(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: -)
شرح المنظومة المسماة بعقود رسم المفتي - ط إسطنبول القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية
الكتاب: شرح المنظومة المسماة بعقود رسم المفتي
(مطبوع ضمن مجموع رسائل ابن عابدين)
المؤلف: محمد أمين افندى الشهير بابن عابدين [ت 1252 هـ]
الناشر: در سعادت، إسطنبول، 1325 هـ - 1907 م
وصوّر «مجموع الرسائل»: عالم الكتب، وعدة دور نشر أخرى
عدد الصفحات: 44
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445
শারহু মানজুমাতিল মুসাম্মা বি-উকূদি রাসমিল মুফতি - ইস্তাম্বুল সংস্করণ বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র ও ফিকহি মূলনীতিসমূহ
কিতাব: শারহু মানজুমাতিল মুসাম্মা বি-উকূদি রাসমিল মুফতি
(মাজমুউ রাসাইল ইবনে আবিদীনের অন্তর্ভুক্ত হয়ে মুদ্রিত)
লেখক: মুহাম্মদ আমিন এফেন্দি, যিনি ইবনে আবিদীন নামে সুপরিচিত [মৃত্যু ১২৫২ হিজরি]
প্রকাশক: দারে সা'আদাত، ইস্তাম্বুল، ১৩২৫ হিজরি - ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দ
এবং «মাজমুউ রাসাইল» পুনর্মুদ্রণ করেছে: আলমুল কুতুব، এবং আরও বেশ কিছু প্রকাশনা সংস্থা
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৪
[কিতাবের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ জিলকদ ১৪৪৫
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৯)
شرح المنظومة المسماة بعقود رسم المفتي
لناظمها العلامة الفقيه والفهامة النبيه خاتمة المحققين
السيد محمد امين الشهير بابن عابدين
نفعنا الله به
آمين
'উকুদু রাসমিল মুফতি' নামক কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যা
এর রচয়িতা আল্লামাহ, ফকিহ (فقيه), প্রখর ধীসম্পন্ন এবং গবেষকগণের (محققين) শেষ আশ্রয়স্থল
আস-সাইয়্যিদ মুহাম্মদ আমিন, যিনি ইবনে আবিদিন নামেই সুপরিচিত
আল্লাহ তাআলা তাঁর উসিলায় আমাদের উপকৃত করুন
আমিন
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১০)
الرسالة الثانية
بسم الله الرحمن الرحيم
الحمد لله الذي من علينا في البداية بالهداية* وانقذنا من الضلالة بمحض الفيض والعناية* والصلاة والسلام على سيدنا محمد الذي هو الوقاية من الغواية* وعلى آله وأصحابه ذوى الرواية والدراية* صلاة وسلاما لا غاية لهما ولا نهاية (اما بعد) فيقول افقر الورى* المستمسك من رحمة مولاه باوثق العرى* محمد امين بن عمر عابدين الماتريدى الحنفى* عامله مولاه بلطفه الخفى * هذا شرح لطيف وضعته على منظومتي التي نظمتها في رسم المفتى* اوضح به مقاصدها* واقيد به اوابدها وشواردها* اسأله سبحانه أن يجعله خالصا لوجهه الكريم* موجبا للفوز العظيم * فأقول وبه استعين في كل حين
باسم الآله شارع الأحكام
… مع حمده ابدأ في نظامى
ثم الصلاة والسلام سرمدا
… على نبي قد اتانا بالهدى
وآله وصحبه الكرام
… على ممر الدهر والاعوام
(وبعد) فالعبد الفقير المذنب
… محمد بن عابدين يطلب
توفيق ربه الكريم الواحد
… والفوز بالقبول في المقاصد
وفي نظام جوهر نضيد
… وعقد در باهر فريد
سميته عقود رسم المفتى
… يحتاجه العامل أو من يفتى
وها أنا اشرع في المقصود
… مستمنحا من فيض بحر الجود
اعلم بان الواجب اتباع ما
… ترجيحه عن أهله قد علما
أو كان ظاهر الرواية ولم
… يرجحوا خلاف ذاك فاعلم
أي أن الواجب على من أراد أن يعمل لنفسه أو يفتى غيره أن يتبع القول الذى رجحه علماء مذهبه فلا يجوز له العمل أو الافتاء بالمرجوح إلا في بعض المواضع كما سيأتى في النظم (وقد) نقلوا الإجماع على ذلك ففي الفتاوى الكبرى للمحقق ابن حجر المكي قال في زوائد الروضة أنه لا يجوز للمفتى والعامل أن يفتى أو يعمل بما شاء من القولين أو الوجهين من غير نظر وهذا لا خلاف فيه وسبقه إلى حكاية الإجماع فيهما ابن الصلاح والباجي من المالكية في المفتى وكلام القرافى دال على أن المجتهد والمقلد لا يحل لهما الحكم والافتاء بغير الراجح لانه اتباع للهوى وهو حرام اجماعا وان محله في المجتهد ما لم تتعارض الادلة عنده
দ্বিতীয় রিসালা
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি শুরুতে হেদায়েত দান করে আমাদের ওপর অনুগ্রহ করেছেন এবং নিছক করুণা ও কৃপার মাধ্যমে আমাদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করেছেন। এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর ওপর, যিনি পথভ্রষ্টতা থেকে সুরক্ষাস্বরূপ; এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সেই সকল সঙ্গীদের ওপর যারা বর্ণনা (رواية) ও অনুধাবন (دراية) বিদ্যায় পারদর্শী। এমন সালাত ও সালাম যার কোনো সীমা নেই এবং কোনো সমাপ্তি নেই। (অতঃপর) সৃষ্টির সবচেয়ে অভাবী ব্যক্তি, তার রবের রহমতের সুদৃঢ় রজ্জুকে ধারণকারী, মুহাম্মদ আমিন ইবনে ওমর ইবনে আবিদিন আল-মাতুরিদি আল-হানাফি—তার রব যেন তার সাথে গোপন দয়া প্রদর্শন করেন—বলছেন: এটি একটি সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা (শরাহ), যা আমি আমার 'রাসমুল মুফতি' বিষয়ক কবিতার ওপর লিখেছি। এর মাধ্যমে আমি এর উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করেছি এবং এর জটিল ও দুর্লভ বিষয়গুলোকে সুসংবদ্ধ করেছি। আমি মহামহিম আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং মহান সাফল্যের কারণ বানিয়ে দেন। আমি বলছি, এবং সকল সময় তাঁরই নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি:
বিধান দাতা আল্লাহর নামে এবং তাঁর প্রশংসার সাথে আমি আমার পদ্য শুরু করছি।
… অতঃপর চিরস্থায়ী সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক
… সেই নবীর ওপর, যিনি আমাদের কাছে হেদায়েত নিয়ে এসেছেন।
এবং তাঁর পরিবার ও সম্মানিত সঙ্গীদের ওপর
… যুগ-যুগান্তরের প্রবাহে।
(অতঃপর) গুনাহগার এবং অভাবী বান্দা
… মুহাম্মদ ইবনে আবিদিন প্রার্থনা করছেন—
তার সুমহান এক রবের তাওফিক
… এবং উদ্দেশ্যসমূহে কবুলের মাধ্যমে সাফল্য লাভ।
সুশৃঙ্খল মণি-মুক্তার ন্যায় এক পদ্যে
… এবং অনন্য উজ্জ্বল মুক্তার মালায়,
আমি এর নাম দিয়েছি উকুদে রাসমুল মুফতি
… আমলকারী অথবা যিনি ফতোয়া দেন তাঁর এটি প্রয়োজন হয়।
এখন আমি মূল উদ্দেশ্যে প্রবেশ করছি
… দানশীলতার সমুদ্রের অনুগ্রহ প্রার্থনা করে।
জেনে রেখো যে, যার প্রাধান্যদান (ترجيح) এর যোগ্য ব্যক্তিদের থেকে জানা গেছে, তা অনুসরণ করা ওয়াজিব।
… অথবা যা জাহিরুর রিওয়াহ (ظاهر الرواية) এর অন্তর্ভুক্ত এবং তারা
… এর বিপরীত মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দেননি—তা জেনে রেখো।
অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নিজের জন্য আমল করতে চায় অথবা অন্যকে ফতোয়া দিতে চায়, তার জন্য ওয়াজিব হলো সেই মতটি অনুসরণ করা যাকে তার মাযহাবের ওলামায়ে কেরাম প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছেন। সুতরাং তার জন্য অপ্রাধান্যপ্রাপ্ত (مرجوح) মত অনুযায়ী আমল করা বা ফতোয়া দেওয়া জায়েজ নয়, কেবল কিছু বিশেষ ক্ষেত্র ব্যতীত যা সামনে পদ্যে আসবে। তারা এ বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন। মুহাক্কিক ইবনে হাজার আল-মাক্কি তার ফাতাওয়া আল-কুবরা গ্রন্থে বলেছেন, জাওয়াইদুল রওজা-তে উল্লেখ আছে যে, মুফতি এবং আমলকারীর জন্য বিচার-বিশ্লেষণ ছাড়া দুটি মত বা পথের মধ্যে যা ইচ্ছা তা দিয়ে ফতোয়া দেওয়া বা আমল করা জায়েজ নয়। এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই। ইবনে সালাহ এবং মালেকি মাযহাবের আল-বাজি মুফতির ক্ষেত্রে তাদের উভয়ের ব্যাপারে ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনায় অগ্রগামী ছিলেন। আল-কারাফির বক্তব্য নির্দেশ করে যে, মুজতাহিদ (مجتهد) এবং মুকাল্লিদ (مقلد) কারও জন্যই রাজেহ (রাজেহ/প্রাধান্যপ্রাপ্ত) মত ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা ফয়সালা করা বা ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়; কারণ এটি প্রবৃত্তির অনুসরণ, যা সর্বসম্মতভাবে (إجماع) হারাম। আর মুজতাহিদ (مجتهد)-এর ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ তার কাছে দলিলসমূহ পরস্পরবিরোধী না হয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১১)
ويعجز عن الترجيح وإن لمقلده ح الحكم باحد القولين اجماع انتهى (وقال) الإمام المحقق العلامة قاسم بن قطلوبغا في أول كتابه تصحيح القدورى انى رأيت من عمل في مذهب أئمتنا رضى الله تعالى عنهم بالتشهى حتى سمعت من لفظ بعض القضاة هل ثم حجر فقلت نعم اتباع الهوى حرام والمرجوح في مقابلة الراجح بمنزلة العدم والترجيح بغير مرجح في المتقابلات ممنوع وقال في كتاب الاصول لليعمرى من لم يطلع على المشهور من الروايتين أو القولين فليس له التشهي والحكم بما شاء منهما من غير نظر في الترجيح (وقال) الإمام أبو عمرو في آداب المفتى اعلم أن من يكتفى بان يكون فتواه أو عمله موافقا لقول أو وجه في المسئلة ويعمل بما شاء من الأقوال والوجوه من غير نظر في الترجيح فقد جهل وخرق الإجماع (وحكى) الباجى أنه وقعت له واقعة فافتوا فيها بما يضره فلما سألهم قالوا ما علمنا انها لك وافتوه بالرواية الأخرى التى توافق قصده قال الباجي وهذا لا خلاف بين المسلمين ممن يعتمد به في الاجماع أنه لا يجوز قال في أصول الاقضية ولا فرق بين المفتى والحاكم إلا أن المفتى مخبر بالحكم والقاضي ملزم به انتهى ثم نقل بعده واما الحكم والفتيا مما هو مرجوح فخلاف الإجماع وسيأتى ما إذا لم يوجد ترجيح لاحد القولين وقولى عن أهله أي أهل الترجيح إشارة إلى أنه لا يكتفى بترجيح أي عالم كان (فقد) قال العلامة شمس الدين محمد بن سليمان الشهير بابن كمال باشا في بعض رسائله لابد للمفتى المقلد أن يعلم حال من يفتى بقوله ولا نعنى بذلك معرفته باسمه ونسبه ونسبته إلى بلد من البلاد اذ لا يسمن ذلك ولا يغنى بل معرفته في الرواية ودرجته في الدراية وطبقته من طبقات الفقهاء ليكون على بصيرة وافية في التمييز بين القائلين المتخالفين وقدرة كافية في الترجيح بين القولين المتعارضين فنقول ان الفقهاء على سبع طبقات (الأولى) طبقة المجتهدين في الشرع كالأئمة الأربعة ومن سلك مسلكهم في تأسيس قواعد الاصول واستنباط احكام الفروع عن الادلة الأربعة من غير تقليد لاحد لا في الفروع ولا في الاصول (الثانية) طبقة المجتهدين في المذهب كابي يوسف ومحمد وسائر أصحاب أبي حنيفة القادرين على استخراج الأحكام عن الادلة المذكورة على حسب القواعد التي قررها استاذهم فانهم وإن خالفوه في بعض احكام الفروع لكنهم يقلدونه في قواعد الاصول (الثالثة)
এবং তিনি অগ্রাধিকার (ترجيح) দিতে অক্ষম হন; আর তাঁর অনুসারীর (مقلد) জন্য দুই মতের যে কোনো একটির ভিত্তিতে ফয়সালা করা ঐকমত্যের (إجماع) ভিত্তিতে জায়েয—সমাপ্ত। (এবং) ইমাম, মুহাক্কিক, আল্লামা কাসিম ইবন কুতলুবুগা তাঁর 'তাসহিহ আল-কুদুরি' কিতাবের শুরুতে বলেছেন: আমি আমাদের ইমামদের (আল্লাহ তাআলা তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মাযহাবে এমন কিছু লোককে দেখেছি যারা খেয়াল-খুশিমতো (التشهي) আমল করে। এমনকি আমি কোনো কোনো বিচারকের মুখে বলতে শুনেছি, "এখানে কি কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে?" আমি বললাম, "হ্যাঁ, প্রবৃত্তির অনুসরণ হারাম। আর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (راجح) মতের বিপরীতে অনুত্তম বা বর্জনীয় (مرجوح) মতটি অস্তিত্বহীন হওয়ার পর্যায়ভুক্ত। আর সমপর্যায়ের মতগুলোর মধ্যে কোনো জোরালো কারণ (مرجح) ছাড়া একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়া (ترجيح) নিষিদ্ধ।" তিনি আল-ইয়া'মুরি-র 'উসুল' কিতাবে বলেছেন: যে ব্যক্তি দুটি বর্ণনা (رواية) বা দুটি মতের মধ্যে প্রসিদ্ধ (مشهور) মতটি সম্পর্কে অবগত নয়, তার জন্য অগ্রাধিকারের (ترجيح) বিষয়টি বিবেচনা না করে নিজের খেয়াল-খুশিমতো (التشهي) ফয়সালা করার সুযোগ নেই। (এবং) ইমাম আবু আমর 'আদাবুল মুফতি' গ্রন্থে বলেছেন: জেনে রেখো, যে ব্যক্তি তার ফতোয়া বা আমল কোনো একটি মাসআলায় কেবল কোনো একটি মত (قول) বা দিকনির্দেশনার (وجه) অনুকূলে হওয়াই যথেষ্ট মনে করে এবং অগ্রাধিকার (ترجيح) যাচাই না করে যে কোনো মত বা দিকনির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে, সে অজ্ঞতার পরিচয় দিল এবং ঐকমত্যকে (إجماع) লঙ্ঘন করল। (এবং) আল-বাজি বর্ণনা করেছেন যে, তাঁর সাথে একটি ঘটনা ঘটল, যাতে তারা (মুফতিরা) তাঁর ক্ষতির অনুকূলে ফতোয়া দিলেন। যখন তিনি তাঁদের জিজ্ঞাসা করলেন, তাঁরা বললেন, "আমরা জানতাম না যে এটি আপনার মাসআলা।" এরপর তাঁরা তাঁর উদ্দেশ্য অনুযায়ী অন্য একটি বর্ণনার (رواية) ভিত্তিতে ফতোয়া দিলেন। বাজি বলেন, মুসলমানদের মধ্যে যাঁদের ঐকমত্য (إجماع) গ্রহণযোগ্য, তাঁদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, এটি জায়েয নয়। 'উসুলুল আকদিয়াহ' গ্রন্থে বলা হয়েছে, মুফতি এবং বিচারকের (হাকিম) মধ্যে পার্থক্য শুধু এতটুকুই যে, মুফতি বিধানের সংবাদ দাতা এবং বিচারক তা বাস্তবায়নে বাধ্যকারী—সমাপ্ত। এরপর তিনি উদ্ধৃত করেন: অনুত্তম বা বর্জনীয় (مرجوح) মতের ভিত্তিতে বিচার বা ফতোয়া দেওয়া ঐকমত্যের (إجماع) পরিপন্থী। আর দুই মতের কোনোটিরই যখন অগ্রাধিকার (ترجيح) পাওয়া যাবে না, তখন কী করণীয় তা সামনে আসবে। আর আমার উক্তি 'পারদর্শী যোগ্য ব্যক্তিদের (أهله) থেকে' অর্থাৎ অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের যোগ্য ব্যক্তিদের থেকে—এটি এই ইঙ্গিত বহন করে যে, যে কোনো আলিমের প্রাধান্য দান (ترجيح) যথেষ্ট হবে না। (কেননা) আল্লামা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইবন সুলাইমান, যিনি ইবন কামাল পাশা নামে প্রসিদ্ধ, তিনি তাঁর একটি রিসালায় বলেছেন: একজন অনুসারী (مقلদ) মুফতির জন্য আবশ্যক হলো তিনি যার কথা অনুযায়ী ফতোয়া দিচ্ছেন তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হওয়া। এর দ্বারা আমাদের উদ্দেশ্য তাঁর নাম, বংশ পরিচয় বা তিনি কোন শহরের তা জানা নয়; কারণ তা কোনো উপকার বা কাজে আসে না। বরং বর্ণনার (رواية) ক্ষেত্রে তাঁর নির্ভরযোগ্যতা, জ্ঞানের (دراية) ক্ষেত্রে তাঁর মর্তবা এবং ফকিহদের স্তরগুলোর (طبقات) মধ্যে তাঁর স্তরটি জানা আবশ্যক, যাতে পরস্পর বিরোধী মতদানকারীদের মধ্যে পার্থক্যের ক্ষেত্রে পূর্ণ অন্তর্দৃষ্টি থাকে এবং পরস্পর বিরোধী দুটি মতের মধ্যে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদানের যথেষ্ট সক্ষমতা থাকে। আমরা বলি যে, ফকিহগণ সাতটি স্তরে (طبقات) বিভক্ত। (প্রথম) স্তরটি হলো শরিয়তের স্বতন্ত্র মুজতাহিদগণের (المجتهدين في الشرع) স্তর, যেমন চার ইমাম এবং যারা তাঁদের পথে চলেছেন। তাঁরা উসুলের (নীতিমালার) মূল ভিত্তি স্থাপন এবং চারটি দলিল থেকে আহকামের শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবনের (استنباط) ক্ষেত্রে উসুল বা ফুরু—কোনো বিষয়েই কারো অনুসরণ (تقليد) করেন না। (দ্বিতীয়) স্তরটি হলো মাযহাবের ভেতরে মুজতাহিদগণের (المجتهدين في المذهب) স্তর, যেমন আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং ইমাম আবু হানিফার অন্যান্য ছাত্রবৃন্দ। তাঁরা তাঁদের উস্তাদের নির্ধারিত মূলনীতি (قواعد) অনুযায়ী পূর্বোক্ত দলিলসমূহ থেকে বিধান উদ্ঘাটন করতে সক্ষম। যদিও তাঁরা ফুরু বা মাসআলার ক্ষেত্রে তাঁর (ইমামের) বিরোধিতা করেন, কিন্তু উসুলের মূলনীতিসমূহে (قواعد) তাঁরা তাঁরই অনুসরণ (تقليد) করেন। (তৃতীয়)
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১২)
طبقة المجتهدين في المسائل التي لا رواية فيها عن صاحب المذهب
(1) كالخصاف وأبي جعفر الطحاوى وابى الحسن الكرخي وشمس الأئمة الحلوانى وشمس الأئمة السرخسي وفخر الإسلام البزدوى وفخر الدين قاضي خان وغيرهم فإنهم لا يقدرون على مخالفة الإمام لا في الاصول ولا في الفروع لكنهم يستنبطون الأحكام من المسائل التي لا نص فيها عنه على حسب أصول قررها ومقتضى قواعد بسطها (الرابعة) طبقة أصحاب التخريج من المقلدين كالرازي
(2) واضرابه فإنهم لا يقدرون على الاجتهاد أصلا لكنهم لأحاطتهم بالأصول وضبطهم للمأخذ يقدرون على تفصيل قول مجمل ذى وجهين وحكم محتمل لامرين منقول عن صاحب المذهب أو عن أحد من أصحابه المجتهدين برأيهم ونظرهم في الاصول والمقايسة على امثاله ونظائره من الفروع وما وقع في بعض المواضع من الهداية من قوله كذا في تخريج الكرخي وتخريج الرازي من هذا القبيل (الخامسة) طبقة أصحاب التخريج من المقلدين كابي الحسن القدورى وصاحب الهداية وامثالهما وشأنهم تفضيل بعض الروايات على بعض آخر بقولهم هذا أولى وهذا أصح رواية وهذا أوضح وهذا اوفق للقياس وهذا ارفق للناس (السادسة) طبقة المقلدين القادرين على التمييز بين الاقوى والقوى والضعيف وظاهر الرواية وظاهر المذهب والرواية النادرة كاصحاب المتون المعتبرة كصاحب الكنز وصاحب المختار وصاحب الوقاية وصاحب المجمع وشأنهم أن لا ينقلوا في كتبهم الأقوال المردودة والروايات الضعيفة (السابعة) طبقة المقلدين الذين لا يقدرون على ما ذكر ولا يفرقون بين الغث والسمين ولا يميزون الشمال من اليمين بل يجمعون ما يجدون كحاطب ليل فالويل لمن قلدهم كل الويل انتهى مع حذف
--------------------------------------------
সেই সকল মাসায়েলের ক্ষেত্রে মুজতাহিদগণের স্তর, যে বিষয়ে মাযহাবের ইমাম থেকে কোনো বর্ণনা (رواية) নেই
(১); যেমন: খাসসাফ, আবু জাফর আত-তহাবী, আবুল হাসান আল-কারখী, শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানী, শামসুল আইম্মাহ আস-সারখাসী, ফখরুল ইসলাম আল-বজদবী, ফখরউদ্দীন কাজী খান এবং অন্যান্য। তাঁরা উসুল বা ফুরু—কোনো বিষয়েই ইমামের বিরোধিতা করতে সক্ষম নন, তবে তাঁরা ইমাম কর্তৃক নির্ধারিত উসুল ও বিস্তৃত নিয়মাবলির আলোকে এমন সব মাসায়েলের বিধান উদ্ঘাটন (استنباط) করেন যে বিষয়ে ইমামের কোনো সুস্পষ্ট পাঠ (نص) নেই। (চতুর্থ) মুকাল্লিদগণের মধ্য থেকে আসহাবুত তাখরীজ (তখরীজকারী) স্তর, যেমন: আল-রাযী
(২) এবং তাঁর সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। তাঁরা মৌলিকভাবে ইজতিহাদ (اجتهاد) করতে একেবারেই সক্ষম নন। তবে উসুলের উপর তাঁদের পূর্ণ জ্ঞান এবং দলীল গ্রহণের উৎসসমূহ আয়ত্ত করার কারণে তাঁরা মাযহাবের ইমাম বা তাঁর মুজতাহিদ সাথীদের থেকে বর্ণিত কোনো দ্ব্যর্থবোধক সংক্ষিপ্ত কথা বা দুটি অর্থ হওয়ার সম্ভাবনাময় বিধানের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে সক্ষম; এটি তাঁরা করেন উসুল সম্পর্কে তাঁদের চিন্তা-গবেষণা এবং ফুরু-এর অনুরূপ মাসায়েলসমূহের সাথে তুলনা বা কিয়াসের মাধ্যমে। হেদায়া-এর কোনো কোনো স্থানে 'কারখীর তখরীজ অনুযায়ী এমন' বা 'রাযীর তখরীজ অনুযায়ী এমন' যে কথা পাওয়া যায়, তা এই স্তরেরই অন্তর্ভুক্ত। (পঞ্চম) মুকাল্লিদগণের মধ্য থেকে আসহাবুত তারজীহ (অগ্রাধিকার প্রদানকারী) স্তর, যেমন: আবুল হাসান আল-কুদূরী, হেদায়া-এর লেখক এবং তাঁদের সমপর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ। তাঁদের কাজ হলো এক বর্ণনাকে অন্য বর্ণনার উপর অগ্রাধিকার প্রদান করা। তাঁরা বলেন—'এটি উত্তম', 'এটি অধিক সহিহ (أصح) বর্ণনা', 'এটি অধিক স্পষ্ট', 'এটি কিয়াসের অধিক অনুকূল' এবং 'এটি মানুষের জন্য অধিক সহজ'। (ষষ্ঠ) ঐ সকল মুকাল্লিদগণের স্তর যারা অধিক শক্তিশালী, শক্তিশালী এবং দুর্বল (ضعيف) এর মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম। তেমনি জহিরুর রিওয়ায়াহ (ظاهر الرواية), জহিরুল মাযহাব (ظاهر المذهب) এবং বিরল (نادرة) বর্ণনার মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন। যেমন নির্ভরযোগ্য মূলগ্রন্থসমূহের লেখকগণ; যেমন—কানয-এর লেখক, মুখতার-এর লেখক, উইকায়াহ-এর লেখক এবং মাজমা-এর লেখক। তাঁদের বৈশিষ্ট্য হলো তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে প্রত্যাখ্যাত (مردودة) কওল বা দুর্বল (ضعيفة) বর্ণনা উল্লেখ করেন না। (সপ্তম) ঐ সকল মুকাল্লিদগণের স্তর যারা উল্লিখিত কোনো বিষয়েরই সক্ষমতা রাখেন না এবং অপদার্থ ও সলিড বিষয়ের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন না; এমনকি ডান ও বামের পার্থক্যও বোঝেন না। বরং তাঁরা যা পান তা-ই সংগ্রহ করেন—যেমন অন্ধকার রাতে কাঠ সংগ্রহকারী। ফলে ধ্বংস তাঁদের জন্য যারা অন্ধভাবে তাঁদের অনুসরণ করে। সমাপ্ত (সামান্য অংশ বর্জনসহ)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৩)
شيء يسير وستأتي بقية الكلام في ذلك وفي آخر الفتاوى الخيرية ولا شك أن معرفة راجح المختلف فيه من مرجوحه ومراتبه قوة وضعفا هو نهاية آمال المشمرين في تحصيل العلم فالمفروض على المفتى والقاضى التثبت في الجواب وعدم المجازفة فيهما خوفا من الافتراء على الله تعالى بتحريم حلال وضده ويحرم اتباع الهوى والتشهى والميل إلى المال الذى هو الداهية الكبرى والمصيبة العظمى فإن ذلك أمر عظيم لا يتجاسر عليه الأكل جاهل شقى انتهى (قلت) فحيث علمت وجوب اتباع الراجح من الأقوال وحال المرجح له تعلم أنه لائقة بما يفتى به أكثر أهل زماننا بمجرد مراجعة كتاب من الكتب المتأخرة خصوصا غير المحررة كشرح النقاية للقهستانى والدر المختار والاشباه والنظائر ونحوها فإنها لشدة الاختصار والايجاز كادت تلحق بالالغاز مع ما اشتملت عليه من السقط في النقل في مواضع كثيرة وترجيح ما هو خلاف الراجح بل ترجيح ما هو مذهب الغير مما لم يقل به أحد من أهل المذهب ورأيت في اوائل شرح الأشباه للعلامة محمد هبة الله قال ومن الكتب الغريبة منلا مسكين شرح الكنز والقهستاني لعدم الاطلاع على حال مؤلفيهما أو لنقل الأقوال الضعيفة كصاحب القنية أو الاختصار كالدر المختار للحصكفى والنهر والعينى شرح الكنز قال شيخنا صالح الجينينى أنه لا يجوز الافتاء من هذه الكتب إلا إذا علم المنقول عنه والاطلاع على مآخذها هكذا سمعته منه وهو علامة في الفقه مشهور والعهدة عليه انتهى (قلت) وقد يتفق نقل قول في نحو عشرين كتابا من كتب المتأخرين ويكون القول خطأ اخطأ به أول واضع له فيأتي من بعده وينقله عنه وهكذا ينقل بعضهم عن بعض كما وقع ذلك في بعض مسائل ما يصح تعليقه وما لا يصح كما نبه على ذلك العلامة ابن نجيم في البحر الرائق (ومن) ذلك مسئلة الاستئجار على تلاوة القرآن المجردة فقد وقع لصاحب السراج الوهاج والجوهرة شرح القدورى أنه قال ان المفتى به صحة الاستئجار وقد انقلب عليه الامر فإن المفتى به صحة الاستئجار على تعليم القرآن لا على تلاوته ثم أن أكثر المصنفين الذين جاؤا بعده تابعوه على ذلك ونقلوه وهو خطأ صريح بل كثير منهم قالوا أن الفتوى على صحة الاستئجار على الطاعات ويطلقون العبارة ويقولون أنه مذهب المتأخرين وبعضهم يفرع على ذلك صحة الاستئجار على الحج وهذا كله خطأ اصرح من الخطأ الأول فقد اتفقت النقول عن ائمتنا الثلاثة أبي حنيفة وأبي يوسف ومحمد أن الاستئجار على الطاعات باطل لكن جاء من بعدهم من المجتهدين الذين هم أهل التخريج والترجيح فافتوا بصحته على تعليم القرآن للضرورة فإنه كان للمعلمين عطايا من بيت المال وانقطعت فلو لم يصح الاستئجار
সামান্য কিছু কথা, আর এ বিষয়ে বাকি আলোচনা সামনে এবং ফাতাওয়া খাইরিয়া-এর শেষে আসবে। সন্দেহ নেই যে, মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) এবং অপ্রধান (مرجوح) মতের জ্ঞান লাভ করা এবং শক্তি (قوة) ও দুর্বলতা (ضعف) বিবেচনায় সেগুলোর স্তর বিন্যাস জানাই হচ্ছে জ্ঞান অন্বেষণকারীদের চরম লক্ষ্য। সুতরাং মুফতি এবং বিচারকের (কাজী) ওপর কর্তব্য হলো উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে নিশ্চিত হওয়া এবং কোনো ঝুঁকি না নেওয়া; পাছে হালালকে হারাম কিংবা তার বিপরীত করার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার ওপর মিথ্যারোপের গুনাহ হয়ে যায়। প্রবৃত্তি ও খেয়াল-খুশির অনুসরণ করা এবং সম্পদের প্রতি আসক্ত হওয়া হারাম, যা সবচেয়ে বড় বিপদ ও মহা মুসিবত। এটি এমন এক গুরুতর বিষয় যে, হতভাগা মূর্খ ছাড়া কেউ এতে দুঃসাহস দেখায় না। (সমাপ্ত)
(আমি বলছি) যখন আপনি মতগুলোর মধ্যে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) মতের অনুসরণ এবং প্রাধান্যদানকারীর অবস্থা সম্পর্কে অবগত হলেন, তখন আপনি বুঝতে পারবেন যে, বর্তমান জামানার অধিকাংশ আলিমের জন্য কেবল পরবর্তীকালের কোনো কিতাব দেখে ফাতওয়া দেওয়া শোভনীয় নয়। বিশেষ করে সেই কিতাবগুলো যা সুবিন্যস্ত নয়, যেমন কুহিস্তানি-কৃত শারহুন নুকায়া, আদ-দুররুল মুখতার, আল-আশবাহ ওয়ান নাযায়ির এবং এই জাতীয় কিতাবসমূহ। কারণ এগুলো অতি সংক্ষিপ্ত ও সংক্ষেপণের কারণে অনেকটা ধাঁধার মতো হয়ে গেছে। অধিকন্তু, এগুলোতে অনেক জায়গায় উদ্ধৃতি প্রদানের ক্ষেত্রে চ্যুতি ঘটেছে এবং প্রাধান্যপ্রাপ্ত (راجح) মতের বিপরীতে অপ্রধান মতকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এমনকি এমন সব মতকে মাযহাবের মত বলে উল্লেখ করা হয়েছে যা মাযহাবের কোনো ইমামই বলেননি।
আমি আল্লামা মুহাম্মদ হিবাতুল্লাহ-কৃত শারহুল আশবাহ-এর শুরুতে দেখেছি, তিনি বলেছেন: বিরল (غريبة) কিতাবসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো কানযুদ দাকায়িক-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ মোল্লা মিসকিন এবং কুহিস্তানি। এর কারণ হলো তাদের লেখকদের অবস্থা সম্পর্কে অবগত না থাকা অথবা দুর্বল (ضعيفة) মতসমূহ উদ্ধৃত করা, যেমনটি আল-কুনিয়া গ্রন্থের লেখক করেছেন। অথবা অতি সংক্ষেপণের কারণে যেমন হাসকাফি-কৃত আদ-দুররুল মুখতার, আন-নাহর এবং আইনি-কৃত শারহুল কানয। আমাদের শায়খ সালিহ আল-জাইনিনি বলেছেন যে, এই কিতাবগুলো থেকে ফাতওয়া প্রদান করা বৈধ নয় যতক্ষণ না উদ্ধৃতি প্রদানকারীর মূল উৎস এবং দলিল সম্পর্কে জানা যায়। আমি তাঁর কাছ থেকে এভাবেই শুনেছি, আর তিনি ফিকহ শাস্ত্রের একজন প্রসিদ্ধ বিজ্ঞ আলিম ছিলেন; এর দায়ভার তাঁর ওপরই রইল। (সমাপ্ত)
(আমি বলছি) কখনো কখনো এমন হয় যে, পরবর্তীকালের প্রায় বিশটি কিতাবে একটি বক্তব্য উদ্ধৃত হয়েছে, অথচ সেই বক্তব্যটি ভুল। প্রথম যিনি এটি লিখেছেন তিনিই ভুল করেছেন, আর পরবর্তীগণ তাঁর থেকে তা নকল করেছেন। এভাবে একজন অন্যজন থেকে তা নকল করেছেন। যেমনটি শর্তারোপ (তালিক) সহীহ হওয়া বা না হওয়া সংক্রান্ত কিছু মাসআলায় ঘটেছে, যে বিষয়ে আল্লামা ইবনে নুজাইম আল-বাহরুর রায়েক গ্রন্থে সতর্ক করেছেন।
