(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: -)
إجماع المحدثين   (حاتم العوني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب : إجماع المحدثين على عدم اشتراط العلم بالسماع في الحديث المعنعن بين المتعاصرين

المؤلف : حاتم بن عارف بن ناصر الشريف العوني

الناشر : دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع - السعودية

الطبعة : الأولى، 1421 هـ

عدد الصفحات: 179

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع ]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

হাদিস বিশারদদের ঐক্যমত (إجماع)   (হাতিম আল-আওনি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র (علوم الحديث)


বই : সমসাময়িক বর্ণনাকারীদের মাঝে ‘আনআনা’যুক্ত (المعنعن) হাদিসের ক্ষেত্রে সরাসরি শ্রবণ (السماع) সাব্যস্ত হওয়া শর্ত না করার বিষয়ে হাদিস বিশারদদের ঐক্যমত (إجماع)

লেখক : হাতিম বিন আরিফ বিন নাসির আল-শরীফ আল-আওনি

প্রকাশক : দার আলাম আল-ফাওয়ায়িদ প্রকাশনা ও বিতরণ - সৌদি আরব

সংস্করণ : প্রথম، ১৪২১ হিজরি

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৯

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির সাথে সংগতিপূর্ণ ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: -)
ـ[إجماع المحدثين على عدم اشتراط العلم بالسماع في الحديث المعنعن بين المتعاصرين]ـ

المؤلف: حاتم بن عارف بن ناصر الشريف العوني

الناشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع - السعودية

الطبعة: الأولى، 1421 هـ

عدد الأجزاء: 1

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع، وهو مذيل بالحواشي]
[সমসাময়িক বর্ণনাকারীদের মাঝে বর্ণিত আনআনাযুক্ত হাদিসের (الحديث المعنعن) ক্ষেত্রে সরাসরি শ্রবণের নিশ্চয়তা (العلم بالسماع) থাকা শর্ত না হওয়ার বিষয়ে হাদিস বিশারদগণের ঐক্যমত্য (إجماع)]

লেখক: হাতেম বিন আরিফ বিন নাসির আল-শরীফ আল-আউনি

প্রকাশক: দার আলম আল-ফাওয়ায়েদ পাবলিশিং অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন - সৌদি আরব

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: -)
[إجماع المحدثين على عدم اشتراط العلم بالسماع في الحديث المعنعن بين المتعاصرين]

المؤلف: الشريف حاتم بن عارف العوني

دار النشر: دار عالم الفوائد للنشر والتوزيع

البلد: المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1421 هـ

عدد الأجزاء: 1

مصدر الكتاب: ملتقى أهل الحديث www.ahlalhdeeth.com

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع وهو مذيل بالحواشي]
[সমসাময়িক বর্ণনাকারীদের মাঝে মুআনআন (معنعن) হাদিসের ক্ষেত্রে শ্রবণ (سماع) নিশ্চিত হওয়া শর্ত না হওয়ার বিষয়ে মুহাদ্দিসগণের ঐক্যমত্য (إجماع)]

লেখক: আশ-শরীফ হাতিম বিন আরিফ আল-আওনি

প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান: দার আলাম আল-ফাওয়ায়িদ লিন-নাশর ওয়াত-তাওজি

দেশ: সৌদি আরব সাম্রাজ্য

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২১ হিজরি

খণ্ড সংখ্যা: ১

বইয়ের উৎস: মুলতাকা আহল আল-হাদিস www.ahlalhdeeth.com

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ এবং এটি পাদটীকা সংবলিত]
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم

‌‌المقدمة

لك اللهمَّ الحمدُ أجمع، حمداً يُرضيك عَجْزُهُ، ويَسْتَزِيدُك الإنعامَ تقصيرُهُ.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمداً عبدُهُ ورسوله.

فاللهم صَلِّ على مُحمّد وعلى أزواجه وذُرِّيَّتِهِ كما صلّيتَ على آل إبراهيم، وبارك على محمد وعلى أزواجِه وذُرِّيَّتِهِ كما باركتَ على آل إبراهيم، إنك حميدٌ مجيدٌ.

أمّا بعد: فإن من أصول دعوتي في (المنهج المقترح لفهم المصطلح) الرجوعَ إلى المعين الصافي للسنة النبويّة وعلومها، والدعوة إلى إحياء منهج أئمة السنة في أصول علومها وفروعها، وتنقيتها من رُكام الجهل والتقليد والعلوم الدخيلة على الإسلام وحضارته.

ونحن اليوم مع أثرٍ جديد من آثار (المنهج المقترح) ، قائم على نَبْذِ التقليد وعلى اعتمادِ الدليل. وهو أساس الدعوة السلفيّة السُّنِّيَّة التي بلغت بركاتُها أقطارَ الأرض، وغزت - بعُدّتها وعتادها من أدلّة الوحيين (الكتاب والسنة) ومنهجِ سلف الأمّة - أعتى القلوبِ وأعدى النفوس، فما برحت أن خالطت بشَاشةَ القلوب، واستلّت عداواتِ النفوس، وشرحتِ الصدورَ لما كان قد انشرح له صَدْرُ أصحابِ النبي صلى الله عليه وسلم، وعلمتْ أنه الحق!
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

‌‌উপক্রমণিকা

হে আল্লাহ! সমস্ত প্রশংসা কেবল আপনারই প্রাপ্য; এমন প্রশংসা যার প্রকাশে অক্ষমতা আপনাকে সন্তুষ্ট করে এবং যার অসম্পূর্ণতা আপনার নিকট থেকে অধিক অনুগ্রহ প্রার্থনা করে।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসূল।

হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পত্নীগণ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমন আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইব্রাহিম (আ.)-এর পরিবারের ওপর। আর আপনি বরকত দান করুন মুহাম্মদ (সা.), তাঁর পত্নীগণ এবং তাঁর বংশধরদের ওপর, যেমন আপনি বরকত দান করেছেন ইব্রাহিম (আ.)-এর পরিবারের ওপর; নিশ্চয়ই আপনি প্রশংসিত ও মহিমান্বিত।

অতঃপর: 'পরিভাষা (المصطلح) বুঝার প্রস্তাবিত পদ্ধতি (المنهج)'-তে আমার দাওয়াতের অন্যতম মূলনীতি (أصول) হলো সুন্নাহ এবং এর বিদ্যাসম্মূহের স্বচ্ছ প্রস্রবণের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং এর মূলনীতি (أصول) ও শাখাগত বিষয়সমূহে সুন্নাহর ইমামগণের অনুসৃত পদ্ধতি (المنهج) পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান জানানো, এবং একে অজ্ঞতা, অন্ধ অনুকরণ ও ইসলাম ও তার সভ্যতায় অনুপ্রবেশকারী বিজাতীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানের জঞ্জাল থেকে মুক্ত করা।

আজ আমরা 'প্রস্তাবিত পদ্ধতি (المنهج)'-এর একটি নতুন নিদর্শনের সম্মুখে উপনীত, যা অন্ধ অনুকরণ বর্জন এবং দলিলের (الدليل) ওপর নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। এটিই হলো সালাফি সুন্নি দাওয়াতের ভিত্তি যার বরকত পৃথিবীর দিগদিগন্তে পৌঁছে গেছে এবং যা ওহীদ্বয়ের (কিতাব ও সুন্নাহ) প্রমাণাদি ও উম্মতের পূর্বসূরিদের (سلف) অনুসৃত পদ্ধতি (المنهج) দ্বারা সুসজ্জিত হয়ে কঠোরতম হৃদয় ও চরম শত্রুভাবাপন্ন নফসসমূহকে জয় করেছে। ফলে তা হৃদয়ের প্রশান্তির সাথে মিশে গেছে, আত্মার শত্রুতা বিদূরিত করেছে এবং বক্ষসমূহকে সেই হিদায়াতের জন্য উন্মুক্ত করেছে যার জন্য নবী (সা.)-এর সাহাবীগণের বক্ষ উন্মুক্ত হয়েছিল এবং তারা উপলব্ধি করেছিলেন যে এটিই ধ্রুব সত্য!
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৬)
وبناءً على ذلك: فإني لا أُحِلُّ لمن لم يتشرّب قَلْبُه ودمُه وعظامُه الدعوةَ السلفيّةَ، القائمة على نَبْذِ التقليد واعتماد الدليل= أن يقرأ هذا البحث، فإنك لستَ محدِّثًا قومًا بحديثٍ لا تبلغه عقولهم إلا كان لبعضهم فتنة. وأي فتنةٍ أعظم من فتنة من يرى التقليدَ هو الدين، ويَعُدُّ اتباعَ الدليل هو البدعة، إذا ما قرأ بحثًا قائمًا على ضدِّ ما يراه؟!

أقول ذلك، لأني في هذا البحث قد ناقشت إحدى مُسَلَّمات التقليد، وسمحتُ لنفسي أن أجعلها مسألةً قابلةً للبحث والعَرْض على الدليل.

فأوصلني هذا النظرُ السلفيُّ إلى نَسْفِ تلك المُسَلَّمة، وبيان أنها خطأٌ محضٌ، ليس لها من الحقّ نصيب!!

فماذا أعمل؟! إذا كان الدليلُ ينقض تلك المُسَلَّمة!!

لقد عانيتُ -أنا قبل غيري- من زعزعة الأدلة لتلك المسلّمة، وكنتُ أعالج من آثار الإلف العلميّ ورسوخِ البدهيّات الوهميّة شدّةً عظيمة، لم أتجاوزها إلا بتوفيق من الله تعالى، حين صَدَقْتُ مع المنهج السلفي في نَبْذِهِ التقليدَ واعتمادِه الدليلَ!

لذلك فإني لن أَعْجَبَ إن عالجَ غيري مثلَ تلك الشِّدّةِ أو أشدّ، بل لن أعجب إن حال الإلف العلميُّ ورسوخُ البدهيّات الوهميّة دون اقتناعه بما جاء في هذا البحث، ولن أعجب -بعد ذلك- إن أنكره وشنّع في إنكاره. لكن ليعلم هذا أنه قد غُلبَ عن منهجه القائم على الدليل، وأنه قد حيل بينه وبين ما يشتهي من السموِّ عن التقليد الأعمى.

أقول هذا كُلَّه، لشدّة ثقتي بصحّة ما توصّلتُ إليه، ولأني لم أترك سبيلاً من سُبُل التحرِّي والتثبّت إلا وسلكته، وكبحتُ نفسي بالحِلم
এবং এর ওপর ভিত্তি করে: যার অন্তর, রক্ত এবং অস্থি-মজ্জায় সালাফি দাওয়াত মিশে যায়নি—যা অন্ধ অনুকরণ (تقليد) বর্জন এবং দলিলের (دليل) ওপর নির্ভরতার ওপর প্রতিষ্ঠিত—তার জন্য এই গবেষণাটি পড়ার অনুমতি আমি দিচ্ছি না। কেননা, আপনি যখন কোনো সম্প্রদায়ের কাছে এমন কোনো হাদিস বর্ণনা করবেন যা তাদের বুদ্ধি ধারণ করতে পারে না, তবে তা তাদের কারো কারো জন্য ফিতনা হিসেবেই দেখা দিবে। আর সেই ব্যক্তির ফিতনার চেয়ে বড় ফিতনা আর কী হতে পারে, যে অন্ধ অনুকরণকে (تقليد) দ্বীন মনে করে এবং দলিলের (دليل) অনুসরণকে বিদআত (بدعة) হিসেবে গণ্য করে, যখন সে তার বিশ্বাসের বিপরীত কোনো গবেষণা পড়ে?!

আমি এ কথা বলছি কারণ, এই গবেষণায় আমি অন্ধ অনুকরণের (تقليد) একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি এবং সেটিকে গবেষণা ও দলিলের (دليل) সামনে উপস্থাপনের যোগ্য একটি মাসআলা হিসেবে গণ্য করার অবকাশ দিয়েছি।

অতঃপর এই সালাফি দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে সেই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়টি চূর্ণ করতে এবং এটি যে একটি নিছক ভুল ও এতে সত্যের কোনো অংশ নেই—তা স্পষ্ট করতে পরিচালিত করেছে!!

আমি এখন কী করব?! যদি দলিলই (دليل) সেই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়টি খণ্ডন করে দেয়!!

অন্যদের আগে আমি নিজেও সেই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়টির প্রতি দলিলের (دليل) করা আঘাতের কারণে দোদুল্যমানতায় ভুগেছি। আমি বৈজ্ঞানিক অভ্যস্ততা এবং কাল্পনিক স্বতঃসিদ্ধতার দৃঢ়মূল প্রভাব থেকে অত্যন্ত কঠিন এক অবস্থা অতিক্রম করছিলাম। মহান আল্লাহর তাওফিক ছাড়া আমি তা কাটিয়ে উঠতে পারতাম না—যখন আমি অন্ধ অনুকরণ (تقليد) বর্জন এবং দলিলের (دليل) ওপর নির্ভরতার ক্ষেত্রে সালাফি মানহাজ (منهج)-এর প্রতি সত্যনিষ্ঠ হয়েছি!

তাই অন্য কেউ যদি একই রকম বা তার চেয়েও বেশি কাঠিন্যের সম্মুখীন হন, তবে আমি তাতে অবাক হব না। বরং বৈজ্ঞানিক অভ্যস্ততা এবং কাল্পনিক স্বতঃসিদ্ধতার দৃঢ়মূল প্রভাব যদি তাকে এই গবেষণার বিষয়বস্তুর ব্যাপারে আশ্বস্ত হতে বাধা দেয়, তবে আমি বিস্মিত হব না। এমনকি এরপরও যদি সে একে অস্বীকার করে এবং কঠোর সমালোচনা করে, তাতেও আমি অবাক হব না। তবে সে যেন জেনে রাখে যে, সে তার দলিল-ভিত্তিক (دليل) মানহাজ (منهج) থেকে বিচ্যুত হয়েছে এবং অন্ধ অনুকরণ (تقليد) থেকে ঊর্ধ্বে ওঠার যে আকাঙ্ক্ষা তার ছিল, তার মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি হয়েছে।

আমি এসব কথা বলছি যা আমি অর্জন করেছি তার সঠিকতার প্রতি আমার গভীর আস্থার কারণে এবং এ কারণে যে, আমি অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের (تثبت) কোনো পথই বাকি রাখিনি এবং নিজেকে ধৈর্যের সাথে সংযত রেখেছি।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৭)
والأناة، حتى عزمت على نِشْر ما أثمره ذلك الجُهدُ والتدبُّر والاستدلالُ والتحلُّمُ والتأنّي.

وإن كنتُ (ولم أزل) أعلم من ضعف الإنسان وجهله ما يمكن معه أن يحيف الحيفَ العظيم، وهو يحسب أنه على الصراط المستقيم. لكن ماذا أعمل؟! والحقُّ أمامي أراه كالشمس، والأدلّةُ تتوارد تَتْرى على إحقاقه وإزهاق الباطل.

ليست المسألة من مسائل العقيدة الكبار، ولا من أصول الدين العظمى، لكنها -بحقّ- من أمهات مسائل علوم الحديث، إنها مسألة شروط قبول الحديث المعنعن.

لقد ابتدأتُ التفكير في هذه المسألة، ومناقشة إحدى أكبر مسلّماتها من عام (1410هـ) ، فانهارت عندي هذه المسلّمة من عام (1411هـ) .

لكني بقيتُ مفكّرًا متدبّرًا، لا أكاد أذكرها لأحدٍ، إلا آحادًا قلائل، حرصًا مني على زيادة التثبّت، وبغرضٍ آخر: هو التفرّغُ لها في بحث مُسْتَقِلّ.

ولقد أعانتني -بعد ذلك- النتائجُ المهمة التي توصّلت لها في كتابي (المرسل الخفي) ، وفيها نتائج لم أسبق إلى التنصيص عليها من قَبْلُ أبدًا في كتب المصطلح وعلوم الحديث= فازددتُ يقينًا من صحّة ما كانت قد قادتنى إليها الأدلّةُ التي سبق أن تنبّهت لها، وزاد عُمقُ المسألة عندي، واسْتَنَارت أدلّتها في قلبي.

حتى ابتدأت إعلانَ ذلك في دروسي الخاصة من عام (1414هـ) ، ثم أعلنتها في محاضرة عامة في مسجد من مساجد مدينة جدّة سنة
এবং ধীরস্থিরতা, যতক্ষণ না আমি সেই প্রচেষ্টা, অনুধাবন, বিচার-বিশ্লেষণ, সহনশীলতা ও সতর্কতার ফসল প্রচারের সংকল্প করেছি।

যদ্যপি আমি মানুষের দুর্বলতা এবং অজ্ঞতা সম্পর্কে অবগত ছিলাম (এবং আছি), যার কারণে একজন মানুষ নিজেকে সঠিক পথে মনে করেও চরম বিচ্যুতিতে লিপ্ত হতে পারে। কিন্তু আমি কী করতে পারি?! সত্য আমার সামনে সূর্যের মতো উজ্জ্বল, আর সত্য প্রতিষ্ঠা ও মিথ্যাকে বিলুপ্ত করার জন্য একের পর এক দলীল উপস্থাপিত হচ্ছে।

বিষয়টি আকিদার বড় কোনো মাসআলা নয়, কিংবা দ্বীনের মহান মূলনীতিসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে এটি প্রকৃতপক্ষে হাদিস শাস্ত্রের মৌলিক বিষয়গুলোর একটি; আর তা হলো মুআনআন (المعنعن) হাদিস গ্রহণের শর্তাবলি সংক্রান্ত মাসআলা।

আমি ১৪১০ হিজরি থেকে এই মাসআলাটি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা এবং এর অন্যতম প্রধান স্বতঃসিদ্ধ নীতি (مسلّمة) নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করি। অতঃপর ১৪১১ হিজরিতে আমার নিকট সেই স্বতঃসিদ্ধ নীতিটি (مسلّمة) অসার প্রমাণিত হয়।

তবে আমি এ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তামগ্ন ছিলাম এবং অধিকতর যাচাইকরণের (التثبت) স্বার্থে খুব সামান্য কয়েকজন ব্যক্তি ছাড়া কারো কাছে এর উল্লেখ করিনি। আমার আরও একটি উদ্দেশ্য ছিল—একটি স্বতন্ত্র গবেষণার মাধ্যমে এই বিষয়ে নিবিষ্ট হওয়া।

পরবর্তীতে আমার রচিত আল-মুরসাল আল-খাফি গ্রন্থে প্রাপ্ত গুরুত্বপূর্ণ ফলাফলগুলো আমাকে প্রভূত সাহায্য করেছে। সেখানে এমন কিছু ফলাফল ছিল যা ইতিপূর্বে মুসতালাহ এবং হাদিস শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে কখনও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে সেই সমস্ত দলীলের সঠিকতা সম্পর্কে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পায়, যা ইতিপূর্বে আমার দৃষ্টিগোচর হয়েছিল। বিষয়টির গভীরতা আমার নিকট বৃদ্ধি পায় এবং এর প্রমাণাদি আমার অন্তরে উদ্ভাসিত হয়।

পরিশেষে, ১৪১৪ হিজরি থেকে আমি আমার ব্যক্তিগত পাঠদানগুলোতে এটি প্রকাশ করতে শুরু করি এবং পরবর্তীতে জেদ্দা শহরের একটি মসজিদে আয়োজিত সাধারণ বক্তৃতায় এটি ঘোষণা করি...
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৮)
(1418هـ) ، وسُجِّلت المحاضرة في شريطين، وانتشرت انتشارًا واسعًا، وتواردت عليّ الأسئلة والاستفسارات والاستشكالات. ثم عُدتُ إلى بَسْطها في دروسي في شرح كتاب ابن الصلاح في علوم الحديث عام (1420هـ) ، وسُجِّلت في ثلاثة أشرطة، شرّقت وغرّبت بين طلبة العلم المهتمّين بعلوم السنة.

