(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: -)
مسند الفاروق لابن كثير ت إمام القسم: كتب السنة
الكتاب: مسند الفاروق أمير المؤمنين أبي حفص عمر بن الخطاب رضي الله عنه وأقواله على أبواب العلم
المؤلف: أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي البصري ثم الدمشقي (ت 774 هـ)
المحقق: إمام بن علي بن إمام
الناشر: دار الفلاح، الفيوم - مصر
الكتاب إهداء من المحقق والناشر - جزاهما الله خيرا - للمكتبة الشاملة
الطبعة: الأولى، 1430 هـ - 2009 م
عدد الأجزاء: 3
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 29 ذو الحجة 1436
ইমাম কর্তৃক সম্পাদিত ইবনে কাসীরের মুসনাদুল ফারুক বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: আমীরুল মুমিনীন আবু হাফস উমর বিন আল-খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুসনাদ এবং ইলমের বিভিন্ন অধ্যায় অনুযায়ী তাঁর বাণীসমূহ
লেখক: আবু আল-ফিদা ইসমাঈল বিন উমর বিন কাসীর আল-কুরাশী আল-বাসরী অতঃপর আদ-দিমাশকী (মৃত্যু ৭৭৪ হিজরী)
সম্পাদক: ইমাম বিন আলী বিন ইমাম
প্রকাশক: দারুল ফালাহ, আল-ফাইয়ুম - মিশর
কিতাবটি সম্পাদক ও প্রকাশকের পক্ষ থেকে উপহার - আল্লাহ তাঁদের উভয়কে উত্তম প্রতিদান দিন - মাকতাবাতুশ শামিলার জন্য
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩০ হিজরী - ২০০৯ খ্রিস্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩
[কিতাবটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২৯ জিলহজ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১)
مسند الفاروق
أمير المؤمنين أبي حفص عمر بن الخطاب رضي الله عنه
وأقواله على أبواب العلم
للإمام الحافظ عماد الدين أبي الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدمشقي الشافعي
المتوفى سنة 774 هـ
يطبع كاملاً لأول مرَّة على نسخة بخط المؤلِّف
وعليها تعليقات بخط الحافظ ابن حجر
حقَّق نصوصه وخرَّج أحاديثه وعلَّق عليه
إمام بن علي بن إمام
মুসনাদুল ফারূক
আমীরুল মু'মিনীন আবী হাফস উমর ইবনুল খাত্তাব (রাদিআল্লাহু আনহু)
এবং ইলমের অধ্যায়সমূহের ওপর তাঁর বাণীসমূহ
ইমাম হাফিয ইমাদউদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাঈল ইবনে উমর ইবনে কাসীর আল-কুরাশী আদ-দামেশকী আশ-শাফিঈ-এর রচিত
মৃত্যু: ৭৭৪ হিজরী
লেখকের স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে মুদ্রিত
এবং এতে হাফিয ইবনে হাজারের স্বহস্তলিখিত টীকা রয়েছে
এর পাঠ্য বিশ্লেষণ, হাদীস যাচাই ও টীকা প্রদান করেছেন
ইমাম বিন আলী বিন ইমাম
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩)
الجزء الأول الطهارة - الفرائض
প্রথম খণ্ড: পবিত্রতা - ফরজসমূহ
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৯)
المقدمة
بسم الله الرحمن الرحيم
السلام عليكم ورحمة الله وبركاته.
وبعد، فإن من الأمور التي استفاضت واشتهرت عند أهل الإسلام أن أفضل هذه الأمة بعد نبيِّها هم أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم، أبرُّ هذه الأمة قلوبًا، وأعمقها علمًا، وأقلها تكلُّفًا.
وقد تنوعت النصوص الشرعية في ذِكر فضائلهم ومناقبهم، قال الله تعالى: {وَالسَّابِقُونَ الأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُواْ عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} [التوبة: 100].
وقال تعالى: {لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنِ الْمُؤْمِنِينَ إِذْ يُبَايِعُونَكَ تَحْتَ الشَّجَرَةِ فَعَلِمَ مَا فِي قُلُوبِهِمْ فَأَنزَلَ السَّكِينَةَ عَلَيْهِمْ وَأَثَابَهُمْ فَتْحًا قَرِيبًا} [الفتح: 18].
وقال تعالى: {مُّحَمَّدٌ رَّسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاء عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاء بَيْنَهُمْ تَرَاهُمْ رُكَّعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِم مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي
ভূমিকা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক।
অতঃপর, ইসলাম অনুসারীদের নিকট এটি একটি অত্যন্ত সুপ্রসিদ্ধ ও বহুল প্রচলিত বিষয় যে, এই উম্মতের নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পর উম্মতের শ্রেষ্ঠতম ব্যক্তিগণ হলেন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগণ। তাঁরা এই উম্মতের মধ্যে হৃদয়ের দিক থেকে সবচেয়ে পুণ্যবান, ইলমের দিক থেকে সবচেয়ে গভীর এবং লৌকিকতার দিক থেকে সবচেয়ে মুক্ত ছিলেন।
তাঁদের মর্যাদা ও গুণাবলি বর্ণনায় শরয়ী প্রমাণাদি বিবিধ ও বিস্তৃত। মহান আল্লাহ বলেন: "মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম ও অগ্রগামী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করে, আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তাঁরাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত করেছেন জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবে। এটাই মহা সাফল্য।" [আত-তাওবাহ: ১০০]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "আল্লাহ মুমিনদের প্রতি সন্তুষ্ট হলেন যখন তারা গাছের নিচে আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করছিল। তাদের অন্তরে যা ছিল তা তিনি জানতেন, তাই তিনি তাদের ওপর প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাদের পুরস্কার হিসেবে দিলেন এক আসন্ন বিজয়।" [আল-ফাতহ: ১৮]।
মহান আল্লাহ আরও বলেন: "মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত দয়ালু। আপনি তাদের রুকু ও সিজদারত অবস্থায় আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি অন্বেষণ করতে দেখবেন। তাদের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন রয়েছে। এটাই তাদের উদাহরণ..."
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১০)
التَّوْرَاةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنْهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا} [الفتح: 29].
وفي «الصحيحين» من حديث ابن مسعود رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «خيرُ أمَّتي القَرْنُ الذين يَلُوني، ثم الذين يَلُونَهم، ثم الذين يَلُونَهم» (1).
وفي «صحيح مسلم» من حديث أبي موسى الأشعري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «النجومُ أَمَنةٌ للسماءِ، فإذا ذهبت النجومُ أتى السماءَ ما توعَدُ، وأنا أَمَنةٌ لأصحابي، فإذا ذهبتُ أتى أصحابي ما يوعَدون، وأصحابي أَمَنةٌ لأُمَّتي، فإذا ذهب أصحابي أتى أُمَّتي ما يوعَدون» (2).
وفي «الصحيحين» من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لا تسبُّوا أحدًا من أصحابي، فإنَّ أحدَكم لو أنفق مثلَ أُحُدٍ ذَهَبًا، ما أدرك مُدَّ أحدِهِم ولا نَصِيفَه» (3).
ومن بين هؤلاء الصَّحْب الكرام الذي جاءت النصوص في ذِكر مناقبه وفضائله: الخليفة الراشد عمر بن الخطاب رضي الله عنه، فمن ذلك:
--------------------------------------------
তাওরাতে তাদের উদাহরণ এবং ইঞ্জিলে তাদের উদাহরণ হলো একটি চারাগাছের মতো, যা তার অঙ্কুর বের করল, অতঃপর তাকে শক্তিশালী করল, অতঃপর তা পুষ্ট হলো, এরপর তা তার কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠল, যা চাষীদেরকে আনন্দিত করে, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করতে পারেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন। [আল-ফাতহ: ২৯]
এবং 'সহীহাইন'-এ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার উম্মতের মধ্যে সর্বোত্তম হচ্ছে সেই প্রজন্মের লোক যারা আমার নিকটবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী, তারপর যারা তাদের পরবর্তী।" (১)
এবং 'সহীহ মুসলিম'-এ আবু মুসা আল-াশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নক্ষত্ররাজি আকাশের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, যখন নক্ষত্ররাজি বিলীন হয়ে যাবে তখন আকাশের কাছে তা আসবে যার প্রতিশ্রুতি তাকে দেওয়া হয়েছে। আর আমি আমার সাহাবীদের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, যখন আমি চলে যাব তখন আমার সাহাবীদের কাছে তা আসবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে। আর আমার সাহাবীগণ আমার উম্মতের জন্য নিরাপত্তাস্বরূপ, যখন আমার সাহাবীগণ চলে যাবেন তখন আমার উম্মতের কাছে তা আসবে যার প্রতিশ্রুতি তাদের দেওয়া হয়েছে।" (২)
এবং 'সহীহাইন'-এ আবু সাঈদ আল-খুদরি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত হাদিসে রয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমরা আমার সাহাবীদের কাউকে গালি দিও না। কেননা তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় সমপরিমাণ স্বর্ণও ব্যয় করে, তবুও তাদের কারো এক 'মুদ' (এক অঞ্জলি পরিমাণ) বা তার অর্ধেক পরিমাণ সওয়াবের স্তরেও পৌঁছাতে পারবে না।" (৩)
সেই সম্মানিত সাহাবীগণের মধ্যে একজন, যাঁর গুণাবলি ও ফযীলত বর্ণনায় অসংখ্য নস (দলিল) এসেছে, তিনি হলেন: খলিফায়ে রাশেদ ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু। তাঁর সেসব ফযীলতের মধ্য থেকে কিছু হলো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১১)
1 - ما ثبت في «الصحيحين» من حديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بَيْنا أنا نائمٌ إذ رأيتُ قَدَحًا أُتِيتُ به، فيه لبنٌ، فشربتُ منه حتى إني لأرى الرِّيَّ يجري في أظفاري، ثم أَعطيتُ فَضْلِي عُمرَ بنَ الخطابِ»، قالوا: فما أَوَّلتَ ذلك، يا رسولَ اللهِ؟ قال: «العلمَ» (1).
2 - ومنها: ما ثبت في «الصحيحين» من حديث أبي سعيد الخدري رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بَيْنا أنا نائمٌ رأيتُ الناسَ يُعرَضون عليَّ وعليهم قُمُصٌ، منها ما يَبلغُ الثُّدِيَّ، ومنها ما يَبلغُ دون ذلك، ومرَّ عُمرُ بنُ الخطابِ، وعليه قميصٌ يَجُرُّهُ»، قالوا: فما أَوَّلتَ ذلك، يا رسولَ اللهِ؟ قال: «الدِّينَ» (2).
3 - ومنها: ما ثبت في «الصحيحين» من حديث ابن عمر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «أُريتُ كأني أنزع بدلوِ بَكْرةٍ على قليب، فجاء أبو بكر فنزع ذنوبًا أو ذنوبين، فنزع نزعًا ضعيفًا، والله تبارك وتعالى يغفر له، ثم جاء عمر فاستقى فاستحالت غَرْبًا، فلم أر عبقريًا يفري فَرِيَّه، حتى رَوِيَ الناس وضربوا العَطَن» (3).
--------------------------------------------
১ - যা ‘সহীহাইন’-এ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম, এমতাবস্থায় দেখলাম যে আমার কাছে একটি পেয়ালা আনা হয়েছে যাতে দুধ ছিল। আমি তা থেকে পান করলাম, এমনকি আমি তৃপ্তি (তথা দুধের প্রভাব) আমার নখ দিয়ে বের হতে দেখলাম। এরপর আমি আমার উদ্বৃত্ত অংশ উমর ইবনুল খাত্তাবকে প্রদান করলাম।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন: "জ্ঞান।" (১)
২ - এবং তার মধ্যে রয়েছে: যা ‘সহীহাইন’-এ আবু সাঈদ আল-খুদরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম, তখন দেখলাম যে মানুষকে আমার সামনে পেশ করা হচ্ছে এবং তাদের গায়ে কামিস (জামা) রয়েছে। তাদের কারো জামা বুক পর্যন্ত পৌঁছেছে, আর কারো তার চেয়ে কম। এমতাবস্থায় উমর ইবনুল খাত্তাব অতিক্রম করলেন এবং তাঁর গায়ে এমন একটি কামিস ছিল যা তিনি (দীর্ঘ হওয়ার কারণে) টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এর কী ব্যাখ্যা করেছেন? তিনি বললেন: "দ্বীন।" (২)
৩ - এবং তার মধ্যে রয়েছে: যা ‘সহীহাইন’-এ ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) হতে বর্ণিত হাদিসে সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "আমাকে স্বপ্ন দেখানো হলো যেন আমি একটি কূপ হতে বালতি দিয়ে পানি তুলছি। এরপর আবু বকর আসলেন এবং তিনি এক বালতি বা দুই বালতি পানি তুললেন, তবে তাঁর পানি তোলায় কিছুটা দুর্বলতা ছিল—আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন। এরপর উমর আসলেন এবং পানি তোলা শুরু করলেন, তখন সেই বালতিটি একটি বিশাল বালতিতে রূপান্তরিত হলো। আমি কোনো শক্তিশালী ও দক্ষ ব্যক্তিকে তাঁর মতো বিস্ময়করভাবে কাজ করতে দেখিনি, যতক্ষণ না সকল মানুষ তৃপ্ত হলো এবং তারা তাদের উটগুলোকে পানি পানের স্থানে বিশ্রাম করালো।" (৩)
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১২)
4 - ومنها: ما ثبت في «الصحيحين» من حديث سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «إيهًا يا ابنَ الخطابِ، والذي نفسي بيده ما لَقِيكَ الشيطانُ سالكًا فجًّا قطُّ إلا سلك فجًّا غيرَ فجِّك» (1).
