(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: -)
منهج الإمام البخاري   (أبو بكر كافي)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: منهج الإمام البخاري في تصحيح الأحاديث وتعليلها (من خلال الجامع الصحيح)

المؤلف: أبو بكر كافي

أصل الكتاب: أطروحة ماجستير في الحديث وعلومه، من جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإسلامية بقسنطينة الجزائر 1418 هـ - 1998 م بإشراف الدكتور حمزة عبد الله المليباري

الناشر: دار ابن حزم بيروت

الطبعة: الأولى، 1422 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 366

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইমাম বুখারির মানহাজ (منهج)   (আবু বকর কাফি)

বিভাগ: হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث)


বই: হাদিস সহিহ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) এবং এর ত্রুটি নিরুপণ (تعليل) সংক্রান্ত ইমাম বুখারির মানহাজ (منهج) (আল-জামি আল-সহিহ-এর আলোকে)

লেখক: আবু বকর কাফি

গ্রন্থের মূল উৎস: হাদিস ও এর বিজ্ঞানের ওপর একটি মাস্টার্স থিসিস، আমির আব্দুল কাদির ইসলামি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়, কনস্টানটাইন, আলজেরিয়া, ১৪১৮ হিজরি - ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ, ডক্টর হামজা আব্দুল্লাহ আল-মালিব্বারির তত্ত্বাবধানে

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম, বৈরুত

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২২ হিজরি - ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৬৬

[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১)
ـ[منهج الإمام البخاري في تصحيح الأحاديث وتعليلها (من خلال الجامع الصحيح) ]ـ

المؤلف: أبو بكر كافي

الناشر: دار ابن حزم

الطبعة: الأولى، 1422 هـ / 2000 م

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]

--------------------------------------------

أصل الكتاب أطروحة ماجستير في الحديث وعلومه، من جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإسلامية بقسنطينة الجزائر بإشراف الدكتور حمزة عبد الله المليباري
ـ[হাদিস সহিহায়ন (تصحيح) ও ত্রুটি নির্ণয় (تعليل) সংক্রান্ত ইমাম বুখারীর কর্মপন্থা (আল-জামি আল-সহিহ-এর আলোকে)]ـ

লেখক: আবু বকর কাফি

প্রকাশক: দার ইবনে হাজম

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২২ হিজরি / ২০০০ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এতে পাদটীকা সংযোজন করা হয়েছে]

--------------------------------------------

মূল বইটি আলজেরিয়ার কন্সটান্টিনস্থ আমির আব্দুল কাদির ইসলামি বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হাদিস ও এর বিজ্ঞানের ওপর সম্পন্নকৃত একটি মাস্টার্স থিসিস, যা ডক্টর হামজা আব্দুল্লাহ আল-মালিব্বারির তত্ত্বাবধানে প্রস্তুত করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌الإهداء

إلى من أمرني الله ببرهما وطاعتهما والإحسان إليهما، إلى والديَّ الكريمين..

إلى كل مسلم يحب سنة رسول الله صلى الله عليه وسلم ويدافع عنها، ويعمل بها..

أهدي هذا العمل المتواضع.

أبو بكر
উৎসর্গ

যাঁদের প্রতি সদাচরণ করার, আনুগত্য করার এবং ইহসান প্রদর্শন করার নির্দেশ আল্লাহ তাআলা আমাকে দিয়েছেন—আমার সম্মানিত পিতা-মাতার প্রতি...

সেই প্রত্যেক মুসলিমের প্রতি, যারা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহকে ভালোবাসেন, এর প্রতিরক্ষা করেন এবং তদনুযায়ী আমল করেন...

আমি এই বিনম্র কর্মটি উৎসর্গ করছি।

আবু বকর
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌شكر وتقدير

أصل هذا الكتاب رسالة علمية، نال بها صاحبها شهادة الماجستير في الحديث وعلومه، من جامعة الأمير عبد القادر للعلوم الإسلامية بقسنطينة الجزائر بتقدير مشرف جداً، وذلك في 19 شوال 1418هـ، الموافق لـ 16/ 2/ 1998م.

ولا يسعني في هذا المقام، إلا أن أتقدم بجميل الشكر إلى كل من ساعدني في إنجاز هذا البحث من أساتذة وطلبة.

وأخص بالذكر فضيلة الأستاذ " حمزة عبد الله المليباري "، فقد بذل جهده ووقته في متابعة هذا البحث من أوله إلى آخره، ولم يبخل علي بملاحظاته وتوجيهاته القيمة، مما كان له حافزاً قوياً على إتمام هذا البحث، والصبر على مشقته.

كما أتقدم بالشكر إلى أصحاب الفضيلة الأساتذة أعضاء لجنة المناقشة:

د. محمد عبد رب النبي.

د. محمد خالد اسطنبولي.

د. نصر سليمان.

كما أتقدم بشكري الجزيل لإدارة معهد أصول الدين خصوصاً والقائمين على الجامعة عموماً.

وفي الأخير أتوجه بالشكر إلى إخوتي الكرام:سليم، ياسين، ومروان
কৃতজ্ঞতা ও স্বীকৃতি

মূলত এই গ্রন্থটি একটি গবেষণাপত্র, যার মাধ্যমে এর লেখক আলজেরিয়ার কন্সটানটাইনে অবস্থিত 'আমির আবদ আল-কাদির ইউনিভার্সিটি ফর ইসলামিক সায়েন্সেস' থেকে হাদিস ও এর সংশ্লিষ্ট শাস্ত্রসমূহে (علوم الحديث) মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ১৯ শাওয়াল ১৪১৮ হিজরি, মোতাবেক ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে এটি অত্যন্ত সম্মানজনক (مشرف جداً) মানসহ গৃহীত হয়।

এই পর্যায়ে, যে সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে আমাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাকে আমি আমার কর্তব্য মনে করি।

আমি বিশেষভাবে শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক "হামজা আবদুল্লাহ আল-মালিব্বারি"-র কথা উল্লেখ করছি; তিনি এই গবেষণার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার মেধা ও সময় ব্যয় করেছেন এবং তার মূল্যবান পর্যবেক্ষণ ও দিকনির্দেশনা প্রদানে কোনো কার্পণ্য করেননি। এটি আমাকে এই গবেষণাটি সম্পন্ন করতে এবং এর শ্রমসাধ্য কাজগুলো ধৈর্যের সাথে আঞ্জাম দিতে শক্তিশালী অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

আমি মূল্যায়ন কমিটির সম্মানিত সদস্যবৃন্দকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি:

ড. মুহাম্মদ আবদ রাব্বু আন-নবী।

ড. মুহাম্মদ খালিদ ইস্তাম্বুলি।

ড. নাসর সুলাইমান।

আমি বিশেষভাবে উসুল আদ-দীন (أصول الدين) অনুষদের প্রশাসন এবং সাধারণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকর্তাদের প্রতি আমার গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

পরিশেষে, আমি আমার সম্মানিত ভাইদের ধন্যবাদ জানাই: সেলিম, ইয়াসিন এবং মারওয়ান।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৮)
الذين بذلوا معي جهداً كبيراً، وصبراً جميلاً في كتابة هذه الرسالة وتصحيحها وإخراجها على هذه الصورة الجيدة.
যাঁরা এই গবেষণাপত্রটি রচনা, এর সংশোধন এবং একে এই সুন্দর অবয়বে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আমার সাথে ব্যাপক প্রচেষ্টা ও অনুপম ধৈর্য ব্যয় করেছেন।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌المقدمة

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله نحمده، ونستعينه، ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فهو المهتدي، ومن يضلل فلن تجد له ولياً مرشداً، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله.

أما بعد..

فإن أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدي هدي محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة في النار.

(يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله حق تقاته، ولا تموتن إلا وأنتم مسلمون) . [آل عمران: 102] .

(يا أيها الناس اتقوا ربكم الذي خلقكم من نفس واحدة وخلق منها زوجها وبث منهما رجالاً كثيراً ونساءً واتقوا الله الذي تساءلون به والأرحام إن الله كان عليكم رقيبا) [النساء: 1] .

(يا أيها الذين آمنوا اتقوا الله وقولوا قولاً سديداً يصلح لكم أعمالكم ويغفر لكم ذنوبكم ومن يطع الله ورسوله فقد فاز فوزاً عظيماً) . [الأحزاب: 70، 71] .
ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা চাই। আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথপ্রদর্শন করেন তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার জন্য কোনো পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল।

অতঃপর...

নিশ্চয়ই সর্বাধিক সত্য বাণী হলো আল্লাহর কিতাব এবং সর্বোত্তম পথনির্দেশ হলো মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআত হলো পথভ্রষ্টতা এবং প্রতিটি পথভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।) [আলে ইমরান: ১০২] .

(হে মানবজাতি! তোমরা তোমাদের রব্বকে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে একটি প্রাণ থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাদের উভয় থেকে বহু পুরুষ ও নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা আল্লাহকে ভয় করো যার নামে তোমরা একে অপরের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন বজায় রাখো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর পর্যবেক্ষক।) [আন-নিসা: ১] .

(হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই মহাসাফল্য অর্জন করল।) [আল-আহজাব: ৭০, ৭১] .
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১০)
من المتفق عليه بين المسلمين أن السنة هي المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي بعد القرآن الكريم، ولهذه المنزلة العظيمة التي تتبوؤها السنة كانت ولا تزال محل عناية كبيرة من علماء المسلمين عموماً والمحدثين على وجه الخصوص، فإنهم لم يدخروا وسعاً ولم يألوا جهداً في سبيل المحافظة عليها، وإبقائها سليمة من تحريف الغالين، وتأويل الجاهلين، وانتحال المبطلين، فوضعوا لذلك منهجاً علمياً متميزاً وفريداً كان هو المعيار الذي توزن به الأخبار، وكان هذا المنهج نتاجاً لجهود عظيمة بذلها أئمة الحديث وحفّاظه من لدن الصحابة إلى أن استقرت قواعده، ورست أركانه، واتضحت معالمه، وأينعت ثماره في القرن الثالث الهجري.

وكان من الأئمة الذين أسهموا في تشييد دعائم هذا المنهج الإمام الكبير أمير المحدثين محمد بن إسماعيل البخاري (رحمه الله تعالى) ولم تكن إسهامات هذا الإمام واضحة، لأنها لم تكن قواعد نظرية مجموعة في كتاب، وإنما كانت أعمالاً وتطبيقاً لتلك القواعد في ثنايا كتبه الكثيرة، ولعل أبرز كتب هذا الإمام بل أبرز كتب الحديث على الإطلاق - الجامع الصحيح - ففي هذا الكتاب ظهرت عبقرية هذا الإمام، فهو تطبيق عملي ودقيق لقواعد هذا المنهج، فكان بحق أصح كتاب بعد كتاب الله، فجاء هذا البحث ليستخرج ويستنبط أسس المنهجية التي يستعملها البخاري رحمه الله في تصحيح الأحاديث وتعليلها. وهذه القواعد جاءت مطبقة في كتابه ولم يصرح بها وإنما يستعان على كشفها بأقوال العلماء ممن اهتموا بالجامع الصحيح شرحاً وتعليقاً واستدراكاً وانتقاداً.

وهذا البحث محاولة للكشف عن منهج الأئمة النقاد في موضوع " النقد الحديثي " على اعتبار أن الإمام البخاري من أبرز هؤلاء الأئمة، والمسلّم له بالتقدم والمتمكن في هذه الصنعة.

والمنهج الذي سلكته في هذا البحث هو المنهج التحليلي المقارن، وذلك باستقراء صحيح البخاري وأخذ الشواهد والأمثلة وتحليلها لاستخراج ما يكمن فيها من قواعد، ثم مقارنة هذه النتائج بمواقف أئمة معاصرين للبخاري
মুসলিমদের নিকট এটি সর্বসম্মত যে, পবিত্র কুরআনের পর সুন্নাহ (السنة) হলো ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস। সুন্নাহর (السنة) এই সুমহান মর্যাদার কারণে এটি সাধারণ আলেম এবং বিশেষ করে হাদিস বিশারদদের (المحدثين) নিকট বরাবরই অত্যন্ত গুরুত্বের বিষয় হয়ে রয়েছে। তাঁরা একে সংরক্ষণের জন্য এবং চরমপন্থীদের বিকৃতি, অজ্ঞদের ভুল ব্যাখ্যা ও বাতিলপন্থীদের মিথ্যা আরোপ থেকে মুক্ত রাখার প্রচেষ্টায় কোনো ত্রুটি করেননি। তাঁরা এর জন্য একটি অনন্য ও বৈশিষ্ট্যমন্ডিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি (منهج) প্রণয়ন করেছেন, যা ছিল সংবাদসমূহ যাচাই করার মানদণ্ড। এই পদ্ধতিটি (منهج) ছিল সাহাবায়ে কেরাম থেকে শুরু করে হাদিসের ইমাম ও হাফেজদের (حفاظ) মহান প্রচেষ্টার ফসল, যার মূলনীতিসমূহ হিজরি তৃতীয় শতাব্দীতে সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুসংহত হয়, এর বৈশিষ্ট্যসমূহ স্পষ্ট হয় এবং এর সুফল ফলপ্রসূ হয়।

এই পদ্ধতির (منهج) ভিত্তি স্থাপনে অবদান রাখা ইমামদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন মহান ইমাম ও আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারি (রহমতুল্লাহি আলাইহি)। এই ইমামের অবদানসমূহ স্বতন্ত্রভাবে সংকলিত ছিল না, কারণ সেগুলো কোনো একটি গ্রন্থে তাত্ত্বিক মূলনীতি হিসেবে লিপিবদ্ধ ছিল না; বরং তা ছিল তাঁর অসংখ্য গ্রন্থের পরতে পরতে ঐসব মূলনীতির প্রায়োগিক রূপ। সম্ভবত এই ইমামের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ, বরং সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ হাদিস গ্রন্থ হলো—আল-জামিউস সহিহ। এই গ্রন্থেই ইমামের প্রতিভা ফুটে উঠেছে, কারণ এটি উক্ত পদ্ধতির (منهج) একটি সূক্ষ্ম ও ব্যবহারিক প্রয়োগ। ফলশ্রুতিতে এটি যথাযথভাবেই আল্লাহর কিতাবের পর সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح) কিতাব হিসেবে গণ্য হয়েছে। তাই এই গবেষণাটি ইমাম বুখারি (রহ.) হাদিস বিশুদ্ধ সাব্যস্তকরণ (تصحيح) এবং এর সূক্ষ্ম ত্রুটি নির্ণয়ে (تعليل) যে পদ্ধতিগত (المنهجية) ভিত্তি ব্যবহার করেছেন তা উদঘাটন ও উদ্ভাবনের উদ্দেশ্যে প্রণীত হয়েছে। এই নিয়মগুলো তাঁর গ্রন্থে প্রয়োগ করা হয়েছে কিন্তু তিনি তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেননি; বরং আল-জামিউস সহিহ নিয়ে গবেষণাকারী আলেমদের ব্যাখ্যা, টীকা, সংযোজন ও পর্যালোচনার সাহায্যে এগুলো উন্মোচন করা হয়েছে।

এই গবেষণাটি "হাদিস সমালোচনা" (النقد الحديثي) বিষয়ে সমালোচক ইমামদের (الأئمة النقاد) পদ্ধতি (منهج) উন্মোচনের একটি প্রচেষ্টা; এই বিবেচনায় যে, ইমাম বুখারি এই ইমামদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ এবং এই বিদ্যায় পূর্ণ পারদর্শী হিসেবে স্বীকৃত।

এই গবেষণায় আমি যে পদ্ধতি (المنهج) অনুসরণ করেছি তা হলো তুলনামূলক বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতি। সহিহ বুখারি পর্যালোচনার মাধ্যমে সেখান থেকে প্রমাণ ও উদাহরণ গ্রহণ করে তার বিশ্লেষণের মাধ্যমে অন্তর্নিহিত মূলনীতিসমূহ বের করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে এই ফলাফলগুলোকে ইমাম বুখারির সমসাময়িক ইমামদের অবস্থানের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১১)
كالإمام مسلم والترمذي وأبي حاتم وأبي زرعة، أو من جاء بعده كالدارقطني والبيهقي وغيرهما. حتى يتسنى لنا معرفة مدى توافق هذا المنهج أو اختلافه من إمام إلى آخر، ثم مقارنة هذه النتائج كلها بما استقرت عليه كتب المصطلح لمعرفة مدى التباين والتوافق بين الجانب التطبيقي عند الأئمة النقاد والجانب النظري عند كثير من المتأخرين من أئمة الكلام والفقه والأصول.

أما الأسباب التي جعلتني أختار هذا الموضوع المتعلق أساساً بالنقد الحديثي فهي:

1) الغموض الذي ما يزال يكتنف هذا الموضوع بين الدارسين للعلوم الشرعية عموماً والمهتمين بعلوم الحديث على وجه الخصوص، وبسبب هذا الغموض انتشرت كثير من النظريات الخاطئة، والمناهج المضطربة في " نقد السنة " وأصبحت ظاهرة تصحيح الأحاديث وتعليلها في ظل غياب منهج واضح موحد تنتشر يوماً بعد يوم مسببة آثاراً سيئة في فكر المسلمين، وعقائدهم وواقعهم.

2) حبي الشديد لسنة النبي صلى الله عليه وسلم وشغفي بكتب الحديث وخاصة صحيح البخاري، وإعجابي بعبقرية هذا الإمام ودقة منهجه.

3) المساهمة في تقريب الاستفادة من كتب السنة، وذلك بتوضيح مناهجها ومقاصد مؤلفيها.

4) المساهمة في تقريب الاستفادة من كتب علل الحديث، فهي على كثرتها وتنوعها صعبة التناول والاستفادة، وذلك للاختصار في بعضها كعلل ابن أبي حاتم، أو التطويل بذكر وجوه الخلاف كعلل الدارقطني، أو باختلاط مباحثها بمباحث الجرح والتعديل في كثير منها. والملاحظة العامة حول هذه الكتب أنها لا تصرح بذكر الحكم على الحديث، وفي كثير من الأحيان تشير إلى الحكم بعبارة أو عبارتين دون بيان أسس هذا الحكم، أي ما يعرف في هذا العلم بـ "قرائن الترجيح ".

