(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
السيرة النبوية بين الآثار المروية والآيات القرآنية القسم: السيرة النبوية
الكتاب: السيرة النبوية بين الآثار المروية والآيات القرآنية
(دراسة نصية مقارنة)
المؤلف: محمد بن مصطفى بن عبد السلام الدبيسي
رسالة: دكتوراة، كلية الآداب - جامعة عين شمس، القاهرة
إشراف: الأستاذ الدكتور عفت الشرقاوي
عام: 1431 هـ - 2010 م
عدد الصفحات: 624
تاريخ النشر بالشاملة: 5 جُمادَى الآخرة 1436
বর্ণিত বর্ণনা ও কুরআনের আয়াতের আলোকে সীরাতুন্নবী বিভাগ: সীরাতুন্নবী
বই: বর্ণিত বর্ণনা ও কুরআনের আয়াতের আলোকে সীরাতুন্নবী
(একটি তুলনামূলক পাঠ্যভিত্তিক অধ্যয়ন)
লেখক: মুহাম্মদ বিন মুস্তফা বিন আব্দুস সালাম আদ-দুবাইসি
থিসিস: পিএইচডি, কলা অনুষদ - আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়, কায়রো
তত্ত্বাবধান: প্রফেসর ডক্টর ইফফাত আশ-শারকাওয়ী
সাল: ১৪৩১ হিজরী - ২০১০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬২৪
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৫ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৩৬
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
جامعة عين شمس
كلية الآداب - قسم اللغة العربية وآدابها
السيرة النبوية بين الآثار المروية والآيات القرآنية
«دراسة نصية مقارنة للحصول على درجة الدكتوراه»
مقدمة من الطالب
محمد مصطفى عبد السلام
تحت إشراف
الأستاذ الدكتور عفت الشرقاوي
আইন শামস বিশ্ববিদ্যালয়
কলা অনুষদ - আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ
বর্ণিত আছার এবং কুরআনের আয়াতের আলোকে সীরাতুন্নবী
«পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য একটি তুলনামূলক পাঠভিত্তিক গবেষণা»
শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে পেশকৃত
মুহাম্মদ মোস্তফা আবদুস সালাম
তত্ত্বাবধানে
প্রফেসর ডক্টর ইফফাত আল-শারকাউয়ি
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالحمد لله والصلاة والسلام على سيدنا محمد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وبعد ..
ليس الغرض من دراسة السيرة النبوية مجرد الوقوف على الوقائع التاريخية، أو سرد طرف من القصص والأحداث، شأنها شأن الاطلاع على سيرة أحد الخلفاء في الأزمنة الغابرة. إن الغرض من السيرة أن يتصور المسلم الحقيقة الإسلامية متجسدة مجموعة في حياته صلى الله عليه وسلم.
فليست سيرته إلا تطبيق الوحى المنزل من السماء لهداية البشر في شؤنهم كافة وبالتالى يتضح لنا:
1 - أن اختيار الرسول صلى الله عليه وسلم لهذه المهمة العظمى، إنما هو اختيار للمثل الأعلى لكل شأن من شؤن الحياة الفاضلة التى أرادها الله تعالى لسعادة البشر، ومما لا شك فيه حينئذ أن الانسان إذا أراد البحث عن مثل أعلى في كل ناحية يطلبها من نواحى حياته، الروحية والمادية، النفسية والبدنية فإنه سيجد ذلك بشكل تام الوضوح متناسب الاركان وفي أعلى الكمالات في النبي صلى الله عليه وسلم، وفي ذلك يمن الله تعالى على الناس فيقول: {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} [الأحزاب: 21].
2 - إن تأمل ما سبق يدل دلالة واضحة على صدق نبوته، وصحة رسالته صلى الله عليه وسلم إذ دراسة سيرته تبين بجلاء أن ذلك المثل الأعلى فعلاً وقولاً ظاهراً وباطناً هو الرسول محمد صلى الله عليه وسلم،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
ভূমিকাসকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর, অতঃপর...
সীরাতে নববী অধ্যয়নের উদ্দেশ্য কেবল ঐতিহাসিক ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত হওয়া কিংবা কিছু কাহিনী ও ঘটনার বর্ণনা জানা নয়, যেমনটি অতীত কালের কোনো খলিফার জীবনী পাঠের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। বরং সীরাতের উদ্দেশ্য হলো একজন মুসলিম যেন ইসলামের বাস্তবতাকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনের মাঝে মূর্ত ও সামগ্রিকভাবে প্রত্যক্ষ করতে পারে।
তাঁর সীরাত মূলত মানুষের যাবতীয় কর্মকাণ্ডে হিদায়াতের জন্য আসমান থেকে অবতীর্ণ ওহীর বাস্তব প্রয়োগ ছাড়া আর কিছু নয়। এর ফলে আমাদের নিকট স্পষ্ট হয় যে:
১ - এই সুমহান দায়িত্বের জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মনোনীত করা মূলত সেই শ্রেষ্ঠ আদর্শের মনোনয়ন, যা মহান আল্লাহ মানুষের সৌভাগ্যের জন্য পুণ্যময় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে পছন্দ করেছেন। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, মানুষ যখন তার জীবনের প্রতিটি দিক—আধ্যাত্মিক ও জাগতিক, মানসিক ও শারীরিক—ক্ষেত্রে কোনো শ্রেষ্ঠ আদর্শের সন্ধান করবে, তখন সে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাঝে পূর্ণ স্পষ্টতায়, সুসংহতভাবে এবং চরম পূর্ণতায় খুঁজে পাবে। এ বিষয়ে আল্লাহ তাআলা মানুষের ওপর অনুগ্রহ প্রকাশ করে বলেন: "তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।" [আল-আহযাব: ২১]।
২ - পূর্বোক্ত আলোচনা গভীরভাবে চিন্তা করলে তাঁর নবুওয়াতের সত্যতা এবং তাঁর রিসালাতের বিশুদ্ধতার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। কারণ তাঁর সীরাত অধ্যয়ন করলে স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে যে, কথায় ও কাজে, প্রকাশ্যে ও গোপনে সেই শ্রেষ্ঠ আদর্শ হলেন রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২)
وأن وفاء سيرته بهذا المثل الأعلى بكل هذه التفصيلات، الدقيقة لحياته لم تكن لأحد من قبل ممن أوتوا النبوة، فضلاً عن أدعيائها من قبل ومن بعد.
3 - إن فهم شيء عن شخصية النبي صلى الله عليه وسلم بهذه النظرة لابد أن يكون من منظور النبوة لا من أي منظور آخر، إذ لن يفسر كثيراً، بل كل أحواله صلى الله عليه وسلم إلا كونه موصولاً بالسماء مؤيداً بالوحى.
4 - دراسة سيره النبي صلى الله عليه وسلم الزاد الذى به يفهم القرآن الكريم وتتجلى معانيه تجلية حقيقية كصورة صادقة لمقصود الشارع، فيكون لدى المعلم والداعية الإسلامي نموذج حى عن طرائق التربية والتعليم والنصح ولإرشاد كل ذلك هداية للافراد والجماعات ليكونوا أعضاء فعالين ناجحين في المجتمع الصالح، فسيرته صلى الله عليه وسلم تقدم لنا نموذج الشاب المستقيم في سلوكه، والنموذج الرائع للداعية إلى الله بالحكمة والموعظة الحسنة الباذل منتهى الطاقة في سبيل ابلاغ سالتة، ولرئيس الدولة الذى يسوى الأمور بعدل ورحمة وحذق الدقيق بين الحقوق والواجبات في أسرته، وللقائد الحربى والسياسى المحنك الصادق والمتعبد المتبتل في دقة وعدل، والمعاشر لأهله وصحبه بحسن العشرة والمصاحبه. (1)
أهمية البحث:
علاوة على ما تقدم من أهمية السيرة النبوية، جاءت هذه الرسالة لتضيف أهمية سيرته في القرآن الكريم، لأنه كان خلقه صلى الله عليه وسلم القرآن (2)، فكان بحث السيرة في القرآن مما يضيف جديداً للبحث العلمى في هذا الباب من ناحيتين:
--------------------------------------------
এবং তাঁর জীবনচরিতের এই উচ্চতর আদর্শের পূর্ণতা, যা তাঁর জীবনের সকল সূক্ষ্ম খুঁটিনাটিসহ বর্ণিত হয়েছে, তা ইতিপূর্বে নবুওয়াতপ্রাপ্ত কাউকেও প্রদান করা হয়নি, নবুওয়াতের পূর্বের বা পরের মিথ্যা দাবিদারদের কথা তো বলাই বাহুল্য।
৩ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে কোনো কিছু বুঝতে হলে অবশ্যই তা নবুওয়াতের দৃষ্টিকোণ থেকে হতে হবে, অন্য কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। কারণ তাঁর অধিকাংশ অবস্থা, বরং তাঁর সকল অবস্থাই আসমানের সাথে তাঁর সংযোগ এবং ওহীর মাধ্যমে প্রাপ্ত সাহায্যের বিষয়টি ছাড়া অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়।
৪ - নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত বা জীবনচরিত অধ্যয়ন হলো সেই পাথেয় যার মাধ্যমে পবিত্র কুরআন বোঝা যায় এবং শরীয়ত প্রণেতার উদ্দেশ্যের সত্য প্রতিচ্ছবি হিসেবে কুরআনের মর্মার্থসমূহ প্রকৃতরূপে উদ্ভাসিত হয়। এর ফলে শিক্ষক ও ইসলামী দাঈর নিকট তরবিয়ত, শিক্ষা, নসিহত এবং দিকনির্দেশনার পদ্ধতিসমূহের একটি জীবন্ত নমুনা উপস্থিত হয়, যা ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর জন্য হিদায়াত স্বরূপ, যাতে তারা একটি নেককার সমাজে কার্যকর ও সফল সদস্য হতে পারে। তাঁর সীরাত আমাদের সামনে পেশ করে এমন এক যুবকের আদর্শ যিনি নিজ আচরণে অটল ও সরল; হিকমত ও উত্তম উপদেশের মাধ্যমে আল্লাহর পথে আহ্বানকারী দাঈর চমৎকার নমুনা যিনি তাঁর রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার পথে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করেছেন; রাষ্ট্রপ্রধানের নমুনা যিনি ইনসাফ ও রহমতের সাথে বিষয়াবলি নিষ্পত্তি করেন এবং তাঁর পরিবারে অধিকার ও কর্তব্যের মাঝে অত্যন্ত নিপুণ ভারসাম্য রক্ষা করেন; বিচক্ষণ ও সত্যবাদী সমরনায়ক ও রাজনীতিকের নমুনা; নির্ভুলতা ও ইনসাফের সাথে একান্ত ইবাদতগুজারের নমুনা; এবং তাঁর পরিবার ও সঙ্গীদের সাথে উত্তম ব্যবহার ও সাহচর্যের নমুনা। (১)
গবেষণার গুরুত্ব:
সীরাতে নববীর উল্লিখিত গুরুত্বের অতিরিক্ত হিসেবে এই গবেষণাপত্রটি পবিত্র কুরআনে তাঁর সীরাতের গুরুত্বকে সংযুক্ত করার জন্য এসেছে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ছিল স্বয়ং কুরআন (২)। সুতরাং কুরআনের আলোকে সীরাতের এই গবেষণা নিম্নোক্ত দুটি দিক থেকে এই বিষয়ের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় নতুনত্ব যোগ করবে:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
الأولى: المقارنة بين ما نزل من القرآن ووقع في السيرة النبوية وهو طراز جديد من الكتابة يبين مراد القرآن الكريم من القصص والعبر المأخوذة منه والحكم والفهم عن الله والتحذير وغيره مما جاء به القرآن الكريم ليفيد المسلمين مطلوب الهداية من سيرته صلى الله عليه وسلم، وليميز للمؤمنين المتقين مراد الله وحكمته وموعظته وشرعه إلى آخر ما أشرنا إلى شيء منه مع المقارنة بقصص الانبياء السابقين وشيء من سيرتهم ليحذر المشركين من سوء عاقبة ما هم فيه، ويبشر المؤمنين بنصر الله إلى كثير مما دق أو جل مما جاء في القرآن الكريم.
الثانية: المقارنة بين ما جاء في القرآن عن الرسول صلى الله عليه وسلم وعن الأنبياء عليهم السلام مما يوضح أم مشكاة النبوة واحدة، ويبرهن على ما ادخر الله من فضل لهذه الأمة، وعلى أن النبي صلى الله عليه وسلم سيد ولد آدم ولا فخر.
وإن ما نزل بالمسلمين اليوم - وعلى رأسه - مهاجمة النبي صلى الله عليه وسلم طعناً في دينه ورسالته استمرار الغزو الفكرى لبلاد الإسلام، ليعطى أهمية أخرى للرد على المستشرقين الذين أسسوا فكرهم على هذا السوء وذلك البهتان، وكان اختيار الأستاذ الدكتور المشرف لمونتجمرى وات للرد عليه من أصوب الاختيارات وأدقها، لأن وات يتقمص المذهب المؤدب المتسربل بالعلمية والحياد والنزاهة، وهو أخطرهم جميعاً فهو محصلة السابقين، وأسوة المتأخرين لذلك كان الرد عليه وإظهار حقيقته، في الحقيقة رد على الأولين منهم والآخرين فكان مما شمله هذا البحث هو الرد على وات وإظهار وجه السيرة الناصع مما أثاره عليه وات من غبار ومن ورائه طابور المستشرقين جمعياً.
وكانت محبة النبي صلى الله عليه وسلم وشرف الانتماء إلى دينه القويم من وراء ذلك كله هي الأهمية الحادية على وضع هذه اللبنة فخاراً بالدفاع عنه، وإن كان دفاع أمثالنا وعدمه سواء فمن نحن لندفع عمن كان بفضله سبحانه سبب الدفع عنا، وسبب سعادتنا في الدنيا والأخرة.
প্রথমটি: কুরআনে যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং সীরাতে নববীতে যা সংঘটিত হয়েছে তার মধ্যে তুলনা করা। এটি রচনার একটি নতুন ধারা যা পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কাহিনী ও শিক্ষা থেকে কুরআনের উদ্দেশ্য এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত প্রজ্ঞা, উপলব্ধি, সতর্কবাণী ও পবিত্র কুরআনে বর্ণিত অন্যান্য বিষয়সমূহ ফুটিয়ে তোলে। এর লক্ষ্য হলো মুসলিমরা যেন তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সীরাত থেকে কাম্য হিদায়াত লাভে উপকৃত হতে পারে এবং মুমিন ও মুত্তাকীদের জন্য আল্লাহর উদ্দেশ্য, তাঁর হিকমত, নসীহত ও শরীয়তসহ আমরা ইতিপূর্বে যা কিছুর প্রতি ইশারা করেছি তা যেন সুস্পষ্ট হয়। পাশাপাশি পূর্ববর্তী নবীদের কাহিনী ও তাঁদের জীবন-চরিতের সাথে তুলনা করার মাধ্যমে যেন মুশরিকদের তাদের শোচনীয় পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা যায় এবং মুমিনদের আল্লাহর সাহায্যের সুসংবাদ দেওয়া যায়, যা কুরআনে বর্ণিত সূক্ষ্ম বা মহিমান্বিত বহু বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত।
দ্বিতীয়টি: রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং অন্যান্য আম্বিয়ায়ে কিরাম (আলাইহিমুস সালাম) সম্পর্কে কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তার মধ্যে তুলনা করা, যা স্পষ্ট করে দেয় যে নবুওয়াতের উৎস মূলত একটাই। এটি আরও প্রমাণ করে যে আল্লাহ এই উম্মতের জন্য কী পরিমাণ ফضل বা অনুগ্রহ সঞ্চিত রেখেছেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যে আদম-সন্তানদের নেতা—আর এতে কোনো অহঙ্কার নেই।
বর্তমানে মুসলিমদের ওপর যা আপতিত হচ্ছে—বিশেষ করে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর আক্রমণ এবং তাঁর দ্বীন ও রিসালাতকে বিদ্ধ করার মাধ্যমে—তা মূলত মুসলিম দেশগুলোর ওপর চলমান বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসনেরই ধারাবাহিকতা। এটি ওইসব প্রাচ্যবিদদের (ওরিয়েন্টালিস্ট) খণ্ডন করার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয় যারা তাদের চিন্তা-চেতনাকে এই বিদ্বেষ ও অপবাদের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছে। আর মন্টগোমারি ওয়াট-এর মতবাদ খণ্ডনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ডক্টরের নির্বাচনটি ছিল অত্যন্ত সঠিক ও সূক্ষ্ম। কারণ, ওয়াট মূলত পাণ্ডিত্য, নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার আবরণে মোড়ানো এক ‘ভদ্র’ মতবাদের ছদ্মবেশ ধারণ করেন, অথচ তিনি তাদের মধ্যে সবচাইতে বিপজ্জনক। তিনি হলেন পূর্বসূরীদের নির্যাস এবং উত্তরসূরীদের আদর্শ। তাই তাঁর জবাব দেওয়া এবং তাঁর প্রকৃত রূপ উন্মোচন করা মূলত প্রাচ্যবিদদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলেরই জবাব দেওয়ার নামান্তর। সুতরাং এই গবেষণার অন্যতম অন্তর্ভুক্ত বিষয় ছিল ওয়াট-এর জবাব দেওয়া এবং তাঁর ও তাঁর অনুসারী সকল প্রাচ্যবিদদের দ্বারা তৈরিকৃত ধোঁয়াশা দূর করে সীরাতের উজ্জ্বল দিকটি উন্মোচন করা।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি ভালোবাসা এবং তাঁর সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীনের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার মর্যাদা ছিল এই কাজটির মূল চালিকাশক্তি, যা তাঁর প্রতিরক্ষায় আত্মনিয়োগের একটি গৌরবময় প্রয়াস। যদিও আমাদের মতো ব্যক্তিদের প্রতিরক্ষা বা নীরবতা উভয়ই সমান; কারণ আমরা কে যে তাঁর প্রতিরক্ষা করব, যাঁর উসিলায় মহান আল্লাহ আমাদের ওপর থেকে বিপদ দূর করেছেন এবং যিনি দুনিয়া ও আখিরাতে আমাদের সৌভাগ্যের কারণ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৪)
منهجى في البحث:
أحاطت بالبحث مناهج عدة:
أولها: منهج كتابة السيرة. وقد اعتمدت منهج المحدثين إذ هو أدقها في تصحيح الوقائع وتضعيفها بما لم يصل إليه منهج آخر، وما ورد من وقائع وأحداث تاريخية في غير العقيدة والتشريع أخذت بها على طريقة المؤرخين غير متشدد فيها.
