(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: -)
منهل الواردين من بحار الفيض على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض - ط إسطنبول   (ابن عابدين)

القسم: الفقه الحنفي


الكتاب: منهل الواردين من بحار الفيض على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض

(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)

المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]

الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م

وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى

عدد الصفحات: 53

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445

মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়দ আলা যুখরিল মুতাহহিলিন ফি মাসাইলিল হায়দ - ইস্তাম্বুল সংস্করণ   (ইবনে আবিদীন)

বিভাগ: হানাফী ফিকহ


বই: মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়দ আলা যুখরিল মুতাহহিলিন ফি মাসাইলিল হায়দ

(ইবনে আবিদীনের সংকলিত রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)

লেখক: মুহাম্মদ আমিন এফেন্দি, যিনি ইবনে আবিদীন নামে প্রসিদ্ধ [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]

প্রকাশক: দারু সাআদাত، ইস্তাম্বুল، ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ

এবং «মাজমুউর রাসায়িল»-এর প্রতিলিপি করেছে: আলমুল কুতুব، এবং আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনী

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩

[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ যুল কাদা ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৬৭)
منهل الواردين من بحار الفيض على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض

* للمحقق العلامة * المدقق الفهامة *

السيد محمد عابدين الحسيني

رحمه الله تعالى ونفعنا

به آمين
ঋতুস্রাবের মাসআলা সংক্রান্ত ‘জুখরুল মুতাআহহিলিন’ (বিবাহিতদের পাথেয়) গ্রন্থের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়দ’ (প্রবাহী অনুগ্রহের সমুদ্র হতে আগন্তুকদের প্রস্রবণ)

* মহাসংশোধক আল্লামা * সূক্ষ্মদর্শী মহাজ্ঞানী *

সাইয়্যেদ মুহাম্মদ আবিদিন আল-হুসাইনি

আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন এবং আমাদের উপকৃত করুন

তাঁর মাধ্যমে, আমীন
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৬৮)
الرسالة الرابعة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذى عمنا بالانعام * وعلمنا علم الأحكام * وأمرنا بالطهارة من الاحداث والانجاس والآثام * لنتأهل للمثول بين يديه والقيام * والصلاة والسلام على سيدنا محمد خير الأنام * المميز بين الحلال والحرام * وعلى آله وأصحابه بدور التمام* ومصابيح الظلام (اما بعد) فيقول العبد المفتقر إلى رب العالمين * محمد امين الشهير بابن عابدين * غفر الله تعالى ذنوبه * وملأ من زلال العفو ذنوبه * اني طالعت بعض الاخوان الرسالة المؤلفة في مسائل الحيض المسماة بذخر المتأهلين. المنسوبة لأفضل المتأخرين * الإمام العالم العامل * المحقق المدقق الكامل * الشيخ محمد بن بير على البركوى صاحب الطريقة المحمدية * وغيرها من المؤلفات السنية * فوجدتها مع صغر حجمها * ولطافة نظمها * جامعة لغرر فروع هذا الباب * عارية عن التطويل والاسهاب * لم تنسج قريحة على منوالها * ولم تظفر عين بالنظر إلى مثالها * فأردت أن اشرحها بشرح يسهل عويصها* ويستخرج غويصها * ويكشف نقابها * ويذلل صعابها وسميته منهل الواردين من بحار الفيض * على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض * فأقول مستعينا بالله تعالى في حسن النية * وبلوغ الأمنية * قال المصنف رحمه الله تعالى (بسم الله الرحمن الرحيم الحمد لله الذي جعل الرجال على النساء قوامين) أي يقومون عليهن قيام الولاة على الرعية ولهذا كان الرجل امير امرأته (وامرهم بوعظهن) أي تذكيرهن بما يلين قلبهن من الثواب والعقاب (والتأديب) أي التعليم وفي المغرب عن أبي زيد الأدب اسم يقع على كل رياضة محمودة يتخرج بها الإنسان في فضيلة من الفضائل (وتعليم الدين) عطف خاص على عام أي تعليم اصوله من العقائد وفروعه المحتاج إليها في الحال وفي هاتين الفقرتين تلميح إلى قوله تعالى الرجال قوامون على النساء الآية وقوله تعالى واللائى تخافون نشوزهن فعظوهن الآية (والصلاة) اسم من التصلية ومعناها الثناء الكامل إلا أن ذلك ليس في وسعنا فامرنا أن نكل ذلك إليه تعالى كما في شرح التأويلات وافضل العبارات على ما قال المرزوقي اللهم صل على محمد وعلى آل محمد وقيل التعظيم فالمعنى اللهم عظمه في الدنيا بإعلاء ذكره * وانفاذ شريعته * وفي الآخرة بتضعيف أجره * وتشفيعه في امته * كما قال ابن الأثير كذا في شرح النقاية للقهستاني (والسلام) اسم من التسليم أي جعل الله إياه سالما من كل مكروه
চতুর্থ রিসালা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের নেয়ামত দ্বারা পরিব্যাপ্ত করেছেন, আমাদের বিধানাবলীর জ্ঞান শিক্ষা দিয়েছেন এবং আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন নাপাকি, অপবিত্রতা ও পাপ থেকে পবিত্র হতে; যেন আমরা তাঁর দুই হাতের সম্মুখে উপস্থিত হওয়া ও দণ্ডায়মান হওয়ার যোগ্যতা লাভ করতে পারি। আর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদের ওপর, যিনি সৃষ্টির সেরা, হালাল ও হারামের মধ্যে পার্থক্যকারী; এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণের ওপর, যারা পূর্ণিমার চাঁদ ও অন্ধকারের প্রদীপ স্বরূপ। (অতঃপর) রব্বুল আলামীনের মুখাপেক্ষী বান্দা মুহাম্মাদ আমিন, যিনি ইবনে আবিদিন নামে পরিচিত, তিনি বলছেন: আল্লাহ তাআলা তাঁর গুনাহসমূহ ক্ষমা করুন এবং তাঁর গুনাহের পাত্রকে ক্ষমার শীতল বারিধারা দিয়ে পূর্ণ করে দিন। আমি কিছু দ্বীনি ভাইয়ের সাথে হায়েযের মাসআলা সংক্রান্ত একটি রিসালা পাঠ করেছি, যার নাম ‘যুখরুল মুতাহহিলীন’। এটি পরবর্তী যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম, আমলকারী ইমাম, গবেষক, সূক্ষ্মদর্শী ও পূর্ণাঙ্গ ব্যক্তিত্ব শায়খ মুহাম্মাদ বিন পীর আলী আল-বিরকিভী-র দিকে সম্বন্ধিত, যিনি ‘তরিকাহ মুহাম্মাদিয়া’ ও অন্যান্য শ্রেষ্ঠ কিতাবসমূহের রচয়িতা। আমি কিতাবটিকে ক্ষুদ্র অবয়ব ও চমৎকার বিন্যাস সত্ত্বেও এই অধ্যায়ের শ্রেষ্ঠ মাসআলাসমূহের সংকলক হিসেবে পেয়েছি, যা দীর্ঘসূত্রিতা ও অহেতুক বিস্তার থেকে মুক্ত। কোনো মেধা এর অনুরূপ কিছু বুনন করেনি এবং কোনো চোখ এর দৃষ্টান্ত অবলোকন করেনি। তাই আমি ইচ্ছা করলাম এর এমন একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ লিখব যা এর জটিল বিষয়গুলোকে সহজ করবে, এর গূঢ় রহস্যসমূহ বের করে আনবে, এর পর্দা উন্মোচন করবে এবং এর কঠিন বিষয়গুলোকে সহজসাধ্য করবে। আমি এর নামকরণ করেছি ‘মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহরিল ফায়দ আলা যুখরিল মুতাহহিলীন ফি মাসায়িলিল হায়দ’। আমি নিয়তের বিশুদ্ধতা ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়ে বলছি: মূল লেখক (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পুরুষদেরকে নারীদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক বানিয়েছেন।) অর্থাৎ তারা নারীদের ওপর সেভাবেই দায়িত্ব পালন করবে যেভাবে শাসকরা প্রজাদের ওপর করে থাকে, আর এই কারণেই পুরুষ তার স্ত্রীর আমির বা প্রধান। (এবং তাদের নির্দেশ দিয়েছেন তাদের উপদেশ দিতে) অর্থাৎ পুরস্কার ও শাস্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তাদের অন্তরকে নরম করা। (এবং শিষ্টাচার শিক্ষা দিতে) অর্থাৎ শিক্ষা দান। ‘আল-মাগরিব’ গ্রন্থে আবু যায়েদ থেকে বর্ণিত যে, আদব এমন একটি নাম যা প্রতিটি প্রশংসনীয় অনুশীলনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে মানুষ কোনো না কোনো শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে। (এবং দ্বীন শিক্ষা দিতে) এটি সাধারণ বিষয়ের ওপর বিশেষের সংযোজন; অর্থাৎ আকিদাগত মূলনীতি এবং বর্তমান অবস্থায় প্রয়োজনীয় শাখাগত বিধানসমূহ শিক্ষা দেওয়া। এই দুটি বাক্যে মহান আল্লাহর বাণী ‘পুরুষগণ নারীদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক’ এবং ‘যাদের অবাধ্যতার আশঙ্কা করো তাদেরকে উপদেশ দাও’ আয়াতের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে। (আর সালাত) এটি ‘তাসলিয়াহ’ শব্দ থেকে নির্গত যার অর্থ হলো পূর্ণাঙ্গ প্রশংসা; তবে তা আমাদের সাধ্যের বাইরে হওয়ায় আমাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা মহান আল্লাহর ওপর সোপর্দ করতে, যেমনটি ‘শারহুত তাবীলত’ গ্রন্থে রয়েছে। মারজুকির বক্তব্য অনুযায়ী শ্রেষ্ঠ বাক্য হলো: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদ ও মুহাম্মাদের পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন। কারো মতে এর অর্থ সম্মান প্রদর্শন; সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়—হে আল্লাহ! আপনি দুনিয়াতে তাঁর আলোচনা উচ্চ করার এবং তাঁর শরীয়তকে বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করুন, আর আখিরাতে তাঁর প্রতিদান বহুগুণ বৃদ্ধি করার এবং তাঁর উম্মতের ব্যাপারে তাঁর সুপারিশ কবুল করার মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করুন; যেমনটি ইবনুল আসীর বলেছেন এবং কুহিস্তানি-কৃত ‘শারহুন নিকায়াহ’ গ্রন্থেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (আর সালাম) এটি ‘তাসলিম’ থেকে আগত নাম, অর্থাৎ আল্লাহ তাঁকে যাবতীয় অপ্রীতিকর বিষয় থেকে নিরাপদ রাখুন।
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৬৯)
(على حبيب رب العالمين) أي محبوبه (وعلى آله) اسم جمع لذوى القربى الفه مبدلة عن الهمزة المبدلة عن الهاء عند البصريين والواو عند الكوفيين والاول هو الحق كما في المفتاح قهستاني (وأصحابه) قال القهستانى أي الذين آمنوا مع الصحبة ولو لحظة كما قال عامة المحدثين وإنما اوثر على ما ذهب إليه الاصوليون من اشتراط ملازمة ستة اشهر فصاعدا ليشمل كل صاحب (هداة) جمع هاد من الهداية وهى الدلالة على ما يوصل إلى البغية (الحق) ضد الباطل (وحماة) جمع حام من الحماية بالكسر أي المنع (الشرع) اسم لما شرعه الله تعالى لعباده من الأحكام (المتين) القوى يقال متن ككرم صلب (وبعد) قال القهستاني أي واحضر بعد الخطبة ما سيأتى فالواو للاستئناف أو لعطف الانشاء على مثله أو على الخبر على نحو قوله تعالى وبشر الذين آمنوا الآية لأن ما في المشهور من الضعف ما لا يخفى فإن تقدير اما مشروط بان يكون ما بعد الفاء امرا أو نهيا ناصبا لما قبلها أو مفسرا له كما في الرضى واما توهم اما فلم يعتبره أحد من النحويين والظرف متعلق بالأمر المستفاد من المقام المعلل بالفاء في قوله (فقد) كما في قولهم اعبد ربك فإن العبادة حق انتهى (واتفق الفقهاء) أي المجتهدون (على فرضية علم الحال) أي العلم بحكم ما يحتاج إليه في وقت احتياجه إليه قال في التتارخانية اختلف الناس في أي علم طلبه فرض فحكى اقوالا ثم قال والذى ينبغى أن يقطع بأنه المراد هو العلم بما كلف الله تعالى به عباده فإذا بلغ الإنسان ضحوة النهار مثلا يجب عليه معرفة الله تعالى بصفاته بالنظر والاستدلال وتعلم كلمتى الشهادة مع فهم معناهما ثم أن عاش إلى الظهر يجب تعلم الطهارة ثم تعلم علم الصلاة وهلم جرا فإن عاش إلى رمضان يجب تعلم علم الصوم فإن استفاد ما لا تعلم علم الزكاة والحج أن استطاعه وعاش إلى اشهره وهكذا التدريج في علم سائر الأفعال المفروضة عينا انتهى (على كل من آمن بالله) أي بوحدانيته سبحانه ذاتا وصفات وافعالا (واليوم الآخر) هو يوم القيمة فإنه آخر الاوقات المحدودة وخصه بالذكر لانه يوم الجزاء فالايمان به يحمل على العمل فمن كان يرجو لقاء ربه فليعمل عملا صالحا (من نسوة) بالكسر والضم جمع المرأة من غير لفظها قاموس (ورجال) جمع رجل وهو الذكر من بنى آدم إذا بلغ أو مطلقا والمراد هنا البالغ إذا علمت ذلك الاتفاق (فمعرفة) احكام (الدماء المختصة بالنساء واجبة عليهن وعلى الازواج والأولياء) جمع ولى وهو العصبة فيجب على المرأة تعلم الأحكام

(বিশ্বজগতের রবের হাবীবের ওপর) অর্থাৎ তাঁর প্রিয়তমের ওপর (এবং তাঁর পরিবারের ওপর) এটি নিকটাত্মীয়দের জন্য ব্যবহৃত একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। বসরীয়দের মতে এর ‘আলিফ’টি ‘হামজা’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, যা আবার ‘হা’ থেকে পরিবর্তিত। আর কুফীয়দের মতে এটি ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত। প্রথম মতটিই সঠিক, যেমনটি মিফতাহ গ্রন্থে রয়েছে—কোহিস্তানি। (এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর) কোহিস্তানি বলেন, অর্থাৎ যারা সাহচর্য লাভসহ ঈমান এনেছেন, চাই তা এক মুহূর্তের জন্য হলেও; যেমনটি অধিকাংশ মুহাদ্দিস বলেছেন। উসুলবিদগণ ছয় মাস বা তার অধিক সময়কাল সাথে থাকার যে শর্তারোপ করেছেন, তার বিপরীতে একে (মুহাদ্দিসদের মতকে) প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যাতে প্রত্যেক সাহাবী এর অন্তর্ভুক্ত হন। (পথপ্রদর্শকগণ) এটি হিদায়াত থেকে ‘হাদি’-এর বহুবচন। আর হিদায়াত হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায় এমন বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করা। (সত্যের) যা বাতিলের বিপরীত। (এবং রক্ষণাবেক্ষণকারীগণ) এটি ‘হামি’ এর বহুবচন যা ‘হিমায়াত’ (জেরসহ) থেকে আগত, যার অর্থ হলো রক্ষা করা বা বাধা দেওয়া। (শরীয়ত) এটি ঐ সকল বিধানের নাম যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। (সুদৃঢ়) যা শক্তিশালী। বলা হয় ‘মাতুনা’ যেমন ‘কারুমা’, অর্থাৎ যা শক্ত বা মজবুত। (অতঃপর) কোহিস্তানি বলেন, অর্থাৎ খুতবার পরে যা আসছে তা উপস্থিত করা হলো। এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি বাক্য নতুনভাবে শুরু করার জন্য, অথবা একটি নির্দেশনামূলক বাক্যকে তার সমগোত্রীয় বাক্যের ওপর বা বর্ণনামূলক বাক্যের ওপর সংযুক্ত করার জন্য; যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী: “এবং সুসংবাদ দিন ঐ ব্যক্তিদের যারা ঈমান এনেছে” (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। কারণ যা প্রসিদ্ধ রয়েছে তাতে যে দুর্বলতা আছে তা অস্পষ্ট নয়। কেননা ‘আম্মা’ শব্দের উহ্য থাকার বিষয়টি শর্তযুক্ত যে, ‘ফা’ এর পরের অংশটি আদেশসূচক বা নিষেধসূচক হবে যা পূর্বের শব্দকে নসব প্রদান করবে অথবা তার ব্যাখ্যা প্রদানকারী হবে, যেমনটি রাজি গ্রন্থে রয়েছে। আর ‘আম্মা’ থাকার কাল্পনিক ধারণা কোনো ব্যাকরণবিদই গ্রহণ করেননি। আর এই অব্যয়টি সেই আদেশের সাথে সংশ্লিষ্ট যা প্রাসঙ্গিকভাবে বুঝা যাচ্ছে এবং ‘ফাকাদ’ বাক্যে ‘ফা’ এর মাধ্যমে কারণ দর্শানো হয়েছে। যেমন তাদের কথা: “তোমার রবের ইবাদত করো, কেননা ইবাদত করা যথাযথ”। (এখানেই শেষ)। (এবং ফকীহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন) অর্থাৎ মুজতাহিদগণ (তৎকালীন প্রয়োজনীয় ইলম অর্জন করা ফরয হওয়ার বিষয়ে) অর্থাৎ কোনো বিষয়ের বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যখন সেটি পালনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাতারখানিয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: কোন ইলম অন্বেষণ করা ফরয এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তিনি কতগুলো উক্তি উল্লেখ করে অতঃপর বলেন, যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তা হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর যা অর্পণ করেছেন সেই বিষয়ের জ্ঞান। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো মানুষ দিনের দ্বিপ্রহরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তবে তার ওপর আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে চিন্তা ও প্রমাণের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা এবং অর্থ বুঝার সাথে সাথে কালেমা শাহাদাত শেখা ওয়াজিব। এরপর যদি সে যোহর পর্যন্ত জীবিত থাকে, তবে পবিত্রতা অর্জন শেখা ওয়াজিব, এরপর সালাতের ইলম শেখা ওয়াজিব এবং এভাবেই চলতে থাকবে। যদি সে রমযান পর্যন্ত জীবিত থাকে, তবে সিয়ামের ইলম শেখা ওয়াজিব। যদি সে সম্পদের মালিক হয়, তবে যাকাতের ইলম শেখা ওয়াজিব এবং হজের সামর্থ্য থাকলে ও হজের মাস পর্যন্ত জীবিত থাকলে তার ইলম শেখা ওয়াজিব। এভাবে ফরযে আইন হিসেবে সাব্যস্ত অন্যান্য সকল কার্যাবলীর ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে শিখতে হবে। (এখানেই শেষ)। (আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়নকারী প্রত্যেকের ওপর) অর্থাৎ সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলীর ক্ষেত্রে সুবহানাহু ওয়া তাআলার একত্ববাদের ওপর ঈমান। (এবং পরকালের ওপর) এটি কিয়ামতের দিন, কারণ এটিই নির্ধারিত সময়গুলোর সর্বশেষ। একে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটি প্রতিদান প্রাপ্তির দিন। সুতরাং পরকালের ওপর ঈমান আমল করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাই যে ব্যক্তি তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন সৎ আমল করে। (নারী) এটি কাসরা বা যম্মাহ দিয়ে পড়া যায়, এটি ভিন্ন মূলধাতু থেকে গঠিত নারীর বহুবচন—কামুস। (এবং পুরুষদের মধ্যে) এটি ‘রাজুল’ এর বহুবচন, আর তা হলো আদম সন্তানের মধ্যে পুরুষ যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় বা সাধারণভাবে। আর এখানে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উদ্দেশ্য। যখন আপনি সেই ঐকমত্যের কথা জানলেন, (তখন জানুন যে) (নারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট রক্তের) অর্থাৎ হুকুম আহকামের (জ্ঞান অর্জন করা তাদের ওপর এবং স্বামীদের ওপর ও ওলিদের ওপর ওয়াজিব)। ওলি হলো ‘ওয়ালি’ এর বহুবচন যার অর্থ আসাবা বা অভিভাবক। সুতরাং নারীর ওপর মাসয়ালাসমূহ শেখা ওয়াজিব।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭০)
وعلى زوجها أن يعلمها ما تحتاج إليه منها أن علم والا اذن لها بالخروج والا تخرج بلا اذنه وعلى من يلى امرها كالاب أن يعلمها كذلك (ولكن هذا) أي علم الدماء المختصة بالنساء مصـ (كان) أي صار مثل فكانت هباء منبثا (وفى زماننا) أي زمان المصنف وقد توفى سنة 981 (مهجورا) أي متروكا (بل صار كأن لم يكن شيئا مذكورا) اضراب انتقالى إلى ما هو ابلغ لأن ما هجر قد يكون معلوما ويترك العمل به بخلاف ما صار كانه لم يوجد أصلا (ولا يفرقون) أي أهل الزمان (وبين الحيض والنفاس والاستحاضة) في كثير من المسائل (ولا يميزون بين الصحيحة من الدماء والاظهار) عطف على الدماء (و) بين (الفاسدة) منهما (تري) أي تبصر أو تعليم (امثلهم) أي افضلهم أو اعلمهم عند نفسه (يكتفى) حال أو مفعول ثان (بالمتون المشهورة) كالقدورى والكنز والوقاية والمختار المبنية على الاختصار (وأكثر مسائل) هى المطالب التي يبرهن عليها في العلم ويكون الغرض من ذلك العلم معرفتها كذا في تعريفات السيد الشريف قدس سره (الدماء) الثلاثة السابقة (فيها مفقودة والكتب المبسوطة) التي فيها هذه المسائل (لا يملكها إلا قليل) لقلة وجودها وغلاء أثمانها (والمالكون) لها (اكثرهم عن مطالعتها) في القاموس طالعه طلاعا ومطالعة اطلع عليه أي علمه (عاجز وعليل) بداء الجهل (وأكثر نسخها) جمع نسخة بالضم ما ينسخ أي يكتب فيه (في باب حيضها تحريف) أي تغيير (وتبديل) عطف تفسير أو الأول تغيير بعض حروف الكلمة والثانى ابدالها بغيرها (لعدم الاشتغال به) أي بأكثر نسخها (ومذ) أي من (دهر طويل) فكلما نسخت نسخة على أخرى زاد التحريف (وفي مسائله) أي باب الحيض (كثرة وصعوبة) قال في البحر واعلم أن باب الحيض من غوامض الابواب خصوصا المتحيرة وتفاريعها ولهذا اعتنى به المحققون وافرده محمد رحمه الله تعالى في كتاب مستقل ومعرفة مسائله من أعظم المهمات لما يترتب عليها مما لا يحصى من الأحكام كالطهارة والصلاة وقرائة القرآن والصوم والاعتكاف والحج والبلوغ والوطى والطلاق والعدة والاستبراء وغير ذلك من الأحكام وكان من أعظم الواجبات لأن عظم منزلة العلم بالشئ بحسب منزلة ضرر الجهل به وضرر الجهل بمسائل الحيض أشد من ضرر الجهل بغيرها فيجب الاعتناء بمعرفتها وإن كان الكلام فيها طويلا فإن المحصل يتشوف إلى ذلك ولا التفات إلى كراهة أهل البطالة انتهى

স্বামীর ওপর আবশ্যিক দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে ঋতুস্রাব সম্পর্কিত তার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শেখানো—যদি স্বামীর সে জ্ঞান থাকে। অন্যথায়, সে তাকে (শিখতে যাওয়ার জন্য) বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করবে; আর স্ত্রী তার অনুমতি ছাড়া বের হবে না। তদ্রূপ তার অভিভাবক—যেমন পিতার ওপরও তাকে শেখানো আবশ্যিক। (কিন্তু এটি) অর্থাৎ নারীদের জন্য নির্দিষ্ট রক্ত সম্পর্কিত জ্ঞান (হয়ে গেছে) অর্থাৎ এমন হয়ে গেছে যেমন বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা। (আর আমাদের যুগে) অর্থাৎ গ্রন্থকারের যুগে, যিনি ৯৮১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন, (পরিত্যক্ত) অর্থাৎ বর্জিত হয়েছে। (বরং এটি এমন হয়ে গেছে যেন এটি উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না)। এটি পূর্বের চেয়ে অধিক জোরালো অবস্থার দিকে উত্তরণ; কারণ কোনো বিষয় পরিত্যক্ত হলেও তা অনেক সময় জানা থাকতে পারে কিন্তু তার ওপর আমল করা হয় না, অথচ যা এমন হয়ে যায় যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না, তার বিষয়টি ভিন্ন। (আর তারা পার্থক্য করে না) অর্থাৎ সমসাময়িক যুগের মানুষেরা (হায়েজ, নেফাস এবং এস্তেহাজার মধ্যে) অধিকাংশ মাসআলার ক্ষেত্রে। (এবং তারা রক্তের সঠিক ও প্রকাশ্য রূপের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না—) এটি 'রক্ত' শব্দের ওপর সংযোজন (—এবং) এই দুইয়ের মধ্যে যা (ত্রুটিযুক্ত)। (তুমি দেখতে পাবে) অর্থাৎ তুমি দেখবে অথবা জানবে যে, (তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিটিও) অর্থাৎ তাদের মধ্যে যে নিজেকে অধিক উত্তম বা অধিক জ্ঞানী মনে করে, (সে সন্তুষ্ট থাকে)—এটি অবস্থা বর্ণনা করছে অথবা দ্বিতীয় কর্মপদ—(বিখ্যাত মূল গ্রন্থগুলোর ওপর), যেমন: কুদুরি, কানজ, বিকায়া এবং মুখতার, যা সংক্ষিপ্তকরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত। (এবং অধিকাংশ মাসআলা)—মাসআলা হলো ঐ সকল বিষয় যা বিজ্ঞানে প্রমাণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই বিজ্ঞান থেকে উদ্দেশ্য থাকে সেগুলোকে জানা, যেমনটি সাইয়্যেদ শরীফ (তার রহস্য পবিত্র হোক) তার তারিফাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—(রক্ত সম্পর্কিত) অর্থাৎ পূর্বোক্ত তিন প্রকার রক্ত সম্পর্কিত মাসআলা (তাতে অনুপস্থিত)। (আর বিস্তারিত কিতাবসমূহ) যাতে এই মাসআলাগুলো রয়েছে, (খুব অল্প লোকের নিকটেই তা বিদ্যমান), কারণ সেগুলোর দুষ্প্রাপ্যতা এবং উচ্চমূল্য। (আর যারা সেগুলোর মালিক), (তাদের অধিকাংশ সেগুলো অধ্যয়ন করতে)—কামুস অভিধানে আছে: ‘তালাআহু ত্বিলাআন ওয়া মুতলাআতান’ অর্থ সে সম্পর্কে অবগত হওয়া অর্থাৎ তা জানা—(অক্ষম এবং রুগ্ন) অজ্ঞতার ব্যাধিতে। (আর সেগুলোর অধিকাংশ অনুলিপিতে)—নুসহাহ এর বহুবচন, যা নকল করা হয় অর্থাৎ যাতে লেখা হয়—(ঋতুস্রাব অধ্যায়ে বিকৃতি রয়েছে) অর্থাৎ পরিবর্তন (ও রদবদল)—এটি ব্যাখ্যামূলক সংযোজন; অথবা প্রথমটি হলো শব্দের কিছু বর্ণের পরিবর্তন এবং দ্বিতীয়টি হলো শব্দকে অন্য শব্দ দ্বারা বদলে দেওয়া—(সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত না থাকার কারণে) অর্থাৎ পাণ্ডুলিপিগুলোর অধিকাংশ নিয়ে (এবং তা দীর্ঘ কাল যাবৎ)। ফলে যখনই এক পাণ্ডুলিপি থেকে অন্য পাণ্ডুলিপিতে নকল করা হয়েছে, বিকৃতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। (আর এর মাসআলাসমূহে) অর্থাৎ হায়েজ অধ্যায়ে (প্রাচুর্য ও জটিলতা রয়েছে)। আল-বাহর গ্রন্থে বলা হয়েছে: জেনে রাখুন যে, হায়েজ বা ঋতুস্রাব অধ্যায়টি অত্যন্ত দুরূহ অধ্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে মুতাহাইয়্যিরাহ (বিভ্রান্ত নারী) এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলোর মাসআলা। এই কারণেই গবেষক আলেমগণ এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ইমাম মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একে একটি স্বতন্ত্র কিতাবে সংকলন করেছেন। আর এর মাসআলাগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর ওপর অগণিত বিধি-বিধান নির্ভরশীল, যেমন: পবিত্রতা, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, রোজা, ইতিকাফ, হজ, বালেগ হওয়া, সহবাস, তালাক, ইদ্দত, ইস্তিবরা এবং অন্যান্য বিধি-বিধান। এটি অন্যতম মহান ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত; কারণ কোনো বিষয়ে জ্ঞানের মাহাত্ম্য নির্ভর করে সে বিষয়ে অজ্ঞ থাকার ক্ষতির পরিমাণের ওপর। আর হায়েজের মাসআলা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার ক্ষতি অন্য বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুতর। তাই এটি জানার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করা ওয়াজিব, যদিও এ সম্পর্কিত আলোচনা দীর্ঘ হয়; কারণ জ্ঞান অন্বেষণকারী ব্যক্তি তা অর্জনে আগ্রহী থাকে এবং অলস ব্যক্তিদের অপছন্দের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭১)
(واختلافات وفى اختيار المشايخ) بالياء وهم المتأخرون عن الإمام وأصحابه من أهل المذهب على اختلاف طبقاتهم (وتصحيحهم أيضًا مخالفات) فبعضهم يختار قولا وبعضهم يختار قولا آخر ثم بعضهم يصحح هذا وبعضهم يصحح هذا وقد قالوا إذا كان في المسئلة تصحيحان فالمفتى بالخيار لكن قد يكون أحد القولين الصحيحين اقوى لكونه ظاهر الرواية أو مشى عليه أصحاب المتون والشروح أو ارفق بالناس أو غير ذلك مما بينته في رد المحتار على الدر المختار فيحصل لمن لا اهلية له اضطراب ولاسيما عند كثرة الأقوال وعدم اطلاعه على الاصح منها فلذا قال المصنف رحمه الله تعالى (فأردت أن اصنف رسالة) قال السيد قدس سره الرسالة هى المجلة المشتملة على قليل من المسائل التى تكون من نوع واحد والمجلة هي الصحيفة يكون فيها الحكم (حاوية) أي جامعة (لمسائله) أي باب الحيض (اللازمة خاوية) بالعجمة أي خالية (عن ذكر خلاف ومباحث) جمع مبحث محل البحث قال السيد قدس سره البحث هو التفحص والتفتيش واصطلاحا هو إثبات النسبة الايجابية أو السلبية بين الشيئين بطريق الاستدلال (غير مهمة مقتصرة) صفة ثالثة لرسالة (على الاقوى والاصح والمختار للفتوى) أي لجواب الحادثة (مسهلة) بالبناء للفاعل أو المفعول صفة رابعة لرسالة (الضبط) لما تفرق في غيرها من المسائل (والفهم رجاء) علة لقوله فأردت (أن تكون) أي الرسالة (ولى ذخرا) بضم الذال وسكون الخاء المعجمتين أي ذخيرة ادخرها واختارها (وفي العقبى) أي الآخرة (فيا ايها الناظر إليها بالله العظيم لا تعجل في التخطئة) مصدر فعل بالتشديد للنسبة مثل فسقته إذا نسبته إلى الفسق (بمجرد رؤيتك) أي برؤيتك المجردة (فيها) أي في الرسالة (المخالفة) مفعول ثان لرؤية (لظاهر بعض الكتب المشهورة) فكم في بعضها ما هو خلاف الصحيح. بل ما هو خطأ صريح * أو ما هو مصروف عن الظاهر * مما لا يعرفه إلا الفقيه الماهر * (فعسى) أي اشفق واخاف عليك أن يكون المخطئ انت لعدم اطلاعك وكنى عن خطأ المخاطب بقوله (أن تخطئ ابن اخت خالتك) لأن المراد باخت خالته امه والمراد بابنها نفسه قال المصنف إذا كان تخطئ بالتاء المخاطب بها يكون متعديا ويكون ابن مفعوله وإذا كان بالياء يكون الفعل لازما والابن فاعله (فتكون من الذين هلكوا في المهالك) لأن الخطأ في المسائل الدينية كالهلاك ولذا شاع إطلاق الميت على الجاهل والحى على العالم أو من كان ميتا فاحييناه (فانى) علة عدم الخطأ في هذه الرسالة