وقد تكرّر إليّ الطلبُ بنشر بحثي في هذه المسألة مطبوعًا، وما كنت أؤخّره إلا طلبًا للتفرّغ له. فما أن أنعم الله عليّ بذلك، حتى عاجلت أوراقي وبطاقاتي، كاتبًا هذا البحث المختصر، في هذه المسألة المهمّة.

وممّا عاجلني بإخراج بحثي هذا، أني مع ما أتوقُّعه من تشنيع بعض المقلدين عليّ فيه، إلا أني ضنينٌ بنسبة نتائجه إليّ، معتزٌ بما توصلت إليه فيه، لأني لا أعلم أحدًا من قرون متطاولة قد أفصح بما ذكرته، ولا قرّر ما حرّرته. وقد ابتُلينا في هذا الزمان بما يسمَّى بـ (السرقات العلمية) ، وقد كنت أحدَ ضحاياها في يوم من الأيام (1) ، فلم أر أن السكوت يسعني، وأنه من الواجب عليّ النهيُ عن منكر لُبْسِ ثَوْبَيِ الزُّور، والزجرُ عن تشبُّعِ المَرْءِ بما لم يُعْطَ!!! خاصّةً بعد انتشار أشرطة المحاضرات من سنوات، كما سبق.

ولا أشك أن القارىء الكريم قد عَرَفَ بعضَ تفاصيل المسألة، وما هي المسلّمةُ التي نقضتُها، إما من خلال الأشرطة المشار إليها، أو من خلال عنوان هذا البحث.

--------------------------------------------

(1) ولن أذكر تفاصيل ذلك حتى حين!!!
(১৪১৮ হিজরি), এবং আলোচনাটি দুটি ক্যাসেটে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং এটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, যার ফলে আমার কাছে অসংখ্য প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা ও অস্পষ্টতা আসতে থাকে। এরপর আমি ১৪২০ হিজরিতে হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) ওপর ইবনে সালাহ-এর বইয়ের ব্যাখ্যা প্রদানের পাঠগুলোতে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনার দিকে ফিরে আসি এবং তা তিনটি ক্যাসেটে রেকর্ড করা হয়, যা সুন্নাহর শাস্ত্রসমূহে (علوم السنة) আগ্রহী ইলম অন্বেষণকারীদের মাঝে প্রাচ্য থেকে পাশ্চাত্যে ছড়িয়ে পড়ে।

এই বিষয়ের ওপর আমার গবেষণাটি মুদ্রিত আকারে প্রকাশের জন্য আমার কাছে বারবার অনুরোধ আসতে থাকে, এবং আমি কেবল এর জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করার অভাবেই তা পিছিয়ে দিচ্ছিলাম। যখনই আল্লাহ আমাকে সেই তৌফিক দান করলেন, আমি দ্রুত আমার কাগজপত্র ও নোটগুলো গুছিয়ে নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই সংক্ষিপ্ত গবেষণাটি লিখে ফেললাম।

এই গবেষণাটি প্রকাশে আমার দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার অন্যতম কারণ হলো—যদিও আমি ধারণা করছি যে কিছু অন্ধ অনুসারী এ বিষয়ে আমার সমালোচনা করবে—তবুও এর ফলাফলগুলো নিজের সাথে সম্পৃক্ত রাখার ব্যাপারে আমি অত্যন্ত রক্ষণশীল এবং আমি যা এতে উপনীত হয়েছি তাতে গর্বিত; কারণ আমি জানি না যে দীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে কেউ আমার উল্লিখিত বিষয়গুলো এত স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন কি না, অথবা আমার সম্পাদিত বিষয়গুলো এভাবে সাব্যস্ত করেছেন কি না। আমরা বর্তমান যুগে তথাকথিত 'বুদ্ধিবৃত্তিক চুরি'র (السرقات العلمية) ফিতনায় আক্রান্ত হয়েছি এবং কোনো এক সময়ে আমিও এর অন্যতম ভুক্তভোগী ছিলাম (১)। তাই আমি মনে করিনি যে নীরব থাকা আমার জন্য সমীচীন হবে; বরং এটি আমার ওপর আবশ্যকীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে 'মিথ্যার পোশাক' পরিধানের ন্যায় গর্হিত কাজ থেকে নিষেধ করা এবং কোনো ব্যক্তি যা তাকে দেওয়া হয়নি তা নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা থেকে বিরত রাখা!!! বিশেষ করে কয়েক বছর আগে আলোচনার অডিওগুলো ছড়িয়ে পড়ার পর, যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

আমি কোনো সন্দেহ পোষণ করি না যে সম্মানিত পাঠক এই বিষয়ের কিছু বিশদ বিবরণ এবং আমি কোন স্বতঃসিদ্ধ বিষয়টি খণ্ডন করেছি তা জেনে গিয়েছেন; হয় ইঙ্গিতকৃত অডিওগুলোর মাধ্যমে অথবা এই গবেষণার শিরোনামের মাধ্যমে।

--------------------------------------------

(১) এবং আমি উপযুক্ত সময় না আসা পর্যন্ত এর বিস্তারিত উল্লেখ করব না!!!
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৯)
فالحديث المعنعن (وهو الحديث الذي يرويه الراوي عمن يروي عنه بلفظ: عن) ، قد نُقِل أن في شروط قبوله خلافًا، بسبب أن لفظ (عن) لا يدلّ على الاتّصال في اللغة، والاتصال -كما لا يخفى- أحد أهمّ أركان قبول وصحة المنقولات من الأحاديث والأثار.

وأوّلُ من أثار هذه المسألة هو الإمامُ مسلمٌ في مقدّمة صحيحه، عندما عقد لهذه المسألة فصلاً خاصًا في تلك المقدّمة. وذكر مسلمٌ في ذلك الفصل أن أحدَ الجَهَلَةِ الخاملي الذِّكْرِ قد عَرَض لشروط قبول الحديث المعنعن، مُضيفًا شرطًا زائدًا عمّا عليه أهلُ الحديث قاطبة، ألا وهو شَرْطُ: أن نَقِفَ على ما يدل على السماع واللقاء ولو مَرّةً واحدةً في حديث كُلِّ راويين متعاصِرَيْنِ. فشنّ عليه مسلمٌ لذلك غارةً شديدةً، مُبيّنًا أنه مخالفٌ للإجماع، وأن قوله هذا مبتدع مستحدث.

وبعد الإمام مسلم سكت العلماء عن إثارة هذا الخلاف، حتى جاء القاضي عياض (ت 544هـ) ، فنسب ذلك الشرط الزائد، (الذي بدّعه مسلم ونقل الإجماع على خلافه) إلى الإمام البخاري وشيخه علي بن المديني وغيرهما.

ومن هنا تحوّلت المسألة تحوُّلاً خطيرًا، حيث تبنَّى ابنُ الصلاح (ت 643هـ) الرأيَ المنسوب إلى البخاري. وتتابع العلماء على ذلك، حتى هذا العصر.

بل صَنّفَ أحدُ العلماء كتابًا منفردًا في ترجيح المذهب الذي نُسب إلى البخاري على مذهب مسلم، وهذا العالم هو أبو عبد الله محمد بن عمر بن محمد الفِهْرِي الشهير بابن رُشَيد السبتي

(ت 721هـ) ، وذلك في كتابه (السنن الأبين والمورد الأمعن في المحاكمة بين الإمامين في السند المعنعن) .
মুআনআন (المعنعن) হাদিস (আর তা হলো এমন হাদিস যা বর্ণনাকারী তার ঊর্ধ্বতন বর্ণনাকারী থেকে ‘আন’ শব্দযোগে বর্ণনা করেন); বর্ণিত আছে যে এর গ্রহণযোগ্যতার শর্তাবলি নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কারণ হলো, আভিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘আন’ শব্দটি সংযোগ বা নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال)-র প্রমাণ বহন করে না। আর নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال)—যা অস্পষ্ট নয়—হাদিস ও আছার (الآثار) কবুল ও সহিহ (صحة) হওয়ার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ।

এই বিষয়টি সর্বপ্রথম উত্থাপন করেন ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ-এর ভূমিকায়, যখন তিনি এই বিষয়ের ওপর সেই ভূমিকায় একটি স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদ রচনা করেন। মুসলিম সেই পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছেন যে, জনৈক স্বল্পপরিচিত অজ্ঞ ব্যক্তি মুআনআন (المعنعن) হাদিস কবুলের শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে সর্বসম্মত মুহাদ্দিসগণের মতের বাইরে একটি অতিরিক্ত শর্তারোপ করেছেন। সেই শর্তটি হলো: সমসাময়িক (متعاصرين) দুই বর্ণনাকারীর হাদিসের ক্ষেত্রে অন্তত একবার শ্রবণ (السماع) ও সাক্ষাৎ (اللقاء)-এর প্রমাণ পাওয়া জরুরি। ইমাম মুসলিম এর জন্য তার ওপর কঠোর আক্রমণ চালিয়েছেন এবং স্পষ্ট করেছেন যে এটি ঐক্যমত্য (الإجماع)-এর পরিপন্থী এবং তার এই বক্তব্যটি বিদআতপূর্ণ (مبتدع) ও নব-উদ্ভাবিত (مستحدث)।

ইমাম মুসলিমের পর উলামায়ে কিরাম এই মতভেদটি উত্থাপন করা থেকে বিরত ছিলেন, যতক্ষণ না কাজি আয়াজ (ওফাত ৫৪৪ হি.) আসলেন। তিনি সেই অতিরিক্ত শর্তটিকে (যাকে ইমাম মুসলিম বিদআত সাব্যস্ত করেছেন এবং যার বিপরীতে ঐক্যমত্য (الإجماع) বর্ণনা করেছেন) ইমাম বুখারি, তাঁর উস্তাদ আলি ইবনুল মাদিনি এবং অন্যান্যদের দিকে নিসবত করেছেন।

আর এখান থেকেই বিষয়টি একটি গুরুতর মোড় নেয়, যেখানে ইবনুস সালাহ (ওফাত ৬৪৩ হি.) ইমাম বুখারির দিকে নিসবত করা সেই মতটিকে গ্রহণ করেন। এরপর থেকে বর্তমান যুগ পর্যন্ত আলেমগণ ধারাবাহিকভাবে এরই অনুসরণ করে আসছেন।

এমনকি জনৈক আলেম ইমাম মুসলিমের মতের বিপরীতে ইমাম বুখারির দিকে নিসবত করা মতটিকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য একটি স্বতন্ত্র কিতাব রচনা করেছেন। সেই আলেম হলেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন উমর বিন মুহাম্মদ আল-ফিহরি, যিনি ইবনে রুশাইদ আস-সাবতি

(ওফাত ৭২১ হি.) নামে সুপরিচিত। তাঁর কিতাবটি হলো ‘আস-সুনানুল আবইয়্যান ওয়াল মাওরিদুল আমআন ফিল মুহাকামাতি বাইনাল ইমামাইনি ফিস সানাদিল মুআনআন’।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১০)
وكتب أحدُ الباحثين المعاصرين بحثًا لنيل درجة الماجستير في الموضوع ذاته، وبالنتيجة ذاتها. وهو بحث جيّد، لولا أنه سلّم لتلك المسلّمة، وهي إثبات نسبة شرط العلم باللقاء إلى البخاري وغيره من أئمة الحديث. أعني كتاب (موقف الإمامين البخاري ومسلم من اشتراط اللُّقْيَا والسماع في السند المعنعن بين المتعاصرين) ، لمؤلِّفه خالد منصور عبد الله الدريس.

ومع أن هذا البحث الأخير قد طُبع عام (1417هـ) ، ومع أني قد كنت انتهيتُ قبل طباعته من ترجيح عدم صحّة نسبة شرط العلم باللقاء إلى البخاري وإلى غيره من نُقَّاد الحديث= إلا أن اطلاعي عليه بعد ذلك لم يزدني من ترجيحي السابق ذكره إلا يقينًا، لأن ذلك البحث، وكتاب ابن رُشيد قبله، وكتب المصطلح عمومًا بعد القاضي عياض، لم تكن تتعرّض لأصل المسألة، وهي: (ما مدى صحّة نسبة ذلك الشرط إلى البخاري) ، وإنما كان هَمُّ الجميعِ الترجيحَ بين مذهب البخاري (في حُسبانهم) ومذهب مسلم!!!

ومن هذا التسليم أُتيَ الجميع!!!

ومن مناقشة تلك المسلَّمة وُفّقْتُ إلى الصواب (بحمد الله تعالى) !!

وعرضت هذا البحث تحت ست مسائل:

المسألة الأولى: تحريرُ شَرْطِ البخاري (المنسوب إليه) ، وشَرْطِ مسلم، وشَرْطِ أبي المظفّر السمعاني.

المسألة الثانية: نسبةُ القول باشتراط العلم بالسماع إلى البخاري (تاريخُها، ودليلها، ومناقشة الدليل) .
একজন সমসাময়িক গবেষক একই বিষয়ে এবং একই ফলাফল নিয়ে মাস্টার্স ডিগ্রির জন্য একটি গবেষণা সম্পন্ন করেছেন। এটি একটি উত্তম গবেষণা, যদি না তিনি সেই স্বতঃসিদ্ধ বিষয়টি মেনে নিতেন; আর তা হলো—ইমাম বুখারি এবং হাদিস শাস্ত্রের অন্যান্য ইমামগণের (أئمة الحديث) দিকে সাক্ষাতের জ্ঞান থাকার শর্তটি (شرط العلم باللقاء) আরোপ করা। আমি খালেদ মনসুর আব্দুল্লাহ আল-দ্রিস রচিত ‘মাওকিফুল ইমামাইন আল-বুখারি ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামা ফিস সানাদিল মু'আন'আন বাইনাল মুতা'আসিরিন’ গ্রন্থটি বোঝাচ্ছি।

যদিও এই সর্বশেষ গবেষণাটি ১৪১৭ হিজরিতে মুদ্রিত হয়েছে এবং এর মুদ্রণের পূর্বেই আমি বুখারি ও অন্যান্য হাদিস সমালোচকদের (نُقَّاد الحديث) দিকে সাক্ষাতের জ্ঞান থাকার শর্তটি (شرط العلم باللقاء) আরোপ করার বিষয়টি সঠিক নয় (عدم صحّة) বলে সিদ্ধান্তে (ترجيح) পৌঁছেছিলাম—তথাপিও পরবর্তীতে এটি পাঠ করার পর আমার পূর্বোক্ত সিদ্ধান্তের প্রতি আমার বিশ্বাস কেবল সুদৃঢ়ই হয়েছে। কারণ সেই গবেষণাটি, তার পূর্বে ইবনে রুশাইদের কিতাব এবং সাধারণভাবে কাজি আয়াজের পরবর্তী উসুল আল-হাদিস (المصطلح) বিষয়ক কিতাবসমূহ মূলত মূল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেনি, যা হলো: ‘ইমাম বুখারির দিকে ওই শর্তটি নিসবত করা কতটুকু সঠিক?’ বরং সবার মূল লক্ষ্য ছিল বুখারির মাযহাব (তাদের ধারণা মতে) এবং মুসলিমের মাযহাবের মধ্যে কোনটি প্রাধান্যযোগ্য (الترجيح) তা নিরূপণ করা!!!

আর এই স্বতঃসিদ্ধ হিসেবে গ্রহণ করে নেওয়ার ফলেই সবাই বিভ্রান্তিতে পড়েছেন!!!

আর এই স্বতঃসিদ্ধ ধারণাটি পর্যালোচনার মাধ্যমেই আমি সঠিক সিদ্ধান্তে (আল্লাহ তাআলার প্রশংসায়) উপনীত হওয়ার তাওফিক পেয়েছি!!

আমি এই গবেষণাটি ছয়টি আলোচ্য বিষয়ের অধীনে উপস্থাপন করেছি:

প্রথম আলোচ্য বিষয়: বুখারির শর্তের (যা তাঁর দিকে নিসবত করা হয় (المنسوب إليه)) বিশ্লেষণ (تحرير), ইমাম মুসলিমের শর্ত এবং আবু মুজাফফর আস-সাম'আনির শর্ত।

দ্বিতীয় আলোচ্য বিষয়: ইমাম বুখারির দিকে শ্রবণের জ্ঞান থাকার (العلم بالسماع) শর্তারোপের বিষয়টি (এর ইতিহাস, এর প্রমাণ এবং প্রমাণের পর্যালোচনা)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১১)
المسألة الثالثة: الأدلّة على بطلان نسبة اشتراط العلم باللقاء إلى البخاري وغيره من العلماء.

المسألة الرابعة: بيانُ صواب مذهب مسلم وقُوّة حُجّته فيه.

المسألة الخامسة: أثر تحرير شرط الحديث المعنعن على السنة النبويّة.

المسألة السادسة: الردّ على آخر شُبْهَتين.

وإني من خلال هذه المسائل، وما تضمَّنَتْهُ من عَرْض، لأرجو أن أكون قد نصحتُ للسنة النبويّة، ولطلبة علومها، وللمسلمين عمومًا.

وأُذكّر كُلَّ قارىء لهذا الكتاب أن ينصح لنفسه، بحُسْن القراءة، وتمام التَّفَهُّم (1) ، والتجرُّدِ من الإلف العلميّ، والتحرُّر من قيود التقليد. وأن يُقبل على القراءة وهو مستعدٌ لتغيير أيِّ اعتقادٍ سابقٍ دَلَّهُ الدليلُ على بُطلانه، لا أن يُقْبِل جازمًا بخطأ الكاتب، باحثًا عن العثرات، راغبًا في اكتشاف الزلات. وأن يحرص على مخالفة سَنَنِ الذين في قلوبهم زيغ، فلا يَتَّبعُ المتشابهَ، بل يردُّ المتشابهَ إلى المُحْكَمِ. وعليه بعد ذلك من واجب إحسان النيّة، وحَمْل الكلام على أفضل مَحَامِله، وعلى الصواب ما أمكن= ما يأثم بعدم قيامه به.

