(খণ্ড: ১)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: -)
المؤتنف تكملة المؤتلف والمختلف القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: المؤتنف تكملة المؤتلف والمختلف
المؤلف: أبو بكر أحمد على ثابت الخطيب البغدادي (ت 463 هـ)
(يُطبع لأول مرة عن نسخة المؤلف بخط يده)
المحقق: أبو عاصم الشوامي
الناشر: المكتبة العمرية، دار الذخائر - القاهرة
الطبعة: الثانية، 1444 هـ - 2023 م
عدد الأجزاء: 2
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 9 ذو القعدة 1445
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
বই: আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ
লেখক: আবু বকর আহমদ আলী সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি (মৃত্যু ৪৬৩ হি.)
(লেখকের স্বহস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি থেকে প্রথমবারের মতো মুদ্রিত)
সম্পাদক: আবু আসিম আল-শাওয়ামি
প্রকাশক: আল-মাকতাবাতুল উমরিয়্যাহ, দারুজ জাখায়ির - কায়রো
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৪৪ হি. - ২০২৩ খ্রি.
খণ্ড সংখ্যা: ২
[বইটির নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত সংস্করণের অনুরূপ]
শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ৯ জিলকদ ১৪৪৫
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٥)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة الطبعة الثانيةالحمد لله وكفى وصلاة وسلامًا على نبيه المصطفى صلى الله عليه وسلم، أما بعد:
فكان فضل الله علينا عظيمًا إذ وفقنا لإخراج هذا الكتاب النفيس لأول مرة منذ بضع سنوات، وقد تلقاه أهل العلم المنصفين بالقبول وأشادوا بالجهد المبذول فيه، وقد نفدت طبعته الأولى والحمد لله.
ولكن كما قال الإمام المُزَني: «لو عُورِض كتابٌ سبعين مرة لوُجِد فيه خَطأ، أبى الله أن يكون كتابٌ صحيحًا غير كتابه». وكما قال الإمام عبد الله بن أحمد بن حنبل: «عارضت بكتاب لأبي ثلاث عشرة مرة، فلما كان في الرابعة خرج فيه خطأ، فوضعه من يده ثم قال: قد أنكرت أن يصح غير كتاب الله عز وجل».
ولأن العلم أمانة قُلِّدْناها في أعناقنا، فكان من حفظها أن نعيد النظر فيما أخرجناه قدر الطاقة، لذلك فقد عارضت الكتاب مرة أخرى بأصله الخَطِّي فوجدت أشياء قد ندت عني فأصلحتها، والله يغفر لنا تَقْصِيرنا وعَجزنا وعُجَرنا وبُجَرنا، إنه جواد كريم، فهذه طبعة ثانية مزيدة منقحة قدر الطاقة لكتاب «المؤتنف تكملة المؤتلف والمختلف» للإمام الكبير الحافظ الخطيب البغدادي، نقدمها لطلبة العلم سائلين مولانا تبارك وتعالى أن ينفع بها وأن يسترنا في الدارين.
أبو عاصم الشوامي
القاهرة- حدائق حلوان
في الثالث من ربيع الآخِر 1444
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং তিনিই যথেষ্ট, আর তাঁর মনোনীত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। অতঃপর:
আমাদের ওপর আল্লাহর অনুগ্রহ ছিল মহান, যেহেতু তিনি কয়েক বছর আগে প্রথমবারের মতো এই মূল্যবান কিতাবটি প্রকাশ করার তাওফিক দান করেছেন। ন্যায়পরায়ণ বিদগ্ধ উলামায়ে কেরাম একে কবুল করেছেন এবং এতে নিয়োজিত শ্রমের প্রশংসা করেছেন। আল্লাহর শুকরিয়া যে এর প্রথম সংস্করণ শেষ হয়ে গিয়েছে।
কিন্তু ইমাম মুযানী যেমন বলেছেন: «যদি কোনো কিতাব সত্তর বারও যাচাই করা হয়, তবুও তাতে ভুল পাওয়া যাবে। আল্লাহ তাঁর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাবকে সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রাখতে অস্বীকার করেছেন।» এবং ইমাম আবদুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে হাম্বল যেমন বলেছেন: «আমি আমার পিতার একটি কিতাব তেরো বার যাচাই করেছি। চতুর্থবার যাচাইকালে তাতে ভুল ধরা পড়ল, তখন তিনি তা হাত থেকে নামিয়ে রাখলেন এবং বললেন: আমি অস্বীকার করছি যে মহান আল্লাহর কিতাব ব্যতীত অন্য কোনো কিতাব সম্পূর্ণ নির্ভুল হবে।»
যেহেতু ইলম আমাদের ঘাড়ে অর্পিত একটি আমানত, তাই সাধ্যানুযায়ী আমাদের প্রকাশিত কাজের পুনর্বিবেচনা করাই ছিল সেই আমানত রক্ষার দাবি। এই লক্ষ্যে আমি কিতাবটিকে পুনরায় এর মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখেছি এবং এমন কিছু বিষয় পেয়েছি যা আমার দৃষ্টি এড়িয়ে গিয়েছিল, ফলে আমি সেগুলো সংশোধন করেছি। আল্লাহ আমাদের ত্রুটি-বিচ্যুতি, অক্ষমতা এবং আমাদের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল দোষ ক্ষমা করুন; নিশ্চয়ই তিনি অতি দয়ালু ও মহানুভব। এটি মহান ইমাম হাফিজ খতিব বাগদাদীর «আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ» কিতাবটির সাধ্যানুযায়ী পরিবর্ধিত ও পরিমার্জিত দ্বিতীয় সংস্করণ। আমরা এটি ইলম অন্বেষণকারীদের জন্য পেশ করছি এবং আমাদের মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি যে তিনি এর দ্বারা উপকৃত করুন এবং উভয় জগতে আমাদের দোষ-ত্রুটি গোপন রাখুন।
আবু আসিম আশ-শাওয়ামি
কায়রো- হাদায়েক হেলওয়ান
৩রা রবিউস সানি, ১৪৪৪ হিজরি
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٦)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمةالْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الأَرْضِ، وَلَهُ الحَمْدُ فِي الآخِرَةِ وَهُوَ الحَكِيمُ الخَبِيرُ، أَحْمَدُهُ حَمْدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، حمدًا كما ينبغي لكرم وجهه وعِزِّ جَلالِه، اللهم إني أَبْرَأُ إليْكَ مِنْ كُلِّ حَوْلٍ وقوة، وأستعينك وأستهديك، وأعوذُ برضاك من سَخَطِك وبمُعَافَاتِك من عُقُوبَتِك وأعوذ بك مِنك لا أُحْصِي ثناءً عليك، أنت كما أَثْنَيتَ على نفسِك، وأشهدُ ألا إله إلا أنت وَحْدَك لا شريك لك، أعْبُدُك وأشْكُرك فلا أكْفُرُك، وأؤْمِنُ بِك وأخْلَعُ وأَتْرُكُ مَنْ يَكْفُرُك، اللهم إيَّاك أعْبُدُ، ولك أُصَلِّي وأَسْجُدُ، وإليكَ أَسْعَى وأَحْفِدُ، أخْشَى عَذَابَك وأَرجُو رَحْمَتَك، إنَّ عذابك بالكافرين مُلْحِق.
وأُصَلِّي وأُسَلِّمُ عَلى خَير خَلقِك نبينا محمد بن عبد الله بن عبد المطلب ابن هاشم، خَاتَم أَنبيائِك ورُسُلِك، المبعوثِ بالحق إلى الناس كافة، حتى قيام الساعة، صلاةً وسلامًا دائمين، أَسْتَمْطِرُ بهما جَمِيلَ عَفْوِكَ وسِترك وعَونِك، وعلى آله الأطهَار، وأصحابه الأبرار ما اخْتَلَف الليل والنهار.
أما بعد،
فهذا كتاب «المُؤتنف تكملة المؤتلف والمختلف» للإمام الخطيب رحمه الله، أقدمه محققًا لأول مرة لطلبة العلم.
ولا ريب أني بإقدامي على تحقيق هذا الكتاب قد ارْتَقيت مرتقىً صعبًا، فالكتاب بعد توفيق الله تعالى كان يحتاج إلى جهد وإتقان وتيقظ.
وعهدي بالكتاب كان منذ ما يَقرُب من خمسة عشر عامًا، حين أطلعني
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আসমানসমূহে যা কিছু আছে এবং জমিনে যা কিছু আছে সবই যাঁর; আর পরকালেও সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য, এবং তিনি মহাপ্রজ্ঞাময়, সম্যক অবহিত। আমি তাঁর প্রশংসা করি—অঢেল, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা; এমন প্রশংসা যা তাঁর সত্তার মহানুভবতা ও তাঁর মহিমার মর্যাদার জন্য সমীচীন। হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট আমার যাবতীয় উপায়-সামর্থ্য ও শক্তি থেকে বিমুক্ত হওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি (আপনারই শক্তির ওপর ভরসা করছি), আপনার নিকট সাহায্য ও হেদায়েত প্রার্থনা করছি। আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার অসন্তুষ্টি থেকে এবং আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আপনার শাস্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আমি আপনার নিকট আপনারই দোহাই দিয়ে আশ্রয় চাচ্ছি; আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, আপনি ঠিক তেমনই, যেমনটি আপনি নিজের প্রশংসা নিজে করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি ব্যতীত কোনো সত্য ইলাহ নেই, আপনি একক, আপনার কোনো শরিক নেই। আমি আপনারই ইবাদত করি এবং আপনারই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি, আপনার অকৃতজ্ঞতা করি না। আমি আপনার প্রতি ঈমান আনি এবং যে আপনার সাথে কুফরি করে, তাকে বর্জন ও পরিত্যাগ করি। হে আল্লাহ, আমরা আপনারই ইবাদত করি, আপনারই উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করি ও সিজদা করি এবং আপনার দিকেই ধাবিত হই ও দ্রুত অগ্রসর হই। আমি আপনার আজাবকে ভয় করি এবং আপনার রহমতের আশা করি; নিশ্চয়ই আপনার আজাব কাফেরদের গ্রাস করবে।
আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আপনার সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ সত্তা, আমাদের নবী মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব বিন হাশিমের প্রতি, যিনি আপনার নবী ও রাসুলগণের সমাপ্তিকারী এবং কিয়ামত পর্যন্ত সমস্ত মানুষের প্রতি সত্যসহ প্রেরিত। এমন নিরবচ্ছিন্ন দরুদ ও সালাম, যার অসিলায় আমি আপনার সুন্দর ক্ষমা, আচ্ছাদন ও সাহায্যের প্রার্থনা করি। আরও দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ এবং পুণ্যবান সাহাবীগণের ওপর, যতক্ষণ দিবা-রাত্রির আবর্তন বজায় থাকবে।
অতঃপর,
এটি ইমাম খতিব (রহিমাহুল্লাহ) রচিত ‘আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ’ নামক গ্রন্থ, যা আমি ইলম অন্বেষণকারীদের নিকট প্রথমবারের মতো সম্পাদিত (তাহকিককৃত) আকারে উপস্থাপন করছি।
এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এই গ্রন্থটি সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করে আমি এক অত্যন্ত কঠিন চড়াইয়ে আরোহণ করেছি; কারণ মহান আল্লাহর তাওফিকের পর গ্রন্থটি প্রচুর পরিশ্রম, নিপুণতা এবং প্রখর সতর্কতার দাবি রাখে।
এই গ্রন্থের সাথে আমার পরিচয় প্রায় পনের বছর আগের, যখন আমাকে অবগত করা হয়েছিল...
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٧)
على اسمه شيخُنا وأستاذنا إبراهيم نجم الدين، كبير الباحثين في قسم الحديث بدار هجر -والتي كنت أعمل فيها كباحث آنذاك- وذلك في حواشي كتاب «المؤتلف والمختلف» للدارقطني رحمه الله، فقد أشار محققه الدكتور موفَّق بن عبد القادر إليه، بل ونقل منه بعض الفقرات، وأشار كذلك أنه محفوظ في «مكتبة الدولة ببرلين»، ومِن وقتئذ وأنا مشغوفٌ بذلك الكتاب الذي لا أَعرفُ عنه شيئًا، سوى أنه كتاب للإمام الخطيب رحمه الله يستدرك فيه ويكمل ما فات الإمامَ الدارقطني، وأنه لم يطبع إلى الآن، وسعيت في تحصيله سعيًا، دون جدوى، وبعد زمن ليس بالبعيد أُتيحت نسخةُ الكِتاب الخَطية مُصورة على شبكة الإنترنت، وحصلتها بلهفة وشغف، وما أن تصفحتها حتى صُدِدتُ عنها، على الرغم مِنْ زَعْمِ مَنْ زَعَم أنها بخط صاحبها الإمام الخطيب رحمه الله، وذلك لِما وجدته من كبر حجمها، وكثرة حواشيها، وكثرة الوُرَيقات الملحقة بها (الطيارات) -والذي سنتكلم عنه تفصيلًا في مبحث وصف النسخة- وكونها نسخة فريدة أشبه بالمُسَودة التي لم تُبَيض فكم فيها من الإحالات، ورأيت أني غير كُفءٍ لتحقيقها، ولو فعلتُ لأرهقتُ نَفسي، ولربما مَلَلت منها، وما أن يسألني أحد من إخواني عن كتاب يستحق العمل فيه إلا دللته على «المؤتنف» بل وأعطيته النسخة التي عندي، ويبدو أن ما صَدَّني عنه قد صَدَّهُم، فلم يَقُم أحد منهم بالعمل فيه على الرغم من الشَغَف والإعجاب الذي أظهروه حال رؤية الكتاب.
وإن الله تعالى إذا أراد شيئًا هَيَّأ أسبابه، فمنذ ما يقرب من عامين طلب مني صاحبي وتلميذي أبو القاسم الكفافي -وهو من طلاب العلم المجتهدين الحريصين على التحصيل- أن أدرسه فن التحقيق والتعامل مع المخطوطات -لحسن ظنه فيَّ- فإذا «بالمؤتنف» يساورني ويجول في خاطري
আমাদের শাইখ ও উস্তাদ ইব্রাহিম নাজম আল-দীন, যিনি দার হিজর-এর হাদিস বিভাগের প্রধান গবেষক ছিলেন (যেখানে আমি সেই সময় গবেষক হিসেবে কর্মরত ছিলাম), দারা কুতনী (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' গ্রন্থের টীকাভাষ্যে এর প্রতি ইঙ্গিত করেন। এর সম্পাদক ড. মুওয়াফফাক বিন আব্দুল কাদির কিতাবটির দিকে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, বরং তা থেকে কিছু অনুচ্ছেদ উদ্ধৃত করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে এটি 'বার্লিন স্টেট লাইব্রেরি'-তে সংরক্ষিত আছে। তখন থেকেই আমি সেই কিতাবটির প্রতি অনুরাগী হই যার সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না, শুধু এতটুকু ছাড়া যে এটি ইমাম খতিব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর একটি কিতাব যেখানে তিনি ইমাম দারা কুতনীর ভুল সংশোধন করেছেন এবং যা তিনি ছেড়ে গেছেন তা পরিপূরণ করেছেন, এবং কিতাবটি এখন পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি। আমি এটি সংগ্রহের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, কিন্তু কোনো সুফল পাইনি। কিছুদিন পর ইন্টারনেটে কিতাবটির পাণ্ডুলিপির একটি আলোকচিত্র কপি পাওয়া যায় এবং আমি অত্যন্ত আগ্রহ ও ব্যাকুলতার সাথে সেটি সংগ্রহ করি। কিন্তু আমি তা উল্টিয়ে দেখা মাত্রই তা থেকে বিমুখ হয়ে যাই, যদিও কেউ কেউ দাবি করেছিলেন যে এটি খোদ লেখক ইমাম খতিব (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন)-এর স্বহস্তে লেখা। এর কারণ ছিল এর বিশাল কলেবর, প্রচুর টীকাভাষ্য এবং এর সাথে সংযুক্ত অসংখ্য চিরকুট বা অতিরিক্ত কাগজ (তুয়াইরাত)—যার বর্ণনা আমরা পাণ্ডুলিপির বিবরণ অধ্যায়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব—এবং এটি ছিল একটি অনন্য পাণ্ডুলিপি যা অনেকটা এমন এক খসড়া কপির মতো যা চূড়ান্তভাবে পরিমার্জন করে নতুন করে লেখা হয়নি; এতে এত বেশি পরিমাণ রেফারেন্স বা অন্য পৃষ্ঠার বরাত ছিল যে আমি অনুভব করলাম আমি এটি সম্পাদনা (তাহকিক) করার যোগ্য নই। আর যদি আমি তা করতে যেতাম তবে নিজেকে পরিশ্রান্ত করে ফেলতাম এবং সম্ভবত এটি থেকে আমার মন উঠে যেত। আমার ভাইদের মধ্যে যখনই কেউ এমন কোনো কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করত যা নিয়ে কাজ করা যায়, আমি তাকে 'আল-মু'তানিফ'-এর দিকে নির্দেশ করতাম, এমনকি আমার কাছে থাকা কপিটি তাকে দিয়ে দিতাম। মনে হয়, যে বিষয়গুলো আমাকে তা থেকে বিমুখ করেছিল তা তাদেরকেও বিমুখ করেছে; তাই কিতাবটি দেখার পর তাদের মধ্যে প্রচণ্ড আগ্রহ ও মুগ্ধতা প্রকাশ পেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের কেউ এটি নিয়ে কাজ করতে এগিয়ে আসেনি।
আর আল্লাহ তাআলা যখন কোনো কিছু ইচ্ছা করেন তখন তার উপায়-উপকরণও তৈরি করে দেন। প্রায় দুই বছর আগে, আমার বন্ধু ও ছাত্র আবু আল-কাসেম আল-কাফাফি—যিনি জ্ঞান অন্বেষণে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও আগ্রহী এক ছাত্র—আমার প্রতি সুধারণার বশবর্তী হয়ে আমার কাছে অনুরোধ করেন যেন আমি তাকে তাহকিক (পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা) ও পাণ্ডুলিপি নিয়ে কাজ করার নিয়মাবলি শিখিয়ে দিই। তখনই 'আল-মু'তানিফ' কিতাবটি আমার মনে কড়া নাড়ল এবং আমার চিন্তায় ঘুরপাক খেতে লাগল।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٨)
مرة أخرى بعد طول غياب -وكنت أحقق وقتها كتاب الإمام البيهقي «أحكام القرآن»
(1) وأَعُد العدة لكتاب آخر- فدفعت الكتاب إلى صاحبي أبي القاسم، وأسندت إليه نسخه، وكان قصدي أن يصير عنده مَلَكَة بكثرة مطالعة الأسانيد -لا سيما تلك النازلة كالتي في كتاب «المؤتنف» - وبطريقة العُلماء في كتابة مصنفاتهم، وكان أمر الله مفعولا؛ إذ قام أبو القاسم بنسخ الكتاب في عام كامل، كان يراجعني في أشياءَ فأصححها له، وأُرْجِيء أشياءَ أخرى لحين ينتهي، وما إن انتهى من نَسْخِه، حتى شرح الله صدري تمامًا لتحقيقه والعمل عليه، وقابلتُ معه جزءًا من الكتاب، فوجدته قد وُفِّق بقدر كبير في قراءة المخطوط، ولم يفته إلا ما يفوت مَنْ هو أعلم منه وأتقن وأخبر، ثم أكملت المقابلة وحدي بعون الله وتوفيقه كلمةً كلمةً، ناظرًا في المراجع التي استقى منها الخطيب رحمه الله، والمصادر التي اسْتَقَت منه كذلك، وباقي مصنفاته، مُنفِقًا في ذلك ما يقرُب من عَشرة أشهر كاملة، مستعينًا بالله تعالى على ذلك وبالعمل اليومي الذي لا يقل عن عشرة ساعات يوميًا، وقد عاينت من توفيق الله تعالى ما حَيَّر لُبِّي وما جَعلني أشعر أن الله أراد لي أن أحقق هذا الكتاب بعد ما يقرب من ألف عام على تصنيفه.
