(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: -)
فضائل بيت المقدس - ابن الجوزي - ط الآفاق القسم: البلدان والرحلات
الكتاب: فضائل القدس
المؤلف: جمال الدين أبو الفرج عبد الرحمن بن علي بن محمد الجوزي (ت 597هـ)
حققه وقدم له: الدكتور جبرائيل سليمان جبور
الناشر: دار الآفاق الجديدة، بيروت
الطبعة: الثانية، 1400 هـ - 1980 م
عدد الصفحات: 147
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
বাইতুল মাকদিসের ফযীলতসমূহ - ইবনুল জাওযী - আল-আফাক সংস্করণ বিভাগ: দেশ ও ভ্রমণকাহিনী
গ্রন্থ: আল-কুদসের ফযীলতসমূহ
লেখক: জামালুদ্দীন আবুল ফারাজ আবদুর রহমান বিন আলী বিন মুহাম্মাদ আল-জাওযী (মৃত্যু ৫৯৭ হিজরি)
সম্পাদনা ও উপস্থাপনা: ডক্টর জিবরাঈল সুলাইমান জাব্বুর
প্রকাশক: দারুল আফাক আল-জাদিদাহ, বৈরুত
সংস্করণ: দ্বিতীয়, ১৪০০ হিজরি - ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪৭
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
بسم الله الرحمن الرحيم
الباب الأولفي فضل الأرض المقدسة قال الله تعالى: وإذ قال موسى لقومه يا قوم دخلوا الأرض المقدسة التي كتب الله لكم قال الزجاج (المقدسة المطهرة وقيل للسطل القدس لأنه يتطهر منه وسمي بيت المقدس لأنه يتطهر فيه من الذنوب وقيل سماها مقدسة لأنها طهرت من الشرك وجعلت مسكناً للأنبياء والمؤمنين وفي المراد بالأرض المقدسة أربعة أقوال. أحدها أنها أريحا
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামেপ্রথম অধ্যায়পবিত্র ভূমির ফযীলত সম্পর্কে: মহান আল্লাহ তাআলা বলেন: এবং যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা পবিত্র ভূমিতে প্রবেশ করো যা আল্লাহ তোমাদের জন্য লিখে দিয়েছেন। আয-যাজ্জাজ বলেন (মুকাদ্দাসাহ অর্থ পবিত্র। বালতিকে 'কুদস' বলা হয় কারণ তা দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা হয়। আর একে বায়তুল মাকদিস নামকরণ করা হয়েছে কারণ সেখানে গুনাহ থেকে পবিত্র হওয়া যায়। মতান্তরে, একে পবিত্র নামকরণ করা হয়েছে কারণ একে শিরক থেকে পবিত্র করা হয়েছে এবং নবী ও মুমিনদের আবাসস্থল বানানো হয়েছে। পবিত্র ভূমি বলতে কী বোঝানো হয়েছে সে বিষয়ে চারটি অভিমত রয়েছে। তার একটি হলো এটি আরীহা।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
قاله ابن عباس قال السدي أرض بين المقدس وقال الضحاك المراد بهذه الأرض ايلياء وبيت المقدس. قال ابن قتيبة وقرأت في مناجاة موسى أنه قال اللهم انك اخترت من الأنعام الضانية ومن الطير الحمامة (ومن البيتة بيت) ايلياء ومن ايلياء بيت المقدس فهذا يدل على أن ايلياء الأرض التي فيها بيت المقدس وهو معرب.
ইবনে আব্বাস এটি বলেছেন। সুদ্দী বলেছেন, এটি মাকদিস এর মধ্যবর্তী একটি ভূমি। দাহহাক বলেছেন, এই ভূমি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইলিয়া এবং বাইতুল মাকদিস। ইবনে কুতায়বাহ বলেছেন: আমি মুসা (আ.)-এর মুনাজাতে পড়েছি যে তিনি বলেছিলেন, "হে আল্লাহ, নিশ্চয়ই আপনি চতুষ্পদ জন্তুর মধ্যে ভেড়া এবং পাখির মধ্যে কবুতরকে পছন্দ করেছেন (এবং ঘরগুলোর মধ্যে) ইলিয়াকে এবং ইলিয়া থেকে বাইতুল মাকদিসকে।" এটি প্রমাণ করে যে, ইলিয়া হলো সেই ভূমি যেখানে বাইতুল মাকদিস অবস্থিত এবং এটি একটি আরবিকৃত শব্দ।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
قال الفرزدق:
وَبَيتان بَيتُ اللَهُ نَحنُ وُلاتُه
… وَبَيتٌ بِأَعلى اِيلياءَ مُشرّفُ
وقال قتادة الأرض المقدسة الشام كلها.
ফারাজদাক বলেছেন:
দুটি ঘর; আল্লাহর ঘর যার অভিভাবক আমরা
… এবং ইলিয়ার উচ্চস্থানে অবস্থিত এক সম্মানিত ঘর।
এবং কাতাদাহ বলেছেন, পবিত্র ভূমি হলো সমগ্র শাম অঞ্চল।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭০)
الباب الثانيفي ذكر الجبل الذي عليه بيت المقدس قال أبو هريرة الزيتون طور زيتا. قال قتادة والزيتون جبل عليه بيت المقدس. وقال ابو زرعة السيباني رفع عيسى من طور زيتاً.
দ্বিতীয় অধ্যায়বায়তুল মুকাদ্দাস যে পাহাড়ের ওপর অবস্থিত তার বর্ণনা প্রসঙ্গে। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, যাইতুন হলো তূর-ই যাইতা। কাতাদাহ (রহ.) বলেন, আর যাইতুন হলো সেই পাহাড় যার ওপর বায়তুল মুকাদ্দাস অবস্থিত। আবু যুরআহ আস-সাইবানী (রহ.) বলেন, ঈসা (আ.)-কে তূর-ই যাইতা থেকেই উপরে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭১)
أخبرنا أبو المعمر الأنصاري (أنبأنا) أبو الحسين محمد ابن محمد ابن الفرا. أنبأنا عبد العزيز ابن أحمد أبو بكر محمد ابن أحمد الخطيب حدثنا عمر ابن الفضل حدثنا أبي حدثنا الوليد ابن حماد حدثنا ابراهيم ابن محمد حدثنا عمر ابن بكر عن ثور ابن يزيد عن خالد ابن معدان عن أبي هريرة قال أقسم ربنا عز وجل بأربعة أجبل فقال والتين والزيتون وطور سينين وهذا البلد الأمين. قال التين طور زيتا.