5 - ومنها: ما ثبت في «الصحيحين» من حديث أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: قوله صلى الله عليه وسلم: «إنه قد كان فيما مضى قبلَكم من الأمم محدَّثون، وإنَّه إنْ كان في أمتي هذه منهم، فإنه عمرُ بنُ الخطابِ» (2).
بل بَلَغ من عظيم مكانته رضي الله عنه أن الوحي نزل بتصديقه في عدَّة من الوقائع، فمن ذلك:
1 - ما ثبت في «صحيح البخاري» (402) عن أنس بن مالك رضي الله عنه: قال عمر رضي الله عنه: وافقت ربِّي في ثلاث: قلت: يا رسول الله، لو اتَّخذنا من مقام إبراهيم مصلَّى، فنزلت: {وَاتَّخِذُواْ مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلّى} (3)، وآية الحجاب، قلت: يا رسولَ الله، لو أمرتَ نساءَك أن يحتجبن، فإنه يكلِّمهن البرُّ والفاجرُ، فنزلت آية الحجاب، واجتمع نساءُ النبيِّ صلى الله عليه وسلم في الغَيرة عليه، فقلت لهنَّ: {عَسَى رَبُّهُ إِن طَلَّقَكُنَّ أَن يُبْدِلَهُ أَزْوَاجًا خَيْرًا مِّنكُنَّ} (4)، فنزلت هذه الآية.
2 - ومنها: ما ثبت في «الصحيحين» من حديث عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال: لما تُوفي عبد الله بن أُبَي ابن سَلُول جاء ابنُه عبد الله بن عبد الله إلى
--------------------------------------------
৪ - এগুলোর মধ্যে রয়েছে: ‘সহীহাইন’-এ সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «হে ইবনুল খাত্তাব! সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, শয়তান যখনই আপনাকে কোনো পথে চলতে দেখে, তখনই সে আপনার পথ ছেড়ে অন্য পথ ধরে» (১)।
৫ - এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: ‘সহীহাইন’-এ আবু হুরায়রা (রা.) থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: «নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে এমন কিছু লোক ছিলেন যারা ইলহামপ্রাপ্ত হতেন, আর আমার এই উম্মতের মধ্যে যদি তাঁদের কেউ থাকে, তবে সে হলো উমর ইবনুল খাত্তাব» (২)।
বরং তাঁর (রা.) মর্যাদার মাহাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, বেশ কিছু ঘটনায় তাঁর সমর্থনেই ওহি নাযিল হয়েছিল, যার মধ্যে রয়েছে:
১ - ‘সহীহ বুখারি’তে (৪০২) আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে: উমর (রা.) বলেন: আমি তিনটি বিষয়ে আমার রবের সংগতি লাভ করেছি; আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা যদি মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করতাম, তখন নাযিল হলো: {আর তোমরা মাকামে ইবরাহিমকে সালাতের স্থান হিসেবে গ্রহণ করো} (৩)। আর হিজাবের (পর্দার) আয়াত; আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল, আপনি যদি আপনার স্ত্রীদের পর্দার আদেশ দিতেন, কারণ তাঁদের সাথে ভালো ও মন্দ উভয় ধরনের লোকই কথা বলে, তখন হিজাবের আয়াত নাযিল হলো। আর যখন নবী (সা.)-এর স্ত্রীগণ তাঁর প্রতি ঈর্ষাবশত একত্রিত হলেন, তখন আমি তাঁদের বললাম: {যদি তিনি তোমাদের তালাক দেন, তবে তাঁর রব সম্ভবত তোমাদের পরিবর্তে তাঁকে তোমাদের চেয়ে উত্তম স্ত্রী দান করবেন} (৪), তখন এই আয়াতটি নাযিল হলো।
২ - এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে: ‘সহীহাইন’-এ আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) থেকে যা সাব্যস্ত হয়েছে, তিনি বলেন: যখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সালুল মৃত্যুবরণ করল, তখন তার পুত্র আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ আসলেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৩)
رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فسأله أن يعطيه قميصَه أن يكفِّن فيه أباه، فأعطاه، ثم سأله أن يُصلِّي عليه، فقام رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم ليصلِّي عليه، فقام عمرُ فأخذ بثوبِ رسولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسولَ اللهِ، أتصلِّي عليه وقد نهاك اللهُ أن تصلِّي عليه؟ فقال رسول اللهِ صلى الله عليه وسلم: ((إنما خيَّرني اللهُ، فقال: {استغفر لهم أو لا تستغفر لهم إن تستغفر لهم سبعين مرة} وسأزيدُ على سبعين)). قال: إنه منافقٌ! فصلَّى عليه رسولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم، وأنزل الله عز وجل: {ولا تصل على أحد منهم مات أبدا ولا تقم على قبره} (1).
وهذا الكتاب الذي بين يديك صنَّفه الإمام الحافظ إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدمشقي الشافعي ليجمع لك فيه ما استطاع إليه سبيلاً من فقه هذا الصحابي الجليل، سواء في ذلك ما رواه عن النبي صلى الله عليه وسلم، أو ما أفتى به رضي الله عنه.
ولفِقه عمر رضي الله عنه مزية خاصة، فقد طالت مدة خلافته، واتَّسعت رُقعة الإسلام في عهده، وكثُرَت الوقائع والمستجدات، فاحتاج إلى القول فيها، زد على هذا أن اللهَ تبارك تعالى حَبَاه بِثُلَّة من مشيخة المهاجرين والأنصار، فإذا نزلت بالمسلمين نازلةٌ جَمَعهم واستشارهم، فكانت فتاواه لا تمثل رأيه فحسب، بل تمثل رأي الجماعة من الصدر الأول.
إذا تبين لك هذا؛ عرفتَ قدر هذا العمل الذي بين يديك، فشَكَرت لمؤلفه صنيعه، ودعوت الله أن يجزيه خيرًا على ما قام به من جمعٍ لفقه هذا
--------------------------------------------
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে তিনি আবেদন করলেন যে, তাকে যেন তাঁর কামিস প্রদান করা হয় যাতে তিনি তাতে তাঁর পিতাকে কাফন দিতে পারেন। তিনি তাকে তা দান করলেন। এরপর তিনি তাঁর কাছে আবেদন করলেন তার জানাযার সালাত আদায় করার জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। তখন উমর উঠে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাপড় ধরে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি তার জানাযার সালাত আদায় করবেন, অথচ আল্লাহ আপনাকে তার জানাযার সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আল্লাহ আমাকে ইখতিয়ার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: {আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা না করুন, আপনি যদি সত্তর বারও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন...} আর আমি সত্তরের অধিকবার করব।" তিনি বললেন: সে তো একজন মুনাফিক! এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করলেন। তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা নাযিল করলেন: {তাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জানাযার সালাত আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশে দাঁড়াবেন না} (১)।
এবং আপনার সামনে থাকা এই গ্রন্থটি ইমাম হাফেজ ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ী সংকলন করেছেন, যাতে তিনি এই মহান সাহাবীর ফিকহ থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে তা আপনার জন্য সংগ্রহ করতে পারেন; হোক তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে তাঁর বর্ণিত কোনো হাদিস, অথবা তাঁর (উমরের) প্রদানকৃত কোনো ফতোয়া।
উমর (রা.)-এর ফিকহের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য রয়েছে, কেননা তাঁর খিলাফতের মেয়াদ দীর্ঘ ছিল এবং তাঁর যুগে ইসলামের সীমানা বিস্তৃত হয়েছিল। বহু নতুন ঘটনা ও পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছিল, যার ফলে সেগুলোতে রায় প্রদানের প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল। এর সাথে যোগ করুন যে, আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তায়ালা তাঁকে মুহাজির ও আনসারদের একদল প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ দান করেছিলেন। যখনই মুসলমানদের ওপর কোনো নতুন সমস্যা আসত, তিনি তাদের একত্রিত করতেন এবং তাদের সাথে পরামর্শ করতেন। ফলে তাঁর ফতোয়াগুলো কেবল তাঁর ব্যক্তিগত মতকে নয়, বরং প্রথম যুগের জামাতের মতকে উপস্থাপন করত।
যদি আপনার কাছে এটি স্পষ্ট হয়ে থাকে, তবে আপনি আপনার সামনে থাকা এই কাজটির মর্যাদা বুঝতে পারবেন। ফলে আপনি এর লেখকের কর্মের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন এবং আল্লাহর কাছে দুআ করবেন যাতে তিনি তাকে এই মহান ব্যক্তির ফিকহ সংগ্রহের জন্য উত্তম প্রতিদান দান করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৪)
الصحابي الجليل، فليس من السهل أن تتتبَّع ما في بطون الكتب لتقف هنا أو هناك على فتوى أو رأي في مسألة، إن هذا العمل الذي بين يديك هو ثمرة رحلة طويلة وشاقة، لا يصبر عليها إلا رجلٌ يريد بعمله اللهَ والدارَ الآخرةَ، فجزى اللهُ مؤلفَه خيرًا، وجعل عمله في موازين حسناته، وجمعنا به في دار كرامته.
وكتب
إمام بن علي بن إمام
في العاشر من شهر شعبان لعام 1425 هـ
(الرياض) محمول: 00966559334920
منزل: 0096614490865
(مصر) هاتف: 0020822241220
ثم أعدت النظر فيه حتى تم بحمد الله تعالى في العاشر من شهر رمضان المبارك لعام 1430 هـ بدار الفلاح بالفيوم
মহান সাহাবী; কোনো মাসআলায় কোনো ফতোয়া বা অভিমত জানার জন্য কিতাবসমূহের অভ্যন্তরে অনুসন্ধান চালানো কোনো সহজ কাজ নয়। আপনার সম্মুখে বিদ্যমান এই কর্মটি এক দীর্ঘ ও কষ্টসাধ্য সফরের ফসল, যার ওপর কেবল এমন ব্যক্তিই ধৈর্য ধারণ করতে পারেন যিনি তাঁর আমলের দ্বারা আল্লাহ ও পরকাল কামনা করেন। সুতরাং আল্লাহ এর লেখককে উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁর এই কাজকে তাঁর নেক আমলের পাল্লায় সংযুক্ত করুন এবং তাঁর সম্মান ও মেহমানদারির আবাসে আমাদের তাঁর সাথে একত্রিত করুন।
লিখেছেন
ইমাম বিন আলী বিন ইমাম
১৪২৫ হিজরি সনের ১০ই শাবান মাসে
(রিয়াদ) মোবাইল: ০০৯৬৬৫৫৯৩৩৪৯২০
বাসা: ০০৯৬৬১৪৪৯০৮৬৫
(মিশর) ফোন: ০০২০৮২২২৪১২২০
অতঃপর আমি এতে পুনরায় দৃষ্টিপাত করেছি, পরিশেষে আল্লাহ তাআলার প্রশংসায় এটি সম্পন্ন হয়েছে ১৪৩০ হিজরি সনের ১০ই মুবারক রমজান মাসে, ফাইয়ুমের দারুল ফালাহ-তে।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৫)
منهج التحقيق
يتلخص عملي في هذا الكتاب على النحو التالي:
1 - الترجمة للمؤلف، مع ذِكر بعض شيوخه، وتلاميذه، وثناء العلماء عليه، وذِكر أهم مصنَّفاته.
2 - إثبات صحَّة نسبة الكتاب للمؤلف.
3 - منهج المؤلِّف في كتابه.
4 - مزايا الكتاب.
5 - موارد المؤلِّف في كتابه.
6 - وصف النسخة الخطية المعتمدة في التحقيق.
7 - منهج التحقيق.
8 - نقد الطبعة الأولى للكتاب.
9 - شكر وعرفان.
তাহকীক পদ্ধতি
এই গ্রন্থে আমার কাজ নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপিত হলো:
১ - লেখকের জীবনী, সাথে তাঁর উল্লেখযোগ্য কয়েকজন উস্তাদ ও ছাত্রের বর্ণনা, তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা এবং তাঁর গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলীর উল্লেখ।
২ - লেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্পৃক্ততার বিশুদ্ধতা প্রমাণ।
৩ - গ্রন্থে লেখকের অনুসৃত পদ্ধতি।
৪ - গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ।
৫ - গ্রন্থে লেখকের তথ্যসূত্রসমূহ।
৬ - সম্পাদনায় (তাহকীক) নির্ভরকৃত পাণ্ডুলিপির বিবরণ।
৭ - সম্পাদনা (তাহকীক) পদ্ধতি।
৮ - গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের পর্যালোচনা।
৯ - কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الأول: التعريف بالمؤلِّف (1)
هو الإمام الحافظ المؤرِّخ المفسِّر عماد الدين أبو الفداء إسماعيل بن عمر بن كثير القرشي الدمشقي الشافعي.
مولده:ولد الحافظ ابن كثير رحمه الله في سنة 700 هـ، فيما قاله الحافظ ابن حجر، وابن العماد، والسيوطي.
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: লেখকের পরিচয় (১)
তিনি হলেন ইমাম, হাফিজ, ঐতিহাসিক ও মুফাসসির ইমাদউদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল বিন উমর বিন কাসীর আল-কুরাশী আদ-দিমাশকী আশ-শাফিঈ।
তাঁর জন্ম:হাফিজ ইবনে হাজার, ইবনুল ইমাদ এবং আস-সুয়ূতী যেমনটি বলেছেন, হাফিজ ইবনে কাসীর (রাহিমাহুল্লাহ) ৭০০ হিজরি সালে জন্মগ্রহণ করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وذهب ابن تغري بردي، والدَّاوودي إلى أن ولادته كانت في سنة 701 هـ (1).
حياته العلمية:حفظ القرآن الكريم، وهو ابن إحدى عشرة سنة على شيخه شمس الدين البعلبكي الحنبلي، المتوفى سنة 730 هـ.
وسمع «صحيح مسلم» في تسعة مجالس بقراءة الوزير أبي القاسم الأزدي الأندلسي على الشيخ نجم الدين القسطلاني.