فالحمد لله الذي لا يُؤدَّى شُكرُ نِعمةٍ مِنْ نِعَمهِ إلا بنعمةٍ منه، تُوجِب على مُؤدِّي مَاضِي نِعَمِه، بأدَائِها: نِعمَةً حَادثَةً يَجب عليه شُكرُه بها
(2).
وفيما يلي عدة مباحث لا يسعني إلا أن أقدمها بين يدي كتاب «المؤتنف تكملة المؤتلف والمختلف» للإمام الخطيب رحمه الله.
--------------------------------------------
দীর্ঘ বিরতির পর আবারও -তখন আমি ইমাম বায়হাকীর «আহকামুল কুরআন»
(১) গ্রন্থটি তাহকীক করছিলাম এবং অন্য একটি গ্রন্থের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম- আমি পাণ্ডুলিপিটি আমার বন্ধু আবুল কাসেমের হাতে তুলে দিলাম এবং এটি প্রতিলিপি করার দায়িত্ব তাকে অর্পণ করলাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল যাতে সনদসমূহ পর্যালোচনার মাধ্যমে -বিশেষ করে «আল-মুতানিফ» গ্রন্থের মতো নিম্নমানের সনদসমূহ- এবং আলেমদের কিতাব রচনার পদ্ধতির সাথে অধিক পরিচিতির মাধ্যমে তার মধ্যে একটি বিশেষ দক্ষতা তৈরি হয়। আর আল্লাহর ফয়সালাই কার্যকর হয়; আবুল কাসেম পুরো এক বছর সময় নিয়ে কিতাবটি প্রতিলিপি করল। সে বিভিন্ন বিষয়ে আমার সাথে পরামর্শ করত, আমি সেগুলো সংশোধন করে দিতাম এবং অন্যান্য বিষয়গুলো কাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতাম। সে প্রতিলিপি সম্পন্ন করা মাত্রই আল্লাহ তাআলা কিতাবটির তাহকীক ও এর ওপর কাজ করার জন্য আমার বক্ষ পুরোপুরি উন্মোচন করে দিলেন। আমি তার সাথে কিতাবটির কিছু অংশ মিলিয়ে দেখলাম এবং দেখতে পেলাম যে, পাণ্ডুলিপি পাঠে সে যথেষ্ট সফল হয়েছে। তার কাছে কেবল সেই বিষয়গুলোই বাদ পড়েছে যা তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী, সূক্ষ্মদর্শী ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের থেকেও বাদ পড়ে যায়। এরপর আল্লাহর সাহায্য ও তৌফিকে আমি একাকী শব্দে শব্দে মিলিয়ে দেখার কাজ সম্পন্ন করলাম। আমি সেই সকল তথ্যসূত্রের ওপর নজর বুলিয়েছি যেখান থেকে খতীব (রহ.) উপাদান গ্রহণ করেছেন এবং সেই সকল উৎসও দেখেছি যেগুলোতে তাঁর থেকে উদ্ধৃতি নেওয়া হয়েছে, সেই সাথে তাঁর অন্যান্য রচনাদির ওপরও নজর রেখেছি। এতে আমি প্রায় পূর্ণ দশ মাস সময় ব্যয় করেছি, আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে এবং প্রতিদিন অন্তত দশ ঘণ্টা করে কাজ করে। আমি আল্লাহর তৌফিকের এমন সব নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেছি যা আমার বুদ্ধিকে বিমোহিত করেছে এবং আমাকে অনুভব করিয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা কিতাবটি রচনার প্রায় এক হাজার বছর পর এর তাহকীকের কাজ আমার মাধ্যমে সম্পন্ন করাতে চেয়েছেন।
সুতরাং সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যাঁর নেয়ামতসমূহের কোনো একটির শুকরিয়াও তাঁর পক্ষ থেকে আসা অন্য কোনো নেয়ামত ছাড়া আদায় করা সম্ভব নয়; যা তাঁর অতীত নেয়ামতের শুকরিয়া আদায়কারীর ওপর এমন এক নতুন নেয়ামত অবধারিত করে দেয়, যার জন্য পুনরায় তাঁর শুকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব হয়ে পড়ে
(২)।
নিম্নে কয়েকটি গবেষণামূলক আলোচনা পেশ করা হলো যা ইমাম খতীব (রহ.)-এর «আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ» গ্রন্থের শুরুতে উপস্থাপন করা আমি প্রয়োজন মনে করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٩)
المبحث الأول: التعريف بعلم المؤتلف والمختلفلا يخفى على أهل العلم لا سيما المشتغلين بدراسة الأسانيد منهم ما خَصَّ اللهُ به هذه الأمة من خَصِيصة الإسناد، بل لم يَخف ذلك على أعدائها كذلك، فقد قال المستشرق اليهودي الأصل ديفيد صمويل مرجليوث
(1): «ليفخر المسلمون ما شاءوا بعلم حديثهم»
(2).
وقد تفرع من علم الحديث ودراسة الأسانيد الكثيرُ مِنْ العلوم، وذلك لشدة التَحرِّي والتَوقِّي في الرواية -وما ذلك إلا بحفظ الله تعالى لدِينه وسُنَّة نبيه صلى الله عليه وسلم فلم يَدَع أهلُ العلم ثغرةً يمكن أن يَلِج منها وَالِج إلى الخطأ، إلا وسدوها، فكان من تلك العلوم علم «المؤتلف والمختلف».
قال الإمام ابن الصلاح الشهرزوري رحمه الله: «النوع الثالث والخمسون: معرفة المؤتلف والمختلف من الأسماء والأنساب وما يلتحق بها.
وهو ما يأتلِفُ؛ أي يتفق، في الخط صورتُه ويختلف في اللفظِ صيغتُه، هذا فن جليل، من لم يعرفه من المحدِّثين كثُر عِثارُه ولم يعدم مُخَجِّلاً.
وهو منتشر لا ضابطَ في أكثره يُفزَع إليه، وإنما يُضْبَطُ بالحفظِ تفصيلًا، وقد صُنِّفتْ فيه كتبٌ مفيدة، ومن أكملها الإكمال، لأبي نصر بن ماكولا، على إعوازٍ فيه
… »
(3).
ويقول الإمام الطيبي رحمه الله: «المُصَحَّف: هذا فَنٌّ جَلِيلٌ، إنما ينهض بأعبائه الحُذَّاق من الحُفَّاظ، والدَّاَرَقُطْنِي منهم وله فيه تصنيف مفيد، ويكون
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: আল-মু'তালিফ ওয়াল-মুখতালিফ শাস্ত্রের পরিচিতিবিদ্বানদের নিকট—বিশেষ করে যারা বর্ণনাসূত্র বা সনদ পর্যালোচনায় নিয়োজিত তাদের নিকট—সনদের সেই বৈশিষ্ট্যের কথা অজানা নয়, যা আল্লাহ তা'আলা বিশেষভাবে এই উম্মতকে দান করেছেন। বরং ইসলামের শত্রুদের কাছেও তা অস্পষ্ট থাকেনি। ইহুদি বংশোদ্ভূত প্রাচ্যবিদ ডেভিড স্যামুয়েল মারগোলিউথ
(১) বলেছেন: “মুসলমানরা তাদের হাদিস শাস্ত্র নিয়ে যতটা ইচ্ছা গর্ব করতে পারে”
(২)।
হাদিস শাস্ত্র এবং সনদ পর্যালোচনা থেকে বহু শাখা-জ্ঞানের উৎপত্তি হয়েছে। আর তা হয়েছে বর্ণনা গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা ও সাবধানতা অবলম্বনের কারণে—যা মূলত দ্বীন এবং তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সুন্নাহর সংরক্ষণে আল্লাহ তা'আলার বিশেষ ব্যবস্থারই প্রতিফলন। দ্বীনী বিশেষজ্ঞগণ এমন কোনো সূক্ষ্ম ছিদ্রপথ বাকি রাখেননি, যা দিয়ে কোনো ভুল প্রবেশ করতে পারে; বরং তারা তা রুদ্ধ করে দিয়েছেন। সেই সকল শাস্ত্রের একটি হলো ‘আল-মু'তালিফ ওয়াল-মুখতালিফ’ (লিখন পদ্ধতিতে সদৃশ ও উচ্চারণে ভিন্ন নামসমূহ) সংক্রান্ত জ্ঞান।
ইমাম ইবনে আস-সালাহ আশ-শাহরাজুরি (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: “ত্রিপঞ্চাশত্তম প্রকার: নাম, বংশপরিচয় এবং এই জাতীয় বিষয়াবলির মধ্য থেকে মু'তালিফ ও মুখতালিফ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।
এটি এমন বিষয় যা ‘মু'তালিফ’ বা লিখন পদ্ধতিতে এক ও অভিন্ন, কিন্তু ‘মুখতালিফ’ বা উচ্চারণের ক্ষেত্রে ভিন্ন। এটি একটি মহান শিল্প। হাদিস বিশারদদের মধ্যে যারা এটি জানেন না, তাদের পদস্খলন অনেক বেশি হয় এবং তারা লজ্জিত হওয়া থেকে নিস্তার পান না।
এটি অত্যন্ত বিস্তৃত এবং এর অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমন কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই যার শরণাপন্ন হওয়া যায়। বরং এটি বিস্তারিত স্মারক শক্তির মাধ্যমেই আয়ত্ত করতে হয়। এ বিষয়ে অনেক উপকারী গ্রন্থ রচিত হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ হলো আবু নাসর ইবনে মাকুলা রচিত ‘আল-ইকমাল’, যদিও এতে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে...”
(৩)।
ইমাম আত-তিবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: “মুসাহহাফ (লিপি বিভ্রান্তি): এটি এক মহান শিল্প। কেবল দক্ষ হাফেজগণই এর গুরুভার বহন করতে পারেন, আর ইমাম আদ-দারাকুতনি তাদের অন্যতম এবং এ বিষয়ে তাঁর একটি ফলপ্রসূ রচনা রয়েছে। আর এটি হয়...”
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٠)
محسوسًا إما بالبصر أو بالسمع. والأول إما في الإسناد، كحديث شعبة، عن العوام بن مُرَاجِم بالراء والجيم، صَحَّفَهُ يحيى بن معين، فقال: مزاحم بالزاي والحاء.
وإما في المتن: كحديث مَنْ صَامَ رَمَضَان وَأَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّال.
فصحف أبو بكر الصولي فقال (شيئًا) بالشين المعجمة.
والثاني أيضًا إما في الإسناد: كحديث يُروى عن عاصم الأحول رواه بعضهم فقال واصل الأحدب، قال الدارقطني: هذا من تصحيف السَّمْعِ لا من تصحيف البصر، لأنه لا يشتبه في الكتابة.
وإما في المتن: كحديث عائشة رضي الله عنها عن النبي صلى الله عليه وسلم في الكُهَّان (قر الزجاجة) بالزاي وإنما هو (الدجاجة) بالدال.
أو معنى: كما حَكَى الدارقطني عن أبي موسى محمد بن المُثنى العَنَزي أنه قال: نحن قوم لنا شرف، نحن من عنزة، صلى إلينا رسول الله صلى الله عليه وسلم، يريد ما ثبت في الصحيح: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى إلى عَنَزَة، وهي حربة صغيرة تُنْصَب بين يديه، فتوهم أنه صلى الله عليه وسلم صلَّى إلى قبيلتهم بني عنزة، وهذا تصحيف عجيب، والله أعلم»
(1).
ويقول الإمام الذهبي: «فَنٌّ واسعٌ مُهِمٌّ، وأهمُّه ما تكرَّر وكَثُر
… »
(2).
قلت: وقد كان السلف من العلماء شديدي التحري والتوقي لذلك، ساعدهم على ذلك قوة حفظهم وتحقيقهم، وعلو أسانيدهم، فلما نزلت الأسانيد، وكثر في الشيوخ من يقل تحقيقه، وتساهل البعض في الرواية بالإجازة، والوجادة، والمناولة، والأخذ من الكتب دون سماع مباشر من
--------------------------------------------
সংবেদনযোগ্য, তা দৃষ্টির মাধ্যমে হোক কিংবা শ্রবণের মাধ্যমে। প্রথম প্রকারটি (দৃষ্টির মাধ্যমে) কখনো সনদে ঘটে থাকে; যেমন—শু'বার হাদিস, যা তিনি আওয়াম ইবনে মুরাজিম (রা এবং জীম দিয়ে) থেকে বর্ণনা করেছেন। ইয়াহিয়া ইবনে মাঈন এতে শব্দগত ভুল (তাশহিফ) করেছেন এবং বলেছেন: মুযাহিম (যা এবং হা দিয়ে)।
আবার কখনো তা মূল পাঠে (মাতনে) হয়ে থাকে: যেমন সেই হাদিস—"যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালের ছয়টি (রোজা) রাখল।"
এতে আবু বকর আস-সুলি ভুল করেছেন এবং (সিত্তান-এর বদলে) 'শাইয়ান' (বিন্দুযুক্ত শীন বর্ণ দিয়ে) বলেছেন।
দ্বিতীয় প্রকারটিও (শ্রবণগত ভুল) কখনো সনদে ঘটে থাকে: যেমন একটি হাদিস যা আসিম আল-আহওয়াল থেকে বর্ণিত, অথচ কেউ কেউ তা বর্ণনা করতে গিয়ে ওয়াসিল আল-আহদাব বলেছেন। দারা কুতনী বলেন: এটি শ্রবণজনিত ভুল, দৃষ্টিজনিত ভুল নয়; কারণ লেখায় এগুলো পরস্পর সদৃশ নয়।
অথবা তা মূল পাঠে হয়ে থাকে: যেমন গণকদের বিষয়ে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস—'কাররুয যুজাজাহ' (যা দিয়ে), অথচ তা হবে 'আদ-দাজাজাহ' (দাল দিয়ে)।
অথবা অর্থগত ভুল: যেমন দারা কুতনী আবু মুসা মুহাম্মদ ইবনুল মুসান্না আল-আনাযী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছিলেন: "আমরা এমন এক জাতি যাদের সম্মান রয়েছে, আমরা আনাযাহ গোত্রের; রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে ফিরে সালাত আদায় করেছেন।" তিনি এর দ্বারা সহিহ হাদিসে বর্ণিত সেই বিষয়টি বুঝাতে চেয়েছেন যে: "রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি 'আনাযাহ'-এর দিকে ফিরে সালাত আদায় করেছেন।" আর 'আনাযাহ' হলো একটি ছোট বর্শা যা তাঁর সামনে পোঁতা হতো। অথচ তিনি ধারণা করে নিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের 'বনু আনাযাহ' গোত্রের দিকে ফিরে সালাত আদায় করেছেন। এটি একটি অদ্ভুত ভুল, আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন»
(১).
ইমাম যাহাবী বলেন: «এটি একটি বিস্তৃত ও গুরুত্বপূর্ণ শিল্প, আর এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তা-ই যা বারবার ঘটে এবং অধিক পরিমাণে পাওয়া যায় … »
(২).
আমি বলছি: পূর্বসূরি আলেমগণ এ বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক ও সাবধান ছিলেন। তাঁদের মুখস্থ শক্তি, সূক্ষ্ম যাচাই-বাছাই এবং উচ্চতর সনদ এ ক্ষেত্রে তাঁদের সহায়ক ছিল। কিন্তু যখন সনদের স্তর নিচে নেমে এল এবং শাইখদের মধ্যে যাচাই-বাছাই করার যোগ্যতা কমে গেল, আর কেউ কেউ ইজাজাহ (অনুমতি), উইজাদাহ (লিখিত পাণ্ডুলিপি পাওয়া), মুনাওয়ালাহ (হস্তান্তর) এবং সরাসরি শ্রবণ ব্যতিরেকে কিতাব থেকে গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলতা প্রদর্শন করল...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١١)
الشيوخ = وقع الخطأ والتصحيف، فقام الجهابذة النقاد يصنفون في هذا الفن بعينه، وغيره مما يشبهه كالمتفق والمفترق، وأوهام الجمع والتفريق، وغير ذلك، مما كان لصاحب كتابنا هذا الإمام الخطيب السبق فيه.
وسأذكر فيما يلي أشهر المصنفات التي طبعت ولها تعلق بهذا الفن.
শাইখগণ = ভুল এবং লিপিব্যত্যয় সংঘটিত হয়েছিল, ফলে অভিজ্ঞ সমালোচকগণ এই বিশেষ বিদ্যায় এবং এর অনুরূপ অন্যান্য বিষয় যেমন ‘আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাক’ ও ‘আওহামুল জাময়ি ওয়াত তাফরিক’ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করতে সচেষ্ট হন, যেগুলোতে আমাদের এই গ্রন্থের রচয়িতা ইমাম খতিবের অগ্রণী ভূমিকা ছিল।
নিম্নে আমি এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট মুদ্রিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোর কথা উল্লেখ করব।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٢)
المبحث الثاني: أشهر المصنفات في فن المؤتلف والمختلف (1):
فمن أشهر الكتب التي صنفت في هذا الفن:
1 - كتاب «مختلف أسماء القبائل ومؤتلفها» لأبي جعفر محمد بن حبيب بن أمية البغدادي رحمه الله المتوفى سنة 245 هـ وهو خاص بالمؤتلف والمختلف من أسماء القبائل، طبع قديمًا في مدينة جوتنجن، قام بنشره المستشرق وستنفلد سنة 1850 م. ثم أعاد تحقيقه إبراهيم الإبياري، وطبعته دار الكتب الإسلامية، ودار الكتاب المصري - القاهرة، ودار الكتاب اللبناني -بيروت. 1980 م.
2 - كتاب «المؤتلف والمختلف في أسماء الشعراء» لأبي القاسم الآمدي رحمه الله المتوفى سنة 370 هـ. حققه الدكتور ف. كرنكو، وطبع في مكتبة القدسي مع كتاب معجم الشعراء للمرزباني، ثم أعاد تحقيقه عبد الستار أحمد فراج بعد خمس وعشرين سنة من طبعة كرنكو، في سنة 1961 م مستدركًا عليه أشياء، مُبَرِّئًا له ومُلْقِيًا باللوم على الناشر الذي اعترف أن كرنكو قد وافاهم بتصويبات واستدراكات أغفلوا كثيرًا منها. وفي طبعة فراج كذلك بعض الأخطاء إذ قد اعتمد نفس النسخة الخطية التي اعتمدها كرنكو.
وقد نقل الخطيب رحمه الله الكثير من الأسماء والأشعار من هذا الكتاب مضبوطًا واضحًا، فصوبت أكثره ونبهت عليه، فليُنظر في موضعه.