আবু আল-মুয়াম্মার আল-আনসারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন (তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন) আবুল হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল ফারা। আব্দুল আজিজ ইবনে আহমদ আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন; উমর ইবনুল ফাদল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; আল-ওয়ালিদ ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; উমর ইবনে বকর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন; তিনি সাওরাত ইবনে ইয়াজিদ থেকে, তিনি খালিদ ইবনে মা’দান থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের প্রতিপালক আযযা ওয়া জাল্লা চারটি পাহাড়ের শপথ করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: "তীন, যয়তুন, তূর-ই-সীনীন এবং এই নিরাপদ নগরের শপথ।" তিনি বলেন: 'তীন' হলো যয়তুনের পাহাড় (তূর-ই-যয়তা)।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭২)
الباب الثالثفي وضع بيت المقدس وبداية أمره
أنبأنا أبو المعمر المبارك ابن أحمد الأنصاري، أنبأنا أبو الحسين ابن الفرا، أنبأنا عبد العزيز ابن أحمد ابن عمر النصيبي، أنبأنا أبو بكر ابن أحمد ابن محمد الخطيب، حدثنا أبو حفص عمر ابن الفضل ابن المهاجر اللخمي، حدثني أبي، حدثنا الوليد ابن حماد، حدثنا اسحق ابن الحسين الطحان، حدثنا عبد الله ابن صالح، حدثني ابن لهيعة عن يزيد ابن أبي حبيب، أخبرني عطاء ابن أبي رباح عن عائشة زوج النبي صلى الله عليه وسلم، عن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: إن مكة بلد عظمه الله وعظم حرمته، وحفها بالملائكة قبل أن يخلق شيئاً من الأرض يومئذ كلها بألف عام، ووصلها بالمدينة، ووصل المدينة ببيت
তৃতীয় পরিচ্ছেদবাইতুল মাকদিসের অবস্থান এবং এর সূচনালগ্ন প্রসঙ্গে
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুয়াম্মার আল-মুবারক ইবনে আহমদ আল-আনসারী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইবনে আল-ফাররা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে উমর আন-নাসিবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ আল-খাতিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর ইবনে আল-ফজল ইবনে আল-মুহাজির আল-লাখমি, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ ইবনে হাম্মাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইসহাক ইবনে আল-হুসাইন আত-তাহহান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনে সালিহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনে লাহিয়া, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব থেকে, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আতা ইবনে আবি রাবাহ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: নিশ্চয়ই মক্কা এমন এক শহর যাকে আল্লাহ মহান করেছেন এবং যার পবিত্রতাকে মহিমান্বিত করেছেন। সেদিন সমগ্র পৃথিবীর কোনো কিছু সৃষ্টি করার এক হাজার বছর পূর্বে তিনি একে ফেরেশতা দ্বারা পরিবেষ্টিত করেছিলেন। অতঃপর তিনি একে মদিনার সাথে সংযুক্ত করেছেন এবং মদিনাকে বাইতের (বাইতুল মাকদিস) সাথে সংযুক্ত করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
المقدس، ثم خلق الأرض بعد الف عام خلقاً واحداً. حدثنا الوليد ابن حماد، حدثنا محمد بن النعمان، حدثنا سليمان التيمي عن أبي عمرو الشيباني، قال: (قال علي ابن أبي طالب: كانت الأرض ماءً، فبعث الله ريحاً، فمسحت الأرض مسحاً، فظهرت على الأرض زبدة، فقسمها أربع قطع، خلق من قطعة مكة، والثانية المدينة، والثالثة ببيت المقدس، والرابعة الكوفة) . أنبأنا محمد ابن ناصر أنبأنا عبد الرحمن ابن أبي عبد الله ابن مندة، حدثنا أبي، أنبأنا أحمد ابن محمد ابن حكيم، حدثنا محمد ابن النعمان ابن بشير، حدثنا سليمان ابن عبد
পবিত্র স্থান, অতঃপর তিনি এক হাজার বছর পর পৃথিবীকে একক সৃষ্টি হিসেবে সৃষ্টি করলেন। আল-ওয়ালিদ ইবনে হাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুন নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান আত-তাইমি আবু আমর আশ-শাইবানি থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: (আলী ইবনে আবু তালিব বলেছেন: পৃথিবী ছিল পানি, অতঃপর আল্লাহ একটি বাতাস পাঠালেন, যা পৃথিবীকে সজোরে আলোড়িত করল, ফলে পৃথিবীর ওপর ফেনা প্রকাশ পেল। অতঃপর তিনি একে চার ভাগে বিভক্ত করলেন; এক অংশ থেকে মক্কা সৃষ্টি করলেন, দ্বিতীয় অংশ থেকে মদিনা, তৃতীয় অংশ থেকে বায়তুল মাকদিস এবং চতুর্থ অংশ থেকে কুফা সৃষ্টি করলেন)। মুহাম্মাদ ইবনে নাসির আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবি আবদুল্লাহ ইবনে মান্দাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে হাকিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মাদ ইবনুন নুমান ইবনে বশির আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলায়মান ইবনে আবদ...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
الرحمن، حدثنا محمد ابن حرب عن أبي بكر ابن أبي مريم، عن شريح ابن عبيد، عن كعب، قال: بني سليمان ابن داود ببيت المقدس على أساس قديم، كما بنى ابراهيم الكعبة على أساس قديم. قال المصنف رضي الله عنه: (قلت وسكن الجبارون الأرض المقدسة، فسلط عليهم يوشع، ثم سلط الكفار على بيت المقدس، فصيروه مزبلة، فأوحى الله تعالى إلى سليمان فبناه) . أنبأنا أبو المعمر المبارك ابن أحمد الأنصاري، أنبأنا أبو الحسين محمد ابن محمد الفراء، أنبأنا أبو محمد عبد العزيز ابن أحمد ابن عمر النصيبي المقدسي، حدثنا أبو حفص عمر ابن الفضل ابن المهاجر اللخمي، حدثني أبي، حدثنا الوليد، حدثنا المسيب ابن واضح، حدثنا ابن المبارك عن عثمان ابن عطاء، عن أبيه، عن (سعيد ابن المسيب) ، قال: أمر الله داود أن يبني مسجد بيت المقدس. قال: يا رب وأين أبنيه؟ قال: حيث ترى الملك شاهراً سيفه، قال: فرآه في ذلك المكان. قال: فأخذ داود فأسس قواعده ورفع حائطه،
আর-রহমান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে হারব, আবু বকর ইবনে আবু মারইয়াম থেকে, তিনি শুরাইহ ইবনে উবাইদ থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: সুলাইমান ইবনে দাউদ বায়তুল মাকদিসকে একটি প্রাচীন ভিত্তির ওপর নির্মাণ করেছেন, যেমনিভাবে ইবরাহিম একটি প্রাচীন ভিত্তির ওপর কাবা নির্মাণ করেছিলেন। গ্রন্থকার (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন) বলেছেন: (আমি বলছি, জাব্বারুনরা পবিত্র ভূমিতে বসবাস করত, অতঃপর ইউশা তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। এরপর কাফেররা বায়তুল মাকদিসের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে এবং তারা একে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করে। এরপর আল্লাহ তাআলা সুলাইমানের কাছে ওহি পাঠালেন, ফলে তিনি তা নির্মাণ করেন)। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুয়াম্মার আল-মুবারক ইবনে আহমদ আল-আনসারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ আল-ফাররা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ ইবনে উমর আন-নাসিবি আল-মাকদিসি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হাফস উমর ইবনুল ফজল ইবনুল মুহাজির আল-লাখমি, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-মুসাইয়িব ইবনে ওয়াদিহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইবনুল মুবারক, উসমান ইবনে আতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি (সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আল্লাহ দাউদকে বায়তুল মাকদিস মসজিদ নির্মাণের নির্দেশ দিলেন। তিনি বললেন: হে আমার রব! আমি তা কোথায় নির্মাণ করব? আল্লাহ বললেন: যেখানে তুমি ফেরেশতাকে তলোয়ার উন্মুক্ত অবস্থায় দেখতে পাবে। তিনি বললেন: অতঃপর তিনি তাকে সেই স্থানে দেখতে পেলেন। তিনি (বর্ণনাকারী) বললেন: তখন দাউদ এর ভিত্তি স্থাপন করলেন এবং এর দেয়াল উত্তোলন করলেন,
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
فلما ارتفع انهدم. فقال داود: يا رب أمرتني أن أبني لك بيتاً، فلما ارتفع هدمته. فقال: يا داود! إنما جعلتك خليفتي في خلقي، لم أخذته من صاحبه بغير ثمن؟ انه يبنيه رجل من ولدك. فلما كان سليمان، ساوم صاحب الأرض عليها، فقال له: هي بقنطار. فقال سليمان: قد استوجبتها. فقال له صاحب الأرض: هي خير أو ذاك؟ قال: بل هي خير. قال: فإنه قد بدا لي. قال: أوليس قد أوجبتها؟ قال: بلى! ولكن البيعين بالخيار ما لم يتفرقا. قال ابن المبارك: هذا أصل الخيار. قال: فلم يزل يراده ويقول له مثل قوله الأول حتى استوجبها منه بسبعة قناطير. فبناه سليمان حتى فرغ منه، وتغلقت أبوابه، فعالجها سليمان أن يفتحها، فلم تنفتح حتى قال في دعائه: بصلوات أبي داود ألا تفتحت الأبواب. ففتحت الأبواب. قال: فقرع له سليمان عشرة ألاف من قراء بني إسرائيل، خمسة آلاف بالليل، وخمسة آلاف بالنهار. لا تأتي ساعة من ليل ولا نهار إلا والله عز وجل يعبد فيه. قال الوليد: حدثنا عمر حدثنا ضمرة عن