ودَرَس الفقه على الشيخ ابن الفركاح، وابن قاضي شهبة.
وحفظ «التنبيه» للشيرازي، و «مختصر ابن الحاجب».
وقرأ «تهذيب الكمال في أسماء الرجال» على شيخه الحافظ أبي الحجاج المزِّي.
ودَرَس أصول الفقه على أبي البقاء الأصفهاني.
ودَرَس النحو على عبد الله الزبيدي النحوي.
وتولَّى التدريس في دار الحديث الأشرفية، وتربة أم الصالح، الصالحية (2).
مشايخه:من أبرز مشايخه الذين تلقَّى عنهم العلم:
1 - ابن غيلان -شيخه في القرآن-:
قال عنه ابن كثير: الشيخ الصالح العابد، شرف الدين أبي الحسن بن حسين بن غيلان البعلبكي الحنبلي، إمام مسجد السلالين بدار البطيخ العتيقة، سمع الحديث وأسمعه، وكان يقرئ القرآن طرفي النهار، وعليه ختمت القرآن في سنة أحد عشر وسبعمائة، وكان من الصالحين الكبار، والعُبَّاد الأخيار، توفي يوم السبت سادس صفر، وصلِّي عليه بالجامع، ودُفن بباب الصغير، وكانت جنازته حافلة (3).
2 - ابن اللبَّاد -شيخه في القراءات-:
--------------------------------------------
ইবনে তাগরি বারদি এবং আদ-দাউদি এই মত ব্যক্ত করেছেন যে, তাঁর জন্ম ৭০১ হিজরি সনে হয়েছিল (১)।
তাঁর জ্ঞানগত জীবন:তিনি এগারো বছর বয়সে তাঁর শিক্ষক শামসুদ্দিন আল-বালবাক্কি আল-হাম্বলি (মৃত্যু ৭৩০ হি.)-এর নিকট পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেন।
এবং তিনি শেখ নাজমুদ্দিন আল-কাসতালানির নিকট উজির আবু আল-কাসিম আল-আজদি আল-আন্দালুসির পাঠের মাধ্যমে নয়টি মজলিসে ‘সহীহ মুসলিম’ শ্রবণ করেন।
তিনি শেখ ইবনুল ফিরকাহ এবং ইবনে কাজি শুহবার নিকট ফিকহ অধ্যয়ন করেন।
তিনি শিরাজির ‘আত-তানবিহ’ এবং ‘মুখতাসার ইবনুল হাজিব’ মুখস্থ করেন।
তিনি তাঁর শিক্ষক হাফেজ আবুল হাজ্জাজ আল-মিজ্জির নিকট ‘তাজিবুল কামাল ফি আসমাইর রিজাল’ পাঠ করেন।
তিনি আবুল বাকা আল-আসবাহানির নিকট উসুলুল ফিকহ অধ্যয়ন করেন।
তিনি আবদুল্লাহ আজ-জুবাইদি আন-নাহুবির নিকট নাহু (ব্যাকরণ) অধ্যয়ন করেন।
এবং তিনি দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ এবং তুরবাতু উম্মিস সালিহ আস-সালিহিয়্যাহ-তে অধ্যাপনার দায়িত্ব পালন করেন (২)।
তাঁর শিক্ষকবৃন্দ:যাঁদের কাছ থেকে তিনি জ্ঞান অর্জন করেছেন, তাঁদের মধ্যে বিশিষ্ট শিক্ষকগণ হলেন:
১ - ইবনে গাইলান —কুরআনের ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষক—:
তাঁর সম্পর্কে ইবনে কাসির বলেন: নেককার ইবাদতকারী শেখ শরফুদ্দিন আবুল হাসান বিন হুসাইন বিন গাইলান আল-বালবাক্কি আল-হাম্বলি, প্রাচীন দারুল বাতিখ-এর সিলালিইন মসজিদের ইমাম। তিনি হাদিস শ্রবণ করেছেন এবং বর্ণনা করেছেন। তিনি দিনের দুই প্রান্তে কুরআন পাঠ করাতেন এবং আমি তাঁর নিকট ৭১১ হিজরি সনে কুরআন খতম সম্পন্ন করেছি। তিনি মহান নেককার এবং পুণ্যবান ইবাদতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি শনিবার ৬ই সফর ইন্তেকাল করেন। জামে মসজিদে তাঁর জানাজা সম্পন্ন হয় এবং বাবুস সাগিরে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় মানুষের প্রচুর সমাগম হয়েছিল (৩)।
২ - ইবনে আল-লাব্বাদ —কিরাআতের ক্ষেত্রে তাঁর শিক্ষক—:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قال عنه ابن كثير: قرأت عليه شيئًا من القراءات، وكان متقلِّلاً من الدنيا، لا يقتني شيئًا، وليس له بيت ولا خزانة، إنما كان يأكل في السوق وينام في الجامع، توفي في مستهل صفر وقد جاوز السبعين، ودُفن في باب الفراديس رحمه الله (1).
3 - ابن الشِّحنة:
قال عنه ابن كثير: الشيخ الكبير المسنِد المعمَّر الرُّحْلة شهاب الدين أبو العباس أحمد بن أبي طالب بن نعمة بن حسن بن علي بن بيان الديرمقرني، ثم الصالحي، الحجار، المعروف بابن الشِّحنة، سمع البخاري علي الزبيدي سنة ثلاثين وستمائة بقاسيون، وإنما ظهر سماعه سنة ست وسبعمائة، ففرح بذلك المحدثون، وأكثروا السماع عليه، فقرئ البخاري عليه نحوًا من ستين مرة وغيره، وسمعنا عليه بدار الحديث الأشرفية في أيام الشتويات نحوًا من خمسمائة جزء بالإجازات والسماع (2).
--------------------------------------------
ইবনে কাসীর তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: আমি তাঁর কাছে কেরাআতের কিছু অংশ পড়েছি। তিনি দুনিয়ার প্রতি নির্লিপ্ত ছিলেন, কোনো সম্পদ জমা করতেন না। তাঁর কোনো ঘরবাড়ি বা ধনভাণ্ডার ছিল না। তিনি কেবল বাজারে খাবার খেতেন এবং জামে মসজিদে ঘুমাতেন। তিনি সফর মাসের শুরুতে সত্তর বছর পার করার পর ইন্তেকাল করেন এবং তাঁকে বাবুল ফারাদিসে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন (১)।
৩ - ইবনুশ শিহনা:
ইবনে কাসীর তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: মহান শায়খ, প্রবীণ মুসনিদ, দীর্ঘজীবী পর্যটক শিহাবুদ্দিন আবুল আব্বাস আহমাদ বিন আবি তালিব বিন নি'মাহ বিন হাসান বিন আলি বিন বয়ান আদ-দাইরমুকরিনি, অতঃপর আস-সালিহি, আল-হাজ্জার—যিনি ইবনুশ শিহনা নামে পরিচিত। তিনি ৬৩০ হিজরি সনে কাসিউন পাহাড়ে যুবাইদির নিকট বুখারি শ্রবণ করেছেন। তবে তাঁর এই শ্রবণের বিষয়টি ৭০৬ হিজরি সনে প্রকাশ পায়, যার ফলে মুহাদ্দিসগণ আনন্দিত হন এবং তাঁর নিকট প্রচুর শ্রবণ করেন। তাঁর নিকট প্রায় ষাটবার বুখারি ও অন্যান্য গ্রন্থ পাঠ করা হয়েছে। আমরা শীতকালীন সময়ে 'দারুল হাদিস আল-আশরাফিয়্যাহ'-তে ইজাজত ও সামা'র মাধ্যমে তাঁর নিকট প্রায় পাঁচশত জুজ (অংশ) হাদিস শুনেছি (২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ১৯)
4 - برهان الدين الفَزَاري:
قال عنه ابن كثير: هو الشيخ الإمام العالم العلامة، شيخ المذهب وعَلَمه، ومفيد أهله، شيخ الإسلام، مفتي الفرق، بقيَّة السَّلَف، برهان الدين أبو إسحاق إبراهيم، ابن الشيخ العلامة تاج الدين أبي محمد عبد الرحمن، ابن الشيخ الإمام المقرئ المفتي برهان الدين أبي إسحاق إبراهيم بن سباع بن ضياء الفزاري المصري الشافعي، ولد في ربيع الأول سنة ستين وستمائة، وسمع الحديث، واشتغل على أبيه، وأعاد في حلقته، وبرع وساد أقرانه وسائر أهل زمانه من أهل مذهبه في دراية المذهب ونقله وتحريره، ثم كان في منصب أبيه في التدريس بالبادرائية، وأشغل الطلبة بالجامع الأموي فانتفع به المسلمون، وقد عُرضت عليه المناصب الكبار فأباها
… ، وكان مقبلاً على شأنه، عارفًا بزمانه، مستغرقًا أوقاته في الاشتغال والعبادة ليلاً ونهارًا، كثير المطالعة، وإسماع الحديث، وقد سمعنا عليه «صحيح مسلم» وغيره
… ، وله تعليق كثير على «التنبيه»، فيه من الفوائد ما ليس يوجد في غيره، وله تعليق على «مختصر ابن الحاجب في أصول الفقه»، وله مصنَّفات في غير ذلك كبار، وبالجملة فلم أر شافعيًا من مشايخنا مثله، كان حسن الشكل، عليه البهاء والجلالة والوقار، حسن الأخلاق، فيه حدَّة، ثم يعود قريبًا، وكَرَمه زائد، وإحسانه إلى الطلبة كثير، وكان لا يقتني شيئًا
… ، توفي بُكرة يوم الجمعة سابع جمادى الأولى بالمدرسة المذكورة، وصلِّي عليه عقب الجمعة بالجامع، وحُملت جنازته على الرءوس وأطراف الأنامل، وكانت حافلة، ودُفن عند أبيه وعمه وذويه بباب الصغير رحمه الله تعالى (1).
--------------------------------------------
৪ - বুরহানউদ্দীন আল-ফাজারি:
ইবনে কাসীর তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: তিনি হলেন শায়খ, ইমাম, বিজ্ঞ পণ্ডিত, আল্লামা, মাযহাবের শায়খ ও তার পতাকাবাহী এবং মাযহাবপন্থীদের উপকারকারী, শায়খুল ইসলাম, বিভিন্ন ফিরকার মুফতি, সালাফদের উত্তরসূরি, বুরহানউদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহীম। তিনি আল্লামা শায়খ তাজউদ্দীন আবু মুহাম্মদ আবদুর রহমানের পুত্র, যিনি শায়খ, ইমাম, ক্বারী ও মুফতি বুরহানউদ্দীন আবু ইসহাক ইবরাহীম ইবনে সিবাহ ইবনে দিয়া আল-ফাজারি আল-মিসরি আল-শাফেয়ীর পুত্র ছিলেন। ৬৬০ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হাদীস শ্রবণ করেছেন এবং তাঁর পিতার নিকট জ্ঞানচর্চায় আত্মনিয়োগ করেছেন। তিনি তাঁর পিতার পাঠচক্রে পুনরাবৃত্তি (মুয়ীদ) করার দায়িত্ব পালন করতেন। তিনি তাঁর সমসাময়িকদের এবং তৎকালীন তাঁর মাযহাবের সকল অনুসারীদের মধ্যে মাযহাবের গভীর জ্ঞান, বর্ণনা এবং তা সংকলন ও সম্পাদনায় পারদর্শিতা অর্জন করেন ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়ে বাদ্রাইয়্যাহ মাদরাসায় শিক্ষকতার পদে আসীন হন এবং উমাইয়া জামে মসজিদে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে লিপ্ত থাকেন, যার ফলে মুসলিমগণ তাঁর দ্বারা উপকৃত হন। তাঁর নিকট অনেক উচ্চপদস্থ পদের প্রস্তাব করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন
… তিনি স্বীয় কার্যে একনিষ্ঠ ছিলেন, নিজ যুগ সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং দিবা-রাত্রি জ্ঞানচর্চা ও ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। তিনি প্রচুর অধ্যয়ন করতেন এবং হাদীস বর্ণনা করতেন। আমরা তাঁর নিকট ‘সহীহ মুসলিম’ ও অন্যান্য কিতাব শ্রবণ করেছি
… ‘আত-তানবীহ’ গ্রন্থের ওপর তাঁর অনেক টীকা রয়েছে, যাতে এমন সব হিতকর বিষয় রয়েছে যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। উসুলুল ফিকহের ওপর ‘মুখতাসার ইবনুল হাজিব’-এর ওপরও তাঁর টীকা রয়েছে। এ ছাড়াও তাঁর অন্যান্য অনেক বৃহৎ গ্রন্থ রয়েছে। সারকথা হলো, আমি আমাদের শায়খদের মধ্যে তাঁর মতো কোনো শাফেয়ী আলেম দেখিনি। তিনি দেখতে সুন্দর ছিলেন, তাঁর অবয়বে দীপ্তি, গাম্ভীর্য ও মর্যাদা বিদ্যমান ছিল। তাঁর চরিত্র ছিল অত্যন্ত মাধুর্যপূর্ণ, মেজাজে কিছুটা উগ্রতা থাকলেও দ্রুতই তা শান্ত হয়ে যেত। তাঁর উদারতা ছিল অসীম এবং ছাত্রদের প্রতি তাঁর অনুগ্রহ ছিল প্রচুর। তিনি পার্থিব কোনো কিছু সঞ্চয় করে রাখতেন না
… জুমাদাল উলা মাসের সাত তারিখ শুক্রবার সকালে উল্লিখিত মাদরাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন। জুমার নামাজের পর জামে মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তাঁর জানাজার খাটিয়া মানুষের মাথার ওপর এবং আঙ্গুলের ডগায় বহন করা হয়েছিল, যা ছিল জনাকীর্ণ। তাঁকে তাঁর পিতা, চাচা ও আত্মীয়স্বজনের পাশে বাবুস সাগীরে দাফন করা হয়, আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন (১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২০)
5 - الإمام المزي: جمال الدين أبو الحجاج يوسف بن الزكي عبد الرحمن بن يوسف القضاعي الدمشقي الشافعي، المتوفى سنة 742 هـ.
