(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: -)
إرشاد أولى البصائر والألباب لنيل الفقة بأقرب الطرق وأيسر الأسباب   (عبد الرحمن السعدي)

القسم: الفقه العام


الكتاب: إرشاد أولى البصائر والألباب لنيل الفقة بأقرب الطرق وأيسر الأسباب

المؤلف: أبو عبد الله، عبد الرحمن بن ناصر بن عبد الله بن ناصر بن حمد آل سعدي (ت 1376هـ)

اعتنى به ونسقه وعلق عليه: أبو محمد أشرف بن عبد المقصود

الناشر: أضواء السلف، الرياض

الطبعة: الأولى، 1420 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 161

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আয়সারিল আসবাব (বিচক্ষণ ও জ্ঞানীদের জন্য সহজতম উপায়ে ফিকহ অর্জনের দিকনির্দেশনা)   (আবদুর রহমান আস-সাদী)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আয়সারিল আসবাব

লেখক: আবু আব্দুল্লাহ, আবদুর রহমান বিন নাসির বিন আব্দুল্লাহ বিন নাসির বিন হামাদ আল সাদী (মৃ. ১৩৭৬ হিজরি)

তত্ত্বাবধান, বিন্যাস ও টীকা প্রদান করেছেন: আবু মুহাম্মদ আশরাফ বিন আব্দুল মাকসুদ

প্রকাশক: আদওয়াউস সালাফ, রিয়াদ

সংস্করণ: প্রথম, ১৪২০ হিজরি - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৬১

[বইটির পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: -)
إرشاد أولى البصائر والألباب لـ

نيل الفقه

بأقرب الطرق وأيسر الأسباب

العبادات

تأليف

الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي

1307 - 1376 هـ
অন্তর্দৃষ্টি ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য দিকনির্দেশনা:

ফিকহ অর্জন

নিকটতম পথ ও সহজতম উপায়ে

ইবাদাতসমূহ

রচনায়

শায়খ আব্দুর রহমান বিন নাসের আস-সা'দী

১৩০৭ - ১৩৭৬ হিজরি
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة المصنف

الْحَمْدُ لِلَّهِ نَحْمَدُه ونَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَتُوبُ إِلَيهِ، وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَمِن سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي وَمَن يُضلِلْ فَلَن تَجِدَ لَهُ وَلِيّاً مُرشِداً.

وَصَلَّى الله عَلَى محمَّد وَعَلَى اله وَأَصحَابِه وَسَلِّم تَسلِيمًا كَثِيرًا.

أَمَّا بَعدُ: فَهَذَا تَألِيفٌ بَدِيعُ المنْزَع، سَهْلُ الأَلفَاظِ وَالْمَعَانِي، حَسَنُ الترتيب، يَحْتَوِي عَلَى مُهمَّات مَسَائِل الأَحكَام.

رتبته بصُورَةِ: السُّؤَال الْمُحَرَّر الْجَامِع، وَالجواب المفصَّل النَّافِع.

يَحتَوِي عَلَى: أُصُولٍ، وَضَوَابِطَ، وَتَقسِيمَاتٍ.

تُقُرِّبَ أشتات الْمَسَائِل، وتضم أَلنّظَائِرَ والفَوَارِقَ.

وَكَثِيرٌ مِن هَذِه الأَجوِبَةِ يتناول أَبوَابًا مِنَ الفِقهِ عَدِيدَةً، وَأصُولاً تَنْبَني عَلَيهَا أَحكَامٌ مُفِيدَةٌ.

وَتُعرِّفُ القَارِئَ مِن أَيِّ قَاعِدَةٍ أُخِذَتْ، وعلى أَيِّ أَساسٍ أُثْبِتَتْ.

وتُوَضِّح التَّعْلِيلات والحِكَمَ.

ولعل هذه الأُمُور أكثرُ فائدةً مِمَّا في الأَجوبةِ منَ التَّفْصِيلات الفقهية؛ لِعمُوم نَفعِهَا وحُسْنِ موقعها.
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

‌‌গ্রন্থকারের ভূমিকা

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি, তাঁর নিকট ক্ষমা চাই এবং তাঁরই নিকট তওবা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন, সেই সঠিক পথপ্রাপ্ত; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, আপনি তার জন্য কোনো অভিভাবক বা পথপ্রদর্শক পাবেন না।

আর মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও তাঁর সাহাবীগণের ওপর অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

অতঃপর: এটি এক চমৎকার রচনাশৈলীর গ্রন্থ, যার শব্দ ও অর্থ অত্যন্ত সহজ এবং বিন্যাস অতি উত্তম; এটি বিধিবিধানের গুরুত্বপূর্ণ মাসয়ালাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করে।

আমি এটি সাজিয়েছি এভাবে: সুসংহত ও সারগর্ভ প্রশ্ন এবং বিস্তারিত ও উপকারী উত্তর।

এটি ধারণ করে: মূলনীতি (أصول), নিয়মাবলি (ضوابط) এবং শ্রেণিবিভাগ (تقسيمات)।

যা বিক্ষিপ্ত মাসয়ালাগুলোকে কাছাকাছি নিয়ে আসে এবং সদৃশ ও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলোকে একত্রিত করে।

এই উত্তরগুলোর অনেকগুলোই ফিকহের বহু অধ্যায় এবং এমন সব মূলনীতি (أصول) নিয়ে আলোচনা করে, যার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন উপকারী বিধান রচিত হয়।

এটি পাঠককে অবগত করে যে, বিষয়টি কোন মূলনীতি (قاعدة) থেকে গ্রহণ করা হয়েছে এবং কোন ভিত্তির ওপর তা সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এটি সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ (تعليلات) এবং নিহিত উদ্দেশ্যসমূহ স্পষ্ট করে।

সম্ভবত উত্তরের মধ্যে বিদ্যমান ফিকহি বিস্তারিত আলোচনার চেয়েও এই বিষয়গুলো অধিকতর উপকারী; কারণ এর উপকারিতা ব্যাপক এবং এর গুরুত্ব অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১০)
وعند ذِكْر الأحْكَام: أَذكُرُ الْمَشْهُور مِن مَذهَبِ الإِمَام أَحمَد عِند مُتَأَخرِي الأَصحَاب.

فَإِنْ كَانَ فِيه قَولٌ آخر أَصَحُّ مِنه عِندِي ذكرته وَصَحَّحْتُهُ.

وَأَشَرتُ إِشَارَة لطيفة إِلَى دَليلِ كُلّ مِنَ القولين وَمَأْخَذِهِمَا؛ إذ المقَامُ لا يقتضي البَسْطَ.

وأَسْتَطْرِدُ في الجَوَابِ بِذِكْرِ الأَشبَاهِ وَالنظَائِرِ؛ لِتَحْصُلَ الفَائِدَةُ الكَثِيرَةُ والأُنسُ بكثرةِ ما يدخلُ في الأَصلِ والضَّابطِ.

وأَذكر أيضا الفوارقَ بينَ المسائِلِ التي يَكْثُر اشْتباهُهَا؛ ليَحْصُلَ التَّمييزُ بينها.

وَأَسألُ اللَّهَ تَعَالَى: أَن يَكُونَ أَلدَّاعِي لَهُ إِرَادةُ وَجْهِه وثَوَابِه، وَقَصدِ اُلْتُفِعَ لِعِبَادِه، وأَن يَكُونَ مُوَافِقًا لمحبته وَرِضَاه، وأَن يُسَهِّل تَتمِيمَ مَا أَنعَمَ في ابتدائِه، إِنه جَوَادٌ كَرِيمٌ.

-
বিধানসমূহ (الأحكام) বর্ণনার ক্ষেত্রে: আমি ইমাম আহমদের মাযহাবের পরবর্তী যুগের অনুসারীদের নিকট যে মতটি প্রসিদ্ধ (المشهور), সেটি উল্লেখ করি।

যদি তাতে আমার নিকট এর চেয়েও অধিক বিশুদ্ধ (أصح) অন্য কোনো মত থাকে, তবে আমি তা উল্লেখ করি এবং তাকে বিশুদ্ধ (صحيح) বলে সাব্যস্ত করি।

আমি উভয় মতের দলিল (الدليل) এবং তাদের উৎসের (المأخذ) প্রতি সংক্ষিপ্ত ইঙ্গিত প্রদান করি; কেননা এই স্থানটি বিস্তারিত আলোচনার অবকাশ রাখে না।

আমি উত্তরের প্রাসঙ্গিকতায় সমজাতীয় এবং সদৃশ (الأشباه والنظائر) বিষয়গুলো উল্লেখ করি; যাতে অধিক উপকার অর্জিত হয় এবং মূলনীতি (الأصل) ও নিয়মের (الضابط) অধীনে কত বিচিত্র বিষয় দাখিল হয়, সে সম্পর্কে হৃদ্যতা তৈরি হয়।

আমি সেই মাসআলাগুলোর মধ্যে পার্থক্যসমূহও উল্লেখ করি যেগুলোতে সাদৃশ্যের কারণে সংশয় (الاشتباه) তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে; যেন সেগুলোর মাঝে পার্থক্য নিরূপণ করা যায়।

আমি আল্লাহ তাআলার নিকট প্রার্থনা করি: এই কাজের প্রেরণা যেন হয় তাঁর সন্তুষ্টি ও প্রতিদান লাভের ইচ্ছা এবং তাঁর বান্দাদের উপকারের সংকল্প; আর এটি যেন তাঁর ভালোবাসা ও সন্তুষ্টির অনুকূল হয়, এবং তিনি যার সূচনা করে অনুগ্রহ করেছেন তার সমাপ্তিও যেন সহজ করে দেন। নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও মহানুভব।

-
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১১)
‌‌أسئلة في الطهارة
পবিত্রতা বিষয়ক প্রশ্নাবলি
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৩)
حكم الماء المتغير

1- سؤال: ما حُكم الماء المتَغيِّر؟

الجواب: وباللَّه التَّوفيقُ، ومِنْهُ أَسْتَمِدَُّ الهدايةَ والإِصَابةَ.

يدخلُ تَحتَ هذَا السؤَالِ أَنوَاعٌ كَثِيرَة، وأَفْرَادٌ متعدِّدةٌ، لكئها تَنْضَبِطُ بأُمورٍ:

(1) أَمَّا الماءُ الَّذي تَغيَّر لونُه أَوْ طَعْمُه أَو رِيحُه بالنَّجاسَةِ:

فهو '' نَجِسٌ '' بالإِجماعِ قَلِيلاً كَانَ أَوْ كَثِيرًا.

(2) وأَمَّا الماءُ الَّذي تغيَّرَ بِمُكْثِه وَطُولِ إِقَامَته في مَقَرِّهِ، أَو تغيَّر بِمُرورِهِ عَلَى الطَّاهِرَاتِ، أَو بما يَشُقّ صَونُه عَنه، وَبما هُوَ مِنَ الأَرضِ كطِيبهَا وتُرَابِهَا:

فهذا '' طَهُورٌ '' لا كَرَاهة فِيهِ؛ قولاً واحدًا.

(3) وأَمَّا الماءُ الَّذي تغيَّر بما لا يمازجُهُ كَدُهْنٍ ونَحوِه:

فهو مَكْرُوهٌ على المذهب.

غيرُ مَكْرُوهٍ عَلَى القَولِ الصَّحيحِ.

لأَن الكراهَةَ حُكْمٌ شَرْعيٌّ يحتاجُ إِلى دليلٍ؛ ولا دَليلَ على الكرَاهَةِ وَالأَصْلُ المياهِ الطَّهُورِيَّة، وعدمُ المنعِ.

فمن ادعى خِلافَ الأَصلِ فَعَلَيْهِ الدليلُ.
পরিবর্তিত পানির বিধান

১- প্রশ্ন: পরিবর্তিত পানির বিধান কী?

