(খণ্ড: ১) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: -)
تذكرة الحفاظ = طبقات الحفاظ للذهبي   (شمس الدين الذهبي)

القسم: التراجم والطبقات


الكتاب: تذكرة الحفاظ

المؤلف: شمس الدين أبو عبد الله محمد بن أحمد بن عثمان الذهبي (ت 748 هـ)

وضع حواشيه: زكريا عميرات

الناشر: دار الكتب العلمية، بيروت-لبنان

الطبعة: الأولى، 1419 هـ- 1998 م

عدد الأجزاء: 5 (1 - 4: تذكرة الذهبي و 5: ذيوله للحسيني وابن فهد والسيوطي)

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

তাজকিরাতুল হুফফাজ = যাহাবীর তবাকাতুল হুফফাজ   (শামসুদ্দিন আয-যাহাবী)

বিভাগ: জীবনী ও তবাকাত


কিতাব: তাজকিরাতুল হুফফাজ

লেখক: শামসুদ্দিন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন উসমান আয-যাহাবী (মৃত্যু ৭৪৮ হিজরি)

টীকা সংযোজন: জাকারিয়া উমাইরাত

প্রকাশক: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ، বৈরুত-লেবানন

সংস্করণ: প্রথম، ১৪১৯ হিজরি- ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দ

খণ্ড সংখ্যা: ৫ (১ - ৪: যাহাবীর তাজকিরা এবং ৫: আল-হুসাইনী, ইবনে ফাহাদ ও আস-সুয়ূতী কর্তৃক এর পরিশিষ্ট)

[কিতাবের নম্বর বিন্যাস মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ্জ ১৪৩১

(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣)
‌‌المجلد الأول

‌‌مقدمة

…

بسم الله الرحمن الرحيم

مقدمة

الحمد الله رب العالمين والصلاة والسلام على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين وبعد؛ فإن الحديث النبوي الشريف قد استحوذ على هم الصحابة والتابعين وكل العلماء، فما من صغيرة ولا كبيرة، وما من أمر عظيم أو دقيق، حتى ما يتعلق في جزئيات حياته صلى الله عليه وسلم من طعام أو شراب أو قيام أو قعود أو سفر أو حضر أو التفاتة إلا وأحاطوها بالعناية الكبرى فحفظوها وتناقلوها جيلا بعد جيل، وأمة بعد أمة، فالصحابة إذًا هم ذوو الفضل ولهم اليد الكريمة والعظيمة في علم الرواية للحديث حيث وضعوا القوانين والمبادئ التي تحقق ضبط العدل للحديث، ومن هم الرجال الذين يؤخذ عنهم ويُسمع منهم ومن هم الذين يترك كلامهم ولا تقبل منهم روايتهم.

ولقد وضع العلماء لرواة الحديث ألقابا كل حسب درجته وقوة ذكائه وكثرة حفظه وغير ذلك، ومن هذه الألقاب:

1- المسند: وهو من يروي الحديث بإسناده، سواء كان عنده علم به أو ليس له إلا مجرد الرواية.

2- المحدث: وهو كما قال ابن سيد الناس: "من اشتغل بالحديث رواية ودراية، وجمع رواة، واطلع على كثير من الرواة والروايات في عصره، وتميز في ذلك حتى عرف فيه خطه واشتهر فيه ضبطه" انظر تدريب الراوي ص11. وقسم الرواة ص197.

3- الحافظ: وهو أرفع من المحدث وفي تعريفه يقول ابن الجزري: "من روى ما يصل إليه ووعى ما يحتاج لديه".

4- الحجة: وهو الحافظ العظيم الإتقان والمدقق فيما يحفظ من الأسانيد والمتون تدقيقا بالغا ليصل حينذاك إلى لقب الحجة. أما المتأخرون من العلماء فقد عرفوه بأنه الذي يحفظ ثلاثمائة ألف حديث مع معرفة أسانيدها ومتونها.

5- الحاكم: وهو الذي أحاط علما بجميع الأحاديث حتى لا يفوته منها إلا اليسير.
‌প্রথম খণ্ড

‌ভূমিকা

…

পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।

ভূমিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও তাঁর সকল সাথীদের ওপর বর্ষিত হোক। অতঃপর; প্রকৃতপক্ষে নববী হাদিস শরীফ সাহাবীগণ, তাবেঈগণ এবং সকল আলেমদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। ছোট-বড় কোনো বিষয়, মহান কিংবা সূক্ষ্ম কোনো ব্যাপার, এমনকি তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জীবনের খুঁটিনাটি বিষয় যেমন—খাবার, পানীয়, দাঁড়ানো, বসা, সফর, অবস্থান বা কোনো দিকে ফিরে তাকানো—এমন কিছুই নেই যা তাঁরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বেষ্টন করে সংরক্ষণ করেননি এবং এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে ও এক উম্মত থেকে অন্য উম্মতে পৌঁছে দেননি। সুতরাং সাহাবীগণই হলেন মর্যাদার অধিকারী এবং হাদিস বর্ণনার বিজ্ঞানে তাঁদের হাত অত্যন্ত সম্মানজনক ও মহান; কারণ তাঁরাই এমন সব নিয়ম ও মূলনীতি নির্ধারণ করেছেন যা হাদিসের নির্ভুলতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করে। আর কারা সেই সব ব্যক্তি যাদের নিকট থেকে হাদিস গ্রহণ করা হবে ও শোনা হবে এবং কারা সেই সব ব্যক্তি যাদের কথা বর্জন করা হবে এবং যাদের বর্ণনা গ্রহণ করা হবে না—তাও তাঁরা নির্ধারণ করেছেন।

হাদিস বিশারদগণ হাদিস বর্ণনাকারীদের জন্য তাদের প্রত্যেকের স্তর, মেধার প্রখরতা, মুখস্থ করার আধিক্য এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন উপাধি প্রদান করেছেন। এই উপাধিগুলোর মধ্যে রয়েছে:

১- মুসনিদ: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি হাদিসকে তার সনদসহ বর্ণনা করেন, চাই সে বিষয়ে তার জ্ঞান থাকুক বা কেবল বর্ণনার মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ থাকুক।

২- মুহাদ্দিস: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যার সম্পর্কে ইবনে সাইয়্যেদুন নাস বলেছেন: "যিনি হাদিস বর্ণনা এবং এর শাস্ত্রীয় জ্ঞানের চর্চায় নিয়োজিত থাকেন, বর্ণনাকারীদের সংগ্রহ করেন এবং নিজ সময়ের অনেক বর্ণনাকারী ও বর্ণনা সম্পর্কে অবগত থাকেন এবং এক্ষেত্রে এমন বিশিষ্টতা অর্জন করেন যে তার লিখনশৈলী ও নির্ভুলতা সুপরিচিত হয়ে ওঠে।" দেখুন: তাদরিবুর রাবি, পৃষ্ঠা ১১; এবং কিসমুর রুওয়াত, পৃষ্ঠা ১৯৭।

৩- হাফেজ: তিনি মুহাদ্দিসের চেয়ে উচ্চতর স্তরের। এর সংজ্ঞায় ইবনে আল-জাযারি বলেন: "যিনি তার নিকট পৌঁছানো হাদিস বর্ণনা করেন এবং নিজের প্রয়োজনীয় হাদিসসমূহ আত্মস্থ করেন।"

৪- হুজ্জাহ: তিনি এমন একজন হাফেজ যিনি অত্যন্ত নিখুঁত এবং সনদ ও মতন (মূল পাঠ) অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে যাচাই করেন যাতে করে তিনি 'হুজ্জাহ' উপাধি অর্জন করতে পারেন। পরবর্তী যুগের আলেমগণ তাকে এমন ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন যিনি সনদ ও মতনসহ তিন লক্ষ হাদিস মুখস্থ রাখেন।

৫- হাকীম: তিনি হলেন সেই ব্যক্তি যিনি প্রায় সমস্ত হাদিস সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন, ফলে খুব সামান্য সংখ্যক হাদিসই তার অগোচরে থাকে।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٤)
6- أمير المؤمنين في الحديث: وهو الذي فاق حفظا وإتقانا في علم الأحاديث ومن هؤلاء: سفيان الثوري، وعبد الله بن المبارك، وأحمد بن حنبل، والبخاري، ومسلم. أما من المتأخرين فمنهم الحافظ بن علي بن حجر العسقلاني.

ولقد صنف الإمام الذهبي "تذكرة الحفاظ" جمع فيها من لقب بالحفاظ بالمعنى الذي يشمل الحافظ والحجة فما فوق.

الذهبي:

هو الحافظ محمد بن أحمد بن عثمان بن قايماز بن عبد الله، التركماني الأصل، الفارقي ثم الدمشقي، أبو عبد الله شمس الدين الذهبي.

هكذا ذكر نسبه الحافظ ابن حجر العسقلاني في كتابه "الدرر الكامنة" ويذكر لمحات عن حياته فيقول:

ولد في ثالث ربيع الآخر سنة 673، وأجاز له في تلك السنة بعناية أخيه من الرضاعة الشيخ علاء الدين ابن العطار أحمد بن أبي الخير وابن الدرجي وابن علان وابن أبي اليسر وابن أبي عمر والفخر علي.

مهر في فن الحديث وجمع فيه المجاميع المفيدة الكثيرة حتى كان أكثر أهل عصره تصنيفا، فله:

أخبار أبي مسلم الخراساني، أخبار قضاة دمشق، الإعلام بالوفيات، تاريخ الإسلام في اثني عشر مجلدا، التبيان في مناقب عثمان بن عفان، التجريد في أسماء الصحابة، تحريم الأدبار مجلدين، تشبيه الخسيس بأهل الخميس، التعزية الحسنة بالآخرة، تقويم البلدان، توقيف أهل التوقيف في مناقب أبي بكر الصديق، تهذيب التهذيب في أسماء الرجال، الدرة اليتيمة في سيرة ابن تيمية أعني تقي الدين أحمد، دول الإسلام في التاريخ. الروع والأوجال في نبأ المسيح والدجال، سيرة الحلاج، سير النبلاء في التاريخ والتراجم في عشرين مجلدا، العبر في خبر من غبر، العذب السلسل في الحديث المسلسل، العلو للعلي الأعلى الغفار في إيضاح الأخبار، عنوان السير في ذكر الصحابة، فتح المطالب في مناقب علي بن أبي طالب، قض نهارك بأخبار ابن مبارك، الكاشف في أسماء الرجال، المقتضب من تهذيب الكمال للمزي، كتاب العرش وصفته، كتاب الكبائر جزآن، كتاب الوتر، كشف الكربة عند فقد الأحبة، ما بعد الموت مجلد، المجرد في رجال الكتب الستة المختصر في محدثي العصر، مختصر سلاح المؤمن، مختصر معجم الشيوخ، المستحلى في اختصار المحلى، مشتبه النسبة في الأنساب، المعجم الصغير المسمى
৬- হাদিসের ক্ষেত্রে আমীরুল মুমিনীন: তিনি হলেন এমন ব্যক্তি যিনি হাদিসশাস্ত্রে মুখস্থ ও নিপুণতায় অনন্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। এঁদের মধ্যে রয়েছেন: সুফিয়ান আস-সাওরি, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক, আহমাদ বিন হাম্বল, বুখারি এবং মুসলিম। আর পরবর্তীদের মধ্যে হাফেজ ইবনে আলি ইবনে হাজার আল-আসকালানি অন্যতম।

ইমাম যাহাবি "তাযকিরাতুল হুফফাজ" গ্রন্থটি রচনা করেছেন, যেখানে তিনি তাদের সংকলন করেছেন যাদের 'হাফেজ' উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে এমন অর্থে যা হাফেজ এবং হুজ্জাহ থেকে শুরু করে তার উপরের স্তরগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।

যাহাবি:

তিনি হলেন হাফেজ মুহাম্মদ বিন আহমাদ বিন উসমান বিন কাইমাজ বিন আবদুল্লাহ, মূলে তুর্কমেনি, আল-ফারিকি অতঃপর আদ-দামেশকি, আবু আবদুল্লাহ শামসুদ্দিন যাহাবি।

হাফেজ ইবনে হাজার আল-আসকালানি তাঁর "আদ-দুরার আল-কামিনাহ" গ্রন্থে এভাবেই তাঁর বংশপরিচয় উল্লেখ করেছেন এবং তাঁর জীবনের কিছু দিক আলোচনা করে বলেন:

তিনি ৬৭৩ হিজরি সালের ৩রা রবিউস সানি জন্মগ্রহণ করেন। সেই বছরই তাঁর দুধভাই শেখ আলাউদ্দিন ইবনুল আত্তারের বিশেষ তত্ত্বাবধানে তাঁকে ইজাজত (অনুমতি) প্রদান করেন আহমাদ বিন আবুল খায়ের, ইবনুদ দারজি, ইবনে আল্লান, ইবনে আবুল ইয়াসার, ইবনে আবু উমর এবং আল-ফাখর আলি।

তিনি হাদিসশাস্ত্রে দক্ষতা অর্জন করেন এবং এতে অনেক উপকারী সংকলন প্রস্তুত করেন, এমনকি তিনি তাঁর সমসাময়িকদের মধ্যে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রণেতা ছিলেন। তাঁর রচিত কিছু গ্রন্থ হলো:

আবু মুসলিম আল-খুরাসানির সংবাদ, দামেস্কের বিচারকদের সংবাদ, মৃত্যুসংবাদ বিষয়ক ঘোষণা, বারো খণ্ডে ইসলামের ইতিহাস, উসমান বিন আফফানের গুণাবলি বর্ণনায় সুস্পষ্ট প্রমাণ, সাহাবিদের নামের সংক্ষিপ্ত তালিকা, দুই খণ্ডে পায়ুপথে সঙ্গম নিষিদ্ধকরণ, নীচুদের সাথে বৃহস্পতিবার পালনকারীদের সাদৃশ্য প্রদান, পরকাল স্মরণে উত্তম সান্ত্বনা, শহরসমূহের ভৌগোলিক বিবরণ, আবু বকর সিদ্দিকের গুণাবলি বর্ণনায় অভিজ্ঞদের নির্দেশনা, বর্ণনাকারীদের নামের পরিমার্জিত রূপ, ইবনে তাইমিয়া অর্থাৎ তাকিউদ্দিন আহমাদের জীবনীতে অনন্য মুক্তা, ইতিহাসে ইসলামি রাষ্ট্রসমূহ, মসিহ ও দাজ্জালের সংবাদে শঙ্কা ও উদ্বেগ, হাল্লাজের জীবনী, ইতিহাস ও জীবনচরিতে বিশ খণ্ডে মহান ব্যক্তিদের জীবনী, অতীতদের সংবাদে শিক্ষণীয় বিষয়, ধারাবাহিক হাদিসসমূহের সুপেয় ঝরনা, হাদিসসমূহের বর্ণনায় সুউচ্চ অতি মহান ক্ষমাশীল আল্লাহর উচ্চতা, সাহাবিদের বর্ণনায় জীবনীগ্রন্থের শিরোনাম, আলি বিন আবি তালিবের গুণাবলি বর্ণনায় কাঙ্ক্ষিত বিজয়, ইবনুল মুবারকের জীবন সংবাদে তোমার দিন অতিবাহিত করো, বর্ণনাকারীদের নামের বিস্তারিত অনুসন্ধানকারী, মিজ্জি রচিত তাহযিবুল কামালের সংক্ষিপ্ত রূপ, আরশ এবং এর বৈশিষ্ট্যের কিতাব, দুই খণ্ডে কবিরা গুনাহের কিতাব, বিতর নামাজের কিতাব, প্রিয়জনদের বিয়োগব্যথা দূরীকরণ, মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থা বিষয়ক এক খণ্ড, সমকালীন হাদিস বিশারদদের সংক্ষিপ্তসারে ছয়টি কিতাবের বর্ণনাকারীদের পরিমার্জিত তালিকা, সিলাহুল মুমিনের সংক্ষিপ্তসার, মুজামুশ শুয়ুখের সংক্ষিপ্তসার, আল-মুহাল্লার সংক্ষিপ্তকরণের পরিমার্জিত রূপ, বংশপরিচয়ে সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়ের বর্ণনা, আল-মুজামুস সাগির নামক...
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٥)
باللطيف، المعجم الكبير، معرفة القراء الكبار على الطبقات والأعصار، المغني في الضعفاء وبعض الثقات، المقتنى في سرد الكنى، منية الطالب لأعز المطالب، ميزان الاعتدال في نقد الرجال مجلدين مطبوع في الهند، نعم السمر في مناقب عمر رضي الله عنه، نقض الجعبة في أخبار شعبة، هالة البدر في عدد أهل بدر وغير ذلك1.

رأي العلماء في الإمام الذهبي:

يقول تاج الدين السبكي في طبقات الشافعية الكبرى "9/ 201، 102": "وأما أستاذنا أبو عبد الله، فبَصَر لا نظير له، وكنز هو الملجأ إذا نزلت المعضلة، إمام الوجود حفظا، وذَهَبُ العصر معنى ولفظا، وشيخ الجرح والتعديل، ورجل الرجال في كل سبيل، كأنما جمعت الأمة في صعيد واحد فنظرها ثم أخذ يخبر عنها أخبار من حضرها".

ثم يقول أيضا:

"وسمع منه الجمع الكثير، وما زال يخدم هذا الفن إلى أن رسخت فيه قدمه، وتعب الليل والنهار وما تعب لسانه وقلمه، وضربت باسمه الأمثال، وسار اسمه مسير الشمس إلا أنه لا يتقلص بالمطر، ولا يدبر إذا أقبلت الليال" "9/ 103".

ويقول ابن كثير في "البداية والنهاية" "14/ 255":

"وقد ختم به شيوخ الحديث وحفاظه".

ويقول ابن شاكر الكتبي في "فوات الوفيات" "2/ 370":

"حافظ لا يجارى، ولاحظ لا يبارى، أتقن الحديث ورجاله، ونظر علله وأحواله، وعرف تراجم الناس وأبان الإبهام في تواريخهم والإلباس. جمع الكثير، ونفع الجم الغفير، وأكثر من التصنيف، ووفر بالاختصار مؤنة التطويل في التأليف".

ويذكر ابن حجر مدح الصلاح الصفدي له فيقول:

"لم يكن عنده جمود المحدثين ولا كودنة "بلادة" النقلة، بل كان فقيه النفس، له دربة بأقوال الناس".

أما في نهاية حياته فيقول الإمام ابن حجر:

"وكان قد أضر قبل موته بسنوات، وكان يغضب إذا قيل له لو قدحت عينك لأبصرت؛ لأنه كان نزل فيها ماء، ويقول: ليس هذا ماء أنا ما زلت أعرف بصري ينقص قليلا قليلا إلى أن تكامل عدمه". ومات في ليلة الثالث من ذي القعدة سنة 748هـ".

--------------------------------------------

1 انظر هدية العارفين "2/ 154، 155".
বিল-লাতিফ, আল-মুজামুল কাবীর, মা'রিফাতুল কুররাউল কিবার আলাত তাবাকাত ওয়াল আ'সার, আল-মুগনি ফিত দু'য়াফা ওয়া বাদিত সিকাত, আল-মুকতানা ফী সারদিল কুনা, মুনিয়াতুত তালিব লি-আ'যযিল মাতালিব, মিযানুল ইতিদাল ফী নাকদির রিজাল (দুই খণ্ডে ভারতে মুদ্রিত), নি'মাস সামার ফী মানাকিবি উমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু, নাকদ্বুল জু'বা ফী আখবারি শু'বা, হালাতুল বাদর ফী আদাদি আহলি বাদর এবং এর বাইরেও আরও অনেক গ্রন্থ১।

ইমাম আয-যাহাবি সম্পর্কে উলামায়ে কিরামের অভিমত:

তাজউদ্দীন আস-সুবকি 'তাবাকাতুশ শাফিইয়্যাহ আল-কুবরা' (৯/২০১, ১০২) গ্রন্থে বলেন: "আর আমাদের উস্তাদ আবু আব্দুল্লাহ হলেন এমন এক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তি যার কোনো উপমা নেই, এবং এমন এক ভাণ্ডার যিনি কোনো জটিল সমস্যা দেখা দিলে আশ্রয়স্থল হিসেবে গণ্য হন। তিনি হেফয বা মুখস্থের দিক থেকে বিশ্বের ইমাম এবং অর্থ ও শব্দের বিচারে এই যুগের স্বর্ণ। তিনি জারহ ও তাদীল শাস্ত্রের শায়খ এবং প্রতিটি পথেই পুরুষদের শ্রেষ্ঠ পুরুষ। মনে হয় যেন পুরো উম্মতকে এক ময়দানে সমবেত করা হয়েছে এবং তিনি তাদের পর্যবেক্ষণ করেছেন, অতঃপর তিনি তাদের সম্পর্কে সংবাদ দিচ্ছেন এমনভাবে যেন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন।"

অতঃপর তিনি আরও বলেন:

"অগণিত মানুষ তার থেকে হাদিস শ্রবণ করেছেন। তিনি এই শাস্ত্রের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত ছিলেন যতক্ষণ না তাতে তার পা সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি রাত-দিন পরিশ্রম করেছেন কিন্তু তার জিহ্বা ও কলম ক্লান্ত হয়নি। তার নামে উদাহরণ দেয়া হতো এবং সূর্যের চলার গতির মতো তার নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছিল; তবে পার্থক্য এই যে, বৃষ্টির কারণে তা ম্লান হয় না এবং রাত নেমে এলে তা পিছু হটে না" (৯/১০৩)।

ইবনে কাসীর 'আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া' (১৪/২৫৫) গ্রন্থে বলেন:

"তার মাধ্যমেই হাদিসের শায়খ এবং হাফেজদের ধারা সমাপ্ত হয়েছে।"

ইবনে শাকির আল-কুতুবি 'ফাওয়াতুল ওয়াফায়াত' (২/৩৭০) গ্রন্থে বলেন:

"তিনি এমন এক হাফেজ যার সাথে পাল্লা দেয়া যায় না এবং এমন এক পর্যবেক্ষক যার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায় না। তিনি হাদিস ও এর বর্ণনাকারীদের বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন, এর ত্রুটিসমূহ ও অবস্থাসমূহ পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং মানুষের জীবনী সম্পর্কে জানতেন ও তাদের ইতিহাসের অস্পষ্টতা ও জটিলতা দূর করেছেন। তিনি প্রচুর জ্ঞান সংগ্রহ করেছেন এবং বহু মানুষকে উপকৃত করেছেন। তিনি অনেক গ্রন্থ রচনা করেছেন এবং সংক্ষিপ্তকরণের মাধ্যমে দীর্ঘ রচনার কষ্ট লাঘব করেছেন।"

ইবনে হাজার তার প্রতি সালাহ আস-সাফাদির প্রশংসা উল্লেখ করে বলেন:

"তার মধ্যে হাদিসবিদদের জড়তা ছিল না এবং বর্ণনাকারীদের স্থবিরতা (নির্বুদ্ধিতা) ছিল না; বরং তিনি ছিলেন ফকীহ হৃদয়ের অধিকারী এবং মানুষের বক্তব্যের বিষয়ে তার গভীর অভিজ্ঞতা ছিল।"

আর তার জীবনের শেষ সময় সম্পর্কে ইমাম ইবনে হাজার বলেন:

"মৃত্যুর কয়েক বছর আগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন। তাকে যদি বলা হতো যে, আপনার চোখের অপারেশন করলে আপনি দেখতে পাবেন, তবে তিনি রাগান্বিত হতেন; কারণ তার চোখে ছানি পড়েছিল। তিনি বলতেন: এটি কোনো পানি নয়, আমি লক্ষ্য করছিলাম যে আমার দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমছে যতক্ষণ না তা পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।" তিনি ৭৪৮ হিজরি সনের ৩ যিলকদ রাতে মৃত্যুবরণ করেন।

--------------------------------------------

১ দেখুন হাদিয়াতুল আরিফীন (২/১৫৪, ১৫৫)।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٩)
‌‌الطبقة الأولى من الكتاب:

1- 1/1 ع أبو بكر الصديق رضي الله عنه: أفضل الأمة وخليفة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ومؤنسه في الغار، وصديقه الأكبر، وصديقه الأشفق، ووزيره الأحزم، عبد الله بن أبي قحافة عثمان القرشي التيمي قد أفردت سيرته في مجلد وسط.