6 - شيخ الإسلام ابن تيمية:
قال ابن قاضي شهبة: لازم ابن تيمية، وعُرف بصحبته (1).
وقال ابن حجر: وأَخَذ عن ابن تيمية، ففُتن بحبِّه، وامتُحن لسببه (2).
7 - الإمام الذهبي: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز التركماني الدمشقي، المتوفى سنة 748 هـ.
عقيدته:كان -رحمه الله تعالى- سَلَفيَّ العقيدة، ولو لم يكن لدينا دليلٌ على صحة ذلك إلا تتلمذه لشيخ الإسلام ابن تيمية لكان كافيًا، ناهيك عن كُتُبه التي تشهد بصحة هذه النسبة.
فمن ذلك: تقريره لعقيدة السَّلَف في باب الأسماء والصفات:
* فقد ذَكَر في «تفسيره» عند قوله تعالى: {ثم استوى على العرش} (3) ما نصُّه: للناس في هذا المقام مقالات كثيرة جدًّا، ليس هذا موضع بسطها، وإنما نسلك في هذا المقام مذهب السلف الصالح، مالك، والأوزاعي، والثوري، والليث بن سعد، والشافعي، وأحمد، وإسحاق بن راهويه، وغيرهم من أئمة المسلمين قديمًا وحديثًا، وهو إمرارها كما جاءت، من غير تكييف ولا تشبيه ولا تعطيل، والظاهر المتبادر إلى أذهان المشبهين منفي عن الله، فإن الله لا يُشبهه شيء من خَلْقه،
--------------------------------------------
৫ - ইমাম আল-মিযযী: জামালুদ্দীন আবুল হাজ্জাজ ইউসুফ বিন আয-যাকি আবদুর রহমান বিন ইউসুফ আল-কুযায়ী আদ-দিমাশকী আশ-শাফিয়ী, মৃত্যু ৭৪২ হিজরি।
৬ - শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহ:
ইবনে কাযী শুহবাহ বলেন: তিনি ইবনে তাইমিয়াহর সান্নিধ্যে থাকতেন এবং তাঁর সঙ্গী হিসেবে পরিচিত ছিলেন (১)।
ইবনে হাজার বলেন: তিনি ইবনে তাইমিয়াহর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, ফলে তাঁর ভালোবাসায় অনুরক্ত হন এবং তাঁর কারণেই তিনি পরীক্ষার সম্মুখীন হন (২)।
৭ - ইমাম আয-যাহাবী: শামসুদ্দীন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কায়মায আত-তুর্কমানী আদ-দিমাশকী, মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি।
তাঁর আকিদাহ:তিনি—আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রতি দয়া করুন—সালাফি আকিদাহর অধিকারী ছিলেন। এই দাবির সত্যতার পক্ষে আমাদের কাছে যদি শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়াহর নিকট তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ ছাড়া আর কোনো প্রমাণ না-ও থাকত, তবে সেটিই যথেষ্ট হতো; তাঁর কিতাবসমূহের কথা তো বলাই বাহুল্য, যা এই সম্পর্কের সত্যতার সাক্ষ্য দেয়।
এর মধ্যে অন্যতম হলো: আসমা ওয়া সিফাত (নাম ও গুণাবলি) অধ্যায়ে সালাফদের আকিদাহ সম্পর্কে তাঁর বিবরণ:
* তিনি তাঁর «তাফসির»-এ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর তিনি আরশের উপর উঠলেন} (৩)-এর ব্যাখ্যায় যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ হলো: এই বিষয়ে মানুষের অনেক বক্তব্য রয়েছে, যা বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়। বরং আমরা এই ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীন—মালিক, আওযায়ী, সাওরী, লাইস বিন সাদ, শাফিয়ী, আহমাদ, ইসহাক বিন রাহওয়াই এবং প্রাচীন ও বর্তমান যুগের মুসলিমদের অন্যান্য ইমামদের মাযহাব অনুসরণ করি। আর তা হলো, এগুলো যেভাবে এসেছে সেভাবেই মেনে নেওয়া, কোনো ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ), সাদৃশ্য প্রদান (তাশবিহ) বা অর্থহীন (তা’তিল) করা ব্যতিরেকে। আর সাদৃশ্যদানকারীদের মনে যে প্রকাশ্য অর্থটি ভেসে আসে তা আল্লাহর ক্ষেত্রে নাকচকৃত, কারণ আল্লাহর সৃষ্টির কোনো কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২১)
و {ليس كمثله شيء وهو السميع البصير}، بل الأمر كما قال الأئمة، منهم: نعيم بن حماد الخزاعي قال: مَن شبَّه الله بخَلْقه كَفَر، ومَن جَحَد ما وصف الله به نفسه فقد كَفَر، وليس فيما وصف الله به نفسه ولا رسوله تشبيه. فمن أثبت لله تعالى ما وردت به الآيات الصريحة والأخبار الصحيحة على الوجه الذي يليق بجلال الله ونفي عن الله تعالى النقائص؛ فقد سلك سبيل الهدى.
* وذَكَر عند قوله تعالى: {لا تدركه الأبصار} (1) ما نصُّه: فيه أقوال للأئمة من السَّلَف: أحدهما: لا تدركه في الدنيا، وإن كانت تراه في الآخرة، كما تواترت به الأخبار عن رسول الله صلى الله عليه وسلم من غير ما طريق ثابت في الصحاح.
ومن ذلك: ردُّه على الفلاسفة المنكرين للمعاد:
* فقد ذَكَر في «تفسيره» عند قوله تعالى: {وقالوا ما هي إلا حياتنا الدنيا نموت ونحيا وما يهلكنا إلا الدهر} (2) ما نصُّه: يخبر تعالى عن قول الدُّهرية من الكفار ومن وافقهم من مشركي العرب في إنكار المعاد، {وقالوا ما هي إلا حياتنا الدنيا نموت ونحيا} أي: ما ثَمَّ إلا هذه الدار، يموت قوم ويعيش آخرون، وما ثَمَّ معاد ولا قيامة، وهذا يقوله مشركو العرب المنكرون المعاد، وتقوله الفلاسفة الإلهيون منهم، ينكرون البداءة والرجعة، وتقوله الفلاسفة الدُّهرية الدورية المنكرون للصانع، المعتقدون أن في كل ستة وثلاثين ألف سنة يعود كل شيء إلى ما كان عليه، وزعموا أن هذا قد تكرر مرات لا تتناهى، فكابروا المعقول، وكذَّبوا المنقول، ولهذا قالوا:
--------------------------------------------
এবং "তাঁর সদৃশ কিছুই নেই এবং তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।" বরং বিষয়টি ইমামগণ যেরূপ বলেছেন তেমনই, তাঁদের মধ্যে নঈম ইবনে হাম্মাদ আল-খুজায়ী বলেছেন: "যে ব্যক্তি আল্লাহকে তাঁর সৃষ্টির সাথে তুলনা করল সে কুফরী করল, আর আল্লাহ নিজের সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন তা যে অস্বীকার করল সেও কুফরী করল। আল্লাহ নিজের সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর রাসূল যা বর্ণনা করেছেন তাতে কোনো তুলনা বা সাদৃশ্য নেই। সুতরাং যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর জন্য সেই সকল বিষয় সাব্যস্ত করল যা সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ এবং সহীহ হাদীসসমূহে বর্ণিত হয়েছে—আল্লাহর মহিমা ও শ্রেষ্ঠত্বের সাথে মানানসই পন্থায়—এবং আল্লাহ তাআলা থেকে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি নাকচ করল; সে হিদায়াতের পথ অনুসরণ করল।"
আর মহান আল্লাহর বাণী: "দৃষ্টিসমূহ তাঁকে আয়ত্ত করতে পারে না" (১) -এর ব্যাখ্যায় তিনি উল্লেখ করেছেন যার ভাষ্য নিম্নরূপ: এ বিষয়ে সালাফে সালেহীন ইমামগণের একাধিক উক্তি রয়েছে: তন্মধ্যে একটি হলো: দুনিয়াতে তাঁকে দেখা যাবে না, যদিও আখিরাতে তাঁকে দেখা যাবে, যেমনটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বিশুদ্ধ হাদীস গ্রন্থসমূহে বিভিন্ন অকাট্য সূত্রে মুতাওয়াতিরভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এর অন্তর্ভুক্ত হলো: পরকাল অস্বীকারকারী দার্শনিকদের প্রতি তাঁর খণ্ডন:
তিনি তাঁর "তাফসীর"-এ মহান আল্লাহর বাণী: "এবং তারা বলে, আমাদের এই পার্থিব জীবনই সব, আমরা মরি ও বাঁচি এবং কাল (মহাকাল) ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না" (২) -এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন যার ভাষ্য নিম্নরূপ: মহান আল্লাহ কাফিরদের মধ্য থেকে দাহরিয়া (কালবাদী) এবং আরব মুশরিকদের মধ্যে যারা পরকাল অস্বীকারের ক্ষেত্রে তাদের সাথে একমত হয়েছে, তাদের বক্তব্য সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন: "এবং তারা বলে, আমাদের এই পার্থিব জীবনই সব, আমরা মরি ও বাঁচি"; অর্থাৎ এই জগত ছাড়া আর কিছুই নেই, একদল লোক মারা যায় এবং অন্যেরা জীবিত থাকে, সেখানে কোনো পরকাল বা কিয়ামত নেই। এ কথাটি আরব মুশরিকরা বলে যারা পরকাল অস্বীকার করে, আর তাদের মধ্য থেকে যারা দার্শনিক আস্তিক তারা সৃষ্টির সূচনা এবং পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে। আর যারা আবর্তনশীল কালবাদী (দাহরিয়া দাওরিয়া) দার্শনিক, তারা সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করে এবং বিশ্বাস করে যে প্রতি ছত্রিশ হাজার বছরে সবকিছু তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। তারা দাবি করে যে এটি অগণিতবার পুনরাবৃত্ত হয়েছে। এভাবে তারা বুদ্ধিগ্রাহ্য বিষয়কে অস্বীকার করেছে এবং বর্ণিত সত্যকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে। একারণেই তারা বলেছিল:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২২)
{وما يهلكنا إلا الدهر} قال الله تعالى: {وما لهم بذلك من علم إن هم إلا يظنون} أي: يتوهمون ويتخيَّلون.
ومن ذلك: ردُّه على الرافضة:
* فقد ذَكَر في «تفسيره» عند قوله تعالى: {والسابقون الأولون من المهاجرين والأنصار} (1) ما نصُّه: أخبر الله العظيم أنه قد رضي عن السابقين الأولين من المهاجرين والأنصار والذين اتبعوهم بإحسان، فيا ويل من أبغضهم أو سبَّهم، أو أبغض أو سبَّ بعضهم، ولاسيما سيد الصحابة بعد الرسول صلى الله عليه وسلم وخيرهم وأفضلهم، أعني: الصديق الأكبر، والخليفة الأعظم، أبا بكر بن أبي قحافة رضي الله عنه، فإن الطائفة المخذولة من الرافضة يعادون أفضل الصحابة، ويبغضونهم، ويسبونهم، عياذًا بالله من ذلك، وهذا يدل على أن عقولهم معكوسة، وقلوبهم منكوسة، فأين هؤلاء من الإيمان بالقرآن، إذ يسبُّون مَن رضي الله عنهم، وأما أهل السُّنة فإنهم يترضون عمن رضي الله عنه، ويسبُّون مَن سبَّه الله ورسوله، ويوالون من يوالي الله، ويعادون من يعادي الله، وهم متبعون لا مبتدعون، ويقتدون ولا يبتدعون، وهؤلاء هم حزب الله المفلحون، وعباده المؤمنون.
* وذَكَر عند قوله تعالى: {ولقد أخذ الله ميثاق بني إسرائيل وبعثنا منهم اثني عشر نقيبا} (2) حديث جابر بن سمرة رضي الله عنه في «الصحيحين» (3) قال: سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقول: «لا يزال أمر الناس ماضيًا ما وليهم اثنا عشر رجلاً»، ثم تكلَّم النبي صلى الله عليه وسلم بكلمة خفيت عليَّ، فسألت أُبَي: ماذا قال النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: «كلهم من قريش».