وقد حرصت في هذا البحث وخاصة في القسم الثاني منه " منهج
যেমন ইমাম মুসলিম, তিরমিযী, আবু হাতিম ও আবু যুরআহ, অথবা তাঁদের পরবর্তী যুগের ইমাম যেমন দারাকুতনী ও বাইহাকী প্রমুখ। যাতে করে আমাদের পক্ষে এক ইমাম থেকে অন্য ইমামের এই মানহাজের সামঞ্জস্য বা পার্থক্যের মাত্রা জানা সম্ভব হয়, অতঃপর এসব ফলাফলের সাথে পরিভাষা (مصطلح) শাস্ত্রের কিতাবসমূহে যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার তুলনা করা; যেন সমালোচক ইমামগণের (الأئمة النقاد) প্রায়োগিক দিক এবং কালামশাস্ত্র, ফিকহ ও উসুল শাস্ত্রের অনেক পরবর্তী ইমামদের তাত্ত্বিক দিকের মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান ও সামঞ্জস্যের মাত্রা নিরূপণ করা যায়।

আর মূলত হাদিস বিষয়ক সমালোচনা (النقد الحديثي) সংক্রান্ত এই বিষয়টি আমার নির্বাচনের কারণসমূহ হলো:

১) শরয়ি বিজ্ঞানের সাধারণ শিক্ষার্থী এবং বিশেষ করে হাদিস বিজ্ঞানে আগ্রহীদের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে বিদ্যমান অস্পষ্টতা যা এখনো ঘনীভূত হয়ে আছে। এই অস্পষ্টতার কারণেই "সুন্নাহর সমালোচনা" বিষয়ক বহু ভুল তত্ত্ব ও অসংলগ্ন মানহাজ ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি একটি সুস্পষ্ট ও ঐক্যবদ্ধ মানহাজের অনুপস্থিতিতে হাদিসকে সহিহ সাব্যস্ত করা (تصحيح) এবং তার গূঢ় ত্রুটি নির্ণয় করার (تعليل) প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মুসলিমদের চিন্তা-চেতনা, আকিদা ও বাস্তব জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সুন্নাহর প্রতি আমার গভীর ভালোবাসা এবং হাদিসের কিতাবসমূহ, বিশেষ করে সহিহ বুখারীর প্রতি আমার প্রবল আগ্রহ এবং এই ইমামের অতুলনীয় মেধা ও তাঁর মানহাজের সূক্ষ্মতায় আমার মুগ্ধতা।

৩) সুন্নাহর কিতাবসমূহের মানহাজ এবং লেখকদের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার মাধ্যমে সেসব কিতাব থেকে উপকার গ্রহণ সহজতর করার ক্ষেত্রে অবদান রাখা।

৪) হাদিসের গূঢ় ত্রুটি (علل الحديث) বিষয়ক কিতাবসমূহ থেকে ফায়দা হাসিল করাকে সহজতর করা। কারণ এই কিতাবগুলো সংখ্যায় অনেক ও বিচিত্র হওয়া সত্ত্বেও তা ব্যবহার ও তা থেকে ফায়দা গ্রহণ করা বেশ কঠিন। এর কারণ কখনো কোনোটিতে অতি সংক্ষিপ্ততা, যেমন ইবনে আবি হাতিমের ইলাল; আবার কোনোটিতে মতভেদের বিভিন্ন দিক উল্লেখ করতে গিয়ে অতি দীর্ঘতা, যেমন দারাকুতনীর ইলাল। অথবা অনেক কিতাবে এর আলোচনার সাথে জারহ ও তাদিল (الجرح والتعديل) এর আলোচনা মিশে যাওয়া। এই কিতাবগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণ পর্যবেক্ষণ হলো যে, এতে হাদিসের ওপর হুকুম বা সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় না; বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এক বা দুই বাক্যে হুকুমের দিকে ইঙ্গিত করা হয় কিন্তু সেই হুকুমের ভিত্তি বর্ণনা করা হয় না, যাকে এই শাস্ত্রে অগ্রগণ্যতার মানদণ্ড (قرائن الترجيح) বলা হয়।

আমি এই গবেষণায়, বিশেষ করে এর দ্বিতীয় অংশে "মানহাজ...
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১২)
التعليل " على توضيح قرائن الترجيح عند الإمام البخاري أو غيره من الأئمة، وهذا مما يعين على فهم كلامهم والاستفادة من كتبهم.

5) قلة الدراسات الأكاديمية حول هذا الموضوع بخصوصه، فالدراسات السابقة في هذا الموضوع - في حدود علمي - تكاد تكون منعدمة إذ كانت جل الدراسات التي تناولت الإمام البخاري محدثاً أو فقيهاً إنما تناولته على سبيل السرد التاريخي المنقبي أو التتبع الفقهي الفروعي وليس هناك دراسات اهتمت بتوضيح منهج الإمام البخاري في علوم الحديث.

ولعل أهم دراسة علمية في هذا المجال هي " الإمام الترمذي والموازنة بين جامعه والصحيحين" رسالة دكتوراه لنور الدين عتر، وواضح من خلال العنوان أنها تناولت الإمام الترمذي أصالة والبخاري ومسلماً على سبيل التبع والمقارنة، أضف إلى ذلك أنها كانت منصبة على النواحي الفقهية دون الغوص في القواعد والأسس، ولا أدعي أن هذه الدراسة التي أقدمها قد وصلت إلى الأهداف التي كنت أرومها، ولكن حسبي أن أقترب منها، فقد حاولت غاية جهدي أن أفصل في كثير من المباحث والقضايا التي تناولتها مجانباً للهوى متحرياً الحقَّ والصواب، وأحياناً أتوقف في بعض المسائل لعدم قيام الأدلة الكافية للجزم فيها بحكم معين.

ولعل أهم شيء تقدمه هذه الدراسة، أنها جمعت فوائد كثيرة كانت متفرقة في ثنايا كتب علوم الحديث والشروح وكتب العلل مما يتعلق بمنهج البخاري في صحيحه. ونسقت بينها في وحدة موضوعية مما يقرب (إن شاء الله) الاستفادة منها، وأرى من الواجب علي أن أعترف بأن كل ما في هذا البحث هو ثمرة علمائنا، وجهود سلفنا ليس لي فيه إلا الجمع والترتيب وبعض التوضيحات التي تبين مقاصد كلامهم، وتربط بين أقوالهم.

وعلى رأس هؤلاء العلماء الذين استفدت منهم استفادة عظيمة، الإمام الحافظ ابن حجر رحمه الله الذي عكفت على مطالعة شرحه العظيم لصحيح البخاري " فتح الباري " واستخرجت من ثناياه كنوزاً ودرراً، وكذلك
ত্রুটি নির্ণয় (التعليل)-এর লক্ষ্য হলো ইমাম বুখারি বা অন্যান্য ইমামদের নিকট অগ্রগণ্যতা প্রদানের নির্দেশকসমূহ (قرائن الترجيح) স্পষ্ট করা, যা তাঁদের বক্তব্য বুঝতে এবং তাঁদের কিতাবসমূহ থেকে উপকৃত হতে সহায়তা করে।

৫) এই নির্দিষ্ট বিষয়ে একাডেমিক গবেষণার স্বল্পতা; কেননা আমার জানামতে এই বিষয়ে পূর্ববর্তী গবেষণাসমূহ প্রায় নেই বললেই চলে। ইমাম বুখারিকে মুহাদ্দিস (محدث) বা ফকিহ (فقيه) হিসেবে উপস্থাপনা করা অধিকাংশ গবেষণাই ছিল মূলত ঐতিহাসিক গুণাবলির বর্ণনা অথবা শাখাগত ফিকহি পর্যালোচনার আঙ্গিকে। হাদিসশাস্ত্রে ইমাম বুখারির মানহাজ (منهج) স্পষ্ট করার বিষয়ে তেমন কোনো গবেষণা নেই।

সম্ভবত এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক গবেষণা হলো নূরুদ্দিন আতরের পিএইচডি থিসিস "ইমাম তিরমিজি ওয়াল মুওয়াজানাতু বাইনা জামিইহি ওয়াস-সহিহাইন"। শিরোনাম থেকেই স্পষ্ট যে, এটি মূলত ইমাম তিরমিজিকে প্রধান্য দিয়েছে এবং ইমাম বুখারি ও মুসলিমকে অনুবর্তী ও তুলনামূলক আলোচনার প্রেক্ষিতে উপস্থাপন করেছে। এর পাশাপাশি এটি ফিকহি দিকগুলোর ওপর নিবদ্ধ ছিল, এর মূলনীতি (القواعد) এবং ভিত্তিগুলোর (الأسس) গভীরে প্রবেশ করেনি। আমি দাবি করছি না যে, আমার উপস্থাপিত এই গবেষণাটি আমার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেছে, তবে আমার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে আমি তার কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছি। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যে বিষয় ও সমস্যাগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি, সেগুলোর বিস্তারিত বর্ণনায় প্রবৃত্তি থেকে দূরে থেকে সত্য ও সঠিক অনুসন্ধানে সচেষ্ট থাকতে। ক্ষেত্রবিশেষে পর্যাপ্ত দলিলাদি (الأدلة) না থাকায় কোনো নির্দিষ্ট বিধান (حكم) প্রদানের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো থেকে বিরত থেকেছি।

সম্ভবত এই গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এটি হাদিসশাস্ত্রে ইমাম বুখারির সহিহ-এর মানহাজ (منهج) সংশ্লিষ্ট হাদিসবিজ্ঞানের গ্রন্থসমূহ, শরাহসমূহ (الشروح) এবং ইলাল (علل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বহু ফায়দা বা উপকারিতাকে একত্রিত করেছে। আমি সেগুলোকে একটি বিষয়ভিত্তিক ঐক্যের মাধ্যমে বিন্যস্ত করেছি, যা (ইনশাআল্লাহ) এ থেকে উপকৃত হওয়াকে সহজতর করবে। আমি এটি স্বীকার করা কর্তব্য মনে করি যে, এই গবেষণার সবকিছুই আমাদের ওলামায়ে কেরামের জ্ঞান এবং আমাদের সালাফদের প্রচেষ্টার ফল। এতে আমার কাজ কেবল সংগ্রহ, বিন্যাস এবং তাঁদের বক্তব্যের উদ্দেশ্য স্পষ্টকারী ও উক্তিগুলোর মাঝে যোগসূত্র স্থাপনকারী কিছু ব্যাখ্যা প্রদান করা।

আর ঐ সকল আলেমদের মধ্যে শীর্ষস্থানে আছেন ইমাম হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ), যার সহিহ বুখারির মহান শরাহ "ফাতহুল বারি" অধ্যয়নে আমি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি এবং তার ভেতর থেকে অনেক জ্ঞানরত্ন ও মুক্তা আহরণ করেছি। তেমনিভাবে...
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৩)
استفدت كثيراً من كتابه " النكت على مقدمة ابن الصلاح " وغيرها من كتبه.

كما كان لكتب العلل كـ " العلل الكبير " للترمذي، و " العلل الصغير وشرحه " لابن رجب و " الإلزامات والتتبع " و " علل ابن أبي حاتم " و " علل الدارقطني " و " علل ابن المديني " إسهام كبير في بناء هذا البحث.

واستعنت بكتب الجرح والتعديل منها " التاريخ الكبير " و " الجرح والتعديل " لابن أبي حاتم الرازي و " تهذيب الكمال " للمزي و " تهذيب التهذيب " و " التقريب " للحافظ ابن حجر وغيرها، كما استفدت من كتب المصطلح في المقارنة وشرح ما يغمض من كلام الأئمة ومن أهمها "مقدمة ابن الصلاح " و " التقييد والإيضاح " للعراقي و " فتح المغيث " للسخاوي وشرح النخبة وغيرها.

كما لم أهمل الاستفادة من كتابات بعض المعاصرين وتحقيقاتهم وتخريجاتهم كتحقيق الشيخ مقبل بن هادي لكتاب الإلزامات والتتبع، وتحقيقات السامرائي وتخريجات الأرناؤوط والشيخ الألباني ودراسات أحمد نور سيف والدكتور حمزة عبد الله المليباري وغيرهم.

وقد اعترضتني صعوبات كثيرة في إنجاز هذا البحث منها:

1) صعوبة هذا الموضوع في حد ذاته، والتي لم يخفها علي فضيلة الأستاذ المشرف وبعض من استشرتهم من الأساتذة. فمن المعلوم أن البخاري لم يصرح بآرائه ومنهجه في كتبه فكان دوري هو استنباط هذا المنهج من ثنايا النصوص، وهذا اقتضى مني المراجعة الطويلة للكتب التي اهتمت بشرح الجامع الصحيح أو انتقاده والتعقيب عليه لعلي أظفر بشيء، وفي كثير من الأحيان أتوقف عن معرفة مقصد البخاري في إخراج طريق ما، أو ذكر اختلاف في حديث، أو غير ذلك من صنيعه. فأذكر ما أصل إليه وأفهمه على سبيل الاحتمال وأعضد موقفي بنصوص من أقوال الأئمة. ولو كانت هناك أقوال صريحة لحسمت الأمر، وحلت النزاع، ووفرت الوقت والجهد.

2) بعد مقر إقامتي على الجامعة مما جعلني أجد صعوبة كبيرة في
আমি তাঁর গ্রন্থ "আন-নুকাওয়াত আলা মুকাদ্দিমাহ ইবনেস সালাহ" এবং তাঁর অন্যান্য কিতাব থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি।

একইভাবে 'ইলাল' বা ত্রুটি (علل) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ যেমন তিরমিযীর "আল-ইলালুল কাবীর", ইবনে রজবের "আল-ইলালুল সাগীর ও তার শারহ", "আল-ইলযামাত ওয়াত তাতাব্বু", "ইলাল ইবনে আবি হাতিম", "ইলালুদ দারা কুতনী" এবং "ইলাল ইবনে মাদীনী" এই গবেষণাটি তৈরিতে বিশাল অবদান রেখেছে।

আমি 'জারহ ও তাদীল' (الجرح والتعديل) (বর্ণনাকারীদের সমালোচনা ও প্রশংসা) বিষয়ক গ্রন্থসমূহের সাহায্য নিয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে "আত-তারিখুল কাবীর", ইবনে আবি হাতিম আর-রাজীর "আল-জারহ ওয়াত তাদীল", মিযযীর "তাহযীবুল কামাল", হাফেজ ইবনে হাজারের "তাহযীবুত তাহযীব" ও "আত-তাকরীব" এবং অন্যান্য। পাশাপাশি আমি তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং ইমামদের বক্তব্যের দুর্বোধ্য অংশগুলো ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে হাদিসের পরিভাষা (مصطلح) বিষয়ক গ্রন্থসমূহ থেকেও উপকৃত হয়েছি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো "মুকাদ্দিমাহ ইবনেস সালাহ", ইরাকীর "আত-তাকয়ীদ ওয়াল ঈদাহ", সাখাভীর "ফাতহুল মুগীস" এবং "শারহুন নুখবাহ" ইত্যাদি।

এছাড়া সমসাময়িক কিছু লেখকের রচনা, তাঁদের সম্পাদনা (تحقيق) ও হাদিস উৎসের অনুসন্ধান (تخريج) থেকে উপকৃত হতেও আমি অবহেলা করিনি। যেমন শেখ মুকবিল বিন হাদীর 'কিতাবুল ইলযামাত ওয়াত তাতাব্বু' এর সম্পাদনা (تحقيق), সামাররাঈ এর সম্পাদনাসমূহ, আরনাউত ও শেখ আলবানীর হাদিস উৎসের অনুসন্ধান (تخريج), এবং আহমদ নূর সাইফ ও ডক্টর হামজা আবদুল্লাহ আল-মালিবারী প্রমুখের গবেষণা।

এই গবেষণাটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে আমি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি, যার মধ্যে রয়েছে:

১) বিষয়টি তার স্বকীয়তায় অত্যন্ত কঠিন ছিল, যা আমার সম্মানিত তত্ত্বাবধায়ক উস্তাদ এবং যাদের কাছ থেকে আমি পরামর্শ গ্রহণ করেছি এমন কিছু উস্তাদ আমার কাছে গোপন রাখেননি। এটা সুবিদিত যে, ইমাম বুখারী তাঁর গ্রন্থসমূহে তাঁর নিজস্ব মতামত ও পদ্ধতি (منهج) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেননি; তাই আমার কাজ ছিল তাঁর এই পদ্ধতি (منهج) পাঠ্যগুলোর গভীর থেকে আহরণ (استنباط) করা। এর জন্য আমাকে "আল-জামেউস সহীহ"-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ অথবা এর সমালোচনা ও পর্যালোচনা নিয়ে রচিত কিতাবগুলোতে দীর্ঘ সময় পর্যালোচনা করতে হয়েছে যাতে আমি কাঙ্ক্ষিত কিছু লাভ করতে পারি। অনেক ক্ষেত্রে আমি কোনো নির্দিষ্ট সনদ বা সূত্র (طريق) গ্রহণে অথবা হাদিসের কোনো মতপার্থক্য বর্ণনায় ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য বুঝে উঠতে থমকে গিয়েছিলাম। এমতাবস্থায় আমি যতটুকু পৌঁছাতে পেরেছি এবং যা সম্ভাব্য মনে করেছি তা উল্লেখ করেছি এবং ইমামগণের বক্তব্যের মাধ্যমে আমার অবস্থানকে শক্তিশালী করেছি। যদি সেখানে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য থাকতো, তবে তা বিষয়টি মীমাংসা করে দিত, বিরোধ নিরসন করত এবং সময় ও শ্রম সাশ্রয় করত।

২) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমার আবাসের দূরত্ব অনেক হওয়ায় আমি অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি...
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৪)
الاستفادة من المكتبة وخاصة المراجع الداخلية منها، وكذلك مشقة السفر للاتصال بالمشرف.

هذا وأتمنى أن أكون قد وفقت من خلال هذا البحث من جعل المشكلة في ضوء البحث العلمي الهادئ والهادف من خلال الرجوع المباشر إلى أئمة العلم وكتبه الأولى، ومصنفاته الأصلية.

ومن هنا أرجو أن يضيف هذا البحث طريقة علمية منهجية في فهم مناهج كتب السنة وأساليب النقدية. ويحرك همم الباحثين لاستكمال النقائص وسد الثغرات، وبمتابعة الجهود في تمحيص كتب السنة ودراستها دراسة علمية مقارنة لاستخراج مناهجها النقدية يمكن - بإذن الله - أن تتبلور نظرية متكاملة واضحة في نقد السنة عند المحدثين، ومن خلال هذه النظرية نستطيع أن نستمر في خدمة السنة تحقيقاً وتخريجاً علمياً أصيلاً، ومن خلالها أيضاً نستطيع أن نقوّم تلك الجهود الجبارة التي بذلت في سبيل الحفاظ على المصدر الثاني من مصادر التشريع الإسلامي.

وقد جاء البحث في ثلاثة فصول وخاتمة.

الفصل الأول: وهو عبارة عن فصل تمهيدي خصصته للكلام عن الحديث وعلومه إلى عصر الإمام البخاري، وقد اشتمل هذا الفصل على أربعة مباحث:

المبحث الأول: تحدثت فيه عن كتب السنة قبل الجامع الصحيح كالسنن والمسانيد وكتب السير والمغازي والتفسير والأجزاء المفردة في أبواب مخصوصة، والغرض منه توضيح مدى استفادة الإمام البخاري ممن سبقه، وبيان أن الجامع الصحيح لم يأتِ من فراغ، وإنما هو حلقه من سلسلة متواصلة من جهود المحدثين في التصنيف والتأليف.

