(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: -)
القطارة النحوية على المقدمة الآجرومية (حازم خنفر)
القسم: النحو والصرف
الكتاب: القطارة النحوية على المقدمة الآجرومية
المؤلف: حازم خنفر
النشرة: الثانية، 1442 هـ - 2020 م (نسخة مصححة)
عدد الصفحات: 47
[الكتاب غير مطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 جُمادَى الآخرة 1442
আল-কাত্তারা আন-নাহউইয়্যাহ আলা আল-মুকাদ্দিমাহ আল-আজরুমিয়্যাহ (হাযেম খানফার)
বিভাগ: নাহু ও সারফ
বই: আল-কাত্তারা আন-নাহউইয়্যাহ আলা আল-মুকাদ্দিমাহ আল-আজরুমিয়্যাহ
লেখক: হাযেম খানফার
সংস্করণ: দ্বিতীয়، ১৪৪২ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ (পরিমার্জিত সংস্করণ)
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৭
[বইটি মুদ্রিত নয়]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১)
القُطَارَة النَّحْوِيَّةعَلَىالمُقَدّمَة الآجُرُّومِيَّة تَأْلِيفحَازِم خَنْفَرنُسخَة مُصحَّحةالنشرة الثانية1442 هـ - 2020 م
আল-কুতারাহ আন-নাহউইয়্যাহওপরআল-মুকাদ্দিমাহ আল-আজরুমিয়্যাহ রচনায়হাযেম খানফারপরিমার্জিত সংস্করণদ্বিতীয় প্রকাশনা১৪৪২ হিজরি - ২০২০ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم تَوْطِئَةالحَمْدُ للهِ، وَالصَّلَاةُ وَالسَّلَامُ عَلَى رَسُولِ اللهِ.فَهَذَا شَرْحٌ لِـ «الآجُرُّومِيَّةِ»، وَجِيزٌ، مُنَزَّهٌ عَنْ كُلِّ عَوِيصٍ، أَوْرَدْتُ فِيهِ قُطَارَةَ عِلْمِ النَّحْوِ، وَلَمْ أُجَاوِزْ مَسَائِلَ المَتْنِ إِلَّا نَزْرًا، وَكَانَ الرَّأْيُ أَنْ أَسْلُكَ سَبِيلَ المَزْجِ فَحَثَثْتُ نَفْسِي عَلَيْهِ حَتَّى أَنْفَذْتُهُ، وَاللهُ المُوَفِّقُ.حَازِم خَنْفَر5/ 2/1441 هـ - 4/ 10/2019 م
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। উপস্থাপনা (توطئة)সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর।এটি আল-আজুরুম্মিয়্যাহ-এর একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (شرح), যা সকল প্রকার জটিলতা থেকে মুক্ত। এতে আমি নাহু শাস্ত্রের (النحو) নির্যাস উপস্থাপন করেছি এবং মূল পাঠের (متن) মাসআলাগুলোর গণ্ডি আমি খুব সামান্য ব্যতীত অতিক্রম করিনি। আমার অভিমত ছিল সংমিশ্রণ (المزج) পদ্ধতি অনুসরণ করার, তাই আমি নিজেকে সেদিকে পরিচালিত করেছি যতক্ষণ না তা সম্পন্ন করেছি। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা (الموفق)।হাযেম খানফার৫/ ২/ ১৪৪১ হিজরি - ৪/ ১০/ ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৫)
(بِسْمِ اللهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ) (أَنْوَاعُ الكَلَامِ)(الكَلَامُ) عِنْدَ النُّحَاةِ: (هُوَ اللَّفْظُ) المَنْطُوقُ بِهِ، (المُرَكَّبُ) مِنْ كَلِمَتَيْنِ فَأَكْثَرَ - حَقِيقَةً أَوْ تَقْدِيرًا -، (المُفِيدُ) فَائِدَةً تَامَّةً، (بِالوَضْعِ) العَرَبِيِّ؛ أَيْ بِاللُّغَةِ العَرَبِيَّةِ.فَقَوْلُكَ: «زَيْدٌ جَالِسٌ» يُعَدُّ كَلَامًا فِي اصْطِلَاحِ النُّحَاةِ؛ لأَنَّهُ كَلَامٌ عَرَبِيٌّ، مَنْطُوقٌ بِاللِّسَانِ، مُرَكَّبٌ مِنْ جُمْلَةٍ مُفِيدَةٍ، أَفَادَتْ جُلُوسَ زَيْدٍ.فَخِلَافُ الكَلَامِ العَرَبِيِّ: تَلَفُظُّكَ بِغَيْرِهِ، وَخِلَافُ المَنْطُوقِ بِاللِّسَانِ: الكِتَابَةُ أَوِ الإِشَارَةُ - أَوْ غَيْرُهُمَا - وَإِنْ دَلَّتْ عَلَى مُفِيدٍ، وَخِلَافُ المُرَكَّبِ: نَحْوُ «زَيْدٌ»، إِلَّا إِذَا وَقَعَتْ مُقَدَّرَةً، نَحْوُ «زَيْدٌ» إِجَابَةً لِسَائِلٍ سَأَلَ: «مَنِ الجالِسُ؟» أَيْ «زَيْدٌ الجَالِسُ»، أَوْ نَحْوُ «اجْلِسْ» أَيِ «اجْلِسْ أَنْتَ»، وَخِلَافُ المُفِيدِ: نَحْوُ «إِنْ جَلَسَ زَيْدٌ»، فَلَيْسَ فِيهِ فَائِدَةٌ تَامَّةٌ لأَنَّ السَّامِعَ لَمْ يَعْرِفْ مَاذَا سَيَقَعُ لَوْ جَلَسَ زَيْدٌ.(وَأَقْسَامُهُ) أَيِ الكَلَامِ (ثَلَاثَةٌ): الأَوَّلُ (اِسْمٌ، وَ) الثَّانِي (فِعْلٌ، وَ) الثَّالِثُ (حَرْفٌ جَاءَ لِمَعْنًى).(فَالاِسْمُ) هُوَ الكَلِمَةُ الَّتِي تَدُلُّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهَا وَلَمْ تَقْتَرِنْ بِزَمَنٍ؛ نَحْوُ: رِحْلَةٍ، وَزَيْدٍ، وَشَجَاعَةٍ، وَرَجُلٍ، وَشَجَرَةٍ، وَكِتَابٍ، وَبِئْرٍ، وَإِيمَانٍ، وَاسْتِخْرَاجٍ.فَمَعْنَى «الرِّحْلَةِ»: هُوَ الانْتِقَالُ إِلَى مَكَانٍ آخَرَ، فَلَا تَحْتَاجُ الكَلِمَةُ إِلَى كَلَامٍ آخَرَ لِيَدُلَّ عَلَى مَعْنَاهَا، ثُمَّ إِنَّ «الرِّحْلَةَ» لَا تَقْتَرِنُ بِزَمَنٍ، أَلَا تَرَى لَوْ قُلْتُ لَكَ: «الرِّحْلَةُ» لَعَرَفْتَ مَعْنَاهَا لَكِنْ لَنْ تَعْرِفَ أَنَّ الرِّحْلَةَ وَقَعَتْ، أَوْ تَقَعُ الآنَ، أَوْ سَتَقَعُ؟ وَمِثْلُهَا: الرَّحِيلُ وَالارْتِحَالُ.وَ (يُعْرَفُ) الاسْمُ بِخَمْسِ عَلَامَاتٍ: الأُولَى: (بِالخَفضِ) أَيِ الجَرِّ، نَحْوُ
(পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে) (বাক্যের প্রকারভেদ)ব্যাকরণবিদদের নিকট (বাক্য) হলো: (এমন শব্দ) যা মুখে উচ্চারিত হয়, যা দুই বা ততোধিক শব্দের সমন্বয়ে (গঠিত) — বাস্তবে হোক বা উহ্যভাবে —, যা পূর্ণাঙ্গ (অর্থবহ), এবং যা আরবি (বিন্যাস) তথা আরবি ভাষার রীতি অনুযায়ী প্রকাশিত।সুতরাং আপনার উক্তি: «যায়েদ উপবিষ্ট» ব্যাকরণবিদদের পরিভাষায় একটি বাক্য হিসেবে গণ্য হয়; কারণ এটি একটি আরবি কথা, যা মুখে উচ্চারিত, একটি অর্থপূর্ণ বাক্যের সমন্বয়ে গঠিত এবং যা যায়েদের উপবেশনের বিষয়টি প্রকাশ করেছে।আরবি বাক্যের বিপরীত হলো: আপনার অন্য ভাষায় কথা বলা। মুখে উচ্চারিত হওয়ার বিপরীত হলো: লিখন বা ইশারা — অথবা অন্য কিছু — যদিও তা কোনো অর্থ প্রকাশ করে। আর গঠিত হওয়ার বিপরীত হলো: যেমন «যায়েদ», যদি না তা উহ্য অবস্থায় থাকে। যেমন কোনো প্রশ্নকারীর প্রশ্নের উত্তরে বলা হলো: «কে উপবিষ্ট?» উত্তরে বলা হলো «যায়েদ», অর্থাৎ «যায়েদ উপবিষ্ট»; অথবা যেমন «বসো», অর্থাৎ «তুমি বসো»। আর অর্থবহ হওয়ার বিপরীত হলো: যেমন «যদি যায়েদ বসে», কারণ এতে কোনো পূর্ণাঙ্গ অর্থ নেই; কেননা শ্রোতা জানতে পারছে না যায়েদ বসলে কী ঘটবে।আর (এর অংশসমূহ) অর্থাৎ বাক্যের অংশসমূহ (তিনটি): প্রথমটি (বিশেষ্য), দ্বিতীয়টি (ক্রিয়া) এবং তৃতীয়টি (অব্যয় যা কোনো অর্থ প্রকাশের জন্য এসেছে)।(বিশেষ্য) হলো এমন শব্দ যা নিজের সত্তাগত অর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো কালের সাথে যুক্ত হয় না; যেমন: সফর, যায়েদ, সাহসিকতা, পুরুষ, গাছ, বই, কূপ, ঈমান এবং নিষ্কাশন।সুতরাং «সফর» এর অর্থ হলো: এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থানান্তর হওয়া। এই শব্দটি তার অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য কোনো শব্দের মুখাপেক্ষী নয়। তদুপরি «সফর» কোনো কালের সাথে যুক্ত নয়। আপনি কি লক্ষ্য করেছেন না, আমি যদি আপনাকে বলি: «সফর», তবে আপনি এর অর্থ বুঝতে পারবেন, কিন্তু সফরটি কি সম্পন্ন হয়েছে, নাকি বর্তমানে হচ্ছে, না ভবিষ্যতে হবে — তা জানতে পারবেন না? অনুরূপ হলো: যাত্রা বা প্রস্থান।আর বিশেষ্যকে (চেনা যায়) পাঁচটি চিহ্নের মাধ্যমে: প্রথমটি হলো: (শব্দের শেষে জের হওয়া) তথা নিম্নস্বর হওয়া, যেমন—
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৬)
«صَدِيقِ» فِي قَوْلِكَ: «ذَهَبْتُ لِزِيَارِةِ زَيْدٍ صَدِيقِ أَخِي»، (وَ) الثَّانِيَةُ: بِـ (التَّنْوِينِ)، وَهُوَ الضَّمَّتَانِ أَوِ الفَتْحَتَانِ أَوِ الكَسْرَتَانِ فِي آخِرِ الكَلِمَةِ، نَحْوُ: «زَيْدٍ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ زَيْدٌ»، وَ «رَأَيْتُ زَيْدًا»، وَ «مَرَرْتُ بِزَيْدٍ»، (وَ) الثَّالِثَةُ: بِـ (دُخُولِ الأَلِفِ وَاللَّامِ)، نَحْوُ «السُّوقِ» فِي قَوْلِكَ: «ذَهَبْتُ إِلَى السُّوقِ»، (وَ) الرَّابِعَةُ: بِـ (حُرُوفِ الخَفْضِ ، وَهِيَ: «مِنْ»، وَ «إِلَى»، وَ «عَنْ»، وَ «عَلَى»، وَ «فِي» ، وَ «رُبَّ»، وَالبَاءُ، وَالكَافُ، وَاللَّامُ)، نَحْوُ «بَيْتِ» فِي قَوْلِكَ: «ذَهَبَ زَيْدٌ إِلَى بَيْتِ أَبِيهِ»، وَقِسْ عَلَيْهِ حُرُوفَ الجَرِّ الأُخْرَى، (وَ) الخَامِسَةُ: بِـ (حُرُوفِ القَسَمِ، وَهِيَ: الوَاوُ، وَالبَاءُ، وَالتَّاءُ) نَحْوُ: «وَاللهِ» فِي قَوْلِكَ: «وَاللهِ مَا رَأَيْتُ زَيْدًا»، وَقِسْ عَلَيْهِ حُرُوفَ القَسَمِ الأُخْرَى.وَلَا يُرَادُ بِمَا سَبَقَ أَنَّ كُلَّ اسْمٍ لَا بُدَّ أَنْ يَقْبَلَ العَلَامَاتِ جَمِيعَهَا، بَلْ يُكْتَفَى بِقَبُولِ عَلَامَةٍ وَاحِدَةٍ مِنْهَا وَإِنْ لَمْ تَكُنْ مَوْجُودَةً فِي الكَلِمَةِ.(وَالفِعْلُ) هُوَ الكَلِمَةُ الَّتِي تَدُلُّ عَلَى مَعْنًى فِي نَفْسِهَا وَاقْتَرَنَتْ بِزَمَنٍ؛ نَحْوُ: رَحَلَ وَيَرْحَلُ وَارْحَلْ، وَكَتَبَ وَيَكْتُبُ وَاكْتُبْ، وَاسْتَخْرَجَ وَيَسْتَخْرِجُ وَاسْتَخْرِجْ.فَمَعْنَى «رَحَلَ»: أَيِ انْتَقَلَ إِلَى مَكَانٍ آخَرَ، فَلَا تَحْتَاجُ الكَلِمَةُ إِلَى كَلَامٍ آخَرَ لِيَدُلَّ عَلَى مَعْنَاهَا، ثُمَّ إِنَّ كَلِمَةَ «رَحَلَ» اقْتَرَنَتْ بِزَمَنٍ - وَهُوَ المَاضِي -؛ أَيْ زَمَنٍ سَبَقَ نُطْقَ المُتَكَلِّمِ بِهَا، وَمِثْلُهَا: «يَرْحَلُ» لَكِنْ فِي زَمَنِ نُطْقِهِ بِهَا، وَمِثْلُهَا - أَيْضًا -: «ارْحَلْ» لَكِنْ فِي زَمَنٍ بَعْدَ نُطْقِهِ بِهَا، أَلَا تَرَى لَوْ قُلْتُ لَكَ: «رَحَلَ» لَعَرَفْتَ مَعْنَاهَا وَلَعَرَفْتَ أَنَّ الرِّحْلَةَ وَقَعَتْ، وَلَوْ قُلْتُ لَكَ: «يَرْحَلُ» لَعَرَفْتَ أَنَّ الرِّحْلَةَ تَقَعُ الآنَ، وَلَوْ قُلْتُ لَكَ: «ارْحَلْ» لَعَرَفْتَ أَنَّ الرِّحْلَةَ سَتَقَعُ، فَهَذِهِ إِذَنْ ثَلَاثَةُ أَزْمَانٍ لِلأَفْعَالِ: الأَوَّلُ: لأَمْرٍ وَقَعَ قَبْلَ النُّطْقِ بِهِ، وَهُوَ المَاضِي، وَالثَّانِي: لِأَمْرٍ يَقَعُ عِنْدَ النُّطْقِ بِهِ، وَهُوَ المُضَارِعُ، وَالثَّالِثُ: لِأَمْرٍ سَيَقَعُ بَعْدَ النُّطْقِ بِهِ، وَهُوَ الأَمْرُ، وَمِثْلُهَا: ارْتَحَلَ وَيَرْتَحِلُ وَارْتَحِلْ.
«আপনার কথা: ‘আমি আমার ভাইয়ের বন্ধু জাইদকে দেখতে গিয়েছিলাম’ বাক্যে ‘সাদ্দিক’ (বন্ধুর) শব্দটি; (এবং) দ্বিতীয়টি হলো: (তানউইন), যা শব্দের শেষে দুই পেশ, দুই জবর বা দুই জের হওয়াকে বোঝায়; যেমন: ‘জাইদ’ আপনার এই কথাগুলোতে: ‘জাইদ এসেছে’, ‘আমি জাইদকে দেখেছি’ এবং ‘আমি জাইদের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি’। (এবং) তৃতীয়টি হলো: (আলিফ এবং লাম যুক্ত হওয়া), যেমন: ‘বাজার’ আপনার এই কথাটিতে: ‘আমি বাজারে গিয়েছি’। (এবং) চতুর্থটি হলো: (হুরুফুল খাফদ বা নিম্নমুখীকারী অব্যয়সমূহ দ্বারা, আর সেগুলো হলো: ‘মিন’ (হতে/থেকে), ‘ইলা’ (দিকে/পর্যন্ত), ‘আন’ (হতে/পক্ষ হতে), ‘আলা’ (ওপরে), ‘ফি’ (মধ্যে), ‘রুব্বা’ (অনেক সময়/অল্প সময়), ‘বা’ বর্ণ, ‘কাফ’ বর্ণ এবং ‘লাম’ বর্ণ); যেমন: ‘ঘর’ আপনার এই কথাটিতে: ‘জাইদ তার পিতার ঘরে গিয়েছে’। অন্যান্য হুরুফুল জার (সম্বন্ধবাচক অব্যয়) গুলোকেও এর ওপর কিয়াস বা অনুমান করুন। (এবং) পঞ্চমটি হলো: (শপথের অব্যয়সমূহ, আর সেগুলো হলো: ওয়াও, বা এবং তা); যেমন: ‘ওয়াল্লাহি’ আপনার এই কথাটিতে: ‘আল্লাহর শপথ, আমি জাইদকে দেখিনি’। অন্যান্য শপথের অব্যয়কেও এর ওপর কিয়াস করুন।পূর্বোক্ত আলোচনা দ্বারা এটি উদ্দেশ্য নয় যে, প্রতিটি বিশেষ্য বা ইসমকে অবশ্যই সবকটি চিহ্ন গ্রহণ করতে হবে, বরং এর যেকোনো একটি চিহ্ন গ্রহণ করার যোগ্যতা থাকাই যথেষ্ট, যদিও বর্তমানে শব্দটি সেই চিহ্নের সাথে না থাকে।(ক্রিয়া বা ফিল) হলো এমন একটি শব্দ যা নিজের অর্থ প্রকাশে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং কোনো কালের সাথে সম্পৃক্ত; যেমন: সে ভ্রমণ করেছে, সে ভ্রমণ করছে/করবে এবং তুমি ভ্রমণ করো; সে লিখেছে, সে লিখছে/লিখবে এবং তুমি লেখো; সে বের করেছে, সে বের করছে/করবে এবং তুমি বের করো।সুতরাং ‘সে ভ্রমণ করেছে’ এর অর্থ হলো: অর্থাৎ সে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই শব্দটি তার অর্থ প্রকাশের জন্য অন্য কোনো শব্দের মুখাপেক্ষী হয় না। এরপর ‘সে ভ্রমণ করেছে’ শব্দটি একটি কালের সাথে যুক্ত হয়েছে—আর তা হলো অতীত কাল—যা বক্তার কথা বলার আগের সময়কে নির্দেশ করে। অনুরূপভাবে: ‘সে ভ্রমণ করছে/করবে’, তবে এটি কথা বলার সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। একইভাবে: ‘তুমি ভ্রমণ করো’, তবে এটি কথা বলার পরবর্তী সময়ের সাথে সম্পৃক্ত। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, আমি যদি আপনাকে বলি: ‘সে ভ্রমণ করেছে’, তবে আপনি এর অর্থ বুঝতে পারবেন এবং জানতে পারবেন যে ভ্রমণটি সম্পন্ন হয়েছে। আর যদি আমি আপনাকে বলি: ‘সে ভ্রমণ করছে’, তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে ভ্রমণটি এখন ঘটছে। আর যদি আমি আপনাকে বলি: ‘তুমি ভ্রমণ করো’, তবে আপনি বুঝতে পারবেন যে ভ্রমণটি (ভবিষ্যতে) ঘটবে। সুতরাং ক্রিয়ার তিনটি কাল রয়েছে: প্রথমত: এমন বিষয়ের জন্য যা কথা বলার আগে সংঘটিত হয়েছে, আর তা হলো অতীত কাল (মাজি)। দ্বিতীয়ত: এমন বিষয়ের জন্য যা কথা বলার সময় সংঘটিত হচ্ছে, আর তা হলো বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল (মুদারে)। এবং তৃতীয়ত: এমন বিষয়ের জন্য যা কথা বলার পর সংঘটিত হবে, আর তা হলো আদেশসূচক বা নির্দেশনামূলক কাল (আমর)। অনুরূপভাবে: সে প্রস্থান করেছে, সে প্রস্থান করছে/করবে এবং তুমি প্রস্থান করো।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৭)
وَاعْلَمْ أَنَّ النَّوْعَ الثَّانِي - وَهُوَ المُضَارِعُ - يَقَعُ أَيْضًا لِأَمْرٍ بَعْدَ النُّطْقِ بِهِ، وَذَلِكَ بِحَسَبِ القَرِينَةِ المَوْجُودَةِ فِي جُمْلَةِ الفِعْلِ، وَسَيَأْتِي ذِكْرُ هَذِهِ الأَفْعَالِ.وَ (يُعْرَفُ) الفِعْلُ بِأَرْبَعِ عَلَامَاتٍ: الأُولَى: (بِـ «قَدْ»)، نَحْوُ: «قَامَ» وَ «يَقُومُ» فِي قَوْلِكَ: «قَدْ قَامَ زَيْدٌ»، وَ «قَدْ يَقُومُ زَيْدٌ»، (وَ) الثَّانِيَةُ: بِـ (السِّينِ)، نَحْوُ: «يَقُومُ» فِي قَوْلِكَ: «سَيَقُومُ زَيْدٌ»، (وَ) الثَّالِثَةُ بِـ: («سَوْفَ»)، نَحْوُ: «يَقُومُ» فِي قَوْلِكَ: «سَوْفَ يَقُومُ زَيْدٌ»، (وَ) الرَّابِعَةُ: بِـ (تَاءِ التَّأْنِيثِ السَّاكِنَةِ)، نَحْوُ: «قَامَتْ» فِي قَوْلِكَ: «قَامَتْ هِنْدٌ».فَحَرْفُ «قَدْ»: عَلَامَةٌ لِلْمَاضِي وَالمُضَارِعِ، أَمَّا السِّينُ وَ «سَوْفَ» فَلِلْمُضَارِعِ، وَأَمَّا تَاءُ التَّأْنِيثِ فَلِلْمَاضِي.أَمَّا فِعْلُ الأَمْرِ فَعَلَامَتُهُ بِمَجْمُوعِ أَمْرَيْنِ: الطَّلَبُ مَعَ قَبُولِ يَاءِ المُخَاطَبَةِ؛ نَحْوُ: «اكْتُبْ»، أَلَا تَرَى أَنَّهُ يَدُلُّ عَلَى طَلَبِ الكِتَابَةِ مَعَ قَبُولِ دُخُولِ يَاءِ المُخَاطَبَةِ عَلَيْهِ، فَتَقُولُ: «اكْتُبِي»؟وَالفِعْلُ مِثْلُ الاسْمِ؛ يُكْتَفَى بِقَبُولِ العَلَامَةِ وَإِنْ لَمْ تَكُنْ مَوْجُودَةً فِي الكَلِمَةِ.(وَالحَرْفُ): هُوَ الكَلِمَةُ الَّتِي تَدُلُّ عَلَى مَعْنًى فِي غَيْرِهَا.وَيُرَادُ بِالحَرْفِ - هُنَا -: حُرُوفُ المَعَانِي، فَمِنْهَا أَحَادِيٌّ وَثُنَائِيٌّ وَثُلَاثِيٌّ وَرُبَاعِيٌّ وَخُمَاسِيٌّ، نَحْوُ: هَمْزَةِ الاسْتِفْهَامِ، وَ «لَمْ»، وَ «ثُمَّ»، وَ «لَعَلَّ»، وَ «حَتَّى»، وَ «لَكِنَّ».أَلَا تَرَى أَنَّ «ثُمَّ» لَيْسَ لَهَا مَعْنًى مُسْتَقِلٌّ، إِذْ هِيَ تَحْتَاجُ إِلَى كَلِمَةٍ أُخْرَى لِتَدُلَّ عَلَى المَعْنَى المُرَادِ مِنَ الجُمْلَةِ الَّتِي دَخَلَتْ فِيهَا، فَقَوْلُكَ: «قَامَ زَيْدٌ ثُمَّ ذَهَبَ» دَلَّتْ «ثُمَّ» فِيهَا عَلَى مَعْنَى الذَّهَابِ الَّذِي وَقَعَ بَعْدَ القِيَامِ.وَقِسْ عَليْهِ حُرُوفَ المَعَانِي الأُخْرَى.وَالحَرْفُ عَلَامَتُهُ عَدَمِيَّةٌ؛ فَهُوَ: (مَا لَا يَصْلُحُ مَعَهُ دَلِيلُ الاسْمِ) أَيْ عَلَامَةٌ
জেনে রাখুন যে, দ্বিতীয় প্রকার—যা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع)—তা কথা বলার পরের কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রেও সংঘটিত হয়; আর তা ক্রিয়াযুক্ত বাক্যের বিদ্যমান অনুষঙ্গের (القرينة) প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে। শীঘ্রই এই ক্রিয়াগুলোর (الأفعال) আলোচনা আসবে।আর (চেনা যায়) ক্রিয়া (الفعل) চারটি চিহ্নের (علامات) মাধ্যমে: প্রথমটি: (‘ক্বাদ’ (قد))-এর মাধ্যমে, যেমন: ‘قام’ এবং ‘يقوم’ আপনার এই উক্তিতে: ‘قد قام زيد’ এবং ‘قد يقوم زيد’; (আর) দ্বিতীয়টি: (‘সীন’ (السين))-এর মাধ্যমে, যেমন: ‘يقوم’ আপনার এই উক্তিতে: ‘سيقوم زيد’; (আর) তৃতীয়টি: (‘সাওফা’ (سوف))-এর মাধ্যমে, যেমন: ‘يقوم’ আপনার এই উক্তিতে: ‘سوف يقوم زيد’; (এবং) চতুর্থটি: (সুকুনযুক্ত স্ত্রীলিঙ্গবাচক ‘তা’ (تاء التأنيث الساكنة))-এর মাধ্যমে, যেমন: ‘قامت’ আপনার এই উক্তিতে: ‘قامت هند’।সুতরাং ‘ক্বাদ’ (قد) বর্ণটি অতীতকালীন ক্রিয়া (الماضي) ও বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع)-এর চিহ্ন; তবে ‘সীন’ ও ‘সাওফা’ বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (المضارع)-এর জন্য এবং ‘তা-এ তানিছ’ (تاء التأنيث) অতীতকালীন ক্রিয়া (الماضي)-এর জন্য নির্ধারিত।পক্ষান্তরে আদেশসূচক ক্রিয়ার (فعل الأمر) চিহ্ন হলো দুটি বিষয়ের সমষ্টি: তলব বা প্রার্থনা এবং তার সাথে সম্বোধনবাচক ‘ইয়া’ (ياء المخاطبة) গ্রহণ করা; যেমন: ‘اكتب’, আপনি কি দেখছেন না যে, এটি সম্বোধনবাচক ‘ইয়া’ প্রবেশের যোগ্যতা রাখার পাশাপাশি লিখার তলব বা নির্দেশ বুঝাচ্ছে? ফলে আপনি বলতে পারেন: ‘اكتبي’।আর ক্রিয়া (الفعل) বিশেষ্যের (الاسم) মতোই; চিহ্নের বিদ্যমানতা না থাকলেও কেবল সেটি গ্রহণ করার যোগ্যতা থাকাই যথেষ্ট।(এবং অব্যয় (الحرف)): এটি এমন শব্দ যা অন্য কোনো শব্দের সাথে মিলিত হওয়া ছাড়া পূর্ণ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।আর এখানে অব্যয় (الحرف) বলতে অর্থবোধক বর্ণসমূহ (حروف المعاني) বুঝানো হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কোনোটি এক বর্ণবিশিষ্ট, কোনোটি দুই বর্ণবিশিষ্ট, কোনোটি তিন বর্ণবিশিষ্ট, কোনোটি চার বর্ণবিশিষ্ট আবার কোনোটি পাঁচ বর্ণবিশিষ্ট। যেমন: প্রশ্নবোধক হামযাহ (همزة الاستفهام), এবং ‘لم’, ‘ثم’, ‘لعل’, ‘حتى’ ও ‘لكن’।আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, ‘ثم’-এর কোনো স্বতন্ত্র অর্থ নেই? যেহেতু এটি যে বাক্যে প্রবেশ করেছে তার উদ্দিষ্ট অর্থ বুঝাতে অন্য একটি শব্দের মুখাপেক্ষী হয়। আপনার উক্তি: ‘قام زيد ثم ذهب’—এখানে ‘ثم’ শব্দটি দাঁড়িয়ে থাকার পরে সংঘটিত যাওয়ার অর্থটি প্রকাশ করেছে।আর অন্যান্য অর্থবোধক বর্ণসমূহকেও (حروف المعاني) এর ওপর তুলনা করুন।আর অব্যয়ের (الحرف) চিহ্ন হলো নেতিবাচক; সেটি হলো: (যার সাথে বিশেষ্যের (الاسم) কোনো চিহ্ন উপযুক্ত হয় না) অর্থাৎ চিহ্ন।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৮)
مِنْ عَلَامَاتِ الاسْمِ، (وَ) هُوَ أَيْضًا: مَا (لَا) يَصْلُحُ مَعَهُ (دَلِيلُ الفِعْلِ) أَيْ عَلَامَةٌ مِنْ عَلَامَاتِ الفِعْلِ. (بَابُ الإِعْرَابِ)(الإِعْرَابُ) عِنْدَ النَّحْوِيِّينَ: (هُوَ تَغْيِيرُ) العَلَامَاتِ الَّتِي فِي (أَوَاخِرِ) حُرُوفِ (الكَلِمِ) أَيِ الكَلِمَاتِ المُعْرَبَةِ، مِنْ فَتْحَةٍ وَكَسْرَةٍ وَضَمَّةٍ وَسُكُونٍ، وَذَلِكَ (لِاخْتِلَافِ العَوَامِلِ) أَيِ المُؤَثِّرَاتِ (الدَّاخِلَةِ عَلَيْهَا) أَيْ عَلَى هَذِهِ الكَلِمَاتِ (لَفْظًا) نَحْوُ: «زَيْدٌ» فِي الضَّمِّ، وَ «زَيْدٍ» فِي الكَسْرِ، وَ «زَيْدًا» فِي الفَتْحِ، (أَوْ تَقْدِيرًا) لِتَعَذُّرِ ظُهُورِ العَلَامَاتِ؛ نَحْوُ: «مُوسَى» فِي الضَّمِّ وَالكَسْرِ وَالفَتْحِ.فَالمُرَادُ: أَنَّهُ قَدْ يَأْتِي آخِرُ حَرْفٍ مِنِ اسْمٍ مَا فِي جُمْلَةٍ مَا مَضْمُومًا، وَقَدْ يَأْتِي فِي غَيْرِهَا مَفْتُوحًا، وَفِي أُخْرَى مَكْسُورًا، أَلَا تَرَى أَنَّ كَلِمَةَ «زَيْدٍ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ زَيْدٌ»، وَ «رَأَيْتُ زَيْدًا»، وَ «مَرَرْتُ بِزَيْدٍ»: قَدْ تَغَيَّرَتْ عَلَامَةُ الدَّالِ فِيهَا مِنْ ضَمٍّ إِلَى فَتْحٍ ثُمَّ كَسْرٍ؟وَكَذَلِكَ فِي الفِعْلِ: فَقَدْ يأْتِي آخِرُ حَرْفٍ مِنْهُ فِي جُمْلَةٍ مَا مَضْمُومًا، وَفِي غَيْرِهَا مَفْتُوحًا، وفِي أُخْرَى سَاكِنًا، أَلَا تَرَى أَنَّ كَلِمَةَ «يَذْهَبُ» فِي قَوْلِكَ: «يَذْهَبُ زَيْدٌ»، وَ «لَنْ يَذْهَبَ زَيْدٌ»، وَ «لَمْ يَذْهَبْ زَيْدٌ»: قَدْ تَغَيَّرَتْ عَلَامَةُ البَاءِ فِيهَا مِنْ ضَمٍّ إِلَى فَتْحٍ ثُمَّ سُكُونٍ؟وَقَدْ تَأْتِي العَلَامَاتُ مُقَدَّرَةً لِتَعَذُّرِ ظُهُورِهَا أَوْ لِثِقَلِ اللَّفْظِ؛ نَحْوُ: «الفَتَى» فِي الضَّمِّ وَالفَتْحِ وَالكَسْرِ، وَ «القَاضِي» فِي الضَّمِّ وَالكَسْرِ فَقَطْ، وَ «صَدِيقِي» فِي الضَّمِّ وَالفَتْحِ وَالكَسْرِ، وَ «يَخْشَى» فِي الضَّمِّ وَالفَتْحِ فَقَطْ، وَ «يَدْعُو» فِي الضَّمِّ فَقَطْ، وَ «يَرْمِي» فِي الضَّمِّ فَقَطْ.فَالأَوَّلُ هُوَ الاسْمُ المَقْصُورُ، وَالثَّانِي هُوَ الاسْمُ المَنْقُوصُ، وَالثَّالِثُ هُوَ الاسْمُ
বিশেষ্যের আলামতসমূহের মধ্যে এটিও অন্তর্ভুক্ত যে, (এবং (و)) এটি এমনও যা (সংগত হয় না (لا)) যার সাথে (ক্রিয়ার আলামত (دليل الفعل)) অর্থাৎ ক্রিয়ার কোনো চিহ্ন কার্যকর হয় না। (শব্দরূপ পরিবর্তনের অধ্যায় (باب الإعراب))ব্যাকরণবিদদের নিকট (ইরাব (الإعراب)) হলো: ওই শব্দগুলোর উপর (প্রবেশকারী আমিল বা কারকসমূহের ভিন্নতার কারণে (اختلاف العوامل))—তা (উচ্চারণগত (لفظا)) হতে পারে, যেমন: দাম্মাহর ক্ষেত্রে «যাইদুন», কাসরাহর ক্ষেত্রে «যাইদিন» এবং ফাতহাহর ক্ষেত্রে «যাইদান»; (অথবা প্রচ্ছন্ন (أو تقديرا)) হতে পারে চিহ্নসমূহ প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব হওয়ার কারণে, যেমন: দাম্মাহ, কাসরাহ ও ফাতহাহ—তিন অবস্থাতেই «মুসা»—এমন রূপান্তরযোগ্য (শব্দসমূহের (الكلم)) অর্থাৎ শব্দাবলির (শেষ (أواخر)) বর্ণের চিহ্নের (পরিবর্তন (تغيير))—যেমন ফাতহাহ, কাসরাহ, দাম্মাহ ও সুকুন।এর উদ্দেশ্য হলো: কোনো একটি বাক্যে একটি বিশেষ্যের শেষ বর্ণটি কখনো দাম্মাহযুক্ত হতে পারে, আবার অন্য কোনো বাক্যে তা ফাতহাহযুক্ত হতে পারে এবং অন্যটিতে কাসরাহযুক্ত হতে পারে। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, «যাইদ» শব্দটি যখন আপনি বলেন: «যাইদ এসেছে (جاء زيد)», «আমি যাইদকে দেখেছি (رأيت زيدا)» এবং «আমি যাইদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি (مررت بزيد)», তখন এতে 'দাল' বর্ণের চিহ্নটি দাম্মাহ থেকে ফাতহাহ এবং এরপর কাসরাহতে পরিবর্তিত হয়েছে?অনুরূপভাবে ক্রিয়ার ক্ষেত্রেও: কোনো বাক্যে এর শেষ বর্ণটি দাম্মাহযুক্ত হতে পারে, অন্যটিতে ফাতহাহযুক্ত এবং অন্যটিতে সুকুনযুক্ত হতে পারে। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, «সে যাচ্ছে (يذهب)» শব্দটি যখন আপনি বলেন: «যাইদ যাচ্ছে (يذهب زيد)», «যাইদ কখনোই যাবে না (لن يذهب زيد)» এবং «যাইদ যায়নি (لم يذهب زيد)», তখন এতে 'বা' বর্ণের চিহ্নটি দাম্মাহ থেকে ফাতহাহ এবং এরপর সুকুনে পরিবর্তিত হয়েছে?কখনো চিহ্নসমূহ প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব হওয়ার কারণে কিংবা উচ্চারণে জটিলতার দরুন তা প্রচ্ছন্নভাবেও আসতে পারে; যেমন: দাম্মাহ, ফাতহাহ ও কাসরাহ—তিন অবস্থাতেই «যুবক (الفتى)»; কেবল দাম্মাহ ও কাসরাহ অবস্থায় «বিচারক (القاضي)»; এবং দাম্মাহ, ফাতহাহ ও কাসরাহ অবস্থায় «আমার বন্ধু (صديقي)»; কেবল দাম্মাহ ও ফাতহাহ অবস্থায় «সে ভয় পায় (يخشى)»; কেবল দাম্মাহ অবস্থায় «সে ডাকছে (يدعو)» এবং কেবল দাম্মাহ অবস্থায় «সে নিক্ষেপ করছে (يرمي)»।এদের মধ্যে প্রথমটি হলো ইসম মাকসুর (الاسم المقصور), দ্বিতীয়টি হলো ইসম মানকুস (الاسم المنقوص) এবং তৃতীয়টি হলো ইসম...
