القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: إتحاف الذكي النبيه بجواب ما يقول الفقيه
(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)
المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]
الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م
وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى
عدد الصفحات: 10
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445
বিভাগ: হানাফী ফিকহ
কিতাব: ইত্তিহাফুত যাকি আন-নাবিহ বি-জাওয়াবি মা ইয়াকুলুল ফাকিহ
(ইবনে আবিদিনের পত্রসমগ্রের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মাদ আমিন এফেন্দী, যিনি ইবনে আবিদিন নামে সমধিক পরিচিত [ওফাত ১২৫২ হিজরী]
প্রকাশক: দার সাআদাত, ইস্তাম্বুল, ১৩২৫ হিজরী - ১৯০৭ খ্রিষ্টাব্দ
«মাজমুউ রাসায়িল»-এর প্রতিলিপি প্রকাশ করেছে: আলমুল কুতুব, এবং আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১০
[কিতাবটির পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ যিলকদ ১৪৪৫
সুতরাং যার আগে রয়েছে তা জমাদিউল আখিরাত। এবং এই অবস্থার বিপরীত ক্ষেত্রে যেমন: ‘রমজানের আগের আগের পরের মাস’, তা জিলহজ মাসে পড়বে; কারণ রমজানের আগের আগের মাসটি হলো জিলকদ, সুতরাং তার পরের মাসটি হলো জিলহজ। এবং নিছক ‘আগে’ (قبل) ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা শাওয়াল মাসে পড়বে; কারণ রমজানের আগের আগের মাসটি হলো জিলকদ, যেমনটি ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে, তাই তার আগের মাসটি হলো শাওয়াল। এবং এর বিপরীতে অর্থাৎ নিছক ‘পরে’ (بعد) ব্যবহারের ক্ষেত্রে তা শাবান মাসে পড়বে; কারণ রমজানের পরের পরের মাসটি হলো রজব, তাই তার আগের মাসটি হলো শাবান। সুতরাং এগুলো হলো চারটি অবস্থা। আর এগুলো ছাড়া আরও চারটি অবস্থা অবশিষ্ট রয়েছে। প্রথমটি: তার পরের আগের আগের মাস; দ্বিতীয়টি এর বিপরীত অর্থাৎ: তার আগের পরের পরের মাস; তৃতীয়টি: তার আগের পরের আগের মাস; চতুর্থটি এর বিপরীত অর্থাৎ: তার পরের আগের পরের মাস।
আর এই চারটির বিধান হলো ইতিপূর্বে বর্ণিত বিধানের বিপরীত যখন ‘মা’ (ما)-কে অতিরিক্ত বা বাতিল (ইলগা) ধরা হবে। সুতরাং এই চারটির মধ্যে প্রথম অবস্থায় যদি ‘মা’ অতিরিক্ত ধরা হয়, তবে তা শাওয়াল মাসে পড়বে; যেন সে বলল: ‘তার পরের আগের আগের মাসটি হলো রমজান’। এমতাবস্থায় ‘রমজান’ হলো মুবতাদা (উদ্দেশ্য) এবং একে অপরের সাথে যুক্ত হয়ে গঠিত যরফগুলো (অধিকরণসমূহ) হলো তার খবর (বিধেয়)। আর বাক্যটি হলো প্রশ্নে উল্লিখিত মাসের সিফাত (গুণ)। আর ‘পরে’ এর সাথে যুক্ত সর্বনামটি প্রশ্নের মাসের দিকে ফিরছে। সুতরাং ‘আগে’ শব্দটি এবং তার সাথে যা যুক্ত হয়েছে (অর্থাৎ ‘পরে’) তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে, কারণ এটিই হলো সেই সর্বনামের মূল উদ্দেশ্য যা ‘পরে’ এর সাথে মুদাফ ইলাইহি হিসেবে যুক্ত আছে। ফলে বিষয়টি এমন হয়ে যাবে যেন প্রথম ‘আগে’ শব্দটি ওই সর্বনামের দিকে মুদাফ হয়েছে; অর্থাৎ সে যেন বলল: ‘এমন একটি মাস যার আগে রমজান রয়েছে’, আর সেটি হলো শাওয়াল। এই পদ্ধতিতে ‘মা’ এর পরে অবস্থিত যরফটি মাজরুর (জের যুক্ত) হবে।
