(খণ্ড: ১) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: -)
سنن سعيد بن منصور - تكملة التفسير - ط الألوكة   (سعيد بن منصور)

القسم: كتب السنة

الكتاب: سنن سعيد بن منصور

المؤلف: سعيد بن منصور (ت 227 هـ)

تحقيق: فريق من الباحثين بإشراف وعناية: أ. د. سعد بن عبد الله الحميد و د. خالد بن عبد الرحمن الجريسي

الناشر: دار الألوكة للنشر، الرياض - المملكة العربية السعودية

الطبعة: الأولى، 1433 هـ - 2012 م

عدد المجلدات: 3 (6 - 8)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 جُمادَى الآخرة 1442

সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসির - আল-আলুকা সংস্করণ    (সাঈদ ইবনে মানসুর)

বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ

কিতাব: সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর

লেখক: সাঈদ ইবনে মানসুর (মৃত্যু: ২২৭ হিজরি)

তাহকিক: একদল গবেষক, তত্ত্বাবধান ও পরিচালনায়: প্রফেসর. ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ এবং ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসি

প্রকাশক: দারুল আলুকা পাবলিশিং, রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৩ হিজরি - ২০১২ খ্রিষ্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৩ (৬ - ৮)

[বইয়ের পৃষ্ঠাসংখ্যা মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

আল-শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ১০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২

(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১)
سُننُ سَعيد بن مَنصور

(ت 227 هـ)

تحقيق

فريقٍ من البَاحِثِينَ

بإشراف وَعنَاية

أ. د/ سَعدِ بن عبد اللهِ الحُمَيِّد

و

د/ خالِدِ بن عَبدِ الرَّحمن الجُريسِيّ

المجلّد السّادس

(التَّفسِير)

[1178 - 1683]

حقوق الطبع محفوظة

دار الألوكة للنشر

الرياض - المملكة العربية السعودية puplisher@alukah.net
সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর

(মৃত্যু ২২৭ হিজরী)

গবেষণা ও সম্পাদনা

একদল গবেষক

তত্ত্বাবধান ও সযত্ন ব্যবস্থাপনায়

প্রফেসর ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ

এবং

ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসী

ষষ্ঠ খণ্ড

(তাফসীর)

[১১৭৮ - ১৬৮৩]

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

দার আল-আলুকাহ পাবলিশিং

রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র publisher@alukah.net
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২)
ح خالد بن عبد الرحمن الجريسي، 1433 هـ

فهرسة مكتبة الملك فهد الوطنية أثناء النشر

الجريسي، خالد بن عبد الرحمن

سنن سعيد بن منصور الجزء السادس./ خالد بن عبد الرحمن الجريسي. - الرياض، 1433 هـ

528 ص؛ 17×24 سم

ردمك: 0 - 8900 - 00 - 603 - 978

‌‌1 - الحديث - سنن

‌‌2 - الحديث - أحكام أ - العنوان

ديوي 237

84/ 1433

رقم الإيداع: 84/ 1433

ردمك: 0 - 8900 - 00 - 603 - 978

حقوق الطبع والترجمة محفوظة

الطبعة الأولى

ربيع الثاني 1433 هـ - مارس 2012 م

دار الألوكة للنشر

الرياض - المملكة العربية السعودية puplisher@alukah.net
© খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসী, ১৪৩৩ হিজরি

প্রকাশের সময় বাদশাহ ফাহাদ জাতীয় গ্রন্থাগারের ক্যাটালগিং (সিআইপি)

আল-জুরাইসী, খালিদ বিন আব্দুর রহমান

সুনানে সাঈদ বিন মানসুর ষষ্ঠ খণ্ড। / খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইসী। - রিয়াদ, ১৪৩৩ হিজরি

৫২৮ পৃষ্ঠা; ১৭×২৪ সেমি

আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৬০৩ - ০০ - ৮৯০০ - ০

‌‌১ - হাদিস - সুনান

‌‌২ - হাদিস - আহকাম (বিধিবিধান) ক - শিরোনাম

ডিউই ২৩৭

৮৪/ ১৪৩৩

জমাদান নম্বর: ৮৪/ ১৪৩৩

আইএসবিএন: ৯৭৮ - ৬০৩ - ০০ - ৮৯০০ - ০

প্রকাশনা ও অনুবাদের সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রথম সংস্করণ

রবিউস সানি ১৪৩৩ হিজরি - মার্চ ২০১২ খ্রিস্টাব্দ

দার আল-আলুকাহ পাবলিশিং

রিয়াদ - সৌদি আরব রাজতন্ত্র puplisher@alukah.net
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ৩)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مُقدِّمَة

الحمدُ للهِ الكريمِ المنّانْ، ذي الطَّوْلِ والفضلِ والإحسانْ، الذي هدانا للإيمانْ، وفضَّل دينَنا على سائرِ الأديانْ، ومنّ علينا بإرسالِهِ إلينا أكرمَ خلقِهِ عليْهْ، وأفضلَهُمْ لدَيْهْ، حبيبَهُ وخليلَهْ، وعبدَهُ ورسولَهْ، محمدًا صلى الله عليه وسلم فمحا به عبادة الأوثان، وأكرمه صلى الله عليه وسلم بالقرآن المعجزةِ المستمرّةِ على تعاقُبِ الأزمانْ، التي تَحدّى بها الإنسَ والجانْ، وأَفحمَ بها جميعَ أهلِ الزّيغِ والطغيانْ، وجعلَهُ ربيعًا لقلوبِ أهلِ البصائرِ والعرفانْ، لا يَخْلَقُ على كثرةِ الترديدِ وتغايُرِ الأحيانْ، ويسَّره للذكرِ حتى استظهرَهُ صغارُ الولدانْ، وضَمِنَ حفظَهُ من تطرُّقِ التغيُّرِ والحَدَثَانْ، وهو محفوظٌ بحمدِ اللّهِ وفضلِهِ ما اختلف المَلَوَانْ، نَحمَدُه على ذلك وغيرِهِ من نعمِهِ التي لا تُحصى خصوصًا على نعمةِ الإيمانْ، ونسألُهُ المنّةَ علينا وعلى سائرِ المسلمينَ بالرّضوانْ، ونشهدُ أنْ لا إلهَ إلا اللّهُ وحدَهُ لا شريكَ له شهادةً محصِّلةً للغفرانْ، مُنقِذةً أصحابَها من النّيرانْ، مُوصِّلةً لهم إلى سُكنى الجِنانْ‌‌(1).

أما بعدُ:

فهذه الثلاثةُ الأجزاءِ تكملةٌ لما سبقَ إخراجُهُ مما انتهى إلينا من مخطوطِ "سننِ سعيدِ بنِ منصورٍ"، ننشرُها مُحقَّقة مُخرَّجةَ الأحاديثِ والآثارِ، على هذهِ الصورةِ من التجويدِ التي تعاضدتْ عليها جهودُ الإخوةِ الباحثين في مكتبِنا.

--------------------------------------------

‌‌(1) مقتبس من مقدمة كتاب "التبيان في آداب حملة القرآن" للنووي رحمه الله.

ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি অত্যন্ত দয়ালু, পরম দানশীল, সামর্থ্য, অনুগ্রহ ও ইহসানের মালিক; যিনি আমাদের ঈমানের দিকে পরিচালিত করেছেন এবং আমাদের দ্বীনকে অন্য সকল ধর্মের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। আর তিনি তাঁর সৃষ্টির মধ্যে তাঁর নিকট সবচেয়ে সম্মানিত ও সর্বোত্তম, তাঁর প্রিয় ও অন্তরঙ্গ বন্ধু, তাঁর বান্দা ও রাসূল মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমাদের নিকট প্রেরণ করে আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। তাঁর মাধ্যমে তিনি মূর্তিপূজা বিলুপ্ত করেছেন এবং তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কুরআনের মাধ্যমে সম্মানিত করেছেন, যা মহাকালের আবর্তনে এক চিরস্থায়ী মুজিজা। যার মাধ্যমে তিনি মানুষ ও জিন জাতিকে চ্যালেঞ্জ করেছেন এবং এর মাধ্যমে পথভ্রষ্ট ও অবাধ্য সকল পক্ষকে নিরুত্তর করে দিয়েছেন। তিনি একে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ও প্রজ্ঞাবানদের হৃদয়ের বসন্ত বানিয়েছেন। বারবার পাঠ করলে কিংবা সময়ের পরিবর্তনে এটি পুরনো বা জীর্ণ হয় না। তিনি একে স্মরণের জন্য সহজ করে দিয়েছেন, এমনকি ছোট শিশুরাও তা মুখস্থ করে ফেলে। তিনি একে যেকোনো পরিবর্তন ও বিকৃতি থেকে রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে এটি দিন ও রাতের আবর্তন বিদ্যমান থাকা পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকবে। আমরা এজন্য এবং তাঁর অন্যান্য অগণিত নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি, বিশেষ করে ঈমানের নিয়ামতের জন্য। আর আমরা আমাদের ও সকল মুসলমানের জন্য তাঁর সন্তুষ্টির অনুগ্রহ প্রার্থনা করি। আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই; এমন এক সাক্ষ্য যা ক্ষমা নিশ্চিত করে, তার অধিকারীকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে এবং জান্নাতের আবাসে পৌঁছে দেয়(১).

অতঃপর:

সুতরাং এই তিনটি খণ্ড ‘সুনানে সাঈদ ইবনে মানসুর’-এর পাণ্ডুলিপির সেই অবশিষ্টাংশ যা আমাদের নিকট পৌঁছেছে এবং যা পূর্বে প্রকাশিত খণ্ডগুলোর পরিপূরক। আমরা এটি হাদীস ও আসারসমূহের তাহকীক ও তাখরীজসহ এমন এক উন্নত ও পরিমার্জিত রূপে প্রকাশ করছি, যা আমাদের কার্যালয়ের গবেষক ভাইদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল।

--------------------------------------------

‌‌(১) ইমাম নববী (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আত-তিবইয়ান ফি আদাবি হামালাতিল কুরআন’ গ্রন্থের ভূমিকা থেকে উদ্ধৃত।

(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ৬)
وتتضمّنُ هذه التكملةُ تتمةَ كتابِ التفسيرِ، ويتلُوهُ كتابُ الزهدِ، وهو آخرُ كتبِ "سننِ سعيدِ بنِ منصورٍ".

وسنعملُ بعونِ اللّه تعالى - بعدَ إخراجِنا هذه الأجزاءَ - على إعادةِ إخراجِ كلِّ ما وَقَفْنا عليه من أصولِ هذا الكتابِ إخراجًا تامًّا جديدًا على النهجِ الذي سلكناه في تحقيقِ هذه الأجزاء من التفسير، ومن ذلك: القسمُ الذي حقَّقه الشيخُ المحدِّثُ حبيبُ الرحمنِ الأعظميُّ رحمه الله، والأجزاءُ الخمسةُ التي طُبعتْ من قبلُ بتحقيق أ. د. سعد بن عبد اللّه الحميِّد؛ وذلك من كتابِ التفسيرِ وفضائلِ القرآنِ.

وفي تقديرِنا ستزيدُ أجزاءُ الكتابِ كلِّه على خمسة عشر مجلدًا، معتمدين في بعضِ أقسامِهِ على نسختينِ خطيتينِ، وهو القسمُ الذي أخرجه الشيخُ الأعظميُّ رحمه الله.

وقد آثرنا جعل الكلام على منهجنا في العمل وملاحظاتنا على النسخة في مقدمة التحقيق بعد تمام الفراغ من جميع أجزائه إن شاء اللّه تعالى.

ونشكُرُ فَرِيق التحقيق في هذا الكتابِ الذين بتيسير اللّه سبحانه ثم تضافُرِ جهودهم، أمكَنَ إنجازُ هذا العمل.

 

وآخر دعوانا أن الحمد للّه رب العالمين.

أ. د. سعد بن عبد الله الحميِّد

د. خالد بن عبد الرحمن الجرشي
এই পরিশিষ্টটি কিতাবুত তাফসিরের অবশিষ্টাংশ অন্তর্ভুক্ত করে এবং এর পরে কিতাবুত যুহদ রয়েছে, যা 'সুনান সাঈদ ইবনে মানসুর'-এর সর্বশেষ কিতাব।

আল্লাহ তাআলার সাহায্যে - এই খণ্ডগুলো প্রকাশের পর - আমরা এই কিতাবের যতগুলো মূল পাণ্ডুলিপি আমাদের হস্তগত হয়েছে, তাফসিরের এই খণ্ডগুলোর তাহকিকের ক্ষেত্রে আমরা যে পদ্ধতি অবলম্বন করেছি, সেই একই পদ্ধতিতে পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ও নতুনভাবে প্রকাশের কাজ শুরু করব। এর মধ্যে রয়েছে: শায়খ মুহাদ্দিস হাবীবুর রহমান আল-আযমী (রহিমাহুল্লাহ) কর্তৃক তাহকিককৃত অংশ এবং প্রফেসর ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ কর্তৃক ইতঃপূর্বে প্রকাশিত তাফসির ও ফাযায়েলুল কুরআন সংক্রান্ত পাঁচটি খণ্ড।

আমাদের ধারণা অনুযায়ী, সম্পূর্ণ কিতাবের খণ্ড সংখ্যা পনেরোটিরও বেশি হবে। এর কিছু অংশে আমরা দুটি পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, যা শায়খ আল-আযমী (রহিমাহুল্লাহ) প্রকাশ করেছিলেন।

ইনশাআল্লাহ তাআলা, কিতাবের সকল খণ্ড সম্পন্ন করার পর আমরা তাহকিকের ভূমিকায় আমাদের কর্মপদ্ধতি এবং পাণ্ডুলিপি সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণগুলো আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আমরা এই কিতাবের তাহকিককারী দলকে ধন্যবাদ জানাই, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার অনুগ্রহ ও পরে তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

 

আমাদের শেষ কথা হলো, সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

প্রফেসর ড. সাদ বিন আব্দুল্লাহ আল-হুমাইদ

ড. খালিদ বিন আব্দুর রহমান আল-জুরাইশি
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌تَفسيُر سُورةِ إِبرَاهِيمَ عليه الصَّلاةُ والتَّسْليم

[قولُهُ تعالى: {(6) وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكُمْ لَئِنْ شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ وَلَئِنْكَفَرْتُمْ إِنَّ عَذَابِي لَشَدِيدٌ (7)}]

 

‌‌[1178] حدَّثنا سعيدٌ، قال: سمعتُ فضيلًا‌‌(1) يقولُ: {لَئِنْ‌‌(2) شَكَرْتُمْ لأَزِيدَنَّكُمْ}: من طاعتي.

[قولُهُ تعالى: {وَاسْتَفْتَحُوا وَخَابَ كُلُّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ}]

 

‌‌[1179] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا هُشيمٌ؛ قال: نا مُغيرةُ‌‌(3)، عن شِباكٍ‌‌(4)، عن إبراهيمَ‌‌(5)؛ في قولِه عز وجل: {وَخَابَ كُلُّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ}؛ قال: [المُناكِبُ]‌‌(6) لِلْحَقِّ.

--------------------------------------------

[1178]، سنده صحيح.

‌‌(1) أي: فضيل بن عياض.

‌‌(2) في الأصل: "لان".

‌‌(3) هو: ابن مقسم، تقدم في الحديث [54]، أنه ثقة متقن؛ إلا أنه يدلس عن إبراهيم النخعي.

‌‌(4) هو: شِبَاكٌ الضَّبِّي، تقدم في الحديث [927] أنه ثقة.

‌‌(5) هو: النخعي.

‌‌(6) في الأصل: "المباكث". والمثبت من "ذم الكلام وأهله" - إذ رواه من طريق المصنف؛ كما في التخريج - ومن "حلية الأولياء" وفيه: "المناكب عن الحق"، وفي موضعي "تفسير ابن جرير" وأحد موضعي "الدر المنثور": "الناكب عن الحق"، وفي الموضع الآخر: "مناكب عن الحق".

وأولى هذه الألفاظ بالصواب ما عند ابن جرير: "الناكب عن الحق"؛ يقال: نكب عن الشيء والطريق ينكب - كنصر وفرح - نَكْبًا ونَكَبًا ونكوبًا: عَدَل عنه، ونكَّبه: عدل عنه واعتزله، وتنكَّبَه: تجنبه. وهو معنى عَنَد عن الحق والطريق يعند - كنصر وضرب وكرم - عُنودًا: مال وعدل وتباعد. وهكذا فُسِّر في جُل كتب التفسير؛ بمعنى المباعدة للحق. والله أعلم. وانظر: "تاج العروس" (ن ك ب، ع ن د).

 

‌‌[1179] سنده فيه المغيرة بن مقسم الضبي، وقد كان يدلس عن إبراهيم النخعي؛ =
সুরা ইবরাহিমের তাফসির, তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক

[মহান আল্লাহর বাণী: {(৬) আর যখন তোমাদের রব ঘোষণা করলেন: যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেবো; আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, তবে নিশ্চয়ই আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠোর (৭)}]

[১১৭৮] সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি ফুযাইলকে বলতে শুনেছি: {যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের বাড়িয়ে দেবো}: অর্থাৎ আমার আনুগত্যের মাধ্যমে।

[মহান আল্লাহর বাণী: {আর তারা বিজয় প্রার্থনা করল এবং প্রত্যেক অবাধ্য স্বৈরাচারী ব্যর্থ হলো}]

[১১৭৯] সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুগিরা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, শিবাক থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে; মহান আল্লাহর বাণী: {আর প্রত্যেক অবাধ্য স্বৈরাচারী ব্যর্থ হলো} সম্পর্কে তিনি বলেন: [সত্যের] বিরুদ্ধাচরণকারী।

--------------------------------------------

[১১৭৮], এর সনদ সহীহ।

‌‌(১) অর্থাৎ: ফুদাইল ইবনে ইয়াদ।

‌‌(২) মূলে রয়েছে: "লান"।

‌‌(৩) তিনি হলেন: ইবনে মিকসাম, হাদিস নং [৫৪]-এ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ় (সিক্বাহ মুতক্বিন) বর্ণনাকারী; তবে তিনি ইবরাহীম নাখায়ীর নিকট থেকে তাদলীস করতেন।

‌‌(৪) তিনি হলেন: শিবাক আদ-দাব্বি, হাদিস নং [৯২৭]-এ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য।

‌‌(৫) তিনি হলেন: নাখায়ী।

‌‌(৬) মূলে রয়েছে: "আল-মুবাকিছ"। পাঠ্য হিসেবে যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা "যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি" থেকে নেওয়া হয়েছে - কারণ লেখক এটি গ্রন্থকারের সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন; যেমনটি তাখরীজে রয়েছে - এবং "হিলয়াতুল আউলিয়া" থেকে নেওয়া হয়েছে, যাতে রয়েছে: "আল-মানাকিব আনিল হক্ব", আর "তাফসীর ইবনে জারীর"-এর দুটি স্থানে এবং "আদ-দুররুল মানছুর"-এর একটি স্থানে রয়েছে: "আন-নাকিব আনিল হক্ব", এবং অন্য স্থানে রয়েছে: "মানাকিব আনিল হক্ব"।

এই শব্দগুলোর মধ্যে সঠিক হওয়ার ক্ষেত্রে ইবনে জারীরের কাছে যা রয়েছে তা-ই অধিক অগ্রাধিকারযোগ্য: "আন-নাকিব আনিল হক্ব"; বলা হয়: 'নাকা-বা আনিল শাইয়ি ওয়াত ত্বরীক্ব' (কোনো বস্তু বা পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া), যা ইয়ান-কুবু - নাসারা ও ফারিহা (বাব) থেকে - নাকবান, নাকাবান ও নুকুবান: তার থেকে সরে পড়া, এবং 'নাক্কাবাহু' অর্থ: তার থেকে বিমুখ হওয়া ও বিচ্ছিন্ন হওয়া, আর 'তানাক্কাবাহু' অর্থ: তা পরিহার করা। আর এটাই হলো সত্য ও পথ থেকে 'আনাদা' হওয়ার অর্থ, যা ইয়ান-ইদু - নাসারা, দরাবা ও কারুমা (বাব) থেকে - উনূদান: হেলে পড়া, বিচ্যুত হওয়া ও দূরে সরে যাওয়া। এভাবেই অধিকাংশ তাফসীর গ্রন্থে এর ব্যাখ্যা করা হয়েছে; সত্য থেকে দূরে সরে যাওয়ার অর্থে। আল্লাহ অধিক ভালো জানেন। দেখুন: "তাজুল আরূস" (ন-ক-ব, আইন-ন-দ)।

 

‌‌[১১৭৯] এর সনদে মুগীরা ইবনে মিকসাম আদ-দাব্বি রয়েছেন, তিনি ইবরাহীম নাখায়ী থেকে তাদলীস করতেন; =
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌[1180] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا عَمرُو بنُ ثابتٍ‌‌(1)، عن حبيبِ بنِ أبي ثابتٍ‌‌(2)، عن قيسِ بنِ السَّكَنِ‌‌(3)؛ قال: أَوْحى اللهُ إلى داودَ عليه السلام:

--------------------------------------------

= وقد بيَّن في هذه الرواية الواسطة بينه وبين إبراهيم؛ وهو: شباك الضبي، فانتفت شبهة التدليس في هذه الرواية، وشباك ثقة.

فالأثر بهذا الإسناد صحيح، إلا أن الهروي روى هذا الأثر في "ذم الكلام وأهله" من طريق المصنف، فجاء في نسختين خطيتين: "شباك"، وفي نسختين أخريين: "سماك"؛ كما قال المحقق.

ورواه ابن جرير كما سيأتي من طريق بشر، عن هشيم، وفيه: "سماك" بدل "شباك". ومغيرة بن مقسم يروي عن كل من شباك وسماك، كما أن كلًّا من شباك وسماك يروي عن إبراهيم النخعيِ. وسماك هذا هو ابن حرب، وتقدم في الحديث [1011]، أنَّه صدوق، وعلى فَرَض أن يكون سماك هو الراوي فيكون الأثر بهذا الإسناد حسنًا. والله أعلم.

ورواه أبو عوانة وجرير بن عبد الحميد، عن المغيرة، عن إبراهيم، بدون ذكر الواسطة كما سيأتي.

والأثر عزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 501) لابن جرير، وفي (13/ 636) لابن المنذر.

وقد أخرجه الهروي في "ذم الكلام وأهله" (552) من طريق المصنف.

وأخرجه ابن جرير الطبري في "تفسيره" (13/ 615 - 616) من طريق بشر، عن هشيم، عن مغيرة، عن سماك، عن إبراهيم، به

وأخرجه ابن جرير أيضًا (13/ 615) من طريق أبي عوانة الوضاح بن عبد اللّه، وأبو نعيم في "حلية الأولياء" (4/ 231) من طريق جرير بن عبد الحميد؛ كلاهما عن مغيرة، عن إبراهيم، به، دون ذكر الواسطة بين مغيرة وإبراهيم.

‌‌(1) تقدم في تخريج الحديث [179] أنه متروك رافضي.

‌‌(2) تقدم في الحديث [874] أنه ثقة فقيه جليل، إلا أنه كثير الإرسال والتدليس.

‌‌(3) هو: قيس بن السَّكَن، الأَسَدي، الكوفي، ثقة، توفي قبل سنة سبعين كما قال الحافظ في "التقريب". انظر: "التاريخ الكبير" (7/ 145)، و"الجرح والتعديل" (7/ 98)، و"الثقات" لابن حبان (5/ 309)، و"تهذيب الكمال" (24 - 50/ 53).