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৯)
المُضَافُ إِلَى يَاءِ المُتَكَلِّمِ، وَالرَّابِعُ: هُوَ الفِعْلُ المُضَارِعُ المُعْتَلُّ بِالأَلِفِ، وَالخَامِسُ: هُوَ الفِعْلُ المُضَارِعُ المُعْتَلُّ بِالوَاوِ، وَالسَّادِسُ: هُوَ الفِعْلُ المُضَارِعُ المُعْتَلُّ بِاليَاءِ.فَهَذَا التَّغْيِيرُ الحَاصِلُ فِي الاسْمِ وَالفِعْلِ: سَبَبُهُ المُؤَثِّرَاتُ الَّتِي دَخَلَتْ عَلَيْهِمَا؛ فَمِنْهَا مَا كَانَ بِسَبَبِ وُجُودِ الفِعْلِ، أَوْ دُخُولِ حَرْفِ جَرٍّ أَوْ نَصْبٍ أَوْ جَزْمٍ، أَوْ غَيْرِهَا مِنَ العَوَامِلِ.فَهَذَا هُوَ الإِعْرَابُ، وَسَيَأْتِي ذِكْرُ المُؤَثِّرَاتِ فِي أَبْوَابِهَا.وَلَيْسَتِ الكَلِمَاتُ كُلُّهَا مُعْرَبَةً؛ فَمِنْهَا مَا لَا يَتَغَيَّرُ آخِرُهُ أَبَدًا، لَا بِسَبَبِ التَّعَذُّرِ أَوِ الثِّقَلِ - كَمَا سَبَقَ بَيَانُهُ -؛ إِنَّمَا بِسَبَبِ وُجُودِ عَلَامَةٍ وَاحِدَةٍ فِي آخِرِهَا لَا تُفَارِقُهَا، وَيُسَمَّى ذَلِكَ بِالبِنَاءِ، أَلَا تَرَى أَنَّ كَلِمَةَ «هَؤُلَاءِ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ هَؤُلَاءِ» وَ «رَأَيْتُ هَؤُلَاءِ» وَ «مَرَرْتُ بِهَؤُلَاءِ» قَدْ بَقِيَتْ مَكْسُورَةَ الآخِرِ فِي مَحَلِّ الرَّفْعِ وَالنَّصْبِ وَالجَرِّ؟ فَهَذَا هُوَ البِنَاءُ، وَهُوَ: مَا لَا يَتَغَيَّرُ آخِرُهُ، وَيُقَالُ فِيهِ: مَبْنِيٌ عَلَى الكَسْرِ، وَلَا يُقَالُ: مَرْفُوعٌ فِي المِثَالِ الأَوَّلِ، وَلَا مَنْصُوبٌ فِي الثَّانِي، وَلَامَجْرُورٌ فِي الثَّالِثِ.وَالإِعْرَابُ يَكُونُ فِي أَكْثَرِ الأَسْمَاءِ، وَفِي الفِعْلِ المُضَارِعِ فِي حَالَتِهِ الإِعْرَابِيَّةِ.أَمَّا البِنَاءُ فَيَكُونُ فِي: حُرُوفِ المَعَانِي كُلِّهَا، وَالفِعْلِ المَاضِي، وَفِعْلِ الأَمْرِ، وَبَعْضِ الأَسْمَاءِ، وَبَعْضِ أَحْوَالِ الفِعْلِ المُضَارِعِ.(وَأَقْسَامُهُ) أَيِ الإِعْرَابِ (أَرْبَعَةٌ): الأَوَّلُ: (رَفْعٌ) أَيِ الضَّمَّةُ وَمَا يَقُومُ مَقَامَهَا، (وَ) الثَّانِي: (نَصْبٌ) أَيِ الفَتْحَةُ وَمَا يَقُومُ مَقَامَهَا، (وَ) الثَّالِثُ: (خَفْضٌ) أَيِ الكَسْرَةُ وَمَا يَقُومُ مَقَامَهَا، (وَ) الرَّابِعُ: (جَزْمٌ) أَيِ السُّكُونُ وَمَا يَقُومُ مَقَامَهُ، وٍََسَيَأْتِي ذِكرُ كُلِّ عَلَامَةٍ وَمَا يَقُومُ مَقَامَهَا فِي بَابِ مَعْرِفَةِ عَلَامَاتِ الإِعْرَابِ.(فَلِلْأَسْمَاءِ مِنْ ذَلِكَ) التَّقْسِيمِ ثَلَاثَةٌ: الأَوَّلُ: (الرَّفْعُ)، نَحْوُ: «زَيْدٌ»، (وَ) الثَّانِي: (النَّصْبُ)، نَحْوُ: «زَيْدًا»، (وَ) الثَّالِثُ: (الخَفْضُ) أَيِ الجَرُّ، نَحْوُ «زَيْدٍ»،
উত্তম পুরুষের ‘ইয়া’-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত (المضاف إلى ياء المتكلم), এবং চতুর্থ হলো: আলিফ দ্বারা ত্রুটিযুক্ত (المعتل بالألف) বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع), এবং পঞ্চম হলো: ওয়াও দ্বারা ত্রুটিযুক্ত (المعتل بالواو) বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع), এবং ষষ্ঠ হলো: ইয়া দ্বারা ত্রুটিযুক্ত (المعتل بالياء) বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)।বিশেষ্য এবং ক্রিয়ার মধ্যে সংঘটিত এই পরিবর্তনটির কারণ হলো সেই সব প্রভাবকসমূহ (المؤثرات) যা এ দুটির ওপর আপতিত হয়েছে; এগুলোর মধ্যে কোনটি ক্রিয়ার উপস্থিতির কারণে হয়, আবার কোনটি পদান্বয়ী অব্যয় (حرف جر) অথবা নসব প্রদানকারী (نصب) কিংবা জজম প্রদানকারী (جزم) অথবা অন্য কোনো আমল বা প্রভাবক (العوامل) প্রবেশের কারণে হয়।এটিই হলো শব্দরূপ বা ই'রাব (الإعراب), এবং এ সংক্রান্ত প্রভাবকসমূহের আলোচনা যথাস্থানে সামনে আসবে।সমস্ত শব্দই রূপান্তরযোগ্য (معربة) নয়; বরং এমন কিছু শব্দ আছে যার শেষাংশ কখনো পরিবর্তিত হয় না, তা উচ্চারণ অসম্ভব হওয়া (تعذر) বা উচ্চারণের কাঠিন্য (ثقل)-এর কারণে নয়—যেমনটি আগে বর্ণনা করা হয়েছে—বরং এর শেষাংশে এমন একটি স্থায়ী চিহ্নের উপস্থিতির কারণে যা তা থেকে কখনো বিচ্ছিন্ন হয় না। একে অপরিবর্তনীয়তা বা বিন’আ (البناء) বলা হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে, ‘হাউলা-ই’ শব্দটি আপনার উক্তি: ‘জা-আ হাউলা-ই’, ‘রাআইতু হাউলা-ই’ এবং ‘মারারতু বি-হাউলা-ই’-এর মধ্যে যথাক্রমে রফ (رفع), নসব (نصب) এবং জর (جر)-এর স্থলে থাকা সত্ত্বেও এর শেষাংশ কাসরা বা যের বিশিষ্টই রয়ে গেছে? এটিই হলো বিন’আ (البناء) বা অপরিবর্তনীয়তা, আর তা হলো: যার শেষাংশ পরিবর্তিত হয় না। এর সম্পর্কে বলা হয়: এটি কাসরার ওপর মাবনি (مبني على الكسر)। প্রথম উদাহরণে একে রফ-যুক্ত (مرفوع), দ্বিতীয়টিতে নসব-যুক্ত (منصوب) এবং তৃতীয়টিতে জর-যুক্ত (مجرور) বলা যাবে না।আর শব্দরূপ পরিবর্তন বা ই'রাব (الإعراب) অধিকাংশ বিশেষ্য এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)-এর রূপান্তরযোগ্য অবস্থায় হয়ে থাকে।পক্ষান্তরে অপরিবর্তনীয়তা বা বিন’আ (البناء) দেখা যায়: সমস্ত অর্থবোধক অব্যয় (حروف المعاني), অতীতকালীন ক্রিয়া (الفعل الماضي), আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر), কিছু বিশেষ্য এবং বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)-এর কিছু বিশেষ অবস্থায়।(এবং এর অর্থাৎ ই'রাবের প্রকারভেদসমূহ) (أقسامه) হলো (চারটি): প্রথমটি: রফ (رفع) অর্থাৎ পেশ এবং যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়। (এবং) দ্বিতীয়টি: নসব (نصب) অর্থাৎ জবর এবং যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়। (এবং) তৃতীয়টি: খফদ বা জর (خفض) অর্থাৎ যের এবং যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়। (এবং) চতুর্থটি: জজম (جزم) অর্থাৎ সুকুন এবং যা তার স্থলাভিষিক্ত হয়। প্রতিটি চিহ্ন এবং তার স্থলাভিষিক্ত বিষয়গুলোর আলোচনা ‘ই’রাবের চিহ্নসমূহ পরিচিতি’ অধ্যায়ে সামনে আসবে।(অতঃপর উক্ত বিভাজন থেকে বিশেষ্যসমূহের জন্য) (فللأسماء من ذلك) তিনটি প্রকার রয়েছে: প্রথমটি: রফ (الرفع), যেমন: ‘যায়দুন’, (এবং) দ্বিতীয়টি: নসব (النصب), যেমন: ‘যায়দান’, (এবং) তৃতীয়টি: খফদ (الخفض) অর্থাৎ জর (جر), যেমন: ‘যায়দিন’।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১০)
(وَلَا جَزْمَ فِيهَا) أَيْ فِي الأَسْمَاءِ، فَلَا يُقَالُ: «زَيْدْ».(وَلِلأَفْعَالِ مِنْ ذَلِكَ) التَّقْسِيمِ ثَلَاثَةٌ: الأَوَّلُ: (الرَّفْعُ)، نَحْوُ: «يَذْهَبُ»، (وَ) الثَّانِي: (النَّصْبُ)، نَحْوُ: «يَذْهَبَ»، (وَ) الثَّالِثُ: (الجَزْمُ)، نَحْوُ: «يَذْهَبْ»، (وَلَا خَفْضَ فِيهَا) أَيْ فِي الأَفْعَالِ، فَلَا يُقَالُ: «يَذْهَبِ». (بَابُ مَعْرِفَةِ عَلَامَاتِ الإِعْرَابِ)هَذَا بَابٌ لِمَعْرِفَةِ شَكْلِ الإِعْرَابِ الصَّحِيحِ لِكَلِمَةٍ مَا فِي جُمْلَةٍ مَا بَعْدَ أَنْ حَكَمْتَ عَلَيْهَا مُسْبَقًا بِالرَّفْعِ أَوِ النَّصْبِ أَوِ الخَفْضِ أَوِ الجَزْمِ.وَقَدْ عَلِمْتَ فِي البَابِ السَّابِقِ أَنَّ الأَصْلَ فِي رَفْعِ الكَلِمَةِ: الضَّمَّةُ، وَفِي النَّصْبِ: الفَتْحَةُ، وَفِي الخَفْضِ: الكَسْرَةُ، وَفِي الجَزْمِ: السُّكُونُ.لَكِنَّ هَذَا الأَصْلَ لَيْسَ عَلَى إِطْلَاقِهِ؛ إِذْ قَدْ يَقُومُ مَقَامَ الضَّمَّةِ شَكْلٌ آخَرُ مِنْ أَشْكَالِ الرَّفْعِ، وَمِثْلُ ذَلِكَ يَقَعُ فِي الفَتْحَةِ عِنْدَ النَّصْبِ، وَالكَسْرَةِ عِنْدَ الخَفْضِ، وَالسُّكُونِ عِنْدَ الجَزْمِ، فَجَمِيعُهَا لَهَا أَشْكَالٌ أُخْرَى تَقُومُ مَقَامَ الأَصْلِ، كُلٌّ فِي مَوْضِعِهِ، أَلَا تَرَى لَوْ قُلْتَ: «جَاءَ الرَّجُلُ» وَحَكَمْتَ عَلَى كَلِمَةِ «الرَّجُلُ» فِي الجُمْلَةِ بِالرَّفْعِ لَوَضَعْتَ ضَمَّةً عَلَى اللَّامِ لِأَنَّ الضَّمَّةَ عَلَامَةُ الرَّفْعِ؟ لَكِنْ أَلَا تَرَى لَوْ كَانَ الآتِي رَجُلًا وَمَعَهُ رَجُلٌ آخَرُ، لَقُلْتَ: «جَاءَ الرَّجُلَانِ»؟ فَلَا ضَمَّةَ هُنَا؛ فَقَدْ قَامَ مَقَامَهَا عَلَامَةٌ أُخْرَى لِلرَّفْعِ.فَلَا بُدَّ مِنْ معْرِفَةِ عَلَامَاتِ الإِعْرَابِ الأَصْلِيَّةِ وَالفَرْعِيَّةِ، وَذَلِكَ فِي الرَّفْعِ وَالنَّصْبِ وَالخَفْضِ وَالجَزْمِ.فَـ (لِلرَّفْعِ أَرْبَعُ عَلَامَاتٍ): الأُولَى: (الضَّمَّةُ، وَ) الثَّانِيَةُ: (الوَاوُ، وَ) الثَّالِثَةُ: (الأَلِفُ، وَ) الرَّابِعَةُ: (النُّونُ).(فَأَمَّا الضَّمَّةُ فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلرَّفْعِ فِي أَرْبَعَةِ مَوَاضِعَ): الأَوَّلُ: (فِي الاسْمِ
(এবং তাতে কোনো জজম (جزم) নেই) অর্থাৎ বিশেষ্যসমূহের (الأسماء) মধ্যে, তাই 'যাইদ' (সুকুনসহ) বলা হয় না।(এবং ক্রিয়াপদসমূহের (الأفعال) জন্য সেই) বিভাজন থেকে তিনটি অবস্থা রয়েছে: প্রথমটি: (রফা (الرفع)), যেমন: 'ইয়াজহাবু', (এবং) দ্বিতীয়টি: (নসব (النصب)), যেমন: 'ইয়াজহাবা', (এবং) তৃতীয়টি: (জজম (الجزم)), যেমন: 'ইয়াজহাব', (এবং তাতে কোনো খফদ (الخفض) নেই) অর্থাৎ ক্রিয়াপদসমূহের (الأفعال) মধ্যে, তাই 'ইয়াজহাবি' বলা হয় না। (ই'রাব (الإعراب)-এর চিহ্নসমূহ চেনার অধ্যায়)এটি কোনো বাক্যের অন্তর্গত কোনো শব্দের সঠিক ই'রাব (الإعراب)-এর রূপ চেনার একটি অধ্যায়, যখন আপনি পূর্বেই শব্দটির ওপর রফা (الرفع), নসব (النصب), খফদ (الخفض) অথবা জজম (الجزم)-এর বিধান আরোপ করেছেন।আপনি পূর্ববর্তী অধ্যায়ে জেনেছেন যে, শব্দের রফা (الرفع)-এর ক্ষেত্রে মূল চিহ্ন হলো যম্মা (الضمة), নসব (النصب)-এর ক্ষেত্রে ফাতহা (الفتحة), খফদ (الخفض)-এর ক্ষেত্রে কাসরা (الكسرة) এবং জজম (الجزم)-এর ক্ষেত্রে সুকুন (السكون)।তবে এই মূলনীতিটি ঢালাওভাবে বা সর্বদা প্রযোজ্য নয়; কেননা রফা (الرفع)-এর ক্ষেত্রে যম্মা (الضمة)-এর পরিবর্তে অন্য কোনো রূপও স্থলাভিষিক্ত হতে পারে। অনুরূপভাবে নসব (النصب)-এর ক্ষেত্রে ফাতহা (الفتحة), খফদ (الخفض)-এর ক্ষেত্রে কাসরা (الكسرة) এবং জজম (الجزم)-এর ক্ষেত্রে সুকুন (السكون)-এর বেলাতেও এমনটি ঘটে থাকে। এগুলোর প্রত্যেকটিরই অন্যান্য রূপ রয়েছে যা নিজ নিজ স্থানে মূল চিহ্নের স্থলাভিষিক্ত হয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না, যদি আপনি বলেন: 'জা-আর রাজুলু' এবং বাক্যের মধ্যে 'আর-রাজুলু' শব্দটির ওপর রফা (الرفع)-এর বিধান আরোপ করেন, তবে আপনি শেষ বর্ণ 'লাম'-এর ওপর যম্মা (الضمة) প্রদান করবেন, কারণ যম্মা (الضمة) হলো রফা (الرفع)-এর চিহ্ন? কিন্তু আপনি কি দেখেন না, যদি আগমনকারী একজন ব্যক্তির সাথে অন্য একজন ব্যক্তি থাকে, তবে আপনি বলবেন: 'জা-আর রাজুলানি'? এখানে কোনো যম্মা (الضمة) নেই; বরং এখানে রফা (الرفع)-এর অন্য একটি চিহ্ন তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে।অতএব ই'রাব (الإعراب)-এর মৌলিক (الأصلية) এবং গৌণ (الفرعية) চিহ্নসমূহ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা আবশ্যক, আর তা রফা (الرفع), নসব (النصب), খফদ (الخفض) ও জজম (الجزم)-এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।সুতরাং (রফা (الرفع)-এর জন্য চারটি চিহ্ন রয়েছে): প্রথমটি: (যম্মা (الضمة)), দ্বিতীয়টি: (ওয়াও (الواو)), তৃতীয়টি: (আলিফ (الألف)) এবং চতুর্থটি: (নুন (النون))।(যম্মা (الضمة)-এর বিষয়টি হলো, তা চারটি স্থানে রফা (الرفع)-এর চিহ্ন হিসেবে গণ্য হয়): প্রথমটি: (বিশেষ্য (الاسم)
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১১)
المُفْرَدِ)، وَهُوَ: مَا دَلَّ عَلَى الوَاحِدِ؛ نَحْوُ «زَيْدٌ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ زَيْدٌ»، (وَ) الثَّانِي: فِي (جَمْعِ التَّكْسِيرِ)، وَهُوَ: كُلُّ اسْمٍ جَمِعُ فَتَغَيَّرَتْ صِيغَةُ مُفْرَدِهِ - شَكْلًا أَوْ زِيَادَةً أَوْنَقْصًا -؛ نَحْوُ: «الأَبْطَالُ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ الأَبْطَالُ»، أَلَا تَرَى أَنَّ مُفْرَدَ «أَبْطَالُ»: «بَطَلٌ» وَقَدْ تَغَيَّرَتْ صِيغَةُ مُفْرَدِهِ عِنْدَ الجَمْعِ؟ فَالبَاءُ تَغَيَّرَتْ مِنْ فَتْحَةٍ إِلَى سُكُونٍ، وَزَادَتْ هَمْزَةٌ فِي أَوَّلِهِ وَأَلِفٌ فِي وَسَطِهِ، فَتَغَيَّرَتْ صِيغَةُ مُفْرَدِهِ شَكْلًا وَزِيَادَةً، (وَ) الثَّالِثُ: فِي (جَمْعِ المُؤَنَّثِ السَّالِمِ)، وَهُو كُلُّ اسْمٍ جُمِعَ بِأَلِفٍ وَتَاءٍ زَائِدَتَيْنِ فِي آخِرِهِ وَسَلِمَ مُفْرَدُهُ مِنَ التَّغْيِيرِ؛ نَحْوُ: «الطَّالِبَاتُ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَتِ الطَّالِبَاتُ»، (وَ) الرَّابِعُ: فِي (الِفعْلِ المُضَارِعِ الَّذِي لَمْ يَتَّصِلْ بِآخِرِهِ شَيْءٌ)، نَحْوُ: «يَذْهَبُ» فِي قَوْلِكَ: «يَذْهَبُ زَيْدٌ».(وَأَمَّا الوَاوُ فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلرَّفْعِ فِي مَوْضِعَيْنِ): الأَوَّلُ: (فِي جِمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ)، وَهُو كُلُّ اسْمٍ جُمِعَ بِوَاوٍ وَنُونٍ أَوْ يَاءٍ وَنُونٍ فِي آخِرِهِ وَسَلِمَ مُفْرَدُهُ مِنَ التَّغْيِيرِ، نَحْوُ: «المُعَلِّمُونَ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ المُعَلِّمُونَ»، (وَ) الثَّانِي: (فِي الأَسْمَاءِ الخَمْسَةِ) المُضَافَةِ، (وَهِيَ: أَبُوكَ، وَأَخُوكَ، وَحَمُوكَ، وَفُوكَ، وَذُو مَالٍ)، نَحْوُ: «أَبُوكَ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ أَبُوكَ».(وَأَمَّا الأَلِفُ فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلرَّفْعِ فِي تَثْنِيَةِ الأَسْمَاءِ خَاصَّةً)، نَحْوُ: «الرَّجُلَانِ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ الرَّجُلَانِ».(وَأَمَّا النُّونُ فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلرَّفْعِ فِي) مَوْضِعٍ وَاحِدٍ، وَهُوَ فِي (الفِعْلِ المُضَارِعِ إِذَا اتَّصَلَ بِهِ ضَمِيرُ تَثْنِيَةٍ، أَوْ ضَمِيرُ جَمْعٍ، أَوْ ضَمِيرُ المُؤَنَّثَةِ المُخَاطَبَةِ)، فَالأَوَّلُ نَحْوُ «يَذْهَبَانِ» وَ «تَذْهَبَانِ»، وَالثَّانِي: «يَذْهَبُونَ» وَ «تَذْهَبُونَ»، وَالثَّالِثُ: «تَذْهَبِينَ»، وَهِيَ الَّتِي تُسَمَّى بِالأَفْعَالِ الخَمْسَةِ.(وَلِلنَّصْبِ خَمْسُ عَلَامَاتٍ): الأُولَى: (الفَتْحَةُ ، وَ) الثَّانِيَةُ: (الأَلِفُ، وَ) الثَّالِثَةُ: (الكَسْرَةُ، وَ) الرَّابِعَةُ: (اليَاءُ، وَ) الخَامِسَةُ: (حَذْفُ النُّونِ).
