(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: -)
تصحيفات المحدثين - باشنفر القسم: علوم الحديث
الكتاب: تصحيفات المحدثين
دراسةٌ حديثيةٌ تأصيليةٌ تطبيقية
المؤلف: سعيد بن عبد القادر بن سالم باشنفر
الناشر: دار ابن حزم، بيروت - لبنان
الطبعة: الأولى، 1445 هـ - 2024 م
عدد الصفحات: 696
أهداه للمكتبة الشاملة: المؤلف، جزاه الله خيرا
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 14 ربيع الأول 1446
তাসহীফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশনফর বিভাগ: উলূমুল হাদিস
গ্রন্থ: তাসহীফাতুল মুহাদ্দিসীন
হাদিস ভিত্তিক একটি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক গবেষণা
লেখক: সাঈদ বিন আব্দুল কাদির বিন সালিম বাশনফর
প্রকাশক: দার ইবনে হাজম, বৈরুত - লেবানন
সংস্করণ: প্রথম, ১৪৪৫ হিজরি - ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৬৯৬
মাকতাবা শামিলার জন্য এটি উপহার দিয়েছেন: লেখক, আল্লাহ তাকে উত্তম প্রতিদান দিন
[বইটির নম্বরবিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৬ হিজরি
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১)
تصحيفاتُ المحدثين يُقدِّمُ المؤلّفُ في هذا الكتاب دراسة حديثية تأصيلية تطبيقية عن فن التصحيف عند المحدثين، وهو فن جليل من فنونِ علم الحديثِ النَّبوي الشريف، وأكثرها أهمية ودقة، قسمه المؤلّف إلى:
• دراسة نظرية في عشرة مباحث تحدَّثَ فيها عن معنى التصحيف، ومنشأ التعليل به، وأسبابه، وألفاظه، وقرائن معرفة التصحيف، والمؤلفات فيه، وما يلتحق بذلك من الجوانب النظرية لفنّ التصحيف.
• ودراسة تطبيقية، جمع فيها (287) حديثًا، وقع التصحيف في متونها أو أسانيدها، مستشهدًا بكلام الأئمة الحذاق من المتقدمين والمتأخرين، وشُرَّاحِ كُتُبِ السُّنَّة، وحقق النظر في كثير من الألفاظ المختلفِ فيها، بما لا يكاد أن يكون مجموعا بين دفتي كتاب واحد.
وتطرَّزَ بفهرس للألفاظ المصحفة، مع ملخّص لأقوال النقاد فيها، وفهرس للألفاظ المصحفة بسبب تغيير النقط، وفهرس للألفاظ المصحفة بسبب تغيير التشكيل.
وبحقٍّ: فإن الكتابَ رَفَدَ المكتبة الحديثيَّة بإضافة نوعيَّةٍ جَلِيلة، وسدَّ عَوَزًا فيها، وعُني بتحرير وجمع ما تناثر في كتب الفن عن التصحيف، وإنه لجدير بطلبة علم الحديث، والحِراصِ عليه الوقوفُ عليه، والاستفادة منه.
والله ولي التوفيق
মুহাদ্দিসগণের লিপিভ্রম (تصحيفات) লেখক এই গ্রন্থে মুহাদ্দিসগণের নিকট লিপিভ্রম (تصحيف) শাস্ত্রের উপর একটি তাত্ত্বিক ও প্রায়োগিক হাদিস বিষয়ক গবেষণা উপস্থাপন করেছেন। এটি ইলমে হাদিসের একটি মহান শাখা এবং এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও সূক্ষ্ম একটি বিষয়। লেখক একে নিম্নোক্তভাবে বিন্যস্ত করেছেন:
• দশটি পরিচ্ছেদে একটি তাত্ত্বিক আলোচনা, যেখানে তিনি লিপিভ্রম (تصحيف)-এর অর্থ, এর মাধ্যমে ত্রুটি নির্ণয়ের (تعليل) উৎস, এর কারণসমূহ, শব্দাবলি, লিপিভ্রম (تصحيف) শনাক্ত করার আলামতসমূহ, এই বিষয়ের গ্রন্থাবলি এবং লিপিভ্রম (تصحيف) শাস্ত্রের সাথে সংশ্লিষ্ট তাত্ত্বিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করেছেন।
• একটি প্রায়োগিক গবেষণা, যেখানে তিনি ২৮৭টি হাদিস সংকলন করেছেন যেগুলোর মূলপাঠ (متن) অথবা সনদ (إسناد)-এ লিপিভ্রম (تصحيف) ঘটেছে। এতে তিনি পূর্ববর্তী ও পরবর্তী বিজ্ঞ ইমামগণ এবং সুন্নাহর কিতাবসমূহের ব্যাখ্যাকারকদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তিনি অনেক বিতর্কিত শব্দের ব্যাপারে এমনভাবে সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করেছেন যা সচরাচর একটি কিতাবের মলাটবদ্ধ অবস্থায় সংগৃহীত পাওয়া যায় না।
বইটি লিপিভ্রান্ত শব্দাবলির নির্ঘণ্ট, সেই শব্দগুলোর ব্যাপারে সমালোচক (نقاد)গণের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ, নুকতা পরিবর্তনের কারণে লিপিভ্রান্ত শব্দাবলির সূচি এবং হরকত পরিবর্তনের কারণে লিপিভ্রান্ত শব্দাবলির সূচি দ্বারা সুসজ্জিত।
প্রকৃতপক্ষে, এই বইটি হাদিস সাহিত্যে একটি অনন্য ও মহান সংযোজন এবং এটি একটি বিশেষ অভাব পূরণ করেছে। এই শাস্ত্রের কিতাবসমূহে লিপিভ্রম (تصحيف) সম্পর্কে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্যাবলি এখানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সম্পাদনা ও সংকলন করা হয়েছে। ইলমে হাদিসের শিক্ষার্থী এবং এ বিষয়ে আগ্রহীদের জন্য বইটি অধ্যয়ন করা ও তা থেকে উপকৃত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
আল্লাহই তাওফিক দাতা।
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২)
المقدمةالحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، أحمده حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، كما ينبغي لجلال وجهه وعظيم سلطانه، وأستغفره لما أزلفتُ وأخَّرتُ، وأعلنتُ وأسررت، استغفارَ عبد مذنب مقرٍّ معترف بذنوبه وغفلته.
وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، شهادةَ معترفٍ له بالربوبية والتوحيد، مقرًّا له بالعظمة والتمجيد، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، وخيرته من خلقه، اصطفاه لنفسه وليًّا، وارتضاه لخلقه رسولًا ونبيًّا، وأستودع الله هذه الشهادة.
أما بعد:
فإن الاشتغال بطلب العلم والتَّفقُّه في الدِّين من أجلِّ المقاصد، وأعظم القربات، وأولى المهمات، وأمر به المولى عز وجل قبل العلم في قوله تعالى: {فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ} [محمد: 19].
وإن من هذه العلوم: علمَ الحديث، وهو المفسِّر للقرآن، والمبيِّن له، ومن شأن طالب هذا العلم الجليل أن يُشْغلَ بما لم يُشْغل به من التَّصنيف، وأنه إذا وجد فراغًا في فنٍّ من فنون العلم وقف عنده وحاول أن يملأه.
وكان بحمد الله وتوفيقه أن اتخذتُ هذا منهجًا لي، فأحاول أن أصنف في المباحث والعلوم التي انشغل عن التَّصنيف فيها ساداتُنا من أهل العلم والفضل سابقًا ولاحقًا، وأجمع ما فرَّقوه من فوائد ودرر في تصنيفاتي.
وموضوع كتابي هذا صنَّف فيه غير واحد من العلماء السابقين من محدثين ولغويين، وقد أفردتُ فصلًا في المؤلفات في التَّصحيف، إلا أن أغلبها اقتصر على التَّصحيف في الإسناد، مكتفين بسرد الأسماء التي وقع فيها التَّصحيف، أما التي اهتمت بما وقع من تصحيف في المتون فما هي إلا
উপক্রমণিকাসমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আমি তাঁর প্রচুর, পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা করি, যেমনটি তাঁর সত্তার মহিমা এবং তাঁর মহান রাজত্বের জন্য উপযুক্ত। আমি যা অতীতে করেছি ও যা ভবিষ্যতে করব, যা গোপনে করেছি এবং যা প্রকাশ্যে করেছি—সেসবের জন্য আমি তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি; একজন অপরাধী দাসের ন্যায় ক্ষমা প্রার্থনা করছি যে তার পাপ ও গাফিলতির কথা স্বীকার ও ঘোষণা করছে।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। এমন সাক্ষ্য যা তাঁর রবুবিয়াত ও তাওহিদের প্রতি স্বীকৃতি এবং তাঁর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসুল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি তাঁকে নিজের ওলি হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং তাঁর সৃষ্টির জন্য রাসুল ও নবি হিসেবে পছন্দ করেছেন। আমি আল্লাহর কাছে এই সাক্ষ্য গচ্ছিত রাখছি।
অতঃপর:
নিশ্চয়ই ইলম অর্জনে ব্রতী হওয়া এবং দ্বীনের গভীর জ্ঞান অর্জন করা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদ্দেশ্য, মহান নৈকট্য লাভের মাধ্যম এবং সর্বাগ্রগণ্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মহান প্রতিপালক ইলম অর্জনের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: {অতএব জেনে রাখুন যে, আল্লাহ ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই এবং আপনার ত্রুটির জন্য এবং মুমিন নর-নারীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন} [সূরা মুহাম্মদ: ১৯]।
আর এসব ইলমের মধ্যে অন্যতম হলো: হাদিস শাস্ত্র, যা কুরআনের ব্যাখ্যাকারী ও বিশদ বর্ণনাকারী। এই মহান শাস্ত্রের শিক্ষার্থীর বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত এমন বিষয়ে গ্রন্থ রচনায় মনোনিবেশ করা যা নিয়ে ইতিপূর্বে তেমন কাজ হয়নি। সে যখনই ইলমের কোনো শাখায় কোনো অপূর্ণতা খুঁজে পাবে, সে সেখানে মনোনিবেশ করবে এবং তা পূর্ণ করার চেষ্টা করবে।
আল্লাহর প্রশংসা ও তাঁর তাওফিকে আমি একেই আমার কর্মপন্থা হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাই আমি এমন সব গবেষণা ও শাস্ত্রে গ্রন্থ রচনার চেষ্টা করছি যাতে আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইলম ও ফদিলতের অধিকারী বিদ্বানগণ গ্রন্থ রচনায় তেমন মনোনিবেশ করেননি। আমি তাঁদের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মণি-মুক্তার ন্যায় মূল্যবান শিক্ষাগুলো আমার সংকলনে একত্রিত করছি।
আমার এই গ্রন্থের আলোচ্য বিষয় নিয়ে পূর্ববর্তী একাধিক মুহাদ্দিস ও ভাষাবিদ গ্রন্থ রচনা করেছেন। আমি তাসহিফ (تصحيف) বিষয়ক গ্রন্থাবলি সম্পর্কে একটি পৃথক পরিচ্ছেদ বরাদ্দ করেছি। তবে সেগুলোর অধিকাংশ কেবল সনদের (إسناد) মধ্যে সংঘটিত তাসহিফ (تصحيف) এর বর্ণনায় সীমাবদ্ধ ছিল এবং তাঁরা কেবল সেসব নামের তালিকা বর্ণনায় ক্ষান্ত হয়েছেন যেগুলোতে তাসহিফ (تصحيف) ঘটেছে। পক্ষান্তরে, মতনের (متن) মধ্যে সংঘটিত তাসহিফ (تصحيف) নিয়ে যারা গুরুত্বারোপ করেছেন, তাঁদের কাজ কেবল...
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ৩)
قليل، واقتصروا أيضًا على ذكر ألفاظ الحديث التي وقع فيها التَّصحيف دون تتبع واستقراء، ولا أعلم في الدِّراسات الحديثة من تناول الموضوع بالكيفية التي حررتُ بها هذا البحث.
أهمية البحث:1. أن فيه صيانة للسُّنَّة النَّبوية من التَّصحيفات التي لحقت بعض ألفاظ الحديث النَّبوي الشريف، وما يترتب على التَّصحيف من توهُّم بعض الأحكام الشَّرعية
(1)، وإزالة الإشكالات التي نشأت من هذا التَّصحيف والتَّكلُّف في تأويلها
(2).
2. أن فيه إبرازًا للجهود التي بذلها سلفنا الصالح من محدثين ونقَّاد من إعلال الأحاديث التي لحقها التَّصحيف، وذكر أقوالهم، والفصل فيما اختلفوا فيه ببيان الراجح من أقوالهم، والتَّدليل عليه بأقل عبارة دون استطراد مُمِّلٍّ.
خطة البحث:1. أذكر الحديث الذي فيه لفظٌ مصحَّف من أحد مصادره بسنده مختصرًا من الراوي الذي وقع منه التصحيف، أو الذي قبله، ثم أذكر من أخرجه أيضًا من أهل الحديث إن وُجِدَ.
2. أكثر الأحاديث التي أوردتها من كتب السُّنَّة المعتمدة.
3. أذكر اللفظ المصحَّف ومن صحَّفه إن تبيَّن لي، ثم أذكر اللفظ الصَّحيح بنفس إسناد الحديث المصحَّف ومن طرق أخرى إن وُجِدَ.
--------------------------------------------
সামান্য, এবং তারা হাদীসের সেই সকল শব্দ উল্লেখ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন যাতে শব্দ বিকৃতি (التصحيف) ঘটেছে, কোনো ব্যাপক অনুসন্ধান বা বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ ছাড়াই; আর বর্তমান সময়ের গবেষণাগুলোর মধ্যে এমন কাউকে আমি চিনি না যারা বিষয়টি নিয়ে সেভাবে আলোচনা করেছেন যেভাবে আমি এই গবেষণাপত্রে তা বিন্যস্ত করেছি।
গবেষণার গুরুত্ব:১. এতে সুন্নাহকে (السنة) সেই সকল শব্দ বিকৃতি (التصحيفات) থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে যা নবী কারীম (সা.)-এর হাদীসের কিছু শব্দে অনুপ্রবেশ করেছে। এছাড়া শব্দ বিকৃতির (التصحيف) ফলে যে সকল ভুল শরঈ বিধানের (الأحكام الشرعية) ধারণা তৈরি হয় তা নিরসন করা
(১), এবং এই শব্দ বিকৃতি (التصحيف) ও এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যে জটিলতা ও কষ্টকল্পনা তৈরি হয়েছে তা দূর করা
(২)।
২. এতে আমাদের সালাফে সালেহীন মুহাদ্দিস ও সমালোচকদের (النقاد) সেই প্রচেষ্টাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা তারা হাদীসের সূক্ষ্ম ত্রুটি চিহ্নিত করার (إعلال الأحاديث) ক্ষেত্রে ব্যয় করেছেন যেগুলোতে শব্দ বিকৃতি (التصحيف) ঘটেছে। এছাড়া তাদের মতামত উল্লেখ করা এবং মতবিরোধপূর্ণ বিষয়ে তাদের বক্তব্যের মধ্য থেকে কোনটি অধিকতর সঠিক বা অগ্রগণ্য (الراجح) তা স্পষ্ট করার মাধ্যমে ফয়সালা প্রদান করা এবং বিরক্তিকর দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই সংক্ষিপ্ত ভাষায় তার প্রমাণ উপস্থাপন করা।
গবেষণা পরিকল্পনা:১. আমি কোনো একটি উৎস থেকে সেই হাদীসটি উল্লেখ করব যাতে বিকৃত (مصحف) কোনো শব্দ রয়েছে, এবং যে বর্ণনাকারীর (الراوي) পক্ষ থেকে শব্দ বিকৃতি (التصحيف) ঘটেছে বা তার পূর্ববর্তী বর্ণনাকারী থেকে সংক্ষিপ্ত সনদসহ (الإسناد) তা উল্লেখ করব। এরপর যদি আহলে হাদীসগণের (أهل الحديث) মধ্য থেকে অন্য কেউ এটি সংকলন করে থাকেন তবে তাও উল্লেখ করব।
২. আমি যে সকল হাদীস উপস্থাপন করেছি তার অধিকাংশ নির্ভরযোগ্য সুন্নাহর গ্রন্থসমূহ থেকে নেওয়া।
৩. আমি বিকৃত শব্দ (اللفظ المصحف) এবং স্পষ্ট হলে কে এটি বিকৃত করেছেন তাও উল্লেখ করব। এরপর বিকৃত হাদীসটির একই সনদ (الإسناد) এবং বিদ্যমান থাকলে অন্যান্য সূত্রের (الطرق) মাধ্যমে সঠিক শব্দ (اللفظ الصحيح) উল্লেখ করব।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ৪)
4. أستشهد بكلام أهل الحديث، وشُرَّاح كتب السُّنَّة، وعلماء اللغة في التَّقرير وبيان التَّصحيف.
