(খণ্ড: ১) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: -)
نزهة الخواطر وبهجة المسامع والنواظر = الإعلام بمن في تاريخ الهند من الأعلام   (عبد الحي الحسني الهندي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: الإعلام بمن في تاريخ الهند من الأعلام المسمى بـ (نزهة الخواطر وبهجة المسامع والنواظر)

المؤلف: عبد الحي بن فخر الدين بن عبد العلي الحسني الطالبي (ت 1341هـ)

دار النشر: دار ابن حزم - بيروت، لبنان

الطبعة: الأولى، 1420 هـ، 1999م

عدد الأجزاء: 8

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নুজহাতুল খাওয়ারতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি' ওয়ান নাওয়াযির = আল-ই'লাম বি মান ফী তারিখিল হিন্দ মিনাল আ'লাম   (আব্দুল হাই আল-হাসানী আল-হিন্দী)

বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ


গ্রন্থ: আল-ই'লাম বি মান ফী তারিখিল হিন্দ মিনাল আ'লাম যা (নুজহাতুল খাওয়ারতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি' ওয়ান নাওয়াযির) নামে পরিচিত

লেখক: আব্দুল হাই বিন ফখরুদ্দীন বিন আব্দুল আলী আল-হাসানী আত-তালিবি (মৃত্যু ১৩৪১ হি.)

প্রকাশনী: দার ইবনে হাযম - বৈরুত، লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪২০ হি.، ১৯৯৯ইং

খণ্ড সংখ্যা: ৮

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ যুল হিজ্জাহ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٢٨)
‌‌نزهة الخواطر

‌‌الجزء الأول

يتضمن تراجم علماء الهند وأعيانها من القرن الأول إلى القرن

السابع

بسم الله الرحمن الرحيم
নুজহাতুল খাওয়াতির

প্রথম খণ্ড

এতে প্রথম শতাব্দী থেকে হিন্দুস্তানের ওলামায়ে কেরাম এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের জীবনী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

সপ্তম শতাব্দী পর্যন্ত

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٢٩)
مقدمة الكتاب

الحمد لله الذي خلق الانسان، وعلمه البيان، وأنزل القرآن هدي للناس وبينات من الهدى

والفرقان، وأعجز مصاقع البلغاء عن المعارضة باللسان، إلى المقارعة بالسيف والسنان،

والصلاة والسلام على سيدنا محمد فاتحة كتاب الوجود، وخاتمة أبواب الوحي والكشف

والشهود، والشفيع المشفع في المقام المحمود، من سطع نوره على كل موجود، وعلى آله

الأطهار، وأصحابه الأخيار، الذين أيدوا الشريعة السمحة الغراء، وأسسوا أبنية قواعدها

البيضاء، حتى استقام الحق واعتدل، وزهق الباطل وبطل.

أما بعد! فإني منذ عرفت اليمين من الشمال، وميزت بين الرشد والضلال، لم أزل ولوعاً

بمطالعة كتب الأخبار، مغري بالبحث عن أحوال الأدباء الأخيار، حريصاً على خبر

اسمعه، أو شعر تفرق شمله فأجمعه، حتى اجتمع عندي ما طاب وراق، وزين بمحاسن

لطائفه الأقلام والأوراق، فاقتصرت منه على أخبار أدباء الهند التي أنا فيها، وضربت

صفحاً عن أدباء الأقاليم الأخر التي تنافيها، حرصاً على جمع ما لم يجمع، وتقييد شيء لم

يقل إلا ليقيد ويسمع.

ثم أشار إلى من إشارته حكم، وطاعته غنم، أن لا اقتصر على أخيار الأدباء، بل أذيله

بذكر العلماء، وأهل الفضل سواء كانوا من المشايخ أو الأمراء، فاستقلت من هذا المقام

الذي يضطر فيه صاحبه إلى أن يكون كحاطب ليل، أو جالب رجل وخيل، وذاكرته ان

من كان أفضل مني في إكثار الرواية، وقوة الحفظ وغزارة الدراية، بذل جهده في ذلك، فلم

يتيسر له الوصول إلى ما هنالك، فكيف هذا العبد الفقير، في هذا المضمار الخطير! مع

قصور باعه، وسقط متاعه، وقلة فرصه، وكثرة غصصه، فلم يسعف بالإقالة، ولا أعفي من

المقالة، فلبيت دعوته تلبية المطيع، وبذلت في مطاوعته جهد المستطيع.

ولولا من الله عز وجل وله المنة على هذا العبد بالقوة على ذلك بعد المنة- لما تيسر له

جمع الكتاب، الذي هو أغلى من الذهب المذاب، وأحلى من لذيذ الخطاب، ومداعبة

الأحباب، لأن أهل الهند مع كثرة فضلائهم ووحود الأعيان في كل مكرمة على تعاقب

الأعصار ليس لهم عناية كاملة، ولا رغبة وافرة، إلا في دفن محاسن أكابرهم، وطمس آثار

مفاخرهم، فلا يرفعون إلى علمائهم رأساً، ولا يمدون إليهم يداً، مع توفر رغباتهم إلى الإطلاع

على ما لغيرهم من الشعراء والاشتغال الكامل بمعرفة أحوال مشايخ الصوفية والإكباب

على جمع كشوفهم وكراماتهم وعلى كتبهم التاريخية وغيرها، وإني لأكثر العجب من

اختصاص المذكورين بهذه الخصلة التي هي سبب لدفن محاسن سابقهم ولاحقهم، وطمس

رفيع قدر عالمهم وفاضلهم، ولهذا أهمل المصنفون في التاريخ على العموم ذكرهم، لم يترجموا

لأهل قرن من تلك القرون،
গ্রন্থের ভূমিকা

সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, তাকে শিখিয়েছেন বাকপটুতা এবং অবতীর্ণ করেছেন কুরআন যা মানুষের জন্য হেদায়াত এবং পথনির্দেশ ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যের সুস্পষ্ট প্রমাণ; আর তিনি বাগ্মী বক্তাদের সক্ষমতাকে তাদের জিহ্বা দ্বারা বিরোধিতা করা হতে অক্ষম করে দিয়েছেন, ফলে তারা তলোয়ার ও বল্লম দিয়ে যুদ্ধের আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।

আর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নেতা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর, যিনি অস্তিত্বের কিতাবের সূচনাকারী এবং ওহী, কাশফ ও দর্শনের দ্বারসমূহের পরিসমাপ্তিকারী; যিনি মাকামে মাহমুদে সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হবে; যাঁর নূর প্রতিটি অস্তিত্বের ওপর উদ্ভাসিত হয়েছে; এবং তাঁর পবিত্র বংশধর ও শ্রেষ্ঠ সাহাবীগণের ওপর, যাঁরা উদার ও উজ্জ্বল শরীয়তকে সমর্থন জুগিয়েছেন এবং এর শুভ্র নিয়মাবলির ভিত্তি স্থাপন করেছেন, ফলে সত্য সুপ্রতিষ্ঠিত ও সুষম হয়েছে এবং মিথ্যা বিলুপ্ত ও বাতিল হয়েছে।

অতঃপর! আমি যখন থেকে ডানে-বামে পার্থক্য করতে শিখেছি এবং সঠিক পথ ও ভ্রষ্টতার মাঝে প্রভেদ করতে পেরেছি, তখন থেকেই আমি ইতিহাসের কিতাবসমূহ অধ্যয়নে অনুরাগী এবং বরেণ্য সাহিত্যিকদের অবস্থা অনুসন্ধানে আসক্ত ছিলাম। আমি কোনো সংবাদ শ্রবণে অথবা কোনো বিক্ষিপ্ত কাব্য সংকলনে অত্যন্ত আগ্রহী ছিলাম, এমনকি আমার কাছে এমন সব বিষয় একত্রিত হয়েছে যা চমৎকার ও মনোমুগ্ধকর এবং যার সূক্ষ্ম সৌন্দর্য দ্বারা কলম ও কাগজ সুশোভিত হয়েছে। ফলে আমি এর মধ্য হতে ভারতবর্ষের সাহিত্যিকদের সংবাদের ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছি যেখানে আমি বসবাস করি, আর অন্য অঞ্চলের সাহিত্যিকদের কথা এড়িয়ে গিয়েছি যা এর বিপরীত; যাতে করে যা এখনো সংকলিত হয়নি তা একত্রিত করার এবং এমন কিছু লিপিবদ্ধ করার প্রচেষ্টায় থাকা যায় যা কেবল সংরক্ষণ ও শোনার জন্যই বলা হয়েছে।

এরপর যাঁর ইঙ্গিত আদেশতুল্য এবং যাঁর আনুগত্য গনিমত স্বরূপ, তিনি আমাকে ইঙ্গিত দিলেন যে আমি যেন কেবল বরেণ্য সাহিত্যিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকি, বরং আলেমগণ এবং ফযিলতপূর্ণ ব্যক্তিদের আলোচনাও এতে যুক্ত করি, চাই তাঁরা মাশায়েখ হোক বা আমীর। আমি এই দায়িত্ব হতে নিবৃত্তি চেয়েছিলাম যেখানে একজনকে রাতের বেলা কাঠ সংগ্রহকারীর মতো হতে হয়, অথবা পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী পরিচালনাকারীর মতো হতে হয়। আমি তাঁকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলাম যে, যাঁরা বর্ণনা আধিক্যে, হেফজ শক্তিতে এবং জ্ঞানের গভীরতায় আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন, তাঁরাও এই কাজে তাঁদের শ্রম ব্যয় করেছেন কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছানো তাঁদের জন্য সহজ হয়নি; তাহলে এই অভাবী বান্দা এই বিপজ্জনক ময়দানে কীভাবে সফল হবে! যেখানে তার সামর্থ্যের সীমাবদ্ধতা, নগণ্য সম্বল, সুযোগের অভাব এবং দুঃখ-কষ্টের আধিক্য রয়েছে। কিন্তু আমার অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন গৃহীত হলো না, এবং আমাকে এই বক্তব্য হতে রেহাই দেওয়া হলো না। ফলে আমি এক অনুগত ব্যক্তির মতো তাঁর ডাকে সাড়া দিলাম এবং তাঁর আনুগত্যে সাধ্যমতো চেষ্টা ব্যয় করলাম।

আর যদি মহান পরাক্রমশালী আল্লাহর পক্ষ থেকে অনুগ্রহ না হতো—এবং এই বান্দার ওপর তাঁরই অনুগ্রহ যে তিনি এই শক্তি দান করেছেন—তবে এই কিতাব সংকলন করা সম্ভব হতো না, যা গলিত স্বর্ণের চেয়েও দামী এবং সুমধুর আলাপন ও প্রিয়জনদের কৌতুকের চেয়েও অধিক মিষ্টি। কেননা ভারতবর্ষের অধিবাসীগণ, তাঁদের গুণীজনের আধিক্য এবং যুগে যুগে প্রতিটি মর্যাদাপূর্ণ কাজে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতি সত্ত্বেও, তাঁদের বড়দের কৃতিত্বসমূহ দাফন করা এবং তাঁদের গৌরবের চিহ্নসমূহ মুছে ফেলা ছাড়া তাঁদের কোনো পূর্ণ মনোযোগ নেই এবং পর্যাপ্ত আগ্রহও নেই। তাঁরা তাঁদের আলেমদের দিকে মাথা তুলে তাকান না এবং তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন না; অথচ অন্যদের কবিদের সম্পর্কে জানতে তাঁদের প্রচণ্ড আগ্রহ দেখা যায় এবং সূফি মাশায়েখদের অবস্থা জানতে এবং তাঁদের কাশফ ও কারামতসমূহ এবং তাঁদের ইতিহাস গ্রন্থ ও অন্যান্য বিষয় সংগ্রহের পেছনে তাঁরা পূর্ণ মনোনিবেশ করেন। আমি অত্যন্ত আশ্চর্য হই এই বিশেষ স্বভাবের ওপর যা তাঁদের পূর্বসূরি ও উত্তরসূরিদের সুকীর্তিগুলো বিলীন করে দেওয়া এবং তাঁদের আলেম ও গুণীজনদের উচ্চ মর্যাদা মুছে ফেলার কারণ। এই কারণেই সাধারণত ইতিহাস রচয়িতাগণ তাঁদের কথা উল্লেখ করতে অবহেলা করেছেন এবং সেই যুগের কোনো শতাব্দীর লোকদের জীবনী তাঁরা সংকলন করেননি।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣٠)
ولا ممن مضى في عصر من هاتيك العصور، وإن ذكرهم

المؤرخون منهم ترجموه ترجمة مغسولة عن الفائدة عاطلة عن بعض ما يستحقه، ليس فيها

ذكر مولده ولا وفاته، ولا شيء من مسموعاته ولا مقروءاته، لأن الذي ينقل أحوال شخص

إلى غيره ينبغي له أن يكون من معارفه وأهل بلدته، فإذا أهمله عارفوه أهمله غيرهم وجهلوا

أمره.

ومن هذه الجهة أجدني إذا ترجمت في هذا الكتاب أحداً منهم لم أدر ما أقول! لأن أهل

عصره اهملوه فلم يبق لدي من بعدهم إلا مجرد أنه فلان لا يدري متى ولد ولا في أي وقت

توفي وبماذا انفرد في حياته من المزايا! فمن عرف ما ذكرناه علم أني بفضل الله سبحانه

وتوفيقه أجدت في كتابي هذا وأبدعت وصنعت ما لم يستطعه كبار العلماء مع توفر

رغباتهم في الجمع والتصنيف لا سيما في هذا الكتاب.

وإني لم أقصد بجمعه خدمة ذي جاه كبير، أو طاعة وزير أو أمير، ولم أداهن فيه أحداً

بنفاق، أو مدح أو ذم مباين للأخلاق، لميل نفساني، أو غرض جسماني، وأنا استغفر الله

الذي لا إله إلا هو الحي القيوم من وضع قدمي في طريق لم أسلكه، وتجارتي في رأس مال لم

أملكه، هذا مع اعترافي بقصور باعي، وفتور همتي ونضوب طباعي، في القوانين العربية،

ودواوين المثاني الأدبية.

مالي وللأمر الذي قلدته ما للذباب وطعمة العنقاء

أبكي لعجزي وهو يبكي ذلة شتان بين بكائه وبكائي

وإني سميته نزهة الخواطر وبهجة المسامع والنواظر والله سبحانه أسأل أن يصعد كتابي

هذا ذروة القبول، ويجعله خالصاً لوجهه الكريم وينفع به أهل العلم ومن يخلفني من بعدي

من السادة الفحول، وأن يرخي على زلاتي من عفوه وغفرانه أطول الذيول، وبالله الاستعانة

في كل ما أحرر وأقول، وله الحمد وهو خير مسئول ومأمول.
বা ঐ সব যুগের বিগতদের মধ্য থেকে কেউ আছে, আর যদি তাদের ইতিহাসবিদগণ তাদের কথা উল্লেখও করেন তবে এমন জীবনী লিখেছেন যা উপকারহীন এবং তাদের প্রাপ্য মর্যাদা থেকে রিক্ত। তাতে নেই তাদের জন্ম কিংবা মৃত্যুর উল্লেখ, না আছে তাদের শোনা বা পড়া কোনো বিষয়ের বর্ণনা। কারণ যে ব্যক্তি কারো অবস্থা অন্যের কাছে পৌঁছে দেয়, তার জন্য বাঞ্ছনীয় হলো সে যেন তার পরিচিতদের মধ্য থেকে কিংবা তার শহরের অধিবাসী হয়। সুতরাং যখন তার পরিচিতরাই তাকে অবহেলা করে, তখন অন্যরা তো তাকে অবহেলা করবেই এবং তার বিষয়াদি সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যাবে।

আর এ দিক থেকে আমি নিজেকে এমন অবস্থায় পাই যে, যখন আমি এই কিতাবে তাদের কারো জীবনী লিখতে যাই তখন আমি কী বলব তা ভেবে পাই না! কারণ তার সমসাময়িকরা তাকে অবহেলা করেছে, ফলে তাদের পরে আমার কাছে কেবল এতটুকুই অবশিষ্ট আছে যে তিনি অমুক ব্যক্তি; জানা নেই কখন তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন আর কখন তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং নিজ জীবনে কী কী বৈশিষ্ট্যে তিনি অনন্য ছিলেন!

সুতরাং যে ব্যক্তি আমাদের এই আলোচনার কথা জানবে, সে বুঝতে পারবে যে আমি আল্লাহর সুবহানাহু ওয়া তায়ালার অনুগ্রহ ও তাওফিকে আমার এই কিতাবে নৈপুণ্য দেখিয়েছি এবং এমন এক অভিনব সৃষ্টি করেছি যা বড় বড় আলেমরাও করতে পারেননি, যদিও সংকলন ও রচনার প্রতি তাদের প্রবল আগ্রহ ছিল, বিশেষ করে এই কিতাবের ক্ষেত্রে।

আর আমি এটি সংকলনের মাধ্যমে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির সেবা কিংবা কোনো উজির বা আমিরের আনুগত্যের উদ্দেশ্য পোষণ করিনি। আর আমি এতে মুনাফেকি করে কারো তোষামোদ করিনি, কিংবা আত্মিক ঝোঁক বা পার্থিব উদ্দেশ্যে নৈতিকতা বহির্ভূত কারো প্রশংসা বা নিন্দাও করিনি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি—যিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক—এমন পথে আল্লাহর পা রাখা থেকে যা আমি পাড়ি দেইনি এবং এমন পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করা থেকে যার আমি মালিক নই। আর এর সাথে সাথে আমি আরবি ভাষার নিয়মাবলি এবং সাহিত্যের কাব্যগ্রন্থসমূহে আমার স্বল্পজ্ঞান, সংকল্পের শিথিলতা ও স্বভাবজাত অক্ষমতার কথা স্বীকার করছি।

যে বিষয়ের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে তার সাথে আমার কী সম্পর্ক? মাছির সাথে আনকা পাখির খাদ্যের যে তফাত (আমার ও এই কাজের মাঝে তেমন তফাত)।

আমি কাঁদি আমার অক্ষমতার জন্য, আর সে কাঁদে লাঞ্ছনার কারণে; কতই না ব্যবধান আমার কান্না আর তার কান্নার মাঝে!

আমি এর নাম দিয়েছি 'নুজহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি' ওয়ান নাওয়াজির' (অন্তরের প্রফুল্লতা এবং কান ও চোখের আনন্দ)। আমি আল্লাহ সুবহানাহুর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার এই কিতাবটিকে কবুলিয়াতের সর্বোচ্চ শিখরে উন্নীত করেন এবং একে একান্তই তাঁর মহান সত্তার জন্য নিবেদিত করেন এবং এর মাধ্যমে আলেম সমাজ ও আমার পরবর্তী শ্রেষ্ঠ মনীষীদের উপকৃত করেন। আর তিনি যেন আমার পদস্খলনসমূহের ওপর তাঁর ক্ষমা ও মার্জনা দীর্ঘ করে দেন। আমি যা কিছু লিখছি ও বলছি তার সব কিছুতেই আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই। তাঁরই জন্য সকল প্রশংসা এবং তিনিই শ্রেষ্ঠ প্রার্থিত ও আশার স্থল।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣١)
‌‌الطبقة الأولى

فيمن قصد الهند في القرن الأول

‌‌بديل بن طهفة البجلي

لما قتل عبيد الله بن نبهان بأرض السند كتب الحجاج بن يوسف الثقفي إلى بديل بن طهفة

وهو بعمان يأمره أن يسير إلى خور الديبل لتخلية النسوة اللاتي ولدن في جزيرة الياقوت

مسلمات وأخذهن قوم من ميد الديبل، فسار نحو الهند ولما لقيهم نفر به فرسه فأطاف به

العدو فقتلوه، وقال بعضهم: قتله زط معرب جاث البدهة، كما في فتوح البلدان للبلاذري،

وقال البلاذري في موضع آخر من ذلك الكتاب: إن بديل بن طهفة مصور بقندابيل وقبره

بالديبل- انتهى.

 

‌‌بنانة بن حنظة الكلبي

أمره محمد بن القاسم الثقفي على سرية بعثها إلى بيث فقاتل أهلها قتالاً شديداً ثم رجع

ظافراً إلى محمد، وسار محمد إلى مهران فنزل في وسطه وأمر بنانة على ألف مقاتل، فقاتل

معه براور وبرهمناباد وغيرهما من بلاد السند وفتحها فأمره محمد على قلعة دهليلة.

 

‌‌الحكم بن أبي العاصي الثقفي

الحكم بن أبي العاصي بن بشر بن دهمان بن عبد الله بن همام بن أبان بن يسار بن مالك

بن حطيط بن جشيم بن ثقيف الثقفي، الرجل المجاهد، وجهه أخوه عثمان بن أبي

العاصي أمير البحرين وعمان سنة خمس عشرة من الهجرة في أيام عمر بن الخطاب رضي

الله عنه وأقطع له جيشاً، فلما رجع كتب إلى عمر يعلمه ذلك، فكتب إليه: يا أخا ثقيف!

حملت دوداً على عود، وإني أحلف بالله إن لو أصيبوا لأخذت من قومك مثلهم.

قال البلاذري: ووجه عثمان أيضاً إلى بروص وبروص بروج بندر كبير من بنادر الهند-

انتهى.
প্রথম স্তর

যারা প্রথম শতাব্দীতে হিন্দুস্তানে (ভারতবর্ষে) এসেছিলেন

‌‌বুদাইল বিন তাহফাহ আল-বাজালি

যখন সিন্ধু ভূখণ্ডে উবাইদুল্লাহ বিন নাবহান নিহত হলেন, তখন হাজ্জাজ বিন ইউসুফ আস-সাকাফি ওমানে অবস্থানরত বুদাইল বিন তাহফাহর নিকট পত্র লিখলেন।

তিনি তাকে আদেশ করলেন দেবল বন্দরের দিকে রওনা হতে, যেন সেই মুসলিম নারীদের উদ্ধার করা যায় যারা ইয়াকুত দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন

এবং যাদেরকে দেবলের মেদ জাতি বন্দি করেছিল। অতঃপর তিনি হিন্দুস্তানের দিকে যাত্রা করলেন। যখন তিনি তাদের সম্মুখীন হলেন, তখন তার ঘোড়াটি ভড়কে গেল এবং শত্রুরা তাকে

ঘিরে ফেলে হত্যা করল। কেউ কেউ বলেন: তাকে বুদহার জাঠরা হত্যা করেছিল, যেমনটি বালাযুরীর ‘ফুতুহুল বুলদান’ কিতাবে বর্ণিত হয়েছে।

বালাযুরী উক্ত কিতাবের অন্য এক স্থানে বলেছেন: বুদাইল বিন তাহফাহর প্রতিকৃতি কানদাবিলে রয়েছে এবং তার কবর

দেবলে অবস্থিত। - সমাপ্ত।

 

‌‌বানানা বিন হানজালা আল-কালবি

মুহাম্মাদ বিন কাসিম আস-সাকাফি তাকে একটি ক্ষুদ্র সেনাদলের অধিনায়ক করে বাইস অভিমুখে প্রেরণ করেন। তিনি সেখানকার অধিবাসীদের সাথে কঠোর যুদ্ধ করলেন এবং বিজয়ী হয়ে

মুহাম্মাদের নিকট ফিরে আসলেন। এরপর মুহাম্মাদ মেহরানের দিকে অগ্রসর হয়ে তার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করেন এবং বানানাকে এক হাজার যোদ্ধার অধিনায়ক নিযুক্ত করেন। তিনি তার সাথে

রাওয়ার, ব্রাহ্মণাবাদ এবং সিন্ধুর অন্যান্য শহরগুলোতে যুদ্ধ করেন ও তা জয় করেন। অতঃপর মুহাম্মাদ তাকে দাহলিলা দুর্গের দায়িত্ব প্রদান করেন।

 

‌‌আল-হাকাম বিন আবিল আস আস-সাকাফি

আল-হাকাম বিন আবিল আস বিন বিশর বিন দাহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন হাম্মাম বিন আবান বিন ইয়াসার বিন মালিক

বিন হুতাইত বিন জুশাইম বিন সাকিফ আস-সাকাফি। তিনি একজন মুজাহিদ ব্যক্তি ছিলেন। তার ভাই বাহরাইন ও

ওমানের আমির উসমান বিন আবিল আস হিজরি ১৫ সনে উমর বিন খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু

আনহুর খিলাফতকালে তাকে হিন্দুস্তানের দিকে প্রেরণ করেন এবং তার জন্য একটি সেনাবাহিনী প্রস্তুত করেন। যখন তিনি ফিরে এলেন, তখন উমরকে বিষয়টি অবগত করে পত্র লিখলেন। উমর তাকে প্রতিউত্তরে লিখলেন: হে সাকিফ গোত্রীয় ভাই!

তুমি তো কাঠের ওপর পোকা বহন করে নিয়ে গেছ (অর্থাৎ উত্তাল সমুদ্রে সৈন্যদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছ)। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি, যদি তারা সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হতো তবে আমি তোমার কওমের নিকট হতে তাদের সমপরিমাণ প্রাণ গ্রহণ করতাম।

বালাযুরী বলেন: উসমান বারুসেও অভিযান পাঠিয়েছিলেন; আর বারুস হলো ভারুচ, যা হিন্দুস্তানের বন্দরগুলোর মধ্যে একটি বড় বন্দর।-

সমাপ্ত।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣٢)
قال ابن الأثير في أسد الغابة: إنه يكنى أبا عثمان وقيل: أبو عبد الملك، وهو أخو عثمان

بن أبي العاص الثقفي، له صحبة، كان أميراً على البحرين، وسبب ذلك أن عمر بن

الخطاب رضي الله عنه استعمل أخاه عثمان بن أبي العاص على عمان والبحرين فوجه

أخاه الحكم على البحرين وافتتح الحكم فتوحاً كثيرة بالعراق سنة تسع عشرة أو سنة

عشرين، وهو معدود في البصريين، ومنهم من يجعل أحاديثه مرسلة، ولا يختلفون في صحبة

أخيه عثمان، روى عنه معاوية بن قرة قال: قال لي عمر بن الخطاب رضي الله عنه: إن في

يدي مالاً لأيتام قد كادت الصدقة أن تأتي عليه فهل عندكم من متجر؟ قال: قلت: نعم،

قال: فأعطاني عشرة آلاف، فغبت بها ما شاء الله ثم رجعت إليه فقال: ما فعل مالنا؟

فقلت: هو ذا! قد بلغ مائة ألف، أخرجه الثلاثة- انتهى.

 

‌‌حكيم بن جبلة العبدي

حكيم بن جبلة بن حصين بن أسود بن كعب بن عامر بن الحارث بن الديل بن عمرو بن

غنم بن وديعة بن لكيز بن أفصى بن عبد القيس بن دعمي ابن جديلة بن أسد بن ربيعة

بن نزار العبدي، وقيل: حكيم بضم الحاء وهو أكثر وقيل: ابن جبل، ذكره ابن الأثير في

أسد الغابة قال: قال أبو عمر: أدرك النبي صلى الله عليه وسلم ولا أعلم له رواية ولا خبراً

يدل على سماعه منه ولا رواية له، وكان رجلاً صالحاً، له دين، مطاعاً في قومه، وهو الذي

بعثه عثمان على السند فنزلها ثم قدم على عثمان فسأله عنها فقال: ماؤها وشل، ولصها

بطل، وسهلها جبل، إن كثر الجند بها جاعوا، وإن قلوا بها ضاعوا، فلم يوجه عثمان

رضي الله عنه أحداً حتى قتل- انتهى.

وقال البلاذري في فتوح البلدان: إنه لما ولي عثمان رضي الله عنه وولي عبد الله بن عامر

بن كريز العراق كتب إليه يأمره أن يوجه إلى ثغر الهند من يعلم علمه وينصرف إليه بخبره،

فوجه حكيم بن جبلة العبدي، فلما رجع أوفده إلى عثمان رضي الله عنه فسأله عن حال

البلاد فقال: يا أمير المؤمنين! قد عرفتها وتنحرتها، قال: فصفها لي! قال: ماؤها وشل،

وثمرها دقل، ولصها بطل، إن قل الجيش فيها ضاعوا، وإن كثروا جاعوا، فقال له عثمان،

أخابر أم ساجع؟ قال: بل خابر، فلم يغزها أحداً، انتهى.

قال ابن الأثير ثم إنه أقام بالبصرة فلما قدم إليها الزبير وطلحة مع عائشة رضي الله عنهم

وعليها عثمان بن حنيف أميراً لعلي رضي الله عنه بعث عثمان ابن حنيف حكيم بن

جبلة في سبع مائة من بعد القيس وبكر بن وائل فلقي طلحة والزبير بالزابوقة قرب البصرة

فقاتلهم قتالاً شديداً فقتل، وقيل إن طلحة والزبير لما قدما البصرة استقر الحال بينهم وبين

عثمان بن حنيف أن يكفوا عن القتال إلى أن يأتي علي ثم إن عبد الله بن الزبير بيت

عثمان فأخرجه من القصر فسمع حكيم فخرج في سبع مائة من ربيعة فقاتلهم حتى

أخرجهم من القصر ولم يزل يقاتلهم حتى قطعت رجله فأخذها وضرب بها الذي قطعها

فقتله، ولم يزل يقاتل ورجله مقطوعة وهو الذي يقول:

يا ساق لن تراعي إن معي ذراعي

أحمي بها كراعي
ইবনে আল-আসীর 'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থে বলেছেন: তাঁর উপনাম ছিল আবু উসমান এবং বলা হয় আবু আব্দুল মালিক। তিনি উসমান

ইবনে আবি আল-আস আস-সাকাফীর ভাই। তাঁর সাহচর্য ছিল, তিনি বাহরাইনের আমীর ছিলেন। এর কারণ হলো, উমর ইবনে আল-

খাত্তাব (রা.) তাঁর ভাই উসমান ইবনে আবি আল-আসকে ওমান ও বাহরাইনের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তখন উসমান তাঁর

ভাই আল-হাকামকে বাহরাইনে নিযুক্ত করেন। আল-হাকাম হিজরি উনিশ বা বিশ সনে ইরাকে অনেক বিজয়

অর্জন করেন। তাঁকে বসরার অধিবাসীদের মধ্যে গণ্য করা হয়। কেউ কেউ তাঁর হাদিসগুলোকে 'মুরসাল' সাব্যস্ত করেন। তবে তাঁর ভাই

উসমানের সাহচর্যের ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। মুয়াবিয়া ইবনে কুররাহ তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর ইবনে আল-খাত্তাব (রা.) আমাকে বললেন: "আমার

হাতে ইয়াতিমদের কিছু মাল রয়েছে যার ওপর সদকা (যাকাত) প্রায় চলে আসার উপক্রম হয়েছে। তোমাদের কাছে কি কোনো ব্যবসার সুযোগ আছে?" আমি বললাম: "হ্যাঁ।"

তিনি আমাকে দশ হাজার দিলেন। আমি তা নিয়ে আল্লাহর ইচ্ছায় কিছুকাল অনুপস্থিত থাকলাম। এরপর ফিরে এলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: "আমাদের মালের কী হলো?"

আমি বললাম: "এই যে! এটি এক লক্ষে পৌঁছেছে।" এটি তিনজন (হাদিস বিশারদ) বর্ণনা করেছেন - সমাপ্ত।

 

‌‌হাকীম ইবনে জাবালাহ আল-আবদী

হাকীম ইবনে জাবালাহ বিন হুসাইন বিন আসওয়াদ বিন কাব বিন আমের বিন আল-হারিস বিন আল-দিল বিন আমর বিন

গানম বিন ওয়াদিয়া বিন লাকিয বিন আফসা বিন আব্দুল কায়েস বিন দাময়ি ইবনে জাদিরাহ বিন আসাদ বিন রাবিয়া

বিন নিযার আল-আবদী। কেউ কেউ 'হাকীম' (হা-এর পেশসহ) বলেছেন এবং এটিই অধিক প্রচলিত। কেউ বলেছেন ইবনে জাবাল। ইবনে আল-আসীর 'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থে

তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। আবু উমর বলেছেন: তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর যুগ পেয়েছেন, তবে তাঁর থেকে কোনো বর্ণনা বা খবর আমার জানা নেই যা

তাঁর থেকে সরাসরি শ্রবণ বা বর্ণনার প্রমাণ দেয়। তিনি একজন নেককার ও দ্বীনদার ব্যক্তি ছিলেন এবং স্বীয় গোত্রের মধ্যে অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যাকে

উসমান সিন্ধু প্রদেশে পাঠিয়েছিলেন এবং তিনি সেখানে অবস্থান করেন। এরপর তিনি উসমানের কাছে ফিরে এলে তিনি তাঁকে সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। তিনি বললেন: "সেখানের পানি সামান্য, চোরেরা

দুঃসাহসী এবং সমতল ভূমিগুলো পাহাড়ের মতো। যদি সেখানে অধিক সৈন্য পাঠানো হয় তবে তারা ক্ষুধার্ত থাকবে, আর যদি কম সৈন্য পাঠানো হয় তবে তারা ধ্বংস হয়ে যাবে।" তাই উসমান

(রা.) শহীদ হওয়া পর্যন্ত সেখানে কাউকে পাঠাননি - সমাপ্ত।

আল-বালাজুরি 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থে বলেছেন: যখন উসমান (রা.) খলিফা হলেন এবং আব্দুল্লাহ ইবনে আমের

ইবনে কুরায়য ইরাকের দায়িত্ব পেলেন, তখন উসমান তাঁকে লিখে পাঠালেন যেন তিনি হিন্দুস্তানের সীমান্তে এমন কাউকে পাঠান যে সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে তাঁর কাছে খবর নিয়ে আসবে,

তখন তিনি হাকীম ইবনে জাবালাহ আল-আবদীকে পাঠালেন। তিনি ফিরে এলে তাঁকে উসমানের (রা.) কাছে পাঠানো হয়। উসমান (রা.) তাঁকে সে দেশের অবস্থা সম্পর্কে

জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন! আমি তা চিনেছি এবং পরীক্ষা করেছি।" উসমান বললেন: "আমার কাছে এর বর্ণনা দাও!" তিনি বললেন: "সেখানের পানি সামান্য,

ফলগুলো নিম্নমানের এবং চোরেরা দুঃসাহসী। যদি সেখানে অল্প সৈন্য থাকে তবে তারা হারিয়ে যাবে, আর যদি বেশি সৈন্য থাকে তবে তারা ক্ষুধার্ত থাকবে।" তখন উসমান তাঁকে বললেন,

"তুমি কি বাস্তব অবস্থা বলছ নাকি ছন্দ মেলাচ্ছ?" তিনি বললেন: "বরং বাস্তব অবস্থা বলছি।" ফলে উসমান সেখানে যুদ্ধের জন্য কাউকে পাঠাননি - সমাপ্ত।

ইবনে আল-আসীর বলেন, অতঃপর তিনি বসরায় অবস্থান করেন। যখন জুবায়র ও তালহা আয়েশা (রা.)-এর সাথে সেখানে পৌঁছালেন

এবং আলীর (রা.) পক্ষ থেকে বসরার আমীর ছিলেন উসমান ইবনে হুনাইফ, তখন উসমান ইবনে হুনাইফ হাকীম ইবনে

জাবালাহকে সাতশ সৈন্যসহ (আব্দুল কায়েস ও বকর ইবনে ওয়াইল গোত্র হতে) পাঠালেন। তিনি বসরার নিকটবর্তী জাবুকাহ নামক স্থানে তালহা ও জুবায়রের মুখোমুখি হন

এবং তাঁদের সাথে প্রচণ্ড যুদ্ধ করেন। একপর্যায়ে তিনি নিহত হন। বলা হয় যে, তালহা ও জুবায়র যখন বসরায় এলেন, তখন তাঁদের এবং

উসমান ইবনে হুনাইফের মধ্যে এই মর্মে চুক্তি হলো যে, আলী আসা পর্যন্ত তাঁরা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবেন। এরপর আব্দুল্লাহ ইবনে জুবায়র রাতে উসমানের ওপর

অতর্কিত আক্রমণ করে তাঁকে প্রাসাদ থেকে বের করে দেন। হাকীম এটি শুনতে পেয়ে রাবিয়া গোত্রের সাতশ লোক নিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং তাঁদের সাথে যুদ্ধ করেন যতক্ষণ না

তাঁদের প্রাসাদ থেকে বিতাড়িত করেন। তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে থাকেন যতক্ষণ না তাঁর পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর তিনি সেই বিচ্ছিন্ন পা হাতে তুলে নেন এবং তা দিয়ে আঘাত করে তাঁর পা কর্তনকারীকে

হত্যা করেন। পা বিচ্ছিন্ন থাকা অবস্থাতেও তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিলেন এবং বলছিলেন:

হে পা! তুমি ভীত হয়ো না, নিশ্চয়ই আমার সাথে আমার হাত আছে

যা দিয়ে আমি আমার এই গোড়ালি রক্ষা করছি।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣٣)
حتى نزفه الدم فاتكأ على الرجل الذي قطع رجله وهو قتيل فقال له قائل: من فعل بك

هذا؟ قال: وسادتي، فما رئي أشجع منه، ثم قتله سحيم الحداني، قال أبو عبيدة معمر بن

المثنى: ليس يعرف في جاهلية ولا إسلام رجل فعل مثل فعله- انتهى.

 

‌‌داود بن نصر العماني

داود بن نصر بن الوليد العماني المجاهد قدم السند وقاتل أهلها وفتح البلاد، ثم استعمله

محمد بن القاسم الثقفي على مدينة ملتان.

