(খণ্ড: ১)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: -)
الفوائد العجيبة في إعراب الكلمات الغربية - ط إسطنبول القسم: النحو والصرف
الكتاب: الفوائد العجيبة في إعراب الكلمات الغربية
(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)
المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]
الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م
وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى
عدد الصفحات: 18
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445
আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফি ই'রাবিল কালিমাতিল গারিবাহ - ইস্তাম্বুল সংস্করণ বিভাগ: নাহু ও সারফ (ব্যাকরণ ও রূপতত্ত্ব)
গ্রন্থ: আল-ফাওয়ায়িদুল আজিবা ফি ই'রাবিল কালিমাতিল গারিবাহ
(মাজমু' রাসায়িলি ইবনে আবিদিনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মদ আমিন এফেন্দি, যিনি ইবনে আবিদিন নামে প্রসিদ্ধ [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]
প্রকাশক: দারু সা'আদাত, ইস্তাম্বুল, ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ
«মাজমু'উর রাসায়িল»-এর চিত্রায়িত সংস্করণ: আলামুল কুতুব, এবং আরও কয়েকটি প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৮
[গ্রন্থটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ যুল-কাদা ১৪৪৫ হিজরি
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩২৯)
الفوائد العجيبة في إعراب الكلمات الغربية
للمرحوم الشريف السيد محمد عابدين تغمده الله برحمته واسكنه فسيح جناته
অপরিচিত (غريب) শব্দাবলির ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে বিস্ময়কর উপকারিতা
মরহুম আশ-শরীফ আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ আবিদীনের রচনা, আল্লাহ তাকে তাঁর রহমতে আচ্ছাদিত করুন এবং তাঁকে জান্নাতের প্রশস্ত উদ্যানে আসীন করুন।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩০)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله وحده * وصلى الله على من لا نبي بعده * وآله الطاهرين وصحابته اجمعين (وبعد) فيقول فقير رحمة ربه * واسير وصمة ذنبه محمد امين بن عمر عابدين قد عن لى الكلام على بعض الفاظ شاع استعمالها بين العلماء * وهي مما فى اعرابه أو معناه اشكال أو خفاء * بعبارات تحل العقال * وتوضح المقال (وسميتها الفوائد العجيبة * في اعراب الكلمات الغريبة)
(فأقول) والله المستعان * وعليه التكلان
(منها) قولهم هلم جرا فهلم بمعى تعال وهو مركب من هاء التنبيه ومن لم أي ضم نفسك الينا واستعمل استعمال البسيط يستوى فيه الواحد والجمع والتذكير والتأنيث عند الحجازيين كذا في القاموس وسبقه إلى ذكره صاحب الصحاح وتبعه السفاني فقالا تقول كان ذلك عام كذا وهلم جرا إلى اليوم انتهى ولا يخفى عدم جريان ما قاله في القاموس في مثل هذا وتوقف الجمال ابن هشام في كون هذا التركيب عربيا محضا وساق وجوه توقفه في رسالة له واجاب عن ذكره في الصحاح ونحوه وذكر ما للعلماء في اعرابه ومعناه وما يرد عليه ثم قال فلنذكر ماظهر لنا في توجيه هذا اللفظ بتقدير كونه عربيا فنقول هلم هذه هي القاصرة التي بمعنى أئت وتعال إلا ان فيها تجوزين (أحدهما) انه ليس المراد بالأتيان هنا المجئ الحسى بل الاستمرار على الشيء والمداومة عليه كما تقول امش على هذا الأمر وسر على هذا المنوال ومنه قوله تعالى (وانطلق الملأ منهم ان امشوا واصبروا على آلهتكم) المراد بالانطلاق ليس الذهاب الحسى بل انطلاق الالسنة بالكلام ولهذا اعربوا ان تفسيرية وهى انما تأتى بعد جملة فيها معنى القول كقوله تعالى (فاوحينا إليه ان اصنع الفلك) والمراد بالمشى ليس المشى على الاقدام بل الاستمرار والدوام أي دوموا على عبادة اصنامكم واحبسوا انفسكم على ذلك (الثاني) انه ليس المراد الطلب حقيقة وإنما المراد الخبر وعبر عنه بصيغة الطلب كما في قوله تعالى (ولنحمل خطاياكم فليمدد له الرحمن مدا) وجرا مصدر جره يجره إذا سحبه ولكن ليس المراد الجر الحسى بل المراد التعميم كما استعمل السحب بهذا المعنى الا ترى انه يقال هذا الحكم منسحب على كذا أي شامل له فإذا قيل كان ذلك عام كذا وهلم جرا فكأنه قيل واستمر ذلك في بقية الاعوام استمرارا أو استمر مستمرا على الحال المؤكدة وذلك ماش في جميع الصور وهذا هو الذي يفهمه الناس من هذا الكلام وبهذا التأويل ارتفع اشكال العطف فإن هلم ح خبر واشكال التزام افراد الضمير إذ فاعل هل هذه مفرد ابدا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। এবং সালাত বর্ষিত হোক তাঁর ওপর যাঁর পরে কোনো নবী নেই এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও সকল সাহাবীর ওপর। (অতঃপর) তাঁর রবের রহমতের মুখাপেক্ষী এবং তাঁর গুনাহের কলঙ্কে বন্দী মুহাম্মদ আমিন ইবন উমর আবিদিন বলছেন: আলেমদের মাঝে বহুল ব্যবহৃত এমন কিছু শব্দ সম্পর্কে আলোচনা করার সংকল্প আমি করেছি, যেগুলোর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ বা অর্থের ক্ষেত্রে জটিলতা অথবা অস্পষ্টতা রয়েছে; এমন সব বাক্য দ্বারা যা গিঁট উন্মোচন করে এবং বিষয়বস্তুকে স্পষ্ট করে। (আমি এর নামকরণ করেছি ‘আল-ফাওয়াইদুল আজিবা ফি ইরাবিল কালিমাতিল গারিবা’)।
(আমি বলছি) এবং আল্লাহর নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করছি ও তাঁর ওপরই ভরসা করছি।
(সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো) তাদের উক্তি ‘হালুম্মা জাররা’। এখানে ‘হালুম্মা’ শব্দটি ‘এসো’ বা ‘আসুন’ অর্থে ব্যবহৃত। এটি সতর্কতামূলক অব্যয় ‘হা’ এবং ‘লাম’ এর সমন্বয়ে গঠিত, যার অর্থ হলো—নিজেকে আমাদের সাথে যুক্ত করো। হিজাযীদের নিকট এটি সাধারণ অব্যয়ের ন্যায় ব্যবহৃত হয়, যেখানে একবচন, বহুবচন, পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয় না। আল-কামুস গ্রন্থে এমনটিই বলা হয়েছে। আল-সিহাহ গ্রন্থের রচয়িতা ইতিপূর্বেই এটি উল্লেখ করেছেন এবং আস-সাফানি তাঁকে অনুসরণ করেছেন। তারা উভয়েই বলেছেন: তুমি বলবে—এটি অমুক বছর থেকে শুরু হয়েছে এবং আজ অবধি এভাবে চলে আসছে ‘হালুম্মা জাররা’। উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আর এটি অস্পষ্ট নয় যে, আল-কামুস-এ যা বলা হয়েছে তা এখানে পুরোপুরি প্রযোজ্য নয়। জামাল ইবন হিশাম এই গঠনটি বিশুদ্ধ আরবি হওয়ার ব্যাপারে দ্বিধা প্রকাশ করেছেন। তিনি তাঁর একটি রিসালায় এই দ্বিধার কারণগুলো তুলে ধরেছেন এবং আল-সিহাহ ও অনুরূপ গ্রন্থে এর উল্লেখ থাকার জবাব দিয়েছেন। এ বিষয়ে আলেমদের দেওয়া ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ ও অর্থ এবং এর ওপর আনীত আপত্তিগুলোও তিনি উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: যদি এই শব্দটিকে আরবি হিসেবে ধরা হয়, তবে এর ব্যাখ্যায় আমাদের কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা উল্লেখ করছি। আমরা বলি—এই ‘হালুম্মা’ হলো অকর্মক ক্রিয়া যা ‘আসুন’ বা ‘এসো’ অর্থে ব্যবহৃত। তবে এতে দুটি রূপক অর্থ নিহিত আছে। (প্রথমত) এখানে ‘আসা’ বলতে আক্ষরিক বা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য আগমন উদ্দেশ্য নয়, বরং কোনো বিষয়ের ওপর অবিচল থাকা ও তা অব্যাহত রাখা উদ্দেশ্য। যেমন আপনি বলে থাকেন—এই বিষয়ের ওপর চলো বা এই পদ্ধতিতে অগ্রসর হও। মহান আল্লাহর বাণীর বিষয়টিও অনরূপ: ‘তাদের নেতৃস্থানীয়রা এই বলে প্রস্থান করল যে, তোমরা চলে যাও এবং তোমাদের উপাস্যদের ওপর অবিচল থাকো।’ এখানে প্রস্থান বলতে আক্ষরিক চলে যাওয়া বোঝানো হয়নি, বরং কথা বলার ক্ষেত্রে জিহ্বা বা জবানের ক্ষিপ্রতা বোঝানো হয়েছে। এই কারণেই তারা ‘আন’ শব্দটিকে ব্যাখ্যামূলক হিসেবে বিশ্লেষণ করেছেন। আর এটি এমন বাক্যের পরেই আসে যাতে বলার অর্থ নিহিত থাকে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ‘অতঃপর আমি তাঁর কাছে ওহি পাঠালাম যে, তুমি নৌকা নির্মাণ করো।’ এখানে ‘চলা’ বলতে পদব্রজে চলা উদ্দেশ্য নয়, বরং স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা উদ্দেশ্য। অর্থাৎ, তোমরা তোমাদের মূর্তিপূজার ওপর অটল থাকো এবং নিজেদেরকে এতেই আবদ্ধ রাখো। (দ্বিতীয়ত) এখানে প্রকৃত অনুরোধ বা আদেশ উদ্দেশ্য নয়, বরং এখানে বর্ণনা বা সংবাদ উদ্দেশ্য। একে আদেশের কাঠামোতে প্রকাশ করা হয়েছে, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে দেখা যায়: ‘এবং আমরা তোমাদের পাপভার বহন করব’ এবং ‘দয়াময় আল্লাহ তাকে দীর্ঘ অবকাশ দেবেন।’ আর ‘জাররা’ শব্দটি ‘জাররা-ইয়াজুররু’ থেকে আগত মূলধাতু, যখন কেউ কোনো কিছুকে টেনে নিয়ে যায়। তবে এখানে আক্ষরিকভাবে টেনে নেওয়া উদ্দেশ্য নয়, বরং ব্যাপকতা বা ব্যপ্তির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন ‘টেনে নেওয়া’ শব্দটিও এই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আপনি কি দেখেন না যে বলা হয়—‘এই বিধানটি অমুক বিষয়ের ওপর প্রসারিত’, অর্থাৎ তা ওই বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং যখন বলা হয় ‘এটি অমুক বছর থেকে শুরু হয়েছে এবং আজ অবধি এভাবে চলে আসছে’, তখন যেন বলা হলো—‘পরবর্তী বছরগুলোতেও এটি ধারাবাহিকভাবে অব্যাহত রয়েছে।’ অথবা এটি ‘হাল-ই-মুয়াক্কাদাহ’ হিসেবে বর্তমান ছিল। আর এটি সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সাধারণ মানুষ এই বক্তব্য থেকে এটিই বুঝে থাকে। আর এই ব্যাখ্যার মাধ্যমেই সংযোজক অব্যয়ের জটিলতা নিরসন হয়, কারণ ‘হালুম্মা’ তখন বর্ণনা হিসেবে গণ্য হয়। সেই সাথে সর্বনামের একবচন হওয়ার বাধ্যবাধকতার জটিলতাও দূর হয়, কারণ এই ‘হালুম্মা’ এর কর্তা সর্বদা একবচন হয়ে থাকে।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩১)
كما تقول واستمر ذلك أو واستمر ما ذكرته (ومنها) قولهم ومن ثم وهى في الأصل موضوعة للمكان البعيد وإذا وقعت في عباراتهم يقولون ومن هناك أو من هنا أي من اجل ذلك كان كذا فإذا فسروها بهناك ففيه تجوز من جهة واحدة وهى استعمالها في المكان المجازى وإذا فسروها بهنا ففيه تجوزان (الأول) وكونها في القريب ولكن الجمع بين تفسيرها بهنا القريب وبين قولهم أي من اجل ذلك كما وقع للعلامة الجلال المحلى في شرحه على جمع الجوامع فيه منافاة لان ذلك من اشارات البعيد اللهم إلا ان يقال استعمل هنا في البعيد مجازا وذلك في القريب كذلك أو يقال كما قال بعضهم اشار اولا بهنا إلى قرب المشار إليه لقرب محله وما فهم منه (وثانيا) بذلك إلى بعده باعتبار ان المعنى غير مدرك حسا فكأنه بعيد) وفي شرح التسهيل للدماميني ما نصه وانظر في قول العلماء ومن ثم كان كذا هل معناه معنى هنالك أي التي للبعد أو معنى هنا التي للقرب والظاهر هو الثاني انتهى * ثم مما ينبغي التأمل في علاقة هذا المجاز وفي قرينته ويمكن ان تجعل العلاقة المشابهة فإن المعنى محل للفكر وحده إليه بملاحظته المرة بعد الأخرى كما ان المكان محل للجسم والتردد إليه باثباته المرة بعد الأخرى أو الإشارة للالفاظ فأنها محل للمعنى كما ان المكان محل المجسم والقرينة استحالة كون المعنى أو الالفاظ مكانا حقيقيا وقال بعضهم في قول ابن الحاجب ومن ثم اختلف في رحمن قوله ومن ثم الإشارة إلى المكان الاعتباري كأنه شبه الاختلاف المذكور في شرط تأثير الألف والنون انه انتفاء فعلانة أو وجود فعلى بالمكان في ان كلا منهما منشأ أمر إذا المكان منشاء النباتات والاختلاف المذكور منشأ اختلاف اخر وهو الاختلاف في صرف رحمن فجعل الاختلاف المذكور من افراد المكان ادعاء ثم شبه المكان الاعتبارى بالمكان الحقيقى لاشتراكهما في المكانية فذكر اللفظ الموضوع للمكان انتهى (ومنها) قولهم أيضا هو مصدر آض يئيض واصل آض ايض كباع تحركت الياء وانفتح ما قبلها قلبت الفا واصل يئيض ييئض بزنة يفعل نقلت حركة الياء إلى الهمزة واما اعرابه فذكر ابن هشام في رسالة تعرض فيها للمسئلة ان جماعة توهموا ان منصوب على الحال من ضمير قال وإن التقدير وقال أيضا أي راجعا إلى القول وهذا لا يحسن تقديره إلا إذا كان هذا القول صدر من القائل بعد صدور القول السابق له وليس ذلك بشرط بل تقول قلت اليوم كذا وقلته امس أيضا وكتبت اليوم وكتبت امس أيضا قال والذي يظهر لى انه مفعول مطلق حذف عامله أو حال حذف عاملها وضاحبها أي ارجع إلى الاخبار رجوعا ولا اقتصر على ما قدمت أو اخبر راجعا فهذا هو
যেমনিভাবে আপনি বলবেন ‘এবং তা চলতে থাকল’ অথবা ‘আপনি যা উল্লেখ করেছেন তা বলবৎ থাকল’। (তার মধ্যে রয়েছে) তাদের কথা ‘ومن ثم’ (অতএব/সেখান থেকে)। এটি মূলত দূরবর্তী স্থানের জন্য ব্যবহৃত হয়। যখন এটি তাদের বক্তব্যে আসে, তখন তারা বলে ‘সেখান থেকে’ অথবা ‘এখান থেকে’, অর্থাৎ ‘সে কারণে এমনটি হয়েছে’। যদি তারা এর ব্যাখ্যা ‘সেখানে’ দিয়ে করেন, তবে তাতে এক দিক থেকে রূপক (مجاز) প্রয়োগ রয়েছে, আর তা হলো শব্দটিকে রূপক স্থানে ব্যবহার করা। আর যদি তারা এর ব্যাখ্যা ‘এখানে’ দিয়ে করেন, তবে তাতে দুটি রূপক প্রয়োগ রয়েছে: প্রথমত, একে নিকটবর্তী অর্থে ব্যবহার করা। তবে এর ব্যাখ্যা নিকটবর্তী ‘এখানে’ দিয়ে করা এবং তাদের কথা ‘অর্থাৎ সে কারণে’ এর মধ্যে সমন্বয় করা—যেটি আল্লামা জালাল আল-মহল্লী তার জামউল জাওয়ামি গ্রন্থের শরহে করেছেন—তাতে বৈপরীত্য রয়েছে। কারণ ‘সেই কারণে’ শব্দটি দূরবর্তী নির্দেশক। তবে যদি বলা হয় যে, এখানে ‘নিকটবর্তী’ শব্দটিকে রূপকভাবে (مجازا) ‘দূরবর্তী’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে এবং ‘দূরবর্তী’ শব্দটিকে একইভাবে ‘নিকটবর্তী’ অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে; অথবা যেমনটি কেউ কেউ বলেছেন যে, প্রথমে ‘এখানে’ দ্বারা উদ্দিষ্ট বিষয়ের নৈকট্যের দিকে ইশারা করা হয়েছে যেহেতু তার স্থান ও অনুধাবিত বিষয় নিকটে। আর দ্বিতীয়ত, ‘সেটি’ (দূরবর্তী) দ্বারা তার দূরত্বের দিকে ইশারা করা হয়েছে এই বিবেচনায় যে, এর অর্থ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য নয়, ফলে তা যেন দূরবর্তী। আদ-দামামিনির ‘শরহুত তাসহিল’ গ্রন্থে যা বর্ণিত হয়েছে তার পাঠ নিম্নরূপ: ‘ওলামাগণের কথা —সেখান থেকে এমনটি হয়েছে— এর ক্ষেত্রে লক্ষ্য করুন যে, এর অর্থ কি ‘সেখানে’ যা দূরত্বের জন্য ব্যবহৃত হয়, নাকি ‘এখানে’ যা নৈকট্যের জন্য ব্যবহৃত হয়? আপাতদৃষ্টিতে দ্বিতীয়টিই সঠিক’। সমাপ্ত।
অতঃপর এই রূপক (مجاز) ব্যবহারের সম্পর্ক ও এর আনুষঙ্গিক প্রমাণ (قرينة) নিয়ে চিন্তা করা উচিত। এক্ষেত্রে ‘সাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্ক’ (العلاقة المشابهة) স্থাপন করা সম্ভব। কারণ অর্থ হলো কেবল চিন্তার স্থান, যা বারবার পর্যালোচনার মাধ্যমে অর্জিত হয়, যেমনিভাবে স্থান হলো দেহের অবস্থানস্থল যেখানে বারবার আসা-যাওয়া করা হয়। অথবা এটি শব্দের দিকে ইশারা, কেননা শব্দ হলো অর্থের আধার, যেমন স্থান হলো ঘনবস্তুর আধার। আর এর প্রমাণ (قرينة) হলো অর্থ বা শব্দ প্রকৃত স্থান হওয়া অসম্ভব। ইবনুল হাজিবের উক্তি—‘এবং সেখান থেকে রহমান শব্দের ক্ষেত্রে মতভেদ তৈরি হয়েছে’—এর ব্যাখ্যায় কেউ কেউ বলেছেন, ‘সেখান থেকে’ দ্বারা কাল্পনিক বা বিবেচ্য স্থানের (المكان الاعتباري) দিকে ইশারা করা হয়েছে। যেন তিনি আলিফ ও নুন যুক্ত শব্দের প্রভাবের শর্তের ক্ষেত্রে উল্লিখিত মতভেদকে (অর্থাৎ তা ‘ফালানা’ না হওয়া অথবা ‘ফা’লা’ বিদ্যমান থাকা) স্থানের সাথে তুলনা করেছেন এই দিক থেকে যে, এদের প্রতিটিই কোনো কিছুর উৎপত্তিস্থল। কেননা স্থান হলো উদ্ভিদের উৎপত্তিস্থল, আর উল্লিখিত মতভেদটি অন্য একটি মতভেদের উৎপত্তিস্থল, যা হলো ‘রহমান’ শব্দটির মুনসারিফ হওয়া সংক্রান্ত মতভেদ। সুতরাং তিনি উল্লিখিত মতভেদকে কাল্পনিকভাবে স্থানের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর কাল্পনিক স্থানকে প্রকৃত স্থানের সাথে তুলনা করেছেন যেহেতু উভয়ই স্থান হওয়ার গুনে অংশীদার, ফলে তিনি স্থানের জন্য নির্ধারিত শব্দটি উল্লেখ করেছেন। সমাপ্ত।