 

‌‌[1180] سنده ضعيف جدًّا؛ لشدة ضعف عمرو بن ثابت، ومع ذلك فالأغلب أنه من الإسرائيليات. وسيتكرر عند المصنف برقم [2779]. =
‌[১১৮০] আমাদের কাছে সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের কাছে আমর ইবনে সাবিত বর্ণনা করেছেন ‌‌(১) , তিনি হাবীব ইবনে আবি সাবিত থেকে ‌‌(২) , তিনি কায়স ইবনে আল-সাকান থেকে ‌‌(৩) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আল্লাহ তাআলা দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি ওহী পাঠালেন:

--------------------------------------------

= এই বর্ণনায় তিনি নিজের এবং ইবরাহিমের মধ্যবর্তী মাধ্যমকে স্পষ্ট করেছেন; আর তিনি হলেন: শুবাক আল-দব্বী। ফলে এই বর্ণনায় তাদলীসের (দোষ গোপন করার) সংশয় দূর হয়ে গেছে, আর শুবাক একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী।

সুতরাং এই সনদে বর্ণনাটি সহীহ, তবে আল-হারাউয়ী "যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি" গ্রন্থে গ্রন্থকারের সূত্রে এই বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন, সেখানে দুটি পাণ্ডুলিপিতে "শুবাক" এসেছে এবং অপর দুটি পাণ্ডুলিপিতে "সিমাক" এসেছে; যেমনটি গবেষক উল্লেখ করেছেন।

আর ইবনে জারীর এটি বর্ণনা করেছেন বিশরের সূত্রে হুশাইম থেকে যেমনটি সামনে আসবে, তাতে "শুবাক"-এর পরিবর্তে "সিমাক" রয়েছে। আর মুগীরা ইবনে মিকসাম শুবাক ও সিমাক উভয়ের থেকেই বর্ণনা করেন, তেমনি শুবাক ও সিমাক উভয়েই ইবরাহিম আল-নাখাঈ থেকে বর্ণনা করেন। আর এই সিমাক হলেন ইবনে হারব, এবং [১০১১] নং হাদিসে গত হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী। আর যদি সিমাক-কে বর্ণনাকারী ধরে নেওয়া হয়, তবে এই সনদে বর্ণনাটি হাসান হবে। আল্লাহই ভালো জানেন।

আর আবু আওয়ানা এবং জারীর ইবনে আব্দুল হামীদ এটি মুগীরা থেকে, তিনি ইবরাহিম থেকে মধ্যবর্তী মাধ্যমের উল্লেখ ছাড়াই বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে।

সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/ ৫০১) গ্রন্থে বর্ণনাটি ইবনে জারীরের দিকে এবং (১৩/ ৬৩৬) গ্রন্থে ইবনে মুনযিরের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

এবং আল-হারাউয়ী এটি "যাম্মুল কালাম ওয়া আহলিহি" (৫৫২) গ্রন্থে গ্রন্থকারের সূত্রে সংকলন করেছেন।

ইবনে জারীর আত-তাবারী এটি তাঁর "তাফসীর"-এ (১৩/ ৬১৫ - ৬১৬) বিশর-এর সূত্রে, হুশাইম থেকে, তিনি মুগীরাহ থেকে, তিনি সিমাক থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে—এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারীর এটি আরও (১৩/ ৬১৫) আবু আওয়ানাহ আল-ওয়াদদাহ বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে এবং আবু নুয়াইম "হিলয়াতুল আওলিয়া"-তে (৪/ ২৩১) জারীর বিন আব্দুল হামীদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই মুগীরাহ থেকে, তিনি ইবরাহীম থেকে—এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে মুগীরাহ ও ইবরাহীমের মাঝখানে কোনো মধ্যস্থতাকারীর উল্লেখ নেই।

‌ ‌(১) [১৭৯] নং হাদীসের তাখরীজে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, সে পরিত্যক্ত (মাতরুক) এবং রাফেযী।

‌ ‌(২) [৮৭৪] নং হাদীসে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) ও মহান ফকীহ, তবে তিনি প্রচুর ইরসাল ও তাদলীস করেন।

‌ ‌(৩) তিনি হলেন: কায়স বিন আস-সাকান, আল-আসাদী, আল-কূফী, নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তিনি সত্তর হিজরী সনের পূর্বে ইন্তেকাল করেন যেমনটি হাফিয "আত-তাকরীব" গ্রন্থে বলেছেন। দেখুন: "আত-তারীখুল কাবীর" (৭/ ১৪৫), "আল-জারহু ওয়াত-তাদীল" (৭/ ৯৮), ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত" (৫/ ৩০৯) এবং "তাহযীবুল কামাল" (২৪ - ৫০/ ৫৩)।

‌ ‌[১১৮০] এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল; আমর বিন সাবিতের তীব্র দুর্বলতার কারণে। তা সত্ত্বেও অধিকাংশ সম্ভাবনা এই যে, এটি ইসরাঈলী বর্ণনা সমূহের অন্তর্ভুক্ত। গ্রন্থকারের নিকট এটি [২৭৭৯] নম্বরে পুনরায় আসবে।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
قل للجَبَّارينَ: لا يذكروني؛ فإن من ذكرني ذكرتُه؛ فإنهم إن ذكروني ذكرتُهم فلعنتُهم.

[قولُهُ تعالى: {يَتَجَرَّعُهُ وَلَا يَكَادُ يُسِيغُهُ وَيَأْتِيهِ الْمَوْتُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ وَمَا هُوَ بِمَيِّتٍ وَمِنْ وَرَائِهِ عَذَابٌ غَلِيظٌ (17)}]

 

‌‌[1181] حدَّثنا سعيد، قال: نا يزيدُ بنُ هارونَ، عن العَوَّامِ‌‌(1)، عن إبراهيمَ التَّيْميِّ؛ في قولِه: {وَيَأْتِيهِ الْمَوْتُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ}؛ قال: حتى من أطرافِ شعرِهِ.

--------------------------------------------

= وقد أخرج ابن أبي شيبة في "المصنف" (32430 و 35256 و 36255)، وأحمد في "الزهد" (ص 73)، وهناد في "الزهد" (787)، والبيهقي في "شعب الإيمان" (7079)؛ من طريق الأعمش، عن المنهال بن عمرو، عن عبد اللّه بن الحارث، عن ابن عباس قال: "أوحى الله إلى داود عليه السلام أن: قل للظلمة: لا يذكروني؛ فإنه حق عليَّ أن أذكر من ذكرني، وإن ذكري إياهم أن ألعنهم". وهذا إسناد حسن عن ابن عباس؛ فالمنهال بن عمرو صدوق، وباقي رجال الإسناد ثقات، وقد جاء في المطبوع من "الزهد" للإمام أحمد: "عن الأعمش قال: قال ابن عباس" دون ذكر المنهال بن عمرو وعبد اللّه بن الحارث. وقد روي عن ابن عباس مرفوعًا، ولا يصح. وانظر: "السلسلة الضعيفة" للشيخ الألباني (3336).

‌‌(1) هو: ابن حوشب، تقدم في الحديث [11] أنه ثقة ثبت فاضل.

 

‌‌[1181] سنده صحيح.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 504) لابن أبي شيبة وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم.

وقد أخرجه ابن أبي شيبة (35981) عن يزيد بن هارون، به.

وأخرجه ابن جرير الطبري في "تفسيره" (13/ 621) عن الحسن بن محمد الزعفراني، والبيهقي في "البعث والنشور" (611) من طريق الحسن بن مكرم؛ كلاهما (الحسن بن محمد، والحسن بن مكرم) عن يزيد بن هارون، به.

ورواه هشيم بن بشير عن العوام بن حوشب، كما في الأثر الآتي.
অত্যাচারীদের বলে দাও: তারা যেন আমাকে স্মরণ না করে; কেননা যে আমাকে স্মরণ করে আমিও তাকে স্মরণ করি; আর তারা যদি আমাকে স্মরণ করে, তবে আমি তাদের স্মরণ করি তাদের অভিশাপ দেওয়ার মাধ্যমে।

[আল্লাহ তাআলার বাণী: {সে তা ঢোক গিলে পান করবে এবং তা গলায় নামানো তার জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। আর প্রতিটি দিক থেকে তার কাছে মৃত্যু ধেয়ে আসবে, অথচ সে মরবে না; আর তার সামনে রয়েছে অত্যন্ত কঠোর আযাব। (১৭)}]

‌ ‌[১১৮১] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: ইয়াযিদ ইবনে হারুন আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আওয়াম থেকে ‌‌(১) , তিনি ইবরাহিম আত-তাইমি থেকে; আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {আর প্রতিটি দিক থেকে তার কাছে মৃত্যু ধেয়ে আসবে}; তিনি বলেছেন: এমনকি তার চুলের অগ্রভাগ থেকেও।

--------------------------------------------

= ইবনে আবি শায়বা তাঁর "আল-মুসান্নাফ" (৩২৪৩০, ৩৫২৫৬ এবং ৩৬২৫৫) গ্রন্থে, আহমদ "আয-যুহদ" (পৃ. ৭৩) গ্রন্থে, হান্নাদ "আয-যুহদ" (৭৮৭) গ্রন্থে এবং বায়হাকী "শুয়াবুল ঈমান" (৭০৭৯) গ্রন্থে আমাশের সূত্রে, তিনি মিনহাল ইবনে আমর থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: "আল্লাহ দাউদ আলাইহিস সালামের প্রতি ওহী পাঠিয়েছেন যে: তুমি জালিমদের বলো: তারা যেন আমাকে স্মরণ না করে; কারণ এটি আমার ওপর অবধারিত যে, যে আমাকে স্মরণ করবে আমি তাকে স্মরণ করব। আর তাদের প্রতি আমার স্মরণের অর্থ হলো তাদের ওপর লানত করা।" আর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত এই সনদটি হাসান; কারণ মিনহাল ইবনে আমর হলেন সত্যবাদী (সাদুক) এবং সনদের বাকি বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)। ইমাম আহমদের "আয-যুহদ" গ্রন্থের মুদ্রিত কপিতে মিনহাল ইবনে আমর এবং আবদুল্লাহ ইবনুল হারিসের উল্লেখ ছাড়াই "আমাশ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস বলেছেন" এভাবে এসেছে। আর এটি ইবনে আব্বাস থেকে মারফু হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, তবে তা সহীহ নয়। দেখুন: শায়খ আলবানীর "আস-সিলসিলাতুদ দাঈফাহ" (৩৩৩৬)।

‌‌(১) তিনি হলেন: ইবনে হাওশাব। ১১ নম্বর হাদিসে ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য, সুদৃঢ় ও অত্যন্ত মর্যাদাবান একজন বর্ণনাকারী।

 

‌‌[১১৮১] এর সনদ সহীহ।

সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/ ৫০৪) গ্রন্থে একে ইবনে আবি শায়বা, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং ইবনে আবি হাতেমের সংকলনভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন।

ইবনে আবি শায়বা (৩৫৯৮১) ইয়াজিদ ইবনে হারুনের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারীর তাবারী তাঁর "তাফসীর" (১৩/ ৬২১) গ্রন্থে হাসান ইবনে মুহাম্মদ আয-যাফরানী থেকে এবং বায়হাকী "আল-বা’সু ওয়ান নুশূর" (৬১১) গ্রন্থে হাসান ইবনে মাকরামের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই (হাসান ইবনে মুহাম্মদ এবং হাসান ইবনে মাকরাম) ইয়াজিদ ইবনে হারুন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর হুশাইম ইবনে বাশীর এটি আওয়াম ইবনে হাওশাব থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি পরবর্তী বর্ণনায় (আসার) আসছে।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌[1182] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا هُشيمٌ؛ قال: نا العَوَّامُ، عن إبراهيمَ التَّيْميِّ؛ في قولِه: {وَيَأْتِيهِ الْمَوْتُ مِنْ كُلِّ مَكَانٍ}؛ قال: حتى من موضِعِ كلِّ شعرةٍ.

[قولُهُ تعالى: { .... مَا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْتُمْ بِمُصْرِخِيَّ .... (22)}]

 

‌‌[1183] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا خالدُ بنُ عبدِ اللّهِ، عن داودَ‌‌(1)، عن عامر الشَّعْبيِّ؛ في قولِهِ: {مَا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْتُمْ بِمُصْرِخِيَّ} قال: خطيبانِ يقومانِ يومَ القيامةِ: فأمَّا إبليسُ فيقولُ هذا القولَ، وأما عيسى فيقولُ: {مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلَّا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ}‌‌(2).

--------------------------------------------

[1182] سنده صحيح، وهو طريق آخر للأثر السابق.

وقد أخرجه الفراء في "معاني القرآن" (2/ 72) عن هشيم، به.

وأخرجه ابن أبي الدنيا في "صفة النار" (126) عن فضيل بن عبد الوهاب، وعبد اللّه بن أحمد في "زوائده على الزهد" (ص 436)، وأبو نعيم في "حلية الأولياء" (4/ 212)؛ من طريق أبي معمر إسماعيل بن إبراهيم؛ كلاهما (فضيل، وأبو معمر) عن هشيم، به.

وتصحف: "هشيم" في المطبوع من الزهد إلى "هاشم".

ومن طريق عبد الله أخرجه أبو نعيم في الموضع السابق من "الحلية"، وفيه: "ثنا عبد اللّه بن أحمد، حدثني أبي وأبو معمر، ثنا هشيم"؛ وجاء فيه: "هشيم" على الصواب.

‌‌(1) هو: ابن أبي هند.

‌‌(2) الآية (117) من سورة المائدة.

 

‌‌[1183] سنده صحيح إلى الشعبي.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 508) لابن جرير وابن المنذر.

وقد أخرجه ابن جرير في "تفسيره" (13/ 630) من طريق المصنف.

وأخرجه ابن جرير أيضًا (13/ 629 - 630) من طريق عبد الأعلى بن عبد الأعلى وإسماعيل بن علية وعلي بن عاصم؛ ثلاثتهم عن داود بن أبي هند، به.
[১১৮২] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হুশাইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: আল-আওয়াম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে; আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তার কাছে মৃত্যু আসবে সকল দিক থেকে} প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এমনকি প্রতিটি চুলের গোড়া থেকেও।

[আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও (২২)}]

[১১৮৩] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবনে আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ থেকে, তিনি আমির আশ-শা‘বি থেকে; আল্লাহ তাআলার বাণী: {আমি তোমাদের উদ্ধারকারী নই এবং তোমরাও আমার উদ্ধারকারী নও} প্রসঙ্গে তিনি বলেন: কিয়ামতের দিন দুইজন বক্তা দাঁড়াবেন: ইবলিস এই কথাটি বলবে, আর ঈসা বলবেন: {আমি তাদের কেবল তাই বলেছি যা আপনি আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন}।

--------------------------------------------

[১১৮২] এর সনদ সহীহ, এবং এটি পূর্ববর্তী বর্ণনার অন্য একটি সূত্র।

আল-ফাররা 'মাআনী আল-কুরআন' (২/ ৭২) গ্রন্থে হুশাইম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবিদ দুনিয়া 'সিফাতুন নার' (১২৬) গ্রন্থে ফুদাইল ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব থেকে, এবং আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ 'যাওয়াইদু আলায যুহদ' (পৃ. ৪৩৬) গ্রন্থে, এবং আবু নুয়াইম 'হিলয়াতুল আউলিয়া' (৪/ ২১২) গ্রন্থে আবু মা'মার ইসমাইল ইবনে ইব্রাহীমের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই (ফুদাইল ও আবু মা'মার) হুশাইম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

'আয-যুহদ'-এর মুদ্রিত কপিতে 'হুশাইম' শব্দটি 'হাশিম' হিসেবে ভুলভাবে মুদ্রিত হয়েছে।

আবু নুয়াইম আবদুল্লাহর সূত্রে 'আল-হিলইয়া'-এর পূর্বোক্ত স্থানে এটি বর্ণনা করেছেন, তাতে রয়েছে: "আমাদের নিকট আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমার পিতা এবং আবু মা'মার আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, তাঁরা বলেছেন: আমাদের নিকট হুশাইম বর্ণনা করেছেন"; আর এতে 'হুশাইম' শব্দটি সঠিকভাবে এসেছে।

‌‌(১) তিনি হলেন: ইবনে আবি হিন্দ।

‌‌(২) সূরা আল-মায়িদার ১১৭ নং আয়াত।

 

‌‌[১১৮৩] আশ-শা'বী পর্যন্ত এর সনদ সহীহ।

আস-সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৮/ ৫০৮) গ্রন্থে এটি ইবনে জারীর এবং ইবনুল মুনযিরের প্রতি নিসবত করেছেন।

ইবনে জারীর তাঁর 'তাফসীর' (১৩/ ৬৩০) গ্রন্থে গ্রন্থকারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারীর আরও (১৩/ ৬২৯ - ৬৩০) আব্দুল আ'লা ইবনে আব্দুল আ'লা, ইসমাইল ইবনে উলাইয়্যাহ এবং আলী ইবনে আসিম—এই তিনজনের সূত্রে দাউদ ইবনে আবি হিন্দ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
[قولُه تعالى: {أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ (24) تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلَّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ (25)}]

 

‌‌[1184] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا خالدٌ‌‌(1)، عن حُصينٍ‌‌(2)، عن عِكْرِمة؛ في قولِهِ: {مَثَلًا كَلِمَةً‌‌(3) طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ} قال: هي النخلةُ، والحِينُ: ستةُ أشهرٍ.

--------------------------------------------

‌‌(1) هو: خالد بن عبد اللّه الواسطي.

‌‌(2) هو: ابن عبد الرحمن السلمي، تقدم في الحديث [56] أنه ثقة تغير حفظه في الآخر، لكن خالد بن عبد اللّه الواسطي - الراوي عنه هنا - هو ممن روى عنه قبل تغيره.

‌‌(3) في الأصل: "ومثل كلمة".

 

‌‌[1184] سنده صحيح.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 515) لابن جرير وابن أبي حاتم والرامهرمزي.

وقد أخرجه حرب بن إسماعيل الكرماني في "مسائله" (616)، وابن جرير الطبري في "تفسيره" (13/ 641 و 646)؛ من طريق المصنف، به؛ إلا أنهما قالا: "عن الشيباني" بدل: "عن حصين"، فلعلها رواية أخرى عن المصنف، لكن لم نجد من رواه عن الشيباني سوى حرب وابن جرير.

وقد أخرجه ابن جرير (13/ 640) من طريق معلى بن أسد، عن خالد، عن حصين، به.

وأخرجه الرامهرمزي في "الأمثال" (ص 109) من طريق سليمان بن كثير، عن حصين، به.

وأخرجه الفراء في "معاني القرآن" (2/ 45) من طريق عبد الرحمن بن الغسيل الأنصاري، وعبد الرزاق (11325)، وابن جرير في "تفسيره" (13/ 646 و 648)، وابن أبي حاتم في "تفسيره" (11591)، من طريق عبد الرحمن بن الأصبهاني، وابن أبي شيبة (12596) من طريق داود بن أبي هند، وابن أبي شيبة (12609/ ط. عوامة)، وابن جرير (13/ 646)؛ من طريق أيوب السختياني، وابن أبي شيبة (12601)، والبيهقي (10/ 62)؛ من طريق إبراهيم=
[আল্লাহ তাআলার বাণী: {তুমি কি দেখনি আল্লাহ কীভাবে উপমা পেশ করেছেন? পবিত্র বাক্য একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে (২৪)। তা তার রবের নির্দেশে প্রতি সময়ে ফল দান করে। আর আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা পেশ করেন যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে (২৫)}]

‌ ‌[১১৮৪] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ‌‌(১) , হুসাইন থেকে ‌‌(২) , তিনি ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন; মহান আল্লাহর বাণী: {একটি পবিত্র বাক্যের ‌‌(৩) উপমা একটি পবিত্র বৃক্ষের ন্যায়} প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এটি হলো খেজুর গাছ। আর 'হিন' (সময়) হলো ছয় মাস।

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি হলেন: খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াসিতি।

‌‌(২) তিনি হলেন: ইবন আব্দুর রহমান আস-সুলামি, হাদিস নং [৫৬]-এ পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য ছিলেন তবে শেষ বয়সে তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াসিতি—যিনি এখানে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি তাঁদের একজন যারা তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তনের পূর্বেই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

‌‌(৩) মূল পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: "এবং একটি কালিমার উপমা"।

 

‌‌[১১৮৪] এর সনদ সহিহ।

আস-সুয়ুতি 'আদ-দুররুল মানসুর' (৮/ ৫১৫)-এ একে ইবন জারির, ইবন আবি হাতিম এবং আর-রামাহুরমুজির দিকে নিসবত করেছেন।

হারব বিন ইসমাইল আল-কিরমানি তাঁর 'মাসাইল' (৬১৬)-এ এবং ইবন জারির আত-তবারি তাঁর 'তাফসির' (১৩/ ৬৪১ ও ৬৪৬)-এ গ্রন্থকারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তবে তাঁরা উভয়ে "হুসাইন"-এর পরিবর্তে "শাইবানি থেকে" বলেছেন। সম্ভবত এটি গ্রন্থকার থেকে বর্ণিত অন্য একটি বর্ণনা, কিন্তু হারব ও ইবন জারির ছাড়া আর কাউকে আমরা পাইনি যারা শাইবানি থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবন জারির (১৩/ ৬৪০) মুআল্লা বিন আসাদ-এর সূত্রে, তিনি খালিদ থেকে, তিনি হুসাইন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর-রামাহুরমুজি 'আল-আমসাল' (পৃষ্ঠা ১০৯)-এ সুলাইমান বিন কাসির-এর সূত্রে, তিনি হুসাইন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আল-ফাররা 'মাআনী আল-কুরআন' (২/ ৪৫)-এ আব্দুর রহমান বিন আল-গাসিল আল-আনসারির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; এছাড়া আব্দুর রাজ্জাক (১১৩২৫), ইবন জারির তাঁর 'তাফসির' (১৩/ ৬৪৬ ও ৬৪৮)-এ, ইবন আবি হাতিম তাঁর 'তাফসির' (১১৫৯১)-এ আব্দুর রহমান বিন আল-আসবাহানির সূত্রে, ইবন আবি শায়বাহ (১২৫৯৬) দাউদ বিন আবি হিন্দের সূত্রে, ইবন আবি শায়বাহ (১২৬০৯/ আওয়ামাহ সংস্করণ) এবং ইবন জারির (১৩/ ৬৪৬) আইয়ুব আস-সাখতিয়ানির সূত্রে, ইবন আবি শায়বাহ (১২৬০১) এবং আল-বাইহাকি (১০/ ৬২) ইব্রাহিমের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন=
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌[1185] حدَّثنا سعيد، قال: نا أبو مُعاويةَ، عن الأعمشِ، عن أبي ظَبْيانَ‌‌(1)، عن ابنِ عباسٍ؛ قال: الحِينُ قد يكونُ غُدوةً وعشيةً.

[قولُهُ تعالى: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَتَ اللَّهِ كُفْرًا وَأَحَلُّوا قَوْمَهُمْ دَارَ الْبَوَارِ (28)}]

 

‌‌[1186] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا خالدُ بنُ عبدِ اللّهِ، عن حُصَينٍ‌‌(2)

--------------------------------------------

= ابن مهاجر؛ جميعهم (ابن الغسيل، وابن الأصبهاني، وداود، وأيوب، وإبراهيم) عن عكرمة قال: الحِينُ ستة أشهر. ووقع في "السنن الكبرى" للبيهقي: "إبراهيم بن المنهال" بدل: "إبراهيم بن مهاجر".

‌‌(1) هو: حصين بن جندب، تقدم في الحديث [58] أنه ثقة.

 

‌‌[1185] سنده صحيح، وعنعنة الأعمش هنا محمولة على السماع؛ لأن شعبة ممن روى عنه هذا الأثر كما سيأتي، وروايته عنه محمولة على السماع كما سبق بيانه في الحديث [3].

والأثر عزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 515) للمصنف والفريابي وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم وابن مردويه، وعزاه في (8/ 516) للبيهقي.

وقد أخرجه حرب بن إسماعيل الكرماني في "مسائله" (617) عن المصنف.

وأخرجه ابن أبي شيبة (12594) عن أبي معاوية، به.

وأخرجه ابن جرير في "تفسيره" (13/ 643) عن الحسن بن محمد بن الصباح، وابن أبي حاتم في "تفسيره" (11589) عن أحمد بن سنان، والبيهقي (10/ 61) من طريق سعدان بن نصر؛ جميعهم (الحسن بن محمد، وأحمد بن سنان، وسعدان) عن أبي معاوية، به.

وأخرجه ابن جرير أيضًا (13/ 643 و 644) من طريق محمد بن عبيد وسفيان الثوري وشعبة وزائدة بن قدامة وشريك بن عبد اللّه النخعي، والضياء في "المختارة" (10/ رقم 3) من طريق شعبة؛ جميعهم عن الأعمش، به.