একবচন (المفرد)); এবং তা হলো: যা একজনকে নির্দেশ করে; যেমন আপনার উক্তি 'জায়েদ এসেছে'-এর মধ্যে 'জায়েদ', (এবং) দ্বিতীয়টি হলো: (ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير))-এর ক্ষেত্রে; আর তা হলো: এমন প্রতিটি বিশেষ্য যা বহুবচন করার সময় এর একবচনের রূপটি পরিবর্তিত হয়েছে—হরকত (شكل), বৃদ্ধি (زيادة) অথবাহ্রাসের (نقص) মাধ্যমে; যেমন: আপনার উক্তি 'বীরগণ এসেছে'-এর মধ্যে 'বীরগণ' (আল-আবতাল)। আপনি কি দেখছেন না যে, 'বীরগণ' (আবতাল)-এর একবচন হলো 'বীর' (বাতাল) এবং বহুবচনের সময় এর একবচন রূপটি পরিবর্তিত হয়েছে? এখানে 'বা' বর্ণটি ফাতহা থেকে সুকুনে পরিবর্তিত হয়েছে, আর এর শুরুতে একটি হামযা ও মাঝে একটি আলিফ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এর একবচন রূপটি হরকত (شكل) এবং বৃদ্ধির (زيادة) মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে। (এবং) তৃতীয়টি হলো: (নিরাপদ স্ত্রীলিঙ্গ বহুবচন (جمع المؤنث السالم))-এর ক্ষেত্রে; আর তা হলো: এমন প্রতিটি বিশেষ্য যা শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও তা যোগ করে বহুবচন করা হয়েছে এবং এর একবচনটি পরিবর্তন থেকে নিরাপদ রয়েছে; যেমন: আপনার উক্তি 'ছাত্রীরা এসেছে' এর মধ্যে 'ছাত্রীরা' (আত-তালিবাত)। (এবং) চতুর্থটি হলো: (সেই বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)-র ক্ষেত্রে যার শেষে কোনো কিছু যুক্ত হয়নি); যেমন: আপনার উক্তি 'জায়েদ যাচ্ছে' এর মধ্যে 'যাচ্ছে' (ইয়াজহাবু)।(আর ওয়াও (الواو) দুটি স্থানে রফ্ (رفع)-এর আলামত হয়): প্রথমটি হলো: (নিরাপদ পুংলিঙ্গ বহুবচন (جمع المذكر السالم)-এর ক্ষেত্রে); আর তা হলো: এমন প্রতিটি বিশেষ্য যা শেষে ওয়াও ও নুন অথবা ইয়া ও নুন যোগ করে বহুবচন করা হয়েছে এবং এর একবচন রূপটি পরিবর্তন থেকে নিরাপদ রয়েছে; যেমন: আপনার উক্তি 'শিক্ষকগণ এসেছেন' এর মধ্যে 'শিক্ষকগণ' (আল-মুয়াল্লিমুন)। (এবং) দ্বিতীয়টি হলো: ইযাফতকৃত (المضافة) (পঞ্চ বিশেষ্য (الأسماء الخمسة))-এর ক্ষেত্রে, (আর সেগুলো হলো: তোমার পিতা, তোমার ভাই, তোমার শ্বশুর, তোমার মুখ এবং সম্পদশালী); যেমন: আপনার উক্তি 'তোমার পিতা এসেছেন' এর মধ্যে 'তোমার পিতা' (আবুকা)।(আর আলিফ (الألف) বিশেষভাবে বিশেষ্যের দ্বিবচন (تثنية الأسماء)-এর ক্ষেত্রে রফ্ (رفع)-এর আলামত হয়); যেমন: আপনার উক্তি 'দুই ব্যক্তি এসেছেন' এর মধ্যে 'দুই ব্যক্তি' (আর-রাজুলানি)।(আর নুন (النون) রফ্ (رفع)-এর আলামত হয়) একটি স্থানে, আর তা হলো: (বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (الفعل المضارع)-তে যখন তার সাথে দ্বিবচনের সর্বনাম (ضمير تثنية), অথবা বহুবচনের সর্বনাম (ضمير جمع), অথবা দ্বিতীয় পুরুষ স্ত্রীলিঙ্গ একবচনের সর্বনাম (ضمير المؤنثة المخاطبة) যুক্ত হয়)। প্রথমটির উদাহরণ যেমন: 'ইয়াজহাবানি' এবং 'তাজহাবানি', দ্বিতীয়টি: 'ইয়াজহাবুন' এবং 'তাজহাবুন', এবং তৃতীয়টি: 'তাজহাবিনা'; আর এগুলোকেই পঞ্চ ক্রিয়া (الأفعال الخمسة) বলা হয়।(এবং নসব (النصب)-এর পাঁচটি আলামত রয়েছে): প্রথমটি: (ফাতহা (الفتحة)), (এবং) দ্বিতীয়টি: (আলিফ (الألف)), (এবং) তৃতীয়টি: (কাসরা (الكسرة)), (এবং) চতুর্থটি: (ইয়া (الياء)), (এবং) পঞ্চমটি: (নুন বিলোপ হওয়া (حذف النون))।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১২)
(فَأَمَّا الفَتْحَةُ فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلنَّصْبِ فِي ثَلَاثَةِ مَوَاضِعَ): الأَوَّلُ: (فِي الاسْمِ المُفْرَدِ)؛ نَحْوُ «زَيْدًا» فِي قَوْلِكَ: «رَأَيْتُ زَيْدًا»، (وَ) الثَّانِي: فِي (جَمْعِ التَّكْسِيرِ)؛ نَحْوُ: «الأَبْطَالَ» فِي قَوْلِكَ: «رَأَيْتُ الأَبْطَالَ»، (وَ) الثَّالِثُ: فِي (الفِعْلِ المُضَارِعِ إِذَا دَخَلَ عَلَيْهِ نَاصِبٌ وَلَمْ يَتَّصِلْ بِآخِرِهِ شَيْءٌ)؛ نَحْوُ: «يَذْهَبَ» فِي قَوْلِكَ: «لَنْ يَذْهَبَ زَيْدٌ».(وَأَمَّا الأَلِفُ: فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلنَّصْبِ فِي) مَوْضِعٍ وَاحِدٍ، وَهُوَ: فِي (الأَسْمَاءِ الخَمْسَةِ) المُضَافَةِ؛ (نَحْوُ): «أَبَاكَ» وَ «أَخَاكَ» فِي قَوْلِكَ: («رَأَيْتُ أَبَاكَ»، وَ) «رَأَيْتُ (أَخَاكَ»، وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ).(وَأَمَّا الكَسْرَةُ: فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلنَّصْبِ فِي) مَوْضِعٍ وَاحِدٍ، وَهُوَ: فِي (جَمْعِ المُؤَنَّثِ السَّالِمِ)، نَحْوُ: «الطَّالِبَاتِ» فِي قَوْلِكَ: «رَأَيْتُ الطَّالِبَاتِ».(وَأَمَّا اليَاءُ: فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلنَّصْبِ فِي) مَوْضِعَيْنِ: الأَوَّلُ: فِي (التَّثْنِيَةِ) نَحْوُ: «الرَّجُلَيْنِ» فِي قَوْلِكَ: «رَأَيْتُ الرَّجُلَيْنِ»، (وَ) الثَّانِي: فِي (الجَمْعِ) المُذَكَّرِ السَّالِمِ، نَحْوُ: «المُعَلِّمِينَ» فِي قَوْلِكَ: «رَأَيْتُ المُعَلِّمِينَ».(وَأَمَّا حَذْفُ النُّونِ فَيَكُونُ عَلَامَةً لِلنَّصْبِ فِي الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ الَّتِي رَفْعُهَا بِثَبَاتِ النُّونِ)، نَحْوُ «لَنْ يَذْهَبَا» وَ «لَنْ تَذْهَبَا» وَ «لَنْ يَذْهَبُوا» وَ «لَنْ تَذْهَبُوا» وَ «لَنْ تَذْهَبِي».(وَلِلْخَفْضِ) أَيِ الجَرِّ (ثَلَاثُ عَلَامَاتٍ): الأُولَى: (الكَسْرَةُ، وَ) الثَّانِيَةُ: (اليَاءُ، وَ) الثَّالِثَةُ: (الفَتْحَةُ).(فَأَمَّا الكَسْرَةُ: فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلْخَفْضِ فِي ثَلَاثَةِ مَوَاضِعَ): الأَوَّلُ: (فِي الاسْمِ المُفْرَدِ المُنْصَرِفِ) أَيِ الَّذِي يَقْبَلُ التَّنْوِينَ؛ نَحْوُ: «مَرَرْتُ بِالمُعَلِّمِ»، فَلَا يُرَادُ بِالمُنْصَرِفِ: وُجُودُ التَّنْوِينِ فِي الكَلِمَةِ، إِنَّمَا يُرَادُ قَبُولُ التَّنْوِينِ وَإِنْ لَمْ يُوْجَدْ، أَلَا
(বস্তুত ফাতহাহ তিনটি স্থানে নসবের চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়): প্রথমটি: (একবচন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে); যেমন আপনার কথা: «রআইতু জাইদান»-এর মধ্যে ব্যবহৃত «জাইদান» শব্দটি, (এবং) দ্বিতীয়টি: (জমা তাকসীর বা ভগ্ন বহুবচনের ক্ষেত্রে); যেমন আপনার কথা: «রআইতুল আবতালা»-এর মধ্যে ব্যবহৃত «আল-আবতালা» শব্দটি, (এবং) তৃতীয়টি: (মুদারে ক্রিয়ার ক্ষেত্রে যখন তার পূর্বে নসব প্রদানকারী আমিল প্রবেশ করে এবং তার শেষে কোনো কিছু যুক্ত না হয়); যেমন আপনার কথা: «লান ইয়াজহাবা যাইদুন»-এর মধ্যে ব্যবহৃত «ইয়াজহাবা» শব্দটি।(অতঃপর আলিফ: এটি একটি স্থানে নসবের চিহ্ন হয়), আর তা হলো: সম্বন্ধযুক্ত (পাঁচটি বিশেষ্যের ক্ষেত্রে); (যেমন): আপনার কথা: («রআইতু আবাকা», এবং) «রআইতু (আখাকা», এবং এর অনুরূপ উদাহরণসমূহ)।(অতঃপর কাসরাহ: এটি একটি স্থানে নসবের চিহ্ন হয়), আর তা হলো: (জমা মুয়ান্নাস সালেম বা যথাযথ স্ত্রীবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে), যেমন আপনার কথা: «রআইতুত তালিবাত»-এর মধ্যে ব্যবহৃত «আত-তালিবাত» শব্দটি।(অতঃপর ইয়া: এটি দুটি স্থানে নসবের চিহ্ন হয়): প্রথমটি: (দ্বিবচনের ক্ষেত্রে) যেমন আপনার কথা: «রআইতুর রাজুলাইন»-এর মধ্যে ব্যবহৃত «আর-রাজুলাইন» শব্দটি, (এবং) দ্বিতীয়টি: (যথাযথ পুরুষবাচক বহুবচনের ক্ষেত্রে), যেমন আপনার কথা: «রআইতুল মুয়াল্লিমীন»-এর মধ্যে ব্যবহৃত «আল-মুয়াল্লিমীন» শব্দটি।(অতঃপর নুন বিলোপ হওয়া সেই পাঁচটি ক্রিয়ার ক্ষেত্রে নসবের চিহ্ন হয় যেগুলোর রফা নুন বহাল থাকার মাধ্যমে হয়), যেমন «লান ইয়াজহাবা», «লান তাজহাবা», «লান ইয়াজহাবু», «লান তাজহাবু» এবং «লান তাজহাবি»।(এবং খাফদ) অর্থাৎ জরের (তিনটি চিহ্ন রয়েছে): প্রথমটি: (কাসরাহ, এবং) দ্বিতীয়টি: (ইয়া, এবং) তৃতীয়টি: (ফাতহাহ)।(অতঃপর কাসরাহ: এটি তিনটি স্থানে খাফদ বা জরের চিহ্ন হয়): প্রথমটি: (মুনসারিফ একবচন বিশেষ্যের ক্ষেত্রে) অর্থাৎ যা তানভীন গ্রহণ করে; যেমন: «মারারতু বিল মুয়াল্লিমি», এখানে মুনসারিফ দ্বারা শব্দের মধ্যে তানভীনের অস্তিত্ব থাকা উদ্দেশ্য নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো তানভীন গ্রহণ করার যোগ্যতা থাকা যদিও তা বিদ্যমান না থাকে, জেনে রাখুন যে...
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৩)
تَرَى أَنَّ كَلِمَةَ «المُعَلِّمِ» تَقْبَلُ التَّنْوِينَ، فَتَقُولُ: «مُعَلِّمٌ» وَ «مَعُلِّمًا» وَ «مُعَلِّمٍ»، أَمَّا «عُمَرُ» فَلَا يَقْبَلُ التَّنْوِينَ لأَنَّهُ اسْمٌ غَيْرُ مُنْصَرِفٍ، فَتَقُولُ: «عُمَرُ» فِي الرَّفْعِ، وَ «عُمَرَ» فِي النَّصْبِ وَالجَزْمِ، وَلَا تَقُولُ: «عُمَرٌ» وَ «عُمَرًا» وَ «عُمَرٍ»، وَلِهَذَا جَاءَ هَذَا التَّقْيِيدُ احْتِرَازاً مِنَ الاسْمِ غَيْرِ المُنْصَرِفِ، وَسَيَأْتِي بَيَانُهُ، (وَ) الثَّانِي: فِي (جَمْعِ التَّكْسِيرِ المُنْصَرِفِ) أَيِ الَّذِي يَقْبَلُ التَّنْوِينَ؛ نَحْوُ: «الأَصْحَابِ» فِي قَوْلِكَ: «مَرَرْتُ بِالأَصْحَابِ»، وَهَذَا التَّقْيِيدُ احْتِرَازًا مِنْ جَمْعِ التَّكْسِيرِ غَيْرِ المُنْصَرِفِ، وَسَيَأْتِي ذِكْرُهُ، (وَ) الثَّالِثُ: (فِي جَمْعِ المُؤَنَّثِ السَّالِمِ)، نَحْوُ: «الطَّالِبَاتِ» فِي قَوْلِكَ: «مَرَرْتُ بِالطَّالِبَاتِ».(وَأَمَّا اليَاءُ: فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلْخَفْضِ فِي ثَلَاثَةِ مَوَاضِعَ): الأَوَّلُ: (فِي الأَسْمَاءِ الخَمْسَةِ) المُضَافَةِ، نَحْوُ: «أَبِيكَ» فِي قَوْلِكَ: «مَرَرْتُ بِأَبِيكَ»، وَقِسْ عَلَيْهِ الأَسْمَاءَ الأُخْرَى، (وَ) الثَّانِي: (فِي التَّثْنِيَةِ)؛ نَحْوُ: «الرَّجُلَيْنِ» فِي قَوْلِكَ: «مَرَرْتُ بِالرَّجُلَيْنِ»، (وَ) الثَّالِثُ: فِي (الجَمْعِ) المُذَكَّرِ السَّالِمِ؛ نَحْوُ: «المُعَلِّمِينَ» فِي قَوْلِكَ: «مَررْتُ بِالمُعَلِّمِينَ».(وَأَمَّا الفَتْحَةُ: فَتَكُونُ عَلَامَةً لِلْخَفْضِ فِي) مَوْضِعٍ وَاحِدٍ، وَهُوَ: فِي (الاسْمِ الَّذِي لَا يَنْصَرِفُ)، أَيِ الَّذِي لَا يَقْبَلُ التَّنْوِينَ، نَحْوُ: «عُمَرَ» فِي قَوْلِكَ: «مَرَرْتُ بِعُمَرَ».وَالأَسْمَاءُ غَيْرُ المُنْصَرِفَةِ هِيَ:1 - العَلَمُ الأَعْجَمِيُّ الزَّائِدُ عَلَى ثَلَاثَةِ أَحْرُفٍ؛ نَحْوُ: «إِبْرَاهِيمَ».2 - وَالعَلَمُ المُؤَنَّثُ - اللَّفْظِيُّ أَوِ المَعْنَوِيُّ -؛ نَحْوُ: «حَمْزَةَ» وَ «عَائِشَةَ»، وَ «زَيْنَبَ» وَ «سُعَادَ»، إِلَّا إِذَا كَانَ المُؤَنَّثُ المَعْنَوِيُّ سَاكِنَ الوَسَطِ؛ فَيَجُوزُ فِيهِ الصَّرْفُ وَالمَنْعُ، نَحْوُ: «هِنْدَ» وَ «هِنْدٍ».
আপনি লক্ষ্য করবেন যে, ‘মুয়াল্লিম’ (শিক্ষক) শব্দটি তানভীন (التنوين) গ্রহণ করে। ফলে আপনি বলেন: ‘মুয়াল্লিমুন’, ‘মুয়াল্লিমান’ এবং ‘মুয়াল্লিমিন’। অপরদিকে ‘উমর’ শব্দটি তানভীন (التنوين) গ্রহণ করে না; কারণ এটি একটি রূপান্তরহীন বিশেষ্য (اسم غير منصرف)। ফলে আপনি রফ (الرفع) অবস্থায় বলেন: ‘উমরু’, এবং নসব (النصب) ও জজম (الجزم) অবস্থায় বলেন: ‘উমরা’। আপনি ‘উমরুন’, ‘উমরান’ বা ‘উমরিন’ বলেন না। আর এই কারণেই রূপান্তরহীন বিশেষ্য (الاسم غير المنصرف) থেকে সতর্কতা স্বরূপ এই সীমাবদ্ধতাটি এসেছে, যার বর্ণনা সামনে আসবে। (এবং) দ্বিতীয়টি হলো: রূপান্তরযোগ্য ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير المنصرف) এর ক্ষেত্রে; অর্থাৎ যা তানভীন (التنوين) গ্রহণ করে। যেমন আপনার উক্তিতে: ‘মারারতু বিল আসহাবি’ (আমি বন্ধুদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম), এখানে ‘আল-আসহাব’ শব্দটি। এই সীমাবদ্ধতাটুকু মূলত রূপান্তরহীন ভগ্ন বহুবচন (جمع التكسير غير المنصرف) থেকে সতর্কতা স্বরূপ দেওয়া হয়েছে, যার উল্লেখ সামনে আসবে। (এবং) তৃতীয়টি হলো: বিশুদ্ধ স্ত্রীবাচক বহুবচন (جمع المؤنث السالم) এর ক্ষেত্রে। যেমন আপনার উক্তি: ‘মারারতু বিত ত্বালিবাত’ (আমি ছাত্রীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)।(আর ‘ইয়া’ বর্ণের ক্ষেত্রে কথা হলো: এটি তিনটি স্থানে খফদ (الخفض) এর আলামত বা চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হয়): প্রথমটি হলো: সম্বন্ধযুক্ত (المضافة) (পঞ্চ-বিশেষ্য (الأسماء الخمسة)) এর ক্ষেত্রে। যেমন আপনার উক্তি: ‘মারারতু বি-আবিকা’ (আমি আপনার পিতার পাশ দিয়ে গেলাম), এবং অন্যান্য বিশেষ্যগুলোকেও এর সাথে তুলনা করুন। (এবং) দ্বিতীয়টি হলো: (দ্বিবচন (التثنية)) এর ক্ষেত্রে; যেমন আপনার উক্তি: ‘মারারতু বির রাজুলাইনি’ (আমি দুইজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে গেলাম)। (এবং) তৃতীয়টি হলো: বিশুদ্ধ পুংলিঙ্গ (বহুবচন (الجمع)) এর ক্ষেত্রে; যেমন আপনার উক্তি: ‘মারারতু বিল মুয়াল্লিমিনা’ (আমি শিক্ষকদের পাশ দিয়ে গেলাম)।(আর ফাতহা বা জবর-এর ক্ষেত্রে কথা হলো: এটি একটি স্থানে খফদ (الخفض) এর চিহ্ন হিসেবে থাকে), আর তা হলো: (রূপান্তরহীন বিশেষ্য (الاسم الذي لا ينصرف)) এর ক্ষেত্রে; অর্থাৎ যা তানভীন (التنوين) গ্রহণ করে না। যেমন আপনার উক্তি: ‘মারারতু বি-উমরা’ (আমি উমরের পাশ দিয়ে গেলাম)।আর রূপান্তরহীন বিশেষ্যগুলো (الأسماء غير المنصرفة) হলো:1 - তিন অক্ষরের অধিক অনারব নাম (العلم الأعجمي); যেমন: ‘ইবরাহিম’।2 - এবং স্ত্রীবাচক নাম (العلم المؤنث) — চাই তা শাব্দিক (لفظي) হোক কিংবা অর্থগত (معنوي); যেমন: ‘হামজাহ’, ‘আয়েশা’, ‘যায়নাব’ এবং ‘সুয়াদ’। তবে অর্থগত স্ত্রীবাচক নামের মধ্যাক্ষর যদি সাকিন বা স্থির হয়, তবে তাতে রূপান্তরযোগ্য হওয়া (الصرف) এবং রূপান্তরহীন থাকা (المنع) উভয়ই বৈধ। যেমন: ‘হিন্দা’ এবং ‘হিন্দিন’।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৪)
3 - وَالعَلَمُ الَّذِي عَلَى وَزْنِ «فُعَلَ»، نَحْوُ: «عُمَرَ».4 - وَالعَلَمُ الَّذِي عَلَى وَزْنِ الفِعْلِ، نَحْوُ: «يَزِيدَ»، وَ «أَحْمَدَ».5 - وَالعَلَمُ المَخْتُومُ بِأَلِفٍ وَنُونٍ زَائِدَتَيْنِ، نَحْوُ: «عُثْمَانَ»، وَ «عِمْرَانَ»، وَ «سَلْمَانَ».6 - وَالعَلَمُ المُرَكَّبُ تَرْكِيبًا مَزْجِيًّا، نَحْوُ: «مَعْدِيكَرِبَ»، وَ «حَضْرَمَوْتَ»، وَ «بَعْلَبَكَّ».7 - وَالوَصْفُ الَّذِي عَلَى وَزْنِ «أَفْعَلَ»، نَحْوُ: «أَحْسَنَ»، وَ «أَفْضَلَ».8 - وَالوَصْفُ الَّذِي عَلَى وَزْنِ «فَعْلَانَ»، نَحْوُ «عَطْشَانَ».9 - وَالوَصْفُ المَعْدُولُ الَّذِي عَلَى وَزْنِ «مَفْعَلَ»، وَ «فُعَالَ»، نَحْوُ: «مَثْنَى»، وَ «ثُلَاثَ».10 - وَالاسْمُ المَخْتُومُ بِأَلِفِ التَّأْنِيثِ - المَمْدُودَةِ وَالمَقْصُورَةِ -، نَحْوُ: «حَسْنَاءَ» وَ «عُلَمَاءَ»، وَ «حُبْلَى» وَ «ذِكْرَى».11 - وَصِيغَةُ مُنْتَهَى الجُمُوعِ، وَهِيَ: جَمْعُ التَّكْسيرِ الَّذِي وَقَعَ بَعْدَ أَلِفِ تَكْسِيرِهِ حَرْفَانِ، نَحْوُ: «مَسَاكِنَ»، وَ «أَكَارِمَ»، أَوْ ثَلَاثَةُ أَحْرُفٍ وَسَطُهَا سَاكِنٌ، نَحْوُ: «مَصَابِيحَ»، وَ «عَصَافِيرَ».وَيُصْرَفُ غَيْرُ المُنْصَرِفِ إِذَا عُرِّفَ بِـ «أَلْ» أَوْ بِالإضَافَةِ.فَالأَوَّلُ نَحْوُ: «فِي المَسَاجِدِ الَّتِي فِي المَدِينَةِ عَدَدٌ كَبِيرٌ مِنَ المُصَلِّينَ».وَالثَّانِي نَحْوُ: «فِي مَسَاجِدِ المَدِينَةِ عَدَدٌ كَبِيرٌ مِنَ المُصَلِّينِ».فَـ «مَسَاجِدُ»: اسْمٌ غَيْرُ مُنْصِرِفٍ؛ لأَنَّهُ جَمْعٌ عَلَى صِيغَةِ مُنْتَهَى الجُمُوعِ، فَحَقُّهُ الَفْتَحَةُ عِنْدَ الخَفْضِ، إِلَّا أَنَّهُ صُرِفَ فِي المِثَالِ الأَوَّلِ بِـ «أَلْ»، وَالثَّانِي
3 - এবং ঐ সকল বিশিষ্ট নাম (عَلَم) যা «ফুঁয়ালা» (فُعَلَ) ওজনের (وزن) ওপর গঠিত, যেমন: «উমর»।4 - এবং ঐ সকল বিশিষ্ট নাম (عَلَم) যা ক্রিয়ার ওজনের (وزن) ওপর গঠিত, যেমন: «ইয়াজিদ» ও «আহমদ»।5 - এবং ঐ সকল বিশিষ্ট নাম (عَلَم) যার শেষে অতিরিক্ত আলিফ ও নুন যুক্ত থাকে, যেমন: «উসমান», «ইমরান» ও «সালমান»।6 - এবং ঐ সকল বিশিষ্ট নাম (عَلَم) যা মিশ্র যৌগিক পন্থায় গঠিত, যেমন: «মা’দিকারিব», «হাদরামাউত» ও «বালবাক»।7 - এবং ঐ সকল গুণবাচক শব্দ (وصف) যা «আফয়ালা» (أَفْعَلَ) ওজনের (وزن) ওপর গঠিত, যেমন: «আহসান» ও «আফদাল»।8 - এবং ঐ সকল গুণবাচক শব্দ (وصف) যা «ফালান» (فَعْلَانَ) ওজনের (وزن) ওপর গঠিত, যেমন: «আতশান»।9 - এবং ঐ সকল রূপান্তরিত গুণবাচক শব্দ (وصف) যা «মাফয়ালা» (مَفْعَلَ) এবং «ফুয়াল» (فُعَالَ) ওজনের (وزن) ওপর গঠিত, যেমন: «মাছনা» ও «ছুলাছ»।10 - এবং ঐ সকল বিশেষ্য যা তানিছ বা স্ত্রীলিঙ্গজ্ঞাপক আলিফ (আলিফে মামদুদা ও মাকসুরা) দ্বারা সমাপ্ত, যেমন: «হাসনা» ও «উলামা» এবং «হুবলা» ও «জিকরা»।11 - এবং চূড়ান্ত বহুবচন রূপ (صيغة منتهى الجموع), যা এমন ভগ্ন বহুবচন যার বহুবচনজ্ঞাপক আলিফের পরে দুটি অক্ষর থাকে, যেমন: «মাসাকিন» ও «আকারিম»; অথবা তিনটি অক্ষর থাকে যার মধ্যাক্ষরটি সাকিন (ساكن) বা স্থির হয়, যেমন: «মাসাবিহ» ও «আসাফির»।পরিবর্তনহীন (غير المنصرف) শব্দে কাসরা বা তানভীন গ্রহণ করে যদি তা «আলিফ-লাম» (أل) দ্বারা নির্দিষ্ট হয় অথবা সম্বন্ধযুক্ত (الإضافة) হয়।প্রথমটির উদাহরণ: «শহরে অবস্থিত মসজিদগুলোতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি রয়েছেন।»দ্বিতীয়টির উদাহরণ: «মদিনার মসজিদসমূহে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি রয়েছেন।»এখানে «মাসাজিদু»: একটি পরিবর্তনহীন (غير المنصرف) বিশেষ্য; কারণ এটি চূড়ান্ত বহুবচন রূপ (صيغة منتهى الجموع)-এর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং জেরের (خفض) অবস্থায় এর প্রাপ্য চিহ্ন হলো জবর (فتحة), তবে প্রথম উদাহরণে «আলিফ-লাম» (أل) যুক্ত হওয়ার কারণে একে কাসরা প্রদান করা হয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে...