এরই অন্তর্ভুক্ত হলো কেবল কুরআন তিলাওয়াতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণের মাসআলা। আস-সিরাজুল ওয়াহহাজ এবং কুদুরি-র ব্যাখ্যাগ্রন্থ আল-জাওহারা-র লেখকের ক্ষেত্রে এমনটি ঘটেছে যে, তিনি বলেছেন: ফাতওয়া হলো পারিশ্রমিক গ্রহণ সহীহ (صحة) হওয়ার ওপর। অথচ বিষয়টি তাঁর কাছে উল্টে গেছে; কারণ ফাতওয়া হলো কুরআন শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ সহীহ (صحة) হওয়ার ব্যাপারে, তিলাওয়াতের ওপর নয়। এরপর তাঁর পরবর্তী অধিকাংশ গ্রন্থকার এই বিষয়ে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তা উদ্ধৃত করেছেন, অথচ এটি একটি স্পষ্ট ভুল। এমনকি তাদের অনেকেই বলেছেন যে, ফাতওয়া ইবাদতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ সহীহ (صحة) হওয়ার ওপর। তারা একে সাধারণ কথা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন যে এটি পরবর্তী যুগের আলিমদের মাযহাব। কেউ কেউ এর ওপর ভিত্তি করে হজের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ সহীহ (صحة) হওয়ার শাখা মাসআলা বের করেছেন। এর সবই প্রথম ভুলের চেয়েও বড় ভুল। আমাদের তিন ইমাম—আবু হানিফা, আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মদ—এর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ বর্ণনা রয়েছে যে, ইবাদতের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ বাতিল (باطل)। তবে তাঁদের পরবর্তী এমন সব মুজতাহিদ এসেছেন যারা ইস্তিম্বাত ও প্রাধান্যদানের (تخريج وترجيح) যোগ্য ছিলেন, তাঁরা প্রয়োজনের খাতিরে কুরআন শিক্ষার ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণ সহীহ (صحة) হওয়ার ফাতওয়া দিয়েছেন। কারণ ইতিপূর্বে শিক্ষকদের জন্য বায়তুল মাল থেকে ভাতা বরাদ্দ ছিল, যা পরবর্তীতে বন্ধ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় যদি পারিশ্রমিক গ্রহণ সহীহ (صحة) না হতো...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৪)
واخذ الاجرة لضاع القرآن وفيه ضياع الدين لاحتياج المعلمين إلى الاكتساب وافتى من بعدهم أيضًا من امثالهم بصحته على الاذان والامامة لانهما من شعائر الدين فصححوا الاستئجار عليهما للضرورة أيضًا فهذا ما افتى به المتأخرون عن ابن حنيفة وأصحابه لعلمهم بان أبا حنيفة وأصحابه لو كانوا في عصرهم لقالوا بذلك ورجعوا عن قولهم الأول وقد اطبقت المتون والشروح والفتاوى على نقلهم بطلان الاستئجار على الطاعات إلا فيما ذكر وعللوا ذلك بالضرورة وهى خوف ضياع الدين وصرحوا بذلك التعليل فكيف يصح أن يقال أن مذهب المتأخرين صحة الاستئجار على التلاوة المجردة مع عدم الضرورة المذكورة فأنه لو مضى الدهر ولم يستأجر أحد أحدا على ذلك لم يحصل به ضرر بل الضرر صار في الاستئجار عليه حيث صار القرآن مكسبا وحرفة يتجر بها وصار القارئ منهم لا يقرأ شيئًا لوجه الله تعالى خالصا بل لا يقرأ إلا للاجرة وهو الرياء المحض الذي هو ارادة العمل لغير الله تعالى فمن اين يحصل له الثواب الذى طلب المستأجر أن يهديه لميته وقد قال الإمام قاضي خان أن اخذ الاجر في مقابلة الذكر يمنع استحقاق الثواب ومثله في فتح القدير في اخذ المؤذن الاجر ولو علم أنه لا ثواب له لم يدفع له فلسا واحدا فصاروا يتوصلون إلى جمع الحطام الحرام بوسيلة الذكر والقرآن وصار الناس يعتقدون ذلك من أعظم القرب وهو من أعظم القبائح المترتبة على القول بصحة الاستئجار مع غير ذلك مما يترتب عليه من اكل اموال الايتام والجلوس في بيوتهم على فرشهم واقلاق النائمين بالصراخ ودق الطبول والغناء واجتماع النساء والمردان وغير ذلك من المنكرات الفظيعة كما اوضحت ذلك كله مع بسط النقول عن أهل المذهب في رسالتي المسماة شفاء العليل وبل الغليل في بطلان الوصية بالختمات والتهاليل وعليها تقاريظ فقهآء أهل العصر من اجلهم خاتمة الفقهاء والعباد الناسكين مفتى مصر القاهرة سيدى المرحوم السيد أحمد الطحطاوى صاحب الحاشية الفائقة على الدر المختار رحمه الله تعالى (ومن) ذلك مسئلة عدم قبول توبة الساب للجناب الرفيع صلى الله تعالى عليه وسلم فقد نقل صاحب الفتاوى البزازية أنه يجب قتله عندنا ولا تقبل توبته وإن أسلم وعزا ذلك إلى الشفاء للقاضي عياض المالكي والصارم المسلول لابن تيمية الحنبلي ثم جاء عامة من بعده وتابعه على ذلك وذكروه في كتبهم حتى خاتمة المحققين ابن الهمام وصاحب الدرر والغرر مع أن الذى في الشفاء والصارم المسلول أن ذلك مذهب الشافعية والحنابلة واحدى الروايتين عن الإمام مالك مع الجزم بنقل قبول التوبة عندنا وهو المنقول في كتب المذهب المتقدمة ككتاب الخراج لابي يوسف وشرح مختصر الإمام
কুরআন পাঠের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার ফলে দ্বীন বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, কারণ শিক্ষকদের জীবিকা নির্বাহের জন্য উপার্জনের প্রয়োজন রয়েছে। পরবর্তী আলেমগণ (المتأخرون) ইমাম আবু হানিফা ও তাঁর সাথীদের মতো আযান ও ইমামতির ক্ষেত্রেও একে সহিহ (صحيح) বলে ফতোয়া দিয়েছেন; কারণ এ দুটি দ্বীনের নিদর্শন। সুতরাং তাঁরা অপরিহার্যতা (الضرورة) বশত এই কাজগুলোর জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণকে সহিহ (صحيح) বলে গণ্য করেছেন। এটিই ইমাম আবু হানিফার পরবর্তী আলেমদের (المتأخرون) ফতোয়া, কারণ তাঁরা জানতেন যে আবু হানিফা ও তাঁর সাথীরা যদি তাঁদের যুগে থাকতেন, তবে তাঁরাও এই কথাই বলতেন এবং তাঁদের পূর্বের অবস্থান থেকে ফিরে আসতেন। মূল কিতাবসমূহ (متون), ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (شروح) এবং ফতোয়ার কিতাবসমূহ ইবাদতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের অসারতা বা বাতিল (بطلان) হওয়ার বর্ণনায় একমত হয়েছে, কেবল উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলো ব্যতীত। তাঁরা এর কারণ হিসেবে অপরিহার্যতাকে (الضرورة) উল্লেখ করেছেন, যা হলো দ্বীন বিলুপ্ত হওয়ার ভয়; এবং তাঁরা স্পষ্টভাবে এই কারণটি উল্লেখ করেছেন। তাহলে কীভাবে এটি বলা সঠিক হতে পারে যে, পরবর্তী আলেমদের (المتأخرون) মাযহাব হলো উল্লিখিত অপরিহার্যতা (الضرورة) ছাড়াই কেবল তিলাওয়াতের জন্য পারিশ্রমিক গ্রহণ করা সহিহ (صحيح)? কারণ যুগ যুগ পার হয়ে গেলেও যদি কেউ কাউকে এর জন্য ভাড়া না করে, তবে তাতে কোনো ক্ষতি হবে না। বরং ক্ষতি তো এর বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণের মধ্যেই নিহিত, কারণ এর ফলে কুরআন একটি উপার্জনের মাধ্যম ও ব্যবসায়িক পেশায় পরিণত হয়েছে। আর কারী সাহেব আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিছুই পাঠ করেন না, বরং কেবল পারিশ্রমিকের জন্যই পাঠ করেন; যা নিছক রিয়া (الرياء) ছাড়া আর কিছুই নয়, আর রিয়া (الرياء) হলো আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাজ করা। তাহলে তিনি কোত্থেকে সেই সওয়াব (الثواب) অর্জন করবেন, যা ভাড়াকারী তার মৃতব্যক্তির জন্য উপহার দেওয়ার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে? ইমাম কাজী খান বলেছেন, যিকিরের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ সওয়াব (الثواب) প্রাপ্তিতে বাধা প্রদান করে। অনুরূপ কথা ফাতহুল কাদিরে মুয়াজ্জিনের পারিশ্রমিক গ্রহণের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে। যদি মানুষ জানত যে এতে কোনো সওয়াব (الثواب) নেই, তবে তারা এক পয়সাও দিত না। এভাবে তারা যিকির ও কুরআনের মাধ্যমে হারাম সম্পদ সংগ্রহের পথ বেছে নিয়েছে। অথচ মানুষ একে মহান ইবাদত বা নৈকট্য (القرب) লাভের মাধ্যম মনে করে, যদিও পারিশ্রমিক গ্রহণ সহিহ (صحيহ) হওয়ার মতের ওপর ভিত্তি করে এটি অন্যতম নিকৃষ্ট কাজ। এর সাথে আরও অনেক কিছু জড়িত, যেমন এতিমদের সম্পদ ভক্ষণ করা, তাদের ঘরে তাদের বিছানায় বসা, চিৎকার-চেঁচামেচি করে ঘুমন্তদের বিরক্ত করা, ঢোল বাজানো ও গান গাওয়া এবং নারী ও কিশোরদের একত্রিত হওয়া সহ অন্যান্য ভয়াবহ নিন্দনীয় কাজ (المنكرات)। যেমনটি আমি আমার রিসালা 'শিফাউল আলিল ওয়া বিল্লুল গালিল ফি বুতলানিল ওয়াসিয়্যাতি বিল খাতমাতি ওয়াত তাহালিল'-এ মাযহাবের ইমামদের উদ্ধৃতিসহ বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছি। এই রিসালাটির ওপর তৎকালীন শ্রেষ্ঠ ফকীহ, আবিদ ও মিসরের মুফতি মরহুম সায়্যিদী সাইয়্যেদ আহমদ তাহতাবীর প্রশংসামূলক বক্তব্য (تقاريظ) রয়েছে, যিনি আদ-দুররুল মুখতার-এর ওপর উচ্চমানের টীকা (حاشية) রচনা করেছেন। (এরই) অন্তর্ভুক্ত একটি মাসআলা হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গালি প্রদানকারীর তওবা (توبة) কবুল না হওয়া। ফাতাওয়া বাযযাযিয়ার লেখক বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের মাযহাবে তাকে হত্যা করা ওয়াজিব এবং তার তওবা (توبة) কবুল হবে না, যদিও সে ইসলাম গ্রহণ করে। তিনি এর সূত্র হিসেবে কাজী ইয়ায মালিকীর আশ-শিফা এবং ইবনে তাইমিয়া হাম্বলীর আস-সারিমুল মাসলুল গ্রন্থদ্বয়ের উল্লেখ করেছেন। পরবর্তীতে প্রায় সকল আলেম তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তাঁদের কিতাবসমূহে এটি উল্লেখ করেছেন, এমনকি মুহাক্কিকদের শিরোমণি ইবনুল হুমাম এবং আদ-দুরার ওয়াল গুরার-এর লেখকও। অথচ আশ-শিফা এবং আস-সারিমুল মাসলুল গ্রন্থে যা আছে তা হলো এটি শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের মত এবং ইমাম মালিক থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (رواية) একটি। বিপরীতে আমাদের মাযহাবে তওবা (توبة) কবুলের বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এটিই মাযহাবের প্রাচীন কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, যেমন আবু ইউসুফের কিতাবুল খারাজ এবং ইমামের সংক্ষিপ্তসার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৫)
الطحاوى والنتف وغيرها من كتب المذهب كما اوضحت ذلك غاية الإيضاح بما لم اسبق إليه ولله تعالى الحمد والمنة في كتاب سميته تنبيه الولاة والحكام على احكام شاتم خير الانام أو أحد أصحابه الكرام عليه وعليهم الصلاة والسلام (ومن ذلك) مسألة ضمان الرهن بدعوى الهلاك فقد ذكر في الدرر وشرح المجمع لابن ملك أنه يضمن بدعوى الهلاك بلا برهان وتبعهما في متن التنوير ومقتضاه أنه يضمن قيمته بالغة ما بلغت وبه افتى العلامة الشيخ خير الدين وانه لا يضمن شيئا إذا برهن مع أن ذلك مذهب الإمام مالك ومذهبنا ضمانه بالاقل من قيمته ومن الدين بلا فرق بين ثبوت الهلاك ببرهان وبدونه كما اوضحه في الشرنبلالية عن الحقائق ونبهت عليه في حاشيتي رد المحتار على الدر المختار مع بيان من افتى بما هو المذهب ومن رد خلافه (ولهذا) الذي ذكرناه نظائر كثيرة اتفق فيها صاحب البحر والنهر والمنح والدر المختار وغيرهم وهى سهو منشأها الخطأ في النقل أو سبق النظر نبهت عليها في حاشيتى رد المحتار لالتزامى فيها مراجعة الكتب المتقدمة التي يعزون المسألة إليها فاذكر أصل العبارة التى وقع السهو في النقل عنها واضم إليها نصوص الكتب الموافقة لها فلذا كانت تلك الحاشية عديمة النظير في بابها لا يستغنى أحد عن تطلابها اسأله سبحانه أن يعينني على اتمامها فإذا نظر قليل الاطلاع ورأى المسألة مسطورة في كتاب أو أكثر يظن أن هذا هو المذهب ويفتى به ويقول ان هذه الكتب للمتأخرين الذين اطلعوا على كتب من قبلهم وحرروا فيها ما عليه العمل ولم يدر أن ذلك اغلي وانه يقع منهم خلافه كما سطرناه لك (وقد) كنت مرة افتيت بمسألة في الوقف موافقا لما هو المسطور في عامة الكتب وقد اشتبه فيها لامر على الشيخ علاء الدين الحصكفى عمدة المتأخرين فذكرها في الدر المختار على خلاف الصواب فوقع جوابى الذى افتيت به بيد جماعة من مفتى البلاد كتبوا في ظهره بخلاف ما افتيت به موافقين لما وقع في الدر المختار وزاد بعض هؤلاء المفتين أن هذا الذي في العلائي هو الذي عليه العمل لانه عمدة المتأخرين وانه أن كان عندكم خلافه لا نقبله منكم فانظر إلى هذا الجهل العظيم والتهور في الأحكام الشرعية والاقدام على الفتيا بدون علم وبدون مراجعة وليت هذا القائل راجع حاشية العلامة الشيخ إبراهيم الحلبي على الدر المختار فإنها أقرب ما يكون إليه فقد نبه فيها على أن ما وقع للعلائي خطأ في التعبير (وقد) رأيت في فتاوى العلامة ابن حجر سئل في شخص يقرأ ويطالع في الكتب الفقهية بنفسه ولم يكن له شيخ ويفتى ويعتمد على مطالعته
ইমাম তহাবী, আন-নুতাফ এবং মাযহাবের অন্যান্য কিতাবসমূহ, যেমনটি আমি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছি যা আগে কেউ করেনি। সকল প্রশংসা ও অনুগ্রহ মহান আল্লাহর, আমি এই বিষয়ে একটি কিতাব রচনা করেছি যার নাম দিয়েছি 'তানবীহুল উলাতি ওয়াল হুক্কাম আলা আহকামি শাতিমি খয়রিল আনাম আও আহাদি আসহাবিহিল কিরাম' (সৃষ্টিজগতের শ্রেষ্ঠ সত্তা বা তাঁর সম্মানিত সাহাবীগণের কাউকে গালমন্দকারীর বিধান সম্পর্কে শাসক ও বিচারকদের সতর্কীকরণ), তাঁর এবং তাঁদের ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।
(তার মধ্যে একটি হলো) ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধকি বস্তুর জামানত (ضمان) প্রদানের মাসআলা। আদ্-দুরার এবং ইবনে মালাকের শারহুল মাজমা'-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে, কোনো প্রমাণ (برهان) ছাড়াই ধ্বংস হওয়ার দাবির ভিত্তিতে জামানত (ضمان) দিতে হবে। 'তানভীর' গ্রন্থের মতন-এ তাদের অনুসরণ করা হয়েছে। এর মর্মার্থ হলো, এর মূল্য যত বেশিই হোক না কেন তাকে তা পরিশোধ করতে হবে। আল্লামা শায়খ খাইরুদ্দীন এই মতেই ফতোয়া দিয়েছেন এবং বলেছেন যে, যদি প্রমাণ (برهان) উপস্থাপন করা হয় তবে কোনো জামানত (ضمان) দিতে হবে না। অথচ এটি ইমাম মালিকের মাযহাব। আমাদের মাযহাবে নিয়ম হলো, এর মূল্য এবং ঋণের পরিমাণের মধ্যে যেটি কম, সেটিই জামানত (ضمان) হিসেবে গণ্য হবে। এক্ষেত্রে ধ্বংস হওয়াটা প্রমাণের মাধ্যমে সাব্যস্ত হোক বা না হোক, তাতে কোনো পার্থক্য নেই। যেমনটি আল-হাকায়িক-এর বরাতে আশ-শুরুনবুলালিয়া-তে স্পষ্ট করা হয়েছে। আমি আদ্-দুররুল মুখতার-এর ওপর আমার হাশিয়া 'রাদ্দুল মুহতার'-এ এ বিষয়ে সতর্ক করেছি এবং কে মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়া দিয়েছেন আর কে এর বিপরীত মতকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তা বর্ণনা করেছি।
(এজন্য) আমরা যা উল্লেখ করেছি তার অনেক নজির রয়েছে যেগুলোতে বাহর, নহর, মিনাহ ও দুররুল মুখতার-এর লেখকগণ এবং অন্যান্যরা একমত হয়েছেন। মূলত এগুলো ছিল অসাবধানতা বা ভুল (سهو), যার উৎস হলো উদ্ধৃতি প্রদানে ত্রুটি অথবা অসতর্ক দৃষ্টি। আমি আমার হাশিয়া রাদ্দুল মুহতারে এগুলোর ওপর সতর্ক করেছি, কারণ সেখানে আমি সেই আদি গ্রন্থগুলো পর্যালোচনার বাধ্যবাধকতা নিয়েছি যেগুলোর দিকে তাঁরা মাসআলাটি সম্বন্ধ করেছেন। ফলে আমি সেই মূল ইবারতটি উল্লেখ করি যেখান থেকে উদ্ধৃতি দিতে ভুল (سهو) হয়েছে এবং তার সাথে সংগতিপূর্ণ অন্যান্য কিতাবের নصوص (নصوص) যুক্ত করি। এ কারণেই এই হাশিয়াটি তার নিজ ক্ষেত্রে অতুলনীয় হয়ে উঠেছে এবং কেউই তা অনুসন্ধান করা থেকে বিমুখ হতে পারে না। আমি মহান আল্লাহর কাছে তা সমাপ্ত করার তাওফিক প্রার্থনা করছি।
যখন স্বল্পজ্ঞানী কেউ এক বা একাধিক কিতাবে কোনো মাসআলা লিপিবদ্ধ দেখে, তখন সে মনে করে এটিই মাযহাব এবং সে অনুযায়ী ফতোয়া দেয়। সে বলে যে, এই কিতাবগুলো পরবর্তী যুগের আলেমদের (متأخرين), যারা পূর্ববর্তীদের কিতাবগুলো অধ্যয়ন করেছেন এবং আমলযোগ্য বিষয়গুলো সেখানে পরিমার্জিতভাবে লিপিবদ্ধ করেছেন। সে জানে না যে এটি একটি বড় ভুল এবং তাদের থেকেও এর বিপরীত কিছু প্রকাশ পেতে পারে, যেমনটি আমি আপনার সামনে বর্ণনা করেছি।
(একবার) আমি ওয়াকফ সংক্রান্ত একটি মাসআলায় ফতোয়া দিয়েছিলাম যা সাধারণ কিতাবসমূহে যা লিপিবদ্ধ আছে তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। কিন্তু পরবর্তী যুগের নির্ভরযোগ্য আলেম (عمدة المتأخرين) শায়খ আলাউদ্দীন হাসকাফীর নিকট বিষয়টি অস্পষ্ট থেকে গিয়েছিল, ফলে তিনি দুররুল মুখতারে তা সঠিক বিষয়ের বিপরীতে উল্লেখ করেছিলেন। আমার ফতোয়ার জবাবটি দেশের একদল মুফতির হাতে পড়লে তাঁরা এর পৃষ্ঠদেশে আমার ফতোয়ার বিপরীতে লিখেছিলেন এবং দুররুল মুখতারে যা ছিল তার সাথে একমত পোষণ করেছিলেন।
আক্ষেপ! এই প্রবক্তা যদি দুররুল মুখতার-এর ওপর আল্লামা শায়খ ইব্রাহিম হালাবীর হাশিয়াটি দেখতেন, কারণ তা ছিল তাঁর অত্যন্ত নিকটবর্তী। সেখানে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, আল-আলাই (হাসকাফী) যা লিখেছেন তা প্রকাশভঙ্গির ভুল (خطأ)। (আরও) আমি আল্লামা ইবনে হাজারের ফাতাওয়াতে দেখেছি, তাকে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে নিজে নিজে ফিকহের কিতাব পড়ে এবং অধ্যয়ন করে, যার কোনো উস্তাদ নেই, অথচ সে ফতোয়া দেয় এবং নিজের অধ্যয়নের ওপরই নির্ভর করে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৬)
في الكتب فهل يجوز له ذلك أم لا فأجاب بقوله لا يجوز له الافتاء بوجه من الوجوه لانه عامى جاهل لا يدرى ما يقول بل الذى يأخذ العلم عن المشايخ المعتبرين لا يجوز له أن يفتى من كتاب ولا من كتابين بل قال النووي رحمه الله تعالى ولا من عشرة فإن العشرة والعشرين قد يعتمدون كلهم على مقالة ضعيفة في المذهب فلا يجوز تقليدهم فيها بخلاف الماهر الذى اخذ العلم عن أهله وصارت له فيه ملكة نفسانية فإنه يميز الصحيح من غيره ويعلم المسائل وما يتعلق بها على الوجه المعتد به فهذا هو الذي يفتى الناس ويصلح أن يكون واسطة بينهم وبين الله تعالى واما غيره فيلزمه إذا تسور هذا المنصب الشريف التعزير البليغ والزجر الشديد الزاجر ذلك لامثاله عن هذا الامر القبيح الذى يؤدى إلى مفاسد لا تحصى والله تعالى أعلم انتهى (وقولى) أو كان ظاهر الرواية الخ معناه أن ما كان من المسائل في الكتب التي رويت عن محمد بن الحسن رواية ظاهرة يفتى به وإن لم يصرحوا بتصحيحه نعم لو صححوا رواية أخرى من غير كتب ظاهر الرواية يتبع ما صححوه قال العلامة الطرسوسى في انفع الوسائل في مسألة الكفالة إلى شهر أن القاضي المقلد لا يجوز له أن يحكم إلا بما هو ظاهر الرواية لا بالرواية الشاذة إلا أن ينصوا على أن الفتوى عليها انتهى
وكتب ظاهر الروايات اتت
… ستا وبالاصول أيضًا سميت
صنفها محمد الشيباني
… حرر فيها المذهب النعماني
الجامع الصغير والكبير
… والسير الكبير والصغير
ثم الزيادات مع المبسوط
… تواترت بالسند المضبوط
كذا له مسائل النوادر
… اسنادها في الكتب غير ظاهر
وبعدها مسائل النوازل
… خرجها الاشياخ بالدلائل
(اعلم) أن مسائل أصحابنا الحنفية على ثلاث طبقات (الأولى) مسائل الاصول وتسمى ظاهر الرواية ايضا وهي مسائل رويت عن أصحاب المذهب وهم أبو حنيفة وأبو يوسف ومحمد رحمهم الله تعالى ويقال لهم العلماء الثلاثة وقد يلحق بهم زفر والحسن وغيرهما ممن اخذ الفقه عن أبي حنيفة لكن الغالب الشائع في ظاهر الرواية أن يكون قول الثلاثة أو قول بعضهم ثم هذه المسائل التي تسمى بظاهر الرواية والاصول هي ما وجد في كتب محمد التي هي المبسوط والزيادات والجامع الصغير والسير الصغير والجامع الكبير والسير الكبير وإنما سميت بظاهر الرواية لانها رويت عن محمد برواية الثقات فهي ثابتة عنه اما متواترة أو مشهورة عنه (الثانية) مسائل النوادر
কিতাবসমূহে বর্ণিত তথ্যের ভিত্তিতে তার জন্য ফতোয়া প্রদান করা কি বৈধ হবে নাকি হবে না? উত্তরে তিনি বলেছেন: তার জন্য কোনোভাবেই ফতোয়া প্রদান করা বৈধ নয়, কারণ সে একজন অজ্ঞ সাধারণ ব্যক্তি, সে কী বলছে তা সে জানে না। বরং যিনি নির্ভরযোগ্য (المعتبرين) মাশায়েখদের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেছেন, তার জন্যও কেবল একটি বা দুটি কিতাব দেখে ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়; বরং ইমাম নববী (র.) বলেছেন যে, দশটি কিতাব দেখেও নয়। কারণ দশ বা বিশটি কিতাবের লেখকগণ সবাই মাজহাবের কোনো একটি দুর্বল (ضعيفة) মতের ওপর নির্ভর করতে পারেন, তাই সে বিষয়ে তাদের অনুসরণ করা বৈধ নয়। তবে সেই দক্ষ ব্যক্তির বিষয়টি ভিন্ন, যিনি এই ইলমের যোগ্য ব্যক্তিদের কাছ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন এবং যার মধ্যে এই শাস্ত্রে এক প্রকার গভীর পাণ্ডিত্য বা স্বভাবজাত যোগ্যতা (ملكة نفسانية) অর্জিত হয়েছে; ফলে তিনি বিশুদ্ধ (الصحيح) ও অশুদ্ধের মধ্যে পার্থক্য করতে পারেন এবং গ্রহণযোগ্য পন্থায় মাসআলা ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। মূলত তিনিই মানুষকে ফতোয়া প্রদান করবেন এবং তিনি আল্লাহ তাআলা ও তাঁর বান্দাদের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হওয়ার যোগ্য। আর তিনি ব্যতীত অন্য কেউ যদি এই মহান পদের ওপর অনধিকার চর্চা করে, তবে তার জন্য কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা (التعزير) এবং কঠিন ধমক অনিবার্য, যা তার মতো ব্যক্তিদের এই জঘন্য কাজ থেকে বিরত রাখবে; কারণ এটি এমন সব অনিষ্টের দিকে নিয়ে যায় যা গণনা করা সম্ভব নয়। আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে ভালো জানেন। সমাপ্ত। (আমার বক্তব্য হলো) "অথবা তা প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) হলে..." এর অর্থ হলো—মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের পক্ষ থেকে যে সকল মাসআলা প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) হিসেবে কিতাবসমূহে বর্ণিত হয়েছে, সে অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া হবে, যদিও তাঁরা সেটিকে বিশুদ্ধ (تصحيحه) হিসেবে স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করেন। হ্যাঁ, তাঁরা যদি প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) এর কিতাবসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবের বর্ণনাকে বিশুদ্ধ (صححوا) বলে উল্লেখ করেন, তবে তাঁরা যেটিকে বিশুদ্ধ বলেছেন সেটিই অনুসরণ করা হবে। আল্লামা তারসুসী 'আনফাউল ওয়াসাইল' কিতাবে এক মাসের জামিনদারির মাসআলায় বলেছেন যে, মুকাল্লিদ বিচারকের জন্য প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) ব্যতীত অন্য কিছু দ্বারা ফয়সালা করা বৈধ নয়; কোনো বিরল (الشاذة) বর্ণনা দ্বারা ফয়সালা করা যাবে না, যতক্ষণ না তাঁরা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে এর ওপরই ফতোয়া। সমাপ্ত।
প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الروايات) সম্বলিত কিতাব এসেছে
… ছয়টি, আর সেগুলোকে উসুল (بالاصول) নামেও অভিহিত করা হয়।
সেগুলো মুহাম্মদ আল-শাইবানী সংকলন করেছেন
… তাতে তিনি নুমানী (হানাফি) মাজহাবকে সুসংহত করেছেন।
আল-জামেউস সগির ও আল-জামেউল কাবির
… এবং আস-সিয়ারুল কাবির ও আস-সিয়ারুস সগির।
অতঃপর আল-জিয়াদাত ও আল-মাবসুত
… যা সুসংরক্ষিত সনদের মাধ্যমে মুতাওয়াতির (تواترت) হিসেবে বর্ণিত।
অনুরূপভাবে তাঁর রয়েছে নাওয়াদির (النوادر) মাসআলাসমূহ
… কিতাবসমূহে যেগুলোর সনদ প্রকাশ্য (ظاهر) নয়।
এবং এরপর রয়েছে নাওয়াজিল (النوازل) মাসআলাসমূহ
… যা মাশায়েখগণ দলিলের আলোকে উদ্ভাবন করেছেন।
(জেনে রাখুন) আমাদের হানাফি আলেমদের মাসআলাসমূহ তিন স্তরের: (প্রথম স্তর) উসুল (الاصول) এর মাসআলাসমূহ, একে প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) ও বলা হয়। এগুলো সেই সকল মাসআলা যা মাজহাবের ইমামগণের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তাঁরা হলেন ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ এবং ইমাম মুহাম্মদ (রহিমাহুমুল্লাহ)। তাঁদেরকে 'তিনজন আলেম' বলা হয়। ইমাম জুফার, ইমাম হাসান এবং ইমাম আবু হানিফার নিকট থেকে ফিকহ গ্রহণকারী অন্যান্যদেরও কখনো কখনো তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, তবে প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) এর ক্ষেত্রে সাধারণত এই তিন ইমামের বা তাঁদের কারো কারো উক্তিই বেশি প্রচলিত। অতঃপর এই মাসআলাগুলো—যাদেরকে প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) ও উসুল (الاصول) বলা হয়—সেগুলো ইমাম মুহাম্মদের সেই কিতাবসমূহে পাওয়া যায় যা হলো: আল-মাবসুত, আল-জিয়াদাত, আল-জামেউস সগির, আস-সিয়ারুস সগির, আল-জামেউল কাবির এবং আস-সিয়ারুল কাবির। এগুলোকে প্রকাশ্য বর্ণনা (ظاهر الرواية) নাম দেওয়ার কারণ হলো—এগুলো ইমাম মুহাম্মদ থেকে নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের বর্ণনায় বর্ণিত, ফলে এগুলো তাঁর থেকে মুতাওয়াতির (متواترة) অথবা প্রসিদ্ধ (مشهورة) হিসেবে প্রমাণিত। (দ্বিতীয় স্তর) নাওয়াদির (النوادر) এর মাসআলাসমূহ।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৭)
وهى مسائل مروية عن أصحاب المذهب المذكورين لكن لا في الكتب المذكورة بل اما في كتب اخر المحمد غيرها كالكيسانيات والهارونيات والجرجانيات والرقيات وإنما قيل لها غير ظاهر الرواية لانها لم ترو عن محمد بروايات ظاهرة ثابتة صحيحة كالكتب الأولى واما في كتب غير محمد ككتاب المجرد للحسن بن زياد وغيرها ومنها كتب الامالى لابي يوسف والامالى جمع املاء وهو أن يقعد العالم وحوله تلامذته بالمحابر والقراطيس فيتكلم العالم بما فتحه الله تعالى عليه من ظهر قلبه في العلم وتكتبه التلامذة ثم يجمعون ما يكتبونه فيصير كتابا فيسمونه الإملاء والامالى وكان ذلك عادة السلف من الفقهاء والمحدثين واهل العربية وغيرها في علومهم فاندرست لذهاب العلم والعلماء والى الله المصير وعلماء الشافعية يسمون مثله تعليقة * واما بروايات مفردة مثل رواية ابن سماعة ومعلى بن منصور وغيرهما في مسائل معينة (الثالثة) الفتاوى والواقعات وهي مسائل استنبطها المجتهدون المتأخرون لما سئلوا عن ذلك ولم يجدوا فيها رواية عن أهل المذهب المتقدمين وهم أصحاب أبي يوسف ومحمد وأصحاب أصحابهما وهلم جرا وهم كثيرون موضع معرفتهم كتب الطبقات لاصحابنا وكتب التواريخ* فمن أصحاب أبي يوسف ومحمد رحمهما الله تعالى مثل عصام بن يوسف وابن رستم ومحمد بن سماعة وابى سليمان الجوزجاني وابى حفص البخارى ومن بعدهم مثل محمد بن سلمة ومحمد بن مقاتل ونصير بن يحيى وابى النصر القاسم بن سلام وقد يتفق لهم أن يخالفوا أصحاب المذهب لدلائل واسباب ظهرت لهم واول كتاب جمع في فتواهم فيما بلغنا كتاب النوازل للفقيه أبي الليث السمرقندى ثم جمع المشايخ بعده كتبا اخر مجموع النوازل والواقعات للناطفى والواقعات للصدر الشهيد ثم ذكر المتأخرون هذه المسائل مختلطة غير متميزة كما في فتاوى قاضي خان والخلاصة وغيرهما وميز بعضهم كما في كتاب المحيط لرضى الدين السرخسي فإنه ذكر اولا مسائل الاصول ثم النوادر ثم الفتاوى ونعم ما فعل (واعلم) أن نسخ المبسوط المروى عن محمد متعددة واظهرها مبسوط أبي سليمان الجوزجانى وشرح المبسوط جماعة من المتأخرين مثل شيخ الإسلام بكر المعروف بخواهر زاده ويسمي المبسوط الكبير وشمس الأئمة الحلوانى وغيرهما ومبسوطاتهم شروح في الحقيقة ذكروها مختلطة بمبسوط محمد كما فعل شراح الجامع الصغير مثل فخر الإسلام وقاضي خان وغيرهما فيقال ذكره قاضي خان في الجامع الصغير والمراد شرحه وكذا في غيره انتهى ملخصا من شرح البيرى على الأشباه وشرح الشيخ إسماعيل النابلسي على شرح الدرر (هذا) وقد فرق العلامة ابن كمال باشا بين رواية الاصول وظاهر الرواية حيث قال في شرحه على الهداية في مسألة حج المرأة ما حاصله أنه ذكر في مبسوط السرخي أن ظاهر الرواية
