(খণ্ড: ১)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: -)
الأقوال الواضحة الجلية، في تحرير مسئلة نقض القسمة ومسئلة الدرجة الجعلية - ط إسطنبول القسم: الفرائض والوصايا
الكتاب: الأقوال الواضحة الجلية، في تحرير مسئلة نقض القسمة ومسئلة الدرجة الجعلية
(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)
المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]
الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م
وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى
عدد الصفحات: 15
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445
সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল বক্তব্যসমূহ, বণ্টন বাতিলকরণ ও কৃত্রিম স্তরের মাসআলার বিশ্লেষণে - ইস্তাম্বুল সংস্করণ বিভাগ: ফরায়েজ ও অসিয়ত
কিতাব: সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল বক্তব্যসমূহ, বণ্টন বাতিলকরণ ও কৃত্রিম স্তরের মাসআলার বিশ্লেষণে
(ইবনে আবিদিনের রসায়িল সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মাদ আমিন এফেন্দি, যিনি ইবনে আবিদিন নামে প্রসিদ্ধ [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]
প্রকাশক: দারে সা'আদাত, ইস্তাম্বুল, ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ
'রসায়িল সংকলন'-এর প্রতিলিপি প্রকাশ করেছে «মাজমুউ রসায়িল»: আলমুল কুতুব এবং আরও বেশ কিছু প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ জিলকদ ১৪৪৫
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৪)
الجزء الثاني
الله الرحمن الرحيم
الحمد لله رب العالمين * وصلى الله تعالى على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد فيقول العبد الفقير إلى الله تعالى محمد عابدين عفا عنه مولاه وعن والديه والمسلمين (هذه) رسالة سميتها
الأقوال الواضحة الجلية، في تحرير مسئلة نقض القسمة ومسئلة الدرجة الجعلية
وهو تحرير مهم لمسئلة الإمام السبكي التي ذكرها في الأشباه في القاعدة التاسعة في اعمال الكلام أولى من إهماله (وهى) رجل وقف عليه ثم على أولاده ثم على أولادهم ونسله وعقبه ذكرا أو أنثى للذكر مثل حظ الأنثيين على أن من توفى منهم عن ولد أو نسل عاد ما كان جاريا عليه من ذلك على ولده ثم على ولد ولده ثم على نسله على الفريضة وعلى أن من توفى عن غير نسل عاد ما كان جاريا عليه على من في درجته من أهل الوقف المذكور يقدم الأقرب إليه فالأقرب ويستوى الأخ الشقيق والأخ من الأب ومن مات من أهل الوقف قبل استحقاقه لشيء من منافع الوقف وترك ولدا أو أسفل منه استحق ما كان يستحقه المتوفى لو بقى حيا
(1) إلى أن يصير إليه شيء من منافع الوقف المذكور وقام ولده في الاستحقاق مقام المتوفى فإذا انقرضوا فعلى الفقراء. وتوفى الموقوف عليه وانتقل الوقف إلى ولديه أحمد وعبد القادر ثم
--------------------------------------------
দ্বিতীয় খণ্ড
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
সকল প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। এবং আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সঙ্গীর ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। অতঃপর, আল্লাহর দরবারে মুখাপেক্ষী বান্দা মুহাম্মাদ আবিদিন—তাঁর প্রতিপালক তাঁকে, তাঁর পিতামাতাকে এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন—বলছেন: (এটি) একটি পুস্তিকা যার নাম আমি রেখেছি:
বণ্টন বাতিল করার মাসআলা এবং কৃত্রিম স্তরের মাসআলা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও উজ্জ্বল বক্তব্যসমূহ
এটি ইমাম সুবকী বর্ণিত একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলার বিশ্লেষণ, যা তিনি ‘আল-আশবাহ’ কিতাবের নবম মূলনীতিতে (শব্দকে অর্থহীন করার চেয়ে অর্থবহ করা উত্তম) উল্লেখ করেছেন। মাসআলাটি হলো: এক ব্যক্তি নিজের ওপর, অতঃপর তাঁর সন্তানদের ওপর, অতঃপর তাঁদের সন্তানদের ওপর এবং তাঁর বংশধর ও অনুসারীদের ওপর—তারা পুরুষ হোক বা নারী—এই শর্তে ওয়াকফ করেছেন যে, এক পুরুষের অংশ হবে দুই নারীর অংশের সমান। শর্ত এই যে, তাঁদের মধ্য থেকে কেউ যদি সন্তান বা বংশধর রেখে মৃত্যুবরণ করেন, তবে উক্ত ওয়াকফ থেকে তাঁর জন্য যা বরাদ্দ ছিল, তা তাঁর সন্তানের দিকে, অতঃপর তাঁর সন্তানের সন্তানের দিকে, অতঃপর তাঁর বংশধরদের দিকে উত্তরাধিকারের নিয়ম অনুযায়ী ফিরে যাবে। আর এই শর্তে যে, কেউ যদি বংশধরহীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তবে তাঁর বরাদ্দকৃত অংশ উক্ত ওয়াকফভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে তাঁর সমপর্যায়ের যারা আছেন তাঁদের দিকে ফিরে যাবে; এক্ষেত্রে অধিকতর নিকটবর্তী ব্যক্তিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং আপন ভাই ও বৈমাত্রেয় ভাই সমান বলে গণ্য হবে। আর ওয়াকফভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ যদি ওয়াকফের কোনো সুবিধা লাভের আগেই মারা যান এবং কোনো সন্তান বা তার পরবর্তী স্তরের কাউকে রেখে যান, তবে মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে যা পাওয়ার অধিকারী হতেন, সেই সন্তান বা পরবর্তী স্তরের ব্যক্তি তার অধিকারী হবে
(১) যতক্ষণ না উক্ত ওয়াকফের কোনো সুবিধা তাঁর হস্তগত হয়; এবং তাঁর সন্তান প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির স্থলাভিষিক্ত হবে। অতঃপর তাঁরা সবাই নিঃশেষ হয়ে গেলে তা দরিদ্রদের জন্য হবে। এরপর ওয়াকফকৃত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন এবং ওয়াকফটি তাঁর দুই সন্তান আহমাদ ও আব্দুল কাদিরের নিকট স্থানান্তরিত হয়, অতঃপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৫)
توفى عبد القادر وترك ثلاثة أولاد وهم عمر وعلى ولطيفه
(1)، وولدى ابنه محمد المتوفى في حياة والده وهما عبد الرحمن وملكه ثم توفى عمر عن غير نسل ثم توفيت لطيفه وتركت بنتا تسمى فاطمة ثم توفى على وترك بنتا تسمى زينب ثم توفيت فاطمة بنت لطيفة عن غير ولد وصورتها في مشجر مع عدد الموتى مرتبا بالهندي هكذا
فإلى من ينتقل نصيب فاطمة المذكورة (فأجاب السبكي) الذي يظهر لي أن عبد القادر لما توفى انتقل نصيبه إلى أولاده الثلاثة وهم عمر وعلى ولطيفه للذكر مثل حظ الأنثيين وهذا هو الظاهر عندنا ويحتمل أن يقال شاركهم عبد الرحمن وملكه ولدا محمد المتوفى في حياة أبيه ونزلا منزلة أبيهما فيكون لهما السبعان ولعلي السبعان ولعمر السبعان وللطيفة السبع وهذا وإن كان محتملا فهو مرجوح عندنا لأن محمدا المتوفى في حياة والده ليس من أهل الوقف ولا من الموقوف عليهم لأن بين أهل الوقف والموقوف عليه عموما وخصوصا من وجه فإذا وقف مثلا على زيد ثم عمرو ثم أولاده فعمرو موقوف عليه في حياة زيد لأنَّه معين قصده الواقف بخصوصه وسماه وعينه وليس من أهل الوقف حتى يوجد شرط استحقاقه وهو موت زيد وأولاد عمرو إذا آل إليهم الاستحقاق فكل واحد منهم من أهل الوقف لا موقوف عليه بخصوصه لأنَّه لم يعينه الواقف فتبين أن محمدا والد عبد الرحمن وملكه لم يكن من أهل الوقف أي لأنَّه لم يستحق ولا موقوفًا عليه لأن الواقف لم ينص على اسمه وقد يقال أن المتوفى في حياة أبيه يستحق لأنَّه لو مات أبوه جرى عليه الوقف فينتقل هذا الاستحقاق إلى أولاده وهذا كنت بحثته ثم رجعت عنه. هذا حكم الوقف بعد موت عبد القادر فلما توفى عمر عن غير نسل انتقل نصيبه إلى أخويه عملا بشرط الواقف لمن في درجته فيصير نصيب عبد القادر كله بينهما أثلاثا لعلى
--------------------------------------------
আব্দুল কাদির ইন্তেকাল করেছেন এবং তিন সন্তান রেখে গেছেন; তারা হলেন উমর, আলী এবং লতিফা
(১)। এছাড়া তাঁর জীবদ্দশায় মৃত পুত্র মুহাম্মদের দুই সন্তান—আব্দুর রহমান ও মালাকাকেও রেখে গেছেন। অতঃপর উমর নিঃসন্তান অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। এরপর লতিফা ইন্তেকাল করেন এবং ফাতিমা নাম্নী এক কন্যা রেখে যান। এরপর আলী ইন্তেকাল করেন এবং যায়নাব নাম্নী এক কন্যা রেখে যান। অতঃপর লতিফার কন্যা ফাতিমা নিঃসন্তান অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। ভারতীয় সংখ্যায় মৃত্যুর ক্রমধারা অনুযায়ী বংশতালিকায় তাঁর চিত্রটি নিম্নরূপ:
الأقوال الواضحة الجلية، في تحرير مسئلة نقض القسمة ومسئلة الدرجة الجعلية - ط إسطنبول - جـ ٢(ص: 6)
الثلثان وللطيفة الثلث ويستمر حرمان عبد الرحمن وملكه فلما ماتت لطيفة انتقل نصيبها وهو الثلث إلى ابنتها ولم ينتقل إلى عبد الرحمن وملكة شيء لوجود أولاد عبد القادر وهم يحجبونهما لأنهم أولاده وقد قدمهم على أولاد الأولاد الذين هما منهم ولما توفى علي بن عبد القادر وخلف بنته زينب احتمل أن يقال نصيبه كله لها وهو ثلثا نصيب عبد القادر عملا بقول الواقف من مات منهم عن ولد انتقل نصيبه لولده وتبقى هي وبنت عمها مستوجبتين نصيب جدهما عبد القادر لزينب ثلثاه ولفاطمة ثلثه واحتمل أن يقال أن نصيب عبد القادر كله ينقسم الآن على أولاد أولاده عملا بقول الواقف ثم على أولاده ثم على أولاد أولاده فقد أثبت لجميع أولاد الأولاد استحقاقا بعد الأولاد وإنما حجبنا عبد الرحمن وملكه وهما من أولاد الأولاد بالأولاد فإذا انقرض الأولاد زال الحجب فيستحقان ويقسم نصيب عبد القادر بين جميع أولاد أولاده فلا يحصل لزينب جميع نصيب أبيها وينقص ما كان بيد فاطمة بنت لطيفة وهذا أمر اقتضاء النزول الحادث بانقراض طبقة الأولاد المستفاد من قول الواقف أن أولاد الأولاد بعدهم وهذان الاحتمالان تعارضا وهو تعارض قوى ثم ذكر مرجحات للاحتمال الثاني وهو نقض القسمة بعد انقراض الطبقة الأولى ثم قال وهل يقسم للذكر مثل حظ الأنثيين فيكون لعبد الرحمن خمساه ولكل من الإناث خمسه نظرا إليهم دون أصولهم أو ينظر إلى أصولهم فينزلون منزلتهم لو كانوا موجودين فيكون لفاطمة خمسه ولزينب خمساه ولعبد عبد الرحمن وملكه خمساه فيه احتمال وأنا إلى الثانى أميل حتى لا يفضل فخذ على فخذ في المقدار بعد ثبوت الاستحقاق فلما توفيت فاطمة عن غير ولد ولا نسل والباقون من أهل الوقف زينب بنت خالها وعبد الرحمن وملكه ولداعمها وكلهم في درجتها وجب قسم نصبيها بينهم لعبد الرحمن نصفه ولملكه ربعه ولزينب ربعه * ولا نقول هنا ينظر إلى أصولهم لأن الانتقال من مساويهم ومن هو في درجتهم فكان اعتبارهم بأنفسهم أولى انتهى كلام السبكي ملخصا (قلت) وحاصل ما اختاره أن ولدي محمد الذي مات في حياة والده وهما عبد الرحمن وملكه لا يقومان مقامه في الاستحقاق من جدهما عبد القادر بل يقسم نصيب جدهما على أولاده الثلاثة وهم عمر وعلي ولطيفة على الفريضة وأنهما لا يقومان مقام والدهما محمد أيضًا في الاستحقاق ممن هو في درحة والدهما لأن هذه درجة جعلية لا حقيقية فلذا لما مات عمر عقيما قسم نصيبه على أخيه صح على وأخته لطيفة دون ولدي محمد الذي لو كان حيا استحق مع على ولطيفة وأنه بعد انقراض الطبقة
দুই-তৃতীয়াংশ এবং লতিফার জন্য এক-তৃতীয়াংশ, আর আব্দুর রহমান ও মালাকার বঞ্চিত থাকা অব্যাহত থাকে। অতঃপর যখন লতিফা মারা গেলেন, তার অংশ—যা এক-তৃতীয়াংশ—তার কন্যার কাছে স্থানান্তরিত হলো। কিন্তু আব্দুর রহমান ও মালাকার কাছে কিছুই স্থানান্তরিত হলো না; কারণ আব্দুল কাদিরের সন্তানরা বিদ্যমান ছিল এবং তারা তাদের দুজনকে বঞ্চিত করছিল। কেননা তারা ছিল সরাসরি সন্তান, এবং তিনি (ওয়াকিফ) তাদের সন্তানদের ওপর তাদের অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন যাদের থেকে ওই দুজন এসেছে।
যখন আব্দুল কাদিরের পুত্র আলী মারা গেলেন এবং তার কন্যা জয়নবকে রেখে গেলেন, তখন এমনটি বলা সম্ভব যে তার পুরো অংশটি জয়নবই পাবে, যা আব্দুল কাদিরের অংশের দুই-তৃতীয়াংশ; ওয়াকিফের এই উক্তির ওপর আমল করে যে, 'তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে, তার অংশ তার সন্তানের কাছে স্থানান্তরিত হবে'। ফলে সে এবং তার চাচাতো বোন তাদের দাদা আব্দুল কাদিরের অংশের হকদার হিসেবে বহাল থাকবে; জয়নবের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ এবং ফাতেমার জন্য এক-তৃতীয়াংশ।
আবার এমনটিও বলা সম্ভব যে, আব্দুল কাদিরের পুরো অংশটি এখন তার নাতি-নাতনিদের মধ্যে বিভক্ত হবে; ওয়াকিফের এই উক্তির ওপর আমল করে যে, 'অতঃপর তার সন্তানদের জন্য, অতঃপর তার সন্তানদের সন্তানদের জন্য'। তিনি সন্তানদের পরে সমস্ত নাতি-নাতনিদের জন্য অধিকার সাব্যস্ত করেছেন। আমরা কেবল আব্দুল কাদিরের সন্তানদের উপস্থিতির কারণে নাতি-নাতনিদের অন্তর্ভুক্ত আব্দুর রহমান ও মালাকাকে বঞ্চিত করেছিলাম। সুতরাং যখন সন্তানদের স্তর বিলুপ্ত হয়ে গেল, তখন বঞ্চনার কারণও দূর হয়ে গেল, ফলে তারা হকদার হবে এবং আব্দুল কাদিরের অংশ তার সকল নাতি-নাতনির মধ্যে বণ্টিত হবে। এতে জয়নব তার পিতার পুরো অংশ পাবে না এবং লতিফার কন্যা ফাতেমার কাছে যা ছিল তাও কমে যাবে। এটি এমন এক বিষয় যা স্তরের বিলুপ্তির ফলে নিচে নেমে আসাকে অনিবার্য করে তোলে, যা ওয়াকিফের এই বক্তব্য থেকে গৃহীত যে নাতি-নাতনিরা তাদের (সন্তানদের) পরে আসবে। এই দুটি সম্ভাবনা পরস্পরের বিরোধী এবং এই বিরোধ অত্যন্ত প্রবল।
এরপর তিনি দ্বিতীয় সম্ভাবনার পক্ষে কিছু অগ্রাধিকারমূলক যুক্তি বর্ণনা করেছেন, যা হলো প্রথম স্তরের বিলুপ্তির পর পূর্ববর্তী বণ্টন বাতিল করা। অতঃপর তিনি বললেন: এখানে কি এক পুরুষের অংশ দুই নারীর সমান হিসেবে বণ্টিত হবে, যার ফলে আব্দুর রহমান দুই-পঞ্চমাংশ এবং প্রত্যেক নারী এক-পঞ্চমাংশ পাবে—তাদের মূলের (পিতা-মাতা) দিকে না তাকিয়ে কেবল তাদের নিজেদের অবস্থানের দিকে লক্ষ্য রেখে? নাকি তাদের মূলের (পিতা-মাতা) দিকে লক্ষ্য করা হবে এবং তারা তাদের অবস্থানে স্থলাভিষিক্ত হবে যদি তারা জীবিত থাকত? সেক্ষেত্রে ফাতেমা পাবে এক-পঞ্চমাংশ, জয়নব পাবে দুই-পঞ্চমাংশ এবং আব্দুর রহমান ও মালাকা পাবে দুই-পঞ্চমাংশ। এক্ষেত্রে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে, তবে আমি দ্বিতীয়টির দিকেই বেশি ঝুঁকেছি, যাতে অধিকার সাব্যস্ত হওয়ার পর পরিমাণের ক্ষেত্রে এক শাখা অন্য শাখার ওপর প্রাধান্য না পায়।
অতঃপর যখন ফাতেমা কোনো সন্তান বা বংশধর না রেখে মারা গেলেন এবং ওয়াকফের অবশিষ্ট হকদাররা হলেন তার মামাতো বোন জয়নব এবং তার চাচাতো ভাই-বোন আব্দুর রহমান ও মালাকা—যারা সবাই তার সমপর্যায়ের—তখন তার অংশটি তাদের মধ্যে বণ্টন করা ওয়াজিব হয়ে পড়ল; আব্দুর রহমানের জন্য অর্ধেক, মালাকার জন্য এক-চতুর্থাংশ এবং জয়নবের জন্য এক-চতুর্থাংশ। আমরা এখানে বলব না যে তাদের মূলের (পিতা-মাতা) দিকে তাকাতে হবে; কারণ স্থানান্তরটি ঘটছে তাদের সমপর্যায়ের ও সমমর্যাদার ব্যক্তিদের থেকে, তাই তাদের নিজেদের ব্যক্তিসত্তাকে বিবেচনা করাই অধিকতর উপযোগী। এখানে সুবকির বক্তব্যের সংক্ষিপ্তসার শেষ হলো।
(আমি বলি) তিনি যা পছন্দ করেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: মুহাম্মাদের দুই সন্তান আব্দুর রহমান ও মালাকা—যিনি (মুহাম্মাদ) তার পিতার জীবদ্দশায় মারা গেছেন—তাদের দাদা আব্দুল কাদিরের কাছ থেকে প্রাপ্য অধিকারের ক্ষেত্রে তাদের পিতার স্থলাভিষিক্ত হবে না। বরং তাদের দাদার অংশ তার তিন সন্তান—ওমর, আলী ও লতিফার—মধ্যে নির্ধারিত অংশ অনুযায়ী বণ্টিত হবে। তারা তাদের পিতার সমপর্যায়ের অন্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও তাদের পিতা মুহাম্মাদের স্থলাভিষিক্ত হবে না; কারণ এটি একটি লৌকিক বা কৃত্রিম পর্যায়, প্রকৃত নয়। এই কারণেই যখন ওমর নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলেন, তার অংশ তার ভাই আলী ও বোন লতিফার মধ্যে বিভক্ত হলো; মুহাম্মাদের দুই সন্তান তা পেল না, অথচ মুহাম্মাদ বেঁচে থাকলে আলী ও লতিফার সাথে তিনিও অংশের হকদার হতেন। এবং স্তরের বিলুপ্তির পরে...
