(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: -)
تهذيب الأجوبة ط عالم الكتب   (ابن حامد الحنبلي)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: تهذيب الأجوبة

المؤلف: أبو عبد الله الحسن بن حامد الحنبلي (ت 403 هـ)

المحقق: السيد صبحي السامرائي [ت 1434 هـ]

الناشر: عالم الكتب، مكتبة النهضة العربية

الطبعة: الأولى، 1408 هـ - 1988 م

عدد الصفحات: 213

أعده للشاملة: فريق رابطة النساخ برعاية (مركز النخب العلمية)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 26 شوّال 1436

তাহজিবুল আজওয়িবা (আলম আল-কুতুব সংস্করণ)   (ইবনে হামিদ আল-হাম্বলি)

বিভাগ: উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه)


কিতাব: তাহজিবুল আজওয়িবা

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ আল-হাসান বিন হামিদ আল-হাম্বলি (মৃ. ৪০৩ হি.)

মুহাক্কিক (গবেষক ও সম্পাদক): আস-সায়্যিদ সুবহি আস-সামাররাই [মৃ. ১৪৩৪ হি.]

প্রকাশক: আলম আল-কুতুব، মাকতাবাতুন নাহদাহ আল-আরাবিয়্যাহ

সংস্করণ: প্রথম، ১৪০৮ হি. - ১৯৮৮ খ্রি.

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ২১৩

শামিলার জন্য প্রস্তুত করেছেন: মারকাজুন নুখাব আল-ইলমিয়্যাহ-এর তত্ত্বাবধানে রাবিতাতুন নুসসাখ টিম

[কিতাবটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২৬ শাওয়াল ১৪৩৬

(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌باب البيان عن حثه على الإتباع في الأجوبة بكل مكان

قال الميموني: قال لي أحمد بن حنبل: إياك أن تتكلم بكلمة واحدة ليس لك فيها إمام.

وقال حرب بن إسماعيل: قلت: الرجل يفسر إعراب القرآن فيقول: (الحمد لله). رفع لأنه ابتداء. وقل: جزم لأنه أمر. {والتين والزيتون}، {والنازعات} قسم، ونحو هذا؟ قال: إذا كان شيئا قد تكلم فيه من قبل، رجوت.

وقال المروذي: قلت: من حلف أن لا يتكلم فقرأ؟ قال: دعها. قيل له إن عبد الوهاب قال: يحنث وقد أجاب؟ فتبسم أبو عبد الله وقال: حاطه عبد الوهاب موضع الفتيا.

قيل له: فما اختلف في يمينه؟ قال: أيش الناس يختلفون في الفقه هو موضع وتطاير هذا يكثر كل بالحث من أبي عبد الله رضي الله عنه على الإتباع وإنه لا يقدم على جواب لم يسبق به، وأن لا يحدث مذهبًا لم يتقدم به.
সর্বত্রই উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে অনুসরণের (إتباع) প্রতি তাঁর উৎসাহ প্রদানের পরিচ্ছেদ

মাইমুনি বলেন: আহমাদ ইবনে হাম্বল আমাকে বলেছেন: এমন একটি কথা বলা থেকেও সতর্ক থেকো, যাতে তোমার কোনো ইমাম (إمام) বা পূর্বসূরি নেই।

হারব ইবনে ইসমাঈল বলেন: আমি বললাম: কোনো ব্যক্তি যদি কুরআনের ব্যাকরণগত বিশ্লেষণ করে এবং বলে: (الحمد لله) 'আল-হামদু লিল্লাহ'—এখানে পেশ (رفع) হয়েছে কারণ এটি প্রারম্ভিক শব্দ (মুবতাদা)। আবার 'কুল' (قل) বলুন—এখানে জজম (جزم) হয়েছে কারণ এটি আদেশসূচক বাক্য। {ওয়াত-তীন ওয়ায-যায়তূন}, {ওয়ান-নাযিআত}—এগুলো শপথ (قسم), এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ? তিনি বললেন: যদি এটি এমন বিষয় হয় যা নিয়ে ইতিপূর্বে বিজ্ঞজনগণ কথা বলেছেন, তবে আমি আশা রাখি (তাতে কোনো সমস্যা নেই)।

মারওয়াযী বলেন: আমি বললাম: যদি কেউ কথা না বলার শপথ করে কিন্তু কুরআন পাঠ করে? তিনি বললেন: এটি ছেড়ে দাও। তাঁকে বলা হলো যে, আব্দুল ওয়াহহাব বলেছেন: এতে শপথ ভঙ্গ (حنث) হবে এবং তিনি এ ব্যাপারে উত্তর দিয়েছেন? তখন আবু আব্দুল্লাহ মুচকি হাসলেন এবং বললেন: আব্দুল ওয়াহহাব একে ফতোয়া (فتيا) প্রদানের বিষয় হিসেবে গণ্য করেছেন।

তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: তার শপথের ব্যাপারে কি কোনো মতপার্থক্য রয়েছে? তিনি বললেন: মানুষেরা ফিকহ (فقه) শাস্ত্রের বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ করে থাকে। এই সবকিছুই আবু আব্দুল্লাহ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর পক্ষ থেকে অনুসরণের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে এবং এটিই নির্দেশ করে যে, তিনি এমন কোনো উত্তর প্রদানে অগ্রসর হতেন না যার কোনো পূর্বসূরি নেই এবং এমন কোনো মতবাদ (مذهب) উদ্ভাবন করতেন না যা ইতিপূর্বে কেউ পেশ করেননি।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ১৮)
وليس هذا من إمامنا على أنه أباح التقليد، ولا أنه منع من الاجتهاد عند الحادثة ويصير إلى موجب الدليل.

وقد اختلف أصحابنا في هذا الأصل ونظائره: فرأيت طائفة من أصحابنا يسلكون في كل المسائل في الفروع والأصول الوقف وأنه لا يفتى بشيئ إلا ما سبق به، وإلا وجب السكوت في ذلك. وطائفة ثانية فضلت فقالت: ما كان من الأصول فإنه لا يجيب في شيء إلا ما كان القول من الأئمة فيه سابقا وعلموا على ما نقل أبو طالب عن أبي عبد الله في الأعيان إن من قال: ملوق فهو جهمي. ومن قال أن غير مخلوق ابتدع وإنه يهجر حتى يرجع، وإن ذلك وعيد على مخالفة أمر لا يسع الجواب فيه، وإن كان من الفروع في الفقه فإنه يسع الجواب، وإن كان به منفردا.

قال أبو حامد رحمة الله عليه: والأشبه عندي أن سائر الفقه والأصول سواء، وأن له إيقاع الجواب عند الاضطرار ونزول الحادثة أنه يجتهد فيما يوجبه الدلليل بذلك وإن كان بالقول منفردا، كما أن إمامنا صار في الأصول إلى ظاهر التنزيل وإن خالفه الملأ أجمعون.

وقول إمامنا في كل مسائلة يحث على الإتباع للفضل. وما نقل عنه في الأيمان والألفاظ من قوله ابتدع، إنما ذلك بيان أنه أي الجواب لم يسبق به، وقد بين إمامنا رحمة الله عليه في القرآن أنه لا يشك ولا يوقف فيه، وأن القائلين بالحكاية والمحكى، واللفظ والملفوظ والتلاوة والمتلو زنادقة. فإذا ثبت هذا عنه بأن ذلك إنه إنما نهى عن الإجابة بأنه غير مخلوق إذا لم يسبق به في الجواب فيدخل في جملة المتكلفين، وعلى هذا كل الأصول في المذهب وبالله التوفيق.
এটি আমাদের ইমামের পক্ষ থেকে এমন নয় যে তিনি অন্ধ অনুসরণ (تقليد) বৈধ করেছেন, আর না একারণে যে তিনি কোনো নতুন সমস্যার ক্ষেত্রে গবেষণা (اجتهاد) করতে নিষেধ করেছেন এবং দলিলের (دليل) দাবি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে বাধা দিয়েছেন।

আমাদের সঙ্গীরা এই মূলনীতি (أصل) এবং এই জাতীয় বিষয়ে মতভেদ করেছেন: আমি আমাদের সঙ্গীদের একদলকে দেখেছি যারা শাখা-প্রশাখা (فروع) এবং মূলনীতি (أصول) সংক্রান্ত সকল মাসআলায় মৌনাবলম্বন (وقف) করার পথ বেছে নিয়েছেন। তাদের মতে, অতীতে যা বলা হয়নি সে বিষয়ে কোনো ফতোয়া দেওয়া যাবে না, অন্যথায় সেক্ষেত্রে নীরব থাকা আবশ্যিক (واجب)। দ্বিতীয় আরেকটি দল পার্থক্য নিরূপণ করে বলেছেন: যে বিষয়গুলো মূলনীতি (أصول) সংক্রান্ত, সেক্ষেত্রে কেবল ইমামগণের পূর্ববর্তী বক্তব্যের আলোকেই উত্তর দেওয়া যাবে। তারা এক্ষেত্রে আবু তালিব কর্তৃক আবু আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণিত বিষয়ের ওপর নির্ভর করেছেন যেখানে বলা হয়েছে যে, "যে ব্যক্তি বলে (কুরআন) সৃষ্ট, সে একজন জাহমি। আর যে বলে তা সৃষ্ট নয়, সে বিদআত (ابتدع) করেছে এবং সে সত্যের পথে ফিরে না আসা পর্যন্ত তাকে বর্জন করা হবে।" এটি মূলত এমন একটি বিষয়ের অবাধ্যতার ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি যেখানে উত্তর দেওয়ার অবকাশ নেই। তবে বিষয়টি যদি ফিকহশাস্ত্রের শাখা-প্রশাখা (فروع) সংক্রান্ত হয়, তবে সেখানে উত্তর দেওয়ার অবকাশ রয়েছে, যদিও সে উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে সে একক হয়।

আবু হামিদ (রহ.) বলেন: আমার নিকট অধিকতর সামঞ্জস্যপূর্ণ হলো ফিকহ এবং মূলনীতি (أصول) উভয়ই সমান। কোনো নতুন সমস্যার উদ্ভব হলে এবং জরুরি অবস্থার সৃষ্টি হলে গবেষণা (اجتهاد) করে উত্তর প্রদান করা যাবে যা দলিলের (دليل) দাবি অনুযায়ী হবে, যদিও তা কোনো একক বক্তব্য হয়। যেমনটি আমাদের ইমাম মূলনীতির ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট বাণীর বাহ্যিক অর্থের দিকে প্রত্যাবর্তন করেছেন, যদিও সর্বস্তরের মানুষ তার বিরোধিতা করেছিল।

প্রতিটি মাসআলায় আমাদের ইমামের বক্তব্য হলো শ্রেষ্ঠত্বের নিমিত্তে অনুসরণের (إتباع) প্রতি উৎসাহিত করা। আর ঈমান এবং তেলাওয়াতের শব্দের ব্যাপারে তার থেকে যে 'বিদআত' (ابتدع) করার কথা বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত এই বিষয়ের বর্ণনা যে, উক্ত উত্তরের কোনো পূর্বসূত্র ছিল না। আমাদের ইমাম (রহ.) কুরআনের ব্যাপারে স্পষ্ট করেছেন যে, এতে কোনো সন্দেহ করা যাবে না এবং মৌনাবলম্বন (وقف) করা যাবে না। আর যারা হিকায়াহ (অনুকরণ) ও মহকি (অনুকৃত), এবং লাফজ (উচ্চারিত শব্দ) ও মলফুয (উচ্চারিত বিষয়) এবং তেলাওয়াত ও মতলু (পঠিত বিষয়) নিয়ে বিভাজন করে, তারা মূলত ধর্মদ্রোহী (زنادقة)। সুতরাং যখন তার থেকে এটি প্রমাণিত হলো যে, তিনি 'অসৃষ্ট' হওয়ার উত্তর দিতে কেবল তখনই নিষেধ করেছেন যখন এ বিষয়ে কোনো পূর্ববর্তী উত্তর ছিল না, ফলে তা অহেতুক কষ্টকল্পনাকারীদের (المتكلفين) অন্তর্ভুক্ত হবে। মাজহাবের সকল মূলনীতি (أصول) এভাবেই বিন্যস্ত। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক কামনা করছি।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌باب البيان عن مذهبه في جواباته بالكتاب والسنة أو بقول الواحد من الصحابة

قال الحسن بن حامد: والمذهب أنه إذا سئل عن مسألة فأجاب بتلاوة أنه يقرأها وينسب إليه ذلك مفسرا. صورة ذلك ما قاله صالح وعبدالله قالا: قال أبي: طاعة الرسول صلى الله عليه وسلم في نيف وثلاثين موضعا في كتاب الله تعالى، وقرأ الآيات. ونظائر هذا كل ما أجاب بتلاوة آية كاللعان أيضا بين الزوجين الكتابة والأمة. وكل جواب أبي عبدالله فيه بالآية يقطع على موجبها بما به نص.

قوله الأصل في ذلك أن السؤال لا غنية فيه عن الجواب، فإذا تلى آية كان ذلك مستخفيا به البيان عن موجب القضية، والدليل على ذلك موجب التنزيل وجوابات سيد المرسلين، ألا ترى إلى فصة اللعان حيث جاءه الرامي فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: حد في ظهرك. فأنزل الله تعالى آية اللعان، فدعاه النبي صلى الله عليه وسلم وقال: ادع صاحبك. فدعاه فقرأ عليهما الآية.
কুরআন, সুন্নাহ অথবা কোনো একজন সাহাবীর বক্তব্যের মাধ্যমে উত্তর প্রদানের মাযহাব (المذهب) বা কর্মপন্থা স্পষ্টীকরণ বিষয়ক অধ্যায়

আল-হাসান বিন হামিদ বলেন: মাযহাব (المذهب) হলো, যখন তাঁকে কোনো মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয় এবং তিনি কোনো আয়াত তিলাওয়াত করার মাধ্যমে উত্তর প্রদান করেন, তবে তিনি তা পাঠ করেন এবং একে তাঁর পক্ষ থেকে একটি ব্যাখ্যামূলক বর্ণনা হিসেবে গণ্য করা হয়। এর উদাহরণ হলো যা সালিহ ও আব্দুল্লাহ বর্ণনা করেছেন, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমার পিতা (ইমাম আহমদ) বলেছেন: মহান আল্লাহর কিতাবে ত্রিশটিরও অধিক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্যের কথা বর্ণিত হয়েছে এবং তিনি আয়াতগুলো পাঠ করেন। এর সদৃশ হলো সেই সকল ক্ষেত্র যেখানে তিনি কোনো আয়াত তিলাওয়াতের মাধ্যমে উত্তর দিয়েছেন, যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে লিআন (اللعان), কিতাবাত (الكتابة) এবং দাসীর বিষয়াবলী। আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম আহমদ) সেই প্রতিটি উত্তর যা আয়াতের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে, তা স্পষ্ট ভাষ্যের (نص) দাবি অনুযায়ী সুনিশ্চিতভাবে প্রদান করা হয়েছে।

তাঁর উক্তি: এর মূলনীতি (الأصل) হলো, প্রশ্নের ক্ষেত্রে উত্তর প্রদান অপরিহার্য। সুতরাং যখন তিনি কোনো আয়াত পাঠ করেন, তখন তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিধানের ব্যাপারে একটি প্রচ্ছন্ন স্পষ্টীকরণ হিসেবে গণ্য হয়। এর প্রমাণ হলো ওহীর (التنزيل) দাবি এবং রাসূলগণের সরদারের উত্তরসমূহ। আপনি কি লিআনের (اللعان) ঘটনার দিকে লক্ষ্য করেন না? যখন জনৈক অপবাদ প্রদানকারী ব্যক্তি তাঁর কাছে আসলেন, তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন: "তোমার পিঠে দণ্ড (حد) কার্যকর হবে।" এরপর মহান আল্লাহ লিআনের (اللعان) আয়াত নাজিল করেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে বললেন: "তোমার সঙ্গিনীকে ডাকো।" এরপর তিনি তাকে ডাকলেন এবং তাদের উভয়ের সামনে আয়াতটি পাঠ করলেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২০)
ومن ذلك حديث عائشة رضي الله عنها: لقد جاءت المجادلة وأنا أسمع ما تقول، فأنزل الله عز وجل: {قد سمع الله قول التي تجادلك في زوجها وتشتكي إلى الله} فقال النبي صلى الله عليه وسلم: ادعو لي صاحبك، فدعت ابن عمها فقرأ عليهما النبي صلى الله عليه وسلم.