 

‌‌رعوة بن عميرة الطائي

رعوة بن عميرة الطائي كان من رجال الأموية، أمره محمد بن القاسم الثقفي على طليعته

فقاتل معه أهل الهند وفتح البلاد.

 

‌‌زائدة بن عميرة الطائي

زائدة بن عميرة الطائي كان شقيق رعوة، قاتل معه الهنود غير مرة وسار إلى ملتان فقاتله

أهلها وانهزموا وقتل زائدة تحت سور البلد، كما في فتوح البلدان للبلاذري.

 

‌‌عبد الرحمن بن العباس الهاشمي

عبد الرحمن بن العباس بن ربيع بن الحارث بن عبد المطلب الهاشمي القرشي خرج على

الحجاج مع عبد الرحمن بن محمد بن الأشعث الكندي وبايعه سنة إحدى وثمانين وقاتل معه

الحجاج غير مرة بالأهواز ودير الجماجم وغيرها، ولما انهزم ابن الأشعث من مسكن أتى

عبد الرحمن بن العباس سجستان فاجتمع فل ابن الأشعث فسار إلى خراسان في عشرين

ألفاً، فنزل هراة وقتل الرقاد فأرسل إليه يزيد بن المهلب: قد كان لك في البلاد ممتنع من هو

أهون مني شوكة فارتحل إلى بلد ليس لي فيه سلطان! فإني أكره قتالك، وإن أردت مالاً

أرسلت إليك، فأعاد الجواب: إنا ما نزلنا لمحاربة ولا لمقام ولكنا أردنا أن نريح ثم نرحل

عنك وليست بنا إلى المال حاجة، وأقبل عبد الرحمن ابن العباس إلى الجباية وبلغ ذلك يزيد

فقال: من أراد أن يريح ثم يرتحل لم يجب الخراج، فسار يزيد نحوه وأعاد مراسلته: إنك قد

أرحت وسمنت وجبيت الخراج فلك ما جبيت وزيادة فاخرج عني! فإني أكره قتالك،

فأبى إلا القتال وكاتب جند يزبد يستميلهم ويدعوهم إلى نفس، فعلم يزيد فقال: جل الأمر

عن العتاب، ثم تقدم إليه فقاتله فلم يكن بينهم كثير قتال حتى تفرق أصحاب عبد الرحمن

عنه وصبر وصبرت معه طائفة ثم انهزموا وأمر يزيد أصحابه بالكف عن اتباعهم وأخذوا

ما كان في عسكرهم وأسروا منهم أسرى ولحق عبد الرحمن بالسند، كما في الكامل.

قال ابن قتيبة في الإمامة والسياسة: لما انهزم ابن الأشعث قام بعده عبد الرحمن بن ربيعة

فقاتل الحجاج ثلاثة أيام ثم انهزم فوقع بأرض فارس ثم صار إلى السند فمات هناك- انتهى.

 

‌‌عبيد الله بن نبهان.

سيره الحجاج بن يوسف الثقفي إلى خور الديبل لتخلية النسوة اللاتي ولدن في جزيرة

الياقوت مسلمات ومات آباؤهن وكانوا تجاراً فأراد ملكها التقرب بهن إلى الحجاج فأهداهن

إليه، فعرض للسفينة التي كن فيها قوم من ميد الديبل في بوارج فأخذوا السفينة بما فيها

فنادت امرأة منهن وكانت من بني يربوع: يا حجاج! وبلغ الحجاج ذلك فقال: يا لبيك!

فأرسل إلى داهر يسأله تخلية النسوة فقال: إنما أخذهن لصوص لا أقدر عليهم، فأغزى

الحجاج عبيد الله ابن نبهان
অবশেষে তার প্রচুর রক্তপাত হলো, তখন সে সেই ব্যক্তির লাশের ওপর হেলান দিল যে তার পা কেটেছিল। এমতাবস্থায় একজন তাকে জিজ্ঞাসা করল: তোমার সাথে এই কাজ কে করেছে? সে বলল: আমার বালিশ (অর্থাৎ যার ওপর সে হেলান দিয়েছে)। তার চেয়ে সাহসী আর কাউকে দেখা যায়নি। এরপর সুহাইম আল-হাদ্দানি তাকে হত্যা করে। আবু উবায়দাহ মা'মার ইবনুল মুসান্না বলেছেন: জাহিলি যুগ কিংবা ইসলামি যুগে এমন কোনো ব্যক্তির কথা জানা যায় না, যে তার মতো বীরত্ব প্রদর্শন করেছে - সমাপ্ত।

 

‌দাউদ ইবনে নাসর আল-উমানি

দাউদ ইবনে নাসর ইবনে আল-ওয়ালিদ আল-উমানি ছিলেন একজন মুজাহিদ। তিনি সিন্ধুতে আগমন করেন, সেখানকার অধিবাসীদের সাথে যুদ্ধ করেন এবং অঞ্চলটি জয় করেন। পরবর্তীতে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আস-সাকাফি তাকে মুলতান শহরের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন।

 

‌রা'ওয়াহ ইবনে উমাইরাহ আত-তায়ি

রা'ওয়াহ ইবনে উমাইরাহ আত-তায়ি উমাইয়া প্রশাসনের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আস-সাকাফি তাকে তাঁর অগ্রগামী সেনাদলের প্রধান নিযুক্ত করেন। তিনি তাঁর সাথে হিন্দুস্তানের অধিবাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং দেশ জয় করেন।

 

‌জায়িদাহ ইবনে উমাইরাহ আত-তায়ি

জায়িদাহ ইবনে উমাইরাহ আত-তায়ি ছিলেন রা'ওয়াহর সহোদর ভাই। তিনি তাঁর সাথে একাধিকবার হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং মুলতানের দিকে অগ্রসর হন। সেখানকার অধিবাসীরা তাঁর সাথে যুদ্ধ করে পরাজিত হয়। যায়িদাহ সেই শহরের প্রাচীরের নিচে নিহত হন, যেমনটি আল-বালাজুরির 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌আবদুর রহমান ইবনুল আব্বাস আল-হাশিমী

আবদুর রহমান ইবনুল আব্বাস ইবনে রবি ইবনে আল-হারিস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল-হাশিমী আল-কুরাশি। তিনি আবদুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ ইবনুল আশআস আল-কিন্দির সাথে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং একাশি হিজরিতে তাঁর হাতে আনুগত্যের শপথ (বাইয়াত) গ্রহণ করেন। তিনি তাঁর সাথে আহওয়াজ, দাইরুল জামাজিম ও অন্যান্য স্থানে হাজ্জাজের বিরুদ্ধে কয়েকবার যুদ্ধ করেন। যখন ইবনুল আশআস মাসকিনে পরাজিত হলেন, তখন আবদুর রহমান ইবনুল আব্বাস সিজিস্তানে চলে আসেন এবং ইবনুল আশআসের পরাজিত সৈন্যদের সমবেত করেন। এরপর তিনি বিশ হাজার সৈন্য নিয়ে খোরাসানের দিকে যাত্রা করেন। সেখানে তিনি হেরাতে অবতরণ করেন এবং আর-রিকাদকে হত্যা করেন। তখন ইয়াজিদ ইবনুল মুহাল্লাব তাঁর কাছে বার্তা পাঠান: "দেশের বিভিন্ন স্থানে আপনার জন্য এমন সব নিরাপদ আশ্রয় ছিল যাদের শক্তি আমার চেয়ে অনেক কম; সুতরাং আপনি এমন কোনো দেশে চলে যান যেখানে আমার কোনো কর্তৃত্ব নেই! কারণ আমি আপনার সাথে যুদ্ধ করা অপন্দ করি। আর যদি আপনি সম্পদ চান, তবে আমি আপনার কাছে তা পাঠিয়ে দেব।" জবাবে তিনি বললেন: "আমরা এখানে যুদ্ধ করতে বা স্থায়ীভাবে থাকতে আসিনি, বরং আমরা একটু বিশ্রাম নিয়ে আপনার এলাকা ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছি। আমাদের সম্পদের কোনো প্রয়োজন নেই।" এরপর আবদুর রহমান ইবনুল আব্বাস খাজনা আদায় শুরু করলেন। ইয়াজিদ এ খবর পেয়ে বললেন: "যে ব্যক্তি বিশ্রাম নিয়ে চলে যেতে চায়, সে খাজনা আদায় করে না।" এরপর ইয়াজিদ তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন এবং পুনরায় বার্তা পাঠালেন: "আপনি বিশ্রাম নিয়েছেন, হৃষ্টপুষ্ট হয়েছেন এবং খাজনাও আদায় করেছেন। আপনি যা আদায় করেছেন তা আপনারই থাক, প্রয়োজনে আমি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছি, এখন আমার এলাকা ছেড়ে চলে যান! আমি আপনার সাথে লড়াই করতে চাই না।" কিন্তু তিনি যুদ্ধ ছাড়া কিছুতেই রাজি হলেন না এবং ইয়াজিদের সৈন্যদের কাছে গোপনে পত্র পাঠিয়ে তাদের নিজের দিকে টানার ও নিজের আনুগত্য করার আহ্বান জানালেন। ইয়াজিদ তা জানতে পেরে বললেন: "বিষয়টি এখন আর তিরস্কারের পর্যায়ে নেই (বরং যুদ্ধের পর্যায়ে পৌঁছেছে)।" এরপর তিনি অগ্রসর হয়ে তাঁর সাথে যুদ্ধ করলেন। তাদের মধ্যে খুব একটা দীর্ঘ লড়াই হয়নি, কারণ আবদুর রহমানের সঙ্গীরা তাঁকে ছেড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। তবে তিনি এবং তাঁর সাথে একটি ছোট দল ধৈর্য ধরে লড়াই চালিয়ে গেলেন। অবশেষে তারা পরাজিত হলেন এবং ইয়াজিদ তাঁর সৈন্যদের নির্দেশ দিলেন তাদের পশ্চাদ্ধাবন না করতে। তারা তাদের শিবিরের মালামাল দখল করে নিল এবং অনেককে বন্দী করল। আবদুর রহমান পালিয়ে সিন্ধুতে আশ্রয় নিলেন, যেমনটি 'আল-কামিল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

ইবনে কুতায়বা 'আল-ইমামাহ ওয়াস-সিয়াসাহ' গ্রন্থে বলেছেন: যখন ইবনুল আশআস পরাজিত হলেন, তখন তাঁর পরে আবদুর রহমান ইবনে রবিয়াহ দাঁড়িয়ে লড়াই চালিয়ে যান। তিনি তিন দিন হাজ্জাজের সাথে যুদ্ধ করেন, এরপর পরাজিত হয়ে পারস্যের (ফারস) জমিনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে তিনি সিন্ধুতে চলে যান এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন - সমাপ্ত।

 

‌উবায়দুল্লাহ ইবনে নাবহান.

হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি তাকে দাইবাল বন্দরে পাঠিয়েছিলেন সেই সব মুসলিম নারীদের মুক্ত করার জন্য যারা ইয়াকুত দ্বীপে (শ্রীলঙ্কা) জন্মগ্রহণ করেছিল। তাদের পিতারা ছিলেন বণিক এবং সেখানে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। ওই দ্বীপের রাজা হাজ্জাজের নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে সেই নারীদের উপহার হিসেবে তাঁর কাছে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে দাইবাল অঞ্চলের 'মেদ' দস্যুদের একটি দল যুদ্ধজাহাজ নিয়ে তাদের জাহাজে আক্রমণ করে এবং মালামালসহ জাহাজটি দখল করে নেয়। তখন বনু ইয়ারবু গোত্রের এক নারী চিৎকার করে ডাক দিলেন: "হে হাজ্জাজ!" এ খবর হাজ্জাজের কাছে পৌঁছালে তিনি বললেন: "আমি তোমার ডাকে সাড়া দিচ্ছি!" এরপর তিনি সিন্ধুরাজ দাহিরের কাছে পত্র পাঠিয়ে নারীদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানালেন। দাহির উত্তরে বললেন: "তাদেরকে দস্যুরা ধরে নিয়ে গেছে, যাদের ওপর আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।" তখন হাজ্জাজ উবায়দুল্লাহ ইবনে নাবহানকে যুদ্ধের অভিযানে পাঠান।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣٤)
الديبل فغزاهم وقتل في تلك الغزوة بأرض السند، كما في فتوح

البلدان.

 

‌‌القاسم بن ثعلبة الطائي

قاسم بن ثعلبة بن عبد الله بن حصن الطائي الرجل المجاهد كان بالسند وقاتل الهنود

تحت لواء الأمير‌‌ محمد بن القاسم الثقفي وقتل كثيراً منهم، وهو الذي قتل داهر بن صصة

ملك السند، رواه البلاذري عن ابن الكلبي.

 

‌‌محمد بن الحارث العلافي

خرج على الحجاج وقاتله مع عبد الرحمن بن محمد بن الأشعث الكندي، ولما انهزم ابن

الأشعث أتى محمد عمان ثم خرج إلى السند واحتمى بداهر ابن صصة ملك السند، فلما

ولي سعيد بن أسلم بن زرعة الكلابي مكران وقتل سعيد صفوي بن لام الحمامي في ذنب

اجتراه وكان من العلافين خرج عليه محمد وعاوية ابنا الحارث وكان معهما خمس مائة مقاتل

فقتلوه وغلبوا على مكران، فلما أخبر به الحجاج ولي مجاعة بن سعر التميمي على ثغر

الهند فغزا مجاعة وغنم ولحق محمد ومعاوية مع رجالهما بالسند وسكنوا بأرور سنة

خمس وثمانين، ولما فتح محمد بن القاسم الثقفي السند وقتل داهر خرج محمد من أرور

وسار إلى برهمناباد واجتمع بجي سنكه، ولما سار جي سنكه إلى كشمير خرج معه وعاد

من أثناء الطريق، كما في تاريخ السند.

وفي تحفة الكرام إنه استأمن محمد بن القاسم المذكور فأمنه، انتهى.

وإسم علاف هو أبان بن حلوان بن عمران بن الحاف بن قضاعة وهو أبو جرم، كما في

فتوح البلدان.

 

محمد بن القاسم الثقفي

محمد بن القاسم بن محمد بن الحكم بن أبي عقيل الثقفي كان من بني أعمام الحجاج

وختنه، ولاه الحجاج على ثغر الهند في أيام الوليد بن عبد الملك وكان بفارس وقد أمره أن

يسير إلى الري وعلى مقدمته أبو الأسود جهم بن زحر الجعفي فرده إليه وعقد له على ثغر

السند وضم إليه ستة آلاف من جند أهل الشام وخلقاً من غيرهم وجهزه بكل ما احتاج

إليه حتى الخيوط والمسال وأمره أن يقيم بشيراز حتى يتتام إليه أصحابه ويوافيه ما أعد له،

وعمد الحجاج إلى القطن المحلوج فنقع في خل الخمر الحاذق ثم جفف في الظل فقال: إذا

صرتم إلى السند فإن الخل بها ضيق فانقعوا هذا القطن في الماء ثم أطبخوا به واصطبغوا،

فسار محمد بن القاسم إلى مكران فأقام بها أياماً ثم أتى قنزبور ففتحها ثم أتى أرمائيل

ففتحها، ثم سار إلى الديبل يوم جمعة ووافته سفن كان حمل فيها الرجال والسلاح والأداة

فخندق حين نزل ديبل وركزت الرماح على الخندق ونشرت الأعلام وأنزل الناس على راياتهم

ونصب منجنيقاً، وكان بالديبل كنيسة عظيمة عليها دقل طويل وعلى الدقل راية حمراء

فرمى الدقل فكسر فاشتد طيرة الكفر من ذلك، ثم إن محمداً ناهضهم وقد خرجوا إليه

فهزمهم حتى ردهم وأمر بالسلاليم فوضعت وصعد عليها الرجال ففتحت عنوة وهرب

عامل داهر وقتل سادن بيت آلهتهم في الديبل، واختط للمسلمين بها
দাইবাল; অতঃপর তিনি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন এবং সিন্ধু ভূমিতে সেই যুদ্ধে নিহত হন, যেমনটি 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থে রয়েছে।

 

‌‌কাসিম বিন সা'লাবাহ আত-তাঈ

কাসিম বিন সা'লাবাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন হিসন আত-তাঈ একজন মুজাহিদ ব্যক্তি ছিলেন। তিনি সিন্ধুতে অবস্থান করেছিলেন এবং আমির মুহাম্মাদ বিন কাসিম আস-সাকাফীর পতাকাতলে হিন্দুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন এবং তাদের অনেককে হত্যা করেছিলেন। তিনিই সিন্ধুর রাজা দাহির বিন সাসাহকে হত্যা করেছিলেন; এটি আল-বালাজুরি ইবনুল কালবী থেকে বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌মুহাম্মাদ বিন আল-হারিস আল-আলাফী

তিনি হাজ্জাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন আল-আশআদ আল-কিন্দীর সাথে মিলে তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। যখন ইবনুল আশআদ পরাজিত হলেন, মুহাম্মাদ ওমানে চলে আসেন, এরপর সিন্ধুর দিকে যাত্রা করেন এবং সিন্ধুর রাজা দাহির বিন সাসাহর আশ্রয় গ্রহণ করেন। অতঃপর সাঈদ বিন আসলাম বিন জুরাই আল-কিলাবী যখন মাকরানের শাসক নিযুক্ত হন এবং সাঈদ তার কৃত অপরাধের কারণে সাফাভী বিন লাম আল-হাম্মামীকে হত্যা করেন—যিনি আলাফীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন—তখন হারিসের দুই পুত্র মুহাম্মাদ ও মুয়াবিয়া তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। তাদের সাথে পাঁচশ যোদ্ধা ছিল; তারা তাকে হত্যা করেন এবং মাকরান দখল করে নেন। যখন হাজ্জাজ এই সংবাদ পেলেন, তখন তিনি মুজাআ বিন সি'র আত-তামিমীকে ভারতের সীমান্ত অঞ্চলের দায়িত্ব দেন। মুজাআ যুদ্ধ করেন এবং গনিমত লাভ করেন। মুহাম্মাদ ও মুয়াবিয়া তাদের সঙ্গীদের নিয়ে সিন্ধুতে চলে যান এবং পঁচাশি হিজরীতে আরুরে বসবাস শুরু করেন। যখন মুহাম্মাদ বিন কাসিম আস-সাকাফী সিন্ধু জয় করেন এবং দাহির নিহত হন, তখন মুহাম্মাদ আরুর থেকে বের হয়ে ব্রাহ্মণাবাদে যান এবং জয় সিংহের সাথে মিলিত হন। জয় সিংহ যখন কাশ্মীরের দিকে যাত্রা করেন, তিনি তার সাথে বের হন এবং পথিমধ্য থেকে ফিরে আসেন, যেমনটি 'তারিখে সিন্ধু' গ্রন্থে রয়েছে।

আর 'তুহফাতুল কিরাম' গ্রন্থে উল্লেখ আছে যে, তিনি উল্লিখিত মুহাম্মাদ বিন কাসিমের নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে তিনি তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেন। সমাপ্ত।

আর আলাফ হলো আবান বিন হুলওয়ান বিন ইমরান বিন আল-হাফ বিন কুদাআ-এর নাম, এবং তিনি আবু জারম, যেমনটি 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থে বর্ণিত।

 

মুহাম্মাদ বিন কাসিম আস-সাকাফী

মুহাম্মাদ বিন কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন আল-হাকাম বিন আবু আকিল আস-সাকাফী ছিলেন হাজ্জাজের চাচাতো ভাই এবং তার জামাতা। ওয়ালিদ বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে হাজ্জাজ তাকে ভারতের সীমান্ত অঞ্চলের দায়িত্ব প্রদান করেন। সে সময় তিনি ফারিসে (পারস্য) ছিলেন এবং হাজ্জাজ তাকে রাই অভিমুখে যাত্রার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যার অগ্রবর্তী দলের নেতৃত্বে ছিলেন আবু আল-আসওয়াদ জাহম বিন জাহর আল-জুফী। অতঃপর হাজ্জাজ তাকে সেখান থেকে ফিরিয়ে এনে সিন্ধু সীমান্তের দায়িত্ব দেন এবং সিরিয়ার ছয় হাজার সৈন্য ও অন্য আরও অনেককে তার সাথে যুক্ত করেন। এমনকি সুঁই-সুতা থেকে শুরু করে তার প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করে দেন। তাকে শিরাজ শহরে অবস্থানের নির্দেশ দেন যতক্ষণ না তার সঙ্গীরা পূর্ণরূপে একত্রিত হয় এবং তার জন্য প্রস্তুতকৃত রসদ তার নিকট পৌঁছায়। হাজ্জাজ ধুনাই করা তুলা নিয়ে তা তীব্র সিরকায় ভিজিয়ে ছায়ায় শুকিয়ে নেন এবং বলেন: যখন তোমরা সিন্ধুতে পৌঁছাবে, সেখানে সিরকা পাওয়া কঠিন হবে; তখন তোমরা এই তুলা পানিতে ভিজিয়ে তা দিয়ে রান্না করবে এবং ব্যঞ্জন হিসেবে ব্যবহার করবে। অতঃপর মুহাম্মাদ বিন কাসিম মাকরানের দিকে যাত্রা করেন এবং সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। এরপর কানযাবুর পৌঁছে তা জয় করেন, তারপর আরমাইল জয় করেন। এরপর জুমার দিন তিনি দাইবালে পৌঁছান এবং সেখানে রসদ, অস্ত্র ও লোকবাহী জাহাজগুলো তার নিকট পৌঁছে যায়। দাইবালে অবতরণ করে তিনি পরিখা খনন করেন এবং পরিখার ওপর বর্শা স্থাপন করেন ও পতাকাগুলো ওড়ান। মানুষকে তাদের নিজ নিজ পতাকাতলে সমবেত করেন এবং মিনজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) স্থাপন করেন। দাইবালে একটি বড় গির্জা ছিল যার ওপর একটি লম্বা মাস্তুল ছিল এবং মাস্তুলের ওপর ছিল একটি লাল পতাকা। তিনি সেই মাস্তুল লক্ষ্য করে পাথর ছুড়লে তা ভেঙে যায়, যা দেখে কাফেররা অত্যন্ত দুর্ভাগা মনে করল। এরপর মুহাম্মাদ তাদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। তারা বের হয়ে আসলে তিনি তাদের পরাজিত করে পিছু হটতে বাধ্য করেন এবং মই স্থাপনের নির্দেশ দেন। মই স্থাপন করা হলে সৈন্যরা তার ওপর চড়ে উপরে উঠে যায় এবং শহরটি বিজয় হয়। দাহিরের প্রতিনিধি পলায়ন করে এবং দাইবালে তাদের উপাসনালয়ের প্রধান পুরোহিত নিহত হয়। তিনি সেখানে মুসলমানদের জন্য বসতি স্থাপন করেন।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣٥)
وبنى مسجداً وأنزلها

أربعة آلاف، ثم أتى محمد البيرون فصالحه أهلها، وجعل محمد لا يمر بمدينة إلا فتحها حتى

عبر نهراً دون مهران فصالحه أهلها وظف عليهم الخراج، وسار إلى سهبان ففتحها ثم سار

إلى مهران فنزل في وسطه وعبره مما بلى بلاد راسل ملك قصة كجمه من الهند ولقيه داهر

على فيل وحوله الفيلة ومعه التكاكرة فاقتتلوا قتالاً شديداً لم يسمع بمثله وترجل داهر وقاتل

فقتل عند المساء وانهزم المشركون فقتلهم المسلمون كيف شاؤا وكان الذي قتل في رواية

المدائني رجلاً من بني كلاب وقال:

الخيل تشهد يوم داهر والقنا ومحمد بن القاسم بن محمد

أنى فرجت الجمع غير معرد حتى علوت عظيمهم بمهند

فتركته تحت العجاج مجدلاً متعفر الخدين غير موسد

ثم سار إلى راور ففتحها وكانت بها امرأة لداهر فخافت أن تؤخذ فأحرقت نفسها

وجواريها وجميع مالها، ثم أتى محمد برهمناباد العتيقة وكان فل داهر ببرهمناباد هذه فقاتلوه

ففتحها محمد عنوة وقتل بها ثمانية آلاف وقيل: سنة وعشرين ألفاً، وخلف فيها عامله،

وسار محمد يريد الرور وبغرور فتلقاه أهل ساوندري فسألوه الأمان فأعطاهم إياه ثم تقدم

إلى بسمد فصالح أهلها، وانتهى إلى الرور وهي على جبل فحصرهم أشهراً ففتحها صلحاً

وبنى مسجداً وسار إلى السكة ففتحها، ثم قطع نهر بياس إلى الملتان فقاتله أهلها وانهزموا

ودخلوا المدينة فحصرهم محمد وضيق على أهلها فنزلوا على الحكم فقتل محمد المقاتلة

وسبى الذرية وأصاب ذهباً كثيراً فسميت الملتان فرج بيت الذهب.

قالوا: ونظر الحجاج فإذا هو قد انفق على محمد ستين ألف ألف درهم ووجد ما حمل إليه

عشرين ومائة ألف ألف درهم فقال: شفينا غيظنا وازددنا إلى الرور وبغرور وكان قد

فتحها فأعطى الناس ووجه إلى البيلمان جيشاً فلم يقاتلوا وأعطوا الطاعة وسالمه أهل

سرست، ثم أتى محمد الكيرج فخرج إليه دوهر فقاتله فانهزم العدو وهرب دوهر ويقال:

قتل، ونزل أهل المدينة على حكم محمد فقتل وسبى قال الشاعر:

نحن قتلنا داهراً ودوهراً والخيل تردى منسراً فمنسرا

ومات الوليد بن عبد الملك وولي سليمان بن عبد الملك فاستعمل صالح ابن عبد الرحمن

على خراج العراق وولي يزيد بن أبي كبشة السكسكي السند فحمل محمد بن القاسم

مقيداً مع معاوية بن المهلب فقال محمد متمثلاً:

أضاعوني وأي فتى أضاعوا ليوم كريهة وسداد ثغر
এবং তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন এবং সেখানে চার হাজার লোক বসতি স্থাপন করালেন। অতঃপর মুহাম্মদ আল-বিরুনে আসলেন এবং সেখানকার অধিবাসীরা তাঁর সাথে সন্ধি করল। মুহাম্মদ যে শহরের পাশ দিয়েই অতিক্রম করতেন, সেটিই জয় করতেন। অবশেষে তিনি মেহরানের নিকটবর্তী একটি নদী পার হলেন; এখানকার অধিবাসীরাও তাঁর সাথে সন্ধি করল এবং তিনি তাদের ওপর খরাজ ধার্য করলেন। এরপর তিনি সেহবানের দিকে অগ্রসর হয়ে তা জয় করলেন। অতঃপর তিনি মেহরানের দিকে যাত্রা করে এর মধ্যস্থলে অবতরণ করলেন এবং ভারতের কাসসা কাজমাহ অঞ্চলের রাজা রাসিলের রাজ্যের দিক থেকে নদী পার হলেন। দাহির একটি হাতির ওপর চড়ে এবং তাঁর চারদিকে অনেক হাতি ও সাথে ঠাকুরদের নিয়ে তাঁর মুখোমুখি হলেন। তাঁদের মধ্যে অত্যন্ত প্রচণ্ড এক যুদ্ধ হলো, যার দৃষ্টান্ত আর শোনা যায়নি। দাহির হাতি থেকে নেমে লড়াই করলেন এবং শেষ বিকেলে নিহত হলেন। মুশরিকরা পরাজিত হলো এবং মুসলমানরা তাদের ইচ্ছামতো তাদের কতল করল। আল-মাদাইনীর বর্ণনা অনুযায়ী, যিনি দাহিরকে হত্যা করেছিলেন তিনি ছিলেন বনু কিলাব গোত্রের এক ব্যক্তি। তিনি বলেছিলেন:

ঘোড়াগুলো দাহিরের যুদ্ধের দিন এবং বর্শাগুলো সাক্ষ্য দিচ্ছে, আর মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মদও;

আমি পলায়ন না করে কীভাবে সেনাদলকে বিদীর্ণ করেছিলাম, যতক্ষণ না আমার সুতীক্ষ্ণ তরবারি দিয়ে তাদের প্রধানকে পরাভূত করলাম।

অতঃপর আমি তাকে ধূলিজালের নিচে প্রোথিত অবস্থায় ছেড়ে আসলাম, তার দুই গাল ছিল ধূলিমলিন এবং সে ছিল বালিশহীন।

এরপর তিনি রাওয়ার অভিমুখে যাত্রা করে তা জয় করলেন। সেখানে দাহিরের এক স্ত্রী ছিলেন, তিনি বন্দি হওয়ার ভয়ে নিজেকে, তাঁর দাসীদের এবং তাঁর সমস্ত ধনসম্পদ জ্বালিয়ে দিলেন। এরপর মুহাম্মদ প্রাচীন ব্রাহমানাবাদে আসলেন, যেখানে দাহিরের অবশিষ্ট সৈন্যরা অবস্থান করছিল। তারা তাঁর সাথে লড়াই করল এবং মুহাম্মদ তা শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে জয় করলেন। সেখানে আট হাজার লোক নিহত হয়েছিল, মতান্তরে ছাব্বিশ হাজার। সেখানে তিনি তাঁর প্রতিনিধি নিযুক্ত করলেন। এরপর মুহাম্মদ আর-রুর ও বাঘরুর অভিমুখে যাত্রা করলেন। সাওয়ান্দ্রির অধিবাসীরা তাঁর সাক্ষাৎ পেয়ে নিরাপত্তা প্রার্থনা করল এবং তিনি তাদের তা প্রদান করলেন। এরপর তিনি বাসমাদের দিকে অগ্রসর হয়ে সেখানকার অধিবাসীদের সাথে সন্ধি করলেন। তিনি আর-রুরে গিয়ে পৌঁছলেন, যা ছিল পাহাড়ের ওপর অবস্থিত। তিনি কয়েকমাস তাদের অবরুদ্ধ করে রাখলেন এবং অবশেষে সন্ধির মাধ্যমে তা জয় করলেন।

সেখানে তিনি একটি মসজিদ নির্মাণ করলেন। এরপর সিক্কাহ অভিমুখে যাত্রা করে তা জয় করলেন। অতঃপর বিয়াস নদী পার হয়ে মুলতানে পৌঁছলেন। সেখানকার অধিবাসীরা তাঁর সাথে যুদ্ধ করল এবং পরাজিত হয়ে শহরে প্রবেশ করল। মুহাম্মদ তাদের অবরুদ্ধ করলেন এবং সংকীর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করলেন। ফলে তারা তাঁর সিদ্ধান্তের ওপর আত্মসমর্পণ করল। মুহাম্মদ যোদ্ধাদের হত্যা করলেন এবং সন্তানদের বন্দি করলেন। সেখানে প্রচুর স্বর্ণ পাওয়া গেল, তাই মুলতানকে ‘স্বর্ণপুরী’ নামে অভিহিত করা হলো।

বর্ণনাকারীরা বলেন: হাজ্জাজ লক্ষ্য করে দেখলেন যে, তিনি মুহাম্মদের অভিযানে ছয় কোটি দিরহাম ব্যয় করেছেন এবং তাঁর কাছে বারো কোটি দিরহাম পাঠানো হয়েছে। তখন তিনি বললেন: আমাদের ক্রোধ প্রশমিত হয়েছে এবং আমাদের সম্পদ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি ইতিপূর্বেই আর-রুর ও বাঘরুর জয় করেছিলেন। তিনি লোকদের দান করলেন এবং বাইলমানের দিকে এক সেনাদল পাঠালেন। তারা যুদ্ধ না করে আনুগত্য স্বীকার করল। সারসাতের অধিবাসীরাও তাঁর সাথে সন্ধি করল। অতঃপর মুহাম্মদ আল-কীরাজে আসলেন। দাউহার তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামলেন কিন্তু শত্রুরা পরাজিত হলো এবং দাউহার পালিয়ে গেলেন, মতান্তরে তিনি নিহত হয়েছিলেন। শহরের অধিবাসীরা মুহাম্মদের সিদ্ধান্তের ওপর আত্মসমর্পণ করল এবং তিনি যোদ্ধাদের হত্যা ও সন্তানদের বন্দি করলেন। কবি বলেন:

আমরাই দাহির ও দাউহারকে হত্যা করেছি, আর ঘোড়াগুলো একের পর এক সেনাদলকে পদদলিত করছিল।

ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের মৃত্যু হলো এবং সুলায়মান ইবনে আব্দুল মালিক খলিফা নিযুক্ত হলেন। তিনি সালিহ ইবনে আব্দুর রহমানকে ইরাকের খরাজ বিভাগের দায়িত্ব দিলেন এবং ইয়াযিদ ইবনে আবু কাবশাহ আস-সাকসাকিকে সিন্ধুর গভর্নর নিযুক্ত করলেন। মুহাম্মদ ইবনে কাসিমকে মুয়াবিয়া ইবনে আল-মুহাল্লাবের সাথে শিকলবদ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হলো। তখন মুহাম্মদ উদাহরণস্বরূপ এই কবিতাটি আবৃত্তি করলেন:

তারা আমাকে হারিয়েছে, আর বিপদের দিনে এবং সীমান্ত রক্ষার জন্য তারা কতই না শ্রেষ্ঠ এক যুবককে হারিয়েছে।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣٦)
فبكى أهل الهند على محمد وصوروه بالكيرج، فحبسه صالح بواسط فقال:

فلئن ثويت بواسط وبأرضها رهن الحديد مكبلاً مغلولا

فلرب فتية فارس قد رعتها ولرب قرن قد تركت قتيلا

وقال:

لو كنت أجمعت الفرار لوطئت أناث أعدت للوغى وذكور

وما دخلت خيل السكاسك أرضنا ولا كان من عك على أمير

ولا كنت للعبد المزوني تابعاً فيا لك دهر بالكرام عثور

فعذبه صالح في رجال من آل أبي عقيل حتى قتلهم، وكان الحجاج قتل آدم أخا صالح وكان

يرى رأي الخوارج.

وقال حمزة بن بيض الحنفي يرثي محمداً:

إن المروءة والسماحة والندى لمحمد بن القاسم بن محمد

ساس الجيوش لسبع عشرة حجة يا قرب ذلك سوددا من مولد

وقال آخر:

ساس الرجال لسبع عشرة حجة ولداته عن ذاك في أشغال

كانت وفاة الحجاج في شوال سنة خمس وتسعين ووفاة الوليد وتولية سليمان في جمادى

الآخرة سنة ست وتسعين، وفي تلك السنة عذب محمد وقتل بواسط، كما في الكامل وفتوح

البلدان وغيرهما من كتب الأخبار.

 

‌‌محمد بن مصعب الثقفي

محمد بن مصعب بن عبد الرحمن الثقفي قدم السند وقاتل الهنود مع محمد ابن القاسم

الثقفي، وأمره محمد بن القاسم على سرية وبعثه إلى سدوسان في خيل وجمازات فطلب

أهلها الأمان والصلح وسفر بينه وبينهم السمنية فأمنهم ووظف عليهم خرجا وأخذ منهم

رهناً وانصرف إلى محمد بن القاسم ومعه من الزط أربعة آلاف، ثم لما سار محمد بن

القاسم إلى مهران أمر محمد ابن مصعب على طليعته، فعبر مهران مما بلى بلاد راسل ملك

قصة كجه، ولم نقف على أخباره بعد ذلك.

 

‌‌محمد بن هارون النمري

محمد بن هارون بن ذراع النمري استعمله الحجاج بن يوسف الثقفي على ثغر الهند بعد

مجاعة بن سعر التميمي الذي توف بمكران، فغزا محمد بن هارون فغنم وغلب على الثغر

وقام بالأمر خمس سنين، ثم لما ولي الحجاج ابن عمه محمد ابن القاسم الثقفي كتب إلى

محمد بن هارون يأمره أن يجهز جنده ويستعد للخروج إلى بلاد السند، فلما أتى محمد بن

القاسم مكران وسار إلى قنزبور لحقه بها وأتى أرمائيل وفتحها، وأقام زماناً يستريح بها

فمات ودفن بقنبل لعله سنة ثلاث وثمانين.