(এবং মাশায়েখদের পছন্দের ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য রয়েছে) এখানে 'মাশায়েখ' শব্দটি 'ইয়া' বর্ণের সাথে ব্যবহৃত হয়েছে, তারা হলেন ইমাম (আবু হানিফা) ও তাঁর প্রধান সাথীদের পরবর্তী স্তরের মাযহাবের আলিমগণ, তাদের বিভিন্ন স্তর হওয়া সত্ত্বেও। (এবং তাদের শুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে) ফলে তাদের কেউ একটি মত গ্রহণ করেন আবার কেউ অন্যটি। তদ্রূপ কেউ এই মতটিকে বিশুদ্ধ বলেন আবার কেউ অন্যটিকে। ফকিহগণ বলেছেন: যখন কোনো মাসআলায় দুটি বিশুদ্ধ মত পাওয়া যায়, তখন মুফতির যেকোনোটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার থাকে। তবে অনেক সময় দুটি বিশুদ্ধ মতের একটি অধিক শক্তিশালী হয়; হয়তো সেটি 'জাহিরুর রেওয়ায়াত' হওয়ার কারণে, অথবা নির্ভরযোগ্য মূল কিতাব ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের লেখকগণ সেটির ওপর চলেছেন বলে, অথবা সেটি মানুষের জন্য অধিক সহজ হওয়ার কারণে, কিংবা অন্য কোনো কারণে যা আমি 'আদ-দুররুল মুখতার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'রাদ্দুল মুহতার'-এ বর্ণনা করেছি। ফলে যার এই বিষয়ে গভীর জ্ঞান নেই, তার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়; বিশেষ করে মতের আধিক্য এবং কোনটি অধিকতর বিশুদ্ধ তা জানা না থাকার কারণে। এজন্য গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: (তাই আমি একটি পুস্তিকা বা রিসালাহ রচনা করতে চাইলাম)। সাইয়্যিদ (আল্লাহ তাঁর আত্মা পবিত্র করুন) বলেছেন: 'রিসালাহ' হলো এমন একটি সংকলন যা একজাতীয় কিছু মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'মাজাল্লাহ' হলো এমন একটি পুস্তিকা যাতে বিধান লিপিবদ্ধ থাকে। (যা অন্তর্ভুক্ত করবে) অর্থাৎ সংকলন করবে (তার মাসআলাসমূহকে) অর্থাৎ হায়েজ বা ঋতুস্রাব অধ্যায়ের মাসআলাসমূহ। (অপরিহার্য বিষয়গুলো যা) বিন্দুযুক্ত বর্ণ (খ) সহ 'খাবিয়া' অর্থাৎ (মুক্ত থাকবে) (মতভেদ ও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা উল্লেখ করা থেকে)। 'মাবাহিছ' হলো 'মাবহিছ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ আলোচনার স্থান। সাইয়্যিদ (আল্লাহ তাঁর আত্মা পবিত্র করুন) বলেন: 'বাহছ' হলো অনুসন্ধান ও তদন্ত করা। আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো দলিলের মাধ্যমে দুটি বিষয়ের মাঝে ইতিবাচক বা নেতিবাচক সম্পর্ক প্রমাণ করা। (অপ্রয়োজনীয়, বরং তা সীমাবদ্ধ থাকবে) এটি রিসালাহ-এর তৃতীয় বিশেষণ (সবচেয়ে শক্তিশালী, অধিকতর বিশুদ্ধ এবং ফতোয়ার জন্য মনোনীত মতের ওপর)। অর্থাৎ উদ্ভূত সমস্যার উত্তরের জন্য যা উপযোগী। (সহজকারী হিসেবে) এটি 'রিসালাহ'-এর চতুর্থ বিশেষণ, যা সকর্মক বা অকর্মক উভয়ভাবেই পড়া যেতে পারে, (আয়ত্ত করাকে) যা অন্যান্য কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে (এবং অনুধাবন করাকে; এই আশায়) এটি লেখকের 'আমি চাইলাম' কথার কারণ। (যেন তা হয়) অর্থাৎ রিসালাহটি (আমার জন্য পাথেয়) 'যাল' বর্ণের পেশ ও 'খা' বর্ণের সুকুন সহ, যার অর্থ এমন সঞ্চয় যা কেউ জমা করে রাখে এবং মনোনীত করে। (এবং পরকালের জন্য)। (হে এই রিসালাহ পাঠকারী! মহান আল্লাহর কসম, তুমি ভুল সাব্যস্ত করতে তড়িঘড়ি করো না)। এটি 'তাখতিআহ' মূলধাতু থেকে আগত, যা কাউকে ভুলের দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করা বোঝায়; যেমন কাউকে ফাসেক বললে 'ফাস্সাকতুহু' বলা হয়। (তোমার নিছক দেখার কারণেই) অর্থাৎ তোমার কেবল দেখার দ্বারা (এতে) অর্থাৎ এই রিসালাহ-তে (এমন কিছু যা বিরোধী) এটি 'দেখা' ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম (প্রসিদ্ধ কিছু কিতাবের বাহ্যিক বিষয়ের)। কারণ অনেক প্রসিদ্ধ কিতাবে এমন কিছু আছে যা বিশুদ্ধ মতের পরিপন্থী, বরং অনেক সময় তা স্পষ্ট ভুলও হয়। অথবা এমন অর্থ যা বাহ্যিক উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন, যা কেবল দক্ষ ফকিহগণই অনুধাবন করতে পারেন। (কেননা হতে পারে) অর্থাৎ আমি তোমার ব্যাপারে আশঙ্কা করছি যে, তোমার অপরিপক্কতার কারণে ভুলকারী স্বয়ং তুমিই হবে। লেখক সম্বোধিত ব্যক্তির ভুলের বিষয়টি রূপকভাবে বলেছেন এই কথার মাধ্যমে যে, (তুমি তোমার খালার বোনের ছেলেকে ভুল সাব্যস্ত করবে)। কারণ কারো খালার বোন মানে হলো তার মা, আর মায়ের ছেলে মানে সে নিজে। গ্রন্থকার বলেন: যদি 'তাখতি' শব্দটি 'তা' দিয়ে পড়া হয় (সম্বোধন পদ হিসেবে), তবে তা সকর্মক হবে এবং 'ইবন' শব্দটি তার কর্ম (অবজেক্ট) হবে। আর যদি তা 'ইয়া' দিয়ে পড়া হয়, তবে তা অকর্মক হবে এবং 'ইবন' শব্দটি তার কর্তা (সাবজেক্ট) হবে। (ফলে তুমি ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা ধ্বংসগহ্বরে নিপতিত হয়েছে)। কারণ দ্বীনি বিষয়ে ভুল করা ধ্বংসের শামিল। এই কারণেই মূর্খকে মৃত এবং আলিমকে জীবিত বলা প্রচলিত হয়েছে, যেমন আল্লাহ বলেছেন: "যে মৃত ছিল তাকে আমি জীবিত করেছি।" (নিশ্চয়ই আমি) এটি এই রিসালাহ-তে ভুল না থাকার কারণ।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭২)
بقدر الامكان مصـ (قد صرفت شطرا من عمرى) أي حصة وافرة منه وفى المغرب شطر كل شيء نصفه وقوله في الحائض تقعد شطر عمرها على تسمية البعض شطرا توسعا في الكلام واستكثارا للقليل (في ضبط هذا الباب حتى ميزت بفضل الله بين القشر) بالكسر غث الشيء خلقة أو عرضا قاموس (واللباب) بالضم خالص كل شيء كما في الصحاح (والسمين والمهزول) ضده (والصحيح والمعلول) في القاموس العلة بالكسر المرض على يعل واعتل واعله الله فهو معل وعليل ولا تقل معلول والمتكلمون يستعملونها (والجيد) بالفتح والتشديد (والردي) ضده (والضعيف والقوى ورحجت) عطف على ميزت (باسباب الترجيح) أي التقوية (المعتبرة) عند أهل هذا الشأن (ما هو الراجح) أي في نفس الامر (من الأقوال والاختيارات) الصادرة (من الأئمة) المجتهدين في المذهب أو أهل الاستنباط من القواعد لما لا نص فيه عن المجتهدين أو أهل الاختيار والترجيح لما فيه روايتان عن المجتهد أو قولان لاهل الاستنباط (فارجع البصر) مرتبط بما مر من النهي عن العجلة وتعليله باتقان المصنف لما كتبه أي إذا علمت ذلك فأعد بصرك إذا اشكل عليك شيء (كرتين) أي مرة بعد مرة كما في الآية والمراد بالتقنية التكرير والتكثير كما في قولهم لبيك وسعديك (وتأمل) بعين بصيرتك (ماكتبنا مرتين) المراد به التكرار أيضًا (واعرضه) أي ما كتبناه (على الفروع) أي ما يناسبه من مسائل علم الفقه (و) على (الاصول) أي الادلة الكلية التي هي الكتاب والسنة والإجماع والقياس (و) على (قواعد المنقول) الذي هو الادلة المذكورة (والمعقول) أي الاستدلال بدليل معقول مستنبط من أحد الادلة السمعية (لعلك تطلع على حقيته) أي على كون ما كتبناه حقا ثابتا (وتظهر لك وجوه صحتهم) وأشار بالترجى إلى صعوبة هذا المسلك فإن المتأهل للعرض والاطلاع المذكورين نادر (وترجع) عند الاطلاع المذكور إلى التصويب من تخطئته أي ترجع مبتدئا من نسبة الخطأ إلى نسبة التصويب لما كتبناه أو من للبدلية (وتقول) عند ذلك (الحمد لله الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا الله) فيه اقتباس لطيف (فنقول) اتى بنون المعظم نفسه تحدثا بنعمة الله تعالى عليه (وبالله) أي باستعانته تعالى وحده (التوفيق) هو جعل الله فعل عبده موافقا لما يحبه ويرضاه (ومنه) تعالى يطلب (كل تحقيق) هو إثبات المسئلة بدليلها (وتدقيق) هو اثباتها بدليل دق طريقه لناظريه من تعريفات السيد (هذه الرسالة مرتبة

যথাসম্ভব (আমি আমার জীবনের একটি বড় অংশ ব্যয় করেছি) অর্থাৎ এর একটি বিশাল অংশ। আর 'আল-মাগরিব' গ্রন্থে রয়েছে যে, প্রত্যেক বস্তুর 'শতর' হলো তার অর্ধেক। ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, সে তার জীবনের অর্ধেক সময় (নামাজ ছাড়া) বসে থাকে—এখানে অংশবিশেষকে 'শতর' বলা হয়েছে অলঙ্কারিক অর্থে এবং অল্পকে বেশি হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য। (এই অধ্যায়ের বিন্যাস ও নিখুঁতকরণের কাজে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর অনুগ্রহে আমি খোসা) —যা কোনো বস্তুর সৃষ্টিগত বা বাহ্যিক অসার অংশ— (এবং শাঁসের মধ্যে পার্থক্য করতে পেরেছি)। (এবং শাঁস) হলো প্রত্যেক বস্তুর বিশুদ্ধ অংশ, যেমনটি 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে। (এবং হৃষ্টপুষ্ট ও রুগ্ন) যা এর বিপরীত। (এবং সহিহ ও ত্রুটিযুক্ত); 'আল-কামুস' গ্রন্থে রয়েছে যে, 'ইল্লত' অর্থ ব্যাধি, যা থেকে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। আল্লাহ যাকে ব্যাধিগ্রস্ত করেন সে হলো 'মুআল' বা 'আলীল', একে 'মা'লুল' বলা ঠিক নয়, যদিও কালামশাস্ত্রবিদগণ এটি ব্যবহার করেন। (এবং উত্তম) ও (নিকৃষ্ট) যা এর বিপরীত। (এবং দুর্বল ও শক্তিশালী। আর আমি প্রাধান্য দিয়েছি) —এটি 'পার্থক্য করেছি' শব্দের ওপর সমাস— (প্রাধান্য প্রদানের গ্রহণযোগ্য মাধ্যমসমূহের দ্বারা) যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট স্বীকৃত, (যা অধিকতর অগ্রগণ্য) অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে (সেই সকল মত ও পছন্দের মধ্য হতে) যা (ইমামগণ) অর্থাৎ মাযহাবের মুজতাহিদগণ অথবা মূলনীতি থেকে মাসআলা উদ্ভাবনকারীগণ অথবা ঐ সকল ব্যক্তিবর্গ থেকে প্রকাশ পেয়েছে যারা মুজতাহিদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে বা উদ্ভাবনকারীদের দুটি মতের মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন। (সুতরাং পুনরায় দৃষ্টিপাত করো) —এটি তাড়াহুড়ো করার নিষেধ এবং লেখক তাঁর লেখনীকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে প্রস্তুত করেছেন— এর সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ তুমি যখন তা জানলে, তখন কোনো বিষয়ে সংশয় জাগলে পুনরায় দৃষ্টি দাও (দুইবার) অর্থাৎ বারবার, যেমনটি আয়াতে এসেছে। এখানে দুইবার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুনরাবৃত্তি ও আধিক্য, যেমনটি 'লাব্বাইক ওয়া সা'দাইক' বাক্যে ব্যবহৃত হয়। (এবং অনুধাবন করো) তোমার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে (আমরা যা দুইবার লিখেছি), এখানেও উদ্দেশ্য হলো বারবার দেখা। (এবং একে উপস্থাপন করো) অর্থাৎ আমাদের লেখাকে (ফিকহ শাস্ত্রের শাখাগুলোর ওপর) অর্থাৎ এর সাথে মানানসই মাসআলাসমূহের ওপর, (এবং) (মূলনীতির ওপর) অর্থাৎ সামষ্টিক দলিলসমূহ যথা: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। (এবং) (নকলকৃত বা শ্রুত প্রমাণের ওপর) যা উপরে বর্ণিত দলিলসমূহ, (এবং আকলি বা বুদ্ধিগ্রাহ্য প্রমাণের ওপর) অর্থাৎ শ্রুত দলিলসমূহ থেকে উদ্ভাবিত যৌক্তিক প্রমাণের ওপর। (যাতে তুমি এর সত্যতা সম্পর্কে অবহিত হতে পারো) অর্থাৎ আমরা যা লিখেছি তা যে সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য তা বুঝতে পারো, (এবং তোমার কাছে এর সঠিক হওয়ার দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে যায়)। এখানে প্রত্যাশামূলক শব্দের মাধ্যমে এই পথের কঠিনত্বের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, কারণ উপস্থাপিত বিষয়গুলো যাচাই ও অনুধাবন করার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি অত্যন্ত বিরল। (এবং তুমি ফিরে আসবে) সত্য উন্মোচিত হওয়ার পর, ভুল সাব্যস্ত করার অবস্থান থেকে সঠিক হিসেবে গ্রহণ করার দিকে। অর্থাৎ আমাদের লেখার দিকে ভুলের অপবাদ দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক হওয়ার স্বীকৃতি প্রদানের দিকে ফিরে আসবে। (এবং বলবে) সেই সময়ে, (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন, আর আল্লাহ আমাদের পরিচালিত না করলে আমরা পথ পেতাম না)। এতে একটি চমৎকার উদ্ধৃতি রয়েছে। (অতঃপর আমরা বলছি) এখানে আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে নিজের জন্য সম্মানসূচক বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। (আর আল্লাহরই সাহায্যার্থে) অর্থাৎ একমাত্র তাঁরই সাহায্য কামনার মাধ্যমে (সাফল্য বা তাওফিক অর্জিত হয়)। তাওফিক হলো আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বান্দার কাজকে তাঁর পছন্দ ও সন্তুষ্টির অনুকূলে করে দেওয়া। (এবং তাঁরই নিকট) অর্থাৎ মহান আল্লাহর নিকট চাওয়া হয় (প্রত্যেক তাহকিক) যা হলো দলিলসহ মাসআলা প্রমাণ করা, (এবং তদকিক) যা হলো এমন সূক্ষ্ম দলিলের মাধ্যমে মাসআলা প্রমাণ করা যার পথ গবেষকের নিকট অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যেমনটি সাইয়্যিদ শরীফের সংজ্ঞায় এসেছে। (এই রিসালাটি এভাবে বিন্যস্ত হয়েছে...)

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭৩)
على مقدمة) بكسر الدال من قدم اللازم أو المتعدى وعلى الثاني يجوز الفتح أيضًا وهى في العرف نوعان مقدمة الكتاب ما يذكر قبل الشروع في المقاصد لارتباطها به ونفعه فيها ومقدمة العلم ما يتوقف عليه الشروع في مسائله كحده وغايته وموضوعه والمراد هنا الأولى (وفصول) ستة جمع فصل وهو قطعة من الباب مستقلة بنفسها منفصلة عما سواها تعريفات (اما المقدمة ففيها نوعان النوع الأول في تفسير الالفاظ المستعملة) في هذا الباب بلسان الفقهاء (واعلم أن الدماء المختصة بالنساء) احتراز عن الحيض الرعاف (ثلاثة حيض ونفاس واستحاضة فالحيض) لغة مصدر حاضت المرأة تحيض حيضا ومحيضا ومحاضا فهي حائض وحائضة سال دمها والحيضة المرة وبالكسر الاسم والخرقة(3) تستشفز بها المرأة قاموس وفي البحر قال أهل اللغة أصله السيلان يقال حاض الوادي أي سال فسمى حيضا لسيلانه في اوقاته انتهى وشرعا بناء على أنه حدث كاسم الجنابة هو مانعية شرعية بسبب الدم المذكور عما تشترط له الطهارة كالصلاة والتلاوة وعن الصوم ودخول المسجد والقربان وعلى أنه خبث هو (دم صادر من رحم) أي بيت منبت الولد ووعائه قاموس * احترز به عن الاستحاضة لانها دم عرق انفجر لا دم رحم وعن دم الرعاف والجرح * وعما يخرج من الدبر فليس بحيض لكن يستحب أن لا يأتيها زوجها وإن تغتسل عند انقطاعه كما في الخلاصة وغيرها وسيأتى * وعما تراه الصغير * وهى من لم يتم لها تسع سنين على المعتمد * وما تراه النفساء قبل الولادة فليسا من الرحم بل هما استحاضة لكن في البحر قال بعضهم ما تراه الصغيرة دم فساد لأن الاستحاضة لا تكون إلا على صفة لا تكون حيضا انتهى يعنى انها دم يتصف بصفة فيه لولاها كان حيضا كزيادة أو نقص مثلا تأمل لكن المشهور أنه استحاضة والمراد رحم امرأة بقرينة المقام احترازا عما تراه الأرنب والضبع والخفاش قالوا ولا يحيض غيرها من الحيوانات * وعما يراه الخنثى المشكل ففي الظهيرية إذا خرج منه المني والدم فالعبرة للمنى دون الدم انتهى وكأنه لأن المني لا يشتبه بغيره بخلاف الدم فإنه يشتبه بالاستحاضة فيلغى ويعتبر المتيقن من أول الأمر (خارج من فرج داخل) احتراز عما لو احست بنزوله إلى الفرج الداخل ولم يخرج منه فليس بحيض في ظاهر الرواية وبه يفتى قهستانى وعن محمد يكفى الاحساس به فلو احست به في رمضان قبيل الغروب ثم خرج بعده تقضى صوم اليوم عنده لا عندهما (ولو حكما) ليدخل الطهر المتخلل ولالوان سوى البياض الخالص انتهى مص فهذا تعميم لقوله دم

--------------------------------------------

(3) قوله تستشفر بها أي تضعها عند شفر فرجها أي حرفه منه.

(একটি মুকাদ্দিমা বা ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে) 'দাল' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে, যা অকর্মক বা সকর্মক 'ক্বাদা' ক্রিয়া হতে উদ্ভূত। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে 'দাল' বর্ণে ফাতহা (যবর) পড়াও জায়েয। পরিভাষায় এটি দুই প্রকার: গ্রন্থের ভূমিকা (মুকাদ্দিমাতুল কিতাব), যা মূল আলোচনা শুরু করার আগে তার সাথে সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতার কারণে উল্লেখ করা হয়; এবং বিদ্যার ভূমিকা (মুকাদ্দিমাতুল ইলম), যার ওপর সেই বিষয়ের মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা শুরু করা নির্ভর করে, যেমন তার সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু। এখানে প্রথম প্রকারটিই উদ্দেশ্য। (এবং ছয়টি পরিচ্ছেদ) 'ফাসল' শব্দের বহুবচন হলো 'ফুসুল'। এটি অধ্যায়ের এমন একটি স্বতন্ত্র অংশ যা অন্য অংশ থেকে পৃথক। সংজ্ঞাগুলো নিম্নরূপ: (ভূমিকাটি দুই প্রকারের ওপর বিন্যস্ত। প্রথম প্রকার: এই অধ্যায়ে ব্যবহৃত শব্দাবলির ব্যাখ্যায়) ফকীহগণের পরিভাষা অনুযায়ী। (জেনে রাখুন, নারীদের সাথে নির্দিষ্ট রক্তসমূহ) এখানে নাক দিয়ে রক্ত পড়া (রুআফ) থেকে সতর্ক করা হয়েছে (তিনটি: হায়েয, নিফাস ও ইস্তিহাযা। হায়েয) আভিধানিক অর্থে এটি একটি ক্রিয়ামূল। বলা হয়, নারী ঋতুবতী হয়েছে, যখন তার রক্ত প্রবাহিত হয়। 'হায়দাহ' মানে একবার মাসিক হওয়া, আর 'হিদাহ' (কাসরা যোগে) বলতে মাসিকের অবস্থা বা সেই ন্যাকড়াকে বোঝায় যা নারী মাসিকের সময় ব্যবহার করে—কামূস গ্রন্থ। 'বাহরুর রায়েক' গ্রন্থে বলা হয়েছে, ভাষাবিদদের মতে এর মূল অর্থ হলো প্রবাহিত হওয়া। বলা হয় 'উপত্যকাটি প্রবাহিত হয়েছে', অর্থাৎ তার পানি বয়ে চলেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণেই একে হায়েয বা মাসিক বলা হয়। সমাপ্ত। আর শরয়ী পরিভাষায়, একে 'হাদাছ' (অপবিত্রতা) হিসেবে গণ্য করলে জানাবাত শব্দের মতো এটি হলো উল্লিখিত রক্তের কারণে এমন এক শরয়ী প্রতিবন্ধকতা, যা ঐসব ইবাদতে বাধা দেয় যেগুলোর জন্য পবিত্রতা শর্ত, যেমন—নামায, তিলাওয়াত, রোজা পালন, মসজিদে প্রবেশ এবং সহবাস। আর একে 'খাবাস' (নাপাক বস্তু) হিসেবে গণ্য করলে এটি হলো (জরায়ু থেকে নির্গত রক্ত) অর্থাৎ সন্তান জন্ম ও ধারণের স্থান হতে নির্গত রক্ত—কামূস। এর মাধ্যমে ইস্তিহাযাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তা ছিঁড়ে যাওয়া রগের রক্ত, জরায়ুর রক্ত নয়। তেমনি নাক দিয়ে রক্ত পড়া, ক্ষতের রক্ত এবং মলদ্বার দিয়ে নির্গত রক্তও এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই সেগুলো হায়েয নয়। তবে মলদ্বার দিয়ে রক্ত চলাকালে স্বামী তার সাথে সহবাস না করা মুস্তাহাব এবং রক্ত বন্ধ হলে গোসল করা উচিত, যেমনটি 'খুলাসাতুল ফাতাওয়া' ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে এবং সামনে এটি আসবে। এছাড়া নয় বছরের কম বয়সী বালিকার দেখা রক্ত এবং সন্তান প্রসবের পূর্বে গর্ভবতী নারীর দেখা রক্তও জরায়ুর রক্ত নয়, বরং এগুলো ইস্তিহাযা। তবে 'বাহরুর রায়েক' গ্রন্থে কেউ কেউ বলেছেন, ছোট বালিকার দেখা রক্ত হলো 'দম-এ-ফাসাদ' (দূষিত রক্ত), কারণ ইস্তিহাযা তখনই হয় যখন রক্তের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে যা হায়েয হওয়ার পরিপন্থী। এর অর্থ হলো, এটি এমন রক্ত যা কোনো গুণের অধিকারী, যা না থাকলে এটি হায়েয হতো, যেমন সময়ের আধিক্য বা স্বল্পতা। এটি নিয়ে চিন্তা করুন। তবে প্রসিদ্ধ মত হলো এটি ইস্তিহাযা। এখানে প্রসঙ্গের কারণে জরায়ু বলতে নারীর জরায়ু বোঝানো হয়েছে, যাতে খরগোশ, হায়না ও বাদুড়ের দেখা রক্ত এর অন্তর্ভুক্ত না হয়। আলেমগণ বলেন, এই প্রাণীগুলো ছাড়া অন্য কোনো পশু ঋতুবতী হয় না। এছাড়া 'খুনসা মুশকিল' (উভয়লিঙ্গ ব্যক্তি) যা দেখে তা-ও হায়েয নয়। 'যাহিরিয়্যাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি তার থেকে বীর্য ও রক্ত উভয়টি নির্গত হয়, তবে বীর্যকেই ধর্তব্য ধরা হবে, রক্তকে নয়। সম্ভবত এর কারণ হলো বীর্য অন্য কিছুর সাথে বিভ্রান্তি তৈরি করে না, কিন্তু রক্ত ইস্তিহাযার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে, তাই রক্তকে বাদ দিয়ে শুরু থেকেই নিশ্চিত বিষয়টি (বীর্য) বিবেচনা করা হবে। (যা অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ থেকে নির্গত হয়েছে) এর মাধ্যমে ঐ অবস্থাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যদি নারী অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গে রক্ত নেমে আসা অনুভব করে কিন্তু তা বাইরে বের না হয়। 'যাহিরুর রিওয়াত' অনুযায়ী এটি হায়েয নয় এবং 'কুহিস্তানি' অনুসারে এই মতেই ফতোয়া দেওয়া হয়। ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কেবল অনুভূতিই যথেষ্ট। তাই যদি কোনো নারী রমজান মাসে সূর্যাস্তের কিছু সময় আগে রক্ত নেমে আসার অনুভূতি পায় কিন্তু তা সূর্যাস্তের পর নির্গত হয়, তবে ইমাম মুহাম্মদের মতে তাকে ঐ দিনের রোজা কাজা করতে হবে, কিন্তু সাহেবাইন (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ)-এর নিকট তা করতে হবে না। (যদিও তা হুকুমত বা বিধানগতভাবে হয়) যাতে দুই রক্তের মধ্যবর্তী পবিত্রতা এবং স্বচ্ছ সাদা রঙ ব্যতীত অন্যান্য রঙের রক্তও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। লেখকের বক্তব্য সমাপ্ত। এটি তাঁর 'রক্ত' শব্দটির একটি সাধারণীকরণ।

--------------------------------------------

(৩) তাঁর উক্তি: যা দ্বারা সে 'ইস্তিশফার' করে; অর্থাৎ সে এটি তার লজ্জাস্থানের কিনারায় বা পার্শ্বদেশে স্থাপন করে।
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭৪)
فكان الأولى ذكره بحذائه (بدون ولادة) ليحترز عن النفاس مصاى ما تراه بعد الولادة ولم يقل واياس لأن المختار أن الآيسة إذا رأت الدم نصابا يكون حيضا إذا رأته خالصًا كالاسود والاحمر القاني كما سيأتى فهو داخل في التعريف وغير الخالص يكون استحاضة فهو خارج بقيد الرحم (والنفاس) بالكسر لغة مصدر نفست المرأة يضم النون وفتحها إذا ولدت فهى نفساء * وهن نفاس مغرب واصطلاحا دم تسمية للعين بالمصدر كالحيض سواء كما في المغرب (كذلك) الإشارة إلى وصف الدم السابق فكأنه قال دم صادر من رحم خارج من فرج داخل ولو حكما فاحترز عما لو ولدت من جرح ببطنها فهي ذات جرح وإن ثبت له احكام الولد من انقضاء عدة ونحوه إلا إذا سال الدم من الرحم وخرج من الفرج الداخل فنفساء كما في البحر والنمر وسيأتي ودخل بقوله ولو حكما الطهر المتخلل وما سوى البياض الخالص ومالو ولدته ولم ترد ما فالمعتمد انها تصير نفساء كما في الدر والبحر وسيأتي (عقيب خروج أكثر ولد) ولو متقطعا عضوا عضوا لا اقله فتتوضأ أن قدرت أو تتيم وتوميء بصلاة در ووصف الولد بقوله (لم يسبقه ولد مذ) أي من (اقل من ستة اشهر) احترازا عن ثانى التوأمين فإنه لا يكون نفاسا في الاصح مص بل هو من الأول فقط وإذا كان بينهما ستة اشهر فأكثر فالنفاس من كل واحد منهما (والاستحاضة) لغة مصدر استحيضت المرأة فهي مستحاضة قال في القاموس والمستحاضة من يسيل دمها لا من المحيض بل من عرق العازل (و) الحال أنه (يسمى دما فاسدا) وهو سبعة كما سيأتى في آخر الفصل الرابع إن شاء الله تعالى وشرعا (ودم ولو حكما) ليدخل الالوان مصـ (خارج من فرج داخل لا عن رحم) وعلامته أن لا رائحة له ودم الحيض منتن الرائحة بحر (والدم الصحيح مالا ينقص عن ثلثة) أي عن أدنى مدة الحيض (ولا يزيد على العشرة) أي أكثر المدة (في الحيض) اما حقيقة أو حكما بان يزيد على عادتها مص أي فإنه إذا زاد على العادة حتى جاوز العشرة فإنها ترد على عادتها ويكون ما رأته في ايام عادتها دما صحيحا كأنه لم يزد على العشرة ويكون الزائد على العادة استحاضة وهو دم فاسد والحاصل أن الدم إذا انقطع قبل مجاوزة العشرة فهو دم صحيح لانه لم يزد عليها حقيقة وإذا جاوزها فما تراه في ايام العادة حيض ويجعل كأن الدم انقطع على العادة ولم يجاوز العشرة حكما فليتأمل (ولا) على الاربعين في النفاس) اما حقيقة أو حكما كما سبق مص وقوله (ولا يكون في أحد طرفيه دم ولو حكما) أي نحو الصفرة والكدرة لم يظهر لي مراده به وهو زائد على ما في المحيط وغيره في تعريف الدم الصحيح ولعله احترز به عما لو كان

