(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: -)
عنوان الدليل من مرسوم خط التنزيل القسم: علوم القرآن وأصول التفسير
الكتاب: عنوان الدليل من مرسوم خط التنزيل
المؤلف: أبو العباس أحمد بن محمد بن عثمان الأزدي المعروف بابن البناء المراكشي (ت 721هـ)
حققته وقدمت له: هند شلبي
الناشر: دار الغرب الإسلامي، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1990 م
عدد الصفحات: 141
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
উনওয়ান আদ-দালিল মিন মারসুম খাত আত-তানজিল বিভাগ: কুরআনুল কারীমের জ্ঞানসমূহ এবং তাফসিরের মূলনীতিসমূহ
কিতাব: উনওয়ান আদ-দালিল মিন মারসুম খাত আত-তানজিল
লেখক: আবু আল-আব্বাস আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনে উসমান আল-আজদি, যিনি ইবনে আল-বান্না আল-মাররাকুশি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৭২১ হিজরি)
পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা ও ভূমিকা: হিন্দ শালবি
প্রকাশক: দার আল-গারব আল-ইসলামি, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৪১
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ২৯)
[مقدمة]بسم الله الرحمن الرحيم
وصلى الله عليه على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه وسلم تسليما قال الشيخ الفقيه الإمام العالم الجليل أبو العباس أحمد بن محمد بن عثمان الأزدي المروكشي المعروف بابن البنا رحمه الله.
الحمد لله منزل الكتاب وهادي الألباب وجاعل السبيل ومقيم الدليل ومجلي اليقين بالنور المبين وهو رب العالمين. والصلاة التامة على خاتم الرسل وموضح السبيل معلم الحكمة وهادي الأمة محمد النبي العربي الأمي صلاة تنيلنا الزلفى والمورد الأصفى وعلى آله الطيبين وصحبه
[উপক্রমণিকা]পরম করুণাময়, অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
আমাদের নেতা মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সহচরদের (صحابة) ওপর আল্লাহর অগণিত রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। ফকিহ, ইমাম, মহান আলেম শায়খ আবুল আব্বাস আহমদ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে উসমান আল-আজদি আল-মাররাকুশি—যিনি ইবনুল বান্না নামে পরিচিত—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, তিনি বলেছেন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, বিবেকসম্পন্নদের পথপ্রদর্শক, পথ নির্ধারণকারী, প্রমাণ (دليل) প্রতিষ্ঠাকারী এবং সুস্পষ্ট জ্যোতির মাধ্যমে নিশ্চিত বিশ্বাসকে উদ্ভাসিতকারী; আর তিনি জগতসমূহের প্রতিপালক। এবং পূর্ণাঙ্গ সালাত বর্ষিত হোক সর্বশেষ রাসূল, সত্য পথ স্পষ্টকারী, হিকমত শিক্ষাদানকারী এবং উম্মতের পথপ্রদর্শক আরবীয় উম্মি নবী মুহাম্মাদের ওপর—এমন সালাত যা আমাদের তাঁর নৈকট্য ও স্বচ্ছতম পানস্থল নসিব করবে; এবং তাঁর পবিত্র পরিবারবর্গ ও সহচরদের (صحابة) ওপর।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الأكرمين الذين سلكوا سبيله، وبينوا دليله وبالغوا في الإرشاد والنصيحة وضبطوا بخط المصحف لغته الفصيحة على أكمل بيان لتفهيم الفرقان المبلغ إلى مقامات الرضوان ومحل الإحسان وسلم كثيرا.
وبعد فإنه لما كان خط المصحف الذي هو الإمام الذي يعتمده القارىء في الوقف والتمام ولا يعدو رسومه ولا يتجاوز مرسومه قد خالف خط الأنام في كثير من الحروف والأعلام. ولم يكن ذلك منهم كيف اتفق، بل على أمر عندهم قد تحقق، بحثت عن وجوه ذلك بمقتضى الميزان ووافي الرجحان ووقفت منه على عجائب ورأيت منه غرائب جمعت منها في هذا الجزء ما تيسر عبرة لمن يتذكر وسميته) عنوان الدليل من مرسوم خط التنزيل (هو لأولي الألباب مفتاح تدبر الكتاب بحول الله تعالى وقوته.
ولا بد من تقديم ما لا بد من تقديمه في البيان ليكمل بذلك فيه العرفان وبالله التوفيق. فأقول: إن الخط المحسوس له صورة تدرك بالأبصار واللفظ المسموع له صورة
সেই মহানুভব ব্যক্তিবর্গের প্রতি, যারা তাঁর পথে চলেছেন, তাঁর প্রমাণসমূহ সুস্পষ্ট করেছেন এবং পথনির্দেশনা ও উপদেশের ক্ষেত্রে ঐকান্তিক প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। তাঁরা আল-কুরআনের লিপিতে এর প্রাঞ্জল ভাষাকে অত্যন্ত নিপুণভাবে সুসংবদ্ধ (ضبط) করেছেন—পরম স্পষ্টতার সাথে, যাতে সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী গ্রন্থটি অনুধাবন করা যায়, যা সন্তুষ্টির উচ্চ মাকাম ও ইহসানের স্তরে পৌঁছে দেয়; আর তাঁদের প্রতি অজস্র সালাম।
অতঃপর, যেহেতু আল-কুরআনের লিপিই হচ্ছে সেই মূল আদর্শ (الإمام), যার ওপর তিলাওয়াতকারী ওয়াকফ ও পূর্ণ করার ক্ষেত্রে নির্ভর করেন এবং যার লিখনরীতি (مرسوم) থেকে তিনি বিচ্যুত হন না এবং এর অঙ্কনশৈলী (مرسوم) অতিক্রম করেন না; অথচ তা অনেক বর্ণ ও চিহ্নের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের লিখনরীতির পরিপন্থী। তাঁদের পক্ষ থেকে এটি খেয়ালখুশিমতো হয়নি, বরং এটি তাঁদের নিকট সুনিশ্চিত একটি বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়েছে। তাই আমি ভারসাম্য ও প্রমাণের মানদণ্ডে এর কারণসমূহ অনুসন্ধান করেছি এবং এতে অনেক বিস্ময়কর ও বিরল বিষয়ের (غرائب) সন্ধান পেয়েছি। উপদেশ গ্রহণকারীদের শিক্ষা গ্রহণের জন্য সেখান থেকে যা সহজসাধ্য হয়েছে, তা আমি এই অংশে সংকলিত করেছি এবং এর নাম দিয়েছি উনওয়ানুদ্ দালিল মিন মারসুমি খাত্তিত তানযিল। এটি প্রজ্ঞাবানদের জন্য আল্লাহর শক্তি ও সামর্থ্যের মাধ্যমে কিতাব নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার চাবিকাঠি।
বর্ণনার ক্ষেত্রে যা উপস্থাপন করা অপরিহার্য, তা অবশ্যই আগে উল্লেখ করতে হবে, যাতে এর মাধ্যমে জ্ঞান পূর্ণতা লাভ করে। আর আল্লাহই তাওফিকদাতা। আমি বলছি: দৃশ্যমান লিপির একটি অবয়ব রয়েছে যা চাক্ষুষ দৃষ্টিতে অনুভূত হয়, আর শ্রবণকৃত শব্দেরও একটি রূপ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩১)
تدرك بالآذان ومحل اللفظ الصوت وهو من لدن محل الهمزة في أقصى الحلق إلى الشفتين ثم إلى حيث يبلغ في الوجود. وفي الصوت تحدث الحروف المقطعة المسموعة في اللف. وما وراء الهمزة في الصدر من الهواء المندفع في الحجاب الذي به يكون التصويت لا يسمع.
والهمزة مبدأ الصوت، فلا صورة لها لأنها حد بين ما يسمع وما لا يسمع ولا يتأتى النطق بها ساكنة ولا شيء من الحروف الساكنة ابتداء إلا بتقديم الهمزة. فلا بد من حركتها بالضرورة.
والحركات ثلاثة الرفع والنصب والخفض وأولها وأخفها في الحس على النفس فعل النصب لأنه على الإنفتاح الذي هو أصل للصوت ثم يعرض له الضم والكسر. وأثقلها فعل الرفع، ودونه فعل الخفض.
والفتحة فعل بين الضمة والكسرة.
وهذه الحركات الثلاثة التي هي في الأصل للهمزة بالاضطرار هي التي تلقى على سائر الحروف الساكنة بالاختيار.
فإذا طولت الهمزة بمد الصوت حدثت حروف المد واللين الثلاثة تابعة للحركات الثلاثة فلها صورة ظاهرة في السمع وهي: الألف والواو والياء.
ধ্বনি কর্ণের মাধ্যমে অনুভূত হয় এবং শব্দের উচ্চারণের স্থান হলো আওয়াজ। এটি কণ্ঠনালীর শেষপ্রান্ত (أقصى الحلق) যেখানে হামযা-এর অবস্থান, সেখান থেকে শুরু করে ওষ্ঠদ্বয় পর্যন্ত এবং অস্তিত্বের যে স্তর পর্যন্ত শব্দ পৌঁছায়, সে পর্যন্ত বিস্তৃত। উচ্চারণের ক্ষেত্রে এই আওয়াজের মধ্যেই শ্রবণযোগ্য বিচ্ছিন্ন বর্ণসমূহ সৃষ্টি হয়। বক্ষদেশ থেকে নির্গত যে বায়ু পর্দার (হিজাব) মাধ্যমে আওয়াজ তৈরি করে এবং যা হামযা-এর পশ্চাতে অবস্থিত, তা শোনা যায় না।
হামযা হলো ধ্বনির প্রারম্ভ, তাই এর নিজস্ব কোনো বাহ্যিক রূপ নেই; কারণ এটি শ্রুত এবং অশ্রুত বিষয়ের মধ্যবর্তী একটি সীমা। একে স্থির (ساكن) অবস্থায় উচ্চারণ করা সম্ভব নয় এবং প্রারম্ভে কোনো স্থির (ساكن) বর্ণকেই উচ্চারণ করা যায় না, যতক্ষণ না তার পূর্বে একটি হামযা আনা হয়। তাই এটি অপরিহার্যভাবেই স্বরচিহ্নযুক্ত হওয়া জরুরি।
স্বরচিহ্ন (حركات) তিনটি: রাফ‘ (رفع), নাসব (نصب) এবং খাফদ (خفض)। মানুষের ইন্দ্রিয় ও অনুভূতির কাছে এগুলোর মধ্যে প্রথম এবং সবচেয়ে হালকা হলো নাসব (نصب)-এর কাজ; কারণ এটি উন্মুক্ত অবস্থার (ইনফিতাহ) ওপর ভিত্তি করে যা ধ্বনির মূল উৎস। এরপর এতে দাম্মা (ضمة) এবং কাসরা (كسرة) যুক্ত হয়। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারী হলো রাফ‘ (رفع)-এর কাজ এবং তার চেয়ে কিছুটা কম ভারী হলো খাফদ (خفض)-এর কাজ।
ফাতহা (فتحة) হলো দাম্মা (ضمة) এবং কাসরা (كسرة)-এর মধ্যবর্তী একটি অবস্থা।
হামযা-এর ক্ষেত্রে যে তিনটি স্বরচিহ্ন (حركات) অপরিহার্য, সেগুলোই ঐচ্ছিকভাবে অন্যান্য সকল স্থির (ساكن) বর্ণের ওপর প্রয়োগ করা হয়।
যখন হামযাকে দীর্ঘায়নের (مد) মাধ্যমে প্রলম্বিত করা হয়, তখন তিনটি দীর্ঘস্বর (مد) ও কোমল (لين) বর্ণ উৎপন্ন হয় যা তিনটি স্বরচিহ্নের (حركات) অনুগামী। শ্রবণে এগুলোর স্পষ্ট রূপ পরিলক্ষিত হয়, আর সেগুলো হলো: আলিফ, ওয়াও এবং ইয়া।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩২)
فهذه الحروف الثلاثة من حيث اتصلت بالهمزة كانت أول الحروف كلها لأنها في مقطع الهمزةن والحروف بعدها في مقاطع أنفسها. وإذا تحركت الحروف وطولت بالمد تبعتها هذه الحروف الثلاثة أيضا. فكانت بهذه الجهة آخر الحروف كلها. وهي مع كل حرف في مقطعه. فلأجل ذلك لم يجعل للهمزة صورة في الخط.
وإذا عضدت في موضع في الخط فإنما تعضد بأحد هذه الحروف الثلاثة على ما نبينه بعد إن شاء الله. ويبدل بعضها من بعض لمعنى يوجبه.
ولأحوال هذه الحروف مناسبة لأحوال الوجود حصل بها بينهما ارتباط به يكون الاستدلال.
والألف تدل على الكون بالفعل في الوجود فهي مفصلة لأنها من حيث إنها أول الحروف في الفصل الذي بين ما يسمع وما لا يسمع متصلة بهمزة الإبتداء.
ولذلك جعلت علامة الإثنين.
والواو تدل على الظهور والإرتفاع والارتقاء فهي جامعة لأنها عن غلظ الصوت وارتفاعه بالشفة معا إلى أبعد رتبة في الظهور.
والياء تدل على البطون فهي مخصصة لأنها عن رقة الصوت وانخفاضه في باطن الفم.