الثاني: منهج التفسير. وكان أهمها وهو المنهج الذى وضعت لبنتة الأولى في رسالة الماجستير، وهو منهج التفسير الموضوعى فهو المحيط المتتبع للموضوع في القرآن الكريم كما بينت ذلك نظرياً وتطبيقياً مما يلم بالموضوع ويظهر جماليات النصوص وعلو بلاغتها المؤدى في كثير إلى بيان حد الإعجاز علاوة على المقارنة والدراسة النصية والتحليلية.
وكذلك التفسير بالمأثور لإثبات هذه القائع والسير، مع التفسير بالرأى الصحيح عامة.
الثالث: المنهج المقارن. وقد خصصت منه ما يتعلق بالموضوع الواحد بمقارنة النصوص الواردة فيه.
الرابع: المنهج النقدى المنبنى على دراسة النص في ذاته ثم مقارنته ببقية النصوص، وقد استخدمت ذلك مع وات وغيره لتصحيح الصحيح وإظهاره وتزيين الباطل ودحضه.
لقد كان لتعدد منهج البحث بهذه الطريقة صعوبة الإحاطة بجزء ولو يسير في كتابة السيرة، ولكن لما ذكرنا من أهمية البحث، كانت محاولة الباحث القيام بهذا الجزء لإيضاح السيرة بهذه الطريقة، لعلها تكون لبنة متواضعة يرجى البناء عليها لتكون السيرة هي الموسوعة الشاملة لكل ما يتعلق بأحوال النبي صلى الله عليه وسلم وأخلاقه ومعاملاته وصفاته وهدايته لأمته.
আমার গবেষণা পদ্ধতি:
গবেষণায় বেশ কিছু পদ্ধতি অনুসৃত হয়েছে:
প্রথমটি: সীরাত রচনার পদ্ধতি। আমি এক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণের পদ্ধতি অনুসরণ করেছি; কারণ এটি ঘটনাবলির সঠিকতা যাচাই এবং দুর্বলতা নির্ণয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভুল পদ্ধতি, যা অন্য কোনো পদ্ধতিতে অর্জন করা সম্ভব হয়নি। আকিদাহ ও শরয়ি বিধানের বহির্ভূত যেসব ঐতিহাসিক তথ্য ও ঘটনা বর্ণিত হয়েছে, সেগুলো ঐতিহাসিকদের পদ্ধতি অনুযায়ী গ্রহণ করেছি এবং এক্ষেত্রে কোনো কঠোরতা অবলম্বন করিনি।
দ্বিতীয়টি: তাফসিরের পদ্ধতি। এটি ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি যার প্রথম ভিত্তি আমি আমার মাস্টার্স থিসিসে স্থাপন করেছিলাম; আর তা হলো বিষয়ভিত্তিক তাফসির পদ্ধতি। এটি পবিত্র কুরআনের কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের সামগ্রিক অনুসন্ধানকারী পদ্ধতি, যা আমি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক উভয় দিক থেকে স্পষ্ট করেছি। এটি বিষয়ের গভীরে প্রবেশ করে এবং মূল পাঠের সৌন্দর্য ও উচ্চমার্গীয় অলঙ্কার প্রকাশ করে যা অনেক ক্ষেত্রে অলৌকিকত্বের (ই’জায) সীমা পর্যন্ত নিয়ে যায়। এর সাথে তুলনামূলক, পাঠভিত্তিক এবং বিশ্লেষণমূলক অধ্যয়নও যুক্ত করা হয়েছে।
একইসাথে এই ঘটনাবলি ও সীরাত প্রমাণের জন্য 'তাফসীর বিল-মা’সুর' (বর্ণনাভিত্তিক তাফসীর) এবং সাধারণভাবে বিশুদ্ধ 'তাফসীর বির-রায়' (সুচিন্তিত অভিমতভিত্তিক তাফসীর) গ্রহণ করা হয়েছে।
তৃতীয়টি: তুলনামূলক পদ্ধতি। আমি সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত পাঠসমূহের তুলনামূলক পর্যালোচনার জন্য এটি নির্দিষ্ট করেছি।
চতুর্থটি: সমালোচনামূলক পদ্ধতি। এটি কোনো পাঠের স্বকীয়তা অধ্যয়ন এবং এরপর অন্যান্য পাঠের সাথে তার তুলনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। সত্যকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ও প্রকাশ করতে এবং সুসজ্জিত মিথ্যাকে উন্মোচিত ও খণ্ডন করতে আমি ওয়াট ও অন্যদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি ব্যবহার করেছি।
গবেষণা পদ্ধতির এই বহুমুখিতার কারণে সীরাত রচনার সামান্য অংশও আয়ত্ত করা বেশ কঠিন ছিল। তবে এই গবেষণার গুরুত্বের কারণে সীরাতকে এই পদ্ধতিতে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য গবেষক এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আশা করা যায় এটি একটি বিনম্র ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে গণ্য হবে যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তীতে কাজ করা সম্ভব হবে, যেন সীরাত নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবস্থা, চরিত্র, লেনদেন, গুণাবলি এবং উম্মতের প্রতি তাঁর হিদায়াত সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়ের একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্বকোষ হয়ে ওঠে।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
إن هذا لأمل نرجو للمخلصين القيام به، وقد وقف البحث في أبوابه عند حدود ولم يستكملها نظرا للطول الشديد مع الاختصار لو استكمل شيئاً من ذلك، وهو مما يؤسف له ويحزن عليه، ولعل الله أن يبارك في الجهد والعمر لتكملة ما يمكن إكماله من هذا البحث.
قسمت البحث إلى مدخل وثلاثة أبواب وخاتمة:
الباب الأول: سيدنا محمد صلى الله عليه وسلم في القرآن الكريم ويشتمل على ثلاثة فصول:
- الفصل الأول: ثناء الله تعالى عليه صلى الله عليه وسلم.
- الفصل الثاني: حقوقه صلى الله عليه وسلم.
- الفصل الثالث: عصمته صلى الله عليه وسلم.
الباب الثاني: الرسول صلى الله عليه وسلم في مكة ويشتمل على ثلاثة فصول:
- الفصل الأول: من المولد إلى البعثة.
- الفصل الثاني: البشارات بالنبي صلى الله عليه وسلم إرهاصاً بنبوته.
- الفصل الثالث: بدء الوحى.
الباب الثالث: العهد المدنى.
- الفصل الأول: أسس بناء المجتمع الإسلامي والدولة الإسلامية في المدينة.
- الفصل الثاني: غزوة بدر الكبرى.
এটি একটি আশা যা আমরা নিষ্ঠাবানদের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হওয়ার প্রত্যাশা করি। এই গবেষণার অধ্যায়গুলো নির্দিষ্ট সীমানায় এসে থেমেছে এবং তা পূর্ণতা পায়নি; কারণ এটি অত্যন্ত দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা ছিল, এমনকি সংক্ষেপ করা সত্ত্বেও যদি এর কিছু অংশ পূর্ণ করা হতো। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং পরিতাপের বিষয়। সম্ভবত আল্লাহ তাআলা এই প্রচেষ্টা ও হায়াতে বরকত দান করবেন যাতে এই গবেষণার যতটুকু সম্ভব পূর্ণ করা যায়।
আমি এই গবেষণাকে একটি ভূমিকা, তিনটি মূল পরিচ্ছেদ এবং একটি উপসংহারে বিভক্ত করেছি:
প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র কুরআনে আমাদের নেতা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং এটি তিনটি অধ্যায় সম্বলিত:
- প্রথম অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) প্রতি মহান আল্লাহর প্রশংসা।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অধিকারসমূহ।
- তৃতীয় অধ্যায়: তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিষ্পাপতা।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মক্কায় রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং এটি তিনটি অধ্যায় সম্বলিত:
- প্রথম অধ্যায়: জন্ম থেকে নবুওয়াত লাভ পর্যন্ত।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে সুসংবাদসমূহ যা তাঁর নবুওয়াতের পূর্বাভাস।
- তৃতীয় অধ্যায়: ওহী বা প্রত্যাদেশ শুরু।
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মাদানী যুগ।
- প্রথম অধ্যায়: মদিনায় ইসলামি সমাজ ও ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি।
- দ্বিতীয় অধ্যায়: বদরের মহাযুদ্ধ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
وكان من فضل الله علىَّ التوفيق لأن يكون المشرف على الرسالة الأستاذ الدكتور/ عفت الشرقاوى، وهو من هو علماً وخلقاً خاصة، فكان الراعى لهذا البحث حتى خرج في ثوبه هذا، مع التكريم بوقته وجهده، ولم يبخل علىَّ بحسن توجيه ودقة ترتيب وزيادة مهمة تفيد البحث وتجعل له قيمة من الناحية العلمية، مع سعة صدره وصبره على فيما أنا فيه من أمراض وعلل، فالله يتولى جزاءه وحسن مثوبته على ما قدم من علم وبذل من جهد.
وفي النهاية ذلك جهد المقل، وبضاعتى المزجاة في خدمة الدين والذب عن رسول الله صلى الله عليه وسلم، أرجو أن تكون في محل القبول عند الله قبل الناس، وأن يعفو عنى في تقصيرى وما بدر منى.
الباحث
আমার ওপর আল্লাহর অন্যতম অনুগ্রহ ও তাওফিক ছিল যে, এই গবেষণাপত্রটির তত্ত্বাবধায়ক ছিলেন অধ্যাপক ডক্টর ইফফাত আল-শারকাউয়ি; যিনি জ্ঞান ও চরিত্রের ক্ষেত্রে এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। এই গবেষণাটি বর্তমান রূপে প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত তিনিই ছিলেন এর মূল অভিভাবক। তিনি তাঁর সময় ও শ্রম দিয়ে আমাকে ধন্য করেছেন। সঠিক দিকনির্দেশনা, সূক্ষ্ম বিন্যাস এবং গবেষণার জন্য উপকারী ও বৈজ্ঞানিক মান বৃদ্ধিকারী গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন প্রদানে তিনি কোনো কৃপণতা করেননি। সেই সাথে আমার অসুস্থতা ও শারীরিক প্রতিকূলতার সময় তিনি অত্যন্ত ধৈর্য ও উদারতা প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁর এই জ্ঞান দান ও শ্রমের উত্তম প্রতিদান ও সওয়াব দান করুন।
পরিশেষে, এটি একজন স্বল্প সম্পদের অধিকারীর সামান্য প্রচেষ্টা এবং দ্বীনের খিদমতে ও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে প্রতিরক্ষায় আমার অতি নগণ্য পুঁজি। আমি আশা করি এটি মানুষের আগে আল্লাহর নিকট কবুলিয়াত লাভ করবে এবং তিনি আমার ত্রুটি-বিচ্যুতি ও সীমাবদ্ধতাগুলো ক্ষমা করবেন।
গবেষক
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
الباب الأولسيدنا محمد صلى الله عليه وسلم في القرآن الكريم
প্রথম অধ্যায়পবিত্র কুরআনে আমাদের নেতা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
تمهيد
يقدم الباحث في هذا الجزء من الرسالة دراسة ما يتعلق بالرسول صلى الله عليه وسلم في القرآن الكريم، فهو أصدق وصف له عليه الصلاة والسلام وأدقه وأجمله وأشمله، ثم إنه لا يأتيه الباطل من بين يديه ولا من خلفه خاصة أنه نزل على قوم شاهدوا تلك الأوصاف، وعاينوا تلك الأخلاق وعاشروا صاحب هذه السمات، وكان لهم مع عداوتهم له أن يردوا ذلك، أو يشككوا فيه إذ كان ذلك أسهل في رد الدعوة وإبطالها من القتال والقتل، وما ورد عن هؤلاء حينما كانوا أعداء كفرة إلا التسليم بتلك الصفات، والإذعان لهذه الأخلاق، وذلك صريح الإعلان بتصديق القرآن، والتسليم له بهذه الأوصاف، وسنشير بإذن الله تعالى إلى تفصيل تلك الآيات، تفسيرها وما يتعلق بذلك.
وطريقتنا في البحث - كما قدمنا - هو عرض النصوص، ودراستها دراسة نصية ومقارنتها ببعضها، واستخلاص النتائج، مع التحليل وإظهار جمالياتها، بلاغةً ولغةً، مع مراعاة المكى والمدنى منها، والترتيب التاريخى لها، وكلها ترد على المستشرقين أصحاب الادعاءات الكاذبة من مثل العلمية، والإنصاف، والحياد، حيث لم تصمد هذه الدعاوى أمام أي نقد نزيها كان أم غير نزية للأسف، فليس ثَمَّ إلا التعصب.
وباستقراء آيات القرآن الكريم، والاستعانة بكلام العلماء في تتبع ما جاء في القرآن الكريم عن النبي صلى الله عليه وسلم وجدناه ينقسم إلى أقسام كثيرة، اخترنا منها ثلاثة أقسام تدل على ما وراءها وتوفي بالغرض، وتغطي جوانب الموضوع، وتركنا الباقى - مع أهميته - اختصاراً، وهي:
ভূমিকা
গবেষক এই অভিসন্দর্ভের এই অংশে পবিত্র কুরআনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কিত বিষয়াবলির অধ্যয়ন উপস্থাপন করছেন। কারণ এটি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জন্য সত্যতম, সূক্ষ্মতম, সুন্দরতম এবং সর্বাধিক ব্যাপক বর্ণনা। অধিকন্তু, এর সম্মুখে বা পশ্চাতে কোনো মিথ্যা আসতে পারে না; বিশেষ করে এটি এমন এক জাতির নিকট অবতীর্ণ হয়েছে যারা সেই গুণাবলি প্রত্যক্ষ করেছিল, সেই মহান চরিত্র অবলোকন করেছিল এবং এই বৈশিষ্ট্যের অধিকারীর সাথে জীবনযাপন করেছিল। তাঁর প্রতি শত্রুতা থাকা সত্ত্বেও তাদের পক্ষে এসব অস্বীকার করা বা এ বিষয়ে সন্দেহ পোষণ করার সুযোগ ছিল, কেননা দাওয়াত প্রত্যাখ্যান ও তা বাতিল করার জন্য যুদ্ধ এবং হত্যার চেয়ে এটিই ছিল সহজতর পথ। কিন্তু তারা যখন কাফির শত্রু ছিল, তখনও তাদের নিকট থেকে এই গুণাবলির স্বীকৃতি এবং এই উন্নত চরিত্রের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ পাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। আর এটি ছিল কুরআনের সত্যতা স্বীকার এবং এই গুণাবলিকে মেনে নেওয়ার এক স্পষ্ট ঘোষণা। আল্লাহ তাআলার ইচ্ছায় আমরা সেই আয়াতগুলোর বিস্তারিত বিবরণ, এগুলোর ব্যাখ্যা এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াবলি উল্লেখ করব।
আমাদের গবেষণার পদ্ধতি—যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে ব্যক্ত করেছি—হলো মূল পাঠ্যসমূহ উপস্থাপন করা, সেগুলো পাঠ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ করা এবং একে অপরের সাথে তুলনা করা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে এর অলঙ্কারশাস্ত্রীয় ও ভাষাতাত্ত্বিক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলে ফলাফল নিরূপণ করা। এক্ষেত্রে মক্কী ও মাদানী আয়াতের পার্থক্য এবং এগুলোর ঐতিহাসিক ক্রমধারা বিবেচনা করা হয়েছে। এই সব কিছুই সেই সকল প্রাচ্যবিদদের মিথ্যা দাবির অপনোদন করে যারা বৈজ্ঞানিক গবেষণা, ন্যায়পরায়ণতা ও নিরপেক্ষতার দাবি করে থাকে; অথচ দুঃখজনকভাবে তাদের এই দাবিগুলো কোনো নিরপেক্ষ কিংবা অনিরপেক্ষ সমালোচনার সামনেই টিকতে পারেনি, বরং সেখানে গোঁড়ামি ভিন্ন আর কিছুই নেই।
পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে কুরআনে যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুসন্ধানে উলামায়ে কেরামের বক্তব্যের সহায়তা নিয়ে আমরা একে অনেকগুলো ভাগে বিভক্ত পেয়েছি। আমরা এর মধ্য থেকে এমন তিনটি বিভাগ বেছে নিয়েছি যা এর অন্তর্নিহিত তাৎপর্য নির্দেশ করে, উদ্দেশ্য পূরণ করে এবং বিষয়ের সকল দিককে অন্তর্ভুক্ত করে। গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও সংক্ষিপ্তকরণের উদ্দেশ্যে আমরা অবশিষ্ট অংশগুলো বর্জন করেছি, সেগুলো হলো:
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
الأول: في ثناء الله تعالى عليه، وإظهار عظيم قدره عند ربه وما خصه به من كرامته في الدارين (1)، مع تكميل المحاسن له خَلْقاً وخُلُقاً، وما أظهره عليه من الكرامات، وشَرَّفَه به من الخصائص.
