(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: -)
شفاء العليل وبل الغليل في حكم الوصية بالختمات والتهاليل - ط إسطنبول   (ابن عابدين)

القسم: الفرائض والوصايا


الكتاب: شفاء العليل وبل الغليل في حكم الوصية بالختمات والتهاليل

(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)

المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]

الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م

وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى

عدد الصفحات: 57

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445

শিফাউল আলীল ওয়া বাল্লুল গালীল ফি হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতামাতি ওয়াত তাহালীল - ইস্তাম্বুল সংস্করণ   (ইবনে আবিদীন)

বিভাগ: ফারায়েজ (উত্তরাধিকার) ও অসিয়ত


বই: শিফাউল আলীল ওয়া বাল্লুল গালীল ফি হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতামাতি ওয়াত তাহালীল

(ইবনে আবিদীনের পত্রাবলি বা রিসালা সংকলনের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)

লেখক: মুহাম্মদ আমিন এফেন্দি, যিনি ইবনে আবিদীন নামে পরিচিত [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]

প্রকাশক: দারু সা’আদাত، ইস্তাম্বুল، ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ

«মাজমুউুর রাসায়িল»-এর প্রতিচ্ছবি বা অফসেট সংস্করণ: আলমুল কুতুব، এবং আরও বেশ কিছু প্রকাশনী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৭

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ জিলকদ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫১)
الرسالة السابعة

 

شفاء العليل وبل الغليل في حكم الوصية بالختمات والتهاليل

تأليف اعلم العلماء

افضل الفضلاء السيد الشريف

السيد محمد عابدين عليه

رحمة ارحم الراحمين

آمين

 

صورة ما كتبه سيدنا المؤلف رحمه الله تعالى على نسخته التي بخطه الشريف بيان عدد الكتب التي جمعت منها هذه الرسالة سوى التي راجعتها ولم انقل عنها اسردها هنا وان كنت عزوت كل مسئلة الى محلها ليزداد الواقف عليها ثقة بذكر مجموعتها وقد نافت على خمسين كتابا وهي شرح البخارى للعينى شرح مجمع الآثار، شرح الكنز الزيلعي، شرحه لا من نجيم. شرحه المقدسي، شرح المجمع لابن مالك * معراج الدراية * فتح القدير* الدر المختار، شرح الوهبانية لابن الشحنة * وللمصنف* الذخيرة البرهانية * الظهيرية * الولوالجية* الخانية * الخلاصة * البزازية * القنية * خزانة الفتاوى لمختصر منتقى الفتاوى * فتاوى العلامة قاسم * انفع الوسائل * تاتار خانية * الشرنبلالية * بلوغ الارب للشرنبلالى * التبيان للنووى * حاشية الرملى على البحر جامع الفتاوى * الطريقة المحمدية * شرحها للاستاذ عبد الغنى * تبيين المحارم * نور العين * هدية الصعلوك شرح تحفة الملوك * مجموعة فتاوى لابن حجر* شرح المنهج الشيخ الاسلام زكريا * ايقاظ النائمين للبركوى * الهداية * الكنز * المجمع * المختار* مواهب الرحمن * الملتقى * الايضاح * الوقاية * التنوير، القاموس، الفتاوى الخيرية * شرح الغاية للخطيب الشربينى * شرح الاشباء للمبيرى * حاشية المنتهى * شرح الملتقى للباقانى * الجوهرة شرح القدوري الحدادي * شرح الطريقة المحمدية لرجب افندى * الاختيار شرح المختار *
সপ্তম রিসালাহ

 

শিফাউল আলীল ওয়া বাল্লুল গালীল (অসুস্থের আরোগ্য ও পিপাসার্তের তৃপ্তি): খতম ও তাহলীলের অসিয়ত করার বিধান প্রসঙ্গে

শ্রেষ্ঠ আলেম কর্তৃক রচিত

মর্যাদাবানদের শ্রেষ্ঠ, সম্মানিত সাইয়্যেদ

সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবিদীন, তাঁর ওপর

পরম দয়ালু আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক

আমীন

 

আমাদের মহান লেখক (রহমাতুল্লাহি তা'আলা) তাঁর নিজের হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিতে যা লিখেছিলেন তার অনুলিপি: এই রিসালাহটি যে বইগুলো থেকে সংকলন করা হয়েছে সেগুলোর সংখ্যার বর্ণনা; সেই বইগুলো ছাড়া যা আমি পর্যালোচনা করেছি কিন্তু উদ্ধৃতি দিইনি। আমি এখানে সেগুলো তালিকাভুক্ত করছি, যদিও আমি প্রতিটি মাসআলাকে তার উৎসের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছি, যাতে পাঠক এই সংকলনটি সম্পর্কে অবগত হয়ে আরও আশ্বস্ত হতে পারেন। এই বইয়ের সংখ্যা পঞ্চাশটিরও বেশি। সেগুলো হলো: আইনী রচিত শরহে বুখারী, শরহে মাজমাউল আসার, যায়লায়ী রচিত শরহে কানজ, ইবনে নুজাইম রচিত এর ব্যাখ্যা, মাকদিসি রচিত এর ব্যাখ্যা, ইবনে মালেক রচিত শরহে মাজমা, মিরাজুদ দিরায়া, ফাতহুল কাদির, আদ-দুররুল মুখতার, ইবনে শাহনাহ রচিত শরহে ওয়াহবানিয়্যাহ এবং লেখকের নিজস্ব ব্যাখ্যা, যাখীরাতুল বুরহানিয়্যাহ, জহিরিয়্যাহ, ওয়ালওয়ালিজিয়্যাহ, খানিয়্যাহ, খুলাসা, বাযযাযিয়্যাহ, কুনিয়া, খুযানাতুল ফাতাওয়া (মুনতাক আল-ফাতাওয়া’র সংক্ষিপ্তসার), আল্লামা কাসিমের ফাতাওয়া, আনফাউল ওয়াসাইল, তাতারখানিয়্যাহ, শুরুনবুলালিইয়্যাহ, শুরুনবুলালি রচিত বুলুগুল আরাব, নববী রচিত তিবয়ান, বাহর-এর ওপর রামলির হাশিয়া, জামেউল ফাতাওয়া, তরিকাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ, উস্তাদ আব্দুল গনি রচিত এর ব্যাখ্যা, তাবয়ীনুল মহারিম, নূরুল আইন, হাদিয়্যাতুস সুলূক শরহে তুহফাতুল মুলূক, ইবনে হাজারের ফাতাওয়া সংগ্রহ, শায়খুল ইসলাম যাকারিয়া রচিত শরহে মানহাজ, বিরগিভি রচিত ইকাজুন নাইমীন, হিদায়া, কানজ, মাজমা, মুখতার, মাওয়াহিবুর রহমান, মুলতাকা, ঈযাহ, বিকায়া, তানবীর, কামূস, ফাতাওয়া খাইরিয়্যাহ, খাতিব শিরবীনি রচিত শরহে গায়া, বিরি রচিত শরহে আশবাহ, হাশিয়াতুল মুনতাহা, বাকানি রচিত শরহে মুলতাকা, হাদ্দাদী রচিত জওহারা শরহে কুদুরী, রজব এফেন্দি রচিত শরহে তরিকাতুল মুহাম্মাদিয়্যাহ, আল-ইখতিয়ার শরহে মুখতার।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫২)
الرسالة السابعة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي سلك بعباده المؤمنين السبيل الاقوى. واحلهم في الرتبة القصوى. والزمهم كلمة التقوى * والصلاة والسلام على المرسل رحمة للعالمين * وقدوة للعالمين العاملين * وعلى آله واصحابه الذين بذلوا نفوسهم لمرضاته * واوضحوا السبيل لمن رام تقوى الله حق تقاته * وعبدوا الله مخلصين له الدين * وبذلوا النصيحة لعامة المؤمنين * ولم يأخذوا على ذلك اجرا ولا عوضا * ولم يشركوا بعبادة ربهم احدا ولم يطلبوا عرضًا ولا غرضا * وعلى سائر الائمة * هداة هذه الامة * الذين حازوا من هذا القسم اوفر نصيب * وقام منهم على كل غصن من اغصان الشريعة عندليب * وعلى كل منبر من منابر التوحيد خطيب * فالعيش في ساحتهم عيش خصيب * مذ بينوا المعروف والمنكر * وجاهدوا فى الله الجهاد الاكبر * ولم تأخذهم فيه لومة لائم * ولا سطوة ملك جبار قاصم * ولم يداهنوا في الدين * ولم يكتموا الحق المبين * بل ارشدوا واخلصوا لله فى الطاعات * وآمنوا وعملوا الصالحات * وتواصوا بالحق وتوصوا بالصبر * ففازوا بعزيز النصر * وجزيل الاجر * (اما بعد) فيقول محمد امين * الشهير بابن عابدين * الماتريدى الحنفى * منح اللطف الخفى * والخير الوفى * والبر الحفى * لما وقع فى دمشق وغيرها الطاعون العام * عام تسعة وعشرين ومائتين والف وقبله بعام * رأيت الناس مقبلين على الوصية بالختمات والتهاليل * مع اعتقادهم بانها من اعظم ما يتقرب به إلى الله الجليل * وكان من سابق لي في ذلك شبهة قوية * بناء على قواعد ائمتنا الحنفية * فاردت ان انبه عليها وان لم يجد نفعا * لعلمى بان مغاير المألوف منكر طبعا * ولكن كثيرا من المسائل * لا تكاد تجد عنها من مسائل * وقد بينها الائمة الاوائل* وايدوها بالحجج والدلائل * خدمة لصاحب الشرع الشريف * واعتناء بقدره العلى المنيف * ورهبة مما ورد في الكتمان * ورغبة فيما اعد لاهل البيان * ولم آت بشئ بدون مستند * ولم استند الا لنقل صحيح معتمد * فاقسم بالله العظيم على من رأى ما اقول * واطلع على ما سطرته من النقول * ان ينظر بعين الانصاف * ويجانب سبيل الاعتساف * ويعيد النظر مرة بعد مرة * ويكرر التفكر كرة بعد كرة * ويلاحظ انه موقوف للحساب * مسئول عن الجواب * كيلا يصده الطمع في الدنيا الفانية * عما ينفعه في الآخرة الباقية * وان ينظر لما قيل لا لمن قال *
সপ্তম পত্র

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর মুমিন বান্দাদের সুদৃঢ় পথে পরিচালিত করেছেন, তাদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন এবং তাদের জন্য তাকওয়ার বাণী আবশ্যক করেছেন। দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বজগতের রহমত এবং আমলকারী আলেমদের আদর্শ হিসেবে প্রেরিত রাসূলের ওপর। আরও বর্ষিত হোক তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং যারা যথাযথভাবে আল্লাহভীতি অর্জন করতে চায়, তাদের জন্য পথ সুস্পষ্ট করেছেন। তাঁরা আল্লাহর দ্বীনকে একনিষ্ঠ রেখে তাঁর ইবাদত করেছেন এবং সাধারণ মুমিনদের হিতোপদেশ দিয়েছেন। তাঁরা এর বিনিময়ে কোনো প্রতিদান বা বিনিময় গ্রহণ করেননি এবং তাঁদের রবের ইবাদতে কাউকে শরিক করেননি এবং কোনো পার্থিব লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য খোঁজেননি। আরও সালাম বর্ষিত হোক সেই সকল ইমামগণের ওপর, যাঁরা এই উম্মতের পথপ্রদর্শক; যাঁরা এই অংশ থেকে প্রচুর সৌভাগ্য লাভ করেছেন। তাঁদের মধ্য থেকে শরীয়তের প্রতিটি শাখায় একজন বিশেষজ্ঞ প্রাজ্ঞ এবং তাওহীদের প্রতিটি মিম্বরে একজন বাগ্মী খতিব দণ্ডায়মান হয়েছেন। তাঁদের সান্নিধ্যের জীবন অত্যন্ত প্রাচুর্যময়; যেহেতু তাঁরা সৎ ও অসৎ কাজ স্পষ্ট করেছেন এবং আল্লাহর পথে জিহাদে আকবর বা বড় জিহাদে অবতীর্ণ হয়েছেন। এই পথে কোনো নিন্দুকের নিন্দা বা কোনো স্বৈরাচারী প্রবল প্রতাপশালী বাদশাহর প্রভাব তাঁদের বিচলিত করতে পারেনি। তাঁরা দ্বীনের বিষয়ে কোনো প্রকার আপস করেননি এবং সুস্পষ্ট সত্য গোপন করেননি। বরং তাঁরা সঠিক পথের দিশা দিয়েছেন, আল্লাহর আনুগত্যে একনিষ্ঠতা বজায় রেখেছেন, ঈমান এনেছেন ও সৎকর্ম করেছেন এবং একে অপরকে সত্য ও ধৈর্যের উপদেশ দিয়েছেন। ফলে তাঁরা মহা বিজয় ও বিপুল প্রতিদান লাভে ধন্য হয়েছেন। (অতঃপর) ইবনে আবিদিন নামে সমধিক পরিচিত মুহাম্মদ আমিন আল-মাতুরিদি আল-হানাফি—যাকে গোপন অনুগ্রহ, পরিপূর্ণ কল্যাণ ও অবারিত পুণ্য দান করা হয়েছে—বলছেন: যখন ১২২৯ হিজরি এবং তার আগের বছর দামেস্ক ও অন্যান্য অঞ্চলে মহামারি প্লেগ ছড়িয়ে পড়ল, তখন আমি মানুষকে খতম ও তাহলিল করার ওসিয়ত করার প্রতি ঝুঁকে পড়তে দেখলাম। তাদের বিশ্বাস ছিল যে, এগুলো মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায়। এ বিষয়ে আমাদের হানাফি ইমামগণের মূলনীতির ভিত্তিতে আমার মনে পূর্ব থেকেই একটি শক্তিশালী সংশয় ছিল। তাই আমি এ ব্যাপারে সতর্ক করার ইচ্ছা করলাম, যদিও আমি জানি যে অভ্যস্ত বিষয়ের বিপরীত কিছু সাধারণত বর্জনীয় মনে করা হয়। কিন্তু এমন অনেক মাসআলা রয়েছে যে সম্পর্কে সচরাচর কোনো আলোচনা পাওয়া যায় না, অথচ পূর্ববর্তী ইমামগণ সেগুলো বর্ণনা করেছেন এবং দলিল ও প্রমাণের মাধ্যমে তা শক্তিশালী করেছেন। এটি মূলত শরীয়ত প্রবর্তকের খিদমতের উদ্দেশ্যে এবং তাঁর উচ্চ মর্যাদার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপের কারণে। এছাড়া সত্য গোপন করার পরিণাম থেকে বাঁচার ভয় এবং যারা সত্য বর্ণনা করে তাদের জন্য যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে তার আশায় (আমি এটি লিখছি)। আমি প্রমাণ ব্যতীত কোনো কথা আনিনি এবং নির্ভরযোগ্য ও বিশুদ্ধ উদ্ধৃতি ছাড়া অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করিনি। সুতরাং আমি মহান আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি সেই ব্যক্তির প্রতি যে আমার বক্তব্য দেখবে এবং আমার লিখিত উদ্ধৃতিগুলো পাঠ করবে, সে যেন ইনসাফের দৃষ্টিতে দেখে এবং হটকারিতার পথ পরিহার করে। সে যেন বারবার বিষয়টি নিয়ে গভীর চিন্তা ও গবেষণা করে এবং এই কথা লক্ষ্য রাখে যে, তাকে একদিন হিসাবের জন্য দাঁড়াতে হবে এবং জওয়াবদিহি করতে হবে; যাতে নশ্বর পৃথিবীর লোভ তাকে পরকালীন কল্যাণ থেকে বিমুখ করতে না পারে। আর সে যেন কী বলা হয়েছে সেদিকে তাকায়, কে বলেছে সেদিকে নয়।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫৩)
وان يعرف الرجال بالحق لا الحق بالرجال * فان رآه صوابا فليد عن * والا فليدلل على ما يدعيه وليبرهن * بنقل صالح المعارضة ما اقول * ولما اثبته من صريح النقول * ولا يقتصر على ان ذلك مشتهر معروف * فكم من منكر مألوف * والعرف الطارئ ليس من الحجج الاربعة الشرعية * فما بالك ان خالف الأدلة النقلية والعقلية * وانى وربي شاهد مريد اظهار الحكم الشرعى * والخروج من عهدة اداء الواجب المرعى * ولم ارد تقبيح فعل احد بعينه * ولا اظهار زيفه وشينه * فمن ظن بي خلاف ذلك او نال منى * فقد جعلت ربه خصما عنى * والى الله مرجعنا * والموقف يجمعنا * على انى لم آت بشئ لم اسبق اليه * ولم ينبه احد عليه * بل وجدت لى قدوة هو أجل امام(1) * قد سبقنى الى ذلك بمئين من الاعوام * وهو الذي حرك لى همة تقاعدت منذ زمان * عن اظهار ذلك مخافة ان الفكر قد خان * ولما جددت العزم تواردت لي على ذلك الادلة * فاتضح الحق وضوح الشمس حيث لا في السماء علة * وجمعت هذه الرسالة * وحررت هذه العجالة * فجاءت بحمد الله تعالى قرة لعين قاريها * ودرة لتاج داريها * (ووسمتها بشفاء العليل * وبل الغليل * في حكم الوصية بالختمات والتهاليل) صانها الله تعالى عن حسود يصده حسده عن الانصاف * وعن بعيد عن قبول الحق والاذعان به والاعتراف * وجعلها ذخرا لى يوم التناد * وسؤال الخلق عن حقوق الحق والعباده وعليه اعتمادي * والى كرمه استنادى * وهو ملجأى ومأمولى * ومقصدى ومسئولى * فى ان يحفظني عن الخطأ والخلل * ويلهمنى حجتى عند حلول الأجل * وقد رتبتها على مقدمة وفصلين ومقصد وخاتمة * وتتمة لبعض فروع مهمة * فاقول (المقدمة) فى دليل جواز اخذ الاجرة على الطاعة وعدمه وما فيه من الاختلاف ذكر الامام البخاري في كتابه الجامع الصحيح باب ما يعطى فى الرقية على احياء العرب بفاتحة الكتاب وقال ابن عباس رضى الله تعالى عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم احق ما اخذتم عليه اجرا كتاب الله وقال الشعبي لا يشترط المعلم الا ان يعطى شيئًا فيقبله وقل الحكم لم اسمع احدا كره اجر المعلم واعطى الحسن عشرة دراهم ثم ذكر بسنده حديث الرهط الذين نزلوا على حى فلم يضيفوهم فلدغ سيدهم فطلبوا من الرهط فقال بعضهم نعم والله انى لارقى ولكن والله لقد استضفناكم فلم تضيفونا فما انا براق لكم حتى تجعلوا لنا جعلا فصالحوهم على قطيع من الغنم فانطلق يتفل عليه ويقرأ الحمد لله رب العالمين فكأنما نشط من عقال فانطلق يمشى وما به قلبة اى علة

--------------------------------------------

(1) هو الامام العلامة الشيخ محمد البركوى صاحب الطريقة المحمدية وغيرها من المؤلفات السنية منه.
মানুষকে যেন সত্যের (হক) মাধ্যমে চেনা যায়, সত্যকে মানুষের মাধ্যমে নয়। যদি তিনি একে সঠিক মনে করেন তবে যেন তা মেনে নেন; অন্যথায় তিনি যা দাবি করছেন তার স্বপক্ষে যেন দলিল ও প্রমাণ পেশ করেন—আমি যা বলেছি তার বিপরীতে গ্রহণযোগ্য বর্ণনার মাধ্যমে এবং আমি যা সুস্পষ্ট বর্ণনার মাধ্যমে সাব্যস্ত করেছি তার দ্বারা। আর তিনি যেন কেবল বিষয়টি প্রসিদ্ধ ও পরিচিত হওয়ার ওপরই সীমাবদ্ধ না থাকেন। কারণ কতই না পরিচিত বিষয় রয়েছে যা মূলত বর্জনীয়। আর নতুন উদ্ভূত প্রথা তো শরীয়তের চারটি দালিলিক প্রমাণের অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে সেই প্রথার অবস্থা কী হবে যা বর্ণনাপ্রসূত (নকলী) ও যুক্তিপ্রসূত (আকলী) দলীল বিরোধী? আর আমি—আমার প্রতিপালক সাক্ষী—শরয়ী বিধান প্রকাশ করতে এবং পালনীয় দায়িত্ব পালনের দায়ভার থেকে মুক্তি পেতে ইচ্ছুক। আমি নির্দিষ্টভাবে কারো কাজকে কদর্য প্রমাণ করতে চাইনি, কিংবা কারো অসারতা বা ত্রুটি প্রকাশ করতেও চাইনি। সুতরাং যে ব্যক্তি আমার সম্পর্কে এর বিপরীত ধারণা পোষণ করবে কিংবা আমাকে গালমন্দ করবে, তবে আমি তার প্রতিপালককে আমার পক্ষ থেকে বিবাদী সাব্যস্ত করলাম। আল্লাহর কাছেই আমাদের প্রত্যাবর্তন এবং হাশরের ময়দান আমাদের একত্রিত করবে। তদুপরি, আমি এমন কোনো বিষয় নিয়ে আসিনি যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়নি বা কেউ সেদিকে ইঙ্গিত দেয়নি। বরং আমি আমার জন্য একজন আদর্শ খুঁজে পেয়েছি, যিনি এক মহান ইমাম(১)। তিনি আমার কয়েকশ বছর পূর্বেই এ পথে অতিক্রান্ত হয়েছেন। তিনিই মূলত আমার সেই হিম্মতকে জাগ্রত করেছেন যা অনেক আগে থেকেই স্তিমিত হয়ে গিয়েছিল; এই ভয়ে যে পাছে চিন্তা-ভাবনা বিশ্বাসঘাতকতা করে বসে। যখন আমি নতুন করে সংকল্প গ্রহণ করলাম, তখন আমার নিকট এ বিষয়ে দলিলসমূহ একের পর এক উপস্থিত হতে লাগল। ফলে সত্য সূর্যের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে গেল যেখানে আকাশে কোনো মেঘ ছিল না। আমি এই রিসালাটি সংকলন করেছি এবং এই সংক্ষিপ্ত পুস্তিকাটি চূড়ান্ত করেছি। ফলে আল্লাহর প্রশংসায় এটি এর পাঠকের জন্য চোখের শীতলতা এবং এর সমঝদারের মুকুটের মুক্তো হয়ে আবির্ভূত হয়েছে। (আমি এর নাম দিয়েছি: শিফাউল আলীল ওয়া বাল্লুল গালীল ফি হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খতমাত ওয়াত তাহালীল)। আল্লাহ তাআলা একে এমন হিংসুক থেকে রক্ষা করুন যার হিংসা তাকে ইনসাফ থেকে বিরত রাখে, এবং সত্য গ্রহণ ও তার সামনে মাথা নত করা এবং তা স্বীকার করা থেকে বিমুখ ব্যক্তি থেকে হেফাজত করুন। আর একে আমার জন্য কিয়ামতের দিনের পাথেয় বানান, যেদিন মহান আল্লাহর হক এবং বান্দার হক সম্পর্কে মাখলুককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাঁর ওপরই আমার নির্ভরতা এবং তাঁর করুণাই আমার অবলম্বন। তিনি আমার আশ্রয়স্থল, আমার আশা-ভরসা এবং আমার লক্ষ্য ও যাঞ্চার স্থল যেন তিনি আমাকে ভুল ও ত্রুটি থেকে রক্ষা করেন এবং মৃত্যুর সময় আমার দলিল আমাকে ইলহাম করেন। আমি একে একটি ভূমিকা, দুটি পরিচ্ছেদ, একটি মূল উদ্দেশ্য, একটি উপসংহার এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ আনুষঙ্গিক শাখার মাধ্যমে বিন্যস্ত করেছি। আমি বলছি: (ভূমিকা) ইবাদতের কাজে বিনিময় গ্রহণের বৈধতা ও অবৈধতার দলিল এবং এ নিয়ে যে মতপার্থক্য রয়েছে সে সম্পর্কে। ইমাম বুখারী তাঁর জামে সহীহ কিতাবে অধ্যায় রচনা করেছেন: 'আরবের গোত্রসমূহে সূরা ফাতিহা দ্বারা ঝাড়ফুঁক করার বিনিময়ে যা প্রদান করা হয়'। ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন যে, 'তোমরা যে বিষয়ের ওপর বিনিময় গ্রহণ করো তার মধ্যে আল্লাহর কিতাব সবচেয়ে বেশি হকের দাবিদার'। শাবী বলেন, শিক্ষক কোনো শর্তারোপ করবেন না, তবে তাকে কিছু দেওয়া হলে তিনি তা গ্রহণ করতে পারেন। হাকাম বলেন, আমি কাউকে দেখিনি যিনি শিক্ষকের বিনিময় গ্রহণ করাকে অপছন্দ করেছেন। হাসান (বসরী) দশ দিরহাম প্রদান করেছেন। অতঃপর তিনি তাঁর সনদে সেই কাফেলার হাদিস উল্লেখ করেছেন যারা একটি গোত্রে অবতরণ করেছিল কিন্তু তারা তাদের আতিথেয়তা করেনি। অতঃপর তাদের নেতাকে বিচ্ছু দংশন করলে তারা সেই কাফেলার কাছে সাহায্য চাইল। তাদের একজন বলল, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম! আমি ঝাড়ফুঁক করব। কিন্তু আল্লাহর কসম, আমরা তোমাদের নিকট মেহমানদারি চেয়েছিলাম আর তোমরা আমাদের মেহমানদারি করোনি। সুতরাং আমি তোমাদের জন্য ঝাড়ফুঁক করব না যতক্ষণ না তোমরা আমাদের জন্য কোনো বিনিময় নির্ধারণ করো। ফলে তারা এক পাল বকরির বিনিময়ে তাদের সাথে সন্ধি করল। অতঃপর সে তার ওপর থুথু দিতে লাগল এবং 'আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন' পাঠ করতে লাগল। ফলে সে যেন বন্ধনমুক্ত হলো এবং সুস্থ হয়ে হাঁটতে শুরু করল, তার আর কোনো রোগ অবশিষ্ট রইল না।

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন ইমাম আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আল-বিরকিভী, 'আত-তরীকাতুল মুহাম্মাদিয়া' এবং অন্যান্য সুন্নাহভিত্তিক কিতাবসমূহের রচয়িতা। এটি লেখকের পক্ষ থেকে।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫৪)
وفيه انه عليه الصلاة والسلام اقرهم وقال قد اصبتم اقسموا واضربوا لي معكم سهما (وذكر) شارحه العلامة محمود العينى انه قد اختلف فى اخذ الاجر على الرقية بالفاتحة وفي اخذه على التعليم فاجازه عطاء وابو قلابة وهو قول مالك والشافعى واحمد وابى ثور ونقله القرطبي عن ابي حنيفة في الرقية وهو قول اسحاق وكره الزهرى تعليم القرآن بالاجر وقال ابو حنيفة واصحابه لا يجوز ان يأخذ على تعليم القرآن * وقال الحاكم من اصحابنا في كتابه الكافى ولا يجوز ان يستأجر رجلا ان يعلم اولاده القرآن والفقه والفرائض أو يؤمهم في رمضان او يؤذن * وفى خلاصة الفتاوى ناقلا عن الاصل لا يجوز الاستئجار على الطاعات كتعليم القرآن والفقه والاذان والتذكير والحج والغزو يعنى لا يجب الاجر وعند اهل المدينة يجوز وبه اخذ الشافعي ونصير وعصام وابو نصر الفقيه وابو الليث رحمهم الله تعالى * والاصل الذي بنى عليه حرمة الاستئجار على هذه الاشياء ان كل طاعة يختص بها المسلم لا يجوز الاستئجار عليها لان هذه الاشياء طاعة وقربة تقع عن العامل قال الله تعالى {وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى (39)} فلا يجوز اخذ الاجرة كالصوم والصلاة واحتجوا على ذلك باحاديث منها ما رواه احمد في مسنده عن عبد الرحمن بن شبل سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (اقرأوا القرآن ولا تأكلوا به ولا تجفوا عنه ولا تغلوا فيه ولا تستكثروا به) ورواه اسحاق بن راهويه ايضا في مسنده وابن ابى شيبة وعبد الرزاق في مصنفيهما ومن طريق عبد الرزاق رواه عبد بن حميد وابو يعلى الموصلى والطبرانى * ومنها ما رواه البزار في مسنده عن عبد الرحمن بن عوف مرفوعا نحوه * ومنها حديث رواه ابو داود من حديث المغيرة بن زياد الموصلى عن عبادة عن الاسود بن ثعلبة عن عبادة بن الصامت رضى الله تعالى عنه قال علمت ناسا من اهل الصفة القرآن فاهدى الى رجل منهم قوسا فقلت ليست بمال وارمى بها في سبيل الله فسألت النبي صلى الله عليه وسلم عن ذلك فقال (ان اردت ان يطوقك الله طوقا من نار فاقبلها) ورواه ابن ماجه والحاكم في المستدرك وقال صحيح الاسناد ولم يخرجاه واخرجه ابو داود من طريق آخر * ومنها ما رواه ابن ماجه من حديث عطية الكلاعي عن ابي بن كعب رضي الله عنه قال علمت رجلا القرآن فاهدى الى قوسا فذكرت ذلك للنبي صلى الله عليه وسلم فقال (ان اخذتها اخذت قوسا من نار) قال فرددتها ومنها ما رواه البيهقى فى شعب الايمان من حديث سليمان بن بريدة عن ابيه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (من قرأ القرآن بأكل به الناس جاء يوم القيامة ووجهه عظمة ليس عليه لحم * ومنها ما رواه الترمذي

এতে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে অনুমোদন দিয়েছেন এবং বলেছেন, তোমরা সঠিক করেছ; তা বন্টন করো এবং তোমাদের সাথে আমার জন্যও একটি অংশ রাখো। এর ব্যাখ্যাকার আল্লামা মাহমুদ আল-আইনী উল্লেখ করেছেন যে, সূরা ফাতিহার মাধ্যমে রুকইয়ার (ঝাড়ফুঁক) বিনিময় গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রদানের বিনিময় গ্রহণের ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। আতা এবং আবু কিলাবা এটি জায়েজ বলেছেন। এটিই ইমাম মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ এবং আবু সাওর-এর অভিমত। আল-কুরতুবী রুকইয়ার ক্ষেত্রে এটি ইমাম আবু হানিফা থেকেও বর্ণনা করেছেন এবং এটি ইসহাকের অভিমত। যুহরী বিনিময়ের বিনিময়ে কুরআন শিক্ষাদানকে অপছন্দ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীরা বলেছেন যে, কুরআন শিক্ষার ওপর বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ নয়। আমাদের মাযহাবের ইমাম আল-হাকিম তাঁর ‘আল-কাফী’ কিতাবে বলেছেন, কোনো ব্যক্তিকে নিজের সন্তানদের কুরআন, ফিকহ ও ফারায়েয (উত্তরাধিকার আইন) শিক্ষা দেওয়ার জন্য অথবা রমজান মাসে ইমামতি করার জন্য বা আযান দেওয়ার জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ করা জায়েজ নয়। ‘খুলাসাতুল ফাতাওয়া’ কিতাবে ‘আল-আসল’ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, ইবাদতমূলক কাজ যেমন—কুরআন ও ফিকহ শিক্ষা দেওয়া, আযান দেওয়া, নসিহত করা, হজ ও জিহাদের জন্য পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা জায়েজ নয়। অর্থাৎ এতে বিনিময় বাধ্যতামূলক হয় না। মদীনার আলিমগণের মতে এটি জায়েজ এবং ইমাম শাফেয়ী, নাসির, ইসাম, আবু নাসর আল-ফকিহ এবং আবু লাইস (রহিমাহুমুল্লাহ) এই মতই গ্রহণ করেছেন। এইসব কাজে পারিশ্রমিক গ্রহণের হারাম হওয়ার ভিত্তি হলো এই যে, প্রতিটি ইবাদত যা মুসলিমদের জন্য খাস, তার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ নয়; কারণ এই কাজগুলো আমলকারীর পক্ষ থেকে সম্পাদনকৃত ইবাদত ও নৈকট্য লাভের মাধ্যম। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: “মানুষ তাই পায় যা সে নিজে করে।” (সূরা আন-নাজম: ৩৯)। সুতরাং রোজা ও নামাজের মতো এগুলোর ক্ষেত্রেও পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ হবে না। তাঁরা এর সপক্ষে বিভিন্ন হাদিস দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। তার মধ্যে একটি হলো যা ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আব্দুর রহমান বিন শিবল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি—তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং এর বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহ করো না, এর থেকে দূরে সরে যেও না, এতে অতিরঞ্জন করো না এবং এর মাধ্যমে সম্পদ বৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা করো না। ইসহাক ইবনে রাহওয়াইহ তাঁর মুসনাদে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি শায়বাহ এবং আব্দুর রাজ্জাক তাঁদের ‘মুসান্নাফ’ গ্রন্থদ্বয়ে এটি বর্ণনা করেছেন। আব্দুর রাজ্জাকের সূত্র ধরে এটি আবদ ইবনে হুমায়দ, আবু ইয়ালা আল-মাওসিলী এবং তাবারানী বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে আরও রয়েছে যা ইমাম বাজ্জার তাঁর মুসনাদে আব্দুর রহমান বিন আউফ থেকে মারফূ সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে আরও রয়েছে আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত হাদিস, যা মুগীরা বিন জিয়াদ আল-মাওসিলী তাঁর সূত্রে উবাদাহ বিন সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি আহলে সুফফার কিছু লোককে কুরআন শিক্ষা দিয়েছিলাম। তাদের একজন আমাকে একটি ধনুক উপহার দিল। আমি মনে মনে বললাম, এটি তো কোনো ধনসম্পদ নয়, এটি দিয়ে আমি আল্লাহর পথে জিহাদ করব। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন: “যদি তুমি চাও যে আল্লাহ তোমাকে আগুনের বেড়ি পরিয়ে দিন, তবে তা গ্রহণ করো।” এটি ইবনে মাজাহ এবং হাকেম ‘আল-মুস্তাদরাক’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। হাকেম বলেছেন এর সনদ সহীহ, যদিও বুখারী ও মুসলিম তা বর্ণনা করেননি। আবু দাউদ এটি অন্য সূত্রেও বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে যা ইবনে মাজাহ আতিয়্যাহ আল-কিলাঈ-এর সূত্রে উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: আমি এক ব্যক্তিকে কুরআন শিখিয়েছিলাম, সে আমাকে একটি ধনুক উপহার দিয়েছিল। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তিনি বললেন: “যদি তুমি এটি গ্রহণ করো, তবে আগুনের একটি ধনুক গ্রহণ করলে।” উবাই (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: অতঃপর আমি তা ফিরিয়ে দিলাম। এর মধ্যে রয়েছে বায়হাকী কর্তৃক ‘শুআবুল ঈমান’-এ বর্ণিত সুলাইমান বিন বুরাইদাহর তাঁর পিতা থেকে বর্ণিত হাদিস। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “যে ব্যক্তি মানুষের কাছে বিনিময় গ্রহণের উদ্দেশ্যে কুরআন পড়ে, কিয়ামতের দিন সে এমন অবস্থায় আসবে যে তার চেহারা হবে কেবল হাড়, তাতে কোনো গোশত থাকবে না।” এর মধ্যে আরও রয়েছে যা তিরমিযী বর্ণনা করেছেন...