وسيظهر لك ذلك كله فيما بعد بحول الله تعالى.
ومما يوضحه لك عن قرب اعتبار حروف المد واللين ضمائر متصلة
এই তিনটি বর্ণ হামযার সাথে সংযুক্ত হওয়ার দিক থেকে সকল বর্ণের শুরুতে অবস্থান করে, কারণ এগুলো হামযার উচ্চারণস্থলে (مقطع) অবস্থিত, আর অন্যান্য বর্ণসমূহ এরপর তাদের নিজস্ব উচ্চারণস্থলে আসে। যখন বর্ণসমূহ হরকতপ্রাপ্ত হয় এবং দীর্ঘস্বরের (مد) মাধ্যমে দীর্ঘায়িত হয়, তখন এই তিনটি বর্ণও তাদের অনুসরণ করে। এই প্রেক্ষিতে এগুলো সকল বর্ণের শেষে অবস্থান করে। এগুলো প্রতিটি বর্ণের সাথে তার উচ্চারণস্থলে বিদ্যমান থাকে। এই কারণেই লিপিবিদ্যায় হামযার জন্য স্বতন্ত্র কোনো রূপ প্রদান করা হয়নি।
যখন লিপির কোনো স্থানে একে অবলম্বন প্রদান করা হয়, তখন এই তিনটি বর্ণের কোনো একটির মাধ্যমেই তা করা হয়, যা ইনশাআল্লাহ আমরা পরবর্তীতে স্পষ্ট করব। কোনো আবশ্যিক অর্থের কারণে এগুলোর একটি অপরটি দ্বারা পরিবর্তিত (يبدل) হয়।
এই বর্ণগুলোর অবস্থার সাথে অস্তিত্বের (وجود) অবস্থাসমূহের একটি নিগূঢ় সামঞ্জস্য রয়েছে, যার ফলে উভয়ের মাঝে এমন এক যোগসূত্র তৈরি হয়েছে যা দ্বারা প্রমাণ (استدلال) আহরণ করা সম্ভব হয়।
আলিফ অস্তিত্বের মাঝে বাস্তব সত্তার (الكون بالفعل) প্রমাণ দেয়, যা একটি বিভাজনকারী (مفصلة); কারণ শ্রবণযোগ্য এবং অ-শ্রবণযোগ্য বিষয়ের মধ্যবর্তী বিভাজনে বর্ণমালার শুরুতে এটি প্রারম্ভিক হামযার (همزة الإبتداء) সাথে সংযুক্ত।
আর এই কারণেই একে দ্বিবচনের (الإثنين) চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওয়াও বহিঃপ্রকাশ, উচ্চতা এবং আরোহণের প্রমাণ দেয়। এটি একটি সমষ্টিকারী (جامعة); কারণ এটি শব্দের গাম্ভীর্য এবং ওষ্ঠদ্বয়ের ব্যবহারের মাধ্যমে বহিঃপ্রকাশের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে দেয়।
ইয়া অন্তর্নিহিত অবস্থার প্রমাণ দেয়। এটি একটি বিশিষ্টকারী (مخصصة); কারণ এটি শব্দের সূক্ষ্মতা এবং মুখগহ্বরের অভ্যন্তরীণ নিম্নগামিতা থেকে উদ্ভূত হয়।
আল্লাহ তাআলার শক্তিতে শীঘ্রই আপনার কাছে এই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
দীর্ঘস্বর ও কোমল বর্ণসমূহকে (حروف المد واللين) সংযুক্ত সর্বনাম (ضمائر متصلة) হিসেবে বিবেচনা করলে বিষয়টি আপনার নিকট আরও দ্রুত স্পষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
بالفعل المضارع فتدبرها.
ولما كانت المعاني تعتبر اعتبارين: تعتبر من باب الوجود بالفعل سواء كانت الآن محصلة لنا أو لم تكن وتعتبر من باب الإدراك والعلم سواء كانت في الوجود أو لم تكن.
كما انقسم باب الوجود على قسمين: ما يدرك وما لا يدرك. والذي يدرك على قسمين: ظاهر ويسمى: الملك وباطن ويسمى: الملكوت.
والذي لا يدرك نتوهمه على قسمين:
ما ليس من شأنه أن يدرك فهو معاني أسماء الله وصفة أفعاله من حيث أسماؤه وأفعاله فإنه انفرد بعلم ذلك سبحانه وتعالى فهذا من هذا الوجه يسمى: العزة.
وما من شأنه أن يدرك لكن لم نصله بإدراك وهو ما كان في الدنيا ولم ندركه ولا مثله، وما يكون في الآخرة وما في الجنة كما قال عليه السلام:) فيها ما لا عين رأت ولا أذن سمعت ولا خطر على قلب بشر (وقال الله العظيم: (وَيَخلُقُ ما لا تَعلَمونَ) .
وهذا من هذا الوجه يسمى الجبروت.
وجاء ذلك كله مرتبا في الحديث في تسبيح الملائكة عليهم السلام وهو قولهم (سُبحانَ ذي المُلكِ وَالمَلَكوت، سُبحانَ ذي العِزَةِ وَالجَبَروت) .
وانقسم أيضا باب الإدراك على قسمين:
বর্তমান বা ভবিষ্যৎকাল (المضارع) ক্রিয়ার মাধ্যমে, সুতরাং এটি অনুধাবন করুন।
যেহেতু অর্থসমূহকে দুইভাবে বিবেচনা করা হয়: বাস্তব অস্তিত্বের দিক থেকে—তা আমাদের নিকট বর্তমানে অর্জিত হোক বা না হোক; এবং উপলব্ধি ও জ্ঞানের দিক থেকে—তা বাস্তবে অস্তিত্বশীল হোক বা না হোক।
যেভাবে অস্তিত্বের ক্ষেত্রটি দুই ভাগে বিভক্ত: যা উপলব্ধি করা যায় এবং যা উপলব্ধি করা যায় না। যা উপলব্ধি করা যায় তা আবার দুই প্রকার: প্রকাশ্য, যাকে 'মুলক' (الملك) বলা হয় এবং অপ্রকাশ্য, যাকে 'মালাকুত' (الملكوت) বলা হয়।
আর যা উপলব্ধি করা যায় না, তাকে আমরা দুই ভাগে ধারণা করি:
যা উপলব্ধি করা সম্ভব নয়, তা হলো আল্লাহর নামসমূহের নিহিত অর্থ এবং তাঁর কার্যাবলির বৈশিষ্ট্য; তাঁর নাম ও কর্মের নিরিখে মহান আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা একাই এই জ্ঞানের অধিকারী। এই দিক থেকে একে 'ইজ্জত' (العزة) বলা হয়।
আর যা উপলব্ধি করা সম্ভব কিন্তু আমরা উপলব্ধির মাধ্যমে তা অর্জন করতে পারিনি; যেমন পৃথিবীতে যা বিদ্যমান ছিল অথচ আমরা তা দেখিনি বা তার কোনো নমুনাও প্রত্যক্ষ করিনি, এবং পরকালে ও জান্নাতে যা থাকবে। যেমন নবী (আলাইহিস সালাম) বলেছেন: "তাতে এমন কিছু রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের হৃদয়ে তার কল্পনাও উদয় হয়নি।" এবং মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনি এমন কিছু সৃষ্টি করেন যা তোমরা জানো না।"
এই দিক থেকে একে 'জাবরুত' (الجبروت) বলা হয়।
এই সবকিছুই ধারাবাহিকভাবে হাদিসে ফেরেশতাদের (আলাইহিমুস সালাম) তাসবিহ পাঠের বিবরণে এসেছে, যা হলো: "পবিত্রতা ঘোষণা করছি সেই সত্তার যিনি জাগতিক ও আধ্যাত্মিক জগতের (الملك والملكوت) অধিকারী; পবিত্রতা ঘোষণা করছি সেই সত্তার যিনি মহিমা ও পরাক্রমের (العزة والجبروت) অধিকারী।"
একইভাবে উপলব্ধির ক্ষেত্রটিও দুই ভাগে বিভক্ত:
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৪)
- ما " مدركه " الضرورة والأخبار.
- وما " مدركه " النظر والاعتبار.
والتنزيل في الخطاب بين هذه الأقسام صارت اللفظة بحسب ذلك مشتركة في الاعتبار بين البابين وأقسام الوجود فاحتاجت إلى فرقان فيجعل الألف يدل على قسمي الوجود والواو على قسم الملك منه لأنه أظهر للإدراكز والياء على قسم الملكةت منه لأنه أبطن في الإدراك. فإذا بطنت حروف في الخط ولم تكتب فلمعنى باطن في الوجود عن الإدراك. وإذا ظهرت فلمعنى ظاهر في الوجود إلى الإدراك. كما إذا وصلت فلمعنى موصول وإذا حجزت فلمعنى مفصول. وإذا تغيرت بضرب من التغير دلت على تغير في المعنى في الوجود يظهر في الإدراك بالتدبر على ما نبينه بعد إن شاء الله.
ولا تقف بالفهم عند أوائنل العلم، فإن معارف الملك والملكوت لا تنحصر فيما أقول.
(وَاللَهُ يَقولُ الحَقّ وَهُوَ يَهدي السَبيل) ومبدأ الاعتبار لأولي الأبصار. (يُقَلِبُ اللَهُ اللَيلَ وَالنّهار) ونهايته التذكار بالعزيز الغفار.
ولنقدم الكلام على هذه الحروف الأربعة فإنها أكثر تصريفا وتغييرا في الخط من غيرها كما ذلك في القول أيضا. ثم نتبعها بمفردات من سائر الحروف وبالله التوفيق.
- যা "উপলব্ধির ভিত্তি" হলো আবশ্যকতা এবং সংবাদ (أخبار)।
- এবং যা "উপলব্ধির ভিত্তি" হলো গবেষণা এবং বিশ্লেষণ (اعتبار)।
এই প্রকারগুলোর মাঝে সম্বোধনের প্রয়োগ অনুসারে শব্দটি সেই অনুযায়ী দুই অধ্যায় ও অস্তিত্বের প্রকারগুলোর মধ্যে বিশ্লেষণ (اعتبار) হিসেবে সাধারণ অর্থবাহী হয়ে পড়েছে। তাই এর জন্য একটি পার্থক্যের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সুতরাং 'আলিফ' বর্ণটিকে অস্তিত্বের উভয় প্রকারের নির্দেশক করা হয়েছে, 'ওয়াও' বর্ণটিকে তার দৃশ্যমান জগতের অংশের নির্দেশক করা হয়েছে কারণ এটি উপলব্ধির জন্য অধিকতর স্পষ্ট, এবং 'ইয়া' বর্ণটিকে তার সুপ্ত বা অদৃশ্য জগতের অংশের নির্দেশক করা হয়েছে কারণ এটি উপলব্ধির জন্য অধিকতর গূঢ়। যখন লিপিতে কোনো বর্ণ উহ্য থাকে এবং লেখা হয় না, তখন তা অস্তিত্বের এমন এক অভ্যন্তরীণ অর্থের নির্দেশ করে যা উপলব্ধির অগোচর। আর যখন তা প্রকাশ পায়, তখন তা অস্তিত্বের এমন এক প্রকাশ্য অর্থের নির্দেশ করে যা উপলব্ধিযোগ্য। যেমন, যখন কোনো বর্ণ যুক্ত হয় তখন তা যুক্ত অর্থের কারণে হয়, আর যখন বিচ্ছিন্ন রাখা হয় তখন তা বিচ্ছিন্ন অর্থের কারণে হয়। যখন কোনো বর্ণ কোনো প্রকার পরিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়, তখন তা অস্তিত্বের অর্থের পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত দেয়, যা আল্লাহ চাইলে পরবর্তীতে আমাদের বর্ণনার প্রেক্ষিতে গভীর চিন্তার মাধ্যমে উপলব্ধিতে ধরা পড়বে।
জ্ঞানের প্রাথমিক স্তরেই তোমার অনুধাবনকে থামিয়ে দিও না; কেননা দৃশ্যমান এবং অদৃশ্য জগতের মারিফাত বা গূঢ় জ্ঞানসমূহ কেবল আমার বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
(আর আল্লাহ সত্য বলেন এবং তিনিই সঠিক পথ প্রদর্শন করেন) এবং অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য বিশ্লেষণ (اعتبار) এর সূচনা এখানেই। (আল্লাহ রাত ও দিনের আবর্তন ঘটান) আর এর সমাপ্তি হলো মহাপরাক্রমশালী ক্ষমাশীল সত্তার স্মরণের মাধ্যমে।
আসুন আমরা এই চারটি বর্ণের আলোচনাকে অগ্রগণ্য করি, কারণ বাক্যের মতো লেখার ক্ষেত্রেও এগুলোর রূপান্তর ও পরিবর্তন অন্যান্য বর্ণের তুলনায় অধিক। এরপর আমরা অবশিষ্ট বর্ণগুলোর একক রূপ নিয়ে আলোচনা করব। আর আল্লাহর সাহায্যেই সকল সাফল্য আসে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
باب الهمزةقد تقدم أنها لا صورة لها في الخط لأنها مبدأ الحروف، وأنها متحركة وأول الحركات الفتحة.