الثاني: حقوقه التي فرضها الله على عباده من لزوم الإيمان به ومحبته ووجوب طاعته واتباع سنته، وتوقيره وبرِّه، وتعظيم أمره، والصلاة عليه صلى الله عليه وسلم.
الثالث: عصمته صلى الله عليه وسلم في الأمور الدينية، وما يجوز أن يطرأ عليه من الأعراض البشرية، مع العرض والرد لما يوهم مخالفة ذلك للقرآن الكريم.
--------------------------------------------
প্রথম: মহান আল্লাহ কর্তৃক তাঁর প্রশংসা, তাঁর রবের নিকট তাঁর সুমহান মর্যাদা প্রকাশ এবং উভয় জগতে তাঁকে যে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে তার বর্ণনা (১); সেই সাথে তাঁর দৈহিক গঠন ও চারিত্রিক গুণাবলির পূর্ণতা, তাঁর মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক নিদর্শনাদি এবং যেসব বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে তার বিবরণ।
দ্বিতীয়: তাঁর সেই সকল অধিকার যা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের ওপর ফরজ করেছেন; যেমন—তাঁর প্রতি ঈমান আনা ও ভালোবাসা পোষণ অপরিহার্য করা, তাঁর আনুগত্য ও সুন্নাহর অনুসরণ ওয়াজিব করা এবং তাঁকে সম্মান ও ভক্তি প্রদর্শন, তাঁর আদেশকে মহিমান্বিত করা এবং তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)।
তৃতীয়: দ্বীনি বিষয়ে তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষ্পাপ থাকা এবং তাঁর ওপর যেসব মানবিক অবস্থা আপতিত হওয়া সম্ভব তার বর্ণনা; সেই সাথে পবিত্র কুরআনের সাথে যা বাহ্যিকভাবে বিরোধপূর্ণ মনে হতে পারে, তা উপস্থাপন ও নিরসন করা।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
الفصل الأولثناء الله تعالى عليه صلى الله عليه وسلم
প্রথম পরিচ্ছেদতাঁর প্রতি মহান আল্লাহর প্রশংসা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الأول{وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ}ونبدأ بدراسة القسم الأول، وأول آية تصادفنا فيه من ثناء الله تعالى على النبي صلى الله عليه وسلم، وتبين رفيع منزلته، وعلو قدره، هي قوله تعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} [القلم: 4].
وقدمنا بها الكلام لأنها نزلت في أول ما نزل من القرآن الكريم إذ هي قد نزلت بعد قوله تعالى: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ} حيث قررنا من قبل أننا سنراعي الترتيب الزمني في ذلك؛ لأن الدراسة بالأصالة في سيرته، وتلك كالمقدمة بالتعريف لصاحب السيرة عليه الصلاة والسلام.
وعلى أية حال ننظر في الآية الكريمة لنحللها، ونبدأ بها هذا القسم.
وأول ما يلاحظه الباحث في هذه الآية الكريمة أنَّ الله سبحانه وتعالى اصطفى سيدنا محمدًا صلى الله عليه وسلم لتَحَمُّل الرسالة والنبوة وهو في غاية الخُلُق وأعلاه، بل وهو على عظيم الخُلُق وأجَلِّه، وهو دليل على حيازة النبي صلى الله عليه وسلم للكمالات النفسية كافة قبل البعثة، مما يدلّ على عناية الله تعالى المتقدمة بنبيه صلى الله عليه وسلم ومبعوثه إلى الخلق، وهو ما يميز ويوضح لعموم الخلق صدق النبوة وصحَّة الرسالة، إذ كيف يتأتى لأحدٍ من العرب لا يزيد عليهم في شيء، بل هو ابن بيئتهم بثقافتها، وعلمها وغيره، أن يكون على هذه الحال الذي لم يبلغ شأوه أحد، ولن يبلغه أحد، بل إن الفارق بين شأوه وبين جميع الناس كالفارق بين السماء والأرض.
প্রথম পরিচ্ছেদ“আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন।”আমরা প্রথম পরিচ্ছেদের আলোচনা শুরু করছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মহান আল্লাহর প্রশংসা এবং তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা ও সুমহান শানের বর্ণনায় আমাদের সামনে আসা প্রথম আয়াতটি হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আর নিশ্চয় আপনি মহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন (৪)।” [সূরা আল-ক্বলম: ৪]।
আমরা এই আয়াত দিয়ে আলোচনা শুরু করেছি কারণ এটি পবিত্র কুরআনের প্রারম্ভিক অবতীর্ণ আয়াতগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এটি মহান আল্লাহর বাণী “পাঠ করুন আপনার রবের নামে” নাযিল হওয়ার পরেই অবতীর্ণ হয়েছিল। যেহেতু আমরা আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে এ ক্ষেত্রে আমরা কালানুক্রমিক ধারা বজায় রাখব; কারণ মূল আলোচনাটি হচ্ছে তাঁর সীরাত বা জীবনী নিয়ে, আর এটি সীরাতের অধিকারী মহান ব্যক্তি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর পরিচিতিমূলক ভূমিকা স্বরূপ।
যাই হোক, আমরা এই মহান আয়াতটি বিশ্লেষণ করার জন্য এর প্রতি দৃষ্টিপাত করব এবং এটি দিয়েই এই পরিচ্ছেদ শুরু করব।
এই মহান আয়াতে একজন গবেষক সর্বপ্রথম যা লক্ষ্য করেন তা হলো, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে রিসালাত ও নবুওয়াতের গুরুভার বহনের জন্য মনোনীত করেছেন এমন অবস্থায় যখন তিনি ছিলেন চরিত্রের সর্বোচ্চ শিখরে; বরং তিনি ছিলেন সুমহান ও সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রের ওপর। এটি নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমস্ত আত্মিক পূর্ণতা অর্জনের প্রমাণ বহন করে, যা তাঁর নবী ও সৃষ্টিজগতের প্রতি প্রেরিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি মহান আল্লাহর পূর্বনির্ধারিত বিশেষ যত্নের প্রমাণ দেয়। এটিই সাধারণ মানুষের কাছে নবুওয়াতের সত্যতা ও রিসালাতের সঠিকতা স্পষ্ট করে তোলে। কারণ, আরবদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তি—যিনি বাহ্যিক কোনো দিক থেকে তাদের চেয়ে ব্যতিক্রম ছিলেন না, বরং তাদেরই পরিবেশ, সংস্কৃতি ও জ্ঞানের পরিমণ্ডলে বেড়ে উঠেছেন—তিনি কীভাবে এমন এক স্তরে পৌঁছাতে পারেন যেখানে কেউ পৌঁছাতে পারেনি এবং পারবেও না? বরং তাঁর স্তর এবং সাধারণ মানুষের স্তরের মধ্যে পার্থক্য হলো আসমান ও জমিনের পার্থক্যের মতো।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
والعجيب أنَّه لم يمار أحد ممن عادوه وقاتلوه في هذه الأخلاق، وكانوا يناشدونه بتلك الأخلاق العالية أن يعفو عنهم، وقد لقَّبوه بالصادق الأمين (1).
وما كانت هذه الأخلاق، وهذه العناية لتوحد إلا لأننا في معرض أخطر أمر، وهو أمر النبوة والرسالة، إذ ما كان لأحدٍ أن يردَّها أو يدفعها، أو يشكك فيه فيقضي على الرسالة في مهدها بتكذيب الله أن يكون ذلك رسوله.
وأمر آخر، وهو أن الرسول صلى الله عليه وسلم هو القدوة لهؤلاء المدعوين إلى الله تعالى، وكذلك الدعاة إليه، فكيف يكون فيه ما يشينه ويردّ دعوته بإظهار النقص والعيب فيها، إن ذلك قدح في المرسل سبحانه - وهذا ما يستحيل صدوره.
وقد رأينا التحدي في دعوته صلى الله عليه وسلم إلى آخر لحظة من حياته الشريفة والعجز عن مواجهته، فكيف يكون في أول دعوته ما يبطلها؟
وقد بُدئ وصفه صلى الله عليه وسلم في بداية البعثة بهذا الوصف بالذات؛ لأنه الدليل إلى ما بعده من الأوصاف، وهو البرهان الساطع على صدق ما سيلقيه عليهم بعد ذلك من توحيد، وعبادات ومعاملات وغيره، وعلى أن ذلك حق لا مرية فيه، صحيح لا شية فيه؛ لأن الناقل له، المبلغ به هو صاحب الخلق العظيم في هذه الحياة الدنيا، فكيف يقول كذباً، أو يتقول على الله تعالى ما لم يقله؟ وذلك يدل على صحة كل ما صدر عنه صلى الله عليه وسلم، ويؤيده قوله فيما نزل بعد ذلك في سورة النجم: {إِنْ هُوَ إِلَّا وَحْيٌ يُوحَى} [النجم: 4] كما سنبينه في حينه إن شاء الله تعالى.
--------------------------------------------
বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, যারা তাঁর সাথে শত্রুতা পোষণ করেছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছে, তাদের কেউ এই মহান চরিত্র নিয়ে বিতর্ক করেনি। তারা বরং এই উন্নত চরিত্রের দোহাই দিয়েই তাদের ক্ষমা করার জন্য তাঁর কাছে প্রার্থনা করত। তারা তাঁকে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত (আল-সাদিক ও আল-আমিন) উপাধিতে ভূষিত করেছিল (১)।
এই চারিত্রিক গুণাবলী এবং এই বিশেষ যত্ন কেবল এজন্যই একত্রিত হয়েছিল কারণ আমরা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ের সম্মুখীন, আর তা হলো নবুয়ত ও রিসালাতের বিষয়। কেননা, কারো পক্ষেই এটি প্রত্যাখ্যান করা, রদ করা বা এর প্রতি সন্দেহ পোষণ করা সম্ভব ছিল না—যাতে করে তারা আল্লাহর প্রেরিত রাসুলকে মিথ্যা সাব্যস্ত করার মাধ্যমে শৈশবকালেই (শুরুতেই) এই দাওয়াতকে নস্যাৎ করে দেবে।
আরেকটি বিষয় হলো, রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ছিলেন আল্লাহর পথে আহূত ব্যক্তিদের জন্য এবং তাঁর দিকে আহ্বানকারী দাওয়াতদানকারীদের জন্য আদর্শ। সুতরাং তাঁর মধ্যে কীভাবে এমন কিছু থাকতে পারে যা তাঁকে কলঙ্কিত করবে অথবা তাঁর চরিত্রে কোনো অপূর্ণতা বা ত্রুটি প্রকাশের মাধ্যমে তাঁর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যানযোগ্য করে তুলবে? কারণ তা স্বয়ং মহান আল্লাহর (প্রেরক) সমালোচনা করার সমতুল্য—আর আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন কিছু হওয়া অসম্ভব।
আমরা রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুমহান জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তাঁর দাওয়াতের মধ্যে চ্যালেঞ্জ এবং এর মোকাবিলা করতে (শত্রুদের) অক্ষমতা দেখেছি। অতএব, তাঁর দাওয়াতের শুরুতে এমন কিছু কীভাবে থাকতে পারে যা একে বাতিল করে দেবে?
নবুয়ত প্রাপ্তির শুরুতেই তাঁর বিবরণ এই বিশেষ গুণ দিয়েই শুরু করা হয়েছে; কারণ এটি তাঁর পরবর্তী সকল গুণের জন্য একটি দলিল। এটি তাঁর পরবর্তীতে বর্ণিত তাওহিদ, ইবাদত, লেনদেন এবং অন্যান্য বিষয়ের সত্যতার এক উজ্জ্বল প্রমাণ। এটি একটি সুনিশ্চিত সত্য যাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং যা নিখুঁত। কারণ এই সংবাদ বহনকারী এবং প্রচারকারী হলেন এই পার্থিব জীবনে সুমহান চরিত্রের অধিকারী। সুতরাং তিনি কীভাবে মিথ্যা বলবেন অথবা আল্লাহর নামে এমন কিছু বলবেন যা তিনি বলেননি? এটি রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পক্ষ থেকে আগত সবকিছুর সঠিকতার প্রমাণ বহন করে। এর সমর্থন পাওয়া যায় পরবর্তীতে সুরা আন-নাজমে অবতীর্ণ তাঁর এই বাণীতে: {তা তো কেবল ওহী, যা তাঁর নিকট পাঠানো হয়} [আন-নাজম: ৪], যেমনটি আমরা যথাসময়ে ইনশাআল্লাহ ব্যাখ্যা করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وثمة أمر آخر وهو أنَّ الرسول صلى الله عليه وسلم جاء ليدعو الناس جميعًا إلى التزام أحاسن الأخلاق، والاتصاف بها، كما قال: (إِنَّمَا بُعِتُ لأُتَمِّمَ مَكَارِمَ الأخلاق). (1)
وبالتالي لابد أن يكون أعلى الناس جميعًا خُلُقاً، لأنَّ فاقد الشيء لا يعطيه، وإن كان مثلهم فلأي شيءٍ يدعوهم؟ ولذا وجدناه من أول بعثته أعظم الناس خُلُقًا، فلما وصفه ربُّه بذلك من حين ابتعثه، كان ذلك متسقًا تمام الاتساق مع دعوة الله تعالى الناس إلى توحيده ومعرفته، وعبادته، وإلى كل جميل من الأقوال، والأفعال في الظاهر والباطن.
وللأستاذ سيد قطب في كتابه "في ظلال القرآن" (2) كلام جميل نذكره ملخصًا، يقول: ثم تجيء الشهادة الكبرى والتكريم العظيم: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)}.
وتتجاوب أرجاء الوجود بهذا الثناء الفريد على النبي صلى الله عليه وسلم، ويثبت هذا الثناء العلوي في صميم الوجود، ويعجز كل قلم، ويعجز كل تصور عن وصف قيمة هذه الكلمة العظيمة من ربِّ الوجود، وهي شهادة من الله، وفي ميزان الله، لعبد الله، يقول له فيها: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)}، ومدلول الخلق العظيم هو ما عند الله مما لا يبلغ مداه أحد من العالمين.
ودلالة هذه الكلمة العظيمة على عظمة محمد صلى الله عليه وسلم تبرز من نواحٍ شتى:
تبرز من كونها كلمة من الله الكبير المتعالي، يسجلها ضمير الكون، وتثبت في كيانه، وتتردد في الملأ الأعلى إلى ما شاء الله.