--------------------------------------------
{এবং সময় ছাড়া আর কিছুই আমাদের ধ্বংস করে না} আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই, তারা কেবল ধারণা পোষণ করে} অর্থাৎ: তারা অলীক কল্পনা ও ধারণা করে।
এর মধ্যে রয়েছে: রাফেজিদের প্রতি তার প্রতিবাদ:
* তিনি তার ‘তাফসীর’-এ আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায়: {মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রগামী} (১) যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ নিম্নরূপ: মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে প্রথম অগ্রগামীদের প্রতি এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুসরণ করেছেন তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন। সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা তাদের ঘৃণা করে বা গালি দেয়, অথবা তাদের কাউকে ঘৃণা করে বা গালি দেয়, বিশেষ করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পর সাহাবীগণের সরদার এবং তাদের মধ্যে সর্বোত্তম ও সবচেয়ে মর্যাদাবান ব্যক্তিকে, অর্থাৎ: সিদ্দিকে আকবর, মহান খলিফা, আবু বকর ইবনে আবি কুহাফা রাদিয়াল্লাহু আনহুকে। কেননা রাফেজিদের এই লাঞ্ছিত দলটি শ্রেষ্ঠ সাহাবীদের সাথে শত্রুতা পোষণ করে, তাদের ঘৃণা করে এবং গালি দেয়—এ থেকে আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। এটি প্রমাণ করে যে, তাদের বুদ্ধি বিকৃত এবং অন্তর উল্টে গেছে। তারা কুরআনের প্রতি ঈমান আনা থেকে কত দূরে, যখন তারা এমন ব্যক্তিদের গালি দেয় যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন! পক্ষান্তরে আহলে সুন্নাতগণ তাদের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন যাদের প্রতি আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন, এবং তাদের মন্দ বলেন যাদের আল্লাহ ও তাঁর রাসুল মন্দ বলেছেন। তারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব করেন যারা আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব করেন এবং তাদের সাথে শত্রুতা করেন যারা আল্লাহর সাথে শত্রুতা করেন। তারা অনুসারী, উদ্ভাবক (বিদআতী) নন; তারা ইত্তিবা করেন, নতুন কিছু উদ্ভাবন করেন না। আর এরাই হলেন আল্লাহর সফলকাম দল এবং তাঁর মুমিন বান্দা।
* তিনি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যায়: {আর অবশ্যই আল্লাহ বনী ইসরাঈলের অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন এবং আমরা তাদের মধ্য থেকে বারোজন দলনেতা নিযুক্ত করেছিলাম} (২) ‘সহীহাইন’-এ (৩) বর্ণিত জাবির ইবনে সামুরা রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদীসটি উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেন: আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "মানুষের শাসনকাজ বা বিষয়াদি ততক্ষণ সুচারুরূপে চলতে থাকবে যতক্ষণ বারোজন ব্যক্তি তাদের শাসন করবেন।" এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিচু স্বরে একটি কথা বললেন যা আমি বুঝতে পারিনি, তাই আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী বললেন? তিনি বললেন: "তারা সবাই কুরাইশ বংশ থেকে হবেন।"
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৩)
وهذا لفظ مسلم. ومعنى هذا الحديث: البشارة بوجود اثني عشر خليفة صالحًا، يقيم الحق، ويعدل فيهم، ولا يلزم من هذا تواليهم وتتابع أيامهم، بل قد وُجد منهم أربعة على نسق، وهم الخلفاء الأربعة، أبو بكر، وعمر، وعثمان، وعلي رضي الله عنهم، ومنهم عمر بن عبد العزيز بلا شك عند الأئمة، وبعض بني العباس، ولا تقوم الساعة حتى تكون ولايتهم لا محالة، والظاهر أن منهم المهدي المبشَّر به في الأحاديث الواردة بذكره أنه يواطئ اسمه اسم النبي صلى الله عليه وسلم، واسم أبيه اسم أبيه، فيملأ الأرض عدلاً وقِسطًا كما مُلئت جَورًا وظلمًا، وليس هذا بالمنتظر الذي يتوهم الرافضة وجوده، ثم ظهوره من سرداب سامرا، فإن ذلك ليس له حقيقة ولا وجود بالكلية، بل هو من هوس العقول السخيفة، وتوهُّم الخيالات الضعيفة، وليس المراد بهؤلاء الخلفاء الاثني عشر؛ الأئمة الذين يعتقد فيهم الاثنا عشرية من الروافض لجهلهم وقلة عقلهم.
* وذَكَر عند قوله تعالى: {محمد رسول الله والذين معه أشداء على الكفار رحماء بينهم} (1) ما نصُّه: ومن هذه الآية انتزع الإمام مالك رحمة الله عليه في رواية عنه بتكفير الروافض الذين يبغضون الصحابة رضي الله عنهم، قال: لأنهم يغيظونهم، ومن غاظ الصحابة رضي الله عنهم فهو كافر لهذه الآية.
ومن ذلك: ردُّه على الخوارج:
* فقد ذَكَر في «تفسيره» عند قوله تعالى: {وإن طائفتان من المؤمنين اقتتلوا فأصلحوا بينهما} (2) ما نصُّه: فسمَّاهم مؤمنين مع الاقتتال، وبهذا
--------------------------------------------
এটি মুসলিমের বর্ণনা। এই হাদিসের অর্থ হলো: বারোজন পুণ্যবান খলিফার আগমনের সুসংবাদ, যারা সত্য প্রতিষ্ঠা করবেন এবং প্রজাদের মধ্যে ইনসাফ করবেন। এর অর্থ এই নয় যে, তারা ধারাবাহিকভাবে একের পর এক আসবেন। বরং তাদের মধ্যে চারজন পর্যায়ক্রমে অতিবাহিত হয়েছেন, তারা হলেন চার খলিফা: আবু বকর, উমর, উসমান ও আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। ইমামগণের মতে উমর ইবনে আব্দুল আজিজও নিঃসন্দেহে তাদের অন্তর্ভুক্ত এবং বনু আব্বাসের কেউ কেউও রয়েছেন। তাদের শাসনকাল অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবে না। প্রকাশ্য বিষয় হলো, তাদের মধ্যে মাহদীও রয়েছেন যার ব্যাপারে হাদিসসমূহে সুসংবাদ প্রদান করা হয়েছে যে, তার নাম নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নামের সাথে এবং তার পিতার নাম নবীর পিতার নামের সাথে মিলে যাবে। তিনি পৃথিবীকে ন্যায় ও ইনসাফ দ্বারা পূর্ণ করে দেবেন, যেমন তা অন্যায় ও জুলুম দ্বারা পূর্ণ ছিল। তিনি সেই 'প্রতীক্ষিত' কেউ নন যার অস্তিত্বের ব্যাপারে রাফেজিরা ধারণা করে থাকে এবং মনে করে তিনি সামাররার সুড়ঙ্গ থেকে আত্মপ্রকাশ করবেন; কেননা এর কোনো বাস্তবতা বা অস্তিত্ব বলতে কিছুই নেই। বরং এটি নির্বোধ বুদ্ধির উন্মাদনা এবং দুর্বল কল্পনার ভ্রান্তি মাত্র। আর এই বারোজন খলিফা দ্বারা সেই ইমামগণ উদ্দেশ্য নন যাদের ব্যাপারে ইসনা আশারিয়া রাফেজিরা তাদের অজ্ঞতা ও বুদ্ধিহীনতার কারণে বিশ্বাস পোষণ করে।
* তিনি আল্লাহ তাআলার বাণী: {মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল এবং যারা তাঁর সাথে আছে তারা কাফিরদের প্রতি কঠোর এবং নিজেদের মধ্যে দয়ার্দ্র} (১) এর আলোচনায় যা উল্লেখ করেছেন তার ভাষ্য নিম্নরূপ: এই আয়াত থেকেই ইমাম মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর একটি বর্ণনায় সেই রাফেজিদের কাফির হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন যারা সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে। তিনি বলেন: কারণ তারা (সাহাবীরা) তাদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে, আর যে ব্যক্তি সাহাবায়ে কেরাম (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)-এর প্রতি ক্ষোভ পোষণ করে, সে এই আয়াতের ভিত্তিতে কাফির।
এর মধ্যে খারিজিদের প্রতি তাঁর খণ্ডনও অন্তর্ভুক্ত:
* তিনি তাঁর «তাফসীর»-এ আল্লাহ তাআলার বাণী: {যদি মুমিনদের দুই দল যুদ্ধে লিপ্ত হয়, তবে তোমরা তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও} (২) এর আলোচনায় উল্লেখ করেছেন, যার ভাষ্য হলো: যুদ্ধ বিগ্রহ সত্ত্বেও আল্লাহ তাদেরকে মুমিন হিসেবে অভিহিত করেছেন, আর এর মাধ্যমে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৪)
استدل البخاري وغيره على أنه لا يخرج عن الإيمان بالمعصية وإن عظمت، لا كما يقوله الخوارج ومن تابعهم من المعتزلة، ونحوهم
* وذَكَر عند قوله تعالى: {فأما الذين في قلوبهم زيغ فيتبعون ما تشابه منه ابتغاء الفتنة وابتغاء تأويله} (1) ما نصُّه: فإن أول بدعة وقعت في الإسلام فتنة الخوارج، وكان مبدأهم بسبب الدنيا، حين قَسَم النبي صلى الله علي وسلم غنائم حنين، فكأنهم رأوا في عقولهم الفاسدة أنه لم يعدل في القِسمة، ففاجأوه بهذه المقالة، فقال قائلهم، وهو ذو الخويصرة -بَقَر اللهُ خاصرتَه-: اعدل، فإنك لم تعدل. فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «لقد خبتُ وخسرتُ إن لم أكن أعدل، أيأمنني على أهل الأرض ولا تأمنوني»، فلما قفا الرجل استأذن عمر بن الخطاب، وفي رواية: خالد بن الوليد في قَتْله، فقال: «دعه، فإنه يخرج من ضئضئ هذا -أي: من جنسه- قوم يحقر أحدكم صلاته مع صلاتهم، وقراءته مع قراءتهم، يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية، فأينما لقيتموهم فاقتلوهم، فإن في قتلهم أجرًا لمن قَتَلهم» (2)، ثم كان ظهورهم أيام علي بن أبي طالب رضي الله عنه، وقَتْلهم بالنهروان، ثم تشعبت منهم شعوب وقبائل وآراء وأهواء ومقالات ونحل كثيرة منتشرة، ثم انبعث القدرية، ثم المعتزلة، ثم الجهمية، وغير ذلك من البدع التي أخبر عنها الصادق المصدوق صلى الله عليه وسلم.
ومن ذلك: ردُّه على عبَّاد القبور من الصوفية:
* فقد ذَكَر في «البداية والنهاية (10/ 262 - 263) في ترجمة نفيسة بنت الحسن بن زيد بن الحسن بن علي بن أبي طالب، ما نصُّه: قد بالغ
--------------------------------------------
ইমাম বুখারী ও অন্যরা এই মর্মে দলিল পেশ করেছেন যে, পাপের কারণে কোনো ব্যক্তি ঈমান থেকে বের হয়ে যায় না, যদিও তা গুরুতর হয়; যেমনটি খাওয়ারিজ এবং তাদের অনুসারী মুতাজিলা ও তাদের মতাদর্শীরা বলে থাকে।
* আল্লাহ তাআলার বাণী: "যাদের অন্তরে বক্রতা রয়েছে, তারা ফিতনা সৃষ্টি ও অপব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে এর মধ্য থেকে অস্পষ্ট আয়াতের অনুসরণ করে" (১) - এর ব্যাখ্যায় তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ হলো: ইসলামে সর্বপ্রথম যে বিদআতের সূত্রপাত হয়েছিল তা হলো খাওয়ারিজদের ফিতনা। তাদের শুরু হয়েছিল দুনিয়াবি কারণে, যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের গনীমত বণ্টন করছিলেন। তখন তারা তাদের ভ্রষ্ট বুদ্ধিতে মনে করেছিল যে, তিনি বণ্টনে ইনসাফ করেননি। ফলে তারা আকস্মিকভাবে এই কথাটি বলে বসল। তাদের প্রবক্তা ছিল যুল খুওয়াইসিরা —আল্লাহ তার পাঁজরের হাড় চূর্ণ করুন— সে বলেছিল: ইনসাফ করুন, কেননা আপনি ইনসাফ করেননি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "আমি যদি ইনসাফ না করি তবে তো আমি বিফল ও ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর ওপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে বিশ্বাস করছ না?" যখন লোকটি চলে গেল, তখন উমর ইবনুল খাত্তাব —অন্য বর্ণনায় খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ— তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইলেন। তখন তিনি বললেন: "তাকে ছেড়ে দাও, কেননা তার বংশধর থেকে —অর্থাৎ তার শ্রেণীভুক্ত— এমন এক কওম বের হবে যাদের সালাতের তুলনায় তোমরা তোমাদের সালাতকে এবং তাদের কিরাআতের তুলনায় তোমাদের কিরাআতকে তুচ্ছ মনে করবে। তারা দ্বীন থেকে এমনভাবে বের হয়ে যাবে যেমন শিকার ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। তোমরা যেখানেই তাদের পাবে হত্যা করবে, কেননা তাদের হত্যা করার মধ্যে হত্যাকারীর জন্য সওয়াব রয়েছে।" (২), অতঃপর আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে তাদের প্রকাশ ঘটে এবং নাহরাওয়ানে তাদের হত্যা করা হয়। এরপর তাদের থেকে বহু শাখা-প্রশাখা, গোত্র, বিভিন্ন মতবাদ, খেয়ালখুশি, উক্তি ও অনেক ভ্রান্ত মতাদর্শ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর কাদরিয়া, তারপর মুতাজিলা, তারপর জাহমিয়া এবং অন্যান্য সেসব বিদআতের উদ্ভব ঘটে যেগুলোর সংবাদ সত্যবাদী ও সত্য প্রত্যাদিষ্ট রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দিয়েছিলেন।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: সুফিদের মধ্য থেকে কবর পূজারীদের ওপর তার খণ্ডন:
* তিনি ‘আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া’ (১০/ ২৬২ - ২৬৩) গ্রন্থে হাসান ইবনে যায়েদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবি তালিবের কন্যা নাফিসার জীবনীতে যা উল্লেখ করেছেন তার পাঠ হলো: তিনি বাড়াবাড়ি করেছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৫)
العامة في اعتقادهم فيها وفي غيرها كثيرًا جدًّا، ولا سيما عوام مصر، فإنهم يطلقون فيها عبارات بشيعة مجازفة تؤدي إلى الكفر والشرك، وألفاظًا كثيرة ينبغي أن يعرفوا أنه لا تجوز، وربما نسبها بعضهم إلى زين العابدين، وليست من سلالته، والذي ينبغي أن يُعتقد فيها ما يليق بمثلها من النساء الصالحات، وأصل عبادة الأصنام من المغالاة في القبور وأصحابها، وقد أمر النبي صلى الله عليه وسلم بتسوية القبور وطمسها، والمغالاة في البشر حرام، ومن زعم أنها تفك من الخشب، أو أنها تنفع أو تضر بغير مشيئة الله فهو مشرك.
