(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: -)
فرح الأسماع برخص السماع القسم: مسائل فقهية
الكتاب: فرح الأسماع برخص السماع
المؤلف: محمد بن أحمد بن محمد بن داود بن سلامة اليزلتيني، التونسي القاهري، المالكي، الوفائي، الشاذلي، ويعرف بابن زغدان (أبو عبد الله، أبو المواهب) (ت 882هـ)
تحقيق وتقديم: د. محمد الشريف الرحموني
الناشر: الدار العربية للكتاب
عام النشر: 1985 م
عدد الصفحات: 112
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
ফারাহুল আসমা বি-রুখাসিস সামা বিভাগ: ফিকহী মাসআলাসমূহ
গ্রন্থ: ফারাহুল আসমা বি-রুখাসিস সামা
লেখক: মুহাম্মদ ইবনে আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে দাউদ ইবনে সালামাহ আল-ইয়াযলিতিনি, আত-তুনিসি আল-কাহিরি, আল-মালিকি, আল-ওয়াফাই, আশ-শাযিলি, এবং তিনি ইবনে যাগদান নামে পরিচিত (আবু আব্দুল্লাহ, আবু আল-মাওয়াহিব) (মৃত্যু ৮৮২ হিজরি)
সম্পাদনা ও উপস্থাপনা: ড. মুহাম্মদ আশ-শরিফ আল-রাহমুনি
প্রকাশক: আদ-দারুল আরাবিয়্যাহ লিল কিতাব
প্রকাশের বছর: ১৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১১২
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ৮ যিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله على سيدنا محمد وآله وسلم تسليما
مقدمة المؤلف(قال سيدنا وسندنا المولى الكبير، والعلم الشهير المنير، الولي العارف، والمربي الملاطف، قطب وقته، وفريد عصره، أستاذ الزمان وبركة الوقت والأوان، إمام الحضرة والطريقة، ومعدن السلوك والحقيقة: محمد المالكي، الشاذلي، الوفائي، الشهير بأبي المواهب) : الحمد لله الذي أباح وفسح مجال الغناء رغما لأنف أهل الجهل الأغبياء، وأراح به بواطن أهل السلوك من الصوفية الأصفياء، وجعله لهم معراجا للأرواح وراحة من كدورات الأطغياء وأنسوا به في غربة السير في عالم الأشباح مع إخوانهم الأتقياء، كيف لا؟ وهو عرس للأرواح للسادة الأولياء، يريح الأرواح، ويخفف الأشباح، ويذهب الأتراح، ويأتي بالأفراح (ويؤنس الإشراق ولمعان الضياء.) نحمده سبحانه وتعالى على ما فهمنا معاني،
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।এবং আমাদের নেতা মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারবর্গের ওপর আল্লাহর দরুদ ও পূর্ণ সালাম বর্ষিত হোক।লেখকের ভূমিকা(আমাদের নেতা ও আশ্রয়, মহান প্রতিপালক, প্রখ্যাত আলোকবর্তিকা সদৃশ আলিম, মারেফতপ্রাপ্ত ওলি (الولي العارف), দয়াবান আধ্যাত্মিক শিক্ষক, নিজ সময়ের কুতুব (قطب وقته), নিজ যুগের অনন্য ব্যক্তিত্ব, জামানার উস্তাদ এবং বর্তমান সময়ের বরকত, হাযরা ও তরীকার ইমাম (إمام الحضرة والطريقة), এবং সুলুক ও হাকীকতের খনি (معدن السلوك والحقيقة): মুহাম্মদ আল-মালিকি, আশ-শাযিলি, আল-ওয়াফায়ি, যিনি আবু আল-মাওয়াহিব নামে সুপরিচিত, তিনি বলেন): সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি মূর্খ ও নির্বোধদের নাসিকা ধূলিসাৎ করে আধ্যাত্মিক সংগীতের (الغناء) ক্ষেত্রকে বৈধ ও প্রশস্ত করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি পরিচ্ছন্ন সুফিদের সুলুকের (السلوك) অভ্যন্তরীণ সত্তাকে প্রশান্তি দান করেছেন। তিনি একে রুহ বা আত্মার জন্য ঊর্ধ্বগমন বা মিরাজ স্বরূপ এবং পাপাচারীদের পঙ্কিলতা থেকে মুক্তির উপায় বানিয়েছেন। এর ফলে তারা বস্তু জগতের এই প্রবাস জীবনে তাদের পরহেজগার ভাইদের সাথে একাত্ম হতে পারে। কেনই বা হবে না? অথচ এটি মহান আউলিয়াগণের (الأولياء) আত্মার উৎসব স্বরূপ; যা আত্মাকে প্রশান্ত করে, দেহকে ভারমুক্ত করে, শোক অপসারিত করে এবং আনন্দ আনয়ন করে (এবং এটি উজ্জ্বল প্রভা ও দীপ্তিময় আলোর সাথে সখ্যতা তৈরি করে)। আমরা মহান আল্লাহর প্রশংসা করি এই কারণে যে, তিনি আমাদের অর্থ ও মর্মসমূহ অনুধাবন করিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
وأطلعنا على اسراره الخفية في مبانيه، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له: شهادة شهود لكمال تفرد فردانيته، وتحققا بتنزيه جلال أحديته، وأشهد أن أكمل متبوع من الرسل والأنبياء سيدنا ومولانا محمد جامع دواير الكمال، من ألبسه الله حلة الجمال، وتوجه بتاج الوقار والجلال، ورضي الله عن الصحابة الكرام الأكابر، أيمة الهدى والإقتداء (الأوائل والأواخر وسلم عليه وعليهم تسليما كثيرا) .
أما بعد فهذه فوائد تتعلق بإباحة السماع والغناء، سبب جمعها إنكار الجهال،
এবং তিনি আমাদের এর কাঠামোগত নিগূঢ় রহস্যসমূহ সম্পর্কে অবগত করেছেন। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই—এটি তাঁর একত্বের পূর্ণতার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য এবং তাঁর অনন্য সত্তার মহিমার পবিত্রতার একনিষ্ঠ স্বীকৃতি। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, সকল রাসুল ও নবিদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতম অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হলেন আমাদের সরওয়ার ও মাওলানা মুহাম্মদ, যিনি সকল পূর্ণতার আধার, যাকে আল্লাহ সৌন্দর্যের পোশাকে ভূষিত করেছেন এবং গাম্ভীর্য ও মহিমার মুকুটে অলঙ্কৃত করেছেন। আর আল্লাহ তাআলা মহান সাহাবায়ে কিরামের প্রতি সন্তুষ্ট হোন, যারা হিদায়াত ও অনুকরণের ইমাম (পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের প্রতি এবং তাঁর ও তাঁদের সবার প্রতি অজস্র শান্তি বর্ষিত হোক)।
অতঃপর, এটি শ্রবণ (السماع) ও সংগীতের বৈধতা সম্পর্কিত কিছু সংকলিত আলোচনা, যা সংগ্রহের কারণ হলো অজ্ঞদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ের অস্বীকৃতি,
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
ووقوع الأندال في الأبدال (وحسد أهل الأكدار من الأغيار الأحبار الأبرار) .
আবদাল (الأبدال)-গণের স্তরে নীচ প্রকৃতির লোকদের অনুপ্রবেশ (এবং পুণ্যবান (الأبرار) বিদগ্ধ আলেমদের (الأحبار) প্রতি কলুষিত হৃদয়ের অধিকারীদের হিংসা) ।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
أقسام الغناء
القسم الأول
بغير آلة ملحن بألحاناعلم أن الغناء ثلاثة أقسام: قسم ساذج بغير آلة ملحن بألحان، فذهب قوم إلى إباحته من غير كراهة - وهو مذهب أكثر الفقهاء - مع أمن الفتنة والسلامة من المنكر.
