(খণ্ড: ১) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: -)
الحكم بغير ما أنزل الله - المحياني - ط 1437   (بندر المحياني العتيبي)

القسم: العقيدة


الكتاب: الحكم بغير ما أنزل الله - مناقشة تأصيلية علمية

ويليه: الفتوى المتأخرة لابن عثيمين رحمه الله، تُطبع لأول مرة

المؤلف: بندر المحياني

الناشر: يُطلَب من المؤلف

الطبعة: الثانية، 1437 هـ - 2016 م

عدد الصفحات: 152

[ترقيم الكتاب موافق المطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 10 جُمادَى الآخرة 1442

আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচার ফয়সালা - আল-মুহাইয়ানি - সংস্করণ ১৪৩৭   (বান্দর আল-মুহাইয়ানি আল-উতাইবি)

বিভাগ: আকিদাহ


গ্রন্থ: আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচার ফয়সালা - একটি তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক আলোচনা

এবং এর সাথে রয়েছে: ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ)-এর পরবর্তীকালের ফতোয়া, যা প্রথমবারের মতো মুদ্রিত হয়েছে

লেখক: বান্দর আল-মুহাইয়ানি

প্রকাশক: লেখকের নিকট থেকে সংগ্রহযোগ্য

সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৫২

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রণের অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ১০ জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২

(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١)
الحكم بغير ما أنزل الله

مناقشة تأصيلية علمية هادئة
আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতিরেকে শাসনকার্য পরিচালনা

একটি মৌলিক, জ্ঞানতাত্ত্বিক ও ধীরস্থির আলোচনা
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢)
بندر بن نايف المحياني العتيبي

الطبعة الثانية

بندر نايف المحياني العتيبي، 1427 هـ

 

الطبعة الثانية

1437 ه - 2016 م

حقوق الطبع والتوزيع محفوظة للمؤلف
বান্দর বিন নায়েফ আল-মুহয়ানি আল-উতايبي

দ্বিতীয় সংস্করণ

বান্দর নায়েফ আল-মুহয়ানি আল-উতايبي, ১৪২৭ হিজরি

 

দ্বিতীয় সংস্করণ

১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ

মুদ্রণ ও বিতরণের সকল স্বত্ব গ্রন্থকারের সংরক্ষিত
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٤)
بسم الله الرحمن الرحيم
পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٥)
تقديم

 

بسم الله الرحمن الرحيم

 

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على نبينا محمد وعلى آله وأصحابه أجمعين، أما بعد:

فقد قرأت جزءاً من الكتاب الذي ألّفه الشيخ /بندر بن نايف العتيبي، والموسوم بـ (مناقشة تأصيلية علمية لمسألة الحكم بغير ما أنزل الله)، وقد أجاد فيه وأفاد، وبيَّن موقف أهل السنة والجماعة ممن حكم بغير ما أنزل الله، مدعماً ما ذكره بالأدلة الشرعية من الكتاب والسنة، وأقوال وفتاوى الأئمة المعتبرين من علماء هذه الأمة.

فأسأل الله العلي القدير أن يجزي المؤلف خير الجزاء وأن ينفع به وبكتابه المسلمين إنه سميع مجيب، وصلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

 

عضو هيئة كبار العلماء

محمد بن حسن بن عبد الرحمن آل الشيخ

1/ 2 / 1427 هـ
ভূমিকা

 

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

 

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীগণের ওপর শান্তি ও রহমত বর্ষিত হোক। অতঃপর:

আমি শায়খ বান্দর বিন নায়েফ আল-উতাইবি রচিত ‘আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচার-ফয়সালার বিষয়ের একটি মৌলিক ও তাত্ত্বিক আলোচনা’ শীর্ষক গ্রন্থটির একাংশ পাঠ করেছি। তিনি এতে অত্যন্ত চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন এবং আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচারকারী ব্যক্তিদের ব্যাপারে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি তাঁর বক্তব্যের স্বপক্ষে কুরআন ও সুন্নাহর শরয়ি দলীল এবং এই উম্মতের নির্ভরযোগ্য আলেমদের উক্তি ও ফতোয়া দ্বারা সমর্থন যুগিয়েছেন।

আমি মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন লেখককে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন এবং তাঁর মাধ্যমে ও তাঁর এই কিতাবের মাধ্যমে মুসলিমদের উপকৃত করেন। নিশ্চয়ই তিনি প্রার্থনা শ্রবণকারী ও কবুলকারী। আর আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীদের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক।

 

সদস্য, জ্যেষ্ঠ আলেম পরিষদ (হাইআতু কিবারিল উলামা)

মুহাম্মদ বিন হাসান বিন আব্দুর রহমান আল-শেখ

১/ ২/ ১৪২৭ হিজরি
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٧)
بسم الله الرحمن الرحيم

 

‌‌مقدمة الكتاب

السلام عليكم ورحمة الله وبركاته وبعد:

 

فلما كانت مسألة الحكم بغير ما أنزل الله من أشد المسائل إشكالاً على طلاب العلم حتى إنه لم يسلم من الخطإ فيها بعضُ الفضلاء فقد اجتهدت ما استطعت في إخراج هذا الكتاب بياناً للحق راجياً من الله تبارك وتعالى أن ينفع به.

 

ثم إنني حرصت على الإيجاز الذي ألزمت به نفسي لا سيما وقد ضعفت همم طلاب العلم عن القراءة إلا من رحم ربي وقليل ما هم، وأختم مقدمتي هذه بـ:

 

نُبَذ متفرقة من كلام السلف رحمهم الله

قال عبادة بن الصامت رضي الله عنه: " إن على الحق نوراً " (اللالكائي في " شرح أصول اعتقاد أهل السنة والجماعة " رقم 116).
পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

‌‌গ্রন্থের ভূমিকা

আপনাদের ওপর আল্লাহর শান্তি, রহমত ও বরকত বর্ষিত হোক। অতঃপর:

 

যেহেতু আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে ফয়সালা করার বিষয়টি জ্ঞানান্বেষীদের নিকট অত্যন্ত জটিল ও সংশয়পূর্ণ বিষয়গুলোর অন্তর্ভুক্ত, এমনকি অনেক গুণী ব্যক্তিও এ বিষয়ে ভুল করা থেকে নিরাপদ থাকতে পারেননি; তাই আমি সত্য সুস্পষ্ট করার লক্ষ্যে এই গ্রন্থটি প্রকাশে সাধ্যমতো প্রচেষ্টা চালিয়েছি এবং মহান আল্লাহর নিকট আশা করছি তিনি এর মাধ্যমে সকলকে উপকৃত করবেন।

 

অতঃপর আমি সংক্ষেপণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি যা আমি নিজের জন্য আবশ্যক করে নিয়েছিলাম, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে জ্ঞানান্বেষীদের মাঝে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ও একাগ্রতা হ্রাস পেয়েছে—আমার প্রতিপালক যাদের প্রতি দয়া করেছেন তারা ব্যতীত, আর তাদের সংখ্যা খুবই অল্প। আমি আমার এই ভূমিকাটি শেষ করছি:

 

সালাফে সালেহীন (আল্লাহ তাঁদের ওপর রহম করুন)-দের বক্তব্যের কিছু বিক্ষিপ্ত অংশ দ্বারা

উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "নিশ্চয়ই সত্যের ওপর একটি জ্যোতি রয়েছে।" (আল-লালকাঈ তাঁর "শারহু উসূলি ই’তিকাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আহ" গ্রন্থে, বর্ণনা নং ১১৬)।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٨)
وقال عبد الله بن مسعود رضي الله عنه: " ألا لا يُقلِّدن أحدُكم دينَه رجلاً، إنْ آمن آمن! وإن كفر كفر! فإن كنتم لا بد مقتدين فبالميت، فإن الحي لا يؤمن عليه الفتنة " (130).

 

وقال ابن عمر رضي الله عنه: " ما فرحت بشيء في الإسلام أشد فرحاً بأن قلبي لم يدخله شيء من هذه الأهواء " (227).

 

وقال حذيفة رضي الله عنه: " إياك والتلون في دين الله، فإن دين الله واحد " (120).

 

وقال الأوزاعي رحمه الله: " ندور مع السنة حيث دارت " (47).

 

وقال سفيان الثوري رحمه الله: " استوصوا بأهل السنة خيراً فإنهم غرباء " (49).

 

وقال الحسن البصري رحمه الله: " يا أهل السنة ترفَّقوا!! فإنكم من أقل الناس " (19).

 

وقال يونس بن عبيد رحمه الله: " ليس شيء أغرب من السنة، وأغرب منها من يعرفها " (23).

 

وقال سفيان الثوري رحمه الله: " إذا بلغك عن رجل بالمشرق صاحب سنة وآخر بالمغرب؛ فابعث إليهما السلام وادع
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "সাবধান! তোমাদের কেউ যেন দ্বীনের ব্যাপারে কোনো ব্যক্তির অন্ধ অনুসরণ না করে; যাতে সে ঈমান আনলে এও ঈমান আনে, আর সে কুফরি করলে এও কুফরি করে! যদি তোমাদের অনুসরণ করতেই হয়, তবে যারা মারা গেছেন তাদের অনুসরণ করো। কারণ জীবিত ব্যক্তি ফিতনা থেকে নিরাপদ নয়।" (১৩০)।

 

ইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "ইসলাম গ্রহণের পর আমি অন্য কোনো বিষয়ে এতোটা আনন্দিত হইনি, যতটা আনন্দিত হয়েছি এটা নিশ্চিত হয়ে যে, আমার অন্তরে এই সকল প্রবৃত্তিপূজার কোনো কিছুই প্রবেশ করেনি।" (২২৭)।

 

হুজাইফা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: "আল্লাহর দ্বীনের ব্যাপারে রঙ পরিবর্তন (অস্থিরতা) করা থেকে সাবধান থেকো, কারণ আল্লাহর দ্বীন এক ও অভিন্ন।" (১২০)।

 

ইমাম আওযায়ী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সুন্নাহ যেদিকে আবর্তিত হয়, আমরাও সেদিকেই আবর্তিত হই।" (৪৭)।

 

সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "আহলে সুন্নাহর লোকদের ব্যাপারে তোমরা একে অপরকে কল্যাণের ওসিয়ত করো, কেননা তারা বিরল (সংখ্যালঘু)।" (৪৯)।

 

হাসান বসরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "হে আহলে সুন্নাহর অনুসারীরা! তোমরা নম্রতা ও সহনশীলতা অবলম্বন করো!! কারণ তোমরা সংখ্যায় অতি নগণ্য।" (১৯)।

 

ইউনুস ইবনে উবাইদ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "সুন্নাহর চেয়ে বিরল আর কিছু নেই, আর এর চেয়েও বেশি বিরল সেই ব্যক্তি যে সুন্নাহ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখে।" (২৩)।

 

সুফিয়ান আস-সাওরী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি তোমার কাছে পূর্বপ্রান্তের কোনো একজন সুন্নাহর অনুসারীর সংবাদ পৌঁছে এবং পশ্চিমপ্রান্তের অন্য একজনের, তবে তাদের নিকট সালাম পাঠাও এবং দুয়া করো...
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٩)
لهما، ما أقل أهل السنة والجماعة " (50).