فالهمزة من جهة الإبتداء من الألف الذي هو أول الحروف الثلاثة التي للمد واللين. ثم تعضد في مواضع بأحد هذه الحروف الثلاثة حيث تثبت ولا يتأتى سقوطها. فإن تأتي سقوطها خرجت عن أصالتها فلم تعضد إلا أن يكون في المعنى ما يقوي ظهورها، فتعضد على ما نذكره في فصول أربعة.
فصل إذا كانت الهمزة أول الكلمةفإنه لا يتأتى سقوطها لأنها متحركة وليس قبلها غيرها. وهي من جهة المعنى مبدأ الحروف. وقد وقعت كذلك في أول الكلمة فظهرت ثابتة في كل وجه فعضدت بأول الحروف وهو الألف بأي حركة تحركت الهمزة.
হামযা অধ্যায়ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, লিপিবিদ্যায় এর নিজস্ব কোনো স্বতন্ত্র রূপ নেই, কারণ এটি বর্ণমালার সূচনা। এটি সচল এবং হরকতসমূহের মধ্যে প্রথম হরকত হলো ফাতহা।
সূচনার দিক থেকে হামযা হলো ‘আলিফ’ থেকে উদ্ভূত, যা মাদ্দ ও লীন-এর তিনটি হরফের মধ্যে প্রথম। অতঃপর বিভিন্ন স্থানে এই তিনটি হরফের কোনো একটির মাধ্যমে একে সমর্থন প্রদান করা হয় যেখানে এটি স্থায়ী থাকে এবং এর বিলুপ্তি ঘটা সম্ভব হয় না। যদি এর বিলুপ্তি ঘটার উপক্রম হয়, তবে তা তার মৌলিকত্ব হারিয়ে ফেলে এবং তখন আর একে সমর্থন দেওয়া হয় না, যদি না অর্থগতভাবে এমন কিছু থাকে যা এর উপস্থিতিকে শক্তিশালী করে। সেক্ষেত্রে একে সেই ভিত্তিতে সমর্থন দেওয়া হয় যা আমরা চারটি পরিচ্ছেদে আলোচনা করব।
পরিচ্ছেদ: যখন হামযা শব্দের শুরুতে থাকেএক্ষেত্রে এটি বিলুপ্ত হওয়া সম্ভব নয়, কারণ এটি সচল এবং এর পূর্বে অন্য কোনো বর্ণ নেই। এটি অর্থগত বিচারেও বর্ণমালার সূচনা। শব্দের শুরুতেও এটি একইভাবে আসার কারণে সকল দিক থেকে এটি স্থিরভাবে প্রকাশ পেয়েছে। ফলে একে বর্ণমালার প্রথম বর্ণ অর্থাৎ ‘আলিফ’ দ্বারা সমর্থন প্রদান করা হয়েছে, হামযা যে হরকতেই সচল হোক না কেন।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
فصل إذا وقعت الهمزة آخر الكلمةفقد " أخرجت عن أصالتها بحسب وضعها آخر الكلمة محل الوقف والسكون.
فإذا كان ما قبلها متحركا مثل يستهزىء فإنه لا يتأتى سقوطها بإلقاء حركتها عليه لأنه متحرك.
ويصح النطق بالهمزة ساكنة مثل: إن يشأ وهيىء أو في الوقف أن الكلمة إنما تكتب على الوقف. فلذلك تعضد بحرف من جنس حركة ما قبلها لأنها إن سكنت في الوقف لم يدبرها حركة نفسها إذ لا حركة لها، إنما يدبرها حركة ما قبلها ولولا حركة ما قبلها ما عضدت فلذلك وجب أن يدبرها حركة ما قبلها إلا أن يقوى معناها في الكلمة بحيث تكون له مرتبة ظاهرة أصلية في الإعتبار فتعضد بحرف حركتها مثل: الملو أربعة أحرف عضدت فيها الهمزة بالواو تنبيها على أن معنى الكلمة
পরিচ্ছেদ: যখন শব্দের শেষে হামজা অবস্থিত হয়এটি তার মৌলিকতা থেকে বিচ্যুত হয়, যেহেতু শব্দের শেষে এর অবস্থান বিরতি ও সাকিনের স্থল।
সুতরাং এর পূর্বের বর্ণটি যদি হরকতযুক্ত হয়, যেমন: 'ইউস্তাহযিউ', তবে হামজার হরকত পূর্বের বর্ণের ওপর অর্পণ করার মাধ্যমে হামজাটি বিলোপ করা সম্ভব নয়, কারণ পূর্বের বর্ণটি নিজেই হরকতযুক্ত।
আর হামজাকে সাকিন অবস্থায় উচ্চারণ করা বিশুদ্ধ, যেমন: 'ইন ইয়াশা' ও 'হায়্যি' অথবা বিরতির ক্ষেত্রে; কেননা শব্দটি বিরতির নিয়ম অনুসারেই লেখা হয়। এই কারণে একে তার পূর্বের হরকতের সমজাতীয় একটি বর্ণ দ্বারা সহায়তা প্রদান করা হয়। কারণ বিরতিকালে এটি সাকিন হলে এর নিজস্ব কোনো হরকত তাকে পরিচালিত করে না যেহেতু তখন তার কোনো হরকত থাকে না; বরং পূর্বের বর্ণের হরকতই তাকে পরিচালিত করে। আর পূর্বের বর্ণের হরকত না থাকলে একে সহায়তা প্রদান করা হতো না। এই কারণেই পূর্বের বর্ণের হরকতের মাধ্যমে একে পরিচালিত করা অপরিহার্য। তবে যদি শব্দে এর অর্থগত দিকটি এমন শক্তিশালী হয় যে বিবেচনার ক্ষেত্রে এর একটি সুস্পষ্ট ও মৌলিক মর্যাদা থাকে, তবে একে তার নিজস্ব হরকতের বর্ণ দ্বারা সহায়তা প্রদান করা হয়। যেমন: 'আল-মালউ' শব্দটি চারটি বর্ণবিশিষ্ট, যেখানে হামজাকে 'ওয়াও' দ্বারা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এটি নির্দেশ করার জন্য যে, শব্দের অর্থটি
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
ظاهر للفهم في قسم الملك من الوجود فهؤلاء الملوا هم أرفع الطبقات وهم أصحاب الأمر المرجوع إليهم في التدبير. فقوي معنى الهمزة فعضدت وزيدت الألف بعد الواو تنبيها على أنهم أحد قسمي الملأ فظهورهم هو بالنسبة إلى القسم الآخر في الوجود إذ منهم التابع والمتبوع قد انفصلا في الوجود. وسنتكلم على الألف في بابه.
فزيادة هذه الحروف ونقصانها ينوب مناب ذكر صفات الوجود.
ويدل على هذا التأويل ما جاء في قصة نوح في سورة " المؤمنون " في وصف الملأ بالذين كفروا وبعده نسبوا إلى قومه وقالوا في الآية: (يُريدُ أَن يَتَفَضّلَ عَلَيكُم) وآخرها (فَتَرَبَصوا بِهِ حَتى حين) .
فلهم الأمر في قومهم ولا يرون أحدا من البشر فوقهم لقولهم (وَلَو شاءَ اللَهُ لأَنزَلَ مَلائِكَة) فهؤلاء الطبقة العليا يفي الملأ.
ثم طبقة أخرى دون هؤلاء يدل عليها ما في قصة نوح
অস্তিত্বের 'মুলক' (সার্বভৌমত্ব) বিভাগে এটি উপলব্ধির জন্য স্পষ্ট যে, এই 'মালা' (সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ) হলেন সর্বোচ্চ স্তরের এবং তাঁরাই সকল বিষয়ের হর্তাকর্তা যাদের নিকট ব্যবস্থাপনার জন্য প্রত্যাবর্তন করা হয়। ফলে 'হামজা'-এর অর্থ শক্তিশালী হয়েছে এবং তা সমর্থিত হয়েছে; আর 'ওয়াও'-এর পরে 'আলিফ' বৃদ্ধি করা হয়েছে এই বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে, তাঁরা 'মালা' (সম্ভ্রান্ত গোষ্ঠী)-এর দুটি বিভাগের একটি। অস্তিত্বের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় তাঁদের প্রকাশ স্পষ্ট, যেহেতু তাঁদের মধ্যে অনুসারী ও অনুসরণীয় ব্যক্তিরা অস্তিত্বের ক্ষেত্রে পৃথক হয়ে গেছেন। আমরা 'আলিফ' সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অধ্যায়ে আলোচনা করব।
সুতরাং এই অক্ষরগুলোর বৃদ্ধি কিংবা হ্রাস পাওয়া অস্তিত্বের গুণাবলি বর্ণনার স্থলাভিষিক্ত হয়।
এই ব্যাখ্যার (تأويل) সপক্ষে প্রমাণ হলো সূরা 'আল-মুমিনুন'-এ বর্ণিত নূহ (আ.)-এর কাহিনি, যেখানে 'মালা' (সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিবর্গ)-কে কাফির হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে তাঁদেরকে তাঁর কওমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আয়াতে তাঁরা বলেছিল: (সে তোমাদের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে চায়) এবং শেষাংশে রয়েছে (অতএব তোমরা এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাঁর ব্যাপারে অপেক্ষা করো)।
নিজ কওমের মধ্যে কর্তৃত্ব তাঁদেরই ছিল এবং কোনো মানুষকেই তাঁরা তাঁদের ঊর্ধ্বে মনে করত না; কারণ তাঁদের বক্তব্য ছিল: (আল্লাহ চাইলে অবশ্যই ফেরেশতা অবতীর্ণ করতেন)। সুতরাং এরাই হলেন 'মালা' (সম্ভ্রান্ত গোষ্ঠী)-র উচ্চতর স্তর।
এরপর তাঁদের অপেক্ষা নিম্নতর আর একটি স্তর রয়েছে, যার প্রমাণ নূহ (আ.)-এর কাহিনিতে পাওয়া যায়।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৮)
أيضا في سورة هود. فإنهم وصفوا بالذين كفروا و " بعدها " نسبوا إلى قومه مثل أولئك. وقال هؤلاء في الآية (وَما نَرى لَكُم عَلَينا مِن فَضلٍ بَل نَظُنُكُم كاذِبين) فهؤلاء جوزوا أن يكون غيرهم من البشر أفضل منهم فإنهم طبقة دون أولئك.
ثم طبقة أخرى يدل عليها ما في قصة نوح أيضا في الأعراف لم يوصفوا ولم يذكروا تفصيلا فهم بمعنى " أشرف " قومه من غير مزيد اعتبار. فهم أخفض الطبقات في اعتبار الملأ. فأرفع طبقة وأظهرها في الوجود هم الذين عضدت همزتهم. وما في سورة النمل فظاهر بيّن أنهم أصل المشورة والفتوى لأنهم شووروا في أمر سليمان عليه السلام وتعتبر ما لم نذكره بمثل ما ذكرته يحول الله.
و" كذلك: (نَبوا الَّذينَ مِن قَبلِكُم) في سورة إبراهيم. (نَبوا الخَصم) و (نَبَوا عَظيم) في سورة " ص " عضدت
অনুরূপভাবে সূরা হুদেও। সেখানে তাদের কাফির (كفروا) হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং এর "পরে" তাদের ওই লোকদের মতোই নিজ সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্কিত করা হয়েছে। আর এরা আয়াতে বলেছে— (আর আমরা আমাদের ওপর তোমাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব দেখছি না, বরং আমরা তোমাদের মিথ্যাবাদী (كاذبين) মনে করি)। সুতরাং তারা এই সম্ভাবনা স্বীকার করে নিয়েছে যে, অন্য মানুষ তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ হতে পারে; কেননা তারা ওই স্তরের নিচের পর্যায়ের।
অতঃপর অন্য একটি স্তর রয়েছে, যা সূরা আল-আরাফে বর্ণিত নূহ (আলাইহিস সালাম)-এর কাহিনী দ্বারাও প্রতীয়মান হয়। সেখানে তাদের কোনো বিশেষণে বিশেষিত করা হয়নি এবং বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তারা কোনো অতিরিক্ত বিবেচনা ছাড়াই নিজ সম্প্রদায়ের 'সম্ভ্রান্ত' (أشرف) হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত। তারা 'মালা' (প্রধানবর্গ) এর স্তরসমূহের মধ্যে সর্বনিম্ন। আর অস্তিত্বের বিচারে সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে প্রকট স্তর হলো তারা, যাদের হামযাহ শক্তিশালী করা হয়েছে। আর সূরা আন-নামলে যা বর্ণিত হয়েছে, তা থেকে স্পষ্ট যে তারা পরামর্শ ও ফতোয়া (فتوى)-এর মূল উৎস; কারণ সুলাইমান (আলাইহিস সালাম)-এর বিষয়ে তাদের নিকট পরামর্শ চাওয়া হয়েছিল। আর আমি যা উল্লেখ করিনি, তা আল্লাহর ইচ্ছায় আমার উল্লিখিত বিষয়গুলোর আলোকেই বিবেচনা করবেন।
এবং অনুরূপভাবে: সূরা ইবরাহিমে (তোমাদের পূর্ববর্তীদের সংবাদ (نبأ))। সূরা সোয়াদে (বিবাদীদের সংবাদ (نبأ)) এবং (মহাসংবাদ (نبأ)) যা শক্তিশালী করা হয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الهمزة لظهور تلك الأنباء وعظمها في الوجود، ولكن بالنسبة إلى ما قد وقع مفهوما من خبرها. ولذلك زيدت الألف. وكذلك (يَبدوا الخَلق) عضدت الهمزة لظهور الخلق في الملك بالنسبة إلى الملكوت.