وأخرجه ابن جرير أيضًا (13/ 645) من طريق قابوس بن أبي ظبيان، عن أبيه، به.

‌‌(2) هو: ابن عبد الرحمن السُّلَمي. وانظر الكلام عليه في التعليق على الحديث قبل السابق.

 

‌‌[1186] سنده صحيح إلى أبي مالك غزوان الغفاري. =
[১১৮৫] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু মুয়াবিয়া আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি আমাশ থেকে, তিনি আবু যাবইয়ান থেকে (১) , তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: ‘হিন’ (সময়) কখনো সকাল এবং সন্ধ্যাও হতে পারে।

[মহান আল্লাহর বাণী: {আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা আল্লাহর অনুগ্রহকে কুফরি দ্বারা পরিবর্তিত করেছে এবং তাদের সম্প্রদায়কে ধ্বংসের নিবাসে নামিয়ে এনেছে? (২৮)}]

[১১৮৬] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি হুসাইন থেকে (২)

--------------------------------------------

= ইবনে মুহাজির; তারা সকলেই (ইবনুল গাসীল, ইবনুল আসবাহানী, দাউদ, আইয়ুব এবং ইব্রাহীম) ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: 'হিন' (সময়) হলো ছয় মাস। আর বায়হাক্বীর "আস-সুনানুল কুবরা"-তে "ইব্রাহীম ইবনে মুহাজির"-এর পরিবর্তে "ইব্রাহীম ইবনুল মিনহাল" শব্দ বর্ণিত হয়েছে।

‌‌(১) তিনি হলেন: হুসাইন ইবনে জুনদুব, হাদিস নং [৫৮]-এ ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য (সিক্বাহ)।

 

‌‌[১১৮৫] এর সানাদ সহীহ। এখানে আমাশের 'আন' (عن) যোগে বর্ণিত বর্ণনাটি সরাসরি শ্রবণ হিসেবে গণ্য হবে; কারণ শু'বাহ তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা তার থেকে এই আসারটি বর্ণনা করেছেন যেমনটি সামনে আসবে, এবং তার থেকে শু'বাহর বর্ণনা সরাসরি শ্রবণের অন্তর্ভুক্ত যেমনটি ইতিপূর্বে ৩ নং হাদিসে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর"-এ (৮/ ৫১৫) এই আসারটি গ্রন্থকার (মুসান্নিফ), ফারিয়াবী, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, ইবনে আবি হাতিম এবং ইবনে মারদুওয়াইহ-এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন এবং (৮/ ৫১৬) পৃষ্ঠায় বায়হাক্বীর উদ্ধৃতিতে এটি উল্লেখ করেছেন।

হারব ইবনে ইসমাইল আল-কিরমানী তার "মাসায়িল"-এ (৬১৭) এটি গ্রন্থকার (মুসান্নিফ) থেকে বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি শায়বাহ (১২৫৯৪) আবু মুয়াবিয়ার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারীর তার "তাফসীর"-এ (১৩/ ৬৪৩) হাসান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুস সাব্বাহ থেকে, ইবনে আবি হাতিম তার "তাফসীর"-এ (১১৫৮৯) আহমাদ ইবনে সিনান থেকে এবং বায়হাক্বী (১০/ ৬১) সা'দান ইবনে নাসর-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই (হাসান ইবনে মুহাম্মদ, আহমাদ ইবনে সিনান এবং সা'দান) আবু মুয়াবিয়ার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারীরও (১৩/ ৬৪৩ ও ৬৪৪) মুহাম্মদ ইবনে উবাইদ, সুফিয়ান সাওরী, শু'বাহ, যাইদাহ ইবনে কুদামা এবং শারীক ইবনে আব্দুল্লাহ আন-নাখায়ী-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন, এবং দিয়া (আল-মাকদিসী) "আল-মুখতারাহ"-তে (১০/ নং ৩) শু'বাহর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তারা সকলেই আমাশের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে জারীরও (১৩/ ৬৪৫) কাবুস ইবনে আবি যাবইয়ান থেকে, তিনি তার পিতা থেকে—এই সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌‌(২) তিনি হলেন: ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুলামী। পূর্ববর্তী হাদিসের আগের হাদিসের টিকায় তার সম্পর্কে আলোচনা দেখুন।

 

‌‌[১১৮৬] আবু মালিক গাযওয়ান আল-গিফারী পর্যন্ত এর সানাদ সহীহ। =
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
عن أبي مالكٍ؛ في قولِهِ: {أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ بَدَّلُوا نِعْمَتَ اللَّهِ كُفْرًا}؛ قال: هم القادةُ من المشركينَ يومَ بدرٍ.

 

‌‌[1187] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا سفيانُ، عن عمرٍو‌‌(1)، عن عطاءٍ‌‌(2)، عن ابنِ عباسٍ؛ قال: هم - واللّه - أهلُ مكةَ.

--------------------------------------------

= وأخرجه ابن جرير الطبري في "تفسيره" (13/ 675) من طريق معلى بن أسد، عن خالد بن عبد اللّه، به.

وأخرجه ابن جرير أيضًا (13/ 675 و 675 - 676) من طريقين عن هشيم، عن حصين، عن أبي مالك وسعيد بن جبير معًا، نحوه.

‌‌(1) هو: ابن دينار.

‌‌(2) هو: ابن أبي رباح.

 

‌‌[1187] سنده صحيح.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 547) للمصنف وعبد الرزاق والبخاري والنسائي وابن جرير وابن أبي حاتم وابن مردويه والبيهقي في "دلائل النبوة".

وأخرجه عبد الرزاق في "تفسيره" (1/ 342 - 343) عن سفيان بن عيينة، به.

وأخرجه البخاري (3977) عن الحميدي، و (4700) عن علي بن المديني، والنسائي في "السنن الكبرى" (11204) عن قتيبة بن سعيد، وابن جرير في "تفسيره" (13/ 673) من طريق عبد الجبار بن العلاء، و (13/ 675) عن أبي كريب محمد بن العلاء، والبيهقي في "دلائل النبوة" (3/ 95) من طريق ابن أبي عمر العدني؛ جميعهم (الحميدي، وابن المديني، وقتيبة، وعبد الجبار، وأبو كريب، والعدني) عن سفيان بن عيينة، به.

وأخرجه ابن جرير الطبري في "تفسيره" (13/ 673 و 675)، والبغوي في "الجعديات" (3335)؛ من طريق حماد بن سلمة، عن عمرو بن دينار، عن ابن عباس قال: "هم المشركون من أهل بدر"، ولم يذكر عطاء بن أبي رباح.

ورواية ابن عيينة أرجح؛ فهو أوثق الناس في عمرو بن دينار، وأحفظ من حماد بن سلمة.
আবু মালিক হতে বর্ণিত; আল্লাহর বাণী: {আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেননি, যারা আল্লাহর অনুগ্রহকে কুফরিতে পরিবর্তিত করেছে?} সম্পর্কে তিনি বলেন: তারা হলো বদরের দিনের মুশরিকদের নেতৃবৃন্দ।

‌ ‌[১১৮৭] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমর ‌‌(১) হতে, তিনি আতা ‌‌(২) হতে, তিনি ইবনে আব্বাস হতে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: তারা হলো—আল্লাহর কসম—মক্কাবাসী।

--------------------------------------------

= এবং ইবনে জারির আত-তবারী এটি তাঁর "তাফসীর"-এ (১৩/ ৬৭৫) মুআল্লা বিন আসাদের সূত্রে, খালিদ বিন আব্দুল্লাহ থেকে, তাঁর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনে জারির এটি আরও (১৩/ ৬৭৫ এবং ৬৭৫ - ৬৭৬) হুশাইমের সূত্রে হোসাইন থেকে, তিনি আবু মালিক এবং সাঈদ বিন জুবাইর থেকে যৌথভাবে এর অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

‌‌(১) তিনি হলেন: ইবনে দিনার।

‌‌(২) তিনি হলেন: ইবনে আবি রাবাহ।

 

‌‌[১১৮৭] এর সনদ সহিহ।

এবং আস-সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর"-এ (৮/ ৫৪৭) একে গ্রন্থকার, আব্দুর রাজ্জাক, বুখারি, নাসাঈ, ইবনে জারির, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে মারদুওয়াইহি এবং বায়হাকি এর "দালাইলুন নুবুওয়াহ" গ্রন্থের উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

এবং আব্দুর রাজ্জাক তাঁর "তাফসীর"-এ (১/ ৩৪২ - ৩৪৩) সুফিয়ান বিন উয়াইনার সূত্রে তাঁর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং বুখারি (৩৯৭৭) হুমাইদী থেকে এবং (৪৭০০) আলী ইবনুল মাদিনী থেকে, নাসাঈ "আস-সুনানুল কুবরা"-তে (১১২০৪) কুতাইবা বিন সাঈদ থেকে, ইবনে জারির তাঁর "তাফসীর"-এ (১৩/ ৬৭৩) আব্দুল জব্বার ইবনুল আলা-এর সূত্রে এবং (১৩/ ৬৭৫) আবু কুরাইব মুহাম্মাদ ইবনুল আলা থেকে এবং বায়হাকি "দালাইলুন নুবুওয়াহ"-তে (৩/ ৯৫) ইবনে আবি উমর আল-আদানী-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই (হুমাইদী, ইবনুল মাদিনী, কুতাইবা, আব্দুল জব্বার, আবু কুরাইব এবং আদানী) সুফিয়ান বিন উয়াইনার সূত্রে তাঁর মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।

এবং ইবনে জারির আত-তবারী তাঁর "তাফসীর"-এ (১৩/ ৬৭৩ এবং ৬৭৫) এবং আল-বাগাউই "আল-জাদিয়াত"-এ (৩৩৩৫) হাম্মাদ বিন সালামার সূত্রে, আমর বিন দিনার থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "তারা ছিল বদরের মুশরিকরা", আর তিনি আতা বিন আবি রাবাহ-এর উল্লেখ করেননি।

এবং ইবনে উয়াইনার বর্ণনাটি অধিক গ্রহণযোগ্য; কারণ তিনি আমর বিন দিনারের বর্ণনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি এবং হাম্মাদ বিন সালামার চেয়ে অধিক স্মৃতিশক্তিসম্পন্ন।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
[قولُهُ تعالى: { … فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ … (37)}]

 

‌‌[1188] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا جَريرٌ‌‌(1)، عن منصور‌‌(2)، عن مجاهدٍ؛ في قولِهِ عز وجل: {فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ}‌‌(3)؛ قال: لو كان قال: أفئدةَ الناسِ؛ لازدحمتْ عليه فارسُ والرُّومُ.

--------------------------------------------

‌‌(1) هو: ابن عبد الحميد.

‌‌(2) هو: ابن المعتمر.

‌‌(3) فائدة: قرأ مجاهد هذه الآية: { … تَهْوِي إِلَيْهِمْ}، و"تَهْوَى" مضارع "هَوِيَ" بمعنى أحبَّ، وعُدِّي بـ "إلى" لتضمُّنِه معنى الميل والنزوع. وقراءة الجمهور: {تَهْوِي} مضارع "هَوَى"، ومن معانيه أيضًا: الميل، والنزوع، والشوق، والإسراع، والارتفاع؛ فمعناهما متقارب؛ و"تَهْوِي" أيضًا فيه تضمين؛ إذ حقه أن يتعدى باللام.

وانظر: "المحتسب" لابن جني (1/ 364)، و "التبيان" للعكبري (2/ 771)، و"الدر المصون" للسمين الحلبي (7/ 115 - 116)، و"معجم القراءات" لعبد اللطيف الخطيب (4/ 501 - 502).

 

‌‌[1188] سنده صحيح.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 558 - 559) لابن أبي شيبة وابن جرير وابن أبي حاتم والطبراني.

وقد أخرجه ابن أبي شيبة (16067) عن جرير بن عبد الحميد، به.

وأخرجه ابن جرير في "تفسيره" (13/ 698) عن محمد بن حميد، وسفيان بن وكيع، و (13/ 699) من طريق علي بن الجعد، والطبراني في "المعجم الكبير" (13/ رقم 14156) من طريق إسحاق بن راهويه؛ جميعهم (ابن حميد، وابن وكيع، وابن الجعد، وابن راهويه) عن جرير بن عبد الحميد، به.

وأخرجه الثوري في "تفسيره" (465) - ومن طريقه ابن جرير في "تفسيره" (13/ 698) - عن منصور، به، إلا أنه جاء في المطبوع من "تفسير الثوري": "سفيان، عن مجاهد" دون ذكر منصور في الإسناد.
[আল্লাহ তাআলার বাণী: { ... অতঃপর আপনি মানুষের কিছু হৃদয়কে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন ... (৩৭)}]

‌ ‌[১১৮৮] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: জারীর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ‌‌(১) , মানসূর থেকে ‌‌(২) , তিনি মুজাহিদ থেকে; মহান ও পরাক্রমশালী আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {অতঃপর আপনি মানুষের কিছু হৃদয়কে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন} ‌‌(৩) ; তিনি বলেন: যদি তিনি বলতেন: 'মানুষের হৃদয়সমূহ'; তবে পারস্য ও রোমবাসীরাও সেখানে ভিড় জমাত।

--------------------------------------------

‌‌(১) তিনি হলেন: ইবন আব্দুল হামিদ।

‌‌(২) তিনি হলেন: ইবনুল মুতামির।

‌‌(৩) জ্ঞাতব্য: মুজাহিদ এই আয়াতটি এভাবে পাঠ করেছেন: {তাহওয়া ইলাইহিম (তাদের প্রতি ধাবিত হয়)}, এখানে "তাহওয়া" শব্দটি "হাওয়িয়া" এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন রূপ (মুদারে), যার অর্থ 'ভালোবাসা'; আর একে "ইলা" অব্যয় দ্বারা সকর্মক করা হয়েছে কারণ এর মধ্যে ঝোঁক ও আসক্তির অর্থ নিহিত রয়েছে। অধিকাংশের (জমহুর) পাঠ হলো: {তাহউই}, এটি "হাওয়া" এর বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন রূপ; এর অন্যান্য অর্থের মধ্যে রয়েছে: ঝোঁক, আসক্তি, আকাঙ্ক্ষা, দ্রুত চলা এবং উপরে উঠা; ফলে উভয় পাঠের অর্থ কাছাকাছি। "তাহউই" শব্দটিতেও নিহিত অর্থ (তাদমিন) রয়েছে; কারণ ব্যাকরণগতভাবে এর সাথে 'লাম' অব্যয় যুক্ত হওয়া সংগত ছিল।

দেখুন: ইবন জিন্নি রচিত "আল-মুহতাসিব" (১/ ৩৬৪), আল-উকবারী রচিত "আত-তিবইয়ান" (২/ ৭৭১), সামীন আল-হালাবী রচিত "আদ-দুররুল মাসুন" (৭/ ১১৫ - ১১৬), এবং আব্দুল লতিফ আল-খতিব রচিত "মুজামুল কিরাআত" (৪/ ৫০১ - ৫০২)।

 

‌‌[১১৮৮] এর বর্ণনাসূত্র সহিহ।

আস-সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর"-এ (৮/ ৫৫৮ - ৫৫৯) একে ইবন আবি শায়বাহ, ইবন জারির, ইবন আবি হাতিম এবং তাবারানির উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন।

ইবন আবি শায়বাহ (১৬০৬৭) এটি জারির ইবন আব্দুল হামিদের সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

ইবন জারির তাঁর "তাফসির"-এ (১৩/ ৬৯৮) মুহাম্মদ ইবন হুমাইদ ও সুফইয়ান ইবন ওয়াকি' থেকে এবং (১৩/ ৬৯৯) আলী ইবনুল জা'দ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; আর তাবারানি তাঁর "আল-মুজামুল কাবির"-এ (১৩/ নং ১৪১৫৬) ইসহাক ইবন রাহওয়াইহ-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা সকলেই (ইবন হুমাইদ, ইবন ওয়াকি', ইবনুল জা'দ এবং ইবন রাহওয়াইহ) জারির ইবন আব্দুল হামিদের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আস-সাওরী তাঁর "তাফসির"-এ (৪৬৫) - এবং তাঁর সূত্রে ইবন জারির তাঁর "তাফসির"-এ (১৩/ ৬৯৮) - মানসুরের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন, তবে "তাফসিরুস সাওরী"-র মুদ্রিত সংস্করণে বর্ণনাসূত্রে মানসুরের উল্লেখ ছাড়াই "সুফইয়ান, মুজাহিদ থেকে" এভাবে এসেছে।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌[1189] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا عبدُ الرحمنِ بنُ زيادٍ‌‌(1)، عن شعبةَ، عن الحكَمِ‌‌(2)؛ قال: سألتُ طاوسًا وعطاءً وعِكْرمةَ‌‌(3) عن

--------------------------------------------

‌‌(1) هو: الرصاصي، تقدم في الحديث [6] أنه صدوق.

‌‌(2) هو: ابن عُتَيبة.

‌‌(3) طاوس هو: ابن كيسان، وعطاء هو: ابن أبي رباح، وعكرمة هو: مولى ابن عباس.

وكذا جاء في الأصل: "سألت طاوسًا … "، وكذا في "الدر المنثور" و"معاني القرآن"، وفي بقية المصادر: "عن طاوس وعكرمة وعطاء"، مع تقديم وتأخير في الأسماء الثلاثة. والعَلَم "طاوس" يجوز فيه الصَّرف - وهو الأكثر - وعدمُه، فمن صرفَهُ ذهب إلى أنه عربيٌّ أصيل، وأنه اشتُقَّ من قول العرب: تطَوَّسَتِ المرأةُ: إذا تزيَّنت. ومن منع صرفَه ذهب إلى أنه أعجمي.

قال: د. ف عبد الرحيم: هو يوناني معرَّب، وأصله "تاؤُس" بالهمزة، ألحقوه بـ "فاعول"؛ لفقد "فاعُل" في الأبنية العربية.

انظر: "المعرَّب" للجواليقي (ص 443)، وانظر: "لسان العرب" و"تاج العروس" (ط و س)، وبحث: "فاعول" بين العربية والسريانية ضمن كتاب "دراسات في اللغتين السريانية والعربية" لإبراهيم السامرائي (ص 147).

 

‌‌[1189] سنده حسن؛ لحال عبد الرحمن بن زياد، وقد توبع كما سيأتي؛ فالأثر صحيح.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 559) لابن أبي شيبة وابن جرير وابن أبي حاتم.

وقد أخرجه ابن أبي شيبة (16062) عن وكيع ومحمد بن جعفر غندر، وابن جرير في "تفسيره" (13/ 699) من طريق وكيع وغندر وعلي بن الجعد ويحيى بن عباد وشبابة وآدم بن أبي إياس، والبغوي في "الجعديات" (246) عن علي بن الجعد، والنحاس في "معاني القرآن" (3/ 536 - 537) من طريق يحيى بن عباد؛ جميعهم (وكيع، وغندر، وابن الجعد، ويحيى بن عباد، وشبابة، وآدم) عن شعبة، به، نحوه، ولم يذكر في رواية غندر عند ابن جرير: "عطاءً ولا طاوسًا"، وجاء في رواية يحيى بن عباد وشبابة وابن الجعد عند ابن جرير: "سعيد" بدل "شعبة"، وجاء على الصواب في "الجعديات" و"معاني القرآن".
[১১৮৯] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের নিকট আবদুর রহমান ইবনে যিয়াদ বর্ণনা করেছেন(১), তিনি শুবা থেকে, তিনি হাকাম থেকে(২) বর্ণনা করেন; তিনি বলেন: আমি তাউস, আতা এবং ইকরিমাহকে জিজ্ঞাসা করেছি(৩) নিম্নে বর্ণিত বিষয়টি সম্পর্কে:

--------------------------------------------

(১) তিনি হলেন আর-রাসাসি, ৬ নম্বর হাদিসে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি একজন সত্যবাদী বর্ণনাকারী।

(২) তিনি হলেন ইবনে উতাইবাহ।

(৩) তাউস হলেন ইবনে কাইসান, আতা হলেন ইবনে আবি রাবাহ এবং ইকরিমাহ হলেন ইবনে আব্বাসের মুক্তদাস।

মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই এসেছে: "আমি তাউসকে জিজ্ঞাসা করেছি ইত্যাদি", এবং "আদ-দুররুল মানসুর" ও "মাআনিল কুরআন" গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে অন্যান্য উৎসসমূহে এই তিনটি নামের ধারাবাহিকতায় আগে-পিছে করে "তাউস, ইকরিমাহ ও আতা থেকে" এভাবে বর্ণিত হয়েছে। "তাউস" নামটিতে 'সারফ' বা তানভিন হওয়া বৈধ—আর এটিই অধিক প্রচলিত—আবার তানভিন না হওয়াও বৈধ। যারা এতে তানভিন ব্যবহার করেছেন, তারা মনে করেন এটি একটি আদি আরবি শব্দ এবং এটি আরবদের এই কথা থেকে নির্গত: "নারীটি সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়েছে", যখন সে নিজেকে সুশোভিত করে। আর যারা একে 'গাইরে মুনসারিফ' বা তানভিনহীন হিসেবে গণ্য করেন, তারা মনে করেন এটি একটি অনারবি শব্দ।

ডক্টর এফ. আব্দুর রহিম বলেন: এটি একটি আরবিকৃত গ্রিক শব্দ, যার মূল হলো হামযাহসহ "তাউস"। তারা একে "ফাউল" ওজনের অন্তর্ভুক্ত করেছে; কারণ আরবি শব্দগঠন কাঠামোতে "ফাউল" ওজনের অনুপস্থিতি রয়েছে।

দেখুন: জাওয়ালিকীর "আল-মুয়াররাব" (পৃ. ৪৪৩), এবং দেখুন: "লিসানুল আরব" ও "তাজুল আরুস" (ত্বা এবং সিন বর্ণ), এবং ইবরাহিম আল-সামাররাই-এর "দিরসাত ফিল লুগাতাইন আস-সুরইয়ানিয়্যাহ ওয়াল আরাবিয়্যাহ" গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত "আরবি ও সুরইয়ানি ভাষার মাঝে ফাউল" শীর্ষক গবেষণা (পৃ. ১৪৭)।

[১১৮৯] এর সনদ হাসান; আবদুর রহমান বিন জিয়াদের অবস্থার কারণে, তবে এর সমর্থনে অন্য বর্ণনা (মুতাবায়াত) রয়েছে যা সামনে আসবে; সুতরাং এই আসারটি (বর্ণনাটি) সহিহ।

সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/ ৫৫৯) গ্রন্থে একে ইবনে আবি শাইবাহ, ইবনে জারির এবং ইবনে আবি হাতিমের দিকে নিসবত করেছেন।

এটি ইবনে আবি শাইবাহ (১৬০৬২) ওয়াকি ও মুহাম্মদ বিন জাফর গুন্দার থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে জারির তাঁর "তাফসির" (১৩/ ৬৯৯) গ্রন্থে ওয়াকি, গুন্দার, আলী বিন আল-জাদ, ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ, শাবাবাহ ও আদম বিন আবি ইয়াস-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তারা সকলে (ওয়াকি, গুন্দার, ইবনে আল-জাদ, ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ, শাবাবাহ ও আদম) শু’বাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তবে ইবনে জারিরের নিকট গুন্দারের বর্ণনায় "আতা কিংবা তাউস"-এর নাম উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ইবনে জারিরের নিকট ইয়াহইয়া বিন আব্বাদ, শাবাবাহ ও ইবনে আল-জাদের বর্ণনায় "শু’বাহ"-এর পরিবর্তে "সাঈদ" নাম এসেছে; যদিও "আল-জাদিয়্যাত" ও "মাআনিল কুরআন" গ্রন্থে এটি সঠিকভাবে (শু’বাহ হিসেবেই) এসেছে।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
قولِه: {فَاجْعَلْ أَفْئِدَةً مِنَ النَّاسِ تَهْوِي إِلَيْهِمْ}؟ قال‌‌(1): أهواءَهم‌‌(2) إلى مكةَ.