 

وقال أيوب السختياني رحمه الله: " إني أُخْبَر بموت الرجل من أهل السنة فكأني أفقد بعض أعضائي " (29).

 

وقال رحمه الله: " إن الذين يتمنون موت أهل السنة يريدون أن يطفئوا نور الله بأفواههم والله متم نوره ولو كره الكافرون " (35).

 

وسُئل أبو بكر بن عياش رحمه الله مَن السُّنِّي؟ فقال: " الذي إذا ذُكرت الأهواء لم يتعصب لشيء منها " (53).

 

وقال شاذ بن يحيى رحمه الله: " ليس طريق أقصَد إلى الجنة مِن طريق مَن سلك الآثار " (112).

 

وقال الفضيل بن عياض رحمه الله: " من أتاه رجل فشاوره فدلَّه على مبتدع؛ فقد غش الإسلام " (261).

وقال الأوزاعي رحمه الله: " ليس صاحب بدعة تحدثه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم بخلاف بدعته إلا أبغض الحديث " (732).

 

وقال أبو العباس الأصم رحمه الله: " طاف خارجيان بالبيت فقال أحدهما لصاحبه: لا يدخل الجنة من هذا الخلق غيري وغيرك! فقال صاحبه: جنة عرضها كعرض السماء والأرض بنيت لي ولك؟! فقال: نعم! فقال: هي لك! وترك رأيه " (2317).
তাদের উভয়ের জন্য, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের সংখ্যা কতই না নগণ্য! (৫০)।

 

আইয়ুব আল-সাখতিয়ানি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "নিশ্চয়ই যখন আমাকে আহলে সুন্নাতের কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ দেওয়া হয়, তখন আমার মনে হয় যেন আমি আমার শরীরের কোনো অঙ্গ হারালাম" (২৯)।

 

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "নিশ্চয়ই যারা আহলে সুন্নাতের মৃত্যু কামনা করে, তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়; অথচ আল্লাহ তাঁর নূরকে পূর্ণতাদানকারী, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে" (৩৫)।

 

আবু বকর বিন আইয়াশ (রাহিমাহুল্লাহ)-কে জিজ্ঞাসা করা হলো, সুন্নি কে? তিনি বললেন: "সেই ব্যক্তি, যার সামনে যখন বিভিন্ন ভ্রান্ত মতাদর্শের কথা উল্লেখ করা হয়, তখন সে এগুলোর কোনোটির প্রতিই অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করে না" (৫৩)।

 

শায বিন ইয়াহইয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "জান্নাতের দিকে যাওয়ার জন্য সালাফদের পদাঙ্ক (আসার) অনুসরণকারীর পথের চেয়ে অধিকতর সরাসরি আর কোনো পথ নেই" (১১২)।

 

ফুদাইল বিন ইয়াদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যদি কোনো ব্যক্তি কারো কাছে পরামর্শের জন্য আসে এবং সে তাকে কোনো বিদআতির কাছে যাওয়ার পথ দেখিয়ে দেয়, তবে সে ইসলামের সাথে প্রতারণা করল" (২৬১)।

ইমাম আওযায়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "এমন কোনো বিদআতি নেই যার সামনে তার বিদআতের পরিপন্থী রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর কোনো হাদীস বর্ণনা করা হলে সে ওই হাদীসটিকে ঘৃণা না করে" (৭৩২)।

 

আবু আব্বাস আল-আসাম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "দুজন খারেজি কাবা ঘর তাওয়াফ করছিল। তখন তাদের একজন তার সঙ্গীকে বলল: এই বিশাল সৃষ্টির মধ্যে আমি আর তুমি ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করবে না! তখন তার সঙ্গী বলল: যে জান্নাতের প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান, তা কি শুধু আমার আর তোমার জন্যই তৈরি করা হয়েছে?! সে বলল: হ্যাঁ! তখন সঙ্গীটি বলল: তবে তা তোমার জন্যই থাক! অতঃপর সে তার ওই ভ্রান্ত মতবাদ ত্যাগ করল" (২৩১৭)।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٠)
هذا؛ وقد جعلت الكتاب في أربعة مباحث:

 

المبحث الأول: قواعد لا بد من معرفتها.

المبحث الثاني: التفصيل في مسألة الحكم بغير ما أنزل الله.

المبحث الثالث: فصول متممة.

المبحث الرابع: الجواب عن أهم أدلة المخالفين.

 

فاللهم إني أسألك الهدى والسداد
অতঃপর; আমি এই গ্রন্থটিকে চারটি পরিচ্ছেদে বিন্যস্ত করেছি:

 

প্রথম পরিচ্ছেদ: অত্যাবশ্যকীয় কতিপয় মূলনীতি।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতিরেকে শাসন বা বিচার করার বিষয়ের বিস্তারিত আলোচনা।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পরিপূরক অধ্যায়সমূহ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: বিরোধীদের প্রধান দলীলসমূহের উত্তর।

 

অতএব, হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট হিদায়াত ও সঠিক পথের দিশা প্রার্থনা করছি।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١١)
‌‌المبحث الأول

قواعد لا بد من معرفتها .. وهي ست قواعد

 

القاعدة الأولى

الحكم بما أنزل الله فرض عين على كل مسلم .. وتتضمن ستة أصول

 

‌‌الأصل الأول: وجوب الحكم بشرع الله تعالى، قال تعالى: {وَأَنِ احْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَنْ يَفْتِنُوكَ عَنْ بَعْضِ مَا أَنْزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَنْ يُصِيبَهُمْ بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ وَإِنَّ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ} [المائدة 49].

‌‌الأصل الثاني: وجوب التحاكم إلى شرع الله تعالى مع الرضا والتسليم لشريعته، قال تعالى: {فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى
প্রথম পরিচ্ছেদ

অপরিহার্য কতিপয় মূলনীতি যা অবশ্যই জ্ঞাত হতে হবে.. এবং তা ছয়টি মূলনীতি

 

প্রথম মূলনীতি

আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করা প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরযে আইন.. এবং এটি ছয়টি মূল ভিত্তি নিয়ে গঠিত

 

প্রথম মূল ভিত্তি: আল্লাহ তা'আলার শরীয়ত অনুযায়ী বিচার পরিচালনার আবশ্যকতা, মহান আল্লাহ বলেন: {আর আপনি তাদের মধ্যে বিচার-ফয়সালা করুন আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে, এবং তাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করবেন না; আর তাদের থেকে সতর্ক থাকুন যেন আল্লাহ আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছেন তার কোনোটি থেকে তারা আপনাকে বিচ্যুত করতে না পারে। অতঃপর যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে জেনে রাখুন যে, আল্লাহ কেবল তাদের কিছু পাপের কারণে তাদের বিপদগ্রস্ত করতে চান। আর মানুষের মধ্যে অনেকেই তো পাপাচারী} [আল-মায়িদাহ: ৪৯]।

দ্বিতীয় মূল ভিত্তি: আল্লাহর শরীয়তের প্রতি সন্তুষ্টি ও পূর্ণ আত্মসমর্পণের সাথে তাঁর শরীয়ত দ্বারা বিচার প্রার্থনা করার আবশ্যকতা, মহান আল্লাহ বলেন: {অতএব না, আপনার রবের শপথ! তারা ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না...}
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٢)
يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا} [النساء 65].

 

‌‌الأصل الثالث: الوعيد لمن لم يحكم بشرع الله تعالى، قال تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} [المائدة 44]، وقال تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ} [المائدة 45]، وقال تعالى: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ} [المائدة 47].

‌‌الأصل الرابع: الحذر من مخالفة أمر الله تعالى ورسوله صلى الله عليه وسلم، قال تعالى: {فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ} [النور 63].

‌‌الأصل الخامس: حكم الله تبارك وتعالى أحسن الأحكام، قال تعالى: {أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ} [المائدة 50].

‌‌الأصل السادس: ما جاء من أحكام شرعية من عند الله فهو روح ونور، قال تعالى: {وَكَذَلِكَ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ رُوحًا مِنْ أَمْرِنَا مَا كُنْتَ تَدْرِي مَا الْكِتَابُ وَلَا الْإِيمَانُ وَلَكِنْ جَعَلْنَاهُ نُورًا نَهْدِي بِهِ مَنْ نَشَاءُ مِنْ عِبَادِنَا وَإِنَّكَ لَتَهْدِي إِلَى صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٍ} [الشورى 52].
...তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের বিষয়ে আপনাকে বিচারক মান্য না করে, অতঃপর আপনার দেওয়া ফয়সালার ব্যাপারে তাদের মনে কোনো দ্বিধা না থাকে এবং তারা তা পূর্ণরূপে মেনে না নেয়। [আন-নিসা ৬৫]।

 

‌‌তৃতীয় মূলনীতি: আল্লাহ তাআলার শরিয়ত অনুযায়ী বিচার না কারীদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি, মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সেই অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই কাফির।" [আল-মায়িদাহ ৪৪], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সেই অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই জালিম।" [আল-মায়িদাহ ৪৫], এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, সেই অনুযায়ী যারা বিধান দেয় না, তারাই ফাসিক।" [আল-মায়িদাহ ৪৭]।

‌‌চতুর্থ মূলনীতি: আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করা থেকে সতর্কতা, মহান আল্লাহ বলেন: "অতএব যারা তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে, তারা যেন সতর্ক হয় যে, তাদের ওপর কোনো বিপর্যয় নেমে আসবে অথবা তাদের ওপর যন্ত্রণাদায়ক আজাব আপতিত হবে।" [আন-নূর ৬৩]।

‌‌পঞ্চম মূলনীতি: আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলার বিধানই সর্বোত্তম বিধান, মহান আল্লাহ বলেন: "তবে কি তারা জাহিলিয়াতের বিধান কামনা করে? আর নিশ্চিত বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিধান দানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক শ্রেষ্ঠ?" [আল-মায়িদাহ ৫০]।

‌‌ষষ্ঠ মূলনীতি: আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত শরয়ি বিধানসমূহ হলো রূহ (প্রাণ) ও নূর (আলো), মহান আল্লাহ বলেন: "আর এভাবেই আমি আপনার প্রতি আমার নির্দেশ থেকে রূহ (ওহী) প্রত্যাদেশ করেছি; আপনি জানতেন না কিতাব কী এবং ঈমান কী। কিন্তু আমি একে করেছি এক নূর, যার মাধ্যমে আমি আমার বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দান করি। আর নিশ্চয়ই আপনি সরল পথের দিকে দিশা প্রদান করছেন।" [আশ-শুরা ৫২]।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٣)
‌‌القاعد الثانية

وقوع المرء في شيء من المكفرات لا يلزم منه كفره

وذلك أن تكفير المعيَّن مشروط بإقامة الحجة.

