القسم: كتب السنة
الكتاب: سنن سعيد بن منصور
المؤلف: سعيد بن منصور (ت 227 هـ)
تحقيق: فريق من الباحثين بإشراف وعناية: أ. د. سعد بن عبد الله الحميد و د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي
الناشر: دار الألوكة للنشر، الرياض - المملكة العربية السعودية
الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م
عدد المجلدات: 3 (6 - 8)
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 10 جُمادَى الآخرة 1442
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর
লেখক: সাঈদ ইবনে মানসুর (মৃত্যু: ২২৭ হিজরি)
তাহকিক: একদল গবেষক, তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায়: প্রফেসর. ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ এবং ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসি
প্রকাশক: দারুল আলুকা পাবলিশিং, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ
খণ্ড সংখ্যা: ৩ (৬ - ৮)
[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
আল-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
= এই বর্ণনায় তিনি নিজের এবং ইবরাহিমের মধ্যবর্তী মাধ্যমকে স্পষ্ট করেছেন; আর তিনি হলেন: শুবাক আল-দব্বী। ফলে এই বর্ণনায় তাদলীসের (দোষ গোপন করার) সংশয় দূর হয়ে গেছে, আর শুবাক একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। সুতরাং এই সনদে বর্ণনাটি সহীহ, তবে আল-হারাউয়ী "যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি" গ্রন্থে গ্রন্থকারের সূত্রে এই বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন, সেখানে দুটি পাণ্ডুলিপিতে "শুবাক" এসেছে এবং অপর দুটি পাণ্ডুলিপিতে "সিমাক" এসেছে; যেমনটি গবেষক উল্লেখ করেছেন। আর ইবনে জারীর এটি বর্ণনা করেছেন বিশরের সূত্রে হুশাইম থেকে যেমনটি সামনে আসবে, তাতে "শুবাক"-এর পরিবর্তে "সিমাক" রয়েছে। আর মুগীরা ইবনে মিকসাম শুবাক ও সিমাক উভয়ের থেকেই বর্ণনা করেন, তেমনি শুবাক ও সিমাক উভয়েই ইবরাহিম আল-নাখাঈ থেকে বর্ণনা করেন। আর এই সিমাক হলেন ইবনে হারব, এবং [১০১১] নং হাদিসে গত হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী। আর যদি সিমাক-কে বর্ণনাকারী ধরে নেওয়া হয়, তবে এই সনদে বর্ণনাটি হাসান হবে। আল্লাহই ভালো জানেন। আর আবু আওয়ানা এবং জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ এটি মুগীরা থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে মধ্যবর্তী মাধ্যমের উল্লেখ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে। সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/ ৫০১) গ্রন্থে বর্ণনাটি ইবনে জারীরের দিকে এবং (১৩/ ৬৩৬) গ্রন্থে ইবনে মুনযিরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। এবং আল-হারাউয়ী এটি "যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি" (৫৫২) গ্রন্থে গ্রন্থকারের সূত্রে সংকলন করেছেন। ইবনে জারীর আত-তাবারী এটি তাঁর "তাফসীর"-এ (১৩/ ৬১৫ - ৬১৬) বিশর-এর সূত্রে, হুশাইম থেকে, তিনি মুগীরাহ থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে—এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। ইবনে জারীর এটি আরও (১৩/ ৬১৫) আবু আওয়ানাহ আল-ওয়াদদাহ বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে এবং আবু নুয়াইম "হিলয়াতুল আওলিয়া"-তে (৪/ ২৩১) জারীর বিন আব্দুল হামীদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই মুগীরাহ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে—এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে মুগীরাহ ও ইবরাহীমের মাঝখানে কোনো মধ্যস্থতাকারীর উল্লেখ নেই। (১) [১৭৯] নং হাদীসের তাখরীজে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, সে পরিত্যক্ত (মাতরুক) এবং রাফেযী। (২) [৮৭৪] নং হাদীসে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ও মহান ফকীহ, তবে তিনি প্রচুর ইরসাল ও তাদলীস করেন। (৩) তিনি হলেন: কায়স বিন আস-সাকান, আল-আসাদী, আল-কূফী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তিনি সত্তর হিজরী সনের পূর্বে ইন্তেকাল করেন যেমনটি হাফিয "আত-তাকরীব" গ্রন্থে বলেছেন। দেখুন: "আত-তারীখুল কাবীর" (৭/ ১৪৫), "আল-জারহু ওয়াত-তাদীল" (৭/ ৯৮), ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত" (৫/ ৩০৯) এবং "তাহযীবুল কামাল" (২৪ - ৫০/ ৫৩)। [১১৮০] এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল; আমর বিন সাবিতের তীব্র দুর্বলতার কারণে। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ সম্ভাবনা এই যে, এটি ইসরাঈলী বর্ণনা সমূহের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থকারের নিকট এটি [২৭৭৯] নম্বরে পুনরায় আসবে।--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(১) তিনি হলেন আর-রাসাসি, ৬ নম্বর হাদিসে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি একজন সত্যবাদী বর্ণনাকারী। (২) তিনি হলেন ইবনে উতাইবাহ। (৩) তাউস হলেন ইবনে কাইসান, আতা হলেন ইবনে আবি রাবাহ এবং ইকরিমাহ হলেন ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস। মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই এসেছে: "আমি তাউসকে জিজ্ঞাসা করেছি ইত্যাদি", এবং "আদ-দুররুল মানসুর" ও "মাআনিল কুরআন" গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে অন্যান্য উৎসসমূহে এই তিনটি নামের ধারাবাহিকতায় আগে-পিছে করে "তাউস, ইকরিমাহ ও আতা থেকে" এভাবে বর্ণিত হয়েছে। "তাউস" নামটিতে 'সারফ' বা তানভিন হওয়া বৈধ—আর এটিই অধিক প্রচলিত—আবার তানভিন না হওয়াও বৈধ। যারা এতে তানভিন ব্যবহার করেছেন, তারা মনে করেন এটি একটি আদি আরবি শব্দ এবং এটি আরবদের এই কথা থেকে নির্গত: "নারীটি সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে", যখন সে নিজেকে সুশোভিত করে। আর যারা একে 'গাইরে মুনসারিফ' বা তানভিনহীন হিসেবে গণ্য করেন, তারা মনে করেন এটি একটি অনারবি শব্দ। ডক্টর এফ. আব্দুর রহিম বলেন: এটি একটি আরবিকৃত গ্রিক শব্দ, যার মূল হলো হামযাহসহ "তাউস"। তারা একে "ফাউল" ওজনের অন্তর্ভুক্ত করেছে; কারণ আরবি শব্দগঠন কাঠামোতে "ফাউল" ওজনের অনুপস্থিতি রয়েছে। দেখুন: জাওয়ালিকীর "আল-মুয়াররাব" (পৃ. ৪৪৩), এবং দেখুন: "লিসানুল আরব" ও "তাজুল আরুস" (ত্বা এবং সিন বর্ণ), এবং ইবরাহিম আল-সামাররাই-এর "দিরসাত ফিল লুগাতাইন আস-সুরইয়ানিয়্যাহ ওয়াল আরাবিয়্যাহ" গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত "আরবি ও সুরইয়ানি ভাষার মাঝে ফাউল" শীর্ষক গবেষণা (পৃ. ১৪৭)। [১১৮৯] এর সনদ হাসান; আবদুর রহমান বিন জিয়াদের অবস্থার কারণে, তবে এর সমর্থনে অন্য বর্ণনা (মুতাবায়াত) রয়েছে যা সামনে আসবে; সুতরাং এই আসারটি (বর্ণনাটি) সহিহ। সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/ ৫৫৯) গ্রন্থে একে ইবনে আবি শাইবাহ, ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিমের দিকে নিসবত করেছেন। এটি ইবনে আবি শাইবাহ (১৬০৬২) ওয়াকি ও মুহাম্মদ বিন জাফর গুন্দার থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে জারির তাঁর "তাফসির" (১৩/ ৬৯৯) গ্রন্থে ওয়াকি, গুন্দার, আলী বিন আল-জাদ, ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ, শাবাবাহ ও আদম বিন আবি ইয়াস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তারা সকলে (ওয়াকি, গুন্দার, ইবনে আল-জাদ, ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ, শাবাবাহ ও আদম) শু’বাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে জারিরের নিকট গুন্দারের বর্ণনায় "আতা কিংবা তাউস"-এর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ইবনে জারিরের নিকট ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ, শাবাবাহ ও ইবনে আল-জাদের বর্ণনায় "শু’বাহ"-এর পরিবর্তে "সাঈদ" নাম এসেছে; যদিও "আল-জাদিয়্যাত" ও "মাআনিল কুরআন" গ্রন্থে এটি সঠিকভাবে (শু’বাহ হিসেবেই) এসেছে।--------------------------------------------
--------------------------------------------
(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে, এবং ইবনুল জা'দের বর্ণনায়ও অনুরূপ রয়েছে, তবে তিনি বলেছেন: "আতা, তাউস এবং ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন।" অথচ প্রচলিত নিয়ম হলো: "তারা বলেছেন" অর্থাৎ: তাউস, আতা এবং ইকরিমাহ। তাঁর এই উক্তি "তিনি বলেছেন" শব্দটিকে কয়েকটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে: প্রথমত: তিনি বুঝিয়েছেন যে, তাদের প্রত্যেকেই বলেছেন, অথবা: তারা সকলেই বলেছেন। এক্ষেত্রে ফায়িল বা কর্তা হবে একটি উহ্য সর্বনাম যা প্রসঙ্গের মর্মার্থের দিকে ফিরে যায়; এর উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: {তিনি এর পিঠে কোনো জীবজন্তুকে অবশিষ্ট রাখতেন না} [ফাতির: ৪৫] অর্থাৎ: পৃথিবীর পিঠে, এবং {যতক্ষণ না তা পর্দার আড়ালে আত্মগোপন করল} [সোয়াদ: ৩২], অর্থাৎ: সূর্য; অথচ এ দুটির কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে দেখুন: আবু হাইয়ানের "ইরতিশাফুদ দারাব" (২/ ৯৪১ - ৯৪৩), এবং সুয়ূতির "হামউল হাওয়ামি" (১/ ২৬৩)। দ্বিতীয়ত: কর্তার সর্বনামটি এই তিনজনের কোনো একজনের দিকে ফিরে যাবে; আর এখানে কেবল একজনের সাথে সংশ্লিষ্ট উক্তির ক্রিয়াটি উল্লেখ করা হয়েছে তার সমজাতীয় অন্যদের বর্ণনার পরিবর্তে এটিকেই যথেষ্ট মনে করে; যেমন আশ-শানফারার উক্তি [তাবিল ছন্দ থেকে]: এবং গুমাইসাতে আমার থেকে পৃথক হয়ে একপাশে বসে ভোর অতিবাহিত করল দুটি দল, যাদের একটি জিজ্ঞাসিত এবং অন্যটি জিজ্ঞাসা করছে। এখানে "আসবাহা"-এর খবর "জালিসান"-কে দ্বিবচন করা হয়নি, যদিও এর ইসম তথা বিশেষ্য "ফারিকানি" শব্দটি দ্বিবচন। এটি অর্থের প্রসার এবং মূল নিয়ম থেকে বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত; ফলে একবচন দ্বিবচন বা বহুবচনের অর্থ প্রদান করে, দ্বিবচন একবচন বা বহুবচনের অর্থ প্রদান করে এবং বহুবচন একবচন বা দ্বিবচনের অর্থ প্রদান করে। দেখুন: "ই'রাব লামিয়াতুশ শানফারা" (পৃ. ১২৯) এবং "হামউল হাওয়া-মি" (১/১৯৪)। তৃতীয়ত: এখানে "ক্বলা" এর মূল রূপ হবে "ক্বলা-উ" অর্থাৎ সেই তিনজন। ফলে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর প্রমাণ হিসেবে 'যম্মাহ' রাখা হয়েছে; তখন ক্রিয়াটি "ক্বলা-উ" হিসেবে পঠিত হয়। এটি হরফে মাদ্দ-এর পরিবর্তে হারাকাত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা সংক্ষেপ করার অন্তর্ভুক্ত, যা কিছু আরবের ভাষাভঙ্গি এবং এর অনেক প্রমাণ রয়েছে; দেখুন: ইবনে জিন্নি রচিত "আল-খাসাইস" (৩/১৩৩-১৩৬), তাঁর রচিত "সিররু সিনাআতিল ই'রাব" (২/৬৩১-৬৩২) এবং ইবনুল আম্বারি রচিত "আল-ইনসাফ" (১/৩৮৫-৩৯১), (২/৫৪৪-৫৪৭)। (২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই রয়েছে; এর অর্থ হবে: "তাদের প্রবৃত্তিকে করে দিন"। জুমহুর বা অধিকাংশের কিরাত {তাহওয়ি}-এর বিপরীতে এই তিনজনের (তাউস, আতা এবং ইকরিমাহ) কোনো বর্ণনা আমরা পাইনি। জুমহুরের কিরাতকেও ঝোঁক, ভালোবাসা, টান ও আকুলতা দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী বর্ণনার টীকায় এর উপকারিতা দেখুন।--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
= এবং একে তানভীন ছাড়া আলিফযুক্ত হওয়ার ওপরও ব্যাখ্যা করা সম্ভব; ইবনে জিন্নি উল্লেখ করেছেন যে, আরবদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা সমস্ত গায়রে মুনসারিফ শব্দের ওপর—যখন তা নসবের অবস্থায় থাকে—আলিফ দিয়ে ওয়াকফ করেন; ফলে তারা বলেন: আমি আহমাদকে দেখেছি (আহমাদা), এবং আমি উছমানের সাথে কথা বলেছি (উছমানা); এটি তাদের কাছে আলিফ উচ্চারণ হালকা হওয়ার কারণে এবং কবিতায় গায়রে মুনসারিফ শব্দকে মুনসারিফ হিসেবে ব্যবহার করার অভ্যাসের কারণে। দেখুন: ইবনে জিন্নির "সিররু সিনাআতিল ই'রাব" (২/৬৭৭), মাক্কি ইবনে আবি তালিবের "মুশকিলু ই'রাবিল কুরআন" (২/৭৮৩ - ৭৮৪), "মুগনিল লাবীব" (পৃ. ১৯৫), "হামউল হওয়ামি" (১/১৩১ - ১৩৩), আবু শামার "ইবরাযুল মা'আনি মিন হিরযিল আমানি" (পৃ. ৭১৩ ও ৭১৫), আবু হাইয়ানের "আল-বাহরুল মুহিত" (৮/৩৩৬ ও ৩৮৭), খালিদ আল-আযহারির "শারহুত তাসরিহ" এবং "শারহুল আশমুনি" (গায়রে মুনসারিফ অধ্যায়ের শেষ)। এবং দ্বিতীয় জটিলতাটি হলো: তার উক্তি: "অতঃপর তারা ঝুলাল", আর এর প্রচলিত বিশুদ্ধ রূপ হলো: "অতঃপর তারা সেগুলোকে বাঁধল" অর্থাৎ: সিন্দুকগুলো, আর মূলে যা রয়েছে তাতে কর্মপদ বা তার সর্বনামটি উহ্য রাখা হয়েছে কারণ তা আগে থেকেই জানা ছিল। এবং ইবনু জিন্নির "আল-খাসাইস" (২/ ৩৭২), "মুগনী আল-লাবীব" (পৃ. ৭৯৭ - ৭৯৯) এবং "হামউ আল-হাওয়াউমি" (২/ ১১ - ১৩) দেখুন। (১) অর্থাৎ: পড়ে যাওয়া; বলা হয়ে থাকে: কোনো বস্তু পড়ে গিয়েছে (হওয়া), পড়ে গিয়েছে (আহওয়া), নিপতিত হয়েছে (ইনহাওয়া)। "তাজুল আরূস" (হা-ওয়া-ইয়া)। (২) তিনি হলেন: ইবনু দীনার। (৩) তিনি ইবনু আব্বাসের মুক্ত দাস, [৪৬৬] নং হাদিসে অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সরাসরি শোনেননি। [১১৯২] এর সনদ দুর্বল; ইকরিমা ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাঝে বর্ণনাসূত্র বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে। আস-সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/ ৫৬৯)-এ একে গ্রন্থকার, আবু উবায়েদ, ইবনু জারীর, ইবনু মুনযির এবং ইবনুল আনবারীর "আল-মাসাহিফ"-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন। আবু উবায়েদ "ফাযায়িলুল কুরআন" (পৃ. ৩০৪)-এ এবং ইবনু জারীর তাবারী তার "তাফসীর" (১৩/ ৭২০)-এ ইবনু জুরাইজ থেকে আমর ইবনু দীনারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। (৪) এভাবেই কিরাতটি {কানা}-এর পরিবর্তে {কাদা} শব্দ দিয়ে এবং প্রথম লাম-এ ফাতহাহ ও দ্বিতীয় লাম-এ রাফা (পেশ) দিয়ে {লিতাযুলু} হিসেবে এসেছে। এটি উমর, আলী, ইবনু মাসউদ, উবাই—তার পক্ষ থেকে ভিন্ন বর্ণনাসহ—আমর ইবনু দীনার, ইকরিমা এবং অন্যদের কিরাত। দশজন ইমামের কেউ বা চারজন বিরল (শায) পাঠকদের কেউ এই দুটি শব্দ একত্রে এভাবে পড়েননি, তবে সাতজন ইমামের মধ্য থেকে কিসায়ী {লিতাযুলু} পড়েছেন, এবং একইভাবে শায পাঠকদের মধ্য থেকে ইবনু মুহাইসিন পড়েছেন। মূল পাণ্ডুলিপিতে {লিতাযুলু} শব্দটি হরকত দিয়ে সুনির্দিষ্ট করা ছিল না, তবে যারা এই কিরাতটি উল্লেখ করেছেন তারা এর হরকত নির্ধারণ করেছেন। =--------------------------------------------