--------------------------------------------

‌‌(1) كذا في الأصل، وكذا في رواية ابن الجعد، إلا أنه قال: "عن عطاء وطاوس وعكرمة … قال". والجادة: "قالوا" أي: طاوس وعطاء وعكرمة. ويخرَّج قوله "قال" على أوجه:

أحدها: أنه أراد: قال كلُّ واحدٍ منهم، أو: قال جميعهم، ويكون الفاعل ضميرًا مستترًا يعود على المفهوم من السياق؛ ونحوه: {مَا تَرَكَ عَلَى ظَهْرِهَا مِنْ دَابَّةٍ} [فاطر: 45] أي: الأرض، و {حَتَّى تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ} [ص: 32]، أي: الشمسُ؛ ولم يتقدم ذكرهما. وانظر في ذلك: "ارتشاف الضرب" لأبي حيان (2/ 941 - 943)، و"همع الهوامع" للسيوطي (1/ 263).

والثاني: أن يعود ضمير الفاعل على أحدِ الثلاثة؛ ويكون ذَكَر فعل القول الخاص بأحدهم فقط اكتفاءً بالشيء عن نظيره أو نظائره؛ كقول الشنفرى [من الطويل]:

وأَصْبَحَ عَنِّي بالغُمَيْصاءِ جالِسًا … فَرِيقانِ مَسْؤُولٌ وآخَرُ يَسْألُ

فلم يُثَنِّ خبر "أصبح" - وهو "جالسًا" - مع أن اسمها "فريقان" مثنى.

ويدخل هذا أيضًا في التوسُّع في الدلالة والخروج عن الأصل؛ فيدل المفرد على المثنى أو الجمع، والمثنى على المفرد أو الجمع، والجمع على المفرد أو المثنى.

وانظر: "إعراب لامية الشنفرى" (ص 129)، و"همع الهوامع" (1/ 194).

والثالث: أن يكون أصل: "قال" هنا: "قالُوا" أي: الثلاثة. فحذف الواو وأبقى الضمة دليلًا عليها؛ ويضبط الفعل حينئذ "قَالُ"، ويُعدّ هذا من الاجتزاء بالحركات عن حروف المد، وهو لغة لبعض العرب، ولها شواهد كثيرة؛ انظرها في: "الخصائص" لابن جني (3/ 133 - 136)، و"سر صناعة الإعراب" له (2/ 631 - 632)، و"الإنصاف" لابن الأنباري (1/ 385 - 391)، (2/ 544 - 547).

‌‌(2) كذا في الأصل؛ ويكون المعنى: "اجعل أهواءهم". ولم نقف على نصٍّ بمخالفة الثلاثة (طاوس وعطاء وعكرمة) لقراءة الجمهور: {تَهْوِي}، وقد فُسِّرت قراءة الجمهور أيضًا بالميل والحب والنزوع والشوق، وانظر الفائدة في التعليق على الأثر السابق.
তাঁর বাণী: {অতঃপর আপনি মানুষের মধ্য হতে কিছু লোকের অন্তরকে তাদের প্রতি অনুরাগী করে দিন}? তিনি বলেছেন ‌‌(১) : তাদের অনুরাগ ‌‌(২) মক্কার দিকে।

--------------------------------------------

‌ ‌(১) মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই রয়েছে, এবং ইবনুল জা'দের বর্ণনায়ও অনুরূপ রয়েছে, তবে তিনি বলেছেন: "আতা, তাউস এবং ইকরিমাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন।" অথচ প্রচলিত নিয়ম হলো: "তারা বলেছেন" অর্থাৎ: তাউস, আতা এবং ইকরিমাহ। তাঁর এই উক্তি "তিনি বলেছেন" শব্দটিকে কয়েকটি দিক থেকে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে:

প্রথমত: তিনি বুঝিয়েছেন যে, তাদের প্রত্যেকেই বলেছেন, অথবা: তারা সকলেই বলেছেন। এক্ষেত্রে ফায়িল বা কর্তা হবে একটি উহ্য সর্বনাম যা প্রসঙ্গের মর্মার্থের দিকে ফিরে যায়; এর উদাহরণ হলো আল্লাহর বাণী: {তিনি এর পিঠে কোনো জীবজন্তুকে অবশিষ্ট রাখতেন না} [ফাতির: ৪৫] অর্থাৎ: পৃথিবীর পিঠে, এবং {যতক্ষণ না তা পর্দার আড়ালে আত্মগোপন করল} [সোয়াদ: ৩২], অর্থাৎ: সূর্য; অথচ এ দুটির কথা পূর্বে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে দেখুন: আবু হাইয়ানের "ইরতিশাফুদ দারাব" (২/ ৯৪১ - ৯৪৩), এবং সুয়ূতির "হামউল হাওয়ামি" (১/ ২৬৩)।

দ্বিতীয়ত: কর্তার সর্বনামটি এই তিনজনের কোনো একজনের দিকে ফিরে যাবে; আর এখানে কেবল একজনের সাথে সংশ্লিষ্ট উক্তির ক্রিয়াটি উল্লেখ করা হয়েছে তার সমজাতীয় অন্যদের বর্ণনার পরিবর্তে এটিকেই যথেষ্ট মনে করে; যেমন আশ-শানফারার উক্তি [তাবিল ছন্দ থেকে]:

এবং গুমাইসাতে আমার থেকে পৃথক হয়ে একপাশে বসে ভোর অতিবাহিত করল দুটি দল, যাদের একটি জিজ্ঞাসিত এবং অন্যটি জিজ্ঞাসা করছে।

এখানে "আসবাহা"-এর খবর "জালিসান"-কে দ্বিবচন করা হয়নি, যদিও এর ইসম তথা বিশেষ্য "ফারিকানি" শব্দটি দ্বিবচন।

এটি অর্থের প্রসার এবং মূল নিয়ম থেকে বিচ্যুতির অন্তর্ভুক্ত; ফলে একবচন দ্বিবচন বা বহুবচনের অর্থ প্রদান করে, দ্বিবচন একবচন বা বহুবচনের অর্থ প্রদান করে এবং বহুবচন একবচন বা দ্বিবচনের অর্থ প্রদান করে।

দেখুন: "ই'রাব লামিয়াতুশ শানফারা" (পৃ. ১২৯) এবং "হামউল হাওয়া-মি" (১/১৯৪)।

তৃতীয়ত: এখানে "ক্বলা" এর মূল রূপ হবে "ক্বলা-উ" অর্থাৎ সেই তিনজন। ফলে 'ওয়াও' বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং এর প্রমাণ হিসেবে 'যম্মাহ' রাখা হয়েছে; তখন ক্রিয়াটি "ক্বলা-উ" হিসেবে পঠিত হয়। এটি হরফে মাদ্দ-এর পরিবর্তে হারাকাত (স্বরচিহ্ন) দ্বারা সংক্ষেপ করার অন্তর্ভুক্ত, যা কিছু আরবের ভাষাভঙ্গি এবং এর অনেক প্রমাণ রয়েছে; দেখুন: ইবনে জিন্নি রচিত "আল-খাসাইস" (৩/১৩৩-১৩৬), তাঁর রচিত "সিররু সিনাআতিল ই'রাব" (২/৬৩১-৬৩২) এবং ইবনুল আম্বারি রচিত "আল-ইনসাফ" (১/৩৮৫-৩৯১), (২/৫৪৪-৫৪৭)।

(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এমনই রয়েছে; এর অর্থ হবে: "তাদের প্রবৃত্তিকে করে দিন"। জুমহুর বা অধিকাংশের কিরাত {তাহওয়ি}-এর বিপরীতে এই তিনজনের (তাউস, আতা এবং ইকরিমাহ) কোনো বর্ণনা আমরা পাইনি। জুমহুরের কিরাতকেও ঝোঁক, ভালোবাসা, টান ও আকুলতা দ্বারা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পূর্ববর্তী বর্ণনার টীকায় এর উপকারিতা দেখুন।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
[قولُهُ تعالى: {وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ إِنَّمَا يُؤَخِّرُهُمْ لِيَوْمٍ تَشْخَصُ فِيهِ الْأَبْصَارُ (42)}]

 

‌‌[1190] حدَّثنا سعيدٌ، قال: سألتُ سفيانَ عن قولِهِ: {وَلَا تَحْسَبَنَّ اللَّهَ غَافِلًا عَمَّا يَعْمَلُ الظَّالِمُونَ}؟ قال: تعزيةٌ للمؤمنِ، ووعيدٌ للكافرِ. قلتُ: من قاله يا أبا محمدٍ؟ قال: أهلُ العلمِ.

[قولُهُ تعالى: {وَقَدْ مَكَرُوا مَكْرَهُمْ وَعِنْدَ اللَّهِ مَكْرُهُمْ وَإِنْ كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ (46)}]

 

‌‌[1191] حدَّثنا سعدٌ، قال: نا خالدُ بنُ عبدِ اللهِ، عن حُصَينٍ‌‌(1)،

عن أبي مالك؛ في قولِهِ عز وجل: {وَإِنْ كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ}؛ قال: صنعوا تَوابيتًا فعلَّقوا بالنُّسُورِ‌‌(2)، فلما

--------------------------------------------

[1190] سنده صحيح إلى سفيان بن عيينة.

‌‌(1) هو: ابن عبد الرحمن السلمي، تقدم في الحديث [56] أنه ثقة تغير حفظه في الآخر، لكن خالد بن عبد اللّه الواسطي - الراوي عنه هنا - هو ممن روى عنه قبل تغيره.

 

‌‌[1191] سنده صحيح إلى أبي مالك غزوان الغفاري، ولكنه لم يذكر عمن أخذه.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 572 - 573) للمصنف وابن أبي حاتم.

‌‌(2) قوله: "توابيتًا فعلقوا بالنسور" كذا في الأصل، ولم يذكر السيوطي لفظ المصنِّف. وفيما في الأصل إشكالان: الأول: قوله: "توابيتًا" والجادَّة فيه: "توابيتَ" بحَذْفِ الألف؛ لأنه ممنوعٌ من الصرف لمجيئه على صيغة منتهى الجموع، لَكنَّ قوله: "توابيتًا" بالتنوين، جائزٌ في العربية وصحيحٌ؛ ويخرَّج على لغة من يَصْرفُ جميعَ ما لا ينصرف في الاختيار وسعة الكلام؛ وهي لغة لبعض العرب، ومن شواهدها قولُهُ تعالى: {سَلَاسِلَ وَأَغْلَالًا وَسَعِيرًا} [الإنسان: 4] في قراءة من نوَّن "سلاسلًا"، ومثل ذلك: قراءتُهُمْ بالتنوين في قوله تعالى: {قَوَارِيرَا (15) قَوَارِيرَ} [الإنسان: 15، 16]، وقراءةُ الأعمش والأشهب العقيلي والمطوِّعي: {وَلَا يَغُوثَ وَيَعُوقَ وَنَسْرًا} [نوح: 23]. =
[আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর আপনি কখনও মনে করবেন না যে, জালিমরা যা করছে সে সম্পর্কে আল্লাহ উদাসীন; আসলে তিনি তাদেরকে সেই দিন পর্যন্ত অবকাশ দিচ্ছেন, যেদিন চক্ষুসমূহ স্থির হয়ে যাবে (৪২)}]

‌ ‌[১১৯০] সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি সুফিয়ানকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছি: {আর আপনি কখনও মনে করবেন না যে, জালিমরা যা করছে সে সম্পর্কে আল্লাহ উদাসীন}? তিনি বললেন: এটি মুমিনের জন্য সান্ত্বনা এবং কাফিরের জন্য হুঁশিয়ারি। আমি বললাম: হে আবু মুহাম্মদ, এটি কে বলেছেন? তিনি বললেন: আলেমগণ।

[আল্লাহ তাআলার বাণী: {আর তারা তাদের গভীর চক্রান্ত করেছিল, কিন্তু তাদের চক্রান্ত আল্লাহর কাছে (হিসাবভুক্ত) ছিল; যদিও তাদের চক্রান্ত এমন ছিল যা পাহাড়সমূহকে স্থানচ্যুত করার মতো ছিল (৪৬)}]

‌ ‌[১১৯১] সাদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন হুসাইন থেকে ‌‌(১) ,

আবু মালিক থেকে বর্ণিত; আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা-র এই বাণী সম্পর্কে: {যদিও তাদের চক্রান্ত এমন ছিল যা পাহাড়সমূহকে স্থানচ্যুত করার মতো ছিল}; তিনি বলেন: তারা কিছু সিন্দুক তৈরি করেছিল এবং সেগুলোকে ঈগল পাখির সাথে ঝুলিয়ে দিয়েছিল ‌‌(২) , তারপর যখন

--------------------------------------------

[১১৯০] সুফিয়ান ইবনে উয়াইনাহ পর্যন্ত এর সনদ সহীহ।

‌‌(১) তিনি হলেন: ইবনে আব্দুর রহমান আস-সুলামী, হাদিস নং [৫৬]-এ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ), তবে শেষ জীবনে তাঁর মুখস্থশক্তিতে পরিবর্তন ঘটেছিল। কিন্তু খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-ওয়াসিতি—যিনি এখানে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি ওই সকল ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাঁর (স্মৃতিশক্তি) পরিবর্তনের পূর্বেই তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌[১১৯১] আবু মালিক গাজওয়ান আল-গিফারি পর্যন্ত এর সনদ সহীহ, তবে তিনি এটি কার থেকে গ্রহণ করেছেন তা উল্লেখ করেননি।

আর আস-সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/ ৫৭২ - ৫৭৩)-এ এটিকে গ্রন্থকার এবং ইবনে আবি হাতিমের দিকে সম্বন্ধিত করেছেন।

‌‌(২) তাঁর উক্তি: "সিন্দুকসমূহ অতঃপর তারা শকুনের সাথে ঝুলিয়ে দিল" মূল পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই রয়েছে, তবে আস-সুয়ূতী গ্রন্থকারের শব্দ উল্লেখ করেননি। আর মূলে যা রয়েছে তাতে দুটি জটিলতা আছে: প্রথমটি হলো তাঁর উক্তি: "তাওয়াবিতান" (তথা তানভীন ও আলিফসহ), অথচ এর প্রচলিত নিয়ম হলো: আলিফ বিলোপ করে "তাওয়াবিতা" হওয়া; কারণ এটি 'সিগাতু মুনতাহাল জুমু' হওয়ার কারণে রূপান্তরহীন (মামনু' মিনাস সারফ)।

কিন্তু তানভীন সহকারে "তাওয়াবিতান" বলাটি আরবি ভাষায় বৈধ এবং সঠিক; এটি সেই সকল লোকের ভাষার ওপর ভিত্তি করে ব্যাখ্যা করা হয় যারা সাধারণ কথোপকথন ও বর্ণনায় সকল রূপান্তরহীন শব্দকেই রূপান্তরযোগ্য (মুনসারিফ) হিসেবে ব্যবহার করে থাকে; এটি কিছু আরবের ভাষা। এর স্বপক্ষে প্রমাণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {শিকলসমূহ, বেড়ি ও প্রজ্বলিত অগ্নি} [সূরা আল-ইনসান: ৪], এটি তাঁদের কিরাআত (পাঠরীতি) অনুযায়ী যারা "সালাসিলা" শব্দটিকে তানভীন দিয়ে পাঠ করেছেন। অনুরূপ উদাহরণ হলো আল্লাহ তাআলার বাণী: {স্ফটিকস্বচ্ছ (১৫) স্ফটিকস্বচ্ছ} [সূরা আল-ইনসান: ১৫, ১৬]-এ তাঁদের তানভীনসহ পাঠরীতি এবং আল-আ'মাশ, আল-আশহাব আল-উকাইলি ও আল-মুততাওয়ি'র পাঠরীতি: {এবং ইয়াগুস, ইয়াউউক ও নাসর-কে ত্যাগ করো না} [সূরা নূহ: ২৩]। =
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
أَهْوَتْ‌‌(1) من السماءِ؛ ظنَّتِ الجبالُ أنه أمرٌ حَدَثَ من السماءِ.

 

‌‌[1192] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا سفيانُ، عن عمرٍو‌‌(2)، عن عِكرمةَ‌‌(3)؛ قال: قرأ عمرُ: {وَإِنْ كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ}‌‌(4).

--------------------------------------------

= ويمكن تخريجه أيضًا على أنه بالألف بلا تنوين؛ فقد ذكر ابن جنِّي أن من العرب مَنْ يقف على جميع ما لا ينصرف - إذا كان منصوبًا - بالألف؛ فيقولون: رأيتُ أحمدَا، وكلَّمتُ عثمانَا؛ وذلك لخفَّة الألف عليهم ولاعتيادهم صَرْفَ ما لا ينصرف في الشعر.

انظر: "سر صناعة الإعراب" لابن جني (2/ 677)، و"مشكل إعراب القرآن" لمكي بن أبي طالب (2/ 783 - 784)، و"مغني اللبيب" (ص 195)، و"همع الهوامع" (1/ 131 - 133)، و "إبراز المعاني، من حرز الأماني" لأبي شامة (ص 713 و 715)، و"البحر المحيط" لأبي حيان (8/ 336 و 387)، و"شرح التصريح" لخالد الأزهري و "شرح الأشموني" (آخر باب الممنوع من الصرف).

والإشكال الثاني: قوله: "فعلقوا"، والجادَّة فيه: "فعقلوها" أي: التوابيت، وما في الأصل فيه حذف المفعول به أو ضميره للعلم به.

وانظر "الخصائص" لابن جني (2/ 372)، و"مغنى اللبيب" (ص 797 - 799)، و"همع الهوامع" (2/ 11 - 13).

‌‌(1) أي: سقطت؛ يقال: هَوَى الشيء وأَهْوى وانْهَوى. "تاج العروس" (هـ و ي).

‌‌(2) هو: ابن دينار.

‌‌(3) هو مولى ابن عباس، تقدم في الحديث [466] أنه لم يسمع من عمر رضي الله عنه.

 

‌‌[1192] سنده ضعيف؛ للانقطاع بين عكرمة وعمر رضي الله عنه.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 569) للمصنف وأبي عبيد وابن جرير وابن المنذر وابن الأنباري في "المصاحف".

وقد أخرجه أبو عبيد في "فضائل القرآن" (ص 304)، وابن جرير الطبري في "تفسيره" (13/ 720)؛ من طريق ابن جريج، عن عمرو بن دينار، به.

‌‌(4) كذا القراءة بـ {كاد} مكان {كان}، و {لِتَزُولُ} بفتح اللام الأولى ورفع الثانية، وهي قراءة عمر وعليّ وابن مسعود وأُبي - بخلف عنه - وعمرو بن دينار وعكرمة، وغيرهم. ولم يقرأ بذينك الحرفين معًا أحدٌ من العشرة ولا الأربعة الشواذ، إلا أن الكسائي من السبعة قرأ: {لِتَزُولُ}، وكذلك قرأ ابن محيصن من الشواذ. ولم يُضبط لفظ {لِتَزُولُ} في الأصل، وضبطه مَنْ ذكر القراءة. =
পতিত হয়েছে ‌‌(১) আকাশ থেকে; পাহাড়গুলো মনে করেছিল যে আকাশ থেকে কোনো একটি বিষয় ঘটেছে।

‌ ‌[১১৯২] সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সুফিয়ান আমাদের কাছে আমর ‌‌(২) থেকে, তিনি ইকরিমাহ ‌‌(৩) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: উমর পাঠ করেছেন: {আর তাদের ষড়যন্ত্র এমন ছিল যা দিয়ে পাহাড় টলে যেত} ‌‌(৪) ।

--------------------------------------------

= এবং একে তানভীন ছাড়া আলিফযুক্ত হওয়ার ওপরও ব্যাখ্যা করা সম্ভব; ইবনে জিন্নি উল্লেখ করেছেন যে, আরবদের মধ্যে এমন অনেকে আছেন যারা সমস্ত গায়রে মুনসারিফ শব্দের ওপর—যখন তা নসবের অবস্থায় থাকে—আলিফ দিয়ে ওয়াকফ করেন; ফলে তারা বলেন: আমি আহমাদকে দেখেছি (আহমাদা), এবং আমি উছমানের সাথে কথা বলেছি (উছমানা); এটি তাদের কাছে আলিফ উচ্চারণ হালকা হওয়ার কারণে এবং কবিতায় গায়রে মুনসারিফ শব্দকে মুনসারিফ হিসেবে ব্যবহার করার অভ্যাসের কারণে।

দেখুন: ইবনে জিন্নির "সিররু সিনাআতিল ই'রাব" (২/৬৭৭), মাক্কি ইবনে আবি তালিবের "মুশকিলু ই'রাবিল কুরআন" (২/৭৮৩ - ৭৮৪), "মুগনিল লাবীব" (পৃ. ১৯৫), "হামউল হওয়ামি" (১/১৩১ - ১৩৩), আবু শামার "ইবরাযুল মা'আনি মিন হিরযিল আমানি" (পৃ. ৭১৩ ও ৭১৫), আবু হাইয়ানের "আল-বাহরুল মুহিত" (৮/৩৩৬ ও ৩৮৭), খালিদ আল-আযহারির "শারহুত তাসরিহ" এবং "শারহুল আশমুনি" (গায়রে মুনসারিফ অধ্যায়ের শেষ)।

এবং দ্বিতীয় জটিলতাটি হলো: তার উক্তি: "অতঃপর তারা ঝুলাল", আর এর প্রচলিত বিশুদ্ধ রূপ হলো: "অতঃপর তারা সেগুলোকে বাঁধল" অর্থাৎ: সিন্দুকগুলো, আর মূলে যা রয়েছে তাতে কর্মপদ বা তার সর্বনামটি উহ্য রাখা হয়েছে কারণ তা আগে থেকেই জানা ছিল।

এবং ইবনু জিন্নির "আল-খাসাইস" (২/ ৩৭২), "মুগনী আল-লাবীব" (পৃ. ৭৯৭ - ৭৯৯) এবং "হামউ আল-হাওয়াউমি" (২/ ১১ - ১৩) দেখুন।

‌ ‌(১) অর্থাৎ: পড়ে যাওয়া; বলা হয়ে থাকে: কোনো বস্তু পড়ে গিয়েছে (হওয়া), পড়ে গিয়েছে (আহওয়া), নিপতিত হয়েছে (ইনহাওয়া)। "তাজুল আরূস" (হা-ওয়া-ইয়া)।

‌ ‌(২) তিনি হলেন: ইবনু দীনার।

‌ ‌(৩) তিনি ইবনু আব্বাসের মুক্ত দাস, [৪৬৬] নং হাদিসে অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে সরাসরি শোনেননি।

‌ ‌[১১৯২] এর সনদ দুর্বল; ইকরিমা ও উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর মাঝে বর্ণনাসূত্র বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে।

আস-সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/ ৫৬৯)-এ একে গ্রন্থকার, আবু উবায়েদ, ইবনু জারীর, ইবনু মুনযির এবং ইবনুল আনবারীর "আল-মাসাহিফ"-এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেছেন।

আবু উবায়েদ "ফাযায়িলুল কুরআন" (পৃ. ৩০৪)-এ এবং ইবনু জারীর তাবারী তার "তাফসীর" (১৩/ ৭২০)-এ ইবনু জুরাইজ থেকে আমর ইবনু দীনারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

‌ ‌(৪) এভাবেই কিরাতটি {কানা}-এর পরিবর্তে {কাদা} শব্দ দিয়ে এবং প্রথম লাম-এ ফাতহাহ ও দ্বিতীয় লাম-এ রাফা (পেশ) দিয়ে {লিতাযুলু} হিসেবে এসেছে। এটি উমর, আলী, ইবনু মাসউদ, উবাই—তার পক্ষ থেকে ভিন্ন বর্ণনাসহ—আমর ইবনু দীনার, ইকরিমা এবং অন্যদের কিরাত। দশজন ইমামের কেউ বা চারজন বিরল (শায) পাঠকদের কেউ এই দুটি শব্দ একত্রে এভাবে পড়েননি, তবে সাতজন ইমামের মধ্য থেকে কিসায়ী {লিতাযুলু} পড়েছেন, এবং একইভাবে শায পাঠকদের মধ্য থেকে ইবনু মুহাইসিন পড়েছেন। মূল পাণ্ডুলিপিতে {লিতাযুলু} শব্দটি হরকত দিয়ে সুনির্দিষ্ট করা ছিল না, তবে যারা এই কিরাতটি উল্লেখ করেছেন তারা এর হরকত নির্ধারণ করেছেন। =
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
[قولُهُ تعالى: {يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ (48)}]

 

‌‌[1193] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا الحسنُ بنُ يزيدَ الأَصَمُّ‌‌(1)؛ قال: سمعتُا السُّدِّيَّ‌‌(2) يقولُ؛ في قولِهِ: {يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ وَالسَّمَاوَاتُ وَبَرَزُوا لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ}؛ قال: تُبَدَّلُ بأرضٍ‌‌(3) بيضاءَ، لم يُعْمَلْ فيها خطيئةٌ، ولم يُسْفَكْ فيها دمٌ.