فإن خالف أحدٌ هذه الأخلاق، فليعلم أنه أوّل مخذول، فالحق أبلج، والدين محفوظ، فلن ينفعه أن يشنّع على الحق، ولا أن يسعى

--------------------------------------------

(1) وأنصح القارىء المبتغي للحق، بما نصبح به شيخُ الإسلام ابن تيميّة أحدَ مُنَاظريه، بقوله له: ((المعاني الدقيقة تحتاجُ إلى إصغاءٍ واستماعٍ وتدبُّرٍ)) . العقود الدريّة لابن عبد الهادي (72) .
তৃতীয় বিষয়: ইমাম বুখারী এবং অন্যান্য আলেমদের দিকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার শর্ত (اشتراط العلم باللقاء) আরোপ করার অসারতার প্রমাণসমূহ।

চতুর্থ বিষয়: ইমাম মুসলিমের মাযহাবের সঠিকতা এবং এ বিষয়ে তাঁর দলীলের (حجة) শক্তিশালী হওয়ার বর্ণনা।

পঞ্চম বিষয়: মুআনআন (المعنعن) হাদিসের শর্তটি সুস্পষ্ট করার প্রভাব সুন্নাহর ওপর।

ষষ্ঠ বিষয়: শেষোক্ত দুটি সংশয়ের (شبهة) নিরসন।

আমি এই বিষয়গুলো এবং এতে উপস্থাপিত আলোচনার মাধ্যমে আশা করি যে, সুন্নাহ, এর ইলম অন্বেষণকারী এবং সাধারণভাবে সকল মুসলিমের জন্য হিতাকাঙ্ক্ষী হতে পেরেছি।

আমি এই কিতাবের প্রত্যেক পাঠককে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে, তিনি যেন নিজের কল্যাণের চিন্তা করেন—উত্তমরূপে পাঠ করার মাধ্যমে, পূর্ণ উপলব্ধির মাধ্যমে, প্রচলিত শৈক্ষিক অভ্যস্ততা থেকে বিমুক্ত হওয়ার মাধ্যমে এবং তাকলিদ বা অন্ধ অনুকরণের বন্ধন থেকে মুক্ত হওয়ার মাধ্যমে। তিনি যেন পাঠে এমনভাবে মনোনিবেশ করেন যে, দলীলের মাধ্যমে কোনো পূর্ববর্তী বিশ্বাসের অসারতা প্রমাণিত হলে তিনি তা পরিবর্তন করতে প্রস্তুত থাকেন; লেখকের ভুল ধরার সংকল্প নিয়ে, হোঁচট খাওয়ার জায়গা খুঁজে বেড়াতে কিংবা ভুল অন্বেষণ করার মানসিকতা নিয়ে যেন না আসেন। তিনি যেন তাদের পথ অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকেন যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে; ফলে তারা অস্পষ্ট (المتشابه) বিষয়ের অনুসরণ করে না, বরং অস্পষ্ট (المتشابه) বিষয়কে সুস্পষ্ট (المحكم) বিষয়ের দিকে প্রত্যাবর্তন করায়। এরপর তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব হলো—নিয়তের বিশুদ্ধতা রক্ষা করা এবং কথাকে সম্ভাব্য সর্বোত্তম অর্থে ও সঠিকরূপে গ্রহণ করা; এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তিনি গুনাহগার হবেন।

যদি কেউ এই শিষ্টাচারসমূহের পরিপন্থী কাজ করেন, তবে তিনি জেনে রাখুন যে তিনিই প্রথম লাঞ্ছিত হবেন। কারণ সত্য সুস্পষ্ট এবং দ্বীন সংরক্ষিত। সুতরাং সত্যের নিন্দা করে বা সত্যকে আড়াল করার হীন প্রচেষ্টা চালিয়ে তাঁর কোনো ফায়দা হবে না।

--------------------------------------------

(১) আমি সত্য অন্বেষণকারী পাঠককে সেই উপদেশই দিচ্ছি, যা শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ তাঁর একজন বিতর্ককারীকে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: "সূক্ষ্ম অর্থসমূহ মনোযোগ দিয়ে শোনা, শ্রবণ করা এবং গভীর অনুধাবনের (تدبر) দাবি রাখে।" উকুদুদ দুরিইয়াহ লি ইবনিল আব্দুল হাদী (৭২)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১২)
في تخريب علوم الدين.. ولا بأي حُجّة، ولو ركب كل مركب، فليُرحْ وليسترحْ!!!

أسأل الله تعالى لي وللقراء علمًا نافعًا، وعملاً صالحًا مُتَقبَّلاً، وخاتمةً حسنة.

وإلى مسائل البحث:
দ্বীনী জ্ঞানসমূহ বিনষ্ট করার ক্ষেত্রে... কোনো অজুহাতেই তা কাম্য নয়, চাই সে যে পথই অবলম্বন করুক না কেন; অতএব, সে যেন অন্যদের নিষ্কৃতি দেয় এবং নিজেও স্বস্তি লাভ করে!!!

আমি মহান আল্লাহর নিকট আমার জন্য এবং পাঠকদের জন্য উপকারী জ্ঞান, কবুলযোগ্য নেক আমল এবং উত্তম পরিণাম প্রার্থনা করছি।

এখন গবেষণার বিষয়সমূহের দিকে অগ্রসর হওয়া যাক:
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
‌‌المسألة الأولى: تحرير شَرْطِ البخاري (المنسوب إليه) ، وشَرْطِ مسلم، وشَرْطِ أبي المظفّرِ السمعاني

‌‌أولاً: تحرير الشرط المنسوب إلى البخاري:

نسب عامّةُ أهلِ العلم ممّن جاء بعد القاضي عياض (ت 544هـ) -أخذًا من القاضي عياض- إلى البخاري أنه يخالف مسلمًا في الحديث المعنعن، وأنه لا يكتفي بالشرط الذي بيّنه مسلم في صحيحه، بل يُضيفُ شرطًا زائدًا عليه. ثم اختلفوا في ذلك:

- فذهب ابنُ رُشَيْد السَّبْتي (ت 721هـ) في كتابه (السَّنَن الأبين) إلى أن البخاري لا يكتفي بالمعاصرة مثل مسلم، بل لا يكتفي أيضًا بما يدل على اللقاء بين الراويين، وإنّما يشترط أن يقف على ما يدلّ على السماع. مُعَلِّلاً ذلك -مع تصريحه بعدم وقوفه على نَصٍّ صريح فيه من البخاري- بأنّه الأليق بتحَرِّي البخاري، إذ هو الأقرب إلى الصواب (في رأي ابن رُشيد) ، لأنّه كم مِن تابعيٍّ لقي صحابيًّا وما سمع منه شيئًا (1) .

- وذهب ابنُ رجب الحنبلي (ت 795هـ) في شرحه لعلل الترمذي إلى أن الإمام أحمد وأبا زرعة وأبا حاتم الرازيين يشترطون العلمَ بالسماع، بخلاف البخاري وابن المديني، فإنّ المَحْكِيَّ عنهما (كما يقول ابن رجب) الاكتفاءُ باللقاء (2) .

--------------------------------------------

(1) السنن الأبين (54- 55) .

(2) شرح علل الترمذي لابن رجب (2/ 592) .
‌প্রথম বিষয়: ইমাম বুখারীর শর্ত (যা তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত), ইমাম মুসলিমের শর্ত এবং আবু আল-মুজাফ্ফর আস-সামআনী-র শর্তের বিশ্লেষণ।

‌‌প্রথমত: ইমাম বুখারীর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত শর্তের বিশ্লেষণ:

কাজী ইয়াজ (ওফাত ৫৪৪ হি.)-এর পরবর্তী অধিকাংশ আলেম—কাজী ইয়াজের বর্ণনা থেকে গ্রহণ করে—ইমাম বুখারীর প্রতি এই মতটি সম্বন্ধযুক্ত করেছেন যে, তিনি মুআনআন (معنعن) হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের বিরোধিতা করেছেন। ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে যে শর্ত বর্ণনা করেছেন, ইমাম বুখারী কেবল তাতেই তুষ্ট হননি, বরং এর সাথে অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করেছেন। অতঃপর এ বিষয়ে তাঁরা মতভেদ করেছেন:

- ইবনে রুশাইদ আস-সাবতি (ওফাত ৭২১ হি.) তাঁর গ্রন্থ আস-সানান আল-আবিয়ান-এ এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, ইমাম বুখারী ইমাম মুসলিমের ন্যায় কেবল সমসাময়িকতা (معاصرة)-তে তুষ্ট নন, এমনকি দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে সাক্ষাৎ (لقاء)-এর প্রমাণ থাকলেও তিনি তাতে সন্তুষ্ট নন; বরং তিনি শ্রবণ (سماع)-এর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার শর্তারোপ করেন। তিনি এর কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন—যদিও তিনি ইমাম বুখারীর নিকট থেকে এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বর্ণনার সন্ধান না পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন—যে এটিই ইমাম বুখারীর সূক্ষ্ম অনুসন্ধানের জন্য অধিকতর মানানসই এবং সত্যের নিকটবর্তী (ইবনে রুশাইদ-এর মতে)। কেননা এমন অনেক তাবেঈ (تابعي) রয়েছেন যাঁরা সাহাবী (صحابي)-র সাক্ষাৎ পেয়েছেন কিন্তু তাঁর থেকে কিছুই শ্রবণ করেননি (১)।

- ইবনে রজব আল-হাম্বলী (ওফাত ৭৯৫ হি.) তাঁর শারহু ইলাল আল-তিরমিজি গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমাদ, আবু জুরআ এবং আবু হাতেম আল-রাজিদ্বয় শ্রবণ (سماع)-এর জ্ঞান থাকাকে শর্তারোপ করেন। পক্ষান্তরে ইমাম বুখারী এবং ইবনে আল-মাদিনী এর ব্যতিক্রম; তাঁদের থেকে যা বর্ণিত হয়েছে (যেমনটি ইবনে রজব বলেছেন) তা হলো সাক্ষাৎ (لقاء) প্রমাণিত হওয়াকেই যথেষ্ট মনে করা (২)।

--------------------------------------------

(১) আস-সানান আল-আবিয়ান (৫৪- ৫৫) ।

(২) শারহু ইলাল আল-তিরমিজি লি-ইবনে রজব (২/ ৫৯২) ।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
* وأيَّد ابنَ رجب في ذلك صاحبُ كتاب: (موقف الإمامين البخاري ومسلم من اشتراط اللقيا والسماع في السند المعنعن بين المعاصرين) ، ألا وهو خالد الدريس. محتجًّا بأقوالٍ للبخاري فيها أنه اكتفى بمطلق اللقاء للدلالة على الاتّصال، وبأن مسلمًا نصّ في ردِّهِ الذي في مقدّمة صحيحه أنه يردُّ على من كان يشترط اللقاء، ولم يذكر مسلمٌ اشتراطَ السماع (1) .

ومع أن ابن رُشيد تشدّد ذلك التشدُّدَ إلاّ أنه عاد في آخر كتابه المذكور إلى الاكتفاء بالمعاصرة (دون العلم بالسماع أو اللقاء) ، لكن مع قُوّة القرائن الدالّة على السماع، كرواية المخضرم عن الصحابة (2) . إلا أن ابن رُشيد لم ينسب هذا التَّخَفُّف إلى البخاري صراحة، وإنما عرضه وكأنه رأيٌ له قاله بناءً على نظره الخاصّ.

ووافَقَ العلائيُّ في ذلك كلّه ابنَ رُشيد، في كتابه (جامع التحصيل) (3) .

وأيّدهما في ذلك خالد الدريس صاحبُ الدراسة الآنفة الذكر، لكن مع نِسبة ذلك التَّخَفُّفِ إلى البخاري، وأنه شَرْطُه. معتمدًا في تصحيح نسبته إلى البخاري على نُقُولٍ عنه، تدلّ على اكتفاء البخاري بالمعاصرة مع قرائن تُقَوِّي احتمالَ وُقُوعِ اللقاء (4) .

- وهناك قولٌ آخر في تحرير شرط البخاري المنسوب إليه، وهو أنه شرطٌ للبخاري في كتابه (الجامع الصحيح) ، لا في أصل الصحّة. أي

--------------------------------------------

(1) موقف الإمامين لخالد الدريس (108- 114) .

(2) السنن الأبين (150- 151، 151- 152) .

(3) جامع التحصيل للعلائي (120- 121) .

(4) موقف الإمامين لخالد الدريس (141- 157) .
এবং এ বিষয়ে ইবনে রাজাবকে সমর্থন করেছেন 'মাওকিফুল ইমামাইন আল-বুখারি ওয়া মুসলিম মিন ইশতিরাতিল লুকইয়া ওয়াস সামা' ফিল সনদ (السند) মু'আন'আন (المعنعن) বাইনাল মু'আসিরিন' গ্রন্থের রচয়িতা খালেদ আদ-দারেস। তিনি বুখারির এমন কিছু উক্তির মাধ্যমে দলিল পেশ করেছেন যাতে দেখা যায় যে, তিনি নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) প্রমাণের জন্য কেবলমাত্র সাক্ষাতের (اللقاء) ওপর নির্ভর করাকেই যথেষ্ট মনে করেছেন। আর ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থের ভূমিকায় যে প্রতিবাদলিপি লিপিবদ্ধ করেছেন তাতে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি তাদেরই প্রতিবাদ করছেন যারা সাক্ষাতের (اللقاء) শর্তারোপ করেন; তবে মুসলিম শ্রবণের (السماع) শর্তারোপের কথা উল্লেখ করেননি (১)।

যদিও ইবনে রুশাইদ এ বিষয়ে যথেষ্ট কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, তবুও তিনি তাঁর উল্লিখিত গ্রন্থের শেষ দিকে সমসাময়িকতার (المعاصرة) (শ্রবণ বা সাক্ষাতের নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়াই) ওপর নির্ভর করার দিকে ফিরে এসেছেন; তবে সে ক্ষেত্রে শ্রবণের (السماع) সপক্ষে জোরালো আলামত থাকা আবশ্যক, যেমন সাহাবিদের থেকে মুখাদরাম (المخضرم) রাবিদের বর্ণনা (২)। তবে ইবনে রুশাইদ এই শিথিলতাকে সরাসরি বুখারির দিকে নিসবত করেননি, বরং তিনি এটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যেন এটি তাঁর নিজস্ব গবেষণালব্ধ অভিমত।

আর আল-আলাই তাঁর 'জামি' আত-তাহসিল' গ্রন্থে এ সব বিষয়ে ইবনে রুশাইদের সাথে একমত পোষণ করেছেন (৩)।

এবং পূর্বে উল্লিখিত গবেষণার লেখক খালেদ আদ-দারেস তাঁদের উভয়কে সমর্থন করেছেন, তবে তিনি এই শিথিলতাকে বুখারির দিকে নিসবত করেছেন এবং একে তাঁর শর্ত হিসেবে গণ্য করেছেন। বুখারির দিকে এর নিসবতকে সঠিক প্রমাণের ক্ষেত্রে তিনি তাঁর থেকে বর্ণিত এমন কিছু উদ্ধৃতির ওপর নির্ভর করেছেন, যা প্রমাণ করে যে বুখারি সমসাময়িকতার (المعاصرة) ওপর নির্ভর করতেন যদি সেখানে সাক্ষাতের (اللقاء) প্রবল সম্ভাবনা প্রকাশক আলামত বিদ্যমান থাকে (৪)।

- বুখারির দিকে নিসবতকৃত তাঁর শর্তটি পর্যালোচনার ক্ষেত্রে আরও একটি অভিমত রয়েছে। আর তা হলো, এটি বুখারির তাঁর 'আল-জামি আস-সহিহ' গ্রন্থের জন্য নির্ধারিত শর্ত, মূল বিশুদ্ধতা (الصحة) প্রমাণের জন্য নয়। অর্থাৎ

--------------------------------------------

(১) খালেদ আদ-দারেস কৃত মাওকিফুল ইমামাইন (১০৮- ১১৪)।

(২) আস-সুনানুল আবইয়ান (১৫০- ১৫১, ১৫১- ১৫২)।

(৩) আল-আলাই কৃত জামি' আত-তাহসিল (১২০- ১২১)।

(৪) খালেদ আদ-দারেস কৃত মাওকিফুল ইমামাইন (১৪১- ১৫৭)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
أنه تشدّدَ في صحيحه، فاشترط العلم باللقاء (أو السماع) ، مع كونه خارجَ الصحيح لا يشترط ذلك الشرط. أو كما عَبّر بعض أهلُ العلم عن ذلك بقوله: إن هذا الشرط شرط كمال، لا شرط صحّة (1) .

ونخلص من هذا: أن شرط البخاري في الحديث المعنعن، بعد السلامة من وصمة التدليس، اختُلفَ فيه إلى أربعة أقوال:

الأول: أن البخاري يشترط أن يقف على ما يدل على السماع نصًّا.

الثاني: أن البخاري يشترط أن يقف على ما يدل على اللقاء.

الثالث: أن البخاري يشترط أن يقف على ما يدل على اللقاء، وأنه يكتفي بالمعاصرة أحيانًا إذا وُجدت قرائن قويّة تدل على اللقاء والسماع.

الرابع: أن البخاري يشترط أن يقف على ما يدل على اللقاء أو السماع في كتابه الصحيح، ولا يشترط ذلك للقول بالاتصال خارج كتابه.

ملاحظة: لم يتنبّه ابنُ رُشيد والعلائي والدريس إلى أنهم بمَيْلِهم إلى الاكتفاء بالقرائن القويّة قد نسفوا ما ذهبوا إليه من تقويةِ اشتراط اللقاء أو السماع، إذ مِنْ أين لهم أن مسلمًا لم يكن مراعيًا لمثل تلك القرائن؟! حتى يجعلونه مخالفًا للبخاري!!!

