(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: -)
الأنساب - السمعاني - ط أمين دمج   (السمعاني)

القسم: الأنساب


الكتاب: الأنساب

المؤلف: أبو سعد، عبد الكريم بن محمد بن منصور التميمي السمعاني (ت 562 هـ - 1166 م)

الناشر: محمد أمين دمج، بيروت - لبنان

(أعاد صف ما حققه المعلمي في الطبعة الهندية، وأكمل بقية الكتاب بتحقيق جمعٍ آخرين)

وأعادت تصويرها: مكتبةُ ابن تيمية بالقاهرة وغيرها

تحقيق:

جـ 1 - 6: عبد الرحمن بن يحيى المعلمي اليماني [ت 1386 هـ]

جـ 7، 8: محمد عوامة

جـ 9: محمد عوامة (إلى صـ 112)، ورياض مراد (من صـ 113)

جـ 10: عبد الفتاح الحلو [ت 1414 هـ]

جـ 11: أشرف عليه رياض مراد ومطيع الحافظ

جـ 12: أكرم البوشي

الطبعة: الأولى، (1396 - 1405 هـ) = (1976 - 1984 م)

عدد الأجزاء: 12

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 5 ذو الحجة 1445

আল-আনসাব - আস-সামআনি - আমিন দামজ সংস্করণ   (আস-সামআনি)

বিভাগ: আল-আনসাব


গ্রন্থ: আল-আনসাব

লেখক: আবু সা'দ، আবদুল কারিম বিন মুহাম্মদ বিন মানসুর আত-তামিমি আস-সামআনি (মৃত্যু ৫৬২ হিজরি - ১১৬৬ খ্রিস্টাব্দ)

প্রকাশক: মুহাম্মদ আমিন দামজ، বৈরুত - লেবানন

(ভারতীয় সংস্করণে মুআল্লিমি যা তাহকিক করেছিলেন তা পুনরায় বিন্যাস করা হয়েছে এবং গ্রন্থের অবশিষ্ট অংশ অন্যান্যদের তাহকিকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে)

এবং এটি পুনঃমুদ্রণ করেছে: কায়রোর মাকতাবাতু ইবনু তাইমিয়া এবং অন্যান্যরা

তাহকিক:

খণ্ড ১ - ৬: আবদুর রহমান বিন ইয়াহইয়া আল-মুআল্লিমি আল-ইয়ামানি [মৃত্যু ১৩৮৬ হিজরি]

খণ্ড ৭، ৮: মুহাম্মদ আওয়ামাহ

খণ্ড ৯: মুহাম্মদ আওয়ামাহ (পৃষ্ঠা ১১২ পর্যন্ত), এবং রিয়াদ মুরাদ (পৃষ্ঠা ১১৩ থেকে)

খণ্ড ১০: আবদুল ফাত্তাহ আল-হুলু [মৃত্যু ১৪১৪ হিজরি]

খণ্ড ১১: এটি তত্ত্বাবধান করেছেন রিয়াদ মুরাদ এবং মুতি আল-হাফিজ

খণ্ড ১২: আকরাম আল-বুশি

সংস্করণ: প্রথম، (১৩৯৬ - ১৪০৫ হিজরি) = (১৯৭৬ - ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ)

খণ্ড সংখ্যা: ১২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ জিলহজ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الأنساب

الحمد للَّه رب العالمين وأشهد أن لا إله الا اللَّه وحده لا شريك له وأن محمدا عبده ورسوله، صلى اللَّه وسلم وبارك على خاتم أنبيائه محمد وآله وصحبه.

أما بعد فان كتاب (الأنساب) للحافظ الإمام أبى سعد عبد الكريم ابن محمد السمعاني كتاب جليل أدرك المستشرقون شأنه فسبقونا إلى طبعه منذ خمسين سنة اى سنة 1912 طبعوه بالزنكوغراف محافظة منهم على صورة النسخة التي ظفروا بها، ونعم ما صنعوا غير أن النسخة سقيمة جدا يكثر فيها السقط والتحريف، ومع ذلك فقد عزّ وجود نسخ تلك الطبعة وتقادم العهد بطبعها فبلى ورقها فصار الموجود منها عرضة للتلف:

فأهم رجال جمعية دائرة المعارف العثمانية بحيدرآباد الدكن امر هذا الكتاب، كيف لا وجمعيتهم هي حاملة لواء فن التراجم والسباقة إلى نشر كتبه والمتفردة بأكثرها فسعوا في تحصيل نسخ من الكتاب مخطوطة أو مصورة عنها فظفروا بثلاث نسخ غير المطبوعة - وسيأتي وصفها - فبادروا إلى
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌আল-আনসাব গ্রন্থের ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক এবং তাঁর কোনো শরীক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর দরুদ, সালাম ও বরকত বর্ষণ করুন।

অত:পর, হাফেজ ইমাম আবু সা'দ আব্দুল কারীম ইবনে মুহাম্মদ আস-সামআনী রচিত 'আল-আনসাব' গ্রন্থটি একটি সুবিশাল ও মহান গ্রন্থ। প্রাচ্যবিদগণ এর গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরেছিলেন, ফলে তারা ১৯১২ সালে অর্থাৎ আমাদের চেয়েও পঞ্চাশ বছর পূর্বে এটি মুদ্রণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তারা যে অনুলিপিটি লাভ করেছিলেন তার চিত্র সংরক্ষণের নিমিত্তে সেটি জিঙ্কোগ্রাফি পদ্ধতিতে মুদ্রণ করেছিলেন। তারা যা করেছিলেন তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়, তবে সেই পাণ্ডুলিপিটি ছিল অত্যন্ত ত্রুটিপূর্ণ, যেখানে প্রচুর বিচ্যুতি ও বিকৃতি বিদ্যমান ছিল। তা সত্ত্বেও, সেই সংস্করণের কপিগুলো বর্তমানে দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে এবং মুদ্রণের দীর্ঘকাল অতিবাহিত হওয়ায় এর কাগজগুলো জীর্ণ হয়ে গেছে, ফলে বিদ্যমান কপিগুলোও বিনষ্ট হওয়ার সম্মুখীন হয়েছে।

তাই হায়দ্রাবাদ ডেকানের দাইরাতুল মা'আরিফ আল-উসমানিয়া সমিতির কর্ণধারগণ এই গ্রন্থের গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। এটি হওয়াই স্বাভাবিক, কারণ তাদের এই সমিতি হচ্ছে জীবনী-অভিধান শাস্ত্রের পতাকাবাহী, এই বিষয়ক গ্রন্থসমূহ প্রকাশের ক্ষেত্রে অগ্রপথিক এবং এর অধিকাংশের ক্ষেত্রে তারা অনন্য। তাই তারা এই গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি অথবা তার ছায়ালিপি সংগ্রহের প্রচেষ্টা চালান এবং মুদ্রিত কপিটি ছাড়াও তারা তিনটি পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন—যার বর্ণনা সামনে আসবে—অতঃপর তারা দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করেন...
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৬)
استنساخ مسودة للكتاب ومقابلتها على النسخ وتقييد الاختلافات مع مراجعة بعض المراجع بنية تحقيق الكتاب فلم يكادوا يتوسطون مقدمة المؤلف حتى بدت لهم صعوبة العمل لكثرة الاختلافات وخفاء الصواب فبدا لفضلاء الدائرة - وعلى رأسهم مديرها الفاضل الدكتور محمد عبد المعيد خان - ان يضعوا ثقل العمل على عاتق زميل سابق لهم هو كاتب هذه الكلمة، فكتب الىّ الدكتور بذلك وأنه قرر أن يقوم فضلاء الدائرة بمقابلة المسودة على النسخ وتقييد الاختلافات وإرسال ما قوبل من المسودة مع بيان الاختلاف الىّ شيئا فشيئا لأحقق كل ما أرسل الىّ وأبعثه إليهم شيئا فشيئا لأنهم مضطرون إلى تعجيل طبع الكتاب لأسباب ذكرها.

هذا كله مع استعجالهم لي في تحقيق إكمال ابن ماكولا وبعث ما تم تحقيقه منه إليهم ومع اشتغالي بغير ذلك: وكثرة العمل والإسراع فيه مظنة اختلاله بل مئنته، وأنا اكره ذلك حتى انى أرى الغلطة في الكتاب الّذي طبع بتحقيقى فينالنى حزن غير هين لكن علمت تصميمهم على طبع الكتاب واستعجالهم فيه وأنى ان لم أجبهم إلى طلبهم فسيطبعونه بما تيسر لهم من التصحيح، وهو دون ما يتيسر لي، فلم يسعني الا اجابتهم إلى طلبهم وأرجو أن يرى أهل العلم ما يرضيهم.

بعد ان أتممت الجزء الأول وبعثت به إليهم وطبعوه حدث مصداق المثل (ضغث على ابّالة) كتب إلي الدكتور يلتمس منى كتابة مقدمة للأنساب، وأنا مع كثرة اشغالى استثقل كتابة المقدمات وأراها مما لا أحسنه، فأجبته بالاعتذار وبأن في وسعه هو أن يكتب مقدمة قد تكون أجود مما يمكنني، فأجاب بالإصرار على طلبه فلم يسعني الا الإجابة وعليه تبعة التقصير.
গ্রন্থের একটি খসড়া প্রতিলিপি তৈরি করা, পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে তা মিলিয়ে দেখা এবং পাঠভেদসমূহ লিপিবদ্ধ করার পাশাপাশি গ্রন্থটি সম্পাদনার (তাহকিক) উদ্দেশ্যে কিছু তথ্যসূত্র পর্যালোচনার কাজ যখন তারা শুরু করলেন, তখন লেখকের ভূমিকার মধ্যভাগ পর্যন্ত পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই কাজের কঠিনতা তাদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠল। কারণ এতে পাঠভেদ ছিল প্রচুর এবং সঠিক পাঠ নির্ধারণ করা ছিল দুরূহ। এমতাবস্থায় অ্যাকাডেমির বিজ্ঞ সদস্যবৃন্দ—যাদের শীর্ষে ছিলেন এর সম্মানিত পরিচালক ডক্টর মুহাম্মদ আব্দুল মুঈদ খান—এই স্থির করলেন যে, এই কাজের গুরুভার তাদের একজন প্রাক্তন সহকর্মীর ওপর অর্পণ করবেন, যিনি এই বক্তব্যের লেখক। ডক্টর আমাকে এ বিষয়ে পত্র লিখলেন এবং জানালেন যে, অ্যাকাডেমির বিজ্ঞ সদস্যগণ পাণ্ডুলিপিগুলোর সাথে খসড়া মিলিয়ে পাঠভেদগুলো চিহ্নিত করবেন এবং পর্যায়ক্রমে সম্পাদিত খসড়াটি পাঠভেদসহ আমার কাছে পাঠাবেন। আমি প্রেরিত অংশগুলো সম্পাদনা করে পর্যায়ক্রমে তাদের নিকট ফেরত পাঠাব; কেননা তারা কিছু সুনির্দিষ্ট কারণে গ্রন্থটির মুদ্রণ দ্রুত সম্পন্ন করতে বাধ্য ছিলেন।

এসবই ঘটছিল এমন এক সময়ে যখন তারা ইবনে মাকুলার 'আল-ইকমাল' গ্রন্থের সম্পাদনা শেষ করে তা দ্রুত প্রেরণের জন্য আমাকে তাগাদা দিচ্ছিলেন এবং যখন আমি অন্যান্য কাজেও ব্যাপৃত ছিলাম। কাজের আধিক্য এবং তা দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ ত্রুটি-বিচ্যুতির প্রবল সম্ভাবনা তৈরি করে, এমনকি তা ত্রুটির কারণও হয়ে দাঁড়ায়। আর আমি বিষয়টি অত্যন্ত অপছন্দ করি; এমনকি আমার সম্পাদিত কোনো মুদ্রিত গ্রন্থে একটি ভুল লক্ষ্য করলেও আমি গভীর মর্মবেদনা অনুভব করি। কিন্তু আমি তাদের গ্রন্থটি মুদ্রণের ব্যাপারে দৃঢ় সংকল্প ও তাড়াহুড়ো সম্পর্কে অবগত ছিলাম। আমি যদি তাদের অনুরোধে সাড়া না দিতাম, তবে তাদের সাধ্যমতো সাধারণ সংশোধনের মাধ্যমেই তারা এটি মুদ্রণ করে ফেলত, যা আমার সম্পাদিত মানের হতো না। এমতাবস্থায় তাদের অনুরোধ রক্ষা করা ছাড়া আমার গত্যন্তর ছিল না। আমি আশা করি, বিজ্ঞ পাঠকগণ এতে সন্তোষজনক কিছুই খুঁজে পাবেন।

গ্রন্থের প্রথম খণ্ডটি সমাপ্ত করে তাদের নিকট প্রেরণের পর এবং তাদের পক্ষ থেকে তা মুদ্রিত হওয়ার পর সেই প্রবাদের প্রতিফলন ঘটল যে, "বোঝার ওপর শাকের আঁটি"। ডক্টর আমাকে 'আল-আনসাব' গ্রন্থের জন্য একটি ভূমিকা লিখে দেওয়ার অনুরোধ জানালেন। অথচ আমি কাজের চাপের কারণে ভূমিকা রচনাকে অত্যন্ত দুরূহ মনে করি এবং আমি একে এমন কাজ বলে গণ্য করি যাতে আমার পারদর্শিতা নেই। ফলে আমি অপারগতা প্রকাশ করে তাকে উত্তর দিলাম যে, তিনি নিজেই একটি ভূমিকা লিখতে পারেন যা আমার লেখার চেয়েও উৎকৃষ্ট হতে পারে। কিন্তু তিনি তার অনুরোধে অটল থাকলেন, ফলে সম্মতি প্রদান ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকল না। এমতাবস্থায় এতে কোনো ত্রুটি থাকলে তার দায়ভার তারই ওপর বর্তাবে।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌فن الأنساب والحاجة اليه يطلق «فن الأنساب» على ما يذكر فيه أصول القبائل وكيف تفرعت كنسب عدنان يذكر فيه أبناء عدنان ثم أبناؤهم وهلم جرا، ويطلق أيضا على جمع النسب اللفظية كالأسدى والمقدسي والنجار ونحو ذلك ويضبط كل منها ويبين معناها ويذكر بعض من عرف بها. وهذا الثاني هو موضوعنا. قال ابن الأثير في خطبة اللباب في ذكر هذا الفن «هو مما يحتاج طالب العلم اليه ويضطر الراغب في الأدب والفضل إلى التعويل عليه، وكثيرا ما رأيت نسبا إلى قبيلة أو بطن أو جد أو بلد أو صناعة أو مذهب أو غير ذلك وأكثرها مجهول عند العامة غير معلوم عند الخاصة فيقع في كثير منه التصحيف ويكثر الغلط والتحريف».

‌‌التأليف فيه

أول ما يمكن ان يعد من كتبه في الجملة كتاب (مختلف [أسماء] القبائل ومؤتلفها) لمحمد بن حبيب البغدادي (- 245) وقد ذكرته في مقدمة الإكمال، وهذا أول فصل منه «في الأزد حدان [بضم الحاء] بن شمس بن عمرو بن غنم بن غالب (في النسخة: خالد) ابن عثمان بن نصر بن زهران بن كعب بن الحارث بن كعب بن عبد اللَّه ابن مالك بن نصر بن الأزد. وفي تميم حدان [بفتح الحاء] بن قريع ابن عوف بن كعب بن سعد بن زيد مناة بن تميم. وفي ربيعة جدّان [بفتح الجيم ودال مشددة] بن جديلة بن أسد بن ربيعة بن نزار. وفي أسد بن خزيمة خدّان [بخاء معجمة من فوق ودال مشددة] بن عامر ابن هر بن مالك بن الحارث بن سعد بن ثعلبة بن دودان بن أسد. وفي همدان ذو حدان [بفتح الحاء المهملة وضمها] بن شراحيل بن ربيعة بن جشم بن حاشد بن جشم بن خيوان بن نوف بن اوسلة وهو همدان» نعم ان هذا ليس على الطريقة التي عرفنا بها الفن لكنه يفيد في تصحيح النسب وإثباتها باستنباط قريب فمن عرفنا انه خدانى عرفنا انه ربعي وأسدى وغير ذلك، ومن عرفنا انه من أسد بن ربيعة ووجدنا في صفته «الجدانى» عرفنا ان الصواب «الخدانى» وإذا وجدنا في وصف رجل محققا «الجدانى» بالجيم أو «الخدانى» بالمعجمة أو
বংশবিদ্যা এবং এর প্রয়োজনীয়তা "বংশবিদ্যা" বলতে সে শাস্ত্রকে বোঝায় যেখানে গোত্রসমূহের মূল এবং সেগুলোর শাখা-প্রশাখা কীভাবে বিস্তৃত হয়েছে তা আলোচনা করা হয়; যেমন আদনানের বংশপরম্পরা, যেখানে আদনানের সন্তানদের এবং তারপর তাদের সন্তানদের কথা ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়। এটি শাব্দিক বংশপরিচয় (নিসবত) সংগ্রহ করাকেও বোঝায়, যেমন আল-আসাদি, আল-মাকদিসি, আন-নাজ্জার এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। এগুলোর প্রতিটি নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা হয়, এদের অর্থ ব্যাখ্যা করা হয় এবং যারা এই নামে পরিচিত তাদের কয়েকজনের কথা উল্লেখ করা হয়। এই দ্বিতীয় বিষয়টিই আমাদের আলোচ্য বিষয়। ইবনুল আসির তাঁর 'আল-লুবাব' গ্রন্থের ভূমিকায় এই শাস্ত্রের বর্ণনায় বলেছেন, "এটি এমন একটি বিষয় যার প্রয়োজন জ্ঞানান্বেষী ছাত্রের রয়েছে এবং সাহিত্য ও মর্যাদাপ্রয়াসী ব্যক্তি এর ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন। আমি প্রায়শই দেখেছি যে কোনো গোত্র, শাখা, পূর্বপুরুষ, দেশ, পেশা, মাজহাব বা অন্য কিছুর সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে, অথচ সেগুলোর অধিকাংশই সাধারণ মানুষের কাছে অজ্ঞাত এবং বিশেষ মহলেও অস্পষ্ট। ফলে এর অনেক ক্ষেত্রে লিখন বিভ্রাট ঘটে এবং ভুল ও বিকৃতি বৃদ্ধি পায়।"

এই বিষয়ে গ্রন্থনা

সাধারণত এই বিষয়ের কিতাবসমূহের মধ্যে সর্বপ্রথম যেটিকে গণ্য করা যায় সেটি হলো মুহাম্মদ বিন হাবিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু: ২৪৫ হিজরি) রচিত 'মুখতালিফ [আসমা] আল-কাবাইল ওয়া মুতালিফুহা'। আমি 'আল-ইকমাল' গ্রন্থের ভূমিকায় এর কথা উল্লেখ করেছি। এটি এর প্রথম পরিচ্ছেদ: "আজদ গোত্রে রয়েছে 'হুদ্দান' [হা বর্ণের উপর পেশ দিয়ে], যিনি শামস বিন আমর বিন গানম বিন গালিবের (অনুলিপিতে: খালিদ) পুত্র, তিনি উসমান বিন নাসর বিন যাহরান বিন কাব বিন আল-হারিস বিন কাব বিন আবদুল্লাহ বিন মালিক বিন নাসর বিন আল-আজদ-এর পুত্র। তামিমে রয়েছে 'হাদ্দান' [হা বর্ণের উপর জবর দিয়ে], যিনি কুরাই বিন আউফ বিন কাব বিন সাদ বিন যাইদ মানাত বিন তামিমের পুত্র। রাবিআহ গোত্রে রয়েছে 'জাদ্দান' [জিম বর্ণের উপর জবর এবং দাল বর্ণের উপর তাশদিদ দিয়ে], যিনি জাদিলাহ বিন আসাদ বিন রাবিআহ বিন নিযারের পুত্র। আসাদ বিন খুযাইমাহ গোত্রে রয়েছে 'খাদদান' [উপরের দিকে নুকতাযুক্ত খা এবং দাল বর্ণের উপর তাশদিদ দিয়ে], যিনি আমির বিন হির বিন মালিক বিন আল-হারিস বিন সাদ বিন সালাবা বিন দাওদান বিন আসাদের পুত্র। আর হামদানে রয়েছে 'জু হাদ্দান' [বিন্দুহীন হা বর্ণের উপর জবর অথবা পেশ দিয়ে], যিনি শুরাহিল বিন রাবিআহ বিন জুশাম বিন হাশিব বিন জুশাম বিন খাইওয়ান বিন নাওফ বিন আওসালাহ-এর পুত্র, আর তিনিই হলেন হামদান।" হ্যাঁ, এটি সেই পদ্ধতিতে নয় যার মাধ্যমে আমরা এই শাস্ত্রকে চিনেছি, তবে এটি নিকটবর্তী অনুমানের মাধ্যমে বংশপরিচয় সংশোধন ও প্রমাণের ক্ষেত্রে ফলদায়ক। সুতরাং যাকে আমরা 'খাদদানি' হিসেবে জানব, তাকে আমরা রাবিয়ি ও আসাদি ইত্যাদি হিসেবে চিনতে পারব। আর যাকে আমরা আসাদ বিন রাবিআহ গোত্রের বলে জানব এবং তার বর্ণনায় 'আল-জাদ্দানি' লেখা পাব, তখন আমরা বুঝতে পারব যে সঠিকটি হলো 'আল-খাদদানি'। আবার যখন আমরা কোনো ব্যক্তির বর্ণনায় নিশ্চিতভাবে জিম দিয়ে 'আল-জাদ্দানি' বা নুকতাযুক্ত খা দিয়ে 'আল-খাদদানি' পাব অথবা...
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৮)
«الحداني» بالمهملة ووجدنا في وصفه أيضا «الأسدي» فإننا نعلم في الأول ان «الأسدي» بفتح السين وأنها إلى أسد بن ربيعة، وفي الثاني بالفتح أيضا وأنها إلى أسد بن خزيمة، وفي الثالث بسكون السين وأنها نسبة إلى الأسد لغة في الأزد وقس على هذا، وعلى كل حال فإذا صح عده في كتب الفن فهو في ضرب خاص كما لا يخفى.

ثم تلاه الحافظ عبد الغنى بن سعيد الأزدي المصري (332 - 409) ألف فيه كتابه في مشتبه النسبة وهو ضرب خاص من هذا الفن أيضا وتلاه جماعة كما بينته في مقدمة الإكمال.

وألف الحافظ محمد بن طاهر المقدسي (448 - 507) كتاب (الأنساب 20 المتفقة في الخط المتماثلة في النقط) وقد طبع ولم أره وهو في ضرب خاص أيضا وثم ضرب خاص رابع يذكره أهل المصطلح وهو (المنسوبون على خلاف الظاهر) اى مثل (التيمي) وليس من بنى تيم ولكنه جاورهم و (الحذاء) ولم يكن من الحذائين ولكن جالسهم ونحو ذلك وأول مؤلّف(1) في مطلق النسبة أعلمه هو أبو محمد عبد اللَّه بن علي ابن عبد اللَّه الرشاطى (466 - 542) ألف كتابه (اقتباس الأنوار) توجد من

--------------------------------------------

(1) قيل أول من ألف في الأنساب عند العرب هو محمد بن مسلم بن شهاب الزهري المتوفى 124 هـ - وانه بدأ بكتاب في «نسب قومه» ولم يتمه، ثم ألف أبو اليقظان سحيم بن حفص الأخباري المتوفى سنة 190 كتبا، منها كتاب «النسب الكبير» و «نسب خندف وأخبارها»، ثم مؤرج بن عمرو السدوسي المتوفى سنة 195 هـ كان يؤلف في الأنساب فيضع كتابا عن «نسب قريش» وآخر عن «جماهير القبائل»، وكان في الكوفة هشام بن محمد الكلبي المتوفى سنة 204 هـ. ترك في الأنساب كتابا ضخما اسمه «النسب الكبير» أو «جمهرة النسب»، ثم تتابع التأليف في الأنساب بعد ابن الكلبي - انظر مقدمة «كتاب حذف من نسب قريش لمؤرج بن عمرو السدوسي» نشره الدكتور صلاح الدين المنجد وطبع في القاهرة سنة 1960 م. وقد طبع «كتاب نسب قريش» لأبى عبد اللَّه المصعب بن عبد اللَّه ابن المصعب الزبيري المتوفى 236 في دار المعارف بمصر سنة 1953 م.