(তার মধ্যে আরও রয়েছে) তাদের কথা ‘أيضا’ (আরও/পুনরায়)। এটি ‘آض يئيض’ এর মাসদার (مصدر)। এর মূল রূপ ছিল ‘ايض’, যা ‘باع’ এর ওজনে। ইয়াই বর্ণটি হরকতযুক্ত হওয়ায় এবং পূর্বের বর্ণটি জবরযুক্ত হওয়ায় তা আলিফ দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। আর ‘يئيض’ এর মূল ছিল ‘يئِيض’, যা ‘يفعل’ এর ওজনে; এখানে ইয়াই বর্ণের হরকত হামজার দিকে স্থানান্তরিত হয়েছে। এর ইরাব (إعراب) বা ব্যাকরণিক অবস্থানের ক্ষেত্রে ইবনে হিশাম একটি রিসালায় উল্লেখ করেছেন যেখানে তিনি এ বিষয়টি আলোচনা করেছেন যে, একদল আলেম ধারণা করেছেন এটি ‘قال’ ক্রিয়ার সর্বনাম থেকে হাল (حال) হিসেবে নসব (منصوب) হয়েছে। এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো ‘তিনি আরও বললেন’, অর্থাৎ পুনরায় বলার দিকে ফিরে আসলেন। এটি কেবল তখনই সুন্দর হয় যখন বক্তার পূর্ববর্তী বক্তব্যের পর এই বক্তব্যটি আসে। কিন্তু এটি শর্ত নয়; বরং আপনি বলতে পারেন ‘আজ আমি এমন বলেছি এবং গতকালও এটি বলেছি (أيضا)’, অথবা ‘আজ লিখেছি এবং গতকালও লিখেছি (أيضا)’। তিনি (ইবনে হিশাম) বলেন, আমার কাছে যা স্পষ্ট হয় তা হলো, এটি একটি মাফউল মুতলাক (مفعول مطلق) যার আমিল বা ক্রিয়াটি উহ্য রয়েছে, অথবা এটি একটি হাল (حال) যার আমিল ও সাহেবুল হাল উহ্য। অর্থাৎ ‘আমি সংবাদের দিকে পুনরায় ফিরে আসছি’ অথবা ‘আমি ফিরে আসা অবস্থায় সংবাদ দিচ্ছি’—এটাই হলো সারকথা।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩২)
الذي يستمر في جميع المواضع ومما يونسك بان العامل محذوف انك تقول عنده مال وايضا علم فلا يكون قبلها ما يصلح للعمل فيها فلابد حينئذ من التقدير واعلم انها انما تستعمل في شيئين بينهما توافق ويغنى كل منهما عن الآخر فلا يجوز جاء زيد أيضا ولا جاء زيد ومضى عمرو أيضا ولا اختصم زيد وعمرو أيضا انتهى ملخصا (ومنها) قولهم اللهم إلا ان يكون كذا و نحوه اقول أصله يا الله حذف حرف الندا وعوض عنه الميم للتعظيم والتفخيم ولا تدخل عليها يا فلا يقال يا اللهم إلا شذوذا في الشعر كما قال ابن مالك
والاكثر للهم بالتعويض
… وشذيا اللهم في قريض
ثم الشائع استعمالها في الدعاء ولذا قال بعض السلف اللهم مجمع الدعاء وقال بعضهم الميم في قول اللهم فيه تسعة وتسعون اسما من أسماء الله تعالى واوضحه بعضهم بان الميم تكون علامة المجمع لانك تقول عليه للواحد وعليهم للمجمع فصارت الميم في هذا الموضع بمنزلة الواو الدالة على الجمع في قولك ضربوا وقاموا فلما كانت كذلك زيدت في اخر اسم الله تعالى لتشعر وتؤذن بان هذا الاسم قد اجتمعت فيه أسماء الله تعالى كلها فإذا قال الداعى اللهم فكأنه قال يا الله الذي له الأسماء الحسنى قال ولاستغراقه أيضا لجميع أسماء الله تعالى الحسنى وصفاته لا يجوز ان يوصف لأنها قد اجتمعت فيه وهو حجة لما قال سيبويه في منعه وصفه انتهى ثم انهم قد يأتون بها قبل الاستثناء إذا كان الاستثناء نادرا غريبا كأنهم لندوره استظهروا بالله في اثبات وجوده قال بعض الفضلا وهو كثير في كلام الفصحاء كما قال المطرزى نبه على ذلك الطبي في سورة المدثر وفى الكشف بعد كلام واما نحو قولهم اللهم إلا ان يكون كذا فالغرض ان المستثنى مستعان بالله تعالى في تحقيقه تنبيها على ندرته وانه لم يأت بالاستثناء الا بعد التفويض لله تعالى انتهى وذكر العلامة المحقق صدر الشريعة في اوائل كتابه التوضيح شرح التنقيح ان الاستثناء المذكور مفرغ من اعم الظروف لان المصادر قد تقع ظروفا نحو آتيك طلوع الفجر أي وقت طلوعه واوضح ذلك العلامة بدر الدين الدمامينى في شرحه على المغنى عند الكلام على عسى عند قول المغنى ولكن يكون الاضمار في يقوم في عسى اللهم إلا ان تقدر العاملين تنازعا زيدا فقال الاستثناء في كلام المصنف مفرغ من الظرف والتقدير ولكن يكون الاضمار في يقوم لا في عسى كل وقت إلا وقت ان تقدر العاملين تنازعا ووقع التفريغ في الإيجاب لاستقامة المعنى نحو قرأت إلا يوم كذا ثم حذف الظرف بعد الاوانيب المصدر عنه كما في اجيئك يوم قدوم الحاج واللهم معترض وانظر موقعها
যা সকল ক্ষেত্রে অব্যাহত থাকে এবং আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হবে যে আমেল (ক্রিয়া বা প্রভাবক) এখানে বিলুপ্ত (محذوف), যখন আপনি বলেন—‘তার নিকট সম্পদ আছে এবং জ্ঞানও (أيضا) আছে’। কারণ এর আগে এমন কিছু নেই যা এখানে আমল করার যোগ্যতা রাখে, তাই তখন উহ্য মানা (التقدير) আবশ্যক। জেনে রাখুন, এটি কেবল এমন দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যাদের মধ্যে পারস্পরিক সামঞ্জস্য রয়েছে এবং যাদের প্রতিটি অন্যটির অভাব পূরণ করে। সুতরাং ‘জায়েদ এসেছে এবং (أيضا)’, অথবা ‘জায়েদ এসেছে এবং আমর চলে গেছে এবং (أيضا)’, কিংবা ‘জায়েদ ও আমর বিবাদ করেছে এবং (أيضا)’ বলা বৈধ নয়। সংক্ষেপে সমাপ্ত।
(তন্মধ্যে একটি হলো) তাদের উক্তি: ‘হে আল্লাহ, তবে যদি এমন হয় (اللهم إلا أن يكون كذا)’ এবং এই জাতীয় শব্দাবলী। আমি বলি, এর মূল রূপ হলো ‘ইয়া আল্লাহ’। এখানে আহ্বানের অব্যয়টি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে সম্মান ও মহিমা প্রকাশের জন্য ‘মিম’ যুক্ত করা হয়েছে। এর শুরুতে ‘ইয়া’ প্রবেশ করে না, তাই ‘ইয়া আল্লাহুম্মা’ বলা হয় না; কেবল কবিতায় বিরল ব্যতিক্রম (شذوذا) হিসেবে এটি হতে পারে, যেমন ইবনে মালিক বলেছেন:
অধিকাংশ ক্ষেত্রে ‘আল্লাহুম্মা’ শব্দে প্রতিস্থাপন (التعويض) হয়ে থাকে... আর কবিতায় ‘ইয়া আল্লাহুম্মা’ বলা বিরল (شذ)।
অতঃপর এর সাধারণ ব্যবহার হলো দোয়ার ক্ষেত্রে, এই কারণেই জনৈক সালাফ (পূর্বসূরি) বলেছেন: ‘আল্লাহুম্মা’ হলো দোয়ার সমষ্টি। কেউ কেউ বলেছেন, ‘আল্লাহুম্মা’ শব্দের মিম-এর মধ্যে মহান আল্লাহর নিরানব্বইটি নাম নিহিত রয়েছে। জনৈক পণ্ডিত এটি স্পষ্ট করেছেন যে, মিম এখানে সমষ্টির চিহ্ন; যেমন আপনি একজনের ক্ষেত্রে বলেন ‘আলাইহি’ এবং সমষ্টির ক্ষেত্রে বলেন ‘আলাইহিম’। সুতরাং এই স্থানে মিম-টি ‘দরবু’ বা ‘কামু’ শব্দের বহুবচন জ্ঞাপক ‘ওয়াও’-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি এমন, তাই একে আল্লাহর নামের শেষে যুক্ত করা হয়েছে যাতে এটি জানান দেয় যে, এই নামের মধ্যে আল্লাহর সমস্ত নাম একত্রিত হয়েছে। সুতরাং যখন কোনো দোয়াকারী ‘আল্লাহুম্মা’ বলে, সে যেন বলল: ‘হে আল্লাহ, যাঁর জন্য সকল সুন্দর নাম রয়েছে’। তিনি আরও বলেন: আল্লাহর সকল সুন্দর নাম ও গুণাবলী এতে শামিল হওয়ার কারণে এর বিশেষণ বর্ণনা করা জায়েজ নেই, কারণ সবকিছুই এতে পুঞ্জীভূত। সিবওয়াইহ যে এর বিশেষণ বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন, এটি তার সপক্ষে একটি দলিল। সমাপ্ত।
অতঃপর যখন কোনো ব্যতিক্রম বা ইস্তিসনা (الاستثناء) বিরল (نادرا) ও অদ্ভুত হয়, তখন তারা এর আগে এই শব্দটি নিয়ে আসে। যেন তারা এর বিরলতার কারণে এর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করছে। জনৈক গুণী ব্যক্তি বলেছেন: এটি বাগ্মীদের কথায় অনেক বেশি পাওয়া যায়, যেমন মুতাররিজি বলেছেন। তিবী সূরা মুদ্দাসসিরে এর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। আল-কাশশাফ গ্রন্থে আলোচনার পর বলা হয়েছে: আর তাদের কথা ‘হে আল্লাহ, তবে যদি এমন হয়’, এর উদ্দেশ্য হলো—যা ব্যতিক্রম করা হচ্ছে তার সত্যতা প্রমাণের ক্ষেত্রে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া, যাতে এর বিরলতা প্রকাশ পায় এবং আল্লাহর নিকট সমর্পণ (التفويض) করার পরেই যেন এই ব্যতিক্রমটি আনা হয়েছে। সমাপ্ত।
মুহাক্কিক আল্লামা সদরুশ শরীয়াহ তাঁর তাওদিহ শারহুত তানকিহ গ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, উক্ত ইস্তিসনা (الاستثناء) বা ব্যতিক্রমটি ব্যাপক সময়বাচক শব্দ থেকে মুফাররাগ (مفرغ) হয়েছে। কারণ মাসদারসমূহ অনেক সময় সময়বাচক শব্দ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যেমন: ‘আমি তোমার কাছে ফজর উদয়ের সময় আসব’, অর্থাৎ উদয় হওয়ার সময়। আল্লামা বদরুদ্দিন দামামিনি মুগনি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে ‘আসা’ সংক্রান্ত আলোচনার সময় এটি স্পষ্ট করেছেন। মুগনি-র লেখকের কথা—‘কিন্তু গোপন সর্বনাম ইয়াকুমু-র মধ্যে থাকবে, আসা-র মধ্যে নয়, আল্লাহুম্মা ইল্লা (হে আল্লাহ, তবে যদি) আপনি উভয় আমেলকে জায়েদ শব্দটির ব্যাপারে তানাজু (تنازع) হয়েছে বলে ধরেন’—এর প্রেক্ষিতে তিনি বলেন: লেখকের বক্তব্যে ইস্তিসনা (الاستثناء) শব্দটি সময়বাচক শব্দ থেকে মুফাররাগ (مفرغ) হয়েছে। এর উহ্য রূপ (التقدير) হলো: ‘কিন্তু গোপন সর্বনাম ইয়াকুমু-র মধ্যে থাকবে, আসা-র মধ্যে নয়—সব সময়, কেবল সেই সময় ব্যতীত যখন আপনি উভয় আমেলকে তানাজু (تنازع) হয়েছে বলে ধরেন।’ অর্থের সঠিকতার জন্য এখানে হোবোধক বাক্যে তাফরিগ (التفريغ) ঘটেছে, যেমন: ‘আমি পড়েছি অমুক দিন ব্যতীত’। এরপর ‘ইল্লা’র পরের সময়বাচক শব্দটি বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং তার পরিবর্তে মাসদার নিয়ে আসা হয়েছে, যেমন: ‘আমি হাজিদের আগমনের দিনে তোমার কাছে আসব’। আর ‘আল্লাহুম্মা’ শব্দটি এখানে বাক্যমধ্যস্থ বিযুক্ত অংশ (معترض) হিসেবে এসেছে। এর অবস্থানটি লক্ষ্য করুন।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩৩)
هنا فقد وقع في النهاية انها تستعمل على ثلاثة انحاء احدها ان يراد بها النداء المحض كقولك اللهم ارحمنا الثاني ان يذكره المجيب تمكينا الجواب في نفس السامع يقول لك القائل اقام زيد فتقول انت اللهم لا والثالث ان يستعمل دليلا على الندرة وقلة وقوع المذكور كقولك انا لا ازورك اللهم إذا لم تدعنى الا ترى ان وقوع الزيادة مقرونة بعدم الدعاء قليل انتهى وظاهره ان المعنى الأول والثانى لا يأتيان هنا وفي تأتى الثالث في هذا المحل نظر انتهى كلام الدماميني لعل وجه النظر ان قول ابن الأثير في النهاية الا ترى الخ يفيد انه لا بد ان يكون ما بعدها نادرا في نفسه وقد يقال لا يلزم ذلك بقرينة قوله يستعمل دليلا على الندرة الخ فأفاد انها تدل على ان ما بعدها نادر بالنظر لى ما قبلها وإن كان في نفسه غير نادر فليتأمل (ثم اعلم) ان قوله ووقع التفريغ في الإيجاب فيه نظر لان قول المغنى وكون الاضمار في يكون لا في عسى الخ معناه لا يكون الاضمار في عسى في وقت من الاوقات إلا في كذا فالوقت المقدر نكرة في سياق النفي فالاستثناء بعدها استثناء من المنفى كما في قولك لا يأتينا زيد إلا يوم كذا نعم قد يعبرون بنحو قولك هذا ضعيف إلا إذا حمل على كذا فهو استثناء مفرغ في الاثبات صورة ولكنه في المعنى نفى لان معنى ضعيف انه لا يعتمد عليه مثلا وقال في المغنى آخر الكتاب في اول الباب الثامن ما نصه السادسة وقوع الاستثناء المفرغ في الإيجاب نحو (وإن كانت لكبيرة إلا على الخاشعين ويأبى الله إلا ان يتم نوره) لما كان المعنى وانها لا تسهل إلا على الخاشعين ولا يريد الله إلا ان يتم نوره انتهى (ومنها) قولهم لابد من كذا أي لا مفارقة وقد يفسر بوجب وذلك لأن أصله في الاثبات بدا لامر فرق وتبدد تفرق وجاءت الخيل بدادا أي متفرقة فإذا نفى التفرق والمفارقة بين شيئين حصل تلازم بينهما دائما فصار أحدهما واجبا للآخرون ومن ثم فسروه بوجب وبد اسم مبنى على الفتح مع لا النافية لانه اسمها والخبر محذوف أي لنا أو نحوه وقد يصرح به وذكر الفنرى في حواشي المطول ان الجار والمجرور متعلق المننى اعنى بد على قول البغداديين حيث اجازوا لاطالع جبلا بترك تنوين الاسم المطول اجراء له مجرى المضاف والبصريون أوجبوا في مثله تنوين الاسم وجعلوا متعلق الظرف فيما بنى الاسم فيه على الفتح كما فيما نحن فيه محذوفا هو خبر المبتدأ أي لا بد ثابت لها وقوله من كذا خبر مبتدأ محذوف أي اليد المنفى من كذا وهذه الجملة الاسمية التبنية لا محل لها من الأعراب لأنها جملة مستأنفة لفظا ويجوز ان يكون من كذا متعلقا بما دل عليها لابداى لايد من كذا وقد أشار الشريف في أواخر بيان المفتاح إلى ان الظرف في مثله خبر للاحيث قال في قوله لا تلقى لاشارته ان لاشارته ليس معمولا للتلقى
এখানে 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি (আল্লাহুম্মা) তিনটি পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়। প্রথমত, একে নিছক সম্বোধন হিসেবে ব্যবহার করা হয়; যেমন আপনার উক্তি—"হে আল্লাহ, আমাদের ওপর দয়া করুন।" দ্বিতীয়ত, উত্তরদাতা শ্রোতার অন্তরে উত্তরটিকে সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এটি উল্লেখ করেন; যেমন কোনো ব্যক্তি আপনাকে বলল, "জায়েদ কি দাঁড়িয়েছে?" তখন আপনি উত্তরে বললেন, "হে আল্লাহ, না।" তৃতীয়ত, এটি কোনো বিষয়ের বিরলতা এবং ঘটার স্বল্পতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়; যেমন আপনার উক্তি, "আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব না, হে আল্লাহ যদি তুমি আমাকে আমন্ত্রণ না জানাও।" আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, আমন্ত্রণহীন অবস্থায় সাক্ষাতের বিষয়টি বিরল? (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এর বাহ্যিক দিকটি নির্দেশ করে যে, প্রথম ও দ্বিতীয় অর্থটি এখানে প্রযোজ্য নয় এবং এই স্থানে তৃতীয় অর্থটি আসার বিষয়েও সংশয় রয়েছে। আল-দামামিনি-র বক্তব্য এখানেই শেষ। সম্ভবত সংশয়ের কারণ হলো 'আন-নিহায়া' গ্রন্থে ইবনুল আসিরের উক্তি—"আপনি কি লক্ষ্য করছেন না..." ইত্যাদি—এটি নির্দেশ করে যে, এর পরবর্তী বিষয়টি অবশ্যই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিরল হতে হবে। তবে বলা যেতে পারে যে, তা আবশ্যক নয়; কারণ তাঁর উক্তি—"বিরলতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়"—এটি নির্দেশ করে যে, পরবর্তী বিষয়টি তার পূর্ববর্তী বিষয়ের তুলনায় বিরল, যদিও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিরল না হয়। সুতরাং বিষয়টি গবেষণার দাবি রাখে।
(অতঃপর জেনে রাখুন) তাঁর উক্তি—"ইতিবাচক বাক্যে ব্যাপক অর্থবোধক ব্যতিরেক (ইস্তিসনায়ে মুফাররাগ) সংঘটিত হওয়া"—এর মধ্যে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। কারণ 'আল-মুগনি'র বক্তব্য—"সর্বনামের অবস্থান 'ইয়াকুনু' ক্রিয়ায় হওয়া, 'আসা' ক্রিয়ায় নয়..." ইত্যাদি—এর অর্থ হলো কোনো এক সময়েও 'আসা' ক্রিয়ায় সর্বনামটি থাকবে না, কেবল অমুক ক্ষেত্র ব্যতীত। সুতরাং উহ্য সময়টি নেতিবাচক প্রেক্ষাপটে একটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (নাকিরাহ), ফলে এর পরবর্তী ব্যতিরেকটি মূলত নেতিবাচক থেকে কৃত ব্যতিরেক। যেমন আপনার উক্তি, "জায়েদ অমুক দিন ব্যতীত আমাদের নিকট আসে না।" হ্যাঁ, কখনো কখনো তাঁরা এভাবেও ব্যক্ত করেন—"এটি দুর্বল (ضعيف), যদি না একে অমুক অর্থে গ্রহণ করা হয়।" এটি বাহ্যিকভাবে ইতিবাচক বাক্যে ব্যাপক অর্থবোধক ব্যতিরেক (ইস্তিসনায়ে মুফাররাগ) হলেও প্রকৃতপক্ষে এর অর্থ নেতিবাচক। কারণ দুর্বল (ضعيف) এর অর্থ হলো—উদাহরণস্বরূপ—এর ওপর নির্ভর করা যায় না। 'আল-মুগনি' গ্রন্থের শেষে অষ্টম অধ্যায়ের শুরুতে বর্ণিত হয়েছে: ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ—ইতিবাচক বাক্যে ব্যাপক অর্থবোধক ব্যতিরেকের (ইস্তিসনায়ে মুফাররাগ) দৃষ্টান্ত, যেমন—"আর এটি অবশ্যই কঠিন, বিনয়ীগণ ব্যতীত" এবং "আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ব্যতীত অন্য কিছু হতে অস্বীকার করেন।" কারণ এর অর্থ হলো—"এটি বিনয়ীগণ ব্যতীত অন্য কারো জন্য সহজ নয়" এবং "আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণ করা ব্যতীত অন্য কিছু চান না।" (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