--------------------------------------------
= জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের কিরাত হলো: {যদিও তাদের চক্রান্ত পাহাড় টলিয়ে দেওয়ার মতো ছিল}। এই কিরাত এবং এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্য দেখুন: আন-নাহহাস রচিত "ই’রাবুল কুরআন" (২/৩৭৫), ইবনুল জিন্নি রচিত "আল-মুহতাসিব" (১/৩৬৫ - ৩৬৬), আবু হাইয়ান রচিত "আল-বাহরুল মুহিত" (৫/৪২৫ - ৪২৬), আস-সামীন আল-হালাবি রচিত "আদ-দুররুল মাসুন" (৭/১২৬ - ১২৭) এবং আব্দুল লতিফ আল-খতিব রচিত "মু’জামুল কিরাত" (৪/৫১৪ - ৫১৭)। (১) ইতিপূর্বে [১৮৬] নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিশ্বস্ত (সিকাহ)। (২) তিনি হলেন: ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান। ইতিপূর্বে [১৭৪] নং হাদিসের তাহরিজে (উৎস বর্ণনায়) অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি সত্যবাদী, তবে মাঝেমধ্যে ভ্রমে পতিত হন। [১১৯৩] সুদ্দী থেকে এর সনদ সহীহ, তবে তিনি এটি কার থেকে গ্রহণ করেছেন তা উল্লেখ করেননি। আবু নুআয়ম এটি 'সিফাতুল জান্নাহ' (১৪২) গ্রন্থে হাকাম ইবনে যুহাইরের সূত্রে, সুদ্দী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাআলার বাণী: {যেদিন এই জমিনকে অন্য জমিনে পরিবর্তন করা হবে} সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "একে একটি ধবধবে সাদা ও স্বচ্ছ রুটি দ্বারা পরিবর্তন করা হবে, এমনকি মুমিন ব্যক্তি তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান থেকে আহার করবে।" এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল; কারণ হাকাম ইবনে যুহাইর সম্পর্কে হাদিস নং [৪২১]-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি পরিত্যক্ত এবং তার বিরুদ্ধে রাফেযী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর সুদ্দীর পিতা হলেন আবদুর রহমান ইবনে আবি কারিমা, যিনি 'তাকরীব' গ্রন্থ অনুযায়ী অজ্ঞাত পরিচয়। (৩) তাঁর উক্তি: "একটি জমিন দ্বারা পরিবর্তিত হবে" মূল গ্রন্থে এভাবেই আছে। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, (ব-দ-ল) শব্দমূল ও এর শাখাগুলোতে 'বা' (ب) বর্ণটি যা গ্রহণ করা হয়েছে তার ওপর যুক্ত হওয়া বৈধ, যা বর্জন করা হয়েছে তার ওপর নয়। 'আল-মিসবাহুল মুনীর' (ব-দ-ল) গ্রন্থে এর পাঠ নিম্নরূপ: "আমি এটি দিয়ে ওটি পরিবর্তন করেছি—এর অর্থ হলো আমি প্রথমটিকে সরিয়ে দিয়েছি এবং দ্বিতীয়টিকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছি।" 'মুখতারুস সিহাহ' (ব-দ-ল) গ্রন্থে এসেছে: "আবদাল: তারা এমন একদল পুণ্যবান লোক যাদের থেকে পৃথিবী কখনো শূন্য হয় না; যখন তাদের একজন মারা যান, আল্লাহ তাআলা তার স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন।" সমাপ্ত। 'তাজুল আরুস' (ব-দ-ল) গ্রন্থে এসেছে: "সা’লাব বলেছেন: বলা হয়, আমি আংটিটি কড়া দ্বারা পরিবর্তন করেছি, যখন আপনি এটিকে সরিয়ে এর স্থলে ওটিকে স্থাপন করবেন।"--------------------------------------------
--------------------------------------------
= এবং আমি আংটিকে রিং দ্বারা পরিবর্তন করেছি—যখন আমি তা গলিয়েছি এবং তা দিয়ে একটি রিং তৈরি করেছি; আবার রিংকে আংটি দ্বারা পরিবর্তন করেছি—যখন আমি তা গলিয়েছি এবং তা দিয়ে একটি আংটি তৈরি করেছি। তিনি বলেন: এর প্রকৃত রহস্য হলো, 'তাবদীল' হলো মূল বস্তু ঠিক রেখে এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন করা, আর 'ইবদাল' হলো মূল বস্তুকে সরিয়ে ফেলে নতুন অন্য একটি বস্তু নিয়ে আসা। আবু আমর বলেন: আমি এটি মুবাররাদের নিকট পেশ করলে তিনি একে চমৎকার বলেন এবং এতে আরও সংযোজন করে বলেন: আরবরা 'বাদালতু' এর স্থলে 'আবদালতু' শব্দটিও ব্যবহার করে থাকে। আর গৃহীত বস্তুর ওপর 'বা' বর্ণ প্রবেশের এটি আরেকটি উদাহরণ, যা তুফাইল ইসলাম গ্রহণের সময় বলেছিলেন: এবং তিনি আমার দুর্ভাগ্যের উদয়স্থলকে সৌভাগ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন। এক্ষেত্রে যার-মাজরুর (অব্যয় ও তার পরবর্তী শব্দ) 'বাদালা' ক্রিয়া এবং এর থেকে উৎপন্ন রূপসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক অথবা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে হোক—তাতে কোনো পার্থক্য নেই। উস্তাদ আব্বাস হাসান কর্তৃক ভাষা একাডেমিতে উপস্থাপিত একটি গবেষণা থেকে সমাপ্ত, "কিতাবুল আলফায ওয়াল আসালীব", ৩৫তম থেকে ৪১তম অধিবেশন (পৃষ্ঠা ৩৬-৩৭)। এবং দেখুন "উকুদুয যুবরজাদ" (১/ ১৮৬-২০০)। (১) তিনি হলেন: আব্দুল আযীয ইবনে সালামাহ ইবনে দীনার, [৭৯০] নং হাদীসে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী এবং ফকীহ। [১১৯৪] গ্রন্থকারের সনদে আবদুল আজিজ বিন আবি হাজিম রয়েছেন, যাঁর সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। তবে তিনি এই বর্ণনায় একাকী নন, বরং হাদিসটি সহিহ এবং সামনে আসার ন্যায় এটি "সহিহাইন"-এ (বুখারি ও মুসলিম) সংকলিত হয়েছে। সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/৫৭৭) গ্রন্থে একে বুখারি, মুসলিম, ইবনে জারির এবং ইবনে মারদুওয়াহর সংকলনভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার "ফাতহুল বারি" (১১/৩৭৫) গ্রন্থে একে গ্রন্থকারের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। ইবনে হিব্বান (৭৩২০) মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ আল-জুবাইরির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানি "আল-মু'জামুল কাবির" (৬/নং ৫৯০৮) গ্রন্থে ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিয়ির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে ইবনে আবি হাজিমের মাধ্যমে উক্ত রাবির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবনে আবি শাইবা তাঁর "মুসনাদ" (৯৬) গ্রন্থে—এবং তাঁর সূত্রে মুসলিম (২৭৯০)—খালিদ বিন মাখলাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; এছাড়া বুখারি (৬৫২১), আর-রুইয়ানি তাঁর "মুসনাদ" (১০৬৯) গ্রন্থে, ইবনে জারির তাবারানি তাঁর "তাফসির" (১৩/৭৩২) গ্রন্থে এবং তাবারানি "আল-মু'জামুল কাবির" (৬/নং ৫৮৩১) গ্রন্থে সাঈদ বিন আবি মারইয়ামের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে (খালিদ এবং ইবনে আবি মারইয়াম) মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি কাসির থেকে, তিনি আবু হাজিম থেকে উক্ত রাবির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে সাঈদ বিন আবি মারইয়াম তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: "সাহল অথবা অন্য কেউ বলেছেন: এতে কারো জন্য কোনো চিহ্ন নেই।" হাফেজ ইবনে হাজার "হাদি আস-সারি" (পৃ. ৩৩৬) গ্রন্থে বলেছেন: "তাঁর উক্তি: 'সাহল অথবা অন্য কেউ বলেছেন: এতে কারো জন্য কোনো চিহ্ন নেই', এখানে 'অন্য কেউ' দ্বারা আবু হাজিম কাকে বুঝিয়েছেন তা আমি জানি না।" এবং দেখুন "ফাতহুল বারি" (১১/৩৭৫)। =--------------------------------------------
--------------------------------------------
= এবং এটি বর্ণনা করেছেন ইবন আবি দাউদ তাঁর ‘আল-বাস’ (২১) গ্রন্থে, এবং ইবন আবি হাতিম তাঁর ‘তাফসির’ গ্রন্থে—যেমনটি ‘তাফসির ইবন কাসির’ (১৪/২৪১)-এ বর্ণিত হয়েছে—মুসআব বিন সাবিতের সূত্রে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল বিন সাদ আস-সাঈদি থেকে; {অতঃপর তারা এক উন্মুক্ত প্রান্তরে উপস্থিত হবে} [আন-নাযিআত: ১৪] তিনি বলেন: একটি সাদা ও লালচে-সাদা ভূমি, যা স্বচ্ছ আটার তৈরি রুটির মতো। (১) তাঁর কথা: "সাদা ও লালচে-সাদা ভূমির উপর" অর্থাৎ: এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ধবধবে সাদা নয়, বরং এর শুভ্রতা লালাভ আভার মিশ্রিত, আর এটি হচ্ছে ভূমির ধূলির রঙের মতো, অর্থাৎ তার উপরিভাগ। আবার বলা হয়েছে: এমন এক সাদা ভূমি যা আগে কখনও পদদলিত বা ব্যবহৃত হয়নি। আরও দেখুন: হারবির ‘গারিবুল হাদিস’ (১/১৯৪-১৯৫), আবু উবাইদের (৩/১২-১৩), খাত্তাবির (১/১৪৮), কাজি ইয়াজের ‘ইকমালুল মুয়াল্লিম’ (৮/৩২২), ইবন দুরাইদের ‘জামহারাতুল লুগাহ’ (২/৭৬৫-৭৬৬), আজহারির ‘তাহযিবুল লুগাহ’ (২/৩৫০) এবং ‘তাজুল আরুস’ (আ-ফা-রা)। (২) তাঁর বক্তব্য: "স্বচ্ছ আটার রুটির ন্যায়": আল-কুরসাহ অর্থ হলো রুটি, আর এখানে ‘তা’ অক্ষরটি একবচন বুঝিয়েছে। আন-নাকী হলো পরিষ্কার করা সাদা আটা যা চালনি দিয়ে চালা হয়েছে; তুষ থেকে মুক্ত ও স্বচ্ছ হওয়ার কারণে একে এই নামে ডাকা হয়। এ থেকে যে রুটি তৈরি করা হয় তাকে আল-হুওয়ারা বলা হয়; এর শুভ্রতার কারণে এই নামকরণ। আর আত-তাহওয়ীর অর্থ হলো সাদা করা। রুটির সাথে এই তুলনাটি আকৃতি ও রঙের ক্ষেত্রে, পরিমাণের ক্ষেত্রে নয়। দেখুন: আয-যামাখশারী রচিত "আল-ফায়েক" (৩/৬), "সহীহ মুসলিমের শরহ আন-নববী" (১৮/৫২), "ফাতহুল বারী" (১১/৩৭৫), "মিরকাতুল মাফাতীহ" (১০/১৮৮), এবং "তাজুল আরূস" (খা-ওয়াও-রা, নুন-কাফ-ইয়া)। (৩) কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: "মা’লাম", আর 'আলাম' ও 'মা’লাম' একই অর্থবোধক; যার অর্থ হলো চিহ্ন বা নিদর্শন, যা রাস্তা এবং সীমানায় চিহ্ন হিসেবে স্থাপন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো: সেখানে কোনো বসতির চিহ্ন, কোনো দালানকোঠা, কোনো পদচিহ্ন কিংবা পথ চেনার জন্য সহায়ক কোনো নিদর্শন থাকবে না, যেমন পাহাড় বা দৃশ্যমান বড় পাথর। বলা হয়েছে: এতে দুনিয়ার জমিন সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তা বিলীন হয়ে গেছে এবং তার সাথে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। দেখুন: "মাশারিকুল আনওয়ার" (২/৮৩ ও ৮৪), "ইকমালুল মুয়াল্লিম" (৮/৩২২), "তাহযীবুল লুগাহ" (২/৪১৮-৪১৯), "ফাতহুল বারী" (১১/৩৭৫), এবং "মিরকাতুল মাফাতীহ" (১০/১৮৮)।--------------------------------------------
--------------------------------------------
(১) তিনি হলেন: ইবন আবদুর রহমান আস-সুলামী, ইতিপূর্বে হাদিস নং [৫৬]-এ অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য কিন্তু শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। তবে খালিদ ইবন আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতি—যিনি এখানে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তনের পূর্বে তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত। [১১৯৫] এর সনদ সহিহ। আস-সুয়ূতী তাঁর "আদ-দুররুল মানসুর" গ্রন্থে (৮/৫৮২) এটিকে গ্রন্থকার, আবু উবায়েদ, ইবন জারীর এবং ইবনুল মুনযিরের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন। আল-বায়হাকী তাঁর "আল-বা'স ওয়ান নুশূর" গ্রন্থে (৫৮৩) গ্রন্থকারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবন জারীর তাঁর "তাফসিরে" (১৩/৭৪৪ ও ৭৪৫) হুশায়মের সূত্রে, হুসাইন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। ইবন জারীর আরও বর্ণনা করেছেন (১৩/৭৪৫) হিলাল ইবন খাব্বাবের সূত্রে, ইকরিমা থেকে, ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায়: {তাদের পোশাক হবে আলকাতরার}; তিনি বলেন: এটি তামা থেকে; {আন}: অর্থাৎ তাদের জন্য এর মাধ্যমে শাস্তি ভোগ করার সময় উপস্থিত হয়েছে। (২) মূল পাণ্ডুলিপিতে আয়াতটি যথাযথভাবে স্বরচিহ্নিত করা হয়নি। এবং {ক্বাত্বিরন} শব্দটিতে অনেকগুলো কিরাআত (পাঠরীতি) রয়েছে: জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্বারীগণ এটি পাঠ করেছেন ক্বাফ-এ ফাতহাহ (যবর), ত্ব-এ কাসরাহ (যের) এবং রা-এ ফাতহাহ (যবর) সহকারে: {ক্বাত্বিরন}। ইবনে জারীর আত-তবারী তাঁর "তাফসীর"-এ (১২/ ৭৪৩ - ৭৪৪) ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ এবং কাতাদাহ থেকে "ক্বাত্বিরন"-এর ব্যাখ্যা তামা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা মূলত গলিত তামা। অতঃপর ইবনে জারীর অন্য একটি কিরাআত উল্লেখ করেছেন যা তিনি ইকরিমাহ, ইবনে আব্বাস, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, রবী ইবনে আনাস, কাতাদাহ এবং হাসান (বসরি)-এর প্রতি নিসবত করেছেন; সেটি হলো: {ক্বাত্বিরুন আনিন}। তিনি এটিকে ক্বাফ-এ ফাতহাহ, ত্ব-এ সুকুন এবং রা-এ তানভীন সহকারে নির্ধারণ করেছেন, যেখানে "আন" হলো বিশেষণ এবং "ক্বাত্বির" হলো বিশেষ্য। তিনি "ক্বাত্বর" শব্দটিকেও তামা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। রাহিমাহুল্লাহ তাঁর "তাফসীর"-এর উভয় মুদ্রণে অক্ষরের মাধ্যমে এর স্বরচিহ্ন সুনির্দিষ্ট করেছেন। ইবনে জারীর ছাড়া অন্য কাউকে আমরা এই কিরাআতটি এই নির্দিষ্ট স্বরচিহ্নে উল্লেখ করতে দেখিনি, তবে ইবনে কুতায়বাহর "তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন" গ্রন্থে এটি এভাবেই চিহ্নিত হয়েছে; যদিও এটি স্পষ্ট যে, এটি মুহাক্কিকের (গবেষক/সম্পাদক) কাজ, ইবনে কুতায়বাহর নয়। অন্যান্য তাফসীর, কিরাআত এবং অভিধানের কিতাবসমূহে যা রয়েছে তা হলো: "ক্বাত্বির" এবং "ক্বিত্বরা" উভয়ই তামা অর্থে ব্যবহৃত। যদি ইবনে জারীরের তাফসীরের সকল পাণ্ডুলিপিতে এটি সহীহভাবে প্রমাণিত হয়, তবে সম্ভবত এটি এমন কিছু যা অন্যান্যদের দৃষ্টিগোচর হয়নি, রাহিমাহুল্লাহ। এই শব্দের ক্ষেত্রে ক্বারীগণের মতপার্থক্যের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ: =--------------------------------------------