والمبحث الثاني: خصصته للكلام - بشيء من الإيجاز - عن حركة التدوين في علوم الحديث والنقد إلى عصر الإمام البخاري وكيف بدأت قواعد التصحيح والتعليل تستقر عند كثير من أئمة الحديث ونقاده.
লাইব্রেরি এবং বিশেষ করে এর অভ্যন্তরীণ রেফারেন্সগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেওয়া, সেইসাথে সুপারভাইজারের সাথে যোগাযোগের জন্য ভ্রমণের কষ্ট।

এমতাবস্থায় আমি আশা করি যে, এই গবেষণার মাধ্যমে আমি ইলমের ইমামগণ, তাঁদের প্রাথমিক কিতাবসমূহ এবং মূল গ্রন্থাবলির সরাসরি উদ্ধৃতি প্রদানের মাধ্যমে একটি শান্ত ও লক্ষ্যনির্ভর বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে সমস্যাটিকে উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়েছি।

এখান থেকে আমি আশা করি যে, এই গবেষণাটি সুন্নাহর কিতাবসমূহের মানহাজ এবং সমালোচনা পদ্ধতি বোঝার ক্ষেত্রে একটি বিধিবদ্ধ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যুক্ত করবে। এটি গবেষকদের অসম্পূর্ণতাগুলো পূর্ণ করতে এবং শূন্যস্থানগুলো পূরণ করতে অনুপ্রাণিত করবে। সুন্নাহর কিতাবসমূহ যাচাই-বাছাই করার প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় এবং সেগুলোর সমালোচনামূলক মানহাজ বের করার জন্য একটি বৈজ্ঞানিক তুলনামূলক অধ্যয়নের মাধ্যমে —আল্লাহর ইচ্ছায়— মুহাদ্দিসগণের নিকট সুন্নাহর সমালোচনার একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্পষ্ট তত্ত্ব দানা বাঁধতে পারে। এই তত্ত্বের মাধ্যমে আমরা একটি মৌলিক বৈজ্ঞানিক সম্পাদনা (تحقيق) এবং তাখরিজ (تخريج) এর মাধ্যমে সুন্নাহর সেবা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হব। আর এর মাধ্যমেই আমরা সেই বিশাল প্রচেষ্টাসমূহ মূল্যায়ন করতে সক্ষম হব যা ইসলামি শরিয়তের দ্বিতীয় উৎস সংরক্ষণের পথে ব্যয় করা হয়েছে।

এই গবেষণাটি তিনটি অধ্যায় এবং একটি উপসংহারে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রথম অধ্যায়: এটি একটি প্রারম্ভিক অধ্যায় যা আমি ইমাম বুখারীর যুগ পর্যন্ত হাদিস ও উলূমুল হাদিস নিয়ে আলোচনার জন্য বরাদ্দ করেছি। এই অধ্যায়টি চারটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি জামে সহীহ-এর পূর্ববর্তী সুন্নাহর কিতাবসমূহ যেমন: সুনান, মুসনাদ, সিয়ার, মাগাজি, তাফসির এবং আল-আজজা আল-মুফরাদাহ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। এর উদ্দেশ্য হলো ইমাম বুখারী তাঁর পূর্বসূরিদের থেকে কতটা উপকৃত হয়েছিলেন তা স্পষ্ট করা এবং এটি বর্ণনা করা যে, জামে সহীহ কোনো শূন্যস্থান থেকে আসেনি; বরং এটি মুহাদ্দিসগণের গ্রন্থনা ও রচনার নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার শৃঙ্খলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি আমি সংক্ষেপে ইমাম বুখারীর যুগ পর্যন্ত উলূমুল হাদিস ও সমালোচনার সংকলন প্রক্রিয়া এবং কীভাবে সহীহ হিসেবে সাব্যস্তকরণ (تصحيح) ও ত্রুটি অন্বেষণের (تعليل) নিয়মাবলি হাদিসের বহু ইমাম ও সমালোচকদের নিকট সুপ্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করেছিল তা আলোচনার জন্য নির্ধারণ করেছি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৫)
والمبحث الثالث: ترجمت فيه للإمام البخاري بترجمة شاملة وموجزة ركزت فيها على مختلف جوانب شخصيته العلمية.

والمبحث الرابع: سردت فيه الآثار العلمية للإمام البخاري، وعرفت بالموجود منها سواء أكان مطبوعاً أم مخطوطاً، ثم ختمت هذا المبحث بذكر التأثير العلمي لمصنفات الإمام البخاري فيمن عاصره أو من جاء بعده.

أما الفصل الثاني فقد خصصته للحديث عن منهج الإمام البخاري في تصحيح الأحاديث، وقد قسمته إلى ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: خصصته للكلام عن عدالة الرواة، وقد قسمته إلى ستة مطالب تناولت فيها تعريف العدالة لغة واصطلاحاً، ثم شروط العدالة وموقف البخاري منها، ثم أدرجت بعض المسائل المتعلقة بالعدالة وبينت موقف البخاري منها وهي: إذا روى الثقة حديثاً فسئل عنه فنفاه، وإذا كان المحدث يغشى السلطان، وإذا كان المحدث يأخذ الأجرة على التحديث، هل يقدح كل ذلك في عدالته أم لا؟ مع ذكر موقف البخاري معضداً بالأمثلة والشواهد، ثم تناولت موقف البخاري من أحاديث أهل البدع والأهواء، ثم موقفه من الرواة والمجاهيل وكيفية تخريجه لرواياتهم، وختمت المبحث بطلب في الحديث عن الرواة الوحدان، وموقف البخاري من رواياتهم وكيفية تخريج أحاديثهم في صحيحه.

المبحث الثاني: خصصته للحديث عن ضبط الرواة وقد قسمته إلى أربعة مطالب:

الأول: عرفت فيه بالضبط لغة واصطلاحاً، ثم تعرضت في المطلب الثاني لأهميته وآثار اختلاله وكيفية معرفة ضبط الراوي، ومراتب الرواة من حيث الضبط، ثم تناولت في المطلب الثالث مراتب رجال الصحيحين من حيث الضبط، وبينت فيه أن رجال الصحيحين ليسوا كلهم على مرتبة واحدة من حيث الضبط، بل فيهم الحافظ الضابط، ومن هو دون ذلك.

ثم درست في المطلب الأخير نماذج من روايات الضعفاء، وبينت منهج البخاري في تصحيحها.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি ইমাম বুখারীর একটি ব্যাপক অথচ সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) উপস্থাপন করেছি, যেখানে তাঁর ইলমি ব্যক্তিত্বের বিভিন্ন দিকের ওপর আলোকপাত করেছি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: এখানে আমি ইমাম বুখারীর ইলমি নিদর্শনসমূহ বর্ণনা করেছি এবং সেগুলোর মধ্য থেকে বর্তমানে যা বিদ্যমান রয়েছে—তা মুদ্রিত হোক বা পাণ্ডুলিপি আকারে—সেগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়েছি। অতঃপর ইমাম বুখারীর গ্রন্থসমূহের যে ইলমি প্রভাব তাঁর সমসাময়িক বা পরবর্তী প্রজন্মের ওপর পড়েছে, তা উল্লেখ করার মাধ্যমে এই পরিচ্ছেদটি সমাপ্ত করেছি।

আর দ্বিতীয় অধ্যায়টি আমি হাদিস সহিহ (تصحيح) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর মানহাজ বা পদ্ধতির আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং একে তিনটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এটি আমি বর্ণনাকারীদের ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সংক্রান্ত আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি। একে আমি ছয়টি উপ-অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি, যেখানে ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করেছি। এরপর ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) শর্তাবলি এবং এ ব্যাপারে ইমাম বুখারীর অবস্থান আলোচনা করেছি। অতঃপর ন্যায়পরায়ণতা (عدالة) সংশ্লিষ্ট কিছু মাসআলা সন্নিবেশিত করে সে বিষয়ে ইমাম বুখারীর অবস্থান স্পষ্ট করেছি। সেগুলো হলো: যদি কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) রাবী একটি হাদিস বর্ণনা করার পর তাঁকে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তা অস্বীকার করেন, এবং যদি মুহাদ্দিস সুলতানের সান্নিধ্যে যাতায়াত করেন, আর যদি মুহাদ্দিস হাদিস বর্ণনার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন—তবে কি এসব বিষয় তাঁর ন্যায়পরায়ণতাকে (عدالة) প্রশ্নবিদ্ধ করবে কি না? সাথে উদাহরণ ও প্রমাণের মাধ্যমে ইমাম বুখারীর অবস্থান উল্লেখ করেছি। এরপর বিদআত ও প্রবৃত্তিপূজারী (أهل البدع والأهواء) বর্ণনাকারীদের হাদিসের প্রতি ইমাম বুখারীর অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছি। অতঃপর অজ্ঞাত (المجاهيل) বর্ণনাকারীদের প্রতি তাঁর অবস্থান এবং তাঁদের বর্ণনা তিনি কীভাবে তাখরিজ (تخريج) করেছেন তা নিয়ে আলোচনা করেছি। সবশেষে 'ওয়াহদান' (الرواة الوحدان) অর্থাৎ যাদের থেকে মাত্র একজন রাবী বর্ণনা করেছেন—তাদের সম্পর্কে আলোচনার মাধ্যমে এবং ইমাম বুখারীর সহিহ গ্রন্থে তাঁদের বর্ণনা গ্রহণের পদ্ধতি ও অবস্থান বর্ণনার মাধ্যমে এই পরিচ্ছেদটি সমাপ্ত করেছি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এটি বর্ণনাকারীদের নির্ভুলতা বা সংরক্ষণ ক্ষমতা (ضبط) সংক্রান্ত আলোচনার জন্য নির্দিষ্ট করেছি এবং একে চারটি উপ-অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি:

প্রথম উপ-অনুচ্ছেদ: এতে আমি নির্ভুলতার (ضبط) শাব্দিক ও পারিভাষিক সংজ্ঞা প্রদান করেছি। অতঃপর দ্বিতীয় উপ-অনুচ্ছেদে এর গুরুত্ব, এতে ত্রুটি থাকার প্রভাব, বর্ণনাকারীর নির্ভুলতা (ضبط) যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং নির্ভুলতার (ضبط) বিচারে বর্ণনাকারীদের স্তরসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি। তৃতীয় উপ-অনুচ্ছেদে সহিহাইন-এর বর্ণনাকারীদের নির্ভুলতার (ضبط) স্তরসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, সহিহাইন-এর বর্ণনাকারীরা সবাই নির্ভুলতার (ضبط) ক্ষেত্রে একই স্তরের নন, বরং তাঁদের মধ্যে প্রখর স্মৃতিসম্পন্ন ও নির্ভুল (الحافظ الضابط) রাবী যেমন আছেন, তেমনি তার চেয়ে নিম্নস্তরের রাবীও রয়েছেন।

এরপর সর্বশেষ উপ-অনুচ্ছেদে আমি দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীদের বর্ণনার কিছু নমুনা নিয়ে গবেষণা করেছি এবং সেগুলো সহিহ (تصحيح) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর মানহাজ বা পদ্ধতি স্পষ্ট করেছি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالث: تحدثت فيه عن اتصال السند، وقد قسمته إلى خمسة مطالب:

عرفت في الأول منها السند لغة واصطلاحاً، وأهميته، ثم تعرضت في المطلب الثاني لطرق التحمل والأداء عند الإمام البخاري وبينت ما هي الطرق المعتبرة عنده، والطرق غير المعتبرة، ثم تناولت في المطلب الثالث مسألة العنعنة، وحاولت توضيح منهج البخاري فيها والموازنة بينه وبين الإمام مسلم في ذلك والجواب عما أورده كثير من العلماء في الرد على الإمام مسلم.

أما المطلب الرابع فقد خصصته لدراسة نماذج من أحاديث الجامع الصحيح أعلت بالانقطاع في سندها، فذكرت أجوبة العلماء عليها، وبينت أن دعوى الانقطاع لا تصح في كثير منها.

ثم ختمت المبحث بمطلب في الحديث عن التدليس - باعتباره نوعاً من الانقطاع في السند - وبينت منهج البخاري في تخريج أحاديث المدلسين.

أما الفصل الثالث فقد أفردته لمنهج الإمام البخاري في تعليل الأحاديث، وقد قسمته إلى ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعرضت فيه للأحاديث المعلولة في الجامع الصحيح وقد جاء في مطلبين:

الأول: في تعريف العلة لغة واصطلاحاً، وبيان مواضعها وحكمها ودلائلها.

والثاني: في الكلام عن الأحاديث المنتقدة في الجامع الصحيح وتصنيفها وبيان منهج المنتقدين كالدارقطني، وتقويم انتقاده إجمالاً.

المبحث الثاني: تحدثت فيه عن التفرد وأثره في تعليل الأحاديث، وقد اشتمل على ثلاثة مطالب:

الأول منها عبارة عن مقدمات نظرية تحدثت فيها عن حقيقة التفرد وأنواعه ومراتبه وحكمه.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি সনদের অবিচ্ছিন্নতা (اتصال السند) নিয়ে আলোচনা করেছি এবং একে পাঁচটি অনুচ্ছেদে বিভক্ত করেছি।

এর প্রথমটিতে আমি শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে সনদ (سند)-এর পরিচয় এবং এর গুরুত্ব তুলে ধরেছি। অতঃপর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে ইমাম বুখারীর নিকট হাদিস গ্রহণ ও প্রদানের পদ্ধতিসমূহ (طرق التحمل والأداء) সম্পর্কে আলোচনা করেছি এবং তাঁর নিকট নির্ভরযোগ্য (معتبرة) ও অনির্ভরযোগ্য (غير معتبرة) পদ্ধতিসমূহ স্পষ্ট করেছি। তারপর তৃতীয় অনুচ্ছেদে আনআনাহ (العنعنة) প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এই বিষয়ে ইমাম বুখারীর মানহাজ স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে তাঁর ও ইমাম মুসলিমের মাঝে তুলনামূলক আলোচনা করেছি এবং ইমাম মুসলিমের ওপর অনেক আলেম যে আপত্তি উত্থাপন করেছেন তার উত্তর দিয়েছি।

চতুর্থ অনুচ্ছেদটি আমি জামি সহীহ-এর এমন কিছু হাদিসের নমুনার অধ্যয়নে নির্দিষ্ট করেছি যেগুলোর সনদে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর ত্রুটি বর্ণনা করা হয়েছে; এক্ষেত্রে আমি আলেমদের উত্তরসমূহ উল্লেখ করেছি এবং স্পষ্ট করেছি যে, এগুলোর অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর দাবিটি সঠিক নয়।

অতঃপর আমি এই পরিচ্ছেদটি তাদলীস (التدليس) সংক্রান্ত আলোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি—যেটিকে সনদের বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর একটি প্রকার হিসেবে গণ্য করা হয়—এবং মুদাল্লিস (مدلسين) রাবিদের হাদিস সংকলনে (تخريج) বুখারীর কর্মপন্থা বর্ণনা করেছি।

তৃতীয় অধ্যায়টি আমি হাদিস ত্রুটিযুক্ত হওয়া বা ত্রুটি নির্ণয় (تعليل) সংক্রান্ত ইমাম বুখারীর মানহাজের জন্য বরাদ্দ করেছি এবং একে তিনটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছি:

প্রথম পরিচ্ছেদ: এতে আমি জামি সহীহ-এর ত্রুটিপূর্ণ (معلولة) হাদিসসমূহ নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এটি দুটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথমটি: শাব্দিক ও পারিভাষিক অর্থে ইল্লত বা ত্রুটি (علة)-এর সংজ্ঞা এবং এর ক্ষেত্রসমূহ, বিধান ও নিদর্শনাবলির বর্ণনায়।

দ্বিতীয়টি: জামি সহীহ-এর সমালোচিত হাদিসসমূহ এবং সেগুলোর শ্রেণিবিভাগ সংক্রান্ত আলোচনা, এবং দারাকুতনীর ন্যায় সমালোচকদের পদ্ধতি ও সামগ্রিকভাবে তাঁর সমালোচনার মূল্যায়নের বর্ণনায়।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: এতে আমি রাবির একক বর্ণনা (تفرد) এবং হাদিসের ত্রুটি নির্ণয়ে (تعليل) এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি এবং এটি তিনটি অনুচ্ছেদ সংবলিত:

এর প্রথমটি হলো তাত্ত্বিক ভূমিকা, যাতে আমি একক বর্ণনার (تفرد) হাকিকত বা স্বরূপ, এর প্রকারভেদ, স্তরসমূহ এবং এর বিধান সম্পর্কে আলোচনা করেছি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৭)
والثاني تحدثت فيه عن نماذج من الأحاديث التي استغربت أو استنكرت في الجامع الصحيح، وبينت منهج البخاري ووجهة نظره في إخراجها، كما وضحت المنطلقات والقرائن التي بنى عليها المنتقدون أحكامهم.

والمطلب الثالث درست فيه نماذج من الأحاديث التي أعلها الإمام البخاري اعتماداًٍ على التفرد مع انضمام قرائن أخرى.

المبحث الثالث: تكلمت فيه عن المخالفة وأثرها في التعليل، وقد افتتحته بمطلب ضمنته بعض المقدمات النظرية في تعريف المخالفة، وصورها، وأسبابها، وضابطها، وأحكامها، وأثرها؛ ليكون مدخلاً ييسر الولوج إلى هذا الموضوع.

وقد قسمت الحديث في هذا الموضوع إلى قسمين هما:

المخالفة المغيرة لسياق الإسناد كالاختلاف في الوصل والإرسال والوقف والرفع، والاختلاف في تسمية شيخ الراوي، والاختلاف في زيادة راو في الإسناد أو حذفه.

والمخالفة المغيرة لسياق المتن كالاختصار، والرواية بالمعنى، والإدراج، وأثرها في تصحيح الأحاديث، أو تعليلها.

كل ذلك مقرون بالأمثلة والشواهد من صنيع الإمام البخاري في صحيحه.

المبحث الرابع: خصصته لزيادات الثقات، وهي صورة من صور المخالفة، لكنني أفردتها لأهميتها وغموضها، وركزت فيه على الحديث عن بعض زيادات المتون وأحكامها النقدية وآثارها الفقهية، مدعماً ذلك بالأمثلة من صحيح الإمام البخاري. وقد جاء هذا المبحث في ثلاثة مطالب:

الأول: في تعريف زيادات الثقات وحكمها عند الأئمة والطوائف.

