القسم: الفقه الحنفي
الكتاب: منهل الواردين من بحار الفيض على ذخر المتأهلين في مسائل الحيض
(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)
المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]
الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م
وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى
عدد الصفحات: 53
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445
বিভাগ: হানাফী ফিকহ
বই: মানহালুল ওয়ারিদিন মিন বিহারিল ফায়দ আলা যুখরিল মুতাহহিলিন ফি মাসাইলিল হায়দ
(ইবনে আবিদীনের সংকলিত রচনাবলীর অন্তর্ভুক্ত হিসেবে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মদ আমিন এফেন্দি, যিনি ইবনে আবিদীন নামে প্রসিদ্ধ [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]
প্রকাশক: দারু সাআদাত، ইস্তাম্বুল، ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ
এবং «মাজমুউর রাসায়িল»-এর প্রতিলিপি করেছে: আলমুল কুতুব، এবং আরও বেশ কয়েকটি প্রকাশনী
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৫৩
[বইটির পৃষ্ঠা বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৯ যুল কাদা ১৪৪৫
(বিশ্বজগতের রবের হাবীবের ওপর) অর্থাৎ তাঁর প্রিয়তমের ওপর (এবং তাঁর পরিবারের ওপর) এটি নিকটাত্মীয়দের জন্য ব্যবহৃত একটি সমষ্টিবাচক বিশেষ্য। বসরীয়দের মতে এর ‘আলিফ’টি ‘হামজা’ থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, যা আবার ‘হা’ থেকে পরিবর্তিত। আর কুফীয়দের মতে এটি ‘ওয়াও’ থেকে পরিবর্তিত। প্রথম মতটিই সঠিক, যেমনটি মিফতাহ গ্রন্থে রয়েছে—কোহিস্তানি। (এবং তাঁর সাহাবীগণের ওপর) কোহিস্তানি বলেন, অর্থাৎ যারা সাহচর্য লাভসহ ঈমান এনেছেন, চাই তা এক মুহূর্তের জন্য হলেও; যেমনটি অধিকাংশ মুহাদ্দিস বলেছেন। উসুলবিদগণ ছয় মাস বা তার অধিক সময়কাল সাথে থাকার যে শর্তারোপ করেছেন, তার বিপরীতে একে (মুহাদ্দিসদের মতকে) প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে যাতে প্রত্যেক সাহাবী এর অন্তর্ভুক্ত হন। (পথপ্রদর্শকগণ) এটি হিদায়াত থেকে ‘হাদি’-এর বহুবচন। আর হিদায়াত হলো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছায় এমন বিষয়ের দিকে পথপ্রদর্শন করা। (সত্যের) যা বাতিলের বিপরীত। (এবং রক্ষণাবেক্ষণকারীগণ) এটি ‘হামি’ এর বহুবচন যা ‘হিমায়াত’ (জেরসহ) থেকে আগত, যার অর্থ হলো রক্ষা করা বা বাধা দেওয়া। (শরীয়ত) এটি ঐ সকল বিধানের নাম যা আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন। (সুদৃঢ়) যা শক্তিশালী। বলা হয় ‘মাতুনা’ যেমন ‘কারুমা’, অর্থাৎ যা শক্ত বা মজবুত। (অতঃপর) কোহিস্তানি বলেন, অর্থাৎ খুতবার পরে যা আসছে তা উপস্থিত করা হলো। এখানে ‘ওয়াও’ বর্ণটি বাক্য নতুনভাবে শুরু করার জন্য, অথবা একটি নির্দেশনামূলক বাক্যকে তার সমগোত্রীয় বাক্যের ওপর বা বর্ণনামূলক বাক্যের ওপর সংযুক্ত করার জন্য; যেমনটি আল্লাহ তাআলার বাণী: “এবং সুসংবাদ দিন ঐ ব্যক্তিদের যারা ঈমান এনেছে” (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)। কারণ যা প্রসিদ্ধ রয়েছে তাতে যে দুর্বলতা আছে তা অস্পষ্ট নয়। কেননা ‘আম্মা’ শব্দের উহ্য থাকার বিষয়টি শর্তযুক্ত যে, ‘ফা’ এর পরের অংশটি আদেশসূচক বা নিষেধসূচক হবে যা পূর্বের শব্দকে নসব প্রদান করবে অথবা তার ব্যাখ্যা প্রদানকারী হবে, যেমনটি রাজি গ্রন্থে রয়েছে। আর ‘আম্মা’ থাকার কাল্পনিক ধারণা কোনো ব্যাকরণবিদই গ্রহণ করেননি। আর এই অব্যয়টি সেই আদেশের সাথে সংশ্লিষ্ট যা প্রাসঙ্গিকভাবে বুঝা যাচ্ছে এবং ‘ফাকাদ’ বাক্যে ‘ফা’ এর মাধ্যমে কারণ দর্শানো হয়েছে। যেমন তাদের কথা: “তোমার রবের ইবাদত করো, কেননা ইবাদত করা যথাযথ”। (এখানেই শেষ)। (এবং ফকীহগণ ঐকমত্য পোষণ করেছেন) অর্থাৎ মুজতাহিদগণ (তৎকালীন প্রয়োজনীয় ইলম অর্জন করা ফরয হওয়ার বিষয়ে) অর্থাৎ কোনো বিষয়ের বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা যখন সেটি পালনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাতারখানিয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে: কোন ইলম অন্বেষণ করা ফরয এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তিনি কতগুলো উক্তি উল্লেখ করে অতঃপর বলেন, যে বিষয়টি নিশ্চিতভাবে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত তা হলো—আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের ওপর যা অর্পণ করেছেন সেই বিষয়ের জ্ঞান। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো মানুষ দিনের দ্বিপ্রহরে প্রাপ্তবয়স্ক হয়, তবে তার ওপর আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলি সম্পর্কে চিন্তা ও প্রমাণের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা এবং অর্থ বুঝার সাথে সাথে কালেমা শাহাদাত শেখা ওয়াজিব। এরপর যদি সে যোহর পর্যন্ত জীবিত থাকে, তবে পবিত্রতা অর্জন শেখা ওয়াজিব, এরপর সালাতের ইলম শেখা ওয়াজিব এবং এভাবেই চলতে থাকবে। যদি সে রমযান পর্যন্ত জীবিত থাকে, তবে সিয়ামের ইলম শেখা ওয়াজিব। যদি সে সম্পদের মালিক হয়, তবে যাকাতের ইলম শেখা ওয়াজিব এবং হজের সামর্থ্য থাকলে ও হজের মাস পর্যন্ত জীবিত থাকলে তার ইলম শেখা ওয়াজিব। এভাবে ফরযে আইন হিসেবে সাব্যস্ত অন্যান্য সকল কার্যাবলীর ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে শিখতে হবে। (এখানেই শেষ)। (আল্লাহর ওপর ঈমান আনয়নকারী প্রত্যেকের ওপর) অর্থাৎ সত্তা, গুণাবলি ও কার্যাবলীর ক্ষেত্রে সুবহানাহু ওয়া তাআলার একত্ববাদের ওপর ঈমান। (এবং পরকালের ওপর) এটি কিয়ামতের দিন, কারণ এটিই নির্ধারিত সময়গুলোর সর্বশেষ। একে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কারণ এটি প্রতিদান প্রাপ্তির দিন। সুতরাং পরকালের ওপর ঈমান আমল করতে উদ্বুদ্ধ করে। তাই যে ব্যক্তি তার রবের সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে, সে যেন সৎ আমল করে। (নারী) এটি কাসরা বা যম্মাহ দিয়ে পড়া যায়, এটি ভিন্ন মূলধাতু থেকে গঠিত নারীর বহুবচন—কামুস। (এবং পুরুষদের মধ্যে) এটি ‘রাজুল’ এর বহুবচন, আর তা হলো আদম সন্তানের মধ্যে পুরুষ যখন সে প্রাপ্তবয়স্ক হয় বা সাধারণভাবে। আর এখানে প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি উদ্দেশ্য। যখন আপনি সেই ঐকমত্যের কথা জানলেন, (তখন জানুন যে) (নারীদের সাথে সংশ্লিষ্ট রক্তের) অর্থাৎ হুকুম আহকামের (জ্ঞান অর্জন করা তাদের ওপর এবং স্বামীদের ওপর ও ওলিদের ওপর ওয়াজিব)। ওলি হলো ‘ওয়ালি’ এর বহুবচন যার অর্থ আসাবা বা অভিভাবক। সুতরাং নারীর ওপর মাসয়ালাসমূহ শেখা ওয়াজিব।
স্বামীর ওপর আবশ্যিক দায়িত্ব হলো স্ত্রীকে ঋতুস্রাব সম্পর্কিত তার প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো শেখানো—যদি স্বামীর সে জ্ঞান থাকে। অন্যথায়, সে তাকে (শিখতে যাওয়ার জন্য) বের হওয়ার অনুমতি প্রদান করবে; আর স্ত্রী তার অনুমতি ছাড়া বের হবে না। তদ্রূপ তার অভিভাবক—যেমন পিতার ওপরও তাকে শেখানো আবশ্যিক। (কিন্তু এটি) অর্থাৎ নারীদের জন্য নির্দিষ্ট রক্ত সম্পর্কিত জ্ঞান (হয়ে গেছে) অর্থাৎ এমন হয়ে গেছে যেমন বিক্ষিপ্ত ধূলিকণা। (আর আমাদের যুগে) অর্থাৎ গ্রন্থকারের যুগে, যিনি ৯৮১ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন, (পরিত্যক্ত) অর্থাৎ বর্জিত হয়েছে। (বরং এটি এমন হয়ে গেছে যেন এটি উল্লেখযোগ্য কিছুই ছিল না)। এটি পূর্বের চেয়ে অধিক জোরালো অবস্থার দিকে উত্তরণ; কারণ কোনো বিষয় পরিত্যক্ত হলেও তা অনেক সময় জানা থাকতে পারে কিন্তু তার ওপর আমল করা হয় না, অথচ যা এমন হয়ে যায় যেন তার কোনো অস্তিত্বই ছিল না, তার বিষয়টি ভিন্ন। (আর তারা পার্থক্য করে না) অর্থাৎ সমসাময়িক যুগের মানুষেরা (হায়েজ, নেফাস এবং এস্তেহাজার মধ্যে) অধিকাংশ মাসআলার ক্ষেত্রে। (এবং তারা রক্তের সঠিক ও প্রকাশ্য রূপের মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না—) এটি 'রক্ত' শব্দের ওপর সংযোজন (—এবং) এই দুইয়ের মধ্যে যা (ত্রুটিযুক্ত)। (তুমি দেখতে পাবে) অর্থাৎ তুমি দেখবে অথবা জানবে যে, (তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিটিও) অর্থাৎ তাদের মধ্যে যে নিজেকে অধিক উত্তম বা অধিক জ্ঞানী মনে করে, (সে সন্তুষ্ট থাকে)—এটি অবস্থা বর্ণনা করছে অথবা দ্বিতীয় কর্মপদ—(বিখ্যাত মূল গ্রন্থগুলোর ওপর), যেমন: কুদুরি, কানজ, বিকায়া এবং মুখতার, যা সংক্ষিপ্তকরণের ওপর ভিত্তি করে রচিত। (এবং অধিকাংশ মাসআলা)—মাসআলা হলো ঐ সকল বিষয় যা বিজ্ঞানে প্রমাণ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সেই বিজ্ঞান থেকে উদ্দেশ্য থাকে সেগুলোকে জানা, যেমনটি সাইয়্যেদ শরীফ (তার রহস্য পবিত্র হোক) তার তারিফাত গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন—(রক্ত সম্পর্কিত) অর্থাৎ পূর্বোক্ত তিন প্রকার রক্ত সম্পর্কিত মাসআলা (তাতে অনুপস্থিত)। (আর বিস্তারিত কিতাবসমূহ) যাতে এই মাসআলাগুলো রয়েছে, (খুব অল্প লোকের নিকটেই তা বিদ্যমান), কারণ সেগুলোর দুষ্প্রাপ্যতা এবং উচ্চমূল্য। (আর যারা সেগুলোর মালিক), (তাদের অধিকাংশ সেগুলো অধ্যয়ন করতে)—কামুস অভিধানে আছে: ‘তালাআহু ত্বিলাআন ওয়া মুতলাআতান’ অর্থ সে সম্পর্কে অবগত হওয়া অর্থাৎ তা জানা—(অক্ষম এবং রুগ্ন) অজ্ঞতার ব্যাধিতে। (আর সেগুলোর অধিকাংশ অনুলিপিতে)—নুসহাহ এর বহুবচন, যা নকল করা হয় অর্থাৎ যাতে লেখা হয়—(ঋতুস্রাব অধ্যায়ে বিকৃতি রয়েছে) অর্থাৎ পরিবর্তন (ও রদবদল)—এটি ব্যাখ্যামূলক সংযোজন; অথবা প্রথমটি হলো শব্দের কিছু বর্ণের পরিবর্তন এবং দ্বিতীয়টি হলো শব্দকে অন্য শব্দ দ্বারা বদলে দেওয়া—(সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত না থাকার কারণে) অর্থাৎ পাণ্ডুলিপিগুলোর অধিকাংশ নিয়ে (এবং তা দীর্ঘ কাল যাবৎ)। ফলে যখনই এক পাণ্ডুলিপি থেকে অন্য পাণ্ডুলিপিতে নকল করা হয়েছে, বিকৃতি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। (আর এর মাসআলাসমূহে) অর্থাৎ হায়েজ অধ্যায়ে (প্রাচুর্য ও জটিলতা রয়েছে)। আল-বাহর গ্রন্থে বলা হয়েছে: জেনে রাখুন যে, হায়েজ বা ঋতুস্রাব অধ্যায়টি অত্যন্ত দুরূহ অধ্যায়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, বিশেষ করে মুতাহাইয়্যিরাহ (বিভ্রান্ত নারী) এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলোর মাসআলা। এই কারণেই গবেষক আলেমগণ এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ইমাম মুহাম্মদ (আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) একে একটি স্বতন্ত্র কিতাবে সংকলন করেছেন। আর এর মাসআলাগুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, কারণ এর ওপর অগণিত বিধি-বিধান নির্ভরশীল, যেমন: পবিত্রতা, নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, রোজা, ইতিকাফ, হজ, বালেগ হওয়া, সহবাস, তালাক, ইদ্দত, ইস্তিবরা এবং অন্যান্য বিধি-বিধান। এটি অন্যতম মহান ওয়াজিব বা আবশ্যিক কর্তব্যের অন্তর্ভুক্ত; কারণ কোনো বিষয়ে জ্ঞানের মাহাত্ম্য নির্ভর করে সে বিষয়ে অজ্ঞ থাকার ক্ষতির পরিমাণের ওপর। আর হায়েজের মাসআলা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকার ক্ষতি অন্য বিষয়ের চেয়ে অধিক গুরুতর। তাই এটি জানার ব্যাপারে গুরুত্ব প্রদান করা ওয়াজিব, যদিও এ সম্পর্কিত আলোচনা দীর্ঘ হয়; কারণ জ্ঞান অন্বেষণকারী ব্যক্তি তা অর্জনে আগ্রহী থাকে এবং অলস ব্যক্তিদের অপছন্দের প্রতি কোনো ভ্রুক্ষেপ করা যাবে না। সমাপ্ত।
(এবং মাশায়েখদের পছন্দের ক্ষেত্রেও মতপার্থক্য রয়েছে) এখানে 'মাশায়েখ' শব্দটি 'ইয়া' বর্ণের সাথে ব্যবহৃত হয়েছে, তারা হলেন ইমাম (আবু হানিফা) ও তাঁর প্রধান সাথীদের পরবর্তী স্তরের মাযহাবের আলিমগণ, তাদের বিভিন্ন স্তর হওয়া সত্ত্বেও। (এবং তাদের শুদ্ধিকরণের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে) ফলে তাদের কেউ একটি মত গ্রহণ করেন আবার কেউ অন্যটি। তদ্রূপ কেউ এই মতটিকে বিশুদ্ধ বলেন আবার কেউ অন্যটিকে। ফকিহগণ বলেছেন: যখন কোনো মাসআলায় দুটি বিশুদ্ধ মত পাওয়া যায়, তখন মুফতির যেকোনোটি গ্রহণ করার ইখতিয়ার থাকে। তবে অনেক সময় দুটি বিশুদ্ধ মতের একটি অধিক শক্তিশালী হয়; হয়তো সেটি 'জাহিরুর রেওয়ায়াত' হওয়ার কারণে, অথবা নির্ভরযোগ্য মূল কিতাব ও ব্যাখ্যাগ্রন্থের লেখকগণ সেটির ওপর চলেছেন বলে, অথবা সেটি মানুষের জন্য অধিক সহজ হওয়ার কারণে, কিংবা অন্য কোনো কারণে যা আমি 'আদ-দুররুল মুখতার'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'রাদ্দুল মুহতার'-এ বর্ণনা করেছি। ফলে যার এই বিষয়ে গভীর জ্ঞান নেই, তার মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়; বিশেষ করে মতের আধিক্য এবং কোনটি অধিকতর বিশুদ্ধ তা জানা না থাকার কারণে। এজন্য গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: (তাই আমি একটি পুস্তিকা বা রিসালাহ রচনা করতে চাইলাম)। সাইয়্যিদ (আল্লাহ তাঁর আত্মা পবিত্র করুন) বলেছেন: 'রিসালাহ' হলো এমন একটি সংকলন যা একজাতীয় কিছু মাসআলা অন্তর্ভুক্ত করে। আর 'মাজাল্লাহ' হলো এমন একটি পুস্তিকা যাতে বিধান লিপিবদ্ধ থাকে। (যা অন্তর্ভুক্ত করবে) অর্থাৎ সংকলন করবে (তার মাসআলাসমূহকে) অর্থাৎ হায়েজ বা ঋতুস্রাব অধ্যায়ের মাসআলাসমূহ। (অপরিহার্য বিষয়গুলো যা) বিন্দুযুক্ত বর্ণ (খ) সহ 'খাবিয়া' অর্থাৎ (মুক্ত থাকবে) (মতভেদ ও অপ্রয়োজনীয় আলোচনা উল্লেখ করা থেকে)। 'মাবাহিছ' হলো 'মাবহিছ' শব্দের বহুবচন, যার অর্থ আলোচনার স্থান। সাইয়্যিদ (আল্লাহ তাঁর আত্মা পবিত্র করুন) বলেন: 'বাহছ' হলো অনুসন্ধান ও তদন্ত করা। আর পারিভাষিক অর্থে এটি হলো দলিলের মাধ্যমে দুটি বিষয়ের মাঝে ইতিবাচক বা নেতিবাচক সম্পর্ক প্রমাণ করা। (অপ্রয়োজনীয়, বরং তা সীমাবদ্ধ থাকবে) এটি রিসালাহ-এর তৃতীয় বিশেষণ (সবচেয়ে শক্তিশালী, অধিকতর বিশুদ্ধ এবং ফতোয়ার জন্য মনোনীত মতের ওপর)। অর্থাৎ উদ্ভূত সমস্যার উত্তরের জন্য যা উপযোগী। (সহজকারী হিসেবে) এটি 'রিসালাহ'-এর চতুর্থ বিশেষণ, যা সকর্মক বা অকর্মক উভয়ভাবেই পড়া যেতে পারে, (আয়ত্ত করাকে) যা অন্যান্য কিতাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে (এবং অনুধাবন করাকে; এই আশায়) এটি লেখকের 'আমি চাইলাম' কথার কারণ। (যেন তা হয়) অর্থাৎ রিসালাহটি (আমার জন্য পাথেয়) 'যাল' বর্ণের পেশ ও 'খা' বর্ণের সুকুন সহ, যার অর্থ এমন সঞ্চয় যা কেউ জমা করে রাখে এবং মনোনীত করে। (এবং পরকালের জন্য)। (হে এই রিসালাহ পাঠকারী! মহান আল্লাহর কসম, তুমি ভুল সাব্যস্ত করতে তড়িঘড়ি করো না)। এটি 'তাখতিআহ' মূলধাতু থেকে আগত, যা কাউকে ভুলের দিকে নিসবত বা সম্বন্ধ করা বোঝায়; যেমন কাউকে ফাসেক বললে 'ফাস্সাকতুহু' বলা হয়। (তোমার নিছক দেখার কারণেই) অর্থাৎ তোমার কেবল দেখার দ্বারা (এতে) অর্থাৎ এই রিসালাহ-তে (এমন কিছু যা বিরোধী) এটি 'দেখা' ক্রিয়ার দ্বিতীয় কর্ম (প্রসিদ্ধ কিছু কিতাবের বাহ্যিক বিষয়ের)। কারণ অনেক প্রসিদ্ধ কিতাবে এমন কিছু আছে যা বিশুদ্ধ মতের পরিপন্থী, বরং অনেক সময় তা স্পষ্ট ভুলও হয়। অথবা এমন অর্থ যা বাহ্যিক উদ্দেশ্য থেকে ভিন্ন, যা কেবল দক্ষ ফকিহগণই অনুধাবন করতে পারেন। (কেননা হতে পারে) অর্থাৎ আমি তোমার ব্যাপারে আশঙ্কা করছি যে, তোমার অপরিপক্কতার কারণে ভুলকারী স্বয়ং তুমিই হবে। লেখক সম্বোধিত ব্যক্তির ভুলের বিষয়টি রূপকভাবে বলেছেন এই কথার মাধ্যমে যে, (তুমি তোমার খালার বোনের ছেলেকে ভুল সাব্যস্ত করবে)। কারণ কারো খালার বোন মানে হলো তার মা, আর মায়ের ছেলে মানে সে নিজে। গ্রন্থকার বলেন: যদি 'তাখতি' শব্দটি 'তা' দিয়ে পড়া হয় (সম্বোধন পদ হিসেবে), তবে তা সকর্মক হবে এবং 'ইবন' শব্দটি তার কর্ম (অবজেক্ট) হবে। আর যদি তা 'ইয়া' দিয়ে পড়া হয়, তবে তা অকর্মক হবে এবং 'ইবন' শব্দটি তার কর্তা (সাবজেক্ট) হবে। (ফলে তুমি ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে যারা ধ্বংসগহ্বরে নিপতিত হয়েছে)। কারণ দ্বীনি বিষয়ে ভুল করা ধ্বংসের শামিল। এই কারণেই মূর্খকে মৃত এবং আলিমকে জীবিত বলা প্রচলিত হয়েছে, যেমন আল্লাহ বলেছেন: "যে মৃত ছিল তাকে আমি জীবিত করেছি।" (নিশ্চয়ই আমি) এটি এই রিসালাহ-তে ভুল না থাকার কারণ।