যখন এটি উঁচুতে উঠল তখন তা ধসে পড়ল। দাউদ বললেন: হে প্রতিপালক! আপনি আমাকে আপনার জন্য একটি ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিলেন, অথচ যখন তা উঁচুতে উঠল তখন আপনি তা ধ্বংস করে দিলেন। তিনি বললেন: হে দাউদ! আমি তোমাকে আমার সৃষ্টির ওপর আমার খলিফা নিযুক্ত করেছি, তবে কেন তুমি এর মালিকের কাছ থেকে মূল্য পরিশোধ ব্যতীত এটি গ্রহণ করলে? নিশ্চয়ই তোমার সন্তানদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি এটি নির্মাণ করবে। এরপর যখন সুলাইমানের সময় এলো, তখন তিনি জমির মালিকের সাথে এর মূল্য নিয়ে দরদাম করলেন। সে তাকে বলল: এটি এক কিনতারের বিনিময়ে। সুলাইমান বললেন: আমি তা গ্রহণ করলাম। এরপর জমির মালিক তাকে বলল: এটি কি উত্তম নাকি সেটি? তিনি বললেন: বরং এটিই উত্তম। সে বলল: তবে আমার কাছে এখন ভিন্নরূপ মনে হচ্ছে (আমি মত পরিবর্তন করেছি)। তিনি বললেন: তুমি কি তা চূড়ান্ত করোনি? সে বলল: অবশ্যই! কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতা বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের ইখতিয়ার (চুক্তি বহাল রাখা বা বাতিলের অধিকার) থাকে। ইবনুল মুবারক বলেন: এটিই হলো 'খিয়ার'-এর মূল ভিত্তি। বর্ণনাকারী বলেন: সুলাইমান ক্রমাগত তার সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং তাকে প্রথম কথার মতোই বলছিলেন, শেষ পর্যন্ত তিনি তার কাছ থেকে সাত কিনতারের বিনিময়ে তা গ্রহণ করলেন। অতঃপর সুলাইমান এটি নির্মাণ করলেন এবং যখন এর নির্মাণ কাজ শেষ হলো, তখন এর দরজাগুলো রুদ্ধ হয়ে গেল। সুলাইমান সেগুলো খোলার চেষ্টা করলেন, কিন্তু তা খুলল না। অবশেষে তিনি তাঁর দোয়ায় বললেন: আমার পিতা দাউদের ইবাদতসমূহের অসিলায় কি দরজাগুলো খুলে যাবে না? তখন দরজাগুলো খুলে গেল। বর্ণনাকারী বলেন: সুলাইমান বনী ইসরাঈলের দশ হাজার কারীকে এর জন্য নির্দিষ্ট করলেন; পাঁচ হাজার রাতে এবং পাঁচ হাজার দিনে। দিন বা রাতের এমন কোনো মুহূর্ত অতিবাহিত হতো না যাতে মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার ইবাদত করা হতো না। ওয়ালিদ বলেন: উমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দামরাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
الشيباني، قال: (أوحى الله عز وجل إلى داود أنك لن تتم بناء بيت المقدس. قال: أي رب، ولم؟ قال: لأنك غمرت يدك في الدم. قال: أي رب، ولم يكن ذلك في طاعتك قال: بلى، وان كان. قال عمر: وحدثني أبي، حدثنا زكريا ابن يحيى ابن يعقوب المقدسي، حدثنا أبو جعفر أحمد بن عبد الله البغدادي، حدثنا علي ابن عاصم، حدثنا الحريري عن عبد الله ابن شفيق العقيلي، عن كعب، قال: لما ولي سليمان، أوحى الله تعالى اليه أن ابن بيت المقدس، فبناه، فلما دخله خر ساجداً شكراً لله سبحانه وتعالى، فقال: يا رب من دخله من خائف فآمنه، أو من داع فاستجب له، أو من مستغفر فاغفر له، فذبح أربعة آلاف بقرة، وسبعة آلاف شاةٍ، وصنع طعاماً ودعا بني اسرائيل إليه. وفي رواية أن الله تعالى أوحى إلى داود: ابن لي بيتاً، فبني لنفسه بيتاً قبل ذلك، ثم بناه فسقط.
আশ-শাইবানি বলেন: (মহা প্রতাপশালী ও মহিমান্বিত আল্লাহ দাউদ-এর প্রতি প্রত্যাদেশ পাঠালেন যে, তুমি বায়তুল মাকদিসের নির্মাণ সম্পন্ন করতে পারবে না। তিনি বললেন: হে প্রতিপালক, কেন? তিনি বললেন: কারণ তুমি তোমার হাত রক্তে রঞ্জিত করেছ। তিনি বললেন: হে প্রতিপালক, তা কি আপনার আনুগত্যের পথে ছিল না? তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদিও তা ছিল। উমর বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া ইবনে ইয়াকুব আল-মাকদিসি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু জাফর আহমাদ ইবনে আব্দুল্লাহ আল-বাগদাদি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আলী ইবনে আসিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হারিরি আমাদের নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে শাকিক আল-উকাইলি থেকে এবং তিনি কা'ব থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন সুলাইমান দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন, মহান আল্লাহ তাঁর প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন যে, বায়তুল মাকদিস নির্মাণ করো। অতঃপর তিনি তা নির্মাণ করলেন। যখন তিনি তাতে প্রবেশ করলেন, তখন পবিত্র ও মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ সিজদাবনত হলেন এবং বললেন: হে প্রতিপালক, কোনো ভীত ব্যক্তি যদি এতে প্রবেশ করে তবে তাকে নিরাপত্তা দিন, অথবা কোনো প্রার্থনাকারী যদি প্রার্থনা করে তবে তার প্রার্থনা কবুল করুন, অথবা কোনো ক্ষমা প্রার্থনাকারী যদি ক্ষমা চায় তবে তাকে ক্ষমা করে দিন। অতঃপর তিনি চার হাজার গরু ও সাত হাজার বকরি যবেহ করলেন এবং আহার প্রস্তুত করে বনী ইসরাঈলকে তাতে আমন্ত্রণ জানালেন। আর অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, মহান আল্লাহ দাউদ-এর প্রতি প্রত্যাদেশ করলেন: আমার জন্য একটি ঘর নির্মাণ করো। কিন্তু তিনি এর আগে নিজের জন্য একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন, তারপর তিনি তা নির্মাণ করলেন কিন্তু তা ধসে পড়ল।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
قال أبو بكر الخطيب المقدسي: وحدثنا عيسى بن عبيد الله، قال: أخبرني على ابن جعفر، قال: حدثنا محمد ابن ابراهيم ابن عيسى، حدثنا محمد ابن النعمان، حدثنا سليمان ابن عبد الرحمن، حدثنا أبو عبد الملك الجزري، قال: لما خلا من ملك سليمان سنين، بدأ في بناء بيت المقدس، فكان عدد من يعمل في بناء بيت المقدس ألف رجل. عليهم قطع الخشب في كل شهر عشرة آلاف. وكان عدة الذين يعملون في الحجارة عشرة آلاف. وكان عدة الذين يقومون عليهم ثلاثمائة أمين. وأولج فيه تابوت موسى وهارون، وصلى فيه ودعا ربه، فقال: يا رب! امرتني ببناء هذا البيت الشريف، يا رب فليكن نداك عليه الليل والنهار، وكل من جاءك يبتغي منك الفضل والمغفرة والنصرة والتوبة والرزق فاستجب له من قريب أو بعيد، فاستجاب له ربه عز وجل. وقال: قد استجب لك دعاءك. قال: يا سليمان! قد غفرت لمن أتى هذا البيت لا يعنيه إلا الصلاة فيه. قال سليمان ابن عبد الرحمن وحدثنا الوليد ابن محمد، قال: سمعت عطاء الخراساني يقول:
আবু বকর আল-খতিব আল-মাকদিসি বলেন: ঈসা ইবনে উবাইদুল্লাহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আলী ইবনে জাফর আমাকে সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ ইবনে ইবরাহিম ইবনে ঈসা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনে নুমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল মালিক আল-জাজারি আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন সুলাইমানের রাজত্বের কয়েক বছর অতিবাহিত হলো, তখন তিনি বাইতুল মাকদিস নির্মাণ শুরু করেন। বাইতুল মাকদিস নির্মাণে কর্মরত ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল এক হাজার পুরুষ। তাদের মধ্যে প্রতি মাসে দশ হাজার লোক কাঠ কাটার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল। পাথরের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকের সংখ্যা ছিল দশ হাজার। আর তাদের তদারকি করার জন্য তিনশ জন বিশ্বস্ত তত্ত্বাবধায়ক নিযুক্ত ছিলেন। তিনি তাতে মুসা ও হারুনের সিন্দুক (তাবুত) প্রবেশ করালেন এবং সেখানে সালাত আদায় করে তাঁর রবের নিকট দোয়া করলেন। তিনি বললেন: হে আমার রব! আপনি আমাকে এই সম্মানিত ঘর নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। হে আমার রব! এই ঘরের ওপর দিনরাত আপনার অনুগ্রহের আহ্বান থাকুক। যে কেউ আপনার অনুগ্রহ, ক্ষমা, সাহায্য, তওবা ও রিজিক অন্বেষণে আপনার নিকট আসবে, আপনি তার ডাকে সাড়া দিন—চাই সে নিকটবর্তী হোক বা দূরবর্তী। অতঃপর তাঁর রব মহান আল্লাহ তাঁর দোয়ায় সাড়া দিলেন। তিনি বললেন: আমি তোমার দোয়া কবুল করেছি। তিনি আরও বললেন: হে সুলাইমান! যে ব্যক্তি একমাত্র সালাত আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই ঘরে আসবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম। সুলাইমান ইবনে আবদুর রহমান বলেন, আল-ওয়ালিদ ইবনে মুহাম্মাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি আতা আল-খুরাসানিকে বলতে শুনেছি:
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭৮)
لما فرغ سليمان ابن داود من بناء بيت المقدس، أنبت الله عز وجل له شجرتين عند باب الرحمة، احداهما تنبت الذهب، والأخرى تنبت الفضة. فكان في كل يوم ينزع من كل واحدة مائتي رطل ذهباً وفضة. ففرش المسجد بلاطة ذهب وبلاطة فضة، فلما جاء بخت نصر، واحتمل منه ثمانين عجلة ذهباً وفضة فطرحه بروميه.