উত্তর: আল্লাহর নিকট থেকেই তাওফিক কামনা করছি এবং তাঁর নিকটই সঠিক পথ ও নির্ভুলতার সাহায্য প্রার্থনা করছি।

এই প্রশ্নের অধীনে অনেক প্রকার ও বহু বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তবে সেগুলো কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে সুশৃঙ্খলভাবে তুলে ধরা যায়:

(১) যে পানির রঙ, স্বাদ অথবা গন্ধ অপবিত্রতার (نجاسة) মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়ে যায়:

তা সর্বসম্মতভাবে (إجماع) 'অপবিত্র (نجس)', পানির পরিমাণ কম হোক বা বেশি।

(২) আর যে পানি দীর্ঘক্ষণ একস্থানে জমে থাকার কারণে পরিবর্তিত হয়, অথবা পবিত্র বস্তুর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার কারণে পরিবর্তিত হয়, কিংবা যা থেকে পানিকে রক্ষা করা দুরূহ, অথবা যা মাটির অংশ যেমন কাদা ও ধূলিকণার কারণে পরিবর্তিত হয়:

এই পানি 'পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور)', এতে কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) নেই; এটিই একমাত্র অভিমত।

(৩) আর যে পানি এমন কোনো বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত হয় যা পানির সাথে পুরোপুরি মিশে যায় না, যেমন তেল বা এই জাতীয় দ্রব্য:

মাযহাব (المذهب) অনুযায়ী তা 'অপছন্দনীয় (مكروه)'।

তবে সঠিক (صحيح) মতানুসারে তা অপছন্দনীয় (مكروه) নয়।

কেননা অপছন্দনীয়তা (كراهة) একটি শরয়ি বিধান যা প্রমাণের (دليل) মুখাপেক্ষী; অথচ এর অপছন্দনীয় হওয়ার পক্ষে কোনো প্রমাণ (دليل) নেই। আর পানির মূল বৈশিষ্ট্য হলো পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهورية) হওয়া এবং তা ব্যবহারে কোনো বাধা না থাকা।

সুতরাং যে ব্যক্তি এই মূলনীতির (الأصل) পরিপন্থী দাবি করবে, তাকেই প্রমাণ (الدليل) উপস্থাপন করতে হবে।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৪)
(4) وأمَّا الماءُ المتغيرُ لَوْنُه أَو رِيحُهُ أَو طعمه بالطاهِرَاتِ كَالزعفرانِ ونحوِه:

إذَا كَانَ التغيرُ يَسِيرٌ ا: فهو طهورٌ قولاً واحدًا.

وَكَذلكَ إِن كانَ التَّغيرُ في مَحلِّ التَّطهيرِ: فهذا أَو نحوه لا بأْسَ بِه.

وإن كَانَ المتغيرُ بالطاهراتِ تغيرًا كثيرًا: فَهُو طَاهِرٌ غير مُطَهر عَلَى المشهور مِنَ الْمَذْهَب.

وعلى الفول الصَّحيحِ: هو طهورٌ:

لأَنَّه ماء؛ فيدخلُ في قولِه تَعَالى ? فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً ? [المائدة:56] .

ولعدم الدَّليلِ الدَّالّ على انتِقَالِه عَنِ الطهُورِية، فبقِيَ عَلَى الأَصلِ.

وذلك أَنَّ العُلَمَاءَ رحمهم الله:

اتفقُوا عَلَى نوعين مِنْ أنوَاعِ الميَاهِ، واختَلَفُوا في النوعِ الثَّالِث.

اتَّفقُوا عَلَى أنَّ: كل ماء تغيرَ بالنجاسَةِ فهو نجس.

كما اتفَقُوا عَلَى أَن: الأصْلَ في المياهِ كُلِّها النازلةِ مِنَ السِّمَاء، والتَّابِعَةِ منَ الأَرضِ، والجارِيَةِ والرَّاكِدَةِ؛ أنها طاهرةٌ مطهِّرَةٌ.
(৪) আর জাফরান বা এ জাতীয় পবিত্র বস্তু (طاهرات) দ্বারা যে পানির রং, গন্ধ অথবা স্বাদ পরিবর্তিত হয়েছে:

যদি পরিবর্তন সামান্য হয়: তবে একমত অনুযায়ী তা পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور)।

অনুরূপভাবে যদি পরিবর্তনটি পবিত্রকরণের স্থানে ঘটে: তবে এটি বা এ জাতীয় বিষয়ে কোনো অসুবিধা নেই।

আর যদি পবিত্র বস্তু (طاهرات) দ্বারা পরিবর্তনটি অত্যধিক হয়: তবে মাযহাবের প্রসিদ্ধ (مشهور) মত অনুযায়ী সেটি পবিত্র (طاهر) কিন্তু পবিত্রকারী নয় (غير مطهر)।

এবং বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে: সেটি পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور):

কারণ তা পানি; সুতরাং তা মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: "অতঃপর তোমরা যদি পানি না পাও" [আল-মায়েদাহ: ৫৬]।

আর এর পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهورية) গুণ থেকে বিচ্যুত হওয়ার কোনো দলিল (دليل) না থাকায় তা মূল প্রকৃতির (الأصل) ওপর বহাল থাকবে।

আর তা এই কারণে যে, উলামায়ে কেরাম (رحمهم الله):

পানির প্রকারসমূহের মধ্যে দুই প্রকারের ব্যাপারে একমত হয়েছেন এবং তৃতীয় প্রকারের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন।

তাঁরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে: অপবিত্রতা (نجاسة) দ্বারা পরিবর্তিত হওয়া সকল পানিই অপবিত্র (نجس)।

যেমন তাঁরা এ ব্যাপারেও একমত হয়েছেন যে: আকাশ থেকে বর্ষিত, ভূমি থেকে উৎসারিত, প্রবহমান ও স্থির—সব ধরনের পানির মূল প্রকৃতি (الأصل) হলো সেগুলো পবিত্র (طاهرة) ও পবিত্রকারী (مطهرة)।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৫)
واختلفوا في: بعضِ المياهِ الْمُتَغَيِّرةِ بالأَشياءِ الطاهرةِ أَو التي رُفِعَ فيها حَدثٌ ونَحوهَا هَل هِيَ باقيَةٌ على طهوريتهَا؟

وَإِنَّنَا تَسْتَصْحِبُ فِيهَا الأَصْلَ كما هُو الصَّحِيح؛ لأَدِلَّةٍ كَثِيرةٍ ليس هَذَا مَوضِعهَا، أَو أَنها صَارَتْ في مَرْتَبَة مُتَوَسِّطَةٍ بين الطهُورِ وَالنَّجَس فصَارَتْ طَاهِرَةً غيرَ مُطَهِّرةٍ.

والاستدلالُ بهذَا القَولِ ضَعِيفٌ جدًّا!!

فإِن إِثبات قِسْمٍ مِنَ المياهِ، لا طَهُورٌ وَلا نَجِسٌ؛ مما تعمُّ به البَلْوَى وتشتَدُّ الحاجَةُ والضرُورَةُ إِلى بيانه، فَلَو كَانَ ثابتًا؛ لبينهُ الشارع بَيانًا صَحِيحًا، قاطعًا للنِّزاعِ.

فَعُلِمَ أَنَّ الصَّوابَ المقطُوع به:

أَن الماءَ قِسمَانِ: طَهُورٌ، وَنَجِسٌ.

المَاء الْمُسْتَعْمَل

(2) مَا حُكمُ الماءِ المستَعمَلِ؟

الجواب: يَدخُلُ تحتَ هَذَا أَنوَاعٌ متعدِّدَةٌ:

1- مُسْتعملٌ في: إزَالةِ النَّجَاسَةِ.
পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত অথবা যাতে হদস (নাপাকি) দূর করা হয়েছে এমন কিছু পানির হুকুমের ব্যাপারে তাঁরা মতবিরোধ করেছেন যে, এগুলো কি তার পবিত্র করার ক্ষমতার ওপর বহাল আছে?

আর আমরা এক্ষেত্রে মৌলিক অবস্থার ওপর বহাল থাকার নীতি (ইস্তিশহাব) অবলম্বন করি যেমনটি সহিহ (صحيح); এর স্বপক্ষে অসংখ্য দলিল রয়েছে যার বিস্তারিত আলোচনার স্থান এটি নয়। অথবা পানি কি পবিত্রকারী ও অপবিত্রের মধ্যবর্তী এমন এক স্তরে উপনীত হয়েছে যে, তা পবিত্র কিন্তু অন্যকে পবিত্রকারী নয়?

আর এই মতের স্বপক্ষে দলিল পেশ করা অত্যন্ত দুর্বল (ضعيف)!!

কেননা পানির এমন একটি প্রকার সাব্যস্ত করা যা পবিত্রকারীও নয় আবার অপবিত্রও নয়—তা এমন বিষয় যা ব্যাপক সমস্যার (উমুমে বালওয়া) অন্তর্ভুক্ত এবং এর ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা ও অপরিহার্যতা অত্যন্ত বেশি। সুতরাং এটি যদি সাব্যস্ত হতো, তবে শরিয়ত প্রবর্তক তা সহিহ (صحيহ) ও স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন যা সকল বিবাদের অবসান ঘটাত।

ফলে এটি নিশ্চিতভাবে জানা গেল যে সঠিক মত হলো:

পানি দুই প্রকার: পবিত্রকারী ও নাপাক।

ব্যবহৃত পানি

(2) ব্যবহৃত পানির বিধান কী?

উত্তর: এর অধীনে একাধিক প্রকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

1- যা নাপাকি দূর করার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়েছে।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৬)
2- ومُسْتعمَلٌ في: رفعِ الحدثِ.

3- ومُسْتَعملٌ في: طَهَارَةٍ مَشْروعةٍ.

4- ومُسْتَعملٌ في: نظافةٍ.

5- ومُسْتَعملٌ في: رفعِ حَدَثِ أُنْثى.

6- ومُستَعمَلٌ في: غَمْس يَدِ النَّائِم.

(1) أمَّا المستعمَلُ في إِزالةِ النَّجَاسَة:

فإِنْ كان مُتَغَيرَا: فهو نَجِسٌ.

وإِن لم يتغير وهو كثيرٌ: فهو طهورٌ قولاً واحدًا.

وإِن كان قليلاً والنجاسة لم تَزُلْ عنِ المحلِّ أو قبل السَّابِعَة: فهو نَجِسٌ على الْمَذْهَب.

وعلى الصَّحيح: طَهُورٌ لعدم تَغيرِه بالنجاسَةِ.

وإن كان آخرَ غسلةٍ زالَتْ بها النجاسَةُ: فهو طَاهِر على المذهب غَيرُ مُطَهِّرٍ.

وهو طهورٌ على القول الصَّحِيح، مِن بَابِ أَولَى مما قَبلَهَا.

(2) وأَمَّا المستَعمَلُ في رَفع الحدَثِ:

فَإِنْ كَانَ يغترفُ خارجَ الإِناء: فالبَاقِي في الإِناءِ طَهُورٌ قليلاً كان أو كَثِيرًا؛ قولاً واحدًا.
2- এবং এমন ব্যবহৃত (مستعمل) যা অপবিত্রতা দূরীকরণে (رفع الحدث) ব্যবহৃত হয়েছে।

3- এবং এমন ব্যবহৃত (مستعمل) যা শরয়ি পবিত্রতা অর্জনে (طهارة مشروعة) ব্যবহৃত হয়েছে।

4- এবং এমন ব্যবহৃত (مستعمل) যা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার (نظافة) কাজে ব্যবহৃত হয়েছে।

5- এবং এমন ব্যবহৃত (مستعمل) যা নারীর অপবিত্রতা দূরীকরণে (رفع الحدث) ব্যবহৃত হয়েছে।

6- এবং এমন ব্যবহৃত (مستعمل) যা ঘুমন্ত ব্যক্তির হাত নিমজ্জনে (غمس يد النائم) ব্যবহৃত হয়েছে।

(1) আর নাপাকি দূরীকরণে ব্যবহৃত (مستعمل) পানির ক্ষেত্রে বিধান হলো:

যদি তা পরিবর্তিত হয়ে যায়, তবে তা অপবিত্র (نجس)।

আর যদি তা পরিবর্তিত না হয় এবং পরিমাণে অধিক হয়, তবে সর্বসম্মত মতানুসারে তা পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور)।

আর যদি তা পরিমাণে অল্প হয় এবং সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে নাপাকি দূরীভূত না হয় অথবা সপ্তম বার ধোয়ার পূর্বে হয়, তবে মাযহাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তা অপবিত্র (نجس)।

তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে, নাপাকির কারণে এর কোনো পরিবর্তন না ঘটায় তা পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور)।

আর যদি তা এমন শেষ ধোয়ার পানি হয় যার মাধ্যমে নাপাকি দূরীভূত হয়েছে, তবে মাযহাব অনুযায়ী তা পবিত্র (طاهر) কিন্তু অন্যকে পবিত্রকারী নয়।

তবে বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী তা পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور), যা পূর্বোক্ত অবস্থার চেয়েও অধিক যুক্তিসঙ্গত।

(2) আর অপবিত্রতা দূরীকরণে (رفع الحدث) ব্যবহৃত (مستعمل) পানির ক্ষেত্রে:

যদি পাত্রের বাইরে থেকে পানি তোলা হয়, তবে পাত্রে অবশিষ্ট পানি পরিমাণে কম হোক বা বেশি, তা সর্বসম্মত মতানুসারে পবিত্র ও পবিত্রকারী (طهور)।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৭)
وأن كَانَ يستَعمِلُه وهو في موضِعِه بأن كان يغتَسِل أو يَتَوَضَّأ في نفسِ الماءِ.