--------------------------------------------
আর একটি বিষয় হলো এই যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমস্ত মানুষকে সর্বোত্তম চারিত্রিক গুণাবলি অর্জন এবং তা দ্বারা ভূষিত হওয়ার আহ্বান জানাতে এসেছেন, যেমনটি তিনি বলেছেন: (নিশ্চয়ই আমি কেবল উন্নত চরিত্রের পূর্ণতা সাধনের জন্যই প্রেরিত হয়েছি)। (১)
ফলশ্রুতিতে তাকে অবশ্যই সমস্ত মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী হতে হবে, কারণ যার নিজের কাছে কিছু নেই সে অন্যকে তা দান করতে পারে না। আর তিনি যদি তাদের মতোই সাধারণ হতেন, তবে তিনি তাদের কিসের দিকে আহ্বান করতেন? এ কারণেই আমরা তার নবুওয়াতের শুরু থেকেই তাকে মানবজাতির মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী হিসেবে দেখতে পাই। সুতরাং যখন তার রব তাকে নবুওয়াত প্রদানের সময় থেকেই এই গুণেই বিশেষিত করেছেন, তখন তা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে মানুষকে তাঁর তাওহিদ, পরিচয় ও ইবাদতের প্রতি এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে সমস্ত সুন্দর কথা ও কাজের প্রতি আহ্বানের সাথে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ ছিল।
উস্তাদ সাইয়্যেদ কুতুব তার "ফি জিলালিল কুরআন" (২) গ্রন্থে চমৎকার কিছু কথা বলেছেন যা আমরা সংক্ষেপে উল্লেখ করছি, তিনি বলেন: অতঃপর মহান সাক্ষ্য ও সুউচ্চ সম্মাননা আসে: "আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত (৪)"।
নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি এই অনন্য প্রশংসায় মহাবিশ্বের প্রতিটি প্রান্ত অনুরণিত হয় এবং এই স্বর্গীয় প্রশংসা অস্তিত্বের গভীরতম মূলে স্থির হয়ে যায়। বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে আসা এই মহান বাণীর গুরুত্ব বর্ণনা করতে প্রতিটি কলম এবং প্রতিটি কল্পনা অক্ষম হয়ে পড়ে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে, আল্লাহর মানদণ্ডে, আল্লাহর বান্দার জন্য এক সাক্ষ্য, যেখানে তিনি তাকে বলছেন: "আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত (৪)"। আর এই মহান চরিত্রের তাৎপর্য হলো আল্লাহর কাছে এমন কিছু যা সৃষ্টিজগতের কেউ কোনোদিন অর্জন করতে সক্ষম নয়।
মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শ্রেষ্ঠত্বের ওপর এই মহান বাণীর প্রমাণ বিভিন্ন দিক থেকে ফুটে ওঠে:
এটি প্রকাশ পায় এভাবে যে, এটি সুমহান ও সুউচ্চ আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এক বাণী, যা মহাবিশ্বের হৃদয়ে লিপিবদ্ধ হয়, যা অস্তিত্বের সত্তায় স্থির হয়ে যায় এবং আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী ঊর্ধ্বজগতে প্রতিধ্বনিত হতে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
وتبرز من جانب آخر، من جانب إطاقة محمد صلى الله عليه وسلم لتلقيها وهو يعلم مَنْ ربَّه هذا، قائل هذه الكلمة؟ ما عظمته؟ ما دلالة كلماته؟ ما مداها؟ ما صداها؟ ويعلم من هو إلى جانب هذه العظمة المطلقة، التى يدرك هو منها ما لا يدركه أحد من العالمين.
إن إطاقة محمد صلى الله عليه وسلم لتلقى هذه الكلمة من هذا المصدر، وهو ثابت، لا ينسحق تحت ضغطها الهائل - مع أنها ثناء - ولا تتأرجح شخصيته تحت وقعها وتضطرب .. تلقيه لها في طمأنينة وفي تماسك وفي توازن هو ذاته دليل على عظمة شخصيته فوق كل دليل.
ولقد رويت عن عظمة خلقه في السيرة، وعلى لسان أصحابه روايات منوعة كثيرة، وكان واقع سيرته أعظم شهادة من كل ما روى عنه. ولكن هذه الكلمة أعظم بدلالتها من كل شيء آخر، أعظم بصدورها عن العلى الكبير، وأعلم بتلقى محمد لها وهو يعلم من هو العلى الكبير، وبقائه بعدها راسخاً ثابتاً مطمئناً، لا يتَكَبَّر على العباد، ولا ينفتح، ولا يتعاظم.
لقد كان - وهو بشر - يُثني على أحد أصحابه، فيهتز كيان صاحبه هذا من وقع هذا الثناء العظيم، وهو بشر ويعلم أصحابه أنه بشر، فأما هو فيتلقى هذه الكلمة من الله، وهو يعلم من هو الله، ثم يتماسك ويصطبر ويتلقى ويسير إنه أمر فوق كل تصور وفوق كل تقدير.
وما كان إلا محمد صلى الله عليه وسلم بعظمة نفسه هذه من يحمل هذه الرسالة الأخيرة بكل عظمتها الكونية الكبرى فيكون كفؤاً لها كما يكون صورة حية منها.
إن هذه الرسالة من الكمال والجمال، والعظمة والشمول، والصدق والحق بحيث لا يحملها إلا الرجل الذي يُثني عليه الله هذا الثناء فتطيقه شخصيته، ثم يتلقى بعد ذلك عتاب ربه له بذات التماسك، وذات الطمأنينة، ويعلن ذلك كما يعلن تلك لا يكتم من هذه شيئًا، ولا تلك، وهو في كلتا الحالتين النبي الكريم، والعبد الطائع والمُبَلِّغ الأمين.
অন্য এক দিক থেকে এটি পরিস্ফুট হয়, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তা গ্রহণ করার সক্ষমতার দিক থেকে, এমতাবস্থায় যে তিনি জানতেন তাঁর এই রব কে? এই বাণীর বক্তা কে? তাঁর মাহাত্ম্য কী? তাঁর বাণীসমূহের নিগূঢ় অর্থ কী? এর ব্যাপ্তি কতটুকু? এর প্রভাব কতখানি? এবং তিনি জানতেন যে, এই পরম মহিমার সান্নিধ্যে তাঁর অবস্থান কোথায়, যাঁর সম্পর্কে তিনি এমন কিছু উপলব্ধি করেন যা বিশ্বজগতের আর কেউ উপলব্ধি করতে পারে না।
এই উৎস থেকে এই বাণী গ্রহণ করার ক্ষেত্রে মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সক্ষমতা—এমতাবস্থায় যে তিনি অবিচল ছিলেন, এর প্রচণ্ড চাপে তিনি চূর্ণ হয়ে যাননি (যদিও এটি ছিল প্রশংসা)—এবং এর প্রভাবে তাঁর ব্যক্তিত্ব টলমলে হয়ে পড়েনি কিংবা বিচলিত হয়নি.. অত্যন্ত প্রশান্তি, দৃঢ়তা ও ভারসাম্যের সাথে তাঁর এই বাণী গ্রহণ করা স্বয়ং তাঁর ব্যক্তিত্বের মহানুভবতার এমন এক প্রমাণ, যা অন্য সকল প্রমাণের ঊর্ধ্বে।
সীরাতগ্রন্থে এবং সাহাবীদের জবানীতে তাঁর চরিত্রের মাহাত্ম্য সম্পর্কে অনেক বিচিত্র বর্ণনা বর্ণিত হয়েছে। তাঁর বাস্তব কর্মময় জীবন ছিল তাঁর সম্পর্কে বর্ণিত সকল কিছুর চেয়ে বড় সাক্ষ্য। কিন্তু এই বাণীটি এর তাৎপর্যের দিক থেকে অন্য সবকিছুর চেয়ে মহান। এটি সুউচ্চ ও সুমহান সত্তার পক্ষ থেকে নিঃসৃত হওয়ার কারণে শ্রেষ্ঠ। আর মুহাম্মদ কর্তৃক তা গ্রহণ করার বিষয়টিও অত্যন্ত গভীর, কারণ তিনি জানতেন সেই সুউচ্চ ও সুমহান সত্তা কে; এবং এরপরেও তিনি সুদৃঢ়, অবিচল ও প্রশান্ত ছিলেন। তিনি মানুষের ওপর অহংকার করেননি, আত্মগর্বে মত্ত হননি এবং নিজেকে বড় মনে করেননি।
তিনি একজন মানুষ হয়ে যখন তাঁর কোনো সাহাবীর প্রশংসা করতেন, তখন সেই মহান প্রশংসার চোটে সেই সাহাবীর অস্তিত্ব কেঁপে উঠত। অথচ তিনি ছিলেন একজন মানুষ এবং তাঁর সাহাবীরাও জানতেন যে তিনি মানুষ। কিন্তু তিনি তো খোদ আল্লাহর পক্ষ থেকে এই বাণী গ্রহণ করতেন এবং তিনি জানতেন যে আল্লাহ কে। এরপরও তিনি নিজেকে সংবরণ করতেন, ধৈর্য ধারণ করতেন, ওহি গ্রহণ করতেন এবং আপন পথে অগ্রসর হতেন। এটি এমন এক বিষয় যা সকল কল্পনার অতীত এবং সকল অনুমানের ঊর্ধ্বে।
নিজের আত্মার এই অনন্য মহত্ত্বের কারণে একমাত্র মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই ছিলেন এই সর্বশেষ বার্তাকে তার সকল জাগতিক ও মহাজাগতিক মাহাত্ম্যসহ বহন করার উপযুক্ত এবং তিনি ছিলেন এরই এক জীবন্ত প্রতিকৃতি।
এই রিসালাত পূর্ণতা, সৌন্দর্য, মহিমা, ব্যাপকতা এবং সত্য ও ন্যায়ের এমন এক স্তরে অধিষ্ঠিত যে, এটি কেবল সেই ব্যক্তিই বহন করতে পারেন যাঁর প্রশংসা আল্লাহ এভাবে করেছেন এবং যাঁর ব্যক্তিত্ব তা সহ্য করার সক্ষমতা রাখে। এরপর তিনি তাঁর রবের পক্ষ থেকে আসা অনুযোগকেও সমপরিমাণ দৃঢ়তা ও প্রশান্তির সাথে গ্রহণ করেছেন। তিনি প্রশংসার বাণী যেভাবে প্রচার করেছেন, অনুযোগের বাণীও সেভাবেই ঘোষণা করেছেন; এর কোনো কিছুই তিনি গোপন করেননি। তিনি উভয় অবস্থাতেই ছিলেন সম্মানিত নবী, অনুগত বান্দা এবং পরম বিশ্বস্ত প্রচারক।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
إنه محمد - وحده - هو الذي يرقى إلى هذا الأُفُق من العظمة، هو الذي يكافئ هذه الرسالة الكونية العالمية الإنسانية حتى لتتمثل في شخصه حية، تمشي على الأرض في إهاب إنسان، إنه محمد - وحده - الذي علم الله منه أنه أهل لهذا المقام.
والله أعلم حيث يجعل رسالته - وأعلن في هذه أنه على خلق عظيم، وأعلن في الأخرى أنه - جلَّ شأنه، وتقدست ذاته وصفاته، يصلي عليه هو وملائكته: {إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ} [الأحزاب: 56]، وهو - جلَّ شأنه - وحده القادر على أن يهب عبدًا من عباده ذلك الفضل العظيم.
انتهى تلخيصا لكلام المؤلف. (1)
وأما عند تحليل الآية الكريمة:
فأول ما يطالعه الباحث في ذلك هو العطف (2)، وهو عطف جملة {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} على قوله: {مَا أَنْتَ بِنِعْمَةِ رَبِّكَ} وهو جواب القسم، أي إنَّ قوله تعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ ....} مُقسَم عليه من الله جلَّ وعلا - وإن كان سبحانه لا يحتاج لقسمٍ لإثبات كلامه - وإنَّما ذلك لتبيين أهمية المُقسَم عليه وصدقه، وعلو شأنه، وأنه مفروغ منه، ولا يتطرق إليه الاحتمال، أو يمسُّه الشك.
والقَسَم هنا يجري على سنن الأقسام الصادرة في كلام الله تعالى بما شاء من عظيم خلقه الدالة على آثار صفاته وجلاله.
--------------------------------------------
নিশ্চয়ই তিনি মুহাম্মাদ—একাই—যিনি মহানত্বের এই দিগন্তে আরোহণ করেন; তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি এই মহাজাগতিক, বিশ্বজনীন ও মানবিক বাণীর সাথে সংগতিপূর্ণ, এমনকি তা তাঁর ব্যক্তিসত্তায় জীবন্তরূপে মূর্ত হয়, যা মানুষের অবয়বে জমিনের উপর বিচরণ করে। নিশ্চয়ই তিনি মুহাম্মাদ—একাই—যাঁর সম্পর্কে আল্লাহ জেনেছেন যে তিনি এই মাকাম বা অবস্থানের যোগ্য।
আর আল্লাহই ভালো জানেন কোথায় তিনি তাঁর রিসালাত অর্পণ করবেন। আর তিনি এই আয়াতে ঘোষণা করেছেন যে, নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত। আর অন্য আয়াতে ঘোষণা করেছেন যে, তিনি—তাঁর শান সুমহান এবং তাঁর সত্তা ও সিফাতসমূহ পবিত্র—তাঁর ওপর সালাত (রহমত) বর্ষণ করেন, তিনি নিজে এবং তাঁর ফেরেশতারা: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পাঠ করেন” [আল-আহযাব: ৫৬]। আর তিনিই—তাঁর শান সুমহান—একমাত্র সক্ষম তাঁর বান্দাদের মধ্য হতে কাউকে এই মহান অনুগ্রহ দান করতে।
লেখকের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ সমাপ্ত। (১)
আর যখন মহিমান্বিত আয়াতটি বিশ্লেষণ করা হয়:
তখন একজন গবেষক প্রথমেই যা দেখতে পান তা হলো সংযুক্তি (২); আর তা হলো “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত (৪)” এই বাক্যটির সংযুক্তি তাঁর বাণী “আপনার রবের অনুগ্রহে আপনি (নন)”-এর ওপর, যা শপথের উত্তর (জাওয়াবুল কাসাম)। অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলার বাণী: “আর নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রের ওপর...” হলো আল্লাহ জাল্লা ওয়া আলা কর্তৃক একটি শপথকৃত বিষয়—যদিও তিনি সুবহানাহু তাঁর কথা প্রমাণের জন্য শপথের মুখাপেক্ষী নন—বরং এটি শপথকৃত বিষয়ের গুরুত্ব, সত্যতা ও উচ্চ মর্যাদা স্পষ্ট করার জন্য, এবং এটি যে একটি সুনিশ্চিত বিষয় যাতে কোনো সংশয় বা সন্দেহের অবকাশ নেই তা বোঝানোর জন্য।
আর এখানকার শপথটি আল্লাহ তাআলার কালামে বর্ণিত শপথসমূহের রীতি অনুযায়ীই হয়েছে, যা তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্য থেকে যা ইচ্ছা তা দিয়ে করেছেন, যা তাঁর সিফাত ও মহত্ত্বের নিদর্শনের ওপর প্রমাণ বহন করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
والقلم هو الوارد في قوله تعالى: {الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ (4) عَلَّمَ الْإِنْسَانَ مَا لَمْ يَعْلَمْ (5)} [العلق: 4 - 5]، لأنه الظاهر الذي يقتضيه حال أهل الكتاب، وعند من يعرف الكتابة من العرب، وهو المناسب لقوله تعالى: {وَمَا يَسْطُرُونَ} [القلم: 1]، وقد أقسم به لشرفه بأنه يكتب به القرآن، وكُتِبَت به الكتب المقدسة، وتُكْتَب به كتب التربية والأخلاق والعلوم، وكل ذلك له حظ شرف عند الله تعالى. (1)
هذا على التعريف المرجح في تعريف القلم، وقيل أيضًا ما يُكَنَّى عنه بالقلم من تعلق علم الله بالموجودات الكائنة، والتي ستكون (2).
وأما قوله تعالى: {وَمَا يَسْطُرُونَ} [القلم: 1] فالمقسم به الثاني، فالآيات فيها أمران مقسم بهما؛ وهما القلم وما يسطرون، والمقسم عليه ثلاثة، وهي نفي الجنون عن النبي صلى الله عليه وسلم، وإثبات الأجر والثواب له، والثالث كونه على خلق عظيم.
ونعود إلى قوله تعالى: {وَمَا يَسْطُرُونَ} [القلم: 1]، ومعناه السطور المكتوبة بالقلم، فإذا كانت {مَا} موصولة صار المعنى: أي وما يكتبونه من الصحف، ويجوز أن تكون مصدرية والمعنى: وسطرهم الكتابة سطورًا.