'আল-হাদ্দানি' নুকতাহবিহীন 'হা' বর্ণযোগে। এবং আমরা তাঁর বর্ণনায় 'আল-আসাদি' শব্দটিও পেয়েছি। এমতাবস্থায় আমরা প্রথম ক্ষেত্রে জানতে পারি যে, 'আল-আসাদি' শব্দটি 'সিন' বর্ণের ফাতহাহ (যবর) সহকারে উচ্চারিত হয় এবং এটি আসাদ ইবনে রাবিয়াহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। দ্বিতীয় ক্ষেত্রেও তা ফাতহাহ সহকারে, যা আসাদ ইবনে খুযাইমাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত। আর তৃতীয় ক্ষেত্রে এটি 'সিন' বর্ণের সুকুন সহকারে, যা ভাষাগতভাবে আল-আসাদ-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যা আল-আযদ গোত্রের একটি ভাষাতাত্ত্বিক রূপ। এই নিয়মে অন্যান্য বিষয়গুলোও অনুমান করে নিতে হবে। যাই হোক, যদি শাস্ত্রীয় গ্রন্থসমূহে এর গণনা সঠিক হয়, তবে এটি একটি বিশেষ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত, যা অস্পষ্ট নয়।

এরপর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হন হাফিজ আবদুল গনি ইবনে সাঈদ আল-আযদি আল-মিসরি (৩৩২ - ৪০৯ হিজরি)। তিনি এই বিষয়ে তাঁর 'মুশতাবিহুন নিসবাহ' (সম্বন্ধযুক্ত নামের সাদৃশ্য) গ্রন্থটি রচনা করেন। এটিও এই শাস্ত্রের একটি বিশেষ শাখা। এরপর একদল আলিম তাঁর অনুসরণ করেন, যেমনটি আমি 'আল-ইকমাল' গ্রন্থের ভূমিকায় ব্যাখ্যা করেছি।

হাফিজ মুহাম্মদ ইবনে তাহির আল-মাকদিসি (৪৪৮ - ৫০৭ হিজরি) 'আল-আনসাব আল-মুত্তাফিকাহ ফিল খাত্ত আল-মুতামাছিলাহ ফিন নাকত' (লেখায় অভিন্ন ও নুকতায় সদৃশ বংশনামসমূহ) নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এটি মুদ্রিত হয়েছে তবে আমি তা দেখিনি। এটিও একটি বিশেষ প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। এরপর একটি চতুর্থ বিশেষ প্রকার রয়েছে যা পরিভাষা বিশেষজ্ঞগণ উল্লেখ করেন, আর তা হলো 'আল-মানসুবুনা আলা খিলাফিজ জাহির' (বাহ্যিক রূপের বিপরীতে সম্বন্ধযুক্ত ব্যক্তিগণ)। অর্থাৎ যেমন 'আত-তাইমি', অথচ তিনি বনু তাইম গোত্রের সদস্য নন, বরং তিনি তাদের প্রতিবেশী ছিলেন; এবং 'আল-হাদ্দা', অথচ তিনি জুতা প্রস্তুতকারক ছিলেন না, বরং তিনি তাদের সাথে বসতেন; এবং এই জাতীয় অন্যান্য উদাহরণ। সাধারণ নিসবত বা সম্বন্ধের বিষয়ে আমার জানামতে সর্বপ্রথম গ্রন্থকার হলেন আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আলি ইবনে আবদুল্লাহ আল-রাশাতি (৪৬৬ - ৫৪২ হিজরি)। তিনি তাঁর 'ইকতিবাসুল আনওয়ার' গ্রন্থটি রচনা করেন, যা পাওয়া যায়...

--------------------------------------------

(১) বলা হয়ে থাকে যে, আরবদের মধ্যে বংশতত্ত্ব বিষয়ে সর্বপ্রথম গ্রন্থ রচনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আল-যুহরি (মৃত্যু ১২৪ হিজরি)। তিনি তাঁর 'নিজ সম্প্রদায়ের বংশ পরিচয়' সংক্রান্ত একটি গ্রন্থ দিয়ে শুরু করেছিলেন কিন্তু তা সম্পন্ন করতে পারেননি। এরপর আবু ইয়াকযান সুহাইম ইবনে হাফস আল-আখবারি (মৃত্যু ১৯০ হিজরি) কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন, যার মধ্যে রয়েছে 'আল-নাসাব আল-কাবির' এবং 'নাসাবু খানদাফ ওয়া আখবারুহা'। এরপর মুআররিজ ইবনে আমর আস-সাদুসি (মৃত্যু ১৯৫ হিজরি) বংশতত্ত্ব বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করতেন; তিনি 'নাসাবু কুরাইশ' নামে একটি এবং 'জামাহিরুল কাবাইল' নামে আরেকটি গ্রন্থ রচনা করেন। কুফায় হিশাম ইবনে মুহাম্মদ আল-কালবি (মৃত্যু ২০৪ হিজরি) ছিলেন। তিনি বংশতত্ত্ব বিষয়ে 'আল-নাসাব আল-কাবির' বা 'জামহারাতুন নাসাব' নামক একটি বিশাল গ্রন্থ রেখে গেছেন। ইবনে আল-কালবির পর বংশতত্ত্ব রচনার ধারা অব্যাহত থাকে—দেখুন মুআররিজ ইবনে আমর আস-সাদুসি রচিত 'কিতাবু হাফযি মিন নাসাবি কুরাইশ'-এর ভূমিকা, যা ডক্টর সালাহউদ্দিন আল-মুনজিদ সম্পাদনা করেছেন এবং ১৯৬০ সালে কায়রোতে মুদ্রিত হয়েছে। আর আবু আবদুল্লাহ আল-মুসআব ইবনে আবদুল্লাহ ইবনুল মুসআব আল-যুবাইরি (মৃত্যু ২৩৬ হিজরি) রচিত 'কিতাবু নাসাবি কুরাইশ' ১৯৫৩ সালে মিশরের দারুল মাআরিফ থেকে প্রকাশিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৯)
مختصره لأبى محمد عبد اللَّه بن عبد الرحمن الإشبيلي نسخة ناقصة في مكتبة الأزهر، واختصره أيضا مجد الدين إسماعيل بن إبراهيم البلبيسي (728 - 802) وسمى مختصره (القبس) ثم جمع بين هذا المختصر وبين لباب ابن الأثير، وعندي نسخة مصورة من نسخة هذا الجامع وهي بخط مؤلفه وقد شرحت بعض حالها في مقدمة الإكمال، وفي خطبته « … وبعد فانى لما اختصرت كتاب أبى محمد الرشاطى وسميته القبس واستعنت على ضبط بعض الأسماء وأكثر الأنساب بكتاب اللباب لأبى الحسن ابن الأثير الجزري رحمهما اللَّه وجدتهما قد اجتمعا على تراجم، وانفرد كل منهما بآخر، وإذا اجتمعا على ترجمة تارة يتفقان على من سمى فيها وتارة يختلفان … وكل من الكتابين محتاج اليه ومعول في هذا الفن عليه، فأحببت ان اجمع بينهما ليستغني الناظر في هذا الكتاب عن النظر في كتابين كبير حجمهما» هذا آخر الموجود من الخطبة وسقط باقيها من النسخة، ولم يذكر ما سمى به هذا الجامع وفي فهرس المخطوطات المصورة انه سماه (القبس) وأنا كذا اسميه على ما فيه.

 

‌‌أنساب السمعاني

كتاب الأنساب لأبى سعد السمعاني هو بحق الكتاب الوحيد الجامع في هذا الفن جمع فيه عامة ما ظفر به من النسب مطلقا بل زاد فاستنبط عدة منها أطلقها على جماعة يصح ان تطلق عليهم لكنهم لم يعرفوا بها. وسترى الإشارة إلى ذلك في مواضع، وزاد أيضا جملة من الألقاب والأوصاف التي لا يسميها أهل العربية (نسبة) كما سترى ذلك في مواضعه ولم يقتصر في كل نسبة على ذكر شخص واحد تطلق عليه حيث وجد غيره بل يزيد على ذلك كثيرا. ولم يقتصر في ذكر الرجل على أقل تعريف به بل يسوق له ترجمة مفيدة قد تطول في كثير من المواضع.

وهذان الأمران هما اللذان سطا عليهما صاحب اللباب فأسقطهما من مختصره فذهب بمعظم فائدة الكتاب.
আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবন আব্দুর রহমান আল-ইশবিলি কর্তৃক কৃত এর সংক্ষিপ্তসার আল-আজহার লাইব্রেরিতে একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি হিসেবে রয়েছে। মাজদুদ্দীন ইসমাঈল ইবন ইব্রাহিম আল-বিলবিসিও (৭২৮ - ৮০২) এটি সংক্ষিপ্ত করেছেন এবং তাঁর সংক্ষিপ্তসারটির নাম দিয়েছেন (আল-কাবাস)। এরপর তিনি এই সংক্ষিপ্তসার এবং ইবনুল আসিরের ‘লুবাব’-এর মধ্যে সমন্বয় করেছেন। আমার কাছে এই সংকলনের একটি ফটোকপি সংস্করণ আছে যা লেখকের নিজ হাতের লেখা এবং আমি ‘আল-ইকমাল’-এর ভূমিকায় এর অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা ব্যাখ্যা করেছি। এর ভূমিকায় রয়েছে « … অতঃপর, আমি যখন আবু মুহাম্মাদ আর-রাশাতীর কিতাবটি সংক্ষিপ্ত করলাম এবং এর নাম দিলাম ‘আল-কাবাস’, এবং কিছু নাম ও অধিকাংশ বংশপরম্পরা সঠিকভাবে বিন্যস্ত করার জন্য আবুল হাসান ইবনুল আসির আল-জাযারীর (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর রহম করুন) ‘লুবাব’ কিতাবের সাহায্য নিলাম, তখন দেখলাম যে তাঁরা উভয়ই কিছু জীবনীকারদের ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন এবং আবার কিছু ক্ষেত্রে প্রত্যেকে স্বতন্ত্র থেকেছেন। যখন তাঁরা কোনো জীবনীর ক্ষেত্রে একমত হয়েছেন, তখন কখনো তাঁরা সেখানে নামোল্লিখিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে একমত হয়েছেন, আবার কখনো ভিন্নমত পোষণ করেছেন … আর এই উভয় কিতাবই প্রয়োজনীয় এবং এই শাস্ত্রের ওপর নির্ভরশীল। তাই আমি চেয়েছি এই উভয় কিতাবকে একত্রিত করতে, যাতে এই কিতাবের পাঠককে বড় আকারের দুটি কিতাব দেখার প্রয়োজন না হয়।’ ভূমিকার বিদ্যমান অংশের শেষ এটিই এবং এর বাকি অংশ পাণ্ডুলিপি থেকে হারিয়ে গেছে। এই সংকলনের নাম কী রাখা হয়েছে তা উল্লেখ করা হয়নি, তবে ফটোকপি পাণ্ডুলিপির সূচিপত্রে রয়েছে যে তিনি এর নাম দিয়েছেন (আল-কাবাস) এবং বইটির বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে আমিও একে এই নামেই অভিহিত করছি।

 

‌‌সামআনীর আনসাব

আবু সাআদ আস-সামআনীর ‘কিতাবুল আনসাব’ প্রকৃতপক্ষে এই শাস্ত্রের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ কিতাব, যেখানে তিনি বংশপরম্পরা বিষয়ক যা কিছু পেয়েছেন তার প্রায় সবকিছুই সাধারণভাবে সংগ্রহ করেছেন। এমনকি তিনি এর ব্যাপ্তি আরও বৃদ্ধি করেছেন এবং বেশ কিছু নতুন বংশপরিচয় উদ্ভাবন করেছেন যা একটি নির্দিষ্ট দলের ওপর প্রয়োগ করা সঠিক ছিল, কিন্তু তারা সেই নামে পরিচিত ছিল না। আপনি বিভিন্ন স্থানে এর ইঙ্গিত দেখতে পাবেন। তিনি বেশ কিছু উপাধি ও গুণাবলিও যুক্ত করেছেন যেগুলোকে আরবী ভাষাবিদরা ‘নিসবাহ’ (বংশনাম) বলেন না, যেমনটি আপনি এর যথাযোগ্য স্থানে দেখতে পাবেন। তিনি প্রতিটি বংশপরিচয়ের ক্ষেত্রে কেবল একজন ব্যক্তির বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি যার ওপর তা প্রয়োগ করা হয় (যদি অন্য কাউকে পাওয়া যায়), বরং তিনি তার চেয়ে অনেক বেশি উল্লেখ করেছেন। কোনো ব্যক্তির বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি কেবল সংক্ষিপ্ত পরিচয়ের ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং তার সম্পর্কে একটি দীর্ঘ ও উপকারী জীবনী তুলে ধরেছেন যা অনেক স্থানেই বেশ বিস্তারিত হয়েছে।

আর এই দুটি বিষয়ই ‘লুবাব’ গ্রন্থের লেখক বাদ দিয়েছেন এবং তাঁর সংক্ষিপ্তসার থেকে বর্জন করেছেন, যার ফলে মূল কিতাবের অধিকাংশ উপকারিতা হারিয়ে গেছে।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌الكتب التي تلته

نعرف منها اللباب لأبى الحسن علي بن محمد بن محمد بن الأثير (555 - 630) وهو مختصر لكتاب السمعاني أسقط أكثر أسماء الأشخاص واختصر أكثر التراجم ونبه على الأوهام اليسيرة وزاد زيادات ليست بالكثيرة وسننبه على فوائده في التعليق على الأنساب ان شاء اللَّه وعندي منه النسخة المطبوعة ونسختان مخطوطتان في مكتبة الحرم المكيّ غير كاملتين، والقبس بمثابة نسخة رابعة.

ثم تلاه قطب الدين محمد بن محمد بن عبد اللَّه الخيضرى الدمشقيّ الشافعيّ (821 - 894) فألف (الاكتساب في تلخيص كتب الأنساب) قالوا «لخص فيه أنساب السمعاني وضم اليه ما عند ابن الأثير والرشاطى» يوجد منه الجزء الثالث فقط كما في فهرس المخطوطات المصورة.

اما لب السيوطي وما تلاه فحسبها هذه الإشارة. ومعجم البلدان لياقوت الحموي (577 تقديرا - 626) عظيم الفائدة في النسب إلى البلدان ومما ينبغي تحقيقه انه يكثر جدا موافقة لفظه في تلخيص عبارة الأنساب للفظ اللباب وعاش ياقوت شطر عمره الأخير في حلب وكان صاحب اللباب، يتردد إليها وكان ياقوت خبيرا بكتب أبى سعد فإنه ينقل من الأنساب كثيرا مما ليس في اللباب وينقل أيضا من التحبير وغيره وقد عاش مدة طويلة بجوار مكتبات السمعانيين وغيرها من مكتبات مرو وصرح بأن أكثر فوائد كتابه منها ويستوقف النظر من تلخيصهما انهما كثيرا ما يتوقيان ذكر الأسماء الغريبة وقد يكون ذلك مما يسميه العصريون التهرب من المشاكل وعلى كل حال فليس هناك ما يغنى عن كتاب ابن السمعاني ولا يقارب.

 

‌‌ابن السمعاني

ينبغي ان نقدم هنا ذكر سلفه وحسبي ان أسوق ما قاله هو في رسم (السمعاني) من الأنساب قال: «السّمعانيّ - بفتح السين المهملة وسكون الميم وفتح العين المهملة وفي آخرها النون، وهو اسم لبعض أجداد المنتسب اليه، وأما سمعان الّذي ننتسب اليه فهو بطن من تميم، هكذا
পরবর্তী গ্রন্থসমূহ

এগুলোর মধ্যে আমরা আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আসীরের (৫৫৫ - ৬৩০) ‘আল-লুবাব’ সম্পর্কে জানি। এটি সামআনী রচিত গ্রন্থের একটি সংক্ষিপ্ত রূপ; এতে তিনি অধিকাংশ ব্যক্তির নাম বাদ দিয়েছেন, অধিকাংশ জীবনী সংক্ষেপ করেছেন, সামান্য কিছু ভুলত্রুটির বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং কিছু সংযোজন করেছেন যা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। ইনশাআল্লাহ, আমরা ‘আল-আনসাব’ গ্রন্থের টীকায় এর উপকারিতাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করব। আমার কাছে এর একটি মুদ্রিত কপি এবং মক্কার হারাম শরীফ লাইব্রেরিতে দুটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি রয়েছে, আর ‘আল-কাবাস’ চতুর্থ কপি হিসেবে গণ্য হয়।

এরপর কুতুবুদ্দীন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-খাইদারী আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ (৮২১ - ৮৯৪) এসেছেন, তিনি ‘আল-ইকতিসাব ফী তালখীসি কুতুবিল আনসাব’ রচনা করেন। বলা হয় যে, “তিনি এতে সামআনীর ‘আনসাব’ সংক্ষেপ করেছেন এবং ইবনুল আসীর ও রুশাতীর কাছে যা ছিল তাও এতে যুক্ত করেছেন।” এর কেবল তৃতীয় খণ্ডটিই বিদ্যমান রয়েছে, যেমনটি চিত্রিত পাণ্ডুলিপির তালিকায় উল্লেখ আছে।

সুয়ূতী রচিত ‘লুব্ব’ এবং এর পরবর্তী গ্রন্থগুলোর জন্য এই ইশারাটুকুই যথেষ্ট। বিভিন্ন শহরের সাথে সম্পর্কিত বংশপরম্পরার ক্ষেত্রে ইয়াকুত আল-হামাবীর (আনুমানিক ৫৭৭ - ৬২৬) ‘মুজামুল বুলদান’ অত্যন্ত উপকারী। একটি বিষয় নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে, ‘আল-আনসাব’-এর বর্ণনা সংক্ষেপ করার ক্ষেত্রে তার শব্দচয়ন অনেক সময় ‘আল-লুবাব’-এর শব্দের সাথে হুবহু মিলে যায়। ইয়াকুত তার জীবনের শেষ অর্ধেক সময় হালাব (আলেপ্পো) শহরে অতিবাহিত করেন এবং ‘আল-লুবাব’-এর লেখক সেখানে প্রায়ই যাতায়াত করতেন। ইয়াকুত আবু সা'দ (সামআনী)-এর কিতাবসমূহ সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন; কারণ তিনি ‘আল-আনসাব’ থেকে এমন অনেক কিছু উদ্ধৃত করেছেন যা ‘আল-লুবাব’-এ নেই, এবং তিনি ‘আত-তাহবীর’ ও অন্যান্য কিতাব থেকেও উদ্ধৃতি দিয়েছেন। তিনি মার্ভ শহরের সামআনী পরিবার ও অন্যান্য লাইব্রেরির সান্নিধ্যে দীর্ঘ সময় কাটান এবং স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, তার কিতাবের অধিকাংশ তথ্যই সেখান থেকে সংগৃহীত। তাদের দুজনের (ইবনুল আসীর ও ইয়াকুত) সংক্ষেপায়নের একটি লক্ষণীয় বিষয় হলো, তারা প্রায়শই অপরিচিত নামগুলো উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকতেন; সম্ভবত আধুনিক গবেষকরা যাকে ‘ঝামেলা এড়িয়ে চলা’ বলে অভিহিত করেন এটি তারই অংশ। যাই হোক না কেন, ইবনে সামআনীর কিতাবের বিকল্প হতে পারে এমন কিছু নেই, এমনকি এর কাছাকাছি মানেরও কোনো কিতাব নেই।

 

‌ইবনে সামআনী

আমাদের উচিত এখানে তার পূর্বসূরীদের কথা আগে উল্লেখ করা। ‘আল-আনসাব’ গ্রন্থের ‘আস-সামআনী’ ভুক্তিতে তিনি যা বলেছেন, তা উদ্ধৃত করাই আমার জন্য যথেষ্ট হবে। তিনি বলেছেন: “আস-সামআনী—প্রথমে সীন বর্ণে ফাতহা (যবর), মীম বর্ণে সুকুন (জযম), আইন বর্ণে ফাতহা এবং সবশেষে নূন। এটি এমন এক পূর্বপুরুষের নাম যার দিকে বংশের সম্বন্ধ করা হয়। আর সেই সামআন, যার দিকে আমরা নিজেদের সম্বন্ধ করি, তিনি তামীম গোত্রের একটি শাখা। এভাবেই...”
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১১)
سمعت سلفي يذكرون ذلك فأول من حدث من سلفنا … ثم القاضي الإمام أبو منصور محمد بن عبد الجبار بن أحمد بن محمد بن جعفر بن أحمد بن عبد الجبار بن الفضل بن الربيع بن مسلم بن عبد اللَّه السمعاني التميمي، كان اماما فاضلا ورعا متقنا، احكم العربية واللغة وصنف فيها التصانيف المفيدة … وولداه: أبو القاسم على وأبو المظفر منصور - جدي، اما أبو القاسم علي بن محمد بن عبد الجبار السمعاني [الحنفي] فكان فاضلا عالما ظريفا كثير المحفوظ. خرج إلى كرمان وحظي عند ملكها وصاهر الوزير بها ورزق الأولاد، وكان قد سمع مع والده من شيوخه، ولما انتقل اخوه جدنا الإمام أبو المظفر من مذهب أبى حنيفة إلى مذهب الشافعيّ رحمهما اللَّه هجره اخوه أبو القاسم وأظهر الكراهة وقال: خالفت مذهب الوالد وانتقلت عن مذهبه! فكتب كتابا إلى أخيه وقال: ما تركت المذهب الّذي كان عليه والدي رحمه الله في الأصول بل انتقلت عن مذهب القدرية فان أهل مرو صاروا في أصول اعتقادهم إلى رأى أهل القدر، وصنف كتابا يزيد على عشرين جزءا في الرد على القدرية وهداه اليه فرضى عنه وطاب قلبه ونفّذ ابنه ابا العلاء علي بن علي السمعاني اليه للتفقه عليه فأقام عنده مدة يتعلم ويتدرس الفقه وسمع الحديث من أبى الخير محمد بن موسى بن عبد اللَّه الصفار المعروف بابن أبى عمران رواية صحيح البخاري عن أبي الهيثم الكشميهني ورجع إلى كرمان، ولما مات والده فوض اليه ما كان إلى والده من المدرسة وغيرها، ورزق أبو العلاء الأولاد وإلى الساعة له بكرمان ونواحيها أولاد فضلاء علماء وجدنا الإمام أبو المظفر منصور بن محمد بن عبد الجبار السمعاني امام عصره بلا مدافعة وعديم النظر في فنه ولا أقدر على أن أصف بعض مناقبه ومن طالع تصانيفه وأنصف عرف محلّه من العلم، صنف التفسير الحسن المليح الّذي استحسنه كل من طالعة، وأملى المجالس في الحديث وتكلم على كل حديث بكلام مفيد، وصنف التصانيف في الحديث مثل منهاج أهل السنة والانتصار والرد على القدرية وغيرها،
আমি আমার পূর্বসূরিদের এটি উল্লেখ করতে শুনেছি, আমাদের পূর্বসূরিদের মধ্যে যিনি প্রথম বর্ণনা করেছেন … এরপর কাজী ইমাম আবু মনসুর মুহাম্মদ বিন আব্দুল জব্বার বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আহমদ বিন আব্দুল জব্বার বিন আল-ফজল বিন আল-রবি বিন মুসলিম বিন আব্দুল্লাহ আস-সামআনি আত-তামিমি; তিনি একজন বিদগ্ধ, পরহেজগার ও সুনিপুণ ইমাম ছিলেন। তিনি আরবি ভাষা ও অভিধানে ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন এবং এ বিষয়ে বহু উপকারী গ্রন্থ রচনা করেছেন … এবং তাঁর দুই পুত্র: আবুল কাসেম আলী এবং আবুল মোজাফফর মনসুর — যিনি আমার দাদা। আবুল কাসেম আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল জব্বার আস-সামআনি [হানাফি] ছিলেন একজন বিদগ্ধ, জ্ঞানী, রসিক এবং অধিক মুখস্থ শক্তির অধিকারী। তিনি কিরমানে গমন করেন এবং সেখানকার বাদশাহর নিকট বিশেষ মর্যাদা লাভ করেন। তিনি সেখানকার উজিরের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং তাঁর সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করে। তিনি তাঁর পিতার সাথে তাঁর শিক্ষকদের নিকট হাদিস শ্রবণ করেছিলেন। যখন তাঁর ভাই আমাদের দাদা ইমাম আবুল মোজাফফর আবু হানিফার মাজহাব থেকে শাফেয়ী মাজহাবে (আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন) স্থানান্তরিত হন, তখন তাঁর ভাই আবুল কাসেম তাঁকে বর্জন করেন এবং অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন: "তুমি পিতার মাজহাবের বিরোধিতা করেছ এবং তাঁর মাজহাব থেকে সরে গিয়েছ!" তখন তিনি তাঁর ভাইয়ের কাছে একটি পত্র লিখে জানান: "আমি উসুলের (আকিদার মূলনীতি) ক্ষেত্রে আমার পিতা যে মাজহাবের ওপর ছিলেন তা ত্যাগ করিনি, বরং আমি কাদারিয়াদের মাজহাব ত্যাগ করেছি; কারণ মার্ভের অধিবাসীরা তাদের আকিদার মূলনীতিতে কাদারিয়াদের মতবাদের দিকে ঝুঁকে পড়েছিল।" তিনি কাদারিয়াদের খণ্ডনে বিশ খণ্ডের অধিক একটি গ্রন্থ রচনা করেন এবং তাঁর কাছে তা পাঠান, যাতে তিনি তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন এবং তাঁর অন্তর শান্ত হয়। তিনি তাঁর পুত্র আবুল আলা আলী বিন আলী আস-সামআনিকে তাঁর নিকট ফিকহ শিখতে পাঠান। তিনি সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করে জ্ঞানার্জন ও ফিকহ অধ্যয়ন করেন এবং আবু খাইর মুহাম্মদ বিন মুসা বিন আব্দুল্লাহ আস-সাফফার — যিনি ইবনে আবি ইমরান নামে পরিচিত — তাঁর নিকট আবু হাইসাম আল-কুশমিহানির রেওয়ায়েতে সহীহ বুখারী শ্রবণ করেন এবং কিরমানে ফিরে যান। যখন তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করেন, তখন মাদ্রাসাসহ পিতার অন্যান্য দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত করা হয়। আবুল আলার সন্তানাদি জন্মলাভ করে এবং বর্তমান সময় পর্যন্ত কিরমান ও এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে তাঁর বংশধরদের মাঝে অনেক বিদগ্ধ আলেম রয়েছেন। আমাদের দাদা ইমাম আবুল মোজাফফর মনসুর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল জব্বার আস-সামআনি ছিলেন নিঃসন্দেহে তাঁর সময়ের ইমাম এবং স্বীয় শাস্ত্রে অনন্য। তাঁর গুণাবলির সামান্য কিছু বর্ণনা করার সাধ্যও আমার নেই। যে ব্যক্তি তাঁর রচনাবলি পাঠ করবে এবং ইনসাফ করবে, সে ইলমের ক্ষেত্রে তাঁর সুউচ্চ অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারবে। তিনি চমৎকার ও হৃদয়গ্রাহী একটি তাফসির রচনা করেছেন, যা পাঠকারী মাত্রই পছন্দ করেছেন। তিনি হাদিসের মজলিস পরিচালনা করতেন এবং প্রত্যেকটি হাদিসের ওপর উপকারী আলোচনা করতেন। তিনি হাদিস শাস্ত্রে বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন যেমন: মিনহাজ আহলে সুন্নাহ, আল-ইন্তিসার, আর-রাদ্দু আলাল কাদারিয়া প্রভৃতি।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১২)
وصنف في أصول الفقه القواطع وهو مغن عما صنّف في ذلك الفن وفي الخلاف البرهان وهو مشتمل على قريب من ألف مسألة خلافية والأوساط والمختصر الّذي سار في الآفاق والأقطار الملقب بالاصطلام، وردّ فيه على أبى زيد الدبوسي وأجاب عن الأسرار التي جمعها، وكان فقيها مناظرا، فانتقل بالحجاز في سنة اثنتين وستين وأربعمائة إلى مذهب الشافعيّ رحمه الله وأخفى ذلك وما أظهره إلى أن وصل إلى مرو، وجرى به في الانتقال محن ومخاصمات وثبت على ذلك ونصر ما اختاره، وكان مجالس وعظه كثير النكت والفوائد.