قال علماء السير: كان بيت المقدس قد خرب حتى صار كالمزابل، فأمر الله تعالى سليمان ببنائه، وذلك لأربع سنين خلت من ملكه، فبناه في سبع سنين. ومن هبط آدم إلى بناء سليمان بيت المقدس أربعة آلاف واربع مئة وست وسبعون. أنبأنا يحيى ابن ثابت ابن بندار أنبأنا أبي، أنبأنا الحسين ابن الحسين ابن روما، أنبأنا محمد ابن جعفر الباقرجي، أنبأنا الحسن ابن علي القطان، أنبأنا اسماعيل ابن عيسى العطار، حدثنا أبو حذيفة اسحاق ابن بشر، أنبأنا أبو الياس عن وهب ابن منبه
দাউদ পুত্র সুলাইমান যখন বাইতুল মাকদিস নির্মাণ সম্পন্ন করলেন, তখন আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তাঁর জন্য রহমতের দরজার নিকট দুটি বৃক্ষ উৎপন্ন করলেন, যার একটিতে স্বর্ণ এবং অপরটিতে রৌপ্য উৎপন্ন হতো। তিনি প্রতিদিন প্রতিটি বৃক্ষ থেকে দুইশ রতল স্বর্ণ ও রৌপ্য আহরণ করতেন। এরপর তিনি মসজিদের মেঝেতে একটি স্বর্ণের এবং একটি রৌপ্যের ইট বিছিয়ে দিলেন। অতঃপর যখন বুখত নসর আসল, সে তথা হতে আশিটি ভারবাহী গাড়ি পূর্ণ স্বর্ণ ও রৌপ্য বহন করে নিয়ে গেল এবং তা রোমে নিক্ষেপ করল।
সীরাত বিশেষজ্ঞগণ বলেন: বাইতুল মাকদিস ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়ে আবর্জনার স্তূপের ন্যায় হয়ে গিয়েছিল, তখন আল্লাহ তাআলা সুলাইমানকে তা নির্মাণের নির্দেশ প্রদান করেন। আর তা ছিল তাঁর রাজত্বের চার বছর অতিবাহিত হওয়ার পর, অতঃপর তিনি সাত বছরে এটি নির্মাণ করেন। আদমের অবতরণ থেকে সুলাইমানের বাইতুল মাকদিস নির্মাণ পর্যন্ত সময়কাল ছিল চার হাজার চারশ ছিয়াত্তর বছর। ইয়াহইয়া ইবনে সাবিত ইবনে বুন্দার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, আমার পিতা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-হুসাইন ইবনে আল-হুসাইন ইবনে রুমা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, মুহাম্মদ ইবনে জাফর আল-বাকিরজি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনে আলী আল-কাত্তান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, ইসমাইল ইবনে ঈসা আল-আত্তার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন, আবু হুযায়ফা ইসহাক ইবনে বিশর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন, আবু ইলিয়াস ওহাব ইবনে মুনাব্বিহ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৭৯)
عن كعب، قال: (إن الله عز وجل أوحى إلى سليمان أن ابن بيت المقدس. فجمع حكماء الأنس وعفاريت الجن وعظماء الشياطين، ثم فرق الشياطين، ثم فرق الشياطين، فجعل منهم فريقاً يبنون، ففريقاً يقطعون الصخر، وفريقاً يقطعون القنا والعمد من معادن الرخام، وفريقاً يغوصون في البحر فيخرجون منه الدر والمرجان، الدرة مثل بيضة النعام وبيضة الدجاج. وأخذ في بناء المسجد، فلم يثبت البناء. وكان عليه حير بناه داود فامر بهدمه، ثم حفر الأرض حتى بلغ الماء. فقال: اسسوا على الماء. فالقوا فيه الحجارة، فكان الماء يلفظ الحجارة، فاستشار في ذلك، فاشاروا عليه أن يتخذ قلالاً من نحاس، ثم يملأها حجارة، ثم يكتب عليها ما على خاتمه من ذكر التوحيد، ثم يلقيها في الماء، فيكون أساس البناء عليها. ففعل، فثبت وبنى وعمل ببيت المقدس عملا لا يوصف، وزينه بالذهب والفضة والدر والياقوت وألوان الجوهر، في سمائه وأرضه وأبوابه وجدره، ثم جمع الناس وأخبرهم أنه مسجد لله تعالى، وأنه هو الذي أمر ببنائه، وان كل شيء فيه لله تعالى، وان من انتقصه شيئاً فقد خان الله، وأنه كان
কাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: মহান আল্লাহ সুলাইমান (আ.)-এর প্রতি প্রত্যাদেশ (ওহী) পাঠালেন যে, তুমি বায়তুল মাকদিস নির্মাণ করো। অতঃপর তিনি মানবজাতির বিজ্ঞজনদের, অবাধ্য জিনদের এবং শক্তিশালী শয়তানদের একত্রিত করলেন। এরপর তিনি শয়তানদের বিভিন্ন দলে বিভক্ত করলেন; তাদের এক দলকে নির্মাণ কাজে নিযুক্ত করলেন, এক দল পাথর কাটতে লাগল, এবং এক দল মর্মর পাথরের খনি থেকে থাম ও স্তম্ভ কাটতে লাগল। আর এক দল সমুদ্রে ডুব দিয়ে সেখান থেকে মুক্তা ও প্রবাল সংগ্রহ করতে লাগল; একেকটি মুক্তা ছিল উটপাখির ডিম কিংবা মুরগির ডিমের ন্যায়। তিনি মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু করলেন, কিন্তু নির্মাণটি স্থির হচ্ছিল না। সেখানে দাউদ (আ.)-এর নির্মিত একটি প্রাচীর ছিল, যা তিনি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি মাটি খনন করলেন যতক্ষণ না পানির নাগাল পেলেন। তিনি নির্দেশ দিলেন: পানির ওপর ভিত্তি স্থাপন করো। তখন তারা সেখানে পাথর নিক্ষেপ করতে লাগল, কিন্তু পানি পাথরগুলোকে বাইরে ছুড়ে দিচ্ছিল। তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ চাইলে তাকে পরামর্শ দেওয়া হলো যে, তিনি যেন তামার বড় পাত্র গ্রহণ করেন এবং তা পাথর দিয়ে পূর্ণ করেন, এরপর সেগুলোর ওপর তাঁর আংটিতে খোদিত তাওহীদের বাণীসমূহ লিখে দেন এবং সেগুলো পানিতে নিক্ষেপ করেন, যেন সেগুলোর ওপর ভিত্তি স্থাপিত হয়। তিনি তাই করলেন, ফলে ভিত্তিটি স্থির হলো। তিনি বায়তুল মাকদিস নির্মাণ করলেন এবং এমন অতুলনীয় কাজ করলেন যা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। তিনি এর ছাদ, মেঝে, দরজা এবং দেয়ালসমূহ স্বর্ণ, রৌপ্য, মুক্তা, ইয়াকুত ও নানাবিধ মণি-মাণিক্য দ্বারা সুশোভিত করলেন। এরপর তিনি জনগণকে একত্রিত করলেন এবং তাদের অবহিত করলেন যে, এটি মহান আল্লাহর জন্য উৎসর্গকৃত একটি মসজিদ এবং তিনিই এটি নির্মাণের আদেশ দিয়েছেন; এর মধ্যকার সবকিছুর মালিক মহান আল্লাহ। যে ব্যক্তি এখান থেকে কোনো কিছু হ্রাস করবে (বা আত্মসাৎ করবে), সে আল্লাহর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল। আর তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮০)
قد عهد إلى داود في ذلك ثم أوصى سليمان بذلك من بعده، ثم اتخذ طعاماً وجمع الناس. أنبأنا المبارك ابن أحمد، أنبأنا أبو بكر محمد ابن أحمد الخطيب، حدثنا عمر ابن الفضل، حدثنا أبي، حدثنا الوليد ابن يزيد، عن سعيد ابن عبد العزيز، عن عطية ابن قيس، عن عبد الله ابن عمرو ابن العاص، فضرب ينهم بسور له باب باطنه فيه الرحمه، وظاهره من قبله العذاب، قال: هو سور بيت المقدس الشرقي والله أعلم.