(অন্যতম একটি বিষয় হলো) তাদের উক্তি "লা বুদ্দা" (অবশ্যই), যার অর্থ হলো বিচ্ছিন্নতা নেই। অনেক সময় এর ব্যাখ্যা 'অপরিহার্য হওয়া' (ওয়াজাবা) দ্বারা করা হয়। কারণ ইতিবাচক অর্থে এর মূল হলো 'বাদা', যার দ্বারা কোনো বিষয় পৃথক হওয়া বোঝায় এবং 'তাবাদ্দাদা' অর্থ ছড়িয়ে পড়া। যেমন বলা হয়, "ঘোড়াগুলো বিচ্ছিন্নভাবে (বাদাদান) এসেছে।" সুতরাং যখন দুটি বিষয়ের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা ও বিচ্ছেদকে অস্বীকার করা হয়, তখন তাদের মধ্যে সর্বদা একটির সাথে অন্যটির অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক (তালাজুম) প্রতিষ্ঠিত হয় এবং একটি অপরটির জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এ কারণেই তাঁরা এর ব্যাখ্যা 'অপরিহার্য হওয়া' দিয়ে করেছেন। এখানে 'বুদ্দা' শব্দটি 'লা নাফিয়া লিল জিনস' এর পরে আসার কারণে 'ফাতহা'র ওপর মাবনি হয়েছে, কারণ এটি তার 'ইসম' বা বিশেষ্য। এর 'খবর' বা বিধেয়টি উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ "আমাদের জন্য" বা অনুরূপ কিছু। কখনো এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। আল-ফানারী 'মুতাউওয়াল'-এর টিকায় উল্লেখ করেছেন যে, এই জার-মাজরুরটি 'বুদ্দা' এর সাথে সংশ্লিষ্ট। এটি বাগদাদীদের মতানুসারে, যাঁরা 'লা ত্বালিআন জাবালান' বাক্যে দীর্ঘ বিশেষ্যের তানউইন বর্জন করে তাকে 'মুদাফ'-এর ন্যায় গণ্য করা বৈধ মনে করেন। পক্ষান্তরে বসরীগণ এই জাতীয় ক্ষেত্রে তানউইন প্রদান আবশ্যক মনে করেন এবং যে ক্ষেত্রে বিশেষ্যটি 'ফাতহা'র ওপর মাবনি হয়, সেখানে জার-মাজরুরটিকে একটি উহ্য খবরের সাথে সংশ্লিষ্ট করেন; যেমন আমাদের আলোচ্য বিষয়ে—"তার জন্য কোনো বিচ্ছিন্নতা সাব্যস্ত নেই।" আর তার উক্তি "অমুক বিষয় থেকে" এটি একটি উহ্য মুবতাদা বা উদ্দেশ্যের খবর; অর্থাৎ "বিচ্ছিন্নতাটি অমুক বিষয় থেকে।" এই নামবাচক বাক্যটির ব্যাকরণগত কোনো অবস্থান নেই কারণ এটি প্রারম্ভিক বাক্য। আবার এটিও হতে পারে যে, "অমুক বিষয় থেকে" অংশটি 'বুদ্দা' শব্দের মূল অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট। আল-শরীফ জুরজানি 'মিফতাহ'-এর ব্যাখ্যার শেষ দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, এই জাতীয় ক্ষেত্রে যার-মাজরুরটি 'লা' এর খবর হিসেবে গণ্য হয়। তিনি "লা তালকা" উক্তিটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, এখানে 'ইশারা'র সাথে সংশ্লিষ্ট পদটি "তালকা" ক্রিয়ার কর্ম নয়।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩৪)
وإلا لوجب كصبه على التشبيه بالمضاف بل هو خبر لا فتأمل وقس على ما ذكر نظائر هذا التركيب انتهى (أقول) هذا ظاهر فيما إذا قيل لا بد من كذا اما إذا قيل لابد لكذا من كذا فالخبر هو الظرف الأول إلا أن يقال من تعدد الأخبار تأمل ثم قوله ويجوز أن يكون متعلقا بما دل عليه لا بد أي لا بد من كذا فيه نظر إذ لا فرق بين هذا المقدر والمذكور فلا حاجة إلى تقدير هذا ووقع في بعض العبارات لابد وأن يكون واستعمله السعد في كتبه أيضًا وقال الفنرى أن الواو مريدة في الخبر وقال بعض المحشين هذه الواو للصوق أي لزيادة لصوق لا بالخبر انتهى وفيه بحث فإن الكون المنسبك من أن والفعل لا يصلح أن يكون خبرا هنا فإن قبل حذف الجار بعد أن وإن مطرد قلنا إذا قدر الجار يكون لغوا متعلقا بقوله بد والخبر محذوف كما مر على أن صاحب المغني لا يثبت واو اللصوق كما ذكره بعض الفضلاء ورجح أن الواو هنا زائدة وهى التي دخولها في الكلام كخروجها ورأيت في بعض الهوامش أنه روى عن أبي سعيد السيرافي في كتاب سيبويه أنه قال تجيء الواو بمعنى من فإن ثبت ذلك يكون جل الواو هنا عليه أولى من دعوى زيادتها فليراجع (ومنها) قولهم هو كذا لغة أو اصطلاحا قال ابن الحاجب أنه منصوب على المفعولية المطلقة وأنه من المصدر المؤكد لغيره صرح به في أماليه وفيه نظر من وجهين الأول أن اللغة ليست اسما للحدث والثانى أنها لو كانت مصدرا مؤكدا لغيره لكانت إنما كانت تأتى بعد الجملة فإنه لا يجوز أن يتقدم ولا يتوسط فلا يقال حقا زيد ابنى ولا زيد حقا ابنى وإن كان الزجاج يجيز ذلك (فإن قلت) هل يجوز أن يكون مفعولا لأجله أو منصوبا على نزع الخافض أو تمييزا (قلت) لا يجوز الأول لأن المنصوص على التعليل لا يكون إلا مصدرا ولا الثاني لوجهين الأول أن إسقاط الخافض سماعى واستعمال مثل هذا التركيب مستمر شائع في كلام العلماء الثاني أنهم التزموا في مثل هذه الألفاظ التنكير ولو كانت على إسقاط الخافض لبقيت على تعريفها الذي كان مع وجود الخافض كما بقى التعريف في قوله (تمرون الديار ولم تعوجوا) وأصله تمرون على الديار وبالديار ولا الثالث لأن التمييز أما تفسير للمفرد كرطل زيتا أو تفسير للنسبة كطاب زيد نفسا وهذا ليس شيئا منهما أما أنه ليس تفسيرا لمفرد فلأنه لم يتقدم منهم وضعا فيميز وإما أنه ليس تفسيرا للنسبة فلأنه لم يتقدم نسبة (فإن قلت) يمكن أنه من تمييز النسبة بأن يقدر مضاف أي تفسيرها لغة فيكون من باب أعجبني طيبه أبا (قلت) تمييز النسبة الواقعة بين المتضايفين لا تكون إلا فاعلا في المعنى ثم قد تكون مع ذلك فاعلا في الصناعة باعتبار الأصل فيكون محولا عن المضاف
অন্যথায় একে 'মুদাফ' (সংযুক্ত)-এর সাথে সাদৃশ্যতার ভিত্তিতে 'নসব' (জবর) প্রদান করা আবশ্যক হতো; বরং এটি 'লা' (لا)-এর খবর (خبر)। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন এবং উল্লিখিত বিষয়ের ওপর এই কাঠামোর সদৃশ বিষয়গুলোকে কিয়াস (অনুমান) করুন। ইতি। (আমি বলছি) এটি তখন স্পষ্ট হয় যখন বলা হয় 'লা বুদ্দা মিন কাযা' (এর কোনো বিকল্প নেই)। কিন্তু যখন বলা হয় 'লা বুদ্দা লি-কাযা মিন কাযা', তখন খবর (خبر) হলো প্রথম 'জরফ' (অধিকরণ); যদি না খবরের আধিক্য বা একাধিক হওয়ার কথা বলা হয়। চিন্তা করুন। অতঃপর তাঁর বক্তব্য—"এবং এটি 'লা বুদ্দা' শব্দ দ্বারা নির্দেশিত বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট হওয়া বৈধ অর্থাৎ 'এর কোনো বিকল্প নেই'"—এতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। কেননা, এই উহ্য (তাকদির) এবং উল্লিখিত বিষয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; ফলে এখানে নতুন করে কোনো কিছু উহ্য ধরার প্রয়োজন নেই। কোনো কোনো বক্তব্যে 'লা বুদ্দা ওয়া আন ইয়াকুনা' (لابد وأن يكون) প্রয়োগ দেখা যায় এবং আল্লামা সাদ তাঁর গ্রন্থগুলোতেও এটি ব্যবহার করেছেন। আল-ফানারি বলেছেন যে, খবরের মধ্যে 'ওয়াও'টি (و) অতিরিক্ত। আবার জনৈক ব্যাখ্যাকারী বলেছেন, এই 'ওয়াও'টি 'লুসুক'-এর জন্য; অর্থাৎ খবরের সাথে 'লা' (لا)-এর গভীর সংশ্লিষ্টতা বুঝানোর জন্য। ইতি। এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে; কেননা 'আন' (أن) এবং ক্রিয়া দ্বারা গঠিত 'মাসদারে মুয়াউওয়াল' এখানে খবর (خبر) হওয়ার উপযোগ্য নয়। যদি বলা হয় যে, 'আন' এবং 'আন্না'-এর পর 'হরফে জার' বিলুপ্ত হওয়া একটি নিয়মিত নিয়ম, তবে আমরা বলব: যখন হরফে জার উহ্য ধরা হবে, তখন সেটি 'বুদ্দা' (بد) শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট 'লগব' (অপ্রয়োজনীয়) হিসেবে গণ্য হবে এবং খবরটি বিলুপ্ত থাকবে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া 'আল-মুগনি' গ্রন্থের লেখক 'ওয়াও-ই লুসুক' (সংযুক্তকারী ওয়াও) সাব্যস্ত করেন না, যা কোনো কোনো বিদ্বান উল্লেখ করেছেন। তিনি অগ্রাধিকার দিয়েছেন যে, এখানে 'ওয়াও'টি অতিরিক্ত (زائدة), যার বাক্যে উপস্থিতি এবং অনুপস্থিতি সমান। আমি কোনো কোনো টীকায় দেখেছি যে, কিতাব সিবওয়াইহ-এর ব্যাখ্যায় আবু সাঈদ আল-সিরাফি থেকে বর্ণিত হয়েছে (روي) যে, 'ওয়াও' (و) কখনো 'মিন' (من)-এর অর্থে আসে। যদি এটি প্রমাণিত হয়, তবে এখানে 'ওয়াও'-এর প্রয়োগকে সেই অর্থের ওপর ন্যস্ত করা একে অতিরিক্ত দাবি করার চেয়ে অধিক উত্তম। বিষয়টি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। (অন্যান্য প্রসঙ্গের মধ্যে) আলেমদের একটি পরিভাষা হলো: "এটি আভিধানিকভাবে (لغة) বা পারিভাষিক বিচারে (اصطلاحا) এরূপ।" ইবনুল হাজিব বলেছেন, এটি 'মাফউলে মুতলাক' (مفعول مطلق) হিসেবে 'নসব' প্রাপ্ত এবং এটি অন্যের তাকিদদানকারী মাসদারের অন্তর্ভুক্ত। তিনি তাঁর 'আমালি' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এতে দুটি কারণে আপত্তির অবকাশ রয়েছে: প্রথমত, 'লুগাত' (ভাষা) কোনো 'ইসমুল হাদাস' (ক্রিয়াগত বিশেষ্য) নয়। দ্বিতীয়ত, এটি যদি অন্যের তাকিদদানকারী মাসদার হতো, তবে তা বাক্যের পরেই আসত; কারণ একে বাক্যের শুরুতে বা মাঝে আনা বৈধ নয়। সুতরাং 'হাক্কান যাইদুন ইবনি' বা 'যাইদুন হাক্কান ইবনি' বলা যায় না, যদিও ইমাম যাজ্জাজ এটি বৈধ বলে মনে করেন। (যদি আপনি প্রশ্ন করেন) এটি কি মাফউল লাহু (مفعول لأجله) হওয়া সম্ভব, নাকি 'হরফে জার' বিলুপ্তির কারণে (نزع الخافض) 'নসব' প্রাপ্ত হওয়া, নাকি এটি তাময়ীজ (تمييز)? (উত্তরে আমি বলব) প্রথমটি জায়েজ নয়, কারণ কারণবোধক (তালীলা) হিসেবে যা বর্ণিত হয় তা কেবল মাসদারই হয়ে থাকে। দ্বিতীয়টি জায়েজ না হওয়ার দুটি কারণ: প্রথমত, 'হরফে জার' বিলুপ্ত করা 'সামাঈ' (প্রথাগত ব্যবহারনির্ভর) বিষয়, অথচ আলেমদের বক্তব্যে এই কাঠামোর ব্যবহার নিরবচ্ছিন্ন ও ব্যাপক। দ্বিতীয়ত, তাঁরা এই শব্দগুলোতে 'নাকিরা' (অনির্দিষ্টতা) বজায় রাখা আবশ্যক করেছেন। যদি এটি 'হরফে জার' বিলুপ্তির কারণে হতো, তবে হরফে জার থাকা অবস্থায় শব্দগুলো যেমন 'মারেফা' (নির্দিষ্ট) ছিল, বিলুপ্ত হওয়ার পরও তা তেমনই থাকত; যেমনটি এই কাব্যাংশে 'মারেফা' অবশিষ্ট রয়েছে: (তোমরা জনপদগুলো অতিক্রম করছ অথচ অবস্থান করছ না), যার মূল রূপ ছিল—'তোমরা জনপদের ওপর দিয়ে বা জনপদ দিয়ে অতিক্রম করছ'। আর এটি তৃতীয়টি অর্থাৎ তাময়ীজ (تمييز) হওয়াও সম্ভব নয়। কেননা, তাময়ীজ (تمييز) হয় 'মুফরাদ' (একক শব্দ)-এর ব্যাখ্যা দেয়, যেমন: 'এক রতল তেল', অথবা 'নিসবত' (সম্পর্ক)-এর ব্যাখ্যা দেয়, যেমন: 'যায়েদ মন থেকে সন্তুষ্ট হলো'। অথচ আলোচ্য বিষয়টি এর কোনোটির অন্তর্ভুক্ত নয়। এটি 'মুফরাদ'-এর ব্যাখ্যা না হওয়ার কারণ হলো, এর আগে এমন কোনো পরিমাপবোধক শব্দ নেই যা এটি স্পষ্ট করবে। আর এটি 'নিসবত'-এর ব্যাখ্যা না হওয়ার কারণ হলো, এর আগে কোনো সম্পর্ক বা নিসবত উল্লিখিত হয়নি। (যদি আপনি প্রশ্ন করেন) এটি 'নিসবত'-এর তাময়ীজ (تمييز) হওয়া সম্ভব এভাবে যে, একটি 'মুদাফ' (সংযুক্ত পদ) উহ্য ধরা হবে, অর্থাৎ—তার আভিধানিক (لغة) ব্যাখ্যা। ফলে এটি 'আমার নিকট তার পিতার সুঘ্রাণ চমৎকার লেগেছে' জাতীয় বাক্যের অন্তর্ভুক্ত হবে। (আমি বলব) দুই 'মুদাফ' ও 'মুদাফ ইলাইহি'-এর মাঝে বিদ্যমান সম্পর্কের তাময়ীজ (تمييز) কেবল অর্থের দিক থেকে 'ফায়েল' (কর্তা) হয়ে থাকে। অতঃপর এটি মূলের বিবেচনায় ব্যাকরণগতভাবেও 'ফায়েল' হতে পারে এবং সেক্ষেত্রে এটি 'মুদাফ' থেকে রূপান্তরিত হিসেবে গণ্য হবে।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩৫)
نحو أعجبنى طيب زيدا با إذا كان المراد الثناء على أبي زيد وقد لا يكون كذلك فيكون صالحا لدخول من تحو لله دره فارسا وويحه رجلا فإن الدر بمعنى الخير وويح بمعنى الهلاك ونسبتهما إلى الرجل كنسبة الفعل إلى فاعله وتعلق التفسير بالكلمة إنما هو تعلق الفعل بالمفعول لا بالفاعل (فإن قلت) ما وجه نصبه (قلت) الظاهر أن يكون حالا على تقدير مضاف من المحدود ومضافين من المنصوب والأصل تفسيرها موضوع أهل اللغة ثم حذف المتضايفان على حد حذفيهما في قوله تعالى (فقبضت قبضة من أثر الرسول) أي أثر حافر فرس الرسول ولما أنيب الثالث عما هو الحال بالحقيقة التزم تنكيره لنيابته عن لازم التنكير ولك أن تقول الأصل موضوع اللغة بتقدير مضاف واحد ونسبة الوضع إلى اللغة مجاز وهذا أحسن الوجوه كذا حرره بعض المحققين وهو خلاصة ما ذكره ابن هشام في رسالته الموضوعة في هذه المسئلة ومن أراد الاطلاع على أزيد من ذلك فعليه بها (ومنها) قولهم هو أكثر من أن يحصى ونحو قولهم زيد أعقل من أن يكذب وهو من مشكل التراكيب فإن ظاهره تفضيل الشيء في الأكثرية على الإحصاء وتفضيل زيد في العقل على الكذب وهذا لا معنى له ونظائره كثيرة مشهورة وقل من يتنبه لإشكالها وقد جله بعضهم على أن أن المصدرية بمعنى الذي ورده في المغني في الجهة الثالثة من الباب الخامس من الكتاب بأنه لا يعرف قائل به ووجهه بتوجيهين نظر في كل منهما الدماميني في شرحه عليه ونقل عن الرضى وجها استحسنه فقال قال الرضى وأما نحو قولهم أنا أكبر من أشعر وأنت أعظم من أن تقول كذا فليس المقصود تفضيل المتكلم على الشعر والمخاطب على القول بل المراد بعدهما عن الشعر والقول وأفعل التفضيل يفيد بعد الفاضل من المفضول وتجاوزه عنه فمن في مثله ليست تفضيلية بل هي مثلها في قولك بنت منه تعلقت بأفعل التفضيل بمعنى متجاوز وباين بلا تفضيل فمعنى أنت أعز على من أن أضربك أي باين من أن أضربك من فرط عزتك على وإنما جاز ذلك لأن من التفضيلية متعلقة بأفعل التفضيل بقريب من هذا المعنى ألا ترى أنك إذا قلت زيد أفضل من عمرو فمعناه متجاوز في الفضل عن مرتبته فمن فيما تحن فيه كالتفضيلية إلا في معنى التفضيل قال ولا مزيد عليه في الحسن (ومنها) قولهم سواء كان كذا أم كذا فسواء اسم بمعنى الاستواء يوصف به كما يوصف بالمصادر ومنه قوله تعالى (إلى كلمة سواء بيننا وبينكم) وهو هنا خبر والفعل بعده أعنى كان كذا الخ في تأويل المصدر مبتدأ كما صرح بمثله الزمخشري في قوله تعالى
যেমন "আ’জাবানি তীবু যাইদিন আবা" (আমি যাইদের পিতার সুগন্ধিতে মুগ্ধ হয়েছি)—যদি এর দ্বারা আবু যাইদ-এর প্রশংসা করা উদ্দেশ্য হয়। আবার কখনো বিষয়টি তেমন হয় না, তখন বাক্যটি "লিল্লাহি দাররুহু ফারিসান" (আল্লাহর জন্যই তার বীরত্ব) এবং "ওয়াইহাহু রাজুলান" (হায় লোকটির প্রতি আক্ষেপ) এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার উপযুক্ত হয়। কেননা "দার" অর্থ হলো কল্যাণ এবং "ওয়াইহ" অর্থ হলো ধ্বংস। এই শব্দদ্বয়কে ব্যক্তির দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা মূলত ক্রিয়াকে তার কর্তার সাথে সম্বন্ধযুক্ত করার মতো। আর ব্যাখ্যার সাথে শব্দের সংশ্লিষ্টতা মূলত কর্মের সাথে ক্রিয়ার সংশ্লিষ্টতা, কর্তার সাথে নয়।
(যদি আপনি বলেন) এটি নসব (accusative case) হওয়ার কারণ কী? (আমি বলব) বাহ্যত এটি হাল (حال) হিসেবে গণ্য হবে; যা সীমাবদ্ধ (মাকদুদ) শব্দ থেকে একটি উহ্য সম্বন্ধপদ (مضاف) এবং নসবযুক্ত শব্দ থেকে দুটি উহ্য সম্বন্ধপদ (مضاف) এর ভিত্তিতে হবে। মূল বাক্যটি ছিল: "তাকসীরুহা মাওদুউ আহলিল লুগাহ"। অতঃপর মহান আল্লাহর বাণী: "ফাকাবাজতু কাবজাতান মিন আসারি রাসুল" (আমি রাসুলের পদাঙ্ক থেকে এক মুষ্টি গ্রহণ করলাম)—অর্থাৎ রাসুলের ঘোড়ার খুরের চিহ্ন—এই আয়াতের ন্যায় দুটি সম্বন্ধপদ (مضاف) বিলুপ্ত করা হয়েছে। যখন তৃতীয়টি প্রকৃত হাল (حال) এর স্থলাভিষিক্ত হলো, তখন তাকে অনির্দিষ্ট (نكرة) রাখা আবশ্যক হয়ে পড়ল; কারণ সে এমন একটি পদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে যা সর্বদা অনির্দিষ্ট (نكرة) থাকে। আপনি চাইলে বলতে পারেন, মূল বাক্যটি হলো "মাওদুউ আল-লুগাহ", যেখানে একটি সম্বন্ধপদ (مضاف) উহ্য রয়েছে এবং ভাষার দিকে সম্বন্ধযুক্ত করাটি রূপক (مجاز)। এটিই সর্বোত্তম ব্যাখ্যা, যা কতিপয় গবেষক (মুহাক্কিক) সুনিপুণভাবে ব্যক্ত করেছেন। ইবনে হিশাম এই বিষয় (مسألة) নিয়ে রচিত তার পুস্তিকা (رسالة)-তে যা উল্লেখ করেছেন এটি তারই নির্যাস। যে ব্যক্তি এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে চায়, সে যেন উক্ত পুস্তিকাটি অধ্যয়ন করে।
(অন্যতম উদাহরণ) হলো তাদের বক্তব্য: "হুয়া আকসারু মিন আন ইয়ুহসা" (এটি গণনার অতীত) এবং "যাইদুন আ’কালু মিন আন ইয়াকযিবা" (যাইদ মিথ্যা বলার চেয়েও অধিক বুদ্ধিমান)। এটি জটিল বাক্য কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত। কারণ বাহ্যিকভাবে এটি গণনার ওপর আধিক্যের শ্রেষ্ঠত্ব এবং মিথ্যার ওপর যাইদের বুদ্ধির শ্রেষ্ঠত্ব নির্দেশ করে, যার কোনো সঙ্গত অর্থ হয় না। এ জাতীয় উদাহরণ অনেক এবং প্রসিদ্ধ। খুব কম লোকই এর জটিলতা সম্পর্কে সচেতন হন। কেউ কেউ "আন" মাজদারিয়াহ-কে "আল্লাযী" অর্থে গ্রহণ করেছেন, কিন্তু মুগনি গ্রন্থে পঞ্চম অধ্যায়ের তৃতীয় পরিচ্ছেদে এটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে এই বলে যে, এর কোনো প্রবক্তা জানা নেই। দামামিনি তার শরাহ-তে এ বিষয়ে দুটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন এবং আল-রাযী থেকে একটি ব্যাখ্যা বর্ণনা করেছেন যা তিনি পছন্দ করেছেন। আল-রাযী বলেন: "আনা আকবারু মিন আশআরা" (আমি কাব্যের চেয়ে বড়) অথবা "আন্তা আ’জামু মিন আন তাকুলা কাযা" (তুমি এ জাতীয় কথা বলার চেয়ে মহান)—এখানে উদ্দেশ্য বক্তাকে কাব্যের ওপর বা সম্বোধিত ব্যক্তিকে কথার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেওয়া নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো কাব্য বা ওই কথা থেকে তাদের দূরত্ব বোঝানো। শ্রেষ্ঠত্ববাচক বিশেষ্য (أفعل التفضيل) এখানে শ্রেষ্ঠত্বপ্রাপ্ত বিষয় থেকে শ্রেষ্ঠত্ব দানকারীর দূরত্ব ও তাকে অতিক্রম করা বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে। এক্ষেত্রে "মিন" শব্দটি শ্রেষ্ঠত্ব (তাফদীল) এর জন্য নয়, বরং এটি আপনার ওই কথার ন্যায় "বিনতু মিনহু" (আমি তার থেকে পৃথক হয়েছি), যা কোনো শ্রেষ্ঠত্ব ছাড়াই পৃথক হওয়া ও অতিক্রম করার অর্থে শ্রেষ্ঠত্ববাচক বিশেষ্য (أفعل التفضيل) এর সাথে যুক্ত হয়েছে। অতএব "আন্তা আ’আযযু আলাইয়্যা মিন আন আদরিয়াকা" এর অর্থ হলো—আমার কাছে তোমার অত্যধিক সম্মানের কারণে তোমাকে প্রহার করা থেকে আমি যোজন যোজন দূরে। এটি জায়েজ হওয়ার কারণ হলো শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ব্যবহৃত "মিন" প্রায় একই অর্থে শ্রেষ্ঠত্ববাচক বিশেষ্য (أفعل التفضيل) এর সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। আপনি যখন বলেন "যাইদুন আফদালু মিন আমরিন" (যাইদ আমর অপেক্ষা উত্তম), তখন এর অর্থ হয় সে স্বীয় মর্যাদায় আমরের স্তরকে অতিক্রম করে গেছে। সুতরাং আলোচ্য বিষয়ে "মিন" শব্দটি শ্রেষ্ঠত্বের অর্থের অনুরূপ হলেও প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশের জন্য নয়। তিনি বলেন, সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কোনো ব্যাখ্যা নেই।