3 - كتاب «تصحيفات المحدثين» لأبي أحمد العسكري الحسن بن
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুতালিফ ও মুখতালিফ বিদ্যায় সর্বাধিক প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহ (১):
এই বিদ্যায় রচিত প্রসিদ্ধ গ্রন্থসমূহের মধ্যে রয়েছে:
১ - আবু জাফর মুহাম্মাদ বিন হাবিব বিন উমাইয়া আল-বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ, মৃত্যু: ২৪৫ হিজরি) রচিত ‘মুখতালিফ আসমাইল কাবাইল ওয়া মুতালিফুহা’। এটি গোত্রসমূহের নামের মুতালিফ ও মুখতালিফ বিষয়ের জন্য বিশেষায়িত। এটি পূর্বে গটিংগেন শহরে মুদ্রিত হয়েছিল, যা প্রাচ্যবিদ ভুস্টেনফেল্ড ১৮৫০ সালে প্রকাশ করেন। এরপর ইবরাহিম আল-ইবিয়ারি এটি পুনঃসম্পাদনা করেন এবং এটি দারুল কুতুব আল-ইসলামিয়্যাহ, দারুল কিতাব আল-মিসরি - কায়রো এবং দারুল কিতাব আল-লুবনানি - বৈরুত থেকে ১৯৮০ সালে প্রকাশিত হয়।
২ - আবুল কাসিম আল-আমিদি (রাহিমাহুল্লাহ, মৃত্যু: ৩৭০ হিজরি) রচিত ‘আল-মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফি আসমা’ইশ শুআরা’। ড. এফ. ক্রেনকো এটি সম্পাদনা করেন এবং আল-মারজুবানি রচিত ‘মুজামুশ শুআরা’ গ্রন্থের সাথে মাকতাবাতুল কুদসিতে মুদ্রিত হয়। এরপর আবদুস সাত্তার আহমাদ ফাররাজ ক্রেনকোর সংস্করণের পঁচিশ বছর পর ১৯৬১ সালে এটি পুনঃসম্পাদনা করেন এবং সেখানে কিছু বিষয় সংযোজন করেন। তিনি তাকে (ক্রেনকোকে) নির্দোষ সাব্যস্ত করেন এবং প্রকাশকের ওপর দোষারোপ করেন, যে প্রকাশক স্বীকার করেছিল যে ক্রেনকো তাদের অনেক সংশোধন ও সংযোজন প্রদান করেছিলেন যা তারা উপেক্ষা করেছিল। তবে ফাররাজের সংস্করণেও কিছু ভুল রয়ে গেছে, কারণ তিনি ক্রেনকোর ব্যবহৃত পাণ্ডুলিপির ওপরই নির্ভর করেছিলেন।
আর খতিব (রাহিমাহুল্লাহ) এই কিতাব থেকে অনেক নাম ও কবিতা অত্যন্ত নির্ভুল ও স্পষ্টভাবে উদ্ধৃত করেছেন। আমি সেগুলোর অধিকাংশ সংশোধন করেছি এবং সে বিষয়ে সতর্ক করেছি; সুতরাং তা নিজ নিজ স্থানে দেখা যেতে পারে।
৩ - আবু আহমাদ আল-আসকারি আল-হাসান বিন... রচিত ‘তাসহিফাতুল মুহাদ্দিসিন’ গ্রন্থ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٣)
عبد الله بن سعيد بن إسماعيل رحمه الله المتوفى سنة 382 هـ. قام بتحقيقه الدكتور محمود أحمد ميرة سنة 1982 م، ونشرته المطبعة العربية الحديثة بالقاهرة. وهو يذكر ما وقع للمحدثين والرواة من تصحيفات في الأسماء والكلمات. ويصوبها.
4 - كتاب «المؤتلف والمختلف» لإمام الحديث والعلل الحافظ أبي الحسن علي بن عمر بن أحمد بن مهدي البغدادي الدارقطني رحمه الله المتوفى سنة 385 هـ. وهذا الكتاب أحد كتابين كملهما الخطيب البغدادي وصنف في تكميلهما كتابه «المؤتنف». وقد طبع عن دار الغرب الإسلامي سنة 1986 م بتحقيق الدكتور موفق بن عبد القادر، وهو كتاب مرتب على حروف المعجم، يذكر في كل حرف من الأسماء التي يقع فيها الإتلاف، وهي مختلفة، ويقدم ترجمة مختصرة جدًا لكل راو، وأحيانا يسند له حديثًا.
وقد ضاع أول الكتاب كما ضاع أيضًا أول كتاب الخطيب، فالكتاب يبدأ من أثناء حرف الباء.
5 - كتاب «المؤتلف والمختلف» لأبي محمد عبد الغني بن سعيد الأزدي رحمه الله المتوفى سنة 409 هـ. وهو الكتاب الثاني الذي أكمله الخطيب واستدرك عليه مع كتاب الدارقطني الذي مر ذكره آنفا.
وقد طبع الكتاب عن دار الغرب الإسلامي أيضًا سنة 2007 م بتحقيق مثنى محمد حميد الشمري، وقيس عبد إسماعيل التَّمِيمي. وأشرف عليه وراجعه: الدكتور بشار عواد معروف. وهو ككتاب الدارقطني في ترتيبه، إلا أنه أخصر منه.
يقول الإمام السخاوي رحمه الله في فتح المغيث
(1): «والتصانيف فيه كثيرة -
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ বিন সাঈদ বিন ইসমাইল (রাহিমাহুল্লাহ), মৃত্যু ৩৮২ হিজরি। এটি সম্পাদনা করেছেন ডক্টর মাহমুদ আহমাদ মিরা, ১৯৮২ সালে, এবং কায়রোর আল-মাতবাআ আল-আরাবিয়া আল-হাদিসা থেকে এটি প্রকাশিত হয়েছে। তিনি এখানে মুহাদ্দিস ও বর্ণনাকারীদের নাম ও শব্দে যেসব ভুল (তাসহিফ) ঘটেছে তা উল্লেখ করেছেন এবং সেগুলো সংশোধন করেছেন।
৪ - হাদিস ও ইলাল (হাদিসের সূক্ষ্ম ত্রুটি) শাস্ত্রের ইমাম হাফেজ আবুল হাসান আলী বিন উমর বিন আহমাদ বিন মাহদি আল-বাগদাদি আদ-দারা কুতনি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত ‘আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ’ গ্রন্থ, মৃত্যু ৩৮৫ হিজরি। এই গ্রন্থটি সেই দুটি গ্রন্থের একটি যা খতিব আল-বাগদাদি পূর্ণ করেছেন এবং সেগুলোর পরিপূরক হিসেবে তিনি তাঁর ‘আল-মু’তানিফ’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন। এটি ১৯৮৬ সালে ডক্টর মুওয়াফফাক বিন আব্দুল কাদিরের সম্পাদনায় দারুল গারব আল-ইসলামি থেকে মুদ্রিত হয়েছে। এটি বর্ণানুক্রমে সাজানো একটি গ্রন্থ, যেখানে তিনি প্রতিটি বর্ণের অধীনে এমন সব নামের বর্ণনা দিয়েছেন যেগুলোর লিপিতে সাদৃশ্য থাকায় বিভ্রান্তি ঘটে অথচ সেগুলো আসলে ভিন্ন। তিনি প্রতিটি বর্ণনাকারীর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত জীবনী প্রদান করেছেন এবং কখনো কখনো তাঁর সূত্রে হাদিস বর্ণনা করেছেন।
এই গ্রন্থের শুরুর অংশটি হারিয়ে গিয়েছে, যেমন খতিবের গ্রন্থের প্রথম অংশটিও হারিয়ে গিয়েছে। ফলে গ্রন্থটি ‘বা’ বর্ণের মাঝখান থেকে শুরু হয়েছে।
৫ - আবু মুহাম্মাদ আব্দুল গনি বিন সাঈদ আল-আযদি (রাহিমাহুল্লাহ)-এর রচিত ‘আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ’ গ্রন্থ, মৃত্যু ৪০৯ হিজরি। এটি সেই দ্বিতীয় গ্রন্থ যা খতিব পূর্ণ করেছেন এবং পূর্বে উল্লেখিত দারা কুতনির গ্রন্থের পাশাপাশি এটির ওপরও টীকা ও সংযোজন করেছেন।
এই গ্রন্থটিও ২০০৭ সালে মুসান্না মুহাম্মাদ হামিদ আশ-শাম্মারি এবং কায়েস আব্দ ইসমাইল আত-তামিমির সম্পাদনায় দারুল গারব আল-ইসলামি থেকেই মুদ্রিত হয়েছে। ডক্টর বাশার আওয়াদ মারুফ এটি তত্ত্বাবধান ও পুনঃনিরীক্ষণ করেছেন। এটি বিন্যাসের ক্ষেত্রে দারা কুতনির গ্রন্থের মতোই, তবে এটি তাঁর চেয়ে সংক্ষিপ্ত।
ইমাম সাখাভি (রাহিমাহুল্লাহ) ফাতহুল মুগিস
(১) গ্রন্থে বলেন: «এই বিষয়ে বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে -
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٤)
يعني في المؤتلف والمختلف- فصنف فيه أبو أحمد العسكري، لكنه أضافه إلى كتاب التصحيف له، ثم أفرده بالتأليف عبد الغني بن سعيد؛ ولذا كان أول من صنف فيه، وله فيه كتابان: أحدهما: في مشتبه الأسماء، والآخر: في مشتبه الأنساب، ثم شيخه الدارقطني
… ».
لذا فقد خصهما الخطيب رحمه الله دون غيرهما بالاستدراك والإكمال.
وكما مر آنفًا أنه وإن كان على نفس نهج الدارقطني في التصنيف فإنه أخصر منه فلا يطيل في الترجمة، ولا يكاد يسند فيها شيئًا إلا يسيرًا، وقد افتتح كتابه بقوله: «حدثنا أبو عمران موسى بن عيسى الحَنِيفي، قال: سمعت أبا إسحاق النَجِيْرَمِي إبراهيم بن عبد الله يقول: أولى الأشياء بالضبط أسماء الناس؛ لأنه شيءٌ لا يدخله القياس ولا قَبله شَيءٌ يَدُلُّ عليه، ولا بعده شيءٌ يدل عليه».
6 - كتاب «المؤتنف تكملة المؤتلف والمختلف» للإمام الخطيب البغدادي رحمه الله المتوفى سنة 463 هـ. وهو كتابنا هذا وسيأتي الكلام عنه بالتفصيل في مبحث مستقل.
7 - كتاب «الإكمال في رفع عارض الارتياب عن المؤتلف والمختلف من الأسماء والكنى والأنساب» لسعد الملك، أبي نصر عليِّ بن هبة الله بن جعفر بن ماكولا الأمير رحمه الله المتوفى سنة 475 هـ. وهذا الكتاب من أجمع المصنفات التي وصلتنا في هذا الباب.
يقول الأمير ابن ماكولا في مقدمة كتابه الإكمال: «فإني لما نظرت في كتاب أبي بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب الذي سماه «تكملة المؤتلف والمختلف» لكتاب أبي الحسن علي بن عمر الدارقطني في المؤتلف والمختلف، ولكتابي عبد الغني بن سعيد الأزدي في المؤتلف والمختلف،
অর্থাৎ 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' বিষয়ে—আবু আহমাদ আল-আসকারি এতে গ্রন্থ রচনা করেছেন, কিন্তু তিনি এটিকে তাঁর 'কিতাবুত তাসহিফ'-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অতঃপর আব্দুল গনি বিন সাঈদ একে স্বতন্ত্র গ্রন্থ হিসেবে রচনা করেন; এ কারণেই তাঁকে এ বিষয়ে প্রথম গ্রন্থকার হিসেবে গণ্য করা হয়। এ বিষয়ে তাঁর দুটি কিতাব রয়েছে: একটি নামসমূহের সাদৃশ্য (মুশতাবিহুল আসমা) বিষয়ে, এবং অন্যটি বংশনামের সাদৃশ্য (মুশতাবিহুল আনসাব) বিষয়ে। এরপর তাঁর উস্তাদ আদ-দারা কুতনি
… »।
এ কারণেই খতিব (রাহিমাহুল্লাহ) অন্য কাউকে বাদ দিয়ে এই দুই ব্যক্তির কিতাবের ওপরই পরিমার্জন ও পূর্ণতা দানের কাজ করেছেন।
এবং পূর্বে যেমন অতিবাহিত হয়েছে যে, গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে আদ-দারা কুতনির পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে হলেও এটি তাঁর তুলনায় অধিক সংক্ষিপ্ত। ফলে তিনি জীবনবৃত্তান্ত দীর্ঘায়িত করেন না এবং এতে খুব সামান্য ব্যতীত কোনো সনদ উল্লেখ করেন না। তিনি তাঁর কিতাবটি এই উক্তি দিয়ে শুরু করেছেন: «আবু ইমরান মুসা বিন ঈসা আল-হানিফি আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু ইসহাক আন-নাজিরামি ইবরাহিম বিন আব্দুল্লাহকে বলতে শুনেছি: নির্ভুলভাবে লিপিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে অগ্রাধিকারযোগ্য বিষয় হলো মানুষের নামসমূহ; কারণ এটি এমন বিষয় যাতে কিয়াস বা অনুমান চলে না এবং এর আগে এমন কিছু নেই যা এর প্রতি ইঙ্গিত করে, আর এর পরেও এমন কিছু নেই যা এর প্রতি ইঙ্গিত করে»।
৬ - ইমাম খতিব আল-বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ৪৬৩ হিজরি) রচিত কিতাব «আল-মু'তানিফ তাকমিলাতুল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ»। এটিই আমাদের আলোচ্য কিতাব এবং স্বতন্ত্র পরিচ্ছেদে এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আসবে।
৭ - সা'দুল মুলক আবু নাসর আলি বিন হিবাতুল্লাহ বিন জাফর বিন মাকুলা আল-আমির (রাহিমাহুল্লাহ) (মৃত্যু ৪৭৫ হিজরি) রচিত কিতাব «আল-ইকমাল ফি রাফ'ই আরিদিল ইরতিয়াব আনিল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ মিনাল আসমা ওয়াল কুনা ওয়াল আনসাব»। আমাদের কাছে পৌঁছানো এই বিষয়ের গ্রন্থগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংকলন।
আমির ইবনে মাকুলা তাঁর 'আল-ইকমাল' গ্রন্থের ভূমিকায় বলেন: «যখন আমি আবু বকর আহমাদ বিন আলি বিন সাবিত আল-খতিবের কিতাবটি দেখলাম, যার নাম তিনি দিয়েছিলেন 'তাকমিলাতুল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ'—যা আবু হাসান আলি বিন উমর আদ-দারা কুতনির 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' এবং আব্দুল গনি বিন সাঈদ আল-আজদির 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' নামক গ্রন্থদ্বয়ের ওপর রচিত হয়েছে,
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٥)
ومشتبه النسبة، وجدته قد أخل بأشياء كثيرة لم يذكرها، وكرر أشياء قد ذكراها، أو أحدهما ونسبهما إلى الغلط في أشياء لم يغلطا فيها، وترك أغلاطًا لهما لم يُنَبِّه عليها، ووهم في أشياء مما استدركه سَطَّرَها على الغلط.
فآثرتُ أن أعمل في هذا الفن كتابًا جامعًا لما في كتبهم وما شَذَّ عنها وأُسْقِط ما لا يقع الإشكال فيه مما ذكروه، وأذكر ما وَهِم فيه أحدهم على الصحة وما اختلفوا فيه وكان لكل قول وجه ذكرته
… ».
ومن هنا يستبين لنا أهمية كتاب الأمير ابن ماكولا رحمه الله في تحقيق كتاب الخطيب، إذ هو -أعني المؤتنف- مادته ومرجعه.
وقد رتب الأمير ابن ماكولا رحمه الله كتابه على حروف المعجم فيقول: «ورتبته على حروف المُعجم، وجعلت كلَّ حرف أيضًا على حروف المعجم وبدأت في كل باب بذكر مَنْ اسمُه مُوافق لترجمته، ثم بمَن كُنيته كذلك، ثم أتبعته بذكر الآباء والأجداد، وقدمت في كل صِنف الصحابة، وأتبعتهم بالتابعين وتابعيهم إن كانوا في ذلك الباب، وإلا الأقدم فالأقدم من الرواة، ثم جعلت بعد ذكر من له رواية، الشعراء والأمراء والأشراف في الإسلام والجاهلية، وكل من له ذكر في خبر من الرجال والنساء، وختمتُ كلَّ حرف بمشتبه النسبة منه؛ ليقرب إدراك ما يطلب فيه ويَسْهُل على مبتغيه».
وقد ظهر لي بوضوح أثناء تحقيقي لكتاب المؤتنف ومراجعتي لكتاب الإكمال -إذ قد ربطت جميع تراجم المؤتنف التي ذكرها ابن ماكولا في الإكمال به- أن ابن ماكولا قد استقى التراجم من كتاب المؤتنف مع تصرف يسير في العبارة، دون إشارة إلى أنها من عند الخطيب إلا في مواضع يسيرة، وقد يُتَوهم أن المادة من جمع ابن ماكولا، والحق أنها من عند الخطيب.
ويمتاز كتابُ ابن ماكولا أنه من أجمع الكتب لهذا الفن، مع عنايته
এবং বংশীয় নামের সদৃশতা; আমি তাকে অনেক বিষয়ে ত্রুটিপূর্ণ পেয়েছি যা তিনি উল্লেখ করেননি, এবং এমন কিছু বিষয়ের পুনরাবৃত্তি করেছেন যা তারা উভয়ই অথবা তাদের একজন উল্লেখ করেছেন। তিনি এমন সব বিষয়ে তাদেরকে ভুলের দিকে নিসবত করেছেন যেখানে তারা ভুল করেননি, এবং তাদের এমন কিছু ভুল বর্জন করেছেন যে ব্যাপারে তিনি সতর্ক করেননি। এমনকি তিনি সংশোধনী হিসেবে যা লিখেছিলেন তার অনেক কিছুতেই ভুল ধারণা পোষণ করেছেন।
তাই আমি এই শাস্ত্রে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ গ্রন্থ রচনা করতে পছন্দ করলাম যা তাদের কিতাবে বিদ্যমান এবং যা বাদ পড়েছে—উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করবে। তারা যা উল্লেখ করেছেন এবং যাতে কোনো সংশয় নেই তা আমি বাদ দেব। আর তাদের কেউ কোনো বিষয়ে ভুল করলে তা সঠিকভাবে উল্লেখ করব এবং যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন এবং প্রতিটি মতের সপক্ষে কোনো যুক্তি থাকলে তা আমি বর্ণনা করেছি
... »।
এখান থেকেই খতিব বাগদাদীর কিতাবটি সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমির ইবনে মাকুলা (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবটির গুরুত্ব আমাদের কাছে স্পষ্ট হয়, কারণ সেটি—অর্থাৎ আল-মু’তানিফ—তার মূল উপাদান ও তথ্যসূত্র।
আমির ইবনে মাকুলা (রহিমাহুল্লাহ) তার কিতাবটিকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন। তিনি বলেন: «আমি এটি বর্ণানুক্রমে সাজিয়েছি এবং প্রতিটি বর্ণকেও পুনরায় বর্ণানুক্রমিক বিন্যাসে রেখেছি। আমি প্রতিটি অধ্যায় শুরু করেছি এমন ব্যক্তিকে দিয়ে যার নাম তার শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, এরপর যার উপনাম অনুরূপ তাকে এনেছি। এরপর পিতা ও দাদাদের নাম উল্লেখ করেছি। প্রতিটি শ্রেণিতে আমি সাহাবীগণকে অগ্রাধিকার দিয়েছি, এরপর তাবেয়ী এবং তবে-তাবেয়ীগণ যদি সেই অধ্যায়ে থাকেন তবে তাদের উল্লেখ করেছি; অন্যথায় বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা জ্যেষ্ঠ তাদের ক্রমানুসারে এনেছি। এরপর যাদের বর্ণনা রয়েছে তাদের আলোচনার পর আমি ইসলাম ও জাহেলি যুগের কবি, আমির এবং অভিজাত ব্যক্তিদের উল্লেখ করেছি, এবং সেই সব নারী ও পুরুষদের কথা এনেছি যাদের আলোচনা কোনো সংবাদে এসেছে। সবশেষে প্রতিটি বর্ণকে বংশীয় নামের সদৃশতা দিয়ে সমাপ্ত করেছি; যাতে কাঙ্ক্ষিত তথ্য খুঁজে পাওয়া সহজ হয় এবং অন্বেষণকারীর জন্য তা সহজসাধ্য হয়।»
আল-মু’তানিফ কিতাবটির গবেষণা ও সম্পাদনার সময় এবং আল-ইকমাল কিতাবটি পর্যালোচনার সময় আমার কাছে এটি স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে—যেহেতু আমি আল-ইকমাল-এ ইবনে মাকুলা কর্তৃক বর্ণিত আল-মু’তানিফ-এর সকল জীবনীকে তার সাথে সংশ্লিষ্ট করেছি—যে ইবনে মাকুলা সামান্য ভাষাগত পরিবর্তন ছাড়া জীবনীগুলো মূলত আল-মু’তানিফ থেকেই গ্রহণ করেছেন। খুব সামান্য স্থান ব্যতীত তিনি এগুলো যে খতিব বাগদাদীর নিকট থেকে গ্রহণ করা তার কোনো ইঙ্গিত দেননি। ফলে এমন বিভ্রম হতে পারে যে এই তথ্যগুলো ইবনে মাকুলা নিজেই সংগ্রহ করেছেন, অথচ সত্য এই যে এগুলো খতিব বাগদাদীর কাজ।
ইবনে মাকুলার কিতাবটির বিশেষত্ব হলো, এটি এই শাস্ত্রের সবচেয়ে ব্যাপক ও সংকলিত গ্রন্থগুলোর অন্যতম, সাথে এতে রয়েছে বিশেষ যত্ন...
