(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: -)
نهاية الوصول في دراية الأصول   (الصفي الهندي)

القسم: أصول الفقه

الكتاب: نهاية الوصول في دراية الأصول

المؤلف: صفي الدين محمد بن عبد الرحيم الأرموي الهندي (715 هـ)

المحقق: د. صالح بن سليمان اليوسف - د. سعد بن سالم السويح

أصل التحقيق: رسالتا دكتوراة بجامعة الإمام بالرياض

الناشر: المكتبة التجارية بمكة المكرمة

الطبعة: الأولى، 1416 هـ - 1996 م

عدد الأجزاء: 9 (8 والفهرس) (متسلسلة الترقيم)

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 19 جُمادَى الأولى 1437

উসুল শাস্ত্রের জ্ঞানে চূড়ান্ত গন্তব্য (নিহায়াতুল উসুল ফি দিরায়াতিল উসুল)    (সাফি আল-হিন্দি)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ (ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি)

গ্রন্থ: উসুল শাস্ত্রের জ্ঞানে চূড়ান্ত গন্তব্য (নিহায়াতুল উসুল ফি দিরায়াতিল উসুল)

লেখক: সাফিউদ্দিন মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহিম আল-আরমাবি আল-হিন্দি (৭১৫ হিজরি)

গবেষক ও সম্পাদক: ড. সালিহ বিন সুলাইমান আল-ইউসুফ - ড. সাদ বিন সালিম আস-সুওয়াইহ

গবেষণার উৎস: রিয়াদের ইমাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ডক্টরাল থিসিস

প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুত তিজারিয়্যাহ, মক্কা মুকাররমা

সংস্করণ: প্রথম, ১৪১৬ হিজরি - ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৯ (৮ খণ্ড এবং নির্ঘণ্ট) (ধারাবাহিক নম্বরযুক্ত)

শামেলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: (মারকাজুন নুখাবিল ইলমিয়্যাহ) এর তত্ত্বাবধানে রাবিতাতুন নুসসাখ দল

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১৯ জুমাদাল উলা ১৪৩৭

(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم

رب يسر وأعن

الحمد لله محي الأمم بعد فنائها، وجامع الرمم بعد شتاتها، ومسوي العظام بعد تفتتها، ومعيد الأرواح إلى الأشباح بعد مفارقتها، ومجدد العلوم بعد بلائها، وناظم المنثور منها بعد تبددها، ومؤيد الفكر لاستنباط غرائبها ودقائقها، ومتخذ الأذهان في كل زمان لإدراك ما خفي من غوائصها وغوامضها، وموفق الأخلاق لاقتفاء آثار أسلافها في إحيائها ونشرها، ومعطي كل منها فضائلها. فللأولين فضيلة الوضع وتمهيد القواعد، والآخرين مزية التمييز وإلحاق الفوائد وحذف الزوائد، فسبحان من أفاض بركتها على العالمين من بين العالمين، وخص سعادة الدارين السابقين منهم واللاحقين، والصلاة والسلام، على رسله الكرام "المبعوثين" من بين الأنام، إلى الخواص والعوام، بالمعجزات العظام، والآيات الجسام، خصوصا على سيدنا ومولانا محمد الختام، المظلل بالغمام، المبعوث بالحسام، إلى ألد الخصام، والمعاند الطغام. المرسل بالبراهين الساطعة، والآيات والبينات الدامغة، لتلقيح الخواطر العقام. وتوضيح المسالك الصعبة المرام، وعلى آله وأصحابه الهداة الأعلام، القادة إلى سبل السلام.

أما بعد: فإن العلم أعلى ما تسمو إليه النفوس الفواضل، وأبهى ما ترنو إليه العقول الأوائل، وأنهى ما تصعد إليه أعناق العزائم، وأشهى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

হে আমার প্রতিপালক! সহজ করে দিন এবং সাহায্য করুন।

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জাতিসমূহকে তাদের বিলুপ্তির পর পুনর্জীবিত করেন, এবং জরাজীর্ণ হাড়গোড়কে তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর একত্রিত করেন, এবং চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়ার পর হাড়গুলোকে সুবিন্যস্ত করেন, এবং দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর পুনরায় তাতে প্রাণ ফিরিয়ে দেন, এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানসমূহকে তা জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় সজীব করেন, এবং তা বিক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় সুশৃঙ্খলভাবে সাজান, এবং এর সূক্ষ্ম ও বিস্ময়কর রহস্যসমূহ উদঘাটনের জন্য চিন্তাশক্তিকে সহায়তা করেন, এবং এর গুপ্ত ও গভীর রহস্যসমূহ অনুধাবনের জন্য প্রতিটি যুগে মেধাকে নিয়োজিত করেন, এবং একে পুনর্জীবিত ও প্রচার করার ক্ষেত্রে পূর্বসূরীদের পদাঙ্ক অনুসরণের জন্য সৎ চরিত্রবানদের তাওফিক দান করেন এবং তাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ শ্রেষ্ঠত্ব দান করেন। সুতরাং পূর্বসূরীদের জন্য রয়েছে বিষয়বস্তু উদ্ভাবন ও মূলনীতি প্রণয়নের শ্রেষ্ঠত্ব, আর উত্তরসূরীদের জন্য রয়েছে পার্থক্য নিরূপণ, নতুন নতুন উপকারিতা যুক্ত করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিষয় বর্জনের বিশেষত্ব। সুতরাং সেই মহান সত্তা অতীব পবিত্র, যিনি আলেমদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর ওপর এর বরকত ঢেলে দিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জন্য উভয় জগতের সৌভাগ্য নির্ধারিত করেছেন। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর সম্মানিত রাসুলগণের ওপর, যারা সৃষ্টিজগত থেকে বিশেষ ও সাধারণ সকলের নিকট মহান মুজিজা ও বিশাল নিদর্শনসমূহ নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন। বিশেষত আমাদের নেতা ও অভিভাবক শেষ নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যাকে মেঘমালা ছায়া দান করত এবং যাকে তলোয়ারসহ চরম শত্রু ও অবাধ্য পাপাচারীদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে। যিনি উজ্জ্বল প্রমাণাদি এবং অকাট্য নিদর্শন ও স্পষ্ট দলিলসমূহ নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন বন্ধ্যা চিন্তাধারাকে উর্বর করার জন্য এবং দুর্গম পথসমূহকে স্পষ্ট করার জন্য; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবায়ে কিরামের ওপর, যারা হিদায়াতের আলোকবর্তিকা এবং শান্তির পথের দিশারী।

অতঃপর: নিশ্চয়ই জ্ঞান হলো এমন এক উচ্চতর বিষয় যার দিকে মহৎ প্রাণসমূহ ধাবিত হয়, এবং এমন এক উজ্জ্বল বস্তু যার প্রতি শ্রেষ্ঠ বুদ্ধিমানগণ দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন, এবং এটিই সেই চূড়ান্ত লক্ষ্য যার পানে দৃঢ় সংকল্পের অধিকারীরা ধাবিত হয় এবং এটিই সর্বাধিক আকাঙ্ক্ষিত।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৪)
ما تميل" إليه أفئدة الصرائم، إذ كمالها فيه واشتغالها بعد مفارقة أجسادها به حين يحال بينهما وبين الأفهام، ويمنع عنها هواها، فلولا لها ما يشغلها عنها ويذهلها عن دوافعها لكانت معذبة دائما بالالتفات إليها، كالمغرم الفارع الممنوع.

وإلى هذا المعنى وقعت الإشارة في التنزيل: {وأنى لهم التناوش من مكان بعيد}. {وحيل بينهم وبين ما يشتهون كما فعل بأشياعهم من قبل إنهم كانوا في شك مريب}.

ثم لا يخفى عليك أن العلوم تتفاوت مراتبها وشرفها، بسبب معلوماتها ومسيس الحاجة إليها، واحتياج غيرها من العلوم إليها وخاصة ضدها، ووثاقة براهينها وقواعدها، ففي بعضها قد يوجد كل هذه الجهات كما في العلم الإلهي الباحث عن الوجود المطلق وهو العلم الأعلى والأعم، ولا شك أنه أشرف العلوم وأنفسها، إذ فيه يطالعنا جلال الله وكبرياؤه الذي فيه أنواع السرور والحبور، وليس للعقول عنه تجاوز وعبور، بل تبقى فيه حائرة، وعن كل ما سواه غائبة، وعن غيبتها فائتة، فتكون في مقام فناء الفناء ناطقة بلسان الحال لا بلسان المقال ليس في الوجود سوى الله أو سبحاني ما أعظم شأني أو أنا الحق، ومعرفة الجواهر النورانية كالعقول والنفوس وسائر الممكنات التي لا تنفد عجائبها، ولا تنتهي غرائبها. وقد يوجد في بعضها أكثرها كما في أصول الفقه، أما مسيس الحاجة إليه فلاحتياج الفقه إليه المحتاج
স্থিরচিত্ত ব্যক্তিদের হৃদয় যাঁর প্রতি ধাবিত হয়, কেননা তাদের পূর্ণতা তাঁর মাঝেই নিহিত এবং তাদের দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর তাদের মগ্নতা তাঁকে নিয়েই গড়ে ওঠে; যখন তাদের ও তাদের উপলব্ধির মাঝে আড়াল তৈরি করা হয় এবং তাদের প্রবৃত্তি থেকে তাদের নিবৃত্ত করা হয়। যদি তাদের জন্য এমন কিছু না থাকত যা তাদের তা থেকে বিমুখ রাখত এবং তাদের তাড়না থেকে ভুলিয়ে রাখত, তবে তারা সর্বদা সেদিকেই নিবিষ্ট থেকে যন্ত্রণাকাতর হতো, যেমন সেই নিষিদ্ধ প্রেমে মত্ত ব্যক্তি যে প্রত্যাখ্যাত।

আর এই অর্থের দিকেই আল-কুরআনে ইঙ্গিত করা হয়েছে: "আর সুদূর স্থান থেকে তাদের পক্ষে তা লাভ করা কীভাবে সম্ভব?" "আর তাদের ও তাদের আকাঙ্খার মাঝে অন্তরায় তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, যেমন পূর্বে তাদের সমমনাদের ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। নিশ্চয়ই তারা বিভ্রান্তিকর সন্দেহে লিপ্ত ছিল।"