الثاني: في دراسة نماذج من الزيادات المقبولة عند الإمام البخاري واستخلاص معايير القبول.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আমি এমন কিছু হাদিসের উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করেছি যা আল-জামি আল-সহিহ-তে অদ্ভুত (استغربت) বা আপত্তিকর (استنكرت) হিসেবে গণ্য হয়েছে এবং আমি এই হাদিসগুলো সংকলনের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর কর্মপদ্ধতি ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করেছি। সেই সাথে সমালোচকগণ যে ভিত্তি ও আলামতগুলোর ওপর নির্ভর করে তাদের রায় প্রদান করেছেন তাও স্পষ্ট করেছি।

এবং তৃতীয় অনুচ্ছেদে আমি এমন কিছু হাদিসের উদাহরণ নিয়ে গবেষণা করেছি যেগুলোকে ইমাম বুখারী অন্য কিছু আলামতের সাথে একক বর্ণনা (التفرد)-র ওপর ভিত্তি করে ত্রুটিযুক্ত (أعلها) হিসেবে গণ্য করেছেন।

তৃতীয় অধ্যায়: এতে আমি বৈপরীত্য (المخالفة) এবং হাদিসকে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্তকরণে (التعليل) এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি এটি একটি অনুচ্ছেদের মাধ্যমে শুরু করেছি যেখানে বৈপরীত্যের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ, কারণ, নীতিমালা, বিধান ও প্রভাব সম্পর্কে কিছু তাত্ত্বিক ভূমিকা প্রদান করেছি, যাতে তা এই বিষয়ে প্রবেশের পথ সহজ করে দেয়।

এই বিষয়ে আমি আলোচনাকে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি, সেগুলো হলো:

প্রথমত: সনদের (الإسناد) বিন্যাস পরিবর্তনকারী বৈপরীত্য; যেমন সূত্র সংযুক্ত থাকা (الوصل) ও বিচ্ছিন্ন থাকা (الإرسال), বক্তব্য সাহাবীতে শেষ হওয়া (الوقف) ও বক্তব্য সরাসরি রাসুলুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছানো (الرفع)-র ক্ষেত্রে মতভেদ, রাবীর উস্তাদের নাম নির্ধারণে মতভেদ এবং সনদে কোনো রাবী বৃদ্ধি করা বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে মতভেদ।

দ্বিতীয়ত: মূল পাঠের (المتن) বিন্যাস পরিবর্তনকারী বৈপরীত্য; যেমন সংক্ষেপণ, শব্দ পরিবর্তন করে অর্থ বর্ণনা করা, বর্ণনার ভেতরে অন্য শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া (الإدراج) এবং হাদিস বিশুদ্ধ (تصحيح) বা ত্রুটিযুক্ত (تعليلها) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এগুলোর প্রভাব।

এই সমস্ত বিষয় ইমাম বুখারীর সহিহ বুখারী-র কর্মপদ্ধতি থেকে প্রাপ্ত উদাহরণ ও প্রমাণাদির মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

চতুর্থ অধ্যায়: আমি এটি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশ (زيادات الثقات)-এর জন্য নির্দিষ্ট করেছি, যা বৈপরীত্যেরই একটি রূপ; তবে এর গুরুত্ব ও জটিলতার কারণে আমি একে আলাদাভাবে আলোচনা করেছি। এতে আমি মূল পাঠের (المتون) কিছু অতিরিক্ত অংশ, সেগুলোর সমালোচনামূলক বিধান ও ফিকহী প্রভাবের ওপর গুরুত্বারোপ করেছি এবং ইমাম বুখারীর সহিহ বুখারী থেকে উদাহরণের মাধ্যমে তা সুদৃঢ় করেছি। এই অধ্যায়টি তিনটি অনুচ্ছেদে বিন্যস্ত হয়েছে:

প্রথম: নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের অতিরিক্ত অংশের (زيادات الثقات) সংজ্ঞা এবং ইমামগণ ও বিভিন্ন মতাদর্শী গোষ্ঠীর নিকট এর বিধান।

দ্বিতীয়: ইমাম বুখারীর নিকট গ্রহণযোগ্য (المقبولة) অতিরিক্ত অংশগুলোর নমুনা বিশ্লেষণ এবং তা গ্রহণের মানদণ্ডগুলো নির্যাস আকারে উপস্থাপন।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৮)
الثالث: في دراسة نماذج من زيادات الثقات المردودة عند الإمام البخاري واستخلاص معايير الرد.

وقد أنهيت البحث بخاتمة ذكرت فيها أهم النتائج التي توصلت إليها من خلال هذه الدراسة.

وفي الأخير أسأل الله عز وجل أن يجعل عملي هذا لوجهه خالصاً، وأن يعصمني من الزلل والخطأ، وأن يغفر لي ويتجاوز عني بفضله وكرمه، فهو ولي ذلك والقادر عليه، وسبحانك اللهم وبحمدك أشهد أن لا إله إلا أنت استغفرك وأتوب إليك.
তৃতীয়ত: ইমাম বুখারীর নিকট নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের প্রত্যাখ্যাত অতিরিক্ত অংশসমূহের (زيادات الثقات المردودة) কিছু নমুনা পর্যালোচনা এবং তা প্রত্যাখ্যানের মানদণ্ডসমূহ উদ্ঘাটন।

আমি একটি উপসংহারের মাধ্যমে এই গবেষণাটি সমাপ্ত করেছি, যেখানে আমি এই পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলসমূহ উল্লেখ করেছি।

পরিশেষে, আমি মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি যেন আমার এই কাজটিকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কবুল করেন, আমাকে ভুল ও পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় আমাকে ক্ষমা ও মার্জনা করেন। নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং এর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ, আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনারই প্রশংসা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। আমি আপনার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং আপনার নিকট তওবা করছি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌الفصل الأول: الحديث وعلومه إلى عصر الإمام البخاري

 

المبحث الأول: كتب السنة قبل الجامع الصحيح.

المبحث الثاني: علوم الحديث إلى عصر البخاري.

المبحث الثالث: ترجمة موجزة للإمام البخاري.

المبحث الرابع: التعريف بالإنتاج العلمي للإمام البخاري.
প্রথম পরিচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর যুগ পর্যন্ত হাদিস ও তার শাস্ত্রসমূহ (علوم الحديث)

 

প্রথম অনুচ্ছেদ: আল-জামি আল-সহিহ-এর পূর্বে সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: বুখারীর যুগ পর্যন্ত হাদিস শাস্ত্রসমূহ (علوم الحديث)।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর সংক্ষিপ্ত জীবনী।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: ইমাম বুখারীর ইলমি রচনাবলির পরিচিতি।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌المبحث الأول: كتب السنة قبل الجامع الصحيح

إن الجامع الصحيح للإمام البخاري لم يأت من فراغ وإنما هو حلقة من سلسلة ممتدة من لدن العهد الأول لتدوين الحديث إلى عصر هذا الإمام، هذه الحلقة جاءت مكمّلة لتلك الحلقات ومتممة لها. وإن استفادة الإمام البخاري من جهود الأئمة الذين سبقوه كانت استفادة عظيمة سواء من حيث المادة أم من حيث الطريقة والمنهجية. فلقد عكف على مصنفات من سبقه فحفظها واستوعبها وضمن مقاصدها في كتابه حسب الشرط الذي وضعه له.

ولقد بين الإمام الدهلوي طريقة التصنيف في الحديث قبل الإمام البخاري فقال (1) :

" أول ما صنف أهل الحديث في علم الحديث جعلوه مدوناً في أربعة فنون:

في السنة أعني الذي يقال له الفقه مثل موطأ مالك، وجامع سفيان، وفن التفسير مثل كتاب ابن جريج، وفن السير مثل كتاب محمد بن إسحاق، وفن الزهد والرقاق مثل كتاب ابن المبارك، فأراد البخاري رحمه الله أن يجمع الفنون الأربعة في كتاب ويجرده لما حكم له العلماء

--------------------------------------------

(1) شرح تراجم البخاري ص7، نقلاً عن كتب السنة دراسة توثيقية للدكتور رفعت فوزي عبد المطلب ط أولى سنة 1979م - مكتبة الخانجي، ص 78.
‌‌প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-জামি আল-সহিহ-এর পূর্ববর্তী সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ

নিশ্চয়ই ইমাম বুখারীর ‘আল-জামি আল-সহিহ’ কোনো শূন্যতা থেকে উদ্ভূত হয়নি; বরং এটি হাদিস সংকলনের (تدوين الحديث) প্রথম যুগ থেকে শুরু করে এই ইমামের যুগ পর্যন্ত বিস্তৃত একটি অবিচ্ছিন্ন ধারার একটি যোগসূত্র। এই যোগসূত্রটি পূর্ববর্তী সেই ধারাগুলোর পরিপূরক ও পূর্ণতাদানকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পূর্ববর্তী ইমামগণের প্রচেষ্টাসমূহ থেকে ইমাম বুখারীর জ্ঞান আহরণ ছিল অত্যন্ত ব্যাপক, তা বিষয়বস্তুর দিক থেকে হোক কিংবা কর্মপদ্ধতি ও মানহাজ (منهجية)-এর দিক থেকেই হোক। তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের রচনাবলি নিবিষ্টচিত্তে অধ্যয়ন করেছেন, সেগুলো মুখস্থ ও আত্মস্থ করেছেন এবং তাঁর নির্ধারিত শর্ত (شرط) অনুযায়ী সেগুলোর মূল উদ্দেশ্যসমূহকে নিজ কিতাবে সন্নিবেশিত করেছেন।

ইমাম দেহলভি ইমাম বুখারীর পূর্ববর্তী সময়ে হাদিস সংকলন (تصنيف) পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন (১):

"হাদিস বিশারদগণ (أهل الحديث) ইলমে হাদিসের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম যখন গ্রন্থনা শুরু করেন, তখন তাঁরা একে চারটি শিল্প বা শাখায় (فنون) বিন্যস্ত করেছিলেন:

সুন্নাহর (السنة) ক্ষেত্রে—অর্থাৎ যাকে ফিকহ (فقه) বলা হয়—যেমন: মালিকের মুওয়াত্তা এবং সুফিয়ানের জামি; তাফসির (تفسير) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যেমন: ইবনে জুরাইজের কিতাব; সীরাত (سير) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যেমন: মুহাম্মদ ইবনে ইসহাকের কিতাব; এবং যুহদ (زهد) ও রিকাক (رقاق) শাস্ত্রের ক্ষেত্রে, যেমন: ইবনুল মুবারকের কিতাব। এরপর ইমাম বুখারী (রাহিমাহুল্লাহ) ইচ্ছা করলেন এই চারটি শাস্ত্রকে একটি কিতাবে একত্রিত করতে এবং একে কেবল সেই অংশগুলোর জন্য পরিমার্জিত করতে যেগুলোকে উলামায়ে কেরাম [সহিহ হিসেবে] সাব্যস্ত করেছেন..."

--------------------------------------------

(১) শারহু তারাজিমিল বুখারি, পৃষ্ঠা ৭; ড. রিফআত ফাওজি আব্দুল মুত্তালিব রচিত 'কুতুবুস সুন্নাহ: দিরাসাতুন তাওসিকিয়্যাহ' থেকে উদ্ধৃত, প্রথম প্রকাশ ১৯৭৯ খ্রিস্টাব্দ - মাকতাবাতুল খানজি, পৃষ্ঠা ৭৮।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২২)
بالصحة قبل البخاري وفي زمانه، ويجرده للحديث المرفوع المسند وما فيه من الآثار وغيرها، إنما جاء تبعاً لا أصالة ولهذا سمي كتابه الجامع الصحيح المسند ".

فحركة التأليف والتصنيف في السنة في القرنين الثاني والثالث كانت جد نشيطة، وقد أثمرت هذه الحركة العشرات بل المئات من كتب السنة، وهذه الكتب على كثرتها يمكن حصرها في المجموعات التالية:

كتب السنن، والمصنفات، والجوامع، والمسانيد، وكتب التفسير، وكتب المغازي والسير، والأجزاء المفردة في أبواب مخصوصة، وفيما يلي تعريف موجز بأهم هذه المصنفات ومناهجها ومادتها لنقف على مدى استفادة الإمام البخاري من هذه الكتب في صحيحه.

‌‌أ - كتب السنن:

وهي الكتب المرتبة على الأبواب الفقهية من الإيمان والطهارة والصلاة والزكاة إلى آخرها وليس فيها شيء من الموقوف لأن الموقوف لا يسمى في اصطلاحهم سنة ويسمى حديثاً (1) ، وهذا تعريف بأهم وأشهر كتب السنن إلى عصر البخاري:

1) سنن أبي الوليد عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج الرومي (ت 151) (2) ذكرها الكتاني في الرسالة المستطرفة، ولا تفيدنا المصادر عنها شيء.

--------------------------------------------

(1) محمد بن جعفر الكتاني: الرسالة المستطرفة لبيان مشهور كتب السنة المشرفة، مكتبة الكليات الأزهرية، ص 25. قلت: هذا الذي ذكره العلامة الكتاني يخالف الواقع. وكتب السنن تشمل كثيراً من الموقوفات والمقطوعات تذكر على سبيل التبع، لا أصالة ولا رواية، وعددها قليل مقارنة بالمصنفات والموطآت.

(2) عبد الملك بن عبد العزيز بن جريج الأموي مولاهم أبو الوليد المكي، أحد الأئمة الأعلام، له كتاب السنن ذكره ابن النديم في الفهرست: ص 330، الكتاني في الرسالة المستطرفة ص 26. ترجمته في تاريخ بغداد: ج106 ص 40، تذكرة الحفاظ: ج1 ص 169، تهذيب التهذيب ج6 ص 402، والتقريب: ص 362 تحقيق محمد عوامة.
বিশুদ্ধতার (الصحة) সাথে বুখারীর পূর্বে এবং তাঁর যুগে, এবং তিনি একে কেবল মারফু (المرفوع) ও মুসনাদ হাদিসের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। আর এতে যেসব আসর (الآثار) ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে, তা কেবল প্রাসঙ্গিকভাবে এসেছে, মূল উদ্দেশ্য হিসেবে নয়; একারণেই তাঁর কিতাবের নাম রাখা হয়েছে আল-জামি আল-সহিহ আল-মুসনাদ।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় হিজরি শতাব্দীতে সুন্নাহর সংকলন ও গ্রন্থ রচনার আন্দোলন অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। এই আন্দোলনের ফলে সুন্নাহর ওপর কয়েক ডজন নয় বরং শত শত কিতাব রচিত হয়েছে। এই কিতাবগুলো সংখ্যায় অধিক হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোকে নিম্নোক্ত শ্রেণিসমূহে বিন্যস্ত করা সম্ভব:

সুনান গ্রন্থসমূহ, মুসান্নাফাত, জামে গ্রন্থসমূহ, মুসনাদসমূহ, তাফসিরের কিতাবসমূহ, মাগাজি ও সিরাতের কিতাবসমূহ এবং বিশেষ বিশেষ বিষয়ের ওপর একক জুজসমূহ। ইমাম বুখারী তাঁর সহিহ গ্রন্থে এই কিতাবগুলো থেকে কতটুকু উপকৃত হয়েছেন তা অনুধাবনের জন্য নিম্নে এই কিতাবগুলোর গুরুত্ব, কর্মপদ্ধতি ও বিষয়বস্তুর সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরা হলো।

‌‌অ - সুনান গ্রন্থসমূহ:

এগুলো হলো সেসব কিতাব যা ইমান, পবিত্রতা, সালাত, জাকাত থেকে শুরু করে শেষ পর্যন্ত ফিকহি অধ্যায় অনুযায়ী বিন্যস্ত। এতে মাওকুফ (الموقوف) পর্যায়ের কিছু নেই, কারণ তাঁদের পরিভাষায় মাওকুফকে (الموقوف) সুন্নাহ বলা হয় না বরং হাদিস বলা হয় (১)। ইমাম বুখারীর যুগ পর্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ সুনান গ্রন্থসমূহের পরিচয় নিচে দেওয়া হলো:

১) আবু ওয়ালিদ আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ আর-রুমীর (মৃত ১৫১ হি.) সুনান (২)। কাত্তানি এটি আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে অন্যান্য উৎসগুলো থেকে এ সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

--------------------------------------------

(১) মুহাম্মদ বিন জাফর আল-কাত্তানি: আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ লি বায়ানিল মাশহুর কুতুবিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ, মাকতাবাতুল কুল্লিয়াত আল-আজহারিয়্যা, পৃষ্ঠা ২৫। আমি বলছি: আল্লামা কাত্তানি যা উল্লেখ করেছেন তা বাস্তবতার পরিপন্থী। কারণ সুনান গ্রন্থগুলো অনেক মাওকুফ (الموقوفات) ও মাকতু (المقطوعات) বর্ণনা শামিল করে যা প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা হয়, মূল উদ্দেশ্য বা স্বতন্ত্র বর্ণনা হিসেবে নয়। মুসান্নাফ ও মুয়াত্তা গ্রন্থগুলোর তুলনায় এগুলোর সংখ্যা খুবই নগণ্য।

(২) আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ বিন জুরাইজ আল-উমায়্যি মাওলাহুম আবু ওয়ালিদ আল-মাক্কি, অন্যতম প্রখ্যাত ইমাম। তাঁর সুনান নামক একটি কিতাব রয়েছে যা ইবনে নাদিম আল-ফিহরিস্ট: পৃষ্ঠা ৩৩০ এবং কাত্তানি আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফাহ: পৃষ্ঠা ২৬-এ উল্লেখ করেছেন। তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখ বাগদাদ: খণ্ড ১০৬, পৃষ্ঠা ৪০; তাজকিরাতুল হুফফাজ: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৬৯; তাহজিবুত তাহজিব: খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৪০২ এবং আত-তাকরিব: পৃষ্ঠা ৩৬২ (মুহাম্মদ আওয়ামাহ সম্পাদিত সংস্করণ)।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৩)
2) سنن سعيد بن منصور (ت 227هـ) (1) .

طبعت بتحقيق الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي، ولكن النسخة غير كاملة، والمقدار الموجود منها يشتمل على (2978) حديثاً تبدأ بكتاب الفرائض ثم النكاح وما يتعلق به، ثم الطلاق ثم الجهاد، طبعت في مجلدين.

3) سنن محمد بن الصباح (ت 227هـ) (2) ذكرها الكتاني في الرسالة المستطرفة (3) ولا تفيدنا المصادر عنها بشيء.

4) سنن الدارمي (ت 255هـ) (4) أسانيده عالية، وثلاثياته أكثر من ثلاثيات البخاري. وهو من شيوخ البخاري، وقد روى عنه في غير الجامع، ومنهم من يطلق عليها المسند لكون أحاديثها مسندة مطبوع عدة طبعات في مجلدين، وكان الحافظ العلائي يقول: (ينبغي أن يكون كتاب الدارمي سادساً للخمسة بدلاً من سنن ابن ماجة، فإنه قليل الرجال الضعفاء، نادر الأحاديث المنكرة الشاذة، وإن كانت فيه أحاديث مرسلة وموقوفة فهو مع ذلك أولى منه) (5) .

--------------------------------------------

(1) هو سعيد بن منصور بن شعبة، أبو عثمان الخرساني. نزيل مكة، ثقة مصنف، وكان لا يرجع عما في كتابه لشدة وثوقه به، مات سنة سبع وعشرين ومائتين وقيل بعدها وروى عنه الجماعة، التقريب ص 241. وانظر ترجمته في: التاريخ الكبير ج2 ص 472، والصغير ص 240 وطبقات ابن سعد ج6 ص 367، الجرح والتعديل: ج2 ص 68، تذكرة الحفاظ: ج2 ص5، والتهذيب: ج4 ص 89 - 90.

(2) هو محمد بن الصباح البزار الدولابي، أبو جعفر البغدادي، ثقة حافظ، من العاشرة، مات سنة سبع وعشرين ومائتين، وكان مولده سنة خمسين ومائة. روى له الجماعة التقريب ص 484.

(3) الرسالة المستطرفة ص 28.

(4) هو الحافظ أبو محمد عبد الله بن عبد الرحمن بن الفضل التيمي السمرقندي. الدارمي نسبة إلى دارم بن مالك بطن كبير بن تميم. توفي يوم التروية ودفن يوم عرفة سنة خمس وخمسين ومائتين ومولده سنة 181هـ. ترجمته في: تاريخ بغداد: ج10 ص 29، تذكرة الحفاظ: ج2 ص 534.