ومن ذلك قول للأعرابي: توضأ كما أمرك الله. ونظائر ذلك كلما يوقع جوابه بنص آية ليكون ذلك منه بيانا كافيا وحكما ماضيا، فإذاا ثبت هذا شرعا كان جواب إمامنا على ذلك الطريق به وبالله التوفيق.

 

مسألة: فأما الجواب بالسنة والأثر

صورة ذلك من مذهبه في أجوبته ما رواه صالح قال: سألت أبي عن الإمام إذا اطلع على رجل يفجر أيقيم عليه الحد؟ فحدثني أبي قال ثنا عبد الرحمن قال ثنا حرب بن أسيد عن يحيى بي أبي كثير عن محمد بن عبد الله بن زبيد بن الصلت أنه سمع أبا بكر الصديق يقول: لو أحدث سارقا لأحببت أن يستره الله. فما أجاب بغيره.

وقال الأثرم: قلت له: الرجل انقطع شسع نعله، أيمشي في الأخرى؟

এর অন্যতম উদাহরণ হলো আয়েশা (রা.) কর্তৃক বর্ণিত হাদিস: "সেই বাদানুবাদকারী মহিলাটি আসলেন এবং তিনি যা বলছিলেন আমি তা শুনছিলাম। অতঃপর আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা অবতীর্ণ করলেন: {নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই মহিলার কথা শুনেছেন যে তার স্বামীর বিষয়ে আপনার সাথে বাদানুবাদ করছিল এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করছিল}। এরপর নবী (সা.) বললেন: 'তোমার সাথীকে আমার কাছে ডাকো।' অতঃপর তিনি তাঁর চাচাতো ভাইকে ডাকলেন এবং নবী (সা.) তাদের উভয়ের সামনে তা তিলাওয়াত করলেন।"

এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই বেদুইনকে বলা তাঁর উক্তি: "আল্লাহ তোমাকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন সেভাবে অজু করো।" এর সমজাতীয় প্রতিটি বিষয় যেখানে কোনো আয়াতের স্পষ্ট ভাষ্যের মাধ্যমে জবাব প্রদান করা হয়েছে, যাতে তা তাঁর পক্ষ থেকে একটি পর্যাপ্ত ব্যাখ্যা এবং কার্যকর বিধান (حكم) হিসেবে গণ্য হয়। যখন শরয়িভাবে এটি সাব্যস্ত হলো, তখন আমাদের ইমামের জবাবও সেই পথ অনুসরণ করেই হতো। আল্লাহর তাওফিকেই সকল কল্যাণ নিহিত।

 

মাসয়ালা (مسألة): সুন্নাহ (سنة) ও আসার (أثر) এর মাধ্যমে উত্তর প্রদানের বিবরণ।

তাঁর উত্তরসমূহের ক্ষেত্রে তাঁর মাজহাব (مذهب) বা অনুসৃত পদ্ধতির একটি রূপ হলো যা সালেহ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: "আমি আমার পিতাকে ইমাম (শাসক) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম যে, তিনি যদি কাউকে পাপাচার করতে দেখেন, তবে কি তিনি তার ওপর নির্ধারিত দণ্ড (حد) কার্যকর করবেন? আমার পিতা আমাকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে আব্দুর রহমান বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আমাদের কাছে হারব বিন আসিদ বর্ণনা করেছেন ইয়াহইয়া বিন আবি কাসির থেকে, তিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন জুবাইদ বিন আল-সালত থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-কে বলতে শুনেছেন: 'আমি যদি কোনো চোরকে পাকড়াও করি, তবে আমি পছন্দ করব যেন আল্লাহ তাকে গোপন রাখেন।' তিনি এ ছাড়া অন্য কোনো উত্তর দেননি।"

আল-আছরাম বলেন: "আমি তাঁকে বললাম: কোনো ব্যক্তির জুতার ফিতা ছিঁড়ে গেলে, সে কি অপরটি পরে হাঁটবে?"

(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২১)
فقال: لا. حديث النبي صلى الله عليه وسلم فذكر الحديث.

وقال أبو الحارث: قلت لأبي عبد الله: صدقة الخيل والرقيق؟ فقال: حديث النبي صلى الله عليه وسلم: ليس على الرجل في عبده ولا فرسه صدقة.

وقال أبو النصر: قلت لأبي عبد الله: حديث النبي صلى الله عليه وسلم لعبد الرحمن ولم يقل إذا رأيت خيرا منها فاستثنى.

والميموني: قال أبو عبد الله رضي الله عنه: بلغني أن أبا حنيفة كان يقول: لا نؤاخذ بما كان في الجاهلية. والنبي صلى الله عليه وسلم يقول: نؤاخذ. حديث سفيان عن عبد الله.

والميموني: قال: لا يصلى على الغال. والنبي صلى الله عليه وسلم لم يصل على الغال.

وقال الحسن بن محمد بن الحارث: سئل أحمد عن رجل يؤم قوما،
তিনি বললেন: না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস, অতঃপর তিনি হাদিসটি উল্লেখ করলেন।

আবু আল-হারিস বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম: ঘোড়া ও দাসের যাকাত (صدقة)? তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস: কোনো ব্যক্তির ওপর তার দাসের জন্য বা তার ঘোড়ার জন্য যাকাত (صدقة) নেই।

আবু আন-নাসর বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে বললাম: আব্দুর রহমানের প্রতি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদিস; তিনি "যখন তুমি এর চেয়ে উত্তম কিছু দেখবে" কথাটি বলেননি, ফলে তিনি ব্যতিক্রম (استثنى) করেননি।

আল-মাইমুনি বর্ণনা করেন: আবু আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন: আমার নিকট সংবাদ পৌঁছেছে যে, আবু হানিফা বলতেন: জাহেলিয়াত যুগে যা সংঘটিত হয়েছে তার জন্য আমাদের পাকড়াও করা হবে না। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: পাকড়াও করা হবে। এটি আব্দুল্লাহর সূত্রে সুফিয়ানের বর্ণিত হাদিস।

আল-মাইমুনি বলেন: তিনি বলেছেন: গণিমতের মাল আত্মসাৎকারীর (الغال) জানাজা পড়া হবে না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গণিমতের মাল আত্মসাৎকারীর (الغال) জানাজা পড়েননি।

হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হারিস বলেন: আহমাদকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে কোনো সম্প্রদায়ের ইমামতি (يؤم) করে,
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২২)
فخالف أحاديث جاءت عن النبي صلى الله عليه وسلم؟ قال: أخبره وعلمه، فإذا أخبرته عن النبي صلى الله عليه وسلم فلم يقبل فاهجره.

وقال صالح: قال أبي: الذي يذهب إليه ابن عمر عن النبي صلى الله عليه وسلم يعني بالرفع في الصدقة. ونظائر هذا يكثر نقله عنه.

فما سئل عنه فيجيب بالحديث أو يفتي ويستدل فيه بالحديث أو يسأل عنه فيروي فيه الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم فكل ذلك مذهب له صريح بمثابة ما يفتي به من قبله سواء وأنه يراعى فيه ظاهر الحديث الذي احتج به، فيكون ظاهر موجب الخبر، وهذا مذهب أصحابنا كافة لا أعلم بينهم فيه خلافا. والأصل في ذلك ما قدمنا من الاحتجاج بالآية، وكذلك الاحتاج بالسنة أو الجواب بالسنة كالآية سواء.

ومن أول الأشياء أن الصحابة كذلك أفتت وبالأخبار تعلقت من حيث ثبت عن أبي بكر الصديق رضي الله عنه القضاء في أهل الردة فقالوا: كيف نقاتل وقد قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: أمرت أن أقاتل الناس حتى يقولوا لا إله إلا الله.

ومن ذلك ما يكثر اختلافهم في الماء من الماء وما جانس ذلك.
তিনি কি নবী (সা.) থেকে আগত হাদিসসমূহের বিরোধিতা করেছেন? তিনি বললেন: তাকে অবহিত করো এবং শিক্ষা দাও। এরপর যদি তুমি তাকে নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে সংবাদ দাও আর সে তা গ্রহণ না করে, তবে তাকে ত্যাগ করো।

সালেহ বলেছেন: আমার পিতা বলেছেন: ইবনে উমর নবী (সা.) থেকে যে মতটি গ্রহণ করতেন, তা দ্বারা তিনি সদকার ক্ষেত্রে মারফু (الرفع) বর্ণনাকে বুঝাতেন। তাঁর থেকে এ জাতীয় বর্ণনার আধিক্য লক্ষ্য করা যায়।

তাঁকে যা কিছু জিজ্ঞেস করা হতো, তিনি তার উত্তর হাদিসের মাধ্যমে দিতেন অথবা ফতোয়া প্রদানকালে হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করতেন কিংবা কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি নবী (সা.) থেকে হাদিস বর্ণনা করতেন। এ সবই তাঁর সুস্পষ্ট মাযহাব বা মতাদর্শের অন্তর্ভুক্ত, যা তাঁর পক্ষ থেকে প্রদত্ত সরাসরি ফতোয়ার সমতুল্য। এতে তাঁর পক্ষ থেকে পেশকৃত হাদিসের প্রকাশ্য (ظاهر) অর্থের অনুসরণ করা হয়, যা সংবাদের (الخبر) দাবি অনুযায়ী প্রকাশ্য অর্থ হিসেবে গণ্য হয়। এটি আমাদের সকল ইমাম ও সঙ্গীদের অভিমত এবং আমি তাঁদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ আছে বলে জানি না। এর মূল ভিত্তি হলো যা আমরা ইতিপূর্বে আয়াতের মাধ্যমে প্রমাণ উপস্থাপন করেছি; একইভাবে সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে দলিল প্রদান কিংবা সুন্নাহর (السنة) মাধ্যমে উত্তর প্রদান করা আয়াতের মাধ্যমে দলিল পেশ করার মতোই।

প্রথমদিকের বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো যে, সাহাবীগণও একইভাবে ফতোয়া দিতেন এবং সংবাদের (الأخبار) ওপর নির্ভর করতেন। যেমন আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর পক্ষ থেকে মুরতাদদের বিষয়ে ফয়সালা প্রমাণিত আছে, যেখানে তাঁরা বলেছিলেন: "আমরা কীভাবে যুদ্ধ করব, অথচ রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: আমাকে মানুষের বিরুদ্ধে ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যতক্ষণ না তারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে"।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই সব বিষয় যেগুলোতে তাঁদের মধ্যে প্রচুর মতভেদ রয়েছে, যেমন "পানির কারণে পানি" (বীর্যপাতের কারণে গোসল) সংক্রান্ত মাসয়ালা এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়সমূহ।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৩)
فإذا ثبت هذا علمت أن الجواب بالأثر بمثابة نص الفتوى.

وقد ثبت أيضا أن الفقيه إذا سئل عن حكم فأفتى بالخبر، فإنه إيذان ببيان الحكم لا أنه لم يتبين عن الحكم فإذا ثبت هذا علمت بذلك صحة ما ذكرناه، ولا أعلم في هذا أيضا خلافا إلا شيء شذ به بعض المتأخرين فقالوا: إنه لا يحتج بالخبر على إتيانه لمن أفتى به مذهبا إذ الخبر قد يرده، وإذا سئل عنه فسر وبين، فإذا ثب هذا بطل أن ينسب إليه بذلك مذهبا. وهذا قول بعيد عن الإصابة، إذ من شأن الفتوى ثبوت الجواب بما يوصل إلى القضية في الأحكام، فإذا ثبت الاقتصار على الأثر استقر بذلك موجب الجواب بغير تدافع.
যখন এটি সাব্যস্ত হলো, তখন আপনি জানতে পারলেন যে বর্ণনা (أثر) এর মাধ্যমে উত্তর প্রদান করা ফতোয়ার মূল ভাষ্যের স্থলাভিষিক্ত।

এটিও প্রমাণিত হয়েছে যে, একজন ফকিহ যখন কোনো বিধান সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হন এবং তিনি কোনো সংবাদ (خبر) এর মাধ্যমে ফতোয়া প্রদান করেন, তখন তা মূলত বিধানটি স্পষ্ট করারই নামান্তর; বিষয়টি এমন নয় যে তার কাছে বিধানটি স্পষ্ট ছিল না। সুতরাং এটি যখন সাব্যস্ত হলো, তখন আপনি এর দ্বারা আমাদের উল্লিখিত বিষয়ের যথার্থতা অনুধাবন করতে পারলেন। আর এ বিষয়ে পরবর্তী যুগের (متأخرين) কিছু আলিমের বিচ্ছিন্ন হওয়া (شذ) মত ছাড়া আর কোনো মতভেদ আমার জানা নেই; তারা বলেন যে, কেউ কোনো সংবাদ (خبر) দ্বারা ফতোয়া প্রদান করলে সেটি তার মাজহাব হিসেবে দলিল হিসেবে গ্রহণ (يحتج) করা যাবে না, কারণ সংবাদটি কখনো কখনো বর্জনীয় হতে পারে। আর যখন তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি তা ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ করেন; সুতরাং এটি সাব্যস্ত হওয়ার ফলে উক্ত বিষয়টিকে তার মাজহাব হিসেবে সম্বন্ধ করা বাতিল হয়ে যায়। এই উক্তিটি সঠিকতা থেকে অনেক দূরে; কারণ ফতোয়ার বৈশিষ্ট্যই হলো বিধানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো উত্তর নিশ্চিত করা। সুতরাং যখন কেবল বর্ণনার (أثر) ওপর নির্ভরতা প্রমাণিত হয়, তখন কোনো প্রকার বৈপরীত্য ছাড়াই উত্তরের দাবিটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৪)
فأما الجواب عن الذي قالوه من أنه قد يسأل عن الخبر فيفسره بتفسير يخالف ظاهره، فذلك لا يضر بالأسئلة في جوابه قد يرد مطلقا، فإذا سئل عنه فسره ألا ترى أنه سئل عن الأضاحي؟ فقال: يأكل. فقال له: يأكلها كلها؟ فقال: لا، يأكل ثلثا. وليس تفسيره لجواب قد أطلقه دليل على أن جوابه النطق لاتفاق به، وكذلك في الأخبار إذا احتج بظاهرها وجب إجراء مذهبه بموجب الظاهر إلا أن يقارب ذلك التفسير وبالله التوفيق.

