(খণ্ড: ১) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: -)
سل الحسام الهندي لنصرة مولانا خالد النقشبندي - ط إسطنبول   (ابن عابدين)

القسم: كتب عامة


الكتاب: سل الحسام الهندي لنصرة مولانا خالد النقشبندي

(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)

المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]

الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م

وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى

عدد الصفحات: 47

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445

সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ইস্তাম্বুল সংস্করণ   (ইবনে আবিদিন)

বিভাগ: সাধারণ গ্রন্থসমূহ


গ্রন্থ: সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী

(মাজমুউ রাসায়িল ইবনে আবিদিন-এর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)

লেখক: মুহাম্মদ আমিন আফিন্দি, যিনি ইবনে আবিদিন নামে সমধিক পরিচিত [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]

প্রকাশক: দার সাআদাত, ইস্তাম্বুল, ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ

«মাজমুউর রাসায়িল»-এর অনুলিপি তৈরি করেছে: আলমুল কুতুব এবং আরও বেশ কিছু প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণ অনুযায়ী করা হয়েছে]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ জিলকদ ১৪৪৫

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৮৩)
سل الحسام الهندي لنصرة مولانا خالد النقشبندي

خاتمة المحققين رئيس العلماء المدققين السيد الشريف المرحوم السيد محمد أمين عابدين

نفعنا الله به

آمين

 

مرثية العلامة الملا داود البغدادي النقشبندى لسيدنا ومولانا مؤلف هذا الكتاب مكافأة عن شيخه العارف حضرت الشيخ خالد رحم الله تعالى أرواحهم آمين

ايا اماما في حلبة العلم جالا … اورث القلب فقده اوجالا

كنت بحر العلوم تقذف درا … فطما بعده الوجود وسالا

أنت شمس غربت في مغرب الار … ض ولكن انوارها تتلالا

كم حواش لكم تفوق حواشى ال … غيد حسنا ورقة وجمالا

أنت ابرزتها وكان ضمير الـ … ـكون يخفي لها فعزت منالا

وكم من رسائل أرسلت من … فكرك الصائب المجيد توالا

ان رد المختار مختار در … ابهر العقل حسنة فتعالى

جواهر قد اظهرت نثرا ونظما … فتحلى الوجود بل وتحافا

قد وشيت الطروس وشيا جليلا … من سجايا قطب الممالك حالا

بالنظم ابديته فاق عقده … لؤلئيا بل كان سحرا حلالا

في رثى شيخنا وشمس ضحانا … خالد الفضل من سمى افضالا

انا من ولده واجزيك عنه … در نظم اغلا من الدر مالا

وسيجزيك ربنا من عطاه … ماسير ضيك عاجلا وما لا

فسقى قبرك المنير املث … من غوادي الرحمى يجود أنهمالا

وصلاة على النبي وآل … وصحاب ما شات العين آلا
মাওলানা খালিদ নকশবন্দীর সাহায্যের জন্য ভারতীয় উন্মুক্ত তলোয়ার

গবেষকগণের শেষ আশ্রয়, সূক্ষ্মদর্শী আলেমদের প্রধান, সাইয়্যেদ শরীফ মরহুম সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আমিন আবিদিন

আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন

আমিন

 

আল্লামা মোল্লা দাউদ আল-বাগদাদী আল-নকশবন্দী কর্তৃক এই কিতাবের রচয়িতা আমাদের সাইয়্যেদ ও মাওলার প্রতি নিবেদিত শোকগাথা; যা তাঁর আধ্যাত্মিক সাধক শায়খ হযরত শায়খ খালিদের পক্ষ থেকে প্রতিদানস্বরূপ (আল্লাহ তাআলা তাঁদের রূহের ওপর রহমত বর্ষণ করুন। আমিন)

হে ইমাম! আপনি ইলমের অঙ্গনে অপ্রতিদ্বন্দ্বী বিচরণ করেছেন … আপনার বিয়োগ অন্তরকে বিষণ্ণতায় আচ্ছন্ন করেছে।

আপনি ছিলেন ইলমের এক সমুদ্র যা মুক্তোরাজি বর্ষণ করত … যার প্রস্থানের পর সমগ্র অস্তিত্ব সিক্ত ও প্রবহমান হয়েছে।

আপনি এমন এক সূর্য যা পশ্চিমাকাশে অস্তমিত হয়েছে … তথাপি যার নূরসমূহ অদ্যাবধি প্রজ্জ্বলিত হয়ে আছে।

আপনার কত শত টীকাগ্রন্থ যা সৌন্দর্যে ও মাধুর্যে … রূপসীদের অলংকারকেও হার মানায়।

আপনি সেগুলোকে এমন সময় প্রকাশ করেছেন যখন মহাবিশ্বের অন্তঃকরণ তা সংগোপনে রেখেছিল … ফলে তা লাভ করা ছিল সুকঠিন।

আপনার নির্ভুল ও মহিমান্বিত চিন্তা হতে একের পর এক … কতই না গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

নিশ্চয়ই 'রদ্দুল মুহতার' হলো এক চয়নকৃত মুক্তো … যার সৌন্দর্য বুদ্ধিকে বিমোহিত করে ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করে।

গদ্য ও পদ্যে আপনি এমন সব রত্নরাজি প্রকাশ করেছেন … যার দ্বারা অস্তিত্ব সুশোভিত ও ধন্য হয়েছে।

আপনি পৃষ্ঠাগুলোকে এমন নিপুণ কারুকাজে সজ্জিত করেছেন … যা দেশসমূহের আধ্যাত্মিক শিরোমণির শ্রেষ্ঠ গুণাবলি দ্বারা অলঙ্কৃত।

পদ্যের মাধ্যমে আপনি যা প্রকাশ করেছেন তা মুক্তোর মালাকেও ছাড়িয়ে গেছে … বরং তা ছিল এক বৈধ জাদু।

আমাদের শায়খ এবং আমাদের উজ্জ্বল নক্ষত্র খালিদ-এর শোকগাথায় … যিনি ছিলেন ফযীলত ও শ্রেষ্ঠত্বের আধার।

আমি তাঁর সন্তানদের একজন এবং তাঁর পক্ষ থেকে আপনাকে প্রতিদান দিচ্ছি … পদ্যের এমন মুক্তো দিয়ে যা অঢেল সম্পদের চেয়েও মূল্যবান।

আমাদের পালনকর্তা অচিরেই আপনাকে তাঁর পক্ষ থেকে এমন প্রতিদান দেবেন … যা আপনাকে দুনিয়া ও আখিরাতে সন্তুষ্ট করবে।

রহমতের মেঘমালা থেকে বারিধারার অবিরাম বর্ষণ … আপনার আলোকিত কবরকে সিক্ত করুক।

দরুদ বর্ষিত হোক নবী কারীম, তাঁর পরিবার ও সাহাবীবর্গের ওপর … যতক্ষণ পর্যন্ত চক্ষু মরীচিকা অবলোকন করে।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৮৪)
بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي شرع لنا خير شريعة واعلاها، واطد دعائمها لعلمائها وقواها، واقام سوق عزائمها، وارخص سوق فسوق من باراها وكف ايدى المتمردين، والجاحدين الحاسدين، ببراهين اضاء سناها وطهرها من دنس الزور والبهتان، والافتراء والعدوان، وجى جاها واظهرها إلى العيان كالشمس وضحاها، والقمر إذا تلاها، وحتم على كل نفس باقتفاء آثارها والعمل بمقتضاها، فألهمها فجورها وتقواها قد افلح من زكاها، وقد خاب من دساها، والصلاة والسلام على خير داع إلى توحيده، واشرف قائم بارشاد عبيده، حتى بلغ من المشقة اقصاها، واوذى فصبر، وابتلى فشكر، وحاز عزا وجاها وعلى آله وأصحابه الذين حازوا ينصرته اعلى المقامات واسناها، صلاة دائمة لا تعد ولا تحد ولا تتناهى، ما جرت سفينة لانتصار، لاهل الاسرار، في بحار الأفكار، ولحج الآثار والاخبار، وكان باسم الله مجريها ومرسيها (اما بعد) فيقول افقر العباد، إلى عفو مولاه يوم التناد، محمد امين الشهير بابن عابدين، لما فسد الزمان وتعاكس وتقاعد عن الصلاح وتقاعس، لم يشتغل غالب أهله بخاصة نفسه وبما ينفعه عند افول شمسه، وحلوله في رمسه، بل صار يطيل لسانه على اشرف أهل جنسه، بمجرد وهمه وحدسه، أو بمحض الزور والبهتان، لداء الحسد والطغيان، وغفل عن كون ذلك سببا للدمار وخراب الديار، ومحق الاعمار، واعفاء الآثار، فألف بعضهم رسالة أراد ترويجها في سوق الجهالة، بين أهل البطالة، حيث حكم فيها بالزندقة والضلالة، على الإمام الشهير، والعارف الكبير، الذي ورث من العوارف والمعارف كل طريف وتالد، ولم ينكر فضله إلا الجاحد المعاند، والمكابر الحاسد، وهو الإمام الأوحد، والعالم المفرد الهمام الماجد، حضرة سيدى الشيخ خالد، الذي بذل جهده في نفع العبيد، وارشادهم إلى الدأب على كلمة التوحيد، حتى غدا قطب العارفين في سائر الآفاق، وملاذ المريدين، على الإطلاق، واشتهرت به الطريقة النقشبندية، الواضحة الجلية، في عامة البلاد الإسلامية والممالك المحمية، مع ما حاز إلى ذلك من علوم باهرة بهية، وتأليفات شائقة شهية، فلا تبدو نفائس لآلئ التحقيق، من بحار التدقيق إلا بغواص افكاره، ولا تجلى عرائس جواري الترقيق، على منصات التنميق، الا لخطاب انظاره، فإذا شاع صيته وذاع، وعم النواحى والبقاع، وتليت آيات فضائله على السنة الاصايل والبكور ونشرت
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য যিনি আমাদের জন্য সর্বোত্তম শরিয়ত বিধিবদ্ধ করেছেন এবং তাকে সমুন্নত করেছেন; এর আলেমগণের মাধ্যমে এর স্তম্ভগুলোকে সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করেছেন; এর সংকল্পের বাজারকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং যারা এর বিরোধিতা করে তাদের পাপাচারের বাজারকে হীন করেছেন। তিনি প্রদীপ্ত প্রমাণাদির মাধ্যমে বিদ্রোহী ও অস্বীকারকারী হিংসুকদের হাতকে প্রতিহত করেছেন এবং তাদের পরাস্ত করেছেন। তিনি একে মিথ্যা, অপবাদ, জালিয়াতি ও শত্রুতার কলুষতা থেকে পবিত্র করেছেন, একে উচ্চ মর্যাদা দান করেছেন এবং একে প্রত্যক্ষদর্শীদের সামনে মধ্যাহ্নের সূর্যের ন্যায় এবং এর পশ্চাতে উদিত চন্দ্রের ন্যায় সুস্পষ্ট করেছেন। তিনি প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা এবং এর দাবি অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক করেছেন; অতঃপর তাকে তার পাপাচার ও তাকওয়া সম্পর্কে ইলহাম দান করেছেন। নিশ্চয়ই সে সফল হয়েছে যে নিজেকে পরিশুদ্ধ করেছে, আর সে ব্যর্থ হয়েছে যে নিজেকে কলুষিত করেছে। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর একত্বের (توحيد) দিকে আহ্বানকারী সর্বোত্তম সত্তার প্রতি, এবং তাঁর বান্দাদের হেদায়েত দানে নিয়োজিত সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তির প্রতি, যিনি কষ্টের চূড়ান্ত সীমা পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন; তাঁকে কষ্ট দেওয়া হয়েছে তবুও তিনি ধৈর্য ধারণ করেছেন, এবং তাঁকে পরীক্ষায় ফেলা হয়েছে তবুও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন; আর তিনি মহান সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেছেন। আরও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা তাঁর সহযোগিতার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ও শ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করেছেন; এমন চিরস্থায়ী দরুদ যা গণনা করা যায় না, যার কোনো সীমা নেই এবং যা শেষ হওয়ার নয়; যতক্ষণ না রহস্যের সন্ধানী ব্যক্তিদের জন্য চিন্তার সাগরে এবং আসার (آثار) ও সংবাদসমূহের (أخبار) অতল গহ্বরে বিজয়ের নৌকা চলতে থাকে, যার যাত্রারম্ভ ও নোঙর ফেলা হয় আল্লাহর নামে। (অতঃপর) কিয়ামতের দিন (يوم التناد) তাঁর প্রতিপালকের ক্ষমার মুখাপেক্ষী দরিদ্রতম বান্দা, মুহাম্মদ আমিন—যিনি ইবনে আবিদিন নামে প্রসিদ্ধ—বলছেন: যখন সময়ের বিপর্যয় ঘটল এবং পরিস্থিতি প্রতিকূল হয়ে উঠল, এবং মানুষ সংশোধন থেকে বিমুখ ও অলস হয়ে পড়ল; তখন তাদের অধিকাংশ মানুষ নিজের বিশেষ অবস্থা এবং সূর্যের অস্তগমন ও কবরে প্রবেশের সময় যা উপকারে আসবে তা নিয়ে মগ্ন থাকল না। বরং তারা নিছক কল্পনা ও অনুমানের বশবর্তী হয়ে, অথবা কেবল হিংসা ও অবাধ্যতার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মিথ্যা ও অপবাদের আশ্রয়ে নিজ শ্রেণির শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জিহ্বা দীর্ঘ করতে লাগল। তারা ভুলে গেল যে, এই কাজ বিনাশ, জনপদ ধ্বংস, আয়ু ক্ষয় এবং কীর্তিনিশান মুছে যাওয়ার কারণ। এই পরিস্থিতিতে তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন এক পুস্তিকা রচনা করল যা সে মূর্খতার বাজারে অলস ব্যক্তিদের মাঝে প্রচার করতে চাইল। সেখানে সে প্রখ্যাত ইমাম এবং মহান তত্ত্বজ্ঞানী (عارف), যিনি আধ্যাত্মিক ও জাগতিক জ্ঞানের (عوارف ومعارف) প্রতিটি প্রাচীন ও নতুন বিষয়ের উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন, তাঁর ওপর ধর্মদ্রোহিতা (زندقة) এবং পথভ্রষ্টতা (ضلالة)-এর হুকুম আরোপ করল। অথচ জেদি অস্বীকারকারী এবং অহংকারী হিংসুক ছাড়া কেউ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব অস্বীকার করে না। তিনি হলেন অনন্য ইমাম, অদ্বিতীয় আলেম এবং মহানুভব নেতা, হযরত সাইয়্যিদি শেখ খালিদ; যিনি বান্দাদের উপকারে এবং তাদের তাওহিদের (توحيد) কালিমার ওপর অবিচল থাকার পথনির্দেশ দানে নিজের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। এমনকি তিনি সমস্ত দিগন্তে তত্ত্বজ্ঞানীদের কেন্দ্রবিন্দু (قطب العارفين) এবং নিঃশর্তভাবে মুরিদদের (مريدين) আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছেন। তাঁর মাধ্যমেই সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল নকশবন্দিয়া তরীকা সমস্ত ইসলামি জনপদ ও সংরক্ষিত রাজ্যগুলোতে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এর পাশাপাশি তিনি অর্জন করেছেন উজ্জ্বল ও দীপ্তিময় জ্ঞানরাশি এবং আকর্ষণীয় ও চমৎকার রচনাবলি। সূক্ষ্ম গবেষণার গভীর সমুদ্র থেকে যাচাই-বাছাইয়ের (تحقيق) মূল্যবান মুক্তাগুলো কেবল তাঁরই চিন্তার ডুবুরি দ্বারা প্রকাশিত হয়; আর অলংকারের মঞ্চে সূক্ষ্ম অলঙ্কারমণ্ডিত বিষয়গুলো কেবল তাঁরই দৃষ্টির মাধ্যমেই প্রতিভাত হয়। যখন তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ল এবং সর্বত্র ব্যপ্ত হলো, এবং সকাল-সন্ধ্যায় মানুষের মুখে মুখে তাঁর গুণাবলির নিদর্শনসমূহ পঠিত হতে লাগল এবং প্রকাশিত হলো...
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৮৫)
رايات فواضله على رماح الظهور، وظهر ظهور البدر التام معتقدا بين الخاص والعام، حتى بين أعيان الدولة المنصور، ذات المحامد المأثوره، لا زالت مؤطدة البنيان، عالية الشأن، بيمن خليفتها الاعظم وخاقانها المحمود المعظم، الذي شيد دعائم الدين، واباد جيوش الكافرين الجاهدين، وحمى ساحة الإسلام والمسلمين، بماضي عزمه ونشر ألوية الشرائع والاحكام بثواقب حزمه، ادام الله تعالى طلعته السعيدة في افق هذا الزمان كوكبا منيرا، وخلدذا الاراء السديده في باهي مملكته عضدا ووزيرا، وايد ذوى العقود الرشيدة، في بروج اوامره ونواهيه نجوما مشرقة، وعيد ذوى القوة الشديدة في مطالع غزواته وجعلهم على اعدائه شهبا محرقة، حتى تنجلى غياهب الشرك والالحاد وتضحك بالنصر والحبور ثغور البلاد والعباد، ونفعه والمسلمين بإمداد هذا الإمام، والحبر البحر الهمام، الذي شهدت ببراءة ساحته المحترمه عما رمته به الحسدة الظلمة، عامة أهل البلاد من الناس، ولا سيما من لهم إلى جنابه قرب والتماس، منهم ذو الايادى البوادى، لدى الحاضر والبادى، ومفتى الانام في دمشق الشام، السيد حسين افندى المرادي دامت فضائله غير مصروفة عن ذاته لأنَّه منتهى جوعها، وفواضله تنفجر منه انهارها لأنَّه ينبوعها، فلذا سأل الفقير بنسل فصال النضال، من جعبة فرسان المقال، وسل لوامع قواطع الاستدلال، من غمد كتائب كتب فحول الرجال، وهزر دينى الرد، على عواتق الدفع والصد، عند النزال في حومة الجدال، لينقشع عن عين العيان، عين البهتان، والضلال، ويسلم صحيح الافعال، من همز الضعف والاعتلال ويرتفع خفض المنصوب على التمييز للحال، بإبراز ضمائر الصفات والافعال، ويظهر خفى المتشابه والاجمال، بتفسير نص المحكم من الأقوال، فبادرت إلى التوجه والاقبال، على الطاعة والامتثال، لسؤاله بلا اهمال ولا امهال، فجمعت هذه الاوراق، الحلوة المذاق لدى أهل الاشواق، كي يبدو نجمها الخفاق، في اكناف أطراف الآفاق، ويسير نميرها الدفاق بما رق وراق، في حياض رياض الإطلاق، وتغنى بلا بلهاذات الاطواق، على غصون الأفكار والاحداق وتشنف مسامع المشتاق، بما عنه نطاق البيان ضاق، وتصد أهل الافترا والاختلاق، عن سوء الافعال وسيء الأخلاق، ليكونوا من الرفاق أهل الصفا والوفاق، فقلت مستعينا بعون الملك الخلاق، في سلوك مهامة هذه المشاق، وقمع المعاند والمشاق (بضم الميم)، مستمنحا من فيض الكريم الرزاق، بسط موائد التوفيق في هذا المساق، واصابة الصواب في اللحاق والسباق،

তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঝাণ্ডাগুলো সুউচ্চ বর্শার অগ্রভাগে উড্ডীন, এবং পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় তাঁর প্রকাশ সর্বজনস্বীকৃত—উচ্চবিত্ত থেকে সাধারণ মানুষ, এমনকি বিজয়ী রাষ্ট্রের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাঝেও। সেই রাষ্ট্র যা প্রশংসিত ঐতিহ্যের অধিকারী, যার ভিত্তি সুদৃঢ় এবং যার মর্যাদা সুউচ্চ। এটি সম্ভব হয়েছে তার মহান খলিফা এবং সম্মানিত ও প্রশংসিত সুলতানের বরকতে, যিনি দ্বীনের স্তম্ভগুলোকে মজবুত করেছেন এবং প্রচেষ্টাকারী কাফেরদের বাহিনীকে বিনাশ করেছেন। তিনি তাঁর দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে ইসলাম ও মুসলিমদের ভূখণ্ড রক্ষা করেছেন এবং তাঁর সূক্ষ্ম প্রজ্ঞার মাধ্যমে শরীয়তের ঝাণ্ডা ও বিধানসমূহ ছড়িয়ে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ এই সময়ের দিগন্তে তাঁর সৌভাগ্যময় উপস্থিতিকে একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে চিরস্থায়ী করুন। তাঁর এই মনোরম সাম্রাজ্যে সঠিক চিন্তাধারার ব্যক্তিদের তাঁর শক্তিশালী বাহু ও উজির হিসেবে চিরকাল রক্ষা করুন।

আল্লাহর নির্দেশ ও নিষেধের উচ্চতর স্থানে সুপথপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তিনি উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে শক্তিশালী করেছেন। যুদ্ধের ময়দানে তিনি বীরদের সুদৃঢ় করেছেন এবং তাদের শত্রুদের জন্য দহনকারী উল্কাপিন্ডে পরিণত করেছেন, যতক্ষণ না শিরক ও নাস্তিকতার অন্ধকার দূরীভূত হয় এবং বিজয় ও আনন্দের হাসিতে দেশ ও জনপদের সীমানা প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। আল্লাহ তাকে এবং সকল মুসলিমকে এই ইমাম এবং মহাজ্ঞানী পণ্ডিতের মাধ্যমে উপকৃত করুন, যাঁর পবিত্র মর্যাদাকে হিংসুক ও জালেমদের অপবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন দেশের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যারা তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্যে উপস্থিত ও অনুপস্থিত সকলের নিকট যিনি দানশীল হিসেবে পরিচিত এবং দামেশকের মুফতি জনাব সাইয়্যেদ হোসেন এফেন্দী আল-মুরাদী—তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও গুণাবলি যেন চিরস্থায়ী হয়। কারণ তাঁর সত্তাই শ্রেষ্ঠত্বের শেষ আশ্রয়স্থল এবং তাঁর থেকেই গুণাবলির নহরগুলো উৎসারিত হয়, কেননা তিনিই এর মূল উৎস।

তাই এই অকিঞ্চন বান্দার নিকট আবেদন জানানো হয়েছে যেন আমি বাগ্মীদের তূণীর থেকে বিতর্কের শ্রেষ্ঠ অস্ত্রগুলো বের করি এবং শ্রেষ্ঠ মনীষীদের কিতাবসমূহ থেকে অকাট্য দলীলসমূহের দীপ্তি উন্মোচন করি। যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত ও দমনের উদ্দেশ্যে একটি ধর্মীয় প্রত্যুত্তর প্রস্তুত করি, যাতে জনসমক্ষে অপবাদ ও গোমরাহীর কালিমা দূর হয়ে যায় এবং সঠিক (صحيح) আমলসমূহ দুর্বলতা (ضعف) ও ত্রুটিযুক্ত (علة) হওয়ার সংশয় থেকে রক্ষা পায়। যা সুস্পষ্ট বর্ণনা ও কর্মের মাধ্যমে অস্পষ্টতাকে দূর করে শ্রেষ্ঠত্ব দান করে। এর মাধ্যমে অস্পষ্ট (متشابه) ও সংক্ষিপ্ত বিষয়ের অন্তর্নিহিত অর্থ প্রকাশিত হয় এবং সুস্পষ্ট (محكم) বাণীর ব্যাখ্যার মাধ্যমে জটিলতা দূর হয়।

তাই আমি কালক্ষেপণ না করে তাঁর অনুরোধ পালনে ও আনুগত্য স্বীকারে দ্রুত অগ্রসর হলাম। আমি এই পৃষ্ঠাগুলো সংকলন করেছি, যা জ্ঞানপিপাসুদের কাছে অত্যন্ত সুস্বাদু; যেন এর উজ্জ্বল নক্ষত্র দিগন্তের চারপ্রান্তে উদ্ভাসিত হয় এবং এর প্রবহমান ধারা সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। এর সুমিষ্ট ঝংকার চিন্তাশীলদের মনে ধ্বনিত হয় এবং যা বর্ণনার অতীত সৌন্দর্য বহন করে। এটি যেন মিথ্যাচার ও জাল করা (اختلاق) ব্যক্তিদের মন্দ আচরণ ও চরিত্র থেকে দূরে রাখে এবং তাদের নিষ্ঠাবান ও ঐক্যবদ্ধ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে। অতএব, আমি সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করে এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে এবং বিরোধীদের দমনে ব্রতী হলাম। আমি সেই দয়াময় রিজিকদাতার নিকট তাওফীকের দস্তরখান এবং সত্য ও সঠিক পথে চলার সামর্থ্য প্রার্থনা করছি।

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৮৬)
وتوفير الثواب في يوم العرض والتلاق (اعلم) وفقني الله تعالى وإياك، وتولى هداى وهداك، وجانا من الوقوع في شرك الاشراك، واتباك كل كاذب افاك، انى أريد أن اكشف لك الغطا، وانبهك على بعض ما وقع في تلك الرسالة من الخطا، لئلا تزل بك الخطا، إلى مهمة تضل فيه القطا (فنقول) قال ذلك الزاعم المراغم في صدر رسالته، المنبئة عن عدم تثبته لامر ديانته سئلت عن فلان الثابت إقراره بتسخير الجن واستعانته بالارواح الارضية الخبيثة ودعواه علم بعض الأمور الغيبية عن أخبار الجان له وانه ربط وقتل كثيرا من العفاريت والجان مع انه به يدعى الولاية والارشاد في الطريقة العلية النقشبندية ويصدقه بعض الناس ويعتقدانه على الحق فهل هو ولى ومرشد مصدق فيما ادعاء كما يزعم أم ساحر وما حكم قضاء القاضي بهما فيه افيدوا بالنقل الصريح الصحيح من الكتب المعتبرة في المذاهب الأربعة المعتمدة، فلما كان السؤال متعلقا برجل مشخص معين مذكور باسمه اقتضى التوقف والتفحص عن الأحوال ليتحقق عندى جميع ما في السؤال، تجنبا عن سوء الظنون واستماع كل ما يقال فشهد لدى جم غفير من الشهود العدول على تحقيق جميع ما كتب عليه في السؤال منهم الصالح الجليل المسلم صلاحيته عند أهل الحرمين وسائر البلاد الشيخ إسماعيل النقشبندى والشيخ أحد على اغا زاده الكردى السليماني والشيخ محمد الهزامر ذى الكردى السليمانى والشريف افندى الديار بكرى وغيرهم من تلامذته المتقربين إليه بل من خلفائه الارشدين يزعمه الباطل بلا انكار أحد وقائلين بان المشهور بين الفرقة الخالدية الضالة المضلة أن هذا الأمر ليس مما ينكره خالد المعهود إلى الآن بل كان يفتخر به ويعده من جملة خوارقه وعلامة ولايته بزعمه الباطل وذلك مشهود فيه عند جميع الاكراد وعامة أهل بغداد فثبت عندى صدق ما في السؤال ثبوتا شرعيا مرعيا فبادرت إلى الجواب حذرا عما في الفتاوى الخيرية ومن كتم علما الجم بلجام من نار إلى أن قال فاجبت متوكلا على الملك التواب قائلا بأنه ساحر بالإجماع أي باتفاق المحققين من علماء المذاهب الأربعة المعتمدة هذا نص كلامه ثم استدل على مرامه بنقل بعض ما قاله العلماء من المحدثين والفقهاء في احكام الزنديق والساحر والكاهن والعراف، سالكا سبيل الاعتساف متجنبا عن طرق الإنصاف، حيث نزل هذه العبارات، على ما افترى على هذا الإمام من المقالات، الذي شهد الوجدان والعيان، ببراءة ساحته من هذا الزور والبهتان، فإن الذي شاهدناه من حالته البديعة الاستقامة على نهج الشريعة، واحباء يقع المساجد والخلوات، بإقامة الاذكار والاوراد والصلوات، ولم تسمع

এবং হাশরের দিনে ও সাক্ষাতের দিনে সওয়াব প্রাপ্তি। (জেনে রাখুন) মহান আল্লাহ তাআলা আমাকে ও আপনাকে তাওফিক দান করুন, আমার ও আপনার হেদায়েতের দায়িত্ব গ্রহণ করুন, আমাদের শিরকের জালে আবদ্ধ হওয়া থেকে রক্ষা করুন এবং প্রত্যেক চরম মিথ্যাবাদী ও অপবাদদাতার অনুসরণ থেকে দূরে রাখুন। আমি আপনার সামনে সত্য উন্মোচন করতে চাই এবং সেই রিসালায় (পুস্তিকায়) যে সকল ভুল সংঘটিত হয়েছে সে সম্পর্কে আপনাকে সতর্ক করতে চাই, যাতে আপনার পদস্খলন না ঘটে এবং আপনি এমন এক গহ্বরে পতিত না হন যেখানে অভিজ্ঞরাও পথ হারায়।

(অতঃপর আমরা বলি) সেই সত্যবিমুখ দাবিদার তার রিসালার শুরুতে বলেছে—যা তার দ্বীনি বিষয়ে অসতর্কতারই পরিচায়ক—যে: "আমাকে অমুক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে যার জিনের বশীকরণ, অশুভ পার্থিব আত্মার সাহায্য গ্রহণ এবং জিনের খবরের মাধ্যমে অদৃশ্যের কিছু বিষয় জানার দাবির বিষয়টি স্বীকৃত ও প্রমাণিত। সে নাকি অনেক ইফ্রিত ও জিনকে বন্দি করেছে এবং হত্যা করেছে, অথচ সে নিজেকে নকশবন্দিয়া আলিয়া তরিকায় বেলায়েত ও এরশাদের (পথপ্রদর্শনের) দাবিদার বলে প্রচার করে। কিছু মানুষ তাকে সত্যবাদী মনে করে এবং বিশ্বাস করে যে সে হকের ওপর আছে। সে কি তার দাবিতে সত্যবাদী কোনো অলি ও মুর্শেদ, নাকি একজন জাদুকর? এ বিষয়ে বিচারকের ফয়সালার হুকুম কী? চার মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ থেকে সুস্পষ্ট ও বিশুদ্ধ (صحيح) উদ্ধৃতিসহ তা জানিয়ে দিন।"

যেহেতু প্রশ্নটি একজন সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি সম্পর্কে ছিল যার নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাই কুধারণা পরিহার করতে এবং শোনা কথায় কান না দিয়ে প্রশ্নের বিষয়বস্তু যাচাই করার জন্য বিরতি নেওয়া এবং অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছিল। অতঃপর অনেকগুলো ন্যায়পরায়ণ (عدول) সাক্ষীর একটি বিশাল দল আমার কাছে সাক্ষ্য দিয়েছে যে প্রশ্নে যা বর্ণিত হয়েছে তা সত্য। তাদের মধ্যে রয়েছেন সেই মহান নেককার ব্যক্তি যাঁর যোগ্যতা হারামাইন শরীফাইন ও অন্যান্য দেশের মানুষের কাছে স্বীকৃত, অর্থাৎ শায়খ ইসমাইল নকশবন্দী, শায়খ আহমদ আলী আঘা জাদাহ আল-কুর্দি আস-সুলাইমানি, শায়খ মুহাম্মদ আল-হাজামের যি আল-কুর্দি আস-সুলাইমানি এবং শরিফ এফেন্দি আদ-দিয়ার বকরী ও তাঁর অন্যান্য নিকটতম ছাত্রবৃন্দ, এমনকি তাঁর পথপ্রদর্শক খলিফাদের কেউ কেউও কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই এই মিথ্যা দাবি করেছেন। তারা বলছেন যে, পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তকারী (ضالة مضلة) খালিদিয়া ফিরকার মধ্যে এটি প্রসিদ্ধ যে, বিষয়টি এমন নয় যা সেই সুপরিচিত খালিদ অস্বীকার করে, বরং সে তো এতে গর্ব করত এবং তার বাতিল ধারণা অনুযায়ী একে কারামত ও বেলায়েতের নিদর্শন মনে করত। এটি কুর্দিস্তানের সকল মানুষ এবং বাগদাদের সাধারণ মানুষের কাছে প্রত্যক্ষ প্রমাণিত বিষয়। ফলে শরীয়তসম্মতভাবে আমার নিকট প্রশ্নের সত্যতা যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

অতঃপর আমি দ্রুত জবাব দিতে উদ্যোগী হয়েছি "ফাতাওয়া খয়রিয়া"-তে বর্ণিত হুকুম এবং "যে ইলম গোপন করে তাকে আগুনের লাগাম পরানো হবে"—এই সতর্কবাণীর ভয়ে। তিনি আরও বললেন: "আমি তাওবা কবুলকারী মহিমান্বিত আল্লাহর ওপর ভরসা করে জবাব দিয়েছি যে, সে সর্বসম্মতভাবে (بالإجماع) একজন জাদুকর। অর্থাৎ চার মাযহাবের নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের ঐকমত্য অনুযায়ী।" এটিই ছিল তার বক্তব্যের মূল পাঠ। এরপর তিনি তার উদ্দেশ্যের সপক্ষে মুহাদ্দিসগণ (محدثين) ও ফকিহগণ (فقهاء) কর্তৃক ধর্মত্যাগী (زنديق), জাদুকর, গণক ও জ্যোতিষীদের বিধান সম্পর্কে বর্ণিত কিছু উদ্ধৃতি পেশ করেছেন। এই ক্ষেত্রে তিনি ইনসাফের পথ পরিহার করে জবরদস্তির পথ অবলম্বন করেছেন; কারণ তিনি এই বক্তব্যগুলোকে সেই ইমামের বিরুদ্ধে আরোপিত অপবাদসমূহের ওপর প্রয়োগ করেছেন, যাঁর পবিত্রতা বিবেক ও চাক্ষুষ প্রমাণ দ্বারা এই মিথ্যা ও অপবাদ থেকে মুক্ত বলে প্রমাণিত। কেননা আমরা তাঁর অবস্থার মধ্যে যা লক্ষ্য করেছি তা হলো শরীয়তের পথে তাঁর চমৎকার অবিচলতা এবং জিকির, আজকার ও সালাত আদায়ের মাধ্যমে মসজিদ ও নির্জন কক্ষগুলোকে আবাদ রাখা। আর আমরা শুনিনি...