 

قال ابن تيمية رحمه الله: " وليس لأحد أن يكفر أحداً من المسلمين وإن أخطأ وغلط؛ حتى تقام عليه الحجة وتُبيَّن له المحجة. ومن ثبت إسلامه بيقين لم يَزُل ذلك عنه بالشك، بل لا يزول إلا بعد إقامة الحجة وإزالة الشبهة " (الفتاوى 12/ 466).

* أقول: وإقامة الحجة؛ تعني التأكد من توفر شروط تكفير المعيَّن في ذلك المرء؛ كالعلم المنافي للجهل، والقصد المنافي للخطإ، والاختيار المنافي للإكراه، وعدم التأويل السائغ المنافي لوجود التأويل السائغ.

 

* وعليه: فما قرره أهل العلم مِن الكفر الأكبر؛ فلا يلزم منه كفر كل من وقع فيه، إذ لا بد من إقامة الحجة قبل الحكم بالكفر.
দ্বিতীয় মূলনীতি

কারো কোনো কুফরি কাজে লিপ্ত হওয়া মানেই তার কাফির হয়ে যাওয়া নয়

আর এর কারণ হলো, সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করার বিষয়টি দলিল বা প্রমাণ (হুজ্জত) প্রতিষ্ঠিত করার শর্তের ওপর নির্ভরশীল।

 

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "কোনো মুসলমান ভুল বা ত্রুটি করলেও তাকে কাফির সাব্যস্ত করার অধিকার কারো নেই; যতক্ষণ না তার বিরুদ্ধে দলিল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তার সামনে সঠিক পথ স্পষ্ট করা হয়। যার ইসলাম নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে, তা স্রেফ সন্দেহের কারণে বিলুপ্ত হয় না; বরং তা কেবল দলিল প্রতিষ্ঠা এবং সংশয় নিরসনের পরেই অপসারিত হতে পারে।" (ফাতাওয়া ১২/৪৬৬)।

* আমি বলছি: দলিল প্রতিষ্ঠা বা ইকামাতে হুজ্জত বলতে বোঝায়—নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করার শর্তাবলি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে বিদ্যমান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া; যেমন: এমন জ্ঞান যা অজ্ঞতাকে দূর করে, এমন ইচ্ছা বা সংকল্প যা অনিচ্ছাকৃত ভুলকে নাকচ করে, এমন স্বেচ্ছাধীনতা যা জবরদস্তি বা বাধ্য করাকে নাকচ করে এবং কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার অবকাশ না থাকা।

 

* অতএব: আলেমগণ যে বিষয়গুলোকে বড় কুফর (আল-কুফরুল আকবর) হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, তাতে লিপ্ত হওয়া মানেই লিপ্ত হওয়া প্রত্যেক ব্যক্তি কাফির হয়ে যাওয়া আবশ্যক নয়; কারণ কুফরের হুকুম দেওয়ার আগে অবশ্যই দলিল বা প্রমাণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٤)
‌‌القاعدة الثالثة

كفر الحاكم لا يلزم منه جواز الخروج عليه

وذلك أن لجواز الخروج على الحاكم خمسة شروط:

1. وقوعه في الكفر البواح الذي عندنا من الله فيه برهان.

2. إقامة الحجة عليه.

3. القدرة على إزالته.

4. القدرة على تنصيب مسلم مكانه.

5. ألاّ يترتب على هذا الخروج مفسدة على المسلمين أعظم من مفسدة بقائه.

 

قال ابن تيمية رحمه الله: " فمن كان من المؤمنين بأرض هو فيها مستضعف ، أو في وقت هو فيه مستضعف؛ فليعمل بآية الصبر والصفح عمن يؤذي الله ورسوله من الذين أوتوا الكتاب والمشركين. وأما أهل القوة فإنما يعملون بآية قتال
তৃতীয় মূলনীতি

শাসকের কুফরি তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বৈধ হওয়ার অপরিহার্যতা বোঝায় না

এর কারণ হলো, শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ বৈধ হওয়ার জন্য পাঁচটি শর্ত রয়েছে:

১. এমন প্রকাশ্য কুফরিতে লিপ্ত হওয়া, যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের কাছে সুস্পষ্ট দলিল রয়েছে।

২. তার বিরুদ্ধে প্রমাণ বা হুজ্জত প্রতিষ্ঠিত করা।

৩. তাকে অপসারণ করার সক্ষমতা থাকা।

৪. তার স্থলে একজন মুসলিমকে নিযুক্ত করার সক্ষমতা থাকা।

৫. এই বিদ্রোহের ফলে মুসলিমদের ওপর এমন কোনো ফিতনা বা ক্ষতি আপতিত না হওয়া, যা তার শাসনে বহাল থাকার ক্ষতির চেয়েও বড়।

 

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "মুমিনদের মধ্যে যে ব্যক্তি এমন কোনো ভূখণ্ডে থাকে যেখানে সে দুর্বল, অথবা এমন এক সময়ে থাকে যখন সে দুর্বল; সে যেন আহলে কিতাব ও মুশরিকদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের ক্ষেত্রে ধৈর্য ও ক্ষমার আয়াত অনুযায়ী আমল করে। আর যারা শক্তির অধিকারী, তারা কেবল যুদ্ধের আয়াত অনুযায়ী আমল করবে।"
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٥)
أئمة الكفر الذين يطعنون في الدين ، وبآية قتال الذين أوتوا الكتاب حتى يعطوا الجزية عن يد وهم صاغرون " (الصارم المسلول 2/ 413).

وقال ابن باز رحمه الله: " إلا إذا رأى المسلمون كفراً بواحاً عندهم من الله فيه برهان فلا بأس أن يخرجوا على هذا السلطان لإزالته إذا كان عندهم قدرة ، أما إذا لم يكن عندهم قدرة فلا يخرجوا. أو كان الخروج يسبب شراً أكثر: فليس لهم الخروج؛ رعاية للمصالح العامة. والقاعدة الشرعية المجْمَع عليها أنه (لا يجوز إزالة الشر بما هو أشر منه)؛ بل يجب درء الشر بما يزيله أو يخففه. أما درء الشر بشر أكثر فلا يجوز بإجماع المسلمين. فإذا كانت هذه الطائفة - التي تريد إزالة هذا السلطان الذي فعل كفراً بواحاً - عندها قدرة تزيله بها وتضع إماماً صالحاً طيباً من دون أن يترتب على هذا فساد كبير على المسلمين وشر أعظم من شر هذا السلطان: فلا بأس ، أما إذا كان الخروج يترتب عليه فساد كبير واختلال الأمن وظلم الناس واغتيال من لا يستحقّ الاغتيال إلى غير هذا من الفساد العظيم فهذا لا يجوز " (الفتاوى 8/ 203).
কুফরের ইমামগণ যারা দ্বীনকে উপহাস বা আক্রমণ করে, এবং আহলে কিতাবদের সাথে যুদ্ধ করা সংক্রান্ত সেই আয়াতের মাধ্যমে (যা নির্দেশ দেয়) যতক্ষণ না তারা নত হয়ে স্বহস্তে জিযিয়া প্রদান করে। (আস-সারিমুল মাসলুল ২/৪১৩)।

ইবনে বায (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) বলেছেন: "তবে মুসলিমরা যদি তাদের নিকট এমন প্রকাশ্য কুফর দেখতে পায় যে বিষয়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে, তবে সেই শাসককে অপসারণের জন্য তাদের বিদ্রোহ করাতে কোনো বাধা নেই যদি তাদের সামর্থ্য থাকে। কিন্তু যদি তাদের সামর্থ্য না থাকে, তবে তারা যেন বিদ্রোহ না করে। অথবা যদি বিদ্রোহের ফলে আরও বড় কোনো অনিষ্ট বা ক্ষতির সৃষ্টি হয়, তবে জনস্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে তাদের জন্য বিদ্রোহ করা বৈধ নয়। আর শরয়ি সর্বসম্মত মূলনীতি হলো যে, (কোনো মন্দকে তার চেয়ে বড় মন্দ দিয়ে দূর করা জায়েয নয়); বরং মন্দকে এমন কিছু দিয়ে প্রতিহত করা ওয়াজিব যা তা নির্মূল করবে অথবা লাঘব করবে। তবে মন্দকে আরও বড় মন্দ দিয়ে প্রতিহত করা মুসলিমদের সর্বসম্মত মতে জায়েয নেই। সুতরাং, যে দলটি প্রকাশ্য কুফরিতে লিপ্ত এই শাসককে অপসারণ করতে চায়, তাদের যদি এমন ক্ষমতা থাকে যার মাধ্যমে তারা তাকে অপসারিত করতে পারবে এবং মুসলিমদের ওপর বড় কোনো ফিতনা বা এই শাসকের মন্দের চেয়েও বড় কোনো মন্দ আপতিত হওয়া ছাড়াই একজন সৎ ও যোগ্য ইমাম নিযুক্ত করতে পারবে, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যদি বিদ্রোহের ফলে বড় ধরনের বিপর্যয়, নিরাপত্তার ব্যাঘাত, মানুষের ওপর জুলুম এবং যাদের হত্যা করা বৈধ নয় তাদের গুপ্তহত্যার মতো ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়, তবে তা জায়েয হবে না।" (আল-ফাতাওয়া ৮/২০৩)।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٦)
وقال ابن عثيمين رحمه الله عن الخروج على الحاكم الكافر: " إن كنا قادرين على إزالته فحينئذ نخرج ، وإذا كنا غير قادرين فلا نخرج؛ لأن جميع الواجبات الشرعية مشروطة بالقدرة والاستطاعة. ثم إذا خرجنا فقد يترتب على خروجنا مفسدة أكبر وأعظم مما لو بقي هذا الرجل على ما هو عليه. لأننا [لو] خرجنا ثم ظهرت العزة له؛ صرنا أذلة أكثر وتمادى في طغيانه وكفره أكثر " (الباب المفتوح 3/ 126، لقاء 51، سؤال 1222).