ويجوز أن يكون القسم بالأقلام التي يكتب بها الوحي وبالمكتوب والموحى به، ويكون القسم حينئذ بالقرآن نفسه على أن القرآن ما هو بكلام مجنون، وذلك كقوله تعالى:
--------------------------------------------
কলম হলো সেটি যা মহান আল্লাহর এই বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: {যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন (৪) মানুষকে তা শিখিয়েছেন যা সে জানত না (৫)} [আল-আলাক: ৪-৫], কারণ এটি সেই প্রকাশ্য বিষয় যা আহলে কিতাবদের অবস্থা এবং আরবদের মধ্যে যারা লিখতে জানত তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আর এটি মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা যা লিখে তার শপথ} [আল-কালাম: ১]-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মর্যাদা হেতু এর শপথ করা হয়েছে, কেননা এর মাধ্যমেই কুরআন লেখা হয়, এবং এর মাধ্যমেই পবিত্র কিতাবসমূহ লেখা হয়েছে, আর এর মাধ্যমেই শিক্ষা, চরিত্র ও বিজ্ঞানের বইসমূহ লেখা হয়। আর এই সবকিছুরই মহান আল্লাহর নিকট মর্যাদাপূর্ণ অংশ রয়েছে। (১)
কলমের সংজ্ঞায় এটিই অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত সংজ্ঞা। আবার এমনটিও বলা হয়েছে যে, কলম দ্বারা যা রূপকভাবে বোঝানো হয়েছে তা হলো বিদ্যমান ও ভবিষ্যতে অস্তিত্ব লাভ করবে এমন সব সৃষ্টির সাথে আল্লাহর ইলম বা জ্ঞানের সংশ্লিষ্টতা (২)।
আর মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা যা লিখে তার শপথ} [আল-কালাম: ১] হলো দ্বিতীয় শপথকৃত বিষয়। সুতরাং আয়াতগুলোতে শপথকৃত বিষয় হলো দুটি; তা হলো কলম এবং তারা যা লিখে। আর যার ওপর শপথ করা হয়েছে তা হলো তিনটি: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর থেকে উম্মাদনার অপবাদ অস্বীকার করা, তাঁর জন্য প্রতিদান ও সওয়াব সাব্যস্ত করা এবং তৃতীয়টি হলো তাঁর মহান চরিত্রের ওপর অধিষ্ঠিত থাকা।
আমরা পুনরায় মহান আল্লাহর বাণী: {এবং তারা যা লিখে তার শপথ} [আল-কালাম: ১]-এর দিকে ফিরে আসি। এর অর্থ হলো কলম দ্বারা লিখিত পঙ্ক্তিমালা। যদি {মা} শব্দটি সম্বন্ধসূচক (মাওসুলা) হয়, তবে অর্থ হবে: অর্থাৎ তারা সহীফাসমূহে যা লিখে। আর এটি ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য (মাসদারিয়্যাহ) হওয়াও সম্ভব, সেক্ষেত্রে অর্থ হবে: তাদের লেখার পঙ্ক্তিমালা।
আবার এটিও সম্ভব যে, শপথ করা হয়েছে সেই সব কলমের যার দ্বারা ওহী লেখা হয় এবং যা কিছু লেখা হয়েছে ও ওহী হিসেবে অবতীর্ণ হয়েছে তার। সেক্ষেত্রে শপথটি হবে স্বয়ং কুরআনের মাধ্যমেই এই মর্মে যে, কুরআন কোনো উন্মাদের কথা নয়, যা মহান আল্লাহর এই বাণীর মতো:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
{وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ (2) إِنَّا جَعَلْنَاهُ قُرْآَنًا عَرَبِيًّا} [الزخرف: 2 - 3] فهو قسم بالقرآن على القرآن، وهو من بديع القسم، إذ القرآن هو الدليل والمدلول عليه في نفس الوقت، وهو قضية سنعود إلى توضيحها إن شاء الله في حينها.
وضمير {يَسْطُرُونَ} راجع إلى غير مذكور، وهو معلوم للسامعين، فكأنه قال: ن والقلم المكتوب، أي والمسطور، وهو نظير قوله تعالى: {وَكِتَابٍ مَسْطُورٍ (2) فِي رَقٍّ مَنْشُورٍ (3)} [الطور: 2 - 3]، لأن ذكر القلم ينبئ بكتبة يكتبون، والمقصود هو المكتوب، فهو بمنزلة الفعل المبني للمجهول، ومن فسر التفسير الثاني للقلم جعل ضمير {يَسْطُرُونَ} عائدًا إلى الملائكة في كتاباتهم ما يلقي إليهم من الله تعالى لتنفيذه، بضبط الكاتب بغير زيادة ولا نقصان.
كل ما سبق يبين ويوضح قيمة الآتي من الكلام، وعظمة معناه، واستقراره وثبوته؛ لأنه لا خُلْف لكلام الله تعالى، فضلاً عن قَسَمِه، ومن ثَمَّ أطلنا شيئًا ما لنبرز تلك الدرجة العليا التي تظهر نبوة النبي صلى الله عليه وسلم وصدقها، ومدى صحة الرسالة وأنها وحيٌ من الله تعالى، ولا يمكن أن يكون إلا ذلك. (1)
وأوثر القسم بالقلم والكتابة للإيماء إلى أنَّ باعث الطاعنين على الرسول صلى الله عليه وسلم واللامزين له بالجنون، إنما هو ما أتاهم به من الكتاب، فكان هذا من أقوى التحدي لهم
--------------------------------------------
"সুস্পষ্ট কিতাবের শপথ। নিশ্চয় আমি একে আরবি কুরআন বানিয়েছি।" [আয-যুখরুফ: ২ - ৩] এটি কুরআনের মাধ্যমে কুরআনের শপথ, যা এক চমৎকার শপথ; কারণ কুরআন একই সাথে দলিল এবং যার মাধ্যমে দলিল প্রদান করা হচ্ছে তা-ও। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমরা ইনশাআল্লাহ যথাসময়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
'তারা যা লিখে' এর সর্বনামটি এমন একজনের দিকে ফিরেছে যার উল্লেখ এখানে নেই, তবে শ্রোতাদের নিকট তা জানা। বিষয়টি এমন যেন তিনি বলেছেন: নূন, শপথ কলমের যা দ্বারা লেখা হয়, অর্থাৎ যা লিপিবদ্ধ। এটি মহান আল্লাহর নিম্নোক্ত বাণীর সদৃশ: "শপথ লিপিবদ্ধ কিতাবের, যা উন্মুক্ত পত্রে লিখিত।" [আত-তূর: ২ - ৩]। কারণ কলমের উল্লেখ এমন একদল লেখকের সংবাদ দেয় যারা লিখছেন, আর এখানে উদ্দেশ্য হলো যা লিখিত হয়েছে। ফলে এটি কর্মবাচ্যের ক্রিয়ার স্থলাভিষিক্ত। আর যারা কলমের দ্বিতীয় ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করেছেন, তারা 'তারা যা লিখে' এর সর্বনামটিকে ফেরেশতাদের দিকে ফিরিয়েছেন, যারা মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের নিকট যা অর্পণ করা হয় তা কার্যকর করার জন্য লিপিবদ্ধ করেন; একজন লেখকের নিখুঁত সংরক্ষণের ন্যায় যাতে কোনো হ্রাস-বৃদ্ধি নেই।
পূর্বোক্ত সবকিছুই পরবর্তী বক্তব্যের গুরুত্ব, এর অর্থের মহানুভবতা এবং এর স্থায়িত্ব ও অটলতাকে স্পষ্ট করে; কারণ মহান আল্লাহর বাণীতে কোনো ব্যতিক্রম হয় না, তাঁর শপথের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর এ কারণেই আমরা আলোচনা কিছুটা দীর্ঘ করেছি যাতে সেই উচ্চ পর্যায়টি ফুটিয়ে তোলা যায় যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নবুওয়াত ও তাঁর সত্যতাকে এবং এই রিসালাতের যথার্থতাকে প্রকাশ করে যে, এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা ওহী এবং এটি ছাড়া অন্য কিছু হওয়া সম্ভব নয়। (১)
আর কলম ও লেখার শপথকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এই ইঙ্গিত প্রদানের জন্য যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রতি অপবাদ আরোপকারীদের এবং তাঁকে পাগল বলে বিদ্রূপকারীদের মূল কারণ হলো তিনি তাদের নিকট যে কিতাব নিয়ে এসেছেন তা-ই। সুতরাং এটি ছিল তাদের জন্য অন্যতম শক্তিশালী চ্যালেঞ্জ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
على صدق النبوة، وبرهانًا ساطعًا على الرسالة، لأن ما رموه بسببه من الجنون هو ذاته ما أقسم به دليلاً لصدقه، وحجة لمدَّعاه. إنَّ الأدلة المقطوعة على هذا النحو لهي إعجاز في نفسها وتعجيز للخصم بحيث لا يستطيع ردًا ولا دحضًا.
ونأتي إلى جواب القسم لنحلل آياته، ولنرى فيه قيمة المقسم عليه، وما فيه من إثبات الكمالات للنبي صلى الله عليه وسلم، ونفي النقص عنه، وذلك في الدنيا، مع عظيم الأجر والثواب في الآخرة.
والمقسم عليه ثلاثة كما ذكرنا آنفاً:
أولها: نفي الجنون عن النبي صلى الله عليه وسلم، والمقصود من نفي الجنون إثبات النبوة للنبي عليه الصلاة والسلام لأنَّ المشركين قصدوا بإلحاق الجنون به وإثباته له نفي النبوة عنه، فلما أقسم المولى سبحانه على نفي الجنون فذلك إنما كان لإثبات ما قصد المشركون نفيه، فثبتت له النبوة.
وكان ذلك تسليةً أيضًا من الله تعالى للنبي صلى الله عليه وسلم لئلا يحزنه هذا القول، وتسرية عنه لما لاقاه من أذى بحمله دعوة الحق، إذ كان يظن صلى الله عليه وسلم أنه بدعوتهم إلى هذا الخير سيسرعون لتصديقه، وتأييده، والإيمان به، خاصة وأنه غير متهم عندهم، بل هو الصادق الأمين لديهم من قبل ومن بعد.
وأما رميهم له بالجنون صلى الله عليه وسلم، فهو ما ذكره القرآن الكريم عنهم في نفس السورة حيث شافهوا الرسول صلى الله عليه وسلم به فيقول القرآن الكريم: {وَإِنْ يَكَادُ الَّذِينَ كَفَرُوا لَيُزْلِقُونَكَ بِأَبْصَارِهِمْ لَمَّا سَمِعُوا الذِّكْرَ وَيَقُولُونَ إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ (51)} [القلم: 51]. وقد أكدوا قولهم هذا بحرف {وَإِنْ} ولام الابتداء {إِنَّهُ لَمَجْنُونٌ (51)} فأُجيب على قولهم بمؤكدات أقوى مما في كلامهم إذ أقسم عليه أولاً، وجيء بالباء التي تزاد بعد النفي لتأكيده ثانيًا، وثالثًا بالجملة الاسمية منفية لدلالة الجملة
নবুওয়াতের সত্যতার ওপর এবং রিসালাতের ওপর এক উজ্জ্বল প্রমাণ; কারণ তারা তাঁকে যে পাগলামির অপবাদ দিয়েছিল, স্বয়ং সেটিই তাঁর সত্যতার দলিল এবং তাঁর দাবির পক্ষে হুজ্জত হিসেবে শপথ করা হয়েছে। এই ধরনের অকাট্য দলিলসমূহ আপন সত্তায় এক মুজিজা এবং প্রতিপক্ষের জন্য অক্ষমকারী, যার ফলে তারা তা প্রত্যাখ্যান বা খণ্ডন করতে সক্ষম হয় না।
এখন আমরা শপথের জওয়াবের দিকে আসছি যাতে এর আয়াতসমূহ বিশ্লেষণ করতে পারি এবং যার ওপর শপথ করা হয়েছে তার মর্যাদা প্রত্যক্ষ করতে পারি। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য পূর্ণতা সাব্যস্ত করা হয়েছে এবং তাঁর থেকে ত্রুটি-বিচ্যুতি নাকচ করা হয়েছে—যা দুনিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, আর আখিরাতে তো মহান প্রতিদান ও সওয়াব রয়েছেই।
আর যার ওপর শপথ করা হয়েছে তা তিনটি, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি:
প্রথমত: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের থেকে পাগলামির অপবাদ নাকচ করা। পাগলামি নাকচ করার উদ্দেশ্য হলো নবী আলাইহিস সালাতু ওয়াস সালামের জন্য নবুওয়াত সাব্যস্ত করা। কেননা মুশরিকরা তাঁর ওপর পাগলামি আরোপ করার মাধ্যমে তাঁর নবুওয়াতকেই অস্বীকার করতে চেয়েছিল। সুতরাং যখন মাওলা সুবহানাহু পাগলামি নাকচ করার ওপর শপথ করলেন, তা মূলত সেই নবুওয়াতকে সাব্যস্ত করার জন্যই ছিল যা মুশরিকরা অস্বীকার করতে চেয়েছিল। ফলে তাঁর জন্য নবুওয়াত প্রমাণিত হলো।
আর এটি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য সান্ত্বনাও ছিল, যাতে এই কথা তাঁকে ব্যথিত না করে এবং হকের দাওয়াত প্রচার করতে গিয়ে তিনি যে কষ্টের সম্মুখীন হয়েছেন তা থেকে তাঁকে প্রশান্তি দেওয়া হয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধারণা করেছিলেন যে, তাদেরকে এই কল্যাণের দিকে দাওয়াত দিলে তারা তাঁকে দ্রুত বিশ্বাস করবে, সমর্থন জানাবে এবং তাঁর ওপর ঈমান আনবে; বিশেষ করে যেহেতু তিনি তাদের কাছে কোনোভাবে অভিযুক্ত ছিলেন না, বরং তিনি তাদের কাছে আগে থেকেই এবং পরেও সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর তাদের পাগলামির অপবাদ দেওয়ার বিষয়টি পবিত্র কুরআন এই সূরার মধ্যেই উল্লেখ করেছে, যেখানে তারা সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এ কথা বলেছিল। পবিত্র কুরআন বলছে: "আর কাফেররা যখন কুরআন শুনে, তখন তারা যেন তাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টির মাধ্যমে আপনাকে আছাড় দিয়ে ফেলে দেবে বলে মনে হয় এবং তারা বলে, নিশ্চয়ই সে তো এক পাগল।" (আল-কলম: ৫১)। তারা তাদের এই বক্তব্যকে 'ইন্না' এবং প্রারম্ভিক 'লাম' (নিশ্চয়ই সে একজন পাগল) দ্বারা জোরালো করেছিল। ফলে তাদের এই কথার জওয়াব তাদের বক্তব্যের চেয়েও অধিক শক্তিশালী নিশ্চয়তা দ্বারা দেওয়া হয়েছে; যেহেতু প্রথমত এর ওপর শপথ করা হয়েছে, দ্বিতীয়ত না-বোধক বাক্যের পরে জোরালো করার জন্য অতিরিক্ত 'বা' অক্ষর যুক্ত করা হয়েছে এবং তৃতীয়ত জুমলা ইসমিয়া বা বিশেষ্যমূলক না-বোধক বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে যা বাক্যের অর্থকে সুদৃঢ় করার প্রমাণস্বরূপ।
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
الاسمية على ثبات الخبر وهكذا كل ما ورد فيه نفى صفه الجنون عنه فإنما هو رد على أقوال المشركين كقوله: {وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُونٍ (22)} وقد زل فيه صاحب الكشاف زلة لا تليق بعلمه (1).
وقد أكد القرآن أن نفي الجنون عنه أنه بسبب نعمة الله تعالى عليه، أو لتلبسه بنعمة الله جلَّ وعلا، فكيف يكون مجنوناً من هو محاط بنعمة الله متدثراً بها، فهى عليه كاللباس مشتملاً بها.
وهو ما يدل في محاجة المشركين على أنّ هذه النعم كانت ظاهرة في حقه من الفصاحة، والعقل الكامل والسيرة المرضية، والبراءة من كل عيب، والاتصاف بكل مكرمة، فوجودها تنافي الجنون وحصوله، وقد نبه الله تعالى على هذه الدقيقة لتكون جارية مجرى الدلالة اليقينية على كونهم كاذبين في قولهم له إنه لمجنون (2).
يقول العلامة أبو السعود في "إرشاد العقل السليم" في ذكر قوله: {رَبِّكَ} حيث أظهر وصف الربوبية، وأضافها إلى النبي عليه السلام والصلاة - أنه يدل على عظمة قيمة
--------------------------------------------
নামপদীয় বাক্য খবরের স্থায়িত্ব নির্দেশ করে। আর এভাবেই তার থেকে উন্মাদনার গুণ নাকচ করার বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে, তা মূলত মুশরিকদের বক্তব্যেরই খণ্ডন; যেমন আল্লাহর বাণী: {এবং তোমাদের সাথী পাগল নন (২২)}। এ বিষয়ে আল-কাশশাফ রচয়িতা এমন এক পদস্খলন ঘটিয়েছেন যা তাঁর জ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় (১)।
কুরআন একথা সুনিশ্চিত করেছে যে, তার থেকে উন্মাদনা নাকচ হওয়া মূলত তার ওপর মহান আল্লাহর নিয়ামতের কারণে, অথবা মহান আল্লাহর নিয়ামতে তার বিভূষিত হওয়ার কারণে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতে পরিবেষ্টিত এবং তাতে আবৃত—যা তার ওপর পরিহিত বস্ত্রের ন্যায় তাকে ঢেকে রেখেছে—তিনি কীভাবে উন্মাদ হতে পারেন?