(5) انظر فتح المغيث للسخاوي: ج1 ص 100.
2) সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর (মৃত্যু ২২৭ হি.) (১)।

এটি শায়খ হাবিবুর রহমান আল-আজমীর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে, তবে পাণ্ডুলিপিটি অসম্পূর্ণ। এর বিদ্যমান অংশটিতে (২৯৭৮) টি হাদিস রয়েছে যা উত্তরাধিকার আইন (الفرائض) অধ্যায় দিয়ে শুরু হয়েছে, এরপর বিবাহ (النكاح) ও সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, এরপর তালাক (الطلاق) এবং তারপর জিহাদ (الجهاد) অধ্যায়। এটি দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

৩) সুনান মুহাম্মদ ইবনুল সাবাহ (মৃত্যু ২২৭ হি.) (২)। কাত্তানি এটি 'আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফা' (৩) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, তবে অন্যান্য উৎসগুলো থেকে এ সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।

৪) সুনান আদ-দারিমি (মৃত্যু ২৫৫ হি.) (৪)। এর সনদসমূহ অত্যন্ত উচ্চমানের (أسانيده عالية) এবং এর সুলাসিয়াত (ثلاثيات) বা তিন বর্ণনাকারী বিশিষ্ট সনদগুলো সংখ্যায় সহীহ বুখারীর সুলাসিয়াতের চেয়েও বেশি। তিনি ইমাম বুখারীর শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং বুখারী তাঁর 'আল-জামি' (সহীহ বুখারী) ব্যতীত অন্য গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। কেউ কেউ একে 'মুসনাদ' (المسند) বলে অভিহিত করেন কারণ এর হাদিসসমূহ মুসনাদ (مسندة) বা বর্ণনাসূত্র সংবলিত। এটি দুই খণ্ডে কয়েকবার মুদ্রিত হয়েছে। হাফিজ আল-আলাই বলতেন: "সুনান ইবনে মাজাহ-এর পরিবর্তে সুনান আদ-দারিমিকে পাঁচটি কিতাবের পরে ষষ্ঠ কিতাব হিসেবে গণ্য করা উচিত; কারণ এতে দুর্বল (الضعفاء) বর্ণনাকারীর সংখ্যা খুবই কম এবং এতে অস্বীকৃত (المنكرة) ও ব্যতিক্রমী (الشاذة) হাদিস খুবই বিরল। যদিও এতে কিছু বিচ্ছিন্ন (مرسلة) এবং মওকুফ (موقوفة) হাদিস রয়েছে, তবুও এটি তার (সুনান ইবনে মাজাহ-এর) চেয়ে অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য" (৫)।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন সাঈদ ইবনে মানসুর ইবনে শুবাহ, আবু উসমান আল-খুরাসানি। মক্কায় বসবাসকারী, নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং গ্রন্থকার (مصنف)। নিজ গ্রন্থের ওপর প্রবল আস্থার কারণে তিনি তাতে যা থাকতো তা থেকে ফিরে আসতেন না। তিনি ২২৭ হিজরি সালে মৃত্যুবরণ করেন, কেউ কেউ এর পরবর্তী সময়ের কথা বলেছেন। 'আল-জামাআহ' (الجماعة) তথা শীর্ষস্থানীয় ৬ হাদিস বিশারদ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, আত-তাকরিব পৃ. ২৪১। তাঁর জীবনী দেখুন: আত-তারিখুল কবির ২য় খণ্ড পৃ. ৪৭২, আস-সগির পৃ. ২৪০, তাবাকাত ইবনে সাদ ৬ষ্ঠ খণ্ড পৃ. ৩৬৭, আল-জারহ ওয়াত তাদিল ২য় খণ্ড পৃ. ৬৮, তাদকিরাতুল হুফফাজ ২য় খণ্ড পৃ. ৫ এবং আত-তাহজিব ৪র্থ খণ্ড পৃ. ৮৯-৯০।

(২) তিনি হলেন মুহাম্মদ ইবনুল সাবাহ আল-বাজজার আদ-দুলাবি, আবু জাফর আল-বাগদাদি। তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) হাফিজ (حافظ), দশম স্তরের (العاشرة) বর্ণনাকারী। তিনি ২২৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর জন্ম ছিল ১৫০ হিজরিতে। 'আল-জামাআহ' (الجماعة) তথা শীর্ষস্থানীয় ৬ হাদিস বিশারদ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আত-তাকরিব পৃ. ৪৮৪।

(৩) আর-রিসালাতুল মুসতাতরাফা পৃ. ২৮।

(৪) তিনি হলেন হাফিজ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ ইবনে আবদুর রহমান ইবনুল ফদল আত-তাইমি আস-সামারকান্দি। বনু তামিমি গোত্রের অন্যতম বড় শাখা দারিম ইবনে মালিকের দিকে সম্বন্ধ করে তাঁকে 'দারিমি' বলা হয়। তিনি ২৫৫ হিজরির ইয়াউমুত তারবিয়া (৮ই জিলহজ) মৃত্যুবরণ করেন এবং আরাফার দিনে সমাহিত করা হয়। তাঁর জন্ম ১৮১ হিজরিতে। তাঁর জীবনী দেখুন: তারিখু বাগদাদ ১০ম খণ্ড পৃ. ২৯, তাদকিরাতুল হুফফাজ ২য় খণ্ড পৃ. ৫৩৪।

(৫) দেখুন: সাখাভীর ফাতহুল মুগিস ১ম খণ্ড পৃ. ১০০।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৪)
وقال الحافظ: (لو ضم إلى الخمسة لكان أولى من ابن ماجة فهو أمثل منه بكثير) (1) .

‌‌ب - المصنفات والجوامع:

هي كتب مرتبة على الأبواب الفقهية مشتملة على السنن وما هو في حيزها أو له تعلق بها (2) وهي كثيرة نعرّف بأهمها وأشهرها.

1) جامع أبي عروة معمر بن راشد الأزدي (3) (153هـ أو 154 هـ) .

2) جامع سفيان الثوري (4) (161 هـ) .

3) مصنف حماد بن سلمة (5) (ت 167 هـ) .

4) كتاب الآثار لمحمد بن الحسن الشيباني (ت 189هـ) .

وهو عبارة عن أحاديث مرفوعة وموقوفة ومرسلة في مسائل الفقه، طبع في مجلدين بتعليق الأستاذ أبو الوفا الأفغاني، ويشتمل على (268) أثراً وقد أفرد الحافظ ابن حجر جزءاً لطيفاً في تراجم رواته

--------------------------------------------

(1) نقله الصنعاني في توضيح الأفكار: ج1 ص 231.

(2) الرسالة المستطرفة لبيان مشهور كتب السنة المشرفة، ص 30 فما بعدها.

(3) معمر بن راشد بن عمرو الأزدي البصري: أحد الأعلام وحفاظ الحديث، ولد في البصرة وانتقل إلى اليمن واستقر بها. له كتاب الجامع مخطوط نسخة منه في مكتبة فيض الله وأخرى في أنقره، حققه الأستاذ فؤاد سزكين ولم يطبع إلى الآن، له ترجمة في: طبقات ابن سعد: ج5 ص 397، تذكرة الحفاظ: ج1 ص 190.

(4) هو سفيان بن سعيد بن مسروق الثوري، كان إماماً مجتهداً، أجمع الناس على دينه وورعه وزهده، وثقته في الرواية، راوده المنصور ثم المهدي على أن يلي القضاء فأبى، وتوارى، وانتقل إلى البصرة ومات فيها سنة 161هـ - ترجمته في: التاريخ الكبير للبخاري: ج2 ق2 ص 92 - 93، تاريخ بغداد: ج9 ص 151 - 174 وتهذيب التهذيب: ج4 ص 111 - 115.

(5) حماد بن سلمة بن دينار البصري أبو سلمة، ثقة حافظ عابد، أخرج له مسلم وأصحاب السنن. مات سنة 167هـ ترجمته في: التاريخ الكبير: ق1 ص 22، حلية الأولياء: ج6 ص 249، تذكرة الحفاظ: ج1 ص 502، تهذيب التهذيب: ج3 ص 11.
হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেছেন: "যদি এটিকেও পাঁচটির সাথে যুক্ত করা হতো তবে ইবনে মাজাহ-এর তুলনায় এটিই অগ্রগণ্য হতো, কারণ এটি তার চেয়ে অনেক বেশি উত্তম।" (১) .

‌‌খ - মুসান্নাফ ও জামি গ্রন্থসমূহ:

এগুলো হলো ফিকহি অধ্যায় অনুসারে বিন্যস্ত এমন সব কিতাব যা সুন্নাহ এবং তার আওতাভুক্ত বা তার সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলিকে অন্তর্ভুক্ত করে (২)। এ জাতীয় কিতাব অনেক রয়েছে, আমরা সেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোর সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।

১) আবু উরওয়াহ মা’মার ইবনে রাশিদ আল-আজদি (৩)-এর জামি (১৫৩ হিজরি বা ১৫৪ হিজরি) .

২) সুফিয়ান আস-সাওরি (৪)-এর জামি (১৬১ হিজরি) .

৩) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ (৫)-এর মুসান্নাফ (ওফাত ১৬৭ হিজরি) .

৪) মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানি (ওফাত ১৮৯ হিজরি)-এর কিতাবুল আসার।

এটি ফিকহি মাসআলা সংক্রান্ত মারফু (مرفوع), মাওকুফ (موقوف) এবং বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসসমূহের একটি সংকলন, যা উস্তাদ আবুল ওয়াফা আল-আফগানির টীকাসহ দুই খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এতে ২৬৮টি আসার রয়েছে এবং হাফেজ ইবনে হাজার এর বর্ণনাকারীদের জীবনীর ওপর একটি চমৎকার পুস্তিকা রচনা করেছেন।

--------------------------------------------

(১) আস-সানআনি এটি তাওজিহুল আফকার: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩১-এ উল্লেখ করেছেন।

(২) আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ লি-বায়ানি মাশহুর কুতুবিস সুন্নাহ আল-মুশাররাফাহ, পৃষ্ঠা ৩০ ও পরবর্তী।

(৩) মা’মার ইবনে রাশিদ ইবনে আমর আল-আজদি আল-বাসরি: তিনি অন্যতম প্রসিদ্ধ ইমাম এবং হাদিস বিশারদ (حفاظ)-দের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বসরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ইয়ামেনে স্থানান্তরিত হয়ে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তার কিতাব আল-জামি পাণ্ডুলিপি আকারে রয়েছে, যার একটি কপি ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরিতে এবং অন্যটি আঙ্কারায় রয়েছে। উস্তাদ ফুয়াদ সেজগিন এটি সম্পাদনা করেছেন তবে এখনও মুদ্রিত হয়নি। তার জীবনী: তাবাকাতে ইবনে সাদ: ৫ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৩৯৭, তাজকিরাতুল হুফফাজ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৯০।

(৪) তিনি হলেন সুফিয়ান ইবনে সাঈদ ইবনে মাসরুক আস-সাওরি। তিনি একজন মুজতাহিদ ইমাম (إمام مجتهد) ছিলেন। সকল মানুষ তার দ্বীনদারিতা, তাকওয়া, পরহেজগারি এবং বর্ণনার ক্ষেত্রে তার নির্ভরযোগ্যতা (وثاقة)-র বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। খলিফা মনসুর এবং পরবর্তীতে মাহদি তাকে কাজি (বিচারক) হওয়ার প্রস্তাব দেন কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং আত্মগোপন করেন। তিনি বসরায় স্থানান্তরিত হন এবং সেখানে ১৬১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তার জীবনী: ইমাম বুখারির আত-তারিখুল কবির: ২য় খণ্ড, ২য় অংশ, পৃষ্ঠা ৯২ - ৯৩, তারিখু বাগদাদ: ৯ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৫১ - ১৭৪ এবং তাহজিবুত তাহজিব: ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১১ - ১১৫।

(৫) হাম্মাদ ইবনে সালামাহ ইবনে দিনার আল-বাসরি আবু সালামাহ। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফেজ (حافظ) ও ইবাদতগুজার (عابد) ছিলেন। ইমাম মুসলিম এবং সুনান গ্রন্থকারগণ তার থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি ১৬৭ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার জীবনী: আত-তারিখুল কবির: ১ম অংশ, পৃষ্ঠা ২২, হিলইয়াতুল আউলিয়া: ৬ষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৪৯, তাজকিরাতুল হুফফাজ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫০২, তাহজিবুত তাহজিব: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ১১।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৫)
سماه الإيثار لمعرفة رواة الآثار، وهو مطبوع.

5) مصنف وكيع بن الجراح (197 هـ) .

6) جامع سفيان بن عيينة (1) (ت 198هـ) .

7) مصنف عبد الرزاق بن همام الصنعاني (ت 211هـ) .

طبع في أحد عشر مجلداً بتحقيق حبيب الرحمن الأعظمي ويشتمل على (21033) أثراً ويعتبر من أغنى المصادر بآثار السلف وفقه التابعين. وقد استمد منه البخاري كثيراً في الآثار التي يوردها كما يعلم من خلال " فتح الباري " و " تغليق التعليق " في وصل تلك الآثار.

8) مصنف أبي بكر بن أبي شيبة (ت 235هـ) وقد طُبع كتابه في خمسة عشر جزءاً تشتمل على (19789) أثراً، وقد استفاد منه البخاري كثيراً في الآثار التي يوردها في صحيحه.

‌‌جـ - المسانيد:

وهي الكتب التي موضوعها جعل حديث كل صحابي على حدى صحيحاً كان أو حسناً أو ضعيفاً مرتبين على حروف المعجم وأسماء الصحابة كما فعله غير واحد، أو على القبائل، أو السابقة في الإسلام، أو الشرافة النسبية، أو غير ذلك. وقد يقتصر في بعضها على أحاديث صحابي واحد كمسند أبي بكر أو أحاديث جماعة منهم كمسند الأربعة، أو العشرة، أو طائفة مخصوصة منهم جميعاً وصف واحد كمسند المقلين ومسند الصحابة الذين نزلوا مصر إلى غير ذلك.

والمسانيد كثيرة جداً (2) فقلّ إمام إلا وله مسند وفيما يلي تعريف

--------------------------------------------

(1) هو سفيان بن عيينة بن أبي عمران الهلالي، أبو محمد الكوفي المكي، أحد أئمة الإسلام وحفاظ السنة. ترجمته في مقدمة الجرح والتعديل: ص 32، الطبقات الكبرى: ج5 ص 364، تاريخ بغداد: ج9 ص 174، تذكرة الحفاظ: ج1 ص 262.

(2) الرسالة المستطرفة ص 46 إلى ص 57.
তিনি এর নামকরণ করেছেন 'আল-ইيثার লি-মা'রিফাতি রুওয়াতিল আসার' এবং এটি মুদ্রিত।

৫) মুসান্নাফ ওয়াকি ইবনুল জাররাহ (১৯৭ হি.)।

৬) জামি' সুফিয়ান বিন উয়াইনাহ (১) (মৃত্যু ১৯৮ হি.)।

৭) মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম আস-সান'আনি (মৃত্যু ২১১ হি.)।

এটি হাবিবুর রহমান আল-আ'জমির তাহকিকসহ ১১ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে। এতে (২১০৩৩) টি আসার (أثر) রয়েছে এবং এটি সালাফদের আসার (أثر) এবং তাবেয়ীদের ফিকহের অন্যতম সমৃদ্ধ উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। ইমাম বুখারি তাঁর উল্লিখিত আসারগুলোর (أثر) ক্ষেত্রে এই কিতাব থেকে অনেক তথ্য গ্রহণ করেছেন, যেমনটি সেই আসারগুলোর (أثر) সনদ যুক্ত করার বর্ণনায় 'ফাতহুল বারি' এবং 'তাগলিকুত তালিক' এর মাধ্যমে জানা যায়।

৮) মুসান্নাফ আবু বকর ইবনে আবি শায়বাহ (মৃত্যু ২৩৫ হি.)। তাঁর কিতাবটি ১৫ খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে যাতে (১৯৭৮৯) টি আসার (أثر) রয়েছে। ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ-তে যেসব আসার (أثر) উল্লেখ করেছেন, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই কিতাব থেকে অনেক উপকৃত হয়েছেন।

‌‌গ - মুসনাদসমূহ:

এগুলো এমন সব কিতাব যার মূল বিষয়বস্তু হলো প্রত্যেক সাহাবীর হাদিসকে আলাদাভাবে সংকলন করা, চাই তা সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) অথবা দুর্বল (ضعيف) হোক। এগুলো বর্ণমালার ক্রম অনুযায়ী এবং সাহাবীদের নামানুসারে বিন্যস্ত করা হয়—যেমনটি অনেকে করেছেন—অথবা গোত্রভিত্তিক, ইসলাম গ্রহণে অগ্রগামিতা, বংশীয় শ্রেষ্ঠত্ব বা অন্য কোনো মানদণ্ড অনুযায়ী সাজানো হয়। এর মধ্যে কোনো কোনো কিতাব একজন সাহাবীর হাদিসের ওপর সীমাবদ্ধ থাকতে পারে, যেমন—মুসনাদে আবু বকর; অথবা কয়েকজন সাহাবীর হাদিসের ওপর যেমন—মুসনাদুল আরবা'আ (চারজনের মুসনাদ), বা মুসনাদুল আশারাহ (দশজনের মুসনাদ), অথবা বিশেষ কোনো এক গুচ্ছ সাহাবীর হাদিস যারা একটি অভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী, যেমন—মুসনাদুল মুকিল্লিন (অল্প হাদিস বর্ণনাকারীদের মুসনাদ) এবং মুসনাদুস সাহাবাহ আল্লাযিনা নাযালু মিসর (মিসরে বসবাসকারী সাহাবীদের মুসনাদ) ইত্যাদি।

মুসনাদ কিতাবের সংখ্যা অনেক (২)। খুব কম ইমামই আছেন যাদের নিজস্ব কোনো মুসনাদ নেই। নিচে এর পরিচিতি তুলে ধরা হলো:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ ইবনে আবি ইমরান আল-হিলালি, আবু মুহাম্মদ আল-কুফি আল-মাক্কি, ইসলামের অন্যতম ইমাম এবং সুন্নাহর হাফেজ (حفاظ)। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: মুকাদ্দিমাতুল জারহ ওয়াত তা'দিল: পৃষ্ঠা ৩২, আত-তাবাকাতুল কুবরা: ৫ম খণ্ড ৩৬৪ পৃষ্ঠা, তারিখু বাগদাদ: ৯ম খণ্ড ১৭৪ পৃষ্ঠা, তাযকিরাতুল হুফফাজ: ১ম খণ্ড ২৬২ পৃষ্ঠা।

(২) আর-রিসালাতুল মুসতাতরিফাহ, পৃষ্ঠা ৪৬ থেকে ৫৭।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৬)
لأهمها وأشهرها إلى عصر الإمام البخاري:

1) مسند الإمام أحمد بن حنبل (ت 241هـ) وهو أعلى المسانيد، وهو المراد عند الإطلاق وإن أريد غيره قيد، وقد طبع مراراً وقد أفاض العلامة أحمد شاكر في التعريف به في مقدمة تحقيقه.

2) المسند لأبي داود الطيالسي الحافظ (1) (ت 203 أو 204هـ) ومسنده مطبوع في مجلد واحد وليس هو الجامع له بل جمعه بعض حفاظ خراسان: جمع فيه ما رواه يونس بن حبيب عنه خاصة (2) .

3) مسند أبي محمد عبيد الله بن موسى بن أبي المختار العبسي الكوفي (3) (ت 213هـ) .

4) مسند أبي إسحاق بن نصر بن إبراهيم المطوعي (4) (ت 213هـ) .

5) مسند أسد بن موسى الأموي المعروف بأسد السنة (5) (ت 212هـ) .

6) مسند مسدد بن مسرهد الأسدي البصري (6) (ت 221هـ) .

--------------------------------------------

(1) هو أحد الأعلام الحفاظ روى عن ابن عون وهشام بن أبي عبد الله عباد بن منصور وحرب بن شداد وروى عنه جرير بن عبد الحميد شيخه وابن بشار وابن رافع وخلق، أثنى عليه ابن مهدي وأحمد ووكيع وروى أنه حدث بأربعين ألف حديث من حفظه - ترجمته في الخلاصة للخزرجي: ج1 ص 101، التقريب ص 250.