 

* وعليه: فما قرره أهل العلم مِن الكفر الأكبر، ووقع فيه الحاكم؛ فإنه لا يلزم منه جواز الخروج عليه ولو أقيمت عليه الحجة، بل لا بد من النظر في الشروط الأخرى المبيحة للخروج.
কাফির শাসকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা প্রসঙ্গে ইবনে উসাইমীন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমরা যদি তাকে অপসারণ করতে সক্ষম হই, তবেই আমরা বিদ্রোহ করব। আর যদি আমরা সক্ষম না হই, তবে বিদ্রোহ করব না; কেননা সমস্ত শরয়ী ওয়াজিব বা আবশ্যিক বিধান সক্ষমতা ও সামর্থ্যের ওপর নির্ভরশীল। অতঃপর আমরা যদি বিদ্রোহ করি, তবে আমাদের এই বিদ্রোহের ফলে এমন অনিষ্ট (মফসাদাহ) সৃষ্টি হতে পারে যা ঐ ব্যক্তি নিজ অবস্থায় বহাল থাকার চেয়েও অনেক বেশি ও ভয়াবহ। কারণ আমরা [যদি] বিদ্রোহ করি এবং পরবর্তীতে সে-ই বিজয়ী ও প্রভাবশালী হয়ে ওঠে, তবে আমরা আরও বেশি লাঞ্ছিত হব এবং সে তার অবাধ্যতা ও কুফরিতে আরও বেশি সীমা লঙ্ঘন করবে" (আল-বাব আল-মাফতুহ ৩/১২৬, মজলিস ৫১, প্রশ্ন ১২২২)।

 

* অতএব: আলেমগণ যেটিকে 'কুফরে আকবর' (বড় কুফর) হিসেবে গণ্য করেছেন এবং শাসক যদি তাতে লিপ্ত হয়, তবে কেবল এর দ্বারাই তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা বৈধ হওয়া সাব্যস্ত হয় না—যদিও তার ওপর হুজ্জাত (প্রমাণ) কায়েম করা হয়। বরং এক্ষেত্রে বিদ্রোহ বৈধ হওয়ার জন্য অন্যান্য শর্তাবলির প্রতি লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٧)
‌‌القاعدة الرابعة

الأصل في الأعمال المخالفة للشرع؛ عدم التكفير والتكفير طارئ على هذا الأصل ناقل عنه

وهذا يعني أن جميع الأعمال المخالفة للشرع غير مكفرة، إلا ما دل الدليل على التكفير به. وتتفرع من هذه القاعدة مسألتان:

 

1. مَن أراد نقل عمل من الأعمال المنهي عنها من أصله (= عدم الكفر) إلى خلاف أصله (= الكفر) فيلزمه الدليل، فإن لم يأت بدليل فلا عبرة بما قال.

 

2. مَن أراد التحذير من التكفير بعمل من الأعمال المنهي عنها، فيكفيه الاستدلال بالأصل، وعدم وجود الدليل الذي ينقل من ذلك الأصل.

 

قال ابن عبد البر رحمه الله: " ومِن جهة النظر الصحيح الذي لا مَدْفع له: أن كل مَن ثبت له عقد الإسلام في وقتٍ بإجماع
চতুর্থ মূলনীতি

শরিয়তবিরোধী কার্যাবলীর ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো তাকফির না করা; আর তাকফির হলো এই মূল বিধানের ওপর আপতিত একটি বিষয় যা একে পরিবর্তনকারী।

এর অর্থ হলো, শরিয়তবিরোধী সকল কাজই কুফরি নয়, যতক্ষণ না কোনো দলিল তা দ্বারা কাফির সাব্যস্ত করার প্রমাণ পেশ করে। এই মূলনীতি থেকে দুটি বিষয় নির্গত হয়:

 

১. কেউ যদি নিষিদ্ধ কোনো কাজকে তার মূল অবস্থা (= কুফরি না হওয়া) থেকে সরিয়ে তার বিপরীত অবস্থায় (= কুফরি হওয়া) নিতে চায়, তবে তার জন্য দলিল পেশ করা আবশ্যক। যদি সে কোনো দলিল পেশ করতে না পারে, তবে তার বক্তব্যের কোনো গুরুত্ব নেই।

 

২. কেউ যদি নিষিদ্ধ কোনো কাজের মাধ্যমে কাফির সাব্যস্ত করার ব্যাপারে সতর্ক করতে চায়, তবে তার জন্য মূল বিধানের দলিল এবং এই মূল বিধান থেকে বিচ্যুত হওয়ার মতো কোনো দলিলের অনুপস্থিতিই যথেষ্ট।

 

ইবনে আব্দুল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সঠিক ও অকাট্য যুক্তিগত দিক হলো—যার ইসলাম গ্রহণের বিষয়টি কোনো এক সময়ে সর্বসম্মতভাবে (ইজমা দ্বারা) সাব্যস্ত হয়েছে..."
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٨)
من المسلمين، ثم أذنب ذنباً أو تأول تأويلاً، فاختلفوا بعد في خروجه من الإسلام؛ لم يكن لاختلافهم بعد إجماعهم معنىً يوجب حجة، ولا يخرج من الإسلام المتفق عليه إلا باتفاق آخر، أو سنة ثابتة لا معارض لها " (التمهيد 16/ 315).

 

* أقول: واعتبر في هذه القاعدة بما قرره أهل العلم في نواقض الوضوء على سبيل المثال؛ فلا يجرؤ أحد منهم على نقضِ وضوء صحيح إلا بدليل، ولو قال أحد في شيء من نواقض الوضوء برأيه من دون دليل؛ فإنهم لا يقبلون قوله.

 

قال ابن المنذر رحمه الله: " إذا تطهر الرجل فهو على طهارته، إلا أن تدل حجة على نقضِ طهارته " (الأوسط 1/ 230).

 

وقال رحمه الله: " وليس مع من أوجب الوضوء من ذلك حجة من حيث ذكرنا، بل قد أجمع أهل العلم على أن من تطهر: طاهر، وقد اختلفوا في نقض طهارته بعد حدوث الرعاف والحجامة … فقالت طائفة: انتقضت طهارته، وقال آخرون: لم تنقض. قال: فغير جائزٍ أن تُنقض طهارة مجْمَع عليها إلا بإجماع مثله، أو خبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لا معارِض له " (الأوسط 1/ 174).
"...মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত থাকাবস্থায় কেউ কোনো পাপে লিপ্ত হলো অথবা কোনো ব্যাখ্যা (তাওয়ীল) প্রদান করল, যার ফলে তার ইসলাম থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে পরবর্তীতে মতভেদ তৈরি হলো; তবে তাদের ঐকমত্যের পর এই মতভেদের এমন কোনো অর্থ নেই যা দলীল হিসেবে গণ্য হবে। আর সর্বসম্মতভাবে সাব্যস্ত ইসলাম থেকে কাউকে বহিষ্কার করা যাবে না কেবল অন্য কোনো ঐকমত্য অথবা এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহর মাধ্যমে যার কোনো বিরোধী নেই।" (আত-তামহীদ ১৬/৩১৫)।

 

* আমি বলছি: উদাহরণস্বরূপ ওযুর ভঙ্গকারী বিষয়সমূহ সম্পর্কে আহলে ইলমগণ যা স্থির করেছেন, তা এই মূলনীতির ক্ষেত্রে বিবেচনা করুন; তাদের কেউই প্রমাণ ছাড়া কোনো সঠিক ওযুকে বাতিল করার সাহস করেন না। যদি কেউ প্রমাণ ছাড়াই ওযু ভঙ্গের কোনো বিষয়ে নিজের মতামতের ভিত্তিতে কিছু বলেন, তবে তারা তার কথা গ্রহণ করেন না।

 

ইবনুল মুনযির (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "যখন কোনো ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জন করে, তখন সে পবিত্র হিসেবেই গণ্য থাকে, যতক্ষণ না কোনো প্রমাণ তার পবিত্রতা ভঙ্গের বিষয়টি নির্দেশ করে।" (আল-আওসাত ১/২৩০)।

 

তিনি (রাহিমাহুল্লাহ) আরও বলেন: "আমরা যা উল্লেখ করেছি সেই প্রেক্ষিতে যারা এ থেকে ওযু করা ওয়াজিব বলেছেন তাদের কাছে কোনো দলীল নেই। বরং আহলে ইলমগণ এ বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, যে ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জন করেছে সে পবিত্র। তবে নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং হিজামা করার পর পবিত্রতা ভঙ্গের বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন … একদল বলেছেন: তার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে গেছে, আর অন্যরা বলেছেন: নষ্ট হয়নি। তিনি বলেন: সুতরাং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সাব্যস্ত কোনো পবিত্রতাকে নষ্ট করা বৈধ নয় কেবল অনুরূপ কোনো ইজমা (ঐকমত্য) অথবা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এমন কোনো হাদীসের মাধ্যমে যার কোনো বিরোধী নেই।" (আল-আওসাত ১/১৭৪)।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ١٩)
* ثم أقول: فإنْ توقف علماء الإسلام عن قبول القول بنقض عبادة الوضوء إلا إن جاء قائله بدليل، فإن نقضَ الإسلام أولى بهذا التوقف؛ وذلك أن إبطالَ إسلام المرء أبلغ من إبطال وضوئه. فاحفظ هذا فإنه مهم.

 

* وعليه: فإن الأصل في مسألة الحكم بغير ما أنزل الله أنها غير مكفرة؛ فمن كفر بأي صورة من صور المسألة لزمه الدليل، فإن لم يأت بالدليل فلا عبرة بما قال.

 

‌‌القاعدة الخامسة

مسألة الحكم بغير ما أنزل الله لا تختص بأحد دون أحد

فلا تختص بالقاضي ولا الأمير ولا الحاكم الأعلى؛ بل تشمل كل من حكم بين اثنين.

