(খণ্ড: ১)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: -)
نشر العرف في بناء بعض الأحكام على العرف - ط إسطنبول القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: نشر العرف في بناء بعض الأحكام على العرف
(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)
المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]
الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م
وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى
عدد الصفحات: 34
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445
নাশরুল উরফ ফী বিনায়ি বা’দিল আহকাম আলাল উরফ - ইস্তাম্বুল সংস্করণ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি নীতিমালা
বই: নাশরুল উরফ ফী বিনায়ি বা’দিল আহকাম আলাল উরফ
(মাজমুউ রাসায়িলি ইবনে আবিদীনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মদ আমিন আফিন্দি, যিনি ইবনে আবিদীন নামে পরিচিত [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]
প্রকাশক: দারুস সাআদাত, ইস্তাম্বুল, ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ
«মাজমুউর রাসায়িল»-এর প্রতিলিপি প্রকাশ করেছে: আলমুল কুতুব এবং আরও বেশ কিছু প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৪
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ যুল ক্বদ ১৪৪৫
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১১৪)
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي عمنا بالانعام واللطف* وامرنا بالتيسير والتسهيل لا بالتشديد والعنف * والصلاة والسلام على مشرع الاحكام * المنزل عليه خذ العفو وأمر بالعرف* وعلى آله واصحابه الموصوفين باتباعه باكمل وصف (اما بعد) فيقول الفقير محمد عابدين* عفا عنه رب العالمين* لما شرحت ارجوزتي التي سميتها عقود رسم المفتى ووصلت في شرحها إلى قولى (والعرف في الشرع له اعتبار* لذا عليه الحكم قديدار) تكلمت عليه بما يسره الكريم الفتاح* واسترسل القلم في جريه لأجل الإيضاح * فاشعر إلا وفجر الليل قد لاح * وقد بقى في الزوايا خبايا تحتاج إلى الإفصاح* فرايت ان استيفاء المقصود يخرج الشرح عن المعهود * فاقتصرت فيه على نبذة يسيرة من البيان* واردت ان افرد الكلام على البيت برسالة مستقلة تظهر المقصود إلى العيان * لاني لم ار من اعطى هذا المقام حقه * ولا من بذل له من البيان مستحقه* وسميت هذه الرسالة:
نشر العرف في بناء بعض الأحكام على العرف
فأقول ومنه سبحانه اسأل* ان يحفظنى من الخطأ والزلل* وإن يررزقنى حسن النيه* وبلوغ الامنيه {مقدمة} في بيان معنى العرف ودليل العمل به قال في الأشباه وذكر الهندي في شرح المغنى العادة عبارة عما يستقر في النفوس من الأمور المتكرره المعقولة عند الطباع السليمة وهى أنواع ثلاثة العرفية العامة كوضع القدم
(1) والعرفية الخاصة كاصطلاح كل طائفة مخصوصة كالرفع للنحاة والفرق والجمع والنقض للنظار والعرفية الشرعية كالصلاة والزكاة والحج تركت معانيها اللغوية بمعانيها الشرعية انتهى. وفى شرح الأشباه للبيرى عن المستصفى العادة والعرف ما استقر في النفوس من جهة العقول وتلقته الطباع السليمة بالقبول اهـ وفي شرح التحرير العادة هي الأمر المتكرر من غير علاقة عقلية اهـ (قلت) بيانه ان العادة مأخوذة من المعاودة فهى بتكررها ومعاودتها مرة بعد أخرى صارت معروفة مستقرة في النفوس والعقول متلقاة بالقبول من غير علاقة ولا قرينة حتى صارت حقيقة عرفية فالعادة والعرف بمعنى واحد من حيث الما صدق وإن اختلفا من حيث المفهوم (ثم) العرف عملى وقولى فالاول كتعارف قوم أكل البر ولحم الضأن والثانى كتعارفهم اطلاق لفظ لمعنى بحيث
--------------------------------------------
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নেয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছেন এবং আমাদের কাঠিন্য ও কঠোরতার পরিবর্তে সহজীকরণ ও স্বাচ্ছন্দ্যের নির্দেশ দিয়েছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিধানদাতার ওপর, যাঁর ওপর অবতীর্ণ হয়েছে: "আপনি ক্ষমা প্রদর্শন করুন, সৎকাজের আদেশ দিন" এবং তাঁর পরিবার ও সাথীদের ওপর, যারা পূর্ণাঙ্গরূপে তাঁর অনুসরণের গুণে গুণান্বিত। (অতঃপর) অধম মুহাম্মদ আবিদিন—আল্লাহ তাআলা তাঁকে ক্ষমা করুন—বলেন: যখন আমি আমার 'উকুদু রাসমিল মুফতি' নামক কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা লিখছিলাম এবং ব্যাখ্যার এক পর্যায়ে আমার এই চরণে পৌঁছালাম: (শরয়ি বিধানে প্রথার (العرف) গুরুত্ব রয়েছে, তাই এর ওপরই বিধান আবর্তিত হয়), তখন আমি এ বিষয়ে ততটুকুই আলোচনা করেছি যতটুকু দয়ালু আল্লাহ সহজ করে দিয়েছেন। বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য আমার কলম দীর্ঘক্ষণ সচল ছিল, এমনকি ভোরের আলো ফুটে ওঠার উপক্রম হয়েছিল। তবুও অনেক সূক্ষ্ম বিষয় গোপন রয়ে গিয়েছিল যার বিশদ ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল। আমি দেখলাম যে, উদ্দেশ্য পূর্ণ করতে গেলে ব্যাখ্যাগ্রন্থটি প্রচলিত সীমার বাইরে চলে যাবে। তাই আমি সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকলাম এবং এই চরণটির ওপর পৃথক একটি রিসালা বা পুস্তিকা রচনার ইচ্ছা করলাম, যাতে মূল উদ্দেশ্যটি সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়। কারণ আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এই স্থানটির যথাযথ হক আদায় করেছেন কিংবা এর প্রাপ্য ব্যাখ্যায় পূর্ণ শ্রম ব্যয় করেছেন। আমি এই রিসালার নাম দিয়েছি:
নাশকুল উরফ ফি বিনাই বা’দিল আহকাম আলাল উরফ (প্রথার ওপর ভিত্তি করে কতিপয় বিধান প্রণয়ন প্রসঙ্গে সুবাসিত বর্ণনা)
আমি বলছি এবং আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করছি যেন তিনি আমাকে ভুল ও বিচ্যুতি থেকে রক্ষা করেন এবং আমাকে নেক নিয়ত ও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছার তৌফিক দান করেন। {উপসংহার} প্রথা (العرف) এর অর্থ এবং এর ওপর ভিত্তি করে আমল করার দলিল প্রসঙ্গে। 'আল-আশবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে এবং আল-হিন্দি 'শারহুল মুগনি'তে উল্লেখ করেছেন যে: অভ্যাস (العادة) হলো এমন বিষয় যা বারবার ঘটার ফলে মানুষের মনে বদ্ধমূল হয়ে যায় এবং সুস্থ স্বভাবের নিকট তা গ্রহণযোগ্য মনে হয়। এটি তিন প্রকার: সাধারণ প্রথাগত (العرفية العامة) যেমন পা রাখা
(১), বিশেষ প্রথাগত (العرفية الخاصة) যেমন প্রত্যেক বিশেষ গোষ্ঠীর পরিভাষা (اصطلاح), যেমন নাহুবিদদের নিকট 'রাফ' (পেশ) প্রদান করা এবং তার্কিকদের নিকট 'ফারক', 'জাম' ও 'নাকদ' পরিভাষাগুলো। আর তৃতীয়টি হলো শরয়ি প্রথাগত (العرفية الشرعية) যেমন সালাত, জাকাত ও হজ; যেগুলোর আভিধানিক অর্থ বাদ দিয়ে শরয়ি অর্থ গ্রহণ করা হয়েছে (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আল-বিরি 'শারহুল আশবাহ' গ্রন্থে 'আল-মুসতাসফা' থেকে উদ্ধৃত করেছেন: অভ্যাস (العادة) ও প্রথা (العرف) হলো এমন বিষয় যা যুক্তির নিরিখে মানুষের মনে বদ্ধমূল হয় এবং সুস্থ স্বভাব তা কবুল করে নেয়। 'শারহুত তাহরির' গ্রন্থে বলা হয়েছে: অভ্যাস (العادة) হলো কোনো যৌক্তিক সম্পর্ক ছাড়াই বারবার ঘটা কোনো বিষয়। (আমি বলি) এর ব্যাখ্যা হলো, অভ্যাস (العادة) শব্দটি 'মুআওয়াদাহ' (পুনরাবৃত্তি) থেকে গৃহীত। এটি বারবার ঘটার ফলে মানুষের মনে ও চিন্তায় সুপরিচিত ও প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় এবং কোনো সম্পর্ক বা قرينة (قرينة) ছাড়াই তা গ্রহণযোগ্যতা পায়, এমনকি তা প্রথাগত হাকিকত (حقيقة عرفية) এ পরিণত হয়। সুতরাং অভ্যাস (العادة) ও প্রথা (العرف) প্রয়োগের দিক থেকে এক ও অভিন্ন, যদিও ধারণাগত দিক থেকে ভিন্ন। (অতঃপর) প্রথা (العرف) কর্মগত ও শব্দগত হয়ে থাকে। প্রথমটি (কর্মগত) যেমন কোনো জাতির গম বা ভেড়ার মাংস খাওয়ার অভ্যাস। দ্বিতীয়টি (শব্দগত) যেমন তাদের মাঝে কোনো শব্দকে নির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহারের প্রচলন হওয়া, যাতে করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১১৫)
لا يتبادر عند سماعه غيره والثانى مخصص للعام اتفاقا كالدراهم تطلق ويراد بها النقد الغالب في البلدة والاول مخصص أيضا عند الحنفية دون الشافعية فإذا قال اشترلى طعاما أو لحما انصرف إلى البر ولحم الضأن عملا بالعرف العملى كما افاده في التحرير (واعلم) أن بعض العلماء استدل على اعتبار العرف بقوله سبحانه وتعالى خذ العفو وأمر بالعرف وقال في الأشباه القاعدة السادسة العادة محكمة وأصلها قوله صلى الله عليه وسلم ما رآه المسلمون حسنا فهو عند الله حسن قال العلائي لم أجده مرفوعا في شيء من كتب الحديث اصلا ولا بسند ضعيف بعد طول البحث وكثرة الكشف والسؤال وإنما هو من قول عبد الله بن مسعود رضي الله عنه موقوفا عليه أخرجه الامام أحمد في مسنده (واعلم) ان اعتبار المادة والعرف رجع إليه في مسائل كثيرة حتى جعلوا ذلك اصلا فقالوا في الأصول في باب ما تترك به الحقيقة تترك الحقيقة بدلالة الاستعمال والعادة هكذا ذكر فخر الإسلام انتهى كلام الأشباه وفي شرح الأشباه للبيرى قال في المشرع الثابت بالعرف ثابت بدليل شرعى وفى المبسوط الثابت بالعرف كالثابت بالنص انتهى {فصل} قال في القنية ليس للمفتى ولا للقاضى ان يحكما على ظاهر المذهب ويتركا العرف ونقل المسئلة عنه في خزانة الروايات كما ذكره البيرى في شرح الأشباه وهى بحسب الظاهر مشكلة فقد صرحوا بأن الرواية إذا كانت في كتب ظاهر الرواية لا يعدل عنها إلا إذا صحح المشايخ غيرها كما اوضحت ذلك في شرح الارجوزة فكيف يعمل بالعرف المخالف لظاهر الرواية (وايضا) فإن ظاهر الرواية قد يكون مبنيا على صريح النص من الكتاب أو السنة أو الإجماع ولا اعتبار للعرف المخالف للنص لان العرف قد يكون على باطل بخلاف النص كما قاله ابن الهمام وقد قال في الأشباه العرف غير معتبر في المنصوص عليه قال في الظهيرية من الصلاة وكان محمد بن الفضل يقول السرة إلى موضع نبات الشعر من ان العانة ليست بعورة لتعامل العمال في الابداء عن ذلك الموضع عند الاتزار وفى النزع عن العادة الظاهرة نوع حرج وهذا ضعيف وبعيد لان التعامل بخلاف النص لا يعتبر انتهى بلفظه اهـ (وفى) الأشباه أيضا الفائدة الثالثة المشقة والحرج انما يعتبران في موضع لا نص فيه واما مع النص بخلافه فلا ولذا قال أبو حنيفة ومحمد رحمهما الله تعالى بحرمة رعى حشيش الحرم وقطعه إلا الاذخر وجوز أبو يوسف رعيه المحرج ورد عليه بما ذكرناه أي من ان الحرج انما يعتبر في موضع لا نص فيه ذكره الزيلعي في جنايات الإحرام وقال في باب الانجاس ان الامام يقول بتغليظ نجاسة الارواث لقوله عليه السلام انها ركس أي نجس ولا اعتبار عنده بالبلوى في موضع النص كما في بول الآدمى فإن البلوى فيه اعم اهـ (فنقول)
এটি শোনার সাথে সাথে অন্য কিছু মাথায় আসে না। আর দ্বিতীয়টি সর্বসম্মতভাবে সাধারণ (عام) বিধানকে বিশেষিত করে; যেমন 'দিরহাম' শব্দটি যখন সাধারণভাবে বলা হয়, তখন এর দ্বারা সংশ্লিষ্ট জনপদের প্রচলিত মুদ্রাকেই বোঝানো হয়। হানাফি মাযহাব অনুসারে প্রথমটিও বিশেষিতকারী হিসেবে গণ্য, তবে শাফিঈ মাযহাবে নয়। সুতরাং, কেউ যদি বলে 'আমার জন্য খাবার বা গোশত কেন', তবে তা গম এবং ভেড়ার গোশত হিসেবে গণ্য হবে কর্মগত প্রথার (العرف العملى) ওপর আমল করার কারণে, যেমনটি 'আত-তাহরির' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।
(জেনে রাখুন) যে, কোনো কোনো আলেম প্রথার (العرف) গ্রহণযোগ্যতার ওপর মহান আল্লাহর এই বাণী দ্বারা দলিল পেশ করেছেন: 'আপনি ক্ষমাশীলতা অবলম্বন করুন এবং সৎকাজের (العرف) নির্দেশ দিন'। 'আল-আশবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, ষষ্ঠ মূলনীতি হলো— রীতিনীতি বিচারক হিসেবে গণ্য (العادة محكمة)। এর মূল ভিত্তি হলো রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বাণী: 'মুসলমানরা যা উত্তম মনে করে, তা আল্লাহর কাছেও উত্তম।'
আল-আলাইয়ি বলেছেন: আমি দীর্ঘ অনুসন্ধান এবং ব্যাপক তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদের পর হাদিসের কোনো কিতাবেই এটিকে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি সরাসরি সম্বন্ধযুক্ত (مرفوعا) হিসেবে পাইনি, এমনকি কোনো দুর্বল (ضعيف) সূত্রেও নয়। বরং এটি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর উক্তি হিসেবে তাঁর ওপর স্থগিত (موقوفا); ইমাম আহমদ তাঁর মুসনাদ গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন।
(জেনে রাখুন) প্রথা ও রীতিনীতির গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি অসংখ্য মাসআলায় প্রতীয়মান হয়েছে, এমনকি তাঁরা এটিকে একটি মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। তাই তাঁরা মূলনীতিশাস্ত্রে (الأصول) 'যেসব কারণে প্রকৃত অর্থ বর্জন করা হয়' অধ্যায়ে বলেছেন: ব্যবহারিক প্রয়োগ ও রীতিনীতির (العادة) কারণে শব্দের প্রকৃত অর্থ (الحقيقة) বর্জন করা হয়। ফখরুল ইসলাম এভাবেই উল্লেখ করেছেন। 'আল-আশবাহ' এর আলোচনা এখানেই শেষ। 'আল-আশবাহ'-এর ভাষ্যগ্রন্থ 'আল-বিরি'-তে বলা হয়েছে: 'আল-মাশরা' গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, প্রথা দ্বারা যা সাব্যস্ত হয় তা শরয়ি দলিল দ্বারা সাব্যস্ত হওয়ার মতোই। আর 'আল-মাবসুত' গ্রন্থে আছে: প্রথা দ্বারা সাব্যস্ত বিষয় সুস্পষ্ট টেক্সট (النص) দ্বারা সাব্যস্ত বিষয়ের মতো।
{পরিচ্ছেদ}
'আল-কুনইয়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: মুফতি বা বিচারকের জন্য মাযহাবের প্রকাশ্য মতের (ظاهر المذهب) ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা দেওয়া এবং প্রচলিত প্রথাকে (العرف) উপেক্ষা করা সমীচীন নয়। 'খিজানাতুর রিওয়ায়াত' গ্রন্থেও তাঁর থেকে এই মাসআলাটি উদ্ধৃত হয়েছে, যেমনটি আল-বিরি 'আল-আশবাহ'-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন। এটি বাহ্যত জটিল মনে হতে পারে; কারণ ফকিহগণ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কোনো বর্ণনা যখন 'জাহিরুর রিওয়ায়াহ' (ظاهر الرواية) এর কিতাবসমূহে থাকে, তখন মাশায়েখগণ অন্য কোনোটিকে বিশুদ্ধ (صحح) না করা পর্যন্ত তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যায় না, যেমনটি আমি 'শারহুল আরজুযাহ' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি। তাহলে জাহিরুর রিওয়ায়াহ-এর পরিপন্থী প্রথার ওপর কীভাবে আমল করা হবে?
(তাছাড়া) জাহিরুর রিওয়ায়াহ কখনও কুরআন, সুন্নাহ বা ইজমার সুস্পষ্ট টেক্সটের (النص) ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে। আর টেক্সটের (النص) পরিপন্থী প্রথার (العرف) কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। কারণ টেক্সটের (النص) বিপরীতে প্রথা কখনও বাতিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। যেমনটি ইবনুল হুমাম বলেছেন এবং 'আল-আশবাহ' গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে যে, টেক্সট দ্বারা নির্ধারিত (المنصوص عليه) বিষয়ের ক্ষেত্রে প্রথা গ্রহণযোগ্য নয়।
'আয-জাহিরিয়্যাহ' গ্রন্থের সালাত অধ্যায়ে বলা হয়েছে: মুহাম্মদ ইবনে ফজল বলতেন, নাভি থেকে পশম গজানোর স্থান পর্যন্ত সতর (আওরাত) নয়; কারণ শ্রমিকরা লুঙ্গি পরার সময় ওই স্থানটি উন্মুক্ত রাখতে অভ্যস্ত। আর প্রকাশ্য রীতিনীতি (العادة) থেকে ফিরে আসার মধ্যে এক ধরণের কষ্ট (حرج) রয়েছে। তবে এই মতটি দুর্বল (ضعيف) ও অগ্রহণযোগ্য। কারণ টেক্সটের (النص) পরিপন্থী প্রথা (التعامل) গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর বক্তব্য এ পর্যন্তই।
'আল-আশবাহ' গ্রন্থেই তৃতীয় উপকারিতায় বলা হয়েছে: কষ্ট ও সংকীর্ণতা কেবল সেখানেই বিবেচনা করা হবে যেখানে কোনো স্পষ্ট টেক্সট (نص) নেই। কিন্তু যেখানে টেক্সট (النص) এর বিপরীতে বিদ্যমান, সেখানে তা গ্রহণযোগ্য নয়। একারণেই ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) হারাম এলাকার ঘাস চরানো এবং কাটা (ইযখির ঘাস ব্যতীত) হারাম বলেছেন। যদিও ইমাম আবু ইউসুফ কষ্টের কারণে তা চরানোর অনুমতি দিয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর এই মতটি আমাদের উল্লিখিত ওই মূলনীতি দ্বারা খণ্ডন করা হয়েছে যে— কষ্ট কেবল সেখানেই বিবেচিত হবে যেখানে কোনো টেক্সট (نص) নেই। আয-যাইলায়ি এটি এহরামের অপরাধ অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন।
নাপাকির অধ্যায়ে বলা হয়েছে যে, ইমাম (আবু হানিফা) পশুর বিষ্ঠার নাপাকিকে গুরুতর (تغليظ) বলেন; কারণ রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: 'নিশ্চয়ই এটি নোংরা (ركس)', অর্থাৎ অপবিত্র (نجس)। তাঁর কাছে টেক্সট (النص) বিদ্যমান থাকা অবস্থায় সাধারণ সমস্যা বা পরিস্থিতির (البلوى) কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। যেমন মানুষের প্রস্রাবের ক্ষেত্রে; প্রস্রাবের সমস্যা তো আরও বেশি ব্যাপক। (আমরা বলি...)
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১১৬)
في جواب هذا الاشكال اعلم ان العرف نوعان خاص وعام وكل منهما اما ان يوافق الدليل الشرعى والمنصوص عليه في كتب ظاهر الرواية اولا فإن وافقهما فلا كلام والا فأما ان يخالف الدليل الشرعى أو المنصوص عليه في المذهب فنذكر ذلك في بابين {الباب الأول} إذا خالف العرف الدليل الشرعي فإن خالفه من كل وجه بأن لزم منه ترك النص فلا شك في رده كتعارف الناس كثيرا من المحرمات من الربا وشرب الخمر ولبس الحرير والذهب وغير ذلك مما ورد تحريمه نصا وإن لم يخالفه من كل وجه بأن ورد الدليل عاما والعرف خالفه في بعض افراده أو كان الدليل قياسا فإن العرف معتبر ان كان عاما فإن العرف العام يصلح مخصصا كما مر عن التحرير ويترك به القياس كما صرحوا به في مسئلة الاستصناع ودخول الحمام والشرب من السقا وإن كان العرف خاصا فإنه لا يعتبر وهو المذهب كما ذكره في الأشباه حيث قال فالحاصل ان المذهب عدم اعتبار العرف الخاص ولكن افتى كثير من المشايخ باعتباره اهـ (وقال) في الذخيرة البرهانية في الفصل الثامن من الاجارات فيما لو دفع إلى حائك غزلا على ان ينسجه بالثلث قال ومشايخ بلخ كنصير بن يحيى ومحمد بن سلمة وغيرهما كانوا يجيزون هذه الإجارة في الثياب لتعامل أهل بلدهم والتعامل حجة يترك به القياس ويخص به الأثر وتجويز هذه الإجارة في الثياب للتعامل بمعنى تخصيص النص الذي ورد في قفيز الطحان لان النص ورد في قفيز الطحان لا في الحائك إلا ان الحائك نظيره فيكون واردا فيه دلالة فمتى تركنا العمل بدلالة هذا النص في الحائك وعملنا بالنص في قفيز الطحان كان تخصيصا لا تركا اصلا وتخصيص النص بالتعامل جائز إلا ترى انا جوزنا الاستصناع للتعامل والاستصناع بيع ما ليس عنده وانه منهى عنه وتجويز الاستصناع بالتعامل تخصيص منا للنص الذي ورد في النهي عن بيع ما ليس عند الإنسان لا ترك للنص اصلا لانا عملنا بالنص في غير الاستصناع قالوا وهذا بخلاف ما لو تعامل أهل بلدة قفيز الطحان فإنه لا يجوز ولا تكون معاملتهم معتبرة لانا لو اعتبرنا معاملتهم كان تركا للنص اصلا وبالتعامل لا يجوز ترك النص اصلا وإنما يجوز تخصيصه ولكن مشايخنا لم يجوزوا هذا التخصيص لان ذلك تعامل أهل بلدة واحدة وتعامل أهل بلدة واحدة لا يخص الاثر لان تعامل أهل بلدة ان اقتضى ان يجوز التخصيص فترك التعامل من أهل بلدة أخرى يمنع التخصيص فلا يثبت التخصيص بالشك بخلاف التعامل في الاستصناع فإنه وجد في البلاد كلها انتهى كلام الذخيرة
(1) (وقال) في الأشباه تنبيه هل المعتبر في بناء الاحكام
--------------------------------------------
এই সংশয়ের উত্তরে জেনে রাখুন যে, প্রথা (عرف) দুই প্রকার: বিশেষ এবং সাধারণ। এদের প্রত্যেকটি হয় শরয়ি দলিল (الدليل الشرعي) এবং জাহিরুর রিওয়ায়াহ-র কিতাবসমূহে বর্ণিত বিষয়ের অনুকূল হবে, নতুবা প্রতিকূল হবে। যদি অনুকূল হয় তবে তাতে কোনো বিতর্ক নেই। আর যদি প্রতিকূল হয়, তবে তা হয় শরয়ি দলিল (الدليل الشرعي)-এর পরিপন্থী হবে অথবা মাযহাবে বর্ণিত বিষয়ের পরিপন্থী হবে। আমরা বিষয়টি দুটি অধ্যায়ে আলোচনা করব। {প্রথম অধ্যায়} যখন প্রথা (عرف) শরয়ি দলিল (الدليل الشرعي)-এর পরিপন্থী হয়: যদি তা সর্বতোভাবে পরিপন্থী হয়, যার ফলে কোনো স্পষ্ট পাঠ (النص) বর্জন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে, তবে তা প্রত্যাখ্যান করার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। যেমন মানুষের মাঝে সুদের মতো বহু হারাম বিষয়, মদ্যপান, রেশম ও স্বর্ণ পরিধান করা এবং এ জাতীয় অন্যান্য বিষয়ের প্রচলন থাকা যা স্পষ্ট পাঠ (النص) দ্বারা হারাম প্রমাণিত হয়েছে। আর যদি তা সর্বতোভাবে পরিপন্থী না হয়, যেমন দলিলটি সাধারণ (عام) হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কিন্তু প্রথা (عرف) তার বিশেষ কিছু বিষয়ের পরিপন্থী, অথবা দলিলটি যদি কিয়াস (قياس) হয়; তবে প্রথা (عرف) যদি সাধারণ হয় তবে তা গ্রহণযোগ্য হবে। কেননা ‘আত-তাহরীর’ গ্রন্থ থেকে ইতিপূর্বে যেমন অতিক্রান্ত হয়েছে যে, সাধারণ প্রথা (عرف عام) বিশেষায়নকারী (مخصص) হওয়ার যোগ্যতা রাখে এবং এর দ্বারা কিয়াস (قياس) বর্জন করা যায়। যেমন ফকিহগণ ইস্তিসনা (অর্ডার দিয়ে তৈরি করা), গোসলখানায় প্রবেশ এবং পানি বিক্রেতার কাছ থেকে পানি পান করার মাসআলায় এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। আর যদি প্রথা (عرف) বিশেষ হয় তবে তা ধর্তব্য নয় এবং এটাই মাযহাবের সিদ্ধান্ত, যেমনটি ‘আল-আশবাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে তিনি বলেছেন: মূলকথা হলো, মাযহাব অনুযায়ী বিশেষ প্রথা (عرف خاص) ধর্তব্য নয়; তবে অনেক মাশায়েখ একে ধর্তব্য হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। ‘যখীরাতুল বুরহানিয়্যাহ’ গ্রন্থের ইজারাহ অধ্যায়ের অষ্টম পরিচ্ছেদে এমন একটি বিষয় সম্পর্কে বলা হয়েছে যেখানে কোনো তাঁতিকে এই শর্তে সুতা দেওয়া হলো যে, সে এক-তৃতীয়াংশ মজুরির বিনিময়ে কাপড় বুনে দেবে। তিনি বলেন: বলখ শহরের মাশায়েখগণ, যেমন নাসির বিন ইয়াহইয়া, মুহাম্মদ বিন সালামাহ এবং অন্যান্যগণ কাপড়ের ক্ষেত্রে এই ইজারাহ চুক্তিকে বৈধ বলতেন তাঁদের শহরবাসীর লেনদেনের প্রথার (تعامل) কারণে। আর এই লেনদেনের প্রথা (تعامل) এমন এক দলিল যার মাধ্যমে কিয়াস (قياس) বর্জন করা হয় এবং এর দ্বারা বর্ণনা (أثر)-কে বিশেষায়ন (تخصيص) করা হয়। কাপড়ের ক্ষেত্রে এই চুক্তিকে লেনদেনের প্রথার (تعامل) কারণে বৈধ বলা মূলত ‘কফীযুত তাহহান’ (ঘানিওয়ালার নির্দিষ্ট অংশ) সংক্রান্ত যে স্পষ্ট পাঠ (النص) বর্ণিত হয়েছে তাকে বিশেষায়ন (تخصيص) করার নামান্তর। কেননা সেই স্পষ্ট পাঠ (النص) ঘানিওয়ালার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে, তাঁতির ক্ষেত্রে নয়। তবে তাঁতি যেহেতু তার সদৃশ, তাই ইঙ্গিতের মাধ্যমে এটি তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হয়। সুতরাং আমরা যখন তাঁতির ক্ষেত্রে এই স্পষ্ট পাঠের (النص) ইঙ্গিত অনুযায়ী আমল করা বর্জন করি এবং ঘানিওয়ালার ক্ষেত্রে মূল স্পষ্ট পাঠ (النص) অনুযায়ী আমল করি, তখন তা বিশেষায়ন (تخصيص) হিসেবে গণ্য হয়, নসের মূল বর্জন নয়। আর লেনদেনের প্রথার (تعامل) মাধ্যমে স্পষ্ট পাঠের (النص) বিশেষায়ন (تخصيص) করা জায়েজ। আপনি কি দেখেন না যে, আমরা লেনদেনের প্রথার (تعامل) কারণে ইস্তিসনাকে বৈধ বলেছি? অথচ ইস্তিসনা হলো নিজের কাছে নেই এমন জিনিস বিক্রি করা, যা নিষিদ্ধ। লেনদেনের প্রথার (تعامل) কারণে ইস্তিসনাকে বৈধ বলা মূলত মানুষের নিকট যা নেই তা বিক্রি করার নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত স্পষ্ট পাঠের (النص) বিশেষায়ন (تخصيص), স্পষ্ট পাঠের (النص) নিরঙ্কুশ বর্জন নয়। কারণ আমরা ইস্তিসনা ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে সেই স্পষ্ট পাঠ (النص) অনুযায়ী আমল করে থাকি। তাঁরা বলেছেন, এর ব্যতিক্রম হবে যদি কোনো একটি শহরের অধিবাসীরা ‘কফীযুত তাহহান’ পদ্ধতিতে লেনদেন করে, তবে তা বৈধ হবে না এবং তাদের এই লেনদেন ধর্তব্য হবে না। কারণ আমরা যদি তাদের এই লেনদেনকে ধর্তব্য মনে করি, তবে তা হবে স্পষ্ট পাঠ (النص)-কে সরাসরি বর্জন করা। আর লেনদেনের প্রথার (تعامل) কারণে স্পষ্ট পাঠ (النص) সরাসরি বর্জন করা জায়েজ নয়, বরং কেবল বিশেষায়ন (تخصيص) করা জায়েজ। তবে আমাদের মাশায়েখগণ এই বিশেষায়নকেও (تخصيص) অনুমতি দেননি, কারণ সেটি ছিল কেবল একটি শহরের লেনদেনের প্রথা। আর একটি শহরের প্রথা বর্ণনা (أثر)-কে বিশেষায়ন (تخصيص) করতে পারে না। কারণ কোনো একটি শহরের প্রথা যদি বিশেষায়ন (تخصيص) করার দাবি রাখে, তবে অন্য শহরের প্রথা না থাকা সেই বিশেষায়ন (تخصيص)-কে বাধা প্রদান করে। ফলে সন্দেহের ভিত্তিতে বিশেষায়ন (تخصيص) প্রমাণিত হয় না। ইস্তিসনার বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ তা সমস্ত শহরে বিদ্যমান ছিল। ‘যখীরাহ’ গ্রন্থের আলোচনা এখানেই শেষ।
(1) (তিনি বলেছেন) ‘আল-আশবাহ’ গ্রন্থে একটি সতর্কতা: হুকুম বা বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে কি ধর্তব্য হবে—
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১১৭)
العرف العام أو مطلق العرف ولو كان خاصا المذهب الأول قال في البزازيه معزيا إلى الامام البخارى الذي ختم به الفقه الحكم العام لا يثبت بالعرف الخاص وقيل يثبت انتهى ويتفرع على ذلك أو استقرض الفا واستأجر المقرض لحفظ مرآة أو ملعقة كل شهر بعشرة وقيمتها لا تزيد على الاجر ففيها ثلاثة أقوال: 1 - صحة الإجارة بلا كراهة اعتبارا لعرف خواص بخاري. 2 - والصحة مع الكراهة للاختلاف. 3 - والفساد لان صحة الإجارة بالتعارف العام ولم يوجد وقد افتى الاكابر بفسادها وفى القنيه من باب استيجار المستقرض المقرض التعارف الذي تثبت به الاحكام لا يثبت بتعارف أهل بلدة واحدة عند البعض وعند البعض وإن كان يثبت لكن احدثه بعض أهل بخارى فلم يكن متعارفا مطلقا كيف وإن هذا الشيء لم يعرفه عامتهم بل تعرفه خواصهم فلا يثبت التعارف بهذا القدر قال وهو الصواب انتهى
(2) * وذكر فيها من كتاب الكراهية قبيل التحرى لو تواضع أهل بلدة على زيادة في سنجاتهم التي يوزن بها الدراهم والابريسم على مخالفة سائر البلدان ليس لهم ذلك انتهى وفى اجارة البزازية عن اجارة الأصل استأجره ليحمل طعامه بقفيز منه فالاجارة فاسدة ويجب اجر المثل لا يتجاوز به المسمى وكذا لو دفع إلى حائك غزلا على ان ينسجه بالثلث ومشايخ بلخ وخوارزم افتوا بجواز اجارة الحائك للعرف وبه افتى أبو على النسفى أيضا والفتوى على جواب الكتاب لانه منصوص عليه فيلزم ابطال النص انتهى كلام الأشباه (وحاصله) ان ما ذكروا في حيلة أخذ المقرض ربحا من المستقرض بأن يدفع المستقرض إلى المقرض ملعقة مثلا ويستأجره على حفظها في كل شهر بكذا غير صحيح لان الإجارة مشروعة على خلاف القياس لأنها بيع المنافع المعدومة وقت العقد وإنما جازت بالتعارف العام لما فيها من احتياج عامة الناس إليها وقد تعارفوها سلفا وخلفا فجازت على خلاف القياس وصرح في الذخيرة بأن الإجارة انما جازت لتعامل الناس انتهى ولا يخفى انه لا ضرورة إلى الاستيجار على حفظ ما لا يحتاج إلى حفظه باضعاف قيمته فإنه ليس مما يقصده العقلاء ولذا لم يجز استيجار دابة ليجنبها أو دراهم ليزين بها دكانه كما صرحوا به أيضا فتبقى على أصل القياس ولا ثبت جوازها
--------------------------------------------