(قالوا رضي الله عنهم (: ونقل هذا عن جماعة من الصحابة رضوان الله عليهم أجمعين، وعن جماعة من التابعين، فمن الصحابة: عمر بن الخطاب
সঙ্গীতের প্রকারভেদ (أقسام)প্রথম প্রকার (القسم الأول)বাদ্যযন্ত্র ব্যতিরেকে সুরলহরীযুক্ত সঙ্গীতজেনে রাখুন যে, সঙ্গীত তিন প্রকার (أقسام): এক প্রকার হলো বাদ্যযন্ত্র বিহীন সাধারণ সুরযুক্ত সঙ্গীত। একদল বিশেষজ্ঞ ফিতনা (فتنة) থেকে নিরাপত্তা এবং মন্দ কাজ (منكر) থেকে মুক্ত থাকার শর্তে একে কোনো অপছন্দনীয়তা (كراهة) ছাড়াই বৈধ (إباحة) গণ্য করার অভিমত ব্যক্ত করেছেন—আর এটিই অধিকাংশ ফকীহগণের (الفقهاء) মাযহাব (مذهب)।
(তাঁরা—আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—বলেছেন): এটি একদল সাহাবী (الصحابة) —আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন—এবং একদল তাবিঈ (التابعين) থেকে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবীদের (الصحابة) মধ্যে রয়েছেন: উমর ইবনুল খাত্তাব।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫০)
وعثمان بن عفان وأبو عبيده بن الجراح، وسعد بن أبي وقاص، وأبو مسعود الأنصاري، وبلال وعبد الله بن الأرقم، وأسامة بن زيد وعبد الرحمان بن عوف وحمزة بن عبد المطلب وعبد الله بن عمر، والبراء بن مالك، وعبد الله بن الزبير، وعمر بن العاص ومعاوية والنعمان بن بشير، وحسان بن ثابت، والمغيرة بن شعبة، وعائشة أم المؤمنين. ومن التابعين: سعيد بن المسيب وسالم بن عبد الله بن عمر بن الخطاب، وعبد الرحمان بن حسان، وخارجه بن زيد، وشريح القاضي، وسعيد بن جبير، وعامر الشعبي، وعبد الله بن أبي عتيق، وعطاء بن أبي رباح، وعمر بن عبد العزيز. ومن غير التابعين من العلماء المجتهدين: ابن جريج والعنبري، ونقل عن: مالك،
ওসমান ইবনে আফফান, আবু উবাইদাহ ইবনুল জাররাহ, সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, আবু মাসউদ আল-আনসারি, বিলাল, আবদুল্লাহ ইবনুল আরকাম, উসামা ইবনে যায়েদ, আবদুর রহমান ইবনে আউফ, হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব, আবদুল্লাহ ইবনে উমর, বারা ইবনে মালিক, আবদুল্লাহ ইবনুল জুবায়ের, উমর ইবনুল আস, মুয়াবিয়া, নুমান ইবনে বশির, হাসসান ইবনে সাবিত, মুগিরা ইবনে শুবা এবং মুমিন জননী আয়েশা। আর তাবেয়ীগণের (التابعين) মধ্য থেকে: সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, সালিম ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর ইবনুল খাত্তাব, আবদুর রহমান ইবনে হাসসান, খারিজা ইবনে যায়েদ, বিচারক (القاضي) শুরাইহ, সাঈদ ইবনে জুবায়ের, আমির আশ-শা’বি, আবদুল্লাহ ইবনে আবি আতিক, আতা ইবনে আবি রাবাহ এবং উমর ইবনে আবদুল আজিজ। আর তাবেয়ীগণ (التابعين) ব্যতীত অন্যান্য মুজতাহিদ আলেমদের (العلماء المجتهدين) মধ্য থেকে: ইবনে জুরাইজ এবং আল-আনবারি; আর মালিক থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫১)
والشافعي، وأبي حنيفة وأحمد بن حنبل وسفيان بن عيينة، وقال به القاضي أبو بكر بن الطيب الباقلاني، وأبو بكر بن مجاهد، واختاره من الشافعية الأستاذ أبو منصور البغدادي، والأستاذ أبو القاسم القشيري والداركي، والحليمي، وإمام الحرمين والماوردي، والروياني ومحلي، وحكى الغزالي الإتفاق عليه، واختاره القاضي أبو بكر بن العربي من المالكية، ذكر ذلك في أحكام القرآن له وفي كتاب العارضة: شرح له على الترمذي، وحكاه ابن رشيق في عمدته عن جماعة من المالكية، وقال القاضي: ناصر الدين بن المنير في فتواه: إذا كان بشرط في محله من أهله فالسماع صحيح.
واختاره من الحنابلة: الخلال: صاحب الجامع، واختاره صاحب
এবং শাফেয়ী, আবু হানিফা, আহমাদ বিন হাম্বল ও সুফিয়ান বিন উয়ায়নাহ এই মত পোষণ করেছেন। কাজী আবু বকর বিন আল-ত্বায়্যিব আল-বাকিল্লানি এবং আবু বকর বিন মুজাহিদও এটি ব্যক্ত করেছেন। শাফেয়ীগণের মধ্য থেকে উস্তাদ আবু মনসুর আল-বাগদাদী, উস্তাদ আবু আল-কাসিম আল-কুশায়রী, আদ-দারাকী, আল-হালীমী, ইমামুল হারামাইন, আল-মাওয়ারদী, আল-রুয়ানী এবং মাহাল্লী এই মতটি গ্রহণ করেছেন। ইমাম গাজালী এই বিষয়ে ঐক্যমত (الإتفاق) বর্ণনা করেছেন। মালিকীগণের মধ্য থেকে কাজী আবু বকর বিন আল-আরাবী এটি পছন্দ করেছেন; তিনি তার 'আহকামুল কুরআন' গ্রন্থে এবং তিরমিযীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'আল-আরিজাহ'-তে এটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে রাশীক তার 'উমদাহ' গ্রন্থে একদল মালিকী আলেম থেকে এটি বর্ণনা করেছেন। কাজী নাসিরুদ্দিন বিন আল-মুনাইর তার ফতোয়ায় বলেছেন: "যদি এটি তার উপযুক্ত ক্ষেত্রে যোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে নির্দিষ্ট শর্তের (بشرط) ভিত্তিতে হয়, তবে সেই শ্রবণ (السماع) সঠিক (صحيح) হবে।"
হাম্বলীগণের মধ্য থেকে 'আল-জামি' প্রণেতা আল-খাল্লাল এটি পছন্দ করেছেন, এবং পছন্দ করেছেন [উক্ত গ্রন্থের] রচয়িতা...