 

‌‌معاوية بن الحارث العلاني

خرج على سعيد بن أسلم بن زرعة الكلابي لما ولي على ثغر الهند فقتله وغلب على

الثغر،
ভারতের অধিবাসীগণ মুহাম্মদের জন্য ক্রন্দন করল এবং তারা কীরাজ নামক স্থানে তাঁর প্রতিকৃতি অঙ্কন করল। এরপর সালেহ তাঁকে ওয়াসিত নামক স্থানে কারারুদ্ধ করেন, তখন তিনি বললেন:

আমি যদি ওয়াসিতে এবং এর ভূমিতে লৌহশৃঙ্খলে আবদ্ধ ও বন্দি অবস্থায় অবস্থান করি,

তবে কত পারস্যের যুবককে আমি ভীত-সন্ত্রস্ত করেছি এবং কত সমকক্ষ বীরকে আমি নিহত অবস্থায় ফেলে এসেছি।

তিনি আরও বলেন:

আমি যদি পলায়নের সিদ্ধান্ত নিতাম, তবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতকৃত মাদী ও নর ঘোড়াগুলোকে পদদলিত করতাম।

আর সাকাসিক গোত্রের অশ্বারোহীরা আমাদের ভূমিতে প্রবেশ করত না, এবং আক গোত্রের কেউ আমার ওপর আমির হতে পারত না।

আর আমি মাজুনী দাসের অনুসারী হতাম না; হায় কালচক্র! তুমি সম্মানিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বড়ই হোঁচট খাওয়ানো।

সালেহ তাঁকে এবং আবু আকিলের বংশের কিছু লোককে শাস্তি প্রদান করেন যতক্ষণ না তিনি তাঁদের হত্যা করলেন। হাজ্জাজ সালেহর ভাই আদমকে হত্যা করেছিলেন এবং তিনি খাওয়ারিজদের মতাদর্শী ছিলেন।

হামজা ইবনে বায়দ আল-হানাফি মুহাম্মদের শোকগাঁথা গেয়ে বলেন:

নিশ্চয়ই পৌরুষত্ব, উদারতা ও দানশীলতা মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মদের মাঝেই নিহিত।

তিনি সতেরো বছর বয়সে সেনাবাহিনী পরিচালনা করেছেন; জন্ম থেকে নেতৃত্বের কতই না নিকটবর্তী ছিলেন তিনি।

অন্য একজন বলেন:

তিনি সতেরো বছর বয়সে পুরুষদের পরিচালনা করেছেন, অথচ তাঁর সমসাময়িকরা তখন অন্যান্য কাজে ব্যস্ত ছিল।

হাজ্জাজের মৃত্যু হয়েছিল পঁচানব্বই হিজরির শাওয়াল মাসে এবং ওয়ালিদের মৃত্যু ও সুলাইমানের ক্ষমতা গ্রহণ ছিল ছিয়ানব্বই হিজরির জমাদিউল আখিরা মাসে। সেই বছরই মুহাম্মদকে ওয়াসিতে শাস্তি দেওয়া হয় এবং হত্যা করা হয়, যেমনটি আল-কামিল, ফুতুহুল বুলদান এবং অন্যান্য ইতিহাসগ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌মুহাম্মদ ইবনে মুসআব আস-সাকাফি

মুহাম্মদ ইবনে মুসআব ইবনে আব্দুর রহমান আস-সাকাফি সিন্ধুতে আগমন করেন এবং মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আস-সাকাফির সাথে ভারতীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম তাঁকে একটি ক্ষুদ্র সেনাদলের অধিনায়ক নিযুক্ত করেন এবং তাঁকে অশ্বারোহী ও দ্রুতগামী উষ্ট্রারোহী বাহিনীসহ সাদূসানে প্রেরণ করেন। সেখানকার অধিবাসীরা নিরাপত্তা ও সন্ধি প্রার্থনা করল এবং সামানিয়া (বৌদ্ধ ভিক্ষু) তাদের মাঝে মধ্যস্থতা করল। ফলে তিনি তাদের নিরাপত্তা দিলেন, তাদের ওপর কর ধার্য করলেন এবং তাদের থেকে জামিন গ্রহণ করলেন। এরপর তিনি চার হাজার জত সৈন্য নিয়ে মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের কাছে ফিরে আসেন। অতপর যখন মুহাম্মদ ইবনে কাসিম মেহরানের দিকে যাত্রা করেন, তখন তিনি মুহাম্মদ ইবনে মুসআবকে তাঁর অগ্রবর্তী দলের সেনাপতি নিযুক্ত করেন। তিনি মেহরান অতিক্রম করে কচ্ছের রাজা রাসিলের রাজ্যের দিকে অগ্রসর হন। এরপর তাঁর সম্পর্কে আর কোনো সংবাদ আমাদের কাছে পৌঁছেনি।

 

‌‌মুহাম্মদ ইবনে হারুন আন-নামারি

মুহাম্মদ ইবনে হারুন ইবনে জেরা আন-নামারি। হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফি তাঁকে মুজাআ ইবনে সের আত-তামিমির পর ভারতের সীমান্ত অঞ্চলে নিযুক্ত করেন, যিনি মাকরানে মৃত্যুবরণ করেছিলেন। মুহাম্মদ ইবনে হারুন যুদ্ধ করেন এবং গণিমত লাভ করেন এবং সীমান্ত অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তার করেন। তিনি সেখানে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এরপর যখন হাজ্জাজ তাঁর চাচাতো ভাই মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আস-সাকাফিকে দায়িত্ব প্রদান করেন, তখন তিনি মুহাম্মদ ইবনে হারুনকে পত্র লিখলেন এই মর্মে যে, তিনি যেন তাঁর সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করেন এবং সিন্ধু অভিমুখে যাত্রার জন্য তৈরি হন। যখন মুহাম্মদ ইবনে কাসিম মাকরানে আসলেন এবং কানজবুরের দিকে যাত্রা করলেন, তখন মুহাম্মদ ইবনে হারুন তাঁর সাথে মিলিত হলেন। তাঁরা আরমাঈলে পৌঁছালেন এবং তা জয় করলেন। সেখানে তিনি বিশ্রামের জন্য কিছুদিন অবস্থান করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁকে কানবালে দাফন করা হয়, সম্ভবত তিরাশি হিজরি সালে।

 

‌‌মুয়াবিয়া ইবনে হারিস আল-আলানি

তিনি সাঈদ ইবনে আসলাম ইবনে জুরআ আল-কিলাবির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন যখন তিনি ভারতের সীমান্ত অঞ্চলের দায়িত্বে ছিলেন; তিনি তাঁকে হত্যা করেন এবং সীমান্ত অঞ্চলের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣٧)
ثم لما ولي مجاعة بن مسعر التميمي على ذلك الثغر، غلب عليه ونزع من يده الأمر،

فلحق بالسند واحتمى بداهر بن صصة ملك السند، ولما قتل داهر اجتمع بجي سنكه بن

داهر ثم استأمن محمد بن القاسم الثقفي فأمنه.

 

‌‌المغيرة بن أبي العاصي

المغيرة بن أبي العاصي بن بشر بن دهمان الثقفي المجاهد، وجهه أخوه عثمان ابن أبي

العاصي أمير البحرين وعمان في أيام عمر بن الخطاب رضي الله عنه إلى خور الديبل فلقي

العدو فظفر، كما في فتوح البلدان، وأخوه عثمان كان شريفاً عظيم القدر، ولاه عمر بن

الخطاب رضي الله عنه عمان والبحرين وأقطعه الموضع المعروف بالبصرة بشط عثمان،

كما في كتاب الاشتقاق لابن دريد، وفي تاريخ السند إن المغيرة قتل بأرض الهند ودفن بها.

 

‌‌يزيد بن أبي كبشة

يزيد بن أبي كبشة السكسكي كان من قواد الدولة الأموية، استخلفه الحجاج ابن يوسف

الثقفي عند موته على الحرب والصلاة بالمصرين البصرة والكوفة فأقره الوليد، وقيل: بل

الوليد هو الذي ولاه، كما في وفيات الأعيان، ولما مات الوليد وقام بالملك سليمان بن عبد

الملك استعمله على السند فحمل محمد بن قاسم الثقفي مقيداً مع معاوية بن المهلب، ومات

بعد قدومه أرض السند بثمانية عشر يوماً سنة ست وتسعين، كما في الكامل.
অতঃপর যখন মুজ্জাআ ইবনে মিসআর আত-তামীমী সেই সীমান্ত অঞ্চলের দায়িত্ব লাভ করেন, তখন তিনি পরাজিত হন এবং তার হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এরপর তিনি সিন্ধুতে চলে যান এবং সিন্ধুর রাজা দাহির ইবনে সসার নিকট আশ্রয় গ্রহণ করেন। যখন দাহির নিহত হলেন, তখন তিনি দাহিরের পুত্র জয়সীহ ইবনে দাহিরের সাথে মিলিত হন, অতঃপর তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আস-সাকাফীর নিকট নিরাপত্তা প্রার্থনা করলে তিনি তাকে নিরাপত্তা প্রদান করেন।

 

‌‌আল-মুগীরা ইবনে আবিল আসী

আল-মুগীরা ইবনে আবিল আসী ইবনে বিশর ইবনে দাহমান আস-সাকাফী আল-মুজাহিদ। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহুর যুগে বাহরাইন ও ওমানের আমীর তার ভাই উসমান ইবনে আবিল আসী তাকে খাওরুদ দাইবল অভিমুখে প্রেরণ করেন। সেখানে তিনি শত্রুর মুখোমুখি হন এবং বিজয় লাভ করেন, যেমনটি 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। তার ভাই উসমান অত্যন্ত সম্মানিত ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি ছিলেন। উমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে ওমান ও বাহরাইনের গভর্নর নিযুক্ত করেছিলেন এবং বসরার 'শাত্তু উসমান' নামে পরিচিত স্থানটি তাকে জায়গীর হিসেবে প্রদান করেছিলেন, যেমনটি ইবনে দুরাইদের 'কিতাবুল ইশতিকাক' গ্রন্থে উল্লেখ আছে। 'তারীখে সিন্দ' বা সিন্ধুর ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে, মুগীরা হিন্দুস্তানের ভূমিতে নিহত হন এবং সেখানেই তাকে দাফন করা হয়।

 

‌‌ইয়াযীদ ইবনে আবী কাবশাহ

ইয়াযীদ ইবনে আবী কাবশাহ আস-সাকসাকী উমাইয়া রাষ্ট্রের অন্যতম সেনাপতি ছিলেন। হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ আস-সাকাফী তার মৃত্যুর সময় তাকে বসরা ও কুফা—এই দুই শহরের যুদ্ধ ও নামাযের দায়িত্ব দিয়ে স্থলাভিষিক্ত করেন এবং ওয়ালীদ তাকে সেই পদে বহাল রাখেন। কারো মতে, ওয়ালীদই তাকে নিযুক্ত করেছিলেন, যেমনটি 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে। যখন ওয়ালীদের মৃত্যু হয় এবং সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি তাকে সিন্ধুর গভর্নর নিযুক্ত করেন। অতঃপর তিনি মুহাম্মাদ ইবনুল কাসিম আস-সাকাফীকে মুয়াবিয়া ইবনুল মুহাল্লাবের সাথে শৃঙ্খলাবদ্ধ অবস্থায় নিয়ে আসেন। সিন্ধু ভূখণ্ডে পৌঁছানোর আঠারো দিন পর ছিয়ানব্বই হিজরীতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি 'আল-কামিল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٣٩)
‌‌الطبقة الثانية

فيمن قصد الهند من أهل القرن الثاني

‌‌أبو عطاء السندي

أبو عطاء السندي الشاعر المشهور مولى بني أسد ثم مولى عمرو بن سماك ابن حصين

الأسدي، إسمه أفلح بن يسار وقيل: مرزوق، كان سندياً عجمياً لا يفصح وفي لسانه عجمة

ولثغة وكان إذا تكلم لا يفهم كلامه، وكان مع ذلك من أحسن الناس بديهة وأشدهم

عارضة وتقدماً، وهو من مخضرمي الدولتين، مدح بني أمية وبني هاشم، وله في كتاب

الحماسة مقاطيع نادرة منها قوله:

ذكرتك والخطى يخطر بيننا وقد نهلت منا المثقفة السمر

فوالله ما أدري وإني لصادق أداء عراني من حبابك أم سحر

فإن كان سحراً فاعذريني على الهوى وإن كان داء غيره فلك العذر

وقوله في ابن هبيرة وقد قتله المنصور بواسط بعد أن أمنه:

ألا إن عيناً لم تجد يوم واسط عليك بجاري دمعها لجمود

عشية قام الناتحات وشققت جيرب بأيدي مأتم وخدود

فإن تمس مهجور الفناء فربما أقام به بعد الوفود وفود

فإنك لم تبعد على متعهد بلى كان من تحت التراب بعيد

وكان إذا تكلم لا يفهم كلامه ولذلك قال لسليمان بن سليم الكلبي:

أعورتني الرواة يا ابن سليم وأبى أن يقيم شعري لساني

وغلا بالتي أجمجم صدري وجفاني لعجمتي سلطاني

وازدرتني العيون إذ كان لوني حالكاً مجتوى من الألوان

فضربت الأمور ظهراً لبطن كيف احتال حيلة لبيان

وتمنيت أنني كنت بالشعر فصيحاً وكان بعض بياني
দ্বিতীয় স্তর

দ্বিতীয় শতাব্দীর ব্যক্তিদের মধ্য হতে যারা হিন্দুস্তানে আগমন করেছিলেন

আবু আতা আস-সিন্দি

আবু আতা আস-সিন্দি একজন সুপ্রসিদ্ধ কবি। তিনি বনু আসাদ গোত্রের এবং পরবর্তীতে আমর বিন সিমাক বিন হুসাইন আল-আসাদীর মুক্তদাস ছিলেন। তাঁর নাম আফলাহ বিন ইয়াসার, আবার কেউ কেউ বলেছেন মারযুক। তিনি সিন্ধি অনারব ছিলেন, তাই স্পষ্টভাবে কথা বলতে পারতেন না। তাঁর ভাষায় অনারব ঢং ও জড়তা ছিল। তিনি যখন কথা বলতেন, তাঁর কথা বোঝা যেত না। তা সত্ত্বেও তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ উপস্থিত বুদ্ধি এবং তীক্ষ্ণ বাগ্মিতার অধিকারী ও অত্যন্ত অগ্রগামী। তিনি উমাইয়া ও আব্বাসী—উভয় যুগই লাভ করেছিলেন। তিনি বনু উমাইয়া ও বনু হাশিম (আব্বাসী) উভয় বংশের প্রশংসা করেছেন। ‘কিতাবুল হামাসাহ’ গ্রন্থে তাঁর কিছু বিরল কবিতা সংকলিত হয়েছে, যার মধ্যে তাঁর এই উক্তিগুলো অন্যতম:

আমি তোমাকে স্মরণ করেছি যখন আমাদের মাঝে বর্শাগুলো দুলছিল এবং বাদামী রঙের মসৃণ বর্শাগুলো আমাদের রক্ত পান করে তৃপ্ত হয়েছিল।

আল্লাহর কসম, আমি জানি না—অথচ আমি সত্যবাদী—তোমার ভালোবাসার কারণে কি কোনো রোগ আমাকে আচ্ছন্ন করেছে নাকি জাদু?

যদি তা জাদু হয় তবে আমার অনুরাগের খাতিরে আমায় ক্ষমা করো, আর যদি তা অন্য কোনো রোগ হয় তবে তোমার কাছে ওজর কবুল হোক।

ইবনে হুবাইরা সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, যাকে খলিফা আল-মানসুর আমান প্রদানের পর ওয়াসিতে হত্যা করেছিলেন:

জেনে রেখো! ওয়াসিতের দিনে যার চোখ তোমার বিয়োগে অশ্রু বিসর্জন দেয়নি, সে চোখ অবশ্যই শুষ্ক ও অনুভূতিহীন।

সেই সন্ধ্যায় যখন বিলাপকারীরা দাঁড়িয়েছিল এবং শোকাতুরদের হাতে জামার বক্ষদেশ ও গাল বিদীর্ণ হচ্ছিল।

যদিও তোমার আঙিনা আজ জনশূন্য হয়ে পড়েছে, তবে ইতিপূর্বে সেখানে বহু কাফেলার পর আরও কাফেলা অবস্থান করত।

নিশ্চয়ই তুমি কোনো অনুসন্ধানকারীর নিকট দূরবর্তী নও, যদিও মাটির নিচে থাকা ব্যক্তি অনেক দূরেই অবস্থান করে।

তিনি যখন কথা বলতেন তখন তাঁর কথা বোঝা যেত না, তাই তিনি সুলাইমান বিন সুলাইম আল-কালবীকে বলেছিলেন:

হে ইবনে সুলাইম! বর্ণনাকারীরা আমাকে লজ্জিত করেছে, আর আমার জিহ্বা আমার কবিতাকে সহজভাবে উচ্চারণ করতে অস্বীকার করেছে।

আমার হৃদয়ে যা গুঞ্জরিত হচ্ছিল তা তীব্র হয়ে উঠেছে, আর আমার অনারব জড়তার কারণে সুলতান আমার প্রতি বিমুখ হয়েছেন।

চক্ষুসমূহ আমাকে তুচ্ছজ্ঞান করত যেহেতু আমার গায়ের রং ছিল ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, যা সকল রঙের মধ্যে ঘৃণিত।

আমি সকল বিষয়কে ওলটপালট করে ভেবে দেখলাম যে, কীভাবে বাগ্মিতার জন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করা যায়।

আমি আকাঙ্ক্ষা করতাম যদি আমি কবিতার মাধ্যমে প্রাঞ্জলভাষী হতাম এবং যদি আমার কিছু বাগ্মিতা থাকত।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٠)
ثم أصبحت قد انخت ركابي عند رحب الفناء والأعطان

فأعطني ما تضيق عنه رواتي بفصيح من صالح الغلمان

يفهم الناس ما أقول من الشعر فإن البيان قد أعياني

واعتمدني بالشكر يا ابن سليم في بلادي وسائر البلدان

سترى فيهم قصائد غراً فيك سباقة بكل لسان

فأمر له بوصيف فسماه عطاء وتبناه وتكنى به ورواه شعره، فكان إذا أراد إنشاد مديح

لمن يمتدحه أو يجتديه أو إنشاء شعر أمره فأنشد.

قيل إنه قال يوماً: وإلا منذ لدن ذاوتا وقلت ليبأ ما إنك تصنأ- يعني وإنك منذ دعوتك

وقلت: لبيك، ما كنت تصنع؟.

وشهد أبو عطاء حرب بني أمية وبني العباس وآب مع بني أمية وقتل غلامه عطاء مع ابن

هبيرة وانهزم هو.

وحكى المدائني أن أبا عطاء كان يقاتل المسودة وقدامه رجل من بني مرة يكنى أبا زياد قد

عثر فرسه فقال لأبي عطاء: أعطني فرسك! أقاتل عني وعنك- وقد كانا أيقنا بالهلاك-

فأعطاه أبو عطاء فرسه، فركبه المرى ومضى على وجهه ناجياً فقال أبو عطاء:

لعمرك إنني وأبا زياد لكالساعي إلى لمع السراب

رأيت لخيله يطغون فيها وفي الطمع المذلة للرقاب

فما أغناك عن طلب ورزق وما أغناك عن سرق الدواب

وأشهد أن مرة حي صدق ولكن لست فيهم في النصاب

وعن المدائني أن يحيى بن زياد الحارثي وحماد الراوية كان بينهما وبين معلى بن هبيرة ما

يكون بين الشعراء من المنافسة وكان معلى يحب أن يطرح حماداً في لسان من يهجوه، قال

حماد: فقال لي يوماً بحضرة يحيى بن زياد: أتقول لأبي عطاء السندي أن يقول: زج وجرادة

ومسجد بني شيطان؟ قال حماد: فقلت له: نعم، فما تجعل لي على ذلك؟ قال: بغلتي

بسرجها ولجامها! فأخذت عليه بالوفاء وثقا وجاء أبو عطاء إلينا فقال: مرهبا مرهبا!

هياكم الله! بلفظ الحاء هاء لأنه أعجمي فرحبنا به وعرضنا عليه العشاء فأبى وقال: هل

عندكم نبيذ؟ فأتيناه بنبيذ كان عندنا فشرب حتى أحمرت عيناه فقلت له: يا أبا عطاء!

كيف علمك باللغز؟ فقال: جيد، فقلت:

ابن لي ان سألت أبا عطاء يقينا كيف علمك بالمعاني

فقال:

خبير آلم فاسأل تزدني بها تبا وآيات المثاني

أراد عالم- تجدني- طبا، فقلت:
তারপর আমি আপনার প্রশস্ত প্রাঙ্গণ ও উটের পালের বিশ্রামের স্থানে আমার সওয়ারি উটগুলো বসিয়েছি।

অতএব আমাকে এমন কিছু দান করুন যার ভার বহন করতে আমার বর্ণনাকারীরা সক্ষম নয়, আর সৎ বালকগণের মধ্য হতে একজন বাকপটু বালক দিন।

যাতে মানুষ আমার পঠিত কবিতা বুঝতে পারে, কেননা প্রকাশভঙ্গি আমাকে ক্লান্ত করে ফেলেছে।

হে ইবনে সুলাইম! আমার ভূখণ্ডে এবং অন্যান্য সকল দেশে আমার কৃতজ্ঞতার ওপর ভরসা রাখুন।

আপনি তাদের মাঝে আপনার প্রশংসায় উজ্জ্বল কাসিদাগুলো দেখতে পাবেন, যা প্রত্যেক রসনায় অগ্রগামী।

অতঃপর তিনি তার জন্য একজন কিশোর ভৃত্যের আদেশ দিলেন। তিনি তার নাম রাখলেন আতা এবং তাকে দত্তক নিলেন ও তার নামে নিজের উপনাম রাখলেন এবং তাকে নিজের কবিতা মুখস্থ করালেন। ফলে যখনই তিনি কোনো প্রশংসাকারীর প্রশংসা গাইতে চাইতেন অথবা কারো কাছে কিছু প্রার্থনা করতে চাইতেন কিংবা কোনো কবিতা রচনা করতেন, তখন তাকে নির্দেশ দিতেন আর সে তা আবৃত্তি করত।

বলা হয় যে, তিনি একদিন বলেছিলেন: "ওয়াইল্লা মুনযু লাদুন যাওয়াতা ওয়া কুলতা লিবায়া মা ইন্নাকা তাসনা" - অর্থাৎ: "এবং তুমি যখন থেকে আমি তোমাকে ডেকেছি এবং তুমি বলেছ: 'লাব্বাইক' (হাজির), তখন থেকে তুমি কী করছিলে?"

আবু আতা বনু উমাইয়া এবং বনু আব্বাসের যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তিনি বনু উমাইয়ার পক্ষে ফিরে এসেছিলেন এবং ইবনে হুবায়রার সাথে যুদ্ধে তার গোলাম আতা নিহত হয়েছিল, আর তিনি নিজে পরাজিত হয়েছিলেন।

মাদায়েনি বর্ণনা করেছেন যে, আবু আতা 'মুসাউয়িদা' (আব্বাসীয় বাহিনী) এর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন এবং তার সামনে বনু মুররা গোত্রের একজন লোক ছিল যার উপনাম ছিল আবু জিয়াদ। তার ঘোড়াটি হোঁচট খেয়ে পড়ে গেলে সে আবু আতাকে বলল: "তোমার ঘোড়াটি আমাকে দাও! আমি আমার এবং তোমার পক্ষ থেকে যুদ্ধ করব" - অথচ তারা উভয়েই নিশ্চিত মৃত্যুর সম্মুখীন ছিল। আবু আতা তাকে নিজের ঘোড়াটি দিয়ে দিলেন। সেই মুররি ব্যক্তিটি তাতে আরোহণ করে প্রাণ বাঁচিয়ে চলে গেল। তখন আবু আতা বললেন:

তোমার জীবনের কসম! আমি এবং আবু জিয়াদ যেন মরীচিকার ঝিলিকের দিকে ধাবমান কোনো ব্যক্তির মতো।

আমি তার ঘোড়াগুলোকে ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করতে দেখেছি, আর অতিশয় লোভের মধ্যেই রয়েছে ঘাড়ের লাঞ্ছনা।

কোনো যাঞ্চা বা জীবিকা তোমার কোনো কাজে আসেনি, আর পশুকে আত্মসাৎ করাও তোমাকে রক্ষা করতে পারেনি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুররা একটি সত্যনিষ্ঠ গোত্র, কিন্তু তুমি তাদের বংশীয় আভিজাত্যের অন্তর্ভুক্ত নও।

মাদায়েনি থেকে বর্ণিত যে, ইয়াহইয়া বিন জিয়াদ আল-হারিসি এবং হাম্মাদ আর-রাবিয়ার সাথে মুয়াল্লা বিন হুবায়রার মধ্যে কবিদের সুলভ প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিদ্যমান ছিল। মুয়াল্লা চাইতেন হাম্মাদকে এমন কারো সমালোচনার মুখে ফেলতে যে তাকে বিদ্রূপ করবে। হাম্মাদ বলেন: তিনি একদিন ইয়াহইয়া বিন জিয়াদের উপস্থিতিতে আমাকে বললেন: "আপনি কি আবু আতা আস-সিন্দিকে বলতে পারবেন যে সে যেন বলে: 'যাজ' (বর্শার ফলক), 'জারাদাহ' (ঘাসফড়িং) এবং 'মাসজিদু বানি শাইতান' (বনু শাইতানের মসজিদ)?" হাম্মাদ বলেন: আমি তাকে বললাম: "হ্যাঁ, তবে এর বিনিময়ে আপনি আমাকে কী দেবেন?" তিনি বললেন: "আমার খচ্চরটি তার জিন ও লাগামসহ!" আমি তার কাছ থেকে এর নিশ্চয়তা নিলাম। অতঃপর আবু আতা আমাদের কাছে এলেন এবং বললেন: "মারহাবা মারহাবা! হাইয়াকুমুল্লাহ!" - তিনি হ'-এর বদলে 'হ' উচ্চারণ করতেন কারণ তিনি ছিলেন অনারব। আমরা তাকে স্বাগত জানালাম এবং রাতের খাবারের প্রস্তাব দিলাম কিন্তু তিনি তা গ্রহণ করলেন না। তিনি বললেন: "তোমাদের কাছে কি নাবীয (এক প্রকার পানীয়) আছে?" আমরা তাকে আমাদের কাছে থাকা নাবীয খেতে দিলাম এবং তিনি তা পান করলেন যতক্ষণ না তার চোখ লাল হয়ে গেল। আমি তাকে বললাম: "হে আবু আতা! ধাঁধার ব্যাপারে আপনার জ্ঞান কেমন?" তিনি বললেন: "চমৎকার"। তখন আমি বললাম:

আমাকে স্পষ্টভাবে বলুন, যদি আমি আবু আতাকে জিজ্ঞেস করি যে, রূপক বা গূঢ় অর্থ সম্পর্কে আপনার জ্ঞান কতটা সুনিশ্চিত?

তিনি বললেন:

"খাবিরুন আলিমুন, ফাসআল তাজিদনি বিহা তিব্বান ওয়া আয়াতিল মাসানি।"

তিনি বুঝাতে চেয়েছিলেন 'আলিম' (জ্ঞানী), 'তাজিদুনি' (আমাকে পাবে) এবং 'তিব্বান' (দক্ষতা)। তখন আমি বললাম:
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤١)
فما اسم جريدة في رأس رمح دوين الكعب ليست بالسنان

فقال:

هو الزز الذي إن بات ذيفاً لسدرك لم تزل لك أولتان

أراد الزج- ضيفا- لصدرك- عولتان، فقلت- فرج الله عنك:

فما صفراء تدعى أم عوف كأن رجيلتيها منجلان

فقال:

أردت زرادة وأزن زنا بأنك ما أردت سوى لساني

أراد جرادة- أظن ظناً، فقلت:

أتعرف مسجداً لبني تميم فويق الميل دون بني أبان

فقال:

بنو سيتان دون بني أبان ككرب أبيك من أبد المدان

أرادشيتان- كقرب- عبد المدان، قال حماد: فرأيت عينيه قد ازدادت حمرة ورأيت

الغضب في وجهه وتخوفته، فقلت: يا أبا عطاء! هذا مقام المستجير بك ولك نصف ما

أخذته، قال: فاصدقني! فأخبرته فقال: أولى لك قد سلمت وقد سلم لك جعلك خذه

بورك لك فيه! فلا حاجة بي إليه وانقلب نحو معلى بن هبيرة.

وحكى أن أبا عطاء وفد على نصر بن سيار ثم أنشده:

قالت بريكة بنتي وهي عائنة إن المقام على الإفلاس تعذيب

ما بال هم دخيل بات مختصراً رأس الفؤاد فنوم العين ترحيب

إني دعاني إليك الخير من بلدي والخير عند ذوي الإحسان مطلوب

فأمر له بأربعين ألف درهم:

ومات أبو عطاء بعد الثمانين والمائة، كما في فوات الوفيات للكتبي.

 

‌‌إسرائيل بن موسى البصري

إسرائيل بن موسى أبو موسى البصري نزيل الهند كان من اتباع التابعين، روى عن حسن

البصري وأبي حازم الأشجعي ومحمد بن سيرين وهب بن منبه وعنه سفيان الثوري وابن

عيينة وحسين بن علي الجعفي ويحيى بن سعيد القطان، وثقه أبو حاتم، وله في صحيح

البخاري فرد حديث مكرر في أربعة مواضع، وهو ثقة من السادسة، قال الحافظ في تهذيب

التهذيب: قال ابن معين وأبو حاتم: ثقة، زاد أو حاتم: لا بأس به، وقال النسائي: ليس به

بأس، قلت ذكره ابن حبان في الثقات وقال: كان يسافر إلى الهند، وقال الأزدي وحده: فيه

لين، وليس هو الذي روى عن وهب بن منبه وروى عنه الثوري، ذاك شيخ يماني، وقد

فارق بينهما غير واحد- انتهى- وقد ذكره السمعاني في الأنساب قال: أبو موسى إسرائيل

بن موسى الهندي بصري كان ينزل الهند فنسب إليها، روى عن الحسن، وروى عنه
বর্শার মাথায় গোড়ালির ঠিক নিচে অবস্থিত, অথচ যা ফলা নয়—এমন একখণ্ড কাঠের নাম কী?

তিনি বললেন:

সেটি হলো 'জাজ' (বর্শার নিচের অংশ), যা যদি আপনার 'সাদর' (বক্ষ)-এর মেহমান হয়ে রাত কাটায়, তবে আপনার জন্য সর্বদা দুটি 'আউলা' (বিলাপ) থাকবে।

তিনি মূলত 'জুজ্জ', 'দ্বয়ফ', 'সাদর' এবং 'আউলাতান' শব্দগুলো বোঝাতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম—আল্লাহ আপনাকে প্রশস্ততা দান করুন:

সেই হলুদ বর্ণের প্রাণীটির নাম কী যাকে 'উম্মে আউফ' বলা হয়, যার পা দুটি যেন কাস্তের মতো?

তিনি বললেন:

আপনি 'জারাদা' (ঘাসফড়িং) বোঝাতে চেয়েছেন, আর আমি 'জান্ন' (ধারণা) করছি যে, আপনি আমার জবান (জিহ্বা) ছাড়া অন্য কিছু উদ্দেশ্য করেননি।

তিনি মূলত 'জারাদা' এবং 'আযুননু যন্নান' বোঝাতে চেয়েছিলেন। আমি বললাম:

আপনি কি বনী তামীমের সেই মসজিদটি চেনেন, যা মাইলফলকের সামান্য উপরে কিন্তু বনী আবানের নিচে অবস্থিত?

তিনি বললেন:

বনী 'সিতান' (শায়তান) বনী আবানের নিচে অবস্থিত, যেমন আপনার পিতার 'কারব' (নৈকট্য) 'আবদ আল-মাদান'-এর নিকট।

তিনি মূলত 'শায়তান', 'কুরব' এবং 'আবদ আল-মাদান' বোঝাতে চেয়েছিলেন। হাম্মাদ বলেন: আমি দেখলাম তাঁর চোখ দুটি অত্যন্ত লাল হয়ে গেছে এবং তাঁর চেহারায় ক্রোধ ফুটে উঠেছে, ফলে আমি তাঁকে ভয় পেলাম। আমি বললাম: হে আবু আতা! এটি আপনার নিকট আশ্রয়প্রার্থীর স্থান, আর আমি যা পেয়েছি তার অর্ধেক আপনার। তিনি বললেন: তবে আমার কাছে সত্যটি বলুন! আমি তাঁকে সব খুলে বললাম। তিনি বললেন: তোমার মঙ্গল হোক, তুমি রক্ষা পেয়েছ এবং তোমার প্রাপ্যও রক্ষা পেয়েছে; এটি গ্রহণ করো, আল্লাহ তোমাকে এতে বরকত দিন! আমার এতে কোনো প্রয়োজন নেই। অতঃপর তিনি মুয়াল্লা বিন হুবাইরার দিকে ফিরে গেলেন।

বর্ণিত আছে যে, আবু আতা নাসর বিন সাইয়্যারের নিকট প্রতিনিধি হিসেবে গেলেন এবং তাঁকে এই কবিতা শোনালেন:

আমার কন্যা বুরাইকা ক্লান্ত অবস্থায় বলল যে, নিঃস্ব অবস্থায় অবস্থান করা এক যাতনা।

সেই অন্তর্নিহিত চিন্তার কী হলো যা হৃদয়ের গভীরে রাত কাটিয়েছে, ফলে চোখের ঘুমও যেন বিদায় নিয়েছে।

আমার দেশ থেকে আপনার বিদ্যমান কল্যাণই আমাকে আপনার নিকট টেনে এনেছে, আর দানশীলদের নিকট কল্যাণ তো কাম্যই বটে।

অতঃপর তিনি তাঁকে চল্লিশ হাজার দিরহাম প্রদানের নির্দেশ দিলেন।

আবু আতা ১৮০ হিজরির পর ইন্তেকাল করেন, যেমনটি কুতুবীর 'ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত' গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‌ইসরাঈল বিন মুসা আল-বাসরী

ইসরাঈল বিন মুসা আবু মুসা আল-বাসরী, যিনি ভারতে বসবাস করতেন। তিনি তাবি-তাবিঈদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি হাসান বসরী, আবু হাযেম আল-আশজায়ী, মুহাম্মদ বিন সীরীন এবং ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর নিকট থেকে সুফিয়ান সওরী, ইবনে উয়াইনা, হুসাইন বিন আলী আল-জুফী এবং ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বর্ণনা করেছেন। আবু হাতিম তাঁকে নির্ভরযোগ্য (সিকাহ) হিসেবে অভিহিত করেছেন। সহীহ বুখারীতে তাঁর একটি একক হাদীস রয়েছে যা চারটি স্থানে পুনরাবৃত্তি হয়েছে। তিনি ষষ্ঠ স্তরের একজন নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। হাফিয ইবনে হাজার 'তাহযীবুত তাহযীব' গ্রন্থে বলেন: ইবনে মাঈন ও আবু হাতিম বলেছেন—তিনি নির্ভরযোগ্য। আবু হাতিম আরও যোগ করেছেন—তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই। নাসায়ী বলেছেন—তাঁর মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। আমি (গ্রন্থকার) বলছি, ইবনে হিব্বান তাঁকে নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীদের তালিকায় উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: তিনি ভারতে সফর করতেন। শুধুমাত্র আল-আযদী বলেছেন—তাঁর মধ্যে কিছুটা শিথিলতা আছে। (আযদী আরও বলেন) তিনি সেই ব্যক্তি নন যিনি ওয়াহাব বিন মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেছেন এবং যাঁর থেকে সওরী বর্ণনা করেছেন; তিনি একজন ইয়ামানী শায়খ। একাধিক বিশেষজ্ঞ তাঁদের দুজনের মধ্যে পার্থক্য করেছেন—সমাপ্ত। সামআনী 'আল-আনসাব' গ্রন্থে তাঁকে উল্লেখ করে বলেছেন: আবু মুসা ইসরাঈল বিন মুসা আল-হিন্দী একজন বসরী ব্যক্তি, তিনি ভারতে অবস্থান করতেন বিধায় তাঁর নিসবত সেদিকে করা হয়েছে। তিনি হাসান বসরী থেকে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন...
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٢)
ابن

عيينة ويحيى بن سعيد القطان والحسين الجعفي، قال يحيى بن معين: إسرائيل صاحب

الحسن ثقة- انتهى.

 

‌‌بسطام بن عمرو التغلبي

قدم الهند مع أخيه هشام بن عمرو في أيام المنصور الخليفة العباسي وناب في الحكم عن

أخيه بمنصورة مدة من الزمان، ولما سار هشام إلى بغداد استخلفه في بلاد السند كلها،

ومات هشام سنة 157 هـ فولى المنصور معبد بن الخليل على بلاد الهند ومات معبد سنة

159 هـ فولى المهدي بن المنصور العباسي روح بن حاتم وعزله في تلك السنة ثم ولي بسطام

بن عمرو التغلبي فقام بالأمر أياماً وعزل سنة ستين ومائة، كما في الكامل.

 

‌‌تميم بن زيد العتبي

ولي على أرض السند في أيام هشام بن عبد الملك الخليفة الأموي سنة إحدى عشرة

ومائة مكان‌‌ الجنيد بن عبد الرحمن المري، فضعف ووهن ومات قريباً من الديبل بماء يقال

له ماء الجواميس وكان من أسخياء العرب، وجد في بيت المال ثمانية عشر ألف ألف درهم

طاطرية فأسرع فيها، وكان قد شخص معه في الجند فتى من بني يربوع يقال له خنيس-

وأمه من طيء- إلى الهند، فأتت الفرزدق فسألته أن يكتب إلى تميم في اقفاله وعادت بقبر

غالب أبيه فكتب الفرزدق إلى تميم:

أتتني فعادت يا تميم بغالب وبالحفرة السافي عليها ترابها

فهب لي خنيساً واتخذ فيه منة لحوبة أم ما يسوع شرابها

تميم بن زيد لا تكونن حاجتي بظهر ولا يخفى عليك جوابها

فلا تكثر الترداد فيها فإنني ملول لحاجات بطيء طلابها

 

الجنيد بن عبد الرحمن المري

الجنيد بن عبد الرحمن بن عمرو بن الحارث بن خارجة بن سنان بن أبي حارثة المري

أحد أجواد الدنيا، ولاه عمر بن هبيرة الفزاري أمير العراق على أرض السند، ثم ولاه إياه

هشام بن عبد الملك الخليفة الأموي، ولما ولي هشام خالد بن عبد الله القسري العراق

كتب هشام إلى الجنيد يأمره بمكاتبته سنة سبع ومائة، فأتى الجنيد الديبل ثم نزل شط

مهران فمنعه جي سنكه بن داهر العبور وقال: إننا مسلمون فقد استعملني الرجل الصالح-

يعني عمر بن عبد العزيز- على بلادي ولست آمنك، فأعطاه رهناً وأخذ منه رهناً بما

على بلاده من الخراج ثم إنهما ترادا الرهن وكفر جي سنكه وحاربه، وقيل: لم يحاربه ولكن

الجنيد تجنى عليه، فأتى الهند فجمع وأخذ السفن واستعد للحرب، فسار الجنيد إليه في

السفن أيضاً فالتقوا فأخذ جي سنكه أسيراً وقد جنحت سفينته فقتلهن وهرب أخوه

جج- بالجيم الفارسية معربة صصه- إلى العراق ليشكو غدر الجنيد فخدعه الجنيد حتى

جاء إليه فقتله، وغزا الجنيد الكيرج وكانوا قد نقضوا، فاتخذ كباشاً نطاحة فصك بها

حائط المدينة حتى ثلمه ودخلها عنوة فقتل وسبى وغنم.