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৭)
الأولى بموت على لا يعطى نصيبه لبنته زينب كما أعطى نصيب أخته لطيفة لبنتها فاطمة وأن شرط الواقفان من مات عن ولد فنصيبه لولده لأن ترتيب الطبقات أصل وانتقال نصيب الوالد إلى ولده فرع وتفصيل لذلك الأصل والتمسك بالأصل أولى. فتنقض القسمة الأولى ويبدأ بقسمة أخرى على البطن الثاني والموجود فيه زينب وفاطمة وعبد الرحمن وملكه ولكن لا يقسم المذكر مثل حظ الانثيين كما كان يقسم على البطن الأول ولا يختص أحد منهم بما كان منتقلا إليه من جهة أبيه بل ينظر إلى أصولهم كأنهم أحياء ويقسم عليهم ثم يعطى نصيب كل أصل لفرعه ومن ليس له فرع لا يقسم عليه. وبيانه أنا لما نقضنا القسمة واردنا القسمة على البطن الثاني قسمنا على أصول البطن الثانى وهم على ولطيفة ومحمد دون عمر لأنَّه ليس له فرع فيكون لعلى خمسان تأخذهما بنته زينب وللطيفة خمس تأخذه بنتها فاطمة ولمحمد خمسان يأخذهما ولداه عبد الرحمن وملكه فلذا قال فيكون لفاطمة خمسه ولزينب خمساه ولعبد الرحمن وملكه خمساه. ثم لا يخفى أن هذا كله مبني على أن أحمد أخا عبد القادر مات قبل عبد القادر وانحصر الوقف في عبد القادر وإلا لم تنقرض الدرجة الأولى حقيقة وهي درجة أولاد الواقف (وقال) الجلال السيوطي الذي يظهر اختياره أو لا دخول عبد الرحمن وملكة بعد موت عبد القادر عملا بقوله ومن مات من أهل الوقف الخ وما ذكره السبكى من أنه لا يطلق عليه أنه من أهل الوقف ممنوع بل صريح كلام الواقف أنه أراد بقوله ومن مات من أهل الوقف قبل استحقاقه الذى لم يدخل في الاستحقاق بالكلية ولكنه بصدد أن يصير إليه وهذا أمر ينبغى أن يقطع به.
(فنقول) لما مات عبد القادر قسم نصيبه بين أولاده الثلاثة وولدى ولده أسباعا لعبد الرحمن وملكة السبعان أثلاثا فلما مات عمر عن غير نسل انتقل نصيبه إلى أخويه وولدى أخيه فيصير نصيب عبد القادر كله بينهم لعلى خمسان وللطيفة خمس ولعبد الرحمن وملكه خمسان أثلاثا ولما توفيت لطيفة انتقل نصيبها بكماله لبنتها فاطمة ولما مات على انتقل نصيبه بكماله لبنته زينب ولما توفيت فاطمة بنت لطيفة والباقون في درجتها زينب وعبد الرحمن وملكة قسم نصيبها بينهم للذكر مثل حظ الأنثيين اعتبارا بهم لا بأصولهم كما ذكره السبكي لعبد الرحمن نصف ولكل بنت ربع انتهى ملخصًا.
(قلت) وحاصل ما اختاره السيوطي أن اشتراط الواقف قيام ولد من مات قبل الاستحقاق مقامه معتبر لأنها درجة جعلية جعلها الواقف لولد من مات قبل الاستحقاق فيعتبر شرطه فيقوم ولدا محمد مقامه ويأخذان
প্রথমত, আলীর মৃত্যুর ফলে তার অংশ তার কন্যা জয়নাবকে সেভাবে প্রদান করা হবে না, যেভাবে তার বোন লতিফার অংশ তার কন্যা ফাতিমাকে প্রদান করা হয়েছিল। কেননা ওয়াকফকারীদ্বয়ের শর্ত ছিল যে, যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মৃত্যুবরণ করবে, তার অংশ তার সন্তান পাবে। কারণ স্তরবিন্যাস (তবকা) রক্ষা করা হলো মূল ভিত্তি (আসল), আর পিতার অংশ সন্তানের নিকট স্থানান্তরিত হওয়া হলো সেই মূল ভিত্তির শাখা (ফারা) ও বিস্তারিত রূপ; আর মূল ভিত্তিকে আঁকড়ে ধরা অধিকতর অগ্রগণ্য। ফলে প্রথম বণ্টনটি রদ হয়ে যাবে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের ওপর ভিত্তি করে পুনরায় বণ্টন শুরু হবে। এই প্রজন্মে জয়নাব, ফাতিমা, আবদুর রহমান ও মালিকা বিদ্যমান রয়েছে। তবে তাদের মধ্যে বণ্টন 'এক পুরুষের অংশ দুই নারীর সমান' নীতিতে হবে না, যেমনটি প্রথম প্রজন্মের ক্ষেত্রে হয়েছিল। আর তাদের কেউ তার পিতার পক্ষ থেকে যা স্থানান্তরিত হয়েছিল তাতে সুনির্দিষ্ট হবে না; বরং তাদের মূল পুরুষদের (বংশধারা) প্রতি লক্ষ্য করা হবে যেন তারা জীবিত আছেন এবং তাদের ওপর বণ্টন করা হবে। এরপর প্রত্যেক মূল পুরুষের অংশ তার শাখাকে (সন্তানকে) প্রদান করা হবে। আর যার কোনো শাখা বা সন্তান নেই, তার নামে বণ্টন করা হবে না। এর ব্যাখ্যা হলো: আমরা যখন বণ্টন রদ করলাম এবং দ্বিতীয় প্রজন্মের ওপর ভিত্তি করে বণ্টনের ইচ্ছা করলাম, তখন আমরা দ্বিতীয় প্রজন্মের মূল ব্যক্তিদের ওপর বণ্টন করলাম; তারা হলেন আলী, লতিফা ও মুহাম্মদ। এখানে উমর অন্তর্ভুক্ত নন, কারণ তার কোনো উত্তরাধিকারী শাখা (সন্তান) নেই। ফলে আলীর জন্য হবে দুই-পঞ্চমাংশ যা তার কন্যা জয়নাব গ্রহণ করবে, লতিফার জন্য হবে এক-পঞ্চমাংশ যা তার কন্যা ফাতিমা গ্রহণ করবে এবং মুহাম্মদের জন্য হবে দুই-পঞ্চমাংশ যা তার দুই সন্তান আবদুর রহমান ও মালিকা গ্রহণ করবে। এই কারণেই তিনি বলেছেন: ফাতিমার জন্য এক-পঞ্চমাংশ, জয়নাবের জন্য দুই-পঞ্চমাংশ এবং আবদুর রহমান ও মালিকার জন্য দুই-পঞ্চমাংশ হবে। তারপর এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই পুরো বিষয়টি এই ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত যে, আবদুর কাদিরের ভাই আহমদ তার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করেছেন এবং ওয়াকফটি কেবল আবদুর কাদিরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল। অন্যথায় প্রথম স্তরটি অর্থাৎ ওয়াকফকারীর সন্তানদের স্তরটি প্রকৃতপক্ষে বিলুপ্ত হতো না। জালালুদ্দীন আস-সুয়ূতী রহ. বলেন: যা প্রকাশ্যত তার পছন্দ বলে মনে হয় তা হলো, আবদুর কাদিরের মৃত্যুর পর আবদুর রহমান ও মালিকার অংশ লাভ করা। এটি ওয়াকফকারীর এই বাণীর ওপর আমল করার কারণে যে, 'ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে...' ইত্যাদি। আর সুবকী রহ. যা উল্লেখ করেছেন যে, তাকে (অধিকার লাভের পূর্বে মৃত ব্যক্তিকে) ওয়াকফভুক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত বলা যাবে না—তা প্রত্যাখ্যাত। বরং ওয়াকফকারীর বক্তব্যের স্পষ্ট মর্ম হলো, তিনি তার এই বাণীর দ্বারা—অর্থাৎ 'ওয়াকফভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি তার প্রাপ্য অধিকার লাভের পূর্বে মারা যাবে'—এমন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করেছেন যে পূর্ণাঙ্গভাবে অধিকারে প্রবেশ করেনি কিন্তু তা লাভের উপক্রম হয়েছিল। এটি এমন একটি বিষয় যা নিশ্চিত হওয়া আবশ্যক।
(আমরা বলি) যখন আবদুর কাদির মারা গেলেন, তখন তার অংশ তার তিন সন্তান এবং তার পুত্রের দুই সন্তানের মধ্যে সাত ভাগে বিভক্ত হলো। আবদুর রহমান ও মালিকা সাত ভাগের দুই ভাগ পেলেন যা তিন ভাগে বিভক্ত হবে। এরপর যখন উমর নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেলেন, তখন তার অংশ তার দুই ভাই এবং তার ভাইয়ের দুই সন্তানের কাছে স্থানান্তরিত হলো। ফলে আবদুর কাদিরের পুরো অংশ তাদের মধ্যে এভাবে বণ্টিত হবে: আলীর জন্য দুই-পঞ্চমাংশ, লতিফার জন্য এক-পঞ্চমাংশ এবং আবদুর রহমান ও মালিকার জন্য দুই-পঞ্চমাংশ যা তিন ভাগে বিভক্ত হবে। যখন লতিফা মারা গেলেন, তখন তার পুরো অংশ তার কন্যা ফাতিমার কাছে চলে গেল। আর যখন আলী মারা গেলেন, তখন তার পুরো অংশ তার কন্যা জয়নাবের কাছে চলে গেল। এরপর যখন লতিফার কন্যা ফাতিমা মারা গেলেন এবং তার স্তরের অবশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অর্থাৎ জয়নাব, আবদুর রহমান ও মালিকা রয়ে গেলেন, তখন ফাতিমার অংশ তাদের মধ্যে 'এক পুরুষের অংশ দুই নারীর সমান' এই নীতিতে বণ্টিত হবে। এটি তাদের নিজেদের অবস্থার বিবেচনায় হবে, তাদের মূল পুরুষদের বিবেচনায় নয়, যেমনটি সুবকী রহ. উল্লেখ করেছেন যে, আবদুর রহমান অর্ধেক পাবে এবং প্রত্যেক কন্যা চার ভাগের এক ভাগ পাবে। সারসংক্ষেপ সমাপ্ত।
(আমি বলি) আস-সুয়ূতী রহ. যা পছন্দ করেছেন তার সারকথা হলো, অধিকার লাভের পূর্বে মৃত্যুবরণকারীর সন্তানের তার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার ব্যাপারে ওয়াকফকারীর শর্তটি গ্রহণযোগ্য। কারণ এটি একটি নির্ধারিত স্তর যা ওয়াকফকারী এমন ব্যক্তির সন্তানের জন্য নির্ধারণ করেছেন যে অধিকার পাওয়ার পূর্বেই মারা গেছে। সুতরাং তার শর্তটি বিবেচনাযোগ্য হবে এবং মুহাম্মদের দুই সন্তান তার স্থলাভিষিক্ত হয়ে অংশ গ্রহণ করবে।
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৮)
حصة من جدهما عبد القادر فيقسم ما بيد عبد القادر على أولاده الأحياء وعلى ابنه محمد أسباعا ويعطى ما خرج لمحمد إلى ولديه وكذا يقومان مقامه في الاستحقاق ممن هو في درجة والدهما فلذا لما مات عمر شاركا أهل درجته فأخذا نصيب والدهما كأنه حتى مع أخوته ثم مات عنهما. واختار أيضًا أنه بعد انقراض الطبقة لا تنقض القسمة بل من مات من آخر الطبقة عن ولد يعطى نصيبه لولده فلذا أعطى نصيب على الذي هو آخر الطبقة الأولى موتا إلى بنته زينب فهذا صريح في أنه خالف السبكي في نقض القسمة وقال لا تنقض كما خالفه في قيام أولاد محمد مقام أبيهم. وبهذا أظهر ما في كلام الأشباه حيث ذكر حاصل السؤال وحاصل جواب السبكي ثم قال وحاصل مخالفة الجلال السيوطي له في شيء واحد وهو أن أولاد المتوفى في حياة أبيه لا يحرمون مع بقاء الطبقة الأولى وأنهم يستحقون ووافقه على انتقاض القسمة انتهى. والصواب أن يقال في شيئين ثانيهما عدم نقض القسمة كما علمت. ثم أنه في الأشباه قال قلت أما مخالفته في أولاد المتوفى في حياة أبيه فواجبة لما ذكره الجلال السيوطي وأما قوله ينقض القسمة بعد انقراض كل بطن فقد أفتي به بعض علماء العصر وعزوه إلى الخصاف ولم ينتبهوا لما صوره الخصاف وما صوره السبكي ثم ذكر ثمانى مسائل عن الخصاف ومحل الشاهد في الأخيرة وحاصلها وقف على ولده وولد ولده ونسلهم مرتبا.