5. أرجِّح بين اختلاف أهل العلم إن وُجِدَ في تقريرهم ما يُبيِّن اللفظ الصحيح من المصحَّف
(1).
6. ضربت صفحًا عن الألفاظ التي ذُكِرَ أنها تصحيف من بعض المحدثين، ولم تُذكَر في حديث مسند عنه؛ لأني لا أرى فائدة في ذكرها في بحثي هذا.
7. إذا تعلَّق باللفظ المصحَّف حكم شرعي ونحوه، واحتجَّ به بعض أهل العلم ذكرتُ من جاز عليه التَّصحيف وقرَّره.
8. جمعتُ في آخر الكتاب التَّصحيفات التي لها أثر في المتون لأهميتها، وليسهل على الباحث معرفتها، وقد عنونت لها ب «أثر التَّصحيف في المتن»
(2).
وفي الختام أحمد الله حمدًا كثيرًا طيبًا مباركًا فيه، عدد خلقه، ورضا نفسه، وزِنة عرشه، ومداد كلماته، بجميع المحامد التي حمد بها نفسه، وحمده بها أنبياؤه وأولياؤه وأصفياؤه وملائكته وحملة عرشه وجميع خلقه، لا أحصي ثناء عليه، هو كما أثنى على نفسه، على نعمه وتوفيقه، وأسأله المزيد من فضله وإنعامه وإحسانه.
والله عز وجل المسئول أن يجعل جميع ما كتبتُه في هذا الكتاب وغيره خالصًا لوجهه الكريم، وأن ينفع به كاتبه ووالديه والناظر فيه، فما كان فيه من صواب فبنعمة الله وتوفيقه وما كان من خطأ فمن نفسي ومن الشيطان، وأستغفر الله
--------------------------------------------
4. আমি বর্ণনা এবং শব্দপ্রমাদ (تصحيف) স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে মুহাদ্দিসগণ, সুন্নাহর গ্রন্থসমূহের ব্যাখ্যাকারগণ এবং ভাষাবিদদের বক্তব্য থেকে প্রমাণ উপস্থাপন করি।
5. আলেমদের মতপার্থক্যের ক্ষেত্রে আমি সেই মতটিকে প্রাধান্য দিই, যাতে তাদের বর্ণনায় শব্দপ্রমাদযুক্ত (مصحَّف) শব্দ থেকে সঠিক (صحيح) শব্দটি স্পষ্ট করার মতো উপাদান বিদ্যমান থাকে
(1)।
6. আমি সেই সমস্ত শব্দগুলো এড়িয়ে গেছি যেগুলোকে কোনো কোনো মুহাদ্দিস শব্দপ্রমাদ (تصحيف) হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সেগুলো তাঁর থেকে কোনো মুসনাদ হাদিসে বর্ণিত হয়নি; কেননা আমার এই গবেষণায় সেগুলো উল্লেখ করার কোনো প্রয়োজনীয়তা আমি দেখছি না।
7. যদি শব্দপ্রমাদযুক্ত (مصحَّف) শব্দের সাথে কোনো শরিয়তসম্মত বিধান বা অনুরূপ কিছু সংশ্লিষ্ট থাকে এবং কোনো আলেম তা দ্বারা দলিল পেশ করেন, তবে যার ক্ষেত্রে এই শব্দপ্রমাদ (تصحيف) ঘটেছে এবং যিনি তা সাব্যস্ত করেছেন, আমি তা উল্লেখ করেছি।
8. গুরুত্বের কারণে এবং গবেষকদের জন্য তা জানা সহজ করার লক্ষ্যে আমি কিতাবের শেষে সেই শব্দপ্রমাদসমূহ (تصحيفات) একত্র করেছি যেগুলোর মূল পাঠসমূহের (متون) ওপর প্রভাব রয়েছে। আমি এর শিরোনাম দিয়েছি "মূল পাঠের (متن) ওপর শব্দপ্রমাদের প্রভাব"
(2)।
পরিশেষে, আমি আল্লাহর অনেক অনেক পবিত্র ও বরকতময় প্রশংসা করছি—তাঁর সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ, তাঁর নিজের সন্তুষ্টির সমান, তাঁর আরশের ওজন সমতুল্য এবং তাঁর কালিমাসমূহের লিখনির সমান; এমন সমস্ত প্রশংসার মাধ্যমে যা দ্বারা তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর নবীগণ, ওলিগণ, মনোনীত বান্দাগণ, ফেরেশতামণ্ডলী, আরশ বহনকারীগণ এবং তাঁর সকল সৃষ্টি তাঁর প্রশংসা করেছে। আমি তাঁর যথাযথ প্রশংসা করতে সক্ষম নই; তিনি তেমনই যেমন তিনি নিজে নিজের প্রশংসা করেছেন। তাঁর নেয়ামত ও তাওফিকের জন্য আমি তাঁর প্রশংসা করি এবং আমি তাঁর নিকট আরও অনুগ্রহ, নেয়ামত ও ইহসান প্রার্থনা করি।
মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন এই কিতাবে এবং অন্য যা কিছু আমি লিখেছি তার সবকিছুই তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন; এবং এর দ্বারা লেখক, তাঁর পিতামাতা ও পাঠকদের উপকৃত করেন। এতে যা কিছু সঠিক তা আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিক স্বরূপ, আর যা কিছু ভুল হয়েছে তা আমার নিজের পক্ষ থেকে এবং শয়তানের পক্ষ থেকে। আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ৫)
تعالى، وحسبي أني ما تعمدتُ خطأ، ولا قصدتُ هوى، ورحم الله امرأ أهدى إليَّ عيبي، وبصَّرني بمواضع الخلل في كتبي.
ربنا تقبل منَّا إنك أنت السميع العليم، وتبْ علينا إنك أنت التواب الرحيم، واغفر لنا ولوالدينا - واجعل ما كتبته في صحائفهم - ولجميع المسلمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وآله وصحبه وسلم، والحمد لله رب العالمين.
كتبه
الفقير إلى عفو ربه الكريم
أبو حمزة الشنفري
سعيد بن عبد القادر بن سالم باشنفر
جدة
في شهر رجب من عام 1444 للهجرة
...মহান আল্লাহ। আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ভুল করিনি এবং প্রবৃত্তির বশবর্তী হওয়ার কোনো সংকল্প করিনি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহমত বর্ষণ করুন, যিনি আমার ত্রুটিগুলো আমাকে উপহার দেন এবং আমার গ্রন্থসমূহের বিচ্যুতিপূর্ণ স্থানগুলো সম্পর্কে আমাকে অবগত করেন।
হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের পক্ষ থেকে এটি কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। আমাদের তওবা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি তওba কবুলকারী ও পরম দয়ালু। আমাদের এবং আমাদের পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন—আর আমি যা লিখেছি তা তাঁদের আমলনামায় যুক্ত করুন—এবং সকল মুসলিমকে ক্ষমা করুন। আমাদের নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক। আর সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।
এটি লিখেছেন
তাঁর মহান রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী
আবু হামজা আশ-শানফারি
সাঈদ বিন আব্দুল কাদির বিন সালিম বাশানফার
জেদ্দা
হিজরি ১৪৪৪ সনের রজব মাসে
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ৬)
الفصل الأول
الدِّراسة التَّأصيلية لعلَّة التَّصحيفوفيه مباحث:
• المبحث الأول: تعريف التَّصحيف.
• المبحث الثاني: منشأ التَّعليل بالتَّصحيف.
• المبحث الثالث: ألفاظ أهل العلم في نقد الحديث بالتَّصحيف.
• المبحث الرابع: أسباب حدوث التَّصحيف.
• المبحث الخامس: قرائن معرفة حدوث التَّصحيف.
• المبحث السادس: الفرق بين التَّصحيف والتَّحريف.
• المبحث السابع: أقسام التَّصحيف.
• المبحث الثامن: أثر التَّصحيف في متن الحديث.
• المبحث التاسع: أثر التَّصحيف في الإسناد.
• المبحث العاشر: أهم المؤلفات في التَّصحيف.
প্রথম অধ্যায়
তাসহিফের (تصحيف) ত্রুটির (علة) তাত্ত্বিক পর্যলোচনাএতে নিম্নোক্ত পরিচ্ছেদগুলো রয়েছে:
• প্রথম পরিচ্ছেদ: তাসহিফের (تصحيف) সংজ্ঞা।
• দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: তাসহিফের (تصحيف) মাধ্যমে হাদিসের ত্রুটি চিহ্নিতকরণের (تعليل) উৎস।
• তৃতীয় পরিচ্ছেদ: তাসহিফের (تصحيف) মাধ্যমে হাদিস পর্যালোচনায় (نقد) বিজ্ঞ আলেমগণের ব্যবহৃত শব্দাবলি।
• চতুর্থ পরিচ্ছেদ: তাসহিফ (تصحيف) সংঘটিত হওয়ার কারণসমূহ।
• পঞ্চম পরিচ্ছেদ: তাসহিফ (تصحيف) সংঘটিত হওয়া শনাক্তকরণের সূত্রসমূহ (قرائن)।
• ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: তাসহিফ (تصحيف) ও তাহরিফের (تحريف) মধ্যকার পার্থক্য।
• সপ্তম পরিচ্ছেদ: তাসহিফের (تصحيف) প্রকারভেদ।
• অষ্টম পরিচ্ছেদ: হাদিসের মতনে (متن) তাসহিফের (تصحيف) প্রভাব।
• নবম পরিচ্ছেদ: সনদে (إسناد) তাসহিফের (تصحيف) প্রভাব।
• দশম পরিচ্ছেদ: তাসহিফ (تصحيف) বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থসমূহ।
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ৭)
المبحث الأول: تعريف التَّصحيف:
التَّصحيف لغة: اسم مصدر، والمصحَّف اسم مفعول مشتق منه، والتَّصحيف تغيير اللفظ حتى يتغير المعنى المراد من الموضع وأصله الخطأ، يُقال صَحَّفهُ فتصحَّف أي: غيَّره فتغيَّر حتى التبس
(1). والصَّحَفي هو الذي يأخذ العلم من الصُّحُف دون المشايخ.
التَّصحيف اصطلاحًا: هو تغيير الكلمة المروية إلى غيرها، ويكون ذلك إما في نقط الحروف أو حركاتها مع بقاء صورة الخط، وسأذكر لك تعريف الأئمة والمتقدمين لذلك.
قال أبو أحمد العسكري (ت 382 هـ): «وأما معنى التَّصحيف وقولهم صحفي، فقد قال الخليل بن أحمد
(2): الصَّحَفي الذي يروي الخطأ على قراءة الصُّحُف باشتباه الحروف.
وقال غيره: أصل هذا أن قومًا كانوا أخذوا العلم من الصُّحُف من غير أن يَلْقَوا فيه العلماء، فكان يقع فيما يروونه من التغيير، فيقال عندها: قد صحَّفوا أي: قد رووه عن الصُّحُف، فهو مصحَّف، ومصدره التَّصحيف»
(3).
وقال الجوهري (393 هـ): «الصحيفة الكتاب، والجمع صُحُف وصحائف، والمُصْحَف والمِصْحف. قال الفراء: قد استثقلت العرب
--------------------------------------------
প্রথম পরিচ্ছেদ: লিপিভ্রমের (التصحيف) সংজ্ঞা:
আভিধানিক অর্থে লিপিভ্রম (التصحيف): এটি একটি ক্রিয়া-বিশেষ্য (اسم مصدر), আর ভ্রমযুক্ত পাঠ (المصحف) হলো এর থেকে উদ্ভূত কর্মবাচক বিশেষ্য (اسم مفعول)। লিপিভ্রম (التصحيف) বলতে শব্দের এমন পরিবর্তনকে বোঝায় যার ফলে উক্ত স্থানের উদ্দিষ্ট অর্থ পরিবর্তিত হয়ে যায়। এর মূল অর্থ হলো ভুল করা। বলা হয়, 'সে লিপিভ্রম করেছে' (صحفه), ফলে তা 'ভ্রমযুক্ত হয়েছে' (تصحف) অর্থাৎ সে শব্দটিকে পরিবর্তন করেছে ফলে তা পরিবর্তিত হয়ে গেছে, এমনকি তা অস্পষ্ট বা বিভ্রান্তিকর হয়ে পড়েছে। আর সাহাফি (الصحفي) সেই ব্যক্তিকে বলা হয়, যে উস্তাদ বা শায়খদের নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করে কেবল পাণ্ডুলিপি (الصحف) থেকে ইলম অর্জন করে।
পারিভাষিক অর্থে লিপিভ্রম (التصحيف): বর্ণনাকৃত শব্দকে অন্য শব্দে পরিবর্তন করে ফেলা; আর এটি বর্ণমালার নুকতা (বিন্দু) অথবা হরকত (স্বরচিহ্ন) পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘটে থাকে, যদিও শব্দের বাহ্যিক কাঠামো অপরিবর্তিত থাকে। এ প্রসঙ্গে আমি আপনার কাছে ইমামগণ ও পূর্বসূরিদের (المتقدمين) প্রদানকৃত সংজ্ঞাগুলো উল্লেখ করব।
আবু আহমদ আল-আসকারি (মৃত্যু: ৩৮২ হি.) বলেন: "লিপিভ্রমের (التصحيف) অর্থ এবং তাঁদের সাহাফি (صحفي) বলা প্রসঙ্গে খলিল ইবনে আহমদ বলেছেন: সাহাফি (الصحفي) সেই ব্যক্তি যে বর্ণমালার সাদৃশ্যের কারণে পাণ্ডুলিপি (الصحف) পাঠ করতে গিয়ে ভুল বর্ণনা করে।"
অন্যান্যগণ বলেছেন: "এর মূল হলো এমন এক সম্প্রদায় যারা আলেমদের সাথে সাক্ষাৎ না করেই কেবল পাণ্ডুলিপি (الصحف) থেকে ইলম অর্জন করত। ফলে তারা যা বর্ণনা করত তাতে পরিবর্তন ঘটে যেত। তখন তাদের সম্পর্কে বলা হতো: তারা লিপিভ্রম (صحفوا) করেছে অর্থাৎ তারা এটি পাণ্ডুলিপি থেকে বর্ণনা করেছে। সুতরাং এটি ভ্রমযুক্ত পাঠ (مصحف), আর এর ক্রিয়া-বিশেষ্য (اسم مصدر) হলো লিপিভ্রম (التصحيف)।"
আল-জাওহারি (৩৯৩ হি.) বলেন: "সহিফাহ (الصحيفة) মানে কিতাব বা বই, এর বহুবচন হলো সুহুফ (صحف) ও সাহাইফ (صحائف)। আর তা হলো আল-মুসহাফ (المُصْحَف) এবং আল-মিসহাফ (المِصْحَف)। আল-ফাররা বলেন: আরবরা এটি উচ্চারণ করা কঠিন মনে করত..."
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ৮)
الضمة في حروف فكسروا ميمها، وأصلها الضم، من ذلك: مِصحف، ومِخدع، ومِطرف، ومِغزل
… والتَّصحيف: الخطأ في الصحيفة»
(1).
وقال أبو الفتح برهان الدين المُطرَّزِي (ت 610): «الصحيفة: قطعة قرطاس مكتوب، وجمعها صُحُف، وقد جعلها محمد رحمه الله اسمًا لغير المكتوب في قوله: وإن كانت السرقة (صُحفًا) ليس فيها كتاب أي: مكتوب. والنسبة إليها صَحَفي، وهو الذي يأخذ العلم من الصحيفة، والتَّصحيف: أن تقرأ الشيء على خلاف ما أراد كاتبه، أو على غير ما اصطلحوا عليه»
(2).