أما الكباش النطاحة فليس المراد ههنا بذلك الغنم وإنما هي آلة من خشب وحديد

يجرونها بنوع من الحبل فتدق الحائط فينهدم، وقد بطلت هذه الآلة كالمنجنيقات لما حدثت

الآلات النارية من المدافع وغيرها كبطلان النبال.

ثم إن الجنيد وجه العمال إلى مرمد والمندل ودهنج وبروص،
ইবনে

উইয়ায়না, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ আল-কাত্তান এবং আল-হুসাইন আল-জু'ফী; ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন বলেন: আল-হাসানের

সাথী ইসরাঈল বিশ্বস্ত—সমাপ্ত।

 

‌‌বিস্তাম ইবনে আমর আত-তাগলিবি

আব্বাসীয় খলিফা মানসুরের যুগে তিনি তাঁর ভাই হিশাম ইবনে আমরের সাথে ভারতে আসেন এবং দীর্ঘকাল মানসুরায় তাঁর

ভাইয়ের পক্ষে শাসনকার্যে প্রতিনিধিত্ব করেন। যখন হিশাম বাগদাদে গমন করেন, তখন তিনি তাকে সমগ্র সিন্ধু অঞ্চলে নিজের স্থলাভিষিক্ত করেন।

১৫৭ হিজরীতে হিশাম ইন্তেকাল করলে মানসুর মা'বাদ ইবনে আল-খালিলকে ভারতের গভর্নর নিযুক্ত করেন। ১৫৯ হিজরীতে

মা'বাদ মারা গেলে আব্বাসীয় খলিফা মানসুরের পুত্র আল-মাহদী রুহ ইবনে হাতিমকে নিযুক্ত করেন এবং একই বছর তাকে অপসারণ করেন। অতঃপর বিস্তাম

ইবনে আমর আত-তাগলিবি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি কিছুদিন শাসনকার্য পরিচালনা করেন এবং ১৬০ হিজরীতে তাকে পদচ্যুত করা হয়, যেমনটি 'আল-কামিল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌তামিম ইবনে যাইদ আল-উতবি

তিনি উমাইয়া খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামলে ১১১ হিজরীতে

‌‌জুনাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মুররি-এর স্থলাভিষিক্ত হয়ে সিন্ধু ভূখণ্ডের শাসনভার গ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি দুর্বল ও শক্তিহীন হয়ে পড়েন এবং দাইবাল-এর নিকটবর্তী 'মাউল জাওয়ামিস' (মহিষের জলাশয়) নামক স্থানে মারা যান। তিনি আরবদের মধ্যে অত্যন্ত দানশীল ছিলেন। বাইতুল মালে আঠারো মিলিয়ন

তাতারিয়া দিরহাম পাওয়া গিয়েছিল, যা তিনি দ্রুত খরচ করে ফেলেছিলেন। তাঁর সাথে সেনাবাহিনীতে বনী ইয়ারবু গোত্রের জনৈক যুবক ছিল যাকে খুনাইস বলা হতো—

যার মা ছিলেন তাই গোত্রের—সে ভারতে গিয়েছিল। তার মা ফারাযদাকের কাছে এসে অনুরোধ করেন তিনি যেন তামিমের কাছে চিঠি লেখেন তাকে মুক্ত করে ফেরত পাঠানোর জন্য এবং তিনি তাঁর পিতা গালিবের কবরের ওসীলা দিয়েছিলেন। তখন ফারাযদাক তামিমের কাছে লিখলেন:

হে তামিম! সে আমার কাছে এসেছে এবং গালিব ও ধুলো উড়ে আসা সেই কবরের দোহাই দিয়েছে।

সুতরাং খুনাইসকে আমার কাছে ফিরিয়ে দাও এবং তার দুঃখিনী মায়ের প্রতি অনুগ্রহ করো, যার পানীয় গলা দিয়ে নামছে না।

তামিম ইবনে যাইদ! আমার এই প্রয়োজনটি যেন উপেক্ষিত না হয় এবং এর উত্তর যেন তোমার কাছে গোপন না থাকে।

এ বিষয়ে বারবার অনুরোধ করতে বাধ্য করো না, কারণ আমি প্রয়োজনের ক্ষেত্রে অস্থির হয়ে পড়ি আর যা পেতে দেরি হয় তা আমি অপছন্দ করি।

 

আল-জুনাইদ ইবনে আবদুর রহমান আল-মুররি

আল-জুনাইদ ইবনে আবদুর রহমান ইবনে আমর ইবনে আল-হারিস ইবনে খারিজা ইবনে সিনান ইবনে আবি হারিসা আল-মুররি

ছিলেন বিশ্বের অন্যতম দানশীল ব্যক্তি। ইরাকের আমীর উমর ইবনে হুবায়রা আল-ফাজারি তাঁকে সিন্ধু ভূখণ্ডের দায়িত্ব প্রদান করেন। অতঃপর উমাইয়া খলিফা

হিশাম ইবনে আবদুল মালিক তাঁকে উক্ত পদে বহাল রাখেন। যখন হিশাম খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-কাসরিকে ইরাকের দায়িত্ব দেন,

তখন তিনি ১০৭ হিজরীতে জুনাইদকে তাঁর সাথে পত্রালাপ করার নির্দেশ দিয়ে চিঠি লেখেন। জুনাইদ দাইবাল আসেন এবং মেহরান নদীর তীরে

অবতরণ করেন। দাহিরের পুত্র জয় সিং (জি সানকা) তাকে নদী পার হতে বাধা দেন এবং বলেন: "আমরা ইসলাম গ্রহণ করেছি। পুণ্যবান ব্যক্তি—

অর্থাৎ উমর ইবনে আবদুল আজিজ—আমাকে আমার ভূখণ্ডের দায়িত্বে নিযুক্ত করেছেন এবং আমি আপনাকে বিশ্বাস করি না।" তখন জুনাইদ তাকে জামানত দিলেন এবং তাঁর

ভূখণ্ডের কর (খরাজ) বাবদ তার কাছ থেকেও জামানত গ্রহণ করলেন। পরবর্তীতে তারা উভয়ে জামানত ফেরত দিলেন এবং জয় সিং ধর্মত্যাগ (কুফর) করলেন ও যুদ্ধ শুরু করলেন। কেউ কেউ বলেন যে, সে যুদ্ধ করেনি কিন্তু

জুনাইদ তার ওপর চড়াও হয়েছিলেন। এরপর সে ভারতে এসে লোকজন একত্রিত করল, জাহাজ সংগ্রহ করল এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল। জুনাইদও জাহাজে করে

তার দিকে অগ্রসর হলেন। তাদের মধ্যে যুদ্ধ হলো এবং জয় সিং বন্দী হলেন—তার জাহাজটি কাত হয়ে পড়েছিল। জুনাইদ তাকে হত্যা করলেন এবং তার ভাই

চচ—ফারসি জিম সহযোগে যা আরবীকরণে সসা হয়েছে—জুনাইদের বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ করতে ইরাক অভিমুখে পালিয়ে গেল। কিন্তু জুনাইদ তাকে প্রতারিত করে নিজের

কাছে ফিরিয়ে আনলেন এবং হত্যা করলেন। জুনাইদ কাইরাজ আক্রমণ করলেন কারণ তারা চুক্তি ভঙ্গ করেছিল। তিনি 'কাবাশুন নাত্তাহা' (প্রাচীর ধ্বংসকারী যন্ত্র) ব্যবহার করলেন, যা দিয়ে তিনি

শহরের প্রাচীরে আঘাত করে ফাটল তৈরি করলেন এবং জোরপূর্বক সেখানে প্রবেশ করে হত্যা, বন্দি ও গনীমত লাভ করলেন।

তবে এখানে 'কাবাশুন নাত্তাহা' বলতে ভেড়া বা মেষ বোঝানো হয়নি, বরং এটি কাঠ ও লোহার তৈরি একটি যন্ত্র

যা দড়ির সাহায্যে টেনে প্রাচীরে আঘাত করা হতো ফলে তা ধসে পড়ত। কামানের মতো আগ্নেয়াস্ত্র এবং অন্যান্য আধুনিক যন্ত্র আবিষ্কৃত হওয়ার ফলে

এই যন্ত্রটি মানজানিকের মতো বিলুপ্ত হয়ে গেছে, যেমনটি তীরের ক্ষেত্রে ঘটেছে।

অতঃপর জুনাইদ মারমাদ, মান্দাল, দাহনাজ এবং বারুসে আমিলদের প্রেরণ করেন,
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٣)
وكان الجنيد يقول: القتل في

الجزع أكبر منه في الصبر، ووجه جيشاً إلى آزين، ووجه حبيب بن مرة في جيش إلى أرض

مالوه فأغاروا على آزين وغزوا بهرنمد فحرقوا ربضها، وفتح الجنيد البيلمان والجرز،

وحصل في منزله سوى ما أعطى زواره أربعين ألف ألف وحمل مثلها، قال جرير:

أصبح زوار الجنيد وصحبه يحيون صلت الوجه جماً مواهبه

وقال أبو الجويرية:

لو كان يقعد فوق الشمس من كرم قوم بأحسابهم أو مجدهم قعدوا

محسدون على ما كان من كرم لا ينزع الله منهم ماله حسدوا

قال ابن الأثير في الكامل: إن الجنيد أهدى لأم حكيم بنت يحيى بن الحكم امرأة هشام بن

عبد الملك قلادة من جوهر فأعجبت هشاماً، فأهدى لهشام قلادة أخرى، فاستعمله

هشام على خراسان سنة إحدى عشرة ومائة وقاتل التتر غير مرة، وتزوج الفاضلة بنت

يزيد بن المهلب، فغضب هشام وعزله وولى عاصماً خراسان، وكان الجنيد قد سقى بطنه

فقال هشام لعاصم: إن أدركته وبه رمق فأزهق نفسه! فقدم عاصم وقد مات الجنيد وكان

بينهما عداوة، فأخذ عمارة ابن حريم- وكان الجنيد قد استخلفه وهو ابن عمه- فعذبه

عاصم وعذب عمال الجنيد، وكان من الأجواد الممدوحين غير محمود في حروبه، مات بمرو

في سنة ست عشرة ومائة فقال أبو الجويرية عيسى بن عصمة يرثيه:

هلك الجود والجنيد جميعاً فعلى الجود والجنيد السلام

أصبحا ثاويين في أرض مرو ما تغنت على الغصون الحمام

كنتما نزهة الكرام فلما مت مات الندى ومات الكرام

ذكره الطبري في تاريخ الأمم والملوك.

 

‌‌جهم بن زحر الجعفي

جهم بن زحر بن قبس بن مالك بن معاوية بن سعنة- بمهملة ونون- الجعفي أبو الأسود

أمره الحجاج على ستة آلاف من جند أهل الشام، وبعثه إلى الري ليجتمع بمحمد بن القاسم

الثقفي ويسير معه إلى الهند، فلحق به وسار معه إلى ثغر الهند، فأتى مكران وأقام بها

زماناً ثم أتى قنزبور ففتحها، ثم سار إلى الديبل فقاتل أهلها قتالاً شديداً وفتحها، وكتب

الحجاج إلى محمد بن القاسم الثقفي أن وجه من قبلك من أهل العراق إلى قتيبة! ووجه

إليهم جهم بن زحر بن قيس! فإنه في أهل العراق خير منه في أهل الشام، وكان محمد واداً

لجهم بن زحر، فبعث سليمان بن صعصعة وجهم بن زحر، فلما ودعه جهم بكى وقال: يا

جهم! إنه للفراق، قال: لا بد منه، قال: وقدم على قتيبة سنة خمس وتسعين، فغزا مع قتيبة

بن مسلم الشاش وكاشغر وغزا الصين، وأمره قتيبة على سبعة آلاف من أهل الكوفة، ثم

لما تولى الخلافة سليمان بن عبد الملك وخلعه قتيبة ودعا الناس إلى خلعه قاتله قتالاً

شديداً، ولما غشى القوم الفسطاط قطعوا أطنابه فقال جهم بن زحر لسعد: أنزل فحز

رأسه! فنزل فاحتز رأسه، فقال حضين بن المنذر:

وإن ابن سعد وابن زحر تعاورا بسيفيهما رأس الهمام المتوج

عشية جئنا بابن زحر وجئتم بأدغم مرقوم الذراعين ديزج
জুনায়েদ বলতেন: ধৈর্য ধারণের চেয়ে বিচলিত হয়ে মৃত্যুবরণ করা অনেক বড় বিষয়। তিনি আজিনের দিকে একটি বাহিনী প্রেরণ করেন এবং হাবীব ইবনে মুররাকে একটি বাহিনীর সাথে মালওয়াহ অভিমুখে পাঠান। তারা আজিনে অতর্কিত আক্রমণ করেন এবং বাহরিনমান্দ অভিযান পরিচালনা করে তার শহরতলি জ্বালিয়ে দেন। জুনায়েদ বাইলামান ও জুর্য জয় করেন। তাঁর কাছে কেবল আগন্তুকদের দান করার অতিরিক্ত চার কোটি অর্জিত হয়েছিল এবং অনুরূপ পরিমাণ অর্থ তিনি বহন করে নিয়ে গিয়েছিলেন। জনৈক কবি জারীর বলেন:

জুনায়েদের দর্শনার্থী ও তাঁর সাথীরা এমন অবস্থায় সকালে উপনীত হলেন যে, তারা এক উজ্জ্বল চেহারার ব্যক্তিকে অভিবাদন জানাচ্ছেন যার দান অনেক বেশি।

আবু আল-জুওয়াইরিয়া বলেন:

যদি কোনো জাতি তাদের আভিজাত্য বা গৌরবের কারণে সূর্যের উপরে বসতে পারত, তবে তারা সেখানেই বসত।

তাদের এই বদান্যতার কারণে তারা অন্যের ঈর্ষার পাত্র; আল্লাহ যেন তাদের থেকে সেই সম্পদ কেড়ে না নেন যার জন্য তারা ঈর্ষান্বিত হয়েছে।

ইবনুল আসীর 'আল-কামিল' গ্রন্থে বলেন: জুনায়েদ হিশাম ইবনে আব্দুল মালিকের স্ত্রী উম্মে হাকীম বিনতে ইয়াহইয়া ইবনুল হাকামকে একটি রত্নখচিত হার উপহার দিয়েছিলেন যা হিশামের পছন্দ হয়েছিল। ফলে তিনি হিশামকেও আরেকটি হার উপহার দেন। এর প্রেক্ষিতে হিশাম তাঁকে ১১১ হিজরি সনে খোরাসানের গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনি তুর্কিদের সাথে একাধিকবার যুদ্ধ করেন। তিনি ইয়াযীদ ইবনুল মুহাল্লাবের কন্যা ফাযিলাকে বিবাহ করেন, এতে হিশাম রাগান্বিত হয়ে তাঁকে পদচ্যুত করেন এবং আসিমকে খোরাসানের গভর্নর নিযুক্ত করেন। জুনায়েদ উদরী (পেটে পানি আসা) রোগে আক্রান্ত ছিলেন। হিশাম আসিমকে বলেছিলেন: যদি তুমি তাঁকে জীবিত অবস্থায় পাও, তবে তাঁর প্রাণ হরণ করবে! আসিম যখন পৌঁছালেন, ততক্ষণে জুনায়েদ ইন্তেকাল করেছেন। তাঁদের উভয়ের মধ্যে শত্রুতা ছিল। ফলে আসিম জুনায়েদের স্থলাভিষিক্ত তাঁর চাচাতো ভাই উমারা ইবনে হুরিমকে বন্দি করে নির্যাতন করেন এবং জুনায়েদের কর্মচারীদেরও শাস্তি দেন। তিনি অত্যন্ত দানশীল ও প্রশংসিত ব্যক্তি ছিলেন, তবে তাঁর যুদ্ধসমূহ প্রশংসনীয় ছিল না। ১১৬ হিজরিতে মার্ভে তাঁর মৃত্যু হয়। কবি আবু আল-জুওয়াইরিয়া ঈসা ইবনে আসমা তাঁর শোকগাথায় বলেন:

বদান্যতা ও জুনায়েদ উভয়েই ধ্বংস হয়ে গেল, সুতরাং বদান্যতা ও জুনায়েদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

তাঁরা উভয়ে মার্ভের মাটিতে সমাহিত হলেন, যতদিন গাছের ডালে ঘুঘু পাখি গান গাইবে।

তোমরা ছিলে উচ্চবংশীয়দের আনন্দের উৎস; যখন তোমরা মারা গেলে, দানশীলতা ও উচ্চবংশীয়রাও যেন বিদায় নিল।

তাবারী 'তারীখুল উমাম ওয়াল মুলুক' গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন।

 

‌জহম ইবনে যহর আল-জু'ফী

জহম ইবনে যহর ইবনে কায়েস ইবনে মালিক ইবনে মুয়াবিয়া ইবনে সা'নাহ -দন্ত্য স ও নুন সহযোগে- আল-জু'ফী আবু আল-আসওয়াদ।

হাজ্জাজ তাঁকে সিরীয় বাহিনীর ছয় হাজার সৈন্যের দায়িত্ব দিয়ে রাই নগরে পাঠিয়েছিলেন যাতে তিনি মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-সাকাফীর সাথে মিলিত হয়ে ভারতের দিকে যাত্রা করেন। তিনি তাঁর সাথে মিলিত হন এবং ভারতের সীমান্তে পৌঁছান। এরপর তিনি মাকরানে এসে সেখানে কিছুদিন অবস্থান করেন। অতঃপর কানযবুরে পৌঁছে তা জয় করেন। এরপর দেবল অভিমুখে যাত্রা করে সেখানকার অধিবাসীদের সাথে কঠোর যুদ্ধ করেন এবং তা জয় করেন। হাজ্জাজ মুহাম্মদ ইবনুল কাসিম আল-সাকাফীকে লিখেছিলেন যে, "তোমার কাছে থাকা ইরাকবাসীদের কুতায়বার কাছে পাঠিয়ে দাও এবং তাদের সাথে জহম ইবনে যহর ইবনে কায়েসকেও পাঠাও! কারণ সিরীয়দের তুলনায় ইরাকবাসীদের জন্য সে-ই উত্তম।" মুহাম্মদ (ইবনুল কাসিম) জহম ইবনে যহরের প্রতি অত্যন্ত বন্ধুভাবাপন্ন ছিলেন। তিনি সুলাইমান ইবনে সাসআ এবং জহম ইবনে যহরকে বিদায় দিলেন। জহমকে বিদায় জানানোর সময় তিনি কেঁদে ফেললেন এবং বললেন: হে জহম! এটিই আমাদের বিচ্ছেদ। জহম বললেন: এর কোনো বিকল্প নেই। জহম ৯৫ হিজরিতে কুতায়বার কাছে পৌঁছান এবং কুতায়বা ইবনে মুসলিমের সাথে শাশ, কাশগড় ও চীনে যুদ্ধ করেন। কুতায়বা তাঁকে সাত হাজার কুফাবাসীর দায়িত্ব অর্পণ করেন। পরবর্তীতে যখন সুলাইমান ইবনে আব্দুল মালিক খিলাফতের দায়িত্ব নেন এবং কুতায়বা তাঁকে অস্বীকার করে মানুষকে তাঁর অবাধ্য হওয়ার আহ্বান জানান, তখন জহম কুতায়বার সাথে কঠোর যুদ্ধ করেন। যখন সৈন্যরা কুতায়বার তাঁবু ঘেরাও করল এবং তার রশি কেটে দিল, তখন জহম ইবনে যহর সা'দকে বললেন: "নেমে যাও এবং ওর মাথা কেটে ফেলো!" তখন সে নেমে কুতায়বার মাথা কেটে ফেলল। হুদাইন ইবনুল মুনযির এ সম্পর্কে বলেন:

ইবনে সা'দ এবং ইবনে যহর উভয়েই তাদের তলোয়ার দিয়ে সেই মুকুটধারী বীরের মাথা দ্বিখণ্ডিত করেছিল।

সেই সন্ধ্যায় যখন আমরা ইবনে যহরকে নিয়ে এলাম এবং তোমরা এক চিত্রিত বাহুবিশিষ্ট শক্তিশালী ব্যক্তিকে নিয়ে এলে।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٤)
أصم غداني كأن جبينه لطاخة نفس في أديم ممجمج

وكان ذلك سنة ست وتسعين، وولي سليمان بن عبد الملك يزيد بن المهلب خراسان،

فلازمه جهم بن زحر وكان من يزيد بمكان فغزا معه جرجان وأبلى فيه بلاء حسناً، ولما

فتحها الله سبحانه ولاه يزيد على جرجان فأقام بها زماناً، ولما ولي سعيد بن عبد العزيز بن

الحارث بن الحكم بن أبي العاص على خراسان أخذ الذين ولوا ليزيد بن المهلب فحبسهم،

وكان فيهم جهم بن زحر فحمل على حمار من قهندزمرو فمروا به على الفيض بن عمران

فقام إليه فوجأ أنفه فشتمه جهم، فغضب سعيد على جهم فضربه مائتي سوط وأمر سعيد

بجهم والذين كانوا في السجن فدفعوا إلى ورقاء بن نصر الباهلي فقتلوا في العذاب جهما،

وكان ذلك سنة اثنتين بعد المائة، كما في تاريخ الأمم والملوك للطبري.

 

‌‌حبيب بن المهلب العتكي

حبيب بن المهلب بن أبي صفرة العتكي أحد رجال الدولة الأموية، استعمله سليمان بن

عبد الملك على بلاد السند سنة ست وتسعين فقدمها وقد رجع ملوك الهند إلى ممالكهم

ورجع جي سنكه بن داهر إلى برهمناباد، فنزل حبيب على شاطىء مهران فأعطاه أهل

الرور الطاعة، وحارب قوماً فظفر بهم، ثم مات سليمان بن عبد الملك سنة تسع وتسعين

وولي ملكه عمر بن عبد العزيز فعزل حبيب عن السند سنة مائة، كما في الكامل.

 

‌‌حكم بن عوانة الكلبي

ولي على أرض السند في أيام هشام بن عبد الملك الخليفة الأموي بعد ما توفي بها تميم بن

زيد العتبي، ولاه خالد بن عبد الله القسري أمير العراق وقد كفر أهل الهند إلا أهل قصه

كجه، فلم ير للمسلمين ملجأ يلجؤن إليه فبنى من وراء البحيرة مما بلى الهند مدينة سماها

المحفوظة وجعلها مأوى لهم، وكان عمرو بن محمد بن القاسم الثقفي مع الحكم وكان يفوض

إليه ويقلده جسيم أموره وأعماله فأغزاه من المحفوظة، فلما قدم عليه وقد ظفر أمره فبنى

دون البحيرة مدينة وسماها المنصورة، فهي التي ينزلها العمال بعده وخلص الحكم ما كان في

أيدي العدو مما غلبوا عليه ورضي الناس بولايته، وكان خالد بن عبد الله القسري أمير

العراق يقول: واعجبا! وليت فتى العرب- يعني تميما- فرفض وترك، وليت أبخل العرب

فرضي به- انتهى.

وقتل الحكم في أرض السند سنة اثنتين وعشرين ومائة.

 

‌‌حميم بن سامة السامي

كان من رجال محمد بن الحارث العلافي انتقل معه إلى السند واحتمى بداهر وسكن

بالرور، ولما فتح محمد بن القاسم الثقفي خرج إلى برهمناباد واجتمع بجي سنكه، ولما خرج

جي سنكه إلى كشمير سار معه إلى تلك البلاد ولما أقطع صاحب كشمير عمالة شاكلها

لجي سنكه استمعل جي سنكه حميما على تلك العمالة، ولما مات جي سنكه ولم يترك

أحداً يرثه استقل حميم بأقطاعه وتداول أولاده ملكه إلى قرون متطاولة، كما في تاريخ

السند.
বধির ঘদানি, যার কপালটি যেন পরিপাটি চামড়ার ওপর নিশ্বাসের দাগের মতো।

এটি ছিল ছিয়ানব্বই হিজরি সালের ঘটনা। সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক ইয়াযীদ বিন আল-মুহাল্লাবকে খুরাসানের গভর্নর নিযুক্ত করেন।

জাহম বিন যাহর তার সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন এবং ইয়াযীদের নিকট তার বিশেষ মর্যাদা ছিল। তিনি তার সাথে জুরজান যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অতঃপর

যখন মহান আল্লাহ শহরটি বিজিত করে দিলেন, তখন ইয়াযীদ জাহমকে জুরজানের শাসক নিযুক্ত করেন এবং তিনি সেখানে দীর্ঘকাল অবস্থান করেন। যখন সাঈদ বিন আব্দুল আযীয বিন

হারিস বিন হাকাম বিন আবুল আস খুরাসানের গভর্নর হলেন, তিনি ইয়াযীদ বিন আল-মুহাল্লাব কর্তৃক নিযুক্ত ব্যক্তিদের পাকড়াও করে বন্দী করেন।

জাহম বিন যাহরও তাদের মধ্যে ছিলেন। তাকে কুহান্দিয-মার্ভ থেকে একটি গাধার পিঠে চড়িয়ে নিয়ে আসা হচ্ছিল। পথিমধ্যে তাকে ফায়য বিন ইমরানের সামনে দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলে

সে উঠে দাঁড়িয়ে জাহমের নাকে প্রচণ্ড আঘাত করল। জাহম তাকে গালি দিলেন। এতে সাঈদ জাহমের ওপর ক্রুদ্ধ হলেন এবং তাকে দুইশত বেত্রাঘাত করলেন। অতঃপর সাঈদ

জাহম ও কারাগারে থাকা অন্যান্যদের ব্যাপারে নির্দেশ দিলেন এবং তাদেরকে ওয়ারকা বিন নাসর আল-বাহিলীর নিকট সোপর্দ করা হলো। তারা জাহমকে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করল।

তাবারীর 'তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক'-এর বর্ণনা অনুযায়ী এটি ছিল একশত দুই হিজরি সালের ঘটনা।

 

‌‌হাবীব বিন আল-মুহাল্লাব আল-আতিকী

হাবীব বিন আল-মুহাল্লাব বিন আবু সুফরা আল-আতিকী ছিলেন উমাইয়া খিলাফতের অন্যতম উচ্চপদস্থ ব্যক্তি। সুলাইমান বিন

আব্দুল মালিক ছিয়ানব্বই হিজরি সালে তাকে সিন্ধু প্রদেশের গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনি যখন সেখানে পৌঁছেন, তখন হিন্দুস্তানের রাজারা তাদের নিজ নিজ রাজ্যে ফিরে গিয়েছিলেন

এবং দাহিরের পুত্র জয়সিংহ ব্রাহ্মণাবাদে ফিরে গিয়েছিলেন। হাবীব মেহরান নদীর তীরে অবতরণ করেন এবং আল-রোর অধিবাসীরা তার আনুগত্য স্বীকার করে।

তিনি এক সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করেন। অতঃপর নিরানব্বই হিজরি সালে সুলাইমান বিন আব্দুল মালিক মৃত্যুবরণ করেন

এবং উমর বিন আব্দুল আযীয খলীফা নিযুক্ত হন। তিনি একশত হিজরি সালে হাবীবকে সিন্ধু থেকে অপসারণ করেন, যেমনটি 'আল-কামিল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌হাকাম বিন আওয়ানা আল-কালবী

উমাইয়া খলীফা হিশাম বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে তামীম বিন যায়েদ আল-উতবীর মৃত্যুর পর তিনি সিন্ধু ভূখণ্ডের শাসক নিযুক্ত হন।

ইরাকের আমীর খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাসরী তাকে নিযুক্ত করেছিলেন। সে সময় কচ্ছ অঞ্চল ব্যতীত হিন্দুস্তানের অধিকাংশ মানুষ ইসলাম ত্যাগ করেছিল।

মুসলমানদের জন্য আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো নিরাপদ স্থান না দেখে তিনি হ্রদের ওপারে হিন্দুস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় 'আল-মাহফুযাহ' নামে একটি শহর নির্মাণ করেন

এবং একে তাদের আশ্রয়স্থল হিসেবে নির্ধারণ করেন। আমর বিন মুহাম্মদ বিন কাসিম আস-সাকাফী হাকামের সাথে ছিলেন। হাকাম তার ওপর অগাধ আস্থা রাখতেন

এবং তার গুরুত্বপূর্ণ কাজ ও দায়িত্বসমূহ তাকে অর্পণ করতেন। তিনি তাকে আল-মাহফুযাহ থেকে অভিযানে প্রেরণ করেন। যখন তিনি বিজয়ী হয়ে ফিরে আসলেন, তখন তিনি

হ্রদের এপারে 'আল-মানসূরাহ' নামে একটি শহর নির্মাণ করেন। তার পরবর্তী গভর্নররা সেখানেই অবস্থান করতেন। শত্রুরা যেসব অঞ্চল দখল করে নিয়েছিল, হাকাম সেগুলো পুনরুদ্ধার করেন

এবং জনগণ তার শাসনে সন্তুষ্ট ছিল। ইরাকের আমীর খালিদ বিন আব্দুল্লাহ আল-কাসরী বলতেন: "কী আশ্চর্য! আমি আরবের এক বীর যুবককে (অর্থাৎ তামীমকে) শাসক বানালাম,

কিন্তু সে প্রত্যাখ্যাত ও পরিত্যক্ত হলো; আর আমি আরবের সবচেয়ে কৃপণ ব্যক্তিকে শাসক বানালাম, অথচ জনগণ তার ওপর সন্তুষ্ট হলো।"—উদ্ধৃতি সমাপ্ত।

একশত বাইশ হিজরি সালে সিন্ধু ভূখণ্ডে হাকাম নিহত হন।

 

‌‌হামীম বিন সামাহ আস-সামী

তিনি মুহাম্মদ বিন আল-হারিস আল-আলাফীর অনুসারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তার সাথে তিনি সিন্ধুতে চলে আসেন এবং দাহিরের আশ্রয় গ্রহণ করেন ও

আল-রোর-এ বসবাস শুরু করেন। মুহাম্মদ বিন কাসিম আস-সাকাফী যখন সিন্ধু বিজয় করেন, তখন হামীম ব্রাহ্মণাবাদে চলে যান এবং জয়সিংহের সাথে যোগ দেন। যখন

জয়সিংহ কাশ্মীরে চলে যান, তিনিও তার সাথে সেই দেশে যান। কাশ্মীরের রাজা যখন জয়সিংহকে একটি জায়গির প্রদান করেন যা তার পদমর্যাদার উপযোগী ছিল,

তখন জয়সিংহ হামীমকে সেই জায়গিরের দায়িত্ব প্রদান করেন। জয়সিংহ যখন নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তখন হামীম সেই জায়গিরের পূর্ণ কর্তৃত্ব লাভ করেন এবং

'তারিখুস সিন্দ'-এর বর্ণনা অনুযায়ী, তার বংশধররা দীর্ঘ শতাব্দীকাল ধরে সেখানে রাজত্ব করেন।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٥)
‌‌الربيع بن صبيح السعدي

الشيخ المحدث الربيع بن صبيح السعدي أبو بكر- وقال: أبو حفص- البصري مولى بني

سعد بن زيد مناة، روى عن الحسن البصري وحميد الطويل ويزيد الرقاشي وأبي الزبير وأبي

غالب صاحب أبي أمامة وثابت البنائي ومجاهد ابن حبر وغيرهم، وعنه سفيان الثوري

ووكيع وابن مهدي وأبو داود وأبو الوليد الطيالسيان، وآدم بن أبي أياس، وعاصم بن علي،

وعدة، وكان صالحاً، صدوقاً، عابداً، مجاهداً، ضعفه غير واحد من العلماء، وقال ابن

عدي: له أحاديث صالحة مستقيمة ولم أر له حديثاً منكراً جداً وأرجو أنه لا بأس به ولا

بروايته، وقال العقيلي في الضعفاء: بصري سيد من سادات المسلمين، وقال العجلي: لا بأس

به، وقال الفلاس: ليس بالقوي، وقال الحاكم: ليس بالمتين عندهم، وحكى بشر بن عمر عن

شعبة أنه عظم الربيع بن صبيح، وقال ابن حبان: كان من عباد أهل البصرة وزهادهم

وكان يشبه بيته بالليل ببيت النحل من كثرة التهجد، إلا أن الحديث لم يكن من صناعته،

فكان يهم فيما يروي حتى وقع في حديثه المناكير من حيث لا يشعر، لا يعجبني الاحتجاج

به إذا انفرد، وذكر الرامهرمزي في الفاضل أنه أول من صنف بالبصرة- انتهى ملخصاً من

تهذيب التهذيب.

قال الجلبي في كشف الظنون بعد ذكره في أول من صنف في الاسلام: وأعلم أنه اختلف في

أول من صنف فقيل: أول من صنف الامام عبد الملك ابن عبد العزيز البصري، وقيل: أبو

النصر سعيد بن أبي عروبة- ذكرهما الخطيب، وقيل: ربيع بن صبيح- قاله أبو محمد

الرامهرمزي- ثم سفيان بن عيينة، ثم صنف الموطأ مالك بن أنس بالمدينة، ثم عبد الله بن

وهب بمصر، ومعمر بن راشد وعبد الرزاق باليمن، وسفيان الثوري ومحمد بن فضيل بن

غزوان بالكوفة، وحماد بن سلمة وروح بن عبادة بالبصرة، وهشيم بواسط، وعبد الله بن

المبارك بخراسان- انتهى.

قال الطبري في تاريخ الأمم والملوك: إنه خرج غازياً إلى السند فيمن خرج مع عبد الملك بن

شهاب المسمعي من مطوعة أهل البصرة فمات بها- انتهى.

وكانت وفاته في سنة ستين ومائة بأرض السند، كما في المغني.

 

‌‌سفيح بن عمرو التغلبي

دخل أرض السند مع صنوه هشام بن عمرو وكان بها إذ خرجت خارجة ببلاد السند

فوجهه هشام فخرج في جيشه، فبينا هو يسير إذ لقي

 

‌‌عبد الله بن محمد العلوي يتنزه على

شاطىء مهران، فمضى يريده فقال أصحابه: هذا ابن رسول الله صلى الله عليه وسلم،

وقد تركه أخوك متعمداً مخافة أن يبوء بدمه فلم يقصده، فقال: ما كنت لأدع أخذه ولا أدع

أحداً يأخذه أو قتله عند المنصور فقتل عبد الله- بقصة شرحتها في ترجمة عبد الله

وترجمة أخيه هشام.