(2) الرسالة المستطرفة ص 46. وانظر الفضل المبين على عقد الجوهر الثمين للقاسمي ص 308 وأما راوي المسند فهو يونس بن حبيب أبو بشر العجلي. ثقة ذو صلاح وجلالة (ت 267هـ) .

(3) هو عبيد الله بن موسى ابن أبي المختار العبسي الكوفي أبو محمد، ثقة، قال الحاكم: هو أول من صنف المسند على تراجم الرجال. مات سنة 213هـ. ترجمته في: تذكرة الحفاظ: ج1 ص 353، طبقات القراء لابن الجزري: ج1 ص 494، التقريب ص 375.

(4) المصدر السابق ص 37.

(5) هو أسد بن موسى بن إبراهيم بن الوليد بن عبد الملك بن مروان الأموي، أسد السنة صدوق يغرب وفيه نصب. مات سنة 212هـ وله ثمانون سنة، روى له البخاري تعليقاً وأبو داود والنسائي، التقريب ص 104.

(6) مسدد بن مسرهد بن مسربل بن مستورد الأسدي البصري، أبو الحسن، ثقة حافظ، يقال عنه أول من صنف المسند بالبصرة، مات سنة 221هـ ويقال اسمه عبد الملك بن عبد العزيز ومسدد لقب، روى له البخاري وأبو داود والترمذي والنسائي، التقريب 561.
ইমাম বুখারি-এর যুগ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রসিদ্ধ মুসনাদসমূহ হলো:

১) মুসনাদ ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (মৃত ২৪১ হি.): এটি মুসনাদসমূহের মধ্যে সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ। সাধারণত ‘মুসনাদ’ শব্দটি নিরঙ্কুশভাবে ব্যবহার করলে এটিকেই বোঝানো হয়, আর অন্য কোনোটি উদ্দেশ্য হলে তা নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়। এটি বহুবার মুদ্রিত হয়েছে এবং আল্লামা আহমাদ শাকির তাঁর সম্পাদিত সংস্করণের ভূমিকায় এর বিস্তারিত পরিচয় প্রদান করেছেন।

২) হাফেজ (حافظ) আবু দাউদ আল-তায়ালিসি (১) (মৃত ২০৩ বা ২০৪ হি.)-এর মুসনাদ: তাঁর মুসনাদটি এক খণ্ডে মুদ্রিত। এটি তিনি নিজে সংকলন করেননি, বরং খোরাসানের কোনো কোনো হাফেজ (حافظ) এটি সংকলন করেছেন। ইউনুস বিন হাবিব তাঁর নিকট থেকে বিশেষভাবে যা বর্ণনা করেছেন, এতে তা-ই সংকলিত হয়েছে (২)।

৩) আবু মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ বিন মুসা বিন আবিল মুখতার আল-আবাসী আল-কুফি (৩) (মৃত ২১৩ হি.)-এর মুসনাদ।

৪) আবু ইসহাক বিন নাসর বিন ইবরাহিম আল-মুতাওয়ায়ি (৪) (মৃত ২১৩ হি.)-এর মুসনাদ।

৫) আসাদ বিন মুসা আল-উমাবি-এর মুসনাদ, যিনি ‘আসাদুস সুন্নাহ’ (৫) নামে পরিচিত (মৃত ২১২ হি.)।

৬) মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ আল-আসাদি আল-বাসরি (৬) (মৃত ২২১ হি.)-এর মুসনাদ।

--------------------------------------------

(১) তিনি অন্যতম ইমাম ও হাফেজ (حافظ)। তিনি ইবনে আউন, হিশাম বিন আবু আব্দুল্লাহ, আব্বাদ বিন মানসুর এবং হারব বিন শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর উস্তাদ জারির বিন আব্দুল হামিদ, ইবনে বাশার, ইবনে রাফে এবং বহু সংখ্যক রাবি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাহদি, আহমাদ এবং ওয়াকি তাঁর প্রশংসা করেছেন। বর্ণিত আছে যে, তিনি তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে চল্লিশ হাজার হাদিস বর্ণনা করেছিলেন—তাঁর জীবনী: আল-খাযরাজির ‘আল-খুলাসাহ’ ১/১০১, ‘আত-তাকরিব’ পৃ. ২৫০।

(২) আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ, পৃ. ৪৬। আরও দেখুন: আল-কাসিমির ‘আল-ফাদলুল মুবিন আলা আকদিল জাওহারিস সামিন’, পৃ. ৩০৮। মুসনাদটির বর্ণনাকারী হলেন আবু বিশর ইউনুস বিন হাবিব আল-ইজলি। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), নেককার ও মর্যাদাবান (মৃত ২৬৭ হি.)।

(৩) তিনি হলেন উবাইদুল্লাহ বিন মুসা বিন আবিল মুখতার আল-আবাসী আল-কুফি আবু মুহাম্মদ, নির্ভরযোগ্য (ثقة)। হাকেম বলেছেন: তিনিই সর্বপ্রথম রাবিদের নামের ক্রমানুসারে মুসনাদ সংকলন করেন। তিনি ২১৩ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর জীবনী: তাযকিরাতুল হুফফায ১/৩৫৩, ইবনুল জাযারির ‘তাবাকাতুল কুররা’ ১/৪৯৪, ‘আত-তাকরিব’ পৃ. ৩৭৫।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃ. ৩৭।

(৫) তিনি হলেন আসাদ বিন মুসা বিন ইবরাহিম বিন আল-ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিক বিন মারওয়ান আল-উমাবি। ‘আসাদুস সুন্নাহ’ সত্যবাদী (صدوق), মাঝে মাঝে বিরল বর্ণনা প্রদান করেন (يغرب) এবং তাঁর মধ্যে নাসব (نصب) এর প্রভাব ছিল। তিনি ২১২ হিজরিতে আশি বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম বুখারি তাঁর থেকে ঝুলন্ত (تعليقاً) হিসেবে এবং আবু দাউদ ও নাসায়ি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘আত-তাকরিব’ পৃ. ১০৪।

(৬) মুসাদ্দাদ বিন মুসারহাদ বিন মুসারবাল বিন মুসতাওরিদ আল-আসাদি আল-বাসরি, আবুল হাসান। তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও হাফেজ (حافظ)। তাঁর সম্পর্কে বলা হয় যে, তিনিই বসরায় সর্বপ্রথম মুসনাদ সংকলন করেন। তিনি ২২১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কেউ কেউ বলেন তাঁর নাম আব্দুল মালিক বিন আব্দুল আজিজ এবং মুসাদ্দাদ তাঁর উপাধি। ইমাম বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজি এবং নাসায়ি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। ‘আত-তাকরিব’ পৃ. ৫৬১।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৭)
7) مسند إسحاق بن إبراهيم بن راهوية (1) (ت 238هـ) وهو من كبار شيوخ البخاري.

8) - 9) مسند أبي بكر (2) ومسند عثمان (3) ابني محمد بن أبي شيبة وهما من كبار شيوخ البخاري.

9) مسند أبي بكر عبد الله بن الزبير الحميدي (4) (ت 219هـ) وهو من كبار شيوخ البخاري.

وحتى الإمام البخاري فإنه صنف مسنداً يسمى بالمسند الكبير، وكذلك الإمام مسلم بن الحجاج له أيضاً مسند كبير على الرجال.

--------------------------------------------

(1) هو إسحاق بن راهوية بن مخلد أبو يعقوب المروزي، نزيل نيسابور أحد أئمة المسلمين وفقهاء الحديث، صاحب الإمام أحمد في بغداد، ومسنده ما يزال مخطوطاً المجلد الرابع منه في دار الكتب المصرية، وله مسائل فقهية هو والإمام أحمد رواها عنهما إسحاق الكوسج. مات سنة 238هـ. ترجمة: في تذكرة الحفاظ ج2 ص 433، التقريب ص 99.

(2) هو أبو بكر عبد الله بن محمد بن أبي شيبة الكوفي، ثقة حافظ صاحب تصانيف، مات سنة خمس وثلاثين ومائتين، روى عنه البخاري ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجة، التقريب ص 320.

(3) هو عثمان بن محمد بن إبراهيم بن عثمان العبسي، أبو الحسن بن أبي شيبة الكوفي، ثقة حافظ شهير، وله أوهام، وقيل: كان لا يحفظ القرآن، مات سنة تسع وثلاثين ومائتين وله ثلاث وثمانون سنة، روى له البخاري ومسلم وأبو داود والنسائي وابن ماجه، التقريب ص 386.

(4) هو عبد الله بن الزبير بن عيسى الأسدي الحميدي، ثقة حافظ فقيه أجل أصحاب ابن عيينة، مات بمكة سنة مائتين وتسعة عشر، وقيل بعدها. قال الحاكم: كان البخاري إذا وجد الحديث عند الحميدي لا يعدوه إلى غيره، التقريب ص 303.

ومسند الحميدي قد طبع في مجلدين بتحقيق وتعليق الشيخ حبيب الرحمن الأعظمي ويشتمل على (1300) حديثاً.
৭) ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম ইবনে রাহওয়াইহ এর মুসনাদ (১) (মৃত্যু ২৩৮ হিজরি), যিনি ইমাম বুখারীর প্রধান শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

৮) - ৯) মুহাম্মদ ইবনে আবু শায়বার দুই পুত্র আবু বকর (২) ও উসমান (৩)-এর মুসনাদ এবং তাঁরা উভয়েই ইমাম বুখারীর প্রধান শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

৯) আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর আল-হুমাইদী এর মুসনাদ (৪) (মৃত্যু ২১৯ হিজরি), যিনি ইমাম বুখারীর প্রধান শিক্ষকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

এমনকি ইমাম বুখারীও একটি মুসনাদ সংকলন করেছিলেন যার নাম ছিল আল-মুসনাদ আল-কাবীর; একইভাবে ইমাম মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজেরও বর্ণনাকারীদের বিন্যাস অনুযায়ী একটি মুসনাদে কাবীর রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ ইবনে মাখলাদ আবু ইয়াকুব আল-মারওয়াযী, নিশাপুরের বাসিন্দা, মুসলিমদের অন্যতম ইমাম এবং হাদিস বিশারদ ফকিহদের একজন। তিনি বাগদাদে ইমাম আহমদের সঙ্গী ছিলেন। তাঁর মুসনাদ এখনও পাণ্ডুলিপি আকারে মিশরের দারুল কুতুব-এ এর চতুর্থ খণ্ড সংরক্ষিত আছে। তাঁর এবং ইমাম আহমদের বেশ কিছু ফিকহি মাসয়ালা রয়েছে যা ইসহাক আল-কাওসাজ তাঁদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি ২৩৮ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। জীবনবৃত্তান্ত: তাযকিরাতুল হুফফাজ ২য় খণ্ড ৪৩৩ পৃষ্ঠা, আত-তাকরীব ৯৯ পৃষ্ঠা।

(২) তিনি হলেন আবু বকর আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবু শায়বা আল-কুফি; তিনি ছিলেন একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও হাফিজ (حافظ) এবং বহু গ্রন্থের প্রণেতা। তিনি ২৩৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আত-তাকরীব ৩২০ পৃষ্ঠা।

(৩) তিনি হলেন উসমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম ইবনে উসমান আল-আবসি, আবুল হাসান ইবনে আবু শায়বা আল-কুফি; তিনি একজন প্রসিদ্ধ নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও হাফিজ (حافظ) ছিলেন। তাঁর কিছু ভুলভ্রান্তি (أوهام) ছিল। বলা হয় যে, তিনি কুরআন হিফজ জানতেন না। তিনি ২৩৯ হিজরিতে ৮৩ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। ইমাম বুখারী, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। আত-তাকরীব ৩৮৬ পৃষ্ঠা।

(৪) তিনি হলেন আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর ইবনে ঈসা আল-আসাদী আল-হুমাইদী; তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফিজ (حافظ) ও ফকিহ (فقيه) এবং ইবনে উয়াইনার ছাত্রদের মধ্যে সবচেয়ে মর্যাদাবান ছিলেন। তিনি মক্কায় ২১৯ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন, কারও মতে এর পরে। আল-হাকিম বলেন: ইমাম বুখারী যখন হুমাইদীর কাছে কোনো হাদিস পেতেন, তখন তিনি সেটি বাদ দিয়ে অন্যের কাছে যেতেন না। আত-তাকরীব ৩০৩ পৃষ্ঠা।

হুমাইদীর মুসনাদ শেখ হাবিবুর রহমান আল-আজমীর সম্পাদনা ও টীকা সহ দুই খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে এবং এতে (১৩০০) টি হাদিস রয়েছে।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৮)
‌‌ر - كتب المغازي والسير:

وهي الكتب التي تهتم بذكر سيرة النبي صلى الله عليه وسلم من مولده إلى وفاته وذكر مبعثه وما قام به من غزوات ضد أعدائه وتفصيل ذلك، وسأذكر أهم الكتب في هذا المجال إلى عصر الإمام البخاري. ويمكن ترتيبها تاريخياً على أربعة طبقات:

الطبقة الأولى: ومن أبرز من اهتم بالسير والمغازي في العهد الأول: عروة بن الزبير (ت 94هـ) وأبان بن عثمان (105هـ) وقد ذكر ابن سعد في طبقاته (1) ما يفيد أن أبان بن عثمان كان له تدوين في السير، ففي ترجمة المغيرة بن عبد الرحمن قال: " إنه ثقة قليل الحديث إلا مغازي رسول الله صلى الله عليه وسلم أخذها من أبان بن عثمان، فكان كثيراً ما تقرأ عليه ويأمر بتعلمها " ولم يصلنا منها شيء.

الطبقة الثانية: ومن أبرز رجالها عبد الله بن أبي بكر بن حزم الأنصاري (2) (ت 135هـ) ، اهتم بأخبار الوفود التي قدمت إلى النبي صلى الله عليه وسلم وأخبار ردة القبائل بعد وفاة النبي صلى الله عليه وسلم. كما جمع غزوات النبي صلى الله عليه وسلم، ورتبها تاريخياً. ومن رجال هذه الطبقة أيضاً عاصم بن عمر بن قتادة (3) (ت 120هـ) وهو شيخ ابن إسحاق، ولمعرفته الوثيقة بالمغازي اختاره الخليفة عمر بن عبد العزيز ليحدث الناس بمسجد دمشق عن المغازي ومناقب الصحابة. وممن اهتم بالمغازي والسير في هذه الطبقة أبو بكر محمد بن مسلم بن شهاب الزهري (4) (ت 124هـ) .

--------------------------------------------

(1) الطبقات الكبرى: ج5 ص 156.

(2) هو عبد الله بن أبي بكر بن محمد بن عمرو بن حزم الأنصاري المدني شيخ مالك والسفيانيين روى عن أنس وجماعة، وكان كثير العلم، روى عن الجماعة ترجمته في التقريب ص 297، وشذرات الذهب: ج1 ص 192.

(3) عاصم بن عمر بن قتادة بن النعمان الأنصاري المدني ثقة حافظ عالم المغازي، أخرج له الجماعة ترجمته في: طبقات ابن سعد: ج 3 ص 452، تهذيب التهذيب: ج5 ص53، والتقريب ص286، وشذرات الذخب: ج1 ص157.

(4) هو الإمام الحافظ المتفق على جلالته وإتقانه: أحد أكابر الفقهاء، رأى عشرى من الصحابة، نزل الشام واستقر بها وصنف في الحديث والمغازي، ترجمته في: تذكرة الحفاظ: ج1 ص108، التهذيب: ج9 ص445، التقريب ص506.
‌র - মাগাজি ও সিরাত গ্রন্থসমূহ:

এগুলো এমন সব গ্রন্থ যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাঁর জীবনী, তাঁর নবুয়ত লাভ, তাঁর শত্রুদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধসমূহ এবং এর বিস্তারিত বর্ণনার প্রতি গুরুত্বারোপ করে। আমি এই ক্ষেত্রে ইমাম বুখারি-র যুগ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করব। এগুলোকে কালানুক্রমিকভাবে চারটি স্তরে (طبقات) বিন্যস্ত করা যেতে পারে:

প্রথম স্তর: প্রথম যুগে যারা সিরাত ও মাগাজি বিষয়ে মনোনিবেশ করেছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন: উরওয়াহ ইবনে আল-জুবায়ের (মৃত্যু ৯৪ হি.) এবং আবান ইবনে উসমান (১০৫ হি.)। ইবনে সাদ তাঁর তাবাকাত (১) গ্রন্থে এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন যা নির্দেশ করে যে আবান ইবনে উসমানের সিরাত বিষয়ক পাণ্ডুলিপি বা সংকলন ছিল। আল-মুগিরা ইবনে আবদুর রহমানের জীবনীতে বলা হয়েছে: "তিনি একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة) এবং স্বল্প হাদিস বর্ণনাকারী (قليل الحديث), তবে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাগাজি সংক্রান্ত বর্ণনা ব্যতীত, যা তিনি আবান ইবনে উসমানের কাছ থেকে গ্রহণ করেছিলেন; এগুলো প্রায়ই তাঁর নিকট পাঠ করা হতো এবং তিনি তা শেখার নির্দেশ দিতেন।" তবে এর কোনো কিছুই আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেনি।

দ্বিতীয় স্তর: এই স্তরের প্রধান ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে হাজম আল-আনসারী (২) (মৃত্যু ১৩৫ হি.)। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট আগত প্রতিনিধি দলসমূহের সংবাদ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন গোত্রের ধর্মত্যাগের (রিদ্দাহ) খবরের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছিলেন। এছাড়া তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুদ্ধগুলোকে সংগ্রহ করেন এবং কালানুক্রমিকভাবে বিন্যস্ত করেন। এই স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ (৩) (মৃত্যু ১২০ হি.)-ও রয়েছেন, যিনি ইবনে ইসহাকের শিক্ষক ছিলেন। মাগাজি শাস্ত্রে তাঁর গভীর জ্ঞানের কারণে খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাঁকে দামেস্কের মসজিদে মাগাজি ও সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা সম্পর্কে আলোচনার জন্য মনোনীত করেছিলেন। এই স্তরে মাগাজি ও সিরাত নিয়ে যারা কাজ করেছেন তাদের মধ্যে আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে মুসলিম ইবনে শিহাব আল-জুহরি (৪) (মৃত্যু ১২৪ হি.) অন্যতম।

--------------------------------------------

(১) তাবাকাতুল কুবরা: খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ১৫৬।

(২) তিনি হলেন আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আমর ইবনে হাজম আল-আনসারী আল-মাদানি; মালেক ও সুফিয়ানদ্বয়ের উস্তাদ। তিনি আনাস (রা.) ও একদল বর্ণনাকারী (جماعة) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি প্রচুর ইলমের অধিকারী ছিলেন এবং একটি জামাত থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে তাকরিব পৃষ্ঠা ২৯৭ এবং শাজারাতুজ জাহাব: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৯২ তে।

(৩) আসিম ইবনে উমর ইবনে কাতাদাহ ইবনে নুমান আল-আনসারী আল-মাদানি; একজন নির্ভরযোগ্য (ثقة), হাফিজ (حافظ) এবং মাগাজি বিশেষজ্ঞ (عالم المغازي)। জামাত তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: তাবাকাত ইবনে সাদ: খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ৪৫২; তাহজিবুত তাহজিব: খণ্ড ৫, পৃষ্ঠা ৫৩; তাকরিব পৃষ্ঠা ২৮৬ এবং শাজারাতুজ জাহাব: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১৫৭।

(٤) তিনি হলেন এমন একজন ইমাম ও হাফিজ (حافظ) যাঁর মর্যাদা ও নিখুঁততা (إتقانه) সর্বসম্মত: তিনি বড় মাপের ফকিহদের অন্যতম। তিনি দশজন সাহাবীকে দেখেছেন। তিনি সিরিয়ায় (শাম) অবস্থান করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে হাদিস ও মাগাজি বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর জীবনী পাওয়া যাবে: তাজকিরাতুল হুফফাজ: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ১০৮; তাহজিব: খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৪৪৫ এবং তাকরিব পৃষ্ঠা ৫০৬।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ২৯)
الطبقة الثالثة: ومن أبرز رجالها موسى بن عقبة بن أبي عياش المدني (1) التابعي الصغير (ت 141هـ) ومغازيه أصح المغازي كما قاله تلميذه مالك بن أنس، وقال الشافعي: ليس في المغازي أصح من كتابه مع صغره وخلوه من أكثر ما يذكر في كتب غيره.