 

مسألة: فأما الكلام في جوابه فظاهر مقالة الصحابة

صورة ذلك: ما قاله صالح قلت لأبي: صلاة الجماعة؟ قال: أخشى أن تكون فريضة. يروى عن عمر وعلي وابن عباس وابن مسعود: من سمع النداء فلم يجب فلا صلاة له إلا من عذر. وذكر حديث عائشة.

তারা যা বলেছে যে, তাঁকে সংবাদ (خبر) সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি এমন ব্যাখ্যা প্রদান করেন যা তার বাহ্যিক অর্থ (ظاهر)-এর পরিপন্থী হতে পারে—এর উত্তর হলো: এটি তাঁর উত্তরের প্রশ্নগুলোর ক্ষেত্রে কোনো ক্ষতি করে না। কারণ তাঁর উত্তর অনেক সময় নিঃশর্তভাবে (مطلق) প্রদান করা হয়, অতঃপর যখন সে বিষয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি তার ব্যাখ্যা দেন। আপনি কি দেখেন না যে, তাঁকে কোরবানির পশু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল? তিনি বলেছিলেন: "সে আহার করবে।" এরপর তাকে জিজ্ঞেস করা হলো: "সে কি পুরোটাই আহার করবে?" তিনি বললেন: "না, বরং সে এক-তৃতীয়াংশ আহার করবে।" সুতরাং তাঁর প্রদানকৃত কোনো নিঃশর্ত উত্তরের ব্যাখ্যা এটি প্রমাণ (دليل) নয় যে, তাঁর উত্তরটি কেবল মৌখিক সম্মতির ভিত্তিতে ছিল। একইভাবে সংবাদসমূহ (أخبار)-এর ক্ষেত্রেও, যখন সেটির বাহ্যিক অর্থ (ظاهر) দ্বারা দলিল পেশ করা হয়, তখন সেই ব্যাখ্যাটি সংগতিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর মাযহাব (مذهب)-কে বাহ্যিক অর্থের আলোকেই গ্রহণ করা ওয়াজিব। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

 

মাসআলা (مسألة): তাঁর উত্তরের আলোচনার ক্ষেত্রে সাহাবীগণ (صحابة)-এর বক্তব্যের বাহ্যিক রূপ হলো—

এর উদাহরণ: সালেহ যা বলেছেন—আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম: জামাতে নামাজ পড়া সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: "আমি আশঙ্কা করি যে এটি ফরজ (فريضة) হতে পারে।" ওমর, আলী, ইবনে আব্বাস এবং ইবনে মাসউদ থেকে বর্ণিত হয়েছে: "যে ব্যক্তি আজান শুনল কিন্তু তাতে সাড়া দিল না, ওজর (عذر) ব্যতীত তার কোনো নামাজ হবে না।" এবং তিনি আয়েশার হাদিস উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وقال أبو طالب: سألت أبا عبد الله عمن حلف بسورة من القرآن؟ فقال: قال ابن مسعود: عليه بكل آية يمين. قلت: ما تقول أنت؟ قال: أسق قولي هذا ابن مسعود يقول هذا.

وقال ابن منصور: قلت ذاك والله لا يؤدي يعني حديث ابن عمر. فقال: إذا قامت البينة.

وقال في الجارية يستثني ما فيه بطنها إذا عتقها؟ قال: قد روي عن ابن عمر أنه بعده. قلت: تذهب إليه؟ قال: نعم، ولا أذهب إليه في البيع.

وقال المروذي: قلت يؤذن وهو قاعد؟ قال: قد روي عن رجل من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم.

وقال ابن منصور: قلت: نذر أن يطوف على أربع؟ قال: قال ابن عباس: طوافا لليدين وطوافا للرجلين.

قلت: حديث علي في الزينة؟ قال: ما أعلم شيئا يدفعه.

ونظائر هذا يكثر بكل ما فيه جوابه بالخير، واستند إلى أثر عن الصحابة أو قضاء مأثور عن الصحابة وكل مستحق نسبه المذهب إليه من حيث ظاهر ما رواه واعتمد عليه وارتضاه يشابه ما قدمنا من الحكم في جوابه بالسنة عن النبي
আবু তালিব বলেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে (ইমাম আহমাদ) সেই ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম যে কুরআনের কোনো সূরা দিয়ে শপথ করে? তিনি বললেন: ইবনে মাসউদ বলেছেন: প্রতিটি আয়াতের জন্য একটি করে শপথ (يمين) সাব্যস্ত হবে। আমি বললাম: আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: আমার বক্তব্যের অবস্থান কোথায়? ইবনে মাসউদ তো এটাই বলছেন।

ইবনে মনসুর বলেন: আমি বললাম, আল্লাহর কসম, সে তা আদায় করবে না—অর্থাৎ ইবনে ওমরের হাদিসটি। তিনি বললেন: যখন প্রমাণ (بينة) প্রতিষ্ঠিত হবে।

তিনি সেই দাসী সম্পর্কে বলেন, যাকে মুক্ত করার সময় তার গর্ভস্থ সন্তানকে কি আলাদা রাখা যাবে? তিনি বললেন: ইবনে ওমর থেকে বর্ণিত (روي) আছে যে, তিনি একে আলাদা রাখতেন। আমি বললাম: আপনি কি এই মত গ্রহণ করেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তবে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে আমি এই মত গ্রহণ করি না।

মারওয়াযী বলেন: আমি বললাম, বসে কি আযান দেওয়া যায়? তিনি বললেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জনৈক সাহাবী থেকে এটি বর্ণিত (روي) হয়েছে।

ইবনে মনসুর বলেন: আমি বললাম, কেউ যদি চার হাত-পায়ে ভর দিয়ে তওয়াফ করার মানত করে? তিনি বললেন: ইবনে আব্বাস বলেছেন: দুই হাতের জন্য একটি তওয়াফ এবং দুই পায়ের জন্য একটি তওয়াফ।

আমি বললাম: সাজসজ্জা বিষয়ে আলীর হাদিসটি সম্পর্কে আপনার মতামত কী? তিনি বললেন: আমি এমন কিছু জানি না যা একে খণ্ডন (يدفع) করে।

এই জাতীয় উদাহরণ প্রচুর রয়েছে যেখানে তিনি ইতিবাচক উত্তর দিয়েছেন এবং সাহাবীগণের বর্ণিত কোনো বর্ণনা (أثر) বা তাঁদের থেকে উদ্ধৃত কোনো বিচারিক ফয়সালার ওপর নির্ভর করেছেন। এমন প্রতিটি বিষয় যা মাযহাব হিসেবে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হওয়ার যোগ্য—অর্থাৎ যা তিনি বর্ণনা (روى) করেছেন, যার ওপর নির্ভর (اعتمد) করেছেন এবং যা পছন্দ (ارتضى) করেছেন—তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর ভিত্তিতে প্রদত্ত উত্তরের ক্ষেত্রে আমরা ইতিপূর্বে যে বিধান বর্ণনা করেছি তার সদৃশ।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৬)
صلى الله عليه وسلم لا غير ذلك والطريق فيه أن الفقيه لا غنية له عن البيان فيما يسأل ولا يسعه أن يوقع جوابا إلا من حيث نصه، ولا يفتي بما لا يصح له، فإذا ثبت هذا بأن بذلك أنه قصد ما رواه هو ما ثبت من ظاهر قصد بقول الصحابة رضي الله عنهم بلقائه جوابه بالسنة وبالله التوفيق.
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, এ ছাড়া অন্য কিছু নয়। আর এর পদ্ধতি হলো এই যে, একজন ফকিহর নিকট জিজ্ঞাসিত বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা (بيان) প্রদানের কোনো বিকল্প নেই এবং তাঁর পক্ষে কোনো উত্তর প্রদান করা সম্ভব নয় যদি না তা সরাসরি মূল পাঠ (نص) থেকে হয়। আর তিনি এমন কোনো বিষয়ে ফতোয়া প্রদান করেন না যা তাঁর নিকট বিশুদ্ধ (صحيح) নয়। সুতরাং যখন এটি সাব্যস্ত (ثابت) হলো, তখন এর মাধ্যমে প্রতীয়মান হয় যে, তিনি যা বর্ণনা (رواية) করেছেন তা মূলত সাহাবীগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) সেই প্রকাশ্য উদ্দেশ্য যা সুন্নাহ (سنة) এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তাঁর জবাবের সাথে সাক্ষাতের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত (ثابت) হয়েছে। আর আল্লাহর সাহায্যেই সকল সফলতা।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌باب البيان عن مذهبه بالأثر إذا بيّنه والقول من الصحابة إذا دوّنه من غير جواب به ولا توثيب فيه ولا رد له

قال الحسن بن حامد رحمه الله: كل ما بيّنه إمامنا رضي الله عنه من الأثر وصحّ به السند عن الصحابة له نقل من غير رد ولا نكير فذلك بأسره عندي ثابت في مذهبه بمثابة جوابه نطقا.

والأصل الدليل على هذا من مذهبه ما رواه عنه الميموني قال: قال أبو عبد الله: إذا كان الكتاب والسنة فهو الأمر.

وقال المروذي قال أبو عبد الله: نحن نسفك الدماء بهذه الأخبار الصحاح، فإذا ثبت الخبر قلنا به. وفي هذا بيان عن مذهبه أنه إذا كان في القضية خبر كان ذلك مذهبًا له، وأنه قائل به. وهذه طريقة عامة شيوخنا، وأن ما وجد عن أبي عبد الله فيه رواية الأثر من غير رد ولا جواب يضاره جعلوا ذلك له مذهبًا، وهذا مذهب المروذي والأثرم وصالح وعبد الله، وأنهم يعتمدون في مذهبه على ما بينت من أحاديثه.

وأما ارتضاء طريقه فقال المروذي في كتابه أبواب عدة وما ذكر فيها إلا ما رواه فقال في باب القيام عن ركعتين: حدثنا أحمد قال ثنا يزيد بن هارون قال: أنبأ المسعودي عن زياد بن علاقة قال: صلى بنا المغيرة بن شعبة فلمّا صلى ركعتين قام ولم يجلس، فسبح به من خلفه فأشار إليهم أن قوموا. . الحديث.
বর্ণনার (أثر) মাধ্যমে তাঁর মাযহাব (مذهب) ব্যাখ্যা করা সংক্রান্ত অধ্যায়; যখন তিনি তা বর্ণনা করেন এবং সাহাবীগণের (الصحابة) বক্তব্য যখন তিনি তা লিপিবদ্ধ করেন কোনো উত্তর প্রদান করা ছাড়া, কোনো সমালোচনা করা ছাড়া এবং তা প্রত্যাখ্যান করা ছাড়া।

আল-হাসান ইবনে হামিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আমাদের ইমাম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণনা (أثر) থেকে যা কিছু ব্যাখ্যা করেছেন এবং সাহাবীগণ (الصحابة) থেকে যার বর্ণনাসূত্র (السند) বিশুদ্ধ (صحّ) হয়েছে এবং তিনি তা কোনো প্রত্যাখ্যান বা আপত্তি ছাড়াই বর্ণনা করেছেন, তবে সেই পুরো বিষয়টিই আমার নিকট তাঁর মাযহাব (مذهب) হিসেবে সাব্যস্ত, যা তাঁর সরাসরি মৌখিক উত্তরের স্থলাভিষিক্ত।

তাঁর মাযহাব (مذهب) থেকে এর স্বপক্ষে মূল দলিল হলো যা আল-মাইমুনি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন: যখন কিতাব ও সুন্নাহ বিদ্যমান থাকে, তখন সেটিই হচ্ছে অনুসরণীয় বিষয়।

আল-মাররুজি বলেন, আবু আব্দুল্লাহ বলেছেন: আমরা এই বিশুদ্ধ (صحاح) সংবাদগুলোর (أخبار) ভিত্তিতেই রক্ত প্রবাহিত করি (অর্থাৎ ফয়সালা প্রদান করি); সুতরাং যখন সংবাদ (الخبر) প্রমাণিত (ثبت) হয়, তখন আমরা তা মেনে চলি। এর মধ্যেই তাঁর মাযহাব (مذهب) সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে যে, কোনো বিষয়ে যদি সংবাদ (خبر) থাকে, তবে সেটিই তাঁর মাযহাব (مذهب) হিসেবে গণ্য হবে এবং তিনি সেটির প্রবক্তা। এটিই আমাদের অধিকাংশ শাইখদের অনুসৃত পথ। আবু আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে যে সকল বর্ণনা (أثر) পাওয়া যায় যেখানে কোনো প্রত্যাখ্যান বা বিপরীতমুখী উত্তর নেই, তাঁরা সেটিকে তাঁর মাযহাব (مذهب) হিসেবে গণ্য করেছেন। আর এটিই আল-মাররুজি, আল-আছরাম, সালিহ এবং আব্দুল্লাহর মাযহাব (مذهب); আর তাঁরা তাঁর মাযহাবের (مذهب) ক্ষেত্রে তাঁর সেই সকল হাদিসের ওপর নির্ভর করেন যা আমি স্পষ্ট করেছি।

তাঁর এই পদ্ধতি গ্রহণের ব্যাপারে আল-মাররুজি তাঁর গ্রন্থ 'আবওয়াব'-এ বেশ কিছু অধ্যায়ের কথা উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তিনি কেবল তাঁর বর্ণিত হাদিসগুলোই উল্লেখ করেছেন। তিনি 'দুই রাকাতের পর দাঁড়িয়ে যাওয়া' অধ্যায়ে বলেছেন: আমাদের নিকট আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আমাদের নিকট ইয়াজিদ ইবনে হারুন বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন আল-মাসউদি আমাদের জিয়াদ ইবনে ইলাকাহ থেকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আল-মুগিরা ইবনে শু'বাহ আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন, যখন তিনি দুই রাকাত শেষ করলেন তখন তিনি (তাশাহুদের জন্য) না বসেই দাঁড়িয়ে গেলেন। তাঁর পেছনের মুসল্লিরা তাসবিহ পাঠ করলে তিনি তাঁদের দাঁড়িয়ে যাওয়ার ইশারা করলেন... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৮)
ومن ذلك ذكر عنه الجهر والإخفاء فذلك ابن عباس ونظائر ذلك كثير.