--------------------------------------------

(1) انظر: اختصار علوم الحديث لابن كثير (1/ 169) ، ومحاسن الاصطلاح للبلقيني (224) ، والموقظة للذهبي -تتمات أبي غُدّة في آخرها - (137- 138) ، والنصيحة بالتحذير من تخريب ابن عبد المنان لكتب الأئمة الرجيحة للألباني (19- 26) .
তিনি তাঁর সহিহ গ্রন্থে কঠোরতা অবলম্বন করেছেন, ফলে তিনি সাক্ষাৎ (لقاء) বা শ্রবণ (সماع) নিশ্চিত হওয়ার শর্তারোপ করেছেন, যদিও সহিহ গ্রন্থের বাইরে তিনি এই শর্তারোপ করেন না। অথবা যেভাবে বিশেষজ্ঞ আলেমদের কেউ কেউ এটি ব্যক্ত করেছেন যে: এই শর্তটি পূর্ণতার শর্ত (شرط كمال), সহিহ (صحة) হওয়ার শর্ত নয় (১)।

এ থেকে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারি যে: মুআনআন (معنعن) হাদিসের ক্ষেত্রে ইমাম বুখারীর শর্ত সম্পর্কে—তাদলিস (تدليس) এর কলঙ্ক থেকে মুক্ত হওয়ার পর—চারটি মতভেদ রয়েছে:

প্রথম: ইমাম বুখারী শর্ত করেছেন যে, তাঁকে এমন বিষয়ের ওপর অবগত হতে হবে যা স্পষ্টভাবে শ্রবণ (سماع) করার প্রমাণ দেয়।

দ্বিতীয়: ইমাম বুখারী সাক্ষাতের (لقاء) প্রমাণ পাওয়াকে শর্ত করেছেন।

তৃতীয়: ইমাম বুখারী সাক্ষাতের (لقاء) প্রমাণ পাওয়াকে শর্ত করেন, তবে কখনও কখনও সমসাময়িক (معاصرة) হওয়াকেও যথেষ্ট মনে করেন যদি সেখানে সাক্ষাৎ (لقاء) ও শ্রবণের (سماع) শক্তিশালী আলামত পাওয়া যায়।

চতুর্থ: ইমাম বুখারী তাঁর সহিহ গ্রন্থে সাক্ষাৎ (لقاء) বা শ্রবণের (سماع) প্রমাণ পাওয়াকে শর্ত করেছেন, কিন্তু তাঁর কিতাবের বাইরে হাদিসের সংযোগ (اتصال) সাব্যস্ত করার ক্ষেত্রে এটি শর্ত করেন না।

দ্রষ্টব্য: ইবনে রুশাইদ, আল-আলাঈ এবং আদ-দুরীস এই বিষয়টি লক্ষ্য করেননি যে, শক্তিশালী আলামতের ওপর নির্ভর করার প্রতি তাদের এই ঝোঁকের মাধ্যমে তারা সাক্ষাৎ (لقاء) বা শ্রবণের (سماع) শর্তের যে শক্ত অবস্থান তারা গ্রহণ করেছিলেন তা নিজেরাই ধূলিসাৎ করে দিয়েছেন। কারণ তারা কীভাবে নিশ্চিত হলেন যে ইমাম মুসলিম এই ধরণের আলামতগুলো বিবেচনা করতেন না?! এমনকি তারা তাকে ইমাম বুখারীর বিরোধী হিসেবে গণ্য করছেন!!!

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে কাসীর প্রণীত ইখতিসার উলূমিল হাদিস (১/ ১৬৯), বুলকীনির মাহাসিনুল ইসতিলাহ (২২৪), যাহাবীর আল-মুওয়াকিজাহ—শেষে আবু গুদ্দাহর সংযোজনীসহ—(১৩৭- ১৩৮), এবং আলবানীর আন-নাসিহাহ বিত-তাহযীর মিন তাখরীবি ইবনে আবদিল মান্নান লি-কুতুবিল আইম্মাতিল রাজীহাহ (১৯- ২৬)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
بقي أمرٌ آخر يتعلق بتحرير شرط البخاري المنسوب إليه: وهو: ما هو حكم الحديث المعنعن الذي لم يتحقق فيه العلم باللقاء أو السماع عند البخاري بناءً على هذا الشرط المنسوب إليه، هل يُحكم بانقطاعه؟ أم يُكتفى بالتوقّف عن الحكم له بالاتّصال؟

لازمُ هذا الشرط المنسوب إلى البخاري، ومقتضى دليله: أنه لا يُجزم بانقطاع الإسناد الذي لا يتحقق فيه شرط العلم باللقاء، وإنّما يُكتفى بالتوقف، لأن اشتراط العلم باللقاء إنما توجَّهَ عند القائلين به لاحتمال عدم اللقاء، لا لتحقق عدم اللقاء، فإذا لم نعلم باللقاء يقينًا، يبقى احتمال اللقاء واحتمال عدمه احتمالين متساويين، فالتوقّف حينها هو الواجب (1) .

وهذا هو ما نصَّ عليه مسلم في نقله لمذهب مخالفه، حيث ذكر مذهبه في الحديث المعنعن بين المتعاصرين اللذين لم يُعلم لقاؤهما، ثم قال في حكم هذا الحديث عند ذلك المخالف: ((وكان الخبر عنده موقوفًا، حتى يرد عليه سماعُه منه لشيءٍ من الحديث، قلَّ أو كَثُر..)) . (2)

وهذا هو ما نصَّ عليه ابن القطان الفاسي (ت 628هـ) أيضًا، ونسبه إلى البخاري وعلي بن المديني، حيث قال في الحديث المعنعن الذي لم يُعلم انتفاء اللقاء بين رواته: ((فإن الحكم فيه أن يُحكم له بالاتصال له عند الجمهور، وشرط البخاري وعلي بن المديني أن يُعلم اجتماعُهما ولو مَرّةً واحدة، فهما -أعني البخاري وابن المديني- إذا لم يعلما لقاء

--------------------------------------------

(1) انظر السنن الأبين لابن رشيد (45) .

(2) صحيح مسلم (29) ، وانظر السنن الأبين لابن رُشيد (45) .
ইমাম বুখারীর প্রতি আরোপিত তাঁর শর্তটি বিশ্লেষণ করার ক্ষেত্রে আরও একটি বিষয় অবশিষ্ট রয়েছে: সেটি হলো: বুখারীর প্রতি আরোপিত এই শর্তের ভিত্তিতে যে 'মুআনআন' (معنعن) হাদিসে সাক্ষাত (لقاء) বা শ্রবণ (سماع) নিশ্চিত হওয়া যায়নি তার হুকুম কী হবে? সেটিকে কি বিচ্ছিন্ন (انقطاع) বলে গণ্য করা হবে? নাকি তার সংযুক্ত (اتصال) হওয়ার হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা বা বিরত থাকা (توقف) যথেষ্ট হবে?

বুখারীর প্রতি আরোপিত এই শর্তের অনিবার্য দাবি এবং এর দলিলের ফলাফল হলো: যে সনদে সাক্ষাত (لقاء) নিশ্চিত হওয়ার শর্তটি পূরণ হয়নি, সেটির সনদটি নিশ্চিতভাবে বিচ্ছিন্ন (انقطاع) বলে গণ্য করা হবে না; বরং কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকাই (توقف) যথেষ্ট হবে। কারণ সাক্ষাত (لقاء) নিশ্চিত হওয়ার শর্তটি যারা আরোপ করেছেন, তারা মূলত সাক্ষাত না হওয়ার সম্ভাবনার কারণে তা করেছেন, সাক্ষাত না হওয়া নিশ্চিত হওয়ার কারণে নয়। সুতরাং যখন আমরা সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানতে পারি না, তখন সাক্ষাত হওয়া এবং না হওয়ার উভয় সম্ভাবনা সমানভাবে বিদ্যমান থাকে। এমতাবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিরত থাকাই (توقف) হলো ওয়াজিব (১)।

ইমাম মুসলিম তাঁর বিরোধীতাকারীর মাযহাব বর্ণনা করতে গিয়ে এই কথাটিই স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। সেখানে তিনি দুই সমসাময়িক বর্ণনাকারীর মধ্যে বর্ণিত 'মুআনআন' (معنعن) হাদিস সম্পর্কে সেই বিরুদ্ধ মতটি উল্লেখ করেছেন যাদের পরস্পর সাক্ষাত (لقاء) হওয়ার কথা জানা নেই। অতঃপর সেই বিরোধীতাকারীর নিকট এই হাদিসের হুকুম সম্পর্কে তিনি বলেছেন: ((তার নিকট এই বর্ণনাটি স্থগিত (موقوف) হিসেবে বিবেচিত হবে, যতক্ষণ না তার নিকট বর্ণনাকারীর অন্য কোনো হাদিস শ্রবণ (سماع) করার বিষয়টি স্পষ্ট হয়, চাই তা পরিমাণে অল্প হোক বা বেশি...))। (২)

আর এটিই ইবনে আল-কাত্তান আল-ফাসি (মৃত্যু: ৬২৮ হিজরি) স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন এবং বিষয়টিকে তিনি বুখারী ও আলী ইবনুল মাদিনীর প্রতি সম্পৃক্ত করেছেন। যেখানে তিনি সেই 'মুআনআন' (معنعن) হাদিস সম্পর্কে বলেছেন যার বর্ণনাকারীদের মধ্যে সাক্ষাত (لقاء) না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি: ((জমহুর বা সংখ্যাগুরু আলেমের নিকট এর বিধান হলো এটিকে সংযুক্ত (اتصال) হিসেবে গণ্য করা হবে। তবে বুখারী এবং আলী ইবনুল মাদিনীর শর্ত হলো তাদের উভয়ের অন্তত একবার একত্রিত হওয়া বা সাক্ষাত (اجتماع) হওয়া নিশ্চিত হতে হবে। সুতরাং তারা উভয়ে—অর্থাৎ বুখারী এবং ইবনুল মাদিনী—যদি সাক্ষাতের (لقاء) বিষয়টি জানতে না পারেন...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: ইবনে রুশদ এর আস-সুনানুল আবইয়ান (৪৫)।

(২) সহিহ মুসলিম (২৯), এবং দেখুন: ইবনে রুশদ এর আস-সুনানুল আবইয়ান (৪৫)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
أحدهما للآخر لا يقولان في حديث أحدهما عن الآخر: منقطع، وإنما يقولان: لم يثبت سماع فلان من فلان.

فإذن ليس في حديث المتعاصرين إلا رأيان: أحدهما: هو محمول على الاتصال، والآخر: لم يُعلم اتصال ما بينهما. فأمّا الثالث: وهو منقطع، فلا. فاعلم ذلك، والله الموفّق)) (1) .

أمّا الذهبي فتعقّب ابن القطان بقوله: ((بل رأيهما دالٌّ على الانقطاع)) (2) .

قلت: لكن لازم المذهب، ونصّ مسلم في مقدمته، كلاهما يؤيدان ما ذكره ابن القطان، كما سبق. أمّا موقف الذهبي فغريب مضطرب، لأنّه يصحح نسبة اشتراط العلم باللقاء إلى البخاري، وهذه النسبة إنما تصح على المذهب الذي ذكره ابن القطان هنا، لا على ما اختاره الذهبي.. كما سيأتي شرحه مستقبلاً (3) .

‌‌ثانيًا: تحرير شرط مسلم:

لقد أبان مسلمٌ عن رأيه في مقدّمة صحيحه بصراحةٍ، حيث قال: ((ذلك أن القول الشائع المتفق عليه بين أهل العلم بالأخبار والروايات قديمًا وحديثًا: أن كل رجلٍ ثقةٍ روى عن مثله حديثًا، وجائزٌ ممكنٌ له لقاؤه والسماعُ منه، لكونهما جميعًا كانا في عصرٍ واحد، وإن لم يأت في خبر قط أنهما اجتمعا، ولا تشافها بكلام= فالرواية ثابتة، والحجّة بها لازمة. إلا أن يكون هناك دلالةٌ بيّنةٌ أن هذا الراوي لم يَلْقَ من روى

--------------------------------------------

(1) بيان الوهم والإيهام لابن القطان (2/ 576) .

(2) نقد الإمام الذهبي لبيان الوهم والإيهام (84 رقم16) .

(3) انظر ما سيأتي (42- 43) .
তাঁরা একে অপরের ক্ষেত্রে এ কথা বলেন না যে, একজনের থেকে অন্যজনের বর্ণিত হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (منقطع); বরং তাঁরা বলেন: অমুকের থেকে অমুকের শ্রবণ (سماع) সাব্যস্ত হয়নি।

সুতরাং সমসাময়িকদের হাদিসের ক্ষেত্রে মাত্র দুটি অভিমত রয়েছে: একটি হলো: এটি সংযোগ (اتصال)-এর ওপর নির্ভরশীল হিসেবে গণ্য হবে, এবং অন্যটি হলো: তাঁদের মধ্যবর্তী সংযোগ (اتصال) জানা যায়নি। আর তৃতীয় মতটি, যা হলো বিচ্ছিন্ন (منقطع), তা নয়। এটি জেনে রেখো, আর আল্লাহই তাওফীকদাতা। (১)

তবে ইমাম যাহাবি ইবনুল কাত্তানের বক্তব্যের সমালোচনা করে বলেছেন: "বরং তাঁদের উভয়ের অভিমতটি বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)-এর প্রতি নির্দেশ করে।" (২)

আমি বলছি: কিন্তু মাযহাবের অপরিহার্যতা এবং ইমাম মুসলিমের তাঁর মুকাদ্দিমায় প্রদত্ত নস (نص)—উভয়টিই ইবনুল কাত্তান যা উল্লেখ করেছেন তাকে সমর্থন করে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। ইমাম যাহাবির অবস্থানটি অদ্ভুত ও অস্থির (مضطرب), কারণ তিনি ইমাম বুখারির প্রতি সাক্ষাতের জ্ঞান (العلم باللقاء) শর্ত করার বিষয়টি সঠিক বলে গণ্য করেন। আর এই সম্পৃক্তকরণ কেবল ইবনুল কাত্তান এখানে যে মতটি উল্লেখ করেছেন তাঁর ভিত্তিতেই সঠিক হয়, ইমাম যাহাবি যা চয়ন করেছেন তাঁর ভিত্তিতে নয়... যেমনটি ভবিষ্যতে ব্যাখ্যা করা হবে। (৩)

দ্বিতীয়ত: ইমাম মুসলিমের শর্তের বিশ্লেষণ:

ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ-এর মুকাদ্দিমায় স্পষ্টভাবে তাঁর অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন: "প্রাচীন ও বর্তমানকালের সংবাদ ও বর্ণনা বিশেষজ্ঞ আলেমদের মাঝে বহুল প্রচলিত ও সর্বসম্মত কথা হলো: যখনই কোনো নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তি তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তির নিকট থেকে হাদিস বর্ণনা করেন, এবং তাঁদের উভয়ের সাক্ষাৎ ও শ্রবণ (سماع) হওয়া সম্ভব ও সঙ্গত হয়—যেহেতু তাঁরা উভয়ই একই যুগে বিদ্যমান ছিলেন—যদিও কোনো বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এ কথা আসেনি যে তাঁরা একত্রিত হয়েছেন বা সরাসরি কথা বলেছেন; এমতাবস্থায় বর্ণনাটি সাব্যস্ত এবং এর মাধ্যমে প্রমাণ (حجة) গ্রহণ করা আবশ্যক। তবে যদি সেখানে সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ থাকে যে, এই বর্ণনাকারী যাঁর থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর সাক্ষাৎ পাননি...

--------------------------------------------

(১) ইবনুল কাত্তান রচিত বয়ানুল ওয়াহম ওয়াল ইহাম (২/ ৫৭৬)।

(২) বয়ানুল ওয়াহম ওয়াল ইহাম-এর ওপর ইমাম যাহাবির সমালোচনা (৮৪, নম্বর ১৬)।

(৩) সামনে যা আসছে তা দেখুন (৪২- ৪৩)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
عنه، أو لم يسمع منه شيئًا. فأمّا والأمرُ مُبْهَمٌ، على الإمكان الذي فسّرنا= فالرواية على السماع أبدًا، حتى تكونَ الدلالةُ التي بيّنّا)) (1) .

ويقول في موطنٍ آخر: ((وإنما كان تَفَقُّدُ من تَفَقَّدَ منهم سماعَ رواةِ الحديث ممن روى عنهم= إذا كان الراوي ممن عُرف بالتدليس في الحديث وشُهِر به، فحينئذٍ يبحثون عن سماعه في روايته، ويتفقّدون ذلك منه، كي تنزاح عنهم عِلّةُ التدليس. فمن ابتغى ذلك من غير مُدَلِّس، على الوجه الذي زعم من حكينا قولَه، فما سمعنا ذلك عن أحدٍ ممن سمّينا ولم نُسَمِّ من الأئمة)) (2) .

ويقول في تقديمه لمقالة صاحب المذهب المخالفِ له: ((أن كل إسنادٍ لحديث فيه فلانٌ عن فلان، وقد أحاط العلم بأنهما كانا في عصر واحد، وجائزٌ أن يكون الحديثُ الذي روى الراوي عمن روى عنه قد سمعه منه وشافهه به. . .)) (3) .

وقال عقب ذكره لأمثلةٍ للأسانيد الصحيحة مع عدم العلم بالسماع: ((إذِ السماعُ لكل واحدٍ منهم ممكنٌ من صاحبه غير مستنكر، لكونهم جميعًا كانوا في العصر الذي اتفقوا فيه)) (4) .

فمن خلال هذه النقول يتبيّن أن الإمامَ مسلمًا كان يشترطُ لقبول الحديث المعنعن ثلاثةَ شروط:

--------------------------------------------

(1) صحيح مسلم (29- 30) .

(2) صحيح مسلم (33) .

(3) صحيح مسلم (29) .

(4) صحيح مسلم (35) .
...তাঁর নিকট থেকে, অথবা তাঁর নিকট থেকে কিছুই শুনেননি। তবে বিষয়টি যতক্ষণ অস্পষ্ট থাকে এবং আমরা যে সম্ভাবনা (إمكان)-এর ব্যাখ্যা দিয়েছি সেই পর্যায়ে থাকে—তবে বর্ণনাটি সর্বদা শ্রবণের (سماع) ওপর গণ্য হবে, যতক্ষণ না আমরা যে নির্দেশিকার কথা বর্ণনা করেছি তা প্রকাশ পায়।)) (১)

এবং তিনি অন্য স্থানে বলেন: ((নিশ্চয়ই তাঁদের মধ্যে যারা বর্ণনাকারীদের তাঁদের উস্তাদদের থেকে সরাসরি শ্রবণের (سماع) বিষয়টি যাচাই করেছেন, তাঁরা কেবল তখনই তা করেছেন যখন বর্ণনাকারী হাদিসের ক্ষেত্রে তাদলিস (تدليس)-এর জন্য পরিচিত ও প্রসিদ্ধ হতেন। তখন তাঁরা তাঁর বর্ণনায় তাঁর শ্রবণের (سماع) বিষয়টি অনুসন্ধান করতেন এবং তা পরীক্ষা করতেন, যাতে তাঁদের নিকট থেকে তাদলিস (تدليس)-এর ত্রুটি (علة) দূরীভূত হয়। সুতরাং যে ব্যক্তি মুদাল্লিস নয় এমন (غير مدلس) বর্ণনাকারীর ক্ষেত্রেও এমনটি অনুসন্ধান করে, যেমনটি আমরা যার বক্তব্য বর্ণনা করেছি সে দাবি করেছে, তবে আমরা ইমামদের মধ্যে যাদের নাম উল্লেখ করেছি বা করিনি, তাঁদের কারো নিকট থেকেই এমনটি শুনিনি।)) (২)

এবং তিনি তাঁর বিরোধী মতাবলম্বীর বক্তব্যের উপক্রমণিকায় বলেন: ((হাদিসের প্রতিটি সনদ (إسناد) যাতে 'অমুক অমুক থেকে' বর্ণিত হয়েছে, অথচ এটি নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে তাঁরা একই যুগে বিদ্যমান ছিলেন এবং এটি সম্ভব যে বর্ণনাকারী যাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট থেকে তা শুনেছেন এবং সরাসরি কথোপকথন করেছেন...)) (৩)

এবং সরাসরি শ্রবণের জ্ঞান থাকা ছাড়াই সহিহ সনদসমূহের (أسانيد) উদাহরণ প্রদানের পর তিনি বলেন: ((কেননা তাঁদের প্রত্যেকের জন্য নিজ উস্তাদ থেকে শ্রবণ (سماع) সম্ভব এবং তা অস্বীকার করার মতো নয়, যেহেতু তাঁরা সকলেই সেই যুগে বিদ্যমান ছিলেন যে ব্যাপারে সকলে একমত।)) (৪)

সুতরাং এই উদ্ধৃতিগুলোর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইমাম মুসলিম মুআনআন (معنعن) হাদিস কবুলের জন্য তিনটি শর্তারোপ করেছেন:
(১) সহিহ মুসলিম (২৯-৩০)।

(২) সহিহ মুসলিম (৩৩)।

(৩) সহিহ মুসলিম (২৯)।

(৪) সহিহ মুসলিম (৩৫)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
الأول: المعاصرة.