এগুলো হলো উল্লিখিত মাযহাবের ইমামগণের পক্ষ থেকে বর্ণিত মাসআলাসমূহ, যা ইতিপূর্বে উল্লিখিত কিতাবসমূহে (জাহিরুর রিওয়ায়াহ) বর্ণিত হয়নি। বরং এগুলো ইমাম মুহাম্মদের অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: আল-কায়সানিয়াত, আল-হারুনিয়াত, আল-জুরজানিয়াত এবং আর-রুক্কিয়াত। এগুলোকে 'গায়রে জাহিরুর রিওয়ায়াহ' (غير ظاهر الرواية) বলা হয়, কারণ এগুলো ইমাম মুহাম্মদ থেকে প্রথমোক্ত কিতাবগুলোর মতো প্রসিদ্ধ (ظاهرة), সুদৃঢ় (ثابتة) এবং বিশুদ্ধ (صحيحة) বর্ণনা (رواية) সূত্রে বর্ণিত হয়নি। অথবা এগুলো ইমাম মুহাম্মদ ব্যতীত অন্য ইমামদের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, যেমন: হাসান ইবনে যিয়াদের কিতাবুল মুজাররাদ ও অন্যান্য কিতাব। এর অন্তর্ভুক্ত হলো 'আমালি' কিতাবসমূহ যা আবু ইউসুফের সূত্রে বর্ণিত। 'আমালি' হলো 'ইমলা' (إملاء)-এর বহুবচন। এর পদ্ধতি হলো এই যে, আলিম বসবেন এবং তার চারদিকে দোয়াত ও কাগজ নিয়ে ছাত্ররা বসবে; অতঃপর আল্লাহ তাআলা আলিমের অন্তরে ইলমের যে দ্বার উন্মোচন করবেন, তিনি তা মুখস্থ বলবেন এবং ছাত্ররা তা লিখে নিবে। এরপর তারা তাদের লিখিত অংশগুলো একত্রিত করলে তা একটি কিতাবে পরিণত হয় এবং তারা এর নাম দেয় 'ইমলা' বা 'আমালি'। এটি ফকিহ, মুহাদ্দিস (المحدثين) এবং ভাষাবিদদের মতো পূর্বসূরিগণের অভ্যাস ছিল। জ্ঞান ও আলিমদের তিরোধানের ফলে বর্তমানে তা বিলুপ্ত হয়ে গেছে; আর আল্লাহর দিকেই সকলের প্রত্যাবর্তন। শাফেয়ী মাযহাবের আলিমগণ এই জাতীয় সংকলনকে 'তালিকাহ' বলে অভিহিত করেন। অথবা এগুলো ইবনে সামাআহ, মুআল্লা ইবনে মনসুর এবং অন্যদের একক বর্ণনার (روايات مفردة) মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে।
(তৃতীয় স্তর) হলো ফাতাওয়া ও ওয়াকিয়াত। এগুলো এমন সব মাসআলা যা পরবর্তী যুগের মুজতাহিদ (المجتهدون) ইমামগণ উদ্ভাবন করেছেন, যখন তাদের কাছে কোনো বিষয়ে ফতোয়া চাওয়া হতো এবং তারা সে বিষয়ে মাযহাবের পূর্ববর্তী ইমামগণের—অর্থাৎ আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ এবং তাঁদের ছাত্রদের ছাত্রদের থেকে শুরু করে পরবর্তী স্তরের ইমামগণের—কোনো বর্ণনা (رواية) পেতেন না। এই আলিমগণ সংখ্যায় অনেক; তাঁদের পরিচিতি আমাদের মাযহাবের আলিমগণের জীবনীগ্রন্থ 'তাবাকাত' (الطبقات) এবং ইতিহাসের কিতাবসমূহে পাওয়া যায়। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ-এর ছাত্রদের মধ্যে যেমন: ইসাম ইবনে ইউসুফ, ইবনে রুস্তম, মুহাম্মদ ইবনে সামাআহ, আবু সুলাইমান জুযজানী, আবু হাফস বুখারী এবং তাঁদের পরবর্তী স্তরে যেমন: মুহাম্মদ ইবনে সালামাহ, মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল, নাসির ইবনে ইয়াহইয়া এবং আবুল নাদর কাসিম ইবনে সাল্লাম। কখনও কখনও এমন হয় যে, দলিল (دلائل) ও সুস্পষ্ট কারণের ভিত্তিতে তাঁরা মাযহাবের ইমামগণের মতের বিরোধিতা করেন। আমাদের জানা মতে, তাঁদের ফতোয়া নিয়ে সংকলিত প্রথম কিতাব হলো ফকিহ আবুল লাইস সমরকন্দীর কিতাবুন নাওয়াযিল। এরপর পরবর্তী মাশায়িখগণ অন্যান্য কিতাব সংকলন করেছেন, যেমন: নাতিফীর মাজমুউল নাওয়াযিল ওয়াল ওয়াকিয়াত এবং সদরুশ শহীদের আল-ওয়াকিয়াত। পরবর্তীতে মুতাআখখিরিন বা পরবর্তী যুগের আলিমগণ এই মাসআলাগুলোকে পৃথক না করে একত্রে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি ফাতাওয়ায়ে কাজিখান এবং আল-খুলাসাহ ও অন্যান্য কিতাবে দেখা যায়। তবে কেউ কেউ এগুলোকে পৃথকভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি রযিউদ্দিন সারাখসীর কিতাবুল মুহিত-এ দেখা যায়। তিনি প্রথমে উসুল (الأصول) বা মূল মাসআলাসমূহ, এরপর বিরল বর্ণনা (النوادر) এবং সবশেষে ফাতাওয়া উল্লেখ করেছেন; তিনি অত্যন্ত চমৎকার কাজ করেছেন।
(জেনে রাখুন) ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত মাবসুত-এর পাণ্ডুলিপি অনেকগুলো রয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে প্রসিদ্ধ হলো আবু সুলাইমান জুযজানীর মাবসুত। পরবর্তী যুগের একদল আলিম মাবসুত-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (শরাহ) লিখেছেন, যেমন: শায়খুল ইসলাম বকর, যিনি খাওয়াহের যাদেহ নামে পরিচিত; তাঁর শরাহটি মাবসুতুল কাবির নামে পরিচিত। এছাড়া শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানী এবং অন্যান্যগণও শরাহ লিখেছেন। তাঁদের মাবসুতগুলো মূলত ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা তাঁরা ইমাম মুহাম্মদের মাবসুত-এর সাথে মিশিয়ে উল্লেখ করেছেন; যেমনটি ফখরুল ইসলাম ও কাজিখান জামেউস সগিরের ব্যাখ্যাকারগণ করেছেন। তাই বলা হয়, কাজিখান এটি জামেউস সগিরে উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ হলো এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন। অন্যান্য কিতাবের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। এটি আল-আশবাহ-এর উপর বিরীর শরাহ এবং দুরার-এর শরাহের উপর শায়খ ইসমাইল নাবুলুসীর শরাহ থেকে সংক্ষেপে গৃহীত হলো।
(এখানে উল্লেখ্য যে) আল্লামা ইবনে কামাল পাশা রিওয়ায়াতুল উসুল (رواية الأصول) এবং জাহিরুর রিওয়ায়াহ (ظاهر الرواية)-এর মধ্যে পার্থক্য করেছেন। তিনি হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থে নারীর হজ পালন সংক্রান্ত মাসআলায় যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ হলো: সারাখসীর মাবসুত-এ উল্লেখ করা হয়েছে যে জাহিরুর রিওয়ায়াহ (ظاهر الرواية)...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৮)
أنه يشترط أن تملك قدر نفقة محرمها وانه ذكر في المحيط والذخيرة أنه روى الحسن عن أبي حنيفة انها إذا قدرت على نفقة نفسها ونفقة محرمها لزمها الحج واضطربت الروايات عن محمد اهـ ثم قال ومن هنا ظهر أن مراد الإمام السرخسي من ظاهر الرواية رواية الحسن عن أبي حنيفة واتضح الفرق بين ظاهر الرواية ورواية الاصول اذ المراد من الاصول المبسوط والجامع الصغير والجامع الكبير والزيادات والسير الكبير وليس فيها رواية الحسن بل كلها رواية محمد وعلم أن رواية النوادر قد تكون ظاهر الرواية والمراد من رواية النوادر رواية غير الاصول المذكورة فاحفظ هذا فإن شراح هذا الكتاب قد غفلوا عنه وقد صرح بعضهم بعدم الفرق بين ظاهر الرواية ورواية الاصول وزعم أن رواية النوادر لا تكون ظاهر الرواية اهـ (أقول) لا يخفى عليك أن قول المحيط والذخيرة أن هذه رواية الحسن عن أبي حنيفة لا يلزم منه أن تكون مخالفة لرواية الاصول فقد يكون رواها الحسن في كتب النوادر ورواها محمد في كتب الاصول وإنما ذكر رواية الحسن لعدم الاضطراب عنه بدليل قوله واضطربت الروايات عن محمد وحينئذ فقول السرخسي انها ظاهر الرواية معناه أن محمدا ذكرها في كتب الاصول فهى إحدى الروايات عنه وحينئذ فلم يلزم منه أن رواية النوادر قد تكون ظاهر الرواية نعم تكون ظاهر الرواية إذا ذكرت في كتب الأصول أيضًا كهذه المسألة فإن ذكرها في كتب النوادر لا يلزم منه أن لا يكون لها ذكر في كتب الاصول وإنما يصح ما قاله أن لو ثبت أن هذه المسألة لا ذكر لها في كتب ظاهر الرواية وعبارة المحيط والذخيرة لا تدل على ذلك وحينئذ فلا وجه لجزمه بالغفلة على شراح الهداية الموافق كلامهم لما قدمناه والله تعالى أعلم (تتمة) السير جمع سيرة وهى الطريقة في الامور وفي الشرع تختص بسير النبي - صلى الله تعالى عليه وسلم - في مغازيه كذا في الهداية قال في المغرب وقالوا السير الكبير فوصفوها بصفة المذكر لقيامها مقام المضاف الذي هو كتاب كقولهم صلاة الظهر وسير الكبير خطأ كجامع الصغير وجامع الكبير انتهى وحينئذ فالسير الكبير يكسر السين وفتح الياء على لفظ الجمع لا بفتح السين وسكون الياء على لفظ المفرد كما ينطق به بعض من لا معرفة له
واشتهر المبسوط بالأصل وذا
… لسبقه الستة تصنيفا كذا
الجامع الصغير بعده فما
… فيه على الأصل لذا تقدما
وآخر الستة تصنيفا ورد
… السير الكبير فهو المعتمد
قدمنا أن كتب ظاهر الرواية تسمى بالاصول ومنه قول الهداية في باب التيمم وعن
এটি শর্ত যে, তার মাহরামের খরচ বহন করার সামর্থ্য থাকতে হবে। এবং 'আল-মুহিত' ও 'আল-যাখিরা' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাসান ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা (روى) করেছেন যে, যখন সে নিজের এবং তার মাহরামের খরচ বহনে সক্ষম হবে, তখন তার ওপর হজ করা আবশ্যক হবে। ইমাম মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোতে (الروايات) কিছুটা অসংলগ্নতা (اضطراب) রয়েছে। (সমাপ্ত) অতঃপর তিনি বলেছেন: এখান থেকেই স্পষ্ট হয় যে, ইমাম সারাখসির উদ্দেশ্য প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر الرواية) দ্বারা হলো ইমাম আবু হানিফা থেকে হাসানের বর্ণনা (رواية)। এর মাধ্যমে প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر الرواية) এবং মূল বর্ণনা (رواية الاصول)-এর মধ্যকার পার্থক্য স্পষ্ট হলো। কারণ মূল (الاصول) বলতে আল-মাবসুত, আল-জামি আস-সাগির, আল-জামি আল-কাবির, আয-যিয়াদাত এবং আস-সিয়ার আল-কাবিরকে বোঝানো হয়; আর এগুলোতে হাসানের কোনো বর্ণনা (رواية) নেই বরং এই সবগুলোই ইমাম মুহাম্মাদের বর্ণনা (رواية)। এটিও জানা গেল যে, বিরল বর্ণনা (رواية النوادر) কখনো কখনো প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر الرواية) হতে পারে। আর বিরল বর্ণনা (رواية النوادر) বলতে উল্লিখিত মূল (الاصول) গ্রন্থসমূহ ব্যতীত অন্য কোনো বর্ণনাকে বোঝানো হয়েছে। বিষয়টি স্মরণে রাখুন, কেননা এই কিতাবের ব্যাখ্যাকারগণ এ সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন। তাদের কেউ কেউ প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر الرواية) এবং মূল বর্ণনা (رواية الاصول)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই বলে স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন এবং দাবি করেছেন যে বিরল বর্ণনা (رواية النوادر) কখনো প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر الرواية) হতে পারে না। (সমাপ্ত) (আমি বলি) আপনার নিকট এটি অস্পষ্ট নয় যে, 'আল-মুহিত' ও 'আল-যাখিরা' কিতাবের এই বক্তব্য যে—এটি ইমাম আবু হানিফা থেকে হাসানের বর্ণনা (رواية), এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে তা মূল বর্ণনার (رواية الاصول) পরিপন্থী হবে। কেননা হতে পারে হাসান এটি বিরল কিতাবসমূহে (كتب النوادر) বর্ণনা (رواها) করেছেন এবং মুহাম্মাদ এটি মূল কিতাবসমূহে (كتب الاصول) বর্ণনা (رواها) করেছেন। মূলত হাসানের বর্ণনা (رواية) এখানে উল্লেখ করার কারণ হলো তার বর্ণনায় কোনো অসংলগ্নতা নেই, যার প্রমাণ হলো তার বক্তব্য—'মুহাম্মাদ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোতে (الروايات) অসংলগ্নতা (اضطراب) রয়েছে'। এমতাবস্থায় ইমাম সারাখসির এই উক্তি যে 'এটি প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر الرواية)', এর অর্থ হলো ইমাম মুহাম্মাদ এটি মূল কিতাবসমূহে (كتب الاصول) উল্লেখ করেছেন, ফলে এটি তার পক্ষ থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর (الروايات) একটি। আর সেক্ষেত্রে এটি আবশ্যক হয় না যে বিরল বর্ণনা (رواية النوادر) কখনো প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر الرواية) হতে পারে। হ্যাঁ, বিরল বর্ণনা তখনই প্রসিদ্ধ বর্ণনা (ظاهر الرواية) হবে যখন তা মূল কিতাবসমূহেও (كتب الأصول) উল্লেখ করা হয়, যেমনটি এই মাসআলার ক্ষেত্রে ঘটেছে। কারণ বিরল কিতাবসমূহে (كتب النوادر) কোনো বিষয় উল্লেখ করার অর্থ এই নয় যে মূল কিতাবসমূহে (كتب الاصول) তার কোনো উল্লেখ থাকবে না। তার কথা তখনই সঠিক হতো যদি এটি প্রমাণিত হতো যে এই মাসআলাটির কোনো উল্লেখ প্রসিদ্ধ বর্ণনার (ظاهر الرواية) কিতাবসমূহে নেই; অথচ 'আল-মুহিত' ও 'আল-যাখিরা'-এর বক্তব্য তা প্রমাণ করে না। এমতাবস্থায় 'আল-হিদায়া' কিতাবের ব্যাখ্যাকারদের ওপর উদাসীনতার অভিযোগ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই, যাদের বক্তব্য আমাদের পূর্বে বর্ণিত কথার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। আর আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন। (পরিশিষ্ট) 'সিয়ার' শব্দটি 'সিরাত'-এর বহুবচন, যার অর্থ হলো কোনো বিষয়ের কর্মপন্থা। আর শরীয়তের পরিভাষায় এটি নবী (সা.)-এর যুদ্ধাভিযানের কর্মপন্থার সাথে নির্দিষ্ট; যেমনটি 'আল-হিদায়া' কিতাবে রয়েছে। 'আল-মাগরিব' কিতাবে বলা হয়েছে—তারা 'আস-সিয়ার আল-কাবির' বলেছেন এবং একে পুংলিঙ্গবাচক গুণে বিশেষিত করেছেন, কারণ এটি একটি উহ্য মুদাফ (সম্বন্ধ পদ) যা হলো 'কিতাব' (গ্রন্থ), তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছে। যেমন মানুষ বলে থাকে 'যোহরের নামাজ'। আর 'সিয়ারুল কাবির' বলা ভুল, যেমন 'জামি আস-সাগির' বা 'জামি আল-কাবির' বলা ভুল। (সমাপ্ত) এমতাবস্থায় 'আস-সিয়ার আল-কাবির' শব্দটি সীন বর্ণে কাসরা (জের) এবং ইয়া বর্ণে ফাতহা (যবর) যোগে বহুবচনের শব্দে পড়তে হবে; সীন বর্ণে ফাতহা এবং ইয়া বর্ণে সুকুন যোগে একবচনের শব্দে নয়, যেমনটি জ্ঞানহীন এক শ্রেণির মানুষ উচ্চারণ করে থাকে।
আল-মাবসুত কিতাবটি 'আল-আসল' হিসেবে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং এটি
… সংকলনের দিক থেকে ছয়টি কিতাবের মধ্যে অগ্রগামী হওয়ার কারণে এমন হয়েছে।
এরপর আল-জামি আস-সাগির, যা কিছু তাতে রয়েছে তা
… আল-আসলের ওপর ভিত্তি করে রচিত হওয়ার কারণে অগ্রগণ্য হয়েছে।
আর সংকলনের দিক থেকে সবার শেষে এসেছে
… আস-সিয়ার আল-কাবির, যা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য (المعتمد)।
আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, প্রসিদ্ধ বর্ণনার (ظاهر الرواية) কিতাবসমূহকে মূল (الاصول) বলা হয় এবং 'আল-হিদায়া' কিতাবের তায়াম্মুম অধ্যায়ের বক্তব্যও এর অন্তর্ভুক্ত—'আর থেকে...'
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ১৯)
أبي حنيفة وأبي يوسف في غير رواية الاصول الخ قال الشراح هناك رواية الاصول رواية الجامعين والزيادات والمبسوط ورواية غير الاصول رواية النوادر والامالى والرقيات والكيسانيات والهارونيات انتهى وكثيرا ما يقولون ذكره محمد في الأصل ويفسره الشراح بالمبسوط فعلم أن الأصل مفردا هو المبسوط اشتهر به من بين باقي كتب الاصول (وقال) في البحر في باب صلاة العيد عن غاية البيان سمي الأصل أصلا لأنَّه صنف أولا ثم الجامع الصغير ثم الكبير ثم الزيادات انتهى وقال أن الجامع الصغير صنفه محمد بعد الأصل فما فيه هو المعول عليه انتهى * وسبب تأليفه أنه طلب منه أبو يوسف أن يجمع له كتابا يرويه عنه عن أبي حنيفة فجمعه له ثم عرضه عليه فاعجبه وهو كتاب مبارك يشتمل على ألف وخمسمائة واثنين وثلاثين مسألة كما قال البزدوى وذكر بعضهم أن أبا يوسف مع جلالة قدره لا يفارقه في سفر ولا حضر وكان علي الرازى يقول من فهم هذا الكتاب فهو افهم أصحابنا وكانوا لا يقلدون احدا القضاء حتى يتمتحنوه به اهـ (وفى) غاية البيان عن فخر الإسلام أن الجامع الصغير لما عرض علي أبي يوسف استحسنه وقال حفظ أبو عبد الله فقال محمد أنا حفظتها ولكنه نسى وهي ست مسائل ذكرها في البحر في باب الوتر والنوافل (وقال) في البحر في بحث التشهد كل تأليف لمحمد بن الحسن موصوف بالصغير فهو باتفاق الشيخين أبي يوسف ومحمد بخلاف الكبير فإنه لم يعرض على أبي يوسف انتهى (وقال) المحقق ابن امير حاج الحلبي في شرحه على المنية في بحث التسميع أن محمدا قرأ أكثر الكتب على أبي يوسف إلا ما كان فيه اسم الكبير فإنه من تصنيف محمد كالمضاربة الكبير والمزارعة الكبير والمأذون الكبير والجامع الكبير والسير الكبير انتهى (وذكر) المحقق ابن الهمام كما في فتاوي تلميذه العلامة قاسم أن ما لم يحك محمد فيه خلافا فهو قولهم جميعا (وذكر) الإمام شمس الأئمة السرخسى في أول شرحه على السير الكبير هو آخر تصنيف صنفه محمد في الفقه ثم قال وكان سبب تأليفه أن السير الصغير وقع بيد عبد الرحمن بن عمرو الأوزاعي عالم أهل الشام فقال لمن هذا الكتاب فقيل لمحمد العراقي فقال ما لأهل العراق والتصنيف في هذا الباب فإنه لا علم لهم بالسير ومغازى رسول الله - صلى الله تعالى عليه وسلم - وأصحابه كانت من جانب الشام والحجاز دون العراق فإنها محدثة فتحا فبلغ ذلك محمدا فغاظه ذلك وفرغ نفسه حتى صنف هذا الكتاب فحكى أنه لما نظر فيه الاوزاعى قال لولا ما ضمنه من الأحاديث لقلت أنه يضع العلم وإن الله تعالى عين جهة اصابة الجواب في رأيه صدق الله العظيم وفوق
ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত মৌলিক বর্ণনা (رواية الأصول) ব্যতিরেকে অন্যান্য বর্ণনা সম্পর্কে... ব্যাখ্যাকারগণ সেখানে বলেন যে, মৌলিক বর্ণনা (رواية الأصول) বলতে আল-জামি আল-সাগির, আল-জামি আল-কবির, আল-যিয়াদাত এবং আল-মাবসুত-এর বর্ণনাকে বুঝায়। আর মৌলিক বর্ণনা বহির্ভূত (رواية غير الأصول) বলতে নাওয়াদির, আমালি, রাক্কিয়াত, কায়সানিয়াত এবং হারুনিয়াত-এর বর্ণনাকে বুঝায়। সমাপ্ত। প্রায়শই ফকিহগণ বলে থাকেন, 'মুহাম্মদ এটি আল-আসল-এ উল্লেখ করেছেন' এবং ব্যাখ্যাকারগণ এর ব্যাখ্যায় 'আল-মাবসুত' কিতাবকে উদ্দেশ্য গ্রহণ করেন। ফলে এটি স্পষ্ট হলো যে, এককভাবে 'আল-আসল' বলতে 'আল-মাবসুত'ই উদ্দেশ্য, যা অন্যান্য মৌলিক কিতাবের ভিড়ে এই নামেই সমধিক প্রসিদ্ধ।
'আল-বাহর' কিতাবের ঈদুল ফিতরের সলাত অধ্যায়ে 'গাযাতুল বায়ান' থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, 'আল-আসল'-কে আসল (মূল) নামে অভিহিত করা হয়েছে কারণ এটি সর্বপ্রথম সংকলিত হয়েছে; এরপর আল-জামি আল-সাগির, এরপর আল-জামি আল-কবির এবং সবশেষে আল-যিয়াদাত সংকলিত হয়েছে। সমাপ্ত। আরও বলা হয়েছে যে, ইমাম মুহাম্মদ 'আল-আসল'-এর পর 'আল-জামি আল-সাগির' সংকলন করেছেন, তাই এতে যা রয়েছে তার ওপরই নির্ভর (المعول عليه) করা হয়। সমাপ্ত। এর সংকলনের (تصنيف) কারণ ছিল যে, ইমাম আবু ইউসুফ তাঁর কাছে এমন একটি কিতাব সংকলনের অনুরোধ করেছিলেন যা তিনি তাঁর সূত্রে ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণনা (رواية) করবেন। অতঃপর তিনি এটি সংকলন করে তাঁর সামনে পেশ করলে তিনি তা পছন্দ করেন। এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা এক হাজার পাঁচশত বত্রিশটি মাসআলা (مسألة) অন্তর্ভুক্ত করে, যেমনটি ইমাম পাজদাভি বলেছেন। কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আবু ইউসুফ তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও সফরে কিংবা আবাসে কখনই এই কিতাবটি থেকে বিচ্ছিন্ন হতেন না। আলী আর-রাজি বলতেন, যে ব্যক্তি এই কিতাবটি অনুধাবন করেছে সে আমাদের সাথীদের মধ্যে অধিক সমঝদার। তৎকালীন সময়ে কাউকে বিচারক (কাজী) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হতো না যতক্ষণ না তাকে এই কিতাব দ্বারা পরীক্ষা করা হতো। সমাপ্ত।
'গাযাতুল বায়ান'-এ ফখরুল ইসলাম থেকে বর্ণিত যে, 'আল-জামি আল-সাগির' যখন ইমাম আবু ইউসুফের সামনে পেশ করা হলো, তিনি তা পছন্দ করলেন এবং বললেন, 'আবু আব্দুল্লাহ (ইমাম মুহাম্মদ) এটি যথাযথভাবে মুখস্থ রেখেছেন'। তখন ইমাম মুহাম্মদ বললেন, 'আমি এটি মুখস্থ রেখেছি, কিন্তু তিনি (আবু ইউসুফ) ভুলে গেছেন'; আর সেগুলো হলো ছয়টি মাসআলা (مسألة) যা 'আল-বাহর' কিতাবের বিতর ও নফল সলাত অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। 'আল-বাহর' কিতাবের তাশাহহুদ সংক্রান্ত আলোচনায় বলা হয়েছে যে, মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের সংকলিত (تصنيف) প্রতিটি গ্রন্থ যা 'সাগির' (ছোট) বিশেষণে বিশেষিত, তা শায়খাইন তথা আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ-এর ঐকমত্যের ভিত্তিতে রচিত; পক্ষান্তরে 'কবির' (বড়) কিতাবগুলো এর বিপরীত, কেননা সেগুলো ইমাম আবু ইউসুফের নিকট পেশ করা হয়নি। সমাপ্ত।
মুহাক্কিক ইবনে আমির হাজ্জ আল-হালাবি 'আল-মুনিয়াহ' কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থে তাসমি সংক্রান্ত আলোচনায় বলেছেন যে, ইমাম মুহাম্মদ অধিকাংশ কিতাবই ইমাম আবু ইউসুফের নিকট পাঠ করে শুনিয়েছেন, কেবল যেগুলোর নামের সাথে 'কবির' যুক্ত রয়েছে সেগুলো ব্যতীত। কেননা সেগুলো ইমাম মুহাম্মদের নিজস্ব সংকলন (تصنيف), যেমন: আল-মুদারাবা আল-কবির, আল-মুযারাআ আল-কবির, আল-মা’যুন আল-কবির, আল-জামি আল-কবির এবং আস-সিয়ার আল-কবির। সমাপ্ত। মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম তাঁর ছাত্র আল্লামা কাসিমের ফাতওয়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম মুহাম্মদ যেসব বিষয়ে কোনো মতভেদ উল্লেখ করেননি, তা তাঁদের সকলের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত (قولهم جميعا)।
ইমাম শামসুল আইম্মা আস-সারখাসি 'আস-সিয়ার আল-কবির'-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থের শুরুতে উল্লেখ করেছেন যে, এটি ইমাম মুহাম্মদের ফিকহ শাস্ত্রের সর্বশেষ সংকলন (تصنيف)। অতঃপর তিনি বলেন যে, এর সংকলনের কারণ ছিল— 'আস-সিয়ার আল-সাগির' কিতাবটি সিরিয়াবাসীদের আলিম আব্দুর রহমান ইবন আমর আল-আওযায়ি-এর হস্তগত হয়। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, 'এটি কার কিতাব?' তাঁকে বলা হলো, 'ইরাকি মুহাম্মদের'। তিনি বললেন, 'ইরাকবাসীদের এই বিষয়ে সংকলন (تصنيف) করার কী প্রয়োজন? তাঁদের তো সিরাত (السير) এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণের যুদ্ধাভিযান (مغازي) সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই; কারণ এগুলো তো সিরিয়া ও হিজাযের দিক থেকেই সংঘটিত হয়েছিল, ইরাকের দিক থেকে নয়—যেহেতু ইরাক পরে বিজিত হয়েছে।' এই সংবাদ ইমাম মুহাম্মদের কাছে পৌঁছলে তিনি অত্যন্ত ক্রুদ্ধ হন এবং নিবিষ্টচিত্তে এই কিতাবটি সংকলন করেন। বর্ণিত আছে যে, যখন আল-আওযায়ি এই কিতাবটি দেখলেন, তখন তিনি বললেন, 'যদি এতে বর্ণিত হাদিসসমূহ না থাকত, তবে আমি বলতাম যে সে মনগড়া জ্ঞান তৈরি করছে; নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তাঁর চিন্তার মধ্যেই সঠিক সমাধানের পথ নির্ধারণ করে দিয়েছেন।' মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন এবং প্রত্যেক জ্ঞানীর উপরে জ্ঞানবান সত্তা বিদ্যমান।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২০)
كل ذي علم عليم ثم أمر محمد أن يكتب هذا في ستين دفترا وان يحمل على عجلة إلى باب الخليفة فاعجبه ذلك وعده من مفاخر زمانه (وفى) شرح الأشباه للبيرى قال علماؤنا إذا كانت الواقعة مختلفا فيها فالافضل والمختار للمجتهد أن ينظر بالدلائل وينظر إلى الراجح عنده والمقلد يأخذ بالتصنيف الأخير وهو السير إلا أن يختار المشايخ المتأخرون خلافه فيجب العمل به ولو كان قول زفر
ويجمع الست كتاب الكافي
… للحاكم الشهيد فهو الكافي
اقوي شروحه الذى كالشمس (*) مبسوط شمس الأمة السرخسى
معتمد النقول ليس يعمل
… بخلفه وليس عنه يعدل
قال في فتح القدير وغيره ان كتاب الكافى هو جمع كلام محمد في كتبه الست التي هي كتب ظاهر الرواية انتهى (وفي) شرح الأشباه للعلامة إبراهيم البيرى أعلم أن من كتب مسائل الاصول كتاب الكافي للحاكم الشهيد وهو كتاب معتمد في نقل المذهب شرحه جماعة من المشايخ منهم شمس الأئمة السرخسى وهو المشهور بمبسوط السرخسي انتهى (قال) الشيخ إسماعيل النابلسي قال العلامة الطرسوسى مبسوط السرخسى لا يعمل بما يخالفه ولا يركن إلا إليه ولا يفتى ولا يعول إلا عليه انتهى (وذكر) التميمي في طبقاته اشعارا كثيرة في مدحه منها
ما انشده لبعضهم
عليك بمبسوط السرخسي أنه
… هو البحر والدر الفريد مسائله
ولا تعتمد إلا عليه فإنه
… يجاب باعطاء الرغائب سائله
(قال) العلامة الشيخ هبة الله البعلى في شرحه على الأشباه المبسوط للإمام الكبير محمد بن محمد بن أبي سهل السرخسى أحد الأئمة الكبار المتكلم الفقيه الأصولى لزم شمس الأئمة عبد العزيز الحلوانى وتخرج به حتى صار أنظر أهل زمانه واخذ بالتصنيف واملى المبسوط نحو خمسة عشر مجلدا وهو في السجن باوز جند بكلمة كان فيها
--------------------------------------------
প্রত্যেক জ্ঞানীর ঊর্ধ্বে একজন মহাজ্ঞানী রয়েছেন। অতঃপর মুহাম্মদ নির্দেশ দিলেন যে এটি ষাটটি দপ্তরে লিপিবদ্ধ করা হোক এবং চাকাযুক্ত বাহনে করে খলিফার দরবারে নিয়ে যাওয়া হোক। তিনি এতে অত্যন্ত মুগ্ধ হলেন এবং একে তাঁর সময়ের অন্যতম গৌরবময় কাজ হিসেবে গণ্য করলেন। আল-বিরি-র 'শারহুল আশবাহ'-এ বর্ণিত আছে যে, আমাদের উলামায়ে কেরাম বলেছেন—যদি কোনো বিষয়ের ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকে, তবে মুজতাহিদ (مجتهد)-এর জন্য উত্তম ও মনোনীত পদ্ধতি হলো দলীলসমূহ পর্যালোচনা করা এবং তাঁর নিকট যা অগ্রগণ্য (راجح) তা পর্যবেক্ষণ করা। আর মুকাল্লিদ (مقلদ) সর্বশেষ সংকলন অর্থাৎ 'আস-সিয়ার' গ্রহণ করবেন; তবে যদি পরবর্তী মাশায়েখগণ এর বিপরীতে অন্য কিছু পছন্দ করেন, তবে সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব হবে, এমনকি তা ইমাম যুফারের উক্তি হলেও।
আর হাকিম আশ-শাহিদের 'আল-কাফি' কিতাবটি ছয়টি কিতাবকে একত্রিত করেছে
… আর সেটিই হলো 'আল-কাফি'।
এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের মধ্যে সর্বাধিক শক্তিশালী হচ্ছে সেটি যা সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল (*) তা হলো শামসুল উম্মাহ আস-সারাকসির 'মাবসুত'।
উদ্ধৃতি বর্ণনার ক্ষেত্রে এটি নির্ভরযোগ্য (معتمد); এর বিরুদ্ধাচরণ করে
… আমল করা হয় না এবং এটি থেকে বিমুখ হওয়া যায় না।