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫৫)
من حديث عمران بن حصين يرفعه اقرأوا القرآن وسلوا الله به فان من بعدكم قوم يقرأون القرآن يسألون الناس. وذكر ابن بطال من حديث حماد بن سلمة عن ابى جرهم عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قلت يا رسول الله ما تقول في المعلمين قال (اجرهم حرام) وذكر ابن الجوزى من حديث ابن عباس مرفوعا لا تستأجروا المعلمين وهذا غير صحيح وفي اسناده احمد بن عبد الله الهروى. وهذه الاحاديث وان كان فى بعضها مقال لكنه يؤكد بعضها بعضا ولاسيما حديث القوس فانه صحيح كما ذكرنا واذا تعارض نصان احدهما مبيح والآخر محرم يدل على النسخ كما تذكره * واجاب ابن الجوزى ناقلا عن اصحابه (اي اصحاب مذهبه من الحنابلة) عن حديث الباب بثلاثة اجوبة (احدها ان القوم كانوا كفارا فجاز اخذ اموالهم (والثاني ان حق الضيف واجب ولم يضيفوهم (والثالث ان الرقية ليست بقربة محضة فجاز اخذ الاجرة عليها. وقال القرطبي ولا نسلم ان جواز اخذ الاجرة فى الرقي يدل على جواز التعليم بالاجر. وقال بعض اصحابنا ومعنى قوله صلى الله عليه وسلم ان احق ما اخذتم عليه اجرا كتاب الله يعني اذا رقيتم به وحمل بعضهم الاجر فيه على الثواب وبعضهم ادعي نسخه بالاحاديث المذكورة واعترض بأنه اثبات النسخ بالاحتمال وهو مردود * قلت الذي ادعى النسخ انما قال الحديث يحتمل الاباحة والاحاديث المذكورة تمنع الاباحة قطعا والنسخ هو الحظر بعد الاباحة لانها اصل(1) في كل شيء فاذا طرأ الحظر دل على النسخ بلاشك * وقال بعضهم الاحاديث المذكورة ليس فيها ما تقوم به الحجة فلا تعارض الاحاديث الصحيحة * قلت لا نسلم ذلك فان حديث القوس صحيح وفيه الوعيد الشديد وقال الطحاوى ويجوز الاجر على الرقى وان كان يدخل في بعضه القرآن لانه ليس على الناس ان يرقى بعضهم بعضا

--------------------------------------------

(1) فيه ان الكلام فى الاباحة الثابتة بدليل خاص لا بالاصل فيحتاج الى اثبات تقدم المبيح على الحاظر حتى يثبت النسخ ويجاب بما قرره الاصوليون بانه يحمل على تأخر الحاظر عن المبيح لئلا يتعدد النسخ للاباحة الاصلية بالحاضر ثم نسخ الحاظر بالمبيح ولكن فيه كلام يعلم من التاويج وحواشيه والاحسن ان يجاب بانه لما وجب ترجيح المحرم على المبيح وثبت صحتهما لزم الحكم بتقدم المبيح فنسخ ترجيح المحرم حكمه وان لم يعلم التاريخ نظيره ان المقارنة في التخصيص شرط لكن ذلك في التخصيص فى نفس الامر اما اذا تعارض خاص وعام يجمع بتخصيص العام به فاذا وجب حمله على ذلك تضمن الحكم منا بانه كان مقارنا او بانه ليس بمخصص اول كما قرره في التحرير وشهادات فتح القدير منه

ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) থেকে বর্ণিত মারফু হাদিসে আছে, তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো। কারণ তোমাদের পরে এমন এক কওম আসবে যারা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু মানুষের কাছে (বিনিময়) চাইবে। ইবনে বাত্তাল হাম্মাদ ইবনে সালামাহ-এর সূত্রে আবু জুরহুম থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি শিক্ষকদের সম্পর্কে কী বলেন? তিনি বললেন, (তাদের বিনিময় হারাম)। ইবনে আল-জাওযী ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে মারফু হিসেবে উল্লেখ করেছেন যে, তোমরা শিক্ষকদের মজুরিতে নিযুক্ত করো না। তবে এটি সহিহ নয় এবং এর সনদে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হারাওয়ী রয়েছে। এই হাদিসগুলোর কয়েকটিতে যদিও আপত্তি রয়েছে, তবুও সেগুলো একে অপরকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে ধনুকের হাদিসটি, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি যে সেটি সহিহ। আর যখন দুটি নস (দলিল) পরস্পর বিরোধী হয়, যার একটি বৈধতাদানকারী এবং অন্যটি নিষিদ্ধকারী, তখন তা রহিতকরণের (নাসখ) প্রমাণ দেয় যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। ইবনে আল-জাওযী তার সাথীদের (অর্থাৎ তার মাযহাবের হাম্বলি আলেমদের) পক্ষ থেকে এই অধ্যায়ের হাদিসের ব্যাপারে তিনটি উত্তর দিয়েছেন: (এক) ঐ কওমটি ছিল কাফের, তাই তাদের সম্পদ গ্রহণ করা বৈধ ছিল। (দুই) মেহমানের হক আদায় করা ওয়াজিব ছিল কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারি করেনি। (তিন) রুকইয়াহ (ঝাড়ফুঁক) কোনো খাঁটি ইবাদত নয়, তাই এর ওপর বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ। ইমাম কুরতুবী বলেন, রুকইয়াহর বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ হওয়া মানেই যে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শিক্ষা দান বৈধ হবে তা আমরা স্বীকার করি না। আমাদের কিছু সাথী বলেছেন, নবী করীম (সা.)-এর এই বাণী—"তোমরা যার ওপর বিনিময় গ্রহণ করো তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হকদার হলো আল্লাহর কিতাব"—এর অর্থ হলো যখন তোমরা এর মাধ্যমে রুকইয়াহ বা ঝাড়ফুঁক করো। কেউ কেউ এখানে বিনিময় বলতে সওয়াব বা প্রতিদান বুঝিয়েছেন। আবার কেউ কেউ উল্লিখিত হাদিসগুলো দ্বারা একে রহিত (মানসুখ) বলে দাবি করেছেন। তবে এর ওপর আপত্তি করা হয়েছে যে, কেবল সম্ভাবনার ভিত্তিতে রহিতকরণ সাব্যস্ত করা অগ্রাহ্য। আমি বলি, যারা রহিতকরণের দাবি করেছেন তারা কেবল এ কথা বলেছেন যে, এই হাদিসটি বৈধতার সম্ভাবনা রাখে, কিন্তু উল্লিখিত (অন্যান্য) হাদিসগুলো নিশ্চিতভাবে বৈধতাকে নিষেধ করে। আর রহিতকরণ হলো বৈধতার পর নিষেধাজ্ঞা আসা, কারণ বৈধতাই হলো সবকিছুর মূল ভিত্তি(1)। সুতরাং যখন নিষেধাজ্ঞা আপতিত হয়, তখন তা নিঃসন্দেহে রহিতকরণের প্রমাণ দেয়। কেউ কেউ বলেন, উল্লিখিত হাদিসগুলোর মধ্যে এমন কিছু নেই যা দলিল হিসেবে গৃহীত হতে পারে, তাই এগুলো সহিহ হাদিসগুলোর সাথে সাংঘর্ষিক নয়। আমি বলি, আমরা তা স্বীকার করি না। কারণ ধনুকের হাদিসটি সহিহ এবং এতে কঠোর সতর্কবাণী বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তহাবী বলেন, রুকইয়াহর বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ যদিও তাতে কুরআনের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত থাকে। কারণ মানুষের জন্য একে অপরের ঝাড়ফুঁক করা আবশ্যকীয় কোনো কাজ নয়।

--------------------------------------------

(1) এতে বলা হয়েছে যে, আলোচনার বিষয়বস্তু হলো সেই বৈধতা যা বিশেষ দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত, মূলনীতির (আসল) মাধ্যমে নয়। সুতরাং নিষিদ্ধকারী দলিলের ওপর বৈধতাকারী দলিলের অগ্রগামিতা প্রমাণ করার প্রয়োজন রয়েছে যাতে রহিতকরণ সাব্যস্ত হয়। উসুলবিদরা যে সমাধান দিয়েছেন তা হলো, নিষিদ্ধকারী দলিলকে বৈধতাকারী দলিলের পরে ধরা হবে যাতে মূলগত বৈধতা নিষিদ্ধকারী দ্বারা রহিত হওয়া এবং পুনরায় নিষিদ্ধকারী দলিলটি বৈধতাকারী দলিল দ্বারা রহিত হওয়ার পুনরাবৃত্তি না ঘটে। তবে এ ব্যাপারে 'তাউয়ীজ' ও এর টীকাগুলোতে আলোচনা রয়েছে যা সেখান থেকে জানা যাবে। সবচেয়ে উত্তম উত্তর হলো, যখন নিষিদ্ধকারীকে বৈধতাকারীর ওপর প্রাধান্য দেওয়া ওয়াজিব হয়ে যায় এবং উভয়ের বিশুদ্ধতা প্রমাণিত হয়, তখন বৈধতাকারী দলিলটি আগে এসেছে বলে বিচার করা আবশ্যক। ফলে নিষিদ্ধকারীর অগ্রাধিকার এর হুকুমকে রহিত করে দেয়, যদিও তারিখ বা সময় জানা না থাকে। এর উদাহরণ হলো, কোনো কিছু নির্দিষ্ট করার ক্ষেত্রে (তাখসিস) সমসাময়িক হওয়া শর্ত, তবে সেটি মূলত বাস্তব ক্ষেত্রে। কিন্তু যখন একটি 'আম' (সাধারণ) ও একটি 'খাস' (বিশেষ) দলিল সাংঘর্ষিক হয়, তখন সাধারণ দলিলটিকে বিশেষের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করে সমন্বয় করা হয়। যখন একে এর ওপর প্রয়োগ করা ওয়াজিব হয়, তখন আমাদের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তই অন্তর্ভুক্ত থাকে যে, তা সমসাময়িক ছিল অথবা এটি প্রথমত নির্দিষ্টকারী ছিল না, যেমনটি 'আত-তাহরীর' এবং 'ফাতহুল ক্বাদীর'-এর সাক্ষ্য অধ্যায়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫৬)
وتعليم الناس بعضهم بعضا القرآن واجب لان فى ذلك التبليغ عن الله تعالى انتهى كلام العينى ملخصا (اقول) وقد عقد الامام الحافظ ابو جعفر الطحاوى للاستئجار على تعليم القرآن بابا فى كتابه مجمع الآثار وذكر فيه الادلة من الجانبين وكذا شارحه الامام ابو الفضل بن نصر الدهستانى وذكر من جملة الأدلة لنا بسنده الى عثمان بن ابي العاص رضى الله تعالى عنه انه قل قل لى رسول الله صلى الله عليه وسلم (اتخذ مؤذنا لا يأخذ على اذانه اجرا) قال فكره رسول الله صلى الله عليه وسلم الاذان بالاجر * ثم ذكر بسنده الى ابن عمر رضى الله تعالى عنهما ان رجلا قال له انى احبك في الله فقال له ابن عمر رضى الله تعالى عنهما لكنى ابغضك في الله لانك تبغى فى اذانك اجرا او تأخذ على الاذان اجرا * قال فقد ثبت بما ذكرناه كراهية الاجرة على الاذان والاستجعال على تعليم القرآن كذلك وقال ولو أن رجلا استأجر رجلا ليصلى على ولى له قد مات لم يجز ذلك لانه استأجره على ان يفعل ما عليه ان يفعله فكذلك تعليم القرآن فالاجارة باطلة لان الاجارات انما تجوز وتملك بها الابدال فيما يفعله المستأجرون للمستأجرين * والآثار الاول (أي التى استدل بها الشافعى على جواز التعليم) لم يكن الجعل المذكور فيها على تعليم القرآن وانما كان على الرقى التي لم يقصد بالاستئجار عليها الى القرآن * الى ان قال ومن استجعل جعلا على عمل يعمله فيما افترض الله تعالى عليه عمله فذلك عليه حرام لانه انما يعمله لنفسه ليؤدى به فرضا عليه ومن استجعل جعلا على عمل يعمله لغيره من رقية او غيرها وان كانت بقرآن او علاج او بما اشبه ذلك فذلك جائز والاستجعال عليه حلال فيصح بما ذكرنا ما قد روى عن رسول الله صلى الله عليه وسلم في هذا الباب من النهى ومن الاباحة ولا يتضاد ذلك فيتنافى وهذا كله قول ابى حنيفة وابى يوسف ومحمد رحمة الله تعالى عليهم انتهى * والمراد بالكراهية عدم الجواز وعدم الصحة كما صرح به فى الهداية وغيرها ولذا قال هنا فالاجارة باطلة * والمراد بقوله من رقية او غيرها اى من الاعمال التي يعملها لغيره وليست بطاعة يراد بها الثواب بدليل جعله مقابلا لما ذكره قبله من عدم الجواز فى الاذان والتعليم وما افترضه الله تعالى والا لزم التناقض فى كلام هذا الامام الجليل لان قوله او غيرها لوجل على ما عدا الرقية من الاعمال مطلقا لشمل الاذان ونحوه ولشمل ايضا نحو الحج والعمرة والاعتكاف والصوم والصلاة الغير الواجبات مع انه لا قائل بجواز اخذ المال على شيء منها لا من المتقدمين ولا من المتأخرين ولزم بقاء التنافى بين الآثار مع ان مراده التوفيق
মানুষের একে অপরকে কুরআন শিক্ষা দেওয়া ওয়াজিব, কারণ এতে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে প্রচার (তাবলিগ) নিহিত রয়েছে। আল্লামা আইনী (রহ.)-এর বক্তব্য সংক্ষেপে শেষ হলো। (আমি বলছি) ইমাম হাফিজ আবু জাফর তাহাবি (রহ.) তাঁর ‘মাজমাউল আসার’ গ্রন্থে কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিষয়ে একটি পরিচ্ছেদ রচনা করেছেন এবং সেখানে উভয় পক্ষের দলিলসমূহ উল্লেখ করেছেন। একইভাবে তাঁর ব্যাখ্যাকার ইমাম আবু ফজল ইবনে নাসর আদ-দিহিস্তানিও এটি উল্লেখ করেছেন। তিনি আমাদের সপক্ষে দলিলসমূহের মধ্য থেকে উসমান ইবনে আবিল আস (রা.)-এর সূত্রে তাঁর সনদে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘এমন একজনকে মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করো যে তার আজানের বিনিময়ে কোনো পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না।’ তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বিনিময়ের বিনিময়ে আজান দেওয়া অপছন্দ করেছেন। * অতঃপর তিনি তাঁর সনদে ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি তাঁকে বলল, ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আপনাকে ভালোবাসি।’ তখন ইবনে উমর (রা.) তাকে বললেন, ‘কিন্তু আমি আল্লাহর জন্য তোমাকে অপছন্দ করি, কারণ তুমি তোমার আজানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক অন্বেষণ করো’ অথবা বলেছেন ‘আজানের বিনিময়ে বিনিময় গ্রহণ করো’। * তিনি বলেন, আমরা যা উল্লেখ করেছি তার দ্বারা আজানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ এবং একইভাবে কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে বিনিময় প্রার্থনা করার অবৈধতা সাব্যস্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তিকে তার মৃত অভিভাবকের জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য নিয়োগ করে, তবে তা জায়েজ হবে না; কারণ সে তাকে এমন একটি কাজ করার জন্য নিয়োগ করেছে যা করা তার নিজের ধর্মীয় দায়িত্ব ছিল। কুরআন শিক্ষার বিষয়টিও তদ্রূপ। সুতরাং এই ইজারা (চুক্তি) বাতিল, কেননা ইজারা কেবল তখনই বৈধ হয় এবং এর মাধ্যমে বিনিময়ের মালিকানা অর্জিত হয় এমন সব কার্যে, যা শ্রমিকরা নিয়োগকর্তাদের জন্য সম্পন্ন করে থাকে। * আর প্রথম দিকের বর্ণনাগুলো (অর্থাৎ ইমাম শাফেয়ি (রহ.) কুরআন শিক্ষার বৈধতার পক্ষে যে দলিলগুলো দিয়েছেন) তাতে উল্লিখিত বিনিময় কুরআন শিক্ষার ওপর ছিল না, বরং তা ছিল ঝাড়ফুঁকের (রুকইয়া) ওপর, যেখানে ইজারা বা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কুরআন ছিল না। * এক পর্যায়ে তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এমন কোনো কাজের জন্য বিনিময় প্রার্থনা করে যা করা আল্লাহ তাআলা তার ওপর ফরজ করেছেন, তবে তা তার জন্য হারাম। কারণ সে তা নিজের আখেরাতের জন্যই করছে যাতে তার ওপর অর্পিত ফরজ আদায় হয়। আর যে ব্যক্তি অন্যের জন্য কোনো কাজ করার বিনিময়ে পারিশ্রমিক প্রার্থনা করে, যেমন ঝাড়ফুঁক বা অন্য কিছু—তা কুরআনের মাধ্যমে হোক বা চিকিৎসা হোক বা এই জাতীয় অন্য কিছু—তবে তা জায়েজ এবং তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া হালাল। সুতরাং আমরা যা উল্লেখ করেছি তার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে এই বিষয়ে যা কিছু নিষেধাজ্ঞা এবং যা কিছু অনুমোদনের বর্ণনা এসেছে, তা সঠিক বলে প্রমাণিত হয় এবং এতে কোনো বৈপরীত্য নেই যা একটি অপরটিকে নাকচ করে দেয়। আর এই পুরোটাই ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ (রহ.)-এর অভিমত। বক্তব্য সমাপ্ত। * আর এখানে ‘কারাহিয়াত’ বা অপছন্দনীয়তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো না-জায়েজ হওয়া এবং চুক্তি সহিহ না হওয়া, যেমনটি হিদায়া ও অন্যান্য গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এই কারণেই তিনি এখানে বলেছেন: ‘সুতরাং এই ইজারা বাতিল’। * আর তাঁর বক্তব্য ‘ঝাড়ফুঁক বা অন্য কিছু’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো এমন কাজ যা সে অন্যের জন্য করে এবং যা এমন ইবাদত নয় যার দ্বারা কেবল সওয়াব অর্জন উদ্দেশ্য হয়। এর প্রমাণ হলো, তিনি একে আজান, শিক্ষা এবং আল্লাহ তাআলা যা ফরজ করেছেন তার বিনিময়ে পারিশ্রমিক না-জায়েজ হওয়ার বিপরীতে উল্লেখ করেছেন। অন্যথায় এই মহান ইমামের বক্তব্যে স্ববিরোধিতা দেখা দেবে। কারণ তাঁর বক্তব্য ‘অথবা অন্য কিছু’ যদি ঝাড়ফুঁক ছাড়া সব ধরনের কাজের ওপর সাধারণভাবে প্রয়োগ করা হয়, তবে তা আজান ও অনুরূপ বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করবে এবং হজ, উমরাহ, ইতিকাফ, রোজা ও নফল নামাজের মতো বিষয়গুলোকেও অন্তর্ভুক্ত করবে। অথচ পূর্ববর্তী বা পরবর্তী আলেমদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি এসবের কোনো একটির বিনিময়ে অর্থ গ্রহণ জায়েজ বলেছেন। এর ফলে বর্ণনাগুলোর মধ্যকার বৈপরীত্যও দূর হবে না, অথচ তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সেগুলোর মধ্যে সামঞ্জস্য বিধান করা।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫৭)
والجمع بينها ولزم مخالفته لعبارات المتون والشروح والفتاوى الآتى نقلها ولشمل التلاوة المجردة مع تصريح المشايخ بعدم جواز اخذ المال عليها كما سيأتى * فحاصل كلامه انه لو عمل لغيره عملا ليس بطاعة كرقية ملدوغ ونحوها من بناء دار او خياطة ثوب وامثال ذلك يجوز اخذ المال عليه وان كانت الرقية بقراءة قرآن او علاج غيره كوضع ترياق او بما اشبه ذلك لان ذلك ليس المراد منه القربة والثواب بخلاف الاذان والتعليم وغيرهما من الطاعات فانه لا يجوز اخذ المال على شيء منه وهذا مذهب ائمتنا الثلاثة ابي حنيفة وابي يوسف ومحمد * ومما يدل على ما قلنا قطعا قول الهداية الاصل ان كل طاعة يختص بها المسلم لا يجوز الاستئجار عليها عندنا لقوله عليه الصلاة والسلام اقرأوا القرآن ولا تأكلوا به الى آخره * فقد صرح ببطلان الاستئجار على كل طاعة عندنا وسترد عليك النقول المتظافرة فى ذلك بحيث لا تبقى شبهة الحائر * ولا حجة لمكابر * وفى معراج الدراية شرح الهداية ونص احمد رحمه الله تعالى مثل قولنا وبقولنا قال عطاء والضحاك والزهرى والحسن وابن سيرين وطاووس والشعبي والنخعي ثم اطال في الاستدلال (تنبيه) ثم اعلم ان الحكم عندنا كذلك في كل فعل هو طاعة وان لم تكن واجبة كما علم مما مر عن الكافى والخلاصة وغيرهما والوجه العام ان القربة متى حصلت وقعت عن الفاعل لا لغيره ولهذا تعتبر اهلية الفاعل ونيته لانية الآمر ولو انتقل فعله الى الآمر لشرط نية الآمر واهليته كما في الزكاة حتى لو كان المأمور كافرا يصح اداء الزكاة منه عن المسلم فكان الاجر على عمل نفسه لا المستأجر (فصل) جميع ما قدمناه هو مذهب أئمتنا الثلاثة ومن تبعهم من مشايخ المذهب المتقدمين * وحاصله منع الاستئجار والجعالة على شيء من الطاعات سواء كانت واجبة او لا كالاذان ونحوه وانما جاز الاستئجار على الرقية ولو كانت بالقرآن لانها لم تفعل قربة الله تعالى بل للتداوى فهى كصنعة الطب وغيرها من الصنائع والحديث الصريح الوارد في ذلك وعليه يحمل ما ورد مما يوهم الجواز مطلقا توفيقا بين الادلة ان لم نقل بالنسخ كما مر بيانه فلا ينافي اطلاق عدم الجواز عند ائمتنا المتقدمين (لكن) بعض المتأخرين استثنى في زمانه الاستئجار على تعاليم القرآن (قال) في كتاب الكراهية من الخلاصة ولا بأس بأخذ الاجرة (لتعليم القرآن في زماننا قال الفقيه ابو الليث رحمه الله تعالى كنت افتى بثلاثة فرجعت عنها افتى (ان لا يحل اخذ الاجرة على تعليم القرآن (وانه لا ينبغى للعالم ان يدخل على السلطان (وانه لا ينبغي للعالم ان يخرج إلى الرستاق فرجعت عن الكل تحرزا عن ضياع تعلم القرآن والحاجة الخلق ولجهل اهل الرستاق (وقال) الامام
এবং সেগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা; আর এর ফলে মুতুন (মূল পাঠ্য), শুরুহ (ব্যাখ্যাগ্রন্থ) এবং ফাতাওয়া—যা সামনে উদ্ধৃত হবে—সেগুলোর ভাষ্যের পরিপন্থী হওয়া আবশ্যক হয়ে পড়ে। এবং এটি কেবল তিলাওয়াতকেও শামিল করবে, যদিও মাশায়েখগণ স্পষ্ট করেছেন যে এর ওপর অর্থ গ্রহণ করা জায়েজ নয়, যেমনটি সামনে আসবে। * তাঁর কথার সারকথা হলো যে, যদি কেউ অন্যের জন্য এমন কোনো কাজ করে যা ইবাদত নয়, যেমন দংশিত ব্যক্তির ঝাড়ফুঁক করা এবং অনুরূপ কাজ যেমন ঘর নির্মাণ করা বা কাপড় সেলাই করা এবং এ জাতীয় বিষয়, তবে তার ওপর অর্থ গ্রহণ করা জায়েজ। যদিও ঝাড়ফুঁক কুরআন পাঠের মাধ্যমে হয় কিংবা অন্য কোনো চিকিৎসা যেমন প্রতিষেধক প্রয়োগ বা এর সদৃশ কিছু দ্বারা হয়; কারণ এতে উদ্দেশ্য আল্লাহর নৈকট্য ও সওয়াব লাভ নয়। পক্ষান্তরে আযান, শিক্ষা দান এবং অন্যান্য ইবাদত এর ব্যতিক্রম; কেননা এগুলোর কোনোটির ওপরই অর্থ গ্রহণ করা জায়েজ নয়। আর এটিই আমাদের তিন ইমাম—আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ-এর মাযহাব। * আমরা যা বলেছি তার ওপর অকাট্য প্রমাণ হলো হিদায়ার এই বক্তব্য: ‘মূলনীতি হলো, প্রতিটি ইবাদত যা মুসলমানের জন্য নির্দিষ্ট, আমাদের নিকট তার ওপর ভাড়া বা বিনিময় গ্রহণ জায়েজ নয়। কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন—তোমরা কুরআন পাঠ করো এবং এর দ্বারা জীবিকা অন্বেষণ করো না...’ শেষ পর্যন্ত। * সুতরাং আমাদের নিকট প্রতিটি ইবাদতের ওপর বিনিময় গ্রহণ বাতিল হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। অচিরেই আপনার সামনে এ বিষয়ে একের পর এক উদ্ধৃতি আসবে, যাতে কোনো বিভ্রান্ত ব্যক্তির সন্দেহ অবশিষ্ট না থাকে এবং কোনো হঠকারীর জন্য কোনো যুক্তি না থাকে। * মেরাজুদ দিরায়া শারহুল হিদায়াতে রয়েছে, ইমাম আহমাদ রহমাতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য আমাদের মতের মতোই। আমাদের মতের সপক্ষে আতা, দাহহাক, যুহরি, হাসান, ইবনে সিরিন, তাউস, শা’বি এবং নাখয়ি মত পোষণ করেছেন। অতঃপর তিনি এর প্রমাণাদিতে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন। (সতর্কবার্তা) এরপর জেনে রাখুন যে, আমাদের নিকট প্রতিটি কাজের হুকুম এমনই যা ইবাদত হিসেবে গণ্য, যদিও তা ওয়াজিব না হয়; যেমনটি কাফি, খুলাসা এবং অন্যান্য কিতাব থেকে পূর্বে জানা গেছে। সাধারণ যুক্তি হলো, যখনই কোনো ইবাদত সাধিত হয়, তা সম্পাদনকারীর পক্ষ থেকেই হয়, অন্যের পক্ষ থেকে নয়। এই কারণে সম্পাদনকারীর যোগ্যতা ও নিয়ত ধর্তব্য হয়, নির্দেশদাতার নিয়ত নয়। যদি তার আমলটি নির্দেশদাতার দিকে স্থানান্তরিত হতো, তবে নির্দেশদাতার নিয়ত ও যোগ্যতা শর্ত হতো, যেমনটি জাকাতের ক্ষেত্রে হয়; এমনকি যদি আদিষ্ট ব্যক্তি কাফেরও হয়, তবে তার মাধ্যমে মুসলমানের পক্ষ থেকে জাকাত আদায় করা সহিহ হয়। সুতরাং সওয়াব সম্পাদনকারীর নিজের আমলের ওপর হয়, ভাড়া দাতার ওপর নয়। (পরিচ্ছেদ) আমরা যা কিছু পেশ করেছি তা আমাদের তিন ইমাম এবং তাঁদের অনুসারী মাযহাবের পূর্ববর্তী মাশায়েখদের মাযহাব। * এর সারকথা হলো—ইবাদতসমূহের কোনো কিছুর ওপর বিনিময় বা পুরস্কার গ্রহণ নিষিদ্ধ, তা ওয়াজিব হোক বা না হোক, যেমন আযান ও অনুরূপ বিষয়। আর ঝাড়ফুঁকের ওপর বিনিময় গ্রহণ কেবল এই জন্য জায়েজ হয়েছে—যদিও তা কুরআনের মাধ্যমে হয়—কারণ এটি আল্লাহর নৈকট্য লাভের ইবাদত হিসেবে করা হয়নি বরং চিকিৎসার জন্য করা হয়েছে। সুতরাং এটি চিকিৎসাবিদ্যা ও অন্যান্য পেশার মতোই। এ বিষয়ে সুস্পষ্ট হাদিস বর্ণিত হয়েছে এবং দলীলসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে নিঃশর্তভাবে বৈধতার যে ধারণা পাওয়া যায়, তাকে এর ওপরই প্রয়োগ করা হবে; যদি আমরা রহিতকরণের (নাসখ) কথা না বলি—যেমনটি আগে বর্ণনা করা হয়েছে। সুতরাং এটি আমাদের পূর্ববর্তী ইমামদের নিকট সাধারণভাবে বিনিময় গ্রহণ নাজায়েজ হওয়ার পরিপন্থী নয়। (কিন্তু) পরবর্তী যুগের কিছু আলিম তাঁদের সময়ে কুরআন শিক্ষার ওপর বিনিময় গ্রহণকে এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন। (তিনি বলেছেন) খুলাসা কিতাবের 'কারাহিয়্যাহ' অধ্যায়ে বলা হয়েছে: আমাদের সময়ে কুরআন শিক্ষার ওপর বিনিময় গ্রহণ করায় কোনো অসুবিধা নেই। ফকিহ আবু লাইস রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন—আমি তিনটি বিষয়ে ফতোয়া দিতাম, কিন্তু পরে তা থেকে ফিরে এসেছি। আমি ফতোয়া দিতাম যে—(১) কুরআন শিক্ষার ওপর বিনিময় গ্রহণ করা হালাল নয়, (২) আলেমের জন্য সুলতানের নিকট যাওয়া উচিত নয় এবং (৩) আলেমের জন্য গ্রামে যাওয়া উচিত নয়। কিন্তু আমি এই সব কিছু থেকে ফিরে এসেছি কুরআন শিক্ষা বিলুপ্ত হওয়া থেকে সুরক্ষা, মানুষের প্রয়োজন এবং গ্রামবাসীদের অজ্ঞতার কারণে। (এবং বলেছেন) ইমাম...
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫৮)
قاضي خان في فتاواه ومشايخ بلخ جوزوا هذه الاجارة اى على تعليم القرآن حتى حكى عن محمد بن سلام رحمه الله تعالى انه قال اقضى بتسمير باب الوالد لأجرة المعلم الى آخر ما قال (واقتصر) عليه ايضا فى مواهب الرحمن حيث قال فيما لا يجوز اخذ الاجرة عليه والحج والاذان والامامة وتعليم الفقه والفتوى اليوم على جوازه لتعليم القرآن انتهى (وفى) الهداية ولا الاستئجار على الاذان والحج وكذا الامامة وتعليم القرآن والفقه وبعض مشايخنا رحمهم الله تعالى استحسنوا الاستئجار على تعليم القرآن اليوم لظهور النوانى فى الامور الدينية ففى الامتناع تضيع حفظ القرآن وعليه الفتوى (وقل) فى متن الكنز بعد ذكره عدم الجواز فيما مر والفتوى اليوم على جواز الاستئجار لتعليم القرآن وهكذا فى غير ما كتاب من الكتب المعتمدة في المذهب (وزاد) عليه فى مختصر الوقاية حيث قال ولا تصح للاذان والامامة والحج وتعليم القرآن والفقه الى ان قال ويفتى اليوم بصحتها لتعليم القرآن والفقه. وهكذا عبارة الاصلاح. وزاد فى المجمع فقال ولا على الطاعات كالحج والاذان والامامة وتعليم القرآن والفقه وقيل يفتى بجوازه على التعليم والامامة والفقه وفى متن المختار وقيل يجوز على التعليم والامامة في زماننا وعليه الفتوى. وهكذا في متن الملتقى ودرر البحار. وزاد بعضهم الاقامة وبعضهم الوعظ. قال في تنوير الابصار ويفتى اليوم بصحتها لتعليم القرآن والفقه والامامة والاذان ويجبر المستأجر على دفع ما قبل ويحبس به وعلى دفع الحلوة المرسومة انتهى. وفي الفتاوى البزازية الاستئجار على الطاعات كتعليم القرآن والفقه والتدريس والوعظ لا يجوز اى لا يجب الاجر واهل المدينة طيب الله تعالى ساكنها جوزوه وبه اخذ الامام الشافعي قال في المحيط ومشايخ بلخ على الجواز. وقال الامام الفضلي والمتأخرون على جواره ثم قال وقال محمد بن الفضل كره المتقدمون الاستئجار على تعليم القرآن واخذ الاجرة عليه لوجود العطية من بيت المال مع الرغبة في امور الدين وفى زماننا انقطعت ويعنى بالرغبة التعليم والاحسان الى المعلمين بلا اجرة فلو اشتغلوا بالتعليم بلا اجر مع الحاجة الى المعاش لضاعوا وتعطلت المصالح فقلنا بما قالوا وان لم يكن بينهما شرط يؤمر الوالد بتطييب قلب المعلم وارضائه بخلاف الامام والمؤذن لان ذلك لا يشغل الامام والمؤذن عن المعاش * وقال السرخسى واجعوا على ان الاجارة على تعليم الفقه باطلة انتهى. وجزم بهذا القول اعنى قول ابن الفضل في الفتاوى الظهيرية وذكر بعده كلام الامام السرخسى * ونقل الشرنبلالي عن قاضي خان مثله. وقال
কাযী খান তাঁর ফাতাওয়ায় এবং বলখের মাশায়েখগণ কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে এই ইজারা বা পারিশ্রমিক গ্রহণকে বৈধ বলেছেন। এমনকি মুহাম্মদ ইবনে সালাম (রহ.) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন: আমি শিক্ষকের পারিশ্রমিক আদায়ের জন্য পিতার দরজায় পেরেক ঠুকে দেওয়ার (অর্থাৎ তাকে বাধ্য করার) ফয়সালা দেব... 'মাওয়াহিবুর রাহমান'-এও এর ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে, যেখানে তিনি ঐসব বিষয় সম্পর্কে বলেছেন যেগুলোর বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েয নয়, যেমন: হজ, আযান, ইমামত, ফিকহ শিক্ষা ও ফতোয়া প্রদান; তবে বর্তমানে কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে এর বৈধতার ওপর ফাতওয়া। (হিদায়া)-তে বলা হয়েছে: আযান, হজ, ইমামত, কুরআন শিক্ষা ও ফিকহ শিক্ষার জন্য ইজারা (চুক্তি) করা যাবে না। কিন্তু আমাদের কিছু মাশায়েখ (রহ.) দ্বীনী বিষয়ে মানুষের অলসতা ও শৈথিল্য প্রকাশের কারণে বর্তমানে কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে ইজারা গ্রহণকে উত্তম (ইস্তিহসান) মনে করেছেন। কারণ, এটি নিষিদ্ধ করলে কুরআন হিফয করার বিষয়টি বিলুপ্ত হয়ে যাবে; আর এর ওপরই ফাতওয়া। (কানয)-এর মতনে (মূল পাঠে) পূর্বে বর্ণিত বিষয়গুলোর অবৈধতা উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে: বর্তমানে কুরআন শিক্ষার জন্য ইজারা গ্রহণের বৈধতার ওপর ফাতওয়া। মাযহাবের অন্যান্য নির্ভরযোগ্য কিতাবেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (মুখতাসারুল বিকায়া)-তে আরও বাড়িয়ে বলা হয়েছে: আযান, ইমামত, হজ, কুরআন ও ফিকহ শিক্ষার জন্য এটি সহীহ হবে না... এরপর বলা হয়েছে: বর্তমানে কুরআন ও ফিকহ শিক্ষার ক্ষেত্রে এর বৈধতার ওপর ফাতওয়া দেওয়া হয়। 'আল-ইসলাহ'-এর ইবারতও অনুরূপ। 'আল-মাজমা'-তে আরও বর্ধিত করা হয়েছে যে, নেক কাজ যেমন হজ, আযান, ইমামত, কুরআন ও ফিকহ শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া যাবে না; তবে বলা হয়েছে যে, শিক্ষা দান, ইমামত ও ফিকহ শিক্ষার ক্ষেত্রে এর বৈধতার ওপর ফাতওয়া দেওয়া হয়। 'আল-মুখতার'-এর মতনে বলা হয়েছে: আমাদের যমানায় শিক্ষা দান ও ইমামতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ এবং এর ওপরই ফাতওয়া। 'আল-মুলতাকা' ও 'দুরারুল বিহার'-এর মতনেও অনুরূপ রয়েছে। কেউ কেউ 'ইকামাত' এবং কেউ কেউ 'ওয়াজ'-কে (নসীহত) এর সাথে যুক্ত করেছেন। 'তানভীরুল আবসার'-এ বলা হয়েছে: বর্তমানে কুরআন ও ফিকহ শিক্ষা, ইমামত ও আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতার ওপর ফাতওয়া দেওয়া হয় এবং নিয়োগকর্তাকে পূর্বনির্ধারিত পারিশ্রমিক প্রদানে বাধ্য করা হবে এবং এর জন্য তাকে কারারুদ্ধও করা যাবে, এমনকি প্রচলিত মিষ্টান্ন প্রদানের জন্যও। 'ফাতাওয়ায়ে বাযযাযিয়া'-তে আছে: ইবাদত বা নেক কাজ যেমন কুরআন শিক্ষা, ফিকহ শিক্ষা, দরস দান ও ওয়াজ-নসীহতের বিনিময়ে ইজারা জায়েয নয়, অর্থাৎ পারিশ্রমিক ওয়াজিব হবে না। তবে মদীনার অধিবাসীগণ—আল্লাহ তাআলা এর বাসিন্দাকে পবিত্র রাখুন—একে বৈধ বলেছেন এবং ইমাম শাফিয়ী এটি গ্রহণ করেছেন। 'আল-মুহিত'-এ বলা হয়েছে: বলখের মাশায়েখগণ বৈধতার পক্ষে। ইমাম ফাযলী এবং পরবর্তী ফকীহগণ (মুতাআখখিরীন) বৈধতার মত দিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন: মুহাম্মদ ইবনে ফাযল বলেছেন যে, পূর্ববর্তীগণ কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে ইজারা ও পারিশ্রমিক গ্রহণকে অপছন্দ করতেন, কারণ তখন দ্বীনী কাজের আগ্রহের পাশাপাশি বায়তুল মাল থেকে অনুদান পাওয়া যেত। কিন্তু আমাদের যমানায় তা বন্ধ হয়ে গেছে। 'আগ্রহ' বলতে উদ্দেশ্য হলো পারিশ্রমিক ছাড়াই শিক্ষা দান এবং শিক্ষকদের প্রতি অনুগ্রহ করা। যদি তারা জীবন ধারণের প্রয়োজনে উপার্জনের চিন্তা বাদ দিয়ে পারিশ্রমিক ছাড়া শিক্ষা দানে লিপ্ত হন, তবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন এবং জনস্বার্থ বিঘ্নিত হবে। তাই তারা (পরবর্তীগণ) যা বলেছেন আমরাও তা-ই বলি। যদিও তাদের মধ্যে কোনো শর্ত না থাকে, তবুও পিতাকে শিক্ষকের অন্তর সন্তুষ্ট ও তুষ্ট করার নির্দেশ দেওয়া হবে। ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বিষয়টি এর থেকে ভিন্ন, কারণ এই কাজগুলো ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে জীবিকা অর্জন থেকে পুরোপুরি বিরত রাখে না। সারাকসী (রহ.) বলেন: ফিকহ শিক্ষার ওপর ইজারা বাতিল হওয়ার ব্যাপারে তারা একমত হয়েছেন। ফাতাওয়ায়ে জহিরিয়াতে ইবনে ফাযল-এর এই উক্তিকে অকাট্যভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এরপর ইমাম সারাকসীর বক্তব্য উল্লেখ করা হয়েছে। শুরুনবুলালি (রহ.) কাযী খান থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন:
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৫৯)
في الخلاصة في الفصل الاول من كتاب الصلاة ولا يحل للمؤذن ولا للامام ان يأخذ على الاذان والامامة اجرا فان لم يشارطهم على شيء لكنهم عرفوا حاجته فجمعوا له في كل وقت يطيب له ولا يكون اجرا انتهى * والظاهر انه مبنى على قول ابن الفضل من تخصيص الجواز بتعليم القرآن وظاهر كلام الهداية والمواهب وغيرهما ترجيحه حيث اقتصروا عليه كما قدمناه فانه وان كان مفهوم لقب فقد صرحوا في كتب الاصول ان مفاهيم الكتب معتبرة ولا ينافيه تصريح غيرهم بما مر من غير التعليم من نحو الاذان والامامة والاقامة لان ذلك ترجيح منهم لخلاف قول هؤلاء (فان قلت) فليحمل كلام الهداية ونحوها على كلام غيرهم (قلت) لا يصح ذلك فانهم بعد ما صرحوا بانه لا يجوز على التعليم والاذان والامامة ونحوها قالوا الفتوى اليوم على جوازه لتعليم القرآن فاستثنوا التعليم وابقوا ما عداه على الحظر وايضا فانك قد سمعت قول الفضلى بخلاف الامام والمؤذن فالظاهر انه اختيار لقوله كما قلنا ومما يدل عليه قول الامام السرخسى وتبعه قاضي خان واجمعوا على ان الاجارة على تعليم الفقه باطلة (فان قلت) يرد دعوى الاجماع ما حكيته عن المجمع وغيره من جوازها على تعليم الفقه (قلت) السرخسي متقدم في الزمان على صاحب المجمع فالظاهر انه حكى الاجماع عمن سلفه وان فرض ان احدا ممن تقدمه قال بجوازه يجاب بانه لم يعتبر قوله (فان قلت) يمكن ان يكون مبنيا على مذهب المتقدمين (قلت) هو خلاف ما فهمه اصحاب الفتاوى كالخانية والبزازية والظهيرية فانهم ذكروه في ضمن كلام المتأخرين (فان قلت) قول البزازية المتقدم ومشايخ بلخ على الجواز مطلق فظاهره انهم قائلون بجواز ما ذكره قبله وهم متقدمون على السرخسى فى الزمان (قلت) نعم ظاهره ذلك ولكن الامام السرخسي من كبار ائمتنا وهو اعرف من البزازى وغيره بلاشك ولا شبهة بما قاله البلخيون خصوصا وقد اقره قاضي خان وغيره وتأيد بما قاله الفضلى وما اقتصر عليه فى الهداية والكنز والمواهب مما هو العمدة فى المذهب. والحاصل من هذا (*) ان الامام السرخسى فهم من كلام البلخيين المفتين خلاف ما عليه المتقدمون انهم لم يجوزوه على تعليم الفقه فحكايته الاجماع على ما فهمه صحيحة ومن اجازه عليه وعلى الامامة