(অন্যতম উদাহরণ) হলো তাদের কথা: "সাওয়াইন কানা কাযা আম কাযা"। এখানে "সাওয়াইন" শব্দটি সমতা অর্থে একটি বিশেষ্য (اسم)। এটি দ্বারা গুণ বর্ণনা করা যায় যেভাবে ক্রিয়ামূল (مصدر) দ্বারা গুণ বর্ণনা করা হয়। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো মহান আল্লাহর বাণী: "ইলা কালিমাতিন সাওয়াইন বাইনানা ওয়া বাইনাকুম" (আমাদের ও তোমাদের মধ্যে এক সমতাপূর্ণ বাণীর দিকে)। এখানে শব্দটি বিধেয় (خبر) হিসেবে এসেছে। এরপরের ক্রিয়া অর্থাৎ "কানা কাযা" ইত্যাদি ক্রিয়ামূল (مصدر)-এর ব্যাখ্যায় উদ্দেশ্য (مبتدأ) হিসেবে গণ্য হবে, যেমনটি যামাখশারি মহান আল্লাহর বাণীর ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩৬)
{سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنْذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنْذِرْهُمْ} والتقدير كونه كذا وكونه كذا سيان * وسواء لا يثنى ولا يجمع على الصحيح ثم الجملة إما استئناف أو حال بلا واو أو اعتراض بقى هنا شبهة وهى أن أم لاحد المتعدد والتسوية إنما تكون بين المتعدد لا بين أحده فالصواب الواو بدل أم أو لفظ أم بمعنى الواو وكون أم بمعنى الواو غير معهود وقد أشار الرضى إلى تصحيح التركيب بما ملخصه أن سواء في مثله خبر مبتدأ محذوف أي الأمران سواء ثم الجملة الاسمية دالة على جواب الشرط المقدران لم تذكر الهمزة بعد سواء صريحا كما في مثالنا أو الهمزة وأم مجردتان عن معنى الاستفهام مستعملتان للشرط بمعنى أن و و بعلاقة أن أن والهمزة يستعملان فيما لم يتعين حصوله عند المتكلم وأم وأولا حد الشيئين اوالا شيأ والتقدير إن كان كذا أو كذا فالأمر أن سواء والشبهة إنما ترد إذا جعل سواء خبرا مقدما وما بعده مبتدا كذا في حواشى المطول لحسن جلبي الفنرى وما عزاه إلى الرضى ذكره الدماميني عن السيرافي أيضًا وفي حواشي الكشاف للسيد الشريف وحكى بعض المحققين عن أبى على أن الفعلين مع الحرفين في تأويل اسمين بينهما واو العطف لأن ما بعد كلمتى الاستفهام في مثل قولك قمت أم قعدت متساويان في علم المستقيم فإذا قيل سواء على أقمت أم قعدت فقد أقيمتا مع ما بعدهما مقام المستويين وهما قيامك وقعودك كما أقسم لفظ النداء مقام الاختصاص في أنا أفعل كذا أيها الرجل بجامع الاختصاص ثم ذكر ما حققه الرضى وما استدل به عليه ومنه قوله ويرشدك إلى أن سواء ساد مسد جواب الشرط لا خبر مقدم أن معنى سواء على أقمت أم قعدت ولا أبالى أقمت أم قعدت واحد في الحقيقة ولا أبالي ليس خبرا للمبتدأ بل المعنى أن قمت أم قعدت فلا أبالي بهما انتهى وقد يأتون بأو بدل أم وفي شرح القطر للعلامة الفاكهى من باب العطف لا يعطف بأو بعد همزة التسوية للتنافى بينهما لأن أو تقضى أحد الشيئين أو الأشياء والتسوية تقتضى شيئين لا أحدهما فإن لم توجد الهمزة جاز العطف بها نص عليه السيرافي في شرح الكتاب نحو سواء على قمت أو قعدت ومنه قول الفقهاء سواء كان كذا أو كذا وقرأة ابن محيصن أو لم تنذرهم وأما تخطئة المصنف لهم في ذلك فقد ناقشه فيها الدماميني انتهى وذلك حيث قال في شرحه على المغنى اعلم أن السيرافي قال في شرح الكتاب ما هذا نصه وسواء إذا دخلت بعدها ألف الاستفهام لزمت أم بعدها كقولك سواء على أقمت أم قعدت وإذا كان بعد سواء فعلان بغير استفهام كان عطف أحدهما على الآخر بأو كقولك سواء على قمت أو قعدت انتهى
{তাদের জন্য সমান, আপনি তাদের সতর্ক করুন বা না করুন}। এখানে এর মর্মার্থ হলো—এটি এরূপ হওয়া এবং ওরূপ হওয়া উভয়ই সমান। বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে 'সাওয়াইন' (سواء) শব্দটির দ্বিবচন বা বহুবচন হয় না। অতঃপর এই বাক্যটি হয় প্রারম্ভিক বাক্য (استئناف), অথবা 'ওয়াও' ব্যতীত হাল (حال), কিংবা মধ্যবর্তী বাক্য (اعتراض)। এখানে একটি সংশয় অবশিষ্ট থাকে, তা হলো 'আম' (أم) শব্দটি একাধিক বিষয়ের মধ্য হতে কোনো একটিকে নির্দিষ্ট করার জন্য ব্যবহৃত হয়, অথচ সমতা (تسوية) বিধান কেবল একাধিক বিষয়ের মাঝেই কার্যকর হয়, তাদের কোনো একটির মাঝে নয়। সুতরাং সঠিক হলো 'আম' এর পরিবর্তে 'ওয়াও' ব্যবহার করা অথবা 'আম' শব্দটিকে 'ওয়াও' এর অর্থে গ্রহণ করা; যদিও 'আম' শব্দটির 'ওয়াও' এর অর্থে ব্যবহৃত হওয়া প্রচলিত নয়। ইমাম রাযী এই বাক্যগঠনের বিশুদ্ধতার প্রতি ইঙ্গিত করে যা সংক্ষেপ করেছেন তা হলো: এই জাতীয় উদাহরণে 'সাওয়াইন' শব্দটি একটি উহ্য মুবতাদার খবর (خبر), অর্থাৎ "উভয় বিষয়টিই সমান" (الأمران سواء)।
অতঃপর এই জুমলা ইসমিয়াটি উহ্য জাওয়াবুস শারতের (جواب الشرط) প্রমাণ বহন করে, যদি 'সাওয়াইন' এর পর হামজাহ (الهمزة) স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকে—যেমন আমাদের উদাহরণে—অথবা যদি হামজাহ এবং 'আম' প্রশ্নবোধক অর্থ থেকে মুক্ত হয়ে শর্তের (الشرط) অর্থে ব্যবহৃত হয়; যা 'ইন' (إن) এবং 'ওয়াও' এর সমার্থক হওয়ার সম্পর্কের কারণে। কেননা হামজাহ এবং 'ইন' এমন ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যা বক্তার নিকট সুনিশ্চিত নয়, আর 'আম' ও 'আও' (أو) দুটি বিষয়ের একটির জন্য বা অনির্দিষ্ট কোনো কিছুর জন্য ব্যবহৃত হয়। এর মূল ব্যাখ্যা হলো: "যদি এমন হয় বা তেমন হয়, তবে উভয় বিষয়ই সমান"। এই সংশয়টি তখনই দেখা দেয় যখন 'সাওয়াইন' শব্দটিকে খবর মুকাদ্দাম (خبر مقدم) এবং পরবর্তী অংশকে মুবতাদা (مبتدأ) ধরা হয়; যেমনটি হাসান চালাবি আল-ফানারির 'হাশিয়া আল-মুতাওয়াল'-এ বর্ণিত হয়েছে।
তিনি ইমাম রাযীর দিকে যা নিসবত করেছেন, দামামিনী সেটি সিরাফি থেকেও বর্ণনা করেছেন। এছাড়াও সায়্যিদ শরীফের 'হাশিয়া আল-কাশশাফ'-এ এটি বর্ণিত হয়েছে। কতিপয় গবেষক আবু আলী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, দুটি হরফসহ দুটি ক্রিয়া এখানে এমন দুটি ইসমের ব্যাখ্যায় রয়েছে যাদের মাঝে 'ওয়াও আতিফাহ' (واو العطف) বিদ্যমান। কারণ "তুমি কি দাঁড়িয়েছ না কি বসেছ" এর মতো বাক্যে প্রশ্নবোধক শব্দদ্বয়ের পরবর্তী অংশগুলো জিজ্ঞাসাকারীর নিকট সমান। সুতরাং যখন বলা হয় "আমার নিকট সমান তুমি দাঁড়িয়েছ না কি বসেছ", তখন সেগুলোকে তাদের পরবর্তী অংশসহ দুটি সমান বিষয়ের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, আর তা হলো তোমার দাঁড়ানো এবং তোমার বসা। যেমনটি নিদা (আহ্বান) শব্দটিকে ইখতিসাস বা বিশেষায়িত করার স্থলাভিষিক্ত করা হয় "আমি এটি করছি হে লোক" বাক্যে ইখতিসাসের অর্থ প্রদানের জন্য।
এরপর তিনি ইমাম রাযীর তাহকিক ও তার দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন। তার উক্তির মধ্যে রয়েছে: "'সাওয়াইন' শব্দটি যে জাওয়াবুস শারতের (جواب الشرط) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, খবর মুকাদ্দাম (خبر مقدم) নয়—সেদিকে আপনাকে নির্দেশ করে এই বিষয়টি যে, 'আমার নিকট সমান তুমি দাঁড়াও কি বসো' এবং 'আমি পরোয়া করি না তুমি দাঁড়াও কি বসো' এই দুটি বাক্যের অর্থ প্রকৃতপক্ষে এক।" আর "আমি পরোয়া করি না" (لا أبالي) বাক্যটি মুবতাদার খবর নয়, বরং এর অর্থ হলো "যদি তুমি দাঁড়াও বা বসো, তবে আমি সে দুটির কোনোটিরই পরোয়া করি না"। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
কখনও কখনও তারা 'আম' এর পরিবর্তে 'আও' (أو) ব্যবহার করেন। আল্লামা ফাকিহির 'শারহুল কাতার'-এ আতফ (عطف) অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, 'হামজাতুত তাসবিয়াহ' এর পরে 'আও' দ্বারা আতফ করা যাবে না, কারণ তাদের উভয়ের মাঝে বৈপরীত্য রয়েছে। কেননা 'আও' দুটি বা একাধিক জিনিসের কোনো একটিকে দাবি করে, পক্ষান্তরে সমতা (تسوية) দাবি করে দুটি বিষয়কে একত্রে, তাদের কোনো একটিকে নয়। তবে যদি হামজাহ না থাকে, তবে তা দ্বারা আতফ করা জায়েয। সিরাফি তার 'শারহুল কিতাব'-এ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমন: "আমার নিকট সমান তুমি দাঁড়িয়েছ অথবা বসেছ"। ফকিহগণের উক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত: "সমান চাই এমন হোক অথবা তেমন হোক"। এছাড়া ইবনে মুহাইসিনের কিরাত হলো "অথবা তাদের সতর্ক না করেন" (أو لم تنذرهم)। আর এ বিষয়ে মুসান্নিফ (গ্রন্থকার) তাদের যে ভুল ধরেছেন, দামামিনী তার 'শারহু মুগনি'-তে সে বিষয়ে আলোচনা করেছেন। সেখানে তিনি বলেন: জেনে রাখুন, সিরাফি তার 'শারহুল কিতাব'-এ বলেছেন যার ভাষ্য এই: 'সাওয়াইন' এর পর যদি আলিফ ইস্তিফহাম (ألف الاستفهام) আসে, তবে তার পরে 'আম' থাকা আবশ্যক, যেমন: "আমার নিকট সমান তুমি দাঁড়িয়েছ না কি বসেছ"। আর যখন 'সাওয়াইন' এর পর ইস্তিফহাম ব্যতীত দুটি ক্রিয়া আসে, তখন একটিকে অপরটির ওপর 'আও' দ্বারা আতফ করা হয়, যেমন: "আমার নিকট সমান তুমি দাঁড়ালে অথবা বসলে"। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩৭)
كلامه وهو نص صريح يقتضى بصحة قول الفقهاء وغيرهم سواء كان كذا أو كذا إلى أن قال وحكى أن أبا على الفارسي قال لا يجوز أو بعد سواء فلا يقال سواء على قمت أو قعدت قال لأنه يكون المعنى سواء على أحدهما ولا يجوز قلت ولعل هذا مستند المصنف في تخطيئة الفقهاء وغيرهم في هذا التركيب وقد رد الرضى كلام الفارسي بما هو مذكور في شرحه للحاجبية فراجعه أن شئت انتهى (ومنها) قولهم في معرض الجواب ونحوه على أنا نقول فيذكرون ذلك حيث يكون ما بعدها قامعا للشبهة وأقوى مما قبلها ويسمون علاوة وترقيا على ما تشعر به على ولكن يقال على من حروف الجر فما معناها هنا وما متعلقها ويظهر المراد مما ذكره في المعنى حيث قال التاسع أي من معاني على أن تكون للاستدارك والإضراب كقولك فلان لا يدخل الجنة لسوء صنيعه على أنه لا ييأس من رحمة الله وقوله:
فوالله لا أنسى قتيلا رزئته
… بجانب قوسي ما بقيت على الأرض
على أنها تعفو الكلوم وإنما
… توكل بالأدنى وإن جل ما يمضى
أي على أن العادة نسيان المصائب البعيدة العهد
وقوله
بكل تداوينا فلم يشف ما بنا
… على أن قرب الدار خير من البعد
ثم قال
على أن قرب الدار ليس بنافع
… إذا كان من تهواه ليس بذي ود
أبطل بعلى الأولى عموم قوله لم يشف ما بنا فقال على أن فيه شفاء ما ثم أبطل بالثانية قوله على أن قرب الدار خير من البعد وتعلق على مده بما قبلها كتعاق حاشا بما قبلها عند من قال به فإنها أوصلت معناه إلى ما بعدها على وجه الإضراب والإخراج أو هي خبر لمبتدأ محذوف أي والتحقيق على كذا وهذا الوجه اختاره ابن الحاجب قال ودل على ذلك أن الجملة الأولى وقعت على غير التحقيق ثم جيء بما هو التحقيق فيها انتهى كلام المغنى.
ومنها قولهم كل فرد فرد كقول المطول معرفة كل فرد فرد من جزئيات الأحوال قال المحقق الفترى الأقرب أنه من التأكيد اللفظى وقد يجعل من قبيل وصف الشيء بنفسه قصدا إلى الكمال أو المراد كل فرد منفرد عن الآخر وحاصله معرفة كل فرد على سبيل التفضيل والانفراد دون الاقتران وقد يترك لفظ كل في مثله مع أن العموم مراد كان يقال معرفة فرد فرد والظاهر أن
তার বক্তব্য হলো একটি স্পষ্ট বর্ণনা (نص صريح), যা ফকিহ (الفقهاء) এবং অন্যদের বক্তব্যের সঠিকতাকে নির্দেশ করে, তা এমন হোক বা তেমন। তিনি আরও বলেন এবং বর্ণিত আছে যে, আবু আলী আল-ফারিসি বলেছেন 'সواء' (সমান) এর পরে 'أو' (অথবা) ব্যবহার করা বৈধ নয়। সুতরাং এটি বলা যাবে না যে 'سواء علي قمت أو قعدت' (আমার নিকট সমান আমি দাঁড়ালাম না বসলাম)। তিনি বলেন, কারণ এর অর্থ হবে কোনো একটি বিষয় আমার নিকট সমান, যা বৈধ নয়। আমি বলি, সম্ভবত এটিই লেখকের ভিত্তি (مستند) ছিল যখন তিনি ফকিহ (الفقهاء) এবং অন্যদের এই বাক্য গঠনের ক্ষেত্রে ভুল ধরেছিলেন। তবে আল-রাজি তাঁর হাজিবিয়া-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে আল-ফারিসির বক্তব্য খণ্ডন (رد) করেছেন; আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন। সমাপ্ত। (এর মধ্যে একটি হলো) উত্তর প্রদানের সময় বা তদ্রূপ ক্ষেত্রে তাঁদের উক্তি 'على أنا نقول' (তাছাড়া আমরা বলি)। তাঁরা এটি এমন স্থানে উল্লেখ করেন যেখানে পরবর্তী বিষয়টি সংশয় নিরসনকারী (قامعا للشبهة) এবং পূর্ববর্তী বিষয়ের চেয়ে শক্তিশালী হয়। তাঁরা একে অতিরিক্ত সংযোজন (علاوة) এবং পর্যায়ক্রমিক উন্নতি (ترقيا) হিসেবে অভিহিত করেন যা 'على' দ্বারা অনুভূত হয়। তবে প্রশ্ন হলো 'على' তো একটি অব্যয় (حروف الجر), এখানে এর অর্থ কী এবং এটি কিসের সাথে যুক্ত (متعلق)? 'মুগনি' গ্রন্থে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়। সেখানে তিনি বলেছেন: নবম অর্থ, অর্থাৎ 'على' এর অর্থগুলোর মধ্যে একটি হলো সংশোধন (استدراك) এবং প্রসঙ্গ পরিবর্তন (إضراب) করা। যেমন আপনার উক্তি: "অমুক ব্যক্তি তার মন্দ আচরণের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করবে না, তবে (على أنه) সে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ নয়।" এবং কবির উক্তি:
আল্লাহর কসম, আমি সেই নিহতের কথা ভুলব না যার শোকে আমি ব্যথিত হয়েছি
… আমার ধনুকের পাশে যতক্ষণ আমি পৃথিবীতে বেঁচে আছি।
তবে (على أنها) জখমসমূহ মুছে যায় এবং
… তা কেবল নিকটতম শোককেই আঁকড়ে ধরে, যদিও তা অতিবাহিত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় হয়।
অর্থাৎ দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হলে শোক ভুলে যাওয়া একটি সাধারণ রীতি।
এবং কবির উক্তি:
আমরা সবকিছুর মাধ্যমে চিকিৎসা করেছি কিন্তু আমাদের রোগ সারেনি
… যদিও (على أن) ঘরের সান্নিধ্য দূরত্বের চেয়ে উত্তম।
পুনরায় তিনি বললেন:
তবে (على أن) ঘরের সান্নিধ্যও কোনো উপকারে আসে না
… যদি কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি ভালোবাসা না রাখে।
প্রথম 'على' দ্বারা তিনি তাঁর উক্তি "আমাদের রোগ সারেনি"-এর ব্যাপকতা (عموم) বাতিল করেছেন এবং বুঝিয়েছেন যে তাতে কিছু আরোগ্য রয়েছে। এরপর দ্বিতীয়টি দ্বারা তিনি তাঁর উক্তি "ঘরের সান্নিধ্য দূরত্বের চেয়ে উত্তম"-কে বাতিল করেছেন। এখানে 'على'-এর পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সম্পর্ক হলো 'حاشا'-এর পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে সম্পর্কের মতো, যারা এই মত পোষণ করেন। এটি প্রসঙ্গ পরিবর্তন (إضراب) এবং বর্জন (إخراج) করার মাধ্যমে এর অর্থকে পরবর্তী বিষয়ের দিকে পৌঁছে দেয়। অথবা এটি একটি উহ্য উদ্দেশ্যপদ (مبتدأ)-এর বিধেয় (خبر), যার অর্থ হলো: "গবেষণালব্ধ তথ্য (تحقيق) হলো এমন।" ইবনুল হাজিব এই মতটি বেছে নিয়েছেন। তিনি বলেন, এর প্রমাণ হলো প্রথম বাক্যটি গবেষণালব্ধ তথ্যের (تحقيق) ওপর ভিত্তি করে ছিল না, এরপর যা গবেষণালব্ধ তথ্য (تحقيق) তা উপস্থাপন করা হয়েছে। মুগনি-এর আলোচনা সমাপ্ত।
অন্য একটি হলো তাঁদের উক্তি "প্রত্যেকটি একক একক" (كل فرد فرد), যেমন 'মুতাউওয়াল' গ্রন্থে বলা হয়েছে: "অবস্থার খুটিনাটি বিষয়গুলোর প্রত্যেকটি একক একক (كل فرد فرد) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।" গবেষক (محقق) আল-ফাতারি বলেন, নিকটতর মত হলো এটি শাব্দিক গুরুত্বপ্রদান (تأكيد لفظى)। কখনও একে কোনো বিষয়ের পূর্ণতা বুঝানোর উদ্দেশ্যে ওই বিষয়ের মাধ্যমেই বিশেষিত করা বলে গণ্য করা হয়। অথবা এর অর্থ হলো প্রত্যেকটি একক অন্যটি থেকে পৃথক (منفرد)। এর সারমর্ম হলো, প্রতিটি একককে বিস্তারিতভাবে এবং পৃথকভাবে জানা, একত্রে নয়। কখনও এমন ক্ষেত্রে 'كل' শব্দটি বর্জন করা হয় যদিও ব্যাপকতা (عموم) বুঝানো উদ্দেশ্য থাকে, যেমন বলা হয় 'معرفة فرد فرد' (একক এককের জ্ঞান)। আর প্রকাশ্য বিষয় এই যে...
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩৮)
العموم مستفاد من قرينة المقام فإن النكرة في الإثبات قد تعم ويحتمل أن يحمل على حذف المضاف وهو كل بتلك القرينة.