(أي) قائلا كما في عبارة الخصاف على أن يبدأ بالبطن الأعلى ثم بالذين يلونهم ثم بالذين يلونهم بطنا بعد بطن شارطا أن من مات عن ولد فنصيبه له وعن غير ولد فراجع إلى الوقف وحكمه أن الغلة للأعلى ثم وثم فلو مات بعضهم عن نسل تقسم على عدد أولاد الواقف الموجودين يوم الوقف والحادثين له بعده فما أصاب الأحياء أخذوه وما أصاب الميت كان لولده وإن كان الواقف شرط تقديم البطن الأعلى لكونه قال بعده أن من مات عن ولد فنصيبه له وكذا لو مات الأعلى واحدا فيجعل سهم الميت لابنه ولو كان عدد البطن لأعلى عشرة ومات واحدا منهم عن ولد ثم ثمانية عن غير نسل تقسم الغلة على سهمين سهم للحي وسهم للميت يكون لولده ولو كان للواقف أيضًا ابنان ماتا قبل الوقف عن ولدين لا حق لهما ما دام واحد من الأعلى لأنهما من البطن الثاني فلا حق لهما حتى ينقرض الأعلى وكل من مات من العشرة وترك ولدا أخذ نصيب أبيه ولا شيء لولد من مات قبل الوقف وإن استووا في الطبقة فإن بقى منهم واحد قسمت على عشرة فما أصاب الحي أخذه وما أصاب الموتى كان لأولادهم. فإن مات لعاشر عن ولد انتقضت القسمة لانقراض البطن الأعلى ورجعت إلى البطن الثاني فينظر
তাদের দাদা আব্দুল কাদেরের থেকে একটি অংশ। সুতরাং আব্দুল কাদেরের হাতে যা আছে তা তার জীবিত সন্তানদের মধ্যে এবং তার পুত্র মুহাম্মাদের মধ্যে সাত ভাগে বিভক্ত করা হবে এবং মুহাম্মাদের ভাগে যা আসবে তা তার দুই সন্তানকে দেওয়া হবে। অনুরূপভাবে তারা তাদের পিতার স্তরের ব্যক্তিদের বিপরীতে প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে তার স্থলাভিষিক্ত হবে। এই কারণেই উমর যখন মারা গেলেন, তারা তার স্তরের লোকদের সাথে অংশীদার হলো এবং তাদের পিতার অংশ গ্রহণ করল, যেন তিনি নিজেই তার ভাইদের সাথে ছিলেন, অতঃপর তিনি তাদের রেখে মারা যান। তিনি আরও এই মত গ্রহণ করেছেন যে, স্তরের সমাপ্তির পর বণ্টন বাতিল হবে না; বরং স্তরের শেষ পর্যায়ের ব্যক্তিদের মধ্যে যারা সন্তান রেখে মারা যাবে, তার অংশ তার সন্তানকে দেওয়া হবে। একারণেই তিনি আলীর অংশ—যিনি প্রথম স্তরের সর্বশেষ মৃত ব্যক্তি ছিলেন—তার কন্যা জয়নাবকে প্রদান করেছেন। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, তিনি বণ্টন বাতিলের বিষয়ে সুবকির বিরোধিতা করেছেন এবং বলেছেন যে তা বাতিল হবে না, যেমনিভাবে তিনি মুহাম্মাদের সন্তানদের তাদের পিতার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার বিষয়ে তার বিরোধিতা করেছেন। এর মাধ্যমে 'আশবাহ' গ্রন্থের বক্তব্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়, যেখানে প্রশ্নের সারসংক্ষেপ এবং সুবকির উত্তরের সারসংক্ষেপ উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে: জালালুদ্দিন সুয়ুতীর তার সাথে বিরোধের সারসংক্ষেপ কেবল একটি বিষয়ে, আর তা হলো—পিতার জীবদ্দশায় মৃত ব্যক্তির সন্তানগণ প্রথম স্তর অবশিষ্ট থাকা অবস্থায় বঞ্চিত হবে না এবং তারা হকদার হবে। আর বণ্টন বাতিলের বিষয়ে তিনি তার সাথে একমত হয়েছেন। সমাপ্ত। সঠিক কথা হলো এই যে, বিরোধ দুটি বিষয়ে; যার দ্বিতীয়টি হলো বণ্টন বাতিল না হওয়া, যেমনটি আপনি জেনেছেন। এরপর 'আশবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আমি বলি, পিতার জীবদ্দশায় মৃত ব্যক্তির সন্তানদের ব্যাপারে তার বিরোধিতা অপরিহার্য, যা জালালুদ্দিন সুয়ুতী উল্লেখ করেছেন। আর প্রতিটি স্তর শেষ হওয়ার পর বণ্টন বাতিল হওয়ার বিষয়ে তার যে উক্তি, সমসাময়িক কিছু আলেম সে অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন এবং এটিকে খাসসাফের দিকে নিসবত করেছেন। অথচ খাসসাফ যা চিত্রায়ন করেছেন এবং সুবকি যা চিত্রায়ন করেছেন, তার পার্থক্যের প্রতি তারা লক্ষ্য করেননি। এরপর তিনি খাসসাফ থেকে আটটি মাসআলা উল্লেখ করেছেন এবং শেষ মাসআলাটি হলো মূল আলোচনার বিষয়। তার সারকথা হলো: নিজের সন্তান, তাদের সন্তান এবং তাদের বংশধরদের ওপর পর্যায়ক্রমে ওয়াকফ করা।
(অর্থাৎ) খাসসাফের ইবারত অনুযায়ী এ কথা বলা যে, উচ্চতর স্তর থেকে শুরু হবে, তারপর তাদের পরবর্তীগণ, তারপর তাদের পরবর্তীগণ—এভাবে এক স্তরের পর এক স্তর। শর্ত হলো, যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে তার অংশ তার সন্তানের জন্য হবে, আর যে নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যাবে তার অংশ ওয়াকফে ফিরে যাবে। এবং এর বিধান হলো, লভ্যাংশ উচ্চতর স্তরের জন্য হবে, তারপর ক্রমান্বয়ে পরবর্তী স্তরের জন্য। যদি তাদের মধ্যে কেউ বংশধর রেখে মারা যায়, তবে তা ওয়াকফ করার দিন উপস্থিত থাকা এবং পরবর্তীতে জন্মগ্রহণকারী ওয়াকফকারীর সন্তানদের সংখ্যা অনুযায়ী বিভক্ত হবে। অতঃপর জীবিতরা যা পাবে তা তারা গ্রহণ করবে এবং মৃত ব্যক্তির প্রাপ্য অংশ তার সন্তানের হবে। যদিও ওয়াকফকারী উচ্চতর স্তরকে অগ্রাধিকার দেওয়ার শর্তারোপ করেছেন, কারণ তিনি এরপর বলেছেন যে, যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে তার অংশ তার সন্তানের জন্য। একইভাবে যদি উচ্চতর স্তরের একজন মারা যায়, তবে মৃত ব্যক্তির অংশ তার ছেলের জন্য নির্ধারিত হবে। যদি উচ্চতর স্তরের লোকসংখ্যা দশ হয় এবং তাদের একজন সন্তান রেখে মারা যায়, অতঃপর আটজন নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যায়, তবে লভ্যাংশ দুই ভাগে বিভক্ত হবে: এক ভাগ জীবিত ব্যক্তির জন্য এবং এক ভাগ মৃত ব্যক্তির জন্য যা তার সন্তানের প্রাপ্য হবে। যদি ওয়াকফকারীর এমন দুই পুত্র থাকে যারা ওয়াকফ করার পূর্বেই দুই সন্তান রেখে মারা গেছে, তবে উচ্চতর স্তরের একজন জীবিত থাকা পর্যন্ত তাদের কোনো অধিকার থাকবে না। কারণ তারা দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত, তাই উচ্চতর স্তর বিলুপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তাদের কোনো অধিকার নেই। সেই দশজনের মধ্যে যে কেউ মারা যাবে এবং সন্তান রেখে যাবে, সে তার পিতার অংশ পাবে। তবে ওয়াকফের পূর্বে যারা মারা গেছে তাদের সন্তানদের জন্য কিছুই থাকবে না, যদিও তারা একই স্তরের হয়। যদি তাদের মধ্যে একজনও অবশিষ্ট থাকে, তবে তা দশ ভাগে বিভক্ত হবে। ফলে জীবিত ব্যক্তি যা পাবে তা সে গ্রহণ করবে এবং মৃতদের প্রাপ্য অংশ তাদের সন্তানদের জন্য হবে। যদি দশম ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যায়, তবে উচ্চতর স্তরের বিলুপ্তির কারণে পূর্বের বণ্টন বাতিল হয়ে যাবে এবং তা দ্বিতীয় স্তরের দিকে ফিরে যাবে, অতঃপর দেখা হবে...
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
إلى أولاد العشرة وأولاد الميت قبل الوقف فتقسم بالسوية بينهم. ولا يرد نصيب مات إلى ولده إلا قبل انقراض البطن الأعلى فيقسم على عدد البطن الأعلى فما أصاب الميت كان لولده فإذا انقرض البطن الأعلى نقضنا القسمة وجعلناها على عدد البطن الثاني ولم نعمل باشتراط انتقال نصيب الميت إلى ولده هنا لكون الواقف قال على ولده وولد ولده فلزم دخول أولاد من مات قبل الوقف فلزم نقض القسمة فلو لم يكن له ولد إلا العشرة فماتوا واحدا بعد واحد وكلما مات واحد ترك أولادا حتى مات العشرة فمنهم من ترك خمسة أولاد ومنهم من ترك ثلاثة ومنهم من ترك ستة ومنهم من ترك واحدا فمن مات كان نصيبه لولده فلما مات العاشر تنقض القسمة الأولى ويرد ذلك إلى البطن الثانى وتقسم على عددهم ويبطل قوله من مات عن ولد انتقل نصيبه لولده لأن الأمر يؤل إلى قوله وولد ولدى وكذلك لو مات جميع البطن الثانى ولم يبق منهم أحد ووجد في البطن الثالث ثمانية أنفس وكذلك كل بطن يقسم على عددهم ويبطل ما كان قبل ذلك انتهى باختصار. قال صاحب الأشباه فأخذ بعض المصريين من هذا أن الخصاف قائل بنقض القسمة في مثل مسئلة السبكى ولم يتأمل الفرق بين المسئلتين فإن في مسئلة السبكي وقف على أولاده ثم أولادهم بكلمة ثم وفى مسئلة الخصاف بالواو لا بثم فصدر مسئلة الخصاف اقتضى اشتراك البطن الأعلى مع الأسفل وصدر مسئلة السبكي اقتضى عدم الاشتراك * وأما ما ذكره الخصاف بعده مما يفيد معنى ثم وهو تقديم البطن الأعلى ففيه أنه إخراج بعد الدخول في الأول بخلاف التعبير ثم من أول الكلام فإن البطن الثاني لم يدخل مع البطن الأول فكيف يصح أن يستدل بكلام الخصاف على مسئله السبكي انتهى ملخصا (ورد عليه العلامة البيرى) بأن هذه الدعوى مدفوعة بقول الخصاف فإذا مات العاشر استقبلت القسمة لال الواقف لما قال أن يبدأ بالبطن الأعلى ثم بالذين يلونهم فهذا بمنزلة قوله على ولد صلبي ثم على ولد ولدى من بعدهم انتهى وبه تبطل دعوى أنه إخراج بعد الدخول وقد نص أصحاب الفتاوى كالخلاصة وغيرها أن الحكم فيما إذا كان الوقف مرتبا بثم أو الواو المعقبة ببطنا بعد بطن على السواء وأنه يبدأ بما بدأ به الواقف وعلل للصورتين المذكورتين في الظهيرية بأن مراعاة شروط الواقف لازمة والواقف إنما جعل لأولاد أولاده بعد انقراض البطن الأول فكيف يقال بالاشتراك المؤدى لإبطال شرط الواقف الاستحقاق المشروط قدرا وزمنا انتهى ثم قال في الأشباه فالحاصل أن الواقف إذا وقف على أولاده وأولاد أولاده وعلى أولاد
দশজনের সন্তানদের এবং ওয়াকফের আগে মৃত ব্যক্তির সন্তানদের কাছে পৌঁছাবে, সুতরাং তা তাদের মধ্যে সমানভাবে বন্টিত হবে। আর কোনো মৃত ব্যক্তির অংশ তার সন্তানের কাছে ফিরে যাবে না কেবল উপরের স্তর (বতন) বিলুপ্ত হওয়ার আগে ব্যতীত; ফলে তা উপরের স্তরের সংখ্যা অনুযায়ী বন্টিত হবে, এবং যা মৃত ব্যক্তির ভাগে পড়বে তা হবে তার সন্তানের জন্য। অতঃপর যখন উপরের স্তর বিলুপ্ত হয়ে যাবে, তখন আমরা বন্টনটি বাতিল করে দেব এবং তা দ্বিতীয় স্তরের সংখ্যা অনুযায়ী নির্ধারণ করব। আমরা এখানে মৃত ব্যক্তির অংশ তার সন্তানের কাছে হস্তান্তরের শর্তানুযায়ী কাজ করব না, কারণ ওয়াকফকারী বলেছিলেন তার সন্তান এবং তার সন্তানের সন্তানদের ওপর। ফলে ওয়াকফ করার আগে যারা মারা গিয়েছেন তাদের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে এবং বন্টনটি বাতিল করা অপরিহার্য হয়েছে। সুতরাং যদি তার এই দশজন ব্যতীত কোনো সন্তান না থাকে এবং তারা একে একে মারা যায়, আর প্রত্যেকেই মৃত্যুর সময় সন্তান রেখে যায় যতক্ষণ না দশজনই মারা যায়—তাদের মধ্যে কেউ পাঁচজন সন্তান রেখে গেল, কেউ তিনজন, কেউ ছয়জন এবং কেউ একজন—তবে যে মারা যাবে তার অংশ হবে তার সন্তানের জন্য। অতঃপর যখন দশম ব্যক্তি মারা যাবে, তখন প্রথম বন্টনটি বাতিল করা হবে এবং তা দ্বিতীয় স্তরের প্রতি ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং তাদের সংখ্যা অনুযায়ী বন্টন করা হবে। আর এই কথাটি বাতিল হয়ে যাবে যে—'যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা গেল তার অংশ তার সন্তানের কাছে হস্তান্তরিত হবে'—কারণ বিষয়টি শেষ পর্যন্ত তার 'আমার সন্তানের সন্তান' এই উক্তির দিকেই ধাবিত হয়। একইভাবে যদি দ্বিতীয় স্তরের সবাই মারা যায় এবং তাদের কেউ অবশিষ্ট না থাকে, আর তৃতীয় স্তরে আটজন ব্যক্তিকে পাওয়া যায়, তবে একইভাবে প্রতিটি স্তরে তাদের সংখ্যা অনুযায়ী বন্টন করা হবে এবং এর পূর্বের যা ছিল তা বাতিল হয়ে যাবে। সংক্ষেপে সমাপ্ত।
'আল-আশবাহ' গ্রন্থকার বলেছেন: কিছু মিশরীয় আলেম এখান থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, খাসসাফ সুবকির মাসআলার মতো মাসআলাগুলোতে বন্টন বাতিলের প্রবক্তা। কিন্তু তারা এই দুই মাসআলার মধ্যকার পার্থক্যের প্রতি লক্ষ্য করেননি। কেননা সুবকির মাসআলায় 'সুম্মা' (অতঃপর) শব্দ যোগে বলা হয়েছে 'তার সন্তানদের ওপর অতঃপর তাদের সন্তানদের ওপর'। আর খাসসাফের মাসআলায় 'ওয়াও' (এবং) দ্বারা বলা হয়েছে, 'সুম্মা' দ্বারা নয়। খাসসাফের মাসআলার শুরুর অংশ উপরের স্তরের সাথে নিচের স্তরের অংশীদারিত্ব দাবি করে, কিন্তু সুবকির মাসআলার শুরুর অংশ অংশীদার না হওয়াকে দাবি করে।
* আর খাসসাফ এর পরে যা উল্লেখ করেছেন যা 'সুম্মা'-এর অর্থ প্রদান করে—অর্থাৎ উপরের স্তরকে অগ্রাধিকার দেওয়া—তাতে কথা হলো এটি প্রথমটিতে অন্তর্ভুক্ত করার পর বের করে দেওয়ার নামান্তর। পক্ষান্তরে শুরু থেকেই 'সুম্মা' শব্দ ব্যবহারের বিষয়টি ভিন্ন, কারণ সেক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্তর প্রথম স্তরের সাথে অন্তর্ভুক্তই হয়নি। অতএব খাসসাফের বক্তব্য দ্বারা সুবকির মাসআলায় দলীল দেওয়া কীভাবে সঠিক হতে পারে? সারসংক্ষেপ সমাপ্ত।
(আল্লামা আল-বিরি এর প্রতিবাদ করেছেন এই বলে যে) এই দাবিটি খাসসাফের এই উক্তি দ্বারা খণ্ডনযোগ্য: 'যখন দশম ব্যক্তি মারা যাবে তখন নতুন করে বন্টন করা হবে ওয়াকফকারীর পরিবারের জন্য', যেহেতু তিনি বলেছেন যে উপরের স্তর থেকে শুরু করতে হবে অতঃপর যারা তাদের পরে আছে। এটি তার এই উক্তির সমপর্যায়ভুক্ত যে—'আমার ঔরসজাত সন্তানদের ওপর অতঃপর তাদের পর আমার সন্তানদের সন্তানদের ওপর'। এখানেই সমাপ্ত। এর মাধ্যমে এই দাবি বাতিল হয়ে যায় যে এটি অন্তর্ভুক্ত করার পর বের করে দেওয়া। ফতোয়া প্রদানকারী ফকীহগণ যেমন 'আল-খুলাসা' ও অন্যান্য গ্রন্থে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াকফ যদি 'সুম্মা' শব্দ দ্বারা বা স্তরের পর স্তর অনুগামী 'ওয়াও' দ্বারা বিন্যস্ত হয়, তবে হুকুম একই হবে। আর ওয়াকফকারী যা দিয়ে শুরু করেছেন তা দিয়েই শুরু করা হবে। 'আজ-জহিরিয়্যাহ' গ্রন্থে এই দুই সুরতের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে, ওয়াকফকারীর শর্তসমূহ পালন করা আবশ্যক। ওয়াকফকারী তো প্রথম স্তর বিলুপ্ত হওয়ার পরেই তার নাতি-নাতনিদের জন্য অংশ নির্ধারণ করেছেন। এমতাবস্থায় কীভাবে অংশীদারিত্বের কথা বলা যেতে পারে, যা ওয়াকফকারীর নির্ধারিত পরিমাণ ও সময়ের শর্তকে বাতিল করে দেওয়ার দিকে নিয়ে যায়? সমাপ্ত। এরপর 'আল-আশবাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে: সারকথা হলো, ওয়াকফকারী যখন তার সন্তান, তার নাতি-নাতনি এবং সন্তানদের ওপর ওয়াকফ করেন...