অতঃপর আপনার কাছে এটি অস্পষ্ট নয় যে, জ্ঞানের স্তর ও মর্যাদা বিভিন্ন হয় তার বিষয়বস্তুর গুরুত্ব, তার প্রতি অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজনীয়তা, অন্যান্য বিদ্যার তার ওপর নির্ভরশীলতা—বিশেষত তার বিপরীত বিদ্যার ক্ষেত্রে—এবং তার প্রমাণ ও মূলনীতির সুদৃঢ়তার বিচারে। কোনো কোনো বিদ্যায় এই সকল দিকের সমাবেশ ঘটে, যেমন ঐশ্বরিক জ্ঞান (ইলমে ইলাহী), যা পরম অস্তিত্ব নিয়ে গবেষণা করে; আর এটিই হলো সর্বোচ্চ ও সর্বব্যাপক জ্ঞান। নিঃসন্দেহে এটি ইলমসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ও সবচেয়ে মূল্যবান, কারণ এতে আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশিত হয় যা সব ধরনের আনন্দ ও প্রশান্তির আধার। মানুষের বুদ্ধিবৃত্তির পক্ষে একে অতিক্রম করা সম্ভব নয়, বরং তা এতেই স্তব্ধ হয়ে থাকে এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এমনকি এই বিচ্ছেদ থেকেও সে বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে সে ‘ফানা-উল-ফানা’র (বিলয়ের বিলয়) স্তরে পৌঁছে মৌখিক ভাষায় নয়, বরং আধ্যাত্মিক অবস্থার ভাষায় বলে ওঠে: "অস্তিত্বে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ নেই" অথবা "আমি কতই না পবিত্র, আমার মহিমা কত মহান" কিংবা "আমিই সত্য"। এছাড়া এতে আকল (বুদ্ধিবৃত্তি), নফস (আত্মা) এবং অন্যান্য সম্ভাব্য সত্তার ন্যায় জ্যোতির্ময় সারবস্তুসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ হয়, যার বিস্ময়কর নিদর্শনের শেষ নেই এবং যার রহস্যের কোনো সমাপ্তি নেই। আবার কোনো কোনো বিদ্যায় এর অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, যেমন উসূলে ফিকহ। এর প্রয়োজনীয়তার তীব্রতা এই কারণে যে, ফিকহ শাস্ত্র এর ওপর একান্তভাবে নির্ভরশীল।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৫)
إليه في تحصيل المصالح الدينية والدنيوية.

أما/ (2/ب) الدينية فلأن سعادة الإنسان في الدين منحصرة في الحكمة العلمية والعملية، والحكمة العملية إنما تحصل بامتثال أوامر الله تعالى ومحافظة حدوده والانتهاء عن مناهيه، والعلم المتكفل ببيانها هو الفقه، وقد اندرج تحت ما ذكرنا أقسامها الثلاثة المشهورة، إذ التخلق بالأخلاق المرضية والاجتناب عن الرذيلة وكيفية معاشرة أهل المنزل والمدينة من جملة أوامر الله تعالى وحدوده ونواهيه. وبهذا ظهر أيضا كون الفقه محتاجا إليه في المصالح الدنيوية، إذ لا يتأتى للإنسان أن يستقل وحده بتحصيل مصالحه فيما يتعلق بمعاشه فلابد من المصالحة والمخالطة لتتم المصالح بالتعاون.

وهي تحتاج إلى حدود مشروعة وزواجر رادعة، وقوانين مضبوطة كي لا يؤدي الأمر إلى الهرج والمرج وإلى أن من غلب سلب. وأما احتياج غيره من العلوم إليه فلأن الفقه وعلم النظر الذي به يتميز الحق من الباطل والصحيح من الفاسد يحتاجان إليه، وأما وثاقة البراهين واستحكام القواعد فأيضا حاصل فيه إذا أكثر قواعده ثبت بأدلة قاطعة، مثل كون الإجماع، والقياس، وخبر الواحد حجة، وإن الخبر المتواتر يفيد العلم
দ্বীনি ও দুনিয়াবী কল্যাণ হাসিলের ক্ষেত্রে এর মুখাপেক্ষী হতে হয়।

আর (২/খ) দ্বীনি কল্যাণের বিষয়টি হলো—দ্বীনের ক্ষেত্রে মানুষের সৌভাগ্য তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক প্রজ্ঞার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ব্যবহারিক প্রজ্ঞা কেবল মহান আল্লাহর আদেশসমূহ পালন, তাঁর সীমারেখা রক্ষা করা এবং তাঁর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো থেকে বিরত থাকার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। আর এই বিষয়গুলো বর্ণনার দায়িত্বপ্রাপ্ত শাস্ত্র হলো ফিকহ। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার অধীনে ফিকহ-এর প্রসিদ্ধ তিনটি প্রকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে; কারণ পছন্দনীয় চরিত্রে ভূষিত হওয়া, চারিত্রিক পঙ্কিলতা পরিহার করা এবং পরিবার ও নগরবাসীর সাথে মেলামেশার নিয়মাবলি মহান আল্লাহর আদেশ, সীমারেখা ও নিষেধেরই অন্তর্ভুক্ত। এর মাধ্যমেই দুনিয়াবী কল্যাণের ক্ষেত্রেও ফিকহ-এর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে যায়। কারণ মানুষের একাকী স্বনির্ভর হয়ে তার জীবনযাত্রার যাবতীয় প্রয়োজন পূরণ করা সম্ভব নয়। ফলে সহযোগিতার মাধ্যমে স্বার্থসিদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য পারস্পরিক সন্ধি ও সামাজিক মেলামেশা অপরিহার্য।

আর এর জন্য প্রয়োজন শরয়ি সীমারেখা, কঠোর প্রতিবন্ধক ও সুশৃঙ্খল আইন, যাতে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতার দিকে মোড় না নেয় এবং যার শক্তি আছে সে লুট করে নিয়ে যাবে—এমন অবস্থার সৃষ্টি না হয়। অন্যান্য শাস্ত্রের এর প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়ার কারণ হলো—ফিকহ এবং যুক্তিশাস্ত্র, যার মাধ্যমে সত্যকে মিথ্যা থেকে এবং সঠিককে অশুদ্ধ থেকে পৃথক করা হয়, উভয়ই এর মুখাপেক্ষী। আর প্রমাণের নির্ভরযোগ্যতা এবং মূলনীতিসমূহের সুদৃঢ়তাও এতে অর্জিত হয়; কেননা এর অধিকাংশ মূলনীতি অকাট্য দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত। যেমন—ইজমা, কিয়াস ও খবরে ওয়াহিদ দলিল হওয়া এবং খবরে মুতাওয়াতির নিশ্চিত জ্ঞান দান করার বিষয়টি।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৬)
عن من يجعله نظريا. وأما من يجعله ضروريا فالأمر عنده أظهر، وإن النسخ جائز عقلا وواقع شرعا وغير ذلك من قواعده، فظهر بما ذكرنا أن أكثر جهات الشرف حاصل فيه وما عداه من العلوم غير العلم الإلهي فظاهر أنه ليس كذلك فيكون أشرف العلوم بعده، ولأنه ليس نقليا محضا الذي فيه الخطب يسير، ولا عقليا خالصا الذي فيه الأمر عسير والخطب كثير، بل ازدوج فيه العقل والنقل، واجتمع الصعب والسهل، فلا الحاكم السديد فيه معزول، ولا حكم التقليد فيه مقبول، بل هو بين طرفي التفريط والإفراط. وقد قيل: (خير الأمور الأوساط).

যারা একে তাত্ত্বিক মনে করে তাদের তুলনায়। আর যারা একে স্বতঃসিদ্ধ মনে করে, তাদের কাছে বিষয়টি অধিকতর স্পষ্ট। আর রহিতকরণ বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে বৈধ এবং শরয়ি বিধানে বাস্তবায়িত, এবং এগুলো এর অন্যান্য মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা দ্বারা এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, শ্রেষ্ঠত্বের অধিকাংশ দিক এতে বিদ্যমান রয়েছে। আর খোদায়ী জ্ঞান ব্যতীত অন্যান্য শাস্ত্রের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্ট যে সেগুলো এমন নয়, ফলে এটি তার (ইলাহি জ্ঞানের) পরে শ্রেষ্ঠতম জ্ঞান হিসেবে সাব্যস্ত হয়। কারণ এটি নিছক বর্ণনাভিত্তিক নয় যার গুরুত্ব নগণ্য হতে পারে, আর এটি নিছক বুদ্ধিবৃত্তিকও নয় যেখানে বিষয়টি অত্যন্ত কঠিন ও দায়ভার অনেক বেশি হয়; বরং এতে যুক্তি ও বর্ণনার সমন্বয় ঘটেছে এবং কঠিন ও সহজের মিলন ঘটেছে। ফলে এতে নির্ভুল বিচারক (বিবেক) অপসারিত নয়, আবার এতে অন্ধ অনুকরণের সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্য নয়; বরং এটি বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ির দুই প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। আর যেমনটি বলা হয়েছে: "সর্বোত্তম বিষয় হলো তার মধ্যমপন্থা"‌।