عبد الله بن محمد العلوي

جدنا الكبير عبد الله بن محمد بن عبد الله بن الحسن بن الحسن بن علي بن أبي طالب

الهاشمي القرشي المشهور بعبد الله الأشتر بن محمد النفس الزكية بن عبد الله المحض، وهو

أول من وطىء أرض الهند من أهل بيت النبي صلى الله عليه وسلم فيما أظن، ولد ونشأ

بالمدينة وتفقه على أبيه وجده، وقدم الهند في أيام المنصور العباسي، وسبب قدومه أن

والده محمد بن عبد الله لما خرج على المنصور وجهه إلى البصرة فاشترى منها خيلاً عتاقاً

ليكون سبب وصولهم إلى عمر بن حفص العتكي وكان والياً على أرض السند من قبل

المنصور وكان ممن بايع محمداً من قواد المنصور وكان يتشيع، فساروا في البحر إلى السند،

فأمرهم عمر أن يحضروا خيلهم، فقال عضهم: إنا جئناك بما هو خير من الخيل وبما لك

فيه خير الدنيا والآخرة فأعطنا
আর-রাবী বিন সাবিহ আস-সা'দী

শায়খ, মুহাদ্দিস আর-রাবী বিন সাবিহ আস-সা'দী আবু বকর—মতান্তরে আবু হাফস—বসরি। তিনি বনু সাদ বিন জায়েদ মানাতের মুক্ত করা দাস। তিনি হাসান বসরী, হুমাইদ আত-তবিল, ইয়াজিদ আর-রকাশি, আবু যুবায়ের, আবু উমামার সঙ্গী আবু গালিব, সাবিত আল-বুনানি, মুজাহিদ ইবনে জাবর ও অন্যান্যদের থেকে বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে সুফিয়ান সাওরী, ওয়াকি, ইবনে মাহদী, আবু দাউদ, আবু ওয়ালিদ আত-তায়ালিসিদ্বয়, আদম বিন আবি ইয়াস, আসিম বিন আলী ও একদল বর্ণনাকারী বর্ণনা করেছেন। তিনি সৎকর্মশীল, সত্যবাদী, ইবাদতকারী ও মুজাহিদ ছিলেন। অনেক আলিম তাঁকে দুর্বল বলেছেন। ইবনে আদী বলেন: তাঁর বর্ণিত হাদিসসমূহ সঠিক ও ভারসাম্যপূর্ণ, আমি তাঁর কোনো হাদিসকে অত্যন্ত মুনকার (অস্বীকৃত) হিসেবে দেখিনি এবং আমি আশা করি যে, তাঁর ও তাঁর বর্ণনার মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। উকাইলি 'আদ-দুয়াফা' গ্রন্থে বলেন: তিনি বসরাবাসী এবং মুসলিমদের অন্যতম সরদার। ইজলি বলেন: তাঁর বর্ণনায় কোনো সমস্যা নেই। ফাল্লাস বলেন: তিনি শক্তিশালী নন। হাকেম বলেন: তাঁদের মতে তিনি মজবুত নন। বিশর বিন উমর শু'বা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আর-রাবী বিন সাবিহকে অনেক সম্মান করতেন। ইবনে হিব্বান বলেন: তিনি বসরাবাসীদের অন্যতম ইবাদতকারী ও যাহেদ (বিরাগী) ছিলেন। অধিক তাহাজ্জুদের কারণে রাতের বেলা তাঁর ঘর মৌমাছির গুঞ্জনের মতো শব্দে মুখরিত থাকত। তবে হাদিস চর্চা তাঁর মূল পেশা ছিল না, তাই বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি ভুল করতেন, এমনকি অজান্তেই তাঁর বর্ণনায় মুনকার বিষয় চলে আসত। তিনি যখন এককভাবে কোনো বর্ণনা করেন, তখন সেটি দলিল হিসেবে গ্রহণ করা আমার নিকট পছন্দনীয় নয়। রামাহুরমুজি 'আল-ফাদিল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বসরার প্রথম গ্রন্থ সংকলক—'তাহজিবুত তাহজিব' থেকে সংক্ষেপিত।

চলবি 'কাশফুয যুনুন' গ্রন্থে ইসলামে প্রথম গ্রন্থ সংকলন সম্পর্কে আলোচনার পর বলেন: জেনে রাখুন যে, প্রথম সংকলক কে ছিলেন তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। বলা হয়েছে: প্রথম সংকলক হলেন ইমাম আব্দুল মালিক ইবনে আব্দুল আজিজ আল-বসরি। আবার বলা হয়েছে: আবু নাসর সাঈদ বিন আবি আরুবা—খতিব (বাগদাদী) এই দু'জনের কথা উল্লেখ করেছেন। আর বলা হয়েছে: রাবী বিন সাবিহ—এটি আবু মুহাম্মদ রামাহুরমুজি বলেছেন। এরপর সুফিয়ান বিন উয়াইনা। এরপর মদিনায় ইমাম মালিক বিন আনাস 'মুয়াত্তা' সংকলন করেন। এরপর মিশরে আব্দুল্লাহ বিন ওয়াহাব, ইয়ামেনে মা'মার বিন রাশিদ ও আব্দুর রাজ্জাক, কুফায় সুফিয়ান সাওরী ও মুহাম্মদ বিন ফুদাইল বিন গাযওয়ান, বসরায় হাম্মাদ বিন সালামা ও রাওহ বিন উবাদাহ, ওয়াসিতে হুশাইম এবং খোরাসানে আব্দুল্লাহ বিন মুবারক সংকলন করেন—সমাপ্ত।

তাবারী 'তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক' গ্রন্থে বলেন: তিনি বসরার স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর আব্দুল মালিক বিন শিহাব আল-মাসমায়ীর সাথে সিন্ধু অভিযানে বের হয়েছিলেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন—সমাপ্ত।

তাঁর মৃত্যু হিজরি ১৬০ সনে সিন্ধু ভূখণ্ডে হয়েছিল, যেমনটি 'আল-মুগনী'তে বর্ণিত আছে।

 

‌‌সুফাইহ বিন উমর আত-তাগলিবী

তিনি তাঁর সহোদর হিশাম বিন উমরের সাথে সিন্ধু ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছিলেন। যখন সিন্ধু এলাকায় বিদ্রোহ দেখা দিল, তখন হিশাম তাঁকে প্রেরণ করেন এবং তিনি তাঁর বাহিনী নিয়ে বের হন। পথিমধ্যে তিনি দেখতে পান—

 

‌‌আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আলাওয়ী যিনি মেহরান নদীর তীরে ভ্রমণ করছিলেন। সুফাইহ তাঁর দিকে অগ্রসর হতে চাইলে তাঁর সঙ্গীরা বললেন: ইনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বংশধর। রক্তক্ষয়ী পরিণতির ভয়ে আপনার ভাই তাঁকে সজ্ঞানে ছেড়ে দিয়েছিলেন, তাই তিনি তাঁর ওপর আক্রমণ করেননি। কিন্তু সুফাইহ বললেন: আমি তাঁকে আটক না করে বা হত্যা না করে মনসুরের কাছে ফিরে যাব না। ফলে আব্দুল্লাহ নিহত হন। এই ঘটনা আমি আব্দুল্লাহ এবং তাঁর ভাই হিশামের জীবনীতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আলাওয়ী

আমাদের মহান পূর্বপুরুষ আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান বিন আলী বিন আবি তালিব আল-হাশেমী আল-কুরাশী। তিনি আব্দুল্লাহ আল-আশতার বিন মুহাম্মদ আন-নাফস উজ-জাকিয়্যাহ বিন আব্দুল্লাহ আল-মাহয নামে প্রসিদ্ধ। আমার ধারণা মতে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আহলে বাইতের মধ্যে তিনিই সর্বপ্রথম হিন্দুস্তানের মাটিতে পদার্পণ করেন। তিনি মদিনায় জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন এবং তাঁর পিতা ও দাদার কাছে শিক্ষালাভ করেন। তিনি আব্বাসীয় খলিফা মনসুরের শাসনামলে হিন্দুস্তানে আগমন করেন। তাঁর আগমনের কারণ ছিল, তাঁর পিতা মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ যখন মনসুরের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন, তখন তিনি তাঁকে বসরায় প্রেরণ করেন। তিনি সেখান থেকে কিছু উৎকৃষ্ট ঘোড়া ক্রয় করেন যাতে সেগুলোকে উমর বিন হাফস আল-আতাকীর কাছে পৌঁছানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়। উমর বিন হাফস মনসুরের পক্ষ থেকে সিন্ধুর গভর্নর ছিলেন এবং তিনি মনসুরের সেনাপতিদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন যারা মুহাম্মদের হাতে বায়াত গ্রহণ করেছিলেন এবং তাঁর প্রতি অনুরাগী ছিলেন। তাঁরা সমুদ্রপথে সিন্ধুর দিকে যাত্রা করেন। উমর তাঁদের ঘোড়াগুলো উপস্থিত করার নির্দেশ দেন। তাঁদের কেউ একজন বললেন: আমরা আপনার কাছে ঘোড়ার চেয়েও উত্তম কিছু নিয়ে এসেছি, যাতে আপনার দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ রয়েছে, সুতরাং আমাদের দিন...
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٦)
الأمان! إما قبلت منا وإما سترت وأمسكت عن أذانا

حتى نخرج عن بلادك راجعين! فأمنه فذكر له حالهم وحال عبد الله بن محمد أرسله أبوه

إليه فرحب بهم وبايعهم، وأنزل عبد الله عنده مختفياً، ودا كبراء أهل البلد وقواده وأهل

بيته إلى البيعة فأجابوه، فقطع ألويتهم البيض، وهيأ لبسه من البياض ليخطب فيه، وتهيأ

لذلك يوم الخميس، فوصله مرك لطيف فيه رسول من امرأة عمر بن حفص تخبره بقتل محمد

بن عبد الله، فدخل على عبد الله فأخبره وعزاه، فقال له عبد الله: إن أمري قد ظهر

ودمي في عنقك، فقال عمر: قد رأيت رأياً، ههنا ملك من ملوك السند عظيم الشأن كبير

المملكة، وهو على شوكة أشد تعظيماً لرسول الله صلى الله عليه وسلم، وهو وفي أرسل

إليه وأعقد بينك وبينه عقداً فأوجهك إليه فلست ترام معه، ففعل ذلك وسار إليه عبد الله

فأكرمه وأظهر بره، وتسللت إليه الزيدية حتى اجتمع معه أربع مائة إنسان من أهل البصائر

فكان يركب فيهم ويتصيد في هيئة الملوك وآلاتهم، فلما انتهى ذلك إلى المنصور بلغ منه ما

بلغ وكتب إلى عمر بن حفص يخبره ما بلغه، فقرأ الكتاب على أهله وقال لهم: إن أقررت

بالقصة عزلني، وإن صرت إليه قتلني، وإن امتنعت حاربني، فقال له رجل منهم: ألق الذنب

علي وخذني وقيدني! فإنه سيكتب في حملي إليه فاحملني! فإنه لا يقدم علي لمكانك في

السند وحال أهل بيتك بالبصرة، فقال عمر: أخاف عليك خلاف ما تظن، قال: إن قتلت

فنفسي فداء لنفسك! فقيده وحبسه وكتب إلى المنصور بأمره، فكتب إليه المنصور يأمره

بحمله، فلما صار إليه ضرب عنقه، ثم استعمل على السند هشام بن عمرو التغلبي وأمر أن

يكاتب ذلك الملك بتسليم عبد الله بن محمد، فسار هشام إلى السند فملكها وكره أخذ

عبد الله بن محمد وأقبل يرى الناس أنه يكاتب ذلك الملك، واتصلت الأخبار بالمنصور

بذلك فجعل يكتب إليه يستحثه، فبينا هو كذلك إذ خرجت خارجة ببلاد السند فوجه

هشام أخاه سفيحاً فخرج في جيشه وطريقه بجنبات ذلك الملك، فبينا هو يسير إذ غبرة

قد ارتفعت فظن أنهم مقدمة العدو الذي يقصده، فوجه طلائعه فزحفت إليه فقالوا: هذا

عبد الله بن محمد العلوي يتنزه على شاطىء مهران! فمضى يريده فقال نصحاؤه: هذا ابن

رسول الله صلى الله عليه وسلم! وقد تركه أخوك متعمداً مخافة أن يبوء بدمه فلم يقصده،

فقال: ما كنت لأدع أخذه ولا أدع أحداً يحظى بأخذه أو قتله عند المنصور، وكان عبد

الله في عشرة فقصده فقاتله عبد الله وقاتل أصحابه حتى قتل وقتلوا جميعاً فلم يفلت منهم

مخبر وسقط عبد الله ببين القتلى فلم يشعر به، وقيل: إن أصحابه قذفوه في مهران حتى لا

يحمل رأسه، فكتب هشام بذلك إلى المنصور فكتب إليه المنصور يشكره ويأمره بمحاربة

ذلك الملك، فحاربه حتى ظفر به وقتله وغلب على مملكته.

وكان عبد الله قد اتخذ سراري فأولد واحدة منهن ولداً وهو محمد بن عبد الله الذي

يقال له: ابن الأشتر، فأخذ هشام السراري والولد معهن فسيرهن إلى المنصور، فسير

المنصور الولد إلى عامله بالمدينة وكتب معه بصحة نسبه وتسليمه إلى أهله، وكان ذلك

سنة إحدى وخمسين ومائة كما في الكامل.

 

‌‌عبد الملك بن شهاب المسمعي

سيره المهدي بن المنصور العباسي إلى بلاد الهند سنة تسع وخمسين ومائة وفرض مه

لألفين من أهل البصرة من جميع الأجناد وأشخصهم معه ومن المطوعة الذين كانوا يلزمون

المرابطات ألفاً وخمس مائة رجل، ووجه معه قائداً من أبناء أهل الشام يقال له، ابن الحباب

المذحجي، في سبع مائة من أهل الشام، وخرج معه من مطوعة أهل البصرة بأموالهم ألف

رجل فيهم فيما ذكر الربيع بن صبيح، ومن
নিরাপত্তা চাই! হয় আপনি আমাদের পক্ষ থেকে এটি গ্রহণ করবেন, না হয় আপনি বিষয়টি গোপন রাখবেন এবং আমাদের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকবেন, যতক্ষণ না আমরা আপনার দেশ ছেড়ে ফিরে যাই! অতঃপর তিনি তাঁকে নিরাপত্তা দান করলেন। তখন তিনি তাঁর কাছে তাদের অবস্থা এবং মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর প্রেরিত তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদের অবস্থা বর্ণনা করলেন। তিনি তাঁদের স্বাগত জানালেন এবং তাঁদের নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন। তিনি আব্দুল্লাহকে তাঁর কাছে গোপনে রাখলেন এবং শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তি, সেনাপতি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বায়আতের প্রতি আহ্বান জানালেন। তাঁরা তাতে সাড়া দিলেন। তিনি তাঁদের সাদা পতাকাগুলো প্রস্তুত করলেন এবং খুতবা দেওয়ার জন্য তাঁর সাদা পোশাক তৈরি করলেন।

বৃহস্পতিবারের জন্য তিনি প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন। এমতাবস্থায় উমর বিন হাফসের স্ত্রীর পক্ষ থেকে প্রেরিত এক দূতের মাধ্যমে একটি ছোট নৌযান তাঁর কাছে পৌঁছালো, যা তাঁকে মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহর নিহত হওয়ার সংবাদ জানালো। তখন তিনি আব্দুল্লাহর কাছে প্রবেশ করে তাঁকে সংবাদটি দিলেন এবং সমবেদনা প্রকাশ করলেন। আব্দুল্লাহ তাঁকে বললেন: ‘আমার বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়েছে এবং আমার রক্ত এখন আপনার ঘাড়ে।’ উমর বললেন: ‘আমি একটি উপায় বের করেছি। এখানে সিন্ধুর রাজাদের মধ্যে একজন মহান ও বিশাল সাম্রাজ্যের অধিকারী রাজা রয়েছেন।

তিনি অত্যন্ত প্রভাবশালী এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি অত্যধিক সম্মান প্রদর্শনকারী। তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারী। তাঁর কাছে খবর পাঠান এবং আমি আপনার ও তাঁর মধ্যে একটি চুক্তি করে দিচ্ছি। আমি আপনাকে তাঁর কাছে পাঠিয়ে দেব, সেখানে আপনি নিরাপদ থাকবেন।’ তিনি তাই করলেন এবং আব্দুল্লাহ তাঁর কাছে গমন করলেন। সেই রাজা তাঁকে সম্মান প্রদর্শন করলেন এবং তাঁর প্রতি সদাচরণ প্রকাশ করলেন। জাইদিয়াহ সম্প্রদায়ের লোকেরা গোপনে তাঁর কাছে আসতে লাগল, এমনকি তাঁর কাছে অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন চারশ মানুষ একত্রিত হলো। তিনি তাঁদের সাথে রাজকীয় বেশভূষা ও সাজসজ্জা নিয়ে বের হতেন এবং শিকার করতেন। যখন এই সংবাদ মনসুরের কাছে পৌঁছালো, তা তাকে অত্যন্ত বিচলিত করল। তিনি উমর বিন হাফসের কাছে পত্র লিখলেন এবং তাঁকে যা শুনেছেন তা জানালেন। উমর তাঁর পরিবারের সামনে পত্রটি পাঠ করলেন এবং তাঁদের বললেন: ‘যদি আমি এই ঘটনা স্বীকার করি, তবে তিনি আমাকে বরখাস্ত করবেন। যদি আমি তাঁর কাছে যাই, তবে তিনি আমাকে হত্যা করবেন। আর যদি আমি অবাধ্য হই, তবে তিনি আমার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন।’ তাঁদের মধ্য থেকে একজন লোক তাঁকে বলল: ‘আপনি আমার ওপর দোষ চাপিয়ে দিন, আমাকে বন্দী করুন এবং শেকল পরিয়ে দিন! তিনি অবশ্যই আমাকে তাঁর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে লিখবেন, তখন আপনি আমাকে পাঠিয়ে দেবেন! সিন্ধুতে আপনার অবস্থান এবং বসরায় আপনার পরিবারের অবস্থার কারণে তিনি আমার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো করবেন না।’ উমর বললেন: ‘তুমি যা ভাবছ, আমি তোমার ব্যাপারে তার বিপরীত কিছুর ভয় করছি।’ সে বলল: ‘যদি আমি নিহত হই, তবে আমার প্রাণ আপনার প্রাণের জন্য উৎসর্গ হবে!’ তখন তিনি তাকে শেকল পরিয়ে কারারুদ্ধ করলেন এবং মনসুরকে তার বিষয়ে লিখে জানালেন। মনসুর তাকে পাঠানোর নির্দেশ দিয়ে লিখলেন। যখন তাকে তাঁর কাছে নিয়ে যাওয়া হলো, তিনি তার শিরশ্ছেদ করলেন। অতঃপর তিনি হিশাম বিন আমর আত-তাগলিবিকে সিন্ধুর গভর্নর নিযুক্ত করলেন এবং নির্দেশ দিলেন যেন তিনি সেই রাজাকে আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদকে হস্তান্তর করার জন্য পত্র লিখেন। হিশাম সিন্ধুতে গিয়ে তা জয় করলেন। তিনি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদকে পাকড়াও করা অপছন্দ করতেন এবং মানুষের সামনে এমন ভান করতেন যেন তিনি সেই রাজাকে পত্র লিখছেন। মনসুরের কাছে এর সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাকে তাগাদা দিয়ে পত্র লিখতে থাকলেন। এমতাবস্থায় সিন্ধু দেশে একটি বিদ্রোহী দল বিদ্রোহ করল। হিশাম তাঁর ভাই সুফাইহকে পাঠালেন। তিনি তাঁর সেনাবাহিনী নিয়ে বের হলেন এবং তাঁর পথ ছিল সেই রাজার পার্শ্ববর্তী এলাকা দিয়ে। তিনি যখন যাচ্ছিলেন, তখন ধুলো উড়তে দেখলেন। তিনি ভাবলেন যে এটি সেই শত্রুর অগ্রবর্তী দল যাদের তিনি খুঁজছেন। তিনি তাঁর অগ্রবর্তী দল পাঠালেন এবং তারা তাঁর দিকে অগ্রসর হলো। তারা বলল: ‘এটি তো আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আলাবি, তিনি মেহরান নদীর তীরে বিচরণ করছেন!’ তিনি যখন তাঁর দিকে অগ্রসর হতে চাইলেন, তখন তাঁর উপদেষ্টারা বললেন: ‘ইনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধর! আপনার ভাই তাঁর রক্তের দায়ভার নেওয়ার ভয়ে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দিয়েছেন।’ ফলে তিনি তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন না। তখন সুফাইহ বললেন: ‘আমি তাঁকে ধরা থেকে বিরত থাকব না এবং মনসুরের কাছে তাঁকে ধরার বা হত্যা করার কৃতিত্ব অন্য কাউকে নিতে দেব না।’ আব্দুল্লাহ মাত্র দশজন সঙ্গীর সাথে ছিলেন। সুফাইহ তাঁর দিকে অগ্রসর হলেন। আব্দুল্লাহ ও তাঁর সঙ্গীরা লড়াই করলেন এবং পরিশেষে তিনি ও তাঁর সঙ্গীরা সকলে নিহত হলেন। সংবাদ দেওয়ার মতো তাঁদের কেউ অবশিষ্ট থাকল না। আব্দুল্লাহ নিহতদের মাঝে পড়ে রইলেন, কেউ তাঁকে চিনতে পারল না। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর সঙ্গীরা তাঁকে মেহরান নদীতে ফেলে দিয়েছিল যাতে তাঁর মস্তক কেউ নিয়ে যেতে না পারে। হিশাম এই বিষয়ে মনসুরের কাছে পত্র লিখলেন। মনসুর তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি পত্র দিলেন এবং সেই রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধের নির্দেশ দিলেন। তিনি তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জয়ী হলেন, তাঁকে হত্যা করলেন এবং তাঁর সাম্রাজ্য দখল করলেন।

আব্দুল্লাহর বেশ কয়েকজন দাসী ছিল। তাঁদের একজনের গর্ভে তাঁর একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে, যার নাম ছিল মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ, যাকে ‘ইবনুল আশতার’ বলা হয়। হিশাম সেই দাসীদের এবং তাঁদের সাথে শিশুটিকে নিয়ে মনসুরের কাছে পাঠিয়ে দিলেন। মনসুর শিশুটিকে মদিনায় তাঁর গভর্নরের কাছে পাঠিয়ে দিলেন এবং তার বংশপরিচয়ের বিশুদ্ধতা ও তাকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দিয়ে পত্র লিখলেন। আল-কামিল কিতাব অনুযায়ী এটি ছিল ১৫১ হিজরি সালের ঘটনা।

 

‌‌আব্দুল মালিক বিন শিহাব আল-মিসমাঈ

আব্বাসীয় খলিফা মনসুরের পুত্র আল-মাহদী তাঁকে ১৫৯ হিজরি সালে ভারত অভিমুখে প্রেরণ করেন। তিনি সকল বাহিনী থেকে বসরার দুই হাজার লোকের জন্য বেতন ও রসদ নির্ধারণ করে দেন এবং তাঁদের তাঁর সাথে প্রেরণ করেন। তাঁদের সাথে স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্য থেকে যারা সীমান্ত পাহারায় রত থাকত, এমন দেড় হাজার লোককেও পাঠান। তিনি তাঁর সাথে সিরিয়ার অধিবাসীদের মধ্য থেকে ইবনুল হুবাব আল-মাযহিজী নামক এক সেনাপতিকে সাতশ সিরীয় সৈন্যসহ প্রেরণ করেন। তাঁর সাথে বসরার স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্য থেকে এক হাজার লোক তাঁদের নিজস্ব অর্থায়নে বের হয়, যাঁদের মধ্যে রবী বিন সাবিহও ছিলেন। এবং...
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٧)
الأسواريين والسبابجة أربعة آلاف رجل، فولى

عبد الملك بن شهاب المنذر بن محمد الجارودي الألف الرجل المطوعة من أهل البصرة،

وولي ابنه غسان بن عبد الملك الألفي الرجل الذين من فرض البصرة، وولي ابنه عبد

الواحد بن عبد الملك الألف والخمس مائة الرجل من مطوعة المرابطات.

وأفرد يزيد بن الحباب في أصحابه فخرجوا وكان المهدي وجه لتجهيزهم حتى شخصوا أبا

القاسم محرز بن إبراهيم فرضوا لوجههم وساروا في البحر حتى نزلوا على باربد سنة ستين

ومائة، فلما نازلوها حصروها من نواحيها وحرض الناس بعضهم بعضاً على الجهاد

وضايقوا أهلها ففتحها الله عليهم هذه السنة عنوة، واحتمى أهلها بالبد بت خانه الذي

لهم فأحرقه المسلمون عليهم، فأحرق بعضهم وقتل الباقون، واستشهد من المسلمين بضعة

وعشرون رجلاً وأفاءها الله عليهم، فهاج عليهم البحر فأقاموا إلى أن يطيب، فأصابهم

مرض في أفواههم فمات منهم نحو من ألف رجل منهم الربيع بن صبيح، ثم رجعوا فلما

بلغوا ساحلاً من فارس يقال له بحر حمران عصفت بهم الريح ليلاً فانكسر عامة مراكبهم

فغرق البعض ونجا البعض ووصل عبد الملك إلى بغداد، فولاه المهدي بن المنصور على بلاد

السند سنة إحدى وستين ومائة وعزله بعد سبعة عشر يوماً من قدومه أرض الهند، كما

في الكامل.

 

‌‌عمر بن حفص العتكي

عمر بن حفص بن عثمان بن قبيصة بن أبي صفرة العتكي المعروف بهزار مرد- يعني ألف

رجل- كان من قواد المنصور ممن بايع محمد بن عبد الله العلوي المشهور بالنفس الزكية،

استعمله المنصور على السند والهند سنة اثنتين وأربعين ومائة، فقدمها فحارقه عيينة بن

موسى التميمي فسار حتى ورد السند فغلب عليها وقام بالملك.

وفي أيامه قدم الهند عبد الله بن محمد بن عبد الله العلوي وقد تقدم خبره في ترجمته، وقد

عزل المنصور في تلك القصة عمر بن حفص عن السند سنة إحدى وخمسين ومائة

واستعمله على أفريقية، فسار إلى قيروان في خمس مائة فارس فاجتمع وجوه البلد فوصلهم

وأحسن إليهم وأقام والأمور مستقيمة ثلاث سنين، فسار إلى الزاب لبناء مدينة طبنة بأمر

المنصور واستخلف على القيروان حبيب بن حبيب المهلبي، فخلت أفريقية من الجند فثار

بها البربر واجتمعوا بطرابلس وولوا عليهم أبا حاتم الأباضي وعمت الفتنة البلاد كلها،

ورجع عمر إلى القيروان فحصروه وطال الحصار حتى أكلوا دوابهم وفي كل يوم يكون بينهم

قتال وحرب، فلما ضاق الأمر بعمر وبمن معه فعزم على إلقاء نفسه إلى الموت فأتى الخبر أن

المنصور قد سير إليه يزيد بن حاتم المهلبي في ستين ألف مقاتل وأشار عليه من عنده

بالتوقف عن القتال إلى أن يصل العسكر، فلم يفعل وخرج وقاتل فقتل في منتصف ذي الحجة

سنة أربع وخمسين ومائة، كما في الكامل.

 

‌‌عمرو بن محمد الثقفي

عمرو بن محمد بن القاسم بن محمد بن الحكم بن أبي عقيل الثقفي الذي كان والده فتح

بلاد السند وكان مع الحكم بن عوانة الكلبي حين ولي بلاد السند فكان يفوض إليه ويقلده

جسيم أموره وأعماله، فلما قتل الحكم سنة اثنتين وعشرين ومائة قام بالملك ورضي بولايته

هشام بن عبد الملك الخليفة الأموي فحارب العدو وظفر، ثم بغي عليه مروان بن يزيد بن

المهلب فقتله، ولما مات هشام وولي بعده يزيد بن الوليد عزل
আসওয়ারী এবং সাবাবিজাহদের সংখ্যা ছিল চার হাজার লোক। এরপর আবদুল মালিক ইবনে শিহাব বসরাবাসীদের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবী এক হাজার লোকের ওপর মুনজির ইবনে মুহাম্মদ আল-জারুদিকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

আর তাঁর পুত্র গাসসান ইবনে আবদুল মালিককে বসরার নির্ধারিত এক হাজার সেনার দায়িত্ব প্রদান করেন। এবং তাঁর অপর পুত্র আবদুল ওয়াহিদ ইবনে আবদুল মালিককে মুরবিতাত (সীমান্ত পাহারা) স্বেচ্ছাসেবী এক হাজার পাঁচশ লোকের দায়িত্ব প্রদান করেন।

এবং ইয়াজিদ ইবনে আল-হুবাবকে তাঁর সঙ্গীদের মাঝে পৃথক করা হলো, ফলে তাঁরা বের হলেন। আল-মাহদী তাঁদের সাজসজ্জার জন্য দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন যতক্ষণ না তাঁরা আবুল কাসিম মুহরিজ ইবনে ইব্রাহিমকে মনোনীত করেন। তাঁরা তাঁদের উদ্দেশ্যের ব্যাপারে সম্মত হন এবং সমুদ্রপথে যাত্রা করেন, অবশেষে একশ ষাট হিজরি সনে তাঁরা বারবেদে অবতরণ করেন। যখন তাঁরা সেখানে অবস্থান নিলেন, তখন চারদিক থেকে তা অবরোধ করলেন এবং লোকেরা একে অপরকে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করতে লাগলেন।

তাঁরা সেখানকার অধিবাসীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেন, ফলে এই বছর আল্লাহ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বিজয় দান করলেন। সেখানকার অধিবাসীরা তাদের মন্দির বা 'বুতখানা'র ভেতরে আশ্রয় নিল, ফলে মুসলমানগণ সেটি তাদের ওপর জ্বালিয়ে দিলেন। এতে তাদের কেউ কেউ পুড়ে মারা গেল এবং বাকিরা নিহত হলো। মুসলমানদের পক্ষ থেকে বিশ জনের কিছু বেশি লোক শাহাদাত বরণ করেন এবং আল্লাহ এটি গনীমত হিসেবে তাদের দান করেন। এরপর সমুদ্রে উত্তাল ঢেউ সৃষ্টি হলো, তাই শান্ত হওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেখানে অবস্থান করলেন।

তখন তাঁদের মুখে এক প্রকার রোগ দেখা দিল, ফলে তাঁদের মধ্যে থেকে প্রায় এক হাজার লোক মারা গেলেন, যাঁদের মধ্যে রাবি ইবনে সবিহও ছিলেন। এরপর তাঁরা ফিরে চললেন। যখন তাঁরা পারস্যের একটি উপকূলে পৌঁছালেন যাকে হামরান সাগর বলা হয়, তখন রাতে ঝোড়ো বাতাস তাঁদের ওপর আঘাত হানে। ফলে তাঁদের অধিকাংশ জাহাজ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

কেউ কেউ ডুবে গেলেন এবং কেউ কেউ বেঁচে গেলেন। আবদুল মালিক বাগদাদে পৌঁছালেন এবং আল-মাহদী ইবনে আল-মনসুর একশ একষট্টি হিজরি সনে তাঁকে সিন্ধু ভূখণ্ডের শাসনকর্তা নিযুক্ত করলেন। কিন্তু ভারত ভূমিতে পৌঁছানোর সতের দিন পর তাঁকে পদচ্যুত করেন, যেমনটি 'আল-কামিল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌উমর ইবনে হাফস আল-আতাকি

উমর ইবনে হাফস ইবনে উসমান ইবনে কুবাইসা ইবনে আবি সুফরা আল-আতাকি, যিনি 'হাজার মার্দ'—অর্থাৎ এক হাজার লোক—হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি আল-মনসুরের সেনাপতিদের একজন ছিলেন এবং মুহাম্মাদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আলাভি, যিনি আন-নাফস উজ-জাকিয়্যাহ নামে পরিচিত, তাঁর নিকট বায়আত গ্রহণ করেছিলেন।

আল-মনসুর তাঁকে একশ বিয়াল্লিশ হিজরি সনে সিন্ধু ও ভারতের শাসনকর্তা হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি সেখানে আসার পর উয়াইনা ইবনে মুসা আত-তামিমি তাঁর বিরোধিতা করেন। উমর অগ্রসর হলেন এবং সিন্ধুতে প্রবেশ করে তার ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন এবং শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

তাঁর শাসনকালেই আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আলাভি ভারতে আগমন করেন, যাঁর বৃত্তান্ত তাঁর জীবনী আলোচনায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল-মনসুর একশ একান্ন হিজরি সনে উমর ইবনে হাফসকে সিন্ধু থেকে পদচ্যুত করেন

এবং তাঁকে আফ্রিকার (তিউনিসিয়া অঞ্চল) গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি পাঁচশ অশ্বারোহী নিয়ে কায়রোয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ সমবেত হলেন, তিনি তাঁদের সাথে মিলিত হলেন এবং তাঁদের প্রতি সৌজন্য প্রদর্শন করলেন। সেখানে তিন বছর যাবত পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল। এরপর আল-মনসুরের আদেশে তুবনা শহর নির্মাণের উদ্দেশ্যে তিনি জাবের দিকে যাত্রা করেন

এবং কায়রোয়ানে হাবিব ইবনে হাবিব আল-মুহাল্লাবিকে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করেন। ফলে আফ্রিকা সৈন্যশূন্য হয়ে পড়ে এবং বার্বাররা বিদ্রোহ শুরু করে। তারা ত্রিপোলিতে একত্রিত হয়ে আবু হাতেম আল-ইবাদিকে তাদের নেতা নির্বাচিত করে এবং ফিতনা পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

উমর কায়রোয়ানে ফিরে আসলেন এবং বিদ্রোহীরা তাঁকে অবরোধ করল। এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলো, এমনকি তাঁরা তাঁদের পশুগুলো পর্যন্ত খেতে বাধ্য হলেন এবং প্রতিদিন তাঁদের মধ্যে যুদ্ধ ও লড়াই চলত। যখন উমর ও তাঁর সাথীদের অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ল, তখন তিনি বীরবিক্রমে যুদ্ধের সংকল্প করলেন। এমন সময় সংবাদ এলো যে

আল-মনসুর তাঁর কাছে ষাট হাজার যোদ্ধা সহ ইয়াজিদ ইবনে হাতেম আল-মুহাল্লাবিকে পাঠিয়েছেন। তাঁর নিকটস্থ ব্যক্তিগণ তাঁকে পরামর্শ দিলেন যে, সাহায্যকারী সেনাবাহিনী না আসা পর্যন্ত যুদ্ধ স্থগিত রাখা হোক। কিন্তু তিনি তা মানলেন না এবং যুদ্ধে বেরিয়ে পড়লেন। একশ চুয়ান্ন হিজরি সনের জিলহজ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তিনি নিহত হন, যেমনটি 'আল-কামিল' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে।

 

‌‌আমর ইবনে মুহাম্মদ আস-সাকাফি

আমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে কাসিম ইবনে মুহাম্মদ ইবনে হাকাম ইবনে আবি আকিল আস-সাকাফি, যাঁর পিতা সিন্ধু বিজয় করেছিলেন। তিনি হাকাম ইবনে আওয়ানা আল-কালবির সাথে ছিলেন যখন হাকাম সিন্ধুর শাসনভার গ্রহণ করেন। হাকাম তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও কার্যাবলি আমরের ওপর ন্যস্ত করতেন এবং তাঁকে দায়িত্ব প্রদান করতেন।

যখন একশ বাইশ হিজরি সনে হাকাম নিহত হলেন, তখন আমর শাসন ক্ষমতা গ্রহণ করলেন এবং উমাইয়া খলিফা হিশাম ইবনে আবদুল মালিক তাঁর শাসনে সন্তুষ্ট হলেন। তিনি শত্রুদের সাথে যুদ্ধ করলেন এবং জয়লাভ করলেন। এরপর মারওয়ান ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আল-মুহাল্লাব তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং তাঁকে হত্যা করেন। যখন হিশাম মৃত্যুবরণ করেন এবং তাঁর পরে ইয়াজিদ ইবনে আল-ওয়ালিদ শাসনভার গ্রহণ করেন, তখন তিনি পদচ্যুত করেন।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٨)
عمرو بن محمد سنة خمس

وعشرين ومائة.

 

‌‌عمرو بن مسلم الباهلي

استعمله عمر بن عبد العزيز الخليفة الصالح على بلاد السند والهند سنة مائة، وكتب إلى

الملوك يدعوهم إلى الاسلام والطاعة على أن يملكهم، ولهم ما للمسلمين وعليهم ما عليهم،

وقد كانت بلغتهم سيرته ومذهبه فأسلم جي سنكه والملوك وتسموا بأسماء العرب، وغزا

عمرو بن مسلم بعض الهند فظفر، وبقي ملوك السند مسلمين على بلادهم أيام عمر ويزيد

بن عبد الملك، فلما كان أيام هشام بن عبد الملك ارتدوا عن الاسلام، وكان سببه ما ندكره

إن شاء الله تعالى.

وقدم بنو الملهب إلى السند هاربين في أيام يزيد بن عبد الملك فوجه إليهم هلال بن أحوز

التميمي، فقتل مدرك بن المهلب بقندابيل قندهار وقتل المفضل وعبد الملك وزياد ومرواهن

ومعاوية بني المهلب، وقتل معاوية بن يزيد في آخرين، كما في فتوح البلدان.

 

‌‌عيينة بن موسى التميمي

عيينة بن موسى بن كعب التميمي كان والده على شرط السفاح فاستخلف مكانه

المسيب بن زهير وقدم السند وقدم معه ولده عيينة، ولما سار أبوه إلى العراق استخلفه

على السند، وخلعه المنصور سنة اثنتين وأربعين ومائة، وسبب خلعه أن أباه استخلف

المسيب بن زهير على الشرط، فلما مات موسى أقام المسيب على ما كان بلى من الشرط

وخاف أن يحضر المنصور عيينة فيوليه ما كان إلى أبيه فكتب إليه ببيت شعر ولم ينسب

الكتاب إلى نفسه.

فأرضك أرضك إن تأتنا تنم نومة ليس فيها حلم

فخلع الطاعة، فلما بلغ الخبر إلى المنصور سار بعسكره حتى نزل على جسر البصرة

ووجه عمر بن حفص العتكي عاملاً على السند والهند، فحاربه عيينة فسار حتى ورد

السند فغلب عليها، كما في الكامل.

 

‌‌ليث بن طريف الكوفي

استعمله المهدي بن المنصور العباسي على بلاد السند- وكان مولدا من مواليه- فقام

بالأمر مدة من الزمان، وخرج عليه الزط جاث سنة خمس وستين ومائة، فسير إليه المهدي

جيشاً كثيفاً، فقاتل الزط وقتلهم، وعزله هارون بن المهدي لعله سنة سبعين ومائة.

محمد بن عبد الله العلوي

السيد الشريف محمد بن عبد الله بن محمد بن عبد الله بن الحسن بن الحسن ابن علي بن

أبي طالب الهاشمي القرشي المديني المشهور بابن الأشتر ولد بأرض السند، ولما قتل والده

عبد الله سيره هشام بن عمرو التغلبي أمير السند إلى المنصور الخليفة العباسي، فسيره

المنصور إلى عامله بالمدينة وكتب معه بصحة نسبه وتسليمه إلى أهله سنة إحدى وخمسين

ومائة، كما في الكامل.