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১০)
أولاد أولاده وذريته ونسله طبقة بعد طبقة وبطنا بعد بطن تحجب الطبقة العليا السفلى على أن من مات عن ولد فنصيبه لولده ومن مات عن غير ولد فنصيبه إلى من هو في درجته وذوى طبقته وعلى أن مات قبل دخوله في هذا الوقف واستحقاقه لشيء من منافعه وترك ولدا أو ولد ولد أو أسفل استحق ما كان يستحقه أبوه لو كان حيا. وهذه الصورة كثيرة الوقوع لكن بعضهم يعبر بثم بين الطبقات وبعضهم بالواو، فإن كان بالواو يقسم الوقف بين الطبقة العليا وبين أولاد المتوفى في حياة الواقف قبل دخوله فلهم ما خص أباهم لو كان حيا مع أخوته فمن مات من أولاد الواقف وله ولد كان نصيبه لولده ومن مات عن غير ولد كان نصيبه لأخوته فيستمر الحال كذلك إلى انقراض البطن الأعلى وهي مسئلة الخصاف التي قال فها بنقض القسمة حيث ذكر بالواو وقد علمته * وإن ذكر بثم فمن مات عن ولد من أهل البطن الأول انتقل نصيبه إلى ولده ويستمر له فلا ينقض أصلا بعد ولوه انقرض أهل البطن الأول فإذا مات إحدى ولدى الواقف عن ولد والآخر عن عشرة كان النصف لولد من مات وله ولد والنصف الآخر للعشر. فإذا مات أبناء الواقف استمر النصف للواحد والنصف للعشرة وإن استووا في الطبقة فقوله على أن من مات وله ولد مخصوص من ترتيب البطون فلا يراعى فيه الترتيب ثم من كان له شيء ينتقل إلى ولده وهكذا إلى آخر البطون حتى لو قدر أن الواقف مات عن ولدين ثم أن أحدهما مات عن عشرة أولاد والثاني عن ولد واحد ثم أن من مات عن ولد واحد خلف ولدا واحدا وهكذا إلى البطن العاشر ومن مات عن عشرة خلف كل أولادا حتى وصلوا إلى مائة في البطن العاشر يعطى للواحد نصف الوقف والنصف الآخر بين المائة وإن استووا في الدرجة انتهى كلام الأشباه ملخصا (وقد رد عليه جمع) من محشى الأشباه حتى أن العلامة المقدسي ألف رسالة في الرد عليه وحققوا كلهم أنه لا فرق بين التعبير بثم والتعبير بالواو المقترنة بما يفيد الترتيب كبطنا بعد بطن في أنه تنقض القسمة بانقراض كل بطن وتستأنف على البطن الذي يليه * وقال المقدسي في رسالته زعم في الأشباه أن بعض علماء عصره أفتوا بذلك وأنهم مخطئون وهو على الصواب والأمر بالعكس بلا ارتياب فالمفتى بذلك بعض مشايخه الذين هم بالصلاح واتباع المنقول معروفون وقد أفتى بذلك جماعة من أفاضل الحنفية والشافعية والترتيب فيها بلفظ ثم وهم مشايختا ومشايخهم فمنهم شيخ الإسلام سرى الدين عبد البر بن الشحنة الحنفى وتبعة الشيخ المحقق نور الدين المحلى الشافعي والشيخ العالم الصالح برهان الدين الطرابلسي الحنفي وقاضي القضاة شيخنا نور الدين الطرابلسي الحنفي والشيخ
তাঁর সন্তানদের সন্তান, তাঁর বংশধর এবং তাঁর উত্তরসূরিগণ একের পর এক স্তর এবং একের পর এক প্রজন্ম হিসেবে গণ্য হবে; যেখানে উচ্চতর স্তর নিম্নতর স্তরকে বঞ্চিত করবে। তবে শর্ত এই যে, যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে, তার অংশ তার সন্তান পাবে। আর যে ব্যক্তি সন্তানহীন অবস্থায় মারা যাবে, তার অংশ তার সমপর্যায়ের এবং সমগোত্রীয়দের মাঝে বণ্টিত হবে। আরও শর্ত এই যে, যদি কেউ এই ওয়াকফের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার এবং এর কোনো সুবিধা লাভের পূর্বেই মারা যায় এবং সে সন্তান, পৌত্র বা তার নিম্নতর কোনো বংশধর রেখে যায়, তবে সেই বংশধর ঐ অংশের অধিকারী হবে যার অধিকারী তার পিতা জীবিত থাকলে হতেন। এই চিত্রটি সচরাচর ঘটে থাকে, তবে কেউ কেউ স্তরগুলোর মাঝে 'অতঃপর' (সুম্মা) শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেন, আবার কেউ কেউ 'এবং' (ওয়াউ) দ্বারা ব্যক্ত করেন। যদি 'এবং' (ওয়াউ) দ্বারা ব্যক্ত করা হয়, তবে ওয়াকফকৃত সম্পদ উচ্চতর স্তর এবং ওয়াকফকারীর জীবদ্দশায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বেই যারা মারা গেছেন তাদের সন্তানদের মধ্যে বণ্টিত হবে; ফলে তারা ঐ অংশটি পাবে যা তাদের পিতা জীবিত থেকে তার ভাইদের সাথে থাকলে পেতেন। এমতাবস্থায় ওয়াকফকারীর সন্তানদের মধ্যে যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে, তার অংশ তার সন্তান পাবে; আর যে সন্তানহীন অবস্থায় মারা যাবে, তার অংশ তার ভাইদের অনুকূলে যাবে। উচ্চতর প্রজন্ম বিলুপ্ত হওয়া পর্যন্ত এভাবেই চলতে থাকবে। এটি খাসসাফের সেই মাসআলা যেখানে তিনি 'এবং' (ওয়াউ) উল্লেখ করার সুরতে বন্টন বাতিল করার কথা বলেছেন, যা আপনি অবগত আছেন। আর যদি 'অতঃপর' (সুম্মা) শব্দ দ্বারা উল্লেখ করা হয়, তবে প্রথম প্রজন্মের কেউ সন্তান রেখে মারা গেলে তার অংশ তার সন্তানের কাছে স্থানান্তরিত হবে এবং এটি তার জন্যই বহাল থাকবে; এরপর আর কখনোই সেই বন্টন বাতিল করা হবে না। এমনকি প্রথম প্রজন্মের সবাই বিলুপ্ত হয়ে গেলেও তা বহাল থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি ওয়াকফকারীর দুই সন্তানের একজন এক সন্তান রেখে এবং অন্যজন দশজন সন্তান রেখে মারা যায়, তবে যে এক সন্তান রেখে মারা গেছে তার সন্তান পাবে অর্ধেক, আর বাকি অর্ধেক ঐ দশজন পাবে। ওয়াকফকারীর পুত্রগণ মারা গেলেও একজনের জন্য অর্ধেক এবং দশজনের জন্য অর্ধেক বরাদ্দ অব্যাহত থাকবে, যদিও তারা একই স্তরের হয়। সুতরাং তাঁর উক্তি 'যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে' এটি প্রজন্মের ক্রমবিন্যাস থেকে স্বতন্ত্র, তাই এতে ক্রমবিন্যাস রক্ষা করা হবে না; বরং যার নিকট যা থাকবে তা তার সন্তানের নিকট স্থানান্তরিত হবে এবং এভাবে শেষ প্রজন্ম পর্যন্ত চলতে থাকবে। এমনকি যদি এমনটি হয় যে, ওয়াকফকারী দুই সন্তান রেখে মারা গেলেন, এরপর তাদের একজন দশজন সন্তান রেখে এবং অন্যজন একজন সন্তান রেখে মারা গেল; অতঃপর যার একজন ছিল সে একজন সন্তান রেখে গেল এবং এভাবে দশম প্রজন্ম পর্যন্ত পৌঁছাল, আর যার দশজন ছিল তাদের প্রত্যেকের বংশবৃদ্ধি হতে হতে দশম প্রজন্মে একশত জন হলো, তবে ঐ একজনকে ওয়াকফের অর্ধেক দেওয়া হবে এবং বাকি অর্ধেক ঐ একশত জনের মাঝে বন্টন করা হবে, যদিও তারা একই পর্যায়ের হয়। 'আল-আشবাহ' গ্রন্থের সারসংক্ষেপ এখানেই সমাপ্ত। (আল-আশবাহ-এর একদল টিকাকার এর প্রতিবাদ করেছেন), এমনকি আল্লামা মাকদিসি এর খণ্ডনে একটি স্বতন্ত্র পুস্তিকা রচনা করেছেন। তারা সবাই এটি সুনিশ্চিত করেছেন যে, 'অতঃপর' (সুম্মা) দ্বারা ব্যক্ত করা এবং 'এবং' (ওয়াউ)-এর সাথে 'প্রজন্মের পর প্রজন্ম' (بطنا بعد بطن) এর মতো ক্রমবিন্যাস নির্দেশক শব্দ যোগ করে ব্যক্ত করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই; প্রতিটি প্রজন্ম বিলুপ্ত হওয়ার সাথে সাথে বন্টন বাতিল হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য নতুনভাবে বন্টন শুরু হবে। মাকদিসি তাঁর পুস্তিকায় বলেছেন: 'আল-আশবাহ' গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে যে, তাঁর সমসাময়িক কিছু আলেম এই ফতোয়া দিয়েছেন এবং তারা ভুল করেছেন আর তিনি সঠিক; অথচ বিষয়টি নিঃসন্দেহে এর বিপরীত। কারণ এই ফতোয়া প্রদানকারীগণ হলেন তাঁরই এমন কিছু উস্তাদ যারা তাকওয়া এবং বর্ণিত জ্ঞান (মানকুল) অনুসরণের জন্য সুপরিচিত। হানাফি ও শাফেয়ি মাযহাবের একদল বরেণ্য আলেমও এই ফতোয়া দিয়েছেন যেখানে 'অতঃপর' (সুম্মা) শব্দ দ্বারা ক্রমবিন্যাস করা হয়েছে, আর তাঁরা আমাদের এবং তাঁদেরও উস্তাদ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন শাইখুল ইসলাম সারিউদ্দিন আব্দুল বার ইবনুল শিহনা আল-হানাফি, তাঁর অনুসরণ করেছেন মুহাক্কিক শাইখ নূরুদ্দিন আল-মহল্লি আল-শাফেয়ি, প্রাজ্ঞ ও পুণ্যবান আলেম বুরহানুদ্দিন আত-তারাবুলুসি আল-হানাফি, আমাদের উস্তাদ কাযিউল কুযাত নূরুদ্দিন আত-তারাবুলুসি আল-হানাফি এবং শাইখ...
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
العمدة على الشافعي وشيخنا العلامة شهاب الدين الرملي الشافعي ومنهم قاضي القضاة البرهان ابن أبى شريف المقدسي الشافعى وتبعه العلامة علاء الدين الإخيمي وغيرهم ثم أخذ في تتبع كلام صاحب الأشباه والرد عليه (قلت) وكذلك أفتى بذلك العلامة ابن الشلبي شيخ صاحب الأشباه في سؤال مرتب بثم وقال الصواب نقض القسمة كما اقتضاه صريح عبارة الخصاف ولا أعلم أحدا من مشايخنا خالف في ذلك بل وافقه أي وافق الخصاف جماعة من السادة الشافعية وغيرهم ثم قال ووافقني على ذلك قاضي القضاة نور الدين الطرابلسي والعلامة برهان الدين الغزى انتهى وقسم على البطن الثاني اعتبارا برؤسهم لا بأصولهم خلافا لما افتى به السبكي. وقد رأيت في فتاوى العلامة ابن حجر الشافعي تأييده القول بنقض القسمة على نحو ما مر عن الخصاف وابن الشلبي ونقل مثله عن الإمام البلقيني والسيد السمهودى من الشافعية فحاصل ما نقله عن البلقيني أنه أجاب عن صورة سؤال مرتب فيه بين البطون بثم بأن الغلة تقسم على جميع الطبقة الثانية عملا بقول الواقف ثم من بعدهم على أولادهم وأما قوله ومن مات منهم وله ولد فنصيبه لولده فذلك عند وجود من يساوى الميت لأنَّه أراد بذلك أن يبين أن قوله الطبقة العليا تحجب السفلى إنما هو بالنسبة إلى حجب الأصل لفرعه وإن الترتيب الذي ذكره بثم ترتيب أفراد لا ترتيب جملة فإذا مات الأخير من أي طبقة كانت لم يختص ولده بنصيبه بل تكون الغلة للطبقة الثانية على حسب ما شرطه الواقف من تفضيل أو تثوية وصار تقدير الكلام ومن مات منهم وله ولد انتقل نصيبه لولده دون من في طبقة أبيه حتى لا يحرم ولد من مات في حياة أبيه ممن (لعله من) يساوى أصله وقد نال هذا المعنى في موت الأخير. وهذه المسئلة قد وقعت قديما فأفتى بهذا فيها ووافقه عليها أكابر العلماء في ذلك الوقت ثم وجدت التصريح بها في أوقاف الخصاف وفيه الجزم بما أفتيت به انتهى كلام البلقيني (فهذا) صريح أيضًا بالنقل عن أكابر العلماء بما يخالف كلام الأشباه. ونقل ابن حجر أيضًا عبارة السيد السمهودى وفيها التصريح بنقض القسمة كذلك وأنه لو مات من البطن الأول واحد عن خمسة أولاد وواحد عن ثلاثة وواحد عن اثنين واختص كل واحد من الفروع بنصيب أصولهم ثم مات الآخر من البطن الأول عن ولد تنقض القسمة وتقسم غلة الوقف على جميع الفروع من البطن الثاني وهم عشرة بالسوية أعشارا وصورة سؤاله كان الترتيب فيها بثم أيضًا وقد استدلوا على الحكم فيها بكلام الخصاف الذي ذكر فيه الواو
প্রধান নির্ভরতা হলো ইমাম শাফিঈ এবং আমাদের শাইখ আল্লামা শিহাব উদ্দীন আর-রামলি আশ-শাফিঈ-এর ওপর। তাঁদের মধ্যে আরও রয়েছেন কাযিল কুযাত বুরহান ইবনে আবি শারিফ আল-মাকদিসি আশ-শাফিঈ এবং আল্লামা আলাউদ্দীন আল-ইখিমি ও অন্যান্যরা তাকে অনুসরণ করেছেন। অতঃপর তিনি ‘আল-আশবাহ’ গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য অনুসন্ধান ও তা খণ্ডন করতে শুরু করলেন। (আমি বলি) অনুরূপ ফতোয়া দিয়েছেন আল্লামা ইবনুশ শালবি—যিনি ‘আল-আশবাহ’ এর লেখকের শিক্ষক ছিলেন—এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে যা ‘অতঃপর’ শব্দ দ্বারা বিন্যস্ত ছিল। তিনি বলেন, সঠিক মত হলো পূর্বের বণ্টন বাতিল করা, যেমনটি আল-খাসসাফ-এর সুস্পষ্ট বক্তব্য থেকে দাবি করা হয়। এবং আমি আমাদের মাশায়েখদের কাউকেই এ বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে জানি না, বরং শাফিঈ ও অন্যান্য মাশায়েখদের একটি দল আল-খাসসাফ-এর সাথে একমত হয়েছেন। অতঃপর তিনি বলেন, কাযিল কুযাত নূরুদ্দীন আত-তরাবুলুসি এবং আল্লামা বুরহানুদ্দীন আল-গাজ্জি এ বিষয়ে আমার সাথে একমত পোষণ করেছেন। সমাপ্ত। এবং দ্বিতীয় স্তরের মাঝে বণ্টন হবে তাদের মাথার সংখ্যা (জনপ্রতি) বিবেচনা করে, তাদের মূল পুরুষদের (বংশধারা) হিসেবে নয়, যা আস-সুবকির দেওয়া ফতোয়ার বিপরীত। আমি আল্লামা ইবনে হাজার আশ-শাফিঈ-এর ফতোয়াগ্রন্থে আল-খাসসাফ ও ইবনুশ শালবি থেকে বর্ণিত পূর্বের বণ্টন বাতিল করার মতটির সমর্থন দেখেছি। শাফিঈ মাযহাবের ইমাম আল-বুলকিনি এবং সাইয়্যেদ আস-সামহুদি থেকেও অনুরূপ বর্ণনা করা হয়েছে। আল-বুলকিনি থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারকথা হলো—তিনি এমন একটি প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন যেখানে স্তরগুলোর মাঝে ‘অতঃপর’ দ্বারা বিন্যাস করা হয়েছিল যে, ওয়াকফকারী ব্যক্তির বক্তব্য ‘অতঃপর তাদের পরে তাদের সন্তানদের জন্য’—এর ওপর আমল করে সম্পূর্ণ লভ্যাংশ দ্বিতীয় স্তরের সকলের মাঝে বণ্টন করা হবে। আর তার (ওয়াকফকারীর) কথা ‘তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে এবং তার সন্তান থাকলে, তার অংশ তার সন্তানের জন্য হবে’—এটি কেবল তখনই কার্যকর যখন মৃত ব্যক্তির সমপর্যায়ের কেউ জীবিত থাকে। কারণ এর দ্বারা তিনি স্পষ্ট করতে চেয়েছেন যে, তার কথা ‘উচ্চ স্তর নিম্ন স্তরকে বঞ্চিত করবে’ কেবল মূল (পিতা) কর্তৃক তার শাখাকে (সন্তানকে) বঞ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এবং তিনি ‘অতঃপর’ দ্বারা যে বিন্যাস