(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৭)
ثم أنه مع شرفه وعلو مرتبته ورفعة مكانته قد أصبح مهجور الجناب، مغلوق الباب، قلما يغشاه أحد من أولى الألباب، لأن الدواعي قد فترت عن اكتسابه، وملت عن اقتنائه وتعطلت المدارس عن تعليمه وتعلمه. فدعاني ما في من الشوق إلى تحصيل الفضائل، والتجنب عن الرذائل، أن أصرف طرفا صالحا من العمر إلى تعلم هذا الفن المهجور واستعادة هذا النوع المغمور. فأقبلت على تحصيل أصوله، وجمع فروعه وشذوذه، وتتبع نصوصه وتفتيش فصوصه، فحصلت منه ما قدره لي منحة، واحتويت على ما يسره لي [منه] عطية لا أدعى أنه لب/ (3/أ) الألباب، وعجب العجاب، فأكون كالمتصلف صورة، وإن لم أك ذاك حقيقة، بل فوضت فيه الأمر إليك لتعرف عند اطلاعك عليه. فإن المادح سلعته لا يفيد رواجها، ولا يحسنها في عين مبتغيها، ثم إني مع قصر باعي وضيق ضرعي وعزة مساعدي وكثرة عوائقي أردت تصنيف كتاب في هذا الفن مشتملا على المباحث الدقيقة والنكت اللطيفة، والأجوبة الشافية، والأسئلة القادحة، مع مراعاة الإنصاف في مواضع الاختلاف، وتجنب الاعتساف، لا لأني مهدي بالتصنيف المذكور إلى طلبة هذا الفن ما يعز وجوده، ولا يكاد يوجد مثله، بل لأغراض:-

أحدها: أن يجد الناظر فيه من زبد المباحث وتفاوت المكاسب مجموعا ما لم يجده في غيره كان متفرقا ومتبددا ليستغنى به عن غيره.
অতঃপর বিষয়টি এই যে, এর মর্যাদা, উচ্চতর স্তর এবং সুউচ্চ অবস্থান সত্ত্বেও এটি আজ পরিত্যক্ত অবস্থায় উপনীত হয়েছে, এর দ্বার রুদ্ধ হয়ে গেছে; খুব কমই বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের কেউ এখানে পদার্পণ করে। কেননা এটি অর্জনের আগ্রহ স্তিমিত হয়ে গেছে, এটি আয়ত্ত করার প্রতি অনীহা তৈরি হয়েছে এবং মাদরাসাগুলোতে এর পঠন-পাঠন বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন এবং হীনতা বর্জনের যে ব্যাকুলতা আমার অন্তরে রয়েছে, তা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে যেন আমি আমার জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই পরিত্যক্ত বিদ্যা শিক্ষা এবং এই বিস্মৃতপ্রায় বিষয়টি পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যয় করি। অতঃপর আমি এর মূলনীতিগুলো অর্জন, এর শাখা-প্রশাখা ও বিরল মাসয়ালাগুলো সংকলন এবং এর পাঠ্যসমূহ অনুসন্ধান ও এর গূঢ় রহস্যসমূহ তল্লাশিতে মনোনিবেশ করলাম। ফলে মহান আল্লাহ অনুগ্রহ স্বরূপ আমার জন্য যা নির্ধারিত করেছেন তা আমি অর্জন করেছি এবং উপহার হিসেবে তিনি আমার জন্য যা সহজ করেছেন তা আয়ত্ত করেছি। আমি দাবি করি না যে এটিই হলো (৩/আ) প্রজ্ঞার নির্যাস বা আশ্চর্যের বিষয়, পাছে আমি লোকদেখানো আত্মশ্লাঘাকারীর মতো হয়ে যাই, যদিও বাস্তবে আমি তেমন নই। বরং আমি বিষয়টি আপনার ওপরই ন্যস্ত করলাম, যাতে আপনি এটি পর্যালোচনার সময় তা অনুধাবন করতে পারেন। কেননা বিক্রেতা নিজের পণ্যের প্রশংসা করলে তা বিক্রিতে যেমন লাভ হয় না, তেমনি তা ক্রেতার দৃষ্টিতেও সৌন্দর্যমণ্ডিত হয় না। এরপর আমার সীমাবদ্ধতা, সংকীর্ণতা, সাহায্যকারীর অভাব এবং নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আমি এই বিদ্যায় এমন একটি কিতাব রচনার ইচ্ছা পোষণ করেছি যা সূক্ষ্ম আলোচনা, চমৎকার রহস্য, সন্তোষজনক উত্তর এবং যুক্তিযুক্ত প্রশ্নাবলি সংবলিত হবে। সাথে সাথে মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে ন্যায়নিষ্ঠতা বজায় রাখা এবং অযৌক্তিকতা বর্জনের চেষ্টা থাকবে। আমি এই রচনার মাধ্যমে এই বিদ্যার শিক্ষার্থীদের নিকট এমন কিছু পেশ করছি না যা দুষ্প্রাপ্য বা যার নজির মেলা ভার; বরং কিছু বিশেষ উদ্দেশ্যে আমি এটি করেছি:-

যার একটি হলো: পাঠক যেন এতে আলোচনার সারসংক্ষেপ এবং বিবিধ অর্জনের এমন এক সংকলন পান যা তিনি অন্য কোথাও পাননি, কারণ তা ছিল ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা; যাতে এটি অন্য সবকিছু থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয়।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৮)
وثانيها: التشبه بالأسلاف الصالحين والراسخين الماضين، وقد قيل: "من تشبه بقوم فهو منهم".
এবং এর দ্বিতীয়টি হলো: সৎকর্মশীল পূর্বসূরী এবং অতীতে অতিক্রান্ত সুদৃঢ় প্রজ্ঞাবানদের সাদৃশ্য গ্রহণ করা। আর বলা হয়েছে: "যে ব্যক্তি কোনো জাতির সাদৃশ্য অবলম্বন করবে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।"
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৯)
وثالثها: تكثير طرق الخير ونشرها، إذ كلما كثر التأليف كثر طرق تعلمه.

ورابعها: تنشيط الطالبين وتكثير سواد المتعلمين، فإن لكل جديد لذة.

وخامسها: وهو الغرض الأعظم الدعاء ممن ينتفع به فإن المنتفع به وإن كبر لا يخرج عن كونه منتفعا به، كيف وربما ينتفع فيه الشيء لا يوجد فيه غيره، ولما تأكد إرادتي وتصميم عزمي على ذلك شرعت فيه مستعينا بمبتدي النعم قبل استحقاقها، ودافع النقم بعد وجوبها وتحققها، على جمعه وإتمامه، وإراد ما وعدته على أكمل أحواله فإنه خير مجيب ومعين، اللهم اعصمنا من الزلل والخلل، واحفظنا من الملل والعلل، واحرس دواعينا عن الفتور، وخواطرنا عن العثور، ووفقنا بم وفقت به عبادك المخلصين، ووقفنا مواقف المقربين، فإنك ملاذ المحتاجين وكهف المحتاجين يا رب العالمين.

واعلم أن هذا الكتاب الذي نحن بصدده سميناه "بنهاية الوصول في دراية علم الأصول" ليطابق الاسم مسماه والكنية مكناه، ورتبناه على مقدمة وأنواع من الكلام / (3/ب). أما المقدمة ففيها ثلاثة فصول.
এবং তৃতীয়ত: কল্যাণের পথসমূহকে অধিকতর করা ও তা প্রচার করা; কেননা যখনই গ্রন্থ রচনা বৃদ্ধি পায়, তখন তা শিক্ষার পথসমূহও বহুবিধ হয়।

এবং চতুর্থত: শিক্ষার্থীদের উদ্দীপ্ত করা এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি করা; কারণ প্রতিটি নতুন জিনিসের মধ্যেই এক প্রকার স্বাদ রয়েছে।

এবং পঞ্চমত: আর এটিই হলো মহত্তম উদ্দেশ্য, যা হলো এর দ্বারা উপকৃত ব্যক্তিদের নিকট থেকে দোয়া লাভ করা। কেননা এর দ্বারা উপকৃত ব্যক্তি পদমর্যাদায় যত বড়ই হোন না কেন, তিনি উপকৃত হওয়ার বলয় থেকে বের হতে পারেন না। তদুপরি এতে এমন কিছু বিষয়ের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া সম্ভব হতে পারে যা অন্য কোথাও নেই। যখন এ ব্যাপারে আমার ইচ্ছা সুদৃঢ় হলো এবং সংকল্প দৃঢ়তর হলো, তখন আমি তা সংকলন ও সম্পন্ন করার জন্য সেই সত্তার সাহায্য চেয়ে শুরু করলাম, যিনি যোগ্য হওয়ার পূর্বেই অনুগ্রহের সূচনা করেন এবং বিপদ অবধারিত ও সাব্যস্ত হওয়ার পর তা প্রতিহত করেন। যেন আমি যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা পূর্ণাঙ্গরূপে পেশ করতে পারি; কারণ তিনিই শ্রেষ্ঠ সাড়াদানকারী ও সাহায্যকারী। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের পদস্খলন ও ত্রুটি থেকে রক্ষা করুন, আমাদের ক্লান্তি ও ব্যাধি থেকে হেফাজত করুন, আমাদের কর্মস্পৃৃহাকে স্থবিরতা থেকে এবং আমাদের চিন্তাধারাকে হোঁচট খাওয়া থেকে হিফাজত করুন। আপনি আপনার একনিষ্ঠ বান্দাদের যেভাবে তাওফিক দান করেছেন আমাদেরও সেই তাওফিক দিন এবং আমাদের নৈকট্যপ্রাপ্তদের মর্যাদায় অভিষিক্ত করুন। নিশ্চয়ই আপনি অভাবগ্রস্তদের আশ্রয় এবং দুস্থদের আশ্রয়স্থল, হে বিশ্বজগতের প্রতিপালক।

জেনে রাখুন যে, এই কিতাবটি যা আমরা শুরু করেছি তার নাম রেখেছি "নিহায়াতুল উসুল ফি দিরায়াতিল ইলমিল উসুল", যাতে নামটির সাথে এর বিষয়বস্তুর সামঞ্জস্য থাকে। আমরা একে একটি ভূমিকা এবং বিভিন্ন প্রকার আলোচনার বিন্যাসে সাজিয়েছি / (৩/খ)। আর ভূমিকাটি তিনটি পরিচ্ছেদের সমন্বয়ে গঠিত।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১১)
"المقدمة"

وفيها ثلاثة فصول
"ভূমিকা"

এবং এতে তিনটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৩)
"‌‌الفصل الأول"

في تعريف أصول الفقه بسيطا ومركبا

وبيان موضوعه وعلته غايته
প্রথম অধ্যায়

উসূলে ফিকহের সরল ও যৌগিক সংজ্ঞা প্রসঙ্গে

এবং এর আলোচ্য বিষয়, কারণ ও লক্ষ্য বর্ণনায়
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الأول