* وذَكَر أيضًا (14/ 124) في حوادث سنة ست وعشرين وسبعمائة مسألة شد الرِّحال لزيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم، ما نصُّه: ثم يوم الخميس دخل القاضي جمال الدين بن جملة وناصر الدين مشد الأوقاف، وسألاه [أي: ابن تيمية] عن مضمون قوله في مسألة الزيارة، فكتب ذلك في درج، وكتب تحته قاضي الشافعية بدمشق: قابلت الجواب عن هذا السؤال المكتوب على خط ابن تيمية، إلى أن قال: وإنما المحزّ جعله زيارة قبر النبي صلى الله عليه وسلم وقبور الأنبياء صلوات الله وسلامه عليهم معصية بالإجماع، مقطوعًا بها، فانظر الآن هذا التحريف على شيخ الإسلام، فإن جوابه على هذه المسألة ليس فيه منع زيارة قبور الأنبياء والصالحين، وإنما فيه ذِكر قولين في شدِّ الرَّحْل والسَّفَر إلى مجرد زيارة القبور، وزيارة القبور من غير شدِّ رَحْل إليها مسألة، وشدُّ الرَّحْل لمجرد الزيارة مسألة أخرى، والشيخ لم يمنع الزيارة الخالية عن شدِّ رَحْل، بل يستحبها ويندب إليها، وكُتُبه ومناسكه تشهد بذلك، ولم يتعرض إلى هذه الزيارة في هذه الوجه في الفتيا، ولا قال إنها معصية، ولا حكى الإجماع على المنع منها، ولا هو جاهل قول الرسول: «زوروا القبور، فإنها تذكركم الآخرة»، والله سبحانه لا يخفى عليه شيء،
সাধারণ মানুষ তার এবং অন্যদের সম্পর্কে বিশ্বাসে অনেক বাড়াবাড়ি করে, বিশেষ করে মিসরের সাধারণ মানুষ। তারা তার ব্যাপারে এমন কিছু জঘন্য ও অবিবেচনাপ্রসূত উক্তি ব্যবহার করে যা কুফর ও শিরক পর্যন্ত নিয়ে যায়। তারা এমন অনেক শব্দ উচ্চারণ করে যা তাদের জানা উচিত যে বৈধ নয়। কেউ কেউ এগুলোকে যায়নুল আবিদীনের সাথে সম্পর্কিত করে, অথচ তিনি তাদের বংশধারাভুক্ত নন। তার সম্পর্কে এমন বিশ্বাস পোষণ করা উচিত যা তার মতো নেককার নারীদের ক্ষেত্রে শোভনীয়। আর মূর্তিপূজার মূল ভিত্তি হলো কবর এবং কবরবাসীদের নিয়ে বাড়াবাড়ি করা। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবর সমান করার এবং তা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মানুষের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা হারাম। আর যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পারে, অথবা আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো উপকার বা ক্ষতি করতে পারে, সে ব্যক্তি মুশরিক।
* তিনি (১৪/১২৪) সাতশত ছাব্বিশ হিজরির ঘটনাবলীতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করার মাসআলাটি সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, যার ভাষ্য হলো: অতঃপর বৃহস্পতিবার কাজী জামাল উদ্দিন বিন জুমলা এবং ওয়াকফ পরিদর্শক নাসির উদ্দিন প্রবেশ করলেন এবং তারা ইবনে তাইমিয়্যাহকে যিয়ারতের মাসআলা সংক্রান্ত তার বক্তব্যের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তখন তিনি তা একটি কাগজে লিখে দিলেন। এর নিচে দামেস্কের শাফেয়ী কাজী লিখলেন: আমি ইবনে তাইমিয়্যাহর নিজ হাতে লেখা এই প্রশ্নের উত্তরের সাথে মিলিয়ে দেখেছি... শেষ পর্যন্ত তিনি বলেন: মূল আপত্তির জায়গা হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এবং অন্যান্য নবীদের (তাদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক) কবর যিয়ারত করাকে ঐকমত্যের ভিত্তিতে অকাট্য গুনাহ হিসেবে গণ্য করা। এখন শায়খুল ইসলামের ওপর এই বিকৃতিটি দেখুন। কেননা এই মাসআলায় তার জবাবে নবী ও নেককারদের কবর যিয়ারত করতে নিষেধ করা হয়নি। বরং এতে কেবল কবর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা এবং পথ পাড়ি দেওয়ার বিষয়ে দুটি মতের উল্লেখ রয়েছে। সফর করা ছাড়া কবর যিয়ারত করা এক বিষয়, আর কেবল যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা অন্য বিষয়। শায়খ সফরবিহীন যিয়ারত নিষিদ্ধ করেননি; বরং তিনি একে মুস্তাহাব মনে করেন এবং এর প্রতি উৎসাহিত করেছেন। তার কিতাবসমূহ এবং হজের নিয়মাবলি সংক্রান্ত লেখাগুলো এর সাক্ষ্য দেয়। তিনি ফতোয়াতে এই ধরণের যিয়ারতের বিরোধিতা করেননি এবং একে গুনাহও বলেননি। আর তিনি এটি নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো ইজমার কথাও উল্লেখ করেননি। তিনি রাসূলের এই বাণী সম্পর্কেও অজ্ঞ নন: «তোমরা কবর যিয়ারত করো, কেননা তা তোমাদের পরকালকে স্মরণ করিয়ে দেয়», আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে কোনো কিছুই গোপন নয়।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৬)
ولا يخفى عليه خافية، {وسيعلم الذين ظلموا أي منقلب ينقلبون}.
تلاميذه:من أشهر تلاميذه الذين تلقَّوا عنه العلم ما يلي:
1 - علي بن علاء الدين علي بن محمد بن أبي العز الحنفي. المتوفى سنة 792 هـ، وقد صرَّح بتتلمذه على المؤلِّف في عدة مواضع من كتابه «شرح العقيدة الطحاوية»، فانظر: (ص 277، 480، 603).
2 - أبو عبد الله بدر الدين محمد بن عبد الله بن بهادر الزركشي، المتوفى سنة 794 هـ.
3 - محمد بن علي بن الحسن بن حمزة بن أبي المحاسن الشافعي، المتوفى سنة 765 هـ.
4 - العراقي: عبد الرحيم بن الحسين بن عبد الرحمن الكردي، المتوفى سنة 806 هـ.
5 - ابن الجزري: محمد بن محمد بن الجزري الدمشقي، المتوفى سنة 816 هـ.
ثناء العلماء عليه:أثنى عليه جماعة من الأعيان، فقال الذهبي في «تذكرة الحفاظ» (4/ 1508): له عناية بالرجال والمتون والتفقه، وخرَّج، وناظر، وصنَّف، وفسَّر، وتقدَّم.
وقال في «المعجم المختص» (ص 74): فقيه، متفنن، ومحدِّث متقن، ومفسِّر نقَّال، وله تصانيف مفيدة.
এবং তাঁর কাছে কোনো কিছুই গোপন নেই, {আর যালিমরা শীঘ্রই জানতে পারবে তারা কোন প্রত্যাবর্তনস্থলে প্রত্যাবর্তন করবে}।
তাঁর ছাত্রবৃন্দ:যারা তাঁর নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছাত্ররা নিম্নরূপ:
১ - আলী বিন আলাউদ্দিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আবিল ইয আল-হানাফী। মৃত্যু ৭৯২ হিজরী। তিনি তাঁর ‘শারহুল আকিদাহ আত-তাহাবিয়্যাহ’ গ্রন্থের একাধিক স্থানে লেখকের কাছে ছাত্রত্বের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, দেখুন: (পৃষ্ঠা ২৭৭, ৪৮০, ৬০৩)।
২ - আবু আবদুল্লাহ বদরুদ্দিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন বাহাদুর আয-যারকাশী, মৃত্যু ৭৯৪ হিজরী।
৩ - মুহাম্মাদ বিন আলী বিন আল-হাসান বিন হামযাহ বিন আবিল মাহাসিন আশ-শাফিঈ, মৃত্যু ৭৬৫ হিজরী।
৪ - আল-ইরাকী: আবদুর রহীম বিন আল-হুসাইন বিন আবদুর রহমান আল-কুর্দী, মৃত্যু ৮০৬ হিজরী।
৫ - ইবনুল জাযারী: মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আল-জাযারী আদ-দিমাশকী, মৃত্যু ৮১৬ হিজরী।
তাঁর সম্পর্কে আলেমদের প্রশংসা:বিশিষ্ট ব্যক্তিদের এক জামাত তাঁর প্রশংসা করেছেন। আয-যাহাবী ‘তাযকিরাতুল হুফফায’ (৪/১৫০৮) গ্রন্থে বলেন: রাবী, মতন এবং ফিকহশাস্ত্রে তাঁর বিশেষ বুৎপত্তি ছিল। তিনি হাদিস চয়ন করেছেন, বিতর্ক করেছেন, গ্রন্থ রচনা করেছেন, তাফসীর করেছেন এবং শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন।
এবং তিনি ‘আল-মুজামুল মুখতাস’ (পৃষ্ঠা ৭৪) গ্রন্থে বলেন: তিনি ছিলেন ফকীহ, বহু বিদ্যায় পারদর্শী, দক্ষ মুহাদ্দিস এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে পারদর্শী মুফাসসির। তাঁর বেশ কিছু উপকারী গ্রন্থ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৭)
وقال ابن حجر في «الدُّرر الكامنة» (1/ 374): كان كثير الاستحضار، حَسَن المفاكهة، سارت تصانيفه في البلاد في حياته، وانتفع بها الناس بعد وفاته، ولم يكن على طريقة المحدِّثين في تحصيل العوالي وتمييز العالي من النازل ونحو ذلك من فنونهم، وإنما هو من محدِّثي الفقهاء.
وقال ابن قاضي شهبة في «تاريخه» (3/ 416): شيخ المفسرين، عمدة المحدِّثين والمؤرخين، مفتي المسلمين
… ، أقبل على حفظ المتون والأسانيد، والعلل والرجال والتاريخ، حتى برع في ذلك وهو شاب.
وقال ابن حجي في «تاريخه»: وكان أحفظ من أدركنا لمتون الأحاديث، وأعرفهم بجرحها ورجالها، وصحيحها وسقيمها، وكان أقرانه وشيوخه يعترفون له بذلك، وكان يستحضر شيئًا كثيرًا من التفسير والتاريخ، قليل النسيان، وكان فقيها جيد الفهم، صحيح الذهن، يستحضر شيئًا كثيرًا، ويشارك في العربية مشاركة جيدة، وينظم الشعر، وما أعرف أني اجتمعت به على كثرة ترددي إليه إلا وأفدت منه.
وقال السيوطي في «طبقات الحفاظ» (ص 533):
وقال ابن العماد الحنبلي في «شذرات الذهب» (6/ 231):
مؤلفاته:للحافظ ابن كثير رحمه الله مؤلفات عديدة في شتى فنون العلم، فمن مؤلفاته المطبوعة:
1 - «الآداب والأحكام المتعلقة بدخول الحمَّام».
2 - «الاجتهاد في طلب الجهاد».
3 - «اختصار علوم الحديث».
4 - «إرشاد الفقيه إلى معرفة أدلة التنبيه».
ইবনে হাজার ‘আদ-দুরারুল কামিনাহ’ (১/৩৭৪) গ্রন্থে বলেন: তিনি অধিক স্মরণশক্তির অধিকারী ও সাবলীল হাস্যরসের মানুষ ছিলেন। তাঁর রচনাবলী তাঁর জীবদ্দশাতেই বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তাঁর ইন্তেকালের পর মানুষ তা থেকে উপকৃত হয়েছে। তিনি উচ্চতর সনদ সংগ্রহ এবং উচ্চ ও নিম্ন মানের সনদের পার্থক্য নিরূপণ করার মতো মুহাদ্দিসদের প্রচলিত পদ্ধতির অনুসারী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন ফকিহ মুহাদ্দিসদের অন্তর্ভুক্ত একজন।
ইবনে কাদি শুহবাহ তাঁর ‘তারিখ’ (৩/৪১৬) গ্রন্থে বলেন: মুফাসসিরগণের শাইখ, মুহাদ্দিস ও ইতিহাসবিদগণের নির্ভরস্থল, মুসলিমদের মুফতি
… , তিনি মতন (মূল পাঠ), আসানিদ (সনদসমূহ), ইলাল (গূঢ় ত্রুটি), রিজাল (বর্ণনাকারী) এবং ইতিহাসের হিফজ বা মুখস্থকরণের দিকে মনোনিবেশ করেন, এমনকি তরুণ বয়সেই তিনি এসব বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেন।
ইবনে হাজ্জি তাঁর ‘তারিখ’ গ্রন্থে বলেন: আমরা যাদের পেয়েছি তাদের মধ্যে তিনি ছিলেন হাদিসের মতন মুখস্থ রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হাফিজ, এবং হাদিসের জারহ (দোষ-ত্রুটি), বর্ণনাকারী ও সহিহ-সাকিম (ত্রুটিযুক্ত) সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি অবগত। তাঁর সমসাময়িক ও শিক্ষকগণ তাঁর এই শ্রেষ্ঠত্ব স্বীকার করতেন। তিনি তাফসির ও ইতিহাসের প্রচুর বিষয় স্মরণে রাখতেন, তাঁর বিস্মৃতি ছিল খুব সামান্য। তিনি উত্তম বুঝসম্পন্ন ফকিহ ও প্রখর মেধার অধিকারী ছিলেন। তিনি অনেক বিষয় স্মৃতিতে রাখতেন, আরবি ভাষায় তাঁর উত্তম দক্ষতা ছিল এবং তিনি কবিতা রচনা করতেন। আমি তাঁর কাছে প্রচুর যাতায়াত করতাম এবং আমি জানি না যে, তাঁর সাথে এমন কোনো মজলিস হয়েছে যেখানে আমি তাঁর থেকে উপকৃত হইনি।
আস-সুয়ূতি তাঁর ‘তাবাকাতুল হুফফাজ’ (পৃষ্ঠা ৫৩৩) গ্রন্থে বলেন:
ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি তাঁর ‘শাজারাতুজ জাহাব’ (৬/২৩১) গ্রন্থে বলেন:
তাঁর রচনাবলী:হাফিজ ইবনে কাসির (রাহিমাহুল্লাহ)-এর ইলমের বিভিন্ন শাখায় অসংখ্য গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর মুদ্রিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১ - ‘হাম্মামে (গোসলখানায়) প্রবেশের আদব ও বিধানসমূহ’।
২ - ‘জিহাদের অন্বেষণে প্রচেষ্টা’।
৩ - ‘হাদিস বিজ্ঞানের সংক্ষিপ্তসার’।
৪ - ‘তানবিহ-এর দলীলসমূহ পরিচিতিতে ফকিহদের জন্য নির্দেশনা’।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৮)
5 - «البداية والنهاية».