وهذه الكلمات جوامع جزئيات. وتعتبر ما لم نذكره بمثل ما " قد " ذكرته بحول الله.
وإن كان ما قبل الهمزة ساكنا فإن كان الألف مثل: " هباء " وجفاء فإنها لا تعضد إلا أن يكون في المعنى ما يقويها مثل (أَو لَم يَكُن لَهُم آَية اَن يُعلِمَهُ عُلَماءُ بَني إِسرائيل) عضدت الهمزة تنبيها على علو درجتهم في العلم وظهورهم في الوجود في أرفع طبقة المرجوع إليهم في جزئيات العلم وكلياته ولذلك جعلهم الله آية.
واختلفت المصاحف في حرف آخر وهو (إِنّما يَخشى اللَهَ مِن عِبادِهِ العُلَمؤا) .
وكذلك جزاؤا: خمسة أحرف.
অস্তিত্বে সেই সংবাদসমূহের প্রকাশ ও মহত্ত্বের কারণে হামযা (الهمزة) ব্যবহৃত হয়েছে, তবে তা কেবল এর খবরের যে অংশটুকু বোধগম্য হয়েছে তার প্রেক্ষিতে। আর একারণেই আলিফ (الألف) বৃদ্ধি করা হয়েছে। অনুরূপভাবে "সৃষ্টির সূচনা" এর ক্ষেত্রেও দৃশ্যমান জগত বা মুলক-এ (الملك) অদৃশ্য জগত বা মালাকুত-এর (الملكوت) তুলনায় সৃষ্টির প্রকাশের কারণে হামযাকে (الهمزة) শক্তিশালী করা হয়েছে।
আর এই শব্দগুলো হলো আংশিক বিষয়সমূহের (جزئيات) সমষ্টি। আমি যা উল্লেখ করিনি, সেগুলোকে আল্লাহর শক্তিতে আমি যা উল্লেখ করেছি তার আলোকেই বিবেচনা করুন।
যদি হামযার (الهمزة) পূর্ববর্তী বর্ণটি সাকিন (ساكن) হয় এবং তা যদি আলিফ (الألف) হয়, যেমন: "ধূলিকণা" এবং "আবর্জনা", তবে তাকে শক্তিশালী করা হয় না; যতক্ষণ না অর্থের মধ্যে এমন কিছু থাকে যা একে জোরালো করে। যেমন: "বনী ইসরাঈলের আলেমগণ (علماء بني إسرائيل) তা অবগত হওয়া কি তাদের জন্য কোনো নিদর্শন নয়?" — এখানে ইলমের ক্ষেত্রে তাদের সুউচ্চ মর্যাদা এবং অস্তিত্বের সর্বোচ্চ স্তরে তাদের আত্মপ্রকাশের প্রতি ইঙ্গিত করতে হামযাকে (الهمزة) শক্তিশালী করা হয়েছে, যেখানে ইলমের আংশিক ও সামগ্রিক উভয় বিষয়েই তাদের দিকেই প্রত্যাবর্তন করা হয়। আর একারণেই আল্লাহ তাদের নিদর্শন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন।
বিভিন্ন মুসহাফে (المصاحف) অন্য একটি শব্দের ক্ষেত্রে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়, আর তা হলো: "নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে কেবল আলেমগণই (العُلَمؤا) তাঁকে ভয় করেন"।
অনুরূপভাবে "জাযাউ" (جزاؤا): এখানে পাঁচটি বর্ণ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪০)
أحدها في العقود: (إِنّما جَزاوا الَّذَينَ يُحارِبونَ اللَهَ وَرَسولَهُ) .
وفيها: (وَذَلِكَ جَزاؤا الظَالِمين) .
وفي الشورى: (وَجَزاؤا سَيئَةٍ سيئَةٌ مِثلُها) .
وفي الحشر: (وَذَلِكَ جَزاؤا الظَالِمين) .
وفي الزمر: (ذَلِكَ جَزاؤا المُحسِنين) .
وفي طه: (وَذَلِكَ جَزاؤا مَن تَزَكى) على اختلاف في هذا فهذه الحروف عضدت همزتها لظهورها وظهور مصالحها في الوجود لكن بالنسبة إلى تلك الأعمال التي هي " جزاء " عليها وهي جوامع الأصناف من يجازي في الدنيا والآخرة ولذلك زيدت الألف بعد الواو في آخر الكلمة.
وكذلك شركاؤا: حرفان أحدهما في الأنعام (الَّذَينَ زَعَمتُم أنهُم فيكُم
এর একটি হলো আল-উকুদ (সূরা আল-মায়িদাহ) তে: (যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাদের প্রতিফল তো কেবল এই)।
এবং তাতে রয়েছে: (আর এটিই যালিমদের প্রতিফল)।
এবং আশ-শুরা সূরায়: (আর মন্দের প্রতিফল অনুরূপ মন্দ)।
এবং আল-হাশর সূরায়: (আর এটিই যালিমদের প্রতিফল)।
এবং আজ-যুমার সূরায়: (এটিই হলো সৎকর্মশীলদের প্রতিফল)।
এবং ত্বহা সূরায়: (আর এটিই তার প্রতিফল, যে পরিশুদ্ধ হয়েছে)। এই বিষয়ে মতভেদ থাকলেও এই বর্ণগুলোর হামযাহকে তাদের সুস্পষ্টতা এবং অস্তিত্বগত উপযোগিতা প্রকাশের জন্য শক্তিশালী করা হয়েছে; তবে তা ঐ সকল আমলের সাপেক্ষে যেগুলোর 'প্রতিফল' হিসেবে এগুলো এসেছে এবং এগুলো দুনিয়া ও আখিরাতে যাদের প্রতিদান দেওয়া হবে তাদের সকল প্রকারের সমষ্টি। আর এই কারণেই শব্দের শেষে ওয়াও-এর পরে আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
অনুরূপভাবে 'শরীকগণ' শব্দটিও: এটি দুটি স্থানে এসেছে, যার একটি আল-আন'আম সূরায় (যাদেরকে তোমরা মনে করতে যে তারা তোমাদের মাঝে...
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪১)
شُركاؤا) عضدت الهمزة لأنهم زعموا ذلك وأظهروه في الوجود وبالغوا في التشريك في الملك. وهذا خطاب في مواطن الآخرة يظهر للكافرين عيانا باطل ما هم عليه. والحرف الثاني في الشورة (أَم لَهم شُرَكاؤا شَرَعوا لَهُم) عضدت الهمزة بيانا أن ما أظهروه شركاء لله في الملك مفقود منهم صفة توجب لهم شيئا من ذلك. وهو خطاب في موطن الدنيا يظهر منه للمؤمنين باطل ما عليه الكافرون.
وهاتان الآيتان كافيتان في بيان الحق بحسب الفريقين وبحسب الدارسينس.
واختلف في الحرف الذي في سورة القلم فمن عضد الهمزة فللتنبيه على ظهور باطلهم لهم في الدنيا في معرض " الإحتجاج " عليهم ومن لم يعضدها فلأنهم لا يعقلون " إذ لو كانوا يعقلون " ما أشركوا.
وكذلك أنبؤا: حرفان في الأنعام وفي الشعراء جاء ذكر إتيانهما
(অংশীদারগণ): এখানে হামযাহকে সমর্থন প্রদান করা হয়েছে কারণ তারা তা দাবি করেছিল এবং বাস্তবে তা প্রকাশ করেছিল এবং তারা রাজত্বে অংশীদারিত্বের বিষয়ে অতিশয়োক্তি করেছিল। এটি পরকালের অবস্থানের একটি সম্বোধন যা কাফেরদের সামনে তারা যে ভ্রান্ত পথে রয়েছে তা স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। আর এই সূরার দ্বিতীয় ক্ষেত্রটি হলো (তাদের কি এমন কোনো অংশীদার রয়েছে যারা তাদের জন্য বিধান দিয়েছে), এখানে হামযাহকে সমর্থন প্রদান করা হয়েছে এটি স্পষ্ট করার জন্য যে, তারা আল্লাহর রাজত্বে যাদেরকে অংশীদার হিসেবে প্রকাশ করেছে, তাদের মধ্যে এমন কোনো গুণ নেই যা তাদের জন্য এর সামান্যতম অংশও সাব্যস্ত করে। এটি দুনিয়ার জীবনের একটি সম্বোধন যা থেকে মুমিনদের কাছে কাফেরদের ভ্রান্ত পথ প্রকাশিত হয়।
আর এই আয়াতদ্বয় উভয় দল এবং উভয় জগতের প্রেক্ষিতে সত্য বর্ণনার জন্য যথেষ্ট।
আর সূরা আল-কালামের শব্দটির বিষয়ে মতভেদ রয়েছে; সুতরাং যারা হামযাহকে সমর্থন দিয়েছেন, তারা তাদের বিরুদ্ধে "দলিল প্রদান (إحتجاج)" করার ক্ষেত্রে দুনিয়াতে তাদের বাতিলের প্রকাশ ঘটার বিষয়ে সতর্ক করার জন্য তা করেছেন। আর যারা একে সমর্থন দেননি, তারা করেছেন কারণ তারা অনুধাবন করে না; "যদি তারা অনুধাবন করত" তবে তারা শিরক করত না।
একইভাবে 'আম্বাউ' (সংবাদসমূহ): সূরা আল-আন'আম এবং সূরা আশ-শুয়ারা-তে এই দুটি শব্দের আগমনের উল্লেখ রয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪২)
معا بعد قوله تعالى: (فَقَد كَذبوا) فدل على أن هذا الإتيان هو بالفعل في الملك إذ قد أعرضوا على إتيانها بالقول على التفصيل والإجمال كما أخبر الله تعالى عنهم في الآيتين.
وكذلك الضعفؤا: حرفان في إبراهيم وفي المؤمن يتحاجون في موضع ظهور ضعفهم على تفاصيله فهم ضعفاء في القول في احتجاجاتهم في الدنيا والآخرة، ضعفاء القوة لا ناصر لهم ولا راحم، ضعفاء العمل إذ هم تبع لغيرهم قد بلغوا غاية الضعف في الوجود.
وكذلك البلؤا: حرفان في " و " الصافات وفي الدخان عضدت الهمزة لعظم البلاء في الوجود وارتقائه إلى أعظم رتبة، إما في الشر بذبح الأنبياء وهم أقرب الأحباء، وإما في الخير بالنجاة منه وظهورا الآيات البينات. وكله قد وقع في الوجود. وهما أصلان جامعان كما هو " 5ب " مذكور في السورتين.
وكذلك شفعاؤا: أفرد في الروم: (وَِلَم يَكُن لَهُم مِن شُرَكائِهِم شُفَعاؤا) والشفعاء أعظم رتبة يوم القيامة حين تظهر الشفاعة
আল্লাহ তাআলার বাণী: (তারা তো অস্বীকার করেছে) এর পরবর্তী উভয় স্থানে এটি নির্দেশ করে যে, এই আগমণটি মূলত রাজত্বে বা ক্ষমতায় কার্যকরভাবে সংঘটিত হয়েছে। কেননা তারা বিস্তারিত বা সংক্ষিপ্ত উভয়ভাবেই মৌখিকভাবে তা গ্রহণে বিমুখতা প্রদর্শন করেছিল, যেমনটি আল্লাহ তাআলা তাদের সম্পর্কে উক্ত দুটি আয়াতে সংবাদ দিয়েছেন।
অনুরূপভাবে 'الضعفؤا' (দুর্বলগণ): এটি সূরা ইবরাহিম এবং সূরা আল-মু'মিনে (গাফির) দুটি স্থানে এসেছে, যেখানে তারা বিতর্কে লিপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তাদের দুর্বলতার (ضعف) দিকগুলো বিস্তারিতভাবে প্রকাশ পায়। সুতরাং তারা দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের যুক্তিতর্কের ক্ষেত্রে বাকশক্তিতে দুর্বল (ضعفاء), শারীরিক শক্তিতে দুর্বল (ضعفاء) যাদের কোনো সাহায্যকারী বা দয়াকারী নেই, এবং কর্মের ক্ষেত্রেও দুর্বল (ضعفاء) যেহেতু তারা অন্যদের অনুসারী ছিল; তারা অস্তিত্বের ক্ষেত্রে চরম দুর্বলতায় উপনীত হয়েছে।
তদ্রূপ 'البلؤا' (পরীক্ষা): এটি সূরা আস-সাফফাত এবং সূরা আদ-দুখানে দুটি স্থানে এসেছে। এখানে অস্তিত্বের জগতে পরীক্ষার (بلاء) ভয়াবহতা এবং এর সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরোহণের কারণে হামজাহকে শক্তিশালী করা হয়েছে; চাই তা অকল্যাণের ক্ষেত্রে নবীদের জবেহ করার মাধ্যমে হোক—যারা ছিলেন আল্লাহর নিকটতম প্রিয়ভাজন—অথবা কল্যাণের ক্ষেত্রে তা থেকে মুক্তি লাভ এবং সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলি প্রকাশের মাধ্যমে হোক। এর প্রতিটিই বাস্তবে সংঘটিত হয়েছে। আর এ দুটি হলো সমন্বিত মূলনীতি যেমনটি উক্ত দুই সূরায় '৫-খ' পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইভাবে 'شفعاؤا' (সুপারিশকারীগণ): এটি সূরা আর-রূমে এককভাবে এসেছে: (আর তাদের শরিকদের মধ্য থেকে তাদের জন্য কোনো সুপারিশকারী থাকবে না)। কিয়ামতের দিন যখন সুপারিশ (شفاعة) প্রকাশ পাবে, তখন সুপারিশকারীগণ (شفعاء) সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী হবেন।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪৩)
بالفعل في الملك الأخروي وذلك مسلوب عن شركائهم.