في تعريف أصول الفقه بسيطا ومركبا وبيان موضوعه وعلة غايته

فإن عند الشعور بها تنبعث الخواطر على الطلب، أما بسائطه فثلاثة الأصل، والفقه، وهيئة التركيب التي هي الإضافة، ونقدم تعريف الفقه لأن المضاف يكتسي من المضاف إليه تعريفا. فنقول:

الفقه في اللغة: عبارة عن الفهم، قال الله تعالى حكاية عن الكفار {ما نفقه كثيرا مما تقول} أي: لا نفهم، ومنه قول الشاعر:

أرسلت فيها قرما ذا إقحام .... طبا فقيها بذوات الإبلام
প্রথম পরিচ্ছেদ

উসুলুল ফিকহের বিশ্লিষ্ট ও সংকলিত সংজ্ঞা এবং এর বিষয়বস্তু ও উদ্দেশ্যের কারণ বর্ণনা প্রসঙ্গে

কারণ এটি অনুভূত হওয়ার সময় তা অন্বেষণের জন্য মনের সংকল্পসমূহ জাগ্রত হয়। এর বিশ্লিষ্ট উপাদানসমূহ তিনটি: আসল (মূল), ফিকহ এবং সম্বন্ধযুক্ত রূপ। আমরা ফিকহের সংজ্ঞাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি কারণ সম্বন্ধিত পদটি যার সাথে সম্বন্ধ করা হয়েছে তা থেকে পরিচয় লাভ করে। সুতরাং আমরা বলি:

আভিধানিক অর্থে ফিকহ: এটি হলো উপলব্ধি বা বুঝার একটি অভিব্যক্তি। মহান আল্লাহ কাফিরদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, {আপনি যা বলছেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝতে পারছি না} অর্থাৎ: আমরা অনুভব বা উপলব্ধি করতে পারছি না। আর কবির এই কথাটিও এ অর্থেরই অন্তর্ভুক্ত:

আমি তাতে এক শক্তিশালী ও আক্রমণকারী উষ্ট্র প্রেরণ করেছি; যে নির্বাক উষ্ট্রীগণের অবস্থা সম্পর্কে অতি দক্ষ ও অভিজ্ঞ।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৬)
وصف القرم بالفقه لكونه فاهما، ومنه سمي الشاعر فقيها في الجاهلية لفهمه المعاني الخفية.

وأما من فسره بأنه عبارة عن فهم غرض المتكلم. فقد زاد قيدا غير معتبر في مفهومه، يدل عليه ما أنشدناه من الشعر، وقوله تعالى: {ولكن لا تفقهون تسبيحهم} لأنه نفى عنهم فقه تسبيحهم، وتسبيحهم ليس بالكلام على ما هو مذهب المحققين.
তীক্ষ্ণবুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তিকে ফিকহ বা প্রজ্ঞার গুণে গুণান্বিত করা হয়েছে তার গভীর অনুধাবন ক্ষমতার কারণে, আর এ থেকেই জাহেলি যুগে কবিকে 'ফকিহ' বলা হতো সূক্ষ্ম অর্থসমূহ অনুধাবন করার কারণে।

আর যারা ফিকহকে বক্তার উদ্দেশ্য বুঝার অভিব্যক্তি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, তারা এর সংজ্ঞায় এমন একটি শর্তারোপ করেছেন যা গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের আবৃত্তি করা কবিতা এবং মহান আল্লাহর বাণী: {কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বা পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারো না}—এ বিষয়টি তার প্রমাণ বহন করে। কেননা তিনি তাদের তাসবিহ অনুধাবন করাকে অস্বীকার করেছেন, অথচ মুহাক্কিক বা গবেষক আলেমদের মতানুসারে তাদের তাসবিহ কোনো বাক্যের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৭)
وهو الحق الذي لا يسوغ غيره، إذ لو جوزنا ذلك لأدى إلى السفسطة، فلو كان الفقه عبارة عن فهم غرض المتكلم لم يكن في نفي الفقه عنه منقصة ولا تعيير، لأنه غير متصور لعدم بيانه الكلام.

وقولهم: فلان يفقه الخير والشر وإن لم يكن ذلك بالكلام، ولأن الفهم أعم من فهم غرض المتكلم، فكان الحاجة إليه أكثر وكان جعل اللفظ حقيقة فيه أولى.

ومنهم من قال: إنه عبارة عن الفهم والعلم، فإن أراد به أنه حقيقة فيهما فهو باطل، إذ الاشتراك خلاف الأصل، وإن زعم أنهما مترادفان فهو أيضا: باطل، إذ الفهم غير العلم، لأنه شرطه، والشرط غير المشروط.

بل هو عبارة عن جودة الذهن لقبول ما يرد عليه من
এটিই সেই সত্য যা ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গত নয়; কারণ যদি আমরা অন্য কিছু অনুমোদন করি তবে তা সফসতা বা বিভ্রান্তিকর যুক্তিতর্কের দিকে নিয়ে যাবে। যদি ফিকহ মানে কেবল বক্তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করা হতো, তবে কারো থেকে ফিকহকে অস্বীকার করা কোনো ত্রুটি বা নিন্দার বিষয় হতো না; কারণ বক্তার বক্তব্য স্পষ্ট না হওয়ার কারণে তা অনুধাবন করা অসম্ভব ছিল।

তাদের উক্তি: ‘অমুক ব্যক্তি ভালো ও মন্দের বোধ রাখে’, যদিও তা কথার মাধ্যমে না হয়। এছাড়া বোধশক্তি বা অনুধাবন বিষয়টি বক্তার উদ্দেশ্য বুঝার চেয়ে অধিক ব্যাপক, তাই এর প্রয়োজনীয়তাও অধিক এবং এই শব্দের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ গ্রহণ করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি মূলত বোধশক্তি ও জ্ঞানেরই নামান্তর। এখন তিনি যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য নেন যে শব্দটি উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়, তবে তা বাতিল; কারণ আভিধানিক অংশীদারিত্ব মূলনীতির পরিপন্থী। আর যদি তিনি দাবি করেন যে শব্দ দুটি সমার্থক, তবে তাও বাতিল; কারণ বোধশক্তি ও জ্ঞান এক নয়; বরং বোধশক্তি হলো জ্ঞানের পূর্বশর্ত, আর শর্ত ও শর্তযুক্ত বিষয় কখনো এক হতে পারে না।

বরং এটি হলো বুদ্ধিবৃত্তিক প্রখরতা যা তার নিকট উপস্থাপিত বিষয়সমূহ গ্রহণ করার যোগ্যতা রাখে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৮)
المطالب. وأما العلم فستعرفه إن شاء الله تعالى.

وأما في الاصطلاح: فهو عبارة عن العلم بجملة من الأحكام الشرعية الثابتة لأفعال المكلفين إذا حصل بالنظر والاستدلال على أعيانها.

وإنما فسرنا الفقه بالعلم مع أنه من باب الظنون، لأنه الأحكام معلومة بعد ظن طرائقها. فهو علم بهذا الاعتبار، وظن باعتبار الطريق.
লক্ষ্যসমূহ। আর জ্ঞান সম্পর্কে ইনশাআল্লাহ তাআলা আপনি শীঘ্রই জানতে পারবেন।

আর পারিভাষিক অর্থে: তা হলো মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তিদের আমলসমূহের জন্য নির্ধারিত শরয়ী আহকামের সমষ্টির জ্ঞান, যখন তা সেগুলোর সুনির্দিষ্ট দলিলের ওপর চিন্তা-গবেষণা এবং প্রমাণের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

আর আমরা ফিকহকে 'ইলম' বা জ্ঞান হিসেবে ব্যাখ্যা করেছি যদিও তা প্রবল ধারণার অন্তর্ভুক্ত, কারণ সেগুলোর পথ বা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভের পর বিধানগুলো নিশ্চিতভাবে জানা যায়। সুতরাং এই বিবেচনায় তা 'ইলম' বা জ্ঞান, এবং পদ্ধতির বিবেচনায় তা 'যন' বা প্রবল ধারণা।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ১৯)
بيانه [أنه] إذا غلب على ظن المجتهد تحقق مناط الوجوب مثلا في صورة، فإنه يقطع بوجوب العلم بمقتضاه، وإن كان كون ذلك الوصف مناطا للوجوب مظنونا، وكونه متحققا في تلك الصورة شرائطه وعدم موانعه كذلك. فالحكم معلوم والظن وقع في طريقه.

وأما / (4/أ) قول من يقول: إن العلم وقع احترازا عن ظن الأحكام، فإنه وإن تجوز بإطلاق اسم الفقه عليه في العرف العامي فليس فقها في العرف العامي فليس فقها في العرف اللغوي والأصولي ممنوع، وهذا لأن الفقه في اللغة، هو الفهم على ما دللنا عليه وساعدنا هذا القائل عليه وهو في المعلوم والمظنون على السواء فوجب أن يكون حقيقة فيهما، وكذلك في العرف الأصولي إذ لا دليل يدل على أن إطلاق اسم الفقه على الأحكام المظنونة بطريق التجوز بالنسبة إلى اصطلاحهم، وما لا دليل عليه وجب أن لا يثبت، فيكف ما دل الدليل عليه نفيه، إذ المجاز خلاف الأصل لاسيما الشائع الذائع الذي يلزم منه تكثيره.