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৫)
بِالإِضَافَةِ.(وَلِلْجَزمِِ عَلَامَتَانِ): الأُولَى: (السُّكُونُ ، وَ) الثَّانِيَةُ: (الحَذْفُ).(فَأَمَّا السُّكُونُ فَيَكُونُ عَلَامَةً لِلْجَزْمِ فِي) مَوْضِعٍ وَاحِدٍ، وَهُوَ: فِي (الفِعْلِ المُضَارِعِ الصَّحِيحِ الآخِرِ)، أَيِ الَّذِي لَيْسَ فِي آخِرِهِ حَرْفٌ مِنْ حُرُوفِ العِلَّةِ، وَهِيَ: الأَلِفُ وَالوَاوُ وَاليَاءُ؛ نَحْوُ: «يَذْهَبْ» فِي قَوْلِكَ: «لَمْ يَذْهَبْ زَيْدٌ».(وَأَمَّا الحَذْفُ فَيَكُونُ عَلَامَةً لِلْجَزْمِ فِي) مَوْضِعَيْنِ: الأَوَّلُ: فِي (الفِعْلِ المُضَارِعِ المُعْتَلِّ الآخِرِ)، أَيِ الَّذِي فِي آخِرِهِ حَرْفٌ مِنْ حُرُوفِ العِلَّةِ، وَهِيَ: الوَاوُ وَالأَلِفُ وَاليَاءُ، فَيُحْذَفُ عِنْدَ الجَزْمِ، نَحْوُ: «لَمْ يَدْعُ»، وَ «لَمْ يَخْشَ»، وَ «لَمْ يَرْمِ»، (وَ) الثَّانِي: (فِي الأَفْعَالِ الخَمْسَةِ الَّتِي رَفْعُهَا بِثَبَات النُّونِ)، فَتُحْذَفُ النُّونُ، نَحْوُ: «لَمْ يَذْهَبَا»، وَ «لَمْ تَذْهَبَا»، وَ «لَمْ يَذْهَبُوا»، وَ «لَمْ تَذْهَبُوا»، وَ «لَمْ تَذْهَبِي». (فَصْلٌ: المُعْرَبَاتُ)هَذَا الفَصْلُ حَوَى كُلَّ مَا ذُكِرَ فِي بَابِ مَعْرِفَةِ عَلَامَاتِ الإِعْرَابِ، لَكِنْ عَلَى نَسَقٍ آخَرَ؛ فَفِي البَابِ كَانَتِ العَلَامَاتُ هِيَ الأَصْلَ، وَالموَاضِعُ هِيَ الفَرْعَ، أَمَّا المُقَرَّرُ هُنَا فِي هَذَا الفَصْلِ فَالمَوَاضِعُ هِيَ الأَصْلُ، وَالعَلَامَاتُ هِيَ الفَرْعُ؛ فَهَذَا الفَصْلُ خُلَاصَةُ مَا ذُكِرَ فِي البَابِ.فَـ (المُعْرَبَاتُ) أَيِ الكَلِمَاتُ المُعْرَبَةُ (قِسْمَانِ):الأَوَّلُ: (قِسْمٌ يُعْرَبُ بِالحَرَكَاتِ) أَيْ بِالضَّمَّةِ وَالفَتْحَةِ وَالكَسْرَةِ - وُجُودًا -، وَبِالسُّكُونِ - عَدَمًا -؛ فَإِنَّ السُّكُونَ لَيْسَ بِحَرَكَةٍ، إِنَّمَا هُوَ نَفْيُ الحَرَكَةِ.(وَ) الثَّانِي: (قِسْمٌ يُعْرَبُ بِالحُرُوفِ)، أَيْ بِالأَلِفِ وَاليَاءِ وَالوَاوِ وَالنُّونِ - وُجُودًا وَحَذْفًا -.
অতিরিক্ত হিসেবে।(জজমের জন্য দুইটি আলামত রয়েছে): প্রথমটি হলো: (সুকুন), এবং দ্বিতীয়টি হলো: (হযফ)।(বস্তুত সুকুন জজমের আলামত হয়) একটি স্থানে, আর তা হলো: (সহীহ (صحيح) শেষাংশ বিশিষ্ট মুজারে ক্রিয়ায়), অর্থাৎ যার শেষে কোনো হরফে ইল্লাত বা দুর্বল বর্ণ নেই। আর সেগুলো হলো: আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া; যথা: ‘ইয়াযহাব’—আপনার এই উক্তিতে: ‘লাম ইয়াযহাব যাইদুন’।(আর হযফ জজমের আলামত হয়) দুইটি স্থানে: প্রথমটি হলো: (মু'তাল বা দুর্বল শেষাংশ বিশিষ্ট মুজারে ক্রিয়ায়), অর্থাৎ যার শেষে কোনো হরফে ইল্লাত বা দুর্বল বর্ণ রয়েছে। আর সেগুলো হলো: ওয়াও, আলিফ এবং ইয়া; ফলে জজমের সময় সেগুলো বিলুপ্ত হয়ে যায়। যথা: ‘লাম ইয়াদ‘উ’, ‘লাম ইয়াখশা’ এবং ‘লাম ইয়ারমি’। (এবং) দ্বিতীয়টি হলো: (ঐ পাঁচটি ক্রিয়া বা আফ‘আলুল খামসাহ-এর ক্ষেত্রে যেগুলোর রাফা নুন অক্ষরের স্থায়িত্বের মাধ্যমে হয়), ফলে সেক্ষেত্রে নুন বিলুপ্ত হয়ে যায়। যথা: ‘লাম ইয়াযহাবা’, ‘লাম তাযহাবা’, ‘লাম ইয়াযহাবু’, ‘লাম তাযহাবু’ এবং ‘লাম তাযহাবী’। (পরিচ্ছেদ: মু‘রাবাত বা রূপান্তরশীল শব্দাবলি)এই পরিচ্ছেদটি ‘ইরাবের আলামতসমূহ পরিচিতি’ অধ্যায়ে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে তার সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, তবে তা ভিন্ন বিন্যাসে। ওই অধ্যায়ে আলামতগুলো ছিল মূল এবং প্রেক্ষিতগুলো ছিল শাখা, কিন্তু এই পরিচ্ছেদে যা নির্ধারিত হয়েছে তাতে প্রেক্ষিতগুলোই মূল এবং আলামতগুলো হলো শাখা। সুতরাং এই পরিচ্ছেদটি ওই অধ্যায়ে যা বর্ণিত হয়েছে তার সারসংক্ষেপ।অতএব (মু‘রাবাত) অর্থাৎ রূপান্তরশীল শব্দাবলি (দুই প্রকার):প্রথমটি: (এমন এক প্রকার যা হারাকাত বা স্বরচিহ্নের মাধ্যমে রূপান্তর গ্রহণ করে) অর্থাৎ যম্মাহ, ফাতহাহ এবং কাসরাহ-এর মাধ্যমে—বিদ্যমান অবস্থায়—এবং সুকুনের মাধ্যমে—অনুপস্থিত অবস্থায়—; কেননা সুকুন কোনো হারাকাত নয়, বরং তা হলো হারাকাতের অনুপস্থিতি।(এবং) দ্বিতীয়টি: (এমন এক প্রকার যা হরফ বা বর্ণের মাধ্যমে রূপান্তর গ্রহণ করে), অর্থাৎ আলিফ, ইয়া, ওয়াও এবং নুন-এর উপস্থিতি ও বিলুপ্তির মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৬)
(فَالَّذِي يُعْرَبُ بِالحَرَكَاتِ أَرْبَعَةُ أَنْوَاعٍ): النَّوْعُ الأَوَّلُ: (الاسْمُ المُفْرَدُ)، نَحْوُ: «جَاءَ زَيْدٌ»، وَ «رَأَيْتُ زَيْدًا»، وَ «مَرَرْتُ بِزَيْدٍ»، (وَ) النَّوْعُ الثَّانِي: (جَمْعُ التَّكْسِيرِ) نَحْوُ: «جَاءَ الأَبْطَالُ»، وَ «رَأَيْتُ الأَبْطَالَ»، وَ «مَرَرْتُ بِالأَبْطَالِ»، (وَ) النَّوْعُ الثَّالِثُ: (جَمْعُ المُؤَنَّثِ السَّالِمُ)، نَحْوُ: «جَاءَتِ الطَّالِبَاتُ»، وَ «رَأَيْتُ الطَّالِبَاتِ»، وَ «مَرَرْتُ بِالطَّالِبَاتِ»، (وَ) النَّوْعُ الرَّابِعُ: (الفِعْلُ المُضَارِعُ الَّذِي لَمْ يَتَّصِلْ بِآخِرِهِ شَيْءٍ)، نَحْوُ: «يَذْهَبُ زَيْدٌ»، وَ «لَنْ يَذْهَبَ زَيْدٌ»، وَ «لَمْ يَذْهَبْ زَيْدٌ».(وَكُلُّهَا) أَيْ هَذِهِ الأَنْوَاعِ الأَرْبَعَةِ: (تُرْفَعُ بِالضَّمَّةِ، وَتُنْصَبُ بِالفَتْحَةِ، وَتُخْفَضُ بِالكَسْرَةِ، وَتُجْزَمُ بِالسُّكُونِ).وَلَا يُرَادُ بِذَلِكَ أَنَّ أقْسَامَ الإِعْرَابِ كُلَّهَا تَجْرِي عَلَى الأَنْوَاعِ الأَرْبَعَةِ، وَإِلَّا فَإِنَّ الاسْمَ - كَمَا سَبَقَ ذِكْرُهُ - لَا يَصْلُحُ فِيهِ الجَزْمُ، وَالفِعْلَ لَا يَصْلُحُ فِيهِ الخَفْضُ، إِنَّمَا المُرَادُ أَنَّ الخَفْضَ إِنْ وَقَعَ فِي الأَنْوَاعِ الثَّلَاثَةِ الأُولَى - وَهِيَ أَسْمَاءٌ - فَسَيَكُونُ بِالكَسْرَةِ، وَأَنَّ الجَزْمَ إِنْ وَقَعَ فِي النَّوْعِ الرَّابِعِ - وَهُوَ الفِعْلُ - فَسَيَكُونُ بِالسُّكُونِ.(وَخَرَجَ عَنْ ذَلِكَ) الحُكْمِ المَذْكُورِ آنِفًا (ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ): الأَوَّلُ: (جَمْعُ المُؤَنَّثِ السَّالِمُ)، فَـ (يُنْصَبُ بِالكَسْرَةِ)، نَحْوُ: «رَأَيْتُ الطَّالِبَاتِ»، (وَ) الثَّانِي: (الاسْمُ الَّذِي لَا يَنْصَرِفُ)، فَـ (يُخْفَضُ) أَيْ يُجَرُّ (بِالفَتْحَةِ)، نَحْوُ: «مَرَرْتُ بِعُمَرَ»، (وَ) الثَّالِثُ: (الفِعْلُ المُضَارِعُ المُعْتَلُّ الآخِرِ)، فَـ (يُجْزَمُ بِحَذْفِ آخِرِهِ)، نَحْوُ: «لَمْ يَخْشَ زَيْدٌ الأَسَدَ».(وَالَّذِي يُعْرَبُ بِالحُرُوفِ أَرْبَعَةُ أَنْوَاعٍ): الأَوَّلُ (التَّثْنِيَةُ، وَ) الثَّانِي: (جَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمُ، وَ) الثَّالِثُ: (الأَسْمَاءُ الخَمْسَةُ) المُضَافَةُ، (وَ) الرَّابِعُ: (الأَفْعَالُ الخَمْسَةُ، وَهِيَ: يَفْعَلَانِ، وَتَفْعَلَانِ، وَيَفْعَلُونَ، وَتَفْعَلُونَ، وَتَفْعَلِينَ).(فَأَمَّا التَّثْنِيَةُ: فَتُرْفَعُ بِالأَلِفِ، وَتُنْصَبُ وَتُخْفَضُ بِاليَاءِ)، نَحْوُ: «جَاءَ الرَّجُلَانِ»، وَ «رَأَيْتُ الرَّجُلَيْنِ»، وَ «مَرَرْتُ بِالرَّجُلَيْنِ»، (وَأَمَّا جَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمُ:
(অতঃপর যা হরকতের মাধ্যমে ই’রাব প্রাপ্ত হয় তা চার প্রকার): প্রথম প্রকার: (একবচন বিশেষ্য), যেমন: «জায়েদ এসেছে», «আমি জায়েদকে দেখেছি», এবং «আমি জায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি»; (এবং) দ্বিতীয় প্রকার: (ভগ্ন বহুবচন), যেমন: «বীরেরা এসেছে», «আমি বীরদের দেখেছি», এবং «আমি বীরদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি»; (এবং) তৃতীয় প্রকার: (পরিপক্ব স্ত্রীবাচক বহুবচন), যেমন: «ছাত্রীরা এসেছে», «আমি ছাত্রীদের দেখেছি», এবং «আমি ছাত্রীদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি»; (এবং) চতুর্থ প্রকার: (সেই বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া যার শেষে কোনো কিছু যুক্ত হয়নি), যেমন: «জায়েদ যাচ্ছে», «জায়েদ কখনোই যাবে না», এবং «জায়েদ যায়নি।»(এবং এগুলোর প্রত্যেকটিই) অর্থাৎ এই চার প্রকার শব্দ: (যম্মাহর মাধ্যমে রাফা প্রাপ্ত হয়, ফাতহাহর মাধ্যমে নাসাব প্রাপ্ত হয়, কাসরাহর মাধ্যমে খাফদ প্রাপ্ত হয় এবং সুকুনের মাধ্যমে জাজম প্রাপ্ত হয়)।এর দ্বারা এটি উদ্দেশ্য নয় যে ই’রাবের সকল প্রকারই উক্ত চার প্রকার শব্দের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; অন্যথায় বিশেষ্যের ক্ষেত্রে - যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে - জাজম হওয়া সঠিক নয়, এবং ক্রিয়ার ক্ষেত্রে খাফদ হওয়া সঠিক নয়। বরং উদ্দেশ্য হলো, প্রথম তিন প্রকার শব্দে - যা মূলত বিশেষ্য - যদি খাফদ ঘটে, তবে তা কাসরাহর মাধ্যমেই হবে, আর চতুর্থ প্রকার শব্দে - যা মূলত ক্রিয়া - যদি জাজম ঘটে, তবে তা সুকুনের মাধ্যমেই হবে।(এবং উক্ত বিধান হতে বহির্ভূত রয়েছে) অর্থাৎ ইতিপূর্বে বর্ণিত নিয়ম থেকে (তিনটি বিষয়): প্রথম: (পরিপক্ব স্ত্রীবাচক বহুবচন), যা (কাসরাহর মাধ্যমে নাসাব প্রাপ্ত হয়), যেমন: «আমি ছাত্রীদের দেখেছি»; (এবং) দ্বিতীয়: (সেই বিশেষ্য যা রূপান্তরহীন), যা (ফাতহাহর মাধ্যমে খাফদ প্রাপ্ত হয়) অর্থাৎ যার জার ফাতহাহ দিয়ে হয়, যেমন: «আমি উমরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি»; (এবং) তৃতীয়: (শেষ বর্ণে রোগযুক্ত বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া), যা (শেষ বর্ণটি বিলুপ্ত করার মাধ্যমে জাজম প্রাপ্ত হয়), যেমন: «জায়েদ সিংহকে ভয় পায়নি।»(এবং যা অক্ষরের মাধ্যমে ই’রাব প্রাপ্ত হয় তা চার প্রকার): প্রথম (দ্বিবচন), (এবং) দ্বিতীয়: (পরিপক্ব পুংলিঙ্গ বহুবচন), (এবং) তৃতীয়: (পাঁচটি বিশেষ্য) যা মুদাফ অবস্থায় থাকে, (এবং) চতুর্থ: (পাঁচটি ক্রিয়া; আর সেগুলো হলো: ইয়াফ’আলানি, তাফ’আলানি, ইয়াফ’আলুনা, তাফ’আলুনা এবং তাফ’আলিনা)।(অতঃপর দ্বিবচনের ক্ষেত্রে: তা আলিফের মাধ্যমে রাফা প্রাপ্ত হয় এবং ইয়া-এর মাধ্যমে নাসাব ও খাফদ প্রাপ্ত হয়), যেমন: «দুজন লোক এসেছে», «আমি দুজন লোককে দেখেছি», এবং «আমি দুজন লোকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি», (আর পরিপক্ব পুংলিঙ্গ বহুবচনের ক্ষেত্রে:
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৭)
فَيُرْفَعُ بِالوَاوِ، وَيُنْصَبُ وَيُخْفَضُ بِاليَاءِ)، نَحْوُ: «جَاءَ المُعَلِّمُونَ»، وَ «رَأَيْتُ المُعَلِّمِينَ»، وَ «مَرَرْتُ بِالمُعَلِّمِينَ»، (وَأَمَّا الأَسْمَاءُ الخَمْسَةُ) المُضَافَةُ: (فَتُرْفَعُ بِالوَاوِ، وَتُنْصَبُ بِالأَلِفِ، وَتُخْفَضُ بِاليَاءِ)، نَحْوُ: «جَاءَ أَخُوكَ»، وَ «رَأَيْتُ أَخَاكَ»، وَ «مَرَرْتُ بِأَخِيكَ»، (وَأَمَّا الأَفْعَالُ الخَمْسَةُ: فَتُرْفَعُ بِالنُّونِ، وَتُنْصَبُ وَتُجْزَمُ بِحَذْفِهَا)؛ نَحْوُ: «يَذْهَبُونَ»، وَ «لَنْ يَذْهَبُوا»، وَ «لَمْ يَذْهَبُوا»، وَقِسْ عَلَيْهِ الأَفْعَالَ الأَرْبَعَةَ الأُخْرَى. (بَابُ الأَفْعَالِ)(الأَفْعَالُ) - كَمَا سَبَقَ ذِكْرُهَا - (ثَلَاثَةٌ: مَاضٍ، وَمُضَارِعٌ، وَأَمْرٌ، نَحْوُ: «ضَرَبَ») وَهُوَ المَاضِي، (وَ «يَضْرِبُ») وَهُوَ المُضَارِعُ، (وَ «اضْرِبْ») وَهُوَ الأَمْرُ.وَقَدْ سَبَقَ البَيَانُ بِأَنَّ: الفِعْلَ المَاضِيَ: هُوَ لأَمْرٍ وَقَعَ قَبْلَ النُّطْقِ بِهِ، وَالفِعْلَ المُضَارِعَ: لأَمْرٍ يَقَعُ عِنْدَ النُّطْقِ بِهِ، أَوْ سَيَقَعُ، وَفِعْلَ الأَمْرِ: لِأَمْرٍ سَيَقَعُ بَعْدَ النُّطْقِ بِهِ.أَمَّا أَحْكَامُ هَذِهِ الأَفْعَالِ:(فَالمَاضِي: مَفْتُوحُ الآخِرِ أَبَدًا)؛ نَحْوُ: «جَلَسَ» فِي قَوْلِكَ: «جَلَسَ زَيْدٌ»، وَمِثْلُهَا: «قَامَ»، وَ «كَتَبَ»، وَ «اسْتَخْرَجَ»، وَ «سَافَرَ».لَكِنْ قَدْ يَعْرِضُ لِلْمَاضِي عَارِضٌ يُغَيِّرُ حَرَكَةَ الفَتْحِ فِي آخِرِهِ؛ نَحْوُ «كَتَبْتُ» وَ «كَتَبُوا».فَالأَصْلُ فِي بَاءِ «كَتَبَ» الفَتْحُ، لَكِنَّهَا تَغَيَّرَتْ إِلَى السُّكُونِ فِي المِثَالِ الأَوَّلِ، وَإِلَى الضَّمِّ فِي المِثَالِ الثَّانِي، فَالأَوَّلُ بِسَبَبِ اتِّصَالِ المَاضِي بِضَمِيرِ رَفْعٍ مُتَحَرِّكٍ، وَالثَّانِي بِسَبَبِ اتِّصَالِهِ بِوَاوِ الجَمَاعَةِ.قَالَتْ طَائِفَةٌ مِنَ النَّحْوِيِّينَ: هُوَ مُقَدَّرٌ فِي الحَالَتَيْنِ، أَيْ مَبْنِيَّانِ عَلَى الفَتْحِ
(সুতরাং এটি ওয়াও দ্বারা রফ (رفع) প্রাপ্ত হয় এবং ইয়া দ্বারা নসব (নصب) ও জর (جر) প্রাপ্ত হয়), যেমন: «শিক্ষকগণ এসেছেন», «আমি শিক্ষকগণকে দেখেছি» এবং «আমি শিক্ষকগণের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি»; (আর আসমায়ে খামসাহ (الأَسْمَاءُ الخَمْسَةُ)) যখন তা মুদাফ (مضاف) হয়: (তখন তা ওয়াও দ্বারা রফ (رفع) প্রাপ্ত হয়, আলিফ দ্বারা নসব (نصب) প্রাপ্ত হয় এবং ইয়া দ্বারা জর (جر) প্রাপ্ত হয়), যেমন: «তোমার ভাই এসেছে», «আমি তোমার ভাইকে দেখেছি» এবং «আমি তোমার ভাইয়ের নিকট দিয়ে অতিক্রম করেছি»; (আর আফআলে খামসাহ (الأَفْعَالُ الخَمْسَةُ): এগুলো নুন দ্বারা রফ (رفع) প্রাপ্ত হয় এবং নুন বিলুপ্তির (حذف) মাধ্যমে নসব (নصب) ও জজম (جزم) প্রাপ্ত হয়); যেমন: «তারা যাচ্ছে», «তারা কখনোই যাবে না» এবং «তারা যায়নি», আর অন্য চারটি ক্রিয়াকেও এর ওপর কিয়াস (قياس) করুন। (ক্রিয়া পরিচ্ছেদ)(ক্রিয়া (الأفعال)) - যেমনটি ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে - (তিন প্রকার: অতীতকালীন (ماض), বর্তমানকালীন (مضارع) এবং আদেশসূচক (أمر), যেমন: «সে প্রহার করেছে») আর এটি হলো অতীতকালীন ক্রিয়া (ماض), (এবং «সে প্রহার করছে») আর এটি হলো বর্তমানকালীন ক্রিয়া (مضارع), (এবং «তুমি প্রহার করো») আর এটি হলো আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر)।ইতিপূর্বেই এটি স্পষ্ট করা হয়েছে যে: অতীতকালীন ক্রিয়া (ماض) হলো এমন বিষয়ের জন্য যা কথা বলার পূর্বে সংঘটিত হয়েছে, বর্তমানকালীন ক্রিয়া (مضارع) হলো এমন বিষয়ের জন্য যা কথা বলার সময় বা ভবিষ্যতে সংঘটিত হবে, এবং আদেশসূচক ক্রিয়া (أمر) হলো এমন বিষয়ের জন্য যা কথা বলার পরে সংঘটিত হবে।আর এই ক্রিয়াগুলোর বিধানসমূহ হলো:(অতীতকালীন ক্রিয়া (ماض) সর্বদা এর শেষ বর্ণে ফাতহা (فتح) বা জবর বিশিষ্ট হয়); যেমন: «বসেছে» আপনার এই উক্তিতে: «যায়েদ বসেছে», এবং অনুরূপভাবে: «দাঁড়িয়েছে», «লিখেছে», «বের করেছে» এবং «সফর করেছে»।তবে কখনো কখনো অতীতকালীন ক্রিয়ার (ماض) শেষে এমন কিছু আপতিত হতে পারে যা এর শেষ বর্ণের ফাতহা (فتح) হরকতকে পরিবর্তন করে দেয়; যেমন «আমি লিখেছি» এবং «তারা লিখেছে»।মূলত «লিখেছে» ক্রিয়াটির 'বা' বর্ণের মূল হরকত ছিল ফাতহা (فتح), কিন্তু তা প্রথম উদাহরণে সুকুন (سكون) এবং দ্বিতীয় উদাহরণে দম্মা (ضم) বা পেশ দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। প্রথমটি অতীতকালীন ক্রিয়ার (ماض) সাথে রফ (رفع) বিশিষ্ট সচল সর্বনাম (ضمير متحرك) যুক্ত হওয়ার কারণে এবং দ্বিতীয়টি ওয়াও আল-জামায়াহ (واو الجماعة) যুক্ত হওয়ার কারণে হয়েছে।ব্যাকরণবিদদের (النحويين) একটি দল বলেছেন: উভয় অবস্থায় ফাতহা (فتح) হরকতটি মূলত উহ্য (مقدر) থাকে, অর্থাৎ উভয়টিই ফাতহা (فتح) এর ওপর মাবনি (مبني)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৮)
المُقَدَّرِ، وَهَذَا ظَاهِرُ قَوْلِ المُصَنِّفِ.وَقَالَتْ طَائِفَةٌ أُخْرَى: بَلِ الأَوْلَى أَنْ يَكُونَ البِنَاءُ بِحَسَبِ اللَّفْظِ الظَّاهِرِ، فَـ «كَتَبَ» فِعْلٌ مَاضٍ مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ، وَ «كَتَبْتُ» مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ، وَ «كَتَبُوا» مَبْنِيٌّ عَلَى الضَّمِّ.(وَ) أَمَّا (الأَمْرُ) فَـ (مَجْزُومٌ أَبَدًا)، نَحْوُ: «اجْلِسْ»، وَ «قُمْ»، وَ «اكْتُبْ»، وَ «اسْتَخْرِجْ».وَقَوْلُ المُصَنِّفِ: «مَجْزُومٌ» يُشِيرُ إِلَى قَوْلِ طَائِفَةٍ بِأَنَّ فِعْلَ الأَمْرِ مُعْرَبٌ بِلَامٍ مَحْذُوفَةٍ، فَأَصْلُ «اجْلِسْ» عِنْدَهُمْ: «لِتَجْلِسْ»، وَلَيْسَ مَبْنِيًّا؛ فَإِنَّ الرَّفْعَ وَالنَّصْبَ وَالجَزْمَ وَالخَفْضَ - أَوِ الجَرَّ -: مُصْطَلَحَاتٌ لِلْمُعْرَبِ، فَتَقُولُ فِي الكَلِمَةِ المُعْرَبَةِ: «يَذْهَبَ» فَعْلٌ مُضَارِعٌ مَنْصُوبٌ بِالفَتْحَةِ، أَمَّا المَبْنِيُّ - نَحْوُ: «كَتَبَ» - فَتَقُولُ: «مَبْنِيٌّ عَلَى الفَتْحِ»، فَمُصْطَحَاتُ البِنَاءِ هِيَ: الضَّمُّ وَالفَتْحُ وَالسُّكُونُ وَالكَسْرَةُ.فَالرَّفْعُ فِي الإِعْرَابِ يُقَابِلُهُ الضَّمُّ فِي البِنَاءِ، وَالنَّصْبُ فِي الإِعْرَابِ يُقَابِلُهُ الفَتْحُ فِي البِنَاءِ، وَالجَزْمُ فِي الإِعْرَابِ يُقَابِلُهُ السُّكُونُ فِي البِنَاءِ، وَالخَفْضُ فِي الإِعْرَابِ يُقَابِلُهُ الكَسْرُ فِي البِنَاءِ.وَالقَوْلُ الثَّانِي - وَهُوَ الأَشْهَرُ -: أَنَّ فِعْلَ الأَمْرِ مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ.وَقَدْ يُفْهَمُ مِنْ كَلَامِ المُصَنِّفِ أَحَدُ أَمْرَيْنِ:الأَوَّلُ: أَنَّ رَأْيَهُ عَلَى الاخْتِيَارِ الأَوَّلِ، وَهَذَا ظَاهِرٌ مِنْ قَوْلِهِ: «مَجْزُومٌ».وَالثَّانِي: أَنَّ رَأْيَهُ عَلَى الاخْتِيَارِ الثَّانِي، فَيَكُونُ المُرَادُ: «مِثْلُ المَجْزُومِ»، أَيْ عَلَى مَا يُجْزَمُ بِهِ مُضَارِعُهُ؛ فَإِنَّ البِنَاءَ فِي فِعْلِ الأَمْرِ يُقَابِلُ الإِعْرَابَ فِي مُضَارِعِهِ.فَـ «اكْتُبْ»: فِعْلُ أَمْرٍ، مُضَارِعُهُ: «يَكْتُبْ»، فَفِعْلُ الأَمْرِ: مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ لأَنَّ مُضَارِعَهُ مَجْزُومٌ بِالسُّكُونِ.