وقال جمال الدين أحمد بن علي الداودي في عمدة الطالب: قال الشيخ أبو نصر البخاري:

قتل عبد الله الأشتر بالسند وحملت جاريته وصبي معها يقال له محمد بعد قتله وكتب أبو

جعفر المنصور إلى المدينة بصحة نسبه، وقال: كتب إلى حفص بن عمر المعروف بهزار مرد

أمير السند بذلك، ثم قال الشيخ أبو نصر البخاري: وروى عن جعفر الصادق أنه قال:

كيف يثبت النسب بكتابة رجل إلى رجل! ذكر ذلك أبو اليقظان ويحيى بن الحسن

العقيقي وغيرهما- والله أعلم، ثم قال أبو نصر البخاري: وقال آخرون: أعقب وصح

نسبه- انتهى.

أما ما نقل جمال الدين عن جعفر الصادق فيقدح فيه أن جعفر الصادق توفي سنة 148

وكانت الواقعة في سنة 151، فلا تصح نسبة هذا القول إلى جعفر الصادق.
আমর ইবনে মুহাম্মদ একশত পঁচিশ হিজরি।

‌‌আমর ইবনে মুসলিম আল-বাহিলি

সালেহ খলিফা উমর ইবনে আবদুল আজিজ তাকে একশত হিজরিতে সিন্ধু ও হিন্দ ভূখণ্ডের গভর্নর নিযুক্ত করেন। তিনি রাজাদের কাছে ইসলাম গ্রহণ ও আনুগত্যের আহ্বান জানিয়ে এই শর্তে পত্র লেখেন যে, তিনি তাদের রাজত্ব বহাল রাখবেন এবং মুসলমানদের জন্য যা (অধিকার ও দায়িত্ব) নির্ধারিত রয়েছে তাদের জন্যও তাই থাকবে। তাদের কাছে খলিফার জীবনচরিত ও তাঁর নীতি পৌঁছেছিল, ফলে জয় সিং এবং অন্যান্য রাজারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আরবদের অনুকরণে নাম ধারণ করেন। আমর ইবনে মুসলিম ভারতের কিছু অংশে অভিযান চালিয়ে জয়লাভ করেন। উমর এবং ইয়াজিদ ইবনে আবদুল মালিকের সময়কালে সিন্ধুর রাজারা মুসলিম হিসেবে নিজ নিজ ভূখণ্ডে বহাল ছিলেন। অতঃপর যখন হিশাম ইবনে আবদুল মালিকের শাসনকাল এলো, তখন তারা ইসলাম থেকে বিচ্যুত হয়ে মুরতাদ হয়ে গেল। এর কারণ ইনশাআল্লাহ আমরা যথাস্থানে উল্লেখ করব।

মুহাল্লাব বংশীয়রা ইয়াজিদ ইবনে আবদুল মালিকের শাসনামলে পলায়ন করে সিন্ধুতে আসে। তিনি তাদের বিরুদ্ধে হিলাল ইবনে আহওয়াজ আল-তামিমিকে প্রেরণ করেন। তিনি কান্দাবিল কান্দাহারে মুদরিক ইবনে আল-মুহাল্লাবকে এবং মুহাল্লাবের পুত্র মুফাদ্দাল, আবদুল মালিক, জিয়াদ, মারওয়ান ও মুয়াবিয়াকে হত্যা করেন। এছাড়া আরও অনেকের সাথে মুয়াবিয়া ইবনে ইয়াজিদকেও হত্যা করা হয়, যেমনটি ফুতুহুল বুলদান গ্রন্থে উল্লেখ আছে।

 

‌‌উইয়াইনাহ ইবনে মুসা আল-তামিমি

উইয়াইনাহ ইবনে মুসা ইবনে কাব আল-তামিমি। তাঁর পিতা খলিফা আস-সাফফাহর নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি আল-মুসাইয়িব ইবনে জুহাইরকে নিজের স্থলাভিষিক্ত করে সিন্ধুতে আসেন এবং সাথে তাঁর পুত্র উইয়াইনাহকেও নিয়ে আসেন। যখন তাঁর পিতা ইরাকের দিকে যাত্রা করেন, তখন তিনি তাকে সিন্ধুর দায়িত্ব দিয়ে যান। খলিফা মনসুর একশত বিয়াল্লিশ হিজরিতে তাকে পদচ্যুত করেন। তাঁর পদচ্যুতির কারণ ছিল এই যে, তাঁর পিতা আল-মুসাইয়িব ইবনে জুহাইরকে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন। যখন মুসা মারা গেলেন, তখন আল-মুসাইয়িব সেই পদেই বহাল রইলেন। তিনি আশঙ্কা করলেন যে খলিফা মনসুর উইয়াইনাহকে ডেকে পাঠিয়ে তাঁর পিতার পদটি তাকে প্রদান করবেন। তাই তিনি তাকে একটি চিঠিতে একটি কবিতার পঙক্তি লিখে পাঠালেন, কিন্তু চিঠিতে নিজের নাম উল্লেখ করলেন না।

তোমার ভূখণ্ডেই তুমি থাকো, যদি আমাদের কাছে আসো তবে এমন এক ঘুমে আচ্ছন্ন হবে যাতে কোনো স্বপ্ন নেই।

অতঃপর তিনি আনুগত্য ত্যাগ করেন। যখন এই সংবাদ খলিফা মনসুরের কাছে পৌঁছাল, তিনি সসৈন্যে যাত্রা করে বসরার সেতুর কাছে অবস্থান নিলেন এবং উমর ইবনে হাফস আল-আতাকিকে সিন্ধু ও হিন্দের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করে পাঠালেন। উইয়াইনাহ তাঁর সাথে যুদ্ধ করেন, অতঃপর উমর সিন্ধুতে পৌঁছে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করেন, যেমনটি আল-কামিল গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌লাইস ইবনে তারিফ আল-কুফি

আব্বাসীয় খলিফা আল-মাহদি ইবনে আল-মনসুর তাকে সিন্ধু ভূখণ্ডের গভর্নর নিযুক্ত করেন—তিনি ছিলেন তাঁর অন্যতম মুক্তদাস। তিনি দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন। একশত পঁয়ষট্টি হিজরিতে জাট জাতি তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে। আল-মাহদি তাদের বিরুদ্ধে এক বিশাল সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। তিনি জাটদের সাথে যুদ্ধ করে তাদের দমন করেন। হারুন ইবনে আল-মাহদি সম্ভবত একশত সত্তর হিজরিতে তাকে পদচ্যুত করেন।

মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ আল-আলাভি

সাইয়্যিদ শরীফ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে হাসান ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবু তালিব হাশেমি কুরাশি মাদিনি, যিনি ইবনে আল-আশতার নামে সমধিক পরিচিত। তিনি সিন্ধু ভূখণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। যখন তাঁর পিতা আবদুল্লাহ নিহত হন, সিন্ধুর আমির হিশাম ইবনে আমর আল-তাগলিবি তাকে আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুরের কাছে প্রেরণ করেন। মনসুর তাকে মদিনার গভর্নরের নিকট পাঠান এবং একশত একান্ন হিজরিতে তাঁর বংশ পরিচয়ের সত্যতা ও পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আদেশ দিয়ে পত্র লেখেন, যেমনটি আল-কামিল গ্রন্থে উল্লেখ আছে।

জামালুদ্দিন আহমদ ইবনে আলী আদ-দাউদি 'উমদাতুত তালিব' গ্রন্থে বলেন: শেখ আবু নাসর আল-বুখারি বলেছেন: আবদুল্লাহ আল-আশতার সিন্ধুতে নিহত হন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর এক দাসী এবং মুহাম্মদ নামক এক বালককে নিয়ে আসা হয়। আবু জাফর মনসুর মদিনায় তাঁর বংশ পরিচয়ের সত্যতা নিশ্চিত করে পত্র লেখেন। তিনি বলেন: সিন্ধুর আমির হাফস ইবনে উমর, যিনি হাজার মারদ নামে পরিচিত ছিলেন, তাকে এ বিষয়ে লেখা হয়েছিল। এরপর শেখ আবু নাসর আল-বুখারি বলেন: জাফর আস-সাদিক থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: "এক ব্যক্তির কাছে অন্য এক ব্যক্তির পত্রের মাধ্যমে কীভাবে বংশ পরিচয় প্রমাণিত হয়!" আবু আল-ইয়াকজান, ইয়াহইয়া ইবনে আল-হাসান আল-আকিকি এবং অন্যরা এটি উল্লেখ করেছেন—আল্লাহই ভালো জানেন। এরপর আবু নাসর আল-বুখারি বলেন: অন্যেরা বলেছেন যে, তাঁর বংশধারা অব্যাহত ছিল এবং তাঁর বংশ পরিচয় সঠিক—সমাপ্ত।

জামালুদ্দিন জাফর আস-সাদিক থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে ত্রুটি রয়েছে, কারণ জাফর আস-সাদিক ১৪৮ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন এবং এই ঘটনাটি ঘটেছিল ১৫১ হিজরিতে। সুতরাং এই উক্তিটি জাফর আস-সাদিকের দিকে নিসবত করা সঠিক নয়।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٤٩)
وولد محمد بن عبد الله الأشتر خمسة بنين: طاهراً وعلياً وأحمد وإبراهيم والحسن

الأعور الجواد، وعقب محمد بن عبد الله الأشتر الذي لا خلاف فيه من الحسن الأعور

الجواد، وكان أحد أجواد بني هاشم الممدوحين المعدودين ويكنى أبا محمد، قتيل قتله

طيء في ذي الحجة سنة 251.

وقال ابن الشعراني النسابة: قتل الحسن أيام المعتز وعقب الحسن الأعور الجواد من أربعة

رجال وهم: أبو جعفر محمد نقيب الكوفة وأبو عبد الله الحسين نقيب الكوفة أيضاً وأبو

محمد عبد الله والقاسم، وذكر ابن طباطبا أبا العباس أحمد بن الحسين الأعور أيضاً، وكان

أعقب عبد الله بن الحسن الأعور من ثلاثة رجال: علي والقاسم وأحمد، كما في عمدة

الطالب، أما القاسم بن عبد الله بن الحسن الأعور بن محمد بن عبد الله الأشتر فخرج من

عقبه طيب كثير منهم شيخ الاسلام قطب الدين محمد بن أحمد بن يوسف بن عيسى ابن

حسن بن الحسين بن جعفر بن قاسم المتوفي بمدينة كزه سنة 677 وهو من أجدادنا،

وسنذكره في ما بعد إن شاء الله تعالى.

 

‌‌مروان بن يزيد المهلبي

قدم الهند هارباً في أيام يزيد بن عبد الملك الأموي وسكن بأرض السند ثم بغى على

عمرو بن محمد بن القاسم الثقفي فقتله عمرو في أيام هشام ابن عبد الملك.

 

‌‌معبد بن الخليل التميمي

استعمله المنصور العباسي على السند سنة سبع وخمسين ومائة وكان بخراسان، كتب

إليه بولايته فسار إلى بلاد السند وفتح ما استغلق، ومات بالسند سنة تسع وخمسين ومائة

في أيام المهدي بن المنصور، كما في الكامل.

 

‌‌مغلس العبدي

استعمله عبد الرحمن بن مسلم أبو مسلم الخراساني على أرض السند، فأخذ على

طخارستان وسار حتى صار إلى

 

‌‌منصور بن جمهور الكلبي وهو بالسند، فلقيه منصور

فقتله وهزم جنده نحو سنة ثلاث وأربعين ومائة.

منصور بن جمهور الكلبي

منصور بن جمهور الكلبي أحد الستة الذين قتلوا الوليد بن يزيد بن عبد الملك الخليفة

الأموي، استعمله يزيد بن الوليد على العراق سنة ست وعشرين ومائة، ولم يكن منصور من

أهل الدين وإنما صار مع يزيد لرأيه في الغيلانية ولأنه شهد قتل الوليد، وقال له يزيد لما ولاه

العراق: إتق الله! واعلم أني قتلت الوليد، لفسقه ولما أظهر من الجور، فلا تركب مثل ما

قتلناه عليه! فقام بالملك مدة قليلة، عزله يزيد في تلك السنة، فكان يثير الفتن في نواحي

الأرض، ولما رأى أنه لا ملجأ له قدم الهند مع أخيه منظور سنة ثلاثين ومائة وقاتل يزيد بن

عرار فظفر به وقتله واستقل بأرض السند.

فلما كان أول الدولة العباسية ولي أبو مسلم عبد الرحمن بن مسلم مغلساً العبدي ثغر

السند، وأخذ على طخارستان وسار حتى صار إلى منصور بن جمهور الكلبي وهو

بالسند، فلقيه منصور فقتله وهزم جنده، فلما بلغ أبا مسلم ذلك عقد لموسى بن كعب

التميمي ثم وجهه إلى السند في اثنى عشر ألفاً، فلما قدمها كان بينه وبين منصور بن جمهور

مهران، ثم التقيا فهزم منصوراً وجيشه وقتل منظوراً أخاه، وخرج منصور مفلولاً هارباً

حتى ورد الرمل فمات عطشاً في الرمال.

وقد قيل: أصابه بطنه فمات، وسمع خليفته على السند بهزيمته فرجل بعيال منصور وثقله

فدخل بهم بلاد الخزر، وكان ذلك سنة أربع وثلاثين ومائة، كما في الكامل.
মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আশতারের পাঁচ পুত্র ছিল: তাহির, আলী, আহমদ, ইব্রাহিম এবং আল-হাসান আল-আওয়ার আল-জাওয়াদ।

মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আশতারের বংশধারা, যা নিয়ে কোনো মতভেদ নেই, আল-হাসান আল-আওয়ার আল-জাওয়াদের মাধ্যমেই অগ্রসর হয়েছে।

তিনি বনু হাশেমের গণ্যমান্য ও প্রশংসিত দানবীরদের একজন ছিলেন এবং তার কুনিয়া ছিল আবু মুহাম্মদ। ২৫১ হিজরির জিলহজ মাসে তায়্যি গোত্রের এক লোক তাকে হত্যা করে।

বংশবিদ ইবনে আশ-শা'রানী বলেন: আল-হাসান আল-মু'তাজ্জের শাসনামলে নিহত হন। আল-হাসান আল-আওয়ার আল-জাওয়াদের বংশধারা চারজন ব্যক্তির মাধ্যমে চলমান রয়েছে, তারা হলেন: কুফার নাকীব আবু জাফর মুহাম্মদ, কুফার নাকীব আবু আবদুল্লাহ আল-হুসাইন, আবু মুহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং আল-কাসিম। ইবনে তুবাতুবা আবু আব্বাস আহমদ বিন আল-হাসান আল-আওয়ারের কথাও উল্লেখ করেছেন। 'উমদাতুত তালিব' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-আওয়ারের বংশধারা আলী, আল-কাসিম এবং আহমদ—এই তিন ব্যক্তির মাধ্যমে অগ্রসর হয়েছে। আর আল-কাসিম বিন আবদুল্লাহ বিন আল-হাসান আল-আওয়ার বিন মুহাম্মদ বিন আবদুল্লাহ আল-আশতারের বংশ থেকে অনেক নেককার ও পুণ্যবান সন্তানাদি জন্মগ্রহণ করেছেন। তাদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম কুতুবুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন ইউসুফ বিন ঈসা বিন হাসান বিন আল-হুসাইন বিন জাফর বিন কাসিম অন্যতম, যিনি ৬৭৭ হিজরিতে কাযাহ শহরে ইন্তেকাল করেন। তিনি আমাদের পূর্বপুরুষদের একজন, এবং ইনশাআল্লাহ তাআলা পরবর্তীতে আমরা তার সম্পর্কে আলোচনা করব।

 

‌‌মারওয়ান বিন ইয়াজিদ আল-মুহাল্লাবী

উমাইয়া খলিফা ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিকের শাসনামলে তিনি পালিয়ে ভারতে আসেন এবং সিন্ধু ভূখণ্ডে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি আমর বিন মুহাম্মদ বিন আল-কাসিম আল-ছাকাফীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন। হিশাম বিন আব্দুল মালিকের রাজত্বকালে আমর তাকে হত্যা করেন।

 

‌‌মা'বাদ বিন আল-খালীল আত-তামীমী

আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর তাকে ১৫৭ হিজরিতে সিন্ধুর গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। তিনি তখন খোরাসানে ছিলেন। তার কাছে নিয়োগপত্র পাঠানো হলে তিনি সিন্ধু অভিমুখে যাত্রা করেন এবং অবাধ্য অঞ্চলগুলো জয় করেন। আল-কামিল কিতাব অনুযায়ী, আল-মাহদী বিন আল-মনসুরের শাসনামলে ১৫৯ হিজরিতে তিনি সিন্ধুতে মৃত্যুবরণ করেন।

 

‌‌মুগাল্লিস আল-আবদী

আবু মুসলিম আল-খোরাসানি আব্দুর রহমান বিন মুসলিম তাকে সিন্ধু ভূখণ্ডের দায়িত্ব প্রদান করেন। তিনি তুখারিস্তানের পথ ধরে অগ্রসর হন এবং অবশেষে পৌঁছে যান

 

‌‌মনসুর বিন জুমহুর আল-কালবীর নিকট, যিনি তখন সিন্ধুতে ছিলেন। মনসুর তার মুখোমুখি হয়ে তাকে হত্যা করেন এবং ১৪৩ হিজরির দিকে তার বাহিনীকে পরাজিত করেন।

মনসুর বিন জুমহুর আল-কালবী

মনসুর বিন জুমহুর আল-কালবী ছিলেন সেই ছয়জন ব্যক্তির একজন যারা উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ বিন ইয়াজিদ বিন আব্দুল মালিককে হত্যা করেছিল। ১২৬ হিজরিতে ইয়াজিদ বিন আল-ওয়ালিদ তাকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন। মনসুর প্রকৃত অর্থে ধর্মীয় অনুরাগী ছিলেন না, বরং গাইলানিয়াহ মতবাদের প্রতি সমর্থনের কারণে এবং ওয়ালিদ হত্যাকাণ্ডে উপস্থিত থাকার কারণেই তিনি ইয়াজিদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। ইয়াজিদ যখন তাকে ইরাকের গভর্নর নিযুক্ত করেন, তখন তাকে বলেছিলেন: "আল্লাহকে ভয় করো! জেনে রেখো, আমি ওয়ালিদকে তার পাপাচার ও জুলুমের কারণে হত্যা করেছি। সুতরাং আমরা তাকে যে পাপাচারের কারণে হত্যা করেছি, তুমি যেন সেই একই পথে ধাবিত না হও!" তিনি অল্প সময়ের জন্য ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন। সেই বছরই ইয়াজিদ তাকে পদচ্যুত করেন। এরপর তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ফিতনা সৃষ্টি করে বেড়াতেন। যখন দেখলেন তার আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই, তখন ১৩০ হিজরিতে ভাই মনজুরসহ ভারতে চলে আসেন এবং ইয়াজিদ বিন আরারের সাথে যুদ্ধ করে জয়লাভ করেন। তাকে হত্যা করে তিনি সিন্ধু ভূখণ্ডের একক নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

আব্বাসীয় শাসনামলের শুরুতে আবু মুসলিম আব্দুর রহমান বিন মুসলিম মুগাল্লিস আল-আবদীকে সিন্ধুর সীমান্তে নিয়োগ করেন। মুগাল্লিস তুখারিস্তানের পথ ধরে অগ্রসর হয়ে সিন্ধুতে মনসুর বিন জুমহুর আল-কালবীর নিকট পৌঁছালে মনসুর তার মোকাবিলা করে তাকে হত্যা করেন এবং তার বাহিনীকে পরাজিত করেন। এই সংবাদ আবু মুসলিমের কাছে পৌঁছালে তিনি মুসা বিন কা'ব আত-তামীমীকে বারো হাজার সৈন্যসহ সিন্ধুর দিকে প্রেরণ করেন। মুসা যখন সেখানে পৌঁছালেন, তখন তার ও মনসুর বিন জুমহুরের মাঝে মেহরান নদ প্রতিবন্ধক ছিল। অতঃপর তারা যুদ্ধে লিপ্ত হলে মুসা মনসুর ও তার বাহিনীকে পরাজিত করেন এবং তার ভাই মনজুরকে হত্যা করেন। মনসুর পরাজিত ও নিঃস্ব হয়ে পলায়ন করেন এবং মরুভূমিতে পৌঁছানোর পর তৃষ্ণায় মৃত্যুবরণ করেন।

বলা হয়ে থাকে যে, তিনি পেটের রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন। সিন্ধুতে তার স্থলাভিস্থিক্ত ব্যক্তি যখন তার পরাজয়ের সংবাদ শুনলেন, তখন তিনি মনসুরের পরিবার-পরিজন ও ধন-সম্পদ নিয়ে পলায়ন করে খাজারদের দেশে প্রবেশ করেন। আল-কামিল কিতাবের বর্ণনা মতে, এটি ১৩৪ হিজরির ঘটনা ছিল।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٥٠)
‌‌منظور بن جمهور الكلبي

قدم أرض السند مع أخيه منصور بن جمهور سنة ثلاثين ومائة وقاتل معه بها، وقتل سنة

أربع وثلاثين ومائة، قتله

 

‌‌موسى بن كعب التميمي، كما تقدم.

موسى بن كعب التميمي

عقد له أبو مسلم عبد الرحمن بن مسلم ثم وجهه إلى ثغر السند لقتال منصور بن جمهور

الكلبي وكان على شرط السفاح، فاستخلف مكان المسيب بن زهير، وقدم السند في اثنى

عشر ألفاً سنة أربع وثلاثين ومائة وكان بينه وبين منصور بن جمهور مهران ثم التقيا فهزم

منصوراً وقتل أخاه منظوراً، وخرج منصور مفلولاً هارباً حتى ورد الرمل فمات عطشاً فقام

موسى بالملك ورم المنصورة وزاد في مسجدها وغزا وافتتح ثم سار إلى العراق واستخلف

ابنه عيينة بن موسى على السن، كما في الكامل، وتوفي سنة إحدى وأربعين ومائة على

قول الطبري.

 

‌‌موسى بن يعقوب الثقفي

موسى بن يعقوب بن محمد بن شيبان بن عثمان الثقفي الفقيه ولاه القضاء والخطابة محمد

بن القاسم الثقفي بالرور سنة ثلاث وتسعين، وتداول أولاده القضاء بها إلى قرون متطاولة،

وكل واحد منهم كان يلقب بالصدر الامام الأجل بدر الملة والدين سيف السنة ونجم

الشريعة.

 

‌‌نجيح بن عبد الرحمن السندي

الفقيه العالم نجيح بن عبد الرحمن أبو معشر السندي صاحب المغازي ذكره السمعاني في

الأنساب والذهبي في طبقات الحفاظ، وفي تهذيب التهذيب: قال السمعاني: إنه كان مولى أم

سلمة من أهل المدينة وأم موسى بن مهدي، يروي عن محمد بن عمرو ونافع وهشام بن

عروة، روى عنه العراقيون، قال أبو نعيم كان أبو معشر سندياً وكان رجلاً ألكن يقول:

حدثنا محمد بن قعب- يريد ابن كعب- مات في سنة سبعين ومائة وصلى عليه هارون

الرشيد في السنة التي استخلف فيها ودفن في المقبرة الكبيرة ببغداد، وكان ممن اختلط في

آخر عمره وبقي قبل أن يموت سنتين في تغير شديد لا يدري ما يحدث به وكثير المناكير في

روايته من قبل اختلاطه فبطل الاحتجاج به- انتهى.

وقال الذهبي في طبقات الحفاظ: إنه كاتب امرأة من بني مخزوم فأدى إليها فاشترت أم

موسى بنت المنصور ولاءه فيما قيل، وكان من أوعية العلم على نقص في حفطه، رأى أبا

أمامة بن سهل، وروى عن محمد بن كعب القرظي وموسى بن يسار ونافع وابن المنكدر

ومحمد بن قيس وطائفة، ولم يدرك سعيد بن المسيب وذلك في جامع أبي عيسى الترمذي،

وأظنه سعيد المقبري فإنه يكثر عنه، حدث عنه ابنه محمد وعبد الرزاق وأبو نعيم ومحمد

بن بكار ومنصور بن أبي مزاحم وطائفة، قال ابن معين، ليس بالقوي، وقال أحمد بن

حنبل: كان بصيراً بالمغازي وكان لا يقيم الإسناد، وقال أبو نعيم: كان أبو معشر سندياً

ألكن يقول: حدثنا محمد بن قعب- يريد كعب- وقال أبو زرعة: صدوق، وقال النسائي:

ليس بالقوي، قلت: قد احتج به النسائي ولم يخرج له الشيخان، وكان أبيض أزرق سميناًن

اشخصه معه المهدي إلى العراق وأمر له بألف دينار وقال: تكون بحضرتنا فتفقه من حولنا-

انتهى.

وله من الكتب كتاب المغازي ذكره ابن النديم في فهرسته، توفي أبو معشر في رمضان سنة

سبعين ومائة.
মানজুর বিন জুমহুর আল-কালবি

তিনি ১৩০ হিজরি সনে তাঁর ভাই মানসুর ইবনে জুমহুরের সাথে সিন্ধু ভূখণ্ডে আগমন করেন এবং তাঁর সাথে সেখানে যুদ্ধ করেন। তিনি ১৩৪ হিজরি সনে নিহত হন। তাঁকে

অতঃপর যেমনটি আগে উল্লেখ করা হয়েছে

 

মুসা ইবনে কাব আত-তামিমি হত্যা করেছিলেন।

মুসা ইবনে কাব আত-তামিমি

আবু মুসলিম আব্দুর রহমান ইবনে মুসলিম তাঁর জন্য নিযুক্তি প্রদান করেন এবং অতঃপর তাঁকে মানসুর ইবনে জুমহুর আল-কালবির বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য সিন্ধু সীমান্তে পাঠান। তিনি আস-সাফফাহর নিরাপত্তা বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি মুসাইয়িব ইবনে জুহাইরের স্থলাভিষিক্ত হন এবং ১৩৪ হিজরি সনে বারো হাজার সৈন্য নিয়ে সিন্ধুতে উপস্থিত হন। তাঁর এবং মানসুর ইবনে জুমহুরের মাঝে মেহরান নদী ছিল। অতঃপর তাদের মধ্যে মোকাবিলা হয় এবং তিনি মানসুরকে পরাজিত করেন ও তাঁর ভাই মানজুরকে হত্যা করেন। মানসুর পরাজিত হয়ে পলায়ন করেন এবং মরুভূমিতে পৌঁছে তৃষ্ণায় মারা যান। এরপর মুসা শাসনভার গ্রহণ করেন, মানসুরাহ শহর সংস্কার করেন, এর মসজিদে সম্প্রসারণ করেন, যুদ্ধ পরিচালনা ও বিজয় অর্জন করেন। এরপর তিনি ইরাক অভিমুখে যাত্রা করেন এবং তাঁর পুত্র উয়াইনা ইবনে মুসাকে সিন্ধুর দায়িত্বে স্থলাভিষিক্ত করেন, যেমনটি 'আল-কামিল'-এ বর্ণিত হয়েছে। তাবারির মতে তিনি ১৪১ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন।

 

মুসা ইবনে ইয়াকুব আস-সাকাফি

মুসা ইবনে ইয়াকুব ইবনে মুহাম্মদ ইবনে শায়বান ইবনে উসমান আস-সাকাফি আল-ফকিহ। মুহাম্মদ ইবনে কাসিম আস-সাকাফি ৯৩ হিজরি সনে আর-রুর অঞ্চলে তাঁকে বিচার বিভাগ ও খুতবা প্রদানের দায়িত্বে নিযুক্ত করেন। সুদীর্ঘ কয়েক শতাব্দী ধরে তাঁর বংশধররা সেখানে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের প্রত্যেকেই আস-সাদর আল-ইমাম আল-আজল বদরুল মিল্লাত ওয়াদ দীন সাইফুস সুন্নাহ এবং নাজমুশ শারীয়াহ উপাধিতে ভূষিত হতেন।

 

নাজিহ ইবনে আব্দুর রহমান আস-সিন্দি

আল-ফকিহ আল-আলিম নাজিহ ইবনে আব্দুর রহমান আবু মাশার আস-সিন্দি, যিনি মাগাজি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ। সামআনি 'আল-আনসাব'-এ এবং জাহাবি 'তাবাকাতুল হুফফাজ'-এ তাঁর উল্লেখ করেছেন। 'তাহজিবুত তাহজিব'-এ বর্ণিত আছে: সামআনি বলেছেন, তিনি ছিলেন মদিনাবাসী উম্মে সালামার মুক্তদাস এবং মাহদির মা উম্মে মুসার মুক্তদাস। তিনি মুহাম্মদ ইবনে আমর, নাফি এবং হিশাম ইবনে উরওয়া থেকে বর্ণনা করেছেন। ইরাকিরা তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। আবু নুয়াইম বলেন, আবু মাশার ছিলেন সিন্ধি এবং তাঁর কথা স্পষ্টভাবে বলতে অসুবিধা হতো। তিনি বলতেন: 'হাদ্দাসানা মুহাম্মদ ইবনে কা'ব'—বলতে চাইতেন ইবনে কা'ব। তিনি ১৭০ হিজরি সনে মৃত্যুবরণ করেন এবং হারুনুর রশিদ তাঁর খিলাফতের বছরে তাঁর জানাজা পড়ান। তাঁকে বাগদাদের বড় কবরস্থানে দাফন করা হয়। জীবনের শেষ দিকে তিনি বিভ্রান্তিতে (ইখতিলাত) পতিত হয়েছিলেন এবং মৃত্যুর দুই বছর আগে তাঁর স্মৃতিশক্তি এমনভাবে লোপ পায় যে তিনি কী বলছেন তা বুঝতে পারতেন না। তাঁর স্মৃতিভ্রমের কারণে তাঁর বর্ণনায় অনেক আপত্তিকর বিষয় রয়েছে, ফলে তাঁর বর্ণনা দ্বারা দলিল গ্রহণ করা পরিত্যক্ত হয়েছে—সমাপ্ত।

জাহাবি 'তাবাকাতুল হুফফাজ'-এ বলেন: তিনি বনু মাখজুমের এক মহিলার সাথে কিতাবাত (মুক্তির চুক্তি) করেছিলেন এবং তা পরিশোধ করেছিলেন। বলা হয় যে, আল-মানসুরের মেয়ে উম্মে মুসা তাঁর অভিভাবকত্ব কিনে নিয়েছিলেন। স্মৃতির দুর্বলতা সত্ত্বেও তিনি ইলমের অন্যতম আধার ছিলেন। তিনি আবু উমামা ইবনে সাহলকে দেখেছেন। তিনি মুহাম্মদ ইবনে কা'ব আল-কুরাজি, মুসা ইবনে ইয়াসার, নাফি, ইবনুল মুনকাদির, মুহাম্মদ ইবনে কায়স ও একদল রাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবের সাক্ষাৎ পাননি, যা আবু ঈসা আত-তিরমিজির 'জামি'-এ বর্ণিত হয়েছে; আমার ধারণা তিনি সাঈদ আল-মাকবুরি হবেন, কারণ তিনি তাঁর থেকে প্রচুর বর্ণনা করেন। তাঁর থেকে তাঁর পুত্র মুহাম্মদ, আব্দুর রাজ্জাক, আবু নুয়াইম, মুহাম্মদ ইবনে বাকার, মানসুর ইবনে আবি মুজাহিম ও একদল রাবি বর্ণনা করেছেন। ইবনে মাঈন বলেন, তিনি শক্তিশালী নন। আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন, তিনি মাগাজি বিষয়ে অভিজ্ঞ ছিলেন কিন্তু সনদের বিন্যাস ঠিক রাখতেন না। আবু নুয়াইম বলেন, আবু মাশার ছিলেন সিন্ধি এবং তাঁর জিহ্বায় জড়তা ছিল, তিনি বলতেন: 'হাদ্দাসানা মুহাম্মদ ইবনে কা'ব'—বলতে চাইতেন কা'ব। আবু জুরআ বলেন: তিনি সত্যবাদী। নাসায়ি বলেন: তিনি শক্তিশালী নন। আমি বলি: নাসায়ি তাঁর দ্বারা দলিল গ্রহণ করেছেন তবে শাইখান তাঁর থেকে হাদিস গ্রহণ করেননি। তিনি ফর্সা, নীলচক্ষু ও স্থূলকায় ছিলেন। আল-মাহদি তাঁকে নিজের সাথে ইরাকে নিয়ে যান এবং তাঁকে এক হাজার দিনার প্রদানের আদেশ দেন এবং বলেন: আপনি আমাদের সান্নিধ্যে থাকবেন এবং আমাদের আশপাশের লোকদের ফিকহ শিক্ষা দেবেন—সমাপ্ত।

তাঁর লিখিত বইসমূহের মধ্যে কিতাবুল মাগাজি রয়েছে, যা ইবুন নাদিম তাঁর ফিহরিস্ট-এ উল্লেখ করেছেন। আবু মাশার ১৭০ হিজরি সনের রমজান মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٥١)
‌‌نصر بن محمد الخزاعي

نصر بن محمد بن الأشعث الخزاعي استعمله المهدي بن المنصور العباسي على بلاد

السند سنة إحدى وستين ومائة مكان روح بن حاتم وشخص إليها حتى قدمها، ثم عزل

وولي مكانه محمد بن سليمان، فوجه إليها عبد الملك بن شهاب المسمعي فقدمها على نصر

بغتة، ثم أذن له في الشخوص فشخص حتى نزل الساحل على ستة فراسخ من المنصورة،

فأتى نصر بن محمد عهده على السند فرجع إلى عمله وقد كان عبد الملك أقام بها ثمانية

عشرة يوماً فلم يعرض له فرجع إلى البصرة، فاستقل نصر بن محمد على ولايته زماناً، ومات

بالسند سنة أربع وستين ومائة، كما في تاريخ الأمم والملوك.

 

‌‌وداع بن حميد الأزدي

استعمله يزيد بن المهلب على قندابيل من أعمال السند وقال له حين خرج لقتال سلمة بن

عبد الملك: إني سائر إلى هذا العدو ولو قد لقيتهم لم أبرح العرصة حتى تكون لي أو لم، فإن

ظفرت أكرمتك، وإن كانت الأخرى كنت بقندابيل حتى يقدم عليك أهل بيتي فيتحصنوا

بها حتى يأخذوا لأنفسهم أماناً فلما قتل يزيد اجتمع آل المهب بالبصرة وحملوا عيالاتهم

وأموالهم في السفن البحرية، ثم لججوا في البحر حتى انتهوا إلى قندابيل.

وبعث مسلمة بن عبد الملك هلال بن أحوز التميمي في أثرهم فلحقهم بقندابيل، فأراد آل

المهلب دخول قندابيل فمنعهم وداع بن حميد، وكاتبه هلال ابن أحوز ولم يباين آل المهلب

فيفارقهم، فتبين لهم فراقة لم التقوا وصفوا، كان وداع بن حميد على الميمنة وعبد الملك بن

هلال على الميسرة ت وكلاهما أزدي، فرفع لهم هلال راية الأمان، فمال إليهم وداع بن حميد

وعبد الملك ابن هلال وارفض عنهم الناس فخلوهم.

ومشى آل المهلب بأسيافهم فقاتلوا حتى قتلوا من عند آخرهم إلا أبا عيينة المهلب

وعثمان بن المفضل فلحقا برتبيل، وبعث بنسائهم وأولادهم إلى مسلمة. كما في تاريخ الأمم

والملوك للطبري.

