটবর্তী করে উচ্চারণ করে। সিবওয়াইহ এটিকে একটি বর্ণ হিসেবে গণ্য করেছেন, কারণ উচ্চারণে কোনো পার্থক্য ঘটে না। তবে ইবনে জিননি এর মূল রূপটি বিবেচনা করেছেন, ফলে তিনি একে দুটি বর্ণ হিসেবে গণ্য করেছেন এবং ইবনে উসফুর ও ইবনে মালিক তাঁর অনুসরণ করেছেন। আর ‘শিন’-এর মতো ‘জিম’ হলো [বিশুদ্ধ জিমের একটি শাখা; এটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে তখনই ঘটে যখন বর্ণটি সাকিন হয় এবং এরপর ‘দাল’ আসে, যেমন: ‘আল-আজদার’ শব্দের ক্ষেত্রে তাদের ‘আল-আশদার’ বলা এবং তারা ‘ইজতামাউ’ শব্দের ক্ষেত্রে ‘ইশতামাউ’ বলেছে। আর ‘সিন’-এর মতো ‘সাদ’ হলো] বিশুদ্ধ সাদের শাখা, যেমন: ‘সাবির’ শব্দের স্থলে ‘সাবির’ বলা। আর ‘তা’-এর মতো ‘ত’ হলো বিশুদ্ধ ত-এর শাখা, যেমন: ‘তল’ শব্দের স্থলে ‘তাল’ বলা; এটি প্রাচ্যের অনারবদের থেকে শোনা যায়। বিশুদ্ধ ‘জ’-এর শাখা হলো ‘সা’-এর মতো ‘জ’, যেমন: ‘জালিম’ শব্দের পরিবর্তে ‘সালিম’ বলা।

(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৫)
في ظالم، وباء كـ «فاء» فرع عن الباء الخالصة وهي كثيرة في لغة الفرس، وتارة يغلب لفظ الباء، وتارة يغلب لفظ الفاء، وذلك نحو: «بلخ» و «أصبهان».

وضاد ضعيفة قال الفارسي: إذا قلت: ضرب ولم تشبع مخرجها، ولا اعتمدت عليه، ولكن تخفف وتختلس، فيضعف إطباقها، وقال ابن خروف: هي المحرفة من مخرجها يمينًا أو شمالاً كما ذكر سيبويه.

وقال مبرمان: يقربون الثاء من الضاد، وذلك في لغة قوم ليس في أصل حروفهم الضاد، فإذا تكلفوها ضعف نطقهم بها، وكذا قال ابن عصفور، ومثل بقولهم: في أثر ذلك: في أضر ذلك.
'জালিম' শব্দের বর্ণের ক্ষেত্রে, এবং এমন 'বা' যা 'ফা'-এর মতো; যা বিশুদ্ধ 'বা'-এর একটি শাখা এবং পারস্যের ভাষায় এর প্রচলন অধিক। কখনও এতে 'বা'-এর উচ্চারণ প্রবল হয়, আবার কখনও 'ফা'-এর উচ্চারণ প্রবল হয়, যেমন: 'বালখ' এবং 'আসবাহান'।

এবং দুর্বল 'দদ'। আল-ফারিসি বলেছেন: যখন আপনি 'দরাবা' বলবেন এবং এর মাখরাজকে (উচ্চারণস্থল) পূর্ণতা দেবেন না কিংবা এর ওপর নির্ভর করবেন না, বরং একে হালকাভাবে ও দ্রুত উচ্চারণ করবেন, তখন এর ইত্ববাক (তালুর সাথে জিহ্বার সংযোগ) দুর্বল হয়ে যায়। ইবনুল খারূফ বলেন: এটি তার মাখরাজ থেকে ডানে বা বামে বিচ্যুত হওয়া বর্ণ, যেমনটি সিবওয়াইহি উল্লেখ করেছেন।

মুবাররামান বলেছেন: তারা 'সা'-কে 'দদ'-এর কাছাকাছি উচ্চারণ করে। এটি এমন এক জাতির ভাষায় ঘটে যাদের মূল বর্ণমালায় 'দদ' নেই। ফলে তারা যখন কষ্ট করে এটি উচ্চারণ করতে চায়, তখন তাদের উচ্চারণ দুর্বল হয়ে যায়। ইবনু আসফুরও অনুরূপ বলেছেন এবং উদাহরণ দিয়েছেন যে, তারা 'ফি আসারি যালিকা'-এর স্থলে 'ফি আদারি যালিকা' বলে।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৬)
وفي تفسير الضاد الضعيفة بهذا، وفي تمثيله نظر، والذي يظهر أن الضاد الضعيفة التي هي تقترب من الثاء، عكس ما قال مبرمان، وابن عصفور فتقول في اضرب زيدًا: اثرب زيدًا بين الضاد والثاء، وأما القاف المعقودة فقال السيرافي: رأينا من يتكلم بالقاف بينها وبين الكاف انتهى، وهي الآن غالبة على لسان من يوجد في البوادي من العرب، حتى لا يكاد عربي ينطق إلا بالقاف المعقودة، لا بالقاف الخالصة الموصوفة في كتب النحويين، والمنقولة عن وصفها الخالص على ألسنة أهل الأداء من أهل القرآن.

وقد بلغت الحروف بفروعها المستحسنة والمستقبحة سبعة وأربعين حرفًا، وفي التمهيد: زاد بعضهم أحرفًا لم يذكرها سيبويه، وهي الشين كالزاي كقولهم في اشرب: ازرب، والجيم كالزاي كقولهم في اخرج، اخرز، والقاف كالكاف كقولهم في القمح: الكمح، فقد بلغت هذه الأحرف خمسين حرفًا.

القول في صفات الحروف: المهموسة يجمعها «سكت فحثه شخص» والهمس: الصوت الخفي، فإذا جرى مع الحرف النفس لضعف الاعتماد عليه كان مهموسًا، والضاد والخاء أقوى مما عداهما.
দুর্বল দাদ-এর এই ব্যাখ্যায় এবং এর উদাহরণ প্রদর্শনে ভিন্নমত রয়েছে। যা প্রকাশ পায় তা হলো, দুর্বল দাদ হলো সেটি যা সা-এর কাছাকাছি উচ্চারিত হয়; এটি মুবারমান এবং ইবনে আসফুর যা বলেছেন তার বিপরীত। যেমন আপনি 'ইদরিব যাইদান' বলতে গিয়ে দাদ এবং সা-এর মাঝামাঝি উচ্চারণে বলবেন: 'ইসরিব যাইদান'। আর গাঁটযুক্ত কাফ সম্পর্কে সিরাফি বলেছেন: আমরা এমন ব্যক্তি দেখেছি যারা কাফ (ক্বফ) এবং কাফ-এর মাঝামাঝি স্বরে কথা বলে। এটি বর্তমানে আরব মরুভূমির অধিবাসীদের ভাষায় প্রবলভাবে পরিলক্ষিত হয়, এমনকি কোনো আরব ব্যাকরণবিদদের কিতাবে বর্ণিত এবং কুরআন পাঠ বিশেষজ্ঞ বা কারীদের বর্ণিত বিশুদ্ধ উচ্চারণ পদ্ধতি অনুযায়ী বিশুদ্ধ কাফ উচ্চারণ করতে পারে না বললেই চলে।

বর্ণগুলো তাদের প্রশংসনীয় এবং অপ্রশংসনীয় শাখাসহ সাতচল্লিশটি বর্ণে পৌঁছেছে। আত-তামহিদ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে: কেউ কেউ এমন কিছু বর্ণ যোগ করেছেন যা সিবওয়াইহ উল্লেখ করেননি, যেমন শিন যা যা-এর মতো, যেমন তারা 'ইশরাব'-এর ক্ষেত্রে বলে 'ইজরাব'। আবার জিম যা যা-এর মতো, যেমন তারা 'উখরুজ'-এর ক্ষেত্রে বলে 'উখরুয'। এবং কাফ (ক্বফ) যা কাফ-এর মতো, যেমন তারা 'আল-কামহ'-এর ক্ষেত্রে বলে 'আল-কামহ' (কাফ দিয়ে)। এভাবে এই বর্ণগুলো পঞ্চাশটি বর্ণে উপনীত হয়েছে।