 

قال ابن تيمية رحمه الله: " وكل من حكم بين اثنين فهو قاضٍ، سواء كان صاحب حرب، أو متولي ديوان، أو منتصباً للاحتساب بالأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، حتى الذي
* এরপর আমি বলি: ইসলামের পণ্ডিতগণ যদি অজুর ইবাদত ভঙ্গ হওয়ার কথা গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রবক্তার পক্ষ থেকে দলিল উপস্থাপন না করা পর্যন্ত বিরত থাকেন, তবে ইসলাম ভঙ্গ হওয়ার বিষয়টি এই বিরতির জন্য অধিকতর যোগ্য; কারণ কারো ইসলাম বাতিল হওয়া তার অজু বাতিল হওয়ার চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর। অতএব এটি মনে রাখুন, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

* আর এর ওপর ভিত্তি করে: আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচার করার মাসআলায় মূল নীতি হলো এটি কুফরি নয়; সুতরাং যে ব্যক্তি এই মাসআলার যে কোনো রূপের কারণে কাউকে কাফির সাব্যস্ত করবে, তাকে অবশ্যই দলিল পেশ করতে হবে। যদি সে দলিল পেশ করতে না পারে, তবে তার কথার কোনো গুরুত্ব নেই।

 

‌‌পঞ্চম নীতি

আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছুর মাধ্যমে বিচার করার বিষয়টি নির্দিষ্ট কারো জন্য সীমাবদ্ধ নয়

এটি কেবল বিচারক, আমীর বা সর্বোচ্চ শাসকের সাথেই নির্দিষ্ট নয়; বরং যারা দুজন ব্যক্তির মাঝে ফয়সালা করেন তাদের সকলের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য।

 

ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "এবং যে ব্যক্তিই দুজন মানুষের মধ্যে ফয়সালা করে, সে-ই বিচারক; সে যুদ্ধের সেনাপতি হোক, কিংবা কোনো দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা হোক, অথবা সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধের জন্য তদারকির দায়িত্বে নিযুক্ত ব্যক্তি হোক, এমনকি সেই ব্যক্তিও যে..."
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢٠)
يحكم بين الصبيان في الخطوط فإن الصحابة كانوا يعدونه من الحكام " (الفتاوى 18/ 170).

 

* وعليه: فالحكم في حق الأمير وغير الأمير على السواء، ومن كفر في أي صورة من صور هذه المسألة؛ لزمه أن يكفر كل من وقع في تلك الصورة؛ أميراً كان أو غير أمير.

 

‌‌القاعدة السادسة

الإجمال سبب في كثير من الإشكالات

قال ابن تيمية رحمه الله: " وأما الألفاظ المجملة؛ فالكلام فيها بالنفي والإثبات دون الاستفصال؛ يوقع في الجهل والضلال والفتن والخبال والقيل والقال " (منهاج السنة 2/ 217).

وقال ابن القيم رحمه الله: " إن هؤلاء المعارضين للكتاب والسنة بعقلياتهم - التي هي في الحقيقة جهليات -، إنما يبنون أمرهم في ذلك على أقوال مشتبهة محتملة، تحتمل معاني متعددة، ويكون ما فيها من الاشتباه في المعنى، والإجمال في اللفظ؛ يوجب تناولها بحق وباطل، فبما فيها من الحق: يقبل
"তিনি শিশুদের হাতের লেখার বিষয়ে বিচার করতেন, কেননা সাহাবীগণ তাঁকে বিচারকদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করতেন" (আল-ফাতাওয়া ১৮/ ১৭০)।

 

* অতএব: আমীর (শাসক) এবং আমীর ব্যতীত অন্য সকলের ক্ষেত্রে বিধান সমান। এই মাসআলার কোনো একটি সুরতে (অবস্থায়) যে ব্যক্তি কাউকে কাফির বলবে, তার জন্য আবশ্যক হয়ে পড়বে ওই একই অবস্থায় নিপতিত সকলকেই কাফির বলা; সে আমীর হোক বা অন্য কেউ হোক।

 

‌‌ষষ্ঠ মূলনীতি

অস্পষ্টতা অনেক সমস্যার মূল কারণ

ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আর অস্পষ্ট শব্দের ক্ষেত্রে বিস্তারিত বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে কেবল না-বোধক বা হ্যাঁ-বোধক মন্তব্য করা অজ্ঞতা, পথভ্রষ্টতা, ফিতনা, বিশৃঙ্খলা এবং অযথা বাদানুবাদের মধ্যে নিপতিত করে" (মিনহাজুস সুন্নাহ ২/ ২১৭)।

ইবনুল কাইয়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "নিশ্চয়ই যারা তাদের নিজস্ব যুক্তি দিয়ে কিতাব ও সুন্নাহর বিরোধিতা করে—যা প্রকৃতপক্ষে অজ্ঞতা মাত্র—তারা তাদের বিষয়টি সন্দেহযুক্ত ও দ্ব্যর্থবোধক কথার ওপর ভিত্তি করে দাঁড় করায়, যা একাধিক অর্থ বহন করে। অর্থের সেই অস্পষ্টতা এবং শব্দের সংক্ষিপ্ততা একে সত্য ও মিথ্যা উভয়টিকেই ধারণ করাকে আবশ্যক করে তোলে। সুতরাং এর মধ্যে যতটুকু সত্য থাকে, তা গ্রহণ করা হয়"
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢١)
من لم يحط بها علماً ما فيها من الباطل، لأجل الاشتباه والالتباس. ثم يعارضون بما فيها من الباطل نصوص الأنبياء، وهذا منشأ ضلال من ضل من الأمم قبلنا وهو منشأ البدع كلها … فأصل ضلال بني آدم من الألفاظ المجملة والمعاني المشتبهة ولا سيما إذا صادفت أذهاناً مخبطة " (الصواعق المرسلة 3/ 925).

 

وقال عبد اللطيف بن عبد الرحمن بن حسن رحمهم الله: " فإن الإجمال والإطلاق وعدم العلم بمعرفة موانع الخطاب وتفاصيله؛ يحصل به شيء من اللبس والخطإ وعدم الفقه عن الله، ما يُفسد الأديان ويشتت الأذهان ويحول بينها وبين فهم السنة والقرآن " (عيون الرسائل 1/ 166).

 

* وعليه: فالواجب التفصيل في أي مسألة فصّلتها الأدلة الشرعية، ولا يصح إطلاق الأحكام على الأفعال دون اعتبار التفصيل الذي اقتضاه الدليل.

 

وانطلاقاً من هذه القاعدة؛ إليك:
"যে ব্যক্তি এতে বিদ্যমান ভ্রান্তি সম্পর্কে সম্যক অবগত নয়, সে সংশয় ও অস্পষ্টতায় নিপতিত হয়। অতঃপর তারা এতে বিদ্যমান বাতিলের মাধ্যমে নবীদের বাণীর বিরোধিতা করে। আমাদের পূর্ববর্তী পথভ্রষ্ট জাতিসমূহের বিভ্রান্তির মূল উৎস এটিই, আর এটিই সকল বিদআতের সূতিকাগার … বস্তুত বনী আদমের বিভ্রান্তির মূলে রয়েছে অস্পষ্ট শব্দাবলি এবং দ্ব্যর্থবোধক অর্থসমূহ, বিশেষ করে যখন তা বিভ্রান্ত মস্তিষ্কের সংস্পর্শে আসে।" (আস-সাওয়াওয়িকুল মুরসালাহ ৩/৯২৫)।

 

আব্দুল লতিফ বিন আব্দুর রহমান বিন হাসান (রহিমাহুমুল্লাহ) বলেন: "নিশ্চয়ই অস্পষ্টতা, ঢালাও প্রয়োগ এবং সম্বোধনের প্রতিবন্ধকতা ও এর বিস্তারিত বিবরণ সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের ফলে এমন কিছু বিভ্রান্তি, ত্রুটি এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে সঠিক বুঝ অর্জনে অক্ষমতা তৈরি হয়, যা দ্বীনকে বিনষ্ট করে, মনকে বিক্ষিপ্ত করে এবং সুন্নাহ ও কুরআন বোঝার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।" (উয়ুনুর রাসাইল ১/১৬৬)।

 

* এর ভিত্তিতে বলা যায়: শরয়ি দলিলসমূহ যে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত রূপরেখা মেনে চলা ওয়াজিব। দলিলের দাবি অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ব্যতিরেকে কোনো কার্যের ওপর সাধারণ বা ঢালাও বিধান প্রয়োগ করা বৈধ নয়।

 

এই মূলনীতির আলোকেই নিম্নোক্ত বিষয়গুলো আপনার জন্য উপস্থাপিত হলো:
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢٣)
‌‌المبحث الثاني

التفصيل في مسألة الحكم بغير ما أنزل الله

وهي تسع حالات؛ ست من الكفر الأكبر بلا خلاف

تليها ثلاث نازع فيها بعض المتأخرين والحق أنها من الكفر الأصغر

 

‌‌الحالة الأولى: الاستحلال

صورتها: أن يحكم بغير ما أنزل الله معتقداً أن الحكم بغير ما أنزل الله أمر جائز غير محرم.

 

حكمها: اتفقوا على أن هذه الحالة مكفرة الكفر الأكبر.

 

ودليل ذلك أمران:

 

الأمر الأول: اتفاق أهل السنة على كفر من استحل شيئاً من المحرمات،
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতিরেকে বিচার ফয়সালার মাসআলার বিস্তারিত বিবরণ

এটি নয়টি অবস্থা; তন্মধ্যে ছয়টি কোনো মতবিরোধ ছাড়াই কুফরে আকবরের অন্তর্ভুক্ত

পরবর্তী তিনটি অবস্থা সম্পর্কে পরবর্তীকালের কিছু আলিম দ্বিমত পোষণ করেছেন, তবে সত্য এই যে, এগুলো কুফরে আসগরের অন্তর্ভুক্ত

 

প্রথম অবস্থা: ইস্তিহলাল (বৈধ মনে করা)

এর স্বরূপ হলো: আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতিরেকে বিচার ফয়সালা করা এবং সাথে এ বিশ্বাস রাখা যে, আল্লাহর অবতীর্ণ বিধান ব্যতিরেকে বিচার করা জায়েজ বা বৈধ এবং তা হারাম নয়।

 

এর বিধান: আলিমগণ এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এই অবস্থাটি কুফরে আকবর।

 

এর প্রমাণ দুটি বিষয়:

 

প্রথম বিষয়: হারাম বিষয়সমূহের কোনো একটিকে যে ব্যক্তি হালাল বা বৈধ মনে করবে, তার কাফির হওয়ার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর ঐকমত্য।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢٤)
قال ابن تيمية رحمه الله: " من فعل المحارم مستحلاً لها فهو كافر بالاتفاق " (الصارم المسلول 3/ 971).

الأمر الثاني: اتفاق أهل السنة على كفر من استحل الحكم بغير ما أنزل الله،

قال ابن تيمية رحمه الله: " والإنسان متى حلل الحرام المجمع عليه، أو حرم الحلال المجمع عليه، أو بدل الشرع المجمع عليه: كان كافراً مرتداً باتفاق الفقهاء، وفي مثل هذا نزل قوله تعالى - على أحد القولين - {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ}

[المائدة 44]، أي: هو المستحل للحكم بغير ما أنزل الله " (الفتاوى 3/ 267).