তাই জন্মদান ব্যতীত এর পাশাপাশি এটি উল্লেখ করাই উত্তম ছিল, যাতে নিফাস তথা সন্তান প্রসবের পর যা দেখা যায় তা থেকে সতর্ক থাকা যায় (মুসান্নিফ)। আর তিনি 'বার্ধক্য' বলেননি কারণ পছন্দনীয় মত হলো, বার্ধক্যে উপনীত নারী যদি নেসাব পরিমাণ রক্ত দেখে তবে তা হায়য হবে যদি সে বিশুদ্ধ রক্ত দেখে যেমন কালো বা গাঢ় লাল, যা সামনে আসবে। সুতরাং এটি সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আর অবিশুদ্ধ রক্ত ইস্তিহাজা হবে, তাই তা 'জরায়ু'র শর্তের কারণে সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে যাবে। (আর নিফাস) শব্দটির নিচে কাসরা হবে। আভিধানিক অর্থে এটি যখন নারী সন্তান জন্ম দেয় তখন তাকে নুফাসা বলা হয় এর ধাতু। আর এর বহুবচন হলো নুফাস (মাগরিব)। শরীয়তের পরিভাষায় এটি হলো সেই রক্ত; এখানে মূল বস্তুকে ধাতু দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে, যেমনটি হায়যের ক্ষেত্রেও হয়, যা মাগরিব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। (অনুরূপভাবে) এটি পূর্বোক্ত রক্তের বৈশিষ্ট্যের দিকে ইশারা। অর্থাৎ তিনি যেন বলছেন: এমন রক্ত যা জরায়ু থেকে নির্গত হয় এবং অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ থেকে বের হয়, এমনকি তা পরোক্ষভাবে হলেও। এর মাধ্যমে ওই নারী থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে তার পেটের ক্ষত দিয়ে সন্তান প্রসব করেছে; সে ক্ষেত্রে সে ক্ষতের অধিকারী হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হুকুমসমূহ যেমন ইদ্দত শেষ হওয়া ইত্যাদি সাব্যস্ত হবে। তবে যদি জরায়ু থেকে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ দিয়ে বের হয়, তবে সে নিফাসওয়ালী হবে, যেমনটি আল-বাহর ও আন-নামর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং সামনে আসবে। আর 'পরোক্ষভাবে হলেও' কথাটির মাধ্যমে মধ্যবর্তী পবিত্রতা এবং স্বচ্ছ শুভ্রতা ব্যতীত অন্য রঙগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর যদি সে সন্তান জন্ম দেয় এবং কোনো রক্ত না দেখে, তবে নির্ভরযোগ্য মত হলো সে নিফাসওয়ালী হবে, যেমনটি আদ-দুর ও আল-বাহর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং সামনে আসবে। (সন্তানের অধিকাংশ অংশ বের হওয়ার পর) যদিও তা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হয়, তবে অর্ধেকের কম বের হলে নয়। সে ক্ষেত্রে নারী সক্ষম হলে অজু করবে অথবা তায়াম্মুম করবে এবং ইশারায় নামাজ পড়বে (দুর)। আর সন্তানের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে যে, (যার আগে অন্য কোনো সন্তান আসেনি) অর্থাৎ (ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে)। এর মাধ্যমে যমজ সন্তানের দ্বিতীয়টি থেকে সতর্ক করা হয়েছে; কারণ বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে নতুন নিফাস শুরু হবে না (মুসান্নিফ), বরং তা প্রথমটি থেকেই হবে। আর যদি তাদের উভয়ের মাঝে ছয় মাস বা তার বেশি ব্যবধান থাকে, তবে প্রত্যেকের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র নিফাস হবে। (আর ইস্তিহাজা) আভিধানিকভাবে এটি মুস্তাহাজা হওয়ার ধাতু। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে, মুস্তাহাজা হলো সেই নারী যার রক্ত প্রবাহিত হয় হায়যের স্থান থেকে নয় বরং আযিল নামক রগ থেকে। (আর) অবস্থা এই যে, (একে নষ্ট রক্ত বলা হয়)। এটি সাত প্রকার যা চতুর্থ পরিচ্ছেদের শেষে ইনশাআল্লাহ আসবে। আর শরীয়তের পরিভাষায় (এটি এমন রক্ত যা পরোক্ষভাবে হলেও রক্ত), যাতে বিভিন্ন রঙগুলো অন্তর্ভুক্ত হয় (মুসান্নিফ)। (যা অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ থেকে বের হয় কিন্তু জরায়ু থেকে নয়)। এর আলামত হলো এতে কোনো দুর্গন্ধ থাকে না, যেখানে হায়যের রক্ত দুর্গন্ধযুক্ত হয় (বাহর)। (আর বিশুদ্ধ রক্ত হলো যা তিন দিনের কম নয়) অর্থাৎ হায়যের সর্বনিম্ন মেয়াদের কম নয়, (এবং যা দশ দিনের বেশি হয় না) অর্থাৎ হায়যের সর্বোচ্চ মেয়াদের বেশি নয়। এটি প্রকৃতগতভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে হোক—যেমন তার অভ্যাসের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়া (মুসান্নিফ)। অর্থাৎ যখন অভ্যাসের চেয়ে বৃদ্ধি পায় এমনকি দশ দিন অতিক্রম করে, তবে সে তার অভ্যাসের মেয়াদে ফিরে যাবে। এমতাবস্থায় সে তার অভ্যাসের দিনগুলোতে যা দেখেছে তা বিশুদ্ধ রক্ত হিসেবে গণ্য হবে যেন তা দশ দিন অতিক্রম করেনি। আর অভ্যাসের অতিরিক্ত অংশটুকু ইস্তিহাজা বা নষ্ট রক্ত হিসেবে গণ্য হবে। সারকথা হলো, রক্ত যদি দশ দিন অতিক্রম করার আগে বন্ধ হয়ে যায় তবে তা বিশুদ্ধ রক্ত, কারণ তা বাস্তবে দশ দিন অতিক্রম করেনি। আর যদি দশ দিন অতিক্রম করে, তবে অভ্যাসের দিনগুলোতে যা দেখেছে তা হায়য হবে এবং পরোক্ষভাবে এমনটি ধরে নেওয়া হবে যেন রক্ত অভ্যাসের দিনেই বন্ধ হয়ে গেছে এবং দশ দিন অতিক্রম করেনি। অতএব বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। (আর নিফাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিনের বেশি হবে না) তা প্রকৃতগতভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে হোক যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে (মুসান্নিফ)। আর তার কথা (এবং এর কোনো এক প্রান্তে রক্ত থাকবে না পরোক্ষভাবে হলেও), অর্থাৎ পীতবর্ণ বা ঘোলাটে বর্ণের মতো; আমার কাছে এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়নি। এটি মুহিত ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত বিশুদ্ধ রক্তের সংজ্ঞার অতিরিক্ত অংশ। সম্ভবত তিনি এর দ্বারা ওই অবস্থা থেকে সতর্ক করেছেন যেখানে এটি ছিল।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭৫)
طهرا في أحد طرفيه دم كما لو رأت المبتدأة يوما دما واربعة عشر طهرا ويوما دما كانت العشرة الأولى حيضا وهى دم غير صحيح لوقوع الدم في طرفه الأول وكذا لو وقع في طرفيه كما لو رأت المعتادة قبل عادتها يوما دما ثم عشرة ظهرا ويوما دما فإن العشرة الطهر حيض أن كانت كلها عادتها والا ردت إلى العادة هذا ما ظهر لي هنا لكن لا يخفى أن ذلك خارج بقوله ولا يزيد على العشرة لأن الزيادة هنا موجودة فإن الطهر المتخلل بين الدمين إذا كان اقل من خمسة عشر يوما يجعل كالدم المتوالى كما سيأتى وايضا فإن اقتصاره على تعريف الدم الصحيح بعد قوله والاستحاضة ويسمى دما فاسدا الخ يقتضى أن الدم الفاسد المقابل للصحيح هو دم الاستحاضة اكتفى بتعريف الاستحاضة عن تعريفه فيفيد أن الحيض لا يكون دما فاسدا فتكون العشرة في المثالين المذكورين دما صحيحا فلم يصح الاحتراز عنهما لكن شاع في كلامهم إطلاق الدم الفاسد على ما جاوز العشرة مع أن العشرة حيض فليتأمل (والطهر المطلق) الشامل للاقسام الأربعة الآتية (ما لا يكون حيضا ولا نفاسا) وفيه أن بعض اقسامه قد يكون حيضا أو نفاسا كالطهر المتخلل بين الدمين إلا أن يراد بالمطلق ما ينصرف إليه اسم الظهر عند الإطلاق (والطهر الصحيح) في الظاهر والمعنى (ما) أي نقاء (لا يكون اقل من خمسة عشر يوما) بان يكون خمسة عشر فأكثر لأن ما دون ذلك طهر فاسد يجعل كالدم المتوالى كما ذكرنا وسيأتي تفصيله (ولا يشوبه) أي يخالطه (دم) أصلا لا في أوله ولا في وسطه ولا في آخره مص فلو كان خمسة عشر لكن خالطه دم صار طهرا فاسدا كما لو رأت المبتدأة أحد عشر يوما دما وخمسة عشر طهرا ثم استمر بها الدم فالدم منا فاسد لزيادته على العشرة والطهر صحيح ظاهرا لانه استكمل خمسة عشر لكنه فاسد معنى لأن اليوم الحادى عشر تصلى فيه فهو من جملة الطهر فقد خالط هذا الظهر دم في أوله ففد فلا تثبت به العادة كما يأتى في النوع الثاني وح فهي كمن بلغت مستحاضة فحيضها عشرة وظهرها عشرون وسيأتي تمام ذلك في الفصل الرابع إن شاء الله تعالى (ويكون بين الدمين الصحيحين) احتراز عما يكون بين الاستحاضتين أو بين حيض واستحاضة أو بين نفاس واستحاضة أو بين طرفي نفاس واحد مص وذلك كما لو رأت الآيسة طهرا تاما بين استحاضتين وكما لو حاضت أو ولدت ثم دخلت في سن اليأس ثم رأت دم استحاضة والاخير ظاهر ففي الكل الظهر فاسد لانه لم يقع بين دمين صحيحين وإن لم ينقص عن خمسة عشر يوما ولم يخالطه دم فتأمل
এমন পবিত্রতা যার এক প্রান্তে রক্ত বিদ্যমান, যেমন কোনো নতুন ঋতুবতী নারী যদি একদিন রক্ত দেখে, এরপর চৌদ্দ দিন পবিত্র থাকে এবং পুনরায় একদিন রক্ত দেখে, তবে প্রথম দশ দিন ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে এবং তা একটি অশুদ্ধ রক্ত, যেহেতু এর প্রথম প্রান্তে রক্ত পতিত হয়েছে। একইভাবে যদি এর উভয় প্রান্তে রক্ত পতিত হয়, যেমন অভ্যাসপ্রাপ্ত নারী যদি তার অভ্যাসের সময়ের আগে একদিন রক্ত দেখে, এরপর দশ দিন পবিত্র থাকে এবং পুনরায় একদিন রক্ত দেখে, তবে সেই দশ দিনের পবিত্রতাও ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে যদি তা পূর্ণত তার অভ্যাসের অন্তর্ভুক্ত হয়। অন্যথায় তাকে তার পূর্ববর্তী অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আমার কাছে বিষয়টি এমনটিই স্পষ্ট হয়েছে, তবে এটি গোপন নয় যে, বিষয়টি লেখকের এই বক্তব্য—'দশ দিনের বেশি হবে না'—এর বহির্ভূত; কারণ এখানে আধিক্য বিদ্যমান। কেননা দুই রক্তের মধ্যবর্তী বিরতিকালীন পবিত্রতা যদি পনেরো দিনের কম হয়, তবে তা ধারাবাহিক রক্তের ন্যায় গণ্য হবে, যা সামনে বর্ণিত হবে। তদুপরি, 'ইস্তিহাযাকে দূষিত রক্ত বলা হয়' ইত্যাদি বক্তব্যের পর লেখকের শুধু সঠিক রক্তের সংজ্ঞার ওপর সীমাবদ্ধ থাকা এটিই দাবি করে যে, সঠিক রক্তের বিপরীতে যে দূষিত রক্ত রয়েছে তা হলো ইস্তিহাযার রক্ত। ইস্তিহাযার সংজ্ঞার মাধ্যমেই তার বিপরীতে থাকা রক্তকে সংজ্ঞায়িত করার প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে, যা এটিই বুঝায় যে ঋতুস্রাব কখনো দূষিত রক্ত হয় না। সুতরাং উল্লিখিত উদাহরণদ্বয়ে বর্ণিত দশ দিন সঠিক রক্ত হিসেবেই গণ্য হবে এবং সেগুলোকে দূষিত রক্ত থেকে আলাদা করা সঠিক হবে না। তবে ফকীহগণের আলোচনায় দশ দিনের অতিরিক্ত রক্তকে দূষিত রক্ত হিসেবে বলার প্রচলন রয়েছে, যদিও দশ দিন পর্যন্ত রক্ত ঋতুস্রাব হিসেবেই গণ্য হয়। বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন। (আর সাধারণ পবিত্রতা) যা পরবর্তী চারটি প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে, তা হলো (যা ঋতুস্রাব বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব নয়)। তবে এতে আপত্তি আছে যে, এর কোনো কোনো প্রকার কখনো ঋতুস্রাব বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব হতে পারে, যেমন দুই রক্তের মধ্যবর্তী পবিত্রতা। অবশ্য যদি সাধারণ বলতে পবিত্রতা শব্দটির প্রয়োগকালে যা সাধারণত বোঝা যায় তা উদ্দেশ্য হয়, তবে ভিন্ন কথা। (আর সঠিক পবিত্রতা) যা বাহ্যিক ও অর্থগত উভয় দিক থেকে সঠিক, তা হলো (এমন পবিত্রতা যা পনেরো দিনের কম নয়), অর্থাৎ পনেরো দিন বা তার বেশি হতে হবে। কারণ এর চেয়ে কম হওয়া পবিত্রতা হলো দূষিত পবিত্রতা, যা ধারাবাহিক রক্তের ন্যায় গণ্য হবে, যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি এবং এর বিস্তারিত বিবরণ সামনে আসবে। (এবং তাতে কোনো রক্ত মিশ্রিত হবে না) অর্থাৎ এর শুরু, মধ্য বা শেষে মোটেও কোনো রক্ত মিশবে না। সুতরাং যদি পবিত্রতা পনেরো দিন হয় কিন্তু তাতে রক্ত মিশ্রিত হয়ে যায়, তবে তা দূষিত পবিত্রতা হয়ে যাবে। যেমন কোনো নতুন ঋতুবতী নারী যদি এগারো দিন রক্ত দেখে এবং পনেরো দিন পবিত্র থাকে, এরপর তার রক্ত চলতেই থাকে, তবে প্রথম রক্তটি দশ দিনের অধিক হওয়ার কারণে দূষিত। আর পবিত্রতাটি বাহ্যিকভাবে সঠিক কারণ তা পনেরো দিন পূর্ণ করেছে, কিন্তু অর্থগত দিক থেকে তা দূষিত। কেননা এগারোতম দিনে সে সালাত আদায় করেছে, তাই সেটি পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত ছিল। ফলে এই পবিত্রতার শুরুতে রক্ত মিশ্রিত হয়েছে এবং তা দূষিত হয়ে গেছে। অতএব এর মাধ্যমে অভ্যাস সাব্যস্ত হবে না, যা দ্বিতীয় প্রকারে সামনে আসবে। সুতরাং সে ওই নারীর ন্যায় গণ্য হবে যে ইস্তিহাযা অবস্থায় সাবালিকা হয়েছে; ফলে তার ঋতুস্রাব দশ দিন এবং পবিত্রতা বিশ দিন হিসেবে গণ্য হবে। এর পূর্ণ আলোচনা চতুর্থ পরিচ্ছেদে ইনশাআল্লাহ আসবে। (এবং তা হতে হবে দুটি সঠিক রক্তের মধ্যবর্তী সময়ে)। এটি সতর্কীকরণ ওই পবিত্রতা সম্পর্কে যা দুটি ইস্তিহাযার মাঝে থাকে, অথবা ঋতুস্রাব ও ইস্তিহাযার মাঝে, অথবা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব ও ইস্তিহাযার মাঝে, কিংবা একটি প্রসবোত্তর রক্তস্রাবের দুই প্রান্তের মাঝে ঘটে থাকে। যেমন কোনো ঋতুস্থগিতা (বৃদ্ধা) নারী যদি দুটি ইস্তিহাযার মাঝে পূর্ণ মেয়াদের পবিত্রতা দেখে, কিংবা কোনো নারী ঋতুবতী হওয়ার পর বা সন্তান প্রসবের পর বার্ধক্যের বয়সে উপনীত হয় এবং এরপর ইস্তিহাযার রক্ত দেখে। শেষোক্ত বিষয়টি সুস্পষ্ট। এ সকল ক্ষেত্রে পবিত্রতা দূষিত হিসেবে গণ্য হবে, কারণ তা দুটি সঠিক রক্তের মাঝে ঘটেনি, যদিও তা পনেরো দিনের কম নয় এবং তাতে রক্ত মিশ্রিত হয়নি। বিষয়টি চিন্তা করে দেখুন।
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭৬)
(والطهر الفاسد ما خالفه) أي خالف الصحيح (في واحد منه) أي مما ذكر في تعريفه بان كان اقل من خمسة عشر أو خالطه دم أو لم يقع بين دمين صحيحين (والطهر) عطف على ما خالفه (المتخلل مطلقا بين الاربعين في النفاس) أي فهو من الطهر الفاسد لكونه لم يقع بين دمين صحيحين بل وقع بين طرفى دم واحد وقوله مطلقا أي قليلا كان أو كثيرا وهذا قول أبي حنيفة رحمه الله تعالى وفى الخلاصة وعليه الفتوى وقالا إذا كان الطهر المتخلل خمسة عشر فصاعدا يفصل بين الدمين ويجعل الأول نفاسا والثاني حيضا أن امكن كذا في المحيط انتهى أي أن امكن جعل الثانى حيضا بان استكمل مدته (والطهر التام) صحيحا أو فاسدا كما قدمناه (طهر خمسة عشر يوما فصاعدا والطهر الناقص) وهو قسم من الطهر الفاسد كما علمته (ما نقص منه) أي من التام (والمعتادة من سبق منها) من حين بلوغها (دم وطهر صحيحان) كما لو بلغت فرأت ثلاثة دما وخمسة عشر طهرا فإذا استمر بها الدم فلها في زمن الاستمرار عادتها (أو أحدهما) بان رأت دما صحيحا وطهرا فاسدا كما لو رأت خمسة دما واربعة عشر طهرا ثم استمر الدم فحيضها من أول الاستمرار خمسة لانها دم صحيح وطهرها بقية الشهر لأن ما رأته طهر فاسد لا تصير به معتادة فلم يصلح لنصب العادة ايام الاستمرار أو بالعكس كما لو رأت أحد عشر دما وخمسة عشر طهرا ثم استمر الدم لكن الظهر هنا صحيح ظاهرا فقط لفساده بفساد الدم فلا تثبت به العادة كما قدمناه فحكمها حكم من بلغت مستحاضة فحيضها عشرة من أول الاستمرار وطهرها عشرون هو الصحيح كما في المحيط وقيل طهرها ستة عشر (والمبتدأة من كانت في أول حيض أو نفاس) فإذا بلغت برؤية الدم أو الولادة واستمر بها الدم فحيضها عشرة ونفاسها اربعون وطهرها عشرون وسيأتي تمام ذلك في الفصل الرابع (والمضلة وتسمى الضالة والمتحيرة) والمحيرة أيضًا بالكسر لانها حيرت الفقيه (من نسيت عادتها) عددا أو مكانا في حيض أو نفاس (النوع الثانى) من المقدمة (في الاصول والقواعد الكلية أقل الحيض ثلاثة ايام) بالنصب على الظرفية أو بالرفع على الخبرية أن كان التقدير اقل مدة الحيض (ولياليها) الإضافة إلى ضمير الايام لافادة مجرد العدد أي كون الليالي ثلاثا لا لكونها ليالى تلك الايام فلذا عبر ابن الكمال بقوله وثلاث ليال واحترز عن رواية الحسن عن الإمام أنه ثلاثة ايام وليلتان وروى عن أبي يوسف يومان وأكثر الثالث ولذا قال المص (أعني اثنين وسبعين ساعة) بالساعات الفلكية كل ساعة منها خمس عشرة

(এবং ফাসেদ বা কলুষিত পবিত্রতা হলো তা যা তার বিপরীত হয়) অর্থাৎ যা সহীহ বা বিশুদ্ধ পবিত্রতার বিপরীত হয় (তার যেকোনো একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে) অর্থাৎ পবিত্রতার সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্য থেকে; যেমন পবিত্রতার মেয়াদ পনের দিনের কম হওয়া অথবা তার সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকা অথবা তা দুটি সহীহ রক্তের মধ্যবর্তী সময়ে না হওয়া। (এবং পবিত্রতা) যা 'তার বিপরীত হয়' কথাটির ওপর আতফ বা সমজাতীয় হিসেবে যুক্ত (যা নিফাসের চল্লিশ দিনের মধ্যে সাধারণভাবে অতিবাহিত হয়) অর্থাৎ তাও ফাসেদ পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু তা দুটি সহীহ রক্তের মাঝখানে ঘটেনি বরং একটি রক্তের দুই প্রান্তের মাঝখানে ঘটেছে। আর তাঁর বক্তব্য 'সাধারণভাবে' এর অর্থ হলো তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি। আর এটি ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি তাআলার অভিমত। 'আল-খুলাসাহ' গ্রন্থে রয়েছে যে, এর ওপরই ফতোয়া। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেছেন যে, যদি মধ্যবর্তী পবিত্রতা পনের দিন বা তার বেশি হয় তবে তা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবে এবং সম্ভব হলে প্রথমটিকে নিফাস এবং দ্বিতীয়টিকে হায়েজ গণ্য করা হবে—'আল-মুহিত' গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। এখানে 'সম্ভব হলে' এর অর্থ হলো দ্বিতীয় রক্তটিকে হায়েজ গণ্য করা যদি তা তার পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করে।

(এবং পূর্ণ পবিত্রতা) তা সহীহ হোক বা ফাসেদ যেমন আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি (তা হলো পনের দিন বা তার বেশি সময়ের পবিত্রতা; আর অসম্পূর্ণ পবিত্রতা) যা ফাসেদ পবিত্রতার একটি প্রকার যেমনটি আপনি জেনেছেন (তা হলো যা তার থেকে কম হয়) অর্থাৎ যা পূর্ণ পবিত্রতার মেয়াদের চেয়ে কম।

(এবং 'মু'তাদাহ' বা অভ্যস্ত নারী হলেন তিনি যার ক্ষেত্রে অতিবাহিত হয়েছে) তার বালেগা বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় থেকে (সহীহ রক্ত এবং সহীহ পবিত্রতা) যেমন যদি সে বালেগা হওয়ার পর তিন দিন রক্ত ও পনের দিন পবিত্রতা দেখে। অতঃপর যদি তার রক্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হতে থাকে, তবে এই প্রবাহের সময়কালে তার অভ্যাস অনুযায়ী দিনগুলো হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। (অথবা দুটির কোনো একটি) যেমন সে একটি সহীহ রক্ত এবং একটি ফাসেদ পবিত্রতা দেখল; উদাহরণস্বরূপ সে পাঁচ দিন রক্ত ও চৌদ্দ দিন পবিত্রতা দেখল এবং এরপর রক্ত প্রবাহিত হতে থাকল। এমতাবস্থায় প্রবাহের শুরু থেকে পাঁচ দিন তার হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে, কারণ তা ছিল সহীহ রক্ত। আর তার পবিত্রতা হবে মাসের অবশিষ্ট দিনগুলো, কারণ সে যা দেখেছিল তা ছিল ফাসেদ পবিত্রতা যার মাধ্যমে সে অভ্যস্ত হতে পারে না, ফলে রক্ত প্রবাহের দিনগুলোতে অভ্যাস নির্ধারণের জন্য তা উপযুক্ত নয়। অথবা এর বিপরীত, যেমন সে এগারো দিন রক্ত ও পনের দিন পবিত্রতা দেখল এবং এরপর রক্ত প্রবাহিত হতে থাকল। কিন্তু এখানে পবিত্রতাটি কেবল বাহ্যিকভাবে সহীহ, কারণ রক্তের কলুষতার কারণে এটিও কলুষিত (ফাসেদ)। ফলে এর দ্বারা অভ্যাস প্রতিষ্ঠিত হবে না যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। সুতরাং তার বিধান সেই নারীর মতো হবে যে রক্ত প্রবাহমান অবস্থায় বালেগা হয়েছে। অতএব প্রবাহের শুরু থেকে দশ দিন তার হায়েজ এবং বিশ দিন তার পবিত্রতা গণ্য হবে—এটিই বিশুদ্ধ অভিমত যেমনটি 'আল-মুহিত' গ্রন্থে রয়েছে। আর কেউ কেউ বলেছেন তার পবিত্রতা ষোলো দিন।

(এবং 'মুবতাদিআ' বা নবীনা হলেন তিনি যিনি প্রথম হায়েজ বা নিফাসের সম্মুখীন হয়েছেন)। সুতরাং তিনি যখন রক্ত দেখা বা সন্তান প্রসবের মাধ্যমে বালেগা হন এবং রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, তখন তার হায়েজ দশ দিন এবং নিফাস চল্লিশ দিন এবং পবিত্রতা বিশ দিন গণ্য হবে। চতুর্থ পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। (এবং 'মুদিল্লাহ' যাকে 'দাল্লাহ' ও 'মুতাহাইয়্যিরাহ'ও বলা হয়) এবং 'মুহাইয়্যিরাহ'ও (ইয়া বর্ণে কাসরা সহ) কারণ সে ফকিহকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে (তিনি হলেন সেই নারী যিনি তার অভ্যাস ভুলে গেছেন) সংখ্যা বা সময়ের দিক থেকে হায়েজ অথবা নিফাসের ক্ষেত্রে।

(দ্বিতীয় প্রকার) ভূমিকা থেকে (মৌলিক নীতি ও সামগ্রিক নিয়মাবলী সম্পর্কে: হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন) শব্দটি এখানে যরফ হওয়ার কারণে নাসব অবস্থায় অথবা খবর হওয়ার কারণে রফ অবস্থায় রয়েছে যদি 'হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ' উহ্য ধরা হয় (এবং তার রাতসমূহ)। দিনসমূহের সর্বনামের সাথে এর সম্বন্ধ করা হয়েছে কেবল সংখ্যা বুঝানোর জন্য, অর্থাৎ রাতগুলো সংখ্যায় তিনটি হবে; দিনগুলোর সাথে রাতগুলোর নির্দিষ্ট সম্পর্কের জন্য নয়। এ কারণেই ইবনুল কামাল তাঁর বক্তব্যে 'এবং তিন রাত' শব্দ দ্বারা এটি ব্যক্ত করেছেন। এবং ইমাম আবু হানিফা থেকে হাসানের বর্ণিত রেওয়ায়েত থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে, তা তিন দিন ও দুই রাত। আর ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তা দুই দিন ও তৃতীয় দিনের অধিকাংশ সময়। আর এ কারণেই গ্রন্থকার বলেছেন (অর্থাৎ বাহাত্তর ঘণ্টা) জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঘণ্টা অনুযায়ী যার প্রতিটি ঘণ্টা পনেরটি বিশেষ এককের সমন্বয়ে গঠিত।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭৭)
درجة وتسمى عندهم المعتدلة والساعات اللغوية والشرعية وهى الزمان وإن قل (حتى لو رأت) الدم (مثلا عند طلوع شمس يوم الاحد ساعة) أي حصة من الزمان (ثم انقطع إلى فجر يوم الاربعاء) بادخال العايه (ثم رأت) الدم (قبيل) تصغير قبل وهو اسم لوقت يتصل به ما بعده (طلوعها) أي طلوع شمس الاربعاء (ثم انقطاع عند الطلوع أو استمر من الطلوع الأول) بلا انقطاع أصلا (إلى) الطلوع (الثاني يكون حيضا) لبلوغه نصابه وافاد أن الشرط وجود الدم في طرفي النصاب سواء وجد فيما بين ذلك اولا (ولو انقطع قبل الطلوع الثاني بزمان يسير ولم يتصل به) أي بالطلوع الثاني (والدم) حتى نقص عن اثنين وسبعين ساعة بلحظة (ثم) دام الانقطاع (ولم تر دما إلى تمام خمسة عشر يوما لم يكن حيضا) اما لو عاد قبل تمام خمسة عشر من حين الانقطاع بان عاد في اليوم العاشر أو قبله كان كله حيضا وإن بعده كانت العشرة فقط حيضا أو ايام العادة فقط لو معتادة لأن الطهر الناقص كالدم المتوالي كما مر ويأتي (واكثره) أي الحيض (عشرة كذلك) أي مقدرة مع لياليها بالساعات أعني مائتين واربعين ساعة نعم ذكر في التتارخانية انها لو اخبرت المفتى بأنها طهرت في الحادي عشر اخذلها بعشرة أو في العاشر اخذ بتسعة ولا يستقصى في الساعات لئلا يعمر عليها الامر وهكذا يفعل في جميع الصور إلا في أقل الحيض واقل الطهر مخافة النقص عن الاقل زاد القهستاني عن حاشية الهداية أن عليه الفتوى ومثله في معراج الدراية (واقل النفاس لا حد له) بل هو ما يوجد ولو ساعة (حتى إذا ولدت فانقطع الدم) عقب ذلك (تغتسل وتصلى) فليس له نصاب إلا إذا احتيج إليه لعدة كقوله إذا ولدت فانت طالق فقالت مضت عدتى فقدره الإمام بخمسة وعشرين يوما وبعدها خمسة عشر طهر ثم ثلاث حيض كل حيضة خمسة ايام ثم طهران بين الحيضتين ثلاثون يوما فأقل مدة تصدق فيها عنده خمسة وثمانون يوما وروى عنه مائة يوم باعتبار أكثر الحيض وقدره الثانى باحد عشر فتصدق بخمسة وستين يوما أحد عشر نفاس وخمسة عشر طهر وثلاث حيض بتسعة ايام بينها طهران بثلاثين وقدره الثالث بساعة فتصدق بعدها بأربعة وخمسين وتمام ذلك في السراج وحو شينا على الدر المختار (واكثره) أي النفاس (واربعون يوما) وقد علم اجمالا مما مر من بيان أكثر الحيض والنفاس وإن الزائد عليه لا يكون حيضا ولا نفاسا أن الدم الصحيح لا يعقبه دم صحيح وحينئذ (فالحيضان لا يتواليان) بل الثانى منهما استحاضة وكذا في الاخيرين مص في قوله (وكذا النفاسان والنفاس والحيض بل لابد من طهر) تام فاصل (بينهما) أي بين كل اثنين من الحيضين والنفاسين
ডিগ্রি এবং তাদের নিকট একে পরিমিত ও শাব্দিক এবং শরয়ি ঘণ্টা বলা হয়, আর তা হলো সময়—তা অল্প হলেও। (এমনকি যদি সে রক্ত দেখে) উদাহরণস্বরূপ (রবিবার সূর্যোদয়ের সময় এক ঘণ্টা) অর্থাৎ সময়ের একটি অংশ, (অতঃপর বুধবারের ফজর পর্যন্ত রক্ত বন্ধ থাকে) সময়সীমা অন্তর্ভুক্ত করে, (অতঃপর সে রক্ত দেখে) এর (সূর্যোদয়ের সামান্য পূর্বে)—যা ‘পূর্বে’ শব্দের ক্ষুদ্রার্থবোধক শব্দ এবং তা এমন একটি সময়ের নাম যার পরবর্তী অংশ এর সাথে মিলিত থাকে—অর্থাৎ (বুধবারের সূর্যোদয়ের পূর্বে), (অতঃপর সূর্যোদয়ের সময় রক্ত বন্ধ হয়ে যায় অথবা প্রথম সূর্যোদয় হতে) কোনো প্রকার বিচ্ছিন্নতা ছাড়াই (দ্বিতীয়) সূর্যোদয় (পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তবে তা হায়েজ বা ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে) যেহেতু তা তার নির্ধারিত সীমানায় (নিসাব) পৌঁছেছে। আর এটি অবগত করে যে, শর্ত হলো নিসাবের দুই প্রান্তে রক্ত বিদ্যমান থাকা, চাই এর মধ্যবর্তী সময়ে রক্ত পাওয়া যাক বা না যাক। (আর যদি দ্বিতীয় সূর্যোদয়ের সামান্য সময় পূর্বে রক্ত বন্ধ হয়ে যায় এবং তার সাথে) অর্থাৎ দ্বিতীয় সূর্যোদয়ের সাথে (রক্ত মিলিত না হয়), এমনকি বাহাত্তর ঘণ্টা হতে এক মুহূর্ত কম হয়, (অতঃপর) রক্ত বন্ধ থাকা দীর্ঘস্থায়ী হয় (এবং পনেরো দিন পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত সে রক্ত না দেখে, তবে তা হায়েজ হবে না)। অবশ্য যদি রক্ত বন্ধ হওয়ার সময় থেকে পনেরো দিন পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই রক্ত ফিরে আসে—যেমন দশম দিনে বা তার পূর্বে—তবে এর পুরোটাই হায়েজ হবে। আর যদি দশম দিনের পরে হয়, তবে কেবল দশ দিনই হায়েজ হবে অথবা অভ্যস্ত নারীর ক্ষেত্রে তার অভ্যাসের দিনগুলোই হায়েজ হবে; কারণ অপূর্ণ পবিত্রতা (তুহর) নিরবচ্ছিন্ন রক্তের ন্যায়, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং সামনে আসবে। (আর এর) অর্থাৎ হায়েজের (সর্বোচ্চ সময়সীমা দশ দিন, অনুরূপভাবে) অর্থাৎ দিবা-রাত্রিসহ ঘণ্টার হিসেবে নির্ধারিত, যা হলো দুইশত চল্লিশ ঘণ্টা। হ্যাঁ, তাতারখানিয়া গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি কোনো নারী মুফতিকে সংবাদ দেয় যে সে এগারোতম দিনে পবিত্র হয়েছে, তবে তিনি তাকে দশ দিনের হিসেবে ধরবেন, অথবা দশম দিনে (পবিত্র হওয়ার সংবাদ দিলে) তাকে নয় দিনের হিসেবে ধরবেন। ঘণ্টার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে না যাতে তার জন্য বিষয়টি কঠিন হয়ে না যায়। এভাবেই সকল ক্ষেত্রে করা হবে, কেবল হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ এবং পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদের ক্ষেত্রে ব্যতয় ঘটবে—যাতে সর্বনিম্ন মেয়াদের চেয়ে কমে যাওয়ার ভয় না থাকে। কাহাস্তানি ‘হাশিয়াতুল হিদায়া’ থেকে বর্ধিত করেছেন যে, এর উপরেই ফতোয়া। মি'রাজুদ দিরাইয়াহ গ্রন্থেও অনুরূপ রয়েছে। (আর নেফাসের সর্বনিম্ন মেয়াদের কোনো সীমা নেই), বরং তা যা পাওয়া যায় এক মুহূর্ত হলেও। (এমনকি যখন সে সন্তান প্রসব করবে এবং রক্ত বন্ধ হয়ে যাবে) এর পরপরই, (সে গোসল করবে ও নামাজ পড়বে)। এর কোনো নির্ধারিত সীমা (নিসাব) নেই, তবে ইদ্দতের জন্য যদি এর প্রয়োজন পড়ে, যেমন কারো কথা: ‘যখন তুমি সন্তান প্রসব করবে তখন তুমি তালাক’, অতঃপর স্ত্রী বলল: ‘আমার ইদ্দত শেষ হয়েছে’, তবে ইমাম (আবু হানিফা) এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন পঁচিশ দিন; এরপর পনেরো দিন পবিত্রতা, অতঃপর তিন হায়েজ—প্রতিটি হায়েজ পাঁচ দিন করে, এরপর দুই হায়েজের মাঝে দুই পবিত্রতা ত্রিশ দিন। সুতরাং তার নিকট ইদ্দত শেষ হওয়ার দাবিতে সত্যবাদী হওয়ার সর্বনিম্ন সময় হলো পঁচাশি দিন। তার থেকে একশত দিনের বর্ণনাও রয়েছে হায়েজের সর্বোচ্চ মেয়াদ বিবেচনা করে। দ্বিতীয়জন (ইমাম আবু ইউসুফ) এর পরিমাণ এগারো দিন নির্ধারণ করেছেন, ফলে সে পঁয়ষট্টি দিন পর সত্যবাদী সাব্যস্ত হবে—এগারো দিন নেফাস, পনেরো দিন পবিত্রতা এবং তিন হায়েজ নয় দিনে যার মাঝে দুটি পবিত্রতা ত্রিশ দিনের। আর তৃতীয়জন (ইমাম মুহাম্মদ) এক মুহূর্ত নির্ধারণ করেছেন, ফলে সে চুয়ান্ন দিন পর সত্যবাদী সাব্যস্ত হবে। এর পূর্ণ বিবরণ সিরাজ ও আমাদের ‘দুররুল মুখতার’ এর টীকায় রয়েছে। (আর এর) অর্থাৎ নেফাসের (সর্বোচ্চ মেয়াদ চল্লিশ দিন)। হায়েজ ও নেফাসের সর্বোচ্চ মেয়াদের বর্ণনা হতে সাধারণভাবে জানা গেছে যে, এর অতিরিক্ত যা হবে তা হায়েজ বা নেফাস হবে না। সহিহ (বৈধ) রক্তের পর পুনরায় সহিহ রক্ত আসে না। এমতাবস্থায় (দুটি হায়েজ নিরবচ্ছিন্নভাবে আসে না), বরং তাদের দ্বিতীয়টি ইস্তিহাজা (অনিয়মিত রক্তস্রাব)। অনুরূপভাবে শেষোক্ত দুটির ক্ষেত্রেও যেমনটি গ্রন্থকার বলেছেন: (অনুরূপভাবে দুটি নেফাস এবং নেফাস ও হায়েজ; বরং অবশ্যই পবিত্রতার প্রয়োজন) যা পূর্ণ এবং বিচ্ছেদকারী হবে (তাদের উভয়ের মাঝে) অর্থাৎ দুটি হায়েজ বা দুটি নেফাসের প্রত্যেকটির মাঝে।
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭৮)
والحيض والنفاس (واقل الطهر) المذكور مختلف فهو (في حق النفاسين ستة اشهر) لانه أدنى مدة الحمل فلو فصل اقل من ذلك كانا توأمين والنفاس من الأول فقط كما مر ويأتى (وفى) حق (غيرهما) من حيضين أو حيض ونفاس (خمسة عشر يوما) وإن كان اقل من ذلك فالثاني استحاضة مص فإذا وقع ذلك الطهر التام بين دمين (فالدمان المحيطان به حيضان) وكذا الحكم في الأكثر بطريق أولى مص أي الأكثر من طهر خمسة عشر (ان بلغ كل نصابا) ثلاثة أو أكثر (ولم يمنع مانع والا) أي وإن لم يبلغ نصابا أو منع مانع من الحيض مثل كونها حاملا أو كونه زائدا على عادتها مجاوزا للعشرة (فاستحاضة أو نفاس) صورته امرأة رأت دما حال جلها خمسة ايام ثم طهرت خمسة عشر يوما ثم ولدت ورأت دما فالدم الثاني نفاس والدم الأول استحاضة مع انهما مكتنفان بالطهر (تنبيه) اطلق الطهر فشمل الصحيح والفاسد بعد كونه تاما فالطهر التام الفاسد وهو الذى خالطه دم كما مر يفصل بين الدمين وإنما يفسد من حيث أنه لا يصلح لنصب العادة في المبتدأة لا من حيث الفصل وعدمه كما يظهر في الفصل الرابع و ح فلو رأت ثلاثة دما كعادتها ثم خمسة عشر طهرا ثم يوما دما ثم يوما طهرا ثم ثلاثة دما فالثلاثة الأولى والاخيرة حيضان لوجود طهر تام بينهما وإن كان فاسدا لانها صلت فيه يوما بدم (والطهر الناقص) عن اقله (كالدم المتوالى) لانه طهر فاسد كما في الهداية (لا يفصل بين الدمين) بل يجعل الكل حيضا ان لم يزد على العشرة والا فالزائد عليها أو على العادة استحاضة (مطلقا) أي سواء كان اقل من ثلاثة ايام وهو بالاتفاق أو ازيد وسواء كان ذلك الأزيد مثل الدمين المحيطين به أو اقل أو أكثر وسواء كان في مدة الحيض اولا عند أبي يوسف وهو قول أبي حنيفة آخر وعليه فيجوز بداية الحيض بالطهر وحتمه به أيضا إذا احاط الدم بطرفيه فلو رأت مبتدأة يوما دما واربعة عشر طهرا ويوما دما فالعشرة الأولى حيض ولو رأت المعتادة قبل عادتها يوما دما وعشرة طهرا ويوما دما فالعشرة الطهر حيض ان كانت عادتها والا ردت إلى عادتها وعند محمد الطهر الناقص لا يفصل لو مثل الدمين أو اقل في مدة الحيض ولو أكثر فصل أن بلغ ثلاثا فأكثر ثم ان كان في كل من الجانبين نصاب فالسابق حيض ولو في أحدهما فهو الحيض والا فالكل استحاضة ولا يجوز عنده بدأ الحيض ولا ختمه بالطهر فلو رأت مبتدأة يوما دما ويومين طهرا ويوما دما فالاربعة حيض اتفاقا لأن الطهر دون ثلاث ولو رأت يوما دما وثلاثة طهرا ويومين دما فالستة حيض للاستواء ولو رأت ثلاثة دما وخمسة

হায়েজ ও নিফাস এবং উল্লিখিত (পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ) ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং তা (দুই নিফাসের ক্ষেত্রে ছয় মাস), কারণ এটি গর্ভধারণের সর্বনিম্ন সময়। সুতরাং যদি এর চেয়ে কম সময়ের ব্যবধান হয়, তবে তারা জমজ সন্তান হিসেবে গণ্য হবে এবং নিফাস কেবল প্রথমটি থেকেই শুরু হবে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং সামনে আসবে। (এবং) দুই হায়েজ অথবা হায়েজ ও নিফাসের (অন্যান্য ক্ষেত্রে) এই সময়সীমা (পনেরো দিন)। যদি এর চেয়ে কম হয়, তবে দ্বিতীয় রক্তস্রাবটি এস্তেহাজা হবে। সুতরাং যখন এই পূর্ণ পবিত্রতা দুটি রক্তস্রাবের মাঝখানে আপতিত হয়, (তখন তাকে পরিবেষ্টনকারী রক্তদ্বয় হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে)। একইভাবে পনেরো দিনের বেশি পবিত্রতার ক্ষেত্রেও এটি উত্তমরূপে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ পনেরো দিনের অধিক পবিত্রতাও রক্তদ্বয়কে পৃথক করবে, (যদি প্রতিটি রক্তস্রাব নেসাব পরিমাণ হয়), অর্থাৎ তিন দিন বা তার বেশি হয়।

(এবং কোনো প্রতিবন্ধক যেন বাধা না দেয়। অন্যথায়) অর্থাৎ যদি নেসাব পরিমাণ না হয় অথবা হায়েজের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক থাকে, যেমন গর্ভবতী হওয়া অথবা অভ্যাসগত দিনের চেয়ে বেশি হয়ে দশ দিন অতিক্রম করা, (তবে তা এস্তেহাজা বা নিফাস হবে)। এর উদাহরণ হলো: একজন মহিলা তার গর্ভাবস্থায় পাঁচ দিন রক্ত দেখল, তারপর পনেরো দিন পবিত্র থাকল, এরপর সন্তান প্রসব করল এবং রক্ত দেখল। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় রক্তটি নিফাস এবং প্রথম রক্তটি এস্তেহাজা হবে, যদিও তারা পবিত্রতার দ্বারা পরিবেষ্টিত।

(সতর্কীকরণ) এখানে 'পবিত্রতা' শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে তা পূর্ণ হওয়ার পর সহীহ (সঠিক) ও ফাসেদ (ত্রুটিযুক্ত) উভয় প্রকার পবিত্রতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং পূর্ণ ফাসেদ পবিত্রতা, যার সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকে—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—তা রক্তদ্বয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়। এটি কেবল নবীন মহিলার অভ্যাসের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফাসেদ বা অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে, বিচ্ছেদ ঘটানো বা না ঘটানোর ক্ষেত্রে নয়, যেমনটি চতুর্থ পরিচ্ছেদে স্পষ্ট হবে। এবং এর প্রেক্ষাপটে যদি কোনো মহিলা তার অভ্যাস অনুযায়ী তিন দিন রক্ত দেখে, তারপর পনেরো দিন পবিত্র থাকে, এরপর একদিন রক্ত, একদিন পবিত্রতা এবং পুনরায় তিন দিন রক্ত দেখে, তবে প্রথম ও শেষ তিন দিন হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তাদের মাঝে একটি পূর্ণ পবিত্রতা বিদ্যমান, যদিও তা ফাসেদ। কারণ সে এই পবিত্রতার সময়ে একদিন রক্তের সাথেই সালাত আদায় করেছে।

(এবং অসম্পূর্ণ পবিত্রতা) যা তার সর্বনিম্ন মেয়াদের চেয়ে কম, তা (ক্রমাগত রক্তপ্রবাহের ন্যায়)। কারণ এটি একটি ফাসেদ পবিত্রতা, যেমনটি 'হিদায়া' গ্রন্থে রয়েছে। (তা দুই রক্তস্রাবের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় না), বরং পুরো সময়টিকেই হায়েজ হিসেবে গণ্য করা হবে যদি তা দশ দিনের বেশি না হয়। অন্যথায়, দশ দিন বা অভ্যাসের অতিরিক্ত অংশটুকু এস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে।

(ঢালাওভাবে) অর্থাৎ চাই তা তিন দিনের কম হোক—যা সর্বসম্মত—অথবা তার বেশি হোক; এবং চাই সেই অতিরিক্ত অংশটি তাকে পরিবেষ্টনকারী রক্তদ্বয়ের সমান হোক অথবা কম বা বেশি হোক; এবং চাই তা হায়েজের মেয়াদের ভেতরে হোক বা না হোক—ইমাম আবু ইউসুফের নিকট এটিই অভিমত এবং এটিই ইমাম আবু হানিফার পরবর্তী উক্তি। আর এই মতানুসারে, হায়েজের শুরু এবং শেষ পবিত্রতার মাধ্যমে হওয়া বৈধ, যদি রক্ত তার উভয় প্রান্তকে পরিবেষ্টন করে রাখে।

সুতরাং যদি কোনো নবীন মহিলা একদিন রক্ত, চৌদ্দ দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখে, তবে প্রথম দশ দিন হায়েজ হবে। আর যদি অভ্যস্ত মহিলা তার অভ্যাসের সময়ের পূর্বে একদিন রক্ত, দশ দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখে, তবে দশ দিনের পবিত্রতাও হায়েজ হবে যদি তা তার অভ্যাস অনুযায়ী হয়; অন্যথায় তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

আর ইমাম মুহাম্মদের মতে, অসম্পূর্ণ পবিত্রতা বিচ্ছেদ ঘটায় না যদি তা হায়েজের মেয়াদের ভেতরে রক্তদ্বয়ের সমান বা তার চেয়ে কম হয়। আর যদি বেশি হয় এবং তা তিন দিন বা তার বেশি হয়, তবে তা বিচ্ছেদ ঘটাবে। এরপর যদি উভয় পাশে নেসাব পরিমাণ রক্ত থাকে, তবে পূর্বেরটি হায়েজ হবে। আর যদি কেবল এক পাশে থাকে, তবে সেটিই হায়েজ হবে। অন্যথায় পুরোটিই এস্তেহাজা হবে। তাঁর মতে হায়েজের শুরু বা শেষ পবিত্রতার মাধ্যমে হওয়া বৈধ নয়। সুতরাং যদি কোনো নবীন মহিলা একদিন রক্ত, দুই দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখে, তবে চার দিনই সর্বসম্মতভাবে হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে; কারণ পবিত্রতা তিন দিনের কম। আর যদি একদিন রক্ত, তিন দিন পবিত্রতা এবং দুই দিন রক্ত দেখে, তবে স্থায়িত্বের সমতার কারণে ছয় দিনই হায়েজ হবে। আর যদি তিন দিন রক্ত এবং পাঁচ দিন...