'ফাতহুল কাদির' এবং অন্যান্য গ্রন্থে বলা হয়েছে যে, 'আল-কাফি' কিতাবটি হলো ইমাম মুহাম্মদের ছয়টি কিতাবের সংকলন যা 'জাহিরুর রিওয়ায়াহ' (ظاهر الرواية) নামে পরিচিত। (সমাপ্ত) আল্লামা ইব্রাহিম আল-বিরি-র 'শারহুল আশবাহ'-এ বর্ণিত আছে যে—জেনে রাখুন, মূলনীতি সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের (مسائل الأصول) অন্যতম কিতাব হলো হাকিম আশ-শাহিদের 'আল-কাফি'। এটি মাজহাব বর্ণনার ক্ষেত্রে একটি নির্ভরযোগ্য (معتمد) কিতাব। একদল মাশায়েখ এর ব্যাখ্যা লিখেছেন, তাঁদের মধ্যে শামসুল আইম্মাহ আস-সারাকসিও রয়েছেন এবং এটি 'মাবসুতে সারাকসি' নামে প্রসিদ্ধ। (সমাপ্ত) শেখ ইসমাইল আন-নাবুলুসি বলেছেন, আল্লামা তারসুসি বলেছেন—'মাবসুতে সারাকসি'-র খেলাফ কোনো কিছুর ওপর আমল করা হয় না, এটি ব্যতীত অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করা হয় না, এবং এটি ছাড়া অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে ফতোয়া প্রদান বা ভরসা করা হয় না। (সমাপ্ত) আত-তামিমি তাঁর 'তাবাকাত' গ্রন্থে এর প্রশংসায় অনেক কবিতা উল্লেখ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে—
কোনো একজন কবির কবিতা:
তোমার কর্তব্য হলো 'মাবসুতে সারাকসি'কে আঁকড়ে ধরা; নিশ্চয়ই এটি
… এক বিশাল সমুদ্র এবং এর মাসআলাসমূহ হলো অনন্য মুক্তা।
তুমি এটি ছাড়া অন্য কিছুর ওপর নির্ভর করো না; কেননা
… এটি যাঞ্চাকারীর কাঙ্ক্ষিত চাহিদা পূরণের মাধ্যমে উত্তর দিয়ে থাকে।
আল্লামা শেখ হিবাতুল্লাহ আল-বালি তাঁর 'শারহুল আশবাহ'-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন—'আল-মাবসুত' কিতাবটি মহান ইমাম মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবি সাহল আস-সারাকসির রচনা। তিনি মহান ইমামদের অন্যতম, একজন কালামশাস্ত্রবিদ (متكلم), ফকিহ (فقيه) এবং উসুলবিদ (أصولي)। তিনি শামসুল আইম্মাহ আব্দুল আজিজ আল-হালওয়ানির সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তাঁর কাছে শিক্ষা সমাপ্ত করেন, এমনকি তিনি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ তাত্ত্বিক গবেষক হয়ে ওঠেন। তিনি গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করেন এবং উজকান্দে জেলখানায় বন্দি থাকা অবস্থায় 'আল-মাবসুত' কিতাবটির প্রায় পনের খণ্ড মুখে মুখে বলে লিখিয়েছিলেন (ইমলা করেছিলেন), সেখানে তিনি একটি কথার কারণে বন্দি ছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২১)
من الناصحين توفى سنة اربعمائة وتسعين * وللحنفية مبسوطات كثيرة منها لابي يوسف ولمحمد ويسمى مبسوطه بالأصل ومبسوط الجرجاني ولخواهرزاده ولشمس الأئمة الحلوانى ولابي اليسر البزدوى ولاخيه على البزدوى وللسيد ناصر الدين السمرقندي ولابي الليث نصر بن محمد * وحيث اطلق المبسوط فالمراد به مبسوط السرخسي هذا وهو شرح الكافى والكافى هذا هو كافى الحاكم الشهيد العالم الكبير محمد بن محمد بن أحمد بن عبد الله ولى قضاء بخارى ثم ولاه الامير المجيد صاحب خراسان وزارته سمع الحديث من كثيرين وجمع كتب محمد بن الحسن في مختصره هذا ذكره الذهبي وأثنى عليه * وقال الحاكم في تاريخ نيسابور ما رأيت في جملة من كتبت عنهم من أصحاب أبي حنيفة احفظ للحديث واهدى برسومه وافهم له منه قتل ساجدا في ربيع الآخر سنة أربع وثلاثين وثلثمائة (قلت) وللحاكم الشهيد المختصر والمنتقى والإشارات وغيرها وقول السرخسي فرأيت الصواب في تأليف شرح المختصر لا يدل على أن مبسوط السرخسى شرح المختصر لا شرح الكافي كما توهمه الخير الرملى في حاشية الأشباه فإن الكافى مختصر أيضًا لانه اختصر فيه كتب ظاهر الرواية كما علت وقد أكثر النقل في غاية البيان عن الكافى بقوله قال الحاكم الشهيد في مختصره المسمى بالكافي والله تعالى أعلم
واعلم بان عن أبي حنيفه
… جاءت روايات غدت منيفه
اختار منها بعضها والباقى
… يختار منه سائر الرفاق
فلم يكن لغيره جواب
… كما عليه اقسم الاصحاب
اعلم بان المنقول عن عامة العلماء في كتب الاصول أنه لا يصح في مسئلة المجتهد قولان للتناقض فإن عرف المتأخر منهما تعين كون ذلك رجوعا والا وجب ترجيح المجتهد بعده بشهادة قلبه كما في بعض كتب الحنفية المشهورة وفي بعضها أنه أن لم يعرف تاريخ فإن نقل في أحد القولين عنه ما يقويه فهو الصحيح عنده والا فان وجد متبع بلغ الاجتهاد في المذهب رجح بما مر من المرجحات أن وجد والا يعمل بايهما شاء بشهادة قلبه وإن كان عاميا اتبع فتوى المفتى فيه الأتقى الأعلم وإن كان متفقها تبع المتأخرين وعمل بما هو اصوب واحوط عنده كذا في التحرير للمحقق ابن الهمام (واعلم) أن اختلاف الروايتين ليس من باب اختلاف القولين لأن القولين نص المجتهد عليهما بخلاف الروايتين فالاختلاف في القولين من جهة المنقول عنه لا الناقل والاختلاف في الروايتين بالعكس كما ذكره المحقق ابن امير حاج
তিনি নসিহতকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ৪৯০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। হানাফি মাজহাবের অনেক 'মাবসুত' (বিস্তারিত গ্রন্থ) রয়েছে, যার মধ্যে আবু ইউসুফ এবং মুহাম্মাদের 'মাবসুত' অন্যতম। মুহাম্মাদের মাবসুতকে 'আল-আসল' বলা হয়। এছাড়া আল-জোরজানি, খাওয়াহেরজাদা, শামসুল আইম্মাহ আল-হালওয়ানি, আবুল ইউসর আল-বাজদাবি, তার ভাই আলী আল-বাজদাবি, সায়্যিদ নাসিরুদ্দিন আস-সামারকান্দি এবং আবুল লাইস নাসর ইবনে মুহাম্মাদের 'মাবসুত' গ্রন্থসমূহ উল্লেখযোগ্য। যখন সাধারণভাবে 'মাবসুত' শব্দটি ব্যবহার করা হয়, তখন এর দ্বারা আস-সারাকসির 'মাবসুত' উদ্দেশ্য হয়। এটি মূলত 'আল-কাফি' গ্রন্থের ব্যাখ্যা। এই 'আল-কাফি' হলো মহান আলেম আল-হাকিম আল-শহীদ মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে আব্দুল্লাহর কিতাব। তিনি বুখারার বিচারক ছিলেন, অতঃপর খোরাসানের অধিপতি আল-আমির আল-মাজিদ তাকে উজির নিযুক্ত করেন। তিনি অনেকের নিকট থেকে হাদিস শ্রবণ (سمع الحديث) করেছেন এবং তার এই সংক্ষিপ্ত গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে হাসানের কিতাবসমূহ সংকলন করেছেন। আয-যাহাবি এটি উল্লেখ করেছেন এবং তার প্রশংসা করেছেন। আল-হাকিম 'তারিখে নিসাবুর'-এ বলেছেন: আমি আবু হানিফার অনুসারীদের মধ্যে যাদের নিকট থেকে লিখেছি, তাদের মধ্যে হাদিস সংরক্ষণে অধিক পারদর্শী (احفظ), হাদিসের রীতিনীতি সম্পর্কে অধিক অভিজ্ঞ এবং অধিক সমঝদার তার চেয়ে কাউকে দেখিনি। ৩৩৪ হিজরির রবিউল আখের মাসে সিজদারত অবস্থায় তিনি শহীদ হন। (আমি বলছি) আল-হাকিম আল-শহীদের 'আল-মুখতাসার', 'আল-মুনতাকা', 'আল-ইশারাত' সহ আরও অনেক কিতাব রয়েছে। আর আস-সারাকসির উক্তি—'আমি আল-মুখতাসারের ব্যাখ্যা রচনার সিদ্ধান্ত সঠিক মনে করেছি'—এটি প্রমাণ করে না যে সারাকসির 'মাবসুত' মূলত 'আল-মুখতাসার'-এর ব্যাখ্যা, 'আল-কাফি'-এর ব্যাখ্যা নয়; যেমনটি খায়ের আল-রামলি তার 'হাশিয়াতুল আশবাহ'-এ ধারণা করেছেন। কারণ 'আল-কাফি'ও একটি সংক্ষিপ্ত গ্রন্থ, কেননা এতে জাহিরুর রিওয়ায়াহ-এর কিতাবগুলোকে সংক্ষেপ করা হয়েছে যেমনটি আপনি জেনেছেন। 'গায়াতুল বয়ান' গ্রন্থে 'আল-কাফি' থেকে প্রচুর উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে এই বলে যে, 'আল-হাকিম আল-শহীদ তার আল-কাফি নামক মুখতাসার গ্রন্থে বলেছেন'। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
জেনে রাখুন যে, আবু হানিফা থেকে … উচ্চমর্যাদার অনেক বর্ণনা (روايات) এসেছে।
তিনি এগুলোর মধ্য থেকে কিছু বেছে নিয়েছেন এবং অবশিষ্টগুলো … অন্য সহচরগণ পছন্দ করে নিয়েছেন।
সুতরাং অন্য কারো জন্য কোনো উত্তর বাকি থাকেনি … যেমনটি তার সহচরগণ শপথ করে বলেছেন।
জেনে রাখুন, উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থসমূহে সাধারণ আলেমদের থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, কোনো বিষয়ে একজন মুজতাহিদের দুটি (পরস্পর বিরোধী) মতামত (قولان) থাকা সঠিক (صحيح) নয়, কারণ এতে বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়। যদি সেই দুটি মতের মধ্যে পরবর্তী সময়ের মতটি জানা যায়, তবে সেটিই প্রত্যাবর্তন হিসেবে নির্দিষ্ট হবে। অন্যথায় পরবর্তী কোনো মুজতাহিদের হৃদয়ের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার (ترجيح) প্রদান করা ওয়াজিব (واجب) হবে, যেমনটি হানাফিদের কিছু প্রসিদ্ধ কিতাবে রয়েছে। কোনো কোনো কিতাবে আবার বর্ণিত হয়েছে যে, যদি ইতিহাস জানা না যায় এবং দুই মতের কোনো একটির সপক্ষে এমন কিছু পাওয়া যায় যা তাকে শক্তিশালী করে, তবে সেটিই তার নিকট সঠিক (صحيح) বলে গণ্য হবে। অন্যথায় যদি মাজহাবের ভেতরে ইজতিহাদের স্তরে পৌঁছানো কোনো অনুসারী পাওয়া যায়, তবে তিনি উল্লিখিত অগ্রাধিকারের (ترجيح) উপায়গুলোর মাধ্যমে প্রাধান্য দেবেন। আর তাও যদি না পাওয়া যায়, তবে তিনি নিজের হৃদয়ের সাক্ষ্য অনুযায়ী যেটি ইচ্ছা আমল করবেন। আর তিনি যদি সাধারণ মানুষ হন, তবে অধিকতর পরহেজগার ও আলেম মুফতির ফতোয়া অনুসরণ করবেন। আর যদি ফিকহ শাস্ত্রের শিক্ষার্থী হন, তবে পরবর্তীদের অনুসরণ করবেন এবং তার নিকট যা অধিক সঠিক ও সতর্কতামূলক মনে হয় সে অনুযায়ী আমল করবেন। মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম এর 'আত-তাহরির' গ্রন্থে এভাবেই বর্ণিত হয়েছে। (জেনে রাখুন) দুই বর্ণনার (روايتين) মতভেদ আর দুই মতামতের (قولين) মতভেদ এক নয়। কারণ দুটি মতামত (قولين) হলো মুজতাহিদের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বক্তব্য, যা দুটি বর্ণনার (روايتين) ক্ষেত্রে ভিন্ন। সুতরাং দুটি মতামতের ক্ষেত্রে মতভেদ হয় যার থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তার দিক থেকে, বর্ণনাকারীর দিক থেকে নয়। আর দুই বর্ণনার ক্ষেত্রে মতভেদ হয় এর ঠিক উল্টো, যেমনটি মুহাক্কিক ইবনে আমির হাজ উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২২)
في شرح التحرير (لكن) ذكر بعده عن الإمام أبي بكر البليغي في الدرر أن الاختلاف في الرواية عن أبي حنيفة من وجوه (منها) الغلط في السماع كأن يجيب بحرف النفى إذا سئل عن حادثة ويقول لا يجوز فيشتبه على الراوى فينقل ما سمع (ومنها) أن يكون له قول قد رجع عنه ويعلم بعض من يختلف إليه رجوعه فيروى الثانى والآخر لم يعلمه فيروى الأول (ومنها) أن يكون قال أحدهما على وجه القياس والآخر على وجه الاستحسان فيسمع كل واحد أحدهما فينقل كما سمع (ومنها) أن يكون الجواب في مسئلة من وجهين من جهة الحكم ومن جهة الاحتياط فينقل كل كما سمع انتهى (قلت) فعلى ما عدا الوجه الأول يكون الاختلاف في الروايتين من جهة المنقول عنه أيضًا لابتناء الاختلاف فيهما على اختلاف القولين المرويين فيكونان من باب واحد ويؤيده أن ناقل الروايتين قد يكون واحدًا فإن إحدى الروايتين قد تكون في كتاب من كتب الأصول والأخرى في كتب النوادر بل قد يكون كل منهما في كتب الاصول والكل من جمع واحد وهو الإمام محمد رحمه الله تعالى وهذا ينافي الوجه الأول ويبعد الوجه الثاني فالاظهر الاقتصار على الوجهين الاخيرين لكن لا في كل فرع اختلفت فيه الرواية بل بعض ذلك قد يكون لأحدهما والبعض الآخر للآخر لكن هذا إنما يتأتى فيما يصلح أن يكون فيه قياس واستحسان أو احتياط وغيره نعم يتأتى الوجهان الاولان فيما إذا اختلف الراوى (وقد) يقال أن من وجوه الاختلاف أيضًا تردد المجتهد في الحكم لتعارض الادلة عنده بلا مرجح أو لاختلاف رأيه في مدلول الدليل الواحد فإن الدليل قد يكون محتملًا لوجهين أو أكثر فيبنى على كل واحد جوابا ثم قد يترجح عنده أحدهما فينسب إليه ولهذا تراهم يقولون قال أبو حنيفة كذا وفي رواية عنه كذا وقد لا يترجح عنده أحدهما فيستوى رأيه فيهما ولذا تراهم يحكون عنه في مسئلة القولين على وجه يفيد تساويهما عنده فيقولون وفي المسئلة عنه روايتان أو قولان وقد قدمنا عن الإمام القرافي أنه لا يحل الحكم والافتاء بغير الراجح لمجتهد أو مقلد إلا إذا تعارضت الأدلة عند المجتهد وعجز عن الترجيح أي فإن له الحكم بايهما شاء لتساويهما عنده وعلى هذا فيصح نسبة كل من القولين إليه لا كما يقوله بعض الاصوليين من أنه لا ينسب إليه شيء منهما وما يقوله بعضهم من اعتقاد نسبة أحدهما إليه لأن رجوعه عن الآخر غير معين اذ الفرض تساويهما في رأيه وعدم ترجح أحدهما على الآخر نعم إذا ترجح عنده أحدهما مع عدم اعراضه عن الآخر ورجوعه عنه ينسب إليه الراجح عنده ويذكر الثاني رواية
শারহুত তাহরির গ্রন্থে (কিন্তু) এর পরে ইমাম আবু বকর আল-বালিগি থেকে আদ-দুরার গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আবু হানিফা থেকে বর্ণিত বর্ণনার (رواية) পার্থক্যের কয়েকটি কারণ রয়েছে। (তার মধ্যে একটি হলো) শোনার ক্ষেত্রে ভুল; যেমন- কোনো ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি না-বোধক শব্দে উত্তর দিলেন এবং বললেন, "জায়েজ নেই", ফলে বর্ণনাকারীর (راوي) কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট হয়ে গেল এবং তিনি যা শুনেছেন তা-ই বর্ণনা (رواية) করলেন। (আরেকটি কারণ হলো) তাঁর এমন কোনো মত থাকতে পারে যা থেকে তিনি পরবর্তীতে ফিরে এসেছেন এবং তাঁর কাছে যাতায়াতকারী কেউ কেউ তাঁর ফিরে আসার বিষয়টি জানতে পারেন, ফলে তিনি দ্বিতীয় মতটি বর্ণনা (رواية) করেন; কিন্তু অন্যজন তা জানতে না পেরে প্রথম মতটিই বর্ণনা (رواية) করেন। (আরেকটি কারণ হলো) তিনি একটি মত কিয়াস অনুযায়ী এবং অন্যটি ইসতিহসান অনুযায়ী প্রদান করেছেন, ফলে প্রত্যেকেই একটি করে মত শুনেছেন এবং যা শুনেছেন তা-ই বর্ণনা করেছেন। (আরেকটি কারণ হলো) কোনো মাসআলার উত্তর দুই দিক থেকে হতে পারে—হুকুমের দিক থেকে এবং সতর্কতার দিক থেকে, ফলে প্রত্যেকে যা শুনেছেন তা-ই বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত।
(আমি বলি) প্রথম কারণটি ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে দুই বর্ণনার (رواية) মধ্যে পার্থক্য খোদ যাঁর থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে তাঁর পক্ষ থেকেও হতে পারে; কারণ এই পার্থক্যটি বর্ণিত (مروي) দুটি মতের পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে, তাই এগুলো একই পর্যায়ের। এর সপক্ষে যুক্তি হলো, দুটি বর্ণনার (رواية) বর্ণনাকারী (راوي) অনেক সময় একজনই হয়ে থাকেন। কারণ একটি বর্ণনা (رواية) কুতুবুল উসুল এর অন্তর্ভুক্ত কোনো কিতাবে থাকতে পারে এবং অন্যটি কুতুবুন নাওয়াদির-এ থাকতে পারে। এমনকি দুটিই কুতুবুল উসুল এর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে এবং সবগুলোই একজন ব্যক্তির সংকলন হতে পারে, আর তিনি হলেন ইমাম মুহাম্মদ (রাহিমাহুল্লাহ)। এটি প্রথম কারণটিকে নাকচ করে এবং দ্বিতীয় কারণটিকেও দূরবর্তী করে দেয়। সুতরাং অধিকতর স্পষ্ট মত হলো শেষোক্ত দুটি কারণের ওপর সীমাবদ্ধ থাকা। তবে যেসব শাখাগত মাসআলায় বর্ণনার (رواية) পার্থক্য রয়েছে তার সবগুলোতে এমন নয়; বরং কোনো ক্ষেত্রে একটি কারণ থাকতে পারে আবার অন্য ক্ষেত্রে অন্যটি। কিন্তু এটি কেবল সেই সব মাসআলার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যেখানে কিয়াস, ইসতিহসান বা সতর্কতা ইত্যাদি থাকার সম্ভাবনা থাকে। হ্যাঁ, বর্ণনাকারী (راوي) ভিন্ন হলে প্রথম দুটি কারণও প্রযোজ্য হতে পারে।
(কখনো) বলা হয় যে, মতপার্থক্যের আরেকটি কারণ হলো কোনো হুকুমের ক্ষেত্রে মুজতাহিদের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব; তাঁর কাছে কোনো অগ্রাধিকার দানকারী (مرجح) ছাড়াই দলীলসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেওয়ার কারণে অথবা একই দলীলের অর্থ বা মর্ম নিয়ে তাঁর মতামতের ভিন্নতার কারণে। কারণ একটি দলীল দুই বা ততোধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখতে পারে, ফলে তিনি প্রত্যেকটির ওপর ভিত্তি করে একটি করে উত্তর প্রদান করেন। এরপর কখনো তাঁর কাছে একটি মত অগ্রাধিকার পায় এবং সেটিই তাঁর দিকে নিসবত করা হয়। এই কারণেই আপনি দেখবেন ফকিহগণ বলেন: "আবু হানিফা এমন বলেছেন, তবে তাঁর থেকে বর্ণিত (رواية) অন্য একটি মতে এমন রয়েছে"। আবার কখনো তাঁর কাছে কোনোটিই অগ্রাধিকার পায় না, ফলে উভয় বিষয়ে তাঁর মতামত সমান থাকে। এ কারণেই দেখা যায় তারা কোনো মাসআলায় তাঁর থেকে দুটি মত এমনভাবে বর্ণনা করেন যা তাঁর নিকট উভয় মতের সমতা প্রকাশ করে। তারা বলেন: "এই মাসআলায় তাঁর থেকে দুটি বর্ণনা (رواية) বা দুটি মত রয়েছে"। আমরা ইতিপূর্বে ইমাম কারাফি থেকে উল্লেখ করেছি যে, কোনো মুজতাহিদ বা মুকাল্লিদের জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (راجح) মত ছাড়া অন্য কোনো মতে ফয়সালা বা ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়; যদি না মুজতাহিদের নিকট দলীলসমূহ সাংঘর্ষিক হয় এবং তিনি অগ্রাধিকার প্রদানে (ترجيح) অক্ষম হন। অর্থাৎ, এমতাবস্থায় তিনি যে কোনো একটি অনুযায়ী ফয়সালা দিতে পারেন কারণ তাঁর নিকট উভয়টি সমান। এই ভিত্তিতে উভয় মতই তাঁর দিকে নিসবত করা সঠিক হবে। এটি সেই সব উসুলবিদদের মতের পরিপন্থী যারা বলেন যে, কোনোটিই তাঁর দিকে নিসবত করা যাবে না, কিংবা যারা মনে করেন কেবল একটিই তাঁর দিকে নিসবত করা হবে; কারণ অন্যটি থেকে তাঁর ফিরে আসার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট নয়, যেহেতু ধরে নেওয়া হয়েছে যে তাঁর মতে উভয়টি সমান এবং একটির ওপর অন্যটির কোনো অগ্রাধিকার নেই। হ্যাঁ, যদি তাঁর নিকট একটি মত অগ্রাধিকার পায় এবং তিনি অন্যটি থেকে বিমুখ না হন বা তা থেকে ফিরে না আসেন, তবে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত (راجح) মতটিই তাঁর দিকে নিসবত করা হবে এবং দ্বিতীয়টি বর্ণনা (رواية) হিসেবে উল্লেখ করা হবে।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২৩)
عنه اما لو اعرض عن الآخر بالكلية لم يبق قولا له بل يكون قوله هو الراجح فقط لكن لا يرتفع الخلاف في المسئلة بعد الرجوع كما قاله بعض الشافعية وايده بعضهم بان أهل عصر إذا اجمعوا على قول بعد اختلافهم فقد حكى الاصوليون قولين في ارتفاع الخلاف السابق فما لم يقع فيه اجماع أولى (لكن) ما ذكر في كتب الاصول عندنا من أنه لا يمكن أن يكون للمجهتد قولان كما مر ينافي ذلك لانه مبنى فيما يظهر على ما ذكروا في تعارض الادلة أنه إذا وقع التعارض بين آيتين يصار إلى الحديث فإن تعارض فالى أقوال الصحابة فإن تعارضت فالى القياس فإن تعارض قياسان ولا ترجيح فإنه يتحرى فيهما ويعمل بشهادة قلبه فإذا عمل بأحدهما ليس له العمل بالآخر إلا بدليل فوق التحرى قالوا وقال الشافعى يعمل بايهما شاء من غير تحر ولهذا صار له في المسئلة قولان وأكثر واما الروايتان عن أصحابنا في مسئلة واحدة فإنما كانتا في وقتين فاحداهما صحيحة دون الأخرى لكن لم تعرف المتأخرة منهما انتهى وعلى هذا فما يقال فيه عن الإمام روايتان فلعدم معرفة الأخير وما يقال فيه وفي رواية عنه كذا اما لعلمهم بأنها قوله الأول أو لكون هذه الرواية رويت عنه في غير كتب الأصول وهذا أقرب لكن لا يخفى أن ما ذكروه في بحث تعارض الادلة مشكل لانه يلزم منه أن يكون ما فيه روايتان عن الإمام لا يجوز فيه العمل بواحدة منهما لعدم العلم بالصحيحة من الباطلة منهما وانه لا ينسب إليه شيء منهما كما مر عن بعض الأصوليين مع أن ذلك واقع في مسائل لا تحصى ونراهم يرجحون إحدى الروايتين على الأخرى وينسبونها إليه فالذي يظهر ما مر عن الإمام البليغي من بيان تعدد الاوجه في اختلاف الرواية عن الإمام مع زيادة ما ذكرناه من تردده في الحكمين واحتمال كل منهما في رأيه مع عدم مرجح عنده لأحدهما من دليل أو تحر أو غيره فتأمل (ثم) لا يخفى أن هذا الوجه الذي قلناه أكثر اطرادا من الاوجه الأربعة المارة في اختلاف الروايتين لشموله ما فيه استحسان أو احتياط وغيره (إذا تقرر ذلك فاعلم) أن الإمام أبا حنيفة رحمه الله تعالى من شدة احتياطه وورعه وعلمه بإن الاختلاف من آثار الرجة قال لأصحابه ان توجه لكم دليل فقولوا به فكان كل يأخذ برواية عنه ويرجحها كما حكاه في الدر المختار وفي الولوالجية من كتاب الجنايات قال أبو يوسف ما قلت قولا خالفت فيه أبا حنيفة إلا قولا قد كان قاله وروى عن زفر انه قال ما خالفت أبا حنيفة في شيء إلا قد قاله ثم رجع عنه فهذا إشارة إلى انهم ما سلكوا طريق الخلاف بل قالوا ما قالوا عن اجتهاد ورأى اتباعا لما قاله استاذهم أبو حنيفة انتهى (وفى) آخر الحاوى القدسي
তাঁর পক্ষ থেকে বর্ণিত; পক্ষান্তরে তিনি যদি অপর মতটি থেকে সম্পূর্ণরূপে বিমুখ হন, তবে সেটি আর তাঁর বক্তব্য হিসেবে অবশিষ্ট থাকে না, বরং তাঁর বক্তব্য হয় কেবল অগ্রগণ্য (راجح) মতটি। তবে প্রত্যাবর্তনের পর উক্ত মাসআলায় মতপার্থক্য দূরীভূত হয় না, যেমনটি কোনো কোনো শাফিঈ আলিম বলেছেন। তাঁদের কেউ কেউ একে সমর্থন করে যুক্তি দিয়েছেন যে, এক যুগের অধিবাসীরা যদি মতপার্থক্যের পর কোনো একটি বক্তব্যের ওপর ঐক্যমতে (إجماع) পৌঁছান, তবে পূর্ববর্তী মতভেদ দূর হওয়া প্রসঙ্গে উসূলবিদ (أصولي) গণ দুটি মত বর্ণনা করেছেন। সুতরাং যে বিষয়ে ঐক্যমত (إجماع) প্রতিষ্ঠিত হয়নি, সেখানে মতভেদ থেকে যাওয়া অধিক যুক্তিযুক্ত।
(তবে) আমাদের উসূল শাস্ত্রের গ্রন্থাবলিতে যা উল্লেখ করা হয়েছে যে, একজন মুজতাহিদের (مجتهد) পক্ষে দুটি বক্তব্য থাকা সম্ভব নয়—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—তা উক্ত বিষয়টির পরিপন্থী। কারণ এটি দৃশ্যত দলীলসমূহের বৈপরীত্য (تعارض الأدلة) অধ্যায়ে তাঁদের উল্লিখিত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে রচিত যে, যদি দুটি আয়াতের মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) পরিলক্ষিত হয়, তবে হাদিসের দিকে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। যদি হাদিসের ক্ষেত্রেও বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দেয়, তবে সাহাবিগণের বক্তব্যের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। যদি সেগুলোতেও বৈপরীত্য (تعارض) থাকে, তবে কিয়াসের (قياس) দিকে যেতে হবে। আর যদি দুটি কিয়াসের (قياس) মধ্যে বৈপরীত্য (تعارض) দেখা দেয় এবং কোনোটিই অগ্রাধিকারযোগ্য না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে উভয়ের মধ্যে অনুসন্ধান (تحري) করতে হবে এবং হৃদয়ের সাক্ষ্য অনুযায়ী আমল করতে হবে। যখন তিনি একটির ওপর আমল করবেন, তখন অনুসন্ধানের (تحري) ঊর্ধ্বে কোনো দলিল (دليل) ছাড়া অপরটির ওপর আমল করার সুযোগ থাকবে না। তাঁরা বলেন, ইমাম শাফিঈ রহ. বলেছেন যে, কোনো প্রকার অনুসন্ধান (تحري) ছাড়াই তাঁর যেটি ইচ্ছা সেটির ওপর আমল করতে পারবেন; আর এই কারণেই একটি মাসআলায় তাঁর দুটি বা ততোধিক বক্তব্য তৈরি হয়েছে।
আর আমাদের ইমামদের থেকে একটি মাসআলায় যে দুটি বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায়, তা মূলত দুটি ভিন্ন সময়ে ছিল। ফলে তার একটি সহিহ (صحيح) এবং অন্যটি নয়, কিন্তু তাঁদের মধ্যে কোনটি পরবর্তী সময়ের বর্ণনা (رواية) তা জানা যায়নি (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। এর ওপর ভিত্তি করে ইমামের পক্ষ থেকে যে বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) থাকার কথা বলা হয়, তা মূলত পরবর্তীটি জানা না থাকার কারণে। আর যে ক্ষেত্রে বলা হয় "তাঁর থেকে একটি বর্ণনা (رواية) এমন", তা হয় এজন্য যে তাঁরা জানেন এটি তাঁর পূর্ববর্তী বক্তব্য, অথবা এই বর্ণনাটি (رواية) উসূলের মূল কিতাবসমূহ ব্যতিরেকে অন্য সূত্রে তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে—আর এটিই অধিকতর নিকটবর্তী মত। তবে এটি অস্পষ্ট নয় যে, দলীলসমূহের বৈপরীত্য (تعارض الأدلة) সংক্রান্ত আলোচনায় তাঁরা যা উল্লেখ করেছেন তা সমস্যাসংকুল। কারণ এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় যে, ইমামের পক্ষ থেকে যে বিষয়ে দুটি বর্ণনা (رواية) রয়েছে, সেগুলোর কোনোটির ওপরই আমল করা জায়েজ হবে না; যেহেতু সহিহ (صحيح) বর্ণনাটি বাতিল (باطل) বর্ণনা থেকে পৃথকভাবে চেনা যাচ্ছে না এবং কোনোটিকেই তাঁর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা যাবে না, যেমনটি কিছু উসূলবিদের পক্ষ থেকে পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
অথচ এটি অসংখ্য মাসআলার ক্ষেত্রে বাস্তব ঘটনা এবং আমরা দেখি যে তাঁরা বর্ণনাদ্বয়ের (رواية) একটিকে অপরটির ওপর প্রাধান্য দেন এবং সেটিকে ইমামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত করেন। সুতরাং যা স্পষ্ট হয় তা হলো ইমাম বালিগি রহ.-এর পক্ষ থেকে ইমামের বর্ণনার (رواية) ভিন্নতার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক বর্ণনার যে বিষয়টি অতিক্রান্ত হয়েছে সেটিই সঠিক। সাথে সাথে আমাদের উল্লিখিত এই বিষয়টিও যুক্ত হবে যে, ইমামের মাঝে দুটি হুকুমের ব্যাপারে দ্বিধা থাকা এবং তাঁর দৃষ্টিতে দলিল (دليل) বা অনুসন্ধান (تحري) অথবা অন্য কোনো অগ্রাধিকার প্রদানকারী বিষয় না থাকায় কোনোটিকে প্রাধান্য দিতে না পেরে উভয়টিরই সম্ভাবনা থাকা। সুতরাং বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করুন।