 

وتتعلق بهذه الحالة ستُّ مسائل

 

المسألة الأولى:

يكفر في هذه الحالة ولو لم يحكم بغير ما أنزل الله، ما دام يعتقد جواز الحكم بغير ما أنزل الله.
ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হারাম কাজসমূহকে হালাল মনে করে তা সম্পাদন করে, সে সর্বসম্মতভাবে কাফির" (আস-সারিমুল মাসলুল ৩/৯৭১)।

দ্বিতীয় বিষয়: আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে বিচার-ফয়সালা করাকে যে হালাল মনে করে, তার কাফির হওয়ার ব্যাপারে আহলুস সুন্নাহর ঐকমত্য।

ইবনে তাইমিয়য়াহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "মানুষ যখন কোনো সর্বসম্মত হারামকে হালাল করে, কিংবা কোনো সর্বসম্মত হালালকে হারাম করে, অথবা সর্বসম্মত শরিয়তকে পরিবর্তন করে দেয়, তবে সে ফকিহগণের সর্বসম্মত মতে মুরতাদ কাফির হিসেবে গণ্য হবে। আর এ ধরনের প্রেক্ষাপটেই মহান আল্লাহর বাণী অবতীর্ণ হয়েছে—দুইটি মতের একটি অনুযায়ী—'যারা আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন তদানুসারে বিচার করে না, তারাই কাফির'

[আল-মায়েদাহ: ৪৪], অর্থাৎ: যে ব্যক্তি আল্লাহ যা নাজিল করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে বিচার করাকে বৈধ বা হালাল মনে করে" (আল-ফাতাওয়া ৩/২৬৭)।

 

এই অবস্থার সাথে ছয়টি মাসআলা বা বিষয় সংশ্লিষ্ট:

 

প্রথম মাসআলা:

এই অবস্থায় ব্যক্তি কাফির হয়ে যাবে যদিও সে বাস্তবে আল্লাহর নাজিল করা বিধান ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে বিচার না-ও করে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে আল্লাহর নাজিল করা বিধান ছাড়া অন্য কিছু দিয়ে বিচার করাকে বৈধ বলে বিশ্বাস করবে।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢٥)
المسألة الثانية:

الاستحلال أمر قلبي؛ وذلك أن حقيقته هي: اعتقاد حل الشيء.

 

قال ابن تيمية رحمه الله: " والاستحلال: اعتقاد أنها حلال له " (الصارم المسلول 3/ 971).

 

وقال ابن القيم رحمه الله: " فإن المستحل للشيء هو: الذي يفعله معتقداً حله " (إغاثة اللهفان 1/ 382).

 

وقال ابن عثيمين رحمه الله: " الاستحلال هو: أن يعتقد الإنسان حل ما حرمه الله … وأما الاستحلال الفعلي فيُنظر: لو أن الإنسان تعامل بالربا ، لا يعتقد أنه حلال لكنه يصر عليه؛ فإنه لا يكفر؛ لأنه لا يستحله " (الباب المفتوح 3/ 97، لقاء 50، سؤال 1198).

 

* أقول: وما كان أمراً قلبياً فإنه لا يُعرف إلا بالتصريح بما في النفس (وانظر المسألة الثالثة والرابعة).
দ্বিতীয় মাসআলা:

ইস্তিহলাল (বৈধ মনে করা) একটি অন্তরের বিষয়; আর এর প্রকৃত অর্থ হলো: কোনো কিছু বৈধ হওয়ার বিশ্বাস পোষণ করা।

 

ইবনে তাইমিয়্যাহ (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "আর ইস্তিহলাল হলো: এটি তার জন্য হালাল বা বৈধ বলে বিশ্বাস করা" (আস-সারিমুল মাসলুল ৩/ ৯৭১)।

 

ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "নিশ্চয়ই কোনো বিষয়কে বৈধ মনেকারী সেই ব্যক্তিই, যে কাজটি করার সময় এটি বৈধ বলে বিশ্বাস করে" (ইগাছাতুল লাহফান ১/ ৩৮২)।

 

ইবনে উসাইমীন (আল্লাহ তাঁর প্রতি রহম করুন) বলেছেন: "ইস্তিহলাল হলো: মানুষ আল্লাহ যা হারাম করেছেন তা হালাল বলে বিশ্বাস করা … আর কর্মগত ইস্তিহলালের বিষয়টি এভাবে দেখা হবে: যদি কোনো ব্যক্তি সুদি কারবার করে এবং সে বিশ্বাস করে না যে এটি হালাল, কিন্তু সে এতে অটল থাকে; তবে সে কাফির হবে না; কারণ সে এটিকে হালাল মনে করছে না" (আল-বাবুল মাফতুহ ৩/ ৯৭, সাক্ষাৎ ৫০, প্রশ্ন ১১৯৮)।

 

* আমি বলছি: যা অন্তরের বিষয়, তা অন্তরের অবস্থা স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করা ব্যতীত জানা সম্ভব নয় (এবং তৃতীয় ও চতুর্থ মাসআলা দেখুন)।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢٦)
المسألة الثالثة:

لا أثر للقرائن في الحكم على صاحب الفعل بالاستحلال، ودليل ذلك في قصة الرجل الذي قتل نفراً من المسلمين، ولمّا تمكن منه أسامة بن زيد رضي الله عنهما نطق بالشهادة، فقتله أسامةُ ظناً منه أنه إنما قالها تخلصاً من السيف، فأنكر عليه النبيُّ صلى الله عليه وسلم وقال: " أقتلته بعدما قال: (لا إله إلا الله)؟! " (البخاري 4269، 6872). قال أسامةُ: فما زال يكررها عليَّ حتى تمنيت أني أسلمت يومئذ (البخاري 4269، 6872، مسلم 273). وفي لفظ: " أفلا شققت عن قلبه لتعلم أقالها أم لا؟! " (مسلم 273). وفي رواية: " فكيف تصنع بـ (لا إله إلا الله) إذا جاءت يوم القيامة؟! " (مسلم 275).

 

* أقول: فلو كان الأخذ بالقرائن معتبراً في الحكم على ما في القلوب لكان اجتهاد أسامة بن زيد رضي الله عنهما أولى بهذا الاعتبار؛ فقد اجتمع في ذلك الرجل من القرائنِ التي تقوي
তৃতীয় মাসআলা:

কোনো কাজ সম্পাদনকারীর ওপর 'ইসতিহলাল' (হারামকে হালাল মনে করা) এর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের কোনো প্রভাব নেই। এর দলিল হলো সেই ব্যক্তির ঘটনা, যে একদল মুসলিমকে হত্যা করেছিল; অতঃপর যখন উসামা বিন যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) তাকে কাবু করলেন, তখন সে শাহাদাহ পাঠ করল। কিন্তু উসামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাকে এই ধারণায় হত্যা করলেন যে, সে কেবল তলোয়ার থেকে বাঁচতেই এটি বলেছে। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তার এই কাজের নিন্দা করলেন এবং বললেন: "সে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পরও কি তুমি তাকে হত্যা করলে?!" (বুখারি ৪২৬৯, ৬৮৭২)। উসামা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলেন: তিনি কথাটি আমার কাছে বারংবার পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন, এমনকি আমি আকাঙ্ক্ষা করতে লাগলাম যে, আমি যদি সেদিন ইসলাম গ্রহণ করতাম (বুখারি ৪২৬৯, ৬৮৭২, মুসলিম ২৭৩)। অন্য এক শব্দে এসেছে: "তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে যে, সে এটি (আন্তরিকভাবে) বলেছে কি না?!" (মুসলিম ২৭৩)। অপর এক বর্ণনায় রয়েছে: "কিয়ামতের দিন যখন 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' আসবে, তখন তুমি কী করবে?!" (মুসলিম ২৭৫)।

 

* আমি বলি: যদি অন্তরের বিষয়ের ওপর হুকুম প্রদানের ক্ষেত্রে পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর নির্ভর করা গ্রহণযোগ্য হতো, তবে উসামা বিন যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)-এর ইজতিহাদই এই বিবেচনার ক্ষেত্রে অধিকতর অগ্রগণ্য হতো; কেননা সেই লোকটির মাঝে এমন সব পারিপার্শ্বিক প্রমাণ একত্রিত হয়েছিল যা শক্তিশালী করছিল...
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢٧)
القول بعدم صدق إسلامه ما لا يكاد أن يجتمع في غيره، ومع هذا فقد ألغى النبيُّ صلى الله عليه وسلم اجتهادَ ذلك الصحابي الجليل ولم يقبل منه أخذه بالقرائن للحكم على ما في القلوب، فاجتهادُ غير الصحابي أولى بالإلغاء.

 

قال الخطابي رحمه الله: " وفي قوله (هلّا شققت عن قلبه) دليل على أن الحكم إنما يجري على الظاهر، وأن السرائر موكولة إلى الله سبحانه " (معالم السنن 2/ 234).

 

وقال ابن تيمية رحمه الله: " وكذلك الإيمان؛ له مبدأ وكمال، وظاهر وباطن؛ فإذا علقت به الأحكامُ الدنيوية؛ من الحقوق والحدود - كحقن الدم والمال والمواريث والعقوبات الدنيوية -: علقت بظاهره، ولا يمكن غير ذلك؛ إذ تعليق ذلك بالباطن متعذر، وإن قُدر أحياناً؛ فهو متعسر علماً وقدرةً، فلا يُعلم ذلك علماً يثبت به في الظاهر، ولا يمكن عقوبة من لم يُعلم ذلك منه في الباطن " (الفتاوى 7/ 422).