--------------------------------------------

= وقراءة الجمهور: {وَإِنْ كَانَ مَكْرُهُمْ لِتَزُولَ مِنْهُ الْجِبَالُ}. وانظر القراءة وتوجيهها في: "إعراب القرآن" للنحاس (2/ 375)، و "المحتسب" لابن جني (1/ 365 - 366)، و"البحر المحيط" لأبي حيان (5/ 425 - 426)، و"الدر المصون" للسمين الحلبي (7/ 126 - 127)، و"معجم القراءات" لعبد اللطيف الخطيب (4/ 514 - 517).

‌‌(1) تقدم في الحديث [186] أنه ثقة.

‌‌(2) هو: إسماعيل بن عبد الرحمن، تقدم في تخريج الحديث [174] أنه صدوق يهم.

 

‌‌[1193] سنده صحيح عن السدي، لكنه لم يذكر عمن أخذه.

وقد أخرجه أبو نعيم في "صفة الجنة" (142) من طريق الحكم بن ظهير، عن السدي، عن أبيه، عن أبي هريرة - في قوله تعالى: {يَوْمَ تُبَدَّلُ الْأَرْضُ غَيْرَ الْأَرْضِ} - قال: "تبدل خبزة بيضاء نقية، حتى يأكل المؤمن بين رجليه". وسنده ضعيف جدًّا؛ فالحكم بن ظهير تقدم في الحديث [421] أنه متروك رمي بالرفض، ووالد السدي هو عبد الرحمن بن أبي كريمة مجهول الحال كما في "التقريب".

‌‌(3) قوله: "تبدل بأرض … " كذا في الأصل. وفيه دليل على صحة جواز دخول الباء على المأخوذ لا المتروك في مادة (ب د ل) وفروعها؛ وقد جاء في "المصباح المنير" (ب د ل) ما نصه: "أبدلته بكذا إبدالًا نحيت الأول، وجعلت الثاني مكانه". وجاء في "مختار الصحاح" (ب د ل) ما نصه: "الأبدال: قوم من الصالحين لا تخلو الدنيا منهم، إذا مات واحد منهم أبدل الله تعالى مكانه بآخر … " اهـ. وجاء في "تاج العروس" (ب د ل) ما نصه: "قال ثعلب: يقال: أبدلت الخاتم بالحلْقة، إذا نحيت هذا وجعلت هذه مكانه،=
[মহান আল্লাহর বাণী: {যেদিন এই পৃথিবীকে পরিবর্তন করে অন্য পৃথিবীতে রূপান্তরিত করা হবে এবং আকাশমন্ডলীকেও; আর তারা সকলে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, যিনি এক, মহাপরাক্রমশালী (৪৮)}]

‌ ‌[১১৯৩] সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট হাসান বিন ইয়াজিদ আল-আসাম্ম বর্ণনা করেছেন ‌‌(১) ; তিনি বলেন: আমি সুদ্দীকে ‌‌(২) বলতে শুনেছি; মহান আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে: {যেদিন এই পৃথিবীকে পরিবর্তন করে অন্য পৃথিবীতে রূপান্তরিত করা হবে এবং আকাশমন্ডলীকেও; আর তারা সকলে আল্লাহর সামনে উপস্থিত হবে, যিনি এক, মহাপরাক্রমশালী}; তিনি বলেন: এটি একটি শ্বেত-শুভ্র জমিন দ্বারা পরিবর্তন করা হবে, যাতে কখনো কোনো পাপ কাজ করা হয়নি এবং যাতে কখনো কোনো রক্তপাত ঘটানো হয়নি।

--------------------------------------------

= জমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠের কিরাত হলো: {যদিও তাদের চক্রান্ত পাহাড় টলিয়ে দেওয়ার মতো ছিল}। এই কিরাত এবং এর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের জন্য দেখুন: আন-নাহহাস রচিত "ই’রাবুল কুরআন" (২/৩৭৫), ইবনুল জিন্নি রচিত "আল-মুহতাসিব" (১/৩৬৫ - ৩৬৬), আবু হাইয়ান রচিত "আল-বাহরুল মুহিত" (৫/৪২৫ - ৪২৬), আস-সামীন আল-হালাবি রচিত "আদ-দুররুল মাসুন" (৭/১২৬ - ১২৭) এবং আব্দুল লতিফ আল-খতিব রচিত "মু’জামুল কিরাত" (৪/৫১৪ - ৫১৭)।

‌ ‌(১) ইতিপূর্বে [১৮৬] নং হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি বিশ্বস্ত (সিকাহ)।

‌ ‌(২) তিনি হলেন: ইসমাইল বিন আব্দুর রহমান। ইতিপূর্বে [১৭৪] নং হাদিসের তাহরিজে (উৎস বর্ণনায়) অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি সত্যবাদী, তবে মাঝেমধ্যে ভ্রমে পতিত হন।

‌ ‌[১১৯৩] সুদ্দী থেকে এর সনদ সহীহ, তবে তিনি এটি কার থেকে গ্রহণ করেছেন তা উল্লেখ করেননি।

আবু নুআয়ম এটি 'সিফাতুল জান্নাহ' (১৪২) গ্রন্থে হাকাম ইবনে যুহাইরের সূত্রে, সুদ্দী থেকে, তিনি তার পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণনা করেছেন—আল্লাহ তাআলার বাণী: {যেদিন এই জমিনকে অন্য জমিনে পরিবর্তন করা হবে} সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "একে একটি ধবধবে সাদা ও স্বচ্ছ রুটি দ্বারা পরিবর্তন করা হবে, এমনকি মুমিন ব্যক্তি তার দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান থেকে আহার করবে।" এর সনদ অত্যন্ত দুর্বল; কারণ হাকাম ইবনে যুহাইর সম্পর্কে হাদিস নং [৪২১]-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি পরিত্যক্ত এবং তার বিরুদ্ধে রাফেযী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আর সুদ্দীর পিতা হলেন আবদুর রহমান ইবনে আবি কারিমা, যিনি 'তাকরীব' গ্রন্থ অনুযায়ী অজ্ঞাত পরিচয়।

(৩) তাঁর উক্তি: "একটি জমিন দ্বারা পরিবর্তিত হবে" মূল গ্রন্থে এভাবেই আছে। এতে প্রমাণ পাওয়া যায় যে, (ব-দ-ল) শব্দমূল ও এর শাখাগুলোতে 'বা' (ب) বর্ণটি যা গ্রহণ করা হয়েছে তার ওপর যুক্ত হওয়া বৈধ, যা বর্জন করা হয়েছে তার ওপর নয়। 'আল-মিসবাহুল মুনীর' (ব-দ-ল) গ্রন্থে এর পাঠ নিম্নরূপ: "আমি এটি দিয়ে ওটি পরিবর্তন করেছি—এর অর্থ হলো আমি প্রথমটিকে সরিয়ে দিয়েছি এবং দ্বিতীয়টিকে তার স্থলাভিষিক্ত করেছি।" 'মুখতারুস সিহাহ' (ব-দ-ল) গ্রন্থে এসেছে: "আবদাল: তারা এমন একদল পুণ্যবান লোক যাদের থেকে পৃথিবী কখনো শূন্য হয় না; যখন তাদের একজন মারা যান, আল্লাহ তাআলা তার স্থলে অন্য একজনকে স্থলাভিষিক্ত করেন।" সমাপ্ত। 'তাজুল আরুস' (ব-দ-ল) গ্রন্থে এসেছে: "সা’লাব বলেছেন: বলা হয়, আমি আংটিটি কড়া দ্বারা পরিবর্তন করেছি, যখন আপনি এটিকে সরিয়ে এর স্থলে ওটিকে স্থাপন করবেন।"
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
‌‌[1194] حدَّثنا سعيدٌ قال: نا عبدُ العزيزِ بنُ أبي حازمٍ‌‌(1)، قال: حدَّثني أبي، عن سهلِ بنِ سعدٍ؛ أنَّ رسولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قال: "يُحْشَرُ

--------------------------------------------

= وبدلت الخاتم بالحلْقة، إذا أذبته وسويته حلقة، وبدلت الحلقة بالخاتم، إذا أَذبتها وجعلتها خاتمًا. قال: وحقيقته أن التبديل: تغيير الصورة إلى صورة أخرى والجوهرة بعينها، والإبدال: تنحية الجوهرة واستئناف جوهرة أخرى.

قال أبو عمرو: فعرضت هذا على المبرد فاستحسنه، وزاد فيه فقال: وقد جعلت العرب "أبدلت" مكان "بدلت"".

وهذا مثال آخر لدخول الباء على المأخوذ، هو قول طفيل لما أَسلم:

وبَدَّلَ طَالِعَي نَحْسِي بسَعْدِ

هذا ولا فرق بين أن يكون ما تعلق به الجار والمجرور هو الفعل: "بدل" وفروعه وما تصرف منه، أم غيره بقرينة. انتهى من بحث للأستاذ عباس حسن قدمه إلى مجمع اللغة العربية، "كتاب الألفاظ والأساليب" من الدورة 35 إلى الدورة 41 (ص 36 - 37). وانظر "عقود الزبرجد" (1/ (1) 186 - 200).

‌‌(1) هو: عبد العزيز بن سلمة بن دينار، تقدم في الحديث [790] أنه صدوق فقيه.

 

‌‌[1194] سند المصنف فيه عبد العزيز بن أبي حازم، وتقدم الكلام عنه، ولكنه لم ينفرد به، فالحديث صحيح مخرج في "الصحيحين" كما سيأتي.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 577) للبخاري ومسلم وابن جرير وابن مردويه. وعزاه الحافظ ابن حجر في "فتح الباري" (11/ 375) للمصنف.

وقد أخرجه ابن حبان (7320) من طريق محمد بن الوليد الزبيري، والطبراني في "المعجم الكبير" (6/ رقم 5908) من طريق إبراهيم بن محمد الشافعي؛ كلاهما عن ابن أبي حازم، به.

وأخرجه ابن أبي شيبة في "مسنده" (96) - ومن طريقه مسلم (2790) - عن خالد بن مخلد، والبخاري (6521)، والروياني في "مسنده" (1069)، وابن جرير الطبري في "تفسيره" (13/ 732)، والطبراني في "المعجم الكبير" (6/ رقم 5831) من طريق سعيد بن أبي مريم، كلاهما (خالد، وابن أبي مريم) عن محمد بن جعفر بن أبي كثير، عن أبي حازم، به. إلا أن سعيد بن أبي مريم قال في روايته: "قال سهل أو غيره: ليس فيها معلم لأحد".

قال الحافظ ابن حجر في "هدي الساري" (ص 336): "قوله: قال سهل أو غيره: ليس فيها معلم لأحد، ما أدري مَن عَنَى أبو حازم بقوله: أو غيره".

وانظر "فتح الباري" (11/ 375). =
[১১৯৪] আমাদের নিকট সাঈদ বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট আব্দুল আযীয ইবনে আবী হাযিম (১) বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার পিতা আমার নিকট সাহল ইবনে সা'দ থেকে বর্ণনা করেছেন; নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: "একত্রিত করা হবে

--------------------------------------------

= এবং আমি আংটিকে রিং দ্বারা পরিবর্তন করেছি—যখন আমি তা গলিয়েছি এবং তা দিয়ে একটি রিং তৈরি করেছি; আবার রিংকে আংটি দ্বারা পরিবর্তন করেছি—যখন আমি তা গলিয়েছি এবং তা দিয়ে একটি আংটি তৈরি করেছি। তিনি বলেন: এর প্রকৃত রহস্য হলো, 'তাবদীল' হলো মূল বস্তু ঠিক রেখে এক রূপ থেকে অন্য রূপে পরিবর্তন করা, আর 'ইবদাল' হলো মূল বস্তুকে সরিয়ে ফেলে নতুন অন্য একটি বস্তু নিয়ে আসা।

আবু আমর বলেন: আমি এটি মুবাররাদের নিকট পেশ করলে তিনি একে চমৎকার বলেন এবং এতে আরও সংযোজন করে বলেন: আরবরা 'বাদালতু' এর স্থলে 'আবদালতু' শব্দটিও ব্যবহার করে থাকে।

আর গৃহীত বস্তুর ওপর 'বা' বর্ণ প্রবেশের এটি আরেকটি উদাহরণ, যা তুফাইল ইসলাম গ্রহণের সময় বলেছিলেন:

এবং তিনি আমার দুর্ভাগ্যের উদয়স্থলকে সৌভাগ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছেন।

এক্ষেত্রে যার-মাজরুর (অব্যয় ও তার পরবর্তী শব্দ) 'বাদালা' ক্রিয়া এবং এর থেকে উৎপন্ন রূপসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট হোক অথবা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক প্রমাণের ভিত্তিতে হোক—তাতে কোনো পার্থক্য নেই। উস্তাদ আব্বাস হাসান কর্তৃক ভাষা একাডেমিতে উপস্থাপিত একটি গবেষণা থেকে সমাপ্ত, "কিতাবুল আলফায ওয়াল আসালীব", ৩৫তম থেকে ৪১তম অধিবেশন (পৃষ্ঠা ৩৬-৩৭)। এবং দেখুন "উকুদুয যুবরজাদ" (১/ ১৮৬-২০০)।

(১) তিনি হলেন: আব্দুল আযীয ইবনে সালামাহ ইবনে দীনার, [৭৯০] নং হাদীসে ইতিপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী এবং ফকীহ।

[১১৯৪] গ্রন্থকারের সনদে আবদুল আজিজ বিন আবি হাজিম রয়েছেন, যাঁর সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। তবে তিনি এই বর্ণনায় একাকী নন, বরং হাদিসটি সহিহ এবং সামনে আসার ন্যায় এটি "সহিহাইন"-এ (বুখারি ও মুসলিম) সংকলিত হয়েছে।

সুয়ূতী "আদ-দুররুল মানসুর" (৮/৫৭৭) গ্রন্থে একে বুখারি, মুসলিম, ইবনে জারির এবং ইবনে মারদুওয়াহর সংকলনভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার "ফাতহুল বারি" (১১/৩৭৫) গ্রন্থে একে গ্রন্থকারের দিকে সম্বন্ধ করেছেন।

ইবনে হিব্বান (৭৩২০) মুহাম্মদ বিন ওয়ালিদ আল-জুবাইরির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তাবারানি "আল-মু'জামুল কাবির" (৬/নং ৫৯০৮) গ্রন্থে ইবরাহিম বিন মুহাম্মদ আশ-শাফিয়ির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ে ইবনে আবি হাজিমের মাধ্যমে উক্ত রাবির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবনে আবি শাইবা তাঁর "মুসনাদ" (৯৬) গ্রন্থে—এবং তাঁর সূত্রে মুসলিম (২৭৯০)—খালিদ বিন মাখলাদ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন; এছাড়া বুখারি (৬৫২১), আর-রুইয়ানি তাঁর "মুসনাদ" (১০৬৯) গ্রন্থে, ইবনে জারির তাবারানি তাঁর "তাফসির" (১৩/৭৩২) গ্রন্থে এবং তাবারানি "আল-মু'জামুল কাবির" (৬/নং ৫৮৩১) গ্রন্থে সাঈদ বিন আবি মারইয়ামের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তাঁরা উভয়ে (খালিদ এবং ইবনে আবি মারইয়াম) মুহাম্মদ বিন জাফর বিন আবি কাসির থেকে, তিনি আবু হাজিম থেকে উক্ত রাবির সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তবে সাঈদ বিন আবি মারইয়াম তাঁর বর্ণনায় বলেছেন: "সাহল অথবা অন্য কেউ বলেছেন: এতে কারো জন্য কোনো চিহ্ন নেই।"

হাফেজ ইবনে হাজার "হাদি আস-সারি" (পৃ. ৩৩৬) গ্রন্থে বলেছেন: "তাঁর উক্তি: 'সাহল অথবা অন্য কেউ বলেছেন: এতে কারো জন্য কোনো চিহ্ন নেই', এখানে 'অন্য কেউ' দ্বারা আবু হাজিম কাকে বুঝিয়েছেন তা আমি জানি না।"

এবং দেখুন "ফাতহুল বারি" (১১/৩৭৫)। =
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
النَّاسُ يَوْمَ القِيَامَةِ عَلَى أَرْضٍ بَيْضَاءَ عَفْرَاءَ‌‌(1) كقُرْصَةِ النَّقِيِّ‌‌(2)، لَيْسَ فِيهَا عَلَمٌ‌‌(3) لأحَدٍ".

--------------------------------------------

= ورواه ابن أبي داود في "البعث" (21)، وابن أبي حاتم في "تفسيره" - كما في "تفسير ابن كثير" (14/ 241) - من طريق مصعب بن ثابت، عن أبي حازم، عن سهل بن سعد الساعدي؛ {فَإِذَا هُمْ بِالسَّاهِرَةِ} [النازعات: 14] قال: أرضٍ بَيضاءَ وعَفْرَاءَ كالخُبزَةِ من النَّقِيِّ.

‌‌(1) قوله: "على أَرض بَيْضَاءَ عَفْرَاءَ" أي: ليست بيضاء ناصعة شديدة البياض، بل يضرب بياضها إلى حمرة، وهو لون كلون عَفَر الأرض، أي: وجهها. وقيل: أرض بيضاء لم توطأ.

وانظر: "غريب الحديث" للحربي (1/ 194 - 195)، ولأبي عبيد (3/ 12 - 13)، وللخطابي (1/ 148)، و"إكمال المعلم" للقاضي عياض (8/ 322)، و "جمهرة اللغة" لابن دريد (2/ 765 - 766)، و "تهذيب اللغة" للأزهري (2/ 350)، و"تاج العروس" (ع ف ر).

‌‌(2) قوله: "كَقُرْصَةِ النَّقِيِّ": القرصة: الرغيف، والتاء للوحدة، والنَّقِيُّ: هو الدقيق الأبيض المنخول المنظف؛ سُمي كذلك لنقائه من النخالة، ويتخذ منه خبز يُسمى الحُوَّارَى؛ سُمي بذلك لبياضه، والتحوير: التبييض. والتشبيه بالقُرصة: في الشكل واللون، دون التقدير.

وانظر: "الفائق" للزمخشري (3/ 6)، و "شرح النووي على صحيح مسلم" (18/ 52)، و"فتح الباري" (11/ 375)، و"مرقاة المفاتيح" (10/ 188)، و"تاج العروس" (خ و ر، ن ق ي).

‌‌(3) وفي بعض الروايات: "مَعْلَم"، والعَلَم والمَعْلم بمعنى واحد؛ وهو الأثر، وما جُعل علامة على الطرق والحدود. والمراد: أنها ليس فيها علامة سكنى ولا بناء ولا أثر ولا شيء من العلامات التي يُهتدى بها في الطرقات، كالجبل والصخرة البارزة. وقيل: فيه تعريض بأرض الدنيا، وأنها ذهبت وانقطعت العلاقة منها.

وانظر: "مشارق الأنوار" (2/ 83 و 84)، و "إكمال المعلم" (8/ 322)، و"تهذيب اللغة" (2/ 418 - 419)، و"فتح الباري" (11/ 375)، و"مرقاة المفاتيح" (10/ 188).
কিয়ামতের দিন মানুষ একটি সাদা ও লালচে-সাদা ভূমিতে অবস্থান করবে‌‌(১) যা স্বচ্ছ আটার রুটির মতো‌‌(২), তাতে কারো জন্য কোনো চিহ্ন থাকবে না‌‌(৩)।

--------------------------------------------

= এবং এটি বর্ণনা করেছেন ইবন আবি দাউদ তাঁর ‘আল-বাস’ (২১) গ্রন্থে, এবং ইবন আবি হাতিম তাঁর ‘তাফসির’ গ্রন্থে—যেমনটি ‘তাফসির ইবন কাসির’ (১৪/২৪১)-এ বর্ণিত হয়েছে—মুসআব বিন সাবিতের সূত্রে, তিনি আবু হাযিম থেকে, তিনি সাহল বিন সাদ আস-সাঈদি থেকে; {অতঃপর তারা এক উন্মুক্ত প্রান্তরে উপস্থিত হবে} [আন-নাযিআত: ১৪] তিনি বলেন: একটি সাদা ও লালচে-সাদা ভূমি, যা স্বচ্ছ আটার তৈরি রুটির মতো।

‌‌(১) তাঁর কথা: "সাদা ও লালচে-সাদা ভূমির উপর" অর্থাৎ: এটি অত্যন্ত উজ্জ্বল ধবধবে সাদা নয়, বরং এর শুভ্রতা লালাভ আভার মিশ্রিত, আর এটি হচ্ছে ভূমির ধূলির রঙের মতো, অর্থাৎ তার উপরিভাগ। আবার বলা হয়েছে: এমন এক সাদা ভূমি যা আগে কখনও পদদলিত বা ব্যবহৃত হয়নি।

আরও দেখুন: হারবির ‘গারিবুল হাদিস’ (১/১৯৪-১৯৫), আবু উবাইদের (৩/১২-১৩), খাত্তাবির (১/১৪৮), কাজি ইয়াজের ‘ইকমালুল মুয়াল্লিম’ (৮/৩২২), ইবন দুরাইদের ‘জামহারাতুল লুগাহ’ (২/৭৬৫-৭৬৬), আজহারির ‘তাহযিবুল লুগাহ’ (২/৩৫০) এবং ‘তাজুল আরুস’ (আ-ফা-রা)।

‌‌(২) তাঁর বক্তব্য: "স্বচ্ছ আটার রুটির ন্যায়": আল-কুরসাহ অর্থ হলো রুটি, আর এখানে ‘তা’ অক্ষরটি একবচন বুঝিয়েছে। আন-নাকী হলো পরিষ্কার করা সাদা আটা যা চালনি দিয়ে চালা হয়েছে; তুষ থেকে মুক্ত ও স্বচ্ছ হওয়ার কারণে একে এই নামে ডাকা হয়। এ থেকে যে রুটি তৈরি করা হয় তাকে আল-হুওয়ারা বলা হয়; এর শুভ্রতার কারণে এই নামকরণ। আর আত-তাহওয়ীর অর্থ হলো সাদা করা। রুটির সাথে এই তুলনাটি আকৃতি ও রঙের ক্ষেত্রে, পরিমাণের ক্ষেত্রে নয়।

দেখুন: আয-যামাখশারী রচিত "আল-ফায়েক" (৩/৬), "সহীহ মুসলিমের শরহ আন-নববী" (১৮/৫২), "ফাতহুল বারী" (১১/৩৭৫), "মিরকাতুল মাফাতীহ" (১০/১৮৮), এবং "তাজুল আরূস" (খা-ওয়াও-রা, নুন-কাফ-ইয়া)।

‌‌(৩) কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে: "মা’লাম", আর 'আলাম' ও 'মা’লাম' একই অর্থবোধক; যার অর্থ হলো চিহ্ন বা নিদর্শন, যা রাস্তা এবং সীমানায় চিহ্ন হিসেবে স্থাপন করা হয়। এর উদ্দেশ্য হলো: সেখানে কোনো বসতির চিহ্ন, কোনো দালানকোঠা, কোনো পদচিহ্ন কিংবা পথ চেনার জন্য সহায়ক কোনো নিদর্শন থাকবে না, যেমন পাহাড় বা দৃশ্যমান বড় পাথর। বলা হয়েছে: এতে দুনিয়ার জমিন সম্পর্কে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, তা বিলীন হয়ে গেছে এবং তার সাথে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে।

দেখুন: "মাশারিকুল আনওয়ার" (২/৮৩ ও ৮৪), "ইকমালুল মুয়াল্লিম" (৮/৩২২), "তাহযীবুল লুগাহ" (২/৪১৮-৪১৯), "ফাতহুল বারী" (১১/৩৭৫), এবং "মিরকাতুল মাফাতীহ" (১০/১৮৮)।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
[قولُهُ تعالى: {سَرَابِيلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ وَتَغْشَى وُجُوهَهُمُ النَّارُ (50)}]

 

‌‌[1195] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا خالدُ بنُ عبدِ اللّهِ، عن حُصَينٍ‌‌(1)، عن عِكْرمةَ؛ في قولِهِ: {سَرَابِيلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ‌‌(2)} قال: من صُفْرٍ

--------------------------------------------

‌‌(1) هو: ابن عبد الرحمن السلمي، تقدم في الحديث [56] أنه ثقة تغير حفظه في الآخر، لكن خالد بن عبد اللّه الواسطي - الراوي عنه هنا - هو ممن روى عنه قبل تغيره.