সাধারণ প্রথা অথবা নিরঙ্কুশ প্রথা, এমনকি তা বিশেষ প্রথা হলেও। প্রথম মত অনুযায়ী; বাযযাযিয়াহ গ্রন্থে ইমাম বুখারি—যাঁর মাধ্যমে ফিকহ শাস্ত্রের পূর্ণতা ঘটেছে—তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, বিশেষ প্রথা দ্বারা কোনো সাধারণ বিধান সাব্যস্ত হয় না। তবে কেউ কেউ বলেছেন যে, এটি সাব্যস্ত হয়। (সমাপ্ত)। এর উপর ভিত্তি করে একটি মাসআলা নির্গত হয়: যদি কেউ এক হাজার (মুদ্রা) ঋণ গ্রহণ করে এবং ঋণদাতাকে প্রতি মাসে দশ (মুদ্রার) বিনিময়ে একটি আয়না বা চামচ পাহারার জন্য ভাড়া করে, অথচ সেটির মূল্য উক্ত ভাড়ার চেয়ে বেশি নয়; তবে এ ক্ষেত্রে তিনটি মত রয়েছে: ১. বুখারার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রথা বিবেচনায় কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) ছাড়াই ইজারাটি সহিহ (صحيح) হওয়া। ২. মতপার্থক্যের কারণে অপছন্দনীয়তা (كراهة) সহ সহিহ (صحيহ) হওয়া। ৩. ফাসাদ (فساد) হওয়া; কারণ ইজারা সহিহ (صحيح) হওয়ার জন্য সাধারণ প্রচলন (تعارف عام) থাকা আবশ্যক, যা এখানে অনুপস্থিত। বড় আলিমগণ এটি ফাসাদ (فسাদ) হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। আল-কুনিয়া গ্রন্থের ‘ঋণগ্রহীতা কর্তৃক ঋণদাতাকে ভাড়া করা’ অধ্যায়ে উল্লেখ আছে: যে প্রচলনের মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত হয়, কারো কারো মতে তা কেবল একটি শহরের অধিবাসীদের প্রচলনের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয় না। আবার অন্যদের মতে, যদিও তা সাব্যস্ত হয়, কিন্তু এটি বুখারার কিছু লোক নতুনভাবে প্রবর্তন করেছে, ফলে এটি নিরঙ্কুশভাবে প্রচলিত (تعارف عام) বিষয় নয়। বিশেষ করে যখন সাধারণ মানুষ এটি জানেই না, বরং কেবল বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এটি জানেন, তখন এই সামান্য বিষয়ের মাধ্যমে প্রচলন সাব্যস্ত হয় না। তিনি বলেন, এটিই সঠিক মত। (সমাপ্ত)
(2) * সেখানে কিতাবুল কারাহিয়্যাহ-তে ‘তাহারি’র আলোচনার ঠিক আগে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো শহরের অধিবাসীরা যদি অন্যান্য শহরের বিপরীতে দিরহাম এবং রেশম ওজন করার জন্য তাদের বাটখারায় ওজন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়, তবে তাদের জন্য তা বৈধ নয়। (সমাপ্ত)। বাযযাযিয়াহ এর ইজারা অধ্যায়ে ইজারা আল-আসল থেকে বর্ণিত হয়েছে: কেউ যদি অন্য কাউকে তার খাবার বহনের জন্য ওই খাবারেরই এক ‘কাফিজ’ প্রদানের শর্তে ভাড়া করে, তবে সেই ইজারা ফাসাদ (فساد) হবে; এ ক্ষেত্রে অনুরূপ বিনিময় (আজরে মিসল) প্রদান করা ওয়াজিব, তবে তা নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি হবে না। একইভাবে, যদি কেউ তাঁতিকে সুতা দেয় এই শর্তে যে সে তা এক-তৃতীয়াংশ (কাপড়) এর বিনিময়ে বুনবে; তবে বলখ ও খওয়ারিজমের মাশায়েখগণ প্রথার কারণে তাঁতির এই ইজারা জায়েজ হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। আবু আলি আন-নাসাফিও এই ফতোয়া দিয়েছেন। তবে ফতোয়া হলো কিতাবের উত্তরের ওপর, কারণ তা নস (منصوص) দ্বারা প্রমাণিত; অন্যথায় নস (نص) বাতিল করা আবশ্যক হয়ে পড়বে। আল-আশবাহ এর বক্তব্য সমাপ্ত। (এর সারকথা হলো) ঋণদাতার পক্ষ থেকে ঋণগ্রহীতার নিকট থেকে মুনাফা গ্রহণের জন্য তারা যে কৌশল (হিলা) উল্লেখ করেছেন—যেমন ঋণগ্রহীতা ঋণদাতাকে একটি চামচ দিবে এবং প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তাকে ভাড়া করবে—তা সহিহ (صحيح) নয়। কারণ ইজারা কিয়াসের পরিপন্থী হিসেবে শরয়ি বৈধতা পেয়েছে; যেহেতু এটি চুক্তির সময় অবিদ্যমান উপযোগের বিক্রয়। এটি কেবল সাধারণ প্রচলনের (تعارف عام) কারণে জায়েজ করা হয়েছে, কারণ সাধারণ মানুষের এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে এবং পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের মধ্যে এর প্রচলন রয়েছে; তাই এটি কিয়াসের পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও জায়েজ। আয-যাখিরা গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মানুষের পারস্পরিক লেনদেনের কারণেই ইজারা জায়েজ হয়েছে। (সমাপ্ত)। আর এটি স্পষ্ট যে, যে বস্তু রক্ষার কোনো প্রয়োজন নেই, তার মূল্যের কয়েকগুণ বেশি অর্থ দিয়ে তা রক্ষার জন্য কাউকে ভাড়া করার কোনো আবশ্যকতা নেই। বিবেকবান মানুষ এমন কাজ করতে পারে না। এই কারণেই কোনো পশুকে সাথে সাথে হাঁটিয়ে নেওয়ার জন্য বা দোকান সাজানোর উদ্দেশ্যে দিরহাম ভাড়া করা জায়েজ নয়, যেমনটি ফকিহগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সুতরাং এগুলো মূল কিয়াসের ওপরই বহাল থাকবে এবং এগুলোর বৈধতা সাব্যস্ত হবে না।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১১৮)
بالعرف الخاص فإن العرف الخاص لا يترك به القياس في الصحيح على ان هذا العرف لم يشتهر في بلدة بل تعارفه بعض أهل بخاري دون عامتهم ولا يثبت التعارف بذلك* واما مسئلة زيادة السنجات فإن كان المراد بها ان كل أحد من أهل تلك البلدة يزيد في سنجته ما أراد فالمنع منه ظاهر وإن كان المراد ان يتفقوا على زيادة خاصة فوجه المنع والله تعالى اعلم انه يلزم منه الجهالة والتقرير إذا اشتروا بها من رجل غريب يظنها على عادة بقية البلاد* واما مسئلة استيجار الحائك ونحوه فقد علت تقريرها من عبارة الذخيرة وذكر الشراح ان البر والشعير والتمر والملح مكيلة ابدا لنص رسول الله صلى الله عليه وسلم عليها فلا يتغير أبدا فيشترط التساوى بالكيل ولا يلتفت إلى التساوى في الوزن دون الكيل حتى لو باع حنطة بحنطة وزنا لا كيلا لم يجز والذهب والفضة موزونة ابدا للنص على وزنهما فلا بد من التساوى في الوزن حتى لو تساوى الذهب بالذهب كيلا لا وزنا لم يجز وكذا الفضة بالفضة لان طاعة رسول الله صلى الله عليه وسلم واجبة علينا لان النص اقوى من العرف فلا يترك الاقوى بالادنى وما لم ينص عليه فهو محمول على عادات الناس لأنها دلالة على جواز الحكم انتهى (فإن قلت) قد روى عن أبي يوسف اعتبار العرف في هذه الاشياء المنصوصة حتى جوز التساوى بالكيل في الذهب وبالوزن في الحنطة إذا تعارفه الناس فهذا فيه اتباع العرف اللازم منه ترك النص فيلزم ان يجوز عنده ما شابهه من تجويز الربا ونحوه للعرف وإن خالف النص (قلت) حاشا لله ان يكون مراد أبي يوسف ذلك وإنما أراد تعليل النص بالعادة بمعنى انه انما نص على البر والشعير والتمر والملح بأنها مكيلة وعلى الذهب والفضة بأنها موزونة لكونهما كانا في ذلك الوقت كذلك فالنص في ذلك الوقت انما كان للعادة حتى لو كانت العادة في ذلك الوقت وزن البر وكيل الذهب لو رد النص على وفقها فحيث كانت العلة للنص على الكيل في البعض والوزن في البعض هي العادة تكون العادة هي المنظور إليها فإذا تغيرت تغير الحكم فليس في اعتبار العادة المتغيرة الحادثة مخالفة للنص بل فيه اتباع النص وظاهر كلام المحقق ابن الهمام ترجيح هذه الرواية (وعلى هذا) فلو تعارف الناس بيع الدراهم بالدراهم أو استقراضها بالعدد كما في زماننا لا يكون مخالفا للنص فالله تعالى يجزى الامام ابا يوسف عن أهل هذا الزمان خير الجزاء فلقد سد عنهم بابا عظيما من الربا (وقد) صرح بتخريج هذا على هذه الرواية العلامة سعدى افندي في حاشيته على العناية ونقله عنه في النهر وأقره وكذلك نقله في الدر المختار وقال وفي الكافي
বিশেষ প্রথা (উরফ খাস) প্রসঙ্গে বলা হয়েছে যে, সঠিক (صحيح) অভিমত অনুযায়ী বিশেষ প্রথার কারণে কিয়াস বা যুক্তি পরিত্যাগ করা যাবে না। বিশেষত এই প্রথাটি কোনো নির্দিষ্ট শহরে প্রসিদ্ধি লাভ করেনি, বরং বুখারার কতিপয় মানুষ এটি পালন করত কিন্তু সাধারণ জনগণের মধ্যে এর প্রচলন ছিল না; আর এর দ্বারা কোনো প্রথা সাব্যস্ত হয় না।
আর বাটখারা বা ওজনের একক বৃদ্ধির মাসআলা প্রসঙ্গে বলা যায়, যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হয় যে সেই শহরের প্রত্যেকে নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী নিজের বাটখারা বৃদ্ধি করবে, তবে এর নিষিদ্ধতা স্পষ্ট। আর যদি উদ্দেশ্য হয় যে তারা কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের বৃদ্ধির ওপর একমত হবে, তবে নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ (আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন) হলো এতে অজ্ঞতা ও প্রতারণা নিহিত থাকে; যখন তারা সেই বাটখারা দিয়ে কোনো আগন্তুক ব্যক্তির কাছ থেকে পণ্য ক্রয় করবে, তখন সে ব্যক্তি অন্যান্য শহরের প্রথা অনুযায়ী তাকে স্বাভাবিক মনে করে প্রতারিত হবে।
তাঁতি বা এ জাতীয় পেশাজীবীদের ভাড়া করার মাসআলাটি আজ-জাখিরা-এর বর্ণনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে। ব্যাখ্যাকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, গম, যব, খেজুর ও লবণ সর্বদা আয়তন দ্বারা পরিমাপযোগ্য, কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুস্পষ্ট নির্দেশ (نص) এতে বিদ্যমান রয়েছে। অতএব এটি কখনো পরিবর্তিত হবে না। এতে আয়তনগত সমতা বজায় রাখা শর্ত এবং আয়তন বাদ দিয়ে ওজনের সমতার দিকে লক্ষ্য করা হবে না। এমনকি কেউ যদি গমের বিনিময়ে গম ওজনের ভিত্তিতে বিক্রি করে, আয়তন হিসেবে নয়, তবে তা বৈধ হবে না। একইভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্য সর্বদা ওজনযোগ্য, কারণ এগুলোর ওজনের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশ (نص) রয়েছে। সুতরাং ওজনে সমতা থাকা আবশ্যক; এমনকি যদি স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ আয়তন অনুযায়ী সমান হয় কিন্তু ওজনে সমান না হয়, তবে তা বৈধ হবে না। একইভাবে রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্যও বৈধ হবে না। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আনুগত্য আমাদের ওপর আবশ্যক এবং সুস্পষ্ট নির্দেশ (نص) প্রথার চেয়ে শক্তিশালী। অধিক শক্তিশালী বিষয়কে নিম্নমানের বিষয়ের (প্রথা) কারণে ত্যাগ করা যায় না। আর যে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশ (نص) নেই, তা মানুষের প্রথার ওপর নির্ভরশীল হবে, কারণ এটি বিধানের বৈধতার দলিল। [সমাপ্ত]
(যদি আপনি বলেন) ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণনা (رواية) করা হয়েছে যে, তিনি এই সকল টেক্সটভুক্ত বিষয়েও প্রথার গ্রহণযোগ্যতাকে বিবেচনা করেছেন। এমনকি মানুষ যদি প্রথা বানিয়ে নেয়, তবে তিনি স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণের ক্ষেত্রে আয়তনগত সমতা এবং গমের ক্ষেত্রে ওজনের সমতাকে বৈধ বলেছেন। এতে তো প্রথার অনুসরণ করতে গিয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশের (نص) পরিত্যাগ আবশ্যক হয়, যার ফলে তাঁর মতে প্রথার কারণে সুদ বা অনুরূপ হারামের বৈধতাও আবশ্যক হয়ে পড়ে, যদিও তা সুস্পষ্ট নির্দেশের (نص) বিরোধী।
(উত্তরে আমি বলব) আল্লাহ রক্ষা করুন! ইমাম আবু ইউসুফের উদ্দেশ্য এমনটি হতে পারে না। বরং তিনি চেয়েছিলেন প্রথার ভিত্তিতে সুস্পষ্ট নির্দেশের (نص) কারণ (ইল্লত) বর্ণনা করতে। অর্থাৎ গম, যব, খেজুর ও লবণকে আয়তনযোগ্য এবং স্বর্ণ ও রৌপ্যকে ওজনযোগ্য হিসেবে টেক্সটে উল্লেখ করার কারণ ছিল তৎকালীন সময়ে সেগুলোর ঐভাবেই প্রচলন ছিল। সুতরাং তখনকার সেই নির্দেশটি প্রথার অনুসারী ছিল। এমনকি তৎকালীন সময়ে যদি গমের প্রচলন ওজনে এবং স্বর্ণের প্রচলন আয়তন হিসেবে হতো, তবে সুস্পষ্ট নির্দেশ (نص) সেভাবেই আসত। যেহেতু কোনোটি আয়তন ও কোনোটি ওজন হিসেবে নির্ধারণ করার কারণ ছিল তৎকালীন প্রথা, তাই প্রথাটিই এখানে মূল বিবেচ্য। যখন প্রথা পরিবর্তিত হবে, তখন বিধানও পরিবর্তিত হবে। অতএব পরিবর্তিত নতুন প্রথা বিবেচনা করা সুস্পষ্ট নির্দেশের (نص) বিরোধিতা নয়, বরং এটি টেক্সটেরই প্রকৃত অনুসরণ। মহাক্কিক ইবনুল হুমামের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে এই বর্ণনাটিকেই (رواية) প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
(এই ভিত্তিতে) মানুষ যদি বর্তমান সময়ের মতো দিরহামের বিনিময়ে দিরহাম ক্রয়-বিক্রয় বা সংখ্যা হিসেবে তা ঋণ নেওয়ার প্রথা গড়ে তোলে, তবে তা সুস্পষ্ট নির্দেশের (نص) বিরোধী হবে না। আল্লাহ তাআলা ইমাম আবু ইউসুফকে বর্তমান সময়ের মানুষের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন; কারণ তিনি তাদের জন্য সুদের একটি বিশাল দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। আল্লামা সাদি এফেন্দি আল-ইনায়া-এর টীকায় এই বর্ণনার (رواية) ভিত্তিতেই মাসআলাটি বের করেছেন এবং আন-নাহর গ্রন্থেও এটি উদ্ধৃত করে সমর্থন করা হয়েছে। একইভাবে আদ-দুররুল মুখতার এবং আল-কাফি গ্রন্থেও এটি বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১১৯)
الفتوى على عادة الناس انتهى وذكر نحوه في آخر الطريقة المحمدية للعارف البركلي فقال ولا حيلة فيه إلا التمسك بالرواية الضعيفة عن أبي يوسف وذكر سيدى عبد الغني النابلسى في شرحه على الطريقة المحمدية ما حاصله انه لا حاجة إلى تخريجه على هذه الرواية لان الذهب والفضة المضروبين المدموغين بالسكة السلطانية معلوما المقدار بين المتعاقدين فذكر العدد كناية عن الوزن اصطلاحا والنقصان الحاصل بالقطع جزئى لا يدخل تحت المعيار الشرعى (اقول) هذا ظاهر على ما كان في زمنه من عدم اختلاف وزنها اما في زماننا فيختلف فكل سلطان يخفف سكته عن سكة السلطان الذي قبله في النوع الواحد بل سكة سلطان زماننا اعزه الله تعالى تختلف في النوع الواحد وكذا السلاطين قبله فإن السكة في اول مدته تكون اثقل منها في آخرها فالريال أو الذهب من نوع واحد يختلف وزنه ولا ينظر المتعاقدان إلى ذلك الاختلاف وشرط صحة البيع معرفة مقدار الثمن إذا كان غير مشار إليه وكذا الأجرة ونحوها والذهب والفضة موزونان فإذا اشترى شيئا بعشرين ريالا مثلا لابد على قول أبي حنيفة ومحمد من بيان ان الريال المذكور من ضرب سنة كذا ليكون متحد الوزن وكذا لو اشتري بالذهب كالذهب المحمودي الجهادي والذهب العدلى في زماننا فإن كلا منهما متفاوت الافراد في الوزن وكذا الريال الفرنجى نوع منه اثقل من نوع فعلى قولهما جميع عقود أهل هذا الزمان فاسدة من بيع وقرض وصرف وحوالة وكفالة واجارة وشركة ومضاربة وصلح وكذا يلزم فساد التسمية في نحو نكاح وخلع وعتق على مال وفساد الدعوى والقضاء والشهادة بالمال وغير ذلك من المعاملات الشرعية فإن أهل هذا الزمان لا ينظرون إلى هذا التفاوت بل يشترى احدهم بالذهب أو الريال ويطلق ثم يدفع الثقيل أو الخفيف وكذا في الإجارة والدعوى وغيرها وكذا يستقرض الثقيل ويدفع بدله الخفيف وبالعكس ويقبل المقرض منه ذلك ما لم تختلف القيمة ويلزم من ذلك تحقق الربا لتحقق التفاوت في الوزن بما يدخل تحت المعيار الشرعى كالقيراط والاكثر بل الظه ان القمحة في الذهب معيار في زماننا لان الذهب الذي ينقص قمحة عن معياره الذي ضربه السلطان عليه يحاسبون على نقصه اما الزائد فلا يعتبرون فيه الزيادة كالذهب المشخص إذا زاد قمحة أو أكثر ولا يخفى ان في قولهما في هذا الزمان حرجا عظيما لما علمته من لزوم هذه المحظورات وقد ركز هذا العرف في عقولهم من عالم وجاهل وصالح وطالح فيلزم منه تفسيق أهل العصر فيتعين الافتاء بذلك على هذه الرواية عن أبي يوسف (لكن)
ফতোয়া মানুষের রীতিনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়, সমাপ্ত। আরিফ আল-বিরকিলি তার আত-তারিকাতুল মুহাম্মাদিয়া গ্রন্থের শেষে অনুরূপ উল্লেখ করে বলেছেন যে, ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত দুর্বল (ضعيفة) বর্ণনা (رواية) আঁকড়ে ধরা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। সাইয়্যিদি আব্দুল গনি আন-নাবলুসি আত-তারিকাতুল মুহাম্মাদিয়া-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: এই মাসয়ালাটিকে উক্ত বর্ণনা (رواية)-র ওপর ভিত্তি করার প্রয়োজন নেই। কারণ সুলতানি মুদ্রায় অঙ্কিত ও মুদ্রিত স্বর্ণ ও রৌপ্যের পরিমাণ লেনদেনকারীদের নিকট পরিচিত। তাই পরিভাষা অনুযায়ী সংখ্যা উল্লেখ করা ওজনেরই রূপক মাত্র। আর কাটার ফলে যে সামান্য ঘাটতি হয় তা শরয়ি মানদণ্ডের আওতাভুক্ত নয়। (আমি বলছি) এটি তার সমসাময়িক সময়ের প্রেক্ষাপটে স্পষ্ট ছিল যখন ওজনের কোনো পার্থক্য হতো না। কিন্তু আমাদের সময়ে ওজনে ভিন্নতা দেখা দেয়। প্রত্যেক সুলতানই তার পূর্ববর্তী সুলতানের মুদ্রার তুলনায় একই প্রকারের মুদ্রার ওজন হ্রাস করেন। এমনকি আমাদের সময়ের সুলতানের (আল্লাহ তাকে শক্তিশালী করুন) মুদ্রার ক্ষেত্রেও একই প্রকারের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়, যেমনটি তার পূর্ববর্তী সুলতানদের ক্ষেত্রেও হতো। কারণ মেয়াদের শুরুতে মুদ্রা শেষের দিকের মুদ্রার চেয়ে ভারী হয়। ফলে একই প্রকারের রিয়াল বা স্বর্ণের ওজনে ভিন্নতা থাকে অথচ লেনদেনকারীরা সেই পার্থক্যের দিকে লক্ষ্য করেন না। আর বিক্রয় শুদ্ধ (صحيحة) হওয়ার শর্ত হলো মূল্যের পরিমাণ জানা থাকা, যদি তা নির্দিষ্ট করে নির্দেশিত না থাকে। একইভাবে মজুরি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। আর স্বর্ণ ও রৌপ্য হলো ওজনযোগ্য বস্তু। সুতরাং কেউ যদি উদাহরণস্বরূপ বিশ রিয়ালে কোনো কিছু ক্রয় করে, তবে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদের মতানুসারে ওই রিয়ালটি কোন সালের মুদ্রিত তা স্পষ্ট করা আবশ্যক, যাতে ওজনের সমতা নিশ্চিত হয়। একইভাবে যদি স্বর্ণ দিয়ে ক্রয় করা হয়, যেমন আমাদের সময়ের মাহমুদি জিহাদি স্বর্ণ বা আদলি স্বর্ণ, যার প্রতিটির ওজন এক অপরটি থেকে ভিন্ন হয়। রিয়াল ফ্রাঞ্জির ক্ষেত্রেও এক প্রকার অন্য প্রকারের চেয়ে ভারী। অতএব তাদের দুজনের মতানুসারে বর্তমান সময়ের মানুষের যাবতীয় চুক্তি—যেমন ক্রয়-বিক্রয়, ঋণ, মুদ্রাবিনিময়, হাওয়ালা, জামিননামা, ইজারা, অংশীদারিত্ব, মুদারাবাহ এবং সন্ধি—সবই ফাসিদ (অশুদ্ধ)। একইভাবে বিবাহ, খুলা এবং মালের বিনিময়ে দাসমুক্তি ইত্যাদির মোহরানা বা বিনিময় নির্ধারণ, এবং মালের দাবিনামা, বিচারিক ফয়সালা ও সাক্ষ্যপ্রদানসহ অন্যান্য শরয়ি লেনদেনও ফাসিদ হওয়ার বিষয়টি আবশ্যক হয়ে পড়ে। কারণ বর্তমান সময়ের লোকেরা এই পার্থক্যের দিকে খেয়াল করে না; বরং তাদের কেউ স্বর্ণ বা রিয়াল দিয়ে ক্রয় করে এবং তা সাধারণভাবেই উল্লেখ করে, এরপর তা ভারী হোক বা হালকা হোক পরিশোধ করে দেয়। ইজারা, দাবিনামা এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। একইভাবে কেউ ভারী মুদ্রা ঋণ নেয় এবং তার পরিবর্তে হালকা মুদ্রা পরিশোধ করে অথবা এর বিপরীত করে, এবং ঋণদাতা তা গ্রহণ করে যতক্ষণ না মূল্যের ব্যাপক পার্থক্য হয়। এর ফলে সুদ অবধারিত হয়ে পড়ে, যেহেতু ওজনে এমন পার্থক্য বিদ্যমান যা শরয়ি মানদণ্ডের (যেমন কিরাত বা তার বেশি) অন্তর্ভুক্ত। বরং বর্তমানে স্বর্ণের ক্ষেত্রে একটি গমের দানার পরিমাণ ওজনও মানদণ্ড হিসেবে গণ্য। কারণ সুলতান নির্ধারিত মানের চেয়ে এক গম পরিমাণ কম হলেও তারা সেই ঘাটতি হিসাব করে। তবে আধিক্যের ক্ষেত্রে তারা তা গণ্য করে না, যেমন নির্দিষ্ট স্বর্ণমুদ্রার ওজন যদি এক গম বা তার বেশি বৃদ্ধি পায়। এটি অস্পষ্ট নয় যে, তাদের (ইমাম আবু হানিফা ও মুহাম্মাদ) কথা অনুযায়ী বর্তমান সময়ে আমল করা অত্যন্ত কঠিন ও সংকীর্ণতার কারণ হবে, যেহেতু আপনি জানলেন যে এতে অনেক নিষিদ্ধ বিষয় লজিম আসে। আর এই প্রথা আলেম-জাহেল, নেককার-গুনাহগার সকলের অন্তরেই গেঁথে গেছে। এমতাবস্থায় সমকালীন সকল মানুষকে ফাসেক সাব্যস্ত করা অবধারিত হয়ে পড়ে। তাই ইমাম আবু ইউসুফের বর্ণিত এই বর্ণনা (رواية)-র ওপর ভিত্তি করেই ফতোয়া দেওয়া অপরিহার্য। (কিন্তু)
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২০)
(1) فيه شبهة وهى ان الظه من هذه الرواية المعيار من كيل أو وزن اما الغاؤهما بالكلية والعدول عنهما إلى العدد المتفاوت الافراد في الوزن فهو خلاف الظه وخلاف النص الصريح في اشتراط المساواة في المكيلات والموزونات وعلى كل فينبغي الجواز والخروج من الاثم عند الله تعالى اما بناء على العمل بالعرف أو للضرورة فقد اجازوا ما هو دون ذلك في الضرورة ففي البحر عن القنية وينبغى جواز استقراض الحمية من غير وزن (وسئل النبي صلى الله عليه وسلم عن خميرة يتعاطاها الجيران ليكون ربا فقال ما رآه المسلمون حسنا فهو عند الله حسن وما رآه المسلمون قبيحا فهو عند الله قبيح) وذكر في البزازية في البيع الفاسد في القول السادس في بيع الوفاء انه صحيح قال لحاجة الناس فرارا من الربا فبلخ اعتادوا الدين والإجارة وهى لا تصح في الكرم وبخارى اعتادوا الإجارة الطويلة ولا تمكن في أو شجار فاضطروا إلى بيعها وفاء وما ضاق على الناس امر إلا اتسع حكمه انتهى نقله في الاشباه في فروع العرف الخاص (فإن قلت) قدمت عن الأشباه ان المشقة والحرج انما تعتبر في موضع لا نص فيه ولذا رد على أبي يوسف في تجويزه رعى حشيش الحرم للضرورة بأنه منصوص على خلافه (قلت) قد يجاب بأن النص على تحريم رعى الحشيش دليل على عدم الحرج فيه لان استثناءه - صلى الله تعالى عليه وسلم - الاذخر فقط للحرج دال على انه لا حرج فيما عداه بناء على ان ذلك حرج يسير يمكن الخروج عنه بمشقة يسيرة بخلاف مسئلتنا فإن تغيير ما اعتاده عامة أهل العصر في عامة بلاد الإسلام لا حرج فوقه ولا شك انه فوق الحرج الذي عفى لاجله عن بعض النجاساة المنهية بالنص كطين الشارع الغالب عليه النجاسة وكبول السنور في الثياب والبعر القليل في الآبار والمحلب لكن ذلك بتخصيص لادلة النجاسة
--------------------------------------------
(1) এতে একটি সংশয় রয়েছে, আর তা হলো—এই বর্ণনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, পরিমাপ (কাইল) বা ওজনই হলো মানদণ্ড। কিন্তু এই উভয়টিকে সম্পূর্ণরূপে বর্জন করা এবং এমন সংখ্যার দিকে ফিরে যাওয়া যার এককগুলোর ওজনে ভিন্নতা থাকে, তা বাহ্যিক অবস্থার পরিপন্থী এবং পরিমাপযোগ্য ও ওজনযোগ্য দ্রব্যাদিতে সমতার শর্তারোপ সংক্রান্ত সুস্পষ্ট পাঠের পরিপন্থী। যাই হোক, প্রথা অনুযায়ী আমল করার ভিত্তিতে অথবা প্রয়োজনের খাতিরে এটি জায়েজ হওয়া এবং আল্লাহর নিকট গুনাহ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া সমীচীন। কেননা ফকীহগণ প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও অনুমতি দিয়েছেন। ‘আল-বাহর’ গ্রন্থে ‘আল-কুনিয়া’ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে, ওজন করা ছাড়াই খামির ধার দেওয়া জায়েজ হওয়া উচিত। (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রতিবেশীদের মাঝে আদান-প্রদানকৃত খামির সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, এটি সুদ হবে কি না? তখন তিনি বলেছিলেন: “মুসলমানরা যা উত্তম মনে করে, তা আল্লাহর নিকটও উত্তম; আর মুসলমানরা যা মন্দ মনে করে, তা আল্লাহর নিকটও মন্দ।”) ‘আল-বাজজাজিয়া’র ‘ফাসিদ বিক্রয়’ অধ্যায়ের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে ‘বাই-উল-ওয়াফা’ সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এটি সঠিক। সেখানে বলা হয়েছে যে, সুদের হাত থেকে বাঁচতে মানুষের প্রয়োজনের কারণে এটি বৈধ। বালখ শহরের অধিবাসীরা ঋণ ও ইজারার প্রথা অনুসরণ করত, অথচ আঙ্গুর বাগানের ক্ষেত্রে এটি শুদ্ধ নয়। বুখারা শহরের অধিবাসীরা দীর্ঘমেয়াদী ইজারার প্রথা অনুসরণ করত, যা বৃক্ষের ক্ষেত্রে সম্ভব ছিল না; ফলে তারা ‘বাই-উল-ওয়াফা’র মাধ্যমে তা বিক্রয় করতে বাধ্য হয়েছিল। আর মানুষের জন্য যখনই কোনো বিষয় সংকুচিত হয়েছে, তার বিধান প্রশস্ত হয়েছে—এটি ‘আল-আশবাহ’ গ্রন্থের ‘বিশেষ প্রথা’ পরিচ্ছেদে সমাপ্ত হয়েছে। (যদি আপনি বলেন) আপনি ‘আল-আশবাহ’ থেকে ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছেন যে, কষ্ট ও সংকীর্ণতা কেবল সেই স্থানেই বিবেচনা করা হয় যেখানে কোনো সুস্পষ্ট পাঠ নেই। এই কারণেই ইমাম আবু ইউসুফের হারামের ঘাস চারণের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, কারণ এ বিষয়ে বিপরীতধর্মী সুস্পষ্ট পাঠ বিদ্যমান। (আমি বলব) এর উত্তর এভাবে দেওয়া যেতে পারে যে, ঘাস চারণ নিষিদ্ধ হওয়ার ওপর সুস্পষ্ট পাঠ থাকা এটিই প্রমাণ করে যে এতে কোনো বিশেষ সংকীর্ণতা নেই। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক কেবল ‘ইজখির’ ঘাসকে সংকীর্ণতার কারণে ব্যতিক্রম রাখা প্রমাণ করে যে, অন্য সব ক্ষেত্রে কোনো বিশেষ সংকীর্ণতা নেই। এর ভিত্তি হলো এটি একটি সামান্য কষ্ট যা সামান্য প্রচেষ্টায় পরিহার করা সম্ভব। আমাদের আলোচ্য বিষয়টি এর বিপরীত; কারণ বর্তমান যুগের সাধারণ মানুষ এবং সাধারণ মুসলিম দেশগুলোতে যা প্রচলিত হয়ে গেছে, তা পরিবর্তন করার মধ্যে চরম সংকীর্ণতা রয়েছে। আর এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই সংকীর্ণতা সেই সংকীর্ণতার চেয়েও বেশি, যার কারণে সুস্পষ্ট পাঠ দ্বারা নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও কিছু নাপাকীকে ক্ষমা করা হয়েছে; যেমন রাস্তার কাদা যাতে সাধারণত অপবিত্রতা মিশে থাকে, কাপড়ে বিড়ালের প্রস্রাব, কূপে পশুর যৎসামান্য বিষ্ঠা এবং দুধ দোহনের পাত্র। তবে এটি অপবিত্রতার দলীলসমূহের বিশেষায়নের মাধ্যমে করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২১)
ويمكن ادعاء ذلك هنا بأن يجعل العرف مخصصا لادلة اشتراط المعيار عما إذا كان في الزيادة منفعة لاحد المتعاقدين ولهذا لم تحرم الزيادة القليلة التي لا تدخل تحت المعيار الشرعى فيجوز الاستقراض بالعدد ولا يكون ربا على هذا الوجه وكذا البيع والإجارة ونحوهما ويدل عليه انهم قالوا ينصرف مطلق الثمن إلى النقد الغالب في بلد البيع وإن اختلفت النقود فسد ان لم يبين لوجود الجهالة المفضية إلى المنازعة والمراد باختلاف النقود اختلاف ماليتها مع الاستواء في الرواج كالبندقي والقايتباى والسليمي والمغربي والغورى في القاهرة الآن كذا في البحر ومثله في زماننا الجهادي المحمودي والعدلى فانهما مستويان في الرواج مختلفان في القيمة وكذا الفندقى القديم والجديد فإذا اشترى وسمى الفندقى ولم يبين فسد البيع لافضائه إلى المنازعة فإذا كانت العلة المنازعة بسبب اختلاف النوعين في المالية دل على انه إذا لم تلزم المنازعة لا فساد فإذا اشترى بالعدلى ولم يبين ان المراد منه القديم أو الجديد لا يضر لتساويهما في المالية وإن اختلفا في الوزن وهكذا يقال في الإجارة وغيرها (ويدل) على ذلك انهم صرحوا بفساد البيع بشرط لا يقتضيه العقد وفيه نفع لاحد العاقدين واستدلوا على ذلك بنهيه - صلى الله تعالى عليه وسلم - عن بيع وشرط وبالقياس واستثنوا من ذلك ما جرى به العرف كبيع نعل على ان يحذوها البائع قال في منح الغفار فإن قلت إذا لم يفسد الشرط المتعارف العقد يلزم ان يكون العرف قاضيا على الحديث قلت ليس بقاض عليه بل على القياس لان الحديث معلول بوقوع النزاع المخرج للعقد عن المقصود به وهو قطع المنازعة والعرف ينفى النزاع فكان موافقا لمعنى الحديث ولم يبق من الموانع إلا القياس والعرف قاض عليه انتهى فهذا غاية ما وصل إليه فهمى في تقرير هذه المسألة والله تعالى اعلم
(1) (ثم اعلم) ان هذا كله فيما إذا لم يغلب الغش على الذهب والفضة اما إذا غلب فلا كلام في جواز استقراضها عددا بدون وزن اتباعا للعرف بخلاف ما إذ باعها بالفضة الخالصة فإنه لا يجوز إلا وزنا قال في الذخيرة البرهانية في الفصل التاسع من كتاب المداينات قال محمد رحمه الله تعالى في الجامع إذا كانت الدراهم ثلثها فضة وثلثاها صفر فاستقرض رجل منها
--------------------------------------------