(অতঃপর) এটি অস্পষ্ট নয় যে, আমরা যে দিকটি উল্লেখ করলাম তা বর্ণনার (رواية) ভিন্নতার ক্ষেত্রে পূর্বে অতিক্রান্ত চারটি দিকের চেয়ে অধিকতর সুসংগত; কারণ এতে ইস্তਿਹসান (استحسان) বা সতর্কতা (احتياط) ইত্যাদি বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়। (যখন বিষয়টি সাব্যস্ত হলো তখন জেনে রাখুন) ইমাম আবু হানিফা রহ. তাঁর তীব্র সতর্কতা (احتياط), পরহেজগারি এবং মতভেদ যে করুণার নিদর্শন—এই জ্ঞানের কারণে তাঁর সাথীদের বলেছিলেন: "যদি তোমাদের নিকট কোনো দলিল (دليل) স্পষ্ট হয়, তবে তোমরা সেটিই গ্রহণ করবে।" ফলে তাঁদের প্রত্যেকেই তাঁর থেকে বর্ণিত কোনো না কোনো বর্ণনা (رواية) গ্রহণ করতেন এবং সেটিকে প্রাধান্য দিতেন, যেমনটি দুররুল মুখতার গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। এবং ওয়ালওয়ালিজিয়াহ গ্রন্থের কিতাবুল জিনায়াত-এ বর্ণিত হয়েছে, ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেন: "আমি এমন কোনো কথা বলিনি যাতে আবু হানিফা রহ.-এর বিরোধিতা করেছি, কেবল সেই কথাটি ছাড়া যা তিনি নিজেও কোনো এক সময় বলেছিলেন।" ইমাম জুফার রহ. থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "আমি কোনো বিষয়েই আবু হানিফা রহ.-এর বিরোধিতা করিনি, তবে এমন বিষয়ে যা তিনি বলেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা থেকে ফিরে এসেছিলেন।" সুতরাং এটি এই দিকে ইঙ্গিত করে যে, তাঁরা বিরোধিতার পথ অনুসরণ করেননি, বরং তাঁরা তাঁদের ইজতিহাদ (اجتهাদ) ও রায় (رأى) অনুযায়ী যা বলেছিলেন তা তাঁদের উস্তাদ আবু হানিফা রহ.-এর উক্তি অনুসরণের মাধ্যমেই বলেছিলেন। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আল-হাভি আল-কুডসি-এর শেষে...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وإذا اخذ بقول واحد منهم يعلم قطعا أنه يكون به آخذا بقول أبي حنيفة فإنه روى عن جميع أصحابه من الكبار كابي يوسف ومحمد وزفر والحسن انهم قالوا ما قلنا في مسئلة قولا إلا وهو روايتنا عن أبي حنيفة واقسموا عليه إيمانًا غلاظنا فلم يتحقق اذن في الفقه جواب ولا مذهب الاله كيف ما كان وما نسب إلى غيره الا بطريق المجاز للموافقة انتهى (فإن قلت) إذا رجع المجتهد عن قول لم يبق قولا له لانه صار كالحكم المنسوخ كما سيأتى وح فما قاله أصحابه مخالفين له فيه ليس مذهبه بل صارت أقوالهم مذاهب لهم فكيف تنسب إليه والحنفى إنما قلد أبا حنيفة ولذا نسب إليه دون غيره (قلت) قد كنت استشكلت ذلك واجبت عنه في حاشيتي رد المحتار على الدر المختار بان الإمام لما أمر أصحابه بان يأخذوا من اقواله بما يتجه لهم منها الدليل عليه صار ما قالوه قولا له لابتنائه على قواعده التي اسسها لهم فلم يكن مرجوعا عنه من كل وجه ونظير هذا ما نقله العلامة البيرى في أول شرحه على الاشباه عن شرح الهداية لابن الشحنة الكبير والد شارح الوهبانية وشيخ ابن الهمام ونصه إذا صح الحديث وكان على خلاف المذهب عمل بالحديث ويكون ذلك مذهبه ولا يخرج مقلده عن كونه حنفيا بالعمل به فقد صح عن أبي حنيفة أنه قال إذا صح الحديث فهو مذهبي وقد حكى ذلك الإمام ابن عبد البر عن أبي حنيفة وغيره من الأئمة انتهى ونقله أيضًا الإمام الشعراني عن الأئمة الأربعة (قلت) ولا يخفى ان ذلك لمن كان اهلا للنظر في النصوص ومعرفة محكمها من منسوخها فإذا نظر أهل المذهب في الدليل وعملوا به صح نسبته إلى المذهب لكونه صادرا بإذن صاحب المذهب اذ لا شك أنه لو علم بضعف دليله رجع عنه واتبع الدليل الاقوى ولذا رد المحقق ابن الهمام على المشايخ حيث افتوا بقول الامامين بأنه لا يعدل عن قول الإمام إلا لضعف دليله (واقول) أيضًا ينبغى تقييد ذلك بما إذا وافق قولا في المذهب اذ لم يأذنوا في الاجتهاد فيما خرج عن المذهب بالكلية مما اتفق عليه ائمتنا لان اجتهادهم اقوى من اجتهاده فالظاهر انهم رأوا دليلا ارجح مما رآه حتى لم يعملوا به ولهذا قال العلامة قاسم في حق شيخه خاتمة المحققين الكمال بن الهمام لا يعمل بابحاث شيخنا التي تخالف المذهب وقال في تصحيحه على القدورى قال الإمام العلامة الحسن بن منصور بن محمود الاوزجندى المعروف بقاضي خان في كتاب الفتاوى رسم المفتي في زماننا من أصحابنا إذا استفتى عن مسئلة ان كانت مروية عن أصحابنا في الروايات الظاهرة بلا خلاف بينهم فإنه يميل إليهم ويفتى بقولهم ولا يخالفهم برأيه وإن كان مجتهدا متقنا لان الظاهر أن يكون الحق مع أصحابنا ولا يعدوهم واجتهاده لا يبالغ اجتهادهم ولا ينظر إلى قول من خالفهم ولا تقبل حجته أيضًا
এবং যখন তাদের মধ্যে কোনো একজনের কথা গ্রহণ করা হয়, তখন নিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, এর মাধ্যমে ইমাম আবু হানিফার বক্তব্যই গ্রহণ করা হচ্ছে। কারণ তিনি তাঁর সকল বড় বড় ছাত্র যেমন—আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ, যুফার এবং হাসান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা বলেছেন: "আমরা কোনো মাসআলায় এমন কোনো কথা বলিনি যা ইমাম আবু হানিফা থেকে আমাদের করা বর্ণনা (رواية) নয়।" এবং তাঁরা এর ওপর অত্যন্ত কঠোর শপথ করেছেন। সুতরাং ফিকহ শাস্ত্রে কোনো উত্তর বা মাযহাব আবু হানিফা ছাড়া অন্য কারও হওয়া বাস্তবে প্রমাণিত নয়, তা যেমনই হোক না কেন। আর অন্য কারও দিকে যা কিছু সম্বন্ধ করা হয়েছে, তা কেবল সামঞ্জস্যের কারণে রূপক (مجاز) অর্থে। সমাপ্ত।
(যদি আপনি বলেন) যখন একজন মুজতাহিদ (مجتهد) কোনো বক্তব্য থেকে ফিরে আসেন, তখন তা আর তাঁর বক্তব্য থাকে না; কারণ তা রহিত (منسوخ) হুকুমের মতো হয়ে যায়, যেমনটি সামনে আসবে। এমতাবস্থায় তাঁর সাথীরা যা তাঁর বিরোধী হিসেবে বলেছেন, তা তাঁর মাযহাব নয়; বরং তাঁদের কথাগুলো তাঁদের নিজস্ব মাযহাব হিসেবে গণ্য হবে। তাহলে কেন তা তাঁর (আবু হানিফার) দিকে সম্বন্ধ করা হয়? অথচ হানাফী কেবল আবু হানিফারই অনুসরণ (تقليد) করেন এবং সে কারণেই তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করা হয়, অন্য কারও দিকে নয়।
(আমি বলব) আমি নিজেও এ নিয়ে সংশয়ে ছিলাম এবং আমার 'রদ্দুল মুহতার আলা আদ-দুররিল মুখতার' টীকায় এর উত্তর দিয়েছি যে, ইমাম যখন তাঁর সাথীদের নির্দেশ দিয়েছেন তাঁর বক্তব্যসমূহের মধ্য থেকে যেটির সপক্ষে দলিল (دليل) অধিক স্পষ্ট সেটিকে গ্রহণ করতে, তখন তাঁরা যা বলেছেন তা তাঁরই বক্তব্য হিসেবে গণ্য হবে। কারণ তা তাঁর প্রতিষ্ঠিত মূলনীতির (قواعد) ওপর ভিত্তি করেই দাঁড়িয়েছে। ফলে তা সব দিক থেকে বর্জিত বা ফিরে আসা বক্তব্য হিসেবে গণ্য হবে না। এর সদৃশ বিষয় আল্লামা বিরি তাঁর 'আল-আশবাহ' এর শারহ এর শুরুতে বর্ণনা করেছেন 'শারহুল হিদায়া' থেকে, যা ইবনে শাহনাহ আল-কাবিরের (যিনি ওহবানিয়্যাহ-র ব্যাখ্যাকারকের পিতা এবং ইবনুল হুমামের উস্তাদ) রচনা। তাঁর বক্তব্য হলো: "যখন কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয় এবং তা মাযহাবের পরিপন্থী হয়, তখন হাদিসের ওপর আমল করতে হবে এবং সেটিই হবে তাঁর মাযহাব। এর ওপর আমল করার দ্বারা অনুসরণকারী ব্যক্তি হানাফী হওয়া থেকে বের হয়ে যাবে না।"
নিশ্চয়ই আবু হানিফা থেকে সহিহ (صحيহ) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যখন হাদিস সহিহ (صحيহ) হবে, তখন সেটিই আমার মাযহাব।" ইমাম ইবনে আবদিল বার আবু হানিফা এবং অন্যান্য ইমামদের থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। সমাপ্ত। ইমাম শারানিও চার ইমাম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।
(আমি বলব) এটা গোপন নয় যে, এ বিষয়টি কেবল তাঁর জন্যই প্রযোজ্য যিনি মূল পাঠ (نصوص) পর্যালোচনার যোগ্য এবং কোনটি সুস্পষ্ট (محكم) আর কোনটি রহিত (منسوخ) সে সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন। যখন মাযহাবের বিজ্ঞ আলিমরা দলিল (دليل) পর্যবেক্ষণ করেন এবং সে অনুযায়ী আমল করেন, তখন মাযহাবের ইমামের অনুমতিক্রমেই তা নির্গত হওয়ায় সেটি মাযহাবের দিকে সম্বন্ধ করা সঠিক। কেননা এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইমাম যদি তাঁর দলিলের (دليل) দুর্বলতা (ضعف) লক্ষ্য করতেন, তবে তিনি অবশ্যই তা থেকে ফিরে আসতেন এবং শক্তিশালী দলিল (دليل) অনুসরণ করতেন। এ কারণেই মুহাক্কিক (محقق) ইবনুল হুমাম সেই মাশায়েখদের প্রতিবাদ করেছেন যারা দুই ইমামের বক্তব্যের ওপর ফতোয়া দিয়েছেন এই বলে যে, দলিলের (دليل) দুর্বলতা (ضعف) না থাকলে ইমামের বক্তব্য থেকে সরে আসা যাবে না।
(আমি আরও বলব) একে ঐ বিষয়ের সাথে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত যেখানে তা মাযহাবের কোনো একটি বক্তব্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। কেননা আমাদের ইমামগণ যে বিষয়ে একমত হয়েছেন তা থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁরা ইজতিহাদ (اجتهاد) করার অনুমতি দেননি। কারণ তাঁদের ইজতিহাদ (اجتهاد) পরবর্তী মুজতাহিদের ইজতিহাদের (اجتهاد) চেয়ে শক্তিশালী। আপাতদৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় যে, তাঁরা ঐ মুজতাহিদের দেখা দলিলের চেয়ে অধিকতর অগ্রগণ্য দলিল (دليل) দেখেছিলেন, যে কারণে তাঁরা সে অনুযায়ী আমল করেননি। এ কারণেই আল্লামা কাসিম তাঁর উস্তাদ খাতামুল মুহাক্কিকিন কামাল ইবনুল হুমাম সম্পর্কে বলেছেন: "মাযহাবের পরিপন্থী আমাদের উস্তাদের গবেষণাগুলোর ওপর আমল করা যাবে না।"
তিনি 'তাসহিহ আলা আল-কুদুরি'-তে বলেছেন: ইমাম আল্লামা হাসান ইবনে মানসুর ইবনে মাহমুদ আল-আউজজান্দি, যিনি কাজিখান নামে পরিচিত, তিনি তাঁর 'ফাতাওয়া' কিতাবের 'রাসমুল মুফতি' অধ্যায়ে বলেছেন: "আমাদের সময়ের সাথীদের মধ্যে কোনো মুফতির কাছে যখন কোনো মাসআলা সম্পর্কে ফতোয়া চাওয়া হয়, তখন সেটি যদি আমাদের ইমামদের থেকে কোনো মতপার্থক্য ছাড়াই জহিরুর রিওয়ায়াহ (روايات ظاهرة) হিসেবে বর্ণিত থাকে, তবে তিনি তাঁদের মতের দিকেই ঝুঁকে পড়বেন এবং তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী ফতোয়া দেবেন। তিনি নিজের মত দিয়ে তাঁদের বিরোধিতা করবেন না, যদিও তিনি একজন নিপুণ মুজতাহিদ (مجتهد) হন। কারণ এটাই স্বাভাবিক যে সত্য আমাদের ইমামদের সাথেই থাকবে এবং তাঁদের বাইরে যাবে না। আর তাঁর ইজতিহাদ (اجتهاد) তাঁদের ইজতিহাদের (اجتهاد) সমপর্যায়ে পৌঁছাবে না। তিনি তাঁদের বিরোধিতাকারীদের বক্তব্যের দিকেও ভ্রুক্ষেপ করবেন না এবং তাঁদের কোনো যুক্তিও (حجة) গ্রহণ করা হবে না।"
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২৫)
لأنهم عرفوا الأدلة وميزوا بين ما صح وثبت وبين عنده الخ ثم نقل نحوه عن شرح برهان الأئمة على ادب القضاء للخصاف (قلت) لكن ربما عدلوا عما اتفق عليه أئمتنا الضرورة ونحوها كما مر في مسئلة الاستئجار على تعليم القرآن ونحوه من الطاعات التي في ترك الاستئجار عليها ضياع الدين كما قررناه سابقا فح يجوز الافتاء بخلاف قولهم كما نذكره قريبا عن الحاوى القدسى وسيأتي بسطه أيضًا آخر الشرح عند الكلام على العرف (والحاصل) ان ما خالف فيه الاصحاب امامهم الاعظم لا يخرج عن مذهبه اذا رجحه المشايخ المعتبرون وكذا ما بناه المشايخ على العرف الحادث لتغير الزمان أو للضرورة ونحو ذلك لا يخرج عن مذهبه أيضًا لأن ما رجحوه لترجيح دليله عندهم ماذون به من جهة الإمام وكذا ما بنوه على تغير الزمان والضرورة باعتبار أنه لو كان حيا لقال بما قالوه لأن ما قالوه إنما هو مبنى على قواعده أيضًا فهو مقتضى مذهبه لكن ينبغى أن لا يقال قال أبو حنيفة كذا إلا فيما روى عنه صريحا وإنما يقال فيه مقتضى مذهب أبي حنيفة كذا كما قلنا ومثله تخريجات المشايخ بعض الأحكام من قواعد أو بالقياس على قوله ومنه قولهم وعلى قياس قوله بكذا يكون كذا فهذا كله لا يقال فيه قال أبو حنيفة نعم يصح أن يسمى مذهبه بمعنى أنه قول أهل مذهبه أو مقتضى مذهبه وعن هذا لما قال صاحب الدرر والغرر في كتاب القضاء إذا قضى القاضى في مجتهد فيه بخلاف مذهبه لا ينفذ قال أي أصل المذهب كالخنفى إذا حكم على مذهب الشافعي أو نحوه أو بالعكس واما إذا حكم الحنفى بمذهب أبي يوسف أو محمدا ونحوهما من أصحاب الإمام فليس حكما بخلاف رأيه انتهى والظاهر أن نسبة المسائل المخرجة إلى مذهبه أقرب من نسبة المسائل التى قال بها أبو يوسف أو محمد إليه لأن المخرجة مبنية على قواعده واصوله واما المسائل التى قال بها أبو يوسف ونحوه من أصحاب الإمام فكثير منها مبنى على قواعد لهم خالفوا فيها قواعد الإمام لأنهم لم يلتزموا قواعده كلها كما يعرفه من له معرفة بكتب الاصول نعم قد يقال إذا كانت اقوالهم روايات عنه على ما مر تكون تلك القواعد له أيضًا لابتناء تلك الأقوال عليها وعلى هذا أيضًا تكون نسبة التخريجات إلى مذهبه أقرب لابتنائها على قواعده التي رجحها وبنى اقواله عليها فإذا قضى القاضي بما صح منها نفذ قضاؤه كما ينفذ بما صح من أقوال الاصحاب فهذا ما ظهر لي تقريره في هذا الباب من فتح الملك الوهاب والله تعالى أعلم بالصواب واليه المرجع والمآب
وحيث لم يوجد له اختيار
… فقول يعقوب هو المختار
ثم محمد فقوله الحسن
… ثم زفر وابن زياد الحسن
وقيل بالتخيير في فتواه
… ان خالف الإمام صاحباه
وقيل من دليله اقوى رجح
… وذالمفت ذى اجتهاد الاصح
কেননা তাঁরা দলীলসমূহ জানতেন এবং তাঁর নিকট যা সহীহ (صح) ও প্রমাণিত (ثبت) হয়েছে এবং যা হয়নি—তার মধ্যে পার্থক্য করতে পারতেন। এরপর খাসসাফ-এর আদাবুল কাজী-র ওপর বুরহানুল আইম্মাহ-র শারহ (ব্যাখ্যা) থেকে অনুরূপ উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে। (আমি বলি) কিন্তু কখনো কখনো তাঁরা আমাদের ইমামগণের ঐক্যমত্য হতে প্রয়োজন বা আবশ্যকতা (ضرورة) ও অনুরূপ কারণে সরে গিয়েছেন, যেমনটি পূর্বে কুরআন শিক্ষা ও অনুরূপ আনুগত্যের কাজের ওপর পারিশ্রমিক গ্রহণের মাসআলায় অতিক্রান্ত হয়েছে, যেখানে পারিশ্রমিক না দিলে দ্বীন বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে; যেমনটি আমরা পূর্বে প্রতিষ্ঠিত করেছি। এমতাবস্থায় ইমামগণের বক্তব্যের বিপরীতে ফতোয়া দেওয়া জায়েজ, যা আমরা অচিরেই আল-হাভী আল-কুদ্সী থেকে উল্লেখ করব এবং শারহ-এর শেষে 'উরফ' বা প্রথা বিষয়ক আলোচনায় বিস্তারিত আসবে। (সারকথা) ইমামের ছাত্রগণ যে সকল বিষয়ে তাঁদের মহান ইমামের বিরোধিতা করেছেন, তা তাঁর মাযহাবের বহির্ভূত হবে না যদি নির্ভরযোগ্য মাশায়েখগণ তাকে প্রাধান্য (ترجيح) দেন। অনুরূপভাবে, সময়ের পরিবর্তন বা প্রয়োজনে (ضرورة) মাশায়েখগণ নতুন প্রথা বা উরফের ওপর যা কিছু ভিত্তি করেছেন, তাও তাঁর মাযহাবের বহির্ভূত হবে না। কারণ যে মতটিকে তাঁরা দলীলের সবলতার কারণে প্রাধান্য দিয়েছেন, তা ইমামের পক্ষ থেকে অনুমোদিত বলেই গণ্য হবে। অনুরূপভাবে, কাল পরিবর্তন ও প্রয়োজনের ওপর তাঁরা যা ভিত্তি করেছেন তার হুকুম এমন যে, ইমাম স্বয়ং জীবিত থাকলে তাঁরা যা বলেছেন তিনিও তাই বলতেন। কারণ তাঁদের বক্তব্যও ইমামের মূলনীতির ওপরই প্রতিষ্ঠিত, সুতরাং তা তাঁর মাযহাবেরই দাবি। তবে 'আবু হানিফা এমন বলেছেন'—একথা বলা সমীচীন হবে না, যতক্ষণ না তা তাঁর থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়। বরং এক্ষেত্রে বলতে হবে 'আবু হানিফার মাযহাবের দাবি হলো এটি', যেমনটি আমরা বলেছি। মাশায়েখগণ মূলনীতি থেকে বা ইমামের বক্তব্যের ওপর কিয়াস করে যে সকল বিধিবিধান উদ্ভাবন (تخريج) করেছেন, তাও এর অনুরূপ। এরই অন্তর্ভুক্ত হলো তাঁদের এই উক্তি যে, 'তাঁর বক্তব্যের কিয়াস অনুযায়ী এটি এমন হওয়া উচিত'। এই সবকিছুর ক্ষেত্রেই 'আবু হানিফা বলেছেন' বলা যাবে না। তবে একে তাঁর মাযহাব বলা সঠিক হবে এই অর্থে যে, এটি তাঁর মাযহাবের অনুসারীদের কথা বা তাঁর মাযহাবের দাবি। এই কারণেই যখন আদ-দুরার ওয়াল গুরার-এর লেখক বিচারকের অধ্যায়ে বলেছেন যে, যখন বিচারক কোনো ইজতিহাদলব্ধ বিষয়ে (مجتهد فيه) তাঁর মাযহাবের বিপরীতে ফয়সালা করেন, তখন তা কার্যকর হয় না; তখন তিনি ব্যাখ্যা করে বলেছেন যে, এর অর্থ হলো মাযহাবের মূল ভিত্তি; যেমন একজন হানাফী যদি শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ফয়সালা করেন। কিন্তু হানাফী বিচারক যদি আবু ইউসুফ বা মুহাম্মাদ বা ইমামের অন্য কোনো ছাত্রের মাযহাব অনুযায়ী ফয়সালা করেন, তবে তা ইমামের মতের বিরোধী ফয়সালা বলে গণ্য হবে না। প্রকাশ্য বিষয় হলো, উদ্ভাবিত মাসআলাগুলোকে ইমামের মাযহাবের দিকে নিসবত করা আবু ইউসুফ বা মুহাম্মাদ-এর ব্যক্তিগত মতগুলোকে নিসবত করার চেয়ে অধিকতর নিকটবর্তী। কারণ উদ্ভাবিত মাসআলাগুলো তাঁরই মূলনীতি ও উসুলের ওপর প্রতিষ্ঠিত। পক্ষান্তরে আবু ইউসুফ ও ইমামের অন্যান্য সাথীদের অনেক বক্তব্য এমন সব মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে প্রদান করা হয়েছে, যে ক্ষেত্রে তাঁরা ইমামের মূলনীতির বিরোধিতা করেছেন; কারণ তাঁরা সব ক্ষেত্রে ইমামের মূলনীতি অনুসরণে বাধ্য ছিলেন না, যা উসুলের কিতাব সম্পর্কে জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিরা জানেন। হ্যাঁ, একথা বলা যেতে পারে যে, যখন তাঁদের বক্তব্যগুলো ইমাম থেকে বর্ণিত বর্ণনা (روايات) হিসেবে গণ্য হয়, তখন সেই মূলনীতিগুলোও ইমামের বলেই গণ্য হবে যার ওপর ভিত্তি করে ঐ বক্তব্যগুলো প্রদান করা হয়েছে। এই দৃষ্টিতেও উদ্ভাবিত মাসআলাগুলোকে ইমামের মাযহাবের দিকে নিসবত করা বেশি যুক্তিযুক্ত, কারণ সেগুলো ইমামের সেই সকল মূলনীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত যা তিনি প্রাধান্য দিয়েছেন এবং যার ওপর নিজের বক্তব্যসমূহ নির্মাণ করেছেন। সুতরাং বিচারক যখন এর মধ্য থেকে যা সহীহ (صح) তার ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন, তবে তাঁর ফয়সালা কার্যকর হবে, যেমনটি ইমামের সাথীদের সহীহ (صح) বক্তব্যের ভিত্তিতে ফয়সালা করলে কার্যকর হয়। ফাতহুল মালিকিল ওয়াহহাব-এর এই অধ্যায়ে এটিই আমার নিকট উপস্থাপিত বিষয়। আল্লাহ তাআলাই সঠিক বিষয়টি ভালো জানেন এবং তাঁর দিকেই সবার প্রত্যাবর্তন।
আর যেখানে ইমামের কোনো ইখতিয়ার পাওয়া যাবে না
… তবে ইয়াকুব (আবু ইউসুফ)-এর বক্তব্যই মনোনীত।
এরপর মুহাম্মাদ, তাঁর বক্তব্যটি হাসান (الحسن)
… এরপর যুফার ও ইবনে যিয়াদ-এর বক্তব্য হাসান (الحسن)।
ইমামের সাথে যদি তাঁর দুই সাথী দ্বিমত করেন, তবে ফতোয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে পছন্দের অবকাশ রয়েছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
আবার বলা হয়েছে, যাঁর দলীল অধিক শক্তিশালী তাকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে
… আর মুফতি যদি ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্য হন, তবে এটিই বিশুদ্ধতম মত।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২৬)
قد علمت ما قررناه آنفا أن ما اتفق عليه أئمتنا لا يجوز لمجتهد في مذهبهم أن يعدل عنه برأيه لأن رأيهم أصح واشرت هنا إلى انهم إذا اختلفوا يقدم ما اختاره أبو حنيفة سواء وافقه أحد أصحابه اولا فإن لم يوجد له اختيار قدم ما اختاره يعقوب وهو اسم أبي يوسف أكبر أصحاب الإمام وعادة الإمام محمد انه يذكر أبا يوسف بكنيته إلا إذا ذكر معه أبا حنيفة فإنه يذكره باسمه العلم فيقول يعقوب عن أبي حنيفة وكان ذلك بوصية من أبي يوسف تأدبا مع شيخه أبي حنيفة رحمهم الله تعالى جميعا ورحمنا بهم وادام بهم النفع إلى يوم القيمة وحيث لم يوجد لابى يوسف اختيار قدم قول محمد ابن الحسن اجل أصحاب أبي حنيفة بعد ابي يوسف ثم بعده يقدم قول زفر والحسن ابن زياد فقولهما في رتبة واحدة لكن عبارة النهر ثم بقول الحسن وقيل إذا خالفه أصحابه وانفرد بقول يتخير المفتى وقيل لا يتخير إلا المفتى المجتهد فيختار ما كان دليله اقوى (قال) في الفتاوى السراجية ثم الفتوى على الإطلاق على قول أبي حنيفة ثم قول أبي يوسف ثم قول محمد ثم قول زفر والحسن بن زياد وقيل إذا كان أبو حنيفة في جانب وصاحباه في جانب فالمفتى بالخيار والاول أصح إذا لم يكن المفتى مجتهدا انتهى ومثله في متن التنوير أول كتاب القضاء (وقال) في آخر كتاب الحاوى القدسي ومتى لم يوجد في المسئلة عن أبي حنيفة رواية يؤخذ بظاهر قول أبي يوسف ثم بظاهر قول محمد ثم بظاهر قول زفر والحسن وغيرهم الأكبر فالاكبر إلى آخر من كان من كبار الاصحاب وقال قبله ومتى كان قول أبي يوسف ومحمد موافق قوله لا يتعدى عنه إلا فيما مست إليه الضرورة وعلم أنه لو كان أبو حنيفة رأى ما رأوا لأفتى به وكذا إذا كان أحدهما معه فإن خالفاه في الظاهر قال بعض المشايخ يأخذ بظاهر قوله وقال بعضهم المفتى مخير بينهما ان شاء افتى بظاهر قوله وإن شاء افتى بظاهر قولهما والاصح أن العبرة لقوة الدليل انتهى (والحاصل) أنه إذا انفق أبو حنيفة وصاحباه على جواب لم يجز العدول عنه إلا لضرورة وكذا إذا وافقه أحدهما واما إذا انفرد عنهما بجواب وخالفاه فيه فإن انفرد كل منهما بجواب أيضًا بإن لم يتفقا على شيء واحد فالظاهر ترجيح قوله أيضا واما إذا خالفاه واتفقا على جواب واحد حتى صار هو في جانب وهما في جانب فقيل يرجح قوله أيضًا وهذا قول الإمام عبد الله بن المبارك وقيل يتخير المفتى وقول السراجية والاول أصح إذا لم يكن المفتى مجتهدا يفيد اختيار القول الثانى ان كان المفتى مجتهدا ومعنى تخييره أنه ينظر في الدليل فيفتى بما يظهر له ولا يتعين عليه قول الإمام وهذا الذي صححه في الحاوى أيضًا بقوله والاصح أن العبرة لقوة الدليل لأن اعتبار قوة الدليل شأن المفتى المجتهد فصار فيما إذا خالفه
আপনি ইতিপূর্বে জেনেছেন যা আমরা আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমাদের আইম্মাহ (أئمة) যে বিষয়ে একমত হয়েছেন, তাদের মাযহাবের (مذهب) কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) এর জন্য নিজের রায়ের মাধ্যমে তা থেকে সরে আসা বৈধ নয়; কারণ তাদের রায়ই অধিক বিশুদ্ধ (أصح)। আমি এখানে ইঙ্গিত করেছি যে, তারা যখন মতবিরোধ করেন, তখন ইমাম আবু হানিফা যা পছন্দ করেছেন তা-ই অগ্রগণ্য হবে, চাই তার কোনো সাথী তার সাথে একমত হোন বা না হোন। যদি তার কোনো পছন্দ না পাওয়া যায়, তবে ইয়াকুব—যা ইমামের প্রধান শিষ্য আবু ইউসুফের নাম—তার পছন্দকৃত মতটি অগ্রগণ্য হবে। ইমাম মুহাম্মদের নিয়ম হলো তিনি আবু ইউসুফকে তার উপনামে উল্লেখ করেন, তবে যখন তার সাথে আবু হানিফার নামও উল্লেখ করেন, তখন তিনি তাকে তার আসল নামে উল্লেখ করেন; ফলে তিনি বলেন: 'আবু হানিফা থেকে ইয়াকুব বর্ণনা করেছেন'। এটি ছিল আবু ইউসুফের পক্ষ থেকে একটি অসিয়ত, যা তার উস্তাদ আবু হানিফার প্রতি আদব হিসেবে করা হয়েছিল। আল্লাহ তাআলা তাদের সবার উপর রহমত বর্ষণ করুন এবং তাদের উসিলায় আমাদের রহম করুন এবং কিয়ামত পর্যন্ত তাদের দ্বারা ফায়দা অব্যাহত রাখুন। যেখানে আবু ইউসুফের কোনো পছন্দ পাওয়া যাবে না, সেখানে আবু ইউসুফের পর ইমাম আবু হানিফার প্রধান শিষ্য মুহাম্মদ ইবনুল হাসানের বক্তব্য অগ্রগণ্য হবে। অতঃপর তার পরে ইমাম যুফার এবং হাসান ইবনে জিয়াদের বক্তব্য অগ্রগণ্য হবে; তাদের উভয়ের বক্তব্য একই স্তরে। তবে 'আন-নাহর' গ্রন্থের ইবারত হলো, 'অতঃপর হাসানের বক্তব্য অনুযায়ী'। এবং বলা হয়েছে যে, যদি তার শিষ্যরা তার বিরোধিতা করেন এবং তিনি কোনো বক্তব্যে একা হয়ে যান, তবে মুফতি (مفتي) এখতিয়ার পাবেন। আবার বলা হয়েছে যে, মুজতাহিদ (مجتهد) মুফতি (مفتي) ছাড়া অন্য কেউ এখতিয়ার পাবেন না; ফলে তিনি তা-ই বেছে নেবেন যার দলিল (دليل) অধিক শক্তিশালী। (তিনি বলেছেন) 'ফাতাওয়া আস-সিরাজিয়া' গ্রন্থে: অতঃপর সাধারণভাবে ফতোয়া ইমাম আবু হানিফার মতের ওপর হবে, এরপর আবু ইউসুফের মতের ওপর, এরপর মুহাম্মদের মতের ওপর, এরপর যুফার ও হাসান ইবনে জিয়াদের মতের ওপর। আরও বলা হয়েছে যে, যদি আবু হানিফা এক পক্ষে এবং তার দুই শিষ্য অন্য পক্ষে থাকেন, তবে মুফতি (مفتي) ইখতিয়ারে থাকবেন। আর প্রথম মতটিই অধিক বিশুদ্ধ (أصح) যদি মুফতি (مفتي) মুজতাহিদ (مجتهد) না হন—সমাপ্ত। অনুরূপ কথা 'তানভীর' গ্রন্থের শুরুতে বিচার অধ্যায়ে রয়েছে। (তিনি বলেছেন) 'আল-হাভী আল-কুদ্সী' কিতাবের শেষে: যখন কোনো মাসয়ালায় আবু হানিফা থেকে কোনো বর্ণনা (رواية) পাওয়া না যায়, তখন আবু ইউসুফের বক্তব্যের জাহির (ظاهر) গ্রহণ করা হবে, এরপর মুহাম্মদের বক্তব্যের জাহির (ظاهر), এরপর যুফার, হাসান এবং অন্যদের বড়ত্বের ক্রমানুসারে সাথীদের মধ্যে যারা বড় ছিলেন তাদের শেষজন পর্যন্ত। এর আগে তিনি বলেছেন: যখন আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের বক্তব্য তার (ইমামের) বক্তব্যের অনুকূলে থাকে, তখন তা থেকে সরে যাওয়া যাবে না; তবে বিশেষ প্রয়োজনে এবং যখন এটি জানা যায় যে, তারা যা দেখেছেন তা যদি আবু হানিফা দেখতেন তবে তিনিও অনুরূপ ফতোয়া দিতেন। অনুরূপভাবে যখন তাদের একজন তার সাথে থাকেন। কিন্তু যদি তারা উভয়ে জাহিরিভাবে (ظاهر) তার বিরোধিতা করেন, তবে কিছু মাশায়েখ বলেছেন—ইমামের বক্তব্যের জাহির (ظاهر) গ্রহণ করা হবে। আর কেউ কেউ বলেছেন—মুফতি (مفتي) উভয়ের মধ্যে ইখতিয়ারপ্রাপ্ত; চাইলে তিনি ইমামের বক্তব্যের জাহির (ظاهر) অনুযায়ী ফতোয়া দেবেন, আর চাইলে তাদের উভয়ের বক্তব্যের জাহির (ظاهر) অনুযায়ী ফতোয়া দেবেন। তবে অধিক বিশুদ্ধ (أصح) মত হলো যে, দলিলের (دليل) শক্তিই ধর্তব্য—সমাপ্ত। (সারকথা (الحاصل)) হলো: যখন আবু হানিফা এবং তার দুই শিষ্য কোনো উত্তরে একমত হন, তখন প্রয়োজন ছাড়া তা থেকে সরে আসা জায়েয নয়। অনুরূপভাবে যদি তাদের একজনও তার সাথে একমত হন। কিন্তু যদি তিনি তাদের থেকে ভিন্ন কোনো উত্তরে একা হয়ে যান এবং তারা তার বিরোধিতা করেন, আর যদি তারা প্রত্যেকেও ভিন্ন ভিন্ন উত্তরে একা হয়ে যান—অর্থাৎ তারা নিজেরাও কোনো একটি বিষয়ে একমত হতে না পারেন—তবে জাহির (الظاهر) হলো এক্ষেত্রেও তার বক্তব্যই প্রাধান্য পাবে। কিন্তু যদি তারা তার বিরোধিতা করেন এবং একটি উত্তরে একমত হন, যাতে তিনি এক পক্ষে এবং তারা অন্য পক্ষে থাকেন, তবে কেউ বলেছেন—তার বক্তব্যই প্রাধান্য পাবে এবং এটি ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারকের বক্তব্য। আবার বলা হয়েছে যে, মুফতি (مفتي) ইখতিয়ার পাবেন। 'সিরাজিয়া' গ্রন্থের কথা এবং 'প্রথমটি অধিক বিশুদ্ধ (أصح) যদি মুফতি (مفتي) মুজতাহিদ (مجتهد) না হন'—এই কথাটি দ্বিতীয় মতটিকে গ্রহণ করার অবকাশ দেয় যদি মুফতি (مفتي) মুজতাহিদ (مجتهد) হন। আর তার ইখতিয়ার পাওয়ার অর্থ হলো—তিনি দলিলের (دليل) দিকে দৃষ্টি দেবেন, অতঃপর তার কাছে যা স্পষ্ট হবে সেই অনুযায়ী ফতোয়া দেবেন এবং তার ওপর ইমামের বক্তব্য অনুসরণ করা অবধারিত থাকবে না। এটিই 'আল-হাভী' গ্রন্থেও সঠিক হিসেবে গণ্য করা হয়েছে তার এই কথার মাধ্যমে যে: 'অধিক বিশুদ্ধ (أصح) হলো দলিলের (دليل) শক্তিই ধর্তব্য'। কারণ দলিলের শক্তি বিচার করা হলো মুজতাহিদ (مجتهد) মুফতির কাজ। ফলে যখন তিনি তার বিরোধিতা করেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২৭)
صاحباه ثلاثة أقوال الأول اتباع قول الإمام بلا تخيير الثاني التخيير مطلقا الثالث وهو الاصح التفصيل بين المجتهد وغيره و به جزم قاضي خان كما يأتي والظاهر أن هذا توفيق بين القولين بحمل القول باتباع قول الإمام على المفتي الذي هو غير مجتهد وجل القول بالتخيير على المفتى المجتهد وإذا لم يوجد للإمام نص يقدم قول إلى يوسف ثم محمد الخ والظاهر ان هذا في حق غير المجتهد اما المفتى المجتهد فيتخير بما يترجح عنده دليله نظير ما قبله (وقد) علم من هذا أنه لا خلاف في الأخذ بقول الإمام إذا وافقه أحدهما ولذا قال الإمام قاضى خان وإن كانت المسئلة مختلفا فيها بين أصحابنا فإن كان مع أبي حنيفة أحد صاحبيه يأخذ بقولهما أي بقول الإمام ومن وافقه لوفور الشرائط واستجماع ادلة الصواب فيها وإن خالفه صاحباه في ذلك فإن كان اختلافهم اختلاف عصر وزمان كالقضاء بظاهر العدالة يأخذ بقول صاحبيه لتغيير احوال الناس وفى المزارعة والمعاملة ونحوها يختار قولهما لاجماع المتأخرين على ذلك وفيما سوى ذلك يخير المفتى المجتهد ويعمل بما افضى إليه رأيه وقال عبد الله بن المبارك يأخذ بقول أبي حنيفة انتهى (قلت) لكن قدمنا أن ما نقل عن الإمام من قوله إذا صح الحديث فهو مذهبي محمول على ما لم يخرج عن المذهب بالكلية كما ظهر لنا من التقرير السابق ومقتضاه جواز اتباع الدليل وإن خالف ما وافقه عليه أحد صاحبيه ولهذا قال في البحر عن التتارخانية إذا كان الإمام في جانب وهما في جانب خير المفتى وإن كان أحدهما مع الإمام اخذ بقولهما إلا إذا اصطلح المشايخ على قول الآخر فيتبعهم كما اختار الفقيه أبو الليث قول زفر في مسائل انتهى وقال في رسالته المسماة رفع الغشاء في وقت العصر والعشاء لا يرجح قول صاحبيه أو أحدهما على قوله إلا لموجب وهو اما ضعف دليل الإمام واما للضرورة والتعامل كترجيح قولهما في المزارعة والمعاملة واما لأن خلافهما له بسبب اختلاف العصر والزمان وانه لو شاهد ما وقع في عصرهما لوافقهما كعدم القضاء بظاهر العدالة (ويوافق) ذلك ما قاله العلامة المحقق الشيخ قاسم في تصحيحه ونصه على أن المجتهدين لم يفقدوا حتى نظروا في المختلف ورجحوا وصححوا فشهدت مصنفاتهم بترجيح قول أبي حنيفة والأخذ بقوله إلا في مسائل بسيرة اختاروا الفتوى فيها على قولهما أو قول أحدهما وإن كان الآخر مع الإمام كما اختاروا قول أحدهما فيما لا نص فيه للإمام للمعاني التي أشار إليها القاضي بل اختاروا قول زفر في مقابلة قول الكل نحو ذلك وترجيحاتهم وتصحيحاتهم باقية فعلينا اتباع الراجح والعمل به كما لو افتوا في حياتهم انتهى (تتمة) قال العلامة البيرى