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫২)
المستوعب، عن جماعة منهم. وهو مذهب الظاهرية، حكاه ابن حزم وصنف فيه، وابن طاهر، ونقل اجماع الصحابة والتابعين عليه ونقل ابن قتيبة وتاج الدين الفزاري: مفتي الشافعية وشيخهم بدمشق: إجماع أهل الحرمين عليه. ونقله صاحب النهاية في شرح الهداية من الحنفية، وقال بعضهم: إذا كان لدفع الوحشة عن النفس فلا بأس به، وبه أخذ شمس الأيمة: السرخسي، واستدل عليه بأن أنسا: صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم كان يفعل ذلك. واختاره من متأخري الأئمة: الإمام: عز الدين بن عبد السلام الشافعي الإمام: تقي الدين بن دقيق العيد
আল-মুস্তাউইব গ্রন্থে তাদের একটি দল থেকে এটি বর্ণিত হয়েছে। এটি জাহিরি মাযহাব (مذهب), যা ইবনে হাজম বর্ণনা করেছেন এবং এই বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইবনে তাহিরও এটি বর্ণনা করেছেন এবং এর ওপর সাহাবী (صحابة) ও তাবেয়িগণের (تابعين) ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন। ইবনে কুতায়বাহ এবং শাফেয়িগণের মুফতি ও দামেস্কে তাদের শায়খ তাজউদ্দীন আল-ফাজারি এ বিষয়ে হারামাইন শরিফাইনবাসীর ঐক্যমত (إجماع) বর্ণনা করেছেন। হানাফিদের মধ্যে আল-হিদায়াহ-এর ভাষ্যগ্রন্থ আন-নিহায়াহ এর রচয়িতাও এটি বর্ণনা করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন: যদি তা মনের একাকীত্ব দূর করার জন্য হয়, তবে এতে কোনো ক্ষতি নেই। শামসুল আইম্মাহ আস-সারাকসি এই মত গ্রহণ করেছেন এবং এর সপক্ষে দলিল পেশ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবী (صاحب) আনাস (রা.) এমনটি করতেন। পরবর্তী যুগের (متأخرين) ইমামদের মধ্য থেকে ইমাম ইজ্জুদ্দীন ইবনে আবদুস সালাম আশ-শাফেয়ি এবং ইমাম তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীক আল-ঈদ এই মতটি বেছে নিয়েছেন।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
الإمام: بدر الدين بن جماعة
ومن العلماء من قسمه إلى: مباح ومستحب، وجعل من المستحب الغناء في العرس ونحوه، والمباح فيما سوى ذلك، قال الإمام عز الدين - في القواعد -: من كان عنده هوى من مباح كعشق زوجته وأمته فسماعه لا بأس به. ومن قال: لا أجد في نفسي شيئا. فالسماع - في حقه - ليس بمحرم. وقال - في فتواه للشيخ أبي عبد الله بن النعمان -: سماع ما يحرك الأحوال السنية المذكرة للآخرة مندوب. وقاله الغزالي في الإحياء. وقال الإمام أبو بكر بن فورك: من سمع الغناء والقول على تأويل نطق به القرآن أو جاءت به السنة، أو على طريق الرغبة إلى الله تعالى أو الرهبة منه، فهنيئا له، ومن سمعه على اعتقاد معنى في المسموع في الأنبياء والأولياء فحاله أتم ممن تقدمه وهو الذي يسمع في جاريته أو في زوجته، ومن سمعه على حظ نفسه في القينات - لاحظ روحه وقلبه - فليستغفر الله تعالى. ولهذا قال الجنيد رضي الله
ইমাম: বদর উদ্দিন ইবন জামাআহ
আলেমদের মধ্যে এমন কেউ আছেন যারা একে বৈধ (مباح) এবং মুস্তাহাব (مستحب) এই দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন। তারা বিবাহের অনুষ্ঠান এবং এই জাতীয় ক্ষেত্রে গান গাওয়াকে মুস্তাহাব (مستحب) এবং এছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈধ (مباح) হিসেবে গণ্য করেছেন। ইমাম ইজ্জুদ্দিন —আল-কাওয়াইদ গ্রন্থে— বলেছেন: যার মধ্যে তার স্ত্রী বা দাসীর প্রতি অনুরাগের মতো কোনো বৈধ (مباح) আসক্তি রয়েছে, তার জন্য তা শ্রবণে কোনো দোষ নেই। আর যে ব্যক্তি বলে: "আমি আমার মনে বিশেষ কিছু অনুভব করি না", তার ক্ষেত্রেও শ্রবণ করা নিষিদ্ধ (محرم) নয়। তিনি —শেখ আবু আবদুল্লাহ ইবনুন নুমানের প্রতি তাঁর ফতোয়ায়— বলেছেন: পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এমন মহৎ আধ্যাত্মিক অবস্থা জাগ্রতকারী বিষয় শ্রবণ করা পছন্দনীয় (مندوب)। ইমাম গাজালি ইহয়া গ্রন্থেও এ কথা বলেছেন। ইমাম আবু বকর ইবন ফুরাক বলেছেন: যে ব্যক্তি গান বা কাব্য শ্রবণ করে কুরআনের বক্তব্য কিংবা সুন্নাহর নির্দেশের কোনো ব্যাখ্যার নিরিখে, অথবা মহান আল্লাহর প্রতি অনুরাগ কিংবা তাঁর ভীতির পথে, তবে তার জন্য অভিনন্দন। আর যে ব্যক্তি নবীগণ এবং ওলিগণের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ উপলব্ধির বিশ্বাস নিয়ে তা শ্রবণ করে, তার অবস্থা পূর্বোক্ত ব্যক্তির চেয়েও পূর্ণতর, যে ব্যক্তি তার দাসী বা স্ত্রীর স্মরণে তা শোনে। আর যে ব্যক্তি গায়িকাদের কণ্ঠে কেবল নিজের নফসের লালসা মেটাতে তা শোনে —যেখানে তার রুহ বা অন্তরের কোনো যোগ নেই— সে যেন মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। এজন্যই জুনাইদ (রা.) বলেছেন...
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
عنه: الناس في السماع على ثلاثة أضرب: العوام والزهاد والعارفون، فأما العوام فحرام عليهم لبقاء نفوسهم، وأما الزهاد فيباح لهم لحصول مجاهدتهم، وأما أصحابنا فيستحب لهم. وإلى هذا ذهب أبو طالب المكي في القوت، والسهروردي في العوارف، وقال أبو طالب: لو أنكرنا السماع من غير تفصيل فقد أنكرنا على سبعين صديقا. وقال السهروردي: المنكر للسماع. إما جاهل بالسنن والآثار وإما مغتر بما أتيح له من أعمال الأخيار وإما جامد الطبع لا ذوق له فيصر على الإنكار. قال بعض العارفين: السماع لما سمع له، كماء زمزم لما شرب له. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
তাঁর থেকে বর্ণিত: শ্রবণের (السماع) ক্ষেত্রে মানুষ তিন স্তরে বিভক্ত: সাধারণ মানুষ, দুনিয়াবিমুখ সাধক (الزهاد) এবং মরমী জ্ঞানী (العارفون)। সাধারণদের জন্য এটি হারাম, কারণ তাদের কুপ্রবৃত্তি (নফস) এখনো অবশিষ্ট রয়েছে। আর দুনিয়াবিমুখ সাধকদের জন্য এটি বৈধ (مباح), কারণ তাদের কঠোর সাধনা (মুজাহাদা) অর্জিত হয়েছে। পক্ষান্তরে আমাদের সঙ্গীদের (আরিফদের) জন্য এটি মুস্তাহাব (مستحب)। আবু তালিব আল-মাক্কি তাঁর 'কুত' গ্রন্থে এবং সুহরাওয়ার্দী তাঁর 'আওয়ারিফ' গ্রন্থে এই মতই গ্রহণ করেছেন। আবু তালিব বলেন: "যদি আমরা সবিস্তার বিশ্লেষণ ব্যতিরেকেই শ্রবণকে (السماع) অস্বীকার করি, তবে আমরা সত্তরজন পরম সত্যবাদীকে (صديقا) অস্বীকার করলাম।" সুহরাওয়ার্দী বলেন: "শ্রবণের (السماع) অস্বীকারকারী হয় সুন্নাহ ও বিবরণ (الآثار) সম্পর্কে অজ্ঞ, নতুবা সে নেককারদের আমলসমূহের মধ্যে তাকে যা প্রদান করা হয়েছে তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত, অথবা সে জড় স্বভাবের যার কোনো আধ্যাত্মিক রসবোধ নেই, ফলে সে তা অস্বীকার করার ওপর অটল থাকে।" জনৈক মরমী জ্ঞানী (العارفين) বলেন: "শ্রবণ (السماع) সেই উদ্দেশ্যেই কার্যকর হয় যে উদ্দেশ্যে তা শোনা হয়, যেমন জমজমের পানি যে উদ্দেশ্যে পান করা হয় ঠিক সেই উদ্দেশ্যেই ফলপ্রসূ হয়।" আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন:
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
إنما الأعمال بالنيات. قال الأستاذ الكبير أبو القاسم الجنيد:
وغنّى لي من قلبي وغنّيت كما غنّى
… وكنا حيثما كانوا وكانوا حيثما كنا
নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। মহান উস্তাদ আবুল কাসিম আল-জুনাইদ বলেছেন:
তিনি আমার অন্তর থেকে আমার জন্য গেয়েছেন এবং তিনি যেভাবে গেয়েছেন আমিও সেভাবেই গেয়েছি
… আর তারা যেখানে ছিলেন আমরাও সেখানেই ছিলাম এবং আমরা যেখানে ছিলাম তারাও সেখানেই ছিলেন।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
القسم الثاني
في الغناء المقارن للدف والشبابةفقال أصحابنا المالكية: من السنة إعلان النكاح بالدف وحكاه شارح المقنع عن الحنابلة وأبو بكر العامري عن الشافعية. وذهبت طائفة إلى إباحته مطلقا وعليه جرى إمام الحرمين، والغزالي، وحكى غير واحد من الشافعية وجهين في غير النكاح والختان، وصحح الرافعي الجواز، وكذا القاضي أبو بكر بن العربي من المالكية.