উল্লেখ করেছেন তা হলো একক ব্যক্তিবর্গের বিন্যাস, কোনো সমষ্টির বিন্যাস নয়। সুতরাং যখন কোনো স্তরের সর্বশেষ ব্যক্তি মারা যাবে, তখন তার সন্তান তার অংশ একচ্ছত্রভাবে পাবে না; বরং লভ্যাংশ ওয়াকফকারীর শর্ত অনুযায়ী দ্বিতীয় স্তরের সবার জন্য হবে, তা অগ্রাধিকার বা সমতা যাই হোক না কেন। আর বাক্যের মূল মর্ম এরূপ দাঁড়াবে: তাদের মধ্যে যে মারা যাবে এবং তার সন্তান থাকবে, তার অংশ তার সন্তানের দিকে স্থানান্তরিত হবে তার পিতার স্তরের অন্যদের বাদ দিয়ে, যাতে পিতার জীবদ্দশায় যে সন্তান মারা যায় তার সন্তান (নাতি) যেন বঞ্চিত না হয় সেই ব্যক্তি থেকে যে তার মূলের সমপর্যায়ের ছিল। সর্বশেষ ব্যক্তির মৃত্যুর ক্ষেত্রেও এই অর্থটি প্রযোজ্য হবে। এই মাসআলাটি প্রাচীনকালেই ঘটেছিল এবং সে সময় এভাবেই ফতোয়া দেওয়া হয়েছিল এবং তৎকালীন বড় বড় আলেমগণ এর সাথে একমত হয়েছিলেন। অতঃপর আমি আল-খাসসাফ-এর ওয়াকফ বিষয়ক গ্রন্থে এর স্পষ্ট উল্লেখ পেয়েছি, যেখানে আমি যে ফতোয়া দিয়েছি সেটিরই নিশ্চয়তা রয়েছে। আল-বুলকিনির বক্তব্য সমাপ্ত। এটিও বড় বড় আলেমদের থেকে বর্ণিত এমন এক স্পষ্ট বর্ণনা যা ‘আল-আশবাহ’ এর বক্তব্যের পরিপন্থী। ইবনে হাজার সাইয়্যেদ আস-সামহুদির বক্তব্যও উদ্ধৃত করেছেন, যাতে একইভাবে বণ্টন বাতিলের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। বিষয়টি হলো যদি প্রথম স্তরের একজন পাঁচজন সন্তান রেখে, একজন তিনজন রেখে এবং একজন দুইজন সন্তান রেখে মারা যায় এবং শাখার (সন্তানদের) প্রত্যেকে তাদের মূলদের (পিতাদের) অংশ লাভ করে, অতঃপর প্রথম স্তরের সর্বশেষ ব্যক্তি একজন সন্তান রেখে মারা যায়, তবে পূর্বের বণ্টন বাতিল হয়ে যাবে। তখন ওয়াকফের লভ্যাংশ দ্বিতীয় স্তরের দশজন শাখার সবার মাঝে সমান দশ ভাগে ভাগ করা হবে। তার প্রশ্নের ধরণটিতেও বিন্যাসটি ‘অতঃপর’ শব্দ দ্বারাই ছিল। তারা এ বিষয়ে আল-খাসসাফের বক্তব্যের মাধ্যমে দলীল পেশ করেছেন যাতে ‘এবং’ (ওয়াও) অক্ষরটি ব্যবহৃত হয়েছিল।
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
المقترنة بما يفيد الترتيب مثل بطنا بعد بطن. وفيما ذكرناه تنبيه أيضًا على أن نقض القسمة بقسمة مستأنفة على عدد رؤس البطن الثاني باعتبار عدد رؤسهم كما يقوله الخصاف لا باعتبار أصولهم كما هو مختار السبكي. وفيه رد على السيوطي أيضًا حيث لم ينقض القسمة (تنبيه) تقدم عن السبكي أنه لم يعتبر الدرجة الجعلية أصلا وإن السيوطي اعتبرها كالدرجة الأصلية * وصورتها ما مر من قول الواقف على أن من مات قبل استحقاقه لشيء من منافع الوقف وترك ولدا أو ولد ولد أو أسفل منه قام ولده أو الأسفل منه مقامه واستحق ما كان يستحقه والده لو كان حيا وذلك كما ذكر في مسئلة السبكي من عبد الرحمن وملكه ولدى محمد الذي مات في حياة والده عبد القادر قبل الاستحقاق * فالسبكي لم يعتبر هذه الدرجة أصلا حيث لم يعظهما شيئا من نصيب جدهما عبد القادر ولا من نصيب عمهما عمر وإنما أبقاهما في درجتهما الأصلية إلى أن انتقلت القسمة إلى الطبقة الثانية فقسم عليهما مع بقية أهل طبقتهما * والسيوطي اعتبرها كالدرجة الأصلية فأقامهما مقام والدهما محمد وقسم حصة عبد القادر عليهما مع عميهما عمر وعلي أو عمتهما لطيفة ثم لما مات عمر عقيما وانتقلت حصته لأهل درجته وهو أخوه على وأخته لطيفة أدخل معهما عبد الرحمن وملكة في الاستحقاق من عمهما عمر المذكور لقيامهما مقام ابيهما محمد فإنه أخو عمر أيضًا والذي عليه جمهور العلماء من أهل الإفتاء قيام ولد من مات قبل والده في الاستحقاق من جده وأما دخوله في الاستحقاق من عمه ونحوه ممن هو في درجة والده المتوفى قبل الاستحقاق فقد وقع فيه معترك عظيم بين العلماء فقال جماعة بدخوله في الموضعين منهم الجلال السيوطي كما علمته ومال السبكي في سؤال آخر إلى عدم دخوله في الثاني (وصورة) السؤال ما ذكره عنه في الأشباه ونصه (وسئل) السبكى أيضًا عن رجل وقف على حمزة ثم أولاده ثم أولادهم
(1) وشرط أن من مات من أولاده انتقل نصيبه للباقين من أخوته ومن مات قبل استحقاقه لشيء من منافع الوقف وله ولد استحق ولده ما كان يستحقه المتوفى لو كان حيا فمات حمزة وخلف ولدين هما عماد الدين وخديجة وولد ولد مات أبوه في حياة والده وهو نجم الدين بن مؤيد الدين ابن حمزة فأخذ الولد أن نصيبهما وولد الولد النصيب الذي لو كان
--------------------------------------------
যা ক্রম নির্দেশক শব্দের সাথে যুক্ত, যেমন এক স্তরের পর অন্য স্তর। আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে এই বিষয়েও সতর্কবার্তা রয়েছে যে, দ্বিতীয় স্তরের ব্যক্তিদের মাথার সংখ্যা বা জনপ্রতি সংখ্যা বিবেচনা করে পূর্বের বণ্টন বাতিল করে নতুন করে বণ্টন করা হবে, যেমনটি খাসসাফ বলেছেন; তাদের মূল বা পিতৃপুরুষের সংখ্যা অনুযায়ী নয়, যা সুবকী পছন্দ করেছেন। এতে সুয়ূতী-এরও প্রতিবাদ রয়েছে, যেহেতু তিনি পূর্বের বণ্টন বাতিল করেননি। (সতর্কীকরণ) সুবকী থেকে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি কৃত্রিম বা নির্ধারিত স্তরকে আদৌ মূল গণ্য করেননি, কিন্তু সুয়ূতী একে মূল বা প্রকৃত স্তরের মতোই গণ্য করেছেন। এর চিত্র হলো যা ইতিপূর্বে ওয়াকফকারীর বক্তব্য থেকে অতিবাহিত হয়েছে যে, "ওয়াকফের কোনো সুবিধা লাভের অধিকার পাওয়ার পূর্বে যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করবে এবং কোনো সন্তান বা সন্তানের সন্তান বা তার অধস্তন কাউকে রেখে যাবে, তবে তার সন্তান বা অধস্তন ব্যক্তি তার স্থলাভিষিক্ত হবে এবং তার পিতা জীবিত থাকলে যা প্রাপ্য হতো সে তার অধিকারী হবে।" এটি সুবকী-এর মাসআলায় উল্লিখিত আব্দুর রহমান ও মালিকার মতো, যারা মুহাম্মদের দুই সন্তান; যে মুহাম্মদ তার পিতা আব্দুল কাদিরের জীবদ্দশায় হক পাওয়ার আগেই মৃত্যুবরণ করেছিল। সুবকী এই স্তরকে মূল গণ্য করেননি, বিধায় তিনি তাদের দুজনকে তাদের দাদা আব্দুল কাদিরের অংশ থেকে বা তাদের চাচা উমরের অংশ থেকে কিছুই দেননি; বরং তিনি তাদেরকে তাদের মূল স্তরেই রেখে দিয়েছেন যতক্ষণ না বণ্টন দ্বিতীয় স্তরে স্থানান্তরিত হয়, তখন তিনি তাদের স্তরের বাকিদের সাথে তাদের মাঝেও বণ্টন করেছেন। আর সুয়ূতী একে মূল স্তরের মতো গণ্য করেছেন। ফলে তিনি তাদের দুজনকে তাদের পিতা মুহাম্মদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং আব্দুল কাদিরের অংশ তাদের দুই চাচা উমর ও আলী অথবা ফুফু লতিফার সাথে তাদের মাঝেও বণ্টন করেছেন। অতঃপর যখন উমর নিঃসন্তান অবস্থায় মারা যান এবং তার অংশ তার স্তরের লোকদের অর্থাৎ তার ভাই আলী ও বোন লতিফার কাছে স্থানান্তরিত হয়, তখন তিনি তাদের দুজনের সাথে আব্দুর রহমান ও মালিকাকেও তাদের উল্লিখিত চাচা উমরের অংশ পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করেন। কারণ তারা তাদের পিতা মুহাম্মদের স্থলাভিষিক্ত, আর মুহাম্মদও উমরের ভাই ছিলেন। ফতোয়া প্রদানকারী জুমহুর উলামায়ে কেরামের মত হলো, পিতার আগে মৃত্যুবরণকারীর সন্তান তার দাদার সম্পত্তিতে হকদার হওয়ার ক্ষেত্রে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হবে। কিন্তু চাচার সম্পত্তিতে হকদার হওয়ার ক্ষেত্রে বা এমন কারো ক্ষেত্রে যে তার পিতার সমপর্যায়ের কিন্তু পিতা হক পাওয়ার আগেই মারা গেছেন, তাতে উলামায়ে কেরামের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ ও বাদানুবাদ সৃষ্টি হয়েছে। একদল আলেম উভয় ক্ষেত্রেই তাকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছেন, যাদের মধ্যে জালালুদ্দিন সুয়ূতী অন্যতম যেমনটি আপনি জেনেছেন। আর সুবকী অন্য এক প্রশ্নে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার দিকে ঝুঁকেছেন। প্রশ্নের চিত্রটি তাই যা তিনি আল-আশবাহ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং তার পাঠ হলো: (জিজ্ঞাসা করা হলো) সুবকী-কেও জনৈক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যিনি হামযাহর ওপর, তারপর তার সন্তানদের ওপর, তারপর তাদের সন্তানদের ওপর(১) ওয়াকফ করেছেন এবং শর্ত দিয়েছেন যে, তার সন্তানদের মধ্যে যে মারা যাবে তার অংশ তার অবশিষ্ট ভাইদের কাছে স্থানান্তরিত হবে। আর যে ব্যক্তি ওয়াকফের কোনো সুবিধা লাভের পূর্বে মারা যাবে এবং তার সন্তান থাকবে, তবে তার সন্তান তাই পাবে যা উক্ত মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে পেত। অতঃপর হামযাহ মারা গেলেন এবং দুই সন্তান ইমাদুদ্দিন ও খাদীজাহ এবং এক নাতিকে রেখে গেলেন যার পিতা নাজমুদ্দিন বিন মুআইয়িদুদ্দিন বিন হামযাহ তার পিতার জীবদ্দশায় মারা গিয়েছিল। ফলে দুই সন্তান তাদের অংশ গ্রহণ করল এবং নাতি সেই অংশ গ্রহণ করল যা যদি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
أبوه حيا لأخذه. ثم ماتت خديجة فهل يختص أخوها بالباقي أو يشاركها ولد أخيه نجم الدين (فأجاب) تعارض فيه اللفظان فيحتمل المشاركة ولكن الأرجح اختصاص الأخ ويرجحه أن التنصيص على الأخوة وعلى الباقين منهم كالخاص وقوله ومن مات قبل الاستحقاق كالعام فيقدم الخاص على العام انتهى "وقوله تعارض فيه اللفظان أي قوله انتقل نصيبه للباقين من أخوته فإن عماد الدين ليس من الأخوة والثاني قوله استحق ولده ما كان يستحقه المتوفى لو كان حيا فإنه يفيد استحقاق عماد الدين. والذي حققه العلامة الشيخ على المقدسي في رسالته مشاركة ولد الأخ لقيامه مقام أبيه لأن الخاص لا يقدم على العام عندنا ولفظ من في قوله من مات قبل استحقاقه لشيء عام ولفظ مقام في قوله قام مقامه نكرة مضافة تفيد العموم. وقال أنه أفتى بذلك طائفة من أعيان العلماء. وخالفه في ذلك آخرون من علماء المذاهب الأربعة فجعلوا ابن من مات أبوه قبل الاستحقاق قائما مقام أبيه في استحقاقه من جزة دون استحقاقه من عمته خديجة. وفى شرح الإقناع الحنبلي ما نصه فائدة لو قال على أن من مات قبل دخوله في الوقف عن ولد وإن سفل وآل الحال في الوقف إلى أنه لو كان المتوفى موجودا لدخل قام ولده مقامه في ذلك وإن سفل واستحق ما كان أصله يستحقه من ذلك أن لو كان موجودا. فانحصر الوقف في رجل من أولاد الواقف ورزق خمسة أولاد مات أحدهم في حياة والداه وترك ولد. ثم مات الرجل عن أولاده الأربعة وولد ولده ثم مات من الأربعة ثلاثة عن غير ولد وبقى منهم واحد مع ولد أخيه استحق الولد الباقي أربعة أخماس ربع الوقف وولد أخيه الخمس الباقى أفتى به البدر محمد الشهاوى الحنفي وتابعه الناصر الطبلاوى الشافعي والشهاب أحمد البهوتي الحنبلي (ووجهه) أن قول الواقف على أن من مات منهم قبل دخوله في هذا الوقف الخ مقصور على استحقاق الولد لنصيب والده المستحق له في حياته لا يتعداه إلى من مات من أخوة والده عن غيرولد بعد موته بل ذلك إنما يكون للأخوة الأحياء عملا بقول الواقف على أن من توفى منهم عن غير ولد الخ إذ لا يمكن إقامة الولد مقام أبيه في الوصف الذي هو الأخوة حقيقة بل مجازا والأصل حمل اللفظ على حقيقته وفى ذلك جمع بين الشرطين وعمل بكل منهما في محله وذلك أولى من الغاء أحدهما انتهى (قلت) هذا إنما يتجه أن لو قال على أن من مات عن غير ولد عاد نصيبه لأخوته فهنا يمكن أن يقال ذو الدرجة الجعلية لا يستحق مع أعمامه إذا مات واحد منهم عن غير ولد لأن الواقف شرط