বর্ণের গুণাবলি সংক্রান্ত আলোচনা: মাহমুসাহ বর্ণসমূহকে 'সাকাতা ফাহাসসাহু শাখসুন' বাক্যটি সমষ্টিগতভাবে প্রকাশ করে। হামস হলো গোপন বা অস্ফুট শব্দ। যখন বর্ণের ওপর দুর্বল নির্ভরশীলতার কারণে উচ্চারণের সময় শ্বাস প্রবাহিত হয়, তখন তা মাহমুস হিসেবে গণ্য হয়। আর দাদ ও খা এই শ্রেণীর অন্য বর্ণগুলোর তুলনায় অধিক শক্তিশালী।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৭)
والمجهورة ما عداها ويجمعها «ظل قند يضغم زر طاو إذ يعج» والجهر ضد الهمس، فإذا منع النفس أن يجرى معه حتى ينقضي الاعتماد عليه كان مجهورًا، قال سيبويه: إلا أن النون والميم قد يعتمد لهما في الفم والخياشيم فتصير فيهما غنة، والشديدة يجمعها: «أجدك تطبق» والشدة امتناع الصوت أن يجرى في الحرف، والرخوة يجمعها: «خس حظ شص هز ضغث قذ»، ومتوسطة بين الشدة والرخاوة ويجمعها «ولينا عمر»، والمهموسة كلها غير التاء والكاف رخوة ويجمعها «سفه شخص حث».

والمجهورة الرخوة يجمعها (غض طزذن)، والمجهورة الشديدة «طبق أجد»، وتسمى هذه حروف القلقلة، وما بين الشدة والرخاوة مجهور، والمطبقة الصاد والضاد والطاء والظاء، والمستعلية هذه والغين والخاء والقاف ويجمعها «قظ خص ضغط»، وما عداها منخفضة وبعضهم يقول: مستفلة، والمتقلقلة
এবং ‘মাজহুরা’ (ঘোষ) বর্ণসমূহ হলো এগুলো ব্যতীত বাকি সব এবং সেগুলোকে ‘জিল্লু কান্দিন ইয়াদগামু যুর ত্বোয়াইন ইয ইয়াউজ্জু’ বাক্যাংশে একত্রিত করা হয়েছে। ‘জাহর’ (ঘোষধ্বনি) হলো ‘হামস’ (অঘোষধ্বনি)-এর বিপরীত। সুতরাং যখন বর্ণের উচ্চারণের ওপর নির্ভরতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সাথে শ্বাস প্রবাহিত হতে বাধা দেওয়া হয়, তখন তাকে ‘মাজহুরা’ বলা হয়। সিবওয়াইহ বলেন: তবে ‘নুন’ এবং ‘মিম’-এর ক্ষেত্রে মুখ এবং নাসিকামূলে নির্ভর করা হতে পারে, ফলে এই দুই বর্ণের ক্ষেত্রে ‘গুন্নাহ’ (অনুনাসিকতা) সৃষ্টি হয়। আর ‘শাদিদাহ’ (কঠিন) বর্ণগুলোকে ‘আজিদুকা তাতবিকু’ বাক্যাংশে একত্রিত করা হয়েছে। ‘শিদ্দাহ’ হলো বর্ণের উচ্চারণের সময় শব্দ প্রবাহ রুদ্ধ হওয়া। আর ‘রাখওয়াহ’ (শিথিল) বর্ণসমূহ ‘খাসসুন হাজ্জুন শাসসুন হায্যুন দাগাসুন ক্বাযযিন’ বাক্যাংশে একত্রিত। আর ‘শিদ্দাহ’ ও ‘রাখওয়াহ’-এর মধ্যবর্তী বর্ণসমূহ ‘ওয়িলিনা উমার’ বাক্যাংশে একত্রিত। এবং ‘তা’ ও ‘কাফ’ ব্যতীত সকল ‘মাহমুসাহ’ (অঘোষ) বর্ণই ‘রাখওয়াহ’ (শিথিল) এবং এগুলো ‘সাফিহা শাখসুন হাসসা’ বাক্যাংশে একত্রিত।

এবং ‘মাজহুরা রাখওয়াহ’ (ঘোষ-শিথিল) বর্ণগুলো ‘গাদ ত্বাযযান’ বাক্যাংশে একত্রিত। আর ‘মাজহুরা শাদিদাহ’ (ঘোষ-কঠিন) বর্ণগুলো হলো ‘তাবাক্ব আজিদ’, আর এগুলোকে ‘কালক্বালাহ’ (কম্পন সৃষ্টিকারী) বর্ণ বলা হয়। ‘শিদ্দাহ’ ও ‘রাখওয়াহ’-এর মধ্যবর্তী বর্ণগুলো হলো ‘মাজহুর’। ‘মুতবাকা’ (তালুবদ্ধ) বর্ণগুলো হলো সোয়াদ, দোয়াদ, তোয়া এবং জোয়া। আর ‘মুসতালিইয়াহ’ (উত্তোলিত) বর্ণ হলো এই চারটি এবং গাইন, খা ও ক্বাফ, যা ‘ক্বিয খাসসা দাগাত’ বাক্যাংশে একত্রিত। এগুলো ব্যতীত অন্য সব বর্ণ ‘মুনখাফিদাহ’ (নিম্নগামী), কেউ কেউ এগুলোকে ‘মুসতাফিলাহ’ বলেন। আর ‘মুতাক্বালক্বিলাহ’ (কম্পনশীল) বর্ণগুলো হলো...
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৮)
يجمعها «قطب جد»، والجمهور على أن الباء متقلقلة دون التاء، وذهب بعض أهل النحو والأداء إلى أنها التاء دون الباء، وقد ذكر سيبويه التاء في المتقلقلة، وهي من المهموسة، وقد ذكر لها نفخًا.

والمشربة الزاي والظاء والذال والضاد والراء، واللينة: الألف والواو المضموم ما قبلها، والياء المكسور ما قبلها يجمعها «واي»، وأمكنهن عند الجمهور في المد الألف، خلافًا لأبي بكر الصقلي في زعمه أن أمكنهن في المد الواو ثم الياء ثم الألف.

والجمهور على أن الفتحة من الألف، والضمة من الواو، والكسرة من الياء، فالحروف قبل الحركات، وقيل عكس هذا وقيل ليست الحركات مأخوذة من الحروف، ولا الحروف مأخوذة من الحركات، وصححه بعضهم.
এগুলোকে ‘কুতুবু জাদিন’ বাক্যটি একত্রিত করে। জমহুর উলামায়ে কিরামের মতে ‘বা’ বর্ণটি কলকলাহ-যুক্ত, ‘তা’ নয়। তবে কতিপয় নাহুবিদ ও তিলাওয়াত বিশেষজ্ঞের অভিমত হলো যে এটি ‘তা’ বর্ণটি, ‘বা’ নয়। সিবওয়াইহ ‘তা’ বর্ণটিকে কলকলাহ-যুক্ত বর্ণসমূহের মধ্যে উল্লেখ করেছেন, অথচ এটি ‘মাহমুসাহ’ (ফিসফিস ধ্বনিযুক্ত) বর্ণগুলোর অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি এর জন্য একটি ‘নুফখ’ (শ্বাসপ্রবাহ) হওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।

আর ‘মুশরাবাহ’ (অন্য ধ্বনি মিশ্রিত) বর্ণগুলো হলো যা, যোয়া, যাল, দদ এবং রা। আর ‘লাইয়্যিনাহ’ (কোমল) বর্ণগুলো হলো আলিফ এবং যে ওয়াও-এর পূর্বের বর্ণে দম্মাহ (পেশ) রয়েছে এবং যে ইয়া-এর পূর্বের বর্ণে কাসরাহ (যের) রয়েছে; এগুলোকে ‘ওয়াই’ শব্দটি একত্রিত করে। জমহুর উলামায়ে কিরামের নিকট মাদ্দ বা দীর্ঘ করার ক্ষেত্রে এগুলোর মধ্যে আলিফ সবচেয়ে শক্তিশালী। তবে আবু বকর আস-সিকিল্লির অভিমত এর বিপরীত; তাঁর দাবি অনুযায়ী মাদ্দ বা দীর্ঘ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী হলো ওয়াও, এরপর ইয়া এবং এরপর আলিফ।