فإِنْ كَانَ الماءُ كَثِيرًا: فالماءُ طهورٌ قولاً واحدًا.

وإِن كَانَ يسيرَا: صَارَ طاهرًا غير مُطَهِّر عَلَى الْمَذْهَب.

وهو طَهُور عَلَى القَولِ الصَّحِيح؛ لعدم الدليلِ الناقِلِ لَهُ عَنْ أَصلِهِ.

(3) وَإِنْ كَانَ مُستَعْملاً في طَهَارَةٍ مَشرُوعة:

كتَجدِيدِ وُضوء ونَحوِه: فهو طهُور، مَكْرُوه على المذهبِ.

غير مَكْرُوه، عَلَى الْقَوْل الصَّحِيح؛ لِعَدَمِ الذليلِ.

(4) وإِنْ كَانَ مُسْتَعْمَلاً في طَهَارَةٍ غَيرِ مَشْرُوعةٍ:

فهو طَهُورٌ لا كراهةَ فيه قولاً واحدًا.

(5) وإِن كان مُسْتَعْمَلا في حدثِ أُنثَى:

وهو كَثِير؛ فهو طهورٌ لا منع فيه مطلقاً، قولاً وَاحِدًا.

وإِن كان يَسِيرًا ولم تَخْلُ بِه: فَلا مَنعَ أَيضاً.

وإن خَلَتْ بهِ فَلا مَنْعَ في طَهَارَةِ النجَاسَةِ، وَلا في طَهَارَةِ المرأةِ قَولاً وَاحِدًا.

وَإِنما يُمْنَعُ مِنْهُ الرَّجُلُ في طَهَارَةِ الحدَثِ عَلَى المذهَب مع بَقَائِه عَلَى طُهُورِيَّته.
এবং যদি সে পানিটি তার স্বস্থানে থাকা অবস্থায় ব্যবহার করে, যেমন সে ওই পানির ভেতরেই গোসল করে অথবা ওজু করে।

এমতাবস্থায় পানি যদি অধিক হয়: তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র ও পবিত্রকারী।

আর যদি তা অল্প হয়: তবে মাযহাবের স্বীকৃত মত অনুযায়ী তা পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়।

আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে তা পবিত্র ও পবিত্রকারী; কারণ একে তার মূল অবস্থা থেকে বিচ্যুত করার মতো কোনো দলিল নেই।

(3) এবং যদি পানিটি শরীয়তসম্মত কোনো পবিত্রতা অর্জনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে:

যেমন ওজু নবায়ন বা অনুরূপ কাজের ক্ষেত্রে: তবে তা পবিত্র ও পবিত্রকারী, কিন্তু মাযহাব অনুযায়ী তা অপছন্দনীয়।

বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুসারে তা অপছন্দনীয় নয়; কারণ এর স্বপক্ষে কোনো দলীলের অনুপস্থিতি।

(4) আর যদি তা এমন কোনো পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহৃত হয় যা শরীয়তসম্মত নয়:

তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র ও পবিত্রকারী এবং এতে কোনো প্রকার অপছন্দনীয়তা নেই।

(5) আর যদি তা কোনো নারীর অপবিত্রতা (হাদাস) দূরীকরণে ব্যবহৃত হয়ে থাকে:

এবং তা যদি পরিমাণে অধিক হয়: তবে তা সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র ও পবিত্রকারী এবং এতে কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞা নেই।

আর যদি তা অল্প হয় এবং নারীটি তা নিয়ে নির্জনে না যায়: তবে সে ক্ষেত্রেও কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

আর যদি সে তা নিয়ে নির্জনে যায়, তবে নাজাসাত (নাপাকি) দূরীকরণে এবং অন্য কোনো নারীর পবিত্রতা অর্জনে কোনো বাধা নেই—এটিই সর্বসম্মত মত।

মাযহাব অনুযায়ী কেবল পুরুষের জন্য হাদাস (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যদিও পানিটি তার পবিত্র ও পবিত্রকারী হওয়ার গুণাবলির ওপর অবশিষ্ট থাকে।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৮)
وعند عدم غيره: يُجمَعُ بين استعماله والتَّيمُّمِ احتِيَاطًا.

وأما الصَّحيحُ: فلا مَنْعَ فِيهِ مُطْلقًا.

لقوله صلى الله عليه وسلم «إِن الْمَاء لا يَجنبُ» .

ومَا استُدِل به عَلَى المنْعِ فضعِيفٌ لا يدلُّ على المنْعِ.

(6) وأَمَّا المستَعْمَلُ في غمس يد النَّائِمِ:

فإنْ كَانَ نهارًا أَو نَومًا لا ينقُضُ الوُضُوءَ: فَلا يَضُرْ مطلقًا.

وإِن كَانَ نومًا كَثِيرًا بالليلِ وغمسها كُلَّها.

فَإِنْ كَانَ الماء كَثِيرًا لم يضر قولاً واحدًا.
আর যখন এটি ছাড়া অন্য কিছু না থাকে: তখন সতর্কতা স্বরূপ এর ব্যবহার এবং তায়াম্মুম উভয়টিকে একত্র করতে হবে।

আর সঠিক (صحيح) মতানুসারে: এতে কোনো অবস্থাতেই কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "নিশ্চয়ই পানি অপবিত্র হয় না।"

আর নিষেধাজ্ঞার স্বপক্ষে যা দ্বারা দলিল পেশ করা হয়েছে তা দুর্বল (ضعيف), যা নিষেধাজ্ঞার প্রমাণ বহন করে না।

(৬) আর ঘুমন্ত ব্যক্তির হাত ডুবানোর ফলে ব্যবহৃত পানির বিধান:

যদি তা দিনের বেলা হয় অথবা এমন ঘুম হয় যা অজু ভঙ্গ করে না: তবে তা কোনোভাবেই পানির কোনো ক্ষতি করবে না।

আর যদি তা রাতের দীর্ঘ ঘুম হয় এবং সে তার পুরো হাত ডুবিয়ে দেয়।

সেক্ষেত্রে যদি পানি অধিক পরিমাণে হয়, তবে সর্বসম্মত মতানুসারে তা পানির কোনো ক্ষতি করবে না।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ১৯)
وإن كان دون القلتين صَارَ طَاهِرًا غَيرَ مُطَهِّرٍ، عَلَى الْمَذْهَب، ولكن عِنْد الاضطرارِ إِليه يُستَعْمَلُ مَعَ التَّيممِ.

وعَلَى القَولِ الصَّحيحِ في المذهَبِ: يبقَى عَلَى طَهُوريته،؛ لعدم الدليلِ عَلَى زَوَالِ طهوريته.

والحديثُ إِنما يَدُل عَلَى الأَمر بِغَسلِهِمَا قَبلَ إدخَالِهِمَا الإِناءَ؛ للعلَّةِ التي عَلَّل بها في الْحَدِيث: «… فإن أحدَكُم لا يَدْرِي أَينَ باتت يَدُهُ» .
আর যদি তা দুই কুল্লার কম হয়, তবে মাযহাব অনুযায়ী তা পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয় হয়ে যায়; তবে অপরিহার্য প্রয়োজনে তায়াম্মুমের সাথে এটি ব্যবহার করা হবে।

আর মাযহাবের সঠিক (صحيح) অভিমত অনুসারে: এটি তার পবিত্রতা বিধানকারী বৈশিষ্ট্যের ওপরই বহাল থাকবে; কারণ এর পবিত্রকারিতা বিলুপ্ত হওয়ার কোনো দলিল নেই।

আর হাদিসটি কেবল পাত্রে হাত দুটি প্রবেশ করানোর পূর্বে তা ধৌত করার নির্দেশের ওপর প্রমাণ বহন করে; সেই কারণের (علة) জন্য যা হাদিসে ব্যক্ত করা হয়েছে: «… কেননা তোমাদের কেউ জানে না যে, তার হাত কোথায় রাত অতিবাহিত করেছে।» .
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২০)
الماءُ النَّجسُ مَتَى يَطهُر؟

3-إِذَا كَانَ الماءُ نَجَسَا مَتَى يَطْهُرُ؟

الجواب: أما عَلَى القَولِ الصَّحيحِ: وَهُو رِوايَةٌ عَنْ أَحمدَ.

فمتَى زَالَ تَغَيّرُ الماءِ عَلَى أيِّ وجه كَانَ؛ بِنَزْحٍ، أو إضافةِ مَاءٍ إِليه، أو بزوالِ تغيّرِه بِنَفسِه؛ أو بمعالجتِه: طَهُرَ بِذَلِكَ.

وسواءَ كَانَ قليلاً أو كَثِيرًا؛ لأن الحكمَ يَدُورُ مَعَ عِلَّتِه وُجُودًا وَعَدَمًا.

وَلا عِلَّةَ للتنجِيسِ عَلَى التَّحقِيق إلا التَّغَيرُ بالنجَاسَةِ فما دَامَ التَّغَيرُ مَوْجُودًا، فَنَجَاسَتُه مَحْكُوم بِهَا، ومَتَى زَالَ التَّغَيرُ طَهُرَ.

وأما عَلَى المذهبِ: فَلا يخلو الماءُ: إِما أن يَكُونَ أَقَلَّ من قلَّتَينِ، أو يَكُونَ قُلَّتين فَقَط أو يَكُونَ أكثرَ منهُما.

فَإِنْ كَانَ أَقَلَّ من قُلَّتينِ: لَم يَطْهُر إلا بِإِضَافَة طَهُورٍ كَثِيرٍ إِلَيهِ.

وإِنْ كَانَ قُلَّتَينِ فقط: طَهُرَ بأَحدِ أَمرين:

إِما بِإِضَافَة طَهُورٍ كثيرٍ إِليه مَعَ زَوَالِ التَّغَير.

وإِما بِزَوَالِ تَغَيرِهِ بِنَفسِهِ.

وإِن كَانَ أَكثرَ مِن قُلَّتَينِ: طَهُرَ بأَحدِ ثَلاثةِ أَشْيَاءَ:

هذينِ الأَمرينِ.
অপবিত্র পানি কখন পবিত্র হয়?

৩-যদি পানি অপবিত্র হয়, তবে তা কখন পবিত্র হবে?

উত্তর: বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুযায়ী, যা ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণিত একটি বর্ণনা (رواية):

পানির পরিবর্তন যেভাবেই দূরীভূত হোক না কেন; পানি তুলে নেওয়ার মাধ্যমে হোক, অথবা তাতে পানি যোগ করার মাধ্যমে, অথবা নিজে নিজেই তার পরিবর্তন দূর হওয়ার মাধ্যমে, অথবা শোধনের মাধ্যমে; তবে তার দ্বারাই তা পবিত্র হয়ে যাবে।

আর পানি অল্প হোক বা বেশি; কারণ বিধান তার কারণের (علة) উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ওপর আবর্তিত হয়।

প্রকৃতপক্ষে অপবিত্রতার কোনো কারণ (علة) নেই অপবিত্রতার দরুন পানির গুণাগুণ পরিবর্তন হওয়া ছাড়া। সুতরাং যতক্ষণ পরিবর্তন বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ তা অপবিত্র হিসেবে গণ্য হবে, আর যখনই পরিবর্তন দূর হয়ে যাবে, তখন তা পবিত্র হবে।

আর মাযহাবের (مذهب) মতানুযায়ী: পানির অবস্থা তিনটির বাইরে নয়: হয় তা দুই কুল্লার (قلتان) কম হবে, অথবা ঠিক দুই কুল্লা (قلتان) হবে, অথবা দুই কুল্লার (قلتان) বেশি হবে।

যদি পানি দুই কুল্লার (قلتان) কম হয়: তবে তাতে প্রচুর পরিমাণে পবিত্র (طهور) পানি যোগ করা ছাড়া তা পবিত্র হবে না।

আর যদি ঠিক দুই কুল্লা (قلتان) হয়: তবে তা দুটি বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে পবিত্র হবে:

হয় তাতে প্রচুর পরিমাণে পবিত্র (طهور) পানি যোগ করার সাথে সাথে পরিবর্তন দূর হওয়ার মাধ্যমে।

অথবা নিজে নিজেই তার পরিবর্তন দূর হওয়ার মাধ্যমে।

আর যদি দুই কুল্লার (قلتان) বেশি হয়: তবে তা তিনটি বিষয়ের যেকোনো একটির মাধ্যমে পবিত্র হবে:

পূর্বোক্ত এই দুটি বিষয়ের মাধ্যমে।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২১)
أَو بنَزحٍ يبقى بَعدَهُ كَثير غيرُ مُتَغَيِّر.