ইমামের দুই শিষ্যের ব্যাপারে তিনটি অভিমত রয়েছে। প্রথমটি হলো, কোনো ইখতিয়ার (পছন্দ করার সুযোগ) ব্যতীত ইমামের বক্তব্য অনুসরণ করা। দ্বিতীয়টি হলো, নিরঙ্কুশভাবে পছন্দ করার অবকাশ থাকা। তৃতীয়টি এবং যা সর্বাধিক বিশুদ্ধ (الأصح), তা হলো মুজতাহিদ এবং অ-মুজতাহিদের মধ্যে পার্থক্য করা। কাজী খান এটিকেই দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেছেন যা সামনে আসবে। প্রকাশ্য বিষয় এই যে, এটি দুই মতের মধ্যে একটি সমন্বয়; অর্থাৎ ইমামের বক্তব্য অনুসরণের বিষয়টি ঐ মুফতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যিনি মুজতাহিদ নন, আর পছন্দ করার বিষয়টি ঐ মুফতি মুজতাহিদের জন্য প্রযোজ্য। যখন কোনো বিষয়ে ইমামের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) পাওয়া যাবে না, তখন আবু ইউসুফের বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়া হবে, অতঃপর মুহাম্মদের বক্তব্যকে, ইত্যাদি। স্পষ্টত এটি ঐ ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যিনি মুজতাহিদ নন। তবে মুজতাহিদ মুফতি তার নিকট যে দলিলের প্রাধান্য প্রতীয়মান হবে তা পছন্দ করে নেবেন, যেমনটি এর আগের মাসআলায় বর্ণিত হয়েছে। (বলা হয়ে থাকে) এ থেকে জানা গেল যে, ইমামের বক্তব্যের সাথে যদি তাঁর কোনো একজন শিষ্যের মতের মিল থাকে, তবে ইমামের কথা গ্রহণে কোনো দ্বিমত নেই। এজন্য ইমাম কাজী খান বলেছেন, যদি আমাদের ইমামদের মাঝে কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকে এবং আবু হানিফার সাথে তাঁর কোনো একজন শিষ্য থাকেন, তবে তাঁদের বক্তব্যই গ্রহণ করা হবে—অর্থাৎ ইমাম এবং তাঁর সাথে একমত পোষণকারীর বক্তব্য; কারণ সেখানে সঠিক হওয়ার দলিলের প্রাচুর্য এবং শর্তাবলির পূর্ণতা রয়েছে। আর যদি দুই শিষ্যই তাঁর বিরোধিতা করেন, তবে তা যদি যুগ ও সময়ের পরিবর্তনের কারণে হয়ে থাকে—যেমন বাহ্যিক ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ভিত্তিতে ফয়সালা করা—তবে মানুষের অবস্থা পরিবর্তনের কারণে দুই শিষ্যের কথা গ্রহণ করা হবে। আর মুজারাআ (বর্গাচাষ), মুয়ামালা (লেনদেন) ও এই জাতীয় বিষয়ে পরবর্তী ওলামাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতে তাঁদের (দুই শিষ্যের) কথা পছন্দ করা হবে। এ ছাড়া অন্য বিষয়গুলোতে মুজতাহিদ মুফতির ইখতিয়ার থাকবে এবং তিনি তাঁর বিচারবুদ্ধি অনুযায়ী যা সাব্যস্ত হবে সে অনুযায়ী আমল করবেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন, তিনি আবু হানিফার বক্তব্যই গ্রহণ করবেন। (সমাপ্ত)
(আমি বলছি) কিন্তু আমরা আগে উল্লেখ করেছি যে, ইমাম থেকে বর্ণিত এই উক্তি—"যখন কোনো হাদিস সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়, তখন সেটিই আমার মাযহাব"—এটি ঐ বিষয়ের ওপর প্রয়োগ করা হবে যা সামগ্রিকভাবে মাযহাবের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায় না, যেমনটি পূর্বের আলোচনা থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। এর দাবি হলো দলিলের অনুসরণ করা জায়েজ, যদিও তা ঐ বিষয়ের খেলাফ হয় যাতে ইমামের সাথে তাঁর কোনো এক শিষ্য একমত হয়েছেন। এজন্যই 'আল-বাহর' গ্রন্থে 'তাতারখানিয়া' থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে, ইমাম একদিকে এবং দুই শিষ্য অন্যদিকে থাকলে মুফতির ইখতিয়ার থাকবে। তবে যদি মাশায়েখগণ অন্য কোনো মতের ওপর একমত হন তবে তাদের অনুসরণ করা হবে, যেমন ফকিহ আবু লাইস কয়েকটি মাসআলায় ইমাম যুফারের মত গ্রহণ করেছেন। (সমাপ্ত) তিনি তাঁর 'রাফউল গিশা ফি ওয়াকতিল আসর ওয়াল ইশা' নামক রিসালায় বলেছেন, কোনো কারণ ছাড়া দুই শিষ্যের বা তাঁদের একজনের কথাকে ইমামের কথার ওপর প্রাধান্য দেওয়া যাবে না। সেই কারণগুলো হলো—হয়তো ইমামের দলিলের দুর্বলতা (ضعف), অথবা প্রয়োজনীয়তা ও লোকজ প্রথা (যেমন মুজারাআ ও মুয়ামালাতে তাঁদের মতকে প্রাধান্য দেওয়া), অথবা তাঁদের বিরোধিতার কারণ হলো যুগ ও সময়ের পরিবর্তন, যা ইমাম তাঁর সময়ে প্রত্যক্ষ করলে তিনিও তাঁদের সাথে একমত হতেন; যেমন বাহ্যিক ন্যায়পরায়ণতার (عدالة) ভিত্তিতে বিচার না করা।
(এটি সমর্থন করে) যা মুহাক্কিক আল্লামা শেখ কাসিম তাঁর 'তাসহিহ' গ্রন্থে বলেছেন। তাঁর ভাষ্যমতে, মুজতাহিদদের অস্তিত্ব ফুরিয়ে যায়নি যতক্ষণ না তাঁরা মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং প্রাধান্য ও বিশুদ্ধকরণ করেছেন। তাঁদের কিতাবসমূহ ইমাম আবু হানিফার বক্তব্যকে প্রাধান্য দেওয়ার এবং তাঁর কথা গ্রহণ করার সাক্ষ্য দেয়; কেবল অল্প কিছু মাসআলা ব্যতীত যেগুলোতে তাঁরা দুই শিষ্যের বা তাঁদের একজনের বক্তব্যের ওপর ফতোয়া দেওয়া পছন্দ করেছেন, যদিও অপরজন ইমামের সাথে ছিলেন। যেমনটি তাঁরা ইমামের কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য (نص) না থাকা অবস্থায় কোনো একজনের মতকে গ্রহণ করেছেন ঐ সকল মূলনীতির কারণে যা কাজী (খান) ইশারা করেছেন। এমনকি তাঁরা এর বিপরীতে সকল ইমামের মতের মোকাবিলায় ইমাম যুফারের মতকেও গ্রহণ করেছেন। তাঁদের এই তারজিহ (প্রাধান্য দান) ও তাসহিহ (বিশুদ্ধকরণ) সংরক্ষিত রয়েছে, সুতরাং আমাদের দায়িত্ব হলো সেই অগ্রগণ্য মতের অনুসরণ করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা, যেন তাঁরা তাঁদের জীবদ্দশায় এই ফতোয়া দিয়ে গেছেন। (পরিশিষ্ট) আল্লামা বিরি বলেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২৮)
والمراد بالاجتهاد أحد الاجتهادين وهو المجتهد في المذهب وعرف بأنه المتمكن من تخريج الوجوه على منصوص امامه أو المتجر في مذهب امامه المتمكن من ترجيح قول له على آخر اطلقه اهـ وسيأتى توضيحه
فالآن لا ترجيح بالدليل
… فليس إلا القول بالتفصيل
ما لم يكن خلافه المصححا
… فنأخذ الذى لهم قد وضحا
فاننا نراهمو قد رجحوا
… مقال بعض صحبه وصححوا
من ذاك ما قد رجحو الزفر
… مقاله في سبعة وعشر
قد علمت أن الاصح تخيير المفتى المجتهد فيفتى بما يكون دليله اقوى ولا يلزمه المشي على التفصيل ولما انقطع المفتي المجتهد في زماننا ولم يبق إلا المقلد المحض وجب علينا اتباع التفصيل فنفتي اولا بقول الإمام ثم وثم ما لم نر المجتهدين في المذهب صححوا خلافه لقوة دليله أو لتغير الزمان أو نحو ذلك مما يظهر لهم فنتبع ما قالوا كما لو كانوا احياء وافتونا بذلك كما علمته آنفا من كلام العلامة قاسم لأنهم اعلم وادري بالمذهب وعلى هذا عملهم فاننا رأيناهم قد يرجحون قول صاحبيه تارة وقول أحدهما تارة وتارة قول زفر في سبعة عشر موضعا ذكرها البيرى في رسالة ولسيدى أحمد الحموى منظومة في ذلك لكن بعض مسائلها مستدرك لكونه لم يختص به زفر وقد نظمت في ذلك منظومة فريدة اسقطت منها ما هو مستدرك وزدت على ما نظمه الحموى عدة مسائل وقد ذكرت هذه المنظومة في حاشيتى رد المحتار من باب النفقة (وقال) في البحر من كتاب القضاء فإن قلت كيف جاز للمشايخ الافتاء بقول غير الإمام الاعظم مع انهم مقلدون قلت قد اشكل على ذلك مدة طويلة ولم ار عنه جوابا الا ما فهمته الآن من كلامهم وهو انهم نقلوا عن أصحابنا أنه لا يحل لأحد أن يفتى بقولنا حتى يعلم من اين قلنا حتى نقل في السراجية أن هذا سبب مخالفة عصام للإمام وكان يفتى بخلاف قوله كثيرا لانه لم يعلم الدليل وكان يظهر له دليل غيره فيفتي به (فأقول) ان هذا الشرط كان في زمانهم اما في زماننا فيكتفى بالحفظ كما في القنية وغيرها فيحل الافتاء بقول الإمام بل يجب وإن لم نعلم من اين قال وعلى هذا فما صححه في الحاوى أي من أن الاعتبار لقوة الدليل مبنى على ذلك الشرط وقد صححوا ان الافتاء بقول الإمام فينتج من هذا أنه يجب علينا الافتاء بقول الإمام وإن افتى المشايخ بخلافه لأنهم إنما افتوا بخلافه لفقد الشرط في حقهم وهو الوقوف على دليله واما نحن فلنا الافتاء وإن لم نقف على دليله وقد وقع للمحقق ابن الهمام في مواضع الرد على المشايخ في الافتاء بقولهما بأنه لا يعدل عن قوله إلا لضعف دليله لكن هو أهل للنظر في الدليل ومن ليس باهل للنظر فيه فعليه الافتاء بقول
আর ইজতিহাদ (اجتهاد) বলতে দুই প্রকার ইজতিহাদের একটিকে বোঝানো হয়েছে, আর তা হলো মাযহাবের ভেতরে মুজতাহিদ (مجتهد)। তাঁকে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে যে, তিনি তাঁর ইমামের বর্ণিত নসের (পাঠ্য) ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় বের করতে সক্ষম অথবা তিনি তাঁর ইমামের মাযহাবে এমন পারদর্শী যে এক উক্তিকে অন্য উক্তির ওপর প্রাধান্য দিতে (ترجيح) সক্ষম। এটি সাধারণভাবে বলা হয়েছে এবং সামনে এর ব্যাখ্যা আসবে।
এখন দলিলের ভিত্তিতে কোনো প্রাধান্য দেওয়া (ترجيح) নেই
… বরং বিস্তারিত বর্ণনার ওপর নির্ভর করাই একমাত্র পথ।
যতক্ষণ না এর বিপরীত কোনো মতকে বিশুদ্ধ (مصحح) বলা হয়
… তবে তাঁরা যা স্পষ্ট করেছেন আমরা তা-ই গ্রহণ করি।
কেননা আমরা দেখি তাঁরা প্রাধান্য (رجحوا) দিয়েছেন
… ইমামের কোনো কোনো সঙ্গীর মতকে এবং তা বিশুদ্ধ (صححوا) করেছেন।
তারই একটি উদাহরণ হলো তাঁরা ইমাম জুফারের মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন (رجحو)
… সতেরোটি মাসআলায়।
আপনি জানতে পেরেছেন যে, সবচেয়ে বিশুদ্ধ (أصح) মত হলো মুজতাহিদ (مجتهد) মুফতিকে ইখতিয়ার দেওয়া। তিনি সেই মত অনুযায়ী ফতোয়া দেবেন যার দলিল অধিক শক্তিশালী এবং বিস্তারিত নিয়ম মেনে চলা তাঁর জন্য আবশ্যক নয়। কিন্তু যেহেতু আমাদের যুগে মুজতাহিদ (مجتهد) মুফতি বিলুপ্ত হয়ে গেছেন এবং কেবল একনিষ্ঠ অনুসারী অবশিষ্ট আছেন, তাই আমাদের জন্য বিস্তারিত নিয়ম অনুসরণ করা আবশ্যক হয়ে পড়েছে। সুতরাং আমরা প্রথমে ইমামের মত অনুযায়ী ফতোয়া দেব, এরপর ধারাবাহিকভাবে অন্যদের মত অনুসরণ করব, যতক্ষণ না আমরা দেখি যে মাযহাবের মুজতাহিদগণ (مجتهدين) দলিলের সবলতার কারণে বা যুগের পরিবর্তনের কারণে বা অনুরূপ কোনো কারণে এর বিপরীত মতকে বিশুদ্ধ (صححوا) করেছেন। এমতাবস্থায় তাঁরা যা বলেছেন আমরা তা-ই অনুসরণ করব, যেন তাঁরা জীবিত আছেন এবং আমাদের সেই ফতোয়া দিচ্ছেন; যেমনটি আপনি ইতিপূর্বে আল্লামা কাসিমের বক্তব্য থেকে জেনেছেন। কারণ তাঁরা মাযহাব সম্পর্কে অধিক বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞ। তাঁদের কর্মপদ্ধতি এমনই ছিল, কেননা আমরা দেখি যে তাঁরা কখনো ইমামের দুই শিষ্যের মতকে প্রাধান্য দেন, কখনো তাঁদের কোনো একজনের মতকে, আবার কখনো সতেরোটি স্থানে ইমাম জুফারের মতকে প্রাধান্য দেন। আল-বিরি একটি রিসালায় এগুলি উল্লেখ করেছেন এবং সাইয়্যিদি আহমদ আল-হামাউই-এর এ বিষয়ে একটি কাব্য রয়েছে। তবে এর কিছু মাসআলার ক্ষেত্রে আপত্তি আছে কারণ সেগুলি কেবল ইমাম জুফারের একক মত ছিল না। আমি এ বিষয়ে একটি অনন্য কাব্য রচনা করেছি যেখানে আপত্তিকর বিষয়গুলো বাদ দিয়েছি এবং হামাউই যা রচনা করেছিলেন তাতে আরও কিছু মাসআলা যোগ করেছি। আমি আমার হাশিয়া রাদ্দুল মুহতার-এর নাফাকা অধ্যায়ে এই কাব্যটি উল্লেখ করেছি। (তিনি বলেছেন) আল-বাহর কিতাবের কাজা অধ্যায়ে বর্ণিত আছে, যদি আপনি বলেন: মাশায়েখদের জন্য ইমামে আজমের মতের বাইরে ফতোয়া দেওয়া কীভাবে বৈধ হলো অথচ তাঁরা মুকাল্লিদ? আমি বলব: দীর্ঘকাল ধরে এই বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট ছিল এবং আমি এর কোনো উত্তর পাইনি, যতক্ষণ না এখন তাঁদের বক্তব্য থেকে যা বুঝতে পারলাম। আর তা হলো, তাঁরা আমাদের ইমামদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আমাদের কথা (মত) দ্বারা ফতোয়া দেওয়া কারো জন্য বৈধ নয় যতক্ষণ না সে জানে আমরা তা কোথা থেকে (কোন দলিলে) বলেছি। এমনকি সিরাজিয়্যাহ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে যে, এটিই ছিল ইমামের সাথে ইসামের মতপার্থক্যের কারণ। তিনি প্রায়ই ইমামের মতের বিপরীতে ফতোয়া দিতেন কারণ তিনি দলিল জানতেন না এবং তাঁর কাছে অন্যের দলিল স্পষ্ট মনে হতো বিধায় তিনি সেই অনুযায়ী ফতোয়া দিতেন। (আমি বলব) এই শর্তটি তাঁদের যুগের জন্য ছিল। তবে আমাদের যুগে কেবল মুখস্থ রাখাই যথেষ্ট যেমনটি আল-কুনইয়াহ ও অন্যান্য কিতাবে রয়েছে। সুতরাং ইমামের উক্তি দ্বারা ফতোয়া দেওয়া বৈধ বরং আবশ্যক, যদিও আমরা না জানি তিনি কোন দলিলের ভিত্তিতে তা বলেছেন। এর ওপর ভিত্তি করে আল-হাউই কিতাবে যা বিশুদ্ধ (صححه) বলা হয়েছে—অর্থাৎ গ্রহণযোগ্যতা দলিলের শক্তির ওপর নির্ভরশীল—তা মূলত ওই শর্তের ওপর ভিত্তি করে ছিল। অথচ তাঁরা ইমামের মত অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়াকে বিশুদ্ধ (صححوا) সাব্যস্ত করেছেন। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে আমাদের জন্য ইমামের মত অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া আবশ্যক, যদিও মাশায়েখরা এর বিপরীতে ফতোয়া দিয়ে থাকেন। কারণ তাঁরা এর বিপরীতে ফতোয়া দিয়েছিলেন তাঁদের ক্ষেত্রে একটি শর্ত না থাকার কারণে, আর তা হলো ইমামের দলিলের ব্যাপারে পূর্ণ জ্ঞান থাকা। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে দলিলের ব্যাপারে জ্ঞান না থাকলেও ফতোয়া দেওয়া বৈধ। মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম অনেক স্থানে মাশায়েখদের দুই শিষ্যের মতের ওপর ফতোয়া দেওয়ার প্রতিবাদ করেছেন এই বলে যে, ইমামের মত থেকে ফেরা যাবে না যদি না তাঁর দলিল দুর্বল (ضعيف) হয়। তবে তিনি দলিলের ব্যাপারে পর্যালোচনার যোগ্য ব্যক্তি। কিন্তু যার পর্যালোচনার যোগ্যতা নেই, তার জন্য ইমামের মত অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া আবশ্যক।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
الإمام والمراد بالاهلية هنا أن يكون عارفا مميزا بين الاقاويل له قدرة على ترجيح بعضها على بعض ولا يصير اهلا للفتوى ما لم يصر صوابه أكثر من خطأه لأن الصواب متى كثر فقد غلب ولا عبرة في المغلوب بمقابلة الغالب فإن امور الشرع مبنية على الاعم الاغلب كذا في الولوالجية. وفى مناقب الكردري قال ابن المبارك وقد سئل متى يحل للرجل أن يفتى ويلى القضاء قال إذا كان بصيرا بالحديث والرأى عارفا بقول أبي حنيفة حافظا له وهذا محمول على إحدى الروايتين عن أصحابنا وقبل استقرار المذهب اما بعد التقرر فلا حاجة إليه لانه يمكنه التقليد انتهى هذا آخر كلام البحر (أقول) ولا يخفى عليك ما في هذا الكلام من عدم الانتظام ولهذا اعترضه محشيه الخير الرملى بان قوله يجب علينا الافتاء بقول الإمام وإن لم نعلم من اين قال مضاد لقول الإمام لا يحل لاحد أن يفتى بقولنا حتى يعلم من اين قلنا اذ هو صريح في عدم جواز الافتاء اغير أهل الاجتهاد فكيف يستدل به على وجوبه فنقول ما يصدر من غير الاهل ليس بافتاء حقيقة وإنما هو حكاية عن المجتهد أنه قائل بكذا وباعتبار هذا الملحظ تجوز حكاية قول غير الإمام فكيف يجب علينا الافتاء بقول الإمام وإن افتى المشايخ بخلافه ونحن إنما نحكي فتواهم لا غير فليتأمل انتهى (وتوضيحه) ان المشايخ اطلعوا على دليل الإمام وعرفوا من اين قال واطلعوا على دليل أصحابه فيرجحون دليل أصحابه على دليله فيفتون به ولا يظن بهم انهم عدلوا عن قوله لجهلهم بدليله فانا نراهم قد شحنوا كتبهم بنصب الادلة ثم يقولون الفتوى على قول أبي يوسف مثلا وحيث لم نكن نحن اهلا للنظر في الدليل ولم نصل إلى رتبتهم في حصول شرائط التفريع والتأصيل فعلينا حكاية ما يقولونه لأنهم هم اتباع المذهب الذين نصبوا أنفسهم لتقريره وتحريره باجتهادهم (وانظر) إلى ما قدمناه من قول العلامة قاسم أن المجتهدين لم يفقدوا حتى نظروا في المختلف ورجحوا وصححوا إلى أن قال فعلينا اتباع الراجح والعمل به كما لو افتوا في حياتهم (وفى) فتاوى العلامة ابن الشلبي ليس للقاضى ولا للمفتى العدول عن قول الإمام إلا إذا صرح أحد من المشايخ بان الفتوى على قول غيره فليس للقاضى أن يحكم بقول غير أبي حنيفة في مسئلة لم يرجح فيها قول غيره ورجحوا فيها دليل أبي حنيفة على دليله فإن حكم فيها فحكمه غير ماض ليس له غير الانتقاض انتهى (ثم اعلم) أن قول الإمام لا يحل لاحد أن يفتى بقولنا الخ يحتمل معنيين (أحدهما) أن يكون المراد به ما هو المتبادر منه وهو انه إذا ثبت عنده مذهب امامه في حكم كوجوب الوتر مثلا لا يحل له أن يفتى بذلك حتى يعلم دليل امامه ولاشك أنه على هذا خاص
ইমাম এবং এখানে যোগ্যতা (أهلية) বলতে উদ্দেশ্য হলো বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম হওয়া এবং তাদের মধ্যে একটিকে অন্যটির ওপর প্রাধান্য দেওয়ার (ترجيح) ক্ষমতা রাখা। আর যতক্ষণ পর্যন্ত তার সঠিক হওয়ার দিকটি ভুল হওয়ার চেয়ে বেশি না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে ফতোয়া (فتوى) প্রদানের যোগ্য হবে না। কারণ যখন সঠিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়, তখন সেটিই প্রবল হয়। আর প্রবল বিষয়ের বিপরীতে যা পরাভূত (مغلوب), তার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই। কেননা শরীয়তের বিষয়সমূহ অধিকাংশ বা প্রাবাল্যের (الأعم الأغلب) ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত, যেমনটি ওয়ালওয়ালিজিয়াহ গ্রন্থে রয়েছে।
মানাকিবে কারদারি গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনুল মুবারককে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল: একজন ব্যক্তির জন্য কখন ফতোয়া (فتوى) প্রদান করা এবং বিচারকের দায়িত্ব পালন করা বৈধ? তিনি বললেন: "যখন সে হাদিস ও বিশেষজ্ঞ মত (الرأي) সম্পর্কে গভীর জ্ঞানের অধিকারী হবে, ইমাম আবু হানিফার উক্তি সম্পর্কে বিজ্ঞ হবে এবং তা মুখস্থ রাখবে।" এটি আমাদের আলেমদের থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার একটির ওপর অথবা মাজহাব সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পূর্বের অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। তবে মাজহাব নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর এর প্রয়োজন নেই, কারণ তখন তাকলিদ করা সম্ভব। আল-বাহর গ্রন্থের আলোচনা এখানেই শেষ।
(আমি বলছি) এই বক্তব্যের মধ্যে যে অসামঞ্জস্য রয়েছে তা আপনার কাছে অস্পষ্ট নয়। একারণেই এর ব্যাখ্যাকার খাইরুল রামলি আপত্তি তুলেছেন যে, তার উক্তি—"ইমামের কথা অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) দেওয়া আমাদের জন্য ওয়াজিব, যদিও আমরা তা কোথা থেকে বলেছেন (দলিল) তা না জানি"—এটি ইমামের সেই বাণীর সরাসরি পরিপন্থী যেখানে তিনি বলেছেন: "আমরা কোথা থেকে বলেছি তা না জানা পর্যন্ত কারো জন্য আমাদের কথা দ্বারা ফতোয়া (فتوى) দেওয়া বৈধ নয়।" কারণ এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, ইজতিহাদ (اجتهاد) করার যোগ্যতাসম্পন্ন নয় এমন ব্যক্তির জন্য ফতোয়া (فتوى) প্রদান করা বৈধ নয়। সুতরাং কীভাবে একে ফতোয়া ওয়াজিব হওয়ার স্বপক্ষে দলিল হিসেবে পেশ করা যায়? আমরা বলি: যারা যোগ্য (أهلية) নয়, তাদের থেকে যা নির্গত হয় তা প্রকৃত অর্থে ফতোয়া (فتوى) নয়, বরং এটি কেবল মুজতাহিদ (مجتهد) থেকে একটি বর্ণনা মাত্র যে তিনি এমনটি বলেছেন। এই দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে ইমাম ব্যতীত অন্য কারো বক্তব্য বর্ণনা করাও বৈধ। এমতাবস্থায় আমাদের ওপর ইমামের কথা অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) দেওয়া কীভাবে ওয়াজিব হতে পারে, যেখানে মাশায়েখগণ তার বিপরীতে ফতোয়া দিয়েছেন? আমরা তো কেবল তাদের ফতোয়াই বর্ণনা করি মাত্র। বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করা উচিত।
(এর ব্যাখ্যা হলো) মাশায়েখগণ ইমামের দলিলের বিষয়ে অবগত হয়েছিলেন এবং তিনি কোথা থেকে বলেছেন তা তারা জানতেন। তারা তার সাথীদের দলিল সম্পর্কেও অবহিত হয়েছিলেন। অতঃপর তারা ছাত্রদের দলিলকে ইমামের দলিলের ওপর প্রাধান্য দিয়ে (ترجيح) সেই অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) দিয়েছেন। তাদের সম্পর্কে এমনটি ধারণা করা সংগত নয় যে, তারা ইমামের দলিল না জানার কারণে তার মত থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। কারণ আমরা দেখি যে তারা তাদের গ্রন্থসমূহ দলিলাদি উপস্থাপনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ করেছেন। তারপর তারা বলেন: ফতোয়া (فتوى) যেমন ইমাম আবু ইউসুফের মতের ওপর। যেহেতু আমরা দলিলের বিষয়ে পর্যালোচনার যোগ্য নই এবং শাখা ও মূলনীতিগত মাসআলা উদঘাটনের (التفريع والتأصيل) শর্তাবলী অর্জনের স্তরে পৌঁছাতে পারিনি, তাই আমাদের কর্তব্য হলো তারা যা বলেন তা বর্ণনা করা। কারণ তারা হলেন মাজহাবের অনুসারী, যারা নিজেদের ইজতিহাদ (اجتهاد) দ্বারা মাজহাবের বক্তব্য নির্ধারণ ও পরিমার্জনের জন্য নিয়োজিত করেছেন।
(লক্ষ্য করুন) আল্লামা কাসিমের সেই বক্তব্যের দিকে যা আমরা ইতিপূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মুজতাহিদগণ (مجتهد) বিলুপ্ত হননি যতক্ষণ না তারা মতভেদপূর্ণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করেছেন এবং প্রাধান্য দান (ترجيح) ও বিশুদ্ধায়ন (تصحيح) করেছেন। তিনি আরও বলেছেন—সুতরাং আমাদের জন্য অগ্রগণ্য (الراجح) মতটি অনুসরণ করা এবং সেই অনুযায়ী আমল করা আবশ্যক, যেমনটি তারা তাদের জীবদ্দশায় ফতোয়া দিয়ে থাকলে করা হতো।
আল্লামা ইবনে শালবির ফতোয়াগ্রন্থে রয়েছে যে, কোনো বিচারক বা মুফতির (مفتي) পক্ষে ইমামের মত থেকে সরে আসা বৈধ নয়, যদি না মাশায়েখদের কেউ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে ফতোয়া (فتوى) অন্য কারো মতের ওপর। সুতরাং বিচারকের জন্য এমন কোনো বিষয়ে আবু হানিফার মতের বাইরে ফয়সালা দেওয়া বৈধ নয় যেখানে অন্য কারো মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দেওয়া হয়নি এবং যেখানে তারা ইমাম আবু হানিফার দলিলকে অন্যের দলিলের ওপর প্রাধান্য দিয়েছেন। যদি তিনি এমন বিষয়ে ফয়সালা দেন, তবে তার ফয়সালা (حكم) কার্যকর হবে না এবং তা বাতিলযোগ্য হবে।
(অতঃপর জেনে রাখুন) ইমামের বাণী—"আমাদের কথা দ্বারা কারো জন্য ফতোয়া (فتوى) দেওয়া বৈধ নয়..."—এটি দুটি অর্থ বহন করে। প্রথমটি হলো যা বাহ্যত বোঝা যায়, তা হলো: যখন তার কাছে কোনো বিধানের (حكم) ক্ষেত্রে তার ইমামের মাজহাব সাব্যস্ত হয়, যেমন বিতর নামাজ ওয়াজিব হওয়া, তখন তার জন্য সেই অনুযায়ী ফতোয়া (فتوى) দেওয়া বৈধ নয় যতক্ষণ না সে তার ইমামের দলিল জানতে পারে। কোনো সন্দেহ নেই যে এটি এই বিশেষ অবস্থার সাথেই সংশ্লিষ্ট...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
بالمفتى المجتهد دون المقلد المحض فإن التقليد هو الاخذ بقول الغير بغير معرفة دليله قالوا فخرج اخذه مع معرفة دليله فأنه ليس بتقليد لانه اخذ من الدليل لا من المجتهد بل قيل أن اخذه مع معرفة دليله نتيجة الاجتهاد لأن معرفة الدليل إنما تكون للمجتهد لتوقفها على معرفة سلامته من المعارض وهى متوقفة على استقراء الادلة كلها ولا يقدر على ذلك إلا المجتهد اما مجرد معرفة أن المجتهد الفلاني اخذ الحكم الفلاني من الدليل الفلاني فلا فائدة فيها فلا بد ان يكون المراد من وجوب معرفة الدليل على المفتى أن يعرف حاله حتى يصح له تقليده في ذلك مع الجزم به وافتاء غيره به وهذا لا يتأتى إلا في المفتى المجتهد في المذهب وهو المفتى حقيقة اما غيره فهو ناقل (لكن) كون المراد هذا بعيد لأن هذا المفتى حيث لم يكن وصل إلى رتبة الاجتهاد المطلق يلزمه التقليد لمن وصل إليها ولا يلزمه معرفة دليل امامه الأعلى قول قال في التحرير (مسئلة) غير المجتهد المطلق يلزمه التقليد وإن كان مجتهدا في بعض مسائل الفقه أو بعض العلوم كالفرائض على القول بتجزى الاجتهاد وهو الحق فيقلد غيره فيما لا يقدر عليه وقيل في العالم إنما يلزمه التقليد بشرط تبين صحة مستند المجتهد والا لم يجز له تقليده انتهى والاول قول الجمهور والثانى قول البعض المعتزلة كما ذكره شارحه فقوله يلزمه التقليد ما قدمناه من تعريف التقليد يدل على أن معرفة الدليل للمجتهد المطلق فقط وانه لا يلزم غيره ولو كان ذلك الغير مجتهدا في المذهب لكن نقل الشارح عن الزركشي من الشافعية ان إطلاق الحاقه بالعامى الصرف فيه نظر لاسيما في اتباع المذاهب المتبحرين فإنهم لم ينصبوا أنفسهم نصبة المقلدين ولا شك في الحاقهم بالمجتهدين اذ لا يقلد مجتهد مجتهدا ولا يمكن أن يكون واسطة بينهما لأنَّه ليس لنا سوى حالتين قال ابن المنير والمختار انهم مجتهدون ملتزمون أن لا يحدثوا مذهبا اما كونهم مجتهدين فلان الاوصاف قائمة بهم واما كونهم ملتزمين أن لا يحدثوا مذهبا فلان احداث مذهب زائد بحيث يكون لفروعه أصول وقواعد مباينة لسائر قواعد المتقدمين فمتعذر الوجود لاستيعاب المتقدمين سائر الاساليب نعم لا يمتنع عليهم تقليد الهام في قاعدة فإذا ظهر له صحة مذهب غير امامه في واقعة لم يجز له أن يقلد امامه لكن وقوع ذلك مستبعد لكمال نظر من قبله انتهى "*" (الثانى من الاحتمالين أن يكون المراد الافتاء بقول الإمام تخريجا واستنباطا من اصوله (قال) في التحرير وشرحه (مسئلة) افتاء غير المجتهد
--------------------------------------------