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٦)
لضبط الأسماء بالعبارة في مواضع كثيرة، إلا أنه أسقط أبوابًا ظنًا منه أن اللبس فيها مأمون. بالإضافة أنه جرد الكتاب من الأسانيد ولم يثقلها بذلك، مع ما في ذكرها وروايتها من الفوائد، والتي امتاز بها كتاب الخطيب أعني: المؤتنف.
8 - هذا وقد صنف ابن ماكولا كتابًا آخر ذكر فيه الأوهام التي وقع فيها الأشياخ الثلاثة: الدارقطني، والأزدي، والخطيب وَسَمَه ب «تهذيب مستمر الأوهام على ذوي المعرفة والأفهام». وقد طبع سنة 1410 هـ عن دار الكتب العلمية. بتحقيق سيد كسروي حسن. وهي طبعة سقيمة اعتمد فيها المحقق على نسخة مكتبة فيض الله، وهي نسخة متوسطة الجودة، وبها سقط في بعض المواضع، وقد رجعت في مواضع كثيرة لنسخة تشستربيتي للخلل الموجود في المطبوعة المذكورة، ونسخة تشستربيتي أتقن وأتم.
وقد استفدت من هذا الكتاب إفادة جليلة وهي أن الأمير قد ذكر لنا في مقدمته: مقدمة الإمام الخطيب لكتابه المؤتنف -والتي فقدت مع ما فقد من الكتاب- وأبان لنا مقصد الخطيب ومنهجه في كتاب المؤتنف.
وقد ذكرت المواضع التي استدركها ابن ماكولا في تهذيبه في موضعها من كتاب المؤتنف.
9 - كتاب «تكملة الإكمال» للحافظ أبي بكر محمد بن عبد الغني البغدادي الحنبلي المعروف بابن نقطة رحمه الله المتوفى سنة 629 هـ. وقد طبع بتحقيق الدكتور عبد القيوم عبد رب النبي سنة 1408 هـ - 1987 م عن جامعة أم القرى- مكة المكرمة.
وهو استدراك على كتاب ابن ماكولا: «الإكمال» يقول ابن نقطة: «أما بعد فاعلم وفقك الله للخيرات أني نظرت في كتاب الأمير أبي نصر علي بن
অনেক স্থানে বর্ণনার মাধ্যমে নামগুলো যথাযথভাবে নির্দিষ্ট করেছেন, তবে তিনি কিছু অধ্যায় এই ধারণায় বাদ দিয়েছেন যে সেগুলোতে বিভ্রান্তির সম্ভাবনা নেই। এছাড়া তিনি গ্রন্থটিকে সনদসমূহ থেকে মুক্ত রেখেছেন এবং সেগুলো উল্লেখ করে গ্রন্থটির কলেবর বৃদ্ধি করেননি, যদিও সেগুলো উল্লেখ ও বর্ণনা করার মধ্যে নানাবিধ উপকারিতা রয়েছে, যা খতীবের গ্রন্থ অর্থাৎ 'আল-মু'তানিফ'-এর বৈশিষ্ট্য ছিল।
৮ - এছাড়া ইবনে মাকুলা অন্য একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন যেখানে তিনি তিন শাইখ: আদ-দারাকুতনী, আল-আযদি এবং আল-খতীব যেসকল ভুলের শিকার হয়েছেন তা উল্লেখ করেছেন। তিনি এর নামকরণ করেছেন "তাহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম আলা যাউয়িল মা'রিফাতি ওয়াল আফহাম"। এটি ১৪১০ হিজরীতে দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ থেকে সাইয়্যেদ কাসরাবী হাসানের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে। এটি একটি ত্রুটিপূর্ণ সংস্করণ যেখানে সম্পাদক ফয়জুল্লাহ লাইব্রেরির পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছেন, যা ছিল একটি মাঝারি মানের পাণ্ডুলিপি এবং তাতে কিছু স্থানে বিচ্যুতি ছিল। উক্ত মুদ্রিত সংস্করণের ত্রুটির কারণে আমি অনেক ক্ষেত্রে চেস্টার বিটি পাণ্ডুলিপির শরণাপন্ন হয়েছি, আর চেস্টার বিটি পাণ্ডুলিপিটি অধিকতর নির্ভুল ও পূর্ণাঙ্গ।
আমি এই গ্রন্থটি থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকার লাভ করেছি, আর তা হলো 'আমীর' (ইবনে মাকুলা) তার ভূমিকায় ইমাম খতীবের 'আল-মু'তানিফ' গ্রন্থের সেই ভূমিকাটি উল্লেখ করেছেন যা গ্রন্থের হারানো অংশের সাথে হারিয়ে গিয়েছিল। এর মাধ্যমে তিনি আমাদের সামনে 'আল-মু'তানিফ' গ্রন্থে খতীবের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি স্পষ্ট করেছেন।
ইবনে মাকুলা তার 'তাহযীব' গ্রন্থে যে বিষয়গুলোর সংশোধনী দিয়েছেন, আমি সেগুলো 'আল-মু'তানিফ' গ্রন্থের যথাযথ স্থানে উল্লেখ করেছি।
৯ - হাফেজ আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল গনি আল-বাগদাদী আল-হাম্বলী, যিনি ইবনে নুকতা (রাহিমাহুল্লাহ) নামে পরিচিত (মৃত্যু ৬২৯ হিজরী), তাঁর রচিত "তাকমিলাতুল ইকমাল" গ্রন্থ। এটি ১৪০৮ হিজরী - ১৯৮৭ খ্রিস্টাব্দে মক্কা মুকাররমার উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড. আব্দুল কাইয়ুম আব্দুল রাব্ব আন-নবীর সম্পাদনায় মুদ্রিত হয়েছে।
এটি ইবনে মাকুলার গ্রন্থ "আল-ইকমাল"-এর একটি পরিশিষ্ট। ইবনে নুকতা বলেন: "অতঃপর, আল্লাহ আপনাকে কল্যাণের তাওফিক দান করুন, আপনি জেনে রাখুন যে, আমি আমীর আবু নাসর আলী বিন..."
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٧)
هبة الله بن علي بن جعفر الحافظ المعروف بابن ماكولا، الذي جمع فيه كتب الحفاظ المتقدمين، وصار قدوةً وعَلمًا للمحدثين وعُمدة للحفاظ المتقنين وفاصلًا بين المختلفِين ومُزِيلًا لشُبه الشك عن قلوب المرتابين، فوجدته قد بَيَّض فيه تراجم، واسْتُشهِد رحمه الله قبل أن يلحقها، ومواضع قد ذكر فيها قومًا وترك آخرين يلزمه ذكرهم، ولم يبيض لهم، وتراجم قد نقلها ثقةً بمن تقدَّمه من غير كشف، والصواب بخلافها، وأخرى كان الوهم مِنْ قِبَله فيها، ثم قد حَدَثَت مِنْ بَعدِه تَراجِمُ لها من أسماء المتقدمين ونسبهم ما يشتبه بها، فاستخرت الله عز وجل في جمع أبواب تشتمل على ما وصل إليَّ من ذلك وسطرتها على وضع كتابه، وأتبعنا كل حرف بمشتبه النسبة فيه».
10 - كتاب «تكملة إكمال الإكمال» للحافظ جمال الدين أبي حامد محمد بن علي المحمودي المعروف بابن الصابوني المتوفى سنة 680 هـ. وهو من مطبوعات المجمع العلمي العراقي - بتحقيق الدكتور مصطفى جواد. سنة 1377 هـ.
وهذا الكتاب ذيل واستدراك على كتاب ابن نقطة المذكور قبله.
11 - كتاب «المشتبه في الرجال: أسمائهم وأنسابهم» للإمام الحافظ أبي عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز المعروف بالذهبي رحمه الله المتوفى سنة 748 هـ. طبع سنة 1881 م بمطبعة بريل في ليدن، ثم طبع في الدار العلمية- الهند- سنة 1963 م بتحقيق علي محمد البجاوي.
يقول الإمام الذهبي: «هذا كتاب مبارك، جَمُّ الفائدة في معرفة ما يشتبه ويُتَصَحَّف من الأسماء والأنساب والكنى والألقاب مما اتفق وَضْعًا، واختلف نُطقًا، ويأتي غالبه في الأسانيد والروايات، اخترته وقربت لفظه وبالغت في اختصاره بعد أن كنت علقت في ذلك كلام الحافظ عبد الغني بن
হিবাতুল্লাহ বিন আলী বিন জাফর আল-হাফিয, যিনি ইবনে মাকুলা নামে পরিচিত। তিনি এতে পূর্ববর্তী হাফিযদের কিতাবসমূহ একত্র করেছেন এবং এটি মুহাদ্দিসদের জন্য একটি আদর্শ ও নিদর্শন, সূক্ষ্মদর্শী হাফিযদের জন্য নির্ভরস্থল, মতভেদকারীদের মধ্যে ফয়সালাকারী এবং সংশয়বাদীদের অন্তর থেকে সন্দেহের মেঘ অপনোদনকারী হিসেবে গণ্য হয়েছে। আমি দেখেছি যে, তিনি এতে কিছু জীবনী অসম্পূর্ণ রেখেছেন এবং সেগুলো পূরণ করার আগেই তিনি (রহিমাহুল্লাহ) শাহাদাতবরণ করেছেন। এছাড়া এমন কিছু স্থান রয়েছে যেখানে তিনি একদল লোকের কথা উল্লেখ করেছেন কিন্তু অন্যদের বাদ দিয়েছেন যাদের উল্লেখ করা আবশ্যক ছিল, অথচ তিনি তাদের জন্য কোনো স্থান খালি রাখেননি। আবার এমন কিছু জীবনী রয়েছে যা তিনি যাচাই না করেই তাঁর পূর্বসূরিদের থেকে নির্ভরযোগ্য মনে করে নকল করেছেন, অথচ সত্য ছিল তার বিপরীত। আবার কিছু ক্ষেত্রে তাঁর নিজের পক্ষ থেকেও ভুল হয়েছে। পরবর্তীতে পূর্ববর্তীদের এমন কিছু নাম ও বংশপরম্পরা যুক্ত হয়েছে যা সেগুলোর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই আমি এই বিষয়ে আমার নিকট যা পৌঁছেছে তা অন্তর্ভুক্ত করে কতগুলো অধ্যায় সংকলন করার বিষয়ে মহান আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করেছি এবং তাঁর কিতাবের বিন্যাস অনুযায়ী তা লিপিবদ্ধ করেছি। আমরা প্রতিটি বর্ণের শেষে এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বংশপরম্পরা যুক্ত করেছি।
১০ - হাফিয জামালুদ্দীন আবূ হামিদ মুহাম্মদ বিন আলী আল-মাহমুদী, যিনি ইবনে আস-সাবুনী (মৃত্যু: ৬৮০ হিজরী) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত কিতাব 'তাকমিলাতু ইকমালিল ইকমাল'। এটি ড. মুস্তফা জাওয়াদ-এর তাহকীকে ১৩৭৭ হিজরীতে ইরাকি সাইন্টিফিক একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয়েছে।
এই কিতাবটি পূর্বে উল্লেখিত ইবনে নুকতার কিতাবের একটি পরিশিষ্ট ও সংশোধনমূলক গ্রন্থ।
১১ - ইমাম হাফিয আবূ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান বিন কায়মায, যিনি আয-যাহাবী (রহিমাহুল্লাহ, মৃত্যু: ৭৪৮ হিজরী) নামে পরিচিত, তাঁর রচিত 'আল-মুশতাবিহু ফির রিজাল: আসমাউহুম ওয়া আনসাবুহুম' নামক কিতাব। এটি ১৮৮১ সালে লাইডেনের ব্রিল প্রেস থেকে এবং পরবর্তীতে ১৯৬৩ সালে ভারতের দারুল ইলমিয়্যাহ থেকে আলী মুহাম্মদ আল-বেজাওয়ী-এর তাহকীকে প্রকাশিত হয়েছে।
ইমাম যাহাবী বলেন: "এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা এমন নাম, বংশপরম্পরা, কুনিয়া ও উপাধি সম্পর্কে জানার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপকারী যা দেখতে একই রকম মনে হয় বা পড়ার সময় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; অর্থাৎ যেগুলোর লিখন পদ্ধতি এক কিন্তু উচ্চারণ ভিন্ন। এগুলোর অধিকাংশই সনদ ও বর্ণনার ক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়। আমি এটি নির্বাচন করেছি, এর ভাষা সহজ করেছি এবং একে অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত করেছি, অথচ এর আগে আমি হাফিয আব্দুল গনী বিন..."
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٨)
سعيد الأزدي، في المشتبه والمختلف، وكلام الأمير الحافظ أبي نصر ابن ماكولا، وكلام الحافظ أبي بكر ابن نقطة، وكلام شيخنا أبي العلاء الفرضي وغيرهم، وأضفت إلى ذلك ما وقع لي أو تنبهت له
… ».
12 - كتاب «توضيح المشتبه في ضبط أسماء الرواة وأنسابهم وألقابهم وكناهم» للإمام محمد بن أبي بكر عبد الله بن محمد بن أحمد بن مجاهد القيسي الدِّمَشقِي الشافعي، شمس الدين، المعروف بابن ناصر الدين رحمه الله المتوفى سنة 842 هـ. وهو شرح حافل على مشتبه الذهبي المذكور قبله أصدرته مؤسسة الرسالة سنة 1993 م - بتحقيق محمد نعيم العرقسوسي.
يقول ابن ناصر الدين: «فإن كتاب المشتبه في الرجال أسمائهم وأنسابهم، الذي ألفه في سنة ثلاث وعشرين وسبع مئة الإمام الحافظ الكبير، الثقة الحجة، شيخ المحدثين، عمدة المؤرخين، أبو عبد الله الذهبي رحمه الله، كتاب مشتمل على فوائد، محتو على نفائس فرائد، ليس له في مجموعه نظير، لكن اختصاره أدى إلى التقصير، وقد صرح بالمبالغة في اختصاره مؤلفه، وأحال فيه على ضبط القلم من خط من يتقنه ويعرفه
… إلى أن قال: فأوضحت -ولله الحمد- ما أهمله، وبينت ما أجمله، وفتحت ما أقفله، وأفصحت عما أغفله، ورفعت في بعض الأنساب، ونبهت على الصواب مما وقع خطأ في الكتاب، غير أني لم أحول ترجمة من تبويبه، وإن كان نقلها إلى محلها أَفْيَد في ترتيبه؛ غَيْرةً على تغيير التصنيف، وفَرَقًا من تفريق التأليف، وفصلت ب (قلت) الزيادة، وب (قال) كلام المصنف ومراده، فصار الكتاب - ولله الحمد والمِنَّة - كافيًا في بابه، مُسعِفًا بغرض طلابه».
13 - كتاب «تبصير المنتبه بتحرير المشتبه» للحافظ الكبير قاضي القضاة شهاب الدين أبي الفضل أحمد بن علي بن محمد بن أحمد بن حجر
সাঈদ আল-আযদি, 'আল-মুশতাবিহ ওয়াল মুখতালিফ' গ্রন্থে, এবং আমির আল-হাফিয আবু নাসর ইবনে মাকুলা-এর বক্তব্য, হাফিয আবু বকর ইবনে নুকতাহ-এর বক্তব্য, এবং আমাদের শায়খ আবুল আলা আল-ফারদি ও অন্যদের বক্তব্য, এবং আমি এর সাথে যোগ করেছি যা আমার সামনে এসেছে বা আমি লক্ষ্য করেছি
… ».
১২ - ইমাম মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুজাহিদ আল-কায়সি আদ-দিমাশকি আশ-শাফিয়ি, শামসুদ্দিন, যিনি ইবনে নাসিরুদ্দিন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) নামে পরিচিত, মৃত্যু ৮৪২ হিজরি, তাঁর রচিত ‘তাওদিহুল মুশতাবিহ ফি দাপ্তি আসমায়ির রুওয়াত ওয়া আনসাবিহিম ওয়া আলকাবিহিম ওয়া কুনাহুম’ কিতাব। এটি পূর্বে উল্লিখিত যাহাবির ‘মুশতাবিহ’ কিতাবটির একটি সমৃদ্ধ ব্যাখ্যাগ্রন্থ, যা ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দে মুয়াসসাসাতুর রিসালাহ থেকে মুহাম্মদ নাঈম আল-আরকাসুসি-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়েছে।
ইবনে নাসিরুদ্দিন বলেন: «নিশ্চয়ই বর্ণনাকারীদের নাম ও বংশ পরিচয়ের ক্ষেত্রে ‘আল-মুশতাবিহ’ কিতাবটি, যা ৭২৩ হিজরি সনে মহান ইমাম, হাফিয, নির্ভরযোগ্য দলিল, মুহাদ্দিসদের শায়খ এবং ঐতিহাসিকদের প্রধান অবলম্বন আবু আবদুল্লাহ আয-যাহাবি (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) রচনা করেছেন, সেটি বহুবিধ কল্যাণ ও অনন্য রত্নরাজি সম্বলিত একটি কিতাব। এর সংকলনের মতো দ্বিতীয় কোনো উদাহরণ নেই, তবে এর অতি-সংক্ষিপ্ততা কিছুটা অপূর্ণতা তৈরি করেছে। এর লেখক নিজেই এটি অত্যন্ত সংক্ষেপে করার কথা স্পষ্টভাবে বলেছেন এবং এর নির্ভুল পাঠের জন্য তিনি দক্ষ হস্তলিপি ও তা অবগত ব্যক্তিদের ওপর নির্ভর করেছেন
… বলতে বলতে তিনি বলেন: অতঃপর আমি—আল্লাহর সকল প্রশংসা—তিনি যা বাদ দিয়েছিলেন তা স্পষ্ট করেছি, যা সংক্ষেপে বলেছিলেন তা ব্যাখ্যা করেছি, যা অস্পষ্ট রেখেছিলেন তা উন্মোচন করেছি এবং যা তিনি এড়িয়ে গিয়েছিলেন তা ব্যক্ত করেছি। আমি কিছু বংশপরম্পরা সংশোধন করেছি এবং কিতাবে যে ভুলগুলো হয়েছিল তার সঠিক রূপটি চিহ্নিত করে দিয়েছি। তবে আমি কোনো জীবনীকে তার নির্ধারিত অধ্যায় থেকে স্থানান্তরিত করিনি, যদিও বিন্যাসের ক্ষেত্রে তা যথাস্থানে সরিয়ে নেওয়া অধিক ফলদায়ক হতো; এটি করেছি মূল রচনার পরিবর্তন পরিহার করার আগ্রহ থেকে এবং সংকলনটি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ভয়ে। আমি অতিরিক্ত বর্ণনাগুলোকে ‘আমি বলেছি’ দ্বারা এবং মূল লেখকের কথা ও উদ্দেশ্যকে ‘তিনি বলেছেন’ দ্বারা পৃথক করেছি। ফলে কিতাবটি—আল্লাহর প্রশংসা ও অনুগ্রহে—তার নিজ বিষয়ে যথেষ্ট এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য পূরণে সহায়তাকারী হয়ে উঠেছে।»
১৩ - মহান হাফিয, প্রধান বিচারপতি শিহাবুদ্দিন আবুল ফাদল আহমদ ইবনে আলি ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে হাজার রচিত ‘তাবসিরুল মুনতাবিহ বিতাহরিরিল মুশতাবিহ’ কিতাব।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ١٩)
الكناني العسقلاني رحمه الله المتوفى سنة 852 هـ. طبع الكتاب بتحقيق علي محمد البجاوي، عن الدار العلمية بالهند سنة 1986 م الطبعة الثانية.