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৮৭)
منه ولا من أحد من خلفائه ومريديه، شيئا مما يشينه في دينه ويرديه، وهذا ما شهد به جماهير العباد في عامة البلاد، وإنما كان له بعض مريدين، رآهم من العتاة المتمردين فطردهم عن ابوابه، فتكلموا في جنابه، وانحازوا إلى بعض الحاسدين ولفقوا معهم ما القته إليهم الشياطين، وتزيوا بزى الصالحين، ونقلوا كلام العلماء بصورة الناصحين، والله أعلم بالجليات والخفيات، وإنما الأعمال بالنيات

شعر

إلى ديان يوم الحشر نمضى … وعند الله تجتمع الخصوم

على أنا اجتمعنا بهذا الشخص المسمى بالشيخ إسماعيل، الذي زعم هذا الزاعم أنه شهد عنده وسماه الصالح الجليل فسألناه عما نسبه إليه صاحب تلك الرسالة، فأنكر جميع هذه المقاله، وقال أن هذا الإمام شيخى وسيدى، وساعدى وعضدي، ظالما عكفت في اعتابه، ولم ار ما يدنس ساحة جنابه، فعلمنا أن ما ذكر كذب وافتراء، بلا بين ولا مراء، وكيف يتصور ممن هو من أعظم علماء الدين، ورئيس المحققين والمدققين وقد بذل جهده في نشر رايات الشريعة، وتشييد منازلها الرفيعة وإرشاد السالكين، إلى طريق المقربين، أن يدعى لنفسه ما لا يتصور من اجهل الجاهلين، وطغاة المتمردين، الذين خلعوا من اعناقهم ربقة الدين، فإنه لو لم يكن يخش الله تعالى من ذلك، وحاشاه من سلوك هذه المسالك، لخشى أن ينحط قدره عند الانا، لعلمه أن هذا الكلام، لا يقبله هوام العوام، فإنه مما تأنفه الأسماع، وتمجه الطباع فعلم أن هذا اختلاق واختراع، تنفر منه القلوب وترتاع، نعم أخبرني الشيخ إسماعيل المذكور أنه وقع له في دار الأستاذ في بعض مجالسه الذكريه، عند اجتماع القلوب على الذكر الخفى والتوجه بالكلية انهم كانوا يسمعون أصواتا خفيه، ولا يرون اشخاصا جليه، وأن هؤلاء من مؤمنى الجن ذوى النفوس المطمئنة، جاؤا يرتعون حول رياض الذكر التي هي رياض الجنة، وانه سمع مع رفيق له أصواتا من داخل مكان مغلق، فلم ير فيه أحدا فثبت ذلك عنده وتحقق، وانه إنما أخبر ذلك الحاسد، بما رآه من هذه المشاهد، وانه اجتمع به بعض من طرده الأستاذ، وجاء به إلى ذلك الحاسد واستعان به ولاذ، قال أن هذا الرجل شهد بما اقول، فبنو تلك الفضول، على مجرد هذا المقول، ثم إن الشيخ إسماعيل المذكور كتب بخطه إليهم كتابا تبرأ فيه مما نسبوه إليه وشافهنى فيه خطابا (وصورة ما كتبه) بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله وكفى سلام على عباده الذين اصطفى (اما بعد) فيقول المفتقر إلى ربه الغنى

তাঁর কাছ থেকে কিংবা তাঁর কোনো প্রতিনিধি বা মুরিদের কাছ থেকে এমন কিছুই প্রকাশ পায়নি যা তাঁর দ্বীনকে কলঙ্কিত করে বা তাঁকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। অধিকাংশ দেশের সাধারণ মানুষ এই সাক্ষ্যই দিয়েছেন। তবে তাঁর কিছু মুরিদ ছিল যাদের তিনি অবাধ্য ও বিদ্রোহী দেখতে পেয়ে নিজের দরবার থেকে বহিষ্কার করেছিলেন। ফলে তারা তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা শুরু করে এবং কিছু হিংসুক ব্যক্তির সাথে যোগ দিয়ে শয়তানি প্ররোচনায় নানা মিথ্যা সাজায়। তারা নেককারদের বেশ ধারণ করে এবং হিতাকাঙ্ক্ষীদের রূপ ধরে আলেমদের বাণী বিকৃত করে প্রচার করে। আল্লাহ প্রকাশ্য ও গোপন সব বিষয়ে সম্যক অবগত। আর নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।

কবিতা

কিয়ামত দিবসের বিচারকের পানে আমরা ধাবিত হচ্ছি … আর আল্লাহর নিকটই বিবাদীরা সমবেত হবে।

উপরন্তু, আমরা শেখ ইসমাইল নামক সেই ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করেছি, যার ব্যাপারে সেই দাবিদার ব্যক্তি দাবি করেছিল যে সে তাঁর নিকট সাক্ষ্য দিয়েছে এবং তাকে 'মহান সৎ ব্যক্তি' হিসেবে অভিহিত করেছে। আমরা তাকে সেই রিসালাহ বা পত্রের লেখকের আরোপিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে সে এই পুরো বক্তব্যটি অস্বীকার করে। সে বলল, "এই ইমাম আমার শেখ ও আমার নেতা, তিনি আমার সহায় ও শক্তি। আমি দীর্ঘকাল তাঁর সেবায় নিয়োজিত ছিলাম এবং তাঁর চরিত্রে কালিমা লেপন করে এমন কিছুই দেখিনি।" এর মাধ্যমে আমাদের নিকট স্পষ্ট হলো যে, যা উল্লেখ করা হয়েছে তা কোনো প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা (كذب) ও অপবাদ (افتراء)। দ্বীনের অন্যতম মহান আলেম এবং গবেষক (محققین) ও সূক্ষ্মদর্শী (مدققین) পণ্ডিতদের অগ্রগণ্য জন—যিনি শরীয়তের ঝাণ্ডা ওড়াতে, এর সুউচ্চ মাকাম প্রতিষ্ঠা করতে এবং সালেকদের নৈকট্যপ্রাপ্তদের পথে পরিচালিত করতে নিজের সর্বশক্তি ব্যয় করেছেন—তাঁর পক্ষে কীভাবে সম্ভব এমন দাবি করা যা চরম মূর্খ ও বিদ্রোহী ছাড়া আর কেউ করতে পারে না? তারা তো নিজেদের ঘাড় থেকে দ্বীনের জোয়াল খুলে ফেলেছে। যদি তিনি এই পথ অবলম্বন করার ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলাকেই ভয় না করতেন—আর এমন পথ অনুসরণ থেকে তিনি পবিত্র—তবে নিদেনপক্ষে মানুষের কাছে নিজের মর্যাদা হারানোর ভয় তো করতেন। কারণ তিনি জানতেন যে, এই কথা সাধারণ মানুষের নিম্নস্তরের লোকেরাও গ্রহণ করবে না। এটি এমন বিষয় যা কান শুনতে অপছন্দ করে এবং মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি যা প্রত্যাখ্যান করে। সুতরাং বোঝা গেল এটি একটি মনগড়া উদ্ভাবন (اختراع), যা শুনলে হৃদয় আতঙ্কিত ও বিমুখ হয়। হ্যাঁ, উল্লিখিত শেখ ইসমাইল আমাকে জানিয়েছেন যে, ওস্তাদের বাড়িতে যিকিরের কোনো এক মজলিসে যখন সকলের মন যিকরে খফী এবং পূর্ণ নিবিষ্টতায় একাগ্র হয়েছিল, তখন তারা কিছু অস্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলেন কিন্তু কাউকে সেখানে উপস্থিত দেখতে পাননি। তারা ছিলেন প্রশান্ত আত্মার অধিকারী মুমিন জিন, যারা যিকিরের বাগানে বিচরণ করতে এসেছিলেন যা জান্নাতেরই একটি বাগান। তিনি তাঁর এক সাথীসহ একটি বন্ধ ঘর থেকে কিছু আওয়াজ শুনতে পান কিন্তু সেখানে কাউকে দেখেননি। এ বিষয়টি তাঁর নিকট প্রমাণিত ও নিশ্চিত হয়। তিনি সেই হিংসুক ব্যক্তিকে কেবল নিজের দেখা এই দৃশ্যগুলো সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন। এরপর ওস্তাদের বহিষ্কৃত কিছু ব্যক্তি সেই হিংসুক লোকের কাছে এসে তার আশ্রয় নেয় এবং তাকে সাহায্য করে। সে দাবি করে যে, এই লোক আমার বক্তব্যের পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছে। ফলে তারা তাদের অহেতুক দাবিগুলো কেবল এই বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করেই সাজিয়েছে। অতঃপর উল্লিখিত শেখ ইসমাইল নিজের হাতে তাদের কাছে একটি পত্র লেখেন যাতে তিনি তাদের আরোপিত অপবাদ থেকে দায়মুক্তি ঘোষণা করেন এবং আমার কাছেও মৌখিকভাবে তা ব্যক্ত করেন। (তাঁর লিখিতপত্রের অনুলিপি): বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তাঁর মনোনীত বান্দাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। (অতঃপর) তাঁর অভাবমুক্ত রবের মুখাপেক্ষী বান্দা বলছেন...

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৮৮)
إسماعيل بن أحمد النقشبندى، الخالدى الزلزلوى عفى عنه، المجاور بالمدينة المنورة على ساكنها أفضل التحية اشهد الله تعالى على ما في قلبي وخطي ولساني وكفى بالله شهيدا بأنى معتقد في شيخي ومرشدى حضرة مولانا ضياء الدين الشيخ خالد النقشبندى، ادام الله ظل فيوضاته واحسانه على رؤس الطالبين إلى يوم القيمة امين بأنه أعلم من رأيته واتقى واورع واكرم وازهد من في الأرض في هذا العصر واقومهم على الشريعة الغراء، والسنة النبوية الزهراء، والاخلاق الكريمة المحمدية العليا، وناهج مناهج جادة الطريقة العلية النقشبندية كثر الله تعالى اهاليها، وقدس اسرار مواليها، وممهد مسلك السلف الصالحين من العلماء والاولياء والاتقياء، وكذا اتباعه على هديه وسيرته الشريفة الطاهرة الاسنى، وكذلك اشهد الله تعالى واشهدكم بإنى متبرئ ممن توهم السحر أو الكفر والفسق أو البدعة فضلا عن الاعتقاد في حقه أو حق اتباعه الامجاد، والعياذ بالله تعالى من كل ذلك ومتبرئ ممن يعتقد فيه هذا الاعتقاد، في الدنيا والآخرة ويوم يقوم الاشهاد لاسيما من المنكر المطرود الذي اسمه عبد الوهاب نسأل الله تعالى أن يتوب عليه ويهديه إلى الصواب انتهى المقصود منه (فانظر) بعد هذا بعين الأنصاف، إلى ما ادعاه ذلك الزاعم من الاوصاف، التي تلقفها، من سفيف ذى الرأي "*" السفساف، المشهور بالعداوة والارجاف، وقد استشعر بأنه سيعترض عليه في ذلك، فأجاب عنه بما هو اظلم من الليل الحالك حيث قال، وعن الحق مال، فإن قيل أن بعض الشهود اعرض عن خالد المذكور، وتبرأ منه وحصلت العدواة بينهما فكيف تقبل شهادته على ساحريته وكافريته، قلنا الذي تحقق بل ثبت عند المسلمين والصلحاء المنصفين المتشرعين، بل عند الفقهاء العلماء المحققين العاملين، أن العداوة الثابتة بينهما ليست إلا كون خالد جنيا وكاهنا وساحرا وكافر أو من المعلوم القطعى عند أهل الحق أن هذه العدواة ليست الادينية فتقبل من عدو بسبب الدين لأنها من التدين كذا في الدر المختار وغيره، فإن قيل أن الشهادة لا تقبل بدون تقدم الدعوى، قلنا تقدم الدعوى في حقوق العباد شرط قبولها لتوقفها على مطالبتهم بخلاف حقوق الله تعالى لوجوب إقامتها على كل أحد فكل أحد خصم فكأن الدعوى موجودة كذا في الدر المختار وغيره، فالحاصل أن البينة العادلة حجة شرعية قطعية بلا خلاف

--------------------------------------------

_________

"*" سفيف كامير اسم لابليس والسفساف بالفتح الردى من كل شيء والامر الحقير قاموس.

ইসমাইল বিন আহমাদ আন-নকশবন্দী আল-খালিদী আজ-জালজালোয়ী (আল্লাহ তাকে ক্ষমা করুন), যিনি মদীনা মুনাওয়ারায় অবস্থানকারী—এর অধিবাসীর ওপর সর্বোত্তম অভিবাদন বর্ষিত হোক। আমি আমার অন্তরে যা আছে, যা আমার হস্তাক্ষর এবং যা আমার জিহ্বা উচ্চারণ করছে, সে বিষয়ে মহান আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি—আর সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট—যে, আমি আমার শায়খ ও মুর্শিদ হযরত মাওলানা জিয়াউদ্দীন শায়খ খালিদ আন-নকশবন্দীর প্রতি এই আকিদা পোষণ করি (আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত তালিবে ইলমদের ওপর তাঁর করুণা ও অনুগ্রহের ছায়া দীর্ঘায়িত করুন, আমীন) যে, তিনি আমার দেখা সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী ব্যক্তি এবং এই যুগে ভূপৃষ্ঠে বসবাসকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকী, পরহেজগার, দয়ালু ও দুনিয়াবিমুখ (زاهد) ব্যক্তি। তিনি উজ্জ্বল শরীয়ত, প্রদীপ্ত সুন্নতে নববী এবং সুউচ্চ মুহাম্মাদী আখলাকের ওপর সর্বাপেক্ষা সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি এবং মহান নকশবন্দী তরিকার সঠিক পথের অনুসারী—মহান আল্লাহ এই তরিকার অনুসারীদের বৃদ্ধি করুন এবং এর মাশায়েখদের গোপন রহস্যসমূহকে পবিত্র করুন। তিনি উলামা, আউলিয়া ও মুত্তাকীদের মধ্য হতে সালাফে সালেহীনের পথের প্রশস্তকারী। অনুরূপভাবে তাঁর অনুসারীরাও তাঁর হিদায়েত ও পবিত্র মহান সীরাতের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একইভাবে আমি মহান আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি এবং আপনাদেরও সাক্ষী রাখছি যে, যারা তাঁর সম্পর্কে বা তাঁর মর্যাদাবান অনুসারীদের সম্পর্কে যাদু, কুফর, ফাসেকী বা বিদআতের ধারণা পোষণ করে, তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই; তাদের প্রতি এ ধরনের বিশ্বাস পোষণ করা তো দূরের কথা। এসব থেকে আমি মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি। দুনিয়া, আখেরাত এবং যেদিন সাক্ষীগণ দণ্ডায়মান হবে, সেদিনও আমি তাদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নকারী যারা তাঁর সম্পর্কে এই রূপ বিশ্বাস পোষণ করে। বিশেষ করে সেই বহিষ্কৃত প্রত্যাখ্যাত (منكر) ব্যক্তি থেকে, যার নাম আব্দুল ওয়াহহাব—আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি তাকে তওবা করার তাওফীক দান করেন এবং সঠিক পথে পরিচালিত করেন। তাঁর বক্তব্য এখানেই শেষ। (অতঃপর দেখুন) এরপর আপনি ন্যায়ের দৃষ্টিতে সেই দাবিদারের গুণাবলি লক্ষ করুন, যা সে সেই অসার ও নিচ ব্যক্তির মতবাদ থেকে গ্রহণ করেছে, যে শত্রুতা ও মিথ্যা রটনার জন্য কুখ্যাত। সে অনুভব করেছিল যে এ বিষয়ে তাকে আপত্তির সম্মুখীন হতে হবে, তাই সে ঘোর অন্ধকারের চেয়েও অন্ধকারাচ্ছন্ন উত্তর প্রদান করেছে, যেখানে সে সত্য থেকে বিচ্যুত হয়ে বলেছে: "যদি বলা হয় যে, কিছু সাক্ষী উল্লেখিত খালিদ থেকে বিমুখ হয়েছে এবং তাঁর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এবং তাদের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি হয়েছে, তবে তাঁর জাদুকর বা কাফের হওয়ার বিষয়ে তাদের সাক্ষ্য কীভাবে গ্রহণ করা হবে? আমরা বলি, যা মুসলমানদের নিকট এবং ন্যায়নিষ্ঠ শরীয়তপন্থী নেককারদের নিকট, এমনকি গবেষক ও আমলকারী ফকীহ আলেমদের নিকট প্রমাণিত হয়েছে তা হলো: তাদের মধ্যে বিদ্যমান শত্রুতা কেবল খালিদ (কথিতমতে) জ্বিনগ্রস্ত, গণক, জাদুকর ও কাফের হওয়ার কারণে। সত্যপন্থীদের নিকট এটি অকাট্য (قطعي) ভাবে জানা যে, এই শত্রুতা কেবল দ্বীনী কারণে। সুতরাং দ্বীনী কারণে শত্রুর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে, কারণ এটি ধার্মিকতার অন্তর্ভুক্ত। দুররুল মুখতার ও অন্যান্য গ্রন্থে এরূপই বর্ণিত হয়েছে। যদি বলা হয় যে, মামলা দায়ের করা ছাড়া সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় না, তবে আমরা বলব: বান্দার হকের ক্ষেত্রে মামলা দায়ের করা সাক্ষ্য গ্রহণের শর্ত, কারণ এটি তাদের দাবির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু মহান আল্লাহর হকের বিষয়টি ভিন্ন; কারণ আল্লাহর হক কায়েম করা প্রত্যেকের জন্য ওয়াজিব, ফলে প্রত্যেকেই এখানে বিবাদী এবং মনে করা হয় যেন মামলা বিদ্যমান রয়েছে। দুররুল মুখতার ও অন্যান্য গ্রন্থে এভাবেই আছে। সারকথা হলো, ন্যায়নিষ্ঠ প্রমাণ (بينة) কোনো মতভেদ ছাড়াই একটি অকাট্য (قطعي) শরয়ী দলিল।"

--------------------------------------------

_________

"*" সাফিফ (আমীরের ওজনে) ইবলিসের একটি নাম। আর সাফসাফ (সীন বর্ণে ফাতহা যোগে) অর্থ হলো কোনো জিনিসের নিকৃষ্ট অংশ বা তুচ্ছ বিষয়। — কামুস।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৮৯)
أحد من أهل المذاهب الأربعة وإن الفتوى على أنه إذا أخذ الساحر والزنديق المعروف الداعى قبل توبته ثم تاب لم تقبل توبته ويقتل كذا في الدر وغيره انتهى ما قاله في رسالته، المنبهة على تهوره وجهالته، حيث زعم أن هذه العداوة بينهما لكون المشهود عليه جنيا وكاهنا وساحرا وكافرا وإن هذا أمر تحقق وثبت عند المسلمين الصلحاء، والعلماء الفقهاء فانظر إلى هذا الكذب الصريح والاجتراء، والبهتان والافتراء، ولو كان له أدنى المام واذعان، لما ادعى ما يكذبه فيه المشاهدة والعيان ولكن من كان قصده الباس الحق بالباطل والصد عن سبيل الله لا يشعر بما تكلم به اوفاه، فإن هذا الداء قد حل المشركين والكفار على انكار معجزات الأنبياء الاخيار، حتى نسبوهم إلى السحر والجنون وانهم على الله يفترون، وليت شعرى، إن كان صادقا فيما ادعى من أن هذا أمر محقق ثابت عند المسلمين الصلحاء، بل عنده العلماء الفقهاء، لم (بكسر اللام وفتح الميم) توقف اولا عن التفحص من الشهود، وزكى نفسه بالتجنب عن سوء الظنون ليسود، وليصدق فيما يأتى به من الافتراء المردود، وايضا كيف قبل شهادة العدو المطرود، الذي طرده بين عامة الناس غير مجحود وهلا نسبه إلى التهمة حيث لم يشهد بذلك إلا بعد طرد استاذه له عن أبوابه، وحرصه بعد ذلك على العود إلى خدمة جنابه، واعتقاده فيه مدة سنين، بأنه امام العارفين، ومن خلص الموحدين، وقد كان بين يديه على ابلغ ما يكون من الخضوع، ولم يظهر منه هذا الطعن إلا بعد يأسه من الرجوع، فكيف تكون شهادته مقبولة، وهي بالزور والافتراء مشمولة، وقد قال العلامة ابن حجر في فتاويه الحديثية وكثير من النفوس التي يراد بها عدم التوفيق إذا رأت من استاذ شدة في التربية تنفر عنه وترميه بالقبائح والنقائص مما هو عنه برئ وليحذر الموفق من ذلك فإن النفس لا تريد إلا هلاك صاحبها فلا يطيعها في الاعتراض على شيخه وإن رآه على أدنى حال حيث امكنه أن يخرج افعاله على تأويل صحيح ومقصد مقبول شرعا ومن فتح باب التأويل للمشايخ واغضى عن احوالهم ووكل أمرهم إلى الله تعالى واعتنى بحال نفسه وجاهدها بحسب طاقته فإنه يرجى له الوصول إلى مقاصده والظفر بمراده في السر والعلانية في اسرع زمن ومن فتح باب الاعتراض على المشايخ والنظر في افعالهم والبحث عنها فإن ذلك علامة حرمانه وسوء عاقبته وانه لا يفلح انتهى، وتسميته هذه الشهادة عادلة، من جملة دعاويه الباطلة، ودعواه أن الشهادة العادلة قطعية بلا خلاف بين أهل المذاهب، من الجهل المركب الذي هو من أعظم المصائب

চার মাযহাবের ইমামগণের মধ্য থেকে কেউ এমনটি বলেননি। ফতোয়া হলো এই যে, যদি কোনো জাদুকর (ساحر) এবং সুপরিচিত ও (ভ্রান্ত মতবাদের দিকে) আহ্বানকারী ধর্মদ্রোহী (زنديق) তার তওবার পূর্বে পাকড়াও হয়, অতঃপর সে তওবা করে, তবে তার তওবা কবুল করা হবে না এবং তাকে হত্যা করা হবে। 'আদ-দুর' এবং অন্যান্য গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। তার রিসালায় যা বলা হয়েছে তা এখানেই শেষ হলো, যা মূলত তার হঠকারিতা ও অজ্ঞতার বিষয়ে সতর্ককারী। কারণ সে দাবি করেছে যে, তাদের মধ্যকার এই শত্রুতার কারণ হলো—যাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়া হয়েছে তারা জিন, জ্যোতিষী (كاهن), জাদুকর (ساحر) এবং কাফির (كافر); এবং এটি এমন এক বিষয় যা সৎকর্মশীল মুসলিম ও ফকীহ আলেমদের (فقهاء) নিকট সুনিশ্চিত ও প্রমাণিত। সুতরাং এই প্রকাশ্য মিথ্যাচার, ধৃষ্টতা, অপবাদ ও মিথ্যারোপের দিকে লক্ষ্য করুন। যদি তার সামান্যতম জানাশোনা বা সত্য অনুসরণের ইচ্ছা থাকত, তবে সে এমন দাবি করত না যা প্রত্যক্ষ দর্শন ও চাক্ষুষ অভিজ্ঞতাই মিথ্যা প্রমাণ করে। কিন্তু যার উদ্দেশ্য হলো সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করা এবং আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করা, সে কী বলছে বা তার মুখ দিয়ে কী নির্গত হচ্ছে সে সম্পর্কে সে সচেতন থাকে না। এই ব্যাধি তো মুশরিক ও কাফিরদের (كفار) গ্রাস করেছিল যখন তারা নেককার নবীদের মুজিজাসমূহকে অস্বীকার করেছিল; এমনকি তারা নবীদের জাদুকর ও উন্মাদ বলে অভিহিত করেছিল এবং তারা আল্লাহর নামে মিথ্যা অপবাদ রটনা করেছিল।

আক্ষেপ! সে যদি তার দাবিতে সত্যবাদী হতো যে—এটি সৎকর্মশীল মুসলিমদের নিকট, এমনকি ফকীহ আলেমদের (فقهاء) নিকটও একটি সুনিশ্চিত ও প্রমাণিত বিষয়—তবে কেন সে প্রথমে সাক্ষীদের (شهود) অবস্থা যাচাই-বাছাই করা থেকে বিরত থাকল? সে তো নিজেকে কুধারণা থেকে বিরত রেখে পবিত্র বলে জাহির করেছিল যেন সে নেতৃত্বের আসনে বসতে পারে এবং তার এই প্রত্যাখ্যাত মিথ্যারোপকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। এছাড়া, কীভাবে একজন বিতাড়িত শত্রুর সাক্ষ্য (شهادة) গ্রহণ করা হলো, যাকে সাধারণ মানুষের সামনে জনসমক্ষেই বিতাড়িত করা হয়েছিল? কেন তাকে অপবাদের দায়ে অভিযুক্ত করা হলো না, যখন সে এই সাক্ষ্য (شهادة) তখনই প্রদান করল যখন তার উস্তাদ তাকে তার দরবার থেকে বিতাড়িত করলেন? অথচ এর আগে সে তার দরবারে ফিরে আসার জন্য লালায়িত ছিল এবং দীর্ঘ বছর ধরে তার প্রতি এই বিশ্বাস পোষণ করত যে, তিনি আরিফদের ইমাম এবং একনিষ্ঠ একত্ববাদী (موحد) বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। সে তার সামনে চূড়ান্ত বিনয় ও নম্রতার সাথে অবস্থান করত। আর তার পক্ষ থেকে এই নিন্দা ও অপবাদ তখনই প্রকাশ পেল যখন সে আর ফিরে আসার ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়ল। সুতরাং তার এই সাক্ষ্য (شهادة) কীভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যা মিথ্যা ও অপবাদে পরিপূর্ণ?

আল্লামা ইবনে হাজার তার 'ফাতাওয়া হাদিসিয়া' গ্রন্থে বলেছেন: "অনেক আত্মা যাদের তাওফিক বা কল্যাণ নসিব হয় না, তারা যখন কোনো উস্তাদের পক্ষ থেকে চারিত্রিক সংশোধনের ক্ষেত্রে কঠোরতা দেখে, তখন তারা তার থেকে দূরে সরে যায় এবং তাকে এমন সব জঘন্য দোষ ও ত্রুটির অপবাদ দেয় যা থেকে তিনি সম্পূর্ণ মুক্ত। আল্লাহ যাদের তাওফিক দিয়েছেন তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। কারণ নফস কেবল তার অধিকারীর ধ্বংসই কামনা করে। সুতরাং শায়খের ওপর আপত্তি করার ক্ষেত্রে নফসের আনুগত্য করা উচিত নয়, যদিও সে তাকে বাহ্যত সাধারণ অবস্থায় দেখে। কারণ যতটা সম্ভব তার কাজগুলোকে সঠিক ব্যাখ্যা ও শরয়িভাবে গ্রহণযোগ্য উদ্দেশ্যের ওপর প্রয়োগ করা উচিত। যে ব্যক্তি মাশায়েখদের (مشايخ) জন্য ব্যাখ্যার পথ উন্মুক্ত রাখে, তাদের ব্যক্তিগত অবস্থার চুলচেরা বিশ্লেষণ থেকে বিরত থাকে, তাদের বিষয়াদি আল্লাহর ওপর সোপর্দ করে এবং নিজের আত্মশুদ্ধির সংগ্রামে সচেষ্ট হয়, আশা করা যায় যে সে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে পৌঁছাতে পারবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মাশায়েখদের ওপর আপত্তি করা, তাদের কর্মকাণ্ডের বিচার-বিশ্লেষণ ও অনুসন্ধান করার পথ বেছে নেয়, তা মূলত তার মাহরুমি বা বঞ্চিত হওয়া এবং মন্দ পরিণতির লক্ষণ; এমন ব্যক্তি কখনোই সফল হবে না।"

তার এই সাক্ষ্যকে (شهادة) 'ন্যায়সংগত' (عادلة) বলে অভিহিত করা তার বাতিল দাবিগুলোরই অংশ। আর তার এই দাবি যে—ন্যায়সংগত সাক্ষ্য (شهادة) মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে কোনো মতভেদ ছাড়াই অকাট্য (قطعية)—তা মূলত 'জাহলে মুরাক্কাব' বা চরম মূর্খতা, যা সবচেয়ে বড় মুসিবতগুলোর অন্যতম।

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯০)
إذ لا شك أن الشهادة خبر والخبر الصادق إنما يفيد الظن دون القطع عند عامة العقلاء، إلا الخبر المتواتر وخبر المؤيد بالمعجزة من الأنبياء، كما بين في أول العقائد النسفية وغيرها من الكتب الكلامية والاصولية، وإذا كانت هذه الشهادة على الطرد والابعاد مبنية، فكيف تكون عادلة فضلا عن كونها قطعيه وايضا كيف تكون دينية، حتى تقبل بلا تقدم دعوى شرعية، فإن المرشد لا يطرد من المريدين، إلا من هو من اخوان الشياطين، وما زعمه من قبول هذه الشهادة بلا تقدم الدعوى لكونها ليست من حقوق العباد، ناشئ عن الجهل المركب أيضًا أو عن الافتراء في الاحكام الشرعية والعناد، فإن تكفير شخص معين من أعظم حقوق العباد التي لا بدلها من حكم شرعى لدى حاكم موفق ذى رأى وسداد وليت شعرى كيف يدعى ثبوت ما ذكر عنده ثبوتا شرعيا ويجعله امرا قطعيا وحكما مرعيا، مع أنه غير مأذون من قبل الإمام، أو أحد نوابه بسماع الاحكام، ولم يرض لنفسه ادعاء منصب الافتاء، حتى غصب منصب القضاء، وكيف وسعه الاقدام على الجزم بكفر من هو من اجل الموحدين، بمجرد أخبار بعض الفسقة المتمردين، أو بمجرد داء الحسد الذي يضنى الجسد، بل يفسد الدين، الم يسمع قوله تعالى {أَمْ يَحْسُدُونَ النَّاسَ عَلَى مَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ} وقوله تعالى {وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ بِغَيْرِ مَا اكْتَسَبُوا فَقَدِ احْتَمَلُوا بُهْتَانًا وَإِثْمًا مُبِينًا (58)} وما أخرجه ابن ماجه (الحسد يأكل الحسنات كما تأكل النار الحطب) والديلمى (الحسد يفسد الإيمان كما يفسد الصبر العسل) الم يسمع ما أخرجه البخارى عن أنس وأبي هريرة رضى الله تعالى عنهما أنه صلى الله تعالى عليه وسلم قال عن الله تبارك وتعالى "من اهان لي وليا فقد بارزني بالمحاربة" وما قاله بعض الأئمة اعلم يا أخى وفقك الله وايانا، وهداك سبيل الخير وهدانا أن لحوم العلماء مسمومة، وعادة الله في هتك منتقصهم معلومة، ومن اطلق لسانه في العلماء بالثابت، بلاء الله قبل موته بموت القلب، فليحذر الذين يخالفون عن امره أن تصيبهم فتنة أو يصيبهم عذاب أليم، الم يسمع قوله تعالى {وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ (30) حُنَفَاءَ لِلَّهِ غَيْرَ مُشْرِكِينَ بِهِ} وما أخرجه الشيخان عن أبي بكرة رضى الله تعالى عنه قال كنا جلوسا عند رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم فقال "ألا أنبئكم بأكبر الكبائر ثلاثا الاشراك بالله وعقوق الوالدين" وكان متكئا فجلس فقال إلا وقول الزور فما زال يكررها حتى قلنا ليته سكت، الم يسمع قوله صلى الله تعالى عليه وسلم فيما أخرجه مسلم "إذا أكفر الرجل أخاه فقد باء بها أحدهما"

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে সাক্ষ্য প্রদান হলো এক প্রকার সংবাদ (خبر), আর অধিকাংশ বুদ্ধিমান ব্যক্তির মতে সত্য সংবাদ কেবল প্রবল ধারণা (ظن) প্রদান করে, অকাট্য নিশ্চিত জ্ঞান (قطع) নয়; তবে ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত (متواتر) সংবাদ এবং নবীদের মুজিজা দ্বারা সমর্থিত সংবাদ এর ব্যতিক্রম। যেমনটি 'আকাইদ আন-নাসাফিয়া'-এর শুরুতে এবং কালাম শাস্ত্র ও উসুল শাস্ত্রের অন্যান্য কিতাবে বর্ণনা করা হয়েছে। আর যদি এই সাক্ষ্য কেবল বর্জন ও বহিষ্কারের ওপর ভিত্তি করে হয়, তবে তা কীভাবে ন্যায়সংগত হতে পারে, অকাট্য (قطعي) হওয়া তো দূরের কথা? এছাড়া তা কীভাবে ধর্মীয় বিষয় হতে পারে যে, কোনো শরয়ি মামলা দায়ের ছাড়াই তা গ্রহণ করা হবে?

কেননা একজন পথপ্রদর্শক তার মুরিদদের মধ্য থেকে কেবল তাদেরই বহিষ্কার করেন যারা শয়তানের ভাইদের অন্তর্ভুক্ত। আর শরয়ি মামলা ছাড়াই এই সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য হবে বলে তার যে দাবি—যেহেতু তা বান্দার হকের অন্তর্ভুক্ত নয়—এটিও তার জটিল মূর্খতা (جهل مركب) অথবা শরয়ি বিধানের ব্যাপারে মিথ্যা অপবাদ ও হঠকারিতা থেকে উদ্ভূত। কেননা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করা (تكفير) বান্দার হকের মাঝে অন্যতম বড় বিষয়, যার জন্য সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হতে সক্ষম এমন একজন ন্যায়পরায়ণ শাসকের শরয়ি ফয়সালা আবশ্যক।

আমি ভেবে পাই না যে, কীভাবে তার কাছে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা শরয়িভাবে প্রমাণিত বলে দাবি করা হয় এবং তাকে একটি অকাট্য (قطعي) বিষয় ও পালনীয় বিধান হিসেবে গণ্য করা হয়, অথচ তিনি ইমাম বা তাঁর কোনো প্রতিনিধির পক্ষ থেকে বিচারকার্য পরিচালনার অনুমতিপ্রাপ্ত নন। এমনকি তিনি নিজের জন্য ফতোয়া প্রদানের পদের দাবিতেও সন্তুষ্ট হননি, বরং বিচারকের পদটিও জবরদখল করেছেন। কীভাবে তিনি শ্রেষ্ঠ একত্ববাদীদের মধ্যে গণ্য কোনো ব্যক্তিকে কাফির হিসেবে নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করার দুঃসাহস দেখালেন—তাও কেবল কিছু বিদ্রোহী পাপাচারীর সংবাদের (خبر) ভিত্তিতে অথবা কেবল হিংসার ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে, যা শরীরকে ক্ষয় করে দেয় এবং দ্বীনকে ধ্বংস করে ফেলে?