سمع الحديث. الكثير في صغره وكبره وانتشرت عنه الرواية وكثر أصحابه وتلامذته وشاع ذكره سمع بمرو أباه وأبا غانم أحمد بن علي بن الحسين الكراعي وأبا بكر محمد بن عبد الصمد الترابي المعروف بابن أبى الهيثم وجماعة كثيرة بخراسان والعراق وجرجان والحجاز، وقد جمع الأحاديث الألف الحسان عن مسموعاته عن مائة شيخ له عن كل شيخ عشرة أحاديث، أدركت جماعة من أصحابه وتفقهت على صاحبيه أبى حفص عمر بن محمد بن علي السرخسي وأبي إسحاق إبراهيم بن أحمد بن محمد المروروذي - واللَّه يرحمهما. وروى لي عنه الحديث أبو نصر محمد بن محمد ابن يوسف الفاشانى بمرو وأبو القاسم الجنيد بن محمد بن علي القائني بهراة وأبو طاهر محمد بن أبي بكر السنجي ببلخ وأبو بكر أحمد بن محمد بن بشار الجزجردى بنيسابور وأبو البدر حسان بن كامل بن صخر القاضي بطوس وأبو منصور محمود بن أحمد بن عبد المنعم بن ماشاذة بأصبهان وجماعة كثيرة تزيد على خمسين نفرا، وكانت ولادته في ذي الحجة سنة ست وعشرين وأربعمائة، وتوفى يوم الجمعة الثالث والعشرين من شهر ربيع الأول سنة تسع وثمانين وأربعمائة ودفن بأقصى سجذان احدى مقابر مرو، ورزق من الأولاد خمسة: أبو بكر محمد - والدي، وأبو محمد الحسن، وأبو القاسم احمد، وابن رابع وبنت ماتا عقب موته بمدة يسيرة.

فأما والدي [الإمام] أبو بكر محمد بن منصور بن محمد بن عبد الجبار السمعاني رحمة اللَّه عليه ابن ابنه وكان والده يفتخر به ويقول على
তিনি উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রে 'আল-কাওয়াতি' গ্রন্থটি রচনা করেন, যা এই শাস্ত্রে রচিত অন্যান্য গ্রন্থ থেকে অমুখাপেক্ষী করে দেয় (অর্থাৎ এটিই যথেষ্ট)। এবং মতপার্থক্য বিষয়ক শাস্ত্রে (ইলমুল খিলাফ) 'আল-বুরহান' গ্রন্থটি লিখেছেন, যা প্রায় এক হাজার মতভেদপূর্ণ মাসআলার ওপর مشتمل। এছাড়া 'আল-আওসাত' এবং 'আল-মুখতাসার' যা 'আল-ইসতিলাম' উপাধিতে পরিচিতি লাভ করে দিগ দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে তিনি আবু যায়েদ আদ-দাব্বুসির প্রতিবাদ করেছেন এবং তিনি যে 'আসরার' (রহস্যসমূহ) সংগ্রহ করেছিলেন তার জবাব দিয়েছেন। তিনি একজন ফকিহ ও দক্ষ বিতার্কিক ছিলেন। ৪৬২ হিজরি সনে হিজাজে থাকাকালীন তিনি শাফেয়ি মাজহাবে (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) স্থানান্তরিত হন। তিনি বিষয়টি গোপন রাখেন এবং মার্ভে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত তা প্রকাশ করেননি। এই মাজহাব পরিবর্তনের কারণে তাঁকে অনেক পরীক্ষা ও বিবাদের সম্মুখীন হতে হয়, কিন্তু তিনি তাতে অটল থাকেন এবং নিজের পছন্দকৃত মাজহাবকে সমর্থন করেন। তাঁর ওয়াযের মজলিসগুলো অনেক সূক্ষ্ম জ্ঞান ও ফায়দায় পূর্ণ ছিল।

তিনি শৈশব ও বার্ধক্যে প্রচুর হাদিস শ্রবণ করেছেন। তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণনা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর সঙ্গী ও ছাত্রের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। তিনি মার্ভে তাঁর পিতা, আবু গানিম আহমদ বিন আলী বিন আল-হুসাইন আল-কারাঈ, আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুস সামাদ আত-তুরাবি (যিনি ইবনু আবিল হাইসাম নামে পরিচিত) এবং খুরাসান, ইরাক, جرجান ও হিজাজে এক বিশাল জামাআতের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ করেন। তিনি তাঁর শ্রুত হাদিসগুলো থেকে একশজন শাইখের সূত্রে এক হাজার চমৎকার হাদিস সংকলন করেছেন; প্রত্যেক শাইখ থেকে দশটি করে হাদিস। আমি তাঁর একদল সঙ্গীকে পেয়েছি এবং তাঁর দুই সঙ্গী আবু হাফস উমর বিন মুহাম্মদ বিন আলী আস-সারখাসি এবং আবু ইসহাক ইব্রাহিম বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-মারুররুযি (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন) এর নিকট ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছি। তাঁর সূত্রে আমার কাছে হাদিস বর্ণনা করেছেন মার্ভে আবু নাসর মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ আল-ফাশানি, হেরাতে আবুল কাসিম আল-জুনায়েদ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আল-কায়িনি, বালখে আবু তাহির মুহাম্মদ বিন আবু বকর আস-সানজি, নিশাপুরে আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন বাশার আল-জাজগারদি, তুসে আবুল বদর হাসসান বিন কামিল বিন সাখর আল-কাদি, ইসফাহানে আবু মানসুর মাহমুদ বিন আহমদ বিন আব্দুল মুনইম বিন মাশাযাহ এবং পঞ্চাশের অধিক ব্যক্তির এক বিশাল জামাআত। তাঁর জন্ম হয়েছিল ৪২৬ হিজরির জিলহজ মাসে এবং তিনি ইন্তেকাল করেন ৪৮৯ হিজরি সালের ২৩শে রবিউল আউয়াল শুক্রবার। তাঁকে মার্ভের অন্যতম কবরস্থান সাজযানের প্রান্তদেশে দাফন করা হয়। তিনি পাঁচজন সন্তান লাভ করেন: আবু বকর মুহাম্মদ (আমার পিতা), আবু মুহাম্মদ আল-হাসান, আবুল কাসিম আহমদ এবং চতুর্থ এক পুত্র ও এক কন্যা যারা তাঁর মৃত্যুর অল্পকাল পরেই ইন্তেকাল করেন।

আর আমার পিতা [ইমাম] আবু বকর মুহাম্মদ বিন মানসুর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল জাব্বার আস-সামআনি (আল্লাহর রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক), তিনি ছিলেন তাঁর নাতি। তাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে গর্ব করতেন এবং বলতেন...
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১৩)
رؤوس الأشهاد في مجلس الإملاء: ابني محمد اعلم منى وأفضل منى، تفقه عليه وبرع في الفقه وقرأ الأدب على جماعة وفاق اقرانه وقرض الشعر المليح وغسله في آخر أيامه وشرع في عدة مصنف ما تمم شيئا منها لأنه لم يمتع بعمره واستأثر اللَّه تعالى بروحه وقد جاوز الأربعين بقليل، سافر إلى العراق والحجاز ورحل إلى أصبهان لسماع الحديث وأدرك الشيوخ والأسانيد العالية وحصل النسخ والكتب وأملى مائة وأربعين مجلسا في الحديث، من طالعها عرف ان أحدا لم يسبقه إلى مثلها، سمع بمرو أباه وأبا الخير بن أبي عمران الصفار وأبا سعيد الطاهري وبنيسابور أبا الحسن علي بن أحمد المؤذن المديني وبهمدان أبا الحسن فيد بن عبد الرحمن الشعراني وببغداد ابا المعالي ثابت بن بندار البقال وبالكوفة ابا البقاء المعمر ابن محمد بن علي الكوفي الحبال وبمكة ابا شاكر أحمد بن محمد بن عبد العزيز العثماني وبأصبهان أبا بكر أحمد بن محمد بن أحمد بن موسى بن مردويه الحافظ وجماعة كثيرة من هذه الطبقة، كتب لي الإجازة بجميع مسموعاته وشاهدت خطه بذلك، وحدث بهراة: وكانت ولادته في جمادى الأولى سنة ست وستين وأربعمائة، وتوفى يوم الجمعة الثالث من صفر سنة عشر وخمسمائة ودفن عند والده، وكان شيخنا أبو الفتح محمد بن علي النطنزي إذا ذكره انشد:

زين الشباب أبو فراس … لم يمتع بالشباب

وعمى الأكبر أبو محمد الحسن بن أبي المظفر السمعاني، كان اماما زاهدا ورعا كثير العبادة والتهجد نظيفا منورا مليح الشيبة منقبضا عن الخلق قلّ ما يخرج عن داره الا في أيام الجمع للصلاة، تفقه على والده وكان تلو والدي ورحمهم اللَّه وسمع معه الحديث - وظني انه ولد بعده بستين - وأفاده والدي عن جماعة من الشيوخ، ورحل معه إلى نيسابور، وسمع بمرو أباه وأبا سعيد عبد اللَّه بن أحمد الطاهري وأبا القاسم إسماعيل بن محمد بن أحمد
সমবেত সাক্ষীদের সামনে ইমলা মজলিসে (বলা হয়েছে): আমার পুত্র মুহাম্মদ আমার চেয়ে বেশি জ্ঞানী এবং আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ। সে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছে এবং তাতে পারদর্শিতা অর্জন করেছে। সে একদল উস্তাদের নিকট সাহিত্য পড়েছে এবং তার সমসাময়িকদের ছাড়িয়ে গেছে। সে চমৎকার কবিতা রচনা করত, তবে জীবনের শেষ দিকে তা ধুয়ে ফেলেছিল (পরিত্যাগ করেছিল)। সে বেশ কিছু গ্রন্থ রচনা শুরু করেছিল, কিন্তু সেগুলোর কোনোটিই পূর্ণ করতে পারেনি; কারণ সে দীর্ঘ জীবন লাভ করেনি এবং আল্লাহ তাআলা তার রুহ কবজ করে নিয়েছেন। তখন তার বয়স চল্লিশের কিছু বেশি ছিল। সে ইরাক ও হিজাজ সফর করেছে এবং হাদিস শোনার জন্য আসফাহানে ভ্রমণ করেছে। সে প্রবীণ শায়খদের সান্নিধ্য লাভ করেছে এবং উচ্চতর সনদ অর্জন করেছে। সে পাণ্ডুলিপি ও কিতাবসমূহ সংগ্রহ করেছে এবং হাদিসের একশত চল্লিশটি মজলিস ইমলা করিয়েছে। যে ব্যক্তি সেগুলো পাঠ করবে, সে বুঝতে পারবে যে তার আগে কেউ অনুরূপ কিছু করতে পারেনি। সে মার্ভ শহরে তার পিতা, আবুল খায়ের ইবনে আবি ইমরান আস-সাফফার এবং আবু সাঈদ আত-তাহিরির কাছে হাদিস শুনেছে। নিশাপুরে আবুল হাসান আলী বিন আহমদ আল-মুয়াজ্জিন আল-মাদিনি, হামাদানে আবুল হাসান ফায়দ বিন আব্দুর রহমান আশ-শারানি, বাগদাদে আবুল মাআলি সাবিত বিন বুন্দার আল-বাক্কাল, কুফায় আবু আল-বাকা আল-মুয়াম্মার ইবনে মুহাম্মদ বিন আলী আল-কুফি আল-হাব্বাল, মক্কায় আবু শাকির আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আল-উসমানি এবং আসফাহানে হাফেজ আবু বকর আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন মুসা বিন মারদুওয়াইহ এবং এই স্তরের আরও বহু লোকের সান্নিধ্য লাভ করেছে। সে তার শ্রবণ করা সকল বিষয়ের জন্য আমাকে ইজাজত লিখে দিয়েছিল এবং আমি তাতে তার দস্তখত দেখেছি। সে হেরাতে হাদিস বর্ণনা করেছে। তার জন্ম হয়েছিল ৪৬৬ হিজরি সনের জুমাদাল উলা মাসে। সে ৫১০ হিজরি সনের ৩রা সফর জুমাবার মৃত্যুবরণ করে এবং তার পিতার পাশে তাকে দাফন করা হয়। আমাদের শায়খ আবুল ফাতহ মুহাম্মদ বিন আলী আন-নাতানজি যখন তাকে স্মরণ করতেন, তখন এই কবিতা আবৃত্তি করতেন:

যৌবনের অলঙ্কার আবু ফরাস … যৌবনকে উপভোগ করতে পারেনি

এবং আমার বড় চাচা আবু মুহাম্মদ আল-হাসান বিন আবি আল-মুজাফফর আস-সামআনি ছিলেন একজন ইমাম, দুনিয়াবিমুখ, পরহেজগার এবং প্রচুর ইবাদত ও তাহাজ্জুদ পালনকারী। তিনি ছিলেন পরিচ্ছন্ন, জ্যোতির্ময় এবং সুন্দর শ্মশ্রুমণ্ডিত। তিনি মানুষের সঙ্গ এড়িয়ে চলতেন এবং জুমার নামাজ ব্যতীত ঘর থেকে খুব কমই বের হতেন। তিনি তার পিতার কাছে ফিকহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেছিলেন এবং তিনি আমার পিতার অনুগামী ছিলেন—আল্লাহ তাদের সকলের প্রতি রহম করুন। তিনি তার সাথে হাদিস শুনেছেন—আমার ধারণা তিনি তার ষাট বছর পরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমার পিতা একদল শায়খের কাছ থেকে তাকে উপকৃত করেছিলেন এবং তিনি তার সাথে নিশাপুরে সফর করেছিলেন। তিনি মার্ভে তার পিতা, আবু সাঈদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আত-তাহিরি এবং আবুল কাসেম ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আহমদের কাছে হাদিস শুনেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الزاهريّ وأبا محمد كامكار بن عبد الرزاق الأديب وأبا الفرج المظفر بن إسماعيل التميمي الجرجاني وبنيسابور أبا الحسن علي بن أحمد ابن محمد المديني وأبا إبراهيم محمد بن الحسين البالوي وأبا سعيد عبد الواحد ابن أبي القاسم القشيري وأبا على نصر اللَّه بن أحمد الخشنامى وجماعة سواهم، سمعت منه الكثير وكان يكرمني ويحبني وقرأت عليه الكتب المصنفة مثل كتاب الجامع لمعمر بن راشد وكتاب التاريخ لأحمد بن سيار والأمالي والانتصار والأحاديث الألف لجدي بروايته عنه وأمالي أبى زكريا المزكي وأبى القاسم السراج بروايته عن أبي الحسن المديني وأبى العباس عبد الصمد وغير ذلك من الأجزاء والفوائد، ورزق ثواب الشهداء في آخر عمره ودخل عليه اللصوص لوديعة كانت لإنسان عند زوجته وخنقوه ليلة الاثنين … سنة احدى وثلاثين وخمسمائة - واللَّه تعالى يرحمه، وصل الىّ نعيه وأنا بأصبهان وولده - ابن عمى - أبو منصور محمد بن الحسن السمعاني، كان شابا فاضلا ظريفا، قرأ الأدب وبرع فيه، وكانت له يد باسطة في الشعر باللسانين غير أنه اشتغل مما لم يشتغل سلفه من الجلوس مع الشبان والجرى في ميدانهم وموافقتهم فيما هم فيه - واللَّه تعالى يتجاوز عنا وعنه، سمعت من شعره الكثير: وتوفى بعد والده بسنتين واخترمته المنية في حال شبابه وما استكمل الأربعين وذلك ليلة عرفة من سنة ثلاث وثلاثين وخمسمائة وعمى الآخر الأصغر أستاذي ومن أخذت عنه الفقه وعلقت عليه الخلاف وبعض المذهب أبو القاسم أحمد بن منصور السمعاني، كان اماما فاضلا عالما مناظرا مفتيا واعظا مليح الوعظ شاعرا حسن الشعر، له فضائل جمة ومناقب كثيرة، وكان حييا وقورا ثابتا حمولا صبورا. تفقه على والدي - رحمهما اللَّه - وأخذ عنه العلم وخلفه بعده فيما كان مفوضا اليه، سمع بمرو أخاه - والدي - وأبا محمد كامكار بن عبد الرزاق الأديب وأبا نصر محمد ابن محمد بن محمد الماهاني وطبقتهم، انتخبت عليه أوراقا وقرأت عليه عن شيوخه وخرجت معه إلى سرخس وانصرفنا إلى مرو وخرجنا في شوال سنة تسع وعشرين
আয-যাহিরী এবং আবু মুহাম্মদ কামকার ইবনে আবদুর রাজ্জাক আল-আদীব এবং আবু আল-ফারাজ আল-মুজাফ্ফর ইবনে ইসমাঈল আত-তামীমী আল-জুজানী, এবং নিশাপুরে আবুল হাসান আলী ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাদিনী এবং আবু ইব্রাহীম মুহাম্মদ ইবনুল হোসেন আল-বালউয়ী এবং আবু সাঈদ আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবিল কাসিম আল-কুশাইরী এবং আবু আলী নাসরুল্লাহ ইবনে আহমদ আল-খুশনামী এবং তাদের ব্যতীত আরও একটি দল, আমি তাঁর নিকট থেকে প্রচুর শুনেছি। তিনি আমাকে সম্মান করতেন ও ভালোবাসতেন এবং আমি তাঁর নিকট অনেক সংকলিত গ্রন্থ পাঠ করেছি যেমন মামার ইবনে রাশিদের ‘কিতাবুল জামে’, আহমদ ইবনে সাইয়ারের ‘কিতাবুত তারিখ’, ‘আল-আমালি’, ‘আল-ইন্তিসার’ এবং তাঁর বর্ণনায় আমার দাদার ‘আল-আহাদিসুল আলফ’, আর আবুল হাসান আল-মাদিনী ও আবুল আব্বাস আবদুস সামাদ ও অন্যদের বর্ণনায় আবু যাকারিয়া আল-মুযাক্কী ও আবুল কাসিম আস-সাররাজের ‘আল-আমালি’ এবং এ ছাড়াও অন্যান্য অংশ ও উপকারিতা। তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগে শহীদদের সওয়াব লাভ করেন। তাঁর স্ত্রীর নিকট জনৈক ব্যক্তির একটি আমানত ছিল, যার লোভে তাঁর ঘরে চোরেরা প্রবেশ করে এবং তারা তাঁকে পাঁচশত একত্রিশ হিজরি সালের … সোমবার রাতে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে - আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি রহম করুন। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ আমার নিকট পৌঁছে যখন আমি ইসফাহানে ছিলাম। আর তাঁর পুত্র - আমার চাচাতো ভাই - আবু মনসুর মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আস-সামআনী ছিলেন একজন গুণী ও সুরুচিশীল যুবক। তিনি সাহিত্য পাঠ করেছেন এবং তাতে দক্ষতা অর্জন করেছেন। দুটি ভাষায় কাব্যচর্চায় তাঁর এক প্রসারিত হাত ছিল, তবে তিনি এমন কাজে লিপ্ত হয়েছিলেন যা তাঁর পূর্বসূরীরা করেননি, যেমন যুবকদের সাথে বসা এবং তাদের সাথে তাল মিলিয়ে চলা ও তাদের অবস্থায় শামিল হওয়া - আল্লাহ তাআলা আমাদের এবং তাঁর প্রতি ক্ষমাশীল হোন। আমি তাঁর প্রচুর কবিতা শুনেছি। তিনি তাঁর পিতার মৃত্যুর দুই বছর পর মারা যান এবং যৌবনকালেই মৃত্যু তাঁকে ছিনিয়ে নেয় যখন তাঁর বয়স চল্লিশ পূর্ণ হয়নি, আর তা ছিল পাঁচশত তেত্রিশ হিজরি সালের আরাফার রাতে। আর আমার অপর ছোট চাচা, আমার উস্তাদ এবং যাঁর নিকট থেকে আমি ফিকহ গ্রহণ করেছি এবং যাঁর নিকট আমি ইখতিলাফি মাসায়েল ও মাযহাবের কিয়দংশ লিপিবদ্ধ করেছি, তিনি হলেন আবু আল-কাসিম আহমদ ইবনে মনসুর আস-সামআনী। তিনি ছিলেন একজন গুণী ইমাম, বিজ্ঞ আলিম, তার্কিক, মুফতি, মিষ্টভাষী ওয়ায়েজ এবং উৎকৃষ্ট মানের কবি। তাঁর অগাধ ফযিলত ও অসংখ্য গুণাবলি ছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত লাজুক, গাম্ভীর্যপূর্ণ, অবিচল, সহনশীল ও ধৈর্যশীল। তিনি আমার পিতার নিকট ফিকহ অর্জন করেছেন - আল্লাহ তাঁদের উভয়ের প্রতি রহম করুন - এবং তাঁর নিকট থেকে ইলম হাসিল করেছেন এবং তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়ে তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মার্ভ শহরে তাঁর ভাই - আমার পিতা - এবং আবু মুহাম্মদ কামকার ইবনে আবদুর রাজ্জাক আল-আদীব এবং আবু নাসর মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-মাহানী ও তাঁদের সমসাময়িক স্তরের ব্যক্তিদের নিকট শুনেছেন। আমি তাঁর নিকট থেকে কিছু পাণ্ডুলিপি নির্বাচন করেছি এবং তাঁর শায়খদের সূত্রে তাঁর নিকট পাঠ করেছি। আমি তাঁর সাথে সারাখসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলাম এবং পুনরায় মার্ভে ফিরে আসি, আর আমরা পাঁচশত ঊনত্রিশ হিজরি সালের শাওয়াল মাসে বের হয়েছিলাম।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১৫)
إلى نيسابور وكان خروجه بسببي لأني رغبت في الرحلة لسماع حديث مسلم بن الحجاج القشيري فسمع معي الصحيح وعزم على الرجوع إلى الوطن وتأخرت عنه مختفيا لأقيم بنيسابور بعد خروجه فصبر إلى أن ظهرت ورجعت معه إلى طوس وانصرفت باذنه إلى نيسابور ورجع هو إلى مرو وأقمت انا بنيسابور سنة وخرجت منها إلى أصبهان ولم أره بعد ذلك، وكانت ولادته في سنة سبع وثمانين وأربعمائة، وتوفى في الثالث والعشرين من شوال سنة اربع وثلاثين وخمسمائة. وصل إلى نعيه وأنا ببغداد وعقدنا له العزاء بها وأمة اللَّه حرة أختي، امرأة صالحة عفيفة كثيرة الدرس للقرآن مديمة للصوم راغبة في الخير وأعمال البر، حصل لها والدي الإجازة عن أبي غالب محمد بن الحسن الباقلاني البغدادي، قرأت عليها أحاديث وحكايات بإجازتها عنه. وكانت ولادتها في رجب من سنة احدى وتسعين وأربعمائة.