وهو أيضًا شرح لكتاب الذهبي «المشتبه» وفي ذلك يقول الحافظ: «فإنني لما علَّقت كتاب المشتبه الذي لخصه الحافظ الشهير أبو عبد الله الذهبيِّ رحمه الله وجدتُ فيه إعوازاً من ثلاثة أوجه:
أحدها، وهو أهمّها: تحقيقُ ضَبْطه، لأنه أحال في ذَلِكَ عَلَى ضبط القلم، فما شفى من ألَم.
ثانيها: إجحافه في الاختصار، بحيث إنه يعمد إلى الاسمين المشتبهين إذا كَثَرَا فيقول في كل منهما: فلان وفلان وفلان وغيرهم، وهذا لا يَروِي الغُلَّة، ولا يَشْفِي العِلَّة، بل يُبقِي اللبس عَلَى المستفيد كما هو، وكان ينبغي أن يستوعب أقلّهما.
وثالثها -وفيه ما لا يرد عليه إلا أن ذَلِكَ من تَتِمَّة الفائدة-: ما فاته من التراجم المستقلَّة التي لم يتضَمَّنَها كتابُه مع كونها في أصل ابن ماكولا، وذَيل ابن نقطة اللذين لخَّصَهما، وزاد من ذَيل أبي العلاء الفرضي وغيره ما استُدرك عليهما، فاستخرْت الله تعالى في اختصار ما أسهب فيه، وبَسْط ما أجحف في اختصاره، بحيث يكون ما أقتصرُ عليه من ذَلِكَ أزيد من حجمه قليلاً. فأعان الله عَلَى ذَلِكَ، وله الحمد».
قال الشيخ المعلمي اليماني رحمه الله في مقدمة تحقيقه لكتاب ابن ماكولا، وهو يتحدث عن كتاب ابن حجر تبصير المنتبه-: «والكتابُ نفسُه فيه مواضع دون مستوى المؤلف؛ وذلك للاستعجال وكثرة الأعمال والحرص على الاختصار».
قلت: فهذه أشهر المصنفات المطبوعة في هذا الفن والتي عليها المُعَوَّل
আল-কিনানি আল-আসকালানি (রহমাতুল্লাহি আলাইহি), যিনি ৮৫২ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। বইটি আলী মুহাম্মদ আল-বাজাওয়ীর সম্পাদনায় ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতের আদ-দারুল ইলমিয়্যাহ থেকে দ্বিতীয় সংস্করণ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।
আর এটি ইমাম যাহাবীর ‘আল-মুশতাবিহ’ গ্রন্থের একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থও বটে। এ প্রসঙ্গে হাফিজ (ইবনে হাজার) বলেন: "বিখ্যাত হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ আল-যাহাবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সংক্ষেপিত ‘আল-মুশতাবিহ’ গ্রন্থটির ওপর যখন আমি টীকা লিখছিলাম, তখন এতে তিনটি দিক থেকে অপূর্ণতা দেখতে পাই:
প্রথমটি, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ: শব্দবিন্যাস ও হারাকাতের বিশুদ্ধিকরণ; কারণ তিনি এ ক্ষেত্রে লেখনীর ওপর নির্ভর করেছেন, যা সংশয় নিরসনে যথেষ্ট ছিল না।
দ্বিতীয়টি: অতিমাত্রায় সংক্ষেপণ। যখন দুটি সদৃশ নামের সংখ্যা অনেক বেশি হতো, তখন তিনি প্রতিটির ক্ষেত্রে বলতেন: 'অমুক, অমুক, অমুক ও অন্যান্যরা'। এটি জ্ঞানপিপাসা মেটায় না এবং সমস্যার সমাধানও করে না; বরং তা ব্যবহারকারীর মনে বিভ্রান্তিকে আগের মতোই জিইয়ে রাখে। অথচ উচিত ছিল অন্তত অপ্রসিদ্ধ নামগুলোর পূর্ণ বিবরণ দেওয়া।
তৃতীয়টি—যাতে তার প্রতি কোনো অভিযোগ নেই, বরং তা ছিল কেবল উপযোগিতা পূর্ণ করার জন্য—তা হলো: এমন কিছু স্বতন্ত্র জীবনী যা তার গ্রন্থে স্থান পায়নি, অথচ সেগুলো ইবনে মাকুলার মূল গ্রন্থ এবং ইবনে নুক্বতার পরিশিষ্টে বিদ্যমান ছিল যা তিনি সংক্ষেপ করেছিলেন। এছাড়াও তিনি আবুল আলা আল-ফারাদ্বী ও অন্যান্যদের পরিশিষ্ট থেকে যা কিছু সংশোধনী হিসেবে এসেছিল, তাও যুক্ত করেছিলেন। অতঃপর আমি আল্লাহর কাছে ইস্তিখারা করলাম—যাতে তিনি যা দীর্ঘ করেছেন তা সংক্ষেপ করতে পারি এবং যা তিনি অতি সংক্ষেপ করেছেন তা বিস্তারিত করতে পারি, যেন আমার এই সংক্ষেপিত সংস্করণটি মূল আয়তনের চেয়ে সামান্য বড় হয়। আল্লাহ এতে সাহায্য করেছেন এবং সকল প্রশংসা আল্লাহরই।"
শায়খ আল-মুআল্লিমী আল-ইয়ামানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ইবনে মাকুলার গ্রন্থের সম্পাদনার ভূমিকায় ইবনে হাজারের ‘তাবসীরুল মুনতাবিহ’ গ্রন্থ সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: "বইটির কিছু স্থান স্বয়ং লেখকের যোগ্যতার তুলনায় নিম্নমানের; আর এর কারণ ছিল দ্রুততা, কাজের আধিক্য এবং সংক্ষেপ করার প্রচেষ্টা।"
আমি বলছি: এগুলোই হলো এই শাস্ত্রের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ মুদ্রিত গ্রন্থাবলি, যার ওপর নির্ভর করা হয়।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
والمرجع عند الحاجة. اقتصرت عليها دون غيرها، وإلا فهناك مصنفات أخرى لم تطبع إلى الآن، أحيل القارئ فيها على كتاب فتح المغيث في الموضع الذي ذكرته قبل ذلك في الحاشية، وعلى مقدمة الشيخ اليماني لكتاب الإكمال لابن ماكولا.
এবং প্রয়োজনের সময় এটিই নির্ভরযোগ্য উৎস। আমি কেবল এগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছি এবং অন্যগুলো পরিহার করেছি। অন্যথায় এমন আরও কিছু রচনা রয়েছে যা এখন পর্যন্ত মুদ্রিত হয়নি; সেসব বিষয়ে আমি পাঠককে 'ফাতহুল মুগীস' গ্রন্থের সেই নির্দিষ্ট অংশের প্রতি নির্দেশ করছি যা ইতিপূর্বে আমি টীকায় উল্লেখ করেছি, এবং ইবনে মাকুলার 'আল-ইকমাল' গ্রন্থের ওপর শায়খ ইয়ামানীর লিখিত মুখবন্ধের প্রতিও।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢١)
المبحث الثالث: التعريف بكتاب المؤتنف ومنهج الخطيب في تصنيفه وأهميته:لقد تميز الإمام الخطيب عن علماء عصره، بل وعن من تَقدَّمه من علماء الحديث باهتمامه البالغ بالتصنيف في هذا الفن من فنون علم الحديث، والذي يُعنى برفع الالتباس والاشتباه والوَهَم الذي يمكن أن يقع في الرواية بسبب الكتابة والنقل من الكتب.
بل لا نبالغ إذا قلنا أنه لم يُصَنِّف أحدٌ من أهل العلم كتصانيف الخطيب رحمه الله في هذا الباب، وقد صَنَّف في ذلك:
1 - المتفق والمفترق: والذي يقول في أوله: «فإني ذَاكرٌ في كتابي هذا نوعًا من عِلم الحَدِيث قد يَقَع الإشكالُ في مِثله على من لم تَرتفع في العلم رُتبتُه ولم تَعْلُ في تدبيره طبقته، وهو بيان أسماء وأنساب وردت في الحديث مُتَّفِقَة مُتَمَاثِلة، وإذا اعْتُبِرَت وُجِدَت مُفْترقَة مُتَباينة، فلم يُؤْمَن وقوعُ الإشْكَال فيها ولو في بعضها؛ لاشتباهِها وتَضَاهِيها، وقد وَهِم غَير وَاحِد مِنْ حَمَلة العِلم المعروفين بحسن الحفظ والفهم في شيء من هذا النوع الذي ذكرناه، فَحَدانا ذلك على أن شرحناه ولخصناه
… ».
2 - تلخيص المتشابه في الرسم: والذي تلى في التصنيف سابقه، فيقول الخطيب رحمه الله في افتتاح التلخيص: «ثم إني رسمت في هذا الكتاب، بتوفيق الله وعونه من أسماء المحدثين وأنسابهم، ومن الأسماء والأنساب التي يُدَوِّنونها في كُتبهم ما تشتبه صورتُه في الخط دون اللفظ، مُفْرِدًا عما يقع الاتفاق فيه حال النطق به، والكتب له، إذ كنا قد فرغنا قبلُ من ذلك النوع في كتابنا الذي ألفناه في المتفق والمفترق.
وقد جعلت هذا المرسوم فصولا خمسة، كل فصل منها يشتمل على
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: আল-মু’তানিফ গ্রন্থের পরিচয় এবং এর সংকলনে আল-খাতিবের মানহাজ (পদ্ধতি) ও গুরুত্ব:ইমাম খাতিব তাঁর সমসাময়িক আলেমদের থেকে, এমনকি তাঁর পূর্ববর্তী হাদীস শাস্ত্রের আলেমদের থেকেও হাদীস বিজ্ঞানের এই শাখায় গ্রন্থ রচনার প্রতি অত্যাধিক গুরুত্ব প্রদানের মাধ্যমে অনন্যতা অর্জন করেছেন। এই শাখাটি মূলত সেই সমস্ত বিভ্রান্তি, সংশয় ও ভ্রান্তি দূর করার কাজ করে যা লেখা এবং বই থেকে নকল করার কারণে বর্ণনার ক্ষেত্রে ঘটতে পারে।
বরং এটি অতুক্তি হবে না যদি আমরা বলি যে, ইলমের ধারকদের মধ্যে আল-খাতিব (রাহিমাহুল্লাহ)-এর মতো কেউ এই বিষয়ে গ্রন্থ সংকলন করেননি। তিনি এই বিষয়ে যা রচনা করেছেন:
১ - আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাাক: যার শুরুতে তিনি বলেন: «আমি আমার এই বইটিতে হাদীস বিজ্ঞানের এমন একটি প্রকার উল্লেখ করছি যাতে সেই ব্যক্তির জন্য সমস্যা তৈরি হতে পারে যার ইলমের মর্যাদা এখনো উন্নীত হয়নি এবং যার বিচারবুদ্ধির স্তর উচ্চতায় পৌঁছেনি। এটি হলো হাদীসে বর্ণিত এমন কিছু নাম এবং বংশের বর্ণনা যা বাহ্যিকভাবে এক ও অভিন্ন মনে হয়, কিন্তু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় সেগুলো পৃথক ও ভিন্ন ভিন্ন। তাই এগুলোর মধ্যে অস্পষ্টতা ও সাদৃশ্যের কারণে অন্তত কয়েকটির ক্ষেত্রে সমস্যার সৃষ্টি হওয়া থেকে নিরাপদ থাকা যায় না। এমনকি ইলমের ধারকদের মধ্যে যারা প্রখর মুখস্থ শক্তি ও প্রজ্ঞার জন্য সুপরিচিত, তাদের মধ্যে একাধিক ব্যক্তি এই ধরণের বিষয়ে ভ্রান্তিতে পড়েছেন যা আমি উল্লেখ করেছি। এটিই আমাকে বিষয়টি ব্যাখ্যা এবং সংক্ষিপ্ত করতে উদ্বুদ্ধ করেছে
… »।
২ - তালখিসুল মুতাশাবিহ ফির রাসম: যা সংকলনের দিক থেকে পূর্বেরটির পরবর্তী। আল-খাতিব (রাহিমাহুল্লাহ) 'আত-তালখিস'-এর শুরুতে বলেন: «অতঃপর আমি আল্লাহর তাওফিক ও সাহায্যে এই গ্রন্থে মুহাদ্দিসগণের নাম ও তাঁদের বংশ পরিচয় এবং এমন সব নাম ও বংশ যা তাঁরা তাঁদের কিতাবসমূহে লিপিবদ্ধ করেছেন, তা সংকলন করেছি যেগুলোর রূপ (আকৃতি) লেখায় সদৃশ কিন্তু উচ্চারণে ভিন্ন। আমি সেই সব বিষয়কে আলাদা রেখেছি যেগুলোর উচ্চারণ ও লেখা উভয় ক্ষেত্রেই মিল পাওয়া যায়, কারণ সেই বিষয়টি নিয়ে আমরা ইতিপূর্বে আমাদের 'আল-মুত্তাফাক ওয়াল মুফতারাাক' নামক গ্রন্থে আলোচনা শেষ করেছি।
আর আমি এই সংকলনটিকে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি, যার প্রতিটি পরিচ্ছেদ অন্তর্ভুক্ত করে...
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
أبواب عدة، يتضمن كل باب تراجم كثيرة. في الفصل الأول: ما تشتبه صورته في الخط وتتفق حروفه في الهجاء. وفي الفصل الثاني: ما يشتبه في الخط وهجاء بعض حروفه مختلف. وفي الفصل الثالث: ما كان في بعض حروفه تقديم على بعض مع اتفاقها في الصورة. وفي الفصل الرابع: ما يتقارب لإشتباهه وبعض حروفه مختلف في الصورة. وذكرت في الفصل الخامس: نوادر هذا الكتاب، ولخصت جميع ذلك وقيدته بذكر لفظ حروفه وشكلها، وتسمية شيوخ المذكورين الذين سمعوا منهم، وخَالِفِيهم الذين صحبوهم، ونقلوا عنهم، وسياق بعض رواياتهم وأخبارهم».
3 - تالي تلخيص المتشابه: والذ يقول في مقدمته له: «ولما انتهى فراغي من كتاب التلخيص -يعني الذي مر آنفًا- أتبعته بذكر ما يتفق من أسماء المحدثين وأنسابهم، غير أن في بعضه زيادة حرف واحد وأفردت له هذا الكتاب، وجعلته فصلين، ذكرت في الأول منهما: الزيادة في الأبناء دون الآباء. وفي الثاني: الزيادة في الآباء دون الأبناء، وقدمت في كل ترجمة ذكر الزائد على ما نقص عنه
… ».
4 - غنية الملتمس في إيضاح الملتبس: يقول في تقدمته له: «ثم إني وقفت على ما ذكرتَ من منازعة من نَازَعك في سليمان بن المغيرة، وسليمان بن أبي المغيرة، وقوله: إنهما رجل واحد، كما أن مَعْدان بن طلحة، هو ابن أبي طلحة، وسيف بن سليمان، هو: ابن أبي سليمان.
وسألتَ أن أبين لك صواب القول في ذلك، وقد أجبتك إلى سؤالك مُتَحرِّيا بلوغ غرضك ونيل مرادِك، وجمعت من نظائر هذا النوع في كتابي هذا، ما فيه غُنيةٌ لِمُلْتَمِسه، وباغِيه، ومنفعةٌ لسامعه ودَاعيه، بعد تقديمي بيان ما وقع النزاع فيه».
বেশ কিছু অধ্যায়, প্রতিটি অধ্যায় অনেক জীবনীকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রথম পরিচ্ছেদে: যেসব বিষয়ের লিপি বা চিত্র রূপের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে এবং বানান বা বর্ণসমূহ এক। দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: যা লিপি বা চিত্র রূপে সাদৃশ্যপূর্ণ কিন্তু কিছু বর্ণের বানান ভিন্ন। তৃতীয় পরিচ্ছেদে: যার কিছু বর্ণে অগ্র-পশ্চাৎ ঘটেছে অথচ চিত্র রূপ অভিন্ন। চতুর্থ পরিচ্ছেদে: যা সাদৃশ্য থাকার কারণে কাছাকাছি মনে হয় কিন্তু কিছু বর্ণের চিত্র রূপ ভিন্ন। আর পঞ্চম পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছি: এই কিতাবের বিরল বিষয়সমূহ। আমি এসব কিছুকে সংক্ষিপ্ত করেছি এবং তা অক্ষরের উচ্চারণ ও আকৃতি বর্ণনার মাধ্যমে সুনির্ধারিত করেছি। সেই সাথে উল্লেখিত ব্যক্তিদের উস্তাদগণের নাম উল্লেখ করেছি যাদের কাছ থেকে তারা শুনেছেন এবং তাদের সমসাময়িকদের কথা যারা তাদের সাহচর্য পেয়েছেন ও তাদের থেকে বর্ণনা করেছেন, এবং তাদের কিছু বর্ণনা ও সংবাদ উল্লেখ করেছি।
৩ - তালি তালখিস আল-মুতাশাবিহ: যার ভূমিকায় তিনি বলেছেন: «যখন আমি কিতাবুত তালখিস —অর্থাৎ যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে— লেখা শেষ করলাম, তখন তার অনুগামী হিসেবে মুহাদ্দিসগণের নাম ও বংশপরম্পরার সেই অংশটি যুক্ত করলাম যেগুলোর মধ্যে মিল রয়েছে, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বর্ণের আধিক্য রয়েছে। আমি এর জন্য এই স্বতন্ত্র কিতাবটি রচনা করেছি এবং একে দুটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছি। প্রথম পরিচ্ছেদে উল্লেখ করেছি: পিতাদের নামের পরিবর্তে পুত্রদের নামের মধ্যে বর্ণের আধিক্য। আর দ্বিতীয়টিতে: পুত্রদের নামের পরিবর্তে পিতাদের নামের মধ্যে বর্ণের আধিক্য। প্রতিটি জীবনীর বর্ণনায় যেখানে অতিরিক্ত বর্ণ রয়েছে তাকে কম বর্ণ বিশিষ্ট নামের আগে স্থান দিয়েছি
… »।
৪ - গুনিয়াতুল মুলতামিস ফি ইদাহিল মুলতাবিস: এর ভূমিকায় তিনি বলেছেন: «অতঃপর সুলাইমান ইবনুল মুগিরা এবং সুলাইমান ইবনু আবিল মুগিরা সম্পর্কে আপনার সাথে যে বিতর্ক হয়েছে এবং তার এই দাবি যে তারা উভয়ে একই ব্যক্তি—যেমনটি মাদান বিন তালহা এবং ইবনু আবি তালহা একই ব্যক্তি, কিংবা সাইফ বিন সুলাইমান এবং ইবনু আবি সুলাইমান একই ব্যক্তি—তা আমি অবগত হয়েছি।
আপনি আমার কাছে এ বিষয়ে সঠিক কথাটি স্পষ্ট করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। আপনার লক্ষ্য পূরণ ও উদ্দেশ্য হাসিলের প্রচেষ্টায় আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। এই জাতীয় সদৃশ বিষয়গুলো আমি আমার এই কিতাবে সংকলন করেছি, যা অনুসন্ধানকারী ও অন্বেষণকারীর জন্য যথেষ্ট হবে এবং এর শ্রোতা ও আহ্বানকারীর জন্য উপকারী হবে; এর আগে আমি সেই বিষয়টিও স্পষ্ট করেছি যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল»।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
5 - الموضح أوهام الجمع والتفريق: والذي يقول في مقدمته: «قد أوردنا في هذا الكتاب ذكر جماعة كثيرة من الرواة انتهت إلينا تسمية كل واحد منهم وكنيته والأمور التي يُعْزى إليها، كنسبته على وجوه مختلفة في روايات مفترقة، ذُكِرَ في بعضها حقيقةُ اسمه ونسبه، واقْتُصِر في البعض على شهرة كنيته أو لقبه، غير في موضع اسمه واسم أبيه وموه ذلك بنوع من أنواع التمويه، ومعلوم أن بعض من انتهت إليه تلك الروايات، فوقوع الخطأ في جمعها وتفريقها غير مأمون عليه، ولما كان الأمر على ما ذكرته بعثني ذلك على أن بينته وشرحته
… ».