এখানে এটি দাবি করা সম্ভব যে, প্রথাকে (عرف) পরিমাপের মানদণ্ড নির্ধারণের শর্তযুক্ত দলিলসমূহের (أدلة) ক্ষেত্রে এমনভাবে সুনির্দিষ্টকারী (مخصص) হিসেবে গণ্য করা হবে, যেখানে অতিরিক্ত অংশে চুক্তিবদ্ধ কোনো এক পক্ষের স্বার্থ নিহিত থাকে। এই কারণেই সামান্য পরিমাণ আধিক্য যা শরয়ি পরিমাপের অন্তর্ভুক্ত হয় না, তা হারাম করা হয়নি। সুতরাং গণনা করে ঋণ প্রদান করা বৈধ এবং এক্ষেত্রে একে সুদ (ربا) গণ্য করা হবে না। অনুরূপভাবে ক্রয়-বিক্রয়, ইজারা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হবে। এর সপক্ষে দলিল হলো, ফকিহগণ বলেছেন যে, মূল্যের সাধারণ উল্লেখ ক্রয়-বিক্রয়ের শহরের প্রচলিত মুদ্রার দিকেই ফিরে যাবে। যদি মুদ্রা ভিন্ন ভিন্ন হয় এবং কোনোটি সুনির্দিষ্ট না করা হয়, তবে বিবাদের দিকে নিয়ে যাওয়ার মতো অজ্ঞতা (جهالة) বিদ্যমান থাকার কারণে চুক্তিটি বাতিল (فسد) হয়ে যাবে। মুদ্রার ভিন্নতা বলতে এখানে প্রচলিত মুদ্রার সমান হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর আর্থিক মানের ভিন্নতাকে বোঝানো হয়েছে। যেমন বর্তমানে কায়রোতে বুনদুকি, কাইতবেই, সালিমি, মাগরিবি এবং গাউরি মুদ্রার প্রচলন রয়েছে—যেমনটি আল-বাহর গ্রন্থে উল্লেখ আছে। অনুরূপভাবে আমাদের সময়ে জাহাদি, মাহমুদি এবং আদলি মুদ্রা; এগুলোর প্রচলন সমান হলেও আর্থিক মান ভিন্ন। তেমনিভাবে পুরাতন এবং নতুন ফান্দাকি মুদ্রাও এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং কেউ যদি ফান্দাকি মুদ্রা উল্লেখ করে ক্রয় করে কিন্তু পুরাতন না নতুন তা স্পষ্ট না করে, তবে বিবাদের আশঙ্কায় ক্রয়-বিক্রয়টি বাতিল (فسد) হয়ে যাবে। যেহেতু বাতিল (فساد) হওয়ার কারণ হলো বিবাদ (منازعة), যা আর্থিক মানের ভিন্নতার কারণে ঘটে; এটি প্রমাণ করে যে, যেখানে বিবাদের সম্ভাবনা নেই সেখানে কোনো বাতিল (فساد) প্রক্রিয়াও নেই। অতএব, যদি কেউ আদলি মুদ্রা দিয়ে ক্রয় করে এবং সেটি পুরাতন না নতুন তা স্পষ্ট না করে, তবে তা কোনো ক্ষতি করবে না; কারণ ওজনে ভিন্নতা থাকলেও সেগুলোর আর্থিক মান সমান। ইজারা ও অন্যান্য বিষয়ের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। (এর সপক্ষে দলিল) হলো, ফকিহগণ এমন শর্তে ক্রয়-বিক্রয় বাতিল (فساد) হওয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন যা চুক্তির প্রকৃতির পরিপন্থী এবং যাতে কোনো এক পক্ষের স্বার্থ জড়িয়ে থাকে। তারা এর সপক্ষে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের 'শর্তযুক্ত ক্রয়-বিক্রয়' থেকে নিষেধ করার হাদিস এবং অনুমান বা তুলনার (قياس) মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন। তবে তারা প্রচলিত প্রথাকে (عرف) এর থেকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন, যেমন জুতা ক্রয় করা এই শর্তে যে বিক্রেতা তা সেলাই করে দেবে। মিনহুল গাফফার গ্রন্থে বলা হয়েছে: 'যদি আপনি বলেন, প্রচলিত শর্ত যদি চুক্তিকে বাতিল (فساد) না করে, তবে এর অর্থ দাঁড়ায় প্রথা (عرف) হাদিসের ওপর বিচারক হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আমি বলব, এটি হাদিসের ওপর বিচারক নয় বরং অনুমান বা তুলনার (قياس) ওপর বিচারক। কারণ হাদিসটি বিবাদের আশঙ্কার কারণে কারণযুক্ত (معلول), যা চুক্তিকে তার মূল উদ্দেশ্য—অর্থাৎ বিবাদ নিরসন—থেকে বিচ্যুত করে দেয়। আর প্রথা (عرف) বিবাদ দূর করে, ফলে তা হাদিসের মর্মার্থের অনুকূল হয়। এমতাবস্থায় বাধা হিসেবে কেবল অনুমান বা তুলনা (قياس) অবশিষ্ট থাকে, আর প্রথা (عرف) তার ওপর প্রাধান্য পায়।' সমাপ্ত। এই মাসয়ালাটি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে আমার বুঝ যতটুকু পৌঁছেছে, এটিই তার চূড়ান্ত সীমা। আর মহান আল্লাহ অধিক জ্ঞাত।
(১) (অতঃপর জেনে রাখুন) এই পুরো আলোচনাটি তখন প্রযোজ্য যখন সোনা ও রুপার মধ্যে খাদের পরিমাণ প্রবল না হয়। যদি খাদের পরিমাণ বেশি হয়, তবে প্রথা (عرف) অনুসরণে ওজন ছাড়াই গণনা করে ঋণ নেওয়া বৈধ হওয়ার ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। তবে যখন একে খাঁটি রুপার বিনিময়ে বিক্রি করা হবে, তখন ওজন ছাড়া তা বৈধ হবে না। আয-যাখিরাহ আল-বুরহানিয়াহ গ্রন্থের আল-মুদায়ানাত অধ্যায়ের নবম পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে: ইমাম মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি আল-জামি গ্রন্থে বলেছেন, যখন দিরহামের এক-তৃতীয়াংশ রুপা এবং দুই-তৃতীয়াংশ তামা হয়, তখন কোনো ব্যক্তি যদি তা থেকে ঋণ গ্রহণ করে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২২)
عددا وهي جارية بين الناس عددا بغير وزن فلا بأس به وإن لم تجر بين الناس إلا وزنا لم يجز استقراضها إلا وزنا لان الصفر متى كان غالبها كانت العبرة للصفر لكونه غالبا وتكون الفضة ساقطة الاعتبار لكونها مغلوبة وكون الصفر موزونا ما ثبت بالنص وما لم يثبت كيله ووزنه بالنص فالعبرة في ذلك لتعامل الناس فمتي تعاملوه موزونا فلا يجوز استقراضه إلا وزنا كالذهب والفضة ومتى تعاملوه عددا كان عددا فلا يجوز استقراضه إلا عددا فقد اسقط محمد رحمه الله تعالى اعتبار الفضة في القرض متى كانت مغلوبة ولم يسقط في حق جواز البيع فقال لا يجوز بيعها بالفضة الخالصة إلا على سبيل الاعتبار وإنما كان كذلك لان القرض اسرع جوازا من البيع لانه مبادلة صورة تبرع حكما والربا انما يتحقق في البيع لا في التبرع فاعتبر الفضة المغلوبة في البيع دون القرض للضيق حال البيع وسعة حال التبرع ولتظهر مزية البيع على القرض فإن كانت الدراهم ثلثاها فضة وثلثها صفر لا يجوز استقراضها إلا وزنا وإن تعامل الناس التبايع بها عددا لان الفضة إذا كانت غالبة بمنزلة ما لو كان الكل فضة لكنها زيف ولو كانت كذلك لا يجوز استقراضها إلا وزنا وإن تعامل الناس التبايع بها عددا كذلك ههنا وإن كانت الدراهم نصفها فضة ونصفها صفر لم يجز استقراضها إلا وزنا على كل حال لانه لم يسقط اعتبار واحد منهما لان إسقاط اعتبار واحد منهما انما يكون حال كونه مغلوبا ولم يوجد فوجب اعتبار غيره وإذا وجب اعتبارهما لم يجز الاستقراض في حق الفضة إلا وزنا وإذا تركوا ذلك بطل الاستقراض في الفضة فيبطل في الصفر ضرورة انتهى هذا كله في الاستقراض وفى بيعها بالفضة الخالصة واما إذا اشترى بها أي بالمغشوشة متاعا فقال في الذخيرة أيضا في الفصل السادس من كتاب البيوع قال في الجامع وإذا كانت الدراهم ثلثاها صفر وثلثها فضة فاشترى بها متاعا وزنا جاز على كل حال ولا تتعين تلك الدراهم وإن اشترى بها بغير عينها عددا وهى بينهم وزنا فلا خير فيه لان قوله اشتريت بكذا درهما ينصرف إلى الوزن لانهم إذا تعاملوا الشراء بها وزنا لا عددا تقررت الصفة الاصلية للدراهم وهى الوزن وصارت العبرة للوزن والثمن إذا كان موزونا فإنما يصير معلوما باحد أمرين اما بذكر الوزن أو بالاشارة إليه ولم يوجد شيء من ذلك فكان الثمن مجهولا جهالة توقعهما في المنازعة لان فيها الخفاف والثقال والثقل معتبر عند الناس حيث تعاملوا الشراء بها وزنا وإن اشترى بها بعينها عددا فلا بأس وإن تعاملوا المبايعة بها وزنا لان جهالة الوزن في المشار إليه لا تمنع جواز البيع وإن كانت بينهم عددا فاشترى بها بغير عينها عددا جاز وإن كان فيها الخفاف والثقال لانهم متى تعاملوا بها عددا لا وزنا فالجهالة من حيث الثقل والخفة لا توقعهما
যদি দিরহামসমূহ সংখ্যার ভিত্তিতে হয় এবং ওজন (وزنا) করা ছাড়াই মানুষের মাঝে প্রচলিত থাকে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু মানুষের মাঝে যদি ওজন (وزنا) ছাড়া তা প্রচলিত না থাকে, তবে ওজন ছাড়া তা ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না। কারণ তামা যখন غالب (غالب) বা সংখ্যাগরিষ্ঠ থাকে, তখন তামার হুকুমই ধর্তব্য হয়; আর রূপা সেখানে مغلুব (مغلوبة) বা সংখ্যালঘু হওয়ার কারণে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে। তামা যে ওজনি (وزنا) বস্তু, তা নস (النص) দ্বারা প্রমাণিত। আর যার পরিমাপ বা ওজন নস (النص) দ্বারা প্রমাণিত নয়, সেক্ষেত্রে মানুষের প্রচলিত প্রথা বা ব্যবহার (تعامل) ধর্তব্য হবে। সুতরাং মানুষ যখন তা ওজনের ভিত্তিতে লেনদেন করে, তখন সোনা ও রূপার মতোই ওজন ছাড়া তা ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না। আর যখন তারা সংখ্যার ভিত্তিতে লেনদেন করে, তখন তা সংখ্যা (عددا) হিসেবেই গণ্য হবে; এমতাবস্থায় সংখ্যা ছাড়া তা ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না।
ইমাম মুহাম্মদ (রহ.) ঋণের ক্ষেত্রে মغلুব (مغلوبة) রূপার উপযোগিতা বিলুপ্ত করেছেন, তবে কেনাবেচার (البيع) ক্ষেত্রে তা বিলুপ্ত করেননি। তিনি বলেছেন: খাঁটি রূপার বিনিময়ে এটি বিক্রয় করা জায়েয হবে না কেবল মূল্যের সমতা রক্ষার দিক বিবেচনায়। এর কারণ হলো, কেনাবেচার তুলনায় ঋণ জায়েয হওয়ার ক্ষেত্রটি অধিক প্রশস্ত। কারণ ঋণ বাহ্যিক রূপে বিনিময় হলেও হুকুমের দিক থেকে এটি তাবাররু বা অনুদান (تبرع)। আর সুদ (الربا) কেবল কেনাবেচাতেই সাব্যস্ত হয়, অনুদান (تبرع) বা ইহসানে নয়। তাই কেনাবেচার ক্ষেত্রে কঠোরতা এবং অনুদানের ক্ষেত্রে প্রশস্ততার কারণে কেনাবেচায় মغلুব (مغلوبة) রূপাকে গণ্য করা হয়েছে, কিন্তু ঋণের ক্ষেত্রে নয়; যাতে ঋণের ওপর কেনাবেচার বিশেষত্ব প্রকাশ পায়।
যদি দিরহামের দুই-তৃতীয়াংশ রূপা এবং এক-তৃতীয়াংশ তামা হয়, তবে ওজন (وزنا) ছাড়া তা ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না, যদিও মানুষ সংখ্যার (عددا) ভিত্তিতে কেনাবেচা করে। কারণ রূপা যখন غالب (غالب) থাকে, তখন এটি পূর্ণ রূপার স্থলাভিষিক্ত হয়, তবে তা নিচু মানের মুদ্রা (زيف) হিসেবে গণ্য। এমতাবস্থায় মানুষ সংখ্যার ভিত্তিতে লেনদেন করলেও তা ওজন ছাড়া ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না। একইভাবে দিরহামের অর্ধেক রূপা এবং অর্ধেক তামা হলে সব অবস্থাতেই ওজন (وزنا) ছাড়া ঋণ নেওয়া জায়েয হবে না। কারণ এক্ষেত্রে কোনোটিরই গুরুত্ব বা হুকুম রহিত হয়নি। কোনো একটির গুরুত্ব কেবল তখনই রহিত হয় যখন তা মغلুব (مغلوبة) অবস্থায় থাকে, যা এখানে বিদ্যমান নেই। তাই অপরটির গুরুত্ব বিবেচনা করা আবশ্যক। আর যখন উভয়টির বিবেচনা আবশ্যক হয়, তখন রূপার হকের কারণে ওজন (وزنا) ছাড়া ঋণ জায়েয হবে না। আর যখন তারা ওজন ত্যাগ করবে, তখন রূপার ক্ষেত্রে ঋণ বাতিল হয়ে যাবে এবং অনিবার্যভাবে তামার ক্ষেত্রেও তা বাতিল হয়ে যাবে। (সমাপ্ত)
এ পর্যন্ত যা আলোচিত হলো তা ঋণের ক্ষেত্রে এবং খাঁটি রূপার বিনিময়ে বিক্রির ক্ষেত্রে। তবে যখন এই মিশ্রিত বা ভেজালযুক্ত (المغشوشة) মুদ্রা দিয়ে কোনো পণ্য ক্রয় করা হবে, তখন 'আল-যাখিরা' কিতাবের কেনাবেচা অধ্যায়ের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে: 'আল-জামি' গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, যদি দিরহামের দুই-তৃতীয়াংশ তামা এবং এক-তৃতীয়াংশ রূপা হয় এবং তা দিয়ে ওজনের (وزنا) ভিত্তিতে কোনো পণ্য ক্রয় করা হয়, তবে তা সবাবস্থায় জায়েয হবে এবং সেই দিরহামগুলো নির্ধারিত (تتعين) হবে না। আর যদি তা সুনির্দিষ্ট করা ছাড়াই সংখ্যার (عددا) ভিত্তিতে ক্রয় করা হয়, অথচ মানুষের মাঝে তা ওজনের (وزنا) ভিত্তিতে প্রচলিত থাকে, তবে তাতে কোনো কল্যাণ নেই। কারণ ক্রেতার এই কথা: 'আমি এত দিরহামে ক্রয় করলাম', এটি ওজনের (الوزن) দিকেই ধাবিত হয়। কেননা যখন তারা কেনাবেচায় সংখ্যার পরিবর্তে ওজনকে গ্রহণ করে, তখন দিরহামের আসল বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ ওজন সাব্যস্ত হয়ে যায় এবং ওজনই ধর্তব্য হয়। আর মূল্য (الثمن) যখন ওজনি হয়, তখন তা কেবল দুটি বিষয়ের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট হয়: হয় ওজনের বর্ণনার মাধ্যমে অথবা সেদিকে ইশারা করার মাধ্যমে। যখন এর কোনোটিই পাওয়া যায় না, তখন মূল্যটি অজ্ঞাত (مجهولا) থেকে যায়, যা তাদের বিবাদে জড়িয়ে ফেলার আশঙ্কা তৈরি করে। কারণ মুদ্রার মধ্যে হালকা এবং ভারী মুদ্রার সংমিশ্রণ থাকে, আর মানুষের লেনদেনে ওজন ধর্তব্য হওয়ায় মুদ্রার ভারও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তবে যদি সেই দিরহামগুলো সুনির্দিষ্ট (بعينها) করে সংখ্যার (عددا) ভিত্তিতে ক্রয় করা হয়, তবে কোনো সমস্যা নেই, যদিও মানুষের মাঝে তা ওজনের (وزنا) ভিত্তিতে প্রচলিত থাকে। কারণ নির্দিষ্ট করা হয়েছে এমন বস্তুর ওজনের অজ্ঞতা (جهالة) কেনাবেচা জায়েয হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক নয়। আর যদি মানুষের মাঝে তা সংখ্যার (عددا) ভিত্তিতে প্রচলিত হয় এবং সে নির্দিষ্ট করা ছাড়াই সংখ্যার ভিত্তিতে ক্রয় করে, তবে তা জায়েয হবে—চাই সেখানে মুদ্রা হালকা হোক বা ভারী। কারণ যখন তারা ওজনের পরিবর্তে সংখ্যার ভিত্তিতে লেনদেন করে, তখন মুদ্রার ভার বা হালকা হওয়া থেকে সৃষ্ট অজ্ঞতা (الجهالة) তাদের বিবাদে জড়াবে না।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২৩)
في المنازعة فلا يمنع الجواز وإن كان ثلثاها فضة وثلثها صفر فهي بمنزلة الدراهم الزيوف والنبهرجة أن لم تكن مشارا إليها لا يجوز الشراء إلا وزنا كما لو كان الكل فضة زيفا ولهذا لم يجز استقراضها إلا وزنا وإن كانت مشارا إليها يجوز الشراء بها من غير وزن وإن كانت نصفها فضة ونصفها صفر فالجواب كما لو كان ثلثاها صفر أو ثلثها فضة لان عند الاستواء لا تصير الفضة تبعا للصفر فلا يجوز الشراء في حق الفضة إلا بطريق الوزن وكذا في حق الصفر اهـ (اقول) وبهذا حصل نوع تخفيف في القضية فإن دراهم زماننا كثير منها غشه غالب على فضته فيجوز الشراء بها عددا سواء كانت بعينها أي مشار إليها اولا (وهذا) إذا اشترى بها عروضا واما لو شرى بها فضة خالصة فلا يجوز إلا وزنا كما مر واما لو شرى بها من جنسها فقال في الذخيرة أيضا بعد ما مر وإذا كانت هذه الدراهم صنوفا مختلفة منها ما ثلثاها فضة ومنها ثلثاها صفر ومنها نصفها فضة فلا بأس ببيع إحداها بالآخر متفاضلا يدا بيد بصرف فضة هذا إلى صفر ذاك وبالعكس كما لو باع صفرا وفضة بصفر وفضة ولا يجوز نسيئة لانه يجمعهما الوزن وهما ثمنان فيحرم النسأ واما إذا باع جنسا منها بذلك الجنس متفاضلا فلو الفضة غالبة لا يجوز لان المغلوب ساقط الاعتبار فكان الكل فضة فلا يجوز إلا مثلا بمثل ولو الصفر غالبا أو كانا على السواء جاز متفاضلا صرف للجنس إلى خلافه ويشترط كونه يدا بيدو على هذا قالوا إذا باع من العدليات التي في زماننا واحدا باثنين يجوز يدا بيد هذه الجملة من الجامع الكبير انتهى ملخصا (بقى) هنا شيء ينبغى التنبيه عليه أيضا وقد ذكرته في رسالتي المسماة تنبيه الرقود في احكام النقود وهو انه قد شاع أيضا في عرف البلاد الشامية وغيرها أنهم يتبايعون بالقروش وهى قطع معلومة من الفضة كان كل واحدة منها بأربعين مصرية ثم زادت قيمتها الآن على الأربعين وبقى عرفهم على اطلاق القرش ويريدون به أربعين مصرية كما كان في الأصل ولكن لا يريدون عين القرش ولا عين المصريات بل يطلقون القرش وقت البيع ويدفعون بمقدار ما سموه في العقد اما من المصريات أو من غيرها ذهبا أو فضة فصار القرش عندهم بيانا لمقدار الثمن من النقود الرائجة على السواء المختلفة المالية لا لبيان نوعه ولا لبيان جنسه فيشترى احدهم بمائة قرش ثوبا مثالا ويدفع بمقابلة كل قرش أربعين مصرية أو يدفع من القروش الصحاح العتيقة وتساوى الآن مائة وعشرين مصرية فيدفع كل قرش منها بدل ثلاثة قروش أو من الجديدة السليمية وتساوى الآن مائة مصرية بدل قرشين ونصف قرش أو من الجديدة المحمودية وتساوى الآن سبعين مصرية فيدفعها بدل قرش ونصف
বিবাদপূর্ণ ক্ষেত্রে এটি বৈধতাকে বাধাগ্রস্ত করে না। যদি এর দুই-তৃতীয়াংশ রূপা এবং এক-তৃতীয়াংশ তামা হয়, তবে তা ত্রুটিপূর্ণ এবং অচল দিরহামের পর্যায়ভুক্ত হবে। যদি এগুলো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা না থাকে, তবে ওজন করা ব্যতীত এগুলোর মাধ্যমে কেনা-বেচা জায়েজ হবে না; যেমনটি সমস্ত অংশ ভেজাল রূপা হওয়ার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। এই কারণেই ওজন নির্ধারণ ব্যতীত এগুলো ঋণ নেওয়া বৈধ নয়। আর যদি মুদ্রাগুলো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত থাকে, তবে ওজন করা ছাড়াই এগুলোর মাধ্যমে কেনা-বেচা জায়েজ। আর যদি মুদ্রার অর্ধেক রূপা এবং অর্ধেক তামা হয়, তবে এর উত্তর তা-ই হবে যা দুই-তৃতীয়াংশ তামা বা দুই-তৃতীয়াংশ রূপা হওয়ার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। কারণ সমতার ক্ষেত্রে রূপা তামার অনুগামী হয় না; ফলে রূপার হকের ক্ষেত্রে ওজন ব্যতীত কেনা-বেচা জায়েজ হবে না এবং তামার ক্ষেত্রেও একই বিধান। সমাপ্ত। (আমি বলছি) এর মাধ্যমে বিষয়টিতে এক প্রকার শিথিলতা অর্জিত হয়েছে। কারণ আমাদের বর্তমান সময়ের অনেক দিরহামেই রূপার চেয়ে ভেজালের আধিক্য রয়েছে। সুতরাং সেগুলো নির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হোক বা না হোক, গণনার ভিত্তিতে কেনা-বেচা জায়েজ। (এটি তখন প্রযোজ্য) যখন এর বিনিময়ে পণ্য কেনা হয়। কিন্তু যদি এর বিনিময়ে খাঁটি রূপা কেনা হয়, তবে ওজন করা ব্যতীত জায়েজ হবে না, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যদি একই জাতীয় মুদ্রার বিনিময় সেই জাতীয় মুদ্রার সাথেই করা হয়, তবে আল-যাখিরা গ্রন্থে পূর্বোক্ত বর্ণনার পর বলা হয়েছে: যখন এই দিরহামগুলো বিভিন্ন প্রকারের হয়—কোনোটির দুই-তৃতীয়াংশ রূপা, কোনোটির দুই-তৃতীয়াংশ তামা এবং কোনোটির অর্ধেক রূপা—তবে হাতে হাতে একটির বিনিময়ে অন্যটি কম-বেশি করে বিক্রি করাতে কোনো দোষ নেই; এক্ষেত্রে একদিকের রূপাকে অন্যদিকের তামার বিপরীতে এবং অন্যদিকের রূপাকে এর তামার বিপরীতে বিনিময় ধরা হবে। যেমনটি তামা ও রূপাকে তামা ও রূপার বিনিময়ে বিক্রি করা হয়। কিন্তু বাকিতে লেনদেন জায়েজ নয়, কারণ ওজন উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে এবং উভয়ই মূল্য হিসেবে গণ্য। ফলে বাকিতে বিনিময় হারাম হবে। আর যদি একই জাতীয় মুদ্রার বিনিময় সেই জাতীয় মুদ্রার সাথেই কম-বেশি করে করা হয়, তবে রূপার প্রাধান্য থাকলে তা জায়েজ নয়; কারণ অপ্রধান অংশটি বিবেচনার বাইরে চলে যায় এবং পুরোটি রূপা হিসেবে গণ্য হয়, তাই সমান সমান হওয়া ব্যতীত জায়েজ নেই। কিন্তু যদি তামা বেশি হয় অথবা উভয়টি সমান হয়, তবে কম-বেশি করে বিক্রি করা জায়েজ; এক্ষেত্রে বিষয়টিকে ভিন্ন জাতীয় বলে গণ্য করা হবে এবং হাতে হাতে বিনিময় হওয়া শর্ত। এর ওপর ভিত্তি করে ফকিহগণ বলেছেন: আমাদের সময়ের আদলিয়া মুদ্রার একটির বিনিময়ে দুটি হাতে হাতে বিক্রি করা জায়েজ। এই আলোচনাটি আল-জামি আল-কবির থেকে সংক্ষেপে উদ্ধৃত। (অবশিষ্ট) এখানে একটি বিষয় রয়েছে যা সতর্ক করা প্রয়োজন এবং আমি এটি আমার তানবিহুর রুকুদ ফি আহকামিল নুকুুদ নামক রিসালায় উল্লেখ করেছি। তা হলো—সিরিয়া ও অন্যান্য দেশের প্রচলিত প্রথায় গুরুশ নামক মুদ্রার মাধ্যমে কেনা-বেচা প্রচলিত, যা রূপার নির্দিষ্ট খণ্ড। পূর্বে এর প্রতিটি ৪০ মিসরিয়ার সমান ছিল। বর্তমানে এর মূল্য বৃদ্ধি পেলেও তাদের প্রচলিত প্রথায় গুরুশ বলতে ৪০ মিসরিয়া বোঝানোই অব্যাহত রয়েছে। তবে তারা গুরুশ বা মিসরিয়ার মূল সত্তাকে উদ্দেশ্য করে না, বরং বিক্রির সময় গুরুশ শব্দটি উচ্চারণ করে এবং চুক্তিতে উল্লিখিত মূল্য অনুযায়ী প্রচলিত মুদ্রা প্রদান করে—তা মিসরিয়া হোক বা স্বর্ণ বা রূপার অন্য কিছু হোক। ফলে তাদের কাছে গুরুশ শব্দটি প্রচলিত বিভিন্ন মানের মুদ্রার পরিমাণ নির্ধারণের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে, মুদ্রার প্রকার বা জাতি নির্ধারণের জন্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, তাদের কেউ একশ গুরুশ দিয়ে একটি কাপড় কেনে এবং প্রতিটি গুরুশের বিনিময়ে ৪০ মিসরিয়া প্রদান করে। অথবা সে প্রাচীন নিখুঁত গুরুশ দিয়ে পরিশোধ করে—যার মান বর্তমানে ১২০ মিসরিয়া, ফলে এর প্রতিটি গুরুশ তিন গুরুশের স্থলাভিষিক্ত হয়। অথবা নতুন সলিমিয়া দিয়ে পরিশোধ করে—যার মান বর্তমানে ১০০ মিসরিয়া, ফলে এটি আড়াই গুরুশের স্থলাভিষিক্ত হয়। অথবা নতুন মাহমুদিয়া দিয়ে পরিশোধ করে—যার মান বর্তমানে ৭০ মিসরিয়া, ফলে তা দেড় গুরুশের বদলে পরিশোধ করা হয়।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২৪)
وربع أو يدفع من الريال أو من الذهب على اختلاف أنواعه المتساوية في الرواج بقيمته المعلومة من المصريات هكذا شاع في عرفهم من كبير وصغير وعالم وجاهل ولا يفهمون عند الاطلاق غيره وإذا ارادوا نوعا خاصا عينوه فيقول احدهم بعتك كذا بمائة قرش من الذهب الفلاني أو الريال الفلاني ولا يفهم احدهم انه إذا اشترى بالقروش واطلق ان يكون الواجب عليه دفع عينها فقد صار ذلك عندهم عرفا قوليا وهو مخصص كما قدمناه عن التحرير (وقد) رأيت بفضل الله تعالى في القنية نظير هذا حيث قال في باب المتعارف بين التجار كالمشروط برمز علاء الدين الترجماني باع شيئا بعشرة دنانير واستقرت العادة في ذلك البلد أنهم يعطون كل خمسة اسداس مكان الدينار فاشتهرت بينهم فالعقد ينصرف إلى ما يتعارفه الناس فيما بينهم في تلك التجارة ثم رمز لفتاوى أبي الفضل الكرماني جرت العادة فيما بين أهل خوارزم انهم يشترون سلعة بدينار ثم ينقدون ثلثي دينار محمودي أو ثلثي دينار وطسوج نيسابورية قال يجرى على المواضعة ولا تبقى الزيادة دينا عليهم انتهى (فهذا) نص فقهى في اعتبار العرف بذكر الدينار ودفع اقل منه وزنا مما يساوى قيمته فلم يتعين المذكور في العقد اعتبارا للعرف كالقرش في عرفنا إلا ان القرش في عرفنا يراد به ما يساوى قيمته من الفضة أو الذهب بانواعهما المختلفة في القيمة المتساوية في الرواج والاختلاف في القيمة مع التساوى في الرواج وإن كان مانعا من صحة البيع لكن ذاك فيما يؤدى إلى الجهالة بأن كان يلزم منه اختلاف الثمن كما إذا اشترى بالفندقى ولم يقيده بالقديم أو الجديد فإن القديم الآن بخمسة وعشرين قرشا والجديد بعشرين قرشا فالبائع يطلب القديم والمشترى يريد دفع الجديد فيؤدى إلى جهالة الثمن والمنازعة فلا يصح بخلاف ما إذا قال اشتريته بعشرين قرشا مثلا ودفع الفندقى الجديد مثلا أو غيره بقيمته المعلومة وقت العقد مما هو رائج فإنه لا جهالة ولا منازعة فيه اصلا للعلم بأن المراد بالقرش ليس عينه بل ما يساويه في القيمة من أي نقد كان لان المدار على معرفة مقدار الثمن ورفع الجهالة والمنازعة وذلك حاصل فيما ذكر ولكن لو كان الغالب الغش على كل دراهم زماننا لم يبق اشكال في المسئلة اصلا وإنما يبق الاشكال من حيث ان بعضها فضة غالبة وهذه لا يجوز دفعها إلا وزنا فنحتاج إلى القول بالعرف للضرورة على ما قررناه سابقا والله تعالى اعلم (فإن قلت) ان ما قدمته من ان العرف العام يصلح مخصصا للأثر ويتراك به القياس انما هو فيما إذا كان عاما من عهد الصحابة ومن بعدهم بدليل ما قالوا في الاستصناع ان القياس عدم جوازه لكنا تركنا القياس بالتعامل به من غير نكير من أحد من الصحابة ولا من التابعين ولا من علماء كل عصر وهذا حجة يترك
এবং এক চতুর্থাংশ অথবা রিয়াল বা স্বর্ণের বিভিন্ন প্রকার থেকে প্রদান করা হয় যা প্রচলনের দিক থেকে সমমানের এবং মিশরের সুপরিচিত মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত। তাদের প্রচলিত প্রথায় এটি ছোট-বড়, আলেম ও সাধারণ নির্বিশেষে এমনভাবে প্রচলিত যে, সাধারণভাবে কোনো কিছু উল্লেখ করলে তারা এটি ছাড়া অন্য কিছু বোঝে না। যখন তারা কোনো বিশেষ প্রকারের মুদ্রা উদ্দেশ্য করে, তখন তারা তা সুনির্দিষ্ট করে দেয়। ফলে তাদের কেউ বলে: 'আমি তোমার কাছে অমুক জিনিসটি অমুক স্বর্ণমুদ্রা বা অমুক রিয়ালের বিনিময়ে একশ দিরহামের (কুরশ) বিনিময়ে বিক্রি করলাম।' তাদের কেউ এটি বোঝে না যে, যখন দিরহামের (কুরশ) মাধ্যমে ক্রয় করে এবং বিষয়টি অনির্ধারিত রাখা হয়, তখন তাকে সরাসরি সেই নির্দিষ্ট মুদ্রাটিই প্রদান করতে হবে। এটি তাদের নিকট একটি বাচনিক প্রথা (عرف قولي) হিসেবে পরিগণিত হয়েছে এবং এটি সাধারণ বিধানকে বিশিষ্টকারী (مخصص), যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে 'আত-তাহরির' থেকে বর্ণনা করেছি।
(এবং) আমি আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে 'আল-কুনইয়াহ' গ্রন্থে এর অনুরূপ একটি মাসআলা দেখেছি, যেখানে তিনি 'ব্যবসায়ীদের মাঝে প্রচলিত প্রথা' অধ্যায়ে আলাউদ্দিন আত-তারজুমানির সংকেত ব্যবহার করে বলেছেন: এক ব্যক্তি দশ দিনারের বিনিময়ে কোনো কিছু বিক্রি করল এবং সেই শহরে এমন রীতি প্রতিষ্ঠিত যে, তারা দিনারের পরিবর্তে পাঁচ-ষষ্ঠাংশ প্রদান করে; আর এটি তাদের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে। এমতাবস্থায় চুক্তিটি সেই ব্যবসায়ে মানুষের মাঝে প্রচলিত রীতির দিকেই ধাবিত হবে। এরপর তিনি আবু আল-ফজল আল-কিরমানির ফাতওয়ার সংকেত দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, খওয়ারেজমবাসীদের মধ্যে রীতি প্রচলিত ছিল যে, তারা দিনারের বিনিময়ে পণ্য ক্রয় করত এবং পরবর্তীতে মাহমুদিয়া দিনারের দুই-তৃতীয়াংশ অথবা নিশাপুরি ওয়াতসুজের দুই-তৃতীয়াংশ প্রদান করত। তিনি বলেন, এটি তাদের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কার্যকর হবে এবং অতিরিক্ত অংশ তাদের ওপর ঋণ হিসেবে অবশিষ্ট থাকবে না। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
(অতএব এটি) দিনার উল্লেখ করা এবং তার সমমূল্যের কিন্তু ওজনে কম মুদ্রা প্রদান করার ক্ষেত্রে প্রথাকে (عرف) বিবেচনা করার ব্যাপারে একটি ফিকহি ভাষ্য। সুতরাং চুক্তিতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা প্রথা বিবেচনার কারণে নির্ধারিত হয়ে যাবে না, যেমনটি আমাদের প্রথায় দিরহাম (কুরশ)। তবে আমাদের প্রথায় দিরহাম (কুরশ) বলতে রৌপ্য বা স্বর্ণের বিভিন্ন প্রকারের মধ্য থেকে তার সমমূল্য বোঝানো হয়, যেগুলো মূল্যের দিক থেকে ভিন্ন হলেও প্রচলনের দিক থেকে সমান। মূল্যের ভিন্নতা সত্ত্বেও প্রচলন সমান হওয়া যদিও ক্রয়-বিক্রয় সহিহ (صحيح) হওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক হতে পারে, তবে তা কেবল তখনই যখন এটি এমন অজ্ঞাতাবস্থার (جهالة) দিকে নিয়ে যায় যা মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের সৃষ্টি করে। যেমন, কেউ যদি ফান্দুকি মুদ্রার বিনিময়ে ক্রয় করে এবং তা পুরাতন না নতুন—তা স্পষ্ট না করে; কারণ বর্তমানে পুরাতনটির মূল্য পঁচিশ দিরহাম (কুরশ) এবং নতুনটির মূল্য বিশ দিরহাম (কুরশ)। এমতাবস্থায় বিক্রেতা পুরাতনটি দাবি করবে আর ক্রেতা নতুনটি দিতে চাইবে, যা মূল্যের ক্ষেত্রে অজ্ঞাতাবস্থা (جهالة) এবং বিবাদের সৃষ্টি করবে। ফলে চুক্তিটি সহিহ (صحيح) হবে না। এর বিপরীতে যদি সে বলে: 'আমি এটি বিশ দিরহামের বিনিময়ে ক্রয় করলাম' এবং নতুন ফান্দুকি বা অন্য কোনো প্রচলিত মুদ্রা চুক্তিকালীন সুপরিচিত মূল্যে পরিশোধ করে, তবে এতে কোনো অজ্ঞাতাবস্থা (جهالة) বা বিবাদ নেই। কারণ এটি স্পষ্ট যে, দিরহাম (কুরশ) দ্বারা উদ্দেশ্য সেই মুদ্রাটি নিজে নয়, বরং যেকোনো মুদ্রার মাধ্যমে তার সমমূল্য পরিশোধ করা। কেননা মূল উদ্দেশ্য হলো মূল্যের পরিমাণ জানা এবং অজ্ঞাতাবস্থা (جهالة) ও বিবাদ দূর করা, যা উল্লিখিত পদ্ধতিতে অর্জিত হয়।
কিন্তু যদি আমাদের সময়ের সমস্ত দিরহামে ভেজালের আধিক্য থাকে, তবে মাসআলাটিতে আর কোনো জটিলতা থাকে না। জটিলতা কেবল তখনই তৈরি হয় যখন কোনো কোনো মুদ্রায় রৌপ্যের প্রাধান্য থাকে; কারণ এমতাবস্থায় ওজনের ভিত্তিতে ব্যতীত তা পরিশোধ করা জায়েজ নয়। ফলে আমরা ইতিপূর্বে যা প্রতিষ্ঠিত করেছি, সেই অনুযায়ী প্রয়োজনের খাতিরে প্রথার (عرف) কথা বলতে বাধ্য হই। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(যদি আপনি বলেন) আমি যা পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, সাধারণ প্রথা বর্ণনার (أثر) জন্য বিশিষ্টকারী (مخصص) হতে পারে এবং এর মাধ্যমে যৌক্তিক অনুমান (قياس) পরিত্যাগ করা হয়—তা কেবল তখনই প্রযোজ্য যখন সেটি সাহাবায়ে কেরাম এবং তাদের পরবর্তী যুগ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলে আসা কোনো সাধারণ প্রথা হয়। এর প্রমাণ হিসেবে তারা 'ইস্তিসনা' এর ক্ষেত্রে যা বলেছেন যে, যৌক্তিক অনুমান (قياس) অনুযায়ী এটি জায়েজ নয়, কিন্তু আমরা সাহাবায়ে কেরাম, তাবেয়িন এবং প্রত্যেক যুগের আলেমদের মধ্য থেকে কারো আপত্তি ছাড়াই এর ওপর আমল করার কারণে যৌক্তিক অনুমান (قياس) পরিত্যাগ করেছি। আর এটি এমন এক দলিল যার মাধ্যমে বিষয়টি বর্জন করা হয়...