যথাসম্ভব (আমি আমার জীবনের একটি বড় অংশ ব্যয় করেছি) অর্থাৎ এর একটি বিশাল অংশ। আর 'আল-মাগরিব' গ্রন্থে রয়েছে যে, প্রত্যেক বস্তুর 'শতর' হলো তার অর্ধেক। ঋতুবতী মহিলার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, সে তার জীবনের অর্ধেক সময় (নামাজ ছাড়া) বসে থাকে—এখানে অংশবিশেষকে 'শতর' বলা হয়েছে অলঙ্কারিক অর্থে এবং অল্পকে বেশি হিসেবে উপস্থাপন করার জন্য। (এই অধ্যায়ের বিন্যাস ও নিখুঁতকরণের কাজে, শেষ পর্যন্ত আল্লাহর অনুগ্রহে আমি খোসা) —যা কোনো বস্তুর সৃষ্টিগত বা বাহ্যিক অসার অংশ— (এবং শাঁসের মধ্যে পার্থক্য করতে পেরেছি)। (এবং শাঁস) হলো প্রত্যেক বস্তুর বিশুদ্ধ অংশ, যেমনটি 'আস-সিহাহ' গ্রন্থে রয়েছে। (এবং হৃষ্টপুষ্ট ও রুগ্ন) যা এর বিপরীত। (এবং সহিহ ও ত্রুটিযুক্ত); 'আল-কামুস' গ্রন্থে রয়েছে যে, 'ইল্লত' অর্থ ব্যাধি, যা থেকে ক্রিয়াপদ গঠিত হয়। আল্লাহ যাকে ব্যাধিগ্রস্ত করেন সে হলো 'মুআল' বা 'আলীল', একে 'মা'লুল' বলা ঠিক নয়, যদিও কালামশাস্ত্রবিদগণ এটি ব্যবহার করেন। (এবং উত্তম) ও (নিকৃষ্ট) যা এর বিপরীত। (এবং দুর্বল ও শক্তিশালী। আর আমি প্রাধান্য দিয়েছি) —এটি 'পার্থক্য করেছি' শব্দের ওপর সমাস— (প্রাধান্য প্রদানের গ্রহণযোগ্য মাধ্যমসমূহের দ্বারা) যা এই শাস্ত্রের পণ্ডিতদের নিকট স্বীকৃত, (যা অধিকতর অগ্রগণ্য) অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে (সেই সকল মত ও পছন্দের মধ্য হতে) যা (ইমামগণ) অর্থাৎ মাযহাবের মুজতাহিদগণ অথবা মূলনীতি থেকে মাসআলা উদ্ভাবনকারীগণ অথবা ঐ সকল ব্যক্তিবর্গ থেকে প্রকাশ পেয়েছে যারা মুজতাহিদ থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার মধ্যে বা উদ্ভাবনকারীদের দুটি মতের মধ্যে কোনো একটিকে প্রাধান্য দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন। (সুতরাং পুনরায় দৃষ্টিপাত করো) —এটি তাড়াহুড়ো করার নিষেধ এবং লেখক তাঁর লেখনীকে অত্যন্ত সুনিপুণভাবে প্রস্তুত করেছেন— এর সাথে সংশ্লিষ্ট। অর্থাৎ তুমি যখন তা জানলে, তখন কোনো বিষয়ে সংশয় জাগলে পুনরায় দৃষ্টি দাও (দুইবার) অর্থাৎ বারবার, যেমনটি আয়াতে এসেছে। এখানে দুইবার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পুনরাবৃত্তি ও আধিক্য, যেমনটি 'লাব্বাইক ওয়া সা'দাইক' বাক্যে ব্যবহৃত হয়। (এবং অনুধাবন করো) তোমার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে (আমরা যা দুইবার লিখেছি), এখানেও উদ্দেশ্য হলো বারবার দেখা। (এবং একে উপস্থাপন করো) অর্থাৎ আমাদের লেখাকে (ফিকহ শাস্ত্রের শাখাগুলোর ওপর) অর্থাৎ এর সাথে মানানসই মাসআলাসমূহের ওপর, (এবং) (মূলনীতির ওপর) অর্থাৎ সামষ্টিক দলিলসমূহ যথা: কিতাব, সুন্নাহ, ইজমা ও কিয়াস। (এবং) (নকলকৃত বা শ্রুত প্রমাণের ওপর) যা উপরে বর্ণিত দলিলসমূহ, (এবং আকলি বা বুদ্ধিগ্রাহ্য প্রমাণের ওপর) অর্থাৎ শ্রুত দলিলসমূহ থেকে উদ্ভাবিত যৌক্তিক প্রমাণের ওপর। (যাতে তুমি এর সত্যতা সম্পর্কে অবহিত হতে পারো) অর্থাৎ আমরা যা লিখেছি তা যে সুপ্রতিষ্ঠিত সত্য তা বুঝতে পারো, (এবং তোমার কাছে এর সঠিক হওয়ার দিকগুলো স্পষ্ট হয়ে যায়)। এখানে প্রত্যাশামূলক শব্দের মাধ্যমে এই পথের কঠিনত্বের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, কারণ উপস্থাপিত বিষয়গুলো যাচাই ও অনুধাবন করার যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি অত্যন্ত বিরল। (এবং তুমি ফিরে আসবে) সত্য উন্মোচিত হওয়ার পর, ভুল সাব্যস্ত করার অবস্থান থেকে সঠিক হিসেবে গ্রহণ করার দিকে। অর্থাৎ আমাদের লেখার দিকে ভুলের অপবাদ দেওয়ার পরিবর্তে সঠিক হওয়ার স্বীকৃতি প্রদানের দিকে ফিরে আসবে। (এবং বলবে) সেই সময়ে, (সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথে পরিচালিত করেছেন, আর আল্লাহ আমাদের পরিচালিত না করলে আমরা পথ পেতাম না)। এতে একটি চমৎকার উদ্ধৃতি রয়েছে। (অতঃপর আমরা বলছি) এখানে আল্লাহর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা প্রকাশার্থে নিজের জন্য সম্মানসূচক বহুবচন ব্যবহার করা হয়েছে। (আর আল্লাহরই সাহায্যার্থে) অর্থাৎ একমাত্র তাঁরই সাহায্য কামনার মাধ্যমে (সাফল্য বা তাওফিক অর্জিত হয়)। তাওফিক হলো আল্লাহ কর্তৃক তাঁর বান্দার কাজকে তাঁর পছন্দ ও সন্তুষ্টির অনুকূলে করে দেওয়া। (এবং তাঁরই নিকট) অর্থাৎ মহান আল্লাহর নিকট চাওয়া হয় (প্রত্যেক তাহকিক) যা হলো দলিলসহ মাসআলা প্রমাণ করা, (এবং তদকিক) যা হলো এমন সূক্ষ্ম দলিলের মাধ্যমে মাসআলা প্রমাণ করা যার পথ গবেষকের নিকট অত্যন্ত সূক্ষ্ম, যেমনটি সাইয়্যিদ শরীফের সংজ্ঞায় এসেছে। (এই রিসালাটি এভাবে বিন্যস্ত হয়েছে...)
--------------------------------------------
(একটি মুকাদ্দিমা বা ভূমিকার ওপর ভিত্তি করে) 'দাল' বর্ণে কাসরা (জের) যোগে, যা অকর্মক বা সকর্মক 'ক্বাদা' ক্রিয়া হতে উদ্ভূত। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে 'দাল' বর্ণে ফাতহা (যবর) পড়াও জায়েয। পরিভাষায় এটি দুই প্রকার: গ্রন্থের ভূমিকা (মুকাদ্দিমাতুল কিতাব), যা মূল আলোচনা শুরু করার আগে তার সাথে সংশ্লিষ্টতা ও উপযোগিতার কারণে উল্লেখ করা হয়; এবং বিদ্যার ভূমিকা (মুকাদ্দিমাতুল ইলম), যার ওপর সেই বিষয়ের মাসআলাসমূহ নিয়ে আলোচনা শুরু করা নির্ভর করে, যেমন তার সংজ্ঞা, উদ্দেশ্য ও বিষয়বস্তু। এখানে প্রথম প্রকারটিই উদ্দেশ্য। (এবং ছয়টি পরিচ্ছেদ) 'ফাসল' শব্দের বহুবচন হলো 'ফুসুল'। এটি অধ্যায়ের এমন একটি স্বতন্ত্র অংশ যা অন্য অংশ থেকে পৃথক। সংজ্ঞাগুলো নিম্নরূপ: (ভূমিকাটি দুই প্রকারের ওপর বিন্যস্ত। প্রথম প্রকার: এই অধ্যায়ে ব্যবহৃত শব্দাবলির ব্যাখ্যায়) ফকীহগণের পরিভাষা অনুযায়ী। (জেনে রাখুন, নারীদের সাথে নির্দিষ্ট রক্তসমূহ) এখানে নাক দিয়ে রক্ত পড়া (রুআফ) থেকে সতর্ক করা হয়েছে (তিনটি: হায়েয, নিফাস ও ইস্তিহাযা। হায়েয) আভিধানিক অর্থে এটি একটি ক্রিয়ামূল। বলা হয়, নারী ঋতুবতী হয়েছে, যখন তার রক্ত প্রবাহিত হয়। 'হায়দাহ' মানে একবার মাসিক হওয়া, আর 'হিদাহ' (কাসরা যোগে) বলতে মাসিকের অবস্থা বা সেই ন্যাকড়াকে বোঝায় যা নারী মাসিকের সময় ব্যবহার করে—কামূস গ্রন্থ। 'বাহরুর রায়েক' গ্রন্থে বলা হয়েছে, ভাষাবিদদের মতে এর মূল অর্থ হলো প্রবাহিত হওয়া। বলা হয় 'উপত্যকাটি প্রবাহিত হয়েছে', অর্থাৎ তার পানি বয়ে চলেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণেই একে হায়েয বা মাসিক বলা হয়। সমাপ্ত। আর শরয়ী পরিভাষায়, একে 'হাদাছ' (অপবিত্রতা) হিসেবে গণ্য করলে জানাবাত শব্দের মতো এটি হলো উল্লিখিত রক্তের কারণে এমন এক শরয়ী প্রতিবন্ধকতা, যা ঐসব ইবাদতে বাধা দেয় যেগুলোর জন্য পবিত্রতা শর্ত, যেমন—নামায, তিলাওয়াত, রোজা পালন, মসজিদে প্রবেশ এবং সহবাস। আর একে 'খাবাস' (নাপাক বস্তু) হিসেবে গণ্য করলে এটি হলো (জরায়ু থেকে নির্গত রক্ত) অর্থাৎ সন্তান জন্ম ও ধারণের স্থান হতে নির্গত রক্ত—কামূস। এর মাধ্যমে ইস্তিহাযাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, কারণ তা ছিঁড়ে যাওয়া রগের রক্ত, জরায়ুর রক্ত নয়। তেমনি নাক দিয়ে রক্ত পড়া, ক্ষতের রক্ত এবং মলদ্বার দিয়ে নির্গত রক্তও এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই সেগুলো হায়েয নয়। তবে মলদ্বার দিয়ে রক্ত চলাকালে স্বামী তার সাথে সহবাস না করা মুস্তাহাব এবং রক্ত বন্ধ হলে গোসল করা উচিত, যেমনটি 'খুলাসাতুল ফাতাওয়া' ও অন্যান্য গ্রন্থে রয়েছে এবং সামনে এটি আসবে। এছাড়া নয় বছরের কম বয়সী বালিকার দেখা রক্ত এবং সন্তান প্রসবের পূর্বে গর্ভবতী নারীর দেখা রক্তও জরায়ুর রক্ত নয়, বরং এগুলো ইস্তিহাযা। তবে 'বাহরুর রায়েক' গ্রন্থে কেউ কেউ বলেছেন, ছোট বালিকার দেখা রক্ত হলো 'দম-এ-ফাসাদ' (দূষিত রক্ত), কারণ ইস্তিহাযা তখনই হয় যখন রক্তের এমন কোনো বৈশিষ্ট্য থাকে যা হায়েয হওয়ার পরিপন্থী। এর অর্থ হলো, এটি এমন রক্ত যা কোনো গুণের অধিকারী, যা না থাকলে এটি হায়েয হতো, যেমন সময়ের আধিক্য বা স্বল্পতা। এটি নিয়ে চিন্তা করুন। তবে প্রসিদ্ধ মত হলো এটি ইস্তিহাযা। এখানে প্রসঙ্গের কারণে জরায়ু বলতে নারীর জরায়ু বোঝানো হয়েছে, যাতে খরগোশ, হায়না ও বাদুড়ের দেখা রক্ত এর অন্তর্ভুক্ত না হয়। আলেমগণ বলেন, এই প্রাণীগুলো ছাড়া অন্য কোনো পশু ঋতুবতী হয় না। এছাড়া 'খুনসা মুশকিল' (উভয়লিঙ্গ ব্যক্তি) যা দেখে তা-ও হায়েয নয়। 'যাহিরিয়্যাহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, যদি তার থেকে বীর্য ও রক্ত উভয়টি নির্গত হয়, তবে বীর্যকেই ধর্তব্য ধরা হবে, রক্তকে নয়। সম্ভবত এর কারণ হলো বীর্য অন্য কিছুর সাথে বিভ্রান্তি তৈরি করে না, কিন্তু রক্ত ইস্তিহাযার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ হতে পারে, তাই রক্তকে বাদ দিয়ে শুরু থেকেই নিশ্চিত বিষয়টি (বীর্য) বিবেচনা করা হবে। (যা অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ থেকে নির্গত হয়েছে) এর মাধ্যমে ঐ অবস্থাকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যদি নারী অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গে রক্ত নেমে আসা অনুভব করে কিন্তু তা বাইরে বের না হয়। 'যাহিরুর রিওয়াত' অনুযায়ী এটি হায়েয নয় এবং 'কুহিস্তানি' অনুসারে এই মতেই ফতোয়া দেওয়া হয়। ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কেবল অনুভূতিই যথেষ্ট। তাই যদি কোনো নারী রমজান মাসে সূর্যাস্তের কিছু সময় আগে রক্ত নেমে আসার অনুভূতি পায় কিন্তু তা সূর্যাস্তের পর নির্গত হয়, তবে ইমাম মুহাম্মদের মতে তাকে ঐ দিনের রোজা কাজা করতে হবে, কিন্তু সাহেবাইন (ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ)-এর নিকট তা করতে হবে না। (যদিও তা হুকুমত বা বিধানগতভাবে হয়) যাতে দুই রক্তের মধ্যবর্তী পবিত্রতা এবং স্বচ্ছ সাদা রঙ ব্যতীত অন্যান্য রঙের রক্তও এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। লেখকের বক্তব্য সমাপ্ত। এটি তাঁর 'রক্ত' শব্দটির একটি সাধারণীকরণ।
--------------------------------------------
তাই জন্মদান ব্যতীত এর পাশাপাশি এটি উল্লেখ করাই উত্তম ছিল, যাতে নিফাস তথা সন্তান প্রসবের পর যা দেখা যায় তা থেকে সতর্ক থাকা যায় (মুসান্নিফ)। আর তিনি 'বার্ধক্য' বলেননি কারণ পছন্দনীয় মত হলো, বার্ধক্যে উপনীত নারী যদি নেসাব পরিমাণ রক্ত দেখে তবে তা হায়য হবে যদি সে বিশুদ্ধ রক্ত দেখে যেমন কালো বা গাঢ় লাল, যা সামনে আসবে। সুতরাং এটি সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। আর অবিশুদ্ধ রক্ত ইস্তিহাজা হবে, তাই তা 'জরায়ু'র শর্তের কারণে সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে যাবে। (আর নিফাস) শব্দটির নিচে কাসরা হবে। আভিধানিক অর্থে এটি যখন নারী সন্তান জন্ম দেয় তখন তাকে নুফাসা বলা হয় এর ধাতু। আর এর বহুবচন হলো নুফাস (মাগরিব)। শরীয়তের পরিভাষায় এটি হলো সেই রক্ত; এখানে মূল বস্তুকে ধাতু দ্বারা নামকরণ করা হয়েছে, যেমনটি হায়যের ক্ষেত্রেও হয়, যা মাগরিব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। (অনুরূপভাবে) এটি পূর্বোক্ত রক্তের বৈশিষ্ট্যের দিকে ইশারা। অর্থাৎ তিনি যেন বলছেন: এমন রক্ত যা জরায়ু থেকে নির্গত হয় এবং অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ থেকে বের হয়, এমনকি তা পরোক্ষভাবে হলেও। এর মাধ্যমে ওই নারী থেকে সতর্ক করা হয়েছে যে তার পেটের ক্ষত দিয়ে সন্তান প্রসব করেছে; সে ক্ষেত্রে সে ক্ষতের অধিকারী হিসেবে গণ্য হবে, যদিও সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হুকুমসমূহ যেমন ইদ্দত শেষ হওয়া ইত্যাদি সাব্যস্ত হবে। তবে যদি জরায়ু থেকে রক্ত প্রবাহিত হয় এবং অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ দিয়ে বের হয়, তবে সে নিফাসওয়ালী হবে, যেমনটি আল-বাহর ও আন-নামর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং সামনে আসবে। আর 'পরোক্ষভাবে হলেও' কথাটির মাধ্যমে মধ্যবর্তী পবিত্রতা এবং স্বচ্ছ শুভ্রতা ব্যতীত অন্য রঙগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আর যদি সে সন্তান জন্ম দেয় এবং কোনো রক্ত না দেখে, তবে নির্ভরযোগ্য মত হলো সে নিফাসওয়ালী হবে, যেমনটি আদ-দুর ও আল-বাহর গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে এবং সামনে আসবে। (সন্তানের অধিকাংশ অংশ বের হওয়ার পর) যদিও তা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় হয়, তবে অর্ধেকের কম বের হলে নয়। সে ক্ষেত্রে নারী সক্ষম হলে অজু করবে অথবা তায়াম্মুম করবে এবং ইশারায় নামাজ পড়বে (দুর)। আর সন্তানের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে এভাবে যে, (যার আগে অন্য কোনো সন্তান আসেনি) অর্থাৎ (ছয় মাসের কম সময়ের মধ্যে)। এর মাধ্যমে যমজ সন্তানের দ্বিতীয়টি থেকে সতর্ক করা হয়েছে; কারণ বিশুদ্ধতম মত অনুযায়ী দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে নতুন নিফাস শুরু হবে না (মুসান্নিফ), বরং তা প্রথমটি থেকেই হবে। আর যদি তাদের উভয়ের মাঝে ছয় মাস বা তার বেশি ব্যবধান থাকে, তবে প্রত্যেকের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র নিফাস হবে। (আর ইস্তিহাজা) আভিধানিকভাবে এটি মুস্তাহাজা হওয়ার ধাতু। কামুস গ্রন্থে বলা হয়েছে, মুস্তাহাজা হলো সেই নারী যার রক্ত প্রবাহিত হয় হায়যের স্থান থেকে নয় বরং আযিল নামক রগ থেকে। (আর) অবস্থা এই যে, (একে নষ্ট রক্ত বলা হয়)। এটি সাত প্রকার যা চতুর্থ পরিচ্ছেদের শেষে ইনশাআল্লাহ আসবে। আর শরীয়তের পরিভাষায় (এটি এমন রক্ত যা পরোক্ষভাবে হলেও রক্ত), যাতে বিভিন্ন রঙগুলো অন্তর্ভুক্ত হয় (মুসান্নিফ)। (যা অভ্যন্তরীণ যৌনাঙ্গ থেকে বের হয় কিন্তু জরায়ু থেকে নয়)। এর আলামত হলো এতে কোনো দুর্গন্ধ থাকে না, যেখানে হায়যের রক্ত দুর্গন্ধযুক্ত হয় (বাহর)। (আর বিশুদ্ধ রক্ত হলো যা তিন দিনের কম নয়) অর্থাৎ হায়যের সর্বনিম্ন মেয়াদের কম নয়, (এবং যা দশ দিনের বেশি হয় না) অর্থাৎ হায়যের সর্বোচ্চ মেয়াদের বেশি নয়। এটি প্রকৃতগতভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে হোক—যেমন তার অভ্যাসের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়া (মুসান্নিফ)। অর্থাৎ যখন অভ্যাসের চেয়ে বৃদ্ধি পায় এমনকি দশ দিন অতিক্রম করে, তবে সে তার অভ্যাসের মেয়াদে ফিরে যাবে। এমতাবস্থায় সে তার অভ্যাসের দিনগুলোতে যা দেখেছে তা বিশুদ্ধ রক্ত হিসেবে গণ্য হবে যেন তা দশ দিন অতিক্রম করেনি। আর অভ্যাসের অতিরিক্ত অংশটুকু ইস্তিহাজা বা নষ্ট রক্ত হিসেবে গণ্য হবে। সারকথা হলো, রক্ত যদি দশ দিন অতিক্রম করার আগে বন্ধ হয়ে যায় তবে তা বিশুদ্ধ রক্ত, কারণ তা বাস্তবে দশ দিন অতিক্রম করেনি। আর যদি দশ দিন অতিক্রম করে, তবে অভ্যাসের দিনগুলোতে যা দেখেছে তা হায়য হবে এবং পরোক্ষভাবে এমনটি ধরে নেওয়া হবে যেন রক্ত অভ্যাসের দিনেই বন্ধ হয়ে গেছে এবং দশ দিন অতিক্রম করেনি। অতএব বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। (আর নিফাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিনের বেশি হবে না) তা প্রকৃতগতভাবে হোক বা পরোক্ষভাবে হোক যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে (মুসান্নিফ)। আর তার কথা (এবং এর কোনো এক প্রান্তে রক্ত থাকবে না পরোক্ষভাবে হলেও), অর্থাৎ পীতবর্ণ বা ঘোলাটে বর্ণের মতো; আমার কাছে এর দ্বারা তার উদ্দেশ্য স্পষ্ট হয়নি। এটি মুহিত ও অন্যান্য গ্রন্থে বর্ণিত বিশুদ্ধ রক্তের সংজ্ঞার অতিরিক্ত অংশ। সম্ভবত তিনি এর দ্বারা ওই অবস্থা থেকে সতর্ক করেছেন যেখানে এটি ছিল।
(এবং ফাসেদ বা কলুষিত পবিত্রতা হলো তা যা তার বিপরীত হয়) অর্থাৎ যা সহীহ বা বিশুদ্ধ পবিত্রতার বিপরীত হয় (তার যেকোনো একটি বিষয়ের ক্ষেত্রে) অর্থাৎ পবিত্রতার সংজ্ঞায় যা উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্য থেকে; যেমন পবিত্রতার মেয়াদ পনের দিনের কম হওয়া অথবা তার সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকা অথবা তা দুটি সহীহ রক্তের মধ্যবর্তী সময়ে না হওয়া। (এবং পবিত্রতা) যা 'তার বিপরীত হয়' কথাটির ওপর আতফ বা সমজাতীয় হিসেবে যুক্ত (যা নিফাসের চল্লিশ দিনের মধ্যে সাধারণভাবে অতিবাহিত হয়) অর্থাৎ তাও ফাসেদ পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত, যেহেতু তা দুটি সহীহ রক্তের মাঝখানে ঘটেনি বরং একটি রক্তের দুই প্রান্তের মাঝখানে ঘটেছে। আর তাঁর বক্তব্য 'সাধারণভাবে' এর অর্থ হলো তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি। আর এটি ইমাম আবু হানিফা রহমতুল্লাহি তাআলার অভিমত। 'আল-খুলাসাহ' গ্রন্থে রয়েছে যে, এর ওপরই ফতোয়া। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ রহ. বলেছেন যে, যদি মধ্যবর্তী পবিত্রতা পনের দিন বা তার বেশি হয় তবে তা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবে এবং সম্ভব হলে প্রথমটিকে নিফাস এবং দ্বিতীয়টিকে হায়েজ গণ্য করা হবে—'আল-মুহিত' গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। এখানে 'সম্ভব হলে' এর অর্থ হলো দ্বিতীয় রক্তটিকে হায়েজ গণ্য করা যদি তা তার পূর্ণ মেয়াদ সম্পন্ন করে।
(এবং পূর্ণ পবিত্রতা) তা সহীহ হোক বা ফাসেদ যেমন আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি (তা হলো পনের দিন বা তার বেশি সময়ের পবিত্রতা; আর অসম্পূর্ণ পবিত্রতা) যা ফাসেদ পবিত্রতার একটি প্রকার যেমনটি আপনি জেনেছেন (তা হলো যা তার থেকে কম হয়) অর্থাৎ যা পূর্ণ পবিত্রতার মেয়াদের চেয়ে কম।
(এবং 'মু'তাদাহ' বা অভ্যস্ত নারী হলেন তিনি যার ক্ষেত্রে অতিবাহিত হয়েছে) তার বালেগা বা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময় থেকে (সহীহ রক্ত এবং সহীহ পবিত্রতা) যেমন যদি সে বালেগা হওয়ার পর তিন দিন রক্ত ও পনের দিন পবিত্রতা দেখে। অতঃপর যদি তার রক্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রবাহিত হতে থাকে, তবে এই প্রবাহের সময়কালে তার অভ্যাস অনুযায়ী দিনগুলো হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। (অথবা দুটির কোনো একটি) যেমন সে একটি সহীহ রক্ত এবং একটি ফাসেদ পবিত্রতা দেখল; উদাহরণস্বরূপ সে পাঁচ দিন রক্ত ও চৌদ্দ দিন পবিত্রতা দেখল এবং এরপর রক্ত প্রবাহিত হতে থাকল। এমতাবস্থায় প্রবাহের শুরু থেকে পাঁচ দিন তার হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে, কারণ তা ছিল সহীহ রক্ত। আর তার পবিত্রতা হবে মাসের অবশিষ্ট দিনগুলো, কারণ সে যা দেখেছিল তা ছিল ফাসেদ পবিত্রতা যার মাধ্যমে সে অভ্যস্ত হতে পারে না, ফলে রক্ত প্রবাহের দিনগুলোতে অভ্যাস নির্ধারণের জন্য তা উপযুক্ত নয়। অথবা এর বিপরীত, যেমন সে এগারো দিন রক্ত ও পনের দিন পবিত্রতা দেখল এবং এরপর রক্ত প্রবাহিত হতে থাকল। কিন্তু এখানে পবিত্রতাটি কেবল বাহ্যিকভাবে সহীহ, কারণ রক্তের কলুষতার কারণে এটিও কলুষিত (ফাসেদ)। ফলে এর দ্বারা অভ্যাস প্রতিষ্ঠিত হবে না যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। সুতরাং তার বিধান সেই নারীর মতো হবে যে রক্ত প্রবাহমান অবস্থায় বালেগা হয়েছে। অতএব প্রবাহের শুরু থেকে দশ দিন তার হায়েজ এবং বিশ দিন তার পবিত্রতা গণ্য হবে—এটিই বিশুদ্ধ অভিমত যেমনটি 'আল-মুহিত' গ্রন্থে রয়েছে। আর কেউ কেউ বলেছেন তার পবিত্রতা ষোলো দিন।
(এবং 'মুবতাদিআ' বা নবীনা হলেন তিনি যিনি প্রথম হায়েজ বা নিফাসের সম্মুখীন হয়েছেন)। সুতরাং তিনি যখন রক্ত দেখা বা সন্তান প্রসবের মাধ্যমে বালেগা হন এবং রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, তখন তার হায়েজ দশ দিন এবং নিফাস চল্লিশ দিন এবং পবিত্রতা বিশ দিন গণ্য হবে। চতুর্থ পরিচ্ছেদে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা আসবে। (এবং 'মুদিল্লাহ' যাকে 'দাল্লাহ' ও 'মুতাহাইয়্যিরাহ'ও বলা হয়) এবং 'মুহাইয়্যিরাহ'ও (ইয়া বর্ণে কাসরা সহ) কারণ সে ফকিহকে বিভ্রান্তিতে ফেলেছে (তিনি হলেন সেই নারী যিনি তার অভ্যাস ভুলে গেছেন) সংখ্যা বা সময়ের দিক থেকে হায়েজ অথবা নিফাসের ক্ষেত্রে।
(দ্বিতীয় প্রকার) ভূমিকা থেকে (মৌলিক নীতি ও সামগ্রিক নিয়মাবলী সম্পর্কে: হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ তিন দিন) শব্দটি এখানে যরফ হওয়ার কারণে নাসব অবস্থায় অথবা খবর হওয়ার কারণে রফ অবস্থায় রয়েছে যদি 'হায়েজের সর্বনিম্ন মেয়াদ' উহ্য ধরা হয় (এবং তার রাতসমূহ)। দিনসমূহের সর্বনামের সাথে এর সম্বন্ধ করা হয়েছে কেবল সংখ্যা বুঝানোর জন্য, অর্থাৎ রাতগুলো সংখ্যায় তিনটি হবে; দিনগুলোর সাথে রাতগুলোর নির্দিষ্ট সম্পর্কের জন্য নয়। এ কারণেই ইবনুল কামাল তাঁর বক্তব্যে 'এবং তিন রাত' শব্দ দ্বারা এটি ব্যক্ত করেছেন। এবং ইমাম আবু হানিফা থেকে হাসানের বর্ণিত রেওয়ায়েত থেকে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে যেখানে বলা হয়েছে যে, তা তিন দিন ও দুই রাত। আর ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তা দুই দিন ও তৃতীয় দিনের অধিকাংশ সময়। আর এ কারণেই গ্রন্থকার বলেছেন (অর্থাৎ বাহাত্তর ঘণ্টা) জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঘণ্টা অনুযায়ী যার প্রতিটি ঘণ্টা পনেরটি বিশেষ এককের সমন্বয়ে গঠিত।
হায়েজ ও নিফাস এবং উল্লিখিত (পবিত্রতার সর্বনিম্ন মেয়াদ) ভিন্ন ভিন্ন। সুতরাং তা (দুই নিফাসের ক্ষেত্রে ছয় মাস), কারণ এটি গর্ভধারণের সর্বনিম্ন সময়। সুতরাং যদি এর চেয়ে কম সময়ের ব্যবধান হয়, তবে তারা জমজ সন্তান হিসেবে গণ্য হবে এবং নিফাস কেবল প্রথমটি থেকেই শুরু হবে, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং সামনে আসবে। (এবং) দুই হায়েজ অথবা হায়েজ ও নিফাসের (অন্যান্য ক্ষেত্রে) এই সময়সীমা (পনেরো দিন)। যদি এর চেয়ে কম হয়, তবে দ্বিতীয় রক্তস্রাবটি এস্তেহাজা হবে। সুতরাং যখন এই পূর্ণ পবিত্রতা দুটি রক্তস্রাবের মাঝখানে আপতিত হয়, (তখন তাকে পরিবেষ্টনকারী রক্তদ্বয় হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে)। একইভাবে পনেরো দিনের বেশি পবিত্রতার ক্ষেত্রেও এটি উত্তমরূপে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ পনেরো দিনের অধিক পবিত্রতাও রক্তদ্বয়কে পৃথক করবে, (যদি প্রতিটি রক্তস্রাব নেসাব পরিমাণ হয়), অর্থাৎ তিন দিন বা তার বেশি হয়।
(এবং কোনো প্রতিবন্ধক যেন বাধা না দেয়। অন্যথায়) অর্থাৎ যদি নেসাব পরিমাণ না হয় অথবা হায়েজের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধক থাকে, যেমন গর্ভবতী হওয়া অথবা অভ্যাসগত দিনের চেয়ে বেশি হয়ে দশ দিন অতিক্রম করা, (তবে তা এস্তেহাজা বা নিফাস হবে)। এর উদাহরণ হলো: একজন মহিলা তার গর্ভাবস্থায় পাঁচ দিন রক্ত দেখল, তারপর পনেরো দিন পবিত্র থাকল, এরপর সন্তান প্রসব করল এবং রক্ত দেখল। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় রক্তটি নিফাস এবং প্রথম রক্তটি এস্তেহাজা হবে, যদিও তারা পবিত্রতার দ্বারা পরিবেষ্টিত।
(সতর্কীকরণ) এখানে 'পবিত্রতা' শব্দটি সাধারণভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে তা পূর্ণ হওয়ার পর সহীহ (সঠিক) ও ফাসেদ (ত্রুটিযুক্ত) উভয় প্রকার পবিত্রতাকে অন্তর্ভুক্ত করে। সুতরাং পূর্ণ ফাসেদ পবিত্রতা, যার সাথে রক্ত মিশ্রিত থাকে—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—তা রক্তদ্বয়ের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায়। এটি কেবল নবীন মহিলার অভ্যাসের দিন নির্ধারণের ক্ষেত্রে ফাসেদ বা অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে, বিচ্ছেদ ঘটানো বা না ঘটানোর ক্ষেত্রে নয়, যেমনটি চতুর্থ পরিচ্ছেদে স্পষ্ট হবে। এবং এর প্রেক্ষাপটে যদি কোনো মহিলা তার অভ্যাস অনুযায়ী তিন দিন রক্ত দেখে, তারপর পনেরো দিন পবিত্র থাকে, এরপর একদিন রক্ত, একদিন পবিত্রতা এবং পুনরায় তিন দিন রক্ত দেখে, তবে প্রথম ও শেষ তিন দিন হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তাদের মাঝে একটি পূর্ণ পবিত্রতা বিদ্যমান, যদিও তা ফাসেদ। কারণ সে এই পবিত্রতার সময়ে একদিন রক্তের সাথেই সালাত আদায় করেছে।
(এবং অসম্পূর্ণ পবিত্রতা) যা তার সর্বনিম্ন মেয়াদের চেয়ে কম, তা (ক্রমাগত রক্তপ্রবাহের ন্যায়)। কারণ এটি একটি ফাসেদ পবিত্রতা, যেমনটি 'হিদায়া' গ্রন্থে রয়েছে। (তা দুই রক্তস্রাবের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় না), বরং পুরো সময়টিকেই হায়েজ হিসেবে গণ্য করা হবে যদি তা দশ দিনের বেশি না হয়। অন্যথায়, দশ দিন বা অভ্যাসের অতিরিক্ত অংশটুকু এস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে।
(ঢালাওভাবে) অর্থাৎ চাই তা তিন দিনের কম হোক—যা সর্বসম্মত—অথবা তার বেশি হোক; এবং চাই সেই অতিরিক্ত অংশটি তাকে পরিবেষ্টনকারী রক্তদ্বয়ের সমান হোক অথবা কম বা বেশি হোক; এবং চাই তা হায়েজের মেয়াদের ভেতরে হোক বা না হোক—ইমাম আবু ইউসুফের নিকট এটিই অভিমত এবং এটিই ইমাম আবু হানিফার পরবর্তী উক্তি। আর এই মতানুসারে, হায়েজের শুরু এবং শেষ পবিত্রতার মাধ্যমে হওয়া বৈধ, যদি রক্ত তার উভয় প্রান্তকে পরিবেষ্টন করে রাখে।
সুতরাং যদি কোনো নবীন মহিলা একদিন রক্ত, চৌদ্দ দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখে, তবে প্রথম দশ দিন হায়েজ হবে। আর যদি অভ্যস্ত মহিলা তার অভ্যাসের সময়ের পূর্বে একদিন রক্ত, দশ দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখে, তবে দশ দিনের পবিত্রতাও হায়েজ হবে যদি তা তার অভ্যাস অনুযায়ী হয়; অন্যথায় তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।
আর ইমাম মুহাম্মদের মতে, অসম্পূর্ণ পবিত্রতা বিচ্ছেদ ঘটায় না যদি তা হায়েজের মেয়াদের ভেতরে রক্তদ্বয়ের সমান বা তার চেয়ে কম হয়। আর যদি বেশি হয় এবং তা তিন দিন বা তার বেশি হয়, তবে তা বিচ্ছেদ ঘটাবে। এরপর যদি উভয় পাশে নেসাব পরিমাণ রক্ত থাকে, তবে পূর্বেরটি হায়েজ হবে। আর যদি কেবল এক পাশে থাকে, তবে সেটিই হায়েজ হবে। অন্যথায় পুরোটিই এস্তেহাজা হবে। তাঁর মতে হায়েজের শুরু বা শেষ পবিত্রতার মাধ্যমে হওয়া বৈধ নয়। সুতরাং যদি কোনো নবীন মহিলা একদিন রক্ত, দুই দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখে, তবে চার দিনই সর্বসম্মতভাবে হায়েজ হিসেবে গণ্য হবে; কারণ পবিত্রতা তিন দিনের কম। আর যদি একদিন রক্ত, তিন দিন পবিত্রতা এবং দুই দিন রক্ত দেখে, তবে স্থায়িত্বের সমতার কারণে ছয় দিনই হায়েজ হবে। আর যদি তিন দিন রক্ত এবং পাঁচ দিন...
পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত, তবে এই তিনটিই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে পবিত্রতার আধিক্যের কারণে, ফলে তা বিচ্ছেদকারী হয়েছে। এটি হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত সারসংক্ষেপ। এই মাসয়ালায় ছয়টি বর্ণনা রয়েছে এবং এই দু’টি সবচেয়ে প্রসিদ্ধ। আল-মাবসুত এবং আল-মুহিত কিতাবে ইমাম মুহাম্মাদের বর্ণনাটিকে সহীহ বলা হয়েছে এবং এর ওপরই ফতোয়া। আস-সিরাজ এবং পরবর্তী ফকীহগণের অনেকেই ইমাম আবু ইউসুফের মতানুসারে ফতোয়া দিয়েছেন, কারণ এটি মুফতি এবং ফতোয়া প্রার্থীর জন্য সহজতর। আল-হিদায়া কিতাবে উল্লেখ আছে যে, এটি গ্রহণ করা সহজ এবং আল-ফাতহ কিতাবে বলা হয়েছে এটিই উত্তম। (ইনশাআল্লাহ তাআলা দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে এর কিছু অংশ সামনে আসবে) (অনুরূপভাবে ফাসিদ বা ত্রুটিপূর্ণ পবিত্রতাও) যা দুই রক্তের মাঝখানে দেখা দেয় (নেফাসের ক্ষেত্রে), তা তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় না এবং তা ক্রমাগত রক্তের মতোই গণ্য হবে। এমনকি যদি কোনো নারী সন্তান প্রসব করে এবং তার রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, এরপর চল্লিশতম দিনের শেষে আবার রক্ত দেখে, তবে পুরো সময়টিই নেফাস হিসেবে গণ্য হবে যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে এবং দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সামনে আসবে। * অতঃপর জেনে রাখুন যে, এই বিচ্ছেদ না হওয়াটি ওই অবস্থার সাথে খাস যখন দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের মেয়াদের মধ্যে দেখা দিবে, এর পরে নয়। একারণেই আস-সিরাজ কিতাবে বলা হয়েছে: অতঃপর নেফাসের দুই রক্তের মাঝে মধ্যবর্তী পবিত্রতা বিচ্ছেদ ঘটায় না, যদিও তা দীর্ঘ হয়... ইত্যাদি। সুতরাং তার উক্তি 'নেফাসের দুই রক্তের মাঝে' এটি সুস্পষ্ট প্রমাণ যে দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের মেয়াদের মধ্যে হতে হবে। অন্যথায় যদি এটি নিঃশর্তভাবে বিচ্ছেদ না ঘটাতো, তবে এটি আবশ্যক হতো যে, যে নারী সন্তান প্রসব করল এবং বিশ দিন রক্ত দেখল, এরপর এক বা দুই বছর পবিত্র থাকল এবং পুনরায় রক্ত দেখল, তবে সেই পবিত্রতাকেও ক্রমাগত রক্তের মতো গণ্য করতে হতো। অথচ এমন কথা কেউ বলেননি। কিন্তু যদি দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের বাইরে দেখা দেয়, তবে যদি মধ্যবর্তী পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ (তাম) হয়, তবে তা বিচ্ছেদ ঘটাবে এবং ক্রমাগত রক্তের মতো গণ্য হবে না। আর যদি তা অপূর্ণাঙ্গ (নাকিস) হয়, তবে বিচ্ছেদ ঘটাবে না। কারণ হায়েযের ক্ষেত্রে এটি বিচ্ছেদ ঘটায় না, তাই নেফাসের ক্ষেত্রে তা অধিক যুক্তিসঙ্গত। কেননা অপূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা স্বীয় সত্তাগতভাবেই ফাসিদ, পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতার বিপরীতে। আমরা যা বলেছি তা আল-মুহিত কিতাবের বর্ণনা দ্বারা স্পষ্ট হয়: যদি কোনো নারী পাঁচ দিন রক্ত দেখে, পনেরো দিন পবিত্র থাকে, পুনরায় পাঁচ দিন রক্ত দেখে এবং পুনরায় পনেরো দিন পবিত্র থাকে এবং এরপর রক্ত অব্যাহত থাকে, তবে তার নিকট তার নেফাস হবে পঁচিশ দিন। কারণ প্রথম পবিত্রতাটি ধর্তব্য নয় যেহেতু তার দুই প্রান্তে রক্ত রয়েছে, আর দ্বিতীয়টি ধর্তব্য কারণ এর মাধ্যমেই চল্লিশ দিন পূর্ণ হয়েছে। আর যদি সে ত্রিশ দিন রক্ত দেখে, দশ দিন পবিত্র থাকে এবং একদিন রক্ত দেখে, তবে ইমাম আবু ইউসুফের মতে চল্লিশ দিনই নেফাস। কারণ তিনি পবিত্রতার মাধ্যমে নেফাস সমাপ্ত করেন এবং দুই রক্তের পরিবেষ্টনের কারণে পবিত্রতাকে নেফাসে রূপান্তরিত করেন যেমনটি সামনে আসবে। আর ইমাম মুহাম্মাদের নিকট ত্রিশ দিন নেফাস। সমাপ্ত। সুতরাং তার কথা 'কারণ এর মাধ্যমে চল্লিশ দিন পূর্ণ হয়েছে' এর অর্থ হলো দ্বিতীয় রক্তটি এর পরে সংঘটিত হয়েছে, ফলে বিচ্ছেদকারী পবিত্রতা বিদ্যমান থাকার কারণে তা হায়েয হবে। এটিই আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে, আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। (এবং সর্বোচ্চ পবিত্রতার কোনো সীমা নেই) বরং এটি সারাজীবনও হতে পারে। (তবে ওই সময় ব্যতীত যখন) রক্ত অব্যাহত থাকার কারণে (অভ্যাস নির্ধারণের) প্রয়োজন হয়। (ইনশাআল্লাহ তাআলা) চতুর্থ পরিচ্ছেদে এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে। (এবং হায়েয ও নেফাসের ক্ষেত্রে অভ্যাস একবারের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়) এটি ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম আবু হানিফার শেষ দিকের উক্তি। আল-মুহিত কিতাবে বলা হয়েছে, এর ওপরই ফতোয়া প্রদান করা হয় এবং অন্য স্থানে বলা হয়েছে, এর ওপরই ফতোয়া। এটি হায়েযের ক্ষেত্রে; আর নেফাসের ক্ষেত্রে এটি সর্বসম্মত। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: অনুরূপভাবে হায়েযের ক্ষেত্রে যার নতুন শুরু হয়েছে, তার অভ্যাসও সর্বসম্মতভাবে একবারের মাধ্যমেই সাব্যস্ত হয়, যেমনটি আস-সিরাজ কিতাবে রয়েছে। মূল মতভেদ হলো ওই ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার অভ্যাস আগে থেকেই নির্ধারিত, যদি সে তার অভ্যাসের পরিপন্থী কিছু একবার দেখে, তবে সেই পরিপন্থী বিষয়টি কি তার নতুন অভ্যাস হিসেবে গণ্য হবে নাকি তা দুইবার পুনরাবৃত্তি হওয়া আবশ্যক? এর ব্যাখ্যা হলো: যদি তার অভ্যাস মাসের শুরুতে পাঁচ দিন হয়, অতঃপর সে ছয় দিন রক্ত দেখে, তবে তা সর্বসম্মতভাবে হায়েয। কিন্তু তাদের (শায়খাইন) নিকট তা অভ্যাসে পরিণত হবে। ফলে যখন...
বিধান (যেমন প্রস্রাব ও মল: যা কিছু ইহলীল থেকে বের হয়)। ইহলীল (ই-কার যোগে) অর্থ মানুষের পুরুষাঙ্গের প্রস্রাব নির্গমনের পথ এবং স্তন থেকে দুধ বের হওয়ার পথ (কামূস গ্রন্থ মতে)। এখানে প্রথম অর্থটিই উদ্দেশ্য। (এবং মলদ্বার) দাল বর্ণে পেশ যোগে (এবং যোনিদ্বার; এমনভাবে যা এই নির্গমন পথসমূহের কোনো একটির কিনারা পর্যন্ত পৌঁছায়), (তা দ্বারা ওযু ভেঙে যাবে), চাই তা রক্ত, প্রস্রাব বা মল হোক (নিঃশর্তভাবে), অর্থাৎ তা পরিমাণে কম হোক বা বেশি হোক। (এবং এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়) অর্থাৎ যা প্রকাশিত হয়েছে তার মাধ্যমে (নিফাস ও হায়েয, যদি তা বিশুদ্ধ রক্ত হয়)। অর্থাৎ নিফাসের ক্ষেত্রে সন্তান বা সন্তানের অধিকাংশ ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর হওয়া এবং হায়েযের ক্ষেত্রে তিন দিনের কম না হওয়া (নয় বছর বা তার বেশি বয়সী মেয়ের ক্ষেত্রে)। আর এর মাধ্যমে তার বালেগ হওয়াও প্রমাণিত হয়। মুহীতুল বুরহানী গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, আমাদের সময়ের অধিকাংশ মাশায়েখ একথার ওপরই রয়েছেন (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। সিরাজ গ্রন্থে এর ওপরই ফতোয়া দেওয়া হয়েছে এবং এটিই পছন্দনীয় মত। ফাতহুল কাদীর গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, কেউ কেউ ছয় বছর, কেউ সাত বছর আবার কেউ বারো বছরও বলেছেন। (যদি অনুভূত হয়) কর্মবাচ্যের শব্দে, তিনি 'সে অনুভব করল' বলেননি যাতে পুরুষ ও নারী উভয়েরই হাদাস (অশুচিতা) এর অন্তর্ভুক্ত হয়, (রক্ত ইত্যাদি নামার শুরুতে) অর্থাৎ রক্ত বা প্রস্রাবের মতো কিছুর নির্গমন শুরু হওয়ার সময় (কিন্তু তা প্রকাশ পায়নি) নির্গমন পথের কিনারা পর্যন্ত। (অথবা তা বাধাগ্রস্ত হয়) এটিও কর্মবাচ্যের শব্দ যা 'প্রকাশ পায়নি' এর ওপর আতফ করা হয়েছে, (প্রকাশ পাওয়া থেকে) অর্থাৎ কাপড়ের মতো কিছু দিয়ে নির্গমন পথের বাইরে (শক্ত করে বাঁধার কারণে) অথবা তুলা জাতীয় কিছু দিয়ে ভেতরে (ঠাসা বা গদি দেওয়ার কারণে), (তবে এর কোনো বিধান নেই)। অর্থাৎ এর দ্বারা ওযু ভাঙবে না এবং হায়েযও সাব্যস্ত হবে না। কেউ কেউ বলেছেন যে, কেবল অনুভূতির মাধ্যমেই তা সাব্যস্ত হয়ে যাবে যেমনটি আমরা আগে উল্লেখ করেছি। (আর যদি প্রথমে প্রকাশ পাওয়ার পর বাধাগ্রস্ত হয়, তবে হায়েয ও নিফাস বহাল থাকবে), অর্থাৎ প্রথমে প্রকাশ পাওয়ার কারণে এদের যে বিধান সাব্যস্ত হয়েছিল, এই বাধার কারণে তা বিলুপ্ত হবে না। যেমন যদি বীর্যের কিছু অংশ বের হয় এবং বাকি অংশ বের হতে বাধা দেওয়া হয়, তবে এতে জানাবাত (গোসলের আবশ্যকতা) শেষ হয়ে যায় না। (তবে ইস্তিহাযার বিষয়টি এমন নয়), কারণ ইস্তিহাযার রক্ত বন্ধ করা সম্ভব হলে তার বিধানও শেষ হয়ে যায়। (আর পক্ষান্তরে) লিঙ্গ ও মলদ্বার (ব্যতীত শরীরের অন্য কোনো স্থান থেকে) নির্গত হওয়ার বিধানের (আলোচনায় কেবল প্রকাশ পাওয়া বা উপরিভাগে আসার কোনো হুকুম নেই), (বরং শর্ত হলো তা বের হওয়া), যদিও তা নিংড়ানোর মতো কোনো উপায়ে বের করা হয়। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটাই সঠিক, 'ইনায়াহ' ও 'বাহর' গ্রন্থে যা বলা হয়েছে যে বের করা ধর্তব্য নয়—তার বিপরীত; যেমনটি আমরা 'রদ্দুল মুহতার' গ্রন্থে স্পষ্ট করেছি। (এবং) শর্ত হলো (রক্ত ইত্যাদি গড়িয়ে পড়া)। এর সংজ্ঞার ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে। মুহীত গ্রন্থে ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত আছে যে, তা ওপরে উঠবে এবং নিচের দিকে নেমে আসবে। ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত আছে যে, যদি তা জখমের মুখে ফুলে ওঠে এবং মুখের চেয়ে পরিমাণে বেশি হয়ে যায়, তবে ওযু ভেঙে যাবে; কিন্তু সঠিক মত হলো এতে ওযু ভাঙবে না (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। দিরায়া গ্রন্থে দ্বিতীয় মতটিকে সঠিক বলা হয়েছে, কিন্তু খানিয়া ও অন্যান্য গ্রন্থে প্রথম মতটিকে সঠিক বলা হয়েছে। ফাতহুল কাদীর গ্রন্থে রয়েছে যে, এটিই ইমাম সারাখসীর পছন্দনীয় মত এবং এটিই উত্তম। আর গড়িয়ে পড়া বলতে সম্ভাব্য গড়িয়ে পড়াও উদ্দেশ্য। এমনকি প্রতিবার বের হওয়ার সময় যদি সে তা মুছে ফেলে, অথবা তার ওপর তুলা রাখে, কিংবা তার ওপর ছাই বা মাটি ফেলে এবং তা পুনরায় প্রকাশ পায় এবং সে পুনরায় তা ঢেকে দেয়—এভাবে বারবার করতে থাকে, তবে সেসব রক্তকে একত্রিত ধরা হবে। যদি অবস্থা এমন হয় যে, তা ছেড়ে দিলে প্রবল ধারণা অনুযায়ী গড়িয়ে পড়ত, তবে ওযু ভেঙে যাবে। ফকীহগণ বলেছেন, রক্ত তখনই একত্রিত ধরা হবে যখন তা একই মজলিসে বারবার বের হয়। কিন্তু যদি তা ভিন্ন ভিন্ন মজলিসে হয়, তবে তা একত্রিত করা হবে না; যেমনটি তাতারখানিয়া ও বাহরুল রায়েক গ্রন্থে রয়েছে। (শরীরের এমন জায়গায়) গড়িয়ে পড়া (যা জানাবাত থেকে গোসলের সময় পবিত্র করা ওয়াজিব)। এখানে পবিত্রকরণের মধ্যে মাসেহ করাও অন্তর্ভুক্ত। যেমন কোনো ওজরের কারণে কারো মাথা ধোয়া সম্ভব নয় কিন্তু মাসেহ করা সম্ভব, এমতাবস্থায় সেখান থেকে রক্ত বের হয়ে মাসেহ করার স্থানে গড়িয়ে পড়ল। আর গড়িয়ে পড়া বলতে হুকুমের দিক থেকে গড়িয়ে পড়াও উদ্দেশ্য। সুতরাং এটি সেই অবস্থাকেও অন্তর্ভুক্ত করবে যখন কেউ শিঙা লাগাল এবং জখমের মুখ রক্তে মাখামাখি হলো না, তবে এটি ওযু ভঙ্গকারী হবে যদিও তা শরীরের পরিবর্তে মাটিতে গড়িয়ে পড়ে। একইভাবে জোঁক বা বড় কোনো পোকা যদি রক্ত চুষে নেয় এবং তা গড়িয়ে পড়ে...
চোখের ভেতর বা ক্ষতের অভ্যন্তরীণ অংশ এমন একটি স্থান যা পবিত্র করা আবশ্যক নয়, কারণ তা ক্ষতিকর। 'ফাতহুল কাদির'-এ তার 'আবশ্যক বা মুস্তাহাব' উক্তির পর আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং 'আল-বাহর' গ্রন্থে তাদের এই বক্তব্যের মাধ্যমে একে সমর্থন করা হয়েছে যে, রক্ত যখন নাকের বাঁশি পর্যন্ত নেমে আসে তখন তা অজু ভঙ্গকারী হয়। অর্থাৎ নাকের শক্ত অংশ পর্যন্ত পানি পৌঁছানো (ইস্তিনশাক) যেহেতু সুন্নাত, তাই সেখানে রক্তের অবতরণ অজু ভঙ্গের জন্য যথেষ্ট। এ বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ আমাদের 'রাদ্দুল মুহতার' (অজু ভঙ্গের অধ্যায়ে) হাশিয়াতে রয়েছে। এটি তার 'কোনো বিধান নেই' উক্তির মধ্যকার না-বোধক অর্থের সাথে এবং তার উক্তি 'বরং এটি আবশ্যক' অথবা প্রকাশ পাওয়া ও বের হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট; তবে এটি বুঝতে কিছুটা গভীর চিন্তার প্রয়োজন। (যদি ক্ষত থেকে রক্ত প্রবাহ বন্ধ করে দেওয়া হয় তবে ওজর বাতিল হয়ে যাবে) এতে কোনো মতভেদ নেই। আর তা সম্ভবপর মাত্রা অনুযায়ী পালন করা ওয়াজিব, এমনকি দাঁড়িয়ে বা বসে ইশারায় সালাত আদায়ের মাধ্যমে হলেও, যেমনটি এই রিসালার শেষে ইনশাআল্লাহ বিস্তারিত আসবে। (ইস্তিহাযার মতো) এটি দুটি বিশুদ্ধ মতের মধ্যে অধিকতর বিশুদ্ধ। কেউ কেউ বলেছেন এটি হায়যের মতো। (নিফাসের ক্ষেত্রে আবশ্যক) এর বিধান সাব্যস্ত হওয়ার জন্য (এবং তা সত্ত্বেও) অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ গুহ্যদ্বার থেকে রক্ত বের হওয়ার পাশাপাশি (সন্তানের অধিকাংশ অংশ বের হওয়া)। এটিই অধিক বিশুদ্ধ মত। 'আল-خুলাসাহ' গ্রন্থে রয়েছে যে, যদি অর্ধেকের কম অংশ বের হয় তবে সে নিফাসগ্রস্তা হবে না। যদি সে সালাত আদায় না করে তবে গুনাহগার হবে। এমতাবস্থায় একটি পাত্র বা ছোট গর্তের ব্যবস্থা করা হবে এবং সে সেখানে বসবে যাতে সন্তানের কোনো ক্ষতি না হয়। ইমাম মুহাম্মদের মতে পুরো সন্তান বের হওয়া আবশ্যক। (যদি সে সন্তান প্রসব করে এবং কোনো রক্ত না দেখে তবে তার ওপর গোসল ফরজ) এটি ইমাম আবু হানিফার মত। ইমাম আবু ইউসুফের প্রথম মত ছিল যে না, এরপর তিনি ফিরে এসেছেন এবং (ইমাম আবু হানিফার মতে) বলেছেন; এরপর পুনরায় তিনি ফিরে গিয়ে বলেছেন যে সে পবিত্র, তার ওপর কোনো গোসল নেই। অধিকাংশ মাশায়েখ ইমাম আবু হানিফার মত গ্রহণ করেছেন এবং 'সদরুশ শহীদ' এর ওপর ফতোয়া দিয়েছেন। 'আল-মুহিত' গ্রন্থে এমনই রয়েছে এবং 'আয-যহিরিয়্যাহ' ও 'আস-সিরাজ' গ্রন্থে একে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে, ফলে এটিই মাযহাব হিসেবে গণ্য—বাহর। (কেননা সন্তান সিক্ততা থেকে মুক্ত থাকে না) অর্থাৎ রক্তের আর্দ্রতা। 'ফাতহুল কাদির'-এ এভাবেই কারণ দর্শানো হয়েছে। আয-যাইলায়ী কারণ দর্শিয়েছেন যে, সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়াই নিফাস; অর্থাৎ যদিও সেখানে কোনো আর্দ্রতা মোটেও না থাকে। এটি এ বিষয়ে স্পষ্ট যে সে নিফাসগ্রস্তা হবে। 'আন-নিহায়াহ' গ্রন্থেও এটি স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে 'আন-নাহর'-এর সেই বক্তব্য খণ্ডন হয়ে যায় যাতে বলা হয়েছিল যে, তার ওপর গোসলের আবশ্যকতা কেবল সতর্কতামূলক। যেমনটি ফকীহগণ স্পষ্টভাবে বলেছেন, তাই তার নিফাসগ্রস্তা হওয়া আবশ্যক নয়। এর পূর্ণাঙ্গ আলোচনা আমি 'আল-বাহর'-এর টীকায় লিখেছি। (যদি সন্তান গুহ্যদ্বার ব্যতিরেকে অন্য স্থান দিয়ে বের হয়) যেমন তার পেটের কোনো ক্ষত দিয়ে, (যদি গুহ্যদ্বার দিয়ে রক্ত বের হয় তবে তা নিফাস, অন্যথায় নয়)। তবে এর মাধ্যমে ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাবে এবং দাসী 'উম্মে ওয়ালাদ' হয়ে যাবে। যদি তার তালাককে সন্তান প্রসবের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়, তবে শর্ত পূর্ণ হওয়ায় তালাক পতিত হবে—বাহর। (সাকাত) সীন বর্ণে তিন হরকতের সাথেই পড়া যায়—অর্থাৎ যে সন্তান মায়ের পেট থেকে মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ঠ হয় এবং যার শারীরিক গঠন প্রকাশ পেয়েছে। অন্যথায় তা 'সাকাত' নয়, 'আল-মাগরিব' গ্রন্থে এমনই আছে। সুতরাং লেখকের কথা: (যদি তার শরীরের কিছু অংশ প্রকাশিত হয়) এটি বুঝানোর জন্য যে পূর্ণ অঙ্গ প্রকাশ পাওয়া শর্ত নয় বরং কিছু অংশই যথেষ্ট (যেমন চুল, নখ, হাত, পা এবং আঙুল), (তবে তা সন্তান)। অর্থাৎ সে এমন সন্তান যার মাধ্যমে নারী নিফাসগ্রস্তা হয় এবং তার জন্য ইদ্দত পূর্ণ হওয়া বা অনুরূপ অন্যান্য বিধানাবলি সাব্যস্ত হয় যা আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন। 'আল-বাহর'-এ 'আন-নিহায়াহ' থেকে আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে যে, গর্ভপাতের পূর্বে সে যা রক্ত দেখেছে তা হায়য নয়। অর্থাৎ কারণ সে তখন গর্ভবতী ছিল আর গর্ভবতী নারীর হায়য হয় না যেমনটি গত হয়েছে। (অন্যথায়) যদি তার শারীরিক গঠনের কিছুই প্রকাশ না পায়, (তবে) সে সন্তান হিসেবে গণ্য হবে না এবং এসব বিধান সাব্যস্ত হবে না। (কিন্তু সে যে রক্ত দেখবে) গর্ভপাতের পর (তা হায়য যদি তা নিসাব পরিমাণ হয়) অর্থাৎ তিন দিন বা তার বেশি (এবং এর আগে পূর্ণ পবিত্রতা অতিবাহিত হয়) যাতে এই হায়য ও পূর্ববর্তী হায়যের মধ্যে পার্থক্যকারী হয়। (অন্যথায়) যদি এই দুটির কোনো একটিও পাওয়া না যায়...