 

‌‌[1195] سنده صحيح.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 582) للمصنف وأبي عبيد وابن جرير وابن المنذر.

وقد أخرجه البيهقي في "البعث والنشور" (583) من طريق المصنف.

وأخرجه ابن جرير في "تفسيره" (13/ 744 و 745) من طريق هشيم، عن حصين، به.

وأخرجه ابن جرير أيضًا (13/ 745) من طريق هلال بن خباب، عن عكرمة، عن ابن عباس، في هذه الآية: {سَرَابِيلُهُمْ مِنْ قَطِرَانٍ}؛ قال: من نحاسٍ {آن}: أَنَى لهم أن يُعَذَّبوا به.

‌‌(2) لم تضبط الآية في الأصل. وفي {قَطِرَانٍ} قراءات كثيرة: قرأ الجماعة: {قَطِرَانٍ} بـ فتح القاف وكسر الطاء وفتح الراء. وروى ابن جرير الطبري في "تفسيره" (12/ 743 - 744) عن ابن عباس ومجاهد وقتادة تفسير "القطران" بالنحاس وهو الصُّفر. ثم ذكر ابن جرير قراءة أخرى نسبها لعكرمة، ولابن عباس وسعيد بن جبير والربيع بن أنس وقتادة والحسن؛ وهي: {قَطِرَ آنٍ} وضبطها بفتح القاف وسكون الطاء وتنوين الراء، و"آن" نعت و"قطر". وفسَّر "القَطْر" بالنحاس أيضًا. وضبطها رحمه الله بالحروف كما في طبعتي "تفسيره". وهذه القراءة لم نقف على من ذكرها بهذا الضبط سوى ابن جرير، إلا ما كان في "تأويل مشكل القرآن" لابن قتيبة إذ ضبطت كذلك، إلا أن الظاهر أنه من صنيع المحقق لا من ابن قتيبة.

والذي في سائر كتب التفسير والقراءات والمعاجم: أن "القَطِر" و"القِطْر" بمعنى النحاس. وإن صحت بما في "تفسير ابن جرير" جميع نسخه المخطوطة، فلعله مما فات غيره رحمه الله. وجماع اختلاف القَرَأَة في هذا الحرف، ما يلي: =
[মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের পোশাক হবে আলকাতরার এবং আগুন তাদের মুখমণ্ডল ঢেকে ফেলবে (৫০)}]

‌ ‌[১১৯৫] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবন আবদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হুসাইন ‌‌(১) থেকে, ইকরিমা থেকে; মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের পোশাক হবে আলকাতরার ‌‌(২) } প্রসঙ্গে তিনি বলেন: এটি গলিত তামা থেকে তৈরি।

--------------------------------------------

‌ ‌(১) তিনি হলেন: ইবন আবদুর রহমান আস-সুলামী, ইতিপূর্বে হাদিস নং [৫৬]-এ অতিক্রান্ত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য কিন্তু শেষ জীবনে তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিল। তবে খালিদ ইবন আবদুল্লাহ আল-ওয়াসিতি—যিনি এখানে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন—তিনি তাঁর স্মৃতিশক্তি পরিবর্তনের পূর্বে তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তাদের অন্তর্ভুক্ত।

‌ ‌[১১৯৫] এর সনদ সহিহ।

আস-সুয়ূতী তাঁর "আদ-দুররুল মানসুর" গ্রন্থে (৮/৫৮২) এটিকে গ্রন্থকার, আবু উবায়েদ, ইবন জারীর এবং ইবনুল মুনযিরের উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করেছেন।

আল-বায়হাকী তাঁর "আল-বা'স ওয়ান নুশূর" গ্রন্থে (৫৮৩) গ্রন্থকারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবন জারীর তাঁর "তাফসিরে" (১৩/৭৪৪ ও ৭৪৫) হুশায়মের সূত্রে, হুসাইন থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

ইবন জারীর আরও বর্ণনা করেছেন (১৩/৭৪৫) হিলাল ইবন খাব্বাবের সূত্রে, ইকরিমা থেকে, ইবন আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে এই আয়াতের ব্যাখ্যায়: {তাদের পোশাক হবে আলকাতরার}; তিনি বলেন: এটি তামা থেকে; {আন}: অর্থাৎ তাদের জন্য এর মাধ্যমে শাস্তি ভোগ করার সময় উপস্থিত হয়েছে।

‌ ‌(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে আয়াতটি যথাযথভাবে স্বরচিহ্নিত করা হয়নি। এবং {ক্বাত্বিরন} শব্দটিতে অনেকগুলো কিরাআত (পাঠরীতি) রয়েছে: জুমহুর বা সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্বারীগণ এটি পাঠ করেছেন ক্বাফ-এ ফাতহাহ (যবর), ত্ব-এ কাসরাহ (যের) এবং রা-এ ফাতহাহ (যবর) সহকারে: {ক্বাত্বিরন}। ইবনে জারীর আত-তবারী তাঁর "তাফসীর"-এ (১২/ ৭৪৩ - ৭৪৪) ইবনে আব্বাস, মুজাহিদ এবং কাতাদাহ থেকে "ক্বাত্বিরন"-এর ব্যাখ্যা তামা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা মূলত গলিত তামা। অতঃপর ইবনে জারীর অন্য একটি কিরাআত উল্লেখ করেছেন যা তিনি ইকরিমাহ, ইবনে আব্বাস, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, রবী ইবনে আনাস, কাতাদাহ এবং হাসান (বসরি)-এর প্রতি নিসবত করেছেন; সেটি হলো: {ক্বাত্বিরুন আনিন}। তিনি এটিকে ক্বাফ-এ ফাতহাহ, ত্ব-এ সুকুন এবং রা-এ তানভীন সহকারে নির্ধারণ করেছেন, যেখানে "আন" হলো বিশেষণ এবং "ক্বাত্বির" হলো বিশেষ্য। তিনি "ক্বাত্বর" শব্দটিকেও তামা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। রাহিমাহুল্লাহ তাঁর "তাফসীর"-এর উভয় মুদ্রণে অক্ষরের মাধ্যমে এর স্বরচিহ্ন সুনির্দিষ্ট করেছেন। ইবনে জারীর ছাড়া অন্য কাউকে আমরা এই কিরাআতটি এই নির্দিষ্ট স্বরচিহ্নে উল্লেখ করতে দেখিনি, তবে ইবনে কুতায়বাহর "তাওয়ীলু মুশকিলিল কুরআন" গ্রন্থে এটি এভাবেই চিহ্নিত হয়েছে; যদিও এটি স্পষ্ট যে, এটি মুহাক্কিকের (গবেষক/সম্পাদক) কাজ, ইবনে কুতায়বাহর নয়।

অন্যান্য তাফসীর, কিরাআত এবং অভিধানের কিতাবসমূহে যা রয়েছে তা হলো: "ক্বাত্বির" এবং "ক্বিত্বরা" উভয়ই তামা অর্থে ব্যবহৃত। যদি ইবনে জারীরের তাফসীরের সকল পাণ্ডুলিপিতে এটি সহীহভাবে প্রমাণিত হয়, তবে সম্ভবত এটি এমন কিছু যা অন্যান্যদের দৃষ্টিগোচর হয়নি, রাহিমাহুল্লাহ। এই শব্দের ক্ষেত্রে ক্বারীগণের মতপার্থক্যের সারসংক্ষেপ নিম্নরূপ: =
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
يُحمى عليهم؛ هكذا قرأ.

* * * * *

--------------------------------------------

= 1 - {مِنْ قَطِرَانٍ} وهي قراءة عامة القراء. وفسِّر بأنه ما يتحلل من شجر الأَبْهل وتُطلى به الإبل، كما فسر بالنحاس، كما سبق.

‌‌2 - {مِنْ قَطِرَانٍ} وهي لغة في {قَطِرَانٍ} السابقة، وقرأ بها عمر وعلي وعيسى بن عمر وعكرمة.

‌‌3 - {مِنْ قَطِرَانٍ} وهي لغة ثالثة في {قَطِرَانٍ}، ونسب الطبري القراءة بها إلى عيسى بن عمر، وصرح غير واحد بأنه لم ترد بها قراءة.

‌‌4 - {مِنْ قَطِرَانٍ} وتنسب إلى علي وزيد بن علي، وابن عباس وأبي هريرة والحسن وعكرمة وقتادة وسعيد بن جبير وابن سيرين وسنان بن سلمة بن المحبق وأبي صالح والكلبي وعمرو بن فائد وعمرو بن عبيد وعيسى بن عمر الهمداني.

‌‌5 - {مِنْ قَطِرَانٍ} وتنسب إلى أغلب المتقدمين في القراءة السابقة، ويضاف إليهم يعقوب في رواية زيد عنه، وعلقمة والربيع بن أنس.

وأما "آن" ففسِّر بأنه: الذي تناهى حرُّه؛ من أنَى الماءُ: - إذا سخُن وبلغ في الحرارة. وقيل: آنٍ، أَنَى لهم أن يُعَذَّبوا به؛ بمعنى حان.

ومما تقدَّم يظهر أن عكرمة رويت عنه القراءة بـ "قَطْرانٍ" و"قَطِرٍ آنٍ" و"قِطْرٍ آنٍ"، و"قَطْرٍ آنٍ" - فيما ذكر ابن جرير - وفُسر في الجميع بالنحاس.

وانظر: "تأويل مشكل إعراب القرآن" لابن قتيبة (ص 69)، و"تفسير الطبري" (12/ 742 - 746)، و "معاني القرآن" للزجاج (3/ 170)، و "معاني القرآن" للنحاس (3/ 546 - 547)، و"المبسوط في القراءات العشر" للأصبهاني (ص 257)، و"المحتسب" لابن جني (1/ 366 - 367)، و"المحرر" لابن عطية (3/ 348)، و"إعراب القراءات الشواذ " للعكبري (1/ 740)، و"تفسير القرطبي" (12/ 172)، و "البحر المحيط" لأبي حيان (5/ 48)، و"الدر المصون" للسمين الحلبي (7/ 132 - 133)، و"اللباب" لابن عادل (11/ 419 - 418)، و "روح المعاني" للآلوسي (13/ 256 - 257)، و "لسان العرب" و"تاج العروس" (ق ط ر، أ ن ي)، و"معجم القراءات" لأحمد مختار عمر وآخرين (3/ 244 - 245)، و"معجم القراءات" لعبد اللطيف الخطيب (4/ 523 - 525).
তাদের ওপর তা উত্তপ্ত করা হবে; তিনি এভাবেই পাঠ করেছেন।

* * * * *

--------------------------------------------

= ১ - {মিন ক্বাত্বিরান (আলকাতরা বা গলিত তামা থেকে)} এবং এটিই সাধারণ ক্বারীগণের কিরাত। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, এটি ‘আবহাল’ গাছ থেকে যা নির্গত হয় এবং যা উটের গায়ে লেপন করা হয়; আবার যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, একে তামা হিসেবেও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

‌ ‌২ - {মিন ক্বাত্বিরান} এবং এটি পূর্বোক্ত {ক্বাত্বিরান}-এর একটি ভাষাগত রূপ; ওমর, আলী, ঈসা ইবনে ওমর ও ইকরিমাহ এভাবে পাঠ করেছেন।

‌ ‌৩ - {মিন ক্বাত্বিরান} এবং এটি {ক্বাত্বিরান}-এর তৃতীয় একটি ভাষাগত রূপ। তাবারী এই কিরাতকে ঈসা ইবনে ওমরের দিকে সম্বন্ধ করেছেন, তবে একাধিক আলিম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে এ পদ্ধতিতে কোনো কিরাত বর্ণিত হয়নি।

‌ ‌৪ - {মিন ক্বাত্বিরান} এবং এটি আলী, যায়দ ইবনে আলী, ইবনে আব্বাস, আবু হুরায়রা, হাসান, ইকরিমাহ, কাতাদাহ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, ইবনে সিরিন, সিনান ইবনে সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক, আবু সালিহ, আল-কালবী, আমর ইবনে ফায়েদ, আমর ইবনে উবাইদ এবং ঈসা ইবনে ওমর আল-হামদানীর দিকে সম্বন্ধ করা হয়।

‌ ‌৫ - {মিন ক্বাত্বিরান} এবং এটি পূর্বোক্ত কিরাতের অধিকাংশ পূর্বসূরীদের দিকে সম্বন্ধ করা হয়। তাদের সাথে যায়েদ বর্ণিত বর্ণনায় ইয়াকুব, আলক্বামাহ এবং রবী’ ইবনে আনাসকেও যুক্ত করা হয়েছে।

আর "আন" শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে: যার উষ্ণতা চরম সীমায় পৌঁছেছে; এটি ‘আলাল মা-উ’ (পানি উত্তপ্ত হওয়া) থেকে গৃহীত—যখন পানি উত্তপ্ত হয়ে তাপমাত্রার চরম শিখরে পৌঁছায়। আবার বলা হয়েছে: ‘আনিন’ অর্থ—তাদেরকে এর মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার সময় হয়েছে; যা ‘সময় হওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটি স্পষ্ট হয় যে, ইকরিমাহ থেকে "কাতরান", "কাতিরিন আন", "ক্বিতরিন আন" এবং "কাতরিন আন"—যেমনটি ইবনে জারীর উল্লেখ করেছেন—এই পাঠসমূহ বর্ণিত হয়েছে এবং এর সবকটির ব্যাখ্যাই তামা হিসেবে করা হয়েছে।

এবং দেখুন: ইবনে কুতায়বাহ-র "তাবীলু মুশকিলে ই’রাবিল কুরআন" (পৃষ্ঠা ৬৯), "তাফসিরে তাবারী" (১২/ ৭৪২ - ৭৪৬), আজ-জাজ্জাজের "মাআ’নিল কুরআন" (৩/ ১৭০), আন-নাহহাসের "মাআ’নিল কুরআন" (৩/ ৫৪৬ - ৫৪৭), আল-আসবাহানীর "আল-মাবসুত ফিল কিরাআতিল আশর" (পৃষ্ঠা ২৫৭), ইবনে জিন্নি-র "আল-মুহতাসিব" (১/ ৩৬৬ - ৩৬৭), ইবনে আতিয়্যাহ-র "আল-মুহাররার" (৩/ ৩৪৮), আল-উকবারী-র "ই’রাবুল কিরাআতিল শাওয়াজ" (১/ ৭৪০), "তাফসিরে কুরতুবী" (১২/ ১৭২), আবু হাইয়্যান-এর "আল-বাহরুল মুহিত" (৫/ ৪৮), আস-সামীন আল-হালাবীর "আদ-দুররুল মাসুন" (৭/ ১৩২ - ১৩৩), ইবনে আদিলের "আল-লুবাব" (১১/ ৪১৯ - ৪১৮), আলুসীর "রুহুল মাআ’নী" (১৩/ ২৫৬ - ২৫৭), "লিসানুল আরব" ও "তাজুল আরুস" (ক্ব-ত-র, আ-ন-ই), আহমদ মুখতার উমর ও অন্যদের "মু’জামুল কিরাআত" (৩/ ২৪৪ - ২৪৫), এবং আব্দুল লতিফ আল-খতিবের "মু’জামুল কিরাআত" (৪/ ৫২৩ - ৫২৫)।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌تَفسيُر سُورَة الحِجْر

[قولُهُ تعالى: {رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ (2)}]

 

‌‌[1196] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا خالدُ بنُ عبدِ اللّهِ، عن عطاءِ بنِ السَّائبِ‌‌(1)، عن مجاهدٍ، عن ابنِ عبَّاسٍ؛ في قولِهِ: {رُبَمَا يَوَدُّ‌‌(2)

--------------------------------------------

‌‌(1) تقدم في الحديث [6] أنه ثقة اختلط، والراوي عنه هنا هو خالد بن عبد اللّه الطحان، وهو ممن روى عنه بعد الاختلاط كما في الحديث [782].

 

‌‌[1196] سنده ضعيف؛ لاختلاط عطاء بن السائب. وروي من طرق عن مجاهد من قوله، كما سيأتي في الأثر التالي.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 585) للمصنف وهناد بن السري في "الزهد" وابن جرير وابن المنذر والحاكم والبيهقي في "البعث والنشور".

وقد أخرجه هناد في "الزهد" (190) من طريق عَبيدة بن حميد، وابن جرير في "تفسيره" (14/ 9) من طريق أبي عوانة الوضاح بن عبد الله، وابن جرير أيضًا (4/ 10 و 13)، والحاكم في "المستدرك" (2/ 353)؛ من طريق جرير بن عبد الحميد، والآجري في "الشريعة" (ص 776) من طريق إبراهيم بن طهمان؛ جميعهم (عَبيدة، وأبو عوانة، وجرير، وإبراهيم) عن عطاء بن السائب، به.

وأخرجه ابن أبي الدنيا في "حسن الظن باللّه" (129)، وابن جرير في "تفسيره" (14/ 12)؛ من طريق حماد بن سلمة، عن عطاء بن السائب، عن مجاهد؛ من قوله.

ورواية حماد بن سلمة، عن عطاء بن السائب، اختلف فيها: فذهب الجمهور إلى أنه سمع منه قبل الاختلاط، وذهب يحيى بن سعيد القطان إلى أنه سمع منه قبل الاختلاط وبعده، وكان لا يميز هذا من هذا، إلا أن الطريق إلى حماد بن سلمة عند ابن أبي الدنيا فيها رجل مجهول؛ فقد رواه ابن أبي الدنيا عن يحيى بن حبيب بن عربي، عن شيخ، عن حماد، ورواه ابن جرير عن المثنى بن إبراهيم، عن الحجاج بن المنهال، عن حماد، والمثنى شيخ الطبري لا يعرف حاله.

ورواه ابن جرير في "تفسيره" (14/ 9)، والبيهقي في "البعث والنشور" (80)؛ من طريق علي بن أبي طلحة، عن ابن عباس، مثله.

‌‌(2) رسمت في الأصل: "يودوا" بالواو والألف، وهو خطأ ظاهر.
সূরা আল-হিজরের তাফসীর

[মহান আল্লাহর বাণী: {হয়তো কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে তারা যদি মুসলিম হতো (২)}]

[১১৯৬] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: খালিদ ইবন আব্দুল্লাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আতা ইবনুস সায়িব থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেন: {হয়তো আকাঙ্ক্ষা করবে

--------------------------------------------

(১) হাদীস নং [৬]-এ ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী ছিলেন তবে তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটেছিল। আর এখানে তাঁর থেকে বর্ণনাকারী হলেন খালিদ ইবন আব্দুল্লাহ আত-তহ্হান; তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত যারা তাঁর স্মৃতিবিভ্রম ঘটার পর তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি হাদীস নং [৭৮২]-এ উল্লেখ করা হয়েছে।

[১১৯৬] এর সনদটি দুর্বল; আতা ইবনুস সায়িবের স্মৃতিবিভ্রমের কারণে। আর এটি বিভিন্ন সূত্রে মুজাহিদের নিজস্ব উক্তি হিসেবেও বর্ণিত হয়েছে, যা পরবর্তী বর্ণনায় আসবে।

সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৮/৫৮৫) গ্রন্থে এটিকে গ্রন্থকার (মুসান্নিফ), হান্নাদ ইবনাস সারী তাঁর 'আয-যুহদ' গ্রন্থে, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির, হাকেম এবং বায়হাকী তাঁর 'আল-বাসু ওয়ান নুশুর' গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন।

হান্নাদ এটি "আয-যুহদ" (১৯০) গ্রন্থে উবাইদাহ বিন হুমাইদ-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; ইবনে জারীর তাঁর "তাফসীর" (১৪/৯) গ্রন্থে আবু আওয়ানাহ আল-ওয়াদদাহ বিন আব্দুল্লাহর সূত্রে, এবং ইবনে জারীর আরও বর্ণনা করেছেন (৪/১০ ও ১৩); হাকিম "আল-মুস্তাদরাক" (২/৩৫৩) গ্রন্থে জারীর বিন আব্দুল হামীদের সূত্রে; এবং আজুরী "আশ-শারীআহ" (পৃষ্ঠা ৭৭৬) গ্রন্থে ইবরাহীম বিন তাহমান-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন; তারা সবাই (উবাইদাহ, আবু আওয়ানাহ, জারীর এবং ইবরাহীম) আতা ইবনুস সাইব-এর সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর ইবনু আবুদ দুনিয়া "হুসনুয যান বিল্লাহ" (১২৯) গ্রন্থে এবং ইবনে জারীর তাঁর "তাফসীর" (১৪/১২) গ্রন্থে হাম্মাদ বিন সালামাহ-এর সূত্রে, তিনি আতা ইবনুস সাইব থেকে, তিনি মুজাহিদ থেকে—তাঁর (মুজাহিদের) বক্তব্য হিসেবে এটি বর্ণনা করেছেন।

আতা ইবনুস সাইব থেকে হাম্মাদ বিন সালামাহ-এর বর্ণনার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে: জুমহুর বা অধিকাংশ আলিম এই মত পোষণ করেছেন যে, তিনি তাঁর কাছ থেকে ইখতিলাত (স্মৃতিবিভ্রম) হওয়ার পূর্বে শুনেছেন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান এই মত পোষণ করেছেন যে, তিনি তাঁর কাছ থেকে ইখতিলাতের পূর্বে এবং পরে উভয় সময়ে শুনেছেন এবং তিনি এই দুই সময়ের বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন না। তবে ইবনু আবুদ দুনিয়ার নিকট হাম্মাদ বিন সালামাহ পর্যন্ত পৌঁছানোর সূত্রে একজন অজ্ঞাত ব্যক্তি রয়েছেন; কারণ ইবনু আবুদ দুনিয়া এটি ইয়াহইয়া বিন হাবীব বিন আরাবি থেকে, তিনি একজন শায়খ থেকে এবং তিনি হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন। আর ইবনে জারীর এটি আল-মুসান্না বিন ইবরাহীম থেকে, তিনি হাজ্জাজ বিন মিনহাল থেকে এবং তিনি হাম্মাদ থেকে বর্ণনা করেছেন; আর তাবারীর উস্তাদ মুসান্না-এর (বর্ণনাকারী হিসেবে) অবস্থা জানা নেই।

ইবনে জারীর তাঁর "তাফসীর" (১৪/৯) গ্রন্থে এবং বায়হাকী "আল-বা'স ওয়ান নুশুর" (৮০) গ্রন্থে আলী বিন আবু তালহার সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

‌‌(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি "ইয়াউদ্দু" হিসেবে ওয়াও এবং আলিফ যোগে লেখা হয়েছে, যা একটি স্পষ্ট ভুল।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ (2)}؛ قال: يَدخُلُ الجنَّةَ مَن شاء اللهُ أن يَدخُلَ، ثم قال‌‌(1): مَن كان مسلمًا فَلْيدخُلْ، فذلك قولُهُ عز وجل: {رُبَمَا يَوَدُّ‌‌(2) الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ}.

 

‌‌[1197] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا داودُ العطَّارُ‌‌(3)، قال: سمعتُ عبدَ الكريمِ البَصريِّ‌‌(4) يقولُ: قال مجاهد: {رُبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ (2)}؛ قال: ذاك وهم في النّارِ حينَ يَرون أهلَ الإسلامِ يَخرجونَ من النارِ بإسلامِهِم.

--------------------------------------------

‌‌(1) أي: ثم قال الله عز وجل؛ كما في بعض مصادر التخريج. وفي بعض الألفاظ: "ما يزال اللّه يشفع ويُدخل الجنة، ويرحم ويشفع حتى يقول: من كان من المسلمين فليدخل الجنة".