উহ্য (المقدر), আর এটাই গ্রন্থকারের (المصنف) বক্তব্যের প্রকাশ্য অর্থ।অন্য একদল বলেছেন: বরং উত্তম হলো বাহ্যিক উচ্চারণের ওপর ভিত্তি করে মাবনি (مبني) হওয়া। সুতরাং 'কাতাবা' (كتب) হলো ফাতাহ-র (الفتح) ওপর মাবনি (مبني) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماض), 'কাতাবতু' (كتبت) সুকুন-এর (السكون) ওপর মাবনি (مبني) এবং 'কাতাবু' (كتبوا) যম্ম-র (الضم) ওপর মাবনি (مبني)।(এবং) আর (আদেশসূচক ক্রিয়া (الأمر)) সর্বদা (মাজযুম (مجزوم)), যেমন: 'ইজলিস' (اجلس), 'কুম' (قم), 'উকতুব' (اكتب) এবং 'ইস্তাখরিজ' (استخرج)।গ্রন্থকারের বক্তব্য: 'মাজযুম' (مجزوم) একটি দলের মতের প্রতি ইঙ্গিত করে যে, আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر) একটি উহ্য 'লাম'-এর কারণে মু'রাব (معرب) হয়। তাদের নিকট 'ইজলিস'-এর মূল রূপ হলো 'লিতাজলিস' (لتجلس), এবং এটি মাবনি (مبني) নয়। কেননা রাফা (الرفع), নাসাব (النصب), জজম (الجزم) এবং খাফদ (الخفض) —বা জার (الجر)— হলো মু'রাব (معرب) শব্দের পারিভাষিক রূপ। সুতরাং আপনি মু'রাব (معرب) শব্দের ক্ষেত্রে বলবেন: 'ইয়াজহাবা' (يذهب) হলো ফাতাহ (فتحة) দ্বারা নাসাবপ্রাপ্ত (منصوب) একটি মুদারে ক্রিয়া (فعل مضارع)। আর মাবনি (مبني) শব্দের ক্ষেত্রে —যেমন: 'কাতাবা' (كتب)— আপনি বলবেন: 'ফাতাহ-র ওপর মাবনি (مبني على الفتح)'। সুতরাং মাবনি (البناء) হওয়ার পরিভাষাগুলো হলো: যম্ম (الضم), ফাতাহ (الفتح), সুকুন (السكون) এবং কাসরা (الكسرة)।সুতরাং ই'রাবের (الإعراب) ক্ষেত্রে রাফা-র (الرفع) বিপরীতে বিনার (البناء) ক্ষেত্রে যম্ম (الضم) ব্যবহৃত হয়, ই'রাবে নাসাব-এর (النصب) বিপরীতে বিনায় ফাতাহ (الفتح) ব্যবহৃত হয়, ই'রাবে জজম-এর (الجزم) বিপরীতে বিনায় সুকুন (السكون) ব্যবহৃত হয় এবং ই'রাবে খাফদ-এর (الخفض) বিপরীতে বিনায় কাসরা (الكسر) ব্যবহৃত হয়।দ্বিতীয় মতটি —যা অধিক প্রসিদ্ধ— হলো: আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل الأمر) সুকুন-এর (السكون) ওপর মাবনি (مبني)।গ্রন্থকারের কথা থেকে দুটি বিষয়ের কোনো একটি বোঝা যেতে পারে:প্রথমটি: তার অভিমত প্রথম মতটির অনুকূলে, যা তার 'মাজযুম' (مجزوم) শব্দ ব্যবহারের দ্বারা স্পষ্ট হয়।দ্বিতীয়টি: তার অভিমত দ্বিতীয় মতটির অনুকূলে, ফলে উদ্দেশ্য হবে: 'মাজযুমের মতো', অর্থাৎ আদেশসূচক ক্রিয়া এমন বিষয়ের ওপর গঠিত (مبني) হয় যার দ্বারা এর মুদারে (المضارع) মাজযুম হয়। কেননা আদেশসূচক ক্রিয়ার মাবনি (البناء) হওয়া তার মুদারের ই'রাবের (الإعراب) সমান্তরাল।যেমন: 'উকতুব' (اكتب) হলো আদেশসূচক ক্রিয়া (فعل أمر), এর মুদারে (مضارع) হলো 'ইয়াকতুব' (يكتب)। সুতরাং আদেশসূচক ক্রিয়াটি সুকুন-এর (السكون) ওপর মাবনি (مبني), কারণ এর মুদারে সুকুন দ্বারা মাজযুম (مجزوم) হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وَكَذَلِكَ «ادْعُ»؛ فَهُوَ فِعْلُ أَمْرٍ، مُضَارِعُهُ: «يَدْعُ»؛ فَفِعْلُ الأَمْرِ مَبْنِيٌّ عَلَى حَذْفِ حَرْفِ العِلَّةِ لأَنَّ مُضَارِعَهُ مَجْزُومٌ بِحَذْفِ حَرْفِ العِلَّةِ.وَمِثْلُهُ «اكْتُبُوا»؛ فَهُوَ فِعْلُ أَمْرٍ، مُضَارِعُهُ: «يَكْتُبُوا»؛ فَفِعْلُ الأَمْرِ مَبْنِيٌّ عَلَى حَذْفِ النُّونِ لأَنَّ مُضَارِعَهُ مَجْزُومٌ بِحَذْفِ النُّونِ.وَاللهُ أَعْلَمُ بِمُرَادِ المُصَنِّفِ.وَخُلَاصَةُ الحُكْمِ: أَنَّ فِعْلَ الأَمْرِ مَبْنِيٌّ عَلَى السُّكُونِ، إِلَّا فِي ثَلَاثَةِ مَوَاضِعَ:الأَوَّلُ: فِي المُعْتَلِّ الآخِرِ؛ فَيُبْنَى عَلَى حَذْفِ حَرْفِ العِلَّةِ، نَحْوُ: «ادْعُ» وَ «اخْشَ» وَ «ارْمِ».وَالثَّانِي: إِذَا اتَّصَلَ بِهِ أَلِفُ الاثْنَيْنِ أَوْ وَاوُ الجَمَاعَةِ أَوِ يَاءُ المُخَاطَبَةِ؛ فَيُبْنَى عَلَى حَذْفِ النُّونِ، نَحْوُ: «اذْهَبَا» وَ «اذْهَبُوا» وَ «اذْهَبِي».وَالثَّالِثُ: إِذَا اتَّصَلَتْ بِهِ نُونُ التَّوْكِيدِ الخَفِيفَةُ أَوِ الثَّقِيلَةُ، نَحْوُ: «اذْهَبَنْ»، وَ «اذْهَبَنَّ».(وَ) الفِعْلُ (المُضَارِعُ) هُوَ: (مَا كَانَ فِي أَوَّلِهِ إِحْدَى الزَّوَائدِ الأَرْبَعِ الَّتِي يَجْمَعُهَا قَوْلُكَ: «أَنَيْتُ») بِمَعْنَى «أَدْرَكْتُ»، وَالمُرَادُ: أَحْرُفُ «أَنَيْتُ»، أَيِ الأَلِفُ وَالنُّونُ وَاليَاءُ وَالتَّاءُ، نَحْوُ: «أَذْهَبُ»، وَ «نَذْهَبُ»، وَ «يَذْهَبُ»، وَ «تَذْهَبُ»؛ أَلَا تَرَى أَنَّ أَصْلَ هَذِهِ الكَلِمَاتِ: «ذَهَبَ» - وَهُوَ الفِعْلُ المَاضِي -؟(وَهُوَ) أَيِ المُضَارِعُ: (مَرْفُوعٌ أَبَدًا، حَتَّى يَدْخُلَ عَلَيْهِ) عَامِلٌ (نَاصِبٌ، أَوْ) عَامِلٌ (جَازِمٌ).(فَالنَّوَاصِبُ) الَّتِي تَنْصِبُ المُضَارِعَ (عَشَرَةٌ، وَهِيَ):(«أَنْ»، و «لَنْ»، وَ «إِذَنْ»، وَ «كَيْ»، وَلَامُ كَيْ، وَلَامُ الجُحُودِ) الَّتِي تُسْبَقُ بِـ «مَا كَانَ» أَوْ «لَمْ يَكُنْ»، (وَ «حَتَّى»، وَالجَوَابُ بِالفَاءِ) المُفِيدَةِ للسَّبَبِيَّةِ، (وَ) الجَوَابُ
অনুরূপভাবে «আদ‘উ» (ادْعُ); এটি একটি নির্দেশসূচক ক্রিয়া (فعل أمر), এর বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক রূপ (مضارع) হলো: «ইয়াদ‘উ» (يَدْعُ); সুতরাং নির্দেশসূচক ক্রিয়াটি (فعل أمر) ইল্লত বর্ণ বিলোপের (حذف حرف العلة) ভিত্তিতে অপরিবর্তনীয় (مبني), কারণ এর মুদারে (مضارع) রূপটি ইল্লত বর্ণ বিলোপের (حذف حرف العلة) মাধ্যমে মাজজুম (مجزوم) হয়।আর এরই অনুরূপ হলো «উকতুবু» (اكْتُبُوا); এটি একটি নির্দেশসূচক ক্রিয়া (فعل أمر), এর মুদারে (مضارع) হলো: «ইয়াকতুবু» (يَكْتُبُوا); সুতরাং নির্দেশসূচক ক্রিয়াটি (فعل أمر) ‘নুন’ বিলোপের (حذف النون) ভিত্তিতে অপরিবর্তনীয় (مبني), কারণ এর মুদারে (مضارع) রূপটি ‘নুন’ বিলোপের (حذف النون) মাধ্যমে মাজজুম (مجزوم) হয়।গ্রন্থকারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন।বিধানের সারসংক্ষেপ হলো: নির্দেশসূচক ক্রিয়া (فعل أمر) তিনটি ক্ষেত্র ব্যতীত সর্বদা সুকুন (سكون)-এর ওপর অপরিবর্তনীয় (مبনি) থাকে:প্রথমত: যার শেষে ইল্লত বর্ণ রয়েছে (معتل الآخر); সেক্ষেত্রে এটি ইল্লত বর্ণ বিলোপের (حذف حرف العلة) ভিত্তিতে অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়, যেমন: «আদ‘উ» (ادْعُ), «ইখশা» (اخْشَ) এবং «ইরমি» (ارْمِ)।দ্বিতীয়ত: যখন এর সাথে দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين), বহুবচনের ওয়াও (واو الجماعة) অথবা সম্বোধনের ইয়া (ياء المخاطبة) যুক্ত হয়; তখন তা ‘নুন’ বিলোপের (حذف النون) ভিত্তিতে অপরিবর্তনীয় (مبني) হয়, যেমন: «ইজহাবা» (اذْهَبَا), «ইজহাবু» (اذْهَبُوا) এবং «ইজহাবি» (اذْهَبِي)।তৃতীয়ত: যখন এর সাথে নুনে তাকিদ খফিফাহ (نون التوكيد الخفيفة) অথবা সাকিলাহ (الثقيلة) যুক্ত হয়, যেমন: «ইজহাবান» (اذْهَبَنْ) এবং «ইজহাবান্না» (اذْهَبَنَّ)।(এবং) বর্তমান-ভবিষ্যৎকালসূচক ক্রিয়া (المضارع) হলো: (যার শুরুতে অতিরিক্ত চারটি বর্ণের কোনো একটি থাকে যা তোমার এই কথাটি দ্বারা একত্রিত করা হয়েছে: «আনাইতু» (أَنَيْتُ)) যার অর্থ ‘আমি পৌঁছেছি’, আর এখানে উদ্দেশ্য হলো: «আনাইতু» (أَنَيْتُ)-এর বর্ণসমূহ, অর্থাৎ আলিফ, নুন, ইয়া এবং তা। যেমন: «আযহাবু» (أَذْهَبُ), «নাযহাবু» (نَذْهَبُ), «ইয়াযহাবু» (يَذْهَبُ) এবং «তাযহাবু» (تَذْهَبُ); তুমি কি দেখছ না যে, এই শব্দগুলোর মূল হলো: «যাহাবা» (ذَهَبَ) - যা একটি অতীতকালীন ক্রিয়া (فعل ماضي)?(আর এটি) অর্থাৎ মুদারে (مضارع): (সর্বদা মারফু (مرفوع) হয়, যতক্ষণ না তার ওপর কোনো) নসব দানকারী আমিল (ناصب) (অথবা) জজম দানকারী আমিল (جازم) প্রবেশ করে।(সুতরাং নসব দানকারী অব্যয়সমূহ (النواصب)) যা মুদারে (مضارع)-কে নসব প্রদান করে তা (দশটি, আর সেগুলো হলো):(«আন» (أَنْ), «লান» (لَنْ), «ইযান» (إِذَنْ), «কাই» (كَيْ), লামে কাই, অস্বীকৃতিজ্ঞাপক লাম (لام الجحود)) যা «মা কানা» (مَا كَانَ) অথবা «লাম ইয়াকুন» (لَمْ يَكُنْ)-এর পরে আসে, (এবং «হাত্তা» (حَتَّى), ফা-এর মাধ্যমে উত্তর (الجواب بالفاء)) যা কারণ নির্দেশক (سببية)-র অর্থ প্রদান করে, (এবং) উত্তর
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২০)
بِـ (الوَاوِ) المُفِيدَةِ لِلْمَعِيَّةِ ، (وَ «أَوْ») الَّتِي بِمَعْنَى «إِلَّا» أَوْ «إِلَى».نَحْوُ: «يَذْهَبَ» فِي قَوْلِكَ: «لَنْ يَذْهَبَ زَيْدٌ»، وَقِسْ عَلَيْهِ: «أَنْ»، وَ «كَيْ»، وَلَامُ كَيْ، وَلَامُ الجُحُودِ، وَ «حَتَّى».أَمَّا «إِذَنْ» فَنَحْوُ: «إِذَنْ أُكْرِمَكَ»؛ جَوَابًا لِمَنْ قَالَ لَكَ: «أَزُورُكَ غَدًا»، فَلَا بُدَّ مِنْ ثَلَاثَةِ شُرُوطٍ لِنَصْبِ المُضَارِعِ بِهَا، وَهِيَ: الأوَّلُ: أَنْ تَكُونَ «إِذَنْ» فِي أَوَّلِ جُمْلَةِ الجَوَابِ، وَالثَّانِي: أَنْ تَكُونَ «إِذَنْ» مُتَّصِلَةً مَعَ الفِعْلِ المُضَارِعِ، وَيُسْتَثْنَى مِنْ ذَلِكَ: وُقُوعُ القَسَمِ بَيْنَهُمَا، أَوْ حَرْفِ نِدَاءٍ، أَوْ «لَا» النَّافِيَةِ، نَحْوُ: «إِذَنْ وَاللهِ أُكْرِمَكَ»، وَ «إِذَنْ يَا زَيْدُ أُكْرِمَكَ»، وَ «إِذَنْ لَا أُقَصِّرَ فِي وَاجِبِكَ»، وَقَدْ تَجْتَمِعُ مَعًا، فَتَقُولُ: «إِذَنْ وَاللهِ يَا زَيْدُ لَا أُقَصِّرَ فِي وَاجِبِكَ»، وَالثَّالِثُ: أَنْ يَكُونَ الفِعْلُ المُضَارِعُ دَالًّا عَلَى الاسْتِقْبَالِ.وَأَمَّا الفَاءُ السَّبَبِيَّةُ: فَهِيَ فَاءٌ مُتَّصِلَّةٌ بِالمُضَارِعِ، تَتَوَسَّطُ أَمْرَيْنِ، وَيَكُونُ مَا قَبْلَهَا - إِنْ وَقَعَ - سَبَبًا لِوقُوعِ مَا بَعْدَهَا.وَلَا تَتَحَقَّقُ هَذِهِ القَاعِدَةُ إِلَّا بِأَنْ تَكُونَ الفَاءُ مَسْبُوقَةً: بِنَفْيٍ، أَوْ أَمْرٍ، أَوْ نَهْيٍ، أَوِ اسْتِفْهَامٍ، أَوْ دُعَاءٍ، أَوْ تَحْضِيضٍ، أَوْ تَمَنٍّ، أَوْ تَرَجٍّ، أَوْ عَرْضٍ.1 - فَمِثَالُ النَّفْيِ: «لَمْ يَزُرْنِي» فِي قَوْلِكَ: «لَمْ يَزُرْنِي فَأُكْرِمَهُ»، أَلَا تَرَى أَنَّ الزِّيَارَةَ إِنْ وَقَعَتْ فَسَتَكُونُ سَبَبًا لِوقُوعِ الإِكْرَامِ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ زَارَنِي أَكْرَمْتُهُ».2 - وَمِثَالُ الأَمْرِ: «زُرْنِي» فِي قَوْلِكَ: «زُرْنِي فَأُحْسِنَ إِلَيْكَ»، أَلَا تَرَى أَنَّ الزِّيَارَةَ إِنْ وَقَعَتْ فَسَتَكُونُ سَبَبًا لِوُقُوعِ الإِحْسَانِ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ زُرْتَنِي أَحْسَنْتُ إِلَيْكَ».3 - وَمِثَالُ النَّهْيِ: «لَا تَهْجُرْنِي» فِي قَوْلِكَ: «لَا تَهْجُرْنِي فَأُسِيءَ إِلَيْكَ»، أَلَا تَرَى أَنَّ الهِجْرَانَ إِنْ وَقَعَ فَسَيَكُونُ سَبَبًا لِوُقُوعِ الإِسَاءَةِ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ هَجَرْتَنِي أَسَأْتُ إِلَيْكَ».
সাথীত্ববোধক (المعية) ‘ওয়াও’ এর মাধ্যমে, এবং ‘আও’ (أو) যা ‘ব্যতীত’ (إلا) অথবা ‘পর্যন্ত’ (إلى) অর্থে ব্যবহৃত হয়।উদাহরণস্বরূপ: আপনার কথা “যায়েদ কখনই যাবে না”-তে “যাবে” (يذهب) শব্দটি; এবং এর ওপর ভিত্তি করে কিয়াস বা তুলনা করুন: ‘আন’ (أن), ‘কাই’ (كي), ‘লামু কাই’ (لام كي), অস্বীকারসূচক লাম (لام الجحود) এবং ‘হাত্তা’ (حتى)-কে।আর ‘ইজান’ (إذن)-এর উদাহরণ হলো: “তাহলে আমি তোমাকে সম্মানিত করব”; এটি সেই ব্যক্তির কথার উত্তরে (جواب) বলা হবে যে আপনাকে বলল: “আমি আগামীকাল তোমার সাথে সাক্ষাৎ করব”। ‘ইজান’ দ্বারা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع)-কে নসব (نصب) প্রদান করার জন্য তিনটি শর্ত থাকা আবশ্যক। সেগুলো হলো: প্রথমত: ‘ইজান’ উত্তরসূচক বাক্যের শুরুতে থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত: ‘ইজান’ শব্দটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع)-এর সাথে সরাসরি সংযুক্ত (متصلة) থাকতে হবে; তবে এ ক্ষেত্রে উভয়ের মাঝে শপথ (قسم), আহ্বানসূচক অব্যয় (حرف نداء) অথবা না-বোধক (نافية) ‘লা’ এর উপস্থিতি ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে। যেমন: “তাহলে আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে সম্মানিত করব”, “তাহলে হে যায়েদ, আমি তোমাকে সম্মানিত করব”, এবং “তাহলে আমি তোমার পাওনা আদায়ে কোনো ত্রুটি করব না”। কখনো এই সবগুলো একত্রেও আসতে পারে, যেমন আপনি বলতে পারেন: “তাহলে আল্লাহর কসম, হে যায়েদ, আমি তোমার পাওনা আদায়ে কোনো ত্রুটি করব না”। তৃতীয় শর্ত হলো: বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع) দ্বারা ভবিষ্যৎ কাল (استقبال) বোঝাতে হবে।আর কারণবাচক ফা (الفاء السببية): এটি এমন একটি ‘ফা’ যা বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া (مضارع)-এর সাথে যুক্ত থাকে এবং দুটি বিষয়ের মাঝে আসে। এর নিয়ম হলো, পূর্বের বিষয়টি সংঘটিত হলে তা পরের বিষয়টি ঘটার কারণ (سبب) হিসেবে গণ্য হয়।এই নিয়মটি ততক্ষণ কার্যকর হয় না যতক্ষণ না এই ‘ফা’-এর পূর্বে কোনো নেতিবাচক (نفي), নির্দেশ (أمر), নিষেধ (نهي), প্রশ্ন (استفهام), প্রার্থনা (دعاء), বিশেষ উৎসাহদান (تحضيض), অসম্ভব আকাঙ্ক্ষা (تمن), সম্ভবপর প্রত্যাশা (ترج) অথবা বিনম্র প্রস্তাব (عرض) থাকে।১ - নেতিবাচক (نفي)-এর উদাহরণ: আপনার কথা “সে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেনি যাতে আমি তাকে সম্মান করতে পারি”-তে “সে আমার সাথে সাক্ষাৎ করেনি” অংশটি। আপনি কি দেখছেন না যে, সাক্ষাৎ যদি সংঘটিত হতো তবে তা সম্মান করার কারণ হতো? এর নিহিত অর্থ হলো: “যদি সে আমার সাথে সাক্ষাৎ করত, তবে আমি তাকে সম্মান করতাম।”২ - নির্দেশ (أمر)-এর উদাহরণ: আপনার কথা “আমার সাথে সাক্ষাৎ করো যাতে আমি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করতে পারি”-তে “আমার সাথে সাক্ষাৎ করো” অংশটি। আপনি কি দেখছেন না যে, সাক্ষাৎ যদি ঘটে তবে তা অনুগ্রহ করার কারণ হবে? এর নিহিত অর্থ হলো: “যদি তুমি আমার সাথে সাক্ষাৎ করো, তবে আমি তোমার প্রতি অনুগ্রহ করব।”৩ - নিষেধ (نهي)-এর উদাহরণ: আপনার কথা “আমাকে বর্জন করো না, পাছে আমি তোমার প্রতি মন্দ আচরণ করি”-তে “আমাকে বর্জন করো না” অংশটি। আপনি কি দেখছেন না যে, বর্জন করা বা ছেড়ে যাওয়া যদি ঘটে তবে তা মন্দ আচরণের কারণ হবে? এর নিহিত অর্থ হলো: “যদি তুমি আমাকে বর্জন করো, তবে আমি তোমার প্রতি মন্দ আচরণ করব।”
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২১)
4 - وَمِثَالُ الاسْتِفْهَامِ: «أَيْنَ» فِي قَوْلِكَ: «أَيْنَ زَيْدٌ فَنُحَدِّثَهُ»، أَلَا تَرَى أَنَّ حُضُورَ زَيْدٍ إِنْ وَقَعَ فَسَيَكُونُ سَبَبًا لِلْحَدِيثِ مَعَهُ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ حَضَرَ زَيْدٌ حَدَّثْنَاهُ».5 - وَمِثَالُ الدُّعَاءِ: «رَزَقَكَ اللهُ» فِي قَوْلِكَ: «رَزَقَكَ اللهُ مَالًا فَتَتَّسِعَ بِهِ»، أَلَا تَرَى أَنَّ الرِّزْقَ إِنْ وَقَعَ فَسَيَكُونُ سَبَبًا لِوُقُوعِ الاتِّسَاعِ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ رَزَقَكَ اللهُ مَالًا اتَّسَعْتَ بِهِ».6 - وَمِثَالُ التَّحْضِيضِ: «لَوْلَا» فِي قَوْلِكَ: «لَوْلَا أَتَيْتَنِي فَأُكْرِمَكَ»، أَلَا تَرَى أَنَّ الإِتْيَانَ إِنْ وَقَعَ فَسَيَكُونُ سَبَبًا لِوُقُوعِ الإِكْرَامِ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ أَتْيَتَنِي أَكْرَمْتُكَ».7 - وَمِثَالُ التَّمَنِّي: «لَيْتَ» فِي قَوْلِكَ: «لَيْتَ زَيْدًا عِنْدَنَا فَنُكْرِمَهُ»، أَلَا تَرَى أَنَّ حُضُورَ زَيْدٍ إِنْ وَقَعَ فَسَيَكُونُ سَبَبًا لِوُقُوعِ الإِكْرَامِ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ حَضَرَ زَيْدٌ عِنْدَنَا أَكْرَمْنَاهُ».8 - وَمِثَالُ التَّرَجِّي: «لَعَلِّي» فِي قَوْلِكَ: «لَعَلِّي أَزُورُهُ فَيُكْرِمَنِي»، أَلَا تَرَى أَنَّ الزِّيَارَةَ إِنْ وَقَعَتْ فَسَتَكُونُ سَبَبًا لِوُقُوعِ الإِكْرَامِ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ زُرْتُهُ أَكْرَمَنِي».9 - وَمِثَالُ العَرْضِ: «أَلَا» فِي قَوْلِكَ: «أَلَا تَأْتِينِي فَأُكْرِمَكَ»، أَلَا تَرَى أَنَّ الإِتْيَانَ إِنْ وَقَعَ فَسَيَكُونُ سَبَبًا لِوُقُوعِ الإِكْرَامِ؟ وَالتَّقْدِيرُ: «إِنْ أَتَيْتَنِي أَكْرَمْتُكَ».أَمَّا وَاوُ المَعِيَّةِ: فَهِيَ وَاوٌ تُفِيدُ مَعْنَى «مَعَ»، مُتَصِلَّةٌ بِالمُضَارِعِ، تَتَوَسَّطُ أَمْرَيْنِ لَمْ يَقَعَا، يَكُونُ مَا بَعْدَهَا مُصَاحِبًا لِمَا قَبْلَهَا فِي زَمَنٍ وَاحِدٍ، وَلَا يَسْبِقُ أَحَدُهُمَا الآخَرَ.وَأَحْكَامُهَا هِيَ أَحْكَامُ الفَاءِ السَّبَبِيَّةِ، وَتَقْرِيبُهَا: بِأَنْ يَنْضَافَ إِلَى الجُمْلَةِ: «فِي الوَقْتِ نَفْسِهِ»، نَحْوُ: «وَتَأْخُذَ» فِي قَوْلِكَ: «لَا تَضْرِبْ زَيْدًا وَتَأَخُذَ مَالَهُ»، فَالتَّقْدِيرُ: «لَا تَضْرِبْ زَيْدًا وَتَأْخُذَ مَالَهُ فِي الوَقْتِ نَفْسِهِ»، أَلَا تَرَى أَنَّ أَخْذَ المَالِ مُصَاحِبٌ
4 - জিজ্ঞাসার উদাহরণ: আপনার কথা "জায়েদ কোথায় যাতে আমরা তার সাথে আলোচনা করতে পারি" এর মধ্যে "কোথায়" শব্দটি। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, জায়েদের উপস্থিতি যদি ঘটে তবে তা তার সাথে আলোচনার কারণ হবে? আর এর বিশ্লেষিত রূপ হলো: "যদি জায়েদ উপস্থিত হয়, তবে আমরা তার সাথে আলোচনা করব।"5 - দোয়ার উদাহরণ: আপনার কথা "আল্লাহ আপনাকে সম্পদ দান করুন যাতে আপনি সচ্ছল হতে পারেন" এর মধ্যে "আল্লাহ আপনাকে দান করুন" অংশটি। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, রিজিক লাভ যদি ঘটে তবে তা সচ্ছলতা অর্জনের কারণ হবে? আর এর বিশ্লেষিত রূপ হলো: "যদি আল্লাহ আপনাকে সম্পদ দান করেন, তবে আপনি সচ্ছল হবেন।"6 - উদ্বুদ্ধকরণের উদাহরণ: আপনার কথা "আপনি কেন আমার কাছে আসলেন না যাতে আমি আপনাকে আপ্যায়ন করতে পারি" এর মধ্যে "কেন নয়" শব্দটি। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, আসা যদি ঘটে তবে তা আপ্যায়নের কারণ হবে? আর এর বিশ্লেষিত রূপ হলো: "যদি আপনি আমার কাছে আসতেন, তবে আমি আপনাকে আপ্যায়ন করতাম।"7 - কামনার উদাহরণ: আপনার কথা "হায়! জায়েদ যদি আমাদের কাছে থাকত তবে আমরা তাকে আপ্যায়ন করতাম" এর মধ্যে "হায়" শব্দটি। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, জায়েদের উপস্থিতি যদি ঘটে তবে তা আপ্যায়নের কারণ হবে? আর এর বিশ্লেষিত রূপ হলো: "যদি জায়েদ আমাদের কাছে উপস্থিত থাকত, তবে আমরা তাকে আপ্যায়ন করতাম।"8 - প্রত্যাশার উদাহরণ: আপনার কথা "সম্ভবত আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করব ফলে সে আমাকে আপ্যায়ন করবে" এর মধ্যে "সম্ভবত আমি" শব্দটি। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, সাক্ষাৎ যদি ঘটে তবে তা আপ্যায়নের কারণ হবে? আর এর বিশ্লেষিত রূপ হলো: "যদি আমি তার সাথে সাক্ষাৎ করি, তবে সে আমাকে আপ্যায়ন করবে।"9 - প্রস্তাবের উদাহরণ: আপনার কথা "আপনি কি আমার কাছে আসবেন না যাতে আমি আপনাকে আপ্যায়ন করতে পারি?" এর মধ্যে "আপনি কি... না" শব্দটি। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, আসা যদি ঘটে তবে তা আপ্যায়নের কারণ হবে? আর এর বিশ্লেষিত রূপ হলো: "যদি আপনি আমার কাছে আসেন, তবে আমি আপনাকে আপ্যায়ন করব।"পক্ষান্তরে ওয়াও আল-মায়িয়াহ: এটি এমন এক ওয়াও যা 'সাথে' অর্থ প্রদান করে এবং মুদারে ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়। এটি এমন দুটি বিষয়ের মাঝে আসে যা এখনো ঘটেনি; এর পরবর্তী বিষয়টি পূর্ববর্তী বিষয়ের সাথে একই সময়ে সংঘটিত হয় এবং তাদের একটি অন্যটির আগে সংঘটিত হয় না।এর বিধানগুলো ফা-আস-সাবাবিয়্যাহ-এর বিধানের মতোই। এর মর্মার্থ বুঝার সহজ উপায় হলো বাক্যের সাথে "একই সময়ে" কথাটি যোগ করা। যেমন: আপনার কথা "জায়েদকে প্রহার করো না এবং একই সাথে তার সম্পদ গ্রহণ করো না" এর মধ্যে "এবং গ্রহণ করা" অংশটি। এর বিশ্লেষিত রূপ হলো: "জায়েদকে প্রহার করো না এবং একই সময়ে তার সম্পদ গ্রহণ করো না।" আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে, সম্পদ গ্রহণ করাটি সহগামী...