জমহুর উলামায়ে কিরামের মতে ফাতহাহ (যবর) আলিফ থেকে, দম্মাহ (পেশ) ওয়াও থেকে এবং কাসরাহ (যের) ইয়া থেকে উদ্ভূত। সুতরাং হরকত বা স্বরচিহ্নের পূর্বে হরফের অবস্থান। আবার এর বিপরীত মতও বর্ণিত হয়েছে। আবার এটাও বলা হয়েছে যে, হরকতসমূহ হরফ থেকে গৃহীত নয় এবং হরফসমূহও হরকত থেকে গৃহীত নয়; কেউ কেউ এই মতটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ১৯)
والهمزة حرف صحيح، وقال الفارسي: حرف علة، وقيل شبيهة بحرف العلة، والمنحرف اللام وزاد الكوفيون، وتبعهم مكي: الراء، والمكرر الراء قال سيبويه وغيره «وهو حرف شديد جرى فيه الصوت لتكريره وانحرافه إلى اللام فصار كالرخوة ولو لم يكرر لم يجر الصوت فيه».

وقال الصيمري وشريح: هو بين الشدة والرخاوة، وظاهر كلام سيبويه أن التكرير صفة ذاتية للراء، وإلى ذلك ذهب شريح قال: وقد ذهب قوم من أهل الأداء إلى أن الراء لا تكرير فيها مع تشديدها، ولا نعلم وجهه، ولا أن أحدًا من المحققين بالعربية ذكر أن تكريرها يسقط عنها جملة انتهى.

وبالتكرير قرأنا على من قرأ بشرق الأندلس، وبعدم التكرير البتة قرأنا على شيوخ غرناطة، وهو مذهب مكي وأبي عبد الله المقامي.

والهاوي الألف، والمهتوت الهمزة والهت عصر الصوت، والهت أيضًا
এবং হামযা হলো একটি সহীহ (সঠিক) হরফ। আল-ফারিসি বলেছেন: এটি একটি ইল্লত (দুর্বল) হরফ, আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি ইল্লত হরফের সদৃশ। আর মুনহারিফ (বিচ্যুত) হরফ হলো 'লাম'; কুফাবাসীগণ এতে 'রা' হরফকেও যুক্ত করেছেন এবং মাক্কীও তাদের অনুসরণ করেছেন। আর মুকাররার (পুনরাবৃত্তিমূলক) হরফ হলো 'রা'। সীবওয়াইহ এবং অন্যান্যরা বলেছেন: "এটি একটি কঠোর হরফ যাতে এর পুনরাবৃত্তি এবং 'লাম'-এর দিকে বিচ্যুতির কারণে শব্দ প্রবাহিত হয়, ফলে এটি শিথিল হরফের মতো হয়ে যায়; যদি এটি পুনরাবৃত্তি না করা হতো তবে এতে শব্দ প্রবাহিত হতো না।"

আস-সাইমারী এবং শুরাইহ বলেছেন: এটি কঠোরতা এবং শিথিলতার মধ্যবর্তী। সীবওয়াইহ-এর বক্তব্যের বাহ্যিক দিক হলো, পুনরাবৃত্তি হওয়া 'রা' এর একটি সত্তাগত বৈশিষ্ট্য; শুরাইহ এই মতটিই গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন: কিরাত বিশেষজ্ঞদের একটি দল এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, 'রা' যখন তাশদীদযুক্ত হয় তখন তাতে কোনো পুনরাবৃত্তি থাকে না। আমরা এর কোনো ভিত্তি জানি না, আর আরবী ভাষার গবেষকদের মধ্যে কেউ এমনটি উল্লেখ করেননি যে, এর পুনরাবৃত্তি বৈশিষ্ট্যটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যায়। (সমাপ্ত)

আমরা পূর্ব আন্দালুসের কারীদের কাছে পুনরাবৃত্তি সহকারে পাঠ করেছি। আর গ্রানাডার শাইখদের কাছে আমরা কোনো প্রকার পুনরাবৃত্তি ছাড়াই পাঠ করেছি; আর এটিই মাক্কী এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-মাক্বামীর মত।

হাওয়ি (প্রসারিত) হরফ হলো 'আলিফ', আর মাহতুত হলো 'হামযা'। 'হাত্ত' শব্দের অর্থ শব্দের সংকোচন, আর 'হাত্ত' এর অর্থ আরও হলো...
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২০)
الحطم والكسر، وبعضهم يقول فيها المهتوف بالفاء، والهتف الصوت بقوة.

والذلقية قال مكي ثلاثة: الراء واللام والنون، وفي بعض نسخ العين للخليل حروف الذلق: ر، ل، ن، ف، ب، م يجمعها «مل فنبر»، والذلق: الطرف من كل شيء، والفاء والباء والميم في حين خروجها من الشفة لا عمل للسان فيها، وثلاثة في حيز اللام والراء والنون من طرف اللسان على مقدم الغار الأعلى، ولا توجد كلمة خماسية، ولا رباعية بناؤها من الحروف المصمتة إلا ما ندر من ذلك نحو: عسجد، وعسطوس، والدهدقة، والزهزقة، فلا يحسن بناء الرباعي الأصول ولا الخماسيها إلا ويكون بعض حروف الذلاقة فيها، وذلك نحو: جعفر وسفرجل.
চুর্ণ করা এবং ভেঙে ফেলা; কেউ কেউ এই বিষয়ে ‘ফা’ অক্ষরের ক্ষেত্রে একে ‘আল-মাহতুফ’ বলেন। ‘আল-হাতফ’ হলো জোরালো শব্দ।

মক্কী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন ‘যালকিয়্যাহ’ (প্রান্তীয়) বর্ণ তিনটি: রা, লাম এবং নুন। খলীল ইবনে আহমাদ আল-ফারাহিদী বিরচিত ‘আল-আইন’ কিতাবের কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে ‘যালক’ বর্ণগুলো হলো: রা, লাম, নুন, ফা, বা, মীম; এগুলোকে ‘মাল ফানবার’ বাক্যাংশে একত্রিত করা হয়েছে। ‘যালক’ অর্থ হলো যেকোনো বস্তুর অগ্রভাগ। আর ফা, বা এবং মীম যখন ঠোঁট থেকে উচ্চারিত হয়, তখন তাতে জিহ্বার কোনো ভূমিকা থাকে না। আর অন্য তিনটি বর্ণ—লাম, রা এবং নুন—জিহ্বার অগ্রভাগ থেকে উপরের তালুর সম্মুখভাগে উচ্চারিত হয়। এমন কোনো পঞ্চবর্ণীয় বা চতুর্বর্ণীয় শব্দ পাওয়া যায় না যার গঠন কেবল ‘মুসমাতাহ’ (নিশ্চুপ) বর্ণগুলো দ্বারা হয়েছে, অতি বিরল কিছু শব্দ ছাড়া। যেমন: আসজাদ, আসতুস, আদ-দাহদাকাহ এবং আয-যাহযাকাহ। সুতরাং মূলগতভাবে চতুর্বর্ণীয় বা পঞ্চবর্ণীয় শব্দের গঠন ততক্ষণ সাবলীল হয় না যতক্ষণ না তাতে ‘যালাকাহ’ (প্রান্তীয়) বর্ণসমূহের কোনোটি অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন: জা’ফার এবং সাফারজাল।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২১)
وما سوى حروف الذلاقة مصمت، وهو عند الخليل تسعة عشر حرفًا أخرج منها الهمزة وحرفي العلة، فلم يقسم إلى الذلاقة والإصمات إلا الحروف الصحاح.