فهذه الجماعة الذين حدثوا من بيتنا - واللَّه تعالى يرحمهم».

ومن أحبّ الزيادة في اخبارهم فليراجع تراجمهم في طبقات الشافعية وغيرها.

 

‌‌اسمه ونسبه وكنيته ولقبه

هو عبد الكريم بن محمد بن منصور بن محمد بن عبد الجبار بن أحمد بن محمد بن جعفر بن أحمد بن عبد الجبار بن الفضل بن الربيع بن مسلم بن عبد اللَّه، أبو سعد تاج الإسلام السمعاني المروزي، وسياق النسب بعد (جعفر) أثبته أبو سعد نفسه كما تقدم في ذكر سلفه وكذا أثبته زميله ابن عساكر كما في تقييد ابن نقطة وغيره، وذكر ابن نقطة ان يحيى بن مندة وشيرويه ساقا النسب إلى جعفر ثم قالا «بن سمعان» ولم يزيدا. قال المعلمي: ليس هذا بخلاف وإنما نسبا جعفرا إلى الجد الأعلى وهو (سمعان) الّذي ذكر أبو سعد عن أهله انه بطن من تميم، وليس معنى هذا انه بطن قديم معروف في الجاهلية فان علماء النسب لا يعرفون ذلك، وإنما سمعان واللَّه اعلم تميمي كان هو أو ابنه في زمن الصحابة وكان فيمن
নিশাপুরের দিকে; এবং তাঁর বহির্গমন ছিল আমারই কারণে, কারণ আমি মুসলিম বিন হাজ্জাজ আল-কুশাইরীর হাদীস শোনার জন্য সফরের ইচ্ছা পোষণ করেছিলাম। তিনি আমার সাথে ‘সহীহ’ শ্রবণ করেন এবং স্বদেশে ফেরার সংকল্প করেন। তাঁর প্রস্থানের পর নিশাপুরে অবস্থানের উদ্দেশ্যে আমি আত্মগোপন করে তাঁর থেকে পিছিয়ে পড়ি। আমি আত্মপ্রকাশ করা পর্যন্ত তিনি ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করেন এবং আমি তাঁর সাথে তুসে ফিরে আসি। এরপর তাঁর অনুমতিক্রমে আমি নিশাপুরের দিকে রওনা হই এবং তিনি মার্ভে ফিরে যান। আমি নিশাপুরে এক বছর অবস্থান করি এবং সেখান থেকে ইসফাহানে চলে যাই, এরপর তাঁর সাথে আর আমার দেখা হয়নি। তাঁর জন্ম হয়েছিল চারশ সাতাশি হিজরীতে এবং তিনি ইন্তেকাল করেন পাঁচশ চৌত্রিশ হিজরীর তেইশে শাওয়াল। আমি তখন বাগদাদে থাকাবস্থায় তাঁর মৃত্যু সংবাদ আমার নিকট পৌঁছে এবং আমরা সেখানে তাঁর শোকসভার আয়োজন করি। আর আমাতুল্লাহ হুররাহ হলেন আমার বোন; তিনি ছিলেন একজন নেককার ও পবিত্রা নারী, যিনি প্রচুর পরিমাণে কুরআন তিলাওয়াত করতেন, সর্বদা রোজা রাখতেন এবং কল্যাণ ও সৎকাজের প্রতি অনুরাগী ছিলেন। আমার পিতা তাঁর জন্য আবু গালিব মুহাম্মদ বিন হাসান আল-বাকিল্লানি আল-বাগদাদীর নিকট থেকে ইজাজত লাভ করেছিলেন। আমি তাঁর কাছে তাঁর সেই ইজাজতসূত্রে কিছু হাদীস ও উপাখ্যান পাঠ করেছি। তাঁর জন্ম হয়েছিল চারশ একানব্বই হিজরীর রজব মাসে।

এঁরাই হলেন সেই ব্যক্তিবর্গ যারা আমাদের পরিবার থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাআলা তাঁদের ওপর রহম করুন।

যাঁরা তাঁদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে আগ্রহী, তাঁরা যেন ‘তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ’ ও অন্যান্য গ্রন্থে তাঁদের জীবনী দেখে নেন।

 

‌‌তাঁর নাম, বংশপরিচয়, কুনিয়াত ও উপাধি

তিনি হলেন আব্দুল কারীম বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল জব্বার বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আহমদ বিন আব্দুল জব্বার বিন ফজল বিন রাবী’ বিন মুসলিম বিন আব্দুল্লাহ, আবু সা’দ তাজুল ইসলাম আস-সামআনী আল-মারওয়াযী। জাফর-এর পরবর্তী বংশপরম্পরা স্বয়ং আবু সা’দ সাব্যস্ত করেছেন যেমনটি তাঁর পূর্বপুরুষদের বর্ণনায় পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তেমনিভাবে তাঁর সহকর্মী ইবনে আসাকিরও তা সাব্যস্ত করেছেন যেমনটি ইবনে নুকতার ‘তাকয়ীদ’ ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে নুকতা উল্লেখ করেছেন যে, ইয়াহইয়া বিন মান্দাহ ও শিরওয়াইহ বংশপরম্পরাকে জাফর পর্যন্ত নিয়ে গেছেন, এরপর তাঁরা ‘বিন সামআন’ বলেছেন এবং এর বেশি আর কিছু উল্লেখ করেননি। মুআল্লিমী বলেন: এটি কোনো বিরোধ নয়, বরং তাঁরা জাফরকে তাঁর ঊর্ধ্বতম দাদা ‘সামআন’-এর দিকে সম্বন্ধ করেছেন, যার সম্পর্কে আবু সা’দ তাঁর পরিবারের বরাতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি তামীম গোত্রের একটি শাখা। এর অর্থ এই নয় যে এটি জাহিলী যুগের কোনো সুপরিচিত প্রাচীন শাখা, কারণ বংশবিদগণ তা জানেন না। বরং সামআন—আল্লাহই সর্বজ্ঞ—ছিলেন তামীম গোত্রীয়, তিনি অথবা তাঁর পুত্র সাহাবীগণের যুগে জীবিত ছিলেন এবং তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা...
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১৬)
غزا مرو واستوطنها وكثر بنوه فنسبوا اليه وبذلك صار بطنا من تميم.

 

‌‌مولده ونشأته

ولد بمرو يوم الاثنين الحادي والعشرين من شعبان سنة ست وخمسمائة، ومع أن والده لم يجاوز عمره حينئذ أربعين سنة وأربعة أشهر تقريبا فأحسبه كان يشعر بقرب موته فإنه سارع بإدراج اسم ابنه في سجل المحدثين فكان يحضره وهو ابن سنتين أو نحوها مجالس المحدثين ويكتب له ما املوه أو قرئ عليهم وهو حاضر ويثبت ذلك ويصححه ليكون أصلا يرجع اليه ولده ويروى منه إذا كبر ويأخذ له مع ذلك إجازاتهم ولم يكتف ببلده بل رحل به وعمره نحو ثلاث سنوات إلى نيسابور وأحضره لدى كبار محدثيها وسمع له منهم وسيأتي تفصيل بعض ذلك في أسماء شيوخه.

ومع أنه كان للأب اخوان عالمان فاضلان فلم يكتف عنده ما أحس بالموت بأن يدع ابنه إليهما بل أوصى به إلى أفضل عالم من أصحابه وسيأتي ذكره في مشايخه، توفى الأب ثالث شهر صفر من سنة عشر وخمسمائة وعمر أبى سعد حينئذ ثلاث سنين وخمسة أشهر وثلاثة عشر يوما. ولا اعرف الآن شيئا من حال والدة أبى سعد.

كفل ابا سعد وصيه وعماه وكلهم من خيار العلماء، والبيئة صالحة فاضلة رجالها ونساؤها، وفي ذلك ما يغنى عن الكلام في تنشئة أبى سعد في أوائل عمره ولا سيما مع العلم بما صار اليه من امره.

وبالجملة فإنه حفظ القرآن وتعلم الفقه والعربية والأدب وصار يسمع الحديث مع عميه ثم بعد أن قارب العشرين صار يسمع بنفسه غير أنهم لم يسمحوا له بالرحلة الا بأخرة.

 

‌‌رحلته

ألح عليهم ان يأذنوا له بالرحلة إلى نيسابور ليسمع صحيح مسلم من المتفرد به المعمر الثقة الفاضل أبى الفضل الفراوي الّذي طال عمره وأصبح يتوقع كل يوم موته وإذا مات ولم يسمع منه أبو سعد كانت حسرة في قلبه لا تندمل فلم يأذنوا له حتى جاوز عمره الثانية والعشرين من السنين ولم يسمحوا له بالسفر وحده بل سافر معه أحد عميه.
তিনি মার্ভ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে বসতি স্থাপন করেন। তাঁর সন্তানসন্ততি বৃদ্ধি পায় এবং তাঁরা তাঁর সাথে সম্পর্কিত হয়, আর এভাবেই তিনি তামিমে গোত্রের একটি শাখায় পরিণত হন।

 

‌‌তাঁর জন্ম ও শৈশব

তিনি ৫০৬ হিজরির ২১ শে শাবান সোমবার মার্ভে জন্মগ্রহণ করেন। যদিও তাঁর পিতার বয়স তখন প্রায় চল্লিশ বছর চার মাস অতিক্রম করেনি, তবুও আমার মনে হয় তিনি নিজের মৃত্যুর নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি অনুভব করেছিলেন। এজন্য তিনি দ্রুততার সাথে মুহাদ্দিসদের তালিকায় তাঁর ছেলের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন। ছেলের বয়স যখন দুই বছর বা এর কাছাকাছি ছিল, তখন তিনি তাকে মুহাদ্দিসদের মজলিসে উপস্থিত করতেন এবং তাঁরা যা শ্রুতিলিপি (ইমলা) করাতেন অথবা তাঁদের সামনে যা পাঠ করা হতো, তা তিনি ছেলের উপস্থিতিতেই লিখে রাখতেন। তিনি তা সংরক্ষণ ও সংশোধন করতেন যাতে বড় হওয়ার পর এটি একটি মূল পাণ্ডুলিপি হিসেবে তাঁর ছেলের কাজে লাগে এবং সে তা থেকে বর্ণনা করতে পারে। এর পাশাপাশি তিনি তাঁদের থেকে তাঁর ছেলের জন্য ইজাজতও গ্রহণ করতেন। তিনি কেবল নিজ শহরেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং ছেলের তিন বছর বয়সে তাঁকে নিয়ে নিশাপুরে ভ্রমণ করেন এবং তথাকার বড় বড় মুহাদ্দিসদের নিকট উপস্থিত করেন। তাঁদের থেকে তিনি হাদিস শ্রবণ করেন। তাঁর উস্তাদদের নামের তালিকায় এর কিছু বিস্তারিত বিবরণ আসবে।

তাঁর পিতার দুইজন আলেম ও গুণী ভাই থাকা সত্ত্বেও মৃত্যু অনুভব করার সময় তিনি তাঁর ছেলেকে কেবল তাঁদের কাছে রেখে যাওয়াকেই যথেষ্ট মনে করেননি। বরং তিনি তাঁর বন্ধুদের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আলেমের কাছে তাঁর জন্য অসিয়ত করে যান, যাঁর নাম তাঁর উস্তাদদের বর্ণনায় আসবে। ৫১০ হিজরির ৩রা সফর পিতা ইন্তেকাল করেন। সে সময় আবু সা'দ-এর বয়স ছিল তিন বছর পাঁচ মাস তেরো দিন। বর্তমানে আবু সা'দ-এর মাতার অবস্থা সম্পর্কে আমার কিছু জানা নেই।

আবু সা'দ-এর লালন-পালন করেন তাঁর অভিভাবক (যাঁর কাছে অসিয়ত করা হয়েছিল) এবং তাঁর দুই চাচা। তাঁদের সকলেই ছিলেন শ্রেষ্ঠ আলেমদের অন্তর্ভুক্ত। পরিবেশটি ছিল অত্যন্ত পুণ্যময় ও শ্রেষ্ঠ, যার পুরুষ ও নারী উভয়ই ছিলেন গুণী। আবু সা'দ-এর শৈশবের বেড়ে ওঠা নিয়ে আলোচনার জন্য এটুকুই যথেষ্ট, বিশেষ করে তিনি পরবর্তী জীবনে যে উচ্চাসনে আসীন হয়েছিলেন তা জানার পর।

সারকথা হলো, তিনি কুরআন হিফজ করেন এবং ফিকহ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষা করেন। তিনি তাঁর দুই চাচার সাথে হাদিস শ্রবণ করতে শুরু করেন। এরপর তাঁর বয়স যখন কুড়ির কাছাকাছি হয়, তখন তিনি নিজেই হাদিস শ্রবণ করতে থাকেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে শেষ সময় পর্যন্ত জ্ঞানার্জনের সফরে বের হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

 

‌‌তাঁর সফর

তিনি নিশাপুর সফরের অনুমতির জন্য তাঁদের কাছে পীড়াপীড়ি করেন, যাতে তিনি ‘সহিহ মুসলিম’ শ্রবণ করতে পারেন সেই দীর্ঘজীবী, নির্ভরযোগ্য ও গুণী ব্যক্তিত্ব আবু আল-ফাদল আল-ফারাবীর কাছ থেকে, যিনি এককভাবে এটি বর্ণনা করার উচ্চ সনদ রাখতেন। তাঁর বয়স অনেক হয়েছিল এবং প্রতিদিন তাঁর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হতো। যদি তিনি ইন্তেকাল করতেন আর আবু সা'দ তাঁর থেকে হাদিস শুনতে না পারতেন, তবে এটি তাঁর হৃদয়ে এমন এক আক্ষেপ হয়ে থাকত যা কখনো নিরাময় হতো না। তাঁর বয়স বাইশ বছর পার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা তাঁকে অনুমতি দেননি। এমনকি তাঁরা তাঁকে একা সফরের অনুমতিও দেননি, বরং তাঁর সাথে তাঁর দুই চাচার একজন সফর করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وضاق صدر أبى سعد بتلك العناية الحبيبة الكريهة، فلما أتم سماع صحيح مسلم في نيسابور أراد عمه أن يرجع به إلى وطنه فلم يسبع ابا سعد الا ان يختبئ املا ان يمل عمه الانتظار فيذهب ويدعه يطوف في مراكز العلم كما يحب، لكن العم كان اصبر منه لزم نيسابور حتى مل أبو سعد الاختباء فظهر وطاوع عمه في الرجوع معه وكأنه بقي يحاج عمه ويوضح له انه مضطر إلى الرحلة وأنه لا داعي لمنعه من الغربة وحده، ويمكن ان يكون كاتب عمه الآخر والوصي فعاد جوابهما بالإذن له، نعم إذن له عمه وهما بطوس فرجع هو إلى نيسابور وأقام بها سنة كما تقدم شرح ذلك في ذكره عمه في جملة أهله. ثم ذهب يطوف في مراكز العلم في الدنيا عدة سنوات واتسعت رحلته فعمت بلاد خراسان وأصبهان وما وراء النهر والعراق والحجاز والشام وطبرستان وزار بيت المقدس وهو بأيدي النصارى وحج مرتين. ومات عماه والوصي عليه بمرو وهو في الرحلة.

 

‌‌رجوعه إلى وطنه

في طبقات الشافعية «وعاد إلى وطنه بمرو سنة ثمان وثلاثين [وخمسمائة] فتزوج وولد له أبو المظفر عبد الرحيم …

قال المعلمي: ارخ ابن نقطة وغيره مولد عبد الرحيم «في ذي القعدة من سنة سبع وثلاثين وخمسمائة» فاما ان يكون أبو سعد انما رجع إلى مرو أوائل سنة سبع وثلاثين وستمائة، وإما ان يكون تزوج وولد له عبد الرحيم في الرحلة.

 

‌‌حاله بعد رجوعه

في طبقات الشافعية عقب ما مر «فرحل به (يعنى بعبد الرحيم) إلى نيسابور ونواحيها وبلخ وسمرقند وبخارا وخرج له معجما ثم عاد به إلى مرو وألقى عصا السفر بعد ما شق الأرض شقا وأقبل على التصنيف والإملاء والوعظ والتدريس … عاد بعد ما دوخ الأرض سفرا إلى بلدة مرو وأقام مشتغلا بالجمع والتصنيف والتحديث والتدريس بالمدرسة العميدية ونشر العلم.
আবু সা'দ সেই ভালোবাসা মিশ্রিত বিরক্তিকর যত্নে অতিষ্ঠ হয়ে উঠলেন। যখন তিনি নিশাপুরে সহীহ মুসলিমের শ্রবণ সমাপ্ত করলেন, তখন তার চাচা তাকে নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে চাইলেন। আবু সা'দ আত্মগোপন করা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখলেন না, এই আশায় যে তার চাচা অপেক্ষা করতে করতে বিরক্ত হয়ে চলে যাবেন এবং তাকে তার পছন্দমতো ইলমের কেন্দ্রগুলোতে ঘুরে বেড়ানোর জন্য ছেড়ে দেবেন। কিন্তু তার চাচা ছিলেন তার চেয়েও বেশি ধৈর্যশীল; তিনি নিশাপুরেই অবস্থান করতে লাগলেন। অবশেষে আবু সা'দ আত্মগোপন করে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে প্রকাশ হয়ে পড়লেন এবং চাচার সাথে ফিরে যেতে রাজি হলেন। তবে মনে হয় তিনি চাচার সাথে বিতর্ক চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাকে বোঝাচ্ছিলেন যে তার সফরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং তাকে একা প্রবাসে যেতে বাধা দেওয়ার কোনো কারণ নেই। সম্ভবত তিনি তার অন্য চাচা ও অভিভাবকের কাছে পত্র লিখেছিলেন এবং তাদের পক্ষ থেকে তাকে অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল। হ্যাঁ, তুস শহরে অবস্থানকালে তার চাচা তাকে অনুমতি দেন এবং তিনি পুনরায় নিশাপুরে ফিরে যান। সেখানে তিনি এক বছর অবস্থান করেন, যেমনটি তার পরিবারের বর্ণনায় তার চাচার আলোচনার সময় পূর্বে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এরপর তিনি দীর্ঘ কয়েক বছর পৃথিবীর ইলমী কেন্দ্রগুলোতে পরিভ্রমণ করেন এবং তার সফর বিস্তৃত হয়। তিনি খোরাসান, ইসফাহান, মা-ওয়ারাউন নহর, ইরাক, হিজাজ, সিরিয়া এবং তাবারস্তান ভ্রমণ করেন। তিনি বায়তুল মাকদিস সফর করেন যখন সেটি খ্রিস্টানদের শাসনাধীন ছিল এবং দুইবার হজ পালন করেন। তিনি যখন সফরে ছিলেন, তখনই মার্ভে তার দুই চাচা ও অভিভাবক ইন্তেকাল করেন।

 

‌‌নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন

তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ গ্রন্থে রয়েছে: “তিনি পাঁচশত আটত্রিশ হিজরীতে মার্ভে নিজ দেশে ফিরে আসেন। অতঃপর তিনি বিবাহ করেন এবং তার পুত্র আবু আল-মুজাফফর আব্দুর রহীম জন্মগ্রহণ করেন …

মুআল্লিমী বলেন: ইবনু নুকতাহ ও অন্যান্যরা আব্দুর রহীমের জন্ম তারিখ নির্ধারণ করেছেন “পাঁচশত সাইত্রিশ হিজরীর যিলকদ মাসে”। সুতরাং হয় আবু সা'দ পাঁচশত সাইত্রিশ হিজরীর শুরুর দিকে মার্ভে ফিরে এসেছিলেন, অথবা সফরের মধ্যেই তিনি বিবাহ করেছিলেন এবং সেখানেই আব্দুর রহীম জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

 

‌‌প্রত্যাবর্তনের পর তার অবস্থা

তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ গ্রন্থে পূর্বোক্ত আলোচনার পরপরই বর্ণিত হয়েছে: “অতঃপর তিনি তাকে (অর্থাৎ আব্দুর রহীমকে) নিয়ে নিশাপুর ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকা, বলখ, সমরকন্দ এবং বুখারা সফর করেন এবং তার জন্য একটি মু'জাম সংকলন করেন। এরপর তাকে নিয়ে পুনরায় মার্ভে ফিরে আসেন এবং দীর্ঘ সফরের পর ভ্রমণের ক্লান্তির অবসান ঘটান। তিনি গ্রন্থ রচনা, ইলম প্রদান, ওয়াজ এবং পাঠদানের প্রতি মনোনিবেশ করেন … দীর্ঘ বিশ্ব ভ্রমণের পর তিনি মার্ভ শহরে ফিরে আসেন এবং আল-মাদরাসাতুল আমীদিয়্যাহতে কিতাব সংগ্রহ, গ্রন্থ রচনা, হাদীস বর্ণনা, পাঠদান ও ইলম প্রসারে নিয়োজিত হন।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১৮)
‌‌بعض شيوخه

قد تقدم ذكره لأبيه وعميه وأخته ونذكر طائفة من غيرهم.

1 - أبو بكر عبد الغفار بن محمد بن الحسين الشيروى النيسابورىّ (414 - 510) ذكر أبو سعد في رسم (الشيروى) من الأنساب وقال «سمعت منه بنيسابور وأحضرنى الإمام والدي رحمه الله وشكر سعيه وسمعني منه».

2 - أبو العلاء عبيد بن محمد بن عبيد القشيري التاجر النيسابورىّ (417 - 512).

3 - أبو القاسم سهل بن إبراهيم السبعي المسجدي النيسابورىّ (- 522) ذكره أبو سعد في رسم (السبعي) وقال «سمع منه جماعة من شيوخنا وأدركته وأحضرنى والدي عليه بنيسابور وقرأ لي عليه جزءا».

4 - أبو عبد اللَّه محمد بن الفضل الفراوي (441 - 530) وإليه على الأخص رحل أبو سعد مع عمه سنة 529 كما تقدم في ذكر أهله، وكان الفراوي مع جلالته قد تفرد بصحيح مسلم بسند عال جليل ولم يكن بينه وبين مسلم الا ثلاثة مع أن بين وفاتيهما نحو مائتين وسبعين سنة.

5 - أبو القاسم تميم بن أبي سعيد الجرجاني مسند هراة (- 531).

6 - أبو الفرج سعيد بن أبي الرجاء الأصبهاني (440 تقديرا - 532).

7 - أبو المظفر عبد المنعم بن عبد الكريم القشيري النيسابورىّ (445 - 532).

8 - أبو نصر أحمد بن عمر بن محمد الغازي الأصبهاني (448 - 532).

ذكره أبو سعد في رسم (الغازي) وقال «ثقة حافظ ما رأيت في شيوخي أكثر رحلة منه».