--------------------------------------------

(*) الامام السرخسي هو صاحب المبسوط املاه من حفظه في السجن قال سيدى العارف عبد الغني النابلسى فى شرحه على المنظومة المحبية صاحب المبسوط هو الامام شمس الائمة السرخسى احد الفحول الكبار اصحاب الفنون املا المبسوط نحو خمسة عشر مجلدا وهو في السجن باوزجند حبس بسبب كلمة كان فيها (2)
আল-খুলাসা গ্রন্থের সালাত অধ্যায়ের প্রথম পরিচ্ছেদে বর্ণিত হয়েছে যে, মুয়াযযিন এবং ইমামের জন্য আযান ও ইমামতির বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ নয়। যদি তিনি তাদের সাথে কোনো কিছুর শর্ত না করেন, কিন্তু তারা তার প্রয়োজন সম্পর্কে অবগত হয়ে প্রত্যেক ওয়াক্তে তাকে কিছু প্রদান করেন যা তার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক হয়, তবে তা গ্রহণ করা বৈধ হবে এবং তা পারিশ্রমিক হিসেবে গণ্য হবে না। [উদ্ধৃতি সমাপ্ত]। আর স্পষ্টতই এটি ইবনে আল-ফদলের সেই মতের ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে যাতে বৈধতাকে কেবল কুরআন শিক্ষার সাথে সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। হেদায়াহ, মাওয়াহিব এবং অন্যান্য কিতাবের বক্তব্যের বাহ্যিক দিকও একেই অগ্রাধিকার প্রদান করে, যেহেতু তারা কেবল একেই উল্লেখ করেছেন—যেমনটি আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি। কারণ এটি যদিও 'মাফহুম আল-লাকাব' (উপাধিলব্ধ ধারণা), তবুও উসূল শাস্ত্রের কিতাবসমূহে তারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে কিতাবসমূহের এই প্রকার 'মাফহুম' (ধারণা) গ্রহণযোগ্য। আযান, ইমামতি এবং ইকামতের মতো শিক্ষা প্রদান ব্যতীত অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রে অন্যদের বৈধতার যে সুস্পষ্ট বক্তব্য পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, তা এর পরিপন্থী নয়; কারণ এটি সেই পূর্ববর্তী আলেমদের মতের বিপরীতে তাদের নিজস্ব অগ্রাধিকার প্রদান মাত্র। (যদি আপনি বলেন) তবে হেদায়াহ ও অনুরূপ কিতাবের বক্তব্যকে অন্যদের বক্তব্যের ওপর প্রয়োগ করা হোক। (আমি বলব) তা সঠিক নয়। কারণ তারা শিক্ষা প্রদান, আযান ও ইমামতি ইত্যাদির ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ অবৈধ হওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য প্রদান করার পর বলেছেন যে, বর্তমানে কুরআন শিক্ষার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণের ওপর ফতোয়া প্রদান করা হয়। সুতরাং তারা কেবল শিক্ষাদানকে ব্যতিক্রম হিসেবে রেখেছেন এবং অন্য সবগুলোকে নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত রেখেছেন। এছাড়াও আপনি ইমাম ও মুয়াযযিনের ক্ষেত্রে ফদলীর ভিন্নমত শুনেছেন; সুতরাং স্পষ্ট যে এটি তার মতেরই অনুসরণ—যেমনটি আমরা বলেছি। ইমাম সারাখসীর বক্তব্যও এর প্রমাণ বহন করে এবং কাযী খান তাকে অনুসরণ করেছেন; তারা ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন যে, ফিকহ শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা বাতিল। (যদি আপনি বলেন) আপনার 'আল-মাজমা' ও অন্যান্য উৎস থেকে ফিকহ শিক্ষার বৈধতা সম্পর্কে যা বর্ণনা করেছেন, তা তো এই ঐকমত্যের দাবীকে নাকচ করে দেয়। (আমি বলব) সারাখসী সময়ের দিক থেকে 'আল-মাজমা'র লেখকের পূর্ববর্তী। সুতরাং স্পষ্ট যে তিনি তার পূর্বসূরিদের থেকে এই ঐকমত্য বর্ণনা করেছেন। আর যদি ধরেও নেওয়া হয় যে, তার পূর্ববর্তী কেউ এর বৈধতার কথা বলেছেন, তবে উত্তর হবে যে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। (যদি আপনি বলেন) হতে পারে এটি পূর্ববর্তীদের মাযহাবের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে। (আমি বলব) এটি ফতোয়াগ্রন্থের রচয়িতাগণ যেমন খানিয়াহ, বাযযাযিয়াহ এবং জহীরীয়াহ যা বুঝেছেন তার পরিপন্থী। কেননা তারা একে পরবর্তীদের বক্তব্যের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। (যদি আপনি বলেন) বাযযাযিয়াহ-র পূর্বে বর্ণিত বক্তব্য এবং বালখ-এর মাশায়েখদের বৈধতার মতটি তো নিঃশর্ত; সুতরাং এর বাহ্যিক দিক থেকে বোঝা যায় যে তারা তার পূর্বে যা উল্লেখ করা হয়েছে তার বৈধতার প্রবক্তা, অথচ তারা সারাখসীর পূর্ববর্তী। (আমি বলব) হ্যাঁ, বাহ্যিকভাবে এটি তেমনই মনে হয়। কিন্তু ইমাম সারাখসী আমাদের শ্রেষ্ঠ ইমামদের অন্তর্ভুক্ত এবং তিনি বালখবাসীদের বক্তব্যের বিষয়ে বাযযাযী ও অন্যদের তুলনায় নিঃসন্দেহে অধিক অবগত। বিশেষ করে কাযী খান ও অন্যান্যগণ এটি সমর্থন করেছেন এবং ফদলীর বক্তব্য দ্বারা এটি সমর্থিত হয়েছে। এছাড়াও হেদায়াহ, কানয এবং মাওয়াহিব-এর মতো মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহে যা সীমাবদ্ধভাবে উল্লেখ করা হয়েছে তাও একে জোরালো করে। এর সারসংক্ষেপ হলো (*) ইমাম সারাখসী বালখ-এর মুফতীগণের বক্তব্য থেকে পূর্ববর্তীদের মতের বিপরীতে যা বুঝেছেন তা হলো তারা ফিকহ শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক বৈধ মনে করেননি। সুতরাং তার অনুধাবন অনুযায়ী ঐকমত্যের বর্ণনা সঠিক। আর যারা এর ওপর এবং ইমামতির ওপর বৈধতা দান করেছেন...

--------------------------------------------

(*) ইমাম সারাখসী হলেন আল-মাবসুত গ্রন্থের লেখক। তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় নিজের স্মৃতি থেকে এটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সংকলন করিয়েছিলেন। সাইয়্যেদ আরিফ আব্দুল গনী আন-নাবলুসী আল-মানযুমাতুল মুহিব্বিয়াহ-র ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেছেন: আল-মাবসুত গ্রন্থের লেখক হলেন ইমাম শামসুল আইম্মাহ সারাখসী, যিনি একজন উচ্চস্তরের ইমাম এবং বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী। তিনি আওজান্দ-এর কারাগারে থাকাকালীন প্রায় পনের খণ্ডে আল-মাবসুত গ্রন্থটি শ্রুতিলিখনের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন। তাকে একটি বিশেষ বক্তব্যের কারণে কারারুদ্ধ করা হয়েছিল।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬০)
ممم(2) والاذان قهم خلافه او هو افتاء منهم بذلك قياسا على ما قاله البلخيون وهذا اقرب كما سيأتي ما يوضحه هذا ما ظهر لى من التوفيق * نعم مشى العلامة الشرنبلالي(3) على الثانى حيث قال في رسالته بلوغ الارب لذوى القرب * وتعليل ما تقدم من ان الاذان والامامة لا يشغل عن المعاش غير مسلم فان تقيد المؤذن بالاذان والتذكير في كل وقت وطلوع المنارة في الليل والبرد والامطار يصبح به في غاية الانحطاط وذبول الجسم وكل وقت ينظر دخوله بعدة قبله وبعد الصلاة يشتغل بالتسبيح ولا يقدر على التعطيل من القيام عليه واذية العامة له واما تعليم الفقه فليس اقوى منه في المنع عن امر المعاش مطالعة والقاء المدرس وتعليم المتفقهة والصبر على كل طالب بحسب ما يصل الى فهمه وتكرير الالقاء والكتابة لما يحتاج اليه وتفريغ البال من طلب العيال القوت وما يحتاجون اليه لدفع الحر والبرد وما يحتاجه من شراء كتب وكتابة بالاجرة للكاتب فالامر لله العلى العظيم الواحد القهار حسبنا الله ونعم الوكيل والآن صار الامر اظهر من فلق الفجر انتهى (قلت ووجهه ظاهر فان الضرورة تبيح ذلك. ولذا قال في شرح المجمع الملكي اقول لما رأوا ظهور التوان. فى الامور الدينية في ذلك الاوان. وفتور همم الامراء والاقبال. فى اعطاء وظائف العلماء من المال "جوزوا استئجارهم نظرا لهم فى المآل. وحذرا عن أقلال اهل العلم والاخلال. فكيف يكون في حقبتنا حال * ونظر الملوك من جملتنا حال. وضاع بالكلية ذلك المنوال. ولم يبق لهم من دون الله من وال انتهى" وقال الامام الزيلعي عند قول الكنز والفتوى اليوم على جواز الاستئجار لتعليم القرآن وهو مذهب المتأخرين من مشايخ بلخ استحسنوا ذلك وقالوا بني اصحابنا المتقدمون الجواب على ما شاهدوا من قلة الحفظة ورغبة الناس فيهم وكان لهم عطيات في بيت المال وافتقاد من المتعلمين فى مجازاة الاحسان بالاحسان من غير شرط مروأة يعينونهم على معاشهم ومعادهم وكانوا يفتون بوجوب التعليم خوفا من ذهاب القرآن وتحريضا على التعليم حتى ينهضوا لاقامة الواجب فتكثر حفاظ

--------------------------------------------

(2) من الناصحين لكون له ذخرا الى يوم الدين وقد صرح بالحبس في آخر العبادات من المبسوط بقوله أملاه المحبوس عن الجمع والجماعات وفي آخر الطلاق املاه المحبوس عن الاطلاق المتملى بوحشة الفراق. مصليا على صاحب البراق. وفى آخر الاعتاق وآخر الاقرار نحو ذلك توفى رحمه الله تعالى في حدود سنة تسعين واربعمائة اهـ وذكر فى البحر من باب العدة حكاية عنه لطيفة وسبب حبسه منه.

(3) قوله على الثانى هو جواز الاستئجار على التعليم والامامة والاذان والاول هو ما عليه فى الهداية وغيرها من تخصيصه بالتعليم وهو خلاف ما قاله السرخسى منه
...(২) এবং আযান তাদের নিকট এর বিপরীত, অথবা এটি তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি ফতোয়া যা বলখবাসীদের বক্তব্যের ওপর কিয়াস করে প্রদান করা হয়েছে। এটিই অধিকতর নিকটবর্তী যেমন সামনে এর স্পষ্টিকরণ আসবে। সমন্বয়ের ক্ষেত্রে আমার কাছে এটিই প্রতীয়মান হয়েছে। হ্যাঁ, আল্লামা শুরুনবুলালী(৩) দ্বিতীয় মতের ওপর ভিত্তি করে চলেছেন, যেমনটি তিনি তাঁর রিসালা 'বুলুগুল ইবার লি-যাউয়িল কুরবা'-তে বলেছেন। আর পূর্বোক্ত এই কারণ যে, আযান এবং ইমামত জীবনযাত্রার উপার্জন থেকে বিমুখ করে না—তা গ্রহণযোগ্য নয়। কেননা মুয়াযযিনকে প্রতিটি ওয়াক্তে আযান এবং তাসবীবের জন্য দায়বদ্ধ থাকতে হয় এবং রাত, শীত ও বৃষ্টির মধ্যেও মিনারে উঠতে হয়। এর ফলে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল ও জীর্ণ হয়ে যায়। সে প্রতিটি ওয়াক্তের প্রবেশের জন্য তার পূর্ব থেকে অপেক্ষা করে। নামাযের পর সে তাসবীহ পাঠে ব্যস্ত থাকে এবং এই দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে পারে না এবং সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকেও কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আর ফিকহ শিক্ষার কথা যদি বলি, তবে পড়াশোনা, শিক্ষকের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা প্রদান এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বুঝ অনুযায়ী ধৈর্য ধরা, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বারবার বলা ও লিখে দেওয়া—এসব কিছু জীবনযাত্রার উপার্জন থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে আযানের চেয়েও শক্তিশালী কারণ। তদুপরি, সন্তান-সন্ততির আহার এবং শীত-গ্রীষ্ম নিবারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহের চিন্তা থেকে মনকে মুক্ত রাখা এবং কিতাব ক্রয় ও লেখকের পারিশ্রমিক প্রদানের প্রয়োজন তো রয়েছেই। সুতরাং যাবতীয় বিষয় সুউচ্চ, সুমহান, এক ও পরাক্রমশালী আল্লাহরই ইখতিয়ারে। আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনি কতই না উত্তম কর্মবিধায়ক। আর এখন বিষয়টি ভোরের আলোর চেয়েও স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে (সমাপ্ত)। (আমি বলি, এর কারণ স্পষ্ট, কেননা প্রয়োজনীয়তা নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে। এজন্যই শরহে মাজমাউল মালিকে বলা হয়েছে: আমি বলছি, যখন তাঁরা সেই যুগে ধর্মীয় বিষয়ে অবহেলা এবং আলেমদের ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে আমীরদের উদ্যম ও আগ্রহের অভাব লক্ষ্য করলেন, তখন তাঁরা পরিণতির কথা বিবেচনা করে তাঁদের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ করে দিলেন। এটি করা হয়েছে ইলম অর্জনকারীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং তাতে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায়। তাহলে আমাদের বর্তমান সময়ের অবস্থা কেমন হবে? যেখানে বাদশাহদের দৃষ্টি আমাদের প্রতি এমন অবস্থায় যে এই ধারাটি সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে এবং আল্লাহ ছাড়া তাদের আর কোনো অভিভাবক অবশিষ্ট নেই (সমাপ্ত)।) ইমাম যায়লায়ী ‘কানয’-এর এই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় বলেন যে, বর্তমানে কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ হওয়ার ওপর ফতোয়া। এটি বলখের পরবর্তী যুগের মাশায়েখদের মাযহাব। তাঁরা এটিকে উত্তম বলেছেন এবং বলেছেন যে, আমাদের পূর্ববর্তী ফকীহগণ তাঁদের যুগে হিফযকারীর সংখ্যাধিক্য এবং মানুষের মধ্যে তাদের প্রতি আগ্রহ দেখে উত্তর দিয়েছিলেন। তখন বায়তুল মাল থেকে তাঁদের জন্য উপঢৌকন বরাদ্দ ছিল এবং শিক্ষার্থীরাও কোনো শর্ত ছাড়াই সৌজন্যের ভিত্তিতে তাঁদের প্রয়োজন পূরণ করত যা তাঁদের ইহকাল ও পরকালের কাজে সহায়তা করত। তখন তাঁরা কুরআন হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে এবং শিক্ষাদানে উৎসাহিত করার জন্য বিনা পারিশ্রমিকে শিক্ষা দেওয়া ওয়াজিব হওয়ার ফতোয়া দিতেন, যাতে তারা ওয়াজিব পালনে সচেষ্ট হয় এবং হাফেযদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়...

--------------------------------------------

(২) হিতাকাঙ্ক্ষীদের মধ্য হতে যাতে এটি কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তাঁর জন্য সঞ্চয় হয়ে থাকে। আল-মাবসুতের ইবাদত অধ্যায়ের শেষে তাঁর কারাবন্দী হওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, এটি এমন ব্যক্তি দ্বারা শ্রুতলিখন করানো হয়েছে যিনি জুমুআ ও জামাত থেকে অবরুদ্ধ ছিলেন। তালাক অধ্যায়ের শেষে বলা হয়েছে, এটি এমন ব্যক্তি দ্বারা শ্রুতলিখন করানো হয়েছে যিনি বিচ্ছেদের একাকীত্বের মাধ্যমে মুক্তি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তিনি বুরাকের আরোহীর ওপর দরুদ পাঠকারী ছিলেন। দাসমুক্তি ও ইকরার অধ্যায়ের শেষেও অনুরূপ কথা রয়েছে। তিনি রহমতুল্লাহি আলাইহি চারশত নব্বই হিজরির দিকে মৃত্যুবরণ করেন। আল-বাহরুল রায়েক-এর ইদ্দত অধ্যায়ে তাঁর সম্পর্কে একটি সুন্দর কিচ্ছা এবং তাঁর কারাবরণের কারণ বর্ণিত হয়েছে।

(৩) তাঁর কথা ‘দ্বিতীয় মতের ওপর’—তা হলো শিক্ষা দান, ইমামত এবং আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ হওয়া। আর প্রথম মতটি হলো যা হিদায়া এবং অন্যান্য কিতাবে রয়েছে অর্থাৎ এটি কেবল শিক্ষা দানের ক্ষেত্রে সীমিত রাখা। এটি ইমাম সারাখসীর বক্তব্যের বিপরীত।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬১)
القرآن واما اليوم فذهب ذلك كله واشتغل الحفاظ بمعاشهم وقل ما يعلم حسبة ولا يتفرغون له أيضًا فإن حاجتهم تمنعهم من ذلك فلو لم يفتح لهم باب التعليم بالاجر لذهب القرآن فافتوا بجوازه لذلك ورأوه حسنا وقالوا الاحكام قد تختلف باختلاف الزمان الا ترى أن النساء كن يخرجن إلى الجماعات في زمان النبي صلى الله تعالى عليه وسلم وفي زمان أبي بكر رضى الله تعالى عنه حتى منعهن عمر رضى الله تعالى عنه واستقر الأمر عليه وكان ذلك هو الصواب وقال في النهاية يفتى بجواز الاستئجار على تعليم الفقه أيضًا في زماننا ويجوز للإمام والمؤذن والمعلم أخذ الاجر قال كذا في الذخيرة انتهى كلام الزيلعي * وهو كالصريح في أن افتاء البلخيين خاص بتعليم القرآن وان من بعدهم زاد الاذان والامامة ونحوهما بجامع الضرورة وحاجة الناس فتأيد ما قدمناه من التوفيق وما بحثه الشرنبلالي في التعليل والله تعالى أعلم (ثم اعلم) انهم حيث افتوا بجواز الاستئجار على التعليم ووجوب المسمى خصوه بما إذا ضرب له مدة لتصبح الإجارة ولو لم تضرب له مدة ولا تسمية أوجبوا اجر المثل كما هو الحكم في الاجارات الفاسدة كما صرح به في البزازية وغيرها حيث قال وفتوى علمائنا على أن الإجارة ان صحت يجب المسمى وإن لم تصح يجب اجر المثل ويجبر الأب على ادائها ويحبس على الحلوة المرسومة والعيدى والحيلة أن يستأجر المعلم مدة معلومة ثم يامره بتعليم ولده انتهى * وفى الذخيرة البرهانية ومشايخ بلخ جوزوا الاستئجار على تعليم القرآن إذا ضرب لذلك مدة وافتوا بوجوب المسمى وبدون ذكر المدة افتوا بوجوب اجر المثل انتهى فاعلم ذلك (فائدة) قال الحافظ الذهبي الحد الفاصل بين العلماء المتقدمين والمتأخرين رأس القرن الثالث وهو الثلاثمائة انتهى فالمتقدمون من قبله والمتأخرون من بعده (فصل) وحيث احطت خبرا بما قدمناه * وصار معلومك جميع ما تلوناه * يظهر لك أن العلة في جواز الاستئجار على تعليم القرآءة والفقه والاذان والامامة هى الضرورة واحتياج الناس إلى ذلك * وإن هذا مقصور على هذه الأشياء دون ما عداها مما لا ضرورة إلى الاستئجار عليه وما قدمناه كالصريح في ذلك بحيث لا يكاد ينكره منازع * ولا يقدر على دفعه مدافع * واصرح منه ما في الذخيرة البرهانية حيث ذكر علة الجواز على تعليم القرآن بمثل ما قدمناه عن الزيلعي ثم قال وكذا يفتي بجواز الاستئجار على تعليم الفقه في زماننا * والاستئجار على الاذان والإقامة لا يجوز لأنه استئجار على عمل للاجير فيه شركة لأن المقصود من الاذان والإقامة أداء الصلاة بجماعة بأذان واقامة وهذا النوع كما يحصل للمستأجر يحصل للاجير وكذا الاستئجار على الحج والغزو وسائر

কুরআন; কিন্তু বর্তমান যুগে সে সব বিদায় নিয়েছে এবং হাফেজগণ তাদের জীবন-জীবিকার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে শেখানোর হার কমে গেছে এবং তারা এর জন্য সময়ও বের করতে পারেন না, কারণ তাদের প্রয়োজন তাদের এ থেকে বিরত রাখে। সুতরাং যদি তাদের জন্য পারিশ্রমিকের বিনিময়ে শিক্ষা প্রদানের দুয়ার উন্মুক্ত না করা হতো, তবে কুরআন বিলুপ্ত হয়ে যেত। তাই তারা (ফকিহগণ) এ কারণে এর বৈধতার ফতোয়া দিয়েছেন এবং এটিকে উত্তম মনে করেছেন। তারা বলেছেন, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বিধানের পরিবর্তন হতে পারে। আপনি কি দেখেন না যে, নবী সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং আবু বকর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুর যুগে মহিলারা জামাতে বের হতেন? এমনকি উমর রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তাদের নিষেধ করেন এবং এর ওপরই বিষয়টি স্থির হয়, আর সেটিই ছিল সঠিক সিদ্ধান্ত। 'নিহায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে, আমাদের যুগে ফিকহ শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতার ফতোয়াও দেয়া হয় এবং ইমাম, মুয়াজ্জিন ও শিক্ষকের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ। 'যাখীরা' গ্রন্থেও অনুরূপ বলা হয়েছে—যাইলায়ীর বক্তব্য সমাপ্ত। এটি যেন স্পষ্ট যে, বালখীদের ফতোয়া কুরআন শিক্ষার সাথে বিশেষিত ছিল এবং তাদের পরবর্তীগণ এর সাথে আযান, ইমামতি ও এই জাতীয় বিষয়গুলো যুক্ত করেছেন প্রয়োজনের ব্যাপকতা ও মানুষের অভাবের কারণে। ফলে আমরা পূর্বে সমন্বয়ের যে প্রস্তাব দিয়েছি এবং শরনবুলালী যে যৌক্তিক কারণ পেশ করেছেন, তা শক্তিশালী হলো। আল্লাহ তায়ালা সবচেয়ে ভালো জানেন। (অতঃপর জেনে রাখুন) যখন তারা শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ হওয়ার এবং নির্ধারিত পারিশ্রমিক ওয়াজিব হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন, তখন তারা একে একটি নির্দিষ্ট সময়ের সাথে শর্তযুক্ত করেছেন যাতে ইজারা (চুক্তি) সহিহ হয়। যদি সময় ও পারিশ্রমিক নির্ধারিত না হয়, তবে তারা 'আজরুল মিসল' (প্রচলিত মজুরি) ওয়াজিব করেছেন, যেমনটি ফাসিদ ইজারার বিধান। যেমনটি 'বাযযাযিয়া' ও অন্যান্য গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, আমাদের উলামাদের ফতোয়া হলো—ইজারা সহিহ হলে নির্ধারিত পারিশ্রমিক প্রদান ওয়াজিব, আর যদি সহিহ না হয় তবে 'আজরুল মিসল' ওয়াজিব। পিতাকে এটি প্রদানের জন্য বাধ্য করা হবে এবং প্রচলিত মিষ্টান্ন ও ঈদ সেলামীর জন্য তাকে আটকে রাখা হবে। আর এর কৌশল হলো, শিক্ষককে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য নিয়োগ করবে এবং এরপর তাকে তার সন্তানকে শেখানোর আদেশ দিবে—বক্তব্য সমাপ্ত। 'যাখীরা আল-বুরহানিয়া' গ্রন্থে রয়েছে—বালখের মাশায়েখগণ কুরআন শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণকে বৈধ বলেছেন যদি সময়ের সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং তারা নির্ধারিত পারিশ্রমিক ওয়াজিব হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন। আর সময় উল্লেখ না করলে তারা 'আজরুল মিসল' ওয়াজিব হওয়ার ফতোয়া দিয়েছেন—বক্তব্য সমাপ্ত। সুতরাং বিষয়টি জেনে নিন। (ফায়দা) হাফেজ আয-যাহাবী বলেছেন, মুতাকাদ্দিম (পূর্বসূরী) ও মুতাআখখির (উত্তরসূরী) উলামাদের মধ্যকার সীমারেখা হলো তৃতীয় হিজরি শতকের শেষভাগ অর্থাৎ তিনশ হিজরি। সুতরাং এর পূর্বেরগণ মুতাকাদ্দিম এবং পরেরগণ মুতাআখখির। (পরিচ্ছেদ) যেহেতু আপনি আমাদের উপস্থাপিত তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি সম্যক অবগত হয়েছেন এবং আমরা যা বর্ণনা করেছি তা আপনার জ্ঞাত হয়েছে, তাই আপনার নিকট এটি স্পষ্ট হয়েছে যে—কুরআন তিলাওয়াত, ফিকহ, আযান ও ইমামতি শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক বৈধ হওয়ার কারণ হলো 'জরুরত' বা অপরিহার্যতা এবং মানুষের প্রয়োজনীয়তা। এবং এটি শুধু এই বিষয়গুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ, এর বাইরে অন্য কোনো বিষয়ে নয় যার জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণের প্রয়োজন নেই। আমরা যা পেশ করেছি তা এই বিষয়ে স্পষ্ট, যা কোনো বিরোধিতাকারী অস্বীকার করতে পারবে না এবং কোনো প্রতিবাদকারী তা খণ্ডন করতে সক্ষম হবে না। এর চেয়েও স্পষ্ট হলো 'যাখীরা আল-বুরহানিয়া'র বক্তব্য, যেখানে কুরআন শিক্ষার বৈধতার কারণ হিসেবে আমরা যাইলায়ী থেকে যা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপ উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর বলা হয়েছে—অনুরূপভাবে আমাদের যুগে ফিকহ শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক বৈধ হওয়ার ফতোয়া দেয়া হয়। তবে আযান ও ইকামতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ নয়, কারণ এটি এমন কর্মের বিনিময় যার মধ্যে শ্রমিকেরও অংশীদারিত্ব রয়েছে। কারণ আযান ও ইকামতের উদ্দেশ্য হলো আযান ও ইকামতের সাথে জামাতের নামাজ আদায় করা। এই বিষয়টি যেমন নিয়োগকর্তার অর্জিত হয়, তেমনি শ্রমিকেরও অর্জিত হয়। অনুরূপভাবে হজ, জিহাদ এবং অন্যান্য...