ومنها قولهم ولا سيما كذا قال المحقق الفترى لا لنفى الجنس وسى مثل مثل وزنا ومعنى اسمها عند الجمهور وأصله سوى اوسيو والواقع بعدها إذا كان معرفا إما مجرورًا على أنه مضاف إليه وما زائدة كما في قوله تعالى (أيما الأجلين قضيت) أو بدل من ما وهى نكرة غير موصوفة أي لا مثل شيء علم البيان * وأما مرفوع خبر مبتدأ محذوف والجملة صلة أن جعلت ما موصولة أو صفة أن جعلت موصوفة والجر أولى من هذا وفى كان ضمير ما اسمها وخبرها محذوف أي كائنا الشخص الذي هو الوجه لقلة حذف صدر الجملة الواقعة صلة أو صفة صرح به الرضى على أنه يقدم في اطراده لزوم إطلاق ما على ذات من يعقل وهم يأبونه وعلى الوجهين فحركة سى إعراب لأنه مضاف وأما منصوب على تقدير أعنى أو على أنه تمييز أن كان نكرة لأن ما بتقدير التنوين وهو كافة عن الإضافة والفتحة بنائية مثلها في لارجل وقيل على الاستثناء في الوجهين فعدم تجويز النصب إذا كان معرفة وهم من الأندلسي وعلى التقادير خبر لا محذوف عند غير الأخفش أي لا مثل علم البيان موجود من العلوم فإن التحلى بحقائقه أحق بالتقديم من التحلى بحقائق غيره وعنده ما خبر لا ويلزمه قطع سي عن الإضافة من غير عوض قيل وكون خبر لا معرفة وجوابه أنه يقدر مانكرة موصوفة وأما الجواب باحتمال أن يكون قد رجع إلى قول سيبويه في لا رجل قائم من أن ارتفاع الخبر بما كان مرتفعا به لا بلا النافية فلا يفيد فيما نحن فيه كما لا يخفى وقد يحذف منه كلمة لا تخفيفا مع أنها مرادة ولهذا لا يتفاوت المعنى كما في قوله تعالى (تفتؤ تذكر) أي لا تفتؤ لكن ذكر البلبانى في شرح تلخيص الجامع الكبير أن استعمال سيما بلالا لا نظير له في كلام العرب وقد تخفف الياء مع وجود لا وحذفها وقد يقال لا سواء مقام لا سيما * والواو التي تدخل عليها في بعض المواضع كما في قوله * ولا سيما يوما بدارة جلجل اعتراضية ذكره الرضى وقيل حالية وقيل عاطفة ثم عدها من كلمات الاستثناء لكون ما بعدها مخرجا عما قبلها من حيث اولويته بالحكم المتقدم والا فليس فيها حقيقته صرح به الرضى * وقد يحذف ما بعد لاسيما وتنقل من معناها الأصلى إلى معنى خصوصًا فيكون منصوب المحل على أنه مفعول مطلق فإذا قلت زيد شجاع ولا سيما راكبا فراكبا حال من مفعول الفعل المقدر أي وأخصه بزيادة الشجاعة خصوصًا راكبا وكذا في زيد شجاع ولا سيما وهو راكب
ব্যাপকতা (العموم) বিষয়টি প্রাসঙ্গিক আলামত (قرينة المقام) থেকে গৃহীত হয়, কারণ ইতিবাচক বাক্যে (الإثبات) অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (النكرة) কখনো কখনো ব্যাপক অর্থ প্রদান করে (تعم); আবার সেই আলামতের ভিত্তিতে এখানে একটি সম্বন্ধপদ (مضاف) অর্থাৎ 'কুল্লুন' শব্দকে উহ্য ধরাও সম্ভব।
এর একটি উদাহরণ হলো তাদের কথা 'ওয়া লা সিয়াম্মা'; মুহাক্কিক আল-ফাতারি বলেছেন: এখানে 'লা' (لا) শব্দটি জাতিগত নাস্তিবাচক (لنفي الجنس) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। জমহুর (الجمهور) ওলামাদের মতে, ওজনে ও অর্থে 'সি' (سي) শব্দটি 'মিছল'-এর মতো, যা 'লা'-এর ইসিম (اسمها)। এর মূল হলো 'সিওয়া' অথবা 'সিয়ু'। এর পরে আসা শব্দটি যদি নির্দিষ্ট বিশেষ্য (معرفة) হয়, তবে সেটি হয় সম্বন্ধপদীয় অবস্থায় (مجرور) হবে যার কারণে একে 'মুদাফ ইলাইহি' (مضاف إليه) গণ্য করা হবে এবং 'মা' (ما) শব্দটিকে অতিরিক্ত (زائدة) ধরা হবে—যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "দুটি মেয়াদের যে কোনোটি আমি পূর্ণ করি"। অথবা এটি 'মা'-এর স্থলাভিষিক্ত (بدل) হবে, যেখানে 'মা' একটি বিশেষণহীন অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة غير موصوفة); অর্থাৎ "ইলমুল বয়ানের মতো কোনো কিছু নেই"। অথবা এটি একটি উহ্য উদ্দেশ্য (مبتدأ)-এর বিধেয় (خبر) হিসেবে কর্তৃকারকীয় অবস্থায় (مرفوع) হবে; এমতাবস্থায় যদি 'মা' শব্দটিকে সম্বন্ধবাচক সর্বনাম (موصول) ধরা হয় তবে বাক্যটি একটি সম্বন্ধসূচক বাক্য (صلة) হবে, আর যদি একে বিশেষিত বিশেষ্য (موصوفة) ধরা হয় তবে বাক্যটি একটি বিশেষণ (صفة) হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সম্বন্ধপদীয় অবস্থা (جر) হওয়াটাই অধিক উত্তম। আর 'কানা' ক্রিয়াটির মধ্যে 'মা'-এর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী একটি সর্বনাম থাকে যা তার ইসিম (اسمها), আর তার বিধেয় (خبر) উহ্য থাকে; অর্থাৎ "সেই ব্যক্তি যে এই গুণের অধিকারী"—কেননা সম্বন্ধসূচক বাক্য (صلة) বা বিশেষণের (صفة) শুরুতে থাকা বাক্যাংশ উহ্য রাখার (حذف) প্রচলন খুব কম। ইমাম আল-রাজি এটি স্পষ্ট করেছেন। তবে এতে একটি জটিলতা হলো, এর ধারাবাহিকতায় বিবেকসম্পন্ন সত্তার (من يعقل) ক্ষেত্রে 'মা' (ما) প্রয়োগ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, যা ভাষাবিদগণ অপছন্দ করেন। উভয় অবস্থাতেই 'সি' (سي) শব্দের স্বরচিহ্ন হবে রূপান্তরশীল (إعراب), কারণ এটি তখন সম্বন্ধপদ (مضاف)। আর যদি একে 'আ'নি' ক্রিয়াটি উহ্য ধরে অথবা অনির্দিষ্ট বিশেষ্য হওয়ার কারণে স্বাতন্ত্র্যসূচক বিশেষ্য (تمييز) হিসেবে ধরা হয়, তবে তা কর্মকারকীয় অবস্থায় (منصوب) হবে; কেননা তখন 'মা' শব্দটি তানউইন (تنوين)-এর অর্থ দেবে এবং পরবর্তী শব্দের সাথে সম্বন্ধযুক্ত হতে বাধা প্রদান করবে (كافة عن الإضافة)। এমতাবস্থায় এর ফাতহা হবে অপরিবর্তনীয় (بنائية), যেমনটি "লা রাজুলা" বাক্যে হয়ে থাকে। উভয় অবস্থাতেই একে ব্যতিক্রম (استثناء) হিসেবেও অভিহিত করা হয়েছে। সুতরাং এটি যদি নির্দিষ্ট বিশেষ্য (معرفة) হয় তবে তাকে কর্মকারকীয় অবস্থায় (نصب) পড়ার অনুমতি না দেওয়ার যে মতটি আন্দালুসি পণ্ডিত দিয়েছেন, তা একটি ভ্রম। আলামা আল-আখফাশ ব্যতীত অন্যদের মতে, সকল অবস্থাতেই 'লা' (لا)-এর বিধেয় (خبر) উহ্য (محذوف) থাকবে; অর্থাৎ "ইলমুল বয়ানের মতো অন্য কোনো শাস্ত্র বিদ্যমান নেই", কারণ এর গূঢ় রহস্যসমূহ দ্বারা সজ্জিত হওয়া অন্য শাস্ত্রের রহস্য দ্বারা সজ্জিত হওয়ার চেয়ে অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য। আল-আখফাশের মতে 'মা' (ما) নিজেই 'লা'-এর বিধেয় (خبر), তবে এর ফলে 'সি' (سي) শব্দটি কোনো বিকল্প ছাড়াই সম্বন্ধ (إضافة) থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কারো মতে 'লা'-এর বিধেয় (خبر) নির্দিষ্ট বিশেষ্য (معرفة) হওয়া সম্ভব, এর উত্তরে বলা হয়েছে যে এখানে 'মা'-কে বিশেষিত অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة موصوفة) হিসেবে গণ্য করা হবে। আর সিবাওয়াইহ-এর "লা রাজুলা কায়িমুন" সংক্রান্ত মতের মাধ্যমে যে উত্তর দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—যেখানে বিধেয়-এর মারফু হওয়া 'লা' এর কারণে নয় বরং পূর্ববর্তী অবস্থার কারণে হয়—তা আমাদের আলোচ্য বিষয়ে ফলপ্রসূ নয়, যা স্পষ্ট। কখনো কখনো সহজ করার জন্য (تخفيفا) এখান থেকে 'লা' শব্দটি উহ্য রাখা হয় যদিও তা অর্থগতভাবে সেখানে বিদ্যমান থাকে; ফলে অর্থের কোনো পরিবর্তন হয় না, যেমনটি মহান আল্লাহর বাণীতে রয়েছে: "আপনি ইউসুফকে স্মরণ করা বন্ধ করবেন না", যার অর্থ হলো "আপনি স্মরণ করা বন্ধ করছেন না"। তবে আল-বালবানি তালখিসুল জামিউল কাবির-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, আরবি ভাষায় 'লা' ব্যতিরেকে 'সিয়াম্মা'-এর ব্যবহার নজিরবিহীন। কখনো 'লা' থাকা বা না থাকা উভয় অবস্থাতেই 'ইয়া' বর্ণটির তাশদিদ হালকা (تخفف) করা হয়। কখনো 'লা সিয়াম্মা'-এর স্থলে 'লা সাওয়াআ' বলা হয়। এর শুরুতে কখনো যে 'ওয়াও' যুক্ত হয়—যেমন কবিতায় আছে: "বিশেষ করে দারাতে জুলজুলের সেই দিনটি"—ইমাম আল-রাজি তাকে মধ্যবর্তী বাক্য (اعتراضية) হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ একে অবস্থাজ্ঞাপক (حالية) বা সংযোজক (عاطفة) হিসেবেও অভিহিত করেছেন। অতঃপর তিনি একে ব্যতিক্রমের (استثناء) শব্দগুলোর অন্তর্ভুক্ত করেছেন, কারণ এর পরবর্তী অংশ পূর্ববর্তী হুকুমের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাওয়ার কারণে পূর্ববর্তী প্রসঙ্গের হুকুম থেকে বিযুক্ত হয়; অন্যথায় এর মধ্যে ব্যতিক্রমের প্রকৃত অর্থ বিদ্যমান নেই, যা ইমাম আল-রাজি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। কখনো কখনো 'লা সিয়াম্মা'-এর পরবর্তী অংশ উহ্য থাকে এবং এটি তার মূল অর্থ থেকে সরে গিয়ে 'বিশেষভাবে' অর্থ প্রদান করে। এমতাবস্থায় এটি ভাববাচক কর্ম (مفعুল مطلق) হিসেবে কর্মকারকীয় অবস্থানে (منصوب المحল) থাকে। যেমন যখন আপনি বলেন: "জায়েদ সাহসী, বিশেষ করে আরোহী অবস্থায়", তখন 'আরোহী অবস্থায়' শব্দটি উহ্য ক্রিয়ার কর্ম থেকে অবস্থা (حال) হিসেবে গণ্য হবে; অর্থাৎ "আমি তাকে বিশেষ সাহসিকতার সাথে বিশেষিত করছি, বিশেষত আরোহী অবস্থায়"। তেমনিভাবে "জায়েদ সাহসী, বিশেষ করে যখন সে আরোহী" বাক্যের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩৯)
والواو التي بعده للحال وقيل عاطفة على مقدر كأنه قيل ولا سيما هو لابس السلاح وهو راكب وعدم مجئ الواو قبله ح كثير إلا أن المجئ أكثر انتهى.
ومنها قولهم فقط كقول صاحب التلخيص والفصاحة يوصف بها الأخيران فقط قال المحقق التفتازانى في المطول وقوله فقط من أسماء الأفعال بمعنى انته وكثيرًا ما يصدر بالفاء تزيينا للفظ وكأنه جزاء شرط محذوف أي إذا وصفت بها الأخيرين فقط أي فاتته عن وصف الأول بها انتهى قال بعض المحشين وقال ابن هشام في حواشى التسهيل لم يسمع منهم إلا مقرونا بالفاء وهي زائدة لازمة عندى وقال الدماميني نقلًا عن ابن السيد في نحو أخذت درهما فقط أخذت درهما فاكتفيت به فجعلها عاطفة قال وهو خير من قول التفتازاني وابن هشام بقى أنه يرد على كلام المطول أن الفاء في جواب الشرط ليس للتزيين بل من حروف المعانى ففيه منافاة ويجاب بأن الشرط المحذوف إنما يعتبر لإصلاح الفاء المذكور للتزيين وليس في المعنى داع إلا اعتبار الشرط المحذوف فذكر الفاء لتزيين اللفظ ففيه تقوية لجانب المعنى لرعاية جانب اللفظ هذا والأظهر أن قوله وكأنه توجيه ثان ثم أنه قدر أداة الشرط المحذوفة إذا وكذا وقع لغيره والحق أنه لا يحذف من أدوات الشرط إلا أن وأورد عليه ابن كمال باشا بعد أن نقل عن المغنى أنها تكون بمعنى حسب حسب كقد واسم فعل بمعنى يكفي أن المناسب للمقام جعلها بمعنى حسب وعلى تقدير جعلها اسم فعل فهى بمعنى يكفي قال فجعلها هنا اسم فعل وأنها بمعنى انته غلط مرتين (ومنها) قولهم كائنا ما كان قال بعض المحققين جعل الفارسى ما في ضربته كائنا ما كان مصدرية وكان صلتها وهما في محل رفع بكائن وكلاهما على التمام أي كائنا كونه وقبل كائن من الناقصة وكان ناقصة أيضًا وما موصولة استعملت لمن يعقل كما في لاسيما زيد وفي كائن ضمير هو اسمها وما خبرها وفى كان ضمير ما اسمها وخبرها محذوف أي كائنا الشخص الذي هو إياه ويجوز كون ما نكرة موصوفة بكان وهى تامة والتقدير لأضربنه كائنا شيئا وجد والمعنى لأضربنه كائنا بصفة الوجود من غير نظر إلى حال دون حال مفردا كان أو مركبا كلا أو جزأ ولعل هذا أولى من الذي قبله انتهى (أقول) ويخطر لي وجه آخر وهو أن ما صلة للمتوكيد وكائنا وكان تامتان والمعنى لأضربنه موجودًا وجد أي أي شخص وجد صغيرًا أو كبيرًا جليلًا أو حقيرًا * ووجه آخر وهو أن تكون ما اسما نكرة صفة لكائنا أو بدلا منه فإذا قلت لأضربن رجلًا كائنا ما كان فالمعنى لأضربن رجلًا موجودًا شخصًا وجد والمعنى على التعميم
এবং এর পরবর্তী 'ওয়াও' (واو) বর্ণটি অবস্থা (حال) নির্দেশক। কেউ কেউ বলেছেন এটি একটি উহ্য শব্দের ওপর ভিত্তি করে সংযোজক (عاطفة); যেন বলা হয়েছে—'বিশেষ করে সে যখন অস্ত্রধারী এবং সে যখন আরোহী'। এর পূর্বে 'ওয়াও' (واو) না আসা হাদিসশাস্ত্রে অনেক ক্ষেত্রে (ح) পরিদৃষ্ট হয়, তবে আসাটাই অধিক প্রচলিত। সমাপ্ত।
এর মধ্যে রয়েছে তাদের 'ফাকাত' (فقط) বলা। যেমন আল-তালখিস রচয়িতা বলেছেন: 'ফাসাহাত' (বাকপটুতা) দ্বারা কেবল শেষের দুটিরই গুণ বর্ণনা করা হয় (فقط)। গবেষক (المحقق) তাফতাজানি আল-মুতাল্লাল গ্রন্থে বলেছেন: 'ফাকাত' শব্দটি ক্রিয়া-বিশেষ্য (أسماء الأفعال) সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যার অর্থ 'থামুন' (انته)। এটি প্রায়ই শব্দের অলংকারের জন্য 'ফা' (فاء) সহযোগে শুরু হয় এবং এটি যেন একটি উহ্য শর্তের উত্তর (جزاء شرط); অর্থাৎ—যদি আপনি এর দ্বারা কেবল শেষের দুটির গুণ বর্ণনা করেন, তবে প্রথমটির গুণ বর্ণনা করা থেকে বিরত থাকলেন। সমাপ্ত। জনৈক টীকাকার বলেছেন যে, ইবনে হিশাম আত-তাশহিল-এর টীকাগুলোতে বলেছেন—এটি 'ফা' (فاء) যুক্ত হওয়া ছাড়া শোনা যায়নি এবং আমার মতে এটি একটি অতিরিক্ত (زائدة) ও অপরিহার্য (لازمة) অব্যয়। আদ-দামামিনি ইবনুস সাইয়্যিদ থেকে 'আমি কেবল এক দিরহাম নিয়েছি' বাক্যের ন্যায় উদাহরণে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি একে সংযোজক (عاطفة) হিসেবে গণ্য করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি তাফতাজানি ও ইবনে হিশামের বক্তব্যের চেয়ে উত্তম। তবে আল-মুতাল্লাল-এর বক্তব্যের ওপর এই আপত্তি আসে যে, শর্তের উত্তরের 'ফা' (فاء) কেবল অলংকারের জন্য নয় বরং তা অর্থবোধক অব্যয় (حروف المعانى) সমূহের অন্তর্ভুক্ত; তাই এতে একটি বৈপরীত্য দেখা দেয়। এর উত্তরে বলা হয় যে, উহ্য শর্তটি কেবল উল্লেখিত অলংকারিক 'ফা'-কে ব্যাকরণগতভাবে সংগত করার জন্যই বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থের দিক থেকে উহ্য শর্ত বিবেচনার কোনো আবশ্যকতা নেই, বরং শব্দের বাহ্যিক সৌন্দর্য বাড়াতেই 'ফা' (فاء) আনা হয়েছে; এতে শব্দের শ্রী রক্ষার মাধ্যমে অর্থের দিকটিকেও শক্তিশালী করা হয়েছে। আর অধিকতর স্পষ্ট বিষয় হলো যে, তাঁর 'যেন এটি' উক্তিটি দ্বিতীয় একটি ব্যাখ্যা। এরপর তিনি উহ্য শর্তের অব্যয় হিসেবে 'ইজা' (إذا) নির্ধারণ করেছেন এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছে। প্রকৃত সত্য হলো এই যে, শর্তের অব্যয়সমূহের মধ্যে কেবল 'ইন' (إن) উহ্য রাখা সম্ভব। ইবনে কামাল পাশা আল-মুগনি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে এর ওপর আপত্তি জানিয়েছেন যে, 'ফাকাত' শব্দটি 'হাসব' বা 'কাদ' এর ন্যায় 'পর্যাপ্ত' অর্থে হতে পারে এবং ক্রিয়া-বিশেষ্য (اسم فعل) হিসেবে এর অর্থ 'যথেষ্ট হওয়া'। তিনি বলেন যে, এখানে একে ক্রিয়া-বিশেষ্য (اسم فعل) হিসেবে ধরা এবং এর অর্থ 'থামুন' (انته) করা দ্বিগুণ ভুল। (এর মধ্যে আরও রয়েছে) তাদের কথা 'কাইনান মা কান' (যা-ই হোক না কেন)। জনৈক গবেষক (المحقق) বলেছেন, আল-ফারিসি 'আমি তাকে প্রহার করেছি সে যা-ই হোক না কেন' বাক্যে 'মা' (ما)-কে ক্রিয়া-মূলীয় (مصدرية) গণ্য করেছেন এবং 'কানা' (كان) তার অনুগামী বাক্য, আর তারা উভয়ই 'কাইনান'-এর কারণে রফা (رفع) অবস্থায় রয়েছে। এখানে উভয়ই পূর্ণাঙ্গ (تامة) ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহৃত; অর্থাৎ—সেটির অস্তিত্ব হওয়া মাত্রই। কেউ কেউ বলেছেন 'কাইনান' অপূর্ণাঙ্গ (ناقصة) থেকে এসেছে এবং 'কানা' (كان) ও অপূর্ণাঙ্গ (ناقصة)। এখানে 'মা' (ما) সম্বন্ধসূচক (موصولة) হিসেবে জ্ঞানসম্পন্নদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমনটি 'লা সিয়ামা জাইদুন' বাক্যে দেখা যায়। 'কাইনান'-এর ভেতরে একটি উহ্য সর্বনাম 'হুয়া' রয়েছে যা তার ইসম (اسم) এবং 'মা' (ما) তার খবর (خبر)। আর 'কানা' (كان)-এর ভেতরে 'মা' (ما) সর্বনামটি তার ইসম (اسم) এবং খবর (خبر) উহ্য রয়েছে; অর্থাৎ—সেই ব্যক্তিটি যে-ই হোক না কেন। আবার 'মা' (ما)-কে একটি অনির্দিষ্ট (نكرة) শব্দ হিসেবে গণ্য করাও সম্ভব যা 'কানা' (كان) দ্বারা বিশেষিত এবং এখানে 'কানা' (كان) পূর্ণাঙ্গ (تامة)। তখন এর অর্থ দাঁড়াবে—আমি তাকে প্রহার করব যা একটি বিদ্যমান সত্তা হিসেবে পরিগণিত। এর মর্মার্থ হলো—আমি তাকে তার অস্তিত্বের গুণের ভিত্তিতে প্রহার করব, কোনো বিশেষ অবস্থার পরোয়া না করেই; চাই সে একক হোক বা যৌগিক, পূর্ণ হোক বা আংশিক। সম্ভবত এটি পূর্ববর্তী মতের চেয়ে উত্তম। সমাপ্ত। (আমি বলছি) আমার মনে আরেকটি ব্যাখ্যা উদিত হচ্ছে, তা হলো—'মা' (ما) এখানে তাকীদের জন্য অতিরিক্ত। 'কাইনান' ও 'কানা' (كان) উভয়ই পূর্ণাঙ্গ (تامة) ক্রিয়া। এর অর্থ—আমি তাকে প্রহার করব বর্তমান বিদ্যমান হিসেবে; অর্থাৎ যে কোনো ব্যক্তিই পাওয়া যাক না কেন, চাই সে ছোট হোক বা বড়, সম্মানিত হোক বা তুচ্ছ। আরেকটি দিক হলো—'মা' (ما) একটি অনির্দিষ্ট (نكرة) নাম শব্দ যা 'কাইনান'-এর বিশেষণ (صفة) বা তার পরিপূরক (بدل)। সুতরাং আপনি যখন বলেন 'আমি এমন ব্যক্তিকে প্রহার করব যে-ই হোক না কেন', তখন এর অর্থ দাঁড়ায়—আমি বিদ্যমান কোনো ব্যক্তিকে প্রহার করব যে ব্যক্তিই অস্তিত্বমান হোক না কেন। এটি সাধারণ অর্থ বুঝাতেই ব্যবহৃত হয়।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪০)
كالأولي أي أي شخص وقد خرجوا على هذين الوجهين قوله تعالى (مثلا ما بعوضة) ووقع في عبارة المطول كائنا من كان أنا أو غيرى فقال الفاضل الفنرى كائنا حال ومن موصوفة في محل نصب خبرا لكائنا والعائد محذوف أي كأنه واعترض بامتناع حذف خبر كان نص عليه ابن هشام وصاحب اللباب وغيرهما وأجيب بأنه ههنا سماعي ثبت على خلاف القياس ولو قيل كان تامة وفاعله راجع إلى من لم يحتج إلى ما ذكره وأنا خبر مبتدأ محذوف أي هو أنا أو غيرى أو بدل من من كان على أن يكون من قبيل استعارة الضمير المرفوع للمنصوب كما استعير للمجرور في ما أنا كانت انتهى (ومنها) قولهم بعد اللتيا والتي قال محقق الروم حسن جلبي الفنارى اللتيا تصغير التي على خلاف القياس لأن قياس التصغير أن يضم أول المصغر وهذا أبقى على فتحته الأصلية لكنهم عوضوا عن ضم أوله بزيادة لألف في آخره كما فعلوا ذلك في نظائره من اللذيا وذيا وذياك والمعنى بعد اللحظة الصغيرة والكبيرة التي من فظاعة شأنها كيت وكيت حذفت الصلة إيهاما لقصور العبارة عن الإحاطة يوصف الأمر الذي كنى بهما عنه وفي ذلك من تفخيم أمره ما لا يخفى انتهى وأصله أن العرب تقول ذلك في الأمر الصعب الذي لا يراد فعله والتزموا عدم ذكر صلة لهما لا لفظًا ولا تقديرًا لما مر فليغز ويقال أي موصول وليس له عائد وقد نظم ذلك بعض مشايخ مشايخنا.