9 - أبو الحسن محمد بن عبد الملك بن محمد بن عمر الكرجي الفقيه الشافعيّ (458 - 532) ذكره أبو سعد في رسم (الكرجي) قال «فكتبت
তাঁর কয়েকজন শায়খ

তাঁর পিতা, দুই চাচা এবং বোনের কথা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, এখন আমরা তাঁদের বাইরে অন্যদের একটি দল সম্পর্কে আলোচনা করব।

১ - আবু বকর আব্দুল গাফফার বিন মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন আশ-শিরউয়ি আন-নিসাবুরি (৪১৪ - ৫১০ হিজরি)। আবু সা'দ 'আল-আনসাব' গ্রন্থের 'আش-শিরউয়ি' শিরোনামে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "আমি নিশাপুরে তাঁর নিকট হাদিস শুনেছি। আমার পিতা ইমাম (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর প্রচেষ্টাকে মূল্যায়ন করে আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁর নিকট থেকে আমাকে হাদিস শ্রবণ করিয়েছিলেন।"

২ - আবুল আলা উবাইদ বিন মুহাম্মদ বিন উবাইদ আল-কুশাইরি আত-তাজির আন-নিসাবুরি (৪১৭ - ৫১২ হিজরি)।

৩ - আবুল কাসিম সাহল বিন ইবরাহিম আস-সাবয়ি আল-মাসজিদি আন-নিসাবুরি (মৃত্যু ৫২২ হিজরি)। আবু সা'দ 'আস-সাবয়ি' শিরোনামে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "আমাদের শায়খদের একটি জামাত তাঁর নিকট থেকে শ্রবণ করেছেন। আমি তাঁকে পেয়েছি এবং নিশাপুরে আমার পিতা আমাকে তাঁর কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তিনি আমার জন্য তাঁর নিকট একটি জুজ (হাদিসের অংশ) পাঠ করেছিলেন।"

৪ - আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফজল আল-ফারাওয়ি (৪৪১ - ৫৩০ হিজরি)। বিশেষ করে তাঁর কাছেই আবু সা'দ ৫২৯ হিজরিতে তাঁর চাচার সাথে সফর করেছিলেন, যেমনটি তাঁর পরিবারের বর্ণনায় আগে উল্লেখ করা হয়েছে। আল-ফারাওয়ি তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও উচ্চমানের একটি সনদে সহিহ মুসলিম বর্ণনায় অনন্য ছিলেন। তাঁর এবং ইমাম মুসলিমের মাঝে মাত্র তিন জন বর্ণনাকারী ছিলেন, অথচ তাঁদের উভয়ের মৃত্যুকালের ব্যবধান ছিল প্রায় দুইশত সত্তর বছর।

৫ - আবুল কাসিম তামিম বিন আবি সাঈদ আল-জুরজানি, হেরাতের মুসনিদ (মৃত্যু ৫৩১ হিজরি)।

৬ - আবুল ফারাজ সাঈদ বিন আবির রাজা আল-আসবাহানি (আনুমানিক ৪৪০ - ৫৩২ হিজরি)।

৭ - আবুল মুযাফফর আব্দুল মুনইম বিন আব্দুল কারিম আল-কুশাইরি আন-নিসাবুরি (৪৪৫ - ৫৩২ হিজরি)।

৮ - আবু নাসর আহমদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-গাযি আল-আসবাহানি (৪৪৮ - ৫৩২ হিজরি)। আবু সা'দ 'আল-গাযি' শিরোনামে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "তিনি নির্ভরযোগ্য হাফেয, আমার শায়খদের মধ্যে তাঁর চেয়ে অধিক সফরকারী আর কাউকে দেখিনি।"

৯ - আবু হাসান মুহাম্মদ বিন আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-কারজি আল-ফকিহ আশ-শাফিয়ি (৪৫৮ - ৫৩২ হিজরি)। আবু সা'দ 'আল-কারজি' শিরোনামে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন, "আমি লিখেছি...
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ১৯)
بالكرج عن الإمام أبى الحسن محمد بن أبي طالب عبد الملك بن محمد الكرجي وكان اماما متقنا مكثرا من الحديث» وكان هذا الكرجي شافعيا ويخالف منصوص المذهب حيث يقوى الدليل عنده، من ذلك أنه كان لا يقنت في الصبح. وكان سلفي العقيدة له في ذلك كتاب الفصول عن الأئمة الفحول. وفي ترجمة الكرجي من طبقات الشافعية 4/ 81 ثناء عاطر من أبى سعد (كأنه في التحجير) على الكرجي، ومنه «إمام عالم ورع عاقل فقيه مفت محدث شاعر أديب مجموع حسن أفنى طول عمره في جمع العلوم ونشرها» وان ابا سعد قال «وله قصيدة بائية في السنة شرح فيها اعتقاده واعتقاد السلف تزيد على مائتي بيت قرأتها عليه في داره بالكرج» وذكر ابن السبكي أبياتا من القصيدة وفيها التصريح بالعلو الذاتي وغير ذلك وذم للأشعرى فراح ابن السبكي يتشكك ويشكك ويزعم أن ابن السمعاني اشعرى وأن ذلك يقتضي أحد أمور اما ان لا تكون تلك القصيدة هي التي عناها أبو سعد، وإما ان يكون الأبيات التي تخالف مذهب الأشعري وتذمه مدسوسة منها، وإما ان يكون ذكر القصيدة وسماعها مدسوسا في كتاب أبى سعد، والظاهر سقوط هذه الاحتمالات وإن ابا سعد سلفي العقيدة فان شيوخه الذين يبلغ في الثناء عليهم سلفيون ولم أر في الأنساب ما هو بين في خلاف ذلك وقد حاول ابن الجوزي الحنبلي في المنتظم ان يعيب زميله ابا سعد وجهد في ذلك ولم يذكر ما يدل على أنه اشعرى، نعم زعم أن ابا سعد «كان يتعصب على مذهب احمد ويبالغ» ومعنى هذا انه شافعيّ. ولو أراد انه اشعرى لقال: كان يتعصب على أهل السنة، أو كان يتعصب لأهل البدع، أو نحو ذلك ومع هذا حاول ابن الجوزي ان يقيم شهادة على دعواه فلم يصنع شيئا كما يأتي، نعم لم يكن أبو سعيد يتصدى لعيب الأشعرية والطعن فيهم بل إذا اتفق له ذكر أحد منهم اثنى عليه بما فيه من المحاسن أو حكى ثناء غيره وكذلك الحنفية الذين آذوا جده أبلغ أذية، تراه يسوق تراجمهم ويبلغ في الثناء عليهم. وقوله في بعضهم انه كان يتعصب لمذهبه، حكاية للواقع مع

কারাজে ইমাম আবুল হাসান মুহাম্মদ বিন আবু তালিব আব্দুল মালিক বিন মুহাম্মদ আল-কারাজি থেকে বর্ণিত। তিনি ছিলেন একজন সুপ্রতিষ্ঠিত ইমাম এবং প্রচুর হাদিস বর্ণনাকারী। এই কারাজি শাফেয়ী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন এবং যখন তাঁর কাছে দলীল শক্তিশালী মনে হতো, তখন তিনি মাযহাবের সুনির্দিষ্ট বক্তব্যের বিরোধিতা করতেন; এর একটি উদাহরণ হলো তিনি ফজরের সালাতে কুনুত পড়তেন না। তিনি সালাফি আকিদাহর অনুসারী ছিলেন এবং এ বিষয়ে শ্রেষ্ঠ ইমামদের বর্ণনায় তাঁর 'কিতাবুল ফুসুল' নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে। 'তাবাকাতুশ শাফেয়ীয়া' (৪/৮১) গ্রন্থে কারাজির জীবনীতে আবু সাদ (সম্ভবত তাঁর 'আত-তাহজির' গ্রন্থে) কারাজির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সেখানে বর্ণিত হয়েছে: "তিনি একজন ইমাম, আলেম, পরহেজগার, প্রজ্ঞাবান, ফকিহ, মুফতি, মুহাদ্দিস, কবি, সাহিত্যিক এবং বহুগুণের অধিকারী এক সজ্জন ব্যক্তি। তিনি তাঁর দীর্ঘ জীবন ইলম সংগ্রহ ও তা প্রচারে ব্যয় করেছেন।"

আবু সাদ আরও বলেন: "সুন্নাহর বিষয়ে তাঁর একটি 'বা-য়িয়া' (যা 'বা' অক্ষর দিয়ে শেষ হয়েছে) কাসিদা রয়েছে, যেখানে তিনি নিজের এবং সালাফদের আকিদাহ ব্যাখ্যা করেছেন। এটি দুইশত পঙক্তিরও বেশি। আমি কারাজে তাঁর নিজ বাড়িতে বসে তাঁর কাছে এটি পাঠ করেছি।" ইবনে সুবকি এই কাসিদার কিছু পঙক্তি উল্লেখ করেছেন যাতে আল্লাহর সত্তাগতভাবে উপরে থাকার (আল-উলুব্বু জাতী) সুস্পষ্ট বর্ণনা ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে এবং আশআরীদের নিন্দা করা হয়েছে। এতে ইবনে সুবকি নিজে সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করেন এবং অন্যদের মনেও সন্দেহ সৃষ্টি করেন। তিনি দাবি করেন যে ইবনে সামআনি একজন আশআরী ছিলেন এবং এটি কয়েকটি সম্ভাবনার দাবি রাখে: হয় এই কাসিদাটি সেটি নয় যা আবু সাদ উদ্দেশ্য করেছেন, অথবা আশআরী মাযহাবের বিরোধী ও নিন্দাসূচক পঙক্তিগুলো এতে প্রক্ষিপ্ত (পরবর্তীতে ঢোকানো), অথবা আবু সাদের কিতাবে এই কাসিদার উল্লেখ এবং তা শোনার বিষয়টিই প্রক্ষিপ্ত।

তবে স্পষ্টত এই সম্ভাবনাগুলো অসার এবং আবু সাদ সালাফি আকিদাহর অনুসারী ছিলেন। কারণ, তিনি যেসব শায়খদের ভূয়সী প্রশংসা করতেন তারা সকলেই ছিলেন সালাফি। আর আমি 'আল-আনসাব' গ্রন্থে এমন কিছু দেখিনি যা এর বিপরীতে স্পষ্ট কিছু প্রমাণ করে। হাম্বলি আলেম ইবনে আল-জাওযি 'আল-মুনতাজাম' গ্রন্থে তাঁর সমসাময়িক আবু সাদের সমালোচনা করার চেষ্টা করেছেন এবং এতে যথেষ্ট শ্রম দিয়েছেন, কিন্তু এমন কিছু উল্লেখ করেননি যা প্রমাণ করে যে তিনি আশআরী ছিলেন। হ্যাঁ, তিনি দাবি করেছেন যে আবু সাদ "আহমদ (বিন হাম্বল)-এর মাযহাবের বিরুদ্ধে গোঁড়ামি করতেন এবং বাড়াবাড়ি করতেন", যার অর্থ হলো তিনি শাফেয়ী ছিলেন। তিনি যদি তাকে আশআরী বলতে চাইতেন, তবে বলতেন: "তিনি আহলুস সুন্নাহর বিরুদ্ধে গোঁড়ামি করতেন" অথবা "তিনি আহলুল বিদআতের প্রতি গোঁড়ামি করতেন" ইত্যাদি। এতদসত্ত্বেও ইবনে আল-জাওযি তাঁর দাবির পক্ষে প্রমাণ দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন, কিন্তু তিনি বিশেষ কিছুই করতে পারেননি, যেমনটি সামনে আসবে।

অবশ্য আবু সাঈদ আশআরীদের দোষত্রুটি তালাশ করা বা তাদের আক্রমণ করার পেছনে সময় ব্যয় করতেন না। বরং যখনই তাদের কারো কথা আসত, তিনি তার ভালো গুণাবলীর প্রশংসা করতেন অথবা অন্যের করা প্রশংসা বর্ণনা করতেন। একইভাবে হানাফীদের ক্ষেত্রেও, যারা তাঁর দাদাকে চরমভাবে কষ্ট দিয়েছিল, আপনি তাকে তাদের জীবনী বর্ণনা করতে এবং তাদের ব্যাপক প্রশংসা করতে দেখবেন। তাদের কয়েকজনের ক্ষেত্রে "তিনি তাঁর মাযহাবের ব্যাপারে গোঁড়া ছিলেন" বলে তাঁর মন্তব্যটি মূলত বাস্তবতারই প্রতিফলন...

(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২০)
أنه في نظر الحنفية كلمة مدح ولذلك تراهم ينقلونها مبتهجين بها وهم عالة على أبى سعد في أكثر طبقاتهم.

10 - أبو محمد هبة اللَّه بن سهل بن عمر بن محمد بن الحسين السيدي البسطامي ثم النيسابورىّ (445 - 533) ذكره أبو سعد في رسم (السيدي) وقال «كان من أهل العلم وبيت الإمامة. سمع جماعة كثيرة مثل أبى الحسين عبد الغافر الفارسي (توفى عبد الغافر سنة 448) … سمعت منه الكثير».

11 - أبو القاسم زاهر بن طاهر الشحامي النيسابورىّ (450 تقديرا - 533).

12 - الإمام أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن محمد بن علي بن محمد بن عطاء المروروذي (453 - 533) في طبقات الشافعية 4/ 199 «حدث عنه ابن السمعاني وقال سمعت منه الكثير، قال وكان اماما متقنا مصيبا ومناظرا ورعا محتاطا في المأكول والملبوس حاد الخاطر حسن المحاورة كثير المحفوظ ذا رأى ونباهة وإصابة في التدبير، وكان الأكابر يصادقونه ويستضيئون برأيه ويزورونه، قال: وكان والدي لما توفى فوض النظر في مصالحي ومصالح أخي (كذا) اليه وجعله وصيا. قال: وكان إذا دخل مدرستنا لا يشرب الماء في زاويتنا ولا في دارنا ويحتاط في ذلك».

13 - أبو محمد عبد الجبار بن محمد بن أحمد الخواريّ (455 تقديرا - 534) ذكره أبو سعد في رسم (الخواريّ) وقال «كان اماما فاضلا مفتيا متواضعا … كتبت عنه الكثير بنيسابور وقرأت عليه الكتب».

14 - أبو بكر محمد بن عبد الباقي بن محمد الأنصاري البغدادي (442 - 535).

15 - أبو منصور عبد الرحمن بن محمد بن عبد الواحد القزاز البغدادي (450 تقديرا - 535).
নিশ্চয়ই হানাফীদের দৃষ্টিতে এটি একটি প্রশংসাসূচক শব্দ, আর তাই আপনি তাদের দেখবেন যে তারা অত্যন্ত আনন্দের সাথে এটি উদ্ধৃত করছেন, অথচ তারা তাদের অধিকাংশ স্তরের (তাবাকাত) বর্ণনায় আবু সা'দ-এর ওপর নির্ভরশীল।

১০ - আবু মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ ইবনে সাহল ইবনে উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আস-সাইয়িদী আল-বিস্তামি অতঃপর আন-নিশাপুরি (৪৪৫ - ৫৩৩)। আবু সা'দ তাকে 'আস-সাইয়িদী' শিরোনামে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তিনি ছিলেন ইলম ও ইমামাতের উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন পরিবারের সদস্য। তিনি আবুল হুসাইন আব্দুল গাফির আল-ফারিসি (আব্দুল গাফির ৪৪৮ সালে ইন্তেকাল করেন)-এর মতো বহুসংখ্যক উলামার নিকট হাদিস শ্রবণ করেছেন... আমি তাঁর নিকট থেকে প্রচুর হাদিস শুনেছি।"

১১ - আবু আল-কাসিম যাহির ইবনে তাহির আশ-শাহামি আন-নিশাপুরি (আনুমানিক ৪৫০ - ৫৩৩)।

১২ - ইমাম আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আতা আল-মারওয়ারুজি (৪৫৩ - ৫৩৩)। 'তাবাকাতুশ শাফিঈয়্যাহ' ৪/১৯৯ গ্রন্থে বর্ণিত আছে: "ইবনে সামআনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, আমি তাঁর নিকট থেকে অনেক শ্রবণ করেছি। তিনি আরও বলেন, তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য ও প্রাজ্ঞ ইমাম, মুত্তাকি মুনাজির (তর্কবিদ), পানাহার ও পোশাক-পরিচ্ছদে অত্যন্ত সাবধানী, তীক্ষ্ণ মেধার অধিকারী, সুবক্তা, প্রভূত মুখস্থ ভাণ্ডারের অধিকারী এবং বিজ্ঞ ও বিচক্ষণ ব্যবস্থাপক। বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাঁর সাথে বন্ধুত্ব রাখতেন, তাঁর পরামর্শ গ্রহণ করতেন এবং তাঁর সাক্ষাতে আসতেন। তিনি বলেন: আমার পিতা যখন ইন্তেকাল করেন, তখন তিনি আমার এবং আমার ভাইয়ের (অনুরূপ) বিষয়াদি দেখাশোনার দায়িত্ব তাঁর ওপর অর্পণ করেন এবং তাঁকে অসি (অভিভাবক) নিযুক্ত করেন। তিনি বলেন: তিনি যখন আমাদের মাদরাসায় আসতেন, তখন আমাদের আঙিনায় বা আমাদের ঘরে পানি পান করতেন না এবং এই ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন।"

১৩ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল জাব্বার ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খাওয়ারি (আনুমানিক ৪৫৫ - ৫৩৪)। আবু সা'দ তাঁকে 'আল-খাওয়ারি' শিরোনামে উল্লেখ করে বলেছেন: "তিনি ছিলেন একজন বরেণ্য ইমাম, মুফতি ও বিনয়ী ব্যক্তিত্ব... নিশাপুরে আমি তাঁর নিকট থেকে প্রচুর লিখেছি এবং তাঁর নিকট অনেক কিতাব পাঠ করেছি।"

১৪ - আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল বাকি ইবনে মুহাম্মদ আল-আনসারি আল-বাগদাদি (৪৪২ - ৫৩৫)।

১৫ - আবু মনসুর আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহিদ আল-কাযযায আল-বাগদাদি (আনুমানিক ৪৫০ - ৫৩৫)।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২১)
16 - أبو القاسم إسماعيل بن محمد بن الفضل التيمي الأصبهاني. كان يقال له (جوزي) (457 - 535) وهو فيما أرى أجل شيوخ أبى سعد، ذكره في رسم (الجوزي) وقال «استأذنا وشيخنا وإمامنا … كان اماما في فنون العلم في التفسير والحديث واللغة والأدب حافظا متقنا كبير الشأن جليل القدر عارفا بالمتون والأسانيد … املى بجامع أصبهان قريبا من ثلاثة آلاف مجلس … وفي مدة مقامي ما فاتنى من أماليه شيء، وكان يملى عليّ في كل أسبوع يوما مجلسا خاصا في داره وأقرأ عليه في كل أسبوع يومين».

 

‌‌عدد شيوخه ومعاجمه

ذكر ابن خلكان وغيره ان عدد شيوخ أبى سعد يزيد على أربعة آلاف. وقال ابن النجار «سمعت من يذكر ان عدد شيوخه سبعة آلاف شيخ» وهذا غير بعيد إذا عددنا كل من حكى عنه أبو سعد حكاية شيخا له، وقد جمع هو تراجم شيوخه في معاجمه، فمن مؤلفاته (معجم البلدان). احسبه بناه على أسماء البلدان التي دخلها في رحلته، يذكر البلدة ويذكر شيوخه من أهلها أو بعضهم.

و (معجم الشيوخ) كأنه رتبه على أسماء الشيوخ فاما ان يكون اختصر على من أكثر عنه منهم وإما ان يكون ذكرهم باختصار. و (التحبير في المعجم الكبير) استوعب فيه شيوخه وتراجمهم. قال الذهبي في التذكرة «ذكر في التحبير تراجم شيوخه فأفاد وأجاد. طالعته» ولا علاقة له بالمعجم الكبير للطبراني.

 

‌‌ثناء أهل العلم عليه

قال زميله الحافظ أبو القاسم ابن عساكر كما نقله ابن نقطة وغيره «كان متصونا(1) عفيفا حسن الأخلاق … وهو الآن شيخ خراسان غير مدافع عن صدق ومعرفة وكثرة سماع لأجزاء وكتب مصنفة، واللَّه يبقيه لنشر السنة ويوفقه لأعمال أهل الجنة».

وقال ابن النجار «كان مليح التصانيف كثير النشوار والأناشيد لطيف

--------------------------------------------

(1) عرفت في بعض الكتب «متصوفا» وهو خطأ.

১৬ - আবু আল-কাসিম ইসমাইল বিন মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আত-তাইমি আল-আসবাহানি। তাকে (জাওজি) বলা হতো (৪৫৭ - ৫৩৫)। আমার মতে তিনি আবু সা’দের শ্রেষ্ঠ শিক্ষকদের অন্যতম ছিলেন। তিনি (আবু সা’দ) 'জাওজি' অনুচ্ছেদে তার উল্লেখ করে বলেছেন, "আমাদের উস্তাদ, আমাদের শায়খ এবং আমাদের ইমাম … তিনি তাফসির, হাদিস, ভাষা ও সাহিত্যে ইলমের বিভিন্ন শাখায় ইমাম ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন দক্ষ হাফেজ, সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী, মহান ও মতন (মূল পাঠ) ও সনদ (সূত্র) সম্পর্কে বিজ্ঞ … তিনি আসবাহানের জামে মসজিদে প্রায় তিন হাজার মজলিসে হাদিস বর্ণনা করেছেন … আমার অবস্থানের সময়ে তার মজলিসের কোনো কিছুই আমি বাদ দেইনি। তিনি প্রতি সপ্তাহে আমার জন্য তার বাড়িতে একদিন একটি বিশেষ মজলিস পরিচালনা করতেন এবং আমি প্রতি সপ্তাহে দুদিন তার কাছে পাঠ গ্রহণ করতাম।"

 

‌‌তার উস্তাদদের সংখ্যা এবং তার অভিধানসমূহ

ইবনে খাল্লিকান ও অন্যান্যরা উল্লেখ করেছেন যে, আবু সা’দের উস্তাদদের সংখ্যা চার হাজারেরও বেশি। ইবনে আন-নাজ্জার বলেছেন, "আমি কাউকে বলতে শুনেছি যে, তার উস্তাদদের সংখ্যা সাত হাজার।" আবু সা’দ যার কাছ থেকে কোনো একটি কাহিনীও বর্ণনা করেছেন তাকেই যদি উস্তাদ হিসেবে গণ্য করা হয়, তবে এটা অসম্ভব কিছু নয়। তিনি তার উস্তাদদের জীবনী তার মু'জাম গ্রন্থসমূহে সংকলন করেছেন। তার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে (মু'জাম আল-বুলদান)। আমার ধারণা, তিনি এটি তার সফর করা শহরগুলোর নামের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করেছেন, যেখানে তিনি শহরের নাম এবং সেখানকার উস্তাদদের বা তাদের কয়েকজনের উল্লেখ করেছেন।

এবং (মু'জাম আশ-শুয়ুখ) দেখে মনে হয় তিনি এটি উস্তাদদের নামের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন; হয় তিনি যাদের থেকে বেশি হাদিস গ্রহণ করেছেন তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছেন, অথবা সবার নাম সংক্ষেপে উল্লেখ করেছেন। আর (আত-তাহবির ফিল মু'জাম আল-কাবির) গ্রন্থে তিনি তার সকল উস্তাদ ও তাদের জীবনীর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। আয-যাহাবি ‘আত-তাদকিরাহ’ গ্রন্থে বলেছেন, "তিনি আত-তাহবির-এ তার উস্তাদদের জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং তিনি চমৎকার ও নিপুণ কাজ করেছেন। আমি এটি অধ্যয়ন করেছি।" আর আত-তাবারানির 'মু'জাম আল-কাবির'-এর সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই।

 

‌‌তার সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা

তার সহকর্মী হাফেজ আবু আল-কাসিম ইবনে আসাকির বলেছেন, যেমনটি ইবনে নুকতাহ ও অন্যান্যরা উদ্ধৃত করেছেন, "তিনি ছিলেন আত্মসংযমী(১), পবিত্র চরিত্রের অধিকারী ও উত্তম আখলাকের অধিকারী … তিনি বর্তমানে খোরাসানের অবিসংবাদিত শায়খ, তার সততা, জ্ঞান এবং বিপুল সংখ্যক পাণ্ডুলিপি ও রচিত গ্রন্থ শ্রবণের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তাকে সুন্নাহ প্রচারের জন্য বাঁচিয়ে রাখুন এবং জান্নাতবাসীদের আমল করার তৌফিক দান করুন।"

وقال ابن النجار «كان مليح التصانيف كثير النشوار والأناشيد لطيف ইবনে আন-নাজ্জার বলেছেন, "তিনি ছিলেন চমৎকার রচনার অধিকারী, প্রচুর কবিতা ও পঙ্ক্তি আওড়াতেন এবং সূক্ষ্ম মেজাজের..."

--------------------------------------------

(১) কোনো কোনো বইয়ে একে 'মুতাসাওউইফ' (সুফি) হিসেবে পাওয়া গেছে, যা ভুল।

(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২২)
المزاح ظريفا حافظا واسع الرحلة ثقة صدوقا دينا، سمع منه مشايخه وأقرانه وحدثنا عنه جماعة» وقال الذهبي في التذكرة «الحافظ البارع العلامة … وكان ذكيا فهما سريع الكتابة مليحها، درس وأفتى ووعظ وأملى وكتب عمن دب ودرج. وكان ثقة حافظا حجة واسع الرحلة عدلا دينا جميل السيرة حسن الصحبة كثير المحفوظ» وقال في ترجمة ابن ناصر بعد ان ذكر تجنى ابن الجوزي على زميله أبى سعد في قوله في شيخهما ابن ناصر انه كان يحب الطعن في الناس. قال الذهبي يخاطب ابن الجوزي «لا ريب ان ابن ناصر متعصب في الحط على بعض الشيوخ فدع الانتصار فأبو سعد اعلم بالتأريخ وأحفظ منك ومن شيخك وقد قال في ابن ناصر انه ثقة حافظ دين متقن ثبت لغويّ عارف بالمتون والأسانيد كثير الصلاة والتلاوة غير أنه يحب ان يقع في الناس وهو صحيح القراءة والنقل» قال المعلمي وكلام ابن الجوزي تجز محض أوقعه فيه افراط غبطته لزميله المتفوق عليه غفر اللَّه للجميع.