দুই শর্ত পূরণ হলে বা তার মধ্যে মাত্র একটি না থাকলে (তা হবে ইস্তিহাযা), যদিও সে না জানে যে ভ্রূণের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গঠিত হয়েছে কি না; যেমন ধরা যাক সে তা নির্গম পথে ফেলে দিল এবং রক্তপাত অব্যাহত থাকল। ইনশাআল্লাহ তাআলা এর বিধান পঞ্চম পরিচ্ছেদের শেষে আসবে। (আর যদি সে এক গর্ভে দুই বা ততোধিক সন্তান প্রসব করে, এভাবে যে প্রত্যেক দুই সন্তানের জন্মের মধ্যবর্তী ব্যবধান ছয় মাসের কম হয়), যদিও প্রথম এবং তৃতীয় সন্তানের ব্যবধান ছয় মাসের বেশি হয়—সবচেয়ে বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী, যেমনটি 'বাহর' গ্রন্থে রয়েছে—(তবে নিফাস কেবল প্রথম সন্তান থেকেই গণ্য হবে)। এটি ইমাম আবু হানিফা এবং ইমাম আবু ইউসুফের অভিমত এবং এটিই সঠিক। ইমাম মুহাম্মদের মতে দ্বিতীয় সন্তান থেকে (নিফাস শুরু হবে), তাতারখানিয়া গ্রন্থে এভাবেই রয়েছে। আর বাহ্যত দ্বিতীয় দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শেষ সন্তান, যাতে তিন সন্তানের বিষয়টিও এর অন্তর্ভুক্ত হয়। অতঃপর এতে কোনো মতভেদ নেই যে, ইদ্দত শেষ হবে শেষ সন্তান প্রসবের মাধ্যমে, যেমনটি 'তানভীর' গ্রন্থে রয়েছে; কারণ এটি জরায়ু খালি হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট, আর জরায়ু খালি হওয়া তাতে থাকা সবকিছু বের না হওয়া পর্যন্ত সম্ভব নয়। আর প্রথম সন্তানের পরে যা (রক্ত) দেখে তার বিধান এখানে বর্ণনা করা হয়নি। পার্শ্বটীকায় লেখা হয়েছে: ফকিহগণ বলেছেন, অবশিষ্টাংশ হলো ইস্তিহাযা। মধ্যবর্তী সন্তানের ক্ষেত্রে এটি নিঃশর্তভাবে প্রযোজ্য, কারণ গর্ভবতী নারী ঋতুবতী হয় না। আর শেষ সন্তানের ক্ষেত্রে এটি সেই অবস্থার সাথে সীমাবদ্ধ রাখা আবশ্যক যখন তাকে হায়েজ হিসেবে গণ্য করা সম্ভব না হয়। যেমন নিফাস বন্ধ হওয়ার পর পনেরো দিন অতিবাহিত না হওয়া, অথবা তার পূর্বের ঋতুচক্রের অভ্যাস অনুযায়ী দিনগুলো পার না হওয়া, অথবা প্রথমবারের মতো রক্ত দেখছে এমন নারীর ক্ষেত্রে বিশ দিন পার না হওয়া, অথবা যদি তা তিন দিনের কম হয়। অন্যথায় তাকে হায়েজ গণ্য করা উচিত। (সমাপ্ত)
আমি বলি, মধ্যবর্তী বিষয়টিও নিঃশর্ত নয় বরং তা প্রথম সন্তানের পর চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার শর্তের সাথে যুক্ত। কারণ 'বাহর' গ্রন্থে 'নিহায়া' থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে, দ্বিতীয় সন্তানের পরে যা (রক্ত) দেখবে তা যদি প্রথম সন্তানের চল্লিশ দিনের মধ্যে হয় তবে তা প্রথম সন্তানের নিফাস পূর্ণ করার জন্য গণ্য হবে, আর আবু হানিফা ও আবু ইউসুফের মতে চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার পর তা হবে ইস্তিহাযা। (সমাপ্ত) অভ্যস্ত মহিলার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো যদি রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম করে তবে তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নিতে হবে। ফলে অভ্যাসের অতিরিক্তটুকু হবে ইস্তিহাযা, কেবল চল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার পরের টুকু নয়।(আর হায়েজের সমাপ্তি) এটি লেখক-এর পূর্বোক্ত কথা 'আর প্রথমত' এর ওপর সংযোজিত। (তা হবে ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়ার বয়সে পৌঁছানোর মাধ্যমে) অর্থাৎ সেই সময়ের সমাপ্তি যাতে সাধারণত হায়েয দেখা যায় এবং যা সাধারণত অতিক্রম করে না। এখানে খোদ হায়েজের রক্ত বন্ধ হওয়া উদ্দেশ্য নয়, কারণ তা তিন থেকে দশ দিনের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে রক্ত বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে হয়, অথবা যদি দশ দিন অতিক্রম করে তবে আইনগতভাবে বন্ধ হয়। বৈপরীত্যের দাবি ছিল যেহেতু শুরুর ব্যাখ্যা রক্ত প্রকাশের মাধ্যমে করা হয়েছে, তাই শেষের ব্যাখ্যাও উল্লিখিত রক্ত বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে করা। তবে তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা কেবল তখনই সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় যখন শুরুর ব্যাখ্যা নয় বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সে পৌঁছানোর মাধ্যমে করা হয়। হতে পারে শুরুর ব্যাখ্যা দ্বারা এটাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল, তবে এতে কিছুটা কষ্টকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে; সুতরাং বিষয়টি ভেবে দেখো। অতঃপর 'ইয়াস' অর্থ আশা বিচ্ছিন্ন হওয়া। আর 'ঈয়াস' এর মূল রূপ ছিল 'আইয়া-আস', যা থেকে উচ্চারণের সহজতার জন্য 'আইন' বর্ণ হিসেবে থাকা হামজাহটি বিলুপ্ত করা হয়েছে—'মগরিব' (অভিধান)।
(আর তা) অর্থাৎ হায়েজের শেষ বয়স (হায়েজের ক্ষেত্রে) যা ইস্তিহাযা থেকে রক্ষার জন্য বলা হয়েছে, কারণ ইস্তিহাযার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই—(তা হলো পঞ্চান্ন বছর)। 'মুহিতুল বুরহানি' গ্রন্থে বলা হয়েছে, অনেক মাশায়েখ এর ওপর ফতোয়া দিয়েছেন এবং এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ মত। 'ফয়জ' এবং অন্যান্য কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে এটিই মনোনীত মত। 'দুরর' গ্রন্থে 'জিয়া' থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে এর ওপরই নির্ভরতা। সুতরাং যখন সে এই বয়সে পৌঁছাবে এবং তার রক্ত বন্ধ হবে, তখন তার ঋতু বন্ধ হওয়ার হুকুম দেওয়া হবে, অন্যথায় নয়। এর ওপর ভিত্তি করে, যে দুগ্ধদানকারী নারী তার দুগ্ধদানের সময়ে রক্ত দেখে না, হায়েয আসা ছাড়া তার ইদ্দত শেষ হবে না, যেমনটি 'দুরর' গ্রন্থের ইদ্দত অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে। 'সিরাজ' গ্রন্থে আছে যে, জনৈক মাশায়েখকে এমন দুগ্ধদানকারী নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে হায়েয দেখে না, পরে সে চিকিৎসা গ্রহণ করে এবং হায়েজের দিনগুলোতে হলদেটে রক্ত দেখে। তিনি বলেন, এটি হায়েয এবং এর দ্বারা ইদ্দত পূর্ণ হবে। (অতঃপর যদি সে এরপর দেখে) অর্থাৎ এই বয়সের পর (খাঁটি রক্ত দেখে)।যেমন কালো ও গাঢ় লাল রং (নিসাব পরিমাণ হলে তা হায়েজ)। সদরুশ শরীয়াহ বলেন, এটিই পছন্দনীয় মত। এবং 'মুহিত' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, কেউ কেউ বলেছেন এটি হায়েজ হবে না, তবে সদরুশ শরীয়াহ একে 'জাহিরুর রিওয়ায়াত' হিসেবে গণ্য করেছেন। কেউ কেউ বলেছেন, যদি বার্ধক্যে উপনীত হওয়ার (আইয়াস) ফয়সালা হয়ে থাকে তবে তা হায়েজ নয়, অন্যথায় হায়েজ। আর 'হুজ্জাহ' গ্রন্থে রয়েছে যে, এটিই বিশুদ্ধ মত। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি এমন না হয়, যেমন সে হলুদ, ঘোলাটে বা মাটির ন্যায় রং দেখে। সদরুশ শরীয়াহ বলেন: ঘোলাটে হলো যা ঘোলা পানির মতো, আর মাটি-রঙা হলো এক প্রকার ঘোলা রং যা মাটির রঙের মতো—শব্দটি 'তুবরা' (মাটি) শব্দের দিকে সম্বন্ধযুক্ত, যাতে 'ইয়া' বর্ণে তাশদিদ দিয়ে বা তাশদিদ ছাড়া হামযাহহীনভাবে পঠিত হয়। আর হলুদ রং হলো রেশমের গুটি, খড় বা দাঁতের হলুদাভ রঙের মতো—এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। (এমতাবস্থায় তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে)। 'আল-বাহর' গ্রন্থে 'আল-ফাতহ' থেকে বর্ণিত হয়েছে: এরপর বার্ধক্যের (আইয়াস) হুকুম কেবল ভবিষ্যতে নির্গত খাঁটি রক্তের মাধ্যমেই রহিত হবে, অতীতের ক্ষেত্রে নয়। এমনকি পুনরায় রক্ত দেখা দেওয়ার পূর্ব পর্যন্ত কৃত মিলনজনিত নিকাহও ফাসিদ হবে না। ইতি। সুতরাং যদি সে মাসের হিসাবে ইদ্দত পালন করে এবং মাস পূর্ণ হওয়ার পূর্বে রক্ত দেখে, তবে তাকে নতুন করে ইদ্দত শুরু করতে হবে। তবে মাস পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত দেখলে পুনরায় শুরু করতে হবে না; যেমনটি শহীদ, সদরুশ শরীয়াহ, মোল্লা খসরু এবং বাকানি পছন্দ করেছেন। এবং ভবিষ্যতে সে হায়েজের মাধ্যমেই ইদ্দত পালন করবে, যেমনটি 'খুলাসা' ও অন্যান্য গ্রন্থে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে। 'আল-জাওহারা' ও 'আল-মুজতাবা' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এটিই বিশুদ্ধ ও পছন্দনীয় মত এবং এর ওপরই ফতোয়া। 'তাসহিহুল কুদুরি' গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এই বিশুদ্ধায়নটি 'হিদায়া'র সেই বিশুদ্ধায়নের চেয়ে উত্তম যাতে নিকাহ ফাসিদ হওয়া এবং ইদ্দত বাতিল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। 'আন-নাহর' গ্রন্থে রয়েছে যে, এটিই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ বর্ণনা। 'আদ-দুর' গ্রন্থের ইদ্দত অধ্যায়েও এভাবেই সংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু লেখক এখানে রক্তকে খাঁটি হওয়ার শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন—আর তা হলো কালো ও গাঢ় লাল রং যেমনটি আমরা উল্লেখ করেছি—তাই এমন ধারণা হওয়ার অবকাশ তৈরি হয়েছে যে, মেনোপজপ্রাপ্ত নারী এবং অন্যদের ক্ষেত্রেও হায়েজের রক্তে এটিই শর্ত। লেখক এটি খণ্ডন করতে গিয়ে বলেছেন: (আর মেনোপজপ্রাপ্ত নারী ব্যতীত অন্যদের ক্ষেত্রে খাঁটি সাদা রং ব্যতিরেকে বাকি সব রংই) বলা হয়েছে এটি সাদা সুতার মতো কিছু—'আদ-দুর' (রঙের মধ্য হতে) যেমন সবুজ ও পূর্বোল্লিখিত পাঁচটি রঙের অন্যান্যগুলো (রক্তের হুকুমভুক্ত) হায়েজ ও নেফাসের সময়কালে। ইমাম আবু ইউসুফ হায়েজের শুরুতে ঘোলাটে হওয়াকে অস্বীকার করেছেন, তবে শেষে নয়। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ সবুজ রংকেও অস্বীকার করেছেন। তবে সঠিক মত হলো, মেনোপজপ্রাপ্ত নারী ছাড়া অন্যদের ক্ষেত্রে এগুলোও হায়েজ। 'আল-মি'রাজ' গ্রন্থে ফখরুল আইম্মাহ থেকে বর্ণিত হয়েছে: যদি সহজ করার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এই মতগুলোর কোনোটির ওপর ফতোয়া দেওয়া হয়, তবে তা উত্তম হবে—'আল-বাহর'। (আর রঙের ক্ষেত্রে ধর্তব্য হবে) লাল মাটির রঙের বা অন্য কিছুর ক্ষেত্রে (যখন গদি বা প্যাডটি তুলা থেকে তুলে ফেলা হবে) (এবং তা তাজা থাকা অবস্থায়; আর এরপর) অন্য রঙে (পরিবর্তিত হওয়া ধর্তব্য নয়)। যেমন যদি সে সাদা রং দেখে এবং শুকিয়ে যাওয়ার পর তা হলুদ হয়ে যায় অথবা এর বিপরীত হয়, তবে পরিবর্তনের আগের অবস্থাই ধর্তব্য হবে। (আর কুরসুফ সম্পর্কে বলা যায়—) কাফ এবং সিন বর্ণে পেশ এবং মাঝখানে রা বর্ণে সুকুন যোগে তুলা। ফকীহগণের পরিভাষায় এটি হলো যা লজ্জাস্থানের মুখে রাখা হয়। (এটি সুন্নাত), অর্থাৎ এটি রাখা মুস্তাহাব যেমনটি 'আল-ফাতহ' এবং 'শারহুল বিকায়া' গ্রন্থে রয়েছে (কুমারী নারীর জন্য), যার সতীত্ব অক্ষুণ্ণ রয়েছে, (কেবল হায়েজের সময়); অর্থাৎ পবিত্রতার সময় নয়। (আর সধবা নারীর জন্য) যার কুমারীত্ব অপসারিত হয়েছে, (সর্বাবস্থায়)। কারণ সে কোনো কিছু নির্গত হওয়া থেকে নিরাপদ নয়, তাই এক্ষেত্রে তাকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে বিশেষ করে নামাজের অবস্থায়, যা কুমারী নারীর ক্ষেত্রে ভিন্ন। এটি 'আল-মুহিত' গ্রন্থে রয়েছে। 'আল-বাহর' গ্রন্থে লেখক 'শারহুল বিকায়া' থেকে যা উল্লেখ করেছেন তা উদ্ধৃত করার পর বলেছেন: অন্য গ্রন্থে আছে যে, এটি সধবা নারীর জন্য হায়েজের সময় সুন্নাত এবং পবিত্রতার সময় মুস্তাহাব। আর যদি তারা কুরসুফ ছাড়া নামাজ পড়ে, তবে তা জায়েজ হবে। ইতি। (আর তাতে মেশক বা এই জাতীয় সুগন্ধি লাগানো সুন্নাত) রক্তের দুর্গন্ধ দূর করার জন্য। (আর এর স্থান অর্থাৎ সম্পূর্ণটি রাখা মাকরূহ) যোনির অভ্যন্তরীণ অংশে, কারণ এটি সদৃশ হয়...