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৭৯)
طهرا ويوما دما فالثلاثة حيض لغلبة الطهر فصار فاصلا هذا خلاصة ما في شروح الهداية وغيرها وفى المسئلة ست روايات وهاتان اشهرها وقد صحح رواية محمد في المبسوط والمحيط وعليها الفتوى وفى السراج وكثير من المتأخرين افتوا بقول أبي يوسف لانه اسهل على المفتى والمستفتى وفى الهداية والاخذ به ايسر وفى الفتح وهو الأولى (وسيجيء إن شاء الله تعالى) في الفصل الثانى بعض ذلك (وكذا الطهر الفاسد) المتخلل بين الدمين (في النفاس) لا يفصل بينهما ويجعل كالدم المتوالى حتى لو ولدت فانقطع دمها ثم رأت آخر الاربعين دما فكله نفاس كما مر وسيأتي في الفصل الثاني * ثم اعلم أن عدم فصله خاص بما إذا كان الدم الثاني في مدة الاربعين لا بعدها ولذا قال في السراج ثم الطهر المتخلل بين دمى النفاس لا يفصل وإن كثر الخ فقوله بين دمى النفاس صريح في أن الدم الثاني في مدة الاربعين والا فلو كان لا يفصل مطلقا لزم أن من ولدت ورأت عشرين دما ثم طهرت سنة أو سنتين ثم رأت الدم أن يكون ذلك الطهر كالدم المتوالي ولا قائل به لكن إذا وقع الدم الثاني خارج الاربعين فإن كان الطهر المتحلل تاما فصل بينهما ولم يجعل كالدم المتوالى وإن كان ناقصا لم يفصل لانه لا يفصل في الحيض ففي النفاس أولى لأن الطهر الناقص فاسد في نفسه بخلاف التام يوضح ما قلنا ما في المحيط لو رأت خمسة دما وخمسة عشر طهرا وخمسة دما وخمسة عشر طهرا ثم استمر الدم فعنده نفاسها خمسة وعشرون لانه لا عبرة بالطهر الأول لاحاطة الدم بطرفيه والثاني معتبر لأن به تم الأربعون ولو رأت ثلاثين دما وعشرة طهرا ويوما دما فعند أبي يوسف الأربعون نفاس لانه يختم النفاس بالطهر ويقلب الطهر نفاسا بإحاطة الدمين به كما سيأتي وعند محمد الثلاثون نفاس انتهى فقوله لأن به ثم الأربعون أي فكان الدم الثاني واقعا بعدها فيكون حيضا لوجود الطهر الفاصل فهذا ما ظهر لي والله تعالى أعلم (وأكثر الطهر لا حد له) بل قد يستغرق العمر (إلا عند) الحاجة إلى (نصب العادة) عند استمر والدم (وسيجئ إن شاء الله تعالى) تفصيل ذلك في الفصل الرابع (والعادة تثبت بمرة واحدة في الحيض والنفاس) هذا قول أبي يوسف وأبي حنيفة آخرا قال في المحيط وبه يفتى وفى موضع آخر وعليه الفتوى هذا في الحيض اما في النفاس فمتفق عليه مص قلت وكذا المبتدأة بالحيض تثبت العادة لها بمرة واحدة اتفاقا كما في السراج وإنما الخلاف في المعتادة إذا رأت ما يخالف عادتها مرة واحدة هل يصير ذلك المخالف عادة لها أم لابد فيه من تكراره مرتين بيان ذلك لو كانت عادتها خمسة من أول الشهر فرأت سنة فهي حيض اتفاقا لكن عندهما يصير ذلك عادة فإذا

পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত, তবে এই তিনটিই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে পবিত্রতার আধিক্যের কারণে, ফলে তা বিচ্ছেদকারী হয়েছে। এটি হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত সারসংক্ষেপ। এই মাসয়ালায় ছয়টি বর্ণনা রয়েছে এবং এই দু’টি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। আল-মাবসুত এবং আল-মুহিত কিতাবে ইমাম মুহাম্মাদের বর্ণনাটিকে সহীহ বলা হয়েছে এবং এর ওপরই ফতোয়া। আস-সিরাজ এবং পরবর্তী ফকীহগণের অনেকেই ইমাম আবু ইউসুফের মতানুসারে ফতোয়া দিয়েছেন, কারণ এটি মুফতি এবং ফতোয়া প্রার্থীর জন্য সহজতর। আল-হিদায়া কিতাবে উল্লেখ আছে যে, এটি গ্রহণ করা সহজ এবং আল-ফাতহ কিতাবে বলা হয়েছে এটিই উত্তম। (ইনশাআল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এর কিছু অংশ সামনে আসবে) (অনুরূপভাবে ফাসিদ বা ত্রুটিপূর্ণ পবিত্রতাও) যা দুই রক্তের মাঝখানে দেখা দেয় (নেফাসের ক্ষেত্রে), তা তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় না এবং তা ক্রমাগত রক্তের মতোই গণ্য হবে। এমনকি যদি কোনো নারী সন্তান প্রসব করে এবং তার রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, এরপর চল্লিশতম দিনের শেষে আবার রক্ত দেখে, তবে পুরো সময়টিই নেফাস হিসেবে গণ্য হবে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সামনে আসবে। * অতঃপর জেনে রাখুন যে, এই বিচ্ছেদ না হওয়াটি ওই অবস্থার সাথে খাস যখন দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের মেয়াদের মধ্যে দেখা দিবে, এর পরে নয়। একারণেই আস-সিরাজ কিতাবে বলা হয়েছে: অতঃপর নেফাসের দুই রক্তের মাঝে মধ্যবর্তী পবিত্রতা বিচ্ছেদ ঘটায় না, যদিও তা দীর্ঘ হয়... ইত্যাদি। সুতরাং তার উক্তি 'নেফাসের দুই রক্তের মাঝে' এটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের মেয়াদের মধ্যে হতে হবে। অন্যথায় যদি এটি নিঃশর্তভাবে বিচ্ছেদ না ঘটাতো, তবে এটি আবশ্যক হতো যে, যে নারী সন্তান প্রসব করল এবং বিশ দিন রক্ত দেখল, এরপর এক বা দুই বছর পবিত্র থাকল এবং পুনরায় রক্ত দেখল, তবে সেই পবিত্রতাকেও ক্রমাগত রক্তের মতো গণ্য করতে হতো। অথচ এমন কথা কেউ বলেননি। কিন্তু যদি দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের বাইরে দেখা দেয়, তবে যদি মধ্যবর্তী পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ (তাম) হয়, তবে তা বিচ্ছেদ ঘটাবে এবং ক্রমাগত রক্তের মতো গণ্য হবে না। আর যদি তা অপূর্ণাঙ্গ (নাকিস) হয়, তবে বিচ্ছেদ ঘটাবে না। কারণ হায়েযের ক্ষেত্রে এটি বিচ্ছেদ ঘটায় না, তাই নেফাসের ক্ষেত্রে তা অধিক যুক্তিসঙ্গত। কেননা অপূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা স্বীয় সত্তাগতভাবেই ফাসিদ, পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতার বিপরীতে। আমরা যা বলেছি তা আল-মুহিত কিতাবের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হয়: যদি কোনো নারী পাঁচ দিন রক্ত দেখে, পনেরো দিন পবিত্র থাকে, পুনরায় পাঁচ দিন রক্ত দেখে এবং পুনরায় পনেরো দিন পবিত্র থাকে এবং এরপর রক্ত অব্যাহত থাকে, তবে তার নিকট তার নেফাস হবে পঁচিশ দিন। কারণ প্রথম পবিত্রতাটি ধর্তব্য নয় যেহেতু তার দুই প্রান্তে রক্ত রয়েছে, আর দ্বিতীয়টি ধর্তব্য কারণ এর মাধ্যমেই চল্লিশ দিন পূর্ণ হয়েছে। আর যদি সে ত্রিশ দিন রক্ত দেখে, দশ দিন পবিত্র থাকে এবং একদিন রক্ত দেখে, তবে ইমাম আবু ইউসুফের মতে চল্লিশ দিনই নেফাস। কারণ তিনি পবিত্রতার মাধ্যমে নেফাস সমাপ্ত করেন এবং দুই রক্তের পরিবেষ্টনের কারণে পবিত্রতাকে নেফাসে রূপান্তরিত করেন যেমনটি সামনে আসবে। আর ইমাম মুহাম্মাদের নিকট ত্রিশ দিন নেফাস। সমাপ্ত। সুতরাং তার কথা 'কারণ এর মাধ্যমে চল্লিশ দিন পূর্ণ হয়েছে' এর অর্থ হলো দ্বিতীয় রক্তটি এর পরে সংঘটিত হয়েছে, ফলে বিচ্ছেদকারী পবিত্রতা বিদ্যমান থাকার কারণে তা হায়েয হবে। এটিই আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে, আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। (এবং সর্বোচ্চ পবিত্রতার কোনো সীমা নেই) বরং এটি সারাজীবনও হতে পারে। (তবে ওই সময় ব্যতীত যখন) রক্ত অব্যাহত থাকার কারণে (অভ্যাস নির্ধারণের) প্রয়োজন হয়। (ইনশাআল্লাহ তাআলা) চতুর্থ পরিচ্ছেদে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে। (এবং হায়েয ও নেফাসের ক্ষেত্রে অভ্যাস একবারের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়) এটি ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম আবু হানিফার শেষ দিকের উক্তি। আল-মুহিত কিতাবে বলা হয়েছে, এর ওপরই ফতোয়া প্রদান করা হয় এবং অন্য স্থানে বলা হয়েছে, এর ওপরই ফতোয়া। এটি হায়েযের ক্ষেত্রে; আর নেফাসের ক্ষেত্রে এটি সর্বসম্মত। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: অনুরূপভাবে হায়েযের ক্ষেত্রে যার নতুন শুরু হয়েছে, তার অভ্যাসও সর্বসম্মতভাবে একবারের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, যেমনটি আস-সিরাজ কিতাবে রয়েছে। মূল মতভেদ হলো ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার অভ্যাস আগে থেকেই নির্ধারিত, যদি সে তার অভ্যাসের পরিপন্থী কিছু একবার দেখে, তবে সেই পরিপন্থী বিষয়টি কি তার নতুন অভ্যাস হিসেবে গণ্য হবে নাকি তা দুইবার পুনরাবৃত্তি হওয়া আবশ্যক? এর ব্যাখ্যা হলো: যদি তার অভ্যাস মাসের শুরুতে পাঁচ দিন হয়, অতঃপর সে ছয় দিন রক্ত দেখে, তবে তা সর্বসম্মতভাবে হায়েয। কিন্তু তাদের (শায়খাইন) নিকট তা অভ্যাসে পরিণত হবে। ফলে যখন...

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮০)
استمر بها الدم في الشهر الثانى ترد إلى آخر ما رأت وعند محمد إلى العادة القديمة ولو رأت الستة مرتين ترد إليها عند الاستمرار اتفاقا وتمامه في السراج وقوله (دما أو طهرا) منصوبان على التمييز (وإن كانا صحيحين) بخلاف الفاسدين كما اوضحناه في آخر النوع الأول (وتنتقل كذلك) أي بمرة واحدة في الحيض والنفاس دما أو طهرا وفيه الخلاف المار لكن هذا في العادة الاصلية وهى أن ترى دمين متفقين وطهرين متفقين على الولاء أو أكثر لا الجعلية بان ترى اطهارا مختلفة ودماء مختلفة فإنها تنتقض برؤية المخالف اتفاقا نهر وتمام ذلك في الفتح وغيره (زمانا) تمييز محول عن الفاعل (ثوبان لم تر فيه) أي في زمان عادتها كما لو كانت عادتها خمسة من أول الشهر فمضت ولم تر فيها ولا في بقية الشهر أو رأت بعدها خمسة (أو رأت) الخمسة (قبله) أي قبل زمان عادتها ولم تر فيه وإنما نص على القبلية مع انها داخلة في قوله بان لم تر فيه لأن الانتقال فيها حصل قبل عدم الرؤية فيه فتأمل (و) تنتقل (عددا ان رأت ما يخالفه) أي العدد (صحيحا) حال من مفعول رأت وقوله (طهرا أو دما) بدل من صحيحا أو عطف بيان كما لو كانت عادتها خمسة حيضا وخمسة وعشرين طهرا فرأت في أيامها ثلاثة وخمسة وعشرين طهرا أو خمسة دما وثلاثة وعشرين طهرا (أو) رأت في ما يخالفه حاله كون المرئي (دما فاسدا جاوز العشرة ووقع) من آخره (نصاب) ثلاثة ايام فأكثر (في بعض) أيام (العادة وبعضها) أي ووقع بعض العادة (من الطهر الصحيح) مثاله عادتها خمسة من أول الشهر فرات الدم سبعة قبله واربعة في أوله وانقطع فهذا دم فاسد لانه جاوز العشرة ووقع منه نصاب الحيض في بعض أيام العادة وبعضها الباقي وهو الخامس وقع من الطهر الصحيح فترد إلى عادتها من حيث المكان دون العدد لأن الخامس لم يقع بعده دم حتى يجعل حيضا لأن أبا يوسف وإن كان يجيز ختم الحيض بالطهر لكن شرطه عنده احاطة الدم بطرفى الطهر كما قدمناه وقد تنتقل عددا وزمانا وهو ظاهر وسيأتي تفصيل هذا المحل في الفصل الثاني إن شاء الله تعالى (واما الفصول) عطف على قوله اما المقدمة (فستة الفصل الأول في) بيان (ابتداء ثبوت الدماء الثلاثة) الحيض والنفاس والاستحاضة (و) بيان (انتهائه) أي انتهاء ثبوتها الذي يزول به احكامها (و) في بيان (الكريف) بوزن فلفل (ما الأول فعند ظهور الدم بان خرج من الفرج الداخل) إلى الفرج الخارج والاول وهو المدور بمنزلة الدبر أو الاحليل والثانى وهو الطويل بمنزلة الاليتين أو القلفة (أو) لم ينفصل عن الفرج الداخل بل (حاذى) أي ساوى (حرفه) والدم في هذا
যদি দ্বিতীয় মাসেও রক্ত প্রবাহ অব্যাহত থাকে, তবে তাকে তার সর্বশেষ দেখা অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। আর ইমাম মুহাম্মাদ (রহ.)-এর মতে, পুরাতন অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে। যদি সে দুইবার ছয় দিন করে রক্ত দেখে, তবে প্রবাহ অব্যাহত থাকার সময় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে সেই ছয় দিনের দিকেই ফিরিয়ে নেয়া হবে। এর পূর্ণ আলোচনা 'সিরাজ' গ্রন্থে রয়েছে। আর লেখকের উক্তি (রক্ত বা পবিত্রতা) শব্দদ্বয় 'তাময়ীজ' হিসেবে মানসুব হয়েছে। (যদি উভয়টি সহীহ হয়), যা ফাসিদ (ত্রুটিযুক্ত) হওয়ার বিপরীত, যেমনটি আমরা প্রথম প্রকারের শেষে স্পষ্ট করেছি। (অনুরূপভাবে তা স্থানান্তরিত হবে) অর্থাৎ হায়েজ ও নেফাসের ক্ষেত্রে একবার রক্ত বা পবিত্রতা দেখার মাধ্যমে অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে যায়। এতে পূর্বোক্ত মতভেদ রয়েছে। তবে এটি 'আদাতে আসলিয়াহ' বা মৌলিক অভ্যাসের ক্ষেত্রে; আর তা হলো পরপর দুইবার বা তার বেশি সমপরিমাণ রক্ত এবং সমপরিমাণ পবিত্রতা দেখা। এটি 'আদাতে জা'লিয়া' বা কৃত্রিম অভ্যাসের ক্ষেত্রে নয়, যেখানে বিভিন্ন মেয়াদের পবিত্রতা ও বিভিন্ন মেয়াদের রক্ত দেখা যায়; কেননা সর্বসম্মতিক্রমে ভিন্ন কিছু দেখার দ্বারাই তা ভেঙে যায়— এটি 'নাহর' গ্রন্থে রয়েছে এবং এর পূর্ণ বিবরণ 'ফাতহ' ও অন্যান্য কিতাবে আছে। (সময়ের দিক থেকে) এটি ফায়েল থেকে পরিবর্তিত 'তাময়ীজ'। (এমনভাবে যে সে তাতে দেখেনি) অর্থাৎ তার অভ্যাসের সময়ে সে রক্ত দেখেনি; যেমন তার অভ্যাস ছিল মাসের শুরুর পাঁচ দিন, কিন্তু তা অতিবাহিত হয়ে গেল অথচ সে তাতে বা মাসের বাকি অংশে কোনো রক্ত দেখেনি অথবা অভ্যাসের পর পাঁচ দিন রক্ত দেখেছে। (অথবা সে দেখেছে) পাঁচ দিন (তার আগে) অর্থাৎ অভ্যাসের সময়ের আগে এবং অভ্যাসের সময়ে দেখেনি। সময়ের আগে দেখার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে— যদিও তা 'তাতে না দেখা'র অন্তর্ভুক্ত ছিল— কারণ এখানে স্থানান্তরটি অভ্যাসের সময়ে রক্ত না দেখার আগেই ঘটে গেছে; বিষয়টি চিন্তা করে দেখুন। (এবং) অভ্যাস স্থানান্তরিত হবে (সংখ্যার দিক থেকে, যদি সে এমন কিছু দেখে যা তার বিপরীত) অর্থাৎ সংখ্যার বিপরীত (সহীহ অবস্থায়), যা 'রআত' (দেখেছে) ক্রিয়াপদের মাফ'উল থেকে হাল হয়েছে। আর লেখকের উক্তি (পবিত্রতা বা রক্ত) শব্দটি 'সহীহ' থেকে বদল বা আতফে বায়ান। যেমন যদি তার অভ্যাস হয় পাঁচ দিন হায়েজ এবং পঁচিশ দিন পবিত্রতা, অতঃপর সে তার দিনগুলোতে তিন দিন রক্ত এবং পঁচিশ দিন পবিত্রতা দেখল, অথবা পাঁচ দিন রক্ত এবং তেইশ দিন পবিত্রতা দেখল। (অথবা) সে তার বিপরীত যা দেখল তা হলো (ফাসিদ রক্ত যা দশ দিন অতিক্রম করেছে এবং সংঘটিত হয়েছে) তার শেষাংশ থেকে (নিসাব) তথা তিন দিন বা তার বেশি (অভ্যাসের কিছু অংশে এবং তার অবশিষ্ট অংশে) অর্থাৎ অভ্যাসের অবশিষ্ট অংশ (সহীহ পবিত্রতা থেকে) সংঘটিত হয়েছে। এর উদাহরণ: তার অভ্যাস মাসের শুরু থেকে পাঁচ দিন; কিন্তু সে তার আগে সাত দিন রক্ত দেখল এবং অভ্যাসের শুরুতে চার দিন দেখল, এরপর বন্ধ হয়ে গেল। এটি ফাসিদ রক্ত, কারণ তা দশ দিন অতিক্রম করেছে। এর হায়েজের নিসাব অভ্যাসের কিছু দিনে সংঘটিত হয়েছে এবং অভ্যাসের বাকি অংশ— যা পঞ্চম দিন— তা সহীহ পবিত্রতার মধ্যে পড়েছে। ফলে তাকে স্থানের দিক থেকে অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে, সংখ্যার দিক থেকে নয়। কারণ পঞ্চম দিনের পর কোনো রক্ত আসেনি যাকে হায়েজ গণ্য করা যায়। যদিও ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.) পবিত্রতার মাধ্যমে হায়েজ সমাপ্ত হওয়া বৈধ মনে করেন, কিন্তু তার মতে শর্ত হলো পবিত্রতার দুই প্রান্তে রক্ত বিদ্যমান থাকা, যেমনটি আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। কখনো সংখ্যা ও সময় উভয় দিক থেকেই অভ্যাস স্থানান্তরিত হয়, যা সুস্পষ্ট। এই স্থানের বিস্তারিত আলোচনা ইনশাআল্লাহ দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আসবে। (আর পরিচ্ছেদসমূহ) যা লেখকের 'আম্মা আল-মুকাদ্দিমাহ' বক্তব্যের ওপর সংযোজিত (তা ছয়টি। প্রথম পরিচ্ছেদ:) তিন প্রকার রক্তের— হায়েজ, নেফাস ও ইস্তিহাযা— (সূচনা সাব্যস্ত হওয়ার) বর্ণনায় (এবং তার সমাপ্তি) অর্থাৎ যার মাধ্যমে রক্তের বিধানাবলি রহিত হয় তার সমাপ্তি বর্ণনায়। (এবং আল-কুরাইফ বর্ণনায়) যা 'ফুলফুল' শব্দের ওজনে। (প্রথমটি হলো: রক্ত প্রকাশিত হওয়ার মাধ্যমে, এভাবে যে তা অভ্যন্তরীণ লজ্জাস্থান থেকে বের হয়ে) বাহ্যিক লজ্জাস্থানের দিকে আসবে। প্রথমটি (অভ্যন্তরীণ) বৃত্তাকার যা মলদ্বার বা প্রস্রাবের রাস্তার মতো, আর দ্বিতীয়টি (বাহ্যিক) লম্বাটে যা নিতম্বদ্বয় বা লিঙ্গাগ্রের চামড়ার মতো। (অথবা) অভ্যন্তরীণ লজ্জাস্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি বরং (বরাবর হয়েছে) অর্থাৎ তার শেষ প্রান্তের সমান হয়েছে। এমতাবস্থায় রক্ত—
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮১)
الحكم (كالبول والغائط فكل ما ظهر من الاحليل) بالكسر مخرج البول من ذكر الإنسان واللبن من الثدى قاموس والمراد هنا الأول (والدبر) بضم وبضمتين (والفرج بان ساوى الحرف) من احد هذه المخارج (ينتقض به الوضوء) سواء كان دما أو بولا أو غائطا (مطلقا) أي قليلا كان أو كثيرا (ويثبت به) أي بما ظهر (النفاس والحيض ان كان دما صحيحا) يعنى بان كان بعد خروج الولد أو اكثره في النفاس ولم ينقص عن ثلاثة في الحيض (من بنت تسع سنين أو أكثر) ويثبت به بلوغها قال في المحيط البرهاني وأكثر مشايخ زماننا على هذا انتهى وعليه الفتوى سراج وهو المختار وقيل ست وقيل سبع وقيل اثنتا عشر فتح (فإن احس) بصيغة المجهول ولم يقل احست ليدخل فيه حدث الرجال والنساء (ابتداء بنزوله) أي الدم ونحوه كالبول (ولم يظهر) إلى حرف المخرج (أو منع) بصيغة المجهول أيضًا معطوف على لم يظهر (منه) أي من ظهوره (بالشد) على ظاهر المخرج بنحو خرقة (أو الاحتشاء) في باطنه بنحو قطنة (فليس له حكم) أي لا ينتقض به الوضوء ولا يثبت به الحيض وقيل يثبت بمجرد الاحساس كما قدمناه (وإن منع بعد الظهور اولا فالحيض والنفاس باقيان) أي لا يزول بهذا المنع حكمهما الثابت بالظهور او لا كما لو خرج بعض المنى ومنع باقيه عن الخروج فإنه لا تزول الجنابة (دون الاستحاضة) فإنه إذا امكن منع دمها زال حكمها (واما) الكلام (في) حكم الخارج من (غير السبيلين) القبل والدبر (فلا حكم للظهور والمحاذاة) بمجردهما (بل لا بد من الخروج) ولو بالاخراج كعصره في الاصح خلافا لما في العناية والبحر من أن الاخراج غير معتبر كما اوضحناه في رد المحتار (و) لابد ايضا من (السيلان) واختلف في تفسيره ففى المحيط عن أبي يوسف أن يعلو وينحدر وعن محمد إذا انتفخ على رأس الجرح وصار أكثر من رأسه نقض والصحيح لا ينقض انتهى وصحح في الدراية الثاني لكن صحح في الخانية وغيرها الأول وفى الفتح أنه مختار السرخسي وهو الأولى والمراد السيلان ولو بالقوة حتى لو مسحه كلما خرج أو وضع عليه قطنة أو القى عليه رمادا أو ترابا ثم ظهر ثانيا فتربه ثم وثم فانه يجمع فإن كان بحيث لو تركه سال بغلبة الظن نقض قالوا وإنما يجمع إذا كان في مجلس واحد مرة بعد أخرى فلو في مجالس فلا كما في التتارخانية والبحر (إلى ما) أي موضع من البدن (ويجب تطهيره في الغسل) من الجنابة وعم التطهير المسح كما لو لم يمكنه غسل رأسه لعذر وامكنه مسحه فخرج منه دم وسال إليه والمراد سيلانه إليه ولو حكما فيشمل ما لو اقتصد ولم يتلطخ رأس الجرح فإنه ناقض مع أنه سال إلى الأرض دون البدن وكذا لو مص العلق أو القراد الكبير الدم وخرج ما لو سال

বিধান (যেমন প্রস্রাব ও মল: যা কিছু ইহলীল থেকে বের হয়)। ইহলীল (ই-কার যোগে) অর্থ মানুষের পুরুষাঙ্গের প্রস্রাব নির্গমনের পথ এবং স্তন থেকে দুধ বের হওয়ার পথ (কামূস গ্রন্থ মতে)। এখানে প্রথম অর্থটিই উদ্দেশ্য। (এবং মলদ্বার) দাল বর্ণে পেশ যোগে (এবং যোনিদ্বার; এমনভাবে যা এই নির্গমন পথসমূহের কোনো একটির কিনারা পর্যন্ত পৌঁছায়), (তা দ্বারা ওযু ভেঙে যাবে), চাই তা রক্ত, প্রস্রাব বা মল হোক (নিঃশর্তভাবে), অর্থাৎ তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি হোক। (এবং এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়) অর্থাৎ যা প্রকাশিত হয়েছে তার মাধ্যমে (নিফাস ও হায়েয, যদি তা বিশুদ্ধ রক্ত হয়)। অর্থাৎ নিফাসের ক্ষেত্রে সন্তান বা সন্তানের অধিকাংশ ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর হওয়া এবং হায়েযের ক্ষেত্রে তিন দিনের কম না হওয়া (নয় বছর বা তার বেশি বয়সী মেয়ের ক্ষেত্রে)। আর এর মাধ্যমে তার বালেগ হওয়াও প্রমাণিত হয়। মুহীতুল বুরহানী গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, আমাদের সময়ের অধিকাংশ মাশায়েখ একথার ওপরই রয়েছেন (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সিরাজ গ্রন্থে এর ওপরই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে এবং এটিই পছন্দনীয় মত। ফাতহুল কাদীর গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, কেউ কেউ ছয় বছর, কেউ সাত বছর আবার কেউ বারো বছরও বলেছেন। (যদি অনুভূত হয়) কর্মবাচ্যের শব্দে, তিনি 'সে অনুভব করল' বলেননি যাতে পুরুষ ও নারী উভয়েরই হাদাস (অশুচিতা) এর অন্তর্ভুক্ত হয়, (রক্ত ইত্যাদি নামার শুরুতে) অর্থাৎ রক্ত বা প্রস্রাবের মতো কিছুর নির্গমন শুরু হওয়ার সময় (কিন্তু তা প্রকাশ পায়নি) নির্গমন পথের কিনারা পর্যন্ত। (অথবা তা বাধাগ্রস্ত হয়) এটিও কর্মবাচ্যের শব্দ যা 'প্রকাশ পায়নি' এর ওপর আতফ করা হয়েছে, (প্রকাশ পাওয়া থেকে) অর্থাৎ কাপড়ের মতো কিছু দিয়ে নির্গমন পথের বাইরে (শক্ত করে বাঁধার কারণে) অথবা তুলা জাতীয় কিছু দিয়ে ভেতরে (ঠাসা বা গদি দেওয়ার কারণে), (তবে এর কোনো বিধান নেই)। অর্থাৎ এর দ্বারা ওযু ভাঙবে না এবং হায়েযও সাব্যস্ত হবে না। কেউ কেউ বলেছেন যে, কেবল অনুভূতির মাধ্যমেই তা সাব্যস্ত হয়ে যাবে যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। (আর যদি প্রথমে প্রকাশ পাওয়ার পর বাধাগ্রস্ত হয়, তবে হায়েয ও নিফাস বহাল থাকবে), অর্থাৎ প্রথমে প্রকাশ পাওয়ার কারণে এদের যে বিধান সাব্যস্ত হয়েছিল, এই বাধার কারণে তা বিলুপ্ত হবে না। যেমন যদি বীর্যের কিছু অংশ বের হয় এবং বাকি অংশ বের হতে বাধা দেওয়া হয়, তবে এতে জানাবাত (গোসলের আবশ্যকতা) শেষ হয়ে যায় না। (তবে ইস্তিহাযার বিষয়টি এমন নয়), কারণ ইস্তিহাযার রক্ত বন্ধ করা সম্ভব হলে তার বিধানও শেষ হয়ে যায়। (আর পক্ষান্তরে) লিঙ্গ ও মলদ্বার (ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো স্থান থেকে) নির্গত হওয়ার বিধানের (আলোচনায় কেবল প্রকাশ পাওয়া বা উপরিভাগে আসার কোনো হুকুম নেই), (বরং শর্ত হলো তা বের হওয়া), যদিও তা নিংড়ানোর মতো কোনো উপায়ে বের করা হয়। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটাই সঠিক, 'ইনায়াহ' ও 'বাহর' গ্রন্থে যা বলা হয়েছে যে বের করা ধর্তব্য নয়—তার বিপরীত; যেমনটি আমরা 'রদ্দুল মুহতার' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি। (এবং) শর্ত হলো (রক্ত ইত্যাদি গড়িয়ে পড়া)। এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। মুহীত গ্রন্থে ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত আছে যে, তা ওপরে উঠবে এবং নিচের দিকে নেমে আসবে। ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত আছে যে, যদি তা জখমের মুখে ফুলে ওঠে এবং মুখের চেয়ে পরিমাণে বেশি হয়ে যায়, তবে ওযু ভেঙে যাবে; কিন্তু সঠিক মত হলো এতে ওযু ভাঙবে না (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। দিরায়া গ্রন্থে দ্বিতীয় মতটিকে সঠিক বলা হয়েছে, কিন্তু খানিয়া ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রথম মতটিকে সঠিক বলা হয়েছে। ফাতহুল কাদীর গ্রন্থে রয়েছে যে, এটিই ইমাম সারাখসীর পছন্দনীয় মত এবং এটিই উত্তম। আর গড়িয়ে পড়া বলতে সম্ভাব্য গড়িয়ে পড়াও উদ্দেশ্য। এমনকি প্রতিবার বের হওয়ার সময় যদি সে তা মুছে ফেলে, অথবা তার ওপর তুলা রাখে, কিংবা তার ওপর ছাই বা মাটি ফেলে এবং তা পুনরায় প্রকাশ পায় এবং সে পুনরায় তা ঢেকে দেয়—এভাবে বারবার করতে থাকে, তবে সেসব রক্তকে একত্রিত ধরা হবে। যদি অবস্থা এমন হয় যে, তা ছেড়ে দিলে প্রবল ধারণা অনুযায়ী গড়িয়ে পড়ত, তবে ওযু ভেঙে যাবে। ফকীহগণ বলেছেন, রক্ত তখনই একত্রিত ধরা হবে যখন তা একই মজলিসে বারবার বের হয়। কিন্তু যদি তা ভিন্ন ভিন্ন মজলিসে হয়, তবে তা একত্রিত করা হবে না; যেমনটি তাতারখানিয়া ও বাহরুল রায়েক গ্রন্থে রয়েছে। (শরীরের এমন জায়গায়) গড়িয়ে পড়া (যা জানাবাত থেকে গোসলের সময় পবিত্র করা ওয়াজিব)। এখানে পবিত্রকরণের মধ্যে মাসেহ করাও অন্তর্ভুক্ত। যেমন কোনো ওজরের কারণে কারো মাথা ধোয়া সম্ভব নয় কিন্তু মাসেহ করা সম্ভব, এমতাবস্থায় সেখান থেকে রক্ত বের হয়ে মাসেহ করার স্থানে গড়িয়ে পড়ল। আর গড়িয়ে পড়া বলতে হুকুমের দিক থেকে গড়িয়ে পড়াও উদ্দেশ্য। সুতরাং এটি সেই অবস্থাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে যখন কেউ শিঙা লাগাল এবং জখমের মুখ রক্তে মাখামাখি হলো না, তবে এটি ওযু ভঙ্গকারী হবে যদিও তা শরীরের পরিবর্তে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে। একইভাবে জোঁক বা বড় কোনো পোকা যদি রক্ত চুষে নেয় এবং তা গড়িয়ে পড়ে...