وكان أول من احتاط في قبول الأخبار فروى بن شهاب عن قبيصة بن ذويب أن الجدة جاءت إلى أبي بكر تلتمس أن تورث فقال: ما أجد لك في كتاب الله شيئا وما علمت أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ذكر لك شيئا ثم سأل الناس فقام المغيرة فقال: حضرت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يعطيها السدس. فقال له: هل معك أحد؟ فشهد محمد بن مسلمة بمثل ذلك فأنفذه لها أبو بكر رضي الله عنه.

ومن مراسيل بن أبي مليكة أن الصديق جمع الناس بعد وفاة نبيهم فقال: إنكم تحدثون عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أحاديث تختلفون فيها والناس بعدكم أشد اختلافا فلا تحدثوا عن رسول الله شيئا، فمن سألكم فقولوا بيننا وبينكم كتاب الله فاستحلوا حلاله وحرموا حرامه.

فهذا المرسل يدلك أن مراد الصديق التثبت في الأخبار والتحري لا سد باب الرواية، ألا تراه لما نزل به أمر الجدة ولم يجده في الكتاب كيف سأل عنه في السنة، فلما أخبره الثقة ما اكتفى حتى استظهر بثقة آخر ولم يقل حسبنا كتاب الله كما تقوله الخوارج.

وحديث يونس عن الزهري أن أبا بكر حدث رجلا حديثا فاستفهمه الرجل إياه فقال أبو بكر: هو كما حدثتك، أي أرض تقلني إذا أنا قلت ما لم أعلم؟ وصح أن الصديق خطبهم فقال: إياكم والكذب فإن الكذب يهدي إلى الفجور والفجور يهدي إلى النار.

وقال علي بن عاصم وهو من أوعية العلم لكنه سيء الحفظ أنا إسماعيل بن أبي خالد عن قيس بن أبي حازم قال: سمعت أبا بكر الصديق يقول: إياكم والكذب؛ فإن الكذب
গ্রন্থের প্রথম স্তর:

১- ১/১ আবু বকর আস-সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু: উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের খলীফা, গুহায় তাঁর সহচর, তাঁর মহান সত্যবাদী বন্ধু, তাঁর পরম হিতৈষী বন্ধু এবং তাঁর সবচেয়ে দূরদর্শী মন্ত্রী; আবদুল্লাহ ইবনে আবি কুহাফা উসমান আল-কুরাশী আত-তাইমী। তাঁর জীবনী একটি মাঝারি খণ্ডে পৃথকভাবে আলোচনা করা হয়েছে।

তিনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি সংবাদ (হাদীস) গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলেন। ইবনে শিহাব কাবীসাহ ইবনে যুয়াইব থেকে বর্ণনা করেন যে, জনৈক দাদী (বা নানী) আবু বকরের কাছে এসে তাঁর উত্তরাধিকার লাভের আবেদন করলেন। তিনি বললেন: ‘আল্লাহর কিতাবে তোমার জন্য আমি কিছুই পাচ্ছি না এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম তোমার ব্যাপারে কিছু উল্লেখ করেছেন বলেও আমার জানা নেই।’ এরপর তিনি লোকজনকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে মুগীরা দাঁড়িয়ে বললেন: ‘আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের কাছে উপস্থিত ছিলাম যখন তিনি তাকে এক-ষষ্ঠাংশ প্রদান করেছিলেন।’ আবু বকর তাকে বললেন: ‘তোমার সাথে আর কেউ আছে কি?’ তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ অনুরূপ সাক্ষ্য প্রদান করলেন, ফলে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু সেটি তার জন্য কার্যকর করলেন।

ইবনে আবি মুলাইকার মুরসাল বর্ণনাগুলোর মধ্যে রয়েছে যে, সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের নবীর ইন্তেকালের পর মানুষকে একত্রিত করে বললেন: ‘তোমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এমন সব হাদীস বর্ণনা করছ যাতে তোমরা নিজেরা মতভেদ করছ, আর তোমাদের পরবর্তী মানুষরা আরও বেশি মতভেদে লিপ্ত হবে। সুতরাং তোমরা রাসূলুল্লাহ থেকে কিছুই বর্ণনা করো না। কেউ যদি তোমাদের কাছে কিছু জানতে চায়, তবে বলো—আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব রয়েছে। সুতরাং তোমরা এর হালালকে হালাল হিসেবে গ্রহণ করো এবং এর হারামকে হারাম হিসেবে বর্জন করো।’

এই মুরসাল বর্ণনাটি আপনাকে নির্দেশ করে যে, সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহুর উদ্দেশ্য ছিল সংবাদের সত্যতা যাচাই ও নিবিড় অনুসন্ধান করা, হাদীস বর্ণনার পথ রুদ্ধ করা নয়। আপনি কি লক্ষ্য করেন না যে, যখন তাঁর কাছে দাদীর মীরাসের বিষয়টি উপস্থাপিত হলো এবং তিনি কিতাবুল্লাহতে তা পেলেন না, তখন তিনি কীভাবে সুন্নাহর মধ্যে তা অনুসন্ধান করলেন? অতঃপর যখন একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি তাঁকে সংবাদ দিলেন, তিনি তাতে তুষ্ট না হয়ে যতক্ষণ না অন্য একজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির মাধ্যমে তা সুদৃঢ় করলেন। তিনি খারেজীদের মতো এ কথা বলেননি যে, ‘আমাদের জন্য আল্লাহর কিতাবই যথেষ্ট’।

ইউনুস হতে যুহরীর সূত্রে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে যে, আবু বকর এক ব্যক্তিকে একটি হাদীস শোনালেন। লোকটি তাঁর কাছে সেটির ব্যাখ্যা বা পুনরায় জানতে চাইলে আবু বকর বললেন: ‘এটি তেমনই যেমনটি আমি তোমাকে বর্ণনা করেছি। কোন জমিন আমাকে ধারণ করবে যদি আমি এমন কিছু বলি যা আমি জানি না?’ এটি বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত যে, সিদ্দীক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেছিলেন: ‘তোমরা মিথ্যা বলা থেকে বেঁচে থাকো, কেননা মিথ্যা পাপাচারের দিকে ধাবিত করে আর পাপাচার জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়।’

আলী ইবনে আসিম—যিনি জ্ঞানের অন্যতম আধার ছিলেন কিন্তু তাঁর স্মৃতিশক্তি ছিল দুর্বল—তিনি বলেন: ইসমাঈল ইবনে আবি খালিদ কায়স ইবনে আবি হাযিম থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আমি আবু বকর আস-সিদ্দীককে বলতে শুনেছি: ‘তোমরা মিথ্যা থেকে বেঁচে থাকো; কেননা মিথ্যা...
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٠)
مجانب الإيمان. قلت: صدق الصديق فإن الكذب أس النفاق وآية المنافق والمؤمن يطبع على المعاصي والذنوب الشهوانية لا على الخيانة والكذب، فما الظن بالكذب على الصادق الأمين صلوات الله عليه وسلامه وهو القائل: "إن كذبا علي ليس ككذب على غيري، من يكذبْ علي بني له بيت في النار" 1 وقال: "من يقل علي ما لم أقل" 2، الحديث. فهذا وعيد لمن نقل عن نبيه ما لم يقله مع غلبة الظن أنه ما قاله فكيف حال من تهجم على رسول الله صلى الله عليه وسلم وتعمد عليه الكذب وقوله ما لم يقل، وقد قال عليه السلام: "من روى عني حديثا يرى أنه كذب فهو أحد الكاذبين" 3 فإنا لله وإنا إليه راجعون ما ذي إلا بلية عظيمة وخطر شديد ممن يروي الأباطيل والأحاديث الساقطة المتهم نقلتها بالكذب، فحق على المحدث أن يتورع في ما يؤديه وأن يسأل أهل المعرفة والورع ليعينوه على إيضاح مروياته، ولا سبيل إلى أن يصير العارف الذي يزكى نقله الأخبار ويجرحهم جهبذا إلا بإدمان الطلب والفحص عن هذا الشأن وكثرة المذاكرة والسهر والتيقظ والفهم مع التقوى والدين المتين والإنصاف والتردد إلى مجالس العلماء والتحري والإتقان وإلا تفعل:

فدع عنك الكتابة لست منها … ولو سودت وجهك بالمداد

قال الله تعالى عز وجل: {فَاسْأَلوا أَهْلَ الذِّكْرِ إِنْ كُنْتُمْ لا تَعْلَمُونَ} [النحل: 43] فإن آنست يا هذا من نفسك فهما وصدقا ودينا وورعا وإلا فلا تتعن وإن غلب عليك الهوى والعصبية لرأى والمذهب فبالله لا تتعب وإن عرفت إنك مخلط مخبط مهمل لحدود الله فأرحنا منك فبعد قليل ينكشف البهرج وينكب الزغل ولا يحيق المكر السيء إلا بأهله فقد نصحتك فعلم الحديث صلف فأين علم الحديث؟ وأين أهله؟ كدت أن لا أراهم إلا في كتاب أو تحت تراب.

نعم؛ فرأس الصادقين في الأمة الصديق وإليه المنتهى في التحري في القول وفي القبول.

وقد نقل الحاكم فقال: حدثني بكر بن محمد الصيرفي بمرو أنا محمد بن موسى البربري أنا المفضل بن غسان أنا علي بن صالح أنا موسى بن عبد الله بن حسن بن حسن عن إبراهيم بن عمر بن عبيد الله التيمي حدثني القاسم بن محمد قالت عائشة: جمع أبي الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم وكانت خمسمائة حديث فبات ليلته يتقلب كثيرا قالت: فغمني

--------------------------------------------

1 رواه البخاري في كتاب الجنائز باب 34.

2 رواه ابن ماجه في المقدمة باب 4. "221"

3 رواه أحمد في مسنده "1/ 113" "4/ 250، 252، 255".
ঈমানের পরিপন্থী। আমি বলছি: সিদ্দীক সত্য বলেছেন, কারণ মিথ্যা হলো নিফাকের মূল এবং মুনাফিকের আলামত। মুমিন পাপাচার ও কামনাবাসনাজনিত গুনাহে অভ্যস্ত হতে পারে, কিন্তু খেয়ানত ও মিথ্যায় নয়। তাহলে সেই 'সাদিকুল আমিন' (সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত)-এর ওপর মিথ্যা আরোপের বিষয়টি কেমন হবে, যাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক! অথচ তিনি বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমার ওপর মিথ্যা বলা অন্য কারো ওপর মিথ্যা বলার মতো নয়। যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, তার জন্য জাহান্নামে একটি ঘর নির্মাণ করা হবে।" ১ এবং তিনি বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার ব্যাপারে এমন কিছু বলবে যা আমি বলিনি..." ২, হাদীস। এটি ঐ ব্যক্তির জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি, যে তার নবী থেকে এমন কিছু বর্ণনা করে যা তিনি বলেননি—যদিও তার প্রবল ধারণা থাকে যে তিনি তা বলেননি। তাহলে ঐ ব্যক্তির অবস্থা কী হবে যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুঃসাহস দেখিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা আরোপ করে এবং এমন কথা বলে যা তিনি বলেননি? অথচ নবী আলাইহিস সালাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি আমার পক্ষ থেকে কোনো হাদীস বর্ণনা করে যা সে মিথ্যা মনে করে, তবে সেও মিথ্যাবাদীদের একজন।" ৩ আমরা আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই দিকে আমাদের প্রত্যাবর্তন। এটি তো এক মহান বিপদ এবং চরম ঝুঁকি ঐ সব ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে, যারা বাতিল ও ভিত্তিহীন হাদীস বর্ণনা করে যাদের বর্ণনাকারীরা মিথ্যাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত। তাই মুহাদ্দিসের জন্য অপরিহার্য হলো তিনি যা বর্ণনা করছেন সে ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা এবং বিজ্ঞ ও পরহেজগার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসা করা, যাতে তারা তার বর্ণিত বিষয়গুলো স্পষ্ট করতে তাকে সহায়তা করেন। আর কোনো জ্ঞানীর পক্ষে বর্ণনাকারীদের সত্যায়ন ও প্রত্যাখ্যানকারী দক্ষ বিশেষজ্ঞ হওয়ার কোনো পথ নেই নিরবচ্ছিন্ন জ্ঞানান্বেষণ, এই বিষয়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান, অধিকহারে আলোচনা, বিনিদ্র রজনী কাটানো, সতর্কতা ও প্রখর বুঝশক্তি ছাড়া; সেই সাথে প্রয়োজন তাকওয়া, সুদৃঢ় দ্বীনদারী, ইনসাফ, আলেমদের মজলিসে যাতায়াত এবং সঠিকতা ও নিপুণতা যাচাই করা। আর যদি তুমি তা না করো:

তবে লেখালেখি ছেড়ে দাও, তুমি এর উপযুক্ত নও … যদিও তুমি কালিতে তোমার মুখ কালো করে ফেলো।

আল্লাহ তাআলা মহান ও পরাক্রমশালী বলেন: {যদি তোমরা না জানো তবে জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা করো} [আন-নাহল: ৪৩]। হে ব্যক্তি, যদি তুমি নিজের মধ্যে বুঝশক্তি, সত্যবাদিতা, দ্বীনদারী ও আল্লাহভীতি পাও (তবেই অগ্রসর হও), অন্যথায় নিজেকে কষ্ট দিও না। আর যদি তোমার ওপর প্রবৃত্তি এবং কোনো মত বা মাযহাবের অন্ধ আনুগত্য প্রবল হয়, তবে আল্লাহর দোহাই, তুমি বৃথা পরিশ্রম করো না। আর যদি তুমি জানো যে তুমি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, বিভ্রান্ত এবং আল্লাহর সীমানা লঙ্ঘনকারী, তবে আমাদের রেহাই দাও। কারণ অচিরেই মেকি চাকচিক্য উন্মোচিত হবে এবং ভেজাল ছিটকে পড়বে, আর মন্দ চক্রান্ত কেবল তার হোতাকেই গ্রাস করে। আমি তোমাকে নসিহত করলাম। হাদীস শাস্ত্র অত্যন্ত আভিজাত্যপূর্ণ; তো কোথায় সেই হাদীস শাস্ত্র? আর কোথায় তার উপযুক্ত লোক? আমি তো তাদের কিতাবের পাতায় অথবা মাটির নিচ (কবর) ছাড়া আর কোথাও দেখতে পাই না বললেই চলে।

হ্যাঁ; এই উম্মতের সত্যবাদীদের শিরোমণি হলেন সিদ্দীক (আবু বকর রা.), আর কথা বলা ও গ্রহণের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বনে তিনিই শেষ সীমানা।

হাকেম বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: বকর বিন মুহাম্মদ আস-সাইরাফী মার্ভে আমাকে হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন মুহাম্মদ বিন মুসা আল-বারবারী আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন আল-মুফাদদ্বাল বিন গাসসান আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন আলী বিন সালিহ আমাদের জানিয়েছেন, তিনি বলেন মুসা বিন আব্দুল্লাহ বিন হাসান বিন হাসান থেকে বর্ণিত, তিনি ইব্রাহিম বিন উমর বিন উবায়দুল্লাহ আত-তাইমী থেকে, তিনি কাসিম বিন মুহাম্মদ থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা (রা.) বলেছেন: আমার পিতা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীসসমূহ সংগ্রহ করেছিলেন যা সংখ্যায় ছিল পাঁচশ হাদীস। এরপর তিনি এক রাত অতিবাহিত করলেন যাতে তিনি (বিছানায়) খুব বেশি এপাশ-ওপাশ করছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন: এতে আমি ব্যথিত হলাম।

--------------------------------------------

১ বুখারী এটি কিতাবুল জানাইযের ৩৪ নম্বর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন।

২ ইবনে মাজাহ এটি মুকাদ্দিমার ৪ নম্বর অধ্যায়ে বর্ণনা করেছেন। "২২১"

৩ আহমদ এটি তাঁর মুসনাদে বর্ণনা করেছেন "১/১১৩", "৪/২৫০, ২৫২, ২৫৫"।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١١)
فقلت: أتتقلب لشكوى أو لشيء بلغك؟ فلما أصبح قال: أي بنية هلمي الأحاديث التي عندك فجئته بها فدعا بنا فحرقها فقلت: لم أحرقتها؟ قال: خشيت أن أموت وهي عندي فيكون فيها أحاديث عن رجل قد ائتمنته ووثقت ولم يكن كما حدثني فأكون قد نقلت ذاك. فهذا لا يصح والله أعلم.

توفي الصديق رضي الله عنه لثمانٍ بقين من جمادي الآخرة من سنة ثلاث عشرة وله ثلاث وستون سنة.

2- 2/ 1 أمير المؤمنين عمر بن الخطاب رضي الله عنه أبو حفص العدوي الفاروق:

وزير رسول الله صلى الله عليه وسلم ومن أيد الله به الإسلام وفتح به الأمصار وهو الصادق المحدث الملهم الذي جاء عن المصطفى صلى الله عليه وسلم أنه قال: "لو كان بعدي نبي لكان عمر" 1 الذي فر منه الشيطان وأعلى به الإيمان وأعلن الأذان.

قال نافع بن أبي نعيم عن نافع عن ابن عمر قال: قال النبي صلى الله عليه وآله وسلم "إن الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه ".

فيا أخي إن أحببت أن تعرف هذا الإمام حق المعرفة فعليك بكتابي "نعم السمر في سيرة عمر" فإنه فارق فيصل بين المسلم والرافضي، فوالله ما يغض من عمر إلا جاهل دائص أو رافضي فاجر وأين مثل أبي حفص؟! فما دار الفلك على مثل شكل عمر وهو الذي سن للمحدثين التثبت في النقل وربما كان يتوقف في خبر الواحد إذا ارتاب فروى الجريري عن أبي نضرة عن أبي سعيد أن أبا موسى سلم على عمر من وراء الباب ثلاث مرات فلم يؤذن له، فرجع فأرسل عمر في أثره فقال: لم رجعت قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: "إذا سلم أحدكم ثلاثا فلم يجب فليرجع" قال: لتأتيني على ذلك بينة أو لأفعلن بك فجاءنا أبو موسى ممتقعا لونه ونحن جلوس فقلنا: ما شأنك؟ فأخبرنا وقال: فهل سمع أحد منكم؟ فقلنا: نعم كلنا سمعه فأرسلوا معه رجلا منهم حتى أتى عمر فأخبره. أحب عمر أن يتأكد عنده خبر أبي موسى بقول صاحب آخر ففي هذا دليل على أن الخبر إذا رواه ثقتان كان أقوى وأرجح مما انفرد به واحد، وفي ذلك حض على تكثير طرق الحديث؛ لكي يرتقي عن درجة الظن إلى درجة العلم؛ إذ الواحد يجوز عليه النسيان والوهم ولا يكاد يجوز ذلك على ثقتين لم يخالفهما أحد، وقد كان عمر من وجله أن يخطىء الصاحب على

--------------------------------------------

2- تهذيب الكمال: 2/ 1006. تهذيب التهذيب: 7/ 441 "725". تقريب التهذيب: 2/ 54. خلاصة تهذيب الكمال: 2/ 268. الكاشف: 2/ 309. الثقات: 8/ 447.