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬২)
الطاعات لا يجوز لأنَّه لو جاز لوجب على القاضي جبر الاجير عليها ولا وجه إليه لأن أحدا لا يجبر على الطاعات وكان الشيخ الإمام شمس الائمة الحلواني والقاضى الإمام ركن الإسلام على السغدى رحمهما الله تعالى لا يفتيان بجواز الاستئجار على تعليم القرآن وهكذا حكى عن الشيخ الإمام الاجل ركن الدين أبي الفضل رحمه الله تعالى وفى روضة الزندوستى كان شيخنا أبو محمد عبد الله الجراحرى يقول في زماننا يجوز للإمام والمؤذن والمعلم أخذ الاجر انتهى ما في الذخيرة * وبه ظهر لك ما في كلام بعضهم كالعلامة الشيخ زين بن نجيم والشيخ علاء الدين حيث يطلقان في بعض كلامهما أن المفتى به جواز الاستئجار على الطاعات عند المتأخرين فإنه ليس على إطلاقه كما ظهر لك ظهور الشمس * وزال عنه الخفاء واللبس * والا لجاز الاستئجار على الصلاة والصوم الواجبين وما أظن احدا يقول بجواز ذلك (فإن قلت) قد قال في الأشباه والنظائر يصح استئجار الحاج عن الغير وله اجر مثله ثم اسنده للخانية (قلت) قد الف العلامة الشرنبلالي رسالته المنقول عنها سابقا في هذه المسئلة ورد على صاحب الأشباه حيث قال واقول نص الخانية إذا استأجر المحبوس رجلا ليحج عنه حجة الإسلام جازت الحجة عن المحبوس اذا مات في الحبس وللاجير اجر مثله في ظاهر الرواية انتهى * فهذا نص على أنه لا صحة لقوله في الأشباه يصح الاستئجار للحج ولا صحة لعزوه للخانية فإنه لم يقل في الخانية يصح استئجار الحاج عن الغير وانما قال جازت الحجة الخ وكذا قال في المنبع ثم قال وفى المحيط وما فضل من النفقة بعد رجوعه يرده على الورثة لأنَّه فضل عن حاجة الميت لأن النفقة لا تصير ملكا للحاج لأن الاستئجار على الطاعات لا يجوز ولكن ينفق المال على حكم ملك الميت في الحج فإذا فرغ منه يرد باقيه انتهى لأن الإجارة على الحج غير صحيحة باتفاق ائمتنا وإنما جازت الحجة عن المستأجر لأنَّه لما بطلت الإجارة بقى الأمر بالحج وقد نواه الفاعل عن الآمر فصح * وقد استشكل كلام قاضي خان المحقق ابن الهمام وذكر أن النفقة لا تصير ملكا للحاج لأنَّه لو ملكها لكان بالاستئجار وهو لا يجوز على الطاعة إلى أن قال فما في قاضي خان مشكل لا جرم أن الذي في كافي الحاكم الشهيد وله نفقة مثله هو العبارة المحررة وزاد ايضاحها في المبسوط قال وهذه النفقة ليس مستحقها بطريق العوض بل بطريق الكتابة هذا وإنما جاز الحج عنه لأنَّه لما بطلت الإجارة بقى الأمر بالحج فيكون له نفقة مثله انتهى كلام الكمال * قلت فهذا نص الكمال على بطلان الإجارة ووافقه قاضي خان باشارته ولكنه اعترضه في تعبيره باجر المثل والعبارة المحررة نفقة المثل ونقل

আনুগত্যমূলক কাজের (ইবাদত) জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ নয়। কেননা যদি তা বৈধ হতো, তবে বিচারকের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণকারীকে সেই কাজ করতে বাধ্য করা ওয়াজিব হতো। অথচ এর কোনো সুযোগ নেই, কারণ কাউকে আনুগত্যমূলক কাজের জন্য বাধ্য করা যায় না। শায়খ ইমাম শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানি এবং কাজি ইমাম রুকনুল ইসলাম আলী আস-সাগদি (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহমত বর্ষণ করুন) কুরআন শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণের বৈধতার বিষয়ে ফতোয়া দিতেন না। শায়খ ইমাম আজাল রুকনউদ্দিন আবু আল-ফজল (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) থেকেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। ‘রওজাতুজ জান্দোস্তি’তে আছে, আমাদের শায়খ আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-জরাহরি বলতেন: আমাদের সময়ে ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং শিক্ষকের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করা বৈধ। ‘আজ-জাখিরা’র বক্তব্য এখানেই শেষ। * এর মাধ্যমে আপনার কাছে স্পষ্ট হলো যে, আল্লামা শায়খ জয়ন বিন নুজাইম এবং শায়খ আলাউদ্দিনের মতো কিছু আলেম তাঁদের কোনো কোনো বক্তব্যে নিঃশর্তভাবে যা বলেছেন—অর্থাৎ পরবর্তী ফকিহদের মতে আনুগত্যমূলক কাজের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ—তা নিঃশর্ত নয়। এটি এখন আপনার কাছে সূর্যের মতো স্পষ্ট এবং এ থেকে অস্পষ্টতা ও দ্বিধা দূর হয়ে গেছে। * অন্যথায় তো ফরজ নামাজ ও রোজার ওপরও পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ হয়ে যেত, অথচ আমার মনে হয় না কেউ এর বৈধতার কথা বলবেন। (যদি আপনি বলেন) ‘আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর’ গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, অন্যের পক্ষ থেকে হজ আদায়ের জন্য লোক নিয়োগ করা সহিহ এবং সে ‘অজরে মিসল’ (তদ্রূপ কাজের পারিশ্রমিক) পাবে; অতঃপর তিনি একে ‘খানিয়্যাহ’র দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। (আমি বলব) আল্লামা শুরুনবুলালি এই মাসআলায় তাঁর রিসালাহ রচনা করেছেন, যা থেকে আগে উদ্ধৃত হয়েছে এবং তিনি ‘আল-আশবাহ’ এর লেখকের প্রতিবাদ করেছেন। তিনি বলেন: আমি বলছি, ‘খানিয়্যাহ’র পাঠ হলো—যখন কোনো কারাবন্দী ব্যক্তি তার পক্ষ থেকে হজ্জাতুল ইসলাম আদায়ের জন্য কোনো লোক নিয়োগ করে, তবে কারাবন্দী ব্যক্তি যদি কারাগারে মারা যায় তবে তার পক্ষ থেকে হজ আদায় হয়ে যাবে এবং নিয়োগকৃত ব্যক্তি ‘জাহিরুর রিওয়ায়াত’ অনুযায়ী ‘অজরে মিসল’ পাবে। বক্তব্য শেষ। * সুতরাং এটিই প্রমাণ যে, ‘আল-আশবাহ’ গ্রন্থে যা বলা হয়েছে যে হজের জন্য নিয়োগ দেওয়া সহিহ, তার কোনো ভিত্তি নেই; আর ‘খানিয়্যাহ’র দিকে এর সম্বন্ধও সঠিক নয়। কারণ ‘খানিয়্যাহ’তে বলা হয়নি যে অন্যের পক্ষ থেকে হাজি নিয়োগ করা সহিহ, বরং বলা হয়েছে ‘হজ আদায় হয়ে যাবে’ ইত্যাদি। অনুরূপ ‘আল-মানবা’ গ্রন্থেও বলা হয়েছে। অতঃপর তিনি বলেন: ‘আল-মুহিত’ গ্রন্থে আছে, ফিরে আসার পর খরচের যা অবশিষ্ট থাকবে তা ওয়ারিশদের ফিরিয়ে দিতে হবে। কারণ এটি মৃত ব্যক্তির প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ। কেননা খরচাদির এই অর্থ হাজির মালিকানায় আসে না, যেহেতু আনুগত্যমূলক কাজের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ নয়। বরং হজের ক্ষেত্রে এই অর্থ মৃত ব্যক্তির মালিকানাধীন হওয়ার হুকুমেই ব্যয় করা হবে। হজের কাজ শেষ হলে অবশিষ্ট অংশ ফিরিয়ে দিতে হবে। বক্তব্য শেষ। কেননা আমাদের ইমামগণের ঐকমত্যে হজের ইজারা (চুক্তি) সহিহ নয়। নিয়োগকারীর পক্ষ থেকে হজ আদায় হয়েছে এই কারণে যে, যখন ইজারা বাতিল হয়ে গেল, তখন হজের নির্দেশটি অবশিষ্ট থাকল এবং সম্পাদনকারী ব্যক্তি নির্দেশদাতার পক্ষ থেকে নিয়ত করেছেন, ফলে তা সহিহ হয়েছে। * মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম কাজি খানের বক্তব্য নিয়ে আপত্তি উত্থাপন করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, খরচাদির অর্থ হাজির মালিকানাধীন হয় না। কারণ যদি তিনি এর মালিক হতেন, তবে তা ইজারার মাধ্যমেই হতো, অথচ আনুগত্যমূলক কাজের ওপর তা বৈধ নয়। তিনি আরও বলেন: কাজি খানের গ্রন্থে যা আছে তা আপত্তিকর। নিঃসন্দেহে হাকিম আশ-শহিদের ‘কাফি’ গ্রন্থে যা আছে—অর্থাৎ সে ‘নাফাকায়ে মিসল’ (প্রয়োজনীয় খরচ) পাবে—সেটিই পরিমার্জিত ভাষ্য। ‘মাবসুত’ গ্রন্থে এর ব্যাখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন: এই খরচের অর্থ বিনিময়ের ভিত্তিতে সে প্রাপ্য নয়, বরং এটি হজের ব্যয়নির্বাহের ভিত্তিতে। আর তার পক্ষ থেকে হজ জায়েজ হয়েছে কারণ ইজারা বাতিল হওয়ার পর হজের নির্দেশটি অবশিষ্ট ছিল, ফলে সে ‘নাফাকায়ে মিসল’ পাওয়ার অধিকারী হবে। কামাল (ইবনুল হুমাম)-এর বক্তব্য শেষ। * আমি বলব, এটি ইজারা বাতিল হওয়ার বিষয়ে কামালের সুস্পষ্ট বক্তব্য এবং কাজি খান তাঁর ইশারায় তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। তবে তিনি (ইবনুল হুমাম) তাঁর ‘অজরে মিসল’ (পারিশ্রমিক) শব্দচয়নের ওপর আপত্তি করেছেন; সঠিক শব্দ হলো ‘নাফাকায়ে মিসল’ (প্রয়োজনীয় খরচ), আর তিনি বর্ণনা করেছেন...

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬৩)
في البحر عدم صحة الإجارة عن الاسبيجابي * وفي المنبع اتفق العلماء على الأرزاق(1) في الحج واختلفوا في الإجارة فمنعها ابو حنيفة واحمد ومن تابعهما وجوزها مالك والشافعى باجرة معلومة * والاعمال أنواع ثلاثة ما يجوز فيه الارزاق والإجارة كبناء المساجد ونحوها وما تمتنع فيه الإجارة دون الارزاق كالقضاء والفتيا وما اختلف في جواز الإجارة فيه دون الارزاق كالامامة والاذان والإقامة والحج انتهى * فتحرر لنا أن الاستنابة للحج غير الاستئجار عليه والفرق بينهما قد علم بأنه لا يملك النفقة بالاستنابة ويملكها بالإجارة * وعلمنا أنه لا يلزم من عدم صحة الإجارة عدم وقوع الحج عن المستأجر ووقوعه عن الآمر هو ظاهر المذهب وهو الصحيح وعن محمد أنه يقع عن المأمور وللآمر ثواب النفقة ولكن يسقط اصل الحج عن الآمر قال شيخ الإسلام واليه مال عامة المتأخرين وبعض الفروع ظاهرة في هذا القول * هذا حاصل ما ذكره الشرنبلالي رحمه الله تعالى وصحح قاضي خان في فتاواه ظاهر المذهب ورجح في شرحه على الجامع الصغير الثانى حيث قال وهو أقرب إلى الفقه وكأن الشرنبلالي لم ير عبارة الجامع فاعترض على ابن الهمام في نقله ترجيح الثاني عن قاضي خان بأنه لم يرجحه بل رجح الأول تأمل قلت فثبت بما قلناه عدم جواز الاستئجار على الحج كغيره من الطاعات سوى ما مر* وممن صرح بذلك صاحب الهداية والكنز والمجمع والمختار والوقاية وغيرهم نصوا على ذلك في كتاب الإجارة ثم استثنوا تعليم القرآن من الطاعات وبعضهم استثنى أيضًا تعليم الفقه والامامة والاذان والإقامة كما علمت ذلك مما نقلناه عن المتون وغيرها وهذا من اقوى الادلة على ما قلنا من أن ما افتوا به ليس عاما في كل طاعة بل هو خاص بما نصوا عليه مما وجد فيه علة الضرورة والاحتياج فإن الاستثناء من ادوات العموم كما تقرر في الاصول * وحيث نصوا على أن مذهب ائمتنا الثلاثة المنع مطلقا مع وضوح الادلة عليه واستثنى بعض المشايخ اشياء وعللوا ذلك بالضرورة المسوغة لمخالفة اصل المذهب كيف يسوغ للمقلد طرد ذلك والخروج عن المذهب بالكلية من غير حاجة ضرورية * على أنه لو ادعى أحد الحاق ما فيه ضرورة غير ما نصوا عليه به فلنا أن نمنعه وإن وجدت فيه العلة إلا أن يكون من أهل القياس فقد نص ابن نجيم في بعض رسائله على أن القياس بعد الاربعمائة منقطع فليس لاحد بعدها أن يقيس مسئلة على مسئلة فما بالك بالخروج عن المذهب فعلى المقلد اتباع المنقول ولهذا لم نر أحدا قال بجواز الاستئجار على الحج بناء على ما افتى به المتأخرون

--------------------------------------------

(1) الارزاق جمع رزق وهو ما يرزقه القاضى ونحوه من بيت المال منه.

‘আল-বাহর’ গ্রন্থে আস-সিবিজাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, (হজ্জের জন্য) ইজারা সহীহ নয়। * এবং ‘আল-মানবা’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আলেমগণ হজ্জের ক্ষেত্রে ‘আরযাক’ (ভাতা) প্রদানের বিষয়ে একমত হয়েছেন, তবে ‘ইজারা’ (ভাড়ার চুক্তি) নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আহমাদ এবং তাঁদের অনুসারীরা এটি নিষিদ্ধ করেছেন, আর ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেঈ নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এটি জায়েয বলেছেন। * আমল বা কাজ তিন প্রকার: (১) যাতে ভাতা এবং ইজারা উভয়ই জায়েয, যেমন মসজিদ নির্মাণ ও অনুরূপ কাজ। (২) যাতে ইজারা নিষিদ্ধ কিন্তু ভাতা জায়েয, যেমন বিচারকার্য ও ফাতাওয়া প্রদান। (৩) যাতে ভাতা জায়েয হওয়ার বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই কিন্তু ইজারা জায়েয হওয়া নিয়ে মতভেদ রয়েছে, যেমন ইমামতি, আযান, ইকামত এবং হজ্জ। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। * সুতরাং আমাদের কাছে এটি স্পষ্ট হলো যে, হজ্জের জন্য প্রতিনিধি নিয়োগ (ইস্তিনাবাহ) আর হজ্জের জন্য ইজারা (ভাড়ায় নিয়োগ) এক কথা নয়। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য এই যে, প্রতিনিধি নিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি খরচের মালিক হয় না, কিন্তু ইজারার ক্ষেত্রে সে পারিশ্রমিকের মালিক হয়ে যায়। * আমরা আরও জানতে পারলাম যে, ইজারা সহীহ না হওয়ার কারণে এমনটি আবশ্যক হয় না যে, হজ্জ আদায়কারীর পক্ষ থেকে হবে; বরং আদেশদাতার পক্ষ থেকেই হজ্জ আদায় হওয়া মাযহাবের প্রকাশ্য মত এবং এটিই বিশুদ্ধ। ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.) থেকে বর্ণিত যে, হজ্জ সম্পাদনকারীর পক্ষ থেকেই আদায় হবে এবং আদেশদাতা কেবল খরচ করার সওয়াব পাবেন, তবে আদেশদাতার পক্ষ থেকে মূল হজ্জের দায় মুক্তি ঘটবে। শাইখুল ইসলাম বলেছেন, পরবর্তীকালের অধিকাংশ ফকীহ এই মতের দিকেই ঝুঁকেছেন এবং কিছু ফুরু বা উপশাখা এই মতের স্বপক্ষে স্পষ্ট। * এটিই ইমাম শুরুনবুলালী (রহ.) যা উল্লেখ করেছেন তার সারসংক্ষেপ। কাজী খান তাঁর ফাতাওয়া গ্রন্থে যাহিরুর রেওয়াতকে বিশুদ্ধ বলেছেন, তবে ‘জামে আস-সগীর’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে দ্বিতীয় মতটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং বলেছেন যে “এটি ফিকহ বা গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক বিবেচনার নিকটতর”। সম্ভবত ইমাম শুরুনবুলালী ‘জামে’-এর এই বক্তব্যটি দেখেননি, তাই তিনি ইবনুল হুমামের ওপর আপত্তি করেছেন এই মর্মে যে—কাজী খান দ্বিতীয় মতটিকে প্রাধান্য দেননি বরং প্রথমটিই দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করুন। আমি বলছি, আমাদের উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, হজ্জের জন্য ইজারা জায়েয নয়, যেমনটি ইবাদত পর্যায়ের অন্যান্য কাজের ক্ষেত্রেও (যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে) জায়েয নেই। * যারা বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে ‘হিদায়া’, ‘কানয’, ‘মাজমা’, ‘মুখতার’, ‘উইকায়া’ ও অন্যান্য গ্রন্থের লেখকগণ অন্যতম। তাঁরা ‘কিতাবুল ইজারা’র মধ্যে এটি স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। এরপর তাঁরা ইবাদতের মধ্য থেকে কুরআন শিক্ষাদানকে ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেছেন। কেউ কেউ ফিকহ শিক্ষা, ইমামতি, আযান এবং ইকামতকেও ব্যতিক্রম ধরেছেন, যেমনটি আপনি মূল পাঠ্যবই ও অন্যান্য উৎস থেকে আমাদের উদ্ধৃতিতে জেনেছেন। এটি আমাদের এই বক্তব্যের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল যে, ফকীহগণ যে ফাতাওয়া দিয়েছেন তা সকল ইবাদতের জন্য সাধারণ নয়; বরং এটি কেবল ঐসব বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট যেখানে প্রয়োজনে এবং জরুরতের কারণ বিদ্যমান। কারণ উসূলে ফিকহের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ হুকুম থেকেই ব্যতিক্রম করা হয়। * যেহেতু ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, আমাদের তিন ইমামের মাযহাব হলো এটি নিঃশর্তভাবে নিষিদ্ধ এবং এর সপক্ষে দলিলসমূহও স্পষ্ট; আর যেহেতু কিছু মাশায়েখ জরুরত বা বিশেষ প্রয়োজনে মূল মাযহাবের পরিপন্থী কিছু বিষয়কে বৈধতা দিয়েছেন, সেহেতু কোনো একজন মুকাল্লিদের জন্য কীভাবে এটি জায়েয হবে যে সে কোনো বিশেষ জরুরত ছাড়াই এই নিয়মকে ঢালাওভাবে প্রয়োগ করবে এবং সামগ্রিকভাবে মাযহাব থেকে বেরিয়ে যাবে? * তদুপরি, কেউ যদি ফকীহদের নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে অন্য কোনো বিষয়কে জরুরতের দোহাই দিয়ে তার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি করে, তবে আমরা তাকে বাধা দিতে পারি, যদিও তাতে সেই কারণ পাওয়া যায়; যতক্ষণ না সে কিয়াস বা গবেষণার যোগ্য হয়। ইবনে নুজাইম তাঁর কোনো কোনো রিসালায় উল্লেখ করেছেন যে, চারশ হিজরীর পর কিয়াসের ধারা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সুতরাং এরপর কারো পক্ষে এক মাসআলার ওপর ভিত্তি করে অন্য মাসআলার কিয়াস করার অবকাশ নেই, তবে মাযহাব থেকে বেরিয়ে যাওয়ার তো প্রশ্নই আসে না। অতএব, একজন মুকাল্লিদের জন্য যা বর্ণিত হয়েছে তা অনুসরণ করাই আবশ্যক। একারণেই আমরা কাউকে দেখিনি যিনি পরবর্তীকালের ফকীহদের ফাতাওয়ার ওপর ভিত্তি করে হজ্জের জন্য ইজারা জায়েয বলেছেন।

--------------------------------------------

(১) ‘আরযাক’ হলো ‘রিযক’-এর বহুবচন। এর অর্থ হলো বিচারক বা অনুরূপ ব্যক্তিদের বায়তুল মাল থেকে যা ভাতা হিসেবে দেওয়া হয়।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬৪)
والا لما اعترض المحقق ابن الهمام على عبارة قاضى خان ولما احتاج العلامة الشرنبلالي إلى ما تمحل به من الجواب عن قاضي خان * بما اعرضنا عنه لعدم رواجه عند ذوى الاذهان (فإن قلت) قد مر في عبارة الإمام العينى عد الحج واللزو من جملة ما يجوز الاستئجار عليه (قلت) اما الحج فقد علمت الكلام فيه واما الغزو فيجوز عند الضرورة قال في سير الكنز وكره الجعل أن وجد فيء والا لا * قال شارحه الإمام الزيلعي المراد به أي بالجعل أن يضرب الإمام الجعل على الناس للذين يخرجون إلى الجهاد لأنَّه يشبه الاجر على الطاعة فحقيقته حرام فيكره ما اشبهه ولان مال بيت المال معد لنوائب المسلمين وإن لم يوجد في بيت المال شيء فلا يكره لأن الحاجة إلى الجهاد ماسة إلى تحمل الضرر الادنى لدفع الأعلى انتهى * على أن ما يأخذه الغازى من بيت المال من الارزاق لا من الاجرة وما يأخذه من الغنيمة ملك له بعد احرازه وقسمته فليس من الاجر في شيء * نعم الجعل شبيه بالاجرة وقد علمت حكمه وليس اجرة حقيقة فنظم العينى الحج والغزو في هذا المسلك غير محرر فتدبره وقد اسمعناك في هذا الفصل قول الذخيرة البرهانية وكذا الاستئجار على الحج والغزو وسائر الطاعات (فإن قلت) لا نسلم أن الحج مما لا ضرورة إلى الاستئجار عليه ممن وجب عليه وعجز عن فعله ولا يكاد يوجد متبرع عنه بذلك (قلت) اما على ظاهر المذهب من وقوع الافعال عن الآمر فليس من قبيل الاستئجار بل هو استنابة وانفاق على النائب كما مر وإذا صح على هذا الوجه فأى ضرورة إلى الاستئجار * واما على ما روى عن محمد رحمه الله تعالى فالامر اظهر لأن الحج يقع عن المأمور وللآمر ثواب الانفاق(1) وبه يسقط الحج عنه (فقد) ظهر صحة ما قلناه بالنقول المعتبرة * والعبارات المحررة * عن كتب المذهب * التي إليها المذهب * وجميع ما نقلناه إن شاء الله تعالى لا يحتمل نقضا * بل يشد بعضه بعضا * وستسمع اصرح من ذلك * مما تنجلى به الاوهام الحوالك * ويرد المنكر قسرا إليه * ويعض بالنواجذ عليه * فاياك بعد هذا اذا رأيت ما لم يحرر من العبارات * او ما خفى من الإشارات * مما قد يخالف بظاهره ما ذكرنا من النقول * عن الأئمة الفحول * الذين إليهم مفزع الفقيه * وبكلامهم مقنع النبيه * أن تطيش بك الاوهام * فإن القول ما قالت حذام * والله تعالى أعلم بالصواب * واليه المرجع والمآب * (المقصد) لهذا الكلام * تحقيق المرام * اعلم أن العبادات أنواع مالية محضة كالزكاة والعشر والكفارة

--------------------------------------------

(1) لأن الانفاق اقيم مقام الحج عند العجز كما اقيم الفداء مقام الصوم في حق الشيخ الفاني كذا في بعض المناسك منه.

অন্যথায় মুহাক্কিক ইবনে আল-হুমাম কাজী খানের বক্তব্যের ওপর আপত্তি করতেন না এবং আল্লামা শুরুনবুলালী কাজী খানের পক্ষ থেকে এমন উত্তর প্রদানের প্রয়োজনীয়তা বোধ করতেন না যা তিনি কষ্টকল্পিতভাবে দিয়েছেন; যা আমরা বর্জন করেছি কারণ তা বুদ্ধিমানদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। (যদি আপনি বলেন) ইমাম আইনী রহ.-এর বক্তব্যে হজ ও যুদ্ধকে (গাযওয়া) ঐসব বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েজ। (আমি বলব) হজের ব্যাপারে আলোচনা তো আপনি জেনেছেন। আর যুদ্ধের ব্যাপারে কথা হলো, প্রয়োজনের সময় তা জায়েজ। ‘সিরুল কানজ’ গ্রন্থে বলা হয়েছে: যদি ‘ফায়’ (রাষ্ট্রীয় সম্পদ) বিদ্যমান থাকে তবে ‘জু’ল’ (বিনিময়) প্রদান করা মাকরূহ, অন্যথায় নয়। এর ব্যাখ্যাকার ইমাম যায়লায়ী রহ. বলেছেন, ‘জু’ল’ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইমাম (শাসক) মুজাহিদদের জন্য জনগণের ওপর কোনো বিনিময় ধার্য করবেন। কারণ এটি ইবাদতের ওপর পারিশ্রমিকের সদৃশ; আর ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ মূলত হারাম, তাই যা তার সদৃশ তাও মাকরূহ। তাছাড়া বায়তুল মালের সম্পদ মুসলমানদের বিপদ-আপদ দূর করার জন্য নির্ধারিত। আর যদি বায়তুল মালে কিছু না থাকে তবে মাকরূহ হবে না। কারণ জিহাদের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হওয়ার কারণে বড় ক্ষতি দূর করতে ছোট ক্ষতি মেনে নেওয়া আবশ্যক। সমাপ্ত। এছাড়াও একজন যোদ্ধা বায়তুল মাল থেকে যে বরাদ্দ গ্রহণ করেন তা পারিশ্রমিক নয় বরং জীবিকা (রিজক)। আর গণিমত থেকে তিনি যা পান তা হস্তগত ও বণ্টনের পর তার মালিকানায় আসে, সুতরাং তা পারিশ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত নয়। হ্যাঁ, ‘জু’ল’ পারিশ্রমিকের সদৃশ এবং এর বিধান আপনি জেনেছেন, কিন্তু এটি প্রকৃত পারিশ্রমিক নয়। সুতরাং হজ ও যুদ্ধকে পারিশ্রমিকের অন্তর্ভুক্ত করে ইমাম আইনীর এই বিন্যাস সুসংহত নয়, বিষয়টি চিন্তা করুন। আমরা এই পরিচ্ছেদে আপনাকে ‘যাখিরা বুরহানিয়া’র বক্তব্য শুনিয়েছি যে, হজ, যুদ্ধ এবং অন্যান্য ইবাদতের ওপর পারিশ্রমিক নির্ধারণ করাও তদ্রূপ। (যদি আপনি বলেন) আমরা এটি স্বীকার করি না যে, যার ওপর হজ ফরজ হয়েছে অথচ তিনি নিজে তা করতে অক্ষম, তার পক্ষ থেকে হজ করার জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া অপ্রয়োজনীয়; কারণ বিনা পারিশ্রমিকে হজ করে দেওয়ার লোক মেলা ভার। (আমি বলব) মাযহাবের প্রকাশ্য বর্ণনা (যাহিরে মাযহাব) অনুযায়ী যেহেতু আমলগুলো নির্দেশদাতার পক্ষ থেকেই সাব্যস্ত হয়, তাই এটি পারিশ্রমিকের পর্যায়ভুক্ত নয়। বরং এটি হলো প্রতিনিধি নিয়োগ এবং প্রতিনিধির খরচ বহন করা, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যদি এই পদ্ধতিতে বিষয়টি শুদ্ধ হয়, তবে পারিশ্রমিক নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? আর ইমাম মুহাম্মদ রহ.-এর বর্ণনা অনুযায়ী বিষয়টি আরও স্পষ্ট। কারণ হজ আদিষ্ট ব্যক্তির (প্রতিনিধি) পক্ষ থেকেই আদায় হয় আর নির্দেশদাতা খরচ করার সওয়াব পান, যার মাধ্যমে তার ওপর থেকে হজের দায়িত্ব বিলুপ্ত হয়।(১) (সুতরাং) মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহ এবং সুসংহত বর্ণনার মাধ্যমে আমাদের বক্তব্য সঠিক প্রমাণিত হলো, যার প্রতি মাযহাবের প্রত্যাবর্তন (নির্ভরতা)। ইনশাআল্লাহ, আমরা যা কিছু বর্ণনা করেছি তা খণ্ডনযোগ্য নয়, বরং একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে। অচিরেই আপনি এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট বক্তব্য শুনতে পাবেন যার দ্বারা সকল অন্ধকার সংশয় দূরীভূত হবে, অস্বীকারকারীকে তা গ্রহণে বাধ্য করবে এবং সে তা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে। এরপর সাবধান! যখন আপনি এমন কোনো অসংহত বক্তব্য বা অস্পষ্ট ইঙ্গিত দেখতে পাবেন যা বাহ্যিকভাবে ফকীহদের আশ্রয়স্থল এবং বুদ্ধিমানদের জন্য সন্তোষজনক বক্তব্য প্রদানকারী শ্রেষ্ঠ ইমামদের উদ্ধৃতি হতে আমাদের বর্ণিত বর্ণনার বিপরীত মনে হয়, তখন যেন আপনার কল্পনা বিভ্রান্ত না হয়। কারণ সিদ্ধান্ত তা-ই যা চূড়ান্তভাবে বলা হয়েছে। আল্লাহ তাআলাই সঠিক জ্ঞান রাখেন এবং তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল। (উদ্দেশ্য) এই আলোচনার উদ্দেশ্য হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা। জেনে রাখুন যে, ইবাদত কয়েক প্রকার; কেবল আর্থিক ইবাদত যেমন: জাকাত, উশর এবং কাফফারা।

--------------------------------------------

(১) কারণ অক্ষমতার সময় ব্যয় করাকে হজের স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে, যেমন অতি বৃদ্ধ ব্যক্তির ক্ষেত্রে ফিদইয়াকে রোযার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। হজের কতিপয় মানাসিক (হজ বিধিমালা) গ্রন্থে এমনই রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬৫)
وبدنية محضة كالصلاة والصيام والاعتكاف وقراءة القرآن والاذكار ومركبة منهما كالحج فإنه مالى من حيث اشتراط الاستطاعة ووجوب الجزاء بارتكاب محظوراته وبدنى من حيث الوقوف والطواف والسعي كذا في شرح الكنز لفخر الدين الزيلعي * وقال الإمام حافظ الدين النسفي في الكنز النيابة تجرى في العبادات المالية عند العجز والقدرة ولم تجر في البدنية بحال وفى المركب منها تجرى عند العجز فقط والشرط العجز الدائم إلى وقت الموت * قال الإمام الزيلعي لأن المقصود في المالية سدخلة المحتاج وذلك يحصل بفعل النائب كما يحصل بفعله ويحصل به تحمل المشقة بإخراج المال كما يحصل بفعل نفسه فيتحقق معنى الابتلا فيستوى فيه الحالتان * ولا تجرى في البدنية بحال من الاحوال لأن المقصود منها اتعاب النفس الامارة بالسوء طلبا لمرضاته تعالى لأنها انتصبت لمعاداته تعالى ففى الوحى (عاد نفسك فإنها انتصبت لمعاداتي) وذلك لا يحصل بفعل النائب اصلا فلا تجرى فيها النيابة لعدم الفائدة * وفى المركب من المالى والبدنى تجرى النيابة عند العجز لحصول المشقة بدفع المال ولا تجرى عند القدرة لعدم اتعاب النفس عملا بالشبهين بالقدر الممكن انتهى (اقول) وحيث علمت مما قدمناه أن النيابة تجرى في الحج دون الاستئجار علمت أن النيابة اسهل من الاستئجار وحيث لم تجر النيابة في العبادات البدنية المحضة علمت أنه لا يجرى فيها الاستئجار من باب أولى وإن الاستئجار عليها محظور الا عند الضرورة فقد اشتهر أن الضرورات تبيح المحظورات وإذا جاز الاستئجار للضرورة فيما وجدت فيه الضرورة من الصور المتقدمة فلا يلزم منه جواز النيابة فيما لا ضرورة فيه ولهذا الطبق الأئمة على أنه لا يصلى أحد عن أحد ولا يصوم أحد عن أحد إذا كان حيا وكذا إذا كان ميتا عندنا فلا يجوز الاستئجار على ذلك أيضًا من طريق أولى * نعم يجوز أن يجعل ثواب عمله لغيره تبرعا بلا استنابة في غير الحج والاستئجار قال في الهداية الأصل في هذا أي في جواز الحج عن الغير أن الإنسان له أن يجعل ثواب عمله لغيره صلاة أو صوما أو صدقة او غيرها * قال الشارح كتلاوة القرآن والاذكار عند أهل السنة والجماعة يعنى به أصحابنا على الإطلاق لما روى أن النبي صلى الله عليه وسلم ضحى بكبشين املحين أحدهما عن نفسه والآخر عن امته ممن اقرّ بوحدانية الله تعالى وشهد له بالبلاغ جعل تضحية إحدى الشاتين لامته أي ثوابها انتهى * وقال شارحها الكمال بن الهمام أن الإمام مالكا والشافعي رحمهما الله تعالى لا يقولان بوصول العبادات البدنية المحضة كالصلاة والتلاوة ويقولان بوصول غيرها كالصدقة والحج وخالف في كل العبادات

এবং নিছক শারীরিক ইবাদত যেমন সালাত, সিয়াম, ইতিকাফ, কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরসমূহ; আর উভয়টির সমন্বয়ে গঠিত ইবাদত যেমন হজ। কারণ সক্ষমতা শর্ত হওয়া এবং নিষিদ্ধ কাজ করার কারণে বিনিময় (দম) ওয়াজিব হওয়ার বিচারে হজ একটি আর্থিক ইবাদত, আর উকুফ, তাওয়াফ ও সায়ীর বিচারে এটি শারীরিক ইবাদত। ফখরুদ্দিন যায়লায়ী প্রণীত 'শারহুল কানয'-এ এভাবেই বর্ণিত হয়েছে।

ইমাম হাফিজুদ্দীন নাসাফী 'কানয' গ্রন্থে বলেন, অক্ষমতা ও সক্ষমতা উভয় অবস্থায় আর্থিক ইবাদতে প্রতিনিধিত্ব চলে। কিন্তু শারীরিক ইবাদতে কোনো অবস্থাতেই তা চলে না। আর যা আর্থিক ও শারীরিক—উভয়ের সমন্বয়ে গঠিত, তাতে কেবল অক্ষমতার সময় প্রতিনিধিত্ব চলে; আর এই অক্ষমতার শর্ত হলো মৃত্যু পর্যন্ত তা স্থায়ী হওয়া।

ইমাম যায়লায়ী বলেন, কেননা আর্থিক ইবাদতের উদ্দেশ্য হলো অভাবগ্রস্তের প্রয়োজন পূরণ করা। আর এটি যেমন দাতার নিজের কাজের মাধ্যমে অর্জিত হয়, প্রতিনিধির কাজের মাধ্যমেও তদ্রূপ অর্জিত হয়। এছাড়া সম্পদ ব্যয়ের মাধ্যমে কষ্ট সহ্য করার বিষয়টি প্রতিনিধির মাধ্যমেও একইভাবে সম্পন্ন হয় যেভাবে নিজের মাধ্যমে হতো। ফলে পরীক্ষার বিষয়টি বাস্তবায়িত হয় এবং উভয় অবস্থা এক্ষেত্রে সমান সাব্যস্ত হয়।

কিন্তু কোনো অবস্থাতেই শারীরিক ইবাদতে প্রতিনিধিত্ব চলে না। কারণ এর উদ্দেশ্য হলো মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে কুমন্ত্রণাদাতা কুপ্রবৃত্তিকে পরিশ্রান্ত করা। কেননা এই প্রবৃত্তি মহান আল্লাহর শত্রুতার জন্য উদ্যত হয়। ওহীতে এসেছে: "তোমার প্রবৃত্তির সাথে শত্রুতা করো, কেননা সে আমার সাথে শত্রুতা করার জন্য উদ্যত হয়েছে।" আর এটি প্রতিনিধির কাজের মাধ্যমে মোটেও অর্জিত হয় না। সুতরাং কোনো উপকারিতা না থাকায় এতে প্রতিনিধিত্ব চলে না।

আর আর্থিক ও শারীরিক ইবাদতের সমন্বয়ে গঠিত বিষয়ে অক্ষমতার সময় প্রতিনিধিত্ব চলে, কারণ সম্পদ ব্যয়ের মাধ্যমে কষ্ট অর্জিত হয়। কিন্তু সক্ষম অবস্থায় নফসকে পরিশ্রান্ত না করার কারণে তা চলে না। এর মাধ্যমে সম্ভবপর মাত্রায় উভয় দিকের সাদৃশ্যের ওপর আমল করা হয়। (সমাপ্ত)