وهذه الخمسة الكتب المذكورة آنفًا قد وصلتنا والحمد لله من تراث الخطيب رحمه الله وطبعت.
ومما لم يصلنا من تصانيفه ويتعلق بهذا الأمر:
كتاب «رافع الارتياب في المقلوب من الأسماء والأنساب»، وكتاب «المكمل لبيان المهمل».
هذان الكتابان ذكرهما رحمه الله في كتابنا هذا المؤتنف وفي غيره من تصانيفه وأحال عليهما في بعض المواضع.
ويأتي كتاب «المؤتنف تكملة المؤتلف والمختلف» ليختم به الخطيب رحمه الله تلك المكتبة المباركة التي تركها لأمته من بعده، وإن كنت لا أستطيع الجزم بأن المؤتنف هو آخر ما صنف الخطيب رحمه الله غير أني على يقين من أنه آخر ما قُرئ عليه قبل أن يلقى ربه تعالى؛ فإن السماعات التي جاءت على نسخته الفريدة مؤرخة في رمضان من العام الذي قُبِض فيه، وقبض هو في ذي الحَجة من نفس العام بعد مرض ابتدأه من نصف رمضان.
৫ - আল-মুওয়াদিহ লি-আওহামিল জামই ওয়াত-তাফরিক: যার ভূমিকায় তিনি বলেছেন: «আমরা এই গ্রন্থে অনেক বর্ণনাকারীর কথা উল্লেখ করেছি যাদের নাম, উপনাম এবং তাদের সাথে সম্পৃক্ত বিষয়গুলো আমাদের কাছে পৌঁছেছে; যেমন বিভিন্ন বর্ণনায় বিভিন্নভাবে তাদের বংশ পরিচয় দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো বর্ণনায় তাদের প্রকৃত নাম ও বংশ উল্লেখ করা হয়েছে, আবার কোনোটিতে শুধুমাত্র তাদের প্রসিদ্ধ উপনাম বা উপাধির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা হয়েছে। আবার কোথাও নাম ও পিতার নাম পরিবর্তন করে এক ধরনের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি জানা কথা যে, যাদের কাছে এই বর্ণনাগুলো পৌঁছেছে, তাদের ক্ষেত্রে এগুলোকে একত্রিত করা বা পৃথক করার ক্ষেত্রে ভুল হওয়া থেকে তারা নিরাপদ নন। আর যেহেতু বিষয়টি আমি যা উল্লেখ করেছি তেমনই ছিল, তাই এটি আমাকে তা স্পষ্ট ও ব্যাখ্যা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে
… »।
উপরে উল্লিখিত এই পাঁচটি বই খতিব (রহিমাহুল্লাহ)-এর ঐতিহ্য থেকে আলহামদুলিল্লাহ আমাদের কাছে পৌঁছেছে এবং মুদ্রিত হয়েছে।
এবং তাঁর রচিত গ্রন্থাবলির মধ্যে যা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি অথচ এই বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, তা হলো:
'রাফিউল ইরতিয়াব ফিল মাকলুব মিনাল আসমায়ি ওয়াল আনসাব' এবং 'আল-মুকাম্মিল লি-বায়ানিল মুহমাল' গ্রন্থ দুটি।
এই দুটি বইয়ের কথা তিনি (রহিমাহুল্লাহ) আমাদের বর্তমান গ্রন্থ 'আল-মু'তানিফ' এবং তাঁর অন্যান্য রচনায় উল্লেখ করেছেন এবং কিছু স্থানে এগুলোর উদ্ধৃতি দিয়েছেন।
আর 'আল-মু'তানিফ তাকমিলাতুল মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' বইটি এসেছে যেন এর মাধ্যমে খতিব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর পরবর্তী উম্মাহর জন্য রেখে যাওয়া সেই বরকতময় লাইব্রেরিকে সমাপ্ত করেন। যদিও আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না যে 'আল-মু'তানিফ'-ই খতিব (রহিমাহুল্লাহ)-এর শেষ রচনা কি না, তবে আমি এই বিষয়ে নিশ্চিত যে এটিই তাঁর শেষ কিতাব যা তাঁর মহান রবের সাথে সাক্ষাৎ করার পূর্বে তাঁর সামনে পাঠ করা হয়েছিল; কারণ এর অনন্য পাণ্ডুলিপিতে প্রাপ্ত শ্রবণের তারিখগুলো তাঁর ইন্তেকালের বছরের রমজান মাসের। আর তিনি সেই বছরেরই জিলহজ মাসে ইন্তেকাল করেন, রমজানের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এক অসুস্থতার পর।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
فأما تسمية الكتاب بالمؤتنف:
يقول ابن فارس
(1): «أنف: الهمزة والنون والفاء، أصلان منهما يتفرع مسائل الباب كلها، أحدهما: أخذُ الشَيء من أولِه، والثاني: أنف كُلِّ ذي أنف. وقياسه التَحديد. فأما الأصل الأول، فقال الخليل: اسْتَأنفتُ كذا، أي: رجعت إلى أوله، وائْتَنَفتُ ائْتِنَافًا. ومُؤْتَنَف الأمر: ما يُبْتَدَأ فيه. ومن هذا الباب قولهم: فَعل كذا آنِفًا، كأنه ابْتِدَاؤُه».
ومن هذا يتبين لنا أن الخطيب رحمه الله كأنه أراد أن يبتدأ ذكر المؤتلف والمختلف متخذًا في ذلك كتابيْ «المؤتلف والمختلف» لأبي الحسن الدارقطني، وأبي محمد الأزدي -رحمهما الله- أصلًا يكمل به هذه المادة الواسعة.
ومما يُتَأسف له أن قد فُقِد أَولُّ الكِتَاب كما يأتي ذلك في وصف النسخة، وضاع معه مقدمةُ الخطيب التي يبين فيها عن مَقصده، غير أن الله تعالى قد ألهم الإمام ابن ماكولا لذكر طرفًا من هذه المقدمة في مفتتح كتابه «تهذيب مستمر الأوهام» فقال رحمه الله: «فإنَّ أبا بكر أحمد بن علي بن ثابت الخطيب البغدادي رحمه الله وكان أحدَ الأعيان مِمَّنْ شاهدناه معرفةً وإتقانًا وحِفظًا وضَبطًا لحديث رسول الله صلى الله عليه وسلم، وتَفَنُّنًا في عِلله وأسانيده، وخِبرةً برُواتِه ونَاقِليه، وعِلمًا بصحيحه وغريبه وفَرْدِه ومُنْكَره وسَقِيمه ومَطْرُوحِه.
ولم يكن للبَغْدَادِيين بعد أبي الحسن عَلِي بن عُمر الدارقطني مَنْ يَجْري مَجْرَاه، ولا قَام بَعده بهذا الشأن سِواه.
وقد استفدنا كثيرًا من هَذا اليَسِير الذي نُحْسِنُه، وبه وعنه تعلمنا شطرًا من هذا القليل الذي نعرفه بتنبيهه ومنه، فجزاه الله عَنَّا الخيرَ ولَقَّاه الحُسنى
--------------------------------------------
কিতাবটির নামকরণ 'আল-মু'তানিফ' রাখা প্রসঙ্গে:
ইবনে ফারিস বলেন
(১): «আনফ (أنف): হামযা, নুন এবং ফা—এই তিনটি বর্ণ দুটি মূল অর্থ প্রদান করে যেখান থেকে এই অধ্যায়ের সমস্ত শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়। একটি হলো: কোনো বিষয়কে তার শুরু থেকে গ্রহণ করা, আর দ্বিতীয়টি হলো: প্রত্যেক নাক বিশিষ্ট প্রাণীর নাক। এর মূল নীতি হলো সীমানা নির্ধারণ করা। প্রথম মূল অর্থের ক্ষেত্রে খলিল বলেন: আমি অমুক বিষয় 'ইস্তানাফ' করেছি, অর্থাৎ আমি এর শুরুতে ফিরে গিয়েছি, এবং আমি 'ই’তানাফতু' (সূচনা করেছি) 'ই’তিনফান' (সূচনা করা)। কোনো বিষয়ের 'মু’তানাফ' হলো যা দ্বারা শুরু করা হয়। এই পরিভাষা থেকেই তাদের এই উক্তিটি এসেছে: সে 'আনিফান' (এইমাত্র) এমন কাজ করেছে, যেন এটি তার সূচনা মাত্র।»
এ থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, খতিব (রাহিমাহুল্লাহ) যেন 'আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' এর আলোচনা শুরু করতে চেয়েছিলেন এবং এই বিশাল বিষয়বস্তু পূর্ণ করার জন্য আবু আল-হাসান আদ-দারা কুতনি এবং আবু মুহাম্মদ আল-আযদি (রাহিমাহুমাল্লাহ)-এর 'আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ' গ্রন্থদ্বয়কে ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।
পরিতাপের বিষয় হলো যে, পাণ্ডুলিপির বর্ণনায় যেমনটি আসবে, কিতাবটির শুরুর অংশ হারিয়ে গেছে এবং তার সাথে খতিবের সেই ভূমিকাটিও হারিয়ে গেছে যেখানে তিনি তাঁর উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছিলেন। তবে আল্লাহ তাআলা ইমাম ইবনে মাকুলাকে তাঁর 'তহযীবু মুস্তামিররিল আওহাম' কিতাবের শুরুতে এই ভূমিকার কিছু অংশ উল্লেখ করার প্রেরণা দিয়েছেন। তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: «নিশ্চয়ই আবু বকর আহমদ বিন আলী বিন সাবিত আল-খতিব আল-বাগদাদি (রাহিমাহুল্লাহ) ছিলেন সেইসব বরেণ্য ব্যক্তিদের একজন যাঁদেরকে আমরা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর হাদিসের জ্ঞান, নিপুণতা, মুখস্থ ও নির্ভুলতার ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ করেছি। এছাড়া হাদিসের সুক্ষ্ম ত্রুটি ও সনদসমূহ এবং বর্ণনাকারী ও সংকলকদের ব্যাপারে অভিজ্ঞতা এবং এর সহিহ, গরিব, একক (ফারদ), মুনকার, ত্রুটিযুক্ত ও পরিত্যাজ্য বিষয়ক জ্ঞানেও তিনি পারদর্শী ছিলেন।
আবু আল-হাসান আলী বিন উমর আদ-দারা কুতনির পর বাগদাদবাসীদের মধ্যে তাঁর সমকক্ষ আর কেউ ছিল না এবং তাঁর পর এই ময়দানে তিনি ছাড়া আর কেউ যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে দাঁড়াতে পারেননি।
আমরা যা আয়ত্ত করতে পেরেছি, এই সামান্য জ্ঞান থেকেও অনেক উপকৃত হয়েছি। আমরা যা অল্প জানি তার একটি বড় অংশ তাঁর দিকনির্দেশনা ও তাঁর মাধ্যমেই শিখেছি। আল্লাহ আমাদের পক্ষ থেকে তাঁকে উত্তম প্রতিদান দিন এবং তাঁকে শ্রেষ্ঠতম পুরস্কারে ভূষিত করুন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
ولجميع مشايخنا وأئمتنا ولجميع المسلمين.
كان قد عمل بالشام كتابًا سماه «المؤتنف تكملة المؤتلف» ولما عاد إلى بغداد قَرَأ عليَّ شيئًا من أوله، مُغْرِبًا عليَّ به ومُعرِّفًا لي بما ضَمَّنه إياه، ومُعرِّفًا لي قدر ما تَيَسَّر له، وأنه قد استدرك فيه على أئمة هذا العلم أشياء تَمَّ عليهم السهوُ فيها، ونَبَّه على أشياء غَفلوا عنها ولم يحيطوا بها معرفةً، ووجدته كبيرًا فظننتُ أنه قد استوعب ما يُحْتَاج إليه في هذا المعنى ولم يدع بعده لمُتَتَبِّع حُكمًا.
ولما دَعاهُ رَبُّه
(1) فأجاب، قال لي بعض المُتَشَاغِلين والمُعْتَنين بهذا العلم: لقد تَعِب الخَطِيبُ وأَتْعَب وتَعِب بما جَمَعَه، وأَتْعَب مَنْ أراد أن يعرف الحقيقةَ في اسمٍ؛ لأنه يحتاج أن يَطلبَه في كتاب الدارقطني، فإن لم يجده ففي كتابيْ عبد الغَنِي، فإن لم يجده ففي كتاب الخطيب، ثم يحتاج أن يفسر طبقاته أيضًا، فيمضي زمانه ضَياعًا ويَصِير ما أريد مِنْ إرشاده تضليلًا.
فلو أنك جمعتَ شَمْل هذه الكتب وجعلتها كتابًا واحدًا حُزتَ الثَواب ويَسَّرتَ على مبتغي العِلم الطِلَاب، وراجعني في ذلك مُراجعةً تحريت لها وأوجبت له فيها رعايةً لِحقِّه ورغبةً في مساعدته واغتنامًا للأجر في إفادة مسترشدٍ وتَعليم جَاهِل ومعرفة طالبٍ.
وبدأت بالنظر في كتاب الخطيب فوجدته يذكر في أوله: أنه قد جَمَع فيه من مُؤتَلِف أسماءِ الرُواة وأنسابهم ومُخْتَلِفها -ومما تتضمن كتب أصحاب الحديث من ذلك، وإن لم يكن المذكور راويًا مَشُهورًا- ما شَذَّ عن كِتَابَي أبي الحسن علي بن عُمَر، وأبي محمد بن عبد الغني بن سعيد المُصَنفِين في
--------------------------------------------
এবং আমাদের সকল শায়খ ও ইমাম এবং সকল মুসলিমের জন্য।
তিনি শামে (সিরিয়া) একটি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন যার নাম দিয়েছিলেন 'আল-মু'তানিফ তাকমিলাতুল মু'তালিফ'। যখন তিনি বাগদাদে ফিরে আসলেন, তখন তিনি এর শুরুর দিকের কিছু অংশ আমাকে পড়ে শোনালেন। এর মাধ্যমে তিনি আমাকে এর বিষয়ের বিস্ময়কর দিকগুলো সম্পর্কে অবহিত করলেন এবং তিনি এতে কী কী অন্তর্ভুক্ত করেছেন তা আমাকে জানালেন। তিনি এর পেছনে যতটুকু শ্রম দিয়েছেন তার পরিমাণ সম্পর্কেও আমাকে অবগত করলেন। তিনি এই শাস্ত্রের ইমামদের এমন কিছু ভুল-ভ্রান্তি সংশোধন করেছেন যা তাদের থেকে ঘটে গিয়েছিল এবং এমন কিছু বিষয়ে সতর্ক করেছেন যা তারা খেয়াল করেননি কিংবা যে বিষয়ে তাদের পূর্ণ জ্ঞান ছিল না। আমি গ্রন্থটি অনেক বড় দেখতে পেলাম এবং ভাবলাম যে, এই বিষয়ে যা কিছু প্রয়োজন হতে পারে তার সবই এটি পরিবেষ্টন করেছে এবং পরবর্তী কোনো অনুসন্ধানকারীর জন্য এতে নতুন কোনো সিদ্ধান্তের অবকাশ বাকি রাখেনি।
অতঃপর যখন তার রব তাকে আহ্বান করলেন
(১) এবং তিনি তাতে সাড়া দিলেন (অর্থাৎ ইন্তেকাল করলেন), তখন এই শাস্ত্র নিয়ে চর্চাকারী ও যত্নশীল ব্যক্তিদের একজন আমাকে বললেন: খতিব (আল-বাগদাদি) অনেক পরিশ্রম করেছেন এবং অন্যদেরও পরিশ্রমে ফেলেছেন। তিনি যা সংকলন করেছেন তার মাধ্যমে নিজেও ক্লান্ত হয়েছেন এবং যারা কোনো নামের সঠিক রূপ জানতে চায় তাদেরকেও পরিশ্রমে ফেলেছেন। কারণ তাকে (অনুসন্ধানকারীকে) প্রথমে তা দারা কুতনির কিতাবে খুঁজতে হয়, সেখানে না পেলে আব্দুল গণির কিতাবদ্বয়ে খুঁজতে হয়, সেখানেও না পেলে খতিবের কিতাবে খুঁজতে হয়। এরপর তাকে এগুলোর স্তরবিন্যাসও ব্যাখ্যা করতে হয়। ফলে তার অনেকটা সময় বৃথা নষ্ট হয়ে যায় এবং তাকে পথপ্রদর্শনের যে ইচ্ছা আমার ছিল, তা বিভ্রান্তিতে পর্যবসিত হয়।
আপনি যদি এই কিতাবগুলোকে একত্রিত করে একটি কিতাবে রূপান্তর করতেন, তবে আপনি সওয়াব অর্জন করতেন এবং জ্ঞান অন্বেষণকারীদের জন্য তা সহজ করে দিতেন। তিনি এই বিষয়ে বারবার আমার কাছে অনুরোধ জানাতে লাগলেন, যার জন্য আমি সচেষ্ট হলাম এবং তার অধিকার রক্ষার খাতিরে, তাকে সাহায্য করার আগ্রহে এবং কোনো পথপ্রত্যাশীকে উপকৃত করা, অজ্ঞকে শিক্ষা দেওয়া ও জ্ঞানপিপাসুকে জ্ঞান দানের মাধ্যমে সওয়াব অর্জনের উদ্দেশ্যে তা আবশ্যক মনে করলাম।
আমি খতিবের কিতাবটি দেখা শুরু করলাম এবং এর শুরুতে তাকে উল্লেখ করতে দেখলাম যে: তিনি এতে রাবীদের নামের এবং তাদের বংশপরিচয়ের সমলিপি ও ভিন্নোচ্চারণ (মু'তালিফ ও মুখতালিফ) বিষয়ক তথ্যাদি—এবং হাদীস শাস্ত্রবিদদের কিতাবসমূহে যা কিছু এ সংক্রান্ত রয়েছে, যদিও উল্লিখিত ব্যক্তি কোনো প্রসিদ্ধ রাবী না হন—এমন সব বিষয় একত্রিত করেছেন যা আবুল হাসান আলী বিন উমর এবং আবু মুহাম্মদ বিন আব্দুল গণি বিন সাঈদ রচিত গ্রন্থদ্বয় থেকে বাদ পড়ে গিয়েছিল, যারা এই বিষয়ে কিতাব লিখেছেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
المؤتلف والمختلف وفي مشتبه الِنسبة، وأنه يذكر ما رُسِم فيهما أو في أحدهما على الوهم، ودَخل على مُدَوِّنِه فيه الخَطأ والسَهو، ويبين فيه صوابَه ويُورِد شَواهِدَه، ويَذكُر صَحيحَ ما اختلفوا فيه مِمَّا انتهى إليه علمه، ويُقِر ما أشكل عليه من ذلك لينسب كل قول إلى صاحبه، وجعله خمسة فصول:
أورد في الأول منها: ما لم يَذْكُراه ولا وَاحِدٌ منهما.