--------------------------------------------
= ১ - {মিন ক্বাত্বিরান (আলকাতরা বা গলিত তামা থেকে)} এবং এটিই সাধারণ ক্বারীগণের কিরাত। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটি ‘আবহাল’ গাছ থেকে যা নির্গত হয় এবং যা উটের গায়ে লেপন করা হয়; আবার যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, একে তামা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ২ - {মিন ক্বাত্বিরান} এবং এটি পূর্বোক্ত {ক্বাত্বিরান}-এর একটি ভাষাগত রূপ; ওমর, আলী, ঈসা ইবনে ওমর ও ইকরিমাহ এভাবে পাঠ করেছেন। ৩ - {মিন ক্বাত্বিরান} এবং এটি {ক্বাত্বিরান}-এর তৃতীয় একটি ভাষাগত রূপ। তাবারী এই কিরাতকে ঈসা ইবনে ওমরের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, তবে একাধিক আলিম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এ পদ্ধতিতে কোনো কিরাত বর্ণিত হয়নি। ৪ - {মিন ক্বাত্বিরান} এবং এটি আলী, যায়দ ইবনে আলী, ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, হাসান, ইকরিমাহ, কাতাদাহ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, ইবনে সিরিন, সিনান ইবনে সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক, আবু সালিহ, আল-কালবী, আমর ইবনে ফায়েদ, আমর ইবনে উবাইদ এবং ঈসা ইবনে ওমর আল-হামদানীর দিকে সম্বন্ধ করা হয়। ৫ - {মিন ক্বাত্বিরান} এবং এটি পূর্বোক্ত কিরাতের অধিকাংশ পূর্বসূরীদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। তাদের সাথে যায়েদ বর্ণিত বর্ণনায় ইয়াকুব, আলক্বামাহ এবং রবী’ ইবনে আনাসকেও যুক্ত করা হয়েছে। আর "আন" শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে: যার উষ্ণতা চরম সীমায় পৌঁছেছে; এটি ‘আলাল মা-উ’ (পানি উত্তপ্ত হওয়া) থেকে গৃহীত—যখন পানি উত্তপ্ত হয়ে তাপমাত্রার চরম শিখরে পৌঁছায়। আবার বলা হয়েছে: ‘আনিন’ অর্থ—তাদেরকে এর মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার সময় হয়েছে; যা ‘সময় হওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত। উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইকরিমাহ থেকে "কাতরান", "কাতিরিন আন", "ক্বিতরিন আন" এবং "কাতরিন আন"—যেমনটি ইবনে জারীর উল্লেখ করেছেন—এই পাঠসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং এর সবকটির ব্যাখ্যাই তামা হিসেবে করা হয়েছে। এবং দেখুন: ইবনে কুতায়বাহ-র "তাবীলু মুশকিলে ই’রাবিল কুরআন" (পৃষ্ঠা ৬৯), "তাফসিরে তাবারী" (১২/ ৭৪২ - ৭৪৬), আজ-জাজ্জাজের "মাআ’নিল কুরআন" (৩/ ১৭০), আন-নাহহাসের "মাআ’নিল কুরআন" (৩/ ৫৪৬ - ৫৪৭), আল-আসবাহানীর "আল-মাবসুত ফিল কিরাআতিল আশর" (পৃষ্ঠা ২৫৭), ইবনে জিন্নি-র "আল-মুহতাসিব" (১/ ৩৬৬ - ৩৬৭), ইবনে আতিয়্যাহ-র "আল-মুহাররার" (৩/ ৩৪৮), আল-উকবারী-র "ই’রাবুল কিরাআতিল শাওয়াজ" (১/ ৭৪০), "তাফসিরে কুরতুবী" (১২/ ১৭২), আবু হাইয়্যান-এর "আল-বাহরুল মুহিত" (৫/ ৪৮), আস-সামীন আল-হালাবীর "আদ-দুররুল মাসুন" (৭/ ১৩২ - ১৩৩), ইবনে আদিলের "আল-লুবাব" (১১/ ৪১৯ - ৪১৮), আলুসীর "রুহুল মাআ’নী" (১৩/ ২৫৬ - ২৫৭), "লিসানুল আরব" ও "তাজুল আরুস" (ক্ব-ত-র, আ-ন-ই), আহমদ মুখতার উমর ও অন্যদের "মু’জামুল কিরাআত" (৩/ ২৪৪ - ২৪৫), এবং আব্দুল লতিফ আল-খতিবের "মু’জামুল কিরাআত" (৪/ ৫২৩ - ৫২৫)।--------------------------------------------
--------------------------------------------
(১) হাদীস নং [৬]-এ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন তবে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল। আর এখানে তাঁর থেকে বর্ণনাকারী হলেন খালিদ ইবন আব্দুল্লাহ আত-তহ্হান; তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটার পর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি হাদীস নং [৭৮২]-এ উল্লেখ করা হয়েছে। [১১৯৬] এর সনদটি দুর্বল; আতা ইবনুস সায়িবের স্মৃতিবিভ্রমের কারণে। আর এটি বিভিন্ন সূত্রে মুজাহিদের নিজস্ব উক্তি হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যা পরবর্তী বর্ণনায় আসবে। সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৮/৫৮৫) গ্রন্থে এটিকে গ্রন্থকার (মুসান্নিফ), হান্নাদ ইবনাস সারী তাঁর 'আয-যুহদ' গ্রন্থে, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, হাকেম এবং বায়হাকী তাঁর 'আল-বাসু ওয়ান নুশুর' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। হান্নাদ এটি "আয-যুহদ" (১৯০) গ্রন্থে উবাইদাহ বিন হুমাইদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; ইবনে জারীর তাঁর "তাফসীর" (১৪/৯) গ্রন্থে আবু আওয়ানাহ আল-ওয়াদদাহ বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে, এবং ইবনে জারীর আরও বর্ণনা করেছেন (৪/১০ ও ১৩); হাকিম "আল-মুস্তাদরাক" (২/৩৫৩) গ্রন্থে জারীর বিন আব্দুল হামীদের সূত্রে; এবং আজুরী "আশ-শারীআহ" (পৃষ্ঠা ৭৭৬) গ্রন্থে ইবরাহীম বিন তাহমান-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই (উবাইদাহ, আবু আওয়ানাহ, জারীর এবং ইবরাহীম) আতা ইবনুস সাইব-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। আর ইবনু আবুদ দুনিয়া "হুসনুয যান বিল্লাহ" (১২৯) গ্রন্থে এবং ইবনে জারীর তাঁর "তাফসীর" (১৪/১২) গ্রন্থে হাম্মাদ বিন সালামাহ-এর সূত্রে, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে—তাঁর (মুজাহিদের) বক্তব্য হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন। আতা ইবনুস সাইব থেকে হাম্মাদ বিন সালামাহ-এর বর্ণনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে: জুমহুর বা অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, তিনি তাঁর কাছ থেকে ইখতিলাত (স্মৃতিবিভ্রম) হওয়ার পূর্বে শুনেছেন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান এই মত পোষণ করেছেন যে, তিনি তাঁর কাছ থেকে ইখতিলাতের পূর্বে এবং পরে উভয় সময়ে শুনেছেন এবং তিনি এই দুই সময়ের বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না। তবে ইবনু আবুদ দুনিয়ার নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর সূত্রে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন; কারণ ইবনু আবুদ দুনিয়া এটি ইয়াহইয়া বিন হাবীব বিন আরাবি থেকে, তিনি একজন শায়খ থেকে এবং তিনি হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে জারীর এটি আল-মুসান্না বিন ইবরাহীম থেকে, তিনি হাজ্জাজ বিন মিনহাল থেকে এবং তিনি হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন; আর তাবারীর উস্তাদ মুসান্না-এর (বর্ণনাকারী হিসেবে) অবস্থা জানা নেই। ইবনে জারীর তাঁর "তাফসীর" (১৪/৯) গ্রন্থে এবং বায়হাকী "আল-বা'স ওয়ান নুশুর" (৮০) গ্রন্থে আলী বিন আবু তালহার সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি "ইয়াউদ্দু" হিসেবে ওয়াও এবং আলিফ যোগে লেখা হয়েছে, যা একটি স্পষ্ট ভুল।--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