তিনি কি মহান আল্লাহর বাণী শোনেননি: "নাকি আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দান করেছেন, সে জন্য তারা তাদের প্রতি হিংসা পোষণ করে?" এবং আল্লাহর বাণী: "আর যারা মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীদেরকে তাদের কোনো অপরাধ ছাড়াই কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই অপবাদ এবং স্পষ্ট পাপের বোঝা বহন করে।" এবং যা ইবনে মাজাহ বর্ণনা করেছেন: "হিংসা নেকিগুলোকে খেয়ে ফেলে যেভাবে আগুন কাঠকে গ্রাস করে।" এবং দায়লামি বর্ণনা করেছেন: "হিংসা ঈমানকে নষ্ট করে দেয় যেভাবে তিক্ত এলুয়া মধু নষ্ট করে।"

তিনি কি বুখারি-তে আনাস ও আবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত হাদিসটি শোনেননি যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মহান আল্লাহ সম্পর্কে বলেন: "যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সাথে শত্রুতা করে, সে যেন আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দেয়।" কোনো কোনো ইমাম বলেছেন: "হে আমার ভাই! আল্লাহ আপনাকে ও আমাদের তৌফিক দান করুন এবং আপনাকে ও আমাদের কল্যাণের পথে পরিচালিত করুন। জেনে রাখুন, আলেমদের গোশত বিষাক্ত। যারা তাদের সমালোচনা করে লাঞ্ছিত করতে চায়, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর পদ্ধতি সুপরিচিত। যে ব্যক্তি আলেমদের বিরুদ্ধে অপবাদের মাধ্যমে জিহ্বা প্রসারিত করে, আল্লাহ তার মৃত্যুর পূর্বে তার অন্তরের মৃত্যু ঘটিয়ে তাকে পরীক্ষায় ফেলেন।"

সুতরাং যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তাদের গ্রাস করবে। তিনি কি মহান আল্লাহর বাণী শোনেননি: "এবং তোমরা পরিহার করো মিথ্যা কথা; আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত হয়ে, তাঁর সাথে কাউকে শরিক না করে।"

এবং বুখারি ও মুসলিম আবু বকরা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বললেন, "আমি কি তোমাদের সবচেয়ে বড় কবিরা গুনাহ (كبائر) সম্পর্কে জানাব না? (তিনি তা তিনবার বললেন)। আল্লাহর সাথে শরিক করা এবং পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।" তিনি হেলান দিয়ে ছিলেন, এরপর সোজা হয়ে বসে বললেন, "শুনে রাখো, আর মিথ্যা কথা বলা।" তিনি এটি বারবার বলতে থাকলেন, এমনকি আমরা মনে মনে বললাম, "হায়! তিনি যদি এখন থামতেন!" তিনি কি মুসলিম-এ বর্ণিত রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বাণীটি শোনেননি: "যখন কোনো ব্যক্তি তার ভাইকে কাফির সাব্যস্ত করে (أكفر), তখন তাদের একজনের ওপর তা আপতিত হয়।"

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯১)
وفي رواية (ايما رجل قال لاخيه كافر فقد باء بها أحدهما إن كان كما قال والا رجعت عليه) قال العلامة المحقق ابن حجر الهيثمي في كتابه الأعلام بقواطع الإسلام عن الروضة قال المتولى ولو قال لمسلم يا كافر بلا تأويل كفر لأنَّه سمى الإسلام كفرا ثم قال واعتمد ذلك المتأخرون كابن الرفعة والقمولى والنشائي والاسنوى والازرعى وأبي زرعة وصاحب الأنوار بل كثير منهم جزموا به من غير عزو ولم ينفرد المتولى بذلك بل سبقه إلى ذلك ووافقه عليه جمع من أكابر الاصحاب منهم الأستاذ أبو إسحاق الاسفرائيني والحليمي والشيخ مصر المقدسي وكذا الغزالي وابن دقيق العيد، بل قضية كلام هؤلاء أنه لا فرق بين ان يؤول اولا انتهى (وقال) العلامة ابن الشحنه في شرحه على الوهبانية والمختار للفتوى في جنس هذه المسائل، أن القائل لمثل هذه المقالات إن أراد الشتم لا يعتقده كفرا لا يكفر وإن كان يعتقده كفرا فخاطبه بهذا بناء على اعتقاده أنه كافر يكفر لأنَّه لم اعتقد المسلم كافرا فقد اعتقد دين الإسلام كفرا ومن اعتقد دين الإسلام كفرا كفر والله تعالى أعلم (وفى البحر الرائق ويكفر بقوله لمسلم يا كافر عند البعض والمختار للفتوى أنه يكفر أن اعتقده كافرا لا أن أراد شتمه انتهى (فهذه) الآيات والاخبار، فيها للمتقي اعتبار، وما اقبح من اثر عليها الترهات، والتزويرات المفتريات، ومن أراد اطفاء نور أبى الله إلا أن يتمه، فقد اعمى الله بصيرته واصمه، ولم يزل هذا الإمام مبتلى بعداوة الحساد، على عادة السادة الامجاد، فيشيعون عنه الزور من الكلام، ويسعون به إلى الأمراء والحكام، فيتضاءلون عند الانام حقارة، ويزداد كوكبه إضاءة وانارة.

(شعر)

حسدوا الفتى إذ لم ينالوا سعيه … فالكل اعداء له وخصوم

كضرائر الحسناء قلن لوجهها … حسدا وبغضا انه لدميم

وما اجدره أن ينشد بلسان قاله … مخبرا عن حقيقة حاله

(شعر)

سبقت العالمين إلى المعالى … بصائب فكرة وعلو همة

ولاح بحكمتي نور الهدى في … ليالي بالضلالة مدلهمة

يريد الجاهلون ليطفؤه … ويأبى الله إلا أن يتمه

ولا شك أنه لا يحسد إلا أهل الفضائل … ولا يسلم إلا ذوا الرذائل
এবং একটি বর্ণনায় (رواية) এসেছে: "যে ব্যক্তি তার ভাইকে 'কাফের' বলে সম্বোধন করল, তবে তাদের দুইজনের মধ্যে একজনের ওপর তা পতিত হবে; যদি সে যা বলেছে তা-ই হয় (তবে ঠিক আছে), অন্যথায় তা তার নিজের ওপরেই ফিরে আসবে।" আল্লামা মুহাক্কিক ইবনে হাজার আল-হাইতামি তাঁর 'আল-আলাম বি-কাওয়াতিউল ইসলাম' গ্রন্থে 'আর-রাওদাহ' থেকে উদ্ধৃত করে বলেছেন যে, আল-মুতাওয়াল্লি বলেছেন—যদি কেউ কোনো মুসলিমকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই 'হে কাফের' বলে ডাকে, তবে সে কুফরি করল। কারণ সে ইসলামকে কুফর হিসেবে অভিহিত করেছে। অতঃপর তিনি বলেন, পরবর্তী যুগের (المتأخرون) আলেমগণ যেমন ইবনুর রিফআহ, আল-কামুলি, আন-নাশায়ি, আল-ইসনাউয়ি, আল-আজরয়ি, আবু জুরআহ এবং আল-আনওয়ার গ্রন্থের লেখক একে নির্ভরযোগ্য হিসেবে গ্রহণ করেছেন। বরং তাঁদের অনেকেই কোনো সূত্র উল্লেখ ছাড়াই একে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন। আল-মুতাওয়াল্লি এই মত প্রকাশে একাকী ছিলেন না, বরং তাঁর পূর্বে একদল শ্রেষ্ঠ ইমাম (الأصحاب) এতে একমত পোষণ করেছেন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন উস্তাদ আবু ইসহাক আল-ইসফারায়িনি, আল-হালিমি, শেখ নাসর আল-মাকদিসি এবং ইমাম গাজালি ও ইবনু দাকিকিল ঈদ। এমনকি তাঁদের বক্তব্যের দাবি এই যে, এতে ব্যাখ্যা করা বা না করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। (এবং) আল্লামা ইবনুশ শুহনা 'আল-ওয়াহবানিয়া'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন যে, এ জাতীয় মাসআলাগুলোর ক্ষেত্রে ফতোয়ার জন্য মনোনীত (المختار) মত হলো—এই ধরনের কথা উচ্চারণকারী যদি এর দ্বারা গালি দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে এবং একে কুফরি মনে না করে, তবে সে কুফরি করল না। আর যদি সে একে কুফরি মনে করে এবং অপরজনকে কাফের মনে করার ভিত্তিতেই সম্বোধন করে, তবে সে কুফরি করল। কারণ সে একজন মুসলিমকে কাফের মনে করার মাধ্যমে মূলত ইসলাম ধর্মকেই কুফর বলে বিশ্বাস করল। আর যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্মকে কুফর মনে করে, সে কুফরি করল। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞাত। (এবং 'আল-বাহরুর রাইক' গ্রন্থে বলা হয়েছে: কোনো মুসলিমকে 'হে কাফের' বলার মাধ্যমে কারো কারো মতে সে কাফের হয়ে যাবে। তবে ফতোয়ার জন্য মনোনীত (المختار) মত হলো, যদি সে তাকে কাফের মনে করে বলে তবেই সে কাফের হবে, আর যদি গালি দেওয়ার উদ্দেশ্যে বলে তবে নয়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। (সুতরাং এই সব) আয়াত ও বর্ণনাগুলোর (الأخبار) মধ্যে মুত্তাকীদের জন্য শিক্ষা রয়েছে। আর ঐ ব্যক্তির চেয়ে নিকৃষ্ট আর কে হতে পারে, যে এগুলোর ওপর অসার কথা এবং মিথ্যা অপবাদকে প্রাধান্য দেয়? যে ব্যক্তি (আল্লাহর) নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়, আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না। আল্লাহ ঐ ব্যক্তির অন্তরচক্ষুকে অন্ধ ও বধির করে দিয়েছেন। এই ইমাম সবসময়ই হিংসুকদের শত্রুতার শিকার হয়েছেন, যা মর্যাদাবান মহাপুরুষদের চিরাচরিত রীতি। তারা তাঁর সম্পর্কে মিথ্যা কথা ছড়িয়ে দেয় এবং আমির ও শাসকদের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে। ফলে মানুষের কাছে তাদের হীনতাই প্রকাশ পায়, আর তাঁর নক্ষত্র সমোজ্জ্বল ও আলোকিত হতে থাকে।

(কবিতা)

তারা সেই যুবকের প্রতি হিংসা পোষণ করল যেহেতু তারা তার সমপর্যায়ের হতে পারল না … তাই তারা সকলেই তার শত্রু ও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে গেল।

যেমন সুন্দরী রমণীর সতিনরা হিংসা ও বিদ্বেষবশত তার চেহারার সৌন্দর্য দেখে বলে … সে তো অত্যন্ত কুৎসিত।

এবং তাঁর অবস্থার প্রকৃত হাকিকত বর্ণনা করতে গিয়ে তাঁর নিজের ভাষায় নিচের পঙক্তিগুলো পাঠ করা কতই না যুক্তিযুক্ত:

(কবিতা)

আমি সঠিক চিন্তা ও উচ্চ হিম্মতের মাধ্যমে … শ্রেষ্ঠত্বের পথে জগতবাসীকে ছাড়িয়ে গেছি।

গোমরাহির নিবিড় অন্ধকার রজনীতে আমার প্রজ্ঞার আলোকচ্ছটায় … হেদায়াতের নূর উদ্ভাসিত হয়েছে।

মূর্খরা একে নিভিয়ে দিতে চায় … কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কেবল ফাজায়েল বা গুণী ব্যক্তিদেরই হিংসা করা হয় … আর কেবল নীচ ও মন্দ স্বভাবের লোকেরাই হিংসা থেকে মুক্ত থাকে।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯২)
ولذا قال القائل

لا مات خصادك بل خلدوا … حتى يروا منك الذي يكمد

ولا خلاك الدهور من حاسد … فإن خير الناس من يحسد

(فإن قلت) قد عرفنا مزيد فضل هذا الإمام، وكثرة الثناء عليه من عامة الانام، وإن من تكلم فيه بالنسبة إليهم اقل القليل، ولكن القاعدة التي عليها التعويل، بين اهلى التفريع والتأصيل، أن الجرح مقدم على التعديل (قلت) هذا في غير من اشتهرت عدالته، وظهرت ديانته، وفى غير من علم أن التكلم فيه ناشئ عن عداوة، أو جهالة وغباوة، فقد قال الحافظ الباجي الصواب عندنا أن من ثبتت إمامته وعدالته وكثر مادحوه ومزكوه، وندر جارحوه، وكانت هناك قرينة دالة على سبب جرحه من تعصب مذهبي أو غيره فانا لا نلتفت إلى الجرح فيه ونعمل فيه بالعدالة وإلا فلو فتحنا هذا الباب واخذنا تقديم الجرح على إطلاقه لما سلم لنا أحد من الأئمة إذ ما من امام إلا وقد طعن فيه طاعنون، وهلك فيه هالكون، قد عقد الحافظ أبو عمر بن عبد البر في كتاب العلم بابا في حكم قول العلماء بعضهم في بعض بدأ فيه بحديث الزبير رضى الله تعالى عنه (دب إليكم داء الامم قبلكم الحسد والبغضاء) الحديث، وروى بسنده عن ابن عباس رضى الله تعالى عنهما قال اسمعوا علم العلماء ولا تصدقوا بعضهم على بعض فوالذي نفسي بيده لهم أشد تغايرا من التيوس في ذروبها وعن مالك بن دينار يؤخذ بقول العلماء والقراء في كل شيء الا قول بعضهم في بعض (وقال) الإمام المحقق الشيخ تاج الدين السبكي في طبقاته الكبرى بعد نقله لكثير من كلام الإمام ابن عبد البر محررا لهذه المسئلة أن الجارح لا يقبل منه الجرح وإن فسره في حق من غلبت طاعاته على معاصيه ومادحوه على ذاميه ومزكوه على جارحيه إذا كانت هناك قرينة يشهد العقل بان مثلها حامل على الوقيعة في الذي جرحه من تعصب مذهبي أو منافسة دنيوية كما يكون بين النظراء أو غير ذلك فنقول مثلا لا يلتفت إلى كلام ابن أبي ذيب في مالك وابن معين في الشافعي والنسائى في أحمد بن صالح لأن هؤلاء أئمة مشهورون صار الجارح منهم كالآتي بخير غريب لو صح لتوفرت الدواعى على نقله وكان القاطع قائما على كذبه فيما قاله ومما ينبغي أن يتفقد عند الجرح حال العقائد واختلافها بالنسبة إلى الجارح والمجروح فربما خالف الجارح المجروح في العقيدة فجرحه لذلك واليه أشار الرافعي بقوله وينبغي أن يكون المزكون برآء من الشحناء والعصبية في المذهب خوفا من أن يحملهم ذلك على جرح عدل أو تزكية فاسق وقد وقع هذا لكثير من
এ কারণেই জনৈক কবি বলেছেন:

তোমার ফসল কর্তনকারীরা মরেনি, বরং তারা দীর্ঘজীবী হোক … যাতে তারা তোমার মধ্যে এমন কিছু দেখতে পায় যা তাদের ব্যথিত করে।

আর মহাকাল যেন তোমাকে হিংসুকমুক্ত না রাখে … কারণ মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ তারাই, যাদের হিংসা করা হয়।

(যদি আপনি বলেন) আমরা এই ইমামের মহান মর্যাদা এবং সাধারণ মানুষের নিকট থেকে তাঁর ওপর অগণিত প্রশংসা সম্পর্কে জেনেছি; এবং যারা তাঁর সমালোচনা করেছে তাদের সংখ্যা প্রশংসাকারীদের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। তবে মূলনীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগ বিশেষজ্ঞদের নিকট যে মূলনীতিটি নির্ভরযোগ্য তা হলো: 'ত্রুটি বর্ণনা (الجرح)' 'নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণের (التعديل)' ওপর অগ্রাধিকার পায়। (আমি বলব) এটি সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে নয় যার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সুবিদিত এবং যার দ্বীনদারী প্রকাশ্য; এবং যার সম্পর্কে সমালোচনা শত্রুতা কিংবা অজ্ঞতা ও স্থূলবুদ্ধি থেকে উদ্ভূত বলে জানা যায় তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য নয়। হাফিজ আল-বাজি বলেছেন: আমাদের নিকট সঠিক মত হলো, যার ইমামত ও ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) প্রমাণিত হয়েছে এবং যার প্রশংসাকারী ও সত্যায়নকারী (مزكوه) অধিক, আর সমালোচনাকারী (جارحوه) বিরল, এবং সেখানে যদি মাযহাবী গোঁড়ামি বা অন্য কোনো কারণে তার সমালোচনার কারণ নির্দেশক কোনো লক্ষণ থাকে, তবে আমরা তার ব্যাপারে সেই ত্রুটি বর্ণনার (الجرح) প্রতি কর্ণপাত করব না এবং তার ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) অনুযায়ী আমল করব। অন্যথায় আমরা যদি এই পথ উন্মুক্ত করি এবং ঢালাওভাবে 'ত্রুটি বর্ণনাকে (الجرح)' অগ্রাধিকার দেই, তবে ইমামদের মধ্য থেকে কেউই আমাদের জন্য নিরাপদ থাকবেন না। কেননা এমন কোনো ইমাম নেই যার সমালোচনা সমালোচকরা করেনি এবং যার ব্যাপারে ধ্বংসকামীরা ধ্বংস হয়নি। হাফিজ আবু উমর ইবনে আব্দুল বার কিতাবুল ইলম গ্রন্থে আলেমদের একে অপরের সমালোচনা সংক্রান্ত হুকুম বিষয়ে একটি অধ্যায় রচনা করেছেন। তিনি সেখানে জুবাইর (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু) বর্ণিত হাদিস দিয়ে শুরু করেছেন: (তোমাদের মধ্যে পূর্ববর্তী উম্মতদের ব্যাধি—হিংসা ও বিদ্বেষ প্রবেশ করেছে...) হাদিসটি শেষ পর্যন্ত। তিনি নিজ সনদে ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: তোমরা আলেমদের জ্ঞান গ্রহণ করো, কিন্তু একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য সত্য বলে বিশ্বাস করো না। যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম! তারা নিজেদের খোয়াড়ে থাকা পাঠা ছাগলের চেয়েও বেশি পরস্পরকে হিংসা করে। মালিক ইবনে দিনার থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, আলেম ও কারীদের কথা সব বিষয়ে গ্রহণ করা হবে, কেবল একে অপরের বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য ব্যতীত। (এবং বলেছেন) গবেষক ইমাম শেখ তাজউদ্দীন সুবকী তাঁর তবাকাতুল কুবরা গ্রন্থে ইমাম ইবনে আব্দুল বারের অনেক বক্তব্য উদ্ধৃত করার পর এই মাসআলাটি এভাবে বিশ্লেষণ করেছেন যে: সমালোচনাকারীর (الجارح) পক্ষ থেকে করা সমালোচনা (الجرح) গ্রহণযোগ্য হবে না—যদিও তিনি তার ব্যাখ্যা প্রদান করেন—এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার আনুগত্য অবাধ্যতার ওপর এবং প্রশংসাকারীগণ নিন্দুকদের ওপর এবং সত্যায়নকারীগণ (مزكوه) সমালোচনাকারীদের (جارحيه) ওপর প্রবল হয়; যদি সেখানে এমন কোনো লক্ষণ থাকে যা থেকে বিবেক সাক্ষ্য দেয় যে, এটি মাযহাবী গোঁড়ামি বা দুনিয়াবী প্রতিযোগিতার বশবর্তী হয়ে সমালোচিত ব্যক্তির সম্মানহানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে, যেমনটি সমসাময়িকদের মধ্যে হয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি, মালেক এর ব্যাপারে ইবনে আবি জিব-এর বক্তব্য, শাফেয়ী এর ব্যাপারে ইবনে মাঈন-এর বক্তব্য এবং আহমদ ইবনে সালেহ-এর ব্যাপারে নাসাঈ-এর বক্তব্যের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা হবে না। কারণ তাঁরা এমন সুপ্রসিদ্ধ ইমাম যে, তাঁদের সম্পর্কে সমালোচনাকারী (الجارح) যেন এমন এক অদ্ভুত সংবাদ নিয়ে এসেছে যা সত্য হলে তা বর্ণনার বহু কারণ উপস্থিত থাকত এবং তা বর্ণনাকারীর মিথ্যার ওপর অকাট্য প্রমাণ বিদ্যমান থাকত। সমালোচনা করার (الجرح) সময় সমালোচনাকারী (الجارح) ও সমালোচিত ব্যক্তির (المجروح) আকিদার অবস্থা ও তার মধ্যকার ভিন্নতা পর্যবেক্ষণ করা উচিত। অনেক সময় সমালোচনাকারী (الجارح) আকিদার ক্ষেত্রে সমালোচিত ব্যক্তির (المجروح) ভিন্নমত পোষণ করেন এবং এ কারণেই তিনি তাঁকে সমালোচনা (الجرح) করেন। ইমাম রাফেয়ী এই দিকেই ইঙ্গিত করে বলেছেন: সত্যায়নকারীদের (المزكون) উচিত বিদ্বেষ এবং মাযহাবী গোঁড়ামি থেকে মুক্ত থাকা, পাছে এটি তাদের কোনো ন্যায়পরায়ণ (عدل) ব্যক্তিকে সমালোচনা (جرح) করতে অথবা কোনো পাপাচারীকে (فاسق) সত্যায়ন (تزكية) করতে প্ররোচিত করে। আর এমনটি অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯৩)
الأئمة جرجوا بناء على معتقدهم وهم المخطئون والمجروح مصيب واطال الكلام في هذا المقام (فإن قلت) أن ما تقدم من تسليم حضور الجان في بعض مجالس هذا الأستاذ يقوى ما نسبه إليه اعداؤه من تسخير بعض الارواح الارضية له المعدود من السحر والموصل إلى دعوى علم الغيب قلت هذا مما لا يتوهمه عاقل، فضلا عن فاضل، بل ذلك كرامة عظيمة، ومنحة جسيمة، اكرمه الله تعالى ومنحه بها ليدل على حسن عقيدته، واستقامة طريقته، فإن حضور الجن بل الاجتماع بهم أمر جائز، والجن غير الشياطين، التي يدعى السحرة تسخيرها لهم وحضور الجن والاجتماع بهم ليس من هذا القبيل المسمى سحرا وليس ذلك من دعوى علم الغيب في شيء ولنشرح لك هذا المقام، تتميما للمرام، في أربعة فصول (الفصل الأول) في بيان حقيقة الكرامة، الثاني في بيان حقيقة الجن والفرق بينهم وبين الشياطين وجواز رؤيتهم والاجتماع بهم، الثالث في بيان السحر وأقسامه وأحكامه، الرابع في بيان دعوى علم الغيب، وتتبع ذلك بخاتمة مشتملة على نقل نبذة يسيرة عن بعض العلماء الأعلام، من معاصرى هذا الإمام، الذين شهدوا له بالفضل التام وبأنه من العلماء العاملين والأولياء الكرام (الفصل الأول) في كرامة الأولياء وتعريف الولى، قال المحقق التفتازاني في شرح المقاصد الولى هو العارف بالله تعالى وصفاته المواظب على الطاعات المجتنب عن المعاصى المعرض عن الانهماك في اللذات والشهوات وكرامته ظهور أمر خارق للعادة من قبله غير مقرون بدعوى النبوة وبهذا يمتاز عن المعجزة وبمقارنة الاعتقاد والعمل الصالح والتزام متابعة النبي صلى الله تعالى عليه وسلم عن الاستدراج وعن مؤكدات تكذيب الكذابين كما روى أن مسيلمة دعا لأعور أن تصير عينه العورا صحيحة فصارت عينه الصحيحة عورا ويسمى هذا إهانة وقد تظهر الخوارق من قبل عوام المسلمين تخلصا لهم من المحن والمكاره وتسمى معونة فلذا قالوا أن الخوارق أنواع أربعة معجزة وكرامة ومعونة واهانة وذهب جمهور المتكلمين إلى جواز كرامة الأولياء ومنعه أكثر المعتزلة والاستاذ أبو إسحاق يميل إلى قريب من مذاهبهم كذا قال إمام الحرمين ثم المجوزون ذهب بعضهم إلى امتناع كون الكرامة بقصد واختيار من الولى وبعضهم إلى امتناع كونها على قضية الدعوى حتى لو ادعى الولى الولاية واعتضد بخوارق العادات لم يجز ولم يقع بل ربما سقط عن مرتبة الولاية، وبعضهم إلى امتناع كونها من جنس ما وقع معجزة لنبي كانفلاق البحر وانقلاب العصى واحياء الموتى قالوا وبهذه الجهات تمتاز عن المعجزات، وقال الإمام هذه الطرق ليست سديدة والرضى عندنا تجويز جملة خوارق العادات
ইমামগণ তাদের আকিদার ভিত্তিতে সমালোচনা (جرجوا) করেছেন, আর এক্ষেত্রে তারাই ভুলকারী এবং যার সমালোচনা করা হয়েছে (المجروح) তিনিই সঠিক; এই বিষয়ে তিনি দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। (যদি আপনি বলেন) যে, এই উস্তাদের কিছু মজলিসে জিনের উপস্থিতির যে বর্ণনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তা তার শত্রুদের দাবিকৃত বিষয়কেই শক্তিশালী করে—যা হলো তিনি কিছু পার্থিব আত্মাকে বশীভূত করেছিলেন, যা জাদুর অন্তর্ভুক্ত এবং যা গায়েবের জ্ঞান (علم الغيب) দাবি করার দিকে ধাবিত করে। আমি বলব, এটি এমন একটি বিষয় যা কোনো বিবেকবান ব্যক্তি কল্পনা করতে পারে না, কোনো গুণী ব্যক্তির কথা তো দূরে থাক। বরং এটি একটি মহান অলৌকিক মর্যাদা (كرامة) এবং এক বিশাল দান, যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাকে সম্মানিত করেছেন যাতে এটি তার সঠিক আকিদা এবং তার পথের অটলতার প্রমাণ দেয়। কেননা জিনের উপস্থিতি, বরং তাদের সাথে একত্রিত হওয়া একটি বৈধ বিষয়। আর জিনগণ শয়তানদের মতো নয়, যাদেরকে জাদুকররা বশীভূত করার দাবি করে। জিনের উপস্থিতি ও তাদের সাথে একত্রিত হওয়া জাদু নামক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত নয় এবং এটি কোনোভাবেই গায়েবের জ্ঞান (علم الغيب) দাবি করার পর্যায়ভুক্ত নয়। লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্যে এই বিষয়টি আমি আপনার নিকট চারটি পরিচ্ছেদে ব্যাখ্যা করছি: (প্রথম পরিচ্ছেদ) অলৌকিক মর্যাদার (كرامة) প্রকৃত রূপ বর্ণনায়; দ্বিতীয়টি জিনের হাকিকত এবং জিন ও শয়তানের মধ্যে পার্থক্য, এবং তাদেরকে দেখা ও তাদের সাথে একত্রিত হওয়ার বৈধতা বর্ণনায়; তৃতীয়টি জাদু, এর প্রকারভেদ ও বিধান বর্ণনায়; চতুর্থটি গায়েবের জ্ঞান (علم الغيب) দাবি করার বর্ণনায়। পরিশেষে একটি উপসংহার থাকবে যেখানে এই ইমামের সমসাময়িক কতিপয় প্রখ্যাত আলেমদের কিছু বক্তব্য উদ্ধৃত করা হবে, যারা তার পূর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব এবং তিনি যে আমলকারী আলেম ও সম্মানিত ওলিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—সেই সাক্ষ্য দিয়েছেন। (প্রথম পরিচ্ছেদ) ওলিদের অলৌকিক মর্যাদা (كرامة) এবং অলির সংজ্ঞায়। মুহাক্কিক তাফতাজানি 'শারহুল মাকাসিদ'-এ বলেন: ওলি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি আল্লাহ তাআলা ও তার গুণাবলি সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান রাখেন, নিয়মিত ইবাদতে রত থাকেন, গুনাহ বর্জন করেন এবং পার্থিব আনন্দ ও লালসায় মগ্ন হওয়া থেকে বিমুখ থাকেন। আর তার অলৌকিক মর্যাদা (كرامة) হলো তার মাধ্যমে এমন কোনো অলৌকিক (خارق للعادة) বিষয় প্রকাশ পাওয়া যা নবুয়তের দাবির সাথে সম্পৃক্ত নয়। এর মাধ্যমেই এটি মুজেজা (معجزة) থেকে পৃথক হয়। এছাড়া সঠিক বিশ্বাস ও নেক আমল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরণে অবিচল থাকার মাধ্যমে এটি 'ইস্তিদরাজ' (استدراج) এবং চরম মিথ্যাবাদীদের (الكذابين) মিথ্যা দাবির সপক্ষে প্রকাশিত অলৌকিকতা থেকে পৃথক হয়। যেমন বর্ণিত আছে যে, মুসাইলিমা এক অন্ধ ব্যক্তির জন্য দোয়া করেছিল যাতে তার অন্ধ চোখটি ভালো হয়ে যায়, কিন্তু তার সুস্থ চোখটিও অন্ধ হয়ে গিয়েছিল; একে অপমানজনক (إهانة) অলৌকিকতা বলা হয়। কখনো কখনো সাধারণ মুসলমানদের মাধ্যমেও বিপদাপদ থেকে মুক্তির জন্য অলৌকিক ঘটনা প্রকাশ পেতে পারে, যাকে সাহায্য (معونة) বলা হয়। এজন্য আলেমগণ বলেছেন যে, অলৌকিক বিষয় চার প্রকার: মুজেজা (معجزة), অলৌকিক মর্যাদা (كرامة), সাহায্য (معونة) এবং অপমানজনক (إهانة)। জমহুর মুতাকাল্লিমিন ওলিদের অলৌকিক মর্যাদাকে (كرامة) জায়েজ বা সম্ভব বলে মত দিয়েছেন, তবে অধিকাংশ মুতাজিলা একে অস্বীকার করেছেন। আর উস্তাদ আবু ইসহাক তাদের মতের কাছাকাছি অবস্থান নিয়েছেন—যেমনটি ইমামুল হারামাইন বলেছেন। অতঃপর যারা একে সম্ভব মনে করেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন যে ওলির ইচ্ছা ও পছন্দে এটি হওয়া অসম্ভব। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে ওলি হওয়ার দাবি করা অবস্থায় অলৌকিক মর্যাদা (كرامة) প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব—এমনকি যদি কোনো ওলি নিজের বেলায়াত (الولاية) দাবি করেন এবং অলৌকিক বিষয়সমূহ (خوارق العادات) দ্বারা তাকে শক্তিশালী করেন তবে তা জায়েজ নয় এবং তা ঘটবে না, বরং এতে তিনি বেলায়াতের (الولاية) মর্তবা থেকেও বিচ্যুত হতে পারেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে অলৌকিক মর্যাদা (كرامة) এমন শ্রেণির হওয়া অসম্ভব যা নবীদের জন্য মুজেজা (معجزة) হিসেবে ঘটেছে—যেমন সাগর দ্বিখণ্ডিত হওয়া, লাঠি সাপে পরিণত হওয়া বা মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করা। তারা বলেন, এইসব দিক দিয়েই অলৌকিক মর্যাদা (كرامة) মুজেজা (معجزة) থেকে পৃথক হয়। ইমাম বলেন: এই পথগুলো সঠিক নয়; আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য মত হলো সকল প্রকার অলৌকিক বিষয়ই (خوارق العادات) সম্ভব।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯৪)
في معرض الكرامات وإنما تمتاز عن المعجزات بخلوها عن دعوى النبوة حتى لو ادعى الولى النبوة صار عدوا الله تعالى لا يستحق الكرامة بل اللعنة والاهانة (ثم) ساق المحقق الادلة على جواز الكرامة وعلى وقوعها إلى ان قال وبالجملة فظهور كرامات الأولياء يكاد يلحق بظهور معجزة الانبياء وانكارها ليس بعجب من أهل البدع والاهواء. إذ لم يشاهدوا ذلك من انفسهم قط ولم يسمعوا به من رؤسائهم الذين يزعمون أنهم على شيء مع اجتهادهم في امر العبادات واجتناب السيئات * فوقعوا في اولياء الله تعالى أصحاب الكرامات "يمزقون اديمهم" ويمضغون لحومهم لا يسمونهم إلا باسم الجهلة المتصوفة، ولا يعدونهم في اعداد آحاد المبتدعة، ولم يعرفوا ان مبنى هذا الأمر على صفاء العقيدة، ونقاء السريرة. واقتفاء الطريقة واصطفاء الحقيقة. وإنما العجب من بعض فقهاء أهل السنة حيث قال فيما روى عن إبراهيم ابن ادهم انهم راوه بالبصرة يوم التروية وفى ذلك اليوم بمكة ان من اعتقد جواز ذلك يكفر. والإنصاف ما ذكره الامام النسفي حين (سئل) عما يحكى ان الكعبة تزور واحدا من الأولياء هل يجوز القول به (فقال) نقض العادة على سبيل الكرامة لاهل الولاية جائز عند أهل السنة انتهى (قال) العلامة ابن الشحنه قلت النسفى هذا هو الامام نجم الدين عمر مفتى الانس والجن رئيس الأولياء في عصره (وقد) نقل هذا عنه الامام ابن العلا في فتاواه ونقل فيها عن القاضي الامام صدر الإسلام أبي اليسر البزدوى في أصول التوحيد ان المشى من بخارى إلى مكة في ليلة واحدة من جملة الكرامات (ثم قال ابن الشحنه) وقال أبو الازد هرون ابن عبد الوهاب بن عبد الرحمن الاخيمي المصرى في كتابه المنقذ من الزلل وهو كتاب في أصول الدين اجاد فيه غاية الإجارة وبين مذهب أهل الحق احسن ابانة بعد ان ذكر الخلاف السابق والحق منع ما تحدى به نبي كاحياء الموتى وسورة من القرآن وانشقاق القمر والا خرج عن كونه دليلا وجواز (قوله وجواز عطف على منع) غيره كاشباع الخلق الكثير من الطعام القليل ولا التباس لان المعجزة تظهر على اثر دعوى الرسالة والولى لوادعى ذلك لكفر من ساعته ولم تبق كرامة فكيف تلتبس بالمعجزة انتهى. واطلق جمع من الشافعية الجواز وإن الفارق بين المعجزة والكرامة دعوى النبوة وعدمها (قلت) ويجب استثناء السورة من القرآن للقطع بعدم وجوده وبكفر مدعيه وعليه يحمل ما نقله ابن حجر في الفتاوى الحديثية عن امام الحرمين من جواز استوائهما فيما عدا التحدى ثم ذكر حكايات عن الأولياء من احياء الموتى وكلامهم معهم وانفلاق البحر وتسخير الماء وكلام الجمادات
কারামতের (كرامة) বর্ণনায়: এটি মোজেজা (معجزة) থেকে কেবল এই দিক দিয়েই পৃথক যে, এতে নবুওয়াতের দাবি থাকে না। এমনকি কোনো ওলি যদি নবুওয়াতের দাবি করেন, তবে তিনি আল্লাহ তায়ালার শত্রু হয়ে যান; তিনি কারামতের (كرامة) যোগ্য থাকেন না, বরং অভিশাপ ও লাঞ্ছনার যোগ্য হন। (অতঃপর) মুহাক্কিক কারামতের (كرامة) বৈধতা ও এর সংঘটিত হওয়ার স্বপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন এবং বলেছেন: মোটকথা, ওলিদের কারামতের (كرامة) প্রকাশ নবীদের মোজেজার (معجزة) প্রকাশের মতোই অকাট্য। বিদআতি (أهل البدع) এবং কুপ্রবৃত্তির (الأهواء) অনুসারীদের পক্ষ থেকে এর অস্বীকার কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয়। কারণ তারা নিজেরা কখনোই তা প্রত্যক্ষ করেনি এবং তাদের সেই নেতাদের কাছ থেকেও শোনেনি—যাদের সম্পর্কে তারা ধারণা করে যে ইবাদতের কঠোর সাধনা এবং পাপাচার বর্জন সত্ত্বেও তারা সঠিক পথে রয়েছে। ফলে তারা কারামতধারী (كرامة) আল্লাহর ওলিদের পেছনে পড়ে গেল, "তাঁদের সম্মানহানি করতে লাগল" এবং তাঁদের কুৎসা রটাতে লাগল। তারা তাঁদেরকে 'মূর্খ সুফি (المتصوفة)' ছাড়া অন্য কোনো নামে ডাকত না এবং তাঁদেরকে সাধারণ বিদআতিদের (مبتدعة) কাতারেই গণ্য করত না। তারা জানত না যে, এই বিষয়ের ভিত্তি হলো বিশুদ্ধ আকিদা, অন্তরের পরিচ্ছন্নতা, তরিকত অনুসরণ এবং হাকিকতের চয়ন। তবে বিস্ময়ের বিষয় হলো আহলে সুন্নাতের (أهل السنة) কোনো কোনো ফকিহ-র (فقهاء) বক্তব্যে; যেখানে ইব্রাহিম ইবনে আদহাম সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁকে একই সাথে বসরার ইয়াওমুত তারবিয়াতে এবং মক্কায় ওই একই দিনে দেখা গেছে, সেখানে সেই ফকিহ বলেছেন যে ব্যক্তি এটি জায়েজ বলে বিশ্বাস করবে সে কাফের (كافر) হয়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে ন্যায়সঙ্গত কথা হলো ইমাম নাসাফি যা উল্লেখ করেছেন। যখন তাঁকে (জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল) যে, কাবা ঘর কোনো একজন ওলিকে জিয়ারত করতে যায় বলে যা বর্ণিত হয়, সে কথা বলা কি জায়েজ? তখন তিনি (বলেছিলেন): আহলে সুন্নাতের (أهل السنة) মতে ওলিদের ক্ষেত্রে কারামত (كرامة) হিসেবে অলৌকিক কিছু ঘটা জায়েজ। (সমাপ্ত) আল্লামা ইবনে আশ-শুহনা (বলেন): আমি বলি, এই নাসাফি হলেন ইমাম নাজমুদ্দিন উমর, যিনি মানুষ ও জিনের মুফতি এবং তাঁর যুগের ওলিদের শিরোমণি। (নিশ্চয়ই) ইমাম ইবনুল আলা তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে এটি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং সেখানে কাজি ইমাম সদরুল ইসলাম আবুল ইউসর আল-বাজদাবি-র উসুলুদ দ্বীন (أصول الدين) বিষয়ক গ্রন্থ 'উসুলুত তাওহিদ' থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, এক রাতে বুখারা থেকে মক্কায় যাতায়াত করা কারামতের (كرامة) অন্তর্ভুক্ত। (অতঃপর ইবনে আশ-শুহনা বলেন) আবু আল-আজদ হারুন ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আব্দুর রহমান আল-আখিমি আল-মিসরি তাঁর 'আল-মুনকিজ মিনায যালাল' কিতাবে—যা উসুলুদ দ্বীন (أصول الدين) বিষয়ক একটি অত্যন্ত চমৎকার গ্রন্থ এবং যেখানে তিনি সত্যপন্থীদের (أهل الحق) মাযহাব স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন—পূর্ববর্তী মতপার্থক্য উল্লেখ করার পর বলেছেন: সত্য কথা হলো, যা নবিদের চ্যালেঞ্জের (تحدي) বিষয় যেমন—মৃতকে জীবিত করা, কুরআনের মতো সুরা আনা, চন্দ্র দ্বিখণ্ডিত করা—তা অন্যের জন্য হওয়া নিষিদ্ধ (منع); অন্যথায় এটি নবুওয়াতের দলিল হিসেবে গণ্য হতো না। তবে এগুলোর (তাঁর বক্তব্য 'জায়েজ হওয়া' হলো নিষিদ্ধ হওয়ার বিপরীত) বাইরে অন্যান্য বিষয় জায়েজ, যেমন সামান্য খাদ্যে অনেক মানুষের তৃপ্ত হওয়া। এতে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই; কারণ মোজেজা (معجزة) প্রকাশ পায় রিসালাতের দাবির প্রেক্ষিতে, আর কোনো ওলি যদি এমন দাবি করেন তবে তিনি তৎক্ষণাৎ কাফের (كافر) হয়ে যাবেন এবং তখন আর তা কারামত (كرامة) হিসেবে গণ্য হবে না। সুতরাং এটি মোজেজার (معجزة) সাথে গুলিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। (সমাপ্ত) শাফেঈ মাজহাবের একদল আলিম নিঃশর্তভাবে জায়েজ হওয়ার কথা বলেছেন এবং বলেছেন যে, মোজেজা (معجزة) ও কারামতের (كرامة) মধ্যে পার্থক্য কেবল নবুওয়াতের দাবি থাকা ও না থাকার মধ্যে। (আমি বলি) কুরআনের মতো সুরা আনার বিষয়টি অবশ্যই ব্যতিক্রম রাখা আবশ্যক; কারণ এমনটি না ঘটা সুনিশ্চিত এবং এর দাবিদার কাফের (كافر)। ইবনে হাজার তাঁর ফাতাওয়া হাদিসিয়্যাহ গ্রন্থে ইমামুল হারামাইন থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা এই অর্থেই প্রযোজ্য যে, চ্যালেঞ্জ (تحدي) ছাড়া বাকি সব বিষয়ে মোজেজা (معجزة) ও কারামত (كرامة) সমপর্যায়ের হতে পারে। অতঃপর তিনি ওলিদের থেকে বর্ণিত বিভিন্ন ঘটনা উল্লেখ করেছেন যেমন—মৃতকে জীবিত করা ও তাদের সাথে কথা বলা, সমুদ্র বিদীর্ণ হওয়া, পানি বশীভূত করা এবং জড় পদার্থের কথা বলা।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯৫)
والحيوانات لهم وطاعة الاشياء لهم حتى الجن وغير ذلك مما اشتهر وتواتر كما ذكره في الرسالة القشيرية (الفصل الثاني) في الجن والشياطين ورؤيتهم والاجتماع بهم قال في شرح المقاصد ظاهر الكتاب والسنة وهو قول أكثر الأمة ان الملائكة اجسام لطيفة نورانية قادرة على التشكلات باشكال مختلفة كاملة في العلم والقدرة على الافعال الشافة شأنها الطاعات. ومسكنها السموات * هم رسل الله تعالى إلى انبيائه عليهم الصلاة والسلام وامناؤه على وحيه يسبحون الليل والنهار لا يفترون لا يعصون الله ما امرهم ويفعلون ما يؤمرون* والجن اجسام لطيفة هوائية تتشكل باشكال مختلفة وتظهر منها افعال عجيبة منهم المؤمن والكافر والمطيع والعاصى والشياطين اجسام نارية شأنها القاء النفس في الفساد والغواية بتذكير اسباب المعاصى واللذات وانساء منافع الطاعات وما اشبه ذلك على ما قال تعالى حكاية عن الشيطان (وما كان لى عليهم من سلطان إلا ان دعوتكم فاستجبتم لى فلا تلومونى ولوموا انفسكم) قبل تركيب الانواع الثلاثة من امتزاج العناصر الأربعة إلا ان الغالب على الشيطان عنصر النار وعلى الآخرين عنصر الهواء وذلك ان امتزاج العناصر قد لا يكون على القريب من الاعتدال بل على قدر صالح من غلبة أحدهما فإن كانت الغلبة للارضية يكون الممتزج مائلا إلى عنصر الأرض وإن كانت للمائية فالى الماء أو للهوائية فالى الهواء أو للنارية فالى النار لا يبرح ولا يفارق وليس لهذه الغلبة حد معين بل تختلف إلى مراتب بحسب أنواع الممتزجات التي تسكن هذا العنصر ولكون هذا الهواء والنار في غاية اللطافة والشفيف كانت الملائكة والجن والشياطين بحيث يدخلون المنافذ والمضايق حتى اجواف الاسنان (*) ولا يرون بحس البصر إلا إذا اكتسبوا،