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২২)
لِضَرْبِ زَيْدٍ وَلَا يَسْبِقُ أَحَدُهُمَا الآخَرَ؟وَأَمَّا «أَوْ» فَهِيَ الَّتِي بِمَعْنَى «إِلَّا» أَوْ «إِلَى»، نَحْوُ قَوْلِكَ: «لَأَضْرِبَنَّ زَيْدًا أَوْ يَدْرُسَ»، وَ «اجْتَهِدْ فِي الدِّرَاسَةِ أَوْ تَنْجَحَ»، فَالمِثَالُ الأَوَّلُ بِتَقْدِيرِ: «لَأَضْرِبَنَّ زَيْدًا، إِلَّا أَنْ يَدْرُسَ»، وَفِي الثَّانِي: «اجْتَهِدْ فِي الدِّرَاسَةِ إِلَى أَنْ تَنْجَحَ».(وَالجَوَازِمُ) الَّتِي تَجْزِمُ الفِعْلَ المُضَارِعَ: (ثَمَانِيَةَ عَشَرَ، وَهِيَ) عَلَى قِسْمَيْنِ: قِسْمٌ يَجْزِمُ فِعْلًا وَاحِدًا، وَقِسْمٌ يَجْزِمُ فِعْلَيْنِ.أَمَّا القِسْمُ الأَوَّلُ فَسِتَّةٌ، وَهِيَ: الأَوَّلُ وَالثَّانِي: («لَمْ»، وَ «لَمَّا»، وَ) مِنْهُمَا: («أَلَمْ»، وَ «أَلَمَّا»، وَ) الثَّالِثُ: (لَامُ الأَمْرِ، وَ) الرَّابِعُ: لَامُ (الدُّعَاءِ، وَ) الخَامِسُ: («لَا» فِي النَّهْيِ، وَ) السَّادِسُ: «لَا» فِي (الدُّعَاءِ)، نَحْوُ: «لَمْ يَذْهَبْ زَيْدٌ».(وَ) أَمَّا القِسْمُ الثَّانِي فَاثْنَا عَشَرَ، وَهِيَ: («إِنْ») وَهُوَ الأَوَّلُ، (وَ «مَا») وَهُوَ الثَّانِي، (وَ «مَنْ») وَهُوَ الثَّالِثُ، (وَ «مَهْمَا») وَهُوَ الرَّابِعُ، (وَ «إِذْمَا») وَهُوَ الخَامِسُ، (وَ «أَيُّ») وَهُوَ السَّادِسُ، (وَ «مَتَى») وَهُوَ السَّابِعُ، (وَ «أَيَّانَ») وَهُوَ الثَّامِنُ، (وَ «أَيْنَ») وَهُوَ التَّاسِعُ، (وَ «أَنَّى») وَهُوَ العَاشِرُ، (وَ «حَيْثُمَا») وَهُوَ الحَادِيَ عَشَرَ، (وَ «كَيْفَمَا») وَهُوَ الثَّانِيَ عَشَرَ، نَحْوُ: «إِنْ تَدْرُسْ تَنْجَحْ».(وَ) أَمَّا («إِذَا») فَـ (فِي الشِّعْرِ خَاصَّةً). (بَابُ مَرْفُوعَاتِ الأَسْمَاءِ)(المَرْفُوعَاتُ سَبْعَةٌ، وَهِيَ): الأَوَّلُ: (الفَاعِلُ، وَ) الثَّانِي: (المَفْعُولُ الَّذِي لَمْ يُسَمَّ فَاعِلُهُ) أَيْ نَائِبُ الفَاعِلِ، (وَ) الثَّالِثُ: (المُبْتَدَأُ، وَ) الرَّابِعُ: (خَبَرُهُ) أَيْ خَبَرُ المُبْتَدَإِ، (وَ) الخَامِسُ: (اسْمُ «كَانَ» وَأَخَوَاتِهَا، وَ) السَّادِسُ: (خَبَرُ «إِنَّ» وَأَخَوَاتِهَا، وَ) السَّابِعُ: (التَّابِعُ لِلْمَرْفُوعِ) أَيِ النَّعْتُ المَرْفُوعُ، وَالعَطْفُ المَرْفُوعُ، وَالتَّوْكِيدُ المَرْفُوعُ، وَالبَدَلُ المَرْفُوعُ، فَالتَّابِعُ: هُوَ المُعْرَبُ الَّذِي يَتْبَعُ مَا قَبْلَهُ فِي
যায়েদকে প্রহার করার জন্য, এবং তাদের একজন অন্যজনের অগ্রবর্তী হবে না?আর 'অথবা' (أو) শব্দটি 'ব্যতীত' (إلا) কিংবা 'পর্যন্ত' (إلى) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়। যেমন আপনার উক্তি: "আমি অবশ্যই যায়েদকে প্রহার করব অথবা (যদি না) সে পাঠ গ্রহণ করে" এবং "অধ্যয়নে পরিশ্রম করো অথবা (যতক্ষণ না) তুমি সফল হও"। এখানে প্রথম উদাহরণটির মূল উদ্দেশ্য হলো: "আমি অবশ্যই যায়েদকে প্রহার করব, যদি না সে পাঠ গ্রহণ করে", আর দ্বিতীয় উদাহরণটির ক্ষেত্রে: "অধ্যয়নে পরিশ্রম করো যতক্ষণ না তুমি সফল হও"।(জাযম দানকারী অব্যয়সমূহ (الجوازم)) যা ফেলে মুদারে-কে জাযম বা প্রশান্তি প্রদান করে, তা হলো (আঠারোটি)। এগুলো (দুই প্রকার): এক প্রকার যা একটি মাত্র ক্রিয়াকে জাযম প্রদান করে এবং অন্য প্রকার যা দুটি ক্রিয়াকে জাযম প্রদান করে।প্রথম প্রকারটি ছয়টি, সেগুলো হলো: প্রথম ও দ্বিতীয়: ('লাম' (لم) ও 'লাম্মা' (لما)) এবং এ দুটি থেকে উদ্ভূত: ('আলাম' (ألم) ও 'আলাম্মা' (ألما))। তৃতীয়টি হলো: (আদেশসূচক লাম (لام الأمر)), চতুর্থটি হলো: (প্রার্থনাসূচক লাম (لام الدعاء)), পঞ্চমটি হলো: (নিষেধাজ্ঞামূলক 'লা' (لا في النهي)) এবং ষষ্ঠটি হলো: (প্রার্থনাসূচক 'লা' (لا في الدعاء))। যেমন: "যায়েদ যায়নি"।(এবং) দ্বিতীয় প্রকারটি বারোটি, সেগুলো হলো: ('ইন' (إن)) যা প্রথম, ('মা' (ما)) যা দ্বিতীয়, ('মান' (من)) যা তৃতীয়, ('মাহমা' (مهما)) যা চতুর্থ, ('ইজমা' (إذما)) যা পঞ্চম, ('আইয়ুন' (أي)) যা ষষ্ঠ, ('মাতা' (متى)) যা সপ্তম, ('আইয়ানা' (أيان)) যা অষ্টম, ('আইনা' (أين)) যা নবম, ('আন্না' (أنى)) যা দশম, ('হাইসুমা' (حيثما)) যা একাদশ এবং ('কাইফামা' (كيفما)) যা দ্বাদশ। যেমন: "যদি তুমি পড়াশোনা করো, তবে সফল হবে"।(এবং) আর 'ইজা' (إذا) কেবল (কাব্যের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট)। (ইসিমের রফ' বা পেশযুক্ত অবস্থাসমূহের অধ্যায়)(রফা বা পেশযুক্ত পদসমূহ সাতটি (المرفوعات), সেগুলো হলো): প্রথম: (কর্তা (الفاعل)), দ্বিতীয়: (এমন কর্মপদ যার কর্তার নাম উল্লেখ করা হয়নি (المفعول الذي لم يسم فاعله)) অর্থাৎ নায়েবে ফায়েল, তৃতীয়: (উদ্দেশ্য বা মুবতাদা (المبتدأ)), চতুর্থ: (তার সংবাদ বা খবর (خبره)) অর্থাৎ মুবতাদার সংবাদ, পঞ্চম: ('কানা' (كان) ও তার সমগোত্রীয় শব্দাবলির ইসিম), ষষ্ঠ: ('ইন্না' (إن) ও তার সমগোত্রীয় শব্দাবলির খবর), এবং সপ্তম: (রফা বা পেশযুক্ত পদের অনুসারী (التابع للمرفوع)) অর্থাৎ রফাযুক্ত গুণবাচক শব্দ (ন'ত), রফাযুক্ত সংযোজক অব্যয় (আতিফ), রফাযুক্ত তাকিদ এবং রফাযুক্ত বদল। সুতরাং অনুসারী (التابع) হলো সেই রূপান্তরশীল শব্দ যা তার পূর্ববর্তী শব্দের অনুসরণ করে...
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الإِعْرَابِ رَفْعًا وَنَصْبًا وَخَفْضًا وَجَزْمًا، (وَهُوَ) أَيِ التَّابِعُ: (أَرْبَعَةُ أَشْيَاءَ) - كَمَا سَبَقَ ذِكْرُهَا -: الأَوَّلُ: (النَّعْتُ، وَ) الثَّانِي: (العَطْفُ، وَ) الثَّالِثُ: (التَّوْكِيدُ، وَ) الرَّابِعُ: (البَدَلُ)، وَسَيَأْتِي ذِكْرُهَا فِي أَبْوَابِهَا. (بَابُ الفَاعِلِ)مِثَالُهُ: «زَيْدٌ» فِي قَوْلِكَ: «جَلَسَ زَيْدٌ».فَـ (الفَاعِلُ هُوَ: الاسْمُ) لَا الفِعْلُ وَلَا الحَرْفُ، (المَرْفُوعُ) لَا المَنْصُوبُ وَلَا المَخْفُوضُ، (المَذْكُورُ قَبْلَهُ) أَيْ قَبْلَ الفَاعِلِ (فِعْلُهُ)، أَيْ فِعْلٌ ثُمَّ فَاعِلٌ وَإِنْ فَصَلَ بَيْنَهُمَا شَيْءٌ، وَلَا يُرَادُ بِذَلِكَ أَنَّهُ لَا يَصِحُّ أَنْ يُذْكَرَ الفَاعِلُ قَبْلَ الفِعْلِ، إِنَّمَا لَهُ حُكْمٌ إِعْرَابِيٌّ آخَرُ، وَسَيَأْتِي بَيَانُهُ.وَفِي هَذَا التَّعْرِيفِ: رُكْنَانِ، وَبَيَانٌ، وَشَرْطٌ، وَحُكْمٌ.أَمَّا الرُّكْنَانِ فَهُمَا: الفِعْلُ وَالفَاعِلُ؛ نَحْوُ: «سَافَرَ زَيْدٌ» وَ «مَاتَ زَيْدٌ»، فَالأَوَّلُ: زَيْدٌ فَاعِلٌ لِأَنَّهُ المُسَافِرُ، وَالثَّانِي: زَيْدٌ فَاعِلٌ لِأَنَّهُ المَيِّتُ.وَمِثْلُهُ: «رَكِبَ زَيْدٌ الفَرَسَ»، فَـ «زَيْدٌ» فَاعِلٌ لأَنَّهُ الرَّاكِبُ، أَمَّا الفَرَسُ فَهُوَ المَرْكُوبُ، أَلَا تَرَى أَنَّ زَيْدًا هُوَ الَّذِي عَلَا الفَرَسَ وَقَعَدَ عَلَيْهَا؟ فَالفَرَسُ مَفْعُولٌ بِهِ، وَسَيَأْتِي بَيَانُهُ فِي المَنْصُوبَاتِ.أَمَّا البَيَانُ فَهُوَ: أَنَّ الفَاعِلَ اسْمٌ؛ إِذْ كَيْفَ يَصْلُحُ أَنَّ الَّذِي يَفْعَلُ الفِعْلَ هُوَ فِعْلٌ آخَرُ أَوْ حَرْفٌ؟ أَلَا تَرَى أَنَّ قَوْلَكَ: «قَامَ جَلَسَ» لَا يَصِحُّ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ أَنَّ جَلَسَ هُوَ الَّذِي قَامَ؟ وَمِثْلُهُ إِذَا قُلْتَ: «قَامَ فِي»؟أَمَّا الشَّرْطُ: فَهُوَ أَنْ يَكُونَ الفِعْلُ قَبْلَ الفَاعِلِ - وَإِنْ فَصَلَ بَيْنَهُمَا شَيْءٌ -، نَحْوُ: «قَامَ زَيْدٌ»، وَإِلَّا يُصَيَّرُ الفَاعِلُ مُبْتَدَءًا، نَحْوُ: «زَيْدٌ قَامَ»، وَسَيَأْتِي ذِكْرُهُ فِي بَابِهِ.
ই’রাব (الإِعْرَابُ) বা শব্দরূপান্তরের ক্ষেত্রে রফ’ (رَفْعًا), নসব (نَصْبًا), খফদ (خَفْضًا) এবং জজম (جَزْمًا) অনুযায়ী, আর তা অর্থাৎ অনুসারী (التَّابِعُ) হলো চারটি বিষয়—যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে—প্রথম: গুণবাচক শব্দ (النَّعْتُ), দ্বিতীয়: সংযোজক শব্দ (العَطْفُ), তৃতীয়: দৃঢ়তা জ্ঞাপক শব্দ (التَّوْكِيدُ), এবং চতুর্থ: স্থলাভিষিক্ত শব্দ (البَدَلُ)। অচিরেই এগুলোর আলোচনা স্ব-স্ব অধ্যায়ে আসবে। (কর্তার অধ্যায়)এর উদাহরণ হলো: আপনার উক্তি "জায়েদ বসেছে"-এর মধ্যে "জায়েদ" শব্দটি।সুতরাং কর্তা (الفَاعِلُ) হলো: সেই বিশেষ্য (الاسْمُ)—ক্রিয়া বা অব্যয় নয়, যা রফ’যুক্ত (المَرْفُوعُ)—নসবযুক্ত বা খফদযুক্ত নয়, যার পূর্বে—অর্থাৎ কর্তার পূর্বে—তার ক্রিয়া (فِعْلُهُ) উল্লেখ করা হয়। অর্থাৎ প্রথমে ক্রিয়া আসবে এবং এরপর কর্তা আসবে, যদিও উভয়ের মাঝে অন্য কোনো শব্দ ব্যবধান ঘটায়। এর দ্বারা এমনটি উদ্দেশ্য নয় যে, ক্রিয়ার পূর্বে কর্তা উল্লেখ করা শুদ্ধ নয়; বরং সেক্ষেত্রে তার অন্য একটি ই’রাবি বিধান প্রযোজ্য হবে, যার বর্ণনা অচিরেই আসবে।এই সংজ্ঞার মধ্যে রয়েছে: দুটি রুকন (মূল উপাদান), একটি ব্যাখ্যা, একটি শর্ত এবং একটি হুকুম (বিধান)।রুকন দুটি হলো: ক্রিয়া (الفِعْلُ) এবং কর্তা (الفَاعِلُ); যেমন: "জায়েদ সফর করেছে" এবং "জায়েদ মারা গেছে"। প্রথম উদাহরণে "জায়েদ" হলো কর্তা (الفَاعِلُ), কারণ সে সফরকারী। দ্বিতীয় উদাহরণে "জায়েদ" হলো কর্তা (الفَاعِلُ), কারণ সে মৃত ব্যক্তি।অনুরূপ উদাহরণ: "জায়েদ ঘোড়ায় চড়েছে"। এখানে "জায়েদ" হলো কর্তা (الفَاعِلُ), কারণ সে আরোহী। আর ঘোড়াটি হলো আরোহণের বস্তু। আপনি কি দেখছেন না যে, জায়েদই ঘোড়ার উপরে উঠেছে এবং তার উপর বসেছে? সুতরাং ঘোড়াটি হলো কর্ম (المَفْعُولُ بِهِ), অচিরেই নসবযুক্ত শব্দাবলির (المَنْصُوبَاتِ) অধ্যায়ে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।ব্যাখ্যার বিষয়টি হলো: কর্তা (الفَاعِلُ) সর্বদা একটি বিশেষ্য (الاسْمُ) হয়; কেননা যে ক্রিয়া সম্পাদন করে সে অন্য কোনো ক্রিয়া (الفِعْلُ) বা অব্যয় (الحَرْفُ) হওয়া কীভাবে সম্ভব? আপনি কি দেখেন না যে, আপনার উক্তি "দাঁড়িয়েছে বসেছে" শুদ্ধ নয়, যদি আপনি বুঝাতে চান যে "বসেছে" শব্দটিই "দাঁড়িয়েছে"? অনুরূপভাবে যদি আপনি বলেন "দাঁড়িয়েছে মধ্যে"?শর্তটি হলো: ক্রিয়াটি অবশ্যই কর্তার পূর্বে হতে হবে—যদিও উভয়ের মাঝে অন্য কিছু ব্যবধান ঘটায়—যেমন: "জায়েদ দাঁড়িয়েছে"। অন্যথায় কর্তাটি মুবতাদা বা উদ্দেশ্য (المُبْتَدَأُ) হিসেবে পরিবর্তিত হয়ে যাবে, যেমন: "জায়েদ দাঁড়িয়েছে"। অচিরেই এ বিষয়ে তার নিজস্ব অধ্যায়ে আলোচনা আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
أَمَّا الحُكْمُ: فَهُوَ أَنَّ الفَاعِلَ مَرْفُوعٌ، لَا مَنْصُوبٌ وَلَا مَخْفُوضٌ.(وَهُوَ) أَيِ الفَاعِلُ: (عَلَى قِسْمَيْنِ): الأَوَّلُ: فَاعِلٌ (ظَاهِرٌ ، وَ) الثَّانِي: فَاعِلٌ (مُضْمَرٌ).(فَـ) الفَاعِلُ (الظَّاهِرُ): هُوَ مَا لَا يَنُوبُ عَنْهُ شَيْءٌ، فَهُوَ مَوْجُودٌ فِي الجُمْلَةِ بِلَفْظِهِ كَمَا هُوَ، وَفِعْلُهُ: مَاضٍ أَوْ مُضَارِعٌ.وَقَدْ عَلِمْتَ فِيمَا سَبَقَ أَنَّ الفَاعِلَ مَرْفُوعٌ، وَأَنَّ لِلرِّفْعِ عَلَامَاتٍ، فَالضَّمَّةُ عَلَامَةٌ لِلمُفْرَدِ وَجَمْعِ التَّكْسِيرِ وَجَمْعِ المُؤَنَّثِ السَّالِمِ، وَالأَلِفُ لِلاسْمِ المُثَنَّى، وَالوَاوُ لِجَمْعِ المُذَكَّرِ السَّالِمِ وَالاسْمِ المُضَافِ، وَعَلِمْتَ أَيْضًا أَنَّ الضَّمَّةَ قَدْ تَكُونُ مُقَدَّرَةً، فَيَحْسُنُ هُنَا اسْتِحْضَارُ عَلَامَاتِ الإِعْرَابِ فِي أَوَّلِ بَابٍ فِيهِ حُكْمٌ إِعْرَابِيٌّ وَهُوَ رَفْعُ الاسْمِ: فَالفَاعِلُ المُفْرَدُ (نَحْوُ قَوْلِكَ: «قَامَ زَيْدٌ» وَ «يَقُومُ زَيْدٌ»، وَ) المُثَنَّى نَحْوُ: («قَامَ الزَّيْدَانِ» وَ «يَقُومُ الزَّيْدَانِ»، وَ) جَمْعُ المُذَكَّرِ السَّالِمُ نَحْوُ: («قَامَ الزَّيْدُونَ» وَ «يَقُومُ الزَّيْدُونَ»، وَ) وَجَمْعُ التَّكْسِيرِ نَحْوُ: («قَامَ الرِّجَالُ» وَ «يَقُومُ الرِّجَالُ»)، وَهَذِهِ أَمْثِلَةٌ لِلْمُذَكَّرِ.(وَ) أَمَّا المُؤَنَّثُ: فَالمُفْرَدُ نَحْوُ: («قَامَتْ هِنْدٌ» وَ «تَقُومُ هِنْدٌ»، وَ) الاسْمُ المُثَنَّى نَحْوُ: («قَامَتِ الهِنْدَانِ» وَ «تَقُومُ الهِنْدَانِ»، وَ) جَمْعُ المُؤَنَّثِ السَّالِمُ نَحْوُ: («قَامَتِ الهِنْدَاتُ» وَ «تَقُومُ الهِنْدَاتُ»، وَ) جَمْعُ التَّكْسِيرِ نَحْوُ: («قَامَتِ الهُنُودُ» وَ «تَقُومُ الهُنُودُ»).(وَ) أَمَّا الاسْمُ المُضَافُ فَنَحْوُ: («قَامَ أَخُوكَ»، وَ «يَقُومُ أَخُوكَ»، وَ) أَمَّا الضَّمَّةُ المُقَدَّرَةُ فَنَحْوُ: («قَامَ غُلَامِي»، وَ «يَقُومُ غُلَامِي»)، فَقَدْ مَنَعَتْ مِنْ ظُهُورِ الضَّمَّةِ يَاءُ المُتَكَلِّمِ، أَلَا تَرَى لَوْ قُلْتَ: «قَامَ غُلَامُ زَيْدٍ» مِنْ غَيْرِ يَاءٍ لَظَهَرَتِ الضَّمَّةُ؟ وَمِثْلُهَا فِي الاسْمِ المَقْصُورِ: «قَامَ الفَتَى»، وَالاسْمِ المَنْقُوصِ: «قَالَ القَاضِي»، فَالأَوَّلُ مَنَعَ مِنْ ظُهُورِهَا التَّعَذُّرُ، وَالثَّانِي مَنَعَ مِنْ ظُهُورِهَا الاسْتِثْقَالُ.
বিধানের ক্ষেত্রে কথা হলো: কর্তা (فاعل) রফ-যুক্ত (مرفوع) হয়ে থাকে, নসব-যুক্ত (منصوب) বা জর-যুক্ত (مخفوض) নয়।(আর এটি) অর্থাৎ কর্তা (فاعل): (দুই প্রকার): প্রথমটি হলো: প্রকাশ্য (ظاهر) কর্তা, (এবং) দ্বিতীয়টি হলো: প্রচ্ছন্ন (مضمر) কর্তা।(অতএব) প্রকাশ্য (ظاهر) কর্তা: হলো এমন শব্দ যার পরিবর্তে অন্য কিছু স্থলাভিষিক্ত হয় না; বরং তা বাক্যের মাঝে নিজস্ব শব্দেই বিদ্যমান থাকে। আর এর ক্রিয়া (فعل) হলো: অতীতকাল (ماض) অথবা বর্তমান-ভবিষ্যৎকাল (مضارع)।আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন যে, কর্তা (فاعل) রফ-যুক্ত (مرفوع) হয়ে থাকে এবং রফ (رفع)-এর কিছু চিহ্ন রয়েছে। সুতরাং পেশ (ضمة) হলো একবচন (مفرد), অনিয়মিত বহুবচন (جمع التكسير) এবং স্ত্রীবাচক নিয়মিত বহুবচন (جمع المؤنث السالم)-এর চিহ্ন। আলিফ (ألف) হলো দ্বিবচন (مثنى) শব্দের চিহ্ন। ওয়াও (واو) হলো পুরুষবাচক নিয়মিত বহুবচন (جمع المذكر السالم) এবং সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্য (الاسم المضاف)-এর চিহ্ন। আপনি আরও জেনেছেন যে, পেশ (ضمة) কখনো কখনো প্রচ্ছন্ন (مقدرة) হতে পারে। তাই এখানে এরাবের (إعراب) চিহ্নগুলো স্মরণ করা সমীচীন হবে, যা প্রথম অধ্যায়ে আলোচিত হয়েছে যেখানে এরাবের বিধান বর্ণিত হয়েছে আর তা হলো বিশেষ্যের রফ (رفع) হওয়া। সুতরাং একবচন কর্তা (فاعل) (যেমন আপনার কথা: «জায়েদ দাঁড়িয়েছে» এবং «জায়েদ দাঁড়াচ্ছে», এবং) দ্বিবচন (مثنى) যেমন: («দুই জায়েদ দাঁড়িয়েছে» এবং «দুই জায়েদ দাঁড়াচ্ছে», এবং) পুরুষবাচক নিয়মিত বহুবচন (جمع المذكر السالم) যেমন: («সকল জায়েদ দাঁড়িয়েছে» এবং «সকল জায়েদ দাঁড়াচ্ছে», এবং) অনিয়মিত বহুবচন (جمع التكسير) যেমন: («পুরুষেরা দাঁড়িয়েছে» এবং «পুরুষেরা দাঁড়াচ্ছে»)। এগুলি হলো পুরুষবাচকের উদাহরণ।(এবং) স্ত্রীবাচকের ক্ষেত্রে: একবচন (مফرد) যেমন: («হিন্দ দাঁড়িয়েছে» এবং «হিন্দ দাঁড়াচ্ছে», এবং) দ্বিবচন (مثنى) শব্দ যেমন: («দুই হিন্দ দাঁড়িয়েছে» এবং «দুই হিন্দ দাঁড়াচ্ছে», এবং) স্ত্রীবাচক নিয়মিত বহুবচন (جمع المؤنث السالم) যেমন: («সকল হিন্দ দাঁড়িয়েছে» এবং «সকল হিন্দ দাঁড়াচ্ছে», এবং) অনিয়মিত বহুবচন (جمع التكسير) যেমন: («নারীরা দাঁড়িয়েছে» এবং «নারীরা দাঁড়াচ্ছে»)।(এবং) সম্বন্ধযুক্ত বিশেষ্য (الاسم المضاف)-এর উদাহরণ যেমন: («তোমার ভাই দাঁড়িয়েছে», এবং «তোমার ভাই দাঁড়াচ্ছে», এবং) প্রচ্ছন্ন (مقدرة) পেশের উদাহরণ যেমন: («আমার দাস দাঁড়িয়েছে», এবং «আমার দাস দাঁড়াচ্ছে»)। এখানে বক্তার নিজের দিকে সম্বন্ধকারী ‘ইয়া’ (ياء المتكلم) পেশ প্রকাশ পেতে বাধা দিয়েছে। আপনি কি দেখছেন না যে, যদি আপনি ‘ইয়া’ ছাড়া «জায়েদের দাস দাঁড়িয়েছে» বলতেন, তবে পেশ প্রকাশ পেত? অনুরূপ উদাহরণ হলো ইসম মাকসুর (الاسم المقصور)-এর ক্ষেত্রে: «যুবকটি দাঁড়িয়েছে», এবং ইসম মানকুস (الاسم المنقوص)-এর ক্ষেত্রে: «বিচারক বলেছেন»। প্রথমটিতে অসম্ভবতা (التعذر) চিহ্ন প্রকাশে বাধা দিয়েছে এবং দ্বিতীয়টিতে ভারাক্রান্ততা (الاستثقال) চিহ্ন প্রকাশে বাধা দিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
وَاعْلَمْ مِنَ الأَمْثِلةِ السَّابِقَةِ: أَنَّ الفِعْلَ إِنْ تَقَدَّمَ عَلَى الفَاعِلِ - وَهُوَ شَرْطُ الفَاعِلِيَّةِ - فَإِنَّهُ يَبْقَى مُفْرَدًا فِي الأَحْوَالِ الثَّلَاثَةِ، نحْوُ: «قَامَ» فِي قَوْلِكَ: «قَامَ زَيْدٌ» وَ «قَامَ الزَّيْدَانِ» وَ «قَامَ الزَّيْدُونَ»، أَلَا تَرَى أَنَّكَ لَمْ تَقُلْ «قَامَ زَيْدٌ» وَ «قَامَا الزَّيْدَانِ» وَ «قَامُوا الزَّيْدُونَ»؟ وَمِثْلُهُ: «قَامَتْ هِنْدٌ» وَ «قَامَتِ الهِنْدَانِ» وَ «قَامَتِ الهِنْدَاتُ»؟وَقَوْلُ المُصَنِّفِ: (وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ) أَيْ مَا كَانَ مِثْلَ مَا تَقَدَّمَ مِمَّا يُقَاسُ عَلَيْهِ.(وَ) الفَاعِلُ (المُضْمَرُ): هُوَ الَّذِي يَنُوبُ عَنِ الفَاعِلِ الظَّاهِرِ، وَهُوَ (اثْنَا عَشَرَ) ضَمِيرًا، وَهِيَ عَلَى خَمْسَةِ أَقْسَامٍ، وَانْضَافَ إِلَيْهَا قِسْمٌ سَادِسٌ اخْتُلِفَ فِيهِ وَلَمْ يَذْكُرْهُ المُصَنِّفُ، وَهِيَ: الأَوَّلُ: تَاءُ الضَّمِيرِ وَ «نَا» فِي المَاضِي، وَالثَّانِي: المُسْتَتِرُ فِي المَاضِي وَالمُضَارِعِ وَالأَمْرِ، وَالثَّالِثُ: أَلِفُ الاثْنَيْنِ فِي المَاضِي وَالمُضَارِعِ وَالأَمْرِ، وَالرَّابِعُ: وَاوُ الجَمَاعَةِ فِي المَاضِي وَالمُضَارِعِ وَالأَمْرِ، وَالخَامِسُ: نُونُ النِّسْوَةِ فِي المَاضِي وَالمُضَارِعِ وَالأَمْرِ، وَالسَّادِسُ: يَاءُ المُخَاطَبَةِ فِي المُضَارِعِ وَالأَمْرِ.أَمَّا تَاءُ الضَّمِيرِ وَ «نَا»: فَـ (نَحْوُ قَوْلِكَ: «ضَرَبْتُ») وَهُوَ الأَوَّلُ، (وَ «ضَرَبْنَا») وَهُوَ الثَّانِي، (وَ «ضَرَبْتَ») وَهُوَ الثَّالِثُ، (وَ «ضَرَبْتِ») وَهُوَ الرَّابِعُ، (وَ «ضَرَبْتُمَا») وَهُوَ الخَامِسُ، (وَ «ضَرَبْتُمْ») وَهُوَ السَّادِسُ (وَ «ضَرَبْتُنَّ») وَهُوَ السَّابِعُ، (وَ) أَمَّا المُسْتَتِرُ: فَـ («ضَرَبَ»)، بِتَقْدِيرِ «هُوَ»، نَحْوُ: «زَيْدٌ ضَرَبَ عَمْرًا»، أَيْ: «ضَرَبَ هُوَ عَمْرًا»، وَهُوَ الثَّامِنُ، (وَ «ضَرَبَتْ») بِتَقْدِيرِ: «هِيَ»، وَهُوَ التَّاسِعُ، (وَ) أَمَّا أَلِفُ الاثْنَيْنِ فَـ («ضَرَبَا») وَهُوَ العَاشِرُ، وَمِنْهُ: «ضَرَبَتَا»، (وَ) أَمَّا وَاوُ الجَمَاعَةِ: فَـ («ضَرَبُوا») وَهُوَ الحَادِيَ عَشَرَ، (وَ) أَمَّا نُونُ النِّسْوَةِ فَـ: («ضَرَبْنَ») وَهُوَ الثَّانِيَ عَشَرَ، وَأَمَّا يَاءُ المُخَاطَبَةِ فَـ: «اِضْرِبِي»، وَهُوَ الثَّالِثَ عَشَرَ.وَاعْلَمْ أَنَّ تَاءَ «ضَرَبَتْ» وَ «ضَرَبَتَا» لَيْسَتْ تَاءَ الضَّمِيرِ، إِنَّمَا هِيَ تَاءُ التَّأْنِيثِ، وَهِيَ حَرْفٌ، فَالضَّمِيرُ اسْمٌ ينُوبُ عَنِ الاسْمِ الظَّاهِرِ - كَمَا سَبَقَ -، أَمَّا تَاءُ التَّأْنِيثِ فَلَا تَنُوبُ عَنْهُ، أَلَا تَرَى أَنَّكَ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَقُولَ: «ضَرَبَتْ هِنْدٌ سُعَادُ»؟ فَـ «هِنْدٌ»