الثاني: أن لا يكون الراوي الذي عنعن مدلِّسًا (ممن تُرَدُّ عنعنتهم بذلك) .

الثالث: أن لا يكون هناك ما يدل على عدم السماع.

فأما الشرطان الأولان فظاهران لا خلافَ فيهما ولا غموض، وأمّا الشرط الثالث فقد وقع فيه خلاف، ويحتاج إلى بيان.

لقد صَرّح مسلمٌ بهذا الشرط عندما قال -كما سبق-: ((إلا أن يكون هناك دلالة بيّنةٌ أن هذا الراوي لم يَلْقَ من روى عنه أو لم يسمع منه شيئًا)) . فهذا نصٌّ صريحٌ أن المعاصرة قد تحصل بين الراويين، لكن يمنع من الحكم بالاتصال -عند مسلم- وجودُ دلالةٍ واضحةٍ تنفيه وتمنعه.

فما هو مقصود مسلم بـ (الدلالة البيّنة) ؟

لا شك أن الراوي لو نَفَى عن نفسه السماعَ ممن عاصره، أو علمنا من أخبارهما أنهما لم يجتمعا في بلدٍ واحد قطّ، ولا كانت بينهما مكاتبةٌ أو إجازة= فإن هذه من أبين الدلائل على عدم الاتصال. وحينها فلن يحكم مسلم بالاتّصال، على ما يقتضيه كلامُه الصريحُ في ذلك، وعلى ما نصّ عليه ابن رُشيد السبتي أيضًا (1) . بل هذه الحالة لا تحتاج إلى تنصيص، لأن شرط الاتّصال الذي يشترطه مسلم هنا قد تيقّنا من عدم تحققه، وأصبح انتفاؤه واضحًا، لا قيمةَ معه من اشتراطِ المعاصرة وعدم التدليس.

--------------------------------------------

(1) السنن الأبين (67- 68) .
প্রথম: সমসাময়িকতা (المعاصرة)।

দ্বিতীয়: যে বর্ণনাকারী 'আন-আনা' (عنعنة) করছেন, তিনি যেন তদ্দলিসকারী (مدلس) না হন (যাদের 'আন-আনা' এর কারণে বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হয়)।

তৃতীয়: শ্রবণ (سماع) না করার ওপর প্রমাণ বহন করে এমন কিছু না থাকা।

প্রথম দুটি শর্ত স্পষ্ট, এতে কোনো মতভেদ নেই এবং কোনো অস্পষ্টতাও নেই। তবে তৃতীয় শর্তটির ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে এবং এটি ব্যাখ্যার প্রয়োজন রাখে।

ইমাম মুসলিম এই শর্তটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যখন তিনি বলেছেন—যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে—: "তবে যদি কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ (دلالة بيّنة) থাকে যে, এই বর্ণনাকারী যাঁর থেকে বর্ণনা করছেন তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি অথবা তাঁর থেকে কোনো কিছু শ্রবণ (سماع) করেননি।" এটি একটি সুস্পষ্ট বক্তব্য যে, দুই বর্ণনাকারীর মধ্যে সমসাময়িকতা (المعاصرة) থাকতে পারে, কিন্তু ইমাম মুসলিমের নিকট নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) হুকুম প্রদানে বাধা দেয় এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণের উপস্থিতি তা নাকচ করে দেয়।

তাহলে 'সুস্পষ্ট প্রমাণ' (الدلالة البيّنة) দ্বারা ইমাম মুসলিমের উদ্দেশ্য কী?

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, কোনো বর্ণনাকারী যদি তাঁর সমসাময়িক কারো থেকে শ্রবণ (سماع) করার বিষয়টি নিজেই অস্বীকার করেন, অথবা যদি তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত থেকে আমাদের জানা থাকে যে তাঁরা কখনো একই শহরে একত্রিত হননি এবং তাঁদের মধ্যে কোনো পত্রবিনিময় (مكاتبة) কিংবা ইজাজত (إجازة) ছিল না; তবে এটি নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال) না থাকার সবচেয়ে স্পষ্ট দলিলের অন্তর্ভুক্ত। এমতাবস্থায় ইমাম মুসলিম নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) হুকুম দেবেন না, যা এ বিষয়ে তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্যের দাবি এবং ইবনে রুশাইদ আস-সাবতীও (১) এ বিষয়ে স্পষ্ট উক্তি করেছেন। বরং এই পরিস্থিতিটি স্বতন্ত্র বর্ণনারও প্রয়োজন রাখে না, কারণ ইমাম মুসলিম এখানে নিরবচ্ছিন্নতার (الاتصال) যে শর্তারোপ করেছেন তা অর্জিত না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে এবং এর অনুপস্থিতি স্পষ্ট হয়ে গেছে, যার ফলে সমসাময়িকতা (المعاصرة) এবং তদ্দলিস (التدليس) না থাকার শর্তের আর কোনো মূল্য থাকে না।

--------------------------------------------

(১) আস-সুনানুল আবইয়ান (৬৭- ৬৮)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২০)
لكن هناك دلائل بيّنةٌ عند أهل الحديث غير تلك الدلائل اليقينيّة، مثل بُعْدِ البلدان، أو إدخال الوسائط، ونحو ذلك من القرائن التي تشهد لعدم السماع وتُغلّبُ عدمَ حصوله.

فهل هذه الدلائل تَدْخُل في (الدلالة البيّنة) التي ذكرها مسلم؟

الظاهرُ والأصل دخولها فيها، لأنها داخلةٌ في معنى ما ذكره مسلم.

ويؤكد مراعاة مسلم لهذه القرائن أمور:

الأول: صريحُ كلامه، وذلك في قوله بعد ذكره (الدلالة البيّنة) :

((فأمّا والأمر مبهم، على الإمكان الذي فسّرنا، فالرواية على السماع أبدًا، حتى تكون الدلالة التي بيّنا)) .

فتأمّل قوله: ((والأمر مبهم)) ، وما تدل عليه من أن الحكم بالاتّصال بين المتعاصرين إنما يقول به مسلم عندما لا تكون هناك مرجّحات وقرائن تميل بكفّة المسألة إلى عدم السماع، إذ لو كانت هناك مثل تلك المرجحات والقرائن لم تُوصفِ المسألةُ بأن الأمر (أي أمر الاتصال) فيها مبهمٌ.

ثم يؤكّد مسلمٌ أنه كان يراعي القرائن التي تحتفُّ برواية المتعاصرين، فإما أن تؤيدَ احتمال السماع أو أن تُضْعِف احتماله، وذلك في قوله: ((أن كل إسنادٍ لحديثٍ فيه فلانٌ عن فلان، وقد أحاط العلمُ بأنهما قد كانا في عصر واحد، وجائزٌ أن يكون الحديث الذي روى الراوي عمن روى عنه قد سمعه منه وشافهه به..)) .

فَتَنَبَّهْ إلى أنه ذكر المعاصرة، ثم أضاف إليها شرطًا آخر، وهو جواز السماع وإمكانه، وهو يعني عدم وجود قرائن تُبعد احتمال اللقاء.
তবে হাদিস বিশারদগণের নিকট সেই সকল সুনিশ্চিত প্রমাণাদি ছাড়াও কতিপয় সুস্পষ্ট প্রমাণ (دلالة بينة) রয়েছে, যেমন: দেশসমূহের দূরত্ব অথবা মধ্যস্থতাকারীদের অনুপ্রবেশ এবং এই জাতীয় অন্যান্য লক্ষণ (قرينة) যা শ্রবণ (سماع) না হওয়ার সাক্ষ্য দেয় এবং শ্রবণ না ঘটার সম্ভাবনাকে প্রবল করে।

তবে এই প্রমাণগুলো কি ইমাম মুসলিম কর্তৃক উল্লিখিত 'সুস্পষ্ট প্রমাণের' (دلالة بينة) অন্তর্ভুক্ত?

বাহ্যত এবং মূলনীতি অনুযায়ী এগুলো তার অন্তর্ভুক্ত, কারণ এগুলো ইমাম মুসলিমের বর্ণনার অর্থের আওতায় পড়ে।

ইমাম মুসলিম কর্তৃক এই সকল লক্ষণ (قرينة) বিবেচনা করার বিষয়টি কয়েকটি বিষয় দ্বারা নিশ্চিত হয়:

প্রথমত: তাঁর সুস্পষ্ট বক্তব্য; আর তা হলো 'সুস্পষ্ট প্রমাণের' (دلالة بينة) কথা উল্লেখ করার পর তাঁর উক্তি:

((যতক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি অস্পষ্ট (مبهم) থাকবে—সেই সম্ভাবনার (إمكان) ভিত্তিতে যা আমরা ব্যাখ্যা করেছি—ততক্ষণ পর্যন্ত বর্ণনাটিকে সর্বদা শ্রবণ (سماع) হিসেবেই গণ্য করা হবে, যতক্ষণ না আমাদের বর্ণিত সুস্পষ্ট প্রমাণ (دلالة) পাওয়া যায়।))

সুতরাং তাঁর উক্তি 'বিষয়টি অস্পষ্ট' (مبهم)-এর প্রতি লক্ষ্য করুন; এটি একথাই নির্দেশ করে যে, সমসাময়িক দুই রাবীর মধ্যকার বর্ণনার ক্ষেত্রে সংযুক্ততার (اتصال) হুকুম ইমাম মুসলিম তখনই প্রদান করেন, যখন সেখানে এমন কোনো প্রবলকারী বিষয় বা লক্ষণ (قرينة) না থাকে যা শ্রবণ (سماع) না হওয়ার সম্ভাবনাকে জোরালো করে। কেননা যদি সেখানে এই ধরনের কোনো প্রবলকারী বিষয় বা লক্ষণ থাকত, তবে বিষয়টিকে (অর্থাৎ সংযুক্ততার বিষয়টি) অস্পষ্ট (مبهم) হিসেবে অভিহিত করা হতো না।

অতঃপর ইমাম মুসলিম পুনরায় নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি সমসাময়িকদের বর্ণনার সাথে সংশ্লিষ্ট লক্ষণসমূহকে (قرائن) বিবেচনা করতেন, যা হয় শ্রবণের (سماع) সম্ভাবনাকে সমর্থন করে অথবা তাকে দুর্বল (ضعيف) করে দেয়। আর তা তাঁর এই উক্তিতে স্পষ্ট: ((নিশ্চয়ই হাদিসের এমন প্রত্যেকটি সনদ (إسناد) যাতে 'অমুক অমুক হতে বর্ণনা করেছেন' শব্দ রয়েছে এবং এটি নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে তাঁরা উভয়ই একই যুগে ছিলেন এবং বর্ণনাকারী যাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর নিকট থেকে সেই হাদিসটি শ্রবণ (سماع) করা ও তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলা সম্ভব...))

লক্ষ্য করুন, তিনি সমসাময়িকতার কথা উল্লেখ করেছেন এবং এরপর এর সাথে আরও একটি শর্ত যুক্ত করেছেন; আর তা হলো শ্রবণ (سماع) সম্ভব হওয়া, যার অর্থ হলো সেখানে এমন কোনো লক্ষণের (قرينة) অনুপস্থিতি যা সাক্ষাতের সম্ভাবনাকে দূরবর্তী করে দেয়।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২১)
نعم هناك قولان آخران لمسلم لا يدلاّن على اشتراط إمكان اللقاء، وهما مقدِّمة كلامه الأول، عندما قال: ((وجائزٌ ممكن له لقاؤه والسماع منه، لكونهما جميعًا كانا في عصر واحد)) ، وقوله: ((إذ السماع لكل واحدٍ منهم ممكن من صاحبه غير مستنكر، لكونهم جميعًا كانوا في العصر الذي اتفقوا فيه)) .

لكن هذين القولين المجملين لا يقضيان على النصين المبينين السابقين، خاصة وأن أحدهما جاء استثناءً في آخر كلامه الأول، كما سبق.

الثاني: تطبيقاتٌ لمسلم تدل على مراعاته للقرائن:

ولها عِدّة أمثلة، سنُأجّلُها إلى موطنٍ لاحقٍ (1) . وسأكتفي منها هنا بمثال واحدٍ:

لقد تجنّب الإمامُ مسلم الإخراجَ للحسن البصري عن عمران بن حصين رضي الله عنه في صحيحه خوفًا من عدم تحقق السماع بينهما، مع أن الحسن البصري وُلد سنة (21هـ) ، وتوفي عمران بن حصين سنة (52هـ أو 53هـ) . فالحسن معاصرٌ لعمران زيادةً على ثلاثين عامًا، ساكنَ الحسنُ خلالها عمران بين حصين في بلد واحد (هو البصرة) خمس عشرة سنة. ثم إن عمران بين حصين رضي الله عنه كان أحدَ فقهاء الصحابة الذين بعثهم عمر بن الخطاب رضي الله عنه لتعليم الناس بالبصرة، فكان عمران بن حصين بذلك متصدِّرًا للتعليم في بلد الحسن البصري، ولم يكن منعزلاً أو محجوبًا بإمارة أو ولاية.

--------------------------------------------

(1) انظر ما يأتي (73، 74، 75) .
হ্যাঁ, ইমাম মুসলিমের আরও দুটি উক্তি রয়েছে যা সাক্ষাতের সম্ভাবনার (إمكان اللقاء) শর্তারোপের প্রতি ইঙ্গিত করে না। এর মধ্যে একটি হলো তাঁর প্রথম বক্তব্যের শুরুর অংশ, যেখানে তিনি বলেছেন: “আর যখন তাদের উভয়ের একে অপরের সাথে সাক্ষাৎ ও শ্রবণ (السماع) সম্ভব ও বৈধ (جائز), যেহেতু তারা উভয়েই একই যুগে বিদ্যমান ছিলেন।” এবং তাঁর অন্য উক্তিটি হলো: “যেহেতু তাদের প্রত্যেকের জন্য একে অপরের থেকে শ্রবণ (السماع) সম্ভবপর এবং এটি অস্বীকার করার মতো নয়, কারণ তারা সকলেই একই যুগে বিদ্যমান ছিলেন যেখানে তারা একত্রিত হয়েছিলেন।”

কিন্তু এই অস্পষ্ট (مجمل) উক্তি দুটি পূর্ববর্তী সুস্পষ্ট (مبين) বক্তব্য দুটির ওপর প্রাধান্য পাবে না, বিশেষ করে যখন এর একটি তাঁর প্রথম বক্তব্যের শেষে ব্যতিক্রম হিসেবে এসেছে, যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত: ইমাম মুসলিমের এমন কিছু প্রয়োগ যা পারিপার্শ্বিক প্রমাণাদির (القرائن) প্রতি তাঁর লক্ষ রাখার বিষয়টি নির্দেশ করে:

এর বেশ কিছু উদাহরণ রয়েছে, যা আমরা পরবর্তী কোনো স্থানে আলোচনার জন্য স্থগিত রাখব (১)। আমি এখানে শুধুমাত্র একটি উদাহরণের ওপরই সীমাবদ্ধ থাকব:

ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত হাসান বসরীর হাদিসগুলো সংকলন (الإخراج) করা পরিহার করেছেন তাদের উভয়ের মধ্যে শ্রবণ (السماع) সাব্যস্ত না হওয়ার আশঙ্কায়। অথচ হাসান বসরী ২১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ইমরান ইবনে হুসাইন ৫2 বা ৫৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। ফলে হাসান ত্রিশ বছরেরও অধিক সময় ধরে ইমরানের সমসাময়িক ছিলেন, যার মধ্যে হাসান পনেরো বছর ইমরান ইবনে হুসাইনের সাথে একই শহরে (বসরা) অবস্থান করেছেন। তদুপরি ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) ছিলেন সেই সকল ফকিহ সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত যাদের উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বসরার লোকদের শিক্ষা প্রদানের জন্য প্রেরণ করেছিলেন। ফলে ইমরান ইবনে হুসাইন হাসান বসরীর শহরে শিক্ষা দানে অগ্রগণ্য ছিলেন এবং তিনি নির্জনবাসী ছিলেন না কিংবা কোনো প্রশাসনিক বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের কারণে জনবিচ্ছিন্নও ছিলেন না।

--------------------------------------------

(১) সামনে দেখুন (৭৩, ৭৪, ৭৫)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২২)
ومع ذلك كلِّه يقول الحاكم في (المستدرك) عقب حديث للحسن عن عمران رضي الله عنه: ((حديث صحيح الإسناد، ولم يُخرجاه بطوله. والذي عندي أنهما لم يُخرجا من ذلك خشية الإرسال. . .)) (1) .

وقال في موطن آخر، مُصَرِّحًا بأنّ للشيخين قولاً في هذه المسألة ينقله الحاكم عنهما: ((لم يُخرج محمد بن إسماعيل ومسلم بن الحجاج في هذه الترجمة حرفًا، وذكرا أن الحسن لم يسمع من عمران، والذي عندي أن الحسن سمع من عمران)) (2) .

فلمَ خشيَ مسلمٌ الإرسالَ، مع تحقق المعاصرة الطويلة؟!

الثالث: نصَّ على مراعاة مسلم للقرائن غيرُ واحدٍ من العلماء:

يقول ابن القطان الفاسي (ت 638هـ) في (بيان الوهم والإبهام) ، متحدّثًا عن أن إدخال الوسائط بين الراويين يدل على عدم السماع، عند عدم تصريح أحدهما بلقائه الآخر في رواية أخرى: ((ويكون هذا (يعني: الإنقطاع) أبين في اثنين لم يُعلم سماعُ أحدهما من الآخر، وإن كان الزمانُ قد جمعهما. وعلى هذا المحدِّثون، وعليه وضعوا كتبهم: كمسلم في كتاب (التمييز) ، والدارقطني في (علله) ، والترمذي، وما يقع للبخاري، والنسائي، والبزار، وغيرهم ممن لا يُحصَى كثرة: تجدُهم دائبين يقضون بانقطاع الحديث المعنعن، إذا رُوي بزيادة واحدٍ بينهما)) (3) .