إلا إِذَا كان مُجْتَمَعًا مِن مُتَنَجّسٍ يسيرٍ: فَتَطهِيرُه بِإِضَافَة كَثِيرٍ إِلَيهِ مَعَ زَوَالِ التَّغَيرِ لابد مِنة في الأَحْوَال كُلِّهَا.

وَهَلْ يُشْتَرَطُ شيءٌ آخرُ مَعَه أم لا؟

قَد ذكرنَا تفصِيلَهُ الجَامِعَ.

حُكم عَدَمُ العلم بالنَّجاسة للإناء أَوْ البدن أَوْ الثوب!!

4- إِذَا تطهَّر بالماءِ ثم وجَدَهُ بعد ذلك نجسًا أَو صلى ثم وَجَدَ عَلَى بَدَنِه أَوْ ثوبه نجاسة مَا حُكْمُ ذلك؟

الجواب: لا يَخْلُو الأَمرُ من حَالينِ أَو ثلاثة:

1- لأنه إما أَنْ يَعْلَمَ أن النجَاسَةَ قَبلَ طَهَارَتهِ وَصَلاتِه.

2- أَو يَعْلَمَ أنها بَعْدَهُما.

3- أَوْ يَجْهَلَ الأمر.

(1) فإن عَلِمَ أنها قبل طَهَارَتِه بسبب من الأَسْبَاب الموجِبَةِ للعلم؛ ومنه خبر الثِّقَةِ المتيقن، حيث عين السببِ: أَعاد طَهَارَتَهُ، وغسل ما أَصَابَ النجَاسَةَ من بدنٍ أو ثَوْب.

وكذلك يُعِيدُ الصَّلاة على المذهبِ.

وعلى الْقَوْل الصَّحِيح: إِن من نَسِي وصَلَّى في ثوبٍ نَجِسٍ أَو على
অথবা পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে, যার ফলে পরবর্তীকালে বিপুল পরিমাণ পানি অপরিবর্তিত অবস্থায় অবশিষ্ট থাকে।

তবে যদি তা সামান্য নাপাক হওয়া (متنجس) পানির সমষ্টি হয়, তবে সকল অবস্থাতেই তাতে অধিক পরিমাণ পানি যুক্ত করার পাশাপাশি তার পরিবর্তন দূরীভূত হওয়া অপরিহার্য।

আর এর সাথে অন্য কোনো কিছু কি শর্ত (شرط) করা হবে কি না?

আমরা ইতিপূর্বে এর পূর্ণাঙ্গ বিবরণ উল্লেখ করেছি।

পাত্র, শরীর বা কাপড়ের অপবিত্রতা (نجاسة) সম্পর্কে অবগত না থাকার বিধান (حكم)!!

4- যদি কেউ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করার পর তা অপবিত্র (نجس) হিসেবে পায়, অথবা সালাত আদায়ের পর নিজের শরীরে বা কাপড়ে অপবিত্রতা (نجاسة) লক্ষ্য করে, তবে তার বিধান (حكم) কী?

উত্তর: বিষয়টি দুটি বা তিনটি অবস্থার বাইরে নয়:

1- কারণ হয় সে জানতে পারবে যে, অপবিত্রতা (نجاسة) তার পবিত্রতা অর্জন ও সালাত আদায়ের পূর্বেই ছিল।

2- অথবা সে জানতে পারবে যে, এটি উক্ত দুটির পরেই ঘটেছে।

3- অথবা বিষয়টি তার কাছে অজানা থাকবে।

(1) যদি সে নিশ্চিত জ্ঞান দানকারী কোনো কারণের ভিত্তিতে জানতে পারে যে এটি তার পবিত্রতা অর্জনের পূর্বেই ছিল; আর নির্ভরযোগ্য (ثقة) ব্যক্তির নিশ্চিত সংবাদও এর অন্তর্ভুক্ত, যেখানে তিনি কারণটি নির্দিষ্ট করে দেন—তবে সে পুনরায় পবিত্রতা অর্জন করবে এবং শরীর বা কাপড়ের যে অংশে অপবিত্রতা (نجاسة) লেগেছে তা ধৌত করবে।

অনুরূপভাবে মাযহাবের (مذهب) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সে সালাত পুনরায় আদায় করবে।

আর বিশুদ্ধ (صحيح) মত অনুযায়ী: যে ব্যক্তি ভুলে অপবিত্র (نجس) কাপড়ে অথবা...
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২২)
بدنه نجاسةٌ نَسِيَها أَو جهل ذلك، ولم يعلم حتَّى فرغ: صحَّت صَلاتُه وَلا إِعادةَ عَلَيه.

لأنه صلى الله عليه وسلم خَلَعَ نعليه وَهُوَ في الصَّلاة، حِينَ أَخبره جبريلُ أَن فِيهِمَا قَذَرًا، وَبَنَى على صَلاتِه، ولم يُعِدْهَا.

فإِذا بنى عليها في أثنائها، فإِذا وجدَهَا بعد فَراغِ الصَّلاة فالحكْمُ كذلك.

ولأَن مِنْ قاعِدَةِ الشرِيعَةِ: إِذا فَعَلَ العِبَادَةَ وقد فَعَلَ مَحظُورًا فيها هو معذورٌ فلا إِعادَةَ عَلَيهِ؟ بخلافِ مَن تَرَكَ المأمُورَ.
কারো শরীরে নাপাকি (نجاسة) ছিল যা সে ভুলে গিয়েছিল অথবা সে সম্পর্কে অজ্ঞ ছিল, এবং নামাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তা জানতে পারেনি: এমতাবস্থায় তার নামাজ শুদ্ধ (صحت) হয়েছে এবং তার পুনরায় আদায়ের (إعادة) আবশ্যকতা নেই।

কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামাজেরত অবস্থায় তাঁর জুতা জোড়া খুলে ফেলেছিলেন, যখন জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) তাঁকে সংবাদ দিয়েছিলেন যে তাতে অপবিত্রতা (قذر) রয়েছে। তিনি তাঁর নামাজের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করেছিলেন এবং তা পুনরায় আদায় (إعادة) করেননি।

সুতরাং, যদি তিনি নামাজের মাঝখানে সেটির ওপর ভিত্তি করে নামাজ চালিয়ে যান, তবে নামাজ শেষ করার পর তা পাওয়া গেলেও বিধান (حكم) একই রূপ হবে।

আর যেহেতু শরীয়তের একটি মূলনীতি (قاعدة) হলো: যদি কেউ ইবাদত সম্পাদনকালে তাতে কোনো নিষিদ্ধ (محظور) কাজ করে ফেলে এবং সে ক্ষেত্রে সে অপারগ (معذور) হিসেবে গণ্য হয়, তবে তাকে পুনরায় তা আদায় (إعادة) করতে হবে না; কিন্তু যে ব্যক্তি আদিষ্ট বিষয় (مأمور) পরিত্যাগ করে, তার বিষয়টি এর বিপরীত।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৩)
فتارِكُ المأمورِ به لا تَبرَأُ ذمتُه إلا بفعله.

وفَاعِل المحظُور الذي هُوَ مَعذُورٌ: لا شَيءَ عَلَيهِ.

(2) وإن عَلِمَ أنَّ ذَلِكَ بعد الْفَرَاغ مِنْ طَهَارَتِه: فَهَذَا وَاضِحٌ لا شيءَ عَلَيه؛ لأنه توضأ بِمَاءٍ طَهُورٍ وَصَلَّى وَلَيسَ عَلَيهِ نجاسةٌ.

وإنما ذكرنا هذا لأَجلِ التَّقْسِيم.

(3) وأَمَّا إن جهل الحالَ فلم يَدرِ هل نجاسةُ الماءِ قَبلَ استِعمَالِه أَو بَعدَهُ أَو النجاسَةُ قد أصابته قبلَ الصَّلاةِ أَو بَعدَها: فطهارَتُه وصَلاتُه صَحِيحَتَانِ قولاً وَاحِدًا لِبِنَائه عَلَى الأصلِ؛ لأَن الأَصْلَ عَدَمُ النَّجَاسَةِ.

اشتباه الماء الممنوع بغير الممنوع

هـ- إِذا اشتبه ماءٌ ممنوعٌ مِنْهُ بما ليسَ بِمَمْنوعٍ مَا حُكمُه؟

الجواب: إِن كَانَ المشتبه ماءً نجسًا بِطَهُورٍ أَوْ ماءً مُبَاحًا بمحرَّمٍ:

اجْتُنِبَ الجَمِيعُ وصارَ وُجُودُهُمَا واحدًا؛ لِعَدَمِ قُدرَته عَلَى الوُصُولِ إِلَى الماءِ الطهُورِ المبَاحِ، ويُعدَلُ إِلَى التَّيَمُّم.

إلا إِنْ تمكن من تطهير الماءِ النَّجسِ بالطهُورِ، بأَنْ يَكُونَ الطهُورُ كَثِيرًا وعنده إناءٌ يَسَعُهُمَا، فيَخلطهُمَا ويَصِيرَانِ مطهرين.

وعَلَى القَولِ الصَّحِيحِ: يَبعُد جِدًّا اشتباهُ النجس بالطهُورِ؛ لأنه لا ينجُسُ الماءُ إلا بالتَّغير.

ولكن مَتَى وَقَعَ الاشتبَاهُ في الصورِ النَّادِرَةِ: كُف عَنِ الجَمِيعِ.
সুতরাং আদিষ্ট বিষয় (المأمور به) বর্জনকারীর দায়ভার তা সম্পাদন না করা পর্যন্ত মুক্ত হয় না।

আর নিষিদ্ধ বিষয় (المحظور) সম্পাদনকারী যদি ওজরপ্রাপ্ত (معذور) হন, তবে তার ওপর কোনো দায় নেই।

(2) আর যদি তিনি নিশ্চিত হন যে তা তার পবিত্রতা (طهارة) অর্জনের কাজ শেষ করার পর ঘটেছে, তবে এটি স্পষ্ট যে তার ওপর কোনো দায় নেই; কারণ তিনি পবিত্রকারী পানি (ماء طهور) দ্বারা অজু করেছেন এবং সালাত আদায় করেছেন, এমতাবস্থায় যে তার ওপর কোনো অপবিত্রতা (نجاسة) ছিল না।

আমরা এটি কেবল বিষয়টিকে শ্রেণিবিভাগ করার নিমিত্তে উল্লেখ করেছি।

(3) পক্ষান্তরে যদি তিনি অবস্থা সম্পর্কে অজ্ঞ থাকেন এবং না জানেন যে পানির অপবিত্রতা (نجاسة) তা ব্যবহারের পূর্বে ঘটেছে না পরে, অথবা অপবিত্রতা (نجاسة) তাকে সালাতের পূর্বে লেগেছে না পরে, তবে সর্বসম্মত অভিমত অনুযায়ী তার পবিত্রতা (طهارة) ও সালাত উভয়ই সঠিক (صحيح); যেহেতু তিনি মূল অবস্থার (الأصل) ওপর ভিত্তি করেছেন, আর মূল বিষয় হলো অপবিত্রতা (نجاسة) না থাকা।

নিষিদ্ধ পানির সাথে অনিষিদ্ধ পানির সংশয় দেখা দেওয়া

৫- যখন নিষিদ্ধ পানির সাথে এমন পানি যা নিষিদ্ধ নয় তার সংশয় দেখা দেয়, তখন তার বিধান কী?

উত্তর: যদি সংশয়টি অপবিত্র (نجس) পানির সাথে পবিত্রকারী (طهور) পানির মধ্যে হয় অথবা বৈধ (مباح) পানির সাথে হারাম (محرم) পানির মধ্যে হয়:

তবে উভয়টিই বর্জন করতে হবে এবং উভয়ের উপস্থিতি না থাকার সমান গণ্য হবে; কারণ বৈধ পবিত্রকারী (الطهور المباح) পানি ব্যবহারের সামর্থ্য তার নেই, তাই তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যেতে হবে।

তবে যদি তিনি পবিত্রকারী (طهور) পানি দ্বারা অপবিত্র (نجس) পানিকে পবিত্র করতে সক্ষম হন—যেমন পবিত্রকারী পানি অধিক পরিমাণ হওয়া এবং তার নিকট এমন পাত্র থাকা যা উভয় পানি ধারণ করতে পারে—তবে তিনি তা মিশ্রিত করবেন এবং উভয়ই পবিত্রকারীতে পরিণত হবে।

সঠিক (صحيح) মতানুসারে: অপবিত্র (نجس) পানির সাথে পবিত্রকারী (طهور) পানির সংশয় হওয়া অত্যন্ত সুদূরপরাহত; কারণ গুণাগুণের পরিবর্তন ব্যতীত পানি অপবিত্র (نجس) হয় না।

কিন্তু বিরল (نادرة) ক্ষেত্রে যখনই এ জাতীয় সংশয় দেখা দেবে, তখন উভয়টি থেকেই বিরত থাকতে হবে।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৪)
وإِن كَانَ الاشتِبَاهُ بين ماءٍ طَهُورٍ وَمَاءٍ طاهرٍ غَيرِ مُطَهِّرٍ:

عَلَى المذهَبِ تَوضأَ مِنهُمَا وُضُوءًا واحدًا من كُلِّ واحِدٍ منهُمَا غَرفَة وصَحت طَهَارَتُه؛ لأَن الطهُورَ يطهره والطاهِرُ لا يَضرُّه. فَإِنِ احتاجَ أحدهُمَا للشُّربِ تَحَرَّى في هَذِهِ الحَالِ وتطهر بما غلب على ظَنِّه، ثم تَيَمَّمَ احتِيَاطًا.