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ (القسم الثاني)দফ (دف) ও বাঁশি (شبابة) সহযোগে সংগীত প্রসঙ্গেআমাদের মালিকি মাযহাবের আলেমগণ বলেছেন: দফ (دف) বাজিয়ে বিবাহ ঘোষণা করা সুন্নাহর (سنة) অন্তর্ভুক্ত; 'আল-মুাকনি' গ্রন্থের ব্যাখ্যাকার এটি হাম্বলি মাযহাবের আলেমদের পক্ষ থেকে এবং আবু বকর আল-আমিরি শাফেয়ি মাযহাবের আলেমদের পক্ষ থেকে বর্ণনা করেছেন। একদল আলেম একে নিরঙ্কুশভাবে বৈধ (مباح) হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং ইমামুল হারামাইন ও আল-গাজালি এই মতেরই অনুসারী ছিলেন। একাধিক শাফেয়ি আলেম বিবাহ ও খতনা (ختان) ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে দুটি মত (وجهين) বর্ণনা করেছেন। ইমাম রাফেয়ি এর বৈধতাকে (جواز) বিশুদ্ধ (صحح) বলে সাব্যস্ত করেছেন এবং মালিকি মাযহাবের কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবিও অনুরূপ মত প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
وأما الشبابة - وهي القصبة المثقبة: قال أصحاب الموسيقى: إنها آلة كاملة وافية بجميع النغمات - فاختلف العلماء فيها: فذهبت طائفة إلى التحريم وذهبت طائفة إلى الإباحة، وهو مذهب جماعة من الشافعية، واختاره الغزالي، والعامري، والرافعي - في الشرح الصغير - وقال: انه الأظهر، وقال - في الكبير -: إنه الأقرب، واختاره الإمام: عز الدين بن عبد السلام، والإمام تقي الدين بن دقيق العيد، والإمام قاضي القضاة: ابن جماعة: وقال تاج الدين الشريسي: إنه مقتضى المذهب، وقال الرافعي: إن نبي الله داود عليه الصلاة والسلام كان يضرب بها في غنمه، قال: وروى عن الصحابة
আর শাব্বাবাহ প্রসঙ্গে—যা একটি ছিদ্রযুক্ত বাঁশি: সঙ্গীতজ্ঞরা বলেছেন যে, এটি সকল সুর প্রকাশে সক্ষম একটি পূর্ণাঙ্গ বাদ্যযন্ত্র—এ বিষয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ রয়েছে: একদল আলেম একে নিষিদ্ধ (تحريم) সাব্যস্ত করেছেন এবং অন্য একদল একে বৈধ (إباحة) সাব্যস্ত করেছেন। এটি শাফেঈগণের একটি দলের মাযহাব। এটি ইমাম গাযালী, আল-আমিরী এবং রাফেঈ—আশ-শারহ আল-সাগীর গ্রন্থে—পছন্দ করেছেন এবং তিনি বলেছেন যে, এটিই অধিক স্পষ্ট (الأظهر) মত। আর তিনি আল-কাবীর গ্রন্থে বলেছেন: এটিই অধিক নিকটবর্তী (الأقرب)। এই মতটি ইমাম ইযযুদ্দীন ইবনে আব্দুস সালাম, ইমাম তাক্বিউদ্দীন ইবনে দাক্বীকুল ঈদ এবং কাযিল কুযাত ইবনে জামা'আহও পছন্দ করেছেন। তাজউদ্দীন আশ-শারীসী বলেছেন: এটিই মাযহাবের দাবি। রাফেঈ বলেছেন: আল্লাহর নবী দাউদ (আলাইহিস সালাম) তাঁর মেষপাল চরাকালে এটি বাজাতেন। তিনি বলেন: এবং এটি সাহাবীগণের থেকেও বর্ণিত (روى) হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৫৯)
الترخيص في الراعى.
قالوا: والشبابة تجري الدمع، وترقق القلب، وتحث على السير، وتجمع البهائم إذا سرحت، ولم يزل أهل الصلاح والمعارف والعلم يحضرون السماع بالشبابة، وتجري على أيديهم الكرامات الظاهرة، وتحصل لهم الأحوال السنية، ومرتكب المحرم - لا سيما إذا أصر عليه - يفسق به وقد صرح إمام الحرمين، والمتولي وغيرهما من الأيمة بامتناع جريان الكرامة على يد الفاسق.
রাখালদের জন্য (বাঁশি ব্যবহারের) অনুমতি প্রসঙ্গে।
তাঁরা বলেন: শাব্বাবাহ (এক প্রকার বাঁশি) অশ্রু প্রবাহিত করে, অন্তরকে বিগলিত করে, পথ চলায় উৎসাহ জোগায় এবং গবাদি পশুরা যখন চারণভূমিতে বিচরণ করে তখন তাদের একত্রিত করে। পুণ্যবান, তত্ত্বজ্ঞানী ও জ্ঞানতাপসগণ সর্বদা শাব্বাবাহ সহযোগে শ্রবণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেন; তাঁদের হাতে প্রকাশ্য অলৌকিক ঘটনা (কারামত) প্রকাশিত হতো এবং তাঁরা উচ্চতর আধ্যাত্মিক অবস্থা লাভ করতেন। আর নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত ব্যক্তি—বিশেষ করে যখন সে তাতে অবিচল থাকে—সে পাপাচারী (فاسق) হিসেবে গণ্য হয়। ইমামুল হারামাইন, আল-মুতাওয়াল্লী এবং অন্যান্য ইমামগণ স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, পাপাচারী (فاسق) ব্যক্তির হাত দিয়ে কারামত প্রকাশ পাওয়া অসম্ভব।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬১)
القسم الثالث
وهو سماع الغناء بالأوتار وسائر المزاميرأما العود - وهو معروف، ويقال إن أول من صنعه مالك بن آدم ابي البشر عليه السلام لما مات ولده، وقيل صنعه أهل الهند على طبائع الإنسان - فقد اختلف العلماء فيه وفيما جرى
তৃতীয় পরিচ্ছেদএটি হলো তন্তুবাদী বাদ্যযন্ত্র ও অন্যান্য বাঁশির সুরে সংগীত শ্রবণ প্রসঙ্গেআর ‘উদ’ প্রসঙ্গে—যা একটি সুপরিচিত বাদ্যযন্ত্র; বলা হয়ে থাকে যে, মানবজাতির পিতা আদম আলাইহিস সালামের পুত্র মালিক এটি সর্বপ্রথম নির্মাণ করেছিলেন যখন তাঁর পুত্র মারা যায়। আবার বলা হয় যে, ভারতের অধিবাসীগণ মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে এটি তৈরি করেছিল—এ বিষয়ে এবং এর আনুষঙ্গিক বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬২)
مجراه من الالات المعروفة ذوات الأوتار، فالمشهور من مذاهب الأيمة الأربعة أن الضرب به وسماعه حرام وذهبت طائفة إلى جوازه، ونقل سماعه عن: عبد الله بن عمر، وعبد الله بن جعفر، وعبد الله بن الزبير، ومعاوية بن أبي سفيان
এটি প্রচলিত তন্তুবিন্যস্ত বাদ্যযন্ত্রসমূহের অন্তর্ভুক্ত; আইম্মায়ে আরবা বা চার ইমামের মাযহাবের প্রসিদ্ধ মত হলো এটি বাজানো এবং শ্রবণ করা নিষিদ্ধ (حرام)। তবে একটি দল এর বৈধতার (جواز) পক্ষে মত দিয়েছেন এবং এটি শ্রবণ করার বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবনে উমর, আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের এবং মুয়াবিয়া ইবনে আবি সুফিয়ান থেকে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬৩)
وعمر بن العاص، وغيرهم. ومن التابعين عن: خارجة بن زيد وعبد الرحمان بن حسان، وسعيد بن المسيب، وعطاء بن أبي رباح، والشعبي، وابن أبي عتيق، وأكثر فقهاء المدينة، ونقل عن مالك سماعه وليس ذلك بالمعروف عند أصحابه، وقال القاضي أبو بكر بن العربي المالكي - في كتابه شرح الترمذي الذي سماه بالعارضة لما تكلم على إباحة الغناء -: وإن زاد فيه أحد على ما كان في عهد النبي صلى الله عليه وسلم عودا يصوت عليه نغمة فقد دخل في قوله: مزمار الشيطان في بيت رسول الله صلى الله عليه وسلم؟! فقال: دعهما فإنه يوم عيد، وإن اتصل نقرطنبور به، فلا يؤثر أيضا في تحريمه، فإنها كلها آلات تتعلق بها قلوب الضعفاء وللنفس عليها استراحة وطرح لثقل الجد الذي لا تحمله كل نفس: ولا يتعلق به قلب، فإن تعلقت به نفس فقد سمح الشرع لها فيه العود