وخالف في ذلك طائفة من أصحابنا فقالوا به لا يجوز أن يُنسب إليه بروايته الأخبار مذهبًا له، وتابعهم على هذا جماعة الشافعيين فقالوا: لو جاز هذا جاز أن ينسب أهل الآثار ومن دون الأخبار أنه بالفقه مختص وله قائل. قالوا: من جوّز أن ينسب إلى قائل مذهبًا جاز أن ينسب إلى ساكت مذهبًا.

وأيضًا فإن الفقيه ليس من حيث الخبر إذ قد يكون ما يأتي من الخبر له تأويل عنده إذا سئل عنه أظهره. قالوا: فإذا ثبت لهذا وجب أن لا يجوز أن لا ينسب إليه مذهبًا.

وأيضًا: فإن أبا عبد الله قد أثبت صحة أحاديث لا يقال بها في مذهبه: حديث سهل بن سعد في النكاح على آيات من القرآن.

ومن ذلك ثبت الحديث: يدخل من أمتي سبعون ألفًا الجنة بغير حساب. قيل من هم؟ قال: هم الذين لا يكتوون ولا يسترقون وعلى ربهم يتوكلون. ومع هذا لا ينفي ذلك الاسترقاء.
এর অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁর পক্ষ থেকে উচ্চৈঃস্বরে (الجهر) এবং অনুচ্চৈঃস্বরে (الإخفاء) পাঠ করার উল্লেখ; এটি ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং এই জাতীয় দৃষ্টান্ত প্রচুর রয়েছে।

আমাদের একদল সহকর্মী এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন যে, কোনো রাবির বর্ণিত হাদীস বা বর্ণনার (الأخبار) মাধ্যমে সেটিকে তাঁর নিজস্ব মতবাদ (مذهبًا) হিসেবে তাঁর দিকে সম্বন্ধ করা বৈধ নয়। শাফেয়ী অনুসারীদের একটি দলও তাঁদের এই মতকে অনুসরণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন: যদি এটি বৈধ হতো, তবে হাদীস বিশেষজ্ঞ (أهل الآثار) এবং যারা হাদীস (الأخبار) বর্ণনা করেন না তাদের সবার ক্ষেত্রেই এটি বলা বৈধ হতো যে, তিনি ফিকহ শাস্ত্রে পারদর্শী এবং তাঁর নির্দিষ্ট বক্তব্য রয়েছে। তাঁরা বলেন: যে ব্যক্তি কোনো বক্তার দিকে একটি মতবাদ (مذهبًا) সম্বন্ধ করা বৈধ মনে করেন, তাঁর জন্য একজন মৌন ব্যক্তির দিকেও একটি মতবাদ (مذهبًا) সম্বন্ধ করা বৈধ হয়ে যায়।

তদুপরি, একজন ফকিহ (الفقيه) কেবল বর্ণনার (الخبر) খাতিরেই কোনো নির্দিষ্ট মতের অনুসারী হন না; কারণ তিনি যে বর্ণনা (الخبر) উপস্থাপন করছেন, জিজ্ঞাসিত হলে তার কোনো ব্যাখ্যা (تأويل) তাঁর কাছে থাকতে পারে যা তিনি প্রকাশ করবেন। তাঁরা বলেন: যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন তাঁর দিকে কোনো মতবাদ (مذهبًا) সম্বন্ধ করা বৈধ না হওয়া আবশ্যক।

আরও একটি বিষয় হলো: আবু আব্দুল্লাহ এমন কিছু হাদিসের বিশুদ্ধতা (صحة) সাব্যস্ত করেছেন যা তাঁর মাযহাবে (مذهبه) আমলযোগ্য হিসেবে গৃহীত হয়নি; যেমন—কুরআনের আয়াতের বিনিময়ে বিবাহের বিষয়ে সাহল ইবনে সা’দ (রা.) বর্ণিত হাদিস।

এরই অন্তর্ভুক্ত সাব্যস্ত (ثبت) হওয়া একটি হাদিস: ‘আমার উম্মতের সত্তর হাজার লোক বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁরা কারা? তিনি বললেন: ‘তাঁরা হলেন সেই সব লোক যারা আগুনের দাগ দিয়ে চিকিৎসা করে না, ঝাড়ফুঁক কামনা (يسترقون) করে না এবং তাদের রবের ওপর ভরসা (يتوكلون) করে।’ আর এটি ঝাড়ফুঁক (الاسترقاء) গ্রহণ করার বিষয়টিকে নাকচ করে দেয় না।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ২৯)
وأيضًا فلو جاز أن يثبت بروايته الخبر مذهبًا، كان إسقاط المذهب بالخبر الثابت إذا رواه جائزًا، فلمّا لم يسقط شيء من جوابه بالخبر، فكذلك لا يُثبت له جواب بالخبر.

وهذا كله فله وجه له، والدليل على صحة ما ذكرناه دلّ الكتاب والسنة ووجوه العبرة.

فمن الكتاب أن الله جل وعز نهى عن قول ما لا علم لقائله، وزجر عن
তদুপরি, যদি তার বর্ণনাকৃত সংবাদ (خبر) দ্বারা কোনো মাযহাব সাব্যস্ত করা বৈধ হতো, তবে তার বর্ণিত সুসাব্যস্ত (ثابت) সংবাদ (خبر) দ্বারা কোনো মাযহাবকে রহিত করাও বৈধ হতো। যেহেতু সংবাদ (خبر) দ্বারা তার কোনো অভিমত বাতিল হয় না, সেহেতু সংবাদ (خبر) দ্বারা তার অনুকূলে কোনো অভিমত সাব্যস্তও হবে না।

আর এই সবকিছুরই একটি যৌক্তিক ভিত্তি রয়েছে। আমরা যা উল্লেখ করেছি তার যথার্থতার প্রমাণ কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ (سنة) এবং বিচার-বিশ্লেষণের পদ্ধতিসমূহ দ্বারা সমর্থিত।

কিতাবুল্লাহর দলীল হলো, মহান আল্লাহ এমন কথা বলা থেকে নিষেধ করেছেন যে সম্পর্কে বক্তার কোনো জ্ঞান নেই এবং তিনি কঠোরভাবে বারণ করেছেন...
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩০)
الكذب فقال تعالى: {ولا تقفُ ما ليس لك به علم} وقال جل وعز: {قُتل الخرّاصون}. يريد الكذابين. وقد ثبت الأمر بما أمر الله به، والنهي عما نهى الله عنه فقال تعالى: {قل أطيعوا الله وأطيعوا الرسول}. وقال جل وعز: {تلك حدود الله} الآية. وما جانس ذلك مستحق به حظ الأمر والنهي من حيث النص ومن حيث العموم، وإن قوله تعالى: {اقتلوا المشركين}. وقوله: {والسارق والسارقة}. وما جانس العموم مستحق به الاستغراق للجنس والطبقة في كل حال، وما يتفرد بدا في الشريعة، فإذا ثبت هذا وكان عن أبي عبد الله جواب في الأحاديث والآثار بيان يطلق أنها له مذهب وجب أن يكون ذلك حيث وجدناه أن يقضى أنه بذلك قائل. وقد بينا عن أبي عبد الله في كتاب أحكام القرآن من كتاب الأصول وما يذهب إليه من الطرق في الأخبار وأقاويل الصحابة ومما قدمناه عنه ثم قد قررنا أن أبا عبد الله بالخبر في الحادثة أنه يُنسب إليه مذهبًا على عموم اللفظ، فإذا ثبت هذا وجب أن يكون من الأخبار إذا رآها وارتضاها بمثابة فتواه ما يوجبه نص قوله فيها.

ومن أدل الأشياء إنا وجدنا الفقيه إذا بيّن عن علته في جواب مسألة أو كان مبنيا على أصل له فإنه ينسب إليه كل ما أوجبه نص إعلاله، فإذا ثبت هذا وجب إن يكون ما بيّنه لنا من أصله في الأخبار أن ينسب إليه كل ما ارتضاه إذا لم يكن منه دفع له ولا إنكار.
মিথ্যাচার (الكذب) সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন: "যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না।" এবং তিনি পরাক্রমশালী ও মহিমান্বিত আরও বলেন: "ধ্বংস হোক মিথ্যাচারীরা (الخرّاصون)।" এর দ্বারা তিনি মিথ্যাবাদীদের (الكذابين) বুঝিয়েছেন। আল্লাহ যা আদেশ করেছেন তা পালন করা এবং যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাকা সুসাব্যস্ত হয়েছে; যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলুন, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসুলের আনুগত্য করো।" তিনি আরও বলেন: "এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা।" আর যা কিছু এর সমজাতীয়, তা বর্ণনা (النص) এবং ব্যাপকতা (العموم) উভয় দিক থেকেই আদেশ ও নিষেধের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার যোগ্য। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা মুশরিকদের হত্যা করো।" এবং তাঁর বাণী: "চোর ও চোরনী..."। আর যা কিছু ব্যাপকতার (العموم) সমজাতীয়, তা সব অবস্থাতেই সংশ্লিষ্ট জাতি ও শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি রাখে, এবং শরিয়তে যা এককভাবে সাব্যস্ত হয়েছে তার ক্ষেত্রেও একই কথা। যখন এটি প্রমাণিত হলো, এবং আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) থেকে হাদিস ও আসার (الآثار) সম্পর্কে এমন কোনো বর্ণনা বা উত্তর পাওয়া যায় যা তাঁর মাযহাব (مذهب) হিসেবে অভিহিত করা যায়, তখন যেখানেই আমরা তা পাব, তা তাঁর অভিমত হিসেবেই গণ্য করা ওয়াজিব (وجب)। আমরা উসুল (الأصول) বিষয়ক গ্রন্থের 'আহকামুল কুরআন' অধ্যায়ে আবু আব্দুল্লাহর পক্ষ থেকে সংবাদ (الأخبار) এবং সাহাবীদের উক্তি (أقاويل الصحابة) গ্রহণের পদ্ধতিসমূহ বর্ণনা করেছি যা তিনি অনুসরণ করেন। এরপর আমরা সাব্যস্ত করেছি যে, কোনো উদ্ভূত ঘটনায় আবু আব্দুল্লাহর কোনো বর্ণনা (الخبر) থাকলে শব্দের ব্যাপকতার (العموم) ভিত্তিতে তা তাঁর মাযহাব (مذهبًا) হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং এটি যখন সাব্যস্ত হলো, তখন তিনি কোনো বর্ণনা (الأخبار) দেখলে এবং তা পছন্দ করলে, সে বিষয়ে তাঁর বক্তব্যের ভাষ্য অনুযায়ী তা তাঁর ফতোয়ার (فتواه) মর্যাদায় গণ্য হওয়া ওয়াজিব (وجب)।

এর অন্যতম দলিল হলো, আমরা দেখতে পাই যখন কোনো ফকিহ (الفقيه) কোনো মাসআলার জবাবে তার কারণ (علته) বর্ণনা করেন অথবা তা তাঁর কোনো মূলনীতির (أصل) ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত করেন, তখন সেই কারণ দর্শানোর (إعلاله) ভাষ্য অনুযায়ী যা কিছু অনিবার্য হয়, তার সবই তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। অতএব যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন সংবাদের (الأخبار) ক্ষেত্রে তিনি আমাদের কাছে যে মূলনীতি (أصله) বর্ণনা করেছেন, সে অনুযায়ী তিনি যা কিছু পছন্দ করেছেন এবং যা তিনি প্রত্যাখ্যান বা অস্বীকার করেননি, তা সবই তাঁর অভিমত হিসেবে গণ্য হওয়া ওয়াজিব (وجب)।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩১)
فأما الجواب عن الذي قالوه من أنه يلزم أن ينسب إلى الساكت مذهبًا فذلك لا يضرنا، إذا الساكت على ضربين: ساكت في معنى الناطق وهو أن يكون سيأخذ حصره بالدين مختصا فلا ينكره ولا يغيره فذلك ينسب إليه القوله به حتما بما قلناه في الصحابة إذا سكتوا على حادثة قائلة يُنسب إليهم من ذلك جوابا أو مذهبا فإذا أشبه هذا بأن طريقة إمامنا فيما رواه وارتضاه مذهبا ثبتا.

جواب ثان: وهو إنا نقول كل شيء سكت عنه نسبناه إليه لا غير ذلك.

وأما الجواب عن الذي قالوه من أن الخبر قد يرويه، فإذا سئل عنه يبين فيه عما يوجبه نطقه فذلك باطل، إذ بهذا بعينه ينقلب في احتجاجه بالخبر قدر مما سئل عنه فقال: لا أقول به، ويجيب بجواب مطلق فإذا سئل عنه ترك بعضه وأخذ ببعضه، وكل لا ينفي كون المذهب مهما أقام على إطلاقه فكذلك في الأخبار سيان.

وأما عن حديث سهل بن سعد وغيره لم ينسب إليه مذهبا به فذلك لا يتضرر إذ كل منقول عنه ترك الأخذ بها، وقد بيّن في حديث سهل أنه لم يعمل عليه لأنه قد قابله ما منع من المصير إليه، وكذلك في حديث الرقى بيّن أنه جائز الاسترقاء، وأن الخبر مُتأول، فما كان من الأخبار عنه فيها التنكر رددناها، وما لم ينقل عنه فيها نكير قبلناها، وإذا ثبت هذا كان ما ذكرناه سالما.