পূর্ববর্তী উদাহরণসমূহ হতে জেনে রাখুন: যদি ক্রিয়া কর্তার অগ্রে আসে—যা কর্তা হওয়ার একটি শর্ত—তবে তা তিনটি অবস্থাতেই একবচন হিসেবে বহাল থাকে। যেমন আপনার কথা: 'কামা যায়দুন' (যায়দ দাঁড়িয়েছে), 'কামা আল-যায়দানি' (দুই যায়দ দাঁড়িয়েছে) এবং 'কামা আল-যায়দুনা' (যায়দগণ দাঁড়িয়েছে)। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে আপনি 'কামা যায়দুন', 'কামূ আল-যায়দানি' এবং 'কামূ আল-যায়দুনা' বলেননি? তদ্রূপ: 'কামত হিন্দুন' (হিন্দ দাঁড়িয়েছে), 'কামত আল-হিন্দানি' (দুই হিন্দ দাঁড়িয়েছে) এবং 'কামত আল-হিন্দাতু' (হিন্দগণ দাঁড়িয়েছে)?গ্রন্থকারের উক্তি: (এবং যা এর সদৃশ) অর্থাৎ যা পূর্বোক্ত উদাহরণসমূহের অনুরূপ এবং যার ওপর ভিত্তি করে কিয়াস করা যায়।(এবং) সর্বনামীয় (কর্তা): এটি সেটি যা প্রকাশ্য কর্তার স্থলাভিষিক্ত হয়। আর এটি (বারোটি) সর্বনাম, যা পাঁচটি ভাগে বিভক্ত। এর সাথে একটি ষষ্ঠ ভাগ যুক্ত হয়েছে যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং গ্রন্থকার সেটি উল্লেখ করেননি। সেগুলো হলো: প্রথম: অতীতকালীন ক্রিয়ার ক্ষেত্রে সর্বনাম 'তা' এবং 'না'। দ্বিতীয়: অতীত, বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং আদেশসূচক ক্রিয়ার মধ্যে উহ্য বা গোপন সর্বনাম। তৃতীয়: অতীত, বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং আদেশসূচক ক্রিয়ার মধ্যে দ্বিবচনবোধক আলিফ। চতুর্থ: অতীত, বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং আদেশসূচক ক্রিয়ার মধ্যে বহুবচনবোধক ওয়াও। পঞ্চম: অতীত, বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং আদেশসূচক ক্রিয়ার মধ্যে স্ত্রীলিঙ্গবাচক বহুবচনের নুন। ষষ্ঠ: বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং আদেশসূচক ক্রিয়ার মধ্যে সম্বোধনসূচক স্ত্রীলিঙ্গবাচক ইয়া।সর্বনাম 'তা' এবং 'না'-এর ক্ষেত্রে: (যেমন আপনার উক্তি: 'দরাবতু') যা প্রথম, (এবং 'দরাবনা') যা দ্বিতীয়, (এবং 'দরাবতা') যা তৃতীয়, (এবং 'দরাবতি') যা চতুর্থ, (এবং 'দরাবতুমা') যা পঞ্চম, (এবং 'দরাবতুুম') যা ষষ্ঠ, (এবং 'দরাবতুন্না') যা সপ্তম। আর উহ্য সর্বনামের ক্ষেত্রে: ('দরাবা'), যেখানে 'হুয়া' উহ্য ধরা হয়। যেমন: 'যায়দুন দরাবা আমরান', অর্থাৎ: 'যায়দ আমলকে প্রহার করেছে' (এখানে দরাবা-র পর হুয়া উহ্য), এটি অষ্টম। (এবং 'দরাবাত'), যেখানে 'হিয়া' উহ্য ধরা হয়, এটি নবম। আর দ্বিবচনবোধক আলিফের ক্ষেত্রে: ('দরাবা') যা দশম, এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: 'দরাবাতা'। আর বহুবচনবোধক ওয়াও-এর ক্ষেত্রে: ('দরাবূ') যা একাদশ। আর স্ত্রীলিঙ্গবাচক বহুবচনের নুন-এর ক্ষেত্রে: ('দরাবনা') যা দ্বাদশ। আর সম্বোধনসূচক স্ত্রীলিঙ্গবাচক ইয়া-এর ক্ষেত্রে: 'ইদরিবি' যা ত্রয়োদশ।জেনে রাখুন যে, 'দরাবাত' এবং 'দরাবাতা'-এর 'তা' সর্বনামের 'তা' নয়; বরং এটি কেবল স্ত্রীলিঙ্গবাচকতার চিহ্ন (তা-এ তানিছ), যা একটি বর্ণ। সর্বনাম হলো এমন একটি বিশেষ্য যা প্রকাশ্য বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে স্ত্রীলিঙ্গবাচকতার 'তা' তার স্থলাভিষিক্ত হয় না। আপনি কি লক্ষ্য করছেন না যে আপনি বলতে পারেন: 'দরাবাত হিন্দুন সুয়াদা' (হিন্দ সুয়াদকে প্রহার করেছে)? এখানে 'হিন্দুন' কর্তারূপে বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
فَاعِلٌ، وَقَدْ ذُكِرَتِ التَّاءُ فِي الجُمْلَةِ، فَلَا يُذْكَرُ الفَاعِلُ وَمَا يَنُوبُ عَنْهُ فِي الجُمْلَةِ نَفْسِهَا، وَمِثْلُ ذَلِكَ فِي «ضَرَبَتَا الغُلَامَ»، أَلَا تَرَى أَنَّ الَّذِي نَابَ عَنِ الفَاعِلِ هُوَ الأَلِفُ وَلَيْسَتِ التَّاءُ؟ (بَابُ المَفْعُولِ الَّذِي لَمْ يُسَمَّ فَاعِلُهُ)وَيُعْرَفُ بِنَائِبِ الفَاعِلِ.مِثَالُهُ: «الفَرَسُ» فِي قَوْلِكَ: «رُكِبَ الفَرَسُ».(وَهُوَ) أَيْ نَائِبُ الفَاعِلِ (الاسْمُ) لَا الفِعْلُ وَلَا الحَرْفُ، (المَرْفُوعُ) لَا المَنْصُوبُ وَلَا المَخْفُوضُ ، (الَّذِي لَمْ يُذْكَرْ مَعَهُ) أَيْ هَذَا الاسْمِ (فَاعِلُهُ).أَلَا تَرَى فِي قَوْلِكَ: «رُكِبَ الفَرَسُ» أَنَّ الرَّاكِبَ - وَهُوَ الفَاعِلُ - غَيْرُ مَذْكُورٍ؟ إِذْ لَا يُعْقَلُ أَنْ يَكُونَ الفَرَسُ هُوَ الرَّاكِبَ؛ فَهُوَ المَرْكُوبُ وَيُسَمَّى عِنْدَ النُّحَاةِ بِالمَفْعُولِ بِهِ وَهُوَ مَنْصُوبٌ - وَسَيَأْتِي ذِكْرُهُ -، لَكِنْ لَمَّا نَابَ المَفْعُولُ بِهِ عَنِ الفَاعِلِ أَصْبَحَ مَرْفُوعًا وَتَغَيَّرَ حُكْمُ إِعْرَابِهِ إِلَى نَائِبِ الفَاعِلِ، أَلَا تَرَى لَوْ وَضَعْتَ فَاعِلًا مِنْ عِنْدِكَ فِي الجُمْلَةِ نَحْوُ: «رَكِبَ زَيْدٌ الفَرَسَ» لَاسْتَقَامَ المَعْنَى؟وَالفِعْلُ فِي هَذِهِ الحَالَةِ يُسَمَّى المَبْنِيَّ لِلْمَجْهُولِ، وَتَتَغَيَّرُ صِيغَتُهُ: (فَإِنْ كَانَ الفِعْلُ) عِنْدَ النِّيَابَةِ (مَاضِيًا: ضُمَّ أوَّلُهُ وكُسِرَ مَا قَبْلَ آخِرِهِ) حَقِيقَةً نَحْوُ: «رُكِبَ» مِنْ «رَكَبَ»، أَوْ تَقْدِيرًا نَحْوُ «بِيعَ» مِنْ «بَاعَ»، (وَإِنْ كَانَ) الفِعْلُ عِنْدَ النِّيَابَةِ (مُضَارِعًا: ضُمَّ أَوَّلُهُ وفُتِحَ مَا قَبْلَ آخِرِهِ) حَقِيقَةً نَحْوُ «يُرْكَبُ» مِنْ «يَرْكَبُ»، أَوْ تَقْدِيرًا نَحْوُ «يُبَاعُ» مِنْ «يَبِيعُ».(وَهُوَ) أَيْ نَائِبُ الفَاعِلِ (عَلَى قِسْمَيْنِ): الأَوَّلُ: نَائِبُ فَاعِلٍ (ظَاهِرٌ، وَ) الثَّانِي: نَائِبُ فَاعِلٍ (مُضْمَرٌ).(فَالظَّاهِرُ نَحْوُ) «زَيْدٌ» فِي (قَوْلِكَ: «ضُرِبَ زَيْدٌ») لِلْمَاضِي (وَ «يُضْرَبُ زَيْدٌ»)
কর্তা (فاعل), এবং বাক্যে ‘তা’ (تاء) উল্লেখ করা হয়েছে, তাই একই বাক্যে পুনরায় কর্তা (فاعل) এবং তার স্থলাভিষিক্তকে উল্লেখ করা হয় না। অনুরূপ অবস্থা ‘দারাবাতাল গুলামা’ বাক্যের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য; আপনি কি দেখছেন না যে এখানে কর্তার (فاعل) স্থলাভিষিক্ত হয়েছে ‘আলিফ’ (ألف) এবং ‘তা’ (تاء) নয়? (অধ্যায়: ঐ কর্মপদ যার কর্তা অনুল্লিখিত (المفعول الذي لم يسم فاعله))এটি কর্তার স্থলাভিষিক্ত (نائب الفاعل) হিসেবেও পরিচিত।এর উদাহরণ: আপনার উক্তি ‘রুকিবাল ফারাসু’-তে ‘আল-ফারাসু’ (ঘোড়া) শব্দটি।(এবং এটি) অর্থাৎ কর্তার স্থলাভিষিক্ত (نائب الفاعل) হলো এমন (বিশেষ্য (الاسم)) যা ক্রিয়া (الفعل) বা অব্যয় (الحرف) নয়, (পেশযুক্ত (المرفوع)) যা জবরযুক্ত (المنصوب) বা যেরযুক্ত (المخفوض) নয়, (যার সাথে উল্লেখ করা হয়নি) অর্থাৎ এই বিশেষ্যটির সাথে (তার কর্তা (فاعله))।আপনি কি আপনার উক্তি ‘রুকিবাল ফারাসু’-তে দেখছেন না যে, আরোহী—যিনি কর্তা (فاعل)—তাকে উল্লেখ করা হয়নি? কারণ এটি অসম্ভব যে ঘোড়া নিজেই আরোহী হবে; বরং সে তো আরোহণকৃত। ব্যাকরণবিদদের (النحاة) নিকট একে কর্মপদ (المفعول به) বলা হয় এবং তা জবরযুক্ত (المنصوب) হয়—যার আলোচনা সামনে আসবে—। কিন্তু যখন কর্মপদ (المفعول به) কর্তার (فاعل) স্থলাভিষিক্ত হলো, তখন তা পেশযুক্ত (المرفوع) হয়ে গেল এবং তার ব্যাকরণিক অবস্থার বিধান ‘কর্তার স্থলাভিষিক্ত’ (نائب الفاعل)-এ পরিবর্তিত হলো। আপনি কি দেখছেন না, যদি আপনি বাক্যে নিজের পক্ষ থেকে কোনো কর্তা (فاعل) যোগ করেন যেমন: ‘রাকিবা যাইদুনিল ফারাসা’, তবে অর্থের সঠিক রূপ ফুটে ওঠে?এই অবস্থায় ক্রিয়াটিকে কর্মবাচ্য (المبني للمجهول) বলা হয় এবং এর রূপ পরিবর্তিত হয়ে যায়: (যদি ক্রিয়াটি) স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সময় (অতীতকালীন (ماضيا) হয়, তবে তার প্রথম অক্ষরে পেশ প্রদান (ضم) করা হবে এবং শেষ অক্ষরের পূর্বের অক্ষরে যের প্রদান (كسر) করা হবে) বাস্তবে যেমন: ‘রাকাবা’ থেকে ‘রুকিবা’, অথবা পরোক্ষভাবে যেমন: ‘বা’আ’ থেকে ‘বী’আ’। (আর যদি) স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সময় ক্রিয়াটি (বর্তমান-ভবিষ্যৎকালীন (مضارعا) হয়, তবে তার প্রথম অক্ষরে পেশ প্রদান (ضم) করা হবে এবং শেষ অক্ষরের পূর্বের অক্ষরে জবর প্রদান (فتح) করা হবে) বাস্তবে যেমন: ‘ইয়ারকাবু’ থেকে ‘ইউরকাবু’, অথবা পরোক্ষভাবে যেমন: ‘ইয়াবি’উ’ থেকে ‘ইউবা’উ’।(এবং এটি) অর্থাৎ কর্তার স্থলাভিষিক্ত (نائب الفاعل) (দুই প্রকার): প্রথমটি: (প্রকাশ্য (ظاهر)) এবং দ্বিতীয়টি: (অপ্রকাশ্য (مضمر)) কর্তার স্থলাভিষিক্ত।(প্রকাশ্য এর উদাহরণ হলো) যেমন আপনার উক্তিতে ‘যাইদুন’ শব্দটি: অতীতকালের ক্ষেত্রে ‘দুরিবা যাইদুন’ এবং বর্তমান-ভবিষ্যৎকালের ক্ষেত্রে ‘ইউদরাবু যাইদুন’।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
لِلْمُضَارِعِ، (وَ) مِثْلُهُ: («أُكْرِمَ عَمْرٌو») لِلْمَاضِي، (وَ «يُكْرَمُ عَمْرٌو») لِلْمُضَارِعِ.(وَالمُضْمَرُ اثْنَا عَشَرَ) ضَمِيرًا، وَهِيَ عَلَى خَمْسَةِ أَقْسَامٍ، وَانْضَافَ إِلَيْهَا قِسْمٌ سَادِسٌ اخْتُلِفَ فِيهِ وَلَمْ يَذْكُرْهُ المُصَنِّفُ: فَالأَوَّلُ: تَاءُ الضَّمِيرِ وَ «نَا» فِي المَاضِي، وَالثَّانِي: المُسْتَتِرُ فِي المَاضِي وَالمُضَارِعِ، وَالثَّالِثُ: أَلِفُ الاثْنَيْنِ فِي المَاضِي وَالمُضَارِعِ، وَالرَّابِعُ: وَاوُ الجَمَاعَةِ فِي المَاضِي وَالمُضَارِعِ، وَالخَامِسُ: نُونُ النِّسْوَةِ فِي المَاضِي وَالمُضَارِعِ، وَالسَّادِسُ: يَاءُ المُخَاطَبَةِ فِي المُضَارِعِ فَقَطْ.أَمَّا التَّاءُ وَ «نَا»: فَـ (نَحْوُ قَوْلِكَ: «ضُرِبْتُ») وَهُوَ الأَوَّلُ، (وَ «ضُرِبْنَا») وَهُوَ الثَّانِي، (وَ «ضُرِبْتَ») وَهُوَ الثَّالِثُ، (وَ «ضُرِبْتِ») وَهُوَ الرَّابِعُ، (وَ «ضُرِبْتُمَا») وَهُوَ الخَامِسُ، («وَضُرِبْتُمْ») وَهُوَ السَّادِسُ، (وَ «ضُرِبْتُنَّ») وَهُوَ السَّابِعُ، (وَ) أَمَّا المُسْتَتِرُ: فَنَحْوُ: («ضُرِبَ») فِي: «زَيْدٌ ضُرِبَ»، أَيْ: «زَيْدٌ ضُرِبَ هُوَ»، وَهُوَ الثَّامِنُ، (وَ «ضُرِبَتْ») بِتَقْدِيرِ «هِيَ»، وَهُوَ التَّاسِعُ، (وَ) أَمَّا أَلِفُ الاثْنَيْنِ فَنَحْوُ: («ضُرِبَا»)، وَهُوَ العَاشِرُ، وَمِنْهُ: «ضُرِبَتَا»، (وَ) أَمَّا وَاوُ الجَمَاعَةِ فَنَحْوُ: («ضُرِبُوا») وَهُوَ الحَادِيَ عَشَرَ، (وَ) أَمَّا نُونُ النِّسْوَةِ فَنَحْوُ: («ضُرِبْنَ») وَهُوَ الثَّانِيَ عَشَرَ، وَأَمَّا يَاءُ المُخَاطَبَةِ فَنَحْوُ: «تُضْرَبِينَ»، وَهُوَ الثَّالِثَ عَشَرَ. (بَابُ المُبْتَدَإِ وَالخَبَرِ)مِثَالُهُ: «الشَّمْسُ مُشْرِقَةٌ»، مُبْتَدَأٌ وَخَبَرٌ.فَـ (المُبْتَدَأُ: هُوَ الاسْمُ) لَا الفِعْلُ وَلَا الحَرْفُ، (المَرْفُوعُ) لَا المَنْصُوبُ وَلَا المَخْفُوضُ، (العَارِي) أَيِ الخَالِي (عَنِ العَوَامِلِ) أَيِ المُؤَثِّرَاتِ (اللَّفْظِيَّةِ) الَّتِي تُصَيِّرُهُ حُكْمًا إِعْرَابِيًّا آخَرَ؛ مِثْلُ دُخُولِ «كَانَ» وَأَخَوَاتِهَا فَتُصَيِّرُهُ اسْمًا لَهَا مَرْفُوعًا، أَوْ دُخُولِ «إِنَّ» وَأَخَوَاتِهَا فَتُصَيِّرُهُ اسْمًا لَهَا مَنْصُوبًا، أَوْ دُخُولِ «ظَنَّ» وَأَخَوَاتِهَا فَتُصَيِّرُهُ مَفْعُولًا لَهَا مَنْصُوبًا، وَسَيَأْتِي ذِكْرُهَا فِي أَبْوَابِهَا.
বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল (مضارع)-এর জন্য, (এবং) এর অনুরূপ: ('আমরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে' (أُكْرِمَ عَمْرٌو)) অতীত কাল (ماضي)-এর জন্য, (এবং 'আমরের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হচ্ছে' (يُكْرَمُ عَمْرٌو)) বর্তমান বা ভবিষ্যৎ কাল (مضارع)-এর জন্য।(এবং সর্বনাম (مضمر) বারোটি) সর্বনাম (ضمير), যা পাঁচটি ভাগে বিভক্ত, এবং এর সাথে একটি ষষ্ঠ বিভাগ যুক্ত হয়েছে যা নিয়ে মতভেদ রয়েছে এবং মূল লেখক তা উল্লেখ করেননি: প্রথমটি: অতীত কালে 'তা' সর্বনাম (تاء الضمير) এবং 'না' (نا); দ্বিতীয়টি: অতীত ও বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালে লুকায়িত (مستتر) সর্বনাম; তৃতীয়টি: অতীত ও বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালে দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين); চতুর্থটি: অতীত ও বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালে বহুবচনের ওয়াও (واو الجماعة); পঞ্চমটি: অতীত ও বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালে স্ত্রীলিঙ্গের নুন (نون النسوة); এবং ষষ্ঠটি: শুধুমাত্র বর্তমান-ভবিষ্যৎ কালে সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া (ياء المخاطبة)।আর 'তা' (تاء) এবং 'না' (نا)-এর ক্ষেত্রে: (যেমন আপনার কথা: 'আমি প্রহৃত হয়েছি' (ضربت)) এবং এটি প্রথমটি, (এবং 'আমরা প্রহৃত হয়েছি' (ضربنا)) এটি দ্বিতীয়টি, (এবং 'তুমি প্রহৃত হয়েছ' (ضربت)) এটি তৃতীয়টি, (এবং 'তুমি প্রহৃত হয়েছ' [স্ত্রীবাচক] (ضربت)) এটি চতুর্থটি, (এবং 'তোমরা দু'জন প্রহৃত হয়েছ' (ضربتما)) এটি পঞ্চমটি, ('এবং তোমরা প্রহৃত হয়েছ' (ضربتم)) এটি ষষ্ঠটি, (এবং 'তোমরা মহিলারা প্রহৃত হয়েছ' (ضربتن)) এটি সপ্তমটি; (এবং) লুকায়িত (مستتر) সর্বনামের ক্ষেত্রে: যেমন ('সে প্রহৃত হয়েছে' (ضرب)) এই বাক্যে: 'জায়েদ প্রহৃত হয়েছে', অর্থাৎ: 'জায়েদ, সে প্রহৃত হয়েছে', এটি অষ্টমটি, (এবং 'সে প্রহৃত হয়েছে' (ضربت)) যেখানে 'সে' [স্ত্রীবাচক] (هي) উহ্য রয়েছে, এটি নবমটি; (এবং) দ্বিবচনের আলিফ (ألف الاثنين)-এর ক্ষেত্রে: যেমন ('তারা দু'জন প্রহৃত হয়েছে' (ضربا)), এটি দশমটি, এবং এরই অন্তর্ভুক্ত হলো: 'তারা দুইজন মহিলা প্রহৃত হয়েছে' (ضربتا); (এবং) বহুবচনের ওয়াও (واو الجماعة)-এর ক্ষেত্রে: যেমন ('তারা প্রহৃত হয়েছে' (ضربوا)) এটি একাদশতম; (এবং) স্ত্রীলিঙ্গের নুন (نون النسوة)-এর ক্ষেত্রে: যেমন ('তারা মহিলারা প্রহৃত হয়েছে' (ضربن)) এটি দ্বাদশতম; আর সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া (ياء المخاطبة)-এর ক্ষেত্রে: যেমন 'তুমি [স্ত্রীবাচক] প্রহৃত হচ্ছ' (تضربين), এবং এটি ত্রয়োদশতম। (উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও বিধেয় (خبر) এর অধ্যায়)এর উদাহরণ: 'সূর্য উদিত', এটি একটি উদ্দেশ্য (مبتدأ) ও বিধেয় (خبر)।সুতরাং (উদ্দেশ্য (مبتدأ) হলো সেই বিশেষ্য (اسم)) যা ক্রিয়া (فعل) বা অব্যয় (حرف) নয়, (যা পেশযুক্ত (مرفوع)) জবরযুক্ত (منصوب) বা যেরযুক্ত (مخفوض) নয়, (যা মুক্ত) অর্থাৎ খালি (শাব্দিক প্রভাবক (عوامل لفظية) থেকে) অর্থাৎ এমন প্রভাবক যা তাকে অন্য কোনো ব্যাকরণগত অবস্থায় পরিবর্তন করে দেয়; যেমন 'কানা' (كان) ও তার সমগোত্রীয় শব্দগুলোর প্রবেশ যা তাকে নিজের পেশযুক্ত বিশেষ্য (اسم) বানিয়ে দেয়, অথবা 'ইন্না' (إن) ও তার সমগোত্রীয় শব্দগুলোর প্রবেশ যা তাকে নিজের জবরযুক্ত বিশেষ্য (اسم) বানিয়ে দেয়, অথবা 'জান্না' (ظن) ও তার সমগোত্রীয় শব্দগুলোর প্রবেশ যা তাকে নিজের জবরযুক্ত কর্ম (مفعول) বানিয়ে দেয়। অচিরেই এগুলোর আলোচনা নিজ নিজ অধ্যায়ে আসবে।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
(وَ) أَمَّا (الخَبَرُ) فَـ (هُوَ: الاسْمُ) لَا الفِعْلُ وَلَا الحَرْفُ، (المَرْفُوعُ) لَا المَنْصُوبُ وَلَا المَخْفُوضُ، (المُسْنَدُ إِلَيْهِ) أَيْ إِلَى المُبْتَدَإِ، أَيِ المُتَحَدَّثُ بِهِ عَنِ المُبْتَدَإِ، فَالمُبْتَدَأُ هُوَ المُتَحَدَّثُ عَنْهُ، وَالخَبَرُ هُوَ المُتَحَدَّثُ بِهِ عَنِ المُبْتَدَإِ، أَلَا تَرَى فِي المِثَالِ السَّابِقِ «الشَّمْسُ مُشْرِقَةٌ» أَنَّ المُتَكَلِّمَ تَحَدَّثَ عَنِ الشَّمْسِ بِأَنَّهَا مُشْرِقَةٌ؟ فَـ «الشَّمْسُ» مُبْتَدَأٌ لأَنَّهُ الشَّيْءُ المُتَحَدَّثُ عَنْهُ بِالإِشْرَاقِ، وَ «مُشْرِقَةٌ» خَبَرٌ لأَنَّهُ الشَّيْءُ المُتَحَدَّثُ بِهِ عَنِ الشَّمْسِ، وَلَوْ أَبْدَلْتَ وَقُلْتَ: «تَحَدَّثْتُ عَنِ الإِشْرَاقِ بِأَنَّهُ شَمْسٌ» لَفَسَدَ المَعْنَى؟ فَالضَّابِطُ فِي مَعْرِفَةِ المُبْتَدَإِ وَالخَبَرِ: أَنَّ المُبْتَدَأَ هُوَ المُتَحَدَّثُ عَنْهُ، وَالخَبَرَ هُوَ المُتَحَدَّثُ بِهِ، وَلِهَذَا لَوْ قُلْتَ: «مُشْرِقَةٌ الشَّمْسُ» لَبَقِيَ الإِعْرَابُ كَمَا هُوَ، إِنَّمَا هُوَ تَقْدِيمُ خَبَرٍ وَتَأْخِيرُ مُبْتَدَإٍ.وَقَوْلُهُ: «وَالخَبَرُ هُوَ الاسْمُ المَرْفُوعُ»: تَغْلِيبٌ لِلأَصْلِ، وَإِلَّا فَقَدْ يَقَعُ الخَبْرُ جُمْلَةً فِعْلِيَّةً أَوِ اسْمِيَّةً، أَوْ شِبْهَ جُمْلَةٍ - وَسَيَأْتِي بَيَانُهَا -.وَمِنْ أَحْكَامِ المُبْتَدَإِ وَالخَبَرِ: أَنَّهُ يَجِبُ فِيهِمَا التَّطَابُقُ إِفْرَادًا وَتَثْنِيَةً وَجَمْعًا، (نَحْوُ قَوْلِكَ: «زَيْدٌ قَائِمٌ») فِي الإِفْرَادِ، (وَ) قَوْلِكَ: («الزَّيْدَانِ قَائِمَانِ») فِي التَّثْنِيَةِ، (وَ) قَوْلِكَ: («الزَّيْدُونَ قَائِمُونَ») فِي الجَمْعِ.(وَالمُبْتَدَأُ قِسْمَانِ): الأَوَّلُ: مُبْتَدَأٌ (ظَاهِرٌ، وَ) الثَّانِي: مُبْتَدَأٌ (مُضْمَرٌ).(فَـ) المُبْتَدَأُ (الظَّاهِرُ) نَحْوُ (مَا تَقَدَّمَ ذِكْرُهُ) مِنْ قَوْلِكَ: «زَيْدٌ» فِي: «زَيْدٌ قَائِمٌ».(وَ) أَمَّا المُبْتَدَأُ (المُضْمَرُ): فَهُوَ (اثْنَا عَشَرَ) ضَمِيرًا، (وَهِيَ): (أَنَا) وهُوَ الأَوَّلُ، (وَنَحْنُ) وَهُوَ الثَّانِي، (وَأَنْتَ) وَهُوَ الثَّالِثُ، (وَأَنْتِ) وَهُوَ الرَّابِعُ، (وَأَنْتُمَا) لِلْمَذَكَّرِ وَالمُؤَنَّثِ، وَهُوَ الخَامِسُ، (وَأَنْتُمْ) وَهُوَ السَّادِسُ، (وَأَنْتُنَّ) وَهُوَ السَّابِعُ، (وَهُوَ)، وَهُوَ الثَّامِنُ، (وَهِيَ) وَهُوَ التَّاسِعُ، (وَهُمَا) لِلْمُذَكَّرِ وَالمُؤَنَّثِ، وَهُوَ العَاشِرُ، (وَهُمْ) وَهُوَ الحَادِيَ عَشَرَ، (وَهُنَّ) وَهُوَ الثَّانِيَ عَشَرَ، (نَحْوُ قَوْلِكَ: «أَنَا قَائِمٌ»، وَ)
(আর) ‘খবর’ (الخبر) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তা (হলো: বিশেষ্য [الاسم]), কোনো ক্রিয়া (الفعل) বা অব্যয় (الحرف) নয়; (মারফু [المرفوع]), ‘মানসুব’ (المنصوب) বা ‘মাখফুজ’ (المخفوض) নয়; (মুসনাদ ইলাইহি [المسند إليه]) অর্থাৎ যা ‘মুবতাদা’ (المبتدأ)-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত; অর্থাৎ যা দ্বারা ‘মুবতাদা’ সম্পর্কে সংবাদ প্রদান করা হয়। সুতরাং ‘মুবতাদা’ হলো তা যার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, আর ‘খবর’ হলো তা যা দিয়ে ‘মুবতাদা’ সম্পর্কে কিছু বলা হয়। আপনি কি পূর্ববর্তী উদাহরণ “সূর্য উদিত” (الشمس مشرقة)-এ দেখছেন না যে, বক্তা এখানে ‘সূর্য’ সম্পর্কে সংবাদ দিয়েছেন যে সেটি ‘উদিত’? এখানে ‘সূর্য’ হলো ‘মুবতাদা’, কারণ এটি এমন একটি বিষয় যার উদিত হওয়া সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। আর ‘উদিত’ হলো ‘খবর’, কারণ এর মাধ্যমে ‘সূর্য’ সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। আপনি যদি এর বিপরীত করে বলতেন: “আমি উদিত হওয়া সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছি যে তা সূর্য”, তবে অর্থ বিকৃত হয়ে যেত। সুতরাং ‘মুবতাদা’ ও ‘খবর’ চেনার মূলনীতি হলো: ‘মুবতাদা’ হলো যার সম্পর্কে সংবাদ দেওয়া হয়, আর ‘খবর’ হলো যা দ্বারা সংবাদ দেওয়া হয়। একারণেই আপনি যদি বলেন: “উদিত সূর্য” (مشرقة الشمس), তবে ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ একই থাকবে; এটি কেবল ‘খবর’-কে আগে আনা এবং ‘মুবতাদা’-কে পরে নেওয়ার উদাহরণ।আর তাঁর উক্তি: “খবর হলো মারফু (المرفوع) বিশেষ্য (الاسم)”—এটি মূলত অধিকাংশ অবস্থার প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, খবর কখনো ক্রিয়াঘটিত বাক্য (جملة فعلية), বিশেষ্যঘটিত বাক্য (جملة اسمية) অথবা বাক্যসদৃশ (شبه جملة) হিসেবেও আসতে পারে—যার বর্ণনা সামনে আসবে।‘মুবতাদা’ ও ‘খবর’-এর বিধানসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো: একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে উভয়টির মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা আবশ্যক। (যেমন আপনার উক্তি: “জায়েদ দণ্ডায়মান”) একবচনের ক্ষেত্রে; (এবং) আপনার উক্তি: (“উভয় জায়েদ দণ্ডায়মান”) দ্বিবচনের ক্ষেত্রে; (এবং) আপনার উক্তি: (“সকল জায়েদ দণ্ডায়মান”) বহুবচনের ক্ষেত্রে।(আর মুবতাদা দুই প্রকার): প্রথমটি হলো: প্রকাশ্য (ظاهر), (এবং) দ্বিতীয়টি হলো: প্রচ্ছন্ন বা সর্বনাম (مضمر)।(অতঃপর) প্রকাশ্য (الظاهر) মুবতাদা হলো (যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে), যেমন আপনার উক্তি: “জায়েদ দণ্ডায়মান”-এর মধ্যে “জায়েদ” শব্দটি।(আর) প্রচ্ছন্ন (المضمر) মুবতাদা প্রসঙ্গে: তা হলো (বারোটি) সর্বনাম; (আর সেগুলো হলো): (আমি), এটি প্রথম; (আমরা), এটি দ্বিতীয়; (তুমি—পুং), এটি তৃতীয়; (তুমি—স্ত্রী), এটি চতুর্থ; (তোমরা দুজন), পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য, এটি পঞ্চম; (তোমরা সকলে—পুং), এটি ষষ্ঠ; (তোমরা সকলে—স্ত্রী), এটি সপ্তম; (সে—পুং), এটি অষ্টম; (সে—স্ত্রী), এটি নবম; (তারা দুজন), পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য, এটি দশম; (তারা সকলে—পুং), এটি একাদশ; (তারা সকলে—স্ত্রী), এটি দ্বাদশ। (যেমন আপনার উক্তি: “আমি দণ্ডায়মান”), এবং...