এবং আমর ইবনুল আস ও অন্যান্যগণ। আর তাবেয়ীদের (التابعين) মধ্য থেকে যারা বর্ণনা করেছেন: খারিজাহ ইবনে যায়িদ, আবদুর রহমান ইবনে হাসসান, সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব, আতা ইবনে আবি রাবাহ, আশ-শা'বি, ইবনে আবি আতিক এবং মদিনার অধিকাংশ ফকিহগণ। ইমাম মালিক থেকে তাঁর গান শোনার কথা বর্ণিত হয়েছে, তবে তাঁর অনুসারী বা ছাত্রদের নিকট এটি পরিচিত (المعروف) বিষয় নয়। কাজি আবু বকর ইবনুল আরাবি আল-মালিকি তাঁর তিরমিজির ব্যাখ্যাগ্রন্থ—যাকে তিনি আল-আরিজাহ নামে অভিহিত করেছেন—তাতে সংগীতের বৈধতা সম্পর্কে আলোচনার সময় বলেছেন: "যদি কেউ এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে যা ছিল তার অতিরিক্ত এমন কোনো বাদ্যযন্ত্র যুক্ত করে যা থেকে সুর ধ্বনিত হয়, তবে কি তা তাঁর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হবে: 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে শয়তানের বাঁশি?!' অথচ তিনি বলেছিলেন: 'ওদের ছেড়ে দাও, কেননা এটি ঈদের দিন'। আর যদি এর সাথে তানবুরের ঝংকারও যুক্ত হয়, তবে তাও এর নিষিদ্ধতার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলবে না। কেননা এগুলি সবই এমন যন্ত্র যার প্রতি দুর্বলদের অন্তর আসক্ত হয় এবং নফসের জন্য এতে রয়েছে প্রশান্তি ও গাম্ভীর্যের সেই ভার মোচনের উপায় যা সব নফস সহ্য করতে পারে না। আর কোনো (দৃঢ়) অন্তর এতে লিপ্ত হয় না; তবে যদি কোনো নফস এতে আসক্ত হয়, তবে শরিয়ত তাকে সেই বাদ্যযন্ত্র ব্যবহারের অবকাশ দিয়েছে।"
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬৪)
يسمى طنبورا، وهو المعروف في اللغة. وحكى إباحته المارودي عن بعض الشافعية، ومال إليه الأستاذ: أبو منصور البغدادي، ونقل عن الشيخ أبي إسحاق الشيرازي أنه كان مذهبه ومشهورا عنه، وأنه لم ينقل عن أحد من العلماء أنه أنكره عليه، حكاه ابن طاهر المقدسي عنه، وكان قد عاصر الشيخ، وحكاه عن أهل المدينة، وادعى أنه لا خلاف بينهم فيه، وكان إبراهيم بن سعد: من علماء المدينة يقول بإباحته، ولا يحدث حديثا حتى يضرب به، ولما قدم بغداد واجتمع بالخليفة هارون قال له: حدثنا يا إبراهيم حديثا، ائتني بالعود يا أمير المؤمنين، قال: أتريد عود المجمر أم
একে তানবুর বলা হয় এবং এটিই ভাষাগতভাবে সুপরিচিত। আল-মাওয়ার্দি কিছু শাফিঈ পণ্ডিতদের থেকে এর বৈধতা (إباحة) বর্ণনা করেছেন এবং উস্তাদ আবু মনসুর আল-বাগদাদী এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন। শায়খ আবু ইসহাক আল-শিরাজি থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এটিই ছিল তাঁর মাযহাব (مذهب) এবং তাঁর নিকট থেকে এটি প্রসিদ্ধ (مشهور) ছিল। কোনো আলেম থেকে এমন কোনো বর্ণনা পাওয়া যায়নি যে তিনি এর প্রতিবাদ করেছেন; ইবনে তাহির আল-মাকদিসি তাঁর পক্ষ থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং তিনি শায়খের সমসাময়িক ছিলেন। তিনি এটি মদিনাবাসীদের থেকে বর্ণনা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে এ বিষয়ে তাদের মধ্যে কোনো মতভেদ (خلاف) নেই। মদিনার আলেমদের অন্যতম ইব্রাহিম ইবনে সাদ এর বৈধতার (إباحة) কথা বলতেন এবং বাদ্যযন্ত্রটি না বাজানো পর্যন্ত তিনি কোনো হাদিস বর্ণনা করতেন না। যখন তিনি বাগদাদে এলেন এবং খলিফা হারুনের সাথে সাক্ষাৎ করলেন, তখন খলিফা তাঁকে বললেন: "হে ইব্রাহিম, আমাদের একটি হাদিস শোনান।" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আমাকে উদ এনে দিন।" খলিফা বললেন: "আপনি কি ধুনুচির কাঠ চাচ্ছেন নাকি..."
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬৫)
عود الغناء؟ قال: لا، عود الغناء، فأحضره له فضرب به وغناه ثم حدثه. وإبراهيم بن سعد أحد شيوخ الشافعي رضي الله عنه، وروى عنه البخاري، وهو إمام مجتهد مشهور، عدل بارز ثقة مأمون، ولما ضرب بالعود بين يدي هارون الرشيد قال له يا إبراهيم من قال بتحريم هذا من علمائكم؟ قال: من ربطه الله يا أمير المؤمنين. وذكر الإمام ابن عرفة - في مختصره الفقهي عن إبراهيم بن سعد - إباحة الغناء بالعود، ونقل الإمام المازري من أصحابنا المالكية عن عبد الله بن عبد الحكم أنه مكروه، وحكي عن الإمام عز الدين بن عبد السلام أنه مباح، ثم اختلف الذين ذهبوا إلى تحريمه هل هو كبيرة أو صغيرة؟ والأصح - عند المتأخرين من الشافعية أنه صغيرة،
গানের বাদ্যযন্ত্র (উদ)? তিনি বললেন: না, গানের বাদ্যযন্ত্র (উদ), অতঃপর তিনি সেটি তাঁর কাছে আনালেন এবং তা বাজালেন ও গান গাইলেন, তারপর তাঁকে হাদিস শোনালেন। ইব্রাহিম বিন সাদ ছিলেন ইমাম শাফেয়ী (রা.)-এর অন্যতম উস্তাদ এবং ইমাম বুখারি তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি একজন প্রসিদ্ধ (مشهور) ইজতিহাদকারী (مجتهد) ইমাম, বিশিষ্ট ন্যায়পরায়ণ (عدل), নির্ভরযোগ্য (ثقة) ও বিশ্বস্ত (مأمون) ব্যক্তিত্ব ছিলেন। যখন তিনি হারুনুর রশিদের সামনে বাদ্যযন্ত্র (উদ) বাজালেন, তখন হারুন তাঁকে বললেন, 'হে ইব্রাহিম! আপনাদের আলেমদের মধ্যে কে এর নিষিদ্ধকরণ (تحريم) বিষয়ে মত দিয়েছেন?' তিনি বললেন: 'হে আমিরুল মুমিনিন, যাকে আল্লাহ সংকীর্ণমনা করেছেন।' ইমাম ইবনে আরাফাহ তাঁর ফিকহী সারসংক্ষেপে ইব্রাহিম বিন সাদ থেকে বাদ্যযন্ত্রসহ গান গাওয়ার বৈধতার (إباحة) কথা উল্লেখ করেছেন। আমাদের মালেকি মাযহাবের ইমাম মাজিরি, আবদুল্লাহ বিন আব্দুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে এটি অপছন্দনীয় (مكروه)। ইমাম ইজ্জুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে এটি বৈধ (مباح)। অতঃপর যারা এটি নিষিদ্ধ (تحريم) হওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন, তারা এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, এটি কি কবিরা গুনাহ (كبيرة) নাকি সগিরা গুনাহ (صغيرة)? শাফেয়ী মাযহাবের পরবর্তী যুগের আলেমদের নিকট অধিকতর সঠিক (الأصح) মত হলো এটি সগিরা গুনাহ (صغيرة)।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬৬)
وهو اختيار إمام الحرمين ولا ترد بسماعه شهادة وحكى المازري في شرح التلقين عن ابن عبد الحكم أنه قال: إذا كان في عرس أو صنيع فلا ترد به شهادة، قال الأستاذ: شرف الدين بن الفارض رضي الله عنه:
ولاتك باللاهي عن اللهو معرضا
… فهزل الملاهي جّد نفس مجدة.