 

‌‌بعض الآخذين عنه

1 - الحافظ أبو القاسم علي بن الحسن بن هبة اللَّه ابن عساكر الدمشقيّ (499 - 571).

2 - أبو محمد القاسم بن علي بن الحسن بن عساكر (527 - 600).

3 - أبو الفتوح يوسف بن المبارك الخفاف البغدادي (- 601).

4 - أبو أحمد عبد الوهاب بن أحمد (ابن سكينة) البغدادي (519 - 607).

5 - أبو محمد عبد العزيز بن معالي بن غنيمة (ابن منينا) البغدادي (525 - 612).

6 - أبو هاشم عبد المطلب بن الفضل العباسي الحلبي (536 - 616).

7 - أبو روح عبد المعز بن محمد بن أبي الفضل الهروي (522 - 618).
রসিক, মেধা সম্পন্ন, হাফেজ (স্মৃতিধর), ব্যাপক সফরকারী, বিশ্বস্ত, সত্যবাদী ও দ্বীনদার ছিলেন। তাঁর নিকট থেকে তাঁর শিক্ষকগণ এবং সমসাময়িকরা শ্রবণ করেছেন এবং আমাদের নিকট একদল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ইমাম আয-যাহাবী 'তাজকিরাতুল হাফ্ফাজ' গ্রন্থে বলেছেন: "পারদর্শী হাফেজ, আল্লামা … তিনি অত্যন্ত মেধাবী, সমঝদার এবং দ্রুত ও সুন্দর হস্তাক্ষরে লিখতেন। তিনি পাঠদান করেছেন, ফতোয়া দিয়েছেন, ওয়াজ করেছেন, শ্রুতলিপি দিয়েছেন এবং সমসাময়িক বড়-ছোট সবার থেকেই লিখেছেন। তিনি ছিলেন বিশ্বস্ত, হাফেজ, হুজ্জত (দলিল), ব্যাপক সফরকারী, ন্যায়পরায়ণ, দ্বীনদার, সুন্দর চরিত্রের অধিকারী, উত্তম সঙ্গী এবং প্রচুর মুখস্থ বিদ্যার অধিকারী।" তিনি ইবনে নাসিরের জীবনীতে ইবনুল জাওযী কর্তৃক তাঁর সহকর্মী আবু সা'দের প্রতি অবিচার করার বিষয়টি উল্লেখ করার পর—যা মূলত তাদের শিক্ষক ইবনে নাসির সম্পর্কে আবু সা'দের এই উক্তির কারণে ছিল যে, তিনি (ইবনে নাসির) মানুষের সমালোচনা করতে পছন্দ করতেন—আয-যাহাবী ইবনুল জাওযীকে সম্বোধন করে বলেন: "নিঃসন্দেহে ইবনে নাসির কিছু শায়খদের অবমূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কট্টর ছিলেন, তাই পক্ষালম্বন ত্যাগ করুন। কারণ আবু সা'দ ইতিহাস সম্পর্কে আপনার এবং আপনার শায়খের চেয়েও অধিক জ্ঞানী ও হাফেজ। তিনি ইবনে নাসির সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি বিশ্বস্ত, হাফেজ, দ্বীনদার, সুনিপুণ, নির্ভরযোগ্য, ভাষাবিদ এবং মতন (মূল পাঠ) ও সনদ (সূত্র) সম্পর্কে অভিজ্ঞ ছিলেন। তিনি প্রচুর সালাত আদায় ও তিলাওয়াত করতেন, তবে তিনি মানুষের সমালোচনা করতে পছন্দ করতেন। তাঁর কিরাত ও বর্ণনা বিশুদ্ধ ছিল।" আল-মুয়াল্লিমি বলেন: ইবনুল জাওযীর বক্তব্য ছিল নিছক অবিচার, যা তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ সহকর্মীর প্রতি অতিরিক্ত ঈর্ষার কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। আল্লাহ সবাইকে ক্ষমা করুন।

 

‌‌তাঁর থেকে ইলম গ্রহণকারী কয়েকজন

১ - আল-হাফেজ আবু আল-কাসিম আলী বিন আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ ইবনে আসাকির আদ-দামেশকি (৪৯৯ - ৫৭১)।

২ - আবু মুহাম্মদ আল-কাসিম বিন আলী বিন আল-হাসান বিন আসাকির (৫২৭ - ৬০০)।

৩ - আবু আল-ফুতুহ ইউসুফ বিন আল-মুবারক আল-খাফফাফ আল-বাগদাদি (- ৬০১)।

৪ - আবু আহমদ আব্দুল ওয়াহাব বিন আহমদ (ইবনে সাকিনা) আল-বাগদাদি (৫১৯ - ৬০৭)।

৫ - আবু মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ বিন মাআলি বিন গানিমাহ (ইবনে মুনাইনা) আল-বাগদাদি (৫২৫ - ৬১২)।

৬ - আবু হাশিম আব্দুল মুত্তালিব বিন আল-ফাদল আল-আব্বাসি আল-হালাবি (৫৩৬ - ৬১৬)।

৭ - আবু রুহ আব্দুল মুইজ বিন মুহাম্মদ বিন আবি আল-ফাদল আল-হারাউয়ি (৫২২ - ৬১৮)।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২৩)
8 - أبو المظفر عبد الرحيم بن عبد الكريم ابن السمعاني (537 - 617).

وهو ابن أبي سعد، له ترجمة في تقييد ابن نقطة قال فيها «سمعه أبوه من جماعة من شيوخ خراسان، منهم أبو الأسعد هبة الرحمن بن عبد الواحد القشيري، وعبد الأول بن عيسى السجزي وأبو طاهر السنجي، سمع مسند الهيثم بن كليب من مسعود بن محمد الغانمى: قال أنا أبو القاسم الخليلي، ومسند الدارميّ من عبد الأول: وكتاب الصحيح للبخاريّ من أبى الفتح عبد الرحمن الكشميهني قال أنا أبو الخير محمد بن أبي عمران موسى الصفار ثنا أبو الهيثم محمد بن المكيّ، وكتاب الصحيح لأبى عوانة من عبد اللَّه بن محمد ابن الفراوي، وسمع مسند الشافعيّ ومسند عبد اللَّه بن وهب من أبى طاهر محمد بن محمد السنجي: ثنا نصر اللَّه بن أحمد النيسابورىّ أنا أبو بكر أحمد بن الحسن الحيريّ: وكان واسع الرواية. اعتنى به أبوه وسمعه الكثير وأثبت له مسموعاته في جزء كبير (يأتي بيانه في مؤلفات أبى سعد):

مولده في ذي القعدة من سنة سبع وثلاثين وخمسمائة وانقطعت عنا اخباره من سنة سبع عشرة وستمائة وظهور الترك (التتر) بخراسان» وفي الشذرات 5/ 76 «خرج له أبوه معجما في ثمانية عشر جزءا، وكان مفتيا عارفا بالمذهب وروى الكثير ورحل الناس اليه وسمع منه الحافظ أبو بكر الحازمي ومات قبله بدهر، وحدث عنه الأئمة ابن الصلاح والضياء المقدسي والزكي البرزالي والمحب ابن النجار وخرج لنفسه أربعين حديثا وانتهت اليه رئاسة الشافعية ببلده وختم به البيت السمعاني، عدم في دخول التتار».

 

‌‌مؤلفات أبى سعد

نقل ابن النجار أسماءها ومقاديرها عن خط أبى سعد فنسوقها على ترتيبه.

1 - ذيل تاريخ بغداد للخطيب - أربعمائة طاقة. وقال ابن خلكان «نحو خمسة عشر مجلدا» ألفه وسمعه الناس منه ببغداد أثناء رحلته كما ذكره ابن عساكر.
৮ - আবুল মুজাফফর আবদুর রহিম ইবনে আবদিল কারিম ইবনুল সামআনি (৫৩৭ - ৬১৭)।

তিনি হলেন আবু সা'দ-এর পুত্র। ইবনে নুকতাহ-এর 'তাকয়িদ' গ্রন্থে তাঁর জীবনী রয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন, "তাঁর পিতা তাঁকে খোরাসানের একদল শায়খের নিকট হাদিস শ্রবণ করিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আবুল আস'আদ হিবাতুর রহমান ইবনে আবদিল ওয়াহিদ আল-কুশাইরি, আবদুল আউয়াল ইবনে ঈসা আস-সিজজি এবং আবু তাহের আস-সানজি। তিনি মাসউদ ইবনে মুহাম্মদ আল-গানিমির নিকট থেকে হাইসাম ইবনে কুলাইবের 'মুসনাদ' শুনেছেন; তিনি (গানিমী) বলেছেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আল-খলিলে। তিনি আবদুল আউয়ালের নিকট থেকে 'মুসনাদে দারিমি' এবং আবুল ফাতহ আবদুর রহমান আল-কুশমিহানি থেকে বুখারির 'সহিহ' কিতাব শুনেছেন; তিনি (কুশমিহানি) বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল খায়ের মুহাম্মদ ইবনে আবি ইমরান মুসা আস-সাফফার, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবুল হাইসাম মুহাম্মদ ইবনে মাক্কি। তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফারাউয়ির নিকট থেকে আবু আওয়ানার 'সহিহ' কিতাব এবং আবু তাহের মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আস-সানজির নিকট থেকে 'মুসনাদে শাফেয়ী' ও 'মুসনাদে আবদুল্লাহ ইবনে ওয়াহাব' শুনেছেন; তিনি (সানজি) বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন নাসরুল্লাহ ইবনে আহমদ আন-নাইসাবুরি, তিনি বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমদ ইবনুল হাসান আল-হাইরি। তিনি বিপুল বর্ণনার অধিকারী ছিলেন। তাঁর পিতা তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন নিতেন এবং তাঁকে প্রচুর শুনিয়েছেন এবং তাঁর পঠিত বিষয়সমূহ একটি বৃহৎ খণ্ডে লিপিবদ্ধ করেছেন (এর বিবরণ আবু সা'দ-এর রচনাবলির আলোচনায় আসবে):

তাঁর জন্ম ৫৩৭ হিজরির জিলকদ মাসে। ৬১৭ হিজরি এবং খোরাসানে তুর্কিদের (তাতারি) আবির্ভাবের পর থেকে তাঁর সংবাদ আমাদের নিকট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।" এবং 'শাজারাত' (৫/৭৬) গ্রন্থে রয়েছে: "তাঁর পিতা তাঁর জন্য আঠারো খণ্ডে একটি 'মু'জাম' সংকলন করেছিলেন। তিনি মুফতি ও মাজহাবের বিশেষজ্ঞ ছিলেন এবং প্রচুর বর্ণনা করেছেন। মানুষ তাঁর নিকট ইলমের সন্ধানে সফর করত। হাফেজ আবু বকর আল-হাজিমি তাঁর নিকট থেকে শুনেছেন এবং তাঁর অনেক আগেই ইন্তেকাল করেছেন। তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন ইমাম ইবনুস সালাহ, জিয়া আল-মাকদিসি, যাকি আল-বারজালি এবং মুহিব ইবনুন নাজ্জার। তিনি নিজের জন্য চল্লিশটি হাদিস সংকলন করেছিলেন। তাঁর শহরে শাফেয়ী মাজহাবের নেতৃত্ব তাঁর মাধ্যমেই শেষ হয়েছিল এবং তাঁর মাধ্যমেই সামআনি বংশের ধারা সমাপ্ত হয়। তাতারীদের প্রবেশের সময় তিনি নিখোঁজ হন।"

 

‌‌আবু সা'দ-এর রচনাবলি

ইবনুন নাজ্জার আবু সা'দ-এর স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপি থেকে এগুলোর নাম ও পরিধি নকল করেছেন, তাই আমরা তা তাঁর বিন্যাস অনুযায়ী পেশ করছি।

১ - খতিব-এর 'তারিখে বাগদাদ'-এর পরিশিষ্ট (যাইল) - চারশ তাকা (পৃষ্ঠা)। ইবনে খাল্লিকান বলেছেন "প্রায় পনেরো খণ্ড"। এটি তিনি রচনা করেছেন এবং তাঁর সফরকালীন সময়ে বাগদাদে মানুষ তাঁর নিকট থেকে এটি শ্রবণ করেছেন, যেমনটি ইবনে আসাকির উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২৪)
2 - تاريخ مرو - خمسمائة طاقة. وقال ابن خلكان «يزيد على عشرين مجلدا».

3 - طراز الذهب في أدب الطلب - مائة وخمسون طاقة.

4 - الإسفار عن الأسفار - خمس وعشرون طاقة.

5 - الإملاء والاستملاء(1) - خمس عشرة طاقة.

6 - التذكرة والتبصرة - مائة وخمسون طاقة. (سقط ذكره من تذكرة الحفاظ).

7 - معجم البلدان - خمسون طاقة.

8 - معجم الشيوخ - ثمانون طاقة.

9 - تحفة المسافر - مائة وخمسون طاقة.

10 - التحف والهدايا - خمس وعشرون طاقة.

11 - عز العزلة - سبعون طاقة.

12 - الأدب في استعمال الحسب - خمس طاقات.

13 - المناسك - ستون طاقة.

14 - الدعوات الكبير - أربعون طاقة.

15 - الدعوات المروية عن الحضرة النبويّة - خمس عشرة طاقة.

16 - الحث على غسل اليدين - خمس طاقات.

17 - أفانين البساتين - خمس عشرة طاقة.

18 - دخول الحمام - خمس عشرة طاقة، قال ابن السبكي «وكان هذب به كتاب أبيه أبى بكر في دخول الحمام».

19 - فضائل صلاة التسبيح - عشر طاقات.

إلى هنا يتفق ترتيب تذكرة الحفاظ وترتيب طبقات الشافعية وقد يزيد أحدهما الكلمة أو يقع اختلاف فأثبت ما هو الأصح والأوضح ومن هنا

--------------------------------------------

(1) طبع حديثا باعتناء مكس ويسويار طبع في مدينة ليدن المحروسة بمطبعة بريل سنة 1952 م.

২ - মার্ভের ইতিহাস - পাঁচশত তা। ইবনে খাল্লিকান বলেছেন, «এটি বিশ খণ্ডেরও বেশি।»

৩ - জ্ঞান অন্বেষণের আদব সংক্রান্ত স্বর্ণালঙ্কার - একশত পঞ্চাশ তা।

৪ - সফরনামা উন্মোচন - পঁচিশ তা।

৫ - শ্রুতলিখন ও শ্রুতলিপি গ্রহণ(১) - পনেরো তা।

৬ - স্মারক ও অন্তর্দৃষ্টি - একশত পঞ্চাশ তা। (তাজকিরাতুল হুফফাজ থেকে এর উল্লেখ বাদ পড়েছে)।

৭ - দেশ-জনপদের অভিধান - পঞ্চাশ তা।

৮ - শায়খদের অভিধান - আশি তা।

৯ - মুসাফিরের উপঢৌকন - একশত পঞ্চাশ তা।

১০ - উপঢৌকন ও হাদিয়াসমূহ - পঁচিশ তা।

১১ - নির্জনতার মর্যাদা - সত্তর তা।

১২ - বংশীয় মর্যাদা ব্যবহারের শিষ্টাচার - পাঁচ তা।

১৩ - হজের নিয়মাবলী - ষাট তা।

১৪ - বড় দোয়ার সংকলন - চল্লিশ তা।

১৫ - নবীজির পবিত্র সান্নিধ্য থেকে বর্ণিত দোয়াসমূহ - পনেরো তা।

১৬ - দুই হাত ধোয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান - পাঁচ তা।

১৭ - উদ্যানসমূহের ডালপালা - পনেরো তা।

১৮ - গোসলখানায় প্রবেশ - পনেরো তা। ইবনে সুবকী বলেছেন, «তিনি এর মাধ্যমে তাঁর পিতা আবু বকরের গোসলখানায় প্রবেশ সংক্রান্ত গ্রন্থটি পরিমার্জন করেছিলেন।»

১৯ - সালাতুত তাসবিহর ফজিলত - দশ তা।

এই পর্যন্ত তাজকিরাতুল হুফফাজ এবং তাবাকাতুশ শাফিইয়ার বিন্যাস একরূপ। তবে কোনো একটিতে অতিরিক্ত শব্দ থাকতে পারে অথবা ভিন্নতা হতে পারে, তাই আমি সবচেয়ে সঠিক ও স্পষ্টটি সাব্যস্ত করেছি। আর এখান থেকে...

--------------------------------------------

(১) এটি আধুনিককালে ম্যাক্স ওয়াইসউইলারের তত্ত্বাবধানে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দে সুরক্ষিত লিডেন শহরের ব্রিল ছাপাখানায় মুদ্রিত হয়েছে।

(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২৫)
ترتيب تذكرة الحفاظ وراجعت في الكتابة ما في طبقات الشافعية للتصحيح والتوضيح.

20 - التحايا [والهدايا]- ست طاقات.

21 - تحفة العيد في الطبقات «العيدين» - ثلاثون طاقة.

22 - فضل الديك - خمس طاقات.

23 - الرسائل والوسائل - خمس عشرة طاقة [لم تكمل].

24 - صوم [الأيام] البيض - خمس عشرة طاقة.

25 - سلوة الأحباب [ورحمة الأصحاب]- خمس طاقات.

26 - التحبير في المعجم الكبير - ثلاثمائة طاقة. قال المعلمي: يظهر من هذا انه بقدر ستة أسباع الأنساب، وذكر ابن خلكان ان الأنساب نحو ثمان مجلدات، وذكره في ترجمة ابن الأثير فقال: في ثمان مجلدات.

وذكر أنه رآه مرة. وفي ترجمة أبى سعد من الشذرات «عمل معجم شيوخه في عشر مجلدات كبار» ومن التحبير نسخة ناقصة ذكرت في فهرس المخطوطات المصورة الجامعة الدول العربية ج 2 رقم 143، وفي الفهرس أيضا رقم 491 «معجم السمعاني … نسخة كتبت سنة 647 بخط نسخ قليل الإعجام، احمد الثالث 953 م، 298 ف 21 س 18/ 24 سم» وسمعت من يذكر أن هذا هو التحبير أيضا، ولا أدرى(1).

27 - فرط الغرام إلى ساكني الشام - خمس عشرة طاقة. قال المعلمي:

ذكره ابن عساكر في ترجمة أبى سعد قال: «وآخر ما ورد عليّ من اخباره كتاب كتبه بخطه وأرسل به الىّ سماه كتاب فرط الغرام إلى ساكني الشام. في ثمانية أجزاء كتبه سنة ستين وخمسمائة … وضمنه قطعة من الأحاديث المسانيد وأودعه جملة من الحكايات والأناشيد» وبهذا يظهر

--------------------------------------------

(1) والنسخة من التحجير في المعجم الكبير لعبد الكريم السمعاني في دار الكتب الظاهرية - انظر فهرس مخطوطات دار الكتب الظاهرية ليوسف العش دمشق 1947 ص 181.

'তাযকিরাতুল হুফফাজ'-এর বিন্যাস এবং আমি লেখার সময় সংশোধন ও স্পষ্টীকরণের জন্য 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ'-তে যা রয়েছে তা পর্যালোচনা করেছি।

২০ - আল-তাহায়া [ওয়াল হাদায়া] - ছয় তাকা (পৃষ্ঠার অংশবিশেষ)।

২১ - তুহফাতুল ঈদ ফিত তাবাকাত 'ঈদায়ন' - ত্রিশ তাকা।

২২ - ফযলুদ দিক (মোরগের শ্রেষ্ঠত্ব) - পাঁচ তাকা।

২৩ - আর-রাসায়েল ওয়াল ওয়াসায়েল - পনের তাকা [অসমাপ্ত]।

২৪ - আইয়ামে বিযের রোজা - পনের তাকা।

২৫ - সালওয়াতুল আহবাব [ওয়া রাহমাতুল আসহাব] - পাঁচ তাকা।

২৬ - আল-তাহবীর ফিল মু'জামুল কাবীর - তিনশত তাকা। আল-মুয়াল্লিমি বলেছেন: এখান থেকে প্রতীয়মান হয় যে, এটি 'আল-আনসাব' কিতাবের সাত ভাগের ছয় ভাগের সমান। ইবনে খাল্লিকান উল্লেখ করেছেন যে, 'আল-আনসাব' প্রায় আট খণ্ডে সমাপ্ত। তিনি ইবনুল আসিরের জীবনীতেও এটি উল্লেখ করে বলেছেন: আট খণ্ডে।

তিনি উল্লেখ করেছেন যে তিনি এটি একবার দেখেছেন। আর 'শাযারাত' গ্রন্থে আবু সা'দের জীবনীতে আছে: "তিনি তার শাইখদের মু'জাম দশটি বড় খণ্ডে তৈরি করেছেন"। আল-তাহবীরের একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি আরব লিগের সচিত্র পাণ্ডুলিপি সূচির ২য় খণ্ড, ১৪৩ নম্বর ক্রমে উল্লেখ করা হয়েছে। সূচিপত্রে ৪৯১ নম্বরে আরও আছে "মু'জামুস সামআনি ... ৬৪৭ হিজরিতে সামান্য নুকতাযুক্ত নাসখ লিপিতে লিখিত একটি পাণ্ডুলিপি, তৃতীয় আহমাদ সংগ্রহশালা নম্বর ৯৫৩, ২৯৮ পৃষ্ঠা, ২১ লাইন, ১৮/২৪ সেমি"। আমি কাউকে বলতে শুনেছি যে এটিই আল-তাহবীর, তবে আমি নিশ্চিত নই(১)।

২৭ - ফরতুল গ্রাম ইলা সাকিনিশ শাম - পনের তাকা। আল-মুয়াল্লিমি বলেছেন:

ইবনে আসাকির আবু সা'দের জীবনীতে এটি উল্লেখ করে বলেছেন: "তার সংবাদ সম্পর্কে আমার কাছে আসা সর্বশেষ বিষয় হলো একটি কিতাব যা তিনি স্বহস্তে লিখে আমার কাছে পাঠিয়েছেন, যার নাম দিয়েছেন 'ফরতুল গ্রাম ইলা সাকিনিশ শাম'। এটি আটটি খণ্ডে বিভক্ত এবং তিনি এটি ৫৬০ হিজরিতে লিখেছেন... এতে তিনি মুসনাদ হাদিসের একটি অংশ এবং বেশ কিছু কাহিনী ও কবিতা অন্তর্ভুক্ত করেছেন।" এবং এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয়...

--------------------------------------------

(১) আর আব্দুল কারীম আস-সামআনির 'আল-তাহবীর ফিল মু'জামুল কাবীর'-এর পাণ্ডুলিপিটি দারে কুতুবুজ জাহিরিয়াতে সংরক্ষিত আছে - দেখুন ইউসুফ আল-ইশ সম্পাদিত দারে কুতুবুজ জাহিরিয়ার পাণ্ডুলিপি সূচি, দামেস্ক ১৯৪৭, পৃষ্ঠা ১৮১।

(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২৬)
أن الطاقة نصف جزء أو نحوه.

28 - مقام العلماء بين يدي الأمراء - احدى عشرة طاقة.

29 - المساواة والمصافحة - ثلاث عشرة طاقة. قال المعلمي: إذا كان حديث قد رواه الترمذي مثلا بسنده ووقع لأبى سعد مثلا عاليا بسند من جهة أخرى واستوى عدد رجال السندين إلى النبي صلى الله عليه وسلم فهي المساواة، وإن زاد سند أبى سعد واحدا فهي المصافحة، وقس على ذلك، وراجع كتب المصطلح قسم العالي والنازل.

30 - ذكرى حبيب رحل وبشرى مشيب نزل - عشرون طاقة.

31 - الأمالي الخمسمائة - مائتا طاقة، (ليس في الطبقات).

32 - فوائد الموائد - مائتا طاقة.

33 - فضل الهرة - ثلاث طاقات.

34 - الأخطار في ركوب البحار - سبع طاقات.

35 - الهريسة - ثلاث طاقات.

36 - تاريخ الوفاة للمتأخرين من الرواة - خمس عشرة طاقة.

37 - الأنساب - ثلاثمائة وخمسون طاقة. وقال ابن خلكان انه في ثمان مجلدات.

38 - الأمالي - ستون طاقة.

39 - بخار بخور البخاري - عشرون طاقة.

40 - تقديم الجفان إلى الضيفان - سبعون طاقة.

41 - صلاة الضحى - عشر طاقات.

42 - الصدق في الصداقة.

43 - الربح والخسارة في الكسب والتجارة.

44 - رفع الارتياب عن كتابة الكتاب - اربع طاقات.

45 - النزوع إلى الأوطان [والنزاع إلى الإخوان(1)]- خمس وثلاثون طاقة.