তার পিতা তাকে গ্রহণের জন্য জীবিত থাকতেন। তারপর খাদিজা মারা গেলেন, তবে কি তার ভাই অবশিষ্টাংশে বিশিষ্ট হবেন নাকি তার ভাই নাজমুদ্দীনের সন্তান তার সাথে অংশীদার হবে? (তিনি উত্তর দিলেন) এতে দুটি শব্দের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিচ্ছে, তাই অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা আছে, কিন্তু অধিকতর প্রাধান্যযোগ্য মত হলো ভাইয়ের বিশিষ্ট হওয়া। আর একে প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো, ভাইদের ব্যাপারে এবং তাদের মধ্যে অবশিষ্টদের ব্যাপারে স্পষ্ট উল্লেখ বিশেষ হুকুমের মতো, আর তার কথা "যে ব্যক্তি প্রাপ্য হওয়ার আগে মারা যাবে" তা সাধারণ হুকুমের মতো, সুতরাং বিশেষকে সাধারণের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে। সমাপ্ত। "আর তার কথা 'এতে দুটি শব্দের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দিচ্ছে' অর্থাৎ তার কথা যে, তার অংশ তার ভাইদের মধ্যে অবশিষ্টদের কাছে স্থানান্তরিত হবে, কারণ ইমাদুদ্দীন ভাইদের অন্তর্ভুক্ত নন। দ্বিতীয়টি হলো তার কথা যে, মৃত ব্যক্তি জীবিত থাকলে যা প্রাপ্য হতেন, তার সন্তান তা প্রাপ্য হবে, যা ইমাদুদ্দীনের প্রাপ্য হওয়াকে বুঝায়। আর আল্লামা শাইখ আলী আল-মাকদিসি তার রিসালায় যা যাচাই করে স্থির করেছেন তা হলো, ভাইয়ের সন্তান অংশীদার হবে যেহেতু সে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে, কারণ আমাদের নিকট বিশেষকে সাধারণের ওপর প্রাধান্য দেওয়া হয় না। আর তার কথা 'যে ব্যক্তি তার প্রাপ্য হওয়ার আগে মারা যাবে' এতে 'যে' শব্দটি সাধারণ, এবং 'স্থলাভিষিক্ত' কথাটির মধ্যে 'স্থান' শব্দটি সম্বন্ধযুক্ত নাকেরা শব্দ হওয়ায় তা ব্যাপকতা প্রকাশ করে। তিনি বলেন যে, একদল বিশিষ্ট আলেম এ অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন। চার মাযহাবের অন্যান্য আলেমগণ এ বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁরা ফয়সালা দিয়েছেন যে, যার পিতা প্রাপ্য হওয়ার আগে মারা গেছে তার পুত্র তার পিতার প্রাপ্য অংশে পিতার স্থলাভিষিক্ত হবে, তবে তার ফুফু খাদিজার অংশ হতে নয়। হাম্বলি মাযহাবের শারহুল ইকনা গ্রন্থে এর পাঠ নিম্নরূপ: একটি উপকারিতা; যদি তিনি বলেন যে, যে ব্যক্তি ওয়াকফে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পূর্বে সন্তান রেখে মারা যাবে—চাই সে যত নিচেই হোক না কেন—এবং ওয়াকফের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে মৃত ব্যক্তি উপস্থিত থাকলে অন্তর্ভুক্ত হতেন, তবে তার সন্তান তার স্থলাভিষিক্ত হবে—চাই সে যত নিচেই হোক না কেন—এবং তার মূল (পিতা) উপস্থিত থাকলে যা প্রাপ্য হতেন সে তা প্রাপ্য হবে। অতঃপর ওয়াকফটি ওয়াকফকারীর সন্তানদের মধ্যে একজনের ওপর সীমাবদ্ধ হয়ে গেল এবং তার পাঁচ সন্তান ছিল। তাদের একজন তার পিতার জীবদ্দশায় সন্তান রেখে মারা গেল। এরপর সেই ব্যক্তি তার চার সন্তান ও এক নাতি রেখে মারা গেলেন। এরপর সেই চারজনের মধ্যে তিনজন কোনো সন্তান না রেখেই মারা গেলেন এবং তাদের মধ্য থেকে একজন তার ভাইয়ের ছেলের সাথে অবশিষ্ট রইলেন। এমতাবস্থায় অবশিষ্ট সন্তানটি ওয়াকফের এক চতুর্থাংশের পাঁচ ভাগের চার ভাগ প্রাপ্য হবে এবং তার ভাইয়ের ছেলে অবশিষ্ট এক পঞ্চমাংশ প্রাপ্য হবে। বদর মুহাম্মদ আল-শাহাভি আল-হানাফি এই ফতোয়া দিয়েছেন এবং নাসির আত-তাবলাবি আশ-শাফিঈ ও শিহাব আহমদ আল-বুহুতি আল-হাম্বলি তার অনুসরণ করেছেন। (এর কারণ হলো) ওয়াকফকারীর কথা 'তাদের মধ্যে যারা এই ওয়াকফে প্রবেশের পূর্বে মারা যাবে...' ইত্যাদি অংশটি সন্তানের তার পিতার সেই অংশের অধিকারের ওপর সীমাবদ্ধ যা তার পিতা তার জীবনে প্রাপ্য হতেন। এটি তার পিতার মৃত্যুর পর তার পিতার যে সকল ভাই কোনো সন্তান না রেখে মারা গেছেন তাদের অংশে সম্প্রসারিত হবে না। বরং তা ওয়াকফকারীর কথা 'তাদের মধ্যে যারা কোনো সন্তান না রেখে মারা যাবে...' ইত্যাদি অনুযায়ী জীবিত ভাইদের জন্য হবে। কারণ সন্তানকে তার পিতার প্রকৃত ভ্রাতৃত্বের গুণাবলির স্থলাভিষিক্ত করা সম্ভব নয়, বরং তা কেবল রূপকভাবে সম্ভব। আর মূল নিয়ম হলো শব্দকে তার প্রকৃত অর্থে গ্রহণ করা। এর মাধ্যমে শর্তদ্বয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয় এবং প্রত্যেকটির নিজ নিজ ক্ষেত্রে আমল করা হয়। আর এটি একটিকে বাতিল করার চেয়ে উত্তম। সমাপ্ত। (আমি বলছি) এটি তখনই প্রযোজ্য হবে যদি তিনি বলতেন যে, যে ব্যক্তি কোনো সন্তান না রেখে মারা যাবে তার অংশ তার ভাইদের কাছে ফিরে আসবে। এমতাবস্থায় বলা সম্ভব যে, নির্ধারিত স্তরের ব্যক্তি তার চাচাদের সাথে প্রাপ্য হবে না যদি তাদের মধ্যে কেউ কোনো সন্তান না রেখে মারা যায়, কারণ ওয়াকফকারী শর্তারোপ করেছেন
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
عود نصيبه إلى أخوته وذو الدرجة الجعلية الذى أقامه الواقف مقام أبيه المتوفى قبل الاستحقاق لا يقوم مقامه في وصف الأخوة حقيقة أما لو قال من مات عن غير ولد عاد نصيبه إلى من في طبقته الأقرب فالأقرب كما يذكر في غالب كتب الأوقاف فلا يتأتى ما قاله لأن الواقف أقامه في درجة أبيه فيعود إليه ما يعود إلى أهل هذه الدرجة، على أنه يقال أن قوله قام مقامه يشمل قيامه مقامه في وصف الأخوة كما شمل وصف الطبقة لأن مراد الواقف إنزاله منزلة أبيه المتوفى حتى اعتبر المتوفى كأنه حتى ولو كان حيا استحق بوصف الطبقة وكذا بوصف الأخوة، ألا ترى أنه استحق بوصف البنوة فيما إذا مات الواقف أو غيره عن ابن وعن ابن ابن مات أبوه قبل الاستحقاق فإنك تعطى ابن الابن المذكور مع عمه وقد شرط الواقف أن من مات عن ولد فنصيبه لولده وما ذاك ألا يجعل ابن الابن بمنزلة الابن حتى لا يلغو شيء من الشرطين المذكورين نعم أيد بعض المحققين عدم مشاركته لأعمامه بأن لفظ الطبقة في كلام الواقف محمول على الحقيقة دون المجاز لئلا يلزم الجمع بين المتضادين وإعطاء الشخص في موضع دل صريح كلام الواقف على حرمانه فيه وحرمانه في موضع دل صريح كلام الواقف على إعطائه فيه كما إذا مات المتوفى أبوه قبل الاستحقاق عن غير ولد وله نصيب فإن أعطينا نصيبه أهل طبقته واهل طبقة أبيه معا جمعنا بين الحقيقة والمجاز وإن أعطينا أهل واحدة منهما دون الأخرى فإن كانت طبقته نكون أهملنا المجازية وقد كنا فرضناه من أهلها إلى حين أخذ مع أعمامه من نصيب جده وإن كانت طبقة أبيه نكون أهملنا الحقيقية بعد أن حكمنا له بالاستحقاق فيها بصريح شرط الواقف فأبقينا الطبقة في كلام الواقف على حقيقتها وأعملنا الكلامين بحسب الإمكان وقلنا إن غرض الواقف أن ولد من مات قبل الاستحقاق لا يكون محروما بل يستحق القدر الذى لو فرض أبوه حيا لتلقاه عن أبيه وامه تشبيها بولد من مات قبل الاستحقاق بولد من مات بعده في الاعطاء ولو قلنا بخلاف ذلك لزم إن ثبت للمشبه قدرا زائدا على المشبه به إذ ولد من مات بعد الاستحقاق ليس له هذا المعنى انتهى أي أن ولد من مات بعد الاستحقاق جعل له الواقف نصيب أبيه لئلا يكون محروما منه ولو مات أحد من أعمامه أو غيرهم ممن في درجة أبيه لم يجعل له الواقف منه شيئا حيث شرط أن من مات لاعن ولد فنصيبه لمن في طبقته أو فنصيبه لإخوته، وأما ولد من مات قبل الاستحقاق فإنه لما لم يدخل في الشرطين أحب الواقف أن لا يحرم أيضًا ما كان يستحقه أبوه لو كان حيا فشرط الشرط الثالث لإدخاله في ريع الوقف قبل انقراض درجة أبيه كما أدخل ولد من مات بعد الاستحقاق وجعله
তার অংশ তার ভাইদের কাছে ফিরে যাবে। আর যে ব্যক্তি কৃত্রিম স্তরের (দারাজা জা’লিয়া) অধিকারী, যাকে ওয়াকিফ (দানকারী) স্বত্বাধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত তার পিতার স্থলাভিষিক্ত করেছেন, সে প্রকৃত ভ্রাতৃত্বের বর্ণনায় তার পিতার স্থলাভিষিক্ত হবে না। পক্ষান্তরে, যদি তিনি (ওয়াকিফ) বলেন যে, "যে ব্যক্তি সন্তানহীন অবস্থায় মারা যাবে, তার অংশ তার স্তরের নিকটতমদের কাছে ফিরে যাবে," যেমনটি অধিকাংশ ওয়াকফ সংক্রান্ত কিতাবে উল্লেখ করা হয়, তবে তার বক্তব্য কার্যকর হবে না। কারণ ওয়াকিফ তাকে তার পিতার স্তরে স্থলাভিষিক্ত করেছেন, ফলে এই স্তরের লোকদের কাছে যা ফিরে আসে, তা তার কাছেও ফিরে আসবে। এ ছাড়াও বলা হয় যে, "সে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে"—এই উক্তিটি যেমন স্তরের বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তেমনি ভ্রাতৃত্বের বর্ণনার ক্ষেত্রেও তাকে তার স্থলাভিষিক্ত করাকে অন্তর্ভুক্ত করে। কারণ ওয়াকিফের উদ্দেশ্য হলো তাকে তার মৃত পিতার মর্যাদায় নামিয়ে আনা, এমনকি মৃত ব্যক্তিকে এমনভাবে বিবেচনা করা যেন সে জীবিত; আর যদি সে জীবিত থাকত, তবে সে স্তরের বর্ণনার কারণে এবং একইভাবে ভ্রাতৃত্বের বর্ণনার কারণেও প্রাপক হতো। আপনি কি দেখছেন না যে, যখন ওয়াকিফ বা অন্য কেউ একজন পুত্র এবং এমন একজন পৌত্র (পুত্রের পুত্র) রেখে মারা যান যার পিতা স্বত্বাধিকার অর্জনের আগেই মারা গেছেন, তখন সেই পৌত্র পুত্রত্বের বর্ণনার কারণে প্রাপক হয়? এমতাবস্থায় আপনি উক্ত পৌত্রকে তার চাচার সাথে অংশ প্রদান করেন, অথচ ওয়াকিফ শর্ত করেছিলেন যে, "যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে, তার অংশ তার সন্তানের জন্য।" এটি এই কারণেই যে, পৌত্রকে পুত্রের স্থলাভিষিক্ত করা হয় যাতে উল্লিখিত দুটি শর্তের কোনোটিই বাতিল না হয়ে যায়।
হ্যাঁ, কিছু গবেষক তার চাচাদের সাথে অংশীদার না হওয়ার বিষয়টিকে এই বলে সমর্থন করেছেন যে, ওয়াকিফের বক্তব্যে 'স্তর' (তাবাকা) শব্দটি রূপক অর্থে নয় বরং প্রকৃত অর্থেই গ্রহণ করা হবে, যাতে দুটি বিপরীত বিষয়ের সমন্বয় আবশ্যক না হয়। এবং কোনো ব্যক্তিকে এমন স্থানে দান করা যেখানে ওয়াকিফের স্পষ্ট বক্তব্য তাকে বঞ্চিত করার নির্দেশ দেয়, আবার এমন স্থানে তাকে বঞ্চিত করা যেখানে ওয়াকিফের স্পষ্ট বক্তব্য তাকে দান করার নির্দেশ দেয়। যেমন—যার পিতা স্বত্বাধিকার অর্জনের আগেই মারা গেছে, সে যদি সন্তানহীন অবস্থায় মারা যায় এবং তার একটি অংশ থাকে, তবে আমরা যদি তার অংশটি তার নিজের স্তরের লোক এবং তার পিতার স্তরের লোক উভয়কে একসাথে প্রদান করি, তবে আমরা প্রকৃত ও রূপক অর্থকে একত্রিত করে ফেলব। আর যদি আমরা তাদের যেকোনো একজনকে দেই এবং অন্যজনকে না দেই—তবে যদি তা তার নিজের স্তর হয়, তবে আমরা রূপক দিকটি উপেক্ষা করলাম অথচ আমরা তাকে তার চাচার সাথে দাদার অংশ গ্রহণ করা পর্যন্ত সেই স্তরের অন্তর্ভুক্ত বলে ধরে নিয়েছিলাম। আর যদি তা তার পিতার স্তর হয়, তবে ওয়াকিফের স্পষ্ট শর্ত অনুযায়ী তাকে সেখানে প্রাপক হিসেবে সাব্যস্ত করার পর আমরা প্রকৃত অর্থটিকে উপেক্ষা করলাম। তাই আমরা ওয়াকিফের বক্তব্যে 'স্তর' শব্দটিকে তার প্রকৃত অর্থেই বহাল রেখেছি এবং যথাসম্ভব উভয় বক্তব্যের ওপর আমল করেছি। আমরা বলেছি যে, ওয়াকিফের উদ্দেশ্য হলো—যে ব্যক্তি স্বত্বাধিকার অর্জনের পূর্বে মারা গেছে তার সন্তান যেন বঞ্চিত না হয়, বরং সে সেই পরিমাণ অংশের অধিকারী হবে যা তার পিতাকে জীবিত ধরে নিলে সে তার পিতা ও মাতার কাছ থেকে লাভ করত। এটি প্রদানের ক্ষেত্রে স্বত্বাধিকার অর্জনের পূর্বে মৃত ব্যক্তির সন্তানকে, স্বত্বাধিকার অর্জনের পরে মৃত ব্যক্তির সন্তানের সাথে সাদৃশ্য দেওয়ার নামান্তর। যদি আমরা এর বিপরীতে কিছু বলি, তবে উপমিত (মুশাব্বাহ) ব্যক্তির জন্য উপমান (মুশাব্বাহ বিহি) অপেক্ষা অতিরিক্ত পরিমাণ সাব্যস্ত করা আবশ্যক হয়ে পড়বে; অথচ স্বত্বাধিকার অর্জনের পরে মৃত ব্যক্তির সন্তানের ক্ষেত্রে এই অর্থটি প্রযোজ্য নয়। সমাপ্ত।
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি স্বত্বাধিকার অর্জনের পরে মারা গেছে, ওয়াকিফ তার সন্তানের জন্য তার পিতার অংশটি নির্ধারিত করেছেন যাতে সে তা থেকে বঞ্চিত না হয়। কিন্তু তার চাচাদের মধ্য থেকে কেউ অথবা তার পিতার স্তরের অন্য কেউ যদি মারা যায়, তবে ওয়াকিফ তাকে সেখান থেকে কিছুই প্রদান করেননি; কারণ তিনি শর্ত করেছেন যে, যে ব্যক্তি সন্তানহীন অবস্থায় মারা যাবে, তার অংশ তার স্তরের ব্যক্তিদের জন্য অথবা তার ভাইদের জন্য। পক্ষান্তরে, যে ব্যক্তি স্বত্বাধিকার অর্জনের পূর্বেই মারা গেছে তার সন্তানের কথা—যেহেতু সে উক্ত দুটি শর্তের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, তাই ওয়াকিফ পছন্দ করেছেন যে, সে যেন সেই অংশ থেকে বঞ্চিত না হয় যা তার পিতা জীবিত থাকলে পেতেন। ফলে তিনি তাকে তার পিতার স্তরের বিলুপ্তি ঘটার আগেই ওয়াকফের আয়ের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য তৃতীয় একটি শর্তারোপ করেছেন, যেমনটি তিনি স্বত্বাধিকার অর্জনের পরে মৃত ব্যক্তির সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং তাকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بمنزلته فلو أعطيناه أيضًا من أعمامه تنزيلا له منزلة أبيه من كل وجه لزم أن يزيد على ولد المستحق ولا يساعده غرض الواقف وقد صرحوا بأن الغرض يصلح مخصصا وبهذا يندفع ما استدل به المقدسي على دعواه من عموم لفظ من ولفظ مقام كما مر إذ يبعد أن يكون مراد الواقف أن يجعل ولد ولده الميت قبل الاستحقاق أقوى حالا من ولد ولده الميت بعد الاستحقاق وإنما المعروف المألوف إلحاقه به وعدم حرمانه فيختص عموم لفظ المقام بما دل عليه المقام وعن هذا والله تعالى أعلم أفتى جمهور العلماء من المذاهب الأربعة بما مر عن شرح الإقناع كما رأيته في رسالة للعلامة الشرنبلالي وافق العلامة المقدسي ورد فيها على من أفتى بخلافه في واقعة شرح الإقناع ونقل عباراتهم وهم الشيخ بدر الدين الشهاب الحنفي والشيخ ناصر الدين الطبلاوى الشافعى والشيخ شهاب الدين أحمد البهوتى الحنبلى والشيخ ناصر الدين اللقانى المالكي والشيخ محمد المسيرى الحنفى والشيخ شهاب الدين أحمد بن شعبان الحنفى وصاحب البحر والاشباه الشيخ زين بن نجيم الحنفي، ومستند الشرنبلالى في الرد على هؤلاء الأعلام هو ما مر عن المقدسي من عموم لفظ من ولفظ مقام وكون الشرط الذى فيه إقامة ولد من مات قبل استحقاقه مقام أبيه متأخرا ناسخا لعموم الشرط الذي قبله وهو اشتراط من مات لاعن ولد فنصيبه لأخوته والعمل على المتأخر (قلت) وقد علمت مما قدمناه الجواب بأن العموم غير مراد لمخالفته لغرض الواقف وح فلا معارضة بين الشرطين فلا نسخ (والعجب) من الشرنبلالي حيث بنى رسالته المذكورة على سؤال أعطى فيه ولد من مات قبل الاستحقاق مع أنه لم يصرح فيه بالشرط الثالث فنذكر ذلك تميما للفائدة، فنقول قال في رسالته بعد الخطبة هذه رسالة متضمنة لجواب حادثة مهمة في شرط واقف أردت تسطيرها لكثرة وقوع مثلها واشتباه الحكم فيها على كثير ممن تصدر للفتوى فأفتى بخلاف النص فيها ورأيت مثلها قد أفتى فيه شيخ مشايخنا العلامة نور الدين الشيخ الإمام على المقدسي وقد خالف غيره من أكابر عصره من أهل مذهبه كباقى أئمة المذاهب الثلاثة ثم ذكر الشرنبلالي صورة المسئلة المارة