(আর এই সব কিছু) অর্থাৎ তার কথা 'অতঃপর তুলা...' ইত্যাদি (পূর্বেই বোঝা গিয়েছে) পরিচ্ছেদের শুরুতে (এবং এটি তারই বিস্তারিত বিবরণ) আলোচনার স্পষ্টীকরণের জন্য। (দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ:) (নবাগত এবং অভ্যস্তা) নারীর বিধান বর্ণনায়, যাদের সংজ্ঞা ভূমিকার প্রথম প্রকারে অতিক্রান্ত হয়েছে। (প্রথমজনের ক্ষেত্রে, সে যা কিছু দেখবে) অর্থাৎ যে রক্তই সে দেখবে (তা-ই হায়েজ) যদি তা ন্যূনতম পরিমাণের (নেসাব) চেয়ে কম না হয় (এবং নিফাস), এখানে 'এবং' অব্যয়টি 'অথবা' অর্থে (তবে যা উভয়ের সর্বোচ্চ সময়সীমা অতিক্রম করবে তা ব্যতীত) অর্থাৎ দশ দিন ও চল্লিশ দিন। (এবং ভুলে যেয়ো না) যা ভূমিকার শেষে অতিক্রান্ত হয়েছে অর্থাৎ (অপূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা) যা পনেরো দিনের কম (তা নিরবচ্ছিন্ন রক্তের ন্যায়)। অর্থাৎ যা তার আগের ও পরের রক্তের সাথে মিলিত রক্তের মতো, তাই তা দুই রক্তের মাঝে কোনোভাবেই বিচ্ছেদ ঘটাবে না। বরং সেই পুরোটা বা তার অংশবিশেষকে হায়েজ গণ্য করা হবে, যদিও এর ফলে হায়েজের শুরু বা শেষ পবিত্রতার মাধ্যমে হওয়া আবশ্যক হয়। এটি ইমাম আবু ইউসুফের অভিমত, যেমনটি আমরা ভূমিকায় স্পষ্ট করেছি। (যদি নবাগত নারী এক মুহূর্ত) অর্থাৎ সময়ের একটি অংশ (রক্ত দেখে, অতঃপর চৌদ্দ দিন পবিত্র থাকে, এরপর আবার এক মুহূর্ত রক্ত দেখে), তবে এটি একটি অপূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা যা দুই রক্তের মাঝে ঘটেছে। সুতরাং এটি তাদের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাবে না বরং তা নিরবচ্ছিন্ন রক্তের ন্যায় হবে। এমতাবস্থায় (প্রথম দিক থেকে দশ দিন) অর্থাৎ সে যা দেখেছে (তা হায়েজ)। এর মাধ্যমে তার বালেগ হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হবে (ফাতহুল কাদির)। (অতঃপর সে গোসল করবে) দশ দিন পূর্ণ হওয়ার সময় যদিও সে পবিত্রতার ওপর থাকে (এবং সে রোজা কাজা করবে) যদি তা রমজান মাসে হয়। (সুতরাং নবাগত নারীর হায়েজ পবিত্রতার মাধ্যমে শেষ হওয়া জায়েজ) যেমনটি এই উদাহরণে দেখা গেল (কিন্তু পবিত্রতা দিয়ে শুরু হওয়া জায়েজ নয়)। কারণ যে পবিত্রতাকে নিরবচ্ছিন্ন রক্তের ন্যায় গণ্য করা হয়, তাকে অবশ্যই দুই রক্তের মাঝে হতে হয়। ফলে নবাগত নারীর ক্ষেত্রে অপরিহার্যভাবে প্রথম রক্তটিকে হায়েজ সাব্যস্ত করতে হয়। তবে অভ্যস্তা নারীর বিষয়টি ভিন্ন, কারণ তার প্রথম রক্তটি অভ্যাসের দিনগুলোর আগে হতে পারে, ফলে অভ্যাসের দিনগুলোতে সংঘটিত পবিত্রতাকেই কেবল হায়েজ গণ্য করা হয়। এই কারণে তার (অভ্যস্তার) হায়েজ পবিত্রতা দিয়ে শুরু হওয়া এবং শেষ হওয়া জায়েজ, যেমনটি গ্রন্থকার শীঘ্রই স্পষ্টভাবে বর্ণনা করবেন। (যদি নবাগত নারী সন্তান প্রসব করে) অর্থাৎ সেই নবাগত নারী (এবং তার রক্ত বন্ধ হয়ে যায়) উদাহরণস্বরূপ এক মুহূর্ত পর, (অতঃপর চল্লিশ দিনের শেষে) অর্থাৎ তার শেষ দিনে (রক্ত দেখে, তবে পুরো সময়টাই নিফাস)। কারণ ভূমিকায় অতিক্রান্ত হয়েছে যে, চল্লিশ দিনের মাঝে অতিবাহিত হওয়া পবিত্রতা কম হোক বা বেশি, সবই নিফাস। কারণ নিফাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিন হায়েজের দশ দিনের মতো, আর দশ দিনের মাঝে অতিবাহিত হওয়া সবটুকু সময় যেমন হায়েজ, তেমনি চল্লিশ দিনের ক্ষেত্রেও। (আর যদি রক্ত ত্রিশ দিনের শেষে বন্ধ হয়ে যায়, অতঃপর পঁয়তাল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার আগে পুনরায় ফিরে আসে) প্রসবের সময় থেকে, (তবে চল্লিশ দিন নিফাস)। কারণ হায়েজের মতো নিফাসও পবিত্রতার মাধ্যমে শেষ হওয়া জায়েজ। আর দ্বিতীয় রক্তটি ইস্তিহাযা হবে, কারণ পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, হায়েজ ও নিফাস নিরবচ্ছিন্নভাবে পর পর আসে না বরং উভয়ের মাঝে একটি পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা থাকা আবশ্যক, যা এখানে পাওয়া যায়নি। (আর যদি রক্ত পঁয়তাল্লিশ দিন পূর্ণ হওয়ার পর ফিরে আসে, তবে নিফাস কেবল ত্রিশ দিন)। কারণ এখানে পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ অর্থাৎ পনেরো দিনে পৌঁছেছে, যা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে দিয়েছে। ফলে তাকে নিরবচ্ছিন্ন রক্ত হিসেবে গণ্য করা সম্ভব নয়, যা পূর্বের মাসআলার বিপরীত। এমতাবস্থায় যদি দ্বিতীয় রক্তটি নেসাব পরিমাণ হয় তবে তা হায়েজ, অন্যথায় ইস্তিহাযা। আর এটি পূর্বে অতিক্রান্ত সেই নিয়মের পরিপন্থী নয় যে, নিফাসের ক্ষেত্রে পবিত্রতা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় না যদিও তা পনেরো দিন বা তার বেশি হয়; কারণ সেটি তখন প্রযোজ্য যখন উভয় রক্তই নিফাসের মেয়াদের মধ্যে থাকে। কিন্তু এখানে দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের পরে ঘটেছে। এমতাবস্থায় যদি পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ হয় তবে তা বিচ্ছেদ ঘটাবে, অন্যথায় নয়; যেমনটি আমরা ভূমিকার শেষে স্পষ্ট করেছি। (আর) দ্বিতীয় প্রকার অর্থাৎ (অভ্যস্তা নারী, সে যদি তার অভ্যাসের অনুকূল কিছু দেখে) অর্থাৎ যা তার অভ্যাসের সাথে মিলে যায়।
সময়ের দিক থেকে এবং সংখ্যার দিক থেকে (সুস্পষ্ট) অর্থাৎ সবই ঋতুস্রাব ও নিফাস। (আর যদি সে এমন কিছু দেখে যা তার অভ্যাসের পরিপন্থী) সময়ের ক্ষেত্রে অথবা সংখ্যার ক্ষেত্রে অথবা উভয় ক্ষেত্রে, তবে এমতাবস্থায় অভ্যাস কখনো পরিবর্তিত হয়, আবার কখনো হয় না এবং সে যা দেখেছে তার হুকুম ভিন্ন ভিন্ন হয়। (এর জ্ঞান নির্ভরশীল) অর্থাৎ সে যা দেখেছে তা ঋতুস্রাব, নিফাস নাকি ইস্তিহাযা তা জানার বিষয়টি (অভ্যাসের পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল। যদি অভ্যাস পরিবর্তিত না হয়), যেমন রক্ত যদি দশ দিন বা চল্লিশ দিনের বেশি হয়ে যায়, (তবে তাকে তার পূর্বের অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে)। এমতাবস্থায় অভ্যাসের সময়টুকুকে ঋতুস্রাব বা নিফাস গণ্য করা হবে (এবং অবশিষ্ট অংশ) অর্থাৎ যা অভ্যাসকে ছাড়িয়ে গেছে (তা ইস্তিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায়) অর্থাৎ যদি অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে যায়, (তবে পুরোটা রক্তই ঋতুস্রাব বা নিফাস। আর আপনি ইতিপূর্বেই জেনেছেন) প্রথম পরিচ্ছেদের ঠিক আগে (পরিবর্তনের সাধারণ নিয়ম সংক্ষেপে), যেখানে বিস্তারিত বিবরণ বা ব্যাখ্যামূলক উদাহরণ ছিল না। (কিন্তু আমরা বিস্তারিত বর্ণনা করব) সেই সংক্ষিপ্ত নিয়মটি এবং তার উদাহরণ পেশ করব (নতুন শিক্ষার্থীদের জন্য সহজ করার উদ্দেশ্যে)। গ্রন্থকার বলেন: ঋতুস্রাব সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের মধ্যে এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; কারণ এর আবশ্যকতা প্রচুর, এটি বোঝা কঠিন, এর প্রয়োগ জটিল এবং অধিকাংশ নারী এ বিষয়ে অসতর্ক। সুতরাং এটি আয়ত্ত করার জন্য আপনার কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। সম্ভবত আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহে আপনার জন্য এটি সহজ ও সুগম করে দেবেন। নিশ্চয়ই তিনি সকল কঠিন বিষয় সহজকারী। কবুল করুন হে দয়াময় আল্লাহ। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
(আমরা বলি এবং আল্লাহর নিকটই তাওফীক প্রার্থনা করি: অভ্যাসের পরিপন্থী হওয়া) অর্থাৎ অভ্যাসের বিপরীত হওয়া (যদি নিফাসের ক্ষেত্রে হয়) এবং রক্ত যদি চল্লিশ দিন অতিক্রম করে, তবে পূর্বের অভ্যাস বহাল থাকবে এবং তাকে সেই অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে; আর (অবশিষ্টাংশ) অর্থাৎ অভ্যাসের অতিরিক্ত রক্ত (ইস্তিহাযা)। এমতাবস্থায় সে ঐ সময়ে যে সালাতগুলো ছেড়ে দিয়েছে তা কাযা করবে। (আর যদি রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম না করে), তবে (অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে) যা দেখেছে সেই পরিমাণ হবে এবং তখন (পুরো রক্তই নিফাস। আর যদি অভ্যাসের পরিপন্থী হওয়ার বিষয়টি ঋতুস্রাবের ক্ষেত্রে হয়), তবে রক্ত দশ দিন অতিক্রম করবে কি করবে না—তা থেকে বিষয়টি মুক্ত নয়। যদি অতিক্রম করে, তবে অভ্যাসের সময়ে নিসাব পরিমাণ রক্ত পড়েছে কি না? যদি পড়ে থাকে, তবে তা কি অভ্যাসের সংখ্যার সমান নাকি নয়? আর যদি রক্ত দশ দিন অতিক্রম না করে, তবে তা কি অভ্যাসের সংখ্যার সমান নাকি নয়? (যদি রক্ত দশ দিন অতিক্রম করে এবং অভ্যাসের সময়ে) অর্থাৎ পূর্বের অভ্যাসের দিনগুলোতে (নিসাব পরিমাণ রক্ত না পড়ে), যা অন্তত তিন দিন বা তার বেশি; যেমন সে কিছুই দেখেনি বা তিন দিনের কম দেখেছে, (তবে অভ্যাস পরিবর্তিত হবে) সময়ের দিক থেকে, আর সংখ্যার বিষয়টি অপরিবর্তিত থাকবে এবং তা রক্ত দেখার শুরু থেকে গণনা করা হবে। যেমন কোনো নারীর অভ্যাস ছিল মাসের শুরুতে পাঁচ দিন, অতঃপর সে অভ্যাসের ঐ পাঁচ দিন অথবা প্রথম তিন দিন পবিত্র থাকল, এরপর টানা এগারো দিন রক্ত দেখল। প্রথম ক্ষেত্রে অভ্যাসের সময়ে কিছুই পড়েনি এবং দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দুই দিন পড়েছে। এমতাবস্থায় তার ঋতুস্রাব হবে রক্ত দেখা শুরুর সময় থেকে পাঁচ দিন। যেহেতু রক্ত দশ দিন অতিক্রম করেছে, তাই সংখ্যার দিক থেকে তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং সময়ের দিক থেকে তা পরিবর্তিত হবে। কারণ এটি এমন পবিত্রতা যার আগে কোনো রক্ত দেখা যায়নি, তাই একে ঋতুস্রাব গণ্য করা সম্ভব নয়। (আর যদি অভ্যাসের সময়ে নিসাব পরিমাণ রক্ত পড়ে থাকে), তবে শুধুমাত্র অভ্যাসের সময়ের রক্তই ঋতুস্রাব এবং অবশিষ্ট রক্ত ইস্তিহাযা। (যদি অভ্যাসের সময়ে যা পড়েছে) তা সংখ্যার দিক থেকে অভ্যাসের সমান হয়, (তবে অভ্যাস অপরিবর্তিত থাকবে) সময় ও সংখ্যা উভয় দিক থেকে। যেমন যদি সে অভ্যাসের পাঁচ দিন পবিত্র থাকে এবং তার আগে পাঁচ দিন রক্ত দেখে আর পরে এক দিন রক্ত দেখে, তবে তার অভ্যাসের পাঁচ দিনই ঋতুস্রাব; কারণ এটি দুই রক্তের মাঝখানে পড়েছে এবং এখানে কোনো পরিবর্তন হবে না। (অন্যথায়) অর্থাৎ অভ্যাসের সময়ে যা পড়েছে তা যদি অভ্যাসের সংখ্যার সমান না হয়, (তবে অভ্যাস পরিবর্তিত হবে) সংখ্যার দিক থেকে সেই পরিমাণের দিকে যা সে দেখেছে, এমতাবস্থায় যে যা দেখেছে তা (কম)। এই শর্তটি লাগানো হয়েছে কারণ এর বাইরে অন্য কোনো সম্ভাবনা নেই।সাধারণত যা ঘটে তা অভ্যাসের চেয়ে বেশি হওয়ার কারণে। যেমন যদি কোনো নারী তার অভ্যাসের পাঁচ দিনের শুরুর দুই দিন পবিত্র থাকে, এরপর এগারো দিন রক্ত দেখে, তবে তার অভ্যাসের অবশিষ্ট তিন দিন মাসিকের (হায়েজ) অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ তা অভ্যাসের সময়ের মধ্যে একটি নেসাব (ন্যূনতম পরিমাণ), কিন্তু তা সংখ্যার দিক থেকে অভ্যাসের চেয়ে কম। ফলে এটি সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে, সময়ের দিক থেকে নয়। (যদি রক্ত) দশ দিন (অতিক্রম না করে, তবে পূর্ণ সময়টিই মাসিকের অন্তর্ভুক্ত হবে), যদি এর পরে পনেরো দিন মেয়াদী সহীহ পবিত্রতা লাভ হয়। অন্যথায় তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। কারণ এটি ধারাবাহিক রক্তের ন্যায় সাব্যস্ত হবে, যেমনটি ‘তাতারখানিয়া’ গ্রন্থে রয়েছে। এর উদাহরণ ‘আল-বাহর’ গ্রন্থে ‘আস-সিরাজ’ থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে যে, যদি কোনো নারীর অভ্যাস মাসের শুরুতে পাঁচ দিন হয়, অতঃপর সে ছয় দিন রক্ত দেখে, তবে ষষ্ঠ দিনটিও মাসিকের অন্তর্ভুক্ত হবে। কিন্তু সে যদি এর পরে চৌদ্দ দিন পবিত্র থাকার পর পুনরায় রক্ত দেখে, তবে তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং ষষ্ঠ দিনটি ইস্তিহাজা (অসুস্থতাজনিত রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে। (যদি অভ্যাস এবং অভ্যাসের বিপরীত দেখা রক্ত সংখ্যার দিক থেকে সমান না হয়), অর্থাৎ অভ্যাস এবং তার পরিপন্থী রক্ত, যেমনটি আমরা শেষে উদাহরণ দিয়েছি, (তবে দ্বিতীয়টি অভ্যাস হিসেবে গণ্য হবে। অন্যথায়) অর্থাৎ যদি উভয়টি সমান হয়, (তবে সংখ্যা তার নিজ অবস্থায় বহাল থাকবে)। চাই সে তার অভ্যাসের দিনগুলোতে নেসাব পরিমাণ রক্ত দেখুক, অথবা এর আগে বা পরে, অথবা আংশিক অভ্যাসের দিনগুলোতে এবং আংশিক আগে বা পরে। তবে যদি সময় ও সংখ্যা মিলে যায়, তবে অভ্যাসের কোনো পরিবর্তন হবে না। অন্যথায়, অভ্যাসের পরিবর্তন তার ভিন্নতার ওপর ভিত্তি করে সাব্যস্ত হবে। যদি রক্ত দশ দিন অতিক্রম করে, তবে এই সকল সুরতেই তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, যেমনটি পূর্বে উল্লিখিত সাধারণ বর্ণনা থেকে জানা যায়। গ্রন্থকার সামনে আমাদের বলা কিছু বিষয়ের উদাহরণ দিয়েছেন। এর বিস্তারিত বিবরণ ‘আল-মুহিত’, ‘আস-সিরাজ’ এবং অন্যান্য গ্রন্থ থেকে জানা যাবে। (চলুন আমরা উদাহরণ পেশ করি) নিফাস (সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্ত) ও হায়েজের ক্ষেত্রে অভ্যাসের পরিবর্তনের নিয়মের বিস্তারিত আলোচনার জন্য (শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট করার উদ্দেশ্যে), কারণ এই আলোচনাটি অত্যন্ত জটিল। নিফাসের উদাহরণসমূহ: জনৈক নারীর নিফাসের অভ্যাস বিশ দিন। সে সন্তান প্রসব করল (অতঃপর দশ দিন রক্ত দেখল, এরপর বিশ দিন পবিত্র থাকল এবং এগারো দিন রক্ত দেখল)। এটি তার সেই কথার উদাহরণ যে, "যদি চল্লিশ দিন অতিক্রম করে"। কারণ এক্ষেত্রে পবিত্রতা ধারাবাহিক রক্তের ন্যায়, যেহেতু তা দুই রক্তের মাঝে ঘটেছে, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং সে প্রথম যা দেখেছে সেখান থেকে বিশ দিন নিফাস হিসেবে গণ্য হবে। যদিও তা পবিত্রতার মাধ্যমেই শেষ হয়েছে, তবুও তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। আর অবশিষ্ট অর্থাৎ একুশ দিন ইস্তিহাজা হবে। (অথবা সে একদিন রক্ত দেখল, ত্রিশ দিন পবিত্র থাকল, একদিন রক্ত দেখল, চৌদ্দ দিন পবিত্র থাকল এবং একদিন রক্ত দেখল)। এক্ষেত্রেও তার নিফাস বিশ দিন হবে তার অভ্যাসের দিকে ফেরার কারণে, যেহেতু রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম করেছে। কারণ দ্বিতীয় পবিত্রতাটি অপূর্ণাঙ্গ, যা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না। ফলে এটি প্রথম পবিত্রতার ন্যায় ধারাবাহিক রক্তের হুকুমে হবে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত দেখল, চৌত্রিশ দিন পবিত্র থাকল এবং একদিন রক্ত দেখল)। এটি তার এই কথার উদাহরণ যে, "যদি অতিক্রম না করে তবে যা দেখেছে সেদিকে পরিবর্তিত হবে"। ফলে সম্পূর্ণ সময়টিই নিফাস হিসেবে গণ্য হবে। (অথবা সে আঠারো দিন রক্ত দেখল, বাইশ দিন পবিত্র থাকল এবং একদিন রক্ত দেখল)। তার বক্তব্য অনুযায়ী এটিও তার এই কথার উদাহরণ যে, "যদি অতিক্রম না করে"। সেই হিসেবে প্রথম রক্তটি হবে তার নিফাস এবং শেষেরটি হবে ইস্তিহাজা। আর যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়, তবে তা হায়েজ হবে। এভাবে দুই দিন কমার মাধ্যমে তার অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে গেল, কারণ রক্ত চল্লিশ দিন অতিক্রম করেনি। কারণ এখানকার পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ ও সহীহ হওয়ার কারণে ধর্তব্য, এটি নিফাসের দুই রক্তের মাঝে ঘটেনি। কারণ দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের পরে ঘটেছে। আর যখন চল্লিশের পরে ঘটে, তখন পূর্ণাঙ্গ পবিত্রতা ধারাবাহিক রক্তের ন্যায় হওয়ার মাধ্যমে নষ্ট হয় না। অপূর্ণাঙ্গ পবিত্রতার বিষয়টি এর বিপরীত, কারণ তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফাসিদ। তদ্রূপ দ্বিতীয় রক্তটি চল্লিশ দিনের ভেতরে ঘটার বিষয়টিও এর বিপরীত। কেননা সেক্ষেত্রে পবিত্রতা নিঃশর্তভাবে ফাসিদ হয়ে যায়, যেমনটি কোনো নারী সন্তান প্রসবের পর এক মুহূর্ত রক্ত দেখে, এরপর চল্লিশ দিনের শেষে এক মুহূর্ত রক্ত দেখে। যেমনটি আমরা ভূমিকা স্বরূপ প্রথম প্রকারে স্পষ্ট করেছি। এটিই আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে। (অথবা সে একদিন রক্ত দেখল, চৌত্রিশ দিন পবিত্র থাকল এবং একদিন রক্ত দেখল...)