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮২)
في داخل العين أو باطن الجرح فإنه موضع لا يجب تطهيره لانه مضر وزاد في الفتح بعد قوله يجب أو يندب وايده في البحر بقولهم إذا نزل الدم إلى قصبة الانف نقض أي لأن المبالغة في الاستنشاق إلى ما اشتد من الانف مسنونة وتمام تحقيق ذلك في حواشينا رد المحتار (في نقض الوضوء) متعلق بمعنى النفي في قوله فلا حكم وقوله بل لابد أو بالظهور والخروج لكن يحتاج إلى تكلف تأمل (فلو منع الجرح السائل من السيلان انتفى العذر) بلا خلاف وذلك واجب بالقدر الممكن ولو بصلاته موميا قائما او قاعدا كما سيأتي تفصيله آخر الرسالة إن شاء الله تعالى (كالاستحاضة) في أصح القولين وقيل انها كالحيض (وفى النفاس لابد) في ثبوت حكمه (ومع ذلك) أي مع خروج الدم من الفرج الداخل (من خروج أكثر الولد) هذا أصح الاقاويل وفي الخلاصة ان خرج الاقل لا تكون نفساء فإن لم تصل تكون عاصية فيؤتى بقدر أو بحفرة صغيرة وتجلس هناك كيلا تؤذى الولد وعند محمد لابد من خروج كله (فإن ولدت ولم ترد ما فعليها الغسل) هذا قول أبي حنيفة وقول أبي يوسف او لا ثم رجع أبو يوسف وقال هي طاهرة لا غسل عليها وأكثر المشايخ اخذوا بقول أبي حنيفة وبه يفتى الصدر الشهيد كذا في المحيط وصححه في الظهيرية والسراج فكان هو المذهب بحر (ولان الولد لا ينفك عن بلة) بالكسر والتشديد أي رطوبة (دم) كذا علل في الفتح وعلل الزيلعي بان نفس خروج الولد نفاس أي ولو لم يوجد معه بلة أصلا وهو صريح في انها تصير نفساء وبه صرح في النهاية أيضًا وبه اندفع ما في النهر من ان وجوب الغسل عليها للاحتياط كما صرحوا به فلا يلزم منه كونها نفساء وتمامه فيما علقته على البحر (ولو خرج الولد من غير الفرج) كجرح ببطنها (ان خرج الدم من الفرج فنفاس والا فلا) لكن تنقضى به العدة وتصير الأمة أم ولد ولو علق طلاقها بولادتها وقع لوجود الشرط بحر (والسقط) بالحركات الثلاث الولد يسقط من بطن امه ميتا وهو مستبين الخلق والا فليس بسقط كذا في المغرب فقوله (أن استبان بعض خلقه) لبيان أنه لا يشترط استبانة الكل بل يكفى البعض (كالشعر والظفر) واليد والرجل والاصبع (فولد) أي فهو ولد تصير به نفساء وتثبت لها بقية الأحكام من انقضاء العدة ونحوها مما علمته آنفا وزاد في البحر عن النهاية ولا يكون ما رأته قبل اسقاطه حيضا أي لانها حينئذ حامل والحامل لا تحيض كما مر (والا) يستبن شيء من خلقه (فلا) يكون ولدا ولا تثبت به هذه الأحكام (ولكن ما رأته من الدم) بعد اسقاطه (حيض ان بلغ نصابا) ثلاثة ايام فأكثر (وتقدمه طهر تام) ليكون فاصلا بين هذا الحيض وحيض قبله (والا) كم يوجد واحد من هذين

চোখের ভেতর বা ক্ষতের অভ্যন্তরীণ অংশ এমন একটি স্থান যা পবিত্র করা আবশ্যক নয়, কারণ তা ক্ষতিকর। 'ফাতহুল কাদির'-এ তার 'আবশ্যক বা মুস্তাহাব' উক্তির পর আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং 'আল-বাহর' গ্রন্থে তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে একে সমর্থন করা হয়েছে যে, রক্ত যখন নাকের বাঁশি পর্যন্ত নেমে আসে তখন তা অজু ভঙ্গকারী হয়। অর্থাৎ নাকের শক্ত অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো (ইস্তিনশাক) যেহেতু সুন্নাত, তাই সেখানে রক্তের অবতরণ অজু ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট। এ বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ আমাদের 'রাদ্দুল মুহতার' (অজু ভঙ্গের অধ্যায়ে) হাশিয়াতে রয়েছে। এটি তার 'কোনো বিধান নেই' উক্তির মধ্যকার না-বোধক অর্থের সাথে এবং তার উক্তি 'বরং এটি আবশ্যক' অথবা প্রকাশ পাওয়া ও বের হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট; তবে এটি বুঝতে কিছুটা গভীর চিন্তার প্রয়োজন। (যদি ক্ষত থেকে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় তবে ওজর বাতিল হয়ে যাবে) এতে কোনো মতভেদ নেই। আর তা সম্ভবপর মাত্রা অনুযায়ী পালন করা ওয়াজিব, এমনকি দাঁড়িয়ে বা বসে ইশারায় সালাত আদায়ের মাধ্যমে হলেও, যেমনটি এই রিসালার শেষে ইনশাআল্লাহ বিস্তারিত আসবে। (ইস্তিহাযার মতো) এটি দুটি বিশুদ্ধ মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ। কেউ কেউ বলেছেন এটি হায়যের মতো। (নিফাসের ক্ষেত্রে আবশ্যক) এর বিধান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য (এবং তা সত্ত্বেও) অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ গুহ্যদ্বার থেকে রক্ত বের হওয়ার পাশাপাশি (সন্তানের অধিকাংশ অংশ বের হওয়া)। এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত। 'আল-خুলাসাহ' গ্রন্থে রয়েছে যে, যদি অর্ধেকের কম অংশ বের হয় তবে সে নিফাসগ্রস্তা হবে না। যদি সে সালাত আদায় না করে তবে গুনাহগার হবে। এমতাবস্থায় একটি পাত্র বা ছোট গর্তের ব্যবস্থা করা হবে এবং সে সেখানে বসবে যাতে সন্তানের কোনো ক্ষতি না হয়। ইমাম মুহাম্মদের মতে পুরো সন্তান বের হওয়া আবশ্যক। (যদি সে সন্তান প্রসব করে এবং কোনো রক্ত না দেখে তবে তার ওপর গোসল ফরজ) এটি ইমাম আবু হানিফার মত। ইমাম আবু ইউসুফের প্রথম মত ছিল যে না, এরপর তিনি ফিরে এসেছেন এবং (ইমাম আবু হানিফার মতে) বলেছেন; এরপর পুনরায় তিনি ফিরে গিয়ে বলেছেন যে সে পবিত্র, তার ওপর কোনো গোসল নেই। অধিকাংশ মাশায়েখ ইমাম আবু হানিফার মত গ্রহণ করেছেন এবং 'সদরুশ শহীদ' এর ওপর ফতোয়া দিয়েছেন। 'আল-মুহিত' গ্রন্থে এমনই রয়েছে এবং 'আয-যহিরিয়্যাহ' ও 'আস-সিরাজ' গ্রন্থে একে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে, ফলে এটিই মাযহাব হিসেবে গণ্য—বাহর। (কেননা সন্তান সিক্ততা থেকে মুক্ত থাকে না) অর্থাৎ রক্তের আর্দ্রতা। 'ফাতহুল কাদির'-এ এভাবেই কারণ দর্শানো হয়েছে। আয-যাইলায়ী কারণ দর্শিয়েছেন যে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়াই নিফাস; অর্থাৎ যদিও সেখানে কোনো আর্দ্রতা মোটেও না থাকে। এটি এ বিষয়ে স্পষ্ট যে সে নিফাসগ্রস্তা হবে। 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থেও এটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে 'আন-নাহর'-এর সেই বক্তব্য খণ্ডন হয়ে যায় যাতে বলা হয়েছিল যে, তার ওপর গোসলের আবশ্যকতা কেবল সতর্কতামূলক। যেমনটি ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, তাই তার নিফাসগ্রস্তা হওয়া আবশ্যক নয়। এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আমি 'আল-বাহর'-এর টীকায় লিখেছি। (যদি সন্তান গুহ্যদ্বার ব্যতিরেকে অন্য স্থান দিয়ে বের হয়) যেমন তার পেটের কোনো ক্ষত দিয়ে, (যদি গুহ্যদ্বার দিয়ে রক্ত বের হয় তবে তা নিফাস, অন্যথায় নয়)। তবে এর মাধ্যমে ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাবে এবং দাসী 'উম্মে ওয়ালাদ' হয়ে যাবে। যদি তার তালাককে সন্তান প্রসবের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়, তবে শর্ত পূর্ণ হওয়ায় তালাক পতিত হবে—বাহর। (সাকাত) সীন বর্ণে তিন হরকতের সাথেই পড়া যায়—অর্থাৎ যে সন্তান মায়ের পেট থেকে মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয় এবং যার শারীরিক গঠন প্রকাশ পেয়েছে। অন্যথায় তা 'সাকাত' নয়, 'আল-মাগরিব' গ্রন্থে এমনই আছে। সুতরাং লেখকের কথা: (যদি তার শরীরের কিছু অংশ প্রকাশিত হয়) এটি বুঝানোর জন্য যে পূর্ণ অঙ্গ প্রকাশ পাওয়া শর্ত নয় বরং কিছু অংশই যথেষ্ট (যেমন চুল, নখ, হাত, পা এবং আঙুল), (তবে তা সন্তান)। অর্থাৎ সে এমন সন্তান যার মাধ্যমে নারী নিফাসগ্রস্তা হয় এবং তার জন্য ইদ্দত পূর্ণ হওয়া বা অনুরূপ অন্যান্য বিধানাবলি সাব্যস্ত হয় যা আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন। 'আল-বাহর'-এ 'আন-নিহায়াহ' থেকে আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে যে, গর্ভপাতের পূর্বে সে যা রক্ত দেখেছে তা হায়য নয়। অর্থাৎ কারণ সে তখন গর্ভবতী ছিল আর গর্ভবতী নারীর হায়য হয় না যেমনটি গত হয়েছে। (অন্যথায়) যদি তার শারীরিক গঠনের কিছুই প্রকাশ না পায়, (তবে) সে সন্তান হিসেবে গণ্য হবে না এবং এসব বিধান সাব্যস্ত হবে না। (কিন্তু সে যে রক্ত দেখবে) গর্ভপাতের পর (তা হায়য যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়) অর্থাৎ তিন দিন বা তার বেশি (এবং এর আগে পূর্ণ পবিত্রতা অতিবাহিত হয়) যাতে এই হায়য ও পূর্ববর্তী হায়যের মধ্যে পার্থক্যকারী হয়। (অন্যথায়) যদি এই দুটির কোনো একটিও পাওয়া না যায়...

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮৩)
الشرطين أو فقد أحدهما فقط (فاستحاضة) ولو لم تعلم أنه مستبين أم لا بان اسقطته في المخرج مثلا واستمر بها الدم فسيأتى حكمه إن شاء الله تعالى في آخر الفصل الخامس (وإن ولدت ولدين أو أكثر في بطن واحد بان كان بين كل ولدين اقل من ستة اشهر) ولو بين الأول والثالث أكثر منها في الاصح بحر (فالنفاس من الأول فقط) هذا قول أبي حنيفة وأبي يوسف وهو الصحيح وعند محمد من الثاني كذا في التتارخانية والظاهر أن المراد بالثانى الأخير ليشمل الثلاثة ثم لا خلاف أن انقضاء العدة من الأخير كما في التنوير لتعلقه بفراغ الرحم ولا يكون الا بخروج كل ما فيه ولم يبين حكم ما تراه بعد الأول وكتب في الهامش قالوا والباقي استحاضة وهذا على الإطلاق في المتوسط لأن الحامل لا تحيض واما في الأخير فيتعين أن يقيد بما اذا لم يمكن جعله حيضا بان لم يمض بعد انقطاع النفاس خمسة عشر يوما او لم تمض عادته الأولى أو عشرون في المبتدأة أو كان اقل من ثلاثة ايام والا فينبغى أن يكون حيضا انتهى. قلت والمتوسط أيضًا ليس على إطلاقه بل هو مقيد ما إذا كان بعد تمام الاربعين من الأول لما في البحر عن النهاية أن ما تراه عقب الثاني أن كان قبل الاربعين فهو نفاس الأول لتمامها واستحاضة بعد تمامها عندهما انتهى وينبغى في المعتادة إذا جاوز الاربعين ان ترد إلى عادتها فيكون ما زاد عليها استحاضة لا ما بعد تمام الاربعين فقط (واما انتهاء الحيض) معطوف على قوله اما الأول (فببلوغها سن الإياس) أي انتهاء مدته التي يوجد فيها ولا يتعداها غالبا وليس المراد انتهاء نفس الحيض لانه يكون بانقطاعه حقيقة فيما بين الثلاث والعشرة أو حكما إذا جاوز العشرة وكان مقتضى المقابلة حيث فسر الابتداء بظهور الدم ان يفسر الانتهاء بالانقطاع المذكور اما تفسيره بما ذكره فإنما يناسب تفسير الابتداء ببلوغها تسع سنين فأكثر وقد يقال أنه مراده من تفسير الابتداء ويحتاج إلى تكلف فتأمل ثم اليأس انقطاع الرجاء والإياس أصله ايأ آس حذفت منه الهمزة التى هى عين الكلمة تخفيفا مغرب (وهو) أي سن الإياس (في الحيض) احتراز عن الاستحاضة فإنه لا تقدير له (خمس وخمسون سنة) قال في المحيط البرهانى وكثير من المشايخ افتوا به وهو اعدل الأقوال وذكر في الفيض وغيره أنه المختار وفى الدر عن الضياء وعليه الاعتماد فإذا بلغته وانقطع دمها حكم باياسها والا فلا وعليه فالمرضع التي لا ترى الدم في مدة ارضاعها لا تنقضى عدتها إلا بالحيض كما في الدر من باب العدة وفى السراج سئل بعض المشايخ عن المرضعة إذا لم ترحيضا فعالجته حتى رأت صفرة في ايام الحيض قال هو حيض تنقضى به العدة (فإن رأت بعده) أي بعد هذا السن (دما خالصا)

দুই শর্ত পূরণ হলে বা তার মধ্যে মাত্র একটি না থাকলে (তা হবে ইস্তিহাযা), যদিও সে না জানে যে ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয়েছে কি না; যেমন ধরা যাক সে তা নির্গম পথে ফেলে দিল এবং রক্তপাত অব্যাহত থাকল। ইনশাআল্লাহ তাআলা এর বিধান পঞ্চম পরিচ্ছেদের শেষে আসবে। (আর যদি সে এক গর্ভে দুই বা ততোধিক সন্তান প্রসব করে, এভাবে যে প্রত্যেক দুই সন্তানের জন্মের মধ্যবর্তী ব্যবধান ছয় মাসের কম হয়), যদিও প্রথম এবং তৃতীয় সন্তানের ব্যবধান ছয় মাসের বেশি হয়—সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, যেমনটি 'বাহর' গ্রন্থে রয়েছে—(তবে নিফাস কেবল প্রথম সন্তান থেকেই গণ্য হবে)। এটি ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আবু ইউসুফের অভিমত এবং এটিই সঠিক। ইমাম মুহাম্মদের মতে দ্বিতীয় সন্তান থেকে (নিফাস শুরু হবে), তাতারখানিয়া গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। আর বাহ্যত দ্বিতীয় দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শেষ সন্তান, যাতে তিন সন্তানের বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত হয়। অতঃপর এতে কোনো মতভেদ নেই যে, ইদ্দত শেষ হবে শেষ সন্তান প্রসবের মাধ্যমে, যেমনটি 'তানভীর' গ্রন্থে রয়েছে; কারণ এটি জরায়ু খালি হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, আর জরায়ু খালি হওয়া তাতে থাকা সবকিছু বের না হওয়া পর্যন্ত সম্ভব নয়। আর প্রথম সন্তানের পরে যা (রক্ত) দেখে তার বিধান এখানে বর্ণনা করা হয়নি। পার্শ্বটীকায় লেখা হয়েছে: ফকিহগণ বলেছেন, অবশিষ্টাংশ হলো ইস্তিহাযা। মধ্যবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এটি নিঃশর্তভাবে প্রযোজ্য, কারণ গর্ভবতী নারী ঋতুবতী হয় না। আর শেষ সন্তানের ক্ষেত্রে এটি সেই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক যখন তাকে হায়েজ হিসেবে গণ্য করা সম্ভব না হয়। যেমন নিফাস বন্ধ হওয়ার পর পনেরো দিন অতিবাহিত না হওয়া, অথবা তার পূর্বের ঋতুচক্রের অভ্যাস অনুযায়ী দিনগুলো পার না হওয়া, অথবা প্রথমবারের মতো রক্ত দেখছে এমন নারীর ক্ষেত্রে বিশ দিন পার না হওয়া, অথবা যদি তা তিন দিনের কম হয়। অন্যথায় তাকে হায়েজ গণ্য করা উচিত। (সমাপ্ত)

আমি বলি, মধ্যবর্তী বিষয়টিও নিঃশর্ত নয় বরং তা প্রথম সন্তানের পর চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার শর্তের সাথে যুক্ত। কারণ 'বাহর' গ্রন্থে 'নিহায়া' থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে, দ্বিতীয় সন্তানের পরে যা (রক্ত) দেখবে তা যদি প্রথম সন্তানের চল্লিশ দিনের মধ্যে হয় তবে তা প্রথম সন্তানের নিফাস পূর্ণ করার জন্য গণ্য হবে, আর আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের মতে চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার পর তা হবে ইস্তিহাযা। (সমাপ্ত) অভ্যস্ত মহিলার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো যদি রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম করে তবে তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নিতে হবে। ফলে অভ্যাসের অতিরিক্তটুকু হবে ইস্তিহাযা, কেবল চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার পরের টুকু নয়।

(আর হায়েজের সমাপ্তি) এটি লেখক-এর পূর্বোক্ত কথা 'আর প্রথমত' এর ওপর সংযোজিত। (তা হবে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার বয়সে পৌঁছানোর মাধ্যমে) অর্থাৎ সেই সময়ের সমাপ্তি যাতে সাধারণত হায়েয দেখা যায় এবং যা সাধারণত অতিক্রম করে না। এখানে খোদ হায়েজের রক্ত বন্ধ হওয়া উদ্দেশ্য নয়, কারণ তা তিন থেকে দশ দিনের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে রক্ত বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে হয়, অথবা যদি দশ দিন অতিক্রম করে তবে আইনগতভাবে বন্ধ হয়। বৈপরীত্যের দাবি ছিল যেহেতু শুরুর ব্যাখ্যা রক্ত প্রকাশের মাধ্যমে করা হয়েছে, তাই শেষের ব্যাখ্যাও উল্লিখিত রক্ত বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে করা। তবে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা কেবল তখনই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যখন শুরুর ব্যাখ্যা নয় বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সে পৌঁছানোর মাধ্যমে করা হয়। হতে পারে শুরুর ব্যাখ্যা দ্বারা এটাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তবে এতে কিছুটা কষ্টকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে; সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখো। অতঃপর 'ইয়াস' অর্থ আশা বিচ্ছিন্ন হওয়া। আর 'ঈয়াস' এর মূল রূপ ছিল 'আইয়া-আস', যা থেকে উচ্চারণের সহজতার জন্য 'আইন' বর্ণ হিসেবে থাকা হামজাহটি বিলুপ্ত করা হয়েছে—'মগরিব' (অভিধান)।

(আর তা) অর্থাৎ হায়েজের শেষ বয়স (হায়েজের ক্ষেত্রে) যা ইস্তিহাযা থেকে রক্ষার জন্য বলা হয়েছে, কারণ ইস্তিহাযার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই—(তা হলো পঞ্চান্ন বছর)। 'মুহিতুল বুরহানি' গ্রন্থে বলা হয়েছে, অনেক মাশায়েখ এর ওপর ফতোয়া দিয়েছেন এবং এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মত। 'ফয়জ' এবং অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটিই মনোনীত মত। 'দুরর' গ্রন্থে 'জিয়া' থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে এর ওপরই নির্ভরতা। সুতরাং যখন সে এই বয়সে পৌঁছাবে এবং তার রক্ত বন্ধ হবে, তখন তার ঋতু বন্ধ হওয়ার হুকুম দেওয়া হবে, অন্যথায় নয়। এর ওপর ভিত্তি করে, যে দুগ্ধদানকারী নারী তার দুগ্ধদানের সময়ে রক্ত দেখে না, হায়েয আসা ছাড়া তার ইদ্দত শেষ হবে না, যেমনটি 'দুরর' গ্রন্থের ইদ্দত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। 'সিরাজ' গ্রন্থে আছে যে, জনৈক মাশায়েখকে এমন দুগ্ধদানকারী নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে হায়েয দেখে না, পরে সে চিকিৎসা গ্রহণ করে এবং হায়েজের দিনগুলোতে হলদেটে রক্ত দেখে। তিনি বলেন, এটি হায়েয এবং এর দ্বারা ইদ্দত পূর্ণ হবে। (অতঃপর যদি সে এরপর দেখে) অর্থাৎ এই বয়সের পর (খাঁটি রক্ত দেখে)।
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮৪)
كالاسود والاجر القاني (نصابا فحيض) قال صدر الشريعة هو المختار وفي المحيط قال بعضهم لا يكون حيضا وجعله صدر الشريعة ظاهر الرواية وقال بعضهم أن حكم بالاياس فليس بحيض والا فحيض وفى الحجة وهو الصحيح (والا) يكن كذلك بان رأت صفرة أو كدرة أو تربية صدر الشريعة والكدرة ما هو كالماء الكدر والتربية نوع منها كلون التراب بتشديد الياء وتخفيفها بغير همز نسبة إلى الترب بمعنى التراب والصفرة كصفرة القز والتبن أو السن على الاختلاف (فاستحاضة) وفى البحر عن الفتح ثم إنما ينتقض الحكم بالاياس بالدم الخالص فيما يستقبل لا فيما مضى حتى لا تفسد إلا نكحة المباشرة قبل المعاودة انتهى فلو اعتدت بالاشهر فرأته قبل تمام الاشهر استأنفت لا بعدها كما اختاره الشهيد وصدر الشريعة ومنلا خسرو والباقاني وتعتد في المستقبل بالحيض كما صححه في الخلاصة وغيرها وفى الجوهرة والمجتبى انها الصحيح المختار وعليه الفتوى وفى تصحيح القدورى أن هذا التصحيح أولى من تصحيح الهداية فساد النكاح وبطلان العدة وفى النهر أنه اعدل الروايات كذا في باب العدة من الدر ملخصا ولما قيد المص هنا الدم بكونه خالصا وهو الأسود والاجر القاني كما ذكرنا صار مظنة أن يتوهم ان دم الحيض يشترط فيه ذلك في الآيسة وغيرها دفع ذلك بقوله (وفي غير الآيسة ما عدا البياض الخالص) قيل هو شيء يشبه الخيط الأبيض در (من الالوان) كالخضرة وغيرها من الخمسة السابقة (في حكم الدم) في مدة الحيض والنفاس وانكر أبو يوسف الكدرة في أول الحيض دون آخره ومنهم من انكر الخضرة والصحيح أنها حيض من غير الآيسة وفى المعراج عن فخر الأئمة لو افتى بشيء من هذه الأقوال في مواضع الضرورة طلبا للتيسير كان حسنا بحر (والمعتبر في اللون) من جرة أو غيرها (حين يرتفع الحشو) إلى الكرسف (وهو طرى ولا يعتبر التغير) إلى لون آخر (بعد ذلك) كما لو رأت بياضا فاصفر بعد اليبس أو بالعكس اعتبر ما كان قبل الغير (واما الكرسف) بضم الكاف والسين المهملة بينهما راء ساكنة القطن وفي اصطلاح الفقهاء ما يوضع على فم الفرج (فسنة) أي استحب وضعه كما في الفتح وشرح الوقاية (للبكر) أي من لم تزل عذرتها (عند الحيض فقط) أي دون حالة الطهر (والثيب) من زالت بكارتها (مطلقا) لانها لا تأمن عن خروج شيء منها فتحتاط في ذلك خصوصا في حالة الصلاة بخلاف البكر كما في المحيط ونقل في البحر ما ذكره المص عن شرح الوقاية ثم قال وفي غيره أنه سنة للثيب حالة الحيض مستحب حالة الطهر ولو صلتا بغير كرسف جاز انتهى (وسن تطيبه بمسك ونحوه) لقطع رائحة الدم (ويكره موضعه) أي وضع جميعه (في الفرج الداخل) لانه يشبه

যেমন কালো ও গাঢ় লাল রং (নিসাব পরিমাণ হলে তা হায়েজ)। সদরুশ শরীয়াহ বলেন, এটিই পছন্দনীয় মত। এবং 'মুহিত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, কেউ কেউ বলেছেন এটি হায়েজ হবে না, তবে সদরুশ শরীয়াহ একে 'জাহিরুর রিওয়ায়াত' হিসেবে গণ্য করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, যদি বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার (আইয়াস) ফয়সালা হয়ে থাকে তবে তা হায়েজ নয়, অন্যথায় হায়েজ। আর 'হুজ্জাহ' গ্রন্থে রয়েছে যে, এটিই বিশুদ্ধ মত। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি এমন না হয়, যেমন সে হলুদ, ঘোলাটে বা মাটির ন্যায় রং দেখে। সদরুশ শরীয়াহ বলেন: ঘোলাটে হলো যা ঘোলা পানির মতো, আর মাটি-রঙা হলো এক প্রকার ঘোলা রং যা মাটির রঙের মতো—শব্দটি 'তুবরা' (মাটি) শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যাতে 'ইয়া' বর্ণে তাশদিদ দিয়ে বা তাশদিদ ছাড়া হামযাহহীনভাবে পঠিত হয়। আর হলুদ রং হলো রেশমের গুটি, খড় বা দাঁতের হলুদাভ রঙের মতো—এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। (এমতাবস্থায় তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে)। 'আল-বাহর' গ্রন্থে 'আল-ফাতহ' থেকে বর্ণিত হয়েছে: এরপর বার্ধক্যের (আইয়াস) হুকুম কেবল ভবিষ্যতে নির্গত খাঁটি রক্তের মাধ্যমেই রহিত হবে, অতীতের ক্ষেত্রে নয়। এমনকি পুনরায় রক্ত দেখা দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কৃত মিলনজনিত নিকাহও ফাসিদ হবে না। ইতি। সুতরাং যদি সে মাসের হিসাবে ইদ্দত পালন করে এবং মাস পূর্ণ হওয়ার পূর্বে রক্ত দেখে, তবে তাকে নতুন করে ইদ্দত শুরু করতে হবে। তবে মাস পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত দেখলে পুনরায় শুরু করতে হবে না; যেমনটি শহীদ, সদরুশ শরীয়াহ, মোল্লা খসরু এবং বাকানি পছন্দ করেছেন। এবং ভবিষ্যতে সে হায়েজের মাধ্যমেই ইদ্দত পালন করবে, যেমনটি 'খুলাসা' ও অন্যান্য গ্রন্থে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে। 'আল-জাওহারা' ও 'আল-মুজতাবা' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এটিই বিশুদ্ধ ও পছন্দনীয় মত এবং এর ওপরই ফতোয়া। 'তাসহিহুল কুদুরি' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এই বিশুদ্ধায়নটি 'হিদায়া'র সেই বিশুদ্ধায়নের চেয়ে উত্তম যাতে নিকাহ ফাসিদ হওয়া এবং ইদ্দত বাতিল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। 'আন-নাহর' গ্রন্থে রয়েছে যে, এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বর্ণনা। 'আদ-দুর' গ্রন্থের ইদ্দত অধ্যায়েও এভাবেই সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু লেখক এখানে রক্তকে খাঁটি হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন—আর তা হলো কালো ও গাঢ় লাল রং যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—তাই এমন ধারণা হওয়ার অবকাশ তৈরি হয়েছে যে, মেনোপজপ্রাপ্ত নারী এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও হায়েজের রক্তে এটিই শর্ত। লেখক এটি খণ্ডন করতে গিয়ে বলেছেন: (আর মেনোপজপ্রাপ্ত নারী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে খাঁটি সাদা রং ব্যতিরেকে বাকি সব রংই) বলা হয়েছে এটি সাদা সুতার মতো কিছু—'আদ-দুর' (রঙের মধ্য হতে) যেমন সবুজ ও পূর্বোল্লিখিত পাঁচটি রঙের অন্যান্যগুলো (রক্তের হুকুমভুক্ত) হায়েজ ও নেফাসের সময়কালে। ইমাম আবু ইউসুফ হায়েজের শুরুতে ঘোলাটে হওয়াকে অস্বীকার করেছেন, তবে শেষে নয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ সবুজ রংকেও অস্বীকার করেছেন। তবে সঠিক মত হলো, মেনোপজপ্রাপ্ত নারী ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এগুলোও হায়েজ। 'আল-মি'রাজ' গ্রন্থে ফখরুল আইম্মাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি সহজ করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এই মতগুলোর কোনোটির ওপর ফতোয়া দেওয়া হয়, তবে তা উত্তম হবে—'আল-বাহর'। (আর রঙের ক্ষেত্রে ধর্তব্য হবে) লাল মাটির রঙের বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে (যখন গদি বা প্যাডটি তুলা থেকে তুলে ফেলা হবে) (এবং তা তাজা থাকা অবস্থায়; আর এরপর) অন্য রঙে (পরিবর্তিত হওয়া ধর্তব্য নয়)। যেমন যদি সে সাদা রং দেখে এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর তা হলুদ হয়ে যায় অথবা এর বিপরীত হয়, তবে পরিবর্তনের আগের অবস্থাই ধর্তব্য হবে। (আর কুরসুফ সম্পর্কে বলা যায়—) কাফ এবং সিন বর্ণে পেশ এবং মাঝখানে রা বর্ণে সুকুন যোগে তুলা। ফকীহগণের পরিভাষায় এটি হলো যা লজ্জাস্থানের মুখে রাখা হয়। (এটি সুন্নাত), অর্থাৎ এটি রাখা মুস্তাহাব যেমনটি 'আল-ফাতহ' এবং 'শারহুল বিকায়া' গ্রন্থে রয়েছে (কুমারী নারীর জন্য), যার সতীত্ব অক্ষুণ্ণ রয়েছে, (কেবল হায়েজের সময়); অর্থাৎ পবিত্রতার সময় নয়। (আর সধবা নারীর জন্য) যার কুমারীত্ব অপসারিত হয়েছে, (সর্বাবস্থায়)। কারণ সে কোনো কিছু নির্গত হওয়া থেকে নিরাপদ নয়, তাই এক্ষেত্রে তাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বিশেষ করে নামাজের অবস্থায়, যা কুমারী নারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন। এটি 'আল-মুহিত' গ্রন্থে রয়েছে। 'আল-বাহর' গ্রন্থে লেখক 'শারহুল বিকায়া' থেকে যা উল্লেখ করেছেন তা উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: অন্য গ্রন্থে আছে যে, এটি সধবা নারীর জন্য হায়েজের সময় সুন্নাত এবং পবিত্রতার সময় মুস্তাহাব। আর যদি তারা কুরসুফ ছাড়া নামাজ পড়ে, তবে তা জায়েজ হবে। ইতি। (আর তাতে মেশক বা এই জাতীয় সুগন্ধি লাগানো সুন্নাত) রক্তের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য। (আর এর স্থান অর্থাৎ সম্পূর্ণটি রাখা মাকরূহ) যোনির অভ্যন্তরীণ অংশে, কারণ এটি সদৃশ হয়...