--------------------------------------------

(*) وفى معراج الدراية شرح الهداية اخر كتاب المفقود بعد ان ذكر حديث الذي اختطفه الجن في زمن عمر رضى الله تعالى عنه قال وفي هذا الحديث دليل لمذهب أهل السنة ان الجن يتسلطون على بنى ادم واهل الزيغ ينكرون ذلك على اختلاف بينهم فمنهم من يقول المنكر دخولهم في الادمى لان اجتماع روحين في جسد واحد لا يتحقق وقد يتصور تسلطهم على الادمى من غير ان يدخلوا فيه ومنهم من قال الجن اجسام لطيفة فلا يتصور أن يحملوا جسما كثيفا من موضع إلى موضع ولكنا أهل السنة تأخذ ما وردت به الآثار قال عليه الصلاة والسلام ان الشيطان يجرى من ابن آدم مجرى الدم وقال عليه الصلاة والسلام ان الشيطان يدخل في رأس الإنسان فيكون على قافية رأسه فتتبع الآثار ولا نشتغل بكفية ذلك انتهى. منه
এবং পশু-পাখি ও জড়বস্তুর তাদের প্রতি আনুগত্য, এমনকি জিন এবং অন্যান্যদের ক্ষেত্রেও যা প্রসিদ্ধ ও মুতাওয়াতির (تواتر) পর্যায়ে পৌঁছেছে; যেমনটি আল-রিসালা আল-কুশায়রিয়্যাহ (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ)-এ জিন, শয়তান, তাদের দর্শন এবং তাদের সাথে সাক্ষাতের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। শারহুল মাকাসিদ-এ বলা হয়েছে যে, কিতাব ও সুন্নাহর বাহ্যিক অর্থ এবং উম্মতের অধিকাংশের অভিমত হলো যে, ফেরেশতারা অত্যন্ত সূক্ষ্ম নূরানি দেহবিশিষ্ট সত্তা, যারা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে সক্ষম, জ্ঞানে পূর্ণ এবং কষ্টসাধ্য কার্যাবলী সম্পাদনে শক্তিশালী এবং তাদের স্বভাব হলো আনুগত্য করা। তাদের বাসস্থান আসমানসমূহ। *তারা তাদের নবীদের (আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালাম) কাছে আল্লাহর প্রেরিত রাসূল এবং তাঁর ওহীর আমানতদার; তারা রাত-দিন তাসবীহ পাঠ করে এবং ক্লান্ত হয় না। আল্লাহ তাদের যা নির্দেশ দেন তারা তার অবাধ্য হয় না এবং তারা তা-ই করে যা তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়।* আর জিন হলো সূক্ষ্ম বায়বীয় দেহবিশিষ্ট যারা বিভিন্ন রূপ ধারণ করতে পারে এবং তাদের থেকে আশ্চর্যজনক কাজ প্রকাশ পায়। তাদের মধ্যে মুমিন, কাফির, অনুগত এবং অবাধ্য রয়েছে। শয়তান হলো অগ্নিময় দেহবিশিষ্ট যাদের কাজ হলো পাপাচার ও বিভ্রান্তির উপকরণসমূহ স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে এবং আনুগত্যের উপকারিতা ভুলিয়ে দিয়ে আত্মাকে ফাসাদ ও গোমরাহির মধ্যে নিক্ষেপ করা। যেমনটি মহান আল্লাহ শয়তানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন: (তোমাদের ওপর আমার কোনো কর্তৃত্ব ছিল না, কেবল আমি তোমাদের আহ্বান করেছিলাম আর তোমরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছিলে। সুতরাং তোমরা আমাকে তিরস্কার করো না বরং নিজেদেরই তিরস্কার করো)। চারটি উপাদানের সংমিশ্রণে এই তিন প্রকার সৃষ্টির গঠনের পূর্বে, শয়তানের ওপর আগুনের উপাদানের প্রাধান্য ছিল এবং বাকি দুটির ওপর বায়ুর উপাদানের প্রাধান্য ছিল। আর তা এই কারণে যে, উপাদানসমূহের সংমিশ্রণ সবসময় ভারসাম্যের নিকটবর্তী হয় না, বরং কোনো একটির বিশেষ আধিক্য থাকে। যদি মাটির উপাদানের প্রাধান্য থাকে তবে মিশ্রণটি মাটির দিকে ঝুঁকে থাকে, যদি পানির উপাদানের প্রাধান্য থাকে তবে পানির দিকে, বায়ুর প্রাধান্য থাকলে বায়ুর দিকে এবং আগুনের প্রাধান্য থাকলে আগুনের দিকেই থাকে যা কখনো বিচ্যুত হয় না। এই প্রাধান্যের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই, বরং এই উপাদানে অবস্থানকারী মিশ্রণের প্রকারভেদে বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন হয়। বায়ু এবং আগুনের চরম সূক্ষ্মতা ও স্বচ্ছতার কারণে ফেরেশতা, জিন এবং শয়তান এমন যে তারা সূক্ষ্ম রন্ধ্রপথ ও সংকীর্ণ পথেও প্রবেশ করতে পারে, এমনকি দাঁতের (*) অভ্যন্তরেও। তারা চাক্ষুষ দৃষ্টিতে দেখা যায় না যদি না তারা কোনো বিশেষ রূপ অর্জন করে।

--------------------------------------------

(*) মি'রাজুদ দিরায়াহ শারহুল হিদায়াহ-এ কিতাবুল মাফকুদের শেষে উমর (রাযিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু)-এর যুগে জিন কর্তৃক অপহৃত ব্যক্তির হাদিস উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে: "এই হাদিসে আহলে সুন্নাতের মাযহাবের দলিল রয়েছে যে, জিনরা বনী আদমের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পারে। আর বিভ্রান্ত পথচারীরা তাদের মতপার্থক্য অনুযায়ী এটি অস্বীকার করে। তাদের কেউ কেউ বলে যে, মানুষের ভেতরে তাদের প্রবেশ করা অসম্ভব, কারণ এক দেহে দুই আত্মার সমাবেশ সম্ভব নয়। তবে তাদের ভেতরে প্রবেশ না করেও তাদের ওপর আধিপত্য কল্পনা করা যেতে পারে। আবার কেউ কেউ বলে যে, জিন সূক্ষ্ম দেহবিশিষ্ট, তাই কোনো স্থূল দেহকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বহন করা তাদের পক্ষে অসম্ভব। কিন্তু আমরা আহলে সুন্নাত সেই নীতি গ্রহণ করি যা আছার (الآثار) বা বর্ণনা সমূহে বর্ণিত হয়েছে। নবী করীম (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছেন: 'নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের রক্ত চলাচলের পথে বিচরণ করে।' তিনি আরও বলেছেন: 'নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের মাথায় প্রবেশ করে তার ঘাড়ের ওপর অবস্থান নেয়।' সুতরাং আছার (الآثار) বা বর্ণনা অনুসরণ করা হবে এবং এটি কীভাবে ঘটে তা নিয়ে আমরা মগ্ন হব না।" ইতি।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯৬)
من الممتزجات الآخر التي تغلب عليها الارضية والمائية جلابيب وغواش فيرون في ابدان كابدان الإنسان أو غيره من الحيوانات * والملائكة كثيرا ما تعاون الإنسان على أعمال يعجز هو عنها بقوته * كالغلبة على الاعداء والطيران في الهواء والمشى على الماء وتحفظه من كثير من الآفات واما الجن والشياطين فيخالطون بعض الأناسى ويعاونون على السحر والطلسمات والنيرنجات وما يشاكل ذلك انتهى وذكر قبله انه حكى مشاهدة الجن عن كثير من العقلاء وارباب المكاشفات من الأولياء انتهى (قلت) ويدل على ذلك ما صرح به الفقهاء من الخلاف المشهور في صحة النكاح بين الجن والانس حيث صححه الشافعية ومنعه الحنفية لاشتراطهم في صحة النكاح اتحاد الجنس لكن نقل في القنية ان السائل عن ذلك يصفع لحماقته كما نقله في الاشباه والنظائر ثم قال وفي يتيمة الدهر في فتاوى أهل العصر (سئل) على ابن أحمد عن التزوج بامرأة مسلمة من الجن هل يجوز إذا تصور ذلك أم يختص الجواز بالآدميين (فقال) يصفع هذا السائل لحماقته وجهله (قلت) وهذا لا يدل على حماقة السائل وإن كان لا يتصور إلا ترى ان ابا الليث ذكر في فتاواه ان الكفار لو تترسوا بنبي من الأنبياء هل يرمى فقال يسأل ذلك النبي ولا يتصور ذلك بعد رسولنا صلى الله تعالى عليه وسلم ولكن اجاب على تقدير التصور وكذا هذا وسئل عنها أبو حامد فقال لا يجوز انتهى وروى المنع عن الحسن البصرى وقتادة والحاكم وابن قتيبة واسحق بن راهويه وعقبة الاصم وتمام ذلك في الاشباه والنظائر للعلامة ابن نجيم وذكر فيها ان الجماعة تنعقد بهم وانه إذا مر الجنى بين يدى المصلى يقاتل كما يقاتل الأنسى وانه لا يجوز قتل الجنى بغير حق كالانسى وانه لو وطئ الجنى الانسبة لاغسل عليها ما لم تنزل انتهى وظاهر الاطلاق عدم وجوب الغسل عليها وأن ظهر لها بصورة ادمى واولج الحشفة لانه وإن وجدت بينهما المجانسة الصورية لكن مع تحقق المباينة المعنوية لا يجب الغسل إلا بالإنزال كما في وطئ الميتة ولذا علل به بعضهم حرمة التناكح بينهما كذا حققه العلامة ابن امير حاج في شرحه على منية المصلى ثم قال ومذهب الشافعي وجوب الغسل عند تحقق الايلاج. واستبعاد وطئ الأنسى الجنية وعكسه مع التشكل في صورة بنى ادم بعيد. وقد اشتهر الوقوع ولا شك في إلا مكان انتهى. وافاد انه مع عدم التشكل غير ممكن لما علمت ان الجن اجسام لطيفة هوائية. ولعله محمل ما مر من ان السائل عنه يصفع وكذا يحمل عليه ما نقله في الطبقات الكبرى عن حرملة انه قال سمعت الامام الشافعي رحمه الله تعالى يقول من زعم من أهل العدالة انه يرى

অন্যান্য সংমিশ্রণের মধ্যে যাতে পার্থিব ও জলীয় উপাদানের আধিক্য রয়েছে, তারা হলো আবরণ ও আচ্ছাদন স্বরূপ। ফলে তাদের মানুষের দেহের ন্যায় বা অন্যান্য প্রাণীর দেহের ন্যায় অবয়বে দেখা যায়। আর ফেরেশতারা প্রায়শই মানুষকে এমন সব কাজে সাহায্য করে যা সে তার নিজ শক্তিতে করতে অক্ষম। যেমন শত্রুদের ওপর বিজয় লাভ করা, বাতাসে উড়া, পানির ওপর দিয়ে হাঁটা এবং তাকে অনেক আপদ-বিপদ থেকে রক্ষা করা। আর জিন ও শয়তানরা কিছু মানুষের সাথে মেলামেশা করে এবং জাদু, তিলিজম ও ভেলকিবাজি এবং এই জাতীয় কাজে সহযোগিতা করে। সমাপ্ত। এর আগে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, অনেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি এবং ওলিদের মধ্যে যারা আধ্যাত্মিক উন্মোচন বা কাশফ-এর অধিকারী, তাদের নিকট থেকে জিন দেখার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। সমাপ্ত। (আমি বলি) ফকিহগণের মাঝে জিন ও মানুষের মধ্যে বিবাহের বৈধতা নিয়ে যে প্রসিদ্ধ মতভেদ রয়েছে, তা এই বিষয়টিরই প্রমাণ দেয়। যেখানে শাফেয়ি মাযহাবের ফকিহগণ একে সঠিক (صحيح) বলেছেন এবং হানাফিগণ একে নিষিদ্ধ করেছেন; কারণ তারা বিবাহের বৈধতার জন্য লিঙ্গের অভিন্নতা (একই প্রজাতির হওয়া) শর্ত করেন। তবে ‘আল-কুনিয়া’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, এই বিষয়ে প্রশ্নকারীকে তার বোকামির জন্য চপেটাঘাত করা উচিত, যেমনটি ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর’ গ্রন্থেও উদ্ধৃত হয়েছে। এরপর তিনি বলেন, ‘ইয়াতিমাতুদ দাহর’-এ যুগের ফতোয়া বিষয়ক আলোচনায় রয়েছে: (জিজ্ঞেস করা হলো) আলী ইবনে আহমদকে—কোনো মুসলিম জিন নারীকে বিবাহ করা কি জায়েজ যদি তা সম্ভব হয়, নাকি এই বৈধতা কেবল মানুষের জন্য সীমাবদ্ধ? (তিনি বললেন) এই প্রশ্নকারীকে তার বোকামি ও অজ্ঞতার কারণে চপেটাঘাত করা উচিত। (আমি বলি) এটি প্রশ্নকারীর বোকামির প্রমাণ দেয় না, যদিও বিষয়টি সচরাচর কল্পনা করা যায় না। আপনি কি দেখেন না যে, আবুল লাইস তার ফতোয়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, কাফেররা যদি কোনো নবীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে, তবে কি তাদের দিকে তীর নিক্ষেপ করা যাবে? তিনি উত্তরে বললেন, সেই নবী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে; অথচ আমাদের রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পরে এটি কল্পনা করা যায় না। কিন্তু তিনি বিষয়টি সম্ভব হওয়ার অনুমানের ওপর ভিত্তি করে উত্তর দিয়েছেন। এখানেও বিষয়টি তদ্রূপ। ইমাম আবু হামিদকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটি জায়েজ নয়। সমাপ্ত। হাসান বসরি, কাতাদাহ, হাকেম, ইবনে কুতাইবা, ইসহাক ইবনে রাহওয়াই এবং উকবা আল-আসাম থেকে এই নিষেধাজ্ঞার কথা বর্ণিত হয়েছে। এর বিস্তারিত আলোচনা আল্লামা ইবনে নুজাইমের ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর’ গ্রন্থে রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাদের মাধ্যমে জামাত (নামাজের) সংঘটিত হয় এবং যদি জিন কোনো মুসল্লির সামনে দিয়ে অতিক্রম করে, তবে মানুষের মতোই তাকে প্রতিরোধ করতে হবে। আর কোনো জিনকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা জায়েজ নয় যেমন কোনো মানুষকে হত্যা করা জায়েজ নয়। আর যদি কোনো জিন কোনো মানুষের সাথে সহবাস করে, তবে বীর্যপাত না হওয়া পর্যন্ত তার ওপর গোসল ওয়াজিব হবে না। সমাপ্ত। এই বক্তব্যের বাহ্যিক ব্যাপকতা হলো যে, তার ওপর গোসল ওয়াজিব না হওয়া, যদিও জিনটি মানুষের রূপ ধারণ করে এবং লিঙ্গমুণ্ড প্রবেশ করায়। কারণ যদিও তাদের মধ্যে বাহ্যিক আকৃতিতে সাদৃশ্য পাওয়া যায়, কিন্তু অভ্যন্তরীণ বা সত্তাগত ভিন্নতা নিশ্চিত থাকায় বীর্যপাত ব্যতীত গোসল ওয়াজিব হবে না; যেমনটি মৃতদেহের সাথে সহবাসের হুকুম। এই কারণেই কেউ কেউ তাদের মধ্যে বিবাহের হারামের কারণ হিসেবে একেই উল্লেখ করেছেন। আল্লামা ইবনে আমির হাজ ‘মুনিয়াতুল মুসল্লি’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এভাবেই বিষয়টি তাহকিক করেছেন। এরপর তিনি বলেন, ইমাম শাফেয়ির মাযহাব হলো লিঙ্গমুণ্ড প্রবেশের বিষয়টি নিশ্চিত হলে গোসল ওয়াজিব হওয়া। কোনো জিন মানুষের রূপ ধারণ করলে তার সাথে মানুষের সহবাসের বিষয়টি অসম্ভব মনে করা সুদূরপরাহত। কারণ এর বাস্তবতা ও সংঘটন প্রসিদ্ধ এবং এটি সম্ভব হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। সমাপ্ত। আর তিনি নির্দেশ করেছেন যে, রূপ ধারণ না করলে এটি সম্ভব নয়, কারণ আপনি জেনেছেন যে জিন হলো সূক্ষ্ম ও বায়বীয় দেহ। সম্ভবত প্রশ্নকারীকে চপেটাঘাত করার যে কথা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তা এই অবস্থার ওপরই প্রয়োগ করা হবে। একইভাবে ‘তবাকাতুল কুবরা’ গ্রন্থে হারমালা থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তা-ও এর ওপর প্রয়োগ করা হবে; তিনি বলেন, আমি ইমাম শাফেয়ি (রহ.)-কে বলতে শুনেছি: ন্যায়পরায়ণ (عدالة) ব্যক্তিদের মধ্যে যে ব্যক্তি দাবি করে যে সে দেখেছে...

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯৭)
الجن ابطلنا شهادته لقوله تعالى (إنه يراكم هو وقبيله من حيث لا ترونهم) إلا ان يكون الزاعم نبيا انتهى لكن هذا ينافى ما مر عن شرح المقاصد من حكاية مشاهدتهم عن كثير من العقلاء وارباب المكاشفات فإن المتبادر ان المراد المشاهدة بدون تشكل إلا ان يكون ذلك من باب الكرامة فإن ما صح ان يكون معجزة لنبي جاز ان يكون كرامة لولى على ما مر فيه من الكلام مبسوطا وكلام الامام الشافعي رضى الله تعالى عنه في غير أصحاب الكرامات عند عدم التشكل والا فلا وجه لمنع رؤيتهم لكل أحد عند التشكل. ولذا اختلفوا في قتل الحية البيضاء التي تمشى مستوية فقيل لا تقتل لأنها من الجان لقوله صلى الله تعالى عليه وسلم اقتلوا ذا الطفيتين والابتر واياكم والحية البيضاء فانها من الجن وقال الطحاوى لا بأس بقتل الكل لانه صلى الله تعالى عليه وسلم عاهد الجن ان لا يدخلوا بيوت امته ولا يظهروا انفسهم فإذا خالفوا فقد نقضوا العهد فلا حرمة لهم وقد حصل في عهده صلى الله تعالى عليه وسلم وفيمن بعده الضرر بقتل بعض الحيات من الجن فالحق ان الحل ثابت ومع ذلك فالاولى الامساك عما فيه علامة الجان لا للحرمة بل لدفع الضرر التوهم من جهتهم وقيل ينذرها فيقول خلى طريق المسلمين أو ارجى بإذن الله تعالى فإن ابت قتلها كذا في فتح القدير للمحق ابن الهمام، وقد أطال تلميذه ابن امير حاج بذلك في شرحه على المنية ثم نقل عن شرح الجامع الصغير لصدر الإسلام قال والصحيح في الجواب ان يحتاط في قتل الحيات حتى لا يقتل جنيا فانهم يؤذونه اذى كثيرا بل إذ رأى حية وشك انه جنى يقول له خل طريق المسلمين ومر فإن مر تركه فإن واحدا من اخواني وهو اكبر سنامنى قتل حية كبيرة في دار لنا بسيف فضربه الجن حتى جعلوه زمنا فكان لا تتحرك رجلاه قريبا من شهر ثم عالجناه وداويناه بارضاء الجن حتى تركوه فزال ما به. وهذا مما عاينته بعيني انتهى. ومثله ما في تيسير الوصول إلى جامع الأصول عن أبي السايب قال دخلت على أبي سعيد فوجدته يصلى فجلست انتظره فسمعت تحريكا في عراجين في ناحية البيت فالتفت فإذا حية فوثبت لاقتلها فأشار إلى ان اجلس فجلست فلما انصرف اشار إلى بيت في الدار فقال اترمى هذا البيت فقلت نعم فقال كان فيه فتى منا قريب عهد بعرس فخرجنا مع رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم إلى الخندق فكان الفتى يستأذن رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم بإنصاف النهار فيرجع إلى اهله فاستأذن يوما فقال له رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم خذ سلاحك فانى اخشى عليك قريظه فأخذ الرجل سلاحه فأتى اهله فإذا امرأته بين البابين قائمة فاهوى إليها بالرمح ليطعنها به

জিনদের সাক্ষ্য আমরা বাতিল করেছি আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে: (নিশ্চয়ই সে এবং তার দল তোমাদেরকে এমন জায়গা থেকে দেখে যেখান থেকে তোমরা তাদের দেখতে পাও না) তবে যদি দাবিদার কোনো নবী হন। সমাপ্ত। কিন্তু এটি 'শারহুল মাকাসিদ' থেকে অতিবাহিত হওয়া বর্ণনার পরিপন্থী, যেখানে অনেক বুদ্ধিমান ব্যক্তি ও আধ্যাত্মিক সাধকদের পক্ষ থেকে তাদের দেখার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। কারণ সাধারণভাবেই প্রতীয়মান হয় যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো রূপ পরিবর্তন ছাড়াই দেখা। তবে এটি কারামতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কেননা যা কোনো নবীর জন্য মুজিজা হিসেবে হওয়া সঠিক (صح), তা কোনো অলির জন্য কারামত হিসেবে হওয়াও বৈধ—যেটি ইতিপূর্বে বিস্তারিত আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে। আর ইমাম শাফিঈ (রা.)-এর বক্তব্য রূপ পরিবর্তন না হওয়া অবস্থায় কারামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্যথায়, রূপ পরিবর্তনের সময় যে কারো জন্য তাদের দেখার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। এই কারণেই ফকিহগণ সোজা হয়ে চলাফেরা করা সাদা সাপ মারার বিষয়ে মতভেদ করেছেন। বলা হয়েছে যে, এটি মারা যাবে না; কারণ তা জিনের অন্তর্ভুক্ত। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা দুই রেখা বিশিষ্ট সাপ এবং লেজকাটা সাপ হত্যা করো, আর সাদা সাপ হতে বেঁচে থাকো; কারণ তা জিনদের অন্তর্ভুক্ত।" ইমাম ত্বহাবী বলেন, সব ধরনের সাপ মারতে কোনো অসুবিধা নেই। কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) জিনদের সাথে এই মর্মে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন যে, তারা যেন তাঁর উম্মতের ঘরে প্রবেশ না করে এবং নিজেদের প্রকাশ না করে। সুতরাং তারা যখন এর বিরুদ্ধাচরণ করে, তখন তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করল, ফলে তাদের আর কোনো নিরাপত্তা রইল না। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগে এবং তাঁর পরবর্তী সময়ে জিনদের মধ্য থেকে কিছু সাপ মারার কারণে ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। তাই সঠিক কথা হলো এটি বৈধ হওয়া সাব্যস্ত, তবে তা সত্ত্বেও যেসব সাপের মধ্যে জিনের আলামত রয়েছে সেগুলো মারা থেকে বিরত থাকাই উত্তম; এটি হারাম হওয়ার কারণে নয়, বরং তাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য ক্ষতির আশঙ্কা দূর করার জন্য। কেউ কেউ বলেন যে, সেটিকে সতর্ক করবে এবং বলবে: "মুসলমানদের পথ ছেড়ে দাও অথবা আল্লাহর নির্দেশে ফিরে যাও।" যদি সে অস্বীকার করে তবে তাকে হত্যা করবে। মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম রচিত ফাতহুল কাদির-এ এরূপই বর্ণিত হয়েছে। তাঁর ছাত্র ইবন আমির হাজ শারহুল মুনিয়া-তে এ বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। অতঃপর তিনি সদরুল ইসলাম রচিত শারহুল জামিউস সাগির থেকে উদ্ধৃত করে বলেন: উত্তরের ক্ষেত্রে সঠিক (الصحيح) হলো, সাপ মারার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা যাতে কোনো জিনকে হত্যা করা না হয়; কেননা তারা তাকে অনেক কষ্ট দেয়। বরং যখন কেউ সাপ দেখে এবং সে জিন কি না সে বিষয়ে সন্দেহ হয়, তখন সে তাকে বলবে: "মুসলমানদের পথ ছেড়ে দাও এবং চলে যাও।" যদি সে চলে যায় তবে তাকে ছেড়ে দেবে। কেননা আমার ভাইদের একজন—যিনি আমার চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন—আমাদের একটি বাড়িতে একটি তলোয়ার দিয়ে বিশাল এক সাপ হত্যা করেছিলেন। এরপর জিনরা তাকে এমনভাবে আঘাত করল যে তাকে পঙ্গু করে দিল। প্রায় এক মাস তার পা নাড়াচাড়া করতে পারত না। অতঃপর আমরা তার চিকিৎসা করলাম এবং জিনদের সন্তুষ্ট করার মাধ্যমে আরোগ্যের চেষ্টা করলাম, শেষ পর্যন্ত তারা তাকে ছেড়ে দিল এবং তার রোগ সেরে গেল। এটি এমন এক ঘটনা যা আমি নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছি। সমাপ্ত। অনুরুপ একটি বর্ণনা তয়সিরুল উসুল ইলা জামিউল উসুল-এ আবু সাইব থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: আমি আবু সাঈদের নিকট প্রবেশ করলাম এবং তাকে নামাজ পড়তে দেখলাম। তাই আমি তার জন্য অপেক্ষা করতে বসলাম। তখন আমি ঘরের এক কোণে খেজুরের ডালপালার মধ্যে নড়াচড়া শুনতে পেলাম। আমি তাকিয়ে দেখি একটি সাপ। আমি সেটিকে মারার জন্য লাফিয়ে উঠলাম, তখন তিনি আমাকে বসতে ইশারা করলেন। তাই আমি বসে পড়লাম। যখন তিনি নামাজ শেষ করলেন, তখন তিনি বাড়ির একটি ঘরের দিকে ইশারা করে বললেন, "তুমি কি এই ঘরটি দেখছ?" আমি বললাম, "হ্যাঁ।" তিনি বললেন, "সেখানে আমাদের এক যুবক ছিল যার নতুন বিয়ে হয়েছিল। আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে খন্দকের যুদ্ধে গিয়েছিলাম। সেই যুবকটি দ্বিপ্রহরের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিকট অনুমতি চাইত এবং নিজের পরিবারের কাছে ফিরে আসত।" একদিন সে অনুমতি চাইলে রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন, "তোমার অস্ত্র সাথে নাও, কেননা আমি তোমার ব্যাপারে বনু কুরাইজাকে নিয়ে ভয় পাচ্ছি।" ফলে লোকটি তার অস্ত্র নিল এবং তার পরিবারের কাছে এল। সেখানে সে তার স্ত্রীকে দুই দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখল। সে তাকে বিদ্ধ করার জন্য তার দিকে বর্শা তাক করল।

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯৮)
واصابته غيرة فقالت لها كفف عليك رمحك وادخل البيت حتى تنظر ما الذي اخرجنى فدخل البيت فإذا حية عظيمة منطوية على الفراش فاهوى إليها بالرمح فانتظمها به. ثم خرج فركزه في الدار فاضطربت عليه فما ندرى ايهما كان اسرع موتا الحية أو الفتى قال فجئنا رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم فذكرنا ذلك له وقلنا ادع الله ان يحييه فقال استغفروا لصاحبكم ثم قال ان بالمدينة جنا قد اسلموا فإذا رأيتم منهم شيئًا فآذنوه ثلاثة أيام فإن بدالكم بعد ذلك فاقتلوه فإنما هو شيطان أخرجه مسلم ومالك وأبو داود والترمذى * هذا وللعلامة ابن حجر الهيثمي كلام طويل في الجن ذكره في الفتاوى الحديثية ولنذكر نبذة منه قال. قال القاضي أبو يعلى الجن اجسام مؤلفة واشخاص ممثلة ويجوز كونها رقيقة وكثيفة خلافا لزعم المعتزلة رقتها ولذلك لا تراها وقال الباقلاني انما رآهم من رآهم لانهم اجسام مؤلفة وجئت واخرج ابن أبي الدنيا والحكيم الترمذى وأبو الشيخ وابن مردويه انه صلى الله تعالى عليه وسلم قال خلق الله الجن ثلاثة اصناف صنف حيات وعقارب وخشاش الأرض وصنف كالريح في الهواء وصنف عليهم الحساب والعقاب قال السهيلي والصنف الثالث هو الذي لا يأكل ولا يشرب ان صح ان الجن لا تأكل ولا تشرب قال القاضي أبو يعلى ولا طريق للشياطين على النقل في الصور المختلفة وكذا الملائكة إلا بان يعلمه الله تعالى قولا أو فعلا إذا اتى به نقله من صورة إلى صورة أخرى لان تصويره لنفسه محال لان انتقالها من صورة إلى أخرى انما يكون بنقض البنية وتفريق الاجزاء وإذا انتقلت بطلت الحياة واستعمال وقوع الفعل من الجملة فكيف تنتقل وعلى هذا يحمل ما جاء ان إبليس تصور في صورة سراقة وجبريل تمثل في صورة دحية * ولما ذكر عند عمر الغيلاني قال ان أحد إلا يستطيع ان يتغير عن صورته التي خلقه الله عليها ولكن لهم سحرة كسحرتكم فإذا رأيتم من ذلك شيئا فاذنوا قال القاضي أبو يعلى الجن يأكلون ويشربون ويتناكحون كالانس وظاهر العمومات ان جميعهم كذلك وهو رأى قوم ثم قال بعضهم اكلهم وشربهم شم واستراح ولا مضغ وهذا لا دليل عليه. وقال الاكثر بل مضغ وبلع واخرج ابن جريج عن وهب انهم اجناس فأما خالصهم فمنهم ريح لا يأكلون ولا يشربون ولا يموتون ولا يتوالدون ومنهم اجناس يأكلون ويشربون ويتناكحون ويموتون وهى هذه التي منها السعالى والغول واشباه ذلك * وصح عن ابن مسعود انه انطلق مع النبي صلى الله تعالى عليه وسلم حتى إذا كان ابا على مكة فخط له خطا واجلسه فيه ثم افتح صلى الله تعالى عليه وسلم القرآن فغشيه اسودة كثيرة حالوا بينهما حتى لم يسمع صوتة ثم تفرقوا عنه كقطع السحاب وفرغ صلى الله تعالى