6 - «تحفة الطالب بمعرفة أحاديث مختصر ابن الحاجب».
7 - «تفسير القرآن العظيم».
8 - «جامع المسانيد والسُّنن».
9 - «جزء في بيع أمهات الأولاد».
10 - «طبقات الفقهاء الشافعيين»
11 - «الفصول في سيرة الرسول».
12 - «فضائل القرآن».
12 - «مسند الفاروق» وهو كتابنا هذا.
ومما ذُكر من مؤلفاته التي لم نقف عليها:
1 - «الأحكام الكبير».
2 - «التكميل في معرفة الثقات والضعفاء والمجاهيل».
3 - «جزء في بطلان وضع الجزية عن يهود خبير».
4 - «جزء في زواج رسول الله صلى الله عليه وسلم من أم سلمة رضي الله عنها».
5 - «جزء في تحريم الجمع بين الأختين».
6 - «جزء في طرق وألفاظ وعلل وما يتعلق بحديث كفَّارة المجلس».
7 - «جزء في فضل يوم عرفة».
8 - «جزء في المراد بالصلاة الوسطى».
9 - «سيرة الصديق».
10 - «سيرة عمر وأيامه».
11 - «شرح صحيح البخاري».
12 - «كتاب الصِّيام، وما يتعلَّق برمضان من أحكام».
৫ - «আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া»।
৬ - «তুহফাতুত তালিব বি-মারিফাতি আহাদিসি মুখতাসার ইবনিল হাজিব»।
৭ - «তাফসীরুল কুরআনিল আযীম»।
৮ - «জামি'উল মাসানিদ ওয়াস-সুনান»।
৯ - «উম্মাতুল আওলাদ দাসীদের বিক্রয় সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা»।
১০ - «তাবাকাতুল ফুকাহাশ শাফিঈয়ীন» (শাফিঈ ফকিহগণের জীবনী)।
১১ - «আল-ফুসুল ফী সিরাতির রাসূল» (রাসূলের জীবনী বিষয়ক অধ্যায়সমূহ)।
১২ - «ফাদায়িলুল কুরআন» (কুরআনের ফযীলতসমূহ)।
১২ - «মুসনাদুল ফারূক», যা আমাদের এই বর্তমান গ্রন্থটি।
এবং তাঁর রচনাবলির মধ্যে যা উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু আমরা তার সন্ধান পাইনি:
১ - «আল-আহকামুল কাবীর»।
২ - «আত-তাকমীল ফী মারিফাতিস সিকাত ওয়াদ-দুয়াফা ওয়াল-মাজাহীল»।
৩ - «খায়বারের ইহুদিদের থেকে জিযিয়া মওকুফের অসারতা বিষয়ক একটি পুস্তিকা»।
৪ - «উম্মে সালামা রাদিয়াল্লাহু আনহার সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিবাহ সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা»।
৫ - «দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করার হারামী হওয়া সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা»।
৬ - «মাজলিসের কাফফারার হাদিসের সূত্র, শব্দ, ত্রুটি এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি বিষয়ক একটি পুস্তিকা»।
৭ - «আরাফার দিনের ফযীলত সংক্রান্ত একটি পুস্তিকা»।
৮ - «সালাতুল উসতা বা মধ্যবর্তী সালাত দ্বারা কী উদ্দেশ্য, সে সম্পর্কে একটি পুস্তিকা»।
৯ - «সিরাতুস সিদ্দিক» (আবু বকর রা.-এর জীবনী)।
১০ - «সীরাতু উমর ওয়া আইয়ামুহু» (উমর রা.-এর জীবনী ও তাঁর সময়কাল)।
১১ - «শারহু সহীহিল বুখারী» (সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ)।
১২ - «কিতাবুস সিয়াম ওয়া মা ইয়াতা'আল্লাকু বি-রামাদানা মিন আহকাম» (রোজা এবং রমজান সংশ্লিষ্ট বিধানাবলি বিষয়ক গ্রন্থ)।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ২৯)
13 - «كتاب العقائد».
14 - «مسند الصديق».
وفاته:بعد حياة حافلة بالتدريس والتأليف والعطاء والبذل توفي الإمام الحافظ ابن كثير في يوم الخميس السادس والعشرين من شعبان، سنة 774 هـ، ودُفن في مقبرة الصوفية بجوار شيخه الإمام ابن تيمية.
وقد رثاه أحد طلابه بهذين البيتين (1):
لِفَقْدك طلابُ العلوم تأسَّفوا
… وجادوا بدمع لا يبيدُ غزيرُ
ولو مَزَجوا ماءَ المدامعِ بالدماء
… لكان قليلاً فيك يا ابنَ كثير
--------------------------------------------
১৩ - «কিতাবুল আকাইদ»।
১৪ - «মুসনাদুস সিদ্দিক»।
ইন্তেকাল:অধ্যাপনা, গ্রন্থনা, দান এবং উৎসর্গে ভরপুর এক বর্ণাঢ্য জীবনের পর ইমাম হাফিজ ইবনে কাসির ৭৭৪ হিজরি সনের ২৬শে শাবান বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেন। তাঁকে তাঁর উস্তাদ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহর পাশে সুফিয়া কবরস্থানে দাফন করা হয়।
তাঁর এক ছাত্র এই দুটি চরণের মাধ্যমে তাঁর ওপর শোকগাঁথা রচনা করেছেন (১):
আপনার বিয়োগে জ্ঞানান্বেষীরা শোকাতুর হয়েছে
… এবং তারা অফুরন্ত ও প্রচুর অশ্রুপাত করেছে
যদি তারা চোখের পানির সাথে রক্তও মিশিয়ে দিত
… তবে হে ইবনে কাসির, আপনার সম্মানে তা অতি সামান্যই হতো
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩০)
المبحث الثاني: إثبات صحة نسبة الكتاب إلى المؤلِّفلا أجدني في حاجة للتدليل على صحة نسبة الكتاب إلى مؤلفه، فقد ذكره في عدَّة مواضع من كتبه ونوَّه بشأنه، فقال في «البداية والنهاية» (5/ 154) عند حديثه عن تقبيل عمر للحجر الأسود وسجوده عليه: وقد أوردنا ذلك كله بطرقه وألفاظه وعزوه وعلله في الكتاب الذي جمعناه في «مسند أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه»، ولله الحمد والمنَّة.
وقال في (5/ 288) عند كلامه على حديث: «لانُورَث، ما تركنا صدقة»: وقد تقصَّيت طرق هذا الحديث وألفاظه في «مسنَدَي الشيخين أبي بكر وعمر رضي الله عنهما»، فإني -ولله الحمد- جمعت لكل واحد منهما مجلدًا ضخمًا مما رواه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم ورآه من الفقه النافع الصحيح، ورتبتُه على أبواب الفقه المصطلح عليها اليوم.
وقال في (7/ 81) في معرض حديثه عن أم كلثوم بنت علي رضي الله عنها: وقد ذكرنا في «سيرة عمر»، و «مسنده» صفة تزويجه بها، وأنه أمهرها أربعين ألفًا.
وقال في «تفسيره» (3/ 256) عند قوله تعالى: {فإذا نفخ في الصور فلا أنساب بينهم يومئذ ولا يتساءلون}: وقد ذكرنا في «مسند أمير المؤمنين عمر بن الخطاب» من طرق متعددة عنه رضي الله عنه أنه لما تزوَّج أم كلثوم بنت علي بن أبي طالب رضي الله عنهما قال: أما والله ما بي إلا أني سمعتُ رسولَ الله صلى الله عليه وسلم يقول: «كل سَبَب ونَسَب فإنه منقطعٌ يومَ القيامةِ، إلا سَبَبي ونَسَبي».
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: লেখকের প্রতি গ্রন্থটির নিসবত বা সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা প্রমাণলেখকের প্রতি গ্রন্থটির সম্বন্ধের বিশুদ্ধতা প্রমাণের জন্য আমি কোনো দলীলের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না। কারণ তিনি তাঁর কিতাবসমূহের একাধিক স্থানে এটি উল্লেখ করেছেন এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (৫/১৫৪)-তে উমর (রা.) কর্তৃক হাজরে আসওয়াদ চুম্বন ও এর ওপর সিজদা করা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন: "আমরা এ সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় এর সনদ, শব্দাবলি, উদ্ধৃতি এবং ত্রুটিসমূহসহ সেই গ্রন্থে উল্লেখ করেছি যা আমরা 'মুসনাদে আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু' শিরোনামে সংকলন করেছি। আর সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ একমাত্র আল্লাহর জন্য।"
তিনি (৫/২৮৮)-তে এই হাদিস সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেছেন: "আমাদের কোনো উত্তরাধিকারী হয় না, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা।" তিনি বলেন: "আমি এই হাদিসের সকল সনদ ও শব্দাবলি 'শাইখাইন আবু বকর ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর মুসনাদদ্বয়'-এ বিশদভাবে অনুসন্ধান করেছি। নিশ্চয়ই আমি—আল্লাহর শোকর—তাদের প্রত্যেকের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েত এবং তাঁদের থেকে প্রাপ্ত সঠিক ও উপকারী ফিকহ নিয়ে একটি করে বিশাল খণ্ড সংকলন করেছি এবং বর্তমান প্রচলিত ফিকহী অধ্যায় অনুযায়ী তা বিন্যস্ত করেছি।"
তিনি (৭/৮১)-তে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর কন্যা উম্মে কুলসুম সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে বলেছেন: "আমরা 'সিরাতে উমর' এবং তাঁর 'মুসনাদ'-এ উমরের সাথে তাঁর বিবাহের বিবরণ উল্লেখ করেছি এবং এটিও উল্লেখ করেছি যে, তিনি তাঁকে চল্লিশ হাজার মোহর প্রদান করেছিলেন।"
তিনি তাঁর 'তাফসির' (৩/২৫৬)-এ মহান আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায়— {অতঃপর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, সেদিন তাদের মধ্যে কোনো বংশীয় সম্পর্ক থাকবে না এবং তারা একে অপরের খোঁজ নেবে না} —বলেছেন: "আমরা 'মুসনাদে আমিরুল মুমিনিন উমর ইবনুল খাত্তাব'-এ তাঁর থেকে একাধিক সূত্রে বর্ণনা করেছি যে, তিনি যখন আলী ইবনে আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কন্যা উম্মে কুলসুমকে বিবাহ করেন, তখন বলেছিলেন: আল্লাহর কসম, আমার এই বিবাহের উদ্দেশ্য কেবল এটাই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি— 'কিয়ামতের দিন আমার সাথে সম্পৃক্ত বৈবাহিক সম্পর্ক ও বংশীয় সম্পর্ক ব্যতীত অন্য সকল বৈবাহিক ও বংশীয় সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে'।"
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩১)
وقال في «جامع المسانيد والسُّنن» (6/ 362 - ط ابن دهيش) في ترجمة عمر بن الخطاب: تقدم مسنده مع الخلفاء الأربعة رضي الله عنه، وقد أوردنا له مسندًا آخر مرتَّبًا على أبواب الفقه بما روي عنه من الأحاديث والآثار، ولله الحمد والمنَّة.
وقال أيضًا في (5/ 352) في ترجمة أبي بكر الصديق رضي الله عنه: وقد أوردت «مسنده» على حِدَة في مجلد سيأتي على أبواب الأحكام، وكذلك «مسند أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه».
وقال في «اختصار علوم الحديث» (1/ 182 - النوع الثالث عشر) عند الكلام على حديث عمر رضي الله عنه: «إنما الأعمال بالنيات»: وقد ذكر له ابن منده متابعات غرائب، ولاتصح، كما بسطناه في «مسند عمر»، وفي «الأحكام الكبير».
এবং তিনি ‘জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান’ (৬/৩৬২ - ইবনু দুহায়েশ সংস্করণ) গ্রন্থে উমর ইবনুল খাত্তাব-এর জীবনী আলোচনায় বলেছেন: চার খলিফার বর্ণনাসমূহের সাথে তাঁর মুসনাদ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন), আর আমরা তাঁর জন্য ফিকহের অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত আরও একটি মুসনাদ উল্লেখ করেছি যা তাঁর থেকে বর্ণিত হাদিস ও আসারসমূহের ওপর ভিত্তি করে সংকলিত; সমস্ত প্রশংসা ও অনুগ্রহ আল্লাহরই প্রাপ্য।
তিনি আরও বলেছেন (৫/৩৫২) আবু বকর সিদ্দীক (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর জীবনীতে: আমি তাঁর ‘মুসনাদ’ স্বতন্ত্রভাবে একটি খণ্ডে উল্লেখ করেছি যা আহকামের অধ্যায়গুলোর ক্রমে সামনে আসবে, একইভাবে ‘আমিরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর মুসনাদও’ (পৃথকভাবে আসবে)।
তিনি ‘ইখতিসার উলুমুল হাদিস’ (১/১৮২ - ত্রয়োদশ প্রকার) গ্রন্থে উমর (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)-এর হাদিস ‘নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল’ সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেছেন: ইবনু মানদাহ এর জন্য কিছু বিরল মুতাবিআত (সমর্থক বর্ণনা) উল্লেখ করেছেন যা বিশুদ্ধ নয়; যেমনটি আমরা ‘মুসনাদে উমর’ এবং ‘আল-আহকাম আল-কাবীর’ গ্রন্থে বিস্তারিত বর্ণনা করেছি।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المبحث الثالث: منهج المؤلِّف في كتابه
1 - لم يضع الحافظ ابن كثير لكتابه مقدِّمة يبيِّن فيها منهجه، والسبب في ذلك واضح؛ لأن «مسند الفاروق» حلقة من حلقات كتابه «جامع المسانيد والسُّنن»، ولَبِنَة من لَبِنَاته، كما هو واضح من كلامه على هذا الكتاب عند ترجمته لعمر رضي الله عنه، كما سبق نقله قريبًا.