وكذلك: (وَما دُعاؤا الكافِرينَ) حرف واحد. وهو الدعاء الظاهر في الملك على ألسنتهم وليس في قلوبهم فإنهم كافرون أبدا بقلوبهم. ألا ترى كيف سألوا الخزنة فقالوا (اِدعوا رَبَكُم يُخَفّف عَنّا يَوماً مِنَ العَذاب) . وهم مقرون بأن الرسل أتتهم بالبينات وفي ما جاءت به الرسل إليهم أنهم لا ناصر لهم ولا شافع ولا راحم إذا دخلوا النار فسؤالهم الخزنة تكذيبهم لما جاءتهم به رسلهم فهم في ضلال في الدنيا والآخرة كافرون أبدا (وَلَو رُدوا لِما نُهوا عَنهُ) .
وزيدت الألف تنبيها على ظهور دعائهم باللسان لا بالقلب فإن الذي ظهر باللسان غير ما في القلب والجنان.
وكذلك: ما تشاؤا أفرد في هود عضدت الهمزة لأنهم قصدوا ذلك من حيث الوجود وإن مشيئتهم في أعلا رتبة.
قالوه في مقابلة التحجير عليهم.
فهذا أصل جامع لجزئيات الحلال والحرام من جهة الإقدام والإحجام بحسب المشيئة والأحكام.
وكذلك: ابنؤا الله. " قالته " اليهود والنصارى يريدون أنهم أرفع
পরলৌকিক রাজত্বে প্রকৃতপক্ষে এটি বাস্তবায়িত হবে এবং তা তাদের অংশীদারদের থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অনুরূপভাবে: (وَما دُعاؤا الكافِرينَ) একটি বর্ণ [অতিরিক্ত আলিফ]। এটি হলো রাজত্বে তাদের মুখে উচ্চারিত প্রকাশ্য ডাক কিন্তু তা তাদের অন্তরে নেই, কেননা তারা তাদের অন্তরের দিক থেকে চিরকালই অবিশ্বাসী (كافرون)। আপনি কি দেখেননি তারা কীভাবে রক্ষীদের কাছে প্রার্থনা করেছিল? তারা বলেছিল (তোমাদের রবের কাছে প্রার্থনা করো যেন তিনি আমাদের থেকে একদিনের আজাব লাঘব করেন)। তারা স্বীকারোক্তি প্রদানকারী যে রাসুলগণ তাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদিসহ এসেছিলেন। আর রাসুলগণ তাদের কাছে যা নিয়ে এসেছিলেন তাতে এটিও ছিল যে, তারা যখন জাহান্নামে প্রবেশ করবে তখন তাদের কোনো সাহায্যকারী, সুপারিশকারী বা দয়াকারী থাকবে না। সুতরাং রক্ষীদের কাছে তাদের এই প্রার্থনা করা মূলত তাদের নিকট রাসুলগণ যা নিয়ে এসেছিলেন তার প্রতি এক প্রকার মিথ্যা প্রতিপন্ন করা (تكذيب)। তাই তারা ইহকাল ও পরকালে বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে এবং তারা চিরকালই অবিশ্বাসী (كافرون) (যদি তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হতো তবে তারা যে কাজ থেকে নিষিদ্ধ হয়েছিল পুনরায় তা-ই করত)।
এখানে 'আলিফ' বর্ণটি অতিরিক্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে এই বিষয়ে সতর্ক করার জন্য যে, তাদের প্রার্থনা মুখে প্রকাশ পেয়েছে কিন্তু অন্তরে নয়। কারণ মুখে যা প্রকাশ পায় তা হৃদয় ও অন্তরের বিষয়ের বিপরীত।
অনুরূপভাবে: সূরা হুদে 'তাশাউ' (ما تشاؤا) শব্দটি এককভাবে এসেছে এবং হামযাহ-কে সমর্থন দেওয়া হয়েছে; কারণ তারা অস্তিত্বের দিক থেকে সেটিই উদ্দেশ্য করেছিল এবং তাদের ইচ্ছা ছিল সর্বোচ্চ স্তরে।
তারা তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার মোকাবিলায় এটি বলেছিল।
সুতরাং এটি হালাল (حلال) ও হারাম (حرام) এর খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর জন্য একটি সমন্বিত মূলনীতি (أصل), যা ইচ্ছা ও বিধান অনুযায়ী কোনো বিষয়ে অগ্রসর হওয়া বা বিরত থাকার সাথে সংশ্লিষ্ট।
অনুরূপভাবে: 'আল্লাহর পুত্র' (ابنؤا الله)। এটি ইহুদি ও খ্রিস্টানরা বলেছিল, যার মাধ্যমে তারা বুঝাতে চেয়েছিল যে তারা অধিক উচ্চমর্যাদার অধিকারী।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
طبقة في الناس عند الله وأنهم مكرمون عنده يغذيهم وينعم عليهم ولا يؤاخذهم بذنب.
وكذلك عضدت الهمزة بالياء في أربعة أحرف تنبيها على اختصاص معنى الكلمة بظهوره في المعنى الملكوتي.
منها: في يونس (مِن تِلقائي نَفسي) هو التلقاء الخاص الذي يظهر من قبل النفس ورأيها.
وفي النحل: (وَإِيتاي ذي القُربى) هو الإيتاء الخاص الذي بينه.
وفي طه: (وَمِ، ءاناىء اللَيل) هي آناء خاصة ملكوتية غير معينة بالحس.
وفي الشورى: (أَو مِن وَراىء حِجاب) هو الوراء الخاص بالملكوت الذي يظهر بالحجاب.
وهذه جوامع كلمات تندرج تحتها جزئيات. وقد قال بعض المصنفين، إن هذه اآيات زائدة بعد الهمزة وهو ضعيف، وجهة " العضد " أول بها. والله أعلم.
وإن كان الساكن قبل الهمزة غير الألف مثل الخبء وبرىء فإنها لا
আল্লাহর নিকট মানুষের মাঝে এমন এক স্তর (طبقة) রয়েছে এবং তারা তাঁর নিকট সম্মানিত; তিনি তাদের জীবনোপকরণ দান করেন ও নেয়ামত প্রদান করেন এবং তাদের কোনো পাপের জন্য পাকড়াও করেন না।
অনুরূপভাবে, চারটি শব্দের ক্ষেত্রে হামজাকে (الهمزة) ইয়া (الياء) দ্বারা শক্তিশালী (عضدت) করা হয়েছে, যাতে আধ্যাত্মিক (الملكوتي) অর্থ প্রকাশের মাধ্যমে শব্দটির অর্থের বিশেষত্বের প্রতি ইঙ্গিত করা যায়।
তার মধ্যে একটি হলো: সূরা ইউনুসে (আমার নফসের পক্ষ থেকে); এটি হলো সেই বিশেষ সম্মুখভাগ যা নফস ও তার নিজস্ব চিন্তাধারা থেকে প্রকাশ পায়।
এবং সূরা নাহলে: (আত্মীয়-স্বজনকে দান করা); এটি হলো সেই বিশেষ দান যা তিনি বর্ণনা করেছেন।
এবং সূরা ত্বোয়াহায়: (এবং রাত্রির প্রহরগুলোতে); এগুলো হলো বিশেষ আধ্যাত্মিক (ملكوتية) মুহূর্ত যা ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভূত নয়।
এবং সূরা শূরায়: (অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে); এটি হলো আধ্যাত্মিক জগতের জন্য বিশেষ অন্তরাল যা পর্দার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এগুলো হলো এমন সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ (جوامع كلمات) যার অধীনে অনেক শাখা-প্রশাখা অন্তর্ভুক্ত হয়। কোনো কোনো লেখক বলেছেন যে, এই বর্ণগুলো হামজার পরে অতিরিক্ত হিসেবে এসেছে, কিন্তু এই অভিমতটি দুর্বল (ضعيف); বরং একে শক্তিশালীকরণ (العضد) হিসেবে গণ্য করাই অধিকতর যুক্তিযুক্ত। আল্লাহই ভালো জানেন।
যদি হামজার পূর্ববর্তী সাকিন (الساكن) বর্ণটি আলিফ (الألف) ব্যতীত অন্য কিছু হয়, যেমন 'আল-খব' এবং 'বারী', তবে তা...
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
تعضد لأنها مع الألف تحذف في الوقف لأنه لا يجتمع ساكنان ولا يتأتى إلقاء حركتها عليه لسقط. وأما مع غير الألف فيتأتى إلقاء حركتها عليه فتسقط من وجهين فلذلك تعضد حيث يقوى معناها.
وأيضا يصح في الألف التطويل فيقوم فيه مقام الحركة: فقد يلتقي لأجل ذلك ساكنان نحو دابة والطامة. وفي قراءة ورش: (وَمَحياي وَأَرَأَيتَ) وشبه ذلك.
فصل إذا وقعت الهمزة وسطا في الكلمة المفردة أو المركبةونعني بالمركبة ما تألفت من كلمتين مثل: أنبائهم.
وليس السين مع الفعل المستقبل بتركيب لأن السين مختصر من سوف. وسوف كلمة مستقلة لا تركب مع الفعل. تقول العرب: سوف أقوم وسوأ قوم وسأقوم. فهي كالحروف العامة فاعلم.
একে সমর্থন প্রদান করা হয়, কারণ এটি আলিফের সাথে ওয়াকফ (وقف) করার সময় বিলুপ্ত হয়ে যায়; কেননা দুটি সাকিন (ساكن) একত্রে মিলিত হতে পারে না এবং বিলুপ্ত হওয়ার কারণে এর হরকত (حركة) এর ওপর অর্পণ করাও সম্ভব হয় না। পক্ষান্তরে, আলিফ ব্যতীত অন্য বর্ণের ক্ষেত্রে এর হরকত অর্পণ করা সম্ভব হয়, ফলে এটি দুই দিক থেকে বিলুপ্ত হয়; আর এই কারণেই যেখানে এর অর্থ শক্তিশালী হয়, সেখানে একে সমর্থন প্রদান করা হয়।
এছাড়াও আলিফের ক্ষেত্রে দীর্ঘ করা (مد) শুদ্ধ, ফলে তা হরকতের (حركة) স্থলাভিষিক্ত হয়। এই কারণেই কখনো কখনো দুটি সাকিন (ساكن) একত্রে মিলিত হয়, যেমন: 'দাব্বাহ' (دابة) এবং 'আত-তাম্মাহ' (الطامة)। ইমাম ওয়ারশের কিরাআত (قراءة)-এ রয়েছে: 'ওয়া মাহইয়াইয়া' (وَمَحياي), 'আ-রাআইতা' (أَرَأَيتَ) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ।
পরিচ্ছেদ: যখন হামজা একক বা যৌগিক শব্দের মাঝে অবস্থিত হয়আর যৌগিক শব্দ বলতে আমরা সেই শব্দকে বুঝিয়েছি যা দুটি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত, যেমন: 'আনবাইহিম' (أنبائهم)।
ভবিষ্যৎকালবোধক ক্রিয়ার সাথে যুক্ত 'সীন' (س) কোনো যৌগিক গঠন নয়, কারণ 'সীন' হলো 'সাওফা' (سوف)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। আর 'সাওফা' একটি স্বতন্ত্র শব্দ যা ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়ে যৌগিক শব্দ গঠন করে না। আরবরা বলে থাকে: 'সাওফা আকূমু' (سوف أقوم), 'সাওআ কূমু' (سوأ قوم) এবং 'সা-আকূমু' (سأقوم)। সুতরাং এটি সাধারণ অব্যয় বা বর্ণের (حرف) ন্যায়, অতএব এটি জেনে রাখুন।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
فإن كان ما قبل الهمزة ألفا عضدت الهمزة ودبرها حركة نفسها مثل: (عَطآَءَنا) و (مَلائِكَة) لأنها ليست في موضع الوقف فتسكن ولا يتأتى إلقاء حركتها على الألف فتثبت لأجل ذلك إلا أن تكون مفتوحة فلا تعضد لئلا يجتمع الفان (فهما (لا يجتمعان في الفم فلا يجتمعان في الخط نحو: أبناءهم و (تَساءَلَون بِهِ) .