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২৫)
به القياس (قلت) من نظر إلى فروعهم عرف ان المراد به ما هو اعم من ذلك إلا ترى انه نهى عن بيع وشرط وقد صرح الفقهاء بأن الشرط المتعارف لا يفسد البيع كشراء نعل على ان يحذوها البائع أي يقطعها* ومنه مالو شرى ثوبا أو خفا خلقا على ان يرقعه البائع ويخرزه ويسلمه فانهم قالوا يصح للعرف فقد خصصوا الأثر بالعرف وإنما يصح دعواك تخصيص العرف العام بما ذكرته إذا ثبت ان ما ذكر من هذا المسائل ونحوها كان العرف فيها موجودا زمن المجتهدين من الصحابة وغيرهم والا فيبقى على عمومه مرادا به ما قابل العرف الخاص ببلدة واحدة وهو ما تعامله عامة أهل البلاد سواء كان قديما أو حديثا (ويدل عليه) ما قدمناه عن الذخيرة في رد ما قاله بعض مشايخ بلخ من اعتبارهم عرف بلخ في بيع الشرب ونحوه بأن عرف أهل بلدة واحدة لا يترك به القياس ولا يخص به الاثر ولو كان المراد بالعرف ما ذكرته لكان حق الكلام في الرد عليهم ان يقال ان العرف الحادث لا يترك به القياس الخ فليتأمل ولو سلم ان المراد بالعرف العام ما ذكرته فاعتبار العرف الخاص ببلدة واحدة قول في المذهب والقول الضعيف يجوز العمل به عند الضرورة كما بينته في آخر شرح المنظومة والله تعالى اعلم بل ذكر في فتح القدير مسألة شراء النعل على ان يحذوها البائع انه يجوز البيع استحسانا ويلزم الشرط للعامل ثم قال ومثله في ديارنا شراء القبقاب على ان يسمر له سيرا انتهى فهذا عرف حادث وخاص أيضا إذ كثير من البلاد لا يلبس فيها القبقاب وقد جعله معتبرا مخصصا للنص الناهي عن بيع بشرط {الباب الثاني} فيما إذا خالف العرف ما هو ظاهر الرواية فنقول اعلم ان المسائل الفقهية اما ان تكون ثابتة بصريح النص وهي الفصل الأول واما ان تكون ثابته بضرب اجتهاد وراي وكثير منها ما يبنيه المجتهد على ما كان في عرف زمانه بحيث لو كان في زمان العرف الحادث لقال بخلاف ما قاله اولا ولهذا قالوا في شروط الاجتهاد انه لابد فيه من معرفة عادات الناس فكثير من الاحكام تختلف باختلاف الزمان لتغير عرف اهله أو لحدوث ضرورة أو فساد أهل الزمان بحيث لو بقى الحكم على ما كان عليه أو لا للزم منه المشقة والضرر بالناس ويخالف قواعد الشريعة المبنية على التخفيف والتيسير ودفع الضرر والفساد لبقاء العالم على اتم نظام واحسن احكام ولهذا ترى مشايخ المذهب خالفوا ما نص عليه المجتهد في مواضع كثيرة بناها على ما كان في زمنه لعلمهم بأنه لو كان في زمنهم لقال بما قالوا به اخذا من قواعد مذهبه (فمن ذلك) افتاؤهم بجواز الاستيجار على تعليم القرآن ونحوه لانقطاع عطايا المعلمين التي كانت في الصدر
এর মাধ্যমে কিয়াস (قياس) করা হয়। (আমি বলি) যারা তাদের ফিকহী শাখাগুলো পর্যবেক্ষণ করেন তারা জানেন যে, এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তার চেয়েও ব্যাপক কোনো বিষয়। আপনি কি দেখেন না যে, শর্তযুক্ত ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করা হয়েছে? অথচ ফকিহগণ (فقيه) স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, প্রচলিত শর্ত ক্রয়-বিক্রয়কে বাতিল করে না। যেমন: জুতো ক্রয় করা এই শর্তে যে বিক্রেতা তা কেটে পরিমাপে ঠিক করে দেবে। এর অন্তর্ভুক্ত হলো—যদি কেউ কোনো পুরোনো কাপড় বা মোজা (খুফ) এই শর্তে ক্রয় করে যে বিক্রেতা তাতে তালি দিয়ে দেবে, সেলাই করবে এবং তারপর হস্তান্তর করবে। তাঁরা বলেছেন যে, প্রচলিত ব্যবহারের (عرف) কারণে এটি বৈধ। ফলে তাঁরা বর্ণনাকে (أثر) প্রচলিত ব্যবহারের মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন। সাধারণ প্রচলনকে (عرف عام) আপনার উল্লিখিত বিষয়ের মাধ্যমে বিশেষায়িত করার দাবিটি তখনি সঠিক হবে যখন প্রমাণিত হবে যে, এই মাসআলাগুলো এবং এই জাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে সাহাবী ও অন্যান্য মুজতাহিদগণের (مجتهد) যুগে এই প্রচলন বিদ্যমান ছিল। অন্যথায়, এটি তার ব্যাপকতার ওপরই বহাল থাকবে, যার দ্বারা উদ্দেশ্য হবে কোনো একটি নির্দিষ্ট শহরের বিশেষ প্রচলনের (عرف خاص) বিপরীত বিষয়; আর তা হলো দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার লেনদেনের প্রচলিত পদ্ধতি, চাই তা প্রাচীন হোক বা আধুনিক। (এর প্রমাণ হিসেবে) ‘আয-যাখিরা’ থেকে আমরা যা পূর্বে পেশ করেছি তা উল্লেখ করা যায়। সেখানে বালখের জনৈক মাশায়েখদের মতকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যারা সেচকার্যের পানি ক্রয়-বিক্রয় বা এই জাতীয় ক্ষেত্রে কেবল বালখ শহরের প্রচলনকে ধর্তব্য মনে করেছিলেন। সেখানে বলা হয়েছে যে, কেবল একটি শহরের প্রচলনের (عرف) কারণে কিয়াস (قياس) বর্জন করা হয় না এবং কোনো বর্ণনাকে (أثر) বিশেষায়িত করা হয় না। যদি প্রচলন (عرف) দ্বারা আপনার উদ্দেশ্যটিই সঠিক হতো, তবে তাদের খণ্ডন করার সঠিক ভাষা হতো এই যে, আধুনিক প্রচলনের (عرف حادث) কারণে কিয়াস (قياس) বর্জন করা হয় না। সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার। আর যদি মেনেও নেওয়া হয় যে, সাধারণ প্রচলন (عرف عام) বলতে আপনি যা বুঝিয়েছেন সেটিই সঠিক, তবুও কোনো নির্দিষ্ট শহরের বিশেষ প্রচলনকে (عرف خاص) গ্রহণ করার বিষয়টি মাযহাবের একটি মতামত। আর দুর্বল (ضعيف) মতের ওপরও প্রয়োজনে আমল করা বৈধ, যেমনটি আমি ‘শারহুল মানজুমা’-র শেষে বর্ণনা করেছি। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। এমনকি ‘ফাতহুল কাদির’-এ কাঠের স্যান্ডেল ক্রয়ের মাসআলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিক্রেতা তার ফিতে লাগিয়ে দেবে—এই শর্তে ক্রয় করা ইসতিহসান (استحسان) হিসেবে জায়েজ এবং শ্রমিকের ওপর সেই শর্ত পালন করা আবশ্যক। এরপর তিনি বলেছেন, আমাদের দেশে ‘কাবকাব’ (কাঠের খড়ম) ক্রয়ের বিষয়টিও অনুরূপ, যা ফিতে লাগিয়ে দেওয়ার শর্তে কেনা হয়। এটি একটি আধুনিক প্রচলন (عرف حادث) এবং এটি বিশেষ প্রচলনও বটে; কারণ অনেক দেশেই খড়ম পরা হয় না। অথচ তিনি একে গ্রহণযোগ্য মনে করেছেন এবং শর্তযুক্ত বিক্রয় নিষিদ্ধকারী মূল পাঠকে (نص) এর মাধ্যমে বিশেষায়িত করেছেন। {দ্বিতীয় অধ্যায়} প্রচলন (عرف) যখন জাহিরুর রিওয়ায়াহ (ظاهر الرواية)-র বিপরীত হয়। আমি বলি, জেনে রাখা উচিত যে, ফিকহী মাসআলাগুলো হয় অকাট্য প্রমাণ (نص) দ্বারা প্রমাণিত—যা প্রথম পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে—অথবা ইজতিহাদ (اجتهاد) ও গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত। এর অনেকগুলোই মুজতাহিদ (مجتهد) তার সমসাময়িক যুগের প্রচলনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করেছেন। ফলে তিনি যদি আধুনিক কোনো প্রচলনের (عرف حادث) যুগে থাকতেন, তবে তিনি তার পূর্ববর্তী মতের বিপরীতে মত দিতেন। এই কারণেই ইজতিহাদের (اجتهاد) শর্তাবলির মধ্যে বলা হয়েছে যে, মানুষের আচার-আচরণ ও অভ্যাস (عادات) সম্পর্কে জ্ঞান থাকা অপরিহার্য। কারণ, যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথে অনেক বিধান পরিবর্তিত হয়। এর কারণ হতে পারে মানুষের অভ্যাসের পরিবর্তন, অথবা নতুন কোনো প্রয়োজন (ضرورة) দেখা দেওয়া, কিংবা যুগের মানুষের নৈতিক অবনতি। এমতাবস্থায় যদি পূর্ববর্তী বিধানটিই বহাল রাখা হয়, তবে তা মানুষের জন্য কষ্টসাধ্য ও ক্ষতির কারণ হবে, যা শরিয়তের সেইসব মূলনীতির পরিপন্থী হবে যেগুলো মানুষের কষ্ট লাঘব ও সহজীকরণ এবং ক্ষতি ও বিশৃঙ্খলা দূর করার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত—যাতে বিশ্বব্যবস্থা সুচারুরূপে পরিচালিত হয়। এই কারণেই আপনি দেখতে পাবেন যে, মাযহাবের মাশায়েখগণ অনেক স্থানে মুজতাহিদ (مجتهد) ইমামের স্পষ্ট বর্ণনার বিরোধিতা করেছেন। ইমাম সেই বিধানটি তার সমসাময়িক যুগের ওপর ভিত্তি করে দিয়েছিলেন। পরবর্তী ফকিহগণ জানতেন যে, ইমাম যদি তাদের যুগে থাকতেন তবে তিনি মাযহাবের মূলনীতির আলোকেই তাদের মতের অনুরূপ মত দিতেন। (এর একটি উদাহরণ হলো) কুরআন শিক্ষা ও এই জাতীয় কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতার ফতোয়া দেওয়া। কারণ, প্রাথমিক যুগে শিক্ষকদের জন্য যে রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা ছিল তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২৬)
الأول ولو اشتغل المعلمون بالتعليم بلا أجرة يلزم ضياعهم وضياع عيالهم ولو اشتغلوا بالاكتساب من حرفة وصناعة يلزم ضياع القرآن والدين فافتوا باخذ الأجرة على التعليم وكذا على الإمامة والاذان كذلك مع ان ذلك مخالف لما اتفق عليه أبو حنيفة وأبو يوسف ومحمد من عدم جواز الاستيجار واخذ الأجرة عليه كبقية الطاعات من الصوم والصلاة والحج وقرأة القرآن ونحو ذلك (ومن ذلك) قول الامامين بعدم الاكتفاء بظاهر العدالة في الشهادة مع مخالفته لما نص عليه أبو حنيفة بناء على ما كان في زمنه من غلبة العدالة لأنه كان في الزمن الذي شهد له رسول الله صلى الله عليه وسلم بالخيرية وهما ادركا الزمن الذي فشى فيه الكذب وقد نص العلماء على ان هذا الاختلاف اختلاف عصر واوان لا اختلاف حجة وبرهان (ومن ذلك) تحقق الاكراه من غير السلطان مع مخالفته لقول الامام بناء على ما كان في زمنه من ان غير السلطان لا يمكنه الاكراه ثم كثر الفساد فصار يتحقق الاكراه من غيره فقال محمد رحمه الله باعتباره وافتى به المتأخرون لذلك (ومن ذلك) تضمين الساعى مع مخالفته لقاعدة المذهب من ان الضمان على المباشر دون المتسبب ولكن افتوا بضمانه زجرا بسبب كثرة السعاة المفسدين بل افتوا بقتله زمن الفترة (ومن ذلك) مسائل كثيرة كتضمين الاجير المشترك* وقولهم ان الوصى ليس له المضاربة بمال اليتيم في زماننا * وافتائيهم بتضمين الغاصب عقار اليتيم والوقف* وبعدم اجارته أكثر من سنة في الدور واكثر من ثلاث سنين في الاراضى مع مخالفته لأصل المذهب من عدم الضمان وعدم التقدير بمدة* ومنع النساء عما كن عليه في زمن النبي - صلى الله تعالى عليه وسلم - من حضور المساجد لصلاة الجماعة* وافتائيهم بمنع الزوج من السفر بزوجته وإن اوفاها المعجل لفساد الزمان* وعدم قبول قوله انه استثنى بعد الحلف بطلاقها إلا ببينة لفساد الزمان مع ان ظاهر الرواية خلافه* وعدم تصديقها بعد الدخول بها بأنها لم تقبض المشروط تعجيله من المهر مع أنها منكرة للقبض وقاعدة المذهب ان القول للمنكر لكنها في العادة لا تسلم نفسها قبل قبضه* وكذا قولهم في قوله كل حل على حرام يقع به الطلاق للعرف قال مشايخ بلخ وقول محمد لا يقع إلا بالنية أجاب به علي عرف ديارهم اما في عرف بلادنا فيريدون به تحريم المنكوحة فيحمل عليه انتهى قال العلامة قاسم ومن الألفاظ المستعملة في هذا في مصرنا الطلاق يلزمنى والحرام يلزمنى وعلى الطلاق وعلى الحرام انتهى* وكذا قولهم المختار في زماننا قول الامامين في المزارعة والمعاملة والوقف لمكان الضرورة والبلوى وافتى كثير منهم بقول محمد بسقوط الشفعة إذا اخر طلب التملك شهرا دفعا للضرر
প্রথমত, শিক্ষকরা যদি পারিশ্রমিক ছাড়াই শিক্ষাদানে নিয়োজিত থাকেন, তবে তাদের এবং তাদের পরিবার-পরিজনের বিনাশ অনিবার্য হয়ে পড়বে। আবার তারা যদি জীবিকা অন্বেষণের জন্য কোনো পেশা বা শিল্পকর্মে আত্মনিয়োগ করেন, তবে কুরআন ও দ্বীন বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এই বাস্তবতার নিরিখে উত্তরসূরি ফকিহগণ শিক্ষাদানের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণের ফতোয়া দিয়েছেন। একইভাবে ইমামতি এবং আজানের ক্ষেত্রেও একই বিধান দেওয়া হয়েছে। যদিও এই সিদ্ধান্ত ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মাদ রহ.-এর সর্বসম্মত মতের পরিপন্থী; কারণ তাদের নিকট অন্যান্য ইবাদত যেমন—রোজা, নামাজ, হজ ও কুরআন তেলাওয়াত ইত্যাদির ন্যায় এগুলোর বিনিময়েও পারিশ্রমিক গ্রহণ বা ভাড়ার চুক্তি জায়েজ ছিল না।
(অনুরূপ একটি মাসয়ালা হলো) সাক্ষ্যপ্রদানের ক্ষেত্রে কেবল বাহ্যিক ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ওপর নির্ভর না করার ব্যাপারে দুই ইমামের (আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ) অভিমত। এটি ইমাম আবু হানিফা কর্তৃক বর্ণিত সুস্পষ্ট ভাষ্যের পরিপন্থী। ইমাম আবু হানিফার অভিমতটি তাঁর সমসাময়িক যুগের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ছিল, যখন সমাজে ন্যায়পরায়ণতার প্রাবল্য ছিল। কারণ তিনি এমন এক যুগে ছিলেন যার শ্রেষ্ঠত্বের সাক্ষ্য স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রদান করেছেন। অন্যদিকে পরবর্তী দুই ইমাম এমন এক যুগ পেয়েছিলেন যখন মিথ্যা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। উলামায়ে কেরাম স্পষ্ট করেছেন যে, এই মতপার্থক্য মূলত যুগ ও সময়ের পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট (اختلاف عصر واوان), কোনো দলিল বা প্রমাণের পার্থক্যের কারণে নয় (لا اختلاف حجة وبرهان)।
(তন্মধ্যে আরও একটি হলো) রাষ্ট্রপ্রধান ব্যতীত অন্য কারো মাধ্যমেও জবরদস্তি বা বাধ্যবাধকতা (إكراه) সাব্যস্ত হওয়া। এটিও ইমাম আবু হানিফার মতের পরিপন্থী ছিল; কারণ তাঁর যুগে শাসক ব্যতীত অন্য কারো পক্ষে জবরদস্তি করা সম্ভব ছিল না। পরবর্তীতে ফেতনা-ফাসাদ বেড়ে যাওয়ায় অন্যদের পক্ষ থেকেও জবরদস্তি কার্যকর হতে শুরু করে। ফলে ইমাম মুহাম্মাদ রহ. একে ধর্তব্য বলে গণ্য করেন এবং পরবর্তী ফকিহগণ সমসাময়িক পরিস্থিতির কারণে এর ওপরই ফতোয়া দিয়েছেন।
(অনুরূপভাবে) অনিষ্টকারী চোগলখোর বা প্ররোচনাকারীর ওপর দায়বদ্ধতা (ضمان) আরোপ করা। এটি মাযহাবের সেই মূলনীতির পরিপন্থী যে—ক্ষয়ক্ষতির দায় কেবল প্রত্যক্ষকারীর ওপর বর্তায়, প্ররোচনাকারীর ওপর নয়। কিন্তু অনিষ্টকারীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় তাদের দমনের উদ্দেশ্যে ফকিহগণ তাদের ওপর দায়বদ্ধতা আরোপের ফতোয়া দিয়েছেন; এমনকি বিশৃঙ্খলার সময়ে তাদের হত্যার ফতোয়াও দেওয়া হয়েছে।
(এরকম আরও) বহু মাসয়ালা রয়েছে, যেমন: সাধারণ কর্মচারীর (اجير مشترك) দায়বদ্ধতা সাব্যস্ত করা; আমাদের যুগে ইয়াতিমের সম্পদে অভিভাবকের (وصي) মুদারাবা (مضاربة) করার অধিকার না থাকা; ইয়াতিম ও ওয়াকফকৃত স্থাবর সম্পত্তি জবরদখলকারীর (غاصب) ওপর দায়বদ্ধতা বা দণ্ড আরোপের ফতোয়া প্রদান; এবং বসতবাড়ির ক্ষেত্রে এক বছরের বেশি ও জমির ক্ষেত্রে তিন বছরের বেশি মেয়াদে ইজারা (إجارة) না দেওয়ার ফতোয়া। যদিও এগুলো দায়বদ্ধতাহীনতা এবং মেয়াদের সীমাবদ্ধতা না থাকা সংক্রান্ত মাযহাবের মূল নীতির পরিপন্থী।
নারীদের জামাতে নামাজের জন্য মসজিদে উপস্থিত হওয়া থেকে বাধা প্রদান করা, যা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে প্রচলিত ছিল। জামানার ফাসাদ বা সামাজিক বিপর্যয়ের কারণে মোহরে মুয়াজ্জাল (তৎক্ষণাৎ প্রদেয় মোহর) পরিশোধ করার পরেও স্ত্রীকে নিয়ে স্বামীর ভ্রমণে বাধা দেওয়ার ফতোয়া প্রদান করা।
জামানার ফাসাদের কারণে তালাকের শপথ করার পর কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়া স্বামীর এই দাবি গ্রহণ না করা যে, সে কোনো শর্ত বা ব্যতিক্রম (إستثناء) যুক্ত করেছিল; যদিও প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) এর বিপরীত। বাসর যাপনের পর স্ত্রীর এই দাবি বিশ্বাস না করা যে, সে মোহরে মুয়াজ্জাল বুঝে পায়নি; যদিও নিয়ম অনুযায়ী সে এখানে অস্বীকারকারী এবং মাযহাবের মূল নীতি হলো—কথা অস্বীকারকারীর (منكر) পক্ষেই গণ্য হবে। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী মোহর বুঝে পাওয়ার আগে কোনো স্ত্রী নিজেকে সঁপে দেয় না।
একইভাবে 'আমার জন্য সকল হালাল হারাম'—এই উক্তির মাধ্যমে প্রথা বা উরফের (عرف) কারণে তালাক পতিত হওয়ার ফতোয়া। বলখের মাশায়েখগণ বলেছেন যে, ইমাম মুহাম্মাদ রহ. নিয়ত (نية) ছাড়া তালাক না হওয়ার যে কথা বলেছেন, তা তাঁর অঞ্চলের উরফের ভিত্তিতে ছিল। কিন্তু আমাদের দেশের উরফে এর দ্বারা স্ত্রীকে হারাম করাই উদ্দেশ্য থাকে, তাই এর ওপরই হুকুম বর্তাবে। আল্লামা কাসিম রহ. বলেন, আমাদের মিশরে এ ক্ষেত্রে প্রচলিত শব্দগুলো হলো—'তালাক আমার ওপর আবশ্যক', 'হারাম আমার ওপর আবশ্যক', 'তালাকের কসম' এবং 'হারামের কসম' ইত্যাদি।
একইভাবে বর্তমান সময়ে প্রয়োজনীয়তা ও সাধারণ বিপত্তির (بلوى) কারণে বর্গা চাষ (مزارعة), মুয়ামালা ও ওয়াকফের ক্ষেত্রে দুই ইমামের (আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ) মতটিই মনোনীত (مختار)। আবার ক্ষতি প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে অনেক ফকিহ ইমাম মুহাম্মাদ রহ.-এর মতানুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন যে, যদি কেউ এক মাস পর্যন্ত মালিকানা দাবি করতে দেরি করে, তবে তার অগ্রক্রয়াধিকার (شفعة) বাতিল হয়ে যাবে।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২৭)
عن المشترى* وبرواية الحسن بأن الحرة البالغة العاقلة لو زوجت نفسها من غير كفؤ لا يصح لفساد الزمان * وافتاؤهم بالعفو عن طين الشارع للضرورة * وببيع الوفاء * وبالاستصناع * وكذا الشرب من السقا بلا بيان قدر الماء* ودخول الحمام بلا بيان مدة المكث وقدر الماء ونحو ذلك من المسائل التي اختلف حكمها لاختلاف عادات أهل الزمان واحوالهم التي لابد للمجتهد من معرفتها وهى كثيرة جدا لا يمكن استقصاؤها وسنذكر نبذة يسيرة مهمة منها (ويقرب) من ذلك مسائل كثيرة أيضا حكموا فيها قرائن الأحوال العرفية كمسألة الاختلاف في الميزاب وماء الطاحون* وكذا الحكم بالحائط لمن له اتصال تربيع ثم لمن له عليه اخشاب لانه قرينة على سبق اليد* وتجويزهم الشهادة بالملك لمن رأيت بيده شيئا يتصرف به وبالزوجية لمن يتعاشران معاشرة الازواج* وكذا مسألة اختلاف الزوجين في امتعة البيت يجعل القول لكل واحد منهما في الصالح له وللزوج في غيره* وتحكيم سمة الإسلام وسمة الكفر في الركاز وفي الصلاة على القتلى في الحرب مع الكفار* وعدم سماع الدعوى ممن عرف بحب المردان على تابعه الأمر بمال كما افتى به المولى أبو السعود والتمرتاشي والرملى* وحبس المتهم بقتل ونحوه عند ظهور الامارات وجواز الدخول بمن زفت إليه ليلة العرس وإن لم يشهد عدلان بأنها زوجته* وقبول الهدية على يد الصبيان أو العبيد* واكل الضيف من طعام وضعه المضيف بين يديه والتقاط ما ينبذ في الطريق من نحو قشور البطيخ والرمان* والشرب من الحباب المسبلة* وعدم جواز الوضوء منها * وعدم سماع الدعوى ممن سكت بعد اطلاعه على بيع جاره أو قريبه دارا مثلا* وعدم سماعها ممن سكت أيضا بعد رؤيته ذا اليد يتصرف في الدار تصرف الملاك من هدم وبناء (ومنها) ما في اخر باب التحالف من البحر عن خزانة إلا كمل وكذا في التنوير رجل فقير بيده في بيته غلام معه بدرة فيها عشرون الفا فادعاه موسر معروف باليسار فهو للموسر* وكذا كناس في منزل رجل وعلى عنقه قطيفة فهى لصاحب المنزل* وكذا رجلان في سفينة فيها دقيق واحدهما بياع دقيق والآخر سفان فالدقيق للأول والسفينة للثانى* وكذا رجل يعرف ببيع شيء دخل منزل رجل ومعه شيء من ذلك فادعياه فهو للمعروف ببيعه انتهى* وكذا ما في كتب الفتاوى رجل دخل منزل رجل فقتله رب المنزل وقال انه داعر دخل ليقتلنى فلا قصاص لو الداخل معروفا بالدعارة لكن في البزازية وتجب الدية استحسانا لان دلالة الحال اورثت شبهة في القصاص لا في المال* وكذا ما في شرح السير
আল-মুশতারা থেকে বর্ণিত এবং হাসান-এর বর্ণনা অনুযায়ী: কোনো প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেকসম্পন্ন স্বাধীন নারী যদি সমতাবিহীন (غير كفؤ) কারো সাথে নিজেকে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে, তবে যুগের বিপর্যয়ের (فسাদ الزمان) কারণে তা সহিহ (صحيح) হবে না। এবং জরুরত বা বিশেষ প্রয়োজনের খাতিরে রাস্তার কাদা থেকে অব্যাহতির বিষয়ে ফকিহগণের ফতোয়া প্রদান; বাই-এ-ওয়াফা এবং ইসতিসনা (নির্মাণ চুক্তি) এর বৈধতা; পানির পরিমাণ নির্ধারণ ছাড়াই মশক থেকে পানি পান করা এবং গোসলখানায় অবস্থানের সময় ও পানির পরিমাণ নির্ধারণ ছাড়াই সেখানে প্রবেশ করা—এই জাতীয় অন্যান্য মাসয়ালা, যেগুলোর বিধান সমসাময়িক মানুষের অভ্যাস ও অবস্থার পরিবর্তনের কারণে ভিন্নতর হয়েছে। একজন মুজতাহিদের (مجتهد) জন্য এই অবস্থাগুলো সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা অপরিহার্য। এ ধরনের মাসয়ালা অসংখ্য, যা সম্পূর্ণরূপে গণনা করা সম্ভব নয়। আমরা এখান থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংক্ষেপে উল্লেখ করব।
এর কাছাকাছি আরও অনেক মাসয়ালা রয়েছে যেখানে ফকিহগণ প্রথাগত পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن الأحوال) অনুযায়ী ফয়সালা দিয়েছেন। যেমন—পরনালা এবং যাঁতাকলের পানির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধের মাসয়ালা। তেমনিভাবে দেয়ালের মালিকানার ফয়সালা তার অনুকূলে দেওয়া যার ঘরের গাঁথুনির সাথে ওই দেয়ালের সরাসরি সংযোগ রয়েছে, অতঃপর যার কড়ি-কাঠ দেয়ালের ওপর রয়েছে তার অনুকূলে ফয়সালা দেওয়া; কারণ এটি দখল বা কর্তৃত্বের (سبق اليد) আলামত। এবং কারো অধিকারে থাকা কোনো বস্তু ব্যবহার করতে দেখলে তার মালিকানার সাক্ষ্য প্রদান এবং স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে বৈবাহিক সম্পর্কের সাক্ষ্য প্রদানকে বৈধ ঘোষণা করা।
অনুরূপভাবে ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের মাসয়ালা; যেখানে আসবাবপত্র যার ব্যবহারের উপযোগী তার বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে এবং বাকি সবক্ষেত্রে স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। খনি থেকে প্রাপ্ত সম্পদের ক্ষেত্রে এবং কাফিরদের সাথে যুদ্ধে নিহতদের জানাজা পড়ার ক্ষেত্রে ইসলামের নিদর্শন (سمة الإسلام) বা কুফরের নিদর্শনকে বিচারক সাব্যস্ত করা। কোনো কিশোরের প্রতি আসক্ত হিসেবে পরিচিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে তার অনুসারী কিশোর যদি মালের দাবি করে, তবে সেই দাবি গ্রহণ না করা; যেমনটি ফতোয়া দিয়েছেন মাওলা আবু সাউদ, তামারতাশি এবং রামলি।
আলামত প্রকাশ পেলে হত্যা বা এ জাতীয় অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বন্দি করা এবং বিয়ের রাতে বাসর ঘরে নিয়ে আসা নারীর সাথে বাসর করা বৈধ হওয়া, যদিও দুইজন ন্যায়পরায়ণ (عدل) সাক্ষী সাক্ষ্য না দেয় যে সে তার স্ত্রী। শিশু বা ক্রীতদাসদের মাধ্যমে পাঠানো উপহার গ্রহণ করা; মেজবান সামনে খাবার রাখলে মেহমানের তা ভক্ষণ করা এবং তরমুজ বা ডালিমের খোসার মতো রাস্তায় পড়ে থাকা তুচ্ছ বস্তু কুড়িয়ে নেওয়া। জনসাধারণের জন্য উৎসর্গীকৃত পাত্র থেকে পানি পান করা, তবে তা থেকে অজু করা জায়েজ না হওয়া। প্রতিবেশী বা নিকটাত্মীয়ের ঘর বিক্রির কথা জানার পর চুপ থেকে পরবর্তীতে মামলা করলে তা গ্রহণযোগ্য না হওয়া; অনুরূপভাবে দখলদার ব্যক্তিকে ঘরে মালিকের ন্যায় ভাঙা-গড়ার কাজ করতে দেখেও চুপ থাকার পর দাবি উত্থাপন করলে তা শোনা হবে না।
এর মধ্যে আরও রয়েছে যা আল-বাহর গ্রন্থের 'তাকালুফ' অধ্যায়ের শেষে খুযানাতুল আকমাল থেকে বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপ আত-তানভির গ্রন্থেও রয়েছে: এক দরিদ্র ব্যক্তির ঘরে তার কাছে এমন একজন গোলাম রয়েছে যার সাথে বিশ হাজারের একটি থলি আছে, এমতাবস্থায় যদি জনৈক সুপরিচিত বিত্তবান ব্যক্তি ওই গোলামকে নিজের বলে দাবি করে, তবে গোলামটি বিত্তবানের বলেই গণ্য হবে। তেমনিভাবে কারো ঘরে একজন ঝাড়ুদার রয়েছে এবং তার কাঁধে একটি দামি চাদর আছে, তবে সেটি গৃহস্বামীর বলেই গণ্য হবে। অনুরূপভাবে একটি নৌকায় আটা রয়েছে এবং সেখানে দুইজন লোক আছে—একজন আটা বিক্রেতা আর অন্যজন নাবিক; তবে আটার মালিক হবে প্রথমজন এবং নৌকার মালিক হবে দ্বিতীয়জন। তেমনিভাবে কোনো নির্দিষ্ট বস্তু বিক্রির জন্য পরিচিত ব্যক্তি কোনো ঘরে প্রবেশ করল এবং তার সাথে ওই জাতীয় কোনো বস্তু ছিল, এমতাবস্থায় গৃহস্বামী ও ওই ব্যক্তি উভয়েই যদি সেটির মালিকানা দাবি করে, তবে সেটি বিক্রেতার বলেই গণ্য হবে—সমাপ্ত।
অনুরূপভাবে ফতোয়ার কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে—কোনো ব্যক্তি কারো ঘরে প্রবেশ করলে গৃহস্বামী তাকে হত্যা করল এবং দাবি করল যে সে একজন দুশ্চরিত্র লোক এবং তাকে হত্যা করতে এসেছিল; এমতাবস্থায় যদি প্রবেশকারী ব্যক্তি দুশ্চরিত্র হিসেবে পরিচিত হয় তবে কোনো কিসাস (قصاص) হবে না। কিন্তু আল-বাযযাযিয়া গ্রন্থে রয়েছে যে, ইস্তাহসান (استحسان) অনুযায়ী রক্তপণ (دية) প্রদান করা ওয়াজিব (واجب) হবে; কারণ পারিপার্শ্বিক অবস্থা কিসাসের (قصاص) ক্ষেত্রে সন্দেহের সৃষ্টি করলেও মালের ক্ষেত্রে তা কার্যকর নয়। অনুরূপ বিষয় শারহুস সিয়ার গ্রন্থেও বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২৮)
الكبير للسرخسى لو وجد مع مسلم خمر وقال اريد تحليله أو ليس لي فإن كان دينا لا يتهم خلى سبيله لان ظاهر حاله يشهد له والبناء على الظاهر واجب حتى يتبين خلافه اهـ وامثال ذلك من المسائل التي عملوا فيها بالعرف والقرائن ونزل ذلك منزلة النطق الصريح اكتفاء بشاهد الحال عن صريح المقال واليه الإشارة بقوله تعالى (ان في ذلك لايات للمتوسمين) وقوله تعالى (وشهد شاهد من اهلها ان كان قميصه الآية) (وذكر) العلامة المحقق أبو اليسر محمد بن الغرس في الفواكه البدريه في الفصل السادس في طريق القاضي إلى الحكم ان من جملة طرق القضاء القرائن الدالة على ما يطلب الحكم به دلالة واضحة بحيث تصيره في حيز المقطوع به فقد قالوا لو ظهر إنسان من دار ومعه سكين في يده وهو متلوث بالدماء سريع الحركة عليه اثر الخوف فدخلوا الدار في ذلك الوقت على الفور فوجدوا بها انسانا مذبوحا بذلك الحين وهو ملطخ بدمائه ولم يكن في الدار غير ذلك الرجل الذي وجد بتلك الصفة وهو خارج من الدار يؤخذ به وهو ظاهر إذ لا يمترى أحد في انه قاتله والقول بأنه ذبح نفسه أو ان غير ذلك الرجل قتله ثم تسور الحائط فذهب احتمال بعيد لا يلتفت إليه إذ لم ينشأ عن دليل انتهى (فإن قلت) العرف يتغير ويختلف باختلاف الازمان فلو طرأ عرف جديد هل للمفتى في زماننا ان يفتى على وفقه ويخالف المنصوص في كتب المذهب وكذا هل للحاكم الآن العمل بالقران (قلت) مبنى هذه الرسالة على هذه المسألة فاعلم ان المتأخرين الذين خالفوا المنصوص في كتب المذهب في المسائل السابقة لم يخالفوه إلا لتغير الزمان والعرف وعلمهم ان صاحب المذهب لو كان في زمنهم لقال بما قالوه
(1) مما يستخرج به الحق من ظالم أو يدفع دعوى متعنت ونحوه بعدم سماع دعواه أو بحبسه أو نحوه ولكن لابد لكل من المفتى والحاكم من نظر سديد* واشتغال مديد ومعرفة بالاحكام الشرعية والشروط المرعية* فإن تحكيم القرائن غير مطرد إلا ترى لو ان مغربيا تزوج بمشرقية وبينهما أكثر من ستة أشهر فجاءت بولد لستة أشهر ثبت نسبه منه لحديث الولد للفراش مع ان تصور الاجتماع بينهما بعيد جدا لكنه ممكن بطريق الكرامة أو الاستخدام فإنه واقع كما في فتح القدير وكذا لو ولدت الزوجة ولدا اسود وادعاه رجل اسود يشبه الولد من كل وجه فهو لزوجها الابيض ما لم يلاعن وحديث
--------------------------------------------
সারাখসির আল-কাবির-এ বর্ণিত হয়েছে যে, যদি কোনো মুসলিমের কাছে মদ পাওয়া যায় এবং সে বলে, "আমি একে সিরকায় পরিণত করতে চাই" অথবা "এটি আমার নয়", এমতাবস্থায় সে যদি ধর্মভীরু হয় এবং সন্দেহের ঊর্ধ্বে থাকে, তবে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে। কারণ তার প্রকাশ্য অবস্থা (ظاهر) তার সপক্ষে সাক্ষ্য দিচ্ছে, আর বিপরীত কিছু স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য অবস্থার (ظاهر) ওপর ভিত্তি করা ওয়াজিব। এই জাতীয় মাসয়ালাগুলোতে আলেমগণ প্রথা (عرف) ও পারিপার্শ্বিক আলামতের (قرائن) ওপর আমল করেছেন এবং বর্তমান অবস্থার সাক্ষ্যকে মৌখিক বক্তব্যের স্থলাভিষিক্ত করেছেন। এ দিকেই ইঙ্গিত করে মহান আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয়ই এতে পর্যবেক্ষণকারীদের জন্য নিদর্শনাবলি রয়েছে) এবং মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তার পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিল যে, যদি তার জামা... আয়াত)। আল্লামা মুহাক্কিক আবু আল-ইউসর মুহাম্মদ ইবনুল গারস 'আল-ফাওয়াকিহ আল-বাদরিয়্যাহ'-এর ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে বিচারকের রায় প্রদানের পদ্ধতি প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, বিচারিক ফয়সালার অন্যতম পদ্ধতি হলো এমন পারিপার্শ্বিক আলামত (قرائن) যা কাম্য বিষয়ের ওপর এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে তা বিষয়টিকে প্রায় নিশ্চিত (مقطوع به) পর্যায়ে নিয়ে যায়। ফকিহগণ বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তিকে কোনো ঘর থেকে বের হতে দেখা যায় যার হাতে ছুরি এবং সে রক্তমাখা ও ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় দ্রুতগতিতে চলছে, আর ঠিক সেই মুহূর্তে ঘরে প্রবেশ করে অন্য একজনকে জবাই করা অবস্থায় রক্তে রঞ্জিত পাওয়া যায়, এবং সেই ঘরে ঐ ব্যক্তি ছাড়া আর কেউ না থাকে—তবে তাকেই অপরাধী হিসেবে ধরা হবে। এটি একটি সুস্পষ্ট বিষয়, কারণ সে-ই যে হত্যাকারী এ বিষয়ে কেউ সন্দেহ পোষণ করবে না। এমতাবস্থায় সে নিজে নিজেকে জবাই করেছে অথবা অন্য কেউ তাকে হত্যা করে দেওয়াল টপকে পালিয়ে গেছে—এমন কথা বলা একটি দূরবর্তী সম্ভাবনা, যার পেছনে কোনো দলিল না থাকায় তা গ্রহণযোগ্য নয়। (যদি আপনি বলেন) প্রথা (عرف) তো সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত ও ভিন্নতর হয়, তবে বর্তমানে কি কোনো মুফতির পক্ষে নতুন প্রথা (عرف) অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া এবং মাজহাবের কিতাবসমূহের স্পষ্ট বর্ণনার (منصوص) বিরোধিতা করা সম্ভব? অনুরূপভাবে বিচারকের জন্য কি বর্তমানে পারিপার্শ্বিক আলামতের (قرائن) ওপর ভিত্তি করে আমল করা বৈধ? (আমি বলব) এই প্রবন্ধের ভিত্তিই এই মাসয়ালার ওপর। জেনে রাখুন, পরবর্তী যুগের আলেমগণ যারা পূর্ববর্তী কিতাবসমূহের স্পষ্ট বর্ণনার (منصوص) বিরোধিতা করেছেন, তারা কেবল সময় ও প্রথার (عرف) পরিবর্তনের কারণেই তা করেছেন। তারা জানতেন যে, মাজহাবের ইমাম যদি তাদের যুগে থাকতেন তবে তিনি তাই বলতেন যা তারা বলেছেন; যার মাধ্যমে জালিমের কাছ থেকে হক উদ্ধার করা যায় অথবা কোনো হঠকারীর দাবিকে নাকচ করা যায়—যেমন তার দাবি না শোনা বা তাকে বন্দি করা ইত্যাদি। তবে মুফতি ও বিচারক উভয়ের জন্যই সঠিক অন্তর্দৃষ্টি এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থাকা আবশ্যক, সেই সাথে শরিয়তের বিধান ও পালনীয় শর্তাবলি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। কেননা পারিপার্শ্বিক আলামতের (قرائن) ওপর ভিত্তি করে ফয়সালা দেওয়া সবসময় প্রযোজ্য নয়। আপনি কি দেখেন না যে, যদি কোনো মরক্কোবাসী কোনো প্রাচ্যদেশীয় নারীকে বিবাহ করে এবং তাদের বিবাহের পর ছয় মাসের বেশি অতিবাহিত হয়, অতঃপর ছয় মাসের মাথায় তাদের সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, তবে সেই সন্তানের বংশপরিচয় ঐ ব্যক্তির পক্ষেই সাব্যস্ত হবে? কারণ হাদিস অনুযায়ী: 'সন্তান যার বিছানা তার'। যদিও তাদের উভয়ের সশরীরে একত্রিত হওয়া বাহ্যিকভাবে অসম্ভব মনে হয়, কিন্তু অলৌকিক ক্ষমতা বা জিন-পরীদের মাধ্যমে তা হওয়া সম্ভব; যেমনটি ফাতহুল কাদির-এ বর্ণিত হয়েছে। অনুরূপভাবে, যদি কোনো স্ত্রীর কালো সন্তান জন্ম নেয় এবং কোনো কালো ব্যক্তি দাবি করে যে সন্তানটি সবদিক থেকে তার মতো দেখতে, তবুও সন্তানটি তার সাদা বর্ণের স্বামীর বলেই গণ্য হবে যতক্ষণ না সে লি’আন করে। এবং হাদিস...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২৯)