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮৫)
النكاح بيدها محيط (ولو وضعت الكرسف في الليل وهي حائضة أو نفساء فنظرت في الصباح فرأت عليه البياض) الخالص (حكم بطهارتها من حين وضعت) للتيقن بطهارتها وقته محيط (فعليها قضاء العشاء) به الخروج وقته وهي طاهرة (ولو) وضعته ليلا وكانت (طاهرة فرأت عليه الدم) في الصباح (فحيض من حين رأت) على القياس في إسناد الحوادث إلى أقرب الاوقات وفى الفتح فتقضى العشاء أيضًا ان لم تكن صلتها قبل الوضع انزالا لها طاهرة في الصورة الأولى من حين وضعته وحائضا في الثانية حين رفعته اخذا بالاحتياط فيهما انتهى فتأمل (ثم ان الكرسف اما ان يوضع في الفرج الخارج أو الداخل) وقدمنا أول الفصل بيانهما (وفى الأول أن ابتل شيء منه) أي الكرسف ولو الجانب الداخل منه في الفرج الخارج (وثبت الحيض) في الحائض (ونقض الوضوء) في المستحاضة لأن الشرط فيهما خروج الدم إلى الفرج الخارج أو إلى ما يحاذي حرف الداخل كما مر وقد وجد بذلك (وفى الثاني) أي وضعه في الفرج الداخل (ان ابتل الجانب الداخل) من الكرسف (ولم تنفذ البلة) أي لم تخرج (إلى ما يحاذى حرف الفرج الداخل لا يثبت شيء) من الحيض ونقض الوضوء (إلا أن يخرج الكرسف) فحينئذ يثبت الحيض ونقض الوضوء لا من زمان الابتلال لما مر أن الشرط الخروج دون الاحساس فلو احست بنزول الدم إلى الفرج الداخل وعلمت بابتلال الكرسف به من الجانب الداخل فقط فلم تخرجه إلى اليوم الثاني لم يثبت له حكم إلا وقت الاخراج أو نفوذ البلة فلذا قال (وإن نفذ) أي البلة وذكر ضميرها لانها بمعنى الدم أي وان خرجت إلى ما يحاذى حرف الفرج الداخل (فيثبت) حكمه من الحيض أو نقض الوضوء ثم هذا ان بقي بعض الكرسف في الفرج الخارج (وإن كان الكرسف كله في الداخل فابتل كله) أي الكرسف (فإن كان مبتلا) كذا في أكثر النسخ ولعله بضم أوله وتقديم الباء الموحدة المفتوحة على التاء المثناة المفتوحة المشددة من التبتيل والبتل القطع ويقال أيضًا بتل الشيء أي ميزه كما في القاموس وفى نسخة متسفلا بالسين والفاء وهى احسن لانها المستعملة في عباراتهم هنا أي فإن كان مميزا (عن حرف) الفرج (الداخل) ومتفلا عنه بان لم يحاذه (فلا حكم له) لعدم تحقق الشرط وهو الخروج كما مر (والا) بان كان طرفه محاذيا لحرف الداخل أو اعلا منه متجاوزا عنه (فخروج) أي فذلك خروج الدم فيثبت به حكمه (وكذا احكم في الذكر) إذا حشى احليله فابتل الجانب الداخل دون الخارج لا ينتقض الوضوء بخلاف ما لو ابتل الخارج وكذلك إذا كانت القطنة متسفلة عن رأس الاحليل
নিকাহ তার অধিকারে; মুহিত। (এবং যদি সে রাতে কারসুফ বা তুলার প্যাড রাখে এমতাবস্থায় যে সে ঋতুবতী বা নিফাসগ্রস্ত ছিল, অতঃপর সকালে লক্ষ্য করে যে তাতে পরিষ্কার শুভ্রতা দেখা যাচ্ছে,) বিশুদ্ধ (তবে তাকে প্যাড রাখার সময় থেকেই পবিত্র বলে গণ্য করা হবে) এটি তার সেই সময়ের পবিত্রতার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার কারণে; মুহিত। (সুতরাং তাকে এশার নামায কাযা করতে হবে) কারণ তার ওয়াক্ত অতিবাহিত হয়েছে এমতাবস্থায় যে সে পবিত্র ছিল। (এবং যদি) সে রাতে প্যাড রাখে এবং সে (পবিত্র ছিল, অতঃপর সকালে তাতে রক্ত দেখে), তবে (তা দেখার সময় থেকেই ঋতু হিসেবে গণ্য হবে), যা কোনো নতুন ঘটনাকে তার নিকটতম সময়ের সাথে সম্পৃক্ত করার যৌক্তিক নিয়মানুযায়ী। ফাতহুল কাদিরে বলা হয়েছে: সে যদি প্যাড রাখার আগে এশার নামায না পড়ে থাকে তবে তাকে তাও কাযা করতে হবে; উভয় ক্ষেত্রে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে—প্রথম সুরতে তাকে প্যাড রাখার সময় থেকে পবিত্র এবং দ্বিতীয় সুরতে প্যাড সরানোর সময় থেকে ঋতুবতী গণ্য করার কারণে। সমাপ্ত। অতএব এটি নিবিড়ভাবে চিন্তা করুন। (অতঃপর কারসুফ হয়তো বহিঃযোনিতে রাখা হবে অথবা অন্তঃযোনিতে।) পরিচ্ছেদের শুরুতে আমরা এ দুটির বিবরণ প্রদান করেছি। (প্রথম সুরতে যদি তার কোনো অংশ ভিজে যায়) অর্থাৎ কারসুফের, যদিও তা বহিঃযোনিতে থাকা তার ভেতরের দিকটি হয়, (তবে ঋতুবতীর ক্ষেত্রে ঋতু সাব্যস্ত হবে) (এবং মুস্তাহাযার ক্ষেত্রে অজু ভঙ্গ হবে)। কারণ উভয় ক্ষেত্রে শর্ত হলো রক্ত বহিঃযোনিতে বের হওয়া অথবা অন্তঃযোনিমুখের সমান্তরালে আসা যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে, আর এর মাধ্যমে তা সংঘটিত হয়েছে। (এবং দ্বিতীয় সুরতে) অর্থাৎ অন্তঃযোনিতে রাখার ক্ষেত্রে, (যদি কারসুফের ভেতরের দিকটি ভিজে যায়) (এবং আর্দ্রতা প্রবাহিত না হয়) অর্থাৎ (অন্তঃযোনিমুখের সমান্তরালে বের হয়ে না আসে, তবে ঋতু বা অজু ভঙ্গের কোনো বিধান সাব্যস্ত হবে না) (যতক্ষণ না কারসুফটি বের করা হয়)। এমতাবস্থায় ঋতু সাব্যস্ত হবে এবং অজু ভঙ্গ হবে, তবে তা ভিজে যাওয়ার সময় থেকে নয়। কারণ ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, শর্ত হলো রক্ত বের হওয়া, কেবল অনুভব করা নয়। সুতরাং যদি সে অন্তঃযোনিতে রক্ত নামার অনুভব করে এবং কারসুফের শুধু ভেতরের দিক ভিজে যাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়, কিন্তু দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত তা বের না করে, তবে বের করার সময় অথবা আর্দ্রতা প্রবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো বিধান সাব্যস্ত হবে না। এজন্যই লেখক বলেছেন: (এবং যদি তা প্রবাহিত হয়) অর্থাৎ আর্দ্রতা; আর এখানে পুংলিঙ্গ সর্বনাম ব্যবহার করা হয়েছে কারণ এর উদ্দেশ্য হলো রক্ত। অর্থাৎ যদি তা অন্তঃযোনিমুখের সমান্তরালে বের হয়ে আসে, (তবে ঋতুর বিধান অথবা অজু ভঙ্গের বিধান সাব্যস্ত হবে।) অতঃপর এটি তখনই হবে যখন কারসুফের কিছু অংশ বহিঃযোনিতে অবশিষ্ট থাকে। (আর যদি পুরো কারসুফটি ভেতরে থাকে এবং তার পুরোটাই ভিজে যায়), (তবে যদি তা বিচ্ছিন্ন থাকে) অধিকাংশ পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই আছে, সম্ভবত এটি বিচ্ছিন্ন করা বা আলাদা করা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কামুস অভিধানে বলা হয়েছে কোনো কিছুকে পৃথক করা। অন্য একটি পাণ্ডুলিপিতে 'নিচে অবস্থিত' শব্দ এসেছে যা অধিকতর সঠিক, কারণ ফকিহগণের পরিভাষায় এটিই প্রচলিত। অর্থাৎ যদি তা অন্তঃযোনি মুখ থেকে পৃথক থাকে এবং নিচে অবস্থান করার কারণে তার সমান্তরালে না থাকে, (তবে এর কোনো বিধান নেই), কারণ বের হওয়ার শর্তটি এখানে বাস্তবায়িত হয়নি যা আগে উল্লেখ করা হয়েছে। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি তার প্রান্তভাগ অন্তঃযোনিমুখের সমান্তরালে থাকে অথবা তার উপরে চলে যায়, (তবে তা রক্ত বের হওয়া হিসেবে গণ্য হবে) এবং এর মাধ্যমে বিধান সাব্যস্ত হবে। (অনুরূপ বিধান পুরুষের লিঙ্গের ক্ষেত্রেও), যখন সে তার মূত্রনালীর মুখে তুলা দেয় এবং ভেতরের অংশ ভিজে যায় কিন্তু বাইরের অংশ না ভিজে, তবে অজু ভঙ্গ হবে না। পক্ষান্তরে বাইরের অংশ ভিজে গেলে অজু ভঙ্গ হয়ে যাবে। তদ্রূপ যদি তুলাটি মূত্রনালীর অগ্রভাগ থেকে নিচে অবস্থান করে তবে অজু ভঙ্গ হবে না।
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮৬)
(وكل هذا) أي قوله ثم أن الكرسف الخ (ومفهوم مما سبق) أول الفصل (وتفصيل له) للتوضيح (الفصل الثانى في) بيان احكام (المبتدأة والمعتادة) المتقدم تعريفهما في النوع الأول من المقدمة (اما الأولى فكل ما رأت) أي كل دم رأته (حيض) ان لم يكن اقل من نصاب (ونفاس) الواو بمعنى أو (الا ما جاوز أكثرهما) أي العشرة والاربعين (ولا تنس) ما مر في آخر المقدمة أعني (كون الطهر الناقص) عن خمسة عشر يوما (كالمتوالى) أي كالدم المتصل بما قبله وبما بعده فلا يفصل بين الدمين مطلقا ويجعل كله أو بعضه حيضا وإن لزم منه بدؤ الحيض أو ختمه بالطهر وهذا قول أبي يوسف كما اوضحناه في المقدمة (فإن رأت المبتدأة ساعة) أي حصة من الزمان (دما ثم أربعة عشر يوما طهرا ثم ساعة دما) فهذا طهر ناقص وقد وقع بين دمين فلا يفصل بينهما بل يكون كالدم المتوالى وحينئذ (فالعشرة من أوله) أي ما رأت (حيض) يحكم ببلوغها به فتح (فتغتسل) عند تمام العشرة وإن كان على طهر (وتقضى صومها) ان كانت في رمضان (فيجوز ختم حيضها) أي المبتدأة (بالطهر) كما في هذا المثال (لا بدؤها) لأن الطهر الذى يجعل كالدم المتوالى لابد أن يقع بين دمين فيلزم في المبتدأة جعل الأول منهما حيضا بالضرورة بخلاف المعتادة فإن الدم الأول قد يكون قبل ايام عادتها فيجعل الطهر الواقع في ايام عادتها هو الحيض وحده ولذا جاز بدؤ حيضها وختمه بالطهر كما سيصرح به المصـ (ولو ولدته) أي المبتدأة (فانقطع دمها) بعد ساعة مثلا (ثم رأت آخر الاربعين) أي في آخر يوم منها (دما فكله نفاس) لما مر في المقدمة ان الطهر المتخلل في الاربعين قليلا كان أو كثيرا كله نفاس لأن الاربعين في النفاس كالعشرة في الحيض وجميع ما تخلل في العشرة حيض فكذا في الاربعين (وإن انقطع في آخر ثلاثين ثم عاد قبل تمام خمس واربعين) من حين الولادة (فالاربعون نفاس) لجواز ختمه بالطهر كالحيض ويكون الدم الثانى استحاضة لما مر أنه لا يتوالى حيض ونفاس بل لا بد من طهر تام بينهما ولم يوجد (وإن عاد بعد تمام خمس واربعين فالنفاس ثلاثون فقط) لأن الطهر هنا تام بلغ خمسة عشر يوما فيفصل بين الدمين فلا يمكن جعله كالمتوالى بخلاف المسئلة التي قبله وحينئذ فإن بلغ الدم الثاني نصابا فهو حيض والا فاستحاضة ولا ينافي ذلك ما مر من أن الطهر لا يفصل بين الدمين في النفاس وإن كان خمسة عشر فأكثر لأن ذاك فيما إذا كان كل من الدمين في مدة النفاس وهنا الدم الثاني وقع بعد الاربعين وحينئذ فإن كان الطهر تاما فصل والا فلا كما اوضحناه آخر المقدمة (واما) الثانية وهي (المعتادة فإن رأت ما يوافقها) أي يوافق عادتها

(আর এই সব কিছু) অর্থাৎ তার কথা 'অতঃপর তুলা...' ইত্যাদি (পূর্বেই বোঝা গিয়েছে) পরিচ্ছেদের শুরুতে (এবং এটি তারই বিস্তারিত বিবরণ) আলোচনার স্পষ্টীকরণের জন্য। (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:) (নবাগত এবং অভ্যস্তা) নারীর বিধান বর্ণনায়, যাদের সংজ্ঞা ভূমিকার প্রথম প্রকারে অতিক্রান্ত হয়েছে। (প্রথমজনের ক্ষেত্রে, সে যা কিছু দেখবে) অর্থাৎ যে রক্তই সে দেখবে (তা-ই হায়েজ) যদি তা ন্যূনতম পরিমাণের (নেসাব) চেয়ে কম না হয় (এবং নিফাস), এখানে 'এবং' অব্যয়টি 'অথবা' অর্থে (তবে যা উভয়ের সর্বোচ্চ সময়সীমা অতিক্রম করবে তা ব্যতীত) অর্থাৎ দশ দিন ও চল্লিশ দিন। (এবং ভুলে যেয়ো না) যা ভূমিকার শেষে অতিক্রান্ত হয়েছে অর্থাৎ (অপূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা) যা পনেরো দিনের কম (তা নিরবচ্ছিন্ন রক্তের ন্যায়)। অর্থাৎ যা তার আগের ও পরের রক্তের সাথে মিলিত রক্তের মতো, তাই তা দুই রক্তের মাঝে কোনোভাবেই বিচ্ছেদ ঘটাবে না। বরং সেই পুরোটা বা তার অংশবিশেষকে হায়েজ গণ্য করা হবে, যদিও এর ফলে হায়েজের শুরু বা শেষ পবিত্রতার মাধ্যমে হওয়া আবশ্যক হয়। এটি ইমাম আবু ইউসুফের অভিমত, যেমনটি আমরা ভূমিকায় স্পষ্ট করেছি। (যদি নবাগত নারী এক মুহূর্ত) অর্থাৎ সময়ের একটি অংশ (রক্ত দেখে, অতঃপর চৌদ্দ দিন পবিত্র থাকে, এরপর আবার এক মুহূর্ত রক্ত দেখে), তবে এটি একটি অপূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা যা দুই রক্তের মাঝে ঘটেছে। সুতরাং এটি তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবে না বরং তা নিরবচ্ছিন্ন রক্তের ন্যায় হবে। এমতাবস্থায় (প্রথম দিক থেকে দশ দিন) অর্থাৎ সে যা দেখেছে (তা হায়েজ)। এর মাধ্যমে তার বালেগ হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হবে (ফাতহুল কাদির)। (অতঃপর সে গোসল করবে) দশ দিন পূর্ণ হওয়ার সময় যদিও সে পবিত্রতার ওপর থাকে (এবং সে রোজা কাজা করবে) যদি তা রমজান মাসে হয়। (সুতরাং নবাগত নারীর হায়েজ পবিত্রতার মাধ্যমে শেষ হওয়া জায়েজ) যেমনটি এই উদাহরণে দেখা গেল (কিন্তু পবিত্রতা দিয়ে শুরু হওয়া জায়েজ নয়)। কারণ যে পবিত্রতাকে নিরবচ্ছিন্ন রক্তের ন্যায় গণ্য করা হয়, তাকে অবশ্যই দুই রক্তের মাঝে হতে হয়। ফলে নবাগত নারীর ক্ষেত্রে অপরিহার্যভাবে প্রথম রক্তটিকে হায়েজ সাব্যস্ত করতে হয়। তবে অভ্যস্তা নারীর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তার প্রথম রক্তটি অভ্যাসের দিনগুলোর আগে হতে পারে, ফলে অভ্যাসের দিনগুলোতে সংঘটিত পবিত্রতাকেই কেবল হায়েজ গণ্য করা হয়। এই কারণে তার (অভ্যস্তার) হায়েজ পবিত্রতা দিয়ে শুরু হওয়া এবং শেষ হওয়া জায়েজ, যেমনটি গ্রন্থকার শীঘ্রই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন। (যদি নবাগত নারী সন্তান প্রসব করে) অর্থাৎ সেই নবাগত নারী (এবং তার রক্ত বন্ধ হয়ে যায়) উদাহরণস্বরূপ এক মুহূর্ত পর, (অতঃপর চল্লিশ দিনের শেষে) অর্থাৎ তার শেষ দিনে (রক্ত দেখে, তবে পুরো সময়টাই নিফাস)। কারণ ভূমিকায় অতিক্রান্ত হয়েছে যে, চল্লিশ দিনের মাঝে অতিবাহিত হওয়া পবিত্রতা কম হোক বা বেশি, সবই নিফাস। কারণ নিফাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিন হায়েজের দশ দিনের মতো, আর দশ দিনের মাঝে অতিবাহিত হওয়া সবটুকু সময় যেমন হায়েজ, তেমনি চল্লিশ দিনের ক্ষেত্রেও। (আর যদি রক্ত ত্রিশ দিনের শেষে বন্ধ হয়ে যায়, অতঃপর পঁয়তাল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে পুনরায় ফিরে আসে) প্রসবের সময় থেকে, (তবে চল্লিশ দিন নিফাস)। কারণ হায়েজের মতো নিফাসও পবিত্রতার মাধ্যমে শেষ হওয়া জায়েজ। আর দ্বিতীয় রক্তটি ইস্তিহাযা হবে, কারণ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, হায়েজ ও নিফাস নিরবচ্ছিন্নভাবে পর পর আসে না বরং উভয়ের মাঝে একটি পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা থাকা আবশ্যক, যা এখানে পাওয়া যায়নি। (আর যদি রক্ত পঁয়তাল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার পর ফিরে আসে, তবে নিফাস কেবল ত্রিশ দিন)। কারণ এখানে পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ অর্থাৎ পনেরো দিনে পৌঁছেছে, যা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে। ফলে তাকে নিরবচ্ছিন্ন রক্ত হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়, যা পূর্বের মাসআলার বিপরীত। এমতাবস্থায় যদি দ্বিতীয় রক্তটি নেসাব পরিমাণ হয় তবে তা হায়েজ, অন্যথায় ইস্তিহাযা। আর এটি পূর্বে অতিক্রান্ত সেই নিয়মের পরিপন্থী নয় যে, নিফাসের ক্ষেত্রে পবিত্রতা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় না যদিও তা পনেরো দিন বা তার বেশি হয়; কারণ সেটি তখন প্রযোজ্য যখন উভয় রক্তই নিফাসের মেয়াদের মধ্যে থাকে। কিন্তু এখানে দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের পরে ঘটেছে। এমতাবস্থায় যদি পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ হয় তবে তা বিচ্ছেদ ঘটাবে, অন্যথায় নয়; যেমনটি আমরা ভূমিকার শেষে স্পষ্ট করেছি। (আর) দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ (অভ্যস্তা নারী, সে যদি তার অভ্যাসের অনুকূল কিছু দেখে) অর্থাৎ যা তার অভ্যাসের সাথে মিলে যায়।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮৭)
زمانا وعددا (فظاهر) أي كله حيض ونفاس (وإن رأت ما يخالفها) في الزمان أو العدد او فيهما فحينئذ قد تنتقل العادة وقد لا تنتقل ويختلف حكم ما رأت (فتتوقف معرفته) أي معرفة حال ما رأت من الحيض والنفاس والاستحاضة (على انتقال العادة فإن لم تنتقل) كما إذا زاد على العشرة أو الاربعين (ردت إلى عادتها) فيجعل المرئى فيها حيضا أو نفاسا (والباقي) أي ما جاوز العادة (استحاضة) (والا) أي وإن انتقلت العادة (فالكل حيض أو نفاس وقد عرفت) قبيل الفصل الأول (قاعدة الانتقال اجمالا) بدون تفصيل ولا امثلة توضيحها (ولكن نفصل) تلك القاعدة الاجمالية ونمثل لها (تسهيلا للمبتدئين) قال المص هذا البحث اهم مباحث الحيض لكثرة وقوعه وصعوبة فهمه وتعسر اجرائه وغفلة أكثر النساء عنه فعليك بالجد والتشمير في ضبطه فلعل الله تعالى بلطفه يسهله وييسره لك أنه ميسر كل عسير آمين يا كريم انتهى (فنقول وبالله التوفيق المخالفة) أي للعادة (ان كانت في النفاس) فإن جاوز الدم الاربعين فالعادة باقية ردت إليها والباقي) أي مازاد على العادة (استحاضة) فتقضى ما تركته فيه من الصلاة (وإن لم يجاوز) أي الدم الاربعين (وانتقلت) إلى العادة (إلى ما رأته) وحينئذ (فالكل نفاس وإن كانت) إلى المخالفة (في الحيض) فلا يخلوا ما أن يجاوز الدم العشرة او لا فإن جاوز فاما أن يقع منه في زمان العادة نصاب أو لا فإن وقع فأما أن يساويها عددا او لا وإن لم يجاوز العشرة فاما ان يساويها عددا او لا (فإن جاوز الدم العشرة فإن لم يقع في زمانها) أي العادة (نصاب) ثلاثة ايام فاكثر بان لم تر شيئا او رأت اقل من ثلاثة (انتقلت) إلى العادة (زمانا والعدد بحاله يعتبر من أول ما رأت) كما إذا كانت عادتها خمسة في أول الشهر فطهرت خمستها او ثلاثة من أولها ثم رأت أحد عشر دما ففى الأول لم يقع في زمان العادة شيء وفى الثاني وقع يومان فحيضها خمسة من أول ما رأت لمجاوزة الدم العشرة فترد إلى عادتها من حيث العدد وتنتقل من حيث الزمان لانه طهر لم يقع قبله دم فلا يمكن جعله حيضا (وإن وقع) نصاب الدم في زمان العادة (فالواقع في زمانها فقط حيض والباقي استحاضة فإن كان الواقع) في زمان العادة (مساويا لعادتها عددا فالعادة باقية) في حق العدد والزمان معا كما لو طهرت خمستها ورأت قبلها خمسة دما وبعدها يوما دما فخمستها حيض لوقوعها بين دمين ولا انتقال أصلا (والا) أي ان لم يكن الواقع في زمان العادة مساويا لها (وانتقلت) أي العادة (عددا إلى ما رأته) حال كون ما رأته (ناقصا) قيد به لانه لا احتمال

সময়ের দিক থেকে এবং সংখ্যার দিক থেকে (সুস্পষ্ট) অর্থাৎ সবই ঋতুস্রাব ও নিফাস। (আর যদি সে এমন কিছু দেখে যা তার অভ্যাসের পরিপন্থী) সময়ের ক্ষেত্রে অথবা সংখ্যার ক্ষেত্রে অথবা উভয় ক্ষেত্রে, তবে এমতাবস্থায় অভ্যাস কখনো পরিবর্তিত হয়, আবার কখনো হয় না এবং সে যা দেখেছে তার হুকুম ভিন্ন ভিন্ন হয়। (এর জ্ঞান নির্ভরশীল) অর্থাৎ সে যা দেখেছে তা ঋতুস্রাব, নিফাস নাকি ইস্তিহাযা তা জানার বিষয়টি (অভ্যাসের পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। যদি অভ্যাস পরিবর্তিত না হয়), যেমন রক্ত যদি দশ দিন বা চল্লিশ দিনের বেশি হয়ে যায়, (তবে তাকে তার পূর্বের অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে)। এমতাবস্থায় অভ্যাসের সময়টুকুকে ঋতুস্রাব বা নিফাস গণ্য করা হবে (এবং অবশিষ্ট অংশ) অর্থাৎ যা অভ্যাসকে ছাড়িয়ে গেছে (তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায়) অর্থাৎ যদি অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে যায়, (তবে পুরোটা রক্তই ঋতুস্রাব বা নিফাস। আর আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন) প্রথম পরিচ্ছেদের ঠিক আগে (পরিবর্তনের সাধারণ নিয়ম সংক্ষেপে), যেখানে বিস্তারিত বিবরণ বা ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ ছিল না। (কিন্তু আমরা বিস্তারিত বর্ণনা করব) সেই সংক্ষিপ্ত নিয়মটি এবং তার উদাহরণ পেশ করব (নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ করার উদ্দেশ্যে)। গ্রন্থকার বলেন: ঋতুস্রাব সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের মধ্যে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এর আবশ্যকতা প্রচুর, এটি বোঝা কঠিন, এর প্রয়োগ জটিল এবং অধিকাংশ নারী এ বিষয়ে অসতর্ক। সুতরাং এটি আয়ত্ত করার জন্য আপনার কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। সম্ভবত আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে আপনার জন্য এটি সহজ ও সুগম করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল কঠিন বিষয় সহজকারী। কবুল করুন হে দয়াময় আল্লাহ। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।

(আমরা বলি এবং আল্লাহর নিকটই তাওফীক প্রার্থনা করি: অভ্যাসের পরিপন্থী হওয়া) অর্থাৎ অভ্যাসের বিপরীত হওয়া (যদি নিফাসের ক্ষেত্রে হয়) এবং রক্ত যদি চল্লিশ দিন অতিক্রম করে, তবে পূর্বের অভ্যাস বহাল থাকবে এবং তাকে সেই অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে; আর (অবশিষ্টাংশ) অর্থাৎ অভ্যাসের অতিরিক্ত রক্ত (ইস্তিহাযা)। এমতাবস্থায় সে ঐ সময়ে যে সালাতগুলো ছেড়ে দিয়েছে তা কাযা করবে। (আর যদি রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম না করে), তবে (অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে) যা দেখেছে সেই পরিমাণ হবে এবং তখন (পুরো রক্তই নিফাস। আর যদি অভ্যাসের পরিপন্থী হওয়ার বিষয়টি ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে হয়), তবে রক্ত দশ দিন অতিক্রম করবে কি করবে না—তা থেকে বিষয়টি মুক্ত নয়। যদি অতিক্রম করে, তবে অভ্যাসের সময়ে নিসাব পরিমাণ রক্ত পড়েছে কি না? যদি পড়ে থাকে, তবে তা কি অভ্যাসের সংখ্যার সমান নাকি নয়? আর যদি রক্ত দশ দিন অতিক্রম না করে, তবে তা কি অভ্যাসের সংখ্যার সমান নাকি নয়? (যদি রক্ত দশ দিন অতিক্রম করে এবং অভ্যাসের সময়ে) অর্থাৎ পূর্বের অভ্যাসের দিনগুলোতে (নিসাব পরিমাণ রক্ত না পড়ে), যা অন্তত তিন দিন বা তার বেশি; যেমন সে কিছুই দেখেনি বা তিন দিনের কম দেখেছে, (তবে অভ্যাস পরিবর্তিত হবে) সময়ের দিক থেকে, আর সংখ্যার বিষয়টি অপরিবর্তিত থাকবে এবং তা রক্ত দেখার শুরু থেকে গণনা করা হবে। যেমন কোনো নারীর অভ্যাস ছিল মাসের শুরুতে পাঁচ দিন, অতঃপর সে অভ্যাসের ঐ পাঁচ দিন অথবা প্রথম তিন দিন পবিত্র থাকল, এরপর টানা এগারো দিন রক্ত দেখল। প্রথম ক্ষেত্রে অভ্যাসের সময়ে কিছুই পড়েনি এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দুই দিন পড়েছে। এমতাবস্থায় তার ঋতুস্রাব হবে রক্ত দেখা শুরুর সময় থেকে পাঁচ দিন। যেহেতু রক্ত দশ দিন অতিক্রম করেছে, তাই সংখ্যার দিক থেকে তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং সময়ের দিক থেকে তা পরিবর্তিত হবে। কারণ এটি এমন পবিত্রতা যার আগে কোনো রক্ত দেখা যায়নি, তাই একে ঋতুস্রাব গণ্য করা সম্ভব নয়। (আর যদি অভ্যাসের সময়ে নিসাব পরিমাণ রক্ত পড়ে থাকে), তবে শুধুমাত্র অভ্যাসের সময়ের রক্তই ঋতুস্রাব এবং অবশিষ্ট রক্ত ইস্তিহাযা। (যদি অভ্যাসের সময়ে যা পড়েছে) তা সংখ্যার দিক থেকে অভ্যাসের সমান হয়, (তবে অভ্যাস অপরিবর্তিত থাকবে) সময় ও সংখ্যা উভয় দিক থেকে। যেমন যদি সে অভ্যাসের পাঁচ দিন পবিত্র থাকে এবং তার আগে পাঁচ দিন রক্ত দেখে আর পরে এক দিন রক্ত দেখে, তবে তার অভ্যাসের পাঁচ দিনই ঋতুস্রাব; কারণ এটি দুই রক্তের মাঝখানে পড়েছে এবং এখানে কোনো পরিবর্তন হবে না। (অন্যথায়) অর্থাৎ অভ্যাসের সময়ে যা পড়েছে তা যদি অভ্যাসের সংখ্যার সমান না হয়, (তবে অভ্যাস পরিবর্তিত হবে) সংখ্যার দিক থেকে সেই পরিমাণের দিকে যা সে দেখেছে, এমতাবস্থায় যে যা দেখেছে তা (কম)। এই শর্তটি লাগানো হয়েছে কারণ এর বাইরে অন্য কোনো সম্ভাবনা নেই।
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮৮)
لكون الواقع في العادة زائدا عليها وذلك كما لو طهرت يومين من أول خمستها ثم رأت أحد عشر دما فالثلاثة الباقية من خمستها حيض لانها نصاب في زمان العادة لكنه اقل عددا منها فقد انتقلت عددا لا زمانا (وإن لم يجاوز) الدم العشرة (فالكل حيض) ان طهرت بعده طهرا صحيحا خمسة عشر يوما والا ردت إلى عادتها لانه صار كالدم المتوالى كما في التتارخانية ومثاله ما في البحر عن السراج لو كانت عادتها خمسة من أول الشهر فرأت ستة فالسادس حيض أيضًا فلو طهرت بعده أربعة عشر ثم رأت الدم ردت إلى عادتها والسادس استحاضة (فإن لم يتساويا) أي العادة والمخالفة (عددا) كما مثلنا آخرا (صار الثاني عادة والا) أي وإن تساويا (فالعدد بحاله) سواء رأت نصابا في ايام عادتها او قبلها أو بعدها أو بعضه في ايامها وبعضه قبلها أو بعدها لكن ان وافق زمانا وعددا فلا انتقال أصلا والا فالانتقال ثابت على حسب المخالف ولو جاوز الدم العشرة ردت إلى عادتها في جميع هذه الصور كما علم من إطلاقه المار وقد مثل المص فيما يأتي لبعض ما قلناه وتفصيل ذلك يعلم من المحيط والسراج وغيرها (ولنمثل) لما مر من تفصيل قاعدة الانتقال في النفاس والحيض (بامثلة توضيحا للطالبين) لما ذكره من صعوبة هذا البحث (امثلة النفاس امرأة عادتها في النفاس عشرون ولدت) بعد ذلك (فرأت عشرة دما وعشرين طهرا واحد عشر دما) تمثيل لقوله فإن جاوز الاربعين لأن الطهر فيها كالدم المتوالى لوقوعه بين دمين كما مر فعشرون من أول ما رأت نفاس وان ختم بالطهر ردا إلى عادتها والباقى وهو أحد وعشرون استحاضة (او رأت يوما دما وثلاثين ظهرا ويوما دما واربعة عشر طهر او يوما دما) فنفاسها عشرون أيضًا ردا إلى عادتها للمجاوزة فإن الطهر الثاني ناقص لا يفصل بين الدمين فهو كالدم المتوالى كالطهر الأول (أو رأت خمسة دما واربعة وثلاثين طهر او يوما دما) تمثيل لقوله وإن لم يجاوز انتقلت إلى ما رأته فالكل نفاس (أو رأت ثمانية عشر دما واثنين وعشرين طهرا ويوما دما) ظاهر كلامه أنه تمثيل أيضًا لقوله وإن لم يجاوز وعليه فالدم الأول نفاسها والاخير استحاضة ولو بلغ نصابا كان حيضا فقد انتقلت عادتها بنقصان يومين لعدم المجاوزة لأن الطهر معتبر هنا لكونه تاما صحيحا لم يقع بين دمى نفاس لأن الدم الثاني وقع بعد الاربعين وإذا وقع بعدها لا يفسد الطهر التام بجعله كالدم المتوالى بخلاف الطهر الناقص لانه فاسد في نفسه وبخلاف ما إذا وقع الدم الثاني في الاربعين فإنه يفسد الطهر مطلقا كما لو ولدت فرأت ساعة دما ثم رأت في آخر الاربعين ساعة دما كما اوضحناه في النوع الأول من المقدمة هذا ما ظهر لي (او رأت يوما دما واربعة وثلاثين طهرا ويوما دما

সাধারণত যা ঘটে তা অভ্যাসের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে। যেমন যদি কোনো নারী তার অভ্যাসের পাঁচ দিনের শুরুর দুই দিন পবিত্র থাকে, এরপর এগারো দিন রক্ত দেখে, তবে তার অভ্যাসের অবশিষ্ট তিন দিন মাসিকের (হায়েজ) অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ তা অভ্যাসের সময়ের মধ্যে একটি নেসাব (ন্যূনতম পরিমাণ), কিন্তু তা সংখ্যার দিক থেকে অভ্যাসের চেয়ে কম। ফলে এটি সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, সময়ের দিক থেকে নয়। (যদি রক্ত) দশ দিন (অতিক্রম না করে, তবে পূর্ণ সময়টিই মাসিকের অন্তর্ভুক্ত হবে), যদি এর পরে পনেরো দিন মেয়াদী সহীহ পবিত্রতা লাভ হয়। অন্যথায় তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ এটি ধারাবাহিক রক্তের ন্যায় সাব্যস্ত হবে, যেমনটি ‘তাতারখানিয়া’ গ্রন্থে রয়েছে। এর উদাহরণ ‘আল-বাহর’ গ্রন্থে ‘আস-সিরাজ’ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, যদি কোনো নারীর অভ্যাস মাসের শুরুতে পাঁচ দিন হয়, অতঃপর সে ছয় দিন রক্ত দেখে, তবে ষষ্ঠ দিনটিও মাসিকের অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু সে যদি এর পরে চৌদ্দ দিন পবিত্র থাকার পর পুনরায় রক্ত দেখে, তবে তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং ষষ্ঠ দিনটি ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। (যদি অভ্যাস এবং অভ্যাসের বিপরীত দেখা রক্ত সংখ্যার দিক থেকে সমান না হয়), অর্থাৎ অভ্যাস এবং তার পরিপন্থী রক্ত, যেমনটি আমরা শেষে উদাহরণ দিয়েছি, (তবে দ্বিতীয়টি অভ্যাস হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায়) অর্থাৎ যদি উভয়টি সমান হয়, (তবে সংখ্যা তার নিজ অবস্থায় বহাল থাকবে)। চাই সে তার অভ্যাসের দিনগুলোতে নেসাব পরিমাণ রক্ত দেখুক, অথবা এর আগে বা পরে, অথবা আংশিক অভ্যাসের দিনগুলোতে এবং আংশিক আগে বা পরে। তবে যদি সময় ও সংখ্যা মিলে যায়, তবে অভ্যাসের কোনো পরিবর্তন হবে না। অন্যথায়, অভ্যাসের পরিবর্তন তার ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত হবে। যদি রক্ত দশ দিন অতিক্রম করে, তবে এই সকল সুরতেই তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, যেমনটি পূর্বে উল্লিখিত সাধারণ বর্ণনা থেকে জানা যায়। গ্রন্থকার সামনে আমাদের বলা কিছু বিষয়ের উদাহরণ দিয়েছেন। এর বিস্তারিত বিবরণ ‘আল-মুহিত’, ‘আস-সিরাজ’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ থেকে জানা যাবে। (চলুন আমরা উদাহরণ পেশ করি) নিফাস (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্ত) ও হায়েজের ক্ষেত্রে অভ্যাসের পরিবর্তনের নিয়মের বিস্তারিত আলোচনার জন্য (শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে), কারণ এই আলোচনাটি অত্যন্ত জটিল। নিফাসের উদাহরণসমূহ: জনৈক নারীর নিফাসের অভ্যাস বিশ দিন। সে সন্তান প্রসব করল (অতঃপর দশ দিন রক্ত দেখল, এরপর বিশ দিন পবিত্র থাকল এবং এগারো দিন রক্ত দেখল)। এটি তার সেই কথার উদাহরণ যে, "যদি চল্লিশ দিন অতিক্রম করে"। কারণ এক্ষেত্রে পবিত্রতা ধারাবাহিক রক্তের ন্যায়, যেহেতু তা দুই রক্তের মাঝে ঘটেছে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং সে প্রথম যা দেখেছে সেখান থেকে বিশ দিন নিফাস হিসেবে গণ্য হবে। যদিও তা পবিত্রতার মাধ্যমেই শেষ হয়েছে, তবুও তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর অবশিষ্ট অর্থাৎ একুশ দিন ইস্তিহাজা হবে। (অথবা সে একদিন রক্ত দেখল, ত্রিশ দিন পবিত্র থাকল, একদিন রক্ত দেখল, চৌদ্দ দিন পবিত্র থাকল এবং একদিন রক্ত দেখল)। এক্ষেত্রেও তার নিফাস বিশ দিন হবে তার অভ্যাসের দিকে ফেরার কারণে, যেহেতু রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম করেছে। কারণ দ্বিতীয় পবিত্রতাটি অপূর্ণাঙ্গ, যা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। ফলে এটি প্রথম পবিত্রতার ন্যায় ধারাবাহিক রক্তের হুকুমে হবে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত দেখল, চৌত্রিশ দিন পবিত্র থাকল এবং একদিন রক্ত দেখল)। এটি তার এই কথার উদাহরণ যে, "যদি অতিক্রম না করে তবে যা দেখেছে সেদিকে পরিবর্তিত হবে"। ফলে সম্পূর্ণ সময়টিই নিফাস হিসেবে গণ্য হবে। (অথবা সে আঠারো দিন রক্ত দেখল, বাইশ দিন পবিত্র থাকল এবং একদিন রক্ত দেখল)। তার বক্তব্য অনুযায়ী এটিও তার এই কথার উদাহরণ যে, "যদি অতিক্রম না করে"। সেই হিসেবে প্রথম রক্তটি হবে তার নিফাস এবং শেষেরটি হবে ইস্তিহাজা। আর যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়, তবে তা হায়েজ হবে। এভাবে দুই দিন কমার মাধ্যমে তার অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে গেল, কারণ রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম করেনি। কারণ এখানকার পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ ও সহীহ হওয়ার কারণে ধর্তব্য, এটি নিফাসের দুই রক্তের মাঝে ঘটেনি। কারণ দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের পরে ঘটেছে। আর যখন চল্লিশের পরে ঘটে, তখন পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা ধারাবাহিক রক্তের ন্যায় হওয়ার মাধ্যমে নষ্ট হয় না। অপূর্ণাঙ্গ পবিত্রতার বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাসিদ। তদ্রূপ দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের ভেতরে ঘটার বিষয়টিও এর বিপরীত। কেননা সেক্ষেত্রে পবিত্রতা নিঃশর্তভাবে ফাসিদ হয়ে যায়, যেমনটি কোনো নারী সন্তান প্রসবের পর এক মুহূর্ত রক্ত দেখে, এরপর চল্লিশ দিনের শেষে এক মুহূর্ত রক্ত দেখে। যেমনটি আমরা ভূমিকা স্বরূপ প্রথম প্রকারে স্পষ্ট করেছি। এটিই আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে। (অথবা সে একদিন রক্ত দেখল, চৌত্রিশ দিন পবিত্র থাকল এবং একদিন রক্ত দেখল...)