وعَلَى الْقَوْل الصَّحيح: لا تَتَصَوَّر المسأَلة؛ لأن الصحيح أَن الماء إِمَّا نَجِس أَو طَهُور، كما تَقدمَ.

الشَّك في النَّجَاسَة

6- إِذا شككنا في نجاسة شيء أو تَحرِيمهِ فما الطَّرِيق إِلى السَّلامَة؟

الجواب: الطريق إِلَى السَّلامَة: الرُّجُوع إِلى الأُصُولِ الشرعيةِ، والبناءُ عَلَى الأمور اليقِينيةِ.

فإن الأَصْلَ في الأشياء: الطهارةُ، والإِباحَةُ.

فما لم يَأْتنا أَمْز شَرعي يَقِينٌ؛ يُنْقلُ عَن هَذَا الأَصْلِ، وإِلا استَمسَكنَا به.

وأَدِلةُ هَذَا الأَصلِ مِن الكِتَابِ والسُّنة كثيرةٌ.

فعَلَى هَذَا الأَصلِ: إِذَا شَكَكْنَا في نَجاسَةِ مَاءٍ، أَو ثَوْب، أَو بَدَنٍ، أَو إِناءٍ، أَو غيرِ ذلكَ، فالأَصلُ الطهارةُ.

وكذلك: الأَصْل جوَازُ استعمَالِ الأَمْتِعَةِ، والأَواني، وَاللِّبَاس وَالالات، إلا مَا وَرَدَ تَحريمه عَن الشارِعِ.
যদি পবিত্র (طهور) পানি এবং পরিচ্ছন্ন কিন্তু পবিত্রকারক নয় এমন (طاهر غير مطهر) পানির মধ্যে সংশয় দেখা দেয়:

মাযহাব (المذهب) অনুযায়ী, উভয়টি থেকে এক এক অঞ্জলি নিয়ে উভয়টি দ্বারাই একবার অজু করবে এবং এতে তার পবিত্রতা (طهارة) সঠিক বলে গণ্য হবে; কারণ পবিত্র (طهور) পানি তাকে পবিত্র করবে এবং পরিচ্ছন্ন (طاهر) পানি তার কোনো ক্ষতি করবে না। যদি তাদের কোনো একটি পান করার প্রয়োজন হয়, তবে এই অবস্থায় সে বিচার-বিশ্লেষণ (تحرى) করবে এবং প্রবল ধারণার (غلب على ظنه) ভিত্তিতে যা অগ্রগণ্য হবে তা দিয়ে পবিত্রতা অর্জন করবে, অতঃপর সতর্কতা হিসেবে তায়াম্মুম (تيمم) করবে।

আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মতানুযায়ী: এই মাসআলাটি এখানে প্রযোজ্য নয়; কারণ বিশুদ্ধ (صحيح) কথা হলো পানি হয় অপবিত্র (نجس) অথবা পবিত্র (طهور), যেমনটি পূর্বে গত হয়েছে।

অপবিত্রতা (نجاسة) বিষয়ে সংশয়

৬- যদি আমরা কোনো কিছুর অপবিত্রতা (نجاسة) বা হারামের (تحريم) বিষয়ে সংশয়ে পড়ি, তবে পরিত্রাণ পাওয়ার উপায় কী?

উত্তর: পরিত্রাণের উপায় হলো: শরয়ি মূলনীতির (الأصول الشرعية) দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং নিশ্চিত বিষয়গুলোর (الأمور اليقينية) ওপর ভিত্তি করা।

কেননা বস্তুর মূল (الأصل) হলো: পবিত্রতা (طهارة) ও বৈধতা (الإباحة)।

সুতরাং যতক্ষণ না আমাদের কাছে নিশ্চিত (يقين) কোনো শরয়ি বিষয় আসবে যা এই মূলনীতি থেকে বিচ্যুত করে, ততক্ষণ আমরা একেই আঁকড়ে ধরব।

আর এই মূলনীতির (الأصل) সপক্ষে কিতাব ও সুন্নাহ থেকে অনেক দলিল রয়েছে।

অতএব এই মূলনীতির (الأصل) ভিত্তিতে: যদি আমরা পানি, কাপড়, শরীর, পাত্র বা অন্য কোনো কিছুর অপবিত্রতা (نجاسة) বিষয়ে সংশয়ে পড়ি, তবে তার মূল হলো পবিত্রতা (طهارة)।

একইভাবে: আসবাবপত্র, পাত্র, পোশাক ও যন্ত্রপাতির ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল (الأصل) হলো বৈধতা (جواز), যতক্ষণ না শরয়ি বিধানদাতার (الشارع) পক্ষ থেকে তার হারামের (تحريم) বিষয়ে কিছু বর্ণিত হয়।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৫)
وما أَنفَعَ هَذَا الأَصلَ وأكثرَ فائدته وأَجَلَّ عَائِدتَهُ على أَهلِ العِلمِ.

وهو مِن نِعَمِ اللَّه عَلَى عِبَادِهِ، وتيسِيرِهِ، وعَفْوِه، ونَفْيِهِ الْحَرِج عَنْ هذه الأمةِ، فلِلَّه الحمدُ وَالثِّنَاء.

حُكم استعمال الذهب والفضة

7- مَا حُكمُ استِعمَالِ الذهَبِ والفِضةِ؟

الجواب: وباللَّهِ التَّوفِيقُ.

يتَحرَّرُ جَوَابُه بِأَنْوَاع الاستِعمَالاتِ ودَرَجَاتِهَا.

فبَابُ اللباسِ أَخَفُّ مِن بَابِ الآنِيَة، وأَثقَلُ مِن بَابِ لباسِ الحرَبِ.

أما استعمال الذهب والفضة في الأواني ونَحوِهَا مِنَ الالاتِ:

فَلا يَجُوزُ: لا للذكُورِ، ولا لِلإِنَاثِ.

لا القليل مِنه، ولا الكَثِيرُ.

للعُمُومياتِ الناهيَةِ عنه المتوعِّدَةِ عَلَيهِ، وعدم المخصص.
এই মূলনীতিটি জ্ঞানপিপাসুদের জন্য কতই না উপকারী, কতই না ফলপ্রসূ এবং এর প্রতিদান কতই না মহান।

এটি তাঁর বান্দাদের প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে নেয়ামত, সহজিকরণ ও ক্ষমার বহিঃপ্রকাশ এবং এই উম্মত থেকে সংকীর্ণতা দূরীকরণস্বরূপ। সুতরাং আল্লাহর জন্যই সকল প্রশংসা ও স্তুতি।

সোনা ও রূপা ব্যবহারের বিধান

৭- সোনা ও রূপা ব্যবহারের বিধান কী?

উত্তর: আল্লাহর নিকটই তাওফিক প্রার্থনা করছি।

এর উত্তর ব্যবহারের বিভিন্ন ধরন এবং এর স্তরের ওপর ভিত্তি করে বিন্যস্ত হয়।

পোশাক-পরিচ্ছদের বিষয়টি পাত্র ব্যবহারের চেয়ে নমনীয়, তবে যুদ্ধকালীন পোশাকের চেয়ে কঠোর।

আর পাত্র এবং এ জাতীয় সরঞ্জামের ক্ষেত্রে সোনা ও রূপা ব্যবহারের বিষয়টি হলো:

তা জায়েজ নয়; পুরুষ বা মহিলা কারোর জন্যই নয়।

এর সামান্য পরিমাণও নয়, অধিকও নয়।

কারণ এ সম্পর্কে সাধারণ (عام) নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর শাস্তির হুশিয়ারি সংবলিত বর্ণনাসমূহ বিদ্যমান এবং এক্ষেত্রে কোনো বিশেষায়িত (مخصص) দলীল নেই।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৬)
إلا أنه يُسْتَثْنَى الشيءُ القَلِيلُ مِنَ الفِضةِ إِذا اُحْتِيجَ إِلَيهِ.

لأنه: لما انكَسَرَ قَدَحُ النبي صلى الله عليه وسلم؛ اتخذ مكَانَ الشّعَبِ سِلْسِلةَ مِن فضة، والحديثُ صَحِيح.

فهذَا وَمَا أَشبَهَهُ مِنَ الفضة: جائزٌ، لا مِنَ الذَّهْب.

وأَمّا بابُ اللباس والعَتَادِ: فأُبِيحَ ذلك للنِّسَاءِ؛ لحاجتهن إِلَى التزين، ولتميّز النِّسَاءِ عن الرجَالِ.

فجميعُ أَنواعِ الْحُلي المستَعْمَلِ للنِّسَاءِ جائزٌ قَلِيلُه وكَثِيرهُ.

وأما الرَّجُل: فَلَم يبحْ لَهُ شَيءٌ مِن ذَلِكَ إلا:

خاتم الفضة.

وحلية المنطقةِ من الفضة.

وكذلك من الذهَبِ والفضة مَا دعتْ إِليه حاجَتُه من أَنفٍ، أَو رباطِ أَسنانٍ، ونحوها.

وأَما لباس الْحَرِب:

فهو أَخفُّ من ذَلِكَ كُلِّه.
তবে সামান্য পরিমাণ রুপা এর ব্যতিক্রম হিসেবে গণ্য হবে যখন তার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

কেননা, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পানপাত্রটি ভেঙে গিয়েছিল, তখন তিনি সেই ফাটলের স্থানে রুপার একটি শিকল বা তার লাগিয়েছিলেন; আর এই হাদিসটি বিশুদ্ধ (صحيح)।

সুতরাং এটি এবং রুপার তৈরি অনুরূপ বিষয়সমূহ বৈধ, তবে সোনার ক্ষেত্রে এমনটি নয়।

আর পোশাক ও সরঞ্জামের পরিচ্ছেদে নারীদের জন্য অলঙ্কার ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে; তাদের সাজসজ্জার প্রয়োজনীয়তার কারণে এবং পুরুষদের থেকে নারীদের পৃথক সত্তা বজায় রাখার জন্য।

ফলে নারীদের ব্যবহারের জন্য সকল প্রকার অলঙ্কার বৈধ, তা পরিমাণে অল্প হোক কিংবা বেশি।

তবে পুরুষের ক্ষেত্রে এর কোনোটিই বৈধ নয়, কেবল নিচের বিষয়গুলো ব্যতীত:

রুপার আংটি।

কোমরবন্ধনীতে রুপার অলঙ্করণ।

অনুরূপভাবে সোনা ও রুপার তৈরি সেইসব বস্তু যা প্রয়োজনের তাগিদে ব্যবহার করা হয়, যেমন: কৃত্রিম নাক, দাঁত বাঁধানোর তার বা এই জাতীয় সরঞ্জাম।

আর যুদ্ধের পোশাকের ক্ষেত্রে বিষয়সমূহ:

উপরোক্ত সকল বিধিনিষেধের তুলনায় অধিক শিথিলযোগ্য।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৭)
فإنه يباحُ تَحلِيَةُ السيفِ، وَالرَّمْح، والبَارُودِ، ونحوها، بأَنواع الذَّهْب والفضَّةِ.

وكذلك الجوشنُ، والخوذَةُ، ونحْوُهَا.

وهذا التَّفصِيلُ المذكورُ في غيرِ الضَّرُورَة.

أَما الضَّرُورَة: فتُبِيحُ الذَّهْب والفِضةَ مطلقاً.

ما دَامَت الضرُورَةُ مَوجُودَةً؛ فإِن الضرُورَاتِ تُبِيحُ المحظُورَاتِ، كَما أبَاحَ اللَّهُ لَلْمُضْطَرّ أَكلَ الْميتَة، وَنَحْوِهَا.