এটি ইমামুল হারামাইনের মনোনীত অভিমত এবং এটি শ্রবণের কারণে সাক্ষ্য (شهادة) প্রত্যাখ্যান করা হয় না। আল-মাযিরি 'শরহুত তালকিন' গ্রন্থে ইবনে আব্দুল হাকাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "যদি তা বিবাহ অনুষ্ঠান বা ভোজসভায় হয়, তবে এর কারণে সাক্ষ্য (شهادة) বাতিল হবে না।" উস্তাদ শরফুদ্দিন ইবনুল ফারিদ (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেছেন:
আমোদ-প্রমোদ থেকে বিমুখ হয়ে আমোদকারীর মতো হয়ে যেও না
… কেননা চিত্তবিনোদনের কৌতুকই হলো একনিষ্ঠ প্রাণের প্রকৃত গাম্ভীর্য।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬৭)
فصل في الرقصوقد اختلف فيه الفقهاء: فذهبت طائفة إلى الكراهة، منهم: القفال حكاه الروياني في البحر، وقال الأستاذ: أبو منصور: تكلف الرقص على الإيقاع مكروه. وذهبت طائفة إلى اباحته، قال صاحب العمدة من الشافعية: الغناء مباح أصله، وكذلك ضرب القضيب، والرقص،
নৃত্য বিষয়ক পরিচ্ছেদএই বিষয়ে আইনবিদগণ (فقهاء) মতভেদ করেছেন: একদল এটি অপছন্দনীয় (كراهة) হওয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আল-কাফফাল; যা আর-রুয়ানি ‘আল-বাহর’ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। আল-উস্তাদ আবু মানসুর বলেছেন: তালের সাথে কৃত্রিমভাবে নৃত্য করা অপছন্দনীয় (مكروه)। আর অন্য একদল এটি বৈধ (إباحة) হওয়ার দিকে গিয়েছেন; শাফেয়ি মাযহাবের ‘আল-উমদাহ’ গ্রন্থের লেখক বলেছেন: সংগীতের মূল বিধান হলো তা বৈধ (مباح), আর অনুরূপভাবে ছড়ি দিয়ে আঘাত করা এবং নৃত্যও।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬৮)
وما أشبه ذلك، وقال إمام الحرمين: الرقص ليس بمحرم، فإنه حركات على استقامة أو اعوجاج، ولكن كثيره يحرم المروءة، وكذلك قال: المحلي والعماد السهروردي والرافعي، واحتج عليه الرافعي بما يقتضي إباحته، وجزم الغزالي بإباحته. وقال الحليمي في منهاجه: إذا لم يكن فيه تثن وتكسر فلا بأس به.
وقال الإمام النووي - في المنهاج -: ويباح رقص ما لم يكن بتكسر وتثن كهيئة مخنث. والأمر فيه مختلف باختلاف الأشخاص والأحوال والأماكن، وذهبت طائفة إلى التفرقة بين أرباب الأحوال وغيرهم، فيجوز لأرباب الأحوال ويكره لغيرهم. وهذا القول هو المرتضى وعليه أكثر الفقهاء المسوغين لسماع الغناء وهو مذهب السادة الصوفية رضي الله عنهم أجمعين وبعض المتصوفة يفرق بين أن يشير به شيخ أم لا. فإن
এবং এই জাতীয় যা আছে। ইমামুল হারামাইন বলেছেন: নৃত্য নিষিদ্ধ (محرم) নয়, কারণ এটি কেবল সোজা বা বাঁকাভাবে কিছু অঙ্গভঙ্গি মাত্র; কিন্তু এর আধিক্য ব্যক্তিত্বকে (مروءة) ক্ষুণ্ণ করে। আল-মহল্লী, আল-ইমাদ আস-সুহরাওয়ার্দী এবং আর-রাফেয়ীও একই কথা বলেছেন। আর-রাফেয়ী এর বৈধতার (إباحة) সপক্ষে এমন যুক্তি পেশ করেছেন যা এর বৈধতা দাবি করে এবং ইমাম আল-গাজালী এর বৈধতার (إباحة) ব্যাপারে দৃঢ় মত ব্যক্ত করেছেন। আল-হালিমি তাঁর মিনহাজ গ্রন্থে বলেছেন: যদি এতে শরীর দোলানো বা কৃত্রিম অঙ্গভঙ্গি না থাকে, তবে এতে কোনো অসুবিধা নেই।
ইমাম আন-নববী তাঁর আল-মিনহাজ গ্রন্থে বলেছেন: নৃত্য বৈধ (مباح) যতক্ষণ না তা হিজড়াদের মতো শরীর বাঁকানো বা কৃত্রিম অঙ্গভঙ্গি সম্বলিত হয়। এ বিষয়টি ব্যক্তি, অবস্থা ও স্থানের ভিন্নতা ভেদে ভিন্ন হতে পারে। একদল আলিম আধ্যাত্মিক ভাবাবেগসম্পন্ন ব্যক্তি এবং অন্যদের মধ্যে পার্থক্য করার মত পোষণ করেছেন; ফলে এটি আধ্যাত্মিক ভাবাবেগসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য অনুমোদিত (جائز) এবং অন্যদের জন্য অপছন্দনীয় (مكروه)। আর এই মতটিই গ্রহণযোগ্য এবং সংগীত শ্রবণের অনুমতি দানকারী অধিকাংশ ফকিহ এই মতের ওপর রয়েছেন। এটিই সুফি ব্যক্তিবর্গের (رضي الله عنهم أجمعين) মাযহাব। কিছু সুফি এই পার্থক্যও করেন যে, কোনো শাইখ এতে ইঙ্গিত করেছেন কি না। কারণ...
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৬৯)
أشار به شيخ اعتمد. وإلا فلا.
واحتج من ذهب لإباحة الرقص بالسنة والقياس، أما السنة فما روته عائشة رضي الله عنها في الصحيح - من رقص الحبشة في المسجد يوم عيد، وأن الرسول الله صلى الله عليه وسلم دعاها فوضعت رأسها على منكبه، قالت: فجعلت أنظر إليهم حتى كنت أنا التي أنصرف عن النظر إليهم. وأن جعفرا وعليا وزيدا حجلوا لما قال لهم رسول الله صلى الله عليه وسلم: ما قال من الثناء عليهم. فقال لعلي رضي الله عنه أنت مني بمنزلة هارون من موسى، وقال لجعفر: أشبهت خلقي وخلقي، وقال لزيد: أنت منا ومولانا.