1 رواه البخاري في كتاب الأدب باب 109.
আমি বললাম: আপনি কি কোনো শারীরিক কষ্টের কারণে নাকি আপনার কাছে পৌঁছানো কোনো খবরের কারণে ছটফট করছেন? যখন সকাল হলো তিনি বললেন: হে বৎসা! তোমার কাছে যে হাদীসগুলো আছে সেগুলো নিয়ে এসো। আমি সেগুলো নিয়ে এলাম, এরপর তিনি আগুন আনিয়ে সেগুলো পুড়িয়ে দিলেন। আমি বললাম: আপনি এগুলো কেন পুড়ালেন? তিনি বললেন: আমার ভয় হলো যে, আমি মারা যাব আর এগুলো আমার কাছে থেকে যাবে; অথচ এতে এমন ব্যক্তির সূত্রে বর্ণিত হাদীস থাকতে পারে যাকে আমি আমানতদার ও নির্ভরযোগ্য মনে করেছি কিন্তু বাস্তবে সে তেমন ছিল না যেমনটি সে আমার কাছে বর্ণনা করেছে, ফলে (ভুল তথ্য সংবলিত) সেই বর্ণনাটি আমার মাধ্যমেই হস্তান্তরিত হবে। তবে এই বর্ণনাটি সহীহ নয়, আর আল্লাহই ভালো জানেন।

সিদ্দীক রাযিয়াল্লাহু আনহু তেরো হিজরীর জমাদিউল আখিরা মাসের আট দিন বাকি থাকতে ইন্তেকাল করেন এবং তখন তাঁর বয়স হয়েছিল তেষট্টি বছর।

২- ২/ ১ আমীরুল মুমিনীন উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু, আবু হাফস আল-আদাবী আল-ফারুক:

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উজির এবং তাঁদের অন্তর্ভুক্ত যার মাধ্যমে আল্লাহ ইসলামকে শক্তিশালী করেছেন এবং শহরসমূহ বিজয় করেছেন। তিনি সত্যবাদী, মুহাদ্দাস (যাঁর অন্তরে আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্য ইলহাম হয়) এবং ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তি, যাঁর ব্যাপারে মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণিত হয়েছে যে তিনি বলেছেন: "যদি আমার পরে কোনো নবী হতো, তবে উমরই নবী হতো।" তিনি এমন ব্যক্তি যাঁকে দেখে শয়তান পলায়ন করত, যাঁর মাধ্যমে আল্লাহ ঈমানকে সমুন্নত করেছেন এবং আযানকে প্রকাশ্য করেছেন।

নাফে ইবনে আবু নুআইম নাফে থেকে, তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ সত্যকে উমরের জিহ্বা ও অন্তরে গেঁথে দিয়েছেন।"

হে আমার ভাই! তুমি যদি এই ইমাম সম্পর্কে প্রকৃত পরিচয় জানতে চাও, তবে আমার কিতাব 'নিমাস সামার ফী সীরাতি উমর' পড়ে নাও; কারণ এটি মুসলিম ও রাফেযীদের মধ্যে পার্থক্যকারী। আল্লাহর কসম! কোনো জাহেল পথভ্রষ্ট বা পাপাচারী রাফেযী ছাড়া কেউ উমরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে না। আর আবু হাফসের সমতুল্য কে আছে?! মহাকাশ উমরের মতো দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির ওপর আবর্তন করেনি। তিনিই মুহাদ্দিসদের জন্য বর্ণনার ক্ষেত্রে অধিক যাচাই-বাছাইয়ের নীতি প্রবর্তন করেছেন। কোনো একক ব্যক্তির বর্ণনায় সন্দেহ হলে তিনি কখনো কখনো থেমে যেতেন। যেমন জুরয়রী আবু নাযরা থেকে এবং তিনি আবু সাঈদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু মূসা উমরের দরজার ওপাশ থেকে তিনবার সালাম দিলেন কিন্তু তাকে অনুমতি দেওয়া হলো না। ফলে তিনি ফিরে গেলেন। উমর তখন তাঁর পেছনে লোক পাঠালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি ফিরে গেলে কেন? তিনি বললেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি: "তোমাদের কেউ যখন তিনবার সালাম দেয় এবং উত্তর না পায়, তবে সে যেন ফিরে যায়।" উমর বললেন: তোমাকে এর পক্ষে প্রমাণ নিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় আমি তোমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। আবু মূসা বিবর্ণ চেহারায় আমাদের কাছে আসলেন যখন আমরা বসা ছিলাম। আমরা বললাম: আপনার কী হয়েছে? তিনি আমাদের বিষয়টি জানালেন এবং বললেন: তোমাদের কেউ কি এটি শুনেছে? আমরা বললাম: হ্যাঁ, আমরা সবাই এটি শুনেছি। এরপর তাঁরা তাঁদের মধ্য থেকে একজন ব্যক্তিকে তাঁর সাথে পাঠালেন এবং তিনি উমরের কাছে গিয়ে বিষয়টি জানালেন। উমর অন্য একজন সাহাবীর বক্তব্যের মাধ্যমে আবু মূসার সংবাদটির ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। এতে দলিল রয়েছে যে, যখন কোনো সংবাদ দুইজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি বর্ণনা করেন, তখন তা একজনের একক বর্ণনার চেয়ে শক্তিশালী ও অগ্রগণ্য হয়। এতে হাদীসের সূত্র বৃদ্ধির প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে যাতে তা 'যন' বা ধারণার পর্যায় থেকে 'ইলম' বা নিশ্চিত জ্ঞানের স্তরে উন্নীত হয়। কেননা একজনের ক্ষেত্রে বিস্মৃতি বা ভ্রম হওয়া সম্ভব, কিন্তু দুইজন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির ক্ষেত্রে তা সচরাচর ঘটে না যদি অন্য কেউ তাঁদের বিরোধিতা না করে। উমর রাযিয়াল্লাহু আনহু সাহাবীদের ভুল করার ভয়ে বিচলিত থাকতেন

--------------------------------------------

২- তাহযীবুল কামাল: ২/ ১০০৬। তাহযীবুত তাহযীব: ৭/ ৪৪১ "৭২৫"। তাকরীবুত তাহযীব: ২/ ৫৪। খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল: ২/ ২৬৮। আল-কাশিফ: ২/ ৩০৯। আস-সিকাত: ৮/ ৪৪৭।

১ এটি বুখারী আদব অধ্যায়ের ১০৯ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٢)
رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يأمرهم أن يقلوا الرواية عن نبيهم ولئلا يتشاغل الناس بالأحاديث عن حفظ القرآن.

وقد روى شعبة وغيره عن بيان عن الشعبي عن قرظة بن كعب قال: لما سيرنا عمر إلى العراق مشى معنا عمر وقال: أتدرون لم شيعتكم؟ قالوا: نعم تكرمة لنا قال: ومع ذلك أنكم تأتون أهل قرية لهم دوى بالقرآن كدوي النحل فلا تصدوهم بالأحاديث فتشغلوهم، جردوا القرآن وأقلوا الرواية عن رسول الله وأنا شريككم. فلما قدم قرظة بن كعب قالوا: حدثنا فقال: نهانا عمر رضي الله عنه.

الدراوردي عن محمد بن عمرو عن أبي سلمة عن أبي هريرة وقلت له: أكنت تحدث في زمان عمر هكذا؟ فقال: لو كنت أحدث في زمان عمر مثل ما أحدثكم لضربني بمخفقته.

معن بن عيسى أنا مالك عن عبد الله بن إدريس عن شعبة عن سعد بن إبراهيم عن أبيه أن عمر حبس ثلاثة: ابن مسعود وأبا الدرداء وأبا مسعود الأنصاري فقال: قد أكثرتم الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

ابن علية عن رجاء بن أبي سلمة قال: بلغني أن معاوية كان يقول: عليكم من الحديث بما كان في عهد عمر فإنه كان قد أخاف الناس في الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم.

وروى هشام عن أبيه عن المغيرة بن شعبة أن عمر استشارهم في أملاص المرأة يعني السقط فقال له المغيرة: قضى فيه رسول الله صلى الله عليه وسلم بغرة، فقال له عمر: إن كنت صادقا فأت بأحد يعلم ذلك. قال: فشهد محمد بن مسلمة أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قضى به. وروى صفوان بن عيسى أنا محمد بن عمارة عن عبد الله بن أبي بكر قال: كان للعباس بيت في قبلة المسجد فضاق المسجد على الناس فطلب إليه عمر البيع فأبى، فذكر الحديث وفيه فقال عمر لأبي: لتأتيني على ما تقول ببينة فخرجا فإذا ناس من الأنصار قال: فذكر لهم قالوا: قد سمعنا هذا من رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال عمر: أما إني لم أتهمك ولكني أحببت أن أتثبت.

وقال بن عيينة رأى عمر بن الخطاب رضي الله عنه مع أبي جماعة فعلاه بالدرة فقال أبي: اعلم ما تصنع يرحمك الله. فقال عمر: أما علمت أنها فتنة للمتبوع مذلة للتابع.

استشهد أمير المؤمنين عمر في أواخر ذي الحجة من سنة ثلاث وعشرين وعاش نحوا من ستين سنة فمنهم من يقول عاش خمسين سنة والأرجح أنه عاش ثلاثا وستين سنة رضي الله عنه.
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁদেরকে নির্দেশ দিচ্ছিলেন যেন তাঁরা তাঁদের নবী থেকে বর্ণনা কম করেন এবং যাতে মানুষ হাদিস নিয়ে মগ্ন হয়ে কোরআন মুখস্থ করা থেকে বিমুখ না হয়।

শু'বাহ এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন বয়ান থেকে, তিনি শাবি থেকে, তিনি কারাযাহ ইবনে কাব থেকে; তিনি বলেন: যখন উমর (রা.) আমাদেরকে ইরাকের দিকে পাঠিয়েছিলেন, তখন তিনি আমাদের সাথে কিছুটা পথ হেঁটেছিলেন এবং বলেছিলেন: "তোমরা কি জানো কেন আমি তোমাদের এগিয়ে দিতে এসেছি?" তাঁরা বললেন: "হ্যাঁ, আমাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনস্বরূপ।" তিনি বললেন: "এর পাশাপাশি উদ্দেশ্য হলো, তোমরা এমন এক জনপদের অধিবাসীদের কাছে যাচ্ছ যাঁদের মাঝে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো কোরআন তিলাওয়াতের শব্দ ধ্বনিত হয়। সুতরাং তোমরা তাঁদেরকে হাদিস শুনিয়ে বিভ্রান্ত কোরো না এবং তাঁদেরকে ব্যস্ত কোরো না। তোমরা কোরআনকে একক গুরুত্ব দাও এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা কম করো; আর এ কাজে আমি তোমাদের অংশীদার।" অতঃপর কারাযাহ ইবনে কাব যখন সেখানে পৌঁছালেন, লোকেরা তাঁকে বলল: "আমাদের কাছে হাদিস বর্ণনা করুন।" তিনি বললেন: "উমর (রা.) আমাদেরকে তা করতে নিষেধ করেছেন।"

দারাওয়ার্দি বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রা.) থেকে; আমি তাঁকে বললাম: "আপনি কি উমরের যুগেও এভাবে হাদিস বর্ণনা করতেন?" তিনি বললেন: "আমি যদি উমরের যুগে সেভাবে হাদিস বর্ণনা করতাম যেভাবে তোমাদের কাছে করছি, তবে তিনি তাঁর চাবুক দিয়ে আমাকে প্রহার করতেন।"

মান ইবনে ঈসা আমাদের জানিয়েছেন মালিক থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে ইদ্রিস থেকে, তিনি শু'বাহ থেকে, তিনি সাদ ইবনে ইব্রাহিম থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে যে, উমর (রা.) তিনজনকে কারারুদ্ধ করেছিলেন: ইবনে মাসউদ, আবু দারদা এবং আবু মাসউদ আনসারি। তিনি বলেছিলেন: "তোমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে অত্যধিক হাদিস বর্ণনা করছ।"

ইবনে উলইয়্যাহ বর্ণনা করেছেন রাজা ইবনে আবি সালামাহ থেকে; তিনি বলেন: আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে মুয়াবিয়া (রা.) বলতেন: "তোমরা সেইসব হাদিসই গ্রহণ করো যা উমরের যুগে প্রচলিত ছিল, কারণ তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে হাদিস বর্ণনার ব্যাপারে মানুষকে সতর্ক করে রেখেছিলেন।"

হিশাম তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি মুগিরা ইবনে শু'বাহ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, উমর (রা.) নারীর গর্ভপাত (অর্থাৎ ভ্রূণ নষ্ট হওয়া) সম্পর্কে তাঁদের সাথে পরামর্শ করেছিলেন। তখন মুগিরা তাঁকে বললেন: "আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ব্যাপারে একটি দাস বা দাসী (গুরাহ) প্রদানের ফয়সালা দিয়েছেন।" উমর তাঁকে বললেন: "তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে এমন একজনকে নিয়ে এসো যে বিষয়টি জানে।" তিনি বলেন: তখন মুহাম্মদ ইবনে মাসলামাহ সাক্ষ্য দিলেন যে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ বিষয়ে এমনই ফয়সালা দিয়েছিলেন। সাফওয়ান ইবনে ঈসা আমাদের জানিয়েছেন মুহাম্মদ ইবনে আম্মারাহ থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর থেকে; তিনি বলেন: মসজিদের কিবলার দিকে আব্বাসের একটি ঘর ছিল। যখন মানুষের জন্য মসজিদ সংকীর্ণ হয়ে পড়ল, তখন উমর সেটি বিক্রয় করার জন্য তাঁর কাছে অনুরোধ করলেন, কিন্তু তিনি তা অস্বীকার করলেন। অতঃপর তিনি হাদিসটি বর্ণনা করেন যাতে রয়েছে যে, উমর উবাইকে বললেন: "তুমি যা বলছ তার সপক্ষে অবশ্যই প্রমাণ নিয়ে আসবে।" তাঁরা বের হলেন এবং আনসারদের কিছু লোকের দেখা পেলেন। তিনি তাঁদের কাছে বিষয়টি উল্লেখ করলে তাঁরা বললেন: "আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে এটি শুনেছি।" তখন উমর বললেন: "শোনো, আমি তোমাকে অভিযুক্ত করিনি, বরং আমি কেবল বিষয়টি সুনিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম।"

ইবনে উয়াইনাহ বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) উবাইয়ের সাথে একদল মানুষকে দেখতে পেয়ে তাঁদেরকে চাবুক দিয়ে শাসন করলেন। তখন উবাই বললেন: "হে আমিরুল মুমিনীন, আপনি কী করছেন তা ভেবে দেখুন, আল্লাহ আপনার ওপর রহম করুন।" উমর বললেন: "তুমি কি জানো না যে, এটি নেতার জন্য ফিতনা এবং অনুসারীর জন্য লাঞ্ছনা?"

আমিরুল মুমিনীন উমর তেইশ হিজরি সনের জিলহজ মাসের শেষের দিকে শাহাদাত বরণ করেন। তিনি প্রায় ষাট বছর বেঁচে ছিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন তিনি পঞ্চাশ বছর বেঁচে ছিলেন, তবে অধিকতর সঠিক মত হলো তিনি তেষট্টি বছর বেঁচে ছিলেন, আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٣)
3- 3/ 1ع- أمير المؤمنين عثمان بن عفان رضي الله عنه أبو عمرو الأموي ذو النورين: ومن تستحي منه الملائكة، ومن جمع الأمة على مصحف واحد بعد الاختلاف، ومن افتتح نوابه إقليم خراسان وإقليم المغرب، وكان من السابقين الصادقين القائمين الصائمين المنفقين في سبيل الله، ممن شهد له رسول الله صلى الله عليه وسلم بالجنة وزوجه بابنتيه رقية وأم كلثوم رضي الله عنهم أجمعين. من نظر في تحريه وقت أمره بجمع القرآن علم مرتبته وجلالته، وقد أفردت سيرته في مصنف، عداد في السابقين الأولين وفي العشرة المشهود لهم بالجنة وفي الخلفاء الراشدين، وهو أفضل من قرأ القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم، هاجر إلى الحبشة ثم إلى المدينة، وروى جملة كثيرة من العلم. روى عنه بنوه عمرو وأبان وسعيد ومولاه حمران وأنس بن مالك وأبو أمامة بن سهل والأحنف بن قيس وسعيد بن المسيب وأبو وائل وطارق بن شهاب وأبو عبد الرحمن السلمي وعلقمة بن قيس ومالك بن أوس بن الحدثان وخلق سواهم وعداده في البدريين لأن النبي صلى الله عليه وسلم أمره أن يتخلف على زوجته رقية ابنة رسول الله صلى الله عليه وسلم وضرب له بسهمه وأجره. هاجت رؤوس الفتنة والشر وأحاطوا به وحاصروه ليخلع نفسه من الخلافة وقاتلوه قاتلهم الله فصبر وكف نفسه وعبيده حتى ذبح صبرا في داره والمصحف بين يديه وزوجته نائلة عنده وتسور عليه أربعة أنفس. وقتله سودان بن حمران يوم الجمعة ثامن عشر ذي الحجة سنة خمس وثلاثين وكانت خلافته اثنتي عشرة سنة، وعاش بضعا وثمانين سنة. كان من أقران النبي صلى الله عليه وسلم وأبي بكر الصديق وكان أكبر من علي بثمان وعشرين سنة أو أكثر، وكان ممن جمع بين العلم والعمل والصيام والتهجد والإتقان والجهاد في سبيل الله وصلة الأرحام فقبح الله الرافضة.

قال هشام بن يوسف الصنعاني: أخبرنا عبد الله بن بحير عن هانئ مولى عثمان قال: كان عثمان إذا وقف على قبر بكى حتى يبل لحيته رضي الله عنه.

4- 4/ 1ع أمير المؤمنين علي بن أبي طالب رضي الله عنه أبو الحسن الهاشمي:

--------------------------------------------

3- تهذيب التهذيب: 7/ 139 "289". تقريب التهذيب: 2/ 12. تاريخ البخاري الكبير: 2086. الجرح والتعديل: 6/ 160. تاريخ الثقات: 1109. شذرات الذهب: 1/ 10، 25، 30، 33، 43، 45. نسب قريش: "110" جمهرة أنساب العرب. 83. أنساب الأشراف: 44، 45. أسماء الصحابة الرواة: ت: 28.

4- تهذيب الكمال: 2/ 971. تهذيب التهذيب: 7/ 334 "565". تقريب التهذيب: 2/ 39. خلاصة تهذيب الكمال: 2/ 250. تاريخ البخاري الكبير: 6/ 259. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 435. الجرح والتعديل: 6/ 191. أسد الغابة: 4/ 91. الرياض المستطابة: ص163. تاريخ بغداد: 1/ 133. الإصابة: 2/ 105. البداية والنهاية: 7/ 223، 324، شذرات: 1/ 49. تاريخ الخففاء: 166. تجريد أسماء الصحابة: 1/ 392.الاستبصار: 390. الحلية: 2/ 87، 61. طبقات ابن سعد: 9/ 137. أسماء الصحابة الرواة: ت: 10.
৩- ৩/ ১আ- আমীরুল মুমিনীন উসমান বিন আফফান (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), আবু আমর আল-উমায়্যি, যুন-নুরায়ন (দুই জ্যোতির অধিকারী): যাঁর থেকে ফেরেশতারাও লজ্জা বোধ করেন; মতভেদের পর উম্মতকে যিনি একটি মাত্র কুরআনের পাণ্ডুলিপির ওপর ঐক্যবদ্ধ করেছেন; যাঁর প্রতিনিধিরা খোরাসান ও মাগরেব (পশ্চিম অঞ্চল) বিজয় করেছেন। তিনি ছিলেন ইসলামের পথে অগ্রগামী, সত্যবাদী, রাত্রিকালীন ইবাদতকারী, দিনে রোজা পালনকারী এবং আল্লাহর পথে অকাতরে ব্যয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত; রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) যাঁর জান্নাতী হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং নিজের দুই কন্যা রুকাইয়্যাহ ও উম্মে কুলসুমকে যাঁর সাথে বিবাহ দিয়েছিলেন (আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হন)। যিনি কুরআন সংকলনের আদেশের সময় তাঁর সতর্কতা ও নিষ্ঠার দিকে দৃষ্টি দেবেন, তিনি তাঁর মর্যাদা ও মাহাত্ম্য সম্পর্কে জানতে পারবেন। তাঁর জীবনী একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তিনি অগ্রবর্তী প্রথম পর্যায়ের ঈমানদারদের মধ্যে, জান্নাতের সুসংবাদপ্রাপ্ত দশজন সাহাবীর মধ্যে এবং খুলাফায়ে রাশেদীনের অন্তর্ভুক্ত। তিনি ছিলেন নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর কাছে কুরআন পাঠকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ। তিনি প্রথমে আবিসিনিয়ায় এবং পরে মদীনায় হিজরত করেন। তিনি প্রচুর পরিমাণ ইলম (জ্ঞান) বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্রগণ—আমর, আবান ও সাঈদ, এবং তাঁর মুক্তদাস হুমরান, আনাস বিন মালিক, আবু উমামাহ বিন সাহল, আহনাফ বিন কায়স, সাঈদ বিন মুসাইয়্যিব, আবু ওয়ায়েল, তারিক বিন শিহাব, আবু আবদুর রহমান আস-সুলামী, আলকামা বিন কায়স, মালিক বিন আওস বিন আল-হাদাসান এবং আরও বহু মানুষ। তাঁকে বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের তালিকায় গণ্য করা হয়, কারণ নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) তাঁকে তাঁর অসুস্থ স্ত্রী—রাসূলুল্লাহ (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক)-এর কন্যা রুকাইয়্যাহ-এর পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তাঁর জন্য (বদরের গণিমতের) অংশ ও সওয়াব বরাদ্দ করেছিলেন। ফিতনা ও অনিষ্টের হোতারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল এবং তাঁকে চারদিক থেকে ঘেরাও করল যেন তিনি খিলাফতের পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। তারা তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করল—আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন—কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করলেন এবং নিজের ও তাঁর দাসদের হাত গুটিয়ে রাখলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁকে তাঁর নিজ ঘরে ধৈর্যশীল অবস্থায় যবেহ করা হলো। তখন তাঁর সামনে কুরআনের পাণ্ডুলিপি ছিল এবং তাঁর স্ত্রী নায়িলা তাঁর পাশেই ছিলেন। চারজন ব্যক্তি প্রাচীর টপকে তাঁর কাছে প্রবেশ করেছিল। শুক্রবার, ৩৫ হিজরির ১৮ই জিলহজ সুদানি বিন হুমরান তাঁকে হত্যা করে। তাঁর খিলাফতের মেয়াদ ছিল বারো বছর এবং তিনি আশি বছরের কিছু বেশি সময় বেঁচে ছিলেন। তিনি নবী (আল্লাহর শান্তি ও রহমত তাঁর ওপর বর্ষিত হোক) এবং আবু বকর সিদ্দীকের সমসাময়িক ছিলেন এবং আলী অপেক্ষা আটাশ বছর বা তারও বেশি বড় ছিলেন। তিনি জ্ঞান, আমল, রোজা, তাহাজ্জুদ, কর্মে নিপুণতা, আল্লাহর পথে জিহাদ এবং আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষাকারী ব্যক্তিদের অন্যতম ছিলেন। আল্লাহ রাফেজিদের লাঞ্ছিত করুন।

হিশাম বিন ইউসুফ আস-সানআনী বলেন: আবদুল্লাহ বিন বুহাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন উসমানের মুক্তদাস হানি থেকে, তিনি বলেন: উসমান যখন কোনো কবরের সামনে দাঁড়াতেন, তখন কাঁদতেন, এমনকি তাঁর দাড়ি চোখের পানিতে ভিজে যেত (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন)।

৪- ৪/ ১আ আমীরুল মুমিনীন আলী বিন আবি তালিব (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন), আবুল হাসান আল-হাশিমী:

--------------------------------------------

৩- তাহযীবুত তাহযীব: ৭/ ১৩৯ "২৮৯"। তাকরীবুত তাহযীব: ২/ ১২। বুখারীর তারিখুল কাবীর: ২০৮৬। আল-জারহ ওয়াত তাদীল: ৬/ ১৬০। তারিখুস সিকাত: ১১০৯। শাযারাতুয যাহাব: ১/ ১০, ২৫, ৩০, ৩৩, ৪৩, ৪৫। নাসাবু কুরাইশ: "১১০" জামহারাতু আনসাবিল আরব: ৮৩। আনসাবুল আশরাফ: ৪৪, ৪৫। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ক্রমিক: ২৮।

৪- তাহযীবুল কামাল: ২/ ৯৭১। তাহযীবুত তাহযীব: ৭/ ৩৩৪ "৫৬৫"। তাকরীবুত তাহযীব: ২/ ৩৯। খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল: ২/ ২৫০। বুখারীর তারিখুল কাবীর: ৬/ ২৫৯। বুখারীর তারিখুস সাগীর: ১/ ৪৩৫। আল-জারহ ওয়াত তাদীল: ৬/ ১৯১। আসাদুল গাবাহ: ৪/ ৯১। আর-রিয়াদুুল মুসতাতাবাহ: পৃষ্ঠা ১৬৩। তারিখু বাগদাদ: ১/ ১৩৩। আল-ইসাবাহ: ২/ ১০৫। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৭/ ২২৩, ৩২৪। শাযারাত: ১/ ৪৯। তারিখুল খুলাফা: ১৬৬। তাজরীদু আসমাইল সাহাবাহ: ১/ ৩৯২। আল-ইস্তিবসার: ৩৯০। আল-হিলয়াহ: ২/ ৮৭, ৬১। তাবাকাতু ইবনে সাদ: ৯/ ১৩৭। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ক্রমিক: ১০।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٤)
قاضي الأمة وفارس الإسلام وختن المصطفى صلى الله عليه وسلم، كان ممن سبق إلى الإسلام لم يتلعثم وجاهد في الله حق جهاده ونهض بأعباء العلم والعمل وشهد له النبي صلى الله عليه وسلم بالجنة، وقال: "من كنت مولاه فعلي مولاه" 1 وقال له "أنت مني بمنزلة هارون من موسى إلا أنه لا نبي بعدي" 2 وقال: "لا يحبك إلا مؤمن ولا يبغضك إلا منافق" 3.