 

‌‌هشام بن عمرو التغلبي

استعمله المنصور على السند، وكان سبب استعماله أن المنصور كان يفكر فيمن يوليه

السند فبينا هو راكب والمنصور ينظر إليه إذ غاب يسيراً ثم عاد فاستأذن على المنصور

فأدخله فقال: إني لما انصرفت من الموكب لقيتني أختي فلانة فرأيت من جمالها وعقلها ودينها

ما رضيتها لأمير المؤمنين، فأطرق ثم قال: أخرج! يأتك أمري، فلما خرج قال المنصور

لحاجبه الربيع: لولا قول جرير:

لا تطلبن خؤولة في تغلب فالزنج أكرم منهم أخوالا

لتزوجت إليه، قل له: لو كان لنا حاجة في النكاح لقبلت فجزاك الله خيراً! وقد وليتك

السند فتجهز إليها! وأمره أن يكاتب ذلك الملك بتسليم عبد الله بن محمد العلوي المشهور

بالأشتر فإن سلم وإلا حاربه، فسار هشام إلى السند فملكها، وكره أخذ عبد الله الأشتر

وأقبل يرى أنه يكاتب الملك الذي كان عبد الله في بلاده، واتصلت الأخبار بالمنصور بذلك،

فجعل يكتب إليه يستحثه، فبينا هو كذلك إذ خرجت خارجة ببلاد السند فوجه هشام

أخاه سفيحاً فخرج في جيشه وطريقه بجنبات ذلك الملك، فبينا هو يسير إذ غبرة قد

ارتفعت فظن أنهم مقدمة العدو الذي يقصد فوجه طلائعه فزحفت إليه فقالوا: هذا عبد

الله بن محمد العلوي يتنزه على شاطىء مهران، فمضى يريده فقال نصحاؤه: هذا ابن رسول

الله صلى الله عليه وسلم! وقد تركه أخوك متعمداً مخافة أن يبوء بدمه فلم يقصده، فقال:

ما كنت لأدع أخذه ولا أدع أحداً يحظى بأخذه أو قتله عند المنصور، وكان عبد الله ف

عشرة فقصده، فقاتله
‌‌নাসর বিন মুহাম্মদ আল-খুজায়ী

নাসর বিন মুহাম্মদ বিন আল-আশআস আল-খুজায়ী; মাহদী বিন আল-মানসুর আল-আব্বাসী তাকে ১৬১ হিজরিতে রূহ বিন হাতিমের স্থলাভিষিক্ত করে সিন্ধু প্রদেশের শাসক নিযুক্ত করেন। তিনি সেখানে গমন করেন। অতঃপর তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং তার স্থলে মুহাম্মদ বিন সুলায়মানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি সেখানে আবদুল মালিক বিন শিহাব আল-মাসমায়ীকে প্রেরণ করেন, যিনি নাসরের নিকট আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন। এরপর তাকে গমনের অনুমতি দেওয়া হলে তিনি প্রস্থান করেন এবং মানসুরা থেকে ছয় ফারসাখ দূরে উপকূলীয় অঞ্চলে অবতরণ করেন। অতঃপর নাসর বিন মুহাম্মদের নিকট সিন্ধুর শাসনভারের পুনরায় নিয়োগপত্র পৌঁছালে তিনি তার কর্মস্থলে ফিরে আসেন। আবদুল মালিক সেখানে আঠারো দিন অবস্থান করেছিলেন এবং তিনি কোনো হস্তক্ষেপ না করেই বসরায় ফিরে যান। নাসর বিন মুহাম্মদ দীর্ঘকাল তার শাসনে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকেন এবং ১৬৪ হিজরিতে সিন্ধু প্রদেশে মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌ওয়াদা' বিন হুমাইদ আল-আযদি

ইয়াজিদ বিন আল-মুহাল্লাব তাকে সিন্ধুর অন্তর্ভুক্ত কান্দাবীল অঞ্চলের শাসক নিযুক্ত করেছিলেন। মাসলামা বিন আবদুল মালিকের সাথে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তিনি তাকে বলেছিলেন: আমি এই শত্রুর দিকে অগ্রসর হচ্ছি। যদি তাদের সাথে আমার সাক্ষাৎ ঘটে, তবে ফলাফল আমার পক্ষে বা বিপক্ষে না আসা পর্যন্ত আমি এই ময়দান ত্যাগ করব না। আমি বিজয়ী হলে তোমাকে সম্মানিত করব, আর যদি অন্য কিছু ঘটে তবে তুমি কান্দাবীলে অবস্থান করবে যাতে আমার পরিবারের সদস্যরা তোমার নিকট এসে আশ্রয় নিতে পারে এবং নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা লাভ করতে পারে। ইয়াজিদ নিহত হলে মুহাল্লাব পরিবার বসরায় একত্রিত হয় এবং তাদের নারী ও সম্পদসমূহ নৌযানে বহন করে সমুদ্রপথে যাত্রা করে কান্দাবীলে পৌঁছে।

মাসলামা বিন আবদুল মালিক তাদের পশ্চাদ্ধাবনে হিলাল বিন আহওয়াজ আল-তামিমিকে প্রেরণ করেন, যিনি কান্দাবীলে তাদের নাগাল পান। মুহাল্লাব পরিবার কান্দাবীলে প্রবেশ করতে চাইলে ওয়াদা' বিন হুমাইদ তাদের বাধা দেন। হিলাল বিন আহওয়াজ তার কাছে পত্র লিখেছিলেন। তিনি মুহাল্লাব পরিবারের থেকে তখনও প্রকাশ্য বিচ্ছিন্ন হননি। যখন তারা যুদ্ধক্ষেত্রে সাক্ষাৎ করল এবং কাতারবদ্ধ হলো, তখন তাদের বিচ্ছিন্নতা স্পষ্ট হয়ে উঠল। ওয়াদা' বিন হুমাইদ ডান বাহুর সেনাদল এবং আবদুল মালিক বিন হিলাল বাম বাহুর সেনাদলের নেতৃত্বে ছিলেন; তারা উভয়েই আযদি গোত্রের ছিলেন। হিলাল তাদের উদ্দেশ্যে নিরাপত্তার পতাকা উত্তোলন করলে ওয়াদা' বিন হুমাইদ এবং আবদুল মালিক বিন হিলাল তার দিকে ঝুঁকে পড়েন এবং সাধারণ মানুষ তাদের ত্যাগ করে চলে যায়।

মুহাল্লাব পরিবার তাদের তলোয়ার নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যায় এবং শেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সকলেই নিহত হয়; কেবল আবু উয়াইনা আল-মুহাল্লাব এবং উসমান বিন আল-মুফাযযাল বেঁচে যান, যারা রুতবিলের নিকট আশ্রয় নেন। মাসলামা তাদের নারী ও শিশুদের খলিফার নিকট পাঠিয়ে দেন। যেমনটি তাবারির তারিখুল উমাম ওয়াল মুলুক গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌হিশাম বিন আমর আত-তাগলিবি

আল-মানসুর তাকে সিন্ধুর শাসক নিযুক্ত করেন। তাকে নিয়োগের কারণ ছিল এই যে, মানসুর সিন্ধুর শাসনভার কাকে দেবেন তা নিয়ে ভাবছিলেন। এমতাবস্থায় হিশাম ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিলেন এবং মানসুর তার দিকে তাকাচ্ছিলেন। তিনি অল্প সময়ের জন্য অদৃশ্য হয়ে পুনরায় ফিরে এলেন এবং মানসুরের সাক্ষাতের অনুমতি চাইলেন। মানসুর তাকে ভেতরে ডাকলে তিনি বললেন: আমি যখন মিছিল থেকে ফিরে আসলাম, তখন আমার অমুক বোনের সাথে আমার দেখা হলো। তার সৌন্দর্য, বুদ্ধি ও দ্বীনদারিতে আমি অভিভূত হলাম এবং তাকে আমীরুল মুমিনিনের জন্য পছন্দ করলাম। মানসুর কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে থাকলেন, তারপর বললেন: বের হয়ে যাও! আমার নির্দেশ তোমার কাছে পৌঁছে যাবে। তিনি চলে গেলে মানসুর তার দ্বাররক্ষী রাবী'কে বললেন: যদি জারীরের এই কবিতাটি না থাকতো:

তাগলিব গোত্রে মামার বাড়ি খুঁজ না, কারণ কৃষ্ণাঙ্গরাও তাদের চেয়ে অধিক সম্মানিত মামা।

তবে আমি তাকে বিবাহ করতাম। তাকে বলো: আমাদের যদি বিবাহের প্রয়োজন থাকতো তবে আমি অবশ্যই গ্রহণ করতাম। আল্লাহ তোমাকে উত্তম প্রতিদান দিন! আমি তোমাকে সিন্ধুর শাসনভার প্রদান করলাম, সুতরাং সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করো। তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন যেন তিনি সেই রাজার কাছে 'আশতার' নামে পরিচিত আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আলাওয়ীকে সমর্পণের জন্য পত্র লেখেন; যদি তিনি সমর্পণ করেন তবে ভালো, নতুবা তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে। হিশাম সিন্ধুতে গিয়ে তা জয় করেন। তবে আবদুল্লাহ আশতারকে গ্রেফতার করা তিনি অপছন্দ করছিলেন এবং তিনি লোক দেখানো এমন ভাব করতেন যে তিনি সেই রাজার নিকট পত্র লিখছেন যার রাজ্যে আবদুল্লাহ অবস্থান করছিলেন। মানসুরের নিকট এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি তাকে ত্বরান্বিত করার জন্য বারবার পত্র লিখতে থাকেন। এমতাবস্থায় সিন্ধুর একটি অঞ্চলে বিদ্রোহ দেখা দিলে হিশাম তার ভাই সুফায়হকে একদল সৈন্যসহ প্রেরণ করেন। তার যাত্রাপথ ছিল সেই রাজার অঞ্চলের পাশ দিয়ে। তিনি যখন পথ চলছিলেন, তখন ধূলি উড়তে দেখে ভাবলেন যে এটি হয়তো শত্রুর অগ্রগামী দল। তিনি তার সন্ধানী দল পাঠালেন এবং তারা অগ্রসর হলো। তারা বলল: ইনি তো আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ আল-আলাওয়ী, মেহরান নদীর তীরে ভ্রমণ করছেন। সুফায়হ তার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বলল: ইনি তো আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বংশধর! আপনার ভাই তো তাকে খুনের দায়ে অপরাধী হওয়ার ভয়ে ইচ্ছাকৃতভাবেই তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। সুফায়হ বলল: আমি তাকে ধরা থেকে বিরত থাকব না এবং মানসুরের নিকট তাকে ধরা বা হত্যার কৃতিত্ব অন্য কাউকে নিতে দেব না। আবদুল্লাহ তখন দশজন সঙ্গীসহ ছিলেন। সুফায়হ তার দিকে অগ্রসর হয়ে যুদ্ধ শুরু করলেন।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٥٢)
عبد الله وقاتل أصحابه حتى قتل وقتلوا جميعاً، فلم يفلت منهم

مخبر، وسقط عبد الله بين القتلى فلم يشعر به.

وقيل: إن أصحابه قذفوه في مهران حتى لا يحمل رأسه، فكتب هشام بذلك إلى المنصور،

فكتب إليه المنصور يشكره ويأمره بمحاربة ذلك الملك، فحاربه حتى ظفر به وقتله وغلب

على مملكته، ووجه عمرو بن جمل في بوارج إلى نارند، ووجه إلى ناحية الهند فافتتح كشمير

وأصاب سبايا ورقيقاً كثيراً وفتح الملتان، وكان بقندابيل متغلبة من العرب فأجلاهم عنها،

وأتى القندهار في ولايته فتبركوا به، ثم سار إلى بغداد وعزل عن الولاية بالسند ومات بها

سنة سبع وخمسين ومائة، كما في الكامل.

 

‌‌يزيد بن عرار

ولي على أرض السند في أيام وليد بن يزيد بن عبد الملك الأموي سنة خمس وعشرين

ومائة وكان بها من قبل، فقام بالأمر وأحسن سيرته في الناس وقاتل العدو، وكان يفتح

الناحية قد نكث أهلها حتى جاء منصور بن جمهور الكلبي فقاتله وقتل في حدود سنة

ثلاثين ومائة.
আবদুল্লাহ ও তাঁর সাথীরা যুদ্ধ চালিয়ে গেলেন যতক্ষণ না তিনি ও তাঁরা সকলে নিহত হলেন; তাঁদের মধ্য থেকে কোনো সংবাদবাহকও রেহাই পায়নি। আবদুল্লাহ নিহতদের লাশের মাঝে পড়ে থাকলেন, ফলে তাঁকে কেউ লক্ষ্য করেনি।

বলা হয়ে থাকে: তাঁর সাথীরা তাঁকে মেহরান নদীতে নিক্ষেপ করেছিলেন যাতে তাঁর মস্তক বহন করে নিয়ে যাওয়া না হয়। এরপর হিশাম এ বিষয়টি আল-মানসুরকে লিখে জানালেন।

আল-মানসুর তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরতি পত্র লিখলেন এবং সেই রাজার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর তিনি তার সাথে যুদ্ধ করলেন এবং শেষ পর্যন্ত তার ওপর বিজয় লাভ করলেন, তাকে হত্যা করলেন এবং তার রাজ্যের ওপর আধিপত্য বিস্তার করলেন।

তিনি আমর ইবনে জামালকে যুদ্ধজাহাজে করে নারান্দের দিকে পাঠালেন এবং ভারতের দিকে অগ্রসর হয়ে কাশ্মীর জয় করলেন। সেখানে তিনি প্রচুর যুদ্ধবন্দী ও দাস লাভ করলেন এবং মুলতান জয় করলেন।

কান্দাবিলে আরবের কিছু দখলদার লোক ছিল, তিনি তাদের সেখান থেকে বিতাড়িত করলেন।

তিনি তাঁর শাসনকালে কান্দাহারে আগমন করলে সেখানকার লোকেরা তাঁকে দেখে বরকত হাসিল করল। এরপর তিনি বাগদাদে চলে যান এবং সিন্ধুর শাসনকর্তার পদ থেকে তাঁকে অপসারিত করা হয়। সেখানেই একশ সাতান্ন হিজরি সনে তিনি মৃত্যুবরণ করেন, যেমনটি আল-কামিল গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

‌ইয়াজিদ ইবনে আরার

তিনি উমাইয়া খলিফা ওয়ালিদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে আব্দুল মালিকের শাসনামলে একশ পঁচিশ হিজরি সনে সিন্ধু ভূখণ্ডের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন, তবে তিনি এর আগেই সেখানে অবস্থান করছিলেন।

তিনি প্রশাসনিক দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আঞ্জাম দেন এবং জনগণের সাথে উত্তম আচরণ করেন ও শত্রুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যান। তিনি এমন সব অঞ্চল পুনরায় জয় করতেন যেখানকার অধিবাসীরা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছিল। পরিশেষে মনসুর ইবনে জুমহুর আল-কালবি আগমন করে তাঁর সাথে যুদ্ধ করেন এবং তিনি একশ ত্রিশ হিজরি সনের কাছাকাছি সময়ে নিহত হন।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٥٣)
‌‌الطبقة الثالثة

في أعيان القرن الثالث

‌‌أبو علي السندي

الشيخ الكبير أبو علي السندي كان من أهل الحقائق والمواجيد، صحبه أبو يزيد طيفور

بن عيسى البسطامي المتوفي سنة إحدى وستين ومائتين، قال أبو يزيد: صحبت أبا علي

السندي فكنت ألقنه ما يقيم به فرضه، وكان يعلمني التوحيد والحقائق صرفاً، وحكى عن

أبي يزيد أنه قال: دخل علي أبو علي السندي وكان معه جراب فصبه بين يدي فإذا هو

ألوان الجواهر! فقلت له: من أين لك هذا؟ قال: وافيت وادياً ههنا فإذا هي تضيء

كالسراج! فحملت هذا منها، قال فقلت له: كيف كان وقتك وقت ورودك الوادي؟ قال:

كان وقتي وقت فترة عن الحال الذي كنت فيه قبل ذلك- وذكر الحكاية والمعنى في ذلك أن

في وقت فترته شغلوه بالجواهر، وقال أبو يزيد: قال لي أبو علي السندي: كنت في حال مني

بي لي ثم صرت في حال منه به له، والمعنى في ذلك أن العبد يكون ناظراً إلى أفعاله

ويضيف إلى نفسه أفعاله، فإذا غلب على قلبه أنوار المعرفة يرى جميع الأشياء من الله،

قائمة بالله، معلومة لله، مردودة إلى الله- ذكره أبو نصر عبد الله بن علي السراج الطوسي

في كتابه اللمع.

 

‌‌ابن دهن الهندي

ابن دهن الهندي الحكيم من الأطباء المشهورين، كان إليه بيمارستان البرامكة ببغداد،

نقل إلى العربية من اللسان الهندي عدة كتب منها استانكر الجامع، وكتاب سندستاق معناه

كتاب صفوة النجح- ذكره ابن بشر في فهرسته.

 

‌‌بشر بن داود المهلبي

بشر بن داود بن يزيد بن حاتم بن قبيصة بن المهلب بن أبي صفرة العتكي أحد ولاة

السند، كان مع أبيه فلما توفي أبوه سنة خمس ومائتين قام بالأمر، وكتب إليه المأمون بن

الرشيد العباسي بولاية الثغر على أن يحمل كل سنة ألف ألف درهم فأطاعه زماناً، ثم

عصى ومنع الحمل فوجه المأمون إليه حاجب بن صالح سنة إحدى عشرة ومائتين، فهزمه

بشر بن داود فانحاز إلى كرمان، ثم استعمل غسان بن عباد على السند سنة ثلاث عشرة

ومائتين، فقدمها وخرج بشر إليه بالأمان، وورد به مدينة السلام سنة ست عشرة ومائتين،

كما في الكامل.

 

‌‌جعفر بن محمد الملتاني

أبو عبد الله جعفر بن محمد بن عبد الله بن محمد بن عمر الأطراف بن علي بن أبي

طالب القرشي الهاشمي الملك الملتاني، ذكره جمال الدين أحمد بن علي الداوي في عمدة

الطالب، قال: وكان قد خاف بالحجاز فهرب في ثلاثة عشر رجلاً من صلبه فما استقرت به

الدار حتى
‌‌তৃতীয় স্তর

তৃতীয় শতাব্দীর বরেণ্য ব্যক্তিবর্গের আলোচনা

‌‌আবু আলী সিন্দি

মহান শায়খ আবু আলী সিন্দি হাকীকত ও আধ্যাত্মিক অনুভূতির (মাওয়াজিদ) অধিকারী ছিলেন। আবু ইয়াজিদ তাইফুর

বিন ঈসা আল-বিসতামি (মৃত্যু ২৬১ হিজরি) তাঁর সান্নিধ্যে ছিলেন। আবু ইয়াজিদ বলেন: আমি আবু আলী

সিন্দি এর সান্নিধ্যে ছিলাম; আমি তাঁকে ফরয ইবাদত পালনের জন্য যা প্রয়োজন তা শিখিয়ে দিতাম, আর তিনি আমাকে বিশুদ্ধ তাওহীদ ও হাকীকত শিক্ষা দিতেন। আবু

ইয়াজিদ থেকে বর্ণিত আছে যে তিনি বলেন: আবু আলী সিন্দি আমার কাছে আসলেন, তাঁর সাথে একটি থলি ছিল, সেটি তিনি আমার সামনে ঢেলে দিলেন, দেখা গেল তাতে নানা

রঙের মণি-মুক্তা! আমি তাঁকে বললাম: এগুলো আপনি কোথায় পেলেন? তিনি বললেন: আমি এখানকার একটি উপত্যকায় গিয়েছিলাম, দেখলাম সেগুলো প্রদীপের মতো

জ্বলজ্বল করছে! তাই সেখান থেকে এগুলো নিয়ে এসেছি। তিনি বলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম: আপনি যখন উপত্যকায় প্রবেশ করেছিলেন তখন আপনার আধ্যাত্মিক অবস্থা কেমন ছিল? তিনি

বললেন: আমার সেই সময়টি ছিল পূর্ববর্তী অবস্থার তুলনায় কিছুটা শিথিলতার (ফাতরাত) সময়—বর্ণনাকারী কাহিনীটি উল্লেখ করে বলেন যে, এর অর্থ হলো

তাঁর শিথিলতার সময় তাঁকে এই মণি-মুক্তা দিয়ে ব্যস্ত রাখা হয়েছিল। আবু ইয়াজিদ বলেন: আবু আলী সিন্দি আমাকে বলেছেন: আমি এমন এক অবস্থায় ছিলাম যা ছিল ‘আমার পক্ষ থেকে, আমার মাধ্যমে, আমার জন্য’, অতঃপর আমি এমন এক অবস্থায় উপনীত হলাম যা ‘তাঁর (আল্লাহর) পক্ষ থেকে, তাঁর মাধ্যমে, তাঁর জন্য’। এর অর্থ হলো বান্দা নিজের কাজের দিকে দৃষ্টি দেয়

এবং কাজগুলোকে নিজের দিকে সম্পৃক্ত করে, কিন্তু যখন তার হৃদয়ে মা’রিফাতের নূর প্রবল হয়, তখন সে সব কিছু আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা দেখে,

আল্লাহর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত দেখে, আল্লাহর নিকট জ্ঞাত দেখে এবং আল্লাহর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী হিসেবে দেখে—আবু নাসর আবদুল্লাহ বিন আলী আস-সাররাজ আত-তুসি

তাঁর ‘আল-লুমা’ কিতাবে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌ইবনে দাহন আল-হিন্দি

হাকীম ইবনে দাহন আল-হিন্দি একজন বিখ্যাত চিকিৎসক ছিলেন। বাগদাদে বারমাকিদের হাসপাতালের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত ছিল।

তিনি ভারতীয় ভাষা থেকে আরবিতে বেশ কয়েকটি গ্রন্থ অনুবাদ করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে আস্তানকার আল-জামি এবং সান্দাস্তাক নামক কিতাব যার অর্থ হলো

সাফওয়াতুন নাঝ (সাফল্যের নির্যাস)—ইবনে বিশর তাঁর ‘ফিহরিস্ত’ গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌বিশর বিন দাউদ আল-মুহাল্লাবি

বিশর বিন দাউদ বিন ইয়াজিদ বিন হাতিম বিন কাবিযা বিন আল-মুহাল্লাব বিন আবু সুফরা আল-আতাকি ছিলেন সিন্ধুর

অন্যতম গভর্নর। তিনি তাঁর পিতার সাথে ছিলেন, অতঃপর ২০৫ হিজরিতে তাঁর পিতা মারা গেলে তিনি শাসনভার গ্রহণ করেন। আব্বাসীয় খলিফা মামুন বিন

রশিদ তাঁকে এই সীমান্ত অঞ্চলের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেন এই শর্তে যে তিনি প্রতি বছর দশ লক্ষ দিরহাম পাঠাবেন; তিনি কিছুকাল এই আনুগত্য পালন করেন। অতঃপর

তিনি অবাধ্য হন এবং কর পাঠানো বন্ধ করে দেন, ফলে মামুন ২১১ হিজরিতে তাঁর বিরুদ্ধে হাজিব বিন সালেহকে পাঠান। বিশর

বিন দাউদ তাকে পরাজিত করেন এবং তিনি কিরমানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এরপর ২১৩ হিজরিতে গাসসান বিন আব্বাদকে সিন্ধুর গভর্নর নিয়োগ দেওয়া হয়।

তিনি সেখানে পৌঁছালে বিশর নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি (আমান) চেয়ে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং ২১৬ হিজরিতে তাঁকে মদিনাতুস সালাম (বাগদাদ) নিয়ে আসা হয়,

যেমনটি ‘আল-কামিল’ গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌জাফর বিন মুহাম্মদ আল-মুলতানি

আবু আব্দুল্লাহ জাফর বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উমর আল-আতরাফ বিন আলী বিন আবি

তালিব আল-কুরাশি আল-হাশিমি আল-মালিক আল-মুলতানি। জামালুদ্দিন আহমদ বিন আলী আদ-দাওয়ি ‘উমদাতুত তালিব’

গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: তিনি হিজাজে ভীত-শঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন, ফলে তিনি তাঁর ঔরসজাত তেরো জন পুরুষসহ পলায়ন করেন। কোনো স্থানেই তাঁর ঠিকানা স্থির হয়নি যতক্ষণ না...
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٥٤)
دخل الملتان، فلما دخلها فزع إليه أهلها وكثير من أهل السواد، وكان في جماعة

قوي بهم على البلد حتى ملكه وخوطب بالملك، وملك أولاده هناك، وأولد ثلاث مائة

وأربعة وستين ولداً، قال ابن خداع اعقب من ثمانية وعشرين ولداً، وقال الشيخ الشرف

العبيدي اعقب من نيف وخمسين رجلاً، وقال البيهقي: اعقب من ثمانين رجلاً، قال الشيخ

أبو الحسن العمري بعد أن ذكر المعقبين من ولد الملك الملتاني: أربعة وأربعون رجلاً، قال لي

الشيخ أبو اليقظاني عمار وهو يعرف طرفاً كثيراً من أخبار الطالبين وأسمائهم: أن عدتهم

أكثر من هذا، ومنهم ملوك وأمراء وعلماء ونسابون، وأكثرهم على رأي الإسماعيلية،

ولسانهم هندي، وهم يحفظون أنسابهم، وقل من يعلق عليهم ممن ليس منهم- هذا كلامه

انتهى.

 

‌‌داود بن يزيد المهلبي

داود بن يزيد بن حاتم بن قبيصة بن المهلب بن أبي صفرة العتكي استخلفه أبوه عند موته

بالقيروان على أفريقية سنة سبعين ومائة فعزله هارون الرشيد سنة اثنتين وسبعين ومائة

واستعمله على أرض السند والهند سنة أربع وثمانين ومائة وكان معه أبو صمة المتغلب

وهو مولى لكندة فقدم الهند وملكها ودوخ الثغر وأحكم أموره، ولم يزل أمر ذلك الثغر

مستقيماً إلى عهد المأمون، وبقي داود بالسند إلى آخر عهده من الدنيا، توفي سنة خمس

ومائتين في أيام المأمون، كما في الكامل.

 

‌‌صالح بن بهلة الهندي

صالح بن بهلة الهندي الطبيب المشهور كان في أيام الرشيد هارون بالعراق ذكره ابن أبي

أصيبعة في طبقات الأطباء والقفطي في أخبار الحكماء، قال القفطي: إنه كان هندي الطب

حسن الإصابة فيما يعاينه ويخبر به من تقدمة المعرفة على طريق الهند.

ومن عجيب ما جرى له أن الرشيد في بعض الأيام قدمت له الموائد فطلب جبرائيل بن

بختيشوع ليحضر أكله على عادته في ذلك فطلب فلم يوجد، فلعنه الرشيد وبينما هو في

لعنه إذ دخل عليه، فقال له: أين كنت؟ وطفق يذكره بشر، فقال: إن اشتغل أمير المؤمنين

بالبكاء على ابن عمه إبراهيم بن صالح وترك تناولي بالسب كان أشبه، فسأله عن خبر

إبراهيم، فأعلمه أنه خلفه وبه رمق ينقضي آخره وقت صلاة العتمة، فاشتد جزع الرشيد

من ذلك وأمر برفع الموائد وكثر بكاؤه، فقال جعفر بن يحيى: يا أمير المؤمنين! جبرائيل طبه

رومي وصالح بن بهلة الهندي في العلم بطريقة أهل الهند في الطب مثل جبرائيل في العلم

بمقالات الروم، فإن رأى أمير المؤمنين أن يأمر بإحضاره وتوجيهه وبالمصير إليه بعد منصرفه

من عند إبراهيم ففعل ذلك جعفر، ومضى صالح بن بهلة إلى إبراهيم حتى عاينه وحبس

عرقه وصار إلى جعفر، فدخل جعفر على الرشيد فأخبره بحضور صالح بن بهلة فأمره

الرشيد بإدخاله إليه، فدخل ثم قال: يا أمير المؤمنين! أنت الإمام وعاقد ولاية القضاء

للأحكام ومهما حكمت به لم يجز لحاكم فسخه! وأنا أشهدك وأشهد على نفسي من

حضرك أن إبراهيم بن صالح إن توفي في هذه الليلة وفي هذه العلة أن كل مملوك لصالح بن

بهلة حر لوجه الله! وكل دابة له فحبيس في سبيل الله! وكل مال له فصدقة على

المساكين! وكل امرأة له فطالق ثلاثاً! فقال الرشيد: حلفت يا صالح بالغيب! فقال صالح:

كلا يا أمير المؤمنين إنما الغيب ما لا دليل عليه ولا علم به، ولم أقل ما قلت إلا بدلائل بينة

وعلم واضح، فسرى عن الرشيد ما كان يجد وطعم، وأحضر له النبيذ فشرب، فلما كان

وقت العتمة ورد كتاب صاحب البريد بمدينة السلام بوفاة إبراهيم بن صالح على الرشيد،
তিনি মুলতানে প্রবেশ করলেন। যখন তিনি সেখানে প্রবেশ করলেন তখন তার অধিবাসীরা এবং সাওয়াদ অঞ্চলের অনেকেই তার কাছে আশ্রয়ের জন্য ছুটে এল। তিনি একটি দলের সাথে ছিলেন যাদের মাধ্যমে তিনি সেই শহর জয় করেন এবং তাকে বাদশাহ হিসেবে সম্বোধন করা হয়। সেখানে তার বংশধররা রাজত্ব করেন। তার তিনশত চৌষট্টি জন সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ইবনে খুদা' বলেন: তার আটাশ জন সন্তান থেকে বংশধারা এগিয়েছে। শেখ আশ-শারাফ আল-উবাইদি বলেন: তার পঞ্চাশের অধিক পুরুষ সন্তান থেকে বংশধারা বজায় রয়েছে। বায়হাকি বলেন: তার আশি জন পুরুষ সন্তান থেকে বংশধারা বজায় রয়েছে। শেখ আবুল হাসান আল-উমরি মুলতানের বাদশাহর বংশধরদের মধ্যে যাদের থেকে বংশধারা চলেছে তাদের উল্লেখ করার পর বলেন: চুয়াল্লিশ জন পুরুষ। শেখ আবু আল-ইয়াকজানি আম্মার—যিনি তালিবিনদের সংবাদ ও নাম সম্পর্কে বিস্তর জানতেন—আমাকে বলেছেন যে: তাদের সংখ্যা এর চেয়েও বেশি। তাদের মধ্যে রাজা, আমির, আলেম এবং বংশবিশারদ রয়েছেন। তাদের অধিকাংশই ইসমাইলি মতাদর্শী। তাদের ভাষা হিন্দি এবং তারা তাদের বংশতালিকা মুখস্থ রাখে। যারা তাদের অন্তর্ভুক্ত নয় এমন খুব কম লোকই তাদের বিষয়ে তথ্য লিপিবদ্ধ করে—এটাই ছিল তার বক্তব্য। সমাপ্ত।

 

‌‌দাউদ ইবনে ইয়াজিদ আল-মুহাল্লাবি

দাউদ ইবনে ইয়াজিদ ইবনে হাতিম ইবনে কুবাইসা ইবনে আল-মুহাল্লাব ইবনে আবি সুফরা আল-আতাকি। তার পিতা মৃত্যুর সময় একশত সত্তর হিজরিতে কায়রোয়ানে তাকে ইফ্রিকিয়ার স্থলাভিষিক্ত করেন। অতঃপর হারুনুর রশিদ একশত বাহাত্তর হিজরিতে তাকে পদচ্যুত করেন এবং একশত চুরাশি হিজরিতে তাকে সিন্ধু ও হিন্দুস্তানের ভূখণ্ডে নিযুক্ত করেন। তার সাথে আবু সাম্মা আল-মুতগাল্লিব ছিলেন, যিনি কিন্দার মুক্তদাস ছিলেন। তিনি হিন্দুস্তানে পৌঁছে তা জয় করেন, সীমান্ত অঞ্চলগুলো পদানত করেন এবং তার শাসনব্যবস্থা সুসংহত করেন। মামুনুর রশিদের যুগ পর্যন্ত সেই সীমান্ত অঞ্চলের শাসন সুশৃঙ্খল ছিল। দাউদ তার জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত সিন্ধুতে অবস্থান করেন। তিনি দুইশত পাঁচ হিজরিতে মামুনুর রশিদের শাসনামলে ইন্তেকাল করেন, যেমনটি 'আল-কামিল' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।

 

‌‌সালিহ ইবনে বাহলা আল-হিন্দি

সালিহ ইবনে বাহলা আল-হিন্দি। তিনি একজন প্রখ্যাত চিকিৎসক ছিলেন এবং ইরাকে হারুনুর রশিদের যুগে ছিলেন। ইবনে আবি উসাইবিয়া 'তাবাকাতুল আতিব্বা' গ্রন্থে এবং আল-কিফতি 'আখবারুল হুকামা' গ্রন্থে তার উল্লেখ করেছেন। কিফতি বলেন: তিনি ভারতীয় চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। তিনি কোনো রোগী পর্যবেক্ষণ করে যে আগাম রোগ নির্ণয় ও তথ্য প্রদান করতেন তাতে তার নিখুঁত দক্ষতা ছিল।

তার সাথে ঘটে যাওয়া এক বিস্ময়কর ঘটনা এই যে, একদিন রশিদের সামনে দস্তরখান বিছানো হলো। তিনি তার অভ্যাস অনুযায়ী খাবারের সময় জিবরাঈল ইবনে বাখতিশু-কে উপস্থিত থাকার জন্য খুঁজলেন, কিন্তু তাকে পাওয়া গেল না। রশিদ তাকে তিরস্কার করতে লাগলেন। এমতাবস্থায় সে প্রবেশ করল। রশিদ তাকে বললেন: তুমি কোথায় ছিলে? এবং তাকে ভর্ৎসনা করতে শুরু করলেন। তখন সে বলল: আমিরুল মুমিনীন যদি তার চাচাতো ভাই ইবরাহিম ইবনে সালিহ-এর শোকে রোনাজারি করায় লিপ্ত থাকতেন এবং আমাকে গালমন্দ করা ছেড়ে দিতেন তবে তাই বেশি সংগত হতো। রশিদ তাকে ইবরাহিমের সংবাদ জিজ্ঞেস করলেন। সে জানাল যে, সে তাকে এমন অবস্থায় রেখে এসেছে যে তার শেষ নিঃশ্বাসটুকু অবশিষ্ট আছে যা এশার নামাজের সময় শেষ হয়ে যাবে। এতে রশিদের শোক তীব্রতর হলো এবং তিনি দস্তরখান তুলে ফেলার নির্দেশ দিলেন ও কান্নাকাটি করতে লাগলেন। তখন জাফর ইবনে ইয়াহইয়া বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! জিবরাঈল রোমান চিকিৎসায় পারদর্শী, আর সালিহ ইবনে বাহলা আল-হিন্দি ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে জিবরাঈল যেমন রোমান চিকিৎসায় পারদর্শী ঠিক তেমনি দক্ষ। আমিরুল মুমিনীন যদি তাকে উপস্থিত করার এবং ইবরাহিমের কাছ থেকে ফেরার পর তার কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেন (তবে ভালো হয়)। জাফর তাই করলেন। সালিহ ইবনে বাহলা ইবরাহিমের কাছে গিয়ে তাকে পর্যবেক্ষণ করলেন এবং তার নাড়ি দেখলেন। এরপর তিনি জাফরের কাছে ফিরে এলেন। জাফর রশিদের কাছে প্রবেশ করে সালিহ ইবনে বাহলার আগমনের খবর দিলেন। রশিদ তাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিলেন। তিনি প্রবেশ করে বললেন: হে আমিরুল মুমিনীন! আপনি ইমাম এবং বিচারিক ফয়সালা কার্যকরের ক্ষমতা আপনার। আপনি যা ফয়সালা করেন কোনো বিচারকের পক্ষেই তা রদ করা সম্ভব নয়! আমি আপনাকে এবং আপনার মজলিসে উপস্থিত সকলকে সাক্ষী রেখে বলছি যে, ইবরাহিম ইবনে সালিহ যদি এই রাতে এবং এই পীড়াতেই মৃত্যুবরণ করে, তবে সালিহ ইবনে বাহলার মালিকানাধীন সকল দাস আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত! তার সকল চতুষ্পদ জন্তু আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ! তার সকল ধন-সম্পদ মিসকিনদের জন্য সাদকা! এবং তার সকল স্ত্রীকে তিন তালাক! রশিদ বললেন: হে সালিহ! তুমি অদৃশ্যের বিষয়ে কসম খেলে! সালিহ বললেন: কখনোই না হে আমিরুল মুমিনীন! অদৃশ্য তো তা যার কোনো প্রমাণ বা জ্ঞান নেই। আমি যা বলেছি তা সুস্পষ্ট প্রমাণ ও স্বচ্ছ জ্ঞানের ভিত্তিতেই বলেছি। এতে রশিদের মনের অস্থিরতা দূর হলো এবং তিনি আহার করলেন। তার জন্য পানীয় আনা হলো এবং তিনি পান করলেন। যখন এশার সময় হলো, তখন সালাম শহরে অবস্থানরত ডাক বিভাগের প্রধানের পক্ষ থেকে ইবরাহিম ইবনে সালিহের মৃত্যুর সংবাদ সম্বলিত চিঠি রশিদের কাছে পৌঁছাল।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٥٥)
فاسترجع وأقبل على جعفر بن يحيى باللوم في إرشاده إلى صالح بن بهلة، وأقبل يلعن الهند

وطبهم ويقول: وا سوأتا من الله أن يكون ابن عمي يتجرع غصص الموت وأنا أشرب

النبيذ! ثم دعا برطل من النبيذ ومزجه بالماء وألقى فيه من الملح شيئاً وأخذ يشرب منه

ويتقيأ حتى قذف ما كان في جوفه من طعامه وشرابه، وبكر إلى دار إبراهيم فقصد الخدم

بالرشيد إلى رواق فيه الكراسي والمساند والنمارق فاتكأ الرشيد على سيفه ووقف وقال:

لا يحسن الجلوس في المصيبة بالأحبة على أكثر من البسط فارفعوا هذه الفرش والنمارق!

ففعل ذلك وجلس الرشيد على البساط، وصارت سنة لبني العباس من ذلك اليوم ولم تكن

السنة كذلك.

ووقف صالح بن بهلة بين يدي الرشيد، فلم ينطق أحد إلى أن سطعت روائح المجامر

فصاح صالح بن بهلة عند ذلك: الله الله يا أمير المؤمنين أن تحكم علي بطلاق زوجتي

فيتزوجها من لا تحل له! الله الله أن تخرجني من نعمتي ولم يلزمني حنث! الله الله أن تدفن

ابن عمك حيا! فوالله ما مات! فأطلق لي الدخول عليه والنظر إليه! وهتف بهذا القول

مرات، فأذن له بالدخول على إبراهيم، ثم سمع الجماعة تكبيراً فخرج صالح بن بهلة وهو

يكبر، ثم قال: يا أمير المؤمنين قم حتى أريك عجباً! فدخل إليه الرشيد ومعه جماعة من

خواصه، فأخرج صالح ابرة كانت معه وأدخلها بين ظفر ابهام يده اليسرى ولحمه، فجذب

إبراهيم يده وردها إلى بدنه، فقال صالح: يا أمير المؤمنين! هل يحس الميت الوجع؟ فقال:

يا أمير المؤمنين! أخاف أن أخاف إن عالجته فأفاق وهو في كفن يجد منه رائحة الحنوط

أن ينصدع قلبه فيموت موتاً حقيقياً، ولكن مر بتجريده من الكفن ورده إلى المغتسل وإعادة

الغسل عليه حتى يزول منه رائحة الحنوط، ثم يلبس مثل ثيابه التي كان يلبسها في حال

صحته، ويطيب بمثل ذلك الطيب، ويحول إلى فراش من فرشه التي كان يجلس وينام عليها!