দাউদকে সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, অতঃপর তিনি তার পরে সুলাইমানকে সে বিষয়ে অসিয়ত করেন। এরপর তিনি আহারের ব্যবস্থা করলেন এবং মানুষকে সমবেত করলেন। আল-মুবারক ইবনে আহমাদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-খাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবনুল ফজল আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, তিনি সাঈদ ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে, তিনি আতিয়্যাহ ইবনে কায়স থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস থেকে বর্ণনা করেছেন: "অতঃপর তাদের মাঝে একটি প্রাচীর স্থাপন করা হবে যার একটি দরজা থাকবে, যার অভ্যন্তরভাগে থাকবে রহমত এবং তার বহির্ভাগে থাকবে আযাব।" তিনি বলেন: এটি বায়তুল মাকদিসের পূর্বদিকের প্রাচীর, আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮১)
الباب الرابعفي ذكر العجائب التي كانت فيه
أنبأنا المبارك ابن أحمد، أنبأنا أبو الحسين ابن الفراء، أنبأنا عبد العزيز ابن أحمد، حدثنا أبو بكر محمد ابن أحمد الخطيب، حدثنا عمر ابن الفضل، حدثنا أبي، حدثنا محمد ابن العباس، حدثنا عمران ابن موسى، حدثنا البسام ابن داود، حدثنا أحمد ابن عن سلمة ابن أبي سلمة الأبرش، عن محمد ابن اسحق، عن أبي مالك ابن ثعلبة ابن أبي مالك القرظي، قال: سمعت إبراهيم ابن طلحة ابن عبيد الله يحدث عن أبيه، عن جده، يرفعه، قال: إن ذا القرنين كان من
চতুর্থ অধ্যায়এতে বিদ্যমান বিস্ময়কর ঘটনাবলির বর্ণনা প্রসঙ্গে
মুববারাক ইবন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবুল হুসাইন ইবনুল ফাররা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ ইবন আহমদ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবূ বকর মুহাম্মাদ ইবন আহমদ আল-খাতীব আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, উমর ইবনুল ফজল আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আমার পিতা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, মুহাম্মাদ ইবনুল আব্বাস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, ইমরান ইবন মূসা আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আল-বাসসাম ইবন দাঊদ আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, আহমদ সূত্রে সালামাহ ইবন আবূ সালামাহ আল-আবরাশ থেকে, তিনি মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক থেকে, তিনি আবূ মালিক ইবন সা’লাবাহ ইবন আবূ মালিক আল-কুরাজী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবরাহীম ইবন তালহা ইবন উবাইদুল্লাহকে তাঁর পিতা ও তাঁর দাদার সূত্রে মারফূ’ হিসেবে বর্ণনা করতে শুনেছি, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই যুল-কারনাইন ছিলেন...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮২)
حمير وإنه قصد بيت المقدس، وقد خضعت له الملوك، فرأى في بيت المقدس العجائب التي صنعها الضحاك بن قيس في الزمان الأول. إحدى تلك العجائب أنه صنع ناراً عظيمة اللهب، فمن لم يطع تلك الليلة أحرقته تلك النار. والثانية من رمى بيت المقدس بنشابة رجعت النشابة عليه. والثالثة وضع كلباً لمن خشب على باب بيت المقدس، فمن كان عنده شيء من السحر إذا مر بذلك الكلب نبح عليه، فإذا نبح عليه، نسي ما عنده من السحر. والرابعة وضع باباً، فمن دخله إذا كان ظالماً ضغطه ذلك الباب حتى يعترف بظلمه. والخامسة وضع عصا في محراب بيت المقدس، فلم يقدر أحد يمس تلك العصا إلا من كان من ولد الأنبياء، ومن كان سوى ذلك أحرقت يده. والسادسة أنهم كانوا يحبسون أولاد الملوك عنده في محراب بيت المقدس، فمن كان من أهل
হিমইয়ার এবং তিনি বায়তুল মাকদিসের অভিমুখে যাত্রা করলেন। রাজাগণ তাঁর বশ্যতা স্বীকার করেছিলেন। অতঃপর তিনি বায়তুল মাকদিসে এমন কিছু বিস্ময়কর বিষয় প্রত্যক্ষ করলেন যা প্রাচীন কালে যাহহাক ইবনে কায়স নির্মাণ করেছিলেন। সেই বিস্ময়কর বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হলো: তিনি এক প্রকাণ্ড লেলিহান অগ্নি প্রজ্বলিত করেছিলেন; যে ব্যক্তি সেই রাতে আনুগত্য প্রকাশ করত না, সেই আগুন তাকে দগ্ধ করত। দ্বিতীয়টি হলো: যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসের দিকে তীর নিক্ষেপ করত, সেই তীর উল্টো তার দিকেই ফিরে আসত। তৃতীয়টি হলো: তিনি বায়তুল মাকদিসের দ্বারে কাঠের একটি কুকুর স্থাপন করেছিলেন; জাদুর কোনো প্রভাব আছে এমন কেউ যখন সেই কুকুরের নিকট দিয়ে অতিক্রম করত, তখন সেটি তার দিকে লক্ষ্য করে চিৎকার করত। আর সেটি যখন চিৎকার করত, তখন সে তার নিকট থাকা জাদুর কথা বিস্মৃত হতো। চতুর্থটি হলো: তিনি একটি দরজা স্থাপন করেছিলেন; কোনো জালেম ব্যক্তি তাতে প্রবেশ করলে সেই দরজা তাকে এমনভাবে পিষ্ট করত যে সে তার জুলুমের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হতো। পঞ্চমটি হলো: তিনি বায়তুল মাকদিসের মেহরাবে একটি লাঠি স্থাপন করেছিলেন; নবীদের বংশধর ব্যতীত অন্য কেউ সেই লাঠি স্পর্শ করতে সক্ষম হতো না। তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা স্পর্শ করলে তার হাত দগ্ধ হতো। ষষ্ঠটি হলো: তারা রাজপুত্রদের বায়তুল মাকদিসের মেহরাবে তাঁর সান্নিধ্যে আটকে রাখত; অতঃপর তাদের মধ্য হতে যারা ছিল...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮৩)
المملكة إذا أصبح أصابوا يده مطلية بالدهن. وجعل (سليمان ابن داود سلسلة معلقة من السماء إلى الأرض، ليبين المحق من المبطل، فالمحق ينالها، والمبطل لا ينالها، وان يهودياً استودع مائة دينار، فجحدها فجاءوا إلى السلسلة، وقد سبك اليهود الدنانير، فجعلها في عصا وناولها صاحب المال، وحلف لقد أعطيته دنانيره، وحلف الآخر أنه لم يأخذ. فارتفعت السلسلة من ذلك اليوم) وجعل سليمان تحت الأرض مجلساً وبركة فيها ماء، فمن وقع في الماء وكان مبطلاً غرق، والله أعلم.