ومناقب هذا الإمام جمة أفردتها في مجلدة وسميته "بفتح المطالب في مناقب علي بن أبي طالب رضي الله عنه" وكان إماما عالما متحريا في الأخذ بحيث أنه يستحلف من يحدثه بالحديث فقال عثمان بن المغيرة الثقفي عن علي بن ربيعة عن أسماء بن الحكم الفزاري أنه سمع عليا يقول كنت إذا سمعت من رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثا نفعني الله بما شاء أن ينفعني منه وكان إذا حدثني عنه غيره استحلفته فإذا حلف صدقته وحدثني أبو بكر وصدق أبو بكر قال سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "ما من عبد مسلم يذنب ذنبا ثم يتوضأ ويصلي ركعتين ثم يستغفر الله إلا غفر الله له" 4 رواه مسعر وشريك وسفيان وأبو عوانة وقيس عنه وإسناده حسن.

قرأت على أبي الفضل بن عساكر عن عبد المعز بن محمد أنا تميم بن أبي سعيد المقرئ أنا أبو سعيد محمد بن عبد الرحمن سنة تسع وأربعين وأربع مائة أنا محمد بن محمد الحافظ أنا أبو جعفر محمد بن الحسين الخثعمي بالكوفة أنا إسماعيل بن موسى الفزاري أنا عاصم بن حميد الحناط أو رجل عنه قال: ثنا ثابت بن أبي صفية أبو حمزة الثمالي عن عبد الرحمن بن جندب عن كميل بن زياد النخعي قال: أخذ علي رضي الله عنه بيدي فأخرجني إلى ناحية الجبان فلما أصحرنا جلس ثم تنفس فقال: يا كميل القلوب أوعية فخيرها أوعاها احفظ ما أقول لك الناس ثلاثة فعالم رباني وعالم متعلم على سبيل نجاة وهمج رعاع اتباع كل ناعق يميلون مع كل ريح لم يستضيؤوا بنور العلم ولم يلجأوا إلى ركن وثيق العلم خير من المال يحرسك وأنت تحرس المال، العلم يزكو على العمل والمال ينقصه النفقة، ومحبة العالم دين يدان بها باكتساب اطاعة في حياته وجميل إلا حدوثه بعد موته وصنيعه، وصنيعة المال تزول بزوال صاحبه مات، خزان الأموال وهم أحياء، والعلماء باقون ما بقي الدهر، أعيانهم مفقودة وأمثالهم في القلوب موجودة، ها إن

--------------------------------------------

1 رواه الترمذي كتاب المناقب باب 19. ابن ماج/ 5 في المقدمة باب 11.

2 رواه البخاري في كتاب فضائل الصحابة باب 9 الترمذي في كتاب المناقب باب 20. ابن ماجه في كتاب المقدمة باب 11.

3 رواه البخاري في كتاب فضائل الصحابة باب 4. مسلم في كتاب الإيمان حديث 129، 131.

4 رواه أبو داود في كتاب الوتر باب 26. الترمذي في كتاب الصلاة باب 181.
উম্মাহর বিচারপতি, ইসলামের বীর এবং মুস্তাফার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) জামাতা। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যারা ইসলাম গ্রহণের ক্ষেত্রে অগ্রগামী ছিলেন এবং কোনো ইতস্তত করেননি। তিনি আল্লাহর পথে যথাযথভাবে জিহাদ করেছেন এবং ইলম ও আমলের গুরুভার বহন করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জান্নাতি হওয়ার সাক্ষ্য দিয়েছেন এবং বলেছেন: "আমি যার মওলা, আলীও তার মওলা।" (১) তিনি তাকে আরও বলেছিলেন: "তুমি আমার কাছে ঠিক তেমনি, যেমন মূসার কাছে হারুন ছিলেন; তবে আমার পরে আর কোনো নবী নেই।" (২) তিনি আরও বলেছেন: "মুমিন ছাড়া কেউ তোমাকে ভালোবাসবে না এবং মুনাফিক ছাড়া কেউ তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করবে না।" (৩)

এই ইমামের ফজিলত ও গুণাবলি অসংখ্য। আমি তা একটি স্বতন্ত্র খণ্ডে সংকলিত করেছি এবং এর নাম দিয়েছি "ফাতহুল মাতালিব ফি মানাকিবি আলী বিন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু"। তিনি এমন একজন ইমাম ও আলেম ছিলেন যিনি হাদিস গ্রহণের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন, এমনকি তিনি হাদিস বর্ণনাকারীকে শপথ করাতেন। উসমান বিন মুগীরা আস-সাকাফী, আলী বিন রাবিয়া থেকে এবং তিনি আসমা বিন হাকাম আল-ফাজারী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি আলীকে বলতে শুনেছেন: আমি যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে কোনো হাদিস শুনতাম, আল্লাহ আমাকে তা থেকে যতটা ইচ্ছা উপকার দান করতেন। আর যখন তাঁর অন্য কোনো সাহাবী আমার নিকট হাদিস বর্ণনা করতেন, আমি তাকে শপথ করাতাম। যখন তিনি শপথ করতেন, তখন আমি তাকে সত্যবাদী বলে গ্রহণ করতাম। আবু বকর আমার নিকট একটি হাদিস বর্ণনা করেছেন এবং আবু বকর সত্য বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: "এমন কোনো মুসলিম বান্দা নেই যে কোনো পাপ করার পর অজু করে এবং দুই রাকাত নামাজ আদায় করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে আল্লাহ তাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দেন।" (৪) এটি মিসআর, শারীক, সুফিয়ান, আবু আওয়ানা এবং কায়েস তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন এবং এর সনদ হাসান (উত্তম)।

আমি আবু ফাদল বিন আসাকিরের নিকট পাঠ করেছি, তিনি আব্দুল মুইয বিন মুহাম্মদ থেকে, তিনি তামীম বিন আবু সাঈদ আল-মুকরী থেকে, তিনি আবু সাঈদ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান থেকে চারশত উনপঞ্চাশ হিজরি সনে, তিনি মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-হাফিয থেকে, তিনি কুফার আবু জাফর মুহাম্মদ বিন হুসাইন আল-খাসআমি থেকে, তিনি ইসমাইল বিন মুসা আল-ফাজারী থেকে, তিনি আসিম বিন হুমাইদ আল-হান্নাত অথবা তার থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: সাবিত বিন আবু সাফিয়া আবু হামজা আস-সুমালি আমাদের নিকট আব্দুর রহমান বিন জুনদুব থেকে এবং তিনি কুমাইল বিন জিয়াদ আন-নাখয়ী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে কবরস্থানের এক পাশে নিয়ে গেলেন। যখন আমরা নির্জনে পৌঁছলাম, তিনি বসলেন এবং একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন। অতঃপর বললেন: হে কুমাইল! অন্তরসমূহ হলো পাত্রের মতো, আর তার মধ্যে সর্বোত্তম হলো সেই পাত্র যা সবচেয়ে বেশি ধারণ করতে পারে। আমি তোমাকে যা বলছি তা স্মরণ রাখো। মানুষ তিন প্রকার: ১. রাব্বানি আলেম (আল্লাহওয়ালা জ্ঞানী), ২. মুক্তির পথে সন্ধানী শিক্ষার্থী, ৩. এবং অসার জনতা—যারা প্রতিটি চিৎকারকারীর অনুসারী এবং প্রতিটি বায়ুপ্রবাহের সাথে হেলে পড়ে। যারা ইলমের আলোয় আলোকিত হয়নি এবং কোনো সুদৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় গ্রহণ করেনি। ইলম সম্পদ অপেক্ষা উত্তম; ইলম তোমাকে পাহারা দেয়, আর তুমি সম্পদকে পাহারা দাও। আমলের মাধ্যমে ইলম বৃদ্ধি পায়, আর ব্যয়ের ফলে সম্পদ কমে যায়। আলেমের প্রতি ভালোবাসা হলো একটি দ্বীন (ধর্মবিশ্বাস) যা দ্বারা আনুগত্য অর্জিত হয় তার জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পর তার সুন্দর আলোচনা ও কর্মের মাধ্যমে। আর সম্পদের মাধ্যমে অর্জিত প্রভাব সম্পদের মালিকের বিলুপ্তির সাথেই বিলুপ্ত হয়ে যায়। সম্পদের ভাণ্ডারীরা জীবিত থেকেও মৃত, আর আলেমগণ মহাকালের স্থায়িত্বকাল পর্যন্ত বেঁচে থাকেন। তাদের দেহসমূহ হারিয়ে গেলেও তাদের আদর্শ মানুষের হৃদয়ে বিদ্যমান থাকে। মনে রেখো—

--------------------------------------------

১. তিরমিজি, কিতাবুল মানাকিব, অধ্যায় ১৯; ইবনে মাজাহ, ৫, মুকাদ্দিমা, অধ্যায় ১১।

২. বুখারি, কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা, অধ্যায় ৯; তিরমিজি, কিতাবুল মানাকিব, অধ্যায় ২০; ইবনে মাজাহ, কিতাবুল মুকাদ্দিমা, অধ্যায় ১১।

৩. বুখারি, কিতাব ফাদায়িলুস সাহাবা, অধ্যায় ৪; মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, হাদিস ১২৯, ১৩১।

৪. আবু দাউদ, কিতাবুল বিতর, অধ্যায় ২৬; তিরমিজি, কিতাবুস সালাত, অধ্যায় ১৮১।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٥)
هاهنا- وأشار بيده رضي الله عنه إلى صدره- علما لو أصبت له حملة، بلى أصبته لقنا غير مأمون عليه يستعمل آلة الدين للدنيا يستظهر بحجج الله على كتابه، وبنعمه على عباده، أو منقادا لأهل الحق لا بصيرة له في إحيائه يقتدح الشك في قلبه بأول عارض من شبهة اللهم لا ذا ولا ذاك أو منهوما باللذة سلس القياد للشهوات، أو مغرى بجمع الأموال والإدخار ليسا من دعاة الدين، أقرب شبها بهما الأنعام السائمة، كذلك يموت العلم بموت حامليه، اللهم بلي لن تخلو الأرض من قائم لله بحجة لئلا تبطل حجج الله وبيناته، أولئك الأقلون عددا الأعظمون عند الله قدرا بهم يدفع الله عن حججه حتى يؤدوها إلى نظرائهم ويزرعوها في قلوب أشباههم هجم بهم العلم على حقيقة الأمر تلك أبدان أرواحها معلقة بالمحل الأعلى. أولئك خلفاء الله في بلاده والدعاة إلى دينه هاه هاه شوقا إلى رؤيتهم وأستغفر الله لي ولك إذا شئت فقم رواه ضرار بن صرد عن عاصم بن حميد.

ويروى من وجه آخر عن كميل وإسناده لين؛ ففيه تنبيهات على صفات العالم المتقن والعالم الذي دونه والهمج المخلط في دينه أو علمه، وزاد فيه ضرار وليس بمعتمد عليه بعد قوله هجم بهم العلم على حقيقة الأمر فاستلانوا منه ما استوعر منه المترفون وأنسوا بما استوحش منه الجاهلون صحبوا الدنيا بأبدان أرواحها معلقة بالمحل الأعلى أولئك خلفاء الله في بلاده والدعاة إلى دينه.

سفيان عن الأعمش عن إبراهيم التيمي عن أبيه عن علي قال: ما كتبنا عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إلا القرآن وما في هذه الصحيفة.

شريك عن أبي إسحاق قال سمعت خزيمة بن نصير قال سمعت عليا يقول بصفين قاتلهم الله أي عصابة بيضاء سودوا، وأي حديث من حديث رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أفسدوا.

شعبة عن عمارة بن أبي حفصة عن قيس بن عباد قال: دخلت المدينة ألتمس العلم والشرف فرأيت رجلا عليه بردان له ضفيرتان واضعا يده على عاتق عمر فقلت: من هذا فقالوا: علي بن أبي طالب رضي الله عنه.

زياد بن خيثمة عن أبي إسحاق عن عاصم بن ضمرة عن علي قال: ألا أنبئكم بالفقيه حق الفقيه من لم يقنط الناس من رحمة الله ولم يرخص لهم في معاصي الله ولم يؤمنهم مكر الله.

وقال معروف بن خربوذ عن أبي الطفيل عن علي قال: حدثوا الناس بما يعرفون ودعوا ما ينكرون أتحبون أن يكذب الله ورسوله. فقد زجر الإمام علي رضي الله عنه عن رواية المنكر وحث علي التحديث بالمشهور وهذا أصل كبير في الكف عن بث الأشياء

এখানে—এবং তিনি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) তাঁর হাত দিয়ে নিজের বুকের দিকে ইশারা করলেন—এমন জ্ঞান রয়েছে, যদি আমি এর জন্য কোনো বাহক পেতাম। তবে আমি এমন একজনকে পেয়েছি যে দ্রুত মুখস্থ করে কিন্তু নির্ভরযোগ্য নয়; সে দুনিয়ার জন্য দ্বীনের হাতিয়ার ব্যবহার করে, আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধে আল্লাহর দলীলসমূহ দ্বারা শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে এবং তাঁর বান্দাদের বিরুদ্ধে তাঁর নেয়ামতসমূহ দিয়ে প্রভাব খাটায়। অথবা সে সত্যপন্থীদের অনুগত কিন্তু সত্যকে পুনরুজ্জীবিত করার মতো কোনো দূরদৃষ্টি তার নেই; কোনো সংশয়ের প্রথম আঘাতেই তার হৃদয়ে সন্দেহ প্রজ্জ্বলিত হয়। হে আল্লাহ! এটাও নয়, ওটাও নয়। অথবা এমন কেউ যে ভোগবিলাসে মত্ত এবং প্রবৃত্তির অনুগত, অথবা যে সম্পদ সংগ্রহ ও সঞ্চয়ের মোহে অন্ধ—এরা কেউই দ্বীনের দাঈ নয়। এদের সাথে চতুষ্পদ পশুর সাদৃশ্যই বেশি। এভাবেই জ্ঞানের বাহকদের মৃত্যুর সাথে সাথে জ্ঞানও বিলুপ্ত হয়ে যায়। হে আল্লাহ! অবশ্যই জমিন কখনো আল্লাহর দলীল প্রতিষ্ঠাকারীদের থেকে শূন্য হবে না, যাতে আল্লাহর হুজ্জত ও প্রমাণাদি বাতিল না হয়ে যায়। সংখ্যার দিক থেকে তারা অতি সামান্য হলেও আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক থেকে অতি মহান। তাদের মাধ্যমেই আল্লাহ তাঁর দলীলসমূহ রক্ষা করেন, যতক্ষণ না তারা তা তাদের সমপর্যায়ের লোকদের কাছে পৌঁছে দেয় এবং তাদের মতো ব্যক্তিদের হৃদয়ে তা বপন করে। জ্ঞান তাদের নিয়ে বিষয়ের হাকীকত বা প্রকৃত রহস্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে। তারা এমন দেহ যার রূহসমূহ উচ্চতর জগতের সাথে ঝুলন্ত। তারাই পৃথিবীতে আল্লাহর খলীফা এবং তাঁর দ্বীনের দিকে আহ্বানকারী। আহ! তাদের দেখার জন্য কী ব্যাকুলতা! আমি নিজের জন্য ও তোমার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। তুমি চাইলে এখন উঠতে পারো। এটি দিরার ইবনে সুরদ আসিম ইবনে হুমাইদ থেকে বর্ণনা করেছেন।

এটি কুমাইল থেকে অন্য একটি সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে তবে এর সনদ দুর্বল। এতে সুনিপুণ আলেম, তার নিম্নস্তরের আলেম এবং দ্বীন বা ইলমের ক্ষেত্রে সংমিশ্রণকারী সাধারণ মানুষের বৈশিষ্ট্যের প্রতি সজাগ করা হয়েছে। দিরার এতে কিছু অংশ বাড়িয়ে বর্ণনা করেছেন যা নির্ভরযোগ্য নয়, যেখানে ‘জ্ঞান তাদের নিয়ে বিষয়ের হাকীকত বা প্রকৃত রহস্যের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে’ কথাটির পর বলা হয়েছে: ফলে বিলাসীরা যা কঠিন মনে করে তারা তাকে সহজ জ্ঞান করে এবং মূর্খরা যাতে আতঙ্কিত হয় তারা তাতে স্বস্তি পায়। তারা দুনিয়াতে এমন সব দেহে বিচরণ করে যাদের রূহসমূহ উচ্চতর জগতের সাথে সম্পৃক্ত। তারাই পৃথিবীতে আল্লাহর খলীফা এবং তাঁর দ্বীনের দিকে আহ্বানকারী।

সুফিয়ান আমাশ থেকে, তিনি ইব্রাহিম আত-তাইমি থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কুরআন এবং এই সহীফায় যা আছে তা ব্যতীত আর কিছুই লিখে রাখিনি।

শারীক আবু ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি খুজায়মা ইবনে নুসায়েরকে বলতে শুনেছি, তিনি আলীকে সিফফীনের যুদ্ধে বলতে শুনেছেন: আল্লাহ তাদের ধ্বংস করুন! তারা কতই না উজ্জ্বল একটি দলকে কলঙ্কিত করেছে এবং আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাদীসের মধ্যে কোন্ হাদীসটি তারা বিকৃত করেছে!

শুবা উমারা ইবনে আবি হাফসা থেকে, তিনি কায়স ইবনে আব্বাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইলম ও মর্যাদা অনুসন্ধানে মদিনায় প্রবেশ করলাম। সেখানে আমি একজন ব্যক্তিকে দেখলাম যার গায়ে দুটি চাদর ছিল এবং মাথায় দুটি বেণী ছিল। তিনি ওমরের কাঁধে হাত রেখেছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম: ইনি কে? তারা বলল: আলী ইবনে আবি তালিব (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

জিয়াদ ইবনে খাইসামা আবু ইসহাক থেকে, তিনি আসিম ইবনে দামরা থেকে এবং তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি কি তোমাদের প্রকৃত ফকীহ সম্পর্কে সংবাদ দেব না? প্রকৃত ফকীহ তিনি, যিনি মানুষকে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ করেন না, আল্লাহর নাফরমানির ব্যাপারে তাদের ছাড় দেন না এবং আল্লাহর পাকড়াও থেকে তাদের নিশ্চিন্ত করেন না।

মারুফ ইবনে খারবুজ আবু তুফাইল থেকে এবং তিনি আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: তোমরা মানুষের কাছে তা-ই বর্ণনা করো যা তারা বুঝতে পারে। আর যা তারা অস্বীকার করে বা বুঝতে অক্ষম তা ছেড়ে দাও। তোমরা কি চাও যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হোক? ইমাম আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) অপরিচিত বা অস্বীকৃত বিষয় বর্ণনা করা থেকে ধমক দিয়েছেন এবং প্রসিদ্ধ বিষয় বর্ণনা করতে উৎসাহিত করেছেন। এটি অস্পষ্ট বিষয় প্রচার থেকে বিরত থাকার ক্ষেত্রে একটি বড় মূলনীতি।

(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٦)
الواهية والمنكرة من الأحاديث في الفضائل والعقائد والرقائق ولا سبيل إلى معرفة هذا من هذا إلا بالإمعان في معرفة الرجال والله أعلم.

وقد استشهد أمير المؤمنين في سابع عشر رمضان من عام أربعين وسنه ستون سنة أو أقل أو أكثر بسنة أو سنتين رضي الله عنه.

5- 5/ 1ع ابن مسعود الإمام الرباني رضي الله عنه أبو عبد الرحمن عبد الله بن أم عبد الهذلي: صاحب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وخادمه وأحد السابقين الأولين ومن كبار البدريين ومن نبلاء الفقهاء والمقرئين، كان ممن يتحرى في الأداء ويشدد في الرواية ويزجر تلامذته عن التهاون في ضبط الألفاظ.

أسلم قبل عمر وحفظ من في رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم سبعين سورة وتسمع عليه النبي صلى الله عليه وآله وسلم ليلة وهو يدعو فقال: سل تعطه، وقال: "من أحب أن يقرأ القرآن غضا كما أنزل فليقرأه على قراة بن أم عبد" 1.

قال إسرائيل عن أبي إسحاق عن عبد الرحمن بن يزيد قال أتينا حذيفة فقلنا له حدثنا عن أقرب الناس من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم هديا ودلا وسمتا فنأخذ عنه ونسمع منه، قال: هو بن مسعود ولقد علم المحفوظون من أصحاب محمد صلى الله عليه وآله وسلم ان بن أم عبد من أقربهم إلى الله زلفى.

الثوري عن أبي إسحاق عن حارثة بن مضرب قال قرئ علينا كتاب عمر: إني قد بعثت إليكم عمار بن ياسر أميرا وعبد الله بن مسعود معلما ووزيرا، وهما من النجباء من أصحاب محمد صلى الله عليه وآله وسلم من أهل بدر، فاقتدوا بهما واسمعوا، وقد آثرتكم بعبد الله بن مسعود على نفسي.

وقد نظر عمر مرة إلى ابن مسعود وقد قام فقال: كنيف2 ملئ علما. وكان بن مسعود يقل من الرواية للحديث ويتورع في الألفاظ.

--------------------------------------------

5- تهذيب الكمال: 2/ 740. تهذيب التهذيب: 6/ 27 "42". تقريب التهذيب: 1/ 450 "630". خلاصة تهذيب الكمال: 2/ 99. الكاشف: 2/ 130. تاريخ البخاري الكبير: 5/ 2. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 60، 72، 73، 74. الجرح والتعديل: 5/ 149. الثقات: 3/ 208. أسد الغابة: 3/ 384. تجريد أسماء الصحابة. 1/ 334. الإصابة: 2/ 36. 4. 233. الاستيعاب "3-4" 987. الوافي بالوفيات: 17/ 406 سير الأعلام: 1/ 461. الحلية: 1/ 375. طبقات ابن سعد: 9/ 122. والفهرس. أسماء الصحابة الرواة. ت8.

1 رواه ابن ماجه في كتاب المقدمة باب 11. أحمد في مسنده "1/ 7، 26. 38.