وقال أحمد: (عليكم بمغازي موسى بن عقبة فإنه ثقة) (2) .

وقد نقل الإمام البخاري عن مغازي موسى بن عقبة في مواضع من كتاب المغازي من جامعه منها: باب غزوة الخندق (3) وباب غزوة بني المصطلق (4) ، باب غزوة الطائف (5) ومن رجال هذه الطبقة محمد بن إسحاق (6) بن يسار المطلبي (ت 151هـ) ، تتلمذ على يد الزهري واستفاد منه، ويقال أنه صنف كتابه " السيرة النبوية " بناء على طلب الخليفة العباسي أبو جعفر المنصور لابنه المهدي، وقد رواه عنه تلميذه زياد البكائي وعن البكائي أخذه ابن هشام، وقد ظل كتاب ابن إسحاق هذا موسوماً بالضياع إلى عهد قريب حيث عثر أحد الباحثين الأوربيين على عدة أوراق منه مكتوبة على أوراق البردي المصرية، ثم عُثر على جزء كبير منه بالمغرب

--------------------------------------------

(1) ثقة فقيه إمام في المغازي، روى عن صحابية وعدة من التابعين. له ترجمة في التقريب ص552، وشذرات الذهب: ج1 ص209 - 210.

(2) الرسالة المستطرفة ص 82.

(3) الجامع الصحيح، كتاب المغازي، باب غزوة الخندق: ج7 ص453 (مع الفتح) ط - دار الريان سنة 1407هـ - 1986م.

(4) المصدر نفسه ص 494.

(5) المصدر نفسه ص 639.

(6) هو محمد بن إسحاق بن يسار المطلبي، بالولاء المدني، من حفاظ الحديث، ومن أقدم مؤرخي العرب إمام في المغازي، قال الشافعي: " من أراد أن يتبحر في المغازي فهو عيال على ابن إسحاق " وقال فيه الذهبي: " كان أحد أوعية العلم، خبيراً في معرفة المغازي والسير وليس بذاك المتقن " ترجمته في: تاريخ بغداد: ج1 ص214، تذكرة الحفاظ: ج1 ص182، ميزان الاعتدال: ج3 ص468.
তৃতীয় স্তর: এই স্তরের অন্যতম প্রধান ব্যক্তিত্ব হলেন মুসা বিন উকবা বিন আবি আইয়াশ আল-মাদানি (১), যিনি একজন ছোট তাবিঈ (التابعي الصغير) (মৃত্যু ১৪১ হি.)। তার সংকলিত মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) গ্রন্থসমূহ সর্বাধিক বিশুদ্ধ (أصح), যেমনটি তার ছাত্র মালিক বিন আনাস বলেছেন। ইমাম শাফিঈ বলেছেন: তার কিতাবটি আকারে ছোট হওয়া সত্ত্বেও এবং অন্যদের কিতাবে যা কিছু উল্লেখ করা হয়েছে তার অধিকাংশই এতে না থাকা সত্ত্বেও, মাগাজি বিষয়ক কিতাবসমূহের মধ্যে তার কিতাবের চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ (أصح) আর কিছু নেই।

ইমাম আহমাদ বলেছেন: (তোমরা মুসা বিন উকবার মাগাজি অনুসরণ করো, কেননা তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة)) (২)।

ইমাম বুখারি তার জামে (সহিহ বুখারি) গ্রন্থের কিতাবুল মাগাজির বিভিন্ন স্থানে মুসা বিন উকবার মাগাজি থেকে উদ্ধৃতি দিয়েছেন, যার মধ্যে রয়েছে: খন্দক যুদ্ধের অধ্যায় (৩), বনু মুস্তালিক যুদ্ধের অধ্যায় (৪) এবং তায়েফ যুদ্ধের অধ্যায় (৫)। এই স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম হলেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক (৬) বিন ইয়াসার আল-মুত্তালিবি (মৃত্যু ১৫১ হি.)। তিনি যুহরীর নিকট শিক্ষা লাভ করেন এবং তার থেকে উপকৃত হন। বলা হয় যে, তিনি আব্বাসীয় খলিফা আবু জাফর আল-মানসুরের অনুরোধে তার পুত্র আল-মাহদীর জন্য "আস-সিরাতুন নাবাবীয়াহ" কিতাবটি রচনা করেছিলেন। এটি তার থেকে তার ছাত্র জিয়াদ আল-বুক্কায়ি বর্ণনা করেছেন এবং আল-বুক্কায়ি থেকে ইবনে হিশাম তা গ্রহণ করেছেন। ইবনে ইসহাকের এই কিতাবটি দীর্ঘকাল হারিয়ে গেছে বলে মনে করা হতো, যতক্ষণ না সাম্প্রতিককালে জনৈক ইউরোপীয় গবেষক মিশরের প্যাপিরাসে লেখা এর কিছু পাতা খুঁজে পান, এরপর মরক্কোতে এর একটি বড় অংশ পাওয়া যায়।

--------------------------------------------

(১) নির্ভরযোগ্য (ثقة), ফকিহ (فقيه) এবং মাগাজি শাস্ত্রের ইমাম (إمام)। তিনি একজন নারী সাহাবী ও বেশ কয়েকজন তাবিঈ থেকে বর্ণনা করেছেন। তার জীবনী পাওয়া যাবে التقريب (তাকরিব) পৃষ্ঠা ৫৫২ এবং شذرات الذهب (শাযারাতুজ জাহাব) ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২০৯-২১০।

(২) আর-রিসালাতুল মুস্তাতরিফাহ, পৃষ্ঠা ৮২।

(৩) আল-জামেউস সহিহ, কিতাবুল মাগাজি, খন্দক যুদ্ধের অধ্যায়: ৭ম খণ্ড, ৪৫৩ পৃষ্ঠা (ফাতহুল বারীসহ), মুদ্রণ - দারুর রাইয়ান, বছর ১৪০৭ হি. - ১৯৮৬ ইং।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৪৯৪।

(৫) পূর্বোক্ত উৎস, পৃষ্ঠা ৬৩৯।

(৬) তিনি হলেন মুহাম্মদ বিন ইসহাক বিন ইয়াসার আল-মুত্তালিবি, আনুগত্যের সূত্রে মাদানি, তিনি হাদিস হাফেজদের (حفاظ) অন্তর্ভুক্ত এবং আরবদের প্রাচীনতম ঐতিহাসিক ও মাগাজি শাস্ত্রের ইমাম (إمام)। শাফিঈ বলেছেন: "যে ব্যক্তি মাগাজি শাস্ত্রে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে চায়, তাকে ইবনে ইসহাকের মুখাপেক্ষী হতে হবে।" আয-যাহাবী তার সম্পর্কে বলেছেন: "তিনি ইলমের অন্যতম আধার (أوعية العلم) ছিলেন, মাগাজি ও সিরাত বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন, তবে তিনি খুব বেশি সুনিপুণ (ليس بذاك المتقن) ছিলেন না।" তার জীবনী পাওয়া যাবে: তারিখ বাগদাদ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ২১৪; তাযকিরাতুল হুফফাজ: ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ১৮২; মিজানুল ইতিদাল: ৩য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৬৮।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৩০)
ونشره معهد الدراسات والأبحاث للتعريب بفاس سنة 1989م وحققه الأستاذ محمد حميد الله.

وقد نقل الإمام البخاري في صحيحه عن ابن إسحاق في مواضيع مختفة (1) . ومن أبرز رجال هذه الطبقة أيضاً ابن هشام (2) فقد نشأ بمدينة البصرة بالعراق ورحل إلى مصر حيث التقى بعلمائها منهم الإمام الشافعي. وفي مصر كتب " السيرة النبوية " وقد أخذ كتاب ابن إسحاق فهذبه وحذف منه كثيراً مما لا تعلق له بالسيرة أو شك في صحته ككثير من الأشعار والأنساب، أو أضاف إليه أشياء كثيرة.

ومخطوطات هذا الكتاب كثيرة، وأقدم نسخة منها يرجع تاريخها إلى القرن السادس الهجري (556هـ) .

وكان المستشرق الألماني " وستنفلد " من أوائل المهتمين بطبع هذا الكتاب، فأخرجه سنة (1860هـ) في مجلدين مضبوطاً بالشكل وألحق به مجلداً يحتوي على تعاليق، وملاحظات وفهارس، ثم طبع هذا الكتاب اعتماداً على نسخة الإمام السهيلي، وهي المخطوطة التي أخذها عن شيخه ابن العربي، وتوالت طبعاته، ومن أفضل طبعاته، وأكثرها دقة الطبعة التي حققها الأستاذ مصطفى السقا ومن معه.

الطبقة الرابعة: وهم المصنفون في السير والمغازي ممن عاصروا الإمام البخاري رحمه الله ومن أبرزهم:

--------------------------------------------

(1) انظر: كتاب المغازي من الجامع الصحيح، باب غزوة العشيرة: ج7 ص 326، وباب حديث بني النضير ص382، وباب غزوة الرجيع ورعل وذكوان ص437، وغزوة ذات الرقاع 481، وباب غزوة بني المصطلق ص494، كلها في الجزء السابع من الفتح ط - دار الريان -.

(2) هو عبد الملك بن هشام بن أيوب الحميري المعافري، كان عالماً بالأنساب واللغة وأشعار العرب (ت 218هـ) ترجمته في: وفيات الأعيان: ج2 ص349 - 350، الشذرات: ج2 ص45، البداية والنهاية: ج10 ص267.
এটি ১৯৮৯ সালে ফাসের 'ইনস্টিটিউট অফ স্টাডিজ অ্যান্ড রিসার্চ ফর অ্যারাবাইজেশন' থেকে প্রকাশিত হয় এবং এটি সম্পাদনা করেছেন অধ্যাপক মুহাম্মদ হামিদুল্লাহ।

ইমাম বুখারি তাঁর সহিহ্ গ্রন্থে বিভিন্ন স্থানে (১) ইবনে ইসহাক থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করেছেন। এই স্তরের (الطبقة) অন্যতম বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব হলেন ইবনে হিশাম (২)। তিনি ইরাকের বসরা শহরে লালিত-পালিত হন এবং পরে মিশরে পাড়ি জমান, সেখানে তিনি ইমাম শাফেয়ীসহ সেখানের আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। মিশরে তিনি "সিরাতে নববী" রচনা করেন। তিনি ইবনে ইসহাকের বইটি গ্রহণ করে তা পরিমার্জন করেন এবং সিরাতের সাথে সম্পৃক্ত নয় এমন অনেক কিছু কিংবা যার বিশুদ্ধতা (صحة) নিয়ে সন্দেহ রয়েছে—যেমন অনেক কবিতা ও বংশপরম্পরা—তা বর্জন করেন, অথবা অনেক কিছু এতে সংযোজন করেন।

এই বইটির পাণ্ডুলিপি অনেক এবং এর প্রাচীনতম কপিটি ষষ্ঠ হিজরি শতকের (৫৫৬ হিজরি)।

জার্মান প্রাচ্যবিদ "উস্টেনফেল্ড" এই বইটি ছাপানোর ব্যাপারে প্রথমদিকের আগ্রহীদের একজন ছিলেন। তিনি ১৮৬০ সালে এটি হরকতসহ দুই খণ্ডে প্রকাশ করেন এবং এর সাথে টীকা, পর্যবেক্ষণ ও নির্ঘণ্ট সম্বলিত একটি খণ্ড যুক্ত করেন। এরপর ইমাম সুহাইলি-এর কপির ওপর ভিত্তি করে বইটি মুদ্রিত হয়, যা মূলত এমন একটি পাণ্ডুলিপি যা তিনি তাঁর শিক্ষক ইবনুল আরাবি থেকে গ্রহণ করেছিলেন। পরবর্তীতে এর অনেক সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে এবং এর মধ্যে অন্যতম সেরা ও নির্ভুল সংস্করণ হলো সেটি, যা অধ্যাপক মোস্তফা আল-সাক্কা ও তাঁর সহযোগীরা সম্পাদনা করেছেন।

চতুর্থ স্তর (الطبقة): তাঁরা হলেন সিরাত ও মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) বিষয়ক রচয়িতা, যাঁরা ইমাম বুখারি (রহ.)-এর সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন:

--------------------------------------------

(১) দেখুন: সহিহ্ বুখারি-এর কিতাবুল মাগাজি, বাবু গাযওয়াতিল উশাইরা: ৭ম খণ্ড, ৩২৬ পৃষ্ঠা; বাবু হাদিসি বানি নাযির, ৩৮২ পৃষ্ঠা; বাবু গাযওয়াতিল রাজি, রা'ল ও জাকওয়ান, ৪৩৭ পৃষ্ঠা; গাযওয়াতু জাতুর রিকা, ৪৮১ পৃষ্ঠা; এবং বাবু গাযওয়াতি বানি মুস্তালিক, ৪৯৪ পৃষ্ঠা। এর সবকটিই ফাতহুল বারীর ৭ম খণ্ডে বিদ্যমান (দারুর রাইয়ান সংস্করণ)।

(২) তিনি হলেন আব্দুল মালিক বিন হিশাম বিন আইয়ুব আল-হিময়ারি আল-মা'আফিরি। তিনি বংশবিদ্যা, ভাষা এবং আরবদের কবিতার ক্ষেত্রে পণ্ডিত ছিলেন (মৃত্যু: ২১৮ হিজরি)। তাঁর জীবনী (ترجمة) দেখুন: ওফায়াতুল আইয়ান: ২য় খণ্ড, ৩৪৯ - ৩৫০ পৃষ্ঠা; আশ-শাযারাত: ২য় খণ্ড, ৪৫ পৃষ্ঠা; আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ১০ম খণ্ড, ২৬৭ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৩১)
ابن سعد (1) (ت 230هـ) ولم يفرد المسيرة بمصنف وإنما أفرد أول كتاب الطبقات لسيرة النبي ومغازيه في مجلدين تقريباً، وبقية الطبقات لتراجم الصحابة والتابعين والعلماء إلى عصره، وهو مطبوع.

ومن رجال هذه الطبقة أيضاً ابن أبي خيثمة (2) (ت 279هـ) وكتابه مرتب على الطبقات ذكر فيه تراجم الرواة إلى عصره ومزجه بالتاريخ والسير مع النقد وعلل الحديث ومنهجه مثل منهج ابن سعد في طبقاته، وكتابه غير مطبوع.

ومن رجال هذه الطبقة أيضاً خليفة بن خياط العصفري (3) (ت 240هـ) له كتاب التاريخ وهو مرتب على السنوات، وكتاب الطبقات، كلاهما مطبوع، وخليفة بن خياط من شيوخ الإمام البخاري وقد روى عنه في الجامع الصحيح.

‌‌هـ - كتب التفسير:

وهي الكتب التي اهتمت بتفسير القرآن بالأثر وقد كانت هناك كتب كثيرة في القرنين الثاني والثالث في تفسير القرآن (4) ومن أهمها:

1) تفسير مجاهد (5) (ت 101هـ) .

--------------------------------------------

(1) هو الإمام الحبر أبو عبد الله محمد بن سعد الحافظ: كاتب الواقدي، صاحب الطبقات والتاريخ، توفي ببغداد وله اثنان وستون سنة. روى عن سفيان بن عيينة وهشيم وخلق كثير، ترجمته في: شذرات الذهب: ج2 ص69.

(2) هو الحافظ أحمد بن أبي خيثمة زهير بن حرب النسائي ثم البغدادي، مصنف التاريخ الكبير. سمع أبا نعيم وعفان وطبقتهما. قال الدارقطني: ثقة مأمون، شذرات الذهب: ج2 ص174.

(3) هو أبو عمرو خليفة بن خياط العُصفري، لقبه شباب، صدوق ربما أخطأ، وكان إخبارياً علامة، ترجمته في التقريب ص190، وشذرات الذهب: ج2 ص94.

(4) انظر الرسالة المستطرفة ص57، والفهرست لابن النديم ص163 - 166، ت مصطفى الشويمي.