والمشهور عن الإمام عز الدين بن عبد السلام أنه كان يرقص في السماع، ذكره
একজন নির্ভরযোগ্য (معتمد) শায়খ এ বিষয়ে ইঙ্গিত করেছেন; অন্যথায় নয়।
যারা নৃত্য বৈধ হওয়ার মত পোষণ করেছেন, তারা সুন্নাহ এবং কিয়াস (قياس) দ্বারা দলিল পেশ করেছেন। সুন্নাহর ক্ষেত্রে দলিল হলো যা আয়েশা (রা.) সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন— ঈদের দিনে মসজিদে হাবশিদের যুদ্ধের কসরত বা নৃত্য প্রদর্শনের ঘটনা; তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাঁকে আহ্বান জানালেন এবং তিনি তাঁর কাঁধে মাথা রাখলেন। তিনি বলেন: "আমি তাদের দিকে তাকাচ্ছিলাম, যতক্ষণ না আমি নিজেই তাদের দিক থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম।" আর জাফর, আলী ও যায়িদ (রা.) আনন্দাতিশয্যে নৃত্য (حجلوا) করেছিলেন যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদের প্রশংসায় সেই কথাগুলো বলেছিলেন যা তিনি বলেছিলেন। তিনি আলীকে (রা.) বলেছিলেন: "তুমি আমার কাছে ঠিক তেমন মর্যাদার অধিকারী, হারুন মুসার কাছে যেমন ছিলেন।" জাফরকে বলেছিলেন: "তুমি আমার আকৃতি ও চরিত্রে আমার সদৃশ।" আর যায়িদকে বলেছিলেন: "তুমি আমাদের আপন এবং আমাদের মুক্ত করা দাস (مولانا)।"
ইমাম ইযযুদ্দীন বিন আব্দুস সালাম সম্পর্কে প্রসিদ্ধ যে, তিনি সামা’র (سماع) মজলিসে নৃত্য করতেন; এটি উল্লেখ করেছেন...
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৭০)
غير واحد عنه في طبقات الشافعية كالأسنوي والسبكي، وغيرهما من الأيمة الثقات، وذكر ذلك عنه الشيخ العارف تاج الدين بن عطاء الله في كتابه: لطائف المنن.
আল-আসনাবি ও আস-সুবকিসহ একাধিক নির্ভরযোগ্য (ثقات) ইমাম 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ'-তে তাঁর সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন; এছাড়াও আরিফ বিল্লাহ শায়খ তাজউদ্দীন ইবনে আতাউল্লাহ তাঁর রচিত 'লাতাইফুল মিনান' গ্রন্থে তাঁর থেকে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৭১)
وأما القياس فهو مساواة فرع لأصل في علة حكمه، فيقاس على الأصل: فعل الحبشة، وفعل علي حين حجل هو ومن شاركه في فعله من الصحابة، فآفهم ذلك والله سبحانه أعلى وأعلم.
আর যৌক্তিক অনুমানের (القياس) সংজ্ঞা হলো—কোনো বিধানের কারণের (علة) ভিত্তিতে একটি শাখাকে (فرع) তার মূলের (أصل) সমতুল্য করা। সুতরাং মূলের (أصل) ওপর ভিত্তি করে অনুমান করা হবে: হাবশীদের কর্মকাণ্ড এবং আলী ও তাঁর সাথে যে সকল সাহাবী (الصحابة) অংশগ্রহণ করেছিলেন তাদের সেই আমল, যখন তাঁরা এক পায়ে নেচেছিলেন; সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা সর্বাধিক পরিজ্ঞাত ও মহাজ্ঞানী।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৭৩)
فصل في من حضر السماعبالدف والشبابة من مشاهير العلماء المتأخرين من أهل المشرق ومن أهل المغرب. فمن أهل المشرق: الشيخ عز الدين بن عبد السلام، حكاه عنه غير واحد من العلماء في كتبهم: ذكر ذلك الأدفوي في كتابه: الامتاع بأحكام السماع.
قال الشيخ الإمام ابن القماح: سئل الشيخ عز الدين عن الآلات كلها: فقال: مباح: فقال الشيخ شرف الدين التلمساني: يريد أنه لم يرد دليل صحيح من السنة على تحريمه، يخاطب بذلك أهل مصر فسمعه الشيخ عز الدين، قال: لا، أردت أن ذلك مباح.
প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের প্রখ্যাত পরবর্তী (متأخرين) আলেমদের মধ্যে যারা দফ ও বাঁশি সহযোগে সিমাহ (سماع) অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতেন, তাদের বর্ণনায় একটি পরিচ্ছেদপ্রাচ্যদেশীয় আলেমদের মধ্য হতে রয়েছেন: শাইখ ইযযুদ্দিন ইবনে আবদুস সালাম। একাধিক আলেম তাদের কিতাবসমূহে তার থেকে এটি বর্ণনা করেছেন এবং আদফুওয়ী তার আল-ইমতা বি আহকামিস সিমাহ গ্রন্থে তা উল্লেখ করেছেন।
শাইখ ইমাম ইবনুল কাম্মাহ বলেন: শাইখ ইযযুদ্দিনকে সকল প্রকার বাদ্যযন্ত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন: এটি বৈধ (مباح)। তখন শাইখ শরফুদ্দীন আত-তিলিমসানী মন্তব্য করলেন: তিনি বুঝাতে চেয়েছেন যে, এর নিষিদ্ধতার ওপর সুন্নাহ হতে কোনো বিশুদ্ধ (صحيح) দলিল পাওয়া যায়নি; তিনি মিসরবাসীদের উদ্দেশে এ কথা বলছিলেন। শাইখ ইযযুদ্দিন তা শুনতে পেয়ে বললেন: না, বরং আমি এটাই বুঝাতে চেয়েছি যে তা সরাসরি বৈধ (مباح)।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৭৪)
وحضر السماع بالدف والشبابة الشيخ: تاج الدين الفزاري شيخ دمشق ومفتيها وحضره غير مرة. قال في كتابه الذي سماه: نور القبس: إنه كان في عصره شيخ مقعد فإذا غشيه الحال في السماع قام منتصبا زمانا طويلا كأصح الرجال.
وحضر السماع الإمام الحافظ الورع المجتهد: تقي الدين بن دقيق العيد غير مرة بالشبابة والدف. قالوا: ولما حضر بإسنا عمل لأجله سماع بالشبابة والدف، وكان المغني يغني والشيخ تقي الدين والشيخ بهاء الدين القفطي - تلميذ والد الشيخ - والفقهاء العدول حاضرون، والفقراء يرقصون في
দামেস্কের শায়খ এবং মুফতি, শায়খ তাজউদ্দীন আল-ফাজারি দফ এবং শাব্বাবা (বাঁশি সদৃশ যন্ত্র) সহকারে অনুষ্ঠিত সামা মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন এবং তিনি একাধিকবার এতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি তাঁর রচিত ‘নূরুল কাবাস’ নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর সময়ে একজন পঙ্গু শায়খ ছিলেন; যখন সামার মজলিসে তাঁর ওপর আধ্যাত্মিক ভাবাবেগ আপতিত হতো, তখন তিনি সুস্থ-সবল ব্যক্তিদের ন্যায় দীর্ঘ সময় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন।
ইমাম, হাফেজ (حافظ), মুত্তাকি এবং মুজতাহিদ (مجتهد) তাকিউদ্দীন ইবনে দাকীক আল-ঈদ একাধিকবার শাব্বাবা ও দফ সহযোগে সামা মজলিসে উপস্থিত হয়েছেন। বর্ণনাকারীরা বলেন: তিনি যখন ইসনা নামক স্থানে আগমন করেন, তখন তাঁর সম্মানে শাব্বাবা ও দফ সহকারে সামার আয়োজন করা হয়েছিল। গায়ক তখন গান গাইছিলেন এবং শায়খ তাকিউদ্দীন, শায়খ বাহাউদ্দীন আল-কিফতি—যিনি শায়খের পিতার ছাত্র ছিলেন—এবং নির্ভরযোগ্য (عدول) ফকিহগণ সেখানে উপস্থিত ছিলেন, আর দরবেশগণ তখন নৃত্য করছিলেন...