2 الكنيف: تصغير كنف - الوعاء
ফজিলত, আকিদা এবং কোমল বিষয়ের হাদিসসমূহের মধ্যে যেগুলো দুর্বল ও বর্জনীয়, বর্ণনাকারীদের জীবনী গভীরভাবে পর্যালোচনা করা ছাড়া সেগুলো থেকে সহিহ হাদিস চেনার আর কোনো উপায় নেই। আর আল্লাহই ভালো জানেন।

আমিরুল মুমিনিন চল্লিশ হিজরি সনের সতেরো রমজান শাহাদাত বরণ করেন। সে সময় তাঁর বয়স হয়েছিল ষাট বছর, অথবা এর থেকে এক বা দুই বছর কম বা বেশি। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

৫- ৫/ ১ ইবনে মাসউদ, ইমামে রব্বানি, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন। আবু আবদুর রহমান আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে আবদ আল-হুজালি: তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী ও খাদেম, ইসলামের শুরুর দিকে ইসলাম গ্রহণকারী অগ্রজদের একজন এবং প্রবীণ বদরি সাহাবী। তিনি বিজ্ঞ ফকিহ ও ক্বারিদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি হাদিস আদায়ের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকতেন, হাদিস বর্ণনায় কঠোরতা অবলম্বন করতেন এবং শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে শিথিলতার জন্য তাঁর ছাত্রদের তিরস্কার করতেন।

তিনি ওমরের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন এবং সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র মুখ থেকে সত্তরটি সূরা মুখস্থ করেন। এক রাতে তিনি যখন দোয়া করছিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর দোয়া শুনলেন এবং বললেন: "চাও, তোমাকে দেওয়া হবে।" তিনি আরও বলেছিলেন: "যে ব্যক্তি কুরআনকে ঠিক সেভাবে সতেজ অবস্থায় পড়তে চায় যেভাবে তা অবতীর্ণ হয়েছে, সে যেন ইবনে উম্মে আবদের কিরাত অনুযায়ী পাঠ করে।" ১

ইসরাইল আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমরা হুজায়ফার নিকট এসে বললাম, "আমাদেরকে এমন একজন ব্যক্তি সম্পর্কে বলুন যিনি আচার-আচরণ, স্বভাব-চরিত্র এবং চালচলনে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সবচেয়ে নিকটবর্তী, যাতে আমরা তাঁর নিকট থেকে জ্ঞান অর্জন করতে পারি ও তাঁর কথা শুনতে পারি।" তিনি বললেন, "তিনি হলেন ইবনে মাসউদ। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের হাফেজ সাহাবীগণ জানেন যে, ইবনে উম্মে আবদ আল্লাহর নৈকট্যের দিক দিয়ে তাঁদের মধ্যে অন্যতম নিকটতম ব্যক্তি।"

সাওরি আবু ইসহাক থেকে এবং তিনি হারিসা ইবনে মুদাররিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমাদের সামনে ওমরের পত্র পাঠ করা হলো— "আমি তোমাদের নিকট আম্মার ইবনে ইয়াসিরকে আমির এবং আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে শিক্ষক ও উজির হিসেবে পাঠিয়েছি। তাঁরা উভয়েই মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের শ্রেষ্ঠ বদরি সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং তোমরা তাঁদের অনুসরণ করো এবং তাঁদের কথা শোনো। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদকে তোমাদের নিকট পাঠিয়ে আমি তোমাদেরকে নিজের ওপর প্রাধান্য দিয়েছি।"

ওমর একবার ইবনে মাসউদের দিকে তাকালেন যখন তিনি দাঁড়িয়ে ছিলেন, এরপর বললেন: "জ্ঞানে পরিপূর্ণ একটি আধার।" ইবনে মাসউদ হাদিস খুব কম বর্ণনা করতেন এবং শব্দ চয়নের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক ও মুত্তাকি ছিলেন।

--------------------------------------------

৫- তাহজিবুল কামাল: ২/ ৭৪০। তাহজিবুত তাহজিব: ৬/ ২৭ "৪২"। তাকরিবুত তাহজিব: ১/ ৪৫০ "৬৩০"। খুলাসাতু তাহজিবিল কামাল: ২/ ৯৯। আল-কাশিফ: ২/ ১৩০। তারিখুল বুখারি আল-কাবির: ৫/ ২। তারিখুল বুখারি আস-সগির: ১/ ৬০, ৭২, ৭৩, ৭৪। আল-জারহু ওয়াত তাদিল: ৫/ ১৪৯। আস-সিকাত: ৩/ ২০৮। আসাদুল গাবাহ: ৩/ ৩৮৪। তাজরিদ আসমা আস-সাহাবাহ: ১/ ৩৩৪। আল-ইসাবাহ: ২/ ৩৬, ৪, ২৩৩। আল-ইসতিআব "৩-৪" ৯৮৭। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফিয়াত: ১৭/ ৪০৬। সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/ ৪৬১। আল-হিলইয়াহ: ১/ ৩৭৫। তাবাকাত ইবনে সাদ: ৯/ ১২২। এবং সূচীপত্র। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত। ত৮।

১ ইবনে মাজাহ এটি মুকাদ্দিমা অধ্যায়ের ১১ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন। আহমদ তাঁর মুসনাদে (১/ ৭, ২৬, ৩৮)।

২ আল-কানিফ: এটি কানফ এর ক্ষুদ্র রূপ—আধার বা পাত্র।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٧)
اتفق موته بالمدينة سنة اثنتين وثلاثين وله نحو من ستين سنة، وكان تلامذته لا يفضلون عليه أحدا من الصحابة رضي الله عنهم.

أبو شهاب عبد ربه الحناط عن محمد بن واسع عن سعيد بن جبير عن أبي الدرداء قال خطب النبي صلى الله عليه وآله وسلم خطبة خفيفة ثم قال: "قم يا أبا بكر" فقام فخطب فقصر دون النبي صلى الله عليه وآله وسلم فقال: "قم يا عمر فاخطب". فقام فخطب فقصر دون أبي بكر، ثم قال: قم يا فلان فاخطب إلى أن قال: قم يا بن أم عبد فاخطب فقام عبد الله بن أم عبد فحمد الله وأثنى عليه ثم قال: أيها الناس إن الله ربنا وإن الإسلام ديننا وإن هذا نبينا و أومأ بيده إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم رضينا ما رضى الله لنا ورسوله السلام عليكم قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: أصاب ابن أم عبد، صدق ابن أم عبد. هذا منقطع.

شريك عن أبي العميس عن مسلم البطين عن أبي عمرو الشيباني قال: كنت اجلس إلى ابن مسعود حولا لا يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم. إلا استقلته الرعدة وقال: هكذا، أو نحو ذا أو قريب من ذا أو أو …

يونس عن بن شهاب عن عبيد الله بن عبد الله أن عبد الله بن مسعود قال: ما أنت بمحدث قوما حديثا لا تبلغه عقولهم إلا كان فتنة لبعضهم.

أبو الأحوص عن عبد الله قال: كفى بالمرء إثما أن يحدث بكل ما سمع.

حماد بن سلمة عن أيوب عن أبي قلابة قال بن مسعود: عليكم بالعلم قبل أن يقبض؛ وقبضه ذهاب أهله؛ فإن أحدكم لا يدري متى يفتقر إليه، وستجدون أقواما يزعمون أنهم يدعونكم إلى كتاب الله وقد نبذوه وراء ظهورهم فعليكم بالعلم وإياكم والتبدع وإياكم والتنطع والتعمق وعليكم بالعتيق.

سفيان عن أبي إسحاق عن مرة عن عبد الله: إذا أردتم العلم فانثروا القرآن؛ فإن فيه علم الأولين والآخرين.

الأعمش عن عمارة ومالك بن الحارث عن عبد الرحمن بن يزيد عن عبد الله: الاقتصاد في السنة أفضل من الاجتهاد في البدعة.

يمكن أن يجمع سيرة ابن مسعود في نصف مجلد فلقد كان من سادة الصحابة وأوعية العلم وأئمة الهدي، ومع هذا فله قراءات وفتاوى ينفرد بها، مذكورة في كتب العلم، وكل إمام يؤخذ من قوله ويُترك إلا إمام المتقين الصادق المصدوق الأمين المعصوم صلوات الله
৩২ হিজরীতে মদীনায় তাঁর মৃত্যু হয় এবং তাঁর বয়স ছিল প্রায় ষাট বছর। তাঁর ছাত্ররা সাহাবীদের (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) মধ্যে কাউকে তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করতেন না।

আবু শিহাব আবদে রাব্বিহি আল-হান্নাত মুহাম্মদ ইবনে ওয়াসি থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে এবং তিনি আবু দারদা থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) একটি সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন, তারপর বললেন: "হে আবু বকর, ওঠো।" তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তিনি বললেন: "হে উমর, ওঠো এবং ভাষণ দাও।" তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন এবং তা আবু বকরের চেয়ে সংক্ষিপ্ত ছিল। তারপর তিনি বললেন: "হে অমুক, ওঠো এবং ভাষণ দাও" এভাবে একপর্যায়ে বললেন: "হে ইবনে উম্মে আবদ, ওঠো এবং ভাষণ দাও।" তখন আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে আবদ দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান গাইলেন এবং বললেন: "হে লোকসকল! নিশ্চয়ই আল্লাহ আমাদের রব, ইসলাম আমাদের দ্বীন এবং এই ব্যক্তি আমাদের নবী—এবং তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর দিকে তাঁর হাত দিয়ে ইশারা করলেন। আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল আমাদের জন্য যা পছন্দ করেছেন, তাতে আমরা সন্তুষ্ট। আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।" রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "ইবনে উম্মে আবদ সঠিক বলেছে, ইবনে উম্মে আবদ সত্য বলেছে।" এটি একটি বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি) বর্ণনা।

শারীক আবু আমিস থেকে, তিনি মুসলিম আল-বাতিন থেকে এবং তিনি আবু আমর আশ-শাইবানি থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি প্রায় এক বছর ইবনে মাসউদের মজলিসে বসতাম কিন্তু তিনি 'রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন' কথাটি বলতেন না। তবে যখনই তিনি এটি বলতেন, তখন তিনি কাঁপতে শুরু করতেন এবং বলতেন: "এইরকম, অথবা এর মতো কিছু, অথবা এর কাছাকাছি কিছু, অথবা..." …

ইউনুস ইবনে শিহাব থেকে এবং তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ বলেছেন: "তুমি যখন কোনো কওমের সামনে এমন কোনো হাদীস বর্ণনা করবে যা তাদের বুদ্ধি আয়ত্ত করতে পারে না, তবে তা তাদের কারো কারো জন্য ফিতনার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।"

আবুল আহওয়াস আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: "কোনো ব্যক্তির পাপী হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বর্ণনা করে।"

হাম্মাদ ইবনে সালামাহ আইয়ুব থেকে এবং তিনি আবু কিলাবাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, ইবনে মাসউদ বলেছেন: "ইলম তুলে নেয়ার আগেই তা অর্জন করো। আর ইলম তুলে নেয়া মানে হলো ইলমওয়ালাদের চলে যাওয়া। তোমাদের কেউ জানে না কখন সে সেটির মুখাপেক্ষী হবে। অচিরেই তোমরা এমন এক কওমকে দেখতে পাবে যারা দাবি করবে যে তারা তোমাদের আল্লাহর কিতাবের দিকে ডাকছে, অথচ তারা তা নিজেদের পিঠের পেছনে ফেলে রেখেছে। সুতরাং তোমরা ইলম আঁকড়ে ধরো এবং বিদআত, অতিরঞ্জন ও গভীর বাড়াবাড়ি থেকে বেঁচে থাকো। আর তোমরা প্রাচীন পথ (সালাফদের পথ) আঁকড়ে ধরো।"

সুফিয়ান আবু ইসহাক থেকে, তিনি মুররাহ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন: "যদি তোমরা ইলম চাও, তবে কুরআন মন্থন করো; কারণ এতে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের ইলম নিহিত আছে।"

আমাশ আম্মারাহ ও মালিক ইবনুল হারিস থেকে, তাঁরা আবদুর রহমান ইবনে ইয়াজিদ থেকে এবং তিনি আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন: "সুন্নাহর ওপর পরিমিত আমল করা বিদআতের ওপর কঠোর পরিশ্রম করার চেয়ে উত্তম।"

ইবনে মাসউদের জীবনী নিয়ে একটি অর্ধ-খণ্ড সংকলন করা সম্ভব। তিনি ছিলেন সাহাবীদের অন্যতম নেতা, ইলমের আধার এবং হেদায়েতের ইমাম। তা সত্ত্বেও তাঁর কিছু স্বতন্ত্র কেরাআত ও ফতোয়া রয়েছে, যা ইলমি কিতাবগুলোতে বর্ণিত আছে। আর প্রত্যেক ইমামের কথাই গ্রহণ করা যায় বা বর্জন করা যায়, কেবল মুত্তাকীদের ইমাম, পরম সত্যবাদী, সত্য হিসেবে সত্যায়িত, বিশ্বস্ত ও নিষ্পাপ (রাসূলুল্লাহ)-এর কথা ব্যতিরেকে, আল্লাহর দরুদ তাঁর ওপর বর্ষিত হোক।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٨)
وسلامه عليه، فيا لله العجب من عالم يقلد دينه إماما بعينه في كل ما قال مع علمه بما يرد على مذهب إمامه من النصوص النبوية فلا قوة إلا بالله.

6- 6/ 1ع أبي بن كعب بن قيس أبو المنذر الأنصاري الخزرجي النجاري: أقرأ الصحابة وسيد القراء، شهد بدرا والمشاهد وقرأ القرآن على النبي صلى الله عليه وسلم وكان أحد من سمع الكثير وجمع بين العلم والعمل ومناقبه جمة. حدث عنه أبو أيوب الأنصاري وابن عباس وسويد بن غفلة وأبو هريرة وطائفة حملوا عنه الكتاب والسنة، وكان ربعة من الرجال أسمر أبيض الرأس واللحية.

روى الربيع بن أنس عن أبي العالية قال: قال رجل لأبي بن كعب: أوصني، قال: اتخذ كتاب الله إماما وارض به حكما وقاضيا، فإنه الذي استخلف فيكم رسولكم، شفيع مطاع وشاهد لا يتهم. فيه ذكركم وذكر من قبلكم وحكم ما بينكم وخبركم وخبر ما بعدكم.

وقد كان عمر بن الخطاب رضي الله عنه يكرم أبيا ويهابه، ويستفتيه ولما توفي قال عمر: اليوم مات سيد المسلمين.

توفي بالمدينة في قول الهيثم بن عدي وغيره سنة تسع عشرة وقال الواقدي ومحمد بن عبد الله بن نمير والذهلي وغيرهم: سنة اثنتين وعشرين1 رضي الله عنه.

7- 7/ 1ع- أبو ذر الغفاري جندب بن جنادة على الصحيح: أحد السابقين الأولين. أسلم في أول المبعث خامس خمسة ثم رجع إلى بلاد قومه ثم بعدَ حينٍ هاجر إلى المدينة، وكان رأسا في العلم والزهد والجهاد وصدق اللهجة والإخلاص، وكان آدم جسيما كث الليحة. قال أبو داود: لم يشهد بدرا ولكن عمر ألحقه مع القراء وكان يوازي ابن مسعود في العلم وكان رزقه أربع مائة دينار وكان لا يدخر مالا ويصدع بالحق وإن كان مرا، حدث عنه أنس بن مالك وزيد بن وهب وجبير بن نفير والأحنف بن قيس وأبو سالم الجيشاني سفيان بن هانئ وعبد الرحمن بن غنم وسعيد بن المسيب وخلق من قدماء التابعين.

--------------------------------------------

6- أسد الغابة: ت 33. تهذيب التهذيب: 1/ 187. تقريب التهذيب: 1/ 48. الإصابة: 1/ 16. الثقات: 3/ 5. تاريخ ابن معين: 1564. الجرح والتعديل: 2/ 290. سير أعلام النبلاء: 1/ 389. مشاهير علماء الأمصار: 12. تلقيح الفهوم: 364. أسماء الصحابة الرواة: 25.

1 وقيل سنة اثنتين وثلاثين.

7- تهذيب: 12/ 90 رقم "40". تقريب: 2/ 420.
এবং তাঁর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। আল্লাহর কসম, সেই আলেমের প্রতি বিস্ময় জাগে, যে তার দ্বীনের ক্ষেত্রে কোনো একজন নির্দিষ্ট ইমামের প্রতিটি কথার অন্ধ অনুসরণ (তাকলিদ) করে, অথচ সে জানে যে তার ইমামের মতের বিপরীতে নববী দলীল (নصوص) বিদ্যমান। আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো শক্তি নেই।

৬- ৬/ ১উ উবাই ইবনে কাব ইবনে কায়স আবুল মুনজির আল-আনসারি আল-খাজরাজি আন-নাজ্জারি: তিনি সাহাবীগণের মধ্যে শ্রেষ্ঠ ক্বারী এবং ক্বারীগণের নেতা। তিনি বদর এবং অন্যান্য যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট কুরআন পাঠ করেছিলেন। তিনি অনেক হাদিস শ্রবণকারী এবং ইলম ও আমলের সমন্বয়কারী ব্যক্তিদের একজন ছিলেন। তাঁর ফজিলত ও গুণাবলি অনেক। তাঁর থেকে আবু আইয়ুব আনসারী, ইবনে আব্বাস, সুওয়াইদ ইবনে গাফালাহ, আবু হুরায়রা এবং একদল বর্ণনাকারী হাদিস বর্ণনা করেছেন যারা তাঁর থেকে কিতাব ও সুন্নাহ গ্রহণ করেছেন। তিনি মধ্যম গড়নের পুরুষ ছিলেন, তাঁর গায়ের রঙ ছিল শ্যামলা এবং মাথা ও দাড়ির চুল ছিল সাদা।

রাবী ইবনে আনাস আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি উবাই ইবনে কাবকে বললেন: "আমাকে উপদেশ দিন।" তিনি বললেন: "আল্লাহর কিতাবকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করো এবং একে বিচারক ও ফয়সালাকারী হিসেবে মেনে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকো। কারণ এটিই তোমাদের রাসূল তোমাদের মধ্যে স্থলাভিষিক্ত হিসেবে রেখে গেছেন। এটি এমন এক সুপারিশকারী যার সুপারিশ কবুল করা হয় এবং এমন এক সাক্ষী যাকে অভিযুক্ত করা যায় না। এতে তোমাদের এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদের আলোচনা রয়েছে, তোমাদের মধ্যকার বিবাদের ফয়সালা রয়েছে এবং তোমাদের ও তোমাদের পরবর্তী সময়ের সংবাদ রয়েছে।"

ওমর ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু উবাইকে সম্মান করতেন এবং তাঁকে সমীহ করতেন। তিনি তাঁর কাছে ফতোয়া চাইতেন। যখন তিনি ইন্তেকাল করেন, তখন ওমর বলেন: "আজ মুসলিমদের নেতা মৃত্যুবরণ করলেন।"

হায়সাম ইবনে আদি এবং অন্যদের মতে তিনি মদিনায় হিজরি ১৯ সনে ইন্তেকাল করেন। তবে ওয়াকিদি, মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে নুমাইর, যুহলি এবং অন্যরা বলেছেন: হিজরি ২২ সনে ১ (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)।

৭- ৭/ ১উ- আবু ذر আল-গিফারি জুনদুব ইবনে জুনাদাহ (সঠিক মতানুসারে): তিনি ইসলামের প্রথম অগ্রগামীদের একজন। তিনি নবুওয়াতের শুরুর দিকে পঞ্চম ব্যক্তি হিসেবে ইসলাম গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি নিজ গোত্রের এলাকায় ফিরে যান এবং কিছুদিন পর মদিনায় হিজরত করেন। তিনি ইলম, যুহদ (দুনিয়াবিমুখতা), জিহাদ, সত্যবাদিতা এবং ইখলাসের ক্ষেত্রে শীর্ষস্থানীয় ছিলেন। তিনি শ্যামলা বর্ণের, স্থূলকায় এবং ঘন দাড়িবিশিষ্ট ছিলেন। আবু দাউদ বলেন: তিনি বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন না, তবে ওমর তাঁকে ক্বারীগণের অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। তিনি ইলমের ক্ষেত্রে ইবনে মাসউদের সমকক্ষ ছিলেন। তাঁর ভাতা ছিল চারশত দিনার। তিনি কোনো সম্পদ সঞ্চয় করতেন না এবং তিক্ত হলেও সত্য কথা স্পষ্টভাবে বলতেন। তাঁর থেকে আনাস ইবনে মালিক, যায়িদ ইবনে ওয়াহাব, জুবায়ের ইবনে নুফাইর, আহনাফ ইবনে কায়স, আবু সালিম আল-জাইশানি সুফিয়ান ইবনে হানি, আব্দুর রহমান ইবনে গানাম, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব এবং প্রবীণ তাবেয়ীদের এক বিশাল দল বর্ণনা করেছেন।

--------------------------------------------

৬- আসাদুল গাবাহ: ৩৩। তাহযিবুত তাহযিব: ১/ ১৮৭। তাকরিবুত তাহযিব: ১/ ৪৮। আল-ইসাবাহ: ১/ ১৬। আস-সিকাত: ৩/ ৫। তারিখ ইবনে মাঈন: ১৫৬৪। আল-জারহু ওয়াত তা'দিল: ২/ ২৯০। সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ১/ ৩৮৯। মাশাহিরু উলামাইল আমসার: ১২। তালকিহুল ফুহুম: ৩৬৪। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ২৫।

১ এবং কারো মতে হিজরি ৩২ সনে।

৭- তাহযিব: ১২/ ৯০ নম্বর "৪০"। তাকরিব: ২/ ৪২০।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ١٩)
ومناقبه شهيرة، منها قول المصطفى صلى الله عليه وسلم: "ما أظلت الخضراء ولا أقلت الغبراء أصدق لهجة من أبي ذر" 1.

وروى همام عن قتادة عن سعيد بن أبي الحسن عن عبد الله بن الصامت عن أبي ذر رضي الله عنه قال: إن خليلي صلى الله عليه وآله وسلم عهد إلي: "أيما ذهب أو فضة أوكي عليه فهو جمر على صاحبه حتى ينفقه في سبيل الله عز وجل".

البابلتي أخبرنا الأوزاعي حدثني مرثد أبو كثير عن أبيه عن أبي ذر أن رجلا أتاه، فقال: إن مصدقي عثمان "رضي الله عنه" ازدادوا علينا أنغيب عليهم بقدر ما ازدادوا علينا فقال: لا، وقف مالك وقال: ما كان لكم من حق فخذوه، وما كان باطلا فردوه. فما تعدوا عليك جعل في ميزانك يوم القيامة، قال وعلى رأسه فتى من قريش فقال: أما نهاك أمير المؤمنين عن الفتيا فقال: أرقيب أنت علي فوالذي نفسي بيده لو وضعتم الصمصامة على هذه وأشار إلى قفاه ثم ظننت أني منفذ كلمة سمعتها من رسول الله صلى الله عليه وسلم قبل أن تجيزوا علي لأنفذتها قلت لقوة أبي ذر في الحق ولأخلاقه نهى عن الفتيا فانقطع بالربذة سنوات حتى توفي سنة اثنتين وثلاثين رضي الله عنه.