قال الفيومي (ت نحو 770): «الصحيفة: قطعة من جلد أو قرطاس كُتِبَ فيه، وإذا نُسِبَ إليها قيل: رجل صَحَفي - بفتحتين - ومعناه: يأخذ العلم منها دون المشايخ كما يُنسَب إلى حنيفة وبجيلة حنفي وبجلي، وما أشبه ذلك، والجمع صُحُف - بضمتين - وصحائف مثل كريم وكرائم، والمصحَّف - بضم الميم أشهر من كسرها - والتَّصحيف: تغيير اللفظ حتى يتغير المعنى المراد من الموضع، وأصله الخطأ يقال: صحَّفه فتصحف أي: غيَّره فتغيَّر حتى التبس»
(3).
وقال ابن منظور (ت 711 هـ): «والمصحَّف والصحفي: الذي يروي الخطأ عن قراءة الصحف بأشباه الحروف، مولدة». إلى أن قال: «والتَّصحيف الخطأ في الصحيفة»
(4).
--------------------------------------------
বর্ণমালার দম্মাহ (পেশ) বিশিষ্ট হরফগুলোর মিম-এ তারা কাসরাহ (জের) প্রদান করেছে, যদিও এর মূল ছিল দম্মাহ। এর উদাহরণ হলো: মসহাফ, মিখদা‘, মিতরাফ, মিগজাল
… আর লিপিক্রমিক ভুল (التَّصحيف) হলো: পাণ্ডুলিপিতে সংঘটিত ভুল।
(১).
আবু আল-ফাতহ বুরহান উদ্দিন আল-মুতররিজী (মৃত্যু: ৬১০ হি.) বলেন: «সহীফা হলো: এক টুকরো লিখিত কাগজ, এর বহুবচন হলো সুহুফ। ইমাম মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ) একে অলিখিত বস্তুর নাম হিসেবেও ব্যবহার করেছেন যখন তিনি বলেছেন: যদি চুরিটি ‘সুহুফ’ (পাতা) হয় যাতে কোনো কিতাব অর্থাৎ লেখা নেই। এর সাথে সম্পর্কিত ব্যক্তিকে সাহাফি (صَحَفي) বলা হয়; আর তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি উস্তাদের পরিবর্তে সরাসরি পাণ্ডুলিপি থেকে ইলম অর্জন করেন। আর লিপিক্রমিক ভুল (التَّصحيف) হলো: কোনো বিষয়কে তার লেখকের উদ্দেশ্য বা প্রচলিত পরিভাষার বিপরীতে পাঠ করা।»
(২).
আল-ফাইয়ুমি (মৃত্যু: আনুমানিক ৭৭০ হি.) বলেন: «সহীফা হলো: চামড়া বা কাগজের টুকরো যাতে লেখা হয়েছে। যখন এর সাথে কাউকে সম্পর্কিত করা হয় তখন তাকে সাহাফি (صَحَفي) বলা হয়—উভয় হরফে ফাতহা (জবর) যোগে—আর এর অর্থ হলো: সে মাশায়েখদের নিকট শিক্ষা না নিয়ে সরাসরি পাণ্ডুলিপি থেকে ইলম অর্জন করে; এটি যেমন হানিফাহ ও বাজিল্লাহ-এর সাথে সম্পর্কিত করে হানিফি ও বাজালি বলা হয়। এর বহুবচন হলো সুহুফ—উভয় হরফে দম্মাহ (পেশ) যোগে—এবং সাহায়িফ, যেমন কারীম থেকে কারায়িম হয়। আর মুসাহহাফ (المصحَّف)—মিম হরফে দম্মাহ যোগে—উচ্চারণটি কাসরাহ যোগের চেয়ে বেশি প্রসিদ্ধ। আর লিপিক্রমিক ভুল (التَّصحيف) হলো: শব্দের এমন পরিবর্তন যা উদ্দিষ্ট অর্থকে বদলে দেয়। এর মূল অর্থ হলো ভুল করা; বলা হয়: সে শব্দটিকে বিকৃত করেছে, ফলে তা বিকৃত হয়ে গেছে (তসাহহাফা), অর্থাৎ সে শব্দটিকে এমনভাবে বদলে দিয়েছে যে তা অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে।»
(৩).
ইবনে মানজুর (মৃত্যু: ৭১১ হি.) বলেন: «মুসাহহাফ (المصحَّف) এবং সাহাফি (صحفي) হলো সেই ব্যক্তি, যে অক্ষরের সাদৃশ্যের কারণে পাণ্ডুলিপি পাঠ করতে গিয়ে ভুল বর্ণনা (يروي) করে। এটি একটি পরবর্তীকালে উদ্ভাবিত পরিভাষা।’ এরপর তিনি বলেন: ‘আর লিপিক্রমিক ভুল (التَّصحيف) হলো পাণ্ডুলিপিতে সংঘটিত ভুল।»
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ৯)
وقال الجرجاني (ت 816 هـ): «التَّصحيف: أن تقرأ الشيء على خلاف ما أراد كاتبه، أو على ما اصطلحوا عليه»
(1).
وقال ابن حجر (ت 852): «إن كانت المخالفة بتغيير حرف أو حروف مع بقاء صورة الخط في السياق، فإن كان ذلك بالنسبة إلى النقط فالمصحَّف، وإن كان بالنسبة إلى الشكل، فالمحَرَّف»
(2).
وهو أول من فرق بين التَّصحيف والتَّحريف، ثم نحا كثير من أهل العلم بعده نحوه، والمتقدمون من أهل الحديث لم يذكروا هذا التَّفريق، وإنما كانوا يطلقون على المصحَّف والمحرَّف جميعًا شيئًا واحدًا ويُسمُّونه تصحيفًا، وستجد أمثلة كثيرة على ذلك في القسم التَّطبيقي.
--------------------------------------------
আল-জুরজানি (মৃত্যু ৮১৬ হিজরি) বলেন: «তাসহীফ (التَّصحيف) হলো: কোনো বিষয়কে তার লেখকের উদ্দেশ্য বা তাদের পরিভাষার পরিপন্থী হিসেবে পাঠ করা»
(১).
ইবনে হাজার (মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) বলেন: «যদি মূল লিখনরীতি ঠিক রেখে এক বা একাধিক অক্ষর পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈপরীত্য ঘটে; তবে তা যদি নুকতা বা বিন্দুর পার্থক্যের কারণে হয় তবে তাকে মুসাহহাফ (المصحَّف) বলা হয়, আর যদি তা হরকত বা স্বরচিহ্নের পার্থক্যের কারণে হয় তবে তাকে মুহাররাফ (المحَرَّف) বলা হয়»
(২).
তিনিই সর্বপ্রথম তাসহীফ (التَّصحيف) ও তাহরীফ (التَّحريف)-এর মধ্যে পার্থক্য করেন। পরবর্তীতে অনেক আলেম তাঁর এই পদাঙ্ক অনুসরণ করেন। তবে প্রাচীন হাদিস শাস্ত্রের পণ্ডিতগণ এই পার্থক্য উল্লেখ করেননি; বরং তারা মুসাহহাফ (المصحَّف) ও মুহাররাফ (المحرَّف) উভয়কেই একই বিষয় হিসেবে গণ্য করতেন এবং সেটিকে তাসহীফ (تصحيفًا) বলে অভিহিত করতেন। আপনি প্রয়োগমূলক অধ্যায়ে এর অনেক উদাহরণ পাবেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১০)
المبحث الثاني: منشأ التَّعليل بالتَّصحيف:هو قديم قِدم الرواية، وقد استخدمه المحدثون في تعليلهم، وأول من وقفتُ عليه ممن استخدمه الإمام الزهري - وهو من التابعين - وقد كان قليلًا، إذ كان الأقدمون يعتمدون على السماع، ويحفظون الحديث، ثم كان بعضهم بعد ذلك يكتبه. والتَّصحيف في حديث من يعتمد على الكتاب أكثر، والوهم والخطأ فيمن يعتمد على الحفظ أكثر.
قال الإمام أحمد: «ابن مهدي أكثر تصحيفًا من وكيع، ووكيع أكثر خطأ من ابن مهدي وأقل تصحيفًا»
(1).
وذلك أن وكيعًا يعتمد على حفظه.
وقال الإمام أحمد: «ما رأيتُ أحفظ من وكيع، وما رأيتُ مع وكيع قطُّ كتابًا ولا رقعة».
فإذا وقع في التَّصحيف أئمة كبار حفاظ فما بالك بغيرهم ممن أتى بعدهم؟!
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: বর্ণবিভ্রাটের (التصحيف) মাধ্যমে ত্রুটিযুক্ত সাব্যস্ত করার (التعليل) উৎস:এটি বর্ণনার ইতিহাসের মতোই প্রাচীন এবং মুহাদ্দিসগণ তাদের ত্রুটি নির্ণয়ের (تعليل) ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করেছেন। আমার জানামতে এটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে সর্বপ্রথম ইমাম যুহরী রহ.-এর নাম পাওয়া যায়—যিনি একজন তাবিঈ (التابعين) ছিলেন। তবে তখন এর ব্যবহার ছিল সামান্য, কেননা প্রাচীনগণ শ্রবণের (السماع) ওপর নির্ভর করতেন এবং হাদিস মুখস্থ (حفظ) করে রাখতেন; এরপর তাদের কেউ কেউ তা লিপিবদ্ধ করতেন। যারা পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেন তাদের বর্ণনায় বর্ণবিভ্রাট (التصحيف) বেশি ঘটে এবং যারা মুখস্থশক্তির (حفظ) ওপর নির্ভর করেন তাদের বর্ণনায় কল্পনাপ্রসূত ভুল (الوهم) ও ত্রুটির (الخطأ) মাত্রা বেশি হয়ে থাকে।
ইমাম আহমদ রহ. বলেন: «ইবনে মাহদী ওয়াকীর তুলনায় বর্ণবিভ্রাটের (تصحيف) ক্ষেত্রে এগিয়ে, আর ওয়াকী ইবনে মাহদীর তুলনায় অধিক ভুল (خطأ) করলেও বর্ণবিভ্রাটের (تصحيف) ক্ষেত্রে কম»
(১)।
এর কারণ হলো, ওয়াকী তাঁর মুখস্থশক্তির (حفظ) ওপর নির্ভর করতেন।
ইমাম আহমদ রহ. বলেন: «আমি ওয়াকীর চেয়ে বড় হাফেজ (أحفظ) আর কাউকে দেখিনি। আমি কখনো ওয়াকীর সাথে কোনো বই কিংবা কাগজের টুকরো দেখিনি।»
যদি বড় বড় হাফেজ (حفاظ) ইমামদের ক্ষেত্রেই বর্ণবিভ্রাট (التصحيف) ঘটে থাকে, তবে তাদের পরবর্তী অন্যদের অবস্থা কী হতে পারে?!
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১১)
المبحث الثالث: ألفاظ أهل العلم في نقد الحديث بعِلَّة التَّصحيف مما ورد في أحاديث الكتاب:
الزهري (ت 125):قال: صحَّف هشام، وذلك في حديث «تعين صانعًا أو تصنع لأخرق». قال هشام بن عروة: «ضائعًا»
(1).
يزيد بن زريع (ت 182 هـ):قال يزيد: صحَّف فيها أبو بسطام - يعني شعبة -، وذلك في حديث: «ثم يُخرج من النار من قال: لا إله إلا الله وكان في قلبه ما يزن ذرَّة»، صحَّفه شعبة بن الحجاج فقال: «ذُرَة»
(2).
يحيى بن معين (ت 233 هـ):قال: صحَّفه مَعْمر، وذلك في حديث: «البئر جبار»، فقد صحَّفه معمر فقال: «النار جبار»
(3).
علي بن المديني (ت 234 هـ):قال: الزهري يقول «الصانع»، ويرون أن هشامًا صحَّف في «ضائعًا»
(4).
أحمد بن حنبل (ت 241 هـ).قال أحمد: صحَّف محمد بن جعفر، وذلك في حديث «من فارق الروح الجسد وهو بريء من ثلاث: الكِبر، والغلول والدَّين؛ دخل الجنة».
قال محمد بن جعفر: «الكنز» بدلًا من «الكِبر»
(5).
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: কিতাবের হাদিসসমূহে বর্ণিত শব্দগত বিকৃতির (التصحيف) ত্রুটির (علة) প্রেক্ষিতে হাদিস সমালোচনায় বিদ্বানগণের ব্যবহৃত পরিভাষা:
আয-যুহরি (মৃত ১২৫ হিজরি):তিনি বলেন: হিশাম শব্দগত ভুল করেছেন (صحف), আর তা হলো এই হাদিসে: "তুমি কোনো কারিগরকে সাহায্য করো অথবা অদক্ষ ব্যক্তির জন্য কাজ করে দাও"। হিশাম ইবনে উরওয়াহ বলেছেন: "অসহায়কে"।
(১).
ইয়াজিদ ইবনে যুরাই (মৃত ১৮২ হিজরি):ইয়াজিদ বলেন: এতে আবু বাস্তাম—অর্থাৎ শু'বাহ—শব্দগত ভুল করেছেন (صحف); আর তা হলো এই হাদিসে: "অতঃপর জাহান্নাম থেকে বের করা হবে তাকে, যে বলেছে: আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং যার অন্তরে একটি অণু পরিমাণ ওজন ছিল"। শু'বাহ ইবনুল হাজ্জাজ এতে শব্দগত ভুল করেছেন (صحف) এবং বলেছেন: "ভুট্টা"।
(২).
ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন (মৃত ২৩৩ হিজরি):তিনি বলেন: মা'মার এতে শব্দগত ভুল করেছেন (صحف); আর তা হলো এই হাদিসে: "কূপের ক্ষয়ক্ষতি ক্ষতিপূরণমুক্ত"। মা'মার এতে শব্দগত ভুল করেছেন (صحف) এবং বলেছেন: "আগুনের ক্ষয়ক্ষতি ক্ষতিপূরণমুক্ত"।
(৩).
আলি ইবনুল মাদিনি (মৃত ২৩৪ হিজরি):তিনি বলেন: আয-যুহরি "কারিগর" শব্দটি বলতেন, আর তাঁরা মনে করেন যে হিশাম "অসহায়" শব্দটির ক্ষেত্রে শব্দগত ভুল করেছেন (صحف)।
(৪).
আহমাদ ইবনে হাম্বল (মৃত ২৪১ হিজরি):আহমাদ বলেন: মুহাম্মদ ইবনে জাফর শব্দগত ভুল করেছেন (صحف); আর তা হলো এই হাদিসে: "যার আত্মা দেহ থেকে এমন অবস্থায় বিচ্ছিন্ন হবে যে সে তিনটি জিনিস থেকে মুক্ত: অহংকার, খিয়ানত ও ঋণ; সে জান্নাতে প্রবেশ করবে"।
মুহাম্মদ ইবনে জাফর "অহংকার" এর পরিবর্তে "ধনভাণ্ডার" বলেছেন।
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১২)
وقال أيضًا: صحفوا على عبد الرزاق (البئر) ب (النار)، وذلك في حديث «البئر جبار»، قال عبد الرزاق: «النار» بدلًا من «البئر»
(1).
وقال أيضًا: قال علي بن حفص: «وأعتاده»، أخطأ فيه وصحَّف، وذلك في حديث: «إن خالدًا قد احتبس أدراعه وأعتده في سبيل الله»
(2).
وقال أيضًا: صحَّف وكيع، وذلك في تسميته أحد رواة حديث (مسلم بن ثفنة)، والصَّحيح (مسلم بن شعبة)، صحف وكيع (شعبة) إلى (ثفنة)
(3).
البخاري (ت 256 هـ):قال البخاري: «خاخ أصح، لكن كذا قال أبو عوانة، وحاج تصحيف»، وذلك من حديث النبي صلى الله عليه وسلم لعلي رضي الله عنه: «انطلقوا إلى روضة خاخ»، فإن أبا عوانة صحَّفه وقال: «روضة حاج»
(4).