তখন তার (স্ত্রীর) মধ্যে ঈর্ষাবোধ জেগে উঠল এবং সে তাকে বলল: আপনি আপনার বর্শা সংবরণ করুন এবং ঘরে প্রবেশ করে দেখুন কী আমাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি ঘরে প্রবেশ করে দেখলেন একটি বিশাল সাপ বিছানার ওপর কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে। তিনি বর্শা দিয়ে সেটিকে বিদ্ধ করলেন। অতঃপর সেটি নিয়ে বের হয়ে আঙিনায় গেঁথে দিলেন। তখন সাপটি তাঁর ওপর ছটফট করতে লাগল। আমরা জানি না কে আগে মৃত্যুবরণ করেছিল, সাপটি নাকি যুবকটি। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এলাম এবং বিষয়টি তাঁর কাছে উল্লেখ করে বললাম: আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন যেন তিনি তাকে পুনর্জীবিত করে দেন। তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করো। অতঃপর তিনি বললেন: মদিনায় এমন কিছু জিন রয়েছে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে। সুতরাং যখন তোমরা তাদের কোনো কিছু দেখবে, তখন তিন দিন পর্যন্ত তাকে সতর্ক করবে। এরপরও যদি তোমাদের সামনে সেটি প্রকাশ পায় তবে তাকে হত্যা করো, কেননা সে তো একটি শয়তান। এটি মুসলিম, মালিক, আবু দাউদ এবং তিরমিজি সংকলন করেছেন (أخرجه)।

আল্লামা ইবনে হাজার আল-হাইতামীর জিনদের বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা রয়েছে, যা তিনি 'ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। আমরা তার একটি সারাংশ বর্ণনা করছি। তিনি বলেন: কাজী আবু ইয়ালা বলেছেন, জিনরা হলো সঙ্ঘবদ্ধ দেহ এবং দৃশ্যমান আকৃতিসম্পন্ন সত্তা। তাদের দেহ সূক্ষ্ম বা স্থূল হওয়া সম্ভব, যা মুতাজিলাদের এই দাবির পরিপন্থী যে তারা কেবল সূক্ষ্ম হওয়ার কারণে দেখা যায় না। আল-বাকিল্লানি বলেন, যারা তাদের দেখেছেন তারা এই কারণেই দেখেছেন যে তারা হলো সঙ্ঘবদ্ধ শরীরী সত্তা। ইবনে আবিদ দুনিয়া, হাকিম তিরমিজি, আবুশ শেখ এবং ইবনে মারদুওয়াহ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ জিনদের তিন শ্রেণীতে সৃষ্টি করেছেন—এক শ্রেণী হলো সাপ, বিচ্ছু এবং ভূমির কীটপতঙ্গ; এক শ্রেণী হলো বাতাসের মতো শূন্যে বিচরণকারী; আর এক শ্রেণী যাদের ওপর হিসাব ও শাস্তি রয়েছে। সুহায়লি বলেন, তৃতীয় শ্রেণীটি হলো তারা যারা আহার বা পান করে না—যদি এটি সহীহ (صحيح) হয় যে জিনরা পানাহার করে না।

কাজী আবু ইয়ালা বলেন, শয়তানদের পক্ষে বিভিন্ন রূপ ধারণ করার কোনো ক্ষমতা নেই, এবং ফেরেশতাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাদের কোনো বাক্য বা কাজের মাধ্যমে তা শিক্ষা দেন; যখন তারা তা সম্পাদন করে, তখন এক রূপ থেকে অন্য রূপে রূপান্তরিত হয়। কারণ তাদের নিজেদের পক্ষে এই রূপান্তর অসম্ভব; যেহেতু এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তিত হওয়া শারীরিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং অঙ্গসমূহ বিচ্ছিন্ন করার মাধ্যমেই সম্ভব। আর যখন কাঠামো ভেঙে যায়, তখন জীবনাবসান ঘটে এবং পূর্ণাঙ্গ দেহের ক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে, এমতাবস্থায় রূপান্তর কীভাবে সম্ভব? এভাবেই সেই বর্ণনাগুলোকে বুঝতে হবে যেখানে এসেছে যে ইবলিস সুরাকার রূপ ধারণ করেছিল এবং জিবরাঈল দিহয়াহ-র রূপে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন।

উমর (রা.)-এর নিকট যখন 'গিলানি' (এক প্রকার জিন) সম্পর্কে আলোচনা করা হলো, তিনি বললেন: আল্লাহ কাউকে যে রূপে সৃষ্টি করেছেন তা পরিবর্তন করার ক্ষমতা কারো নেই, তবে তাদের মধ্যেও তোমাদের জাদুকরদের মতো জাদুকর রয়েছে। সুতরাং যখন তোমরা তেমন কিছু দেখবে, তখন আযান দাও। কাজী আবু ইয়ালা বলেন, জিনরা মানুষের মতো পানাহার করে এবং বিয়েশাদি করে। সাধারণ বর্ণনা (العمومات) অনুযায়ী প্রতীয়মান হয় যে তারা সকলেই এমন, যা একটি দলের অভিমত। এরপর কেউ কেউ বলেছেন, তাদের আহার ও পানীয় কেবল ঘ্রাণ গ্রহণ এবং শ্বাস গ্রহণ, চিবিয়ে খাওয়া নয়—তবে এর সপক্ষে কোনো দলিল নেই। অধিকাংশ আলেম বলেন, বরং তারা চিবিয়ে খায় এবং গিলে ফেলে। ইবনে জুরাইজ ওহাব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, জিনরা বিভিন্ন প্রকারের; তাদের মধ্যে যারা খাঁটি জিন, তারা বায়ুপ্রবাহের মতো; তারা পানাহার করে না, তাদের মৃত্যু নেই এবং বংশবিস্তার নেই। আর এক শ্রেণী হলো তারা যারা আহার করে, পান করে, বিয়েশাদি করে এবং মৃত্যুবরণ করে; এদের মধ্য থেকেই 'সাআলী', 'গুল' এবং এ জাতীয় জিনদের উৎপত্তি।

ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে সহীহ (صحيح) বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে চললেন এবং যখন মক্কার উচ্চভূমিতে পৌঁছালেন, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জন্য একটি রেখা টানলেন এবং তাঁকে সেখানে বসালেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরআন পাঠ শুরু করলেন। তখন অনেক কালো অবয়ব তাঁকে আচ্ছন্ন করে ফেলল এবং তাদের উভয়ের মাঝে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াল, ফলে তিনি (ইবনে মাসউদ) নবীজির কণ্ঠস্বর শুনতে পাচ্ছিলেন না। অতঃপর তারা মেঘখণ্ডের ন্যায় তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অবসর হলেন...

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ২৯৯)
عليه وسلم مع الفجر (واخرج) أبو نعيم عن إبراهيم النخعى ان نفرا من الجن قالوا انا خارجون إلى الحج وشقتنا بعيدة ونحن منطلقون فزودنا قال لكم الرجيع وما اتيتم من عظم فلكم عليه لحم وما اتيتم عليه من الروث فهو لكم ثمر فلما ولوا قلت من هؤلاء قال جن نصيبين (واخرج) مسلم وغيره ان الشيطان يأكل بشماله ويشرب بشماله أي حقيقة وجله على المجاز رده ابن عبد البر بأنه لا معنى لصرفه عن حقيقته الممكنة (وصح) عن الأعمش انه قال تزوج اليناجني فقلت له ما احب الطعام اليكم قال الارز قال فاتيناهم به فجعلت أرى اللقم ترفع ولا أرى احدا فقلت له افيكم من هذه الاهواء التي بيننا قال نعم قلت فما الرافضة فيكم قال شرنا وجاء عن قتادة وغيره وعن السدى ان فيهم قدرية ومرجئة ورافضة وشيعة وفي آثار واخبار أخرى ان مؤمنيهم يصلون ويصومون ويحجون ويطوفون ويقرؤن القرآن ويتعلمون العلوم ويأخذونها عن الانس وإن لم يشعروا بهم وكذا رواية الحديث (واخرج) الشيرازى ان سليمان عليه السلام اوثق شياطين في البحر وإذا كان سنة خمس وثلاثين ومائة خرجوا في صورة الناس فجالسوهم في المجالس والمساجد ونازعوهم القرآن والحديث واخرجه العقيلي وابن عدى بزيادة ان تسعة اعشارهم تذهب إلى العراق وعشرهم بالشام (واخرج) البخارى عن سفيان الثورى أخبره رجل انه كان يرى الجن كان رأى قاصا كان يقص في مسجد الخيف فتطلبه فإذا هو شيطان وجاءت اثار اخر بنحو ذلك وجاء من عدة طرق انه صلى الله تعالى عليه وسلم جئ إليه بمجنون فضرب ظهره وقال اخرج عدو الله فخرج وتفل في فم اخر وقال اخرج يا عدو الله فانى رسول الله. قال ابن تيمية وعامة ما يقوله أهل العزائم فيه شرك فليحذر (واخرج) جماعة ان ابن مسعود قرأ في اذن مصروع افحسبتم انما خلقناكم عبثا إلى اخر السورة فافاق ثم اخبر النبي صلى الله تعالى عليه وسلم بذلك فقال والذي نفسي بيده لو ان رجلا موقنا فرأها على جبل لزال انتهى ما في الفتاوى الحديثية ملخصا (وذكر) في موضع آخر عن شيخ الإسلام الحافظ العسقلاني في ابناء العمر عن الثورى الأنصاري المتوفى سنة إحدى وثمانمائة انه خرج عليه ثعبان مهول فقتله فاحتمل فورا من مكانه فأقام عند الجن إلى أن رفعوه لقاضيهم فادعى عليه ولى المقتول فأنكر فقال له القاضي على أي صورة كان المقتول فقال على صورة ثعبان فالتفت القاضي إلى من بجانبه فقال سمعت رسول الله صلى الله تعالى عليه وسلم يقول من تزيا بغير زيه فاقتلوه وامر القاضي

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফজর পর্যন্ত অবস্থান করলেন। আবু নুআইম ইব্রাহিম আন-নাখয়ী থেকে সংকলন করেছেন (أخرج) যে, একদল জিন বলল: আমরা হজের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছি, অথচ আমাদের পথ অত্যন্ত দীর্ঘ এবং আমরা যাত্রা শুরু করছি, তাই আমাদের পাথেয় দিন। তিনি বললেন: তোমাদের জন্য রয়েছে বিষ্ঠা (বা গোবর) এবং যে হাড় তোমরা পাবে, তাতে তোমাদের জন্য মাংস থাকবে; আর তোমরা যে লাদ পাবে তা তোমাদের জন্য ফল হিসেবে গণ্য হবে। তারা যখন চলে গেল, আমি জিজ্ঞাসা করলাম: এরা কারা? তিনি বললেন: এরা নাসিবীনের জিন। মুসলিম এবং অন্যান্যরা সংকলন করেছেন (أخرج) যে, শয়তান তার বাম হাত দিয়ে খায় এবং বাম হাত দিয়ে পান করে—অর্থাৎ এটি একটি বাস্তব সত্য। অধিকাংশ আলিম একে রূপক হিসেবে গ্রহণ করলেও ইবনে আবদিল বারর তা প্রত্যাখ্যান করেছেন এই যুক্তিতে যে, একে তার সম্ভাব্য প্রকৃত অর্থ থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। আল-আমাশ থেকে বিশুদ্ধ প্রমাণিত (صح) হয়েছে যে, তিনি বলেছেন: আমাদের মধ্য থেকে একজন জিনের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম: তোমাদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় খাবার কোনটি? সে বলল: চাল। তিনি বলেন: এরপর আমরা তাদের নিকট তা নিয়ে এলাম এবং আমি দেখতে পাচ্ছিলাম যে লোকমাগুলো উপরে উঠছে কিন্তু কাউকে দেখা যাচ্ছে না। আমি জিজ্ঞাসা করলাম: আমাদের মাঝে প্রচলিত এই ভ্রান্ত মতবাদসমূহ কি তোমাদের মধ্যেও আছে? সে বলল: হ্যাঁ। আমি বললাম: তোমাদের মধ্যে রাফেজিদের (الرافضة) অবস্থা কেমন? সে বলল: তারা আমাদের মাঝে সবচেয়ে নিকৃষ্ট। কাতাদা এবং সুদ্দী থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের মধ্যে কাদারিয়া (القدرية), মুরজিয়া (المرجئة), রাফেজি (الرافضة) এবং শিয়া (الشيعة) বিদ্যমান। অন্যান্য বিবরণ (آثار) ও সংবাদে এসেছে যে, তাদের মধ্যে মুমিনরা সালাত আদায় করে, রোজা রাখে, হজ ও তাওয়াফ করে, কুরআন তিলাওয়াত করে এবং ইলম অর্জন করে। তারা মানুষের অজান্তেই তাদের থেকে ইলম গ্রহণ করে; এমনকি হাদিস বর্ণনার (رواية الحديث) ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটে। শিরাজি সংকলন করেছেন (أخرج) যে, সুলায়মান (আ.) শয়তানদের সমুদ্রে বন্দি করে রেখেছিলেন। যখন ১৩৫ হিজরি বছর এলো, তখন তারা মানুষের বেশ ধরে বের হলো এবং মানুষের মজলিসে ও মসজিদে তাদের সাথে বসল। তারা কুরআন ও হাদিস নিয়ে তাদের সাথে বিতর্ক করতে লাগল। উকায়লি এবং ইবনে আদি অতিরিক্ত তথ্যসহ এটি সংকলন করেছেন (أخرج) যে, তাদের দশ ভাগের নয় ভাগ ইরাকে এবং এক ভাগ সিরিয়া অঞ্চলে চলে যায়। বুখারি সুফিয়ান আল-সাওরি থেকে সংকলন করেছেন (أخرج) যে, জনৈক ব্যক্তি তাকে খবর দিয়েছেন যে সে জিন দেখতে পেত। সে মসজিদে খাইফে জনৈক কাহিনীকারকে কাহিনী বর্ণনা করতে দেখে তাকে অনুসরণ করতে লাগল, কিন্তু দেখল সে আসলে একটি শয়তান। এ জাতীয় আরও অনেক বিবরণ (آثار) বর্ণিত হয়েছে। একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এক উন্মাদ ব্যক্তিকে আনা হয়েছিল। তিনি তার পিঠে আঘাত করে বললেন: 'হে আল্লাহর শত্রু, বের হয়ে যা!' ফলে সে বেরিয়ে গেল। তিনি অন্য একজনের মুখে থুতু নিক্ষেপ করলেন এবং বললেন: 'হে আল্লাহর শত্রু, বের হয়ে যা! নিশ্চয়ই আমি আল্লাহর রাসুল।' ইবনে তাইমিয়া বলেছেন: ঝাড়ফুঁককারীরা সাধারণত যা বলে তার অধিকাংশতেই শিরক বিদ্যমান, তাই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত। একটি জামাত সংকলন করেছেন (أخرج) যে, ইবনে মাসউদ (রা.) এক মৃগী রোগীর কানে সুরা মুমিনুনের শেষ পর্যন্ত 'আফাহাসিবতুম আন্নামা খালাকনাকুম আবাসান' তিলাওয়াত করলেন এবং সে সুস্থ হয়ে গেল। এরপর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তা অবহিত করলে তিনি বললেন: 'সেই সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ, যদি কোনো দৃঢ় বিশ্বাসী ব্যক্তি কোনো পাহাড়ের উপর এটি পাঠ করে, তবে তাও স্থানচ্যুত হয়ে যাবে।' 'ফাতাওয়া হাদিসিয়্যাহ' থেকে সংক্ষেপে এ পর্যন্তই। অন্য স্থানে শায়খুল ইসলাম হাফেজ আসকালানি থেকে 'আবনাউল উমর' গ্রন্থে সাওরি আল-আনসারির (যিনি ৮০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, তার সামনে এক ভয়াবহ সাপ উপস্থিত হলো এবং তিনি সেটি মেরে ফেললেন। এরপর তৎক্ষণাৎ তাকে তার স্থান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হলো এবং তিনি জিনদের কাছে অবস্থান করলেন। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে তাদের কাজির (বিচারক) কাছে পেশ করল। নিহত সাপের অভিভাবক তার বিরুদ্ধে দাবি পেশ করলে তিনি তা অস্বীকার করলেন। কাজি তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: 'নিহত ব্যক্তিটি কোন আকৃতিতে ছিল?' তিনি বললেন: 'সাপের আকৃতিতে'। তখন কাজি তার পাশে থাকা ব্যক্তিদের দিকে ফিরে বললেন: 'আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তি তার নিজস্ব রূপ পরিবর্তন করে অন্য রূপ ধারণ করে, তাকে হত্যা করো।' অতঃপর কাজি নির্দেশ দিলেন...

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০০)
باطلاقه فرجعوا به إلى منزله انتهى ثم ذكر قصة نحوها (تنبيه) قد تحصل مما ذكرنا سابقا ولاحقا جواز رؤية الجن بعد التشكل لكل أحد وكذا بدون تشكل لمن شاء الله تعالى من عباده فضلا عن حضورهم في مجالس الذكر وسماع اصواتهم بل تصح رؤية الملائكة أيضا وارواح الانبيا فقد قال في الفتاوى الحديثية أيضا ذكر الغزالى وآخرون ان رؤية الملائكة ممكنة لأنها كرامة يكرم الله تعالى بها من يشاء من اوليائه وقد وقع ذلك الجماعة من الصحابة ولما رأى ابن عباس جبريل قال له النبي صلى الله تعالى عليه وسلم لن يراه خلق الاعمى إلا ان يكون نبيا ولكن يكون ذلك آخر عمرك رواه الحاكم وكذلك رأته عائشة وزيد ابن ارقم وخلق لما جاء يسأل عن لا يمان ولم يعموا لان الظاهر ان المراد من رآه منفردا به كرامة له انتهى (وقال) في موضع آخر وقد سئل هل تمكن رؤية النبي صلى الله تعالى عليه وسلم في اليقظة فأجاب بقوله انكر ذلك جماعة وجوزه آخرون وهو الحق فقد اخبر بذلك من ولايتهم من الصالحين بل استدل حديث البخارى من رآنى في المنام فسيرانى في اليقطة أي بعينى رأسه وقيل بعينى قلبه واحتمال ارادة القيمة بعيد من لفظ اليقظة على انه لا فائدة في التقييد ح لان امته كلهم يرونه يوم القيمة من رآه في المنام ومن لم يره (و) في شرح ابن أبي جمرة للأحاديث التي انتقاها من البخارى ترجيح بقاء الحديث على عمومه في حياته صلى الله تعالى عليه ومماته ممن له اهلية الاتباع للسنة ولغيره قال ومن يدعى الخصوص بغير مخصص منه صلى الله تعالى عليه وسلم فقد تعسف ثم الزم المنكر ذلك بأنه غير مصدق بقوله الصادق وبانه جاهل بقدرة القادر وبانه منكر لكرامات الأولياء مع ثبوتها بدلائل السنة الواضحة ومراده بعموم ذلك وقوع رؤية اليقظة الموعود بها لمن رآه بالنوم ولو مرة واحدة تحقيقا لوعده الشريف الذي لا يخلف واكثر ما يقع ذلك للعامة قبل الموت عند الاختصار فلا تخرج روحه من جسده حتى يراه وفاء بوعده واما غيرهم فيحصل لهم ذلك قبل ذلك بقلة أو كثرة بحسب تأهلهم وتعلقهم واتباعهم للسنة إذ الاخلال بها مانع كبير (و) في صحيح مسلم عن عمران بن حصين رضى الله تعالى عنه ان الملائكة كانت تسلم عليه اكر ماله لصبره على الم البواسير فلما كواها انقطع سلام الملائكة عنه فلما ترك الكى أي برئ كما في رواية صحيحة عاد سلامهم عليه وفى رواية البيهقى كانت الملائكة تصافحه فلما كوى تنحت عنه (و) في المنقذ من الضلالة لحجة الإسلام بعد مدح الصوفية وبيان أنهم خير الخلق حتى أنهم وهم بيقضتهم يشاهدن الملائكة وارواح الانبياء ويسمعون منهم
সাধারণভাবে তাঁকে তাঁর বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলো—সমাপ্ত। অতঃপর তিনি এই রূপ আরও একটি ঘটনা উল্লেখ করেছেন। (সতর্কতা) আমরা আগে যা আলোচনা করেছি এবং পরে যা করব, তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, জিনদের কোনো রূপ ধারণ করার পর তাদের দেখা সবার জন্য জায়েয বা সম্ভব। একইভাবে, আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাঁকে চান, তাঁকে রূপ ধারণ ছাড়াই জিন দেখার সুযোগ দেন। এছাড়া জিকিরের মজলিসে তাদের উপস্থিতি এবং তাদের কণ্ঠস্বর শোনার বিষয়টি তো বলাই বাহুল্য। বরং ফেরেশতা এবং নবীদের আত্মাকে দেখাও সম্ভব। আল-ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ-তেও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম গাজালী ও অন্যান্যরা বলেছেন, ফেরেশতাদের দেখা সম্ভব; কারণ এটি একটি কারামত (كرامة), যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁর ওলিদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করেন। সাহাবীদের এক দলের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে। যখন ইবনে আব্বাস জিবরাঈলকে দেখেছিলেন, তখন নবী (সা.) তাঁকে বলেছিলেন: "কোনো সৃষ্টিই তাঁকে দেখতে পাবে না তবে সে অন্ধ হয়ে যাবে, যদি না সে নবী হয়; কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে এটি তোমার জীবনের শেষ সময়ে ঘটবে।" এটি হাকেম বর্ণনা করেছেন। একইভাবে আয়েশা (রা.), জায়েদ ইবনে আরকাম (রা.) এবং আরও অনেক মানুষ তাঁকে দেখেছিলেন যখন তিনি ঈমান সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে এসেছিলেন, অথচ তাঁরা অন্ধ হননি। কারণ বাহ্যত এর অর্থ হলো, যে ব্যক্তি তাঁকে একাকী অবস্থায় দেখেছে, সেটি তাঁর জন্য একটি কারামত (كرامة)। সমাপ্ত। (তিনি) অন্য স্থানে বলেছেন, তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, জাগ্রত অবস্থায় (يقظة) নবী (সা.)-কে দেখা কি সম্ভব? তিনি উত্তরে বললেন, একদল আলেম এটি অস্বীকার করেছেন এবং অন্যদল একে জায়েয বলেছেন; আর এটিই সত্য। কারণ সৎকর্মশীল ওলিদের মধ্য থেকে অনেকেই এ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন। বরং সহিহ বুখারি-র হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে যে, "যে ব্যক্তি আমাকে স্বপ্নে দেখল, সে আমাকে জাগ্রত অবস্থায় (يقظة) দেখবে।" অর্থাৎ চর্মচক্ষে, আবার কেউ বলেছেন অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে। আর এখানে জাগ্রত অবস্থা (يقظة) শব্দ দ্বারা কিয়ামত উদ্দেশ্য হওয়ার সম্ভাবনা দূরবর্তী; কারণ কিয়ামতের সময়ের জন্য এই শর্তারোপ করার কোনো সার্থকতা নেই, যেহেতু তাঁর উম্মতের সবাই কিয়ামতের দিন তাঁকে দেখবে—চাই সে স্বপ্নে দেখে থাকুক বা না থাকুক। আর ইবনে আবি জামরা কর্তৃক সহিহ বুখারি থেকে সংকলিত হাদিসসমূহের ব্যাখ্যায় এই মতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যে, হাদিসটি নবী (সা.)-এর জীবদ্দশায় এবং ইন্তেকালের পর সবার জন্যই এর ব্যাপকতায় বহাল থাকবে, যারা সুন্নাহর অনুসরণের যোগ্যতা রাখে বা অন্যদের জন্য। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি নবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই একে বিশেষ কোনো সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ দাবি করে, সে সীমালঙ্ঘন করল। অতঃপর তিনি এই মত অস্বীকারকারীকে এ কারণে দায়ী করেন যে, সে সত্যবাদীর (সা.) কথাকে বিশ্বাস করছে না এবং সে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কে অজ্ঞ এবং ওলিদের কারামত (كرامة) অস্বীকারকারী, অথচ সুন্নাহর সুস্পষ্ট দলিল দ্বারা কারামত প্রমাণিত। আর এর ব্যাপকতা দ্বারা তাঁর উদ্দেশ্য হলো, যে ব্যক্তি স্বপ্নে তাঁকে একবারও দেখেছে, তার জন্য সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জাগ্রত অবস্থায় (يقظة) দেখা সংঘটিত হবে, যা তাঁর সম্মানজনক প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন—যা কখনো খেলাফ হয় না। সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এটি সাধারণত মৃত্যুর পূর্বে মুমূর্ষু অবস্থায় ঘটে থাকে; ফলে তাঁর প্রতিশ্রুতি রক্ষার্থে তাকে না দেখা পর্যন্ত শরীর থেকে রুহ বের হয় না। তবে অন্যদের ক্ষেত্রে তাদের যোগ্যতা, গভীর সম্পর্ক এবং সুন্নাহর অনুসরণের মাত্রা অনুযায়ী মৃত্যুর অনেক আগে কম বা বেশিবার এটি অর্জিত হতে পারে; যেহেতু সুন্নাহর খেলাফ চলা এক্ষেত্রে বড় অন্তরায়। সহিহ মুসলিম-এ ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত আছে যে, অর্শরোগের ব্যথায় তাঁর ধৈর্যের সম্মানে ফেরেশতারা তাঁকে সালাম প্রদান করতেন। যখন তিনি সেখানে দাগ (গরম লোহা দিয়ে সেক) দিলেন, তখন ফেরেশতাদের সালাম বন্ধ হয়ে গেল। অতঃপর যখন তিনি দাগ দেওয়া ছেড়ে দিলেন—অর্থাৎ তিনি সুস্থ হয়ে গেলেন যেমনটি একটি সহিহ (صحيحة) বর্ণনায় এসেছে—তখন তাদের সালাম পুনরায় ফিরে এল। বাইহাকির বর্ণনায় এসেছে, ফেরেশতারা তাঁর সাথে মুসাফাহা করত, কিন্তু যখন তিনি দাগ দিলেন, তখন তারা তাঁর থেকে দূরে সরে গেল। হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাজালী রচিত আল-মুনকিজ মিনাদ দলাল-এ সুফীদের প্রশংসা এবং তাঁরা যে সৃষ্টির সেরা—তা বর্ণনার পর বলা হয়েছে যে, তাঁরা এমনকি জাগ্রত অবস্থায়ও (يقظة) ফেরেশতা ও নবীদের আত্মা প্রত্যক্ষ করেন এবং তাঁদের থেকে কথা শোনেন।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০১)
اصواتا ويقتبسون منهم فوائد ثم يترقى في الحال من مشاهدة الصور والامثال إلى درجات يضيق عنها نطاق الناطق (و) قال تلميذه الامام أبو بكر بن العربي المالكي ورؤية الأنبياء والملائكة وسماع كلامهم ممكن للمؤمن كرامة وللكافر عقوبة (و) في المدخل لابن الحاج رؤيته صلى الله تعالى عليه وسلم باب ضيق وقل من يقع له ذلك الامن كان على صفة عزيز وجودها في هذا الزمان بل عدمت غالبا مع أننا لا ننكر من يقع له هذا من الاكابر الذين حفظهم الله تعالى في ظواهرهم وبواطنهم قال البازرى وقد سمع من جماعة من الأولياء في زماننا وقبله انهم رأوا النبي صلى الله تعالى عليه وسلم يقظة حيا بعد وفاته انتهى وتمام هذا البحث هناك مع بيان بعض من وقع له ذلك من الأولياء المكرمين رضى الله تعالى عنهم اجمعين (الفصل الثالث) في السحر واقسامه واحكامه قال في شرح المقاصد السحر امر خارق للعادة من نفس شريرة خبيثة بمباشرة اعمال مخصوصة يجرى فيها التعلم والتلمذ وبهذين الاعتبارين تفارق المعجزة والكرامة وبإنه لا يكون بحسب اقتراح المعترضين وبانه يختص بالازمنة أو الامكنة أو الشرائط وبانه يتصدى لمعارضته ويبذل الجهد في الإتيان بمثله وبإن صاحبه ربما يتعلق بالفسق ويتصف بالرجس في الظاهر والباطن والخزى في الدنيا والآخرة إلى غير ذلك من وجوه مفارقة (و) هو عند أهل الحق جائز عقلا(1) ثابت سمعا وكذا الإصابة بالعين وقالت المعتزلة بل هو مجرد اراءة ما لا حقيقة له بمنزلة الشعبذة التي سببها خفة حركات اليد واخفاء وجه الحيلة فيه انتهى (وفى) الفتاوى الحديثية واما الفرق بين الكرامة والسحر فهو ان الخارق الغير المقترن بتحدى النبوة أن ظهر على يد صالح وهو القائم بحقوق الله تعالى وحقوق خلقه فهو الكرامة أو على يد من ليس كذلك فهو السحر والاستدراج قال امام الحرمين وليس ذلك مقتضى العقل ولكنه متلقى من اجماع العلماء انتهى. وتمييز الصالح المذكور من غيره بين لا خفاء فيه إذ ليست السيماء كالسيماء ولا الأدب كالاداب وغير الصالح لو لبس (بتشديد الباء الموحدة) ما عسى ان يلبس لابد ان يرشح من نتن فعله أو قوله ما يميزه عن الصالح * ومن ثمة ناظر صوفى برهميا وللبرهمية قوة تظهر لهم خوارق ازيد الرياضات فطار البرهمي في الجو فارتفعت إليه نعل ولم تضرب رأسه وتصفعه حتى وقع على الأرض منكسا على رأسه بين يدى الشيخ والناس ينظرون ثم ذكر عن جماعات من الأولياء نحو ذلك (واما) حكم السحر

--------------------------------------------

(1) قوله جائز عقلا المراد بالجائز الممكن منه.
শব্দাবলী এবং তারা তাদের নিকট থেকে নানাবিধ ফায়দা বা উপকার গ্রহণ করেন। অতঃপর বর্তমান অবস্থা থেকে ছবি ও রূপকসমূহ অবলোকনের মাধ্যমে এমন এক স্তরে উন্নীত হন, যা কোনো বক্তার বর্ণনার পরিসরের বাইরে। (এবং) তাঁর ছাত্র ইমাম আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি বলেছেন, মুমিনের জন্য কারামত (كرامة) হিসেবে এবং কাফিরের জন্য শাস্তি হিসেবে আম্বিয়া ও মালাইকাগণের দর্শন লাভ এবং তাঁদের কথা শ্রবণ করা সম্ভব। (এবং) ইবনুল হাজ্জ-এর আল-মাদখাল গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দর্শন লাভ করা একটি সংকীর্ণ পথ। খুব কম লোকই এই সৌভাগ্য লাভ করেন, যদি না তিনি এমন কোনো গুণের অধিকারী হন যা বর্তমান যুগে পাওয়া অত্যন্ত দুষ্কর, বরং প্রায় বিলুপ্ত। তা সত্ত্বেও আমরা সেই মহান ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এর সম্ভাবনাকে অস্বীকার করি না, যাদের আল্লাহ তাআলা তাদের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য উভয় দিক থেকে হেফাযত করেছেন। আল-বাযারি বলেছেন, আমাদের সময়ে এবং এর আগে আউলিয়ায়ে কেরামের এক জামাতের নিকট থেকে শ্রবণ করা হয়েছে যে, তারা নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওফাতের পর তাঁকে জাগ্রত অবস্থায় জীবিত দেখেছেন। কথা শেষ হলো। এই বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ আলোচনা সেখানে সম্মানিত আউলিয়ায়ে কেরাম (রাযিয়াল্লাহু আনহুম আজমাইন)-এর বর্ণনা সহকারে বিদ্যমান যাদের ভাগ্যে এটি জুটেছে। (তৃতীয় পরিচ্ছেদ) যাদু, এর প্রকারভেদ এবং হুকুম সম্পর্কে। শারহুল মাকাসিদ-এ বলা হয়েছে: যাদু হলো এমন এক স্বভাববিরুদ্ধ (خارق للعادة) বিষয়, যা কোনো অনিষ্টকারী ও পঙ্কিল আত্মার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু কাজের অনুশীলনের মাধ্যমে প্রকাশ পায় যেখানে শিক্ষা ও শিষ্যত্ব গ্রহণ করা আবশ্যক হয়। এই দুই বৈশিষ্ট্যের কারণেই এটি মুজিযা (معجزة) এবং কারামত (كرامة) থেকে পৃথক। এবং এটি বিরোধীদের দাবির প্রেক্ষিতে ঘটে না, বরং এটি নির্দিষ্ট সময়, স্থান অথবা শর্তাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট। এছাড়া এর বিরোধিতা করার বা এর অনুরূপ কিছু আনয়নের জন্য প্রচেষ্টা চালানোর অবকাশ থাকে। এবং যাদুর কারিগর অনেক সময় ফাসেকী (فسق) কাজে লিপ্ত থাকে এবং প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্যভাবে নাপাকি ও অপবিত্রতায় বিশেষিত হয়, যা দুনিয়া ও আখেরাতে লাঞ্ছনার কারণ। এগুলি ছাড়াও পার্থক্যের আরও অনেক দিক রয়েছে। (এবং) এটি আহলে হকের নিকট যুক্তিগতভাবে সম্ভব (جائز عقلا)(1) এবং শ্রবণলব্ধ দলীলের (سمعا) ভিত্তিতে প্রমাণিত। তেমনিভাবে বদনজরের বিষয়টিও প্রমাণিত। মুতাযিলাগণ বলেছে, বরং এটি কেবল অলীক কিছু দেখানো ছাড়া আর কিছুই নয় যার কোনো বাস্তবতা নেই; এটি ভেলকিবাজির সমতুল্য যার কারণ হলো হাতের দ্রুত চালনা এবং কৌশলের গোপনীয়তা। সমাপ্ত। (এবং) ফাতাওয়া আল-হাদিসিয়্যাহ-তে বর্ণিত হয়েছে: কারামত (كرامة) এবং যাদুর মধ্যে পার্থক্য হলো— নবুওয়াতের চ্যালেঞ্জ ছাড়াই যে স্বভাববিরুদ্ধ (خارق للعادة) বিষয় কোনো নেককার বা সৎ (صالح) বান্দার মাধ্যমে প্রকাশ পায়, যিনি আল্লাহ তাআলার হক ও তাঁর সৃষ্টির হক আদায়কারী, তবে তা কারামত (كرامة)। আর যদি এমন ব্যক্তির হাত ধরে প্রকাশ পায় যে এই গুণাবলি সম্পন্ন নয়, তবে তা যাদু অথবা ইস্তিদরাজ (استدراج)। ইমামুল হারামাইন বলেছেন, এটি যুক্তির দাবি নয় বরং আলেমদের ইজমার (اجماع) মাধ্যমে প্রাপ্ত। সমাপ্ত। আর উক্ত নেককার ব্যক্তিকে অন্যদের থেকে পৃথক করার বিষয়টি সুস্পষ্ট, এতে কোনো অস্পষ্টতা নেই। কেননা মহৎ ব্যক্তির অবয়ব আর সাধারণের অবয়ব এক নয়, তেমনি তাদের আদব-কায়দাও এক নয়। আর নেককার নয় এমন ব্যক্তি যদি জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরিধান (বর্ন ‘বা’ এর তাশদীদ সহ) করার চেষ্টা করে, তবুও তার কথা বা কাজের দুর্গন্ধ থেকে এমন কিছু ফুটে উঠবেই যা তাকে নেককার ব্যক্তি থেকে আলাদা করে দেয়। এই সূত্রেই জনৈক সুফি এক ব্রাহ্মণের সাথে বিতর্ক করেছিলেন। ব্রাহ্মণদের এমন শক্তি থাকে যার মাধ্যমে কঠোর সাধনার ফলে তাদের নিকট থেকে কিছু স্বভাববিরুদ্ধ (خوارق) কাজ প্রকাশ পায়। ফলে সেই ব্রাহ্মণ শূন্যে উড়তে শুরু করল। এমতাবস্থায় তার দিকে একটি জুতা উড়ে গেল এবং এটি তার মাথায় আঘাত করে চপেটাঘাত করতে থাকল যতক্ষণ না সে শেখের সামনে অধোমুখে মাটিতে পড়ে গেল এবং লোকজন তা দেখছিল। অতঃপর তিনি আউলিয়ায়ে কেরামের বিভিন্ন জামাত থেকে এই ধরনের আরও কিছু ঘটনা বর্ণনা করেছেন। (আর) যাদুর হুকুম সম্পর্কে...