মুশরিকদের সাথে বিতর্কের ক্ষেত্রে এটি একথাই প্রমাণ করে যে, এই নিয়ামতসমূহ তার ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান ছিল; যেমন—সাবলীল বাগ্মিতা, পূর্ণাঙ্গ বুদ্ধি ও জ্ঞান এবং সন্তোষজনক জীবনচরিত, সকল দোষ-ত্রুটি থেকে পবিত্রতা এবং সকল প্রকার মহত্ত্বের গুণে গুণান্বিত হওয়া। এগুলোর উপস্থিতি উন্মাদনার অস্তিত্ব ও তার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়। আল্লাহ তাআলা এই সূক্ষ্ম বিষয়টি এ কারণেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যাতে তা তাদের দাবির ক্ষেত্রে—যে তিনি উন্মাদ—তাদের মিথ্যাবাদী হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে গণ্য হয় (২)।
আল্লামা আবুস সাউদ তাঁর 'ইরশাদুল আকলিস সালিম' গ্রন্থে {তোমার রব} শব্দটির উল্লেখ প্রসঙ্গে বলেন—যেখানে রুবুবিয়্যাত বা প্রভুত্বের গুণকে প্রকাশ করা হয়েছে এবং তা নবী আলাইহিস সালাম ও সালাতের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে—তা নবীর মর্যাদার বিশালত্ব নির্দেশ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
هذه النعمة، وعلى تشريف النبي صلى الله عليه وسلم بهذه الإضافة، وهذا نص كلامه: "والتعرض لوصف الربوبية المنبئة عن التبليغ إلى معارج الكمال، مع الإضافة إلى ضميره عليه الصلاة والسلام لتشريفه، والإيذان بأنه تعالى يتم نعمته عليه، ويبلغه من العلو إلى غاية لا غاية وراءها، والمراد تنزيهه عليه الصلاة والسلام عما كانوا ينسبونه إليه حسدًا وعداوة، ومكابرة، مع جزمهم بأنه عليه الصلاة والسلام في غاية الغايات القاصية، ونهاية النهايات الناهية من حصانة العقل ورزانة الرأي" (1).
بعد أن نَزَّه الله تعالى النبي عليه الصلاة والسلام عن قول المشركين ودفع عنه بهتان أعدائه، وثَبَّته على دعوته، وصبَّره وسلاه، وبَيَّن نعمته عليه، وعظيم درجته عنده، أعقب ذلك كله بإكرامه بأجر غير ممنون، وهو الجواب الثاني للقسم الذي ذكرنا، وهو أنه أقسم له - سبحانه - بأن له أجرًا غير ممنون، وما يقسم إلا على عظيم، وهو ذلك الأجر الذي بشره به، وهو أجر عام يشمل أجر الدنيا، وأجر الآخرة جراء ما لقيه من أذى المشركين، وأن دعوته وتحمله وصبره سوف يرى نتيجته وعاقبته بعينه في الدنيا، ويوم يقوم الناس لرب العالمين، وذلك ما حدث من عناية الله به في الدنيا ونصره على أولئك المكذبين
--------------------------------------------
এই নিয়ামত, এবং এই সম্বন্ধযুক্ত করার (ইদাফাহ) মাধ্যমে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যের মূল পাঠ হলো: "রুবূবিয়াতের (প্রভুত্ব) গুণাবলির আলোচনা—যা পূর্ণতার সোপানে পৌঁছে দেওয়ার বার্তা দেয়—তা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সর্বনামের প্রতি সম্বন্ধযুক্ত করার উদ্দেশ্য হলো তাঁকে সম্মানিত করা এবং এটি জানিয়ে দেওয়া যে, আল্লাহ তাআলা তাঁর উপর নিয়ামত পূর্ণ করবেন এবং তাঁকে এমন উচ্চ মর্যাদায় পৌঁছে দেবেন যার উপরে আর কোনো উচ্চতা নেই। এর উদ্দেশ্য হলো নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে সেই সকল অপবাদ থেকে পবিত্র ঘোষণা করা যা মুশরিকরা হিংসা, শত্রুতা এবং অহংকারবশত তাঁর প্রতি আরোপ করত; যদিও তারা নিশ্চিতভাবে জানত যে বুদ্ধি ও বিবেচনার স্থিরতার ক্ষেত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) চরম শিখরে এবং শেষ প্রান্তে অবস্থান করছেন।" (১)
আল্লাহ তাআলা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে মুশরিকদের কথা থেকে পবিত্র করার পর, তাঁর শত্রুদের অপবাদ প্রতিহত করার পর, তাঁকে তাঁর দাওয়াতের উপর অবিচল রাখার পর এবং তাঁকে ধৈর্য ও সান্ত্বনা প্রদানের পাশাপাশি তাঁর প্রতি আল্লাহর নিয়ামত ও তাঁর মহান মর্যাদার কথা বর্ণনা করার পর, এই সবকিছুর পর তাঁকে অশেষ প্রতিদান প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন। আর এটি হলো আমাদের উল্লেখিত শপথের দ্বিতীয় উত্তর; অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাঁর জন্য শপথ করেছেন যে, তাঁর জন্য রয়েছে এমন এক প্রতিদান যা কখনো শেষ হবে না। আর মহান সত্তা কোনো মহান বিষয় ছাড়া শপথ করেন না। আর এটিই সেই প্রতিদান যার সুসংবাদ তিনি তাঁকে দিয়েছেন। এটি একটি ব্যাপক প্রতিদান যা দুনিয়ার প্রতিদান এবং আখিরাতের প্রতিদান উভয়কেই শামিল করে, যা তিনি মুশরিকদের পক্ষ থেকে পাওয়া কষ্টের বিনিময়ে লাভ করবেন। তাঁর এই দাওয়াত, সহ্য করা এবং ধৈর্যের ফলাফল ও পরিণতি তিনি দুনিয়াতে নিজের চোখে দেখবেন এবং সেই দিনও দেখবেন যেদিন মানুষ জগতসমূহের রবের সামনে দণ্ডায়মান হবে। আর দুনিয়াতে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর প্রতি বিশেষ যত্ন এবং সেই মিথ্যাচারীদের বিরুদ্ধে বিজয় লাভের মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
والمستهزئين وغيرهم، ورفع رايته في الأرض، والتمكين لدين الله تعالى، مع ثواب الآخرة الدائم الذي لا ينقطع ولا يبيد.
وقد أكد هذا الثواب بـ {إِنَّ}، وبلام الابتداء وبتقديم المجرور في قوله {لَكَ}، وهو برهان جسامة هذا الأجر، وضخامته ووصوله إلى مرتبة لم يصل إليها أحد، دليل ذلك قوله {لَكَ} التي تفيد الاختصاص، بمعنى أنَّ هذا الأجر لك لا لغيرك، لم يحزه غيرك كائنًا من كان، فيدل ذلك على علو مرتبة النبي صلى الله عليه وسلم، ولما صح ووقع ذلك في الدنيا كان عنوانًا من عناوين صحة النبوة، وصدق الرسالة، فمن من المرسلين أو غيرهم رفعت رابته وانتشر دينه، ودام قوله، واستمرت تعاليمه على نحو ما كان له صلى الله عليه وسلم مع ما حدث من مجابهة وحروب لم يعلمها على الحقيقة والتفصيل إلا الله جلَّ شأنه.
ودلَّ كذلك أنه سيد ولد آدم يوم القيامة إذ هو أعلاهم وأعظمهم، فهو أعلاهم منزلة، صاحب الوسيلة التي لا تنبغي إلا لأحد من خلق الله، هو النبي صلى الله عليه وسلم.
وقيمة هذا الأجر وبقاؤه يوضحه قوله سبحانه وتعالى: {غَيْرَ مَمْنُونٍ} لا منَّ فيه: أي لا أذى فيه من المعطي للمعطَى له، من تعديده عليه، أو افتخاره به، وذكره له كما قال تعالى: {لَا تُبْطِلُوا صَدَقَاتِكُمْ بِالْمَنِّ وَالْأَذَى} [البقرة: 264] ويجوز أن يكون {مَمْنُونٍ} غير مقطوع عنه، وهو الثواب المتزايد كل يوم، أو الأجر الأبدي الذي لا يفنى، فكانت كلمة {مَمْنُونٍ} لها من الإيجاز بجمع هذين المعنيين ما ليس لقوله: {عَطَاءً غَيْرَ مَجْذُوذٍ (108)} [هود: 108] في سورة هود، وهو هنا مناسب لتكريم (1) النبي صلى الله عليه وسلم ولتبيان أعظم ما له من الثواب عند الله تعالى، فهو لا يصل إليه أحد فضلاً عن أن يدانيه، إذ هو له خاصة لا يشركه فيه غيره، ولا أذى
--------------------------------------------
...বিদ্রূপকারী ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে, এবং পৃথিবীতে তাঁর পতাকাকে সমুন্নত করা, আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত করা, সেই সাথে পরকালের চিরস্থায়ী সওয়াব যা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না এবং শেষ হবে না।
আর নিশ্চয়ই এই প্রতিদানকে 'ইন্না' (নিশ্চয়ই), প্রারম্ভিক তাকিদসূচক 'লাম' এবং তাঁর বাণী 'লাকা' (আপনার জন্য)-তে মাজরুরকে আগে নিয়ে আসার মাধ্যমে সুনিশ্চিত করা হয়েছে। এটি এই পুরস্কারের বিশালতা ও মহত্বের প্রমাণ, যা এমন এক সুউচ্চ স্তরে পৌঁছেছে যেখানে অন্য কেউ পৌঁছাতে পারেনি। এর প্রমাণ হলো তাঁর বাণী 'লাকা' যা বিশেষত্ব প্রকাশ করে; অর্থাৎ এই পুরস্কার আপনারই জন্য, অন্য কারো জন্য নয়। যেই হোক না কেন, অন্য কেউ এটি অর্জন করতে পারেনি। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে। আর যখন দুনিয়াতে এটি বাস্তবায়িত ও সংঘটিত হয়েছে, তখন তা নবুওয়াতের সত্যতা ও রিসালাতের সত্যবাদিতার অন্যতম নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ রাসুলদের মধ্য থেকে বা অন্য কার পতাকা এমনভাবে সমুন্নত হয়েছে, কার দ্বীন এমনভাবে প্রসারিত হয়েছে, কার বাণী এমনভাবে স্থায়ী হয়েছে এবং কার শিক্ষা এমনভাবে অব্যাহত রয়েছে—যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ক্ষেত্রে হয়েছে? অথচ তাঁকে এমন সব প্রতিকূলতা ও যুদ্ধের সম্মুখীন হতে হয়েছিল যা প্রকৃত ও বিস্তারিতভাবে আল্লাহ জাল্লা শানুহু ছাড়া আর কেউ জানে না।
এটি আরও নির্দেশ করে যে, তিনি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানদের সরদার, কারণ তিনি তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ও সর্বশ্রেষ্ঠ। তিনি মর্যাদায় তাদের সবার ঊর্ধ্বে এবং 'ওয়াসিলা'র অধিকারী—যা আল্লাহর সৃষ্টিজগতের মধ্যে কেবল একজনের জন্যই উপযুক্ত, আর তিনি হলেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
আর এই পুরস্কারের গুরুত্ব ও স্থায়িত্ব মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার এই বাণী দ্বারা স্পষ্ট হয়: {গাইরা মামনুন} অর্থাৎ এতে কোনো অনুযোগ বা খোঁটা নেই। এর অর্থ হলো দাতা কর্তৃক গ্রহীতাকে কোনো কষ্ট দেওয়া নেই—যেমনটি দানের কথা বারবার মনে করিয়ে দেওয়া বা তা নিয়ে অহংকার করা; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {তোমরা খোঁটা দিয়ে ও কষ্ট দিয়ে তোমাদের দান-খয়রাতকে বাতিল করো না} [বাকারা: ২৬৪]। আবার এটিও সম্ভব যে, {মামনুন} অর্থ হলো যা বিচ্ছিন্ন হবে না; আর তা হলো সেই সওয়াব যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পায় অথবা সেই চিরন্তন প্রতিদান যা কখনো শেষ হবে না। সুতরাং {মামনুন} শব্দটির মধ্যে এই দুটি অর্থকে একত্রিত করার এমন এক সংক্ষিপ্ত অলঙ্কারিতা রয়েছে যা সূরা হুদে তাঁর এই বাণীর মধ্যে নেই: {আতাআন গাইরা মাজজুয (১০৮)} [হুদ: ১০৮]। আর এটি এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সম্মান প্রদর্শন এবং আল্লাহর কাছে তাঁর সুমহান সওয়াব স্পষ্ট করার জন্য উপযুক্ত। কারণ এই সওয়াব পর্যন্ত কেউ পৌঁছাতে পারবে না, তার কাছাকাছি হওয়া তো দূরের কথা। কারণ এটি বিশেষভাবে তাঁরই জন্য, যাতে অন্য কেউ অংশীদার নয় এবং এতে কোনো কষ্ট নেই
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
فيه، مع تزايده وأبديته فكان ذلك تأنيسًا وتثبيتًا لقلب الرسول مع البشرى والوعد الجميل بما لا مزيد عليه.
وبعد أن آنس نفس رسوله صلى الله عليه وسلم بهذا الوعد، جاء المقسم عليه الثالث، وهو قوله تعالى: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} [القلم: 4] فسفَّه رأي أعدائه بقولهم مجنون، ودفعه بما يذهبه ويبطله مما يعلمه قومه، فحقق أنه متلبس بخلق عظيم، وذلك ضد الجنون، وقد أكد بمؤكدين بحرف {إِنَّ} وبلام الابتداء أي أنه كلام لا يدع مجالاً لشك أو تردد، وكأنه يؤكد الواقع الذي لا يمارون فيه، ولا يكذبون به (1).
والخلق: طباع النفس وعاداتها وسجاياها، وأكثر إطلاقه على طباع الخير إذ لم يُتْبع ينعت.
والعظيم: الرفيع القدر، وهو مستعار من ضخامة الجسم، وشاعت هذه الاستعارة حتى ساوت الحقيقة.
و {عَلَى} للاستعلاء المجازي المراد به التمكن كقوله تعالى: {أُولَئِكَ عَلَى هُدًى مِنْ رَبِّهِمْ} [البقرة: 5]، ومنه قوله تعالى: {إِنَّكَ عَلَى الْحَقِّ الْمُبِينِ} [النمل: 79].
والخلق العظيم هو الخلق الأكرم في نوع الأخلاق، وهو البالغ أشد الكمال المحمود في طبع الإنسان، لذلك فالخلق العظيم أرفع من مطلق الخلق الحسن، فلاجتماع مكارم
--------------------------------------------
এতে, এর উত্তরোত্তর বৃদ্ধি এবং চিরস্থায়ীত্বের সাথে, এটি ছিল রাসুলের অন্তরের জন্য এক প্রশান্তি ও দৃঢ়তা, সাথে এমন সুসংবাদ এবং সুন্দর ওয়াদা যার ওপরে আর কিছু নেই।
আর তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অন্তরকে এই ওয়াদার মাধ্যমে প্রশান্ত করার পর, শপথের তৃতীয় বিষয়টি এল, যা মহান আল্লাহর বাণী: “আর নিশ্চয় আপনি এক মহান চরিত্রের অধিকারী” [আল-কালাম: ৪]। এর মাধ্যমে তিনি তাঁর শত্রুদের দেওয়া ‘পাগল’ আখ্যাকে মূর্খতাসুলভ সাব্যস্ত করেছেন এবং তাদের জানা বিষয়ের মাধ্যমেই তা খণ্ডন ও বাতিল করেছেন। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী, যা উন্মাদের বিপরীত। এখানে ‘ইন্না’ (নিশ্চয়) হরফ এবং প্রারম্ভিক ‘লাম’ (লা-আলা)—এই দুই তাকিদ বা নিশ্চয়তাসূচক শব্দের মাধ্যমে বিষয়টি সুনিশ্চিত করা হয়েছে; অর্থাৎ এটি এমন এক কথা যা সন্দেহ বা দ্বিধার কোনো অবকাশ রাখে না। যেন এটি এমন এক বাস্তবতাকে সুনিশ্চিত করছে যা তারা অস্বীকার করতে পারে না এবং যাতে তারা মিথ্যে বলে না (১)।
আর চরিত্র (খুলুক) হলো: আত্মার স্বভাব, অভ্যাস ও প্রকৃতি। গুণবাচক বিশেষণের প্রয়োগ ছাড়া এটি সাধারণত ভালো স্বভাবের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
আর মহান (আজিম) হলো: উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। এটি দেহের বিশালত্ব থেকে রূপক হিসেবে নেওয়া হয়েছে, এবং এই রূপকটি এতটাই প্রচলিত হয়েছে যে তা মূল অর্থের সমপর্যায়ে চলে এসেছে।
আর ‘আলা’ (উপর) শব্দটি এখানে রূপক শ্রেষ্ঠত্ব বা কর্তৃত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো কোনো বিষয়ে সুদৃঢ় হওয়া। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: “তারাই তাদের রবের পক্ষ থেকে হেদায়েতের ওপর রয়েছে” [আল-বাকারাহ: ৫]। অনুরূপভাবে মহান আল্লাহর বাণী: “নিশ্চয় আপনি সুস্পষ্ট সত্যের ওপর রয়েছেন” [আন-নামল: ৭৯]।
আর মহান চরিত্র হলো চরিত্রের প্রকারভেদগুলোর মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ চরিত্র। এটি মানুষের স্বভাবে প্রশংসিত পূর্ণতার সর্বোচ্চ শিখর। তাই মহান চরিত্র কেবল সাধারণ সচ্চরিত্রের চেয়ে অধিক উচ্চতর। কারণ সমস্ত মহৎ গুণের সমাবেশের ফলে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الأخلاق إذاً في النبي صلى الله عليه وسلم، فهو أحسن الخلق معاملة للناس على مختلف الأحوال المقتضية لحسن المعاملة.