রাজ্যে যখন প্রভাত হতো, তারা তার হাত তৈলাক্ত অবস্থায় পেত। আর (দাউদ-পুত্র সুলায়মান আসমান থেকে জমিন পর্যন্ত ঝুলন্ত একটি শিকল স্থাপন করেছিলেন, যাতে সত্যপন্থী ও বাতিলপন্থীর পার্থক্য প্রকাশ পায়। ফলে সত্যপন্থী ব্যক্তি সেটি স্পর্শ করতে পারত, আর বাতিলপন্থী ব্যক্তি তার নাগাল পেত না। জনৈক ইহুদি ব্যক্তি একশ দিনার আমানত রেখেছিল, অতঃপর সে তা অস্বীকার করল। তখন তারা সেই শিকলের নিকট উপস্থিত হলো। এদিকে ইহুদি ব্যক্তিটি দিনারগুলো গলিয়ে একটি লাঠির ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছিল এবং তা সম্পদের মালিকের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল। এরপর সে কসম খেল যে, সে তাকে তার দিনারগুলো দিয়ে দিয়েছে; আর অপরজন কসম খেল যে সে তা গ্রহণ করেনি। ফলে সেদিন থেকেই শিকলটি উপরে উঠে গেল)। আর সুলায়মান মাটির নিচে একটি মজলিস এবং একটি জলাশয় তৈরি করেছিলেন যাতে পানি ছিল। সুতরাং যে ব্যক্তি সেই পানিতে পড়ত এবং সে বাতিলপন্থী হতো, সে ডুবে যেত। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮৪)
الباب الخامسفي ذكر فضل بيت المقدس قال الله عز وجل: (سُبحانَ الَّذي أَسرى بِعَبدِهِ لَيلاً مِن المَسجِد الحَرام) : يعني مسجد مكة، (إلى المسجد الأقصى) وهو بيت المقدس، وقيل له الأقصى لبعد المسافة التي بين المسجدين، (الذي باركنا حوله) أي بأن أجرى حوله الأنهار وأنبت الثمار، وقيل لأنه مقر الأنبياء ومهبط الملائكة. أنبأنا أبو المعمر، أنبأنا أبو الحسين ابن الفراء، أنبأنا عبد العزيز ابن أحمد النصيبي، أنبأنا أبو بكر محمد ابن أحمد الخطيب، حدثنا عمرو، حدثنا الوليد، حدثنا إبراهيم ابن محمد، حدثنا داود عن سعيد ابن عبد العزيز، عن عروة ابن رويم، عن عبد الله بن مالك الخثعمي، عن كعب قال: إن الله عز وجل ينظر إلى بيت المقدس كل يوم مرتين.
পঞ্চম অধ্যায়বায়তুল মাকদিসের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনায়। মহান আল্লাহ বলেছেন: (পবিত্র সেই সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে ভ্রমণ করিয়েছেন মাসজিদুল হারাম থেকে) : অর্থাৎ মক্কার মসজিদ, (মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত) আর তা হলো বায়তুল মাকদিস; দুই মসজিদের মধ্যবর্তী দূরত্বের আধিক্যের কারণে একে 'আকসা' বা দূরবর্তী বলা হয়েছে, (যার চারপাশকে আমি বরকতময় করেছি) অর্থাৎ এর চারপাশে নদী প্রবাহিত করে এবং ফলমূল উৎপন্ন করার মাধ্যমে। আবার বলা হয়েছে, কারণ এটি নবীদের আবাসস্থল এবং ফেরেশতাদের অবতরণস্থল। আবু আল-মুয়াম্মার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু আল-হুসাইন ইবনুল ফাররা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুল আজিজ ইবনে আহমদ আন-নাসিবি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু বকর মুহাম্মদ ইবনে আহমদ আল-খাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমর আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, দাউদ সাঈদ ইবনে আবদুল আজিজ থেকে, তিনি উরওয়াহ ইবনে রুওয়াইম থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে মালিক আল-খাসআমি থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ প্রতিদিন দুইবার বায়তুল মাকদিসের দিকে দৃষ্টিপাত করেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮৫)
الباب السادسفي فضل زيارته
أنبأنا أبو المعمر، أنبأنا أبو الحسين ابن الفراء، أنبأنا عبد العزيز ابن أحمد، حدثنا أبو بكر محمد ابن أحمد الخطيب، حدثنا عمر ابن الفضل. حدثنا أبي. حدثنا الوليد، حدثنا عبد الله ابن إبراهيم، عن حفص ابن عمرو، عن عبد الله ابن سريدة، عن مكحول، قال: (من زار بيت المقدس شوقاً إليه دخل الجنة، وزاره جميع الأنبياء، وغبطوه بمنزلته
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদএর জিয়ারতের ফযিলত সম্পর্কে
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুয়াম্মার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইবনুল ফাররা, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ ইবনু আহমাদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনু আহমাদ আল-খাতিব, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উমর ইবনুল ফাদল। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা। আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আব্দুল্লাহ ইবনু ইবরাহিম, হাফস ইবনু আমর থেকে, তিনি আব্দুল্লাহ ইবনু সারিদাহ থেকে, তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: (যে ব্যক্তি বাইতুল মাকদিসের প্রতি ব্যাকুলতা নিয়ে তা জিয়ারত করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে; এবং সমস্ত নবীগণ তাকে জিয়ারত করবেন এবং তার মর্যাদার কারণে তারা তাকে নিয়ে ঈর্ষা বোধ করবেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮৬)
من الله عز وجل. وغيما رفقة خرجوا يريدون بيت المقدس شيعتهم عشرة آلاف من الملائكة يستغفرون لهم ويصلون عليهم، ولهم مثل أعمالهم إذا انتهوا إلى بيت المقدس، ولهم بكل يوم يقيمون فيه صلاة سبعين ملكاً. ومن دخل بيت المقدس طاهراً من الكبائى يلقاه بمائة رحمة، ما منها رحمة إلا ولو قسمت على جميع الخلائق لوسعتهم. ومن صلى في بيت المقدس ركعتين يقرأ فيها فاتحة الكتاب، وقل هو الله أحد خرج من ذنوبه كيوم ولدته أمه، وكان له بكل شعرة على جسده حسنة. ومن صلى في بيت المقدس أربع ركعات، مر على الصراط كالبرق، وأعطي أماناً من الفزع الأكبر يوم القيامة. ومن صلى في بيت المقدس ست ركعات، أعطي مائة دعوة مجابة، أدناها براءة من النار، ووجبت له الجنة. ومن صلى في بيت المقدس ثماني ركعات، كان رفيق إبراهيم خليل الرحمن. ومن صلى في بيت المقدس عشر ركعات، كان رفيق داود وسليمان في الجنة. ومن استغفر للمؤمنين والمؤمنات في بيت المقدس ثلاث مرات، كان له مثل حسناتهم، ودخل على كل مؤمن ومؤمنة من دعائه سبعون مفغرة، وغفر له ذنوبه كلها. قال الوليد: وحدثنا إبراهيم ابن
আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে। আর যখনই কোনো কাফেলা বায়তুল মাকদিসের উদ্দেশ্যে বের হয়, তখন দশ হাজার ফেরেশতা তাদের সঙ্গী হয়, তারা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং তাদের জন্য দুআ করে। তারা যখন বায়তুল মাকদিসে পৌঁছায়, তখন তাদের জন্য তাদের আমলের অনুরূপ সওয়াব নির্ধারিত হয় এবং সেখানে অবস্থানকালীন প্রতিদিনের সালাতের বিনিময়ে তাদের জন্য সত্তরজন ফেরেশতা (নিয়োজিত থাকেন)। আর যে ব্যক্তি কবিরা গুনাহ থেকে পবিত্র হয়ে বায়তুল মাকদিসে প্রবেশ করবে, আল্লাহ তাকে একশত রহমত দ্বারা গ্রহণ করবেন, যার মধ্য থেকে একটি রহমতই যদি সমস্ত সৃষ্টির মাঝে বণ্টন করা হতো তবে তা তাদের সকলের জন্য যথেষ্ট হতো। আর যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে দুই রাকাত সালাত আদায় করবে এবং তাতে সূরা ফাতিহা ও 'কুল হুয়াল্লাহু আহাদ' পাঠ করবে, সে তার গুনাহ থেকে এমনভাবে মুক্ত হয়ে বের হবে যেন আজই তার মা তাকে জন্ম দিয়েছেন এবং তার শরীরের প্রতিটি লোমের বিনিময়ে তার জন্য একটি করে নেকি থাকবে। আর যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে চার রাকাত সালাত আদায় করবে, সে বিদ্যুতের গতিতে পুলসিরাত পার হবে এবং কিয়ামতের দিনের মহাতঙ্ক থেকে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে ছয় রাকাত সালাত আদায় করবে, তাকে একশতটি কবুলযোগ্য দুআ দান করা হবে, যার মধ্যে সর্বনিম্নটি হলো জাহান্নাম থেকে মুক্তি এবং তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে যাবে। আর যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে আট রাকাত সালাত আদায় করবে, সে হবে রহমানের বন্ধু ইবরাহিমের সঙ্গী। আর যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে দশ রাকাত সালাত আদায় করবে, সে জান্নাতে দাউদ ও সুলায়মানের সঙ্গী হবে। আর যে ব্যক্তি বায়তুল মাকদিসে তিনবার মুমিন নর-নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করবে, সে তাদের সকলের সমপরিমাণ নেকি লাভ করবে এবং তার দুআর বরকতে প্রত্যেক মুমিন নর-নারীর নিকট সত্তরটি করে ক্ষমা পৌঁছে যাবে এবং তার নিজের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। ওয়ালিদ বলেন: আমাদের নিকট ইবরাহিম ইবনে...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮৭)
محمد، حدثنا ضمرة عن الشيباني، سليمان ابن أداود لما رد الله ملكه مشى على رجليه من عسقلان إلى بيت المقدس في خرق عليه تواضعاً لله عز وجل. وكذلك روينا أن النجاشي لما غلب قيصر مشى إلى بيت المقدس على قدميه شكراً لله عز وجل.