وإن كان ما قبل الهمزة ساكن غير الألف فتعضدن أيضا مثل موئلا عضدت إلا أن تكون مفتوحة فلا تعضد مثل: يسألون لأنها لم تعضد مع الألف التي لا يتأتى سقوطها معه بإلقاء حركتها عليه فكيف تعضد مع غيره الذي يتأتى سقوطها معه بإلقاء حركتها عليه إلا أن تقوى بالمعنى مثل: شطئة والنشأة حيث وقع لأنهما على معنى الهمزة وهو مبدأ الظهور في الوجود الحسي فعضدت الهمزة.
وإن كان ما قبل الهمزة متحركا وهي ساكنة فإنها تعضد " إذ ليس " ثم
যদি হামযার (الهمزة) পূর্ববর্তী বর্ণটি আলিফ (ألف) হয়, তবে হামযাকে অবলম্বন (عضدت) প্রদান করা হবে এবং এর স্থায়িত্ব হবে তার নিজস্ব হরকত (حركة) অনুযায়ী। যেমন: ‘আতা-আনা’ এবং ‘মালাইকাহ’; কারণ এটি বিরতি (الوقف) প্রদানের স্থান নয় যে একে সুকুনযুক্ত (فتسكن) করা হবে, আর আলিফের ওপর এর হরকত স্থানান্তর (إلقاء) করাও সম্ভব নয়। এ কারণেই এটি বহাল (فتثبت) থাকে। তবে হামযাটি যদি যবরবিশিষ্ট (مفتوحة) হয়, তবে তাকে কোনো অবলম্বন (تعضد) দেওয়া হবে না যাতে দুটি আলিফ একত্রিত না হয়। যেহেতু উচ্চারণের সময় মুখে দুটি আলিফ একত্রিত হয় না, তাই লিপি বা লেখার (الخط) ক্ষেত্রেও তারা একত্রিত হবে না; যেমন: ‘আবনাহুম’ এবং ‘তাসায়ালুনা বিহি’।
আর যদি হামযার (الهمزة) পূর্ববর্তী বর্ণটি আলিফ ব্যতীত অন্য কোনো সুকুনযুক্ত (ساكن) বর্ণ হয়, তবে সেক্ষেত্রেও একে অবলম্বন (تعضدن) দেওয়া হবে; যেমন ‘মাউয়িলা’ শব্দে অবলম্বন দেওয়া হয়েছে। তবে এটি যদি যবরবিশিষ্ট (مفتوحة) হয়, তবে একে অবলম্বন (تعضد) দেওয়া হবে না; যেমন: ‘ইয়াসআলুনা’। কারণ এটি আলিফের সাথে যখন অবলম্বন (تعضد) লাভ করেনি—যেখানে হরকত স্থানান্তরের মাধ্যমে এর বিলুপ্তি (سقوط) ঘটা সম্ভব ছিল না—তবে অন্য বর্ণের সাথে কীভাবে এটি অবলম্বন (تعضد) লাভ করবে যেখানে হরকত স্থানান্তরের মাধ্যমে এর বিলুপ্তি (سقوط) ঘটা সম্ভব? তবে যদি অর্থের দিক থেকে তা শক্তিশালী (تقوى) হয়, যেমন: ‘শাত-আহু’ এবং ‘আন-নাশআহ’ যেখানেই এটি আসুক; কারণ এই শব্দ দুটি হামযার (الهمزة) অর্থের ওপর ভিত্তি করে গঠিত, যা হলো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অস্তিত্বে প্রকাশের সূচনা। ফলে এক্ষেত্রে হামযাকে (الهمزة) অবলম্বন দেওয়া হয়েছে।
আর যদি হামযার (الهمزة) পূর্ববর্তী বর্ণটি হরকতবিশিষ্ট (متحركا) হয় এবং হামযাটি নিজে সুকুনযুক্ত (ساكنة) হয়, তবে তাকে অবশ্যই অবলম্বন (تعضد) দেওয়া হবে। কারণ তখন...
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
موجب لإسقاطها بوجه مثل: سولك، إلا أن يكون معنى الكلمة أمرا باطنا من عالم الملكوت فتبقى على الأصل ولا تعضد وذلك مثل الرءيا ورءياك ورءياي.
فهذه على خلاف رؤية العين الملكية فإنها تعضد همزتها مثل: (تَرَونَهُم مَثلَيهِم رَاَيَ العَين) .
وكذلك: (فَادارَأتُم فيها) هو شيء باطن. قال الله تعالى: (وَاللَهُ مُخرِجُ ما كُنتُم تَكتَمون) ولذلك حذف ألفه أيضا.
وإن كانت الهمزة متحركة بعد متحرك فلا يتأتى إسقاها.
فإن كانت مفتوحة دبرها حركة ما قبلها مثل: (فِئَتين) لأن حركتها أخت الألف فلو دبرها حركتها للزم الألف أن يكون قبلها ضمة أو كسرة وذلك لا يفهم فيقلب واوا أو ياء، فكذلك في الخط. فلذلك دبرها حركة ما قبلها.
ولم تعضد في السيئات لأنها جماعة الدنيات فبعدت عن أصل
এটি কোনো একভাবে তা বিলোপ করার কারণ হয়, যেমন: 'সউলাকা'; তবে যদি শব্দটির অর্থ আধ্যাত্মিক জগতের কোনো অভ্যন্তরীণ বিষয় হয়, তবে তা মূল (أصل) রূপেই বহাল থাকে এবং কোনো ভিত্তি গ্রহণ করে না; যেমন: 'রুইয়া', 'রুইয়াকা' এবং 'রুইয়াই'।
এটি বাহ্যিক জগতের চাক্ষুষ দর্শনের বিপরীত; কারণ সেখানে হামযা বর্ণটি ভিত্তি বা বাহন গ্রহণ করে, যেমন: "তোমরা তাদেরকে চাক্ষুষ দেখায় দ্বিগুণ দেখতে পাচ্ছিলে"।
একইভাবে: "অতঃপর তোমরা সে বিষয়ে বিবাদে লিপ্ত হলে"—এটি একটি অপ্রকাশ্য বিষয়। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আর তোমরা যা গোপন করছিলে আল্লাহ তা প্রকাশ করে দিলেন"; একারণেই এর আলিফটিও বিলুপ্ত হয়েছে।
আর হামযা যদি হরকতযুক্ত বর্ণের পরে নিজে হরকতযুক্ত হয়ে আসে, তবে তার বিলোপ ঘটানো সম্ভব হয় না।
যদি তা ফাতহাযুক্ত হয়, তবে তার রূপ নির্ধারিত হয় পূর্ববর্তী বর্ণের হরকত অনুযায়ী, যেমন: "দুই দল"; কেননা হামযার হরকত হলো আলিফের সমজাতীয়। এমতাবস্থায় যদি সেটি হামযার নিজস্ব হরকত অনুযায়ী রূপ নিত, তবে আলিফের পূর্বে যম্মাহ বা কাসরাহ থাকা আবশ্যক হয়ে পড়ত, যা সঙ্গত নয়। ফলে এটি 'ওয়াও' বা 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয় এবং লিখনরীতির ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটে। একারণেই এর রূপ পূর্ববর্তী বর্ণের হরকত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
আর 'সাইয়িআত' (মন্দ কাজসমূহ) শব্দে হামযা কোনো ভিত্তি গ্রহণ করেনি; কারণ এটি হীন বিষয়সমূহের সমষ্টি, ফলে এটি মূল (أصل) থেকে দূরে সরে গেছে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
الملكوتيابت وظهور الثبوتيات.
وإن كانت الهمزة المتحركة غير مفتوحة بعد المتحركة وكان بعدها واو الجمع أو ياؤه لم تعضد مثل: (يَستَهزِءُون) و (المُستَهزِءين) و (تَبوءو الدار) .
كما لم تعضد أيضا في مثل النبيئن مما قبلها ساكن لأنها لو عضدت للزم اجتماع ثلاث ياءات والكسر وثلاث واوات والضم كما ترى في النبيئن وتبوءو.
ولا ينبغي أن يسقط حرف الأعراب للتخفيف لما فيه من الإخلال بظهور المعنى: فقد سقط عضدها من وجه.
وإن كانت الهمزة مضمومة بعد كسرة دبرتها الكسرة حركة ما قبلها مثل: (سَنُقرِئُكَ) لأنه لو دبرها حركة نفسها للزم أن يكون الواو
মালেকুতীয় বিষয়াবলি এবং সাব্যস্ত বিষয়সমূহের প্রকাশ।
আর যদি হরকতবিশিষ্ট (متحركة) হামযাহটি অন্য একটি হরকতবিশিষ্ট বর্ণের পরে জবরযুক্ত (مفتوحة) না হয় এবং তার পরে বহুবচনের ওয়াও (واو الجمع) বা এর ইয়া থাকে, তবে একে ভিত্তি বা সাহায্য (تعضد) দেওয়া হবে না; যেমন: (ইয়াসতাহজিউন), (আল-মুসতাহজিঈন) এবং (তাবাউউ আদ-দার)।
অনুরূপভাবে ‘আন্-নাবিয়্যীন’-এর মতো শব্দগুলোতেও একে ভিত্তি দেওয়া হয়নি যেগুলোর পূর্বে সাকিন (ساكن) রয়েছে; কারণ যদি একে ভিত্তি দেওয়া হতো, তবে তিনটি ইয়া (ياءات) ও কাসরাহ (كسرة) অথবা তিনটি ওয়াও (واوات) ও যম্মাহ (ضمة) একত্রে আসার আবশ্যকতা তৈরি হতো, যেমনটি আপনি ‘আন্-নাবিয়্যীন’ এবং ‘তাবাউউ’ শব্দে দেখতে পাচ্ছেন।
সহজীকরণের (تخفيف) জন্য ইরাবের বর্ণ (حرف الأعراب) বিলুপ্ত করা সমীচীন নয়, কারণ এতে অর্থের স্পষ্টতা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে; ফলে একদিক থেকে এর ভিত্তি (عضد) বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
আর যদি হামযাহটি কাসরাহ-র পরে পেশযুক্ত (مضمومة) হয়, তবে পূর্ববর্তী বর্ণের হরকত (حركة) অর্থাৎ কাসরাহ একে নিয়ন্ত্রণ করবে; যেমন: (সানুকরিউকা)। কারণ যদি হামযাহর নিজস্ব হরকত একে নিয়ন্ত্রণ করত, তবে ওয়াও (واو) আসা আবশ্যক হয়ে পড়ত।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
قبله كسرة فينقلب ياء.
وإن كانت الهمزة بخلاف ذلك دبرها حركة نفسها مثل: (يَكلَؤُكُم) و (سُئِلَت) وإنما لا يصح اجتماع ثلاث واوات في الخط لأن الواو دليل الوجود الملكي ومدركاته قسمان: جوهر وعرض لا غير، فلا يجتمع في العلم ثلاث ظهورات فلا يجتمع في الخط ثلاث واوات.
ولأن الجوهر والعرض ليسا بقسمين ظاهرين في الوجود الملكي لأن الجوهر لا ينفك عن العرض حسا فلا يظهر اثنين فلا يجتمع في الخط واوان في كلمة واحدة على ما نذكره في باب الواو. وإنما لا يصح أيضا إجتماع ثلاث ياءات في الخط لأن الياء دليل الوجود الملكوتي وهو ثلاث أقسام في الفهم ما يتصور من الجوهر وما يتصور من العرض وما يومن به من خلف علامة في الذهن شعرية فلا يجتمع في الفهم أربع بطونات ولأن ما يتصور من العلامة ليس هو ملكوتيا بل هو جبروتي نا لم ندركه فلا تكون الياء دالة عليه وإنما يدل عليه علامتها وهي الكسرة
এর পূর্বে কাসরা (كسرة) থাকলে তা ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়।
আর যদি হামজাহ এর বিপরীত হয়, তবে তা নিজ হারাকাতের (حركة) অনুগামী হবে; যেমন: ইয়াকলাউকুম (يَكلَؤُكُم) এবং সুইলাত (سُئِلَت)। লিখনশৈলীতে তিনটি 'ওয়াও' একত্রিত হওয়া শুদ্ধ নয়; কারণ 'ওয়াও' হলো জাগতিক অস্তিত্বের (الوجود الملكي) প্রমাণ। আর এর অনুধাবনযোগ্য বিষয়সমূহ দুই প্রকার: সত্তা (جوهر) এবং গুণ (عرض) ব্যতীত অন্য কিছু নয়। সুতরাং জ্ঞানরাজ্যে তিনটি বহিঃপ্রকাশ একত্রিত হয় না, তাই লিখনশৈলীতেও তিনটি 'ওয়াও' একত্রিত হয় না।
কারণ জাগতিক অস্তিত্বে (الوجود الملكي) সত্তা ও গুণ দুটি পৃথক ও প্রকাশ্য বিভাগ নয়। যেহেতু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে সত্তা গুণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয় না, তাই তারা পৃথক দুটি হিসেবে প্রকাশ পায় না। সুতরাং একটি শব্দে দুটি 'ওয়াও' একত্রিত হয় না, যেমনটি আমরা 'ওয়াও' অধ্যায়ে উল্লেখ করব। লিখনশৈলীতে তিনটি 'ইয়া' একত্রিত হওয়াও সঠিক নয়; কারণ 'ইয়া' হলো আধ্যাত্মিক অস্তিত্বের (الوجود الملكوتي) প্রমাণ। আর উপলব্ধির ক্ষেত্রে তা তিন প্রকার: যা সত্তা (جوهر) থেকে কল্পনা করা যায়, যা গুণ (عرض) থেকে কল্পনা করা যায় এবং মানসপটে অনুভূত চিহ্নের অন্তরালে যা বিশ্বাস করা হয়। সুতরাং উপলব্ধিতে চারটি অভ্যন্তরীণ স্তর (بطونات) একত্রিত হতে পারে না। কারণ চিহ্নের মাধ্যমে যা কল্পনা করা হয় তা আধ্যাত্মিক জগত (ملكوتي) সংক্রান্ত নয়, বরং তা ঐশ্বরিক মহিমার জগত (جبروتي) যা আমরা উপলব্ধি করতে পারি না। তাই 'ইয়া' তার নির্দেশক হয় না, বরং তার চিহ্নই এর পরিচয় প্রদান করে, আর তা হলো কাসরা (الكسرة)।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫০)
الخارجة عنها كما دل على هذا شيء خارج عنه فلا يجتمع في العلم ثلاث ياءات فلا يجتمع في الخط فافهم تعلم.