والصفيرية: الصاد والسين والزاي، والمستطيل الضاد، المتفشي الشين باتفاق، والفاء والصاد باختلاف، وقد فرغنا من ذكر حروف المعجم عددًا ومخرجًا وصفة.

وهذه الحروف مواد الكلم العربية كما ذكرنا، والكلم اسم جنس بينه وبين واحده التاء، والواحد كلمة وهي قول أو منوي معه دال على معنى مفرد.

وأقسامها اسم وفعل وحرف، وزاد بعضهم: وخالفه، وهي التي يسميها البصريون: اسم فعل، ويسميها الكوفيون فعلاً.

فالاسم معرب ومبني: المبني سيأتي القول فيه؛ وأقل ما يكون عليه المعرب من اسم وفعل عند البصريين ثلاثة حروف أصول، وما وجد منه على حرفين محذوف منه، والمحذوف قد يكون فاءً، أو عينًا، أو لامًا، فيبقى على حرفين، وما حذف منه حرفان، وبقى على حرف نادر، وذلك قولهم في الاسم: «شربت ما» أي: ماء، و (م)، في قولهم: م الله، على قول من قال: إنه بقية «أيمن»، وفي الفعل نحو: (ق) زيدًا.

وذهب الكوفيون إلى أن أقل ما يكون عليه حرفان حرف يبدأ به، وحرف يوقف عليه.
ধলাক্বাহ (সাবলীলতা) এর অক্ষরগুলো ব্যতীত বাকি সব অক্ষর মুসমাত (কঠিন)। খলীল ইবন আহমাদ এর নিকট এগুলো ঊনিশটি অক্ষর, যেখান থেকে তিনি হামযাহ এবং দুটি ইল্লত (দুর্বল) অক্ষরকে বাদ দিয়েছেন। ফলে তিনি কেবল সহীহ অক্ষরগুলোকেই ধলাক্বাহ ও ইছমাত—এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন।

শিসধ্বনি সম্বলিত অক্ষরগুলো হলো: ছদ, সীন এবং ঝা। দীর্ঘায়িত অক্ষর হলো দোয়াদ। সর্বসম্মতিক্রমে ‘তাফাশ্শী’ (বিচ্ছুরিত) অক্ষর হলো শীন; তবে ফা এবং ছদ এর ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। আমরা ইতিপূর্বে বর্ণমালার অক্ষরগুলোর সংখ্যা, মাখরাজ (উচ্চারণস্থল) এবং ছিফাত (বৈশিষ্ট্য) বর্ণনার কাজ সম্পন্ন করেছি।

আর আমরা যেমনটি উল্লেখ করেছি, এই বর্ণগুলোই হলো আরবি শব্দের মূল উপাদান। ‘কালিম’ হলো একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য, যার ও তার একবচনের মধ্যে পার্থক্য হলো একটি ‘তা’। এর একবচন হলো ‘কালিমাহ’ (শব্দ), যা হলো এমন কোনো বক্তব্য বা মনে মনে সংকল্পিত বিষয় যা একক অর্থ প্রকাশ করে।

এর প্রকারভেদ হলো বিশেষ্য (ইসম), ক্রিয়া (ফে'ল) এবং অব্যয় (হরফ)। কেউ কেউ এর সাথে ‘খালিফাহ্’ নামক আরও একটি প্রকার যুক্ত করেছেন; আর এটিকেই বসরীয় ব্যাকরণবিদগণ ‘ইসমু ফে'ল’ এবং কুফীয়গণ ‘ফে'ল’ বলে অভিহিত করেন।

বিশেষ্য কখনো মু'রাব (রূপান্তরশীল) হয়, আবার কখনো মাবনী (অপরিবর্তনশীল) হয়। মাবনী সম্পর্কে সামনে আলোচনা আসবে। বসরীয়দের মতে, একটি মু'রাব বিশেষ্য ও ক্রিয়ার মূল অক্ষর কমপক্ষে তিনটি হতে হয়। আর যা দুই অক্ষরে পাওয়া যায়, সেখান থেকে মূলত কোনো অক্ষর বিলুপ্ত করা হয়েছে। বিলুপ্ত অক্ষরটি ফা-কালিমা, আইন-কালিমা কিংবা লাম-কালিমা হতে পারে, যার ফলে তা দুই অক্ষরে অবশিষ্ট থাকে। আর যা থেকে দুটি অক্ষর বিলুপ্ত হয়ে মাত্র একটি অক্ষর অবশিষ্ট রয়েছে তা বিরল। যেমন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে তাদের উক্তি: ‘শাবিততু মা’ অর্থাৎ ‘মাউন’ (আমি পানি পান করেছি), এবং ‘মিম’ অক্ষরটি—যেমন ‘মিল্লাহি’ (আল্লাহর কসম)—সেই মতানুসারে যারা মনে করেন এটি ‘আইমান’ শব্দের অবশিষ্টাংশ। আর ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যেমন: ‘কি যাইদান’ (যাইদকে রক্ষা করো)।

কুফীয়গণ এই মত পোষণ করেন যে, শব্দের সর্বনিম্ন অক্ষর সংখ্যা হলো দুটি: একটি অক্ষর যা দিয়ে শুরু করা হয় এবং অন্য একটি যার ওপর থামা (ওয়াকফ করা) হয়।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২২)
القول في أحكام الكلم العربية

(حالة الإفراد)

وهي على ثلاثة أقسام: الأول: ما يكون لها في أنفسها، الثاني: ما يلحقها من أولها، الثالث: ما يلحقها من آخرها.

القسم الأول: هو المسمى بعلم التصريف: وينقسم قسمين: أحدهما: جعل الكلمة على صيغ مختلفة لضروب من المعاني وسيأتي، والآخر تغيير الكلمة لغير معنى طارئ عليها، وينحصر في الزيادة، والحذف، والإبدال، والقلب، والنقل، والإدغام، فحروف الزيادة يحتاج إلى معرفتها ولا سيما في ذكر الأبنية ويجمعها «أمان وتسهيل».

والذي يعرف به الزائد من الأصلي أحد تسعة أشياء.

أحدها: الاشتقاق وهو أكبر وأصغر، فالأكبر هو عقد تقاليب تركيب الكلمة كيفما قلبتها على معنى واحد نحو: القول، والقلو، والولق، والوقل، واللقو، واللوق على معنى الخفة والسرعة.

والكلم، والكمل، واللكم، والمكل، والملك، واللمك على معنى الشدة والقوة
আরবি শব্দাবলির বিধান সংক্রান্ত আলোচনা

(একক অবস্থা)

এটি তিন প্রকার: প্রথমত: যা শব্দের নিজস্ব সত্তার সাথে সংশ্লিষ্ট, দ্বিতীয়ত: যা শব্দের শুরুতে যুক্ত হয়, তৃতীয়ত: যা শব্দের শেষে যুক্ত হয়।

প্রথম প্রকার: একে শব্দরূপতত্ত্ব (ইলমুত তাসরিফ) বলা হয়: এটি দুই ভাগে বিভক্ত: একটি হলো শব্দকে বিভিন্ন ধরনের অর্থের প্রয়োজনে বিভিন্ন রূপে গঠন করা, যা সামনে বর্ণিত হবে। অন্যটি হলো শব্দের মাঝে এমন পরিবর্তন আনা যা কোনো নতুন অর্থের জন্য নয়। এটি বৃদ্ধি (যিয়াদাহ), বিলোপ (হাফয), স্থলাভিষিক্তকরণ (ইবদাল), রূপান্তর (কালব), স্থানান্তর (নাকল) এবং সন্ধি (ইদগাম)-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। বৃদ্ধির অক্ষরগুলো চেনা প্রয়োজন, বিশেষ করে শব্দের গঠন আলোচনার ক্ষেত্রে; আর এগুলোকে «আমান ওয়া তাস-হিল» শব্দগুচ্ছের মাধ্যমে একত্রিত করা হয়েছে।

মৌলিক অক্ষর থেকে অতিরিক্ত অক্ষর চেনার উপায় নয়টি বিষয়ের যেকোনো একটি।

তার একটি হলো ব্যুৎপত্তি (ইশতিকাক), যা বড় (আকবার) এবং ছোট (আসগার) দুই প্রকার। বড় ব্যুৎপত্তি হলো শব্দের বর্ণবিন্যাসকে যেভাবেই পরিবর্তন করা হোক না কেন তা একটি মূল অর্থের ওপর স্থির থাকা। যেমন: ক-ও-ল, ক-ল-ও, ও-ল-ক, ও-ক-ল, ল-ক-ও এবং ল-ও-ক - এগুলো চপলতা ও দ্রুততা অর্থে ব্যবহৃত হয়।

এবং ক-ল-ম, ক-ম-ল, ল-ক-ম, ম-ক-ল, ম-ল-ক এবং ল-ম-ক - এগুলো কঠোরতা ও শক্তি অর্থে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২৩)
ولم يقل بهذا الاشتقاق الأكبر إلا أبو الفتح، وكان أبو علي يأنس به في بعض المواضع.