(আমি বলি) আমরা পূর্বে যা উল্লেখ করেছি তা থেকে যখন আপনি জানলেন যে, হজের ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব চলে কিন্তু পারিশ্রমিক দিয়ে ভাড়া করা চলে না, তখন আপনি বুঝতে পারলেন যে পারিশ্রমিক দিয়ে ভাড়া করার তুলনায় প্রতিনিধিত্ব সহজতর। আর যখন নিছক শারীরিক ইবাদতে প্রতিনিধিত্ব চলে না, তখন আপনি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জানলেন যে তাতে পারিশ্রমিক দিয়ে কাউকে নিয়োগ করাও চলবে না। এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এর ওপর বিনিময় গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। আর এটি তো প্রসিদ্ধ যে, "জরুরি প্রয়োজন নিষিদ্ধ বিষয়কে বৈধ করে"।

আর উল্লেখিত ক্ষেত্রসমূহে যেখানে জরুরি প্রয়োজন পাওয়া গেছে সেখানে যদি পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ হয়, তবে তার মানে এই নয় যে, যেখানে জরুরি প্রয়োজন নেই সেখানে প্রতিনিধিত্ব বৈধ হবে। এই কারণেই ইমামগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, কেউ কারো পক্ষ থেকে সালাত আদায় করবে না এবং কেউ কারো পক্ষ থেকে রোজা রাখবে না—যখন সে জীবিত থাকে। অনুরূপভাবে আমাদের নিকট মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও একই বিধান। সুতরাং এর ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করাও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নাজায়েজ।

হ্যাঁ, এটি জায়েজ যে, হজ ও পারিশ্রমিক প্রদান ব্যতিরেকে অন্য ক্ষেত্রে প্রতিনিধিত্ব নিযুক্ত করা ছাড়াই স্বেচ্ছায় নিজের আমলের সওয়াব অন্যকে দান করা। 'হিদায়া' গ্রন্থে বলা হয়েছে, অন্যের পক্ষ থেকে হজ জায়েজ হওয়ার মূল ভিত্তি হলো—মানুষের জন্য তার আমলের সওয়াব অন্যকে দান করা বৈধ, চাই তা সালাত, সিয়াম, সদকা বা অন্য কিছু হোক।

ব্যাখ্যাকার বলেন, যেমন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের নিকট কুরআন তিলাওয়াত ও জিকিরসমূহ। এর দ্বারা সাধারণভাবে আমাদের হানাফী আলেমগণকেই উদ্দেশ্য করা হয়েছে। কেননা বর্ণিত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুটি সাদা-কালো ভেড়া কোরবানি করেছিলেন—একটি নিজের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি তাঁর উম্মতের ঐসব লোকের পক্ষ থেকে যারা আল্লাহর একত্ববাদের স্বীকৃতি দিয়েছে এবং তাঁর রিসালাত পৌঁছে দেওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছে। তিনি একটি ভেড়ার কোরবানিকে তাঁর উম্মতের জন্য সাব্যস্ত করেছেন অর্থাৎ এর সওয়াব। (সমাপ্ত)

হিদায়ার ব্যাখ্যাকার কামাল ইবনুল হুমাম বলেন, ইমাম মালিক ও ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুমাল্লাহ নিছক শারীরিক ইবাদত যেমন সালাত ও তিলাওয়াতের সওয়াব পৌঁছানোর প্রবক্তা নন। তবে তাঁরা অন্যান্য ইবাদত যেমন সদকা ও হজের সওয়াব পৌঁছানোর কথা বলেন। আর তিনি (ইবনুল হুমাম) সমস্ত ইবাদতের ক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬৬)
المعتزلة لقوله تعالى {وَأَنْ لَيْسَ لِلْإِنْسَانِ إِلَّا مَا سَعَى (39)} وسعى غيره ليس سعيه وما قصه الله تعالى من غير انكار يكون شريعة لنا والجواب لأبطال قولهم ولنفى التخصيص بغير البدنية مما يبلغ مبلغ التواتر من الكتاب والسنة وقد اطال في ذلك من التحقيق كما هو دأبه رحمه الله تعالى * وما نقله عن الشافعي هو المشهور عنه كما ذكره الإمام النووى، وذكر العلامة ابن حجر الهيتمي في بعض فتاويه أن المختار الوقف في هذه المسئلة عند الشافعية ويدفعه ما ذكره العلامة ابن الهمام من الآيات والاحاديث فراجعه ان شئت نعم قال شيخ الإسلام القاضي زكريا أن مشهور المذهب محمول على ما إذا قرأ لا بحضرة الميت ولم ينو ثواب قراءته له أو نواه ولم يدع (وقال) في البحر واما قوله عليه الصلاة والسلام لا يصوم أحد عن أحد ولا يصلى أحد عن أحد فهو في حق الخروج عن العهدة لا في حق الثواب فإن من صام او صلى أو تصدق وجعل ثوابه الغيره من الاموات والاحياء جاز ويصل ثوابها إليهم عند أهل السنة والجماعة كذا في البدائع وبهذا علم أنه لا فرق بين أن يكون المجعول له ميتا أو حيا والظاهر أنه لا فرق بين أن ينوى به عند الفعل للغير أو يفعله لنفسه ثم بعد ذلك يجعل ثوابه لغيره لإطلاق كلامهم، ولم ار حكم من أخذ شيأ من الدنيا ليجعل شيأ من عبادته للمعطى وينبغى أن لا يصح ذلك وظاهر إطلاقهم يقتضى أنه لا فرق بين الفرض والنفل فإذا صلى فريضة وجعل ثوابها لغيره فإنه يصح لكن لا يعود الفرض في ذمته لأن عدم الثواب لا يستلزم عدم السقوط عن ذمته ولم اره منقولا انتهى كلام البحر (قلت) نازعه العلامة المقدسي في شرح نظم الكنز فقال(1) واما جعل ثواب فرضه لغيره فمحتاج إلى نقل انتهى (ورأيت) في شرح تحفة الملوك تقييده بالنافلة حيث قال يصح أن يجعل الإنسان ثواب عبادته النافلة لغيره الخ، لكن يؤيد الإطلاق ما في حاشية الشرنبلالي على الدرر عند قول المتن ومن أهل بحج عن ابويه فعين صح حيث قال وتعليل المسئلة بأنه متبرع بجعل ثواب عمله لأحدهما يفيد وقوع الحج عن الفاعل فيسقط به الفرض عنه وإن جعل ثوابه لغيره، قاله في الفتح ومبناه على أن نيته لهما تلغو بسبب أنه مأمور من قبلهما او احدهما فهو معتبر فنقع الافعال عنه البتة وإنما يجعل لهما الثواب انتهى ويفيد ذلك الأحاديث التي رواها الكمال انتهى وسيأتي ما يرد عليه آخر الرسالة (فإن قلت) قول صاحب البحر ولم ار حكم من أخذ شيأ من الدنيا ليجعل ثواب عبادته للمعطى وينبغى أن لا يصح ذلك أن أراد به العبادة

--------------------------------------------

(1) ومن جعل ثواب عمله لغيره جاز في التطوعات والمفروضات وقيل لا يجوز في المفروضات كذا في مجموعة همتي افندى عن جامع الفتاوى منه
মুতাযিলাগণ মহান আল্লাহর বাণী {আর এই যে, মানুষ কেবল তা-ই পায় যার জন্য সে চেষ্টা করে (৩৯)} এর মাধ্যমে দলিল পেশ করেন; আর অন্যের চেষ্টা তার নিজের চেষ্টা নয়। আর আল্লাহ তাআলা কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই যা বর্ণনা করেছেন তা আমাদের জন্য শরিয়ত হিসেবে গণ্য হবে। এর উত্তর হলো—তাদের উক্তি বাতিল করা এবং কিতাব ও সুন্নাহ হতে তওয়াতুর (নিরবচ্ছিন্ন ধারা) পর্যায়ে পৌঁছানো দলিলের ভিত্তিতে 'শারীরিক ইবাদত ব্যতীত অন্য ইবাদত' হওয়ার বিশিষ্টতাকে নাকচ করা। আর রহমাতুল্লাহি তাআলা তাঁর অভ্যাস অনুযায়ী এ বিষয়ে বিস্তারিত তাহকিক (গবেষণা) করেছেন। ইমাম শাফিঈ থেকে তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা-ই তাঁর নিকট প্রসিদ্ধ, যেমনটি ইমাম নববী উল্লেখ করেছেন। আল্লামা ইবনে হাজার হাইতমি তাঁর কোনো এক ফতোয়ায় উল্লেখ করেছেন যে, শাফিঈদের নিকট এ মাসআলায় 'ওয়াকফ' (কোনো সিদ্ধান্তে না আসা) অবলম্বন করাই পছন্দনীয়। আল্লামা ইবনুল হুমাম যে সকল আয়াত ও হাদিস উল্লেখ করেছেন তা একে প্রতিহত করে; সুতরাং আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন। হ্যাঁ, শাইখুল ইসলাম কাজী জাকারিয়া বলেছেন যে, মাযহাবের প্রসিদ্ধ মতটি সেই সুরতে প্রযোজ্য যখন মৃত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তিলাওয়াত করা হয় এবং তার জন্য তিলাওয়াতের সওয়াবের নিয়ত করা না হয় অথবা সওয়াবের নিয়ত করা হলেও দোয়া করা না হয়। 'আল-বাহর' গ্রন্থে বলা হয়েছে: আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী—"কেউ কারো পক্ষ থেকে রোজা রাখবে না এবং কেউ কারো পক্ষ থেকে নামাজ পড়বে না"—এটি জিম্মাদারি থেকে মুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সওয়াবের ক্ষেত্রে নয়। কেননা যে ব্যক্তি রোজা রাখল বা নামাজ পড়ল অথবা সদকা করল এবং এর সওয়াব জীবিত বা মৃত অন্য কাউকে দান করল, তবে তা জায়েজ এবং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের নিকট সেই সওয়াব তাদের কাছে পৌঁছাবে; 'বাদায়ি' গ্রন্থে এরূপই রয়েছে। এর মাধ্যমে জানা গেল যে, সওয়াব যাকে দান করা হচ্ছে সে মৃত হোক বা জীবিত—উভয়ের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আর প্রকাশ্য বিষয় হলো, আমল করার সময় অন্যের জন্য নিয়ত করা অথবা নিজের জন্য আমল করার পর সওয়াব অন্যকে দান করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, কারণ তাদের (ফকিহদের) বক্তব্য ব্যাপক। আর আমি এমন ব্যক্তির হুকুম দেখিনি যে দুনিয়াবি কোনো কিছু গ্রহণ করে তার ইবাদতের সওয়াব দাতা ব্যক্তিকে প্রদান করে; এবং উচিত হলো এটি সহিহ না হওয়া। তাদের ব্যাপক বক্তব্যের দাবি অনুযায়ী ফরজ ও নফলের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। সুতরাং কেউ যখন কোনো ফরজ নামাজ পড়ল এবং তার সওয়াব অন্যকে দান করল, তবে তা সহিহ হবে, কিন্তু সেই ফরজ তার জিম্মাদারি থেকে পুনরায় ফিরে আসবে না; কারণ সওয়াব না থাকা তার জিম্মাদারি থেকে দায়িত্ব রহিত না হওয়াকে আবশ্যক করে না। আর আমি এটি বর্ণিত হতে দেখিনি; বাহর-এর আলোচনা এখানেই শেষ। (আমি বলি) আল্লামা মাকদিসি 'শারহু নাজমিল কানয'-এ তার বিরোধিতা করে বলেছেন(১) আর নিজের ফরজের সওয়াব অন্যকে দান করার বিষয়টি বর্ণনার মুখাপেক্ষী। (সমাপ্ত)। আর আমি 'শারহু তুহফাতিল মুলুক'-এ একে নফলের সাথে সীমাবদ্ধ হতে দেখেছি যেখানে বলা হয়েছে: কোনো ব্যক্তির জন্য তার নফল ইবাদতের সওয়াব অন্যকে দান করা সহিহ হবে... ইত্যাদি। তবে 'আদ-দুরার'-এর উপর শুরুনবুলালি-র হাশিয়ায় মূল পাঠের উক্তি—"যে ব্যক্তি তার পিতামাতার পক্ষ থেকে হজের ইহরাম বাঁধল, তবে তা সহিহ হবে"—এর অধীনে যা আছে তা এই ব্যাপকতাকে সমর্থন করে। সেখানে তিনি বলেছেন: মাসআলাটির কারণ এভাবে দেখানো যে—সে তার আমলের সওয়াব তাদের একজনকে দেওয়ার ক্ষেত্রে স্বেচ্ছাসেবী—এ কথাটি আমলকারীর পক্ষ থেকে হজ সম্পন্ন হওয়াকেই ফায়দা দেয়, ফলে তার সওয়াব অন্যকে দান করলেও তার জিম্মা থেকে ফরজ আদায় হয়ে যাবে। 'আল-ফাতহ' গ্রন্থে এটি বলা হয়েছে এবং এর ভিত্তি হলো এই যে, তাদের উভয়ের জন্য তার নিয়তটি বাতিল হবে এই কারণে যে, সে তাদের উভয়ের বা একজনের পক্ষ থেকে আদিষ্ট; সুতরাং এটি ধর্তব্য হবে এবং আমলগুলো অবশ্যই তার পক্ষ থেকেই সম্পন্ন হবে, কেবল সওয়াবটুকু তাদের জন্য সাব্যস্ত হবে। (সমাপ্ত)। আল্লামা কামাল যে সকল হাদিস বর্ণনা করেছেন তা একথাই প্রমাণ করে। (সমাপ্ত)। আর এর খণ্ডন রিসালার শেষভাগে আসবে। (যদি আপনি বলেন) বাহর-এর লেখকের উক্তি—"আর আমি এমন ব্যক্তির হুকুম দেখিনি যে দুনিয়াবি কোনো কিছু গ্রহণ করে তার ইবাদতের সওয়াব দাতা ব্যক্তিকে প্রদান করে; এবং উচিত হলো এটি সহিহ না হওয়া"—এর দ্বারা যদি তিনি ইবাদত উদ্দেশ্য করে থাকেন...

--------------------------------------------

(১) যে ব্যক্তি তার আমলের সওয়াব অন্যকে দান করল, তা নফল ও ফরজ উভয় ক্ষেত্রেই জায়েজ; আর কেউ কেউ বলেছেন ফরজের ক্ষেত্রে জায়েজ নয়। 'জামেউল ফাতাওয়া' থেকে উদ্ধৃত করে 'হিম্মতি এফেন্দি'র সংকলনে এরূপই রয়েছে।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬৭)
الماضية فظاهر لأنَّه مجرد بيع الثواب والمبيع لابد أن يكون مالا متقوما او منفعة مقصودة من العين تحصل بعد العقد كسكنى الدار مثلا وان أراد به العبادة المستقبلة يفيد انه لا يصح الاستئجار على نحو القراءة المجردة وذلك مخالف لما ذكره في كتاب الوقف حيث ذكر انهم صرحوا في الوصايا بأنه لو اوصى بشيء لمن يقرأ عند قبره فالوصية باطلة واستظهر بحثا من عنده أنه مبنى على قول أبي حنيفة بكراهة القرآءة عند القبر والفتوى على قول محمد وذكر أن تعليل صاحب الاختيار لبطلان الوصية بان اخذ شيء للقراءة لا يجوز لأنَّه كالاجرة مبنى على غير المفتى به من جواز أخذ الاجرة على القراءة فاى العبارتين أصح (قلت) بعد علمك بما قدمناه من أن القول بأخذ الاجرة على الطاعة الذي هو المفتى به عند المتأخرين مقصور على ما فيه ضرورة علمت أن العبارة الأولى هى الصحيحة، المعتمدة الرجيحة، وإن تعليل الاختيار، هو المختار، وهو الموافق للمعقول، ولما قدمناه من صريح النقول، فإنه لا ضرورة إلى أخذ الاجرة على القراءة بخلاف تعليم القرآن، فإن الضرورة داعية إليه خوفا من ضياع القرآن، وقد علمت أن جل المتون واجلها صرحوا بعدم الجواز على الاذان والامامة مع انهما من أعظم شعائر الإسلام، ولم ينظروا إلى ما في ضياعهما من الضرر العام، فما بالك بالاشتراء بآيات الله ثمنا قليلا، فأي ضرر إليه ليكون على جوازه دليلا، مع ما سمعته من النقول عن الامامين الجليلين مالك والشافعى من عدم وصول الثواب بدون اجرة في العبادات البدنية كالقرائة ونحوها فكيف بالاجرة، وفى تقييد أهل المذهب بالتعليم كما سمعته من عباراتهم السابقة مع قطع النظر عن التعليل دلالة واضحة عليه وقد صرحوا بان مفاهيم الكتب حجة، ثم رأيت العلامة الشيخ خير الدين الرملي في حاشيته على البحر رد على صاحب البحر حيث اعترض العبارة الثانية بعين ما ذكرته كما ستسمعه فلله الحمد على آلائه، وتواتر نعمائه، على أن القراءة في نفسها عبادة وكل عبادة لا بد فيها من الإخلاص لله تعالى بلا رياء حتى تكون عبادة يرجى بها الثواب وقد عرفوا الرياء بان يراد بالعبادة غير وجهه تعالى فالقارئ بالاجرة ثوابه ما أراد القراءة لاجله وهو المال قال صلى الله تعالى عليه وسلم (إنما الأعمال بالنيات وإنما لكل امرئ ما نوى فمن كانت هجرته إلى الله ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه) رواه البخاري وغيره وإذا كان لا ثواب له لم تحصل المنفعة المقصودة للمستأجر لأنَّه استأجره لاجل الثواب فلا تصح الإجارة (فإن قلت) اذا لم تجز الإجارة على القرائة المجردة فليكن المدفوع صلة للقارئ إذا كان معينا لا اجرة

অতীত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে এটি সুস্পষ্ট যে, এটি কেবল সাওয়াব বা পুণ্য বিক্রয়ের মতো। অথচ বিক্রিত বস্তু অবশ্যই একটি মূল্যবান সম্পদ হতে হবে অথবা কোনো বস্তু থেকে উদ্ভূত উদ্দেশ্যমূলক কোনো উপকার হতে হবে যা চুক্তির পর অর্জিত হয়, যেমন কোনো ঘরে বসবাস করা। আর যদি এর দ্বারা ভবিষ্যৎ ইবাদত উদ্দেশ্য হয়, তবে তা এই অর্থ প্রকাশ করে যে, নিছক তিলাওয়াতের ওপর মজুরি প্রদান বা ইজারা সহীহ নয়। আর এটি 'কিতাবুল ওয়াকফ'-এ যা উল্লেখ করা হয়েছে তার পরিপন্থী; যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ফকীহগণ অসিয়ত অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, যদি কেউ তার কবরের নিকট তিলাওয়াত করার জন্য কোনো কিছুর অসিয়ত করে, তবে সেই অসিয়ত বাতিল হবে। এবং তিনি স্বীয় গবেষণার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট করেছেন যে, এটি ইমাম আবু হানিফার কবরের নিকট তিলাওয়াত করা মাকরূহ হওয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে বলা হয়েছে, অথচ ফতোয়া হলো ইমাম মুহাম্মাদের মতের ওপর। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, 'আল-ইখতিয়ার' গ্রন্থের লেখকের অসিয়ত বাতিল হওয়ার কারণ হিসেবে তিলাওয়াতের বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করা জায়েজ না হওয়াকে মজুরির মতো গণ্য করা—এমন একটি মতের ওপর ভিত্তি করে যা বর্তমানে ফতোয়া হিসেবে গৃহীত নয়, অর্থাৎ তিলাওয়াতের বিনিময়ে মজুরি গ্রহণ জায়েজ হওয়ার মতটি। তবে কোন উক্তিটি অধিকতর সঠিক?

(আমি বলব) ইতিপূর্বে আমরা যা পেশ করেছি তা জানার পর যে, ইবাদতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের যে মতটি পরবর্তী আলেমদের নিকট ফতোয়া হিসেবে গৃহীত হয়েছে, তা কেবল জরুরি প্রয়োজনে সীমাবদ্ধ; আপনি জানতে পারলেন যে প্রথম উক্তিটিই সঠিক, নির্ভরযোগ্য ও অগ্রগণ্য। আর 'আল-ইখতিয়ার' গ্রন্থের বর্ণিত কারণটিই মনোনীত, যা যুক্তি ও ইতিপূর্বে আমাদের বর্ণিত সুস্পষ্ট দলিলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। কারণ তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের কোনো আবশ্যকতা বা জরুরি প্রয়োজন নেই, যা কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান; কেননা কুরআন বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় সেখানে জরুরি প্রয়োজন দেখা দেয়। আপনি আরও অবগত হয়েছেন যে, অধিকাংশ এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মূল গ্রন্থসমূহ আজান ও ইমামতির বিনিময়ে বিনিময় গ্রহণ নাজায়েজ হওয়ার ব্যাপারে স্পষ্ট বক্তব্য দিয়েছে, যদিও এগুলো ইসলামের মহান নিদর্শনের অন্তর্ভুক্ত। তারা এগুলোর অবলুপ্তিতে ব্যাপক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করেননি। তাহলে আল্লাহর আয়াতের বিনিময়ে নগণ্য মূল্য গ্রহণ করার বিষয়টি কেমন হবে? এর পিছনে এমন কী ক্ষতি বা প্রয়োজন আছে যা এর বৈধতার দলিল হতে পারে? এর সাথে আপনি দুই মহান ইমাম মালিক ও শাফেয়ীর বর্ণনা থেকেও শুনেছেন যে, তিলাওয়াত ও এই জাতীয় শারীরিক ইবাদতসমূহে পারিশ্রমিক ছাড়া অন্যের জন্য করলে সাওয়াব পৌঁছে না, তাহলে পারিশ্রমিক সহকারে করার ক্ষেত্রে সাওয়াব পৌঁছানোর প্রশ্নই আসে না। মাযহাবের ফকীহগণ ইতিপূর্বে বর্ণিত তাদের বক্তব্যগুলোতে এটিকে কেবল কুরআন শিক্ষার সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন, আর কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই এতে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে। তারা আরও স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, কিতাবসমূহের ইঙ্গিত বা মাফহুমও দলিল হিসেবে গণ্য।

এরপর আমি আল্লামা শাইখ খায়রুদ্দিন রামলিকে তাঁর 'আল-বাহর' গ্রন্থের হাশিয়া বা টীকায় দেখেছি যে, তিনি 'আল-বাহর' গ্রন্থের লেখকের প্রতিবাদ করেছেন এবং দ্বিতীয় উক্তিটির ওপর ঠিক সেই আপত্তিই তুলেছেন যা আমি উল্লেখ করেছি, যা আপনি অচিরেই শুনতে পাবেন। সুতরাং আল্লাহর সমস্ত নিয়ামত এবং ক্রমাগত অনুগ্রহের জন্য তাঁরই প্রশংসা। তদুপরি তিলাওয়াত নিজেই একটি ইবাদত, আর প্রতিটি ইবাদতে রিয়া বা লোক-দেখানো মানসিকতা মুক্ত হয়ে আল্লাহর জন্য ইখলাস বা একনিষ্ঠতা থাকা আবশ্যক, যাতে এটি এমন ইবাদত হয় যার মাধ্যমে সাওয়াবের আশা করা যায়। ফকীহগণ রিয়ার সংজ্ঞায় বলেছেন—ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্য কিছু কামনা করা। সুতরাং পারিশ্রমিকের বিনিময়ে তিলাওয়াতকারীর সাওয়াব হবে সেটিই যার জন্য সে তিলাওয়াত করেছে, আর তা হলো অর্থ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, এবং প্রত্যেক ব্যক্তি যা নিয়ত করে তাই পায়। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য হয়, তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্যই গণ্য হয়। আর যার হিজরত দুনিয়া অর্জনের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিবাহের উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সে উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে যার জন্য সে হিজরত করেছে।" এটি ইমাম বুখারি ও অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন। আর যদি তার কোনো সাওয়াবই না হয়, তবে ইজারা প্রদানকারীর কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য বা উপকার হাসিল হলো না, কারণ সে তাকে সাওয়াব অর্জনের জন্যই ভাড়া করেছিল। অতএব এই ইজারা সহীহ হবে না। (যদি আপনি বলেন) যখন নিছক তিলাওয়াতের ওপর ইজারা জায়েজ নেই, তবে প্রদত্ত অর্থ তিলাওয়াতকারীর জন্য হাদিয়া বা দান হিসেবে গণ্য হোক যদি সে নির্দিষ্ট ব্যক্তি হয়, মজুরি হিসেবে নয়।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬৮)
كما صرح به في وصايا الفتاوى الظهيرية حيث قال ولو اوصى بأن يدفع إلى إنسان كذا من ماله ليقرأ على قبره القرآن فهو باطل لكن هذا اذا لم يعين القارئ اما إذا عينه ينبغي أن يجوز على وجه الصلة دون الاجرة انتهى (وقلت) قوله ينبغى أن يجوز يفيد أنه بحث لا أنه من منقول المذهب ولا يخفى عليك عدم ارادة الصلة في عرفنا والالجاز للقارئ ترك القراءة مع أن من يوصى له في زماننا لا يوصى إلا في مقابلة قرائته وذكره وتسبيحه ولو علم بأن القارئ الموصى له لا يفعل ذلك لما اوصى ومن جهل باهل زمانه فهو جاهل، وقد مر في المقدمة في حديث القوس الوعيد الشديد على قبول الهدية مع أنه لم يذكر شرط ولا معناه هناك فما بالك هنا مع انهم قد يشارطون على ذلك ومع هذا لم يسلم هذا البحث لقائله كما نقله العلامة الرملى في حاشية البحر في ضمن اعتراضه السابق، ونصه اقول المفتى به جواز الاخذ استحسانا على تعليم القرآن لا على القراءة المجردة كما صرح به في التاترخانية حيث قال لا معنى لهذه الوصية ولصلة القارئ بقراءته لأن هذا منزلة الاجرة والإجارة في ذلك باطلة وهى بدعة ولم يفعلها أحد من الخلفاء وقد ذكرنا مسئلة قراءة(1) القرآن على استحسان انتهى يعنى للضرورة ولا ضرورة في الاستئجار على القراءة وفى الزيلعى وكثير من الكتب لو لم يفتح لهم باب التعليم بالاجر لذهب القرآن فافتوا بجوازه ورأوه حسنا فتنبه انتهى كلام الرملي رحمه الله تعالى (فهذا) نص صريح بما قلناه، مؤيد لما ادعيناه، وقد ذكر نظير ذلك شيخ مشايخنا العلامة الشيخ مصطفى الرحمتى في حاشيته على شرح التنوير للعلائى رادا بذلك عليه حيث تابع صاحب البحر فقال ان ما اجازه المتأخرون انما اجازوه للضرورة ولا ضرورة في الاستئجار على التلاوة فلا يجوز (ثم) رأيت نحوه في وصايا الولوالجية ونصها ولو زار قبر صديق أو قريب له وقرأ عنده شيأ من القرآن فهو حسن اما الوصية بذلك فلا معنى لها ولا معنى أيضًا لصلة القارئ لأن ذلك يشبه استئجاره على قراءة القرآن وذلك باطل ولم يفعل ذلك أحد من الخلفاء اهـ (ثم) رأيت نحوه أيضًا معزوا إلى المحيط البرهاني (ورأيت) أيضًا النقل ببطلان هذه الوصية وانها بدعة عن الخلاصة والمحيط السرخسى والبزازية (وفى) وصايا خزانة الفتاوى اوصى لقارئ يقرأ القرآن عند قبره بشيء لانسان معلوم أو مجهول الوصية باطلة ولو زار قبر صديقه فقرأ عنده لا بأس به انتهى، فقوله معلوم أو مجهول فيه رد

--------------------------------------------

(1) لعله تعليم القرآن كما يدل عليه ما قبله وما بعده فلتراجع نسخة أخرى منه.
যেমনটি ফাতাওয়া জাহিরিয়ার অসিয়ত অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: যদি কেউ অসিয়ত করে যে তার সম্পদ থেকে কোনো ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হবে যাতে সে তার কবরের পাশে কুরআন পাঠ করে, তবে তা বাতিল। তবে এটি তখনই যখন ক্বারী (পাঠক) নির্দিষ্ট করা হবে না। কিন্তু যদি ক্বারীকে নির্দিষ্ট করা হয়, তবে পারিশ্রমিক হিসেবে নয় বরং উপঢৌকন বা দান হিসেবে তা জায়েজ হওয়া উচিত। (এখানে কথা সমাপ্ত হলো)। (আমি বলছি) তাঁর এই উক্তি "জায়েজ হওয়া উচিত" একথাই নির্দেশ করে যে এটি একটি তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ মাত্র, মাযহাবের কোনো উদ্ধৃত বক্তব্য নয়। আর এটি আপনার কাছে গোপন নয় যে, আমাদের প্রচলিত প্রথায় একে উপঢৌকন হিসেবে গণ্য করা হয় না। আর যদি ক্বারী কুরআন পাঠ ছেড়ে দেয় তবে তাকে অনুমতিও দেওয়া হয় না; অথচ আমাদের যুগে যার অনুকূলে অসিয়ত করা হয়, তা মূলত তার কুরআন পাঠ, জিকির ও তাসবিহ পাঠের বিনিময়েই করা হয়। যদি অসিয়তকারী জানত যে ক্বারী এই কাজগুলো করবে না, তবে সে অসিয়ত করত না। আর যে ব্যক্তি নিজ যুগের মানুষের অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞাত, সে তো মূর্খ। ইতিপূর্বে ভূমিকার আলোচনায় ধনুকের হাদিসের বর্ণনায় হাদিয়া গ্রহণের ব্যাপারে কঠোর সতর্কবাণী অতিক্রান্ত হয়েছে, যদিও সেখানে কোনো শর্ত বা শর্তের মর্ম উল্লেখ ছিল না। তাহলে এখানে অবস্থা কেমন হবে যেখানে তারা এর ওপর স্পষ্ট চুক্তি করে থাকে? তা সত্ত্বেও এই বিশ্লেষণটি এর প্রবক্তার জন্য স্বীকৃত নয়, যেমনটি আল্লামা রামলি ‘আল-বাহর’-এর টীকায় তার পূর্বোক্ত আপত্তির প্রেক্ষিতে উদ্ধৃত করেছেন। তাঁর বক্তব্য নিম্নরূপ: আমি বলি, ‘ইস্তিহসান’ বা উত্তম বিবেচনায় কুরআন শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়েজ হওয়ার ফতোয়া দেওয়া হয়েছে, শুধু কুরআন তিলাওয়াতের ওপর নয়। যেমনটি তাতারখানিয়া কিতাবে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে: এই অসিয়তের কোনো সার্থকতা নেই এবং ক্বারীকে তার তিলাওয়াতের বিনিময়ে অর্থ প্রদানেরও কোনো অর্থ হয় না। কারণ এটি পারিশ্রমিকের স্থলাভিষিক্ত, আর এক্ষেত্রে ইজারা (চুক্তি) বাতিল এবং এটি একটি বিদআত। খুলাফায়ে রাশেদীনের কেউ এমনটি করেননি। আমরা কুরআন পাঠের(১) বিষয়টি ইস্তিহসান হিসেবে উল্লেখ করেছি। (এখানে কথা সমাপ্ত)। অর্থাৎ প্রয়োজনের তাগিদে। অথচ কুরআন তিলাওয়াতের ওপর লোক ভাড়া করার কোনো প্রয়োজন নেই। যাইলায়ি এবং আরও অনেক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, যদি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কুরআন শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত না করা হতো, তবে কুরআন বিলুপ্ত হয়ে যেত। তাই ফকীহগণ এর বৈধতার ফতোয়া দিয়েছেন এবং একে উত্তম মনে করেছেন। অতএব আপনি সতর্ক হোন। আল্লামা রামলি (রাহমাতুল্লাহি তাআলা)-এর বক্তব্য এখানেই শেষ হলো। এটি আমাদের বক্তব্যের স্বপক্ষে একটি স্পষ্ট ভাষ্য এবং আমাদের দাবির জোরালো সমর্থক। আমাদের উস্তাদদের উস্তাদ আল্লামা শাইখ মুস্তফা রহমতি তাঁর আলায়ি-কৃত ‘শারহুত তানভির’-এর টীকায় অনুরূপ উল্লেখ করেছেন এবং সেখানে তিনি ‘আল-বাহর’ গ্রন্থের লেখকের অনুকরণ করার কারণে তার প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন যে: পরবর্তী উলামায়ে কেরাম যা জায়েজ করেছেন তা মূলত প্রয়োজনের তাগিদেই করেছেন। কিন্তু তিলাওয়াতের বিনিময়ে লোক ভাড়া করার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই, তাই এটি জায়েজ নয়। অতঃপর আমি ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়ার অসিয়ত অধ্যায়েও অনুরূপ দেখেছি, যার বক্তব্য হলো: যদি কেউ তার বন্ধু বা আত্মীয়ের কবর জিয়ারত করে এবং সেখানে কুরআনের কিছু অংশ তিলাওয়াত করে তবে তা উত্তম। কিন্তু এ কাজের জন্য অসিয়ত করার কোনো অর্থ নেই। তেমনি ক্বারীকে অর্থ প্রদান করারও কোনো মানে হয় না। কারণ এটি কুরআন পাঠের বিনিময়ে লোক ভাড়া করার সাদৃশ্য রাখে, যা বাতিল। খুলাফায়ে রাশেদীনের কেউ এটি করেননি। এরপর আমি ‘আল-মুহিতুল বুরহানি’-র বরাতেও অনুরূপ বক্তব্য দেখেছি। আরও দেখেছি যে ‘আল-খুলাসা’, ‘আল-মুহিতুস সারাখসি’ এবং ‘আল-বাজজাজিয়া’ কিতাবে এই অসিয়ত বাতিল এবং একে বিদআত বলে উদ্ধৃত করা হয়েছে। ‘খিজানাতুল ফাতাওয়া’-র অসিয়ত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে: কবরের পাশে কুরআন পাঠ করার জন্য পরিচিত বা অপরিচিত কোনো ব্যক্তির অনুকূলে কোনো কিছুর অসিয়ত করা হলে সেই অসিয়ত বাতিল। তবে যদি কেউ নিজ বন্ধুর কবর জিয়ারত করে সেখানে কুরআন পাঠ করে তবে তাতে কোনো অসুবিধা নেই। (এখানে কথা সমাপ্ত)। সুতরাং তাঁর "পরিচিত বা অপরিচিত" কথাটির মধ্যে পূর্বোক্ত মতের খণ্ডন রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সম্ভবত এটি কুরআন শিক্ষা হবে, যেমনটি এর পূর্বাপর বক্তব্য নির্দেশ করছে। সুতরাং এর অন্য কোনো পাণ্ডুলিপি দেখে নেওয়া উচিত।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৬৯)
أيضًا على ما في الظهيرية (وفى) مختصر منتقى الفتاوى والوصية بالاسراف في الكفن باطلة وكذا بدفع شيء لقراءة القرآن الخ، وعزا في القنية البطلان إلى موضعين ثم قال وقيل أن عين أحدا يجوز والا فلا فأفاد ضعفه كما لا يخفى وفى وصايا الفتاوى الخيرية للعلامة الشيخ خير الدين الرملى (سئل) في رجل اشترى بناء فرن مقررا على أرض وقف وعلم بما على الأرض لجهة الوقف بطريق الحكر ثم اوصى في مرض موته اذا مات أن يجمع كل يوم فلان وفلان يقرآن سورة يس وتبارك والإخلاص والمعوذتين ويصليان على النبي صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه ويهديان ثواب ذلك إلى روحه وعين لهما كل يوم قطعة مصرية تؤخذ من اجرة الفرن واذا مات أحدهما يقرر ولده أن كان له اهلية فهل بهذه الوصية يصير الفرن وقفا على القارئين أبدًا وهل هذه الوصية صحيحة أم لا (أجاب) هذه الوصية باطلة ولا يصير الفرن وقفا ولورثة الموصى التصرف في بناء الفرن يجرى على فرائض الله تعالى قال في وصايا البزازية اوصى لقارئ يقرأ القرآن عند قبره بشيء فالوصية باطلة وفى التاترخانية في الفصل 29 من الوصايا إذا اوصى بأن يدفع إلى إنسان كذا من ماله ليقرأ القرآن على قبره فالوصية باطلة لا تجوز وسواء كان القارئ معينا او لا لأنَّه بمنزلة الاجرة ولا يجوز أخذ الاجرة على طاعة الله تعالى وإن كانوا استحسنوا جوازها على تعليم القرآن فذلك للضرورة ولا ضرورة إلى القول بجوازها على القراءة على قبور الموتى فافهم والله تعالى أعلم انتهى ما في الخيرية ملخصا (فانظر) إلى هذه النقول كيف صرحت ببطلان هذه الوصية هنا بناء على بطلان الاستئجار على القراءة اذ لا ضرورة فيها بخلاف التعليم لا بناء على أن القراءة على القبور مكروهة، ويؤيده عبارات المتون السابقة المصرحة ببطلان الاستئجار على كل الطاعات الا ما فيه ضرورة على قول المتأخرين كالتعليم والاذان والامامة وانت خبير بان هذه النقول تضعف تعليل صاحب البحر للفرع المار، وتقوى تعليل صاحب الاختيار، اذ لا فرق على القول بكراهة القراءة على القبر بين كون الموصى له معينا ولا كما لا يخفى على ذوى الابصار، (ومن) اقوى الدلالة على رده أيضًا عبارة الولوالجية وخزانة الفتاوى فإن فيهما التصريح ببطلان هذه الوصية مع التصريح بجواز القراءة عند القبر فكيف يصح جعل بطلان الوصية مبنيا على القول بعدم جواز القراءة على القبر كما زعمه في البحر وإنما هو مبنى على بطلان الاستئجار على القراءة الذى لم يستثنه أحد من المتأخرين فثبت أن العلة في بطلان الوصية المذكورة ما قاله في الاختيار،