وقال ابن باز رحمه الله عمن لا يحكم شرع الله: " لو ادعى أنه لا يستحله فنأخذ بظاهر كلامه ولا نحكم بكفره " (علقته من مجلس سماحته، شرح الباب الثالث من كتاب الإيمان من " صحيح البخاري "، بتأريخ 27/ 7/1417 هـ، بقراءة الشيخ عبد العزيز السدحان وفقه الله).
তার ইসলামের সত্যতা সম্পর্কে সংশয় প্রকাশ করার মতো পরিস্থিতি অন্য কারো ক্ষেত্রে হয়তো একত্র হতো না। তা সত্ত্বেও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সেই মহান সাহাবীর ইজতিহাদকে (ব্যক্তিগত গবেষণা বা সিদ্ধান্তকে) বাতিল করে দেন এবং অন্তরের বিষয় বিচার করার জন্য পারিপার্শ্বিক প্রমাণের ওপর তার নির্ভর করাকে গ্রহণ করেননি। সুতরাং, সাহাবী নন এমন ব্যক্তির ইজতিহাদ বাতিল হওয়া তো আরও বেশি সংগত ও যুক্তিযুক্ত।

 

ইমাম খাত্তাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "তাঁর এই বাণীতে—'তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছিলে?'—এই প্রমাণ নিহিত রয়েছে যে, পার্থিব বিধান কেবল প্রকাশ্য অবস্থার ওপরই কার্যকর হয় এবং অন্তরের গোপন বিষয়সমূহ মহান আল্লাহর ওপর ন্যস্ত।" (মাআলিমুস সুনান ২/২৩৪)।

 

ইবনে তাইমিয়া (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "একইভাবে ঈমানেরও একটি সূচনা ও পূর্ণতা আছে এবং এর প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য দিক রয়েছে। যখন এর সাথে পার্থিব বিধানসমূহ যেমন অধিকার ও দণ্ডবিধি—রক্ত ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, উত্তরাধিকার এবং জাগতিক শাস্তি—সংশ্লিষ্ট করা হয়, তখন তা এর প্রকাশ্য অবস্থার ভিত্তিতেই করা হয়। এছাড়া অন্য কিছু সম্ভব নয়; কারণ এই বিধানগুলোকে অন্তরের গোপন বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট করা অসম্ভব। যদি কখনো তা সম্ভবপর বলে ধরেও নেওয়া হয়, তবে জ্ঞান ও সক্ষমতার বিচারে তা অত্যন্ত দুরূহ। সুতরাং, এটি এমন কোনো অকাট্য জ্ঞানের মাধ্যমে জানা সম্ভব নয় যা বাহ্যিকভাবে প্রমাণিত হয়। আর যার অন্তরের অবস্থা জানা নেই, তাকে শাস্তি দেওয়াও সম্ভব নয়।" (আল-ফাতাওয়া ৭/৪২২)।

ইবনে বায (রাহিমাহুল্লাহ) আল্লাহর আইন দিয়ে বিচার না করা ব্যক্তির বিষয়ে বলেন: "যদি সে দাবি করে যে সে এটাকে বৈধ (হালাল) মনে করে না, তবে আমরা তার কথার বাহ্যিক দিকটি গ্রহণ করব এবং তার কুফরির ফয়সালা দেব না।" (এটি তাঁর মজলিস থেকে সংকলিত; সহীহ বুখারীর 'কিতাবুল ঈমান'-এর তৃতীয় অধ্যায়ের ব্যাখ্যা, তারিখ: ২৭/০৭/১৪১৭ হিজরী, পাঠ করেছেন শায়খ আব্দুল আজিজ আস-সাদহান—আল্লাহ তাঁকে তাওফীক দান করুন)।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢٨)
المسألة الرابعة:

الاستحلال لا يُعرف من الفعل ولا المداومة ولا الإصرار، وبرهان ذلك من أربعة أوجه:

 

الوجه الأول: لم يقل به أحد من أهل العلم المتقدمين، ولو كان حقاً لسبقونا إليه.

 

الوجه الثاني: يلزم منه تعارض دليلين من الإجماع:

1. الإجماع على عدم كفر أهل الذنوب، قال ابن عبد البر رحمه الله: " اتفق أهل السنة والجماعة - وهم أهل الفقه والأثر - على أن أحداً لا يخرجه ذنبه - وإن عظم - من الإسلام " (التمهيد 16/ 315)، وهذا الإجماع مطلق لا قيد فيه، فيعم المذنب المداوِم والمصر.

2. الإجماع على كفر من استحل الذنب، قال ابن تيمية رحمه الله: " من فعل المحارم مستحلاً لها فهو كافر بالاتفاق " (الصارم المسلول 3/ 971).
চতুর্থ মাসয়ালা:

ইস্তিহলাল (হারামকে বৈধ মনে করা) কেবল কাজ, নিয়মিতকরণ বা অবিচল থাকার মাধ্যমে জানা যায় না; আর এর প্রমাণ চারটি দিক থেকে:

 

প্রথম দিক: পূর্বসূরি আলেমদের কেউ এই কথা বলেননি; আর যদি এটি সত্য হতো, তবে তাঁরা অবশ্যই আমাদের আগে তা বলতেন।

 

দ্বিতীয় দিক: এর ফলে ইজমার (ঐকমত্য) দুটি প্রমাণের মধ্যে বিরোধ অনিবার্য হয়ে পড়ে:

১. গোনাহগারদের কাফের না হওয়ার ব্যাপারে ইজমা; ইবনে আবদিল বার (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআত—যাঁরা ফিকহ ও আসার-এর অনুসারী—এই বিষয়ে একমত যে, কোনো ব্যক্তিকে তার গোনাহ ইসলাম থেকে বের করে দেয় না, তা যত বড়ই হোক না কেন" (আত-তামহিদ ১৬/৩১৫)। এই ইজমাটি নিঃশর্ত, এতে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই; ফলে এটি নিয়মিত গোনাহকারী এবং পাপে অবিচল থাকা ব্যক্তি উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

২. গোনাহকে বৈধ মনেকারীর কাফের হওয়ার ব্যাপারে ইজমা; ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি হারাম কাজ করে এবং তাকে হালাল মনে করে, সে সর্বসম্মতভাবে কাফের" (আস-সারিমুল মাসলুল ৩/৯৭১)।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٢٩)
* أقول: فإطلاقهم الإجماع على عدم كفر أهل الذنوب مع إجماعهم على كفر من استحل محرماً؛ دليل على عدم اعتبار المداومة والإصرار استحلالاً، فاحفظ هذا فإنه مهم.

 

الوجه الثالث: يلزم منه تكفير أهل الذنوب، وذلك ما أجمع أهل السنة على خلافه، فمن قارف الذنب دهره، وداوم عليه، وأصر عليه - بفعله -: فهو كافر عند من قرر ذلك؛ لأنه يراه مستحلاً ما حرم الله، وليس بكافر بإجماع أهل السنة.

 

الوجه الرابع: أن حقيقة الاستحلال هي اعتقاد الحل كما تقدم (ص 11)، ولا يمكن أن يصار إلى معرفة الاعتقاد - معرفة يقينية - إلا بإفصاح صاحب ذلك الاعتقاد عما في نفسه، ولذلك فإننا نجد من العصاة اعترافاً بالذنب وتأثراً بالنصيحة وربما يعزم أحدهم على التوبة كثيراً، والاستحلال لا يتصور مع الإقرار بالذنب.

 

المسألة الخامسة:

استدل بعض من قال أن الاستحلال يُعرف بالفعل؛ بما صح في الرجل الذي تزوج امرأةَ أبيه فأمر النبي صلى الله عليه وسلم بقتله (الترمذي 1362، النسائي 3331، ابن ماجة 2607).
আমি বলছি: গুনাহগারদের কাফির না হওয়ার ব্যাপারে আলেমগণের সাধারণ ঐকমত্যের (ইজমা) পাশাপাশি কোনো হারাম বিষয়কে হালাল মনেকারীর কাফির হওয়ার ব্যাপারে তাদের ইজমা—এই কথাটিই প্রমাণ করে যে, পাপে লিপ্ত থাকা বা তাতে অবিচল থাকাকে 'ইস্তিহলাল' (হালাল জ্ঞান করা) হিসেবে গণ্য করা হবে না। এই বিষয়টি স্মরণে রাখুন, কারণ এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

তৃতীয় দিক: এটি গুনাহগার ব্যক্তিদের কাফির সাব্যস্ত করাকে অনিবার্য করে তোলে, অথচ আহলুস সুন্নাহ এর বিপরীত বিষয়ের ওপর ঐকমত্য পোষণ করেছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি সারাজীবন পাপে লিপ্ত থাকে, তা অব্যাহত রাখে এবং নিজ কর্মের মাধ্যমে তাতে অটল থাকে—এই মতবাদের প্রবক্তাদের নিকট সে কাফির হিসেবে গণ্য হবে; কারণ তারা তাকে আল্লাহর হারামকৃত বিষয়কে হালাল মনেকারী হিসেবে দেখে। অথচ আহলুস সুন্নাহর ইজমা অনুযায়ী সে কাফির নয়।

 

চতুর্থ দিক: 'ইস্তিহলাল'-এর প্রকৃত স্বরূপ হলো কোনো কিছুকে হালাল বলে বিশ্বাস করা, যেমনটি পূর্বে (পৃষ্ঠা ১১) বর্ণিত হয়েছে। আর কোনো ব্যক্তির অন্তরের বিশ্বাসের সুনিশ্চিত জ্ঞান লাভ করা ততক্ষণ সম্ভব নয়, যতক্ষণ না সেই বিশ্বাসের অধিকারী ব্যক্তি স্বয়ং তার অন্তরের কথা প্রকাশ করে। এই কারণেই আমরা পাপাচারীদের মধ্যে গুনাহের স্বীকৃতি এবং নসীহতের দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার চিত্র দেখতে পাই, এমনকি তাদের অনেকে বারবার তওবা করার দৃঢ় সংকল্পও করে। অথচ পাপাচারের স্বীকৃতির সাথে 'ইস্তিহলাল' বা হালাল মনে করার বিষয়টি কল্পনা করা যায় না।

 

পঞ্চম মাসআলা:

যারা মনে করেন যে কর্মের মাধ্যমেই 'ইস্তিহলাল' চেনা যায়, তারা সেই সহীহ হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন যেখানে এক ব্যক্তি তার পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করেছিল এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন (তিরমিযী ১৩৬২, নাসাঈ ৩৩৩১, ইবনে মাজাহ ২৬০৭)।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٣٠)
وفي بعض ألفاظ الحديث أنه: أخذ ماله (أبو داود 4475، النسائي 3332). وجاءت زيادة أنه: خمَّس ماله (عزاها ابن حجر في " الإصابة " لـ " النسائي وابن ماجة وابن أبي خيثمة وابن السكن والباوردي وغيرهم "، وعزاها ابن القيم في " زاد المعاد " لـ " ابن أبي خيثمة في تاريخه ". ولم أجد هذه الزيادة في " مجتبى " النسائي ولا في " سنن " ابن ماجة رحم الله الجميع).

 

والحديث بزيادة التخميس هذه؛ قال عنه ابن القيم رحمه الله: " قال يحيى بن معين: هذا حديث صحيح " (زاد المعاد 5/ 15)، وقال عنه ابن حجر رحمه الله: " إسناده حسن " (الإصابة 1/ 314، عند ترجمة أبي قرة إياس بن هلال المزني رضي الله عنه.

 

* أقول: وتخميس المال يدل على أنه اعتبره فيئاً، والفيء هو: " كل مال أُخذ من الكفار بغير قتال " (قاله ابن كثير رحمه الله في تفسيره 4/ 396، الحشر: 7). وهذا يدل على أنه قُتل مرتداً (أفاده الطحاوي رحمه الله في " شرح معاني الآثار " 3/ 150).