حكم أجزاء الميتة

8- مَا حُكْمُ أَجْزَاءِ الْميتَة؟

الجواب: الْميتَة نَوعَانِ:

مَيتَةٌ طَاهِرَةٌ:

1- كَالسَّمْكِ.

2- وَالْجِرَاد.

3- ومَالا نَفْسَ لَهُ سائلةٌ.

4 - والآدَمي.

فهذِهِ أجزاؤها تَبَعٌ لها طَهَارَةً وحلاً.

والنَّوعُ الثَّانِي: الميتَةُ النَّجِسَةُ:

وهِيَ نوعانِ:
তলোয়ার, বল্লম, বারুদ এবং এই জাতীয় সরঞ্জামাদি বিভিন্ন প্রকার স্বর্ণ ও রৌপ্য দ্বারা অলঙ্কৃত করা বৈধ।

অনুরূপভাবে বর্ম, শিরস্ত্রাণ এবং এই জাতীয় সরঞ্জামও (বৈধ)।

আর উল্লিখিত এই বিস্তারিত বিবরণ জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত সাধারণ অবস্থার জন্য।

তবে জরুরি প্রয়োজন: তা সাধারণভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্য ব্যবহারকে বৈধ করে দেয়।

যতক্ষণ পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজন বিদ্যমান থাকে; কেননা জরুরি প্রয়োজনসমূহ নিষিদ্ধ বিষয়গুলোকে বৈধ করে দেয়, যেমন আল্লাহ তাআলা নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী ও তদ্রূপ বস্তু ভক্ষণ করা বৈধ করেছেন।

মৃত প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিধান

8- মৃত প্রাণীর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিধান কী?

উত্তর: মৃত প্রাণী দুই প্রকার:

পবিত্র মৃত প্রাণী:

1- যেমন মাছ।

2- এবং পঙ্গপাল।

3- এবং ঐ সকল প্রাণী যাদের প্রবহমান রক্ত নেই।

4 - এবং মানুষ।

সুতরাং এদের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পবিত্রতা ও বৈধতার ক্ষেত্রে মূল প্রাণীরই অনুগামী।

আর দ্বিতীয় প্রকার হলো: অপবিত্র মৃত প্রাণী:

আর তা দুই প্রকার:
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৮)
أحدُهُمَا: ما لا تفيد فِيهِ الذكاةُ كَالْكَلْبِ، والخنْزِيرِ، ونحوهما.

فهذه أجزاؤها كلها نَجِسَةٌ؛ ذكِّيَت أَمْ لا.

والثاني: ما تُفِيدُ فيه الذَّكَاةُ: كالإِبل والبقر والغَنَمِ والطيُورِ.

فَهَذِهِ أَجزاؤهَا ثَلاثَةُ أَقْسَامٍ.

1- قِسمٌ نَجِسٌ مُطْلقًا: كاللَّحم والشحمِ والمصرَان ونَحوِهَا.

2- وقِسْم طَاهِرٌ مُطلقًا: كالشعرِ والصُّوفِ والوَبَرِ والرَّيش.

3- وقسم فِيهِ خِلافٌ: وهو الجِلْدُ بَعدَ الدَّبْغ والعِظَام وَنَحْوهَا.

وَالْمَشْهُور مِنَ المذهَبِِ: بَقَاؤُهَا عَلَى نَجَاسَتِهَا، إلا أن الجِلْدَ بَعدَ الدَّبْغ يخف أمرُه فيُستَعمَلُ في اليَابِسَاتِ دُونَ المائعات.

والصَّحِيحُ: أَن الجلْدَ يَطْهُرُ بالدِّبَاغِ؛ للأَحَادِيث الصَّحِيحَة الصرِيحَةِ التي لا مُعَارِضَ لَهَا.

وكذَلِكَ الصَّحِيحُ: أن العِظَامَ طَاهِرَةٌ؛ لأَن العِلَّةَ في تَحرِيمِ الميتة - الذي هُوَ احتقان الفضولاتِ الخبيثَةِ فِيهَا - غَيرُ مَوجُودَة في العظَامِ واللَّهُ أعلم.
উভয়ের মধ্যে একটি হলো: যার ক্ষেত্রে যবেহ (ذكاة) কোনো উপকারে আসে না, যেমন কুকুর, শুকর এবং এই জাতীয় প্রাণী।

এগুলোর সমস্ত অংশই অপবিত্র (نجسة); চাই তা যবেহ (ذكاة) করা হোক বা না হোক।

আর দ্বিতীয়টি হলো: যার ক্ষেত্রে যবেহ (ذكاة) ফলপ্রসূ হয়: যেমন উট, গরু, ছাগল এবং পাখি।

এগুলোর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তিন ভাগে বিভক্ত।

1- এমন অংশ যা সর্বাবস্থায় অপবিত্র (نجسة): যেমন গোশত, চর্বি, নাড়িভুঁড়ি এবং এই জাতীয় বস্তু।

2- এমন অংশ যা সর্বাবস্থায় পবিত্র (طاهر): যেমন চুল, পশম, লোম এবং পালক।

3- এমন অংশ যার ব্যাপারে মতভেদ (خلاف) রয়েছে: আর তা হলো প্রক্রিয়াজাত করার পরের চামড়া, হাড় এবং এই জাতীয় কিছু।

মাযহাবের (المذهب) প্রসিদ্ধ (المشهور) মত হলো: এগুলো অপবিত্রতা (نجاسة) এর ওপরই বহাল থাকে, তবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার পর বিষয়টি কিছুটা শিথিল হয়, ফলে তা শুষ্ক জিনিসের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়, তরল জিনিসের ক্ষেত্রে নয়।

আর সঠিক (الصحيح) মত হলো: প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে চামড়া পবিত্র (طاهر) হয়ে যায়; কারণ এ বিষয়ে এমন অনেক বিশুদ্ধ (صحيحة) ও সুস্পষ্ট হাদিস রয়েছে যার কোনো বিরোধী বর্ণনা নেই।

অনুরূপভাবে সঠিক (الصحيح) মত হলো: হাড় পবিত্র (طاهر); কারণ মৃত প্রাণী (الميتة) হারাম হওয়ার যে কারণ (العِلَّةَ) — যা হলো তাতে দূষিত বর্জ্যের সমাবেশ — তা হাড়ের মধ্যে অনুপস্থিত। আর আল্লাহ্ই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ২৯)
الأشيَاءُ الموجِبَةُ للطَّهَارَةِ وما يتطهَّرُ لَهُ؟

9- مَا هي الأشياء الموجِبَة للطَّهَارَةِ الشرعية؟ وكيفية ذَلِكَ؟ وما يتطهَّر له؟

الجواب: الطهارَةُ نَوعَانِ:

1- كُبرى:

تُوجِبُ غَسْلَ البَدَنِ كُلِّهِ.

والَّذي يوجبها:

1- الجنَابَةُ: بوطء، أَو إِنزَالٍ، أَو بهما.

2-والحيض.

3- والنفاسُ.

4- وإسلام الكَافِرِ.

5- وموت غير الشهيدِ.

فهذه الأشياء، كُلّ وَاحِد منها يوجب غسلَ البَدَنِ كُلِّه.

2- والنَّوع الثَّاني: الطَّهَارَةُ الصُّغرى:

والَّذي يُوجِبُهَا شيئان:

أَحدُهُمَا: يوجب الاستنجَاءَ والاستِجمَارَ مَعَ غَسلِ الأَعضاءِ الأَرْبَعةِ وهو: جَمِيعُ الخارجِ مِنَ السبيلين من بَولٍ، وغَائِطٍ، ونَحوهِمَا ممَّا له جرمٌ.
পবিত্রতা (طهارة) অর্জন ওয়াজিবকারী বিষয়সমূহ এবং কিসের জন্য পবিত্রতা অর্জন করতে হয়?

৯- শরয়ী পবিত্রতা (طهارة شرعية) ওয়াজিবকারী বিষয়সমূহ কী কী? তার পদ্ধতি কেমন? এবং কিসের জন্য পবিত্রতা অর্জন করতে হয়?

উত্তর: পবিত্রতা (طهارة) দুই প্রকার:

১- বৃহৎ (كُبرى):

এটি পুরো শরীর ধৌত করা ওয়াজিব করে।

আর যা এটি ওয়াজিব করে:

১- অপবিত্রতা (جنابة): সহবাসের মাধ্যমে, অথবা বীর্যপাতের মাধ্যমে, অথবা উভয়ের মাধ্যমে।

২- ঋতুস্রাব (حيض)।

৩- নিফাস (نفاس) বা প্রসবোত্তর রক্তস্রাব।

৪- অমুসলিমের ইসলাম গ্রহণ।

৫- শহীদ ব্যতীত অন্য কারো মৃত্যু।

এই বিষয়গুলো, এগুলোর প্রতিটিই পুরো শরীর ধৌত করা ওয়াজিব করে।

২- দ্বিতীয় প্রকার: ক্ষুদ্র পবিত্রতা (طهارة صغرى):

আর যা এটি ওয়াজিব করে তা দুটি বিষয়:

তার একটি: যা ইস্তিঞ্জা (استنجاء) এবং ইস্তিঝমার (استجمار) এর সাথে সাথে চারটি অঙ্গ ধৌত করা ওয়াজিব করে, আর তা হলো: দুই রাস্তা দিয়ে নির্গত প্রস্রাব, মল এবং সমজাতীয় বস্তু যার কোনো অবয়ব আছে।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩০)
فَهَذَا إِذَا حَصَلَ أَوجَبَِ:

إِمَّا الاستجمارَ بِثَلاثِ مَسْحَاتٍ منقِّيَةٍ بأَحجَارٍ وَنَحْوهَا، غير الرَّوَثِ والعظَامِ، وَالأَشْيَاء المحترَمَة.

وإِمَّا الاستنْجاء بمَاءٍ يُزِيلُ الخارج حتَّى يعود المحلُّ كما كان قبل خروج الخارجِ.

والجمع بين الأَمرين أكمَلُ، ويجوز الاقتصار عَلَى أَحَدِهِمَا.

والشيء الثَّانِي: يُوجِب غَسْلَ الأَعْضَاءِ الأربعَةِ فَقَط، وذلك.

ا-كالريحِ.

2- والنَّومِ الكَثِيرِ.

3- ومسِّ الفَرجِ بِالْيَدِ.

4- وَمسِّ المرأَةِ بشَهْوَةٍ.

5- وأكلِ لحومِ الإِبِلِ.

وتجتمِع الأَحداثُ الكُبرَى بِالْمَنْعِ مِنَ:

ا - الصَّلاةِ.

2- وَالطَّوَاف.

3- ومسِّ المصحَفِ.

4- وقراءَةِ القُرآنِ.
সুতরাং এটি যখন সংঘটিত হয়, তখন তা আবশ্যক করে:

হয় পাথর বা অনুরূপ বস্তুর মাধ্যমে তিনটি পরিষ্কারক মোছার দ্বারা ইস্তিজমার করা, যা গোবর, হাড় এবং কোনো সম্মানীয় বস্তু ব্যতীত হতে হবে।

অথবা পানির মাধ্যমে ইস্তিনজা করা যা নির্গত নাপাকিকে এমনভাবে দূরীভূত করে যাতে সংশ্লিষ্ট স্থানটি তার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে।

উভয় পদ্ধতির সমন্বয় করা অধিকতর পূর্ণাঙ্গ, তবে যেকোনো একটির ওপর সীমাবদ্ধ থাকা বৈধ।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি: যা কেবল চারটি অঙ্গ ধৌত করাকে আবশ্যক করে, আর তা হলো—

১- বায়ু নিঃসরণের মতো।

২- অধিক সময় নিদ্রা।

৩- হাত দিয়ে লজ্জাস্থান স্পর্শ করা।

৪- কামভাবের সাথে নারীকে স্পর্শ করা।

৫- উটের গোশত ভক্ষণ করা।

বড় অপবিত্রতাসমূহ যে বিষয়গুলো নিষিদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে একত্রিত হয়:

১ - সালাত।

2- তাওয়াফ।

3- মুসহাফ স্পর্শ করা।

4- কুরআন তিলাওয়াত করা।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩১)
5- واللبثِ في المسجِدِ.

وينفرد الحيضُ والنِّفاسُ منها بمَنْعِ:

ا- الصَّومِ.

2- وَالطَّلاق.

3- والوطءِ في الفَرجِ.

وتشاركُهَا الأحداثُ الصُّغْرَى في المنْعِ مِنَ الثلاثَةِ الاُوَُلِ.

وَمَتَى تَمتِ الطَّهَارَةُ بِنَوعَيْهَا: أُبيحَتْ جَمِيعُ الأَشيَاءِ المَمْنُوعَةِ.