--------------------------------------------

(1) من مقدمة م

যে তাকা (কাগজের পরিমাপবিশেষ) হলো অর্ধেক জুজ বা এর কাছাকাছি।

২৮ - শাসকদের সামনে আলেমদের মর্যাদা - এগারো তাকা।

২৯ - আল-মুসাওয়াত এবং আল-মুসাফাহাহ - তেরো তাকা। মুআল্লিমী বলেন: উদাহরণস্বরূপ, কোনো হাদিস যদি তিরমিযী তার সনদে বর্ণনা করেন এবং সেটি আবু সাআদ অন্য দিক থেকে একটি উচ্চতর (আলি) সনদে লাভ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত উভয় সনদের বর্ণনাকারীদের সংখ্যা সমান হয়, তবে তাকে 'মুসাওয়াত' বলা হয়। আর যদি আবু সাআদের সনদে বর্ণনাকারী একজন বেশি হয়, তবে তাকে 'মুসাফাহাহ' বলা হয়। অন্যান্য বিষয়গুলোও এর ওপর ভিত্তি করে অনুমান করে নিন এবং হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা বিষয়ক গ্রন্থাবলির 'আলি ও নাযিল' অধ্যায়টি দেখে নিন।

৩০ - প্রস্থানকারী বন্ধুর স্মৃতি এবং বার্ধক্যের আগমনের সুসংবাদ - বিশ তাকা।

৩১ - আল-আমালি আল-খামসামিআহ (পাঁচশ আমালি) - দুইশ তাকা, (এটি তাবাকাত গ্রন্থে নেই)।

৩২ - ফাওয়াইদুল মাওয়াইদ (দস্তরখানের উপকারিতা) - দুইশ তাকা।

৩৩ - বিড়ালের শ্রেষ্ঠত্ব - তিন তাকা।

৩৪ - সমুদ্র ভ্রমণের বিপদসমূহ - সাত তাকা।

৩৫ - আল-হারিসাহ - তিন তাকা।

৩৬ - পরবর্তী যুগের রাবীদের মৃত্যু তারিখ - পনেরো তাকা।

৩৭ - আল-আনসাব (বংশপরিচয়) - তিনশ পঞ্চাশ তাকা। ইবনে খাল্লিকান বলেন যে, এটি আট খণ্ডে সমাপ্ত।

৩৮ - আল-আমালি - ষাট তাকা।

৩৯ - বুখারির সুগন্ধির ধোঁয়া - বিশ তাকা।

৪০ - অতিথিদের সামনে বড় পাত্রে খাদ্য পরিবেশন - সত্তর তাকা।

৪১ - চাশতের নামাজ - দশ তাকা।

৪২ - বন্ধুত্বে সত্যবাদিতা।

৪৩ - উপার্জন ও ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি।

৪৪ - গ্রন্থ রচনায় সংশয় দূরীকরণ - চার তাকা।

৪৫ - স্বদেশের প্রতি ব্যাকুলতা [এবং ভ্রাতৃবৃন্দের প্রতি টান(১)] - পঁয়ত্রিশ তাকা।

--------------------------------------------

(১) ম-পাণ্ডুলিপির ভূমিকা থেকে।

(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২৭)
46 - حث الإمام على تخفيف الصلاة مع الإتمام - في طاقتين.

47 - لفتة المشتاق إلى ساكن العراق - اربع طاقات.

48 - السد والعد لمن اكتنى بأبي سعد(1) - ثلاثون طاقة.

49 - فضائل الشام - في طاقتين.

50 - فضل يس - في طاقتين.

51 - كتاب الحلاوة. ذكر في الطبقات وليس في التذكرة.

52 - المعجم الّذي ألفه لابنه أبى المظفر وقد تقدم عن ابن نقطة انه في جزء كبير، وذكر ابن خلكان وصاحب الشذرات انه «في ثمانية عشر جزءا» فكلمة (جزء) في عبارة ابن نقطة بالمعنى اللغوي. ولم يذكر هذا وتاليه في سباق عدد مؤلفات أبى سعد.

53 - عوالي ابنه أبى المظفر خرجها أبو سعد لابنه أبى المظفر وفي تاريخ ابن خلكان انها «في مجلدين ضخمين».

 

‌‌مكاتب السمعانيين

في معجم البلدان رسم (مرو الشاهجان) وهي وطن السمعانيين ما لفظه «ولولا ما عرا من ورود التتر إلى تلك البلاد وخرابها لما فارقتها إلى الممات لما في أهلها من الرفد ولين الجانب وحسن العشرة وكثرة كتب الأصول المتقنة بها فانى فارقتها وفيها عشر خزائن للوقف لم أر في الدنيا مثلها كثرة وجودة منها خزانتان في الجامع … وخزانتان للسمعانيين وخزانة أخرى في المدرسة العميدية (التي كان أبو سعد يدرس بها) … وأكثر فوائد هذا الكتاب وغيره مما جمعته فهو من تلك الخزائن».

 

‌‌وفاة أبى سعد

قال ابن عساكر فيما نقله ابن نقطة في التقييد «ثنا أبو عبد اللَّه محمد بن عبد الرحمن بن محمد المسعودي الفقيه ان أبا سعد توفى بمرو في شهر ربيع الأول من سنة اثنتين وستين وخمسمائة» وفي تاريخ ابن

--------------------------------------------

(1) لفظ التذكرة في اسم الكتاب كله «من كنية أبو سعد».

৪৬ - ইমামকে সালাত পূর্ণাঙ্গ রেখে সংক্ষেপ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা - দুই খণ্ডে।

৪৭ - ইরাকবাসীদের প্রতি অনুরাগীর দৃষ্টিপাত - চার খণ্ডে।

৪৮ - যারা আবু সা'দ কুনিয়াত গ্রহণ করেছে তাদের জন্য প্রতিবন্ধকতা ও গণনা(১) - ত্রিশ খণ্ডে।

৪৯ - শাম দেশের ফজিলতসমূহ - দুই খণ্ডে।

৫০ - সূরা ইয়াসিন-এর ফজিলত - দুই খণ্ডে।

৫১ - কিতাবুল হালাওয়াহ। এটি 'তাবাকাত'-এ উল্লিখিত হয়েছে কিন্তু 'তাযকিরা'-তে নেই।

৫২ - আল-মু'জাম, যা তিনি তাঁর পুত্র আবু মুজাফফরের জন্য সংকলন করেছেন। ইতিপূর্বে ইবনে নুকতাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে এটি একটি বড় খণ্ডে সমাপ্ত। ইবনে খল্লিকান এবং 'শাযারাত'-এর লেখক উল্লেখ করেছেন যে এটি "আঠারোটি খণ্ডে বিভক্ত"। সুতরাং ইবনে নুকতাহর বক্তব্যে (খণ্ড) শব্দটি আভিধানিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আবু সা'দের রচনাবলীর তালিকার ধারাবাহিকতায় এটি এবং এর পরবর্তীটি উল্লিখিত হয়নি।

৫৩ - তাঁর পুত্র আবু মুজাফফরের 'আওয়ালী' (উচ্চ সনদবিশিষ্ট হাদীসসমূহ), যা আবু সা'দ তাঁর পুত্র আবু মুজাফফরের জন্য চয়ন করেছেন। ইবনে খল্লিকানের ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে এটি "দুটি বিশাল খণ্ডে" সমাপ্ত।

 

‌‌সামআনিগণের গ্রন্থাগারসমূহ

'মু'জামুল বুলদান' গ্রন্থে 'মার্ভ শাহজাহান' (যা সামআনিগণের স্বদেশ) শিরোনামের অধীনে বর্ণিত হয়েছে: "যদি তাতারীদের আগমন এবং সেই জনপদের ধ্বংসলীলা না ঘটত, তবে মৃত্যু অবধি আমি তা ত্যাগ করতাম না। কারণ সেখানকার অধিবাসীদের সহযোগিতা, অমায়িকতা, উত্তম সাহচর্য এবং সেখানে বিশুদ্ধ মূল পাণ্ডুলিপির প্রাচুর্য ছিল অতুলনীয়। আমি যখন তা ত্যাগ করি, সেখানে দশটি ওয়াকফকৃত গ্রন্থাগার ছিল, যার সংখ্যা ও মানের দিক থেকে আমি পৃথিবীতে অন্য কোথাও দেখিনি। তার মধ্যে দুটি ছিল জামে মসজিদে... দুটি ছিল সামআনিগণের জন্য এবং অন্য একটি ছিল আল-মাদরাসাতুল উমিদিয়্যাহ-তে (যেখানে আবু সা'দ অধ্যাপনা করতেন)... আর এই গ্রন্থ ও অন্যান্য যা কিছু আমি সংকলন করেছি তার অধিকাংশ তথ্যই সেই সব গ্রন্থাগার থেকে সংগৃহীত।"

 

‌‌আবু সা'দের মৃত্যু

ইবনে আসাকির বর্ণনা করেন যা ইবনে নুকতাহ 'আত-তাকয়িদ' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন: "আমাদের নিকট আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আল-মাসউদী আল-ফকিহ বর্ণনা করেছেন যে, আবু সা'দ পাঁচশত বাষট্টি হিজরীর রবিউল আউয়াল মাসে মার্ভ-এ ইন্তেকাল করেন।" এবং ইবনে এর ইতিহাসে...

--------------------------------------------

(১) 'তাযকিরা' গ্রন্থে বইটির নাম "আবু সা'দ কুনিয়াতধারীদের বর্ণনা" হিসেবে এসেছে।

(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২৮)
خلكان «توفى بمرو في ليلة غرة ربيع الأول سنة اثنتين وستين وخمسمائة» وفي طبقات الشافعية «في الثلث الأخير من ليلة غرة (في النسخة: عشرة - خطأ) ربيع الأول … » وفي تذكرة الحافظ «في ربيع الأول في أوله».

وخفي الأمر على ابن الجوزي فذكر ابا سعد في وفيات سنة ثلاث وستين وخمسمائة وقال «توفى ابن السمعاني ببلده في هذه السنة ووصل الخبر بذلك» وتبعه بعضهم وهو خطأ.

 

‌‌كتاب الأنساب

سبق أوائل هذه المقدمة الإلماع إلى مكانة هذا الفن وشدة الحاجة إلى معرفته، وأن كتاب الأنساب للسمعاني هو بحق الكتاب الوحيد فيه، وأذكر الآن سبب تأليفه وبعض الثناء عليه، قال أبو سعد في خطبته «كنت في رحلتي أتتبع ذلك وأسأل الحفاظ عن الأنساب وكيفيتها وإلى اى شيء نسب كل أحد وأثبت ما كنت أسمعه، ولما اتفق الاجتماع مع شيخنا وإمامنا أبى شجاع عمر بن أبي الحسن البسطامي ذكره اللَّه بالخير بما وراء النهر فكان يحثني على نظم مجموع في الأنساب وكل نسبة إلى اى قبيلة أو بطن أو ولاء أو بلدة أو قرية أوجد أو حرفة أو لقب لبعض أجداده فان الأنساب لا تخلو عن واحد من هذه الأشياء، فشرعت في جمعه بسمرقند في سنة خمسين وخمسمائة وكنت اكتب الحكايات والجرح والتعديل بأسانيدها ثم حذفت الأسانيد لكيلا يطول وملت إلى الاختصار ليسهل على الفقهاء حفظها ولا يصعب على الحفاظ ضبطها وأوردت النسبة على حروف المعجم وراعيت فيها الحرف الثاني والثالث إلى آخر الحروف فابتدأت بالألف الممدودة لأنها بمنزلة الألفين وذكرت (الآبري) في الألفين وهي قرية من سجستان و (الإبري) بالألف مع الباء الموحدة وهذه النسبة إلى عمل الإبرة، وأذكر نسب الرجل الّذي اذكره في الترجمة وسيرته وما قال الناس فيه وإسناده وأذكر شيوخه ومن حدث عنهم ومن روى عنه ومولده ووفاته ان كان بلغني ذلك، وقدمت فصولا فيها أحاديث مسندة في الحث على تحصيل هذا
খাল্লিকান বলেন, "তিনি পাঁচশ বাষট্টি হিজরী সনের রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম রাতে মার্ভ শহরে ইন্তেকাল করেছেন।" এবং তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ গ্রন্থে রয়েছে "রবিউল আউয়াল মাসের প্রথম রাতের শেষ তৃতীয়াংশে (পাণ্ডুলিপিতে: দশম - ভুল) … " এবং তাজকিরাতুল হুফফাজ গ্রন্থে রয়েছে "রবিউল আউয়ালের শুরুতে।"

ইবনুল জাওযীর কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে যাওয়ায় তিনি আবু সা'দকে পাঁচশ তেষট্টি হিজরীর মৃত্যু তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন "ইবনে সাম'আনী এই বছর নিজ শহরে ইন্তেকাল করেছেন এবং সেই সংবাদ পৌঁছেছে"; কেউ কেউ তাঁকে অনুসরণ করেছেন, যা ভুল।

 

‌‌কিতাবুল আনসাব

এই ভূমিকার শুরুতে এই শাস্ত্রের মর্যাদা এবং এটি জানার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে; আর সাম'ানীর কিতাবুল আনসাব হলো এই বিষয়ের ওপর প্রকৃত অর্থেই একমাত্র আকর গ্রন্থ। আমি এখন এর রচনার কারণ এবং এর প্রতি কিছু প্রশংসার কথা উল্লেখ করছি। আবু সা'দ তাঁর ভূমিকার বলেছেন, "আমি আমার সফরে এই বিষয়গুলো অনুসন্ধান করতাম এবং হাফেজদের কাছে বংশধারা ও এর প্রকৃতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতাম যে, কাকে কোন বিষয়ের দিকে নিসবত করা হয়েছে এবং আমি যা শুনতাম তা লিখে রাখতাম। যখন মাওয়ারাননাহরে আমাদের শায়খ ও ইমাম আবু শুজা উমর ইবনুল হাসান আল-বিস্তামী — আল্লাহ তাঁকে কল্যাণের সাথে স্মরণ করুন — এর সাথে সাক্ষাত হলো, তখন তিনি আমাকে বংশধারার ওপর একটি সংকলন প্রস্তুত করার জন্য উৎসাহিত করতেন। সেখানে প্রতিটি নিসবত কোনো গোত্র, শাখা, মিত্রতা, শহর, গ্রাম, পূর্বপুরুষ, পেশা কিংবা তাঁর কোনো পূর্বপুরুষের উপাধির সাথে সম্পৃক্ত হবে; কেননা বংশধারা এই বিষয়গুলোর কোনো একটির বাইরে হয় না। অতঃপর আমি পাঁচশ পঞ্চাশ হিজরী সনে সমরকন্দে এটি সংকলন করতে শুরু করি। আমি বিভিন্ন ঘটনা এবং জারহ ও তা’দিল সেগুলোর সনদসহ লিখতাম। পরবর্তীতে গ্রন্থটি দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় আমি সনদগুলো বাদ দিয়েছি এবং সংক্ষেপণের পথ বেছে নিয়েছি, যাতে ফকিহদের জন্য এটি মুখস্থ করা সহজ হয় এবং হাফেজদের জন্য এটি আয়ত্ত করা কঠিন না হয়। আমি নিসবতগুলো বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি এবং এতে দ্বিতীয়, তৃতীয় থেকে শেষ বর্ণ পর্যন্ত বিন্যাসের নিয়ম মেনে চলেছি। আমি আলিফ মামদুদা দিয়ে শুরু করেছি কারণ তা দুই আলিফের স্থলাভিষিক্ত। আমি দুই আলিফের অধীনে 'আল-আবরী' উল্লেখ করেছি যা সিজিস্তানের একটি গ্রাম, আর একক আলিফ ও বা-এর সাথে 'আল-ইবরী' উল্লেখ করেছি যা সুঁই তৈরির কাজের সাথে সম্পৃক্ত। আমি যে ব্যক্তির জীবনী উল্লেখ করছি তাঁর বংশপরিচয়, জীবনচরিত, তাঁর সম্পর্কে মানুষের মন্তব্য ও তাঁর সনদ বর্ণনা করেছি। পাশাপাশি তাঁর শায়খগণ, যাঁদের থেকে তিনি বর্ণনা করেছেন এবং যাঁরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং আমার জানা মতে তাঁর জন্ম ও মৃত্যু তারিখ উল্লেখ করেছি। আর আমি শুরুতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ যুক্ত করেছি যেখানে এই শাস্ত্র অর্জনে উৎসাহিত করে এমন সব সনদযুক্ত হাদিস রয়েছে।"
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ২৯)
النوع من العلم ونسب جماعة من أصول العرب وورد في الحديث ذكرهم وقد اذكر البلاد المعروفة والنسبة إليها لفائدة تكون في ذكرها واللَّه تعالى ينفع الناظر فيه والمتأمل له بفضله وسعة رحمته».

وقال ابن الأثير في مقدمة اللباب كانت نفسي تنازعني إلى أن اجمع في هذا كتابا حاويا لهذه الأنساب جامعا لما فيها من المعارف والآداب فكان العجز عنه يمنعني والجهل بكثير منه يصدني، ومع هذا فأنا ملازم الرغبة فيه معرض عما يباينه وينافيه كثير البحث عنه والاقتباس منه فبينما انا احوم على هذا المطلب ثم أجبن عن ملابسته وأقدم عليه ثم أحجم عن ممارسته إذ ظفرت بكتاب مجموع فيه قد صنفه الإمام الحافظ تاج الإسلام أبو سعد عبد الكريم بن محمد بن منصور السمعاني المروزي رضي الله عنه وأرضاه وشكر سعيه وأحسن منقلبه ومثواه، فنظرت فيه فرأيته قد أجاد ما شاء وأحسن في تصنيفه وترتيبه وما أساء فما لواصف ان يقول: لولا أنه، ولا لمستثن ان يقول: إلا أنه. فلو قال قائل: ان هذا تصنيف لم يسبق اليه، لكان صادقا، ولو زعم أنه قد استقصى الأنساب لكان بالحق ناطقا. قد جمع فيه الأنساب إلى القبائل والبطون كالقرشى والهاشمي وإلى الآباء والأجداد كالسليمانى والعاصمي، وإلى المذاهب في الفروع والأصول كالشافعي والحنفي والحنبلي والأشعري والشيعي والمعتزلي، وإلى الأمكنة كالبغدادى والموصلي، وإلى الصناعات كالخياط والكيال والقصاب والبقال، وذكر أيضا الصفات والعيوب كالطويل والقصير والأعمش والضرير، والألقاب كجزرة وكيلجة، فجاء الكتاب في غاية الملاحة ونهاية الجودة والفصاحة قد أتى مصنفه بما عجز عنه الأوائل ولا يدركه الأواخر فإنه أجاد ترتيبه وتصنيفه وأحسن جمعه وتأليفه، قد لزم في وضعه ترتيب الحروف في الأبواب والأسماء على ما تراه. فلما رأيته فردا في فنه منقطع القرين في حسنه قلت: هذا موضع المثل «أكرمت فارتبط وأمرعت فاختبط» فحين أمعنت مطالعته وأردت كتابته رأيته قد أطال واستقصى حتى خرج عن حد الأنساب وصار
এই প্রকারের ইলম এবং আরবীয় মূলের একদল মানুষের বংশপরম্পরা এবং হাদিসে তাদের উল্লেখ এসেছে। আমি হয়তো সুপরিচিত দেশসমূহ এবং তাদের প্রতি সম্বন্ধিত নিসবত (বংশনাম) আলোচনা করব, যা উল্লেখ করার মধ্যে উপকারিতা রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ এবং প্রশস্ত রহমতের মাধ্যমে এর পাঠক ও এটি নিয়ে চিন্তাশীল ব্যক্তিকে উপকৃত করুন।

ইবনুল আসির 'আল-লুবাব' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: আমার মন আমাকে এই বংশপরম্পরাসমূহ ধারণকারী এবং এর মধ্যে থাকা জ্ঞান ও শিষ্টাচারসমূহ একত্রকারী একটি কিতাব সংকলন করতে উৎসাহিত করত। কিন্তু এতে অক্ষমতা আমাকে বাধা দিত এবং এর অনেক বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতা আমাকে বিরত রাখত। তবুও আমি এর প্রতি আগ্রহী ছিলাম, এর প্রতিকূল ও বিপরীত বিষয়গুলো থেকে বিমুখ থাকতাম এবং এটি নিয়ে প্রচুর গবেষণা ও উদ্ধৃতি সংগ্রহ করতাম। আমি যখন এই লক্ষ্যের চারপাশেই ঘুরপাক খাচ্ছিলাম, কখনও এতে লিপ্ত হতে ভয় পাচ্ছিলাম, আবার কখনও অগ্রসর হয়েও পিছিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন আমি একটি সংকলিত কিতাব পেয়ে গেলাম যা ইমাম হাফেজ তাজুস ইসলাম আবু সাদ আব্দুল কারিম বিন মুহাম্মদ বিন মনসুর আস-সামআনি আল-মারওয়াজি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে সন্তুষ্ট করুন, তাঁর প্রচেষ্টাকে কবুল করুন এবং তাঁর ফিরে যাওয়ার স্থান ও আবাসস্থলকে উত্তম করুন) রচনা করেছেন। আমি এতে দৃষ্টিপাত করে দেখলাম যে, তিনি যা চেয়েছেন তা অত্যন্ত চমৎকারভাবে করেছেন এবং এর বিন্যাস ও কাঠামো নির্মাণে সৌন্দর্য মণ্ডিত করেছেন, কোনো ত্রুটি করেননি। কোনো বর্ণনাকারীর পক্ষে এটি বলার সুযোগ নেই যে: "যদি এটি না হতো", আর কোনো ব্যতিক্রমকারীর পক্ষেও বলার অবকাশ নেই যে: "কেবল যদি এটি হতো"। যদি কোনো বক্তা বলেন যে, এটি এমন একটি রচনা যার আগে এমনটি আর হয়নি, তবে তিনি সত্যই বলবেন; আর যদি কেউ দাবি করেন যে তিনি বংশপরম্পরাসমূহ পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেছেন, তবে তিনি সঠিক কথাই বলবেন। তিনি এতে বংশপরম্পরাসমূহকে বিভিন্ন গোত্র ও উপগোত্রের দিকে সম্বন্ধিত করে একত্র করেছেন, যেমন: কুরাইশি ও হাশেমি; আবার পিতা ও দাদাদের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন, যেমন: সুলাইমানি ও আসিমী; ফুরু (শাখা) ও উসুল (মূলনীতি) সংক্রান্ত মাযহাবসমূহের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন, যেমন: শাফেয়ী, হানাফী, হাম্বলী, আশআরী, শিয়া ও মুতাযিলি; এবং স্থানসমূহের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন, যেমন: বাগদাদী ও মাওসিলি; পেশাসমূহের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন, যেমন: খাইয়াত (দর্জি), কাইয়াল (পরিমাপকারী), কাসসাব (কসাই) ও বাক্কাল (মুদি); এছাড়াও তিনি বিভিন্ন গুণাবলি ও শারীরিক ত্রুটির উল্লেখ করেছেন, যেমন: দীর্ঘকায়, খর্বকায়, ঝাপসা দৃষ্টিসম্পন্ন ও অন্ধ; এবং উপাধিসমূহও উল্লেখ করেছেন, যেমন: জাযারাহ ও কাইলাজাহ। ফলে কিতাবটি অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ এবং গুণগত মান ও সাবলীলতার শীর্ষে পৌঁছেছে। এর লেখক এমন কিছু নিয়ে এসেছেন যা পূর্ববর্তীরা করতে অক্ষম ছিলেন এবং পরবর্তীরাও তা অর্জন করতে পারবে না। কেননা তিনি এর বিন্যাস ও বিন্যাসকরণে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন এবং এর সংগ্রহ ও সংকলন অত্যন্ত সুন্দরভাবে করেছেন। তিনি এর বিন্যাসে অধ্যায় ও নামগুলোকে বর্ণানুক্রমিক সাজানোর পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, যা আপনি দেখতে পাবেন। আমি যখন এটিকে আপন শিল্পে অনন্য এবং সৌন্দর্যে অতুলনীয় হিসেবে দেখলাম, তখন আমি বললাম: এটি সেই প্রবাদের স্থান— "তুমি সম্মান পেয়েছ তাই আঁকড়ে ধরো, আর চারণভূমি পেয়েছ তাই তা থেকে সদ্ব্যবহার করো"। অতঃপর যখন আমি গভীরভাবে এটি অধ্যয়ন করলাম এবং এটি লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা পোষণ করলাম, তখন দেখলাম যে তিনি বিস্তারিত বর্ণনা করতে গিয়ে অনেক দীর্ঘ করে ফেলেছেন, এমনকি এটি বংশপরম্পরা বর্ণনার সীমা ছাড়িয়ে গেছে এবং পরিণত হয়েছে...
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৩০)
بالتواريخ أشبه.

ومع ذلك ففيه أوهام قد نبهت على ما انتهت اليه معرفتي منها وهي في مواضعها فشرعت حينئذ في اختصار الكتاب والتنبيه على ما فيه من غلط وسهو، فلا يظن ظان ان ذلك نقص في الكتاب أو في المصنف كلا واللَّه، وإنما السيد من عدت سقطاته وأخذت غلطاته فهي الدنيا لا يكمل فيها شيء،

وقد صح عن النبي صلى الله عليه وسلم أنه قال: «حق على اللَّه ان لا يرفع شيئا من الدنيا الا وضعه»

ليس المعنى بوضعه اعدامه وإتلافه، انما هو نقص يوجد فيه، وسياق الحديث يدل عليه، وكيف يكمل تصنيف واللَّه تعالى يقول عن القرآن العزيز: (وَلَوْ كانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً).