8- 8/ 1ع معاذ بن جبل بن عمرو بن أوس العالم الرباني أبو عبد الرحمن الأنصاري الخزرجي: شهد العقبة وهو بن ثمان عشرة سنة أو دونها وشهد بدرا والمشاهد وكان من نجباء الصحابة وفقائهم والبائهم ضي الله عنه.

قال محمد بن سعد: كان معاذ بن جبل رجلا طوالا أبيض حسن الثغر عظيم العينين مجموع الحاجبين جعدا قططا.

قلت: حدث عنه أنس بن مالك وأبو الطفيل وأسلم مولى عمر، والأسود بن هلال والأسود بن يزيد وأبو مسلم الخولاني وأبو وائل وأبو بحرية السكوني عبد الله بن قيس والصنابحي وعبد الرحمن بن غنم ومالك بن يخامر ومسروق وقيس بن أبي حازم ويزيد بن

--------------------------------------------

1 رواه الترمذي في كتاب المناقب باب 35. ابن ماجه في كتاب المقدمة باب 11.

8- تهذيب الكمال: 3/ 1338. تهذيب التهذيب: 10/ 186 "347". تقريب التهذيب: 2/ 255. خلاصة تهذيب الكمال: 3/ 35. تاريخ البخاري الكبير: 7/ 359. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 41، 47، 49، 52، 53، 54، 58، 66، 73، 157، 176. الثقات: 3/ 168. أسد الغابة: 5/ 194. تاريخ الإسلام: 3/ 105. شذرات: 1/ 30، 62، 63. طبقات الحفاظ: 6، 24. تجريد أسماء الصحابة: 2/ 80. الاستيعاب: 3/ 1402. سير الأعلام: 1/ 443. الحلية: 1/ 228. طبقات ابن سعد: 9/ 184 والفهرس. أسماء الصحابة الرواة: ت: 27.
তাঁর গুণাবলি সুপ্রসিদ্ধ, এর মধ্যে রয়েছে মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বাণী: "আবু যার অপেক্ষা অধিক সত্যবাদী কোনো ব্যক্তিকে আকাশ ছায়া দেয়নি এবং জমিনও বহন করেনি।" ১।

হাম্মাম কাতাদাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনুল হাসান থেকে, তিনি আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত থেকে এবং তিনি আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আমার বন্ধু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন: "যে সোনা বা রূপা পুঞ্জীভূত করা হয় এবং তার মুখ বন্ধ করে রাখা হয় (যাকাত দেওয়া হয় না), তা তার মালিকের জন্য আগুনের কয়লা সদৃশ, যতক্ষণ না সে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে।"

আল-বাবালতী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আওযায়ী বলেছেন, মারসাদ আবু কাসীর তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু যার থেকে বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে বলল: উসমান (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর যাকাত আদায়কারীরা আমাদের ওপর নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত চাপ দিচ্ছে। তারা যতটুকু অতিরিক্ত আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে, ততটুকু কি আমরা তাদের থেকে গোপন করব? তিনি বললেন: না, বরং তোমার সম্পদ তাদের সামনে পেশ করো। তিনি আরও বললেন: তোমাদের যা হক তা দিয়ে দাও, আর যা অন্যায় তা পরিহার করো। তারা তোমার ওপর যে অতিরিক্ত জুলুম করবে, তা কিয়ামতের দিন তোমার মিযানে (পাল্লায়) যুক্ত হবে। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁর মাথার কাছে কুরাইশ বংশীয় এক যুবক ছিল, সে বলল: আমীরুল মুমিনীন কি আপনাকে ফতোয়া দিতে নিষেধ করেননি? তিনি বললেন: তুমি কি আমার ওপর প্রহরী নিযুক্ত হয়েছ? সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমরা যদি আমার এই স্কন্ধে তলোয়ারও রাখো—তিনি তাঁর ঘাড়ের দিকে ইশারা করলেন—আর আমি যদি মনে করি যে, তোমরা আমাকে হত্যা করার পূর্বেই আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে শোনা কোনো বাণী প্রচার করতে সক্ষম হব, তবে আমি অবশ্যই তা প্রচার করব। আমি (গ্রন্থকার) বলছি: সত্যের পথে আবু যারের কঠোরতা ও তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তাঁকে ফতোয়া দিতে নিষেধ করা হয়েছিল। অতঃপর তিনি রাবাযাহ নামক স্থানে কয়েক বছর নির্জনে কাটান এবং ৩২ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।

৮- ৮/ ১ আ: মুয়ায ইবন জাবাল ইবন আমর ইবন আওস, রব্বানী আলিম, আবু আবদুর রহমান আল-আনসারী আল-খাজরাজী: তিনি আঠারো বছর বা তার কিছু কম বয়সে আকাবায় উপস্থিত হয়েছিলেন। তিনি বদর ও অন্যান্য সকল যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সাহাবীদের মধ্যে অত্যন্ত উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন, ফকীহ ও প্রজ্ঞাবানদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন (রাযিয়াল্লাহু আনহু)।

মুহাম্মদ ইবন সা’দ বলেন: মুয়ায ইবন জাবাল ছিলেন দীর্ঘদেহী, গৌরবর্ণ, সুন্দর দাঁত ও বড় চোখের অধিকারী, যাঁর ভ্রুযুগল ছিল ঘন এবং চুল ছিল কোঁকড়ানো।

আমি বলছি: তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন আনাস ইবন মালিক, আবুল তুফাইল, উমরের মুক্তদাস আসলাম, আসওয়াদ ইবন হিলাল, আসওয়াদ ইবন ইয়াযীদ, আবু মুসলিম আল-খাওলানী, আবু ওয়াাইল, আবু বাহরিয়াহ আস-সাকুনী আবদুল্লাহ ইবন কায়স, আস-সুনাবিহী, আবদুর রহমান ইবন গানম, মালিক ইবন ইখামির, মাসরুক, কায়স ইবন আবু হাযিম এবং ইয়াযীদ ইবন...

--------------------------------------------

১. এটি তিরমিযী মানাকিব অধ্যায়ের ৩৫ নং অনুচ্ছেদে এবং ইবন মাজাহ মুকাদ্দিমাহ অধ্যায়ের ১১ নং অনুচ্ছেদে বর্ণনা করেছেন।

৮- তাহযীবুল কামাল: ৩/১৩৩৮। তাহযীবুত তাহযীব: ১০/১৮৬ "৩৪৭"। তাকরীবুত তাহযীব: ২/২৫৫। খুলাসাহ তাহযীবুল কামাল: ৩/৩৫। তারিখুল বুখারী আল-কাবীর: ৭/৩৫৯। তারিখুল বুখারী আস-সাগীর: ১/৪১, ৪৭, ৪৯, ৫২, ৫৩, ৫৪, ৫৮, ৬৬, ৭৩, ১৫৭, ১৭৬। আস-সিকাত: ৩/১৬৮। উসদুল গাবাহ: ৫/১৯৪। তারিখুল ইসলাম: ৩/১০৫। শাযারাত: ১/৩০, ৬২, ৬৩। তাবাকাতুল হুফফায: ৬, ২৪। তাজরীদু আসমায়িস সাহাবাহ: ২/৮০। আল-ইস্তিআব: ৩/১৪০২। সিয়ারু আলামিন নুবালা: ১/৪৪৩। আল-হিলইয়াহ: ১/২২৮। তাবাকাত ইবন সা’দ: ৯/১৮৪ এবং সূচিপত্র। আসমায়ুস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: নং: ২৭।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٠)
عميرة الزبيدي وطائفة، وفيهم من روايته عنه منقطعة وقد قال له النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "يا معاذ والله إني لأحبك".

وعن النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "أعلم أمتي بالحلال والحرام معاذ ".

وعنه عليه السلام: "يأتي معاذ أمام العلماء برتوة" إسناده مرسل.

قال بن مسعود: كنا نشبه معاذ بإبراهيم الخليل عليه السلام، كان أمة قانتا لله حنيفا.

وروى شهر بن حوشب أن عمر رضي الله عنه قال: لو استخلفت معاذا فسألني عنه ربي عز وجل لقلت سمعت نبيك صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "إن العلماء إذا حضروا ربهم كان معاذ بين أيديهم رتوة حجر ".

وقال أبو مسلم الخولاني: دخلت مسجد حمص فإذا فيه نحو من ثلاثين كهلا من الصحابة وفيهم شاب أكحل براق الثنايا ساكت فإذا امتروا في شيء سألوه فقيل لي: هذا معاذ.

ورواه شهر بن حوشب عن بن غنم عن عائذ الله بن عبد الله أنه دخل المسجد أول خلافة عمر وفي الحلقة شاب شديد الأدمة وضيء حلو المنطق وهو أشبهم سنا فإذا اشتبه عليهم شيء ردوه إليه.

وروى أيوب بن سيار عن يعقوب بن زيد عن أبي بحرية قال دخلت مسجد حمص فإذا بفتى جعد قطط حوله الناس إذا تكلم كأنما يخرج من فيه نور ولؤلؤ فقالوا: هذا معاذ بن جبل.

أبو عبيد في الأموال أخبرنا عبد الله بن صالح أخبرنا موسى بن علي عن أبيه عن عمر قال خطبهم بالجابية فقال: من أراد القرآن فليأت أبيا، ومن أراد أن يسأل عن الفرائض فليأت زيدا ومن أراد أن يسأل عن الفقه فليأت معاذا ومن أراد أن يسأل عن المال فليأتني فإن الله جعلني له خازنا وقاسما،

صفوان بن عمرو عن راشد بن سعد عن عاصم بن حميد السكوني أن معاذا لما بعثه النبي صلى الله عليه وآله وسلم إلى اليمن خرج يشيعه ماشيا تحت راحلته ثم قال يا معاذ عسى الا أن تلقاني بعد عامي هذا ولعلك تمر بمسجدي وقبري فبكى معاذ أسفا لفراق رسول الله صلى الله عليه وآله: وسلم فقال: "لا تبك البكاء من الشيطان" سمعه أبو اليمان منه.

معمر عن الزهري عن عبد الرحمن بن عبد الله بن كعب عن أبيه قال: كان معاذ شابا
উমাইরা আল-যুবায়দী এবং একটি দল, তাদের মধ্যে এমন কেউ রয়েছেন যার বর্ণনা তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন (মুনকাতি‘)। আর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বলেছিলেন: "হে মুয়ায! আল্লাহর কসম, আমি অবশ্যই তোমাকে ভালোবাসি।"

এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণিত: "আমার উম্মতের মধ্যে হালাল ও হারাম সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞানী হলো মুয়ায।"

এবং তাঁর (আলাইহিস সালাম) থেকে বর্ণিত: "মুয়ায আলিমদের সামনে এক 'রাতওয়া' (পাথর নিক্ষেপের দূরত্ব) পরিমাণ অগ্রবর্তী হয়ে আসবে।" এর সনদ মুরসাল।

ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন: "আমরা মুয়াযকে ইব্রাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম)-এর সাথে তুলনা করতাম; তিনি ছিলেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর অনুগত একজন নেতা (উম্মাহ)।"

শাহর বিন হাওশাব বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) বলেছেন: "আমি যদি মুয়াযকে স্থলাভিষিক্ত করতাম এবং আমার প্রতিপালক (আয্যা ওয়া জাল্লা) এ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন, তবে আমি বলতাম, আমি আপনার নবীকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলতে শুনেছি: 'আলিমগণ যখন তাদের প্রতিপালকের সামনে উপস্থিত হবেন, মুয়ায তখন তাদের সামনে এক পাথর নিক্ষেপের দূরত্বে অগ্রবর্তী থাকবেন'।"

আবু মুসলিম আল-খাওলানী বলেন: "আমি হিমসের মসজিদে প্রবেশ করলাম এবং সেখানে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যে প্রায় ত্রিশজন মধ্যবয়সী ব্যক্তিকে দেখতে পেলাম। তাদের মধ্যে সুরমা লাগানো উজ্জ্বল দাঁতবিশিষ্ট একজন যুবক ছিলেন যিনি চুপচাপ ছিলেন। যখন তাঁরা কোনো বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতেন, তখন তাঁরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন। আমাকে বলা হলো: ইনি মুয়ায।"

শাহর বিন হাওশাব ইবনে গানাম থেকে এবং তিনি আইযুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি উমরের খিলাফতের শুরুতে মসজিদে প্রবেশ করেন। সেখানে মজলিসে অত্যন্ত শ্যামবর্ণ, উজ্জ্বল এবং মিষ্টভাষী একজন যুবক ছিলেন, যিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ। যখন তাঁদের কাছে কোনো বিষয় অস্পষ্ট হতো, তখন তাঁরা তা তাঁর কাছেই ন্যস্ত করতেন।

আইয়ুব বিন সাইয়ার ইয়াকুব বিন যায়েদ থেকে এবং তিনি আবু বাহরিয়া থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি হিমসের মসজিদে প্রবেশ করলাম। সেখানে ঘন কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট এক যুবককে দেখলাম যার চারপাশে মানুষ ঘিরে ছিল। তিনি যখন কথা বলতেন, মনে হতো তাঁর মুখ থেকে নূর ও মুক্তা বের হচ্ছে। তাঁরা বললেন: ইনি মুয়ায বিন জাবাল।"

আবু উবাইদ 'আল-আমওয়াল' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন সালিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মূসা বিন আলী তাঁর পিতার সূত্রে উমর (রা.) থেকে। উমর (রা.) জাবিয়াতে ভাষণ দেওয়ার সময় বললেন: "যে ব্যক্তি কুরআন সম্পর্কে জানতে চায় সে যেন উবাইয়ের কাছে আসে। যে উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চায় সে যেন যায়েদের কাছে আসে। আর যে ফিকহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চায় সে যেন মুয়াযের কাছে আসে। আর যে সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে চায় সে যেন আমার কাছে আসে; কারণ আল্লাহ আমাকে তার জন্য খাজাঞ্চী ও বন্টনকারী বানিয়েছেন।"

সাফওয়ান বিন আমর রাশেদ বিন সা'দ থেকে এবং তিনি আসিম বিন হামিদ আল-সাকুনী থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন মুয়াযকে ইয়ামেনে পাঠালেন, তখন তিনি তাঁকে বিদায় জানাতে তাঁর সওয়ারির পাশে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এরপর তিনি বললেন: "হে মুয়ায! হতে পারে আমার এই বছরের পর তোমার সাথে আর দেখা হবে না; সম্ভবত তুমি আমার মসজিদ ও কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে।" এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বিচ্ছেদের ব্যথায় মুয়ায কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি বললেন: "কেঁদো না, কান্না শয়তানের পক্ষ থেকে।" আবু আল-ইয়ামান তাঁর থেকে এটি শুনেছেন।

মা'মার যুহরী থেকে এবং তিনি আব্দুর রহমান বিন আব্দুল্লাহ বিন কাব থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: মুয়ায ছিলেন একজন যুবক।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢١)
سمحا جميلا من أفضل شباب قومه وكان لا يمسك فلم يزل يدان حتى اغلق ماله كله من الدين فطلب من النبي صلى الله عليه وآله وسلم أن يسأل غرماءه أن يضعوا له فباع النبي صلى الله عليه وآله وسلم ماله كله في دينه وقام بغير شيء حتى إذا كان عام

تح بعثه النبي صلى الله عليه وآله وسلم إلى طائفة من اليمن أميرا ليجبره، الحديث.

أنبأنا المسلم بن محمد وغيره قالوا: أخبرنا الكندي أخبرنا الشيباني أخبرنا الخطيب أخبرنا محمد بن عبد الله بن أبان الهيتي املاء سنة ست وأربع مائة أخبرنا أبو القاسم علي بن محمد بن موسى الأنباري ولقبه حسنس أنا يحيى بن أبي طالب أخبرنا أبو النضر عن الأشجعي عن سفيان عن حصين عن رجل عن معاذ بن جبل قال كان رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول إذا أفطر: "الحمد الله الذي أعانني فصُمت، ورزقني فأفطرت".

استشهد معاذ في الطاعون بالأردن في سنة ثماني عشرة وله خمس وثلاثون سنة تقريبا رضي الله عنه.

9- 9/1 ع- سعد بن أبي وقاص رضي الله عنه، مالك بن وهب بن عبد مناف بن زهرة بن كلاب الأمير أبو إسحاق الزهري البدري العشري: أول من رمى بسهم في سبيل الله، روى عنه بنوه عامر ومحمد ومصعب وإبراهيم وعمر وعائشة وقيس بن أبي حازم وسعيد بن المسيب وعلقمة وأبو عثمان النهدي ومجاهد وأيمن المكي وخلق.

أسلم وهو ابن سبع عشرة سنة وكان قصيرا غليظا جعدا شعر الجسم آدم أفطس وقيل كان طويلا.

روى نافع القارىء عن ولد لسعد عن أبيه قال: أسلمت وما في وجهي شعرة. وقال بن المسيب: سمعت سعدا يقول: مكثت ليالي وإني لثلث الإسلام. وقال سعد: قال لي رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "ارم فداك أبي وأمي" يوم أحد وكان سعد مجاب الدعوة. له مناقب جمة وجهاد عظيم وفتوحات كبار ووقع في نفوس المؤمنين.

اعتزل الفتنة ولم يقاتل مع علي ومعاوية ثم كان علي يغبطه على ذلك.

--------------------------------------------

9- تهذيب الكمال: 1/ 371. تهذيب التهذيب: 3/ 479. تقريب التهذيب: 1/ 289. الكاشف: 1/ 354. تاريخ البخاري الكبير: 4/ 73. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 26، 51، 69، 72، 83، 91، 100، 101، 104، 108، 114، 250. الجرح والتعديل: 4/ 93. أسد الغابة: 2/ 366. تجريد أسماء الصحابة: 1/ 218. الاستيعاب: 2/ 606.الإصابة: 3/ 73. طبقات ابن سعد: 9/ 80. الخلية: 1/ 368. سير الأعلام: 1/ 92. الوافي بالوفيات: 15/ 199. البداية والنهاية: 3/ 319، 8/ 72. أسماء الصحابة الرواة: ب16.
তিনি ছিলেন সহনশীল ও সুন্দর, তাঁর কওমের শ্রেষ্ঠ যুবকদের অন্তর্ভুক্ত। তিনি সম্পদ জমিয়ে রাখতেন না, ফলে তিনি ঋণগ্রস্ত হতে থাকলেন এবং শেষ পর্যন্ত তাঁর সমস্ত সম্পদ ঋণে নিমজ্জিত হলো। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে আবেদন করলেন যেন তিনি তাঁর পাওনাদারদের কাছে কিছু মওকুফ করার অনুরোধ করেন। অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সমস্ত সম্পদ ঋণের দায়ে বিক্রি করে দিলেন এবং তিনি নিঃস্ব হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। পরিশেষে বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে তাঁর অভাব মোচনের জন্য ইয়েমেনের একটি অঞ্চলের আমির হিসেবে প্রেরণ করলেন... (হাদিসের শেষ পর্যন্ত)।

মুসলিম বিন মুহাম্মদ ও অন্যান্যরা আমাদের জানিয়েছেন, তাঁরা বলেন: আল-কিন্দি আমাদের খবর দিয়েছেন, আশ-শায়বানি আমাদের খবর দিয়েছেন, আল-খাতিব আমাদের খবর দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আবান আল-হিতি ৪০৬ হিজরিতে শ্রুতলিপি অনুযায়ী আমাদের খবর দিয়েছেন, আবুল কাসেম আলী বিন মুহাম্মদ বিন মুসা আল-আনবারি (তাঁর উপাধি হাসানস) আমাদের খবর দিয়েছেন, ইয়াহইয়া বিন আবি তালিব আমাদের খবর দিয়েছেন, আবু নাজর আল-আশজায়ি থেকে, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি হুসাইন থেকে, তিনি এক ব্যক্তি থেকে এবং তিনি মুয়াজ বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম ইফতারের সময় বলতেন: "সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য যিনি আমাকে সাহায্য করেছেন ফলে আমি রোজা রেখেছি এবং আমাকে রিজিক দিয়েছেন ফলে আমি ইফতার করেছি।"

মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহু ১৮ হিজরি সনে জর্ডানে প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে শাহাদাত বরণ করেন এবং তখন তাঁর বয়স ছিল প্রায় পঁয়ত্রিশ বছর। আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন।

৯- ৯/১ আ- সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস রাদিয়াল্লাহু আনহু, মালিক বিন ওহাব বিন আব্দ মানাফ বিন জুহরা বিন কিলাব আল-আমির আবু ইসহাক আজ-জুহরি আল-বাদরি আল-আশারি: প্রথম ব্যক্তি যিনি আল্লাহর পথে তীর নিক্ষেপ করেছেন। তাঁর থেকে তাঁর সন্তান আমির, মুহাম্মদ, মুসআব, ইবরাহিম, উমর ও আয়েশা এবং কাইস বিন আবি হাজিম, সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব, আলকামা, আবু উসমান আন-নাহদি, মুজাহিদ, আয়মান আল-মাক্কি ও এক বিশাল গোষ্ঠী বর্ণনা করেছেন।

তিনি সতেরো বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন খাটো, স্থূলকায়, কোঁকড়া চুল ও পশমযুক্ত শরীরের অধিকারী, গায়ের রং ছিল শ্যামলা এবং নাক ছিল চ্যাপ্টা; আবার বলা হয়েছে তিনি দীর্ঘকায় ছিলেন।

নাফে আল-কারি সা'দ রাদিয়াল্লাহু আনহুর এক সন্তান থেকে এবং তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: আমি যখন ইসলাম গ্রহণ করি তখন আমার মুখে কোনো দাড়ি ছিল না। ইবনুল মুসাইয়িব বলেন: আমি সা'দকে বলতে শুনেছি: আমি এমন কিছু রাত অতিবাহিত করেছি যখন আমি ছিলাম ইসলামের এক-তৃতীয়াংশ। সা'দ বলেন: উহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম আমাকে বলেছিলেন: "তীর নিক্ষেপ করো, তোমার জন্য আমার বাবা-মা উৎসর্গিত হোন।" সা'দ ছিলেন এমন একজন ব্যক্তি যাঁর দোয়া কবুল হতো। তাঁর অসংখ্য ফজিলত, মহান জিহাদ ও বড় বড় বিজয় রয়েছে যা মুমিনদের অন্তরে গেঁথে আছে।

তিনি ফিতনা থেকে দূরে ছিলেন এবং আলী বা মুয়াবিয়া কারো পক্ষেই যুদ্ধ করেননি; পরবর্তীতে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর এই অবস্থানের জন্য তাঁর প্রশংসা করতেন।

--------------------------------------------

৯- তাহজিব আল-কামাল: ১/ ৩৭১। তাহজিব আত-তাহজিব: ৩/ ৪৭৯। তাকরিব আত-তাহজিব: ১/ ২৮৯। আল-কাশিফ: ১/ ৩৫৪। তারিখ আল-বুখারি আল-কাবির: ৪/ ৭৩। তারিখ আল-বুখারি আস-সগির: ১/ ২৬, ৫১, ৬৯, ৭২, ৮৩, ৯১, ১০০, ১০১, ১০৪, ১০৮, ১১৪, ২৫০। আল-জারহ ওয়া আত-তাদিল: ৪/ ৯৩। আসাদ আল-গাবাহ: ২/ ৩৬৬। তাজরিদ আসমা আস-সাহাবাহ: ১/ ২১৮। আল-ইস্তিআব: ২/ ৬০৬। আল-ইসাবাহ: ৩/ ৭৩। তাবাকাত ইবন সা'দ: ৯/ ৮০। আল-হিলয়াহ: ১/ ৩৬৮। সিয়ার আলাম আন-নুবালা: ১/ ৯২। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: ১৫/ ১৯৯। আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: ৩/ ৩১৯, ৮/ ৭২। আসমা আস-সাহাবাহ আর-রুওয়াত: পৃ ১৬।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٢)
فعنه أنه قال: لله منزل نزله سعد وابن عمر، لئن كان ذنبا إنه لصغير ولئن كان حسنا إنه لعظيم.