وأما الجواب عن الذي قالوه من أنه لو جاز أن ينسب إليه مذهبا لروايته الأثر لأسقط مذهبه بالأثر، فذلك فاسد إذا ما ثبت عنه فيه الجواب ثبت أنه في بابه أصلا لم يجز لنا إدخال سنة عليه فور أن هذا أن يكون عنه في الحادثة
তারা যে দাবি করেছে যে, এর ফলে নিরব ব্যক্তির দিকে কোনো অভিমত (مذهب) সম্বন্ধযুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, তার উত্তর হলো—এটি আমাদের জন্য ক্ষতিকর নয়। কারণ নিরবতা অবলম্বনকারী দুই প্রকারের হয়ে থাকে: এমন নিরবতা যা ব্যক্ত করার সমার্থক, অর্থাৎ তিনি যখন দ্বীনের কোনো বিশেষ বিষয় গ্রহণ করেন এবং তা অস্বীকার বা পরিবর্তন করেন না, তখন নিশ্চিতভাবে সেই কথাটি তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে। ঠিক যেমনটি আমরা সাহাবীগণের (صحابة) ক্ষেত্রে বলেছি—যখন তারা কোনো ঘটনার প্রেক্ষাপটে নিরব থাকেন, তখন সেই ঘটনা থেকে প্রাপ্ত সমাধান বা অভিমত (مذهب) তাদের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। সুতরাং বিষয়টি যদি এমন হয় যে, আমাদের ইমাম যা বর্ণনা করেছেন (رواه) এবং পছন্দ করেছেন, তবে সেটিই তার সুপ্রতিষ্ঠিত অভিমত (مذهب) হিসেবে গণ্য হবে।

দ্বিতীয় উত্তর: আমরা বলি যে, তিনি যে বিষয়টিতে নিরব থেকেছেন, আমরা কেবল সেটিকেই তার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি, অন্য কিছু নয়।

আর তারা যে দাবি করেছে যে, তিনি হয়তো কোনো বর্ণনা (خبر) বর্ণনা করেন (يرويه), কিন্তু যখন তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি তার বক্তব্যের দাবি অনুযায়ী তা ব্যক্ত করেন—এই দাবিটি বাতিল। কারণ ঠিক একইভাবে যখন তিনি কোনো বর্ণনা (خبر) দ্বারা দলিল পেশ (احتجاج) করেন এবং তাকে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি বলতে পারেন: ‘আমি এটি বলি না’। তিনি একটি ঢালাও উত্তর দিতে পারেন এবং জিজ্ঞাসিত হলে তার কিছু অংশ বর্জন করেন ও কিছু গ্রহণ করেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি তার বক্তব্যের ওপর অটল থাকেন, ততক্ষণ তা অভিমত (مذهب) হওয়াকে নস্যাৎ করে না; বর্ণনার (أخبار) ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম।

আর সাহল ইবনে সাদ ও অন্যদের বর্ণিত হাদিস থেকে যে তার দিকে কোনো অভিমত (مذهب) সম্বন্ধযুক্ত হয়নি, সেটিও ক্ষতিকর নয়; কারণ তার থেকে বর্ণিত (منقول) প্রতিটি বিষয়ই আমল করা থেকে বর্জন করা হয়েছে। সাহল বর্ণিত হাদিসের ক্ষেত্রে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তিনি এর ওপর আমল করেননি কারণ এর বিপরীতে এমন কিছু ছিল যা এটি গ্রহণ করতে বাধা দিয়েছিল। একইভাবে ঝাড়ফুঁক সংক্রান্ত হাদিসে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ঝাড়ফুঁক নেওয়া বৈধ এবং বর্ণনাটি (خبر) ব্যাখ্যাসাপেক্ষ (متأول)। সুতরাং যেসব বর্ণনা (أخبار) থেকে তার পক্ষ থেকে অস্বীকৃতি পাওয়া যায়, আমরা সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছি; আর যেগুলোতে কোনো অস্বীকৃতি পাওয়া যায় না, সেগুলো আমরা গ্রহণ করেছি। এটি প্রমাণিত হলে আমাদের বর্ণিত বিষয়টি ত্রুটিমুক্ত থাকে।

আর তারা যে বলেছে—যদি কেবল আছার (أثر) বর্ণনার কারণে তার দিকে কোনো অভিমত (مذهب) সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ হতো, তবে তিনি আছার (أثر) দ্বারা নিজের অভিমতকে ক্ষুণ্ণ করতেন—এই দাবিটি অসার। কারণ যখন তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর প্রমাণিত হয়, তখন তা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে একটি মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। আমাদের জন্য তার ওপর কোনো সুন্নাহ (سنة) আরোপ করা বৈধ নয়, বরং এটি সেই ঘটনার ক্ষেত্রে তার অবস্থান হিসেবেই গণ্য হয়।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩২)
التي فيها الخبر جوابا كافيا لا يلتفت إلى غير جوابه، فإذا لم يوجد جواب بالنص، فإن الجواب منسوب إليه من حيث الأخبار الذي قد بيّن لنا أنها مذهبه حيث كانت.

جواب ثان: وهو أن الإسقاط غير الإثبات، ألا ترى أن إسقاط واحد من الستة في الرمي غير جائز ولا ينفي ذلك أن يزيد على الستة غيرها من حيث كونها داخلة في مجرى الخبر أو دليله، فإذا ثبت هذا كان ما ذكرناه سالما وبالله التوفيق.
যে ক্ষেত্রে বর্ণনা (الخبر) পর্যাপ্ত উত্তর হিসেবে বিদ্যমান, সেখানে তার উত্তর ব্যতীত অন্য কিছুর প্রতি ভ্রূক্ষেপ করা হয় না। সুতরাং যদি সরাসরি পাঠের (النص) মাধ্যমে কোনো উত্তর না পাওয়া যায়, তবে উত্তরটি সেই সকল সংবাদ বা বর্ণনার (الأخبار) নিরিখে তাঁর প্রতিই সম্বন্ধযুক্ত হবে, যা আমাদের নিকট স্পষ্ট করেছে যে, সেগুলো যেখানেই থাকুক না কেন তা-ই তাঁর অনুসৃত নীতি বা মাযহাব (مذهبه)।

দ্বিতীয় উত্তর: আর তা হলো, বর্জন করা (الإسقاط) এবং সাব্যস্ত করা (الإثبات) এক বিষয় নয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, নিক্ষেপের (الرمي) ক্ষেত্রে ছয়টির মধ্য থেকে একটি বাদ দেওয়া (إسقاط) জায়েজ নয়? আর এটি এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে না যে, সেই ছয়টির অতিরিক্ত অন্য কিছু বৃদ্ধি করা যেতে পারে, যেহেতু তা বর্ণনা (الخبر) বা তার দলিলের (دليله) ধারার অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন আমাদের উল্লিখিত বিষয়টি সুপ্রতিষ্ঠিত ও ত্রুটিমুক্ত থাকল। আর আল্লাহর নিকটই তাওফিক বা সাহায্য প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
‌‌باب البيان عن مذهبه في الخبر إذا حسنه وارتضى سنده

قال الحسن بن ماجد: الأحاديث إذا ذكرها وبيّن ما هو مودع في ضمنها إذا كانت أحاديث يثبت بعضها وأنكر بعضها فإنه ينسب إليه المذهب من حيث ما بينه، وينفى عنه ما أنكره، وضعفه، صورة ذلك:

قال حنبل: قال أحمد: إني أخاف أن يصف حجم عظامها أيضا، هو حجم عظامها، وهذا إنما هو لحديث أسامة بن زيد كساني النبي صلى الله عليه وسلم قبطية، كساه إياها وجُبة فكسوتها نسائي. فقال النبي صلى الله عليه وسلم: مُرها تجعل تحتها غلالة لا تصف حجم عظامها.

وقال الميموني وغيره عنه في كتاب العتق: الأخذ بحديث ابن عمر رضي الله عنه في عتق الشركاء وقال: ليس في الاستعساء حديث ثبت عن
সংবাদ (الخبر) সম্পর্কে তাঁর মাযহাব বা মতাদর্শ বর্ণনার অধ্যায়, যখন তিনি একে হাসান (حسن) গণ্য করেন এবং এর সনদ (سند) পছন্দ করেন।

হাসান বিন মাজেদ বলেন: হাদিসসমূহ যখন তিনি উল্লেখ করেন এবং এর অন্তর্ভুক্ত বিষয়াবলি বর্ণনা করেন, যদি এমন হাদিস হয় যার কিছু অংশ প্রমাণিত (ثابت) হয় এবং কিছু অংশ তিনি অস্বীকার (أنكر) করেন, তবে তিনি যা বর্ণনা করেছেন সে অনুযায়ী তাঁর মাযহাব বা মত তাঁর দিকে নিসবত করা হবে। আর তিনি যা অস্বীকার করেছেন ও দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন তা তাঁর থেকে নাকচ করা হবে। তার নমুনা নিম্নরূপ:

হাম্বল বলেন: আহমদ বলেছেন: "আমি আশঙ্কা করি যে এটি তার হাড়ের গঠনও প্রকাশ করে দেবে।" এটি মূলত উসামা বিন যায়েদের হাদিসের কারণে, যেখানে তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি কিবতিয়াহ (মিশরীয় কাপড়) প্রদান করেছিলেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে সেটি দিয়েছিলেন এবং একটি জুব্বাও দিয়েছিলেন, যা আমি আমার স্ত্রীকে পরিধান করতে দিয়েছিলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: তাঁকে নির্দেশ দাও সে যেন এর নিচে একটি শামীয বা অন্তর্বাস ব্যবহার করে, যাতে তার হাড়ের গঠন প্রকাশিত না হয়।"

মায়মুনি এবং অন্যরা তাঁর থেকে দাস মুক্তি অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন: অংশীদারদের দাস মুক্তির বিষয়ে ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিস গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন: 'ইসতিসা' (দাসের উপার্জনের মাধ্যমে মুক্তি) প্রসঙ্গে এমন কোনো হাদিস নেই যা প্রমাণিত (ثابت) হয়েছে...
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
النبي صلى الله عليه وسلم.
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
ومن ذلك في الأضاحي إنكاره الحديث في الأبتر.

قال أبو طالب ثنا أحمد بن حنبل ثنا يحيى بن آدم ثنا شريك عن عبيد الله عن نافع عن ابن عمر قال: لا بأس بالأبتر أن يضحى به قال: لم أسمع رواه غير شريك. قلت: أليس هو منكَر؟ قال: قد أخبرتك. ورواه وكيع عن شريك عن ليث عن مجاهد عن رجل عن ابن عمر. فقال: هذا من شريك وما شأنه هذا يكثر، فكل ما ضعفه وأنكر صحته قطع عليه بأنه لا يتدين به، وما ثبته وارتضى سنده، أو ثبت أحد ألفاظه في متنه كان ذلك له مذهبا. وهذا قريب على الأصل الذي ذكرناه من أنه قائل بالأثر متبع لما أوجبه ظاهر النقل بكل وجه وسبب، فإذا ثبّت خبرًا وبيّن عن الألفاظ في المتن حكمًا كان ذلك له مذهبًا وبالله التوفيق.
কোরবানির পশুর ক্ষেত্রে তার একটি উদাহরণ হলো লেজকাটা পশুর ব্যাপারে বর্ণিত হাদিসকে তার অস্বীকার করা।

আবু তালিব বলেন, আহমাদ বিন হাম্বল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াহইয়া বিন আদম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, শারিক আমাদের নিকট উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি নাফে থেকে, আর তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "লেজকাটা পশু দিয়ে কোরবানি করাতে কোনো সমস্যা নেই।" তিনি (ইমাম আহমাদ) বললেন: "শারিক ছাড়া অন্য কাউকে এটি বর্ণনা করতে আমি শুনিনি।" আমি বললাম: "এটি কি প্রত্যাখ্যাত (منكر) নয়?" তিনি বললেন: "আমি তো তোমাকে বলেই দিলাম।" আর ওয়াকি এটি শারিক থেকে, তিনি লাইস থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে, আর তিনি ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন: "এটি শারিকের পক্ষ থেকে বর্ণিত, আর তার অবস্থা তো এমনই যে সে এরূপ অনেক বর্ণনা করে থাকে।" সুতরাং যে বর্ণনাকে তিনি দুর্বল (ضعيف) সাব্যস্ত করেছেন এবং যার বিশুদ্ধতা (صحيح) অস্বীকার করেছেন, সেটির ব্যাপারে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে তা দ্বীনি আমল হিসেবে গ্রহণ করা যাবে না। আর যে বর্ণনাকে তিনি প্রমাণিত বলে সাব্যস্ত করেছেন এবং যার সনদ (سند) পছন্দ করেছেন, অথবা যার মূল পাঠের (متن) কোনো শব্দ প্রমাণিত হয়েছে, সেটিই তার মাযহাব (মতাদর্শ) হিসেবে গণ্য হয়েছে। এটি আমরা পূর্বে যে মূলনীতি উল্লেখ করেছি তারই নিকটবর্তী যে, তিনি আসার (أثر) অনুযায়ী কথা বলেন এবং বর্ণনার বাহ্যিক রূপ যা সাব্যস্ত করে তা সর্বতোভাবে অনুসরণ করেন। সুতরাং যখন তিনি কোনো সংবাদকে প্রমাণিত বলে সাব্যস্ত করেন এবং মূল পাঠের (متن) শব্দাবলি থেকে কোনো বিধান স্পষ্ট করেন, তখন সেটিই তার মাযহাব হিসেবে গণ্য হয়। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
‌‌باب البيان عن نسبة المذهب إليه من حيث القياس

قال الحسن بن حامد رحمه الله: اختلف أصحابنا في ذلك فقال عامة شيوخنا مثل الخلّال وعبد العزبز وأبي علي وإبراهيم وسائر من شاهدناه أنه لا يجوز نسبته إليه من حيث القياس، وأنكروا على الخرقي ما رسمه في كتابه من حيث أنه قاس على قوله وذهب الأثرم والخرقي وغيرهما إلى الجواز لذلك. وقد نقل هذا عن الأثرم وأخبرناه أبو علي بن الصواف إجازة قال ثنا أبو عبد الرحمن قال: كان أبو بكر الأثرم يحلف إلى أبي عبد الله، ودلف العبادي من ولد عبادة بن الصامت، وكان العبادي يسأل والأثرم
কিয়াসের (قياس) প্রেক্ষিতে তাঁর প্রতি মাযহাবের সম্বন্ধযুক্ত করার বর্ণনার পরিচ্ছেদ

আল-হাসান ইবনে হামিদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: এ বিষয়ে আমাদের আসহাবগণ মতভেদ করেছেন। আমাদের অধিকাংশ শায়খ, যেমন আল-খাল্লাল, আব্দুল আজিজ, আবু আলী, ইব্রাহিম এবং যাদের আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, তাঁরা বলেছেন যে কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে তাঁর (ইমামের) প্রতি (কোনো অভিমত) সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ নয়। আল-খিরাকি তাঁর কিতাবে যা বিধিবদ্ধ করেছেন তা তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেহেতু তিনি ইমামের বক্তব্যের ওপর কিয়াস (قياس) করেছেন। পক্ষান্তরে আল-আশরাম, আল-খিরাকি এবং অন্যান্যরা এটি বৈধ হওয়ার অভিমত পোষণ করেছেন। এটি আল-আশরাম থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং আবু আলী ইবনে আস-সাওয়াফ ইজাজতের (إجازة) মাধ্যমে আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আবু আব্দুর রহমান আমাদের হাদিস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু বকর আল-আশরাম আবু আব্দুল্লাহর (ইমাম আহমাদ) কাছে শপথ করতেন। এবং উবাদাহ ইবনে আস-সামিত-এর বংশধর দুলাফ আল-আব্বাদি; আল-আব্বাদি প্রশ্ন করতেন এবং আল-আশরাম...
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
يكتب خلفه فقال أبو عبدالله: هذا كان مع حلف على الإمرة، فقال له قد رجع عن ذلك.