এছাড়াও 'জহিরিয়া' এবং 'মুনতাকা আল-ফাতাওয়া'র সংক্ষিপ্তসারে যা রয়েছে তা হলো: কাফনের ক্ষেত্রে অপচয় করার ওসিয়ত বাতিল, একইভাবে কুরআন তেলাওয়াতের জন্য কিছু প্রদানের ওসিয়তও বাতিল ইত্যাদি। 'কুনিয়া' গ্রন্থে এই বাতিলের বিষয়টি দুটি স্থানে উল্লেখ করা হয়েছে, অতঃপর বলা হয়েছে—কেউ কেউ বলেছেন যে, যদি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারণ করা হয় তবে তা জায়েজ, অন্যথায় নয়। তবে এটি যে দুর্বল মত তা স্পষ্ট। আল্লামা শায়খ খাইরুদ্দিন আল-রামলির 'ফাতাওয়া খাইরিয়া'র ওসিয়ত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে: (তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল) জনৈক ব্যক্তি একটি ওয়াকফকৃত ভূমির ওপর নির্মিত তন্দুর (চুলা) ঘর ক্রয় করেছেন এবং ভূমির ওপর ওয়াকফের পাওনা খাজনা (হিকর) সম্পর্কে অবগত ছিলেন। অতঃপর তিনি মৃত্যুশয্যায় ওসিয়ত করেন যে, তিনি মারা গেলে প্রতিদিন অমুক অমুক ব্যক্তি একত্রিত হবে এবং সূরা ইয়াসিন, তাবারক, ইখলাস ও মুআওয়ুইদাতাইন পাঠ করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর দরুদ পাঠ করবে এবং এর সওয়াব তাঁর রুহে পৌঁছে দেবে। তিনি তাদের জন্য প্রতিদিন তন্দুরের ভাড়া থেকে এক দিরহাম (মিশরীয় মুদ্রা) নির্ধারণ করেন। আর যদি তাদের একজন মারা যায় তবে তার যোগ্য সন্তানকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হবে। এখন প্রশ্ন হলো, এই ওসিয়তের মাধ্যমে কি তন্দুরটি সেই পাঠকদের জন্য চিরস্থায়ী ওয়াকফ হয়ে যাবে? আর এই ওসিয়তটি সহিহ কি না? (তিনি উত্তর দিলেন) এই ওসিয়তটি বাতিল এবং এর মাধ্যমে তন্দুরটি ওয়াকফ হবে না। ওসিয়তকারীর ওয়ারিশদের জন্য তন্দুরটি ব্যবহারের অধিকার থাকবে এবং এটি আল্লাহর নির্ধারিত উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী বণ্টিত হবে। 'বাজ্জাজিয়া'র ওসিয়ত অধ্যায়ে বলা হয়েছে: যদি কেউ তার কবরের পাশে কুরআন তেলাওয়াত করার জন্য কোনো পাঠককে কিছু দেওয়ার ওসিয়ত করে, তবে সেই ওসিয়ত বাতিল। 'তাতারখানিয়া'র ওসিয়ত অধ্যায়ের ২৯তম পরিচ্ছেদে রয়েছে: যদি কেউ ওসিয়ত করে যে, তার সম্পদ থেকে কোনো ব্যক্তিকে তার কবরে কুরআন তেলাওয়াতের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ কিছু দেওয়া হবে, তবে সেই ওসিয়ত বাতিল এবং তা জায়েজ নয়। পাঠক নির্ধারিত হোক বা না হোক উভয় ক্ষেত্রেই একই বিধান। কারণ এটি পারিশ্রমিকের সমতুল্য, আর আল্লাহর আনুগত্যমূলক কাজের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ নয়। যদিও ফকীহগণ কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে বিশেষ প্রয়োজনের কারণে জায়েজ বলেছেন, তবে মৃতব্যক্তির কবরে তেলাওয়াতের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক জায়েজ বলার কোনো আবশ্যকতা নেই। সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন। আর আল্লাহ তায়ালাই ভালো জানেন। এটি 'খাইরিয়া' থেকে সংক্ষেপে উদ্ধৃত। (লক্ষ্য করুন) এই উদ্ধৃতিগুলো কীভাবে এখানে ওসিয়ত বাতিলের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে। এটি তেলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের অবৈধতার ভিত্তিতে করা হয়েছে, যেহেতু এতে কোনো আবশ্যকতা নেই—যা কুরআন শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান। এটি এই কারণে নয় যে, কবরের পাশে তেলাওয়াত করা মাকরূহ। পূর্ববর্তী মূল গ্রন্থসমূহের বক্তব্যগুলো একে সমর্থন করে, যেখানে পরবর্তী যুগের আলেমদের মতে—শিক্ষা প্রদান, আযান এবং ইমামতির মতো জরুরি ক্ষেত্রগুলো ব্যতিরেকে সকল ইবাদতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণকে বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আপনি বিজ্ঞ পাঠক হিসেবে অবগত আছেন যে, এই উদ্ধৃতিগুলো পূর্বোক্ত মাসআলায় 'বাহর' (বাহরুর রায়িক) গ্রন্থের লেখকের যুক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং 'ইখতিয়ার' গ্রন্থের লেখকের যুক্তিকে শক্তিশালী করে। কেননা, কবরের পাশে তেলাওয়াত মাকরূহ হওয়ার মতানুসারে ওসিয়তকৃত ব্যক্তি নির্দিষ্ট হোক বা না হোক—তাতে কোনো পার্থক্য নেই, যা প্রজ্ঞাবানদের কাছে অস্পষ্ট নয়। তাঁর মত খণ্ডনের সবচেয়ে শক্তিশালী দলিল হলো 'ওয়ালওয়ালিজিয়া' এবং 'খাজানাতুল ফাতাওয়া'-এর বক্তব্য। কারণ এ দুটি গ্রন্থে কবরের পাশে তেলাওয়াত জায়েজ হওয়ার সুস্পষ্ট বিবৃতির পাশাপাশি এই ওসিয়তটি বাতিল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ওসিয়ত বাতিলের কারণটি কবরের পাশে তেলাওয়াত নাজায়েজ হওয়ার ওপর ভিত্তি করে কীভাবে সঠিক হতে পারে—যেমনটি 'বাহর' গ্রন্থে দাবি করা হয়েছে? বরং এটি তেলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের অবৈধতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যা পরবর্তী যুগের আলেমদের মধ্যে কেউই ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য করেননি। সুতরাং প্রমাণিত হলো যে, উক্ত ওসিয়ত বাতিলের কারণ সেটিই যা 'ইখতিয়ার' গ্রন্থে বলা হয়েছে।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭০)
وبه ظهر أيضًا ضعف ما في الجوهرة من قوله وقال بعضهم يجوز أي الاستئجار على القراءة وهو المختار، وفيه نظر من وجه آخر حيث عبر بالاستئجار فإن الذي فيه النزاع جعله صلة مع الاتفاق على منع الاستئجار فهو مخالف لما نقلناه عن هذه الكتب المؤيدة بما قدمناه عن المتون والشروح التي دونها ارباب الترجيح، والاختيار والتصحيح (فإن قلت) يمكن حل ما نقلته عن هذه الكتب على قول المتقدمين المانعين الاستئجار على التعليم وعلى القراءة المجردة بالاولى (قلت) يرد هذا قول التاترخانية وقد ذكرنا مسئلة قراءة القرآن، على استحسان، فهو صريح بأنه على قول المتأخرين كما لا يخفى على من له أدنى عرفان، على أن تفريعهم على مذهب المتقدمين بعد فتواهم بخلافه يبعد غاية البعد وربما لا يخطر في الاذهان، وسيأتي لهذا أول الخاتمة مزيد بيان (وفى) كتاب الشركة من المنظومة الوهبانية وفى شركة القراء ليست صحيحة … وفي عمل الدلال ما يتصور وجازت على التعليم فرعا على الذي … تخيره الاشياخ وهو المحرر (وقال) الناظم في شرحه اقول وهذان الفرعان مما غفل عنه أكثر الناس ومازال جهال القراء والدلالين يتعاطون ذلك ويفعلونه ولا ينكر عليهم أحد من العلماء بل لو انكر عليهم احد ربما انكر عليه مع ما يفعله جهال هؤلاء القراء من التمطيط والتغيير الذي لا يجوز سماعه ولا تحل المواطأة عليه إلى آخر ما قال وقد نقل قبله الفرعين عن القنية ونصها ولا تجوز شركة الدلالين في عملهم، ثم رمز وقال ولا شركة القراء في القراءة بالزمرة في المجالس والتعازي لانها غير مستحقة عليهم انتهى وفي القاموس الزمرة بالضم الفوج والجماعة في تفرقة جمعه زمر انتهى وما ذكره من التعليل يفيد أن عدم الجواز ليس من جهة الشركة والا لما اجازت على التعليم أيضًا بل من جهة عدم صحة الإجارة فلم تكن القراءة مستحقة عليهم فلم تجزا الشركة ولاسيما مع ما يفعلونه من المنكرات مما مر، ففيه الفرق بين القراءة والتعليم أيضًا زيادة على ما قدمناه وعلى ما ستراه (فإن قلت) له أهل هذا العصر قد اطبقوا على الايصاء بذلك والايصاء بالتهاليل والختمات وظهر في هذه السنة الايصاء بدراهم تدفع لقراءة الصمدية وهى عبارة عن قراءة سورة الإخلاص مائة ألف مرة فمقتضى ما نقلته عن هذه المعتبرات بطلان ذلك كله وعدم النفع به في مذهبك بل وفى مذهب غيرك فإنك ذكرت أن مذهب الإمام أحمد كمذهب أبي حنيفة وأصحابه وان مذهب الإمام مالك والمشهور من مذهب الشافعى عدم وصول العبادات البدنية المحضة كالصلاة والتلاوة والاذكار بل يقولان بوصول غيرها كالصدقة والحج

এর মাধ্যমে 'আল-জাওহারা' গ্রন্থে উল্লিখিত সেই বক্তব্যের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়ে যায়, যেখানে বলা হয়েছে: "কেউ কেউ বলেছেন যে, কিরাআতের (কুরআন তিলাওয়াতের) ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ বৈধ এবং এটিই মনোনীত অভিমত।" তবে এটি অন্য দিক থেকেও আপত্তিকর, কারণ এতে 'পারিশ্রমিক গ্রহণ' (ইস্তি'জার) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। অথচ মতপার্থক্য মূলত একে হাদিয়া বা উপহার হিসেবে গণ্য করার ক্ষেত্রে, যেখানে পারিশ্রমিক গ্রহণের নিষিদ্ধতার ব্যাপারে সকলে একমত। সুতরাং এটি আমাদের পূর্বে উদ্ধৃত ঐ সকল কিতাবের পরিপন্থী, যা অগ্রাধিকার প্রদানকারী ও সংকলনকারী ইমামগণের মূল গ্রন্থ এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থ দ্বারা সমর্থিত। (যদি আপনি বলেন) আপনি এসব কিতাব থেকে যা উদ্ধৃতি দিয়েছেন, তা হয়তো পূর্ববর্তী (মুতাকাদ্দিমীন) উলামাদের মতানুসারে ব্যাখ্যা করা সম্ভব, যাঁরা শিক্ষাদানের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণকে এবং স্বভাবতই কেবল কিরাআতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণকে নিষিদ্ধ মনে করেন। (উত্তরে আমি বলব) ‘আত-তাতারখানিয়া’র বক্তব্য একে খণ্ডন করে। আমরা কুরআন তিলাওয়াতের বিষয়টি ‘ইস্তিহসান’ বা পছন্দের ভিত্তিতে উল্লেখ করেছি। সুতরাং এটি স্পষ্ট যে, বিষয়টি পরবর্তী (মুতাক্খিরীন) উলামাদের মতের ওপর ভিত্তি করে, যা সামান্য জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির কাছেও অস্পষ্ট নয়। তাছাড়া পূর্ববর্তী উলামাদের মাযহাবের পরিপন্থী ফতোয়া প্রদানের পর পুনরায় তাঁদের মতের ভিত্তিতে শাখা-বিধান বের করা অত্যন্ত সুদূরপরাহত বিষয় এবং সম্ভবত তা চিন্তায়ও আসে না। উপসংহারের শুরুতে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত বর্ণনা আসবে। ‘মানজুমাতুল ওয়াহবানিয়্যাহ’ কিতাবের অংশীদারিত্ব (শিরকাত) অধ্যায়ে আছে: "ক্বারিদের মধ্যে অংশীদারিত্ব বৈধ নয় … এবং দালালের কর্মের ক্ষেত্রে তা কল্পনা করা যায়। আর উস্তাদগণের মনোনীত এবং পরিমার্জিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে এটি বৈধ করা হয়েছে।" মূল রচয়িতা তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলেন: "আমি বলছি, এই দুটি শাখা-বিধান এমন যা থেকে অধিকাংশ মানুষ গাফেল বা উদাসীন। অজ্ঞ ক্বারি এবং দালালরা অবিরত এটি চর্চা করে যাচ্ছে এবং উলামাদের কেউ তাদের নিষেধ করেন না। বরং কেউ যদি তাদের বাধা দেয়, তবে উল্টো সেই ব্যক্তিরই প্রতিবাদ করা হয়। অথচ এই অজ্ঞ ক্বারিরা তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে অনর্থক স্বর দীর্ঘ করা (তামতীত) ও পরিবর্তনের মতো যা কিছু করে, তা শোনা জায়েজ নয় এবং তার ওপর সম্মত হওয়াও হালাল নয়"—তাঁর বক্তব্যের শেষ পর্যন্ত। এর আগে তিনি ‘আল-কুনইয়াহ’ থেকে দুটি শাখা-বিধান বর্ণনা করেছেন, যার পাঠ হলো: "দালালদের কাজের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যকার অংশীদারিত্ব জায়েজ নয়।" এরপর তিনি ইঙ্গিত করে বলেছেন: "মজলিস ও জানাজায় দলবদ্ধভাবে তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে ক্বারিদের মধ্যকার অংশীদারিত্বও জায়েজ নয়, কারণ এটি তাদের ওপর ওয়াজিব কোনো দায়িত্ব নয়।" সমাপ্ত। ‘আল-কামুস’ অভিধানে আছে: ‘জুমরাহ’ (প্রথম অক্ষরে পেশসহ) অর্থ হলো ভিন্ন ভিন্ন দল বা গোষ্ঠী; এর বহুবচন হলো ‘জুমার’। তাঁর উল্লিখিত কারণ থেকে বোঝা যায় যে, এই অবৈধতা অংশীদারিত্বের দিক থেকে নয়—অন্যথায় শিক্ষাদানের ক্ষেত্রেও তা বৈধ হতো না—বরং এটি ইজারা বা পারিশ্রমিক চুক্তির অশুদ্ধতার কারণে। সুতরাং কিরাআত তাদের ওপর পাওনা কোনো হক ছিল না, তাই এতে অংশীদারিত্বও বৈধ হয়নি। বিশেষ করে তারা যেসব অপকর্ম করে থাকে যা পূর্বে আলোচিত হয়েছে। এতে তিলাওয়াত এবং শিক্ষাদানের মধ্যে পার্থক্যের বিষয়টিও আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বর্ণনার চেয়েও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। (যদি আপনি বলেন) বর্তমান যুগের মানুষ এ জাতীয় ওসিয়ত (মৃতের সওয়াবের জন্য কিরাআত), তাহলীল এবং খতমের ওসিয়ত করার ওপর একমত হয়েছে। এমনকি এ বছর ‘আস-সামাদিয়্যাহ’ কিরাআতের জন্য দিরহাম প্রদানের ওসিয়তের প্রচলন দেখা গেছে—যা হলো এক লক্ষ বার সূরা ইখলাস পাঠ করা। আপনার উদ্ধৃত নির্ভরযোগ্য কিতাবগুলোর দাবি অনুযায়ী, আপনার মাযহাবে এবং অন্যান্য মাযহাবেও এসবই বাতিল এবং এর কোনো ফায়দা নেই। কারণ আপনি উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আহমদের মাযহাব ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের মাযহাবের মতো। আর ইমাম মালিক ও ইমাম শাফিঈর প্রসিদ্ধ মাযহাব হলো—নামাজ, তিলাওয়াত ও জিকিরের মতো বিশুদ্ধ শারীরিক ইবাদতসমূহের সওয়াব পৌঁছে না; বরং তাঁরা সাদাকা ও হজের মতো অন্যান্য ইবাদতের সওয়াব পৌঁছার কথা বলেন।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭১)
وذكرت أيضًا أن الناس اليوم لا يدفعون المال إلا في مقابلة ذلك العمل وعلى ظن وصول ثوابه إليهم لا على أنه تبرع وصلة لذلك العامل سواء عمل أو لم يعمل وقد صرح أئمتنا وغيرهم بان القارئ للدنيا لا ثواب له والآخذ والمعطى آثمان، وقال الخطيب الشربينى وقد اختار الغزالي فيما إذا شرك في العبادة غيرها من أمر دنيوى اعتبار الباعث على العمل فإن كان القصد الدنيوى هو الاغلب لم يكن فيه اجر وان كان القصد الديني اغلب فله بقدره وإن تساويا تساقطا واختار ابن عبد السلام أنه لا اجر فيه مطلقا انتهى وكلام الغزالى هو الظاهر انتهى (وهذا) إذا شرك فكيف إذا أخلص الأمر الدنيوى كمن اتخذ القرآن والذكر دكانه يتعيش منها ولولا الدراهم التى تدفع له بمقابلة ذلك لم يتعب نفسه في ذلك ولم يسهر له جفنا ولترك ذلك بالكلية واتخذ له حرفة غيره يتعيش منها فاذن لا اجر له سوى ما نواه، كما نطق به الحديث الصحيح كما قدمناه، وإذا كان لا ثواب له في قراءته وذكره فأى شيء يهديه إلى روح الذين لم يدفعوا له هذا المال إلا في مقابلة ثواب هذه القراءة والذكر ولو علموا أنه لا ثواب له ولا لهم لم يدفعوا له فلسا واحدا وإذا لم تحصل لهم تلك المنفعة أو بطلت الإجارة والوصية فأى وجد تحصل القربة ويأخذ المدفوع إليه ذلك في مذهب من المذاهب (مع) أن أهل عصرنا يعدون ذلك من أعظم القرب، ويقدمونه على ما قد وجب فكثير منهم لم يخرج عن زكاة ماله من دينار ولا درهم، ولم يحج مع القدرة إلى بيت الله المحرم، مع ما في ذمته من كفارات، واضاح ومنذورات، وما عليه من مظالم العباد والتبعات، وتراه يهتم بهذه الوصايا المذكورة، ولا يلقى بالا إلى هذه المهمات المزبورة، ولا يوصى بدرهم لمحاويج قرابته، ولا لفقراء جيرانه واهل محلته، مع أن الصدقة على غيرهم مع وجودهم غير محمودة، بل صرحت صحاح الأحاديث بانها مردودة، ولا يوصى بعتق رقبة تعتق بها رقبته من النار، أو بناء مسجد او سبيل أو عمارة طريق أو رفع منار، أو بأسعاف فقيره او فك أسير، أو تجهيز غاز أو شراء مصحف أو تخليص غارم، او نحو ذلك مما اجمعوا على طلبه ووصول ثوابه الدائم، (قلت) لا يستهجن ذلك على هذا الزمن، الذى هو زمن الفتن والمحن * وظهور الفسوق والخيانة، وقلة الامانة والديانة، فقد صار فيه المعروف منكرا والمنكر معروفا، وقل أن ترى أحدا إلا وقلبه عن قبول الحق مصروفا، نسأل الله تعالى فيه الثبات على الدين، والعصمة عن الزيغ حتى يأتينا اليقين، فإن ما ذكرته قليل في جانب قبائحه، وفظيع فضائحه، ولعل سبب هذه القضية،
আমি আরও উল্লেখ করেছি যে, বর্তমান যুগের মানুষ সেই কাজের বিনিময়ে এবং তাদের কাছে এর সওয়াব পৌঁছাবে এই ধারণার ভিত্তিতেই অর্থ প্রদান করে; তারা সেই আমলকারীকে দান বা সৌজন্য হিসেবে তা দেয় না, সে কাজ করুক বা না করুক। আমাদের ইমামগণ ও অন্যান্যরা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, দুনিয়াবি স্বার্থে পাঠকারীর কোনো সওয়াব নেই এবং গ্রহণকারী ও প্রদানকারী উভয়েই গুনাহগার। খতিব আশ-শিরবিনী বলেছেন, ইমাম আল-গাজ্জালি ইবাদতের সাথে দুনিয়াবি অন্য কোনো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে আমলের পেছনের মূল প্রেরণা বা উদ্দেশ্যকে বিবেচনা করেছেন। যদি দুনিয়াবি উদ্দেশ্য প্রবল হয় তবে তাতে কোনো সওয়াব নেই। আর যদি দ্বীনি উদ্দেশ্য প্রবল হয় তবে তার সওয়াব সেই পরিমাণ অনুযায়ী হবে। আর যদি উভয়টি সমান হয় তবে একটি অন্যটিকে বাতিল করে দেবে। ইবন আব্দুস সালাম মত দিয়েছেন যে, এতে কোনোভাবেই সওয়াব নেই—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। আল-গাজ্জালির বক্তব্যই এখানে প্রকাশ্য—উদ্ধৃতি সমাপ্ত। (আর এটি) যদি মিশ্রিত উদ্দেশ্যের ক্ষেত্রে হয়, তবে পুরোপুরি দুনিয়াবি উদ্দেশ্যের অবস্থা কী হবে? যেমন যে ব্যক্তি কুরআন ও জিকিরকে তার জীবিকা অর্জনের দোকানে পরিণত করে। সেই কাজের বিনিময়ে তাকে যে দিরহাম দেওয়া হয় তা যদি না থাকত, তবে সে এ কাজে নিজেকে ক্লান্ত করত না এবং এর জন্য চোখের পাতা নির্ঘুম রাখত না। সে একে সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করত এবং জীবিকা অর্জনের জন্য অন্য কোনো পেশা গ্রহণ করত। অতএব, সে যা নিয়ত করেছে তা ছাড়া তার জন্য কোনো সওয়াব নেই, যেমনটি সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যা আমি আগে উল্লেখ করেছি। আর যখন তার তিলাওয়াত ও জিকিরে কোনো সওয়াবই নেই, তবে সে সেই ব্যক্তিদের রুহের প্রতি কী উপহার পাঠাবে যারা কেবল এই তিলাওয়াত ও জিকিরের সওয়াবের বিনিময়েই তাকে অর্থ প্রদান করেছে? তারা যদি জানত যে এতে তার বা তাদের কারো কোনো সওয়াব নেই, তবে তারা তাকে একটি পয়সাও দিত না। আর যখন তারা সেই উপকার পেল না অথবা পারিশ্রমিকের চুক্তি ও ওসিয়ত বাতিল হয়ে গেল, তবে কোন পদ্ধতিতে এটি আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের কাজ হিসেবে গণ্য হবে এবং কোন মাযহাব অনুযায়ী গ্রহণকারী ব্যক্তি এই অর্থ গ্রহণ করবে? (অথচ) আমাদের যুগের মানুষেরা একে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেক আমল মনে করে এবং যা ওয়াজিব তার ওপর একে প্রাধান্য দেয়। তাদের অনেকে নিজের সম্পদের এক দিনার বা দিরহামও জাকাত প্রদান করে না, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর পবিত্র ঘরে হজ পালন করে না; অথচ তাদের ওপর কাফফারা, কোরবানি ও মানত বাকি রয়েছে এবং মানুষের হক নষ্ট করা ও তার দায়ভার তাদের ওপর ন্যস্ত। আপনি দেখবেন সে উল্লেখিত এই ওসিয়তগুলোর ব্যাপারে খুব গুরুত্ব দেয়, কিন্তু পূর্বে বর্ণিত এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ওয়াজিব বিষয়গুলোর প্রতি কোনো কর্ণপাতই করে না। সে তার অভাবী আত্মীয়স্বজন, দরিদ্র প্রতিবেশী ও এলাকার লোকদের জন্য এক দিরহামের ওসিয়তও করে না; অথচ তাদের উপস্থিতিতে অন্যদের সদকা দেওয়া প্রশংসনীয় নয়, বরং সহিহ হাদিসসমূহে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে তা প্রত্যাখ্যাত। সে এমন কোনো দাস মুক্ত করার ওসিয়ত করে না যার মাধ্যমে তার নিজের গর্দান জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে, কিংবা মসজিদ নির্মাণ, সাবিল (পানির ব্যবস্থা), রাস্তা সংস্কার, মিনার স্থাপন, দরিদ্রকে সাহায্য করা, বন্দীকে মুক্ত করা, যোদ্ধাকে সরঞ্জাম দেওয়া, কুরআন শরিফ ক্রয় করা অথবা ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত করা—অথবা এই জাতীয় যা কিছু রয়েছে এবং যার চিরস্থায়ী সওয়াব পৌঁছানোর ব্যাপারে উলামায়ে কেরাম একমত পোষণ করেছেন, তার কোনো ওসিয়ত সে করে না। (আমি বলি) বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে এটি আশ্চর্যের বিষয় নয়, যা ফিতনা ও পরীক্ষার যুগ; পাপাচার ও খিয়ানত প্রকাশের যুগ; এবং আমানতদারি ও দ্বীনদারির স্বল্পতার যুগ। ফলে এতে নেক কাজকে মন্দ এবং মন্দ কাজকে নেক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। খুব কম মানুষই এমন দেখা যায় যার অন্তর সত্য গ্রহণ করা থেকে বিমুখ নয়। আমরা আল্লাহর কাছে এই অবস্থায় দ্বীনের ওপর অবিচলতা এবং মৃত্যু আসা পর্যন্ত বিচ্যুতি থেকে সুরক্ষা প্রার্থনা করছি। কেননা আমি যা উল্লেখ করেছি তা এর কদর্যতা ও ভয়াবহ কেলেঙ্কারির তুলনায় অতি সামান্য। সম্ভবত এই পরিস্থিতির কারণ হলো...
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭২)
وعموم هذه البلية، كون معظم ما لنا او كله، مجموعا من غير طريق حله، (وفى) هذه الوصايا زيادة على ما ذكرته من الشناعات، اعتقاد المنكر من أعظم القربات، وكثيرا ما يكون الحامل عليها بعض الورثة والاقارب، مع ما يترتب عليها من المثالب، من أخذ اموال اليتامى القاصرين، وفقراء الورثة المحتاجين، فإن هذه الوصية حيث كانت باطلة، ونحورها من زينة الصحة عاطلة، يكون مرجعها إلى التركة، وحقوق الورثة فيها مشتركة، ومع ما يترتب عليها كثيرا من الجلوس في بيوت الايتام، واستعمال اوعيتهم وفرشهم والأكل والشراب الحرام، مع قطع النظر عما يكون كثيرا في حالة الذكر، المطلوب فيه جمع الفكر، مما يسمونه بالسماع والكوشت والحربية، ونحو ذلك مما يراعون فيه الأعمال المويسيقية، المشتمل على التلحين والتمطيط والرقص والاضطراب، والاجتماع بحسان المرد والغناء المحرم المهيج لشهوات الشباب، فإن ذلك قد نص أئمتنا الثقات، على أنه من المحرمات، وكتبنا(1) مشحونة بذلك، فليراجعها مريد التيقن بما هنالك، فقد اقاموا الطامة الكبري على فاعليها، وصرحوا بكفر مستحلبها، (ولا كلام) لنا مع الصدق من ساداتنا الصوفية، المبرئين عن كل خصلة ردية، (فقد) سئل امام الطائفتين سيدنا الجنيد(2) ان اقواما يتواجدون ويتمايلون، فقال دعوهم مع الله

--------------------------------------------

(1) وممن ذكر بعض ذلك الإمام جاز الله الزمخشرى في الكشاف في تفسير قوله تعالى {قُلْ إِنْ كُنْتُمْ تُحِبُّونَ اللَّهَ فَاتَّبِعُونِي} منه.

(2) وبمثل ما ذكره الإمام الجنيد أجاب العلامة النحرير ابن كمال باشا لما استفتى عن ذلك حيث قال "شعر"

ما في التواجد ان حققت من حرج … ولا التمايل أن اخلصت من بأس

فقمت تسعى على رجل وحق لمن … دعاه مولاه أن يسعى على الراس

الرخصة فيما ذكر من الاوضاع، عند الذكر والسماع، للعارفين الصارفين اوقاتهم إلى احسن الأعمال، السالكين المالكين لضبط أنفسهم عن قبائح الاحوال، فهم لا يستمعون الا من الاله، ولا يشتاقون الاله، ان ذكروه ناحوا، وإن شكروه باحوا، وإن وجدوه صاحوا، وإن شهدوه استراحوا، وإن سرحوا في حضرات قربه ساحوا، إذا غلب عليهم الوجد بغلباته، وشربوا من موارد اراداته، فهم من طرقته طوارق الهيبة فخر وذاب، ومنهم من برقت له بوارق اللطف فتحرك وطاب، ومنهم من طلع عليهم الحب، من مطالع القرب، فسكر وغاب، هذا ما عن لي في الجواب، والله أعلم بالصواب، شعر، (3)
এই মুসিবতের ব্যাপকতা হলো এই যে, আমাদের অধিকাংশ সম্পদ বা তার পুরোটাই অবৈধ পন্থায় অর্জিত। (আর) এই ওসিয়তগুলোর মধ্যে আমি যে সকল জঘন্য বিষয়ের কথা উল্লেখ করেছি তার অতিরিক্ত আরও যা রয়েছে তা হলো—কোনো গর্হিত কাজকে মহান নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে বিশ্বাস করা। আর প্রায়শই উত্তরাধিকারী ও আত্মীয়-স্বজনদের কেউ কেউ এর পেছনের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে, যার ফলে অনেক মন্দ ফলাফল প্রকাশ পায়; যেমন—অপ্রাপ্তবয়স্ক এতিমদের এবং অভাবী দরিদ্র উত্তরাধিকারীদের সম্পদ হরণ করা। কারণ এই ওসিয়ত যেহেতু বাতিল এবং এটি বৈধতার অলঙ্কার থেকে মুক্ত, তাই এর উৎস হবে মূল উত্তরাধিকার (তহবিল), যাতে সকল উত্তরাধিকারীর অধিকার সমানভাবে সম্পৃক্ত। এর সাথে সাথে আরও যা ঘটে থাকে তা হলো—এতিমদের ঘরে অবস্থান করা, তাদের আসবাবপত্র ও বিছানা ব্যবহার করা এবং হারাম পানাহার করা। যিকিরের অবস্থায় সচরাচর যা ঘটে থাকে তা বাদ দিলেও—যাকে তারা সামা, কুশত ও হারবিয়্যাহ (রণসঙ্গীতের মতো যিকির) এবং এই জাতীয় বলে থাকে, যাতে তারা সংগীতের রীতিনীতি অনুসরণ করে, যা সুর প্রদান, স্বর টেনে লম্বা করা, নৃত্য ও অস্থির অঙ্গভঙ্গির ওপর নির্ভরশীল; আর দাড়িহীন সুন্দর কিশোরদের সমাগম এবং যুবকদের কামভাব জাগিয়ে তোলা হারাম গান তো আছেই। কেননা আমাদের নির্ভরযোগ্য ইমামগণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে, এগুলো হারামের অন্তর্ভুক্ত। আর আমাদের কিতাবসমূহ(১) এ সংক্রান্ত বর্ণনায় ভরপুর; সুতরাং যে ব্যক্তি এ বিষয়ে সুনিশ্চিত হতে চায় সে যেন সেগুলো দেখে নেয়। তারা এই কাজ সম্পাদনকারীদের ওপর কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এবং যারা এগুলোকে হালাল মনে করে তাদের কুফরির কথা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। (আর আমাদের কোনো বক্তব্য নেই) আমাদের সত্যবাদী সূফী মহানুভবদের ব্যাপারে, যারা প্রতিটি মন্দ স্বভাব থেকে পবিত্র। (কেননা) উভয় দলের ইমাম আমাদের সাইয়্যেদ জুনাইদ(২)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, একদল লোক (যিকিরের সময়) ভাবাবেগে আপ্লুত হয় এবং দুলতে থাকে; তিনি বললেন, তাদেরকে আল্লাহর সাথে (তাদের অবস্থায়) ছেড়ে দাও।

--------------------------------------------

(১) যারা এর কিছু অংশ উল্লেখ করেছেন তাদের মধ্যে ইমাম যামাখশারী অন্যতম—আল্লাহ তাঁকে প্রতিদান দিন—তাঁর তাফসীরগ্রন্থ 'কাশশাফ'-এ আল্লাহর এই বাণীর ব্যাখ্যায়: "বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো তবে আমার অনুসরণ করো"।

(২) ইমাম জুনাইদ যা উল্লেখ করেছেন, আল্লামা ইবনে কামাল পাশাও তদ্রূপ উত্তর দিয়েছিলেন যখন তাঁকে এ বিষয়ে ফতোয়া জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তখন তিনি বলেন "কবিতা":

যদি তুমি প্রকৃত অবস্থা উপলব্ধি করো তবে ভাবালুতায় কোনো সমস্যা নেই … আর যদি তুমি একনিষ্ঠ হও তবে দুললেও কোনো ক্ষতি নেই