মুহাম্মদ, যামরাহ আমাদের নিকট আশ-শাইবানী থেকে বর্ণনা করেছেন যে, সুলাইমান ইবন দাউদ, যখন আল্লাহ তাঁর রাজত্ব ফিরিয়ে দিলেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর প্রতি বিনয়বশত জীর্ণ বস্ত্র পরিহিত অবস্থায় আসকালান থেকে বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত পায়ে হেঁটে গিয়েছিলেন। একইভাবে আমাদের নিকট বর্ণিত হয়েছে যে, নাজাশী যখন কায়সারকে পরাজিত করলেন, তখন তিনি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বায়তুল মাকদিস পর্যন্ত পায়ে হেঁটে গিয়েছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮৮)
الباب السابعفي فضل الصلاة فيه أنبأنا أبو المعمر ابن أحمد الأنصاري، أنبأنا أبو الحسين محمد ابن محمد ابن الفراء، أنبأنا عبد العزيز أحمد ابن عمران، حدثنا أبو بكر محمد ابن الخطيب، حدثنا عيسى ابن عبد العزيز الوراق، أخبرني أبو الحسين علي ابن جعفر الرازي، حدثنا إبراهيم ابن محمد ابن عبد الصمد المقدسي، حدثني الحسن ابن الحسين العلاف، حدثنا علي ابن داود القنطري، حدثنا شيبان عن قتادة عن أنس، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من صلى ببيت المقدس خمس صلوات نافلة كل صلاة أربع ركعات يقرأ في الخمس صلوات عشرة آلاف مرة (قل هة الله أحد) فقد اشترى نفسه من الله تعالى ليس للنار عليه سلطان حدثنا أبو العباس أحمد ابن عمر ابن يونس، حدثنا أبو محمد عبد الله ابن محمد ابن سالم المقدسي، حدثنا هشام ابن عماد الدمشقي، حدثنا أبو الخطاب، حدثنا زريق أبو عبد الله الألماني عن أنس ابن مالك قال: قال
সপ্তম অধ্যায়সেখানে (বাইতুল মুকাদ্দাসে) সালাত আদায়ের ফযীলত সম্পর্কে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মুয়াম্মার ইবনে আহমাদ আল-আনসারী, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল ফাররা, তিনি বলেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবদুল আযীয আহমাদ ইবনে ইমরান, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনুল খাতীব, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ঈসা ইবনে আবদুল আযীয আল-ওয়াররাক, তিনি বলেন, আমাকে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন আলী ইবনে জাফর আর-রাযী, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইব্রাহীম ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুস সামাদ আল-মাকদিসী, তিনি বলেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন আল-হাসান ইবনুল হুসাইন আল-আল্লাফ, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আলী ইবনে দাউদ আল-কানতারী, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন শায়বান, তিনি কাতাদাহ থেকে এবং তিনি আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি বাইতুল মুকাদ্দাসে পাঁচ ওয়াক্ত নফল সালাত আদায় করবে—যার প্রতিটি সালাত হবে চার রাকাত বিশিষ্ট এবং এই পাঁচ ওয়াক্ত সালাতে মোট দশ হাজার বার 'কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ' (সূরা আল-ইখলাস) পাঠ করবে—তবে সে মহান আল্লাহর নিকট থেকে নিজেকে ক্রয় করে নিল এবং তার ওপর জাহান্নামের আগুনের কোনো আধিপত্য থাকবে না।" আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবুল আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর ইবনে ইউনুস, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে সালিম আল-মাকদিসী, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন হিশাম ইবনে ইমাদ আদ-দিমাশকী, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন আবু আল-খাত্তাব, তিনি বলেন, আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যুরাইক আবু আব্দুল্লাহ আল-আলমানী, তিনি আনাস ইবনে মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৮৯)
رسول الله صلى الله عليه وسلم: (صلاة الرجل في بيته بصلاة واحدة، وصلاته في مسجد القبائل بست وعشرين، وصلاته في المسجد الذي يجمع فيه بخمسمائة صلاة، وصلاته في المسجد الأقصى بخمسين ألف صلاة، وصلاته في المسجد الحرام بمئة ألف صلاة) . قال أبو بكر الخطيب: وحدثنا عمر ابن الفضل، حدثنا أبي، حدثنا الوليد، حدثنا إبراهيم ابن محمد، حدثنا محمد ابن عبد الرحمن، حدثنا
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: (ব্যক্তির নিজ ঘরে সালাত এক সালাতের সমান, মহল্লার মসজিদে তার সালাত ছাব্বিশ গুণ, যে মসজিদে জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয় তাতে তার সালাত পাঁচশত গুণ, মসজিদুল আকসায় তার সালাত পঞ্চাশ হাজার গুণ এবং মসজিদুল হারামে তার সালাত এক লক্ষ গুণ সালাতের সমান)। আবু বকর আল-খতিব বলেন: আমাদের নিকট ওমর ইবনুল ফজল বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আমার পিতা বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট আল-ওয়ালিদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রহমান বর্ণনা করেছেন, আমাদের নিকট...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯০)
ثور ابن يزيد، عن مكحول، أن ميمونة سألت رسول الله صلى الله عليه وسلم عن بيت المقدس قال: نعم المسكين بيت المقدس، ومن صلى فيه صلاة بألف صلاة فيما سواه، قالت: فمن لم يطق ذلك، قال: فليهد له زيتاً. أنبأنا ناصر أنبأنا عبد الرحمن ابن أبي عبد الله ابن مندة، حدثنا أبي، حدثنا أحمد ابن محمد ابن إبراهيم، حدثنا محمد ابن النعمان ابن بشير، حدثنا سليمان، حدثنا أبو عبد الملك عن غالب عن مكحول: عن النبي صلى الله عليه وسلم: قال: لا يسمع أهل السماء من كلام بني آدم شيئاً غير آذان مؤذن بيت المقدس.
সাওর ইবনে ইয়াজিদ মাকহুল থেকে বর্ণনা করেন যে, মায়মুনা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বায়তুল মুকাদ্দাস সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন। তিনি বললেন: “বায়তুল মুকাদ্দাস কতই না উত্তম আবাসস্থল; সেখানে এক ওয়াক্ত সালাত আদায় করা অন্য স্থানের হাজার সালাতের সমান।” তিনি বললেন: “যদি কেউ তাতে সক্ষম না হয়?” তিনি বললেন: “তবে সে যেন সেখানে (প্রদীপ জ্বালানোর জন্য) তেল উপহার পাঠায়।” নাসের আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবদুর রহমান ইবনে আবি আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার পিতা আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে ইব্রাহিম আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে নুমান ইবনে বশীর আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সুলাইমান আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, আবু আব্দুল মালিক গালিব থেকে এবং তিনি মাকহুল থেকে বর্ণনা করেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “আসমানবাসীরা আদম সন্তানদের কোনো কথাই শুনতে পায় না, কেবল বায়তুল মুকাদ্দাসের মুয়াজ্জিনের আযান ব্যতীত।”
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯১)
الباب الثامنفي ذكر مضاعفة الحسنات والسيئات فيه
أنبأنا المبارك ابن أحمد الأنصاري، أنبأنا محمد ابن محمد ابن الحسين القاضي، أنبأنا عبد العزيز ابن أحمد ابن عمر، أنبأنا محمد ابن أحمد ابن أبي بكر الخطيب، حدثنا عمر ابن الفضل، حدثنا أبو الحسين يعقوب ابن اسحق العسقلاني، حدثنا أبو عمير النحاس، حدثنا ضمرة عن الليث ابن سعد عن نافع. قال: قال ابن عمر، ونحن في بيت المقدس: يا نافع أخرج بنا من هذا البيت فان السيئات تضاعف فيه كما تضاعف الحسنات، قال عمر ابن الفضل: وحدثني أبي، حدثنا الوليد، حدثنا إبراهيم، حدثنا كثير ابن الوليد، حدثنا أبو هاشم إسماعيل ابن
অষ্টম অধ্যায়সেখানে নেকি ও গুনাহসমূহ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ার বর্ণনা প্রসঙ্গে
আল-মুবারক ইবনে আহমাদ আল-আনসারি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল হুসাইন আল-কাদি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুল আজিজ ইবনে আহমাদ ইবনে উমর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ ইবনে আহমাদ ইবনে আবি বকর আল-খাতিব আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, উমর ইবনুল ফাদল আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু আল-হুসাইন ইয়াকুব ইবনে ইসহাক আল-আসকালানি আমাদের বর্ণনা করেছেন, আবু উমাইর আন-নাহহাস আমাদের বর্ণনা করেছেন, দামরাহ লায়স ইবনে সাদ থেকে এবং তিনি নাফে থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ইবনে উমর (রা.) বললেন—এমতাবস্থায় যে আমরা বাইতুল মুকাদ্দাসে ছিলাম— হে নাফে, আমাদের এই ঘর থেকে বের করে নিয়ে চলো, কারণ এখানে গুনাহসমূহ সেভাবেই বহুগুণ বৃদ্ধি পায় যেভাবে নেকিগুলো বৃদ্ধি পায়। উমর ইবনুল ফাদল বলেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইব্রাহিম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, কাসির ইবনুল ওয়ালিদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু হাশিম ইসমাইল ইবনে...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯২)
عياش قال: سمعت جرير بن عثمان وصفوان ابن عمرو يقولان: الحسنة في بيت المقدس والسيئة بألف.