وقد عُلِمَ بهذا التَّفصيلِ ما يُتَطَهَّرُ له وُجُوبًا. وَأَمَّا ما يُتَطَهَّرُ لَهُ استِحبَابًا:

فتُسْتَحَبُّ الطِّهَارَتَانِ الكُبرَى والصّغرَى لـ:

1- الأَذَانِ.

2- وأَنواعِ الذَّكَر.

3- وَالْخُطَب.

4 - وللإِحرَامِ.

5- وَدُخُولِ مَكَّةَ.

6- والوقوفِ بعَرَفَةَ.
৫- এবং মসজিদে অবস্থান করা।

আর ঋতুস্রাব (حيض) ও প্রসবোত্তর স্রাব (نفاس) নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিষিদ্ধকরণের ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র:

১- রোজা (صوم)।

২- এবং তালাক (طلاق)।

৩- এবং যৌনাঙ্গে সহবাস (وطء)।

আর ছোট অপবিত্রতা (الحدث الأصغر) প্রথম তিনটি বিষয় নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে এগুলোর অন্তর্ভুক্ত।

যখন উভয় প্রকার পবিত্রতা (طهارة) সম্পন্ন হবে, তখন নিষিদ্ধ সকল বিষয় বৈধ হয়ে যাবে।

এই বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে জানা গেল যে, কোন বিষয়গুলোর জন্য পবিত্রতা অর্জন করা ওয়াজিব (واجب)। আর যে বিষয়গুলোর জন্য পবিত্রতা অর্জন করা মুস্তাহাব (مستحب):

সুতরাং বড় ও ছোট উভয় প্রকার পবিত্রতা (طهارة) অর্জন মুস্তাহাব (مستحب) নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর জন্য:

১- আযান (أذان)।

২- এবং বিভিন্ন প্রকার জিকির (ذكر)।

৩- এবং খুতবাসমূহ (خطب)।

৪ - এবং ইহরামের (إحرام) জন্য।

৫- এবং মক্কায় প্রবেশের জন্য।

৬- এবং আরাফায় অবস্থানের (وقوف) জন্য।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩২)
7- وَلِلإِفَاقَةِ مِن: إِغْمَاء أَوْ جُنُون.

8 - وَللأَكْلِ، 9 - وَالنَّوْم.

الأَعضَاءُ المَمْسُوحَةُُُ في الطَّهَارَةِ وَكَيْفِيَّةِ ذَلِكَ

10- مَا هِيَ الأَعضَاءُ الْمَمْسُوحَة فِي الطَّهَارَةِ؟ وَكَيْفِيَّةِ ذَلِكَ؟

الجواب:

أمَّا طَهَارَةُ التَّيمّمِ:

فتشترك الطَََََََّهَارَتَانِ الكُبرَى والصُّغرَى:

بِوُجُوب مسحِ المتيمِّمِ بِوَجْهِهِ جميعِه وَيَدْيه إِلَى الْكُوعَيْنِ.

حيث تعذَّرَ استِعمَالُ الماءِ؛ لعَدَمِهِ، ولضَرَرٍ يُلحَقُ بِاسْتِعْمَالِهِ؟ عَلَى مَا هُوَ مُفَصَّلٌ فِي بَابه، وَلكِنَّهُ رَاجِع إِلَى هَذَا الضابِطِ.

ومن الحِكمَةِ في أن الطَّهَارَتَيْنِ في التيمم تَسَاوَتَا في ذَلِكَ:

أَنَّ البَدَلَ لا يَجِبُ أَن يُسَاوِيَ الْمُبْدَل مِنْهُ، بل يَحْصُلُ فِيهِ من التَّخفِيفِ بِحَسَبِ الحَالِ المناسِبَةِ وهَذَا مِنْهُ.

ولأن القَصْدَ التَّعَبُّدُ لِلَّهُِ بتعفِيرِ الوَِجهُِ واليَدَينِ بالتُّرَابِ، وَلِيَسْ فِيَهُ نَظَافَة حِسِّيَّة فاشتَرَكَا.

وَأَمَّا طَهَارَةُ الْمَاء:

فالطَّهَارَةُ الكُبْرَى:
7- আর মূর্ছা যাওয়া বা পাগলামি থেকে সচেতনতা ফিরে পাওয়ার জন্য।

8 - আহার করার জন্য, 9 - এবং ঘুমানোর জন্য।

পবিত্রতা অর্জনে মাসেহ (مسح) করা অঙ্গসমূহ এবং তার পদ্ধতি

10- পবিত্রতা অর্জনে মাসেহ (مسح) করা অঙ্গসমূহ কী কী? এবং তার পদ্ধতি কী?

উত্তর:

তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে:

এক্ষেত্রে বড় পবিত্রতা (طهارة كبرى) এবং ছোট পবিত্রতা (طهارة صغرى) উভয়ই সমান:

তায়াম্মুমকারীর জন্য তার পুরো মুখমণ্ডল এবং কব্জি পর্যন্ত উভয় হাত মাসেহ (مسح) করা ওয়াজিব (واجب) হওয়ার ক্ষেত্রে।

যেখানে পানি না থাকার কারণে অথবা ব্যবহারের ফলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকার কারণে পানি ব্যবহার করা অসম্ভব হয়ে পড়ে; যেমনটি এর সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, তবে তা এই মূলনীতির (ضابط) দিকেই ফিরে যায়।

তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে উভয় প্রকার পবিত্রতা সমান হওয়ার হিকমত (حكمة) বা রহস্য হলো:

নিশ্চয়ই বিকল্প (بدل) বস্তুকে মূল (مبدল منه) বস্তুর সমপর্যায়ের হওয়া আবশ্যক নয়, বরং উপযুক্ত অবস্থা অনুযায়ী এতে সহজীকরণ (تخفيف) করা হয় এবং এটিও তারই অন্তর্ভুক্ত।

কারণ এর মূল উদ্দেশ্য হলো মুখমণ্ডল ও উভয় হাত মাটি দ্বারা ধূলিময় করার মাধ্যমে আল্লাহর ইবাদত (تعبد) করা; এতে কোনো বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নেই, তাই উভয় অবস্থা এক্ষেত্রে সমান।

আর পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে:

বড় পবিত্রতা (طهارة كبرى):
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩৩)
لا مَسْحَ فِيهَا لا عضو أَصْليّ، وَلا شَيء مِنَ الْحَوَائِل الْمَوْضُوعَة عَلَى الأعضَاءِ للحَاجَةِ إِليهَا.

إلا الْجَبِيرَة الْمَوْضُوعَة عَلَى كَسْرٍ أو جرحٍ؛ فإِنَّها تُمسَحُ كُلُّهَا في الطَّهَارَتَيْنِ للضرُورَةِ.

وَلِذَلِكَ لا تَوْقِيت لَهَا، بَل تُمسَحُ مَادَامَتْ عَلَى الْعُضْو المحتَاجِ إِلَيهَا.

وَأَمَّا الطهَارَةُ الصُّغرَى:

فَالْمَمْسُوح فيها نَوَعَان: أَصليٌّ وَحَوَائِل عَوَارِض.

أمَّا الأَصليُّ: فَهُوَ مَسحُ الرأس وَالأُذُنِينَ.

فَيَجِب مَسْحُ ذَلِكَ كُلِّهُ كلَّما وَجَبَتْ الطَّهَارَةُ.

وَيَصِيرُ حُكْمُهُ حُكْمَ الأَعْضَاءِ الْمَغْسُولَة ببَقَاءِ الطَّهَارَةِ حَتّى وَلَوْ زَالَ شَعْرُ الرَّأْسِ بَعْدَ الطَّهَارَةِ لم تَنتَقِضِ الطَّهَارَةُ إلا بِنَوَاقِضِهَا المعرُوفَةِ.

وَأَمَّا الْحَوَائِل العَوَارِضُِ: فالعمَامَةُ عَلَى الرَّأْسِ للرَّجُلِ.

- وَكَذَلِكَ الخمارُ للمَرْأَةِ، حَيثُ حَصَلَ نَوْع مشَقةٍ بنَزع ذَلِكَ.

- ومَا يُلْبَسُ في الرِّجلِ مِنْ خفّ وَنَحْوه للرَّجُلِ وَالْمَرْأَة، فَهَذِهِ للمَسْحِ عَلَيهَا شُرُوطٌ، وَهي تَقَدُّمُ الطَّهَارَةِ بِالْمَاءِ بأَن يلْبِسَهَا وَهُوَ طاهرٌ كامل الطَّهارَةِ قَوْلاً وَاحِدًا في هذا كُلِّهِ.

وَيُشْتَرَطُ أَيضًا عَلَى المذْهَبِِ: أَنْ يَكُونَ الخفُّ سَاتِرًا سترًا تَامًّا، لا فَتْقَ
এতে (গোসলের ক্ষেত্রে) মূল কোনো অঙ্গের ওপর মাসেহ নেই, এবং প্রয়োজনে অঙ্গের ওপর রাখা কোনো আবরণের ওপরও মাসেহ করার বিধান নেই।

তবে ভাঙা বা ক্ষতের ওপর লাগানো পট্টি (جبيرة) এর ব্যতিক্রম; কেননা প্রয়োজনের তাগিদে উভয় প্রকার পবিত্রতার (ওজু ও গোসল) ক্ষেত্রে এর সম্পূর্ণ অংশের ওপর মাসেহ করতে হয়।

আর এই কারণেই এর জন্য কোনো সময়সীমা নির্ধারিত নেই, বরং যতক্ষণ পর্যন্ত ঐ অঙ্গের ওপর এটির প্রয়োজনীয়তা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত মাসেহ করা যাবে।

আর ছোট পবিত্রতার (ওজু) ক্ষেত্রে:

এতে মাসেহযোগ্য বিষয় দুই প্রকার: মৌলিক এবং আপতিত আবরণ।

মৌলিক মাসেহ হলো: মাথা ও কান মাসেহ করা।

সুতরাং যখনই পবিত্রতা অর্জন আবশ্যক হবে, তখনই এগুলোর সম্পূর্ণ অংশ মাসেহ করা ওয়াজিব হবে।

পবিত্রতা বজায় থাকার ক্ষেত্রে এর বিধান ধৌত করা অঙ্গসমূহের বিধানের মতোই হবে, এমনকি পবিত্রতা অর্জনের পর মাথার চুল কেটে ফেললেও পবিত্রতা নষ্ট হবে না—যতক্ষণ না তা সুপরিচিত ভঙ্গকারী বিষয়সমূহের (نواقض) মাধ্যমে বিনষ্ট হয়।

আর আপতিত আবরণসমূহ হলো: পুরুষের মাথার পাগড়ি।

- অনুরূপভাবে নারীদের ওড়না, যেখানে তা খোলার ক্ষেত্রে এক ধরনের কষ্ট বা অসুবিধার সৃষ্টি হয়।

- এবং নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পায়ে পরিহিত চামড়ার মোজা (خف) বা তদ্রূপ কিছু; এর ওপর মাসেহ করার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। আর তা হলো—পানির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনের পর তা পরিধান করা, অর্থাৎ পূর্ণ পবিত্র (طاهر) অবস্থায় তা পরিধান করা। এ বিষয়ে এটিই একমাত্র নির্ভরযোগ্য অভিমত।

মাযহাব অনুযায়ী আরও শর্ত হলো: মোজা (خف) যেন পরিহিত স্থানকে পূর্ণরূপে আবৃত করে এবং তাতে কোনো ছিদ্র বা ছেঁড়া না থাকে।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩৪)
فَيهَ وَلا خَرقَ، لا صغير وَلا كَبِير.

والصَّحِيحُ: عَدَمُ اعتِبَارِ هَذَا الشَّرْطِ؛ لعُمُوِمَاتِ النُّصُوص المبيحة للمَسْحِ عَلَيْها مِن دُون قَيدٍ، مَعَ أنه لوِ كَانَ شَرطًا لَبيّنَه الشَّارِع بيانًا وَاضحًا لشدَّة الْحَاجَة إِلَيْهِ.

ولأَنهُ يعلم أَن خفافَ الصَّحَابَةِ رضي الله عنهم لا تَخلُوِ مِنْ فَتقٍ أَو شَقّ، وَلِذَلِكَ عَفَا الأصحَابُ في العمَامَةِ عن بروز بَعضِ الرَّأْسِ الذي جَرَتْ بهُ العَادَةُ.

فَدَلّ عَلَى: أَن العَادَةَ لها حُكمٌ وَاعْتِبَار في هَذَا الْوَضْع.