আর যদি ‘মা’ মাওসুলাহ (সম্বন্ধবাচক) বা মাওসুফাহ (গুণান্বিত) হয়, তবে তা শাবান মাসে পড়বে। যেন সে বলল: ‘এমন একটি মাস যা ওই মাসের আগে, যে মাসের পরের আগের মাসটি রমজান’। অথবা: ‘এমন একটি মাস যা ওই মাসের আগে, যার পরের আগের মাসটি রমজান’। সুতরাং ‘মা’ এর দিকে মুদাফ হওয়া ‘আগে’ শব্দটি হলো প্রশ্নের মাসের সিফাত, এবং তার মধ্যে নিহিত সর্বনামটি মাওসুলের দিকে ফিরছে। আর ‘পরে’ এর দিকে মুদাফ হওয়া ‘আগে’ শব্দটি হলো খবর-এ-মুকাদ্দাম (অগ্রবর্তী বিধেয়) এবং তার মধ্যকার নিহিত সর্বনামটি রমজানের দিকে ফিরছে, আর রমজান হলো মুবতাদা-এ-মুআখখার (পরবর্তী উদ্দেশ্য)। মুবতাদা ও খবর মিলে গঠিত বাক্যটি হলো ‘মা’ এর সিলাহ (সম্বন্ধ) বা সিফাত। আর ‘পরে’ এর সাথে যুক্ত মুদাফ ইলাইহি সর্বনামটি ‘মা’ এর দিকে ফিরছে। এর অর্থ হলো: সে তালাককে এমন একটি মাসের সাথে সম্পৃক্ত করল যা এমন এক মাসের আগে, যার পরের আগের মাসটি হলো রমজান। সুতরাং ‘আগে’ এবং ‘পরে’ একে অপরকে বাতিল করে দিবে যেমনটি পূর্বে বলা হয়েছে, কারণ যে মাসের পরের আগের মাস রমজান, সেটি রমজান নিজেই। সুতরাং ‘মা’ যখন মাওসুলাহ বা মাওসুফাহ হয়, তখন তা রমজানেরই নামান্তর হয়ে থাকে। ফলে তার সাথে ‘আগে’ যুক্ত করার মাধ্যমে বিষয়টি এমন হয়ে যায় যেন সে বলল: সে তালাককে রমজানের আগের মাসের সাথে সম্পৃক্ত করেছে, আর তা হলো শাবান।
অবশিষ্ট তিন অবস্থার বর্ণনাও অনুরূপ। প্রতিটি অবস্থায় যেখানে ‘মা’-কে অতিরিক্ত ধরার কারণে উত্তর শাওয়াল বা শাবান হতো, ‘মা’-কে মাওসুলাহ বা মাওসুফাহ ধরার কারণে উত্তরটি হবে তার বিপরীত। সুতরাং এর দ্বিতীয় অবস্থায় অর্থাৎ ‘রমজানের আগের পরের পরের মাস’, ‘মা’-কে অতিরিক্ত ধরার ক্ষেত্রে তা শাবান মাসে পড়বে; কারণ এর অর্থ হলো: তার পরের মাসটি রমজান, আর তা হলো শাবান যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর ‘মা’-কে মাওসুলাহ ধরার ক্ষেত্রে তা শাওয়াল মাসে পড়বে; কারণ রমজানের আগের পরের মাসটি হলো খোদ রমজান, সুতরাং তার পরের মাসটি হলো শাওয়াল। তৃতীয় অবস্থায় অর্থাৎ ‘রমজানের আগের পরের আগের মাস’, ‘মা’-কে অতিরিক্ত ধরার ক্ষেত্রে তা শাওয়াল মাসে পড়বে; কারণ এর অর্থ হলো: তার আগের মাসটি রমজান, আর তা হলো শাওয়াল যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। আর মাওসুলাহ ধরার ক্ষেত্রে তা শাবান মাসে পড়বে; কারণ রমজানের আগের পরের মাসটি হলো খোদ রমজান যেমনটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।
--------------------------------------------
--------------------------------------------