وفي الثاني: أَوْهَامَ كُتُبِهم.
وفي الثالث: ما أَغفَلاه مِمَّا أَوْرَدَا له نَظَائِر.
وفي الرابع: أشياءَ ذَكَراها وقَصَّرَا في شَرْحِها وإيْضَاحِها، فَبَيَّنها، وأَتَمَّ نُقْصَانَها.
وفي الخامس: ما أَوْرَدَاه مِنْ الأحاديث ناَزِلَةً، ووقَعَت له عَالِيةً
… ».
ثم أخذ ابن ماكولا يتعقب الخطيب فيما أخل به.
والذي يعنينا أن ابن ماكولا قد أبان لنا مقصد الخطيب، ومنهجه في هذا الكتاب، فأما الفصلين الأول والثاني -المشتملين على الرواة الذين لم يذكرهما الدارقطني والأزدي -رحمهما الله-، وكذلك الأوهام التي وقعت لهما- فقد ضاعا جميعًا في رحلة الكتاب الطويلة التي سنذكرها بعد ذلك في مبحث مستقل.
والذي تَبَقَّى من الكتاب يبدأ من أثناء حرف الجيم من الفصل الثالث، والذي كما وصف ابن ماكولا حقًا فهو يذكر فيه تراجم الرواة الذين لم يذكراهم في كتابيهما وقد ذكرا لهم نظائر، لكن منهج الخطيب يختلف عن منهج الشيخين أعني: الدارقطني والأزدي، فإن الخطيب رحمه الله لا يُخلِي ترجمة من ذكر رواية مسندة لصاحبها أو أكثر، وربما ناقش علل بعض الروايات، كما أنه يذكر في ترجمة الشعراء منهم قدرًا مناسبًا من شعره إن
আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ এবং মুশতাবিহ আল-নিসবাহ প্রসঙ্গে, তিনি ওই দুই কিতাবে বা তাদের কোনো একটিতে ভ্রমবশত যা কিছু লিপিবদ্ধ হয়েছিল এবং যাতে সংকলনকারীর ভুল ও অসতর্কতা প্রকাশ পেয়েছিল, তা উল্লেখ করেছেন। তিনি সেগুলোর সঠিক রূপ বর্ণনা করেছেন এবং এর সপক্ষে প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন। যে বিষয়গুলোতে মতভেদ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে তাঁর জ্ঞান অনুযায়ী যা সঠিক তা তিনি উল্লেখ করেছেন। যে বিষয়গুলো তাঁর কাছে অস্পষ্ট ছিল, তিনি তা বহাল রেখেছেন যাতে প্রতিটি উক্তি তার প্রবক্তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত থাকে। তিনি একে পাঁচটি পরিচ্ছেদে বিভক্ত করেছেন:
প্রথম পরিচ্ছেদে তিনি এমন সব বিষয় এনেছেন: যা তারা দুজন অথবা তাদের কেউ একজনও উল্লেখ করেননি।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে: তাদের কিতাবসমূহের ভুলভ্রান্তিগুলো।
তৃতীয় পরিচ্ছেদে: তারা যে বিষয়গুলো উপেক্ষা করেছেন অথচ সেগুলোর অনুরূপ উদাহরণ তারা (অন্যত্র) উল্লেখ করেছেন।
চতুর্থ পরিচ্ছেদে: এমন কিছু বিষয় যা তারা উল্লেখ করেছেন কিন্তু তার ব্যাখ্যা ও বর্ণনায় অসম্পূর্ণতা রেখেছেন; ফলে তিনি তা ব্যাখ্যা করেছেন এবং তার অপূর্ণতা পূর্ণ করেছেন।
পঞ্চম পরিচ্ছেদে: তারা যেসব হাদিস নিম্নমানের সনদে বর্ণনা করেছেন, যা তিনি উচ্চমানের সনদে পেয়েছেন
…।
এরপর ইবনে মাকুলা আল-খতিবের ত্রুটিগুলো চিহ্নিত করতে শুরু করেন।
আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইবনে মাকুলা আমাদের কাছে আল-খতিবের এই কিতাবের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি স্পষ্ট করেছেন। তবে প্রথম ও দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ—যাতে এমন সব বর্ণনাকারীর বিবরণ ছিল যাদেরকে দারা কুতনি ও আযদি (আল্লাহ তাঁদের প্রতি রহম করুন) উল্লেখ করেননি এবং তাঁদের সংঘটিত ভুলসমূহ বর্ণিত ছিল—তা কিতাবটির দীর্ঘ পথপরিক্রমায় হারিয়ে গেছে, যা আমরা পরবর্তীতে একটি স্বতন্ত্র আলোচনায় উল্লেখ করব।
কিতাবটির যা অবশিষ্ট আছে তা তৃতীয় পরিচ্ছেদের 'জিম' বর্ণের আলোচনা থেকে শুরু হয়েছে। ইবনে মাকুলা যেমনটি যথার্থই বলেছেন, এতে তিনি ওইসব বর্ণনাকারীর জীবনী উল্লেখ করেছেন যাদের কথা তারা তাঁদের কিতাবদ্বয়ে উল্লেখ করেননি অথচ তাদের সমগোত্রীয়দের উল্লেখ করেছেন। তবে আল-খতিবের পদ্ধতি উক্ত দুই শায়খের (অর্থাৎ দারা কুতনি ও আযদি) পদ্ধতি থেকে ভিন্ন। কারণ আল-খতিব (রহিমাহুল্লাহ) কোনো বর্ণনাকারীর জীবনী বর্ণনার ক্ষেত্রে অন্তত একটি বা তার বেশি সনদযুক্ত বর্ণনা উল্লেখ না করে ছাড়েন না। কখনো কখনো তিনি কিছু বর্ণনার ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়েও আলোচনা করেন। তেমনিভাবে বর্ণনাকারীদের মধ্যে যারা কবি ছিলেন, তাদের জীবনীতে তিনি তাদের কবিতার একটি উপযুক্ত অংশও উল্লেখ করেন যদি...
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
وُجِد، وذلك الذي لم يلتزم به الشيخان في كتابيهما.
هذا والخطيب له عناية فائقة بضبط الأشعار التي أوردها في كتاب المؤتنف، وأكثرها من كتاب (المؤتلف والمختلف في أسماء الشعراء) لأبي القاسم الآمدي، وكذلك بضبط الغريب الذي ورد في بعض النصوص الأدبية، والتي لا يكاد يخطئ القارئ أبدًا أن الخطيب كان مولعًا بالأدب، وشعره هو نفسه خير من ينبئك عن ذلك، وسيأتي بعضه في أثناء ترجمته.
كما أنه لم يقتصر في الفصل الثالث على ذكر من أغفلا ذكره وله عندهما نظائر وحسب، بل ربما ذكر بابًا لم يذكراه أصلا. بقوله بعد أن ينتهي من ذكر ما أغفلاه في الباب: ويلحق بهذا الباب
…وهذا الفصل، أعني الثالث هو الذي استغرق أكثر من ثلثي الكتاب المتبقي.
ثم يأتي الفصل الرابع من الكتاب والذي افتتحه الخطيب رحمه الله بقوله: «ذِكرُ الفَصْل الرَابع مِنْ الكِتَاب، ويَشْتَمِلُ عَلى أَشياءَ غَامِضَةٍ قَصَّرَ الشَّيْخَان في بيانها، فَشَرَحْنَاها وَأوْضَحناهَا، وأَشْياءَ كَانَا بَيَّنَاهَا، وعَرفْنا فِيها زِيادَةً يَسْتَفِيدُها طَلَبةُ العِلم فَذَكَرْنَاها».
ثم الفصل الخامس من الكتاب والذي عنونه بقوله: «ذِكْرُ الفَصْل الخَامِس مِنْ الكتاب، وهو المُشْتَمِل على الأَحَادِيثِ التي رَواها الشَّيخَان، أو أَحَدُهُما نَازِلَةً، وَوَقَعَتْ إِلَيْنَا عَالِيَةً، والأَحَادِيثِ التي لم يَذْكُرَاها، ويَسْتَفِيدُهَا الطَّلَبَة، لِعُلُوِّها أو ضِيْقِ طُرُقِهَا».
وبالفصلين الأخيرين تظهر موهبة الخطيب الإسنادية، ومعرفته بالعلل ومراتب نقد الروايات، والضبط العالي لألفاظ متون الحديث وذلك مع ضبط رواته.
পাওয়া গেছে, এবং এটি এমন বিষয় যা শায়খদ্বয় তাঁদের গ্রন্থদ্বয়ে মেনে চলেননি।
আল-খতিবের 'আল-মুতানিফ' গ্রন্থে উদ্ধৃত কবিতাগুলোর নির্ভুল উচ্চারণের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীলতা ছিল। এগুলোর অধিকাংশই আবু আল-কাসিম আল-আমিদির 'আল-মু'তালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফি আসমায়িশ শু'আরা' গ্রন্থ থেকে নেওয়া। একইভাবে কিছু সাহিত্যিক পাঠ্যে আসা দুর্লভ শব্দের নির্ভুল বর্ণনার প্রতিও তাঁর গভীর মনোযোগ ছিল। কোনো পাঠকই এটি বুঝতে ভুল করবেন না যে খতিব সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন এবং তাঁর নিজের কবিতাই আপনাকে সে সম্পর্কে জানানোর জন্য যথেষ্ট, যার কিছু অংশ তাঁর জীবনী আলোচনার সময় আসবে।
তেমনিভাবে তিনি তৃতীয় পরিচ্ছেদে কেবল তাঁদের বাদ পড়া বর্ণনাকারীদের উল্লেখ করেই ক্ষান্ত হননি যাদের সমপর্যায়ের বর্ণনাকারী তাঁদের কাছে ছিল, বরং কখনও কখনও তিনি এমন অধ্যায়ও উল্লেখ করেছেন যা তাঁরা আদৌ উল্লেখ করেননি। কোনো অধ্যায়ে তাঁদের বাদ পড়া বিষয়গুলো উল্লেখ শেষ করে তিনি বলেন: এই অধ্যায়ের সাথে যুক্ত হবে
…আর এই পরিচ্ছেদটি, অর্থাৎ তৃতীয় পরিচ্ছেদটিই অবশিষ্ট বইয়ের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি জুড়ে রয়েছে।
এরপর বইয়ের চতুর্থ পরিচ্ছেদ আসে যা খতিব (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর এই উক্তি দিয়ে শুরু করেছেন: «বইয়ের চতুর্থ পরিচ্ছেদের আলোচনা; এটি এমন কিছু অস্পষ্ট বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে যা ব্যাখ্যা করতে শায়খদ্বয় অপর্যাপ্ত ছিলেন, তাই আমরা সেগুলো ব্যাখ্যা ও স্পষ্ট করেছি। আবার এমন কিছু বিষয়ও আছে যা তাঁরা বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমরা তাতে অতিরিক্ত কিছু তথ্য পেয়েছি যা ইলম অন্বেষণকারীরা উপকৃত হবেন, তাই আমরা তা উল্লেখ করেছি»।
এরপর বইয়ের পঞ্চম পরিচ্ছেদ, যার শিরোনাম তিনি দিয়েছেন এভাবে: «বইয়ের পঞ্চম পরিচ্ছেদের আলোচনা; এটি সেইসব হাদিসকে অন্তর্ভুক্ত করে যা শায়খদ্বয় বা তাঁদের একজন নিম্নমানের সনদে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আমরা তা উচ্চমানের সনদে পেয়েছি। এছাড়া এমন সব হাদিসও রয়েছে যা তাঁরা উল্লেখ করেননি এবং উচ্চমানের সনদ বা সূত্রের সীমাবদ্ধতার কারণে শিক্ষার্থীরা তা থেকে উপকৃত হবেন»।
আর শেষ দুটি পরিচ্ছেদের মাধ্যমে আল-খতিবের সনদ সংক্রান্ত প্রতিভা, হাদিসের ত্রুটি এবং বর্ণনা পর্যালোচনার স্তরসমূহ সম্পর্কে তাঁর জ্ঞান, এবং বর্ণনাকারীদের নির্ভুলতার পাশাপাশি হাদিসের মূল পাঠের শব্দের অত্যন্ত উচ্চমানের সূক্ষ্মতা ফুটে ওঠে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
وإني حقًا أستشعر في هذا الكتاب نضج الملكة العلمية عند الخطيب، والذي جعلني أرجح أنه من آخر الكتب التي صنفها رحمه الله، والله تعالى أعلى وأعلم.
وترجع أهمية كتاب المؤتنف إلى عدة أمور، منها:
- أنه حفظ لنا نصوصًا كثيرة من مصنفات عدة، إما فُقِدَت أو جاءت محرفة مصحفة، ككتاب المؤتلف والمختلف في أسماء الشعراء للآمدي، وكتاب جمهرة نسب قريش للزبير بن بكار، وكتاب المعرفة والتاريخ للفسوي، وكتاب الزهد لابن أبي حاتم، وعدة من كتب ابن أبي الدنيا، وكتاب الفوائد لتمام الرَّازِي، ومعاجم الطَّبَراني الثلاثة ومسند الشاميين له، وكتب شيخه أبي نعيم الأصبهاني، وغير ذلك مما أشرنا إليه في موضعه. والمفقود منها كتاريخ بخارى لغنجار، وبعض كتب الخطيب التي لم تصلنا.
- ضبط كثير من النصوص التي تميز الخطيب بعنايته بهذا الشأن سواء ظبطه للأعلام أو لألفاظ المتون.
- يعد كتاب الخطيب (المؤتنف) هو الأصل الذي اعتمد عليه ابن ماكولا في تصنيفه لكتاب الإكمال، بل لا أبالغ إن قلت: إنه صورة مختصرة من المؤتنف محذوفة الأسانيد.
- حفظ لنا كثيرًا من الأسانيد التي لا توجد في مكان آخر إلا عنده، فهو الإمام الرحالة المكثر.
- كون النسخة بخط مصنفها الإمام الخطيب، هذا وحده يجعل للكتاب أهمية فائقة، في الاطمئنان إلى ما جاء فيه.
আমি সত্যিই এই কিতাবটিতে আল-খতিবের জ্ঞানতাত্ত্বিক যোগ্যতার পরিপক্কতা অনুভব করি, যা আমাকে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হতে উৎসাহিত করে যে, এটি সম্ভবত তাঁর সংকলিত সর্বশেষ কিতাবগুলোর অন্তর্ভুক্ত, রাহিমাহুল্লাহ। আর আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
‘আল-মু’তানিফ’ কিতাবটির গুরুত্ব বেশ কিছু বিষয়ের ওপর নিহিত, যার মধ্যে রয়েছে:
- এটি আমাদের জন্য বিভিন্ন গ্রন্থের এমন অনেক উদ্ধৃতি সংরক্ষণ করেছে, যা হয় হারিয়ে গেছে অথবা বিকৃত ও ভুল পাঠে পৌঁছেছে; যেমন: আল-আমিদির ‘আল-মু’তালিফ ওয়াল মুখতালিফ ফি আসমাইশ শুয়ারা’, যুবায়ের ইবনে বাক্কারের ‘জামহারাতু নাসাবি কুরাইশ’, আল-ফাসাওয়ির ‘আল-মা’রিফাত ওয়াত তারিখ’, ইবনে আবি হাতিমের ‘কিতাবুয যুহদ’, ইবনে আবিদ দুনিয়ার বেশ কিছু কিতাব, তাম্মাম আর-রাজির ‘কিতাবুল ফাওয়াইদ’, তাবারানির তিনটি মু’জাম ও তাঁর ‘মুসনাদুশ শামিয়্যিন’, তাঁর উস্তাদ আবু নুআইম আল-আসফাহানির কিতাবসমূহ এবং অন্যান্য যা আমরা যথাস্থানে উল্লেখ করেছি। আর হারিয়ে যাওয়া কিতাবগুলোর মধ্যে রয়েছে গুঞ্জারের ‘তারিখে বুখারা’ এবং খতিবের কিছু কিতাব যা আমাদের কাছে পৌঁছায়নি।
- অসংখ্য পাঠের (নস) নির্ভুল রূপ নির্ধারণ করা, যে বিষয়ে আল-খতিব তাঁর বিশেষ যত্নের জন্য সুপরিচিত—চাই তা ব্যক্তিনামের ক্ষেত্রে হোক বা মূল পাঠের শব্দাবলির ক্ষেত্রে।
- আল-খতিবের ‘আল-মু’তানিফ’ কিতাবটিই হলো সেই মূল ভিত্তি, যার ওপর ইবনে মাকুলা তাঁর ‘আল-ইকমাল’ কিতাবটি সংকলনে নির্ভর করেছেন। বরং আমি যদি বলি যে, এটি (আল-ইকমাল) হলো সনদ বর্জিত ‘আল-মু’তানিফ’-এর একটি সংক্ষিপ্ত রূপ, তবে তাতে কোনো অতিরঞ্জন হবে না।
- এটি আমাদের জন্য এমন অনেক সনদ সংরক্ষণ করেছে যা তিনি ছাড়া অন্য কোথাও পাওয়া যায় না; কেননা তিনি ছিলেন একাধারে ইমাম, দেশভ্রমণকারী পর্যটক এবং অধিক হাদিস সংগ্রহকারী।
- পাণ্ডুলিপিটি স্বয়ং গ্রন্থকার ইমাম আল-খতিবের হস্তাক্ষরে হওয়া—এই একটি কারণই কিতাবটির বিষয়বস্তুর নির্ভরযোগ্যতার ক্ষেত্রে একে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
المبحث الرابع: قصة كتاب المؤتنف ورحلته:ولهذا الكتاب قصة لا يسعني إغفالها والحديث عنها، فهي قصة ذو شجون، تشبه قصة صاحب الكتاب، بل تشبه قصة أمتنا التي أضحت غريبة أسيرة.
فالخطيب البغدادي رحمه الله خرج إلى دمشق بعد فتنة البَسَاسِيري كما سيأتي مُفَصَّلًا في ترجمته سنة أربعمائة وإحدى وخمسين، وأقام بدمشق مدة إلى أن اضْطُر للخروج منها أيضًا إلى صُور سَنة أربعمائة وتسع وخمسين، وأقام بصور إلى سنة أربعمائة واثنتين وستين، ثم حداه الشوق للرجوع إلى بلده بغداد وكأنه شعر بدنو أجله.