ابن زمعة في ذلك مشهور والقرائن مع النص لا تعتبر* وكذا لو كتب بخطه صكا بمال عليه لزيد فادعى زيد بما في الصك فأنكر المال لا يثبت عليه وإن أقر بأن الخط خطه كما صرحوا به لان حجج الاثبات ثلاثة البينة والإقرار والنكول عن اليمين والخط ليس واحدا منها وخطه وإن كان ظاهرا في صدق المدعى لكن الظاهر يصلح للدفع لا للاثبات على انه كثيرا ما يكتب الصك قبل أخذه المال* وكذا لو شهد الشاهدان بخلاف ما قامت عليه القرينة فالمعتبر هو الشهادة ما لم يكذبها الحس كما لو شهدا بأن زيدا قتل عمرا ثم جاء عمرو حيا أو ان الدار الفلانيه أجرة مثلها كذا وكل من رآها يقول ان اجرتها أكثر* وقد يتفق قيام قرينة على امر مع احتمال غيره احتمالا قريبا كما لو راي حجرا منقورا على باب دار كتب عليه وقفية الدار لا يثبت كونها وقفا بمجرد ذلك كما صرحوا به لاحتمال ان من بناها كتب ذلك واراد ان يقفها ثم عدل عن وقفها أو مات قبله أو وقفها لكن استحقها مستحق اثبت انها ملكه أو كانت تهدمت واستبدلت أو لم يحكم حاكم بوقفها فحكم آخر بصحة بيعها أو غير ذلك الاحتمالات الظاهرة التي لا يثبت معها نزع الدار من المتصرف بها تصرف الملاك من غير منازع مدة مديدة فانهم صرحوا بأن التصرف القديم من اقوى علامات الملك وقال الامام أبو يوسف في كتاب الخراج وليس للامام ان يخرج شيئا من يد أحد إلا بحق ثابت معروف انتهى فلذا كان الحكم بالقرائن محتاجا إلى نظر سديد * وتوفيق وتأييد* وعن هذا قال بعض العلماء المحققين لابد للحاكم من فقه في احكام الحوادث الكلية وفقه في نفس الواقع واحوال الناس يميز به بين الصادق والكاذب والمحق والمبطل ثم يطابق بين هذا وهذا فيعطى الواقع حكمه من الواجب ولا يجعل الواجب مخالفا للواقع انتهى* وكذا المفتي الذي يفتى بالعرف لابد له من معرفة الزمان واحوال اهله ومعرفة ان هذا العرف خاص أو عام وانه مخالف للنص أو لا ولابد له من التخرج على استاذ ماهر ولا يكفيه مجرد حفظ المسائل والدلايل فإن المجتهد لابد له من معرفة عادات الناس كما قدمناه فكذا المفتى ولذا قال في آخر منية المفتى لو ان الرجل حفظ جميع كتب اصحابنا لابد ان يتلمذ للفتوى حتى يهتدى إليها لان كثيرا من المسائل يجاب عنه على عادات أهل الزمان فيما لا يخالف الشريعة انتهى وقريب منه ما نقله في الأشباه عن البزازية من ان المفتى يفتى بما يقع عنده من المصلحة (وقال) في فتح القدير في باب ما يوجب القضاء والكفارة من كتاب الصوم عند قول الهداية ولو أكل لحما بين اسنانه لم يفطر وإن كان كثيرا يفطر وقال زفر يفطر في الوجهين انتهى ما نصه والتحقيق ان المفتى في الوقائع
ইবনে জাম'আহ এ ব্যাপারে সুপ্রসিদ্ধ, এবং মূল দলীলের (النص) উপস্থিতিতে আনুষঙ্গিক প্রমাণ বা আলামত (القرائن) বিবেচনাযোগ্য নয়। অনুরূপভাবে, যদি কেউ নিজ হাতে জায়েদের অনুকূলে ঋণের একটি দলীল লেখে, আর জায়েদ সেই দলীল অনুযায়ী দাবি করে কিন্তু সে (লেখক) অর্থ অস্বীকার করে, তবে তার বিরুদ্ধে তা প্রমাণিত হবে না; যদিও সে স্বীকার করে যে হাতের লেখাটি তারই। কারণ ফকিহগণ যেমনটি স্পষ্ট করেছেন, প্রমাণের উপায় তিনটি: সাক্ষ্য-প্রমাণ (البينة), স্বীকৃতি (الإقرار) এবং শপথ প্রত্যাখ্যান (النكول عن اليمين); আর হাতের লেখা এর কোনোটিই নয়। তার হাতের লেখা যদিও বাদীর সত্যতার ক্ষেত্রে বাহ্যিক প্রবল ধারণা (الظاهر) তৈরি করে, তবে এই প্রবল ধারণা কেবল বিবাদ খণ্ডনের (الدفع) জন্য যোগ্য, প্রমাণের (الإثبات) জন্য নয়। উপরন্তু, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্থ গ্রহণের পূর্বেই দলীল লেখা হয়ে থাকে।
একইভাবে, যদি দুইজন সাক্ষী এমন সাক্ষ্য দেয় যা বাহ্যিক আলামতের (القرينة) বিপরীত, তবে ইন্দ্রিয়জাত প্রত্যক্ষতা (الحس) দ্বারা তা মিথ্যা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সাক্ষ্যই (الشهادة) গ্রহণযোগ্য হবে। যেমন—যদি তারা সাক্ষ্য দেয় যে জায়েদ আমরকে হত্যা করেছে, অথচ পরবর্তীতে আমর জীবিত অবস্থায় উপস্থিত হয়; অথবা সাক্ষ্য দেয় যে অমুক বাড়ির ন্যায্য ভাড়া এতো, অথচ যে কেউ তা দেখলে বলবে যে এর ভাড়া আরও বেশি।
কখনো কোনো বিষয়ে আলামত (قرينة) পাওয়া যায়, অথচ এর পাশাপাশি নিকটবর্তী অন্য সম্ভাবনারও অবকাশ থাকে। যেমন—যদি কোনো বাড়ির দরজায় খোদাই করা পাথর দেখা যায় যাতে লেখা আছে বাড়িটি ওয়াকফ করা হয়েছে; কেবল এর দ্বারাই তা ওয়াকফ হিসেবে প্রমাণিত হবে না, যেমনটি ফকিহগণ স্পষ্ট করেছেন। কারণ সম্ভাবনা রয়েছে যে, নির্মাতা এটি লিখেছিলেন এবং ওয়াকফ করার ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, কিন্তু পরে সংকল্প পরিবর্তন করেছেন, অথবা এর পূর্বেই ইন্তেকাল করেছেন। কিংবা তিনি ওয়াকফ করেছিলেন কিন্তু কোনো হকদার তার মালিকানা প্রমাণ করে তা উদ্ধার করেছেন, অথবা বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল এবং বিনিময় করা হয়েছিল, কিংবা কোনো বিচারক এর ওয়াকফ হওয়ার পক্ষে রায় দেননি বরং অন্য কোনো বিচারক এর বিক্রয় বৈধ হওয়ার রায় দিয়েছিলেন। এ জাতীয় প্রকাশ্য সম্ভাবনার (الاحتمالات الظاهرة) উপস্থিতিতে দীর্ঘকাল ধরে কোনো বিবাদ ছাড়াই মালিকের মতো ভোগদখলকারীর কাছ থেকে বাড়িটি কেড়ে নেওয়া যায় না। কেননা ফকিহগণ স্পষ্ট করেছেন যে, প্রাচীন ভোগদখল (التصرف القديم) মালিকানার শক্তিশালী নিদর্শনসমূহের একটি। ইমাম আবু ইউসুফ কিতাবুল খারাজে বলেছেন: "সুস্পষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত অধিকার ব্যতীত কারও হাত থেকে কোনো কিছু কেড়ে নেওয়ার অধিকার ইমামের (রাষ্ট্রপ্রধানের) নেই।" সমাপ্ত। অতএব, আলামতের (القرائن) ভিত্তিতে ফয়সালা প্রদান গভীর অন্তর্দৃষ্টি, আল্লাহর তাওফিক ও সহায়তার মুখাপেক্ষী।
এ কারণেই জনৈক গবেষক আলেম (العلماء المحققين) বলেছেন: বিচারকের জন্য আবশ্যক হলো সামগ্রিক ঘটনাবলির বিধান সম্পর্কে ফিকহ (গভীর জ্ঞান) থাকা এবং বাস্তব পরিস্থিতি ও মানুষের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকা, যার মাধ্যমে তিনি সত্যবাদী ও মিথ্যাবাদী এবং সঠিক ও বাতিলপন্থীর মাঝে পার্থক্য করতে পারবেন। অতঃপর তিনি উভয় বিষয়ের (বিধান ও বাস্তবতা) মাঝে সমন্বয় করবেন এবং বাস্তব পরিস্থিতিকে তার জন্য নির্ধারিত বিধান প্রদান করবেন, যাতে আবশ্যকীয় বিধানটি বাস্তবের পরিপন্থী না হয়। সমাপ্ত।
অনুরূপভাবে, যে মুফতি প্রথা বা রীতি (العرف) অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করেন, তাকে অবশ্যই কাল ও তার অধিবাসীদের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান রাখতে হবে। জানতে হবে যে এই প্রথাটি বিশেষ নাকি সাধারণ, এবং তা মূল দলীলের (النص) বিরোধী কি না। তাকে অবশ্যই একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ ওস্তাদের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা লাভ করতে হবে। কেবল মাসআলা ও দলীলসমূহ মুখস্থ রাখাই তার জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ একজন মুজতাহিদের (المجتهد) জন্য মানুষের অভ্যাস ও রীতি-নীতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকা যেমন অপরিহার্য—যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি—মুফতির জন্যও বিষয়টি তদ্রূপ।
এই কারণেই মুনিয়াতুল মুফতি গ্রন্থের শেষে বলা হয়েছে: "যদি কোনো ব্যক্তি আমাদের ইমামদের সকল কিতাব মুখস্থ করে ফেলে, তবুও ফতোয়া প্রদানের পদ্ধতি অর্জনের জন্য তাকে কোনো অভিজ্ঞ ফকিহর শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে হবে; যাতে তিনি সঠিক পথের দিশা পান। কারণ অনেক মাসআলার সমাধান শরীয়তের সাথে সাংঘর্ষিক নয় এমন সমকালীন মানুষের রীতির ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়।" সমাপ্ত। আল-আশবাহ গ্রন্থে বাজ্জাজিয়া থেকে এর কাছাকাছি একটি বর্ণনা উদ্ধৃত হয়েছে যে, মুফতি তার নিকট যা জনকল্যাণমূলক (المصلحة) মনে হয় সে অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করবেন।
ফাতহুল কাদির গ্রন্থের রোজা অধ্যায়ে কাজা ও কাফফারা ওয়াজিব হওয়ার পরিচ্ছেদে হেদায়া-র ইবারত: "যদি কেউ দাঁতের ফাঁকে থাকা গোশত ভক্ষণ করে তবে রোজা ভঙ্গ হবে না, কিন্তু যদি তা পরিমাণে বেশি হয় তবে রোজা ভঙ্গ হবে। আর ইমাম জুফার বলেন, উভয় অবস্থাতেই রোজা ভঙ্গ হবে।"—এর আলোচনায় যা বলা হয়েছে তার মূল পাঠ হলো: "আর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ (التحقيق) হলো, সমকালীন বাস্তব ঘটনার ক্ষেত্রে মুফতির কর্তব্য হলো..."
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩০)
لابد له من ضرب اجتهاد ومعرفة باحوال الناس وقد عرف أن الكفارة تفتقر إلى كمال الجناية فينظر إلى صاحب الواقعة ان كان ممن يعاف طبعه ذلك أخذ بقول أبي يوسف وإن كان ممن لا أثر لذلك عنده أخذ بقول زفر انتهى (اقول) وهذا قريب ما قاله أبو نصر محمد بن سلام من كبار أئمة الحنفية وبعض ائمة المالكية في افطار السلطان في رمضان أنه يفتى بصيام شهرين لان المقصود من الكفارة الانزجار ويسهل عليه افطار شهر واعتاق رقبة فلا يحصل الزجر انتهى* وفي تصحيح العلامة قاسم فإن قلت قد يحكون اقوالا من غير ترجيح وقد يختلفون في التصحيح قلت يعمل بمثل ما عملوا من اعتبار تغير العرف واحوال الناس وما هو الارفق بالناس وما ظهر عليه التعامل وما قوى وجهه ولا يخلو الوجود من تمييز هذا حقيقة لا ظنا بنفسه ويرجع من لم يميز إلى من يميز انتهى (وقد) قالوا يفتى بقول أبي يوسف فيما يتعلق بالقضاء لكونه جرب الوقائع وعرف أحوال الناس* وفى البحر عن مناقب الامام محمد رحمه الله تعالى للكردرى كان محمد يذهب إلى الصباغين ويسأل عن معاملتهم وما يديرونها فيما بينهم انتهى (وفى) اخر الحاوى القدسى ومتى كان قول أبي يوسف ومحمد يوافق قول أبي حنيفة لا يتعدى عنه إلا فيما مست إليه الضرورة* وعلم انه لو كان أبو حنيفة رأى ما رأوا لافتى به انتهى (وقد) صرحوا بأن قرأة الختم في صلاة التراويح سنة قال في الدر المختار لكن في الاختيار الافضل في زماننا قدر ما لا يثقل عليهم وأقره المصه وغيره وفى فضائل رمضان للزاهدى افتى أبو الفضل الكرماني والوبرى انه إذا قرأ في التراويح الفاتحة واية أو ايتين لا يكره ومن لم يكن عالما باهل زمانه فهو جاهل انتهى وصرحوا في المتون وغيرها من كتب ظاهر الرواية بأن رمضان يثبت بخبر عدل ان كان في السماء علة والا فلابد من جمع عظيم لان انفراد الواحد والاثنين مثلا برؤية الهلال مع توجه أهل البلد طالبين لما توجه هو له ظاهر في غلطه بخلاف ما إذا كان في السماء علة لاحتمال انه رآه بين السحاب ثم غطاء السحاب فلم يره بقية أهل البلد فلم يكن فيه دليل الغلط وروى الحسن عن الامام قبول الواحد والاثنين مطلقا قال في البحر ولم ار من رجح هذه الرواية وينبغى العمل عليها في زماننا لان الناس تكاسلوا عن ترائ الاهلة فانتفى قولهم مع توجههم طالبين لما توجه هو له فكان التفرد غير ظاهر في الغلط انتهى ولا يخفى انه كلام وجيه خصوصا في زماننا هذا فإنه لو توقف ثبوته على الجمع العظيم لم يثبت إلا بعد يومين أو ثلاثة لما نرى من اهمالهم ذلك بل نرى من يشهد برؤيته كثيرا ما يحصل له الضرر من الناس من الطعن في شهادته والقدح في ديانته لانه
তার জন্য অবশ্যই ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর প্রয়োগ এবং মানুষের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক। এটি সুনিশ্চিত যে, কাফফারার বিধান অপরাধের পূর্ণাঙ্গতার মুখাপেক্ষী; সুতরাং ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রতি দৃষ্টি দিতে হবে—যদি সে এমন হয় যার স্বভাবজাত প্রবৃত্তি একে ঘৃণা করে, তবে আবু ইউসুফের মত গ্রহণ করা হবে। আর যদি সে এমন হয় যার নিকট এর কোনো প্রভাব নেই, তবে জুফারের মত গ্রহণ করা হবে। সমাপ্ত। (আমি বলছি) এটি হানাফি মাজহাবের প্রথিতযশা ইমামগণের অন্যতম আবু নাসর মুহাম্মদ বিন সালাম এবং মালেকি মাজহাবের কয়েকজন ইমামের বক্তব্যের নিকটবর্তী, যা তারা রমজান মাসে সুলতানের রোজা ভঙ্গের বিষয়ে প্রদান করেছিলেন যে, তাকে দুই মাস রোজা রাখার ফতোয়া দেওয়া হবে। কারণ কাফফারার উদ্দেশ্য হলো দমন করা, আর এক মাস রোজা ভঙ্গ করে একজন দাস মুক্ত করা তার জন্য অতি সহজ বিষয়, ফলে এতে কাঙ্ক্ষিত দমন অর্জিত হয় না। সমাপ্ত। আল্লামা কাসিম কৃত ‘তাসহিহ’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে: যদি আপনি বলেন যে, তারা কখনও কখনও কোনো অগ্রাধিকার প্রদান (ترجيح) ব্যতিরেকেই মতামতসমূহ বর্ণনা করেন এবং কখনও কখনও সহিহায়ন (تصحيح)-এর ক্ষেত্রে ভিন্নমত পোষণ করেন; তবে আমি বলব, তারা যেভাবে আমল করেছেন ঠিক সেভাবেই আমল করা হবে—যেমন প্রথা ও মানুষের অবস্থার পরিবর্তন বিবেচনা করা, যা মানুষের জন্য অধিকতর সহজ ও কল্যাণকর তা গ্রহণ করা, যা সাধারণ লেনদেনে প্রচলিত ও সুপ্রতিষ্ঠিত এবং যার ভিত্তি অধিক শক্তিশালী। বাস্তব জগতে এই পার্থক্যের বিচার করার মতো যোগ্যতার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যায় না, যা নিছক স্বীয় ধারণা নয় বরং বাস্তব সত্য; আর যার এই পার্থক্য করার ক্ষমতা নেই, সে যোগ্য ব্যক্তির শরণাপন্ন হবে। সমাপ্ত। (এবং) তারা বলেছেন যে, বিচারিক কার্যাবলির ক্ষেত্রে আবু ইউসুফের মত অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া হবে, যেহেতু তিনি বাস্তব ঘটনাবলির অভিজ্ঞতা লাভ করেছিলেন এবং মানুষের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন। ‘আল-বাহর’ গ্রন্থে ইমাম মুহাম্মদ-এর জীবনীগ্রন্থ কারদারি রচিত ‘মানাকিবুল ইমাম মুহাম্মদ’ থেকে বর্ণিত আছে যে, ইমাম মুহাম্মদ রঞ্জকদের নিকট গমন করতেন এবং তাদের পারস্পরিক লেনদেন ও তারা নিজেদের মধ্যে কীভাবে কার্যাবলি পরিচালনা করে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেন। সমাপ্ত। ‘আল-হাবি আল-কুদসি’ গ্রন্থের শেষে বর্ণিত আছে যে, যখনই ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মত ইমাম আবু হানিফার মতের অনুকূলে হবে, তখন বিশেষ প্রয়োজন ব্যতীত তা থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না। এবং এটিও বিদিত যে, ইমাম আবু হানিফা যদি তা দেখতেন যা তারা প্রত্যক্ষ করেছেন, তবে তিনিও অনুরূপ ফতোয়া প্রদান করতেন। সমাপ্ত। (এবং) তারা সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তারাবিহর নামাজে কোরআন খতম করা সুন্নাহ। ‘আল-দুররুল মুখতার’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে, তবে ‘আল-ইখতিয়ার’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে উত্তম হলো মানুষের ওপর কষ্ট না হয় এমন পরিমাণ তিলাওয়াত করা; গ্রন্থকার ও অন্যান্যরা একেই সমর্থন করেছেন। জাহিদি রচিত ‘ফাদাইলে রমজান’ গ্রন্থে বর্ণিত আছে যে, আবু ফজল আল-কিরমানি ও আল-ওবারি ফতোয়া প্রদান করেছেন যে, যদি তারাবিহতে সুরা ফাতিহা এবং এক বা দুই আয়াত পাঠ করা হয় তবে তা অপছন্দনীয় (مكروه) হবে না। আর যে ব্যক্তি স্বীয় জামানার মানুষ সম্পর্কে অবগত নয়, সে মূলত অজ্ঞ। সমাপ্ত। তারা মূল পাঠসমূহ (মুতুন) এবং ‘জাহিরুর রিওয়ায়াহ’ ও অন্যান্য কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আকাশে যদি কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে তবে একজন নির্ভরযোগ্য (عدل) ব্যক্তির সংবাদের মাধ্যমেই রমজান সাব্যস্ত হবে। অন্যথায় একটি বিশাল জনসমষ্টির উপস্থিতি আবশ্যক। কারণ, উদাহরণস্বরূপ যখন শহরের সকল মানুষ চাঁদ দেখার জন্য সচেষ্ট হয়, তখন একা এক বা দুই ব্যক্তির চাঁদ দেখার দাবি স্পষ্টতই তাদের ভুলের প্রমাণ দেয়। পক্ষান্তরে যদি আকাশে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে তবে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ এমন সম্ভাবনা বিদ্যমান যে সে মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ দেখেছে যা পরবর্তীতে মেঘাচ্ছন্ন হয়ে যাওয়ায় অন্যেরা দেখতে পায়নি; এমতাবস্থায় তা ভুলের প্রমাণ হয় না। ইমাম আবু হানিফা থেকে হাসান একটি বর্ণনা (رواية) করেছেন যে, শর্তহীনভাবে একজন বা দুজনের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। ‘আল-বাহর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমি কাউকে এই বর্ণনা (رواية)-টিকে অগ্রাধিকার প্রদান (ترجيح) করতে দেখিনি; তবে বর্তমান যুগে এর ওপর আমল করাই সঙ্গত। কারণ মানুষ এখন চাঁদ দেখার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে, ফলে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিষয়টি অনুপস্থিত থাকে; এমতাবস্থায় একক ব্যক্তির চাঁদ দেখা স্পষ্ট ভুল হিসেবে প্রতীয়মান হয় না। সমাপ্ত। এটি যে একটি অত্যন্ত জোরালো যুক্তি তা বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশেষ করে আমাদের বর্তমান সময়ে; কারণ যদি চাঁদ সাব্যস্ত হওয়া বিশাল জনসমষ্টির ওপর নির্ভর করে, তবে মানুষের অবহেলার কারণে তা দুই বা তিন দিনের আগে সাব্যস্ত হবে না। তদুপরি আমরা দেখি যে, যারা চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দেয়, তারা প্রায়ই মানুষের পক্ষ থেকে লাঞ্ছনার শিকার হয়, যেমন তাদের সাক্ষ্য প্রত্যাখ্যান করা এবং তাদের ধার্মিকতা নিয়ে কটূক্তি করা, কারণ সে...
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩১)
كان سببا لمنعهم عن شهواتهم ومن جهل باهل زمانه فهو جاهل فجزاه الله عن أهل هذا الزمان خيرا (فهذا) كله وامثاله دلائل واضحة على ان المفتى ليس له الجمود على المنقول في كتب ظاهر الرواية من غير مراعاة الزمان واهله والا يضيع حقوقا كثيرة ويكون ضرره اعظم من نفعه فانا نرى الرجل يأتي مستفتيا عن حكم شرعى ويكون مراده التوصل بذلك إلى اضرار غيره فلو اخرجنا له فتوى عما سئل عنه نكون قد شاركناه في الاثم لانه لم يتوصل إلى مراده الذي قصده إلا بسببنا مثلا إذا جاء يسأل عن اخت له في حضانة امها وقد انتهت مدة الحضانة ويريد اخذها من امها ونعلم أنه لو اخذها من امها لضاعت عنده وما قصده باخذها إلا اذية امها أو التوصل إلى الاستيلاء على ما لها أو ليزوجها لآخر ويتزوج بها بنته أو اخته وامثال ذلك فعلى المفتى إذا راى ذلك ان يحاول في الجواب ويقول له الاضرار لا يجوز ونحو ذلك (وقد) ذكر في البحر مسائل عن روض النووى وذكر انها توافق قواعد مذهبنا منها قوله فرع للمفتى ان يغلظ للزجر متأولا كما إذا سأله من له عبد عن قتله وخشى ان يقله جاز ان يقول ان قتلته قتلناك متأولا لقوله عليه الصلاة والسلام (من قتل عبده قتلناه) وهذا إذا لم يترتب على إطلاقه مفسدة انتهى
(1) (فإن قلت) إذا كان على المفتى اتباع العرف وإن خالف
--------------------------------------------
এটি তাদের কুপ্রবৃত্তি থেকে বিরত রাখার একটি কারণ ছিল। আর যে ব্যক্তি নিজ সময়ের মানুষের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ, সে মূলত একজন অজ্ঞ (جاهل)। আল্লাহ তাআলা তাকে এই সময়ের মানুষের পক্ষ থেকে উত্তম প্রতিদান দান করুন। (সুতরাং) এই সবকিছু এবং এর অনুরূপ উদাহরণসমূহ স্পষ্ট দলিল যে, মুফতির জন্য যামানা ও তার অধিবাসীদের অবস্থা বিবেচনা না করে কেবল 'জাহিরুর রিওয়ায়াহ' এর কিতাবসমূহে বর্ণিত উদ্ধৃতির ওপর স্থবিরতা (جمود) প্রদর্শন করা সমীচীন নয়। অন্যথায় তিনি অনেক অধিকার নষ্ট করবেন এবং তার উপকারের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি হবে। আমরা দেখি যে, কোনো ব্যক্তি একটি শরয়ী বিধান সম্পর্কে ফতোয়া নিতে আসে, অথচ তার উদ্দেশ্য থাকে এর মাধ্যমে অন্যের ক্ষতি সাধন করা। এমতাবস্থায় আমরা যদি তার জিজ্ঞাসিত বিষয়ে তাকে ফতোয়া প্রদান করি, তবে আমরাও তার পাপে অংশীদার হব; কারণ সে আমাদের মাধ্যমেই তার সেই অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে পেরেছে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ তার এমন এক বোন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে আসে যে তার মায়ের হাযানাহ বা তত্ত্বাবধানে আছে এবং তত্ত্বাবধানের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে; এখন সে তাকে মায়ের কাছ থেকে নিয়ে নিতে চায়। অথচ আমরা জানি যে, সে যদি তাকে নিয়ে যায় তবে মেয়েটি তার কাছে নষ্ট হয়ে যাবে এবং তাকে নেওয়ার পেছনে তার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো মায়ের মনে কষ্ট দেওয়া অথবা মেয়েটির সম্পদের ওপর আধিপত্য লাভ করা, কিংবা তাকে অন্য কারও কাছে বিয়ে দিয়ে তার বিনিময়ে তার নিজের জন্য অন্য কাউকে বিয়ে করা ইত্যাদি। এমতাবস্থায় মুফতির উচিত বিষয়টি অনুধাবন করে কৌশলে উত্তর দেওয়া এবং তাকে বলা যে, 'ক্ষতি সাধন করা জায়েজ নয়' এবং এ জাতীয় কথা বলা। 'আল-বাহর' গ্রন্থে ইমাম নববীর 'রাওদ' থেকে কিছু মাসআলা উল্লেখ করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, সেগুলো আমাদের মাযহাবের মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মধ্যে ইমাম নববীর বক্তব্য হলো: এটি একটি আনুষঙ্গিক মাসআলা (فرع), মুফতির জন্য ধমক ও সতর্ক করার উদ্দেশ্যে ব্যাখ্যাকারে (متأولا) কঠোরতা অবলম্বন করা জায়েজ। যেমন, কোনো গোলামের মালিক যদি তাকে হত্যা করার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে এবং মুফতি আশঙ্কা করেন যে সে তাকে হত্যা করে ফেলবে, তবে মুফতির জন্য ব্যাখ্যাকারে (متأولا) এটি বলা জায়েজ যে, 'যদি তুমি তাকে হত্যা করো, তবে আমরাও তোমাকে হত্যা করব'। এটি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সেই বাণীর ওপর ভিত্তি করে যেখানে তিনি বলেছেন, "যে ব্যক্তি তার গোলামকে হত্যা করবে, আমরা তাকে হত্যা করব।" আর এটি তখনই প্রযোজ্য যখন এই বাণীর নিঃশর্ত প্রয়োগে কোনো বিপর্যয় (مفسدة) সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা না থাকে। সমাপ্ত।
(১) (যদি তুমি বলো) যখন মুফতির জন্য প্রথা বা উরফ অনুসরণ করা আবশ্যক, যদিও তা বিরোধী হয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩২)
المنصوص عليه في كتب ظاهر الرواية فهل هنا فرق بين العرف العام والعرف الخاص كما في القسم الأول وهو ما خالف فيه العرف النص الشرعى (قلت) لا فرق بينهما هنا إلا من جهة أن العرف العام يثبت به الحكم العام والعرف الخاص يثبت به الحكم الخاص (وحاصله) ان حكم العرف يثبت على اهله عاما أو خاصا فالعرف العام في سائر البلاد يثبت حكمه على أهل سائر البلاد والخاص في بلدة واحدة يثبت حكمه على تلك البلدة فقط (ولهذا) قال العلامة السيد أحمد الحموى في حاشيته على الأشباه ما نصه قوله الحكم العام لا يثبت بالعرف الخاص يفهم منه ان الحكم الخاص يثبت بالعرف الخاص ومنه ما تقدم في الكلام على المدارس الموقوفة على درس الحديث ولا يعلم ان الواقف أراد قراة ما يتعلق بمعرفة المصطلح أو قراءة متن الحديث حيث قيل باتباع اصطلاح كل بلد انتهى يعنى ان كان واقف المدرسة في بلدة تعارف اهلها اطلاق المحدث على العالم بمصطلح الحديث أي بعلم اصوله كالنخبة ومختصر ابن الصلاح والفية العراقي يصرف الوقف إليه وإن تعارفوا إطلاقه على العالم بمتن الحديث كصحيح البخاري ومسلم يصرف إليه (وقدمنا) عن مشايخ بلخ انهم قالوا في كل حل على حرام ان محمدا قال لا يقع الطلاق إلا بالنية بناء على عرف دياره اما في عرف بلادنا فيقع فهذا صريح في اعتبار عرف بعض البلاد واعتبار العرف الحادث على عرف قبله (واصرح منه) انهم ذكروا في المتون وغيرها في باب الحقوق ان العلو لا يدخل بشراء بيت بكل حق هوله وبشراء منزل لا يدخل إلا بكل حق هو له لو بمرافقه ويدخل في الدار مطلقا فقال في البحر نقلا عن الكافي ان هذا التفصيل مبنى على عرف الكوفة وفى عرفنا يدخل العلو في الكل والاحكام تبتنى على العرف فيعتبر في كل اقليم وفي كل عصر عرف اهله انتهى (وفيه) في فصل ما يدخل في البيع تبعا ان السلم المنفصل لا يدخل في البيع في عرفهم وفى عرف القاهرة ينبغى دخوله مطلقا لان بيوتهم طبقات لا ينتفع بها بدونه انتهى واصله في فتح القدير وهو مأخوذ من قول الهداية في دخول المفتاح تبعا للغلق لانه لا ينتفع به إلا به (وفى) الأشباه حلف لا يأكل لحما حنث باكل الكبد والكرش على ما في الكنز مع انه لا يسمى لحما عرفا ولذا قال في المحيط انه انما يحنث على عادة أهل الكوفة واما في عرفنا فلا يحنث لانه لا يعد لحما انتهى وهو حسن جدا ومن هنا وامثاله علم ان العجمي يعتبر عرفه قطعا ومن هنا قال الزيلعي في قول الكنز والواقف على السطح داخل ان المختار ان لا يحنث في العجم لانه لا يسمى داخلا
জাহিরুর রিওয়ায়াহ (ظاهر الرواية)-এর কিতাবসমূহে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে, সেখানে কি সাধারণ প্রথা (العرف العام) এবং বিশেষ প্রথার (العرف الخاص) মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে? যেমনটি প্রথম প্রকারের ক্ষেত্রে ছিল, যেখানে প্রথা শরয়ি নসের পরিপন্থী হয়েছিল। (আমি বলি) এখানে উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, তবে এই দিক থেকে যে, সাধারণ প্রথা (العرف العام) দ্বারা সাধারণ বিধান সাব্যস্ত হয় এবং বিশেষ প্রথা (العرف الخاص) দ্বারা বিশেষ বিধান সাব্যস্ত হয়। (এর সারসংক্ষেপ হলো) প্রথার বিধান তার অনুসারীদের ওপর সাধারণ বা বিশেষ হিসেবে সাব্যস্ত হয়। অতএব, সকল ভূখণ্ডের সাধারণ প্রথা (العرف العام) সকল দেশের অধিবাসীদের ওপর তার বিধান কার্যকর করে এবং কোনো একটি নির্দিষ্ট শহরের বিশেষ প্রথা (العرف الخاص) কেবল সেই শহরের ওপরই তার বিধান সাব্যস্ত করে। (এই কারণেই) আল্লামা সায়্যিদ আহমদ আল-হামাভী আল-আশবাহ-এর ওপর তার হাশিয়ায় লিখেছেন: 'সাধারণ বিধান বিশেষ প্রথা (العرف الخاص) দ্বারা সাব্যস্ত হয় না'—এই কথা থেকে বোঝা যায় যে, বিশেষ বিধান বিশেষ প্রথা (العرف الخاص) দ্বারা সাব্যস্ত হয়। এর অন্তর্ভুক্ত হলো সেই আলোচনা যা ইতিপূর্বে হাদিস পাঠের জন্য ওয়াকফকৃত মাদরাসাগুলোর ক্ষেত্রে গত হয়েছে; যেখানে ওয়াকফকারী হাদিসের পরিভাষা (المصطلح) সংক্রান্ত জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়ার ইচ্ছা করেছেন নাকি হাদিসের মূল পাঠ (متن) পাঠ করার ইচ্ছা করেছেন তা জানা যায় না। এমতাবস্থায় বলা হয়েছে যে, প্রত্যেক শহরের পরিভাষা অনুসরণ করা হবে। অর্থাৎ যদি কোনো শহরের মাদরাসার ওয়াকফকারী এমন অঞ্চলের হন যেখানে অধিবাসীদের নিকট 'মুহাদ্দিস' শব্দটি হাদিসের পরিভাষা (المصطلح) তথা উসুল শাস্ত্র (علم أصوله) যেমন: নুখবাহ, মুখতাসার ইবনুস সালাহ এবং আলফিয়্যাতুল ইরাকি-তে পারদর্শী আলিমের ওপর প্রয়োগ করার প্রচলন থাকে, তবে ওয়াকফ সেই খাতেই ব্যয় হবে। আর যদি তাদের নিকট এটি হাদিসের মূল পাঠ (متن) যেমন: সহিহ বুখারি ও মুসলিম-এর আলিমের ওপর প্রয়োগ করার প্রচলন থাকে, তবে ওয়াকফ সেই খাতেই ব্যয় করা হবে। (আমরা ইতিপূর্বে বর্ণনা করেছি) বলখের মাশায়েখদের থেকে যে, তারা 'হারামের ওপর হালাল' সংক্রান্ত প্রতিটি শপথের ক্ষেত্রে বলেছেন, ইমাম মুহাম্মদ বলেছেন যে নিয়তের ভিত্তিতেই কেবল তালাক পতিত হবে। এটি ছিল তার অঞ্চলের প্রথার ভিত্তিতে। কিন্তু আমাদের অঞ্চলের প্রথা অনুযায়ী তা পতিত হয়ে যাবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রথা এবং পরবর্তী প্রথাকে পূর্ববর্তী প্রথার ওপর প্রাধান্য দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্ট প্রমাণ। (এর চেয়েও স্পষ্ট হলো) ফুকাহায়ে কেরাম মূল গ্রন্থাবলিতে এবং অন্যান্য কিতাবের অধিকার (হুকুক) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন যে, 'তার সকল অধিকারসহ' বাক্য ব্যবহারের মাধ্যমে ঘর কেনার সময় ওপরের তলা অন্তর্ভুক্ত হয় না। আবার 'তার সকল অধিকারসহ' বা 'তার সংশ্লিষ্ট সুবিধাদিসহ' বাক্য ব্যবহারের মাধ্যমে বাসস্থান ক্রয়ের ক্ষেত্রেও এটি অন্তর্ভুক্ত হয় না। কিন্তু 'দার' (বাড়ি) ক্রয়ের ক্ষেত্রে এটি শর্তহীনভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। আল-বাহর গ্রন্থে আল-কাফি থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে যে, এই বিস্তারিত বিশ্লেষণটি কুফার প্রথার ওপর ভিত্তি করে। আমাদের প্রথায় ওপরের তলা সকল ক্ষেত্রেই অন্তর্ভুক্ত হয়। আর আহকাম বা বিধানসমূহ প্রথার ওপর ভিত্তি করে আবর্তিত হয়, তাই প্রতিটি ভূখণ্ডে এবং প্রতিটি যুগে সেখানকার অধিবাসীদের প্রথা (العرف) গণ্য হবে। (সেখানেই) বিক্রয়ের আনুষঙ্গিক বিষয়াবলি অধ্যায়ে রয়েছে যে, বিচ্ছিন্ন সিঁড়ি তাদের প্রথায় বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় না। কিন্তু কায়রোর প্রথায় এটি সাধারণভাবে অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত, কারণ তাদের বাড়িগুলো বহুতলবিশিষ্ট এবং সিঁড়ি ছাড়া তা ব্যবহার উপযোগী হয় না। এর মূল ভিত্তি হলো ফাতহুল কাদির-এ, যা আল-হিদায়া-এর এই বক্তব্য থেকে গৃহীত যে, তালা বা লকের অনুগামী হিসেবে চাবি বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে, কারণ চাবি ছাড়া তালার উপযোগিতা নেই। (আল-আশবাহ গ্রন্থে আছে) কেউ যদি মাংস না খাওয়ার শপথ করে এবং সে কলিজা বা ভুঁড়ি খায়, তবে কানজুল দাকায়েক-এর বর্ণনা অনুযায়ী তার শপথ ভঙ্গ হবে। যদিও প্রথাগতভাবে (عرفا) এগুলোকে মাংস বলা হয় না। এই কারণেই আল-মুহিত গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, শপথ কেবল কুফাবাসীদের অভ্যাস অনুযায়ী ভঙ্গ হবে। কিন্তু আমাদের প্রথায় শপথ ভঙ্গ হবে না, কারণ এটি মাংস হিসেবে গণ্য হয় না। এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত চমৎকার। এখান থেকে এবং এই জাতীয় উদাহরণ থেকে জানা যায় যে, অনারবদের প্রথা নিশ্চিতভাবেই গ্রহণযোগ্য। এই ভিত্তি থেকেই ইমাম যাইলায়ি কানজুল দাকায়েক-এর সেই উক্তির ব্যাখ্যায় বলেছেন—যেখানে বলা হয়েছে যে ছাদে অবস্থানকারী ব্যক্তি ঘরের ভেতরে অবস্থানকারী হিসেবে গণ্য হবে—যে বিশুদ্ধ মতানুসারে অনারবদের ক্ষেত্রে শপথ ভঙ্গ হবে না, কারণ তাকে 'অভ্যন্তরে প্রবেশকারী' বলা হয় না।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৩)