--------------------------------------------

(1) المستدرك (1/ 29) .

(2) المستدرك (4/ 567) .

(3) بيان الوهم والإيهام لابن القطان (2/ 416) .
এতসব সত্ত্বেও ইমাম হাকিম তাঁর 'মুস্তাদরাক'-এ ইমরান (রা.) থেকে বর্ণিত হাসানের একটি হাদিসের পর বলেছেন: "এটি সহিহ সনদ (صحيح الإسناد) বিশিষ্ট একটি হাদিস, তবে তাঁরা (বুখারি ও মুসলিম) এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বর্ণনা করেননি। আমার নিকট প্রতীয়মান হয় যে, তাঁরা বিচ্ছিন্নতার (إرسال) ভয়ে এর থেকে কোনো বর্ণনা করেননি..." (১)।

তিনি অন্য এক স্থানে এ বিষয়ে শায়খায়নের (বুখারি ও মুসলিম) একটি অভিমত উদ্ধৃত করে স্পষ্টভাবে বলেছেন: "মুহাম্মদ বিন ইসমাইল এবং মুসলিম বিন হাজ্জাজ এই শিরোনামে একটি শব্দও বর্ণনা করেননি। তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, হাসান ইমরান থেকে হাদিস শোনেননি; কিন্তু আমার মতে হাসান ইমরান থেকে হাদিস শুনেছেন।" (২)।

তবে দীর্ঘ সমসাময়িকতা নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও ইমাম মুসলিম কেন বিচ্ছিন্নতার (إرسال) আশঙ্কা করলেন?!

তৃতীয়ত: ইমাম মুসলিম যে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের (قرائن) প্রতি লক্ষ্য রেখেছেন, তা একাধিক আলেম স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন:

ইবনুল কাত্তান আল-ফাসি (মৃত্যু ৬৩৮ হি.) তাঁর 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহহাম' গ্রন্থে দুই বর্ণনাকারীর মাঝে মধ্যস্থতাকারী থাকা যে সরাসরি না শোনার প্রমাণ দেয়—যখন অন্য কোনো বর্ণনায় তাদের সাক্ষাতের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকে—সে সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "এটি (অর্থাৎ বিচ্ছিন্নতা (انقطاع)) এমন দুই ব্যক্তির ক্ষেত্রে আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে যাদের একে অপরের থেকে হাদিস শোনার কথা জানা নেই, যদিও তাঁরা সমসাময়িক ছিলেন। মুহাদ্দিসগণ (محدثون) এই মূলনীতির ওপরই রয়েছেন এবং এই ভিত্তিতেই তাঁরা তাঁদের গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন; যেমন: ইমাম মুসলিম তাঁর 'তামীজ' গ্রন্থে, ইমাম দারাকুতনি তাঁর 'ইলাল' গ্রন্থে, ইমাম তিরমিজি এবং ইমাম বুখারি, নাসায়ি, বাজ্জার ও অন্যান্যদের গ্রন্থে যা পাওয়া যায়—যাদের সংখ্যা অগণিত। আপনি দেখবেন তাঁরা সর্বদা 'আন' শব্দযোগে বর্ণিত (معنعن) হাদিসকে বিচ্ছিন্ন (منقطع) বলে রায় দেন, যখন সেই দুই বর্ণনাকারীর মাঝে অতিরিক্ত একজন বর্ণনাকারী বর্ণিত হয়।" (৩)।

--------------------------------------------

(১) মুস্তাদরাক (১/ ২৯)।

(২) মুস্তাদরাক (৪/ ৫৬৭)।

(৩) ইবনুল কাত্তান রচিত 'বায়ানুল ওয়াহমি ওয়াল ইহহাম' (২/ ৪১৬)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
ويقول العلائي في (جامع التحصيل) ، في سياق ذكره لمذاهب العلماء في الحديث المعنعن: ((والقول الرابع: أنه يُكتفى بمجرّد إمكان اللقاء، دون ثبوت أصله. فمتى كان الراوي بريئًا من تُهمة التدليس، وكان لقاؤه لمن روى عنه بالعنعنة ممكنًا من حيث السِّنّ والبلد= كان الحديثُ مُتّصلاً، وإن لم يأتِ أنهما اجتمعا قط. وهذا قول الإمام مسلم، والحاكم أبي عبد الله، والقاضي أبي بكر الباقلاني، والإمام أبي بكر الصيرفي من أصحابنا. وقد جعله مسلم رحمه الله قولَ كافّةِ أهل الحديث)) (1) .

فهذان عالمان يَنُصَّان على مراعاة الإمام مسلم للقرائن، فذكر الأولُ: قرينةَ إدخالِ للوسائط (2) ، وذكر الثاني: قرينةَ بُعْدِ البلدان بين الراويين.

ويزيد قول هذين الإمامين قوّةً أمران:

- أن ابن القطان معتمدٌ في نقله لمذهب الإمام مسلم على كتاب له قد فُقِد أغلبه، وهو كتاب (التمييز) . فعند ابن القطان زيادةُ علم، ليس لدينا منها إلا اليسير.

- وأن العلائي ممن ينصر رأي البخاري، ومع ذلك فقد أنصف مسلمًا عندما نقل هذا عنه.

ومع أني ما كنتُ أحسب أن أحدًا سيشكُ في أن إمامًا مثل مسلم (في نَقْدِه وجَهْبَذَتِه) كان مراعيًا للقرائن الشاهدة للسماع أو عدمه، لأن مراعاة هذه القرائن أمرٌ لا يخفى على طلبة الحديث في زماننا، فكيف

--------------------------------------------

(1) جامع التحصيل (117) .

(2) وانظر موقف الإمامين لخالد الدريس (350- 353) .
আল্লামা আলাইয়ি 'জামিউত তাহসিল' গ্রন্থে, মুআনআন হাদিস সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মাযহাবসমূহ আলোচনার প্রেক্ষাপটে বলেন: ((চতুর্থ অভিমতটি হলো: সাক্ষাতের মূল ভিত্তি প্রমাণিত হওয়া ছাড়াই কেবল সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকাই যথেষ্ট। সুতরাং যখন বর্ণনাকারী তাদালিস (تدليس)-এর অভিযোগ থেকে মুক্ত হন এবং যার থেকে তিনি 'আনআনা' (عنعنة)-এর মাধ্যমে বর্ণনা করছেন তার সাথে বয়স ও ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে সাক্ষাতের সম্ভাবনা থাকে, তখন সেই হাদিসটি সংযুক্ত (متصل) বলে গণ্য হবে; যদিও তাদের মধ্যে কখনো সরাসরি সাক্ষাতের বিষয়টি প্রমাণিত না হয়। এটি ইমাম মুসলিম, আল-হাকিম আবু আব্দুল্লাহ, কাজি আবু বকর আল-বাকিলানি এবং আমাদের অনুসারীদের মধ্য থেকে ইমাম আবু বকর আস-সাইরাফির অভিমত। ইমাম মুসলিম (রাহিমাহুল্লাহ) এটিকে সকল হাদিস বিশারদদের সম্মিলিত অভিমত হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।)) (১) ।

এই দুইজন ইমাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুসলিম পারিপার্শ্বিক আলামত (قرينة) বিবেচনা করতেন। প্রথমজন মধ্যস্থতাকারী বর্ণনাকারী থাকা সংক্রান্ত আলামত (قرينة) উল্লেখ করেছেন, এবং দ্বিতীয়জন দুই বর্ণনাকারীর মধ্যবর্তী ভৌগোলিক দূরত্বের আলামত (قرينة) উল্লেখ করেছেন।

এই দুই ইমামের বক্তব্যকে দুটি বিষয় অধিকতর শক্তিশালী করে:

- ইমাম মুসলিমের মাযহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে ইবনুল কাত্তান তাঁর এমন একটি কিতাবের ওপর নির্ভর করেছেন যার অধিকাংশ আজ বিলুপ্ত, আর তা হলো 'আত-তাময়িজ' কিতাবটি। সুতরাং ইবনুল কাত্তানের নিকট এমন অতিরিক্ত জ্ঞান ছিল, যার অতি সামান্য অংশই বর্তমানে আমাদের কাছে পৌঁছেছে।

- আল্লামা আলাইয়ি ইমাম বুখারির মতের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও ইমাম মুসলিমের পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করার সময় তাঁর প্রতি ইনসাফ করেছেন।

যদিও আমি কল্পনাও করিনি যে, ইমাম মুসলিমের মতো একজন ইমাম (তাঁর হাদিস সমালোচনা (نقد) ও পাণ্ডিত্যের নিরিখে) শ্রবণ (سماع) হওয়া বা না হওয়ার সাক্ষ্য বহনকারী আলামতসমূহ (قرينة) বিবেচনা করতেন কি না, সে বিষয়ে কেউ সন্দেহ করবে। কারণ এই আলামতসমূহ (قرينة) বিবেচনা করার বিষয়টি বর্তমান সময়ের হাদিসের ছাত্রদের কাছেও অস্পষ্ট নয়, এমতাবস্থায়...

--------------------------------------------

(১) জামিউত তাহসিল (১১৭) ।

(২) এবং খালেদ আদ-দারেস রচিত 'মাওকিফুল ইমামাইন' (৩৫০-৩৫৩) দেখুন।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
بأحدِ أئمة العصر الذهبي للسنة؟!! = لكني أقول أخيرًا: هل يتصّورُ أحدٌ أن ناقدًا من النّقاد (دون مسلمٍ في العلم، فضلاً عن مسلم) كان يكتفي بالمعاصرة مطلقًا، دون نظرٍ منه إلى القرائن أبدًا؟!! وهل يتصوّرُ أحدٌ أنه لو روى راوٍ خراساني عن آخر أندلسيٍّ، أو روى يمانيٌّ عن قوقازي حديثًا واحدًا معنعنًا، مع روايته عنه أحاديث أخرى بواسطةِ راوٍ أو راويين فأكثر، وكان الحديث الأول (الذي يرويه معنعنًا بغير واسطة) فيه نكارةٌ لا يحتملها أحدُ من رواته= أن مسلمًا سيحكم باتّصال مثل هذا الحديث؟!!!

فإن قيل: بَالَغْتَ في ذكر القرائن، فلا يقول أحدٌ باتّصال مثل هذا الحديث.

فأقول: هذا هو معنى قولكم إن مسلمًا لا ينظر إلى شيءٍ سوى المعاصرة وانتفاء التدليس، فالمبالغة منكم لا مني!

وعليه فلا بُدَّ أن تُقِرَّ بأن لمسلمٍ نظرًا ما إلى القرائن، بل قد أقررتَ!

يبقى أن يزعم زاعمٌ بغير دليل، وغير ناظرٍ إلى الأدلّة المخالفةِ لقوله: إن نَظَرَ مسلمٍ إلى القرائن ضعيفٌ، لا كنظر غيره من الأئمة.

وكفى بحكاية مثل هذا الزعم بيانًا لبطلانه.

فإن ادُّعى دليلٌ لذلك: بأن مسلمًا أخرج أسانيد في صحيحه حُكم فيها بعدم لقاء رواتها لبعضهم، فإنه يلزم على هذا الاستدلال أن يكون البخاريُّ مثلَ مسلم، لأنه أخرج أيضًا أسانيد حُكم فيها بعدم لقاء رواتها لبعضهم (1) !!

--------------------------------------------

(1) انظر أمثلةً لذلك في تحفة التحصيل للعراقي (رقم 275، 426، 457، 688، 358، 773، 790، 956 مع الحاشية، 983 مرتين، 1002، 1095، 1186) .
সুন্নাহর স্বর্ণযুগের কোনো একজন ইমাম সম্পর্কে?!! পরিশেষে আমি বলছি: কেউ কি কল্পনা করতে পারে যে, সমালোচকদের (نقاد) মধ্যে এমন কেউ (যিনি ইলমের ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের চেয়ে নিম্নস্তরের, ইমাম মুসলিমের কথা তো বাদই দিলাম) যিনি দলীল-প্রমাণাদির (قرائن) প্রতি বিন্দুমাত্র লক্ষ্য না করে কেবলমাত্র সমসাময়িকতার (معاصرة) ওপর ভিত্তি করেই ক্ষান্ত হতেন?!! আর কেউ কি এটা কল্পনা করতে পারে যে, যদি কোনো খোরাসানি বর্ণনাকারী (راو) কোনো আন্দালুসি বর্ণনাকারীর থেকে, কিংবা কোনো ইয়ামানি বর্ণনাকারী কোনো ককেশীয় বর্ণনাকারীর থেকে একটি ‘আন’যুক্ত (معنعن) হাদিস বর্ণনা করেন, অথচ তিনি তাঁর থেকে আরও অন্যান্য হাদিস এক বা একাধিক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন এবং প্রথম হাদিসটিতে (যা তিনি কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই ‘আন’ শব্দে বর্ণনা করছেন) এমন কোনো অসংলগ্নতা (نكارة) বিদ্যমান থাকে যা বর্ণনাকারীদের কারো পক্ষেই বহন করা সম্ভব নয়—তবে কি ইমাম মুসলিম এমন হাদিসকে নিরবচ্ছিন্ন (اتصال) হওয়ার হুকুম দেবেন?!!!

যদি বলা হয়: আপনি দলীল-প্রমাণাদির (قرائن) কথা উল্লেখ করতে গিয়ে অতিরঞ্জন করেছেন, কারণ এমন হাদিস নিরবচ্ছিন্ন (اتصال) হওয়ার কথা কেউ বলে না।

উত্তরে আমি বলব: আপনাদের এই কথাটির অর্থ দাঁড়ায় যে, ইমাম মুসলিম সমসাময়িকতা (معاصرة) এবং তাদলীস না থাকা (انتفاء التدليس) ব্যতীত অন্য কিছুর দিকে ভ্রুক্ষেপ করেন না। সুতরাং অতিরঞ্জন তো আপনাদের পক্ষ থেকেই হয়েছে, আমার পক্ষ থেকে নয়!

অতএব, আপনাকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে যে, দলীল-প্রমাণাদির (قرائن) ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে; বরং আপনি তা স্বীকার করেই নিয়েছেন!

এখন অবশিষ্ট থাকে কোনো দাবিদারের প্রমাণহীন দাবি, যে তার বক্তব্যের বিপরীত দলীলসমূহের (أدلة) দিকে নজর দেয় না যে: দলীল-প্রমাণাদির (قرائن) ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের দৃষ্টি অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف), যা অন্যান্য ইমামদের দৃষ্টিভঙ্গির মতো নয়।

এ জাতীয় দাবির অসারতা প্রমাণের জন্য এর উল্লেখটুকুই যথেষ্ট।

আর যদি এর স্বপক্ষে এমন দলীল পেশ করা হয় যে: ইমাম মুসলিম তাঁর সহিহ গ্রন্থে এমন কিছু সনদসমূহ (أسانيد) বর্ণনা করেছেন যেগুলোর বর্ণনাকারীদের মাঝে পারস্পরিক সাক্ষাৎ না হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয়েছে, তবে এই যুক্তিতে ইমাম বুখারিকেও ইমাম মুসলিমের সমপর্যায়ের মনে করতে হবে; কারণ তিনিও এমন কিছু সনদসমূহ (أسانيد) বর্ণনা করেছেন যেগুলোর বর্ণনাকারীদের মাঝে পারস্পরিক সাক্ষাৎ না হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হয়েছে (১)!!

--------------------------------------------

(১) ইরাকির তুহফাতুত তাহসিল গ্রন্থে এর উদাহরণগুলো দেখুন (নং ২৭৫, ৪২৬, ৪৫৭, ৬৮৮, ৩৫৮, ৭৭৩, ৭৯০, ৯৫৬ টীকাসহ, ৯৮৩ দুই বার, ১০০২, ১০৯৫, ১১৮৬)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
على أن الصواب: هو أن الشيخين (البخاريَّ ومسلمًا) كانا مراعيين لقرائن السماع وعدمه أتمَّ مراعاة، وأمّا ما أخرجاه وحُكم عليه بعدم السماع فإنه لا يتجاوز أن يكون اختلافَ اجتهادٍ بين الأئمة غالبًا، وقد يصح أن يُعتذر في بعض الأحاديث بأنهما إنما أخرجاها متابعةً أو شاهدًا لا على وَجْهِ الأصالة والاحتجاج (1) ، وقد يصحُّ أيضًا أن يكون إخراجُه بيانًا لعلّته!! فيما إذا كان سياقُ ذكرهما له يدل على هذا المعنى.

وانظر كيف قاد اعتقادُ عدمِ مراعاة مسلم للقرائن إلى ظُلمِ مسلم (عليه رحمة الله) !! وذلك في قول ابن رجب: ((ويردُّ على ما ذكره مسلمٌ: أنه يلزمه أن يحكم باتّصال كل حديث رواه من ثبت له رؤيةٌ من النبي صلى الله عليه وسلم، بل هؤلاء أولى، لأن هؤلاء ثبت لهم اللُّقِيّ، وهو يكتفي بمجرّد إمكان السماع. ويلزمه أيضًا الحُكْمُ باتصال حديث كل من عاصر النبي صلى الله عليه وسلم، وأمكن لُقِيُّهُ له، إذا روى عنه شيئًا، وإن لم يثبت سماعه منه، ولا يكون حديثُه عن النبي صلى الله عليه وسلم مرسلاً، وهذا خلافُ إجماع أئمة الحديث)) (2) .

لقد ظنَّ ابنُ رجب أن مسلمًا لا يراعي قرائن عد السماع، ولذلك ألزمه بهذين الإلزامين.

فلن تجدَ في الردّ على ذلك الظنّ، ولا في دَفْعِ هذين الإلزامين، أقوى من تصريح مسلم بعدم التزامه بهما.

ففي الإلزام الأول: يقول مسلم في كتابه (الطبقات) ، وفي طبقة

--------------------------------------------

(1) وانظر موقف الإمامين لخالد الدريس (153- 156) .