وكتاب المؤتنف -كما سيأتي في وصف نسخته الفريدة- أشبه بالمُسَوَّدة التي لم تُبَيَّض، والسماع الأول للكتاب والمدون على أواخر الأجزاء لم يكن إلا لرفيقه إلى بغداد في رحلة العودة الشيخ أبي منصور عبد المحسن بن محمد بن علي الشِيحِي
(1)، وأبي محمد جعفر بن أحمد بن الحسين السراج
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: মুতানিফ গ্রন্থের কাহিনী ও এর সফর:এই গ্রন্থের একটি কাহিনী রয়েছে যা এড়িয়ে যাওয়া বা আলোচনা না করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এটি এক বেদনাদায়ক কাহিনী, যা গ্রন্থের রচয়িতার কাহিনীর মতো, বরং আমাদের উম্মাহর কাহিনীর মতো যা বর্তমানে এক পরবাসী বন্দীতে পরিণত হয়েছে।
আল-খাতীব আল-বাগদাদী (রাহিমাহুল্লাহ) বাসাসীরির ফিতনার পর দামেস্কে গমন করেন, যা তাঁর জীবনীতে চারশত একান্ন হিজরীতে বিস্তারিতভাবে আসবে। তিনি এক সময় পর্যন্ত দামেস্কে অবস্থান করেন যতক্ষণ না চারশত উনষাট হিজরীতে সেখান থেকেও সূর অভিমুখে বের হতে বাধ্য হন। চারশত বাষট্টি হিজরী পর্যন্ত তিনি সূরে অবস্থান করেন, এরপর নিজ শহর বাগদাদে ফেরার ব্যাকুলতা তাঁকে তাড়িত করে, যেন তিনি নিজের মৃত্যুর নিকটবর্তী হওয়ার আভাস পেয়েছিলেন।
মুতানিফ গ্রন্থটি—যেমনটি এর অনন্য পাণ্ডুলিপির বর্ণনায় আসবে—একটি খসড়ার মতো ছিল যা চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপিতে রূপান্তর করা হয়নি। গ্রন্থের শেষাংশগুলোতে লিপিবদ্ধ গ্রন্থের প্রথম শ্রবণ কেবল বাগদাদ অভিমুখে ফেরার সফরে তাঁর সফরসঙ্গী শায়খ আবু মনসুর আব্দুল মুহসিন বিন মুহাম্মদ বিন আলী আশ-শীহী
(১) এবং আবু মুহাম্মদ জাফর বিন আহমদ বিন আল-হুসাইন আস-সাররাজ-এর জন্য ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
القارئ
(1) البغداديان. وكاتب السماع هو الشيخ أبو منصور نفسه، وكان ذلك في سنة اثنتين وستين وأربعمائة بثغر صور.
ثم لما عاد إلى بغداد قرئ عليه الكتاب مرة أخرى في السنة التي مات فيها، بسماع أبي منصور وغيره الكثير مما سنورده عند ذكر السماعات.
فأرجح والله أعلم أن الخطيب رحمه الله قد صنف «المؤتنف» في غربته الثانية بصور.
وما إن عاد إلى بغداد حتى وافته المنية بعد عام واحد من قدومه إليها، وكان أوصى بكتبه إلى الإمام، العالم، الحافظ، المسند، الحجة، أبو الفضل أحمد بن الحسن بن أحمد بن خيرون البغدادي، المقرئ المتوفى سنة 488 هـ رحمه الله
(2). فكان يعيرها للطلبة للإفادة منها، فلما مات صارت إلى ابنه الفضل، واحترق بعضها في داره، ولعل القدر الناقص من أول كتاب المؤتنف -والذي سأذكر قدره تقريبًا عند الكلام عن وصف النسخة- قد احترق في هذه
--------------------------------------------
ক্বারী
(১) বাগদাদীদ্বয়। শ্রবণের লেখক হলেন স্বয়ং শায়খ আবু মনসুর, আর তা ছিল ৪৬২ হিজরী সনে সূর নামক সীমান্ত শহরে।
অতঃপর যখন তিনি বাগদাদে ফিরে আসলেন, তখন তিনি যে বছর ইন্তেকাল করেন সেই বছরে তাঁর কাছে পুনরায় কিতাবটি পাঠ করা হয়; আবু মনসুর এবং আরও অনেকের শ্রবণের মাধ্যমে, যা আমরা শ্রবণের বিবরণ উল্লেখ করার সময় বিস্তারিত তুলে ধরব।
তাই আমি অধিকতর সঠিক মনে করি—আর আল্লাহই ভালো জানেন—যে খতিব (রহিমাহুল্লাহ) তাঁর দ্বিতীয় প্রবাস জীবনের সময় সূর শহরে ‘আল-মু’তানিফ’ গ্রন্থটি রচনা করেছেন।
বাগদাদে ফিরে আসার মাত্র এক বছর পরই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি তাঁর কিতাবসমূহ ইমাম, আলিম, হাফেজ, মুসনিদ, হুজ্জাহ, আবুল ফজল আহমদ ইবনুল হাসান ইবনে আহমদ ইবনে খাইরুন আল-বাগদাদী আল-মুকরির (যিনি ৪৮৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেছেন, আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন) অনুকূলে অসিয়ত করে গিয়েছিলেন
(২)। তিনি এগুলো ছাত্রদের উপকারের জন্য ধার দিতেন। যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন সেগুলো তাঁর পুত্র ফজলের নিকট চলে যায় এবং তাঁর ঘরে এর কিছু অংশ পুড়ে যায়। সম্ভবত ‘আল-মু’তানিফ’ কিতাবের শুরু থেকে যে অংশটুকু হারিয়ে গেছে—যার পরিমাণ আমি পাণ্ডুলিপির বর্ণনার সময় আনুমানিকভাবে উল্লেখ করব—তা এখানেই পুড়ে গিয়েছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٣١)
الحادثة
(1).
ويلاحظ من السماعات المدونة على الكتاب أن الكتاب كان يتداول بين طلبة العلم آنذاك، فأكثر السماعات الموجودة كان على الإمام عبد الوهّاب بن المبارك بن أحمد بن الحَسَن بن بُنْدار، الحافظ، أبو البركات الأنْماطيّ المتوفى سنة 538 هـ. وكذلك الورقة الأخيرة من الكتاب هي بخط الأنماطي ذكر هو ذلك كما سيأتي في وصف النسخة، فالكتاب إذن إلى هذه السنة كان في بغداد، فالأنماطي شيخ بغداد ومفيدها
(2).
ولا يزال الكتاب ببغداد، فيظهر لنا كذلك في السماعات أن الكتاب قرئ على أبي المعالي الفضل ابن سهل بن بِشر بن أحمد الإسفراييني المعروف بالأثير الحلبي المتوفى سنة 548 هـ ببغداد.
وتشير وريقة من الوريقات -التي ملأ بها الخطيب كتابه، واستفاد عالم من العلماء فراغًا فيها فكتب استدراكًا على الخطيب
(3) - أن النسخة إلى سنة 575 هـ كانت لا تزال في بغداد، وهي السنة التي توفي فيها ذلك العالم وهو: عمر بن علي بن الخضر بن عبد الله بن علي أبو المحاسن القرشي الدِّمَشقِي الحافظ، فإن الذهبي ذكر في المختصر المحتاج إليه من تاريخ ابن الدبيثي (15/ 283) أنه قال عن عمر بن علي هذا: «عالم ثقة عني بطلب الحديث وسماعه وكتابته وسمع بدمشق وحلب وحران والموصل
… وقدم بغداد فِي جمادى الأولى سنة ثلاث وخمسين وخمسمائة فاستوطنها
… ».
--------------------------------------------
ঘটনাটি
(১)।
গ্রন্থের ওপর লিপিবদ্ধ শ্রবণলিপি (সামা'ত) থেকে লক্ষ্য করা যায় যে, তৎকালীন জ্ঞানান্বেষী ছাত্রদের মাঝে গ্রন্থটি প্রচলিত ছিল। বেশিরভাগ বিদ্যমান শ্রবণলিপিগুলো হাফিয আবু আল-বারাকাত আল-আনমাতি, ইমাম আব্দুল ওয়াহহাব বিন আল-মুবারক বিন আহমাদ বিন আল-হাসান বিন বুন্দার (মৃত্যু ৫৩৮ হিজরি)-এর নিকট পাঠের ওপর ভিত্তি করে ছিল। তেমনিভাবে গ্রন্থের শেষ পাতাটি আল-আনমাতির হস্তাক্ষরে লিখিত, যা তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন এবং নুসখার বর্ণনায় সামনে তা আসবে। সুতরাং গ্রন্থটি এই বছর পর্যন্ত বাগদাদেই ছিল, কেননা আল-আনমাতি ছিলেন বাগদাদের শায়খ এবং সেখানকার আলেমদের পথপ্রদর্শক
(২)।
গ্রন্থটি তখনও বাগদাদেই অবস্থান করছিল। শ্রবণলিপি থেকে আমাদের কাছে আরও স্পষ্ট হয় যে, গ্রন্থটি বাগদাদে আবু আল-মাআলি আল-ফদল ইবনে সাহল ইবনে বিশর ইবনে আহমাদ আল-ইসফারায়িনি (যিনি আল-আসির আল-হালাবি নামে পরিচিত, মৃত্যু ৫৪৮ হিজরি)-এর নিকট পাঠ করা হয়েছিল।
একটি চিরকুট নির্দেশ করে—যা দ্বারা খতিব তার কিতাব পূর্ণ করেছেন এবং একজন আলেম এর শূন্যস্থানে খতিবের ওপর একটি সংশোধনী লিখে উপকৃত হয়েছেন
(৩)—যে ৫৭৫ হিজরি পর্যন্ত এই নুসখাটি বাগদাদেই ছিল। এটি সেই বছর যখন উক্ত আলেম মৃত্যুবরণ করেন, আর তিনি হলেন: হাফিয উমর বিন আলি বিন আল-খিদর বিন আব্দুল্লাহ বিন আলি আবু আল-মাহাসিন আল-কুরাশি আদ-দিমাশকি। কেননা আয-যাহাবি ‘আল-মুখতাসার আল-মুহতাজ ইলাইহি মিন তারিখ ইবনু আদ-দুবাইসি’ (১৫/২৮৩) গ্রন্থে উমর বিন আলি সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি একজন নির্ভরযোগ্য আলেম ছিলেন, হাদিস অন্বেষণ, শ্রবণ ও লিখনের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তিনি দামেস্ক, আলেপ্পো, হাররান ও মোসেলে হাদিস শ্রবণ করেছেন... এবং তিনি ৫৫৩ হিজরি সালের জমাদিউল আউয়াল মাসে বাগদাদে আগমন করেন এবং সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন...»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٣٢)
وينقضي ثلاثة قرون لا نعلم عن الكتاب شيئًا، ولا إلى أين حط به رحله، فإذا بالحافظ أبي شهاب أحمد بن علي العسقلاني المصري المعروف بابن حجر المتوفى سنة 852 هـ يقول في كتابه «لسان الميزان» (6/ 312) في ترجمة غياث بن كلوب
(1): «وأبوه بالكاف ورأيته بخط الحسيني بالحاء المهملة والصواب بالكاف كذا قرأته بخط الخطيب في المؤتلف وكناه أبا المثنى، فالله أعلم».
وقال في (7/ 39): «ووجدت بخط الحافظ أبي بكر الخطيب في كتاب المؤتلف له: أخبرنا أبو الحسن محمد بن عمر بن عيسى البلدي
… »
(2).
وقال في كتاب «الإصابة في تمييز الصحابة» (2/ 173) في ترجمة جحدم الحُمسي: «بضم المهملة، وسكون الميم بعدها مهملة، كذا قرأته بخط الخطيب في المؤتلف»
(3).
وقال في (4/ 486): «سنبر بوزن جعفر بنون وموحدة الإراشي بكسر الهمزة وتخفيف الراء وبالمعجمة رأيته بخط الخطيب مضبوطا
… وذكره الخطيب في المؤتلف لكنه قال الأبواشي قرأت ذلك بخطه»
(4)وقال في (10/ 222) في ترجمة معاوية بن حزن: «كذا بخطه -يعني الخطيب- معاوية بن حزن مجودة وعمل على حزن ضبة»
(5).
وأكتفي بذكر هذه المواضع من كتب ابن حجر رحمه الله وهناك مواضع أخرى لكن قد تمت الفائدة بذلك، فالكتاب إذن قد استقر بمصر إلى القرن التاسع كاملا.
--------------------------------------------
এবং তিনটি শতাব্দী অতিবাহিত হয়ে যায় যে সময় বইটির ব্যাপারে আমরা কিছুই জানতে পারি না, আর না জানি এটি কোথায় গিয়ে থেমেছিল। অতঃপর দেখা যায় যে হাফেজ আবু শিহাব আহমাদ বিন আলী আল-আসকালানি আল-মিসরি, যিনি ইবনে হাজার নামে পরিচিত (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি), তাঁর ‘লিসানুল মিজান’ (৬/৩১২) গ্রন্থে গিয়াস বিন কালুব
(১)-এর জীবনীতে বলছেন: “আর তাঁর পিতার নাম ‘কাফ’ অক্ষর দিয়ে, আমি তা হুসাইনির হাতে লেখা পাণ্ডুলিপিতে ‘হা’ (নিবিন্দু ‘হা’) দিয়ে দেখেছি। কিন্তু সঠিক হলো ‘কাফ’ দিয়ে, এভাবেই আমি খতিব-এর নিজ হাতে লেখা ‘আল-মু’তালিফ’ গ্রন্থে পড়েছি এবং তিনি তাঁর কুনিয়াত উল্লেখ করেছেন আবু আল-মুসান্না। আল্লাহ-ই ভালো জানেন।”
এবং তিনি (৭/৩৯) পৃষ্ঠায় বলেছেন: “আর আমি হাফেজ আবু বকর আল-খতিবের স্বহস্তে লেখা তাঁর ‘আল-মু’তালিফ’ কিতাবে পেয়েছি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান মুহাম্মাদ বিন উমর বিন ঈসা আল-বালাদি
… ”
(২)।
এবং তিনি ‘আল-ইসাবাহ ফি তামিযিস সাহাবাহ’ (২/১৭৩) গ্রন্থে জাহদাম আল-হুমসি-এর জীবনীতে বলেছেন: “পেশ যুক্ত নিবিন্দু হরফ দিয়ে এবং মীম-এর সুকুন ও এরপর নিবিন্দু হরফ দিয়ে। এভাবেই আমি খতিবের স্বহস্তে লেখা ‘আল-মু’তালিফ’ গ্রন্থে পড়েছি”
(৩)।
এবং তিনি (৪/৪৮৬) পৃষ্ঠায় বলেছেন: “সানবার, জা'ফার-এর ওজনে, নুন এবং এক নুকতাওয়ালা বা (মুওয়াহহাদাহ) দিয়ে; আল-ইরাশি, হামজার কাসরা এবং র-এর তাখফিফ ও বিন্দুযুক্ত হরফ (মু'জামাহ) দিয়ে। আমি খতিবের স্বহস্তে লেখা পাণ্ডুলিপিতে এভাবেই হরকতসহ দেখেছি
… এবং খতিব একে ‘আল-মু’তালিফ’-এ উল্লেখ করেছেন, কিন্তু তিনি বলেছেন ‘আল-আবুওয়াশি’। আমি তা তাঁর স্বহস্তে লেখা থেকেই পড়েছি”
(৪)এবং তিনি (১০/২২২) পৃষ্ঠায় মুয়াবিয়া বিন হাযন-এর জীবনীতে বলেছেন: “এভাবেই তাঁর (অর্থাৎ খতিব-এর) স্বহস্তে লেখায় রয়েছে—মুয়াবিয়া বিন হাযন সুস্পষ্টভাবে, এবং তিনি ‘হাযন’ শব্দের উপর সংশয়সূচক চিহ্ন (দব্বাহ) প্রদান করেছেন”
(৫)।
ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ)-এর কিতাবসমূহ থেকে এই স্থানগুলো উল্লেখ করার মাধ্যমেই আমি ক্ষান্ত হচ্ছি। যদিও আরও অনেক জায়গা রয়েছে, তবে এর মাধ্যমেই উদ্দেশ্য হাসিল হয়েছে। সুতরাং বইটি নবম শতাব্দী পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে মিসরে সংরক্ষিত ছিল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আল-মুতানিফ তাকমিলাতুল মুতালিফ ওয়াল মুখতালিফ
(পৃষ্ঠা: ٣٣)
ولا نعلم بعد ذلك مصير الكتاب إلى أن وقع أسيرًا في يد أعداء هذه الأمة من أجهزة الاستشراق، والكلام عن ذلك طويل الذيل واللصوص كُثُر، والذي يعنينا هنا هو لص واحد والذي حُفِظ كتاب الخطيب -بعد أن ضاع نصفه الأول تقريبًا- تحت اسمه.
ألويس اشبرنجر.يقول الدكتور عبد الرحمن بدوي عنه في «موسوعة المستشرقين» (ص 28): «مستشرق نمساوي الأصل، ثم تجنس بالجنسية الإنجليزية، واشتهر بكتابه عن حياة النبي محمد صلى الله عليه وسلم.
ولد ألويس اشبرنجر، ابن كرستوفر اشبرنجر، في قرية ناسريت في منطقة التيرول جنوبي النمسا، في يوم 3 سبتمبر سنة 1813 م.
وتلقى دراسته الثانوية في مدرسة في انسبروك، وانتقل منها إلى جامعة فيينّا في سنة 1832 م، ودَرَس الطب واللغات الشرقية، وكان أساتذته في اللغات الشرقية هم همّر يورجشتل، وروزنتسفايج.
وفي سنة 1836 م سافر إلى باريس، ومن هناك سافر في نفس السنة إلى لندن حيث اشترك في المشروع الذي اقترحه إيرل أوف مونستر عن علم الحرب عند المسلمين.
وفي سنة 1838 م حصل على الجنسية البريطانية
(1). وفي 12 يونيو سنة
--------------------------------------------
এর পরে বইটির পরিণতি সম্পর্কে আমরা আর কিছু জানি না, যতক্ষণ না এটি এই উম্মতের শত্রুদের প্রাচ্যতত্ত্ব সংস্থাগুলোর হাতে বন্দি হিসেবে পতিত হয়েছে। এ বিষয়ে কথা দীর্ঘ এবং চোর অনেক, তবে আমাদের কাছে এখানে সেই একজন চোরই গুরুত্বপূর্ণ যার নামের অধীনে খতিবের বইটি সংরক্ষিত হয়েছে—তার প্রায় প্রথম অর্ধেক অংশ হারিয়ে যাওয়ার পর।
অ্যালোইস স্প্রেঞ্জার।ড. আব্দুর রহমান বাদাওয়ী ‘মাওসুআতুল মুসতাশরিকীন’ (প্রাচ্যতত্ত্ববিদদের বিশ্বকোষ) গ্রন্থে (পৃ. ২৮) তাঁর সম্পর্কে বলেন: “মূলত অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত একজন প্রাচ্যতত্ত্ববিদ, পরবর্তীতে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবনী বিষয়ক তাঁর গ্রন্থের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
অ্যালোইস স্প্রেঞ্জার, ক্রিস্টোফার স্প্রেঞ্জারের পুত্র, দক্ষিণ অস্ট্রিয়ার টাইরল অঞ্চলের নাসেরিথ গ্রামে ১৮১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন।
তিনি ইন্সব্রুকের একটি স্কুলে মাধ্যমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৮৩২ সালে সেখান থেকে ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে যান। সেখানে তিনি চিকিৎসাবিদ্যা ও প্রাচ্য ভাষা নিয়ে পড়াশোনা করেন। প্রাচ্য ভাষায় তাঁর শিক্ষকরা ছিলেন হ্যামার-পুরগস্টাল এবং রোজেনজওয়েইগ।
১৮৩৬ সালে তিনি প্যারিসে যান এবং সেখান থেকে একই বছর লন্ডনে পাড়ি জমান, যেখানে তিনি ‘আর্ল অফ মানস্টার’ কর্তৃক প্রস্তাবিত মুসলিমদের সমরবিদ্যা বিষয়ক প্রকল্পে অংশগ্রহণ করেন।
১৮৩৮ সালে তিনি ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন
(১)। এবং ১২ জুন...
--------------------------------------------