(1) وهى في واقف وقف على أولاده يحيى وعبد الجواد وعلى ثم
--------------------------------------------
তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে, যদি আমরা তাকে তার চাচাদের অংশ থেকেও প্রদান করি—তাকে সকল দিক থেকে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত গণ্য করে—তবে তা পাওনাদারের সন্তানের অংশের চেয়ে বেশি হয়ে যাওয়া আবশ্যক করে তোলে, অথচ ওয়াকিফের (দানকারীর) উদ্দেশ্য একে সমর্থন করে না। ফকীহগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ওয়াকিফের উদ্দেশ্য (সাধারণ শব্দকে) বিশিষ্ট বা সুনির্দিষ্ট করার যোগ্যতা রাখে। এর মাধ্যমেই মাকদিসি তাঁর দাবির স্বপক্ষে 'মান' (যে) এবং 'মাকাম' (স্থলাভিষিক্ত) শব্দের ব্যাপকতা থেকে যা দলিল পেশ করেছেন তা খণ্ডন হয়ে যায়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। কেননা এটি সুদূরপরাহত যে, ওয়াকিফের উদ্দেশ্য এমন হবে যেখানে তিনি পাওনা হওয়ার আগে মৃত সন্তানের সন্তানকে, পাওনা হওয়ার পরে মৃত সন্তানের সন্তানের চেয়েও শক্তিশালী অবস্থানে রাখবেন। বরং পরিচিত ও স্বাভাবিক নিয়ম হলো তাকে তার সাথে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বঞ্চিত না করা। সুতরাং 'মাকাম' শব্দের ব্যাপকতা সেই বিষয়ের সাথেই নির্দিষ্ট থাকবে যা প্রাসঙ্গিকতা (মাকাম) নির্দেশ করে। এই কারণেই—এবং আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন—চার মাযহাবের জমহুর ওলামায়ে কেরাম সেই মর্মে ফতোয়া দিয়েছেন যা 'শারহুল ইকনা' থেকে বর্ণিত হয়েছে, যেমনটি আমি আল্লামা শুরুনবুলালির একটি রিসালায় দেখেছি। তিনি আল্লামা মাকদিসির সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং সেই ব্যক্তির প্রতিবাদ করেছেন যিনি 'শারহুল ইকনা'-র ঘটনার বিপরীতে ফতোয়া দিয়েছিলেন। তিনি তাঁদের বক্তব্যসমূহ উদ্ধৃত করেছেন, তাঁরা হলেন: শেখ বদরুদ্দিন শাহাব হানাফী, শেখ নাসিরুদ্দিন তিবলাওয়ী শাফেয়ী, শেখ শাহাবুদ্দিন আহমদ বাহুতী হাম্বলী, শেখ নাসিরুদ্দিন লাক্কানী মালিকী, শেখ মুহাম্মদ মুসাইরী হানাফী, শেখ শাহাবুদ্দিন আহমদ বিন শা’বান হানাফী এবং 'আল-বাহর' ও 'আল-আশবাহ' গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা শেখ জাইন বিন নুজাইম হানাফী। এই সকল মহান ইমামদের প্রতিবাদে শুরুনবুলালির দলিল হলো মাকদিসি থেকে বর্ণিত সেই 'মান' ও 'মাকাম' শব্দের ব্যাপকতা এবং এই শর্তটি যে, যে ব্যক্তি পাওনা হওয়ার আগে মারা যাবে তার সন্তানকে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত করা—এটি তার পূর্ববর্তী শর্তের জন্য রহিতকারী (নাসেখ)। আর পূর্ববর্তী শর্তটি ছিল: যে ব্যক্তি সন্তান না রেখে মারা যাবে তার অংশ তার ভাইদের জন্য। আর আমল হবে পরবর্তীটির ওপর। (আমি বলি) আমি পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তা থেকে আপনি উত্তর জেনেছেন যে, এই ব্যাপকতা উদ্দেশ্য নয়, কারণ তা ওয়াকিফের উদ্দেশ্যের পরিপন্থী। সুতরাং দুই শর্তের মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই, ফলে কোনো রহিতকরণও (নাসখ) নেই। (বিস্ময়ের বিষয়) শুরুনবুলালি তাঁর উল্লিখিত রিসালাটি এমন এক প্রশ্নের ওপর ভিত্তি করে সাজিয়েছেন যাতে পাওনা হওয়ার আগে মৃত ব্যক্তির সন্তানকে প্রদান করা হয়েছে, অথচ তাতে তৃতীয় শর্তটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। উপকারের পূর্ণতার জন্য আমরা তা উল্লেখ করছি। আমরা বলি: তিনি তাঁর রিসালায় খুতবার পরে বলেছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উত্তরের সম্বলিত রিসালা যা এক ওয়াকিফের শর্তের ব্যাপারে। আমি এটি লিপিবদ্ধ করার ইচ্ছা করেছি কারণ এরুপ ঘটনা অহরহ ঘটে এবং ফতোয়া প্রদানকারী অনেকের কাছেই এর হুকুম অস্পষ্ট থেকে যায়, ফলে তারা এতে মূল পাঠের (নস) বিপরীতে ফতোয়া প্রদান করেন। আমি দেখেছি যে আমাদের শায়খদের শায়খ আল্লামা নূরুদ্দিন শেখ ইমাম আলী মাকদিসি এরুপ বিষয়ে ফতোয়া দিয়েছেন, যদিও তিনি তাঁর যুগের তাঁর মাযহাবের অন্যান্য বড় আলেম এবং বাকি তিন মাযহাবের ইমামদের বিরোধিতা করেছেন। অতপর শুরুনবুলালি পূর্বোক্ত মাসআলার বিবরণ উল্লেখ করেন(১) আর তা হলো জনৈক ওয়াকিফ তার সন্তান ইয়াহইয়া, আব্দুল জাওয়াদ এবং আলীর ওপর ওয়াকফ করেছেন, অতপর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
ممم
(2) على أولادهم ثم وثم طبقة بعد طبقه الذكر والأنثى في ذلك سواء على أن من مات منهم عن ولد أو أسفل منه فنصيبه لولده أو الأسفل منه وإن لم يكن له ولد ولا أسفل منه فنصيبه لأخوته المشاركين له في الاستحقاق بالوقف المذكور مضافا لما يستحقونه، ثم مات عبد الجواد عن أخويه عقيما، ثم مات يحيى عن ابن وبنتين فماتت إحدى ابنتين عن أولاد ثلاثة وماتت الأخرى عن أخيها عقيما فانتقلت حصتها لأخيها ثم مات على ابن الواقف عن بنتين، ثم مات ابن يحيى عقيما عن أولاد أخته وبنتي عمه على فهل تنتقل حصته لبنتي عمه أو لأولاد أخته أو للجميع (قال فأجبت) بأنه يقسم ريع الوقف أثلاثا ثلثه لأولاد بنت يحيى وثلثاه لبنتى على لأنَّه لما مات على ابن الواقف انتقضت القسمة بكونه آخر الطبقة فصار المستحقون أربعة منهم الموجود حقيقة ثلاثة بنتا علي وابن يحيى والرابع الموجود تقديرا بنت يحيى التي أعقبت ابنا وبنتين فلأولادها نصيبها وهو الربع الرابع ولأخيها الربع الثاني ولكل من بنتي على ابن الواقف ربع، ولما مات ابن يحيى عقيما وليس له أخوة رجعت حصته إلى الوقف فاستحقها الموجودون فانقسم ريع الوقف أثلاثا كما ذكرنا، هذا مقتضى شرط الواقف، وبمثله صرح الخصاف حيث قال قلت أرأيت إن كان عدد البطن الأعلى عشرة فمات منهم اثنان ولم يتركا ولدا ولا ولد ولد ولا نسلا ثم مات آخران بعد ذلك وترك كل واحد منهما ولدا أو ولد ولد ثم مات بعد هذين آخران ولم يتركا ولدا ولا ولد ولد ولا نسلا فتنازع الأربعة الباقون من البطن الأعلى وولد الميتين فقال الأربعة نصيب الميتين الأولين الذين لم يتركا ولدا راجع علينا وعلى أولاد أخوينا هؤلاء ونصيب الميتين الآخرين لنا دون أولاد أخوينا لأن هذين الميتين الآخرين ماتا بعد موت أبوى هذين فلا حق لهما فيما يرجع من نصيب الآخرين، قال السبيل فيه أن تقسم الغلة يوم تأتى على ستة أسهم على هؤلاء الأربعة وعلى الميتين الذين تركا أولادا فما أصاب الأربعة فلهم وما أصاب الميتين فلأولادهما وسقط سهام الأربعة الموتى الذين لم يتركوا أولادا لأن الواقف قال من مات منهم ولا ولد له رجع نصيبه على أصل هذه الصدقة فقد رددنا نصيب من مات منهم ولا ولد له إلى أصل الغلة ثم قسمنا ذلك على من يستحقها انتهى كلام الخصاف وكذلك يرجع نصيب من لم يبين الواقف
--------------------------------------------
...
(২) তাদের সন্তানদের ওপর, অতঃপর প্রজন্মের পর প্রজন্ম; পুরুষ এবং নারী এক্ষেত্রে সমান। শর্ত এই যে, তাদের মধ্য থেকে কেউ যদি সন্তান বা তার অধস্তন কাউকে রেখে মারা যায়, তবে তার অংশ তার সন্তান বা অধস্তন বংশধরের প্রাপ্য হবে। আর যদি তার কোনো সন্তান বা অধস্তন কেউ না থাকে, তবে তার অংশ উক্ত ওয়াকফের হকদার হিসেবে তার অংশীদার ভাইদের প্রাপ্য হবে, যা তাদের নিজস্ব প্রাপ্য অংশের সাথে যুক্ত হবে। অতঃপর আব্দুল জাওয়াদ নিঃসন্তান অবস্থায় তার দুই ভাইয়ের বর্তমানতায় মারা গেল। এরপর ইয়াহইয়া এক পুত্র এবং দুই কন্যা রেখে মারা গেল। অতঃপর (ইয়াহইয়ার) দুই কন্যার একজন তিন সন্তান রেখে মারা গেল এবং অন্য কন্যাটি তার ভাইয়ের বর্তমানতায় নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেল; ফলে তার অংশ তার ভাইয়ের কাছে স্থানান্তরিত হলো। এরপর ওয়াকিফের পুত্র আলী দুই কন্যা রেখে মারা গেল। এরপর ইয়াহইয়ার পুত্র তার বোনের সন্তানদের এবং তার চাচাতো ভাই আলীর দুই কন্যার বর্তমানতায় নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেল। এখন প্রশ্ন হলো, তার অংশ কি তার চাচাতো ভাই আলীর দুই কন্যা পাবে, নাকি তার বোনের সন্তানরা পাবে, নাকি সবাই পাবে? (আমি উত্তরে বললাম): ওয়াকফের আয় তিন ভাগে বিভক্ত হবে; এক-তৃতীয়াংশ ইয়াহইয়ার কন্যার সন্তানদের জন্য এবং দুই-তৃতীয়াংশ আলীর দুই কন্যার জন্য। কারণ, ওয়াকিফের পুত্র আলী যখন মারা গেল, তখন সে ওই প্রজন্মের শেষ ব্যক্তি হওয়ার কারণে বণ্টন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসল। ফলে বর্তমানে হকদার হলো চারজন; যাদের মধ্যে বাস্তবে বিদ্যমান তিনজন—আলীর দুই কন্যা এবং ইয়াহইয়ার পুত্র। আর চতুর্থজন হলো ধারণাগতভাবে বিদ্যমান ইয়াহইয়ার সেই কন্যা, যে এক পুত্র এবং দুই কন্যা রেখে গিয়েছিল। সুতরাং তার সন্তানদের জন্য তার অংশটি নির্ধারিত থাকবে, যা হলো চতুর্থ চতুর্থাংশ। আর তার ভাইয়ের জন্য দ্বিতীয় চতুর্থাংশ এবং ওয়াকিফের পুত্র আলীর দুই কন্যার প্রত্যেকের জন্য এক চতুর্থাংশ। অতঃপর ইয়াহইয়ার পুত্র যখন নিঃসন্তান অবস্থায় মারা গেল এবং তার কোনো ভাই ছিল না, তখন তার অংশটি ওয়াকফে ফিরে এল এবং বর্তমানে বিদ্যমান ব্যক্তিগণ তার হকদার হলো। ফলে ওয়াকফের আয় উপরে উল্লিখিত নিয়মে তিন ভাগে বিভক্ত হলো। এটাই ওয়াকিফের শর্তের দাবি। ইমাম খাসসাফও অনুরূপ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: আমি বললাম, আপনার কী রায় যদি উচ্চস্তরের সংখ্যা দশজন হয় এবং তাদের মধ্যে দুইজন কোনো সন্তান বা নাতি-পুতি বা বংশধর না রেখে মারা যায়? এরপর আরও দুইজন মারা গেল এবং তারা প্রত্যেকে সন্তান বা নাতি-পুতি রেখে গেল। এরপর আরও দুইজন মারা গেল এবং তারা কোনো সন্তান বা নাতি-পুতি বা বংশধর রেখে গেল না। এখন উচ্চস্তরের অবশিষ্ট চারজন এবং মৃত ব্যক্তিদের সন্তানদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি হলো। ঐ চারজন বলল, "প্রথম দুইজন যারা কোনো সন্তান রেখে যায়নি তাদের অংশ আমাদের ওপর এবং আমাদের এই ভাইদের সন্তানদের ওপর বণ্টিত হবে। আর শেষোক্ত যে দুইজন মারা গেছে তাদের অংশ শুধু আমাদের প্রাপ্য, আমাদের ভাইদের সন্তানদের জন্য নয়। কারণ এই শেষোক্ত দুইজন মারা গেছে এদের (ভাইদের সন্তানদের) পিতার মৃত্যুর পর, সুতরাং অন্যদের থেকে ফিরে আসা অংশে তাদের কোনো অধিকার নেই।" তিনি (খাসসাফ) বললেন, এর পদ্ধতি হলো যে দিন আয় আসবে সে দিন তা ছয় ভাগে বিভক্ত করা হবে—এই চারজনের মাঝে এবং ঐ দুই মৃত ব্যক্তির মাঝে যারা সন্তান রেখে গেছেন। চারজন যা পেল তা তাদের জন্য, আর দুই মৃত ব্যক্তি যা পেল তা তাদের সন্তানদের জন্য। আর ঐ চারজন মৃতের অংশ বাতিল হয়ে যাবে যারা কোনো সন্তান রেখে যায়নি। কারণ ওয়াকিফ বলেছিলেন, "তাদের মধ্যে যে সন্তানহীন অবস্থায় মারা যাবে তার অংশ এই সদকার মূলে ফিরে যাবে।" সুতরাং আমরা যারা সন্তানহীন অবস্থায় মারা গেছে তাদের অংশকে মূল আয়ের দিকে ফিরিয়ে দিয়েছি এবং এরপর তা হকদারদের মাঝে বণ্টন করেছি। খাসসাফের বক্তব্য এখানেই সমাপ্ত। অনুরূপভাবে তার অংশও ফিরে আসবে যার ব্যাপারে ওয়াকিফ স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
مستحقه لأصل الغلة كما نص عليه الخصاف انتهى كلام الشرنبلالي (قلت) أما إفتاؤه بنقص القسمة وبرجوع حصة ابن يحيى إلى غلة الوقف فصحيح وأما دخول بنت يحيى فغير مسلم لأنها ماتت قبل نقض القسمة وأولادها من أهل الدرجة الثالثة والقسمة المستأنفة إنما هي على رؤس أهل الدرجة الثانية كما قدمناه عن الخصاف ومن تابعه وإن أراد اختيار ما قاله السبكي من القسمة على أصولهم كما مر تقريره لا يستقيم أيضًا إذ ليس في صورة سؤاله تنزيل ولد من مات قبل الاستحقاق منزلة أصله وأما ما نقله من عبارة الخصاف فليس فيها ما يشهد له أصلا لأنَّه إنما أعطى أولاد الميتين لعدم نقض القسمة لبقاء الطبقة الأولى (وبيانه) أن مسئلة الخصاف شرط فيها الترتيب بين الطبقات وأن من مات عن ولد فنصيبه لولده أو عن غير ولد فراجع إلى غلة الوقف كما مر في عبارة الأشباه فلما مات من العشرة اثنان لا عن ولد عاد سهمهما إلى أصل الغلة وصارت تقسم على ثمانية ولما مات اثنان أيضًا عن ولدين انتقل سهمهما لولديهما وبقيت القسمة على ثمانية فلما مات آخران لا عن ولد رجع سهماهما إلى أصل الغلة وصارت تقسم على ستة الأربعة الأحياء من أولاد الواقف والميتين عن ولدين وتعطي حصة الميتين أو لديهما وأما لو شرط انتقال نصيب من مات لا عن ولد إلى أخوته أو إلى أهل طبقته فيختلف الحكم المذكور لأنَّه لما مات اثنان من العشرة لا عن ولد انتقل نصيبهما إلى إخوتهما الثمانية فلما مات اثنان عن ولدين أعطى ولداهما سهمين من الأسهم الثمانية ولما مات الأخيران لا عن ولد انتقل نصيبهما إلى إخوتهما الستة فقط دون ولدى الميتين لأنهما من أهل الدرجة الثانية وليس فيه اشتراط إقامة من مات عن ولد مقام والده وح فيعطى ستة سهام لأولاد الواقف الأربعة الأحياء وسهمان لولدى ولديه (بقى هنا شيء) وهو أنه لو شرط الدرجة الجعلية واردنا نقض القسمة بانقراض البطن الأعلى واستيناف القسمة على رؤس البطن الذي يليه وكان في هذا البطن الثاني رجل مات قبل استحقاقه عن ولد فهل ينزل ولده منزلته ويقسم عليه (ظاهر) قول الخصاف يقسم على عدد البطن الثانى ويبطل قوله من مات عن ولد انتقل نصيبه لولده لأن الأمر يؤل إلى قوله وولد ولدى الخ أن هذا الولد لا يقسم عليه لأنَّه ليس من البطن الثانى بل هو من الثالث، وقد يقال أن كلام الخصاف في غير ما فيه اشتراط الدرجة الجعلية لأن الخصاف لم يذكرها في كتابه فحيث فرض الواقف من مات قبل الاستحقاق عن ولد حيا ونزل ابنه منزلته تقسم عليه حصة أبيه في هذه القسمة المستأنفة لأنَّه حيث آل الأمر إلى