قال الزهري: إن سعدا لما احتضر دعا بخلق جبة صوف وقال: كفنوني فيها؛ فإني قاتلت فيها يوم بدر وإنما خبأتها لهذا، وقيل: إن تركته كانت مائتي ألف درهم وخمسين ألف درهم وكان قد اعتزل في قصر بناه بالعقيق سنة خمس وخمسين وحمل فدفن بالبقيع.

10- 10/ 1 ع- أبو موسى الأشعري رضي الله عنه، عبد الله بن قيس بن سليم بن حضار بن حرب:

هاجر إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم فقدم مع جعفر زمن فتح خيبر واستعمله النبي صلى الله عليه وسلم مع معاذ على اليمن ثم ولي لعمر الكوفة والبصرة وكان عالما عاملا صالحا تاليا لكتاب الله إليه المنتهى في حسن الصوت بالقرآن. روى علما طيبا مباركا وأقرأ القرآن. حدث عنه طارق بن شهاب وابن المسيب والأسود وأبو وائل وأبو عبد الرحمن السلمي وربعي بن بن حراش وأبو عثمان النهدي وخلق، أقرأ أهل البصرة وأفقههم.

شعبة وغيره عن سماك بن حرب سمعت عياضا الأشعري يقول: لما نزلت {فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَه} [المائدة: 54] قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "هم قومك يا أبا موسى" وأومى إليه. صححه الحاكم وإنما يرويه عياض عن أبي موسى.

وفي الصحيحين عن أبي بردة عن أبيه أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم قال: "اللهم اغفر لعبد الله بن قيس ذنبه وأدخله يوم القيامة مدخلا كريما ".

وعن بريدة أن النبي صلى الله عليه وآله وسلم تسمع لقراءة أبي موسى فقال: "لقد أوتي هذا مزمارا من مزامير آل داود" 1.

وقال البختري سألنا عليا عن أبي موسى قال: صبغ في العلم صبغة ثم خرج منه. قال أبو إسحاق سمعت الأسود يقول: لم أر بالكوفة أعلم من علي وأبي موسى. وقال الشعبي: كان العلم يؤخذ عن ستة: عمر وعلي وأبي وابن مسعود وزيد، وأبي موسى. وقال أيضا: قضاة الأمة أربعة: عمر وعلي وزيد وأبو موسى رضي الله عنهم.

--------------------------------------------

10- تهذيب الكمال: 2/ 724. تهذيب التهذيب: 5/ 362 "625". تقريب التهذيب: 1/ 441 "551".. خلاصة تهذيب الكمال: 2/ 89. الكاشف: 2/ 89. الكاشف: 2/ 119. تاريخ البخاري الكبير: 5/ 22، 172. الجرح والتعديل: 5/ 138، 643، 644. الثقات: 3/ 221. التجريد: 1/ 330. الإصابة: 4/ 211. الاستيعاب: "3-4" 6 79.الوافي بالوفيات: 17/ 407. سير الأعلام: 2/ 380. أسماء الصحابة الرواة ت 13.

1 رواه البخاري في كتاب فضائل القرآن باب 31. مسلم في كتاب المسافرين حديث 235، 236.
তাঁর থেকে বর্ণিত যে, তিনি বলেন: আল্লাহর জন্য এমন এক আবাসস্থল রয়েছে যেখানে সাদ এবং ইবনে ওমর অবতরণ করেছেন; যদি এটি গুনাহ হয় তবে তা ছোট, আর যদি এটি পুণ্য হয় তবে তা মহান।

যুহরী বলেন: সাদ যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন তিনি একটি পুরনো পশমি জুব্বা চেয়ে পাঠালেন এবং বললেন: আমাকে এর মধ্যেই কাফন দিও; কারণ বদরের যুদ্ধে আমি এটি পরিহিত অবস্থায় যুদ্ধ করেছি এবং এই দিনের জন্যই আমি এটি তুলে রেখেছিলাম। বলা হয়ে থাকে যে, তাঁর রেখে যাওয়া সম্পদের পরিমাণ ছিল দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার দিরহাম। তিনি হিজরী পঞ্চান্ন সনে আকীকে তাঁর নির্মিত একটি প্রাসাদে নির্জনবাস অবলম্বন করেছিলেন এবং মৃত্যুর পর তাঁকে বহন করে আনা হয় ও বাকী গোরস্তানে দাফন করা হয়।

১০- ১০/ ১ ‘আইন’- আবু মুসা আল-আশআরী (রাযিয়াল্লাহু আনহু), আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স ইবনে সুলাইম ইবনে হাযার ইবনে হারব:

তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট হিজরত করেন এবং খায়বার বিজয়ের সময় জাফরের সাথে ফিরে আসেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে মুআযের সাথে ইয়ামানের শাসনকর্তা নিযুক্ত করেন, এরপর তিনি ওমরের শাসনকালে কুফা ও বসরার দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন একজন আমলকারী আলেম, সৎকর্মশীল এবং আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াতকারী; কুরআন তিলাওয়াতে সুমিষ্ট কণ্ঠস্বরের দিক থেকে তিনি ছিলেন চূড়ান্ত পর্যায়ের। তিনি অনেক উত্তম ও বরকতময় জ্ঞান বর্ণনা করেছেন এবং কুরআন শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তারিক ইবনে শিহাব, ইবনুল মুসাইয়্যিব, আসওয়াদ, আবু ওয়াইল, আবু আব্দুর রহমান আস-সুলামী, রিবয়ী ইবনে হিরাশ, আবু উসমান আন-নাহদী এবং আরও বহু লোক। তিনি ছিলেন বসরার অধিবাসীদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ কারী এবং সর্বশ্রেষ্ঠ ফকীহ।

শুবা ও অন্যরা সিমাক ইবনে হারব থেকে বর্ণনা করেন: আমি ইয়াদ আল-আশআরীকে বলতে শুনেছি যে, যখন এই আয়াতটি নাযিল হলো— {অচিরেই আল্লাহ এমন এক সম্প্রদায় নিয়ে আসবেন যাদেরকে তিনি ভালোবাসেন এবং তারাও তাঁকে ভালোবাসে} [আল-মায়িদাহ: ৫৪], তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "হে আবু মুসা, তারা তোমারই সম্প্রদায়" এবং তিনি তাঁর দিকে ইশারা করলেন। হাকিম একে সহীহ বলেছেন, তবে ইয়াদ এটি আবু মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং সহীহাইনে আবু বুরদাহ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ! আব্দুল্লাহ ইবনে কায়সের গুনাহ ক্ষমা করে দিন এবং কিয়ামতের দিন তাঁকে সম্মানজনক প্রবেশস্থানে প্রবেশ করান।"

বুরাইদাহ থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) আবু মুসার তিলাওয়াত শুনলেন এবং বললেন: "একে দাউদ (আ.)-এর পরিবারের সুরলহরীর মধ্য থেকে একটি সুরলহরী প্রদান করা হয়েছে।" ১

আল-বাখতারী বলেন: আমরা আলীকে আবু মুসা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বললেন: "তাকে ইলমের রঙে রঞ্জিত করা হয়েছিল, অতঃপর তিনি তা থেকে বেরিয়ে আসেন।" আবু ইসহাক বলেন: আমি আসওয়াদকে বলতে শুনেছি যে, "আমি কুফায় আলী ও আবু মুসার চেয়ে অধিক জ্ঞানী আর কাউকে দেখিনি।" শাবী বলেন: "ইলম গ্রহণ করা হতো ছয়জনের নিকট থেকে: ওমর, আলী, উবাই, ইবনে মাসউদ, যায়েদ এবং আবু মুসা।" তিনি আরও বলেন: "উম্মতের বিচারক হলেন চারজন: ওমর, আলী, যায়েদ এবং আবু মুসা (রাযিয়াল্লাহু আনহুম)।"

--------------------------------------------

১০- তাহযীবুল কামাল: ২/ ৭২৪। তাহযীবুত তাহযীব: ৫/ ৩৬২ "৬২৫"। তাকরীবুত তাহযীব: ১/ ৪৪১ "৫৫১"। খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল: ২/ ৮৯। আল-কাশিফ: ২/ ৮৯। আল-কাশিফ: ২/ ১১৯। তারিখুল বুখারী আল-কাবীর: ৫/ ২২, ১৭২। আল-জারহু ওয়াত তাদীল: ৫/ ১৩৮, ৬৪৩, ৬৪৪। আস-সিকাত: ৩/ ২২১। আত-তাজরীদ: ১/ ৩৩০। আল-ইসাবাহ: ৪/ ২১১। আল-ইসতিআব: "৩-৪" ৬ ৭৯। আল-ওয়াফী বিল ওয়াফায়াত: ১৭/ ৪০৭। সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/ ৩৮০। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত ত ১৩।

১ ইমাম বুখারী এটি বর্ণনা করেছেন ‘কিতাবু ফাযাইলিল কুরআন’ অধ্যায় ৩১-এ। ইমাম মুসলিম ‘কিতাবুল মুসাফিরীন’ হাদীস ২৩৫, ২৩৬-এ।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٣)
وقال صفوان بن سليم: لم يكن يفتي في زمن النبي صلى الله عليه وآله وسلم غير عمر وعلي ومعاذ وأبي موسى. وقال النهدي: ما سمعت طنبورا ولا صنجا ولا مزمارا أحسن من صوت أبي موسى، كان يصلي بنا فنود أنه قرأ البقرة. وكان أبو موسى عابدا صواما قواما كبير القدر. مات في ذي الحجة سنة أربع وأربعين1 على الصحيح رضي الله عنه.

11- 11/ 1 ع- أبو الدرداء عويمر بن زيد رضي الله عنه ويقال عويمر بن عبد الله ويقال بن ثعلبة الأنصاري الخزرجي الإمام الرباني: وكان يقال: هو حكيم هذه الأمة. قيل إن إسلامه تأخر إلى يوم بدر ثم شهد أحدا وأبلى يومئذ بلاء حسنا وحفظ القرآن عن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وكان عالم أهل الشام ومقرئ أهل دمشق وفقيههم وقاضيهم.

روى جملة أحاديث روى عنه ابنه بلال وزوجته أم الدرداء الفقيهة وجبير بن نفير وعلقمة وسعيد بن المسيب وخالد بن معدان وأبو إدريس الخولاني وعدة، آخى رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بينه وبين سلمان.

وروى العلاء بن المسيب عن عمرو بن مرة قال: قال أبو الدرداء: بعث النبي صلى الله عليه وسلم وأنا تاجر فأردت أن تجتمع لي العبادة والتجارة فلم تجتمعا فرفضت التجارة وأقبلت على العبادة، والذي نفسي بيده ما أحب أن لي حانوتا على باب لا تخطئني فيه صلاة أربح فيه كل يوم أربعين دينارا وأتصدق بها كلها قيل وما تكره من ذلك قال شدة الحساب.

شعبة عن عمرو بن مرة عن شيخ عن أبي الدرداء قال: أحب الموت اشتياقا إلى ربي، وأحب الفقر تواضعا لربي، وأحب المرض تكفيرًا لخطيئتي، مات أبو الدرداء سنة اثنتين وثلاثين، وفي صحيح البخاري عن أنس قال: مات النبي صلى الله عليه وسلم ولم يجمع القرآن غير أربعة، أبي الدرداء ومعاذ بن جبل وزيد بن ثابت وأبي زيد. قال القاسم بن عبد الرحمن: كان أبو الدرداء من الذين أوتوا العلم. وروى أبو الضحى عن مسروق قال: وجدت علم أصحاب محمد صلى الله عليه وآله وسلم انتهى إلى ستة: إلى عمر، وعلي، وعبد الله، ومعاذ، وأبي الدرداء، وزيد بن ثابت رضي الله عنهم.

وقال بن أبي مليكة سمعت يزيد بن معاوية يقول: إن أبا الدرداء من الفقهاء العلماء الذين يشفون من الداء.

--------------------------------------------

1 وقيل عام 50.

11- تهذيب التهذيب: 8/175 "315". تاريخ البخاري الكبير: 7/ 76. الثقات: 3/ 85. أسد الغابة: 4/ 218. تجريد أسماء الصحابة: 1/ 430. الاستيعاب: 3/ 1227. طبقات ابن سعد: 2/ 352.
সাফওয়ান ইবনে সুলাইম বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে উমর, আলী, মুয়াজ এবং আবু মুসা ছাড়া আর কেউ ফতোয়া দিতেন না। নাহদী বলেন: আমি কোনো তনবুর (এক প্রকার তারযন্ত্র), করতাল বা বাঁশির শব্দ আবু মুসার কণ্ঠস্বরের চেয়ে সুন্দর শুনিনি। তিনি আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করতেন, তখন আমরা কামনা করতাম যেন তিনি সূরা আল-বাকারা পাঠ করেন। আবু মুসা ছিলেন ইবাদতগুজার, অধিক রোজা পালনকারী, রাতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে সালাত আদায়কারী এবং উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি। বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনি চুয়াল্লিশ হিজরির জিলহজ মাসে মৃত্যুবরণ করেন, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন।

১১- ১১/ ১ ‘আইন’- আবু আদ-দারদা উওয়াইমির ইবনে যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহু; বলা হয় উওয়াইমির ইবনে আব্দুল্লাহ, আবার বলা হয় ইবনে সা’লাবা আল-আনসারী আল-খাজরাজি, ইমাম রাব্বানী। তাঁকে বলা হতো: তিনি এই উম্মতের হাকীম (প্রজ্ঞাবান)। বলা হয় যে, তাঁর ইসলাম গ্রহণ বদরের যুদ্ধ পর্যন্ত বিলম্বিত হয়েছিল, এরপর তিনি উহুদের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং সেদিন অত্যন্ত বীরত্ব প্রদর্শন করেছিলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট থেকে কুরআন হিফজ করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন সিরিয়াবাসীদের আলিম, দামেস্কবাসীদের ক্বারী (কুরআন শিক্ষক), তাদের ফকীহ এবং তাদের বিচারক।

তিনি একগুচ্ছ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন তাঁর ছেলে বিলাল, তাঁর স্ত্রী ফকীহা উম্মু আদ-দারদা, জুবায়ের ইবনে নুফাইর, আলকামা, সাঈদ ইবনে আল-মুসাইয়্যিব, খালিদ ইবনে মা’দান, আবু ইদ্রিস আল-খাওলানী এবং আরও অনেকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ও সালমানের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব স্থাপন করে দিয়েছিলেন।

আলা ইবনে আল-মুসাইয়্যিব আমর ইবনে মুররাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু আদ-দারদা বলেছেন, "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রেরিত হন তখন আমি ব্যবসায়ী ছিলাম। আমি চেয়েছিলাম যে ইবাদত ও ব্যবসা আমার জন্য একত্রিত হোক, কিন্তু তা সম্ভব হয়নি। তাই আমি ব্যবসা ছেড়ে দিলাম এবং ইবাদতে মনোনিবেশ করলাম। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি পছন্দ করি না যে আমার দরজার পাশেই একটি দোকান থাকুক যাতে আমার কোনো সালাতও ছুটবে না এবং আমি প্রতিদিন সেখান থেকে চল্লিশ দিনার লাভ করব এবং তার পুরোটাই সদকা করে দেব।" জিজ্ঞেস করা হলো, "এর মধ্যে আপনি কী অপছন্দ করেন?" তিনি বললেন, "হিসাবের কঠোরতা।"

শু’বাহ আমর ইবনে মুররাহ থেকে, তিনি জনৈক শায়খ থেকে এবং তিনি আবু আদ-দারদা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি আমার রবের সাক্ষাতের আকাঙ্ক্ষায় মৃত্যুকে ভালোবাসি, আমার রবের প্রতি বিনয়বশত দারিদ্র্যকে ভালোবাসি এবং আমার গুনাহের কাফফারা হিসেবে অসুস্থতাকে ভালোবাসি।" আবু আদ-দারদা বত্রিশ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। সহীহ বুখারীতে আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন, তখন চারজন ব্যতীত কেউ পূর্ণ কুরআন একত্রিত (হিফজ) করেননি: আবু আদ-দারদা, মুয়াজ ইবনে জাবাল, যায়েদ ইবনে সাবিত এবং আবু যায়েদ।" কাসিম ইবনে আব্দুর রহমান বলেন: "আবু আদ-দারদা ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে ইলম প্রদান করা হয়েছে।" আবু আদ-দুহা মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের ইলম ছয়জনের কাছে এসে শেষ হতে দেখেছি: উমর, আলী, আব্দুল্লাহ, মুয়াজ, আবু আদ-দারদা এবং যায়েদ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুম।"

ইবনে আবি মুলাইকাহ বলেন, আমি ইয়াজিদ ইবনে মুয়াবিয়াকে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই আবু আদ-দারদা সেই ফকীহ আলিমদের অন্তর্ভুক্ত যারা (অজ্ঞতার) রোগ থেকে নিরাময় দান করেন।"

--------------------------------------------

১. আর বলা হয় ৫০ হিজরি।

১১- তাহজিবুত তাহজিব: ৮/১৭৫ "৩১৫"। তারিখুল বুখারি আল-কাবীর: ৭/৭৬। আস-সিকাত: ৩/৮৫। আসাদুল গাবাহ: ৪/২১৮। তাজরিদ আসমায়িস সাহাবাহ: ১/৪৩০। আল-ইসতিয়াব: ৩/১২২৭। তাবাকাত ইবনে সাদ: ২/৩৫২।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٤)
وروى الليث بن سعد عن فلان قال: رأيت أبا الدرداء دخل المسجد ومعه من الأتباع مثل ما يكون مع السلطان وهم يسألونه عن العلم.

12- 12/ 1 ع- عبد الله بن سلام بن الحارث الحبر أبو يوسف الإسرائيلي رضي الله عنه حليف الأنصار: أسلم وقت مقدم النبي صلى الله عليه وسلم المدينة وكان اسمه الحصين فسماه رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم عبد الله وشهد له بالجنة وفيه نزلت: {وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرائيلَ عَلَى مِثْلِه} [الأحقاف: 10] وقوله تعالى: {وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتَاب} [الرعد: 43] وكان عبد الله عالم أهل الكتاب وفاضلهم في زمانه بالمدينة. وروى عدة أحاديث. حدث عنه أنس بن مالك وزرارة بن أوفى قاضي البصرة وأبو سلمة بن عبد الرحمن وأبو سعيد المقبري وأبو بردة بن أبي موسى وابناه يوسف ومحمد ابنا عبد الله وآخرون.

معاوية بن صالح عن ربيعة بن يزيد عن أبي إدريس الخولاني عن يزيد بن عميرة قال لما احتضر معاذ قيل له أوصنا قال: إن العلم والإيمان مكانهما من ابتغاهما وجدهما فالتمسوا العلم عند أبي الدرداء وسلمان وابن مسعود وعبد الله بن سلام الذي أسلم فإني سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول: "إنه عاشر عشرة في الجنة"، أخرجه الترمذي.

مالك عن سالم أبي النضر عن عامر بن سعد عن أبيه قال: ما سمعت رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يقول لأحد إنه من أهل الجنة، إلا لعبد الله بن سلام، وفيه نزلت {وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرائيلَ عَلَى مِثْلِه} متفق عليه.

عاصم بن بهدلة عن مصعب عن أبيه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "يدخل من هذا الفج رجل من أهل الجنة"، فدخل ابن سلام ومن غير وجه أن ابن سلام رأى رؤيا فقصها على النبي صلى الله عليه وآله وسلم فقال له: "تموت وأنت مستمسك بالعروة الوثقى"، وعنه أنه مر يحمل حزمة حطب فقيل: أليس قد أغناك الله عن هذا؟ قال: بلى، ولكن أردت أن أقمع الكِبْر.

إبراهيم بن أبي يحيى أنا معاذ بن عبد الرحمن عن يوسف بن عبد الله بن سلام عن

--------------------------------------------

12- تهذيب الكمال: 2/ 64. تهذيب التهذيب: 5/ 239 "437". تقريب التهذيب: 1/ 422 "370". خلاصة تهذيب الكمال: 5/ 62. تاريخ البخاري الكبير: 3/ 18. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 71، 74، 92، 93. الجرح والتعديل: 5/ 388. أسد الغابة: 3/ الاستيعاب: 3/ 921. الوافي بالوفيات: 17/ 198. الثقات: 3/ 228. أسماء الصحابة الرواة: ت/ 315، 105. نفقة الصديان: ت 245.
লায়স ইবনে সাদ জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবুদ্দারদাকে মসজিদে প্রবেশ করতে দেখলাম, তাঁর সাথে অনুসারীদের এমন ভিড় ছিল যেমনটা কোনো সুলতানের সাথে থাকে এবং তারা তাঁকে ইলম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করছিল।

১২- ১২/ ১ আইন- আবদুল্লাহ বিন সালাম বিন হারিস আল-হিবর আবু ইউসুফ আল-ইসরাঈলি (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু), আনসারদের মিত্র: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) মদীনায় আগমনের সময় তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। তাঁর নাম ছিল হুসাইন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নাম আবদুল্লাহ রাখেন এবং তাঁর জান্নাতের সাক্ষ্য দেন। তাঁর সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে: "আর বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দিল" [সূরা আল-আহকাফ: ১০] এবং মহান আল্লাহর বাণী: "এবং যার কাছে কিতাবের জ্ঞান রয়েছে" [সূরা আর-রাদ: ৪৩]। আবদুল্লাহ ছিলেন তাঁর সময়ে মদীনায় আহলে কিতাবদের আলিম ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি বেশ কিছু হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁর থেকে আনাস বিন মালিক, বসরার বিচারক জুরারা বিন আওফা, আবু সালামা বিন আবদুর রহমান, আবু সাঈদ আল-মাকবুরি, আবু বুরদাহ বিন আবু মুসা এবং তাঁর দুই পুত্র ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ এবং আরও অনেকে বর্ণনা করেছেন।

মুয়াবিয়া বিন সালিহ রাবিয়া বিন ইয়াযিদ থেকে, তিনি আবু ইদরীস আল-খাওলানি থেকে, তিনি ইয়াযিদ বিন উমায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, যখন মুআযের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলো, তখন তাঁকে বলা হলো: আমাদের অসিয়ত করুন। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই ইলম ও ঈমানের নির্দিষ্ট স্থান রয়েছে, যে তা অন্বেষণ করবে সে তা পাবে। সুতরাং তোমরা আবুদ্দারদা, সালমান, ইবনে মাসউদ এবং আবদুল্লাহ বিন সালামের কাছে ইলম তালাশ করো যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। কারণ আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: "নিশ্চয়ই তিনি জান্নাতের দশজনের মধ্যে দশম ব্যক্তি।" এটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন।

মালিক সালিম আবু নাদর থেকে, তিনি আমির বিন সাদ থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-কে আবদুল্লাহ বিন সালাম ব্যতীত অন্য কাউকে জান্নাতবাসী বলতে শুনিনি। তাঁর সম্পর্কেই নাযিল হয়েছে: "আর বনী ইসরাঈলের একজন সাক্ষী এর অনুরূপ বিষয়ের ওপর সাক্ষ্য দিল।" এটি মুত্তাফাকুন আলাইহি।

আসিম বিন বাহদালা মুসআব থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "এই গিরিপথ দিয়ে একজন জান্নাতবাসী ব্যক্তি প্রবেশ করবেন," অতঃপর ইবনে সালাম প্রবেশ করলেন। অন্য সূত্রে বর্ণিত আছে যে, ইবনে সালাম একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করেছিলেন। তখন তিনি তাঁকে বললেন: "তুমি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে যে তুমি সুদৃঢ় হাতল আঁকড়ে থাকবে।" তাঁর থেকে আরও বর্ণিত আছে যে, তিনি একবার লাকড়ির বোঝা বহন করে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁকে বলা হলো: আল্লাহ কি আপনাকে এ কাজ থেকে অভাবমুক্ত করেননি? তিনি বললেন: হ্যাঁ, কিন্তু আমি অহংকারকে দমন করতে চেয়েছি।

ইব্রাহীম বিন আবু ইয়াহইয়া আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুআয বিন আবদুর রহমান থেকে, তিনি ইউসুফ বিন আবদুল্লাহ বিন সালাম থেকে, তিনি...