--------------------------------------------

(1) তাঁর উক্তি "যুক্তিগতভাবে সম্ভব (جائز عقلا)", এখানে জায়েয দ্বারা মুমকিন (সম্ভাব্য) হওয়া উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০২)
فقد قال في الاعلام بقواطع الإسلام ومن المكفرات أيضا السحر الذي فيه عبادة الشمس ونحوها فإن خلى عن ذلك كان حراما لا كفرا فهو بمجرده لا يكون كفرا ما لم ينضم إليه مكفر. ومن ثم قال الماوردى مذهب الشافعي رضى الله تعالى عنه انه لا يكفر بالسحر ولا يجب به قتله ويسأل عنه فإن اعترف عنه بما يوجب كفره به كان كافرا بمعتقده لا بسحره * وكذا لو اعتقد اباحة السحر كان كافرا باعتقاده لا بسحره فيقتل ح بما انضم إلى السحر لا بالسحر هذا مذهبنا * واطلق مالك وجماعة سواء الكفر على الساحر وإن السحر كفر وإن الساحر يقتل ولا يستتاب سواء سحر مسلما أو ذميا كالزنديق. لكن قال بعض ائمة مذهبه والصواب ان لا يقضى بهذا حتى يتبين معقول السحر إذ هو يطلق على معان مختلفة، ومذهب أحمد في الساحر اقرب إلى مذهب مالك فيه انتهى. ثم قال وقالت الحنفية ان اعتقد ان الشياطين تفعل له ما يشاء فهو كافر وإن اعتقد انه تخييل وتمويه لم يكفر وقالت الشافعية يصفه فإن وجد فيه كفرا كالتقرب للكواكب ويعتقد انها تفعل ما يلتمس منها فهو كفر وإن لم نجد فيه كفرا فإن اعتقد اباحته فهو كفر * قال الطرسوسي وهذا متفق عليه لان القرآن نطق بتحريمه انتهى (وقال) العلامة المحقق ابن الهمام في فتح القدير ويجب ان لا يعدل عن مذهب الشافعي في كفر الساحر وعدمه واما قتله فيجب ولا يستتاب إذا عرفت مزاولته لعمل السحر السعيه بالفساد في الأرض لا بمجرد عمله إذا لم يكن في اعتقاده ما يوجب كفره انتهى (وفى) مختارات النوازل لصاحب الهداية ساحر يسحر ويدعى الخلق من نفسه يكفر ويقتل لردته وساحر يسحر وهو جاحد لا يستتاب منه ويقتل إذا ثبت سحره دفعا للضرر عن الناس وساحر يسحر تجربة ولا يعتقد به لا يكفر والمراد من الساحر غير المشعوذ ولا صاحب الطلسم ولا الذي يعتقد الإسلام والسحر في نفسه حق امر كائن إلا انه لا يصلح إلا للشر والضرر بالخلق والوسيلة إلى الشر شر فيصير مذموما انتهى (وقال) قاضي خان اتخذ لعبة ليفرق بين المرء وزوجه قالوا هو مرتد ويقتل إذا كان يعتقد لها اثر ويعتقد التفريق من اللعبة لانه كافر انتهى (والحاصل) ان نفس السحر ليس كفرا عند الحنفية كالشافعية بل لا يكفر صاحبه به ما لم يقترن بمكفر (و) لذا نقل في تبيين المحارم عن امام الهدى أبي منصور الماتريدي ان القول بان السحر كفر على الاطلاق خطأ ويجب البحث عن حقيقته فإن كان في ذلك رد ما لزم في شرط الايمان فهو كفر والا فلا انتهى (نعم) يقتل حدا لاضراره بالناس كقطع الطريق وإن لم يعتقد ما يوجب

"আল-ইলাম বি কাওয়াতিউল ইসলাম" গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, কুফর (كفر) সাব্যস্তকারী বিষয়সমূহের মধ্যে ওই জাদুও অন্তর্ভুক্ত যাতে সূর্য বা অনুরূপ কিছুর উপাসনা করা হয়। যদি জাদু এসব থেকে মুক্ত হয়, তবে তা হারাম (حরাম), কিন্তু কুফর (كفر) নয়। সুতরাং কেবল জাদুর কারণে তা কুফর (كفر) হবে না যতক্ষণ না এর সাথে অন্য কোনো কুফরি বিষয় যুক্ত হয়। এই সূত্র ধরে মাওয়ার্দী বলেছেন, ইমাম শাফেয়ী (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন)-এর মাযহাব হলো—জাদুর কারণে কাউকে কাফির (كافر) বলা যাবে না এবং এর কারণে তাকে হত্যা করাও ওয়াজিব নয়। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে; যদি সে এমন কিছু স্বীকার করে যা তার ওপর কুফর (كفر) আবশ্যক করে, তবে সে তার বিশ্বাসের কারণে কাফির (كافر) হবে, জাদুর কারণে নয়। একইভাবে, যদি সে জাদুকে বৈধ মনে করে, তবে সে তার এই বিশ্বাসের কারণে কাফির (كافر) হবে, জাদুর কারণে নয়। এমতাবস্থায় জাদুর সাথে যুক্ত ওই বিষয়ের কারণেই তাকে হত্যা করা হবে, জাদুর কারণে নয়—এটিই আমাদের মাযহাব।

ইমাম মালিক এবং একদল আলিম জাদুকরের ওপর ঢালাওভাবে কুফর (كفر)-এর হুকুম দিয়েছেন এবং বলেছেন যে জাদু হলো কুফর (كفر)। তারা মনে করেন জাদুকরকে হত্যা করা হবে এবং তার কাছে তওবা তলব (استتابة) করা হবে না, চাই সে মুসলিম হোক বা যিম্মি; তাকে জিন্দিক (زنديق)-এর ন্যায় গণ্য করা হবে। তবে তাঁর মাযহাবের কিছু ইমাম বলেছেন, সঠিক হলো এ বিষয়ে ততক্ষণ কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়া যতক্ষণ না জাদুর স্বরূপ স্পষ্ট হয়, কারণ জাদু বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়। জাদুকরের বিষয়ে ইমাম আহমদের মাযহাব ইমাম মালিকের মাযহাবের অধিক নিকটবর্তী। (সমাপ্ত)

এরপর তিনি বলেন, হানাফীগণ বলেছেন—যদি কেউ বিশ্বাস করে যে শয়তান তার ইচ্ছানুযায়ী সব করে দেয়, তবে সে কাফির (كافر)। আর যদি বিশ্বাস করে যে এটি কেবল দৃষ্টিভ্রম ও প্রতারণা, তবে সে কাফির (كافر) হবে না। শাফেয়ীগণ বলেন, জাদুকর তার জাদুর বর্ণনা দেবে; যদি তাতে কুফর (كفر) পাওয়া যায়, যেমন নক্ষত্ররাজির নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা এবং এই বিশ্বাস রাখা যে নক্ষত্রসমূহ তার প্রার্থনা পূরণ করে, তবে তা কুফর (كفر)। আর যদি তাতে কুফর (كفر) না পাওয়া যায় কিন্তু সে জাদুকে বৈধ মনে করে, তবে তাও কুফর (كفر)। ইমাম তারসুসী বলেন, এটি একটি ঐক্যমত্যপূর্ণ বিষয়, কারণ কুরআন এর নিষিদ্ধতা সম্পর্কে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে। (সমাপ্ত)

আল্লামা মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম "ফাতহুল কাদির"-এ বলেছেন: জাদুকরের কাফির (كافر) হওয়া বা না হওয়ার প্রশ্নে ইমাম শাফেয়ীর মাযহাব থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়। তবে তার হত্যার বিষয়ে কথা হলো—যদি জানা যায় যে সে জাদুর চর্চার মাধ্যমে পৃথিবীতে ফাসাদ বা বিপর্যয় সৃষ্টিতে লিপ্ত, তবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব এবং তার তওবা তলব (استتابة) করা হবে না। এটি তার কর্মতৎপরতার কারণে, কেবল জাদু করার কারণে নয়, যদি না তার বিশ্বাসে এমন কিছু থাকে যা তাকে কাফির (كافر) সাব্যস্ত করে। (সমাপ্ত)

হিদায়া গ্রন্থকারের "মুখতারাতুন নাওয়াযিল"-এ বর্ণিত আছে: যে জাদুকর জাদু করে এবং দাবি করে যে সে নিজেই সৃষ্টি করতে সক্ষম, সে কাফির (كافر) হবে এবং তার ধর্মত্যাগ (ردة)-এর কারণে তাকে হত্যা করা হবে। আর যে জাদুকর জাদু করে অথচ সে সত্য অস্বীকারকারী, তার তওবা তলব (استتابة) করা হবে না এবং মানুষের ক্ষতি দূর করার নিমিত্তে জাদু প্রমাণিত হওয়ার পর তাকে হত্যা করা হবে। আর যে ব্যক্তি কেবল পরীক্ষার ছলে জাদু করে এবং এতে বিশ্বাস রাখে না, সে কাফির (كافر) হবে না। এখানে জাদুকর বলতে ভেলকিবাজ, তিলস্মধারী কিংবা এমন ব্যক্তিকে বোঝানো হয়নি যে ইসলাম ও জাদুকে বাস্তব বিষয় মনে করে, কিন্তু সে কেবল মানুষের অনিষ্ট ও ক্ষতির জন্য তা ব্যবহার করে। আর মন্দের মাধ্যমও মন্দ, তাই তা নিন্দনীয় হিসেবে গণ্য হয়। (সমাপ্ত)

কাযী খান বলেন: স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য কেউ যদি কোনো উপকরণ বা খেলনা তৈরি করে, তবে ফকীহগণ বলেছেন সে ধর্মত্যাগী (مرتد) এবং তাকে হত্যা করা হবে যদি সে বিশ্বাস করে যে এর প্রভাব আছে এবং ওই উপকরণের মাধ্যমেই বিচ্ছেদ ঘটে; কারণ সে এমতাবস্থায় কাফির (كافر)। (সমাপ্ত)

সারকথা হলো, হানাফী ও শাফেয়ীদের নিকট কেবল জাদু নিজেই কুফর (كفر) নয়, বরং যতক্ষণ এর সাথে কোনো কুফরি বিষয় যুক্ত না হয় ততক্ষণ জাদুকর কাফির (كافر) হবে না। এজন্যই "তাবয়ীনুল মাহারিম"-এ ইমামুল হুদা আবু মনসুর মাতুরিদী থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে, জাদুকে ঢালাওভাবে কুফর (كفر) বলা ভুল। বরং এর হাকিকত বা স্বরূপ অনুসন্ধান করা ওয়াজিব; যদি তাতে ঈমানের কোনো শর্ত লঙ্ঘন করা হয় তবে তা কুফর (كفر), অন্যথায় নয়। (সমাপ্ত)

হ্যাঁ, মানুষের ক্ষতি করার কারণে তাকে হদ (حد) হিসেবে হত্যা করা হবে, যেমন পথিমধ্যে ডাকাতি বা রাহাজানির ক্ষেত্রে করা হয়, যদিও সে কুফর (كفر) সাব্যস্তকারী কোনো বিশ্বাস পোষণ না করে।

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০৩)
كفره فلو اقترن به ما يوجب كفره كاعتقاده التأثير بنفسه أو تأثير الكواكب أو الشياطين فإنه يكون كافرا فيقتل لاضراره وكفره لكن إذا تاب الساحر قبل ان يؤخذ تقبل ثوبته ولا يقتل وإن أخذ ثم تاب لم تقبل توبته ويقتل وكذا الزنديق المعروف الداعى والفتوى على هذا القول كما في البحر عن الفقيه أبي الليث (ثم) اعلم ان بعض ائمة الشافعية استشكل تكفير الساحر الذي يعتقد ان الكواكب تفعل ذلك أو ان الشياطين تقدره لا تقدرة الله تعالى بان هذا مذهب المعتزلة من استقلال الحيوانات بقدرتها لا بقدرة الله تعالى فكما لا نكفر المعتزلة بذلك لا نكفر هؤلاء (و) منهم من اجاب بان الكواكب مظنة العبادة فإذا انضم إلى ذلك اعتقاد القدرة والتأثير كان كفرا (و) اعترض بان تأثير الحيوان بالضر والنفع في العادة مشاهدة واما كون المشترى أو زخل يوجب شقاوة أو سعادة فهو حزر وتخمين انتهى (اقول) الذي يظهر لى في الجواب عن هذا الاشكال هو انا انما لم نكفر المعتزلة بذلك لانهم بنوه على شبهة دليل وإن اخطأوا فيه فقالوا إن العبد يخلق افعاله تباعدا عن نسبة الشرور والقبائح إلى الله تعالى زعما منهم خلقها قبيح فقولهم بذلك زيادة في التنزيه والتوحيد على زعمهم وكذا بقية أهل الاهواء من أهل القبلة فإن المعتمد في مذاهب الأئمة عدم تكفيرهم لنحو ما قلنا ولذا انكر سيدنا على كرم الله وجهه على من كفر الخوارج بقوله من الكفر فروا (والحاصل) ان أهل الاهولاء انما قصدوا تصحيح عقيدتهم وتنزيه ربهم تعالى بما زعموه اما الساحر الذي يعتقد تأثير الافلاك والشياطين فهو طاعن في العقائد الإسلامية كلها منكر للتوحيد باثبات التأثير والايجاد والابداع لغير الله تعالى على قواعد الحكماء والفلاسفة والطبائعين ولو سلم انه لم يقصد ذلك فليس بانيا اعتقاده على دليل شرعى ليكون شبهة له تنفى تكفيره كما نفيت التكفير عن أهل الاهواء لانه غير ساع في تصحيح العقيدة والتنزيه بل هو كما تقدم ذو نفس شريرة خبيثة ساع في الاضرار والافساد والغالب انه ليس له في الإسلام اعتقاد فلذا اطلق العلماء القول بكفره وقتله والله ولى الإرشاد والتوفيق والسداد (تنبيه) قد علم ما قررنا ان السحر لا يلزم ان يكون كفرا ما لم يقترن بمكفر من قول أو فعل أو اعتقاد (و) في حاشية الإيضاح لبيري زاده قال الشمني تعلمه وتعليمه حرام اقول مقتضى الاطلاق ولو تعلم لدفع الضرر عن المسلمين (و) في شرح الزعفراني السحر حق عندنا وجوده وتصوره واثره وفي ذخيرة الناظر تعلمه فرض لرد ساحر أهل الحرب وحرام لفرق بين المرأة وزوجها وجائز
তার কুফর (كفر); সুতরাং যদি এর সাথে এমন কিছু যুক্ত হয় যা তার কুফর (كفر) হওয়াকে অনিবার্য করে তোলে—যেমন জাদুর নিজস্ব প্রভাব সৃষ্টি করার বিশ্বাস রাখা অথবা গ্রহ-নক্ষত্র বা শয়তানের প্রভাব সৃষ্টি করার বিশ্বাস রাখা—তবে সে কাফের (كافر) হবে। এমতাবস্থায় মানুষের ক্ষতিসাধন এবং তার কুফর (كفر)-এর কারণে তাকে হত্যা করা হবে। তবে যদি জাদুকরকে পাকড়াও করার আগেই সে তওবা করে, তবে তার তওবা কবুল করা হবে এবং তাকে হত্যা করা হবে না। আর যদি পাকড়াও করার পর সে তওবা করে, তবে তার তওবা কবুল করা হবে না এবং তাকে হত্যা করা হবে। অনুরূপভাবে সুপরিচিত ধর্মত্যাগী ও প্রচারক জিন্দিক (زنديق)-এর বিধানও এটি। 'আল-বাহর'-এ ফকিহ আবু লাইস থেকে বর্ণিত এই মতের ওপরই ফতোয়া প্রদান করা হয়েছে। (অতঃপর) জেনে রাখুন যে, শাফেয়ি মাজহাবের কোনো কোনো ইমাম সেই জাদুকরকে কাফের (كافر) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে জটিলতা অনুভব করেছেন, যে বিশ্বাস করে যে গ্রহ-নক্ষত্র এসব করে অথবা শয়তান এর ক্ষমতা রাখে এবং আল্লাহ তাআলা তা নিয়ন্ত্রণ করেন না। কারণ এটি মুতাজিলাদের মতবাদের অনুরূপ, যারা মনে করে যে প্রাণীরা আল্লাহ তাআলার ক্ষমতা ছাড়াই নিজস্ব ক্ষমতায় কাজ করতে সক্ষম। সুতরাং আমরা যেহেতু এই কারণে মুতাজিলাদের কাফের (كافر) বলি না, তাই এদেরকেও কাফের (كافر) বলব না। (এবং) তাদের মধ্যে কেউ কেউ এর উত্তর দিয়েছেন যে, গ্রহ-নক্ষত্র ইবাদতের ক্ষেত্র হওয়ার সম্ভাবনা রাখে; সুতরাং যখন এর সাথে ক্ষমতা ও প্রভাব সৃষ্টির বিশ্বাস যুক্ত হয়, তখন তা কুফর (كفر) হিসেবে গণ্য হয়। (এবং) আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে যে, স্বাভাবিক অভ্যাসে প্রাণীর দ্বারা ক্ষতি বা উপকারের প্রভাব দৃশ্যমান, কিন্তু বৃহস্পতি বা শনি গ্রহ কারো দুর্ভাগ্য বা সৌভাগ্যের কারণ হওয়া একটি নিছক অনুমান ও ধারণা মাত্র—সমাপ্ত। (আমি বলি) এই জটিলতার উত্তরে আমার কাছে যা প্রতীয়মান হয় তা হলো, আমরা মুতাজিলাদের এই কারণে কাফের (كافر) বলি না যে, তারা তাদের মতবাদকে দলিলের সংশয় (شبهة دليل)-এর ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করিয়েছে, যদিও তারা তাতে ভুল করেছে। তারা বলেছে যে, বান্দা তার নিজের কর্ম সৃষ্টি করে—এটি তারা বলেছে আল্লাহ তাআলার প্রতি মন্দ বা কদর্য বিষয়গুলোর সম্পর্ক অস্বীকার করার উদ্দেশ্যে; কারণ তাদের ধারণা মতে মন্দ সৃষ্টি করাও মন্দ কাজ। সুতরাং তাদের এই বক্তব্য মূলত মহান আল্লাহর পবিত্রকরণ (تنزيه) এবং তাওহিদ (توحيد)-এর প্রতি তাদের ধারণামতে অতিরিক্ত গুরুত্বারোপের জন্য। একইভাবে কিবলাপন্থী অন্যান্য প্রবৃত্তি অনুসারীদের (أهل الأهواء) ক্ষেত্রেও একই বিধান প্রযোজ্য। কারণ ইমামগণের মাজহাবের নির্ভরযোগ্য মত হলো, আমরা উপরে যা বললাম সেই কারণে তাদের কাফের (كافر) না বলা। এই কারণেই আমাদের নেতা আলী (কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু) সেই ব্যক্তিকে তিরস্কার করেছিলেন যে খারিজিদের কাফের (كافر) বলেছিল; তিনি বলেছিলেন—'তারা তো কুফর (كفر) থেকেই পলায়ন করেছে।' (সারসংক্ষেপ) হলো, প্রবৃত্তি অনুসারীগণ (أهل الأهواء) তাদের বিশ্বাসকে সঠিক করা এবং তাদের ধারণা অনুযায়ী তাদের রবের পবিত্রকরণ (تنزيه)-এর সংকল্প করেছিলেন। কিন্তু সেই জাদুকর, যে আসমানি গোলক বা শয়তানের প্রভাবে বিশ্বাস করে, সে সমস্ত ইসলামী আকিদাকেই আক্রমণকারী এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের জন্য প্রভাব, সৃষ্টি ও উদ্ভাবন সাব্যস্ত করার মাধ্যমে তাওহিদ (توحيد)-কে অস্বীকারকারী; যা মূলত দার্শনিক ও প্রকৃতিবাদীদের মূলনীতির অনুসারী। যদি এটি মেনেও নেওয়া হয় যে সে এমনটি ইচ্ছা করেনি, তবুও তার বিশ্বাস কোনো শরয়ি দলিলের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত নয় যা তার জন্য একটি সংশয় (شبهة) হিসেবে গণ্য হবে এবং তাকে কাফের (كافر) বলা থেকে বিরত রাখবে, যেমনটি প্রবৃত্তি অনুসারীদের (أهل الأهواء) ক্ষেত্রে হয়েছে। কারণ সে আকিদা সংশোধন বা পবিত্রকরণের (تنزيه) চেষ্টা করছে না; বরং সে পূর্বেই যেমন বলা হয়েছে—একজন অনিষ্টকারী ও কলুষিত আত্মার অধিকারী ব্যক্তি যে ক্ষতি ও ফাসাদ সৃষ্টিতে লিপ্ত। আর প্রবল ধারণা হলো যে, ইসলামের প্রতি তার কোনো বিশ্বাসই নেই। এই কারণেই ওলামায়ে কেরাম তাকে কাফের (كافر) সাব্যস্ত করা এবং হত্যা করার নিরঙ্কুশ মত প্রদান করেছেন। আর আল্লাহই সঠিক পথ প্রদর্শন ও তাওফিক দানকারী। (সতর্কীকরণ) আমরা যা আলোচনা করেছি তা থেকে স্পষ্ট যে, জাদু ততক্ষণ পর্যন্ত কুফর (كفر) হওয়া আবশ্যক নয় যতক্ষণ না এর সাথে কুফর (كفر) সাব্যস্তকারী কোনো কথা, কাজ বা বিশ্বাস যুক্ত হয়। (এবং) পিরিজাদা রচিত আল-ইজাহ-এর হাশিয়াতে শুমুন্নি বলেছেন: এটি শেখা এবং শেখানো হারাম (حرام)। আমি বলি, এই সাধারণ হুকুমের দাবি হলো এটি নিষিদ্ধ, যদিও তা মুসলমানদের ক্ষতি দূর করার জন্য শেখা হয়। (এবং) শরহে জাফরানি-তে আছে: আমাদের নিকট জাদুর অস্তিত্ব, কল্পনা ও প্রভাব বাস্তব সত্য। আর জাখিরাতুন নাজির-এ আছে: শত্রু দেশের জাদুকরদের প্রতিহত করার জন্য জাদু শেখা ফরজ (فرض), স্ত্রী ও স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর জন্য হারাম (حرام) এবং [কল্যাণকর প্রয়োজনে] তা জায়েজ (جائز)।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০৪)
ليوفق بينهما انتهى كذا في شرح ابن عبد الرزاق على الدر المختار (اقول) وقد ذكرت في حاشيتي التي سميتها رد المختار على الدر المختار ان في الاخير نظرا لما ورد في الحديث من النهي عن الدولة بوزن عنبة وهي ما يفعل ليحب المرأة إلى زوجها وقد نص قاضي خان على حرمتها وعلله ابن وهبان بأنه ضرب من السحر قال ابن الشحنة ومقتضاه انه ليس مجرد كتابه آيات بل فيه شيء زائد انتهى (وفى) الزواجر عن اقتراف الكبائر ثم السحر على اقسام اولها سحر عبدة الكواكب وهم ثلاث فرق (الأولى) الذين يزعمون ان الافلاك والكواكب واجبة الوجود لذواتها وأنها غنية عن موجود ومدبر وهى المدبرة لعالم الكون والفساد وهم الصابئية الدهرية (والثانية) القائلون بآلهية الافلاك زاعمون انها هي المؤثرة الحوادث باستدارتها وتحركها فعبدوها وعظموها واتخذوا لكل واحد منها هيكلا مخصوصا وصنما معينا واشتغلوا بخدمتها وهذا دين عبدة الاصنام والأوثان (والثانية) اثبتوا لهذه النجوم والا فلاك فاعلا مختارا أوجدها بعد العدم إلا انه تعالى اعطاها قوة غالبة نافذة في هذا العالم وفوض تدبيره إليها (النوع الثاني) سحر أصحاب أهل الاوهام والنفوس القوية أي الذين يزعمون ان الإنسان تبالغ روحه بالتصفية في القوة والتأثير إلى حيث يقدر على الايجاد والاعدام والا حياء والامانة وتغيير البنية والشكل (الثالث) الاستعانة بالارواح الارضية أي المسمى بالعزائم وتسخير الجن (الرابع) التخيلات والاخذ بالعيون (الخامس) الاعمال العجيبة التي تظهر من تركيب الآلات على النسب الهندسية مثل صورة فرس في يده بوق إذا مضت ساعة من النهار صوت البوق من غير ان يمسه أحد (السادس) الاستعانة بخواص الادوية المبلدة والمزيلة للعقل ونحوها (السابع) تعليق القلب وهوان يدعى إنسان انه يعرف الاسم الاعظم وإن الجن تطيعه وينقادون له فإذا كان السامع ضعيف العقل قليل التمييز اعتقد انه حق وتعلق قلبه بذلك وحصل في نفسه نوع من الرعب والخوف فحينئذ يتمكن الساحر من ان يفعل فيه ما شاء (و) انكر المعتزلة الانواع الثلاثة الأول قيل ولعلهم كفروا من قال بها وبوجودها (و) اما أهل السنة فجوزوا الكل وقدرة الساحر على ان يطير في الهواء وإن يقلب الإنسان جارا والحمار انسانا وغير ذلك من أنواع الشعوذة لا انهم قالوا ان الله تعالى هو الخالق لهذه الاشياء عند القاء الساحر كلماته المعينة ويدل على ذلك قوله تعالى (وما هم بضارين به من أحد إلا بإذن الله) واختلف العلماء في الساحر هل يكفر اولا وليس من محل الخلاف

যাতে উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা যায়। 'আদ-দুররুল মুখতার'-এর উপর ইবনে আব্দুল রাজ্জাকের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এভাবেই সমাপ্ত হয়েছে। (আমি বলছি) আমি আমার হাশিয়া বা পার্শ্বটীকায়—যার নাম আমি ‘রাদ্দ আল-মুহতার আলা আদ-দুররিল মুখতার’ রেখেছি—তাতে উল্লেখ করেছি যে, শেষের কথাটিতে আপত্তির অবকাশ রয়েছে। কারণ হাদিসে ‘তিওয়ালাহ’ (তাকদীরের একটি প্রকার) নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। এটি এমন একটি কাজ যা স্ত্রীকে তার স্বামীর কাছে প্রিয় করার জন্য করা হয়। কাজী খান এটি হারাম হওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য (نص) প্রদান করেছেন এবং ইবনে ওয়াহবান একে জাদুর একটি প্রকার বলে কারণ দর্শিয়েছেন। ইবনে আল-শুহনা বলেছেন যে, এর দাবি হলো এটি কেবল আয়াত লেখা নয়, বরং এতে অতিরিক্ত কিছু রয়েছে। ইতি। (এবং) 'আজ-জাওয়াজির আন ইবতিরাফিল কাবাইর' কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, জাদুর কয়েকটি প্রকার রয়েছে। এর প্রথমটি হলো নক্ষত্র পূজারীদের জাদু এবং তারা তিন দলে বিভক্ত। (প্রথম দল) যারা মনে করে যে আকাশমন্ডলী ও নক্ষত্রসমূহ নিজস্ব সত্তার কারণেই আবশ্যিক অস্তিত্ব (واجب الوجود) এবং তারা কোনো সৃষ্টিকর্তা বা পরিচালক থেকে অমুখাপেক্ষী; বরং তারাই এই সৃষ্টি ও ধ্বংসের জগতের (عالم الكون والفساد) পরিচালক। তারা হলো সাবায়ী দাহরিয়া সম্প্রদায়। (দ্বিতীয় দল) যারা আকাশমন্ডলীর উপাস্য হওয়ার প্রবক্তা এবং দাবি করে যে, এগুলোর আবর্তন ও গতির মাধ্যমেই মহাজাগতিক ঘটনাবলী প্রভাবিত হয়। ফলে তারা এগুলোর পূজা ও সম্মান করে এবং প্রত্যেকটির জন্য নির্দিষ্ট অবকাঠামো ও সুনির্দিষ্ট মূর্তি গ্রহণ করে সেগুলোর সেবায় লিপ্ত হয়। এটিই হলো প্রতিমা ও বিগ্রহ পূজারীদের ধর্ম। (দ্বিতীয় বা তৃতীয় দল) তারা এই নক্ষত্র ও আকাশমন্ডলীর জন্য একজন স্বেচ্ছাধীন কর্তা (فاعلا مختارا) স্বীকার করে, যিনি অনস্তিত্বের পর এগুলোর অস্তিত্ব দান করেছেন। তবে তারা মনে করে যে, আল্লাহ তাআলা এই জগতে এক প্রবল ও কার্যকর শক্তি দান করেছেন এবং এর পরিচালনার ভার এগুলোর ওপর অর্পণ করেছেন। (দ্বিতীয় প্রকার) এটি হলো ভ্রান্ত ধারণা ও শক্তিশালী আত্মার অধিকারীদের জাদু। অর্থাৎ, যারা মনে করে যে মানুষ তার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার মাধ্যমে শক্তি ও প্রভাবের এমন স্তরে পৌঁছাতে পারে যেখান থেকে সে কোনো কিছু সৃষ্টি করা, ধ্বংস করা, জীবন দান করা, মৃত্যু ঘটানো এবং গঠন ও আকৃতি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। (তৃতীয় প্রকার) পার্থিব আত্মাসমূহের সাহায্য গ্রহণ করা, যাকে 'আযাইম' বা মন্ত্র এবং জিন বশীকরণ বলা হয়। (চতুর্থ প্রকার) কল্পনাপ্রসূত বিভ্রম তৈরি করা এবং চোখের নজরবন্দি করা। (পঞ্চম প্রকার) জ্যামিতিক আনুপাতিক হারে বিভিন্ন যন্ত্রের সংমিশ্রণে তৈরি অদ্ভুত সব কাজ। যেমন একটি ঘোড়ার প্রতিকৃতি যার হাতে একটি শিঙা রয়েছে, যখন দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয় তখন কেউ স্পর্শ না করা সত্ত্বেও শিঙাটি বেজে ওঠে। (ষষ্ঠ প্রকার) এমন সব ওষুধের বৈশিষ্ট্য কাজে লাগানো যা মানুষকে স্থবির করে দেয় বা বুদ্ধি লোপ করে দেয় এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়। (সপ্তম প্রকার) অন্তরকে আসক্ত করা। আর তা হলো, কোনো ব্যক্তি দাবি করে যে সে ‘ইসমে আজম’ জানে এবং জিনেরা তার আনুগত্য করে ও তার অনুগত থাকে। এমতাবস্থায় শ্রোতা যদি দুর্বল মস্তিষ্কের এবং বিচারবুদ্ধিহীন হয়, তবে সে বিশ্বাস করে নেয় যে এটি সত্য এবং তার অন্তর সেদিকে ঝুঁকে পড়ে। ফলে তার মনে এক প্রকার আতঙ্ক ও ভয়ের সৃষ্টি হয়, আর তখনই জাদুকর তার ওপর যা ইচ্ছা তা কার্যকর করতে সক্ষম হয়। (এবং) মুতাজিলা সম্প্রদায় প্রথম তিনটি প্রকারকে অস্বীকার করেছে। বলা হয়েছে যে, সম্ভবত যারা এগুলোর অস্তিত্ব ও প্রভাবে বিশ্বাস করে, তাদেরকে তারা কাফির গণ্য করেছে। (এবং) আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাআত সকল প্রকারকেই সম্ভাব্য মনে করেন এবং জাদুকরের শূন্যে উড়া, মানুষকে গাধায় রূপান্তরিত করা কিংবা গাধাকে মানুষে রূপান্তরিত করা এবং এই জাতীয় অন্যান্য ভেলকিবাজিকে সম্ভব মনে করেন। তবে তারা বিশ্বাস করেন যে, জাদুকর যখন তার নির্দিষ্ট বাক্যগুলো উচ্চারণ করে, তখন আল্লাহ তাআলাই মূলত এই বিষয়গুলো সৃষ্টি করেন। এর প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: "আল্লাহর অনুমতি ব্যতীত তারা এর মাধ্যমে কারো কোনো ক্ষতি করতে পারে না।" জাদুকর কাফির হবে কি না—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে, তবে এটি বর্তমান আলোচনার মূল বিষয় নয়।