مسلم (ت 261 هـ)قال في حديث ابن لهيعة أن النبي صلى الله عليه وسلم احتجم في المسجد: «
… وابن لهيعة المصحَّف في متنه المغفل في إسناده
… وإنما الحديث أن النبي صلى الله عليه وسلم احتجر في المسجد بخوصة أو حصير»
(5).
وقال أيضًا: «هذا خبر صحَّف فيه قبيصة، وإنما الحديث بهذا الإسناد عن عياض: كنا نؤديه على عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم
… يعني زكاة الفطر»
(6)، وذلك أن قبيصة صحف «نؤديه» إلى «نورثه».
--------------------------------------------
তিনি আরও বলেন: তারা আবদুর রাজ্জাকের ক্ষেত্রে 'আল-বি'র' (কূপ) শব্দটিকে 'আন-নার' (আগুন) হিসেবে ভুল পাঠ করেছেন (صحفوا), আর তা হলো "কূপের (ক্ষয়ক্ষতির) কোনো দায় নেই" হাদিসটির ক্ষেত্রে। আবদুর রাজ্জাক 'আল-বি'র'-এর পরিবর্তে 'আন-নার' বলেছিলেন
(১).
তিনি আরও বলেন: আলী ইবন হাফস বলেছেন: "এবং আমি এটি অভ্যাসে পরিণত করি", তিনি এতে ভুল করেছেন এবং ভুল পাঠ করেছেন (صحف)। আর তা হলো এই হাদিসটির ক্ষেত্রে: "নিশ্চয়ই খালিদ আল্লাহর পথে তার বর্মসমূহ এবং যুদ্ধের সরঞ্জামসমূহ ওয়াকফ করে রেখেছেন"
(২).
তিনি আরও বলেন: ওয়াকি ভুল পাঠ করেছেন (صحف)। আর তা হলো জনৈক হাদিস বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করার ক্ষেত্রে; তিনি বলেছিলেন (মুসলিম ইবন সাফনাহ্), অথচ সঠিক হলো (মুসলিম ইবন শুবাহ্)। ওয়াকি 'শুবাহ্'-কে 'সাফনাহ্' হিসেবে ভুল পাঠ করেছেন (صحف)
(৩).
আল-বুখারি (মৃ. ২৫৬ হি.):বুখারি বলেন: "'খখ' অধিকতর সঠিক, কিন্তু আবু আওয়ানাহ্ এরূপ বলেছেন, আর 'হাজ' হলো ভুল পাঠ (تصحيف)।" এটি নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুর প্রতি বলা হাদিস থেকে বর্ণিত: "তোমরা রওজাতু খখ-এ যাও।" আবু আওয়ানাহ্ এটিকে ভুল পাঠ করেছেন (صحفه) এবং "রওজাতু হাজ" বলেছিলেন
(৪).
মুসলিম (মৃ. ২৬১ হি.)তিনি ইবনে লাহিয়ার বর্ণিত এই হাদিসটি সম্পর্কে বলেন যে, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে রক্তমোক্ষণ গ্রহণ করেছিলেন: "
… আর ইবনে লাহিয়া এর মূল পাঠে (متنه) ভুল পাঠকারী (المصحف) এবং এর বর্ণনাসূত্রে (إسناده) অমনোযোগী (المغفل) ছিলেন
… প্রকৃতপক্ষে হাদিসটি হলো, নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে খেজুর পাতা বা চাটাই দিয়ে একটি ঘেরা তৈরি করেছিলেন"
(৫).
তিনি আরও বলেন: "এটি এমন একটি সংবাদ (خبر) যাতে কাবিসাহ ভুল পাঠ করেছেন (صحف)। প্রকৃতপক্ষে এই বর্ণনাসূত্র (إسناد) অনুযায়ী ইয়াদ থেকে বর্ণিত হাদিসটি হলো: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে তা প্রদান করতাম
… অর্থাৎ সদকাতুল ফিতর"
(৬), আর তা হলো কাবিসাহ 'নুয়াদ্দিহি' শব্দটিকে 'নুয়াররিসুহু' হিসেবে ভুল পাঠ করেছিলেন (صحف)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১৩)
إبراهيم الحربي (ت 285 هـ):في حديث رواه إبراهيم الحربي عن عبيد الله بن عمر بإسناده إلى عمران: ذكر ناقة النبي صلى الله عليه وسلم فقال: (كانت ناقة متوقة)، والصَّحيح (منوقة) - بالنون - فقلت: يا أبا سعيد، ما منوقة؟ قال: مثل قولك فرس نئق أي: جواد. قال: وكان تفسيره أعجب إليَّ من تصحيفه»
(1).
ابن خزيمة (ت 311 هـ):في حديث يوسف بن موسى أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: «أغلقوا أبوابكم وأوكوا أسقيتكم
… ، وكفوا فواشيكم وأهليكم عند غروب الشمس إلى أن تذهب فجوة العشاء».
قال لنا يوسف: «فحوة العشاء»، وهذا تصحيف وإنما هو «فجوة العشاء»
(2).
ابن صاعد (ت 318 هـ):قال في حديث أن النبي صلى الله عليه وسلم احتجر في المسجد: «من قال (احتجم) فقد صحَّف»
(3).
الخطابي (ت 338):قال في حديث (فدفعنا إلى المسجد فإذا هو بارز محتفل): «تصحيف من الراوي، إنما هو بأزز»
(4).
وقال في حديث: جاء أبو حميد إلى النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالنقيع: «وقد صحفه بعض أهل الحديث بالباء أي: بالبقيع»
(5).
--------------------------------------------
ইবরাহিম আল-হারবি (মৃত্যু ২৮৫ হিজরি):ইবরাহিম আল-হারবি কর্তৃক উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণিত এবং ইমরানের দিকে উদ্ধৃত একটি হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর উটনীর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে: (এটি একটি ‘মুতাওয়াক্কাহ’ উটনী ছিল), অথচ সঠিক (الصحيح) শব্দটি হলো ‘মুনওয়াক্কাহ’ (منوقة) — ‘নুন’ বর্ণ দিয়ে — আমি বললাম: হে আবু সাঈদ, ‘মুনওয়াক্কাহ’ কী? তিনি বললেন: যেমন তুমি বলো ‘ফারাসুন নাইক’ অর্থাৎ: দ্রুতগামী ঘোড়া। তিনি বলেন: “তার ব্যাখ্যাটি আমার কাছে তার লিপিক্রম বিভ্রাট (تصحيف)-এর চেয়েও বেশি আশ্চর্যজনক মনে হয়েছে।”
(১).
ইবনে খুজাইমাহ (মৃত্যু ৩১১ হিজরি):ইউসুফ ইবনে মুসার বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: «তোমরা তোমাদের দরজাগুলো বন্ধ করো এবং তোমাদের মশকগুলোর মুখ বেঁধে দাও ..., আর সূর্যাস্তের সময় তোমাদের গবাদিপশু ও পরিজনদের আটকে রাখো যতক্ষণ না এশার অন্ধকার অপসারিত হয়।»
ইউসুফ আমাদের বলেছেন: «ফাহওয়াতুল ইশা», অথচ এটি একটি লিপিক্রম বিভ্রাট (تصحيف), মূলত এটি হলো «ফজওয়াতুল ইশা»
(২).
ইবনে সাঈদ (মৃত্যু ৩১৮ হিজরি):নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে একটি কক্ষ তৈরি (ইহ্তাজারা) করেছিলেন—এই হাদিস সম্পর্কে তিনি বলেছেন: «যে ব্যক্তি (ইহ্তাজামা) বলেছে, সে মূলত লিপিক্রম বিভ্রাট (صحف) করেছে»
(৩).
আল-খাত্তাবি (মৃত্যু ৩৩৮ হিজরি):একটি হাদিস (অতঃপর আমরা মসজিদের দিকে গেলাম এবং দেখলাম সেটি জনাকীর্ণ ও লোকারণ্য) সম্পর্কে তিনি বলেছেন: «এটি বর্ণনাকারীর পক্ষ থেকে একটি লিপিক্রম বিভ্রাট (تصحيف), মূলত শব্দটি হলো ‘বি-আযায’»
(৪).
এবং তিনি একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: আবু হুমাইদ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এলেন যখন তিনি ‘নাকী’ নামক স্থানে ছিলেন: «কিছু হাদিস বিশারদ এতে ‘বা’ বর্ণ দিয়ে লিপিক্রম বিভ্রাট (صحفه) ঘটিয়েছেন, অর্থাৎ: ‘বাকী’ বলেছেন»
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১৪)
وقال في حديث أن النبي صلى الله عليه وسلم أُتِيَ ببدر فيه خَضِرَات
… فصحَّفه بعض الرواة إلى (قدر): «إن رواية القدر تصحيف»
(1).
وفي حديث أن النبي صلى الله عليه وسلم نهى عن مراثي القبور وتصحيف بعض رواته إلى (مزابي القبور): «صحفه بعض الرواة»
(2).
أبو بكر الإسماعيلي (ت 378):قال في حديث: (
… كيف يخسف بأولهم وآخرهم وفيهم أشرافهم
… ): «رواه البخاري «وفيهم أسواقهم» .... وأظن أن (أسواقهم) تصحيف».
وفي رواية الإسماعيلي (سواهم)، فتعقبه ابن حجر فقال: «بل لفظ (سواهم) تصحيف»
(3).
وقال في حديث أبي طلحة: «إن أحب أموالي إليَّ بيرحاء وإنها صدقة لله
… فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم: «بخ بخ ذلك مال رابح»، وقد صحفه بعض الرواة فقال: (رايح) بدلًا من (رابح)، قال الإسماعيلي: «إن من رواها رايح فقد صحَّف»
(4).
العسكري (382 هـ):قال أبو أحمد العسكري في حديث السائلة عما يحل لها من مال زوجها، قال صلى الله عليه وسلم: «الرطب تأكلينه وتهدينه»: الرَّطب الراء مفتوحة والطاء ساكنة فتصحفه من لا علم له ولا ضبط فيرويه الرُّطب بضم الراء وفتح الطاء»
(5).
--------------------------------------------
তিনি একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন যে, নবী (সা.)-এর নিকট একটি পাত্র (বদর) আনা হয়েছিল যাতে কিছু শাক-সবজি (খজিরাত) ছিল
… কিন্তু বর্ণনাকারীদের (رواة) কেউ কেউ একে 'কদর' (قدر) হিসেবে তাসহিফ (تصحيف) করেছেন: «নিশ্চয়ই কদর হিসেবে বর্ণনা (رواية) করাটি একটি তাসহিফ (تصحيف)»
(১).
অন্য একটি হাদিসে এসেছে যে, নবী (সা.) কবরের শোকগাথা (মারাসি) গাইতে নিষেধ করেছেন, অথচ বর্ণনাকারীদের (رواة) কেউ কেউ একে 'মাজাবিউল কুবুর' (কবরের নালা) শব্দে তাসহিফ (تصحيف) করেছেন: «বর্ণনাকারীদের (رواة) কেউ একে তাসহিফ (تصحيف) করেছেন»
(২).
আবু বকর আল-ইসমাঈলি (মৃ. ৩৭৮):তিনি একটি হাদিস প্রসঙ্গে বলেছেন: (
… কীভাবে তাদের প্রথম ও শেষাংশকে ধসিয়ে দেওয়া হবে, অথচ তাদের মাঝে তাদের অভিজাত ব্যক্তিরা থাকবে
… ): «বুখারি এটি বর্ণনা করেছেন 'তাদের বাজারী লোক' (أسواقهم) শব্দে .... এবং আমার ধারণা 'আসওয়াকুহুম' শব্দটি একটি তাসহিফ (تصحيف)»।
আল-ইসমাঈলির বর্ণনায় (رواية) রয়েছে 'সিওয়াহুম' (সোয়া), এর প্রেক্ষিতে ইবনে হাজার মন্তব্য করেছেন: «বরং 'সিওয়াহুম' শব্দটিই একটি তাসহিফ (تصحيف)»
(৩).
আবু তালহার হাদিস সম্পর্কে তিনি বলেছেন: «আমার সম্পদের মধ্যে 'বাইরুহা' বাগানটি আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় এবং এটি আল্লাহর জন্য সদকা
… তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) তাকে বললেন: 'চমৎকার! চমৎকার! তা তো লাভজনক (রাবিহ) সম্পদ'», কিন্তু বর্ণনাকারীদের (رواة) কেউ কেউ 'রাবিহ' (رابح) এর পরিবর্তে 'রায়িহ' (রায়েহ) বলে একে তাসহিফ (تصحيف) করেছেন। আল-ইসমাঈলি বলেন: «যে ব্যক্তি এটি 'রায়িহ' হিসেবে বর্ণনা (رواية) করেছেন, তিনি মূলত তাসহিফ (تصحيف) করেছেন»
(৪).
আল-আসকারি (৩৮২ হি.):আবু আহমদ আল-আসকারি সেই নারী আবেদনকারীর হাদিস প্রসঙ্গে বলেন যে তার স্বামীর সম্পদ থেকে তার জন্য কী হালাল হবে, সেখানে নবী (সা.) বলেছিলেন: «আর-রাতব (الرطب) যা তুমি খাবে এবং উপহার দেবে»: এখানে 'রাতব' শব্দের 'রা' বর্ণটি ফাতহাযুক্ত এবং 'ত' বর্ণটি সাকিন। কিন্তু যার জ্ঞান এবং নির্ভুলতা (ضبط) নেই, সে একে তাসহিফ (تصحيف) করে এবং 'আর-রুতাব' (রা-তে দম্মাহ ও ত-তে ফাতহা দিয়ে) হিসেবে বর্ণনা (رواية) করে»
(৫).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১৫)
وقال في حديث إن النبي صلى الله عليه وسلم مر على قوم يربعون حجرًا»: «ومما يشاكل هذا في موضع فيه تصحيف: مر النبي صلى الله عليه وسلم على قوم يربعون حجرًا، ومن لا يعلم يرويه (يرفعون)
… »
(1).
الدارقطني (ت 385):قال في حديث: «تلك الكلمة من الحق يخطفها الجني فيقرها في أذن وليه قر الدجاجة».
ورواه بعضهم «قر الزجاجة»: «هذا تصحيف»
(2).
وقال في تصحيف بعض الرواة (جُدامة) بنت وهب إلى (جذامة): «من قال بالمعجمة فقد صحَّف»
(3).
وغير هؤلاء من المحدثين والنُّقَّاد كما سيأتي في هذا البحث، وممن نقلنا منه الكثير في هذا البحث بالإعلال بعِلَّة التَّصحيف: القاضي عياض
(4)، والحافظ ابن حجر
(5)، وانظر ملخصًا لأقوال أهل العلم في فهرس التَّصحيفات
(6).
--------------------------------------------
وقال في حديث إن النبي صلى الله عليه وسلم مر على قوم يربعون حجرًا»: «ومما يشاكل هذا في موضع فيه تصحيف: مر النبي صلى الله عليه وسلم على قوم يربعون حجرًا، ومن لا يعلم يرويه (يرفعون)
… »
(1).
আদ-দারা কুতনি (মৃত্যু ৩৮৫):তিনি একটি হাদিস সম্পর্কে বলেছেন: «সেই সত্য বাক্যটি জিন ছিনিয়ে নেয়, অতঃপর সে তার বন্ধুর কানে তা মুরগির ডাকের মতো গেঁথে দেয়।»
আর তাদের কেউ কেউ এটি «কাঁচের শব্দের (قر الزجاجة)» মতো বর্ণনা করেছেন: «এটি শব্দের বিকৃতি (تصحيف)»
(2).
আর তিনি কোনো কোনো বর্ণনাকারীর ‘জুদামাহ’ (جُدامة) বিনতে ওয়াহাবকে ‘জুযামাহ’ (جذامة) পড়ার ক্ষেত্রে শব্দের বিকৃতি সম্পর্কে বলেছেন: «যে ব্যক্তি নুকতাহযুক্ত বর্ণ (المعجمة) দিয়ে পাঠ করেছে, সে মূলত শব্দের বিকৃতি (صحَّف) ঘটিয়েছে»
(3).