عندهم انتهى كلام الأشباه (وفيها) أيضا عن منية المفتى دفع غلامه إلى حائك مدة معلومة لتعليم النسج ولم يشرط الاجر على أحد فلما علم العمل طلب الأستاذ الاجر من المولى والمولى من الأستاذ ينظر إلى عرف أهل تلك البلدة في ذلك العمل الخ (وفيها) أيضا لو باع التاجر في السوق شيأ بثمن ولم يصرحا بحلول ولا تأجيل وكان المتعارف فيما بينهم ان البائع يأخذ كل جمعة قدرا معلوما انصرف إليه بلا بيان قالوا لان المعروف كالمشروط انتهى (ولا شك) ان هذا لم يتعارف في كثير من البلاد فاعتبر فيه عرف أهل ذلك السوق الخاص مع ان المنصوص عليه في كتب المذهب حلول الثمن ما لم يشترط تأجيله (ومثله) ما صرح به أصحاب المتون كالكنز وغيره فيما لو حلف لا يأكل خبزا أو رأسا من ان الخبز ما اعتاده أهل بلده والرأس ما يباع في مصره وذكر الشراح ان على المفتى ان يفتى بما هو المعتاد في كل مصر وقع الخلف فيه وفي باب الربا من البحر عن الكافي والفتوى على عادة الناس (فهذه) النقول ونحوها دالة على اعتبار العرف الخاص وإن خالف المنصوص عليه في كتب المذهب ما لم يخالف النص الشرعى كما قدمناه وكيف يصح ان يقال لا يعتبر مطلقا مع ان كل متكلم انما يقصد ما يتعارفه (وفى) جامع الفصولين مطلق الكلام فيما بين الناس ينصرف إلى المتعارف انتهى (وفى) فتاوى العلامة قاسم التحقيق ان لفظ الواقف والموصى والحالف والناذر وكل عاقد يحمل على عادته في خطابه ولغته التي يتكلم بها وافقت لغة العرب ولغة الشارع اولا انتهى
(1) (اقول) وبما قررناه تبين لك ان ما تقدم عن الأشباه من ان المذهب عدم اعتبار العرف الخاص انما هو فيما إذا عارض النص الشرعى فلا يترك به القياس ولا يخص به الاثر بخلاف العرف العام كما مر تقريره فيما نقلناه عن الذخيرة في الباب الأول واما العرف الخاص إذا عارض النص المذهبي المنقول عن صاحب المذهب فهو معتبر كما مشى عليه أصحاب المتون والشروح والفتاوى في الفروع التي ذكرناها وغيرها وشمل العرف الخاص القديم والحادث كالعرف العام (وبما قررناه) أيضا اتضح لك معنى ما قاله في القنية واشرنا له في البيت السابق من انه ليس للمفتى ولا للقاضى ان يحكما بظاهر الرواية ويتركا العرف
--------------------------------------------
তাদের নিকট 'আল-আশবাহ'-এর আলোচনা এখানেই শেষ। (এতে) আরও আছে 'মুনয়াতুল মুফতি' থেকে উদ্ধৃত: এক ব্যক্তি তার গোলামকে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য একজন তাঁতির নিকট বুনন শিক্ষা দেওয়ার জন্য সমর্পণ করল এবং কারো ওপর পারিশ্রমিক প্রদানের শর্তারোপ করল না। যখন সে কাজ শিখে নিল, তখন শিক্ষক মনিবের নিকট পারিশ্রমিক দাবি করল এবং মনিবও শিক্ষকের নিকট (দাবি করল); এমতাবস্থায় ঐ নির্দিষ্ট কাজে উক্ত জনপদের অধিবাসীদের প্রথার (عرف) প্রতি লক্ষ্য করা হবে... (এতে) আরও আছে: যদি কোনো ব্যবসায়ী বাজারে কোনো বস্তু নির্দিষ্ট মূল্যের বিনিময়ে বিক্রয় করে এবং তারা নগদ বা বাকির বিষয়টি স্পষ্ট না করে, আর তাদের মধ্যে প্রচলিত (المتعارف) থাকে যে বিক্রেতা প্রতি জুমাবারে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্রহণ করবে, তবে কোনো বর্ণনা ছাড়াই বিষয়টি সেদিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। তারা বলেন: কারণ, প্রচলিত (المعروف) বিষয় শর্তযুক্ত (المشروط) বিষয়ের ন্যায়। (এতে সন্দেহ নেই) যে, এটি অনেক জনপদেই প্রচলিত নয়। ফলে এখানে উক্ত নির্দিষ্ট বাজারের অধিবাসীদের প্রথা (عرف) ধর্তব্য হবে, যদিও মাজহাবের কিতাবসমূহে বর্ণিত বিধান (المنصوص عليه) হলো মূল্য তাৎক্ষণিক পরিশোধ করা, যতক্ষণ না বাকিতে পরিশোধের শর্ত করা হয়। (অনুরূপভাবে) মূলগ্রন্থের রচয়িতাগণ, যেমন 'আল-কানয' ও অন্যান্য কিতাবে যা স্পষ্ট করেছেন: যদি কেউ কসম করে যে সে রুটি বা মাথা খাবে না, তবে রুটি বলতে তাই উদ্দেশ্য হবে যা তার শহরের অধিবাসীদের নিকট অভ্যস্ত (المعتاد), আর মাথা বলতে তাই যা তার শহরে বিক্রয় করা হয়। ব্যাখ্যাকারগণ উল্লেখ করেছেন যে, মুফতির জন্য আবশ্যক হলো প্রতিটি শহরে প্রচলিত (المعتاد) প্রথা অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করা, যেখানে মতভেদ দেখা দেয়। 'আল-বাহর'-এর 'রিবা' (সুদ) অধ্যায়ে 'আল-কাফি' থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, ফতোয়া মানুষের অভ্যাসের (عادة) ওপর ভিত্তি করে হবে। (এই) উদ্ধৃতিসমূহ এবং এর সদৃশ বর্ণনাগুলো বিশেষ প্রথা (العرف الخاص) ধর্তব্য হওয়ার প্রমাণ দেয়, যদিও তা মাজহাবের কিতাবসমূহে বর্ণিত বিধানের (المنصوص عليه) পরিপন্থী হয়, যতক্ষণ না তা শরীয়তের দলীলের (النص الشرعى) পরিপন্থী হয়, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর এটি বলা কীভাবে সঠিক হতে পারে যে, তা নিঃশর্তভাবে ধর্তব্য নয়? অথচ প্রত্যেক বক্তাই তার কথা দ্বারা তাই উদ্দেশ্য করে যা প্রচলিত (المتعارف)। (এবং) 'জামি'উল ফুসুলাইন'-এ আছে: মানুষের মধ্যকার সাধারণ কথাবার্তা প্রচলিত (المتعارف) প্রথার দিকেই ধাবিত হয়। (এবং) আল্লামা কাসিমের ফতোয়াসমূহে আছে: প্রকৃত গবেষণা হলো এই যে, ওয়াকিফ (উৎসর্গকারী), অসিয়তকারী, শপথকারী, মানতকারী এবং প্রত্যেক চুক্তি সম্পাদনকারীর শব্দ তার সম্বোধন ও ভাষার অভ্যাসের (عادة) ওপর প্রয়োগ করা হবে যে ভাষায় সে কথা বলে; তা আরবি ভাষা কিংবা শরীয়ত প্রবর্তকের ভাষার অনুকূলে হোক বা না হোক।
(১) (আমি বলি) আমরা যা প্রতিষ্ঠিত করেছি তা থেকে আপনার নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে, 'আল-আশবাহ' থেকে পূর্বে যা বর্ণিত হয়েছে যে—মাজহাবের মত হলো বিশেষ প্রথা ধর্তব্য না হওয়া—তা কেবল তখনই যখন তা শরীয়তের দলীলের (النص الشرعى) বিরোধিতা করে। ফলে এর মাধ্যমে কিয়াস (القياس) বর্জন করা যাবে না এবং আসার (الاثر) কে নির্দিষ্ট (تخصيص) করা যাবে না, সাধারণ প্রথার (العرف العام) বিপরীতে যেমনটি আমরা প্রথম অধ্যায়ে 'যখিরা' থেকে উদ্ধৃত আলোচনায় প্রতিষ্ঠিত করেছি। আর বিশেষ প্রথা (العرف الخاص) যখন মাজহাবের ইমাম থেকে বর্ণিত মাজহাবী ভাষ্যের (النص المذهبي) পরিপন্থী হয়, তখন তা ধর্তব্য (معتبر); যেমনটি মূলগ্রন্থের রচয়িতাগণ, ব্যাখ্যাকারগণ এবং ফতোয়া প্রদানকারীগণ আমাদের উল্লিখিত ফিকহী শাখা মাসআলাসমূহ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অনুসরণ করেছেন। আর বিশেষ প্রথার মধ্যে প্রাচীন ও নতুন উভয়ই অন্তর্ভুক্ত, যেমনটি সাধারণ প্রথার (العرف العام) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। (এবং আমরা যা প্রতিষ্ঠিত করেছি) তা দ্বারা আপনার নিকট 'আল-কুনিয়া'-তে বর্ণিত বক্তব্যের অর্থও স্পষ্ট হয়েছে এবং আমরা যা পূর্ববর্তী পঙ্ক্তিতে ইশারা করেছি যে, মুফতি বা বিচারকের (কাজী) জন্য উচিত নয় যে তারা 'জাহিরুর রিওয়ায়াহ'-এর বাহ্যিক দিকের ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন এবং প্রথাকে (العرف) বর্জন করবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৪)
والله تعالى أعلم (تنبيه) اعلم أن كلا من العرف العام والخاص إنما يعتبر إذا كان شائعًا بين أهله يعرفه جميعهم ولهذا نقل البيرى في شرح الأشباه عن المستصفى ما نصه التعامل العام أي الشائع المستفيض والعرف المشترك لا يصح الرجوع إليه. مع التردد انتهى (ثم) نقل عن المستصفى أيضا ما نصه ولا يصلح مقيدا لأنه لما كان مشتركا صار متعارضا انتهى (فقوله) التعامل العام يشمل العام مطلقا أي في جميع البلاد والعام المقيد أي في بلدة واحدة فكل منهما لا يكون عاما تبنى الأحكام عليه حتى يكون شائعا مستفيضا بين جميع أهله أما لو كان مشتركا فلا يبنى عليه الحكم للتردد في أن المتكلم قصد هذا المعنى أو المعنى الآخر فلا يتقيد أحد المعنيين لتعارضهما بتحقق الاشتراك (اقول) وينبغى تقييد ذلك بما إذا لم يغلب أحد المعنيين على الآخر كما يشعر به قوله والعرف المشترك فإن الاشتراك يقتضى تساوى المعنيين وكذا قوله صار متعارضا فإن المرجوح لا يعارض الراجح وإنما المتعارضان ما كانا متساويين أما لو كان أحدهما أشهر كانت الشهرة قرينة على إرادته (ولذا) قال في الأشباه إنما تعتبر العادة إذا اطردت أو غلبت ولذا قالوا في البيع لو باع بدراهم أو دنانير وكانا في بلد اختلف فيها النقود مع الاختلاف في المالية والرواج انصرف البيع إلى الأغلب قال في الهداية لأنه هو المتعارف فينصرف المطلق إليه انتهى فهذا صريح فيما قلناه والله تعالى أعلم (فصل) في ذكر بعض فروع مهمة مبنية على العرف (منها) ما في الذخيرة البرهانية وغيرها لو جهز ابنته فماتت فادعى أنه دفعه عارية لا ملكا فالقول للزوج لأن الظاهر التمليك وحكى عن السندى أنه للأب لأن اليد من جهته وقال الصدر الشهيد في واقعاته المختار للفتوى أن القول للزوج إذا كان العرف مستمرا أن الأب يدفع مثله جهارا لا عارية كما في ديارنا وإن كان مشتركا فالقول للأب انتهى (ومشى) عليه في التنوير من كتاب العارية وكذا في الأشباه وصرح أيضا بأن هذا التفصيل هو المختار للفتوى وحكى عن قاضى خان قولا رابعا وهو قوله وعندى أن الأب إن كان من كرام الناس وأشرافهم لم يقبل قوله وإن كان من الأوساط قبل انتهى (أقول) ويمكن التوفيق بأن القول الأول مبنى على استمرار العرف بقرينة قوله لأن الظاهر التمليك أي الظاهر في العرف والعادة المستمرة أما إذا لم يكن ذلك هو العادة المستمرة لم يكن التمليك ظاهرا بل كان القول لأب لأنه لا يعرف إلا من جهته وعلى هذا يحمل قول السغدى أنه للأب وأما ما ذكره قاضى خان فهو في الحقيقة بيان لموضع الاستمرار وموضع الاشتراك الواقعين في القول المختار للفتوى بإن استمرار دفعه جهازا لا عارية إنما هو فيما
আল্লাহ তাআলাই সমধিক অবগত। (সতর্কবার্তা) জেনে রাখুন যে, সাধারণ ও বিশেষ উভয় প্রকার প্রথা (عرف) কেবল তখনই গণ্য হয় যখন তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে প্রচলিত (شائع) থাকে এবং তাদের সকলে তা অবগত থাকে। একারণেই আল-বিরি আল-আশবাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে আল-মুস্তাসফা থেকে উদ্ধৃত করেছেন যার পাঠ হলো: সাধারণ লেনদেন অর্থাৎ যা বহুল প্রচলিত (شائع مستفيض) এবং সাধারণ প্রথা (العرف المشترك), যদি তাতে সংশয় থাকে তবে তার দিকে প্রত্যাবর্তন করা সঠিক (صحيح) হবে না। কথাটি এখানেই সমাপ্ত। (অতঃপর) তিনি আল-মুস্তাসফা থেকে আরও উদ্ধৃত করেছেন যার পাঠ হলো: এটি কোনো বিষয়কে শর্তযুক্ত করার উপযুক্ত নয়, কারণ এটি যখন সাধারণ বা অস্পষ্ট হয় তখন তা পরস্পর বিরোধী (متعارضا) হয়ে যায়। কথাটি এখানেই সমাপ্ত।
তার বক্তব্য ‘সাধারণ লেনদেন’ নিঃশর্তভাবে সাধারণ প্রথাকে অন্তর্ভুক্ত করে অর্থাৎ যা সকল দেশে প্রচলিত, এবং নির্দিষ্ট সাধারণ প্রথাকেও যা কেবল একটি নির্দিষ্ট শহরে প্রচলিত। এদের কোনটিই ততক্ষণ পর্যন্ত ‘সাধারণ’ হিসেবে বিবেচিত হবে না যার ওপর বিধান (حكم) তৈরি করা যায়, যতক্ষণ না তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মাঝে বহুল প্রচলিত (شائع مستفيض) হয়। পক্ষান্তরে যদি বিষয়টি সাধারণ বা অস্পষ্ট হয়, তবে তার ওপর ভিত্তি করে কোনো বিধান (حكم) প্রদান করা যাবে না। কারণ বক্তা এই অর্থ নাকি অন্য অর্থ উদ্দেশ্য করেছেন তা নিয়ে সংশয় থেকে যায়। ফলে দুটি অর্থ পরস্পর বিরোধী (متعارضا) হওয়ার কারণে অস্পষ্টতা থাকায় কোনো একটি অর্থকে নির্দিষ্ট করা যায় না।
(আমি বলছি) একে কেবল সেই অবস্থার সাথে নির্দিষ্ট করা উচিত যেখানে কোনো একটি অর্থ অন্যটির ওপর প্রাধান্য লাভ করে না। যেমনটি তার বক্তব্য ‘সাধারণ প্রথা’ (العرف المشترك) থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কারণ সাধারণ হওয়া উভয় অর্থের সমতা দাবি করে। একইভাবে তার বক্তব্য ‘পরস্পর বিরোধী (متعارضا) হয়ে যায়’ থেকেও এটি স্পষ্ট হয়; কেননা অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوح) বিষয়টি প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) বিষয়ের সাথে বিরোধ (تعارض) তৈরি করতে পারে না। বরং কেবল সমান পর্যায়ের দুটি বিষয়ই পরস্পর বিরোধী হয়। আর যদি কোনো একটি অধিক প্রসিদ্ধ হয়, তবে সেই প্রসিদ্ধিই তা উদ্দেশ্য হওয়ার প্রমাণ হিসেবে গণ্য হবে।
(এ কারণেই) আল-আশবাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, অভ্যাস (عادة) কেবল তখনই গণ্য হবে যখন তা নিয়মিত হয় অথবা প্রবল (غلبت) হয়। একারণেই ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তারা (ফকিহগণ) বলেছেন যে, কেউ যদি দিরহাম বা দিনারের বিনিময়ে কোনো কিছু বিক্রি করে এবং এমন কোনো শহরে থাকে যেখানে মুদ্রার মান ও প্রচলনে ভিন্নতা রয়েছে, তবে সেই বিক্রয়টি সর্বাধিক প্রচলিত মুদ্রার মাধ্যমেই সম্পাদিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। আল-হিদায়াহ গ্রন্থে বলা হয়েছে, কেননা সেটিই প্রচলিত (متعارف), ফলে নিঃশর্ত বিষয়গুলো সেদিকেই ধাবিত হবে। কথাটি এখানেই সমাপ্ত। সুতরাং এটি আমাদের বক্তব্যের একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তাআলাই সমধিক অবগত।
(পরিচ্ছেদ) প্রথার (عرف) ওপর ভিত্তি করে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ শাখা-মাসআলা বর্ণনা প্রসঙ্গে। (তার মধ্যে একটি হলো) যা আল-জাখিরা আল-বুরহানিয়্যাহ ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে: যদি কেউ তার কন্যার জন্য আসবাবপত্র প্রস্তুত করে দেয় এবং কন্যা মারা যায়, অতঃপর পিতা দাবি করে যে সে এগুলো ব্যবহারের জন্য (عارية) দিয়েছিল, মালিকানা হিসেবে (ملكا) নয়, তবে এক্ষেত্রে স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ বাহ্যত (الظاهر) মালিকানা প্রদানই উদ্দেশ্য থাকে। আর আল-সান্দি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কথা পিতারই গ্রহণযোগ্য হবে কারণ দখল তার পক্ষ থেকেই ছিল। সাদর আল-শহিদ তার ওয়াকিআত গ্রন্থে বলেছেন, ফতোয়া প্রদানের জন্য নির্বাচিত (المختار للفتوى) মত হলো কথা স্বামীরই গ্রহণযোগ্য হবে, যদি সেখানে এমন নিরবচ্ছিন্ন প্রথা (العرف) থাকে যে পিতা এগুলো প্রকাশ্যেই প্রদান করে, ব্যবহারের জন্য ধার হিসেবে নয়—যেমনটি আমাদের দেশসমূহে প্রচলিত। কিন্তু যদি প্রথাটি সাধারণ বা অস্পষ্ট হয়, তবে কথা পিতারই গ্রহণযোগ্য হবে। কথাটি এখানেই সমাপ্ত।
আল-তানভির গ্রন্থে ‘কিতাবুল আরিয়াহ’-এর অধীনে এবং একইভাবে আল-আশবাহ গ্রন্থেও এই মতটিই অনুসরণ করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিস্তারিত বিবরণটিই ফতোয়া প্রদানের জন্য নির্বাচিত (المختار للفتوى)। কাজি খান থেকে চতুর্থ একটি মত বর্ণিত হয়েছে, যা হলো: "আমার মতে যদি পিতা অত্যন্ত সম্মানিত ও অভিজাত বংশীয় হয়, তবে তার দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না। আর যদি সে মধ্যবিত্ত পর্যায়ের হয়, তবে তার দাবি গ্রহণযোগ্য হবে।" কথাটি এখানেই সমাপ্ত।
(আমি বলছি) এগুলোর মধ্যে এভাবে সমন্বয় করা সম্ভব যে, প্রথম মতটি নিরবচ্ছিন্ন প্রথার ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে, যেমনটি তার বক্তব্য ‘বাহ্যত মালিকানা প্রদান’ (الظاهر التمليك) থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, অর্থাৎ যা প্রথা ও নিরবচ্ছিন্ন অভ্যাসের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট (الظاهر)। কিন্তু যখন তা নিরবচ্ছিন্ন অভ্যাস হবে না, তখন মালিকানা প্রদান করা সুস্পষ্ট বিষয় হিসেবে গণ্য হবে না; বরং কথা পিতারই গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ বিষয়টি কেবল তার মাধ্যমেই জানা সম্ভব। আল-সাগদি-র মতটি—যেটিতে বলা হয়েছে কথা পিতারই গ্রহণযোগ্য হবে—এর ওপরই প্রয়োগ করা হবে। আর কাজি খান যা উল্লেখ করেছেন, তা মূলত নিরবচ্ছিন্ন প্রথা এবং সাধারণ প্রথার ক্ষেত্রগুলোকেই ব্যাখ্যা করে যা ‘ফতোয়া প্রদানের জন্য নির্বাচিত (المختار للفتوى)’ মতের অন্তর্ভুক্ত। কেননা আসবাবপত্র ব্যবহারের জন্য না দিয়ে মালিকানা হিসেবেই প্রদান করার যে নিরবচ্ছিন্ন প্রথা রয়েছে, তা মূলত অভিজাতদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হয়।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৫)
إذا كان الأب من الاشراف وإن عدم الاستمرار انما هو فيما بين اوساط الناس (لكن) قد يقال ان الدفع عارية نادر بين الاوساط والعبرة للغالب كما حررناه آنفا و ح فقولهم وإن كان مشتركا فالقول للاب معناه إذا كان الاشتراك على سبيل التساوى. اما لو ترجح أحدهما كما هو الواقع في زماننا فيما بين أكثر الناس من الدفع تمليكا فالاظهر أن القول للزوج لان الشائع الغالب هو الظاهر والظاهر يصلح للدفع فتندفع به دعوى الأب انه عارية (لكن) بن هنا شيء وهو ان ظاهر كلامهم ان القول للزوج وإن صرح بدعوى التمليك مع ان التصريح بذلك إقرار بملك الأب ودعوى انتقاله إلى البنت ولا عبرة للظاهر مع الإقرار (ويدل) لذلك ما في البحر عن البدائع في مسئلة اختلاف الزوجين في متاع البيت من ان القول لكل منهما فيما يصلح له لان الظاهر شاهد له ما لم تقر المرأة بإن هذا المتاع اشتراه الزوج فإن اقرت بذلك سقط قولها لأنها اقرت بالملك لزوجها ثم ادعت الانتقال إليها فلا يثبت الانتقال إلا بالبينة انتهى (ثم) قال وكذا إذا ادعت انها اشترته منه كما في الخانية ولا يخفى انه لو برهن على شرائه كان كاقرارها بشرائه منه فلابد من بينة على الانتقال إليها منه بهبة ونحوها ولا يكون استمتاعها بمشريه ورضاه بذلك دليلا على انه ملكها ذلك كما تفهمه النساء والعوام وقد افتيت بذلك مرار اهـ (اقول) وقد يجاب بالفرق بين المسئلتين بأن العرف المستمر في تمليك الأب الجهاز مصدق لدعوى التمليك فلم يعتبر ما استلزمته الدعوى من الإقرار اما مسئلة الامتعة فإن العرف المستمر فيها هو ملك المراة للصالح لها وهى لم تدع الملك حتى يكون العرف مصدقا لها بل ادعت التمليك الذي لا يصدقه العرف فاعتبر ما استلزمته دعواها من الإقرار (ونظيره) ما قالوا فيما لو ارسل إلى زوجته شيئا وادعى انه من المهر وادعت انه هدية فالقول له في غير المهيأ للأكل والقول لها في المهيأ له كخبز ولحم مشوى لان الظاهر يكذبه وكذا لو ادعت انه من المهر وادعى انه وديعة فإن كان من جنس المهر فالقول لها والا فله بشهادة الظاهر فقد حكموا الظاهر في المسئلتين لكن الثانية اشبه بمسئلتنا لان في الأولى اتفقا على التمليك واختلفا في صفته وفى الثانية ادعت المرأة التمليك وانكره وجعلوا القول لها عملا بالظاهر كما في مسئلة الجهاز والله تعالى اعلم (ومقتضى) هذا أنها لو ادعت المبعوث انه من الكسوة الواجبة عليه وهو من جنسها ان يكون القول قولها كما في المهر (وعلى) هذا فقوله في البحر ولا يكون استمتاعها بعشريه الخ ينبغى تقييده بنحو اثاث المنزل من نحو فراش وحصير واوان بخلاف ثياب البدن التي البسها
যদি পিতা সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিদের (الأشراف) অন্তর্ভুক্ত হন, তবে [প্রদানের ক্ষেত্রে] নিরবচ্ছিন্নতার অভাব কেবল সাধারণ মানুষের (أوساط الناس) মধ্যেই দেখা যায়। (তবে) এটি বলা যেতে পারে যে, সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো বস্তু ধার হিসেবে প্রদান (عارية) করা একটি বিরল ঘটনা, আর বিধানের ভিত্তি সাধারণত যা সচরাচর ঘটে (الغالب) তার ওপরই হয়ে থাকে; যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে বিশ্লেষণ করেছি। এমতাবস্থায় ফকিহগণের উক্তি— "যদি আসবাবপত্র যৌথ ব্যবহারের হয় তবে পিতার বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে"—এর অর্থ হলো যখন এই অংশীদারিত্ব সমপর্যায়ের হয়। পক্ষান্তরে যদি কোনো একটি দিক প্রবল হয়, যেমনটি আমাদের যুগে অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে ঘটে থাকে যে তারা মালিকানা প্রদানের (تمليكا) উদ্দেশ্যেই সরঞ্জাম প্রদান করেন, তবে অধিকতর স্পষ্ট (الأظهر) মত হলো যে, স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। কারণ যা বহুল প্রচলিত ও প্রবল (الغالب) সেটিই আপাত প্রতীয়মান (الظاهر), আর আপাত প্রতীয়মান বিষয়টি (الظاهر) দাবির খণ্ডনকারী হিসেবে গণ্য হতে পারে। ফলে এর মাধ্যমে পিতার এই দাবি খণ্ডন হয়ে যায় যে এটি ধার (عارية) হিসেবে ছিল। (তবে) এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়, আর তা হলো—ফকিহগণের বক্তব্যের বাহ্যিক দিক থেকে প্রতীয়মান হয় যে স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে যদিও সে মালিকানা প্রদানের (التمليك) দাবিটি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করে। অথচ বিষয়টি স্পষ্টভাবে বলা মানেই পিতার মালিকানা স্বীকার (إقرار) করে নেওয়া এবং পরবর্তীতে তা কন্যার নিকট মালিকানা স্থানান্তরের দাবি করা। আর স্বীকারোক্তির (الإقرار) বিপরীতে আপাত প্রতীয়মান বিষয়ের (الظاهر) কোনো কার্যকারিতা নেই।
(আর এর প্রমাণস্বরূপ) আল-বাহর গ্রন্থে আল-বাদায়ি থেকে বর্ণিত ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর বিরোধের মাসআলাটি উল্লেখ করা যায়। সেখানে বলা হয়েছে যে, আসবাবপত্র যার ব্যবহারের উপযোগী তার বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ আপাত প্রতীয়মান বিষয়টি (الظاهر) তার স্বপক্ষে সাক্ষ্য দেয়; যতক্ষণ না স্ত্রী স্বীকার (تقر) করে যে স্বামী এই আসবাবপত্রটি ক্রয় করেছেন। যদি স্ত্রী তা স্বীকার করে নেয়, তবে তার দাবিটি বাতিল হয়ে যাবে। কারণ সে স্বামীর মালিকানা স্বীকার করে নিয়েছে এবং পরে তা নিজের দিকে স্থানান্তরের দাবি করেছে; আর স্পষ্ট প্রমাণ (البينة) ব্যতীত মালিকানা স্থানান্তর প্রমাণিত হয় না। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত] (অতঃপর) তিনি বলেন, অনুরূপভাবে সে যদি দাবি করে যে এটি স্বামীর কাছ থেকে ক্রয় করেছে, যেমনটি আল-খানিয়া গ্রন্থে রয়েছে। এটিও স্পষ্ট যে, স্বামী যদি তা ক্রয়ের প্রমাণ (برهن) পেশ করে, তবে তা স্ত্রীর স্বীকারোক্তির মতোই গণ্য হবে। এমতাবস্থায় দান (هبة) বা অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে তার নিকট মালিকানা হস্তান্তরের জন্য স্পষ্ট প্রমাণের (البينة) প্রয়োজন হবে। স্বামীর ক্রয়কৃত বস্তুর দ্বারা স্ত্রীর উপকৃত হওয়া এবং স্বামীর তাতে সন্তুষ্ট থাকা এই কথার দলিল (دليلا) হতে পারে না যে স্বামী তাকে সেটির মালিক বানিয়ে দিয়েছেন, যেমনটি নারীরা ও সাধারণ মানুষ বুঝে থাকে। আর আমি এ বিষয়ে বহুবার ফতোয়া দিয়েছি। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]
(আমি বলছি) এই দুই মাসআলার মধ্যে পার্থক্যের মাধ্যমে জবাব দেওয়া যেতে পারে যে, যৌতুকের সরঞ্জাম মালিকানা হিসেবে প্রদান করার (تمليك) ক্ষেত্রে পিতার পক্ষ থেকে প্রচলিত প্রথা (العرف) মালিকানা প্রদানের দাবিকে সমর্থন করে। ফলে এই দাবির দ্বারা যে স্বীকারোক্তি (الإقرار) অবধারিত হয় তা ধর্তব্য হবে না। পক্ষান্তরে ঘরের আসবাবপত্রের মাসআলায় প্রচলিত প্রথা (العرف) হলো—যা স্ত্রীর ব্যবহারের উপযোগী তা তারই মালিকানা। কিন্তু স্ত্রী এখানে সরাসরি মালিকানার দাবি করেনি যাতে প্রথা তাকে সমর্থন করতে পারে, বরং সে মালিকানা প্রদানের (التمليك) দাবি করেছে যা প্রথা সমর্থন করে না। তাই তার দাবির প্রেক্ষিতে যে স্বীকারোক্তি (الإقرار) আবশ্যক হয় তা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। (এর নজির বা দৃষ্টান্ত হলো) ফকিহগণ যা বলেছেন—যদি স্বামী তার স্ত্রীর নিকট কিছু পাঠায় এবং দাবি করে যে তা মোহরের (المهر) অংশ, আর স্ত্রী দাবি করে যে তা উপহার (هدية); তবে খাওয়ার উপযোগী নয় এমন বস্তুর ক্ষেত্রে স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। আর খাওয়ার উপযোগী বস্তু যেমন রুটি ও ভুনা মাংসের ক্ষেত্রে স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে; কারণ আপাত প্রতীয়মান পরিস্থিতি (الظاهر) স্বামীর দাবিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। অনুরূপভাবে স্ত্রী যদি দাবি করে যে তা মোহরের (المهر) অন্তর্ভুক্ত, আর স্বামী দাবি করে যে তা আমানত (وديعة); তবে সেটি যদি মোহর জাতীয় বস্তু হয় তবে স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে, অন্যথায় আপাত প্রতীয়মান বিষয়ের (الظاهر) সাক্ষ্যের ভিত্তিতে স্বামীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। সুতরাং তাঁরা উভয় মাসআলায় আপাত প্রতীয়মান পরিস্থিতিকে (الظاهر) ফয়সালাকারী সাব্যস্ত করেছেন। কিন্তু দ্বিতীয় মাসআলাটি আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ প্রথমটিতে উভয় পক্ষ মালিকানা প্রদানের (التمليك) বিষয়ে একমত হয়েছে এবং কেবল তার প্রকৃতি নিয়ে মতভেদ করেছে। আর দ্বিতীয়টিতে নারী মালিকানা প্রদানের দাবি করেছে এবং স্বামী তা অস্বীকার করেছে; ফলে সেখানে আপাত প্রতীয়মান পরিস্থিতির (الظاهر) ওপর ভিত্তি করে স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত করা হয়েছে, যেমনটি যৌতুকের (الجهاز) মাসআলার ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(এর দাবি বা অনিবার্য ফলাফল) হলো—স্ত্রী যদি প্রেরিত বস্তুটিকে তার জন্য আবশ্যকীয় পোশাক-পরিচ্ছদের (الكسوة الواجبة) অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করে এবং সেটি যদি সেই জাতীয় বস্তু হয়, তবে মোহরের (المهر) মতোই এক্ষেত্রে স্ত্রীর কথা গ্রহণযোগ্য হবে। (এর ভিত্তিতে) আল-বাহর গ্রন্থের সেই উক্তি— "স্বামীর ক্রয়কৃত বস্তু দ্বারা স্ত্রীর উপকৃত হওয়া..." ইত্যাদি—ঘরের আসবাবপত্র যেমন বিছানা, পাটি ও বাসনপত্রের সাথে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত; শরীরের পোশাকের বিষয়টি এর ব্যতিক্রম যা স্বামী তাকে পরিধান করিয়েছেন।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৬)
اياها فليس له اخذها منها كما قالوا فيما لو اتخذ لولده الكبير أو تلميذه ثيابا وسلمها إليه ليس له دفعها لغيره وكذا الصغير وإن لم يسلم إليه (ومنها) ما مر من دخول العلو في بيع البيت والمنزل والدار وإن لم يذكر بحقوقه ومرافقه بناء على العرف الحادث كما مر عن الكافي وإن ما في المتون من التفصيل مبنى على عرف الكوفة (اقول) وعلى هذا فما في المتون أيضا من ان الشرب لا يدخل في البيع بدون التصريح أو ذكر الحقوق مبنى على عرفهم أيضا ولا شك في دخوله في عرف ديارنا الشامية فإن الدار التي لها شرب يجرى إليها تزداد قيمتها زيادة وافرة وقد كنت ذكرت ذلك بحثا فيما علقته على البحر (ثم) قريبا من كتابتى لهذا المحل صارت هذه المسئلة واقعة الفتوى حيث باع رجل دارا عظيمة بصالحية دمشق مشتملة على مياه غزيرة يقصدها الامراء وكبار التجار المتنزه أيام الصيف والربيع فأراد البائع ان يمنع الماء عن الدار ليتوصل إلى مقابلة البيع مع المشترى لان الدار بدون الماء ربما لا تساوى نصف الثمن وتعلل بما ذكره الفقهاء من عدم الدخول بلا ذكر كل حق ونحوه (فاجبت) بأنه ليس له ذلك بناء على العرف (ثم) راجعت الذخيرة البرهانية في الفصل الخامس فيما يدخل تحت البيع من غير ذكره صريحا وما لا يدخل فرأيته قال بعدما ذكر مسئلة الشرب والطريق والبستان فالاصل ان ما كان في الدار من البناء أو كان متصلا به يدخل في بيعها من غير ذكر بطريق التبعية ومالا فلا إلا إذا كان شيئا جرى العرف فيه فيما بين الناس ان البائع لا يمنعه عن المشترى فح يدخل وإن لم يذكره في البيع والمفتاح يدخل استحسانا لا قياسا لأنه غير متصل بالبناء وقلنا بالدخول بحكم العرف والقفل والمفتاح لا يدخلان والسلم ان كان متصلا بالبناء يدخل والا فلا ومثله السرير انتهى ملخصا (فعلم) من قوله فقلنا بالدخول بحكم العرف ان ما نصوا على عدم دخوله انما لم يدخل لعدم التعارف بدخوله وانه لو جرى العرف بدخوله لدخل فالشرب لم يتعارفوا دخوله فقالوا انه لا يدخل والمفتاح تعارفوا دخوله فقالوا انه يدخل (ويدل) على ذلك انه بعد ان ذكر عدم دخول الشرب والطريق قال والاصل الخ فبين بذلك الأصل ان ما كان القياس عدم دخوله انما لا يدخل إذا لم يتعارف دخوله فإذا تعورف دخوله دخل لان العرف يعارض القياس ولذا دخل المفتاح فإذا تعورف دخول الشرب كما في زماننا يدخل (ويدل) على ذلك أيضا انهم نصوا على ان السلم الغير المتصل لا يدخل أي لعدم العرف انتهى فتأمل مع انه في الفتح والبحر صرحا بدخوله في البيت المبيع بالقاهرة دون غيرها لان بيوتهم طبقات