ثم ذكر ابن الأثير أشياء وضعت في بعض المواضع من الأنساب على خلاف الأولى. منها أنه حيث يتعدد المنسوب إليه للنسبة الواحدة قد يضطرب سياق الأنساب، ومنها أنه قد يذكر الرجل مرتين أو ثلاثا فيوهم التعدد. وذكر ابن الأثير بعض أمثلة ذلك وهو قليل في الأنساب.

ومما يحسن التنبيه عليه أن أبا سعد كثيرا ما يسوق عبارات ابن حبان في الجرح والتعديل فتارة يعزوها اليه وتارة يسوقها بدون عزو: وكثيرا جدا ما يسوق عبارة بعض الكتب كتاريخ بغداد للخطيب وتاريخ نيسابور للحاكم ملخصة وكثيرا ما لا يعزوها، وأغرب من ذلك أنه بعد التلخيص قد يبقى ضمائر المتكلم كما هي كأن يكون في عبارة الحاكم في ذكر شخص «سمعت منه» فيلخص أبو سعد العبارة بلا غزو ويبقى فيها «سمعت منه» يقع مثل هذا سهوا والقرائن تبين الحال فإنه يذكر في مثل هذا وفاة ذاك الرجل وهي قبل ولادة أبى سعد بعشرات السنين أو نحو هذا من القرائن. وقريب من هذا أنه عند التلخيص قد يترك بعض الألفاظ على حالها في أصل العبارة من جهة الإعراب مع أنها في سياق تلخيصه تستحق غير ذلك. وعلى كل حال فليس في هذا وما يشبهه ما ينقص قيمة الكتاب، وقد نبهت في التعليق على ما نبه عليه صاحب اللباب وما ظهر لي وأسأل اللَّه التوفيق.
ইতিহাসের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবুও এতে কিছু বিভ্রম রয়েছে যেগুলোর প্রতি আমার জানা মতে আমি নির্দিষ্ট স্থানে ইঙ্গিত করেছি। অতঃপর আমি কিতাবটি সংক্ষেপ করতে এবং এতে বিদ্যমান ভুল ও অসাবধানতাগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করতে শুরু করি। কেউ যেন মনে না করেন যে এটি কিতাব বা গ্রন্থকারের কোনো ত্রুটি। আল্লাহর শপথ, তা মোটেও নয়! বরং সেই ব্যক্তিই মহান যার বিচ্যুতিগুলো গণনা করা যায় এবং ভুলগুলো ধরা যায়। আর এটি হলো দুনিয়া, যেখানে কোনো কিছুই পূর্ণাঙ্গ হয় না।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সহীহভাবে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত যে, তিনি দুনিয়ার কোনো কিছুকে উপরে তুললে অবশ্যই তাকে নিচে নামিয়ে দেন।"

এখানে 'নিচে নামানো' মানে তাকে ধ্বংস বা বিনাশ করে দেওয়া নয়, বরং এতে কোনো খুঁত বা ত্রুটি পাওয়া যাওয়া। হাদীসের প্রেক্ষাপট একথাই প্রমাণ করে। আর কোনো রচনা কীভাবে নিখুঁত হতে পারে যেখানে আল্লাহ তাআলা মহাগ্রন্থ কুরআন সম্পর্কে বলেছেন: "যদি তা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা এতে অনেক বৈপরীত্য দেখতে পেত।"

এরপর ইবনে আল-আছীর এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা বংশপরম্পরা বর্ণনার ক্ষেত্রে কিছু স্থানে অনুত্তমভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, যেখানে একই নিসবতের অধীনে একাধিক ব্যক্তিকে উল্লেখ করা হয়েছে, সেখানে বংশের ধারাক্রম এলোমেলো হয়ে যেতে পারে। আরেকটি হলো, কখনো একই ব্যক্তিকে দুই বা তিনবার উল্লেখ করা হয়েছে, ফলে তাকে একাধিক ব্যক্তি বলে ভ্রম হতে পারে। ইবনে আল-আছীর এর কিছু উদাহরণ উল্লেখ করেছেন, তবে বংশপরম্পরা বর্ণনায় এটি খুব সামান্যই ঘটেছে।

একটি বিষয় সতর্ক করা ভালো যে, আবু সা'দ প্রায়শই 'জারহ ও তা'দীল' এর ক্ষেত্রে ইবনে হিব্বানের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেন; কখনো তিনি তার উদ্ধৃতি প্রদান করেন আবার কখনো উদ্ধৃতি ছাড়াই তা উল্লেখ করেন। একইভাবে তিনি খতীবের 'তারীখে বাগদাদ' এবং হাকেমের 'তারীখে নাইসাবুর' এর মতো কিতাবগুলোর বক্তব্য সারসংক্ষেপ করে উল্লেখ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই মূল গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেন না। এর চেয়েও আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, সারসংক্ষেপ করার পর উত্তম পুরুষবাচক সর্বনামগুলো আগের মতোই থেকে যায়। যেমন, কোনো ব্যক্তির বর্ণনায় হাকেমের বক্তব্যে হয়তো ছিল 'আমি তার নিকট শুনেছি', আবু সা'দ কোনো উদ্ধৃতি ছাড়াই বক্তব্যটি সংক্ষেপ করেন কিন্তু তাতে 'আমি তার নিকট শুনেছি' কথাটি অপরিবর্তিত থেকে যায়। এমনটি অসাবধানতাবশত হয়ে থাকে এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট করে দেয়। কারণ তিনি এমন ব্যক্তির মৃত্যুসন উল্লেখ করেন যিনি আবু সা'দের জন্মের কয়েক দশক আগে মৃত্যুবরণ করেছেন, বা এ জাতীয় অন্যান্য প্রমাণাদি। এর কাছাকাছি আরেকটি বিষয় হলো, সারসংক্ষেপ করার সময় তিনি মূল বক্তব্যের ব্যাকরণগত অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে দেন, যদিও তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনার প্রেক্ষাপটে তা পরিবর্তনযোগ্য ছিল। যা-ই হোক, এই বা এ জাতীয় কোনো কিছুই কিতাবের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করে না। 'লুবাব' গ্রন্থের লেখক যা সতর্ক করেছেন এবং আমার নিকট যা প্রকাশ পেয়েছে, তা আমি টীকা আকারে উল্লেখ করেছি। আমি আল্লাহর নিকট তাওফীক কামনা করছি।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌النسخ التي طبع عنها وقوبل عليها

تيسر للدائرة اربع نسخ من الكتاب.

1 - ك - وهي فلم مأخوذ من نسخة محفوظة بمكتبة كوپريلى باستانبول ذكرت في فهرس المخطوطات المصورة لجامعة الدول العربية ج 2 رقم 68 بما يأتي «نسخة كتبت سنة 915 بخط نسخ جميل كتبه عبد المجيد بن محمد الكرماني العباسي، 482 ق مكتبة كوپريلى 1010».

وهي نسخة كاملة سوى سقطات يسيرة في أثناء الكتاب كما سينبه عليها، وفي خاتمتها بخط كاتبها ما صورته «تممت كتابة هذا الكتاب المشهور عند أرباب الألباب بالأنساب للتحرير المحقق … الإمام السمعاني، … لأجل حضرت (كذا) من خصه اللَّه من حقائق المعارف … اللَّهمّ كما نظمت عقود الملك يعلو شأنه وكمال سيادته احمد نظام فاحرسه عن مكايد الأعادي … في بلدة طيبة هي بلدة الهراة (كذا) … بتاريخ شهر مولد النبي الأكمل اعني ربيع الأول سنة خمس عشر (كذا) وتسعمائة، وأنا تراب أقدام العلماء …

عبد المجيد بن محمد الكرماني العباسي … من كرمهم مسؤول … » وهي الأصل المعتمد عليه لهذا المطبوع.

2 - س - وهي فلم مأخوذ من نسخة محفوظة بمكتبة غوث أكبر في روسيا برقم [ج 361 - OR] وهي نسخة تامة الا انه سقط

منها عشر أوراق بعد الأولى وسقطات عديدة في الأثناء سينبه عليها، وعدد أوراقها 470.

3 - م - وهي النسخة التي طبعها المستشرق مرجليوث بالزنكوغراف في ليدن سنة 1912 عن نسخة المتحف البريطاني المحفوظة تحت 5 رقم 255، 23.

وهي نسخة تامة عدا السقطات الكثيرة أثناء الكتاب كما سينبه عليها، وعدد أوراقها 603.
যে সকল পাণ্ডুলিপি থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে এবং যেগুলোর সাথে এটি মিলিয়ে দেখা হয়েছে

সংশ্লিষ্ট বিভাগের জন্য কিতাবটির চারটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া সহজসাধ্য হয়েছে।

১ - কাফ - এটি ইস্তাম্বুলের কোপ্রুলু লাইব্রেরিতে সংরক্ষিত একটি পাণ্ডুলিপি থেকে নেওয়া ফিল্ম, যা আরব রাষ্ট্রীয় সংস্থার ধারণকৃত পাণ্ডুলিপি তালিকার ২য় খণ্ড, ৬৮ নং ক্রমিকে নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হয়েছে: "৯১৫ হিজরিতে সুন্দর নাসখ লিপিতে আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-কিরমানি আল-আব্বাসি কর্তৃক লিখিত পাণ্ডুলিপি, ৪৮২ পৃষ্ঠা, কোপ্রুলু লাইব্রেরি ১০১০।"

এটি কিতাবের মাঝখানের সামান্য কিছু বিচ্যুতি ব্যতিরেকে একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, যা যথাস্থানে নির্দেশ করা হবে। এর সমাপ্তিতে লেখকের হস্তাক্ষরে যা রয়েছে তার অনুলিপি হলো: "বিচক্ষণ ব্যক্তিদের নিকট 'আল-আনসাব' নামে প্রসিদ্ধ এই কিতাবটির অনুলিপি সম্পন্ন করলাম, যার লেখক তুখোড় গবেষক ... ইমাম সামআনি, ... সেই মহান ব্যক্তিত্বের জন্য যাকে আল্লাহ মাআরিফ বা উচ্চতর জ্ঞানের নিগূঢ় সত্যের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন ... হে আল্লাহ! আপনি যেভাবে রাজকীয় শৃঙ্খলার গাঁথুনিকে বিন্যস্ত করেছেন, সেভাবেই আহমদ নিজামের মর্যাদা ও পূর্ণাঙ্গ নেতৃত্বকে উচ্চকিত করুন এবং তাকে শত্রুদের চক্রান্ত থেকে রক্ষা করুন ... পুণ্যময় শহর হেরাতে ... নবী কারীমের জন্ম মাস অর্থাৎ নয়শত পনেরো হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে। আর আমি ওলামায়ে কেরামের পদধূলি ...

আব্দুল মাজীদ বিন মুহাম্মাদ আল-কিরমানি আল-আব্বাসি ... তাদের মহানুভবতার প্রত্যাশী ...।" এটিই বর্তমান মুদ্রণের মূল ভিত্তি হিসেবে গৃহীত পাণ্ডুলিপি।

২ - সিন - এটি রাশিয়ার গাওস আকবর লাইব্রেরিতে [OR - 361 c] নম্বরে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপির একটি ফিল্ম। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, তবে প্রথম পৃষ্ঠার পর থেকে

দশটি পৃষ্ঠা অনুপস্থিত এবং কিতাবের মাঝেও বেশ কিছু বিচ্যুতি রয়েছে যা যথাস্থানে নির্দেশ করা হবে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৭০।

৩ - মীম - এটি সেই সংস্করণ যা প্রাচ্যবিদ মারগোলিউথ ১৯১২ সালে লাইডেনে ব্রিটিশ মিউজিয়ামে সংরক্ষিত ২৩, ২৫৫ নম্বর পাণ্ডুলিপি থেকে জিঙ্কোগ্রাফ পদ্ধতিতে মুদ্রণ করেছিলেন।

এটি কিতাবের মাঝখানের বহু বিচ্যুতি ব্যতিরেকে একটি পূর্ণাঙ্গ পাণ্ডুলিপি, যা যথাস্থানে নির্দেশ করা হবে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৬০৩।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৩২)
4 - ع - وهي نسخة ناقصة محفوظة بمكتبة الجامعة العثمانية بحيدرآباد الدكن برقم (قع 97 S 922 - س - 1) تبتدئ من قوله أثناء رسم (الأستراباذي): «ابن خزيمة مثله أو أفضل منه … » وتنتهي إلى رسم (الصريفيني) وعدد أوراقها 239 في كل صفحة 33 سطرا.

 

‌‌وصف النسخ

ألف - الأولى بخط نسخ جميل، والثانية بخط نسخ جيد.

والثالثة بالخط المسمى (نسخ تعليق)، والرابعة بخط نسخ معتاد.

ب - يغلب إعجام الحروف المعجمة في غير الرابعة.

ج - عناوين النسب مكتوبة في النسخ بخط جلى، وامتازت النسخة الأولى بشكلها فيها بالحركات.

د - إذا كان ضمن النسبة رجلان فأكثر فلم يلاحظ بيان الفصل الا في النسخة الأولى وضعت بينهما فيها هذه العلامة (س -) والغالب في النسخ ان يعطف الثاني بالواو. وقد ترك.

هـ - لم يميز الشعر من النثر في النسخ تمييزه المعروف لكن في الأولى

ميز بوضع هذه العلامة (-[؟]) أول الشعر وهذه العلامة (،) بين الشطرين وكذا بين البيتين و - لم يجر النسخ على وتيرة واحدة في كتابة الأعلام المصطلح على حذف الفاتها (إسحاق - سليمان - معاوية) بل تارة تحذف وتارة تثبت.

ز - الياء الراجعة ويسميها كتاب الهند مجهولة مثل (على) لم تقع في الأولى ووقعت في غيرها في بعض المواضع.

ح - التزم في الأول فقط الترضية عن الصحابة مع مراعاة ما يقتضي الحال في الضمير (عنه، عنها، عنهما، عنهم).
৪ - আইন - এটি একটি অসম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপি, যা হায়দ্রাবাদ ডেকানের ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরিতে (কিউ.সি ৯৭ এস ৯২২ - এস - ১) নম্বরে সংরক্ষিত। এটি ‘আল-আস্তারাবাজি’ ভুক্তির এই বক্তব্য থেকে শুরু হয়েছে: “ইবনে খুজাইমাহ তার মতো বা তার চেয়েও উত্তম...” এবং শেষ হয়েছে ‘আস-সারিফিনি’ ভুক্তিতে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ২৩৯টি, প্রতি পৃষ্ঠায় ৩৩টি করে লাইন রয়েছে।

 

‌‌পাণ্ডুলিপিগুলোর বিবরণ

আলিফ - প্রথমটি সুন্দর নাসখ্ লিপিতে এবং দ্বিতীয়টি উত্তম নাসখ্ লিপিতে লিখিত।

তৃতীয়টি ‘নাসখ্ তালীক্ব’ নামক লিপিতে এবং চতুর্থটি সাধারণ নাসখ্ লিপিতে লিখিত।

বা - চতুর্থটি ব্যতীত অন্যগুলোতে নুকতাহীন বর্ণগুলোতে নুকতাহ প্রদানের প্রাধান্য দেখা যায়।

জীম - পাণ্ডুলিপিগুলোতে বংশসূচক শিরোনামগুলো স্পষ্ট অক্ষরে লেখা হয়েছে এবং প্রথম পাণ্ডুলিপিটি তাতে হরকত বা স্বরচিহ্ন প্রদানের মাধ্যমে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যমন্ডিত হয়েছে।

দাল - যদি একই নিসবত বা সম্পর্কের অন্তর্ভুক্ত দুই বা ততোধিক ব্যক্তি থাকেন, তবে প্রথম পাণ্ডুলিপি ব্যতীত অন্যগুলোতে পৃথকীকরণ লক্ষ্য করা যায়নি। প্রথমটিতে তাদের মাঝখানে এই চিহ্ন (স -) ব্যবহার করা হয়েছে। পাণ্ডুলিপিগুলোতে সাধারণত দ্বিতীয় নামটিকে ‘ওয়াও’ (এবং) দ্বারা সংযুক্ত করা হয়, যা এখানে বর্জন করা হয়েছে।

হা - পাণ্ডুলিপিগুলোতে কবিতা ও গদ্যের মধ্যে প্রচলিত পদ্ধতিতে পার্থক্য করা হয়নি, তবে প্রথমটিতে

কবিতার শুরুতে এই চিহ্ন (-[?]) এবং দুই চরণের মাঝে ও দুই পংক্তির মাঝে এই চিহ্ন (,) প্রদানের মাধ্যমে পার্থক্য করা হয়েছে। ওয়াও - যেসব নাম থেকে আলিফ বিলুপ্ত করার পরিভাষা রয়েছে (যেমন: ইসহাক, সুলাইমান, মুয়াবিয়া), সেগুলো লিখার ক্ষেত্রে পাণ্ডুলিপিগুলো একই ধারা অনুসরণ করেনি; বরং কখনো আলিফ বিলুপ্ত করা হয়েছে আবার কখনো তা বহাল রাখা হয়েছে।

ঝা - ‘ইয়া রাজিয়া’ যাকে ভারতের লেখকরা ‘মাজহুল’ (যেমন: আলি) বলে থাকেন, তা প্রথমটিতে পাওয়া যায়নি; তবে অন্যগুলোতে কিছু কিছু স্থানে পাওয়া গেছে।

হা - শুধুমাত্র প্রথমটিতেই সাহাবায়ে কেরামের নামের শেষে সন্তুষ্টির দোয়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) পড়ার বিষয়টি আবশ্যিকভাবে পালন করা হয়েছে, যেখানে অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে সর্বনামের (যেমন: আনহু, আনহা, আনহুমা, আনহুম) ব্যবহারের প্রতি লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) আল-আনসাব - আস-সামআনী - ত আমীন দামাজ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
ط - لم يثبت تاريخ الكتابة واسم الكاتب في غير الأولى وختمت الثانية والثالثة بهذه العبارة «تمت تمام شد آخر الأنساب وصلى اللَّه على سيدنا محمد وآله وصحبه وسلم».

ى - يغلب في الأولى الصحة وعدم السقط ويكثر ذلك في غيرها ومع هذا فثم مواضع يقع فيها الخطأ أو السقط في الأولى فقط، فالنسب بين الأولى وبين الثلاث الباقية بعيد، وأما الثلاث الباقية فلم أجد إلى الآن خطأ أو سقط في الثانية (س) الا وهو في الأخيرين وقد يوجد فيهما من الخطأ والسقط ما ليس فيها ففي رسم (البزوري) ورسم (اليعقوبي) ورسم (البعلبكي) عبارات سقطت من (م) وهي ثابتة في (ك) و (س) فأما (ع) فهي تابعة ك (م) وتزيد عليها في الخطأ والسقط. وبهذا يسوغ ان نحدس ان (ع) فرع ل (م) و (م) فرع ل (س) و (س) اشف الثلاث ولهذا قدمتها على (م) مع انا بنينا في التعليقات على عكس ذلك.

 

‌‌التحقيق والتعليق

المسودة منقولة من الأصل الّذي هو النسخة الأولى (ك) أقرؤها وانظر ما قيد من اختلاف النسخ وأراجع عند الاشتباه - وحبذا لو اتسع الوقت للمراجعة مطلقا - ما عندي من المراجع المطبوعة والمخطوطة وكتبي المصورة وقد ذكرتها في مقدمة الإكمال ويؤسفنى ان لا أجد التحبير للمؤلف وأكثر مصادر الكتاب وهي تواريخ نيسابور وبخارا ومرو وغيرها - وأحرص على أن أثبت في المتن ما يتبين لي أو يغلب على ظني انه هو الّذي كان في نسخة المؤلف - وإن كان خطأ، وأنبه مع ذلك في التعليق على الصواب وعلى ما للتنبيه عليه فائدة ما من اختلاف النسخ وبعض مخالفات المراجع كاللباب وتاريخ بغداد والإكمال.

وفي التعليق مع ذلك زيادات أهمها زيادة نسب مستقلة اذكر النسبة ومصدرها وضبطها وبعض من ذكر بها صريحا أو قريبا منه أو احتمالا قريبا وهذا قليل جرأتي عليه ان المؤلف نفسه سلك هذه الطريق كما مرت
ত - প্রথম পাণ্ডুলিপি ব্যতীত অন্যগুলোতে রচনার তারিখ এবং লেখকের নাম প্রমাণিত হয়নি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাণ্ডুলিপি এই বাক্যের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়েছে: "আল-আনসাব-এর সমাপ্তি পূর্ণ হয়েছে এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সঙ্গীদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।"

ইয়া - প্রথম পাণ্ডুলিপিতে নির্ভুলতা এবং বিচ্যুতিহীনতার প্রাধান্য রয়েছে, যা অন্যগুলোতে প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়। তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে কেবল প্রথমটিতেই ভুল বা বিচ্যুতি ঘটেছে। ফলে প্রথমটির সাথে অবশিষ্ট তিনটির সম্পর্ক বেশ দূরবর্তী। অবশিষ্ট তিনটির ক্ষেত্রে আমি এখন পর্যন্ত দ্বিতীয়টিতে (সীন) এমন কোনো ভুল বা বিচ্যুতি পাইনি যা পরবর্তী দুটিতে নেই। বরং ঐ দুটিতে এমন কিছু ভুল ও বিচ্যুতি পাওয়া যায় যা দ্বিতীয়টিতে নেই। যেমন 'আল-বুজুরি', 'আল-ইয়াকুবি' এবং 'আল-বালবাকি' শিরোনামের অধীনে এমন কিছু শব্দসমষ্টি রয়েছে যা 'মীম' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে, অথচ সেগুলো 'কাফ' এবং 'সীন' পাণ্ডুলিপিতে বিদ্যমান। আর 'আইন' পাণ্ডুলিপিটি 'মীম'-এর অনুসারী, তবে এতে ভুল ও বিচ্যুতির পরিমাণ আরও বেশি। এর ওপর ভিত্তি করে এটি অনুমান করা সংগত যে, 'আইন' হলো 'মীম'-এর শাখা এবং 'মীম' হলো 'সীন'-এর শাখা। 'সীন' এই তিনটির মধ্যে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও নির্ভুল, তাই আমি এটিকে 'মীম'-এর ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছি, যদিও টীকাগুলোতে আমরা এর বিপরীত ভিত্তির ওপর কাজ করেছি।

 

‌‌সম্পাদনা ও টীকা

পাণ্ডুলিপির খসড়াটি মূল কপি তথা প্রথম পাণ্ডুলিপি (কাফ) থেকে নেওয়া হয়েছে। আমি সেটি পাঠ করি এবং পাণ্ডুলিপিগুলোর পাঠভেদ যা লিপিবদ্ধ হয়েছে তা পর্যবেক্ষণ করি। কোনো অস্পষ্টতা দেখা দিলে আমি আমার কাছে থাকা মুদ্রিত ও পাণ্ডুলিপি সংকলন এবং ফটোকপি করা কিতাবসমূহ পর্যালোচনা করি—যদি সার্বিক পর্যালোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যেত তবে কতই না ভালো হতো! এই উৎসগুলো আমি 'আল-ইকমাল'-এর ভূমিকায় উল্লেখ করেছি। আমার জন্য পরিতাপের বিষয় এই যে, আমি লেখকের 'আত-তাহবীর' এবং এই গ্রন্থের অধিকাংশ উৎস যেমন—নিশাপুর, বুখারা, মার্ভ ইত্যাদির ইতিহাস গ্রন্থগুলো খুঁজে পাইনি। আমি মূল পাঠে সেই বিষয়টিই সাব্যস্ত করতে সচেষ্ট থাকি যা আমার কাছে স্পষ্ট হয় অথবা আমার প্রবল ধারণা হয় যে এটিই লেখকের পাণ্ডুলিপিতে ছিল—চাই তা ভুলই হোক না কেন। এর পাশাপাশি আমি টীকায় সঠিক বিষয়টি এবং পাণ্ডুলিপির পাঠভেদ ও বিভিন্ন সূত্রের (যেমন: আল-লুবাব, তারিখ বাগদাদ এবং আল-ইকমাল) মধ্যকার অসংগতিগুলো চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করি।

এ ছাড়া টীকাগুলোতে কিছু সংযুক্তি রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বতন্ত্র বংশনামের (নিসবাহ) সংযোজন। আমি এখানে নিসবাহ, এর উৎস, এর সঠিক উচ্চারণ এবং যাদের নাম স্পষ্টভাবে বা তার কাছাকাছি অথবা প্রবল সম্ভাবনার সাথে উল্লিখিত হয়েছে তাদের বর্ণনা করি। এই বিষয়ে আমার সাহস করার কারণ হলো, লেখক নিজেই এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।