(১) হাদিস নং [১৯২]-এ অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে তাঁর প্রতি শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। [১১৯৮] এর সনদ সহিহ। আবুল জাওযার ওপর এটি মাওকুফ হওয়ার কারণে একে ত্রুটিপূর্ণ বলা হয়েছে, তবে বিশুদ্ধ মত হলো এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান এবং হাকেম একে সহিহ বলেছেন। একইভাবে শেখ আলবানীও একে সহিহ বলেছেন যেমনটি সামনে আসবে। সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৮/ ৬০৪ - ৬০৫) গ্রন্থে একে মূল গ্রন্থকার, তায়ালিসি, আহমাদ, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির, ইবনে মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, ইবনে মারদুওয়াহ এবং বাইহাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন। ওয়াহিদি 'আসবাবুন নুযুল' (পৃষ্ঠা ২৮৩) গ্রন্থে মূল গ্রন্থকারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তায়ালিসি তাঁর 'মুসনাদ' (২৮৩৫) গ্রন্থে নূহ ইবনুল কাইসের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। এটি আহমাদ তাঁর "আল-মুসনাদ" গ্রন্থে (১/ ৩০৫, নম্বর ২৭৮৪) সুরাইজ ইবনে আন-নু’মান থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে মাজাহ (১০৪৬) হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ ও আবু বকর ইবনে খাল্লাদ থেকে; এবং তিরমিযী (৩১২২) ও নাসাঈ (৮৭০) কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ থেকে; এবং আল-বাযযার (৫২৯৬) ইসমাঈল ইবনে হাফস ও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক থেকে; এবং আল-বাযযার একই স্থানে, এবং ইবনে জারীর আত-তাবারী তাঁর "তাফসীর" গ্রন্থে (১৪/ ৫৩) মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হারাশী থেকে; এবং আল-বাযযার (৫২৯৬) ও ইবনে খুযাইমাহ (১৬৯৭) আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না থেকে; এবং ইবনে জারীর (১৪/ ৫৪) উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা ও মালিক ইবনে ইসমাঈলের সূত্রে; এবং ইবনে খুযাইমাহ (১৬৯৭) আল-ফাদল ইবনে ইয়াকুব থেকে; এবং ইবনে খুযাইমাহ (১৬৯৬) ও ইবনে হিব্বান (৪০১) নাসর ইবনে আলীর সূত্রে; এবং আন-নাহহাস তাঁর "মা'আনিল কুরআন" গ্রন্থে (৪/ ২১-২২) মুসলিম ইবনে ইবরাহীমের সূত্রে; এবং তাবারানী "আল-কাবীর" গ্রন্থে (১২/ নম্বর ১২৭৯১) বিশর ইবনে হাজার ও আফফান ইবনে মুসলিমের সূত্রে; এবং আল-হাকিম "আল-মুস্তাদরাক" গ্রন্থে (২/ ৩৫৩) আবু উমর হাফস ইবনে উমরের সূত্রে; তাঁরা সকলেই (সুরাইজ, হুমাইদ, ইবনে খাল্লাদ, কুতাইবাহ, ইসমাঈল, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক, মুহাম্মদ ইবনে মুসা, মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, মালিক ইবনে ইসমাঈল, আল-ফাদল ইবনে ইয়াকুব, নাসর ইবনে আলী, মুসলিম ইবনে ইবরাহীম, বিশর ইবনে হাজার, আফফান এবং হাফস ইবনে উমর) নুহ ইবনে কাইস থেকে উক্ত সূত্রের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন। আহমাদ এটি "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল" (২৭৬৫) গ্রন্থে ওয়াকি'র সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং আল-হাকিম "আল-মুস্তাদরাক" (২/ ৩৫৩) গ্রন্থে আবু হুযাইফা মুসা বিন মাসউদ আন-নাহদীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই (ওয়াকি' এবং আবু হুযাইফা) সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: {অগ্রগামীগণ} হলো সামনের সারিসমূহ, এবং {পশ্চাৎপদগণ} হলো:--------------------------------------------
--------------------------------------------
= শেষ কাতারগুলো। ওকী‘ বলেছেন: "আমরা মনে করি যে তিনি হলেন আবান বিন আবী আয়্যাশ"; অর্থাৎ: সেই ব্যক্তি যিনি সুফিয়ান এবং আবুল জাওযার মাঝে রয়েছেন। আর আব্দুর রাজ্জাক তাঁর "তাফসীর"-এ (১/৩৪৮) এটি বর্ণনা করেছেন - এবং তাঁর সূত্রে ইবনে জারীর তাঁর "তাফসীর"-এ (১৪/৫৩) - জাফর বিন সুলাইমান থেকে, তিনি আমর বিন মালিক থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে; মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে: {আর অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে যারা অগ্রগামী তাদের জানি} অর্থাৎ সালাতের কাতারের ক্ষেত্রে, এবং {আর যারা পশ্চাদগামী (তাদেরও জানি)}। তিরমিযী পূর্বোক্ত স্থানে বলেছেন: "আর জাফর বিন সুলাইমান এই হাদীসটি আমর বিন মালিক থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে 'ইবনে আব্বাস থেকে' কথাটি উল্লেখ করেননি; আর এটি নূহ (বিন কায়স)-এর হাদীসের চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ হওয়ার নিকটবর্তী।" আর বাযযার বলেছেন: "আমরা জানি না যে ইবনে আব্বাস ছাড়া আর কেউ এই হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হওয়ার জন্য এই সূত্রটি ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই।" আর আবু নুআইম এটি "আল-হিলয়াহ" (৩/৮১) গ্রন্থে তায়ালিসীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আবুল জাওযা থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে এটি একটি গরীব (অপ্রসিদ্ধ) হাদীস, নূহ বিন কায়স এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একক হয়ে গেছেন।" আর হাকেম বলেছেন: "এই হাদীসটির সনদ সহীহ, কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আমর বিন আলী বলেছেন: নূহ বিন কায়স আত-ত্বহী সম্পর্কে দলিলসহ কেউ কোনো নেতিবাচক কথা বলেননি, এবং সুফিয়ান সওরীর হাদীসে এর ভিত্তি রয়েছে ইত্যাদি।" আর পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, সুফিয়ান সওরী এটি মূলত এমন একজন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেননি, তিনি আবুল জাওযা থেকে; আর পূর্বে এটিও অতিবাহিত হয়েছে যে ওকী‘ বলেছেন: "আমরা মনে করি যে তিনি হলেন আবান বিন আবী আয়্যাশ।" আবু জাফর আন-নাহহাস