তা থেকে, তাই এটি তার কাছ থেকে গ্রহণ করার অধিকার তার নেই, যেমনটি ফকিহগণ (الفقهاء) বলেছেন যে, যদি কেউ তার প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা ছাত্রের জন্য পোশাক তৈরি করে এবং তা তাকে হস্তান্তর করে, তবে তা অন্য কাউকে দেওয়ার অধিকার তার থাকে না। একইভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য, যদিও তা তাকে হস্তান্তর করা না হয়। (তন্মধ্যে) একটি হলো যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, ঘর, বাসগৃহ বা বাড়ি বিক্রয়ের ক্ষেত্রে উপরের তলাও অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও তার অধিকার ও সুবিধাসমূহ উল্লেখ করা না হয়। এটি বর্তমান প্রথার (العرف الحادث) ওপর ভিত্তি করে, যেমনটি আল-কাফি থেকে বর্ণিত হয়েছে। আর মূল গ্রন্থসমূহে যে বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে তা কুফার প্রথার ওপর ভিত্তি করে রচিত। (আমি বলছি) এর ভিত্তিতে, মূল গ্রন্থসমূহে এও রয়েছে যে, পানির অধিকার (الشرب) স্পষ্ট উল্লেখ বা অধিকারসমূহের বর্ণনা ব্যতিরেকে বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে না; এটিও তাদের প্রথার ওপর ভিত্তি করে। তবে আমাদের শাম অঞ্চলের প্রথা অনুযায়ী এটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ যে বাড়িতে পানির অধিকার বিদ্যমান থাকে, তার মূল্য অনেক বৃদ্ধি পায়। আমি আল-বাহর-এর টীকাগ্রন্থে এই বিষয়টি বিশদভাবে আলোচনা করেছি। (অতঃপর) আমি যখন এই স্থানটি লিখছিলাম, তখন এই বিষয়টি ফতোয়া প্রদানের একটি বাস্তব ঘটনায় পরিণত হয়। দামেস্কের সালিহিয়া অঞ্চলে এক ব্যক্তি একটি বিশাল বাড়ি বিক্রি করেন, যাতে প্রচুর পানির ব্যবস্থা ছিল। গ্রীষ্ম ও বসন্তকালে আমীর ও বড় ব্যবসায়ীরা সেখানে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যেতেন। বিক্রেতা চাইলেন বাড়ি থেকে পানির অধিকার বন্ধ করে দিতে, যাতে ক্রেতার সাথে বিক্রয়ের বিষয়ে দরকষাকষি করা যায়। কারণ পানি ছাড়া বাড়িটির মূল্য হয়তো অর্ধেকও হবে না। তিনি ফকিহগণের (الفقهاء) উক্তিকে অজুহাত হিসেবে পেশ করেন যে, অধিকারসমূহের উল্লেখ ব্যতিরেকে তা অন্তর্ভুক্ত হয় না। (আমি উত্তর দিলাম) প্রথার (العرف) ভিত্তিতে তার জন্য এটি করার অধিকার নেই। (অতঃপর) আমি আয-যাখিরা আল-বুরহানিয়া গ্রন্থের পঞ্চম পরিচ্ছেদে দেখেছি, যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ ছাড়া বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং অন্তর্ভুক্ত নয় এমন বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে। সেখানে পানির অধিকার (الشرب), রাস্তা ও বাগানের মাসআলা বর্ণনার পর লেখক বলেছেন: মূলনীতি হলো, ঘরের যে অংশ স্থাপনা হিসেবে গণ্য বা তার সাথে সংযুক্ত, তা অনুগামী হিসেবে উল্লেখ ছাড়াই বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে। আর যা তেমন নয়, তা অন্তর্ভুক্ত হবে না; যদি না এমন কোনো বিষয় হয় যাতে মানুষের মধ্যে প্রথা (العرف) প্রচলিত থাকে যে, বিক্রেতা তা ক্রেতাকে বাধা দেবে না। এমতাবস্থায় তা বিক্রয়ের অন্তর্ভুক্ত হবে, যদিও চুক্তিতে উল্লেখ না থাকে। চাবি ইস্তিহসান (استحسانا) বা উত্তম বিবেচনার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্ত হবে, কিয়াস (قياسا) বা যুক্তিগত অনুমানের ভিত্তিতে নয়; কারণ এটি মূল স্থাপনার সাথে সংযুক্ত নয়। আমরা প্রথার (العرف) ভিত্তিতে এটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা বলেছি। তালা ও চাবি উভয়টি অন্তর্ভুক্ত হবে না। মই যদি স্থাপনার সাথে সংযুক্ত থাকে তবে অন্তর্ভুক্ত হবে, অন্যথায় নয়। খাটের ক্ষেত্রেও একই বিধান। (সংক্ষিপ্ত উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। (এ থেকে প্রতীয়মান হয়) তার এই উক্তি—'আমরা প্রথার হুকুমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা বলেছি'—থেকে যে, তারা যা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছেন, তা মূলত অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার প্রথার কারণেই। যদি তা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথা থাকত, তবে তা অন্তর্ভুক্ত হতো। পানির অধিকার (الشرب) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথা তাদের মাঝে ছিল না, তাই তারা বলেছেন এটি অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর চাবি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথা ছিল, তাই তারা বলেছেন এটি অন্তর্ভুক্ত হবে। (এর প্রমাণ হলো) পানির অধিকার ও রাস্তা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কথা উল্লেখ করার পর তিনি মূলনীতির কথা বলেছেন। এই মূলনীতির মাধ্যমে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কিয়াস (القياس) বা যুক্তিগত অনুমানের ভিত্তিতে যা অন্তর্ভুক্ত নয়, তা কেবল তখনই অন্তর্ভুক্ত হবে না যখন তা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথা থাকবে না। কিন্তু যদি তা অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথা থাকে, তবে তা অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ প্রথা (العرف) কিয়াসের (القياس) ওপর প্রাধান্য পায়। এই কারণেই চাবি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সুতরাং আমাদের সময়ের মতো যদি পানির অধিকার (الشرب) অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রথা থাকে, তবে তা অন্তর্ভুক্ত হবে। (এর আরও প্রমাণ হলো) তারা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অসংযুক্ত মই অন্তর্ভুক্ত হবে না, যার অর্থ হলো প্রথা না থাকা। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এটি অনুধাবন করুন। অথচ আল-ফাতহ ও আল-বাহর গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, কায়রোতে বিক্রিত বাড়ির ক্ষেত্রে এটি অন্তর্ভুক্ত হবে, অন্য কোথাও নয়; কারণ তাদের বাড়িগুলো বহুস্তর বিশিষ্ট।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৭)
لا ينتفع بها إلا به كما قدمناه فإذا دخل السلم الذي نص الفقهاء صريحا على عدم دخوله اعتبارا للعرف الخاص باهل القاهرة لانه لا ينتفع بالبيت إلا به مع ان المشترى يمكنه ان يعمل سلما لنفسه بقيمة يسيرة فما بالك بالشرب الذي لو أراد المشترى ان يجرى بدله شربا آخر يحتاج إلى ان ينفق قدر قيمة الدار أو أكثر انه لائتلاف أهل ديارنا على جريان المياه في دورهم لا يمكنهم الانتفاع بالدار إلا بمائها والدار التي لا ماء لها لا يسكنها غالبا إلا العاجز عن شراء دار لها ماء جار ولا سيما إذا كانت الدار معدة للتنزه مثل الدار المذكورة في الحادثة فإن اعظم المقاصد من سكناها التنزه بمائها الغزير ولذا بنيت هذه الدار في احسن موضع من صالحية دمشق هو اكثرها ماء واعدلها هواء فلا ينبغى التردد في دخول مائها تبعا لها والله تعالى اعلم (ومنها) أنهم قالوا الحلف بالعربية في الفعل المضارع المثبت لا يكون إلا بحرف التأكيد وهو اللام والنون كقوله والله لا فعلن كذا حتى لو قال والله افعل كذا كانت يمينه على النفى وتكون لا مضمرة كما في تالله تفتئو تذكر يوسف فكأنه قال والله لا افعل لا متناع حذف حرف التوكيد في الاثبات بخلاف حرف النفى قال شيخ الإسلام العلامة المحقق الشيخ على المقدسى في شرحه على نظم الكنز فعلى هذا أكثر ما يقع من العوام لا يكون يمينا لعدم اللام والنون فلا كفارة عليهم فيها انتهى أي لا يكون يمينا على الاثبات فلا كفارة عليهم إذا تركوا ذلك الشئ. ثم قال لكن ينبغى ان تلزمهم لتعارف الحلف بذلك * ويؤيده ما نقلناه عن الظهيرية انه لو سكن الهاء أو رفع أو نصب بالله يكون يمينا مع ان العرب ما نطقت بغير الجرانتهى قال العلامة الشيخ إبراهيم الحلبى في حاشيته على الدر المختار وقول بعض الناس انه يصادم المنقول في المذهب يجاب عنه بأن المنقول في المذهب كان على عرف صدر الإسلام قبل ان تتغير اللغة واما الآن فلا يأتون باللام والنون في مثبت القسم اصلا ويفرقون بين الاثبات والنفى بوجود لا وعدمها وما اصطلاحهم على هذا إلا كاصطلاحهم لغة الفرس ونحوها في الايمان لمن تدبر انتهى (قلت) وكهذه المسئلة ما ذكره في البحر في باب التعليق ان جواب الشرط يجب اقترانه بالفاء إذا وقع جملة اسمية أو فعلية فعلها طلبى أو جامد أو مقرون بما أو قد أو لن أو تنفيس أو القسم أو رب فلا يتحقق التعليق إلا بالفاء في هذه المواضع إلا ان يتقدم الجواب فيتعلق بدونها على ان الأول هو الجواب عند الكوفيين أو دليل الجواب عند البصريين فلو لم يأت بالفاء في موضع وجوبها كان منجزا كان دخلت الدار انت طالق فإن نوى تعليقه دين وكذا ان نوى تقديمه وعن أبي يوسف انه يتعلق حملا لكلامه على الفائدة فتضمر الفاء بناء على
এর দ্বারা উপকার লাভ করা সম্ভব নয় তাকে ছাড়া (সিঁড়িকে ছাড়া), যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। সুতরাং, যদি সেই সিঁড়ি অন্তর্ভুক্ত হয় যার ব্যাপারে ফকিহগণ স্পষ্টভাবে তা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার কথা বলেছিলেন, কায়রোবাসীদের বিশেষ প্রথা (عرف) বিবেচনায় নিয়ে—কারণ সিঁড়ি ছাড়া ঘর থেকে উপকৃত হওয়া সম্ভব নয়, যদিও ক্রেতা চাইলে সামান্য খরচেই নিজের জন্য একটি সিঁড়ি তৈরি করে নিতে পারেন। তাহলে পানীয় জলের অধিকার (شرب) সম্পর্কে কী ধারণা হতে পারে? যদি ক্রেতা এর পরিবর্তে অন্য জলাধারের ব্যবস্থা করতে চান, তবে তাকে ঘরের মূল্যের সমপরিমাণ বা তার চেয়েও বেশি ব্যয় করতে হবে। আমাদের দেশের মানুষের ঘরবাড়িতে পানির প্রবাহের অভ্যস্ততার কারণে পানি ছাড়া তারা ঘর থেকে উপকৃত হতে পারে না। যে ঘরে পানি নেই, সেখানে সাধারণত এমন ব্যক্তি ছাড়া কেউ বাস করে না যে প্রবহমান পানিসমৃদ্ধ ঘর কিনতে অক্ষম। বিশেষ করে যদি ঘরটি ভ্রমণের উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হয়, যেমনটি আলোচ্য ঘটনায় উল্লিখিত হয়েছে। কেননা এই ঘরে বসবাসের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো এর প্রচুর পানি দিয়ে চিত্তবিনোদন করা। একারণেই দামেস্কের সালিহিয়া অঞ্চলের সবচেয়ে মনোরম স্থানে এই ঘরটি নির্মাণ করা হয়েছে, যেখানে পানি প্রচুর এবং আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ। সুতরাং মূল ঘরের অনুগামী হিসেবে এর পানি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়ে কোনো দ্বিধা থাকা উচিত নয়। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
(অন্যতম একটি মাসআলা হলো) তারা বলেছেন, আরবি ভাষায় ইতিবাচক বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع مثبت)-এর মাধ্যমে শপথ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই গুরুত্বারোপের হরফ (حرف التأكيد) থাকতে হবে, আর তা হলো 'লাম' এবং 'নুন'। যেমন তার কথা: "আল্লাহর শপথ, আমি অবশ্যই তা করব"। এমনকি যদি সে বলে, "আল্লাহর শপথ, আমি একাজ করব", তবে তার শপথটি নেতিবাচক (نفي) অর্থে গণ্য হবে এবং সেখানে একটি 'লা' ঊহ্য (مضمر) থাকবে। যেমনটি কুরআনের আয়াতে রয়েছে: "আল্লাহর শপথ, আপনি ইউসুফকে স্মরণ করা থেকে বিরত হচ্ছেন না (তথা স্মরণ করতেই থাকছেন)"। সুতরাং বিষয়টি এমন যেন সে বলল, "আল্লাহর শপথ, আমি তা করব না"। কারণ ইতিবাচক বাক্যে গুরুত্বজ্ঞাপক হরফ (حرف التوكيد) বিলুপ্ত করা নিষিদ্ধ, যা নেতিবাচক হরফ বিলুপ্ত করার বিপরীত। শাইখুল ইসলাম আল্লামা গবেষক (محقق) শাইখ আলী আল-মাকদিসি তার কানযুন দাকায়িক-এর পদ্যরূপের ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: এই নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ মানুষের মুখে উচ্চারিত অধিকাংশ শপথই শপথ (يمين) হিসেবে গণ্য হবে না 'লাম' ও 'নুন' না থাকার কারণে। ফলে এর জন্য তাদের ওপর কোনো কাফফারা (كفارة) ওয়াজিব হবে হবে না। সমাপ্ত। অর্থাৎ এটি ইতিবাচক অর্থে শপথ হবে না, তাই তারা সেই কাজটি বর্জন করলে তাদের ওপর কোনো কাফফারা আসবে না। এরপর তিনি বলেছেন: কিন্তু এটি তাদের ওপর আবশ্যিক হওয়া উচিত, যেহেতু তারা এভাবেই শপথ করতে অভ্যস্ত। এই মতটিকে সমর্থন করে যা আমরা জুহাইরিয়া থেকে বর্ণনা করেছি যে— যদি সে 'আল্লাহ' শব্দের 'হা' অক্ষরকে সাকিন করে অথবা পেশ বা জবর দিয়ে উচ্চারণ করে, তবুও তা শপথ (يمين) হিসেবে গণ্য হবে; যদিও আরবরা কেবল জের দিয়েই এটি উচ্চারণ করত। সমাপ্ত। আল্লামা শাইখ ইব্রাহিম আল-হালাবি আদ-দুররুল মুখতার-এর টীকাগ্রন্থে বলেছেন: কারো কারো এই কথা যে এটি মাযহাবের বর্ণিত (منقول) মতের সাথে সাংঘর্ষিক, তার উত্তর হলো— মাযহাবে বর্ণিত বিষয়গুলো ইসলামের প্রাথমিক যুগের প্রথা (عرف)-এর ভিত্তিতে ছিল, যখন ভাষার পরিবর্তন ঘটেনি। কিন্তু বর্তমানে শপথের ইতিবাচক বাক্যে তারা মোটেও 'লাম' ও 'নুন' ব্যবহার করে না। তারা নেতিবাচক (نفي) ও ইতিবাচক (إثبات)-এর মধ্যে পার্থক্য করে 'লা' এর উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির মাধ্যমে। তাদের এই পরিভাষা (اصطلاح) শপথের ক্ষেত্রে ফারসি বা অন্য ভাষার পরিভাষার মতোই; যে ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করবেন তার কাছে এটি স্পষ্ট হবে। সমাপ্ত।
(আমি বলছি) এই মাসআলাটির মতোই সেই মাসআলা যা বাহরুর রাইক কিতাবের শর্তারোপ (تعليق) অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে— শর্তের উত্তর (جواب الشرط)-এর শুরুতে অবশ্যই 'ফা' (الفاء) যুক্ত হতে হবে যদি সেটি বিশেষ্যমূলক বাক্য (جملة اسمية) হয়, অথবা এমন ক্রিয়ামূলক বাক্য (جملة فعلية) হয় যার ক্রিয়াটি আদেশ-অনুরোধ সূচক (طلبي) বা অপরিবর্তনীয় (جامد), অথবা সেটি মা, ক্বাদ, লান, তানফিস, শপথ (قسم) বা রুব্বা যুক্ত হয়। সুতরাং এই ক্ষেত্রগুলোতে 'ফা' ব্যতীত শর্তারোপ (تعليق) বাস্তবায়িত হবে না, যদি না জবাবটি শর্তের আগে আসে, তবে সেক্ষেত্রে 'ফা' ছাড়াই শর্তারোপ বাস্তবায়িত হতে পারে—এ ভিত্তিতে যে, কুফাবাসীদের মতে প্রথম অংশটিই জবাব (جواب), আর বসরাবাসীদের মতে তা জবাবের দলিল (دليل الجواب)। সুতরাং যেখানে 'ফা' আসা ওয়াজিব সেখানে যদি তা না আনা হয়, তবে তা তাৎক্ষণিক কার্যকর (منجز) বলে গণ্য হবে। যেমন: "তুমি ঘরে প্রবেশ করলে তুমি তালাকপ্রাপ্তা"। যদি সে এর দ্বারা শর্তারোপের (تعليق) নিয়ত করে তবে তা ধর্মীয়ভাবে (ديانة) গ্রহণযোগ্য হবে। একইভাবে যদি সে জবাব আগে আনার নিয়ত করে। ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটি শর্তারোপ (تعليق) হিসেবেই গণ্য হবে যাতে তার কথা অর্থবহ হয়; ফলে সেখানে 'ফা' কে ঊহ্য (مضمر) ধরা হবে...
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৮)
قول الكوفيين بجواز حذفها اختيارا ومنعه أهل البصرة وعليه تفرع المذهب واورد على البصريين قوله تعالى (وإن اطعتموهم انكم لمشركون) واجيب بأنه على تقدير القسم انتهى ملخصا ولم يفرق بين العالم والجاهل وينبغى على ما مر اعتبار العرف فإن العوام لا يفرقون بين اثباتها وحذفها مع قصدهم التعليق فينبغى ان يتعلق قضاء وديانة اخذا بما روى عن أبي يوسف* وذكر في البحر أيضا في اول باب الكنايات عند قوله فتطلق واحدة رجعية في اعتدى واستبرى رجل وانت واحدة فقال واطلق في واحدة فأفاد انه لا معتبر في اعرابها وهو قول العامة وهو الصحيح لان العوام لا يميزون بين وجوه الاعراب والخواص لا يلتزمونه في كلامهم عرفا بل تلك صناعتهم والعرف لغتهم وقد ذكرنا في شرحنا على المنار انهم لم يعتبروه هنا واعتبروه في الإقرار فيما لو قال درهم غير دانق رفعا ونصبا فيحتاجون إلى الفرق انتهى وفى إقرار الدر المختار قال اليس لى عليك الف فقال بلى فهو إقرار وإن قال نعم فلا وقيل نعم أي يكون اقرارا لان الإقرار يحمل على العرف لا على دقائق العربية كذا في الجوهرة انتهى وذكر في كتاب السرقة قال انا سارق هذا الثوب قطع ان اضاف لكونه اقرارا بالسرقة وإن نونه ونصب الثوب لا يقطع لكونه عدة لا اقرارا كذا في الدرر وتوضيحه انه إذا قيل هذا قاتل زيد أي بالإضافة معناه انه قتله وإذا قيل قاتل زيدا معناه انه يقتله والمضارع يحتمل الحال والاستقبال فلا يقطع بالشك قلت في شرح الوهبانية ينبغى الفرق بين العالم والجاهل لان العوام لا يفرقون انتهى ما في الدر المختار * وذكر في التلويح ان نعم لتقرير ما سبق من كلام موجب أو منفى استفهاما أو خبرا وبلى مختصة بإيجاب النفى السابق استفهاما أو خبرا قال فعلى هذا لا يصح بلى في جواب كان لى عليك كذا ولا يكون نعم اقرارا في جواب اليس لى عليك كذا إلا ان المعتبر في احكام الشرع هو العرف حتى يقام كل منهما مقام الآخر ويكون اقرارا في جواب الإيجاب أو النفى استفهاما أو خبرا انتهى وهذا مؤيد لما قلنا وقدمنا عن العلامة قاسم ان لفظ الواقف والحالف وكل عاقد يحمل على عادته ولغته وافقت لغة العرب اولا ويدل على ذلك أيضا ان الكلام العربى على اختلاف لغاته انما وضع للتفاهم والتخاطب ولا شك ان كل متكلم يقصد مدلول لغته فيحمل كلامه عليها وإن خالفت لغة الحاكم والقاضى باعتبار قصده إلا ترى ان الكوفى لو اسقط الفاء صح تعليقه الشرط وليس للقاضى البصرى الحكم عليه بالتنجيز فنفرض أهل زماننا بمنزلة الكوفى بل يحمل كلامهم على مرادهم وإن خالف مذاهب النحاة ولهذا افتى المتأخرون بأن على الطلاق لا افعل كذا تعليق مع انه ليس فيه اداة تعليق
কুফাবাসী ব্যাকরণবিদদের মত হলো স্বেচ্ছায় এটি বিলুপ্ত করা জায়েজ (جواز), তবে বসরাবাসীরা তা নিষেধ করেছেন এবং এর ওপর ভিত্তি করেই মাযহাবের শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়েছে। বসরাবাসীদের ওপর মহান আল্লাহর বাণী "আর যদি তোমরা তাদের আনুগত্য করো, তবে তোমরা অবশ্যই মুশরিক হবে" দ্বারা আপত্তি উত্থাপন করা হয়েছে। এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, এটি একটি উহ্য শপথ (قسم)-এর ভিত্তিতে। সংক্ষেপে এটিই সমাপ্ত হলো। এখানে আলিম এবং জাহিল বা অজ্ঞদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। পূর্বের আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রচলিত রীতি (العرف)-কে গুরুত্ব দেওয়া উচিত; কারণ সাধারণ মানুষ কোনো শর্তযুক্তকরণ (تعলিক) -এর ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তা বহাল রাখা বা বিলুপ্ত করার মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। অতএব, ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত মতানুসারে, এটি বিচারিক (قضاء) এবং ধর্মীয় (ديانة) উভয় ক্ষেত্রেই শর্ত হিসেবে গণ্য হওয়া উচিত।
আল-বাহর গ্রন্থে পরোক্ষ অভিব্যক্তি (الكنايات) অধ্যায়ের শুরুতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, যখন কেউ বলে 'তুমি ইদ্দত পালন করো' বা 'তুমি জরায়ু মুক্ত করো' অথবা 'তুমি এক', তখন এক তালাক প্রত্যাবর্তনযোগ্য (رجعي) হিসেবে পতিত হবে। তিনি 'এক'-এর ক্ষেত্রে সাধারণ অর্থ গ্রহণ করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ব্যাকরণিক বিভক্তি (إعراب)-এর কোনো গুরুত্ব নেই। এটিই সাধারণ আলিমদের মত এবং এটিই বিশুদ্ধ (صحيح) মত; কারণ সাধারণ মানুষ ব্যাকরণিক বিভক্তির বিভিন্ন দিকগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না, আর বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিরাও তাদের প্রচলিত কথাবার্তায় সাধারণত এটি মেনে চলেন না। বরং ব্যাকরণ তাদের একটি শৈল্পিক জ্ঞান মাত্র, আর প্রচলিত রীতিই (العرف) হলো তাদের ভাষা। আমি আল-মানার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছি যে, তারা এখানে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণকে ধর্তব্য মনে করেননি, কিন্তু স্বীকৃতির (إقرار) ক্ষেত্রে তা বিবেচনা করেছেন। যেমন যদি কেউ বলে 'এক দিরহাম কিন্তু দানেক নয়' (درهم غير دانق), তবে নসব (نصب) বা রফা (رفع)-এর ভিন্নতার কারণে অর্থের পার্থক্য হবে, তাই এখানে পার্থক্যের প্রয়োজন রয়েছে।
আদ-দুররুল মুখতার-এর স্বীকৃতি (إقرار) অধ্যায়ে বলা হয়েছে, যদি কেউ বলে—'তোমার কাছে কি আমার এক হাজার পাওনা নেই?', জবাবে সে বলল—'অবশ্যই' (بلى), তবে এটি স্বীকৃতি (إقرار) হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু যদি সে বলে 'হ্যাঁ' (نعم), তবে বিশুদ্ধ মতানুসারে তা হবে না। কেউ কেউ বলেছেন, 'হ্যাঁ' (نعم) বললেও এটি স্বীকৃতি (إقرار) হবে; কারণ স্বীকৃতি প্রচলিত রীতি (العرف)-এর ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়, আরবির সূক্ষ্ম ব্যাকরণিক মারপ্যাঁচের ওপর নয়। জাওহারা গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।
চুরি অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, যদি কেউ বলে 'আমি এই কাপড়টি চুরি করেছি' (انا سارق هذا الثوب), তবে তার হাত কাটা হবে; কারণ এটি চুরির স্বীকৃতি (إقرار)। কিন্তু সে যদি 'সারেক' শব্দটিতে তনভীন (تنوین) যুক্ত করে এবং 'কাপড়' শব্দটিকে নসব (نصب) দিয়ে পড়ে, তবে হাত কাটা হবে না; কারণ এটি একটি প্রতিশ্রুতি (عدة), স্বীকৃতি (إقرار) নয়। দুরার গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। এর ব্যাখ্যা হলো, যখন বলা হয় 'এটি যায়িদের হত্যাকারী' (هذا قاتل زيد) অর্থাৎ ইজাফত বা সম্বন্ধযুক্ত করে, তখন এর অর্থ হয় সে তাকে হত্যা করেছে। আর যখন বলা হয় 'সে যায়িদকে হত্যা করছে' (قاتل زيدا), তখন এর অর্থ হয় সে তাকে হত্যা করবে। আর বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল (مضارع) বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ—উভয় সম্ভাবনা রাখে; তাই সন্দেহ (شك)-এর ভিত্তিতে হাত কাটা যাবে না। আমি ওহবানিয়ার ব্যাখ্যায় বলেছি, এখানে আলিম ও অজ্ঞদের মধ্যে পার্থক্য করা উচিত; কারণ সাধারণ মানুষ এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারে না। আদ-দুররুল মুখতার-এর আলোচনা এখানেই শেষ।
আত-তালবীহ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, 'হ্যাঁ' (نعم) শব্দটি পূর্ববর্তী ইতিবাচক বা নেতিবাচক কথাকে বহাল রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়, সেটি প্রশ্নবোধক হোক বা বিবৃতিমূলক। আর 'অবশ্যই' (بلى) শব্দটি বিশেষভাবে পূর্ববর্তী নেতিবাচক প্রশ্ন বা বিবৃতির বিপরীতে ইতিবাচক উত্তর হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তিনি বলেন, এই নিয়ম অনুযায়ী—'তোমার কাছে আমার এমন পাওনা ছিল' এর জবাবে 'অবশ্যই' (بلى) বলা সঠিক নয় এবং 'তোমার কাছে কি আমার এমন পাওনা নেই?' এর জবাবে 'হ্যাঁ' (نعم) শব্দটি স্বীকৃতি (إقرار) হিসেবে গণ্য হবে না। তবে শরয়ী বিধানের ক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি (العرف)-ই গ্রহণযোগ্য, যাতে শব্দ দুটিকে একে অপরের স্থলাভিষিক্ত করা যায় এবং ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রশ্ন বা বিবৃতির জবাবে তা স্বীকৃতি (إقرار) হিসেবে গণ্য হয়। এটি আমাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে।
আমরা আল্লামা কাসিম থেকে পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, ওয়াকফকারী, শপথকারী এবং সকল চুক্তি সম্পাদনকারীর শব্দকে তার অভ্যাস ও নিজস্ব ভাষার আলোকে বিবেচনা করা হবে; চাই তা আরবি ভাষার ব্যাকরণ সম্মত হোক বা না হোক। এর প্রমাণ হলো, আরবি ভাষা তার সকল উপভাষাসহ মূলত একে অপরের সাথে ভাববিনিময় ও সম্বোধনের জন্য তৈরি হয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, প্রত্যেক বক্তা তার নিজস্ব ভাষার অর্থই উদ্দেশ্য করে থাকেন, তাই তার কথাকে সেই অর্থেই গ্রহণ করা হবে; যদিও তা বক্তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী শাসক বা বিচারকের ভাষার পরিপন্থী হয়। আপনি কি দেখেন না যে, একজন কুফাবাসী যদি 'ফা' (فاء) অক্ষরটি বিলুপ্ত করে, তবে তার শর্তযুক্তকরণ (تعليق) সঠিক হবে? এক্ষেত্রে কোনো বসরাবাসী বিচারকের জন্য তার ওপর তাৎক্ষণিক কার্যকর হওয়ার (تنجيز) ফয়সালা দেওয়া বৈধ নয়। সুতরাং আমরা আমাদের সমকালীন লোকদের কুফাবাসীদের স্তরে গণ্য করব; বরং তাদের কথাকে তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে, যদিও তা ব্যাকরণবিদদের মাযহাবের পরিপন্থী হয়। এই কারণেই পরবর্তী যুগের ফকীহগণ ফতোয়া দিয়েছেন যে, 'লা আফয়ালু কাযা' (আমি এটি করব না) বলে তালাকের শপথ করা একটি শর্তযুক্তকরণ (تعليق), যদিও এতে কোনো শর্তবোধক অব্যয় নেই।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩৯)
اصلا إذ لا شك ان لغة هذا الزمان الملحونة صارت بمنزلة لغة أخرى لا يقصدون غيرها فحمل كلامهم على غير لغتهم صرف له إلى غير معناه ولا يجب مراعاة الألفاظ اللغوية والقواعد العربية إلا في القرآن والحديث وإنما بنى الفقهاء الاحكام على القواعد العربية لأنها المعلومة لهم لا لكون القواعد العربية متعبدا بها بل لا يجوز العدول عن مراعاتها فعلم ان كلامهم مع العربى ومن التزم لغة العرب والله تعالى اعلم ويدل عليه ما يأتى في تقرير المسئلة التالية لهذه (ومنها) مسئلة اختلف فيها المتأخرون انعقاد النكاح بلفظ التجويز بتقديم الجيم فافتى صاحب التنوير العلامة الغزى بعدم الانعقاد وله فيه رسالة حاصلها الاستدلال بما في التلويح للسعد التفتازانى من ان اللفظ انا صدر لا عن قصد صحيح بل عن تحريف وتصحيف لم يكن حقيقة ولا مجازا لعدم العلاقة بل غلطا فلا اعتبار به اصلا انتهى قال عمدة المتأخرين العلامة الشيخ علاء الدين في الدر المختار بعد نقله ذلك نعم أو اتفق قوم على النطق بهذه الغلطة وصدرت عن قصد كان ذلك وضعا جديدا فيصح كما افتى به المرحوم أبو السعود انتهى (اقول) وافتى به أيضا العلامة المرحوم الشيخ خير الدين الرملى في فتاواه ورد ما قاله الغزى بقوله ولا شك ان الصادر من الجهلة الاغمار تصحيف لا دخل فيه لبحث الحقيقة والمجاز ولا لنفى الاستعارة المرتب على عدم العلاقة فيه إذ معناه الاصلى أي معنى لفظ التجويز وهو التسويغ أو جعله مارا غير ملاحظ لهم اصلا إذ العامى بمعزل عن درك ذلك وحيث كان تصحيفا وغلطا فجميع ما جاء به الغزى لا يصلح لاثبات المدعى وحيث اقربانه تصحيف كيف يتجه له نفى العلاقة والاستدلال بما ذكره السعد وغايته اثبات عدم صحة الاستعمال ولا منكر له بل مسلم كونه تصحيفا بإبدال حرف مكان حرف فلم يتعد الدليل صورة المسئلة نعم لو صدر من عارف يأتي فيه ما يأتى في الألفاظ المصرح بعدم والانعقاد بها وهو والله أعلم محل فتوى الشيخ زين بن نجيم ومعاصر به فيقع الدليل في محله ح ولهذا الوجه كان الحكم عند الشافعية كذلك فإن المصرح به في عامة كتبهم انه لا يضر من عامى ابدال الزاى جيما مع انهم اضن منا بالفاظه إذ لا يصح عندهم إلا بلفظ التزويج والانكاح ولم نر في مذهبنا ما يوجب المخالفة لهم والله أعلم انتهى وتمام تحقيق هذه المسئلة في حاشيتنا رد المحتار (ومنها) مسئلة بيع الثمار على الاشجار عند وجود بعضها دون بعض فقد اجازه بعض علمائنا للعرف قال في الذخيرة البرهانية في الفصل السادس من البيع وإذا اشترى ثمار بستان وبعضها قد خرج وبعضها لم يخرج فهل يجوز هذا البيع ظاهر المذهب أنه لا يجوزه وكان شمس الأئمة الحلوانى يفتى بجوازه في الثمار والباذنجان والبطيخ وغير ذلك وكان
মূলত, এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বর্তমান জামানার অশুদ্ধ (ملحونة) ভাষা অন্য একটি ভাষার মর্যাদায় উপনীত হয়েছে, তারা এটি ব্যতীত অন্য কিছু উদ্দেশ্য করে না। ফলে তাদের কথাকে তাদের নিজস্ব ভাষা ব্যতিরেকে অন্য অর্থে গ্রহণ করা হবে মূলত অর্থ থেকে বিচ্যুত করা। কুরআন এবং হাদিস ব্যতীত ভাষাতাত্ত্বিক শব্দাবলী এবং আরবি ব্যাকরণগত নিয়মনীতি মেনে চলা বাধ্যতামূলক নয়। ফকিহগণ শরিয়তের বিধানসমূহকে আরবি ব্যাকরণের ওপর এ কারণেই ভিত্তি করেছেন যে, এটি তাদের নিকট সুপরিচিত ছিল; আরবি ব্যাকরণ ইবাদত হিসেবে পালনীয় হওয়ার জন্য নয়। বরং সাধারণ অবস্থায় তা পরিহার করা জায়েজ নেই। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, ফকিহগণের আলোচনা ছিল আরবি ভাষাভাষী এবং যারা আরবি ভাষাকে আবশ্যক করে নিয়েছে তাদের ব্যাপারে। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। পরবর্তী মাসআলার বিশ্লেষণে যা আসছে তা এর প্রমাণ দেয়।
(তার মধ্যে একটি হলো) এমন একটি মাসআলা যাতে পরবর্তী যুগের আলেমগণ (المتأخرون) মতভেদ করেছেন; তা হলো ‘জিম’ বর্ণকে আগে উচ্চারণ করে ‘তাজউয়িজ’ (التجويز) শব্দের মাধ্যমে বিবাহ (النكاح) সংঘটিত হওয়া। তানুয়ির আল-আবসার গ্রন্থের লেখক আল্লামা গাজ্জি বিবাহ সম্পন্ন না হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তার একটি রিসালা রয়েছে। যার সারকথা হলো সাদউদ্দীন তাফতাজানির আত-তালউইহ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে দলিল পেশ করা যে, এই শব্দটি যদি সঠিক উদ্দেশ্য থেকে নয় বরং শব্দের পরিবর্তন (تحريف) এবং লিপিক্রমের বিচ্যুতি (تصحيف) থেকে নির্গত হয়, তবে তা আক্ষরিক (حقيقة) বা রূপক (مجازا) কোনোটিই হবে না; কারণ সেখানে কোনো ভাষাগত সম্পর্ক (علاقة) নেই, বরং তা একটি ভুল (غلطا)। অতএব এর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
পরবর্তী যুগের আলেমগণের নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিত্ব আল্লামা শায়খ আলাউদ্দীন আদ-দুররুল মুখতার গ্রন্থে এটি উদ্ধৃত করার পর বলেন: হ্যাঁ, তবে যদি কোনো জনগোষ্ঠী এই ভুল উচ্চারণের ওপর একমত হয় এবং তা সজ্ঞানে নির্গত হয়, তবে তা একটি নতুন পরিভাষা (وضعا جديدا) হিসেবে গণ্য হবে এবং বিবাহ সঠিক হবে; যেমনটি মরহুম আবু সউদ ফতোয়া দিয়েছেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
(আমি বলি) আল্লামা মরহুম শায়খ খায়রুদ্দীন রামলিও তার ফাতাওয়া গ্রন্থে অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছেন এবং গাজ্জির বক্তব্যকে এই বলে খণ্ডন করেছেন যে: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, অজ্ঞ সাধারণ মানুষের থেকে যা নির্গত হয় তা একটি বিচ্যুতি (تصحيف), যার সাথে আক্ষরিক (حقيقة) বা রূপক (مجازا) হওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই। এমনকি সম্পর্ক (علاقة) না থাকার কারণে এখানে রূপক ব্যবহার (استعارة) অস্বীকার করারও অবকাশ নেই। কারণ ‘তাজউয়িজ’ শব্দের আসল অর্থ অর্থাৎ বৈধকরণ বা কোনো কিছুকে অতিক্রম করানো তাদের মোটেও উদ্দেশ্য থাকে না। কেননা সাধারণ মানুষ এসব সূক্ষ্ম বিষয় অনুধাবন করা থেকে অনেক দূরে। যেহেতু এটি একটি বিচ্যুতি (تصحيف) এবং ভুল (غلطا), তাই গাজ্জি যা কিছু উপস্থাপন করেছেন তা তার দাবি প্রমাণের জন্য উপযুক্ত নয়। তিনি নিজেই যখন স্বীকার করেছেন যে এটি একটি বিচ্যুতি (تصحيف), তখন সম্পর্কের (علاقة) অনুপস্থিতি এবং আল্লামা সা’দ-এর বক্তব্য দ্বারা দলিল দেওয়া কীভাবে সংগত হয়? এর সর্বোচ্চ প্রমাণ হতে পারে যে এই শব্দের ব্যবহার অশুদ্ধ, আর এটি কেউ অস্বীকার করে না; বরং এক বর্ণের স্থলে অন্য বর্ণ পরিবর্তন হওয়ার কারণে একে বিচ্যুতি (تصحيف) হিসেবেই মেনে নেওয়া হয়েছে। ফলে এই দলিল নির্দিষ্ট মাসআলার গণ্ডি অতিক্রম করেনি। হ্যাঁ, যদি কোনো বিজ্ঞ ব্যক্তি থেকে এমনটি ঘটে, তবে সেখানে সেই বিধান আসবে যা বিবাহ সম্পন্ন না হওয়ার শব্দসমূহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন, এটি শায়খ জয়ন বিন নুজাইম এবং তার সমসাময়িকদের ফতোয়ার ক্ষেত্র। ফলে দলিলটি সঠিক স্থানেই প্রযুক্ত হয়েছে। এই কারণেই শাফেয়ী মাযহাবের বিধানও অনুরূপ। কেননা তাদের প্রায় সকল কিতাবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, সাধারণ মানুষের ‘জা’ বর্ণকে ‘জিম’ দ্বারা পরিবর্তন করা কোনো ক্ষতি করবে না। যদিও তারা আমাদের চেয়ে বিবাহের শব্দমালার ক্ষেত্রে অনেক বেশি রক্ষণশীল; কারণ তাদের নিকট ‘তাজউয়িজ’ এবং ‘ইনকাহ’ শব্দ ব্যতীত বিবাহ বৈধ হয় না। আমাদের মাযহাবে তাদের বিরোধিতা করার মতো কোনো কারণ আমরা দেখিনি। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)
এই মাসআলার পূর্ণাঙ্গ তাহকিক আমাদের রাদ্দুল মুহতার হাশিয়ায় রয়েছে। (তার মধ্যে আরেকটি হলো) গাছ থেকে কিছু ফল পাড়ার উপযুক্ত হওয়া এবং কিছু না হওয়া অবস্থায় ফল বিক্রির মাসআলা। আমাদের কোনো কোনো আলেম প্রচলিত প্রথার (عرف) কারণে একে জায়েজ বলেছেন। যখিরা আল-বুরহানিয়া গ্রন্থের বিক্রয় অধ্যায়ের ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে বলা হয়েছে: যখন কেউ কোনো বাগানের ফল ক্রয় করে এবং তার কিছু দৃশ্যমান হয়েছে আর কিছু হয়নি, তবে কি এই বিক্রয় জায়েজ হবে? মাযহাবের প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر المذهب) হলো এটি জায়েজ নয়। তবে শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানি ফল, বেগুন, তরমুজ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে এটি জায়েজ হওয়ার ফতোয়া দিতেন...