والاشتقاق الأصغر: إنشاء مركب من مادة يدل عليها، وعلى معناه كأحمر والحمرة، وهذا الاشتقاق أثبته الجمهور في أن بعض الكلم قد تشتق من بعض، وذهب طائفة إلى أنه لا يشتق شيء من شيء، بل كل أصل.

وذهبت طائفة أخرى إلى أن كل كلمة مشتقة من الأخرى، ونسب للزجاج، وأن سيبويه كان يراه.

والتفريع على قول الجمهور فنقول: يعرض في اللفظ المشتق مع المشتق منه تغييرات: زيادة حركة كعلم مع علم، وحرف كجاذع مع جذع، وزيادتهما
আবু ফাতহ ছাড়া আর কেউ এই বড় ব্যুৎপত্তি বা ‘ইশতিকাকে আকবার’-এর কথা বলেননি, তবে আবু আলি কিছু কিছু ক্ষেত্রে এর প্রতি অনুরাগী ছিলেন।

আর ছোট ব্যুৎপত্তি (আল-ইশতিকাক আল-আসগর) হলো: একটি মূল ধাতু থেকে এমন একটি যৌগিক শব্দ গঠন করা যা উক্ত ধাতু ও তার অর্থের ওপর প্রমাণ বহন করে, যেমন ‘আহমার’ (লাল) ও ‘হুমরাহ’ (লাল আভা)। অধিকাংশ ভাষাবিদ এই মত সাব্যস্ত করেছেন যে, কিছু শব্দ অন্য কিছু শব্দ থেকে ব্যুৎপন্ন হয়। আবার একদল মনে করেন যে, কোনো কিছুই অন্য কিছু থেকে গঠিত হয় না, বরং প্রতিটি শব্দই মৌলিক।

অন্য একদল মনে করেন যে, প্রতিটি শব্দই একে অপর থেকে ব্যুৎপন্ন; এই মতটি আয-যাজ্জাজের দিকে নিসবত করা হয়েছে এবং ইমাম সীবাওয়াইহও এটি মনে করতেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

জমহুরের মতের ওপর ভিত্তি করে আমরা বলতে পারি: ব্যুৎপন্ন শব্দের ক্ষেত্রে মূল শব্দের তুলনায় কিছু পরিবর্তন ঘটে থাকে: যেমন হরকতের বৃদ্ধি—যেমন ‘আলিমা’ ও ‘ইলম’-এর ক্ষেত্রে; অক্ষরের বৃদ্ধি—যেমন ‘জাযি’ ও ‘জায’-এর ক্ষেত্রে; এবং হরকত ও অক্ষর উভয়ের বৃদ্ধি।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২৪)
كضارب مع ضرب، ونقصان حركة كفرس مع فرس، وحرف كبنيت مع بنات، ونقصها كنزا مع نزوان، ونقص حركة وزيادة حرف كغضبى مع غضب، وكسه كحرم مع حرمان وزيادتهما ونقصهما كاستنوق مع ناقة، وزاد رضي الدين بن جعفر البغدادي نقصان حركة مع زيادة حركة كسرق مع السرق، ونقصان حركة مع زيادة حركة، وحرف كاضرب مع ضرب، ونقصان حرف، وزيادة حرف كراضع مع الرضاعة، ونقصان حرف وزيادة حركة وحرف: كخاف مع الخوف، ونقصان حركة وحرف وزيادة حركة كعد مع وعد، ونقصان حركة وحرف، وزيادة حرف: كفاخر مع فخار، ولا بد من اتحاد في الحروف الأصلية على ترتيب واحد في المعنى.

ويدل على أنه فرع: دلالته على معنى زائد على ما اشتق منه نحو: ضارب وضرب، فلو أمكن أن يكون هذا أصلاً لهذا أو هذا أصلاً لهذا، فلا بد من مرجح، والمرجح أحد تسعة أشياء: كون أحدهما أمكن من الآخر كالسقى والسقاء، أو أشرف كالمالك اشتق من الملك بمعنى القدرة لا من الملك بمعنى الربط، أو أظهر، والآخر أغمض كالإقبال والقبل، أو أخص، والأخر أعم كالفضل
যেমন ‘দারিব’ ও ‘দারাবা’-এর ন্যায় [হরকত ও বর্ণের বৃদ্ধি], হরকতের হ্রাস যেমন ‘ফারাস’ ও ‘ফারাস’-এর ক্ষেত্রে, এবং বর্ণের হ্রাস যেমন ‘বুনাইত’ ও ‘বানাত’-এর ক্ষেত্রে, হরকত ও বর্ণের হ্রাস যেমন ‘নাযা’ ও ‘নাযাওয়ান’-এর ক্ষেত্রে, হরকতের হ্রাস ও বর্ণের বৃদ্ধি যেমন ‘গাদবা’ ও ‘গাদাব’-এর ক্ষেত্রে, হরকত ও বর্ণের বৃদ্ধি ও হ্রাস যেমন ‘হুরম’ ও ‘হিরমান’-এর ন্যায়, এবং উভয়ের বৃদ্ধি ও হ্রাস যেমন ‘ইস্তানওয়াকা’ ও ‘নাকাহ’-এর ক্ষেত্রে। রাযীউদ্দীন বিন জাফর আল-বাগদাদী আরও যোগ করেছেন: একটি হরকতের হ্রাসের সাথে অন্য হরকতের বৃদ্ধি যেমন ‘সারাক’ ও ‘আস-সারাক’-এর ক্ষেত্রে, এবং একটি হরকতের হ্রাসের সাথে অন্য হরকত ও বর্ণের বৃদ্ধি যেমন ‘ইদরিব’ ও ‘দারাবা’-এর ক্ষেত্রে, এবং একটি বর্ণের হ্রাসের সাথে অন্য বর্ণের বৃদ্ধি যেমন ‘রাদি’ ও ‘আর-রাদাআহ’-এর ক্ষেত্রে, এবং একটি বর্ণের হ্রাসের সাথে অন্য হরকত ও বর্ণের বৃদ্ধি যেমন ‘খাফা’ ও ‘আল-খাউফ’-এর ক্ষেত্রে, এবং হরকত ও বর্ণের হ্রাসের সাথে অন্য হরকতের বৃদ্ধি যেমন ‘ইদ’ ও ‘ওয়াদ’-এর ক্ষেত্রে, এবং হরকত ও বর্ণের হ্রাসের সাথে অন্য একটি বর্ণের বৃদ্ধি যেমন ‘ফাখির’ ও ‘ফাখার’-এর ক্ষেত্রে। আর মূল বর্ণসমূহের বিন্যাস ও অর্থের ক্ষেত্রে অবশ্যই অভিন্নতা থাকতে হবে।