এটি তাঁর 'মা'আনিল কুরআন' (৪/ ২১) গ্রন্থে সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আবান বিন আবি আয়্যাশ থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবান সম্পর্কে ইতিপূর্বে [৪] নম্বর হাদিসে অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত। ইবনে কাসির তাঁর 'তাফসির' (৮/ ২৫৩ - ২৫৪) গ্রন্থে বলেছেন: "এ বিষয়ে একটি অত্যন্ত অপ্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে", অতঃপর তিনি সেটি উল্লেখ করেন এবং বলেন: "এই হাদিসটিতে চরম অসংলগ্নতা রয়েছে", এরপর তিনি জাফর বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত আবদুর রাজ্জাকের বর্ণনাটি উল্লেখ করেন এবং বলেন: "প্রকাশ্যত এটি কেবল আবুল জাওযার বক্তব্য, এতে ইবনে আব্বাসের কোনো উল্লেখ নেই", অতঃপর তিনি ইমাম তিরমিযীর অগ্রাধিকারমূলক মতটি উল্লেখ করেন। শাইখ আলবানী ইমাম তিরমিযীর উত্থাপিত ত্রুটি নিরসন এবং নূহ বিন কায়সের বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে 'আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ' (৫/ ৬০৮ - ৬১২, নম্বর ২৪৭২) গ্রন্থে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন। (১) তিনি হলেন: আমর বিন মালিক আন-নুক্রি, আবু ইয়াহইয়া অথবা আবু মালিক আল-বাসরি। তিনি একশত ঊনত্রিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সত্যবাদী বর্ণনাকারী। ইমাম বুখারী তাঁর 'আত-তারিখুল কাবীর' (৬/ ৩৭১, নম্বর ২৬৭২) গ্রন্থে এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'আল-জারহু ওয়াত-তাদিল' (৬/ ২৫৯, নম্বর ১৪২৭) গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন; তবে তাঁরা তাঁর সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক বা ইতিবাচক মন্তব্য করেননি। ইবনে মাঈন তাঁকে বিশ্বস্ত বলে সত্যায়ন করেছেন, যেমনটি 'সুয়ালাতু ইবনিল জুনাইদ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।--------------------------------------------
--------------------------------------------
= (৭১০), এবং ইবনু হিব্বান তাকে "আস-সিকাত" (৭/ ২২৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তার ছেলের বর্ণনা ব্যতিরেকে তার হাদিস নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।" এবং তিনি "মাশাহীরু উলামাইল আমসার" (পৃ. ১৫৫) গ্রন্থে বলেছেন: "তার ছেলের বর্ণনার কারণে তার হাদিসে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) বিষয়াবলি প্রবেশ করেছে, তবে তিনি নিজে অত্যন্ত সত্যবাদী।" এবং তিনি "আল-মাজরুহীন" (৩/ ১১৪) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনু আমর ইবনু মালিক আন-নুকরির জীবনীতে বলেছেন: "তিনি তার পিতার কাছ থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনাকারী ছিলেন। এর কারণ তিনি নিজে হতে পারেন, অথবা তার পিতা হতে পারেন, অথবা তারা উভয়ই হতে পারেন। স্পষ্ট হওয়ার আগে কোনো মুসলিমের উপর জরাহ (দোষারোপ) করা আমরা বৈধ মনে করি না। বরং ওয়াজিব হলো তার পিতার মাধ্যমে বর্ণিত তার সকল বর্ণনা পরিহার করা, কারণ এতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) সাথে বিরোধিতা এবং অত্যন্ত জটিল (মু'দিল) বিষয়াবলি বিদ্যমান। ফলে তারা উভয়ই 'মাতরূক' (পরিত্যক্ত) হিসেবে গণ্য হন, যদিও আমরা তাদের কাউকে সরাসরি জালকারী (কাজ্জাব) বলছি না; কারণ এটি একটি অস্পষ্ট বিষয়ের নিকটবর্তী। এই কিতাবে আমরা এমন একদল বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেছি যাদের ক্ষেত্রে এই কারণেই আমরা সরাসরি সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করেছি, যদিও হাম্মাদ ইবনু যাইদ ইয়াহইয়া ইবনু আমর ইবনু মালিককে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।" ইবনু হিব্বান "আস-সিকাত" (৮/ ৪৮৭) গ্রন্থে আমর ইবনু মালিক আন-নুকরিরও জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যা সামনে আসবে। তিনি হলেন অপর এক ব্যক্তি যিনি পরবর্তী যুগের। ইবনে খালফুন তাকে "আস-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; যেমনটি মুগলতাই "আল-ইকমাল" (১০/ ২৫১) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। আয-যাহাবী "তারিখুল ইসলাম" (৮/ ১৯৪) গ্রন্থে বলেছেন: "সত্যবাদী"। তিনি "আল-কাশিফ" (২/ ৮৭) গ্রন্থে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য"। "তালখিসু কিতাবিল মাওদুআত" (পৃষ্ঠা ১৯১) গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "শিথিল"। তিনি তাকে "আল-মিজান" (৩/ ২৮৬) এবং "আল-মুগনি" (২/ ৪৮৮ - ৪৮৯) গ্রন্থে আমর ইবনে মালিক আল-জানবির সাথে উল্লেখ করেছেন এবং তাদের দুজনের সাথে আমর ইবনে মালিক আর-রাসিবি—যিনি দুর্বল—এর তুলনা করে ওই দু'জন সম্পর্কে বলেছেন: "তারা উভয়ই নির্ভরযোগ্য"। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর "মাসাইল" (১/ ৮৯) গ্রন্থে বলেছেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: সালাতুত তাসবিহ আমার নিকট সাব্যস্ত নয় এবং তারা এর সনদের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; এটি আমার নিকট প্রমাণিত নয়। মনে হয় তিনি আমর ইবনে মালিক আন-নুকরিকে [মূল লিপিতে: আল-বাকরি] দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।" হাফিজ ইবনে হাজার "মাজলিসুম মিন আমালিল আজকার" (পৃষ্ঠা ৮৩ - ৮৪) গ্রন্থে—সালাতুত তাসবিহ সংক্রান্ত আলোচনায়—বলেছেন: "আলী ইবনে সাঈদ বলেছেন, আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে সালাতুত তাসবিহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমার নিকট কোনো কিছুই সহিহ নয়। আমি বললাম: আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদিসটি? তিনি বললেন: সবাই আমর ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করে—অর্থাৎ: তার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে—আমি বললাম: মুস্তামির ইবনুর রায়য়ান এটি আবুল জাওযা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: তোমাকে কে সংবাদ দিয়েছে? আমি বললাম: মুসলিম—অর্থাৎ ইবনে ইব্রাহিম। তিনি বললেন: মুস্তামির একজন নির্ভরযোগ্য শাইখ এবং মনে হয় বিষয়টি তাকে আনন্দিত করেছে। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, আহমাদের নিকট প্রথমে আমর ইবনে মালিক—যিনি আন-নুকরি—এর বর্ণনা ব্যতীত এই হাদিসটি পৌঁছায়নি। এরপর যখন তাঁর নিকট মুস্তামিরের সমর্থনমূলক বর্ণনাটি পৌঁছালো, তখন তিনি সেটি পছন্দ করলেন। এর বাহ্যিক দিক হলো যে তিনি ফিরে এসেছিলেন=--------------------------------------------
--------------------------------------------