মূল লভ্যাংশের হকদার যেমনটি খাসসাফ উল্লেখ করেছেন। শুরুমবুলালির বক্তব্য এখানে শেষ হলো। (আমি বলছি) বণ্টন বাতিল করা এবং ইয়াহইয়ার ছেলের অংশ ওয়াকফের লভ্যাংশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাঁর ফতোয়াটি সঠিক। কিন্তু ইয়াহইয়ার মেয়ের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ তিনি বণ্টন বাতিলের আগেই মারা গেছেন এবং তাঁর সন্তানরা তৃতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত। আর নতুন করে বণ্টন কেবলমাত্র দ্বিতীয় স্তরের ব্যক্তিদের মাথাপিছু হিসেবে হবে, যেমনটি আমরা খাসসাফ এবং তাঁর অনুসারীদের উদ্ধৃতিতে পূর্বে উল্লেখ করেছি। আর তিনি যদি সুবকির মতানুসারে তাদের মূল পূর্বপুরুষদের ভিত্তিতে বণ্টনের বিষয়টি গ্রহণ করতে চান, যেভাবে এর বর্ণনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তবে তাও সঠিক হবে না। কারণ তাঁর প্রশ্নের প্রেক্ষাপটে এমন কাউকে গণ্য করার সুযোগ নেই যে হকদার হওয়ার আগে মারা গেছে তাকে তার মূলের (পিতার) স্থলাভিষিক্ত হিসেবে। আর তিনি খাসসাফের যে উদ্ধৃতি পেশ করেছেন, তাতে তাঁর দাবির স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। কারণ তিনি (খাসসাফ) মৃত ব্যক্তিদের সন্তানদের অংশ দিয়েছিলেন বণ্টন বাতিল না হওয়ার কারণে, যেহেতু প্রথম স্তর তখনও বিদ্যমান ছিল। (এর ব্যাখ্যা হলো) খাসসাফের মাসআলায় স্তরসমূহের মধ্যে ক্রমধারা রক্ষা করার শর্ত ছিল এবং যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে তার অংশ তার সন্তান পাবে, আর যে সন্তান না রেখে মারা যাবে তার অংশ ওয়াকফের লভ্যাংশে ফিরে যাবে, যেমনটি 'আল-আশবাহ'-এর ইবারতে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সুতরাং যখন দশজনের মধ্যে দুইজন সন্তানহীন অবস্থায় মারা গেল, তখন তাদের অংশদ্বয় মূল লভ্যাংশে ফিরে এল এবং তা আটজনের মধ্যে বণ্টনযোগ্য হলো। আর যখন আরও দুইজন সন্তান রেখে মারা গেল, তখন তাদের অংশ তাদের সন্তানদের নিকট স্থানান্তরিত হলো এবং বণ্টন আটজনের মধ্যেই বহাল থাকল। অতঃপর যখন আরও দুইজন সন্তানহীন অবস্থায় মারা গেল, তখন তাদের অংশদ্বয় মূল লভ্যাংশে ফিরে গেল এবং তা ছয়ের মধ্যে বণ্টনের জন্য নির্ধারিত হলো। অর্থাৎ ওয়াকফকারীর জীবিত চার সন্তান এবং যারা দুইজন সন্তান রেখে মারা গেছে তাদের সন্তানরা; ফলে মৃত ব্যক্তিদের অংশ তাদের সন্তানদের দেওয়া হবে। তবে যদি সন্তানহীনভাবে মৃত ব্যক্তির অংশ তার ভাইদের নিকট অথবা তার স্তরের লোকদের নিকট স্থানান্তরিত হওয়ার শর্ত করা হতো, তবে উল্লেখিত বিধানটি ভিন্ন হতো। কারণ যখন দশজনের মধ্যে দুইজন সন্তানহীনভাবে মারা গেল, তখন তাদের অংশ তাদের আট ভাইয়ের নিকট স্থানান্তরিত হলো। অতঃপর যখন দুইজন সন্তান রেখে মারা গেল, তখন তাদের দুই সন্তানকে সেই আট অংশের মধ্য থেকে দুই অংশ দেওয়া হলো। আর যখন শেষ দুইজন সন্তানহীনভাবে মারা গেল, তখন তাদের অংশ কেবল তাদের ছয় ভাইয়ের নিকট স্থানান্তরিত হলো, মৃত ব্যক্তিদের দুই সন্তানের নিকট নয়। কারণ তারা দ্বিতীয় স্তরের অন্তর্ভুক্ত এবং সেখানে এমন কোনো শর্ত নেই যে, যে সন্তান রেখে মারা গেছে তাকে তার পিতার স্থলাভিষিক্ত করা হবে। এমতাবস্থায় ওয়াকফকারীর জীবিত চার সন্তানকে ছয়টি অংশ দেওয়া হবে এবং তার দুই পৌত্রকে দুইটি অংশ দেওয়া হবে। (এখানে একটি বিষয় অবশিষ্ট আছে) তা হলো, যদি কৃত্রিম স্তরের (দারাজায়ে জা'লিয়া) শর্ত করা হয় এবং আমরা উচ্চতর প্রজন্মের বিলুপ্তি হওয়ার পর বণ্টন বাতিল করে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যক্তিবর্গের মাথাপিছু হিসেবে নতুন বণ্টন শুরু করতে চাই এবং এই দ্বিতীয় প্রজন্মে যদি এমন কোনো ব্যক্তি থাকে যে হকদার হওয়ার আগেই সন্তান রেখে মারা গেছে, তবে কি তার সন্তানকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হবে এবং তাকে অংশ দেওয়া হবে? খাসসাফের বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ হলো, দ্বিতীয় প্রজন্মের লোকসংখ্যার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে এবং তার এই বক্তব্যটি বাতিল হয়ে যাবে যে—'যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে তার অংশ তার সন্তানের নিকট স্থানান্তরিত হবে'। কারণ বিষয়টি তাঁর এই বক্তব্যের দিকেই ধাবিত হয় যে, 'আমার সন্তানের সন্তান...' ইত্যাদি, অর্থাৎ এই সন্তানের অনুকূলে বণ্টন করা হবে না কারণ সে দ্বিতীয় প্রজন্মের নয়, বরং সে তৃতীয় প্রজন্মের অন্তর্ভুক্ত। তবে বলা যেতে পারে যে, খাসসাফের আলোচনাটি এমন ক্ষেত্রে যেখানে কৃত্রিম স্তরের শর্ত নেই, কারণ খাসসাফ তাঁর গ্রন্থে তা উল্লেখ করেননি। সুতরাং যখন ওয়াকফকারী এমন ব্যক্তিকে—যে হকদার হওয়ার আগে সন্তান রেখে মারা গেছে—জীবিত হিসেবে কল্পনা করবেন এবং তার ছেলেকে তার স্থলাভিষিক্ত করবেন, তখন এই নতুন বণ্টনে তার পিতার অংশ তাকে দেওয়া হবে। কারণ যখন বিষয়টি এই পর্যায়ে পৌঁছাবে যে...
(খণ্ড: ٢)
আল আকওয়ালুল ওয়াদিহাতুল জালিয়্যাহ, ফি তাহরিরি মাসআলাতি নাকদিল কিসমাতি ওয়া মাসআলাতিদ দারাজাতিল জাআলিয়্যাহ - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
قوله وعلى ولد ولدى وهذا الميت من جملة ولد ولده وقد نزله منزلة الأحياء لئلا يحرم ولده الموجود الآن يقسم عليه أيضًا عملا بشرطه ويبقى هذا الشرط عند نقض القسمة وإن بطل الشرط الأول وهو قوله من مات عن ولد فنصيبه لولده لأنَّه إنما بطل لئلا يبطل قوله وعلى ولد ولدى لأنَّه أن انقرض البطن الأول ولم تنقض القسمة بل أعطينا نصيب آخر الطبقات موتا إلى ولده وهكذا في كل طبقة يلزم بطلان ترتيبه بين الطبقات المستفاد من لفظه ثم أو من لفظة طبقة بعد طبقة فتنقض القسمة بموت آخر الطبقة العليا وتقسم قسمة مستأنفة على التي تليها ثم تعمل جميع شروطه فتعطى حصة من مات عن ولد من الطبقة الثانية لولده إلى أن يموت آخر هذه الطبقة فتنقض القسمة ونبطل ما كنا أعطيناه من حصة المتوفى عن ولد من هذه الطبقة الثانية لولده كما فعلنا في الأولى ونقسم على الطبقة الثالثة قسمة مستأنفة وهكذا في سائر الطبقات وأما شرط الدرجة الجعلية فإذا أعملناه عند القسمة المستأنفة فلا يلزم عليه إبطال شيء من الشروط التي شرطها الواقف فلا داعى إلى عدم اعماله بل في اعماله اعمال غرض الواقف وهو أنه أراد أن لا يحرم ولد من مات والده قبل الاستحقاق هذا ما ظهر لي ولم أر من تعرض له والله سبحانه أعلم.
(فائدة) إذا قال في الدرجة الجعلية من مات قبل استحقاقه عن ولد انتقل إليه ما كان يستحقه أبوه لو كان حيا فماتت امرأة قبل الاستحقاق عن ولد قال العلامة المناوى في كتابه تيسير الوقوف زعم القاضى بهاء الدين بن الزكي أن نصيبها لا ينتقل لولدها بحكم هذا الشرط لأنَّه مذكور بلفظ الأب فلا يتناول الام وخطاه التاجى وأفتى بأن لفظ الأب جاء للتغليب فلا فرق بين الذكر والانثى انتهى وهو ظاهر موافق لعرض الواقف وبقى فوائد اخر تتعلق بهذه المسئلة ذكرتها في كتابى العقود الدرية تنقيح الفتاوى الحامدية وهذه المسئلة تحتمل كلاما طويلا ولكن فيما ذكرناه هنا كفاية، لذوى الدراية، والله تعالى أعلم بالصواب، وإليه المرجع والمآب، وصلى الله تعالى على سيدنا ومولانا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما كثيرا إلى يوم الدين والحمد لله رب العالمين
তার উক্তি ‘এবং আমার সন্তানদের সন্তানদের জন্য’ প্রসঙ্গে: এই মৃত ব্যক্তিও তাঁর সন্তানদের সন্তানদের অন্তর্ভুক্ত। তাঁকে জীবিতদের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে যাতে তাঁর বর্তমানে বিদ্যমান সন্তানরা বঞ্চিত না হয়। তাঁর শর্ত অনুযায়ী সেই অংশেরও বণ্টন করা হবে। বণ্টন পুনরায় বিন্যস্ত করার সময়ও এই শর্তটি অবশিষ্ট থাকবে, যদিও প্রথম শর্তটি—অর্থাৎ তাঁর উক্তি ‘যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা যাবে, তার অংশ তার সন্তানের হবে’—বাতিল হয়ে যায়। কারণ এটি বাতিল হয়েছে কেবল তাঁর এই উক্তি ‘এবং আমার সন্তানদের সন্তানদের জন্য’ যেন নিরর্থক না হয়ে যায় সেজন্য। কেননা যদি প্রথম স্তর বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং বণ্টন নতুন করে শুরু না করা হয়, বরং আমরা শেষ স্তরের মৃতদের অংশ তাঁদের সন্তানদের দিয়ে দেই, তবে এভাবে প্রতি স্তরেই তাঁর শব্দের মাধ্যমে প্রাপ্ত স্তরের বিন্যাস বাতিল হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়বে, যা ‘অতঃপর’ অথবা ‘এক স্তরের পর অন্য স্তর’ শব্দ থেকে বোঝা যায়। সুতরাং উচ্চতর স্তরের সর্বশেষ ব্যক্তির মৃত্যুর মাধ্যমে বণ্টন বাতিল হয়ে যাবে এবং তার পরবর্তী স্তরের ওপর নতুন করে বণ্টন করা হবে। এরপর তাঁর সকল শর্ত প্রয়োগ করা হবে; ফলে দ্বিতীয় স্তরের যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা গেছেন, তাঁর অংশ তাঁর সন্তানকে দেওয়া হবে যতক্ষণ না এই স্তরের সর্বশেষ ব্যক্তি মারা যান। অতঃপর বণ্টন পুনরায় বাতিল হবে এবং দ্বিতীয় স্তরের যে ব্যক্তি সন্তান রেখে মারা গিয়েছিলেন তাঁর সন্তানকে আমরা যা দিয়েছিলাম তা বাতিল করে দেব, যেমনটি আমরা প্রথম স্তরের ক্ষেত্রে করেছিলাম। এরপর তৃতীয় স্তরের ওপর নতুন করে বণ্টন করব এবং অন্যান্য স্তরের ক্ষেত্রেও এভাবেই চলবে। আর নির্ধারিত স্তরের শর্তের ব্যাপারে কথা হলো, যখন আমরা পুনঃবণ্টনের সময় তা কার্যকর করব, তখন ওয়াকিফের শর্তাবলীর কোনোটিই বাতিল করা আবশ্যক হবে না। সুতরাং এটি কার্যকর না করার কোনো কারণ নেই; বরং এটি কার্যকর করার মধ্যেই ওয়াকিফের উদ্দেশ্যের বাস্তবায়ন নিহিত। আর তা হলো, তিনি চেয়েছিলেন যেন এমন কোনো সন্তান বঞ্চিত না হয় যার পিতা পাওনা হওয়ার আগেই মারা গেছেন। এটাই আমার কাছে স্পষ্ট হয়েছে এবং আমি কাউকে দেখিনি যে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা অধিক জ্ঞাত।
(ফায়দা) যদি নির্ধারিত স্তরের ক্ষেত্রে বলা হয়: ‘যে ব্যক্তি তার পাওনা হওয়ার আগেই সন্তান রেখে মারা যাবে, তবে তার পিতা জীবিত থাকলে যা পেতেন তা সেই সন্তানের কাছে স্থানান্তরিত হবে’; অতঃপর এক নারী পাওনা হওয়ার আগেই সন্তান রেখে মারা গেলেন। আল্লামা মুনাওয়ি তাঁর ‘তাইসিরুল উকুফ’ গ্রন্থে বলেন: কাজী বাহাউদ্দিন ইবনে আল-জাকি দাবি করেছেন যে, এই শর্তের বিধান অনুযায়ী ওই নারীর অংশ তাঁর সন্তানের কাছে যাবে না, কারণ এখানে ‘পিতা’ শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে যা মাতাকে অন্তর্ভুক্ত করে না। কিন্তু আল-তাজি তাঁকে ভুল আখ্যায়িত করেছেন এবং ফতোয়া দিয়েছেন যে, ‘পিতা’ শব্দটি এখানে প্রাধান্যের ভিত্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে, তাই নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। এটিই স্পষ্ট এবং ওয়াকিফের উদ্দেশ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। এই মাসআলা সংক্রান্ত আরও কিছু ফায়দা অবশিষ্ট রয়েছে যা আমি আমার ‘আল-উকুদুদ দুররিয়্যাহ তানকিহুল ফাতাওয়াল হামিদিয়্যাহ’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। এই মাসআলাটি দীর্ঘ আলোচনার দাবি রাখে, তবে আমরা এখানে যা উল্লেখ করেছি তা জ্ঞানীদের জন্য যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা সঠিক বিষয় সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত এবং তাঁরই নিকট সকলের প্রত্যাবর্তন। আল্লাহ তাআলা আমাদের নেতা ও অভিভাবক মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর ওপর কিয়ামত পর্যন্ত অজস্র দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন। সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।