মুহাদ্দিস ও সমালোচকদের (النقاد) মধ্যে এঁরা ছাড়াও আরও অনেকে রয়েছেন যেমনটি এই গবেষণায় সামনে আসবে। আর এই গবেষণায় শব্দের বিকৃতির (تصحيف) ত্রুটির কারণে (إعلال) যাদের থেকে আমরা অনেক উদ্ধৃতি প্রদান করেছি তারা হলেন: কাজী আয়াজ
(4) এবং হাফেজ ইবনে হাজার
(5); আর আলেমদের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ শব্দের বিকৃতির নির্ঘণ্টে (فهرس التصحيفات) দেখুন
(6)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الرابع: أسباب التَّصحيف:للتَّصحيف أسباب كثيرة سنأتي على ذكرها، وقد وقع التَّصحيف لكبار المحدثين كشعبة
(1) وسفيان الثوري
(2) وهما من هما في علم الحديث، وكذلك صحف عبد الله بن المبارك
(3)، وعبد الرحمن بن مهدي
(4)، ووكيع
(5) وغيرهم من أئمة الحديث فما بالك بغيرهم؟
روى الخطيب بسنده عن الإمام أحمد أنه قال: «من تفلَّتَ من التَّصحيف؟! كان يحيى بن سعيد يشكل الحرف إذا كان شديدًا، وغير ذلك لا، وكان هؤلاء أصحاب الشكل والتقييد عفان وبهز وحبَّان»
(6).
الأول: الأخذ من الكتاب.ذكر أهل العلم والفضل أن من أعظم أسباب التَّصحيف هو أخذ الحديث من بطون الكتب دون الأخذ من المشايخ مشافهة، ولذلك حذروا من أخذ الحديث ممن لم يعرفوا بطلب العلم، وذكروا أن التَّصحيف والإحالة يسبقان إلى من أخذ العلم عن الصحف.
--------------------------------------------
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শব্দ বিভ্রমের (التصحيف) কারণসমূহ:শব্দ বিভ্রমের (التصحيف) অনেক কারণ রয়েছে যা আমরা পরবর্তীতে উল্লেখ করব। বড় বড় মুহাদ্দিস যেমন শু'বাহ এবং সুফিয়ান সাওরি—যাঁরা হাদিস শাস্ত্রে অত্যন্ত সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী—তাঁদের ক্ষেত্রেও শব্দ বিভ্রম (التصحيف) ঘটেছে। একইভাবে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আবদুর রহমান ইবনে মাহদি, ওয়াকি ইবনুল জাররাহ এবং হাদিসের অন্যান্য ইমামগণের ক্ষেত্রেও শব্দ বিভ্রম (التصحيف) ঘটেছে; তাহলে অন্যদের অবস্থা কী হতে পারে?
খতিব আল-বাগদাদি তাঁর সনদে ইমাম আহমাদ থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেন: «শব্দ বিভ্রম (التصحيف) থেকে কে রেহাই পেয়েছে?! ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ কেবল কঠিন শব্দের ক্ষেত্রেই স্বরচিহ্ন (الشكل) প্রদান করতেন, অন্যথায় করতেন না। আর আফফান, বাহয এবং হাব্বান—তাঁরা শব্দের স্বরচিহ্ন (الشكل) ও যথাযথভাবে লেখনীবদ্ধ (التقييد) করার বিষয়ে অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন»।
প্রথম: কিতাব থেকে গ্রহণ করা।জ্ঞানী ও গুণী ব্যক্তিগণ উল্লেখ করেছেন যে, শব্দ বিভ্রমের (التصحيف) অন্যতম প্রধান কারণ হলো শাইখদের নিকট থেকে সরাসরি মৌখিকভাবে (مشافهة) হাদিস গ্রহণ না করে কিতাবের অভ্যন্তর থেকে তা গ্রহণ করা। এই কারণে তাঁরা এমন ব্যক্তিদের থেকে হাদিস গ্রহণ করতে সতর্ক করেছেন যারা ইলম অন্বেষণে সুপরিচিত নন। তাঁরা আরও উল্লেখ করেছেন যে, যারা কেবল পাণ্ডুলিপি বা কিতাব থেকে ইলম অর্জন করে, তাদের ক্ষেত্রেই শব্দ বিভ্রম (التصحيف) এবং বিকৃতি (الإحالة) আগে ঘটে থাকে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১৭)
قال الإمام مالك: «أدركتُ بهذا البلد رجالًا - يعني المدينة - ونحوها يحدثون الأحاديث لا يؤخذ عنهم، وليسوا بأئمة، فقيل له: وغيرهم دونهم في السن يؤخذ ذلك منهم؟ قال: نعم، ويجب أن يكون حفظه مأخوذًا من العلماء لا عن الصحف».
وقال سليمان بن موسى: «لا تأخذوا العلم من الصحفيين».
وقال ثور بن يزيد: «لا يفتي الناس صحفي، ولا يُقرئهم مُصْحَفيٌّ».
وقال عبد الله بن عون: «لا نكتب الحديث إلا ممن كان عندنا معروفًا بالطلب».
ذكر ذلك كله الخطيب
(1).
وقال الأوزاعي: «ما زال هذا العلم عزيزًا يتلقَّاه الرجال حتى وقع في الصحف فحمله أو دخل فيه غير أهله»
(2).
وذكر الإمام مسلم أن سبب تصحيف ابن لهيعة حديث (أن النبي صلى الله عليه وسلم احتجر في المسجد) إلى (احتجم في المسجد) أنه أخذ الحديث من كتاب موسى بن عقبة من غير سماع منه أو عَرْض عليه
(3).
ويُروَى عن حمزة الزيات أنه كان في أول تعلمه يتعلم من المصحف فسمعه والده يقرأ: (ذلك الكتاب لا زيت فيه)، فقال له أبوه: «يا بني، دع القراءة من المصحف وتلقن من أفواه الرجال»
(4).
--------------------------------------------
ইমাম মালেক বলেন: «আমি এই জনপদে—অর্থাৎ মদিনায়—এবং এর আশপাশে এমন অনেক ব্যক্তিকে পেয়েছি যারা হাদিস বর্ণনা করতেন কিন্তু তাদের থেকে তা গ্রহণ করা হতো না এবং তারা অনুসরণীয় ইমাম (أئمة) ছিলেন না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হলো: তবে কি তাদের চেয়ে বয়সে ছোটদের থেকে তা গ্রহণ করা হবে? তিনি বললেন: হ্যাঁ; এবং আবশ্যক হলো তার মুখস্থকরণ যেন উলামাদের থেকে সরাসরি প্রাপ্ত হয়, পাণ্ডুলিপি বা সহিফা (الصحف) থেকে নয়।»
সুলাইমান ইবনে মুসা বলেন: «তোমরা সেই ব্যক্তিদের থেকে ইলম গ্রহণ করো না যারা কেবল পাণ্ডুলিপি পাঠকারী (الصحفيين) [অর্থাৎ যারা উস্তাদ ছাড়া কেবল কিতাব পড়ে শেখে]।»
সাওরি ইবনে ইয়াজিদ বলেন: «কোনো পাণ্ডুলিপি পাঠকারী (صحفي) যেন মানুষকে ফতোয়া না দেয় এবং কোনো মুসহাফী (مُصْحَفيٌّ) [অর্থাৎ যে শুধু কিতাব দেখে পড়ে] যেন তাদের পাঠদান না করায়।»
আবদুল্লাহ ইবনে আউন বলেন: «আমরা কেবল সেই ব্যক্তির নিকট থেকেই হাদিস লিখে নিতাম যে আমাদের কাছে ইলম অন্বেষণে (الطلب) সুপরিচিত ছিল।»
খতিব এই সব কিছুই উল্লেখ করেছেন
(১)।
ইমাম আওজায়ি বলেন: «এই ইলম ততদিন মর্যাদাপূর্ণ ছিল যতদিন পুরুষরা সরাসরি একে অপরের নিকট থেকে তা গ্রহণ করত; কিন্তু যখন এটি সহিফা বা পাণ্ডুলিপিতে (الصحف) লিপিবদ্ধ হলো, তখন এর অযোগ্য ব্যক্তিরা এটি বহন করা শুরু করল বা এতে ঢুকে পড়ল»
(২)।
ইমাম মুসলিম উল্লেখ করেছেন যে, ইবনে লাহিয়ার হাদিসের শব্দ বিকৃতি বা তাসহিফ (تصحيف) করার কারণ—অর্থাৎ নবী (সা.) মসজিদে একটি কক্ষ বা হুজরা তৈরি করেছিলেন (احتجر) হাদিসটিকে ভুল করে 'মসজিদে রক্তমোক্ষণ বা হাজামাত করেছিলেন' (احتجم) বলা—ছিল এই যে, তিনি মুসা ইবনে উকবার কিতাব থেকে হাদিসটি নিয়েছিলেন কিন্তু তার থেকে সরাসরি শ্রবণ (سماع) করেননি বা তার নিকট তা উপস্থাপন (عرض) করেননি
(৩)।
হামজা আল-জায়্যাত সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তিনি তার শিক্ষার শুরুতে মুসহাফ (المصحف) বা পাণ্ডুলিপি দেখে শিখতেন। তার পিতা তাকে পড়তে শুনলেন: (যালিকাল কিতাবু লা জাইতা ফিহি) [অর্থাৎ: এটি এমন কিতাব যাতে কোনো তেল নেই; তিনি ভুলবশত 'রাইবা' এর স্থলে 'জাইতা' পড়েছিলেন], তখন তার পিতা তাকে বললেন: «হে বৎস! মুসহাফ দেখে পড়া ছেড়ে দাও এবং সরাসরি পুরুষদের (বিদ্বানদের) মুখ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করো»
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وفي هذه القصة نظر من وجوه، أهمها الانقطاع، فمحمد بن يحيى الذي يروي عنه العسكري القصة لم يدرك حمزة ولا زمنه، ومنها: عدم وجود القصة في مظان مهمة من كتب التراجم، فتكاد تكون من مفاريد العسكري، ومنها: أنها من مرويات أعداء حمزة كما ذُكِرَ، وفي روايات وقصص المتعادين عن بعضهم تحامل معلوم، فكيف إذا انضاف إلى ذلك ما في القصة من غرابة نسبية.
هذا، ولقد ذكر أهل العلم أن من أسباب التَّصحيف التوسع في الرواية بالإجازة والمناولة.
قال السيوطي عن حديث عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده: «وذهب قوم إلى ترك الاحتجاج به، وحكاه الآجري عن أبي داود، وهو رواية عن ابن معين قال: «لأن روايته عن أبيه عن جده كتاب ووجادة، فمن هنا جاء ضعفه؛ لأن التَّصحيف يدخل على الراوي من الصحف لذا تجنبها أصحاب الصَّحيح»
(1).
ولهذا كان يقال: «من تأدب من الكتاب صحَّف الكلام، ومن تطبَّب منه قتل الأنام، ومن تنجم منه أخطأ في الأيام، ومن تفقه منه غيَّر الأحكام».
ولا يعني ما تقدم ذم الكتاب بل كما قال المتنبي:
........................
… وخير جليس في الزمان كتاب
--------------------------------------------
এই ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন দিক থেকে আপত্তির অবকাশ রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো বিচ্ছিন্নতা (الانقطاع)। কেননা মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া, যাঁর থেকে আসকারি ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন, তিনি হামজাকে পাননি এবং তাঁর সমসাময়িকও ছিলেন না। দ্বিতীয়ত: জীবনীবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থাবলীতে এই ঘটনার অনুপস্থিতি; এটি প্রায় আসকারির একক বর্ণনা (المفاريد)-এর অন্তর্ভুক্ত। তৃতীয়ত: এটি হামজার শত্রুদের বর্ণনা থেকে উদ্ধৃত হয়েছে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে। আর একে অপরের শত্রুদের বর্ণনা ও গল্পের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব থাকা স্বাভাবিক, তার ওপর যদি বর্ণনার মধ্যে তুলনামূলকভাবে অদ্ভুত কোনো বিষয় (غرابة) যুক্ত হয়।
উপরন্তু, আলিমগণ উল্লেখ করেছেন যে, শব্দের বিকৃতি (التصحيف)-এর অন্যতম কারণ হলো অনুমতি (الإجازة) ও হস্তান্তরের (المناولة) মাধ্যমে বর্ণনায় অত্যধিক শিথিলতা অবলম্বন করা।
আমর বিন শুআইব তাঁর পিতা এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে যে হাদিস বর্ণনা করেছেন সে সম্পর্কে সুয়ূতী বলেন: "একদল আলিম এর মাধ্যমে দলিল পেশ (الاحتجاج) করা বর্জন করেছেন। আজুররি এটি আবু দাউদ থেকে এবং ইবনে মাঈন থেকেও এক বর্ণনায় এটি বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন: ‘কেননা তাঁর পিতা ও তাঁর দাদা থেকে তাঁর বর্ণনা মূলত লিখিত পাণ্ডুলিপি ও কিতাব প্রাপ্তি (الوجادة) ভিত্তিক। এখান থেকেই এর দুর্বলতা (ضعفه) তৈরি হয়েছে; কারণ কিতাব দেখে বর্ণনাকারীর বর্ণনায় শব্দের বিকৃতি (التصحيف) ঘটার সম্ভাবনা থাকে, আর এই কারণেই সহিহ হাদিস সংকলনকারীরা তা এড়িয়ে চলেছেন’"
(১)।
এই কারণেই বলা হতো: "যে ব্যক্তি কেবল কিতাব দেখে আদব শিখবে, সে কথার বিকৃতি (صحَّف) ঘটাবে; যে কেবল কিতাব দেখে চিকিৎসা শিখবে, সে মানুষ হত্যা করবে; যে কেবল কিতাব দেখে জ্যোতির্বিদ্যা শিখবে, সে কাল গণনায় ভুল করবে; আর যে কেবল কিতাব দেখে ফিকহ চর্চা করবে, সে বিধানগুলো (الأحكام) পরিবর্তন করে ফেলবে।"
উপরের আলোচনার উদ্দেশ্য কিতাবের নিন্দা করা নয়, বরং যেমনটি মুতানাব্বি বলেছেন:
........................
… আর সময়ের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী হলো কিতাব
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ১৯)
وهو خير أنيس ورفيق في الحضر والسفر، مؤنس في الوحشة، لا يمل حتى تمل أنت منه، تأخذ منه وتعطي فيه، تستفيد من علومه، ويحفظ وينشر علومك ويحملها إلى الآفاق»
(1).
التَّصحيف القاتل:مثال ذلك ما ورد عن توما الحكيم وهو طبيب ولكن تطببه من الكتب، وقد وقع التَّصحيف في بعض كتبه فكان يقرأ «الحية السوداء شفاء من كل داء»، تصحفت كلمة (حبة) إلى (حية) فمات بسبب تطببه خلق كثير.
وفيه قال أبو حيان النحوي:
يظنُّ الغِمرُ أن الكتبَ تَهدي
… أخَا فَهمٍ لإدراكِ العلومِ
وما يَدري الجَهُولُ بأنَّ فيها
… غوامضَ حيَّرتْ عقلَ الفَهيمِ
إذا رمتُ العلومَ بغيرِ شيخٍ
… ضَلَلَتِ عن الصراطِ المستقيمِ
وتَلتبسُ الأمورُ عليك حتَّى
… تكون أضلَّ من تُومَا الحَكيمِ
(2)--------------------------------------------
এটি আবাসে ও প্রবাসে সর্বোত্তম সঙ্গী ও বন্ধু, নির্জনতায় সান্ত্বনাদানকারী। এটি বিরক্তি বোধ করে না যতক্ষণ না আপনি এর প্রতি বিরক্ত হন। আপনি এটি থেকে গ্রহণ করেন এবং এতে প্রদান করেন, এর জ্ঞান থেকে উপকৃত হন এবং এটি আপনার জ্ঞানকে সংরক্ষণ ও প্রচার করে এবং তা দিগদিগন্তে পৌঁছে দেয়।
(১).