বিবেচ্য বিষয়টি হলো মুজতাহিদ (مجتهد) মুফতি সম্পর্কে, নিছক অনুসারী বা মুকাল্লিদ (مقلد) সম্পর্কে নয়। কারণ তাকলিদ (تقليد) হলো দলিল সম্পর্কে জ্ঞান ছাড়াই অন্যের মত গ্রহণ করা। ওলামাগণ বলেন, দলিল সম্পর্কে অবগত হয়ে কোনো মত গ্রহণ করা হলে তা তাকলিদ (تقليد)-এর অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এটি দলিল থেকে গ্রহণ করা হয়েছে, মুজতাহিদ (مجتهد) থেকে নয়। বরং বলা হয়েছে যে, দলিল সম্পর্কে জেনে মত গ্রহণ করা ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর একটি ফলাফল। কারণ দলিলের বিশুদ্ধতা এবং অন্য কোনো দলিলে সাথে বিরোধ নেই তা নিশ্চিত হওয়া কেবল একজন মুজতাহিদ (مجتهد)-এর পক্ষেই সম্ভব। আর এটি সমস্ত দলিলের ব্যাপক অনুসন্ধানের ওপর নির্ভরশীল, যা কেবল মুজতাহিদ (مجتهد) ছাড়া আর কেউ করতে সক্ষম নয়। তবে কোনো মুজতাহিদ (مجتهد) অমুক দলিল থেকে অমুক হুকুম গ্রহণ করেছেন—কেবল এতটুকু জানলে কোনো উপকার নেই। সুতরাং মুফতির ওপর দলিল জানার আবশ্যকতা বলতে এটাই উদ্দেশ্য হতে হবে যে, তিনি দলিলের অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞাত হবেন, যাতে দৃঢ়তার সাথে তাঁর পক্ষে তা অনুসরণ করা এবং অন্যকে ফতোয়া দেওয়া সঠিক হয়। আর এটি কেবল মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মুজতাহিদ (مجتهد في المذهب) মুফতির ক্ষেত্রেই সম্ভব, যিনি প্রকৃত অর্থেই মুফতি। এছাড়া অন্য যারা আছেন তারা কেবল বর্ণনাকারী (ناقل)। (তবে) এই অর্থ গ্রহণ করা কিছুটা দূরবর্তী বিষয়; কারণ যতক্ষণ না এই মুফতি নিরঙ্কুশ ইজতিহাদ (اجتهاد مطلق) এর স্তরে পৌঁছাচ্ছেন, ততক্ষণ তাঁর জন্য সেই স্তরে পৌঁছে যাওয়া ব্যক্তির তাকলিদ (تقليد) করা আবশ্যক। আর একটি মত অনুযায়ী তাঁর জন্য স্বীয় ইমামের দলিল জানা আবশ্যক নয়। আল-তাহরির গ্রন্থে বলা হয়েছে (মাসআলা): নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ ব্যতীত অন্যদের জন্য তাকলিদ (تقليد) আবশ্যক, যদিও তিনি ফিকহের কিছু মাসআলায় অথবা উত্তরাধিকার শাস্ত্রের মতো নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে মুজতাহিদ হন—ইজতিহাদ বিভাজন (تجزؤ الاجتهاد) সম্ভব হওয়ার মতানুসারে, আর এটিই সঠিক মত। সুতরাং তিনি যে বিষয়ে সক্ষম নন, সে বিষয়ে অন্যের তাকলিদ (تقليد) করবেন। আলেম ব্যক্তি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তাঁর জন্য তাকলিদ (تقليد) তখনই আবশ্যক হবে যখন মুজতাহিদের প্রমাণের ভিত্তি স্পষ্ট হবে, অন্যথায় তাঁর জন্য তাকলিদ (تقليد) জায়েজ নয়—সমাপ্ত। প্রথমটি সংখ্যাগুরু (جمهور) ওলামাদের মত এবং দ্বিতীয়টি মুতাজিলাদের কতিপয় ব্যক্তির মত, যেমনটি এর ভাষ্যকার উল্লেখ করেছেন। সুতরাং তাঁর কথা 'তাকলিদ আবশ্যক' এবং পূর্বে বর্ণিত তাকলিদ-এর সংজ্ঞা একথাই প্রমাণ করে যে, দলিল সম্পর্কে জ্ঞান রাখা কেবল নিরঙ্কুশ মুজতাহিদ (مجتهد مطلق) এর জন্য আবশ্যক এবং অন্যদের জন্য তা আবশ্যক নয়, যদিও সেই ব্যক্তি মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মুজতাহিদ হন। তবে ভাষ্যকার শাফেয়ি মাযহাবের ইমাম যারকাশি থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, এ ধরনের ব্যক্তিকে সরাসরি সাধারণ মানুষ (عامي) হিসেবে গণ্য করার বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি রাখে। বিশেষ করে মাযহাবের সেই সকল অনুসারীদের ক্ষেত্রে যারা গভীর জ্ঞানের অধিকারী; কেননা তাঁরা নিজেদের নিছক অনুসারী (مقلدين) হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখেননি। আর তাঁদেরকে মুজতাহিদগণের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ নেই, কারণ একজন মুজতাহিদ অন্য মুজতাহিদের তাকলিদ (تقليد) করেন না। আর তাঁদের মাঝে মধ্যবর্তী কোনো অবস্থা হওয়া অসম্ভব, যেহেতু আমাদের সামনে কেবল দুটি অবস্থাই বিদ্যমান। ইবনে মুনাইয়ির বলেছেন, পছন্দনীয় মত হলো তাঁরা এমন মুজতাহিদ যারা নতুন কোনো মাযহাব তৈরি না করার ব্যাপারে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাঁদের মুজতাহিদ হওয়ার কারণ হলো, তাদের মধ্যে ইজতিহাদের গুণাবলী বিদ্যমান। আর নতুন মাযহাব তৈরি না করার কারণ হলো, এমন নতুন কোনো মাযহাব উদ্ভাবন করা যার শাখা-প্রশাখা এবং মূলনীতিসমূহ পূর্ববর্তীদের সমস্ত মূলনীতি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে—তা বর্তমানে ঘটা অসম্ভব। কেননা পূর্ববর্তীগণ সকল পদ্ধতিই আয়ত্ত করে নিয়েছেন। হ্যাঁ, কোনো মূলনীতির ক্ষেত্রে তাঁদের জন্য প্রজ্ঞার আলোকে কোনো মত গ্রহণ করা অসম্ভব নয়। সুতরাং যদি কোনো বিশেষ ঘটনায় তাঁর কাছে স্বীয় ইমাম ব্যতীত অন্য ইমামের মাযহাবের বিশুদ্ধতা স্পষ্ট হয়, তবে তাঁর জন্য নিজের ইমামের তাকলিদ (تقليد) করা বৈধ হবে না। তবে পূর্ববর্তীদের সূক্ষ্ম দৃষ্টির পূর্ণতার কারণে এমনটি ঘটা সুদূরপরাহত—সমাপ্ত। "*" (দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো: মুফতি কর্তৃক ইমামের মূলনীতি থেকে মাসআলা তাখরিজ (تخريج) ও সিদ্ধান্ত আহরণ (استنباط) এর মাধ্যমে ইমামের বক্তব্য অনুযায়ী ফতোয়া প্রদান করা।) আল-তাহরির ও এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে বলা হয়েছে (মাসআলা): মুজতাহিদ নয় এমন ব্যক্তির ফতোয়া প্রদান...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
بمذهب مجتهد تخريجا على اصوله لا نقل عينه ان كان مطلعا على مبانيه أي مأخذا حكام المجتهد اهلا للنظر فيها قادرا على التفريع على قواعده متمكنا من الفرق والجمع والمناظرة في ذلك بان يكون له ملكة الاقتدار على استنباط احكام الفروع المتجددة التي لا نقل فيها عن صاحب المذهب من الاصول التي مهدها صاحب المذهب وهذا المسمى بالمجتهد في المذهب جاز "*" والا يكن كذلك لا يجوز. وفى شرح البديع للهندى وهو المختار عند كثير من المحققين من أصحابنا وغيرهم فإنه نقل عن أبي يوسف وزفر وغيرهما من أئمتنا انهم قالوا لا يحل لأخد أن يفتى بقولنا ما لم يعلم من اين قلنا وعبارة بعضهم من حفظ الاقاويل ولم يعرف الحجج فلا يحل له أن يفتى فيما اختلفوا فيه وقيل جاز بشرط عدم مجتهد واستقر به العلامة وقيل يجوز مطلقا أي سواء كان مطلعا على المأخذ أم لا عدم المجتهد أم لا وهو مختار صاحب البديع وكثير من العلماء لانه ناقل فلا فرق فيه بين العالم وغيره واجيب بأنه ليس الخلاف في النقل بل في التخريج لأن النقل لعين مذهب المجتهد يقبل بشرائط الراوى من العدالة وغيرها اتفاقا انتهى ملخصا (أقول) ويظهر مما ذكره الهندى ان هذا غير خاص باقوال الإمام بل أقوال أصحابه كذلك وإن المراد بالمجتهد في المذهب هم أهل الطبقة الثالثة من الطبقات السبع المارة وإن الطبقة الثانية وهم أصحاب الإمام أهل اجتهاد مطلق إلا انهم قلدوه في اغلب اصوله وقواعده بناء على أن المجتهد له أن يقلد آخر وفيه عن أبي حنيفة روايتان ويؤيد الجواز مسئلة أبي يوسف لما صلى الجمعة فاخبروه بوجود فأرة في حوض الحمام فقال نقلد أهل المدينة وعن محمد يقلد أعلم منه أو على "*" أنه وافق اجتهادهم فيها اجتهاده وحيث نقل مثل هذا عن بعض الأئمة الشافعية كالقفال والشيخ أبي على والقاضى حسين أنهم كانوا يقولون لسنا مقلدين للشافعي بل وافق رأينا رأيه يقال مثله في أصحاب أبي حنيفة مثل أبي يوسف ومحمد بالاولى وقد خالفوه في كثير من الفروع ومع هذا لم تخرج أقوالهم عن المذهب كما مر تقريره "*" (فقد) تحرر مما ذكرناه أن قول الإمام وأصحابه لا يحل لاحد
--------------------------------------------
কোনো একজন মুজতাহিদ (مجتهد) এর মাযহাব অনুযায়ী তার উসূল বা মূলনীতির (أصول) ভিত্তিতে মাসআলা উদ্ভাবন (تخريج) করার মাধ্যমে ফতোয়া প্রদান করা, সরাসরি তার কথার হুবহু নকলের মাধ্যমে নয়—যদি তিনি (মুফতি) তার মূল ভিত্তিসমূহ অর্থাৎ মুজতাহিদের বিধানের উৎসগুলো সম্পর্কে অবগত থাকেন, সেগুলোর ওপর পদ্ধতিগত নজর দেওয়ার যোগ্যতা রাখেন, তার কায়েদা বা নীতিমালার ভিত্তিতে শাখা-প্রশাখা উদ্ভাবন (تفريع) করতে সক্ষম হন এবং বিধানের পারস্পরিক পার্থক্য নির্ণয় (فرق), সাদৃশ্য বিধান (جمع) ও এ সংক্রান্ত বিতর্কে (مناظرة) পারদর্শী হন; যাতে করে তার মধ্যে এমন এক সক্ষমতা বা যোগ্যতা তৈরি হয় যার মাধ্যমে তিনি নতুন উদ্ভূত বিষয়াদির বিধান ইস্তিম্বাত (استنباط) বা আহরণ করতে পারেন, যে বিষয়ে মাযহাবের ইমামের কোনো বর্ণনা নেই, বরং তা সেই উসূল বা মূলনীতি (أصول) থেকে আহরণ করা হয় যা মাযহাবের ইমাম নির্ধারণ করেছেন। আর একেই 'মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মুজতাহিদ' (مجتهد في المذهب) বলা হয় এবং এটি বৈধ "*"; অন্যথায় তা বৈধ নয়।
হিন্দীর 'শারহুল বাদী' কিতাবে উল্লেখ আছে—যা আমাদের অনেক মুহাক্কিক (محقق) ও অন্যদের নিকট পছন্দনীয় মত—যে তিনি আবু ইউসুফ, যুফার এবং আমাদের অন্যান্য ইমামদের থেকে বর্ণনা করেছেন যে তারা বলেছেন: "আমাদের দলীল যেখান থেকে গ্রহণ করেছি তা না জেনে কারো জন্য আমাদের কথা অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া হালাল বা বৈধ নয়।" কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের ভাষ্য হলো: "যে কেবল ইমামদের বাণীসমূহ মুখস্থ করেছে কিন্তু সেগুলোর দলিল (حجة) জানে না, তার জন্য মতভেদপূর্ণ বিষয়ে ফতোয়া দেওয়া বৈধ নয়।" কেউ কেউ বলেছেন, মুজতাহিদ (مجتهد) না থাকার শর্তে এটি জায়েজ এবং আল্লামা (ইবনে আবিদীন) একেই স্থির করেছেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি সাধারণভাবে (مطلق) জায়েজ; অর্থাৎ তিনি দলীলের উৎস সম্পর্কে অবগত হোন বা না হোন, কিংবা মুজতাহিদ বিদ্যমান থাকুক বা না থাকুক। এটি 'আল-বাদী'র লেখক এবং অনেক আলেমের পছন্দসই মত, কারণ তিনি তো কেবল একজন বর্ণনাকারী (ناقل), আর বর্ণনার ক্ষেত্রে আলেম এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, মতভেদটি কেবল বর্ণনার (نقل) ক্ষেত্রে নয়, বরং মাসআলা উদ্ভাবনের (تخريج) ক্ষেত্রে। কারণ মুজতাহিদের সুনির্দিষ্ট মাযহাবের বর্ণনা রাবী বা বর্ণনাকারীর (راوي) আদল বা ন্যায়নিষ্ঠতা (عدالة) ও অন্যান্য শর্তাবলি বিদ্যমান থাকলে সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণযোগ্য হয়। সংক্ষেপিত অংশ সমাপ্ত।
(আমি বলছি) হিন্দী যা উল্লেখ করেছেন তা থেকে স্পষ্ট হয় যে, এটি কেবল প্রধান ইমামের বাণীর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নয়, বরং তার ছাত্রদের বাণীর ক্ষেত্রেও একই বিধান। আর 'মাযহাবের অভ্যন্তরীণ মুজতাহিদ' বলতে উল্লিখিত সাতটি স্তরের মধ্যে তৃতীয় স্তরের ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে। দ্বিতীয় স্তরের ব্যক্তিরা অর্থাৎ ইমামের ছাত্রগণ মূলত মুজতাহিদে মুতলাক (اجتهاد مطلق) বা স্বাধীন মুজতাহিদ হওয়ার যোগ্য ছিলেন, তবে তারা ইমামের অধিকাংশ উসূল (أصول) ও নীতিমালার ক্ষেত্রে তার অনুসরণ করেছেন—এই ভিত্তিতে যে একজন মুজতাহিদের জন্য অন্য মুজতাহিদকে অনুসরণ (تقليد) করা বৈধ। এ বিষয়ে ইমাম আবু হানিফা থেকে দুটি বর্ণনা রয়েছে। এই বৈধতার স্বপক্ষে ইমাম আবু ইউসুফের সেই মাসআলাটি সমর্থন যোগায়—যখন তিনি জুমার নামাজ পড়ালেন এবং এরপর তাকে গোসলখানার হাউজে ইঁদুর মরে থাকার কথা জানানো হলো, তখন তিনি বলেছিলেন: "আমরা এ ক্ষেত্রে মদিনাবাসীদের মতের অনুসরণ (نقلد) করছি।"
আর ইমাম মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ব্যক্তির অনুসরণ (يقلد) করতেন। অথবা বিষয়টি এমন "*" যে ঐ মাসআলায় তাদের ইজতিহাদ (اجتهاد) তার ইজতিহাদের অনুকূল হয়েছিল। যেহেতু শাফেয়ী মাযহাবের কোনো কোনো ইমাম যেমন কাফফাল, শাইখ আবু আলী এবং কাজী হুসাইন থেকে এমনটি বর্ণিত হয়েছে যে তারা বলতেন: "আমরা ইমাম শাফেয়ীর মুকাল্লিদ (مقلد) বা অনুসারী নই, বরং আমাদের রায় তার রায়ের অনুকূল হয়েছে।" আবু হানিফার ছাত্র যেমন আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদের ব্যাপারে এটি আরও জোরালোভাবে বলা যায়; তারা অনেক ফুরু বা শাখা মাসআলায় ইমামের বিরোধিতা করেছেন, তবুও তাদের বক্তব্যসমূহ মাযহাবের গণ্ডি থেকে বের হয়ে যায়নি, যেমনটি আগে আলোচিত হয়েছে "*"। আমাদের আলোচনা থেকে এটিই স্পষ্ট হলো যে, ইমাম এবং তার সাথীদের কথা কারো জন্য (ফতোয়া হিসেবে গ্রহণ করা) বৈধ নয়...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
أن يفتى بقولنا حتى يعلم من اين قلنا محمول على فتوى المجتهد في المذهب بطريق الاستنباط والتخريج كما علمت من كلام التحرير وشرح البديع والظاهر اشتراك أهل الطبقة الثالثة والرابعة والخامسة في ذلك وإن من عداهم يكتفى بالنقل وإن علينا اتباع ما نقلوه لنا عنهم من استنباطاتهم الغير المنصوصة عن المتقدمين ومن ترجيحاتهم ولو كانت لغير قول الإمام كما قررناه في صدر هذا البحث لأنهم لم يرجحوا ما رجحوه جزافا وإنما رجحوا بعد اطلاعهم على المأخذ كما شهدت مصنفاتهم بذلك خلافا لما قاله في البحر (تنبيه) كلام البحر صريح في أن المحقق ابن الهمام من أهل الترجيح حيث قال عنه أنه أهل للنظر في الدليل وح فلنا اتباعه فيما يحققه ويرجحه من الروايات أو الأقوال ما لم يخرج عن المذهب فإن له اختيارات خالف فيها المذهب فلا يتابع عليها كما قاله تلميذه العلامة قاسم وكيف لا يكون اهلا لذلك وقد قال فيه بعض اقرانه وهو البرهان الانباسى لو طلبت حجج الدين ما كان في بلدنا من يقوم بها غيره اهـ (قلت) بل قد صرح العلامة المحقق شيخ الإسلام على المقدسي في شرحه على نظم الكنز في باب نكاح الرقيق بان ابن الهمام بلغ رتبة الاجتهاد* وكذلك نفس العلامة قاسم من أهل تلك الكتيبة فإنه قال في أول رسالته المسماة رفع الاشتباه عن مسئلة المياه لما منع علماؤنا رضى الله تعالى عنهم من كان له اهلية النظر من محض تقليدهم على ما رواه الشيخ الإمام العالم العلامة أبو إسحاق إبراهيم بن يوسف قال حدثنا أبو يوسف عن أبي حنيفة رحمه الله تعالى أنه قال لا يحل لاحد أن يفتى بقولنا ما لم يعرف من اين قلناه تتبعت (1) مآخذهم وحصلت منها بحمد الله تعالى على الكثير ولم اقنع بتقليد ما في صحف كثير من المصنفين الخ. وقال في رسالة [(1) جواب لما] أخرى وانى ولله الحمد لأقول كما قال الطحاوى لابن حربوية لا يقلد الا عصبي او غبي انتهى ويؤخذ من قول صاحب البحر يجب علينا الافتاء بقول الإمام الخ أنه نفسه ليس من أهل النظر في الدليل فإذا صحح قولا مخالفا لتصحيح غيره لا يعتبر فضلا عن الاستنباط والتخريج على القواعد خلافا لما ذكره البيرى عند قول صاحب البحر في كتابه الأشباه النوع الأول معرفة القواعد التي يرد إليها وفرعوا الأحكام عليها وهى أصول الفقه في الحقيقة وبها يرتقى الفقيه إلى درجة الاجتهاد ولو في الفتوى وأكثر فروعه ظفرت به الخ فقال البيرى بعد أن عرف المجتهد في المذهب بما قدمناه عند وفى هذا إشارة إلى أن المؤلف قد بلغ هذه المرتبة في الفتوى
--------------------------------------------
আমাদের কথা অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া যাবে না যতক্ষণ না সে জানবে আমরা তা কোত্থেকে বলেছি—এই বক্তব্যটি মাযহাবের মধ্যে ইস্তিনবাত (استنباط) ও তাখরীজ (تخريج) এর পদ্ধতিতে মুজতাহিদ (مجتهد)-এর ফতোয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য; যেমনটি আপনি আত-তাহরির এবং শারহুল বাদি’-এর বক্তব্য থেকে জেনেছেন। আর বাহ্যত এটি স্পষ্ট যে, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্তরের আলিমগণও এর অন্তর্ভুক্ত। আর যারা এর বাইরে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে কেবল বর্ণনা (نقل) করাই যথেষ্ট। আমাদের জন্য আবশ্যক হলো তাদের থেকে বর্ণিত এমন সব ইস্তিনবাত (استنباط) অনুসরণ করা যা পূর্ববর্তীদের থেকে স্পষ্টভাবে বর্ণিত নয়, এবং তাদের তরাজীহ (ترجيحات) মেনে চলা, যদিও তা ইমামের মতের পরিপন্থী হয়; যেমনটি আমরা এই আলোচনার শুরুতে প্রতিষ্ঠিত করেছি। কারণ তারা যেটিকে প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছেন তা খেয়ালখুশিমতো করেননি, বরং তারা দলিলের উৎসের (مأخذ) ওপর অবগত হওয়ার পরেই তা প্রাধান্য (ترجيح) দিয়েছেন, যেমনটি তাদের কিতাবসমূহ এর সাক্ষ্য দেয়। এটি আল-বাহর গ্রন্থের লেখকের বক্তব্যের বিপরীত। (সতর্কবার্তা) আল-বাহর-এর বক্তব্য এটি স্পষ্ট করে যে, মুহাক্কিক ইবনুল হুমাম ছিলেন প্রাধান্য প্রদানকারী (أهل الترجيح) স্তরের আলিম; কেননা তিনি তার সম্পর্কে বলেছেন যে, তিনি দলিলের বিচার-বিশ্লেষণ করার যোগ্য। সুতরাং আমাদের জন্য তার সেই সব তাহকীক (تحقيق) ও তরাজীহ (ترجيح) অনুসরণ করা বৈধ যা তিনি বিভিন্ন বর্ণনা বা মতের মধ্য থেকে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তা মাযহাবের বাইরে চলে যায়। কেননা তার এমন কিছু ইখতিয়ার (اختيارات) রয়েছে যা মাযহাবের পরিপন্থী, সেগুলোতে তাকে অনুসরণ করা যাবে না; যেমনটি তার ছাত্র আল্লামা কাসিম বলেছেন। আর তিনি কেনইবা এর যোগ্য হবেন না? অথচ তার সমসাময়িকদের একজন বুরহান আল-আনবাসি তার সম্পর্কে বলেছেন: 'যদি দ্বীনের দলীলসমূহ অন্বেষণ করা হতো, তবে আমাদের শহরে তিনি ছাড়া অন্য কেউ তা সম্পন্ন করার যোগ্য থাকতো না'। (আমি বলি) বরং আল্লামা মুহাক্কিক শাইখুল ইসলাম আলি আল-মাকদিসি শারহু নাজমিল কানজ-এর দাসের বিবাহ অধ্যায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ইবনুল হুমাম ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে পৌঁছেছিলেন। তেমনিভাবে আল্লামা কাসিম নিজেও সেই জামাতের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কেননা তিনি তার 'রাফউল ইশতিবাহ আন মাসআলাতিল মিয়াহ' নামক রিসালার শুরুতে বলেছেন: 'যেহেতু আমাদের ওলামায়ে কেরাম দলিলের বিচার-বিশ্লেষণের যোগ্য ব্যক্তিকে কেবল তাকলীদ (تقليد) করতে নিষেধ করেছেন—যেমনটি শাইখ ইমাম আল্লামা আবু ইসহাক ইবরাহিম ইবনে ইউসুফ বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমাদের নিকট আবু ইউসুফ বর্ণনা করেছেন ইমাম আবু হানিফা (রহ.) থেকে যে, তিনি বলেছেন: কারো জন্য আমাদের কথা অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া হালাল নয় যতক্ষণ না সে জানবে আমরা কোত্থেকে তা বলেছি—সেহেতু আমি তাদের দলিলের উৎসসমূহ (مأخذ) অন্বেষণ করেছি এবং আল্লাহর প্রশংসায় তার অনেক কিছুই অর্জন করেছি। আর আমি অনেক গ্রন্থকারের কিতাবে যা আছে কেবল তার তাকলীদ (تقليد)-এর ওপর তুষ্ট থাকিনি' ইত্যাদি। তিনি অন্য একটি রিসালায় বলেছেন: 'আমি আল্লাহর প্রশংসায় ঠিক তেমনই বলি যেমনটি ইমাম তহাবি ইবনে হারবুয়াহকে বলেছিলেন—গোঁড়া বা নির্বোধ ছাড়া কেউ তাকলীদ (تقليد) করে না'। আল-বাহর-এর লেখকের বক্তব্য—'আমাদের ওপর ইমামের মত অনুযায়ী ফতোয়া দেওয়া আবশ্যক' ইত্যাদি থেকে বোঝা যায় যে, তিনি নিজে দলিলের বিচার-বিশ্লেষণ করার যোগ্য ছিলেন না। সুতরাং তিনি যদি অন্য কারো সহীহ (تصحيح) করা মতের বিপরীতে কোনো মতকে সহীহ (تصحيح) বলেন, তবে তা ধর্তব্য হবে না; আর উসুলের আলোকে ইস্তিনবাত (استنباط) ও তাখরীজ (تخريজ) করা তো অনেক দূরের কথা। এটি আল-বিরি-এর বক্তব্যের বিপরীত, যা তিনি আল-আশবাহ গ্রন্থে আল-বাহর-এর লেখকের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন: 'প্রথম প্রকার হলো সেই সব মূলনীতি (قواعد) জানা যার দিকে শাখা মাসআলাগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং যার ভিত্তিতে তারা বিধানসমূহ বের করেছেন; আর প্রকৃতপক্ষে এগুলোই হলো উসুলুল ফিকহ, যার মাধ্যমে একজন ফকীহ ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর স্তরে উন্নীত হন, যদিও তা কেবল ফতোয়ার ক্ষেত্রে হয়'। আল-বিরি মাযহাবের মুজতাহিদ (مجتهد)-এর সংজ্ঞায়নে আমরা যা পূর্বে উল্লেখ করেছি তা বর্ণনা করার পর বলেন: 'এর মধ্যে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে, লেখক ফতোয়া প্রদানের ক্ষেত্রে এই স্তরে পৌঁছেছেন'
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
وزيادة وهو في الحقيقة قد من الله تعالى عليه بالاطلاع على خبايا الزوايا وكان من جملة الحفاظ المطلعين انتهى اذ لا يخفى ان ظفره بأكثر فروع هذا النوع لا يلزم منه أن يكون له اهلية النظر في الادلة التى دل كلامه في البحر على انها لم تحصل له وعلى انها شرط للاجتهاد في المذهب فتأمل
ثم إذا لم توجد الروايه
… عن علمائنا ذوى الدرايه
واختلف الذين قد تأخروا
… يرجح الذي عليه الأكثر
مثل الطحاوى وابى حفص الكبير
… وابوى جعفر والليث الشهير
وحيث لم توجد لهؤلاء
… مقالة واحتيج للافتاء
فلينظر المفتى بجد واجتهاد
… وليخش بطش ربه يوم المعاد
فليس يجسر على الأحكام
… سوى شقى خاسر المرام
قال في آخر الحاوى القدسى ومتى لم يوجد في المسئلة عن أبي حنيفة رواية يؤخذ بظاهر قول أبي يوسف ثم بظاهر قول محمد ثم بظاهر قول زفر والحسن وغيرهم الأكبر فالاكبر هكذا إلى آخر من كان من كبار الاصحاب وإذا لم يوجد في الحادثة عن واحد منهم جواب ظاهر وتكلم فيه المشايخ المتأخرون قولا واحدا يؤخذ به فإن اختلفوا يؤخذ بقول الأكثرين مما اعتمد عليه الكبار المعروفون كأبي حفص وأبي جعفر وأبي الليث والطحاوي وغيرهم فيعتمد عليه وإن لم يوجد منهم جواب البتة نصا ينظر المفتى فيها نظر تأمل وتدبر واجتهاد ليجد فيها ما يقرب إلى الخروج عن العهدة ولا يتكلم فيها جزافا لمنصبه وحرمته وليخش الله تعالى ويراقبه فإنه أمر عظيم لا يتجاسر عليه الأكل جاهل شقى انتهى (وفى) الخانية وإن كانت المسئلة في غير ظاهر الرواية ان كانت توافق أصول أصحابنا يعمل بها فإن لم يجد لها رواية عن أصحابنا واتفق فيها المتأخرون على شيء يعمل به وإن اختلفوا يجتهد ويفتى بما هو صواب عنده وإن كان المفتى مقلدا غير مجتهد يأخذ بقول من هو افقه الناس عنده ويضيف الجواب إليه فإن كان افقه الناس عنده في مصر آخر يرجع إليه بالكتاب ويكتب بالجواب ولا يجازف خوفا من الافتراء على الله تعالى بتحريم الحلال وضده انتهى (قلت) وقوله وإن كان المفتى مقلدا غير مجتهد الخ يفيد أن المقلد المحض ليس له أن يفتى فيما لم يجد فيه نصا عن أحد ويؤيده ما في البحر عن التاترخانية وإن اختلف المتأخرون اخذ بقول واحد فلو لم يجد من المتأخرين يجتهد برأيه إذا كان يعرف وجوه الفقه ويشاور أهله انتهى فقوله إذا كان يعرف الخ دليل على أن من لم يعرف ذلك بل قرأ كتابا أو أكثر وفهمه
এবং অতিরিক্ত বিষয় হলো, তিনি বাস্তবে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়াবলি সম্পর্কে অবগত হওয়ার সামর্থ্য লাভে ধন্য হয়েছেন এবং তিনি বিচক্ষণ হাফেজদের (الحفاظ) অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। (সমাপ্ত)। কারণ এটি অস্পষ্ট নয় যে, এই বিষয়ের অধিকাংশ আনুষঙ্গিক শাখায় তাঁর ব্যুৎপত্তি থাকলেও এটি আবশ্যক করে না যে, দলীল-প্রমাণ গবেষণায় তাঁর যোগ্যতা রয়েছে; বরং আল-বাহর গ্রন্থে তাঁর বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, সেই যোগ্যতা তাঁর অর্জিত হয়নি এবং এটি মাযহাবের মধ্যে ইজতিহাদ (اجتهاد) করার জন্য একটি শর্ত। সুতরাং বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করুন।
অতঃপর যদি বর্ণনা পাওয়া না যায়
… আমাদের প্রজ্ঞাবান আলেমদের থেকে
আর পরবর্তী যুগের আলেমগণ যদি মতভেদ করেন
… তবে সংখ্যাধিক্যের মতটিকেই প্রাধান্য দেওয়া হবে
যেমন তাহাবি ও আবু হাফস আল-কাবীর
… এবং আবু জাফরদ্বয় ও প্রসিদ্ধ আবু লাইস
যখন তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় না
… এবং ফতোয়া (افتاء) প্রদানের প্রয়োজন হয়
তখন মুফতি (مفتى) পূর্ণ মনোযোগ ও ইজতিহাদের (اجتهاد) সাথে লক্ষ্য করবেন
… এবং কিয়ামতের দিন তাঁর রবের পাকড়াওকে ভয় করবেন
কেননা বিধিবিধান প্রদানের ক্ষেত্রে কেবল সেই দুঃসাহস দেখায়
… যে হতভাগা ও উদ্দেশ্য লাভে ব্যর্থ
আল-হাউই আল-কুদ্সি গ্রন্থের শেষে বলা হয়েছে: যখন কোনো মাসআলায় ইমাম আবু হানিফা থেকে কোনো বর্ণনা পাওয়া না যায়, তখন ইমাম আবু ইউসুফের জাহিরি বক্তব্য (ظاهر قول) গ্রহণ করা হবে, এরপর ইমাম মুহাম্মাদের জাহিরি বক্তব্য (ظاهر قول), এরপর ইমাম জুফার ও হাসানের বক্তব্য এবং তাঁদের পরে থাকা অগ্রগণ্যদের মধ্য থেকে ক্রমানুসারে বড়দের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। এভাবেই বড় পর্যায়ের আসহাবদের (الاصحاب) শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত এই নীতি বজায় থাকবে। আর যখন কোনো উদ্ভূত সমস্যায় তাঁদের কারো পক্ষ থেকে কোনো জাহিরি উত্তর পাওয়া না যায় এবং পরবর্তী যুগের মাশায়েখগণ ঐক্যবদ্ধভাবে কোনো কথা বলেন, তবে তা গ্রহণ করা হবে। কিন্তু যদি তাঁরা মতভেদ করেন, তবে প্রসিদ্ধ বড় আলেমগণ যাদের ওপর নির্ভর করেছেন—যেমন আবু হাফস, আবু জাফর, আবু লাইস, তাহাবি ও অন্যান্যগণ—তাদের মধ্যে সংখ্যাধিক্যের বক্তব্য গ্রহণ করা হবে এবং তার ওপরই নির্ভর করা হবে। আর যদি তাঁদের থেকেও কোনো অকাট্য বর্ণনা (نص) না পাওয়া যায়, তবে মুফতি (مفتى) তাতে গভীর চিন্তা, অনুধাবন ও ইজতিহাদের (اجتهاد) সাথে দৃষ্টিপাত করবেন যাতে তিনি দায়মুক্ত হওয়ার কাছাকাছি কোনো পথ খুঁজে পান এবং তাঁর পদমর্যাদা ও সম্মানের খাতিরে আন্দাজে কোনো কথা না বলেন। তিনি যেন মহান আল্লাহকে ভয় করেন এবং তাঁর নজরদারিতে থাকার কথা স্মরণ রাখেন। নিশ্চয়ই এটি অনেক বড় বিষয়, যার ওপর কেবল জাহিল ও হতভাগা ব্যক্তিরাই দুঃসাহস দেখায়। (সমাপ্ত)। আল-খানিয়্যাহ গ্রন্থে আছে, যদি মাসআলাটি জাহির আল-রিওয়ায়াহ এর বাইরে হয় এবং তা আমাদের আসহাবদের মূলনীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হয়, তবে তার ওপর আমল করা হবে। কিন্তু যদি আমাদের আসহাবদের থেকে কোনো বর্ণনা না পাওয়া যায় এবং পরবর্তী যুগের আলেমগণ কোনো বিষয়ে একমত হন, তবে সে অনুযায়ী আমল করা হবে। আর যদি তাঁরা মতভেদ করেন, তবে ইজতিহাদ (اجتهاد) করবেন এবং তাঁর কাছে যা সঠিক মনে হয় সে অনুযায়ী ফতোয়া (افتاء) দেবেন। আর মুফতি (مفتى) যদি মুকাল্লিদ (مقلد) হন এবং মুজতাহিদ (مجتهد) না হন, তবে তিনি তাঁর দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ফকিহ ব্যক্তির কথা গ্রহণ করবেন এবং উত্তরটিকে তাঁর দিকেই সম্বন্ধ করবেন। আর তাঁর দৃষ্টিতে সবচেয়ে বড় ফকিহ যদি অন্য শহরে থাকেন, তবে পত্রের মাধ্যমে তাঁর শরণাপন্ন হবেন এবং উত্তর লিখে নেবেন। আর হালালকে হারাম করা বা তার বিপরীত করার মাধ্যমে আল্লাহর ওপর অপবাদ দেওয়ার ভয়ে কোনো আন্দাজে কথা বলবেন না। (সমাপ্ত)। (আমি বলি) তাঁর কথা—মুফতি যদি মুকাল্লিদ (مقلد) হন এবং মুজতাহিদ (مجتهد) না হন ইত্যাদি—এটি প্রমাণ করে যে, একজন বিশুদ্ধ মুকাল্লিদ (مقلد) এর জন্য এমন বিষয়ে ফতোয়া দেওয়ার সুযোগ নেই যেখানে কারো থেকে কোনো অকাট্য বর্ণনা (نص) পাওয়া যায়নি। আল-বাহর গ্রন্থে আত-তাতারখানিয়াহ থেকে বর্ণিত বক্তব্যও একে সমর্থন করে যে, যদি পরবর্তী যুগের আলেমগণ মতভেদ করেন, তবে যে কারো একটি বক্তব্য গ্রহণ করা হবে। কিন্তু যদি পরবর্তী যুগের আলেমদের কাউকে না পাওয়া যায়, তবে তিনি স্বীয় রায়ের মাধ্যমে ইজতিহাদ (اجتهاد) করবেন যদি তিনি ফিকহের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং এ বিষয়ের অভিজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করেন। (সমাপ্ত)। অতএব তাঁর কথা—যদি তিনি অবগত থাকেন ইত্যাদি—এটি একটি প্রমাণ যে, যিনি তা জানেন না, বরং কেবল একটি বা তার বেশি কিতাব পড়েছেন এবং তা বুঝেছেন...