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৪০)
بزعم انه مروى عن اصحابنا وهكذا حكى عن الشيخ الامام الجليل أبي بكر محمد بن الفضل أنه كان يفتى بجوازه وكان يقول اجعل الموجود اصلا في هذا العقد وما يحدث بعد ذلك تبعا ولهذا يشترط ان يكون الخارج أكثر لان الاقل تابع للاكثر ولا يجعل الاكثر تابعا للاقل وقد روى عن محمد في بيع الورد على الاشجار انه يجوز ومعلوم ان الورد لا يخرج جملة ولكن يتلاحق البعض بالبعض قال شمس الأئمة السرخسى والصحيح عندى انه لا يجوز هذا البيع لان المصير إلى هذا الطريق انما يكون عند تحقق الضرورة ولا ضرورة ها هنا لأنه يمكنه ان يبيع أصول هذه الاشياء مع ما فيها من الثمرة وما يتولد بعد ذلك يحدث على ملك المشترى وعلى هذا نص القدورى فإن كان البائع لا يعجبه بيع الاشجار فالمشترى يشترى الثمار الموجودة ببعض الثمن ويؤخر العقد في الباقى إلى وقت وجوده أو يشترى الموجود بجميع الثمن ويحل له البائع الانتفاع بما يحدث فيحصل مقصود هما بهذا الطريق ولا ضرورة إلى تجويز العقد في المعدوم انتهى (وذكر) حاصل ذلك في البحر وذكر ان شمس الأئمة نقل عن الامام الفضلى ما مر ولم يقيده عنه بكون الموجود وقت العقد أكثر بل قال عنه اجمل الموجود اصلا في العقد وما يحدث بعد ذلك تبعا وقال استحسن فيه التعامل الناس فانهم تعاملوا بيع ثمار الكرم بهذه الصفة ولهم في ذلك عادة ظاهرة وفى نزع الناس عن عاداتهم حرج انتهى ثم ذكر عن المعراج ان الاصح ما ذهب إليه السرخسى وهو ظاهر المذهب من عدم الجواز في المعدوم أي بناء على ما مر عن السرخسى من عدم الضرورة لا مكان التخلص عن ذلك (اقول) لا شك في تحقق الضرورة في زماننا لغلية الجهل على عامة الباعة فانك لا تكاد تجد واحدا منهم يعلم هذه الحيلة ليتخلص بها عن هذه الغائلة ولا يمكن العالم تعليمهم ذلك لعدم ضبطهم ولو علموا ذلك لا يعلمون إلا بما الفوا واعتادوا وتلقوه جيلا عن جيل ولقد صدق الامام الفضلى في قوله ولهم في ذلك عادة ظاهرة وفى نزع الناس عن عاداتهم حرج فهو نظر إلى ان ذلك غير ممكن عادة فاثبت الضرورة والامام السرخسى نظر إلى انه ممكن عقلا بما ذكره من الحيلة فنفى الضرورة ولا يخفى ان المستحيل العادى لا حكم له وإن امكن عقلا وفيما ذكره الامام الفضلى تيسير على الناس ورحمة بهم من حيث صحة بيعهم وحل اكلهم الثمار والخضراوات وتناولهم اثمان ذلك * نعم من كان عالما بالحكم لا يحل له مباشرة هذا العقد لعدم الضرورة في حقه تأمل (لكن) بقى شئ آخر وهو انهم سرحوا بأن بيع الثمار على الاشجار انما يصح إذا شراها مطلقا أو بشرط القطع اما بشرط الترك على الاشجار فلا يصح لانه شرط لا يقتضيه البيع وفيه لاحد
এই দাবিতে যে এটি আমাদের ইমামদের থেকে বর্ণিত (مروي) হয়েছে এবং একইভাবে মহান ইমাম শাইখ আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে ফাদল (র.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি এর বৈধতার ফতোয়া দিতেন এবং বলতেন: এই চুক্তিতে বিদ্যমান অংশকে মূল গণ্য করো এবং পরবর্তীতে যা উৎপন্ন হবে তাকে তার অনুগামী গণ্য করো। এই কারণেই শর্তারোপ করা হয় যে বিদ্যমান অংশ যেন অধিক হয়, কারণ অল্প অংশ অধিক অংশের অনুগামী হয় এবং অধিক অংশকে অল্পের অনুগামী করা যায় না। ইমাম মুহাম্মাদ (র.) থেকে গাছের গোলাপ বিক্রির ক্ষেত্রে বর্ণিত (روي) আছে যে এটি বৈধ, এবং এটা সুবিদিত যে গোলাপ একসাথে ফোটে না বরং পর্যায়ক্রমে একটির পর একটি আসে। শামসুল আইম্মাহ সারাখসী (র.) বলেছেন: আমার নিকট সঠিক (صحيح) মত হলো এই ক্রয়-বিক্রয় বৈধ নয়; কারণ এই পথ অবলম্বন করা কেবল তখনই জায়েজ যখন অপরিহার্যতা (ضرورة) প্রমাণিত হয়, আর এখানে কোনো অপরিহার্যতা নেই। কেননা তার জন্য সম্ভব এই বস্তুগুলোর মূল (গাছ) বিক্রয় করা এবং তার সাথে থাকা ফল ও পরবর্তীতে যা উৎপন্ন হবে তা ক্রেতার মালিকানায় আসবে, আর ইমাম কুদুরী (র.) এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) দিয়েছেন। যদি বিক্রেতা গাছ বিক্রয় করতে অপছন্দ করে, তবে ক্রেতা বিদ্যমান ফলগুলো মূল্যের একাংশ দিয়ে ক্রয় করবে এবং বাকি অংশের চুক্তি তার অস্তিত্বের সময় পর্যন্ত বিলম্বিত করবে; অথবা বিদ্যমান অংশ পূর্ণ মূল্যে ক্রয় করবে এবং যা পরে উৎপন্ন হবে তা ব্যবহারের জন্য বিক্রেতা তাকে অনুমতি দিবে, ফলে এই উপায়ে তাদের উভয়ের উদ্দেশ্য অর্জিত হবে এবং অবিদ্যমান (معدوم) বস্তুর চুক্তি বৈধ করার কোনো প্রয়োজন থাকবে না—সমাপ্ত। 'আল-বাহর' গ্রন্থে এর সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে এবং বর্ণনা করা হয়েছে যে শামসুল আইম্মাহ ইমাম ফাদলী থেকে যা পূর্বে বর্ণিত (مر) হয়েছে তা নকল করেছেন, তবে তিনি চুক্তির সময় বিদ্যমান অংশ অধিক হওয়ার শর্তারোপ করেননি; বরং তিনি তার পক্ষ থেকে বলেছেন: বিদ্যমান অংশকে চুক্তির মূল গণ্য করো এবং পরবর্তীতে যা উৎপন্ন হবে তা অনুগামী। তিনি আরও বলেছেন: মানুষের মধ্যকার লেনদেনের ভিত্তিতে একে তিনি উত্তম মনে করেছেন, কারণ তারা আঙ্গুর বাগানের ফল এভাবে বিক্রয় করতে অভ্যস্ত এবং এটি তাদের একটি প্রকাশ্য প্রথা, আর মানুষকে তাদের অভ্যাস থেকে সরিয়ে আনা কষ্টসাধ্য—সমাপ্ত। অতঃপর 'আল-মিরাজ' থেকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অধিকতর সঠিক (أصح) মত হলো যা ইমাম সারাখসী গ্রহণ করেছেন এবং এটিই মাযহাবের প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر المذهب) যে অবিদ্যমান (معدوم) বস্তুর ক্ষেত্রে চুক্তি বৈধ নয়; অর্থাৎ ইমাম সারাখসী থেকে বর্ণিত সেই যুক্তির ভিত্তিতে যে এখানে অপরিহার্যতার অভাব রয়েছে কারণ এর থেকে নিষ্কৃতির বিকল্প উপায় সম্ভব। (আমি বলছি) আমাদের যুগে অপরিহার্যতা (ضرورة) প্রমাণিত হওয়ার ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ সাধারণ বিক্রেতাদের মধ্যে অজ্ঞতা ব্যাপক। কেননা আপনি তাদের মধ্যে এমন একজনকেও পাবেন না যে এই বিপদ থেকে মুক্তির এই কৌশল জানে, আর আলেমদের পক্ষেও তাদের এগুলো শেখানো সম্ভব নয় কারণ তাদের মধ্যে যথাযথ নিয়মবদ্ধতা (ضبط) নেই। এমনকি তারা যদি তা জানতেও পারে তবুও তারা তা ছাড়া কিছুই অনুসরণ করবে না যাতে তারা অভ্যস্ত এবং যা তারা বংশপরম্পরায় লাভ করেছে। ইমাম ফাদলী সত্যই বলেছেন: "তাদের মধ্যে এটি একটি প্রকাশ্য প্রথা, আর মানুষকে তাদের অভ্যাস থেকে বিচ্যুত করা কষ্টসাধ্য।" তিনি লক্ষ্য করেছেন যে অভ্যাসগতভাবে এটি সম্ভব নয়, তাই তিনি অপরিহার্যতা (ضرورة) সাব্যস্ত করেছেন; আর ইমাম সারাখসী লক্ষ্য করেছেন যে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এটি সম্ভব সেই কৌশলের মাধ্যমে যা তিনি উল্লেখ করেছেন, তাই তিনি অপরিহার্যতা অস্বীকার করেছেন। এটা স্পষ্ট যে অভ্যাসগতভাবে অসম্ভব বিষয়ের কোনো কার্যকারিতা নেই, যদিও তা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সম্ভব হয়। ইমাম ফাদলী যা উল্লেখ করেছেন তাতে মানুষের জন্য সহজীকরণ ও দয়া রয়েছে, যাতে তাদের ক্রয়-বিক্রয় সহীহ (صحيحة) হয় এবং ফল ও শাকসবজি খাওয়া এবং এর মূল্য গ্রহণ করা তাদের জন্য হালাল হয়। হ্যাঁ, তবে যে ব্যক্তি বিধান সম্পর্কে জ্ঞাত তার জন্য এই চুক্তিতে লিপ্ত হওয়া হালাল নয়, কারণ তার ক্ষেত্রে কোনো অপরিহার্যতা নেই। ভেবে দেখুন। (তবে) আরও একটি বিষয় রয়ে গেছে, তা হলো তাঁরা স্পষ্ট করেছেন যে গাছে থাকা ফল বিক্রয় তখনই সহীহ (يصح) হবে যখন তা নিঃশর্তভাবে অথবা কাটার শর্তে ক্রয় করা হবে; কিন্তু গাছে রেখে দেওয়ার শর্তে তা সহীহ (يصح) হবে না, কারণ এটি এমন এক শর্ত যা বিক্রয় চুক্তির পরিপন্থী এবং এতে কারো জন্য...
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৪১)
المتعاقدين منفعة وهي زيادة النمو والنضج ولا يخفى انهم في هذا الزمان وإن لم يشترطوا الترك لكنه معروف عندهم وقد قالوا ان المعروف عرفا كالمشروط شرطا ولو علم المشترى ان البائع يأمره بالقطع لم يرض بشرائه بعشر الثمن وايضا يشترون البطيخ والخيار والباذنجان ونحوها من الخضراوات بشرط ابقائها صريحا وبشرط ان يسقيها البائع مرات متفرقات معدودة حتى تنمو ويظهر ما لم يكن منها ظاهر أو لم ومن صرح بجواز ذلك بناء على العرف وينبغى جوازه بناء على ما مر فإنه حيث جاز للعرف بيع المعدوم مع ان بيعه باطل لا فاسد فيجوز البيع مع هذا الشرط بالاولى فتامل ذلك واعمل بما يظهر لك فانى لا اجزم بما قلته لانى لم ار من صرح به والفكر خوان (ومنها) بيع المظروف كزيت مثلا على ان يزنه ويطرح للظرف ارطالا معلومة فإنه شرط فاسد لان مقتضى العقد طرح مقدار وزنه لكنه قد تعارفه الناس في عامة البلدان وقد يستأنس له بما ذكروا في المتون انه يصح بيع نعل على ان يحذوه ويشركه قال في البحر والقياس فساده لما فيه من النفع للمشترى مع كون العقد لا يقتضيه وما ذكره في المتن جواب الاستحسان للتعامل وفى الخروج عن العادة حرج بين بخلاف اشتراط خياطة الثوب لعدم العادة فبقى على أصل القياس وتسمير القبقاب كتشريك النعل كما في فتح القدير وفي البزازية اشترى ثوبا أو خفا خلقا على ان يرقعه البائع ويخرزه ويسلمه صح للعرف ومعنى يحذوه يقطعه انتهى ما في البحر (وذكر) قبله في ضابط فساد البيع بشرط أنه كل شرط لا يقتضيه العقد ولا يلايمه وفيه منفعة لاحد المتعاقدين أو المعقود عليه وهو من أهل الاستحقاق ولم يجر العرف به ولم يرد الشرع بجوازه قال فلابد في كون الشرط مفسدا للبيع من هذه الشرائط الخمسة فإن كان الشرط يقتضيه العقد لا يفسد كشرط ان يحبس المبيع إلى قبض الثمن ونحوه وإن كان لا يقتضيه لكن ثبت تصحيحه شرعا فلا مرد له كشرط الاجل في الثمن وفى المبيع السلم وشرط الخيار لا يفسده وإن كان متعارفا كشراء نعل على ان يحذوها البائع أو يشركها فهو جائز الخ انهى فقد جعل الشرط المتعارف كالشرط الثابت تصحيحه شرعا وعلل المسئلة في الذخيرة بقوله لان التعارف والتعامل حجة يترك به القياس ويخص به الاثر انتهى ومقتضى هذا الجواز في المسئلة بيع المظروف وكذا مسئلة بيع الثمار لانه شرط فيه تعامل عامة الناس في عامة البلدان أكثر من تعاملهم بيع النعل على ان يحذوها ومن تعامل بيع الثوب على عن ان يرقعه بل ما سمعنا بذلك في زماننا وإن وقع فهو من افراد نادرة لا يثبت به تعامل وكأنه كان في زمن السلف أو في بعض البلاد اما بيع المظروف فهو شائع مستفيض وكثيرا ما يكون فيه ضرورة فإن كثيرا
চুক্তি সম্পাদনকারী পক্ষদ্বয়ের জন্য এতে সুবিধা রয়েছে, আর তা হলো প্রবৃদ্ধি ও পরিপক্কতা। এটি স্পষ্ট যে, বর্তমান সময়ে তারা পণ্যটি গাছে রেখে দেওয়ার শর্ত না দিলেও তাদের মাঝে এটি সুপরিচিত। ফকীহগণ বলেছেন, 'প্রথাগতভাবে পরিচিত বিষয়টি শর্তারোপকৃত বিষয়ের মতোই বিবেচিত।' যদি ক্রেতা জানতেন যে বিক্রেতা তাকে ফল কেটে ফেলার নির্দেশ দেবেন, তবে তিনি মূল্যের দশভাগের একভাগ দিয়েও তা কিনতে রাজি হতেন না। তদ্রূপ তারা তরমুজ, শসা, বেগুন এবং অনুরূপ শাকসবজি এই সুস্পষ্ট শর্তে ক্রয় করেন যে, তা ক্ষেতে রেখে দেওয়া হবে এবং বিক্রেতা কয়েকবার তাতে পানি সেচন করবেন, যাতে সেগুলো বৃদ্ধি পায় এবং অপ্রকাশিত বা অপরিণত অংশগুলো প্রকাশিত হয়। যারা প্রথার (عرف) ওপর ভিত্তি করে এটি বৈধ বলেছেন, পূর্ববর্তী আলোচনার নিরিখে এটি বৈধ হওয়াই সমীচীন। কেননা, যেখানে প্রথার কারণে অস্তিত্বহীন বস্তু (معدوم) বিক্রয় করা বৈধ হয়—অথচ এর বিক্রয় মূলত বাতিল (باطل), কেবল ত্রুটিযুক্ত (فাসদ) নয়—সেখানে এই শর্তসহ বিক্রয় বৈধ হওয়া অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন এবং আপনার কাছে যা স্পষ্ট হয় সে অনুযায়ী আমল করুন। কারণ আমি যা বলেছি সে বিষয়ে আমি দৃঢ় নিশ্চিত নই, কেননা আমি কাউকে এটি স্পষ্টভাবে বলতে দেখিনি এবং মানুষের চিন্তা অনেক সময় ভ্রান্ত হতে পারে।
(এর মধ্যে একটি হলো) পাত্রযুক্ত পণ্য (المظروف) বিক্রয় করা, যেমন তেল; এই শর্তে যে বিক্রেতা তা ওজন করবেন এবং পাত্রের ওজনের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন বাদ দেবেন। এটি একটি ত্রুটিযুক্ত শর্ত (شرط فاسد), কারণ চুক্তির দাবি হলো পাত্রের প্রকৃত ওজনটুকুই বাদ দেওয়া। কিন্তু সাধারণ দেশগুলোতে মানুষের মধ্যে এটি প্রথাগতভাবে প্রচলিত হয়ে গেছে। মতনগুলোতে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা থেকে এর স্বপক্ষে প্রমাণ গ্রহণ করা যেতে পারে যে, জুতো বিক্রয় করা বৈধ এই শর্তে যে বিক্রেতা তা কেটে জুতোর আকার দেবেন এবং ফিতে লাগিয়ে দেবেন। আল-বাহর গ্রন্থে বলা হয়েছে, কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান (قياس) অনুযায়ী এটি ত্রুটিযুক্ত (فساد) হওয়া উচিত, কারণ এতে ক্রেতার এমন সুবিধা রয়েছে যা চুক্তি দাবি করে না। তবে মতনে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা জনরীতির (تعامل) কারণে ইস্তিহসান বা পছন্দনীয় বিধান (استحسان) হিসেবে গণ্য। প্রচলিত অভ্যাসের বাইরে যাওয়ার মধ্যে সুস্পষ্ট সংকীর্ণতা রয়েছে, পক্ষান্তরে কাপড় সেলাই করে দেওয়ার শর্ত দেওয়ার বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেখানে প্রথা নেই, তাই তা মূল কিয়াসের (قياس) ওপর বহাল থাকবে। ফাতহুল কাদির গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, খড়মে পেরেক লাগানো বিষয়টি জুতোর ফিতে লাগানোর মতোই। আল-বাযযাযিয়াহ গ্রন্থে আছে, যদি কেউ পুরনো কাপড় বা মোজা এই শর্তে কেনেন যে বিক্রেতা তা তালি দিয়ে দেবেন এবং সেলাই করে দেবেন, তবে প্রথার (عرف) কারণে তা সঠিক হবে। আল-বাহর গ্রন্থের বক্তব্য এখানেই শেষ।
এর আগে তিনি শর্তের কারণে বিক্রয় ত্রুটিযুক্ত হওয়ার মূলনীতি উল্লেখ করেছেন যে: এমন প্রতিটি শর্ত যা চুক্তির দাবি নয় এবং চুক্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণও নয়, এবং যাতে কোনো এক পক্ষের বা বিক্রয়কৃত পণ্যের স্বার্থ রয়েছে এবং তা উপযুক্ত পাত্রের ক্ষেত্রে হয়, অথচ সে বিষয়ে কোনো প্রথা (عرف) নেই এবং শরিয়তের পক্ষ থেকেও তার বৈধতার কোনো বর্ণনা আসেনি। তিনি বলেছেন, কোনো শর্ত বিক্রয়কে বিনষ্টকারী (مفسد) হওয়ার জন্য এই পাঁচটি শর্তের উপস্থিতি আবশ্যক। যদি শর্তটি চুক্তির চাহিদার মধ্যে পড়ে, তবে তা বিক্রয়কে ত্রুটিযুক্ত করবে না, যেমন মূল্য প্রাপ্তি পর্যন্ত পণ্য আটকে রাখার শর্ত। আর যদি শর্তটি চুক্তির চাহিদা না হয় কিন্তু শরিয়ত কর্তৃক তার বৈধতা প্রমাণিত হয়, তবে তা প্রত্যাখ্যান করা যাবে না, যেমন মূল্যের ক্ষেত্রে মেয়াদের শর্ত, সালাম (السلم) বিক্রয়ে পণ্যের মেয়াদের শর্ত এবং ইখতিয়ারের শর্ত; এগুলো বিক্রয়কে নষ্ট করে না। একইভাবে যদি শর্তটি প্রচলিত (متعارف) হয়, যেমন জুতো এই শর্তে কেনা যে বিক্রেতা তা তৈরি করে দেবেন বা ফিতে লাগিয়ে দেবেন, তবে তা বৈধ। তিনি প্রচলিত শর্তকে (الشرط المتعارف) শরিয়ত সমর্থিত শর্তের পর্যায়ভুক্ত করেছেন। আয-যাখিরা গ্রন্থে এই মাসআলার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, 'কেননা পারস্পরিক পরিচিতি ও জনরীতি (تعامل) এমন এক দলিল (حجة) যার কারণে কিয়াস বা যৌক্তিক অনুমান (قياس) বর্জন করা হয় এবং সাধারণ বর্ণনাকে সুনির্দিষ্ট করা হয়।'
এই আলোচনা অনুযায়ী পাত্রযুক্ত পণ্য বিক্রয়ের মাসআলায় এবং ফল বিক্রয়ের মাসআলায় বৈধতা পাওয়াই যুক্তিযুক্ত। কারণ এতে সাধারণ দেশগুলোতে সাধারণ মানুষের এমন জনরীতি (تعامل) বিদ্যমান যা জুতো তৈরি করা বা কাপড় তালি দেওয়ার জনরীতির চেয়েও ব্যাপক। বরং আমাদের যুগে আমরা কাপড় তালি দেওয়ার কথা শুনিনি, যদি ঘটেও থাকে তবে তা বিরল ঘটনা, যা দ্বারা জনরীতি (تعامل) সাব্যস্ত হয় না। সম্ভবত এটি সালাফদের যুগে বা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে ছিল। কিন্তু পাত্রযুক্ত পণ্য (المظروف) বিক্রয়ের বিষয়টি বহুল প্রচলিত এবং অনেক ক্ষেত্রে এতে আবশ্যকতাও থাকে।
(খণ্ড: ২)
নাশরুল উরফি ফি বিনাই বাদিল আহকামি আলাল উরফি - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৪২)
من المبيعات المظروفة لا يمكن إخراجها من ظرفها بل تباع معه ويطرح للظرف مقدار معلوم بين التجار أو بين المتعاقدين لا يحصل فيه تفاوت كثير ولا يؤدى إلى منازعة إلا نادرا والنادر لا حكم له (وهذا أيضا) است اجزم به لاني لم ار احدا قال به بل المصرح به في عامة الكتب القديمة والحديثة خلافه ولا يطمئن القلب إلى العمل بما لم يصرح أحد به نعم ما ذكرته من الشواهد يؤيده وفيه تيسير عظيم ولكن هذا بالنسبة إلى بيع الناس فيما بينهم لئلا نحكم بفساد بيعهم والحاقه بالربا اما العالم بالحكم فلا ينبغى له فعل ذلك بل عليه التنزه عن افعال عوام الناس واتباع ما قاله الفقهاء إذ لا ضرورة إلى العدول عنه بالنسبة إليه بخلافه بالنسبة إلى عامة الناس والله تعالى اعلم (ومنها) ما تعارف عليه أهل زماننا من أخذ عشر الاراضى من المستأجر دون المؤجر عملا بقول الامامين وقال أبو حنيفة انه على المؤجر واقتصر عليه في الخصاف والاسعاف وقدمه قاضى خان وبه افتى جماعة من متاخرى الحنفية كالشيخ خير الدين الرملى والشيخ إسمعيل الحايك مفتى دمشق تلميز الشيخ علاء الدين الحصكفى والشيخ زكريا أفندي وعطاء الله أفندي المفتيين في دار السلطنة المحمية وتبعهم مفتى دمشق حامد أفندي العمادى (اقول) وقد وقعت هذه الحادثة في زماننا وتكرر السؤال عنها وملت فيها إلى الجواب بقول الامامين لانه قول مصحح أيضا فقد قال في الدر المختار عن الحاوى القدسى وبقولهما نأخذ ولانه يلزم على قول الامام في زماننا حصول ضرر عظيم على جهة الأوقاف وغيرها لا يقول به أحد وذلك انه جرت العادة في زماننا ان أصحاب التيمار والزعماء الذين هم وكلاء مولانا السلطان نصره الله تعالى يأخذون العشر والخراج من المستأجرين وكذا جرت العادة أيضا ان حكام السياسة يأخذون الغرامات الواردة على الاراضى من المستأجرين أيضا وغالب القرى والمزارع اوقاف والمستأجر بسبب ما ذكرناه لا يستأجر الأرض إلا بأجرة يسيرة جدا فقد تكون قرية كبيرة أجرة مثلها أكثر من الف درهم فيستاجرها بنحو عشرين درهما لما يأخذه منه حكام السياسة من الغرامات الكثيرة ولما يأخذه منه أصحاب التيار فإذا آجر المتولى هذه القرية بعشرين درهما فهل يسوغ لاحد ان يفتى صاحب العشر باخذ عشر ما يخرج من جميع القرية من المتولى هذا شئ لا يقول به أحد فضلا عن امام الأئمة ومصباح الأمة أبي حنيفة النعمان رحمه الله تعالى بل الواجب ان ننظر إلى أجرة مثل هذه القرية فانها إذا كان المتولى يدفع عشرها للعشرى تبلغ أجرة مثلها خسمائة مثلا وإذا كان الذي يدفع عشرها هو المستأجر تبلغ أجرة مثلها عشرين درهما مثلا
মোড়কজাত পণ্যগুলোর মধ্য থেকে এমন কিছু রয়েছে যা তার মোড়ক থেকে বের করা সম্ভব নয়, বরং তা মোড়কসহই বিক্রি করা হয় এবং ব্যবসায়ীদের মাঝে অথবা চুক্তি সম্পাদনকারীদের মাঝে মোড়কের জন্য একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ওজন বাদ দেওয়া হয়, যাতে খুব বেশি তারতম্য হয় না এবং যা খুব সামান্য ছাড়া বিরোধের দিকে নিয়ে যায় না। আর বিরল (نادر) বিষয়ের কোনো হুকুম বা বিধান নেই। (এটিও একটি বিষয়) যার ওপর আমি দৃঢ় হতে পারছি না, কারণ আমি এমন কাউকে দেখিনি যিনি এই মত প্রকাশ করেছেন। বরং প্রাচীন ও আধুনিক সকল কিতাবে যা স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে তা এর বিপরীত। আর কারো স্পষ্ট বক্তব্য ছাড়া কোনো বিষয়ের ওপর আমল করার ব্যাপারে অন্তর সায় দেয় না। হ্যাঁ, আমি যে সকল সাক্ষ্য-প্রমাণ (شواهد) উল্লেখ করেছি তা একে সমর্থন করে এবং এর মধ্যে ব্যাপক সহজসাধ্যতা রয়েছে। কিন্তু এটি সাধারণ মানুষের মধ্যকার কেনা-বেচার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যাতে আমরা তাদের কেনা-বেচাকে বাতিল হওয়ার বা সুদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফতোয়া না দিই। তবে বিধান সম্পর্কে অবগত আলেমদের জন্য এমনটি করা উচিত নয়। বরং তাদের কর্তব্য হলো সাধারণ মানুষের কর্মপন্থা থেকে বেঁচে থাকা এবং ফকিহগণ যা বলেছেন তা অনুসরণ করা। যেহেতু তাদের ক্ষেত্রে ফকিহদের বক্তব্য থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই, যা সাধারণ মানুষের অবস্থার বিপরীত। আল্লাহ তাআলাই সর্বাধিক অবগত।
(অন্যান্য মাসআলার মধ্যে রয়েছে) যা আমাদের সমকালীন লোকেরা প্রথা হিসেবে গ্রহণ করেছে যে, ইজারা দাতার পরিবর্তে ইজারা গ্রহীতার কাছ থেকে জমির ওশর গ্রহণ করা হয়। এটি সাহেবাইন বা দুই ইমামের মতানুসারে আমল করার কারণে। আর ইমাম আবু হানিফা রহ. বলেন যে, এটি ইজারা দাতার ওপর ধার্য হবে। খাসসাফ ও ইসআফ গ্রন্থে কেবল এই মতটিই উল্লেখ করা হয়েছে এবং কাজিখান একে অগ্রগণ্য করেছেন। পরবর্তীকালের একদল হানাফি আলেমও এই মতানুসারে ফতোয়া দিয়েছেন, যেমন— শাইখ খায়রুদ্দিন আল-রামলি, শাইখ ইসমাইল আল-হায়েক (যিনি দামেস্কের মুফতি এবং শাইখ আলাউদ্দিন আল-হাসকাফির ছাত্র), শাইখ জাকারিয়া এফেন্দি এবং আতাউল্লাহ এফেন্দি (যাঁরা দারুস সুলতানাতিল মাহমিয়্যাহর মুফতি ছিলেন)। দামেস্কের মুফতি হামিদ এফেন্দি আল-ইমাদিও তাঁদের অনুসরণ করেছেন।
(আমি বলি) আমাদের সময়েও এই ঘটনাটি ঘটেছে এবং এর সমাধান সম্পর্কে বারবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আমি দুই ইমামের মতের দিকেই ঝুঁকেছি, কারণ এটিও একটি বিশুদ্ধকৃত (مصحح) মত। আদ-দুররুল মুখতার কিতাবে 'আল-হাভি আল-কুদ্সি' থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে: "আমরা তাঁদের দুজনের বক্তব্যই গ্রহণ করি।" তা ছাড়া আমাদের যুগে ইমাম আবু হানিফার মত গ্রহণ করলে ওয়াকফ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিরাট ক্ষতির আশঙ্কা থাকে যা কেউ সমর্থন করবে না। কারণ আমাদের যুগে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, তিমার ও জা'মা-এর মালিকরা (যাঁরা আমাদের মহান সুলতানের প্রতিনিধি, আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করুন) ইজারা গ্রহীতাদের কাছ থেকেই ওশর ও খারাজ গ্রহণ করেন। একইভাবে প্রশাসনিক শাসকরাও জমির ওপর আরোপিত জরিমানা ইজারা গ্রহীতাদের কাছ থেকেই গ্রহণ করে থাকেন। অধিকাংশ গ্রাম ও খামার হলো ওয়াকফ সম্পত্তি। উল্লিখিত কারণে ইজারা গ্রহীতারা খুব সামান্য ভাড়ার বিনিময়ে জমি ইজারা নেয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি বড় গ্রামের সমপরিমাণ ভাড়া এক হাজার দিরহামের বেশি হতে পারে, অথচ শাসকের আরোপিত জরিমানা ও তিমারের মালিকদের পাওনার কারণে সে গ্রামটি মাত্র বিশ দিরহামের মতো ভাড়ায় ইজারা দেওয়া হয়। এখন মুতাওয়াল্লি যদি এই গ্রামটি বিশ দিরহামে ইজারা দেন, তবে ওশর সংগ্রহকারীর জন্য কি কারো পক্ষে এই ফতোয়া দেওয়া সম্ভব হবে যে, সে মুতাওয়াল্লির কাছ থেকে পুরো গ্রামের ফসলের ওশর আদায় করবে? এটি এমন বিষয় যা ইমামুল আইম্মাহ এবং উম্মতের প্রদীপ ইমাম আবু হানিফা নুমান রহ. তো দূরের কথা, অন্য কেউও বলবেন না। বরং ওয়াজিব হলো এই গ্রামের সমপরিমাণ ভাড়ার দিকে লক্ষ্য করা। কারণ মুতাওয়াল্লি নিজে ওশর প্রদান করলে এর সমপরিমাণ ভাড়া হতে পারে সম্ভবত পাঁচশ দিরহাম, আর যদি ইজারা গ্রহীতা ওশর প্রদান করে তবে সমপরিমাণ ভাড়া হতে পারে বিশ দিরহাম।