وقولهم: الفقه عبارة عن العلم بالأحكام، لا يدل عليه لما ذكرنا أن الأحكام معلومة باعتبار وجوب العمل.
এর ব্যাখ্যা হলো এই যে, যখন কোনো একটি সুরতে মুজতাহিদের প্রবল ধারণায় ওয়াজিব হওয়ার কারণ (মানাত) বাস্তবায়িত হওয়ার বিষয়টি প্রাধান্য পায়, তখন তিনি সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞানের বিষয়ে নিশ্চিত হন। যদিও সেই বৈশিষ্ট্যটি ওয়াজিব হওয়ার ভিত্তি হওয়া এবং সেই সুরতে এর শর্তাবলি বিদ্যমান থাকা ও অন্তরায় না থাকার বিষয়টি কেবল প্রবল ধারণাপ্রসূত হতে পারে। সুতরাং বিধানটি নিশ্চিতভাবে জানা, আর প্রবল ধারণা কেবল সেটির পথে বা মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।

আর (৪/আ) যারা বলেন যে, বিধানাবলি সম্পর্কে প্রবল ধারণা থেকে বেঁচে থাকার জন্য 'ইলম' (জ্ঞান) শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে—কেননা সাধারণ ব্যবহারে এর ওপর 'ফিকহ' নামের প্রয়োগ রূপকভাবে হলেও আভিধানিক এবং উসূলি পরিভাষায় একে ফিকহ না বলা অগ্রহণযোগ্য। এর কারণ হলো, আভিধানিক অর্থে ফিকহ হলো বোধগম্যতা, যেমনটি আমরা প্রমাণ করেছি এবং এই প্রবক্তাও আমাদের সাথে এ বিষয়ে একমত। আর এই বোধগম্যতা নিশ্চিতভাবে জ্ঞাত বিষয় এবং প্রবল ধারণাপ্রসূত বিষয়—উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য; ফলে উভয়ের ক্ষেত্রেই ফিকহ শব্দের প্রয়োগ প্রকৃত অর্থে হওয়া আবশ্যক। তদ্রূপ উসূলি পরিভাষার ক্ষেত্রেও বিষয়টি এমনই, কেননা এমন কোনো দলিল নেই যা প্রমাণ করে যে উসূলি পরিভাষা অনুযায়ী ধারণাপ্রসূত বিধানগুলোর ওপর 'ফিকহ' নামের প্রয়োগটি রূপক হিসেবে হয়েছে। আর যার কোনো দলিল নেই তা সাব্যস্ত না হওয়া বাঞ্ছনীয়; সুতরাং যার অভাবের স্বপক্ষে দলিল বিদ্যমান তা কীভাবে সাব্যস্ত হতে পারে? কেননা রূপক অর্থ গ্রহণ করা মূল নীতির পরিপন্থী, বিশেষ করে এমন একটি প্রসিদ্ধ ও ব্যাপকভাবে প্রচলিত বিষয়ের ক্ষেত্রে যা থেকে অর্থের আধিক্য বা বিস্তার আবশ্যক হয়ে পড়ে।

আর তাদের এই উক্তি: "ফিকহ হলো বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভের নাম"—এটি তাদের দাবির সপক্ষে দলিল হতে পারে না, কারণ আমরা আগেই উল্লেখ করেছি যে, আমল করা ওয়াজিব হওয়ার বিচারে বিধানগুলো সুনিশ্চিতভাবে পরিজ্ঞাত।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২০)
وقولنا: بجملة من الأحكام: احترزنا به من العلم بحكم أو حكمين فإنه لا يسمى فقها في اصطلاح الأصول، بدليل أنه لا يسمي صاحبه فقيها.

وقولنا: بجملة من الأحكام خير من قول: القائل: هو العلم بالأحكام، لأن ذلك مشعر بالعموم وهو ليس بشرط، وإلا لوجب أن لا يكون أحد من المجتهدين فقيها، فإن العلم بجميع الأحكام غير حاصل لأحد منهم.

واحترزنا: بالشرعية عن الأحكام العقلية والحسية كالتماثل والاختلاف.

واحترزنا: بقولنا: الثابتة لأفعال المكلفين: عن الأحكام الشرعية العلمية لكون الإجماع والقياس حجة.

واحترزنا: بقولنا: إذا حصل بالنظر والاستدلال: عما يعلم من الأحكام بالضرورة كعلم جبريل والنبي يتلقى الوحي، وعلمنا بوجوب الصلاة والصوم.

واحترزنا: بقولنا: على أعيانها عن العلم المستفتي فإنه إذا استدل على أن ما أفتى به المفتي فهو حكم الله في حقه بالطريق المشهور، وهو أن هذا ما أفتى به المفتي وكل ما أفتى به المفتي فهو حكم الله في حقي فيلزم أن يكون هذا حكم في حقي، فإنه وإن كان عالما بجملة من الأحكام الشرعية العملية
এবং আমাদের বক্তব্য: "একগুচ্ছ বিধানাবলি সম্পর্কে": এর মাধ্যমে আমরা একটি বা দুটি বিধানের জ্ঞান থেকে বেঁচেছি (অর্থাৎ তা বাদ দিয়েছি), কেননা উসুল শাস্ত্রের পরিভাষায় একে ফিকহ বলা হয় না; যার প্রমাণ হলো, এর অধিকারীকে ফকিহ বলা হয় না।

আর আমাদের বক্তব্য: "একগুচ্ছ বিধানাবলি সম্পর্কে" বলাটি কারও এই উক্তির চেয়ে উত্তম যে: "এটি হলো বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান"। কারণ ঐ উক্তিটি ব্যাপকতার অর্থ প্রদান করে, অথচ তা ফিকহ হওয়ার জন্য শর্ত নয়। অন্যথায় আবশ্যক হতো যে, মুজতাহিদগণের কেউই ফকিহ হবেন না, কারণ সমস্ত বিধানের জ্ঞান তাদের কারও অর্জিত হয়নি।

আর আমরা "শরয়ি" শব্দ দ্বারা যৌক্তিক এবং ইন্দ্রিয়লব্ধ বিধানাবলি থেকে বেঁচেছি, যেমন সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য।

আর আমরা আমাদের এই বক্তব্য: "যা মুকাল্লাফদের কার্যাবলির জন্য সাব্যস্ত" দ্বারা তাত্ত্বিক শরয়ি বিধানাবলি থেকে বেঁচেছি, যেমন ইজমা ও কিয়াস দলিল হওয়া।

আর আমরা আমাদের এই বক্তব্য: "যখন তা পর্যবেক্ষণ ও দলীল অন্বেষণের মাধ্যমে অর্জিত হয়" দ্বারা ঐসব বিধান থেকে বেঁচেছি যা অকাট্যভাবে জানা যায়; যেমন জিবরাঈলের জ্ঞান এবং ওহি গ্রহণকালে নবীর জ্ঞান, এবং সালাত ও সিয়াম ওয়াজিব হওয়া সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান।

আর আমরা আমাদের এই বক্তব্য: "সেগুলোর নির্দিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে" দ্বারা ফতোয়া যাচনাকারীর জ্ঞান থেকে বেঁচেছি। কেননা সে যদি প্রসিদ্ধ পদ্ধতিতে দলীল পেশ করে যে, মুফতি যা ফতোয়া দিয়েছেন তা-ই তার ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান—আর তা হলো: মুফতি এটি ফতোয়া দিয়েছেন, আর মুফতি যা ফতোয়া দেন তা আমার ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান, সুতরাং এটি আমার ক্ষেত্রে আল্লাহর বিধান হওয়া আবশ্যক—তবে সে যদিও আমলি শরয়ি বিধানাবলির একগুচ্ছ সম্পর্কে অবগত...
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২১)
التي عرفت بالنظر والاستدلال لكن لا يسمى فقها في اصطلاح الأصول، لأنه غير مستدل على عينه، ولذلك لا يسمى العامي المستفتى فقيها وإن كان عارفا بجملة من الأحكام، وأما إذا لم يستدل عليه أصلا فلا حاجة إلى إخراجه بهذا القيد، لأنه خرج بقيد العلم، فإن ذلك لا يسمى علما بل تقليدا.

وأما الأصل فهو في اللغة: ما منه الشيء، لأنه/ (4/ب)
যা পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিনির্ভর প্রমাণের মাধ্যমে পরিচিত হয়েছে, কিন্তু উসূলের পরিভাষায় একে ফিকহ বলা হয় না; কারণ এটি সুনির্দিষ্টভাবে দলীল দ্বারা প্রমাণিত নয়। আর এ কারণেই মাসআলা জিজ্ঞাসাকারী সাধারণ ব্যক্তিকে ফকীহ বলা হয় না, যদিও সে একগুচ্ছ বিধান সম্পর্কে অবগত থাকে। আর যদি এর স্বপক্ষে মোটেও দলীল উপস্থাপন করা না হয়, তবে এই শর্তের মাধ্যমে একে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই; কারণ এটি তো 'ইলম' বা জ্ঞানের শর্তের মাধ্যমেই বাদ পড়ে গিয়েছে। কেননা একে জ্ঞান বলা হয় না, বরং তাকলীদ বলা হয়।

আর 'আসল' (মূল) হলো আভিধানিক অর্থে: যা থেকে কোনো বস্তুর উৎপত্তি হয়, কারণ/ (৪/খ)
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২২)
معنى عام في موارد استعماله، إذ يقال للأب أصل الولد، وللشجر أصل الثمر، وللعنب أصل الخمر. وغير ذلك من صور الاستعمال. فوجب جعله حقيقة فيه دفعا للاشتراك والمجاز.

لا يقال: ما ذكرتم، وإن كان معنى عاما في موارد استعماله لكن أيضا: فيها معنى آخر، وهو كون الشيء محتاجا إليه فلم لا يجوز حقيقة فيه؟ لأنا نقول: لو كان حقيقة فيه: لا طرد حيث وجد هذا المعنى لوجوب اطراد الحقيقة على ما سيأتي تقريره إن شاء الله تعالى، لكنه غير مطرد إذ لا يقال للنفقة والكسوة والأواني والبيوت أصول.