কোনো শব্দ যে শাখা বা উদ্ভূত শব্দ, তার প্রমাণ হলো: এটি যেখান থেকে উদ্ভূত হয়েছে তার তুলনায় অতিরিক্ত কোনো অর্থের ওপর দলালত বা ইঙ্গিত করা; যেমন ‘দারিব’ ও ‘দারাবা’। যদি এমন সম্ভাবনা থাকে যে এটি তার মূল অথবা সেটি এর মূল, তবে অবশ্যই একটি প্রাবল্যদানকারী মানদণ্ডের প্রয়োজন হবে। এই প্রাবল্যদানকারী মানদণ্ডটি নয়টি বিষয়ের যেকোনো একটি হতে পারে: (১) একটি অপরটির চেয়ে অধিকতর সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়া, যেমন ‘আস-সাকইয়ু’ ও ‘আস-সাক্বা’। (২) অধিকতর মর্যাদাপূর্ণ হওয়া, যেমন ‘আল-মালিক’ শব্দটি ‘আল-মুলক’ (ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব) অর্থ থেকে উদ্ভূত হয়েছে, ‘আল-মিলক’ (বন্ধন) অর্থ থেকে নয়। (৩) অধিকতর স্পষ্ট হওয়া এবং অন্যটি অস্পষ্ট হওয়া, যেমন ‘আল-ইকবাল’ ও ‘আল-কুবুল’। (৪) অধিকতর সুনির্দিষ্ট হওয়া এবং অন্যটি ব্যাপক হওয়া, যেমন ‘আল-ফাদল’।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২৫)
والفضيلة، أو أحسن تصرفا كالعرض والعرض، أو أقرب، والآخر أبعد كالعقار ترده إلى عقر الفهم لا إلى أنها تسكر فتعقر صاحبها.

أو أليق كالهداية بمعنى الدلالة، لا بمعنى التقدم من الهوادي، أو جوهرًا والآخر عرضًا كاستحجر الطين من الحجر، أو مطلقًا والآخر مضمنًا كالقرب، و «المقاربة»، والترجيح إنما يكون بين المستويين في شيء، فيكون بأحد ما ذكر.

والأصل في الاشتقاق أن يكون المصادر، وأصدق ما يكون في الأفعال المزيدة، والصفات منها، وأسماء المصادر، والزمان، والمكان، ويغلب في العلم، ويقبل في أسماء الأجناس كغراب يمكن أن يشتق من الاغتراب وجرادة من الجرد.

الثاني: التصريف: وهو تغيير صيغة إلى صيغة، يسقط من الفرع، ويثبت في الأصل، وهو شبيه بالاشتقاق، والفرق بينهما: أن في الاشتقاق يستدل على الزيادة، بسقوطه في الأصل، وثبوته في الفرع، والتصريف بعكسه نحو: قذال وقذل، وعجوز وعجز، وكتاب وكتب.

وتسمية هذا فرعًا وأصلاً فيه تجوز، وإنما تتحقق الفرعية والأصلية في المشتق منه والمشتق.

الثالث: سقوط الحرف من النظير نحو: أيطل وإطل، فسقوط الياء من إطل
এবং শ্রেষ্ঠত্ব, অথবা অধিকতর উত্তম প্রয়োগ যেমন ‘আরদ’ ও ‘আরদ’, অথবা অধিকতর নিকটবর্তী হওয়া এবং অপরটি দূরবর্তী হওয়া যেমন ‘আকার’ (স্থাবর সম্পত্তি) শব্দটিকে আপনি অনুধাবনের মূলে ফিরিয়ে নিবেন, এ অর্থে নয় যে তা নেশাগ্রস্ত করে এবং মালিকের বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে।

অথবা অধিকতর উপযুক্ত হওয়া যেমন ‘হেদায়েত’ শব্দটি পথপ্রদর্শনের অর্থে ব্যবহৃত হওয়া, অগ্রগামী দলের অগ্রভাগে থাকার অর্থে নয়। অথবা একটি মূল পদার্থ হওয়া এবং অপরটি তার অবস্থা হওয়া যেমন পাথর থেকে ‘মাটি পাথুরে হয়ে গেছে’ শব্দটি আসা। অথবা একটি সাধারণ এবং অপরটি অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া যেমন ‘নৈকট্য’ ও ‘কাছাকাছি হওয়া’। আর প্রাধান্য মূলত কোনো বিষয়ে সমপর্যায়ের দুটির মধ্যে হয়ে থাকে, যা উপরে বর্ণিত কোনো একটি উপায়ে নির্ধারিত হয়।

ব্যুৎপত্তি বা ইশতিকাকের মূল ভিত্তি হলো মাসদার (ক্রিয়ামূল)। আর এটি সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয় অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত ক্রিয়া, তা থেকে গঠিত গুণবাচক শব্দ, ইসম-ই-মাসদার, কালবাচক বিশেষ্য ও স্থানবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে। এটি নামবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে প্রবলভাবে দেখা যায় এবং জাতিবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও গ্রহণযোগ্য; যেমন ‘গুরাব’ (কাক) শব্দটি ‘ইগতিরাব’ (দেশান্তর) থেকে এবং ‘জারাদাহ’ (ঘাসফড়িং) শব্দটি ‘জারদ’ (ছাঁটাই করা) থেকে উদ্ভূত হতে পারে।

দ্বিতীয়: তাসরিফ (রূপান্তর): এটি এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তনের নাম, যা শাখা থেকে বিলুপ্ত হয় এবং মূলে বহাল থাকে। এটি ইশতিকাকের সদৃশ। তবে এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো: ইশতিকাকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বর্ণের প্রমাণ পাওয়া যায় মূলে সেটির অনুপস্থিতি এবং শাখায় উপস্থিতির মাধ্যমে। আর তাসরিফ বা রূপান্তর এর বিপরীত; যেমন: ‘কাযাল’ ও ‘কাযল’, ‘আজুয’ ও ‘আজুয’, এবং ‘কিতাব’ ও ‘কুতুব’।

একে ‘শাখা’ ও ‘মূল’ হিসেবে অভিহিত করা রূপক মাত্র। প্রকৃতপক্ষে শাখা ও মূলের বিষয়টি কেবল ‘মুশতাক মিনহু’ (উৎসমূল) এবং ‘মুশতাক’ (উদ্ভূত শব্দ)-এর ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়।

তৃতীয়: সমরূপ শব্দ থেকে বর্ণের বিলুপ্তি; যেমন: ‘আইতল’ ও ‘ইতল’। এখানে ‘ইতল’ শব্দ থেকে ‘ইয়া’ বর্ণটি বিলুপ্ত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২৬)
وهو مرادف لأيطل دلي لعلى زيادتها، فلو سقط من فرع كسقوط الواو من يعد، أو من نظير كسقوطه من عدة، فلعلة فلا يكون دليلاً على الزيادة.

الرابع: كون الحرف مع عدم الاشتقاق في موضع تلزم فيه زيادته: وهو النون الساكنة غير المدغمة تقع ثالثة وبعدها حرفان نحو: عبنقس، فإن كانت مدغمة نحو: عجنس، فقيل زائدة، ووزنه: فعنل، وقيل أصل، ووزنه فعلل من مزيد المضعف.

وقال ابن سيده: هو من مزيد الرباعي ووزنه فعنلل.

الخامس: الكثرة نحو: همزة أفكل يحكم عليها بالزيادة لكثرة ما وجدت زائدة، فيما عرف اشتقاقه نحو: همزة أحمر وأفضل.