(2) شرح علل الترمذي لابن رجب (2/ 598) .
তবে সঠিক মত হলো এই যে: শায়খাইন (বুখারি ও মুসলিম) শ্রবণ (سماع) বিদ্যমান থাকা এবং না থাকার আলামতসমূহ পরিপূর্ণভাবে লক্ষ্য রাখতেন। আর তাঁরা যা বর্ণনা করেছেন অথচ শ্রবণ (سماع) না হওয়ার হুকুম দেওয়া হয়েছে, তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ইমামদের মধ্যকার ইজতিহাদ (اجتهاد) গত মতপার্থক্য ছাড়া আর কিছু নয়। কিছু হাদিসের ক্ষেত্রে কৈফিয়ত হিসেবে এটিও সঠিক হতে পারে যে, তাঁরা সেগুলো কেবল মুতাবা'আত (متابعة) অথবা শাহেদ (شاهد) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, মৌলিকতা বা দলিল হিসেবে গ্রহণের (احتجاج) জন্য নয় (১)। এছাড়া তাঁদের বর্ণনাটি সেই হাদিসের ত্রুটি (علة) বর্ণনা করার জন্যও হতে পারে!! যদি তাঁদের বর্ণনার প্রেক্ষাপট এই অর্থটিই নির্দেশ করে।

আর দেখুন, আলামতসমূহ লক্ষ্য না করার ধারণাটি কীভাবে ইমাম মুসলিমের (তাঁর ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক) প্রতি অবিচারের দিকে নিয়ে গেছে!! ইবনে রজবের এই বক্তব্যে তা স্পষ্ট: ((মুসলিম যা উল্লেখ করেছেন তার বিপরীতে বলা যায়: এর মাধ্যমে তাঁর ওপর এটি আবশ্যক হয়ে যায় যে, তিনি এমন প্রত্যেক হাদিসকে নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হওয়ার হুকুম দেবেন যা এমন ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন যার নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার বিষয়টি প্রমাণিত। বরং এঁদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি প্রযোজ্য, কারণ তাঁদের সাক্ষাৎ (لقي) প্রমাণিত হয়েছে, অথচ তিনি কেবল শ্রবণের সম্ভাবনা (إمكان السماع)-কেই যথেষ্ট মনে করেন। আরও আবশ্যক হয়ে যায় এমন প্রত্যেকের হাদিসকে নিরবচ্ছিন্ন (متصل) হিসেবে গণ্য করা যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সমসাময়িক ছিলেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ (لقي) সম্ভব ছিল, যখন তিনি তাঁর থেকে কিছু বর্ণনা করেন, যদিও তাঁর থেকে শ্রবণ (سماع) প্রমাণিত না হয়। এমতাবস্থায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাঁর হাদিসটি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হবে না, যা হাদিস বিশারদ ইমামদের ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী)) (২)।

ইবনে রজব ধারণা করেছিলেন যে, মুসলিম শ্রবণ (سماع) না হওয়ার আলামতসমূহ লক্ষ্য করেন না, আর একারণেই তিনি তাঁর ওপর এই দুটি বিষয় আবশ্যক করে দিয়েছেন।

সেই ধারণার খণ্ডন কিংবা এই দুটি বিষয়ের প্রতিবাদে ইমাম মুসলিমের নিজের পক্ষ থেকে এই দুটি বিষয় অনুসরণ না করার সুস্পষ্ট ঘোষণার চেয়ে শক্তিশালী আর কিছু আপনি পাবেন না।

প্রথম আবশ্যকীয় বিষয়ের ক্ষেত্রে: মুসলিম তাঁর আত-তাবাকাত গ্রন্থে এবং অমুক স্তরে বলেছেন...

--------------------------------------------

(১) এবং দেখুন খালিদ আদ-দরীস রচিত মাওকিফুল ইমামাইন (১৫৩-১৫৬)।

(২) ইবনে রজব রচিত শারহু ইলালিত তিরমিজি (২/৫৯৮)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
التابعين: ((فأوّل ما نبدأ بذكره منهم، من قيل له إنه وُلد في حاية النبي صلى الله عليه وسلم وبعضُهم سمّاه النبيُّ صلى الله عليه وسلم بالاسم الذي هو اسمه)) (1) .

فيُعلن مسلم هنا أن هؤلاء ممن وُلد في حياة النبي صلى الله عليه وسلم وسمّاه النبي صلى الله عليه وسلم= أنهم من التابعين، وحديث التابعي عن النبي صلى الله عليه وسلم لا يصفه أحدٌ بأنه متّصل.

وأمّا الإلزام الثاني: فإن مسلمًا أول من صنّف جزءًا في المخضرمين، والمخضرمون أعلى طبقةٍ في التابعين. ومع ذلك فقد صَرّح مسلمٌ بعدم الحكم بلقائهم للنبي صلى الله عليه وسلم، عندما قال في افتتاح جزئه فيهم: ((ذكر من أدرك الجاهليّة، ولم يَلْقَ النبيَّ صلى الله عليه وسلم، ولكنه صحب الصحابة بعد النبي صلى الله عليه وسلم)) (2) .

فانظر إلى قوله: ((ولم يلق النبي صلى الله عليه وسلم)) وما يتضمّنه من عدم الاكتفاء المطلق بالمعاصرة.

ونخلص بذلك أن شروط مسلم لقبول الحديث المعنعن ثلاثة (كما سبق) ، هي:

الأول: المعاصرة.

الثاني: أن لا يكون الراوي ممن تُرَدُّ عنعنته بالتدليس.

الثالث: عدمُ وجود دليل يقطع بانتفاء اللقاء، أو قرينةٍ تشهد لعدمه.

--------------------------------------------

(1) الطبقات لمسلم (1/ 227) .

(2) معرفة علوم الحديث للحاكم (44) .
তাবিঈগণ (التابعين): ((তাদের মধ্য থেকে যাদের কথা উল্লেখ করে আমরা শুরু করব, তারা হলেন সেই সকল ব্যক্তি যাদের সম্পর্কে বলা হয় যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের কয়েকজনকে বর্তমান নামেই নামকরণ করেছিলেন)) (১) ।

ইমাম মুসলিম এখানে ঘোষণা করছেন যে, যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশায় জন্মগ্রহণ করেছেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নামকরণ করেছেন, তারা তাবিঈগণের (التابعين) অন্তর্ভুক্ত। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত তাবিঈর হাদিসকে কেউ সংযুক্ত (متّصل) হিসেবে গণ্য করেন না।

আর দ্বিতীয় বাধ্যবাধকতা হলো: ইমাম মুসলিম হলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি মুখাদরামুন (المخضرمون) সম্পর্কে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন; আর মুখাদরামুনরা (المخضرمون) তাবিঈদের (التابعين) মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরের। তা সত্ত্বেও, ইমাম মুসলিম স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, তারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেননি—যখন তিনি তাদের সম্পর্কে রচিত পুস্তিকার ভূমিকায় বলেছেন: ((তাদের আলোচনা যারা জাহিলিয়াত যুগ পেয়েছেন কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেননি, তবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর সাহাবীগণের সাহচর্য লাভ করেছেন)) (২) ।

সুতরাং লক্ষ্য করুন তাঁর এই উক্তির প্রতি: ((এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাক্ষাৎ লাভ করেননি)) এবং এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয় যে, শুধুমাত্র সমসাময়িকতা (المعاصرة) থাকলেই তা যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয় না।

এর মাধ্যমে আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হই যে, 'আনআনাহ' যুক্ত (المعنعن) হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে ইমাম মুসলিমের শর্তাবলী তিনটি (যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে), সেগুলো হলো:

প্রথম: সমসাময়িকতা (المعاصرة)।

দ্বিতীয়: বর্ণনাকারী (الراوي) এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না যাদের 'আনআনাহ' (عنعنة) তাদলিস (التدليس) করার কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়।

তৃতীয়: সাক্ষাৎ না হওয়ার ব্যাপারে অকাট্য কোনো প্রমাণের অনুপস্থিতি, অথবা এমন কোনো আলামত না থাকা যা সাক্ষাতের অসম্ভাব্যতা নির্দেশ করে।

--------------------------------------------

(১) আত-তাবাকাত লিল মুসলিম (১/ ২২৭)।

(২) মা'রিফাত উলূম আল-হাদিস লিল হাকিম (৪৪)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌ملاحظة:

تعبيرُ بعضِ أهل العلم: ((بأن البخاري يشترط العلم باللقاء أو السماع، وأن مسلمًا لا يشترط العلم بذلك)) تعبيرٌ فيه تجوُّزٌ وتسمُّحٌ، الداعي إليه عند هؤلاء العلماء: الاختصارُ، وعدم خفاء المعنى المقصود لدى السامعين. ذلك أن الشيخين كليهما -في الحقيقة- يشترطان العلم بالسماع، لأن هذا هو مقتضى شرط الاتّصال الذي يتّفقُ الشيخان عليه. وإنما يظهر الفرق بين المذهب المنسوب إلى البخاري ومذهب مسلم في وسيلة العلم بالسماع، لا في العلم بالسماع المتّفق عليه بالاتفاق على اشتراط الاتصال. فالبخاري (في الشرط المنسوب إليه) لا يعلم بالسماع حتى يقف على نصٍّ صريح يدل عليه، ومسلمٌ لا يعلم بالسماع إلا بالشروط الثلاثة المذكورة سابقًا.

لذلك فإن الأدقّ أن يقال في التعبير عن شرط الشيخين: إن البخاري (فيما يُنسب إليه) يشترط أن يثبت لديه نصٌّ صريح دالٌّ على اللقاء أو السماع، وأمّا مسلم فلا يشترط ذلك. مع اشتراطهما جميعًا الاتصال، الذي إنما يُتَصَوَّرُ حصوله باللقاء والسماع.

وأنبِّه إلى هذا حتى لا يقع في بعض الأذهان أن مسلمًا لا يشترط العلم باللقاء والسماع، بمعنى أنه لا يشترط الاتصال!!

ومع هذا التنبيه فلا أجدُ عليَّ من غضاضةٍ إذا ما استخدمتُ العبارة المختصرةَ التي استخدمها العلماءُ من قبل، تجوُّزًا وتسمُّحًا أيضًا

‌‌ثالثًا: تحريرُ شَرْطِ أبي المُظَفَّر السمعاني (ت 489هـ) .

ذكر أبو المظفّر السمعاني مجادلةً بين الشافعيّة والحنفيّة حول حُجِّيَّة الحديث المرسل، وأن الحنفيّة احتجّوا على الشافعيّة بقبول الشافعيّة
দ্রষ্টব্য:

কিছু আলেমদের এই অভিব্যক্তি যে: "বুখারি সাক্ষাৎ বা শ্রবণ (السماع) নিশ্চিত হওয়াকে শর্ত করেন, আর মুসলিম তা শর্ত করেন না" - এটি একটি রূপক ও শিথিল বর্ণনা। এই আলেমদের এমন বর্ণনা দেওয়ার পেছনের কারণ হলো: সংক্ষেপণ এবং শ্রোতাদের কাছে উদ্দিষ্ট অর্থ স্পষ্ট থাকা। কারণ প্রকৃতপক্ষে শাইখাইন (বুখারি ও মুসলিম) উভয়েই শ্রবণ (السماع) নিশ্চিত হওয়াকে শর্ত করেন, যেহেতু এটি অবিচ্ছিন্নতা (الاتّصال)-এর শর্তের দাবি, যে বিষয়ে শাইখাইন একমত। তবে বুখারির প্রতি সম্বন্ধযুক্ত মাজহাব এবং মুসলিমের মাজহাবের মধ্যে পার্থক্যটি কেবল শ্রবণ (السماع) নিশ্চিত হওয়ার মাধ্যমের ক্ষেত্রে প্রকাশ পায়, শ্রবণ (السماع) নিশ্চিত হওয়ার মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে নয় যা অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال)-এর শর্তের ব্যাপারে উভয় ইমামের ঐকমত্যের অন্তর্ভুক্ত। তাই বুখারি (তাঁর প্রতি সম্বন্ধযুক্ত শর্ত অনুযায়ী) ততক্ষণ পর্যন্ত শ্রবণ (السماع) নিশ্চিত মনে করেন না যতক্ষণ না তিনি এর ওপর প্রমাণস্বরূপ কোনো স্পষ্ট পাঠ (نص صريح) পান, আর মুসলিম ইতিপূর্বে বর্ণিত তিনটি শর্ত ছাড়া শ্রবণ (السماع) নিশ্চিত মনে করেন না।

অতএব, শাইখাইনের শর্ত বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিকতর সূক্ষ্ম কথা হলো: বুখারি (তাঁর প্রতি যা সম্বন্ধ করা হয় সে অনুযায়ী) শর্ত করেন যে, তাঁর নিকট সাক্ষাৎ বা শ্রবণ (السماع)-এর ওপর প্রমাণস্বরূপ কোনো স্পষ্ট পাঠ (نص صريح) সাব্যস্ত হতে হবে, আর মুসলিম তা শর্ত করেন না। যদিও তাঁরা উভয়েই অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال)-এর শর্তারোপ করেন, যা কেবল সাক্ষাৎ ও শ্রবণ (السماع)-এর মাধ্যমেই অর্জিত হওয়া সম্ভব বলে গণ্য হয়।

আমি এ বিষয়ে সতর্ক করছি যাতে কারো মনে এই ধারণা না জন্মায় যে, মুসলিম সাক্ষাৎ ও শ্রবণ (السماع) নিশ্চিত হওয়াকে শর্ত করেন না, যার অর্থ দাঁড়ায় তিনি অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال) শর্ত করেন না!!

এই সতর্কবাণী সত্ত্বেও, আমি যদি পূর্ববর্তী আলেমদের ব্যবহৃত সেই সংক্ষিপ্ত বাক্যটি রূপক ও শিথিলভাবে ব্যবহার করি তবে তাতে কোনো দোষ দেখি না।

তৃতীয়ত: আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি (মৃত্যু: ৪৮৯ হিজরি)-এর শর্তের বিশ্লেষণ।

আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি বিচ্ছিন্ন (مرسل) হাদিসের প্রামাণিকতা সম্পর্কে শাফেয়ি ও হানাফিদের মধ্যকার একটি বিতর্ক উল্লেখ করেছেন। সেখানে হানাফিরা শাফেয়িদের বিপক্ষে এই যুক্তি পেশ করেছেন যে, শাফেয়িরা কবুল করেছেন...
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
للحديث المعنعن، مع احتمال الانقطاع والتدليس. فأجاب أبو المظفَّر السمعاني بقوله في (قواطع الأدلّة) : ((أمّا قولهم: إنه تُقبل الرواية بالعنعنة. قلنا: نحن لا نقبل، إلا أن نعلم أو يغلب على الظن أنه غير مرسل، وهو أن يقول: (حدثنا فلان) أو (سمعت فلاناً) ، أو يقول (عن فلان) ويكون قد أطال صحبته، لأن ذلك أمارة تدلّ على أنه سمعه منه. فأمّا بغير هذا، فلا يُقبل حديثُه)) (1) .

فاحتجَّ بهذه العبارة جَمْعٌ من أهل العلم على أن أبا المظفر السمعاني يشترط في الحديث المعنعن شرطًا هو فوق الشرط المنسوب إلى البخاري، ألا وهو اشتراط طول الصُّحْبة، وعدم الاكتفاء بمجرّد اللقاء، فضلاً عن المعاصرة!

إلا أن لأبي المظفّر السمعاني كلامًا أَحْكَمَ من كلامه السابق، واحد أهمّ وجوه إحكامه أنه ذكره في سياق كلامه عن حكم الحديث المعنعن وحكم التدليس، فهو واردٌ في موطنه اللائق به، والذي هو أَوْلَى المواطن بأن يُوفَّى فيه حقّه من البيان.

يقول أبو المظفّر السمعاني: ((فأمّا من لم يشتهر بالتدليس ولم يُعرف به، قُبِل منه إذا قال (عن فلان) ، وحُمل في ذلك على السماع، لأن الناس قد يفعلون ذلك طلبًا للخِفّة، إذ هو أسهل عليهم من أن يقولوا في كل حديث: (حدثنا) . والعُرْفُ الجاري في ذلك يُقَامُ مقامَ التصريح)) (2) . ثم نقل السمعاني كلام الحاكم في قبول الحديث المعنعن

--------------------------------------------

(1) قواطع الأدلة للسمعاني (2/ 456- 457) .

(2) قواطع الأدلة (2/ 311- 312) .
মুআনআন (المعنعن) হাদিসের ক্ষেত্রে, যেখানে বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع) এবং তাদলিস (التدليس) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এর উত্তরে আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি তাঁর কাওয়াতিউল আদিল্লাহ গ্রন্থে বলেছেন: ((তাদের এই কথা যে, আনআনাহ (العنعنة) যুক্ত বর্ণনা গ্রহণযোগ্য—এর প্রেক্ষিতে আমরা বলি: আমরা এটি গ্রহণ করি না, যতক্ষণ না আমরা নিশ্চিত হই বা প্রবল ধারণা পোষণ করি যে এটি মুরসাল (مرسل) নয়। আর তা এভাবে যে, সে বলবে: 'অমুক আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' অথবা 'আমি অমুকের নিকট থেকে শুনেছি' অথবা সে বলবে 'অমুকের নিকট থেকে' এবং তাঁর সাথে দীর্ঘ সাহচর্য থেকে থাকবে; কারণ এটি তাঁর কাছ থেকে সরাসরি শোনার নিদর্শন বহন করে। এছাড়া অন্য কোনোভাবে তার হাদিস গ্রহণযোগ্য হবে না)) (১)।

আলেমদের একটি দল এই বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তি দিয়েছেন যে, আবু আল-মুজাফফর আস-সামআনি মুআনআন (المعنعن) হাদিসের ক্ষেত্রে এমন একটি শর্তারোপ করেছেন যা ইমাম বুখারির প্রতি আরোপিত শর্তের চেয়েও কঠিন। আর তা হলো দীর্ঘ সাহচর্যের শর্তারোপ এবং কেবল সাক্ষাতের ওপরই নির্ভর না করা, সমসাময়িকতা (المعاصرة) তো দূরের কথা!

তবে আবু আল-মুজাফফর আস-সামানির এমন একটি বক্তব্য রয়েছে যা পূর্বোক্ত বক্তব্যের চেয়েও অধিক সুসংগত। এর সুসংগত হওয়ার একটি অন্যতম প্রধান দিক হলো, তিনি এটি মুআনআন (المعنعن) হাদিস এবং তাদলিস (التدليس)-এর বিধান আলোচনার প্রেক্ষাপটে উল্লেখ করেছেন। ফলে এটি এর যথোপযুক্ত স্থানেই বর্ণিত হয়েছে, যা বিষয়টিকে পূর্ণাঙ্গরূপে ব্যাখ্যা করার জন্য সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত স্থান।

আবু আল-মুজাফফর আস-সামানি বলেন: ((যিনি তাদলিস (التدليس) করার জন্য প্রসিদ্ধ নন এবং তা করেন বলে পরিচিতি পাননি, তিনি যখন 'অমুকের নিকট থেকে' বলেন তখন তা গ্রহণ করা হবে এবং একে শ্রবণের (السماع) ওপর ভিত্তি করা হবে। কারণ মানুষ কথা সংক্ষেপ করার জন্য অনেক সময় এমনটি করে থাকে, যেহেতু প্রতিটি হাদিসের ক্ষেত্রে 'আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন' বলার চেয়ে এটি তাদের জন্য সহজতর। আর এক্ষেত্রে প্রচলিত রীতি সরাসরি বর্ণনার স্থলাভিষিক্ত হবে)) (২)। এরপর সামানি মুআনআন (المعنعن) হাদিস গ্রহণের বিষয়ে আল-হাকিমের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।

--------------------------------------------

(১) কাওয়াতিউল আদিল্লাহ লিস-সামআনি (২/ ৪৫৬- ৪৫৭)।

(২) কাওয়াতিউল আদিল্লাহ (২/ ৩১১- ৩১২)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
مع السلامة من التدليس، بما تضمّنه كلام الحاكم من نَقْلِ الإجماع عليه (1) ، دون أن يخالفه في شيءٍ، بل نقله نَقْل المحتجِّ به المعتمدِ عليه.