‌‌(2) رسمت في الأصل: "يودو" بالواو.

‌‌(3) هو: داود بن عبد الرحمن، تقدم في تخريج الحديث [395] أنه ثقة.

‌‌(4) هو: عبد الكريم بن أبي المخارق، تقدم في الحديث [28] أنه ضعيف.

 

‌‌[1197] سنده ضعيف؛ لضعف عبد الكريم بن أبي المخارق، والأثر ثابت عن مجاهد من قوله كما سيأتي، وروي عن مجاهد، عن ابن عباس من قوله كما في الأثر السابق، ولا يصح.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 586) للمصنف وهناد والبيهقي.

وقد أخرجه البيهقي في "البعث والنشور" (83) من طريق المصنف، به.

وأخرجه عبد الرزاق في "تفسيره" (1/ 345)، وهناد في الزهد (209)، وابن جرير في "تفسيره" (14/ 12)؛ من طريق خصيف بن عبد الرحمن، وابن جرير (14/ 12) من طريق ابن جريج؛ كلاهما (خصيف، وابن جريج) عن مجاهد نحوه.

وهو في "تفسير مجاهد" (739) من طريق ابن أبي نجيح، عن مجاهد قال: ذاك يوم القيامة.
যারা কুফরি করেছে তারা যদি মুসলিম হতো (২)}; তিনি বলেন: আল্লাহ যার প্রবেশের ইচ্ছা করবেন সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অতঃপর তিনি বললেন‌‌(১): যে মুসলিম ছিল সে যেন প্রবেশ করে, আর এটাই মহান আল্লাহর বাণী: {হয়তো কামনা করবে‌‌(২) যারা কুফরি করেছে তারা যদি মুসলিম হতো}।

‌‌[১১৯৭] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: দাউদ আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন‌‌(৩), তিনি বলেন: আমি আব্দুল কারিম আল-বাসরিকে‌‌(৪) বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: মুজাহিদ বলেছেন: {হয়তো কামনা করবে যারা কুফরি করেছে তারা যদি মুসলিম হতো (২)}; তিনি বলেন: তা হবে তখন যখন তারা আগুনের মধ্যে থাকবে এবং দেখবে যে ইসলামের অনুসারীরা তাদের ইসলামের কারণে জাহান্নাম থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।

--------------------------------------------

‌‌(১) অর্থাৎ: অতঃপর আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্ল বললেন; যেমনটি হাদীসের উৎস নির্ণয়কারী কোনো কোনো গ্রন্থে এসেছে। কোনো কোনো বর্ণনায় শব্দগুলো এমন: "আল্লাহ সুপারিশ করতে থাকবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাতে থাকবেন, আর দয়া করতে ও সুপারিশ করতে থাকবেন যতক্ষণ না তিনি বলবেন: যারা মুসলিম ছিল তারা যেন জান্নাতে প্রবেশ করে।"

‌‌(২) মূল পাণ্ডুলিপিতে এটি ওয়াও যোগে "ইউদু" হিসেবে লেখা হয়েছে।

‌‌(৩) তিনি হলেন: দাউদ ইবনে আব্দুর রহমান; হাদীস [৩৯৫]-এর তখরীজে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য (সিকাহ)।

‌‌(৪) তিনি হলেন: আব্দুল কারীম ইবনে আবিল মুখারিক; হাদীস [২৮]-এ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি দুর্বল (যয়ীফ)।

 

‌‌[১১৯৭] এর সনদ দুর্বল; আব্দুল কারীম ইবনে আবিল মুখারিকের দুর্বলতার কারণে। তবে এই আসসারটি মুজাহিদের নিজস্ব উক্তি হিসেবে সাব্যস্ত, যেমনটি সামনে আসবে। আর মুজাহিদ সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে তাঁর নিজস্ব উক্তি হিসেবে এটি বর্ণিত হয়েছে যেমনটি পূর্ববর্তী আসসারে রয়েছে, তবে তা সহীহ নয়।

সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৮/৫৮৬) গ্রন্থে এটিকে গ্রন্থকার, হান্নাদ ও বায়হাকীর দিকে নিসবত করেছেন।

বায়হাকী 'আল-বা'স ওয়ান নুশূর' (৮৩) গ্রন্থে গ্রন্থকারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

আব্দুর রাজ্জাক তাঁর 'তাফসীর' (১/৩৪৫) গ্রন্থে, হান্নাদ 'আয-যুহদ' (২০৯) গ্রন্থে এবং ইবনে জারীর তাঁর 'তাফসীর' (১৪/১২) গ্রন্থে খুসাইফ ইবনে আব্দুর রহমানের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন; এছাড়া ইবনে জারীর (১৪/১২) ইবনে জুরাইজের সূত্রেও এটি বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়েই (খুসাইফ ও ইবনে জুরাইজ) মুজাহিদ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এটি 'তাফসীরে মুজাহিদ' (৭৩৯) গ্রন্থে ইবনে আবী নাজীহ-এর সূত্রে মুজাহিদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: সেটি কিয়ামতের দিন।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
[قولُهُ تعالى: {وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ (24)}]

 

‌‌[1198] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا نوحُ بنُ قيسٍ الحُدَّانيُّ‌‌(1)،

--------------------------------------------

‌‌(1) تقدم في الحديث [192] أنه ثقة، رمي بالتشيع.

 

‌‌[1198] سنده صحيح، وقد أُعِلَّ بوقفه على أبي الجوزاء، والراجح أنه عن ابن عباس، وقد صححه ابن خزيمة وابن حبان والحاكم، وكذا الشيخ الألباني كما سيأتي.

وعزاه السيوطي في "الدر المنثور" (8/ 604 - 605) للمصنف والطيالسي وأحمد والترمذي والنسائي وابن ماجه وابن جرير وابن المنذر وابن أبي حاتم وابن خزيمة وابن حبان والحاكم وابن مردويه والبيهقي في "سننه".

وقد أخرجه الواحدي في "أسباب النزول" (ص 283) من طريق المصنف.

وأخرجه الطيالسي في "مسنده" (2835) عن نوح بن قيس، به.

وأخرجه أحمد في "المسند" (1/ 305 رقم 2784) عن سريج بن النعمان، وابن ماجه (1046) عن حميد بن مسعدة وأبي بكر بن خلاد، والترمذي (3122)، والنسائي (870)؛ عن قتيبة بن سعيد، والبزار (5296) عن إسماعيل بن حفص ومحمد بن عبد الملك، والبزار في الموضع نفسه، وابن جرير الطبري في "تفسيره" (14/ 53)؛ عن محمد بن موسى الحرشي، والبزار (5296)، وابن خزيمة (1697)؛ عن أبي موسى محمد بن المثنى، وابن جرير (14/ 54) من طريق عبيد اللّه بن موسى ومالك بن إسماعيل، وابن خزيمة (1697) عن الفضل بن يعقوب، وابن خزيمة (1696)، وابن حبان (401)؛ من طريق نصر بن علي، والنحاس في "معاني القرآن" (4/ 21 - 22) من طريق مسلم بن إبراهيم، والطبراني في "الكبير" (12/ رقم 12791) من طريق بشر بن حجر وعفان بن مسلم، والحاكم في "المستدرك" (2/ 353) من طريق أبي عمر حفص بن عمر؛ جميعهم (سريج، وحميد، وابن خلاد، وقتيبة، وإسماعيل، ومحمد بن عبد الملك، ومحمد بن موسى، ومحمد بن المثنى، وعبيد اللّه بن موسى، ومالك بن إسماعيل، والفضل بن يعقوب، ونصر بن علي، ومسلم بن إبراهيم، وبشر بن حجر، وعفان، وحفص بن عمر) عن نوح بن قيس، به.

وأخرجه أحمد في "العلل ومعرفة الرجال" (2765) عن وكيع، والحاكم في "المستدرك" (2/ 353) من طريق أبي حذيفة موسى بن مسعود النهدي؛ كلاهما (وكيع، وأبو حذيفة) عن سفيان الثوري، عن رجل، عن أبي الجوزاء، عن ابن عباس رضي الله عنهما؛ قال: {الْمُسْتَقْدِمِينَ}: الصفوف المقدمة، و {الْمُسْتَأْخِرِينَ}:=
[মহান আল্লাহর বাণী: {আর আমি অবশ্যই জানি তোমাদের মধ্যে যারা অগ্রগামী এবং অবশ্যই জানি যারা পশ্চাদগামী (২৪)}]

‌ ‌[১১৯৮] সাঈদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আমাদের কাছে নূহ ইবনুল কাইস আল-হুদ্দানি বর্ণনা করেছেন ‌‌(১) ,

--------------------------------------------

‌ ‌(১) হাদিস নং [১৯২]-এ অতিবাহিত হয়েছে যে, তিনি নির্ভরযোগ্য, তবে তাঁর প্রতি শিয়া মতাবলম্বী হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

‌ ‌[১১৯৮] এর সনদ সহিহ। আবুল জাওযার ওপর এটি মাওকুফ হওয়ার কারণে একে ত্রুটিপূর্ণ বলা হয়েছে, তবে বিশুদ্ধ মত হলো এটি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান এবং হাকেম একে সহিহ বলেছেন। একইভাবে শেখ আলবানীও একে সহিহ বলেছেন যেমনটি সামনে আসবে।

সুয়ূতী 'আদ-দুররুল মানসুর' (৮/ ৬০৪ - ৬০৫) গ্রন্থে একে মূল গ্রন্থকার, তায়ালিসি, আহমাদ, তিরমিযি, নাসায়ি, ইবনে মাজাহ, ইবনে জারির, ইবনে মুনযির, ইবনে আবি হাতিম, ইবনে খুযাইমাহ, ইবনে হিব্বান, হাকেম, ইবনে মারদুওয়াহ এবং বাইহাকি তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন বলে উল্লেখ করেছেন।

ওয়াহিদি 'আসবাবুন নুযুল' (পৃষ্ঠা ২৮৩) গ্রন্থে মূল গ্রন্থকারের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

তায়ালিসি তাঁর 'মুসনাদ' (২৮৩৫) গ্রন্থে নূহ ইবনুল কাইসের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন।

এটি আহমাদ তাঁর "আল-মুসনাদ" গ্রন্থে (১/ ৩০৫, নম্বর ২৭৮৪) সুরাইজ ইবনে আন-নু’মান থেকে বর্ণনা করেছেন; এবং ইবনে মাজাহ (১০৪৬) হুমাইদ ইবনে মাসআদাহ ও আবু বকর ইবনে খাল্লাদ থেকে; এবং তিরমিযী (৩১২২) ও নাসাঈ (৮৭০) কুতাইবাহ ইবনে সাঈদ থেকে; এবং আল-বাযযার (৫২৯৬) ইসমাঈল ইবনে হাফস ও মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক থেকে; এবং আল-বাযযার একই স্থানে, এবং ইবনে জারীর আত-তাবারী তাঁর "তাফসীর" গ্রন্থে (১৪/ ৫৩) মুহাম্মদ ইবনে মুসা আল-হারাশী থেকে; এবং আল-বাযযার (৫২৯৬) ও ইবনে খুযাইমাহ (১৬৯৭) আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না থেকে; এবং ইবনে জারীর (১৪/ ৫৪) উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা ও মালিক ইবনে ইসমাঈলের সূত্রে; এবং ইবনে খুযাইমাহ (১৬৯৭) আল-ফাদল ইবনে ইয়াকুব থেকে; এবং ইবনে খুযাইমাহ (১৬৯৬) ও ইবনে হিব্বান (৪০১) নাসর ইবনে আলীর সূত্রে; এবং আন-নাহহাস তাঁর "মা'আনিল কুরআন" গ্রন্থে (৪/ ২১-২২) মুসলিম ইবনে ইবরাহীমের সূত্রে; এবং তাবারানী "আল-কাবীর" গ্রন্থে (১২/ নম্বর ১২৭৯১) বিশর ইবনে হাজার ও আফফান ইবনে মুসলিমের সূত্রে; এবং আল-হাকিম "আল-মুস্তাদরাক" গ্রন্থে (২/ ৩৫৩) আবু উমর হাফস ইবনে উমরের সূত্রে; তাঁরা সকলেই (সুরাইজ, হুমাইদ, ইবনে খাল্লাদ, কুতাইবাহ, ইসমাঈল, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল মালিক, মুহাম্মদ ইবনে মুসা, মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না, উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা, মালিক ইবনে ইসমাঈল, আল-ফাদল ইবনে ইয়াকুব, নাসর ইবনে আলী, মুসলিম ইবনে ইবরাহীম, বিশর ইবনে হাজার, আফফান এবং হাফস ইবনে উমর) নুহ ইবনে কাইস থেকে উক্ত সূত্রের মাধ্যমে এটি বর্ণনা করেছেন।

আহমাদ এটি "আল-ইলাল ওয়া মা'রিফাতুর রিজাল" (২৭৬৫) গ্রন্থে ওয়াকি'র সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং আল-হাকিম "আল-মুস্তাদরাক" (২/ ৩৫৩) গ্রন্থে আবু হুযাইফা মুসা বিন মাসউদ আন-নাহদীর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন; তাঁরা উভয়ই (ওয়াকি' এবং আবু হুযাইফা) সুফিয়ান আস-সাওরী থেকে, তিনি জনৈক ব্যক্তি থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: {অগ্রগামীগণ} হলো সামনের সারিসমূহ, এবং {পশ্চাৎপদগণ} হলো:
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
قال: حدّثني عمرُو بنُ مالكٍ‌‌(1)، عن

--------------------------------------------

= الصفوف المؤخرة. قال وكيع: "نرى أنه أبان بن أبي عياش"؛ يعني: الرجل الذي بين سفيان وأبي الجوزاء.

وأخرجه عبد الرزاق في "تفسيره" (1/ 348) - ومن طريقه ابن جرير في "تفسيره" (14/ 53) - عن جعفر بن سليمان، عن عمرو بن مالك، عن أبي الجوزاء؛ في قول الله عز وجل: {وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ} في الصفوف في الصلاة، و {الْمُسْتَأْخِرِينَ}.

قال الترمذي في الموضع السابق: "وروى جعفر بن سليمان هذا الحديث عن عمرو بن مالك، عن أبي الجوزاء، نحوه، ولم يذكر فيه: "عن ابن عباس"؛ وهذا أشبه أن يكون أصح من حديث نوح". وقال البزار: "ولا نعلم روى هذا الحديث عن النبي صلى الله عليه وسلم إلا ابن عباس، ولا له طريق إلا هذا الطريق عنه".

وأخرجه أبو نعيم في "الحلية" (3/ 81) من طريق الطيالسي وقال: "غريب من حديث أبي الجوزاء عن ابن عباس، تفرد برفعه نوح بن قيس".

وقال الحاكم: "هذا حديث صحيح الإسناد، ولم يخرجاه، وقال عمرو بن علي: لم يتكلم أحد في نوح بن قيس الطاحي بحجة، وله أصل من حديث سفيان الثوري … ". وقد تقدم أن سفيان الثوري إنما رواه عن رجل لم يسمِّه، عن أبي الجوزاء، وتقدم أن وكيعًا قال: "نرى أنه أبان بن أبي عياش".

وعلقه أبو جعفر النحاس في "معاني القرآن" (4/ 21) عن سفيان الثوري، عن أبان بن أبي عياش، عن أبي الجوزاء، عن ابن عباس. وأبان تقدم في الحديث [4] أنه متروك الحديث.

وقال ابن كثير في "تفسيره" (8/ 253 - 254): "وقد ورد فيه حديث غريب جدًّا … "، ثم ذكره، ثم قال: "وهذا الحديث فيه نكارة شديدة … "، ثم ذكر رواية عبد الرزاق له عن جعفر بن سليمان، ثم قال: "فالظاهر أنه من كلام أبي الجوزاء فقط، ليس فيه لابن عباس ذكر … "، ثم ذكر ترجيح الترمذي.

وقد أطال الشيخ الألباني في دفع إعلال الترمذي وترجيح رواية نوح بن قيس في "السلسلة الصحيحة" (5/ 608 - 612 رقم 2472)؛ فانظره إن شئت.

‌‌(1) هو: عَمْرو بن مالك النُّكْري، أبو يحيى أو أبو مالك البصري، توفي سنة تسع وعشرين ومئة، وهو صدوق، ذكره البخاري في "التاريخ الكبير" (6/ 371 رقم 2672)، وابن أبي حاتم في "الجرح والتعديل" (6/ 259 رقم 1427)؛ ولم يذكرا فيه جرحًا ولا تعديلًا، ووثقه ابن معين؛ كما في "سؤالات ابن الجنيد" =
তিনি বললেন: আমাকে আমর বিন মালিক বর্ণনা করেছেন ‌‌(১) , থেকে

--------------------------------------------

= শেষ কাতারগুলো। ওকী‘ বলেছেন: "আমরা মনে করি যে তিনি হলেন আবান বিন আবী আয়্যাশ"; অর্থাৎ: সেই ব্যক্তি যিনি সুফিয়ান এবং আবুল জাওযার মাঝে রয়েছেন।

আর আব্দুর রাজ্জাক তাঁর "তাফসীর"-এ (১/৩৪৮) এটি বর্ণনা করেছেন - এবং তাঁর সূত্রে ইবনে জারীর তাঁর "তাফসীর"-এ (১৪/৫৩) - জাফর বিন সুলাইমান থেকে, তিনি আমর বিন মালিক থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে; মহান আল্লাহর বাণী প্রসঙ্গে: {আর অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে যারা অগ্রগামী তাদের জানি} অর্থাৎ সালাতের কাতারের ক্ষেত্রে, এবং {আর যারা পশ্চাদগামী (তাদেরও জানি)}।

তিরমিযী পূর্বোক্ত স্থানে বলেছেন: "আর জাফর বিন সুলাইমান এই হাদীসটি আমর বিন মালিক থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন, কিন্তু তাতে 'ইবনে আব্বাস থেকে' কথাটি উল্লেখ করেননি; আর এটি নূহ (বিন কায়স)-এর হাদীসের চেয়ে অধিকতর বিশুদ্ধ হওয়ার নিকটবর্তী।" আর বাযযার বলেছেন: "আমরা জানি না যে ইবনে আব্বাস ছাড়া আর কেউ এই হাদীসটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাঁর থেকে বর্ণিত হওয়ার জন্য এই সূত্রটি ব্যতীত অন্য কোনো পথ নেই।"

আর আবু নুআইম এটি "আল-হিলয়াহ" (৩/৮১) গ্রন্থে তায়ালিসীর সূত্রে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: "আবুল জাওযা থেকে ইবনে আব্বাসের সূত্রে এটি একটি গরীব (অপ্রসিদ্ধ) হাদীস, নূহ বিন কায়স এটি মারফূ হিসেবে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একক হয়ে গেছেন।"

আর হাকেম বলেছেন: "এই হাদীসটির সনদ সহীহ, কিন্তু তাঁরা (বুখারী ও মুসলিম) এটি বর্ণনা করেননি। আমর বিন আলী বলেছেন: নূহ বিন কায়স আত-ত্বহী সম্পর্কে দলিলসহ কেউ কোনো নেতিবাচক কথা বলেননি, এবং সুফিয়ান সওরীর হাদীসে এর ভিত্তি রয়েছে ইত্যাদি।" আর পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, সুফিয়ান সওরী এটি মূলত এমন একজন ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন যার নাম তিনি উল্লেখ করেননি, তিনি আবুল জাওযা থেকে; আর পূর্বে এটিও অতিবাহিত হয়েছে যে ওকী‘ বলেছেন: "আমরা মনে করি যে তিনি হলেন আবান বিন আবী আয়্যাশ।"

আবু জাফর আন-নাহহাস এটি তাঁর 'মা'আনিল কুরআন' (৪/ ২১) গ্রন্থে সুফিয়ান আস-সাওরি থেকে, তিনি আবান বিন আবি আয়্যাশ থেকে, তিনি আবুল জাওযা থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন। আর আবান সম্পর্কে ইতিপূর্বে [৪] নম্বর হাদিসে অতিক্রান্ত হয়েছে যে তিনি হাদিস বর্ণনায় পরিত্যক্ত।

ইবনে কাসির তাঁর 'তাফসির' (৮/ ২৫৩ - ২৫৪) গ্রন্থে বলেছেন: "এ বিষয়ে একটি অত্যন্ত অপ্রসিদ্ধ হাদিস বর্ণিত হয়েছে", অতঃপর তিনি সেটি উল্লেখ করেন এবং বলেন: "এই হাদিসটিতে চরম অসংলগ্নতা রয়েছে", এরপর তিনি জাফর বিন সুলাইমান থেকে বর্ণিত আবদুর রাজ্জাকের বর্ণনাটি উল্লেখ করেন এবং বলেন: "প্রকাশ্যত এটি কেবল আবুল জাওযার বক্তব্য, এতে ইবনে আব্বাসের কোনো উল্লেখ নেই", অতঃপর তিনি ইমাম তিরমিযীর অগ্রাধিকারমূলক মতটি উল্লেখ করেন।

শাইখ আলবানী ইমাম তিরমিযীর উত্থাপিত ত্রুটি নিরসন এবং নূহ বিন কায়সের বর্ণনাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে 'আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ' (৫/ ৬০৮ - ৬১২, নম্বর ২৪৭২) গ্রন্থে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন; আপনি চাইলে তা দেখে নিতে পারেন।

(১) তিনি হলেন: আমর বিন মালিক আন-নুক্রি, আবু ইয়াহইয়া অথবা আবু মালিক আল-বাসরি। তিনি একশত ঊনত্রিশ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সত্যবাদী বর্ণনাকারী। ইমাম বুখারী তাঁর 'আত-তারিখুল কাবীর' (৬/ ৩৭১, নম্বর ২৬৭২) গ্রন্থে এবং ইবনে আবি হাতিম তাঁর 'আল-জারহু ওয়াত-তাদিল' (৬/ ২৫৯, নম্বর ১৪২৭) গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন; তবে তাঁরা তাঁর সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক বা ইতিবাচক মন্তব্য করেননি। ইবনে মাঈন তাঁকে বিশ্বস্ত বলে সত্যায়ন করেছেন, যেমনটি 'সুয়ালাতু ইবনিল জুনাইদ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= (710)، وذكره ابن حبان في "الثقات" (7/ 228) وقال: "يعتبر حديثه من غير رواية ابنه عنه". وقال في "مشاهير علماء الأمصار" (ص 155): "وقعت المناكير في حديثه من رواية ابنه عنه، وهو في نفسه صدوق اللهجة". وقال في "المجروحين" (3/ 114) في ترجمة يحيى بن عمرو بن مالك النكري: "كان منكر الرواية عن أبيه، ويحتمل أن يكون السبب في ذلك منه أو من أبيه أو منهما معًا، ولا نستحلّ أن يطلق الجرح على مسلم قبل الاتضاح، بل الواجب تنكُّب كل رواية يرويها عن أبيه لما فيها من مخالفة الثقات والموجود من الأشياء المعضلات، فيكون هو وأبوه جميعًا متروكين من غير أن يطلق وضعها على أحدهما ولا يقربهما من ذلك؛ لأن هذا شيء قريب من الشبهة، وهذا حكم جماعة ذكرناهم في هذا الكتاب جَبُنَّا عن إطلاق القدح فيهم لهذه العلة، على أن حماد بن زيد كان يرمي يحيى بن عمرو بن مالك بالكذب".

وقد ترجم ابن حبان في "الثقات" أيضًا (8/ 487) لعمرو بن مالك النُّكْري، وتكلم فيه كما سيأتي، وهو شخص آخر متأخر عنه.

وذكره ابن خلفون في "الثقات"؛ كما نقله مغلطاي في "الإكمال" (10/ 251). وقال الذهبي في "تاريخ الإسلام" (8/ 194): "صدوق". وقال في "الكاشف" (2/ 87): "وثق". وقال في "تلخيص كتاب الموضوعات" (ص 191): "لين". وذكره في "الميزان" (3/ 286)، وفي "المغني" (2/ 488 - 489) مع عمرو بن مالك الجنبي، موازنًا بينهما وبين عمرو بن مالك الراسبي - وهو ضعيف - فقال عنهما: "ثقتان".