يا أيها النحوى ذا العرفان
… ومن حوى لطائف البيان
ما اسمان موصولان مبنيان
… ولم يكونا قط يوصلان
(ومنها) قولهم أولًا وبالذات قال الفنرى في حواشي المطول أولًا منصوب على الطرفية معنى قبل وهو ح منصرف لا وصفية له ولذا دخله التنوين مع أنه افعل التفضيل في الأصل بدليل الأولى والأوائل كالفضلى والأفاضل وهذا معنى ما قال في الصحاح إذا جعلته صفة لم تصرفه تقول لقيته عاما أول وإذا لم تجعله صفة صرفته تقول لقيته عاما أولًا معناه في الأول أول من هذا العام وفى الثاني قبل هذا العام والباء في الذات بمعنى في وهو معطوف على أولًا أي في ذات المعنى بلا واسطة (ومنها) قولهم وهذا الشيء لا محالة كذا وهى مصدر ميمى بمعنى التحول من حال إلى كذا بمعنى تحول إليه وخبر لا محذوف أي لا محالة موجود والجملة معترضة بين اسم أن وخبرها مفيدة تأكيد الحكم (ومنها) قولهم لا أفعله البتة وهى مصدر من البت بمعنى القطع وفي القاموس لا أفعله البتة وبتة لكل أمر لا رجعة فيه انتهى والمشهور على الألسنة أن همزتها
প্রথমটির ন্যায় অর্থাৎ যে কোনো ব্যক্তি। তারা এই দুটি দিক থেকে এটি ব্যাখ্যা করেছেন যা মহান আল্লাহর বাণী: ‘উপমা হিসেবে একটি মশা’। আল-মুতাউওয়াল কিতাবের ইবারতে ‘সে যেই হোক না কেন, আমি হই বা অন্য কেউ’ কথাটি উল্লেখ হয়েছে। বিদগ্ধ পণ্ডিত আল-ফানারারি বলেছেন: ‘কাইনান’ হলো হাল (অবস্থা), আর ‘মান’ হলো মাউসুফাহ (গুণান্বিত) যা ‘কাইনান’-এর খবর হিসেবে নসবের মহলে (অবস্থানে) রয়েছে। আর এখানে ‘আইদ’ (সর্বনাম) উহ্য আছে, যেন বিষয়টি ছিল ‘কাইনান্নাহু’। ইবনে হিশাম, আল-লুবাব কিতাবের লেখক এবং অন্যান্যরা ‘কানা’-এর খবর উহ্য রাখা নিষিদ্ধ হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট আপত্তি জানিয়েছেন। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি এখানে ‘সামায়ী’ (শ্রুতিনির্ভর) যা কিয়াসের (যৌক্তিক নিয়ম) বিপরীতে প্রমাণিত। যদি বলা হয় যে ‘কানা’ এখানে তাম্মাহ এবং এর ‘ফায়েল’ (কর্তা) ‘মান’-এর দিকে ফিরেছে, তবে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার প্রয়োজন হতো না। আর ‘আনা’ শব্দটি একটি উহ্য মুবতাদা-এর খবর, অর্থাৎ ‘হুয়া আনা’ (সে আমি) অথবা অন্য কেউ; কিংবা এটি ‘মান কানা’-এর ‘মান’ থেকে বদল (পরিবর্তক), যা নসবযুক্ত পদের স্থলে রফাযুক্ত জমির (সর্বনাম) ধার করার অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি ‘মা আনা কানাত’-এ মাজরুরের (যেরযুক্ত পদ) ক্ষেত্রে ধার করা হয়েছিল। (সমাপ্ত)। (অন্যতম হলো) তাদের উক্তি ‘বাদাল লাতিয়্যা ওয়াল লাতি’ (ছোট ও বড় বিপত্তির পর)। রুমের মুহাক্কিক হাসান চেলেবি আল-ফানারারি বলেছেন: ‘আল-লাতিয়্যা’ হলো ‘আল-লাতি’ শব্দের তাসগির (ক্ষুদ্রতাবাচক রূপ) যা কিয়াসের বিপরীত। কারণ তাসগিরের নিয়ম হলো প্রথম অক্ষরে পেশ প্রদান করা, কিন্তু এটি তার আসল যবরকেই বজায় রেখেছে। তবে তারা শুরুতে পেশ দেওয়ার পরিবর্তে শেষে একটি আলিফ বাড়িয়ে এর ক্ষতিপূরণ করেছে, যেমনটি তারা এর সমজাতীয় শব্দ ‘আল-লাযিয়্যা’, ‘যাইয়া’ এবং ‘যাইয়াক’-এর ক্ষেত্রে করেছে। এর অর্থ হলো: সেই ছোট এবং বড় মুহূর্তের পর যার ভয়াবহতার কারণে বর্ণনা করার ভাষা হারিয়ে যায়। এখানে ‘সিলাহ’ (সংযোজক বাক্য) বিলুপ্ত করা হয়েছে যাতে করে বিষয়টি বর্ণনায় ইবারতের অপ্রতুলতা ইঙ্গিত করা যায়। এখানে বিষয়টি বড় করে দেখানোর যে দিকটি রয়েছে তা গোপন নয়। (সমাপ্ত)। এর মূল উৎস হলো আরবরা এই প্রবাদটি এমন কঠিন কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে যা তারা করতে চায় না। তারা ইতিপূর্বে বর্ণিত কারণে এই শব্দদ্বয়ের ‘সিলাহ’ শব্দগত বা উহ্য কোনোভাবেই উল্লেখ না করাকে আবশ্যক করে নিয়েছে। আমাদের কোনো কোনো উস্তাদের উস্তাদ একে কাব্যবদ্ধ করেছেন:
হে প্রজ্ঞাবান ব্যাকরণবিদ!
… এবং যিনি অলঙ্কারশাস্ত্রের সূক্ষ্ম রহস্যের ধারক।
কোন দুটি ইসম মাউসুল যা মাবনি (অপরিবর্তনীয়)?
… অথচ তাদের কখনো সিলাহ (সংযোজক বাক্য) যুক্ত হয় না।
(অন্যতম হলো) তাদের উক্তি ‘আওয়ালান ওয়া বিয-যাত’ (প্রথমত ও স্বয়ং)। আল-ফানারারি আল-মুতাউওয়াল-এর হাশিয়ায় (টীকা) বলেছেন: ‘আওয়ালান’ শব্দটি যরফ (কালবাচক) হওয়ার কারণে নসবযুক্ত হয়েছে যার অর্থ হলো ‘পূর্বে’। এটি একটি মুনসারিফ (রূপান্তরযোগ্য) শব্দ, এখানে এর কোনো বিশেষত্ব (সিফাত) নেই, আর এই কারণেই এতে তানউইন প্রবেশ করেছে অথচ এটি মূলত ‘আফআলুত তাফদিল’ (আতিশয্যবাচক) হওয়ার কথা ছিল; যার প্রমাণ হলো এর স্ত্রীলিঙ্গ ‘আল-উলা’ এবং বহুবচন ‘আল-আওয়াইল’, যেমন ‘আল-ফুযলা’ এবং ‘আল-আফাযিল’। আস-সিহাহ কিতাবে যা বলা হয়েছে তার অর্থও এটিই: যখন আপনি একে সিফাত (বিশেষণ) হিসেবে গণ্য করবেন তখন একে ‘গইরে মুনসারিফ’ (অপরিবর্তনশীল) পড়বেন, যেমন আপনি বলবেন: ‘আমি তার সাথে গত বছরের আগের বছর সাক্ষাৎ করেছি’। আর যখন একে সিফাত হিসেবে গণ্য করবেন না, তখন একে মুনসারিফ পড়বেন এবং বলবেন: ‘আমি তার সাথে প্রথমত এক বছর সাক্ষাৎ করেছি’, যার অর্থ প্রথমটিতে হবে ‘এই বছরের প্রথম দিকে’ আর দ্বিতীয়টিতে হবে ‘এই বছরের আগে’। আর ‘বিয-যাত’-এর ‘বা’ বর্ণটি ‘ফি’ (মধ্যে) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যা ‘আওয়ালান’-এর ওপর আতফ (সংযুক্ত) হয়েছে। অর্থাৎ কোনো মাধ্যম ছাড়াই মূল অর্থের সত্তার মধ্যে। (অন্যতম হলো) তাদের উক্তি ‘ওয়া হাযাশ শাইয়ু লা মাহালা কযা’ (এবং এই বিষয়টি অনিবার্যভাবে এমন)। এটি একটি ‘মাসদারে মিমি’ (মিম-যুক্ত ক্রিয়ামূল), যার অর্থ এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন হওয়া। ‘লা’-এর খবর এখানে উহ্য, অর্থাৎ ‘লা মাহালা মাওজুদুন’ (কোনো পরিবর্তন বিদ্যমান নেই)। এই বাক্যটি ‘ইন্না’-এর ইসম ও খবরের মাঝে ‘জুমলা মু’তারিযাহ’ (মধ্যবর্তী বাক্য) হিসেবে এসেছে যা হুকুমকে জোরালো করতে ব্যবহৃত হয়। (অন্যতম হলো) তাদের উক্তি ‘লা আফআলুহু আল-বাত্তাহ’ (আমি এটি মোটেই করব না)। এটি ‘আল-বাত’ থেকে নির্গত মাসদার যার অর্থ বিচ্ছিন্ন করা। আল-কামুস অভিধানে বলা হয়েছে: ‘লা আফআলুহু আল-বাত্তাতা’ অর্থাৎ এমন প্রত্যেক কাজ যাতে আর ফিরে আসার অবকাশ নেই। (সমাপ্ত)। লোকমুখে প্রসিদ্ধ আছে যে এর হামজাটি...
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪১)
همزة قطع وبه صرح الإمام الكرماني في شرح البخارى ورده الحافظ ابن حجر في شرحه فتح البارى بما حاصله أنه لم ير أحد من أهل اللغة صرح بذلك ونازعه البدر العينى في شرحه أيضًا بأن عدم رؤيته واطلاعه على التصريح بذلك لا ينافي وجوده قلت القياس يقتضى ما قاله الحافظ فإنه من المصادر الثلاثية وهمزاتها همزة وصل ومنازعة العينى لا تثبت المدعى نعم قد يقال من حسن الظن بالإمام الكرماني أنه لا يقول ذلك من رأيه مع مخالفته لقياسه على نظائره فلوك وقوفه على ما ثبت في ذلك لما قاله وصرح بعض الفضلاء بأن المشهور كونها همزة قطع وأنه مما خالف القياس وهو يؤيد ما قاله الكرماني والله تعالى أعلم بحقيقة الحال ثم رأيت في الشرح الكبير للعلامة الدماميني على المغنى عند قوله في باب الهمزة ولو كان على الاستفهام الحقيقى لم يكن مدحا البتة ما نصه هي بمعنى القول المقطوع به قال الرضى وكان اللام فيها في الأصل للعهد أي القطعة المعلومة التي لا تعدد فيها فالتقدير هنا أجزم بهذا الأمر وهو أنه لو كان على حقيقة الاستفهام لم يكن مدحًا قطعة واحدة والمعنى أنه ليس فيه تردد بحيث أجزم به ثم يبدو لي ثم أجزم به مرة أخرى ليكون قطعتين أو أكثر بل هو قطعة واحدة لا شيء فيها للنظر فالبتة بمعنى القطعة ونصبها نصب المصادر انتهى وفى هذا إشارة ظاهرة إلى أن الهمزة همزة وصل بل كلام الرضى كالصريح في ذلك اللهم إلا أن يكون ذلك بناء على ما هو القياس فلا ينافي ما قدمناه من أن قطع همزتها مما خالف القياس ثم رأيت التصريح بذلك في تصريح الشيخ خالدا زهرى في بحث المعرفة حيث قال البتة بقطع الهمزة سماعا قاله شارح اللباب والقياس وصلها انتهى بحروفه فليتأمل (ومنها) قولهم فضلا كقولك فلان لا يملك درهما فضلا عن دينار ومعناه أنه لا يملك درهما ولا دينار أو أن عدم ملكه للدينار أولى من عدم للدرهم وكأنه قال لا يملك درهما فكيف يملك دينارًا وانتصابه على وجهين محكيين عن الفارسى أحدهما أن يكون مصدرًا بفعل محذوف وذلك الفعل نعت للنكرة والثانى أن يكون حالًا من معمول الفعل المذكور وهو درهما وإنما ساغ مجيء الحال منه مع كونه نكرة للمسوغ وهو وقوع النكرة في سياق النفى والنفى يخرج النكرة من حيز الإبهام إلى حيز العموم وضعف الوصف فإنه متى امتنع الوصف بالحال أو ضعف ساغ مجيئها من النكرة فالأول كقوله تعالى {أَوْ كَالَّذِي مَرَّ عَلَى قَرْيَةٍ وَهِيَ خَاوِيَةٌ عَلَى عُرُوشِهَا} فإن الجملة المقرونة بالواو لا تكون صفة خلافًا للمزمخشرى والثاني كقولهم مررت بماء
এটি একটি ছেদকারী হামজা (همزة قطع); ইমাম আল-কিরমানী সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফাতহুল বারীতে এর প্রতিবাদ করে সারসংক্ষেপে বলেছেন যে, ভাষাবিদদের কাউকেই তিনি এটি স্পষ্টভাবে বলতে দেখেননি। বদরুদ্দিন আল-আইনীও তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে ইবনে হাজারের বিরোধিতা করে বলেছেন যে, তাঁর এটি না দেখা বা এ বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা সম্পর্কে অবহিত না থাকা এর অস্তিত্বকে নাকচ করে দেয় না। আমি বলি, পদ্ধতিগত নিয়ম (قياس) হাফেজ ইবনে হাজারের কথাকেই সমর্থন করে, কারণ এটি তিন অক্ষরবিশিষ্ট ক্রিয়ামূল (مصدر) সমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এগুলোর হামজা হলো সংযোগকারী হামজা (همزة وصل)। আল-াইনীর এই বিতর্ক দাবিটিকে প্রমাণ করে না। হ্যাঁ, ইমাম আল-কিরমানীর প্রতি সুধারণার বশবর্তী হয়ে বলা যেতে পারে যে, অনুরূপ দৃষ্টান্তগুলোর পদ্ধতিগত নিয়মের (قياس) বিপরীতে তিনি বিষয়টি নিজের পক্ষ থেকে বলেননি; বরং এ বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণের ওপর ভিত্তি করেই তিনি তা বলেছেন, যা হয়তো অন্যের নজরে পড়েনি। কিছু বিজ্ঞ আলেম স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, এটি ছেদকারী হামজা (همزة قطع) হিসেবেই প্রসিদ্ধ এবং এটি পদ্ধতিগত নিয়মের (قيাস) পরিপন্থী; যা আল-কিরমানীর বক্তব্যকেই সমর্থন করে। আর প্রকৃত অবস্থা আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। এরপর আমি আল্লামা আদ-দামামিনী কর্তৃক আল-মুগনী গ্রন্থের বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থে হামজা অধ্যায়ে তাঁর এই উক্তির অধীনে দেখেছি যে—'যদি এটি প্রকৃত জিজ্ঞাসাবোধক অর্থে হতো, তবে এটি মোটেও প্রশংসাসূচক হতো না'—এর ব্যাখ্যায় তিনি লিখেছেন: এটি সুনিশ্চিত বক্তব্যের অর্থে ব্যবহৃত হয়। ইমাম রাযী বলেছেন, এর শুরুতে থাকা ‘লাম’ মূলত নির্দিষ্টকরণের জন্য, অর্থাৎ এটি এমন একটি সুনিশ্চিত অংশ যাতে কোনো বহুত্ব নেই। সুতরাং এখানে মূল বক্তব্য হলো—আমি এই বিষয়ে দৃঢ়ভাবে নিশ্চিত করছি যে, এটি যদি প্রকৃত জিজ্ঞাসাবোধক হতো তবে তা মোটেই প্রশংসা হতো না। এর অর্থ হলো এতে কোনো দ্বিধা নেই যে আমি এটি নিয়ে নিশ্চিত হবো, তারপর পুনরায় ভেবে দেখে আবার নিশ্চিত হবো যেন তা দুই বা ততোধিক নিশ্চিত অংশে পরিণত হয়; বরং এটি একটিই অবিভাজ্য অংশ যাতে নতুন করে ভাবার কিছু নেই। সুতরাং ‘আল-বাত্তাহ’ অর্থ হলো বিচ্ছিন্ন অংশ এবং এর নসব (যবর) হয়েছে ক্রিয়ামূল (مصدر) হিসেবে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে যে, এই হামজাটি একটি সংযোগকারী হামজা (همزة وصل), বরং ইমাম রাযীর বক্তব্য এ বিষয়ে স্পষ্ট। তবে এটি পদ্ধতিগত নিয়মের (قياس) ওপর ভিত্তি করে হতে পারে, যা আমাদের পূর্বে উল্লিখিত এই বক্তব্যের বিরোধী নয় যে—এর হামজাটি ছেদকারী হওয়া নিয়ম বহির্ভূত। এরপর আমি শেখ খালিদ আল-আযহারীর ‘তাসরীহ’ নামক গ্রন্থে ‘মারেফা’ (নির্দিষ্ট বিশেষ্য) অধ্যায়ে এর স্পষ্ট উল্লেখ পেয়েছি, যেখানে তিনি বলেছেন: ‘আল-বাত্তাহ’ শব্দটি শ্রুতিনির্ভর (سماعاً) ভাবে ছেদকারী হামজা (همزة قطع) যোগে গঠিত; এটি আল-লুবাব গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার বলেছেন, যদিও পদ্ধতিগত নিয়ম (قياس) অনুযায়ী এটি সংযোগকারী হামজা (همزة وصل) হওয়ার কথা। বিষয়টি অনুধাবনযোগ্য। (অন্যতম উদাহরণ হলো) তাদের উক্তি ‘ফাদলান’ (فضلاً), যেমন তোমার কথা: ‘অমুকের কাছে এক দিরহামও নেই, এক দিনার তো দূরের কথা’। এর অর্থ হলো তার কাছে দিরহামও নেই, দিনারও নেই; অথবা দিরহাম না থাকাটা দিনার না থাকার চেয়েও অধিক যুক্তিসঙ্গত। বিষয়টি এমন যেন সে বলল: তার কাছে দিরহামই নেই, তবে দিনার থাকবে কীভাবে? এর নসব (যবর) হওয়ার বিষয়ে ইমাম ফারিসী থেকে দুটি মত বর্ণিত হয়েছে: প্রথমটি হলো এটি একটি উহ্য ক্রিয়ার ক্রিয়ামূল (مصدر) এবং সেই ক্রিয়াটি অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) এর বিশেষণ (সিফাত) হিসেবে কাজ করছে। দ্বিতীয়টি হলো এটি উল্লিখিত ক্রিয়ার কর্ম অর্থাৎ ‘দিরহাম’ থেকে অবস্থা (حال) হিসেবে এসেছে। অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) হওয়া সত্ত্বেও এখান থেকে অবস্থা (حال) আসা বৈধ হয়েছে এই কারণে যে, এই অনির্দিষ্ট বিশেষ্যটি না-বোধক বাক্যে ব্যবহৃত হয়েছে। আর না-বোধক বাক্য অনির্দিষ্ট বিশেষ্যকে অস্পষ্টতার বলয় থেকে বের করে ব্যাপকতার অর্থে নিয়ে যায় এবং বিশেষণের প্রয়োজনীয়তাকে দুর্বল করে দেয়। যখন অবস্থা (حال) দ্বারা বিশেষণ হওয়া অসম্ভব বা দুর্বল হয়ে পড়ে, তখন অনির্দিষ্ট বিশেষ্য (نكرة) থেকে অবস্থা (حال) আসা বৈধ হয়। প্রথমটির উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {অথবা সেই ব্যক্তির মতো যে এমন এক জনপদ দিয়ে যাচ্ছিল যা তার ছাদের ওপর বিধ্বস্ত ছিল}। এখানে ওয়াও (و) যুক্ত বাক্যটি বিশেষণ (সিফাত) হতে পারে না, যদিও আল-যামাখশারী এর ভিন্নমত পোষণ করেছেন। দ্বিতীয়টির উদাহরণ হলো তাদের বক্তব্য: 'আমি পানির পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি'। 1024
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪২)