মারাত্মক লেখনী-বিভ্রান্তি (التصحيف):এর উদাহরণ হলো হাকীম তুমা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে। তিনি একজন চিকিৎসক ছিলেন কিন্তু তার চিকিৎসা জ্ঞান ছিল কেবল কিতাবনির্ভর। তার কিছু কিতাবে বর্ণবিভ্রান্তি (التصحيف) ঘটেছিল, ফলে তিনি পড়তেন: "কালো সাপ (حية) সকল রোগের মহৌষধ।" 'দানা' (حبة) শব্দটি 'সাপ' (حية) শব্দে বিভ্রান্তিকরভাবে পরিবর্তিত (تصحفت) হয়ে গিয়েছিল, ফলে তার ভুল চিকিৎসার কারণে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল।
এই প্রসঙ্গে আবু হাইয়ান আন-নাহবী বলেন:
অনভিজ্ঞ ব্যক্তি মনে করে যে কিতাবসমূহ বোধসম্পন্ন ব্যক্তিকে
… জ্ঞান অর্জনে পথ দেখাবে।
অথচ সেই মূর্খ জানে না যে, এতে এমন কিছু অস্পষ্ট ও জটিল বিষয় রয়েছে
… যা বুদ্ধিমানের মস্তিস্ককেও বিভ্রান্ত করে দেয়।
তুমি যদি উস্তাদ ছাড়া জ্ঞান অন্বেষণ করতে চাও
… তবে তুমি সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়বে।
এবং বিষয়গুলো তোমার কাছে এমনভাবে তালগোল পাকিয়ে যাবে যে
… তুমি হাকীম তুমার চেয়েও বেশি পথভ্রষ্ট হয়ে পড়বে।
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২০)
قال الجاحظ في مدح الكتب: «الكتاب وعاء مُلِيَء علمًا، وظرف حُشِيَ ظرفًا، وإناء شُحِنَ مزاحًا وجِدًّا؛ وإن شئت كان أعيا من باقل، وإن شئت كان أبلغ من سحبان وائل، وإن شئت ضحكت من نوادره، وإن شئت عجبت من غرائبه، وإن شئت ألهتك مضاحكه، وإن شئت أشجتك مواعظه. فالكتاب نعم الظهر والعمدة، ونعم الكنز والعدة، ونعم الذخر والعقدة، ونعم النزهة والعشرة، ونعم الشغل والحرفة، ونعم الأنيس ساعة الوحدة، ونعم المعرفة ببلاد الغربة، ونعم القرين والدخيل، ونعم الوزير النزيل. وهو الجليس الذي لا يطريك، والصديق الذي لا يغريك، والرفيق الذي لا يملك، والمستبيح الذي لا يستزيدك، والجار الذي لا يستطيلك، والصاحب الذي لا يريد استخراج ما عندك. وهو الذي يطيعك بالليل طاعته بالنهار، ويفيدك في السفر إفادته في الحضر، لا يعتل بنوم ولا ضجر، ولا يعتريه كلال سهر، وهو المعلم الذي إذا افتقرت إليه لم يحتقرك، وإذا قطعت عنه المادة والمائدة لم يقطع عنك العادة والعائدة، وإن هبت ريح أعدائك لم ينقلب عليك، وإن قلّ مالك لم يترك زيارتك.
ثم قال: «ولولا ما رسمت لنا الأوائل في كتبها، وخلدت في عجائب حكمتها، ودونت من محاسن سيرها، وفتنت من بدائع أثرها، حتى شاهدنا ما غاب عنا، وفتحنا كل مستغلق علينا، فجمعنا إلى قليلنا كثيرهم، وأدركنا ما لم ندركه إلا بهم».
ثم قال: «ولولا الكتب المدونة، والأخبار المفننة لبطل أكثر العلم، وغلب سلطان النسيان سلطان الفهم».
وقال مؤلف الكتاب: «حدثني صديق لي قال: قرأت على شيخ كتابًا فيه مآثر غطفان، فقال: ذهبت المكارم إلا من الدفاتر.
বইয়ের প্রশংসায় আল-জাহিজ বলেছেন: «বই হলো এমন একটি পাত্র যা জ্ঞানে ভরপুর, এমন এক আধার যা বুদ্ধিবৃত্তিক সূক্ষ্মতায় ঠাসা এবং এমন এক বাসন যা কৌতুক ও গাম্ভীর্যে পূর্ণ; তুমি চাইলে সে বাকিলের চেয়েও অধিক তোতলামিযুক্ত হতে পারে, আবার চাইলে সে সাহবান ওয়ায়েলের চেয়েও অধিক প্রাঞ্জল হতে পারে। তুমি চাইলে তার বিরল রসিকতা দেখে হাসতে পারো, আবার চাইলে তার বিস্ময়কর বিষয়গুলো দেখে অভিভূত হতে পারো। তুমি চাইলে তার কৌতুকপ্রদ বিষয়গুলো তোমাকে বিনোদিত করবে, আর চাইলে তার সদুপদেশগুলো তোমাকে ব্যথিত করবে। সুতরাং বই কতই না উত্তম অবলম্বন ও ভিত্তি, কতই না চমৎকার ভাণ্ডার ও উপকরণ, কতই না শ্রেষ্ঠ সঞ্চয় ও বন্ধন, কতই না মনোরম বিহারস্থল ও সহচর্য, কতই না উত্তম ব্যস্ততা ও পেশা, নির্জনতার মুহূর্তে কতই না মধুর সঙ্গী, প্রবাস জীবনে কতই না উত্তম পরিচিতি এবং কতই না শ্রেষ্ঠ সহচর ও অন্তরঙ্গ বন্ধু, কতই না উত্তম মন্ত্রণাদাতা। সে এমন এক মজলিশী বন্ধু যে তোমার তোষামোদ করবে না, এমন এক বন্ধু যে তোমাকে প্রলুব্ধ করবে না, এমন এক সাথী যে তোমাকে বিরক্ত করবে না, এমন এক প্রশ্রয়দাতা যে তোমার কাছে অতিরিক্ত কিছু দাবি করবে না, এমন এক প্রতিবেশী যে তোমার ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দেখাবে না এবং এমন এক সহচর যে তোমার ভেতরের গোপন বিষয়গুলো টেনে বের করার চেষ্টা করবে না। সে রাতে তোমার তেমন অনুগত থাকে যেমনটি দিনে থাকে এবং ভ্রমণে তোমাকে তেমন উপকার দেয় যেমনটি আবাসে দেয়; সে ঘুম কিংবা বিরক্তির অজুহাত দেখায় না এবং রাত জাগরণের ক্লান্তি তাকে স্পর্শ করে না। সে এমন এক শিক্ষক যে অভাবের সময় তোমাকে তুচ্ছজ্ঞান করবে না; যখন তুমি তাকে সাহায্য ও রসদ দেওয়া বন্ধ করে দাও, তখনও সে তার কল্যাণ ও উপকার করা বন্ধ করে না। আর যখন তোমার শত্রুদের হাওয়া বইতে শুরু করে, সে তোমার বিরুদ্ধে চলে যায় না; আর যখন তোমার সম্পদ কমে যায়, তখনও সে তোমার সাথে সাক্ষাৎ ত্যাগ করে না।
অতঃপর তিনি বলেন: «পূর্বসূরিরা যদি তাদের বইসমূহে আমাদের জন্য কোনো রূপরেখা না রেখে যেতেন, তাদের বিস্ময়কর প্রজ্ঞাসমূহকে অমর করে না রাখতেন এবং ঐতিহ্যের নিদর্শনের (أثر) চমৎকার বিষয়গুলো সংকলিত করে না রাখতেন, তবে আমরা সেই সব বিষয়ের সাক্ষী হতে পারতাম না যা আমাদের অনুপস্থিতিতে ঘটে গেছে এবং আমাদের নিকট প্রতিটি রুদ্ধ দ্বার উন্মোচিত হতো না। ফলে তাদের অনেক জ্ঞানের সাথে আমাদের সামান্য জ্ঞানকে আমরা যুক্ত করতে পেরেছি এবং এমন সব বিষয় অর্জন করেছি যা তাদের মাধ্যম ছাড়া অর্জন করা সম্ভব ছিল না।»
অতঃপর তিনি বলেন: «যদি এই সংকলিত কিতাবসমূহ এবং বিবিধ বিবরণসমূহ (الأخبار) না থাকত, তবে অধিকাংশ জ্ঞানই বিলুপ্ত হয়ে যেত এবং বিস্মৃতির আধিপত্য উপলব্ধির ক্ষমতার ওপর বিজয়ী হতো।»
গ্রন্থের লেখক বলেন: «আমার এক বন্ধু আমার নিকট বর্ণনা করেছেন (حدثني), তিনি বলেছেন: আমি একজন শায়খের নিকট গাতাফান গোত্রের বীরত্বগাথা সম্বলিত একটি কিতাব পড়ছিলাম, তখন তিনি বললেন: কিতাবের পৃষ্ঠা ছাড়া মহৎ গুণাবলি আজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।»
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২১)
قال: «وسمعت الحسن اللؤلؤي يقول: عبرت أربعين عامًا ما قلت ولا بت إلا والكتاب موضوع على صدري»
(1).
الثاني: التشابه في رسم حروف اللغة العربية.وهذا سبب رئيس في حصول التَّصحيف؛ فإن أكثر الحروف تتَّحد صورة الحرفين منها، وإنما يميز بينهما النقط، منها الدال مع الذال، والراء مع الزاي، والسين مع الشين، والصاد مع الضاد، والطاء مع الظاء، والعين مع الغين، والفاء مع القاف.
ومنها ما يتَّحد فيه ثلاثة حروف في الصورة، منها الباء مع التاء والثاء، والجيم مع الحاء والخاء، بل يلحق النون والياء مع الباء والتاء والثاء؛ إذ لا تميز عن كتابتها في الجمل إلا بالنقط (ب، ت، ث، ن، ي).
وفي كتابنا هذا بلغ ما حصل من تصحيف بتغيير النقط مئة حديث، منها على سبيل المثال: (أعتده) تصحفت إلى (أعبده)، و (أربى الربا) تصحف إلى (أزنا الزنا)، (وأباها) تصحفت إلى (إياها)، و (النقيع) إلى (البقيع)، و (بيته) إلى (بنته)، و (تتايعوا) إلى (تتابعوا)، و (تنسح نسحا) إلى (تنسج نسجًا)، و (روضة خاخ) إلى (روضة حاج)، و (خونًا) إلى (خوفًا)، و (البارز) تصحف إلى (البازر)، و (بأزز) إلى (بارز)، ونحو ذلك
(2).
لذا حرص جماعة من أهل الحديث على إلحاق الكلمة بتوضيح لئلا تشتبه الحروف أو التَّشكيل، وتجد ذلك كثيرًا في الكتب المعنية بأسماء الرواة، مثال ذلك يقول ابن حجر في «التقريب»
(3):
--------------------------------------------
তিনি বলেন: "আমি হাসান আল-লু'লুয়ী-কে বলতে শুনেছি: 'আমি চল্লিশটি বছর এমনভাবে অতিবাহিত করেছি যে, আমি যখনই দুপুরে ঘুমিয়েছি কিংবা রাতে শয্যা গ্রহণ করেছি, তখনই কিতাব আমার বুকের ওপর রাখা ছিল'।"
(১).
দ্বিতীয়: আরবি বর্ণমালার লিপিতে সাদৃশ্য।আর এটি ভুল পাঠ (تصحيف) ঘটার একটি অন্যতম প্রধান কারণ; কেননা অধিকাংশ বর্ণের ক্ষেত্রে দুটির আকৃতি অভিন্ন হয় এবং কেবল নুকতা বা বিন্দুর মাধ্যমেই সেগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা যায়। যেমন: দাল-এর সাথে যাল, রা-এর সাথে যা, সিন-এর সাথে শিন, সোয়াদ-এর সাথে দোয়াদ, তোয়া-এর সাথে যোয়া, আইন-এর সাথে গাইন এবং ফা-এর সাথে কাফ।
আবার এমন কিছু বর্ণ রয়েছে যেখানে তিনটি অক্ষরের আকৃতি একই রকম হয়। যেমন: বা, তা ও ছা এবং জিম, হা ও খা। এমনকি নুন ও ইয়া বর্ণ দুটিকেও বা, তা ও ছা-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়; কেননা বাক্যের মধ্যে লেখার সময় নুকতা ছাড়া এগুলোর মধ্যে পার্থক্য করা যায় না (বা, তা, ছা, নুন, ইয়া)।
আমাদের এই গ্রন্থে নুকতার পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত ভুল পাঠ (تصحيف) একশ হাদিসে পৌঁছেছে। উদাহরণস্বরূপ: (আ’তাদাহু) শব্দটি ভুল পঠিত হয়ে (تصحيف) হয়েছে (আ’বদুহু), (আরবা আর-রিবা) শব্দটি ভুল পঠিত হয়ে (تصحيف) হয়েছে (আযনা আয-যিনা), (ওয়া আবাহা) ভুল পঠিত হয়ে হয়েছে (ইয়্যাহু), (আন-নাকি) হয়েছে (আল-বাকি), (বাইতাহু) হয়েছে (বিনতাহু), (তাতাইয়াউ) হয়েছে (তাতাবাউ), (তানসাহু নাসহা) হয়েছে (তানসাজু নাসজা), (রওজাতু খাখ) হয়েছে (রওজাতু হাজ), (খাওনান) হয়েছে (খাওফান), (আল-বারিজ) শব্দটি ভুল পঠনের (تصحيف) শিকার হয়ে হয়েছে (আল-বাজির), (বি-আযায) হয়েছে (বারিজ) এবং এই জাতীয় আরও অনেক
(২)।
এ কারণে হাদিস বিশারদগণের একটি দল শব্দের সাথে ব্যাখ্যা যুক্ত করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন যাতে বর্ণমালার অক্ষরসমূহ কিংবা স্বরচিহ্ন (تشكيل) নিয়ে কোনো সংশয় তৈরি না হয়। বর্ণনাকারীদের নামের ব্যাপারে রচিত গ্রন্থগুলোতে আপনি এর প্রচুর প্রয়োগ দেখতে পাবেন। উদাহরণস্বরূপ, ইবনে হাজার তাঁর 'তাকরীব' গ্রন্থে বলেছেন
(৩):
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২২)
- «مُعَلَّى - بفتح ثانيه وبتشديد اللام - .. ».
- ابن أسد العَمِّي - بفتح المهملة وتشديد الميم -».
- مُثَنَّى - بضم الميم وفتح المثلثة وتشديد النون مقصورًا -».
الثالث: التَّشكيل أو الضَّبط.تتميَّز اللغة العربية بأنها لغة حية، وحروفها متحركة غير جامدة، وتتغيَّر معنى الكلمة بتغيُّر تشكيلها، وقد كانت العربية في صورها الأولى لا تخضع للتَّشكيل والحركات؛ لذا يُنقَل عن الإمام أحمد قوله: «كان يحيى بن سعيد يُشكل الحرف إذا كان شديدًا، وكان هؤلاء أصحاب الشكل عفان وبهز وحبان».
وفي كتابنا هذا جاء التَّصحيف بسبب هذه العِلَّة في خمسة عشر حديثًا، منها تصحيف كلمة:
(آنت) إلى (أتت)، و (أُفُقِه) إلى (أَفْقَه)، و (بدَّنتُ) إلى (بدُنتُ)، و (البرَدَة) إلى (البرْد)، و (حُرَم) إلى (حَرَم)، و (ذرَّة) إلى (ذُرة)، (مدى) إلى (مدَّ)، و (حمام) إلى (حمَّام)
(1).
وقد أدى الاختلاف في ضبط الكلمات إلى توهم اختلاف الأحكام، منها حديث «ذكاة الجنين ذكاة أمه».
ضبط الجمهور ذكاة أمه بالرفع، وضبطه أبو حنيفة بالنصب، فالمعنى عند الجمهور أن ذكاة أمه كافية، وعند أبي حنيفة أي: ذكوه كما تذكون أمه
(2).
ومنها حديث: «لا نورث ما تركنا صدقة».