2 - اتَّبع المؤلِّف في ترتيبه لأبواب الكتاب طريقة أصحاب الجوامع مع تقديم وتأخير في بعض الأبواب.
3 - جمع المؤلِّف في كتابه هذا بين الأحاديث المرفوعة والآثار الموقوفة، ولم يقتصر على واحد منهما.
4 - اعتمد المؤلِّف في كتابه هذا على جمع مرويات عمر رضي الله عنه من نفس المصادر التي بنى عليها كتابه «جامع المسانيد والسُّنن»، وهي:
1 - «مسند الإمام أحمد».
2 - «صحيح البخاري».
3 - «صحيح مسلم».
4 - «سنن أبي داود».
5 - «سنن الترمذي».
6 - «سنن النسائي».
7 - «سنن ابن ماجه».
8 - «مسند أبي يعلى الموصلي».
9 - «المعجم الكبير» للطبراني.
10 - «مسند البزار».
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাঁর কিতাবে লেখকের পদ্ধতি১ - হাফেজ ইবনে কাসীর তাঁর কিতাবের জন্য এমন কোনো ভূমিকা প্রদান করেননি যাতে তিনি তাঁর পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। এর কারণ অত্যন্ত স্পষ্ট; কেননা «মুসনাদুল ফারুক» তাঁর «জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান» কিতাবের একটি ধারাবাহিক পরিচ্ছেদ এবং এর অন্যতম একটি ভিত্তি, যেমনটি ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী আলোচনা করার সময় এই কিতাব সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, যা ইতিপূর্বে নিকটেই উদ্ধৃত করা হয়েছে।
২ - লেখক কিতাবের অধ্যায়সমূহ বিন্যাসের ক্ষেত্রে ‘জাওয়ামি’ (হাদীস সংকলন) গ্রন্থকারদের পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন, তবে কিছু অধ্যায়ের ক্ষেত্রে অগ্র-পশ্চাৎ করেছেন।
৩ - লেখক তাঁর এই কিতাবে মারফু হাদীস এবং মাওকুফ আছারসমূহকে একত্রিত করেছেন এবং কেবল কোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকেননি।
৪ - লেখক তাঁর এই কিতাবে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনাগুলো সেই একই উৎসসমূহ থেকে সংগ্রহ করার ওপর নির্ভর করেছেন যার ওপর ভিত্তি করে তিনি তাঁর «জামেউল মাসানিদ ওয়াস সুনান» কিতাবটি রচনা করেছেন, আর সেগুলো হলো:
১ - «মুসনাদে ইমাম আহমাদ»।
২ - «সহীহ বুখারী»।
৩ - «সহীহ মুসলিম»।
৪ - «সুনানে আবু দাউদ»।
৫ - «সুনানে তিরমিযী»।
৬ - «সুনানে নাসাঈ»।
৭ - «সুনানে ইবনে মাজাহ»।
৮ - «মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী»।
৯ - তাবারানীর «আল-মুজামুল কাবীর»।
১০ - «মুসনাদে বাজ্জার»।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
إلا أنه توسع في هذا الكتاب، وزاد مصادر أخرى، سيأتي ذكرها عند الكلام على موارد المؤلِّف في كتابه.
وكان منهجه في ذلك: أنه يبدأ بذكر الحديث أو الأثر من «مسند الإمام أحمد»، ثم يعزوه إلى باقي أصحاب المصنَّفات الأخرى، لا سيما الكتب الستة، ثم بعد ذلك يقوم بجمع مروياته من باقي المصادر الأخرى.
5 - برزت شخصية الحافظ ابن كثير في هذا الكتاب بوضوح وجلاء، فهو لا يسوق الروايات ساكتًا عنها، بل تراه يتكلَّم على الأسانيد والمتون كلام العالم الخبير، فيصحِّح ويضعِّف، ويعدِّل ويجرِّح، ويناقش الأقوال، وينقل من كلام الأئمة والعلماء ما يؤيد رأيه ويقوِّيه، إضافة إلى آرائه القيمة التي يبديها في ثنايا الكلام، ولا يخفى على كل باحث ودارس أهمية هذه الآراء، لما لهذا الإمام من مكانة سَنية.
6 - لم يكتف المؤلِّف بسرد الروايات، بل كان يعلِّق على هذه الروايات بذكر مذاهب أهل العلم، وبيان الراجح منها.
7 - دقته وتحرِّيه في سياق الأسانيد والمتون، فإذا أَشكل عليه لفظ كتب فوقه (كذا) إشارة منه إلى وجود خلل في الرواية.
8 - تنبيهه على مواضع الانقطاع في الروايات بوضع علامة التضبيب.
9 - اهتمامه بنقل كلام أئمة العلل على الروايات تصحيحًا وتعليلاً.
তবে তিনি এই কিতাবে বিষয়বস্তুর ব্যাপকতা বৃদ্ধি করেছেন এবং অন্যান্য উৎস যোগ করেছেন, যা লেখকের কিতাবের উৎসসমূহ নিয়ে আলোচনার সময় উল্লেখ করা হবে।
আর এ ক্ষেত্রে তাঁর পদ্ধতি ছিল এই যে: তিনি ‘মুসনাদে ইমাম আহমাদ’ থেকে হাদিস বা আসার উল্লেখ করার মাধ্যমে শুরু করেন, এরপর তা অন্যান্য গ্রন্থকারদের কিতাবের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন, বিশেষ করে কুতুবে সিত্তাহর দিকে। অতঃপর তিনি অন্যান্য উৎস থেকে এর বর্ণনাগুলো একত্রিত করেন।
৫ - এই কিতাবে হাফেজ ইবনে কাসীরের ব্যক্তিত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তিনি কেবল বর্ণনাগুলো উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং আপনি তাঁকে সনদ এবং মতনের ওপর একজন বিশেষজ্ঞ আলেমের ন্যায় আলোচনা করতে দেখবেন। তিনি বিশুদ্ধতা ও দুর্বলতা বর্ণনা করেন, জারহ ও তা’দিল করেন, বিভিন্ন মত নিয়ে আলোচনা করেন এবং ইমাম ও আলেমগণের এমন সব বক্তব্য উদ্ধৃত করেন যা তাঁর মতকে সমর্থন ও শক্তিশালী করে। এর পাশাপাশি আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে তিনি নিজের মূল্যবান মতামতও তুলে ধরেন। এই ইমামের সুউচ্চ মর্যাদার কারণে যেকোনো গবেষক ও শিক্ষার্থীর কাছে এই মতামতগুলোর গুরুত্ব অজানা নয়।
৬ - লেখক কেবল বর্ণনাগুলো ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং তিনি এই বর্ণনাগুলোর ওপর আহলে ইলমদের মাযহাবসমূহ উল্লেখ করে এবং তার মধ্য থেকে অগ্রগণ্য মতটি বর্ণনা করে মন্তব্য করতেন।
৭ - সনদ ও মতন বর্ণনার ক্ষেত্রে তাঁর সূক্ষ্মতা ও গভীর অনুসন্ধান; যদি কোনো শব্দে তাঁর নিকট অস্পষ্টতা দেখা দিত, তবে তিনি তার ওপরে ‘কাযা’ (এভাবেই আছে) লিখে দিতেন, যা বর্ণনায় কোনো ত্রুটি থাকার প্রতি তাঁর একটি ইঙ্গিত।
৮ - ‘তাদবিব’ চিহ্ন ব্যবহারের মাধ্যমে বর্ণনার মধ্যবর্তী বিচ্ছিন্নতার স্থানসমূহ সম্পর্কে সতর্ক করা।
৯ - বর্ণনাগুলোকে বিশুদ্ধ সাব্যস্ত করা কিংবা সেগুলোর ত্রুটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে ইলমে ইলাল-এর ইমামগণের বক্তব্য উদ্ধৃত করার প্রতি তাঁর গুরুত্বারোপ।
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
المبحث الرابع: مزايا الكتاب
1 - مما تميز به هذا الكتاب نقله لنصوص كثيرة من كتب صارت في زماننا في عداد المفقود، وهذا مما يعطي الكتاب أهمية كبرى.
فمن ذلك:
- «تفسير عَبد بن حميد».
- «تفسير أبي بكر بن مردويه».
- «تفسير ابن أبي شيبة».
- «السُّنة» للطبراني.
- «الفرائض» للإمام أحمد.
- «الفرائض» لأبي بكر بن داود الظاهري.
- «فضائل الشيخين» لأسد بن موسى.
- «مستخرج البَرقاني».
- «مسند أحمد بن مَنيع».
- «مسند عمر» لأبي بكر الإسماعيلي.
- «مسند مسدَّد بن مُسَرهد».
- «المسند المعلَّل» لابن المديني.
- «المسند الكبير» لأبي يعلى.
- «مسند ابن أبي عمر العَدَني».
- «معجم الصحابة» للدَّغولي.
2 - ومن مزاياه: أنه يُعدُّ مصدرًا أصليًا من مصادر التخريج، لاشتماله
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: গ্রন্থের বৈশিষ্ট্যসমূহ১ - এই গ্রন্থটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এতে এমন অনেক কিতাব থেকে প্রচুর পাঠ্য বা উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে, যা বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাওয়া কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আর এটিই এই গ্রন্থটিকে অধিক গুরুত্ববহ করে তুলেছে।
তন্মধ্যে রয়েছে:
- «আবদ বিন হুমাইদ-এর তাফসীর»।
- «আবু বকর বিন মারদুওয়াইহ-এর তাফসীর»।
- «ইবনে আবি শায়বাহ-এর তাফসীর»।
- তাবারানি-এর «আস-সুন্নাহ»।
- ইমাম আহমাদ-এর «আল-ফারায়িজ»।
- আবু বকর বিন দাউদ আজ-জহিরি-এর «আল-ফারায়িজ»।
- আসাদ বিন মুসা-এর «ফাদায়িলুশ শাইখাইন»।
- «মুস্তাখরাজুল বারকানি»।
- «মুসনাদে আহমাদ বিন মানি’»।
- আবু বকর আল-ইসমাঈলি-এর «মুসনাদে উমর»।
- «মুসনাদে মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ»।
- ইবনুল মাদিনি-এর «আল-মুসনাদুল মুআল্লাল»।
- আবু ইয়ালা-এর «আল-মুসনাদুল কাবির»।
- «মুসনাদে ইবনে আবি উমর আল-আদানি»।
- আদ-দাগুলি-এর «মু’জামুস সাহাবা»।
২ - এর আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো: এটি তাখরিজের (হাদিসের উৎস নির্ণয়) মূল উৎসগুলোর মধ্যে অন্যতম হিসেবে গণ্য হয়, কারণ এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে...
(খণ্ড: ১)
মুসনাদুল ফারূক লি-ইবনি কাছীর ত ইমাম
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
على أسانيدَ لكتبٍ صارت في زماننا في عداد المفقود، كما سبقت الإشارة إلى ذلك.
3 - ومن مزاياه: أنه ينقل من النسخ الخطية للكتب، ولهذا مزية كبرى حيث استطعنا مقارنة ما في هذا الكتاب بما في غيره من النسخ المطبوعة، وقد ظهر هذا جليًا عند المقارنة بين ما يورده المؤلف هنا وبين الموجود في الكتب المطبوعة، ومن أبرز هذه الكتب: «مسند الإمام أحمد»، فقد وقفت على حديث أورده المؤلِّف في هذا الكتاب، ولا وجود له في الطبعة التي تولَّت نشرها مؤسسة الرسالة، بإشراف الشيخ شعيب الأرناؤوط، فانظر رقم (334).
এমন সব কিতাবের সনদের ওপর ভিত্তি করে যা আমাদের বর্তমান সময়ে হারিয়ে যাওয়া কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে, যেমনটি ইতিপূর্বে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
৩ - এবং এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো: এটি কিতাবসমূহের পাণ্ডুলিপি থেকে উদ্ধৃত করে। এর একটি বড় বিশেষত্ব রয়েছে, কেননা এর ফলে আমরা এই কিতাবে যা আছে তার সাথে অন্যান্য মুদ্রিত সংস্করণের তুলনা করতে সক্ষম হয়েছি। লেখক এখানে যা উল্লেখ করেছেন এবং মুদ্রিত কিতাবসমূহে যা বিদ্যমান রয়েছে—এই দুইয়ের মধ্যে তুলনা করার সময় বিষয়টি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। আর এই কিতাবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘মুসনাদে ইমাম আহমাদ’। আমি এমন একটি হাদিস পেয়েছি যা লেখক এই কিতাবে উল্লেখ করেছেন, অথচ মুআসসাসাতুর রিসালাহ কর্তৃক প্রকাশিত এবং শেখ শুআইব আল-আরনাউতের তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত মুদ্রণে এর কোনো অস্তিত্ব নেই; সুতরাং নম্বর (৩৩৪) দেখুন।