এবং পনের দিন পবিত্রতা ও একদিন রক্ত) তবে তার নিফাস হলো ছত্রিশ দিন, যার শেষ অংশটি পবিত্রতাকে বিনাশকারী। এটি পূর্ববর্তী উদাহরণের বিপরীত, কারণ সেখানে তার অভ্যাস ষোলো দিন বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে; যেহেতু তা সীমা অতিক্রম করেনি, কারণ সর্বশেষ পবিত্রতাটি গ্রহণযোগ্য যেমনটি আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন। (ঋতুস্রাবের উদাহরণসমূহ) উপকারের ত্বরান্বিতকরণ এবং নিয়মের স্পষ্টীকরণের জন্য আমাদের উল্লিখিত উদাহরণগুলোর ক্রমানুসারে: (এমন একজন নারী যার ঋতুস্রাবের অভ্যাস পাঁচ দিন এবং পবিত্রতার অভ্যাস পঞ্চান্ন দিন; সে তার ঋতুস্রাবের অভ্যাসের সময়ে পাঁচ দিন রক্ত দেখল, এরপর পনের দিন পবিত্রতা এবং এগার দিন রক্ত দেখল।) এটি লেখকের এই বাণীর উদাহরণ যে, "যদি অভ্যাসের সময়ে নেসাব (ন্যূনতম পরিমাণ) আপতিত না হয়..." ইত্যাদি। কেননা শেষ রক্তস্রাবের মধ্যে পাঁচ দিন হলো দ্বিতীয় ঋতুস্রাব, কারণ তা পূর্ণ পবিত্রতার পর আপতিত হয়েছে। আর তা দশ দিন অতিক্রম করেছে এবং অভ্যাসের সময়ে তার কোনো নেসাব পাওয়া যায়নি, কারণ তার সময় ছিল পঞ্চান্ন দিন পর। ফলে অভ্যাসের সময়টি পরিবর্তিত হয়েছে, তবে সংখ্যাটি—যা হলো পাঁচ—তার নিজ অবস্থাতেই বহাল থাকবে, যা তার প্রথম রক্ত দেখার সময় থেকে গণ্য হবে। এবং এরই অনুরূপ হলো লেখকের কথা: (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, ছেচল্লিশ দিন পবিত্রতা এবং এগার দিন রক্ত দেখল)। তবে সেখানে অভ্যাসের সময়ে আদৌ কিছু আপতিত হয়নি, আর এখানে নেসাবের কম আপতিত হয়েছে; কেননা এগার দিনের শেষ দুই দিন অভ্যাসের সময়ে পড়েছে এবং সেগুলোকে ঋতুস্রাব গণ্য করা সম্ভব নয়। ফলে অভ্যাসের সময়টি পরিবর্তিত হয়েছে এবং সংখ্যাটিও তার নিজ অবস্থায় বহাল রয়েছে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, আটচল্লিশ দিন পবিত্রতা এবং বারো দিন রক্ত দেখল)। এটি ঐ অবস্থার উদাহরণ যখন অভ্যাসের সময়ে তার অভ্যাসের সমপরিমাণ নেসাব আপতিত হয়। কেননা শেষ রক্তস্রাবটি দশ দিন অতিক্রম করেছে এবং তার সাত দিন পবিত্রতার সময়ে পড়েছে, যার মধ্যে পাঁচ দিন ছিল তার ঋতুস্রাবের অভ্যাসের সময়ে। ফলে সে তার অভ্যাসের দিকেই ফিরে যাবে এবং এক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। এবং এরই অনুরূপ হলো লেখকের কথা: (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, চুয়ান্ন দিন পবিত্রতা, একদিন রক্ত, চৌদ্দ দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখল)। তবে এখানে ঋতুস্রাব শুরু হয়েছে এবং পবিত্রতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। কেননা মধ্যবর্তী একদিনের রক্তস্রাবটি পবিত্রতার মেয়াদের পূর্ণতাদানকারী এবং এরপরের চৌদ্দ দিন ক্রমাগত রক্তস্রাবের হুকুমে থাকবে; কারণ তা দুই রক্তের মাঝখানে আপতিত একটি অসম্পূর্ণ পবিত্রতা। সুতরাং এর শুরুর পাঁচ দিন ঋতুস্রাব এবং অবশিষ্ট অংশ ইস্তিহাযা। আর সংখ্যা ও সময়ের দিক থেকে অভ্যাস আগের উদাহরণের মতোই বহাল থাকবে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, সাতান্ন দিন পবিত্রতা, তিন দিন রক্ত, চৌদ্দ দিন পবিত্রতা এবং একদিন রক্ত দেখল)। এটি ঐ অবস্থার উদাহরণ যখন অভ্যাসের সময়ে তার অভ্যাসের অসম পরিমাণের নেসাব আপতিত হয়। কেননা তিন দিনের রক্তস্রাবটি অভ্যাসের সময়ে পড়েছে এবং তার পরবর্তী চৌদ্দ দিন ক্রমাগত রক্তের ন্যায় গণ্য হবে। যেহেতু রক্ত দশ দিন অতিক্রম করেছে, তাই সময়ের দিক থেকে অভ্যাসের দিকে ফিরে যাবে এবং সংখ্যার দিক থেকে তাতে আপতিত তিন দিনের দিকে পরিবর্তিত হবে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, পঞ্চান্ন দিন পবিত্রতা এবং নয় দিন রক্ত দেখল)। এটি লেখকের বাণী "আর যদি তা অতিক্রম না করে..." এর উদাহরণের সূচনা। এখানে নয় দিনই ঋতুস্রাব হিসেবে গণ্য হবে যদি এরপর সে সহীহ পবিত্রতা লাভ করে, যেমনটি আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি। এক্ষেত্রে অভ্যাসটি কেবল সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। সে এখানে তার নির্ধারিত দিনগুলোতে একটি নেসাব এবং তার পরে কেবল একটি নেসাব দেখেছে। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, পঞ্চাশ দিন পবিত্রতা এবং দশ দিন রক্ত দেখল)। এক্ষেত্রে দশ দিনই ঋতুস্রাব, যেহেতু তা সীমা অতিক্রম করেনি। তবে এখানে পবিত্রতার অভ্যাসটিও সংখ্যার দিক থেকে পঞ্চাশ দিনে পরিবর্তিত হয়েছে। সে তার নির্ধারিত দিনগুলোতে অভ্যাসের অনুকূলে ঋতুস্রাবের নেসাব দেখেছে এবং তার পূর্বেও অনুরূপভাবে দেখেছে; যা পূর্ববর্তী উদাহরণের বিপরীত। (অথবা সে পাঁচ দিন রক্ত, চুয়ান্ন দিন পবিত্রতা এবং আট দিন রক্ত দেখল)। এক্ষেত্রেও সীমা অতিক্রম না করার কারণে আট দিনই ঋতুস্রাব। তবে এর মধ্য থেকে একটি নেসাব তার নির্ধারিত দিনগুলোতে আপতিত হয়েছে এবং আপতিত হয়নি...
এর আগে বা পরে কোনো নিসাব (ন্যূনতম পরিমাণ) ছিল না, বরং একদিন বা দুইদিন রক্ত দেখা গেছে যা একত্রিত করলে নিসাব পূর্ণ হতো। ফলে হায়েয এবং পবিত্রতার অভ্যাস শুধুমাত্র সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। (অথবা যদি সে পাঁচদিন রক্ত, পঞ্চাশ দিন পবিত্রতা এবং সাতদিন রক্ত দেখে) তবে সেই সাতদিন হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। এর মধ্যে নিসাব পরিমাণ অভ্যাসের আগে ঘটেছে, আর অভ্যাসের মধ্যে তার চেয়ে কম ঘটেছে, এবং অভ্যাসের পরে কিছু ঘটেনি। এর ফলে হায়েযের অভ্যাস সংখ্যা ও সময় উভয় দিক থেকে এবং পবিত্রতার অভ্যাস শুধু সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। (অথবা যদি সে পাঁচদিন রক্ত, আটান্ন দিন পবিত্রতা এবং তিনদিন রক্ত দেখে) তবে এই তিনদিনও হায়েয। এর মধ্যে দুই দিন অভ্যাসের দিনগুলোতে এবং একদিন তার পরে ঘটেছে, আর অভ্যাসের আগে কিছু ঘটেনি। ফলে হায়েযের অভ্যাস সংখ্যা বা সময় এবং পবিত্রতার অভ্যাস শুধু সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। (অথবা যদি সে পাঁচদিন রক্ত, চৌষট্টি দিন পবিত্রতা এবং সাত বা এগারো দিন রক্ত দেখে) এখানে সাত এবং এগারো হলো আলাদা করার জন্য। এই দুটি উদাহরণেই সে অভ্যাসের পরে অভ্যাসের বিপরীত নিসাব দেখেছে, অথচ অভ্যাসের মধ্যে বা আগে কিছু দেখেনি। প্রথম ক্ষেত্রে সাতদিনের পুরোটাই হায়েয, কারণ তা সীমা অতিক্রম করেনি; এবং অভ্যাস সংখ্যা ও সময় উভয় দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে এগারো দিনের প্রথম পাঁচদিন হায়েয এবং বাকিটুকু ইস্তিহাযা। ফলে অভ্যাস কেবল সময়ের দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে এবং দশ দিনের বেশি হয়ে যাওয়ায় সংখ্যার ক্ষেত্রে পূর্বের অভ্যাসে ফিরে গেছে। আর পবিত্রতার অভ্যাস শুধু সংখ্যার দিক থেকে পরিবর্তিত হয়েছে। শেষ উদাহরণটি উল্লেখ করার কারণ আমার কাছে স্পষ্ট নয়, কারণ এটি সীমা অতিক্রম করার উদাহরণগুলোর অন্তর্ভুক্ত। এই মাসআলাগুলোর সারকথা হলো, সে অভ্যাসের আগে অথবা পরে রক্ত দেখবে। এর প্রত্যেকটিতে পাঁচটি করে অবস্থা রয়েছে: প্রথমটি—আগে বা পরে নিসাব পরিমাণ রক্ত দেখা গেছে এবং অভ্যাসের মধ্যেও নিসাব পরিমাণ দেখা গেছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি—আগে বা পরে নিসাব পরিমাণ দেখা গেছে কিন্তু অভ্যাসের মধ্যে নিসাবের কম বা কিছুই দেখা যায়নি। চতুর্থটি—আগে বা পরে নিসাবের কম কিন্তু অভ্যাসের মধ্যে নিসাব পরিমাণ দেখা গেছে। পঞ্চমটি—আগে বা পরে নিসাবের কম এবং অভ্যাসের মধ্যেও নিসাবের কম দেখা গেছে, তবে দুটি মিলিয়ে নিসাব পূর্ণ হয়েছে। কখনও সে অভ্যাসের মধ্যে, আগে এবং পরে রক্ত দেখতে পারে এবং ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর ফতোয়া অনুযায়ী এই সবটুকুই হায়েয হবে; কারণ একবার দেখলেই অভ্যাস পরিবর্তিত হয়ে যায়। এই মাসআলাগুলোর কয়েকটিতে মতভেদ রয়েছে এবং এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দীর্ঘ কিতাবসমূহ থেকে জানা যাবে। আমরা যা স্থির করেছি তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থকার সব সুরতের উদাহরণ পুরোপুরি পেশ করেননি, সুতরাং বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করো। (অভ্যাস থাকা নারীর জন্য পবিত্রতা দিয়ে রক্তকাল শুরু করা এবং শেষ করা জায়েয) এটি পূর্বে বর্ণিত নিয়ম থেকে উদ্ভূত একটি শাখা এবং এর উদাহরণ হায়েযের উদাহরণগুলোর মধ্যে চতুর্থ উদাহরণের মতো। 'অভ্যাস থাকা নারী' শর্ত করা হয়েছে কারণ যার সবেমাত্র ঋতু শুরু হয়েছে (মুবতাদিআ), তার ক্ষেত্রে পবিত্রতা দিয়ে শুরু করা জায়েয নয়, যেমনটি আমরা এই পরিচ্ছেদের শুরুতে উল্লেখ করেছি। এই সব কিছুই ইমাম আবু ইউসুফ (রহ.)-এর মতানুসারে, যেমনটি আমরা দ্বিতীয় প্রকারে বর্ণনা করেছি। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (তৃতীয় পরিচ্ছেদ: রক্ত বন্ধ হওয়া প্রসঙ্গে) রক্ত বন্ধ হওয়া হয় দশ দিন পূর্ণ হওয়ার মাধ্যমে হবে, অথবা তার কম সময়ে অভ্যাসের পূর্ণতায় হবে, অথবা অভ্যাসের চেয়েও কম সময়ে হবে। (যদি রক্ত বন্ধ হয়ে যায়) যদিও তা হুকমান (আইনগতভাবে) হয়, যেমন যদি (সর্বোচ্চ মেয়াদের চেয়ে) বেড়ে যায়, অর্থাৎ হায়েযের ক্ষেত্রে দশ দিন এবং নিফাসের ক্ষেত্রে চল্লিশ দিন; তবে তাকে পবিত্র বলে গণ্য করা হবে। অর্থাৎ কেবল সর্বোচ্চ মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়াই যথেষ্ট, যদিও রক্ত বন্ধ না হয় বা গোসল না করা হয়। এখানে 'রক্ত বন্ধ হওয়া' শব্দ দ্বারা ভাব প্রকাশ করা হয়েছে যাতে তা অন্যান্য প্রকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। (এমনকি জায়েয হবে) যার জন্য সে হালাল তার জন্য (গোসল ছাড়াই তার সাথে সহবাস করা)। কারণ রক্ত এই মেয়াদের চেয়ে বেশি হতে পারে না। (তবে তা মুস্তাহাব নয়), বরং গোসলের পর পর্যন্ত তা বিলম্বিত করা মুস্তাহাব। (এবং) এমনকি (যদি ফরয নামাযের ওয়াক্তের এমন পরিমাণ অবশিষ্ট থাকে) যাতে নামায শুরু করা সম্ভব হয়, আর তা হলো (আল্লাহ বলা)—এটি ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে। তাতারখানিয়া গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, এর ওপরই ফতোয়া। আর তিনি বলেছেন...
--------------------------------------------
ইমাম আবু ইউসুফের মতে, তাহরিমা অর্থাৎ আল্লাহু আকবার বলার সমপরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকলে (নামাজ কাজা করা ওয়াজিব হবে)। আর যদি এই সময়ের সাথে গোসল করার মতো সময়ও অবশিষ্ট থাকে, তবে তা আদায় করাও ওয়াজিব হবে। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি এই পরিমাণ সময় অবশিষ্ট না থাকে, তবে আদায় বা কাজা কোনোটিই ওয়াজিব হবে না। এমনকি নারীর ওপর রোজা ওয়াজিব হওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। (যদি রক্ত বন্ধ হয়ে যায়) অর্থাৎ ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদ অতিবাহিত হয় (ফজরের আগে), এমনকি তা যদি এক ঘণ্টা বা তার চেয়েও কম সময় হয়—যেমনটি সিরাজ গ্রন্থে রয়েছে—(তবে রমজান মাসে তার রোজা রাখা বৈধ হবে এবং তার ওপর ওয়াজিব হবে) ইশার নামাজ (কাজা করা)। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি ফজরের সাথে সাথে বা তার পরে রক্ত বন্ধ হয় (তবে তা বৈধ হবে না)। অনুরূপভাবে, যদি নারীটি তালাকপ্রাপ্তা হয়, তবে সে অন্য স্বামীদের জন্য হালাল হয়ে যাবে। আর যদি সে রাজয়ী তালাকপ্রাপ্তা হয়, তবে তার রাজআ বা ফিরিয়ে নেওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাবে—সিরাজ। (অতএব বিবেচ্য হলো ওয়াক্তের শেষাংশ) তাহরিমার সমপরিমাণ সময়। যদি সেই সময়ে নারী পবিত্র থাকে তবে নামাজ ওয়াজিব হবে, অন্যথায় হবে না। (যেমনটি সাবালক হওয়া এবং ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে)। কেননা কোনো শিশু যদি সাবালক হয় অথবা কোনো কাফের যদি ওয়াক্তের শেষ সময়ে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তাহরিমার সমপরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে, তবে আমাদের ফকিহদের মধ্যে গবেষক আলেমদের মতে তার ওপর ফরজ নামাজ ওয়াজিব হবে। কেউ কেউ বলেছেন, যতটুকু সময়ে নামাজ আদায় করা সম্ভব ততটুকু সময় অবশিষ্ট থাকা শর্ত। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করেই পাগল যদি সুস্থ হয়, মুসাফির যদি মুকিম হয়, কিংবা মুকিম যদি সফরে বের হয় তাদের হুকুম নির্ধারিত হবে। আর যদি ওয়াক্তের শেষাংশে ঋতুস্রাব শুরু হয় কিংবা কেউ পাগল হয়ে যায়, তবে ফরজ রহিত হয়ে যাবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা তাতারখানিয়া কিতাবের নামাজ অধ্যায়ের ১৯তম পরিচ্ছেদে রয়েছে। (আর যদি রক্ত বন্ধ হয়) প্রকৃতপক্ষে (ঋতুস্রাবের সর্বোচ্চ মেয়াদের আগে) এবং তা যদি অভ্যাসগত দিনের চেয়ে কম না হয়, যেমনটি সামনে বিস্তারিত আসবে। (তবে সেই) নারী (যদি কিতাবিয়া বা আহলে কিতাব হয়, তবে রক্ত বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সে পবিত্র হয়ে যাবে)। ফলে তার মুসলিম স্বামীর জন্য তৎক্ষণাৎ সহবাস করা বৈধ হবে, কারণ তাকে গোসল করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। (আর যদি সে মুসলিম নারী হয়, তবে নামাজের ক্ষেত্রে তার হুকুম হলো, তার ওপর কাজা করা আবশ্যক হবে যদি ওয়াক্তের এমন পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকে যাতে গোসল এবং তাহরিমা সম্পন্ন করা যায়), অথবা পানি না থাকলে তায়াম্মুম করার সময় পাওয়া যায়। পক্ষান্তরে যদি ঋতুস্রাব সর্বোচ্চ মেয়াদে (দশ দিন) গিয়ে শেষ হয়, তবে শুধু তাহরিমার সমপরিমাণ সময় থাকাই যথেষ্ট, যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ তখন গোসল বা তায়াম্মুমের সময়টুকু পবিত্রতার অংশ হিসেবে গণ্য হবে, যাতে ঋতুস্রাব দশ দিনের বেশি এবং নেফাস চল্লিশ দিনের বেশি না হয়ে যায়। সুতরাং রক্ত বন্ধ হওয়ার সাথে সাথেই সে ঋতুস্রাব বা নেফাস থেকে মুক্ত হয়ে যায়। অতএব যদি এরপর সে তাহরিমার সমপরিমাণ সময় পায়, তবে সেই সময়েই তার পবিত্রতা সাব্যস্ত হয়ে যায়, যদিও সে তখনো গোসল না করে। ফলে তার ওপর কাজা করা আবশ্যক হয়। কিন্তু এখানে অর্থাৎ মেয়াদের আগে রক্ত বন্ধ হলে (গোসল বা তায়াম্মুমের সময়টুকুও ঋতুস্রাব ও নেফাসের অন্তর্ভুক্ত)। তাই গোসল বা তায়াম্মুম সম্পন্ন করার আগে তাকে পবিত্র বলে গণ্য করা হবে না। সুতরাং ওয়াক্তের এমন পরিমাণ সময় অবশিষ্ট থাকা আবশ্যক যা গোসল এবং তাহরিমা উভয়টির জন্য যথেষ্ট হয়। (এমনকি যদি এরপর) অর্থাৎ গোসল বা তায়াম্মুমের সময়ের পর (ওয়াক্তের তাহরিমা পরিমাণ সময় অবশিষ্ট না থাকে, তবে কাজা ওয়াজিব হবে না। এবং) এমনকি (তার রোজা রাখা বৈধ হবে না যদি ফজরের আগে রাতের অবশিষ্ট সময়ে এই দুটি কাজের—অর্থাৎ গোসল ও তাহরিমা—স্থান সংকুলান না হয়)। মুজতাবা গ্রন্থে রোজার ক্ষেত্রে শুধু গোসলের সময় অবশিষ্ট থাকাকেই যথেষ্ট বলে সঠিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে এবং আদ-দুর গ্রন্থেও এটি অনুসরণ করা হয়েছে। তবে আল-বাহর গ্রন্থে তাওশিহ ও সিরাজের বরাতে এর পরে যা উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো লেখক বর্ণিত মতটি, অর্থাৎ তাহরিমার সময়ও অবশিষ্ট থাকা আবশ্যক। অনুরূপ মত জাইলাই গ্রন্থেও রয়েছে। আল-বাহর গ্রন্থে বলা হয়েছে: "প্রকাশ্য দৃষ্টিতে এটিই সঠিক মত।" সমাপ্ত। আমরা এর যৌক্তিক কারণ রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে বর্ণনা করেছি।(১)