তুমি তো পায়ের ওপর ভর করে চলতে দাঁড়িয়েছ, অথচ যাকে … তার মনিব ডেকেছেন তার জন্য তো মাথার ওপর ভর করে চলাও সংগত

যিকির ও সামার মজলিসে উল্লেখিত অবস্থাগুলোর অনুমোদন ঐ সকল আরেফদের জন্য যারা তাদের সময়কে সর্বোত্তম কাজে ব্যয় করেন এবং যারা নিজেদের নফসকে কদর্য অবস্থা থেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম। তারা আল্লাহ ছাড়া আর কারো কথা শোনেন না, এবং আল্লাহ ছাড়া কারো জন্য লালায়িত হন না। যদি তারা তাঁকে স্মরণ করেন তবে বিলাপ করেন, যদি তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তবে তা প্রকাশ করে দেন, যদি তারা তাঁকে খুঁজে পান তবে চিৎকার করে ওঠেন, আর যদি তারা তাঁর সান্নিধ্য অনুভব করেন তবে প্রশান্তি পান। তারা যখন তাঁর নৈকট্যের আঙ্গিনায় বিচরণ করেন তখন তারা তাতে নিমগ্ন হয়ে যান। যখন তাদের ওপর ভাবাবেগ প্রবল হয় এবং তারা তাঁর ইচ্ছার ঝর্ণাধারা থেকে পান করেন, তখন তাদের কেউ গাম্ভীর্যের প্রভাবে লুটিয়ে পড়েন ও বিগলিত হন, আবার কেউ তাঁর অনুগ্রহের আভায় স্পন্দিত ও প্রফুল্ল হন। আবার কারো ওপর সান্নিধ্যের উদয়াচল থেকে প্রেম উদিত হয়, ফলে সে মাতোয়ারা ও বিভোর হয়ে যায়। উত্তরের ক্ষেত্রে এটাই আমার কাছে প্রতিভাত হয়েছে, আর আল্লাহই সঠিক বিষয়টি সবচেয়ে ভালো জানেন। কবিতা, (৩)
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭৩)
تعالى يفرحون، فإنهم قوم قطعت الطريق اكبادهم، ومزق النصب فؤادهم، وضاقوا ذرعا فلا حرج عليهم، إذا تنفسوا مداواة لحالهم، ولو ذقت مذاقهم عذرتهم في صياحهم، وشق ثيابهم، اهـ وايضا فإن سماعهم ينتج المعارف الالهية، والحقائق الربانية، ولا يكون إلا بوصف الذات العلية، والمواعظ الحكمية، والمدايح النبوية، بخلاف سماع غيرهم فإنه يظهر منهم الشهوات الخفية، والافعال الغير المرضية، فما هو الا من الاغراض النفسانية، والنزغات الشيطانية ولا كلام لنا أيضًا مع من اقتدى بهم، وذاق من مشربهم، ووجد من نفسه الشوق والهيام، في ذات الملك العلام، بل كلامنا مع هؤلاء العوام، الفسقة اللئام، الذين اتخذوا مجالس الذكر شبكة لصيد الدنيا الدنية، وقضاء لشهواتهم الشنيعة الردية، من كلامهم واجتماعهم مع المردان، والتلذذ بالغناء وتنزيله على اوصافهم الحسان، وغير ذلك مما هو مشاهد، ولسنا نقصد منهم تعيين أحد، فالله مطلع على أحوالهم، ويجازيهم على افعالهم، وربما احضروا في بعض الاوقات، ما اجمع على تحريمه من الآلات، وكثيرا ما يدلس بعض فسقة القرا، فيسقط من بعض الاجزاء شيأ سرا، وربما سرقوا الخبز والطعام، زيادة على ما يتناولونه من الحطام الحرام، ثم يهبون ما تحصل منهم في تلك الاوقات، إلى روح من كان سببا في اجتماعهم على تلك المنكرات، والجزاء من جنس العمل، فانظر ما اقبح هذا الخلل، ولا حول ولا قوة إلا بالله العلى العظيم، وطالما قامت حرمة هذه الوصايا في فكرى، وجالت في صدري وسرى، ولم اقدر على اظهارها، واطفاء نارها، لفقد المساعد، وقصر الساعد، ولأن حب الشيء يعمى ويصم، وربما جل على الطعن والشتم والذم، فكنت اقدم رجلا واؤخر أخرى، واسأل الله تعالى التوفيق للوجه الاحرى، حتى رزقنى الله تعالى فرصة من الزمان، لتحرير هذه الرسالة بالدليل القاطع والبرهان، وقريبا من تحريرها، وتنميقها وتحبيرها، طالعت مع بعض الاخوان كتاب الطريقة المحمدية، والسيرة الاحمدية، للإمام الفقيه، العابد الورع النبيه، الشيخ محمد البركوى نفعنا الله تعالى به فرأيته ذكر في آخر كتابه ما كشف عنى الغمة، وحرك منى الهمة، حيث قل ما نصه الفصل الثالث ممم(3)

--------------------------------------------

(3) ومن يك وجده وجدا صحيحا … فلم يحتج إلى قول المغنى

له من ذاته طرب قديم … وسكر دائم من غير دن

اهـ جوابه بعباراته السنية، وقد أخذ أكثر ما ذكره من نثر ونظم من الفتوحات المكية، كذا في نور العين، في إصلاح جامع الفصولين، منه
মহান আল্লাহ তাআলার মাধ্যমে তারা আনন্দিত হন; কারণ তারা এমন এক কওম যাদের কলিজা পথের দীর্ঘতায় ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, ক্লান্তি যাদের অন্তরকে বিদীর্ণ করেছে এবং তারা সংকীর্ণতায় পর্যবসিত হয়েছে। সুতরাং তারা যদি নিজেদের অবস্থা উপশমের জন্য দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে, তবে তাদের ওপর কোনো দোষ নেই। আপনি যদি তাদের স্বাদের কিঞ্চিৎ আস্বাদন করতেন, তবে তাদের উচ্চস্বরে ক্রন্দন এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলার বিষয়ে আপনি তাদের ওজর কবুল করতেন। সমাপ্ত। অধিকন্তু তাদের এই আধ্যাত্মিক শ্রবণ (সামা) ঐশী জ্ঞান এবং রব্বানি হাকিকত বা বাস্তবতা উৎপন্ন করে। এটি কেবল সুউচ্চ সত্তার গুণগান, হিকমতপূর্ণ উপদেশ এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রশংসার মাধ্যমেই অর্জিত হয়। এটি অন্যদের শ্রবণের মতো নয়, যার মাধ্যমে তাদের গোপন কামনা-বাসনা এবং অপছন্দনীয় কার্যাবলি প্রকাশ পায়; যা মূলত নফসের উদ্দেশ্য এবং শয়তানি কুমন্ত্রণা ছাড়া আর কিছুই নয়। আর যারা তাদের অনুসরণ করে, তাদের পানপাত্র থেকে স্বাদ গ্রহণ করে এবং নিজের অন্তরে রাজাধিরাজ সর্বজ্ঞ আল্লাহর সত্তার প্রতি অনুরাগ ও ব্যাকুলতা অনুভব করে, তাদের সাথেও আমাদের কোনো বিরোধ নেই। বরং আমাদের বক্তব্য হলো সেই সব পাপাচারী ইতর সাধারণ মানুষের বিষয়ে, যারা যিকিরের মজলিসগুলোকে এই নগণ্য দুনিয়া শিকারের জালে পরিণত করেছে এবং তাদের জঘন্য ও নিকৃষ্ট কামনা-বাসনা চরিতার্থ করার মাধ্যম বানিয়েছে। যেমন—তাদের কথাবার্তা, দাড়িহীন কিশোরদের সাথে মেলামেশা, গানের মাধ্যমে আনন্দ লাভ এবং সেই সুরকে কিশোরদের রূপ-লাবণ্যের ওপর প্রয়োগ করা, যা আজ প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। আমরা তাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট কাউকে উদ্দেশ্য করছি না; আল্লাহ তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্যক অবগত এবং তিনি তাদের কর্মের প্রতিফল দেবেন। কখনো কখনো তারা এমন সব বাদ্যযন্ত্র উপস্থিত করে যার নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে সকলে একমত। প্রায়শই কিছু পাপাচারী ক্বারী প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং গোপনে কিতাবের কিছু অংশ বাদ দিয়ে দেয়। কখনো কখনো তারা হারাম উচ্ছিষ্ট গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত রুটি ও খাবার চুরি করে। অতঃপর তারা এই সব গর্হিত কাজে লিপ্ত হওয়ার পর, সেই সময়ে যা কিছু অর্জিত হয়েছে তা এমন ব্যক্তির রূহে উৎসর্গ করে দেয় যে তাদের এই সব অপকর্মের জন্য সমবেত হওয়ার কারণ ছিল। অথচ কর্ম অনুযায়ীই প্রতিফল হয়ে থাকে। সুতরাং দেখুন, এই বিচ্যুতি কতই না জঘন্য! সুউচ্চ ও মহান আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কোনো শক্তি ও সামর্থ্য নেই। দীর্ঘকাল ধরে এই উপদেশগুলোর গুরুত্ব আমার চিন্তায় ছিল এবং আমার অন্তরে ও সত্তায় বিচরণ করছিল। কিন্তু কোনো সাহায্যকারী না থাকায় এবং নিজের সামর্থ্যের স্বল্পতার কারণে আমি তা প্রকাশ করতে এবং এর আগুন নেভাতে সক্ষম হইনি। তা ছাড়া কোনো জিনিসের প্রতি ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ ও বধির করে দেয়; সম্ভবত এটি নিন্দা, গালিগালাজ ও ভর্ৎসনার কারণ হতো। তাই আমি দ্বিধাগ্রস্ত ছিলাম। আমি মহান আল্লাহর নিকট সঠিক পথের তাওফিক প্রার্থনা করছিলাম, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা আমাকে অকাট্য দলিল ও প্রমাণের ভিত্তিতে এই রিসালাটি লিপিবদ্ধ করার সুযোগ দান করলেন। এটি লিপিবদ্ধ ও সুবিন্যস্ত করার কাছাকাছি সময়ে আমি কিছু ভাইয়ের সাথে ইমাম, ফকিহ, ইবাদতকারী, মুত্তাকি ও প্রাজ্ঞ শেখ মুহাম্মদ আল-বিরকিউই—আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন—রচিত 'আত-তরিকাহ আল-মুহাম্মাদিয়াহ ওয়াস-সিরাত আল-আহমাদিয়াহ' কিতাবটি অধ্যয়ন করি। আমি দেখলাম তিনি তাঁর কিতাবের শেষে এমন কিছু বিষয় উল্লেখ করেছেন যা আমার দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে এবং আমার হিম্মতকে জাগ্রত করেছে। সেখানে তিনি যা বলেছেন তার পাঠ হলো: তৃতীয় পরিচ্ছেদ... (৩)

--------------------------------------------

(৩) আর যার আধ্যাত্মিক প্রাপ্তি (ওয়াজদ) সঠিক ও বিশুদ্ধ... সে গায়কের কথার মুখাপেক্ষী হয় না।

তার নিজের সত্তা থেকেই এক চিরন্তন আনন্দ লাভ হয়... এবং সুরার পাত্র ছাড়াই তার সর্বদা আধ্যাত্মিক মত্ততা বিরাজ করে।

সমাপ্ত—তাঁর এই উত্তর তাঁর শ্রেষ্ঠ বাচনভঙ্গিতে। তিনি তাঁর গদ্য ও পদ্যে যা কিছু উল্লেখ করেছেন, তার অধিকাংশ 'আল-ফুতুহাত আল-মাককিয়াহ' থেকে গ্রহণ করেছেন। অনুরূপভাবে 'জামেউল ফুসুলাইন'-এর সংশোধনী গ্রন্থ 'নূরুল আইন'-এও এরূপ বর্ণিত হয়েছে। সংগৃহীত।
(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭৪)
في بعض امور مبتدعة باطلة اكب الناس عليها على ظن أنها قرب مقصودة وهذه كثيرة فلنذكر اعظمها منها وقف الأوقاف سيما النقود لتلاوة القرآن او لأن يصلى نوافل او لأن يسبح او لأن يهلل أو يصلى على النبي صلى الله تعالى عليه وسلم ويعطى ثوابها لروح الواقف او لروح من اراده، ومنها الوصية من الميت باتخاذ الطعام والضيافة يوم موته أو بعده وباعطاء دراهم معدودة لمن يتلو القرآن لروحه أو يهلل أو يسبح له أو بأن يبيت عند قبره رجال اربعين ليلة أو اكثرا أو اقل وبأن يبنى على قبره بناء وكل هذه بدع منكرات والوقف والوصية باطلان والمأخوذ منهما حرام للآخذ وهو عاص بالتلاوة للقرآن والذكر لاجل حطام الدنيا، وقد بينا ذلك في رسائلنا، السيف الصارم، وانقاذ الهالكين، وايقاظ النائمين، وجلاء القلوب، فعليك بها وطالعها حتى تعلم حقيقة مقالنا انتهى بحروفه، وقد كرر هذه المسئلة في مواضع من هذا الكتاب منها ما ذكره في البحث الثالث من مباحث الرياء حيث قل وكن يعطى له دراهم مسماة عينها واقف أو غيره ليقرأ جزأ من كلام الله تعالى كل يوم أو يصلى كذا ركعة أو يسبح أو يهلل أو يكبر أو يصلى على النبي صلى الله تعالى عليه وسلم ويعطى ثوابه للمعطى او لاحد ابويه فيفعل ذلك المسكين تلك العبادات طمعا للمال ليجعله عدة له وقوة للعبادة ويظن أنه حلال وان ثوابه يصل إلى الآمر وانه في طاعة انتهى، فقد صرح جزاه الله تعالى خيرا فيما افاده، بعين ما فهمته وزياده، فلله تعالى الحمد، حمد الا يحصيه العد، وفى هذا القرب أيضًا اطلعت على رسالة من رسائله الاربع التي ذكرها وهي المسماة إيقاظ التائمين، فقال في اولها أن الاقدام والشروع لعبادة بدنية محضة ليست بوسيلة مثل الصلاة والصوم وقراءة القرآن والتهليل والتسبيح والتكبير والتصلية بنية أخذ المال وإعطاء ثوابها لمن يريد المعطي الذي إنما يعطى لاجل وصول ثواب تلك العبادة إليه لا يجوز في مذهب من المذاهب الإسلامية، ولا في دين من الاديان السماوية، ولا يحصل منها ثواب اصلا سواء كان أخذ المال ووصول الثواب تمام مقصوديهما أو اعظمه إلى أن قال وادلة هذا المطلب عقلا ونقلا أكثر من أن تحصى واظهر من أن تخفى حتى انى في بعض الازمان تأملت قليلا فوجدت في سورة الفاتحة بضعة عشر دليلا فينته في بعض المجالس انتهى، لكنه سلك في هذه الرسالة مسلكا يخفى على بعض الناس فلذا احتجت إلى تصنيف هذه الرسالة، وترصيف هذه العجالة مستندا إلى الكتب الصحيحة، والعبارت الصريحة، كيلا يبقى لمنكر ملام، ولا لطاعن كلام، (وفى) كتاب التبيان، في آداب حملة

কিছু বিদআতি ও বাতিল বিষয় রয়েছে যেগুলোতে মানুষ এই ধারণা নিয়ে লিপ্ত হয়েছে যে এগুলো কাঙ্ক্ষিত ইবাদত। এ জাতীয় বিষয় অনেক, তবে আমরা এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলো উল্লেখ করব। তার মধ্যে রয়েছে— ওয়াকফ করা, বিশেষ করে অর্থ ওয়াকফ করা কুরআন তিলাওয়াতের জন্য, অথবা নফল সালাত আদায়ের জন্য, অথবা তাসবিহ পাঠের জন্য, অথবা তাহলিল পাঠের জন্য, অথবা নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়ার জন্য, যাতে এর সওয়াব ওয়াকফকারী বা তার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির রুহে পৌঁছানো হয়।

এগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে— মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে তার মৃত্যুর দিন বা তার পরে খাবার ও মেহমানদারির ব্যবস্থা করার অসিয়ত করা, এবং নির্দিষ্ট দিরহাম প্রদান করা সেই ব্যক্তির জন্য যে তার রুহের জন্য কুরআন তিলাওয়াত করবে, তাহলিল করবে বা তাসবিহ পড়বে; অথবা তার কবরের পাশে চল্লিশ রাত বা তার কম-বেশি সময় অবস্থান করার জন্য লোক নিয়োগ করা; অথবা তার কবরের ওপর ইমারত নির্মাণ করা। এসবই গর্হিত বিদআত। এক্ষেত্রে ওয়াকফ ও অসিয়ত উভয়ই বাতিল, এবং এগুলো থেকে যা গ্রহণ করা হয় তা গ্রহণকারীর জন্য হারাম। সে ব্যক্তি দুনিয়ার নশ্বর সম্পদের বিনিময়ে কুরআন তিলাওয়াত ও জিকির করার কারণে গুনাহগার হিসেবে গণ্য হবে।

আমরা আমাদের কিতাবসমূহ— আস-সাইফুল সারিম (তীক্ষ্ণ তলোয়ার), ইনকাযুল হালিকিন (ধ্বংসপ্রাপ্তদের মুক্তি), ইকাযুন নাইমিন (নিদ্রিতদের জাগরণ) এবং জালাউল কুলুব (অন্তরসমূহের জ্যোতি)—এ বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনা করেছি। সুতরাং তুমি সেই কিতাবগুলো সংগ্রহ করো এবং সেগুলো পাঠ করো, যাতে আমাদের বক্তব্যের হাকিকত বা বাস্তবতা জানতে পারো। তার বক্তব্য হুবহু শেষ হলো।

তিনি এই কিতাবের বিভিন্ন স্থানে এ মাসআলাটি বারবার উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে একটি হলো লোকদেখানো ইবাদত সংক্রান্ত আলোচনার তৃতীয় পরিচ্ছেদে, যেখানে তিনি বলেছেন: "আর যাকে ওয়াকফকারী বা অন্য কেউ নির্দিষ্ট দিরহাম প্রদান করে যাতে সে প্রতিদিন আল্লাহর কালামের একটি অংশ তিলাওয়াত করে, অথবা এত রাকাত সালাত আদায় করে, অথবা তাসবিহ, তাহলিল ও তাকবির পাঠ করে, কিংবা নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর দরুদ পড়ে এবং এর সওয়াব প্রদানকারীকে বা তার বাবা-মায়ের একজনকে দান করে; তখন সেই মিসকিন ব্যক্তি মালের লোভে ওই ইবাদতগুলো করে যাতে সে এটাকে নিজের পাথেয় এবং ইবাদতের শক্তি হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। সে মনে করে যে এটি হালাল এবং এর সওয়াব আদেশদাতার নিকট পৌঁছাবে এবং সে আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে।" সমাপ্ত।

তিনি যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি যা বুঝিয়েছি তা এবং তার চেয়েও অতিরিক্ত বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, আল্লাহ তাআলা তাকে উত্তম প্রতিদান দিন। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা গণনা করে শেষ করা যায় না। এই সময়ে আমি তার উল্লিখিত চারটি কিতাবের একটি কিতাবও পড়ার সুযোগ পেয়েছি যার নাম 'ইকাযুন নাইমিন' (নিদ্রিতদের জাগরণ)। তিনি এর শুরুতে বলেছেন:

"অর্থ গ্রহণ এবং তার সওয়াব দাতার কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিকে পৌঁছে দেওয়ার নিয়তে এমন বিশুদ্ধ শারীরিক ইবাদতে প্রবৃত্ত হওয়া যা অন্য কোনো ইবাদতের মাধ্যম নয়— যেমন সালাত, সিয়াম, কুরআন তিলাওয়াত, তাহলিল, তাসবিহ, তাকবির এবং দরুদ পাঠ করা— কোনো ইসলামী মাযহাবেই জায়েয নেই এবং কোনো আসমানি ধর্মেই তা বৈধ নয়। দাতা মূলত অর্থ প্রদান করে যাতে সেই ইবাদতের সওয়াব তার কাছে পৌঁছায়। এমতাবস্থায় এর থেকে কোনো সওয়াবই অর্জিত হয় না; চাই অর্থ গ্রহণ করা এবং সওয়াব পৌঁছানোই তাদের উভয়ের পূর্ণ উদ্দেশ্য হোক বা প্রধান উদ্দেশ্য হোক।" এরপর তিনি বলেন, "এই দাবির পক্ষে আকলি ও নকলি প্রমাণাদি এত বেশি যে তা গণনা করা সম্ভব নয় এবং এত স্পষ্ট যে তা গোপন থাকে না। এমনকি আমি কোনো এক সময়ে কিছুটা চিন্তা করে সূরা ফাতিহাতেই এর দশটিরও বেশি দলিল পেয়েছি, যা আমি কোনো এক মজলিসে বর্ণনা করেছি।" সমাপ্ত।

কিন্তু তিনি এই পুস্তিকায় এমন একটি পথ অবলম্বন করেছেন যা কিছু মানুষের কাছে অস্পষ্ট থেকে গেছে। তাই আমি সহিহ কিতাবসমূহ এবং স্পষ্ট বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে এই পুস্তিকাটি সংকলন করার এবং এই সংক্ষিপ্ত আলোচনাটি সাজানোর প্রয়োজন বোধ করেছি, যাতে কোনো অস্বীকারকারীর জন্য ভর্ৎসনার সুযোগ না থাকে এবং কোনো সমালোচকের জন্য কোনো কথা না থাকে। আর আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন কিতাবে...

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭৫)
القرآن، للإمام محى الدين النووى نفعنا الله تعالى به (فصل) ومن اهم ما يؤمر به أن يحذر كل الحذر من اتخاذ القرآن معيشة يكتسب بها فقد جاء عن عبد الرحمن بن شبل رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم (اقرأوا القرآن ولا تأكلوا به ولا تجفوا عنه ولا تغلوا فيه) وعن جابر رضي الله تعالى عنه عن النبي صلى الله تعالى عليه وسلم قال (اقرأوا القرآن قبل أن يأتى قوم يقيمونه إقامة القدح يتعجلونه ولا يتأجلونه) وروى أبو داود بمعناه من رواية سهل بن سعد معناه يتعجلون أجره اما بمال واما بسمعة ونحوهما، ثم قال واما أخذ الاجرة على تعليم القرآن فقد اختلف العلماء فيه، ثم ذكر الادلة من الجانبين، ولا يخفى أنه كالصريح في التفرقة بين القراءة والعليم فهو أيضًا مؤيد لما قدمناه، واسسنا عليه ما ادعيناه. (ورأيت) منقولا عن شرح الهداية للعينى معزوا إلى الواقعات يمنع القارئ للدنيا والآخذ والمعطى آثمان انتهى، ورأيت في حاشية المنتهى للعلامة الشيخ محمد الخلوتي الحنبلي نقلا عن خاتمة المجتهدين شيخ الإسلام تقى الدين ما نصه ولا يصح الاستئجار على القراءة واهدائها إلى الميت لأنه لم ينقل عن أحد من الأئمة الاذن في ذلك وقد قال العلماء أن القارئ إذا قرأ لاجل المال فلا ثوابٍ له فأى شيء يهديه إلى الميت وإنما يصل إلى الميت العمل الصالح والاستئجار على مجرد التلاوة لم يقل به أحد من الأئمة وانما تنازعوا في الاستئجار على التعليم انتهى بحروفه ورأيت في كتاب الروح للإمام الحافظ ابن قيم الجوزية أفضل ما يهدى إلى الميت العتق والصدقة والاستغفار والدعاء له والحج عنه واما قراءة القرآن واهداؤها له تطوعا بغير اجرة فهذا يصل إليه كما يصل ثواب الصوم والحج (فإن قلت) فما تقول فيما نقله بعض المتأخرين عن اجارات الحاوى الزاهدى أن المستأجر للختم ليس له أن يأخذ الاجر قل من خمسة واربعين درهما شرعيا هذا إذا لم يسم شيأ من الاجر كما ذكره في الأصل في رجل قال للقارئ اختم لي القرآن ولم يسم شيأ من الاجر وختمه ليس له أن يأخذ اقل من خمسة واربعين درهما شرعيا أما إذا سمى اجرا لزم لكن يأثم المستأجر ان عقد على اقل من خمسة واربعين لمخالفة النص الا ان الآجر للمستأجر ما فوق المسمى إلى خمسة واربعين بعد العقد عليه أو بشرط أن يكون ثواب ما فوقه لنفسه فلا يأثم وعلى هذا لو قال القارئ أقرأ ختما بقدر ما قدرت من الاجر حين امره المستأجر بالختم باقل من خمسة واربعين فقرأ من القرآن ذلك المقدار من الثلث أو الربع أو النصف أو نحوها فلا يأثم وهذا مما يجب حفظه لابتلاء العوام والخواص

আল-কুরআন, ইমাম মুহিউদ্দীন আন-নওয়াবী (আল্লাহ তাআলা তাঁর মাধ্যমে আমাদের উপকৃত করুন) রচিত। (পরিচ্ছেদ) যে সকল বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে তার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— কুরআনকে জীবিকা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা থেকে অত্যন্ত সতর্ক থাকা। কেননা আব্দুর রহমান ইবনে শিবল (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা কুরআন পাঠ করো, তবে এর বিনিময়ে আহার গ্রহণ করো না, এর থেকে বিমুখ হয়ো না এবং এতে সীমা লঙ্ঘন করো না)। জাবির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: (তোমরা কুরআন পাঠ করো এমন এক কওম আসার আগে যারা একে তীরের ন্যায় সোজা (সুন্দর) করে পড়বে, তারা এর বিনিময় দুনিয়াতেই দ্রুত হাসিল করতে চাইবে এবং পরকালের জন্য বিলম্বিত করবে না)। আবু দাউদ সাহল ইবনে সাদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর বর্ণনা থেকে অনুরূপ অর্থ বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ হলো— তারা এর প্রতিদান দুনিয়াতেই দ্রুত চাইবে, হয় সম্পদের মাধ্যমে অথবা সুখ্যাতি ও অনুরূপ কিছুর মাধ্যমে। অতঃপর তিনি বলেন, কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিষয়ে উলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন। এরপর তিনি উভয় পক্ষের দলীলসমূহ উল্লেখ করেন। এটি যে তিলাওয়াত এবং শিক্ষার মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে প্রায় সুস্পষ্ট দলীলের মতো, তা গোপনীয় নয়; বরং এটি আমাদের পূর্বে উপস্থাপিত এবং যার ওপর আমরা আমাদের দাবির ভিত্তি স্থাপন করেছি তারও সমর্থক। (আমি দেখেছি) আল-আইনী কৃত 'শারহুল হিদায়াহ'-তে 'আল-ওয়াকিআআত'-এর বরাতে উদ্ধৃত হয়েছে যে, দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে তিলাওয়াতকারীকে নিষেধ করা হবে এবং দাতা ও গ্রহীতা উভয়ই গুনাহগার হবে। সমাপ্ত। আল্লামা শেখ মুহাম্মদ আল-খালওয়াতী আল-হাম্বলী রচিত 'হাশিয়াতুল মুনতাহা'-তে যুগের শেষ মুজতাহিদ শাইখুল ইসলাম তাকিউদ্দীন (ইবনে তাইমিয়া)-এর বরাতে যা উদ্ধৃত হয়েছে তা হলো: তিলাওয়াতের ওপর এবং তা মৃত ব্যক্তিকে উপহার দেওয়ার (সওয়াব রেসানির) ওপর পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা সহীহ নয়। কারণ আইম্মায়ে কেরামের কারো থেকেই এর অনুমতি বর্ণিত হয়নি। উলামায়ে কেরাম বলেছেন যে, তিলাওয়াতকারী যখন অর্থের বিনিময়ে তিলাওয়াত করে, তখন তার কোনো সওয়াব অর্জিত হয় না; সুতরাং সে মৃত ব্যক্তির কাছে কী উপহার পাঠাবে? মৃত ব্যক্তির কাছে কেবল নেক আমলই পৌঁছে। আর কেবল তিলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিক নির্ধারণের কথা আইম্মায়ে কেরামের কেউ বলেননি, তারা কেবল শিক্ষা প্রদানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিষয়ে মতভেদ করেছেন। সমাপ্ত। আমি হাফেজ ইমাম ইবনুল কায়্যিম আল-জাওজিয়া রচিত 'কিতাবুর রূহ'-এ দেখেছি: মৃত ব্যক্তির জন্য উপহার হিসেবে সবচেয়ে উত্তম হলো— দাসমুক্তি, সদকা, ইস্তিগফার, তার জন্য দোয়া করা এবং তার পক্ষ থেকে হজ করা। আর কুরআন তিলাওয়াত করে কোনো পারিশ্রমিক ব্যতিরেকে স্বেচ্ছায় সওয়াব উপহার দিলে তা তার নিকট পৌঁছে, যেমনটি রোজা ও হজের সওয়াব পৌঁছে। (যদি আপনি বলেন) তবে পরবর্তী যুগের কিছু আলিম 'আল-হাবী আয-যাহিদী'-র ইজারা (ভাড়া) অধ্যায় থেকে যা উদ্ধৃত করেছেন সে সম্পর্কে আপনি কী বলবেন? সেখানে বলা হয়েছে যে, খতমের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির পঁয়তাল্লিশ শরয়ী দিরহামের কম পারিশ্রমিক নেওয়ার সুযোগ নেই। এটি তখন হয় যখন পারিশ্রমিকের পরিমাণ উল্লেখ করা হয় না; যেমনটি 'আসলে' (মূল গ্রন্থে) জনৈক ব্যক্তির ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিলাওয়াতকারীকে বলল— 'আমার জন্য এক খতম কুরআন পড়ো' কিন্তু পারিশ্রমিকের কথা উল্লেখ করল না; তবে খতম করার পর সে পঁয়তাল্লিশ শরয়ী দিরহামের কম নিতে পারবে না। আর যদি পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করে বলা হয় তবে তা-ই আবশ্যক হবে। কিন্তু নিয়োগকারী যদি পঁয়তাল্লিশ দিরহামের কম চুক্তিতে আবদ্ধ হয় তবে সে গুনাহগার হবে নস (বিধান) লঙ্ঘনের কারণে। তবে চুক্তির পর অতিরিক্ত পঁয়তাল্লিশ দিরহাম পর্যন্ত প্রদান করলে অথবা এই শর্তে যে অতিরিক্ত অংশের সওয়াব তিলাওয়াতকারীর নিজের জন্য থাকবে, তবে সে গুনাহগার হবে না। এর ভিত্তিতে, নিয়োগকারী যখন পঁয়তাল্লিশ দিরহামের কমে খতমের নির্দেশ দেয়, তখন তিলাওয়াতকারী যদি বলে— 'আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এক খতম পড়ব' এবং সে কুরআনের এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতুর্থাংশ বা অর্ধেক বা অনুরূপ তিলাওয়াত করে, তবে সে গুনাহগার হবে না। সাধারণ এবং বিশিষ্ট— সকলের পরীক্ষার (বিপদে পড়ার) কারণে এই মাসআলাটি সংরক্ষণ করা আবশ্যক।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭৬)
بذلك انتهى (قلت) لا يحتاج إلى الجواب بعد ما اسمعناك من كلام ائمتنا متونا وشروحا وفتاوى من أن الجائز أخذ الاجرة على التعليم بعد تصريحهم بعدم جوازه على سائر الطاعات وسمعت التصريح بعدم جوازه على خصوص التلاوة في كلام الرملى والتاترخانية والولوالجية والمحيط البرهاني وغيرها فهو مخالف لاصل المذهب ولما افتى به المتأخرون ومخالف للقواعد أيضًا فإنه حيث لم يسم اجرة تكون الإجارة فاسدة والواجب فيها اجر المثل أن ثبت أن الاستئجار على ذلك صحيح بشروطه والا فلا يجب شي اصلا واجر المثل لا يكون مقدرا بعدد مخصوص في كل وقت ومكان واين النص على ذلك مع ما تقدم من أحاديث الوعيد الشديد على الآخذ، على أن هذا أن ثبت نقله عن الزاهدى نقول قد صرح ابن وهبان في كتاب الشرب والاشربة ونقله عن العلامة ابن الشحنة وغيره بأنه لا عمل ولا التفات إلى كل ما قاله الزاهدى مخالفا للقواعد ما لم يعضده نقل من غيره (فإن قلت) ما نقلته عن العلامة البركوى من بطلان الوقف أيضًا على القراءة ونحوها مشكل فانا نرى عامة المساجد والمدارس القديمة يجعل بانوها شيأ من ريع وقفهم لقراءة الاجزاء ونحوها وما سمعنا أحدا قال بحرمة ذلك وبطلانه (قلت) أشار البركوى إلى جوابه في رسالته بأن الجائز أن يقف الرجل على من يشتغل بقراءة القرآن حسبة كمن يقف على الارامل واليتامى والفقراء من الفقهاء والمعلمين والمتعلمين والصالحين فهذه الأوقاف جائزة لأن ذكر هذه الأشياء تعيين مصرف غلة الوقف لا امر فيها بشيء لنفسه فتكون صلة تعطى لمن اتصف بتلك الصفات ولا كلام فيها بل الكلام في عكس هذا أعني من يقف ويأمر بالقراءة وإعطاء الثواب ويقرأ هو لاجل المال فلا يتصور فيه معنى الصلة، ولذا قال في المحيط البرهاني ولا معنى لصلة القارئ بقراءته وفي لفظ التعيين وفى المصرف اشعار بما قلنا انتهى، وهكذا قال سيدى العارف الشيخ عبد الغني النابلسي في شرحه على الطريقة المحمدية حيث قال في بحث الرياء واما الأوقاف الآن والصدقات الجارية على قراءة الاجزئة القرآنية واجزاء صحيح البخاري ومسلم ومعلومات المؤذنين والمدرسين في الجوامع والمدارس ونحوها فهى موقوفة على كل من يفعل هذه العبادات في هذه المواضع المخصوصة لا بشرط أن يكون ثوابها للواقف والمتصدق بذلك بل للواقف وللمتصدق ثواب الصدقة بذلك على القائمين بهذه العبادات وثواب اعمالهم على ذلك كله لهم لا للواقف والمتصدق وإنما هذه الوظائف اعانة لهم على طاعة الله تعالى فقط