--------------------------------------------
- «মুআল্লা (مُعَلَّى) - দ্বিতীয় বর্ণে ফাতহা (فتح) এবং 'লাম' বর্ণে তাশদীদ (تشديد) সহকারে - .. »।
- ইবনে আসাদ আল-আম্মী (العَمِّي) - নুক্তাবিহীন (المهملة) বর্ণে ফাতহা এবং 'মীম' বর্ণে তাশদীদ সহকারে -»।
- মুসান্না (مُثَنَّى) - 'মীম' বর্ণে যম্মা (ضم), তিন নুক্তাবিশিষ্ট (المثلثة) বর্ণে ফাতহা এবং 'নুন' বর্ণে তাশদীদসহ মাকসুর (مقصورًا) হিসেবে -»।
তৃতীয়: হরকত প্রদান (التشكيل) বা বিন্যাস (الضبط)।আরবি ভাষার বৈশিষ্ট্য হলো এটি একটি প্রাণবন্ত ভাষা, এর বর্ণসমূহ গতিশীল ও স্থবির নয় এবং শব্দের বিন্যাস পরিবর্তনের সাথে সাথে শব্দের অর্থও পরিবর্তিত হয়। শুরুর দিকে আরবি ভাষা হরকত প্রদান (التشكيل) ও স্বরচিহ্নের অধীন ছিল না; একারণেই ইমাম আহমদ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেছেন: «ইয়াহইয়া বিন সাঈদ কোনো বর্ণ কঠিন হলে তাতে চিহ্ন (يُشكل) প্রদান করতেন, আর হরকত প্রদানের এই পদ্ধতির বিশেষজ্ঞ ছিলেন আফফান, বাহয এবং হিব্বান»।
আমাদের এই গ্রন্থে এই ত্রুটির কারণে পনেরটি হাদিসের মধ্যে বর্ণ বা হরকতের বিচ্যুতি (التصحيف) ঘটেছে, যার মধ্যে শব্দের বিচ্যুতিগুলো হলো:
(আংতা) থেকে (আতাত), (উফুকিহি) থেকে (আফকাহ), (বাদদান্তু) থেকে (বাদুনতু), (আল-বারাদাহ) থেকে (আল-বারদ), (হুরম) থেকে (হারম), (জাররাহ) থেকে (যুররাহ), (মাদা) থেকে (মাদ্দা), এবং (হামাম) থেকে (হাম্মাম)
(1)।
শব্দের বিন্যাস বা নিয়ন্ত্রণের পার্থক্যের কারণে বিধানের ক্ষেত্রেও পার্থক্যের ভ্রান্তি তৈরি হয়েছে, যার মধ্যে একটি হলো হাদিস: «জরায়ুস্থ ভ্রূণের জবেহ হলো তার মায়ের জবেহ»।
অধিকাংশ উলামা (الجمهور) 'মায়ের জবেহ' (ذكاة أمه) শব্দটিকে রফ (الرفع) তথা পেশ দিয়ে পড়েছেন, আর আবু হানিফা একে নাসব (النصب) তথা জবর দিয়ে পড়েছেন। জুমহুরের (الجمهور) নিকট এর অর্থ হলো—মায়ের জবেহ হওয়াই ভ্রূণের জন্য যথেষ্ট, আর আবু হানিফার নিকট এর অর্থ হলো—ভ্রূণটিকে জবেহ করো যেভাবে তোমরা তার মাকে জবেহ করো
(2)।
তার মধ্যে আরেকটি হাদিস: «আমাদের কোনো উত্তরসূরি নেই, আমরা যা রেখে যাই তা সদকা হিসেবে গণ্য হবে»।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২৩)
الجمهور يروي صدقة بالرفع، أي: المتروك عنا صدقة، وادعى الشيعة أنه بالنصب على أن (ما) نافية، ورُدَّ عليهم بأن الرواية ثابتة بالرفع و (ما) موصولة، ورواية الجمهور صريحة لقوله فيها «فهو صدقة»
(1).
ومنها قوله صلى الله عليه وسلم للمسبوق الذي أدرك الإمام راكعًا فركع دون الصف ثم مشى حتى دخل الصف «زادك الله حرصًا ولا تَعُدْ» أي: لا تَعُدْ إلى ذلك الفعل، ومنهم من رواها «ولا تعْدُ» من العدو.
ومنها قوله صلى الله عليه وسلم: «ستة لعنتهم ولعنهم الله - ذكر منهم - المستحل لحُرم الله» أي: ما حرَّم الله، وصحفه بعضهم لِحرَم الله - بفتح الحاء - يريد حرم مكة
(2).
ومنها قوله صلى الله عليه وسلم: «إني قد بدَّنتُ فلا تبادروني بالركوع والسجود»، رواها بعضهم (بدُنتُ).
قال الخطابي: «(بدَّنتُ) بتشديد الدال
… والآخر (بدُنت) مضمومة الدال غير مشدودة ومعناه زيادة الجسم واحتمال اللحم.
وقال أبو عبيد: قد بدَّنت يعني كبرت وأسننت
… ، وأما قوله قد بدُنت فليس لهذا معنى إلا كثرة اللحم وليست صفته فيما يروى عنه هكذا
… »
(3).
ومنها ما رُوِيَ عنه صلى الله عليه وسلم أنه قال: «أصل كل داء البرَدة» - بفتح الراء - تصحف عند بعضهم إلى (البرْد) بسكون الراء، وبوب عليه (باب توقي البرد والحر)، والصَّحيح البردة: أي التَّخمة وهي إدخال الطعام على الطعام
(4).
--------------------------------------------
অধিকাংশ (جمهور) বর্ণনাকারী ‘সাদাকা’ শব্দটিকে রফ‘ (الرفع) যোগে বর্ণনা করেন, অর্থাৎ: আমাদের পরিত্যক্ত সম্পদ হলো সাদাকা। আর শিয়াগণ দাবি করেছে যে, এটি নসব (النصب) যোগে হবে এবং এখানে ‘মা’ (ما) শব্দটি না-বোধক (نافية)। তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে কারণ বর্ণনাটি (رواية) রফ‘ (الرفع) যোগেই সুপ্রমাণিত (ثابتة) এবং এখানে ‘মা’ (ما) হলো সম্বন্ধসূচক (موصولة)। অধিকাংশের (جمهور) বর্ণনাটি এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট (صريح), কারণ তাতে বলা হয়েছে: "তা হলো সাদাকা"
(1).
এ জাতীয় বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সেই বাণী যা তিনি সেই মাছবুক (مسبوق) ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, যে ইমামকে রুকু অবস্থায় পেয়েছিল এবং কাতারে শামিল হওয়ার আগেই রুকু করেছিল, তারপর হেঁটে কাতারে প্রবেশ করেছিল: "আল্লাহ তোমার আগ্রহ বাড়িয়ে দিন, তবে আর এমন করো না" অর্থাৎ: পুনরায় সেই কাজের পুনরাবৃত্তি করো না। তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে "দৌড় দিও না" শব্দে বর্ণনা করেছেন যা দৌড়ানো (عدو) থেকে নিষ্পন্ন।
এর আরেকটি উদাহরণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "ছয় ব্যক্তি অভিশপ্ত, যাদের ওপর আমি এবং আল্লাহ অভিশাপ দিয়েছেন - তাদের মধ্যে একজন হলো - যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়কে হালাল সাব্যস্তকারী" অর্থাৎ: যা আল্লাহ হারাম করেছেন। কেউ কেউ একে ভুলভাবে পাঠ করে (صحفه) ‘আল্লাহর হারাম এলাকা’ - ‘হা’ বর্ণে জবর দিয়ে - বর্ণনা করেছেন, যার দ্বারা তিনি মক্কার হারাম এলাকাকে বুঝিয়েছেন
(2).
এর অন্তর্ভুক্ত হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "আমি ভারাক্রান্ত বা বার্ধক্যে উপনীত হয়েছি (بدَّنتُ), তাই তোমরা রুকু ও সিজদার ক্ষেত্রে আমার আগে বেড়ে যেয়ো না"। কেউ কেউ একে ‘বাদুনতু’ (بدُنتُ) বর্ণনা করেছেন।
খাত্তাবি বলেন: "‘বাদ্দানতু’ (بدَّنتُ) ‘দাল’ বর্ণে তাশদিদ যোগে... আর অন্যটি হলো ‘বাদুনতু’ (بدُنت) ‘দাল’ বর্ণে পেশ যোগে তাশদিদ ছাড়া, যার অর্থ হলো শরীরের বৃদ্ধি এবং মাংস বৃদ্ধি পাওয়া।
আবু উবাইদ বলেন: "‘বাদ্দানতু’ (بدَّنت) অর্থ হলো আমি বৃদ্ধ হয়েছি এবং বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছি... আর ‘বাদুনতু’ (بدُنت) শব্দটির অর্থ মাংস বৃদ্ধি পাওয়া ছাড়া আর কিছু নয়, অথচ তাঁর (রাসুলুল্লাহ ﷺ) ক্ষেত্রে যা বর্ণিত হয়েছে সেখানে তাঁর গুণ এমন ছিল না..."
(3).
এর আরেকটি উদাহরণ হলো রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত এই বাণী: "সকল রোগের মূল হলো ‘বারাদাহ’ (البرَدة)" - ‘রা’ বর্ণে জবর যোগে - যা কারো কারো নিকট ‘বার্দ’ (البرْد) অর্থাৎ ‘রা’ বর্ণে সাকিন যোগে ভুলভাবে পঠিত (تصحف) হয়েছে। ফলে তিনি এর ওপর ভিত্তি করে অনুচ্ছেদ রচনা করেছেন: (শীত ও গরম থেকে বেঁচে থাকা সংক্রান্ত অধ্যায়)। অথচ বিশুদ্ধ (صحيح) শব্দ হলো ‘আল-বারাদাহ’ (البردة): যার অর্থ হলো অজীর্ণতা বা বদহজম, আর তা হলো খাদ্যের ওপর পুনরায় খাদ্য গ্রহণ করা
(4).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২৪)
وفي الأثر: «ليس على سارق الحمَّام قطع» صحفه بعضهم إلى الحمام، ثم فسره بمعنى الحمام المرسلة في غير حرز
(1).
الرابع: الخط:صعوبة الخط العربي، واختلاف أشكاله ومدارسه، وتشابه حروفه، وقد يكون لرداءة الخط أو التَّعجُّل في كتابة الحديث - سواء من طلبة الحديث لئلا يفوته شيء من حديث شيخه، أو الوراقين لزيادة الكسب - أثر في التَّصحيف والتَّحريف.
الخامس: سوء السمع.من الأسباب التي ينشأ عنها التَّصحيف سوء سمع بعض الرواة لحديث شيخه، إما لسوء سمع لديه، أو بُعدِه عن الشيخ لاتساع المجلس، وكثرة الطلاب، أو خفوت صوت الشيخ، أو لأسباب أخرى تتعلَّق بالراوي كضعف فطنته وتركيزه، أو عدم المراجعة والمقابلة.
وهذا النوع من التَّصحيف أسماه المحدثون بتصحيف السَّمع؛ لأن التَّشابه فيه ليس في كتابة الحروف، إنما هو في مخارجها وأوزانها مثل تصحيف بعض الرواة (عاصم الأحول) إلى (واصل الأحدب)
(2).
وفي بحثنا هذا عدد من التَّصحيفات من هذا النوع، مثل:
--------------------------------------------
একটি বর্ণনায় (أثر) এসেছে: «গোসলখানার (الحمَّام) চোরের ওপর হাত কাটার শাস্তি নেই»; কেউ কেউ একে ‘কবুতর’ (الحمام) হিসেবে ভুল পাঠ (صحفه) করেছেন, অতঃপর এর ব্যাখ্যা করেছেন যে রক্ষণাবেক্ষণের (حرز) বাইরে ছেড়ে দেওয়া কবুতরের অর্থে।
চতুর্থ: হস্তাক্ষর (الخط):আরবি হস্তাক্ষরের জটিলতা, এর বিভিন্ন রূপ ও শৈলীর ভিন্নতা এবং বর্ণগুলোর সাদৃশ্য; আর হস্তাক্ষরের নিম্নমান কিংবা হাদিস লেখায় দ্রুততা—চাই তা হাদিসের ছাত্রদের পক্ষ থেকে হোক যাতে শাইখের হাদিস থেকে কিছু ছুটে না যায়, অথবা লিপিকারদের (الوراقين) পক্ষ থেকে হোক উপার্জনের বৃদ্ধির জন্য—ভুল পাঠ (تصحيف) ও বিকৃতির (تحريف) ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে থাকে।
পঞ্চম: শ্রবণশক্তির ত্রুটি।ভুল পাঠের (تصحيف) উদ্ভব হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শাইখের হাদিস শ্রবণের ক্ষেত্রে কিছু বর্ণনাকারীর (الرواة) শ্রবণশক্তির ত্রুটি; তা হয় তার নিজের শ্রবণশক্তির সমস্যার কারণে, অথবা মজলিস বড় হওয়া ও ছাত্রসংখ্যা বেশি হওয়ার ফলে শাইখ থেকে দূরে থাকার কারণে, অথবা শাইখের কণ্ঠস্বর ক্ষীণ হওয়ার কারণে, অথবা বর্ণনাকারীর (الراوي) সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কারণে যেমন তার ধীশক্তি ও মনোযোগের দুর্বলতা, অথবা পুনর্মূল্যায়ন ও মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে (المقابلة) না দেখা।
ভুল পাঠের (تصحيف) এই প্রকারকে হাদিস বিশারদগণ (المحدثون) শ্রবণজনিত ভুল পাঠ (تصحيف السَّمع) হিসেবে নামকরণ করেছেন; কারণ এখানে সাদৃশ্যটি বর্ণ লেখার ক্ষেত্রে নয়, বরং বর্ণের উচ্চারণস্থল (مخارج) ও ছন্দের ক্ষেত্রে। যেমন কিছু বর্ণনাকারীর (الرواة) ভুল পাঠ (تصحيف) ‘আসিম আল-আহওয়াল’ (عاصم الأحول)-কে ‘ওয়াসিল আল-আহদাব’ (واصل الأحدب) হিসেবে বর্ণনা করা।
আমাদের এই গবেষণায় এই প্রকারের বেশ কিছু ভুল পাঠ (تصحيفات) রয়েছে, যেমন:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২৫)
تصحف عند بعضهم (سبتًا) إلى (ستًّا)، و (فارتاح) إلى (فارتاع)، و (بغوا) إلى (أبوا)، و (أخرجته) إلى (أحرقته)، و (إرشاد الضَّال) إلى (إنشاد)، و (رجل من بني عامر) إلى (رجاء بن عامر) وغيرها
(1).
--------------------------------------------
কারো কারো নিকট ‘সাবতান’ থেকে ‘সিততান’-এ লিপিবিভ্রাট (تصحيف) ঘটেছে; তেমনি ‘ফারতাহা’ থেকে ‘ফারতাআ’, ‘বা-গাউ’ থেকে ‘আ-বাউ’, ‘আখরাজতুহু’ থেকে ‘আহরাকতুহু’, ‘ইরশাদুজ দ্বল’ থেকে ‘ইনশাদ’, ‘বানু আমের গোত্রের এক ব্যক্তি’ থেকে ‘রাজা বিন আমের’ এবং এজাতীয় অন্যান্য ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটেছে(১)。
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২৬)
المبحث الخامس: قرائن معرفة حدوث التَّصحيف:القرينة الأولى: أن يذكر في سياق الحديث ما يدل عليه.
القرينة الثانية: أن يأتي لفظ في الحديث مخالفًا للمصدر الذي رُوِيَ من طريقه، فيدل على تصحيف عند الناقل.
القرينة الثالثة: أن يأتي لفظ في الحديث عند الناقل مخالفًا للمصدر، وموافقًا لروايات أخرى، فيدل على تصحيف في المصدر.
القرينة الرابعة: أن يُروَى الحديث من طريق شيخ المصنف بخلاف لفظ المصنف.
وهذا قريب من القرينة الثانية، وتخالفه في أنه يروى من طريق شيخ المصنف لا المصنف.
القرينة الخامسة: أن يأتي في سياق الحديث ما يخالف تبويب المصنف.
القرينة السادسة: أن يروي المحدث الحديث بنفس الإسناد بلفظين مختلفين متشابهين.
القرينة السابعة: اضطراب المعنى وعدم استقامته.