--------------------------------------------
--------------------------------------------
--------------------------------------------
তিনি ১৯ দিন পবিত্র থাকলেন, তার অভ্যাসের সময় পূর্ণ হওয়ার আগে তার সাথে সহবাস করা হালাল নয়। (অতঃপর নারী) যখনই রক্ত দেখবে, সে নামাজ ত্যাগ করবে; চাই সে নতুন মাসিকওয়ালী হোক বা অভ্যস্ত হোক, যেমনটি ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে আসবে। (এবং মাসিকের মধ্যে যখনই তিন দিনের আগে তার রক্ত বন্ধ হবে), সে নামাজ পড়বে, কিন্তু (সময়ের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে) অর্থাৎ মুস্তাহাব সময়ের শেষ পর্যন্ত, যেমনটি কোনো কোনো পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে, (ওয়াজিব হিসেবে)। ফাতাওয়া গ্রন্থে আছে: হায়েযওয়ালী নারীর রক্ত যদি দশ দিনের কম সময়ে বন্ধ হয়, তবে সে মাকরূহ সময় নয় বরং মুস্তাহাব সময়ের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। ইমাম মুহাম্মদ 'আল-আসল' গ্রন্থে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন: যদি এশার ওয়াক্তে রক্ত বন্ধ হয়, তবে সে তা ততক্ষণ পর্যন্ত বিলম্বিত করবে যাতে সে গোসল করতে পারে এবং মধ্যরাতের আগে নামাজ আদায় করতে পারে; আর মধ্যরাতের পরের সময়টি মাকরূহ। সিরাজ (গ্রন্থের উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। (অতঃপর যদি রক্ত ফিরে না আসে) সময়ের মধ্যে, (তবে সে ওযু করবে) - এখানে মুদারে থেকে একটি ‘তা’ বিলুপ্ত হয়েছে - (এবং নামাজ পড়বে) যদি সে ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় করে, (এবং রোজা রাখবে) যদি রাতে রক্ত বন্ধ হয়, (অথবা রোজাদারের সদৃশ হবে) অর্থাৎ দিনের বাকি অংশ পানাহার থেকে বিরত থাকবে যদি দিনের বেলা রক্ত বন্ধ হয় রমজান মাসের সম্মানে। (আর যদি রক্ত ফিরে আসে) সময়ের মধ্যে অথবা এরপর দশ দিনের ভেতরে যেমনটি সামনে আসবে, (তবে তার পবিত্রতার হুকুম বাতিল হয়ে যাবে এবং সে বিরত থাকবে) নামাজ ও রোজা থেকে। (এবং তিন দিন পর) - যা 'তিন দিনের আগে' কথাটির ওপর আতফ - (যদি অভ্যাসের সময়ের আগে রক্ত বন্ধ হয় তবে হুকুম তেমনই হবে), (কিন্তু) এখানে (যখনই রক্ত বন্ধ হবে সে গোসল করে নামাজ পড়বে), ওযু করে নয়; কেননা তিন দিন বা তার বেশি রক্ত দেখার কারণে তার হায়েয হওয়া নিশ্চিত হয়ে গেছে। (অথবা অভ্যাসের পর) অর্থাৎ যদি অভ্যাসের সময় পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত বন্ধ হয়, তবে হুকুমও (অনুরূপ হবে, কিন্তু) এখানে (বিলম্ব করা) অর্থাৎ গোসলে বিলম্ব করা যেমনটি তাতারখানিয়াতে রয়েছে, তথা নামাজের খাতিরে তা বিলম্ব করা (মুস্তাহাব, ওয়াজিব নয়)। কারণ অভ্যাসের সময়ের পরে রক্ত ফিরে আসা সচরাচর ঘটে না, যা অভ্যাসের আগের সময়ের বিপরীত; এজন্যই (আগের ক্ষেত্রে) বিলম্ব করা ওয়াজিব ছিল। আর উভয় ক্ষেত্রে 'অনুরূপ' কথাটি একথাই শামিল করে যে, যদি রক্ত ফিরে আসে তবে তার পবিত্রতার হুকুম বাতিল হয়ে যাবে, যেন সে পবিত্রই হয়নি। তাতারখানিয়াতে বলা হয়েছে: এটি তখন হবে যখন রক্ত দশ দিনের মধ্যে ফিরে আসে এবং তা অতিক্রম না করে এবং এরপর পনের দিন পবিত্র থাকে। কিন্তু যদি তা দশ দিন অতিক্রম করে অথবা পবিত্রতা এর চেয়ে কম হয়, তবে সে যদি নতুন মাসিকওয়ালী হয় তবে দশ দিনই হায়েয, অন্যথায় তার অভ্যাসের দিনগুলো গণ্য হবে। যদি হায়েযের মধ্যে তার অভ্যাস এমন হয় যে, একদিন রক্ত আর একদিন পবিত্রতা - এভাবে দশ দিন পর্যন্ত; তবে প্রথম দিন রক্ত দেখলে সে নামাজ ও রোজা ত্যাগ করবে, দ্বিতীয় দিন পবিত্র হলে ওযু করে নামাজ পড়বে, তৃতীয় দিন নামাজ ও রোজা ত্যাগ করবে এবং চতুর্থ দিন গোসল করে নামাজ পড়বে - এভাবে দশ দিন পর্যন্ত। (গ্রন্থের উদ্ধৃতি) সমাপ্ত। অনুরূপ কথা সদরুশ শরীআহ গ্রন্থেও রয়েছে। (এবং নেফাস হায়েযের মতো) উল্লেখিত বিধানসমূহে, (তবে পার্থক্য এই যে, এতে যখনই রক্ত বন্ধ হবে সর্বাবস্থায় গোসল করা ওয়াজিব), চাই তা তিন দিনের আগে হোক বা পরে; কারণ নেফাসের কোনো সর্বনিম্ন সীমা নেই। তাই প্রতিবার রক্ত বন্ধ হওয়ার সময় তার নেফাস থেকে বের হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, ফলে গোসল ওয়াজিব হয়; যা হায়েযের ক্ষেত্রে তিন দিনের আগের হুকুমের বিপরীত। (চতুর্থ পরিচ্ছেদ) (ইস্তিমরার) বা রক্ত অব্যাহত থাকার বিধানে; অর্থাৎ রক্ত ক্রমাগত নির্গত হওয়া এবং তা সর্বোচ্চ সীমার অতিরিক্ত হওয়া। (যদি তা অভ্যাসকারিণীর ক্ষেত্রে ঘটে, তবে তার পবিত্রতা ও হায়েয হবে তার অভ্যাস অনুযায়ী)। সুতরাং উভয় ক্ষেত্রেই তাকে তার অভ্যাসের দিকে ফিরিয়ে নেয়া হবে (সকল বিধানে, যদি তার অভ্যস্ত পবিত্রতা) ছয় মাসের কম হয়। (অন্যথায়) অর্থাৎ যদি তা ছয় মাস বা তার বেশি হয়, তবে তা এভাবে নির্ধারিত হবে না।
কারণ দুই রক্তস্রাবের মধ্যবর্তী পবিত্রতা সাধারণত গর্ভাবস্থার ন্যূনতম মেয়াদের চেয়ে কম। তাই ঋতুস্রাবের পবিত্রতা এবং গর্ভাবস্থার পবিত্রতার মধ্যে পার্থক্য নিশ্চিত করার জন্য একে এক ঘণ্টা কম ছয় মাস ধরা হবে। আর তার ঋতুস্রাব তার নিজ অবস্থাতেই থাকবে। এটি মুহাম্মদ ইবন ইবরাহিম আল-ময়দানীর অভিমত। 'আল-ইনায়াহ' ও অন্যান্য কিতাবে বলা হয়েছে যে, অধিকাংশ আলেম এর ওপরই রয়েছেন। 'তাতারখানিয়া' কিতাবে আছে যে, এর ওপরই নির্ভরযোগ্যতা। আর আবু ইসমা বিন মুআয আল-মারওয়াযীর মতে, সে তার অভ্যাসের (আদত) দিকেই ফিরে যাবে যদিও তা দীর্ঘ হয়। উদাহরণস্বরূপ, যদি তার পবিত্রতার অভ্যাস এক বছর এবং ঋতুস্রাবের অভ্যাস দশ দিন হয়, তবে তাকে এক বছর নামাজ ও রোজা পালনের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং দশ দিন তা ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হবে। আর তার ইদ্দত তিন বছর এক মাস দশ দিনে পূর্ণ হবে, যদি তার হিসাব অনুযায়ী ঋতুস্রাবের শুরুতে তালাক দেওয়া হয়ে থাকে। 'আল-কাফী' কিতাবে বলা হয়েছে, সাধারণ উলামায়ে কেরামের মতে তাকে বিশ দিনের দিকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে, যেমনটি প্রারম্ভিক অবস্থায় কোনো বালিগা মেয়ে ইস্তিহাযাগ্রস্ত হলে করা হয়। 'আল-খুলাসা' কিতাবে পূর্ণ এক মাসের কথা বলা হয়েছে। 'আল-মুহিত আস-সারখাসী' কিতাবে ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এর পরিমাণ দুই মাস। ইমাম হাকিম এটিই গ্রহণ করেছেন এবং এটিই অধিকতর সঠিক। 'আল-গায়াহ' কিতাবে বলা হয়েছে যে, ফতোয়া ইমাম হাকিমের মতের ওপর। তবে আমরা বর্ণনালব্ধ ও যুক্তিগত প্রমাণের সবলতার কারণে আল-ময়দানীর মতটিই গ্রহণ করেছি। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, তবে 'আল-বাহরুর রায়েক' কিতাবে 'আন-নিহায়াহ', 'আল-ইনায়াহ' ও 'আল-ফাতহ' এর উদ্ধৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাকিম আশ-শহীদ যা পছন্দ করেছেন তার ওপরই ফতোয়া; কারণ এটি মুফতি এবং নারীদের জন্য অধিকতর সহজ। সমাপ্ত। 'আদ-দুরর' কিতাবেও এটিই অনুসরণ করা হয়েছে, কারণ 'ফতোয়া' শব্দটি বিশুদ্ধকরণের শব্দগুলোর মধ্যে অধিকতর শক্তিশালী। (আর যদি এটি ঘটে) অর্থাৎ রক্ত প্রবাহের নিরবচ্ছিন্নতা (নতুন ঋতুবতীর ক্ষেত্রে), তবে তা দুই অবস্থা থেকে মুক্ত নয়: হয় সে ঋতুস্রাবের মাধ্যমে বালেগা হয়েছে অথবা গর্ভাবস্থার মাধ্যমে। দ্বিতীয় সুরতের বিধান সামনে আসবে। আর প্রথম সুরতটি চার প্রকারের: হয় বালিগা হওয়ার শুরু থেকেই রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, অথবা সহীহ রক্ত ও সহীহ পবিত্রতা দেখার পর, অথবা উভয়টি ফাসিদ (ত্রুটিপূর্ণ) হওয়ার পর, অথবা সহীহ রক্ত ও ফাসিদ পবিত্রতা দেখার পর। নতুন ঋতুবতীর ক্ষেত্রে এর বিপরীতটি (অর্থাৎ ফাসিদ রক্ত ও সহীহ পবিত্রতা) কল্পনা করা যায় না। প্রথম প্রকারটি হলো: (নিরবচ্ছিন্ন রক্ত প্রবাহের শুরু থেকে তার ঋতুস্রাব হবে দশ দিন এবং পবিত্রতা হবে বিশ দিন), যেমনটি মূল গ্রন্থসমূহ (মুতুন) ও অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে; 'ইমদাদুল ফাত্তাহ' কিতাবের বিপরীত, যেখানে তার পবিত্রতাকে পনেরো দিন বলা হয়েছে। কারণ এটি সাধারণ কিতাবসমূহের পরিপন্থী, সুতরাং এ বিষয়ে সতর্ক থাকুন। (অতঃপর এটাই তার নিয়মিত অভ্যাস হিসেবে গণ্য হবে। আর তার নিফাস হবে চল্লিশ দিন, এরপর বিশ দিন পবিত্রতা, যেহেতু নিফাস ও হায়েজ নিরবচ্ছিন্নভাবে আসে না)। বরং উভয়ের মাঝে একটি পূর্ণ পবিত্রতা থাকা আবশ্যক, যেমনটি ভূমিকা অংশে বর্ণিত হয়েছে। (অতঃপর দশ দিন তার হায়েজ এবং এটাই তার নিয়মিত অভ্যাস)। দ্বিতীয় প্রকার হলো: (যদি নতুন ঋতুবতী সহীহ রক্ত ও সহীহ পবিত্রতা দেখে আর এরপর রক্ত প্রবাহিত হতে থাকে, তবে সে অভ্যাসপ্রাপ্ত নারী হিসেবে গণ্য হবে এবং তার বিধান ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে)। (এর উদাহরণ হলো: এক কিশোরী পাঁচ দিন রক্ত এবং চল্লিশ দিন পবিত্রতা দেখল, এরপর তার রক্ত প্রবাহিত হতে থাকল)। এমতাবস্থায় সে অভ্যাসপ্রাপ্তা হয়ে গেল, তাই রক্ত প্রবাহের সময় সে তার অভ্যাসের দিকেই ফিরে যাবে। তখন (রক্ত প্রবাহের শুরু থেকে পাঁচ দিন হবে হায়েজ, যাতে সে নামাজ পড়বে না), (রোজা রাখবে না এবং তার সাথে সহবাস করা যাবে না; তদ্রূপ হায়েজের অন্যান্য বিধানও প্রযোজ্য হবে), যা ষষ্ঠ পরিচ্ছেদে আসবে। (অতঃপর চল্লিশ দিন তার পবিত্রতা, যাতে সে এই তিনটি কাজ সম্পাদন করবে) এবং পবিত্রতার অন্যান্য বিধানও পালন করবে। রক্ত বন্ধ হওয়া পর্যন্ত এভাবেই তার অভ্যাস চলতে থাকবে এবং এরপর সে তার অভ্যাসের বিপরীত কিছু দেখতে পারে। তৃতীয় প্রকার হলো: (যদি সে ফাসিদ রক্ত ও ফাসিদ পবিত্রতা দেখে, তবে নতুন ঋতুবতীর অভ্যাস নির্ধারণে এগুলোর কোনো গুরুত্ব নেই)। এই প্রকারটি আবার দুই ভাগে বিভক্ত; কারণ পবিত্রতা ফাসিদ হওয়ার কারণ কখনো পনেরো দিনের কম হওয়া হতে পারে, আবার কখনো রক্তের সাথে মিশ্রিত হওয়া হতে পারে। (যদি পবিত্রতা) (কম হওয়ার কারণে) ফাসিদ হয়, (তবে সে প্রারম্ভিক অবস্থা থেকেই নিরবচ্ছিন্ন রক্ত প্রবাহকারীর মতো গণ্য হবে)।
অর্থাৎ যার রক্তস্রাব তার সাবালকত্বের শুরু থেকেই অব্যাহতভাবে চলছে এবং প্রথম সুরতে আপনি তার বিধান জেনেছেন। গ্রন্থকার তার এই বাণীর মাধ্যমে তা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন: (অব্যাহত স্রাব শুরুর সময় থেকে দশ দিন, যদিও তা হুকমান বা পরোক্ষভাবে হয়) যেমন সেই পবিত্রতা যা রক্তের হুকুমে। (তার ঋতুস্রাব) এটি মুক্তাদার খবর, যা হলো তার বাণী 'দশ'। (এবং বিশ দিন হলো তার পবিত্রতা, এরপর এটাই তার নিয়ম হবে) যতক্ষণ রক্তস্রাব অব্যাহত থাকবে। (এর উদাহরণ হলো, এমন এক কিশোরী যে এগারো দিন রক্ত এবং চৌদ্দ দিন পবিত্রতা দেখল, এরপর রক্তস্রাব অব্যাহত থাকল)। এখানে প্রথম রক্তস্রাবটি ফাসিদ বা ত্রুটিপূর্ণ, কারণ তা দশ দিনের সীমা অতিক্রম করেছে; তেমনিভাবে পবিত্রতাও ফাসিদ, কারণ তা পনেরো দিনের চেয়ে কম। ফলে এগুলোর কোনটিই অভ্যাস নির্ধারণের জন্য উপযুক্ত নয় এবং এই পবিত্রতাকেও রক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। (সুতরাং হুকমান বা পরোক্ষভাবে অব্যাহত স্রাব শুরু হবে প্রথম দেখা রক্ত থেকে) অর্থাৎ এগারো দিনের শুরু থেকে। (কারণ আপনি জেনেছেন) প্রথম পরিচ্ছেদের সামান্য আগেই (যে, অসম্পূর্ণ পবিত্রতা হলো ধারাবাহিক রক্তের মতো) যা দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদ ঘটায় না। আর যখন বিষয়টি এমন, তখন হুকমি ইস্তিমরার বা পরোক্ষ ধারাবাহিকতা প্রথম রক্তের শুরু থেকে গণ্য হবে, যা ছিল এগারো দিন। অতএব তার শুরু থেকে দশ দিন ঋতুস্রাব এবং পরবর্তী বিশ দিন পবিত্রতা। সুতরাং প্রকৃত ধারাবাহিক রক্তস্রাবের শুরুর পাঁচ দিন তার পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত হবে, তাই সে এই দিনগুলোতেও সালাত আদায় করবে। এরপর সে দশ দিন বিরত থাকবে, তারপর বিশ দিন সালাত আদায় করবে। (এটাই তার নিয়মিত নিয়ম হবে) যেমনটি তাতারখানিয়া ও অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। এরপর তিনি তৃতীয় প্রকারের দুই বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় বিভাগটি বর্ণনা করেছেন তার এই বাণীর মাধ্যমে: (আর যদি পবিত্রতা পূর্ণাঙ্গ হয়) যা রক্তের সংমিশ্রণের কারণে ফাসিদ হয়ে গেছে, যেমনটি আপনি সামনে জানতে পারবেন। একে বাহ্যিকভাবে সহিহ বা সঠিক বলা হলেও অর্থগতভাবে ফাসিদ বলা হয়। এমতাবস্থায় ঐ পবিত্রতা এবং তার পূর্বের ফাসিদ রক্ত—উভয়ের সমষ্টি ত্রিশ দিনের বেশি হবে অথবা হবে না। (যদি ত্রিশের বেশি না হয়, তবে তা পূর্বের অবস্থার মতোই হবে) অর্থাৎ এর বিধান প্রথম বিভাগের বিধানের মতোই। এর বাস্তব চিত্র হলো (সে এগারো দিন রক্ত এবং পনেরো দিন পবিত্রতা দেখল, এরপর রক্তস্রাব অব্যাহত থাকল)। এখানে প্রথম রক্তস্রাবটি তার আধিক্যের কারণে ফাসিদ, আর পবিত্রতাটি বাহ্যিকভাবে সহিহ যেহেতু তা পূর্ণাঙ্গ, কিন্তু অর্থগতভাবে তা ফাসিদ বা ত্রুটিপূর্ণ যা সামনে আসবে। এমতাবস্থায় অভ্যাস নির্ধারণে এই দুটির কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। বরং (প্রথম দেখার শুরু থেকে দশ দিন হবে ঋতুস্রাব এবং বিশ দিন পবিত্রতা)। ফলে প্রকৃত অব্যাহত স্রাবের শুরুর চার দিন তার অবশিষ্ট পবিত্রতা হিসেবে গণ্য হবে এবং সে তাতে সালাত পড়বে। এরপর দশ দিন বিরত থাকবে এবং তারপর বিশ দিন সালাত পড়বে। (এরপর এটাই তার নিয়ম হবে)। এটি মুহাম্মদ ইবনে ইবরাহিম আল-মাইদানির অভিমত। মুহিতে সারাখসিতে বলা হয়েছে, এটিই সঠিক। আদ-দাক্কাক বলেন, তার ঋতুস্রাব দশ দিন এবং পবিত্রতা ষোল দিন। আমি বলছি, সম্ভবত আদ-দাক্কাক পবিত্রতার বাহ্যিক রূপটি বিবেচনা করেছেন যেহেতু তা পূর্ণাঙ্গ ছিল, তাই তিনি একে দুই রক্তের মাঝে বিচ্ছেদকারী হিসেবে গণ্য করেছেন এবং এর অর্থগত ফাসিদ হওয়ার দিকে লক্ষ করেননি, ফলে তিনি তাকে অভ্যাসসম্পন্না হিসেবে গণ্য করেছেন। (আর যদি তা বৃদ্ধি পায়) অর্থাৎ রক্ত ও পবিত্রতা ত্রিশের বেশি হয়ে যায়, (যেমন সে যদি এগারো দিন রক্ত এবং বিশ দিন পবিত্রতা দেখে, এরপর রক্ত অব্যাহত থাকে, তবে প্রথম দেখার শুরু থেকে দশ দিন ঋতুস্রাব, এরপর) অবশিষ্ট দিনগুলো (পবিত্রতা) অর্থাৎ এগারোতম দিন থেকে শুরু করে (অব্যাহত স্রাব শুরুর পূর্ব পর্যন্ত। এরপর অব্যাহত স্রাব শুরুর সময় থেকে নতুনভাবে দশ দিন ঋতুস্রাব এবং বিশ দিন পবিত্রতা ধরবে। এরপর এটাই তার নিয়ম হবে) যতক্ষণ রক্ত অব্যাহত থাকবে। এই দুই সুরতে উক্ত পবিত্রতাকে তার অভ্যাস হিসেবে গণ্য করা হয়নি যার দিকে সে অব্যাহত রক্তস্রাবের সময় ফিরে যাবে, (কারণ উল্লিখিত পবিত্রতা যদিও) পূর্ণাঙ্গ হওয়ার কারণে (বাহ্যিকভাবে সহিহ, কিন্তু তার শুরুটি হয়েছে রক্ত দিয়ে) আর তা হলো দশ দিনের অতিরিক্ত দিনটি, যেহেতু (সে সেই রক্তসহ সালাত পড়েছে) ফলে তা...