حتى أعالجه بحضرة أمير المؤمنين فإنه يكلمه من ساعته، قال أبو سلمة: فوكلني الرشيد

بالعمل بما حد صالح بن بهلة ففعلت ذلك، قال: ثم سار الرشيد وأنا معه ومسرور إلى

الموضع الذي فيه إبراهيم، ودعا صالح بن بهلة بكندس ومنفخة من الخزانة، ونفخ من

الكندس في أنفه فمكث مقدار سدس ساعة ثم اضطرب بدنه وعطس وجلس فكلم

الرشيد وقبل يده، وسأله الرشيد عن قضيته فذكر أنه كان نائماً نوماً لا يذكر أنه نام مثله قط

طيباً إلا أنه رأى في منامه كلباً قد أهوى إليه فتوقاه بيد فعض ابهام يده اليسرى عضة انتبه

بها وهو يحس بوجعها وأراه ابهامه التي كان صالح بن بهلة ادخل فيها الإبرة، وعاش

إبراهيم بعد ذلك دهراً ثم تزوج العباسة بنت المهدي وولي مصر وفلسطين وتوفي بمصر

وقبره بها- انتهى.

 

‌‌عبد الله بن عمر الهباري

عبد الله بن عمر بن عبد العزيز بن المنذر بن الربيع الهباري القرشي أحد ولاة السند قام

بالملك بعد والده عمر بن عبد العزيز، واستقل به مدة من الزمان، وكان يخطب للخليفة

العباسي في جامع المنصورة، وتداول أولاده ملكها إلى أن انقطع أمرهم على يد محمود بن

سبكتكين صاحب غزنة.

 

‌‌عمر بن عبد العزيز الهباري

عمر بن عبد العزيز بن المنذر بن الربيع بن عبد الرحمن بن هبار بن الأسود بن المطلب بن

أسد بن عبد العزى القرشي المتغلب على بلاد السند، قدمها جده مع الحكم ابن عوانة

الكلبي وسكن في الهند، وكان عمر هذا قتل عمران بن موسى البرمكي كما تقدم، ولما ولي

عنبسة ابن إسحاق الضبي من قبل المعتصم بالله العباسي أذعن له بالطاعة، ثم لما قتل

هارون بن أبي خالد المروروذي سنة أربعين ومائتين وثب واستولى على الملك، وأذعن له

بالطاعة أهل المنصورة ورضي بولايته المتوكل على الله العباسي، فقام بالأمر مدة من الزمان

كما في فتوح البلدان،
তিনি 'ইন্না লিল্লাহ' পাঠ করলেন এবং সালেহ বিন বাহলার কাছে তাঁকে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়ার কারণে জাফর ইবনে ইয়াহইয়ার প্রতি তিরস্কার করতে লাগলেন। তিনি হিন্দুস্তান ও তাদের চিকিৎসাবিদ্যাকে অভিশাপ দিতে শুরু করলেন এবং বলতে লাগলেন: আল্লাহর কাছে কী লজ্জা! আমার চাচাতো ভাই মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করছে আর আমি নবীজ (পানীয়) পান করছি! এরপর তিনি এক রতল নবীজ আনালেন এবং তাতে পানি মিশিয়ে সামান্য লবণ ঢেলে দিলেন। তিনি তা পান করে বমি করতে শুরু করলেন, এমনকি পেটে থাকা সমস্ত খাবার ও পানীয় বের করে দিলেন। এরপর ভোরবেলায় তিনি ইব্রাহিমের বাড়িতে গেলেন। ভৃত্যরা রশিদকে এমন একটি হলঘরে নিয়ে গেল যেখানে আসন, হেলান দেওয়ার গদি এবং বালিশ সাজানো ছিল। রশিদ তাঁর তলোয়ারের ওপর ভর দিয়ে দাঁড়ালেন এবং বললেন: প্রিয়জনদের মৃত্যুশোকের সময় সাধারণ বিছানার বাইরে অন্য কিছুর ওপর বসা শোভা পায় না; সুতরাং এই গদি ও বালিশগুলো সরিয়ে ফেলো! তারা তাই করল এবং রশিদ সাধারণ বিছানার ওপর বসলেন। সেই দিন থেকে এটি আব্বাসীয়দের রীতিতে পরিণত হলো, যদিও এর আগে এমন রীতি ছিল না।

সালেহ বিন বাহলা রশিদের সামনে এসে দাঁড়ালেন। ধূপের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়া পর্যন্ত কেউ কোনো কথা বলল না। তখন সালেহ বিন বাহলা চিৎকার করে বলে উঠলেন: আল্লাহকে ভয় করুন, হে আমিরুল মুমিনিন! আপনি আমার ওপর আমার স্ত্রীর তালাকের ফয়সালা করবেন না, যাতে সে এমন ব্যক্তির সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় যার জন্য সে হালাল নয়! আল্লাহকে ভয় করুন যে, কোনো শপথ ভঙ্গ ছাড়াই আপনি আমাকে আমার নেয়ামত থেকে বঞ্চিত করবেন! আল্লাহকে ভয় করুন যে, আপনি আপনার চাচাতো ভাইকে জীবিত কবর দেবেন! আল্লাহর কসম, সে মরেনি! আমাকে তার কাছে প্রবেশ করার এবং তাকে দেখার অনুমতি দিন! তিনি এই কথাটি কয়েকবার উচ্চস্বরে বললেন। তখন তাঁকে ইব্রাহিমের কাছে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলো। কিছুক্ষণ পর সবাই তাকবির ধ্বনি শুনতে পেল। সালেহ বিন বাহলা তাকবির দিতে দিতে বেরিয়ে এলেন এবং বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন, উঠুন, যাতে আমি আপনাকে এক আশ্চর্যজনক বিষয় দেখাতে পারি! তখন রশিদ তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সঙ্গীসহ সেখানে প্রবেশ করলেন। সালেহ একটি সূঁচ বের করলেন এবং ইব্রাহিমের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলের নখ ও মাংসের মাঝখানে সেটি ঢুকিয়ে দিলেন। ইব্রাহিম তখন নিজের হাতটি টেনে নিলেন এবং দেহের দিকে সরিয়ে নিলেন। সালেহ বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! মৃত ব্যক্তি কি ব্যথা অনুভব করে? এরপর সালেহ বললেন: হে আমিরুল মুমিনিন! আমার ভয় হচ্ছে যে, আমি যদি তাঁর চিকিৎসা করি এবং তিনি কাফনের কাপড় পরা অবস্থায় হুঁশ ফিরে পান, তবে কাফনের সুগন্ধি (হানুত) শুঁকে তিনি হয়তো ভয় পাবেন এবং তাঁর হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে তিনি প্রকৃতই মারা যেতে পারেন। সুতরাং আপনি নির্দেশ দিন যেন তাঁর কাফন খুলে ফেলা হয়, তাঁকে গোসলখানায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় এবং পুনরায় গোসল করানো হয় যাতে সুগন্ধির ঘ্রাণ দূর হয়ে যায়। এরপর তাঁকে এমন পোশাক পরানো হোক যা তিনি সুস্থ অবস্থায় পরতেন এবং সেই একই সুগন্ধি লাগানো হোক। এরপর তাঁকে তাঁর সেই বিছানায় স্থানান্তরিত করা হোক যেখানে তিনি বসতেন এবং ঘুমাতেন! আমি আমিরুল মুমিনিনের উপস্থিতিতেই তাঁর চিকিৎসা করব এবং তিনি তখনই কথা বলবেন। আবু সালামা বলেন: রশিদ আমাকে সালেহ বিন বাহলা যা যা বলেছেন তা করার দায়িত্ব দিলেন এবং আমি তাই করলাম।

আবু সালামা বলেন: এরপর রশিদ, আমি এবং মাসরুর ইব্রাহিমের স্থানে গেলাম। সালেহ বিন বাহলা কোষাগার থেকে কুন্দুস (একপ্রকার হাঁচি উদ্রেককারী ভেষজ) এবং ফুঁ দেওয়ার যন্ত্র আনালেন। তিনি ইব্রাহিমের নাকে কুন্দুস দিয়ে ফুঁ দিলেন। প্রায় দশ মিনিট পর তাঁর শরীর নড়ে উঠল, তিনি হাঁচি দিলেন এবং উঠে বসলেন। এরপর তিনি রশিদের সাথে কথা বললেন এবং তাঁর হাত চুম্বন করলেন। রশিদ তাঁকে তাঁর অবস্থার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বললেন যে, তিনি এমন এক শান্তিময় ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন যে আগে কখনো তেমন ঘুমাননি। তবে তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন যে একটি কুকুর তাঁকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়েছে এবং তিনি নিজের হাত দিয়ে সেটি প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন। তখন কুকুরটি তাঁর বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে একটি কামড় দেয় এবং ব্যথার চোটে তাঁর ঘুম ভেঙে যায়। তিনি তখন তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলটি দেখালেন যেখানে সালেহ বিন বাহলা সূঁচ ঢুকিয়েছিলেন। ইব্রাহিম এরপর দীর্ঘকাল জীবিত ছিলেন এবং তিনি মাহদির কন্যা আব্বাসাকে বিবাহ করেছিলেন। তিনি মিশর ও ফিলিস্তিনের শাসনভার লাভ করেছিলেন এবং মিশরেই মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর কবর সেখানেই অবস্থিত। সমাপ্ত।

 

‌‌আবদুল্লাহ বিন উমর আল-হাব্বারি

আবদুল্লাহ বিন উমর বিন আবদুল আজিজ বিন মুনজির বিন রাবি আল-হাব্বারি আল-কুরাশি ছিলেন সিন্ধুর অন্যতম শাসক। তিনি তাঁর পিতা উমর বিন আবদুল আজিজের পর শাসনভার গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘকাল স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেন। তিনি মানসুরার জামে মসজিদে আব্বাসীয় খলিফার নামে খুতবা পাঠ করতেন। তাঁর বংশধরেরা পর্যায়ক্রমে সেখানে রাজত্ব করতে থাকেন, শেষ পর্যন্ত গজনির অধিপতি মাহমুদ বিন সবুক্তগিনের হাতে তাঁদের শাসনের অবসান ঘটে।

 

‌‌উমর বিন আবদুল আজিজ আল-হাব্বারি

উমর বিন আবদুল আজিজ বিন মুনজির বিন রাবি বিন আবদুর রহমান বিন হাব্বার বিন আসওয়াদ বিন মুত্তালিব বিন আসাদ বিন আবদুল উযযা আল-কুরাশি ছিলেন সিন্ধু অঞ্চলের বিজয়ী শাসক। তাঁর দাদা হাকাম ইবনে আওয়ানা আল-কালবির সাথে সেখানে এসেছিলেন এবং হিন্দুস্তানে বসবাস শুরু করেছিলেন। এই উমর ইতিপূর্বে বর্ণিত ইমরান বিন মুসা আল-বারমাকিকে হত্যা করেছিলেন। আব্বাসীয় খলিফা মুতাসিম বিল্লাহর পক্ষ থেকে আনবাসা ইবনে ইসহাক আদ-দব্বি যখন শাসক নিযুক্ত হন, তখন উমর তাঁর আনুগত্য স্বীকার করেন। এরপর যখন হারুন বিন আবি খালিদ আল-মারওয়ারুজি হিজরি ২৪০ সনে নিহত হন, তখন উমর বিদ্রোহ করে ক্ষমতা দখল করেন। মানসুরার অধিবাসীরা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে এবং আব্বাসীয় খলিফা মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহ তাঁর শাসনে সন্তুষ্ট হন। 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থে উল্লিখিত হয়েছে যে, তিনি দীর্ঘকাল শাসনকার্য পরিচালনা করেন।
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٥٦)
وقال ابن خلدون في الجزء الثاني من تاريخه: أن جده المنذر ابن الرقيع

قد قام بقرقيسيا في أيام السفاح فأسر وسلب، وأما عمر بن عبد العزيز صاحب السند فإنه

وليها في ابتداء الفتنة إثر قتل المتوكل، وتداول أولاده ملكها إلى أن انقطع أمرهم على يد

محمود ابن سبكتكين صاحب غزنة وما دون النهر من خراسان وكانت قاعدتهم

المنصورة- انتهى.

وأما جده هبار بن الأسود- بتشديد الموحدة- فله صحبة النبي صلى الله عليه وسلم،

كما في كتاب الاشتقاق لابن دريد.

 

‌‌عمران بن موسى البرمكي

عمران بن موسى بن يحيى بن خالد البرمكي كان مع أبيه في بلاد السند فلما مات أبوه

سنة إحدى وعشرين ومائتين قام بالأمر، فكتب إليه المعتصم بالله العباسي بولاية الثغر

فخرج إلى القيقان وهم زط، فقاتلهم فغلبهم وبنى مدينة سماها البيضاء وأسكنها الجند،

ثم أتى المنصورة وصار منها إلى قندابيل وهي مدينة على الجبل وفيها متغلب يقال له محمد

بن الخليل فقاتله وفتحها وحمل رؤساءها إلى قصدار، ثم غزا الميد وقتل منهم ثلاثة آلاف،

وسكر سكراً يعرف بسكر الميد، وعسكر عمران على نهر الرور، ثم نادى بالزط الذين

بحضرته فأتوه فختم أيديهم وأخذ الجزية منهم وأمرهم بأن يكون مع كل رجل منهم إذا

اعترض عليه كلب فبلغ الكلب خمسين درهماً، ثم غزا الميد ومعه وجوه الزط فحفر من

البحر نهراً أجراه في بطيحتهم حتى ملح ماؤهم وشن الغارات عليهم، ثم وقعت الفتنة بين

النزارية واليمانية فمال عمران إلى اليمانية، فسار إليه عمر بن عبد العزيز الهباري فقتله وهو

غافل عنه، كما في فتوح البلدان.

 

‌‌عنبسة بن إسحاق الضبي

استعمله المعتصم بالله العباسي على بلاد السند بعد ما قتل عمران بن موسى البرمكي

واليه على تلك البلاد، فأذعن له أهلها بالطاعة فقام بالأمر إلى أيام المتوكل على الله العباسي

وعزله المتوكل سنة اثنتين وثلاثين ومائتين، وهو الذي هم منارة الكنيسة العظمى بالديبل

وجعلها محبساً للجناة وابتدأ في مرهة المدينة بما نقض من حجاة تلك المنارة فعزل قبل

استتمام ذلك، وولي بعده هارون بن أبي خالد المروروذي فقتل بها، كما في فتوح البلدان.

 

‌‌غسان بن عباد الكوفي

استعمله المأمون بن هارون الخليفة العباسي سنة ثلاث عشرة ومائتين، ولما عزم على تولية

غسان قال لأصحابه: أخبروني عن غسان! فإني أريده لأمر عظيم، فأطنبوا في مدحه،

فنظر المأمون إلى أحمد بن يوسف وهو ساكت فقال: ما تقول يا أحمد؟ فقال: يا أمير

المؤمنين! ذلك رجل محاسنه أكثر من مساويه، لا يصرف به إلى طبعة إلا انتصف منهم،

فمهما تخوفت عليه فإنه لن يأتي أمراً يعتذر منه- فأطنب فيه، فقال: لقد مدحته على سوء

رأيك فيه، قال: لأني كما قال الشاعر:

كفى شكراً لما أسديت أني صدقتك في الصديق وفي عداتي

قال: فأعجب المأمون كلامه وأدبه واستعمل غسان على السند فقدمها وخرج بشر إليه

بالأمان فورد به مدينة السلام سنة ست عشرة ومائتين فقال الشاعر:

سيف غسان رونق الحرب فيه وسمام الحتوف في ظبتيه

فإذا جره إلى بلد السن د فألقى المقاد بشر إليه

مقسماً لا يعود ما حج لل هـ مصل وما رمى جمرتيه
ইবনে খালদুন তাঁর ইতিহাসের দ্বিতীয় খণ্ডে বলেছেন: তাঁর দাদা মুনজির ইবনে আর-রাকি' আস-সাফফাহর যুগে কারকিসিয়ায় বিদ্রোহ করেছিলেন, ফলে তাঁকে বন্দি করা হয় এবং তাঁর সম্পদ কেড়ে নেওয়া হয়। আর সিন্ধুর শাসনকর্তা উমর বিন আব্দুল আজিজ আল-হাব্বারি আল-মুতাওয়াক্কিলের হত্যাকাণ্ডের পর ফিতনার শুরুতে সেখানকার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর সন্তানরা সেখানে শাসন পরিচালনা করতে থাকেন, যতক্ষণ না গজনীর অধিপতি এবং খোরাসানের মা-ওয়ারাউন নাহরের শাসক মাহমুদ ইবনে সুবুক্তগিনের হাতে তাঁদের শাসনের অবসান ঘটে। তাঁদের রাজধানী ছিল মানসুরা।—সমাপ্ত।

আর তাঁর দাদা হাব্বার ইবনুল আসওয়াদ (বে বর্ণে তাশদিদসহ)—তিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্যে ধন্য হয়েছিলেন, যেমনটি ইবনে দুরিদ তাঁর 'কিতাবুল ইশতিকাক'-এ উল্লেখ করেছেন।

 

‌ইমরান বিন মুসা আল-বারমাকি

ইমরান বিন মুসা বিন ইয়াহইয়া বিন খালিদ আল-বারমাকি তাঁর পিতার সাথে সিন্ধু দেশে অবস্থান করছিলেন। ২২১ হিজরিতে তাঁর পিতার মৃত্যু হলে তিনি শাসনভার গ্রহণ করেন। আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাসিম বিল্লাহ তাঁকে সীমান্ত অঞ্চলের শাসনের দায়িত্ব দিয়ে পত্র লেখেন। এরপর তিনি কিকানের উদ্দেশ্যে বের হন, যেখানে জাঠদের বসবাস ছিল। তিনি তাদের সাথে যুদ্ধ করে জয়ী হন এবং সেখানে আল-বায়দা নামে একটি শহর নির্মাণ করে সেখানে সৈন্যবাহিনীকে বসবাস করতে দেন। অতঃপর তিনি মানসুরা হয়ে কান্দাবিলে পৌঁছান, যা ছিল পাহাড়ের ওপর অবস্থিত একটি শহর। সেখানে মুহাম্মাদ ইবনুল খলিল নামে একজন বিদ্রোহী ছিল। ইমরান তার সাথে যুদ্ধ করে শহরটি জয় করেন এবং এর নেতাদের কুজদারে পাঠিয়ে দেন। এরপর তিনি মিদ জাতির বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে তাদের তিন হাজার মানুষকে হত্যা করেন এবং একটি বাঁধ নির্মাণ করেন যা 'সুকরুল মিদ' নামে পরিচিত। ইমরান রুর নদীর তীরে শিবির স্থাপন করেন। এরপর তিনি তাঁর নিকটস্থ জাঠদের ডাকলে তারা আসে। তিনি তাদের হাতে সিল মেরে দেন এবং তাদের কাছ থেকে জিজিয়া গ্রহণ করেন। তিনি নির্দেশ দেন যে, প্রত্যেক ব্যক্তি যখনই সামনে আসবে, সাথে যেন একটি করে কুকুর থাকে; ফলে কুকুরের দাম পঞ্চাশ দিরহামে পৌঁছায়। এরপর তিনি জাঠ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে মিদদের বিরুদ্ধে অভিযান চালান। তিনি সমুদ্র থেকে একটি খাল খনন করেন যা তাদের জলাভূমির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়, ফলে তাদের পানি লোনা হয়ে যায়। তিনি তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে যান। এরপর নিজারি ও ইয়ামানিদের মধ্যে ফিতনা শুরু হলে ইমরান ইয়ামানিদের পক্ষ নেন। ফলে উমর ইবনে আব্দুল আজিজ আল-হাব্বারি তাঁর দিকে অগ্রসর হন এবং অসতর্ক অবস্থায় তাঁকে হত্যা করেন, যেমনটি 'ফুতুহুল বুলদান'-এ বর্ণিত হয়েছে।

 

‌আনবাসা বিন ইসহাক আদ-দাব্বি

আব্বাসীয় খলিফা আল-মুতাসিম বিল্লাহ ইমরান বিন মুসা আল-বারমাকির হত্যাকাণ্ডের পর তাঁকে সিন্ধু দেশের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত করেন। সেখানকার অধিবাসীরা তাঁর আনুগত্য স্বীকার করে এবং তিনি খলিফা আল-মুতাওয়াক্কিল আলাল্লাহর সময় পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন। ২৩২ হিজরিতে মুতাওয়াক্কিল তাঁকে পদচ্যুত করেন। তিনিই দেবল শহরের প্রধান গির্জার মিনারটি ধ্বংস করে অপরাধীদের জন্য কারাগারে রূপান্তর করেছিলেন। সেই মিনারের পাথর দিয়ে তিনি শহরের সংস্কার কাজ শুরু করেন, কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি অপসারিত হন। তাঁর পরে হারুন ইবনে আবি খালিদ আল-মারুররুজি দায়িত্ব পান এবং সেখানে তিনি নিহত হন, যেমনটি 'ফুতুহুল বুলদান'-এ উল্লেখ রয়েছে।

 

‌গাসসান বিন আব্বাদ আল-কুফি

আব্বাসীয় খলিফা মামুন ইবনে হারুন ২১৩ হিজরিতে তাঁকে নিযুক্ত করেন। যখন মামুন গাসসানকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন তিনি তাঁর সঙ্গীদের বললেন: "আমাকে গাসসান সম্পর্কে জানাও! কারণ আমি তাঁকে একটি মহান কাজের জন্য চাচ্ছি।" তারা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন। মামুন দেখলেন আহমাদ ইবনে ইউসুফ চুপ করে আছেন। তিনি বললেন: "হে আহমাদ, তুমি কী বল?" তিনি বললেন: "হে আমিরুল মুমিনিন! তিনি এমন একজন মানুষ যার গুণের দিকটি দোষের চেয়ে অনেক বেশি। কোনো স্বভাবজাত বিষয়ের দিকে তাঁকে পরিচালিত করা হলেও তিনি তাদের কাছ থেকে ইনসাফ আদায় করে নেন। তাঁর ব্যাপারে আপনার কোনো ভয় থাকলেও তিনি এমন কোনো কাজ করবেন না যার জন্য ক্ষমা চাইতে হয়।" তিনি তাঁর বিস্তারিত প্রশংসা করলেন। খলিফা বললেন: "তার সম্পর্কে তোমার বিরূপ ধারণা থাকা সত্ত্বেও তুমি তার প্রশংসা করলে!" তিনি বললেন: "কারণ আমি যেমনটি কবি বলেছেন: 'আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করেছেন তার শুকরিয়া হিসেবে এটাই যথেষ্ট যে, আমি বন্ধু এবং শত্রু উভয়ের ব্যাপারে আপনার কাছে সত্য বলেছি'।" খলিফা মামুনের কাছে তাঁর কথা ও আদব ভালো লাগল এবং তিনি গাসসানকে সিন্ধুর গভর্নর নিযুক্ত করলেন। গাসসান সেখানে পৌঁছালে বিশর তাঁর কাছে নিরাপত্তার আবেদন নিয়ে বেরিয়ে আসেন। ২১৬ হিজরিতে গাসসান তাঁকে নিয়ে মদিনাতুস সালামে উপস্থিত হন। কবি বলেন: "গাসসানের তলোয়ারে যুদ্ধের জৌলুস বিদ্যমান, আর এর ধারে রয়েছে মৃত্যুর বিষ। যখন তিনি সিন্ধু দেশের দিকে তা টেনে নিয়ে গেলেন, বিশর তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করল; এই শপথ করে যে, সে আর বিদ্রোহে ফিরে আসবে না—যতদিন কোনো মুসল্লি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করবে এবং জামরায় পাথর নিক্ষেপ করবে।"
(খণ্ড: ١) নুযহাতুল খাওয়াতির ওয়া বাহজাতুল মাসামি ওয়ান নাওয়াযির = আল-ইলামু বি-মান ফী তারিখিল হিন্দি মিনাল আলাম (পৃষ্ঠা: ٥٧)
غادر يخلع الملوك ويغتا ل جنوداً تأوي إلى ذروتيه

ذكره الطبري في تاريخ الأمم والملوك.

 

‌‌منصور بن حاتم النحوي

منصور بن حاتم النحوي نزيل الهند، كان مولى آل خالد بن أسيد، روى عنه البلاذري في

كتابه فتوح البلدان، وهو الذي رأى الدقل الذي كان على منارة البد مكسوراً بمدينة ديبل،

وإن عنبسة بن إسحاق هدم أعلى تلك المنارة وجعل فيها سجناً، وإن داهراً والذي قتله

مصوران ببروص، وبديل بن طهفة مصور بقندابيل.

 

‌‌منكة الهندي

منكة الهندي الحكيم من المشهورين من أطباء الهند- ذكره ابن أبي أصيبعة في طبقات

الأطباء، قال: كان عالماً بصناعة الطب، حسن المعالجة، لطيف التدبير، فيلسوفاً من جملة

المشار إليهم في علوم الهند، متقناً للغة الهند ولغة الفرس، وهو الذي نقل كتاب شاتاق

الهندي في السموم من اللغة الهندية إلى الفارسي، وكان في أيام الرشيد هارون، وسافر من

الهند إلى العراق في أيامه، واجتمع به وداواه، وجدت في بعض الكتب أن منكة الهندي

كان في جملة إسحاق بن سليمان بن علي الهاشمي وكان ينقل من اللغة الهندية إلى الفارسية

والعربية، ونقلت من كتاب أخبار الخلفاء والبرامكة أن الرشيد اعتل علة صعبة فعالجه

الأطباء فلم يجد من علته إفاقة، فقال له أبو عمر الأعجمي: بالهند طبيب يقال له منكة

وهو أحد عبادهم وفلاسفتهم فلو بعث إليه أمير المؤمنين فلعل الله أن يهب له الشفاء على

يده، قال: فوجه الرشيد من حمله ووصله بصلة تعينه على سفره، فقدم وعالج الرشيد فبرأ

من علته بعلاجه، فأجرى عليه رزقاً واسعاً وأموالاً كافية، قال: فبينما كان منكة ماراً في

الخلد إذا هو برجل من المائتين قد بسط كساءه وألقى عليه عقاقير كثيرة وقام يصف دواء

عنده معجوناً فقال في صفته: هذا دواء للحمى الدائمة وحمى الغب وحمى الربع، ولوجع

الظهر والركبتين، والخام والبواسير والرياح، ووجع المفاصل، ووجع العينين، ولوجع البطن،

والصداع، والشقيقة، ولتقطير البول، والفالج، والارتعاش، ولم يدع علة في البدن إلا ذكر أن

ذلك الدواء شفاؤها، فقال منكة لترجمانه: ما يقول هذا؟ فترجم له ما سمع، فتبسم منكة

وقال: على كل حال ملك العرب جاهل، وذلك أنه إن كان الأمر على ما قال هذا فلم حملني

من بلدي وقطعني عن أهلي وتكلف الغليظ من مؤنتي وهو يجد هذا نصب عينه وبإزائه؟

وإن كان الأمر ليس كما يقول هذا فلم لا يقتله؟ فإن الشريعة قد أباحت دم هذا ومن

أشبهه، لأنه إن قتل ما هي إلا نفس تحيا بفنائها أنفس خلق كثير، وإن ترك هذا الجاهل قتل

في كل يوم نفساً، وبالحري أن يقتل نفسين أو ثلاثة أو أربعة في كل يوم، وهذا فساد في الدين

ووهن في المملكة- انتهى.

ومن جملة ما نقله منكة الهندي من اللغة الهندية إلى العربي كتاب سيسر، وعشر مقالات،

ويجري مجرى الكناش نقله بأمر يحيى بن خالد البرمكي، وكتاب أسماء عقاقير الهند، فسره

لاسحاق بن سليمان الهاشمي، ونقل كتاب شاناق الهندي في السموم، نقله من الهندي إلى

الفارسي، كما في كتاب الفهرست لابن النديم.

 

‌‌موسى بن يحيى البرمكي

موسى بن يحيى بن خالد بن برمك البرمكي أحد رجال الدولة العباسية كان مع غسان

بن عباد في أرض الهند، فلما سار غسان إلى مدينة السلام سنة ست عشرة ومائتين

استعمله على بلاد السند، فقام بالأمر وأحسن إلى الناس، وقتل راجه بالا ملك الشرق وقد

بذل له خمسمائة ألف درهم على أن يستبقيه، وكان بالا هذا التوى على غسان وكتب إليه

في حضور عسكره فيمن حضره من
গাদির বাদশাহদের ক্ষমতাচ্যুত করতেন এবং সেইসব সৈন্যদের হত্যা করতেন যারা তাঁর শৃঙ্গে আশ্রয় নিত।

তাবারী একে 'তারীখুল উমাম ওয়াল মুলুক' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

 

‌‌মানসুর বিন হাতিম আন-নাহবী

মানসুর বিন হাতিম আন-নাহবী ভারতের অধিবাসী ছিলেন, তিনি খালিদ বিন আসীদের বংশের আযাদ করা দাস ছিলেন। বালাজুরী তাঁর 'ফুতুহুল বুলদান' গ্রন্থে তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনিই সেই ব্যক্তি যিনি দাইবাল শহরের মূর্তিপূজার মন্দিরের মিনারের উপর থাকা মাস্তুলটি ভাঙা অবস্থায় দেখেছিলেন। আমবাসা বিন ইসহাক সেই মিনারের উপরাংশ ধ্বংস করেছিলেন এবং সেখানে একটি কারাগার নির্মাণ করেছিলেন। দাহির এবং তার হত্যাকারী এই উভয়ের চিত্র বারোসে অঙ্কিত রয়েছে এবং বাদীল বিন তাহফা কান্দাবীলে অঙ্কিত।

 

‌‌মাঙ্কাহ আল-হিন্দি

মাঙ্কাহ আল-হিন্দি একজন প্রাজ্ঞ ব্যক্তি এবং ভারতের প্রসিদ্ধ চিকিৎসকদের একজন। ইবনে আবি উসাইবিয়া তাঁকে 'তাবাকাতুল আতিব্বা' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন: তিনি চিকিৎসাশাস্ত্রে পণ্ডিত ছিলেন, চমৎকার চিকিৎসাবিদ্যা ও সূক্ষ্ম ব্যবস্থাপনার অধিকারী ছিলেন। ভারতীয় বিজ্ঞানের দিকপালদের অন্তর্ভুক্ত একজন দার্শনিক ছিলেন। তিনি ভারতীয় ভাষা ও ফারসি ভাষায় দক্ষ ছিলেন। তিনিই ভারতের 'শানাক'-এর বিষবিষয়ক গ্রন্থটি হিন্দি ভাষা থেকে ফারসিতে অনুবাদ করেছিলেন। তিনি হারুনুর রশীদের সময়ে ছিলেন এবং তাঁর শাসনামলে ভারত থেকে ইরাকে ভ্রমণ করেন এবং তাঁর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁর চিকিৎসা করেন। আমি কোনো কোনো কিতাবে পেয়েছি যে, মাঙ্কাহ আল-হিন্দি ইসহাক বিন সুলাইমান বিন আলী আল-হাশিমীর সান্নিধ্যে ছিলেন এবং তিনি হিন্দি ভাষা থেকে ফারসি ও আরবিতে অনুবাদ করতেন। আমি 'আখবারুল খুলাফা ওয়াল বারামিকা' গ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত করছি যে, হারুনুর রশীদ একবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন, চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা করলেন কিন্তু তাঁর রোগে কোনো উপশম হলো না। তখন আবু উমর আল-আজমী তাঁকে বললেন: ভারতে মাঙ্কাহ নামক একজন চিকিৎসক আছেন, যিনি তাদের অন্যতম উপাসক ও দার্শনিক; আমীরুল মুমিনীন যদি তাঁর কাছে লোক পাঠাতেন, তবে হয়তো আল্লাহ তাঁর হাতে রোগমুক্তি দান করতেন। বর্ণনাকারী বলেন: তখন রশীদ এমন লোক পাঠালেন যারা তাঁকে বহন করে নিয়ে আসবে এবং তাঁকে সফরের জন্য যথেষ্ট অর্থ প্রদান করলেন। তিনি এলেন এবং রশীদের চিকিৎসা করলেন, ফলে তাঁর চিকিৎসায় তিনি রোগমুক্ত হলেন। অতঃপর রশীদ তাঁর জন্য প্রচুর ভাতা ও যথেষ্ট অর্থ বরাদ্দ করলেন। বর্ণনাকারী বলেন: মাঙ্কাহ যখন খুলদ প্রাসাদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি জনৈক সাধারণ লোককে দেখলেন যে চাদর বিছিয়ে তার ওপর অনেক ভেষজ দ্রব্য রেখেছে এবং নিজের কাছে থাকা একটি মাজুন জাতীয় ওষুধের গুণকীর্তন করছে। সে তার বর্ণনায় বলছিল: এটি দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, একদিন অন্তর আসা জ্বর ও চতুর্থ দিনের জ্বরের ওষুধ। এটি পিঠের ব্যথা, হাঁটুর ব্যথা, পেট ফাঁপা, অর্শ, বায়ুজনিত সমস্যা, জয়েন্টের ব্যথা, চোখের ব্যথা, পেটের ব্যথা, মাথাব্যথা, আধকপালি, প্রস্রাবের ফোঁটা পড়া, পক্ষাঘাত ও কম্পন রোগের জন্য উপকারী। শরীরের এমন কোনো রোগের কথা সে বাকি রাখল না যার আরোগ্য এই ওষুধে আছে বলে সে দাবি করেনি। তখন মাঙ্কাহ তাঁর দোভাষীকে জিজ্ঞেস করলেন: এই লোক কী বলছে? দোভাষী যা শুনেছিল তা অনুবাদ করে শোনাল। তখন মাঙ্কাহ মুচকি হাসলেন এবং বললেন: যা-ই হোক, আরবদের বাদশাহ অজ্ঞ। কারণ, বিষয়টি যদি তেমনি হয় যা এই লোক বলছে, তবে তিনি কেন আমাকে আমার দেশ থেকে বহন করে আনলেন, আমার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করলেন এবং আমার পেছনে এত বিপুল অর্থ ব্যয় করলেন, যেখানে তিনি তাঁর চোখের সামনেই এর সমাধান পাচ্ছেন? আর বিষয়টি যদি তেমন না হয় যা এই লোক বলছে, তবে তিনি কেন তাকে হত্যা করছেন না? কারণ শরীয়ত তো এই লোক ও তার সদৃশ ব্যক্তিদের রক্ত বৈধ করেছে। কেননা একে হত্যা করা মানে হলো এমন একটি প্রাণ নাশ করা যার বিনিময়ে বহু মানুষের প্রাণ বেঁচে যাবে। আর যদি এই মূর্খকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তবে সে প্রতিদিন একজনকে হত্যা করবে, বরং সম্ভাবনা আছে যে সে প্রতিদিন দুই, তিন বা চারজনকে হত্যা করবে। এটি দ্বীনের মধ্যে বিপর্যয় এবং রাষ্ট্রের জন্য দুর্বলতা স্বরূপ। - সমাপ্ত।

মাঙ্কাহ আল-হিন্দি হিন্দি ভাষা থেকে আরবিতে যা অনুবাদ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে 'সাসার' নামক কিতাব ও দশটি প্রবন্ধ, যা একটি চিকিৎসা সংকলনের মতো; এটি তিনি ইয়াহইয়া বিন খালিদ আল-বারমাকীর আদেশে অনুবাদ করেছিলেন। এছাড়া ভারতের ভেষজ দ্রব্যের নামের কিতাব, যা তিনি ইসহাক বিন সুলাইমান আল-হাশিমীর জন্য ব্যাখ্যা করেছিলেন। ইবনে নাদীমের 'আল-ফিহরিস্ত' কিতাবে যেমন উল্লেখ আছে, তিনি শানাক আল-হিন্দির বিষবিষয়ক গ্রন্থটিও হিন্দি থেকে ফারসিতে অনুবাদ করেছিলেন।

 

‌‌মুসা বিন ইয়াহইয়া আল-বারমাকী

মুসা বিন ইয়াহইয়া বিন খালিদ বিন বারমাক আল-বারমাকী ছিলেন আব্বাসীয় রাষ্ট্রের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি ভারতে গাসসান বিন আব্বাদের সাথে ছিলেন। যখন গাসসান ২১৬ হিজরি সনে মদিনাতুস সালামের (বাগদাদের) উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন, তখন তিনি তাকে সিন্দ দেশের শাসক নিযুক্ত করেন। তিনি শাসনভার গ্রহণ করেন এবং জনগণের সাথে উত্তম আচরণ করেন। তিনি পূর্বের রাজা 'বালা'কে হত্যা করেছিলেন, যদিও বালা তাকে জীবিত রাখার বিনিময়ে পাঁচ লক্ষ দিরহাম প্রদানের প্রস্তাব দিয়েছিল। এই বালা গাসসানের অবাধ্যতা করেছিল এবং তার সৈন্যবাহিনীর উপস্থিতিতে তার কাছে এই মর্মে পত্র লিখেছিল যে...