فإن قلت: لا نسلم وجوب اطراد الحقيقة، وهذا لأن الحقيقة قد لا تطرد كالقارورة فإنها فاعولة عن القرار مع إنها لا تطلق على الخوابي [و] سائر الأواني، وكذا لا يطلق الجواد والفاضل والدليل مطلقا على الله تعالى
এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলোতে একটি সাধারণ অর্থ রয়েছে; যেহেতু পিতাকে সন্তানের মূল (আসল), বৃক্ষকে ফলের মূল এবং আঙুরকে মদের মূল বলা হয়। ব্যবহারের এ জাতীয় আরও বহু রূপ রয়েছে। সুতরাং 'ইশতিরাক' (একাধিক অর্থবোধকতা) এবং 'মাজায' (রূপক ব্যবহার) নিরসনকল্পে একে এই অর্থেই 'হাকীকাত' (প্রকৃত অর্থ) হিসেবে গণ্য করা আবশ্যক।

এমনটি বলা যাবে না যে: আপনারা যা উল্লেখ করেছেন, তা যদিও ব্যবহারের ক্ষেত্রগুলোতে একটি সাধারণ অর্থ, কিন্তু এতে অন্য একটি অর্থও বিদ্যমান, আর তা হলো কোনো বস্তুর মুখাপেক্ষী হওয়া; তাহলে কেন সেই অর্থে একে 'হাকীকাত' ধরা বৈধ হবে না? এর উত্তরে আমরা বলব: যদি এটি সেই অর্থে 'হাকীকাত' হতো, তবে যেখানেই এই অর্থ পাওয়া যেত সেখানে এর প্রয়োগও ব্যাপক (ইত্তিরাদ) হতো; কেননা হাকীকাতের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রয়োগ অনিবার্য, যেমনটি আল্লাহ তাআলা চাইলে সামনে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। কিন্তু এটি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, কারণ ভরণপোষণ, পোশাক-পরিচ্ছদ, তৈজসপত্র এবং ঘরবাড়িকে 'আসল' (মূল) বলা হয় না।

যদি আপনি বলেন: আমরা হাকীকাতের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রয়োগের (ইত্তিরাদ) আবশ্যকতা স্বীকার করি না, আর তা এজন্য যে, হাকীকাত কখনো কখনো ব্যাপক হয় না, যেমন 'কারুরা' (কাঁচের পাত্র); এটি 'কারার' (স্থির হওয়া) ধাতু থেকে গঠিত, অথচ বড় মটকা বা অন্যান্য পাত্রের ক্ষেত্রে এই শব্দটি ব্যবহৃত হয় না। অনুরূপভাবে 'জাওয়াদ' (দাতা), 'ফাদিল' (শ্রেষ্ঠ) এবং 'দালীল' (পথপ্রদর্শক) শব্দগুলো শর্তহীনভাবে আল্লাহর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় না।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৩)
وإن كان حقيقة في فاعل الدلالة مع تحقيق معانيها اللغوية فيه تعالى.

قلت: نعم لكن المانع. إما شرعي كما في أسامي الله تعالى، فإنه توقيفية وبتقدير كونها قياسية، فإنها يجوز إطلاق مالا يوهم الباطل وهذه الألفاظ ليست كذلك.

أو لغوي كما في القارورة فإن أهل اللغة منعوا من استعماله في غير معناها المعروف، أما حيث لا مانع فإنه يجب الاطراد للاستقراء وتمامه سيأتي إن شاء الله تعالى.

فإن أحالوا عدم الاطراد فيما نحن فيه إلى المانع كي لا يدل عدم الإطلاق على أنه ليس بحقيقة فيه كان جعل ما ذكرنا من المعنى العام مسمى اللفظ أولى مما ذكروه لعدم التعارض.
যদিলও আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে এর ভাষাগত অর্থসমূহ সাব্যস্ত হওয়ার সাথে সাথে এটি নির্দেশ প্রদানকারী সত্তার ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থ হিসেবে গণ্য হয়।

আমি বলি: হ্যাঁ, তবে এক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেটি হয় শরয়ী প্রতিবন্ধকতা, যেমন আল্লাহ তাআলার নামসমূহের ক্ষেত্রে; কেননা সেগুলো তাওকীফিয়্যাহ (আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কর্তৃক নির্ধারিত)। আর যদি সেগুলোকে কিয়াসী (যৌক্তিক অনুমাননির্ভর) হিসেবেও ধরা হয়, তবুও শুধুমাত্র এমন শব্দই প্রয়োগ করা বৈধ হবে যা কোনো ভ্রান্ত ধারণার উদ্রেক করে না; আর এই শব্দগুলো তেমন নয়।

অথবা ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, যেমন ‘কারূরাহ’ (পাত্র বা বোতল) শব্দের ক্ষেত্রে; কারণ ভাষাবিদগণ একে তার পরিচিত অর্থ ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তবে যেখানে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, সেখানে আরোহী পদ্ধতির ভিত্তিতে এর ব্যাপক প্রয়োগ হওয়া আবশ্যক। এ বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আল্লাহ চাহেন তো সামনে আসবে।

যদি তারা আমাদের আলোচ্য বিষয়ে প্রয়োগের ব্যাপকতা না থাকাকে কোনো প্রতিবন্ধকতার দিকে সোপর্দ করেন—যাতে এই শব্দের প্রয়োগ না হওয়াটি আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে তা প্রকৃত অর্থ না হওয়ার ওপর দলিল না হয়—তবে আমরা যে সাধারণ অর্থটি উল্লেখ করেছি তাকেই শব্দের নামকৃত বিষয়বস্তু সাব্যস্ত করা তাদের উল্লিখিত বিষয়ের চেয়ে অধিকতর উত্তম হবে, যেন কোনো বৈপরীত্য সৃষ্টি না হয়।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৪)
وأما هيئة التركيب: التي هي الإضافة فهي تفيد اختصاص معنى المضاف بمعنى المضاف إليه، وإنما جعلنا الاختصاص مدلولها دون الملك، كي لا يلزم الاشتراك أو المجاز، إذ هي مستعملة في الاختصاص أيضا كما في قولهم: "جل الفرس وإذا عرفته بحسب الإفراد، فاعرفه الآن بحسب المجموع.

فنقول أصول الفقه: مجموع أدلة الفقه على سبيل الإجمال وكيفية دلالتها على الأحكام وكيفية الحال المستدل بها.

فقولنا: مجموع أدلة الفقه: احترزنا به عن النوع الواحد فإنه وإن كان من أصول الفقه لكنه ليس أصول الفقه فإن بعض الشيء لا يكون نفسه.
আর গাঠনিক বিন্যাসের ক্ষেত্রে: যা হলো ইযাফাত (সম্বন্ধ), তা মুদাফ-এর অর্থকে মুদাফ ইলাইহি-এর অর্থের সাথে সুনির্দিষ্ট করার অর্থ প্রদান করে। আমরা মালিকানার পরিবর্তে এই 'সুনির্দিষ্টকরণ' বা বিশেষায়িতকরণকেই এর অর্থ হিসেবে নির্ধারণ করেছি, যাতে করে শব্দার্থের দ্ব্যর্থতা অথবা রূপকতার আবশ্যকতা তৈরি না হয়। কেননা এটি সুনির্দিষ্টকরণের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়, যেমন তাদের কথা: "ঘোড়ার জিন-বস্ত্র"। আর যখন আপনি একে একক শব্দ হিসেবে চিনে নিয়েছেন, এখন একে সামগ্রিক নাম বা পরিভাষা হিসেবে জানুন।

আমরা বলি উসুলুল ফিকহ হলো: সামগ্রিকভাবে ফিকহের দলিলসমূহের সমষ্টি, বিধানাবলির ওপর সেগুলোর নির্দেশনার পদ্ধতি এবং দলিল অনুসন্ধানকারীর অবস্থা ও পদ্ধতি।

আমাদের বক্তব্য "ফিকহের দলিলসমূহের সমষ্টি": এর মাধ্যমে আমরা একক প্রকারের দলিলকে বর্জন করেছি; কারণ সেটি যদিও উসুলুল ফিকহের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তা স্বয়ং 'উসুলুল ফিকহ' নয়, কেননা কোনো বিষয়ের আংশিক রূপ কখনো তার পূর্ণ সত্তা হতে পারে না।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقولنا: أدلة الفقه: لا نعني بها ما يفيد القطع، كما هو في عرف طائفة، بل نعني بها ما يفيد القطع أو الظن ليتناول/ (5/أ) جميع مداركه.

واحترزنا بقولنا: على سبيل الإجمال: عن علم الخلاف، فإنه وإن بحث فيه عن أدلة الفقه وعن كيفية دلالتها على الأحكام لكن على سبيل التفصيل.

وأما في أصول الفقه فلا يبحث فيه إلا عن كون تلك الأدلة دون وجودها ودلالتها على المسائل الفرعية.

وقولنا: وكيفية دلالتها على الأحكام: أردنا به الشرائط التي بها يصح الاستدلال بتلك الأدلة كالاستدلال بعموم اللفظ إنما يصح بشرط عدم المخصص، وبالحقيقة يشترط عدم قرينة صارفة عن مدلولها.

وقولنا: وكيفية حال المستدل بها: أردنا به أن الذي يدل به حكم الله تعالى إن كان عالما وجب عليها الاجتهاد ويذكر فيه شرائط الاجتهاد وما به يكمل، وإن كان عاميا وجب عليه الاستفتاء ويذكر فيه شرائطه، وممن يستفتى عند اجتماع المجتهدين.
এবং আমাদের কথা: 'ফিকহ-এর দলিলসমূহ': এর দ্বারা আমরা কেবল তা-ই উদ্দেশ্য নিইনি যা নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে—যেমনটি একটি দলের পরিভাষায় প্রচলিত—বরং আমরা তা উদ্দেশ্য নিয়েছি যা নিশ্চিত জ্ঞান অথবা প্রবল ধারণা প্রদান করে, যাতে এটি (৫/আ) তার সকল উৎসকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর 'সামগ্রিকভাবে' বলার মাধ্যমে আমরা 'ইলমুল খিলাফ' (মতভেদ সংক্রান্ত জ্ঞান) থেকে পৃথক করেছি; কারণ সেখানেও ফিকহ-এর দলিলসমূহ এবং বিধানের ওপর তাদের নির্দেশনার পদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, তবে তা বিস্তারিতভাবে করা হয়।

পক্ষান্তরে উসুলুল ফিকহ-এ কেবল সেই দলিলসমূহের স্বরূপ নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাদের অস্তিত্ব এবং শাখা মাসআলাসমূহের ওপর তাদের নির্দেশনার বিস্তারিত বিবরণ ব্যতিরেকে।