ولاجتماع هذه الأخلاق فيه صلى الله عليه وسلم رأينا السيدة عائشة رضي الله عنها تقول: كان خلق نبي الله صلى الله عليه وسلم القرآن (1)، أي هو أدب القرآن ويشمل ذلك كل ما وصف به القرآن مكارم الأخلاق، ويشمل كذلك ما وصف به النبي صلى الله عليه وسلم من نحو قوله: {فَبِمَا رَحْمَةٍ مِنَ اللَّهِ لِنْتَ لَهُمْ} [آل عمران: 159] وقوله تعالى: {خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ} [الأعراف: 199] وغير ذلك من آيات القرآن الكريم.
وأيضًا ما أخذ به رسول الله صلى الله عليه وسلم من الأدب بطريق الوحي غير القرآن قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: (إنما بعثت لأتمم مكارم الأخلاق) (2) فجعل أصل شريعته إكمال ما يحتاجه البشر من مكارم الأخلاق في نفوسهم.
وإذا كان الرسول صلى الله عليه وسلم هو صاحب الخلق العظيم، وأن الخلق العظيم هذا هو أدب الوحي الذي نزل عليه، فإن ذلك يدل على أن الرسول صلى الله عليه وسلم هو المظهر الأكبر لهذا الخلق، ومن ثم أمره الله تعالى أن يقول: {وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ (163)} [الأنعام: 163] حيث صار بعد أمر ربه بقوله: {ثُمَّ جَعَلْنَاكَ عَلَى شَرِيعَةٍ مِنَ الْأَمْرِ فَاتَّبِعْهَا} [الجاثية: 18] أول وأعظم المتبعين لها والمتخلقين بأخلاقها.
والأمر المهم الآخر في هذا الكلام أن الشريعة هذه أيضًا متمكنة تمام التمكن من عظيم الأخلاق، مرتبطة به أشد الارتباط، فكانت هي الأخرى المظهر الأجلّ الأعظم
--------------------------------------------
সুতরাং চরিত্র হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বৈশিষ্ট্য, কেননা তিনি মানুষের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে সৃষ্টির মধ্যে সর্বোত্তম ছিলেন, সেই সমস্ত বিচিত্র পরিস্থিতিতে যা উত্তম আচরণের দাবি রাখে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মধ্যে এই সমস্ত চরিত্রের সম্মিলন ঘটার কারণেই আমরা সায়্যিদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলতে দেখি: আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চরিত্র ছিল কুরআন (১), অর্থাৎ তা হলো কুরআনের শিষ্টাচার। এটি কুরআনে বর্ণিত সকল মহৎ চরিত্রকে অন্তর্ভুক্ত করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে তাও এর অন্তর্ভুক্ত, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আল্লাহর দয়ায় আপনি তাদের প্রতি কোমল হয়েছিলেন} [আল ইমরান: ১৫৯] এবং তাঁর বাণী: {আপনি ক্ষমা প্রদর্শন করুন, সৎকাজের আদেশ দিন এবং মূর্খদের এড়িয়ে চলুন} [আল-আরাফ: ১৯৯] এবং পবিত্র কুরআনের অন্যান্য আয়াতসমূহ।
অনুরূপভাবে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআন ব্যতিরেকে ওহীর মাধ্যমে যে শিষ্টাচার গ্রহণ করেছেন, সে সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (আমি কেবল উত্তম চারিত্রিক গুণাবলিকে পূর্ণতা দান করার জন্যই প্রেরিত হয়েছি) (২)। ফলে তিনি তাঁর শরীয়তের মূল ভিত্তি বানিয়েছেন মানুষের অন্তরে মহৎ চরিত্রের যে প্রয়োজন রয়েছে তার পূর্ণতা বিধানকে।
আর যেহেতু রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুমহান চরিত্রের অধিকারী এবং এই সুমহান চরিত্র ছিল তাঁর উপর অবতীর্ণ ওহীর শিষ্টাচার, তাই এটি প্রমাণ করে যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন এই চরিত্রের সবচেয়ে বড় বহিঃপ্রকাশ। আর এ কারণেই মহান আল্লাহ তাঁকে বলার নির্দেশ দিয়েছেন: {এবং আমিই মুসলমানদের মধ্যে প্রথম (১৬৩)} [আল-আনআম: ১৬৩]। যেহেতু তাঁর রবের বাণী: {অতঃপর আমি আপনাকে দ্বীনের এক বিশেষ শরীয়তের ওপর প্রতিষ্ঠিত করেছি, সুতরাং আপনি তার অনুসরণ করুন} [আল-জাসিয়া: ১৮]-এর নির্দেশের পর তিনি শরীয়তের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ অনুসারী এবং এর চরিত্রে চরিত্রবান হয়েছেন।
এই আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই শরীয়তও মহান চরিত্রের ওপর পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত এবং এর সাথে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত, ফলে এটিও ছিল চরিত্রের এক সুমহান ও শ্রেষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
لمكارم الأخلاق وفضائلها، وبهذا يزداد وضوحاً معنى التمكن الذي أفاده حرف الاستعلاء في قوله: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} [القلم: 4] فهو متمكن من الخلق العظيم في نفسه، ومتمكن منه في دعوته الدينية (1).
ويؤكد سيد قطب أن تلك الأخلاق مربوطة بالسماء وليس العرف أو المصلحة إذ ذاك في الأرض هو الذي يحددها أو ينشئها فيقول: "لقد لخص الرسول صلى الله عليه وسلم رسالته في هذا الهدف النبيل، وهو أنَّه بعث ليتمم مكارم الأخلاق، ومن ثمَّ كانت سيرته الشخصية مثالاً حيَّا، وصفحة نقية وصورة رفيعة، تستحق من الله أن يقول عنها في كتابه الخالد: {وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ (4)} [القلم: 4] " فيُمجِّد بهذا الثناء نبيه، كما يُمجِّد به العنصر الأخلاقي في منهجه، ويشد به الأرض إلى السماء، ويعلق به قلوب الراغبين إليه - سبحانه - وهو يدلهم على ما يُحب ويَرضى من الخلق القويم.
هذا الاعتبار هو الاعتبار الفذّ في أخلاقية الإسلام، فهي لم تنبع من البيئة، ولا اعتبارات أرضية إطلاقًا ولا تستمد، ولا تعتمد على ما كان قائمًا من اعتبارات العرف أو المصلحة أو الارتباطات، إنما تُستمد من السماء، وتعتمد على السماء، تُستمد من صفات الله المطلقة ليحققها البشر في حدود الطاقة، كي يحققوا إنسانيتهم العليا وكي يصبحوا أهلاً لتكريم الله لهم واستخلافهم في الأرض، وكي يتأهلوا للحياة الرفيعة الأخرى بجوار الله تعالى: {فِي مَقْعَدِ صِدْقٍ عِنْدَ مَلِيكٍ مُقْتَدِرٍ (55)} [القمر: 55].
وهذه الأخلاق ليست فضائل مفردة: صدق، وأمانة، وعدل
… إنما هي منهج متكامل، تتعاون فيه التربية التهذيبية مع الشريعة التنظيمية، وتقوم عليه فكرة الحياة كلها
--------------------------------------------
উত্তম চরিত্রের মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্বসমূহের জন্য; আর এর মাধ্যমেই সেই সুদৃঢ় অবস্থানের অর্থ অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠে যা আল্লাহ তাআলার এই বাণীতে 'আলা' (উপরে) অব্যয়টি উচ্চতা ও শ্রেষ্ঠত্বের অর্থে প্রদান করেছে: "আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন।" [আল-ক্বলম: ৪]। সুতরাং তিনি স্বীয় সত্তার দিক থেকে সুমহান চরিত্রের ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত এবং তাঁর দ্বীনি দাওয়াতের ক্ষেত্রেও এর ওপর সুদৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত (১)।
সাইয়্যেদ কুতুব জোর দিয়ে বলেন যে, সেই চরিত্রসমূহ আসমানের (ওহির) সাথে সম্পৃক্ত; যমিনের কোনো প্রথা বা স্বার্থ তা নির্ধারণ করে না বা তৈরি করে না। তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রিসালাতকে এই মহৎ উদ্দেশ্যের মধ্যে সংক্ষেপিত করেছেন যে, তাঁকে পাঠানো হয়েছে উত্তম চরিত্রের পূর্ণতা দানের জন্য। অতঃপর তাঁর ব্যক্তিগত সীরাত ছিল একটি জীবন্ত উদাহরণ, এক স্বচ্ছ পৃষ্ঠা এবং এক সুউচ্চ প্রতিচ্ছবি, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর চিরন্তন কিতাবে এই প্রশংসার যোগ্য হয়েছে: 'আর নিশ্চয়ই আপনি সুমহান চরিত্রের ওপর রয়েছেন।' [আল-ক্বলম: ৪]।" আল্লাহ এই প্রশংসার মাধ্যমে তাঁর নবীকে মহিমান্বিত করেছেন, যেমন তিনি এর মাধ্যমে তাঁর জীবনবিধানের নৈতিক উপাদানকেও মহিমান্বিত করেছেন। এর দ্বারা তিনি যমিনকে আসমানের সাথে যুক্ত করেছেন এবং তাঁর (সুবহানাহু ওয়া তাআলা) প্রতি অনুরাগী ব্যক্তিদের অন্তরসমূহকে তাঁর সাথে সম্পৃক্ত করেছেন—যিনি তাদের সেই সঠিক চরিত্রের দিশা দিচ্ছেন যা তিনি পছন্দ করেন এবং যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন।
এই দৃষ্টিভঙ্গিই হলো ইসলামি নৈতিকতার অনন্য বৈশিষ্ট্য। এটি কোনো পরিবেশ থেকে উদ্ভূত হয়নি, এমনকি কোনো পার্থিব বিবেচনার ওপরও নয়। এটি কোনো বিদ্যমান প্রথা, স্বার্থ বা জাগতিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি আসমান থেকে উৎসারিত এবং আসমানের ওপরই নির্ভরশীল। এটি আল্লাহর নিরঙ্কুশ গুণাবলি থেকে গৃহীত যাতে মানুষ তাদের সাধ্যের সীমানায় তা বাস্তবায়ন করতে পারে, যেন তারা তাদের উচ্চতর মানবতাকে অর্জন করতে পারে এবং যমিনে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রাপ্ত সম্মান ও খেলাফতের যোগ্য হতে পারে। আর যেন তারা মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে পরকালের উচ্চতর জীবনের উপযুক্ত হতে পারে: "সত্যের আসনে, সর্বশক্তিমান অধিপতির নিকটে।" [আল-ক্বামার: ৫৫]।
আর এই চরিত্রগুলো কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো গুণাবলি নয়: যেমন সত্যবাদিতা, আমানতদারি বা ন্যায়বিচার... বরং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান, যেখানে আত্মশুদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ এবং সুশৃঙ্খল শরিয়ত একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে এবং এর ওপরই সমগ্র জীবনের চিন্তাধারা প্রতিষ্ঠিত।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
واتجاهاتها جميعاً، وتنتهي في خاتمة المطاف إلى الله لا إلى أي اعتبار آخر من اعتبارات هذه الحياة.» (1)
تعريف الأخلاق عند الفلاسفة:
وتجدر الإشارة هنا إلى ذكر شيء مما قاله الحكماء والفلاسفة من المسلمين ومن غيرهم في تعريف الأخلاق، لنرى مدى ارتباط هذه الأخلاق ارتباطاً وثيقاً بالنبي صلى الله عليه وسلم، ومدى تحققها فيه إلى أقصى غاية ممكنة، وبالتالي من حيث شعروا أو لم يشعروا، نرى مدى بناء هذه الشريعة على تلك الأخلاق وتأسيسها عليها، وفي ذات الوقت يكون ردًا على هؤلاء المستشرقين الذين عاثوا فساداً في دين الإسلام، وأخلاق الرسول صلى الله عليه وسلم.
نقل أسعد الحمراني عن "معجم لاروس" بأن الأخلاق: "هي علم تحديد معايير وقواعد السلوك، أو هي علم التعرف على الحقوق والواجبات" (2).
وذكر الحمراني أيضاً أن علم الأخلاق: "هو جملة القواعد والأسس التي يعرف بواسطتها الإنسان معيار الخير في سلوك ما، أو مدى الفساد والشر المتمثل في سلوك آخر (3).
وإن كان هذا هو تعريف الأخلاق عند الغربيين، فإن تعريف المحدثين والقدماء مما يبين جوانب الموضوع، ويوضح ملامحه، حتى إذا جئنا لتعريف الحكماء والفلاسفة والعلماء المسلمين للأخلاق اكتملت الصورة، وحينئذ نطبق هذه الصورة المكتملة للتعريف على
--------------------------------------------
এবং এর সকল দিকসমূহ, এবং এটি সর্বশেষ গন্তব্যে আল্লাহর নিকট গিয়ে শেষ হয়, এই জীবনের অন্য কোনো বিবেচ্য বিষয়ের নিকট নয়।» (১)
দার্শনিকদের নিকট আখলাকের (চরিত্রের) সংজ্ঞা:
এখানে মুসলিম ও অমুসলিম প্রাজ্ঞ ও দার্শনিকগণ আখলাকের সংজ্ঞায় যা বলেছেন তার কিছু উল্লেখ করা সমীচীন হবে, যাতে আমরা দেখতে পাই যে এই আখলাক বা চরিত্রের সাথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কত গভীর সম্পর্ক রয়েছে এবং তাঁর মাঝে তা কতখানি সর্বোচ্চ মাত্রায় অর্জিত হয়েছিল। ফলে তারা অনুভব করুক বা না করুক, আমরা দেখতে পাই যে এই শরীয়ত কতটা এই আখলাকের ওপর নির্মিত ও প্রতিষ্ঠিত। একই সাথে এটি সেই সকল প্রাচ্যবিদদের উপযুক্ত জবাব হবে যারা ইসলাম ধর্ম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চরিত্রের ব্যাপারে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।
আসআদ আল-হামরানি "মুজাম লারোস" থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, আখলাক হলো: "আচরণের মানদণ্ড ও নিয়মাবলী নির্ধারণের বিজ্ঞান, অথবা এটি অধিকার ও কর্তব্যসমূহ চেনার বিজ্ঞান" (২)।
হামরানি আরও উল্লেখ করেছেন যে, নীতিশাস্ত্র বা আখলাক বিজ্ঞান হলো: "এমন কিছু নিয়ম ও মূলনীতির সমষ্টি যার মাধ্যমে মানুষ কোনো আচরণের মাঝে কল্যাণের মানদণ্ড অথবা অন্য কোনো আচরণের মাঝে বিদ্যমান মন্দ ও অনিষ্টের মাত্রা জানতে পারে" (৩)।
যদিও এটি পশ্চিমাদের নিকট আখলাকের সংজ্ঞা, তবুও আধুনিক ও প্রাচীন পণ্ডিতদের সংজ্ঞা এই বিষয়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে এবং এর স্বরূপ স্পষ্ট করে। এমনকি যখন আমরা আখলাকের বিষয়ে মুসলিম প্রাজ্ঞ, দার্শনিক ও আলেমদের সংজ্ঞার আলোচনায় আসব, তখন এই চিত্রটি পূর্ণতা পাবে। আর তখনই আমরা সংজ্ঞার এই পূর্ণাঙ্গ রূপটি প্রয়োগ করব...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
رسالة الإسلام، وعلى رسولها صلى الله عليه وسلم. لنرى بموضوعية كيف تمثلت هذه الأخلاق فيهما على أتم وجه، وأحسن سيرة، ونلج المقصود مباشرة فنقول: أمَّا الأخلاق عند الغربيين المحدثين فتعرف بأنها: "تصور وتقييم ما ينبغي أن يكون عليه السلوك، متمشية في ذلك مع مثل أعلى أو مبدأ أساسي تخضع له التصرفات الإنسانية، ويكون مؤازراً للجانب الخَيِّر في الطبيعة البشرية" (1).