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০৫)
النوعان الاولان من أنواع السحر السبعة إذ لا نزاع في كفر اعتقد ان الكواكب مؤثرة لهذا العالم اوان الإنسان يصل بالتصفية إلى ان تصير نفسه مؤثرة في ايجاد جسم أو حياته أو تغيير شكل (و) أما النوع الثالث وهو ان يعتقد الساحر أنه بلغ في التصفية وقراءة الرقى وتدخين بعض الادوية إلى ان الجن تطيعه في تغيير البنية والشكل فالمعتزلة كفروه دون غيرهم (و) اما بقية انواعه فقال جماعة انها كفر مطلقا لان اليهود لما أضافوا السحر إلى سليمان صلى الله تعالى على نبينا وعليه وسلم قال تعالى تنزيها عنه (وما كفر سليمان ولكن الشياطن كفروا يعلمون الناس السحر) فظاهر هذا انهم كفروا بتعليمهم السحر لان ترتيب الحكم على الوصف المناسب يشعر بعليته وتعليم ما لا يكون كفرا لا يوجب الكفر وهذا يقتضى ان السحر على الاطلاق كفر (و) اجاب القائلون بعدم الكفر كالشافعى واصحابه بإن حكاية الحال يكفى في صدقها صورة واحدة فيحمل على سحر من اعتقد الاهية النجوم وايضا فلا نسلم ان ذلك فيه ترتيب حكم على وصنف يقتضى اشعاره بالعلية لان المعنى انهم كفروا وهم مع ذلك يعلمون السحر انتهى ما في الزواجر ملخصا (ثم) ذكره ان النوع الثالث وما بعده ان اعتقد ان فعله مباح قتل لكفر. لا تحليل المحرم المجمع على تحريمه المعلوم من الدين بالضرورة كفر وإن اعتقد انه حرام فعند الشافعي انه جناية وعند أبي حنيفة ان الساحر يقتل مطلقا لسعيه في الأرض بالفساد انتهى (وقد) ذكر هذه الاقسام العلامة المحقق المفتى أبو السعود افندى العمادي في تفسيره وفصل في النوع الثالث الذي خالف فيه المعتزلة تفصيلا حسنا وفق به بين القولين حيث قال ولعل التحقيق ان ذلك الإنسان ان كان خيرا (بتشديد الياء المثناه) متشرعا في كل ما يأتي ويذر وكان من يستعين به من الارواح الخيرة وكانت عزائمه ورقاه غير مخالفة للاحكام الشريفة الشرعية ولم يكن فيما ظهر بيده من الخوارق ضرر شرعى لاحد فليس ذلك من قبيل السحروإن كان شريرا غير متمسك بالشريعة الشريفة فظاهر ان من يستعين به من الارواح الخبيثة الشريرة لا محالة ضرورة امتناع تحقق التضام والتعاون بينهما من غير اشتراك في الخبث والشرارة فيكون كافرا قطعا انتهى (والحاصل) ان السحر حرام مطلقا بأنواعه وإن القول بأنه كفر مطلقا خطأ ما لم يتضمن اعتقادا مكفرا كما مر عن امام الهدى الماتريدى وعن فتح القدير وغيره (و) مثله ما قاله الامام القرافي من الأئمة المالكية ان السحرة يعتمدون أشياء تأبى قواعد الشرعية ان نكفرهم بها لجمع عقاقير يجعلونها
সাত প্রকার যাদুর মধ্যে প্রথম দুই প্রকারের ক্ষেত্রে কোনো দ্বিমত নেই যে, যে ব্যক্তি বিশ্বাস করে নক্ষত্রসমূহ এই জগতের ওপর প্রভাব বিস্তারকারী অথবা মানুষ আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এমন পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে যে তার আত্মা কোনো বস্তু সৃষ্টিতে, জীবন দানে কিংবা রূপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রভাব বিস্তারকারী হয়ে ওঠে, সে কুফরিতে লিপ্ত। (و) আর তৃতীয় প্রকার সম্পর্কে—যা হলো যাদুকরের এই বিশ্বাস রাখা যে, সে আত্মশুদ্ধি, মন্ত্র পাঠ এবং নির্দিষ্ট কিছু ঔষধের ধোঁয়ার ব্যবহারের মাধ্যমে এমন স্তরে পৌঁছেছে যে জিনরা শারীরিক অবয়ব ও রূপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার অনুগত হয়ে গেছে—মুতাজিলাগণ তাকে কাফির সাব্যস্ত করলেও অন্যরা তা করেননি। (و) অবশিষ্ট প্রকারগুলো সম্পর্কে একদল আলিম বলেছেন যে, এগুলো নিঃশর্তভাবে কুফরি। কারণ ইহুদিরা যখন সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি যাদুর সম্বন্ধ করেছিল, তখন আল্লাহ তায়ালা তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে বলেন: "সুলাইমান কুফরি করেননি, বরং শয়তানরাই কুফরি করেছিল; তারা মানুষকে যাদু শিক্ষা দিত।" এর বাহ্যিক অর্থ হলো, তারা যাদু শিক্ষা দেওয়ার কারণেই কুফরিতে লিপ্ত হয়েছিল। কারণ কোনো উপযুক্ত গুণের ওপর ভিত্তি করে বিধান (হুকুম) আরোপ করা সেই গুণটি উক্ত বিধানের কারণ হওয়ার ইঙ্গিত দেয়; আর যা কুফরি নয় এমন বিষয় শিক্ষা দেওয়া কুফরিকে অবধারিত করে না। এটি দাবি করে যে, যাদু সাধারণভাবে কুফরি। (و) এর জবাবে যারা কুফরি না হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন—যেমন ইমাম শাফিঈ ও তাঁর অনুসারীগণ—বলেন যে, কোনো অবস্থার বর্ণনায় এর সত্যতা প্রমাণের জন্য কেবল একটি চিত্র বা দৃষ্টান্তই যথেষ্ট; সুতরাং একে ঐ ব্যক্তির যাদুর ওপর প্রয়োগ করা হবে যে নক্ষত্রের দেবত্বে বিশ্বাস করে। এছাড়া, আমরা এটি মেনে নিচ্ছি না যে এখানে গুণের ওপর বিধানের বিন্যাসটি তার কারণ হওয়ার দাবি রাখে; কারণ এর অর্থ হলো তারা কুফরি করেছিল এবং সেই সাথে তারা যাদু শিক্ষা দিত। আজ-জাওয়াজির গ্রন্থের সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ এখানেই শেষ। (ثم) অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তৃতীয় প্রকার এবং তার পরবর্তী প্রকারগুলোতে কেউ যদি নিজ কাজকে বৈধ মনে করে, তবে কুফরির কারণে তাকে হত্যা করা হবে। কেননা দ্বীনের অকাট্যভাবে জ্ঞাত কোনো হারাম বিষয়কে হালাল মনে করা কুফরি। আর যদি সে একে হারাম মনে করে, তবে ইমাম শাফিঈর মতে এটি একটি অপরাধ (জিনায়েত); আর ইমাম আবু হানিফার মতে, পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টির অপপ্রয়াসের কারণে যাদুকরকে সাধারণভাবে হত্যা করা হবে। (وقد) আল্লামা মুহাক্কিক মুফতি আবু সউদ এফেন্দি আল-ইমাদি তাঁর তাফসীর গ্রন্থে এই বিভাগগুলো উল্লেখ করেছেন এবং তৃতীয় প্রকারের ক্ষেত্রে—যেখানে মুতাজিলাগণ ভিন্নমত পোষণ করেছেন—একটি চমৎকার ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, যার মাধ্যমে তিনি উভয় মতের মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছেন। তিনি বলেন: "সম্ভবত প্রকৃত বিষয়টি হলো, যদি সেই ব্যক্তি কল্যাণকামী (ইয়া বর্ণে তাসদীদসহ) এবং তার সকল বর্জনীয় ও গ্রহণীয় কর্মে শরীয়তপন্থী হয়, আর সে যাদের সাহায্য নিচ্ছে তারা যদি নেক রূহ বা আত্মাসমূহ হয় এবং তার তুকতাক ও মন্ত্রসমূহ যদি শরীয়তের পবিত্র বিধানের পরিপন্থী না হয়, আর তার মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক বিষয়াবলি যদি শরীয়তের দৃষ্টিতে কারো জন্য ক্ষতিকর না হয়, তবে তা যাদুর অন্তর্ভুক্ত হবে না। পক্ষান্তরে যদি সে মন্দ লোক হয় এবং শরীয়তকে আঁকড়ে না ধরে, তবে এটি স্পষ্ট যে সে অবশ্যই অপবিত্র ও মন্দ রূহ বা আত্মাসমূহের সাহায্য নিচ্ছে; কারণ পঙ্কিলতা ও মন্দ বিষয়ে অংশীদারিত্ব ছাড়া তাদের মধ্যে পারস্পরিক সংহতি ও সহযোগিতা সম্ভব নয়। এমতাবস্থায় সে নিশ্চিতভাবেই কাফির হবে।" (والحاصل) সারকথা হলো, যাদু তার সকল প্রকারসহ সাধারণভাবে হারাম। আর যাদুকে নিঃশর্তভাবে কুফরি বলা ভুল, যতক্ষণ না তাতে কুফরি কোনো বিশ্বাস অন্তর্ভুক্ত থাকে; যেমনটি ইমামুল হুদা আল-মাতুরিদি এবং ফাতহুল কাদির ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। (و) অনুরূপ কথা মালিকি মাযহাবের ইমামগণের মধ্য থেকে ইমাম আল-কারাফিও বলেছেন যে, যাদুকররা এমন কিছু বিষয়ের ওপর নির্ভর করে যা তাদেরকে কাফির সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে শরীয়তের মূলনীতির পরিপন্থী, যেমন বিভিন্ন ভেষজ দ্রব্য সংগ্রহ করা যা তারা (যাদুকার্যে) ব্যবহার করে থাকে।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০৬)
في الانهار والابار أو في قبور الموتى أو في باب يفتح إلى الشرق ويعتقدون ان الآثار تحدث عن تلك الأمور بخواص نفوسهم التي طبعها الله تعالى على الربط بينها وبين تلك الآثار عند صدق العزم فلا يمكننا نكفرهم بذلك لانهم جربوا ذلك فوجدوه لا يحرم عليهم لأجل خواص نفوسهم فكان ذلك كاعتقاد الاطبا عند شرب الادوية وخواص النفوس لا يمكن التكفير بها لأنها ليست من كسبهم ولا كفر بغير مكتسب واما اعتقادهم ان الكواكب تفعل ذلك بقدرة الله تعالى فهذا خطأ لأنها لا تفعل ذلك وإنما جاءت الآثار من خواص نفوسهم التي ربط الله تعالى بها تلك الآثار عند ذلك الاعتقاد والذي لا مرية في انه كفر اعتقاد ان الكواكب مستقلة بنفسها لا تحتاج إلى الله تعالى فهذا مذهب الصابئة وهو كفر صراح انتهى ملخصا (تنبيه) قد ظهر لك بما قررناه. ونقلناه عن الأئمة وحررناه بطلان ما زعمه ذلك الحاسد المعاند من اطلاقه القول بتكفير الساحر وجزمه بإن تسخير الجن والعفاريت موجب للكفر فانك قد علمت من كلام امام الهدى وغيره ان تكفير الساحر مطلقا خطأ ما لم يكن فيه رد لما لزم في شرط الايمان وح فإذا ثبت على شخص ادعاؤه تسخير الجن يسأل عن حقيقته فإن فسر ذلك بما فيه كفر من قول أو فعل أو اعتقاد تحكم بكفره والا فلا يكون كافرا إلا على قول المعتزلة كما علمته من كلام الزواجر في بيان حكم النوع الثالث من الانواع السبعة وعلمت التوفيق ومثل هذا يقال في دعوى ربط الجان والعفاريت وقتلهم فإنه ليس بكفر ما لم يقترن بمكفر وقد مر في كلام الاشباه والنظائر انه لا يجوز قتل الجنى بغير حق كالأنسي وهذا صريح في انه يمكن قتل الجنى وإن قتله بحق جائز شرعا فقول ذلك الحاسد ان ذلك موجب للكفر بلا مرية. هو كذب وفرية لانه لا يكون كفرا ما لم يقترن بمكفر كما قررناه ومن الخطأ أيضا قوله ان ذلك متضمن لا دعاء ما هو خاص بنبي الله سليمان عليه السلام للآية وفيه ادعاء الاستعلاء على الانبياء عليهم الصلاة والسلام لاسيما نبينا صلى الله تعالى عليه وسلم حيث قال (ان عفريتا من الجن نقلت على البارحة ليقطع على الصلاة فامكننى الله تعالى منه فأخذته فأردت ان اربطه على سارية من سوارى المسجد حتى تنظروا إليه كلكم فذكرت دعوة اخى سليمان (رب هب لى ملكا لا ينبغي لاحد من بعدى) فرددته خاسئا) متفق عليه كذا في المشكاة قال في الفتح وفيه إشارة إلى انه صلى الله تعالى عليه وسلم يقدر على ذلك إلا انه تركه رعاية لسليمان عليه السلام ويحتمل ان تكون خصوصية سليمان استخدام الجن في جميع ما يريده لا في هذا القدر فقط

নদী ও কূপে অথবা মৃতদের কবরে অথবা পূর্বমুখী দরজায়; তারা বিশ্বাস করে যে, ঐসব বিষয়ে প্রভাবসমূহ তাদের নফসের এমন সব বৈশিষ্ট্যের কারণে ঘটে, যা আল্লাহ তাআলা দৃঢ় সংকল্পের সময় ঐসব প্রভাবের সাথে যুক্ত হওয়ার প্রকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সুতরাং এ কারণে আমরা তাদের কাফের সাব্যস্ত করতে (تكفير) পারি না; কারণ তারা এটি পরীক্ষা করে দেখেছে এবং তাদের নফসের ঐসব বৈশিষ্ট্যের কারণে তা তাদের জন্য হারাম হিসেবে পায়নি। এটি মূলত ঔষধ সেবনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের বিশ্বাসের মতো। আর নফসের বৈশিষ্ট্যের কারণে কাফের সাব্যস্ত করা (تكفير) সম্ভব নয়; কেননা তা তাদের অর্জন (كسب) নয়, আর যা অর্জিত নয় (غير مكتسب) তাতে কুফরি (كفر) হয় না। তবে নক্ষত্রসমূহ আল্লাহর কুদরতে এসব কাজ করে বলে তাদের বিশ্বাস করা একটি ভুল; কারণ সেগুলো এসব কাজ করে না, বরং ঐসব প্রভাব তাদের নফসের বৈশিষ্ট্য থেকেই উৎসারিত হয়, যা আল্লাহ তাআলা ঐ বিশ্বাসের সময় ঐসব প্রভাবের সাথে সংশ্লিষ্ট করে দিয়েছেন। আর যে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে তা কুফরি (كفر), তা হলো নক্ষত্রসমূহকে স্বতন্ত্র বা স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করা যা আল্লাহর মুখাপেক্ষী নয়। এটি সাবিয়ী সম্প্রদায়ের মতবাদ এবং এটি স্পষ্ট কুফরি (كفر صراح)। এখানেই সংক্ষিপ্ত সারমর্ম শেষ হলো। (সতর্কীকরণ) আমরা যা প্রতিষ্ঠিত করেছি, ইমামগণের থেকে যা উদ্ধৃত করেছি এবং যা বিশ্লেষণ করেছি, তা থেকে আপনার কাছে সেই বিদ্বেষী ও একগুঁয়ে ব্যক্তির দাবির অসারতা স্পষ্ট হয়েছে—যে জাদুকরকে কাফের সাব্যস্ত করার (تكفير) ক্ষেত্রে ঢালাও মন্তব্য করেছে এবং জিন ও অবাধ্য জিনদের বশীভূত করা কুফরির (كفر) কারণ হওয়া সুনিশ্চিত বলে দাবি করেছে। কেননা আপনি হিদায়াতের ইমাম ও অন্যান্যদের বক্তব্য থেকে জেনেছেন যে, জাদুকরকে ঢালাওভাবে কাফের সাব্যস্ত করা (تكفير) ভুল, যতক্ষণ না তাতে ইমানের শর্তাবলির কোনো আবশ্যকীয় বিষয় প্রত্যাখ্যান করা হয়। এমতাবস্থায়, যদি কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে জিন বশীভূত করার দাবি প্রমাণিত হয়, তবে তাকে এর স্বরূপ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। যদি সে এমন কোনো কথা, কাজ বা বিশ্বাসের মাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দেয় যাতে কুফরি (كفر) বিদ্যমান থাকে, তবেই তার কুফরির (كفر) ফয়সালা দেওয়া হবে। অন্যথায় সে কাফের (كافر) হবে না, কেবল মুতাজিলা মতবাদ ব্যতীত, যা আপনি ‘আয-যাওয়াজির’ গ্রন্থের তৃতীয় প্রকারের বর্ণনায় জেনেছেন এবং এর সমন্বয় সাধন সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। জিন ও অবাধ্য জিনদের বন্দি করা বা তাদের হত্যার দাবির ক্ষেত্রেও অনুরূপ কথা প্রযোজ্য; যতক্ষণ এর সাথে কুফরি (كفر) লিপ্ত কোনো বিষয় যুক্ত না হয়, ততক্ষণ এটি কুফরি (كفر) নয়। ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির’ গ্রন্থে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, মানুষের মতো জিনকেও অন্যায়ভাবে হত্যা করা জায়েজ নেই। এটি এই বিষয়ে স্পষ্ট যে, জিনকে হত্যা করা সম্ভব এবং ন্যায়সঙ্গত কারণে তাদের হত্যা করা শরিয়তসম্মতভাবে বৈধ। সুতরাং সেই বিদ্বেষী ব্যক্তির কথা—‘এটি নিঃসন্দেহে কুফরির (كفر) কারণ’—একটি মিথ্যা ও অপবাদ। কেননা আমাদের প্রতিষ্ঠিত নীতি অনুযায়ী, যতক্ষণ এর সাথে কুফরি (كفر) লিপ্ত কোনো বিষয় যুক্ত না হয়, ততক্ষণ এটি কুফরি (كفر) হবে না। তার এই দাবিও ভুল যে, এটি আল্লাহর নবি সুলায়মান আলাইহিস সালামের জন্য খাস বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি রাখে (আয়াতের ভিত্তিতে), এবং এতে আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাতু ওয়াস সালামের ওপর, বিশেষ করে আমাদের নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দাবির বিষয়টি রয়েছে। যেখানে তিনি ইরশাদ করেছেন, “গত রাতে এক অবাধ্য জিন আমার ওপর চড়াও হয়েছিল যাতে আমার নামাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাকে তার ওপর সামর্থ্য দান করলেন এবং আমি তাকে ধরে ফেললাম। আমি চেয়েছিলাম তাকে মসজিদের খুঁটিগুলোর কোনো একটির সাথে বেঁধে রাখতে যাতে তোমরা সবাই তাকে দেখতে পার। তখন আমার ভাই সুলায়মান আলাইহিস সালাম-এর দোয়ার কথা মনে পড়ল: ‘হে আমার রব! আমাকে এমন এক রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কারো জন্য শোভনীয় হবে না’। ফলে আমি তাকে লাঞ্ছিত অবস্থায় তাড়িয়ে দিলাম।” এটি সর্বসম্মত (متفق عليه), যেমনটি ‘মিশকাত’ গ্রন্থে রয়েছে। ‘আল-ফাতহ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে, এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর সক্ষম ছিলেন, কিন্তু সুলায়মান আলাইহিস সালামের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে তিনি তা ছেড়ে দিয়েছেন। আর এটিও সম্ভব যে, সুলায়মান আলাইহিস সালামের বিশেষত্ব ছিল তার সকল ইচ্ছামতো জিনের ব্যবহার নিশ্চিত করা, কেবল এই সামান্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে নয়।

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০৭)
انتهى فإنه على الاحتمال الاخير لا يكون ربط العفريت خاصا بسليمان عليه السلام وإنما تركه صلى الله تعالى عليه وسلم تأدبا مع سليمان عليه السلام لكونه من جنس معجزته المختصه به من تسخير الشياطين له فيما يشاء وارادته عليه الصلاة والسلام أو لا لربطه ثم عدوله عن ذلك دليل على ان ذلك ممكن وانه غير مكفر وحاشاه صلى الله تعالى عليه وسلم ان يهم (بتشديد الميم) بما فيه كفر ولو نسيانا بل من اعتقد فيه ذلك فهو كافر فقول هذا الحاسد المعاند ان ادعاء ذلك مستلزم لإنكار النص الموجب للفكر اتفاقا كلام باطل يخشى عليه من الوقوع في الكفر لاستلزامه الطعن في جناب نبينا صلى الله تعالى عليه وسلم نعوذ بالله من علم لا ينفع ومن حسد يعمى ويصم حتى يوقع صاحبه في مثل هذا المهيع على ان الآية فيها احتمالات ذكرها المفسرون ففى تفسير القاضي والمفتى قال رب اغفر لى وهب لى ملكا لا ينبغي لاحد من بعدى لا يتسهل له ولا يكون ليكون معجزة لى مناسبة لحالى أو لا ينبغي لاحد ان يسلبه منى بعد هذه السلبة اولا يصح لاحد من بعدى لعظمته كقولك لفلان ما ليس لاحد من الفضل والمال على ارادة وصف الملك بالعظمة لا ان لا يعطى أحد مثله فيكون منافسة انتهى زاد المفتى أبو السعود وقيل كان ملكا عظيما فخاف ان يعطى مثله أحد فلا يحافظ على حدود الله تعالى انتهى فقول من بعدى على الوجه الثاني بمعنى غيرى ممن هو في عصرى فإن سليمان عليه السلام قد كان سلب منه ملكه مرة فإنه كان ملكه في خاتمه وكانت له أم ولد اسمها امينه وكان إذا دخل عليها للطهارة اعطاها الخاتم فاعطاها يوما فتمثل لها بصورته شيطان اسمه صحر واخذ الخاتم فتختم به وجلس على كرسيه فاجتمع عليه الخلق ونقذ حكمه في كل شئ إلا فيه وفى نسائه إلى آخر القصة فمعنى الآية على هذا الوجه الدعاء بعدم سلب ملكه عنه في حياته بعد هذه السلبة ولا يخفى انه على هذا لا يمتنع وقوع مثله لغيره بعده وكذا على الوجه الثالث وهو قوله أو لا يصح لاحد من بعدى لعظمته فإن قوله من بعدى بمعنى غيرى أيضا ولكنه مطلق لا يختص بعصره وهو كناية عن عظمته سواء كان لغيره أم لا فإن الكناية لا تنافى ارادة الحقيقة وعدمها ومثله لفلان ما ليس لاحد من كذا وربما كان في الناس امثاله إذ المراد ان له حظا عظيما وسهما جسيما كما اوضحه في الكشاف ومعنى الآية على هذا الوجه الدعاء بان يهب له ملكا عظيما لا ان لا يعطى أحد مثله حتى يكون منافسة في الدنيا أي بخلا وتقديما لنفسه على من سواه شرها على الدنيا كما طعن به بعض الملحدين على سليمان عليه السلام (و)

সমাপ্ত। অতএব সর্বশেষ সম্ভাবনা অনুযায়ী, ইফরিতকে বন্দি করা কেবল সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর জন্যই নির্দিষ্ট নয়। বরং নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর প্রতি শিষ্টাচার (আদব) রক্ষার্থে তা পরিত্যাগ করেছেন; কারণ এটি ছিল জিনদের বশীভূত করার মতো সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর জন্য নির্দিষ্ট অলৌকিক নিদর্শনের (معجزة) অন্তর্ভুক্ত, যা তিনি নিজের ইচ্ছামতো পরিচালনা করতেন। নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রথমে তাকে বন্দি করার ইচ্ছা পোষণ করা এবং পরবর্তীতে তা থেকে ফিরে আসা একথারই দলিল যে, এটি সম্ভব এবং এতে লিপ্ত হওয়া কুফরি (كفر) নয়। নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন কোনো বিষয়ের ইচ্ছা করবেন যা কুফরির অন্তর্ভুক্ত—তা থেকে তিনি অনেক ঊর্ধ্বে। এমনকি ভুলবশতও তা হওয়া অসম্ভব; বরং যে ব্যক্তি তাঁর ব্যাপারে এরূপ বিশ্বাস রাখবে সে নিজেই কাফির (كافر)। সুতরাং এই বিদ্বেষী ও হঠকারীর উক্তি যে—এরূপ দাবি করা সর্বসম্মতিক্রমে কুফরি (كفر) সাব্যস্তকারী সুস্পষ্ট পাঠ (نص) অস্বীকার করার নামান্তর—এটি একটি অসার ও বাতিল কথা। এহেন উক্তির কারণে তার কুফরিতে পতিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, কারণ এটি আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুমহান মর্যাদায় আঘাত হানার নামান্তর। আমরা আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এমন জ্ঞান থেকে যা উপকারে আসে না এবং এমন হিংসা থেকে যা মানুষকে অন্ধ ও বধির করে দেয়, এমনকি তার অধিকারীকে এমন ভ্রান্ত পথে নিপতিত করে। অথচ আলোচ্য আয়াতের ব্যাপারে মুফাসসিরগণ বেশ কিছু সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। কাজী (বায়যাভী) এবং মুফতি (আবু সাউদ)-এর তাফসিরে বলা হয়েছে: "হে আমার রব! আমাকে ক্ষমা করুন এবং আমাকে এমন রাজত্ব দান করুন যা আমার পরে আর কারও জন্য শোভা পায় না"—অর্থাৎ যা অন্য কারও জন্য সহজসাধ্য হবে না এবং সম্ভব হবে না, যাতে তা আমার অবস্থার উপযোগী একটি অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) হিসেবে সাব্যস্ত হয়। অথবা এর অর্থ: আমার থেকে এই ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়ার পর পুনরায় যেন আর কেউ তা ছিনিয়ে নিতে না পারে। অথবা এর অর্থ: এর বিশালত্বের কারণে তা আমার পরে আর কারও জন্য প্রযোজ্য নয়, যেমনটি আপনি বলে থাকেন—'অমুকের এমন মর্যাদা ও সম্পদ আছে যা আর কারও নেই'; এখানে উদ্দেশ্য হলো সেই রাজত্বের বিশালত্বের বর্ণনা দেওয়া, এমনটি নয় যে অন্য কাউকে এর অনুরূপ কিছু দেওয়া হবে না বা এটি কেবল প্রতিযোগিতামূলক বিদ্বেষবশত বলা হয়েছে। সমাপ্ত। মুফতি আবু সাউদ আরও যোগ করেছেন: বলা হয়ে থাকে যে, সেটি ছিল এক বিশাল রাজত্ব, তাই তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে এটি অন্য কাউকে দেওয়া হলে সে হয়তো আল্লাহর সীমারেখা রক্ষা করতে পারবে না। সমাপ্ত। সুতরাং 'আমার পরে' কথাটির দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী অর্থ দাঁড়াবে—'আমার সমকালীন অন্য কেউ নয়'। কারণ সুলাইমান আলাইহিস সালাম থেকে একবার তাঁর রাজত্ব ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর রাজত্ব ছিল তাঁর আংটির মধ্যে। আমিনা নামক তাঁর একজন দাসী (উম্মে ওয়ালাদ) ছিল। তিনি যখন পবিত্রতা অর্জনের জন্য যেতেন তখন তাকে আংটিটি দিয়ে যেতেন। একদিন তিনি তাকে আংটিটি দিলেন, তখন 'সাখর' নামক এক শয়তান সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর রূপ ধরে তাঁর নিকট আসলো এবং আংটিটি নিয়ে নিল। এরপর সে তা পরিধান করে তাঁর সিংহাসনে বসল। ফলে সমস্ত সৃষ্টি তার কাছে সমবেত হলো এবং তাঁর স্ত্রীগণ ও তাঁর নিজের সত্তা ব্যতীত অন্য সবকিছুর ওপর শয়তানের হুকুম জারি হলো... (কাহিনীর শেষ পর্যন্ত)। সুতরাং এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী আয়াতের অর্থ দাঁড়াবে—এই ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনার পর তাঁর জীবদ্দশায় যেন দ্বিতীয়বার রাজত্ব ছিনিয়ে নেওয়া না হয় সেই প্রার্থনা করা। এটি স্পষ্ট যে, এই অর্থ গ্রহণ করলে তাঁর পরবর্তী অন্যদের ক্ষেত্রে অনুরূপ ঘটনা ঘটা অসম্ভব নয়। তেমনিভাবে তৃতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ীও একই কথা প্রযোজ্য, যা হলো—'তার বিশালত্বের কারণে তা আমার পরে আর কারও জন্য শোভ্য নয়'। এখানে 'আমার পরে' অর্থ হলো 'আমি ছাড়া অন্য কেউ'। তবে এটি সাধারণ অর্থ প্রকাশ করে যা কেবল তাঁর সময়ের জন্য নির্দিষ্ট নয়। এটি তাঁর রাজত্বের বিশালত্বের এক প্রকার রূপক বর্ণনা (কিনায়া), তা অন্য কারও জন্য হোক বা না হোক। কেননা রূপক বর্ণনা প্রকৃত অর্থের উদ্দেশ্য হওয়া বা না হওয়াকে নাকচ করে না। এর উদাহরণ হলো—'অমুকের এমন এমন সম্পদ আছে যা অন্য কারও নেই', অথচ মানুষের মধ্যে হয়তো তার অনুরূপ আরও ব্যক্তি থাকতে পারে। কারণ এখানে উদ্দেশ্য হলো তার অনেক বড় ভাগ্য ও বিশাল অংশের অধিকারী হওয়া, যেমনটি কাশশাফ গ্রন্থে স্পষ্ট করা হয়েছে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী আয়াতের অর্থ দাঁড়াবে—তিনি আল্লাহর কাছে এক বিশাল রাজত্ব চেয়েছিলেন, এমন নয় যে অন্য কাউকে যেন এর অনুরূপ কিছু না দেওয়া হয়, যাতে এটি দুনিয়াবি প্রতিযোগিতার (অর্থাৎ কৃপণতা ও স্বার্থপরতাবশত নিজেকে অন্যের ওপর প্রাধান্য দেওয়া এবং দুনিয়ার প্রতি লোভাতুর হওয়া) শামিল হয়; যেমনটি কিছু ধর্মহীন লোক সুলাইমান আলাইহিস সালাম-এর ওপর অপবাদ আরোপ করেছে। (ও)

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০৮)
الوجه الرابع الذي زاده المفتى أبو السعود هو بمعنى الوجه الأول والفرق بينهما هو أنه على الأول انما طلب ان لا يسهل لغيره مطلقا لانه انما كان من بيت النبوة والملك وكان زمن الجبارين وتفاخرهم بالملك ومعجزة كل نبي من جنس ما اشتهر في عصره كما غلب في عهد الكليم السحر فجاءهم بتلقف ما اتوا به وفى عهد المسيح الحكمة والطب فجاءهم باحياء الموتى وفى عهد خاتم الرسل صلى الله تعالى عليه وسلم الفصاحة فجاءهم بما عجزهم عن معارضة اقصر سوره فطلب سليمان ذلك لاعجاز أهل عصره ليطيعوه إلى دعوة الإيمان لا طلبا للمفاخرة بأمور الدنيا كما زعمه بعض الملحدين وعلى الوجه الرابع انما طلب عدم تسهله لغيره من عدم محافظته على حدوده لكن على هذا الوجه يتعين كون المراد من قوله من بعدى لغيرى في حياته وبعد موتى اما على الوجه الأول فلا لان اعجاز أهل عصره لا ينافي تسهل مثله لمن بعد موته نعم إذا لم يتسهل من بعد موته يكون ابلغ في الاعجاز كما في اعجاز القرآن، هذا ما ظهر لى (ثم) لا يخفى ان ملك سليمان عليه السلام الذي طلبه لم يكن خصوص ربط العفاريت بل ذلك من بعض جزئياته المشار إليه بقوله تعالى (وآخرين مقرنين في الاصفاد) ولا شك ان تصرفه في الجن والشياطين بما أراد لم يقع لغيره. واما تسخير بعض امور خاصة فهو امر ممكن ليس فيه مشاركة لسليمان عليه السلام في ملكه الذي هو اعم واشمل من ذلك بيقين ولذا أخذ نبينا صلى الله تعالى عليه وسلم ذلك العفريت كما قال فامكننى الله تعالى منه فأخذته فإن اخذه له تصرف في الجن بنوع ما فلو كان ذلك مشاكة لسليمان لما اخذه. واما قوله فأردت ان اربطه الخ ففيه دليل على انه كان قادرا على ذلك كما قدمناه وانه امر ممكن جائز ولكن تركه تأديا لدعوة سليمان عليه السلام كما قال عليه الصلاة والسلام لا تفضلونى على يونس بن متى مع انه صلى الله تعالى عليه وسلم افضل الخلائق اجمعين ولو كان ذلك منازعة لسليمان في ملكه المختص به لما قصده صلى الله تعالى عليه وسلم فعلم ان وقوع ذلك جائز لا ينافي الاختصاص ما هو اعم منه إلا ترى ان حضرة مولانا السلطان اعزه الله تعالى قد اختص ما خصه الله تعالى من الملك العظيم والتصرف التام في مملكته ومع هذا لا ينافى وقوع التصرف لبعض رعيته في بعض ما حولهم الله تعالى لانهم وإن كان لهم قدرة التصرف في شيء من ذلك لكن تصرف حضرة السلطان اعم واشمل فلا ينافي اختصاصه بالتصرف في الكل. وح فلا منافاة بين ما في الآية والحديث (وقد) ظهر لك بما قررناه وحررناه ان الآية

মুফতি আবু সাউদ যে চতুর্থ দিকটি বৃদ্ধি করেছেন তা মূলত প্রথম দিকের অর্থের সমার্থক। এই দুটির মধ্যে পার্থক্য হলো, প্রথম দিক অনুযায়ী তিনি (সুলাইমান আ.) চেয়েছিলেন যেন তা নিরঙ্কুশভাবে অন্য কারো জন্য সহজসাধ্য না হয়; কেননা তিনি নবুওয়াত ও রাজকীয় পরিবারের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং তৎকালীন সময়টি ছিল স্বৈরাচারী শাসকদের এবং তাদের রাজত্ব নিয়ে অহংকার করার যুগ। প্রত্যেক নবীর অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) সেই বিষয়ের সমগোত্রীয় হতো যা তাঁর যুগে প্রসিদ্ধ ছিল। যেমন কালিমুল্লাহর (মূসা আ.) যুগে জাদুর প্রভাব প্রবল ছিল, ফলে তিনি তাদের সামনে এমন কিছু নিয়ে এসেছিলেন যা তাদের জাদুকে গ্রাস করে ফেলেছিল। আর মসীহের (ঈসা আ.) যুগে প্রজ্ঞা ও চিকিৎসাবিদ্যা প্রবল ছিল, তাই তিনি মৃতকে জীবিত করার অলৌকিক ক্ষমতা নিয়ে এসেছিলেন। শেষ রাসূল (সা.)-এর যুগে ছিল সাবলীল ভাষা ও অলঙ্কারশাস্ত্রের প্রভাব, তাই তিনি এমন কিতাব নিয়ে এসেছিলেন যা তাদের সংক্ষিপ্ততম সূরার সমকক্ষতা করতেও অক্ষম করে দিয়েছিল। সুতরাং সুলাইমান (আ.) তাঁর যুগের মানুষকে অলৌকিকত্ব (إعجاز) প্রদর্শনের মাধ্যমে পরাভূত করার জন্য সেই রাজত্ব চেয়েছিলেন যাতে তারা ঈমানের দাওয়াত কবুল করে; পার্থিব বিষয়ে গর্ব করার জন্য নয়, যেমনটি কিছু নাস্তিক (ملحدين) দাবি করে থাকে।

আর চতুর্থ দিক অনুযায়ী, তিনি তা অন্যের জন্য সহজসাধ্য না হওয়ার দোয়া করেছিলেন এই অর্থে যে, অন্য কেউ তার সীমানা রক্ষা করতে পারবে না। তবে এই দিক অনুযায়ী তাঁর উক্তি ‘আমার পরে’ এর অর্থ সুনির্দিষ্টভাবে এই দাঁড়ায় যে, ‘আমার জীবদ্দশায় আমার ব্যতীত অন্য কেউ এবং আমার মৃত্যুর পরে’। প্রথম দিক অনুযায়ী বিষয়টি এমন নয়, কারণ তাঁর যুগের মানুষকে অক্ষম করে দেওয়া তাঁর মৃত্যুর পর অনুরূপ কিছু অন্য কারো জন্য সহজসাধ্য হওয়ার পরিপন্থী নয়। হ্যাঁ, যদি মৃত্যুর পরেও তা কারো জন্য সহজসাধ্য না হয়, তবে তা অলৌকিকত্বের ক্ষেত্রে অধিকতর প্রভাবশালী হয়, যেমনটি কুরআনের অলৌকিকত্বের (إعجاز) ক্ষেত্রে দেখা যায়। আমার নিকট এটাই প্রতীয়মান হয়েছে।