আইয়াস বলেন: আমি জারীর বিন উসমান এবং সাফওয়ান ইবনে আমরকে বলতে শুনেছি: বায়তুল মাকদিসে একটি নেকি এক হাজারের সমান এবং একটি গুনাহও এক হাজারের সমান।
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯৩)
الباب التاسعفي فضل السكني فيه أنبأنا أبو المعمر، أنبأنا أبو الحسين ابن الفراء، أنبأنا عبد العزيز ابن أحمد ابن عمر، أنبأنا أبو بكر محمد ابن محمد الخطيب المقدسي، حدثنا أبو العباس أحمد ابن عمر، أنبأنا عبد الله ابن محمد ابن مسلم، حدثنا هشام ابن عمار، حدثنا محمد ابن شعيب عن عثمان ابن عطاء، عن ابيه، عن زياد ابن أبي سودة، عن ابي عمران، عن ذي الأصابع أنه قال: أرأيت يا رسول الله ان ابتلينا بالبقاء بعدك، فأين تأمرنا؟ قال: عليك ببيت المقدس، لعل الله يرزقك ذرية تغدو غليه وتروح قال الخطيب المقدسي: وحدثنا نسيم ابن عبد الله المقتدري، حدثنا عبد
নবম অধ্যায়সেখানে বসবাসের ফজিলত প্রসঙ্গে। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-মু'আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন ইবনুল ফাররা, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল আজিজ ইবনে আহমাদ ইবনে উমর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে মুহাম্মাদ আল-খতিব আল-মাকদিসি, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে উমর, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে মুসলিম, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন হিশাম ইবনে আম্মার, তিনি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন মুহাম্মাদ ইবনে শুয়াইব, তিনি উসমান ইবনে আতা থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে, তিনি যিয়াদ ইবনে আবি সাওদাহ থেকে, তিনি আবু ইমরান থেকে, তিনি যুল আসাবি‘ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছিলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আপনার অভিমত কী যদি আমরা আপনার পর জীবিত থাকার পরীক্ষার সম্মুখীন হই, তবে আপনি আমাদের কোথায় যাওয়ার নির্দেশ দেবেন? তিনি বললেন: তুমি বায়তুল মাকদিসকে আঁকড়ে ধরো, সম্ভবত আল্লাহ তোমাকে এমন বংশধর দান করবেন যারা সকাল-সন্ধ্যা সেখানে যাতায়াত করবে। খতিব আল-মাকদিসি বলেন: আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন নাসিম ইবনে আব্দুল্লাহ আল-মুক্তাদরি, আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন আব্দ...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯৪)
العزيز ابن جعفر الخوارزمي، حدثنا أحمد ابن الفرج أبو عتبة، حدثنا ضمرة ابن زمعة، حدثني السيباني عن عمرو ابن عبد الله الحضرمي عن أبي أمامة الباهلي، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: لا يزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق لعدوهم قاهرين لا يضرهم من خالفهم حتى يأتيهم أمر الله عز وجل وهم كذلك. قالوا: يا رسول الله وأين هم؟ قال: ببيت المقدس واكناف بيت المقدس. قال الخطيب: وحدثنا عمر ابن الفضل ابن المهاجر، حدثنا ابي، حدثنا الوليد، حدثنا إبراهيم ابن محمد، حدثنا محمد ابن عبد الرحمن عن ابن جريج، عن عطاء قال: لا تقوم الساعة حتى يسوق الله خيار عباده إلى بيت المقدس وإلى الأرض المقدسة فيسكنهم إياها. قال الوليد: وحدثنا محمد ابن
আজিজ ইবনে জাফর আল-খাওয়ারিজমি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমদ ইবনুল ফরাজ আবু উতবাহ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জামরাহ ইবনে জামআহ, আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আস-সাইবানি, আমর ইবনে আব্দুল্লাহ আল-হাদরামি থেকে, তিনি আবু উমামাহ আল-বাহিলি থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "আমার উম্মতের একটি দল সর্বদা হকের ওপর বিজয়ী থাকবে, তারা তাদের শত্রুদের ওপর পরাক্রমশালী হবে। যারা তাদের বিরোধিতা করবে তারা তাদের কোনো ক্ষতি করতে পারবে না, যতক্ষণ না আল্লাহর নির্দেশ আসবে এবং তারা এই অবস্থাতেই থাকবে।" তারা জিজ্ঞেস করলেন: "হে আল্লাহর রাসূল, তারা কোথায়?" তিনি বললেন: "বায়তুল মাকদিসে এবং বায়তুল মাকদিসের আশপাশে।" খতিব বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ওমর ইবনুল ফজল ইবনুল মুহাজির, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আমার পিতা, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আল-ওয়ালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইব্রাহিম ইবনে মুহাম্মদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আব্দুর রহমান, ইবনে জুরাইজ থেকে, তিনি আতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "কিয়ামত সংঘটিত হবে না যতক্ষণ না আল্লাহ তাঁর সর্বোত্তম বান্দাদের বায়তুল মাকদিস এবং পবিত্র ভূমির দিকে পরিচালিত করবেন এবং সেখানে তাদের বসবাস করাবেন।" আল-ওয়ালিদ বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে...
(খণ্ড: ১)
ফাদাইলু বাইতিল মাক্বদিস - ইবনুল জাওযী - ত্ব আল-আফাক্ব
(পৃষ্ঠা: ৯৫)
النعمانن حدثنا سليمان ابن عبد الرحمن، حدثنا أبو عبد الملك الجزري عن غالب ابن عبيد الله، عن مكحول عن كعب، قال: قال الله عز وجل لبيت المقدس: أنت جنتي، وقدسي وصفوتي من بلادي، من سكنك فبرحمة مني، ومن خرج منك فبسخط مني عليه. قال: وحدثنا الجزري عن مقاتل ابن سليمان عن وهب ابن منبه: أهل بيت المقدس جيران الله عز وجل وحق على الله أن لا يعذب جيرانه.
নূমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, সুলাইমান ইবনু আবদুর রহমান আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আব্দুল মালিক আল-জাজারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন গালিব ইবনু উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি মাকহুল থেকে, তিনি কাব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহ বাইতুল মাকদিসের উদ্দেশ্যে বলেছেন: তুমি আমার জান্নাত, আমার পবিত্র স্থান এবং আমার দেশসমূহের মধ্যে আমার পছন্দকৃত ভূমি; যে তোমার মধ্যে বসবাস করবে সে আমার পক্ষ থেকে রহমতের মধ্যে থাকবে, আর যে তোমার থেকে বের হয়ে যাবে তার ওপর আমার পক্ষ থেকে অসন্তুষ্টি নিপতিত হবে। তিনি বলেন: আল-জাজারী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুকাতিল ইবনু সুলাইমান থেকে, তিনি ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন: বাইতুল মাকদিসের অধিবাসীগণ মহান ও মহিমান্বিত আল্লাহর প্রতিবেশী, আর আল্লাহর ওপর এটি হক যে তিনি তাঁর প্রতিবেশীদের শাস্তি দেবেন না।