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ২৯)
نَحْوُ قَوْلِكَ: («نَحْنُ قَائِمُونَ»، وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ) مِمَّا تَقَدَّمَ.(وَالخَبَرُ قِسْمَانِ): الأَوَّلُ: خَبَرٌ (مُفْرَدٌ) أَيْ مَا لَيْسَ بِجُمْلَةٍ وَلَا بِشِبْهِ جُمْلَةٍ، (وَ) الثَّانِي: خَبَرٌ (غَيْرُ مُفْرَدٍ)، وَهُوَ الجُمْلَةُ، أَوْ شِبْهُ الجُمْلَةِ.(فَـ) الخَبَرُ (المُفْرَدُ، نَحْوُ قَوْلِكَ): «قَائِمٌ» فِي: («زَيْدٌ قَائِمٌ»).(وَ) الخَبَرُ (غَيْرُ المُفْرَدِ أَرْبَعَةُ أَشْيَاءَ): الأَوَّلُ: (الجَارُّ وَالمَجْرُورُ، وَ) الثَّانِي: (الظَّرْفُ، وَ) الثَّالِثُ: (الفِعْلُ مَعَ فَاعِلِهِ، وَ) الرَّابِعُ: (المُبْتَدَأُ مَعَ خَبَرِهِ).فَالجَارُّ وَالمَجْرُورُ: (نَحْوُ قَوْلِكَ): «فِي الدَّارِ» فِي: («زَيْدٌ فِي الدَّارِ»)، أَلَا تَرَى أَنَّكَ تَحَدَّثْتَ عَنْ زَيْدٍ بِأَنَّهُ فِي الدَّارِ؟(وَ) الظَّرْفُ نَحْوُ قَوْلِكَ: «عِنْدَكَ» فِي: («زَيْدٌ عِنْدَكَ»)، أَلَا تَرَى أَنَّكَ تَحَدَّثْتَ عَنْ زَيْدٍ بِأَنَّهُ عِنْدَ مَنْ تُخَاطِبُهُ؟(وَ) أَمَّا الفِعْلُ مَعَ فَاعِلِهِ: فَنَحْوُ قَوْلِكَ: «قَامَ أَبُوهُ» فِي («زَيْدٌ قَامَ أَبُوهُ»)، أَلَا تَرَى أَنَّكَ تَحَدَّثْتَ عَنْ زَيْدٍ بِأَنَّ أَبَاهُ قَامَ؟(وَ) أَمَّا المُبْتَدَأُ وَخَبَرُهُ فَنَحْوُ قَوْلِكَ: «جَارِيَتُهُ ذَاهِبَةٌ» فِي: («زَيْدٌ جَارِيَتُهُ ذَاهِبَةٌ»)، أَلَا تَرَى أَنَّكَ تَحَدَّثْتَ عَنْ زَيْدٍ بِأَنَّ جَارِيَتَهُ ذَاهِبَةٌ؟ (بَابُ العَوَامِلِ الدَّاخِلَةِ عَلَى المُبْتَدَإِ وَالخَبَرِ)(وَهِيَ) أَيِ العَوَامِلُ الدَّاخِلَةُ عَلَى المُبْتَدَإِ وَالخَبَرِ: (ثَلَاثَةُ أَشْيَاءَ): الأَوَّلُ: («كَانَ وَأَخَوَاتُهَا»، وَ) الثَّانِي: («إِنَّ» وَأَخَوَاتُهَا، وَ) الثَّالِثُ: («ظَنَنْتُ» وَأَخَوَاتُهَا).(فَأَمَّا «كَانَ» وَأَخَوَاتُهَا: فَإِنَّهَا تَرْفَعُ الاسْمَ) أَيِ المُبْتَدَأَ وَتُصَيِّرُهُ اسْمَهَا ، (وَتَنْصِبُ الخَبَرَ) وَتُصَيِّرُهُ خَبَرَهَا، (وَهِيَ: «كَانَ»، وَ «أَمْسَى»، وَ «أَصْبَحَ»، وَ «أَضْحَى»، وَ «ظَلَّ»، وَ «بَاتَ»، وَ «صَارَ»، وَ «لَيْسَ»، وَ «مَا زَالَ»، وَ «مَا انْفَكَّ»، وَ «مَا فَتِئَ»، وَ «مَا
যেমন আপনার উক্তি: («আমরা দণ্ডায়মান», এবং অনুরূপ উদাহরণসমূহ) যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।(এবং খবর (الخبر) দুই প্রকার): প্রথমটি: (একক - مفرد) খবর, অর্থাৎ যা বাক্য বা বাক্য সদৃশ নয়, (এবং) দ্বিতীয়টি: (একক নয় এমন - غير مفرد) খবর, আর তা হলো বাক্য অথবা বাক্য সদৃশ।(সুতরাং) (একক - مفرد) খবরের (উদাহরণ যেমন আপনার উক্তি): "দণ্ডায়মান" এই বাক্যে: («যায়েদ দণ্ডায়মান»)।(এবং) (একক নয় এমন - غير مفرد) খবর (চারটি বিষয়): প্রথমটি: (জার ও মাজরুর - الجار والمجرور), (এবং) দ্বিতীয়টি: (জরফ বা ক্রিয়াবিশেষণ - الظرف), (এবং) তৃতীয়টি: (কর্তৃকারকসহ ক্রিয়া - الفعل مع فاعله), (এবং) চতুর্থটি: (খবরসহ মুক্তাদা বা উদ্দেশ্য - المبتدأ مع خبره)।সুতরাং জার ও মাজরুর: (যেমন আপনার উক্তি): "ঘরের মধ্যে" এই বাক্যে: («যায়েদ ঘরের মধ্যে»), আপনি কি দেখছেন না যে আপনি যায়েদ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে সে ঘরের মধ্যে আছে?(এবং) জরফ (الظرف) যেমন আপনার উক্তি: "আপনার নিকট" এই বাক্যে: («যায়েদ আপনার নিকট»), আপনি কি দেখছেন না যে আপনি যায়েদ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে সে আপনার (যাকে সম্বোধন করছেন তার) নিকট আছে?(এবং) আর কর্তৃকারকসহ ক্রিয়া: যেমন আপনার উক্তি: "তার পিতা দাঁড়িয়েছে" এই বাক্যে («যায়েদ, তার পিতা দাঁড়িয়েছে»), আপনি কি দেখছেন না যে আপনি যায়েদ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে তার পিতা দাঁড়িয়েছে?(এবং) আর মুক্তাদা ও খবর: যেমন আপনার উক্তি: "তার দাসী প্রস্থানকারিণী" এই বাক্যে: («যায়েদ, তার দাসী প্রস্থানকারিণী»), আপনি কি দেখছেন না যে আপনি যায়েদ সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন যে তার দাসী প্রস্থানকারিণী? (মুক্তাদা ও খবরের ওপর প্রবেশকারী আমিল বা প্রভাব বিস্তারকসমূহের অধ্যায়)(আর সেগুলো) অর্থাৎ মুক্তাদা ও খবরের ওপর প্রবেশকারী আমিলসমূহ: (তিনটি বিষয়): প্রথমটি: («কানা (كان) ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ», এবং) দ্বিতীয়টি: («ইন্না (إن) ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ», এবং) তৃতীয়টি: («জমানতু (ظننت) ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ»)।(পক্ষান্তরে «কানা (كان)» ও তার সমগোত্রীয় শব্দসমূহ: সেগুলো ইসম বা বিশেষ্যকে রফা (رفع) বা পেশ প্রদান করে) অর্থাৎ মুক্তাদাকে এবং সেটিকে তার ইসম-এ পরিণত করে, (এবং খবরকে নসব (نصب) বা জবর প্রদান করে) এবং সেটিকে তার খবরে পরিণত করে। (আর সেগুলো হলো: «কানা», এবং «আমসা», এবং «আসবাহা», এবং «আদহা», এবং «জাল্লা», এবং «বাতা», এবং «সারা», এবং «লাইসা», এবং «মা যালা», এবং «মান ফাক্কা», এবং «মা ফাতিয়া», এবং «মা...`)
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بَرِحَ»، وَ «مَا دَامَ»، وَمَا تَصَرَّفَ مِنْهَا) أَيْ مِمَّا سَبَقَ، (نَحْوُ: «كَانَ وَيَكُونُ وَكُنْ»، وَ «أَصْبَحَ وَيُصْبِحُ وَأَصْبِحْ»؛ تَقُولُ) مِثَالًا عَلَى «كَانَ» وَأَخَوَاتِهَا: («كَانَ زَيْدٌ قَائِمًا»)، فَـ «زَيْدٌ»: اسْمُ «كَانَ» مَرْفُوعٌ، وَ «قَائِمًا»: خَبَرُ «كَانَ» مَنْصُوبٌ، (وَ) مِثْلُهُ فِي قَوْلِكَ: («لَيْسَ عَمْرٌو شَاخِصًا»، وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ).(وَأَمَّا «إِنَّ» وَأَخَوَاتُهَا: فَإِنَّهَا تَنْصِبُ الاسْمَ) أَيِ المُبْتَدَأَ، وَتُصَيِّرُهُ اسْمَهَا، (وَتَرْفَعُ الخَبَرَ)، وَتُصَيِّرُهُ خَبَرَهَا، (وَهِيَ: «إِنَّ»، وَ «أَنَّ»، وَ «لَكِنَّ»، وَ «كَأَنَّ»، وَ «لَيْتَ»، وَ «لَعَلَّ»؛ تَقُولُ: «إنَّ زَيْدًا قَائِمٌ»)، فَعَمَلُهَا خِلَافُ عَمَلِ «كَانَ» وَأَخْوَاتِهَاـ رَفْعًا وَنَصْبًا -، (وَ) مِثْلُهُ: («لَيْتَ عَمْراً شَاخِصٌ»، وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ).(وَمَعْنَى «إِنَّ» وَ «أَنَّ»: لِلتَّوْكِيدِ، وَ) مَعْنَى («لَكِنَّ»: لِلاسْتِدَرَاكِ، وَ) مَعْنَى («كَأَنَّ»: لِلتَّشْبِيهِ، وَ) مَعْنَى («لَيْتَ»: لِلتَّمَنِّي، وَ) مَعْنَى («لَعَلَّ»: لِلتَّرَجِّي وَالتَّوَقُّعِ).(وَأَمَّا «ظَنَنْتُ» وَأَخَوَاتُهَا: فَإِنَّهَا تَنْصِبُ المُبْتَدَأَ) بَعْدَ أَنْ كَانَ مَرْفُوعًا قَبْلَ دُخُولِهَا، (وَ) تَنْصِبُ (الخَبَرَ) أَيْضًا بَعْدَ أَنْ كَانَ مَرْفُوعًا قَبْلَ دُخُولِهَا، وَذَلِكَ (عَلَى أَنَّهُمَا مَفْعُولَان لَهَا، وَهِيَ: «ظَنَنتُ»، وَ «حَسِبْتُ»، وَ «خِلْتُ»، وَ «زَعَمْتُ»، وَ «رَأَيْتُ»، وَ «عَلِمْتُ»، وَ «وَجَدْتُ»، وَ «اتَّخَذْتُ»، وَ «جَعَلْتُ»، وَ «سَمِعْتُ»؛ تَقُولُ: «ظَنَنْتُ زَيْدًا قَائِمًا»، وَ) مِثْلُهُ: («رَأَيْتُ عَمْرًا شَاخِصًا»، وَمَا أَشْبَهَ ذَلِكَ). (بَابُ النَّعْتِ)(النَّعْتُ) - أَيِ الصِّفَةُ -: هُوَ التَّابِعُ الَّذِي يُذْكَرُ لِوَصْفِ مَتْبُوعِهِ.وَهُوَ (تَابِعٌ لِلْمَنْعُوتِ) أيِ المَوْصُوفِ (فِي) تَذْكِيرِهِ وَتَأْنِيثِهِ، وَإِفْرَادِهِ وَتَثْنِيَتِهِ وَجَمْعِهِ، وَ (رَفْعِهِ وَنَصْبِهِ وَخَفْضِهِ، وَتَعْرِيفِهِ وَتَنْكِيرِهِ) - وَسَيَأْتِي شَرْحُهُمَا -، (تَقُولُ: «قَامَ زَيْدٌ العَاقِلُ»)، فَـ «العَاقِلُ» نَعْتٌ لِـ «زَيْدٍ» لأَنَّهُ المَنْعُوتُ، فَزَيْدٌ هُوَ المَوْصُوفُ
'বারহা', এবং 'মা দামা', এবং এগুলোর যা রূপান্তর বা নির্গত রূপ হয়) অর্থাৎ যা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে, (যেমন: 'কানা', 'ইয়াকুনু' ও 'কুন'; এবং 'আসবাহা', 'ইউসবিহু' ও 'আসবহ'; উদাহরণস্বরূপ আপনি বলবেন) 'কানা' এবং তার সঙ্গীদের উদাহরণে: ('কানা যাইদুন কায়িমান'), এখানে 'যাইদ' হলো 'কানা' এর রফাযুক্ত (مرفوع) বিশেষ্য (اسم), এবং 'কায়িমান' হলো 'কানা' এর নসবযুক্ত (منصوب) সংবাদ (خبر)। (এবং) অনুরূপ আপনার এই উক্তি: ('লাইসা আমরুন শাখিসান' এবং এর সদৃশ)।(আর 'ইন্না' এবং তার সঙ্গীদের বিষয়ে কথা হলো: তারা বিশেষ্যকে (اسم) নসব বা জবর প্রদান করে) অর্থাৎ মুবতাদাকে (مبتدأ), এবং তাকে নিজের বিশেষ্য (اسم) বানিয়ে নেয়, (এবং সংবাদকে (خبر) রফা বা পেশ প্রদান করে) এবং তাকে নিজের সংবাদ (خبر) বানিয়ে নেয়। (আর সেগুলো হলো: 'ইন্না', 'আন্না', 'লাকিন্না', 'কাআন্না', 'লাইতা' ও 'লাআল্লা'; আপনি বলবেন: 'ইন্না যাইদান কায়িমুন'), সুতরাং এদের আমল বা কাজ 'কানা' এবং তার সঙ্গীদের কাজের বিপরীত—রফা (رفع) এবং নসব (نصب) প্রদানের ক্ষেত্রে—, (এবং) অনুরূপ: ('লাইতা আমরান শাখিসুন' এবং এর সদৃশ)।('ইন্না' এবং 'আন্না' এর অর্থ হলো: নিশ্চয়তা প্রদানের জন্য (توكيد), এবং) ('লাকিন্না' এর অর্থ হলো: সংশোধনার্থে (استدراك), এবং) ('কাআন্না' এর অর্থ হলো: উপমা প্রদানের জন্য (تشبيه), এবং) ('লাইতা' এর অর্থ হলো: আকাঙ্ক্ষার জন্য (تمني), এবং) ('লাআল্লা' এর অর্থ হলো: প্রত্যাশা (ترجي) ও আশঙ্কার (توقع) জন্য)।(আর 'যানানতু' এবং তার সঙ্গীদের বিষয়ে কথা হলো: তারা মুবতাদাকে (مبتدأ) নসব প্রদান করে) তাদের প্রবেশের পূর্বে তা মারফু বা রফাযুক্ত থাকা সত্ত্বেও, (এবং) নসব প্রদান করে (সংবাদকেও (خبر)) তাদের প্রবেশের পূর্বে তা মারফু থাকা সত্ত্বেও, আর তা ঘটে (এই ভিত্তিতে যে তারা উভয়েই তার জন্য দুটি কর্ম (مفعولان)। সেগুলো হলো: 'যানানতু', 'হাসিবতু', 'খিলতু', 'যামতু', 'রায়াইতু', 'আলিমতু', 'ওয়াজাদতু', 'ইত্তাখাযতু', 'জাআলতু' ও 'সামিতু'; আপনি বলবেন: 'যানানতু যাইদান কায়িমান', এবং) অনুরূপ: ('রায়াইতু আমরান শাখিসান' এবং এর সদৃশ)। (বিশেষণের অধ্যায় (باب النعت))(বিশেষণ (النعت)) - অর্থাৎ গুণ (الصفة) -: এটি হলো এমন এক অনুগামী (التابع) যা তার অনুসারিত (المتبوع) পদের গুণ বর্ণনার জন্য উল্লিখিত হয়।আর তা (বিশেষিত পদের অনুগামী (تابع للمنعوت)) অর্থাৎ গুণান্বিত পদের (الموصوف) অনুগামী হয় তার পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ হওয়া, একবচন, দ্বিবচন ও বহুবচন হওয়ার ক্ষেত্রে এবং (তার রফা (رفع), নসব (نصب), জার (خفض) এবং নির্দিষ্ট (تعريف) ও অনির্দিষ্ট (تنكير) হওয়ার ক্ষেত্রে) - এবং এগুলোর ব্যাখ্যা সামনে আসবে। (আপনি বলবেন: 'কামা যাইদুন আল-আকিলু'), এখানে 'আল-আকিলু' হলো 'যাইদ' এর বিশেষণ (نعت), কারণ সে হলো বিশেষিত (المنعوت), আর যাইদই হলো গুণান্বিত (الموصوف)।
(খণ্ড: ১)
আল-কাত্তারাতুন নাহবিয়্যাহ আলাল মুকাদ্দিমাতিল আজুররূমিয়্যাহ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بِالعَقْلِ، وَلَمَّا كَانَ زَيْدٌ فِي الجُمْلَةِ مَرْفُوعًا تَبِعَهُ الوَصْفُ فِي الحَرَكَةِ نَفْسِهَا، (وَ) مِثْلُهُ فِي النَّصْبِ: («رَأَيْتُ زَيْدًا العَاقِلَ»، وَ) مِثْلُهُ فِي الخَفْضِ: («مَرَرْتُ بِزَيْدٍ العَاقِلِ»)، وَلَا نَقُولُ هُنَا: «وَمِثْلُهُ فِي الجَزْمِ»؛ لأَنَّ النَّعْتَ اسْمٌ، وَالاسْمُ لَا جَزْمَ فِيهِ - كَمَا سَبَقَ بَيَانُهُ -.وَنَعْتُ البَابِ هُوَ مَا يُسَمَّى بِالحَقِيقِيِّ، أَمَّا السَّبَبِيُّ فَلَمْ يَذْكُرْهُ المُصَنِّفُ، وَهُوَ وَصْفٌ لِمُتَعَلِّقٍ بِالمَتْبُوعِ وَيَكُونُ النَّعْتُ قَبْلَهُ، فَهَذَا النَّوْعُ يَتْبَعُ مَا قَبْلَهُ فِي الإِعْرَابِ وَالتَّعْرِيفِ وَالتَّنْكِيرِ، وَيَتْبَعُ مَا بَعْدَهُ فِي التَّأْنِيثِ وَالتَّذْكِيرِ، لَكِنْ يَبْقَى عَلَى إِفْرَادِهِ فِي الأَحْوَالِ كُلِّهَا، نَحْوُ: «الصَّالِحُ» فِي قَوْلِكَ: «جَاءَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ أَبُوهُ» وَ «جَاءَ الرَّجُلَانِ الصَّالِحُ أَبُوهُمَا» وَ «جَاءَ الرِّجَالُ الصَّالِحُ أَبُوهُمْ»، وَ «جَاءَ الرَّجُلُ الصَّالِحَةُ أُمُّهُ»، وَ «جَاءَ الرَّجُلَانِ الصَّالِحَةُ أُمُّهُمَا» وَ «جَاءَ الرِّجَالُ الصَّالِحَةُ أُمُّهُمْ». فَصْلٌ فِي المَعْرِفَةِ وَالنَّكِرَةِ(وَالمَعْرِفَةُ): هِيَ كُلُّ اسْمٍ يَدُلُّ عَلَى شَيْءٍ بِعَيْنِهِ، نَحْوُ: «الرَّجُلَ» فِي قَوْلِكَ: «رَأَيْتُ الرَّجُلَ»، خِلَافًا لِقَوْلِكَ: «رَأَيْتُ رَجُلًا» أَيْ رَجُلًا مِنَ الرِّجَالِ.وَهِيَ (خَمْسَةُ أَشْيَاءَ):الأَوَّلُ: (الاسْمُ المُضْمَرُ)، وَهُوَ الَّذِي يَنُوبُ عَنِ الاسْمِ الظَّاهِرِ بِالإِضْمَارِ، (نَحْوُ: «أَنَا»، وَ «أَنْتَ»)، أَلا تَرَى لَوْ قُلْتَ: «زَيْدٌ عَاقِلٌ» وَأَرَدْتَ أَنْ تُضْمِرَ الاسْمَ الظَّاهِرَ «زَيْدٌ» مُخَاطِبًا عَمْرًا لَقُلْتَ عَنْ زَيْدٍ: «هُوَ عَاقِلٌ»؟ وَإِذَا أَرَدَتْ أَنْ تُخَاطِبَ زَيْدًا نَفْسَهُ لَقُلْتَ لِزَيْدٍ: «أَنْتَ عَاقِلٌ»؟ وَإِذَا أَرَادَ زَيْدٌ أَنْ يَتَكَلَّمَ عَنْ نَفْسِهِ لَقَالَ لَكَ: «أَنَا عَاقِلٌ»؟فَالضَّمَائِرُ عَلَى ثَلَاثَةِ أَنْوَاعٍ: لِلْمُتَكَلِّمِ وَالمُخَاطَبِ وَالغَائِبِ، وَقَدْ تَأَتِي مُفَارِقَةً لِلكَلِمَةِ، أَوْ مُتَّصِلَةً بِهَا، أَوْ مُسْتَتِرَةً.
বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে; আর যেহেতু যায়েদ বাক্যের মধ্যে পেশবিশিষ্ট (مرفوع) অবস্থায় ছিল, তাই গুণবাচক শব্দটি (وصف) হারাকাতের ক্ষেত্রে তাকেই অনুসরণ করেছে। (এবং) অনুরূপভাবে জবরবিশিষ্ট (نصب) অবস্থার উদাহরণ হলো: ("আমি বুদ্ধিমান যায়েদকে দেখেছি"), (এবং) অনুরূপভাবে জেরবিশিষ্ট (خفض) অবস্থার উদাহরণ হলো: ("আমি বুদ্ধিমান যায়েদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি")। আমরা এখানে বলব না: "অনুরূপভাবে জযমবিশিষ্ট (جزم) অবস্থার ক্ষেত্রে"; কারণ বিশেষণ (نعت) হলো একটি বিশেষ্য (اسم), আর বিশেষ্যের মধ্যে কোনো জযম (جزم) হয় না—যেমনটি আগে বর্ণনা করা হয়েছে।অধ্যায়ের আলোচিত বিশেষণ (نعت) বলতে যা বোঝানো হয়েছে তাকে প্রকৃত (حقيقي) বিশেষণ বলা হয়। পক্ষান্তরে, পরোক্ষ (سببي) বিশেষণ সম্পর্কে লেখক উল্লেখ করেননি; আর তা হলো এমন গুণ যা অনুগামী পদের সাথে সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয়ের বর্ণনা দেয় এবং বিশেষণটি তার আগে অবস্থান করে। এই প্রকারটি ই’রাব (إعراب), নির্দিষ্টতা (تعريف) এবং অনির্দিষ্টতার (تنكير) ক্ষেত্রে তার পূর্ববর্তী পদকে অনুসরণ করে, আর স্ত্রীলিঙ্গ (تأنيث) ও পুংলিঙ্গ (تذكير) হওয়ার ক্ষেত্রে তার পরবর্তী পদকে অনুসরণ করে। তবে সকল অবস্থায় এটি একবচন (إفراد) হিসেবেই থাকে। যেমন আপনার উক্তি: "আস-সালিহু" (নেককার): "সেই ব্যক্তি এসেছে যার পিতা নেককার", "সেই দুইজন ব্যক্তি এসেছে যাদের পিতা নেককার", "সেই ব্যক্তিগণ এসেছে যাদের পিতা নেককার", "সেই ব্যক্তি এসেছে যার মাতা নেককার", "সেই দুইজন ব্যক্তি এসেছে যাদের মাতা নেককার" এবং "সেই ব্যক্তিগণ এসেছে যাদের মাতা নেককার"। পরিচ্ছেদ: নির্দিষ্ট (معرفة) এবং অনির্দিষ্ট (نكرة) বিশেষ্য প্রসঙ্গে(নির্দিষ্ট বিশেষ্য - معرفة): এটি হলো সেই সকল বিশেষ্য যা নির্দিষ্ট কোনো বস্তুকে নির্দেশ করে। যেমন আপনার উক্তি "আর-রাজুলু" (ব্যক্তিটি): "আমি ব্যক্তিটিকে দেখেছি"। এটি আপনার এই উক্তির বিপরীত: "আমি একজন ব্যক্তিকে দেখেছি", অর্থাৎ পুরুষদের মধ্য থেকে যেকোনো একজন সাধারণ পুরুষ।আর নির্দিষ্ট বিশেষ্য (খামসাতু আশইয়া) তথা পাঁচটি বিষয়:প্রথম: (সর্বনাম - الاسم المضمر), এটি এমন বিশেষ্য যা রূপান্তরের মাধ্যমে প্রকাশ্য বিশেষ্যের স্থলাভিষিক্ত হয়। (যেমন: "আমি", এবং "তুমি")। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যদি আপনি বলেন: "যায়েদ বুদ্ধিমান" এবং আপনি আমরের সাথে কথা বলার সময় প্রকাশ্য বিশেষ্য "যায়েদ" এর পরিবর্তে সর্বনাম ব্যবহার করতে চান, তবে যায়েদ সম্পর্কে বলবেন: "সে বুদ্ধিমান"? আর যখন আপনি যায়েদকে সরাসরি সম্বোধন করতে চাইবেন, তখন তাকে বলবেন: "তুমি বুদ্ধিমান"? আর যদি যায়েদ নিজের সম্পর্কে কথা বলতে চায়, তবে সে আপনাকে বলবে: "আমি বুদ্ধিমান"?সুতরাং সর্বনাম (ضمير) তিন প্রকারের হয়ে থাকে: উত্তম পুরুষ (متكلم), মধ্যম পুরুষ (مخاطب) এবং নাম পুরুষ (غائب)। এগুলো কখনো শব্দের সাথে পৃথকভাবে (مفارقة) আসে, কখনো সংযুক্তভাবে (متصلة) আসে, আবার কখনো উহ্য (مستترة) থাকে।