(5) مجاهد بن جبر، أبو الحجاج المخزومي مولاهم، المكي ثقة إمام في التفسير وفي العلم، مات وله ثلاث وثمانون سنة، روى له الجماعة، ترجمته في التقريب ص520، وشذرات الذهب: ج1 ص125.
ইবনে সাদ (১) (মৃত্যু ২৩০ হিজরি) সীরাতের ওপর স্বতন্ত্র কোনো কিতাব রচনা করেননি, বরং তিনি তাঁর ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থের প্রথম অংশটি নবীজির সীরাত ও মাগাজির জন্য প্রায় দুই খণ্ডে বিন্যস্ত করেছেন। আর তাবাকাতের অবশিষ্টাংশ তাঁর যুগ পর্যন্ত সাহাবী, তাবিঈ এবং উলামাদের জীবনীর জন্য নির্ধারণ করেছেন; এটি বর্তমানে মুদ্রিত অবস্থায় রয়েছে।

এই স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে ইবনে আবি খাইসামাও (২) (মৃত্যু ২৭৯ হিজরি) রয়েছেন। তাঁর কিতাবটি স্তরের (طبقات) ভিত্তিতে বিন্যস্ত। এতে তিনি তাঁর সময় পর্যন্ত বর্ণনাকারীদের জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং ইতিহাসের সাথে সীরাত ও জীবনীর পাশাপাশি পর্যালোচনা ও হাদিসের ত্রুটি (علل الحديث) বিষয়ক আলোচনার সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন। তাঁর পদ্ধতিটি অনেকটা ইবনে সাদের ‘আত-তাবাকাত’ গ্রন্থের পদ্ধতির মতো। তাঁর কিতাবটি মুদ্রিত হয়নি।

এই স্তরের ব্যক্তিদের মধ্যে খলিফা বিন খইয়্যাত আল-উসফুরিও (৩) (মৃত্যু ২৪০ হিজরি) রয়েছেন। তাঁর ‘আত-তারিখ’ নামক একটি গ্রন্থ রয়েছে যা সাল অনুযায়ী বিন্যস্ত, এবং ‘আত-তাবাকাত’ নামক একটি গ্রন্থও রয়েছে; উভয়টিই মুদ্রিত। খলিফা বিন খইয়্যাত ইমাম বুখারীর উস্তাদদের (শায়খ) অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি তাঁর থেকে ‘আল-জামি আস-সহিহ’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।

‌‌ঙ - তাফসির শাস্ত্রের কিতাবসমূহ:

এগুলো হলো সেই সকল কিতাব যা বর্ণনার (আসার) ভিত্তিতে কুরআনের তাফসিরের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় শতাব্দীতে কুরআনের তাফসির বিষয়ে অনেক কিতাব ছিল (৪), যার মধ্যে অন্যতম হলো:

১) তাফসির মুজাহিদ (৫) (মৃত্যু ১০১ হিজরি) ।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন প্রাজ্ঞ ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সাদ আল-হাফিজ (الحافظ): ওয়াকিদির লেখক, ‘আত-তাবাকাত’ ও ‘আত-তারিখ’ গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি বাগদাদে বাষট্টি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তিনি সুফিয়ান বিন উয়াইনা, হুশাইম এবং এক বিশাল জনগোষ্ঠী থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর জীবনী দেখুন: শাযারাতুয যাহাব: ২য় খণ্ড, ৬৯ পৃষ্ঠা।

(২) তিনি হলেন আল-হাফিজ (الحافظ) আহমদ বিন আবি খাইসামা যুহাইর বিন হারব আন-নাসাঈ অতঃপর আল-বাগদাদি, ‘আত-তারিখ আল-কাবির’-এর সংকলক। তিনি আবু নুআইম, আফফান এবং তাঁদের সমসাময়িকদের নিকট থেকে শুনেছেন। দারাকুতনি বলেছেন: নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون)। শাযারাতুয যাহাব: ২য় খণ্ড, ১৭৪ পৃষ্ঠা।

(৩) তিনি হলেন আবু আমর খলিফা বিন খইয়্যাত আল-উসফুরি, তাঁর উপাধি শাবাব; তিনি সত্যবাদী (صدوق) তবে কখনও কখনও ভুল করতেন (ربما أخطأ), এবং তিনি একজন ঐতিহাসিক ও মহা পণ্ডিত ছিলেন। তাঁর জীবনী দেখুন: আত-তাকরিব: ১৯০ পৃষ্ঠা; এবং শাযারাতুয যাহাব: ২য় খণ্ড, ৯৪ পৃষ্ঠা।

(৪) দেখুন: আর-রিসালাতুল মুস্তাতরাফাহ: ৫৭ পৃষ্ঠা; এবং আল-ফিহরিস্ত লি ইবনিন নাদিম: ১৬৩ - ১৬৬ পৃষ্ঠা, মুস্তফা আশ-শুয়াইমি সম্পাদিত।

(৫) মুজাহিদ বিন জাবর, আবু আল-হাজ্জাজ আল-মাখযুমি, তাঁদের আযাদকৃত দাস, মক্কী; তিনি নির্ভরযোগ্য (ثقة), তাফসির ও ইলমের ইমাম ছিলেন। তিনি তিরাশি বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। সিহাহ সিত্তার সকল সংকলক তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর জীবনী দেখুন: আত-তাকরিব: ৫২০ পৃষ্ঠা; এবং শাযারাতুয যাহাব: ১ম খণ্ড, ১২৫ পৃষ্ঠা।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৩২)
2) تفسير سفيان الثوري (ت 161هـ) : لم يفسر فيه الثوري جميع الآيات بل يفسر الآيات التي وصله شيء من تفسيرها عن السلف، وما عثر عليه من هذا التفسير يشتمل على 49 سورة من القرآن الكريم آخرها سورة الطور، وقد حققه الأستاذ امتياز علي العرشي وطبعه في رامبور الهند، ثم طبعته دار الكتب العلمية في بيروت سنة 1403هـ.

3) تفسير عبد الرزاق الصنعاني (1) (ت 211هـ) .

4) تفسير إسحاق بن راهوية (ت 228هـ) .

5) تفسير عثمان بن أبي شيبة (ت 239هـ) .

6) تفسير أبي بكر بن أبي شيبة (ت 235هـ) .

7) تفسير ابن ماجه القزويني (ت 275هـ) .

‌‌و الأجزاء المفردة في أبواب مخصوصة:

وهي كثيرة جداً نذكر منها (2) :

1) الإيمان للإمام أحمد.

2) الإيمان لأبي بكر بن أبي شيبة.

3) الطهور لأبي عُبيد القاسم بن لام البغدادي اللغوي الحافظ (ت 222هـ أو 223هـ أو 224هـ) .

4) الصلاة لأبي نعيم الفضل بن دكين الكوفي التميمي (ت 118هـ أو

--------------------------------------------

(1) هو عبد الرزاق بن همام بن نافع الحميري، مولاهم، أبو بكر الصنعاني، حافظ محدث ثقة، روى عن الأوزاعي وابن جريج ومعمر، له مصنفات كثيرة، ترجمته في: تهذيب التهذيب: ج6 ص310، شذرات الذهب: ج2 ص27.

(2) انظر الرسالة المستطرفة ص 39 - 45.
2) তাফসির সুফিয়ান আস-সাওরী (ওফাত ১৬১ হিজরি): আস-সাওরী এতে সমস্ত আয়াতের ব্যাখ্যা করেননি, বরং কেবল সেই আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা করেছেন যেগুলোর ব্যাখ্যা তিনি পূর্বসূরিদের (سلف) নিকট থেকে লাভ করেছেন। এই তাফসিরের যা আবিষ্কৃত হয়েছে তাতে পবিত্র কুরআনের ৪৯টি সূরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার সর্বশেষটি হলো সূরা আত-তূর। এটি উস্তাদ ইমতিয়াজ আলী আরশি সম্পাদনা করেছেন এবং ভারতের রামপুরে এটি মুদ্রিত হয়েছে। এরপর ১৪০৩ হিজরিতে বৈরুতের দারুল কুতুব আল-ইলমিয়্যাহ থেকে এটি মুদ্রিত হয়েছে।

3) তাফসির আবদুর রাজ্জাক আস-সানআনী (১) (ওফাত ২১১ হিজরি) ।

4) তাফসির ইসহাক বিন রাহওয়াইহি (ওফাত ২২৮ হিজরি) ।

5) তাফসির উসমান বিন আবু শায়বাহ (ওফাত ২৩৯ হিজরি) ।

6) তাফসির আবু বকর বিন আবু শায়বাহ (ওফাত ২৩৫ হিজরি) ।

7) তাফসির ইবনে মাজাহ আল-কাজভিনী (ওফাত ২৭৫ হিজরি) ।

‌‌এবং নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর রচিত একক সংকলনসমূহ (الأجزاء المفردة):

এগুলো সংখ্যায় অনেক, আমরা তার মধ্য থেকে কিছু উল্লেখ করছি (২) :

১) ইমাম আহমদের আল-ঈমান।

২) আবু বকর বিন আবু শায়বাহর আল-ঈমান।

৩) হাফিজ (حافظ) আবু উবায়েদ আল-কাসিম বিন সাল্লাম আল-বাগদাদী আল-লুগাভী (ওফাত ২২২ হিজরি বা ২২৩ হিজরি বা ২২৪ হিজরি) এর আত-তুহুর।

৪) আবু নুয়াইম আল-ফজল বিন দুকাইন আল-কুফি আত-তামিমী (ওফাত ২১৮ হিজরি বা...

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আবদুর রাজ্জাক বিন হাম্মাম বিন নাফি আল-হিময়ারী, তাঁদের আযাদকৃত দাস, আবু বকর আস-সানআনী; তিনি একজন হাফিজ (حافظ), হাদিস বিশারদ (محدث) এবং নির্ভরযোগ্য (ثقة)। তিনি আল-আওযায়ী, ইবনে জুরাইজ এবং মা’মার থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর অনেক গ্রন্থ রয়েছে। তাঁর জীবনী দেখুন: তাহযীবুত তাহযীব: খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩১০; শাযারাতুয যাহাব: খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ২৭।

(২) দেখুন: আর-রিসালাতুল মুস্তাতরিফাহ, পৃষ্ঠা ৩৯ - ৪৫।
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৩৩)
119هـ) من شيوخ الإمام البخاري.

5) قيام الليل لمحمد بن نصر المروزي.

6) الزكاة لأبي محمد يوسف بن يعقوب القاضي.

7) الأموال لأبي عبيد القاسم بن سلام.

8) الإيمان والنذور، والنكاح، له أيضاً.

9) الجهاد لعبد الله بن المبارك (ت 181هـ) وهو أول من صنف فيه.

10) الاستئذان والبر والصلة له أيضاً.

11) الزهد للإمام أحمد، وهو من أحسن ما صنف في هذا الموضوع، لكنه مرتب على الأسماء.

12) الزهد لعبد الله بن المبارك، وهو مرتب على الأبواب، وفيه أحاديث واهية.

13) الزهد لهناد بن السري بن مصعب التميمي الحافظ (ت 243هـ) .

14) الذكر والدعاء لأبي يوسف صاحب أبي حنيفة (ت 182هـ) .

15) الأمثال لأبي عبيد القاسم بن سلام.

16) العلم لأبي خيثمة زهير بن حرب النسائي البغدادي الحافظ (ت 234هـ) روى عنه الإمام مسلم أكثر من ألف حديث، وجزؤه هذا مطبوع بتحقيق الشيخ الألباني.

17) فضائل القرآن للشافعي.

18) ثواب القرآن لابن أبي شيبة.

وغير ذلك مما لا يحصى من الأجزاء في مختلف الموضوعات، وقد أفاد منها الإمام البخاري سواء في جامعه أم في غيره من مصنفاته التي سيأتي التعريف بها في آخر مبحث من هذا الفصل.

من خلال هذا العرض السريع لأهم المصنفات الحديثية إلى عصر الإمام البخاري تتجلى لنا الحقائق العلمية التالية:
১১৯ হি.) তিনি ইমাম বুখারীর শিক্ষকদের (شيوخ) অন্যতম।

৫) মুহাম্মদ বিন নাসর আল-মারওয়াযীর কিয়ামুল লাইল।

৬) আবু মুহাম্মদ ইউসুফ বিন ইয়াকুব আল-কাদীর আজ-যাকাত।

৭) আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লামের আল-আমওয়াল।

৮) তাঁরই রচিত আল-ঈমান, আন-নুযূর এবং আন-নিকাহ।

৯) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের (মৃত্যু ১৮১ হি.) আল-জিহাদ; তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি এই বিষয়ে গ্রন্থ সংকলন (صنف) করেন।

১০) তাঁরই রচিত আল-ইসতি'যান, আল-বিরর ও আস-সিলাহ।

১১) ইমাম আহমদের আয-যুহদ; এটি এই বিষয়ে রচিত শ্রেষ্ঠ সংকলনগুলোর (صنف) অন্যতম, তবে এটি বর্ণনাকারীদের নামের (أسماء) ক্রমানুসারে বিন্যস্ত।

১২) আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারকের আয-যুহদ; এটি অধ্যায়ভিত্তিক (أبواب) বিন্যস্ত এবং এতে অত্যন্ত দুর্বল (واهية) হাদিস রয়েছে।

১৩) হাফিজ (الحافظ) হান্নাদ বিন আস-সারী বিন মুসআব আত-তামিমীর (মৃত্যু ২৪৩ হি.) আয-যুহদ।

১৪) ইমাম আবু হানিফার সঙ্গী আবু ইউসুফের (মৃত্যু ১৮২ হি.) আয-যিকর ওয়াদ-দু'আ।

১৫) আবু উবাইদ আল-কাসিম বিন সাল্লামের আল-আমছাল।

১৬) হাফিজ (الحافظ) আবু খাইছামা যুহাইর বিন হারব আন-নাসায়ী আল-বাগদাদীর (মৃত্যু ২৩৪ হি.) আল-ইলম। ইমাম মুসলিম তাঁর নিকট থেকে এক হাজারেরও বেশি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর এই জুজ (جزء) টি শায়খ আলবানী-এর সম্পাদনায় (تحقيق) মুদ্রিত হয়েছে।

১৭) ইমাম শাফেয়ীর ফাদায়িলুল কুরআন।

১৮) ইবনে আবি শায়বার সওয়াবুল কুরআন।

এবং বিভিন্ন বিষয়ে এ ধরনের অগণিত জুজ (أجزاء) রয়েছে, যা থেকে ইমাম বুখারি উপকৃত হয়েছেন; চাই তা তাঁর জামি' গ্রন্থে হোক কিংবা তাঁর অন্যান্য সংকলনে (مصنفات), যেগুলোর পরিচয় এই অধ্যায়ের শেষ পরিচ্ছেদে আসবে।

ইমাম বুখারির যুগ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিস বিষয়ক গ্রন্থসমূহের এই সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনার মাধ্যমে আমাদের সামনে নিম্নোক্ত তাত্ত্বিক সত্যগুলো পরিস্ফুটিত হয়:
(খণ্ড: ১) মানহাজুল ইমামিল বুখারী (পৃষ্ঠা: ৩৪)
• إن الإمام البخاري لم ينطلق في تصنيف جامعه من فراغ، بل يعتبر صحيحه حلقة من سلسلة ممتدة إلى المصنفين الأوائل كمالك وابن جريح والأوزاعي وابن المبارك وغيرهم.

إن الإضافة الجديدة التي أضافها الإمام البخاري تتمثل في:

• جعل كتابه جامعاً لأنواع علوم الإسلام من عقيدة وفقه وتفسير ومغازي وسير وزهد ورقاق وفضائل وآداب، بينما كان من سبقه يركز على علم من العلوم فالسنن والجوامع والموطآت كانت تهتم بما يتعلق بالأحكام الفقهية دون غيرها من العلوم. وكذلك كتب السير والمغازي. خاصة بهذا الفن ولا تتعرض لغيره. وكذلك كتب التفسير فهي موضوعة لهذا الجانب ولا تتعرض لغيره كالفقه والسير والمغازي. وأما الأجزاء الحديثية فكل جزء منها خاص بباب معين من أبواب العلم، بنما نجد الجامع الصحيح قد اشتمل على كل تلك العلوم وهذا السبب في تسميته بالجامع.

• كان من سبق من العلماء يجمع في كتابه الأخبار ولا يلتزم الصحة. فيذكر الصحيح والحسن والضعيف وقد يكون فيها الموضوع أحياناً، ولكن الإمام البخاري اقتصر في جامعه على الصحيح فقط لذا سماه الجامع الصحيح.

• كان من سبق من العلماء يجمع في كتابه الأحاديث المرفوعة والآثار الموقوفة، والمتصل والمنقطع على حد سواء، لكن البخاري خصّص كتابه لما ورد عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بالأسانيد المتصلة، وإن كان يذكر فيه الآثار والموقوفات على سبيل التبع للاستشهاد، وقد حوى جملة كثيرة من الموقوفات والآثار وعادة يرويها معلّقة، فهي ليست مقصودة أصالة وإنما بالتبع والاستطراد، لذا سمى البخاري كتابه الجامع الصحيح المسند.

• كان المصنفون يهتمون بمزج الحديث بالفقه كما فعل مالك في موطئه، ويذكرون آراء العلماء وفقهاء التابعين والأمصار، والإمام
• ইমাম বুখারি তাঁর জামে গ্রন্থটি শূন্য থেকে সংকলন শুরু করেননি; বরং তাঁর সহিহ গ্রন্থটিকে মালিক, ইবনে জুরাইজ, আওযায়ি, ইবনুল মুবারক এবং অন্যদের মতো প্রাথমিক সংকলকদের দীর্ঘ ধারাবাহিকতার একটি অংশ হিসেবে গণ্য করা হয়।

ইমাম বুখারি যে নতুন বৈশিষ্ট্যসমূহ সংযোজন করেছেন তা নিম্নরূপ:

• তিনি তাঁর কিতাবকে আকিদা, ফিকহ, তাফসির, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান), সিরাত, যুহদ, রিকাক (হৃদয়স্পর্শী বর্ণনা), ফজিলত ও আদবের মতো ইসলামের বিভিন্ন জ্ঞানকাণ্ডের একটি সমন্বিত (جامع) গ্রন্থে পরিণত করেছেন। যেখানে তাঁর পূর্বসূরিরা কোনো একটি বিশেষ শাস্ত্রের ওপর গুরুত্বারোপ করতেন। যেমন: সুনান, জামে ও মুয়াত্তা গ্রন্থগুলো কেবল ফিকহী বিধান সংক্রান্ত বিষয়গুলোর প্রতি মনোযোগ দিত এবং অন্য কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করত না। একইভাবে সিরাত ও মাগাজির কিতাবগুলোও কেবল সেই শিল্পের জন্যই নির্দিষ্ট ছিল এবং অন্য বিষয়ে আলোচনা করত না। তাফসির গ্রন্থগুলোও কেবল সেই বিষয়ের জন্যই রচিত ছিল এবং ফিকহ, সিরাত বা মাগাজির মতো অন্যান্য দিক স্পর্শ করত না। আর হাদিস বিষয়ক জুজ (অংশ) গুলোর প্রতিটি ইলমের কোনো একটি বিশেষ অধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট ছিল। পক্ষান্তরে আমরা দেখি যে, জামে সহিহ এই সবকটি জ্ঞানকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আর এই কারণেই একে জামে নামে নামকরণ করা হয়েছে।

• পূর্ববর্তী আলেমগণ তাঁদের কিতাবে বর্ণনাগুলো সংগ্রহ করতেন কিন্তু কেবল সহিহ (صحيح) হওয়ার শর্তারোপ করতেন না। ফলে তাঁরা সহিহ (صحيح), হাসান (حسن) ও দুর্বল (ضعيف) বর্ণনা উল্লেখ করতেন এবং ক্ষেত্রবিশেষে তাতে জাল (موضوع) বর্ণনাও থাকত। কিন্তু ইমাম বুখারি তাঁর জামে গ্রন্থে কেবল সহিহ (صحيح) বর্ণনার ওপর সীমাবদ্ধ ছিলেন, তাই তিনি এর নাম রেখেছেন জামে সহিহ।

• পূর্ববর্তী আলেমগণ তাঁদের কিতাবে সমভাবে মারফু (مرفوع) হাদিস, মাওকুফ (موقوف) আসার (آثار), এবং নিরবচ্ছিন্ন (متصل) ও বিচ্ছিন্ন (منقطع) সনদযুক্ত বর্ণনাগুলো একত্র করতেন। কিন্তু বুখারি তাঁর কিতাবকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত নিরবচ্ছিন্ন (متصل) সনদযুক্ত হাদিসগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট করেছেন। যদিও তিনি এতে আসার (آثار) ও মাওকুফ (موقوف) বর্ণনাগুলো সহায়ক হিসেবে দলিলের স্বার্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বিপুল সংখ্যক মাওকুফ (موقوف) বর্ণনা ও আসার (آثار) এতে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং সাধারণত সেগুলো ঝুলে থাকা বা মুআল্লাক (معلق) হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এগুলো মূলত মৌলিকভাবে উদ্দেশ্য নয় বরং আনুষঙ্গিক ও প্রাসঙ্গিক আলোচনার অংশ হিসেবে এসেছে। তাই বুখারি তাঁর কিতাবের নাম রেখেছেন জামে সহিহ মুসনাদ।

• সংকলকগণ হাদিসের সাথে ফিকহকে মিশ্রিত করার ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন, যেমনটি মালিক তাঁর মুয়াত্তা গ্রন্থে করেছেন। তাঁরা আলেমদের মতামত এবং তাবিঈন (التابعين) ও বিভিন্ন অঞ্চলের ফকিহদের অভিমত উল্লেখ করতেন। আর ইমাম...