= তাকে দুর্বল আখ্যা দেওয়া সম্পর্কে। [সমাপ্ত]। আর দেখুন: "আন-নুকাতুজ জিরাফ" (৬/ ২৮০), ইবনে আল্লানের "আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ" (৪/ ৩২০), "ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন" (৩/ ৪৭৮) এবং লাখনোভীর "আল-আসারুল মারফুআ" (পৃ. ১৩১)। হাফিজ ইবনে হাজার "আত-তাহজীব" গ্রন্থে (৮/ ৮৪) ইবনে হিব্বান থেকে এই আমর বিন মালিক সম্পর্কে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: "তার ছেলের বর্ণনা ব্যতিরেকে তার হাদিস গ্রহণযোগ্য, তবে তিনি ভুল করেন এবং অপরিচিত হাদিস বর্ণনা করেন।" আর ইবনে হিব্বানের এই উক্তি: "তিনি ভুল করেন এবং অপরিচিত হাদিস বর্ণনা করেন"—এটি মূলত পরবর্তী যুগের আমর বিন মালিক আল-বসরী আল-রাসিবি-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে। "আস-সিকাত" গ্রন্থের (৮/ ৪৮৭) চতুর্থ স্তর তথা তাবি-তাবিঈনদের স্তরে তাঁর মূল বক্তব্যটি হলো: "আমর বিন মালিক আন-নুকরী: তিনি বসরার অধিবাসী, ফুযাইল বিন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, আমাদের কাছে তাঁর থেকে ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-কাজী এবং আমাদের অন্যান্য শায়খগণ বর্ণনা করেছেন; তিনি অপরিচিত হাদিস বর্ণনা করেন এবং ভুল করেন।" তবে প্রতীয়মান হয় যে, হাফিজ ইবনে হাজার এ বিষয়ে মুগলতাই-কে অনুসরণ করেছেন; কেননা তিনি "আল-ইকমাল" গ্রন্থে (১০/ ২৫১) ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত" থেকে একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যেখানে "তিনি অপরিচিত হাদিস বর্ণনা করেন এবং ভুল করেন" অংশটুকু অতিরিক্ত ছিল। সম্ভবত ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত" গ্রন্থের যে পাণ্ডুলিপিটি হাফিজ ইবনে হাজরের কাছে ছিল, তাতে ত্রুটি থাকার কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে; কারণ তিনি নিজেই এই পাণ্ডুলিপির ত্রুটি সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন; যেমনটি আপনি "লিসানুল মিজান" গ্রন্থে (২/ ৪৪২, নং ১৮০৪) রাফি বিন সালমানের জীবনীতে এবং "তাহজীবুত তাহজীব" গ্রন্থে (৮/ ২০৩) কায়স বিন মারওয়ানের জীবনীতে দেখতে পাবেন। আরও সম্ভাবনা রয়েছে যে, রাসবিকেও নুকরি বলা হয়, তবে তিনি পরবর্তী স্তরের; তিনি আবু ইয়ালা এবং ইবনে জারির তাবারির উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৫/১৫০, নং ১৩১৫) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমর ইবন মালিক আন-নুকরি: তিনি বসরাবাসী, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে তার হাদিস মুনকার এবং তিনি হাদিস চুরি করেন," এরপর তিনি তার সম্পর্কে আবু ইয়ালার দুর্বল সাব্যস্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আর তিনি মূলত রাসবি আল-গুবরি; হাফিজ (ইবনে হাজার) নিজেই 'আত-তাহজিব' (৮/৮৩) গ্রন্থে রাসবির জীবনীতে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং ইবনে আদির বক্তব্য উল্লেখ করার পর তিনি বলেছেন: "তবে তিনি জীবনীর শুরুতে 'আমর ইবন মালিক আন-নুকরি' বলেছেন, যা একটি ভ্রম; কারণ নুকরি তো এই ব্যক্তির আগের স্তরের।" সমাপ্ত। ইবনে জারির 'তাহজিবুল আসার' গ্রন্থে রাসবি থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি তাঁর উস্তাদ—তিনি বলেছেন: "আমর ইবন মালিক আন-নুকরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন।" আর ইবনে মাকুলা 'আল-ইকমাল' (১/৪৫১) গ্রন্থে আবু আল-জাওজা থেকে বর্ণনাকারী নুকরি ব্যতীত অন্য কারো কথা উল্লেখ করেননি। আরও দেখুন: "তাহজিবুল কামাল" (২২: পৃষ্ঠা ২১১-২১২)। (১) তিনি হলেন আউস ইবন আব্দুল্লাহ আর-রাবায়ি—'বা' বর্ণে জবরসহ—আবু আল-জাওজা—'জীম' ও 'যা' বর্ণসহ—তিনি বসরাবাসী, নির্ভরযোগ্য, তিনি প্রচুর 'ইরসাল' করেন, তিরাশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, জামাআত তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; যেমন—--------------------------------------------
--------------------------------------------
= "আত-তাকরীব" গ্রন্থে (৫৮২)। আরও দেখুন: "আত-তারিখুল কাবীর" (২/ ১৬-১৭), "আল-জারহু ওয়াত-তাদীল" (২/ ৩০৪), ইবনে হিব্বান রচিত "আস-সিকাত" (৪/ ৪২-৪৩), এবং "তাহযিবুল কামাল" (৩/ ৩৯২-৩৯৩)। (১) অর্থাৎ: তিনি এমনটি করেছেন, তারপর তিনি তাঁর এই উক্তি দ্বারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন: "আর নূহ তাঁর বগলের নিচ দিয়ে তাকালেন।" এটি কর্মের ওপর উক্তির প্রয়োগ করার একটি উদাহরণ যা বেশ প্রচলিত। এর মধ্যে রয়েছে "সহীহ বুখারী" (৭২৪৭)-এ বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আর ফজর এমনভাবে বলা নয়" এবং বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া তাঁর দুই হাতের তালু একত্রিত করলেন "যতক্ষণ না তিনি এমনটি বলেন" এবং ইয়াহইয়া তাঁর দুই তর্জনী প্রসারিত করলেন। "সহীহ বুখারী"-এর ৮৫, ২২৬, ৬২১ এবং ৪৭২৭ নম্বর হাদীসগুলো দেখুন। এছাড়া "সহীহ মুসলিম" (৩৬৮)-এ রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়াম্মুম সম্পর্কে বলেছেন: "তোমার জন্য কেবল এমনটি করাই যথেষ্ট ছিল" এবং তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন, অতঃপর তাঁর দুই হাত ঝেড়ে ফেললেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালু মাসাহ করলেন। "সহীহ মুসলিম"-এর ১০৯৩ ও ১২১৮ নম্বর হাদীস দুটি দেখুন। কর্মের ওপর উক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে দেখুন: "মাশারিকুল আনওয়ার" (২/১৯৪), "আন-নিহায়াহ" (৪/১২৪), "ফাতহুল বারী" (১/১৮১, ১৮২ ও ২২২ এবং আরও অনেক স্থানে), "মিরকাতুল মাফাতীহ" (১/২৭৫ এবং ৪/৩২৩) এবং "তাজুল আরুস" (ক্ব-ওয়া-লাম)। (২) তিনি হলেন: সাল্লাম বিন সুলাইম। (৩) তিনি সুফিয়ান আস-সাওরীর পিতা, হাদীস [৫২]-এ গত হয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য। (৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ওয়াও' ব্যতীত 'আন' রয়েছে, আর যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা "তাফসীর ইবনে জারীর"-এ যা আছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিকটবর্তী; যেখানে তিনি গ্রন্থকারের সূত্রে এই বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "ইকরিমা ও খুসাইফ থেকে।" আর খুসাইফ থেকে বর্ণনাকারী হলেন গ্রন্থকারের শিক্ষক আবু আহওয়াস সাল্লাম বিন সুলাইম; তিনি এটি সাঈদ বিন মাসরুক এবং খুসাইফ—উভয় থেকে একত্রে বর্ণনা করেছেন। (৫) তিনি হলেন: ইবনে আবদুর রহমান আল-জাজারি, [২০৪] নং হাদিসে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী কিন্তু দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী। (৬) অর্থাৎ: ইকরিমাহ ও মুজাহিদ। [১১৯৯] ইকরিমাহ পর্যন্ত এর সনদ সহিহ, এবং মুজাহিদ পর্যন্ত জঈফ; মুখস্থশক্তির দিক থেকে খুসাইফের দুর্বলতার কারণে। =