السادس: اختصاصه ببنية لا يقع موقع الحرف فيها ما لا يصلح للزيادة نحو: حنطأو فلا يوجد في مثل هذا التركيب مثل: سردأو.
এটি ‘আইতাল’ (কোনো শব্দের মূল অংশ পড়ে যাওয়া)-এর সমার্থক যা তার অতিরিক্ত হওয়ার প্রমাণস্বরূপ। তবে যদি কোনো শাখা শব্দ থেকে বর্ণটি বিলুপ্ত হয়, যেমন ‘ইয়া‘ইদু’ থেকে ‘ওয়াও’ পড়ে যাওয়া, অথবা কোনো সমজাতীয় শব্দ থেকে বিলুপ্ত হওয়া, যেমন ‘ইদাহ’ থেকে এর বিলুপ্তি, তবে তা কোনো বিশেষ ব্যাকরণিক কারণবশত হয়ে থাকে। ফলে এটি অতিরিক্ত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে না।

চতুর্থ: কোনো শব্দের বুৎপত্তি (ইশতিকাক) জানা না থাকা সত্ত্বেও বর্ণটি এমন স্থানে অবস্থিত হওয়া যেখানে বর্ণটির অতিরিক্ত হওয়া অপরিহার্য। আর তা হলো সেই সাকিনযুক্ত ‘নূন’ যা অন্য বর্ণের সাথে একীভূত (ইদগাম) হয়নি এবং যা শব্দের তৃতীয় স্থানে অবস্থিত আর এর পরে আরও দুটি বর্ণ রয়েছে; যেমন: ‘আবানকাস’। তবে যদি তা একীভূত অবস্থায় থাকে যেমন: ‘আজান্নাস’, তবে বলা হয়েছে এটি অতিরিক্ত এবং এর ওজন হলো ‘ফা‘নাল্ল’। আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি মূল বর্ণ এবং এর ওজন হলো ‘ফা‘লাল্ল’, যা মূলত দ্বিত্ববর্নাধিক্য (মুদা’য়াফ) শব্দের অন্তর্ভুক্ত।

ইবনে সিদাহ বলেছেন: এটি চার বর্ণবিশিষ্ট মূল শব্দের অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত রূপ এবং এর ওজন হলো ‘ফা‘নাল্লাল’।

পঞ্চম: আধিক্য বা ব্যাপকতা। যেমন: ‘আফকাল’ শব্দের ‘হামজা’কে অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ যেসব শব্দের বুৎপত্তি জানা আছে সেগুলোতে এই ‘হামজা’ প্রচুর পরিমাণে অতিরিক্ত হিসেবে পাওয়া যায়; যেমন: ‘আহমার’ ও ‘আফদাল’ শব্দের ‘হামজা’।

ষষ্ঠ: বর্ণটি এমন একটি শব্দকাঠামোর জন্য নির্ধারিত হওয়া যেখানে মূল বর্ণটি এমন স্থানে থাকে না যা অতিরিক্ত হওয়ার অযোগ্য। যেমন: ‘হিনতাও’; কেননা এই ধরণের শব্দগঠনের ক্ষেত্রে ‘সারদাও’-এর মতো কোনো রূপ খুঁজে পাওয়া যায় না।
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২৭)
السابع: لزوم عدم النظير بتقدير الأصالة في الكلمة التي ذلك الحرف منها نحو: تنفل ووزنه تفعل نحو: تنضب، وسمع فيه ضم التاء، فاحتمل أن يكون أصلاً، واحتمل، أن يكون زائدًا، فحمل على الزيادة لثبوتها في المفتوحة التاء وكذا نون نرجس المكسورة، لثبوت زيادتها في المفتوحة النون.

الثامن: لزوم عدم النظير بتقدير الأصالة في نظير الكلمة التي ذلك الحرف منها، وذلك نحو: ملوط الميم أصلية والواو زائدة، إذ لو عكسنا لكان وزنه معفلاً، وهو بناء مفقود، وفعول موجود نحو: عسود، وقد عبر عن هذا، وعن الذي قبله بالنظير، والخروج عن النظير، وشرح بمسألة تنفل، ومسألة عزويت.

التاسع: كون الحرف المعنى: كحروف المضارعة، وألف ضارب، وتاء افتعل، وقد كان يستغنى عن هذا الدليل بمعرفة ذلك الاشتقاق وبالتصريف، فيغنيان عنه.

وزاد بعضهم في الدلائل عاشرًا، وهو الدخول في أوسع البابين نحو:
সপ্তম: উক্ত হরফটি যে শব্দের অংশ, সেই শব্দে সেটিকে মূল হরফ হিসেবে গণ্য করলে কোনো অনুরূপ বা নজির না থাকা। যেমন: ‘তানাফফুল’, এর ওজন হলো ‘তাফাউল’। যেমন: ‘তানদুব’, এতে তা-বর্ণে পেশ সহযোগে উচ্চারণ শোনা গেছে; ফলে এটি মূল হওয়ার সম্ভাবনা রাখে আবার অতিরিক্ত হওয়ারও সম্ভাবনা রাখে। তবে একে অতিরিক্ত হিসেবেই ধরা হয়েছে, কারণ জবরযুক্ত তা-এর ক্ষেত্রে এর অতিরিক্ত হওয়া প্রমাণিত। অনুরূপভাবে যের-যুক্ত ‘নারজিস’ শব্দের ‘নুন’-এর ক্ষেত্রেও একই কথা, কারণ জবরযুক্ত নুন-এর ক্ষেত্রে এর অতিরিক্ত হওয়া প্রমাণিত।

অষ্টম: উক্ত হরফটি যে শব্দের সদৃশ শব্দের অংশ, সেখানে একে মূল হিসেবে গণ্য করলে কোনো অনুরূপ না পাওয়া যাওয়া। যেমন: ‘মালুত’ শব্দে ‘মীম’ মূল এবং ‘ওয়াও’ অতিরিক্ত। কারণ যদি আমরা এর বিপরীতটি ধরতাম, তবে এর ওজন হতো ‘মাফআল’, যা একটি অনুপস্থিত গঠন। অথচ ‘ফাউল’ ওজনটি বিদ্যমান, যেমন: ‘উসওয়াদ’। এই বিষয়টি এবং এর পূর্ববর্তী বিষয়টি ‘নাজির’ (সাদৃশ্য) এবং ‘খুরুজ আনিন নাজির’ (সাদৃশ্যহীনতা) দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে এবং ‘তানাফফুল’ ও ‘ইজওয়িত’-এর মাসআলা দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

নবম: হরফটি কোনো অর্থের জন্য হওয়া; যেমন: মুদারে-র হরফসমূহ, ‘দারিব’ শব্দের আলিফ এবং ‘ইফতাআলা’-র ‘তা’। ইশতিকাক (শব্দমূল নির্ণয়) এবং তাসরিফ (শব্দরূপান্তর) সম্পর্কে জ্ঞান থাকলে এই দলিলটির আর প্রয়োজন হতো না, কারণ এই দুটি বিষয়ই এর অভাব পূরণ করে দেয়।

কেউ কেউ দলিলসমূহের মধ্যে দশম একটি বিষয় যোগ করেছেন, আর তা হলো—দুটি প্রশস্ততম পরিচ্ছেদের অন্তর্ভুক্ত হওয়া। যেমন:
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২৮)
كنهبل على تقدير أصالة النون، فوزنه فعلل، وعلى تقدير زيادتها، فوزنه فنعلل، وكلا الوزنين مفقود، فيحمل على الزيادة؛ إذ باب المزيد أوسع من باب الأصلي، ألا ترى إلى كثرة أبنية المزيد، وقلة أبنية المجرد.

ولا يدخل الاشتقاق والتصريف المصطلح عليهما في علم النحو في الاسم الأعجمي، ولا اسم الصوت، ولا الحرف، ولا ما شبه به من متوغل في البناء، وجاء بعض هذا فيه التصرف كأسماء الإشارة وبعضه جاء في الاشتقاق كقط، ولا يدخل الاشتقاق أيضًا الأسماء النادرة ك «طوبالة»، ولا المتداخلة كـ «الجو» للأسود والأبيض ولا الأسماء الخماسية الأصول.