فصل
في اجتماع همزتين في كلمة واحدة
فإن كانت الأولى متحركة والثانية ساكنة فتحقق الأولى وتبدل الثانية " بحرف حركة " ما قبلها.
فإن اجتمع ألفان حذف أحدهما والأضعف منهما أولى بالحذف وكذلك مثل أوتي " وإِيتاء "، و " إيمان " وء " امن " إلا حرف واحد في سورة قريش: (إِيلافِهِم) (رِحلَةَ الشِتاءِ وَالصَيف) لأنه إيلاف تدبير منتقل يدلك عليه عمله في الرحلة المضافة للزمانين المختلفين.
وإن كانت الهمزة الأولى مفتوحة والثانية مضمومة أو مكسورة فتحقق الأولى
যা এর বহির্ভূত, যেমনটি এর বাইরের কোনো বিষয় দ্বারা নির্দেশিত হয়েছে। সুতরাং শাস্ত্রীয় নীতিতে (العلم) তিনটি 'ইয়া' (ياءات) একত্রে অবস্থান করে না এবং লিপিশৈলীতেও (الخط) তা একত্র হয় না; সুতরাং বিষয়টি বুঝে নিন ও শিক্ষা লাভ করুন।
পরিচ্ছেদ (فصل)
একই শব্দে দুটি হামজার (همزتين) একত্র হওয়া প্রসঙ্গে
যদি প্রথমটি হরকতযুক্ত (متحركة) এবং দ্বিতীয়টি সাকিন (ساكنة) হয়, তবে প্রথমটিকে সুস্পষ্ট (تحقيق) করতে হবে এবং দ্বিতীয়টিকে তার পূর্ববর্তী হরকতের (حركة) বর্ণ দ্বারা পরিবর্তন (تبدل) করতে হবে।
যদি দুটি আলিফ (ألفان) একত্র হয়, তবে তাদের একটি বিলুপ্ত (حذف) হবে এবং তাদের মধ্যে দুর্বলতরটি (الأضعف) বিলুপ্তির ক্ষেত্রে অধিক অগ্রগণ্য। একইভাবে 'উতিয়া' (أوتي), 'ইতা' (إيتاء), 'ইমান' (إيمان) এবং 'আমানা' (آمن) এর উদাহরণসমূহ; তবে সূরা কুরাইশের একটি বর্ণ (حرف) ব্যতীত: (তাদের আসক্তির জন্য - إِيلافِهِم) (শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের জন্য - رِحلَةَ الشِتاءِ وَالصَيف), কারণ এটি একটি পরিবর্তনশীল ব্যবস্থাপনার আসক্তি (إيلاف), যা দুটি ভিন্ন সময়ের সাথে সম্পৃক্ত সফরের কার্যাবলি দ্বারা আপনার নিকট নির্দেশিত হয়।
আর যদি প্রথম হামজাটি (الهمزة) ফাতহাহযুক্ত (مفتوحة) হয় এবং দ্বিতীয়টি যম্মাহযুক্ত (مضمومة) বা কাসরাহযুক্ত (مكسورة) হয়, তবে প্রথমটিকে সুস্পষ্ট (تحقيق) করতে হবে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫১)
المفتوحة وتبدل المضمومة واوا والمكسورة ياء يسقطان في الخط في بعض الحروف مثل (أا. شَهِدوا) (أ. لَقي الذكر) (أ. نَزلَ عَلَيهِ) (أَبِفكاً) و (قالوا أ. ذا) ونحو ذلك.
ويثبتان في بعض الحروف مثل (قُل أَُؤنَبِئُكُم) (لأن) الواو فيه بدل من (همزة المتكلم) وهو شيء موجود حاضر. فأظهرت الواو في الخط بخلاف الواو في أ. شهدوا وأخواتها لأنها بدل من " همزة " الفعل فهي ملكوتية.
ومثل: (وَكانوا يَقولُونَ أَئِذا مِتنا) فرد في الواقعة ثبت فيه بدل الهمزة ظاهرا لأن الخطاب من موطن الآخرة وحضورها. ألا ترى كيف أخبر عنهم بماضي الكون فيها فقال تعالى: ((وَكانوا يَقولونَ أَئِذا مِتنا) ولم يخبر بماضي الكون في غيرها.
যবরযুক্ত (مفتوحة) বর্ণসমূহ এবং পেশযুক্ত (مضمومة) বর্ণটি ওয়াও (واو) দ্বারা এবং যেরযুক্ত (مكسورة) বর্ণটি ইয়া (ياء) দ্বারা স্থলাভিষিক্ত (بدل) হওয়া—এই উভয় বিষয় কতিপয় বর্ণের ক্ষেত্রে লিপি (خط) থেকে বিলুপ্ত হয়ে যায়; যেমন: (আ-আ. শাহিদূ), (আ. লাকিয়ায যিকর), (আ. নাযালা আলাইহি), (আ-বি-ইফকান) এবং (কালূ আ-ইযা) ও এই জাতীয় শব্দসমূহ।
এবং এগুলো কতিপয় বর্ণের ক্ষেত্রে বহাল থাকে, যেমন: (কুল আ-উআন্নাব্বিউকুম); কারণ সেখানে ওয়াও (واو) বর্ণটি উত্তম পুরুষের হামযা (همزة المتكلم)-এর স্থলাভিষিক্ত (بدل) হিসেবে এসেছে, যা একটি উপস্থিত বিদ্যমান বিষয়। ফলে লিপি (خط)-তে ওয়াও (واو) প্রকাশ পেয়েছে, যা 'আ. শাহিদূ' ও তার সমজাতীয় শব্দগুলোর ওয়াও (واو)-এর বিপরীত। কারণ তা ক্রিয়ার হামযা (همزة)-এর স্থলাভিষিক্ত (بدل), তাই তা সূক্ষ্ম জগতীয় (ملكوتية) বিষয়।
অনুরূপ উদাহরণ হলো: (ওয়া কানূ ইয়াকূলূনা আ-ইযা মিতনা); এটি সূরা আল-ওয়াকিয়াতে এসেছে এবং সেখানে হামযার স্থলাভিষিক্ত (بدل) বর্ণটি প্রকাশ্যভাবে বহাল রাখা হয়েছে। কারণ এই সম্বোধনটি পরকাল (آخرة) এবং তার উপস্থিতির ক্ষেত্র থেকে করা হয়েছে। আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আল্লাহ তাআলা সেখানে তাদের সম্পর্কে অতীত অস্তিত্ব (ماضي الكون) নিয়ে কীভাবে সংবাদ দিয়েছেন? মহান আল্লাহ বলেন: ((ওয়া কানূ ইয়াকূলূনা আ-ইযা মিতনা), অথচ তিনি সূরা আল-ওয়াকিয়া ব্যতীত অন্য কোথাও অতীত অস্তিত্ব (ماضي الكون) সম্পর্কে সংবাদ দেননি।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫২)
ومثل: (أَئِنَكُم لَتَشهَدون) ظهر الحرف المغير على حرف أصلي تنبيها على تحقق ظهور شهادتهم الباطلة في الوجود.
وهي شهادة مغيرة عن أصل الشهادة " المحضة " ولذلك قال تعالى: (قُل لا أَشهَد) .
كذلك فتدبر في أخواتها حيث وقع " إظهار " ياء الإبدال مثل: (أَئِِن ذُكّرِتُم) وغيره أظهرت الياء لظهور الذكر وتغييره " للغفلة " التي كانت أصلهم.
وسنتكلم على الياء في بابها، وإنما هذه بدل من الهمزة. وقد لا تقرأ ياء محضة.
وكذلك أئمّة فانّه يكتب بالياء عند الجميع لأن أصله أَأمِمة جمع إمام، على وزن أفعلة. نقلت كسرة الميم إلى الهمزة الساكنة قبلها لارتباط الحرفين باجتماع الطرفين تنبيها على رجوع حكم المأموم إلى الإمام كما رجعت غنة الميم إلى خلفها من إمام. فسكنت الميم فأدغمت في الميم في الثانية، وأبدلت الهمزة المسكورة ياء محضة لأنه قد لزم عضدها بحرف حركتها وهي ظاهرة في الواحد معضودة وقد انقلب معنى الواحد للجمع واختصاص المعنى بجهة الملكوت ظاهر في العلم.
এবং উদাহরণস্বরূপ: (আ-ইন্নাকুম লাতাশহাদুন - তোমরা কি সাক্ষ্য দিচ্ছ), এখানে মূল (أصلي) অক্ষরের ওপর পরিবর্তিত (المغير) অক্ষরটি প্রকাশ পেয়েছে, যা বাস্তবে তাদের বাতিল সাক্ষ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটার বাস্তবতাকে সতর্ক করার জন্য।
আর এটি এমন এক সাক্ষ্য যা 'বিশুদ্ধ' সাক্ষ্যের মূল রূপ থেকে পরিবর্তিত, আর এই কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেছেন: (কুল লা আশহাদু - বলুন, আমি সাক্ষ্য দিই না)।
একইভাবে এর সমগোত্রীয় শব্দগুলোতে চিন্তা করুন যেখানে রূপান্তরের (إبدال) ফলে প্রাপ্ত ইয়া-এর স্পষ্ট উচ্চারণ (إظهار) ঘটেছে, যেমন: (আ-ইম জুককিরতুম - তোমাদেরকে উপদেশ দিলে কি?) এবং অন্যান্য; এখানে ইয়া-কে স্পষ্ট করা হয়েছে উপদেশের প্রকাশ এবং তাদের মূল স্বভাব 'উদাসীনতা' পরিবর্তনের কারণে।
আর আমরা ইয়া সম্পর্কে তার নির্ধারিত অধ্যায়ে আলোচনা করব, মূলত এটি হামজার বিকল্প (بدل) হিসেবে এসেছে। আর কখনো এটি বিশুদ্ধ ইয়া হিসেবে পড়া হয় না।
অনুরূপভাবে 'আ-ইম্মাহ' (ইমামগণ), এটি সকলের নিকট ইয়া যোগে লেখা হয়, কারণ এর মূল হলো 'আ-অ-মিমাহ', যা 'ইমাম'-এর বহুবচন এবং 'আফইলাহ' ছন্দের ওজনে। মিম-এর কাসরাহ (জের)-কে তার পূর্ববর্তী সুকুনযুক্ত (ساكنة) হামজার দিকে স্থানান্তরিত করা হয়েছে দুই প্রান্তের মিলনের মাধ্যমে অক্ষর দুটির পারস্পরিক সম্পর্কের কারণে, যাতে এটি সতর্ক করা যায় যে, মأمুমের (مأموم) বিধান ইমামের দিকে ফিরে যায়, ঠিক যেমন 'ইমাম' শব্দে মিমের গুন্নাহ তার পেছনের দিকে ফিরে যায়। ফলে প্রথম মিমটি সুকুনযুক্ত হয়ে দ্বিতীয় মিমের মধ্যে লীন (إدغام) হয়ে গেছে, এবং কাসরাহ যুক্ত হামজাটি বিশুদ্ধ ইয়া-তে রূপান্তরিত হয়েছে, কারণ এর হরকতের মাধ্যমে একে শক্তিশালী করা আবশ্যক ছিল। এটি একবচনের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট ও শক্তিশালী ছিল, আর এখন একবচনের অর্থ বহুবচনে পরিবর্তিত হয়েছে এবং আধ্যাত্মিক জগতের বিশেষত্বের দিকে অর্থের এই নিগূঢ়তা জ্ঞানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
فافهم. وإِن كانت الهمزتان مفتوحتينب فلاتعضد " إحداهما " لئلا يجتمع ألفان مثل (ءَأَنذَرتَهُم) (ءَأَنتُم تَزرَعونَهُ) ونحو ذلك. ولئن أبدلت الثانية ألفا لا يرسم في الخط ألفان.
فهذا ضابط حكم الهمزة في خط المصحف.