এবং আমাদের কথা: 'বিধানের ওপর সেগুলোর নির্দেশনার পদ্ধতি': এর দ্বারা আমরা সেই শর্তাবলি বুঝিয়েছি যার মাধ্যমে সেই দলিলগুলো দিয়ে প্রমাণ উপস্থাপন করা সঠিক হয়; যেমন কোনো শব্দের ব্যাপকতা থেকে দলিল গ্রহণ করা কেবল তখনই সঠিক হয় যখন সেখানে কোনো নির্দিষ্টকারী না থাকে, আর প্রকৃতপক্ষে এক্ষেত্রে এর মূল অর্থ থেকে সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো নিদর্শন না থাকার শর্তারোপ করা হয়।

এবং আমাদের কথা: 'দলিল অন্বেষণকারীর অবস্থা': এর দ্বারা আমরা বুঝিয়েছি যে, যিনি আল্লাহ তাআলার বিধানের দলিল অন্বেষণ করেন তিনি যদি আলেম হন, তবে তার ওপর ইজতিহাদ করা ওয়াজিব এবং এখানে ইজতিহাদের শর্তাবলি ও যা দ্বারা তা পূর্ণতা পায় তা উল্লেখ করা হয়। আর যদি তিনি সাধারণ ব্যক্তি হন, তবে তার ওপর ফতোয়া চাওয়া ওয়াজিব এবং এখানে তার শর্তাবলি এবং মুজতাহিদদের উপস্থিতিতে কার নিকট হতে ফতোয়া চাওয়া হবে তা উল্লেখ করা হয়।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৬)
[موضوع علم أصول الفقه]

وأما موضوعه: فاعلم أن موضوع كل علم لا يبحث فيه عن أعراضه الذاتية كأفعال المكلفين للفقه من حيث إنها تجوز أو لا تجوز، أو تجب أو لا تجب، والوجود للعلم الإلهي وبدن الإنسان من حيث إنه يصح ويمرض للطب، والمقدار للهندسة، والمراد من الأعراض الذاتية: هو ما يلحق الشيء لما هو هو أو لمساوي له أو لأعم ذاتي له، فأما ما يلحق الشيء لأعم خارجي أو أخص فهو العرض القريب، فموضوع أصول الفقه هو أحوال الأدلة الموصولة إلى الأحكام الشرعية، من يحث إنها أدلة ومن حيث منطوقها ومفهومها وعمومها وخصوصها ومجملها ومبينها وغيرها من الأحوال العارضة للفظ واختلاف مراتبها وأقسامها وكيفية استثمار الأحكام منها على الوجه كله.
[উসূলে ফিকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয়]

আর এর আলোচ্য বিষয়ের ক্ষেত্রে জেনে রাখুন যে, প্রতিটি শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হচ্ছে তা, যাতে সেই বিষয়ের মৌলিক বৈশিষ্ট্যসমূহ (আরাজে জাতিয়্যাহ) নিয়ে আলোচনা করা হয়; যেমন—ফেকহ শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় হলো দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কার্যাবলি এই দিক থেকে যে, সেগুলো কি জায়েজ নাকি না-জায়েজ, অথবা ওয়াজিব নাকি ওয়াজিব নয়। তদ্রূপ ‘ইলমে ইলাহি’ (আল্লাহ সংক্রান্ত শাস্ত্র)-এর জন্য ‘অস্তিত্ব’, চিকিৎসা শাস্ত্রের জন্য মানুষের শরীর—এই দিক থেকে যে তা সুস্থ নাকি অসুস্থ—এবং জ্যামিতি শাস্ত্রের জন্য ‘পরিমাণ’ হলো আলোচ্য বিষয়। মৌলিক বৈশিষ্ট্য বলতে উদ্দেশ্য হলো যা কোনো বস্তুর সাথে তার নিজস্ব সত্তার কারণে, অথবা তার সমপর্যায়ের কোনো বিষয়ের কারণে, অথবা তার সত্তাগতভাবে ব্যাপকতর কোনো বিষয়ের কারণে যুক্ত হয়। আর যা কোনো বস্তুর সাথে বাহ্যিক ব্যাপকতর কোনো কারণে বা কোনো বিশেষ কারণে যুক্ত হয়, তা হলো নিকটবর্তী বৈশিষ্ট্য (আরজে কারিব)। সুতরাং উসূলে ফিকহের আলোচ্য বিষয় হলো শারঈ বিধান পর্যন্ত পৌঁছানোর মাধ্যম দলিলসমূহের অবস্থাসমূহ—এই দিক থেকে যে সেগুলো দলিল এবং এগুলোর ব্যক্ত অর্থ (মানতুক), উহ্য অর্থ (মাফহুম), সাধারণ অর্থ (আম), বিশেষ অর্থ (খাস), সংক্ষিপ্ত রূপ (মুজমাল), সুস্পষ্ট রূপ (মুবাইয়্যান) এবং শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অবস্থা, এগুলোর স্তরের ভিন্নতা ও প্রকারভেদ এবং এ সকল দলিল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে বিধান আহরণের পদ্ধতিসমূহ।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৭)
وأما علته الغائبة فهي معرفة الأحكام الشرعية التي بها انتظام المصالح الدينية والدنيوية كما عرفته من قبل.
আর এর চূড়ান্ত উদ্দেশ্যমূলক কারণ হলো শারঈ বিধানাবলির জ্ঞান লাভ করা, যার মাধ্যমে দ্বীনি ও পার্থিব কল্যাণসমূহের শৃঙ্খলা ও সুব্যবস্থা সাধিত হয়, যেমনটি আপনি ইতিপূর্বে অবগত হয়েছেন।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ২৯)
"الفصل الثاني"

في تعريف ما يحتاج إليه أصول الفقه من الألفاظ
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

উসূলে ফিকহের জন্য প্রয়োজনীয় শব্দাবলির সংজ্ঞায়ন প্রসঙ্গে
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌الفصل الثاني

في تعريف ما يحتاج إليه أصول الفقه من الألفاظ

لما عرفنا أصول الفقه بمجموع أدلة الفقه، وكيفية دلالتها على الأحكام وجب علينا تعريف الدليل، والحكم الشرعي وما يتوقف عليه معرفتهما.

أما الدليل في اللغة: فيطلق على ناصب الدليل، وعلى ذاكره، وعلى ما فيه الدلالة.

ثم قيل: الأول هو الحقيقة، والباقيان مجازات كمخصص فإنه حقيقة في إرادة صاحب الكلام. وقد يطلق بطريق التجوز على نفس الكلام الذي يدل على إرادته وعلى ذاكره ومعتقده / (5/ب)

وأما في اصطلاح الفقهاء: فالدليل: هو ما فيه الدلالة سواء كان النظر فيه موصلا إلى العلم أو الظن.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

উসুলুল ফিকহের প্রয়োজনীয় পরিভাষাগুলোর সংজ্ঞায়ন প্রসঙ্গে

যেহেতু আমরা উসুলুল ফিকহকে ফিকহের দলিলসমূহের সমষ্টি এবং বিধানের ওপর সেগুলোর নির্দেশনার পদ্ধতির মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করেছি, তাই আমাদের ওপর দলিল, শরয়ি বিধান এবং যে বিষয়গুলোর ওপর এ দুটির জ্ঞান নির্ভর করে, সেগুলোর সংজ্ঞা প্রদান করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে।

আভিধানিক অর্থে দলিল: এটি দলিল স্থাপনকারী, দলিল উল্লেখকারী এবং যার মধ্যে নির্দেশনা বা প্রমাণ বিদ্যমান—এই তিনের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।

অতঃপর বলা হয়েছে: প্রথমটি হলো প্রকৃত অর্থ এবং অবশিষ্ট দুটি রূপক অর্থ; যেমন 'মুখাসসিস' (বিশেষায়নকারী) শব্দটি মূলত বক্তার অভিপ্রায়ের ক্ষেত্রে প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হয়। কখনও কখনও রূপকভাবে খোদ সেই কথার ওপরও এটি প্রয়োগ করা হয় যা বক্তার অভিপ্রায়কে নির্দেশ করে, এবং তা উল্লেখকারী ও বিশ্বাসকারীর ওপরও প্রয়োগ করা হয়। / (৫/খ)

আর ফকিহগণের পরিভাষায়: দলিল হলো এমন বিষয় যার মধ্যে নির্দেশনা বিদ্যমান, চাই তা নিয়ে গবেষণা বা চিন্তা নিশ্চিত জ্ঞান কিংবা প্রবল ধারণা—যে কোনো একটির দিকে পৌঁছে দিক না কেন।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩২)
والمتكلمون: خصصوه ما يوصل إلى العلم، وأما الذي يوصل إلى الظن فخصصوه بالأمارة.

وأما عند الفقهاء: فالدليل أعم منها، إذ الدليل قد يفيد العلم. والأمارة لا تفيده.

أما النظر في اللغة: فقد جاء لمعاني كالانتظار. وتقليب الحدقة والرؤية، وبهذا المعنى يتعدى بإلى، والرأفة والرحمة، وبهذا المعنى يتعدى باللام، والتأمل والاعتبار وبهذا المعنى يتعدى بفي.
কালামশাস্ত্রবিদগণ এটিকে কেবল এমন বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন যা নিশ্চিত জ্ঞান পর্যন্ত পৌঁছে দেয়; আর যা কেবল প্রবল ধারণা পর্যন্ত পৌঁছায়, সেটিকে তারা 'আলামত' হিসেবে নির্দিষ্ট করেছেন।

পক্ষান্তরে ফকিহগণের নিকট: দলিল এই দুটির চেয়ে অধিক ব্যাপক, কেননা দলিল কখনো নিশ্চিত জ্ঞান প্রদান করে। আর আলামত তা প্রদান করে না।

আর আভিধানিক অর্থে 'নজর' (দৃষ্টিপাত বা চিন্তা): এটি বিভিন্ন অর্থের জন্য ব্যবহৃত হয়, যেমন—অপেক্ষা করা। আর চোখের মণি ঘুরানো ও দেখা; এই অর্থে এটি 'ইলা' অব্যয়যোগে ব্যবহৃত হয়। আর মমতা ও দয়া; এই অর্থে এটি 'লাম' অব্যয়যোগে ব্যবহৃত হয়। এবং গভীরভাবে চিন্তা ও শিক্ষা গ্রহণ করা; এই অর্থে এটি 'ফি' অব্যয়যোগে ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩৩)
وقد جمع هذه المعاني الثلاثة بعض الخلفاء في قوله: ثلاث أحبهن صديق أنظر إليه ومحتاج أنظر له وكتاب أنظر فيه.