قعدة رجل فإن الوصف بالمصدر خارج عن القياس وإنما لم يجز الفارسي في فضلًا كونه صفة الدرهم لأنه رآه منصوبًا أبدًا سواء كان ما قبله منصوبًا أم مرفوعًا أو مخفوضا وزعم أبو حيان أن ذلك لأنه لا يوصف بالمصدر إلا إذا أريدت المبالغة لكثرة وقوع ذلك الحدث من صاحبه وليس ذلك بمراد هنا وأما القول بأنه يوصف بالمصدر على تأويله بالمشتق أو على تقدير المضاف فليس قول المحققين فهذا منتهى القول في توجيه إعراب الفارسى وأما تنزيله على المعنى المراد فعسر وقد خرج على أنه من باب قوله على لاحب لا يهتدى بمناره ولم يذكر أبو حيان سوى ذلك وقال قد يسلطون النفى على المحكوم عليه بانتفاء صفته فيقولون ما قام رجل عاقل فيقوم فإنه لا يريد إثبات منار للطريق وينفى الاهتداء عنه إنما يريد نفى المنار فتنتفى الهداية وعلى هذا خرج فما تنفعهم شفاعة الشافعين أي لا شافع لهم فتنفعهم شفاعته وعلى هذا يتخرج المثال المذكور أي لا يملك درهما فيفضل عن دينار له وإذا انتفى ملكه للدرهم كان انتفاء ملكه للدينار أولى وفيه أن فضلًا مقيد للدرهم أو معمول للمقيد على الإعرابين السابقين فلو قدر النفى مسلطا على القيد اقتضى مفهومه خلاف المرد وهو أنه يملك الدرهم ولكنه لا يملك الدينار ولما امتنع هذا تعين الحمل على الوجه المرجوح وهو تسليط النفى على المقيد وهو الدرهم فينتفي الدينار لأن الذي لا يملك الأقل لا يملك الأكثر فإن المراد بالدرهم ما يساويه من النقود لا الدرهم العرفى * والذي ظهر لى في توجيه هذا الكلام أن يقال أنه في الأصل جملتان مستقلتان ولكن الجملة الثانية دخلها حذف كثير وتغيير حصل الإشكال بسببه وتوجيه ذلك أن يكون هذا الكلام في اللفظ أو في التقدير جوابًا لمستخبر قال لا يملك فلان دينارًا أوردا على مخبر قال فلان يملك دينارًا فقيل في الجواب فلان لا يملك درهما ثم استؤنف كلام آخر ولك في تقديره وجهان أحدهما أن يقدر أخبرك بهذا زيادة عن الإخبار عن دينار استفهمت عنه أو زيادة عن دينار أخبرت بملكه له ثم حذفت جملة أخبرك بهذا وبنى معمولها وهو فضلًا كما قالوا حينئذ الآن بتقدير كان ذلك ح واسمع الآن فحذفوا الجملتين وأبقوا من كل منهما معمولها ثم حذف مجرور عن وجار الدينار وأدخلت عن الأول على الدينار كما قالوا ما رأيت رجلًا أحسن في عينه الكحل من زيد والأصل منه في عين زيد ثم حذف مجرور من وهو الضمير وجار العين وهو في ودخلت من على العين * والثانى أن يقدر فضل انتفاء الدرهم عن فلان فضلًا عن انتفاء الدينار عنه ومعنى ذلك أن يكون حالة هذا المذكور في الفقر معروفة عند الناس والفقير أنما ينفى عنه
'কা'দাতু রাজুলিন' (قعدة رجل)-এর ন্যায়; কেননা ক্রিয়ামূল (مصدر) দ্বারা বিশেষণ (صفة) প্রদান করা নিয়মবহির্ভূত। ইমাম ফারিছি 'ফাদলান' (فضلًا) শব্দটিকে দিরহামের বিশেষণ (صفة) হওয়া জায়েজ মনে করেননি, কারণ তিনি একে সর্বদা নসবযুক্ত (منصوب) অবস্থায় দেখেছেন—তা সেটির পূর্ববর্তী শব্দ নসবযুক্ত (منصوب), রফাযুক্ত (مرفوع) বা জরযুক্ত (مخفوض) যা-ই হোক না কেন। আবু হাইয়ানের দাবি হলো, এটি এজন্য যে, ক্রিয়ামূল (مصدر) দ্বারা ততক্ষণ পর্যন্ত বিশেষণ (صفة) প্রদান করা যায় না, যতক্ষণ না সেই কাজের আধিক্যের কারণে কর্তার পক্ষ থেকে আতিশয্য (المبالغة) প্রকাশ করা উদ্দেশ্য হয়; আর এখানে তা উদ্দেশ্য নয়। আর ক্রিয়ামূল (مصدر)-কে ব্যুৎপন্ন শব্দ (المشتق) হিসেবে ব্যাখ্যা করে কিংবা সম্বন্ধপদ (المضاف) উহ্য ধরে বিশেষণ (صفة) করার যে মতটি রয়েছে, তা গবেষক আলেমগণের (المحققين) অভিমত নয়। ইমাম ফারিছীর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) সপক্ষে এটিই চূড়ান্ত কথা। তবে কাঙ্ক্ষিত অর্থের সাথে এর সামঞ্জস্য বিধান করা বেশ কঠিন।
এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটি 'আলা লা-হিবিন লা ইয়াহতাদি বি-মানারিহি' (এমন এক প্রশস্ত পথ যার পথচিহ্ন দ্বারা সঠিক পথ পাওয়া যায় না) পঙক্তির ন্যায়। আবু হাইয়ান এটি ছাড়া অন্য কোনো ব্যাখ্যা উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, কখনো কখনো আলেমগণ কোনো গুণের অনুপস্থিতির কারণে উক্ত গুণবিশিষ্ট ব্যক্তি বা বস্তুর ওপর না-বোধকতা (النفي) প্রয়োগ করেন। যেমন তারা বলেন, 'মা কামা রাজুলুন আকিলুন' (কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি দাঁড়ায়নি)। এখানে বক্তার উদ্দেশ্য পথচিহ্নের অস্তিত্ব স্বীকার করে তা দিয়ে পথ না পাওয়াকে বুঝানো নয়, বরং তার উদ্দেশ্য হলো পথচিহ্নের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা, যার ফলে পথ পাওয়ার বিষয়টিও নাকচ হয়ে যায়।
এর ওপর ভিত্তি করেই আয়াতের ব্যাখ্যা করা হয়েছে: 'তাদের জন্য সুপারিশকারীদের সুপারিশ কোনো উপকারে আসবে না'—অর্থাৎ তাদের জন্য কোনো সুপারিশকারীই নেই যে তাদের সুপারিশ উপকারে আসবে। উক্ত উদাহরণটিও একইভাবে ব্যাখ্যাত হবে। অর্থাৎ, সে এক দিরহামেরই মালিক নয়, সুতরাং তার এক দিনারের অতিরিক্ত (فضلًا) কিছু থাকার প্রশ্নই আসে না। যখন তার দিরহামের মালিকানা নাকচ হয়ে গেল, তখন দিনারের মালিকানা না থাকা অতিব জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। এতে আপত্তি রয়েছে যে, 'ফাদলান' (فضلًا) শব্দটি দিরহামের জন্য সীমাবদ্ধকারী অথবা পূর্বোক্ত দুটি ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) অনুযায়ী সীমাবদ্ধকারী শব্দের অনুগামী। যদি না-বোধকতাকে (النفي) সীমাবদ্ধতার ওপর প্রয়োগ করা হয়, তবে এর মর্মার্থ (مفهوم) উদ্দেশ্যর বিপরীত হয়ে দাঁড়াবে। আর তা হলো—সে দিরহামের মালিক ঠিকই, কিন্তু দিনারের মালিক নয়। যেহেতু এটি অসম্ভব, তাই এখানে মারজুহ বা দুর্বল মতটি গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, আর তা হলো না-বোধকতাকে (النفي) সরাসরি সীমাবদ্ধ বিষয় অর্থাৎ দিরহামের ওপর প্রয়োগ করা। ফলে দিনারের মালিকানাও নাকচ হয়ে যাবে। কারণ যার কাছে অল্প নেই, তার কাছে বেশি থাকার কথা নয়। এখানে দিরহাম বলতে প্রচলিত দিরহাম নয়, বরং সমপরিমাণ অর্থ উদ্দেশ্য।
এই আলোচনার বিশ্লেষণে আমার কাছে যা স্পষ্ট হয়েছে তা হলো—মূলত এখানে দুটি স্বতন্ত্র বাক্য ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যে প্রচুর বিলোপ (حذف) ও পরিবর্তনের কারণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এর বিশ্লেষণ হলো, এই বাক্যটি শব্দগতভাবে বা অর্থগতভাবে এমন এক প্রশ্নকারীর উত্তর, যে বলেছে—'অমুক ব্যক্তি এক দিনারের মালিক নয়'; অথবা এমন এক সংবাদদাতার প্রতিবাদে বলা হয়েছে যে বলেছে—'অমুক ব্যক্তি এক দিনারের মালিক'। তখন উত্তরে বলা হলো—'সে তো এক দিরহামেরই মালিক নয়'। এরপর নতুন করে আরেকটি কথা শুরু করা হলো। এর সম্ভাব্য দুটি রূপ হতে পারে:
প্রথমত: উহ্য বাক্যটি এমন—'আমি তোমাকে দিনার সম্পর্কে তোমার জিজ্ঞাসার অতিরিক্ত সংবাদ দিচ্ছি' অথবা 'তুমি যে দিনারের মালিকানার সংবাদ দিয়েছ, আমি তার চেয়েও অতিরিক্ত সংবাদ দিচ্ছি'। এরপর 'আমি তোমাকে এই সংবাদ দিচ্ছি' (أخبرك بهذا) বাক্যটি বিলোপ করা হয়েছে এবং তার অনুগামী শব্দ 'ফাদলান' (فضلًا)-কে বহাল রাখা হয়েছে; যেমনটি তারা 'হীনা ইজিন আল-আনা' (حينئذ الآن) বাক্যের ক্ষেত্রে করে থাকে। এরপর 'আন' (عن) অব্যয়ের মাজরুর বা পরবর্তী শব্দ এবং দিনারের সাথে যুক্ত অব্যয়টি বিলোপ করা হয়েছে এবং প্রথম 'আন' (عن) অব্যয়টিকে দিনারের ওপর দাখিল করা হয়েছে। যেমন তারা বলে থাকে: 'আমি যায়েদের চোখের সুরমার চেয়ে সুন্দর কোনো সুরমা দেখিনি'। এর মূল রূপ ছিল 'মিনহু ফী আইনি যাইদিন' (منه في عين زيد), এরপর 'মিন' (من) এর মাজরুর (সর্বনাম) এবং 'আইন' (عين) এর জর প্রদানকারী অব্যয় 'ফী' (في) বিলোপ করে 'মিন' (من)-কে সরাসরি 'আইন' (عين) শব্দের ওপর দাখিল করা হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: বাক্যটি এভাবে উহ্য ধরা—'অমুক ব্যক্তির দিরহাম না থাকার বিষয়টি দিনার না থাকার চেয়েও অধিক স্পষ্ট'। এর অর্থ হলো, উক্ত ব্যক্তির দরিদ্র অবস্থা মানুষের কাছে সুপরিচিত। আর দরিদ্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে মূলত সামান্য সম্পদের মালিকানাই অস্বীকার করা হয়।
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪৩)
في العادة ملك الأشياء الحقيرة لأملك الأموال الكثيره فوقوع نفى ملك الدرهم عنه في الوجود فاضل عن وقوع نفى الدينار عنه أي أكثر منه يقال فضل عنه وعليه بمعنى زاد وفضلا على التقدير الأول حال وعلى الثاني مصدر وهما الوجهان اللذان ذكرهما الفارسى لكن توجيه الإعرابين مخالف لما ذكر ولعل من لم يقو أنه بتجويزات العرب في كلامها يقدح فيما ذكرت بكثرة الحذف وهو كما قيل (إذا لم تكن إلا الأسنة مركبا • فلا رأى للمحتاج إلا ركوبها) وقد بينت في التوجيه أن مثل هذا الحذف والتجوز واقع في كلامهم هذا خلاصة ما ذكره ابن هشام الأنصاري في رسالته وقد قرر الإعراب والمعنى المراد السيد الشريف قدس سره في حواشي الكشاف على غير ما مر فقال هو مصدر يتوسط بين أدنى وأعلى للتنبيه ينفى الأدنى واستبعاده عن الوقوع على نفى الأعلى واستحالته أي عده محالا عرفا فيقع بعد نفى إما صريح كقولك فلان لا يعطى الدرهم فضلًا عن الدينار تريدان إعطاء الدرهم منفى ومستبعد فكيف يتصور منه إعطاء الدينار وأما ضمنى كقوله وتقاصر الهمم الخ يريد أن هممهم تقاصرت عن بلوغ أدنى عدد هذا العلم وصار منفيا مستبعدا عنهم فكيف ترقى إلى ما ذكر وهو مصدر قولك فضل عن المال كذا إذا ذهب أكثره وبقى أقله ولما اشتمل على معنى الذهاب والبقاء ومعنى الكثرة والقلة ظهر هناك توجيهان * فمنهم من نظر إلى معنى الذهاب والبقاء فقال تقدير الكلام فضل عدم إعطاء الدرهم عن إعطاء الدينار أي ذهب إعطاء الدينار بالمرة وبقى عدم إعطاء الدرهم فالباقى هو نفى الأدنى المذكور قبل فضلًا والذاهب هو نفس الأعلى المذكور بعده * وعلى هذا التوجيه يفوت شيآن من أصل الاستعمال الأول كون الباقى من جنس الذاهب إذ ليس انتفاء الأدنى من جنس الأعلى الثاني كون الباقى أقل من الذاهب إذ لا معنى لكون انتفى الأدنى أقل من جنس الأعلى (فإن قلت) يرد عليه أن المفهوم من فضلا ح أن ما بعده ذاهب منتف بتمامه وأما أنه أدخل في الانتفاء وأقوى فيه مما نفى قبله كما هو المقصود فلا (قلت) قد يفهم ذلك من كونه أعلى وأدنى لأن الأعلى أولى بالانتفاء من الأدنى ومنهم من نظر إلى القلة والكثرة فقال التقدير في المثال فضل عدم إعطاء الدرهم عن عدم إعطاء الدينار أي العدم الأول قليل بالقياس إلى العدم الثاني فإن الأول عدم ممكن مستبعد وقوعه والثانى عدم مستحيل فهو أكثر قوة وأرسخ من الأول * وعلى هذا التوجيه يفوت من أصل الاستعمال معنى الذهاب والبقاء ويلزم أن لا يكون كلمة عن صلة له بحسب معناه المراد بل بحسب أصله ويحتاج إلى تقدير النفي فيما بعد فضلًا * وههنا توجيه ثالث مبنى على اعتبار ورود
সাধারণত তুচ্ছ জিনিসের মালিকানা অনেক সম্পদের মালিকানার আগে অর্জিত হয়। ফলে বাস্তবে তার নিকট থেকে দিরহামের মালিকানা নাকচ হওয়ার বিষয়টি দিনার নাকচ হওয়ার চেয়েও অধিকতর ফলপ্রসূ, অর্থাৎ তার চেয়েও বেশি। বলা হয়ে থাকে এটি তার থেকে অতিরিক্ত হওয়ার অর্থে। প্রথমত এটি অবস্থা নির্দেশক (حال) হিসেবে গণ্য, এবং দ্বিতীয়ত এটি একটি ক্রিয়াঘটিত বিশেষ্য (مصدر)। এই দুটি অভিমত আল-ফারসি উল্লেখ করেছেন। তবে এই দুই প্রকারের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণের (إعراب) দিকনির্দেশনা উল্লিখিত বর্ণনার পরিপন্থী। সম্ভবত যারা আরবদের বাকরীতিতে এই ধরনের প্রয়োগকে শক্তিশালী মনে করেন না, তারা আধিক্যের সাথে উহ্য রাখার (حذف) বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তুলবেন। যেমনটি বলা হয়েছে: "যখন বর্শার ফলক ছাড়া আর কোনো সওয়ারি থাকে না, তখন অনন্যোপায়ের জন্য তাতে আরোহণ করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।" আমি এই ব্যাখ্যায় স্পষ্ট করেছি যে, আরবদের বক্তব্যে এই ধরণের উহ্য রাখা (حذف) এবং রূপক প্রয়োগ (تجوز) বিদ্যমান।
এটি ইবনে হিশাম আল-আনসারি তার রিসালায় যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ। আর আল-সৈয়দ আল-শরীফ (তার আত্মা পবিত্র হোক) আল-কাশশাফের হাশিয়ায় পূর্বের আলোচনার বাইরে এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (إعراب) ও কাঙ্ক্ষিত অর্থ নির্ধারণ করেছেন। তিনি বলেছেন: এটি এমন একটি ক্রিয়াঘটিত বিশেষ্য (مصدر) যা নিম্নতর (أدنى) এবং উচ্চতর (أعلى) বিষয়ের মাঝে সতর্ক করার জন্য আসে। এর মাধ্যমে নিম্নতর বিষয়টি নাকচ করা হয় এবং উচ্চতর বিষয়টি ঘটা অসম্ভব (استحالة) হওয়ার ওপর ভিত্তি করে নিম্নতর বিষয়টি ঘটাও অসম্ভবপর (استبعاد) বলে সাব্যস্ত করা হয়। অর্থাৎ প্রথাগতভাবে (عرفا) তা অসম্ভব (محال) বলে গণ্য হয়। এটি হয় স্পষ্ট (صريح) অস্বীকৃতির (نفي) পরে আসে, যেমন আপনার উক্তি: "অমুক ব্যক্তি দিরহামই দেয় না, দিনার তো দূরের কথা (فضلاً عن الدينار)"। এখানে আপনি বুঝাতে চাচ্ছেন যে, দিরহাম দেওয়াটাই যেখানে নাকচকৃত এবং অসম্ভবপর, সেখানে তার থেকে দিনার দেওয়ার বিষয়টি কীভাবে কল্পনা করা যায়? অথবা এটি পরোক্ষ (ضمني) অস্বীকৃতির (نفي) ক্ষেত্রেও আসে, যেমন বলা হয়েছে "হিম্মত বা সংকল্পের ঘাটতি..." ইত্যাদি। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এই ইলমের ন্যূনতম সংখ্যায় পৌঁছাতেও তাদের সংকল্প ব্যর্থ হয়েছে এবং তা তাদের জন্য নাকচকৃত ও অসম্ভবপর হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাহলে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার উচ্চশিখরে তারা কীভাবে আরোহণ করবে? এটি মূলত আপনার উক্তি 'ফাদালা আনিল মাল' (فضل عن المال) থেকে নির্গত ক্রিয়াঘটিত বিশেষ্য (مصدر), যখন সম্পদের অধিকাংশ চলে যায় এবং সামান্য অংশ অবশিষ্ট থাকে। যেহেতু এটি চলে যাওয়া ও অবশিষ্ট থাকা এবং আধিক্য ও স্বল্পতার অর্থ ধারণ করে, তাই সেখানে দুটি ব্যাখ্যা পরিলক্ষিত হয়।
কেউ কেউ চলে যাওয়া ও অবশিষ্ট থাকার অর্থের দিকে লক্ষ্য করে বলেছেন: বাক্যের মূল কাঠামো হলো, দিরহাম না দেওয়ার বিষয়টি দিনার দেওয়ার চেয়ে অবশিষ্ট রয়েছে। অর্থাৎ দিনার দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে চলে গেছে এবং দিরহাম না দেওয়ার বিষয়টি রয়ে গেছে। সুতরাং অবশিষ্ট বিষয়টি হলো 'ফাজলান' (فضلاً)-এর আগে উল্লিখিত নিম্নতর বিষয়ের অস্বীকৃতি (نفي), আর চলে যাওয়া বিষয়টি হলো এর পরে উল্লিখিত উচ্চতর বিষয়টি। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী ব্যবহারের মূল নীতি (أصل الاستعمال) থেকে দুটি বিষয় বাদ পড়ে যায়: প্রথমত, অবশিষ্ট বিষয়টি চলে যাওয়া বিষয়ের সমজাতীয় হওয়া, কারণ নিম্নতর বিষয়ের অনুপস্থিতি উচ্চতর বিষয়ের সমজাতীয় নয়। দ্বিতীয়ত, অবশিষ্ট বিষয়টি চলে যাওয়া বিষয়ের চেয়ে কম হওয়া, কারণ নিম্নতর বিষয়ের অনুপস্থিতি উচ্চতর বিষয়ের চেয়ে কম হওয়ার কোনো অর্থ হয় না। (যদি বলা হয়) এর ওপর আপত্তি আসে যে, 'ফাজলান' (فضلاً) থেকে যা বোঝা যায় তা হলো এর পরবর্তী বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে চলে যাওয়া বা নাকচ হওয়া। কিন্তু এটি যে আগের নাকচকৃত বিষয়ের চেয়েও অধিকতর শক্তিশালী অস্বীকৃতি (نفي)—যা মূলত উদ্দেশ্য—তা তো প্রকাশ পাচ্ছে না। (উত্তরে বলা হবে) এটি উচ্চতর এবং নিম্নতর হওয়ার বিষয় থেকেই বোঝা যায়, কারণ নিম্নতর বিষয়ের চেয়ে উচ্চতর বিষয়টি নাকচ হওয়ার অধিকতর উপযোগী।
আবার কেউ কেউ স্বল্পতা ও আধিক্যের দিকে লক্ষ্য করে বলেছেন: উদাহরণটির সারমর্ম হলো, দিরহাম না দেওয়ার বিষয়টি দিনার না দেওয়ার বিষয়ের চেয়ে অতিরিক্ত। অর্থাৎ প্রথম না-সূচক (نفي) বিষয়টি দ্বিতীয় না-সূচক বিষয়ের তুলনায় সামান্য, কারণ প্রথমটি একটি সম্ভাব্য বিষয় যা ঘটা সুদূরপরাহত এবং দ্বিতীয়টি একটি অসম্ভব (مستحيل) বিষয়। ফলে দ্বিতীয়টি প্রথমটির চেয়ে অধিক শক্তিশালী ও সুদৃঢ়। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী ব্যবহারের মূল নীতি (أصل الاستعمال) থেকে চলে যাওয়া ও অবশিষ্ট থাকার অর্থটি বাদ পড়ে যায়। এবং এর কাঙ্ক্ষিত অর্থ অনুযায়ী 'আন' (عن) শব্দটি অব্যয় হিসেবে তার অর্থের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে না, বরং তার মূল ব্যুৎপত্তি অনুযায়ী হয়। এক্ষেত্রে 'ফাজলান' (فضلاً)-এর পরবর্তী অংশে একটি না-সূচক (نفي) শব্দ উহ্য ধরার প্রয়োজন হয়। এখানে তৃতীয় আরেকটি ব্যাখ্যা রয়েছে যা বিবেচনার ওপর ভিত্তি করে...