القرينة الثامنة: إنكار أهل اللغة للفظ المصحَّف.
পঞ্চম পরিচ্ছেদ: শব্দ-বিভ্রাট (تصحيف) ঘটার বিষয়টি জানার লক্ষণসমূহ (قرائن):প্রথম লক্ষণ (القرينة): হাদিসের প্রাসঙ্গিক বর্ণনায় এমন কিছু উল্লেখ থাকা যা সেটির প্রতি নির্দেশ করে।
দ্বিতীয় লক্ষণ (القرينة): হাদিসে এমন কোনো শব্দ আসা যা সেই মূল উৎসের বিপরীত যেটির মাধ্যমে তা বর্ণিত হয়েছে; যা বর্ণনাকারীর (ناقل) নিকট শব্দ-বিভ্রাট (تصحيف) হওয়ার প্রমাণ দেয়।
তৃতীয় লক্ষণ (القرينة): বর্ণনাকারীর (ناقل) নিকট হাদিসের শব্দ মূল উৎসের পরিপন্থী হওয়া, কিন্তু তা অন্য বর্ণনাসমূহের অনুকূল হওয়া; যা মূল উৎসেই শব্দ-বিভ্রাট (تصحيف) হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে।
চতুর্থ লক্ষণ (القرينة): হাদিসটি গ্রন্থকারের (مصنف) উস্তাদের (شيخ) সূত্রে গ্রন্থকারের পাঠের ভিন্নতায় বর্ণিত হওয়া।
আর এটি দ্বিতীয় লক্ষণের (القرينة) নিকটবর্তী, তবে পার্থক্য হলো এটি গ্রন্থকারের (مصنف) মাধ্যমে নয়, বরং গ্রন্থকারের উস্তাদের (شيخ) সূত্রে বর্ণিত হয়।
পঞ্চম লক্ষণ (القرينة): হাদিসের প্রাসঙ্গিক বর্ণনায় এমন কিছু আসা যা গ্রন্থকারের (مصنف) অধ্যায় বিন্যাসের (تبويب) পরিপন্থী।
ষষ্ঠ লক্ষণ (القرينة): মুহাদ্দিস (محدث) কর্তৃক একই সূত্র (إسناد) দিয়ে হাদিসটি দুটি ভিন্ন কিন্তু সদৃশ শব্দে বর্ণনা করা।
সপ্তম লক্ষণ (القرينة): অর্থের অসঙ্গতি (اضطراب) এবং তা সঠিক না হওয়া।
অষ্টম লক্ষণ (القرينة): ভাষাবিদগণ কর্তৃক শব্দ-বিভ্রাটকৃত (مصحف) শব্দটিকে প্রত্যাখ্যান করা।
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২৭)
قرائن معرفة التَّصحيف:
القرينة الأولى: أن يأتي في سياق الحديث ما يدل على التَّصحيف.المثال الأول:
جاء في حديث عند البخاري من حديث أسامة بن زيد أن ابنة للنبي صلى الله عليه وسلم أرسلت إليه أن ابنتي قد حضرت فاشهدها
… الحديث وفيه: «فرفع الصبي في حجر النبي صلى الله عليه وسلم».
قوله: «فرفع الصبي» يدل أن قول (ابنتي) تصحيف، والصَّحيح: (أن ابني) ويدل على التَّصحيف أيضًا أن البخاري عقد على هذا الحديث (باب عيادة الصبي)
(1).
المثال الثاني:
في حديث أن النبي صلى الله عليه وسلم سُحِرَ في مشط ومشاطة وألقي السحر في بئر، فأتاها رسول الله صلى الله عليه وسلم في أناس من أصحابه ثم قال: «يا عائشة، لكأن ماءها نقاعة الحناء، ولكأن نخلها رؤوس الشياطين»، قالت عائشة: فقلت يا رسول الله أفلا أحرقته.
كذا في رواية لمسلم، وفي رواية للشيخين (أفلا أخرجته) وهو الصَّحيح، يدل عليه سياق الحديث قال: «لا، أما أنا فقد عافاني الله وكرهت أن أثير على الناس شرًّا»، فأمر بها فدُفِنَت.
قوله: (فأمر بها فدفنت) دل على أنه لم يستخرجه، فكيف يحرقه وهو لم يستخرجه، وإنما أمر بدفنها
(2).
--------------------------------------------
লিপিভ্রম (تصحيف) চেনার আলামতসমূহ (قرينة):
প্রথম আলামত (القرينة): হাদিসের প্রেক্ষাপটে এমন কিছু আসা যা লিপিভ্রম (تصحيف) হওয়ার প্রতি নির্দেশ করে।প্রথম উদাহরণ:
সহিহ বুখারির একটি হাদিসে উসামা বিন যায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক কন্যা তাঁর নিকট সংবাদ পাঠালেন যে, আমার কন্যা মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, আপনি উপস্থিত হোন
… হাদিসটির শেষাংশে আছে: «অতঃপর শিশুটিকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোলে তুলে দেওয়া হলো»।
তাঁর উক্তি: «শিশুটিকে তুলে দেওয়া হলো» প্রমাণ করে যে, (আমার কন্যা) শব্দাংশটি লিপিভ্রম (تصحيف), আর বিশুদ্ধ (صحيح) হলো: (আমার পুত্র)। লিপিভ্রম (تصحيف) হওয়ার আরেকটি আলামত (قرينة) হলো সহিহ বুখারি এই হাদিসের ওপর শিরোনাম দিয়েছেন (অসুস্থ শিশুকে দেখতে যাওয়া)
(১)।
দ্বিতীয় উদাহরণ:
একটি হাদিসে এসেছে যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর জাদু করা হয়েছিল চিরুনি ও পাটের তন্তুর মাধ্যমে এবং জাদুটি একটি কূপে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। অতঃপর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর সাহাবিদের একটি দল নিয়ে সেখানে আসলেন এবং বললেন: «হে আয়েশা, এর পানি যেন মেহেদির নির্যাস এবং এর খেজুর গাছগুলো যেন শয়তানের মাথা», আয়েশা (রা.) বলেন: আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আপনি কি তা পুড়িয়ে ফেলেননি?
সহিহ মুসলিমের একটি বর্ণনায় এমনই রয়েছে, তবে শায়খায়নের একটি বর্ণনায় এসেছে (আপনি কি তা বের করেননি) এবং এটিই বিশুদ্ধ (صحيح)। হাদিসের প্রেক্ষাপট এর প্রমাণ দেয়, যেখানে তিনি বলেছেন: «না, আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন এবং আমি মানুষের মাঝে অনিষ্ট ছড়িয়ে দেওয়া অপছন্দ করেছি», অতঃপর তিনি তা দাফন করার নির্দেশ দিলেন।
তাঁর উক্তি: (তিনি তা দাফন করার নির্দেশ দিলেন) প্রমাণ করে যে তিনি তা বের করেননি; সুতরাং তিনি তা বের না করে কীভাবে পোড়াবেন? মূলত তিনি তা দাফন করারই নির্দেশ দিয়েছিলেন
(২)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২৮)
المثال الثالث:
في حديث أن قريشًا لما استعصت على النبي صلى الله عليه وسلم دعا عليهم بسنين كسني يوسف، فأصابهم قحط وجدب حتى أكلوا العظام فأتى النبي صلى الله عليه وسلم رجل قال: يا رسول الله، استغفر الله لمضر فإنهم هلكوا.
هكذا في رواية مسلم، وفي البخاري: «استسق الله»، وهو الصَّحيح، يدل عليه سياق الحديث: (فدعا الله لهم فمطروا)
(1).
المثال الرابع:
حديث عبد الرحمن بن أبي بكر أن أصحاب الصُّفة كانوا فقراء
… الحديث وفيه (وإن أبا بكر تعشى عند النبي صلى الله عليه وسلم، ثم لبث حيث صُلِّيت العشاء ثم رجع (يعني إلى بيت النبي صلى الله عليه وسلم فلبث حتى تعشى النبي صلى الله عليه وسلم، فجاء بعد ما مضى من الليل.
قوله: (فلبث حتى تعشى) تصحيف، والصَّحيح (حتى نعس) فإنه ذكر قبله أنه تعشى مع النبي صلى الله عليه وسلم قبل صلاة العشاء
(2).
المثال الخامس:
روى النسائي من حديث أبي ذر رضي الله عنه قال: صمنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم رمضان فلم يقم بنا النبي صلى الله عليه وسلم حتى بقي سبع من الشهر، فقام بنا حتى ذهب نحو من ثلث الليل، ثم كانت سادسة فلم يقم بنا، فلما كانت الخامسة قام بنا، ثم كانت الرابعة فلم يقم بنا، فلما بقي ثلث من الشهر أرسل إلى بناته ونسائه وحشد الناس فقام بنا.
--------------------------------------------
তৃতীয় উদাহরণ:
একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, কুরাইশরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অবাধ্যতা প্রকাশ করল, তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে ইউসুফ (আলাইহিস সালাম)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের বছরগুলোর ন্যায় সাত বছরের দুর্ভিক্ষের বদদোয়া করলেন। ফলে তারা এমন অভাব ও অনাহারে পতিত হলো যে, তারা হাড় পর্যন্ত খেতে লাগল। তখন জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল: হে আল্লাহর রাসুল, মুদার গোত্রের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, কারণ তারা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
সহিহ মুসলিম-এর বর্ণনায় এভাবেই এসেছে, কিন্তু বুখারি-তে রয়েছে: «আল্লাহর কাছে বৃষ্টি প্রার্থনা করুন», আর এটিই হলো সঠিক (الصَّحيح); হাদিসের প্রাসঙ্গিক বর্ণনা এর প্রমাণ দেয়: (অতঃপর তিনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করলেন এবং তাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো)
(১)।
চতুর্থ উদাহরণ:
আবদুর রহমান ইবনে আবি বকর (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস যে, আসহাবে সুফফাগণ দরিদ্র ছিলেন... (হাদিসের অবশিষ্টাংশ)। এতে রয়েছে যে, (আবু বকর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট রাতের খাবার গ্রহণ করলেন, অতঃপর ইশার সালাত আদায় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করলেন, এরপর ফিরে এলেন (অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ঘরে) এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রাতের খাবার গ্রহণ করা পর্যন্ত অবস্থান করলেন। অতঃপর রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি ফিরে আসলেন)।
বর্ণনাকারীর উক্তি: (অবস্থান করলেন যেন তিনি রাতের খাবার খেতে পারেন) — এটি মূলত শব্দগত বিকৃতি (تصحيف), এর সঠিক (الصَّحيح) পাঠ হলো (তন্দ্রাচ্ছন্ন হওয়া পর্যন্ত); কারণ এর আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ইশার সালাতের পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রাতের খাবার গ্রহণ করেছিলেন
(২)।
পঞ্চম উদাহরণ:
ইমাম নাসায়ি আবু যার (রাদিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হাদিস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে রমজানের রোজা পালন করলাম। মাসের সাত দিন বাকি থাকা পর্যন্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে (রাতে) নামাজে দাঁড়াননি। অতঃপর (সপ্তম রাতে) তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন যতক্ষণ না রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হলো। এরপর ষষ্ঠ রাতে তিনি আমাদের নিয়ে নামাজে দাঁড়াননি। যখন পঞ্চম রাত এলো, তিনি আমাদের নিয়ে নামাজ পড়লেন। এরপর চতুর্থ রাতেও তিনি আমাদের নিয়ে নামাজে দাঁড়াননি। অতঃপর যখন মাসের তিন দিন বাকি রইল, তখন তিনি তাঁর কন্যা ও স্ত্রীদের ডেকে পাঠালেন এবং মানুষদের একত্রিত করলেন, তারপর আমাদের নিয়ে নামাজে দাঁড়ালেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
তাসিফাতুল মুহাদ্দিসীন - বাশানফার
(পৃষ্ঠা: ২৯)
قوله: (ثلث) تصحيف، والصَّحيح (ثلاث) أي بقي ثلاث أيام من الشهر، يدل عليه سياق الحديث
(1).
المثال السادس:
جاء في رواية للبخاري من حديث ابن عباس رضي الله عنه قال: بتُّ عند خالتي ميمونة فقام النبي صلى الله عليه وسلم، فلما كان بعض الليل قام رسول الله صلى الله عليه وسلم فتوضأ ..
تصحف (فنام) إلى (فقام)، يدل عليه قوله بعده في الحديث: (فلما كان بعض الليل قام النبي صلى الله عليه وسلم
(2).
قال القاضي عياض: «قوله: (فنام رسول الله صلى الله عليه وسلم كذا لابن السكن، وعند الجماعة (فقام) والأول الصواب؛ لأن بعده (فلما كان في بعض الليل قام رسول الله صلى الله عليه وسلم.
قلت: في المطبوع من «صحيح البخاري» وشروحه على لفظ الجماعة (فقام).
المثال السابع:
روى البخاري من حديث عيسى بن يونس في قصة سحره صلى الله عليه وسلم قال: «ومن طبَّهُ؟» قال: لبيد بن الأعصم قال: «بماذا؟» قال: في مشط ومشاطة.
قال البخاري عقب الحديث: تابعه أبو أسامة وأبو ضمرة وابن أبي الزناد عن هشام.
وقال الليث وابن عيينة عن هشام (في مشط ومشاقة)
(3).
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: 'সুলুস' (তিন ভাগের এক ভাগ) হলো বর্ণ বিকৃতি (تصحيف), এবং সঠিক (الصحيح) হলো 'সালাস' (তিন), অর্থাৎ মাসের তিন দিন বাকি ছিল; হাদিসের প্রেক্ষাপট এর প্রমাণ দেয়
(১).
ষষ্ঠ উদাহরণ:
সহিহ বুখারির একটি বর্ণনায় ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: আমি আমার খালা মায়মুনার নিকট রাত কাটালাম, তখন নবী (সা.) দাঁড়ালেন। এরপর যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলো, তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) উঠে দাঁড়ালেন এবং অজু করলেন...
'ফনামা' (তিনি ঘুমালেন) শব্দটি বর্ণ বিকৃত (تصحف) হয়ে 'ফকমা' (তিনি দাঁড়ালেন) শব্দে রূপান্তরিত হয়েছে। হাদিসের পরবর্তী অংশ এর প্রমাণ দেয়: (যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলো, তখন নবী সা. উঠে দাঁড়ালেন)
(২).
কাজি আয়াজ বলেন: "তাঁর উক্তি: (আল্লাহর রাসুল সা. ঘুমালেন) শব্দটি ইবনে আস-সাকানের বর্ণনায় এভাবেই আছে। তবে অধিকাংশ বর্ণনাকারীর (الجماعة) নিকট তা হলো (তিনি দাঁড়ালেন), আর প্রথমটিই সঠিক (الصواب); কারণ এরপর রয়েছে: (যখন রাতের কিছু অংশ অতিবাহিত হলো, তখন আল্লাহর রাসুল সা. উঠে দাঁড়ালেন)।"
আমি বলছি: মুদ্রিত সহিহ বুখারি এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে বর্ণনাকারীদের সমষ্টির (الجماعة) শব্দ অনুযায়ী (তিনি দাঁড়ালেন) রয়েছে।
সপ্তম উদাহরণ:
সহিহ বুখারি ঈসা ইবনে ইউনুস হতে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.)-এর ওপর যাদুর ঘটনার বর্ণনায় রয়েছে, তিনি বলেন: "কে তাঁর ওপর যাদু করেছে?" তিনি বললেন: "লাবিদ ইবনে আসম।" তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "কীসের মাধ্যমে?" তিনি বললেন: "চিরুনি এবং চিরুনি হতে ঝরে পড়া চুলের (মুশাতাহ) মাধ্যমে।"
বুখারি হাদিসটির পরে বলেন: আবু উসামা, আবু দামরাহ এবং ইবনে আবিয যিনাদ হিশাম হতে তাঁর অনুসরণ (تابعه) করেছেন।
আর লাইস এবং ইবনে উয়াইনা হিশাম হতে 'মুশাকাহ' (পাটের আঁশ বা ছেঁড়া চুল) এর মাধ্যমে বর্ণনা করেছেন
(৩).
--------------------------------------------