وأما في الاصطلاح: فهو عبارة عن ترتيب أمور متصورة أو مصدق بها في الذهن لاستفادة أمر آخر مجهول منها، وهذا على رأي الجماهير القائلين بإمكان اكتساب التصورات.
কোনো কোনো খলিফা এই তিনটি অর্থকে তাঁর এই বাণীতে একত্র করেছেন: “তিনটি বিষয় আমি পছন্দ করি: বন্ধু—যার দিকে আমি তাকাই, অভাবী ব্যক্তি—যার প্রয়োজনে আমি ভ্রুক্ষেপ করি এবং কিতাব—যার মধ্যে আমি দৃষ্টিপাত করি।”

আর পরিভাষায়: এটি হলো অন্তরে এমন কিছু ধারণাকৃত বিষয় বা প্রত্যয়িত বিষয়কে সুশৃঙ্খলভাবে বিন্যস্ত করার নাম, যাতে তা থেকে অন্য একটি অজ্ঞাত বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়। আর এটি জমহুর বা অধিকাংশ পণ্ডিতের অভিমত, যারা ধারণাসমূহ অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩৪)
وأما من يقول بأن التصورات كلها ضرورية فالنظر عنده فيها غير متصور. فنذكر مكان: أمور. تصديقات. ثم أن تلك الأمور إن كانت مطابقة لمتعلقاتها مع صحة التأليف على ما عرف ذلك في علم آخر فهو النظر صحيح وإلا فهو الفاسد.

ثم تلك الأمور إن كانت تصديقات معلومة، كان اللازم عنها كذلك، وإن كانت ظنية أو بعضها كان اللازم عنها أيضا ظنيا، إذ الفرع لا يكون أقوى من الأصل.

ويعرف مما ذكرنا أن شرط النظر العقل وانتفاء أضداده كالنوم والغفلة.

وان لا يكون جاهلا بالمطلوب ولا عالما به من كل الوجوه، ولا من الوجه الذي يطلبه، لئلا يلزم تحصيل الحاصل.

وأما العلم والظن: فتعريفهما يستدعى تقسيما جامعا مترددا بين النفي والإثبات. فنقول: العقل إما أن يتردد في ثبوت الشيء ونفيه تردد السواء، أو لا يتردد بل يحكم بأحدهما، أما مع تجويز نقيضه تجويزا سواء، أو تجويزا مرجوحا، أو لا مع تجويز النقيض، والقسمان الأولان هو الشك.
আর যারা বলেন যে সকল ধারণাই স্বতঃসিদ্ধ, তাদের নিকট এই বিষয়ে চিন্তা-গবেষণা করা ধারণাতীত। তাই আমরা 'বিষয়াবলী'র স্থলে 'প্রত্যয়নসমূহ' উল্লেখ করছি। অতঃপর সেই বিষয়গুলো যদি তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় এবং অন্য শাস্ত্রে যেভাবে স্বীকৃত হয়েছে সে অনুযায়ী বিন্যাস সঠিক হয়, তবে তা সঠিক চিন্তা-গবেষণা, অন্যথায় তা ভ্রান্ত।

অতঃপর সেই বিষয়গুলো যদি নিশ্চিত প্রত্যয়ন হয়, তবে তা থেকে যা সাব্যস্ত হবে তাও তদ্রূপ হবে। আর যদি সেগুলো ধারণা প্রসূত হয় কিংবা সেগুলোর কিছু অংশ ধারণা প্রসূত হয়, তবে তা থেকে যা সাব্যস্ত হবে তাও ধারণা প্রসূত হবে; কেননা শাখা কখনও মূলের চেয়ে শক্তিশালী হয় না।

আমাদের আলোচনা থেকে এটি জানা যায় যে, চিন্তা-গবেষণার শর্ত হলো বুদ্ধি থাকা এবং এর পরিপন্থী বিষয়সমূহ যেমন নিদ্রা ও অসতর্কতা থেকে মুক্ত থাকা।

এবং উদ্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে সম্পূর্ণ অজ্ঞ না হওয়া, আবার সবদিক থেকে তা সম্পর্কে অবগত না হওয়া এবং যে দিকটি সে অনুসন্ধান করছে সে দিকটি সম্পর্কেও জ্ঞাত না থাকা; যাতে লব্ধ বিষয় পুনরায় অর্জন করার আবশ্যকতা দেখা না দেয়।

আর জ্ঞান ও ধারণার সংজ্ঞার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ও ইতিবাচকতার মাঝে একটি সমন্বিত বিভাজন আবশ্যক। আমরা বলি: বুদ্ধি কোনো বিষয়ের প্রমাণ বা অপ্রমাণের ক্ষেত্রে হয় সমানভাবে দোদুল্যমান থাকবে, অথবা দোদুল্যমান না হয়ে বরং কোনো একটির পক্ষে সিদ্ধান্ত দেবে। এই সিদ্ধান্ত প্রদান হয় তার বিপরীত দিকের সমান সম্ভাবনা রাখা অবস্থায় হবে, অথবা বিপরীত দিকের দুর্বল সম্ভাবনা রাখা অবস্থায় হবে, অথবা বিপরীত দিকের কোনো সম্ভাবনা রাখা ব্যতীত হবে। প্রথমোক্ত দুটি প্রকার হলো সন্দেহ।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩৫)
والفرق بينهما فرق ما بين العام والخاص، فإن الأول منهما قد يكون لعدم الدليل على الاحتمالين وقد يكون لدليلين متساويين على الاحتمالين.

وأما الثاني فإنه لا يكون إلا لدليلين متساوين وإلا لم يكن ذلك الحكم معتبرا، لأنه حينئذ يكون بالتشهي.

فإن قلت: فعند التساوي يكون الحكم بأحدهما أيضا بالتشهي.

قلت: عند تعارض المتساويين يتخير المكلف في الحكم بأحدهما/ (6/أ) على رأى، وليس كذلك عند عدم الدليل.

ثم الذي يدل على أن القسم الأول منهما شك- وإن لم يذكره كثير من الأصوليين- أن من توقف عن الحكم بثبوت الشيء ونفيه يقال: إنه شاك في وجوده ونقيضه، ويقال: للسوفسطائية المتوقفين في حقائق الأشياء
এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো সাধারণ এবং বিশেষের মধ্যে বিদ্যমান পার্থক্যের ন্যায়। কারণ, এ দুটির মধ্যে প্রথমটি কখনো দুটি সম্ভাবনার কোনোটিরই স্বপক্ষে দলিল না থাকার কারণে হতে পারে, আবার কখনো দুটি সম্ভাবনার স্বপক্ষে দুটি সমপর্যায়ের দলিলের কারণেও হতে পারে।

আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে বিষয়টি কেবল দুটি সমপর্যায়ের দলিলের উপস্থিতিতেই ঘটে থাকে; নতুবা সেই হুকুম বা ফয়সালা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতো না। কেননা, তখন তা খেয়ালখুশি বা প্রবৃত্তির অনুসরণ হিসেবে গণ্য হতো।

যদি আপনি বলেন: তবে তো দলিল সমান হওয়ার ক্ষেত্রেও দুটির কোনো একটির মাধ্যমে হুকুম প্রদান করা প্রবৃত্তির অনুসরণই হবে।

আমি বলব: দুটি সমান বিষয়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে, একটি মতানুযায়ী মুকাল্লাফ বা শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি দুটির কোনো একটির মাধ্যমে হুকুম দেওয়ার ক্ষেত্রে ইখতিয়ার বা স্বাধীনতা লাভ করেন / (৬/ক); কিন্তু দলিলের অনুপস্থিতিতে বিষয়টি এমন নয়।

অতঃপর, এ দুটির মধ্যে প্রথম প্রকারটি যে 'সন্দেহ' হওয়ার বিষয়টি নির্দেশ করে—যদিও অনেক উসুলবিদ এটি উল্লেখ করেননি—তাহলো এই যে, যে ব্যক্তি কোনো বস্তুর সাব্যস্ত হওয়া বা নাকচ হওয়ার বিষয়ে হুকুম দেওয়া থেকে বিরত থাকে, তাকে তার অস্তিত্ব ও এর বিপরীত অবস্থা সম্পর্কে সংশয়বাদী বলা হয়। আর বস্তুর প্রকৃত রূপের বিষয়ে সংশয়ী সোফিস্টদের ক্ষেত্রেও এমনটি বলা হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ১) নিহায়াতুল উসুল ফী দিরায়াতিল উসুল (পৃষ্ঠা: ৩৬)
الشاكين والأصل في الإطلاق الحقيقة.

وأما الثالث فالراجح منه ظن صادق إن طابق وإلا فظن كاذب، والمرجوح منه وهم صادق إن طابق، وإلا فوهم كاذب.

وأما الرابع: فإن لم يكن مطابقا فهو الجهل، وإن كان مطابقا ولم يكن
সংশয় পোষণকারীগণ এবং শব্দের শর্তহীন ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো তার প্রকৃত অর্থ।

আর তৃতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে, তার মধ্যে প্রবল বিষয়টি হলো সত্য ধারণা যদি তা বাস্তবসম্মত হয়, অন্যথায় তা মিথ্যা ধারণা; আর তার দুর্বল বিষয়টি হলো সত্য ভ্রান্তি যদি তা বাস্তবসম্মত হয়, অন্যথায় তা মিথ্যা ভ্রান্তি।

আর চতুর্থ প্রকারের ক্ষেত্রে: যদি তা বাস্তবের সাথে সংগতিপূর্ণ না হয় তবে তা অজ্ঞতা, আর যদি তা সংগতিপূর্ণ হয় অথচ তা ছিল না।