وكان أبو بكر الأعين يسأل الأثرم فأخذ بعض المسائل التي كان يدونها الأثرم عن أبي عبد الله فدفعها إلى صالح فعرضها على أبي عبد الله وكان فيها مسائل في الحيض فقال: أي هذا من كلامي، وهذا ليس من كلامي. فقيل للأثرم؟ فقال: إنما أقيسه على قوله. وكذلك الخرقي على هذا عول عندي والله أعلم.

واختار أن يقيس على قوله. والمأخوذ به أن نفصل فما كان من جواب له في أصل يحتوي مسائل خرج جوابه على بعضنا فإنه جائز أن ينسب إليه بقية مسائل ذلك والأصل من حيث القياس. صورة هذا أن يقول في ماء الباقلاء والورد لا يتوضأ به إذا غير الماء فينسب إليه ما هو في معنى ذلك وإن كثرت أعداد مسائله.

ونظير ذلك جوابه في المسكر إنه حرام. فينسب إليه جميع أنواعه.

তাঁর সান্নিধ্যে থেকে লিখে রাখা হতো। অতঃপর আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) বললেন: এটি নেতৃত্বের ওপর শপথ গ্রহণের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। তাঁকে বলা হলো যে, তিনি তা থেকে ফিরে এসেছেন।

আবু বকর আল-আ’ইয়ান আল-আছরামকে জিজ্ঞাসা করতেন। আছরাম আবু আব্দুল্লাহ থেকে যে সকল মাসআলা লিখে রাখতেন, তার কিছু অংশ তিনি গ্রহণ করে সালিহের নিকট প্রদান করেন। অতঃপর সালিহ সেগুলো আবু আব্দুল্লাহর নিকট পেশ করেন। তাতে ঋতুস্রাব সংক্রান্ত কিছু মাসআলা ছিল। তিনি (আবু আব্দুল্লাহ) বললেন: "হ্যাঁ, এটি আমার বক্তব্য, আর এটি আমার বক্তব্য নয়।" আল-আছরামকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন: "আমি কেবল তাঁর উক্তির ওপর ভিত্তি করে এটি কিয়াস (قياس) করেছি।" আমার মতে আল-খিরাকিও এর ওপরই নির্ভর করেছেন, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

তিনি তাঁর উক্তির ওপর কিয়াস (قياس) করা বেছে নিয়েছেন। আর অনুসৃত পদ্ধতি হলো বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা। সুতরাং কোনো মূলনীতি (أصل) সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর প্রদত্ত কোনো উত্তর যদি এমন হয় যা একাধিক মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং তাঁর উত্তরটি যদি আমাদের কারো মাধ্যমে পরিস্ফুট হয়, তবে সেই বিষয়ের অবশিষ্ট মাসআলাগুলোও কিয়াস (قياس)-এর বিচারে তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা বৈধ (جائز)। এর উদাহরণ হলো— মটরশুঁটি বা গোলাপ জল সম্পর্কে তাঁর উক্তি যে, যদি তা পানির গুণাগুণ পরিবর্তন করে দেয় তবে তা দ্বারা ওজু করা যাবে না; এমতাবস্থায় সমার্থবোধক সকল বিষয় তাঁর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হবে, যদিও মাসআলার সংখ্যা অনেক হয়।

এর অনুরূপ উদাহরণ হলো মাদকদ্রব্য সম্পর্কে তাঁর উত্তর যে, তা হারাম (حرام)। অতঃপর মাদকের সকল প্রকারভেদকেই তাঁর উক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে।

(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৮)
نظير ذلك في الأرز والذرة وأعيان المسائل التي فيها كيل ليست إليه من حيث علة جوابه وقياس على أصل مقالته.

ونظير ذلك ما قاله في رواية ابن منصور في المتداعيين إذا كانت اليدان على الشيء تخالفا وكان بينهما نصفين، فأطلق جوابه في الورثة إذا اختلفوا مع المرأة في قماش البيت فقضى ما كان يصلح للرجال فهو للرجال، وسكت عن التخالف فأخذ بما قدمه وأجزل في الورثة عند الاختلاف أيضا الأيمان بمثابة تداعي الأجنبيين.

ومن ذلك ما قاله في التداعي للحائط بين الرجلين نصفين ولا يقضي بمعاقد القسط وسكت عن التخالف ولا غنية عنه. فكل ما كان من هذا النحو يحسن فيه الأخذ بالقياس وجري المسائل في ذلك الأصل.

فأما أن يعتدي بالقياس في المذهب مسائل الأشبه لها في أصوله ولا يوجد عنه منصوص بنى عليه فذلك غير جائز.

ثم بعد هذا فالذين أبوا جواز المذهب من حيث القياس فإنهم استدلوا في ذلك بأدلة فمن ذلك أن قالوا: قد بينا الإطلاق من قوله مانع من نسبة قول إلى قائل إلا من حيث النطق المسموع على الحد المعلوم.

قالوا وأيضًا: فإن القياس ليس بنطق ممن نسب إلى مذهبه شيئا كان كمن نسب إلى الساكت قولا ما قاله.

قالوا وأيضا: فإن مذاهب العلماء عبارة عما يعتقدون ويتدينون به. وبالقياس لا يجوز أن يقطع على أن الأشياء عنه ومتدين بما يوجبه قياسنا عليه، فإذا ثبت هذا كان ما ذكرناه سالما.

وأيضا: فلو جاز أن يُنسب قول بالقياس إلى أحمد جاز أن يُنسب قول
চাল, ভুট্টা এবং পরিমাপযোগ্য (كيل) বিষয়ের সেই মাসআলাগুলোর উদাহরণও অনুরূপ, যা তাঁর উত্তরের কারণ (علة) এবং তাঁর মৌলিক বক্তব্যের ওপর কিয়াসের (قياس) প্রেক্ষিতে তাঁর দিকে সম্পর্কিত নয়।

অনুরূপ উদাহরণ হলো ইবনে মনসুরের বর্ণনায় যা তিনি সেই দুই দাবিদার সম্পর্কে বলেছেন, যখন কোনো বস্তুর ওপর উভয়ের দখল থাকে এবং তারা পরস্পর দ্বিমত পোষণ করে; তখন তা উভয়ের মাঝে অর্ধেক করে বণ্টন করা হয়। উত্তরাধিকারীদের ক্ষেত্রে তিনি ঢালাওভাবে উত্তর দিয়েছেন যে, যখন তারা বাড়ির আসবাবপত্র নিয়ে স্ত্রীর সাথে দ্বিমত পোষণ করে, তখন তিনি ফয়সালা দিয়েছেন যে যা পুরুষের ব্যবহারোপযোগী তা পুরুষের হবে। আর তিনি শপথ বিনিময়ের (تخالف) বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন; ফলে তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করা হয়েছে এবং উত্তরাধিকারীদের বিরোধের ক্ষেত্রেও শপথ নেওয়ার বিষয়টিকে দুই অপরিচিত ব্যক্তির দাবির মতো সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এর অন্তর্ভুক্ত হলো দুই ব্যক্তির মাঝে দেয়াল নিয়ে দাবির ক্ষেত্রে যা তিনি বলেছেন যে, তা উভয়ের মাঝে অর্ধেক হবে; কিন্তু তিনি ইটের গাঁথুনির মাধ্যমে ফয়সালা দেননি এবং শপথের (تخالف) বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন, অথচ এর আবশ্যকতা ছিল। সুতরাং এই ধরণের সব ক্ষেত্রে কিয়াসের (قياس) আশ্রয় নেওয়া এবং এই মূলনীতির আলোকে মাসআলাগুলো পরিচালনা করা সমীচীন।

কিন্তু মাযহাবের (مذهب) মধ্যে এমন সব মাসআলায় কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে সীমা লঙ্ঘন করা যার সাথে তাঁর মূলনীতির সামঞ্জস্য রয়েছে অথচ তাঁর থেকে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (منصوص) নেই যার ওপর ভিত্তি করা যায়, তবে তা জায়েয নয়।

এরপর যারা কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে মাযহাবের (مذهب) বিষয়গুলো নির্ধারণ করা জায়েয মনে করেন না, তারা এর সপক্ষে কিছু দলিল পেশ করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো তারা বলেছেন: আমরা স্পষ্ট করেছি যে, কোনো প্রবক্তার বক্তব্যকে সুনির্দিষ্ট সীমা অনুযায়ী সরাসরি শ্রুত শব্দ ছাড়া অন্য কোনোভাবে তাঁর দিকে নিসবত বা সম্পর্কিত করার ক্ষেত্রে তাঁর সাধারণ বক্তব্য বাধা স্বরূপ।

তারা আরও বলেন: কিয়াস (قياس) কোনো ব্যক্তির উচ্চারিত শব্দ নয়; ফলে যার মাযহাবে (مذهب) কোনো কিছু কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে নিসবত করা হলো, তা যেন কোনো নীরব ব্যক্তির দিকে এমন কথা নিসবত করার নামান্তর যা সে বলেনি।

তারা আরও বলেন: ওলামায়ে কেরামের মাযহাব (مذهب) হলো সেই বিষয় যা তারা বিশ্বাস করেন এবং যার মাধ্যমে তারা দ্বীন পালন করেন। কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে কোনো বিষয়ে এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সম্ভব নয় যে, বিষয়টি তাঁর পক্ষ থেকে সাব্যস্ত এবং আমাদের কিয়াস (قياس) যা অনিবার্য করে সেটির মাধ্যমেই তিনি দ্বীন পালন করেন। সুতরাং যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন আমাদের উল্লিখিত বিষয়টি সঠিক বলে সাব্যস্ত হলো।

আরও কথা হলো: যদি কিয়াসের (قياس) ভিত্তিতে ইমাম আহমাদের দিকে কোনো বক্তব্য নিসবত করা জায়েয হতো, তবে জায়েয হতো...
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৩৯)
أبي ثور وأبي حنيفة إلى أحمد من حيث القياس، وهذا كله فلا وجه له، والدليل على صحة ما ذكرناه من الجواز ظاهر ونُطق.

فأما الظاهر فكتاب وسنة:

فمن الكتاب ما قررناه من الحد في الأوامر، وأننا نصل إلى ثبوت القضية بالقياس في أوامر الكتاب. وننسبها إلى الله تعالى، ونقول إن ذلك أمر الله تعالى سمنا به ما نسميه في التلاوة نصًا.

ومن السنة ما لا خفاء به، وإننا ندخل تحت المنصوص عليه من حيث معنًا ما يليق به وننسبه إلى الرسول صلى الله عليه وسلم، ألا ترى إلى ما قررناه من نص النبي صلى الله عليه وسلم في الزيادة على سنته نسب إلى النبي صلى الله عليه وسلم ما زاد عليها وكثر عددها من حيث وجود القياس عليها، فإذا ثبت هذا كان ذلك أصلا في الدين وجب أن يكون ذلك محكوما به في جوابات العلماء في الدين.

ومن ذلك الاشتباه من شهادات الأصول أنا وجدنا العلماء كافة مجمعين في أجوبتها وفتاويها أنها تُبنى على أصل مقالة أمامها وتعتبر مسائله فيلحق بها ما كان نظيرها وإن عدم النص عنه فيها، ولو كنا لا نجيب في حادثة بالقياس على أصل أبي عبد الله رحمه الله لأدى إلى ترك كثير من مسائل الحوادث في الطهارة والصلاة وغيرها. فلما كنا نقدم على الأجوبة وبنية الأحكام كلها على قياس مقالته في أصلها كان ماذكرناه سالما.

ومن أدلته الأشياء إنا وجدنا العلماء قد أودعوا في كتاب الفرائض ينقلون عن الصحابة في الحد والاختلاف في غير مسائل قطعت القضية بينهم فيها ويفرعون على ذلك ما جانسها. وكذلك في ذوي الأرحام ينقلون عن الصحابة الأصل أما التنزيل وإعطاء القربى.، ويفرعون على ذلك مسائل، فترى كل ذلك ينسبونه إلى أهل المقالات في الأصل فإذا ثبت هذا بدءًا وعودًا كان ما ذكرناه سالما.
আবু সাওর ও আবু হানিফা হতে ইমাম আহমাদ পর্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমানের (القياس) বিষয়ে যা বলা হয়েছে, তার কোনো যৌক্তিক ভিত্তি নেই। আমরা এর বৈধতা সম্পর্কে যা উল্লেখ করেছি তার প্রমাণ অত্যন্ত স্পষ্ট (ظاهر) ও বাচনিক।

আর স্পষ্ট প্রমাণগুলো কিতাব ও সুন্নাহ হতে গৃহীত:

কিতাব হতে প্রমাণ হলো—নির্দেশনাবলির সীমানা নির্ধারণের ক্ষেত্রে আমরা যা প্রতিষ্ঠিত করেছি যে, আমরা কিতাবের নির্দেশনাবলির ক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমানের (القياس) মাধ্যমে কোনো বিষয়ের সাব্যস্ততায় পৌঁছাতে পারি। আমরা একে মহান আল্লাহর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করি এবং বলি যে, এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ হতে অবতীর্ণ নির্দেশ যা আমরা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে স্পষ্ট পাঠ (نصًا) হিসেবে অভিহিত করি।

সুন্নাহ হতে প্রমাণটি অত্যন্ত সুস্পষ্ট। আমরা মূল অর্থের বিবেচনায় যা উপযুক্ত, তাকে স্পষ্ট উদ্ধৃতির (المنصوص عليه) অন্তর্ভুক্ত করি এবং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করি। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহর অতিরিক্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে যা সাব্যস্ত করেছি, তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে; যদিও সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমানের (القياس) উপস্থিতির কারণে সেই বিষয়ের শাখা ও সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুতরাং যখন এটি প্রমাণিত হলো, তখন এটি দ্বীনের একটি মূলনীতি (أصلا) হিসেবে গণ্য হবে এবং দ্বীনি বিষয়ে আলেমদের ফয়সালা বা উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে এটি প্রয়োগ করা আবশ্যক হবে।