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৮৯)
وخمسة عشر طهرا ويوما دما) فنفاسها ستة وثلاثون آخر هادم بخلاف المثال الذي قبله فقد انتقلت عادتها بزيادة ستة عشر لعدم المجاوزة لأن الطهر الأخير معتبر كما علمته آنفا (وامثلة الحيض) على ترتيب الامثلة التي ذكرناها تعجيلا للفائدة وتوضيحا للقاعدة (امرأة عادتها في الحيض خمسة وطهرها خمسة وخمسون رأت على عادتها في الحيض خمسة دما وخمسة عشر طهرا واحد عشر دما) هذا تمثيل لقوله ان لم يقع في زمان العادة نصاب الخ فان الدم الأخير خمسة منه حيض ثان لوقوعه بعد طهر تام وقد جاوز العشرة ولم يقع منه نصاب في زمان العادة فإن زمنه بعد خمسة وخمسين فانتقلت العادة زمانا والعدد وهو خمسة بحاله يعتبر من أول ما رأت ومثله قوله (أو رأت خمسة دما وستة واربعين طهرا واحد عشر دما) لكن هناك لم يقع في زمان العادة شيء أصلا وهنا وقع دون نصاب فإن يومين من آخر الاحد عشر وقعا في زمان العادة ولا يمكن جعلهما حيضا فانتقلت العادة زمانا وبقي العدد بحاله أيضًا (أو رأت خمسة دما وثمانية واربعين طهرا واثنى عشر دما) هذا تمثيل لما إذا وقع في زمان العادة نصاب مساو لها فإن الدم الأخير جاوز العشرة وقد وقع سبعة منه في زمان الطهر هو خمسة منه في زمان عادتها في الحيض فترد إليها ولا انتقال أصلا ومثله قوله (أو رأت خمسة دما واربعة وخمسين طهرا ويوما دما واربعة عشر طهرا ويوما دما) لكن هنا بدئ الحيض وختم بالطهر فإن اليوم الدم المتوسط تمام مدة الطهر والاربعة عشر بعده في حكم الدم المتوالي لانها طهر ناقص وقع بين دمين فخمسة من اولها حيض والباقي استحاضة والعادة باقية عددا وزمانا كالمثال قبله (أو رأت خمسة دما وسبعة وخمسين طهرا وثلاثة دما واربعة عشر طهرا ويوما دما) تمثيل لما إذا وقع في زمان العادة نصاب غير مساو لعادتها عددا فإن الثلاثة الدم وقعت في زمان عادتها والأربعة عشر بعدها كالدم المتوالى فقد جاوز الدم العشرة فترد إلى العادة زمانا وتنتقل عددا إلى الثلاثة الواقعة فيها (أو رأت خمسة دما وخمسة وخمسين طهرا وتسعة دما) شروع في التمثيل لقوله وإن لم يجاوز الخ فالتسعة هنا حيض ان طهرت بعدها طهرا صحيحا كما قدمناه فقد انتقلت العادة هنا عددا فقط وقد رأت هنا نصابا في ايامها ونصابا بعدها فقط (أو رات خمسة دما وخمسين طهرا وعشرة دما) فالعشرة حيض لعدم المجاوزة لكن هنا انتقلت العادة أيضًا في الطهر عددا إلى الخمسين ورأت نصاب الحيض في ايامها موافقا لعادتها ونصابا قبلها كذلك عكس ما قبله (أو رأت خمسة دما واربعة وخمسين طهرا وثمانية دما) فالثمانية حيض لعدم المجاوزة أيضًا لكن وقع نصاب منها في ايامها ولم يقع

এবং পনের দিন পবিত্রতা ও একদিন রক্ত) তবে তার নিফাস হলো ছত্রিশ দিন, যার শেষ অংশটি পবিত্রতাকে বিনাশকারী। এটি পূর্ববর্তী উদাহরণের বিপরীত, কারণ সেখানে তার অভ্যাস ষোলো দিন বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে; যেহেতু তা সীমা অতিক্রম করেনি, কারণ সর্বশেষ পবিত্রতাটি গ্রহণযোগ্য যেমনটি আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন। (ঋতুস্রাবের উদাহরণসমূহ) উপকারের ত্বরান্বিতকরণ এবং নিয়মের স্পষ্টীকরণের জন্য আমাদের উল্লিখিত উদাহরণগুলোর ক্রমানুসারে: (এমন একজন নারী যার ঋতুস্রাবের অভ্যাস পাঁচ দিন এবং পবিত্রতার অভ্যাস পঞ্চান্ন দিন; সে তার ঋতুস্রাবের অভ্যাসের সময়ে পাঁচ দিন রক্ত দেখল, এরপর পনের দিন পবিত্রতা এবং এগার দিন রক্ত দেখল।) এটি লেখকের এই বাণীর উদাহরণ যে, "যদি অভ্যাসের সময়ে নেসাব (ন্যূনতম পরিমাণ) আপতিত না হয়..." ইত্যাদি। কেননা শেষ রক্তস্রাবের মধ্যে পাঁচ দিন হলো দ্বিতীয় ঋতুস্রাব, কারণ তা পূর্ণ পবিত্রতার পর আপতিত হয়েছে। আর তা দশ দিন অতিক্রম করেছে এবং অভ্যাসের সময়ে তার কোনো নেসাব পাওয়া যায়নি, কারণ তার সময় ছিল পঞ্চান্ন দিন পর। ফলে অভ্যাসের সময়টি পরিবর্তিত হয়েছে, তবে সংখ্যাটি—যা হলো পাঁচ—তার নিজ অবস্থাতেই বহাল থাকবে, যা তার প্রথম রক্ত দেখার সময় থেকে গণ্য হবে। এবং এরই অনুরূপ হলো লেখকের কথা: (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, ছেচল্লিশ দিন পবিত্রতা এবং এগার দিন রক্ত দেখল)। তবে সেখানে অভ্যাসের সময়ে আদৌ কিছু আপতিত হয়নি, আর এখানে নেসাবের কম আপতিত হয়েছে; কেননা এগার দিনের শেষ দুই দিন অভ্যাসের সময়ে পড়েছে এবং সেগুলোকে ঋতুস্রাব গণ্য করা সম্ভব নয়। ফলে অভ্যাসের সময়টি পরিবর্তিত হয়েছে এবং সংখ্যাটিও তার নিজ অবস্থায় বহাল রয়েছে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, আটচল্লিশ দিন পবিত্রতা এবং বারো দিন রক্ত দেখল)। এটি ঐ অবস্থার উদাহরণ যখন অভ্যাসের সময়ে তার অভ্যাসের সমপরিমাণ নেসাব আপতিত হয়। কেননা শেষ রক্তস্রাবটি দশ দিন অতিক্রম করেছে এবং তার সাত দিন পবিত্রতার সময়ে পড়েছে, যার মধ্যে পাঁচ দিন ছিল তার ঋতুস্রাবের অভ্যাসের সময়ে। ফলে সে তার অভ্যাসের দিকেই ফিরে যাবে এবং এক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। এবং এরই অনুরূপ হলো লেখকের কথা: (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, চুয়ান্ন দিন পবিত্রতা, একদিন রক্ত, চৌদ্দ দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখল)। তবে এখানে ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে এবং পবিত্রতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। কেননা মধ্যবর্তী একদিনের রক্তস্রাবটি পবিত্রতার মেয়াদের পূর্ণতাদানকারী এবং এরপরের চৌদ্দ দিন ক্রমাগত রক্তস্রাবের হুকুমে থাকবে; কারণ তা দুই রক্তের মাঝখানে আপতিত একটি অসম্পূর্ণ পবিত্রতা। সুতরাং এর শুরুর পাঁচ দিন ঋতুস্রাব এবং অবশিষ্ট অংশ ইস্তিহাযা। আর সংখ্যা ও সময়ের দিক থেকে অভ্যাস আগের উদাহরণের মতোই বহাল থাকবে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, সাতান্ন দিন পবিত্রতা, তিন দিন রক্ত, চৌদ্দ দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখল)। এটি ঐ অবস্থার উদাহরণ যখন অভ্যাসের সময়ে তার অভ্যাসের অসম পরিমাণের নেসাব আপতিত হয়। কেননা তিন দিনের রক্তস্রাবটি অভ্যাসের সময়ে পড়েছে এবং তার পরবর্তী চৌদ্দ দিন ক্রমাগত রক্তের ন্যায় গণ্য হবে। যেহেতু রক্ত দশ দিন অতিক্রম করেছে, তাই সময়ের দিক থেকে অভ্যাসের দিকে ফিরে যাবে এবং সংখ্যার দিক থেকে তাতে আপতিত তিন দিনের দিকে পরিবর্তিত হবে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, পঞ্চান্ন দিন পবিত্রতা এবং নয় দিন রক্ত দেখল)। এটি লেখকের বাণী "আর যদি তা অতিক্রম না করে..." এর উদাহরণের সূচনা। এখানে নয় দিনই ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে যদি এরপর সে সহীহ পবিত্রতা লাভ করে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে অভ্যাসটি কেবল সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। সে এখানে তার নির্ধারিত দিনগুলোতে একটি নেসাব এবং তার পরে কেবল একটি নেসাব দেখেছে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, পঞ্চাশ দিন পবিত্রতা এবং দশ দিন রক্ত দেখল)। এক্ষেত্রে দশ দিনই ঋতুস্রাব, যেহেতু তা সীমা অতিক্রম করেনি। তবে এখানে পবিত্রতার অভ্যাসটিও সংখ্যার দিক থেকে পঞ্চাশ দিনে পরিবর্তিত হয়েছে। সে তার নির্ধারিত দিনগুলোতে অভ্যাসের অনুকূলে ঋতুস্রাবের নেসাব দেখেছে এবং তার পূর্বেও অনুরূপভাবে দেখেছে; যা পূর্ববর্তী উদাহরণের বিপরীত। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, চুয়ান্ন দিন পবিত্রতা এবং আট দিন রক্ত দেখল)। এক্ষেত্রেও সীমা অতিক্রম না করার কারণে আট দিনই ঋতুস্রাব। তবে এর মধ্য থেকে একটি নেসাব তার নির্ধারিত দিনগুলোতে আপতিত হয়েছে এবং আপতিত হয়নি...

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৯০)
قبلها ولا بعدها نصاب بل وقع يوم ويومان لو جمعا بلغا نصابا فقد انتقلت العادة في الحيض والطهر عددا فقط (أو رأت خمسة دما وخمسين طهرا وسبعة دما) فالسبعة حيض وقع منها نصاب قبل العادة ووقع دونه فيها ولم يقع بعدها شيء وقد انتقلت في الحيض عددا وزمانا وفي الطهر عددا فقط (أو رأت خمسة دما وثمانية وخمسين طهرا وثلاثة دما) فالثلاثة حيض أيضًا وقع منها يومان في ايام العادة وواحد بعدها ولم يقع قبلها شيء فقد انتقلت في الحيض عدد أو زمانا وفي الطهر عددا فقط (أو رأت خمسة دما واربعة وستين طهرا وسبعة اواحد عشر دما) تمييز للسبعة والاحد عشر فهما مثالان في كل منهما رأت نصابا بعد العادة مخالفالها ولم ترفيها ولا قبلها شيئا ففى الأول السبعة كلها حيض لعدم المجاوزة وقد انتقل عددا وزمانا وفي الثاني خمسة فقط من أول الاحد عشر حيض والباقى استحاضة فقد انتقلت العادة زمانا فقط وردت إليها عددا للمجاوزة على العشرة واما العادة في الطهر فقد انتقلت عددا فقط ولم يظهر لي وجه ذكره المثال الأخير لانه من امثلة المجاوزة وحاصل هذه المسائل انها اما أن ترى دما قبل العادة أو بعدها وفي كل خمس صور الأولى قبلها أو بعدها نصاب وفيها نصاب الثانية والثالثة قبلها أو بعدها نصاب وفيها دونه او لا شيء والرابعة قبلها أو بعدها دون نصاب وفيها نصاب الخامسة قبلها أو بعدها دونه وفيها دونه لكن لو جمعا بلغا نصابا وقد ترى فيها وقبلها وبعدها والكل حيض على قول أبي يوسف المفتى به من انتقال العادة بمرة وفي بعض هذه المسائل خلاف وبسطها يعلم من المطولات وبما قررناه ظهر ان المص لم يستوف التمثيل لجميع الصور فتدبر (فيجوز بدؤ المعتادة وختمها بالطهر) تفريع على ما علم من القاعدة والتمثيل كالمثال الرابع من امثلة الحيض وقيد بالمعتادة لأن المبتدأة لا يجوز بدؤها بالطهر كما قدمناه أول الفصل وهذا كله على قول أبي يوسف أيضًا كما بيناه في النوع الثاني والله تعالى أعلم (الفصل الثالث في الانقطاع) لا يخلو اما أن يكون لتمام العشرة أو دونها لتمام العادة او دونها (ان انقطع الدم) ولو حكما بان زاد (على أكثر المدة) إلى العشرة (في الحيض) الاربعين (في النفاس يحكم بطهارتها) أي مجرد مضى أكثر المدة ولو بدون انقطاع أو اغتسال وإنما عبر بالانقطاع ليلايم بقية الأنواع (حتى يجوز) لمن تحل له (وطؤها بدون الغسل) لانه لا يزيد على هذه المدة (لكن لا يستحب) بل يستحب تأخيره لما بعد الغسل (و) حتى (لو بقي من وقت) صلاة (فرض مقدار) كما يمكن فيه الشروع بالصلاة وهو (أن تقول الله) هذا عند أبي حنيفة قال في التتارخانية والفتوى عليه وقال

এর আগে বা পরে কোনো নিসাব (ন্যূনতম পরিমাণ) ছিল না, বরং একদিন বা দুইদিন রক্ত দেখা গেছে যা একত্রিত করলে নিসাব পূর্ণ হতো। ফলে হায়েয এবং পবিত্রতার অভ্যাস শুধুমাত্র সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। (অথবা যদি সে পাঁচদিন রক্ত, পঞ্চাশ দিন পবিত্রতা এবং সাতদিন রক্ত দেখে) তবে সেই সাতদিন হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। এর মধ্যে নিসাব পরিমাণ অভ্যাসের আগে ঘটেছে, আর অভ্যাসের মধ্যে তার চেয়ে কম ঘটেছে, এবং অভ্যাসের পরে কিছু ঘটেনি। এর ফলে হায়েযের অভ্যাস সংখ্যা ও সময় উভয় দিক থেকে এবং পবিত্রতার অভ্যাস শুধু সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। (অথবা যদি সে পাঁচদিন রক্ত, আটান্ন দিন পবিত্রতা এবং তিনদিন রক্ত দেখে) তবে এই তিনদিনও হায়েয। এর মধ্যে দুই দিন অভ্যাসের দিনগুলোতে এবং একদিন তার পরে ঘটেছে, আর অভ্যাসের আগে কিছু ঘটেনি। ফলে হায়েযের অভ্যাস সংখ্যা বা সময় এবং পবিত্রতার অভ্যাস শুধু সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। (অথবা যদি সে পাঁচদিন রক্ত, চৌষট্টি দিন পবিত্রতা এবং সাত বা এগারো দিন রক্ত দেখে) এখানে সাত এবং এগারো হলো আলাদা করার জন্য। এই দুটি উদাহরণেই সে অভ্যাসের পরে অভ্যাসের বিপরীত নিসাব দেখেছে, অথচ অভ্যাসের মধ্যে বা আগে কিছু দেখেনি। প্রথম ক্ষেত্রে সাতদিনের পুরোটাই হায়েয, কারণ তা সীমা অতিক্রম করেনি; এবং অভ্যাস সংখ্যা ও সময় উভয় দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এগারো দিনের প্রথম পাঁচদিন হায়েয এবং বাকিটুকু ইস্তিহাযা। ফলে অভ্যাস কেবল সময়ের দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে এবং দশ দিনের বেশি হয়ে যাওয়ায় সংখ্যার ক্ষেত্রে পূর্বের অভ্যাসে ফিরে গেছে। আর পবিত্রতার অভ্যাস শুধু সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। শেষ উদাহরণটি উল্লেখ করার কারণ আমার কাছে স্পষ্ট নয়, কারণ এটি সীমা অতিক্রম করার উদাহরণগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এই মাসআলাগুলোর সারকথা হলো, সে অভ্যাসের আগে অথবা পরে রক্ত দেখবে। এর প্রত্যেকটিতে পাঁচটি করে অবস্থা রয়েছে: প্রথমটি—আগে বা পরে নিসাব পরিমাণ রক্ত দেখা গেছে এবং অভ্যাসের মধ্যেও নিসাব পরিমাণ দেখা গেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি—আগে বা পরে নিসাব পরিমাণ দেখা গেছে কিন্তু অভ্যাসের মধ্যে নিসাবের কম বা কিছুই দেখা যায়নি। চতুর্থটি—আগে বা পরে নিসাবের কম কিন্তু অভ্যাসের মধ্যে নিসাব পরিমাণ দেখা গেছে। পঞ্চমটি—আগে বা পরে নিসাবের কম এবং অভ্যাসের মধ্যেও নিসাবের কম দেখা গেছে, তবে দুটি মিলিয়ে নিসাব পূর্ণ হয়েছে। কখনও সে অভ্যাসের মধ্যে, আগে এবং পরে রক্ত দেখতে পারে এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর ফতোয়া অনুযায়ী এই সবটুকুই হায়েয হবে; কারণ একবার দেখলেই অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই মাসআলাগুলোর কয়েকটিতে মতভেদ রয়েছে এবং এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দীর্ঘ কিতাবসমূহ থেকে জানা যাবে। আমরা যা স্থির করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থকার সব সুরতের উদাহরণ পুরোপুরি পেশ করেননি, সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করো। (অভ্যাস থাকা নারীর জন্য পবিত্রতা দিয়ে রক্তকাল শুরু করা এবং শেষ করা জায়েয) এটি পূর্বে বর্ণিত নিয়ম থেকে উদ্ভূত একটি শাখা এবং এর উদাহরণ হায়েযের উদাহরণগুলোর মধ্যে চতুর্থ উদাহরণের মতো। 'অভ্যাস থাকা নারী' শর্ত করা হয়েছে কারণ যার সবেমাত্র ঋতু শুরু হয়েছে (মুবতাদিআ), তার ক্ষেত্রে পবিত্রতা দিয়ে শুরু করা জায়েয নয়, যেমনটি আমরা এই পরিচ্ছেদের শুরুতে উল্লেখ করেছি। এই সব কিছুই ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতানুসারে, যেমনটি আমরা দ্বিতীয় প্রকারে বর্ণনা করেছি। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রক্ত বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে) রক্ত বন্ধ হওয়া হয় দশ দিন পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে হবে, অথবা তার কম সময়ে অভ্যাসের পূর্ণতায় হবে, অথবা অভ্যাসের চেয়েও কম সময়ে হবে। (যদি রক্ত বন্ধ হয়ে যায়) যদিও তা হুকমান (আইনগতভাবে) হয়, যেমন যদি (সর্বোচ্চ মেয়াদের চেয়ে) বেড়ে যায়, অর্থাৎ হায়েযের ক্ষেত্রে দশ দিন এবং নিফাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিন; তবে তাকে পবিত্র বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ কেবল সর্বোচ্চ মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়াই যথেষ্ট, যদিও রক্ত বন্ধ না হয় বা গোসল না করা হয়। এখানে 'রক্ত বন্ধ হওয়া' শব্দ দ্বারা ভাব প্রকাশ করা হয়েছে যাতে তা অন্যান্য প্রকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। (এমনকি জায়েয হবে) যার জন্য সে হালাল তার জন্য (গোসল ছাড়াই তার সাথে সহবাস করা)। কারণ রক্ত এই মেয়াদের চেয়ে বেশি হতে পারে না। (তবে তা মুস্তাহাব নয়), বরং গোসলের পর পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা মুস্তাহাব। (এবং) এমনকি (যদি ফরয নামাযের ওয়াক্তের এমন পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে) যাতে নামায শুরু করা সম্ভব হয়, আর তা হলো (আল্লাহ বলা)—এটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে। তাতারখানিয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এর ওপরই ফতোয়া। আর তিনি বলেছেন...

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৯১)
أبو يوسف التحريمة الله أكبر (يجب قضاؤه) ولو بقى منه ما يمكنها الاغتسال فيه أيضًا يجب اداؤه (والا) أي وإن لم يبق منه هذا المقدار فلا قضاء ولا اداء وحتى يجب عليها الصوم (فإن انقطع) أي مضت مدة الأكثر (قبل الفجر) بساعة ولو قلت سراج (في رمضان يجزيها صومه ويجب) عليها (قضاء العشاء والا) بان انقطع مع الفجر أو بعده (فلا) وكذا لو كانت مطلقة حلت الازواج ولو رجعية انقطعت رجعتها سراج (فالمعتبر الجزء الأخير من الوقت) بقدر التحريمة فلو كانت فيه طاهرة وجبت الصلاة والا فلا (كما في البلوغ والإسلام) فإن الصبي لو بلغ والكافر لو اسلم في آخر الوقت وبقي منه قدر التحريمة وجب الفرض عند المحققين من أصحابنا وقيل قدر ما يمكن فيه الاداء وعلى هذا المجنون او افاق والمسافر لو أقام والمقيم لو سافر ولو حاضت او جن في آخر الوقت سقط الفرض وتمامه في التتارخانية في الفصل التاسع عشر من كتاب الصلاة (وإن انقطع) حقيقة (قبل أكثر المدة) ولم ينقص عن العادة في المعتادة كما يأتي (فهي) أي المرأة (ان كانت كتابية تطهر بمجرد انقطاع الدم) فللمزوج المسلم وطؤها في الحال لعدم خطابها بالاغتسال (وإن كانت مسلمة فحكمها في حق الصلاة انها يلزمها القضاء ان بقى من الوقت قدر التحريمة وقدر الغسل أو التيمم عند العجز عن الماء بخلاف ما لو انقطع لاكثر المدة فإنه يكفى قدر التحريمة كما مر لان زمان الغسل أو التيمم من الطهر لئلا يزيد الحيض على العشرة والنفاس على الاربعين فبمجرد الانقطاع تخرج من الحيض والنفاس فإذا ادركت بعده قدر التحريمة تحقق طهرها فيه وإن لم تغتسل فيلزمها القضاء اما هنا (فزمان الغسل أو التيمم حيض ونفاس) فلا يحكم بطهارتها قبل الغسل أو التيمم فلابد أن يبقى من الوقت زمن يسعه ويسع التحريمة (حتى إذا لم يبق بعده) أي بعد زمان الغسل أو التيمم (من الوقت مقدار التحريمة لا يجب القضاء و) حتى (لا يجزيها الصوم ان لم يسعهما) أي الغسل والتحريمة (الباقي من الليل قبل الفجر) وصحح في المجتبى الاكتفاء للصوم ببقاء قدر الغسل فقط ومشى عليه في الدر لكن نقل بعده في البحر عن التوشيح والسراج ما ذكره المص من لزوم قدر التحريمة أيضًا ونحوه في الزيلعي قال في البحر وهذا هو الحق فيما يظهر انتهى وبينا وجهه في رد المحتار(1)

--------------------------------------------

(1) هو انه لو اجزأها الصوم بمجرد ادراك قدر الغسل لزم أن يحكم بطهارتها من الحيض لأن الصوم لا يجزئ من الحائض ولزم أن يحل وطؤها مع أنه خلاف ما اطبقوا عليه من أنه لا يحل ما لم تصر الصلاة دينا في ذمتها ولا تجب عليها الا بادراك الغسل والتحريمة انتهى منه.

ইমাম আবু ইউসুফের মতে, তাহরিমা অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলার সমপরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকলে (নামাজ কাজা করা ওয়াজিব হবে)। আর যদি এই সময়ের সাথে গোসল করার মতো সময়ও অবশিষ্ট থাকে, তবে তা আদায় করাও ওয়াজিব হবে। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি এই পরিমাণ সময় অবশিষ্ট না থাকে, তবে আদায় বা কাজা কোনোটিই ওয়াজিব হবে না। এমনকি নারীর ওপর রোজা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। (যদি রক্ত বন্ধ হয়ে যায়) অর্থাৎ ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদ অতিবাহিত হয় (ফজরের আগে), এমনকি তা যদি এক ঘণ্টা বা তার চেয়েও কম সময় হয়—যেমনটি সিরাজ গ্রন্থে রয়েছে—(তবে রমজান মাসে তার রোজা রাখা বৈধ হবে এবং তার ওপর ওয়াজিব হবে) ইশার নামাজ (কাজা করা)। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি ফজরের সাথে সাথে বা তার পরে রক্ত বন্ধ হয় (তবে তা বৈধ হবে না)। অনুরূপভাবে, যদি নারীটি তালাকপ্রাপ্তা হয়, তবে সে অন্য স্বামীদের জন্য হালাল হয়ে যাবে। আর যদি সে রাজয়ী তালাকপ্রাপ্তা হয়, তবে তার রাজআ বা ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে—সিরাজ। (অতএব বিবেচ্য হলো ওয়াক্তের শেষাংশ) তাহরিমার সমপরিমাণ সময়। যদি সেই সময়ে নারী পবিত্র থাকে তবে নামাজ ওয়াজিব হবে, অন্যথায় হবে না। (যেমনটি সাবালক হওয়া এবং ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে)। কেননা কোনো শিশু যদি সাবালক হয় অথবা কোনো কাফের যদি ওয়াক্তের শেষ সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাহরিমার সমপরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে, তবে আমাদের ফকিহদের মধ্যে গবেষক আলেমদের মতে তার ওপর ফরজ নামাজ ওয়াজিব হবে। কেউ কেউ বলেছেন, যতটুকু সময়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব ততটুকু সময় অবশিষ্ট থাকা শর্ত। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই পাগল যদি সুস্থ হয়, মুসাফির যদি মুকিম হয়, কিংবা মুকিম যদি সফরে বের হয় তাদের হুকুম নির্ধারিত হবে। আর যদি ওয়াক্তের শেষাংশে ঋতুস্রাব শুরু হয় কিংবা কেউ পাগল হয়ে যায়, তবে ফরজ রহিত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা তাতারখানিয়া কিতাবের নামাজ অধ্যায়ের ১৯তম পরিচ্ছেদে রয়েছে। (আর যদি রক্ত বন্ধ হয়) প্রকৃতপক্ষে (ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদের আগে) এবং তা যদি অভ্যাসগত দিনের চেয়ে কম না হয়, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে। (তবে সেই) নারী (যদি কিতাবিয়া বা আহলে কিতাব হয়, তবে রক্ত বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সে পবিত্র হয়ে যাবে)। ফলে তার মুসলিম স্বামীর জন্য তৎক্ষণাৎ সহবাস করা বৈধ হবে, কারণ তাকে গোসল করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। (আর যদি সে মুসলিম নারী হয়, তবে নামাজের ক্ষেত্রে তার হুকুম হলো, তার ওপর কাজা করা আবশ্যক হবে যদি ওয়াক্তের এমন পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে যাতে গোসল এবং তাহরিমা সম্পন্ন করা যায়), অথবা পানি না থাকলে তায়াম্মুম করার সময় পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে যদি ঋতুস্রাব সর্বোচ্চ মেয়াদে (দশ দিন) গিয়ে শেষ হয়, তবে শুধু তাহরিমার সমপরিমাণ সময় থাকাই যথেষ্ট, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ তখন গোসল বা তায়াম্মুমের সময়টুকু পবিত্রতার অংশ হিসেবে গণ্য হবে, যাতে ঋতুস্রাব দশ দিনের বেশি এবং নেফাস চল্লিশ দিনের বেশি না হয়ে যায়। সুতরাং রক্ত বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সে ঋতুস্রাব বা নেফাস থেকে মুক্ত হয়ে যায়। অতএব যদি এরপর সে তাহরিমার সমপরিমাণ সময় পায়, তবে সেই সময়েই তার পবিত্রতা সাব্যস্ত হয়ে যায়, যদিও সে তখনো গোসল না করে। ফলে তার ওপর কাজা করা আবশ্যক হয়। কিন্তু এখানে অর্থাৎ মেয়াদের আগে রক্ত বন্ধ হলে (গোসল বা তায়াম্মুমের সময়টুকুও ঋতুস্রাব ও নেফাসের অন্তর্ভুক্ত)। তাই গোসল বা তায়াম্মুম সম্পন্ন করার আগে তাকে পবিত্র বলে গণ্য করা হবে না। সুতরাং ওয়াক্তের এমন পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকা আবশ্যক যা গোসল এবং তাহরিমা উভয়টির জন্য যথেষ্ট হয়। (এমনকি যদি এরপর) অর্থাৎ গোসল বা তায়াম্মুমের সময়ের পর (ওয়াক্তের তাহরিমা পরিমাণ সময় অবশিষ্ট না থাকে, তবে কাজা ওয়াজিব হবে না। এবং) এমনকি (তার রোজা রাখা বৈধ হবে না যদি ফজরের আগে রাতের অবশিষ্ট সময়ে এই দুটি কাজের—অর্থাৎ গোসল ও তাহরিমা—স্থান সংকুলান না হয়)। মুজতাবা গ্রন্থে রোজার ক্ষেত্রে শুধু গোসলের সময় অবশিষ্ট থাকাকেই যথেষ্ট বলে সঠিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং আদ-দুর গ্রন্থেও এটি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে আল-বাহর গ্রন্থে তাওশিহ ও সিরাজের বরাতে এর পরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো লেখক বর্ণিত মতটি, অর্থাৎ তাহরিমার সময়ও অবশিষ্ট থাকা আবশ্যক। অনুরূপ মত জাইলাই গ্রন্থেও রয়েছে। আল-বাহর গ্রন্থে বলা হয়েছে: "প্রকাশ্য দৃষ্টিতে এটিই সঠিক মত।" সমাপ্ত। আমরা এর যৌক্তিক কারণ রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।(১)

--------------------------------------------

(১) কারণটি হলো, যদি শুধু গোসলের সময়টুকু পাওয়ার মাধ্যমেই তার রোজা বৈধ হয়ে যেত, তবে তাকে ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র বলে গণ্য করা আবশ্যক হয়ে পড়ত; কারণ ঋতুবতী নারীর রোজা বৈধ নয়। এর ফলে তার সাথে সহবাস করাও হালাল হয়ে যেত, অথচ এটি ফকিহদের সর্বসম্মত মতের পরিপন্থী। তারা ঐকমত্য পোষণ করেছেন যে, ততক্ষণ পর্যন্ত সহবাস হালাল হবে না যতক্ষণ না নামাজ তার জিম্মায় দায় হিসেবে সাব্যস্ত হয়। আর নামাজ তার ওপর ওয়াজিব হবে না যতক্ষণ না সে গোসল ও তাহরিমা উভয়টির সমপরিমাণ সময় লাভ করে। সমাপ্ত।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৯২)
(تنبيه) المراد بالغسل ما يشمل مقدماته كالاستقاء وخلع الثوب والتستر عن الاعين وفى شرح البزدوى ولم يذكروا أن المراد به الغسل المسنون أو الفرض والظاهر الفرض لأنَّه يثبت به رجحان جانب الطهارة كذا في شرح التحرير الاصولى لابن امير حاج (ولا يجوز وطؤها) أي وطئ من انقطع دمها قبل أكثر المدة وكذا لا تنقطع الرجعة ولا تحل للازواج (إلا أن تغتسل) وإن لم تصل به (أو تتيمم) عند العجز عن الماء (فتصلى) بالتيمم وهو الصحيح من المذهب كما في البحر لانها بالصلاة تحقق الحكم عليها بالطهارة فلم يعتبر احتمال عود الدم بخلاف ما لو لم تصل لأن التيمم بعرضة البطلان عند رؤية الماء وقيل لا تشترط الصلاة بالتيمم ونقل في السراج أنه الاصح (أو) أن (تصير صلاة دينا في ذمتها) وذلك بان يبقى من الوقت بعد الانقطاع مقدار الغسل والتحريمة فإنه يحكم بطهارتها بعضى ذلك الوقت ويجب عليها القضاء وإن لم تغتسل ولزوجها وطؤها بعده ولو قبل الغسل خلافا لزفر سراج (حتى لو انقطع قبيل طلوع الشمس) بزمان يسير لا يسع الغسل ومقدماته والتحريمة (لا يجوز وطئها حتى يدخل وقت العصر) لانه لما بقى من وقت الظهر ذلك الزمان اليسير ثم خرج وجب القضاء وما قبل الزوال ليس وقت صلاة فلا يعتبر خروجه (وكذا لو انقطع قبيل العشاء) بزمان يسير لا يجوز وطؤها (حتى يطلع الفجر ان لم تغتسل أو تيمم فتصلى) الشرطية قيد للصورتين (إلا أن يتم أكثر المدة) أي مدة الحيض أو النفاس (قبلهما) أي قبل الغسل والتيمم فإنه بعد تمام أكثر المدة يحل الوطئ بلا شرط كما مر (هذا) المذكور من الأحكام (في المبتدأة و) كذا في (المعتادة إذا انقطع) دمها (في) ايام (عادتها أو بعدها) قبل تمام أكثر المدة (واما إذا انقطع قبلها) أي قبل العادة وفوق الثلاث (فهى في حق الصلاة والصوم كذلك) حتى لو انقطع وقد بقي من وقت الصلاة أو ليلة الصوم قدر ما يسع الغسل والتحريمة وجبا والا فلا (واما الوطئ فلا يجوز حتى تمضى عادتها) وإن اغتسلت لأن العود في العادة غالب فكان الاحتياط في الاجتناب هداية (حتى لو كان حيضها) المعتاد لها (عشرة فحاضت ثلاثة وطهرت ستة لا يحل وطؤها) ما لم تمض العادة نعم لو كانت هذه الحيضة هي الثالثة من العدة انقطعت الرجعة(2) ولا تتزوج بآخر احتياطا وتمامه في البحر (وكذا النفاس) حتى لو كانت عادتها فيه اربعين فرأت عشرين

--------------------------------------------

(2) قوله ولا تتزوج بآخر أي لا يدخل بها والا فالعقد صحيح أن لم تر بعده الدم منه.
(সতর্কবার্তা) গোসল দ্বারা এমন বিষয়সমূহ উদ্দেশ্য যা এর আনুষঙ্গিক কার্যাবলীকেও অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন পানি সংগ্রহ করা, কাপড় খোলা এবং লোকচক্ষু থেকে আড়ালে যাওয়া। শারহে বাজদাবিতে রয়েছে যে, তারা (ফকীহগণ) এটি উল্লেখ করেননি যে এর দ্বারা সুন্নাত গোসল নাকি ফরজ গোসল উদ্দেশ্য। তবে বাহ্যত এটি ফরজ গোসল; কেননা এর মাধ্যমেই পবিত্রতার দিকটি জোরালোভাবে প্রমাণিত হয়। ইবনে আমির হাজ্জের 'শারহুত তাহরিরিল উসুল' এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমনই বর্ণিত হয়েছে। (আর তার সাথে সহবাস বৈধ নয়) অর্থাৎ যার রক্ত সর্বোচ্চ মেয়াদের আগেই বন্ধ হয়ে গেছে তার সাথে সহবাস জায়েজ নয়। একইভাবে (তালাকের ক্ষেত্রে) রাজআত (ফিরিয়ে নেওয়ার অধিকার) শেষ হবে না এবং সে অন্য স্বামীদের জন্য হালাল হবে না (যতক্ষণ না সে গোসল করে), যদিও সে সেই গোসলের মাধ্যমে নামাজ না পড়ে। (অথবা তায়াম্মুম করে) পানি ব্যবহারে অক্ষমতার সময়, (অতঃপর তায়াম্মুমের মাধ্যমে নামাজ পড়ে)। এটিই মাযহাবের বিশুদ্ধ মত যেমনটি 'আল-বাহর' গ্রন্থে রয়েছে। কারণ নামাজের মাধ্যমে তার ওপর পবিত্রতার বিধানটি সুনিশ্চিত হয়, ফলে রক্ত ফিরে আসার সম্ভাবনা আর ধর্তব্য থাকে না। পক্ষান্তরে যদি নামাজ না পড়ে তবে বিষয়টি ভিন্ন; কেননা পানি দেখলে তায়াম্মুম বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কেউ কেউ বলেছেন তায়াম্মুমের পর নামাজ পড়া শর্ত নয়, এবং 'আস-সিরাজ' গ্রন্থে এটিকে অধিকতর বিশুদ্ধ বলে উদ্ধৃত করা হয়েছে। (অথবা) এক ওয়াক্ত নামাজ (তার জিম্মায় ঋণ বা কাজা হিসেবে সাব্যস্ত হওয়া)। তা এভাবে যে, রক্ত বন্ধ হওয়ার পর ওয়াক্তের অবশিষ্ট সময় এতটুকু থাকে যাতে গোসল এবং তাকবিরে তাহরিমা সম্পন্ন করা যায়; এমতাবস্থায় ওই সময় অতিবাহিত হওয়ার মাধ্যমে তাকে পবিত্র বলে গণ্য করা হবে এবং তার ওপর ওই নামাজের কাজা ওয়াজিব হবে যদিও সে গোসল না করে। আর স্বামীর জন্য এরপর সহবাস করা বৈধ হবে যদিও তা গোসলের আগে হয়, ইমাম জুফার রহ.-এর মত এর বিপরীত। - সিরাজ। (এমনকি যদি সূর্যোদয়ের ঠিক আগে) এমন অল্প সময়ে রক্ত বন্ধ হয় যাতে গোসল, এর আনুষঙ্গিক কাজ এবং তাহরিমার সংকুলান হয় না, (তবে আসরের ওয়াক্ত প্রবেশ করা পর্যন্ত তার সাথে সহবাস বৈধ হবে না)। কারণ জোহরের ওয়াক্তের শেষ দিকে যখন ঐ সামান্য সময় বাকি থাকে এবং এরপর ওয়াক্ত শেষ হয়ে যায়, তখন কাজা ওয়াজিব হয়। আর সূর্য ঢলার আগের সময়টি নামাজের ওয়াক্ত নয়, তাই তার অতিক্রান্ত হওয়া ধর্তব্য নয়। (একইভাবে যদি এশার সামান্য আগে) এমন অল্প সময়ে রক্ত বন্ধ হয় তবে সহবাস বৈধ হবে না (যতক্ষণ না ফজর উদিত হয়, যদি না সে গোসল করে অথবা তায়াম্মুম করে নামাজ পড়ে)। এই শর্তমূলক বাক্যটি উভয় সুরতের জন্য প্রযোজ্য। (তবে যদি সর্বোচ্চ মেয়াদ পূর্ণ হয়ে যায়) অর্থাৎ হায়েজের বা নেফাসের মেয়াদ (উক্ত গোসল ও তায়াম্মুমের আগে), তবে সর্বোচ্চ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর কোনো শর্ত ছাড়াই সহবাস হালাল হয়ে যাবে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। (এই) উল্লিখিত বিধানসমূহ (নবীন ঋতুবতী এবং যার অভ্যাস নির্ধারিত আছে এমন নারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যখন তার রক্ত বন্ধ হবে) তার (অভ্যাসের দিনগুলোতে অথবা অভ্যাসের পরে) কিন্তু সর্বোচ্চ মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে। (আর যদি অভ্যাসের আগে রক্ত বন্ধ হয়) অর্থাৎ অভ্যাসের দিনের আগে কিন্তু তিন দিনের বেশি সময় পর, (তবে নামাজ ও রোজার ক্ষেত্রে বিধান একইরূপ হবে)। এমনকি যদি রক্ত এমন সময় বন্ধ হয় যখন নামাজের ওয়াক্ত বা রোজার রাতের এতটুকু সময় বাকি থাকে যাতে গোসল ও তাহরিমা সম্পন্ন করা যায়, তবে তা (নামাজ বা রোজা) ওয়াজিব হবে, অন্যথায় নয়। (সহবাসের ক্ষেত্রে বিধান হলো, অভ্যাসগত দিনগুলো অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তা বৈধ হবে না) যদিও সে গোসল করে নেয়। কারণ অভ্যাস অনুযায়ী রক্ত ফিরে আসার সম্ভাবনাই প্রবল, তাই বিরত থাকাই সতর্কতামূলক। - হিদায়া। (এমনকি যদি তার নিয়মিত হায়েজের সময়) দশ দিন হয় (আর এবার তিন দিন রক্ত আসার পর ছয় দিন পবিত্র থাকে, তবে তার সাথে সহবাস হালাল হবে না) যতক্ষণ না অভ্যাসের সময় অতিবাহিত হয়। হ্যাঁ, এই হায়েজটি যদি ইদ্দতের তৃতীয় হায়েজ হয়, তবে রাজআত শেষ হয়ে যাবে(২) কিন্তু সতর্কতাস্বরূপ সে অন্য কাউকে বিয়ে করবে না। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত আলোচনা 'আল-বাহর' গ্রন্থে রয়েছে। (একইভাবে নেফাসের বিধান), এমনকি যদি তার নেফাসের অভ্যাস চল্লিশ দিন হয় আর সে বিশ দিন রক্ত দেখে...