অতএব বিষয়টি বুঝে নিন। আর যদি উভয় হামযাহ (همزة) ফাতহাহযুক্ত (مفتوح) হয়, তবে তাদের একটিকে অন্যটির দ্বারা ভিত্তি দান বা সংযুক্ত (تعضيد) করা যাবে না যাতে দুটি আলিফ একত্রিত না হয়; যেমন (আ-আনযারতাহুম), (আ-আনতুম তাযরাউনা্হু) এবং এই জাতীয় শব্দসমূহ। আর যদি দ্বিতীয়টিকে আলিফ দ্বারা পরিবর্তন (إبدال) করা হয়, তবে লিখনরীতিতে দুটি আলিফ অঙ্কন করা যাবে না।
এটি হলো মাসহাফের লিপিতে হামযাহ (همزة) সংক্রান্ত বিধানের মূলনীতি (ضابط)।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫৫)
باب الألفاعلم أن الألف على ثلاثة أقسام في الخط: منه ما يكون زائدا.
ومن ما يكون ناقصا.
ومنه ما يكون بدلا.
وهذه الأقسام على أصل الثبوت في الخط والكلام إنما هو في هذه الثلاثة أقسام في ثلاثة فصول.
فصل في الألف الزائدةوهي على ثلاث أضرب: ضرب تزاد من أول الكلمة.
وضرب تزاد فيه من آخرها.
وضرب تزاد فيه من وسطها.
আলিফ অধ্যায়জেনে রাখুন যে, লিখনরীতিতে আলিফ তিন প্রকার: এর মধ্যে কোনোটি অতিরিক্ত (زائدا) হিসেবে থাকে।
এবং কোনোটি বিলুপ্ত (ناقصا) হিসেবে থাকে।
এবং কোনোটি স্থলাভিষিক্ত (بدلا) হিসেবে থাকে।
আর এই বিভাগগুলো লিখনরীতিতে বিদ্যমান থাকার মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে এবং মূলত এই তিনটি পরিচ্ছেদে এই তিনটি বিভাগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত (الزائدة) আলিফ বিষয়ক পরিচ্ছেদএটি তিন প্রকার: এক প্রকার শব্দের শুরুতে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়।
এক প্রকার যা এর শেষে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়।
এবং এক প্রকার যা এর মাঝে অতিরিক্ত হিসেবে যুক্ত হয়।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
فالضرب الأول الذي تزاد فيه من أول الكلمة.
هذا يكون باعتبار معنى زائد بالنسبة إلى ما قبله في الوجود مثل: (أو لأَذبَحَنّه) أو (لأَاوضَعوا خِلالَكُم) زيدت الألف تنبيها على أن المؤخر أشد وأثقل في الوجود من المقدم عليه لفظا. فالذبح أشد من العذاب والإيضاع " أشد فسادا " ن من زيادة الخبال. وظهرت الألف في الخط لظهور القسمين في العلم.
واختلف المصاحف في حرفين: (لا إٍلى الجَحيم) و (لا إِلى اللَهِ تُحشَرونَ) .
فمن رأى أن مرجعهم إلى الجحيم أشد من أكل الزقوم وشرب الحميم وأن محشرهم إلى الله أشد عليهم من موتهم أو قتلهم في الدنيا أثبت الألف ومن لم ير ذلك لأنه غيب عنا فلم يستو القسمان في العلم بهما لم يثبته وهو أولى.
প্রথম প্রকার হলো সেই শব্দসমূহ, যেগুলোর শুরুতে অতিরিক্ত বর্ণ যোগ করা হয়।
এটি অস্তিত্বের বাস্তবতার ক্ষেত্রে এর পূর্ববর্তী বিষয়ের তুলনায় একটি অতিরিক্ত অর্থের বিবেচনায় হয়ে থাকে। যেমন: (অথবা আমি অবশ্যই তাকে জবেহ করব) অথবা (তারা তোমাদের মাঝে ছোটাছুটি করত)। এখানে আলিফ (الألف) বৃদ্ধি করা হয়েছে এই সতর্কবার্তার জন্য যে, পরবর্তী বিষয়টি অস্তিত্বের দিক থেকে পূর্ববর্তী বিষয়ের চেয়ে অধিক কঠোর ও কঠিন। কেননা জবেহ করা আযাবের চেয়েও কঠোর, আর ছোটাছুটি করা বিশৃঙ্খলা (الخبال) বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধিক অনিষ্টকর। আর উভয় বিষয়ের পার্থক্য জ্ঞানের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট হওয়ার কারণে লেখার লিপিতেও আলিফ (الألف) প্রকাশ পেয়েছে।
দুটি শব্দের ক্ষেত্রে মুসহাফসমূহের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে: (অবশ্যই জাহান্নামের দিকে) এবং (অবশ্যই আল্লাহর দিকে তোমাদের সমবেত করা হবে)।
যারা মনে করেন যে, তাদের জাহান্নামে ফিরে যাওয়া জাক্কুম ফল ভক্ষণ এবং ফুটন্ত পানি পান করার চেয়েও ভয়াবহ, এবং আল্লাহর দরবারে তাদের হাশর হওয়া দুনিয়াতে তাদের মৃত্যু বা হত্যার চেয়েও কঠিন—তারা আলিফ (الألف) বহাল রেখেছেন। আর যারা তেমনটি মনে করেন না—যেহেতু বিষয়টি আমাদের কাছে অদৃশ্য (غيب), ফলে উভয় বিষয় সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সমান নয়—তারা এটি বহাল রাখেননি; আর এটিই অধিকতর অগ্রগণ্য।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
وكذلك (يايئس) (وَلا تايئسوا) (إِنّهُ لا يايئس) (أَفَلَم يايئس) لأن الصبر وانتظار الفرج " أخف " من " الإياس. والإياس لا يكون في الوجود إلا بعد الصبر والانتظار.
والضرب الثاني الذي تزاد فيه من آخر الكلمة.
هذا يكون باعتبار معنى خارج عن الكلمة فحصل في الوجود مثل زيادتها بعد الواو في الأفعال مثل (يَرجوا) (وَيَدعوا) وذلك أن الفعل " أثقل " من الإسم لأن الفعل يستلزم معناه فاعلا بالضرورة فهو جملة في الفهم منقسمة قسمين، والاسم مفرد لا يستلزم غيره. فالفعل أزيد من الإسم في الوجود، والواو أثقل حروف المد واللين، والضمة أثقل الحركات والمتحرك أثقل من الساكن وكل ذلك حاصل في الوجود يجده كل إنسان من نفسه ضرورة.
وأصل يرجو يرجو اجتمع الفعل والواو والضمة وحركة الواو. فخففت الواو بالسكون لأنها في محل الوقف آخر الكلمة. وبقي ثقل الفعل والحرف
একইভাবে (ইয়াইআসু), (ওয়ালা তাইআসু), (ইন্নাহু লা ইয়াইআসু), (আফালাম ইয়াইআসু); কারণ ধৈর্য এবং মুক্তির প্রতীক্ষা 'হতাশা' অপেক্ষা 'হালকা'। আর বাস্তবে ধৈর্য ও প্রতীক্ষার পরেই কেবল হতাশার সৃষ্টি হয়।
আর দ্বিতীয় প্রকারটি হলো যাতে শব্দের শেষে (অক্ষর) বৃদ্ধি করা হয়।
এটি শব্দের বহির্ভূত একটি অর্থের বিবেচনার ভিত্তিতে হয়ে থাকে যা বাস্তবে পরিলক্ষিত হয়; যেমন ক্রিয়াপদসমূহে 'ওয়াও'-এর পরে এর বৃদ্ধি পাওয়া, যেমন (ইয়ারজু) এবং (ওয়াইয়াদউ)। এর কারণ হলো, ক্রিয়াপদ বিশেষ্য অপেক্ষা 'ভারী'; কারণ ক্রিয়াপদ তার অর্থের প্রয়োজনে অপরিহার্যভাবে একজন কর্তা দাবি করে, ফলে তা অনুধাবনের ক্ষেত্রে একটি বাক্য যা দুই ভাগে বিভক্ত। পক্ষান্তরে বিশেষ্য হলো একক যা অন্য কিছুকে আবশ্যক করে না। সুতরাং অস্তিত্বের বিচারে ক্রিয়াপদ বিশেষ্য অপেক্ষা অতিরিক্ত। আর 'ওয়াও' হলো মাদ্দ ও লীন বর্ণগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভারী বর্ণ, আর 'যম্মাহ' হলো হরকতসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ভারী এবং হরকতযুক্ত বর্ণ সাকিন বর্ণ অপেক্ষা ভারী। এই সবকিছুই বাস্তবে বিদ্যমান যা প্রতিটি মানুষ আবশ্যিকভাবে নিজের মাঝে অনুভব করে।
'ইয়ারজু'-এর মূল রূপ ছিল 'ইয়ারজুউ', যেখানে ক্রিয়া, 'ওয়াও', 'যম্মাহ' এবং ওয়াও-এর হরকত একত্রিত হয়েছিল। অতঃপর 'ওয়াও'-কে সাকিন করার মাধ্যমে হালকা করা হয়েছে কারণ এটি শব্দের শেষে বিরতিস্থলে অবস্থিত। তবে ক্রিয়া ও বর্ণের ভারবোধ অবশিষ্ট রয়ে গিয়েছে।
(খণ্ড: ১)
উনওয়ানুদ দালীল মিন মারসূমি খাত্তিত তানযীল
(পৃষ্ঠা: ৫৮)
فزيدت الألف تنبيها على هذا " الثقل " الذي هو للجملة بالنسبة إلى الإسم المفرد الذي هو شيء خارج عن الفعل ولازم عن فهم الفعل بعده وفي الاعتبار. وكلاهما ظاهر في العلم فلذلك زيدت الألف من آخر الكلمة. فإذا كانت الألف تزاد فيه مع الواو التي هي لام الفعل فمع الواو التي هي ضمير الفاعلين أولى لأن الكلمة جملة مثل: قالوا وعصوا إلا أن يكون الفعل مضارعا وفيه النون علامة الإعراب فيتحصن الواو بالنون التي هي من جملة الفعل إذ هي إعرابه، فتصير كلمة واحدة وسطها واو، كالعيون والسكون.
فإذا دخل ناصب أو جازم مثل: (فَإِن لَم تَفعَلوا وَلَن تَفعَلوا) ثبت الألف.
وقد تسقط في مواطن حيث لا يكون ذلك على " الجهة المحسوسة من الفعل بل على أمر باطن في الإدراك مثل: (وَالَّذَينَ سَعَوا في آَياتِنا مُعاجِزِين) هذا سعي بالباطل ملكوتي لا يصح له ثبوت في الوجود من حيث هم
সুতরাং এই ভার (ثقل) সম্পর্কে সচেতন করার জন্য আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা একটি একক বিশেষ্য (اسم مفرد)-এর তুলনায় বাক্যের (جملة) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এটি এমন একটি বিষয় যা ক্রিয়ার বহির্ভূত এবং যা ক্রিয়ার অর্থ অনুধাবন করার পর বিবেচনার ক্ষেত্রে অপরিহার্য হয়ে পড়ে। এবং উভয়ই ইলম বা জ্ঞানের ক্ষেত্রে স্পষ্ট, তাই শব্দের শেষে আলিফ বৃদ্ধি করা হয়েছে। সুতরাং যদি আলিফ সেই ওয়াও-এর সাথে বৃদ্ধি পায় যা ক্রিয়ার শেষ বর্ণ (لام الفعل), তবে যে ওয়াও কর্তাবাচক সর্বনাম (ضمير الفاعلين) তার সাথে এটি যুক্ত হওয়া আরও বেশি যুক্তিযুক্ত; কারণ শব্দটি একটি বাক্যের সমতুল্য যেমন: তারা বলেছে এবং তারা অবাধ্য হয়েছে। তবে শর্ত হলো ক্রিয়াটি বর্তমান বা ভবিষ্যৎকালীন (مضارع) হওয়া এবং তাতে ই'রাবের চিহ্ন (علامة الإعراب) হিসেবে নুন থাকা, তখন ওয়াও-টি সেই নুনের মাধ্যমে সংরক্ষিত হয় যা ক্রিয়ারই অংশ যেহেতু তা তার ই'রাব (إعراب); ফলে এটি একটি একক শব্দে পরিণত হয় যার মাঝখানে ওয়াও থাকে, যেমন: উইয়ুন এবং সুকুন।
অতঃপর যখন কোনো নসবদানকারী (ناصب) অথবা জযমদানকারী (جازম) প্রবেশ করে যেমন: (অতঃপর যদি তোমরা তা না করো এবং কখনোই করতে পারবে না), তখন আলিফটি বহাল থাকে।
আবার কখনো কখনো এটি এমন সব ক্ষেত্রে বিলুপ্ত হয় যেখানে বিষয়টি ক্রিয়ার দৃশ্যমান দিকের ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং উপলব্ধির একটি অভ্যন্তরীণ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে হয়; যেমন: (আর যারা আমার নিদর্শনাবলীকে ব্যর্থ করার অপচেষ্টা করে)। এটি একটি বাতিল ও আধ্যাত্মিক জগতের অপচেষ্টা, যা তাদের দিক থেকে অস্তিত্বের জগতে সাব্যস্ত হওয়া সঠিক নয়।