ففي هذا الموطن يصرّح أبو المظفّر أنه يقبل الحديث المعنعن دون قيد أو شرط، إلا من شرط أن لا يكون الراوي مدلّسًا.

فإن قيل: لكنه أيضًا لم يشترط المعاصرة؟ قلت: لكن اشتراط المعاصرة أمرٌ بَدَهيّ، إذ كيف يتحقق الاتصال مع عدم المعاصرة؟ ! ثم ما معنى اشتراط سلامة الراوي من وصمة التدليس إذا لم يَكن هناك معاصرةٌ أصلاً؟ !! وعليه: فإن اشتراط المعاصرة في مثل هذا السياق لا حاجةَ إليها، كما أن اشتراطَ أن لا يكونَ الراوي قد صَرّح بعدم اللقاء غير محتاج إليه فيه.

فإن قيل: فأيُّ القولين المعبِّرُ عن مذهب أبي المظفّر السمعاني؟

فأقول: هذا السؤال بُني على محاولة الترجيح، فإن أردنا الترجيح، فلا شك أن كلام أبي المظفر في اشتراط طول الصحبة كلامٌ مرجوحٌ، في مقابل كلامه الذي لم يشترط فيه هذا الشرط، وذلك لأسباب:

أولاً: أن كلامه الذي لم يشترط فيه طول الصحبة جاء في موطنه وسياقه المستحقِّ له، وهو موطن الحديث عن حكم الحديث المعنعن. بخلاف كلامه الذي اشترط فيه طول الصحبة، فإنه جاء في غير موطنه، على ما بيّنّاه عند ذكره. والكلام الوارد في سياقه الطبيعي وموطنه اللائق به أولى بالتحرير والتدقيق من كلامٍ ورد عَرَضًا في غير مظنّته، لذلك

--------------------------------------------

(1) انظر ما يأتي (95- 102) .
তাদলিস বা সত্য গোপন (التدليس) থেকে মুক্ত হওয়ার সাথে সাথে, যা ইমাম হাকিমের বক্তব্যে বর্ণিত ইজমা বা সর্বসম্মতি (الإجماع)-র অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, তিনি এর কোনো কিছুতেই দ্বিমত পোষণ করেননি। বরং তিনি এটি এমনভাবে উদ্ধৃত করেছেন যা দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য এবং যার ওপর নির্ভর করা যায়।

সুতরাং এই স্থানে আবু মুজাফফর স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, তিনি কোনো প্রকার শর্তারোপ ছাড়াই মুআনআন (المعنعن) হাদিস গ্রহণ করেন, শুধু এই শর্ত ব্যতিরেকে যে, বর্ণনাকারী (الراوي) যেন মুদাল্লিস (مدلس) না হন।

যদি প্রশ্ন করা হয়: কিন্তু তিনি তো সমসাময়িকতা (المعاصرة)-র শর্তও উল্লেখ করেননি? আমি বলব: সমসাময়িকতা (المعاصرة)-র শর্তারোপ একটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়, কারণ সমসাময়িকতা (المعاصرة) ব্যতীত কীভাবে হাদিসের সূত্রের অবিচ্ছিন্নতা (الاتصال) অর্জিত হতে পারে?! অধিকন্তু, যদি আদতে সমসাময়িকতাই না থাকে, তবে বর্ণনাকারীকে (الراوي) তাদলিস বা সত্য গোপন (التدليس)-এর কলঙ্ক থেকে মুক্ত থাকার শর্ত দেওয়ার মানেই বা কী থাকে?!! অতএব, এই ধরনের প্রেক্ষাপটে সমসাময়িকতা (المعاصرة)-র শর্তারোপের কোনো প্রয়োজন নেই, ঠিক যেমন বর্ণনাকারী (الراوي) সরাসরি সাক্ষাৎ না হওয়ার কথা ব্যক্ত না করার শর্তারোপেরও এখানে কোনো প্রয়োজন নেই।

যদি প্রশ্ন করা হয়: তবে আবু মুজাফফর আস-সামআনি-র মাযহাব বা মতাদর্শের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটে কোন মতটিতে?

উত্তরে আমি বলব: এই প্রশ্নটি প্রাধান্য নির্ণয় (الترجيح)-এর প্রচেষ্টার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। যদি আমরা প্রাধান্য (الترجيح) দিতে চাই, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, দীর্ঘ সাহচর্য থাকা সংক্রান্ত আবু মুজাফফরের বক্তব্যটি দুর্বল (مرجوح), যা তার সেই বক্তব্যের বিপরীতে যেখানে তিনি এই শর্তারোপ করেননি। আর এটি বেশ কিছু কারণে:

প্রথমত: দীর্ঘ সাহচর্যের শর্তারোপ না করা সংক্রান্ত তাঁর বক্তব্যটি এর যথাযথ স্থান ও উপযুক্ত প্রেক্ষাপটে এসেছে; আর সেটি হলো মুআনআন (المعنعن) হাদিসের বিধান সম্পর্কিত আলোচনার অধ্যায়। এর বিপরীতে দীর্ঘ সাহচর্যের শর্ত সম্বলিত তাঁর কথাটি এসেছে অপ্রাসঙ্গিক স্থানে, যা আমরা তা উল্লেখ করার সময় ব্যাখ্যা করেছি। আর কোনো বক্তব্য যখন তার স্বাভাবিক প্রেক্ষাপট ও উপযুক্ত স্থানে বর্ণিত হয়, তখন তা অন্য কোনো স্থানে প্রাসঙ্গিকভাবে আসা বক্তব্যের চেয়ে অধিকতর সুসংহত ও সূক্ষ্ম যাচাইকৃত হিসেবে গণ্য হওয়ার দাবি রাখে। তাই—

--------------------------------------------

(১) সামনে দেখুন (৯৫- ১০২) ।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
كان كلامه الذي لم يشترط فيه طول الصحبة أولى بالتقديم وأحق بالترجيح.

ثانيًا: أن كلامه الذي لم يشترط فيه طولَ الصحبة، والذي جاء في موطنه اللائق به= كلامٌ يوافقه عليه جَمْعٌ من الأئمة (إن لم يكن جميع الأئمة) ، وعلى رأسهم الإمام مسلم والحاكم (الذي أورد كلامه محتجًّا به) . بخلاف كلامه الذي اشترط فيه طول الصحبة، والذي جاء في غير سياقه الطبيعي= فإنه كلامٌ لا يوافقه عليه أحدٌ، ومذهبٌ غريب لا متابع له فيه. وأَوْلى بالإمام الذي له قولان، أحدهما موافقٌ لجَمْع من الأئمة، والآخرُ مخالفٌ لجميع مذاهب الأئمة، أن يكون أولى المذهبين وأحرى القولين أن يُنْسَبَ إليه= ما كان موافقًا، لا ما كان شاذًّا مستنكرًا.

ثالثًا: أن السمعاني لمّا قال كلامه الذي لم يشترط فيه طول الصحبة، علَّلَ قبول العنعنة بأن للعنعنة معنىً عُرْفيًّا يدل على الاتّصال. وهذا التعليل الذي صدر من السمعاني نفسه لبيان سبب قبول العنعنة، لا يكون لاشتراط طول الصحبة معه أيّ معنى، ولا يُتصَوَّر أن صاحب هذا التعليل يعود إلى اشتراط طول الصحبة، الذي هو شرطٌ يدل على أن القائل به كان غافلاً عن ذلك التعليل كل الغفلة (1) .

رابعاً: أن كلام السمعاني الذي لم يشترط فيه طول الصحبة جاء مُعَلَّلاً، ومستدلاً عليه بكلام الحاكم أحدِ أئمة الحديث، بما تضمّنه كلامه من نقل الإجماع. بخلاف كلامه الذي فيه اشتراط طول الصحبة، فإنه لم يحشد له تلك الأدلّة. والكلام المؤيَّد بالدليل، أولى من الكلام الغُفْل المهمل من الدليل والبرهان.

--------------------------------------------

(1) انظر ما يأتي من أَثَرِ دلالةِ (عن) العرفيّة على الاتصال في ترجيح مذهب مسلم (148- 151) .
তাঁর সেই বক্তব্য, যাতে তিনি দীর্ঘ সাহচর্যের (طول الصحبة) শর্ত আরোপ করেননি, তা অগ্রাধিকার পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য এবং প্রামাণিক হিসেবে অধিক যোগ্য।

দ্বিতীয়ত: তাঁর সেই বক্তব্য যাতে তিনি দীর্ঘ সাহচর্যের (طول الصحبة) শর্ত করেননি এবং যা যথোপযুক্ত স্থানে এসেছে, তা এমন এক বক্তব্য যার সাথে একদল ইমাম (এমনকি সকল ইমাম বললেও ভুল হবে না) একমত পোষণ করেছেন। তাঁদের অগ্রভাগে রয়েছেন ইমাম মুসলিম ও ইমাম হাকিম (যিনি তাঁর বক্তব্যকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করে উল্লেখ করেছেন)। পক্ষান্তরে, তাঁর সেই বক্তব্য যাতে তিনি দীর্ঘ সাহচর্যের (طول الصحبة) শর্তারোপ করেছেন এবং যা তার স্বাভাবিক প্রেক্ষাপটের বাইরে এসেছে, সেটি এমন এক বক্তব্য যার সাথে কেউ একমত নন। এটি একটি বিরল মতবাদ যার কোনো অনুসারী নেই। যে ইমামের দুটি মত থাকে, যার একটি ইমামদের একটি দলের সাথে সংগতিপূর্ণ এবং অন্যটি সকল ইমামের মতের পরিপন্থী, তখন তাঁর দিকে সেই মতটি সম্বন্ধ করা অধিক যুক্তিযুক্ত যা অন্যদের সাথে সংগতিপূর্ণ, যা বিচ্ছিন্ন (شاذ) বা বর্জনীয় (مستنكر) তা নয়।

তৃতীয়ত: সামআনি যখন তাঁর সেই বক্তব্য প্রদান করেন যাতে দীর্ঘ সাহচর্যের (طول الصحبة) শর্ত ছিল না, তখন তিনি আন'আনা (العنعنة) গ্রহণ করার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, আন'আনার একটি প্রথাগত অর্থ রয়েছে যা ধারাবাহিক সংযোগ (الاتصال) নির্দেশ করে। আন'আনা (العنعنة) গ্রহণের কারণ বর্ণনায় সামআনি নিজেই যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তার সাথে দীর্ঘ সাহচর্যের (طول الصحبة) শর্তারোপের কোনো অর্থ হয় না। এটি কল্পনাও করা যায় না যে, এই ব্যাখ্যার প্রবক্তা পুনরায় দীর্ঘ সাহচর্যের (طول الصحبة) শর্তের দিকে ফিরে যাবেন; কারণ এই শর্তটি প্রমাণ করে যে, এর প্রবক্তা উক্ত ব্যাখ্যা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অসতর্ক ছিলেন (১)।

চতুর্থত: সামআনির সেই বক্তব্য যাতে দীর্ঘ সাহচর্যের (طول الصحبة) শর্ত নেই, তা কারণ দর্শানোসহ বর্ণিত হয়েছে এবং হাদিসের অন্যতম ইমাম হাকিমের বক্তব্যের মাধ্যমে তার সপক্ষে দলিল পেশ করা হয়েছে, যেখানে তিনি ইজমা (الإجماع) বর্ণনা করেছেন। পক্ষান্তরে, তাঁর যে বক্তব্যে দীর্ঘ সাহচর্যের (طول الصحبة) শর্ত রয়েছে, সেখানে তিনি এ ধরনের কোনো দলিল উপস্থাপন করেননি। আর দলিল দ্বারা সমর্থিত বক্তব্য সেই বক্তব্য অপেক্ষা অধিক উত্তম, যা দলিল ও প্রমাণহীন।

--------------------------------------------

(১) ইমাম মুসলিমের মতের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে ধারাবাহিক সংযোগের (الاتصال) ওপর ‘আন’ (عن) শব্দের প্রথাগত অর্থগত প্রভাব সম্পর্কে সামনে দেখুন (১৪৮-১৫১)।
(খণ্ড: ১) ইজমাউল মুহাদ্দিসীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
هذا كله إن أردنا الترجيح بين قولي السمعاني، لكن الأولى أن نحاول الجمع بين قوليه، فذلك خيرٌ من ضربهما ببعضهما، خاصةً وأنهما قولان صادران من إمام واحد، بل في كتاب واحد أيضًا.

والجمع يظهر من التدقيق في كلام السمعاني الذي اشترط فيه طُولَ الصحبة، والتنبُّهِ إلى أنه لم يشترط فيه انتفاءَ التدليس لقبول العنعنة أنه كان يريد أن يذكر حالةً من حالات الرواية بالعنعنة تكون محكومًا عليها بالاتّصال مطلقًا، حتى لو كان الراوي المُعَنْعِنُ مدلِّسًا. ولذلك ذكر شَرْطَ طول الصحبة، حيث إن من كان مختصًّا بشيخ ملازمًا له حُملت عنعنته عنه على الاتّصال، ولو كان من مشاهير المدلسين، كما هو مقرّر في هذا العلم (1) .

وبذلك يكون السمعاني قد بيّن سِعَةَ دائرة قبول الحديث المعنعن، ففي كلامه الذي كان يتحدّث فيه عن حُكم الحديث المعنعن بيّن أنه حديثٌ مُتّصل من عامّة الرواة، ولم يَسْتَثْنِ إلا المدلسين، فهم وحدَهم الذين لا تُحمل عنعنتهم على الاتصال. ثم عاد السمعاني في الموطن الآخر إلى بيان أن الحديث المعنعن قد يُقبل حتى من المدلِّس، وذلك فيما إذا كان المدلِّس يروي عمن أطال صحبته من شيوخه.

وقَصْدُهُ من ذلك إظهارُ ضَعْفِ حُجّة من شَبَّه الحديث المرسل بالحديث المعنعن بجامع الإرسال في الأول واحتماله في الثاني، فبيّن له بذلك أن من الأحاديث المعنعنة ما تُقبل من كل الرواة، ومنها ما

--------------------------------------------

(1) انظر المرسل الخفي وعلاقته بالتدليس (1/ 350، 492) .
এই সবই হচ্ছে যদি আমরা আস-সাম'আনী-র দুটি মতের মধ্যে অগ্রাধিকার (الترجيح) দিতে চাই, তবে তাঁর দুটি মতের মধ্যে সমন্বয় (الجمع) করার চেষ্টা করাই অধিকতর শ্রেয়। কারণ, তাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানোর চেয়ে এটিই উত্তম, বিশেষত যেহেতু এই উভয় মতই একজন ইমামেরই বক্তব্য, এমনকি একই কিতাবের অন্তর্গত।

আস-সাম'আনী-র বক্তব্যের সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই সমন্বয় (الجمع) স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে, যেখানে তিনি দীর্ঘ সাহচর্য (طول الصحبة)-কে শর্ত করেছেন। আর এ বিষয়টি খেয়াল করা প্রয়োজন যে, আন'আনাহ (العنعنة)-র গ্রহণযোগ্যতার জন্য তিনি তাদলিস বা বর্ণনালোপের অনুপস্থিতি (انتفاء التدليس) শর্ত করেননি; বরং তিনি আন'আনাহ (العنعنة)-র বর্ণনার এমন একটি অবস্থার কথা উল্লেখ করতে চেয়েছিলেন যা নিরঙ্কুশভাবে নিরবচ্ছিন্ন (الاتصال) হিসেবে গণ্য হবে, এমনকি যদি আন'আনাহকারী বর্ণনাকারী (الراوي المعنعن) একজন মুদাল্লিস (مدلس) হয়ে থাকেন। এজন্যই তিনি দীর্ঘ সাহচর্য (طول الصحبة)-এর শর্ত উল্লেখ করেছেন, কারণ যে ব্যক্তি কোনো শায়খের সাথে বিশেষভাবে সংশ্লিষ্ট ও দীর্ঘকাল তাঁর সাথে অতিবাহিত করেছেন, তাঁর বর্ণিত আন'আনাহ (العنعنة)-কে নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال)-র ওপর গণ্য করা হবে, যদিও তিনি প্রসিদ্ধ মুদাল্লিসদের (المدلسين) অন্তর্ভুক্ত হন, যেমনটি এই ইলমের নীতিমালায় সুপ্রতিষ্ঠিত (১)।

এর মাধ্যমে আস-সাম'আনী মুআনআন (المعنعن) হাদিস কবুল করার পরিসরের ব্যাপকতা বর্ণনা করেছেন। মুআনআন (المعنعن) হাদিসের বিধান সম্পর্কে আলোচনায় তিনি বর্ণনা করেছেন যে, সাধারণ বর্ণনাকারীদের পক্ষ থেকে বর্ণিত এ ধরনের হাদিস নিরবচ্ছিন্ন (متصل) এবং তিনি কেবল মুদাল্লিসদের (المدلسين) ব্যতিক্রম রেখেছেন; কারণ কেবল তাদেরই আন'আনাহ (العنعنة) নিরবচ্ছিন্নতা (الاتصال)-র ওপর গণ্য হবে না। এরপর আস-সাম'আনী অন্য স্থানে পুনরায় বর্ণনা করেছেন যে, মুআনআন (المعنعن) হাদিস এমনকি মুদাল্লিস (المدلس)-এর থেকেও গ্রহণ করা যেতে পারে, যদি সেই মুদাল্লিস (المدلس) তাঁর এমন কোনো শায়খ থেকে বর্ণনা করেন যার দীর্ঘ সাহচর্য তিনি লাভ করেছেন।

তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেই ব্যক্তির যুক্তির দুর্বলতা প্রকাশ করা, যে মুরসাল (المرسل) হাদিসকে মুআনআন (المعنعن) হাদিসের সাথে তুলনা করেছে; এই যুক্তিতে যে প্রথমটির ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতা (الإرسال) নিশ্চিত আর দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে তার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে তিনি এর মাধ্যমে তাকে বুঝিয়ে দিলেন যে, কিছু মুআনআন (المعنعنة) হাদিস এমন যা সকল বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকেই গ্রহণযোগ্য, আবার কিছু এমন যা...

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-মুরসাল আল-খাফি ওয়া আলাকাতুহু বিত-তাদলিস (১/ ৩৫০, ৪৯২)।