মূলনীতিসমূহের সাক্ষ্য হতে একটি অকাট্য বিষয় হলো—আমরা দেখেছি যে সকল আলেম তাদের উত্তর ও ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে ঐক্যমতে (مجمعين) পৌঁছেছেন যে, ফতোয়াগুলো তাদের ইমামদের বক্তব্যের মূলনীতির (أصل) ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হবে। তাদের মাসআলাগুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং সমজাতীয় বিষয়গুলোকে তার অন্তর্ভুক্ত করা হবে, যদিও সে বিষয়ে সরাসরি কোনো স্পষ্ট পাঠ (النص) না থাকে। আর যদি আমরা উদ্ভূত সমস্যার ক্ষেত্রে আবু আব্দুল্লাহ রহ.-এর মূলনীতির (أصل) ওপর সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমান (بالقياس) করে উত্তর না দিতাম, তবে পবিত্রতা, সালাত এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে উদ্ভূত অনেক গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা পরিত্যক্ত হয়ে যেত। সুতরাং আমরা যখন উত্তর প্রদান করি এবং সমস্ত বিধানকে তাঁর বক্তব্যের মূলনীতির ওপর সাদৃশ্যপূর্ণ অনুমানের (قياس) ভিত্তিতে বিন্যস্ত করি, তখন আমাদের দাবিকৃত বিষয়টি সঠিক ও সুসংগত থাকে।

অন্যান্য প্রমাণের মধ্যে একটি হলো—আমরা দেখেছি যে আলেমগণ উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে সাহাবীগণের নিকট থেকে উত্তরাধিকারের সীমা এবং মতপার্থক্য বর্ণনা করেছেন এমন সব বিষয়ে যেখানে তাঁদের মধ্যে কোনো অকাট্য ফয়সালা ছিল না, এবং তাঁরা এর ওপর ভিত্তি করে সমজাতীয় শাখা মাসআলাসমূহ আহরণ (ويفرعون) করেছেন। একইভাবে যিল আরহামদের ক্ষেত্রে তাঁরা সাহাবীগণের থেকে মূলনীতি (الأصل) যেমন তানযীল এবং নিকটাত্মীয়দের অধিকার প্রদানের বিষয়টি বর্ণনা করেছেন এবং তার ওপর ভিত্তি করে শাখা মাসআলাসমূহ আহরণ (ويفرعون) করেছেন। আপনি দেখতে পাবেন যে তাঁরা এই সবকিছুর মূলে যারা মূল বক্তব্য প্রদান করেছেন তাদের দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করেন। সুতরাং যখন এটি আদ্যোপান্ত প্রমাণিত হলো, তখন আমাদের আলোচিত বিষয়টি ত্রুটিমুক্ত হিসেবে সাব্যস্ত হলো।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪০)
فأما الجواب عن الاستدلال بقوله تعالى: {ولا تقفُ ما ليس لك به علم}. فذلك لنا، إذ نص الحديث في الأصل يثبت به عندنا العلم فوجب أن تكون الآية لنا بدليل هذه الآية، وقوله تعالى: {إن بعض الظن إثم}.

لا يدخل تحتها نفي قول من حيث القياس، إذ ذلك قطع لا أنه ظن، إذ الظن ما كان من حيث التخمين لا عن حقيقة أصل.

جواب ثانٍ: إنه إن كان من حيث القياس فذلك بمثابة نطق المتكلم في الأصل، ألا ترى أن أبا عبد الله قال في كتاب القياس: إذا كان الشيء يشبه الشيء، وأقبلت به وأدبرت فليس في نفسي منه شيء فقطع على أنه علم يقينا.

جواب ثالث: وهو إنا نقول لو جاء الرد لوجب القياس في الجوابات لأدى إلى إسقاط ذلك في أحكام الواجبات، فلما كانت من أحكام شرعا موجها من حيث القياس حقا كان ذلك في الأجوبة سواء.

وأما الجواب عن الذي قالوه من أن هذا قول إلى ساكت فذلك لا يؤثر شيئا، إذ السكوت على ضربين:

أحدهما: نفي الأصل.

والثاني: ساكت عن نطق بيّن، والساكت في أصل الأشياء كمن لا جواب له ولا فتوى عنه ولا يُنسب إليه بحال. وساكت عن نطق حاصل فإنه مستحق أن يُنسب إليه كل ما كان في معناه، وليس هذا إلا بمثابة مسكوت القرآن لما ثبت الأمر عن الصحابة إن سكتوا عما سكت عنه القرآن ثم قد ثبت وتفرد أن الكلام بالواجبات في القرآن لا يوجب سكوتا عن جريان الأحكام من حيث القياس ولا يكون ذلك نسبة قول إلى غير قول، وإلى سكوت بل هو قول
আর আল্লাহ তাআলার বাণী—"যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান (علم) নেই তার অনুসরণ করো না"—এই দলিল পেশ করার উত্তর হলো: এটি মূলত আমাদের পক্ষেই যায়; কারণ আমাদের নিকট হাদিসের মূল পাঠ (نص) দ্বারা জ্ঞান (علم) প্রমাণিত হয়। সুতরাং এই আয়াতের প্রমাণ অনুসারেই আয়াতটি আমাদের স্বপক্ষে হওয়া আবশ্যক। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই কোনো কোনো ধারণা (ظن) পাপ।"

কিয়াসের (قياس) দিক থেকে কোনো বক্তব্যকে নাকচ করা এর অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ তা অকাট্য (قطع), তা ধারণা (ظن) নয়। কেননা ধারণা হলো যা অনুমানের ভিত্তিতে হয়, কোনো মূল সত্যের ভিত্তিতে নয়।

দ্বিতীয় উত্তর: যদি বিষয়টি কিয়াসের (قياس) দিক থেকে হয়, তবে তা মূল বক্তার উচ্চারিত বক্তব্যের সমপর্যায়ভুক্ত। আপনি কি দেখেননি যে, আবু আব্দুল্লাহ 'কিতাবুল কিয়াস'-এ বলেছেন: "যখন কোনো বস্তু অন্য কোনো বস্তুর সদৃশ হয় এবং আমি একে সব দিক থেকে বিচার-বিশ্লেষণ করি, তখন আমার মনে এ নিয়ে কোনো সংশয় থাকে না।" সুতরাং তিনি একে নিশ্চিত জ্ঞান (علم يقينا) হিসেবে অকাট্যভাবে গ্রহণ করেছেন।

তৃতীয় উত্তর: আমরা বলি যে, যদি প্রত্যাখ্যানের বিষয়টি আসত তবে উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে কিয়াস (قياس) আবশ্যক হতো, যা ওয়াজিব বিধানসমূহের (أحكام) ক্ষেত্রে তা বিলুপ্ত করে দিত। সুতরাং যেহেতু কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে তা শরয়ি বিধান হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে, তাই উত্তরের ক্ষেত্রেও তা সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

তারা যা বলেছে যে এটি একজন নীরব (ساكت) ব্যক্তির দিকে বক্তব্যকে নিসবত করা—তার উত্তর হলো, এটি কোনো প্রভাব ফেলে না। কারণ নীরবতা (سكوت) দুই প্রকার:

প্রথমত: মূল বিষয়কে অস্বীকার করা।

দ্বিতীয়ত: সুস্পষ্ট বক্তব্যের ক্ষেত্রে নীরব থাকা। আর কোনো বিষয়ের মূল অবস্থার ক্ষেত্রে নীরব (ساكت) থাকা ব্যক্তি ওই ব্যক্তির ন্যায় যার কোনো উত্তর নেই এবং যার থেকে কোনো ফতোয়া বর্ণিত নেই এবং কোনো অবস্থাতেই তার দিকে কিছু নিসবত করা যায় না। আর অর্জিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে যে নীরব থাকে, তার অর্থের সাথে সংগতিপূর্ণ সকল বিষয় তার দিকে নিসবত করা সমীচীন। এটি ঠিক কোরআনের মাসকুত (مسكوت) অর্থাৎ যা সম্পর্কে নীরব থাকা হয়েছে তার মতো; যেহেতু সাহাবিদের থেকে এটি প্রমাণিত যে কোরআন যে বিষয়ে নীরব থেকেছে তারাও সে বিষয়ে নীরব থেকেছেন। অতঃপর এটি অকাট্যভাবে প্রমাণিত যে কোরআনে আবশ্যকীয় বিধানাবলি নিয়ে আলোচনা কিয়াসের (قياس) মাধ্যমে বিধান (أحكام) জারির ক্ষেত্রে নীরবতাকে অপরিহার্য করে না। আর এটি কারো বক্তব্যকে অন্য কোনো বক্তব্যে কিংবা নীরবতার (سكوت) দিকে নিসবত করা নয়, বরং এটি একটি বক্তব্যই।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪১)
مأخوذ من أجزاء الأمر وكان كذلك ما ذكرناه سواء.

فأما الجواب عن الذي قالوه من أقاويل العلماء كأنه أهل المدينة والعراقيين وأنه يفضي إلى نسبة قولهم إليه مذهبا، فذلك خطأ منعنا من ذلك لأجل أنه قال لنا قولًا فيه صريح بالمخالفة لسائرهم فبطل جواب نسبته إلى بعضهم.

جواب ثان: هو إنا نقول: إذا صح القياس على أصله والأصل الذي نسب القضاء منه إذا كان قد قال به أهل العراق وغيرهم، وصح القياس فيه بما يتابع مقالة أهل العراق فإنا ننسب إليه ذلك مذهبا، وإن كان فيه لأهل العراق أو غيرهم من العلم متابعا كما يقول في جوابه إذا كان فيه لمن يخالفه متابعا.

فأما فقه الأثرم مع أبي بكر الأعين وإن أبا عبد الله قال: ليس هذا كلامي. فإنها من أوثق الأشياء الدلالة على جواز أن ينسب إليه مذهبا من حيث القياس الإنكار من أبي عبد الله فيما يتعلق بالدين والكذب والبهتان ويحرص الذاهب شروع، ورأيناه مع كونه سامعا لما أتى به الأثرم لم يقل أنه أخطأ على مذهبي وأنه نسب إلى ما لا أعتقده ولا أقول به بل سكت عن توثيبه وعن الأغلاط في أفعاله ونقله وما أتى به فكان ذلك قطعا على أن أبا بكر الأثرم ما عدل عن الإصابة في جوابه ولا أنه دل على فتواه على فتاويه قبله. وما قاله أحمد رضي الله عنه فإنه يُقوّا به أثر الأثرم لأنه قال هذا ليس من كلامي بقا كونه كلاما به، وهذا يقوي فتوى الأثرم وأنه كان من فقهه أنه فعل إلى أنه قاس على كلامه وكان ما أوجبه عنه الأثرم الذي حسن لأجلها سكوت أبي عبد الله عن الإنكار عليه وبالله التوفيق.
এটি মূল বিষয়ের অংশসমূহ থেকে সংগৃহীত এবং আমরা যা উল্লেখ করেছি তা সমানভাবেই প্রযোজ্য ছিল।

আলেমদের বক্তব্য সম্পর্কে তারা যা বলেছে—যেমন মদিনাবাসী এবং ইরাকিদের মতামতের ন্যায় এবং যা তাদের বক্তব্যকে তার মাযহাব হিসেবে সম্পৃক্ত করার দিকে নিয়ে যায়—এর উত্তর হলো: এটি ভুল। আমাদের জন্য এটি গ্রহণ করা অসম্ভব, কারণ তিনি আমাদের কাছে এমন একটি কথা বলেছেন যা স্পষ্টভাবে অন্যদের বিরোধিতাকে প্রকাশ করে। ফলে তার বক্তব্যকে অন্যদের সাথে সম্পৃক্ত করার যুক্তিটি বাতিল হয়ে যায়।

দ্বিতীয় উত্তর হলো: আমরা বলি, যদি তার মূলনীতির ওপর কিয়াস করা সঠিক (صحيح) হয় এবং যে মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে বিচারকার্যের সম্পর্ক নির্দেশিত হয়েছে সেটি যদি ইরাকি বা অন্যদের অভিমত হয়, আর সেই কিয়াস যদি ইরাকিদের বক্তব্যের অনুগামী হিসেবে শুদ্ধ (صحيح) হয়, তবে আমরা একে তার মাযহাব হিসেবে গণ্য করব। যদিও এতে ইরাকি বা অন্য আলেমদের অনুসরণ থাকে, ঠিক যেমন তিনি তার উত্তরে বলেন যদি সেখানে বিরোধিতাকারীদের কোনো সমর্থনকারী (متابع) বিদ্যমান থাকে।

আবু বকর আল-আয়ুন-এর সাথে আল-আছরাম-এর ফিকহী আলোচনার বিষয়ে আবু আব্দুল্লাহ বলেছিলেন: "এটি আমার কথা নয়।" এটি কিয়াসের নিরিখে তার দিকে কোনো মাযহাবকে সম্পৃক্ত করার বৈধতার স্বপক্ষে অন্যতম নির্ভরযোগ্যতম (أوثق) দলিল। দ্বীনী বিষয়ে কোনো মিথ্যাচার বা অপবাদের ক্ষেত্রে আবু আব্দুল্লাহ সর্বদা অস্বীকৃতি জ্ঞাপনে সচেষ্ট থাকতেন। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, আল-আছরাম যা পেশ করেছেন তা শোনা সত্ত্বেও তিনি বলেননি যে সে আমার মাযহাবের ক্ষেত্রে ভুল করেছে অথবা সে আমার দিকে এমন কিছু সম্পৃক্ত করেছে যা আমি বিশ্বাস করি না। বরং তিনি তাকে অভিযুক্ত করা থেকে এবং তার কর্ম, বর্ণনা (نقل) ও উপস্থাপিত বিষয়ের ভুল ধরা থেকে বিরত থেকেছেন। এটি অকাট্যভাবে প্রমাণ করে যে, আবু বকর আল-আছরাম তার উত্তরে সঠিক সিদ্ধান্ত থেকে বিচ্যুত হননি এবং এটি তার পূর্ববর্তী ফতোয়াসমূহের বিপরীতে ভিন্ন কিছু নির্দেশ করেনি। ইমাম আহমাদ যা বলেছেন, তার মাধ্যমে আল-আছরাম-এর বর্ণিত বিবরণ (أثر) শক্তিশালী হয়; কারণ তিনি বলেছিলেন "এটি আমার কথা নয়", যা বিষয়টিকে তার বক্তব্যের কিয়াস হিসেবে সাব্যস্ত করে। এটি আল-আছরাম-এর ফতোয়াকে শক্তিশালী করে এবং এটিই ছিল তার ফিকহী প্রজ্ঞা যে, তিনি ইমামের বক্তব্যের ওপর কিয়াস করেছিলেন। আল-আছরাম যা সাব্যস্ত করেছিলেন, তার কারণেই আবু আব্দুল্লাহ তার ওপর আপত্তি করা থেকে বিরত থাকা সমীচীন মনে করেছিলেন। আর আল্লাহর কাছেই তাওফিক প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪২)
‌‌باب البيان عن نسبة المذهب إليه من حيث يفسر أصحابه وأخبارهم عن رأيه