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৭৫)
السماع. قال الأدفوي: فقيل للشيخ ابن دقيق العيد: ما تقول في هذا الأمر؟ قال: لم يرد حديث صحيح على منعه، ولا حديث صحيح على جوازه، وهذه مسالة اجتهاد: فمن اجتهد وأداه اجتهاده إلى التحريم قال به، ومن اجتهد وأداه اجتهاده إلى الجواز قال به، وأحضر أهل هذا السماع - الذي حضره الشيخ تقي الدين - الشيخ عليا الكردي نفعنا الله به، وحصل للجماعة حال وغيبة عظيمة، ثم حضرت الصلاة فتقدم بعض الجماعة للإمامة فقال الشيخ تقي الدين: حصل في نفسي شيء، فقلت: لو أنه توضأ؟ فلما فرغت الصلاة قال لي: الشيخ ما غاب غيبة يحصل بها نقض
সমা (السماع)। আল-আদফুউয়ি বলেন: শায়খ ইবনে দাকীক আল-ঈদকে জিজ্ঞাসা করা হলো: এই বিষয়টি সম্পর্কে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: এর নিষিদ্ধতার বিষয়ে কোনো সহিহ (صحيح) হাদিস বর্ণিত হয়নি এবং এর বৈধতার পক্ষেও কোনো সহিহ (صحيح) হাদিস নেই। এটি একটি ইজতিহাদ (اجتهاد)-সাপেক্ষ বিষয়: অতএব, যে ব্যক্তি ইজতিহাদ (اجتهاد) করল এবং তার ইজতিহাদ তাকে নিষিদ্ধতার সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে গেল, সে তাই বলবে; আর যে ব্যক্তি ইজতিহাদ (اجتهاد) করল এবং তার ইজতিহাদ তাকে বৈধতার সিদ্ধান্তের দিকে নিয়ে গেল, সে তাই বলবে। আর এই সমা (السماع) মাহফিলের লোকেরা—যেখানে শায়খ তাকীউদ্দিন উপস্থিত ছিলেন—শায়খ আলী আল-কুর্দিকে (আল্লাহ আমাদের তাঁর মাধ্যমে উপকৃত করুন) নিয়ে আসলেন। তখন সেখানে উপস্থিত জামাতের মধ্যে এক বিশেষ আধ্যাত্মিক অবস্থা এবং প্রবল আত্মবিস্মৃতি (غيبة) তৈরি হলো। অতঃপর নামাজের সময় হলে জামাতের জনৈক ব্যক্তি ইমামতির জন্য এগিয়ে গেলেন। তখন শায়খ তাকীউদ্দিন বললেন: আমার মনে একটি খটকা সৃষ্টি হলো, আমি বললাম: তিনি যদি ওযু করে নিতেন! নামাজ শেষ হলে তিনি আমাকে বললেন: শায়খ এমন কোনো আত্মবিস্মৃতিতে (غيبة) আচ্ছন্ন হননি যা দ্বারা ওযু ভঙ্গ (نقض) হয়।
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৭৬)
الوضوء. وكذلك لما حضر بأخميم، وحضر لحضور الشيخ جماعة أيمة، قال شهاب الدين بن عبد الظاهر: رأيت الشيخ تقي الدين وقد حصلت له غيبة وهو يتمشى ويقول: أرى السماع - لمثل هؤلاء - قربة. وسأل الشيخ شهاب الدين الدشناوي الشيخ تقي الدين - وهو يومئذ قاضى القضاة -: ما تقول في السماع؟ فقال: هو مباح. قلت: بالشبابة والدف؟! قال: إياه أعني. وقال الشيخ شمس الدين القماح: سمعت الشيخ تقي الدين يقول - في درس جامع ابن طولون - حضرت سماعا وفيه فقير وأن القوال غنى
অজু। একইভাবে যখন তিনি আখমিমে উপস্থিত হলেন এবং শায়খের মজলিসে একদল ইমামের (أئمة) উপস্থিতি ঘটল, তখন শিহাবুদ্দিন ইবনে আবদুজ জাহির বললেন: আমি শায়খ তাকিউদ্দিনকে দেখলাম যে তাঁর মাঝে এক প্রকার ভাবতন্ময়তা (غيبة) তৈরি হয়েছে এবং তিনি পায়চারি করতে করতে বলছেন: আমি মনে করি—এদের মতো ব্যক্তিদের জন্য—আধ্যাত্মিক শ্রবণ (سماع) একটি নৈকট্য লাভের মাধ্যম (قربة)। শায়খ শিহাবুদ্দিন আদ-দাশনাবি শায়খ তাকিউদ্দিনকে—যিনি সে সময় প্রধান বিচারপতি (قاضي القضاة) ছিলেন—জিজ্ঞেস করলেন: আধ্যাত্মিক শ্রবণ (سماع) সম্পর্কে আপনার অভিমত কী? তিনি বললেন: এটি বৈধ (مباح)। আমি জিজ্ঞেস করলাম: বাঁশি ও দফ সহযোগে?! তিনি বললেন: আমি এটিই বুঝিয়েছি। আর শায়খ শামসুদ্দিন আল-কাম্মাহ বলেন: আমি ইবনে তুলুন জামে মসজিদের পাঠদানে (درس) শায়খ তাকিউদ্দিনকে বলতে শুনেছি—আমি একটি আধ্যাত্মিক শ্রবণের (سماع) মজলিসে উপস্থিত ছিলাম যেখানে একজন দরবেশ (فقير) ছিলেন এবং গায়ক (قوال) গান পরিবেশন করছিলেন...
(খণ্ড: ১)
ফারহুল আসমা বিরুখাসিস সামা
(পৃষ্ঠা: ৭৭)
قصيدة ابن الخياط التي أولها:
خذِا من صبا نجد أمانا لقلبه
… فقد كاد ريّاها يطير بلبه
إلى أن قال:
وفي الركب مطوي الضلوع على جوى
… متى يدعه داعي الغرام يلبّه
وإن الفقير حط رأسه، وقال: لبيك، ومات رحمة الله عليه. قالوا وسمعه غير مرة الإمام قاضي القضاة: بدر الدين بن جماعة بالشبابة والدف، وشاهد فيه من بعض الصلحاء أحوالا عظيمة وحضره شيخ الشيوخ والعلماء: شمس الدين الأصبهاني الشارح المصنف الشهير مرات كثيرة، والشيخ
ইবনুল খাইয়্যাতের কাসিদা, যার শুরুটা হলো:
নজদের সমীরণ থেকে তার হৃদয়ের জন্য নিরাপত্তা গ্রহণ করো
… কেননা এর সুবাস প্রায় তার হিতাহিত জ্ঞান হরণ করে নিচ্ছিল
যতক্ষণ না তিনি বললেন:
কাফেলার মাঝে এমন একজন আছে যে অন্তরে তীব্র অনুরাগে ক্লিষ্ট
… প্রেমের আহ্বানকারী যখনই তাকে ডাকে, সে তাতে সাড়া দেয়
আর সেই ফকির (فقير) তার মাথা অবনত করলেন এবং বললেন: ‘লাব্বাইক (আমি হাজির)’, আর তিনি ইন্তেকাল করলেন, তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তাঁরা বলেন, ইমাম প্রধান বিচারপতি (قاضي القضاة) বদরউদ্দীন ইবনে জামা’আ একাধিকবার এটি বাঁশি ও দফসহ শুনেছেন এবং তিনি সেখানে কিছু নেককার ব্যক্তির (الصلحاء) মাঝে মহান আধ্যাত্মিক অবস্থা (أحوال) প্রত্যক্ষ করেছেন। সেখানে শাইখুশ শুয়ূখ এবং উলামায়ে কেরামের শাইখ, প্রসিদ্ধ ব্যাখ্যাকার (الشارح) ও গ্রন্থকার (المصنف) শামসুদ্দীন আল-আসবাহানী বহুবার উপস্থিত ছিলেন, এবং শাইখ...