--------------------------------------------

(২) তার উক্তি "অন্য কাউকে বিয়ে করবে না" অর্থাৎ তার সাথে বাসর করবে না। অন্যথায় আকদ বা বিয়ের চুক্তি সহিহ হবে যদি এরপর তার থেকে রক্ত প্রকাশ না পায়।
(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৯৩)
وطهرت تسعة عشر لا يحل وطؤها قبل تمام العادة (ثم ان المرأة) كلما رأت الدم تتراء الصلاة مبتدأة كانت أو معتادة كما سيأتى في الفصل السادس و (كلما انقطع دمها في الحيض قبل ثلاثة ايام) تصلى لكن (تنتظر إلى آخر الوقت) أي المستحب كما في بعض النسخ (وجوبا) في الفتاوى الحائض إذا انقطع دمها لاقل من عشرة تنتظر إلى آخر الوقت المستحب دون المكروه نص عليه محمد في الأصل قال إذا انقطع في وقت العشاء تؤخر إلى وقت يمكنها أن تغتسل فيه وتصلى قبل انتصاف الليل وما بعد نصف الليل مكروه انتهى سراج (فإن لم يعد) في الوقت (توضأ) مضارع محذوف إحدى التائين (فتصلى) إذا خافت فوت الوقت (وتصوم) ان انقطع ليلا (أو تشبه) بالصائم أي تمسك عن المفطرات بقية اليوم أن انقطع نهارا لحرمة الشهر (وإن عاد) في الوقت أو بعده في العشرة كما يأتي (بطل الحكم بطهارتها فتقعد) عن الصلاة والصوم (وبعد الثلاثة) معطوف على قوله قبل ثلاثة ايام (ان انقطع قبل العادة فكذلك) الحكم (لكن) هنا (تصلى بالغسل كلما انقطع) لا بالوضوء لانه تحقق كونها حائضا برؤية الدم ثلاثة فأكثر (أو بعد العادة) أي وإن انقطع بعد تمام العادة فالحكم أيضًا (كذلك لكن) هنا (التأخير) إلى تأخير الغسل كما في التتارخانية أي تأخيره لأجل الصلاة (مستحب لا واجب) لأن عود الدم بعد العادة لا يغلب بخلاف ما قبلها فلذا وجب التأخير وشمل قوله كذلك في الموضعين أنه لو عاد الدم بطل الحكم بطهارتها فكأنها لم تطهر قال في التتارخانية وهذا إذا عاد في العشرة ولم يتجاوزها وظهرت بعد ذلك خمسة عشر يوما فلو تجاوزها أو نقص الطهر عن ذلك فالعشرة حيض لو مبتدأة والا فايام عادتها ولو اعتادت في الحيض يوما دما ويوما طهرا هكذا إلى العشرة فإذا رأت الدم في اليوم الأول تترك الصلاة والصوم وإذا طهرت في الثاني توضأت وصلت وفى الثالث تترك الصلاة والصوم وفي الرابع تغتسل وتصلى هكذا إلى العشرة انتهى ونحوه في صدر الشريعة (والنفاس كالحيض) في الأحكام المذكورة (وغير أنه يجب الغسل فيه كلما انقطع على كل حال) سواء كان قبل ثلاثة أو بعدها لانه لا اقل له ففى كل انقطاع يحتمل خروجها من النفاس فيجب الغسل بخلاف ما قبل الثلاث في الحيض (الفصل الرابع) في احكام (الاستمرار) أي استمرار الدم وزيادته على أكثر المدة (هو ان وقع في المعتادة فظهرها وحيضها ما اعتادت) فترد إليها فيهما (في جميع الأحكام ان كان طهرها) المعتاد (اقل من ستة اشهر والا) بان كان ستة اشهر فأكثر لا يقدر بذلك

তিনি ১৯ দিন পবিত্র থাকলেন, তার অভ্যাসের সময় পূর্ণ হওয়ার আগে তার সাথে সহবাস করা হালাল নয়। (অতঃপর নারী) যখনই রক্ত দেখবে, সে নামাজ ত্যাগ করবে; চাই সে নতুন মাসিকওয়ালী হোক বা অভ্যস্ত হোক, যেমনটি ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে আসবে। (এবং মাসিকের মধ্যে যখনই তিন দিনের আগে তার রক্ত বন্ধ হবে), সে নামাজ পড়বে, কিন্তু (সময়ের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে) অর্থাৎ মুস্তাহাব সময়ের শেষ পর্যন্ত, যেমনটি কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, (ওয়াজিব হিসেবে)। ফাতাওয়া গ্রন্থে আছে: হায়েযওয়ালী নারীর রক্ত যদি দশ দিনের কম সময়ে বন্ধ হয়, তবে সে মাকরূহ সময় নয় বরং মুস্তাহাব সময়ের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ইমাম মুহাম্মদ 'আল-আসল' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: যদি এশার ওয়াক্তে রক্ত বন্ধ হয়, তবে সে তা ততক্ষণ পর্যন্ত বিলম্বিত করবে যাতে সে গোসল করতে পারে এবং মধ্যরাতের আগে নামাজ আদায় করতে পারে; আর মধ্যরাতের পরের সময়টি মাকরূহ। সিরাজ (গ্রন্থের উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। (অতঃপর যদি রক্ত ফিরে না আসে) সময়ের মধ্যে, (তবে সে ওযু করবে) - এখানে মুদারে থেকে একটি ‘তা’ বিলুপ্ত হয়েছে - (এবং নামাজ পড়বে) যদি সে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় করে, (এবং রোজা রাখবে) যদি রাতে রক্ত বন্ধ হয়, (অথবা রোজাদারের সদৃশ হবে) অর্থাৎ দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকবে যদি দিনের বেলা রক্ত বন্ধ হয় রমজান মাসের সম্মানে। (আর যদি রক্ত ফিরে আসে) সময়ের মধ্যে অথবা এরপর দশ দিনের ভেতরে যেমনটি সামনে আসবে, (তবে তার পবিত্রতার হুকুম বাতিল হয়ে যাবে এবং সে বিরত থাকবে) নামাজ ও রোজা থেকে। (এবং তিন দিন পর) - যা 'তিন দিনের আগে' কথাটির ওপর আতফ - (যদি অভ্যাসের সময়ের আগে রক্ত বন্ধ হয় তবে হুকুম তেমনই হবে), (কিন্তু) এখানে (যখনই রক্ত বন্ধ হবে সে গোসল করে নামাজ পড়বে), ওযু করে নয়; কেননা তিন দিন বা তার বেশি রক্ত দেখার কারণে তার হায়েয হওয়া নিশ্চিত হয়ে গেছে। (অথবা অভ্যাসের পর) অর্থাৎ যদি অভ্যাসের সময় পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত বন্ধ হয়, তবে হুকুমও (অনুরূপ হবে, কিন্তু) এখানে (বিলম্ব করা) অর্থাৎ গোসলে বিলম্ব করা যেমনটি তাতারখানিয়াতে রয়েছে, তথা নামাজের খাতিরে তা বিলম্ব করা (মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়)। কারণ অভ্যাসের সময়ের পরে রক্ত ফিরে আসা সচরাচর ঘটে না, যা অভ্যাসের আগের সময়ের বিপরীত; এজন্যই (আগের ক্ষেত্রে) বিলম্ব করা ওয়াজিব ছিল। আর উভয় ক্ষেত্রে 'অনুরূপ' কথাটি একথাই শামিল করে যে, যদি রক্ত ফিরে আসে তবে তার পবিত্রতার হুকুম বাতিল হয়ে যাবে, যেন সে পবিত্রই হয়নি। তাতারখানিয়াতে বলা হয়েছে: এটি তখন হবে যখন রক্ত দশ দিনের মধ্যে ফিরে আসে এবং তা অতিক্রম না করে এবং এরপর পনের দিন পবিত্র থাকে। কিন্তু যদি তা দশ দিন অতিক্রম করে অথবা পবিত্রতা এর চেয়ে কম হয়, তবে সে যদি নতুন মাসিকওয়ালী হয় তবে দশ দিনই হায়েয, অন্যথায় তার অভ্যাসের দিনগুলো গণ্য হবে। যদি হায়েযের মধ্যে তার অভ্যাস এমন হয় যে, একদিন রক্ত আর একদিন পবিত্রতা - এভাবে দশ দিন পর্যন্ত; তবে প্রথম দিন রক্ত দেখলে সে নামাজ ও রোজা ত্যাগ করবে, দ্বিতীয় দিন পবিত্র হলে ওযু করে নামাজ পড়বে, তৃতীয় দিন নামাজ ও রোজা ত্যাগ করবে এবং চতুর্থ দিন গোসল করে নামাজ পড়বে - এভাবে দশ দিন পর্যন্ত। (গ্রন্থের উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। অনুরূপ কথা সদরুশ শরীআহ গ্রন্থেও রয়েছে। (এবং নেফাস হায়েযের মতো) উল্লেখিত বিধানসমূহে, (তবে পার্থক্য এই যে, এতে যখনই রক্ত বন্ধ হবে সর্বাবস্থায় গোসল করা ওয়াজিব), চাই তা তিন দিনের আগে হোক বা পরে; কারণ নেফাসের কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই। তাই প্রতিবার রক্ত বন্ধ হওয়ার সময় তার নেফাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে গোসল ওয়াজিব হয়; যা হায়েযের ক্ষেত্রে তিন দিনের আগের হুকুমের বিপরীত। (চতুর্থ পরিচ্ছেদ) (ইস্তিমরার) বা রক্ত অব্যাহত থাকার বিধানে; অর্থাৎ রক্ত ক্রমাগত নির্গত হওয়া এবং তা সর্বোচ্চ সীমার অতিরিক্ত হওয়া। (যদি তা অভ্যাসকারিণীর ক্ষেত্রে ঘটে, তবে তার পবিত্রতা ও হায়েয হবে তার অভ্যাস অনুযায়ী)। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে (সকল বিধানে, যদি তার অভ্যস্ত পবিত্রতা) ছয় মাসের কম হয়। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি তা ছয় মাস বা তার বেশি হয়, তবে তা এভাবে নির্ধারিত হবে না।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৯৪)
لأن الطهر بين الدمين اقل من أدنى مدة الحبل عادة (فيرد إلى ستة اشهر الا ساعة تحقيقا للتفاوت بين طهر الحيض وطهر الحبل (وحيضها بحاله) وهذا قول محمد ابن إبراهيم الميدانى قال في العناية وغيرها وعليه الأكثر وفي التتارخانية وعليه الاعتماد وعند أبي عصمة بن معاذ المروزي ترد على عادتها وإن طالت مثلا ان كانت عادتها في الطهر سنة وفى الحيض عشرة بأمرها بالصلاة والصوم سنة وبتركهما عشرة وتنقضى عدتها بثلاث سنين وشهر وعشرة ايام ان كان الطلاق في أول حيضها في حسابها وقال في الكافي وعند عامة العلماء ترد إلى عشرين كما لو بلغت مستحاضة وفى الخلاصة شهر كامل وفى المحيط السرخسي وعن محمد أنه مقدر بشهرين واختاره الحاكم وهو الاصح قال في الغاية قبل والفتوى على قول الحاكم واخترنا قول الميداني لقوة قوله رواية ودراية اهـ قلت لكن في البحر عن النهاية والعناية والفتح أن ما اختاره الحاكم الشهيد عليه الفتوى لانه ايسر على المفتى والنساء انتهى ومشى عليه في الدر لأن لفظ الفتوى آكد الفاظ التصحيح (وإن وقع) أي الاستمرار (في المبتدأة) فلا يخلو اما ان تبلغ بالحيض أو بالحبل اما الثانية فسيأتي حكمها واما الأولى فعلى أربعة وجوه اما أن يستمر بها الدم من أول ما بلغت أو بعد ما رأت دما وطهرا صحيحين أو فاسدين أو دما صحيحا وطهرا فاسدا ولا يتصور عكسه في المبتدأة اما الوجه الأول (فحيضها من أول الاستمرار عشرة وطهرها عشرون) كما في المتون وغيرها خلافا لما في امداد الفتاح من أن طهرها خمسة عشر فإنه مخالف لما في عامة الكتب فتنبه (ثم ذلك دأبها ونفاسها اربعون ثم عشرون طهرها اذ لا يتوالى نفاس وحيض) بل لابد من طهر تام بينهما كما مر بيانه في المقدمة (ثم عشرة حيضها ثم ذلك دأبها) والوجه الثاني قوله (وإن رأت مبتدأة دما وطهرا صحيحين ثم استمر الدم تكون معتادة وقد سبق حكمها) قريبا (مثاله مراهقة رأت خمسة دما واربعين طهرا ثم استمر الدم) فقد صارت معتادة فترد في زمن الاستمرار إلى عادتها وحينئذ (فخمسة من أول الاستمرار حيض لا تصلى) فيها (ولا تصوم ولا توطأ وكذا سائر احكام الحيض) الآتية في الفصل السادس (ثم اربعون طهرها تفعل) فيها (هذه الثلاثة وغيرها من احكام الطهارات) وهكذا دأبها إلى أن ينقطع وترى بعده خلاف عادتها والوجه الثالث قوله (وإن رأت دما وطهرا فاسدين فلا اعتبار بهما) في نصب العادة للمبتدأة وهذا الوجه على قسمين لأن الطهر قديكون فساده بنقصانه عن خمسة عشر يوما وقد يكون بمخالطته الدم (فإن كان الطهر) قد فسد بكونه (ناقصا تكون كالمستمر دمها ابتداء)

কারণ দুই রক্তস্রাবের মধ্যবর্তী পবিত্রতা সাধারণত গর্ভাবস্থার ন্যূনতম মেয়াদের চেয়ে কম। তাই ঋতুস্রাবের পবিত্রতা এবং গর্ভাবস্থার পবিত্রতার মধ্যে পার্থক্য নিশ্চিত করার জন্য একে এক ঘণ্টা কম ছয় মাস ধরা হবে। আর তার ঋতুস্রাব তার নিজ অবস্থাতেই থাকবে। এটি মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম আল-ময়দানীর অভিমত। 'আল-ইনায়াহ' ও অন্যান্য কিতাবে বলা হয়েছে যে, অধিকাংশ আলেম এর ওপরই রয়েছেন। 'তাতারখানিয়া' কিতাবে আছে যে, এর ওপরই নির্ভরযোগ্যতা। আর আবু ইসমা বিন মুআয আল-মারওয়াযীর মতে, সে তার অভ্যাসের (আদত) দিকেই ফিরে যাবে যদিও তা দীর্ঘ হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি তার পবিত্রতার অভ্যাস এক বছর এবং ঋতুস্রাবের অভ্যাস দশ দিন হয়, তবে তাকে এক বছর নামাজ ও রোজা পালনের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং দশ দিন তা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। আর তার ইদ্দত তিন বছর এক মাস দশ দিনে পূর্ণ হবে, যদি তার হিসাব অনুযায়ী ঋতুস্রাবের শুরুতে তালাক দেওয়া হয়ে থাকে। 'আল-কাফী' কিতাবে বলা হয়েছে, সাধারণ উলামায়ে কেরামের মতে তাকে বিশ দিনের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, যেমনটি প্রারম্ভিক অবস্থায় কোনো বালিগা মেয়ে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হলে করা হয়। 'আল-খুলাসা' কিতাবে পূর্ণ এক মাসের কথা বলা হয়েছে। 'আল-মুহিত আস-সারখাসী' কিতাবে ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এর পরিমাণ দুই মাস। ইমাম হাকিম এটিই গ্রহণ করেছেন এবং এটিই অধিকতর সঠিক। 'আল-গায়াহ' কিতাবে বলা হয়েছে যে, ফতোয়া ইমাম হাকিমের মতের ওপর। তবে আমরা বর্ণনালব্ধ ও যুক্তিগত প্রমাণের সবলতার কারণে আল-ময়দানীর মতটিই গ্রহণ করেছি। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, তবে 'আল-বাহরুর রায়েক' কিতাবে 'আন-নিহায়াহ', 'আল-ইনায়াহ' ও 'আল-ফাতহ' এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাকিম আশ-শহীদ যা পছন্দ করেছেন তার ওপরই ফতোয়া; কারণ এটি মুফতি এবং নারীদের জন্য অধিকতর সহজ। সমাপ্ত। 'আদ-দুরর' কিতাবেও এটিই অনুসরণ করা হয়েছে, কারণ 'ফতোয়া' শব্দটি বিশুদ্ধকরণের শব্দগুলোর মধ্যে অধিকতর শক্তিশালী। (আর যদি এটি ঘটে) অর্থাৎ রক্ত প্রবাহের নিরবচ্ছিন্নতা (নতুন ঋতুবতীর ক্ষেত্রে), তবে তা দুই অবস্থা থেকে মুক্ত নয়: হয় সে ঋতুস্রাবের মাধ্যমে বালেগা হয়েছে অথবা গর্ভাবস্থার মাধ্যমে। দ্বিতীয় সুরতের বিধান সামনে আসবে। আর প্রথম সুরতটি চার প্রকারের: হয় বালিগা হওয়ার শুরু থেকেই রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, অথবা সহীহ রক্ত ও সহীহ পবিত্রতা দেখার পর, অথবা উভয়টি ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) হওয়ার পর, অথবা সহীহ রক্ত ও ফাসিদ পবিত্রতা দেখার পর। নতুন ঋতুবতীর ক্ষেত্রে এর বিপরীতটি (অর্থাৎ ফাসিদ রক্ত ও সহীহ পবিত্রতা) কল্পনা করা যায় না। প্রথম প্রকারটি হলো: (নিরবচ্ছিন্ন রক্ত প্রবাহের শুরু থেকে তার ঋতুস্রাব হবে দশ দিন এবং পবিত্রতা হবে বিশ দিন), যেমনটি মূল গ্রন্থসমূহ (মুতুন) ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে; 'ইমদাদুল ফাত্তাহ' কিতাবের বিপরীত, যেখানে তার পবিত্রতাকে পনেরো দিন বলা হয়েছে। কারণ এটি সাধারণ কিতাবসমূহের পরিপন্থী, সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন। (অতঃপর এটাই তার নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে গণ্য হবে। আর তার নিফাস হবে চল্লিশ দিন, এরপর বিশ দিন পবিত্রতা, যেহেতু নিফাস ও হায়েজ নিরবচ্ছিন্নভাবে আসে না)। বরং উভয়ের মাঝে একটি পূর্ণ পবিত্রতা থাকা আবশ্যক, যেমনটি ভূমিকা অংশে বর্ণিত হয়েছে। (অতঃপর দশ দিন তার হায়েজ এবং এটাই তার নিয়মিত অভ্যাস)। দ্বিতীয় প্রকার হলো: (যদি নতুন ঋতুবতী সহীহ রক্ত ও সহীহ পবিত্রতা দেখে আর এরপর রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, তবে সে অভ্যাসপ্রাপ্ত নারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বিধান ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে)। (এর উদাহরণ হলো: এক কিশোরী পাঁচ দিন রক্ত এবং চল্লিশ দিন পবিত্রতা দেখল, এরপর তার রক্ত প্রবাহিত হতে থাকল)। এমতাবস্থায় সে অভ্যাসপ্রাপ্তা হয়ে গেল, তাই রক্ত প্রবাহের সময় সে তার অভ্যাসের দিকেই ফিরে যাবে। তখন (রক্ত প্রবাহের শুরু থেকে পাঁচ দিন হবে হায়েজ, যাতে সে নামাজ পড়বে না), (রোজা রাখবে না এবং তার সাথে সহবাস করা যাবে না; তদ্রূপ হায়েজের অন্যান্য বিধানও প্রযোজ্য হবে), যা ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে আসবে। (অতঃপর চল্লিশ দিন তার পবিত্রতা, যাতে সে এই তিনটি কাজ সম্পাদন করবে) এবং পবিত্রতার অন্যান্য বিধানও পালন করবে। রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত এভাবেই তার অভ্যাস চলতে থাকবে এবং এরপর সে তার অভ্যাসের বিপরীত কিছু দেখতে পারে। তৃতীয় প্রকার হলো: (যদি সে ফাসিদ রক্ত ও ফাসিদ পবিত্রতা দেখে, তবে নতুন ঋতুবতীর অভ্যাস নির্ধারণে এগুলোর কোনো গুরুত্ব নেই)। এই প্রকারটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত; কারণ পবিত্রতা ফাসিদ হওয়ার কারণ কখনো পনেরো দিনের কম হওয়া হতে পারে, আবার কখনো রক্তের সাথে মিশ্রিত হওয়া হতে পারে। (যদি পবিত্রতা) (কম হওয়ার কারণে) ফাসিদ হয়, (তবে সে প্রারম্ভিক অবস্থা থেকেই নিরবচ্ছিন্ন রক্ত প্রবাহকারীর মতো গণ্য হবে)।

(খণ্ড: ১) মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়যি আলা যুখরিল মুতাআহহিলিনা ফী মাসায়িলিল হায়েয - ত ইস্তাম্বুল (পৃষ্ঠা: ৯৫)
أي كمن استمر دمها من ابتداء بلوغها وقد عرفت حكمها في الوجه الأول وصرح به بقوله (عشرة من ابتداء الاستمرار ولو حكما) كالطهر الذي في حكم الدم (حيضها) خبر المبتدأ وهو قوله عشرة (وعشرون طهرها ثم ذلك دأبها) ما دام الاستمرار (مثاله مراهقة رأت أحد عشر دما واربعة عشر طهرا ثم استمر الدم) فالدم الأول فاسد لزيادته على العشرة وكذا الطهر لنقصانه عن خمسة عشر فلا يصلح واحد منهما لنصب العادة ويحكم على هذا الطهر بأنه دم (فالاستمرار حكما من أول ما رأت) أي من أول الاحد عشر (لما عرفت) قبيل الفصل الأول (ان الطهر الناقص كالدم المتوالى) لا يفصل بين الدمين وإذا كان كذلك صار الاستمرار الحكمي من أول الدم الأول وهو الاحد عشر فعشرة من اولها حيض وعشرون بعدها طهر فيكون خمسة من أول الاستمرار الحقيقى من طهرها فتصلى فيها أيضًا ثم تقعد عشرة ثم تصلى عشرين وذلك دأبها كما في التتارخانية وغيرها ثم بين القسم الثاني من قسمى الوجه الثالث بقوله (وإن كان الطهر تاما) وقد فسد بمخالطته الدم كما ستعرفه ويسمى صحيحا في الظاهر فاسدا في المعنى فلا يخلو اما أن يزيد مجموع ذلك الطهر والدم الفاسد الذي قبله على ثلاثين اولا (فإن لم يزد على ثلاثين فكالسابق) أي فحكمه حكم القسم الأول وتصوير ذلك (بان رأت أحد عشر دما وخمسة عشر طهرا ثم استمر الدم) فالدم الأول فاسد لزيادته والطهر صحيح ظاهرا لانه تام فاسد معنى لما يأتى وحينئذ فلا اعتبار بهما في نصب العادة بل (عشرة من أول ما رأت حيض وعشرون طهر) فيكون أربعة ايام من أول الاستمرار بقية طهرها فتصلى فيها ثم تقعد عشرة ثم تصلى عشرين (ثم ذلك دأبها) وهذا قول محمد بن إبراهيم الميداني قال في المحيط السرخسي هو الصحيح وقال الدقاق حيضها عشرة وطهرها ستة عشر أقول وكأن الدقاق نظر إلى ظاهر الظهر لكونه تاما فجعله فاصلا بين الدمين ولم ينظر إلى فساده في المعنى وجعلها معتادة (وإن زاده) أي الدم والطهر على ثلاثين (بان رأت مثلا أحد عشر دما وعشرين طهرا ثم استمر فعشرة من أول ما رأت حيض ثم) الباقي (طهر) وهو الحادي عشر وما بعده (إلى أول الاستمرار ثم تستأنف من أول الاستمرار عشرة حيض وعشرون طهر ثم ذلك دأبها) ما دام الاستمرار وإنما لم يجعل الطهر في هاتين الصورتين عادة لها ترجع إليها في زمن الاستمرار (لأن الظهر) المذكور (وإن كان) من صحيحا ظاهرا لكونه (تاما) لكن (واوله دم) وهو اليوم الزائد على العشرة فإنها (تصلى به) فيكون

অর্থাৎ যার রক্তস্রাব তার সাবালকত্বের শুরু থেকেই অব্যাহতভাবে চলছে এবং প্রথম সুরতে আপনি তার বিধান জেনেছেন। গ্রন্থকার তার এই বাণীর মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: (অব্যাহত স্রাব শুরুর সময় থেকে দশ দিন, যদিও তা হুকমান বা পরোক্ষভাবে হয়) যেমন সেই পবিত্রতা যা রক্তের হুকুমে। (তার ঋতুস্রাব) এটি মুক্তাদার খবর, যা হলো তার বাণী 'দশ'। (এবং বিশ দিন হলো তার পবিত্রতা, এরপর এটাই তার নিয়ম হবে) যতক্ষণ রক্তস্রাব অব্যাহত থাকবে। (এর উদাহরণ হলো, এমন এক কিশোরী যে এগারো দিন রক্ত এবং চৌদ্দ দিন পবিত্রতা দেখল, এরপর রক্তস্রাব অব্যাহত থাকল)। এখানে প্রথম রক্তস্রাবটি ফাসিদ বা ত্রুটিপূর্ণ, কারণ তা দশ দিনের সীমা অতিক্রম করেছে; তেমনিভাবে পবিত্রতাও ফাসিদ, কারণ তা পনেরো দিনের চেয়ে কম। ফলে এগুলোর কোনটিই অভ্যাস নির্ধারণের জন্য উপযুক্ত নয় এবং এই পবিত্রতাকেও রক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। (সুতরাং হুকমান বা পরোক্ষভাবে অব্যাহত স্রাব শুরু হবে প্রথম দেখা রক্ত থেকে) অর্থাৎ এগারো দিনের শুরু থেকে। (কারণ আপনি জেনেছেন) প্রথম পরিচ্ছেদের সামান্য আগেই (যে, অসম্পূর্ণ পবিত্রতা হলো ধারাবাহিক রক্তের মতো) যা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় না। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন হুকমি ইস্তিমরার বা পরোক্ষ ধারাবাহিকতা প্রথম রক্তের শুরু থেকে গণ্য হবে, যা ছিল এগারো দিন। অতএব তার শুরু থেকে দশ দিন ঋতুস্রাব এবং পরবর্তী বিশ দিন পবিত্রতা। সুতরাং প্রকৃত ধারাবাহিক রক্তস্রাবের শুরুর পাঁচ দিন তার পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত হবে, তাই সে এই দিনগুলোতেও সালাত আদায় করবে। এরপর সে দশ দিন বিরত থাকবে, তারপর বিশ দিন সালাত আদায় করবে। (এটাই তার নিয়মিত নিয়ম হবে) যেমনটি তাতারখানিয়া ও অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। এরপর তিনি তৃতীয় প্রকারের দুই বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় বিভাগটি বর্ণনা করেছেন তার এই বাণীর মাধ্যমে: (আর যদি পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ হয়) যা রক্তের সংমিশ্রণের কারণে ফাসিদ হয়ে গেছে, যেমনটি আপনি সামনে জানতে পারবেন। একে বাহ্যিকভাবে সহিহ বা সঠিক বলা হলেও অর্থগতভাবে ফাসিদ বলা হয়। এমতাবস্থায় ঐ পবিত্রতা এবং তার পূর্বের ফাসিদ রক্ত—উভয়ের সমষ্টি ত্রিশ দিনের বেশি হবে অথবা হবে না। (যদি ত্রিশের বেশি না হয়, তবে তা পূর্বের অবস্থার মতোই হবে) অর্থাৎ এর বিধান প্রথম বিভাগের বিধানের মতোই। এর বাস্তব চিত্র হলো (সে এগারো দিন রক্ত এবং পনেরো দিন পবিত্রতা দেখল, এরপর রক্তস্রাব অব্যাহত থাকল)। এখানে প্রথম রক্তস্রাবটি তার আধিক্যের কারণে ফাসিদ, আর পবিত্রতাটি বাহ্যিকভাবে সহিহ যেহেতু তা পূর্ণাঙ্গ, কিন্তু অর্থগতভাবে তা ফাসিদ বা ত্রুটিপূর্ণ যা সামনে আসবে। এমতাবস্থায় অভ্যাস নির্ধারণে এই দুটির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বরং (প্রথম দেখার শুরু থেকে দশ দিন হবে ঋতুস্রাব এবং বিশ দিন পবিত্রতা)। ফলে প্রকৃত অব্যাহত স্রাবের শুরুর চার দিন তার অবশিষ্ট পবিত্রতা হিসেবে গণ্য হবে এবং সে তাতে সালাত পড়বে। এরপর দশ দিন বিরত থাকবে এবং তারপর বিশ দিন সালাত পড়বে। (এরপর এটাই তার নিয়ম হবে)। এটি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-মাইদানির অভিমত। মুহিতে সারাখসিতে বলা হয়েছে, এটিই সঠিক। আদ-দাক্কাক বলেন, তার ঋতুস্রাব দশ দিন এবং পবিত্রতা ষোল দিন। আমি বলছি, সম্ভবত আদ-দাক্কাক পবিত্রতার বাহ্যিক রূপটি বিবেচনা করেছেন যেহেতু তা পূর্ণাঙ্গ ছিল, তাই তিনি একে দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদকারী হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর অর্থগত ফাসিদ হওয়ার দিকে লক্ষ করেননি, ফলে তিনি তাকে অভ্যাসসম্পন্না হিসেবে গণ্য করেছেন। (আর যদি তা বৃদ্ধি পায়) অর্থাৎ রক্ত ও পবিত্রতা ত্রিশের বেশি হয়ে যায়, (যেমন সে যদি এগারো দিন রক্ত এবং বিশ দিন পবিত্রতা দেখে, এরপর রক্ত অব্যাহত থাকে, তবে প্রথম দেখার শুরু থেকে দশ দিন ঋতুস্রাব, এরপর) অবশিষ্ট দিনগুলো (পবিত্রতা) অর্থাৎ এগারোতম দিন থেকে শুরু করে (অব্যাহত স্রাব শুরুর পূর্ব পর্যন্ত। এরপর অব্যাহত স্রাব শুরুর সময় থেকে নতুনভাবে দশ দিন ঋতুস্রাব এবং বিশ দিন পবিত্রতা ধরবে। এরপর এটাই তার নিয়ম হবে) যতক্ষণ রক্ত অব্যাহত থাকবে। এই দুই সুরতে উক্ত পবিত্রতাকে তার অভ্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়নি যার দিকে সে অব্যাহত রক্তস্রাবের সময় ফিরে যাবে, (কারণ উল্লিখিত পবিত্রতা যদিও) পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কারণে (বাহ্যিকভাবে সহিহ, কিন্তু তার শুরুটি হয়েছে রক্ত দিয়ে) আর তা হলো দশ দিনের অতিরিক্ত দিনটি, যেহেতু (সে সেই রক্তসহ সালাত পড়েছে) ফলে তা...