قال الحسن بن حامد: إعلم وهب الله لنا ولك سلامة الأديان ووفقنا وإياك للسداد إن الناقلين عن أبي عبد الله رحمة الله عليه جواباته ونصل سؤالاته إذا قاربوا ذلك بتفسير جواب، أو نسبوا إليه حدّا في وجه فقالوا: إن ذلك منسوب وبه منوط فإليه يعزى أو يكون حط ما قالوه بمثابة قوله يطعاطون ذلك ما قاله إسحاق وغيره لأنه كان اختيار أبي عبد الله الدخول بعمرة لأن النبي صلى الله عليه وسلم قال: (لو استقبلت من أمري ما استدبرت). وقال أحمد بن القاسم: اختيار أبي عبد الله المتعة لأنها آخر الأمرين من رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ومن ذلك ما قاله الأثرم: قلت لأبي عبد الله: حديث عمر، ترى لمن احتج به حجة؟ فلم ير أبو عبد الله في ذلك حجة في تسري العبد.
মাযহাবকে তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করার বর্ণনার অধ্যায়, যা তাঁর অনুসারীদের ব্যাখ্যা এবং তাঁর মতামত সম্পর্কে তাদের বর্ণনার আলোকে করা হয়েছে

হাসান ইবন হামিদ বলেন: জেনে রাখুন—আল্লাহ আমাদের ও আপনাকে দ্বীনের নিরাপত্তা দান করুন এবং আমাদের ও আপনাকে সঠিক পথের তাওফিক দান করুন—যারা আবু আব্দুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) থেকে তাঁর উত্তরসমূহ এবং তাঁর প্রশ্নসমূহের মূল পাঠ বর্ণনা করেন, তারা যখন কোনো উত্তরের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তার কাছাকাছি পৌঁছান, অথবা কোনো পন্থায় একটি মূলনীতি তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন এবং বলেন যে, এটি (তাঁর দিকে) সম্বন্ধযুক্ত এবং এর সাথেই সংশ্লিষ্ট, ফলে তা তাঁর দিকেই ন্যস্ত করা হয়; অথবা তাদের বক্তব্যের সারমর্ম তাঁর বক্তব্যের পর্যায়ভুক্ত হয়—তারা ইসহাক ও অন্যদের বক্তব্যের মতোই তা গ্রহণ করেন। কারণ আবু আব্দুল্লাহর মনোনীত অভিমত (اختيار) ছিল উমরার মাধ্যমে হজ্জ শুরু করা, যেহেতু নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "যদি আমি আমার এ কাজের বিষয়টি আগে জানতে পারতাম যা আমি পরে জেনেছি..."। আহমাদ ইবনুল কাসিম বলেন: আবু আব্দুল্লাহর মনোনীত অভিমত (اختيار) ছিল মুতআ (তামাত্তু হজ্জ), কারণ এটি ছিল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে শেষ দুই নির্দেশের একটি।

এর উদাহরণ হলো আসরাম যা বলেছেন: আমি আবু আব্দুল্লাহকে জিজ্ঞেস করলাম, 'উমরের হাদিস সম্পর্কে; আপনি কি মনে করেন যারা এটি দ্বারা দলিল পেশ করে তাদের জন্য এটি প্রমাণ (حجة) হবে?' তখন আবু আব্দুল্লাহ দাসের দাসী গ্রহণের ক্ষেত্রে বিষয়টিতে কোনো প্রমাণ (حجة) দেখতে পাননি।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪৩)
ومثل ذلك قال أحمد بن القاسم في الأمة إذا اشتراها فأولدها؟ قال: تعتق في حصة أولادها. قال أحمد بن القاسم: والمسألة على أن أولاده منها قد عتقوا قبل موته.

وقال عبد الله: سألت أبي عن الخطاف كأنه عنده أسهل من الخشاف.

وقال الحسن: من توان عنه في المخابرة كأنه لم ير ما قاله أبو يوسف. ونظائر هذا يكثر كل من نقل عنه في مسألة أو بيان حد في السؤال كان ذلك بمثابة نصه في كل الأحوال. وخالفنا في ذلك طائفة من أصحابنا مثل الخلال في رواية الأثرم عن أبي عبد الله حيث سأله عن طلحة بن مصرف كأنه لا يثبت أنه مات سنة اثنتي عشرة وهم من الإثرم، فلم يجعل ما قاله الإثرم على أبي عبد الله من رأيه. وهذه طريقة عبد العزيز أيضا، وإنه لا يأخذ بقولهم فيما نسبوه إليه في أماكن شتى. وهذا عندي فاسد، إذ ما نقلوه وفسروه أو تأولوه وعزوه إليه لا تجوز مخالفتهم فيه، وهذا هو قياس المذهب، الخرقي وغيره من أصحابنا.
অনুরূপ কথা আহমদ ইবনে কাসেম সেই দাসীর ক্ষেত্রে বলেছেন যাকে কেউ ক্রয় করে তার গর্ভে সন্তান উৎপাদন করেছে। তিনি বলেছেন: সে তার সন্তানদের অংশে মুক্ত হয়ে যাবে। আহমদ ইবনে কাসেম বলেছেন: মাসআলাটি (مسألة) এমন যে, তার মৃত্যুর আগেই তার গর্ভজাত সন্তানরা মুক্ত হয়ে গেছে।

আব্দুল্লাহ বলেছেন: আমি আমার পিতাকে আবাবিল পাখি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি; মনে হলো এটি তাঁর কাছে বাদুড় অপেক্ষা অধিক নমনীয় ছিল।

হাসান বলেছেন: যে ব্যক্তি মুখাবারা (ভূমি বর্গা) সম্পর্কে তাঁর থেকে বিমুখ হয়েছে, সে যেন আবু ইউসুফ যা বলেছেন তা দেখেনি। এই ধরণের উদাহরণ প্রচুর; যাঁর থেকেই কোনো মাসআলা (مسألة) বা প্রশ্নের সীমানা বর্ণনার ক্ষেত্রে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা সর্বাবস্থায় তাঁর সুস্পষ্ট পাঠ (نص) হিসেবে গণ্য হবে। আমাদের একদল সাথী এ বিষয়ে আমাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করেছেন, যেমন খলাল, আসরামের বর্ণনা (رواية) অনুযায়ী আবু আব্দুল্লাহ থেকে; যেখানে তিনি তাঁকে তালহা ইবনে মুসাররিফ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যেন তিনি এটি সাব্যস্ত (يثبت) করেননি যে তিনি একশ বারো হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন এবং এটি আসরামের পক্ষ থেকে একটি বিভ্রান্তি (وهم) ছিল। ফলে আসরাম আবু আব্দুল্লাহর বরাতে যা বলেছেন, তিনি সেটিকে তাঁর (আবু আব্দুল্লাহর) অভিমত হিসেবে গণ্য করেননি। এটি আব্দুল আজিজেরও পদ্ধতি, এবং তিনি বিভিন্ন স্থানে তাঁর দিকে যা সম্বন্ধ করা হয়েছে সে বিষয়ে তাদের কথা গ্রহণ করেন না। এটি আমার দৃষ্টিতে ত্রুটিপূর্ণ (فاسد), কারণ তারা যা বর্ণনা করেছেন, ব্যাখ্যা করেছেন বা যার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন এবং তাঁর দিকে সম্বন্ধ করেছেন, সে বিষয়ে তাদের বিরোধিতা করা বৈধ নয়। আর এটিই মাযহাবের (المذهب) কিয়াস (قياس), যা খিরাকি এবং আমাদের অন্যান্য সাথীদের অনুসৃত পথ।
(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪৪)
والأصل في ذلك ما قدمناه عنه بدءًا إن من أصلنا أن نجعل ما فسرته الصحابة في نقلها وما تثبته في أخبارها، ونسبته إلى نبينا عليه السلام. فكل ذلك يعزى إلى النبي صلى الله عليه وسلم نصا ونقطع به حتما، ويكون بمثابة تفسير النبي صلى الله عليه وسلم نصا، فإذا ثبت هذا في أصول الشريعة كان بمثابة المصاحبين للعلماء والمتابعين والناقلين بمثابة ما نقلوه من الصحابة من الأخبار سيان. وقد ثبت أيضا أن الصاحب لا يجوز أن ينسب إلى صاحبه شيئا من حيث المجازفة والتخييل، ولا ينسب إليه إلا ما قبله وعلمه يقينا. فإذا ثبت هذا كان ما ذكرناه في جوابات أصحابه كافيا وأنه ينسب إليه من ذلك مذهبا سالما وبالله التوفيق.

আর এ বিষয়ে মূল ভিত্তি হলো যা আমরা তাঁর সম্পর্কে শুরুতে পেশ করেছি যে, আমাদের একটি মূলনীতি হলো সাহাবীগণ (صحابة) তাঁদের বর্ণনার ক্ষেত্রে যা ব্যাখ্যা করেছেন এবং তাঁদের সংবাদসমূহে (أخبار) যা সাব্যস্ত করেছেন এবং আমাদের নবী (আলাইহিস সালাম)-এর দিকে নিসবত করেছেন তা গ্রহণ করা। এই সব কিছুই সরাসরি পাঠ্য (نصا) হিসেবে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয় এবং আমরা তা নিশ্চিতভাবে সাব্যস্ত করি। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সরাসরি পাঠ্য (نصا) ব্যাখ্যার সমপর্যায়ভুক্ত। যখন এটি শরীয়তের মূলনীতিতে (أصول الشريعة) সাব্যস্ত হলো, তখন আলেমদের সহচর, অনুসারী (متابعين) এবং বর্ণনাকারীদের মর্যাদা সাহাবীগণ (صحابة) থেকে প্রাপ্ত সংবাদসমূহের (أخبار) বর্ণনার ক্ষেত্রে সমান বলে গণ্য হবে। এটিও প্রমাণিত যে, কোনো সহচরের পক্ষে তার সঙ্গীর দিকে অনুমান বা কল্পনার ভিত্তিতে কোনো কিছু নিসবত করা বৈধ নয়; বরং তিনি কেবল তা-ই নিসবত করেন যা তিনি গ্রহণ করেছেন এবং নিশ্চিতভাবে অবগত হয়েছেন। সুতরাং যদি এটি প্রমাণিত হয়, তবে তাঁর সঙ্গীদের উত্তরের ক্ষেত্রে আমরা যা উল্লেখ করেছি তা যথেষ্ট বলে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে তাঁর প্রতি একটি বিশুদ্ধ মাযহাব (مذهبا) নিসবত করা সম্ভব হবে। আর আল্লাহর তাওফীকেই সব সম্পন্ন হয়।

(খণ্ড: ১) তাহযীবুল আজভিবাহ ত আলমুল কুতুব (পৃষ্ঠা: ৪৫)
‌‌باب البيان عن نسبة المذهب إليه من حيث أفعاله في خاصة نفسه

قال الحسن بن حامد: وكل ما نقل عن أبي عبد الله أنه فعله في نفسه وارتضاه لتأدية عنايته، وكل ذلك ينسب إليه بمثابة جوابه وفتواه نظير ذلك:

ما رواه عنه المروذي في طهارته أنه غسل لحيته حتى وصل الماء إلى أصول شعره.

ومن ذلك أنه كان يعنا تحت حنكه.

ومن ذلك: ما نقل أنه صلى في قيام خلف أبي علي حنبل ابن عمه وهو غير بالغ، فلما بلغ قال: ليومنا في الفرائض.

ونظائر هذا مذهب له بمثابة جوابه بذلك. وهذا قول عامة أصحابنا إلا إني رأيت طائفة من أصحابنا يتأنون هذا ويقولو: لا ينسب إليه بأفعاله مذهبا، إذا الفعل محتمل، وعنده أن أفعال النبي صلى الله عليه وسلم ليست حتما. وهذا فلا تأثير له إذ قد ثبت وتقرر أن مقامات العلماء بمثابة مقامات
ব্যক্তিগত কার্যাবলীর প্রেক্ষিতে তাঁর দিকে মাজহাবের (مذهب) সম্বন্ধযুক্ত করার বর্ণনার অধ্যায়

হাসান ইবনে হামিদ বলেছেন: আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম আহমাদ) থেকে তাঁর ব্যক্তিগতভাবে যা করার এবং বিশেষ যত্ন সহকারে পালনের জন্য যা পছন্দ করার বিষয় বর্ণিত হয়েছে, তার সবটুকুই তাঁর মৌখিক উত্তর ও ফতোয়ার (فتوى) ন্যায় তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত হবে। এর দৃষ্টান্ত হলো:

পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে আল-মাররুজী তাঁর থেকে যা বর্ণনা করেছেন যে, তিনি তাঁর দাড়ি এমনভাবে ধৌত করতেন যাতে পানি চুলের গোড়া পর্যন্ত পৌঁছে যায়।

এর অন্তর্ভুক্ত আরও একটি বিষয় হলো যে, তিনি তাঁর চিবুকের নিচ দিয়ে পাগড়ি পরিধান (التحنك) করতেন।

এর মধ্যে আরও রয়েছে: যা বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি তাঁর চাচাতো ভাই আবু আলী হানবাল ইবনে ইসহাকের পেছনে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছেন যখন তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। অতঃপর যখন তিনি প্রাপ্তবয়স্ক হলেন, তখন তিনি বললেন: "তিনি যেন আমাদের ফরজ (الفرائض) নামাজসমূহে ইমামতি করেন।"

এই ধরণের বিষয়গুলো তাঁর মাজহাব (مذهب) হিসেবে গণ্য, যা তাঁর উত্তরের স্থলাভিষিক্ত। এটিই আমাদের অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ সঙ্গীদের অভিমত। তবে আমি আমাদের সঙ্গীদের একটি দলকে দেখেছি যারা এই বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করেন এবং বলেন: তাঁর কার্যাবলীর মাধ্যমে তাঁর দিকে কোনো মাজহাব (مذهب) সম্বন্ধ করা যাবে না; কারণ ক্রিয়া বা কাজ একাধিক ব্যাখ্যার সম্ভাবনা (محتمل) রাখে। আর তাঁর নিকট নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কার্যাবলীও অপরিহার্য (حتما) নয়। তবে এটি কোনো প্রভাব ফেলে না, কেননা এটি সাব্যস্ত ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, আলেমদের মর্যাদা হলো... মর্যাদার স্থলাভিষিক্ত।