এর মাধ্যমেই বিষয়টি সমাপ্ত হলো। (আমি বলছি) আমাদের ইমামগণের মূল গ্রন্থ (মতন), ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরহ) এবং ফতোয়াসমূহ থেকে যা আমি আপনাকে শুনিয়েছি, তারপর আর কোনো উত্তরের প্রয়োজন নেই। সেখানে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, অন্যান্য সকল আনুগত্যমূলক ইবাদতের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক গ্রহণ নাজায়েজ হওয়ার বিষয়ে তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্যের পর কেবল শিক্ষাদানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ করা হয়েছে। আপনি র্যামলি, তাতারখানিয়াহ, ওয়ালওয়ালিজিয়াহ, মুহিতুল বুরহানি এবং অন্যান্য গ্রন্থে বিশেষভাবে তিলাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের অবৈধতার বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য শুনেছেন। সুতরাং এটি মাযহাবের মূলনীতির পরিপন্থী এবং পরবর্তী যুগের আলেমগণ যা ফতোয়া দিয়েছেন তারও বিরোধী; তদুপরি এটি সাধারণ নিয়ম-নীতিরও পরিপন্থী। কেননা যেখানে পারিশ্রমিক নির্দিষ্ট করা হয়নি, সেখানে ইজারা (চুক্তি) ফাসেদ বা ত্রুটিপূর্ণ হয়ে যায়। আর এক্ষেত্রে 'উজরাতুল মিসল' (প্রচলিত পারিশ্রমিক) ওয়াজিব হওয়া তখন সাব্যস্ত হতো যদি শর্তানুযায়ী সেই ইজারা সহীহ হতো; অন্যথায় আদৌ কোনো কিছু ওয়াজিব হবে না। আর 'উজরাতুল মিসল' বা প্রচলিত পারিশ্রমিক প্রতিটি সময় ও স্থানে নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত থাকে না। এর সপক্ষে দলিল কোথায়? অথচ ইতিপূর্বে পারিশ্রমিক গ্রহণকারীর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির হাদিসসমূহ বর্ণিত হয়েছে। তদুপরি যদি এটি জাহিদী থেকে বর্ণিত হওয়া প্রমাণিতও হয়, তবুও আমরা বলব— ইবনে ওয়াহবান 'কিতাবুশ শুরব ওয়াল আশরিবা'-তে আল্লামা ইবনুশ শুহনা ও অন্যদের বরাতে স্পষ্ট করেছেন যে, জাহিদী যা কিছু মূলনীতির পরিপন্থী বলেছেন, তার ওপর আমল করা হবে না এবং সেদিকে ভ্রুক্ষেপও করা হবে না, যতক্ষণ না অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য বর্ণনা তা সমর্থন করে। (যদি আপনি বলেন) আল্লামা বিরকিউয়ি থেকে তিলাওয়াত ইত্যাদির ওপর ওয়াকফ বাতিল হওয়ার বিষয়ে যা আপনি উদ্ধৃত করেছেন তা সমস্যাযুক্ত। কারণ আমরা দেখি যে, সাধারণ মসজিদ ও প্রাচীন মাদ্রাসাগুলোর প্রতিষ্ঠাতারা তাদের ওয়াকফকৃত সম্পদের আয়ের একাংশ কুরআন তিলাওয়াত ইত্যাদির জন্য বরাদ্দ করেন। আর আমরা কাউকে এটি হারাম বা বাতিল বলতে শুনিনি। (আমি বলছি) বিরকিউয়ি তার রিসালায় এর উত্তরের দিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি যদি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কুরআন তিলাওয়াতে রত ব্যক্তিদের জন্য কিছু ওয়াকফ করেন তবে তা জায়েজ। যেমন কেউ বিধবা, এতিম, দরিদ্র ফকীহ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং নেককার ব্যক্তিদের জন্য ওয়াকফ করে। এই ওয়াকফসমূহ জায়েজ। কারণ এই বিষয়গুলো উল্লেখ করার অর্থ হলো ওয়াকফের আয়ের ব্যয়ের খাত নির্ধারণ করা মাত্র, সেখানে নিজের স্বার্থে কোনো কাজের আদেশ করা হয়নি। ফলে এটি একটি অনুদান হিসেবে গণ্য হবে যা ওই গুণাবলি সম্পন্ন ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়। এতে কোনো দ্বিমত নেই। বরং আপত্তি এর বিপরীত ক্ষেত্রে; অর্থাৎ যে ব্যক্তি ওয়াকফ করে তিলাওয়াতের নির্দেশ দেয় এবং সাওয়াব পৌঁছানোর শর্ত দেয়, আর তিলাওয়াতকারী কেবল অর্থের লালসায় তিলাওয়াত করে। এক্ষেত্রে অনুদানের প্রকৃত অর্থ পাওয়া যায় না। এই কারণেই 'মুহিতুল বুরহানি'-তে বলা হয়েছে: তিলাওয়াতের বিনিময়ে ক্বারিকে হাদিয়া দেওয়ার কোনো অর্থ হয় না। আর 'নির্ধারণ' এবং 'ব্যয়খাত' শব্দ দুটির ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা যা বলেছি তারই ইঙ্গিত পাওয়া যায়। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত) আর এভাবেই সায়্যিদি আরিফ শেখ আব্দুল গনি নাবলুসি 'আত-তারিকাতুল মুহাম্মাদিয়াহ'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে লৌকিকতা বিষয়ক আলোচনায় বলেছেন: বর্তমানে কুরআনের বিভিন্ন অংশ তিলাওয়াত, সহীহ বুখারী ও মুসলিমের তিলাওয়াত এবং জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার মুয়াজ্জিন ও শিক্ষকদের ভাতার জন্য যে ওয়াকফ ও সদকায়ে জারিয়া প্রচলিত রয়েছে, তা ওই নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে এই ইবাদতসমূহ সম্পাদনকারীদের জন্য ওয়াকফকৃত। এই শর্তে নয় যে, সেই তিলাওয়াতের সাওয়াব ওয়াকফকারী বা সদকাকারীর হবে। বরং ওয়াকফকারী ও সদকাকারী এসব ইবাদত পালনকারীদের ওপর সদকা করার কারণে সদকার সাওয়াব পাবেন। আর তাদের সেই আমলসমূহের সাওয়াব পুরোপুরি তাদেরই (আমলকারীদের) আমলনামায় যাবে, ওয়াকফকারী বা সদকাকারীর নয়। এই বৃত্তি বা ভাতাগুলো কেবল আল্লাহর আনুগত্যের কাজে তাদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যেই প্রদান করা হয়।

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭৭)
فليست من هذا القبيل الذى أشار إليه المص إلا إذا شرط الواقف أو المتصدق أن ثواب هذه العبادات يكون له في مقابلة ما عينه من المال فهو أمر باطل حينئذ وفعله حرام بهذه النية انتهى (فقد) وافق ما ذكره المصنف قدس الله تعالى اسرارهما مع أن سيدى الأستاذ لم ير شيأ من رسائله كما ذكره في شرحه (ونقل) العلامة ابن الشحنة عن التعليقة، في المسائل الدقيقة، لابن الصائغ ما يأخذه الفقهاء من المدارس ليس باجرة لعدم شروط الإجارة ولا صدقة لأن الغنى يأخذ هابل اعانة لهم على حبس أنفسهم للاشتغال انتهى، أي ليس باجرة ولا صدقة من كل وجه بل من بعض الا وجه، فقد ذكر العلامة الطرسوسي في انفع الوسائل أن ما يأخذه صاحب الوظيفة فيه شوب الاجرة والصلة والصدقة فاعتبرنا شائبة الاجرة في اعتبار زمن المباشرة وما يقابله من المعلوم واعتبرنا شائبة الصلة بالنظر إلى المدرس إذا قبض معلومه ومات أو عزل في أنه لا يسترد منه حصة ما بقى من السنة، واعملنا شائبة الصدقة في تصحيح اصل الوقف فإن الوقف لا يصح على الأغنياء ابتداء لأنَّه لابد فيه من ابتداء قربة ولا يكون الا بملاحظة جانب الصدقة، وقال قبله أن المأخوذ في معنى الاجرة والا لما جاز للغنى الخ (وفى) فتاوى العلامة قاسم بن قطلوبغا اجمعت الامة على أن من شروط الواقفين ما هو صحيح معتبر يعمل به ومنها ما ليس كذلك، قال في كتاب الوقف لابي عبد الله الدمشقى عن شيخه شيخ الإسلام قول الفقهاء نصوص الواقف كنص الشارع يعنى في الفهم والدلالة لا في وجوب العمل مع أن التحقيق أن لفظه ولفظ الموصى والحالف والناذر وكل عاقد يحمل على عادته في خطابه ولغته التي يتكلم بها وافقت لغة العرب ولغة الشارع او لا ولا خلاف أن من وقف على صلاة أو صيام أو قراءة أو جهاد غير شرعى ونحوه لم يصح والله تعالى أعلم انتهى وقد نقل هذه العبارة أيضًا صاحب البحر وغيره في كتاب الوقف والله تعالى الموفق (فإن قلت) قد جوز اعتبار شائبة الاجرة في معلوم المدرس فينافي ما صرحوا به من التعليل لبطلان الوصية للقارئ بأنها تشبه الاجرة (قلت) لا منافاة فإن المدرس معلم بخلاف القارئ المطلوب منه القراءة المجردة فكون معلوم المدرس فيه شائبة الاجرة على التعليم لا محذور فيه فإن الاستئجار على التعليم مما استثناه المتأخرون للضرورة كما قدمناه اما القراءة المجردة فعلى المنع، ولما وصلت في تبييض هذه الرسالة إلى هذا المحل راجعت كتاب تبيين المحارم فرأيته ذكر في الاجرة على القرائة نحوا مما ذكرته، وقرر بعضا مما قررته، وذكر مما يناسب ما نحن بصدده ما صورته، واعلم أن الذى يأخذه العلماء والفقهاء

সুতরাং এটি সেই প্রকারের নয় যার প্রতি লেখক ইঙ্গিত করেছেন, যদি না ওয়াকিফ বা দানকারী এই শর্ত করেন যে, এই ইবাদতগুলোর সওয়াব তার নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে হবে। এমতাবস্থায় এটি একটি বাতিল বিষয় এবং এই নিয়তে তা করা হারাম। (সমাপ্ত)

মুসান্নিফ যা উল্লেখ করেছেন তা এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে—আল্লাহ তাআলা তাঁদের উভয়ের গোপন রহস্যকে পবিত্র করুন—যদিও আমার উস্তাদ তাঁর কোনো রিসালা দেখেননি, যেমনটি তিনি তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

আল্লামা ইবনে আশ-শুহনা ইবনুস সায়েগের 'আত-তালিকাহ ফিল মাসাইল আদ-দাকিকাহ' থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, ফকিহগণ মাদ্রাসা থেকে যা গ্রহণ করেন তা পারিশ্রমিক নয়, কারণ সেখানে ইজারার শর্তাবলি অনুপস্থিত; আবার তা সদকাহও নয়, কারণ ধনীরাও তা গ্রহণ করে। বরং এটি দ্বীনি কাজে নিমগ্ন থাকার সুবিধার্থে নিজেদের আবদ্ধ রাখার জন্য একটি সহায়তা। (সমাপ্ত)

অর্থাৎ এটি সব দিক থেকে পারিশ্রমিক বা সদকাহ নয়, বরং কোনো কোনো দিক থেকে। আল্লামা তারসুসি 'আনফাউল ওয়াসায়েল'-এ উল্লেখ করেছেন যে, পদের দায়িত্বশীল ব্যক্তি যা গ্রহণ করেন তাতে পারিশ্রমিক, হাদিয়া এবং সদকাহর সংমিশ্রণ রয়েছে।

সুতরাং আমরা সরাসরি কাজ করার সময় এবং তার বিপরীতে নির্ধারিত ভাতার ক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের দিকটি বিবেচনা করেছি। আর হাদিয়ার বিষয়টি বিবেচনা করেছি মুদাররিসের ক্ষেত্রে; যখন তিনি তাঁর নির্ধারিত ভাতা গ্রহণ করার পর মারা যান বা পদচ্যুত হন, তখন বছরের অবশিষ্ট সময়ের জন্য তাঁর থেকে কোনো অংশ ফেরত নেওয়া হয় না।

আর আমরা সদকাহর বিষয়টি ওয়াকফের মূল বৈধতার ক্ষেত্রে কার্যকর করেছি। কারণ ধনীদের ওপর প্রাথমিকভাবে ওয়াকফ করা সহিহ নয়, যেহেতু এতে ইবাদত বা পুণ্যের উদ্দেশ্য থাকা আবশ্যক, আর তা সদকাহর দিকটি বিবেচনা করা ছাড়া সম্ভব নয়।

তিনি এর আগে বলেছেন যে, যা গ্রহণ করা হয় তা পারিশ্রমিকের অর্থে; অন্যথায় ধনীদের জন্য তা জায়েজ হতো না... ইত্যাদি।

আল্লামা কাসেম বিন কুতলুবুগার ফাতাওয়া গ্রন্থে এসেছে যে, উম্মত এ বিষয়ে একমত হয়েছে যে, ওয়াকিফদের শর্তাবলির মধ্যে কিছু সহিহ ও গ্রহণযোগ্য যা অনুযায়ী আমল করা হয়, আর কিছু এমন নয়।

আবু আব্দুল্লাহ আদ-দিমাশকি তাঁর ওয়াকফ সংক্রান্ত কিতাবে তাঁর উস্তাদ শায়খুল ইসলাম থেকে বর্ণনা করেছেন: ফকিহদের বক্তব্য হলো, ওয়াকিফের শব্দাবলী শারিয়াত প্রণেতার শব্দের মতো; অর্থাৎ তা অনুধাবন ও অর্থের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে, আমল করা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রে নয়।

যদিও প্রকৃত গবেষণালব্ধ তথ্য হলো, ওয়াকিফের শব্দ এবং অসিয়তকারী, কসমকারী, মানতকারী ও প্রত্যেক চুক্তি সম্পাদনকারীর শব্দকে তার সম্বোধন ও ভাষার প্রথা অনুযায়ী ধরা হবে যাতে সে কথা বলে, তা আরবি ভাষা বা শারিয়াতের ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হোক বা না হোক।

এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, যে ব্যক্তি নামাজ, রোজা, তিলাওয়াত বা অ-শারয়ি জিহাদ কিংবা এই জাতীয় কিছুর ওপর ওয়াকফ করবে, তা সহিহ হবে না। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (সমাপ্ত)

'আল-বাহর'-এর লেখক এবং অন্যান্যরা ওয়াকফ অধ্যায়ে এই ইবারতটি উদ্ধৃত করেছেন। আল্লাহ তাআলাই তাওফিকদাতা।

যদি আপনি প্রশ্ন করেন: মুদাররিসের ভাতার ক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের সংমিশ্রণ থাকাকে তো বৈধ বলা হয়েছে, তাহলে এটি তিলাওয়াতকারীর জন্য অসিয়ত বাতিল হওয়ার কারণ হিসেবে তারা যা স্পষ্ট করেছেন তার পরিপন্থী হয়; কারণ তারা বলেছেন তা পারিশ্রমিকের সদৃশ।

আমি বলব: এর মধ্যে কোনো বৈপরীত্য নেই। কারণ মুদাররিস হলেন একজন শিক্ষক, পক্ষান্তরে তিলাওয়াতকারী হলেন এমন একজন যার কাছ থেকে কেবল তিলাওয়াতই কাম্য।

সুতরাং মুদাররিসের ভাতায় শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিকের সংমিশ্রণ থাকায় কোনো বাধা নেই। কারণ শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণকে পরবর্তী যুগের উলামাগণ প্রয়োজনের খাতিরে ব্যতিক্রম হিসেবে বৈধ বলেছেন, যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। তবে কেবল তিলাওয়াতের বিষয়টি নিষিদ্ধ।

আমি যখন এই রিসালাটি পরিষ্কার করে লিখছিলাম এবং এই স্থানে পৌঁছালাম, তখন আমি 'তাবয়ীনুল মাহারিম' কিতাবটি পুনরায় দেখলাম। সেখানে তিলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিকের বিষয়ে আমি যা উল্লেখ করেছি তার অনুরূপ আলোচনা দেখলাম এবং আমি যা সাব্যস্ত করেছি তার কিছু অংশ তিনিও সাব্যস্ত করেছেন।

আর আমাদের আলোচনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যে বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন তা নিম্নরূপ: "জেনে রাখুন, আলেম ও ফকিহগণ যা গ্রহণ করেন..."

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭৮)
والمعلمون والأئمة والمؤذنون من غلات الأوقاف إنما يأخذونه صلة وصدقة وبرا ومجازاة على الإحسان لا اجرة وجعالة فمن ظن غير ذلك فقد ظن بهم ظن السوء ومن شك في شيء مما ذكرنا فلينظر في بصائر الأوقاف المتقدمة وسجلاتها فإن الذى يكتب فيها هذا ما وقف وحبس وسبل وتصدق وحرر وأبد ثم يؤكدون ذلك أشد تأكيد فيكون في آخره صدقة جارية محررة محرمة مؤبدة يعطى للإمام من ذلك كذا وللمؤذن كذا وللمدرس كذا وهلم جرا ويكتبون بعد ذلك ابتغاء مرضات الله تعالى وطلبا للثواب ولا يوجد في بصائر الأوقاف ذكر الإجارة ولا الجعالة انتهى ملخصا ولنذكر بعض ما حرره في ذلك الكتاب، وإن لم يكن في محله او استلزم نوع اسهاب، لأن مبنى كلامنا على التوضيح، والتأييد بكثرة النقول وزيادة التصريح، فقال بعد كلام فقد علمت أن تجويز الإجارة للضرورة وما لا ضرورة فيه لا تجوز الإجارة اصلا كالصلاة والصوم وقراءة القرآن والاصل فيها أن وجوب الإخلاص في كل العبادات شرط في كونه الله تعالى فحرم ارادة الدنيا بعمل الآخرة فلا تكون العبادة بالاجرة خالصة لله تعالى بل هي ملحقة بالرياء بلا شبهة والرياء حرام بالادلة القطعية، ثم حرر أن قول المتأخرين بجواز أخذ الاجرة على الامامة والاذان وتعليم القرآن إنما ارادوا به الاخذ على طريق الصلة والقربة بسبب اتصاف المعطى بعمل من اعمال البر وكذا ارزاق القضاة او يكون مرادهم بالاجرة ما يؤخذ في مقابلة اتعاب النفس في الامامة والتأذين في حضور موضع معين وقيامه به وقتا معينا فإنه ليس بواجب عليه وليس من نفس العبادة وكذا اتعاب نفسه في تلقين سورة شخصا معينا ليس بواجب عليه إلا أن لا يوجد غيره تجويز الإجارة فيها ليس من حيث انها عبادة بل من حيث أنها وسيلة لها، فإن عمل الآخرة نوعان، الأول ما يكون قربة مقصودة بالذات كالصلاة والصوم والتلاوة والتسبيح والحج ونحوها فلا يجوز أخذ الاجرة عليه لأنَّه ما شرع الا بوصف العبادة والخلوص لله تعالى وارادة الدنيا به قلب الموضوع، والثاني ما يكون وسيلة وآلة للنوع الأول كالتعليم والامامة ونحوهما ولا خلاف أنه إذا وجد النية فيه لله تعالى يكون قربة يثاب عليها والا لا ولكن يبقى كونه وسيلة وآلة والمتقدمون لم يجوزوا أخذ الاجرة على النوعين لأن وضعهما لنفع الآخرة والمتأخرون الحقوا الثاني بعمل الدنيا في جواز أخذ الاجرة للضرورة من حيث كونها وسيلة، فإذا فهمت ذلك علمت أنه ليس في مذهب الحنفى وغيره جواز أخذ الاجرة على العبادة المقصودة بالذات وإنما هي على الوسائل من حيث كونها وسيلة، والحاصل أن أخذ الاجرة

শিক্ষক, ইমাম এবং মুয়াজ্জিনগণ ওয়াকফের আয় থেকে যা গ্রহণ করেন, তা মূলত উপহার, সদকা, সৌজন্য এবং সদাচরণের বিনিময় হিসেবেই গ্রহণ করেন; পারিশ্রমিক বা মজুরি হিসেবে নয়। সুতরাং কেউ যদি এর বিপরীত কিছু মনে করে, তবে সে তাদের প্রতি কুধারণা পোষণ করল। আর আমরা যা উল্লেখ করেছি তাতে কারো সন্দেহ থাকলে সে যেন পূর্ববর্তী ওয়াকফনামা ও এর নথিপত্রসমূহ দেখে নেয়। কেননা তাতে যা লেখা থাকে তা হলো—এটি ওয়াকফ করা হলো, আটকে রাখা হলো, আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা হলো, সদকা করা হলো এবং স্থায়ীভাবে মুক্ত করে দেওয়া হলো। এরপর তারা একে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে তাকিদ প্রদান করেন, ফলে এর শেষে এটি একটি মুক্ত, সংরক্ষিত ও চিরস্থায়ী সদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হয়। যেখান থেকে ইমামকে এত, মুয়াজ্জিনকে এত এবং শিক্ষককে এত প্রদান করা হবে—এভাবেই চলতে থাকে। এরপর তারা লেখেন, ‘আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি ও সওয়াব লাভের আশায়’। ওয়াকফনামাসমূহে পারিশ্রমিক বা মজুরির কোনো উল্লেখ পাওয়া যায় না। (সংক্ষিপ্ত সার শেষ হলো)।

আমরা সেই কিতাবে যা লিপিবদ্ধ করা হয়েছে তার কিছু অংশ এখন উল্লেখ করব, যদিও তা এখানে অপ্রাসঙ্গিক মনে হতে পারে অথবা কিছুটা দীর্ঘায়িত হতে পারে; কারণ আমাদের আলোচনার মূল ভিত্তি হলো বিষয়টি স্পষ্ট করা এবং প্রচুর উদ্ধৃতি ও অধিকতর ব্যাখ্যার মাধ্যমে একে সুদৃঢ় করা। তিনি কিছু আলোচনার পর বলেন, ‘আপনি জেনেছেন যে, পারিশ্রমিক গ্রহণের অনুমতি কেবল প্রয়োজনের খাতিরে (জরুরত) দেওয়া হয়েছে। আর যাতে কোনো প্রয়োজন নেই, তাতে আদতেই পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ নয়, যেমন—নামাজ, রোজা এবং কুরআন তেলাওয়াত। এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, ইবাদত আল্লাহর জন্য হওয়ার জন্য সকল ইবাদতে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বজায় রাখা শর্ত। সুতরাং পরকালের আমলের বিনিময়ে দুনিয়া অন্বেষণ করা হারাম। ফলে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে সম্পাদিত ইবাদত আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠ থাকে না, বরং তা নিঃসন্দেহে রিয়া বা লোকদেখানো কাজের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়ে। আর রিয়া অকাট্য দলিলের ভিত্তিতে হারাম।’

এরপর তিনি বিশ্লেষণ করেছেন যে, ইমামতি, আজান এবং কুরআন শিক্ষার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের বিষয়ে পরবর্তী যুগের আলিমদের (মুতাআখখিরিন) যে অভিমত রয়েছে, তা দ্বারা মূলত উপহার এবং নৈকট্য লাভের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করাকেই বোঝানো হয়েছে; যেহেতু গ্রহণকারী একটি পুণ্যময় কাজের সাথে যুক্ত রয়েছেন। একইভাবে কাজীদের ভাতা বা পারিশ্রমিক বলতে তাদের উদ্দেশ্য হতে পারে ইমামতি ও আজানের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে উপস্থিত হওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে তা আঞ্জাম দেওয়ার ক্ষেত্রে শারীরিক পরিশ্রমের বিনিময়। কেননা এটি তার ওপর ওয়াজিব ছিল না এবং এটি মূল ইবাদতের অংশও নয়। একইভাবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে সুরা মুখস্থ করানোর ক্ষেত্রে নিজের শ্রম ব্যয় করা তার ওপর ওয়াজিব নয়—যদি না সেখানে অন্য কেউ থাকে। এমতাবস্থায় পারিশ্রমিক বৈধ হওয়ার কারণ এটি ইবাদত হওয়া নয়, বরং ইবাদতের মাধ্যম (উসিলা) হওয়া।

কেননা পরকালের আমল দুই প্রকার: প্রথমত, যা মূলত সরাসরি নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যেই করা হয়, যেমন—নামাজ, রোজা, তেলাওয়াত, তাসবিহ, হজ ইত্যাদি। এগুলোর ওপর পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ নেই; কারণ এগুলো কেবল ইবাদত ও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই প্রবর্তিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দুনিয়া অন্বেষণ করা এর মূল উদ্দেশ্যকে উল্টে দেয়। দ্বিতীয়ত, যা প্রথম প্রকারের জন্য মাধ্যম ও উপকরণ হিসেবে কাজ করে, যেমন—শিক্ষা দান, ইমামতি ইত্যাদি। এতে কোনো দ্বিমত নেই যে, যদি এতে আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়ত থাকে তবে তা সওয়াবযোগ্য নেক আমল হবে, নতুবা নয়। তবে তা মাধ্যম ও উপকরণ হিসেবেই গণ্য হবে। পূর্ববর্তী আলিমগণ (মুতাকাদ্দিমিন) উভয় প্রকারের জন্যই পারিশ্রমিক গ্রহণ জায়েজ মনে করেননি, কারণ এগুলোর ভিত্তি হলো পরকালীন কল্যাণ। কিন্তু পরবর্তী আলিমগণ প্রয়োজনীয়তার খাতিরে দ্বিতীয় প্রকারকে দুনিয়াবি কাজের অন্তর্ভুক্ত করেছেন পারিশ্রমিক বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে, যেহেতু তা একটি মাধ্যম।

আপনি যদি এটি বুঝতে পারেন, তবে জানতে পারবেন যে, হানাফি মাজহাব বা অন্য কোনো মাজহাবে সরাসরি উদ্দেশ্যমূলক ইবাদতের ওপর পারিশ্রমিক নেওয়া জায়েজ নেই; বরং তা কেবল মাধ্যম হওয়ার দিক থেকে মাধ্যমগুলোর ওপর জায়েজ। সারকথা এই যে, পারিশ্রমিক গ্রহণ...

(খণ্ড: ১) শিফাউল আলীল ওয়া বিললুল গালীল ফী হুকমিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালীল - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ১৭৯)
على العبادات حرام وما يأخذه الفقهاء ونحوهم اما صلة لهم او كفاية لهم عن الاشتغال بالكسب واما اجرة على اتعاب النفس فيما دون العبادات انتهى ملخصا، ثم ذكر مسئلة الاستئجار على الحج وقال أن كتب الحنفية مشحونة بعدم الجواز بكلمة ظاهر الرواية كما هو المفهوم من كلام الكرماني وشرح الكافي وآداب المفتين والكفاية وخزانة الاكمل والتحفة والمجمع والمحيط وشرح الطحاوى وغيرها ثم ذكر كلام الخانية وفتح القدير الذي قدمناه عن رسالة الشرنبلالي، ثم ذكر ما قدمناه عن الجوهرة ونصه واختلفوا في الاستئجار على قراءة القرآن مدة معلومة قال بعضهم لا يجوز وقال بعضهم يجوز وهو المختار، وعبارة الزاهدى في القنية من بنى مدرسة ومقبرة لنفسه فيها ووقف عليها ضيعة وبين فيها أن ثلاثة ارباعه للمتفقهة وربعه يصرف إلى من يقوم بكنس المقبرة وفتح بابها واغلاقه والى من يقرأ عند القبر وقضى القاضى بصحة وقفه وجعل آخره للفقراء يحل لمن يقرأ عند قبره أخذ هذا المرسوم ولمن يكنسه، وقال بعضهم أن كان القارئ معينا يجوز والا فلا انتهى (وقال) فهذا يدل على أن الاستئجار على القراءة جائز فما الجواب عنه (قلنا) في الجواب أن هاهنا قاعدة مقررة وهى أن المسائل الفقهية ان كان مأخذها معلوما مشهورا من الكتاب والسنة والاجماع فلا نزاع فيها لاحد والا بان كانت اجتهادية ينظر ان نقلها مجتهد لزم اتباعه بلا مطالبة بالدليل والا فان نقلها عن مجتهد واثبت نقله فكذلك والا فان كان ينقل من قبل نفسه أو من مقلد آخر أو اطلق فإن بين دليلا شرعيا فلا كلام والا ينظر فإن وافق الاصول والكتب المعتبرة يجوز العمل به وينبغي للعالم ان يطلب الدليل عليه وان خالف ما ذكر فلا يلتفت إليه فقد صرحوا أن المقلد أن افتى بلا نقل عن المعتبرات فلا ينظر إلى فتواه، فإذا عرفت هذه القاعدة، فاعلم أن الحدادى(1) وامثاله مقلدون لا يقدرون على الاستنباط ولا على اخراج الصحيح من الفاسد بل هم ناقلون ولم ينقلوا هذه المسئلة عن ائمتنا المجتهدين بل المصرح منهم عدم الجواز مع أنه مخالف للأصول (قال) في الاختيار ومجمع الفتاوى واخذ شيء للقرآن لا يجوز لأنَّه كالاجرة فإذا نفى الجواز عن مشابه الاجرة فكيف عنها (وفى) الخلاصة أوصى لقارئ القرآن عند قبره بشيء فالوصية باطلة (وكذا) في التاترخانية عن المحيط (وفيها) والصحيح أنه لا يجوز وان كان القارئ معينا وهكذا قال أبو نصر وكان يقول لا معنى لهذه الوصية ولصلة القارئ لقراءته

--------------------------------------------

(1) اقول على أن الحدادى جزم بخلاف ما ذكره حيث قال في كتاب الوصايا ولو أوصى لرجل بشيء ليقرأ على قبره فالوصية باطلة منه.

ইবাদতের ওপর (বিনিময় গ্রহণ) হারাম। ফকীহগণ এবং তাঁদের সমগোত্রীয় ব্যক্তিরা যা গ্রহণ করেন, তা হয় তাঁদের জন্য হাদিয়া অথবা উপার্জনে ব্যস্ত হওয়া থেকে বিরত থেকে দ্বীনি কাজে নিবিষ্ট থাকার জন্য পর্যাপ্ত ভাতা, কিংবা ইবাদত ব্যতীত অন্য কাজে পরিশ্রমের পারিশ্রমিক। সংক্ষিপ্তসার সমাপ্ত। অতঃপর তিনি হজের জন্য লোক নিয়োগের (ইজারাহ) মাসআলা উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন যে, হানাফী মাযহাবের কিতাবসমূহ 'যাহিরুর রিওয়ায়াহ'র শব্দে এর অবৈধতার বর্ণনায় পরিপূর্ণ। যেমনটি কিরমানী, শরহুল কাফী, আদাবুল মুফতীন, আল-কিফায়াহ, খুযানাতুল আকমাল, আত-তুহফাহ, আল-মাজমা', আল-মুহিত, শরহুত তাহাবী এবং অন্যান্য গ্রন্থের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। তারপর তিনি খানিয়া এবং ফাতহুল কাদীরের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন যা আমরা আগে শুরুনবুলালীর রিসালা থেকে পেশ করেছি। এরপর তিনি জাওহারাহ থেকে যা উদ্ধৃত করেছিলেন তা উল্লেখ করেছেন, যার ভাষ্য হলো: নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কুরআন তিলাওয়াতের বিনিময়ে লোক নিয়োগের বিষয়ে ফকীহগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন এটি জায়েয নেই, আবার কেউ বলেছেন এটি জায়েয এবং এটিই গৃহীত মত। আর কুনিয়াহ গ্রন্থে যাহিদী-এর ইবারত হলো: যে ব্যক্তি নিজের জন্য একটি মাদ্রাসা ও সেখানে একটি কবরস্থান তৈরি করল এবং তার জন্য একটি ভূ-সম্পত্তি ওয়াকফ করল এবং তাতে উল্লেখ করল যে এর তিন-চতুর্থাংশ তালিবে ইলমদের জন্য এবং এক-চতুর্থাংশ কবরস্থান ঝাড়ু দেওয়া, দরজা খোলা-বন্ধ করা এবং কবরের কাছে কুরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য ব্যয় হবে; আর যদি বিচারক তার এই ওয়াকফের বৈধতার ফয়সালা দেন এবং এর শেষ অংশটি ফকীরদের জন্য নির্ধারিত করেন, তবে কবরের কাছে তিলাওয়াতকারীর জন্য এবং ঝাড়ুদারের জন্য এই নির্ধারিত ভাতা গ্রহণ করা হালাল হবে। এবং কেউ কেউ বলেছেন যে তিলাওয়াতকারী যদি নির্দিষ্ট হয় তবে জায়েয, অন্যথায় নয়। সমাপ্ত। (তিনি বলেন) এটি তো নির্দেশ করছে যে তিলাওয়াতের ওপর বিনিময় গ্রহণ জায়েয। তাহলে এর জবাব কী? (আমরা বলি) এর জবাবে একটি সুনির্ধারিত মূলনীতি রয়েছে, আর তা হলো: ফিকহী মাসআলাসমূহের উৎস যদি কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমা থেকে সুবিদিত ও প্রসিদ্ধ হয়, তবে তাতে কারো কোনো বিতর্ক নেই। অন্যথায়, যদি তা ইজতিহাদী মাসআলা হয়, তবে দেখতে হবে যে কোনো মুজতাহিদ তা বর্ণনা করেছেন কি না; যদি করেন তবে দলীল ছাড়াই তাঁর অনুসরণ করা আবশ্যক। আর যদি তিনি কোনো মুজতাহিদ থেকে বর্ণনা করেন এবং সেই বর্ণনা প্রমাণিত হয়, তবে তাও অনুরূপ। অন্যথায়, যদি তিনি নিজের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেন বা অন্য কোনো মুকাল্লিদ থেকে বর্ণনা করেন অথবা অস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন, তবে যদি কোনো শারঈ দলীল বর্ণনা করেন তবে ভিন্ন কথা, অন্যথায় দেখা হবে যে তা উসুল বা মূলনীতি এবং নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না; যদি সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তার ওপর আমল করা জায়েয। তবে একজন আলিমের উচিত তার দলীল অনুসন্ধান করা। আর যদি তা উল্লিখিত বিষয়ের পরিপন্থী হয়, তবে সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। কেননা ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, মুকাল্লিদ যদি নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের উদ্ধৃতি ছাড়া ফতোয়া দেয়, তবে তার ফতোয়ার প্রতি কর্ণপাত করা হবে না। যখন আপনি এই মূলনীতিটি জেনে নিলেন, তখন জেনে রাখুন যে হাদ্দাদী(১) এবং তাঁর মতো ব্যক্তিরা হলেন মুকাল্লিদ। তাঁরা মাসআলা ইস্তিনবাত (উদ্ঘাটন) করতে বা সঠিক ও ভুল পৃথক করতে সক্ষম নন, বরং তাঁরা নিছক বর্ণনাকারী। আর তাঁরা এই মাসআলাটি আমাদের মুজতাহিদ ইমামদের থেকে বর্ণনা করেননি। বরং ইমামদের পক্ষ থেকে যা সুস্পষ্ট তা হলো এর অবৈধতা, তাছাড়া এটি মূলনীতিরও পরিপন্থী। (তিনি বলেন) আল-ইখতিয়ার এবং মাজমাউল ফাতাওয়া গ্রন্থে রয়েছে: কুরআনের বিনিময়ে কিছু গ্রহণ করা জায়েয নেই, কারণ এটি পারিশ্রমিকের সদৃশ। সুতরাং যখন পারিশ্রমিকের সদৃশ বিষয়ের বৈধতা অস্বীকার করা হয়েছে, তখন খোদ পারিশ্রমিকের বিষয়টি কেমন হবে (তা সহজেই অনুমেয়)। আল-খুলাসাহ গ্রন্থে রয়েছে: যদি কেউ নিজের কবরের কাছে কুরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য কোনো কিছুর অসিয়ত করে যায়, তবে সেই অসিয়ত বাতিল। তাতারখানিয়াহ গ্রন্থে মুহিত-এর উদ্ধৃতিতে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তাতে আরও রয়েছে: সঠিক মত হলো এটি জায়েয নেই, যদিও তিলাওয়াতকারী নির্দিষ্ট হয়। আবু নাসরও এমনই বলতেন এবং তিনি বলতেন, এই অসিয়তের এবং তিলাওয়াতের জন্য তিলাওয়াতকারীকে হাদিয়া দেওয়ার কোনো অর্থ নেই।

--------------------------------------------

(১) আমি বলি, হাদ্দাদী নিজে যা উল্লেখ করেছেন তার বিপরীতেই দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন, যেখানে তিনি 'কিতাবুল ওয়াসায়া'-তে বলেছেন: যদি কেউ কোনো ব্যক্তির জন্য এই অসিয়ত করে যে সে তার কবরের ওপর কুরআন তিলাওয়াত করবে, তবে তার সেই অসিয়ত বাতিল।