وقال عبد اللّه بن أحمد بن حنبل في "مسائله" (1/ 89): "سمعت أبي يقول: لم تثبت عندي صلاة التسبيح، وقد اختلفوا في إسناده؛ لم يثبت عندي، وكأنه ضعف عمرو بن مالك النُّكري [في الأصل: البكري] ". وقال الحافظ ابن حجر في "مجلس من أمالي الأذكار" (ص 83 - 84) - في كلامه على صلاة التسبيح: "وقال علي بن سعيد سألت أحمد بن حنبل صلاة التسبيح؟ فقال: ما يصح فيها عندي شيء، فقلت: حديث عبد اللّه بن عمرو؟ قال: كلٌّ يروي عن عمرو بن مالك - يعني: فيه مقال - فقلت: قد رواه المستمر بن الريان عن أبي الجوزاء، قال: من حدَّثك؟ قلت: مسلم - يعني: ابن إبراهيم - فقال: المستمر شيخ ثقة، وكأنه أعجبه .. فكأن أحمد لم يبلغه ذلك الحديث أوَّلًا إلا من رواية عمرو بن مالك - وهو النُّكْري - فلما بلغه متابعة المستمر أعجبه، فظاهره أنه رجع=

--------------------------------------------

= (৭১০), এবং ইবনু হিব্বান তাকে "আস-সিকাত" (৭/ ২২৮) গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "তার ছেলের বর্ণনা ব্যতিরেকে তার হাদিস নির্ভরযোগ্য হিসেবে গণ্য করা হয়।" এবং তিনি "মাশাহীরু উলামাইল আমসার" (পৃ. ১৫৫) গ্রন্থে বলেছেন: "তার ছেলের বর্ণনার কারণে তার হাদিসে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) বিষয়াবলি প্রবেশ করেছে, তবে তিনি নিজে অত্যন্ত সত্যবাদী।" এবং তিনি "আল-মাজরুহীন" (৩/ ১১৪) গ্রন্থে ইয়াহইয়া ইবনু আমর ইবনু মালিক আন-নুকরির জীবনীতে বলেছেন: "তিনি তার পিতার কাছ থেকে হাদিস বর্ণনার ক্ষেত্রে 'মুনকার' (অগ্রহণযোগ্য) বর্ণনাকারী ছিলেন। এর কারণ তিনি নিজে হতে পারেন, অথবা তার পিতা হতে পারেন, অথবা তারা উভয়ই হতে পারেন। স্পষ্ট হওয়ার আগে কোনো মুসলিমের উপর জরাহ (দোষারোপ) করা আমরা বৈধ মনে করি না। বরং ওয়াজিব হলো তার পিতার মাধ্যমে বর্ণিত তার সকল বর্ণনা পরিহার করা, কারণ এতে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের (সিকাহ) সাথে বিরোধিতা এবং অত্যন্ত জটিল (মু'দিল) বিষয়াবলি বিদ্যমান। ফলে তারা উভয়ই 'মাতরূক' (পরিত্যক্ত) হিসেবে গণ্য হন, যদিও আমরা তাদের কাউকে সরাসরি জালকারী (কাজ্জাব) বলছি না; কারণ এটি একটি অস্পষ্ট বিষয়ের নিকটবর্তী। এই কিতাবে আমরা এমন একদল বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেছি যাদের ক্ষেত্রে এই কারণেই আমরা সরাসরি সমালোচনা করতে দ্বিধাবোধ করেছি, যদিও হাম্মাদ ইবনু যাইদ ইয়াহইয়া ইবনু আমর ইবনু মালিককে মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত করেছেন।"

ইবনু হিব্বান "আস-সিকাত" (৮/ ৪৮৭) গ্রন্থে আমর ইবনু মালিক আন-নুকরিরও জীবনী আলোচনা করেছেন এবং তার সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন যা সামনে আসবে। তিনি হলেন অপর এক ব্যক্তি যিনি পরবর্তী যুগের।

ইবনে খালফুন তাকে "আস-সিকাত" গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন; যেমনটি মুগলতাই "আল-ইকমাল" (১০/ ২৫১) গ্রন্থে উদ্ধৃত করেছেন। আয-যাহাবী "তারিখুল ইসলাম" (৮/ ১৯৪) গ্রন্থে বলেছেন: "সত্যবাদী"। তিনি "আল-কাশিফ" (২/ ৮৭) গ্রন্থে বলেছেন: "নির্ভরযোগ্য"। "তালখিসু কিতাবিল মাওদুআত" (পৃষ্ঠা ১৯১) গ্রন্থে তিনি বলেছেন: "শিথিল"। তিনি তাকে "আল-মিজান" (৩/ ২৮৬) এবং "আল-মুগনি" (২/ ৪৮৮ - ৪৮৯) গ্রন্থে আমর ইবনে মালিক আল-জানবির সাথে উল্লেখ করেছেন এবং তাদের দুজনের সাথে আমর ইবনে মালিক আর-রাসিবি—যিনি দুর্বল—এর তুলনা করে ওই দু'জন সম্পর্কে বলেছেন: "তারা উভয়ই নির্ভরযোগ্য"।

আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল তাঁর "মাসাইল" (১/ ৮৯) গ্রন্থে বলেছেন: "আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি: সালাতুত তাসবিহ আমার নিকট সাব্যস্ত নয় এবং তারা এর সনদের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; এটি আমার নিকট প্রমাণিত নয়। মনে হয় তিনি আমর ইবনে মালিক আন-নুকরিকে [মূল লিপিতে: আল-বাকরি] দুর্বল সাব্যস্ত করেছেন।" হাফিজ ইবনে হাজার "মাজলিসুম মিন আমালিল আজকার" (পৃষ্ঠা ৮৩ - ৮৪) গ্রন্থে—সালাতুত তাসবিহ সংক্রান্ত আলোচনায়—বলেছেন: "আলী ইবনে সাঈদ বলেছেন, আমি আহমাদ ইবনে হাম্বলকে সালাতুত তাসবিহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন: এ বিষয়ে আমার নিকট কোনো কিছুই সহিহ নয়। আমি বললাম: আব্দুল্লাহ ইবনে আমরের হাদিসটি? তিনি বললেন: সবাই আমর ইবনে মালিক থেকে বর্ণনা করে—অর্থাৎ: তার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে—আমি বললাম: মুস্তামির ইবনুর রায়য়ান এটি আবুল জাওযা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন: তোমাকে কে সংবাদ দিয়েছে? আমি বললাম: মুসলিম—অর্থাৎ ইবনে ইব্রাহিম। তিনি বললেন: মুস্তামির একজন নির্ভরযোগ্য শাইখ এবং মনে হয় বিষয়টি তাকে আনন্দিত করেছে। সুতরাং প্রতীয়মান হয় যে, আহমাদের নিকট প্রথমে আমর ইবনে মালিক—যিনি আন-নুকরি—এর বর্ণনা ব্যতীত এই হাদিসটি পৌঁছায়নি। এরপর যখন তাঁর নিকট মুস্তামিরের সমর্থনমূলক বর্ণনাটি পৌঁছালো, তখন তিনি সেটি পছন্দ করলেন। এর বাহ্যিক দিক হলো যে তিনি ফিরে এসেছিলেন=
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
أبي الجَوْزاءِ‌‌(1)، عن ابن عبّاس؛ قال: كانت تُصلِّي خلفَ رسول الله صلى الله عليه وسلم امرأةٌ حسناءُ من أحسنِ الناسِ، فكان بعضُ القومِ يتقدَّمُ في الصَّفِّ

--------------------------------------------

= عن تضعيفه". اهـ. وانظر: "النكت الظراف" (6/ 280)، و "الفتوحات الربانية" لابن علان (4/ 320)، و"إتحاف السادة المتقين" (3/ 478)، و "الآثار المرفوعة" للكنوي (ص 131).

ونقل الحافظ ابن حجر في "التهذيب" (8/ 84) عن ابن حبان قوله - في عمرو بن مالك هذا -: "يعتبر حديثه من غير رواية ابنه عنه، يخطئ ويغرب".

وقول ابن حبان: "يخطئ ويغرب" إنما هو في ترجمة عمرو بن مالك البصري الراسبي المتأخر، وهذا نص كلامه في الطبقة الرابعة طبقة أتباع التابعين من "الثقات" (8/ 487): "عمرو بن مالك النكري: من أهل البصرة، يروى عن الفضيل بن سليمان، حدثنا عنه إسحاق بن إبراهيم القاضي وغيره من شيوخنا، يغرب ويخطئ". لكن الظاهر أن الحافظ ابن حجر تابع مغلطاي في هذا؛ فإنه نقل في "الإكمال" (10/ 251) قول ابن حبان في "الثقات"، وفيه زيادة قوله: "يغرب ويخطئ"، وقد يكون الإشكال وقع بسبب سقم نسخة الحافظ ابن حجر من "الثقات" لابن حبان؛ فإنه كان يشكو من سقمها؛ كما تجده في ترجمة رافع بن سلمان من "لسان الميزان" (2/ 442 رقم 1804)، وترجمة قيس بن مروان من "تهذيب التهذيب" (8/ 203).

ويحتمل أن الراسبي أيضًا يقال له: النكري، لكنه متأخر الطبقة؛ من شيوخ أبي يعلى وابن جرير الطبري، فقد ترجم له ابن عدي في "الكامل" (5/ 150 رقم 1315) فقال: "عمرو بن مالك النُّكري: بصري منكر الحديث عن الثقات ويسرق الحديث"، ثم ذكر تضعيف أبي يعلى له، وهذا إنما هو الراسبي الغبري؛ وقد نبَّه عليه الحافظ نفسه في "التهذيب" (8/ 83) في ترجمة الراسبي، فقال بعد أن ذكر كلام ابن عدي فيه: "إلا أنه قال في صدر الترجمة عمرو بن مالك النكري، فوهم؛ فإن النكري متقدم على هذا". اهـ.

وقد روى ابن جرير في "تهذيب الآثار" عن الراسبي - وهو شيخه - فقال: "حدثنا عمرو بن مالك النكري". وأما ابن ماكولا في "الإكمال" (1/ 451) فلم يذكر سوى النكري الراوي عن أبي الجوزاء.

وانظر: "تهذيب الكمال" (22: ص 211 - 212).

‌‌(1) هو أوس بن عبد اللّه الرَّبَعي - بفتح الموحدة - أبو الجوزاء - بالجيم والزاي - بصري، ثقة، يرسل كثيرًا، مات سنة ثلاث وثمانين، روى له الجماعة؛ كما=
আবুল জাওযা(১), ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে একজন সুন্দরী নারী সালাত আদায় করতেন, যিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুন্দরী। ফলে কওমের কেউ কেউ (প্রথম) সারিতে সামনে এগিয়ে যেতেন

--------------------------------------------

= তাকে দুর্বল আখ্যা দেওয়া সম্পর্কে। [সমাপ্ত]। আর দেখুন: "আন-নুকাতুজ জিরাফ" (৬/ ২৮০), ইবনে আল্লানের "আল-ফুতুহাতুর রব্বানিয়্যাহ" (৪/ ৩২০), "ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকিন" (৩/ ৪৭৮) এবং লাখনোভীর "আল-আসারুল মারফুআ" (পৃ. ১৩১)।

হাফিজ ইবনে হাজার "আত-তাহজীব" গ্রন্থে (৮/ ৮৪) ইবনে হিব্বান থেকে এই আমর বিন মালিক সম্পর্কে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করেছেন: "তার ছেলের বর্ণনা ব্যতিরেকে তার হাদিস গ্রহণযোগ্য, তবে তিনি ভুল করেন এবং অপরিচিত হাদিস বর্ণনা করেন।"

আর ইবনে হিব্বানের এই উক্তি: "তিনি ভুল করেন এবং অপরিচিত হাদিস বর্ণনা করেন"—এটি মূলত পরবর্তী যুগের আমর বিন মালিক আল-বসরী আল-রাসিবি-এর জীবনীতে বর্ণিত হয়েছে। "আস-সিকাত" গ্রন্থের (৮/ ৪৮৭) চতুর্থ স্তর তথা তাবি-তাবিঈনদের স্তরে তাঁর মূল বক্তব্যটি হলো: "আমর বিন মালিক আন-নুকরী: তিনি বসরার অধিবাসী, ফুযাইল বিন সুলাইমান থেকে বর্ণনা করেন, আমাদের কাছে তাঁর থেকে ইসহাক বিন ইব্রাহিম আল-কাজী এবং আমাদের অন্যান্য শায়খগণ বর্ণনা করেছেন; তিনি অপরিচিত হাদিস বর্ণনা করেন এবং ভুল করেন।" তবে প্রতীয়মান হয় যে, হাফিজ ইবনে হাজার এ বিষয়ে মুগলতাই-কে অনুসরণ করেছেন; কেননা তিনি "আল-ইকমাল" গ্রন্থে (১০/ ২৫১) ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত" থেকে একটি উক্তি উদ্ধৃত করেছেন যেখানে "তিনি অপরিচিত হাদিস বর্ণনা করেন এবং ভুল করেন" অংশটুকু অতিরিক্ত ছিল। সম্ভবত ইবনে হিব্বানের "আস-সিকাত" গ্রন্থের যে পাণ্ডুলিপিটি হাফিজ ইবনে হাজরের কাছে ছিল, তাতে ত্রুটি থাকার কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে; কারণ তিনি নিজেই এই পাণ্ডুলিপির ত্রুটি সম্পর্কে অভিযোগ করেছিলেন; যেমনটি আপনি "লিসানুল মিজান" গ্রন্থে (২/ ৪৪২, নং ১৮০৪) রাফি বিন সালমানের জীবনীতে এবং "তাহজীবুত তাহজীব" গ্রন্থে (৮/ ২০৩) কায়স বিন মারওয়ানের জীবনীতে দেখতে পাবেন।

আরও সম্ভাবনা রয়েছে যে, রাসবিকেও নুকরি বলা হয়, তবে তিনি পরবর্তী স্তরের; তিনি আবু ইয়ালা এবং ইবনে জারির তাবারির উস্তাদদের অন্তর্ভুক্ত। ইবনে আদি 'আল-কামিল' (৫/১৫০, নং ১৩১৫) গ্রন্থে তাঁর জীবনী উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: "আমর ইবন মালিক আন-নুকরি: তিনি বসরাবাসী, নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের সূত্রে তার হাদিস মুনকার এবং তিনি হাদিস চুরি করেন," এরপর তিনি তার সম্পর্কে আবু ইয়ালার দুর্বল সাব্যস্ত করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আর তিনি মূলত রাসবি আল-গুবরি; হাফিজ (ইবনে হাজার) নিজেই 'আত-তাহজিব' (৮/৮৩) গ্রন্থে রাসবির জীবনীতে এ বিষয়ে সতর্ক করেছেন এবং ইবনে আদির বক্তব্য উল্লেখ করার পর তিনি বলেছেন: "তবে তিনি জীবনীর শুরুতে 'আমর ইবন মালিক আন-নুকরি' বলেছেন, যা একটি ভ্রম; কারণ নুকরি তো এই ব্যক্তির আগের স্তরের।" সমাপ্ত।

ইবনে জারির 'তাহজিবুল আসার' গ্রন্থে রাসবি থেকে বর্ণনা করেছেন—যিনি তাঁর উস্তাদ—তিনি বলেছেন: "আমর ইবন মালিক আন-নুকরি আমাদের নিকট হাদিস বর্ণনা করেছেন।" আর ইবনে মাকুলা 'আল-ইকমাল' (১/৪৫১) গ্রন্থে আবু আল-জাওজা থেকে বর্ণনাকারী নুকরি ব্যতীত অন্য কারো কথা উল্লেখ করেননি।

আরও দেখুন: "তাহজিবুল কামাল" (২২: পৃষ্ঠা ২১১-২১২)।

(১) তিনি হলেন আউস ইবন আব্দুল্লাহ আর-রাবায়ি—'বা' বর্ণে জবরসহ—আবু আল-জাওজা—'জীম' ও 'যা' বর্ণসহ—তিনি বসরাবাসী, নির্ভরযোগ্য, তিনি প্রচুর 'ইরসাল' করেন, তিরাশি হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন, জামাআত তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; যেমন—
(খণ্ড: ৬) সুনানু সাঈদ ইবনে মানসুর - তাকমিলাতুত তাফসীর - তহা আল-আলুকাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
لئلَّا يَراها، ويستأخِرَ بعضُهم حتى يكونَ في الصَّفِّ المُؤخَّرِ، فإذا ركع قال هكذا‌‌(1) - ونظر نُوحٌ من تحتِ إبِطِهِ - فنزلتْ: {وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنْكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ (24)}.

 

‌‌[1199] حدَّثنا سعيدٌ، قال: نا أبو الأَحْوَصِ‌‌(2)، عن سعيدِ بنِ مسروقٍ‌‌(3)، عن عكرمةَ؛ [وعن]‌‌(4) خُصَيفٍ‌‌(5)، عن مجاهدٍ؛ قالا‌‌(6):

--------------------------------------------

= في "التقريب" (582). وانظر: "التاريخ الكبير" (2/ 16 - 17)، و "الجرح والتعديل" (2/ 304)، و "الثقات" لابن حبان (4/ 42 - 43)، و"تهذيب الكمال" (3/ 392 - 393).

‌‌(1) أي: فعل هكذا، ثم فسره بقوله: "ونظر نوح من تحت إبطه". وهو من باب إطلاق القول على الفعل وهو شائع، ومنه قوله صلى الله عليه وسلم في "صحيح البخاري" (7247): "وليس الفجر أن يقول هكذا" وجمع يحيى - الراوي - كفيه "حتى يقول هكذا" ومدّ يحيى إصبعيه السبابتين. وانظر الأحاديث (85 و 226 و 621 و 4727) من "صحيح البخاري"، ومنه في "صحيح مسلم" (368): قال صلى الله عليه وسلم في التيمم: "إنما كان يكفيك أن تقول هكذا" وضرب بيديه الأرض فنفض يديه فمسح وجهه وكفيه. وانظر الحديثين (1093 و 1218) من "صحيح مسلم".

وانظر في إطلاق القول على الفعل: "مشارق الأنوار" (2/ 194)، و"النهاية" (4/ 124)، و"فتح الباري" (1/ 181 و 182 و 222، وغيرها كثير)، و"مرقاة المفاتيح" (1/ 275)، و (4/ 323)، و"تاج العروس" (ق و ل).

‌‌(2) هو: سَلَّام بن سُلَيم.

‌‌(3) هو والد سفيان الثوري، تقدم في الحديث [52] أنه ثقة.

‌‌(4) في الأصل: "عن" بلا واو، والمثبت موافق وقريب مما في "تفسير ابن جرير"؛ حيث روى الأثر من طريق المصنِّف، وفيه: "عن عكرمة وخصيف".

والراوي عن خصيف هو أبو الأحوص سلام بن سليم شيخ المصنِّف؛ وهو يرويه عن سعيد بن مسروق وعن خصيف معًا.

‌‌(5) هو: ابن عبد الرحمن الجزري، تقدم في الحديث [204] أنه صدوق سيِّئ الحفظ.

‌‌(6) أي: عكرمة ومجاهد.

 

‌‌[1199] سنده صحيح إلى عكرمة، وضعيف إلى مجاهد؛ لضعف خصيف من قبل حفظه. =
যাতে সে তাকে দেখতে না পায়, এবং তাদের কেউ কেউ পিছিয়ে যেত এমনকি তারা পেছনের সারিতে থাকত। অতঃপর সে যখন রুকু করত তখন সে এইভাবে করত‌‌(১) - আর নূহ তার বগলের নিচ দিয়ে তাকালেন - তখন অবতীর্ণ হলো: {আমি অবশ্যই তোমাদের মধ্যকার অগ্রগামীদের জানি এবং আমি অবশ্যই পশ্চাদগামীদেরও জানি (২৪)}।

‌ ‌[১১৯৯] সাঈদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আবু আল-আহওয়াস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন‌‌(২), সাঈদ ইবনে মাসরুক থেকে‌‌(৩), তিনি ইকরিমাহ থেকে; [এবং]‌‌(৪) খুসাইফ থেকে‌‌(৫), তিনি মুজাহিদ থেকে; তাঁরা উভয়ে বলেন‌‌(৬):

--------------------------------------------

= "আত-তাকরীব" গ্রন্থে (৫৮২)। আরও দেখুন: "আত-তারিখুল কাবীর" (২/ ১৬-১৭), "আল-জারহু ওয়াত-তাদীল" (২/ ৩০৪), ইবনে হিব্বান রচিত "আস-সিকাত" (৪/ ৪২-৪৩), এবং "তাহযিবুল কামাল" (৩/ ৩৯২-৩৯৩)।

‌ ‌(১) অর্থাৎ: তিনি এমনটি করেছেন, তারপর তিনি তাঁর এই উক্তি দ্বারা এটি ব্যাখ্যা করেছেন: "আর নূহ তাঁর বগলের নিচ দিয়ে তাকালেন।" এটি কর্মের ওপর উক্তির প্রয়োগ করার একটি উদাহরণ যা বেশ প্রচলিত। এর মধ্যে রয়েছে "সহীহ বুখারী" (৭২৪৭)-এ বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আর ফজর এমনভাবে বলা নয়" এবং বর্ণনাকারী ইয়াহইয়া তাঁর দুই হাতের তালু একত্রিত করলেন "যতক্ষণ না তিনি এমনটি বলেন" এবং ইয়াহইয়া তাঁর দুই তর্জনী প্রসারিত করলেন। "সহীহ বুখারী"-এর ৮৫, ২২৬, ৬২১ এবং ৪৭২৭ নম্বর হাদীসগুলো দেখুন। এছাড়া "সহীহ মুসলিম" (৩৬৮)-এ রয়েছে: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তায়াম্মুম সম্পর্কে বলেছেন: "তোমার জন্য কেবল এমনটি করাই যথেষ্ট ছিল" এবং তিনি তাঁর দুই হাত দিয়ে মাটিতে আঘাত করলেন, অতঃপর তাঁর দুই হাত ঝেড়ে ফেললেন এবং তাঁর মুখমণ্ডল ও দুই হাতের তালু মাসাহ করলেন। "সহীহ মুসলিম"-এর ১০৯৩ ও ১২১৮ নম্বর হাদীস দুটি দেখুন।

কর্মের ওপর উক্তির প্রয়োগ সম্পর্কে দেখুন: "মাশারিকুল আনওয়ার" (২/১৯৪), "আন-নিহায়াহ" (৪/১২৪), "ফাতহুল বারী" (১/১৮১, ১৮২ ও ২২২ এবং আরও অনেক স্থানে), "মিরকাতুল মাফাতীহ" (১/২৭৫ এবং ৪/৩২৩) এবং "তাজুল আরুস" (ক্ব-ওয়া-লাম)।

‌ ‌(২) তিনি হলেন: সাল্লাম বিন সুলাইম।

‌ ‌(৩) তিনি সুফিয়ান আস-সাওরীর পিতা, হাদীস [৫২]-এ গত হয়েছে যে তিনি নির্ভরযোগ্য।

‌ ‌(৪) মূল পাণ্ডুলিপিতে 'ওয়াও' ব্যতীত 'আন' রয়েছে, আর যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা "তাফসীর ইবনে জারীর"-এ যা আছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও নিকটবর্তী; যেখানে তিনি গ্রন্থকারের সূত্রে এই বর্ণনাটি উদ্ধৃত করেছেন এবং তাতে রয়েছে: "ইকরিমা ও খুসাইফ থেকে।" আর খুসাইফ থেকে বর্ণনাকারী হলেন গ্রন্থকারের শিক্ষক আবু আহওয়াস সাল্লাম বিন সুলাইম; তিনি এটি সাঈদ বিন মাসরুক এবং খুসাইফ—উভয় থেকে একত্রে বর্ণনা করেছেন।

‌ ‌(৫) তিনি হলেন: ইবনে আবদুর রহমান আল-জাজারি, [২০৪] নং হাদিসে ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে তিনি সত্যবাদী কিন্তু দুর্বল স্মৃতিশক্তির অধিকারী।

(৬) অর্থাৎ: ইকরিমাহ ও মুজাহিদ।

[১১৯৯] ইকরিমাহ পর্যন্ত এর সনদ সহিহ, এবং মুজাহিদ পর্যন্ত জঈফ; মুখস্থশক্তির দিক থেকে খুসাইফের দুর্বলতার কারণে। =