وَأَمَّا كيفية مَسْحِ ذَلِكَ:

فلا يجبِ استِيعَابُهُ بَل يَكفِي فِيهَ أَكثرُ ظَاهِرِ الخفينِ وأَكْثَرُ العِمَامَةِ والخمار؛ لأنه لما انتقل إِلَى المسْحِ وَسهل فِيهَ زَادَتِ السُّهُولَة بعدم وُجُوب الاستيعاب.

وَهَذَا النَّوْع من المسْحِ مُخْتَصّ بالطَّهَارَةِ الصُّغْرَى.

وَلذَلِكَ وُقّتَ فِيهِ: لِلْمُقِيمِ يوم وَلَيْلَة، وَلَلْمَسَافِر ثَلاثةُ أَيامٍ بِلَيَالِيهَا.
তাতে কোনো ছিদ্র বা ছেঁড়া থাকবে না, ছোট হোক বা বড়।

আর বিশুদ্ধ (الصحيح) মত হলো: এই শর্তটি বিবেচনাযোগ্য নয়; কারণ মোজার ওপর মাসেহ করার অনুমতি প্রদানকারী দলিলসমূহের ব্যাপকতা কোনো শর্তারোপ করেনি। তাছাড়া এটি যদি কোনো শর্ত হতো, তবে প্রয়োজনের তীব্রতার কারণে শরয়ি বিধানদাতা তা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করতেন।

কেননা এটি জানা কথা যে, সাহাবীগণের (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) চামড়ার মোজাগুলো ছিদ্র বা ছেঁড়া থেকে মুক্ত ছিল না। আর এই কারণেই আলেমগণ পাগড়ির ক্ষেত্রে মাথার কিছু অংশ উন্মুক্ত থাকাকে মার্জনা করেছেন, যা সাধারণত হয়ে থাকে।

এটি নির্দেশ করে যে: এই ক্ষেত্রে প্রথা বা অভ্যাসের একটি বিধান ও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।

আর তা মাসেহ করার পদ্ধতি হলো:

পুরোটা মাসেহ করা আবশ্যক নয়, বরং মোজার উপরিভাগের অধিকাংশ এবং পাগড়ি ও ওড়নার অধিকাংশ মাসেহ করাই যথেষ্ট। কেননা যখন মাসেহের বিধানে সহজতা প্রদান করা হয়েছে, তখন পুরোটা মাসেহ করা আবশ্যক না করার মাধ্যমে সেই সহজতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

আর এই প্রকারের মাসেহ কেবল ছোট পবিত্রতার জন্য নির্ধারিত।

এই কারণেই এতে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে: মুকিমের জন্য এক দিন ও এক রাত এবং মুসাফিরের জন্য তিন দিন ও তিন রাত।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩৫)
وَالابْتِدَاء: مِنَ الحَدَثِ عَلَى الْمَشْهُور مِنَ الْمَذْهَب؛ لأَنَّهُ السَّببُ المُوجِبُ.

وَعلى الصَّحِيحِ: الابتداءُ مِن أَوَّلِ المسْحِ.

لأَن النَّبِي صلى الله عليه وسلم جَعَلَ هَذِهِ المدةَ كُلَّهَا تمسحُ.

ثم ما كَانَ مَمْسُوحًا، لا يُشْرَعُ فِيهِ تكرارٌ، بل مرَّةٌ واحدةٌ كافيةٌ.

وهَذَا النَّوْع الأَخِيرُ هَل إذا زَالَ الْمَمْسُوح وَالطَّهَارَة باقِيَة تَبْطُلُ الطَّهَارَةُ بِزَوَالِهِ كما هُوَ المذهبُ، أو الطَّهَارَةُ بَاقِيَةٌ ما لم يُوجَد ناقِضٌ شَرعيٌّ؟

وَهَذَا هُوَ الصَّحِيحُ: ولا فرقَ في الحقيقة بينَ زَوَالِ الخُفِّ وَزوَال شَعرِ الرَّأسِ.

وَكَذَلِكَ الخِلافُ إذا تمَّتِ المدةُ، هل تُنتقَضُ الطَّهَارَةُ أَوْ تَزُولُ مُدَّةُ المَسْحِ فَقَط، وَهُوَ الصَّحِيحُ.

وهَذَا الْقَوْلُ الصَّحِيح: في الْمَسْأَلَتَيْنِ هَذَا هُوَ أَحد القَوْلَينِ في الْمَذْهَبِ اختَارَهُ جماعَةٌ مِنَ الأصحَابِ وَاللْهُ أَعلَمُ.

إيصَالُ الطّهارَة إِلَى مَا تحَتَ الشَّعر كَاللِّحْيَةِ

11- هَل يَجِبُ إِيصَالُ الطَّهارَةِ إِلَى مَا تَحتَ الشّعرِ كَاللِّحْيَةِ وَنَحوِهَا أَم لا؟

الْجوَاب:
এবং সময় গণনা শুরু হবে: মাজহাবের প্রসিদ্ধ (مشهور) মত অনুযায়ী অপবিত্রতা থেকে; কারণ এটিই হচ্ছে মাসেহ ওয়াজিব হওয়ার কারণ।

আর বিশুদ্ধ (صحيح) মতানুসারে: মাসেহ শুরুর সময় থেকে গণনা শুরু হবে।

কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই পুরো সময়টিকেই মাসেহ করার জন্য নির্ধারণ করেছেন।

অতঃপর যা একবার মাসেহ করা হয়েছে, তাতে পুনরাবৃত্তি করা শরিয়তসম্মত নয়, বরং একবার করাই যথেষ্ট।

আর এই শেষ প্রকারের ক্ষেত্রে, মাসেহকৃত বস্তু অপসারিত হলে এবং পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকলে, তা অপসারিত হওয়ার কারণে কি পবিত্রতা বাতিল হয়ে যাবে—যেমনটি মাজহাবে রয়েছে—নাকি কোনো শরয়ী ভঙ্গকারী না পাওয়া পর্যন্ত পবিত্রতা অবশিষ্ট থাকবে?

আর এটিই বিশুদ্ধ (صحيح) মত: প্রকৃতপক্ষে মোজা খুলে ফেলা এবং মাথার চুল মুণ্ডন করার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

অনুরূপভাবে মতভেদ রয়েছে যখন (মাসেহের) সময়সীমা শেষ হয়ে যায়, তখন কি পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যাবে নাকি শুধু মাসেহের সময়সীমা শেষ হবে? আর এটিই বিশুদ্ধ (صحيح) মত।

উভয় মাসআলার ক্ষেত্রে এই বিশুদ্ধ (صحيح) বক্তব্যটি মাজহাবের দুটি মতের একটি, যা একদল ফকিহ পছন্দ করেছেন। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

দাড়ির মতো চুলের নিচের অংশে পবিত্রতা পৌঁছানো

১১- দাড়ির মতো চুলের নিচের অংশে পবিত্রতা পৌঁছানো কি আবশ্যিক নাকি নয়?

উত্তর:
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩৬)
أمَّا التيمم: فيكفي مَسْحُ ظَاهِرِ الشَّعْرِ، خَفِيفًا كَانَ أو كَثِيفًا، في الحَدَثِ الأَكْبَرِ والأَصْغَرِ.

وأما طَهَارَةُ الماء:

- فإن كَانَ الحَدَثُ أَكبر: فلابد من إِيصَال الْمَاء إِلَى بَاطِنِ الشَّعْرِ كَظَاهِرِهِ [خَفِيفًا كَانَ أو كثيفًا.

- فإن] كَانَ الحَدَث أصغَرَ: فَيَجِب إِيصَاله إِلَى بَاطِنِ الشَّعْرِ الخَفِيفِ، وَهَوّ الَّذِي تُرَى البَشرَةُ مِن وَرَائِهُ، ويَكْفِي ظَاهِرُ الشَّعرِ الكَثِيفِ.

وَيُسَنُّ: إِيصَاله إِلى بَاطِنِه في شَعْرِ الْوَجْه دُونَ شَعْرِ الرَّأْسِ.

كيفية تطير الأشياء المتنجسة

12- عَن كَيفِيَّةِ تَطهِيرِ الأشيَاءِ المتنجِّسَةِ وَهَل يَجِبُ للصَّلاةِ أَمْ لا؟

الْجوَاب: النَّجاسَاتُ ثلاثةُ أَنْوَاع:

1- خَفِيف 2 - وثَقِيلٌ 3- وَمُتَوَسَّط.

(1) فأَمَّا الخَفِيفُ مِنَ النَّجَاسَات:

فمثل: بَوْل الغُلامِ الصَّغِيرِ، الَّذِي لم يأكل الطَّعَامَ لشهوة.
তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে: চুলের উপরিভাগ মাসেহ (مسح) করা যথেষ্ট, তা পাতলা হোক বা ঘন, বড় অপবিত্রতা (الحدث الأكبر) এবং ছোট অপবিত্রতা (الحدث الأصغر) উভয় ক্ষেত্রেই।

আর পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে:

- যদি বড় অপবিত্রতা (الحدث الأكبر) হয়: তবে চুলের উপরিভাগের মতো তার গোড়ায় পানি পৌঁছানো আবশ্যক [তা পাতলা হোক বা ঘন হোক।

- আর যদি] ছোট অপবিত্রতা (الحدث الأصغر) হয়: তবে পাতলা চুলের গোড়ায় পানি পৌঁছানো ওয়াজিব (واجب), আর তা হলো এমন পাতলা চুল যার মধ্য দিয়ে চামড়া দেখা যায়। আর ঘন চুলের ক্ষেত্রে শুধু উপরিভাগ ধোয়াই যথেষ্ট।

এবং সুন্নাত (مسنون) হলো: চেহারার চুলের ক্ষেত্রে গোড়ায় পানি পৌঁছানো, মাথার চুলের ক্ষেত্রে নয়।

নাপাক (متنجس) বস্তুসমূহ পবিত্র করার পদ্ধতি

12- নাপাক বস্তুসমূহ পবিত্র করার পদ্ধতি সম্পর্কে এবং নামাজের জন্য তা করা কি ওয়াজিব (واجب) নাকি নয়?

উত্তর: নাপাকি (نجاسات) তিন প্রকার:

1- হালকা (خفيف) 2 - ভারী (ثقيل) 3- মধ্যম (متوسط)।

(1) নাপাকির মধ্যে যা হালকা (خفيف):

যেমন: এমন ছোট শিশুর পেশাব, যে খাবারের প্রতি আসক্তি নিয়ে এখনও খাবার গ্রহণ শুরু করেনি।
(খণ্ড: ১) ইরশাদু উলিল বাসাইরি ওয়াল আলবাব লিনাইলিল ফিকহি বি-আকরাবিত তুরুকি ওয়া আইসারিল আসবাব (পৃষ্ঠা: ৩৭)
فهذا يكفِي فيه غَمْرُهُ بِالْمَاءِ مَرَّةً وَاحِدَةً؛ قَوْلاً وَاحِدًا في الْمَذْهَبِ.

كمَا صَحت به الأحادِيثُ.

و «قَيْؤُهُ» أَخَفُّ حُكمًا من «بَوْلِهِ» .

وَكَذَلِكَ عَلَى الصَّحيحِ «المذي» : فإنَّهُ يكفي فِيهِ النَّضحُ.

كَما ثَبَتَ بِهِ الحَدِيث.

وَهُوَ الْمُوَافَق لحكمةِ المشقةِ.

- وَمِثْلُه: النَّجَاسَةُ عَلَى أَسفلِ الخُفِّ وَالحِذَاءِ وَنَحْوه فيكفي مَسْحُهَا بالأَرْضِ وَالتِّرَاب.

كما صَحتْ بِهِ الأحَادِيث.

وَهُوَ الْمُوَافَق للحكمَةِ الشرعية.
এক্ষেত্রে এটি একবার পানিতে নিমজ্জিত করাই যথেষ্ট; মাযহাবের একক অভিমত অনুযায়ী।

যেমনটি হাদিসসমূহ দ্বারা সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে।

আর এর ‘বমি’র বিধান এর ‘প্রস্রাব’ অপেক্ষা শিথিলতর।

তদ্রূপ সহিহ (صحيح) মতানুসারে ‘মাজি’: এক্ষেত্রে পানি ছিটিয়ে দেওয়াই যথেষ্ট।

যেমনটি হাদিস দ্বারা সাব্যস্ত হয়েছে।

আর এটি কষ্ট লাঘবের হিকমতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

- তদ্রূপ: মোজা, জুতো বা এ জাতীয় বস্তুর নিচে নাপাকি লেগে থাকলে তা মাটি বা ধুলোবালি দ্বারা মুছে ফেলাই যথেষ্ট।

যেমনটি হাদিসসমূহ দ্বারা সহিহ (صحيح) প্রমাণিত হয়েছে।

আর এটি শরয়ি হিকমতের সাথে সংগতিপূর্ণ।