ويلاحظ الباحث أن تعريفات الأخلاق عند الغربيين لا تفرق بين الحديث والقديم، حيث يبين ذلك كلام ابن مسكويه بدون قصد منه للتفريق بين التعريفات، فيحدد الأخلاق مبيناً وجهة نظر القدماء، أي فلاسفة اليونان بأنها: "علمٌ يعرف به حال النفس من حيث ماهيتها، وطبيعتها، وعلة وجودها، وفائدتها، ما هي وظيفتها التي تؤديها، وما الفائدة من وجودها، وعن سجاياها، وعن أميالها، وما ينقلها بسبب التعاليم إلى الحالة الفطرية، وذكر أن هذا أول علم تأسس منذ بدء الخليقة" (2).
ونختار تعريف الجرجاني حيث هو من اعتنى بالتعريفات، ليبين تعريف الأخلاق عند علماء المسلمين المتقدمين، وهو ما درج عليه متأخروهم من المهتمين منهم بالأخلاق والتفسير فيقول: " الخلق عبارة عن هيئة للنفس راسخة يصدر عنها الأفعال بسهولة ويسر من غير حاجة إلى فكر وروية، فإن كان الصادر منها الأفعال الحسنة، كانت الهيئة خلقاً حسناً، وإن كان الصادر منها الأفعال القبيحة، سميت الهيئة التي هي مصدر ذلك خلقاً سيئاً، وإنما قلنا هيئة راسخة؛ لأن من يصدر منه بذل المال على الندور بحالة عارضة لا يقال
--------------------------------------------
ইসলামের দাওয়াত এবং তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর। আমরা বস্তুনিষ্ঠভাবে দেখব কীভাবে এই নৈতিকতা তাঁদের মধ্যে পূর্ণাঙ্গতম রূপে এবং সর্বোত্তম জীবনচরিতে প্রতিফলিত হয়েছে। আমরা সরাসরি মূল বিষয়ে প্রবেশ করে বলছি: আধুনিক প্রাচ্যবিদদের নিকট নৈতিকতার সংজ্ঞা হলো: "আচরণ কেমন হওয়া উচিত তার কল্পনা ও মূল্যায়ন, যা একটি উচ্চতর আদর্শ বা মৌলিক নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ যার অধীনে মানুষের কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয় এবং যা মানবপ্রকৃতির কল্যাণকর দিকটিকে সহায়তা করে" (১)।
গবেষক লক্ষ্য করেন যে, প্রাচ্যবিদদের নিকট নৈতিকতার সংজ্ঞায় আধুনিক ও পুরাতনের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। ইবনে মিসকাওয়াহর বক্তব্য অবচেতনভাবে সংজ্ঞাসমূহের মধ্যে পার্থক্য না করেই এটি স্পষ্ট করে। তিনি প্রাচীনদের অর্থাৎ গ্রিক দার্শনিকদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে নৈতিকতাকে সংজ্ঞায়িত করেছেন এভাবে: "এটি এমন এক বিজ্ঞান যার মাধ্যমে আত্মার অবস্থা জানা যায়—তার সারসত্তা, প্রকৃতি, অস্তিত্বের কারণ এবং উপযোগিতার দিক থেকে; এটি কী দায়িত্ব পালন করে, এর অস্তিত্বের ফায়দা কী, এর স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ও ঝোঁকসমূহ কী এবং শিক্ষার মাধ্যমে যা তাকে স্বভাবজাত অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সৃষ্টিজগতের শুরু থেকে এটিই সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত বিজ্ঞান" (২)।
আমরা আল-জুরজানীর সংজ্ঞাটি নির্বাচন করছি, যেহেতু তিনি সংজ্ঞায়নের বিষয়ে বিশেষ যত্ন নিয়েছেন, যাতে পূর্বসূরী মুসলিম আলেমদের নিকট নৈতিকতার সংজ্ঞা স্পষ্ট হয়। আর এটিই পরবর্তীকালের নৈতিকতা ও তাফসির বিশারদগণের অনুসৃত পথ। তিনি বলেন: "চরিত্র হলো আত্মার এমন এক সুদৃঢ় অবস্থা, যার ফলে কোনো প্রকার চিন্তা-ভাবনা বা দ্বিধা ছাড়াই স্বাচ্ছন্দ্য ও সহজভাবে কাজ সম্পাদিত হয়। যদি সেই অবস্থা থেকে সুন্দর কাজ প্রকাশিত হয়, তবে সেই অবস্থাকে 'উত্তম চরিত্র' বলা হয়। আর যদি তা থেকে মন্দ কাজ প্রকাশিত হয়, তবে সেই অবস্থাকে যা এর উৎস, তাকে 'মন্দ চরিত্র' বলা হয়। আমরা 'সুদৃঢ় অবস্থা' এ জন্য বলেছি যে, যদি কারো কাছ থেকে আকস্মিক কোনো কারণে কদাচিৎ অর্থ ব্যয় পরিলক্ষিত হয়, তবে তাকে বলা হয় না
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
خلقه السخاء ما لم يثبت ذلك في نفسه" (1).
إن المتأمل فيما سبق من التعريفات لا يجد مشقة أو صعوبة في أن يقرر بكل أمانة أن تلك الصفات لم تتحقق لأحد متكاملة على هذا النسق في غير محمد صلى الله عليه وسلم، إذ لا يحتاج لروية وتدبر، أو أعمال فكر إذا كان مشتغلاً بالتاريخ فقط أن يقول إنَّ تلك الأخلاق كانت في أسمى صورها، والتي هي باقية ما بقي ناس يعلمون عن محمد صلى الله عليه وسلم، ولو سأل المنصف نفسه من الذي ادعى، أو إدُعِيَ له على مدار التاريخ الإنساني كله أنه يتمتع بتلك الأخلاق، واتصف بأعلى كمالاتها، وما تزال آثارها باقية بل مكتملة كما كانت فيه، بلغت كما نقلت عنه، وتمثلها أتباعه، ويحاولون إلى اليوم، لم تجد مؤرخاً، ولا عالماً، ولا عاقلاً محايداً، منصفاً، أو غير منصف إلا أن يقول: ما ذكر ذلك إلا عن محمد صلى الله عليه وسلم، وإن ذكر غيره في ميدان من ميادين هذه الأخلاق، فما ذكرت كل الأخلاق وأعلاها إلا له.
لا نحتاج إلى تنزيل معاني هذه التعريفات - كما أسلفنا - على النبي صلى الله عليه وسلم، خاصة وهي تعريفات قاصرة مليئة بالثغرات والمآخذ، إذ الواقع والسير قد كفتننا مؤنه ذلك، وإنما نقف عند تعريفات العلماء المسلمين، إذ هم قد زادوا على هذه التعريفات أموراً تسد خللها، وتكمل النقص فيها، وبالتالي تجعل هذه التعريفات أجمع وأمنع من تعريفات الغربيين، وبناء عليه، فإذا كانت هذه التعريفات الشاملة قد جمعت لمحمد صلى الله عليه وسلم فمن باب الأولى، قد أحاطت أخلاقه بتعريفات أولئك، ولا بأس حينئذ أن نذكر تعريفاً للأخلاق عند المسلمين، يقول مقداد يالجين معرفاً الأخلاق في نظر الإسلام بقوله: "هي عبارة عن مجموعة المبادئ والقواعد المنظمة للسلوك الإنساني التي يحددها الوحي لتنظيم حياة الإنسان، وتحديد
--------------------------------------------
"তার স্বভাব হলো দানশীলতা, যতক্ষণ না তা তার নিজের মধ্যে বদ্ধমূল হয়" (১)।
পূর্ববর্তী সংজ্ঞাসমূহ নিয়ে যে ব্যক্তি গভীরভাবে চিন্তা করবে, সে পূর্ণ আমানতদারিতার সাথে এটি সিদ্ধান্ত নিতে কোনো কষ্ট বা কাঠিন্য অনুভব করবে না যে, এই গুণাবলি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ব্যতীত অন্য কারো মাঝে এই আঙ্গিকে পূর্ণাঙ্গভাবে অর্জিত হয়নি। কেননা, কেউ যদি কেবল ইতিহাসের অধ্যয়নেও রত থাকে, তবে এই কথা বলতে তার গভীর মনোনিবেশ, গবেষণা বা মেধা প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না যে, এই উন্নত চরিত্রসমূহ তার মাঝে সর্বোচ্চ রূপে বিদ্যমান ছিল। আর যতক্ষণ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে অবগত মানুষ বেঁচে থাকবে, ততক্ষণ তা অবশিষ্ট থাকবে। যদি কোনো ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি নিজেকে প্রশ্ন করে যে, সমগ্র মানব ইতিহাসের পরিক্রমায় কে এমন আছে যে এই চরিত্রগুলোর অধিকারী হওয়ার দাবি করেছে, অথবা কার সম্পর্কে এমন দাবি করা হয়েছে এবং কে এর সর্বোচ্চ পূর্ণতায় ভূষিত হয়েছে—যার প্রভাব আজও বিদ্যমান, বরং তেমনি পূর্ণাঙ্গ রয়ে গেছে যেমনটি তাঁর মধ্যে ছিল, ঠিক সেভাবেই পৌঁছেছে যেভাবে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং তাঁর অনুসারীরা তা ধারণ করেছে এবং আজও করার চেষ্টা করছে—তবে সে কোনো ঐতিহাসিক, কোনো আলিম বা কোনো নিরপেক্ষ, ন্যায়নিষ্ঠ কিংবা অন্যায়কারী বুদ্ধিমান ব্যক্তিকে পাবে না যে এই কথা বলবে না যে: "এসব কেবল মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কেই বর্ণিত হয়েছে।" যদিও এই চরিত্রগুলোর কোনো একটি বিশেষ ক্ষেত্রে অন্যের কথা উল্লেখ করা হয়, তবে সকল সচ্চরিত্র এবং তার সর্বোচ্চ শিখর কেবল তাঁর জন্যই বর্ণিত হয়েছে।
নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর এই সংজ্ঞাসমূহের অর্থ প্রয়োগ করার আমাদের প্রয়োজন নেই—যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—বিশেষ করে যেহেতু এই সংজ্ঞাসমূহ অপূর্ণাঙ্গ এবং ত্রুটি ও আপত্তিতে ভরপুর। কেননা বাস্তবতা এবং সীরাত (নবী-জীবন) আমাদের সেই কষ্ট থেকে রেহাই দিয়েছে। বরং আমরা মুসলিম আলিমদের প্রদানকৃত সংজ্ঞাসমূহ নিয়ে আলোচনা করব। কারণ তাঁরা এই সংজ্ঞাসমূহের সাথে এমন কিছু বিষয় যুক্ত করেছেন যা এর ত্রুটিসমূহ দূর করে এবং এর অপূর্ণতা পূরণ করে। ফলে এই সংজ্ঞাসমূহ পশ্চিমাদের সংজ্ঞার তুলনায় অধিকতর ব্যাপক ও সংহত হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে, এই ব্যাপক সংজ্ঞাসমূহ যদি মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সত্তায় পুঞ্জীভূত হয়ে থাকে, তবে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অন্যদের সংজ্ঞাসমূহকেও বেষ্টন করে আছে। এমতাবস্থায় মুসলিমদের দৃষ্টিতে চরিত্রের একটি সংজ্ঞা উল্লেখ করাতে কোনো বাধা নেই। মিকদাদ ইয়ালজিন ইসলামের দৃষ্টিতে চরিত্রের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন: "এটি হলো কতগুলো মূলনীতি ও নিয়মের সমষ্টি যা মানুষের আচরণকে সুশৃঙ্খল করে, যা ওহী কর্তৃক নির্ধারিত হয়েছে মানুষের জীবনকে সুসংগঠিত করার জন্য এবং নির্ধারণ করার জন্য...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আস-সিরাতুন নাবাবিয়্যাহ বাইনাল আসারিল মারউইয়্যাহ ওয়াল আয়াতিল কুরআনিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
علاقته بغيره على نحو تحقيق الغاية من وجوده في هذا العالم على أكمل وجه." (1)
يظهر هذا التعريف شمول الأخلاق في نظر الإسلام، وكذلك كونها في منظور متكامل بين مصدرها، وطبيعتها ومغزاها الاجتماعي وغايتها، وهو ما يجعل النظام الإسلامي متميزاً بهذين الطابعين:
الأول: طابع إلهى من حيث أنها مراد الله، إذ أنه يجب أن يتبع الإنسان في هذه الحياة، أوامر لله ومراده في خلقه، لذلك جاء الوحي بصورة هذا النظام.
الثاني: طابع إنساني من حيث يتضمن المبادئ العامة في بعض نواحيه، وللإنسان دوره في تحديد واجباته الخاصة، والتعرف على طبيعة مظاهر السلوك الإنساني المعبرة عن القيم، لذا تعد الأخلاق روح الإسلام، حيث يقول الرسول صلى الله عليه وسلم: (البر حسن الخلق) (2).
ولا بأس هنا أن نذكر أحد علماء المسلمين الذين ربطوا الأخلاق بقضية الإيمان، وما ينبثق عنه، وهو ابن تيمية أحمد بن عبد الحليم الحراني الذي سلك مسلكاً في تحديد مفهوم الأخلاق يعتبر جديداً إلى حد ما في الفكر الإسلامي، كما بين ذلك صاحب " النظرية الخلقية عند ابن تيمية" حيث يقول ما ملخصه: إن ابن تيمية كان أوفى، وأكمل وأكثر نضجاً ممن سبقه من علماء المسلمين، أو غيرهم في هذا المضمار، وذلك لأن التصور النظري للأخلاق لدى هؤلاء جميعاً فيه من الثغرات، وعليه من المآخذ ما يجعل من هذا التصور فكرة ناقصة، بل عاجزة عن تحقيق الكمال الإنساني، فعند ابن تيمية نرى الارتباط الوثيق بين مفهوم الأخلاق، ومفهوم الإيمان الذي حدده الإسلام، وما ينبثق عنه من نظام في
--------------------------------------------
অন্যের সাথে তার সম্পর্ক এমনভাবে হওয়া যাতে এই বিশ্বে তার অস্তিত্বের লক্ষ্য পূর্ণাঙ্গরূপে অর্জিত হয়।" (১)
এই সংজ্ঞাটি ইসলামের দৃষ্টিতে নৈতিকতার ব্যাপকতা প্রকাশ করে, সেই সাথে এর উৎস, প্রকৃতি, সামাজিক তাৎপর্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে একটি সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরে। আর এটিই ইসলামি ব্যবস্থাকে এই দুটি বৈশিষ্ট্যে স্বতন্ত্র করে তোলে:
প্রথমত: খোদায়ী বৈশিষ্ট্য, এই অর্থে যে এটি আল্লাহর ইচ্ছা। কারণ এই জীবনে মানুষের উচিত তার সৃষ্টি সম্পর্কে আল্লাহর আদেশ ও ইচ্ছা অনুসরণ করা; একারণেই ওহী এই ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে অবতীর্ণ হয়েছে।
দ্বিতীয়ত: মানবিক বৈশিষ্ট্য, এই অর্থে যে এটি কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ নীতিমালা অন্তর্ভুক্ত করে এবং মানুষের নিজস্ব দায়িত্ব নির্ধারণে ও মূল্যবোধ প্রকাশকারী মানবিক আচরণের স্বরূপ চেনার ক্ষেত্রে মানুষের ভূমিকা রয়েছে। অতএব, নৈতিকতাকে ইসলামের প্রাণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যেহেতু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "সততাই হলো উত্তম চরিত্র।" (২)
এখানে মুসলিম আলেমদের মধ্যে এমন একজনের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে যিনি নৈতিকতাকে ঈমান এবং তার থেকে উৎসারিত বিষয়াবলির সাথে যুক্ত করেছেন; তিনি হলেন ইবনে তাইমিয়্যাহ আহমাদ ইবনে আব্দুল হালীম আল-হাররানী। তিনি নৈতিকতার ধারণা নির্ধারণে এমন একটি পথ অবলম্বন করেছেন যা ইসলামি চিন্তাধারায় কিছুটা নতুন বলে বিবেচিত হয়। যেমনটি "ইবনে তাইমিয়্যার নৈতিক তত্ত্ব" গ্রন্থের লেখক বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্যের সারমক্ষেপ হলো: ইবনে তাইমিয়্যাহ এই ক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী মুসলিম আলেম বা অন্যদের তুলনায় অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, নিখুঁত এবং পরিপক্ক ছিলেন। কারণ তাঁদের সকলের কাছে নৈতিকতার যে তাত্ত্বিক ধারণা ছিল তাতে এমন কিছু ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা সেই ধারণাকে একটি অসম্পূর্ণ চিন্তায় পরিণত করে, বরং তা মানবিক পূর্ণতা অর্জনে অক্ষম। ইবনে তাইমিয়্যার কাছে আমরা নৈতিকতার ধারণা এবং ইসলাম কর্তৃক নির্ধারিত ঈমানের ধারণার মধ্যে এক নিবিড় সম্পর্ক দেখতে পাই, এবং তার থেকে উৎসারিত যে ব্যবস্থা...
--------------------------------------------