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪৪)
النفى على الأدنى بعد توسط فضلًا بينه وبين الأعلى كأنه قيل يعطى الدرهم فضلًا عن الدينار أي فضل إعطاء الدرهم عن إعطاء الدينار على معنى ذهب إعطاء الدينار وبقى من جنسه بقية هي إعطاء الدرهم ثم أورد النفى على البقية وإذا انتفى بقية الشيء كان ما عداها أقدم منها في الانتفاء ويرجع حاصل المعنى إلى أن إعطاء الدينار انتفى أولًا ثم تبعه في الانتفاء إعطاء الدرهم انتهى ملخصًا ثم ذكر بعد ما مر ما نصه قال رحمه الله تعالى لزم حذف ناصب فضلًا لجريه مجرى تتمة الأول بمنزلة لاسيما ولا محل لذلك المحذوف من الأعراب البتة ورد به على من زعم أنه حال ولا يلتبس عليك أن فاعل ذلك المحذوف هو الأدنى على الوجه الأخير ونفيه على الوجهين الأولين انتهى وعدم صحة كونه حالًا على المعنى الذي قرره ظاهر وكذا عدم كون الجملة صفة بخلاف ذلك كله على المعنى الذي قرره ابن هشام كما لا يخفى على ذوى الأفهام (ومنها) قولهم وهذا بخلاف كذا والظاهر أن الخير خلاف والباء زائدة فيه كقوله تعالى (وجزاء سيئة بمثلها) أو الخلاف اسم مصدر خالف أي وهذا ملتبس بمخالفة كذا (ومنها) قولهم وليس هذا كما زعمه فلان صوابا ونظائره ومثله قول المطول وليس كما توهمه كثير من الناس مبنيا قال محشيه الفاضل السيلكوتى أي ليس مبنيا بناء مثل ما توهمه كثير من الناس أو في موقع الحال من ضمير مبنيا أي ليس مبنيا حال كونه مماثلا لما توهمه كثير على ما قاله صاحب المغنى في قوله تعالى (كما بدأنا أول خلق نعيده) والقول بأنه خبر ليس ومبنيا بدل منه أو خبر بعد خبر تكلف (ومنها) قولهم قالوا عن آخرهم ومثله قول الكشاف وقد عجزوا عن آخرهم قال السيد الشريف قدس سره عن آخرهم صفة مصدر محذوف أي عجزا صادرا عن آخرهم وهو عبارة عن الشمول فإن العجز إذا صدر عن الآخر فقد صدر أولًا عن الأول وقيل عجزا متجاوزا عن آخرهم فيدل على شموله إياهم وتجاوزه عنهم فهو أبلغ من أن يقال عجزوا كلهم ورد بأن التجاوز بمعنى التعدى والمجاوزة يتعدى بنفسه والذي يتعدى بعن معناه العفو وقيل عجزا صادرا عن آخرهم إلى أولهم ورد بأن مقابل إلى هو من لاعن انتهى (ومنها) قولهم وناهيك بكذا كقول الكشاف وناهيك بتسوية سيبويه دلالة قاطعة قال السيد الشريف قدس سره أي حسبك وكافيك بتسويته وهو اسم فاعل من النهى كأنه ينهاك عن تطلب دليل سواه يقال زيد ناهيك من رجل أي هو ينهاك عن غيره يجده وغنائه ودلالة قاطعة نصب على التمييز من ناهيك انتهى وعليه فالباء مزيدة في الفاعل (ومنها) قوله يجوز كذا خلافًا لفلان ووجهه الجمال ابن هشام
উচ্চতর ও নিম্নতরের মাঝে ‘ফাদলান’ (বরং) শব্দটির মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিম্নতর বিষয়ের ওপর না-বাচকতা আরোপ করা; যেন বলা হয়েছে— তাকে দিনার তো দূরের কথা, দিরহামও দেওয়া হয় না। অর্থাৎ দিনার প্রদানের তুলনায় দিরহাম প্রদানের শ্রেষ্ঠত্ব বা ব্যবধান এমনভাবে প্রকাশ করা হয়েছে যে, দিনার প্রদানের বিষয়টি অপসারিত হয়েছে এবং সেই জাতীয় বিষয়ের অবশিষ্টাংশ হিসেবে দিরহাম প্রদান অবশিষ্ট রয়েছে। অতঃপর সেই অবশিষ্টাংশের ওপরও না-বাচকতা আরোপ করা হয়েছে। আর যখন কোনো জিনিসের অবশিষ্টাংশই নাকচ হয়ে যায়, তখন সেই অবশিষ্টাংশ ব্যতীত অন্য যা কিছু আছে তা বিলুপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আরও অগ্রগণ্য হয়। এর সারকথা এই যে, প্রথমে দিনার দেওয়ার বিষয়টি নাকচ হয়েছে, অতঃপর তাকে অনুসরণ করে দিরহাম দেওয়ার বিষয়টিও নাকচ হয়েছে—সংক্ষেপে সমাপ্ত।
অতঃপর যা অতিবাহিত হয়েছে তার পরে তিনি নিমোক্ত পাঠটি উল্লেখ করেন: তিনি (রহিমাহুল্লাহ তায়ালা) বলেন, ‘ফাদলান’ শব্দের নসব দানকারী আমেলকে বিলুপ্ত করা আবশ্যক; কারণ এটি ‘লা-সিয়ামা’ এর ন্যায় প্রথম বাক্যের পরিশিষ্ট হিসেবে গণ্য হয়। সেই বিলুপ্ত আমেলের ব্যাকরণিক অবস্থানের কোনো স্থান নেই। এর মাধ্যমে তিনি ঐ ব্যক্তির মতকে খণ্ডন করেছেন যে একে ‘হাল’ (অবস্থা) বলে দাবি করেছিল। আপনার নিকট যেন বিষয়টি অস্পষ্ট না থাকে যে, শেষোক্ত সুরতে সেই বিলুপ্ত আমেলের কর্তা হলো সেই নিম্নতর বস্তুটি এবং প্রথম দুই সুরতে তার অস্বীকৃতি জ্ঞাপন।—সমাপ্ত। তিনি যে অর্থ সাব্যস্ত করেছেন সেই অনুযায়ী এটি ‘হাল’ হওয়া অশুদ্ধ হওয়া সুস্পষ্ট। অনুরূপভাবে বাক্যটি বিশেষণ না হওয়াও স্পষ্ট; ইবনে হিশাম যে অর্থ সাব্যস্ত করেছেন তার পরিপন্থী, যা প্রজ্ঞাবানদের নিকট গোপন নয়।
(তন্মধ্যে একটি হলো) তাদের উক্তি: ‘এটি অমুকের বিপরীত’। এর প্রকাশ্য অর্থ হলো ‘কল্যাণ হলো বিপরীত’ এবং এতে ‘বা’ বর্ণটি অতিরিক্ত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ‘আর মন্দের প্রতিফল তার অনুরূপ মন্দ’। অথবা ‘খিলাফ’ শব্দটি ‘খালাফা’ ক্রিয়ামূলের বিশেষ্য; অর্থাৎ ‘এটি অমুকের বিরোধিতার সাথে সম্পৃক্ত’।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) তাদের উক্তি: ‘অমুক যা দাবি করেছেন বিষয়টি তেমন সঠিক নয়’ এবং এর সদৃশ অন্যান্য উদাহরণ। যেমন ‘মুতাউওয়াল’ কিতাবের উক্তি: ‘অনেক মানুষ যা ধারণা করেছে এটি তেমন ভিত্তিহীন নয়’। এর বিজ্ঞ ব্যাখ্যাকার সিয়ালকোটি বলেন: অর্থাৎ ‘এটি এমন কোনো নির্মাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত নয় যা অনেক মানুষের ধারণার অনুরূপ’। অথবা এটি ‘ভিত্তিহীন’ শব্দের অন্তর্গত সর্বনাম থেকে ‘হাল’ হিসেবে গণ্য; অর্থাৎ ‘এটি এমন অবস্থায় ভিত্তিহীন নয় যা অনেকের ধারণার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ’। যেমনটি ‘মুগনী’ গ্রন্থের লেখক মহান আল্লাহর এই বাণীর ক্ষেত্রে বলেছেন: ‘যেভাবে আমি প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবেই আমি তার পুনরাবৃত্তি করব’। আর একে ‘লাইসা’ এর খবর এবং ‘ভিত্তিহীন’ শব্দটিকে তার বদল বা খবরের পরে খবর বলাটা কষ্টকল্পিত প্রয়াস।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) তাদের উক্তি: ‘তারা তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত বলেছে’। অনুরূপভাবে ‘কাশশাফ’ গ্রন্থের বক্তব্য: ‘তারা তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত অক্ষম হয়ে পড়েছে’। সাইয়্যেদ শরীফ (কুদ্দিসা সিররুহু) বলেন: ‘তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত’ শব্দগুচ্ছটি এখানে একটি বিলুপ্ত ক্রিয়ামূলের বিশেষণ; অর্থাৎ এমন অক্ষমতা যা তাদের শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত প্রকাশ পেয়েছে। এটি মূলত ব্যাপকতা বুঝানোর একটি পরিভাষা। কেননা অক্ষমতা যখন শেষ ব্যক্তির পক্ষ থেকে প্রকাশ পায়, তখন তা প্রথম ব্যক্তির পক্ষ থেকে আরও আগে প্রকাশিত হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এর অর্থ হলো এমন অক্ষমতা যা তাদের শেষ ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে গেছে; ফলে এটি তাদের সকলকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং তাদের ছাড়িয়ে যাওয়ার ওপর প্রমাণ বহন করে। সুতরাং এটি ‘তারা সবাই অক্ষম হয়েছে’ বলার চেয়েও অধিকতর অলংকারপূর্ণ। তবে এই মতটি এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, ‘অতিক্রম করা’ অর্থে শব্দটি সরাসরি কর্মপদ গ্রহণ করে, আর যা ‘আন’ অব্যয়ের মাধ্যমে ব্যবহৃত হয় তার অর্থ হলো ক্ষমা করা। আবার কেউ কেউ বলেন, এটি তাদের শেষ ব্যক্তি থেকে শুরু করে প্রথম ব্যক্তি পর্যন্ত প্রকাশিত অক্ষমতা। এটিও এই বলে খণ্ডন করা হয়েছে যে, ‘পর্যন্ত’ এর বিপরীতে ‘থেকে’ ব্যবহৃত হয়, ‘আন’ নয়।—সমাপ্ত।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) তাদের উক্তি: ‘অমুক বিষয়ই তোমার জন্য যথেষ্ট’। যেমন ‘কাশশাফ’ গ্রন্থের বক্তব্য: ‘সিবওয়াইহ-এর সমতা বিধানই অকাট্য প্রমাণ হিসেবে তোমার জন্য যথেষ্ট’। সাইয়্যেদ শরীফ (কুদ্দিসা সিররুহু) বলেন: অর্থাৎ ‘তার সমতা বিধানই তোমার জন্য পর্যাপ্ত ও যথেষ্ট’। এটি ‘নিষেধ করা’ ক্রিয়া থেকে উৎপন্ন কর্তৃবাচক বিশেষ্য, যেন এটি আপনাকে অন্য কোনো প্রমাণ অনুসন্ধান করা থেকে বিরত রাখছে। বলা হয়ে থাকে: ‘জায়েদ এমন এক ব্যক্তি যে তোমার জন্য যথেষ্ট’; অর্থাৎ সে তার গাম্ভীর্য ও যোগ্যতার কারণে তোমাকে অন্যের মুখাপেক্ষিতা থেকে বিরত রাখে। আর ‘অকাট্য প্রমাণ’ শব্দটি ‘যথেষ্ট’ থেকে ‘তামিয’ হিসেবে নসব হয়েছে।—সমাপ্ত। এই বিশ্লেষণ অনুযায়ী ‘বা’ বর্ণটি কর্তার মধ্যে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়েছে।
(তন্মধ্যে একটি হলো) তার উক্তি: ‘অমুকের মতের বিপরীতে এটি বৈধ’। জামাল ইবনে হিশাম এর ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন...
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪৫)
في بعض مصنفاته فقال قد يقال يجوز فيه وجهان أحدهما أن يكون مصدرًا كما أن قولك يجوز كذا اتفاقا أو إجماعا بتقدير اتفقوا على ذلك اتفاقا وأجمعوا عليه إجماعًا ويشكل على هذا أن فعله المقدر إما اختلفوا أو خالفوا أو خالفت فإن كان اختلفوا أشكل عليه أمران أحدهما أن مصدر اختلف إنما هو الاختلاف لا الخلاف والثانى أن ذلك يأبى أن يقول بعده لفلان وإن كان خالفوا أو خالفت أشكل عليه أن خالف لا يتعدى باللام بل بنفسه وقد يختار هذا القسم ويجاب عن هذا الاعتراض بأن يقال قدر اللام مثلها في سقيا له أي متعلقة بمحذوف تقديره أعني له أو أرادنى له ألا ترى أنه لا يتعلق بسقيا لأن سقى يتعدى بنفسه والوجه الثاني أن يكون حالًا والتقدير أقول ذلك خلافًا لفلان أو مخالفا له وحذف القول كثير جدا حتى قال أبو على هو من باب حدث البحر ولا حرج ودل على هذا العامل أن كل حكم ذكره المصنفون فهم قائلون به وكان القول مقدر قبل كل مسئلة وهذه العلة قريبة من العلة التي ذكرها لاختصاصهم الظروف بالتوسع فيها وذلك أنهم قالوا أن الظروف منزلة من الأشياء منزلة انفسها لوقوعها فيها وأنها لا تنفك عنها والله تعالى أعلم (ومنها) قولهم في التاريخ كان كذا عام كذا قال العلامة الدماميني في أول شرحه الكبير على المغنى عند قوله وقد كنت في عام تسعة وأربعين وسبعمائة كذا ما نصه كثيرًا ما يقع هذا التركيب وهو مشكل وذلك أن المراد من قولك وقع كذا في عام أربعين هو الواقع بعد تسعة وثلاثين وتقرير الإضافة فيه باعتبار هذا المعنى غير ظاهر إذ ليست فيه إلا بمعنى اللام ضرورة أن المضاف إليه ليس جنسا للمضاف ولا ظرفا له فيكون معنى نسبة العام إلى الأربعين كونه جزأ منها كما في يد زيد وهذا لا يؤدى المعنى المقصود إذ يصدق بعام ما منها سواء كان الأخير أو غيره وهو خلاف الغرض ويمكن أن يقال قرينة الحال معينة لأن المراد الأخير وذلك لأن فائدة التاريخ ضبط الحادثة المؤرخة بتعين زمانها ولو كان المراد ما يعطيه ظاهر اللفظ من كون العام المؤرخ به واحدًا من أربعين بحيث يصدق على أي عام فرض لم يكن لتخصيص الأربعين مثلًا معنى يحصل به كمال التمييز للمقصود ولكن قرينة إرادة الضبط بتعين الوقت تقتضى أن يكون هذا العام هو مكمل مدة الأربعين أو يقال حذف مضاف لهذه القرينة والتقدير في عام آخر أربعين والإضافة بيانية أي في عام هو آخر أربعين فتأمله انتهى (أقول) يظهر لى أنه لا حاجة إلى تقدير المضاف بعد جعل الإضافة بيانية فإن الأربعين كما يطلق على مجموعها يطلق على الآخر منها وهكذا غيرها من الإعداد بدليل أنك تقول هذا واحد هذا اثنان
তিনি তাঁর কোনো কোনো রচনায় বলেছেন যে, এতে দুটি দিক থাকা সম্ভব হতে পারে। একটি হলো এটি ক্রিয়ামূল হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া, যেমন আপনার কথা: 'অমুক বিষয়টি সর্বসম্মতি (اتفاقا) বা ঐক্যমত্যের (إجماعًا) ভিত্তিতে বৈধ'—এখানে উহ্য রূপটি হলো 'তারা এ বিষয়ে সর্বসম্মতভাবে (اتفاقا) একমত হয়েছেন' এবং 'তারা এ বিষয়ে ঐক্যমত্যের (إجماعًا) সাথে একমত হয়েছেন'। এ ক্ষেত্রে একটি সমস্যা দেখা দেয় যে, এর উহ্য ক্রিয়াটি হয় 'তারা মতভেদ করেছেন' না হয় 'তারা বিরোধিতা করেছেন' অথবা 'আপনি বিরোধিতা করেছেন'। যদি ক্রিয়াটি 'তারা মতভেদ করেছেন' হয়, তবে দুটি বিষয় জটিল হয়ে দাঁড়ায়: প্রথমটি হলো, 'মতভেদ করা' ক্রিয়াটির ক্রিয়ামূল হলো 'মতভেদ', 'বিরোধিতা' নয়। দ্বিতীয়টি হলো, এটি পরবর্তী অংশে 'অমুকের প্রতি' কথাটি বলার সুযোগ দেয় না। আর যদি ক্রিয়াটি 'তারা বিরোধিতা করেছেন' বা 'আপনি বিরোধিতা করেছেন' হয়, তবে সমস্যা হলো 'বিরোধিতা করা' ক্রিয়াটি 'লাম' অব্যয় যোগে ব্যবহৃত হয় না, বরং সরাসরি ব্যবহৃত হয়। এই মতটি গ্রহণ করা যেতে পারে এবং এই আপত্তির জবাবে বলা যেতে পারে যে, এখানে 'লাম' অব্যয়টিকে 'সুকইয়া লাহু' (তার কল্যাণ হোক) বাক্যের মতো উহ্য ধরা হয়েছে; অর্থাৎ এটি একটি বিলুপ্ত অংশের সাথে সম্পৃক্ত যার উহ্য রূপ হলো 'আমি তাঁর উদ্দেশ্যেই বলছি' অথবা 'তিনি আমার জন্য এটি চেয়েছিলেন'। আপনি কি দেখছেন না যে, এটি 'সুকইয়া' শব্দের সাথে সম্পৃক্ত নয়? কারণ 'সাকা' ক্রিয়াটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়। দ্বিতীয় দিকটি হলো এটি অবস্থাজ্ঞাপক শব্দ হিসেবে গণ্য হওয়া; তখন উহ্য রূপটি হবে—'আমি অমুকের বিরুদ্ধাচরণকারী হিসেবে বা তাঁর বিরোধিতায় এটি বলছি'। এখানে 'বলা' শব্দটিকে উহ্য রাখা অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়, এমনকি আবু আলী বলেছেন এটি 'অকপটে বর্ণনা করে যাও' পর্যায়ের। এই প্রভাবক বিষয়টি নির্দেশ করে যে, গ্রন্থকারগণ যে সকল বিধান উল্লেখ করেন, তাঁরা মূলত সেগুলোর প্রবক্তা এবং প্রতিটি মাসআলার আগেই 'বলা' বিষয়টি উহ্য থাকে। এই কারণটি সেই কারণের কাছাকাছি যা তাঁরা বিশেষত আধার বা সময় ও স্থানের ব্যবহারের প্রসারের ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন। আর তা হলো তাঁরা বলেন, আধারসমূহ বস্তুসমূহের স্থলাভিষিক্ত, কারণ ঘটনাগুলো তার মধ্যেই ঘটে থাকে এবং তা থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (তার মধ্যে অন্যতম) হলো ইতিহাস বর্ণনায় তাঁদের এই উক্তি: 'অমুক সনে এমনটি হয়েছিল'। আল্লামা দামামিনি মুগনি-র ওপর তাঁর বৃহৎ ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে—'আমি সাতশত ঊনপঞ্চাশ সনে ছিলাম'—এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় যা লিখেছেন তার পাঠ হলো: এই বাক্য গঠনটি প্রায়শই ব্যবহৃত হয় কিন্তু এটি কিছুটা জটিল। কারণ আপনার কথা 'চল্লিশ সনে এটি ঘটেছে' বলতে যা বোঝানো হয় তা হলো যা উনচল্লিশের পরে ঘটেছে। এই অর্থের ভিত্তিতে এখানে সম্বন্ধ স্থাপন করা স্পষ্ট নয়, কারণ এটি অনিবার্যভাবে 'লাম' এর অর্থে (সম্পর্ক বুঝাতে) হতে হবে; যেহেতু সম্বন্ধিত পদটি মূল পদের সমজাতীয় কোনো শ্রেণী নয় এবং তার আধারও নয়। ফলে চল্লিশের সাথে বছরের সম্বন্ধের অর্থ দাঁড়াবে এটি তার একটি অংশ, যেমন 'যায়েদের হাত'। এটি কাঙ্ক্ষিত অর্থ প্রদান করে না, কারণ সেক্ষেত্রে চল্লিশের মধ্যকার যেকোনো বছরকেই বোঝানো হতে পারে, তা শেষ বছর হোক বা অন্য কোনোটি; যা মূল উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। তবে এটি বলা সম্ভব যে, পরিস্থিতিগত প্রেক্ষাপট এখানে অর্থ সুনির্দিষ্ট করে দেয়, কারণ এখানে শেষ বছরটিই উদ্দেশ্য। কেননা ইতিহাসের সার্থকতা হলো কাল নির্ধারণের মাধ্যমে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে সংরক্ষণ করা। যদি শব্দের বাহ্যিক অর্থই উদ্দেশ্য হতো—অর্থাৎ বছরটি চল্লিশের মধ্যে যেকোনো একটি বছর হবে—তবে চল্লিশকে সুনির্দিষ্ট করার কোনো অর্থ থাকত না যার মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বছরটি পূর্ণাঙ্গভাবে পৃথক করা যায়। কিন্তু সময় নির্ধারণের মাধ্যমে সংরক্ষণের বিষয়টি দাবি করে যে, এই বছরটিই হবে চল্লিশের সময়সীমা পূর্ণকারী বছর। অথবা বলা যেতে পারে, এই প্রেক্ষাপটের কারণে একটি সম্বন্ধীয় পদ এখানে উহ্য আছে এবং এর সম্ভাব্য রূপ হলো 'চল্লিশের সমাপ্তি বছরের মধ্যে', আর এখানে সম্বন্ধটি হবে ব্যাখ্যামূলক, অর্থাৎ এমন একটি বছর যা চল্লিশের সমাপ্তি। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন। সমাপ্ত। (আমি বলছি) আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, সম্বন্ধটিকে ব্যাখ্যামূলক করার পর আর নতুন কোনো পদ উহ্য মানার প্রয়োজন নেই। কারণ 'চল্লিশ' শব্দটি যেমন তার সমষ্টির ওপর প্রয়োগ করা হয়, তেমনি তার শেষ সংখ্যার ওপরও প্রয়োগ করা হয়। অন্যান্য সংখ্যার ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই। এর প্রমাণ হলো আপনার কথা—'এটি এক, এটি দুই'।"
(খণ্ড: ২)
আল-ফাওয়াইদুল আজীবাহ ফী ই'রাবিল কালিমাতিল গারীবাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪৬)
هذا ثلاثة الخ فتطلق الاثنين على الثاني والثلاثة على الثالث كما تطلق على مجموع الاثنين ومجموع الثلاثة فتأمل وهذا ما وجد بخط المرحوم سيدنا المؤلف من هذه الفوئد الحسان أسكنه الله فسيح الجنان وكان رحمه الله تعالى سودها ولم تصححا وأبقى كثيرًا من البياض في الأوراق وبين الأسطر فنقلت ما وجدته والحمد لله
وحده وصلى الله على من لا نبي بعده وعلى آله الطاهرين وصحابته أجمعين
এটি তিন ইত্যাদি। সুতরাং ‘দুই’ শব্দটি দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে এবং ‘তিন’ শব্দটি তৃতীয়টির ক্ষেত্রে প্রযুক্ত হয়, যেমনটি তা দুইয়ের সমষ্টি এবং তিনের সমষ্টির ক্ষেত্রেও প্রযুক্ত হয়। অতএব বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করুন। এটিই সেই সকল চমৎকার উপকারসমূহের (فوائد) অন্তর্ভুক্ত যা আমাদের সাইয়্যেদ মরহুম লেখকের হস্তলিপিতে পাওয়া গিয়েছে; আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের প্রশস্ত স্থানে স্থান দান করুন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) এগুলোকে খসড়া হিসেবে লিখেছিলেন কিন্তু সেগুলো পরিমার্জন করা হয়নি এবং তিনি কাগজসমূহের মাঝে ও পঙ্ক্তিগুলোর মাঝে অনেক স্থান খালি রেখেছিলেন। ফলে আমি যা পেয়েছি তা-ই নকল করেছি। সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য।
তিনি অদ্বিতীয়, এবং দরুদ বর্ষিত হোক সেই সত্তার প্রতি যার পর আর কোনো নবী নেই এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবী (صحابة)-র প্রতি।