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
وصار له اهلية المراجعة والوقوف على موضع الحادثة من كتاب مشهور معتمد إذا لم يجد تلك الحادثة في كتاب ليس له أن يفتى فيها برأيه بل عليه أن يقول لا ادرى كما قال من هو أجل منه قدرا من مجتهدى الصحابة ومن بعدهم بل من ايد بالوحى صلى الله تعالى عليه وسلم والغالب ان عدم وجدانه النص لقلة اطلاعه أو عدم معرفته بموضع المسئلة المذكورة فيه اذ قل ما تقع حادثة إلا ولها ذكر في كتب المذهب اما بعينها أو بذكر قاعدة كلية تشملها ولا يكتفى بوجود نظيرها مما يقاربها فإنه لا يأمن أن يكون بين حادثته وما وجده فرق لا يصل إليه فهمه فكم من مسئلة فرقوا بينها وبين نظيرتها حتى ألفوا كتب الفروق لذلك ولو وكل الامر إلى افهامنا لم ندرك الفرق بينهما بل قال العلامة ابن نجم في الفوائد الزينية لا يحل الافتاء من القواعد والضوابط وإنما على المفتى حكاية النقل الصريح كما صرحوا به انتهى وقال أيضًا أن المقرر في الأربعة المذاهب أن قواعد الفقه اكثرية لا كلية انتهي نقله البيرى فعلى من لم يجد نقلا صريحا أن يتوقف في الجواب أو يسأل من هو أعلم منه ولو في بلدة أخرى كما يعلم مما نقلناه عن الخانية وفى الظهيرية وإن لم يكن من أهل الاجتهاد لا يحل له أن يفتى إلا بطريق الحكاية فيحكى ما يحفظ من أقوال الفقهاء انتهى نعم قد توجد حوادث عرفية غير مخالفة للنصوص الشرعية فيفتى المفتى بها كما سنذكره آخر المنظومة
وهاهنا ضوابط محوره
… غدت لدى أهل النهى مقرره
في كل أبواب العبادات رجح
… قول الإمام مطلقا ما لم تصح
عنه رواية بها الغير اخذ
… مثل تيمم لمن تمرا نبذ
وكل فرع بالقضا تعلقا
… قول أبي يوسف فيه ينتقى
وفى مسائل ذوى الارحام قد
… افتوا بما يقوله محمد
ورجحوا استحسانهم على القياس
… إلا مسائل وما فيها التباس
وظاهر المروى ليس يعدل
… عنه إلى خلافه اذ ينقل
لا ينبغى العدول عن درايه
… إذا اتى بوفقها روايه
وكل قول جاء ينفى الكفرا
… عن مسلم ولو ضعيفا أحرى
وكل ما رجع عنه المجتهد
… صار كمنسوخ فغيره اعتمد
وكل قول في المتون اثبتا
… فذاك ترجيح له ضمنا اتى
فرجحت على الشروح والشروح
… على الفتاوى القدم من ذات رجوح
ما لم يكن سواء لفظا صححا
… فالارجح الذى به قد صرحا
جمعت في هذه الابيات قواعد ذكروها مفرقة في الكتب وجعلوها علامة على المرجح من الأقوال (الأولى) ما فى شرح المنية للبرهان إبراهيم الحلبي من فصل
যিনি কোনো প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য (معتمد) কিতাব থেকে কোনো ঘটনার সমাধান খুঁজে বের করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন, তিনি যদি সেই বিষয়টি কোনো কিতাবে না পান, তবে তার জন্য নিজের মতামতের ভিত্তিতে ফতোয়া দেওয়া (يفتى) বৈধ নয়। বরং তার দায়িত্ব হলো 'আমি জানি না' বলা; যেমনটি তার চেয়েও অধিক মর্যাদাবান মুজতাহিদ (مجتهد) সাহাবী (صحابة) ও তাঁদের পরবর্তীগণ বলেছিলেন, এমনকি স্বয়ং ওহী (وحى) দ্বারা সমর্থিত নবী সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামও বলেছিলেন। সাধারণত কোনো বিষয়ে স্পষ্ট নস (نص) না পাওয়ার কারণ হলো পড়াশোনার স্বল্পতা অথবা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কিতাবের কোথায় আছে তা না জানা। কারণ এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে যার উল্লেখ মাযহাবের (مذهب) কিতাবসমূহে নেই; হয় তা হুবহু উল্লেখ আছে অথবা এমন কোনো সাধারণ মূলনীতি (قاعدة كلية) হিসেবে আছে যা একে অন্তর্ভুক্ত করে। কোনো বিষয়ের সমগোত্রীয় বিষয় পাওয়ার মাধ্যমেই সন্তুষ্ট হওয়া উচিত নয়, কারণ এমন হওয়ার আশঙ্কা থাকে যে তার সমস্যার বিষয় এবং কিতাবে প্রাপ্ত বিষয়ের মধ্যে এমন কোনো সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকতে পারে যা তার বোধগম্য নয়। অনেক মাসআলা এমন আছে যেগুলোর মধ্যে এবং সেগুলোর সদৃশ বিষয়গুলোর মধ্যে ফুকাহাগণ পার্থক্য করেছেন, এমনকি এর জন্য তাঁরা পার্থক্য বিষয়ক পৃথক গ্রন্থও রচনা করেছেন। যদি বিষয়টি আমাদের বুঝ-জ্ঞানের ওপর ছেড়ে দেওয়া হতো, তবে আমরা সেগুলোর পার্থক্য বুঝতে পারতাম না। বরং আল্লামা ইবনে নুজাইম 'আল-ফাওয়াইদ আল-যাইনিয়্যাহ' গ্রন্থে বলেছেন: সাধারণ নিয়ম ও মূলনীতি থেকে ফতোয়া দেওয়া (الافتاء) বৈধ নয়, বরং মুফতির দায়িত্ব হলো স্পষ্ট বর্ণনা (النقل الصريح) উদ্ধৃত করা, যেমনটি আলেমগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন। তিনি আরও বলেছেন যে, চার মাযহাবে (مذهب) এটি স্বীকৃত যে ফিকহশাস্ত্রের (الفقه) নিয়মগুলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সার্বিক বা নিরঙ্কুশ নয়। আল-বীরী এটি উদ্ধৃত করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি স্পষ্ট বর্ণনা (نقلا صريحا) খুঁজে পাবে না, তার কর্তব্য হলো উত্তরের ক্ষেত্রে বিরত থাকা অথবা তার চেয়ে বড় কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করা, যদিও তিনি অন্য শহরের হন; যেমনটি আমরা খানিয়াহ থেকে উদ্ধৃত করেছি। যহীরিয়্যাহ গ্রন্থে রয়েছে যে, যদি কেউ ইজতিহাদের (الاجتهاد) যোগ্য না হয়, তবে তার জন্য কেবল বর্ণনার মাধ্যমেই ফতোয়া দেওয়া (يفتى) বৈধ। অর্থাৎ ফুকাহাদের (فقهاء) উক্তি থেকে যা তার মুখস্থ আছে তা-ই সে বর্ণনা করবে। হ্যাঁ, এমন কিছু প্রথাগত বিষয় থাকতে পারে যা শরয়ি (الشرعية) নস (نص) এর বিরোধী নয়, মুফতি সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে ফতোয়া (يفتى) দিতে পারেন, যা আমরা পদ্যের শেষে উল্লেখ করব।
এখানে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মূলনীতি রয়েছে … যা জ্ঞানীদের নিকট স্বীকৃত।
ইবাদতের সকল অধ্যায়ে সাধারণভাবে ইমামের (الإمام) মতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়, যতক্ষণ না তাঁর থেকে কোনো বিশুদ্ধ (تصح) বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায় যা অন্য কেউ গ্রহণ করেছেন; যেমন খেজুরের নবীয়ের পানি দিয়ে তায়াম্মুমকারীর মাসআলা।
বিচারকার্য সংশ্লিষ্ট প্রতিটি শাখা-মাসআলায় আবু ইউসুফের মতকেই নির্বাচন করা হয়।
দূরবর্তী আত্মীয়দের মাসআলায় ফুকাহাগণ ইমাম মুহাম্মদের মতানুসারে ফতোয়া (افتوا) দিয়েছেন।
তাঁরা কিয়াসের (قياس) ওপর ইস্তিহসানকে (استحسان) প্রাধান্য দিয়েছেন, তবে সংশয়মুক্ত মাসআলা ব্যতীত।
জাহির রেওয়ায়াত (ظاهر المروى) বর্ণিত হওয়ার পর তা থেকে বিমুখ হওয়া যাবে না।
যদি কোনো বর্ণনার (رواية) অনুকূলে যুক্তি বা দিরায়াত (درايه) থাকে, তবে তা থেকে বিমুখ হওয়া উচিত নয়।
যে কোনো উক্তি যা একজন মুসলিমের কুফরকে নাকচ করে, তা দুর্বল (ضعيف) হলেও গ্রহণ করাই শ্রেয়।
মুজতাহিদ (مجتهد) যে মত থেকে ফিরে এসেছেন তা রহিত (منسوخ) বলে গণ্য হবে, সুতরাং অন্য মতের ওপর নির্ভর করতে হবে।
মূল পাঠে (المتون) যা কিছু সাব্যস্ত হয়েছে, তার মধ্যে পরোক্ষভাবে প্রাধান্য (ترجيح) বিদ্যমান।
তাই মূল পাঠসমূহ (المتون) ব্যাখ্যাগ্রন্থের (الشروح) ওপর এবং ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (الشروح) পুরাতন প্রাধান্যযোগ্য ফাতাওয়ার ওপর অগ্রাধিকারযোগ্য।
যদি না শব্দের দ্বারা কোনোটি স্পষ্টভাবে বিশুদ্ধ (صححا) করা হয়; তবে যেটিকে স্পষ্টভাবে বিশুদ্ধ বলা হয়েছে সেটিই অধিকতর প্রাধান্যপ্রাপ্ত (الارجح)।
এই পদ্যগুলোতে আমি সেই নিয়মগুলো একত্রিত করেছি যা কিতাবসমূহের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিল এবং সেগুলোকে বিভিন্ন মতের মধ্যে প্রাধান্যপ্রাপ্ত (المرجح) মত চেনার চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। (প্রথমটি) বোরহান ইব্রাহিম আল-হালাবী রচিত শারহু মুনইয়াহ এর সংশ্লিষ্ট পরিচ্ছেদে যা আছে—
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
التميم حيث قال فلله در الإمام الاعظم ما ادق نظره وما أشد فكره ولأمر ما جعل العلماء الفتوى على قوله في العبادات مطلقا وهو الواقع بالاستقراء ما لم يكن عنه رواية كقول المخالف كما في طهارة الماء المستعمل والتيمم فقط عند عدم غير نبيذ التمر (الثانية) ما في البحر قبيل فصل الحبس قال وفى القنية من باب المفتى الفتوى على قول أبي يوسف فيما يتعلق بالقضاء لزيادة تجربته وكذا في البزازية من القضاء انتهى أي لحصول زيادة العلم له بتجربته ولهذا رجع أبو حنيفة عن القول بان الصدقة أفضل من حج التطوع لما حج وعرف مشقته زاد في شرح البيرى على الاشباه أن الفتوى على قول أبي يوسف أيضًا في الشهادات قلت لكن هي من توابع القضاء (و) في البحر من كتاب الدعوى لو سكت المدعى عليه ولم يجب ينزل منكرا عندهما اما عند أبي يوسف فيحبس إلى أن يجيب كما قال الإمام السرخسى والفتوى على قول أبي يوسف فيما يتعلق بالقضاء كما في القنية والبزازية فلذا افتيت بأنه يحبس إلى أن يجيب (الثالثة) ما في متن الملتقى وغيره في مسئلة القسمة على ذوى الارحام وبقول محمد يفتى قال في سكب الانهراى في جميع توريث ذوى الارحام وهو اشهر الروايتين عن الإمام أبي حنيفة وبه يفتى كذا قاله الشيخ سراج الدين في شرح فرائضه وقال في الكافى وقول محمد اشهر الروايتين عن أبي حنيفة في جميع ذوى الارحام وعليه الفتوى (الرابعة) ما في عامة الكتب من أنه إذا كان في مسئلة قياس واستحسان ترجح الاستحسان على القياس إلا في مسائل وهى إحدى عشرة مسئلة على ما في اجناس الناطفى وذكرها العلامة ابن نجيم في شرحه على المنار ثم ذكر أن نجم الدين النسفي اوصلها إلى اثنتين وعشرين وذكر قبله عن التلويح أن الصحيح ان معنى الرجحان هنا تعين العمل بالراجح وترك العمل بالمرجوح وظاهر كلام فخر الإسلام أنه الاولوية حتى يجوز العمل بالمرجوح (الخامسة) ما في قضاء البحر من أن ما خرج عن ظاهر الرواية فهو مرجوع عنه والمرجوع عنه لم يبق قولا للمجتهد كما ذكروه انتهى وقدمنا عن انفع الوسائل أن القاضى المقلد لا يجوز له أن يحكم إلا بما هو ظاهر المذهب لا بالرواية الشاذة إلا أن ينصوا على أن الفتوى عليها انتهى وفي قضاء الفوائت من البحر ان المسئلة إذا لم تذكر في ظاهر الرواية وثبتت في رواية أخرى تعين المصير إليها انتهى (السادسة) ما في شرح المنية في بحث تعديل الاركان بعد ما ذكر اختلاف الرواية عن الإمام في الطمانينة هل هي سنة أو واجبة وكذا القومة والجلسة قال وانت علمت أن مقتضى الدليل الوجوب كما قاله الشيخ كمال الدين ولا ينبغي أن يعدل
তামিমি বলেন, ইমামে আজমের কী সূক্ষ্ম দৃষ্টি এবং কী প্রখর চিন্তা! কোনো এক বিশেষ কারণেই ওলামায়ে কেরাম ইবাদতের ক্ষেত্রে সাধারণত তাঁর মতের ওপর ফতোয়া (الفتوى) নির্ধারণ করেছেন। আর গবেষণায় এটিই প্রমাণিত হয়, যতক্ষণ না তাঁর থেকে কোনো ভিন্ন বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায়; যেমনটি ব্যবহৃত পানির পবিত্রতা এবং খেজুরের নবীজ ব্যতীত অন্য কিছু না থাকলে কেবল তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে তাঁর ভিন্ন মত রয়েছে। (দ্বিতীয়ত) যা আল-বাহর কিতাবের কারাবাস অধ্যায়ের পূর্বেই বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: আল-কুনিয়া কিতাবের মুফতি অধ্যায়ে রয়েছে যে, বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে ইমাম আবু ইউসুফের মতের ওপর ফতোয়া (الفتوى) দেওয়া হবে তাঁর অধিক অভিজ্ঞতার কারণে। অনুরূপভাবে আল-বাযযাযিয়া কিতাবের বিচার অধ্যায়েও উল্লেখ করা হয়েছে (সমাপ্ত)। অর্থাৎ, অভিজ্ঞতার মাধ্যমে তাঁর ইলম বা জ্ঞান বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে। আর এই কারণেই ইমাম আবু হানিফা নফল হজের চেয়ে দান-সদকা উত্তম হওয়ার মত থেকে ফিরে এসেছিলেন যখন তিনি হজ করেন এবং এর কষ্ট অনুভব করেন। আল-বিরি রচিত আল-আশবাহ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে আরও যোগ করা হয়েছে যে, সাক্ষ্য সংক্রান্ত বিষয়েও ইমাম আবু ইউসুফের মতের ওপর ফতোয়া (الفتوى) দেওয়া হবে। আমি বলি: তবে এটি বিচারব্যবস্থারই আনুষঙ্গিক বিষয়। (এবং) আল-বাহর কিতাবের মামলা অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে: যদি বিবাদী নীরব থাকে এবং উত্তর না দেয়, তবে সাহিবাইন-এর নিকট তাকে অস্বীকারকারী (منكر) হিসেবে গণ্য করা হবে। পক্ষান্তরে ইমাম আবু ইউসুফের মতে, উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত তাকে কারারুদ্ধ রাখা হবে; যেমনটি ইমাম সারাখসি বলেছেন। আর বিচারব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে ফতোয়া (الفتوى) ইমাম আবু ইউসুফের মতের ওপরই প্রদান করা হয়, যেমনটি কুনিয়া ও বাযযাযিয়া গ্রন্থে রয়েছে। এজন্য আমি ফতোয়া দিয়েছি যে, উত্তর না দেওয়া পর্যন্ত তাকে কারারুদ্ধ রাখা হবে। (তৃতীয়ত) যা আল-মুলতাকা ও অন্যান্য কিতাবের মূল পাঠে জাবিল আরহাম (ذوى الارحام)-এর বণ্টন সংক্রান্ত বিষয়ে বর্ণিত হয়েছে যে, ইমাম মুহাম্মদের মত অনুযায়ী ফতোয়া (الفتوى) দেওয়া হয়। সাকবুল আনহুর গ্রন্থে বলা হয়েছে: অর্থাৎ সকল জাবিল আরহামের মীরাসের ক্ষেত্রে তাঁর মতই অগ্রগণ্য, আর এটি ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (رواية) মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ (اشهر) এবং এর ওপরই ফতোয়া (الفتوى) দেওয়া হয়। শায়খ সিরাজুদ্দিন তাঁর ফারায়েযের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এমনটিই বলেছেন। আল-কাফি কিতাবে বলা হয়েছে: ইমাম মুহাম্মদের মতটিই সকল জাবিল আরহামের ক্ষেত্রে ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত দুটি বর্ণনার (رواية) মধ্যে অধিক প্রসিদ্ধ (اشهر) এবং এর ওপরই ফতোয়া (الفتوى) প্রদান করা হয়। (চতুর্থত) সাধারণ কিতাবসমূহে যা বর্ণিত হয়েছে যে, যখন কোনো বিষয়ে কিয়াস (قياس) ও ইসতিহসান (استحسان)-এর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়, তখন কিয়াসের ওপর ইসতিহসানকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। তবে কয়েকটি মাসয়ালা এর ব্যতিক্রম, যা আল-আজনাস কিতাব অনুযায়ী এগারোটি মাসয়ালা। আল্লামা ইবনে নুজাইম আল-মানার-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নাজমুদ্দিন আন-নাসাফি এই সংখ্যাকে বাইশ পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন। এর আগে তিনি আত-তালউইহ থেকে উল্লেখ করেছেন যে, সঠিক (صحيح) মত হলো এখানে প্রাধান্য (رجحان) অর্থ হলো অধিক শক্তিশালী (راجح) মতের ওপর আমল করা নির্দিষ্ট হওয়া এবং কম শক্তিশালী (مرجوح) মত বর্জন করা। আর ফখরুল ইসলামের বক্তব্যের বাহ্যিক (ظاهر) অর্থ হলো এটি কেবল অগ্রাধিকারমূলক, যাতে কম শক্তিশালী (مرجوح) মতের ওপরও আমল করা জায়েজ থাকে। (পঞ্চমত) আল-বাহর কিতাবের বিচার অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে যে, যা কিছু জাহিরুর রিওয়াইয়াহ (ظاهر الرواية)-এর বহির্ভূত, তা প্রত্যাখ্যাত বা যা থেকে প্রত্যাবর্তন (مرجوع عنه) করা হয়েছে। আর যে মত থেকে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে, তা মুজতাহিদের মত হিসেবে গণ্য থাকে না, যেমনটি তাঁরা উল্লেখ করেছেন (সমাপ্ত)। আমরা আনফাউল ওয়াসাইল থেকে পূর্বে উল্লেখ করেছি যে, মুকাল্লিদ বিচারকের জন্য মাজহাবের প্রকাশ্য মত (ظاهر المذهب) ব্যতীত অন্য কোনো মত অনুযায়ী ফয়সালা করা জায়েজ নয়; এমনকি বিরল বর্ণনা (رواية شاذة) অনুযায়ীও নয়, যতক্ষণ না ওলামায়ে কেরাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে এর ওপরই ফতোয়া (الفتوى) হবে (সমাপ্ত)। আল-বাহর কিতাবের কাযা নামাজ অধ্যায়ে বর্ণিত আছে যে, কোনো মাসয়ালা যদি জাহিরুর রিওয়াইয়াহ (ظاهر الرواية)-তে বর্ণিত না হয় কিন্তু অন্য কোনো বর্ণনায় (رواية) তা প্রমাণিত হয়, তবে সেটিই গ্রহণ করা আবশ্যক (সমাপ্ত)। (ষষ্ঠত) শরহু মুনইয়াতিল মুসল্লি কিতাবে আরকানসমূহ যথাযথভাবে আদায়ের আলোচনার পর, যেখানে ইমামের পক্ষ থেকে বর্ণনার (رواية) পার্থক্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, নামাযে ধীরস্থিরতা কি সুন্নত (سنة) না ওয়াজিব (واجب); এবং অনুরূপভাবে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে সোজা হওয়া ও দুই সিজদার মাঝখানে বসা—সেখানে তিনি বলেছেন: আপনি জেনেছেন যে, দলিলের দাবি অনুযায়ী এটি ওয়াজিব হওয়া (وجوب) আবশ্যক, যেমনটি শায়খ কামালুদ্দিন বলেছেন এবং এ থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
عن الدراية إذا وافقتها رواية انتهى والدراية بالدال المهملة تستعمل بمعنى الدليل كما في المستصفى ويؤيده ما في آخر الحاوى القدسى إذا اختلفت الروايات عن أبي حنيفة في مسئلة فالاولى بالاخذ اقواها حجة (السابعة) ما في البحر من باب المرتد نقلا عن الفتاوى الصغرى الكفر شيء عظيم فلا اجعل المؤمن كافرا متى وجدت رواية أنه لا يكفر انتهى ثم قال والذى تحرر انه لا يفتى بكفر مسلم امكن حمل كلامه على محمل حسن أو كان في كفره اختلاف ولو رواية ضعيفة (الثامنة) ما في البحر مما قدمناه قريبا من أن المرجوع عنه لم يبق مذهبا للمجتهد وح فيجب طلب القول الذي رجع إليه والعمل به لأن الأول صار بمنزلة الحكم المنسوخ وفى البحر أيضًا عن التوشيح أن ما رجع عنه المجتهد لا يجوز الاخذ به انتهى (و) ذكر في شرح التحرير أن علم المتأخر فهو مذهبه ويكون الأول منسوخا والا حكى عنه القولان من غير أن يحكم على أحدهما بالرجوع (التاسعة) ما ذكره العلامة قاسم في تصحيحه أن ما في المتون مصحح تصحيحا التزاميا والتصحيح الصريح مقدم على التصحيح الالتزامي قلت حاصله أن أصحاب المتون التزموا وضع القول الصحيح فيكون ما في غيرها مقابل الصحيح ما لم يصرح بتصحيحه فيقدم عليها لانه تصحيح صريح فيقدم على التصحيح الالتزامى وفى شهادات الخيرية في جواب سؤال المذهب الصحيح المفتى به الذي مشت عليه أصحاب المتون الموضوعة لنقل الصحيح من المذهب الذي هو ظاهر الرواية أن شهادة الاعمى لا تصح ثم قال وحيث علم أن القول هو الذي تواردت عليه المتون فهو المعتمد المعمول به اذ صرحوا بأنه إذا تعارض ما في المتون والفتاوى فالمعتمد ما في المتون وكذا يقدم ما في الشروح على ما في الفتاوى انتهى وفي فصل الحبس من البحر والعمل على ما في المتون لانه إذا تعارض ما في المتون والفتاوى فالمعتمد ما في المتون كما في انفع الوسائل وكذا يقدم ما في الشروح على ما في الفتاوى انتهى أي لما صرح به في انفع الوسائل أيضًا في مسئلة قديمة الوقف حيث قال لا يفتى بنقول الفتاوى بل نقول الفتاوى إنما يستأنس بها إذا لم يوجد ما يعارضها من كتب الاصول ونقل المذهب اما مع وجود غيرها لا يلتفت إليها خصوصا إذا لم يكن نص فيها على الفتوى اهـ (و) رأيت في بعض كتب المتأخرين نقلا عن ايضاح الاستدلال على ابطال الاستبدال لقاضي القضاة شمس الدين الحريري أحد شراح الهداية ان صدر الدين سليمان قال أن هذه الفتاوى هي اختيارات المشايخ فلا تعارض كتب المذهب قل وكذا كان يقول غيره من مشايخنا وبه اقول انتهى (ثم) لا يخفى أن المراد بالمتون المتون المعتبرة كالبداية ومختصر
আইনি প্রজ্ঞা (الدراية) সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, যখন তার অনুকূলে কোনো বর্ণনা (رواية) পাওয়া যায় [তখন তা গ্রহণযোগ্য হয়]। সমাপ্ত। 'দা'ল' বর্ণযোগে 'দিরায়া' শব্দটি দলীল বা প্রমাণের অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমনটি 'আল-মুস্তাসফা' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। আর এটি 'আল-হাভি আল-কুদ্সি' গ্রন্থের শেষাংশে যা আছে তাকে সমর্থন করে যে, যখন কোনো বিষয়ে ইমাম আবু হানিফা থেকে বর্ণিত বর্ণনাগুলোর (الروايات) মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়, তখন গ্রহণের ক্ষেত্রে যেটির প্রমাণ বা যুক্তি অধিক শক্তিশালী সেটিই উত্তম। (সপ্তম) 'আল-বাহর' গ্রন্থের 'মুরতাদ' অধ্যায়ে 'আল-ফাতাওয়া আস-সুগরা' থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যে: কুফর একটি গুরুতর বিষয়; তাই যতক্ষণ পর্যন্ত কোনো মুমিনকে কাফির না বলার কোনো বর্ণনা (رواية) বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ আমি তাকে কাফির সাব্যস্ত করব না। সমাপ্ত। অতঃপর তিনি বলেন: বিষয়টি যা সাব্যস্ত হয়েছে তা হলো, কোনো মুসলিমের কাফির হওয়ার ফতোয়া দেওয়া যাবে না যদি তার কথাকে ভালো কোনো অর্থে ব্যাখ্যা করার সুযোগ থাকে, অথবা তার কাফির হওয়ার বিষয়ে যদি মতভেদ থাকে—এমনকি তা যদি একটি দুর্বল বর্ণনাও (رواية ضعيفة) হয়। (অষ্টম) 'আল-বাহর' গ্রন্থে আমরা ইতিপূর্বে যা আলোচনা করেছি যে, মুজতাহিদ যে মত থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন তা আর তাঁর মাযহাব হিসেবে অবশিষ্ট থাকে না। এমতাবস্থায় যে মতটির দিকে তিনি প্রত্যাবর্তন করেছেন তা অনুসন্ধান করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা ওয়াজিব; কারণ প্রথমটি রহিত (منسوخ) হুকুমের পর্যায়ভুক্ত হয়ে গেছে। 'আল-বাহর' গ্রন্থে 'আত-তাওশিহ' থেকেও বর্ণিত হয়েছে যে, মুজতাহিদ যে মত থেকে প্রত্যাবর্তন করেছেন তা গ্রহণ করা জায়েজ নয়। সমাপ্ত। আর 'শারহুত তাহরির' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, যদি পরবর্তী মতটি জানা যায় তবে সেটিই তাঁর মাযহাব এবং প্রথমটি রহিত (منسوخ) বলে গণ্য হবে; অন্যথায় তাঁর থেকে উভয় মতই বর্ণনা করা হবে এবং কোনো একটির ওপর প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত আরোপ করা হবে না। (নবম) আল্লামা কাসিম তাঁর 'তাসহিহ' গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন যে, মূল পাঠ্যসমূহে (المتون) যা বর্ণিত হয়েছে তা আবশ্যিকভাবে শুদ্ধায়নকৃত (مصحح)। আর সুস্পষ্ট শুদ্ধায়ন (تصحيح) আবশ্যিক শুদ্ধায়নের ওপর অগ্রাধিকার পাবে। আমি বলি: এর সারমর্ম হলো, মূল পাঠ্যের (المتون) লেখকগণ সঠিক (صحيح) মতটি উল্লেখ করার দায়বদ্ধতা গ্রহণ করেছেন; সুতরাং অন্য গ্রন্থে যা আছে তা সঠিকের (صحيح) বিপরীত বলে গণ্য হবে যতক্ষণ না তার শুদ্ধায়নের (تصحيحه) বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়। অতএব, সুস্পষ্ট শুদ্ধায়নকে (تصحيح صريح) প্রাধান্য দেওয়া হবে, কারণ এটি আবশ্যিক শুদ্ধায়নের ওপর অগ্রাধিকার পায়। 'আল-খাইরিয়্যাহ' গ্রন্থের সাক্ষ্য অধ্যায়ে একটি প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে: সহিহ (صحيح) মাযহাব এবং ফতোয়া প্রদানের জন্য নির্ধারিত (المفتى به) মত, যা সেই সকল মূল পাঠ্যের (المتون) সংকলকগণ অনুসরণ করেছেন যারা মাযহাবের সহিহ (صحيح) বর্ণনা যা 'জাহির আল-রিওয়ায়াহ' হিসেবে পরিচিত তা সংকলনের জন্য গ্রন্থগুলো রচনা করেছেন, তা হলো অন্ধ ব্যক্তির সাক্ষ্য প্রদান সঠিক (تصح) নয়। অতঃপর তিনি বলেন: যেহেতু এটি জানা গেছে যে এই মতটির ওপরই মূল পাঠ্যসমূহ (المتون) একমত হয়েছে, তাই এটিই নির্ভরযোগ্য (المعتمد) এবং আমলযোগ্য মত। কারণ আলিমগণ স্পষ্ট করে বলেছেন যে, যখন মূল পাঠ্যসমূহ (المتون) এবং ফতোয়া গ্রন্থসমূহের বর্ণনার মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন মূল পাঠ্যসমূহের বর্ণনা নির্ভরযোগ্য (المعتمد)। একইভাবে ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের (الشروح) বিষয়বস্তু ফতোয়া গ্রন্থসমূহের ওপর অগ্রাধিকার পাবে। সমাপ্ত। 'আল-বাহর' গ্রন্থের কারাবাস অধ্যায়ে আছে: আমল হবে মূল পাঠ্যসমূহের (المتون) ওপর; কারণ যখন মূল পাঠ্যসমূহ (المتون) এবং ফতোয়া গ্রন্থসমূহের মধ্যে বৈপরীত্য দেখা দেয়, তখন মূল পাঠ্যসমূহের বর্ণনা নির্ভরযোগ্য (المعتمد), যেমনটি 'আনফাউল ওয়াসায়িল' গ্রন্থে রয়েছে। একইভাবে ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহের বিষয়বস্তু ফতোয়া গ্রন্থসমূহের ওপর অগ্রাধিকার পাবে। সমাপ্ত। অর্থাৎ এটি সেই কারণে যা 'আনফাউল ওয়াসায়িল' গ্রন্থে ওয়াকফের একটি প্রাচীন মাসআলায় স্পষ্ট করা হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছেন: ফতোয়া গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি দিয়ে ফতোয়া দেওয়া যাবে না, বরং ফতোয়া গ্রন্থসমূহের উদ্ধৃতি দ্বারা কেবল তখনই সমর্থন গ্রহণ করা যাবে যখন মূল গ্রন্থসমূহ (كتب الاصول) এবং মাযহাবের বর্ণনার মধ্যে তার বিরোধী কিছু না পাওয়া যায়। তবে অন্যান্য কিতাবের উপস্থিতিতে এগুলোর প্রতি মনোযোগ দেওয়া হবে না, বিশেষ করে যদি সেগুলোতে ফতোয়ার বিষয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না থাকে। সমাপ্ত। আমি পরবর্তীদের কিছু কিতাবে হিদায়া গ্রন্থের অন্যতম ব্যাখ্যাকার কাজিউল কুজাত শামসুদ্দিন আল-হারিরি রচিত 'ইজাহুল ইস্তিদলাল' থেকে উদ্ধৃত হতে দেখেছি যে, সদরুদ্দিন সুলাইমান বলেছেন: এই ফতোয়াগুলো হলো মাশায়েখগণের ব্যক্তিগত চয়নকৃত মত, তাই এগুলো মাযহাবের মূল কিতাবগুলোর বিরোধী হতে পারে না। তিনি বলেন: আমাদের মাশায়েখদের মধ্যে অন্যরাও এমনটি বলতেন এবং আমিও তাই বলি। সমাপ্ত। অতঃপর এটি গোপন নয় যে, মূল পাঠ্য (المتون) বলতে এখানে 'আল-বিদায়া' ও 'মুখতাসার' এর মতো নির্ভরযোগ্য মূল পাঠ্যসমূহ উদ্দেশ্য।
(খণ্ড: ১)
শারহুল মানযুমাতিল মুসাম্মাত বি-উকুদি রাসমিল মুফতী - ত ইস্তাম্বুল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
القدورى والمختار والنقاية والوقاية والكنز والملتقى فإنها الموضوعة لنقل المذهب مما هو ظاهر الرواية بخلاف متن الغرر لمنلا خسرو ومتن التنوير للتمرتاشي الغزى فإن فيهما كثيرا من مسائل الفتاوى
وسابق الأقوال في الخانيه
… وملتقى الابحر ذو مزيه
وفى سواهما اعتمد ما اخروا
… دليله لأنَّه المحرر
كما هو العادة في الهدايه
… ونحوها لراجح الدرايه
كذا إذا ما واحدا قد عللوا
… له وتعليل سواه اهملوا
أي ان أول الأقوال الواقعة في فتاوى الإمام قاضى خان له مزية على غيره في الرجحان لانه قال في أول الفتاوى وفيما كثرت فيه الاقاويل من المتأخرين اختصرت على قول أو قولين وقدمت ما هو الاظهر وافتتحت بما هو الاشهر اجابة للطالبين وتيسيرا على الراغبين انتهى وكذا صاحب ملتقى الابحر التزم تقديم القول المعتمد وما عداهما من الكتب التي تذكر فيها الأقوال بادلتها كالهداية وشروحها وشروح الكنز وكما في النسفى والبدائع وغيرها من الكتب المبسوطة فقد جرت العادة فيها عند حكاية الأقوال انهم يؤخرون قول الإمام ثم يذكرون دليل كل قول ثم يذكرون دليل الإمام متضمنا للجواب عما استدل به غيره وهذا ترجيح له إلا أن ينصوا على ترجيح غيره (قال) شيخ الإسلام العلامة ابن الشلبي في فتاواه الأصل أن العمل على قول أبي حنيفة ولذا ترجح المشايخ دليله في الاغلب على دليل من خالفه من أصحابه ويجيبون عما استدل به مخالفه وهذا إمارة العمل بقوله وإن لم يصرحوا بالفتوى عليه اذ الترجيح تصريح التصحيح انتهى وفى آخر المستصفى للإمام النسفى إذا ذكر في المسئلة ثلاثة أقوال فالراجح هو الأول أو الأخير لا الوسط انتهى (قلت) وينبغى تقيده بما إذا لم تعلم عادة صاحب ذلك الكتاب ولم يذكر الادلة اما إذا علمت كما مر عن الخانية والملتقى فتتبع واما إذا ذكرت الادلة فالمرجح الأخير كما قلنا (وكذا) لو ذكروا قولين مثلا وعللوا لأحدهما كان ترجيحا له على غير المعلل كما افاده الخير الرملي في كتاب الغصب من فتاواه الخيرية ونظيره ما في التحرير وشرحه في فصل الترجيح في المتعارضين أن الحكم الذى تعرض فيه للعلة يترجح على الحكم الذي لم يتعرض فيه لها لأن ذكر علته يدل على الاهتمام به والحث عليه انتهى
وحيثما وجدت قولين وقد
… صحح واحد فذاك المعتمد
بنحو ذا الفتوى عليه الاشبه
… والاظهر المختار ذا والاوجه
আল-কুদুরি, আল-মুখতার, আন-নুকায়াহ, আল-উইকায়াহ, আল-কানজ এবং আল-মুলতাকা হচ্ছে জাহিরুর রিওয়ায়াহ (ظاهر الرواية) এর অন্তর্ভুক্ত মাযহাব (المذهب) বর্ণনার জন্য রচিত কিতাবসমূহ। পক্ষান্তরে মোল্লা খসরুর 'গুরার' এবং তিমুরতাশি আল-গাজ্জির 'তানওয়ীর' এর মূল পাঠ (متن) ভিন্নতর; কারণ সেগুলোতে প্রচুর ফতোয়া সংক্রান্ত মাসআলা (مسائل الفتاوى) রয়েছে।
খানিয়া কিতাবের পূর্ববর্তী বক্তব্যসমূহ
… এবং মুলতাকল আবহুর কিতাবটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী।
এই দুটি ব্যতীত অন্য কিতাবসমূহে যার প্রমাণ (دليله) শেষে উল্লেখ করা হয়েছে তাকেই নির্ভরযোগ্য (اعتمد) ধরো; কারণ সেটিই পরিমার্জিত (المحرر)।
যেমনটি আল-হিদায়াহ
… এবং অনুরূপ কিতাবসমূহে অধিকতর অগ্রগণ্য (راجح) মতামত অনুধাবনের ক্ষেত্রে অভ্যাস হিসেবে স্বীকৃত।
অনুরূপভাবে যখন কোনো একটি মতের জন্য তারা যৌক্তিক ব্যাখ্যা (عللوا) প্রদান করেন
… এবং অন্যটির যৌক্তিক ব্যাখ্যা (تعليل) পরিত্যাগ করেন।
অর্থাৎ, ইমাম কাজিখান-এর ফতোয়ায় উল্লেখিত বক্তব্যগুলোর মধ্যে প্রথমটির অন্যগুলোর ওপর শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। কেননা তিনি তার ফতোয়ার শুরুতে বলেছেন: "পরবর্তী যুগের ফকিহগণের মাঝে যেখানে মতভেদ বৃদ্ধি পেয়েছে, সেখানে আমি একটি বা দুটি বক্তব্যের ওপর সংক্ষেপ করেছি; এবং যা অধিক স্পষ্ট (الأظهر) তা অগ্রভাগে এনেছি এবং যা অধিক প্রসিদ্ধ (الأشهر) তা দিয়ে শুরু করেছি—যাতে তা ত্বলিবুল ইলমদের প্রয়োজন মেটাতে পারে এবং আগ্রহীদের জন্য সহজ হয়।" সমাপ্ত। অনুরূপভাবে মুলতাকল আবহুর কিতাবের লেখকও নির্ভরযোগ্য (المعتمد) বক্তব্যটি আগে উল্লেখ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর এই দুটি কিতাব বাদে যেসব কিতাবে দলিলসহ বিভিন্ন বক্তব্য উল্লেখ করা হয়—যেমন আল-হিদায়াহ ও এর শরাহসমূহ, আল-কানজ এর শরাহসমূহ এবং যেমনটি আল-নাসাফি, আল-বাদায়ে এবং অন্যান্য বিস্তারিত কিতাবে রয়েছে—সেগুলোতে বক্তব্য বর্ণনার ক্ষেত্রে অভ্যাস হলো তারা ইমামের বক্তব্যকে শেষে উল্লেখ করেন, এরপর প্রত্যেক বক্তব্যের প্রমাণ (دليل) উল্লেখ করেন, অতঃপর ইমামের প্রমাণ (دليل) উল্লেখ করেন যা অন্যদের প্রমাণের উত্তরের অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর এটিই ইমামের মতকে অধিকতর অগ্রগণ্য (ترجيح) করার পদ্ধতি, যদি না তারা স্পষ্টভাবে অন্য কোনো মতকে প্রাধান্য (ترجيح) দান করেন। শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে আল-শিলবি তার ফতোয়ায় বলেছেন: "মূল নীতি হলো আমল হবে আবু হানিফার বক্তব্যের ওপর। এই কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মাশায়েখগণ তার বিরুদ্ধাচরণকারী সাথীদের প্রমাণের বিপরীতে ইমামের প্রমাণকেই অধিকতর অগ্রগণ্য (ترجح) করেন এবং বিরোধীদের প্রমাণের উত্তর প্রদান করেন। এটি তার বক্তব্যের ওপর আমল করার একটি লক্ষণ, যদিও তারা স্পষ্টভাবে সেটির ওপর ফতোয়া (الفتوى) প্রদানের কথা উল্লেখ না করেন। কারণ প্রাধান্য দান (الترجيح) হলো বিশুদ্ধকরণের (التصحيح) নামান্তর।" সমাপ্ত। ইমাম নাসাফির আল-মুস্তাসফা এর শেষে আছে: "যখন কোনো মাসআলায় তিনটি বক্তব্য উল্লেখ করা হয়, তখন অধিকতর অগ্রগণ্য (الراجح) হলো প্রথম অথবা শেষটি, মাঝখানেরটি নয়।" সমাপ্ত। (আমি বলি) এটি ঐ সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত যখন লেখকের অভ্যাস সম্পর্কে জানা নেই এবং যেখানে কোনো প্রমাণ (الادلة) উল্লেখ করা হয়নি। তবে যদি জানা থাকে—যেমন খানিয়া ও মুলতাকা এর ক্ষেত্রে অতিক্রান্ত হয়েছে—তবে তা অনুসরণ করতে হবে। আর যখন প্রমাণসমূহ (الادلة) উল্লেখ করা হবে, তখন আমরা যেমন বলেছি শেষেরটিই অধিকতর অগ্রগণ্য (المرجح) হবে। (অনুরূপভাবে) যদি তারা উদাহরণস্বরূপ দুটি বক্তব্য উল্লেখ করেন এবং একটির যৌক্তিক ব্যাখ্যা (عللوا) প্রদান করেন, তবে সেটি ব্যাখ্যাহীন বক্তব্যের ওপর প্রাধান্য (ترجيحا) পাবে। যেমনটি খাইরুদ দ্বীন রামলি তার ফতোয়া আল-খাইরিয়া-র গসব (ছিনতাই) অধ্যায়ে উল্লেখ করেছেন। অনুরূপভাবে আত-তাহরীর এবং এর শরাহতে বিরোধপূর্ণ বর্ণনার ক্ষেত্রে প্রাধান্য দান (الترجيح) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদে উল্লেখ আছে যে, "যে হুকুমের সাথে যৌক্তিক কারণ (العلة) উল্লেখ করা হয়েছে, তা এমন হুকুমের ওপর প্রাধান্য (يترجح) পাবে যেখানে কারণ উল্লেখ করা হয়নি। কেননা কারণ (علته) উল্লেখ করা সেটির গুরুত্ব প্রদান ও সেটির প্রতি উৎসাহিত করার প্রমাণ বহন করে।" সমাপ্ত।
যখনই তুমি দুটি বক্তব্য পাবে এবং
… কোনো একটিকে বিশুদ্ধ (صحح) বলা হবে, তবে সেটিই নির্ভরযোগ্য (المعتمد)।
এ ধরনের শব্দের মাধ্যমে: "এর ওপরই ফতোয়া (الفتوى)", "এটিই সামঞ্জস্যপূর্ণ (الأشبه)"
… "এটিই অধিক স্পষ্ট (الأظهر)", "এটিই মনোনীত (المختار)" এবং "এটিই যুক্তিগ্রাহ্য (الأوجه)"।