(অতঃপর) এটি অস্পষ্ট নয় যে, সুলাইমান (আলাইহিস সালাম) যে রাজত্ব চেয়েছিলেন তা কেবল অবাধ্য জিনদের (عفريت) বেঁধে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি ছিল তাঁর রাজত্বের একটি বিশেষ অংশ মাত্র, যার দিকে আল্লাহ তাআলার এই বাণী ইঙ্গিত করে: “এবং অন্যান্যেরও (শয়তানদের), যারা শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল।” এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, জিন ও শয়তানদের ওপর তাঁর ইচ্ছানুযায়ী কর্তৃত্ব আর কারো ভাগ্যে জোটেনি। তবে বিশেষ কিছু বিষয়ের বশীকরণ সম্ভব এবং এতে সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর রাজত্বের সাথে কোনো অংশীদারিত্ব তৈরি হয় না, যা নিশ্চিতভাবেই এর চেয়ে অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত ছিল। একারণেই আমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই অবাধ্য জিনকে (عفريت) ধরেছিলেন, যেমনটি তিনি বলেছিলেন: “আল্লাহ তাআলা আমাকে তার ওপর ক্ষমতা দিয়েছেন, ফলে আমি তাকে পাকড়াও করেছি।” কেননা তাকে ধরা ছিল জিনদের ওপর এক প্রকার কর্তৃত্ব; যদি তা সুলাইমান (আ.)-এর রাজত্বের সেই বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সাথে অংশীদারিত্ব হতো, তবে তিনি তাকে ধরতেন না।

আর তাঁর উক্তি “আমি তাকে বেঁধে রাখতে চেয়েছিলাম...” এর মধ্যে প্রমাণ রয়েছে যে, তিনি এর ওপর সক্ষম ছিলেন এবং এটি একটি সম্ভব ও বৈধ (جائز) বিষয় ছিল। কিন্তু সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর দোয়ার প্রতি শিষ্টাচার বজায় রেখে তিনি তা পরিত্যাগ করেছিলেন। যেমন নবী (আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালাম) বলেছিলেন: “তোমরা আমাকে ইউনুস ইবনে মাত্তার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না”, যদিও তিনি (সা.) সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। যদি জিনকে বেঁধে রাখা সুলাইমান (আ.)-এর বিশেষ রাজত্বের সাথে বিবাদপূর্ণ হতো, তবে রাসূল (সা.) কখনোই এর ইচ্ছা পোষণ করতেন না। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, এর সংঘটন বৈধ (جائز) এবং তা তাঁর সেই বৈশিষ্ট্যের পরিপন্থী নয় যা এর চেয়েও ব্যাপক।

আপনি কি দেখেন না যে, আমাদের মহান সুলতান (আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করুন) আল্লাহ প্রদত্ত এক বিশাল রাজত্ব ও তাঁর রাজ্যে পূর্ণ কর্তৃত্বের অধিকারী। তা সত্ত্বেও এটি তাঁর প্রজাদের আল্লাহ প্রদত্ত কিছু ক্ষমতার ব্যবহারের পরিপন্থী নয়; কারণ প্রজাদের যদিও কোনো বিষয়ে সামান্য কর্তৃত্বের ক্ষমতা থাকে, কিন্তু সুলতানের কর্তৃত্ব অনেক ব্যাপক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক। সুতরাং সামগ্রিক কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে সুলতানের বিশেষ অধিকারের সাথে এটি সাংঘর্ষিক নয়। এমতাবস্থায়, আয়াত ও হাদিসের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। আমাদের উপস্থাপিত ও লিপিবদ্ধ আলোচনার মাধ্যমে আপনার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, আয়াতটি—

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩০৯)
لا تقتضى انه لا يمكن لاحد ان يتصرف نوع تصرف في الجان وإن من قال ان اعتقاد الجواز كفر فهو مفتر على الشرع المصان بل لو ادعى مدع ان له في الجان التصرف التام كتصرف سليمان عليه السلام. لم يجز الجزم بكفره لما علمت من ان الآية ليست نصا في اختصاص سليمان عليه السلام بذلك لما علمت من الاوجه الأربعة في تفسيرها بل يسأل عن وجه تصرفه فإن كان فيه مكفر من قول أو عمل أو اعتقاد فهو كافر بذلك والا فلا فإن ذلك قد يكون كرامة له فإن ما ساغ ان يكون معجزة لنبي ساغ كونه كرامة اولى كما قدمناه. وانظر إلى ما حكى عن الأولياء من وقائعهم مع الجن تعلم صدق ما قلنا وانظر إلى ما في بهجة القطب الرباني والهيكل الصمداني سيدى عبد (القادر الكيلاني) من انقياد الجن والطاعة ملكهم له ومن مقاتلته لعفاريتهم وشياطينهم وحرقه لهم فاز فيها ما يكفى. ومن ذلك حكاية الذي اختطفت بنته فأمره ان يذهب إلى مكان كذا ويخط دائرة في الأرض يجلس فيها ففعل فرآهم يعبرون زمرا زمرا إلى ان جاء ملكهم راكبا فرسا وبين يديه امم منهم فوقف بازاء الدائرة وقال يا أنس ما حاجتك فقال بعثنى الشيخ عبد القادر إليك فنزل من على فرسه وقبل الأرض وجلس خارج الدائرة وسأله فذكر له قصة بنته فسألهم عمن اخذها فأتى بمارد من مردة الصين وهى معه فضرب عنق المارد واخذ ابنته ثم قال اما رأيت كالليلة في امتثالك امر الشيخ قال نعم انه لينظر من داره إلى المردة منا وهم باقصى الأرض فيفرون من هيبته إلى مساكنهم وإن الله تعالى إذا أقام قطبا مكنه من الجن والانس انتهى (فإن قلت) قد مر ان من أنواع السحر ان يعتقد انه بلغ في التصفية وقراة الرقى وتدخين بعض الادوية إلى ان الجن تطيعه في تغيير البنية والشكل وإن المعتزلة قالوا بكفره وغيرهم وإن لم يقل بكفره يقول ان ذلك حرام وانه يكفر مستحله وما كان مترددا بين كونه حراما أو كفرا كيف يجوز وقوعه من احاد المؤمنين فضلا عن الأولياء (قلت) لا شك ان كلا من المعجزة والكرامة والسحر امور خارقة للعادة وإنما الفرق بينها من حيث النسبة إلى من ظهرت على يديه فإن ظهر ذلك الخارق ممن هو افضل الناس نشأة وشرفا وخلقا وخلقا وصدقا وادبا وامانة وزهادة واشفاقا ورفقا وبعدا عن الدناءة والكذب والتمويه وكان له أصحاب في غاية العلم والديانة كان ذلك الخارق معجزة مصدقة لدعواه وإن ظهر على يدى متبع لنبي مقتف لهديه مواظب على الطاعات معرض عن المخالفات يدعو إلى تصحيح العقائد وإقامة الشريعة والاذكار والعبادات كان ذلك الخارق كرامة له اكرمه الله تعالى بها لا بقرأة رقى ولا بتدخين وإن ظهر على يدى

এটি এই বিষয়টিকে আবশ্যক করে না যে, জিনদের ওপর কারো কোনো প্রকার নিয়ন্ত্রণ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আর যে ব্যক্তি বলে যে, (জিনদের ওপর নিয়ন্ত্রণ) জায়েজ হওয়ার বিশ্বাস রাখা কুফরি (كفر), সে মূলত সংরক্ষিত শরিয়তের ওপর অপবাদ আরোপকারী। বরং যদি কোনো দাবিদার এই দাবি করে যে, জিনদের ওপর তার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে যেমনটি সুলাইমান আলাইহিস সালামের ছিল, তবে তার কুফরি (كفر)-এর ব্যাপারে অকাট্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা জায়েজ হবে না; কারণ আপনি জেনেছেন যে, আয়াতটি সুলাইমান আলাইহিস সালামের জন্য সেই বিষয়টি নির্দিষ্ট হওয়ার ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট নস (نص) নয়, যা আপনি এর তাফসিরের চারটি দিক থেকে জেনেছেন। বরং তার নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে হবে; যদি তাতে কথা, কাজ বা বিশ্বাসের দিক থেকে কুফরি (كفر) উদ্রেককারী কিছু থাকে, তবে সে কারণে সে কাফির (كافر) সাব্যস্ত হবে, অন্যথায় নয়। কেননা এটি তার জন্য কারামত (كرامة) হিসেবে গণ্য হতে পারে। কারণ যা একজন নবীর জন্য মোজেজা (معجزة) হওয়া সম্ভব, তা প্রথমত একজন অলির জন্য কারামত (كرامة) হওয়াও সম্ভব, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর জিনদের সাথে ওলিদের (أولياء) ঘটনাবলি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তার দিকে দৃষ্টিপাত করুন, তাহলে আমাদের বক্তব্যের সত্যতা অনুধাবন করতে পারবেন। 'বাহজাতুল কুতুবির রব্বানি ওয়াল হাইকালিস সামদানি'-তে সাইয়্যিদ আব্দুল কাদের জিলানি সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তা দেখুন; সেখানে জিনদের আনুগত্য, তাদের বাদশাহর তাঁর প্রতি বশ্যতা স্বীকার, অবাধ্য জিন ও শয়তানদের সাথে তাঁর লড়াই এবং তাদের ভস্মীভূত করার বর্ণনায় যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এর মধ্যে সেই ব্যক্তির ঘটনা উল্লেখযোগ্য যার কন্যা অপহৃত হয়েছিল; শেখ তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অমুক স্থানে যেতে এবং ভূমিতে একটি বৃত্ত অঙ্কন করে তার ভেতরে বসতে। সে তাই করল এবং দেখল জিনরা দলে দলে অতিক্রম করছে। শেষ পর্যন্ত তাদের বাদশাহ অশ্বপৃষ্ঠে আগমন করল এবং তার সম্মুখে অনেক সৈন্য ছিল। সে বৃত্তের সামনে দাঁড়িয়ে বলল, 'হে মানুষ, তোমার প্রয়োজন কী?' সে বলল, 'শেখ আব্দুল কাদের আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন।' তখন সে অশ্ব থেকে অবতরণ করল, ভূমি চুম্বন করল এবং বৃত্তের বাইরে উপবেশন করল। সে তাকে জিজ্ঞাসা করলে লোকটি তার কন্যার কাহিনী ব্যক্ত করল। বাদশাহ তখন তাদের জিজ্ঞাসা করল কে তাকে অপহরণ করেছে। অতঃপর চীনের এক বিদ্রোহী জিনের (مارد) সাথে কন্যাটিকে উপস্থিত করা হলো। সে ঐ জিনের গর্দান দ্বিখণ্ডিত করল এবং কন্যাটিকে উদ্ধার করল। এরপর সে বলল, 'আজকের রাতের মতো শেখের নির্দেশ পালনের দৃশ্য কি তুমি আর দেখেছ?' সে বলল, 'হ্যাঁ, তিনি তাঁর গৃহ থেকেই আমাদের বিদ্রোহী জিনদের (مردة) দেখতে পান অথচ তারা পৃথিবীর দূরতম প্রান্তে অবস্থান করে; তারা তাঁর প্রতাপের ভয়ে নিজেদের বাসস্থানে পলায়ন করে।' আল্লাহ তাআলা যখন কোনো কুতুব (قطب) নিযুক্ত করেন, তখন তিনি তাকে জিন ও মানুষের ওপর কর্তৃত্ব দান করেন। (সমাপ্ত)

(যদি আপনি বলেন) ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, জাদুর (سحر) একটি প্রকার হলো এই বিশ্বাস রাখা যে, রিয়াজত, মন্ত্র পাঠ এবং ধূপ ব্যবহারের মাধ্যমে সে এমন স্তরে উপনীত হয়েছে যে জিনরা আকৃতি ও রূপ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে তার অনুগত হয়; এবং মুতাজিলা (معتزلة) সম্প্রদায় একে কুফরি (كفر) বলেছে। অন্যান্যরা যদিও একে কুফরি (كفر) বলেননি, তবে তারা বলেছেন যে এটি হারাম (حرام) এবং যে একে হালাল মনে করে সে কাফির (كافر) হয়ে যাবে। তো যা হারাম (حرام) বা কুফরি (كفر)-এর মধ্যে দোদুল্যমান, তা সাধারণ মুমিনদের ক্ষেত্রে হওয়া কীভাবে সম্ভব, অলীদের কথা তো দূরে থাক? (আমি বলব) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মোজেজা (معجزة), কারামত (كرامة) এবং জাদু (سحر) — এর প্রতিটিই স্বভাববিরুদ্ধ অলৌকিক বিষয়। এগুলোর মধ্যে পার্থক্য কেবল যার হাতে তা প্রকাশিত হচ্ছে তার সম্পর্কের ভিত্তিতে। যদি সেই অলৌকিক বিষয়টি এমন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রকাশিত হয় যিনি সৃষ্টিগতভাবে, আভিজাত্যে, চরিত্রে, আকৃতিতে, সত্যবাদিতায়, শিষ্টাচারে, আমানতদারিতায়, ত্যাগে, মমত্বে ও কোমলতায় মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ এবং হীনতা, মিথ্যা ও প্রতারণা থেকে বিমুখ, আর যাঁর সহচরগণ জ্ঞান ও দ্বীনদারিতে সর্বোচ্চ স্তরের, তবে সেই অলৌকিক বিষয়টি হবে তাঁর দাবির সত্যতার সপক্ষে একটি মোজেজা (معجزة)। আর যদি তা এমন ব্যক্তির হাতে প্রকাশিত হয় যিনি নবীর অনুসারী, তাঁর আদর্শের অনুগামী, ইবাদতে নিষ্ঠাবান, পাপাচার থেকে বিমুখ এবং আকিদা সংশোধন, শরিয়ত প্রতিষ্ঠা, জিকির ও ইবাদতের দিকে আহ্বানকারী, তবে সেই অলৌকিক বিষয়টি হবে তাঁর জন্য একটি কারামত (كرامة), যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তাঁকে সম্মানিত করেছেন; এটি কোনো মন্ত্র পাঠ বা ধূপ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্জিত নয়। পক্ষান্তরে যদি তা এমন কারো হাতে প্রকাশিত হয়...

(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩১০)
ذى نفس شريرة خبيثة كان سحرا وهذا فرق باعتبار الظاهر وثم فرق باعتبار الباطن ونفس الأمر وهو ان السحر كالسيميا والهيميا يكون بخواص ارضية أو سماوية وكالطلسمات يكون بنقش أسماء خاصة لها تعلق بالافلاك والكواكب على زعمهم وكالعزائم والاستخدامات يكون بتلاوة أسماء خاصة تعظمها ملوك الجان مع بتخيرات وهيئات معلومة غالبها مكفرة وكل ذلك اسباب عادية جرت عادة الله تعالى بترتب مسبباتها عليها لكنها خفية لم تظهر إلا لقليل من الناس فهي في الحقيقة ليس فيها شيء خارق للعادة إلا من حيث الظاهر اما في نفس الأمر فلا لارتباطها بأسبابها الخفية كالحشائش التي يعمل منها النفط التي تحرق الحصون وكالدهن الذي من ادهن به لم يقطع فيه حديد ولا تؤثر فيه النار ونحو ذلك بخلاف المعجزة والكرامة فإنه ليس في الحشائش والادهان وغيرها ما يقدر فيه الإنسان على قطع المسافة البعيدة في زمن يسير أو على المشى على وجه الماء أو على احياء الموتى وفلق البحر ونحو ذلك مما هو معجزة أو كرامة تظهر بمجرد خلق الله تعالى بلا استعمال اسباب معدة لذلك وقدمنا اول هذا الفصل عن شرح المقاصد وجوها آخر فارقة بين السحر وغيره وكذا حكاية الصوفى مع البرهمي واما إذا ظهر ذلك الخارق على يد أحد من عوام المؤمنين فإنه يسمى معونة كما مر في الفصل الأول (فإذا علمت) ذلك ظهر لك ان ما نسبه هذا الحاسد إلى حضرة مولانا خالد كرامة له عظيمة ومنحة جسيمة اشاعها عنه الحاسد بلسانه لمن لا يعلمها ولو عقل لكان يسترها ويكتمها ولله در القائل:

وإذا أراد الله نشر فضيلة … طويت اناح لها لسان حسود

فإن مما لا يشك فيه عاقل ولا يجحده إلا المعاند الجاهل ان حضرة مولانا خالد قد ارغم الله به انف الحاسد حيث حاز اسنى المقامات في اتباع الشريعة ووصل إلى اعلا منازلها الرفيعة وشهد بذلك طلعته الوسيمه وعقيدته السليمه ودأبه على ارشاد العباد ورسوخ حبه في قلوب عامة أهل البلاد واستقامة أحوال خلفائه ومريديه وخذلان اعدائه وحاسديه وهذا اعدل شاهد عند ذوى المقامات على انه من أهل الكرامات وإن كان هو لا يدعى ذلك تواضعا. ويراه من نفسه ممتنعا. فقد سمعته مرة يقول اعوذ بالله ان اكون ممن يدعى الكرامات. بل انا من كلاب السادات ذوى المقامات. وهذا مقام ذوى العرفان من أهل الشهود والإحسان كلما علا مقام احدهم وارتفع خفض نفسه واتضع ثم الله سبحانه يرفعه ويؤيده ويشتت شمل عدوه ويبدده
যা অনিষ্টকারী ও অপবিত্র আত্মা থেকে নির্গত হয়, তা হলো জাদু (سحر)। এটি বাহ্যিক (ظاهر) দিক থেকে একটি পার্থক্য। অতঃপর অভ্যন্তরীণ (باطن) এবং প্রকৃত হাকিকতের (نفس الأمر) দিক থেকেও পার্থক্য রয়েছে। আর তা হলো, জাদু (سحر) যেমন সিমিয়া (سيميا) ও হিমিয়া (هيميا), যা পার্থিব বা মহাজাগতিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাবে হয়ে থাকে। আবার তিলিসমাত (طلسمات) এর মতো, যা তাদের ধারণা অনুযায়ী গ্রহ-নক্ষত্রের সাথে সম্পর্কিত বিশেষ নকশা অঙ্কনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। তদ্রূপ আজাইম (عزائم) ও ইস্তিখদামাত (استخدامات) এর মতো, যা বিশেষ কিছু নাম পাঠের মাধ্যমে করা হয় যা জিনের রাজারা সম্মান করে, সাথে থাকে বিশেষ সুগন্ধি ও নির্দিষ্ট কিছু অবস্থা যার অধিকাংশই কুফরি (مكفرة)। এগুলি সবই সাধারণ কার্যকারণ বা জাগতিক মাধ্যম (أسباب عادية), যার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা সাধারণত ফলাফল প্রকাশ করে থাকেন; কিন্তু এগুলো অতি সূক্ষ্ম যা সামান্য কিছু মানুষ ছাড়া কারো কাছে প্রকাশ পায় না। তাই প্রকৃতপক্ষে এতে অলৌকিক (خارق للعادة) কিছু নেই, কেবল বাহ্যিক (ظاهر) দৃষ্টিতে তা মনে হয়। কিন্তু প্রকৃত হাকিকতে (نفس الأمر) তা নয়, কারণ এগুলো কিছু গোপন কারণের সাথে সম্পৃক্ত। যেমন এমন কিছু ঘাস যা থেকে জ্বালানি তেল তৈরি হয় যা দুর্গ পুড়িয়ে দেয়, অথবা এমন তেল যা শরীরে মাখলে লোহা কাটতে পারে না বা আগুন কোনো প্রভাব ফেলে না এবং এই জাতীয় বিষয়সমূহ। পক্ষান্তরে অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) ও অলৌকিক অনুগ্রহ (كرامة) এর বিষয়টি এর বিপরীত। কারণ ঘাস বা তেল বা অন্য কিছুর মধ্যে এমন কোনো ক্ষমতা নেই যা দ্বারা মানুষ অল্প সময়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে পারে, অথবা পানির ওপর দিয়ে হাঁটতে পারে, কিংবা মৃতকে জীবিত করা ও সমুদ্র দ্বিখণ্ডিত করার মতো কাজ করতে পারে। এই অলৌকিক নিদর্শন (معجزة) বা অলৌকিক অনুগ্রহ (كرامة) কেবল আল্লাহ তাআলার সরাসরি সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, কোনো পূর্বপ্রস্তুতকৃত মাধ্যম বা কারণ ছাড়াই। আমরা এই পরিচ্ছেদের শুরুতে 'শারহুল মাকাসিদ' থেকে জাদু (سحر) ও অন্যান্য বিষয়ের পার্থক্যের আরও কিছু দিক উল্লেখ করেছি। তেমনিভাবে সুফি (صوفى) ও ব্রাহ্মণের (برهمي) কাহিনীটিও উল্লেখ করা হয়েছে। আর এই অলৌকিক বিষয়টি যখন সাধারণ মুমিনদের হাতে প্রকাশ পায়, তখন তাকে ঐশ্বরিক সাহায্য (معونة) বলা হয়, যেমনটি প্রথম পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে। (যখন আপনি এটি জানতে পারলেন) তখন আপনার কাছে স্পষ্ট হলো যে, এই হিংসুক ব্যক্তি আমাদের মহান নেতা মাওলানা খালিদের প্রতি যা কিছু নেসবত করেছে, তা মূলত তার জন্য এক মহান অলৌকিক অনুগ্রহ (كرامة) এবং এক বিরাট উপহার, যা এই হিংসুক তার নিজ জিহ্বা দিয়ে এমন ব্যক্তির কাছে প্রচার করেছে যে তা জানত না। সে যদি বুদ্ধিমান হতো তবে তা গোপন রাখত ও ঢেকে রাখত। আল্লাহ সেই ব্যক্তির মঙ্গল করুন যিনি বলেছেন:

যখন আল্লাহ কোনো সুপ্ত গুণের বিকাশ ঘটাতে চান … তখন তিনি হিংসুকের জিহ্বাকে সে কাজের জন্য নিযুক্ত করে দেন।

কোনো বুদ্ধিমান ব্যক্তি এতে সন্দেহ করবে না এবং কোনো একগুঁয়ে মূর্খ ব্যতীত কেউ তা অস্বীকার করবে না যে, আমাদের মহান নেতা মাওলানা খালিদের মাধ্যমে আল্লাহ হিংসুকের নাক ধূলায় ধূসরিত করেছেন। কারণ তিনি শরিয়ত (شريعة) অনুসরণে সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক মাকাম (مقامات) অর্জন করেছেন এবং তার উচ্চ শিখরে আরোহণ করেছেন। তার নূরানি চেহারা, সঠিক আকিদা (عقيدة), আল্লাহর বান্দাদের সঠিক পথ প্রদর্শনে তার নিরলস প্রচেষ্টা, দেশের আপামর জনসাধারণের অন্তরে তার প্রতি সুগভীর ভালোবাসা, তার খলিফা ও মুরিদদের উন্নত অবস্থা এবং তার শত্রু ও হিংসুকদের লাঞ্ছনা—এসবই আধ্যাত্মিক স্তরের অধিকারীদের নিকট এই মর্মে সবচেয়ে বড় প্রমাণ যে, তিনি অলৌকিক অনুগ্রহ (كرامات) সম্পন্ন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তিনি বিনয়বশত তা দাবি করেন না এবং নিজেকে এর উপযুক্ত মনে করেন না। আমি তাকে একবার বলতে শুনেছি, "আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই এমন ব্যক্তি হওয়া থেকে যে অলৌকিক অনুগ্রহ (كرامات) এর দাবি করে; বরং আমি তো সেই সব আধ্যাত্মিক মাকাম (مقامات) সম্পন্ন মহান ব্যক্তিদের দরবারের কুকুরদের একজন মাত্র।" আর এটিই হলো প্রত্যক্ষ দর্শন ও ইহসান (إحسان) স্তরে থাকা আধ্যাত্মিক জ্ঞানীদের মাকাম (مقام); তাদের মাকাম (مقام) যত বেশি উন্নত ও উচ্চতর হয়, তারা নিজেদের তত বেশি বিনম্র ও তুচ্ছ মনে করেন। অতঃপর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাদের আরও উচ্চ মর্যাদা দান করেন, তাদের সাহায্য করেন এবং তাদের শত্রুদের ঐক্য ছিন্নভিন্ন ও ধূলিসাৎ করে দেন।
(খণ্ড: ২) সাল্লুল হুসামিল হিন্দী লিনুসরাতি মাওলানা খালিদ আন-নাকশাবন্দী - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৩১১)
(الفصل الرابع) في دعوى علم الغيب ذكر الحنفية في عدة من كتبهم ان من ادعى لنفسه علم الغيب كفر وفي الفتاوى الخانية سمع صوت هامة فقال يموت واحد قبل يكفر وقيل لا يكفر لان هذا انما يقال على وجه التفاؤل وكذا لو خرج إلى السفر فصاح العقعق فرجع فهو على هذا الخلاف أيضا انتهى (و) صرح صاحب الهداية في مختارات النوازل في مسئلة الهامة بان الصحيح انه لا يكفر (و) في البزازية من قال اعلم الاشياء المسروقة يكفر وكذا لو قال اخبر باخبار الجن يكفر أيضا لان الجن كالانس لا يعلمون الغيب ومن صدقه كفر لقوله صلى الله تعالى عليه وسلم من أتى كاهنا فصدقه فيما قاله فقد كفر بما انزل على محمد (و) ذكر في جامع الفصولين مسئلة بالفارسية حاصلها فيما لو تزوجها بلا شهود وقال ان الله ورسوله أو الملك يشهدان انه يكفر لانه اعتقد ان الرسول أو الملك يعلم الغيب ثم استشكل ذلك بما اخبر به صلى الله تعالى عليه وسلم من المغيبات وكذا ما اخبر به عمر وغيره من السلف ثم اجاب بأنه يمكن التوفيق بان المنفى هو العلم بالاستقلال لا العلم بالاعلام أو المنفى هو المجزوم لا المظنون ويؤيده قوله تعالى (أتجعل فيها من يفسد فيها) الآية لانه غيب أخبر به الملائكة ظنا منهم أو باعلام فينبغي ان يكفر لو ادعاء مستقلا لا لو اخبر به باعلام في نومه أو يقظته في نوع من الكشف اذلا منافاة بينه وبين الآية لما مر من التوفيق والله تعالى اعلم انتهى (و) قال في الاعلام قال الرافعي عنهم أي ناقلا عن الأئمة الحنفية ولو قرأ القرآن على ضرب الدف أو القضيب أو قيل له اتعلم الغيب فقال نعم فهو كفر واختلفوا فيمن خرج لسفر فصاح العقيق فرجع هل يكفر انتهى كلام الرافعى زاد في الروضة قلت الصواب أنه لا يكفر في المسائل الثلاثة واعترض تصويبه في الثانية لتضمن قوله نعم تكذيب النص وهو قوله تعالى (وعنده مفاتح الغيب لا يعلمها إلا هو) وقوله عز وجل (عالم الغيب) فلا يظهر على غيبه احدا الا من ارتضى من رسول ولم يستثن الله تعالى غير الرسول ويجاب بان قوله ذلك لا ينافي النص ولا يتضمن تكذيبه لصدقه بكونه يعلم الغيب في قضية وهذا ليس خاصا بالرسل بل يمكن وجوده لغيرهم من الصديقين فالخواص يجوز ان يعلموا الغيب في قضية أو قضايا كما وقع لكثير منهم واشتهر والذي اختص تعالى به انما هو علم الجميع وعلم مفاتح الغيب المشار إليها بقوله تعالى (ان الله عنده علم الساعة وينزل الغيث) الآية وينتج من هذا التقرير ان من ادعى علم الغيب في قضية أو قضايا لا يكفر وهو محل ما في الروضة ومن ادعى علمه في سائر القضايا كفر وهو محل ما في اصلها إلا ان عبارته

(চতুর্থ পরিচ্ছেদ) গায়েব বা অদৃশ্যের জ্ঞান দাবি করার বর্ণনায়। হানাফি ফকিহগণ তাঁদের বেশ কিছু গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, যে ব্যক্তি নিজের জন্য অদৃশ্যের জ্ঞান দাবি করে, সে কুফরি করল। ফাতাওয়া আল-খানিয়াহ-তে বর্ণিত হয়েছে, যদি কেউ প্যাঁচার ডাক শুনে বলে যে, 'কেউ একজন মারা যাবে', তবে সে কুফরি করল। আবার বলা হয়েছে যে, সে কুফরি করল না; কারণ এটি কেবল সুলক্ষণ গ্রহণের উদ্দেশ্যে বলা হয়ে থাকে। অনুরূপভাবে, যদি কেউ সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় হাঁড়িচাচা পাখির ডাক শুনে ফিরে আসে, তবে এটিও উক্ত মতভেদের অন্তর্ভুক্ত। (সমাপ্ত)

(এবং) হিদায়াহ গ্রন্থের রচয়িতা তাঁর মুখতারাতুল নাওয়াজিল গ্রন্থে প্যাঁচার মাসআলায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সঠিক (الصحيح) মত হলো সে কুফরি করবে না।

(এবং) আল-বাজ্জাজিয়্যাহ-তে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি বলে 'আমি চুরি হওয়া বস্তু সম্পর্কে জানি', সে কুফরি করল। একইভাবে যদি কেউ বলে 'আমি জিনের খবরাখবর দিয়ে থাকি', তবে সেও কুফরি করল; কারণ জিনেরা মানুষের মতোই গায়েব বা অদৃশ্য বিষয় জানে না। আর যে ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করল, সেও কুফরি করল; কারণ রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো গণকের কাছে এলো এবং সে যা বলল তা বিশ্বাস করল, সে মুহাম্মদের ওপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করল।"

(এবং) জামিউল ফুসুলাইন-এ ফারসি ভাষায় একটি মাসআলা উল্লেখ করা হয়েছে, যার সারমর্ম হলো— যদি কেউ সাক্ষী ছাড়াই কাউকে বিবাহ করে এবং বলে যে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর রাসুল অথবা ফেরেশতা সাক্ষী থাকছেন', তবে সে কুফরি করল। কারণ সে বিশ্বাস করল যে রাসুল অথবা ফেরেশতা গায়েব জানেন। অতঃপর এই বিষয়ে সংশয় উত্থাপন করা হয়েছে যে, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তো অনেক অদৃশ্যের সংবাদ প্রদান করেছেন, এবং ওমর (রা.) ও অন্যান্য পূর্বসূরিগণও অনুরূপ সংবাদ দিয়েছেন। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এগুলোর মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, যে জ্ঞানকে অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো 'স্বতন্ত্র বা সয়ংসম্পূর্ণ জ্ঞান', 'অবহিতকরণের মাধ্যমে প্রাপ্ত জ্ঞান' নয়। অথবা যে জ্ঞানকে অস্বীকার করা হয়েছে তা হলো 'সুনিশ্চিত জ্ঞান', কেবল 'ধারণাপ্রসূত জ্ঞান' নয়। একে মহান আল্লাহর বাণী সমর্থন করে: "আপনি কি সেখানে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে দাঙ্গা-হাঙ্গামা ঘটাবে?" (আয়াত)। কেননা এটি একটি অদৃশ্যের বিষয় ছিল যা ফেরেশতারা তাঁদের ধারণা থেকে অথবা আল্লাহর পক্ষ থেকে অবহিত হয়ে বলেছিলেন। সুতরাং উচিত হলো, যদি কেউ স্বতন্ত্রভাবে অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করে তবে সে কুফরি করবে। কিন্তু যদি সে ঘুমের ঘোরে বা জাগ্রত অবস্থায় কোনো প্রকার উন্মোচনের (কাশফ) মাধ্যমে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে খবর দেয়, তবে সে কুফরি করবে না। কারণ পূর্বে বর্ণিত সমন্বয় অনুযায়ী আয়াতের সাথে এর কোনো বৈপরীত্য নেই। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। (সমাপ্ত)

(এবং) আল-ই'লাম গ্রন্থে বলা হয়েছে, ইমাম রাফেয়ি হানাফি ইমামগণের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, যদি কেউ দফ বা কাঠির বাদ্যের তালে কোরআন পাঠ করে, অথবা যদি তাকে জিজ্ঞেস করা হয় 'আপনি কি অদৃশ্যের জ্ঞান রাখেন?' আর সে বলে 'হ্যাঁ', তবে তা কুফরি। আর সফরের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় হাঁড়িচাচা পাখির ডাক শুনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে সে কাফির হবে কি না, সে বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন। ইমাম রাফেয়ির বক্তব্য এখানেই শেষ। রওজা গ্রন্থে অতিরিক্ত বলা হয়েছে: আমি বলি, সঠিক মত হলো এই তিনটি মাসআলাতেই সে কুফরি করবে না। তবে দ্বিতীয় মাসআলায় তাঁর এই সঠিক বলার ওপর আপত্তি তোলা হয়েছে; কারণ তার 'হ্যাঁ' বলাটি অকাট্য দলিল (نص)-কে অস্বীকার করার শামিল। আর তা হলো মহান আল্লাহর বাণী: "অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই কাছে, তিনি ব্যতীত আর কেউ তা জানে না।" এবং মহান আল্লাহর বাণী: "তিনি অদৃশ্যের পরিজ্ঞাতা, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারও কাছে প্রকাশ করেন না, তাঁর মনোনীত রাসুল ব্যতীত।" এখানে আল্লাহ তাআলা রাসুল ব্যতীত আর কাউকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেননি। এর উত্তরে বলা হয় যে, তার ঐ কথাটি অকাট্য দলিল (نص)-এর পরিপন্থী নয় এবং তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে না; কারণ কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে গায়েব জানা সম্ভব। এটি কেবল রাসুলদের জন্য সুনির্দিষ্ট নয়, বরং সিদ্দিকিন বা সত্যনিষ্ঠদের ক্ষেত্রেও এটি ঘটা সম্ভব। সুতরাং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ কোনো একটি বা একাধিক বিষয়ে গায়েব জানতে পারেন, যা অনেকের ক্ষেত্রেই ঘটেছে এবং তা প্রসিদ্ধ। আর আল্লাহ তাআলা যে জ্ঞানটি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, তা হলো সকল বিষয়ের জ্ঞান এবং অদৃশ্যের চাবিকাঠিগুলোর জ্ঞান, যার দিকে মহান আল্লাহর এই বাণী নির্দেশ করছে: "নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছেই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে এবং তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন..." (আয়াত)। এই আলোচনার ফলাফল এই দাঁড়ায় যে, যে ব্যক্তি কোনো একটি বা কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অদৃশ্যের জ্ঞান দাবি করে, সে কুফরি করবে না—এটিই রওজা গ্রন্থের বক্তব্যের প্রেক্ষিত। আর যে ব্যক্তি সকল বিষয়ে অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবি করে, সে কুফরি করবে—এটিই মূল গ্রন্থের বক্তব্যের প্রেক্ষিত। তবে এর ভাষ্য...