 

* ثم أقول: وهذا الاستدلال لا يستقيم؛ لأن الحديث محمول على أن النبي صلى الله عليه وسلم علم أن ذلك الرجل يستحل ذلك
হাদীসের কিছু শব্দে বর্ণিত হয়েছে যে: তিনি তার সম্পদ গ্রহণ করেছেন (আবু দাউদ ৪৪৭৫, নাসায়ী ৩৩৩২)। এবং একটি অতিরিক্ত বর্ণনায় এসেছে যে: তিনি তার সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করেছেন (ইবনে হাজার 'আল-ইসাবাহ' গ্রন্থে একে 'নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, ইবনে আবি খায়সামাহ, ইবনে আল-সাকান, আল-বাওয়ার্দি এবং অন্যান্যদের' দিকে সম্বন্ধিত করেছেন; আর ইবনে আল-কাইয়্যিম 'জাদ আল-মা'আদ' গ্রন্থে একে 'ইবনে আবি খায়সামাহর তারিখে'র দিকে সম্বন্ধিত করেছেন। তবে আমি এই অতিরিক্ত অংশটি নাসায়ীর 'মুজতাবা' কিংবা ইবনে মাজাহর 'সুনানে' পাইনি—আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি রহম করুন)।

 

আর এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণের এই অতিরিক্ত অংশসহ হাদীসটি সম্পর্কে ইবনে আল-কাইয়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেছেন: এটি একটি সহীহ হাদীস" (জাদ আল-মা'আদ ৫/১৫)। আর ইবনে হাজার (রহিমাহুল্লাহ) এর সম্পর্কে বলেছেন: "এর সনদ হাসান" (আল-ইসাবাহ ১/৩১৪, আবু কুররাহ ইয়াস ইবনে হিলাল আল-মুযানী রাদিয়াল্লাহু আনহুর জীবনী পরিচ্ছেদে)।

 

* আমি বলছি: সম্পদের এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ একথাই প্রমাণ করে যে, তিনি একে 'ফায়' (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ যা বিনা যুদ্ধে অর্জিত) হিসেবে গণ্য করেছিলেন। আর 'ফায়' হলো: "কাফিরদের থেকে বিনা যুদ্ধে প্রাপ্ত সকল সম্পদ" (ইবনে কাসীর রহিমাহুল্লাহ তাঁর তাফসীরে এটি উল্লেখ করেছেন ৪/৩৯৬, আল-হাশর: ৭)। এটি আরও প্রমাণ করে যে, তাকে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হিসেবে হত্যা করা হয়েছিল (ইমাম তহাবী রহিমাহুল্লাহ 'শারহু মাআ'নিল আসার' গ্রন্থে এটি ব্যক্ত করেছেন ৩/১৫০)।

 

* এরপর আমি বলছি: এই দলিলটি সঠিক বা সুপ্রতিষ্ঠিত নয়; কারণ হাদীসটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হয় যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানতে পেরেছিলেন যে ওই ব্যক্তি এটিকে হালাল মনে করত।
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٣١)
الذنب في قرارة قلبه، وبرهانه من أربعة أوجه:

 

الوجه الأول: أن أهل الجاهلية كانوا يستحلون نكاحَ امرأة الأب، ويرونها من الإرث، فالرجل فعل ما كان أهل الجاهلية يفعلون؛ فأقدم عليه معتقداً حله.

قال السندي رحمه الله: " (نكح امرأة أبيه): على قواعد أهل الجاهلية، فإنهم كانوا يتزوجون بأزواج آبائهم، يعدون ذلك من باب الإرث، ولذلك ذكر الله تعالى النهيَ عن ذلك بخصوصه بقوله: {وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آَبَاؤُكُمْ} [النساء 22] … فالرجل سلك مسلكهم في عد ذلك حلالاً؛ فصار مرتداً، فقُتل لذلك. وهذا تأويل الحديث عند من لا يقول بظاهره " (شرحه لسنن النسائي تحت الحديث رقم 3332).

 

الوجه الثاني: أن العلماء رحمهم الله حملوا الحديث على أن ذلك الرجل عُلم منه الاستحلال.

 

قال أحمد رحمه الله: " نرى والله أعلم أن ذلك منه على الاستحلال " (مسائل ابنه عبد الله 3/ 1085/1498).

 

وقال الطحاوي رحمه الله: " ذلك المتزوج فعل ما فعل من ذلك على الاستحلال كما كانوا يفعلون في الجاهلية؛ فصار
গুনাহ তার অন্তরের অন্তঃস্থলে ছিল, আর এর প্রমাণ চারটি দিক থেকে:

 

প্রথম দিক: জাহেলিয়াত যুগের লোকেরা পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করা বৈধ মনে করত এবং তারা সেটিকে উত্তরাধিকারের অন্তর্ভুক্ত গণ্য করত। সুতরাং ঐ ব্যক্তি জাহেলিয়াত যুগের লোকদের ন্যায় কাজ করেছিল এবং তা হালাল মনে করেই তাতে লিপ্ত হয়েছিল।

ইমাম সিন্দি (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "(সে তার পিতার স্ত্রীকে বিবাহ করেছিল): জাহেলিয়াত যুগের রীতিনীতি অনুযায়ী। কারণ তারা তাদের পিতাদের স্ত্রীদের বিবাহ করত এবং একে উত্তরাধিকারের অংশ মনে করত। একারণেই মহান আল্লাহ বিশেষভাবে এ বিষয়ে নিষেধ করে বলেছেন: {তোমাদের পিতারা যা বিবাহ করেছে তোমরা তা বিবাহ করো না} [আন-নিসা: ২২] ... সুতরাং ঐ ব্যক্তি এটিকে হালাল মনে করার ক্ষেত্রে তাদের পথই অবলম্বন করেছিল; ফলে সে মুরতাদ হয়ে যায় এবং এ কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। যারা হাদিসের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেন না, এটি তাদের নিকট হাদিসের ব্যাখ্যা।" (সুনানে নাসায়ীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, হাদিস নং ৩৩৩২-এর অধীনে)।

 

দ্বিতীয় দিক: আলেমগণ (রাহিমাহুমুল্লাহ) হাদিসটিকে এই অর্থে গ্রহণ করেছেন যে, ঐ ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই কাজটিকে হালাল মনে করার বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা গিয়েছিল।

 

ইমাম আহমাদ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "আমরা মনে করি—আর আল্লাহই ভালো জানেন—এটি তার পক্ষ থেকে হালাল মনে করার কারণেই ঘটেছিল।" (তার পুত্র আব্দুল্লাহ বর্ণিত মাসায়েল: ৩/১০৮৫/১৪৯৮)।

 

ইমাম তহাবী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "সেই বিবাহকারী ব্যক্তি যা করেছিল, তা হালাল মনে করেই করেছিল যেমনটি তারা জাহেলিয়াতের যুগে করত; ফলে সে..."
(খণ্ড: ١٤٣٧) আল-হুকমু বি-গাইরি মা আনযালাল্লাহ - আল-মুহাইইয়ানী - তহা ১৪৩৭ (পৃষ্ঠা: ٣٢)
بذلك مرتداً، فأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يفعل به ما يفعل بالمرتد " (شرح معاني الآثار 3/ 149).

 

وقال الشوكاني رحمه الله: " لا بد من حمل الحديث على أن ذلك الرجل … عالم بالتحريم، وفعَله مستحلاً؛ وذلك من موجبات الكفر " (نيل الأوطار 7/ 131).

 

الوجه الثالث: عدم تكفير أهل العلم من زنا بامرأة أبيه، ولو تكرر منه ذلك الذنب!

 

* أقول: ولو كان كفر من تزوج امرأة أبيه لمجرد وقوعه عليها من دون استحلال قلبي؛ لكفروا من زنا بامرأة أبيه. فاحفظ هذا فإنه مهم.

الوجه الرابع - على سبيل التنزل -: أن هذا النص فيه اشتباه، ويجب حمله على النصوص المحكمة الأخرى التي دلت على عدم اعتبار القرائن في الكشف عما في القلب؛ كحديث أسامة رضي الله عنه المتقدم (ص 12)، وإجماع أهل السنة على عدم كفر العصاة وإن عظمت ذنوبهم مع أنهم مجمعون على كفر من استحل محرماً (ص 11). وحملُ المتشابه على المحكم؛ هو سبيل أهل السنة، خلافاً لأهل البدع،
সেই কারণে সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে গিয়েছিল, তাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ক্ষেত্রে মুরতাদের ন্যায় আচরণ করার আদেশ দিলেন।" (শারহু মাআনিল আসার ৩/১৪৯)।

 

ইমাম শাওকানী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: "অবশ্যই এই হাদীসটিকে এভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে যে, উক্ত ব্যক্তিটি … হারামের বিষয়টি জানতেন এবং তিনি সেটাকে বৈধ (হালাল) মনে করেই করেছিলেন; আর তা কুফরির কারণসমূহের অন্তর্ভুক্ত।" (নাইলুল আওতার ৭/১৩১)।

 

তৃতীয় দিক: আলেমগণ পিতার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত ব্যক্তিকে কাফির সাব্যস্ত করেননি, যদিও সে বারবার এই গুনাহটি করে থাকে!

 

* আমি বলব: পিতার স্ত্রীকে বিবাহকারী ব্যক্তি যদি কেবল হৃদয়ের বিশ্বাসে বিষয়টি হালাল মনে না করা সত্ত্বেও কেবল তার সাথে লিপ্ত হওয়ার কারণে কাফির হয়ে যেতেন, তবে আলেমগণ পিতার স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারকারী ব্যক্তিকেও কাফির বলতেন। সুতরাং এটি স্মরণে রাখুন, কারণ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চতুর্থ দিক—বিতর্কের খাতিরে ধরে নিলেও—: এই ভাষ্যটিতে অস্পষ্টতা রয়েছে, তাই একে অন্যান্য সুস্পষ্ট (মুহকাম) দলিলের আলোকে ব্যাখ্যা করা ওয়াজিব যা প্রমাণ করে যে, অন্তরের অবস্থা উন্মোচনের ক্ষেত্রে বাহ্যিক লক্ষণাদি গ্রহণযোগ্য নয়; যেমন পূর্বে উল্লিখিত (পৃষ্ঠা ১২) উসামাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু)-এর হাদীস এবং আহলুস সুন্নাহর এই ঐকমত্য যে, পাপাচারীরা তাদের পাপ যত বড়ই হোক না কেন কাফির হয় না, যদিও তারা এই বিষয়ে একমত যে হারামকে বৈধ (হালাল) মনেকারী ব্যক্তি কাফির (পৃষ্ঠা ১১)। আর অস্পষ্ট বিষয়কে সুস্পষ্ট বিষয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করাই হলো আহলুস সুন্নাহর পথ, যা বিদআতিদের পন্থার বিপরীত।