وقد اصطلح النحاة على أن يزنوا بلفظ الفعل، فقابلوا أول الأصول بالفاء، وثانيها بالعين، وثالثها باللام؛ فإن زادت الأصول كررت اللام عند البصريين، ومذهب الكوفيين أن نهاية الأصول ثلاثة، وما زاد على الثلاثة حكموا بزيادتها، واختلفوا فقائل لا يزن، وقائل يزن، وينطق في الوزن بلفظ الزائد، وقائل يزن، وتجعل الزائد ما قبل الآخر، فيجعل وزن «جعفر»: فعللاً، وقائل يزن كوزن البصريين مع اعتقاد ما زاد على ثلاثة، ولذلك كرر اللام، وقال الفراء: إن بقى حرف تركه بلفظه، فوزن جعفر: فعلر إن جعلت الثلاثة في مقابلة الفاء والعين واللام؛ وإن جعلت الثلاثة الأخيرة
'কুনহাবেল' (শব্দটি) যদি 'নুন'কে মূল ধরা হয়, তবে এর ওজন হবে 'ফাল্লাল', আর যদি একে অতিরিক্ত ধরা হয়, তবে এর ওজন হবে 'ফান'লাল'। এই উভয় ওজনই (আরবি ভাষায়) অপ্রচলিত। তাই একে অতিরিক্ত অক্ষরযুক্ত হিসেবেই গণ্য করা হবে; কারণ অতিরিক্ত অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের পরিধি মূল অক্ষরবিশিষ্ট শব্দের পরিধির চেয়ে অনেক বেশি প্রশস্ত। আপনি কি অতিরিক্ত অক্ষরবিশিষ্ট রূপগুলোর আধিক্য এবং মূল অক্ষরবিশিষ্ট রূপগুলোর স্বল্পতার দিকে লক্ষ্য করেন না?

নাহু শাস্ত্রের পরিভাষায় 'ইশতিখাক' (বুৎপত্তি) এবং 'তাসরিফ' (রূপান্তর) অনারবীয় বিশেষ্য, ধ্বনিবাচক শব্দ, অব্যয় এবং এর সদৃশ অত্যন্ত অপরিবর্তনীয় শব্দসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। তবে এগুলোর কোনো কোনোটিতে রূপান্তর লক্ষ্য করা যায়, যেমন নির্দেশক সর্বনামসমূহ; আবার কোনো কোনোটিতে বুৎপত্তি দেখা যায়, যেমন 'কাত্তু'। অনুরূপভাবে বিরল শব্দসমূহ যেমন 'তূবালাহ', কিংবা বিপরীত অর্থবোধক শব্দ যেমন 'আল-জাও' (যা সাদা ও কালো উভয় অর্থে ব্যবহৃত হয়) এবং মূলগতভাবে পাঁচ অক্ষরবিশিষ্ট বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও 'ইশতিখাক' বা বুৎপত্তি প্রয়োগ করা হয় না।

ব্যাকরণবিদগণ 'ফে’ল' শব্দের রূপ দিয়ে ওজন করার বিষয়ে একমত হয়েছেন। তারা মূল অক্ষরগুলোর প্রথমটির বিপরীতে 'ফা', দ্বিতীয়টির বিপরীতে 'আইন' এবং তৃতীয়টির বিপরীতে 'লাম' নির্ধারণ করেছেন। যদি মূল অক্ষর বৃদ্ধি পায়, তবে বসরীয়দের মতে 'লাম' অক্ষরের পুনরাবৃত্তি করা হয়। কুফীয়দের অভিমত হলো, মূল অক্ষরের সর্বোচ্চ সীমা হলো তিনটি; আর তিনের অধিক যা থাকে সেগুলোকে তারা অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য করেন। এ বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন: কেউ বলেন এর ওজন করা হবে না; কেউ বলেন ওজন করা হবে এবং ওজনে অতিরিক্ত অক্ষরটি সরাসরি উচ্চারণ করা হবে; আবার কেউ বলেন ওজন করা হবে এবং অতিরিক্ত অক্ষরটিকে শেষের আগের অক্ষরে পরিণত করা হবে, ফলে 'জা’ফার' এর ওজন হবে 'ফাল্লাল'। আবার কেউ কেউ বসরীয়দের মতো ওজন করেন, তবে তিনের অধিক অক্ষরকে অতিরিক্ত মনে করেই 'লাম' এর পুনরাবৃত্তি করেন। আল-ফাররা বলেন: যদি কোনো অক্ষর অবশিষ্ট থাকে তবে তা তার নিজ রূপেই রেখে দিতে হবে; ফলে 'জা’ফার' এর ওজন হবে 'ফাল্লার', যদি আপনি প্রথম তিনটিকে 'ফা', 'আইন' ও 'লাম' এর বিপরীতে ধরেন; আর যদি শেষ তিনটিকে (বিপরীতে ধরেন)
(খণ্ড: ১) ইরতিশাফুয যারব মিন লিসানিল আরব (পৃষ্ঠা: ২৯)
في مقابلتها قلت: جعفل، أو في مقابلة الأولين والأخيرين قلت فعفل.

والمعتمد في الأوزان في هذا الكتاب مذهب البصريين.

فنقول: الاسم ثلاثي ورباعي وخماسي، الثلاثي: مجرد ومزيد، المجرد: مضعف وغير مضعف.

المضعف: ما اتحدت فاؤه وعينه، أو فاؤه ولامه، أو عينه ولامه وأكثر النحاة لا يفرد هذا النوع بالذكر، بل يدخله في مطلق الثلاثي، ومنهم من يسميه ثنايئًا، ونحن اخترنا إفراده بالذكر.

فهو يجيء اسمًا على فعل نحو: ببر وحظ، ودعد؛ وصفه، نحو: خب، [وعلى فعل: اسمًا نحو طيب، وعمة؛ وصفة، نحو: خب وعلى فعل: اسمًا نحو: دب وجرجة؛ وصفة نحو: مر]، وعلى فعل: اسمًا نحو: صمم، وددن؛ وصفة نحو: غمم، وعلى فعل: اسمًا
এর বিপরীতে আমি বলেছি: জা’ফাল, অথবা প্রথম এবং শেষ বর্ণগুলোর বিপরীতে আমি বলেছি ফা’ফাল।

এই কিতাবে ওযন বা রূপকাঠামোর ক্ষেত্রে বসরীয়দের মাযহাবই নির্ভরযোগ্য।

সুতরাং আমরা বলি: বিশেষ্য বা ইসম তিন প্রকার— সুলাসি (ত্রিপদী), রুবাঈ (চতুর্পদী) এবং খুমানি (পঞ্চপদী)। সুলাসি দুই প্রকার: মুজাররাদ (অতিরিক্ত বর্ণহীন) এবং মাযীদ (অতিরিক্ত বর্ণযুক্ত)। মুজাররাদ আবার দুই প্রকার: মুদাআফ (দ্বিত্ববিশিষ্ট) এবং গাইরে মুদাআফ (দ্বিত্বহীন)।

মুদাআফ হলো তা, যার ফা-কালিমা এবং আইন-কালিমা অভিন্ন হয়, অথবা ফা-কালিমা এবং লাম-কালিমা অভিন্ন হয়, অথবা আইন-কালিমা এবং লাম-কালিমা অভিন্ন হয়। অধিকাংশ নাহুবিদ এই প্রকারটিকে আলাদাভাবে উল্লেখ করেন না, বরং একে সাধারণ সুলাসির মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে ‘ছুনাই’ (দ্বিপদী) বলে অভিহিত করেন, তবে আমরা একে পৃথকভাবে উল্লেখ করাকেই পছন্দ করেছি।

এটি ‘ফাইল’ ওযনে ইসম হিসেবে আসে, যেমন: বিবর, হাযয এবং দা’দ; আর সিফাত বা গুণবাচক শব্দ হিসেবে আসে, যেমন: খাব্ব। [এবং ‘ফুইল’ ওযনে ইসম হিসেবে আসে, যেমন: তীব এবং আম্মাহ; আর সিফাত হিসেবে আসে, যেমন: খাব্ব। এবং ‘ফাইল’ ওযনে ইসম হিসেবে আসে, যেমন: দুব্ব এবং জুরজাহ; আর সিফাত হিসেবে আসে, যেমন: মুর্র।] এবং ‘ফাল’ ওযনে ইসম হিসেবে আসে, যেমন: সামাম এবং দাদান; আর সিফাত হিসেবে আসে, যেমন: গমাম। আর ‘ফুইল’ ওযনে ইসম হিসেবে...