--------------------------------------------

১২- তাহযীবুল কামাল: ২/ ৬৪। তাহযীবুত তাহযীব: ৫/ ২৩৯ "৪৩৭"। তাকরীবুত তাহযীব: ১/ ৪২২ "৩৭০"। খুলাসা তাহযীবিল কামাল: ৫/ ৬২। তারিখুল বুখারী আল-কাবীর: ৩/ ১৮। তারিখুল বুখারী আস-সাগীর: ১/ ৭১, ৭৪, ৯২, ৯৩। আল-জারহু ওয়াত তা'দীল: ৫/ ৩৮৮। আসাদুল গাবাহ: ৩/ আল-ইস্তিআব: ৩/ ৯২১। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: ১৭/ ১৯৮। আস-সিকাত: ৩/ ২২৮। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ত/ ৩১৫, ১০৫। নাফাকাতুস সিদইয়ান: ত ২৪৫।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٥)
أبيه أنه جاء إلى النبي صلى الله عليه وآله وسلم فقال: إنى قرأت القرآن والتوراة فقال: "اقرأ هذا ليلة وهذا ليلة"، فهذا إن صح ففيه الرخصة في تكرير التوراة وتدبرها، اتفقوا على موت بن سلام في سنة ثلاث وأربعين بالمدينة رضي الله عنه.

13- 13/ 1ع- أم المؤمنين عائشة رضي الله عنها أم عبد الله حبيبة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم بنت خليفة رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أبي بكر الصديق رضي الله عنه: من أكبر فقهاء الصحابة. كان فقهاء أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم يرجعون إليها. تفقه بها جماعة.

بنى بها النبي صلى الله عليه وآله وسلم في شوال بعد وقعة بدر فأقامت في صحبته ثمانية أعوام وخمسة أشهر فكانت أحب نسائه اليه.

ونزلت الآيات في تبرئتها مما رماها به أهل الإفك وعاشت خمسا وستين سنة. حدث عنها جماعة من الصحابة ومسروق والأسود وابن المسيب وعروة والقاسم والشعبي وعطاء وابن أبي مليكة ومجاهد وعكرمة وعمرة ومعاذة العدوية ونافع مولى بن عمر وخلق كثير.

يروى عن قبيصة بن ذؤيب قال: كانت عائشة أعلم الناس يسألها أكابر الصحابة.

وروى أبو بردة بن أبي موسى عن أبيه قال: ما أشكل علينا أصحاب محمد صلى الله عليه وآله وسلم حديث قط فسألنا عائشة إلا وجدنا عندها منه علما.

قلت: كانت غزيرة العلم بحيث إن عروة يقول: ما رأيت أحدا أعلم بالطب منها، وقال علي بن مسهر أخبرنا هشام عن أبيه قال: ما رأيت أحدا من الناس أعلم بالقرآن ولا بفريضة ولا بحلال وحرام ولا بشعر ولا بحديث العرب ولا النسب من عائشة رضي الله عنها.

روى هشام عن أبيه أن معاوية بعث إلى عائشة بمائة ألف فوالله ما غابت عليها

--------------------------------------------

13- تهذيب "12/ 433 رقم 2841". التقريب: 2/ 606. أسماء الصحابة الرواة: ت: 4. الثقات: 3/ 323. أسد الغابة: 7/ 188. أعلام النساء: 3/ 9. تنوير قلوب المسلمين: 54، 116. تجريد أسماء الصحابة: 2/ 286. الكاشف: 3/ 476 تهذيب الكمال: 3/ 1689. الخلاصة: 3/ 387. الحلية: 2/ 43. تذكرة: 1/ 27. شذرات: 1/ 61. طبقات ابن سعد: 8/ 39. معجم طبقات الحفاظ: 105. التاريخ الصغير: 1/ 99، 100، 102، 103. أزمنة التاريخ الإسلامي: 989. تلقيح فهوم أهل الأثر: 20، 363.
তাঁর পিতা হতে বর্ণিত যে, তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বললেন: আমি কুরআন এবং তাওরাত পড়েছি। তখন তিনি বললেন: "এটি এক রাতে এবং সেটি অন্য এক রাতে পড়ো।" এটি যদি সহীহ হয়, তবে তাতে তাওরাত পুনরাবৃত্তি করা এবং তা নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করার অবকাশ রয়েছে। ইবনে সালাম (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর মৃত্যু সনের ব্যাপারে তারা একমত হয়েছেন যে, তা মদীনায় তেতাল্লিশ হিজরীতে হয়েছে।

১৩- ১৩/ ১- উম্মুল মুমিনীন আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা), উম্মে আবদুল্লাহ, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রিয়তমা, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর খলীফা আবুবকর সিদ্দীক (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর কন্যা: সাহাবীদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ফকীহ। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর ফকীহ সাহাবীগণ তাঁর নিকট প্রত্যাবর্তন করতেন। একদল লোক তাঁর নিকট ফিকহ শিক্ষা লাভ করেছেন।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বদর যুদ্ধের পর শাওয়াল মাসে তাঁর সাথে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন। তিনি তাঁর সান্নিধ্যে আট বছর পাঁচ মাস অবস্থান করেন এবং তিনি তাঁর নিকট স্ত্রীদের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় ছিলেন।

মিথ্যা অপবাদ রটনাকারীরা তাঁর ওপর যে অপবাদ আরোপ করেছিল, তা থেকে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে আয়াত নাযিল হয়েছে। তিনি পঁষট্টি বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর থেকে একদল সাহাবী এবং মাসরুক, আসওয়াদ, ইবনুল মুসাইয়িব, উরওয়াহ, কাসিম, শা'বী, আতা, ইবনে আবি মুলাইকাহ, মুজাহিদ, ইকরিমাহ, আমরাহ, মুআযাহ আল-আদাবিয়্যাহ, ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি' এবং আরও বহু লোক বর্ণনা করেছেন।

কাবিসাহ ইবনে যুআইব হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আয়েশা ছিলেন মানুষের মধ্যে সবচেয়ে জ্ঞানী, বড় বড় সাহাবীগণ তাঁকে জিজ্ঞাসা করতেন।

আবু বুরদাহ ইবনে আবু মুসা তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের নিকট যখনই কোনো হাদীস অস্পষ্ট হয়েছে এবং আমরা আয়েশাকে জিজ্ঞাসা করেছি, তখনই আমরা তাঁর নিকট সে বিষয়ে জ্ঞান পেয়েছি।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি প্রগাঢ় জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন, এমনকি উরওয়াহ বলতেন: আমি চিকিৎসা বিজ্ঞানে তাঁর চেয়ে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি। আলী ইবনে মুশহির বলেন, হিশাম তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আমি মানুষের মধ্যে আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর চেয়ে কুরআন, উত্তরাধিকার আইন, হালাল ও হারাম, কবিতা, আরবদের ইতিহাস এবং বংশপরম্পরা সম্পর্কে অধিক জ্ঞানী কাউকে দেখিনি।

হিশাম তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, মুয়াবিয়া আয়েশার নিকট এক লক্ষ (দিরহাম) পাঠিয়েছিলেন। আল্লাহর কসম, তা খরচ না করে সূর্য অস্তমিত হয়নি...

--------------------------------------------

১৩- তাহযীব "১২/ ৪৩৩ নং ২৮৪১"। আত-তাকরীব: ২/ ৬০৬। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ৪। আস-সিকাত: ৩/ ৩২৩। আসাদুল গাবাহ: ৭/ ১৮৮। আ'লামুন নিসা: ৩/ ৯। তানভীরু কুলুবিল মুসলিমীন: ৫৪, ১১৬। তাজরীদু আসমাইস সাহাবাহ: ২/ ২৮৬। আল-কাশিফ: ৩/ ৪৭৬। তাহযীবুল কামাল: ৩/ ১৬৮৯। আল-খুলাসাহ: ৩/ ৩৮৭। আল-হিলইয়াহ: ২/ ৪৩। তাযকিরাহ: ১/ ২৭। শাযারাত: ১/ ৬১। তাবাকাত ইবনে সাদ: ৮/ ৩৯। মু'জাম তাবাকাতিল হুফফাজ: ১০৫। আত-তারীখুস সাগীর: ১/ ৯৯, ১০০, ১০২, ১০৩। আযমানাতুত তারীখিল ইসলামী: ৯৮৯। তালকীহু ফুহূমি আহলিল আসার: ২০, ৩৬৩।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٦)
الشمس حتى فرقتها، فقالت مولاة لها: لو اشتريت لنا من ذلك بدرهم لحما؟ فقالت: ألا ذكرتنى؟ رواه عنه هشام بن حسان هكذا.

وأما أبو معاوية فقال: حدثنا هشام بن عروة عن محمد بن المنكدر عن أم ذرة أن عائشة بعثت إليها بمال في غرارتين، قالت: أراه ثمانين ومائة ألف فدعوت بطبق وهي يومئذ صائمة فجلست فقسمته فأمست وما عندها منه درهم فقالت: يا جارية هلمي فطري، فجاءتها بزيت وخبز، فقالت لها أم ذرة: أما استطعت أن تشترى لنا لحما بدرهم نفطر عليه؟ قالت: لا تعنفينى لو كنت ذكرتينى لفعلت.

قرأت على أبي إسحاق الأسدي أنا يوسف الآدمى أنا أحمد بن محمد التيمى أنا أبو علي الأصبهاني أنا أبو نعيم أنا بن خلاد أنا الحارث أنا روح أنا حاتم بن أبي صغيرة أنا بن أبي مليكة أن عائشة بنت طلحة حدثته أن عائشة قتلت جانا فأريت في النوم: والله لقد قتلته مسلما، فقالت: لو كان مسلما ما دخل على أزواج النبي صلى الله عليه وآله وسلم؟ فقيل: وهل دخل إلا وعليك ثيابك؟ فأصبحت فزعة فأمرت باثنى عشر ألفا فجعلتها في سبيل الله عز وجل.

قلت: توفيت في سنة سبع وخمسين، وقيل في سنة ثمان وخمسين وقد أفردت أخبارها في مصنف رضي الله عنها.

14- 14/ 1ع- عمران بن حصين بن عبيد بن خلف أبو نجيد الخزاعي: صاحب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم إسلامه وقت إسلام أبي هريرة له أحاديث عدة، وكان ممن بعثهم عمر بن الخطاب إلى أهل البصرة ليفقههم. وقال زرارة بن أوفى رأيت عمران بن حصين يلبس الخز، وقد ولي عمران قضاء البصرة وكان الحسن يحلف بالله ما قدم البصرة أحد خير لهم من عمران بن حصين، حدث عنه زرارة والحسن ومحمد بن سيرين وزهدم الجرمي وعامر الشعبي وابن بريدة ومطرف بن عبد الله بن الشخير وأبو رجاء العطاردي وآخرون رحمة الله عليهم. وكان ممن يسلم عليه الملائكة. مات سنة اثنتين وخمسين وكان به داء الناصور فاكتوى لأجله فقال: اكتوينا فما أفلحن ولا أنجحن، وروينا أنه لما اكتوى انقطع عنه التسليم مدة ثم عاد اليه، له أحاديث عدة في الكتب وكان من ألباء الصحابة

--------------------------------------------

14- تهذيب التهذيب: 8/ 126 "219". تقريب التهذيب: 2/ 82. الكاشف: 348. تاريخ البخاري الكبير: 6/ 408. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 107. الجرح والتعديل: 6/ ص 296. الثقات: 3/ 287. الاستيعاب: 3/ 1208. أسد الغابة: 4/ 281. سير الأعلام: 2/ 508. طبقات ابن سعد: 1/ 1. وانظر الفهرس. مجمع: 8/ 266. أسماء الصحابة الرواة: ت21.
সূর্য ডোবার পূর্বেই তিনি তা বণ্টন করে দিলেন। তখন তার এক দাসী তাকে বলল: আপনি যদি আমাদের জন্য তা থেকে এক দিরহাম দিয়ে কিছু গোশত কিনতেন? তিনি বললেন: তুমি কেন আমাকে আগে স্মরণ করিয়ে দিলে না? হিশাম বিন হাসান তার থেকে এভাবেই বর্ণনা করেছেন।

পক্ষান্তরে আবু মুয়াবিয়া বলেন: হিশাম বিন উরওয়াহ আমাদের নিকট মুহাম্মদ বিন মুনকাদির থেকে, তিনি উম্মে জুররাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, আয়েশা (রা.)-এর নিকট দুটি বড় থলেতে করে মাল (অর্থ) পাঠানো হয়েছিল। উম্মে জুররাহ বলেন: আমার ধারণা মতে তা ছিল এক লক্ষ আশি হাজার দিরহাম। এরপর আমি একটি বড় পাত্র আনতে বললাম। তিনি তখন রোজা ছিলেন। তিনি বসে তা বণ্টন করতে লাগলেন। সন্ধ্যা হওয়ার পর তার কাছে একটি দিরহামও অবশিষ্ট ছিল না। তিনি বললেন: হে দাসী, ইফতার নিয়ে এসো। সে তার কাছে তেল ও রুটি নিয়ে এল। উম্মে জুররাহ তাকে বললেন: আপনি কি আমাদের জন্য এক দিরহাম দিয়ে কিছু গোশত কিনতে পারতেন না যা দিয়ে আমরা ইফতার করতাম? তিনি বললেন: আমাকে তিরস্কার করো না, তুমি যদি আমাকে স্মরণ করিয়ে দিতে তবে আমি তা অবশ্যই করতাম।

আমি আবু ইসহাক আল-আসাদীর নিকট পড়েছি, ইউসুফ আল-আদামী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আহমদ বিন মুহাম্মদ আত-তাইমী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু আলী আল-আসবাহানী আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আবু নুয়াইম আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনুল খাল্লাদ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, আল-হারিস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, রাউহ আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, হাতেম বিন আবি সাগীরা আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইবনে আবি মুলাইকা থেকে যে, আয়েশা বিনতে তালহা তাকে বর্ণনা করেছেন যে, আয়েশা (রা.) একটি জিন হত্যা করেছিলেন। এরপর তাকে স্বপ্নে দেখানো হলো যে, (কেউ বলছে): আল্লাহর কসম, আপনি একজন মুসলিমকে হত্যা করেছেন। তিনি বললেন: সে যদি মুসলিমই হতো তবে কেন সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের নিকট প্রবেশ করত? তখন তাকে বলা হলো: সে কি আপনার গায়ে কাপড় থাকা অবস্থায় ছাড়া অন্য কোনো অবস্থায় প্রবেশ করেছিল? এরপর তিনি ভীত হয়ে জাগ্রত হলেন এবং বারো হাজার দিরহাম সদকা করার নির্দেশ দিলেন যা তিনি মহান আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করেন।

আমি (গ্রন্থকার) বলছি: তিনি সাতান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, আবার কেউ বলেন আটান্ন হিজরীতে। তার ঘটনাবলী নিয়ে একটি স্বতন্ত্র গ্রন্থ সংকলন করা হয়েছে, আল্লাহ তার প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

১৪- ১৪/ ১- ইমরান বিন হুসাইন বিন উবাইদ বিন খালাফ আবু নুজাইদ আল-খুজায়ি: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সাহাবী। তার ইসলাম গ্রহণ ছিল আবু হুরায়রা (রা.)-এর ইসলাম গ্রহণের সময়ে। তার থেকে অনেকগুলো হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি ছিলেন তাদের অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে ওমর বিন আল-খাত্তাব (রা.) বসরাবাসীদের দ্বীন শেখানোর জন্য পাঠিয়েছিলেন। যুরারা বিন আওফা বলেন, আমি ইমরান বিন হুসাইনকে রেশমি পোশাক পরতে দেখেছি। ইমরান বসরার বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন। হাসান (বসরী) আল্লাহর কসম করে বলতেন যে, ইমরান বিন হুসাইনের চেয়ে উত্তম কোনো ব্যক্তি বসরার অধিবাসীদের নিকট আসেনি। তার থেকে বর্ণনা করেছেন যুরারা, হাসান, মুহাম্মদ বিন সিরীন, যাহদাম আল-জারমি, আমের আশ-শা'বী, ইবনে বুরাইদা, মুতাররিফ বিন আব্দুল্লাহ বিন আশ-শিখখীর, আবু রাজা আল-আতারিদি এবং আরও অনেকে, তাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তিনি তাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন যাদেরকে ফেরেশতারা সালাম প্রদান করতেন। তিনি বায়ান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তিনি অর্শ রোগে আক্রান্ত ছিলেন, তাই এর চিকিৎসার জন্য আগুনের সেঁক নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন: আমরা আগুনের সেঁক নিয়েছি কিন্তু তাতে সফল বা কামিয়াব হতে পারিনি। আমরা বর্ণনা করেছি যে, যখন তিনি আগুনের সেঁক নিলেন তখন ফেরেশতাদের সালাম প্রদান কিছুকাল বন্ধ ছিল, পরে তা পুনরায় শুরু হয়। কিতাবসমূহে তার অনেকগুলো হাদিস রয়েছে এবং তিনি ছিলেন সাহাবীদের মধ্যে অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও প্রজ্ঞাবান।

--------------------------------------------

১৪- তাহযীবুত তাহযীব: ৮/ ১২৬ "২১৯"। তাকরীবুত তাহযীব: ২/ ৮২। আল-কাশিফ: ৩৪৮। তারিখুল বুখারি আল-কাবীর: ৬/ ৪০৮। তারিখুল বুখারি আস-সাগীর: ১/ ১০৭। আল-জারহু ওয়াত তা'দীল: ৬/ পৃষ্ঠা ২৯৬। আস-সিকাত: ৩/ ২৮৭। আল-ইসতি'আব: ৩/ ১২০৮। আসাদুল গাবাহ: ৪/ ২৮১। সিয়ারু আ'লামিন নুবালা: ২/ ৫০৮। তাবাকাত ইবনে সাদ: ১/ ১। আরও দেখুন নির্ঘণ্ট। মাজমা: ৮/ ২৬৬। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ত২১।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٧)
وفضلائهم، مات في عام هو وأبو أيوب الأنصاري وأبو بكرة الثقفي وكعب بن عجرة ومعاوية بن حديج الأمير وخمستهم من الصحابة الذين اعتزلوا صفين رضي الله عنهم على خلاف في أبي أيوب.

15- 15/ 1ع- زيد بن ثابت بن الضحاك بن زيد بن لوذان بن عمرو بن عبد عوف بن غنم بن مالك بن النجار أبو سعيد وأبو خارجة الأنصاري الخزرجي النجاري المقرئ الفرضي: كاتب وحي النبي صلى الله عليه وآله وسلم. قتل أبوه يوم بعاث؛ حرب كان بين الأوس والخزرج قبل الهجرة، فقدم النبي صلى الله عليه وآله وسلم وزيد صبي ذكي نجيب عمره إحدى عشرة سنة فأسلم وأمره النبي صلى الله عليه وآله وسلم أن يتعلم خط اليهود فجود الكتابة وكتب الوحي وحفظ القرآن وأتقنه وأحكم الفرائض وشهد الخندق وما بعدها، وانتدبه الصديق لجمع القرآن فتتبعه وتعب على جمعه ثم عينه عثمان لكتابة المصحف؛ وثوقًا بحفظه ودينه وأمانته وحسن كتابته. قرأ عليه القرآن جماعة منهم ابن عباس وأبو عبد الرحمن السلمي وحدث عنه ابنه خارجة وأنس بن مالك وابن عمر ومروان وعبيد بن السباق وعطاء بن يسار وبشر بن سعيد وحجر المدري وطاوس. وعروة وخلق سواهم وكان عمر رضي الله عنه يستخلفه على المدينة إذا حج. ومناقبه كثيرة.

مات في قول الواقدي عن رجاله وقول يحيى بن بكير وخليفة وابن نمير سنة خمس وأربعين وقيل مات سنة أربع وخمسين وقيل سنة خمس وخمسين.

جرير بن حازم حدثني قيس بن سعد عن مكحول ان عبادة بن الصامت دعا نبطيا ليمسك دابته عند بيت المقدس فأبى فضربه فشجه فاستعدى عليه عمر فقال: ما هذا؟ قال أمرته يمسك دابتى فأبى وأنا رجل في حدة فضربته، فقال: اجلس للقصاص، فقال زيد بن ثابت: أتقيد عبدك من أخيك؟ فترك القود ورضي بالدية.

وروى خارجة بن زيد عن أبيه قال: أتى النبي صلى الله عليه وآله وسلم المدينة وقد قرأت سبع عشرة سورة فقرأت على رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فأعجبه ذلك،

--------------------------------------------

15- تهذيب التهذيب: 3/ 399. تقريب التهذيب: 1/ 272. خلاصة تهذيب الكمال: 1/ 350. تاريخ البخاري الكبير: 3/ 380. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 34، 42، 46، 81، 101، 120، 173، 174. أسد الغابة: 2/ 278. تجريد أسماء الصحابة: 1/ 197. الإصابة: 2/ 592. الاستيعاب: 2/ 537. الوافي بالوفيات: 15/ 24. شذرات: 1/ 54، 62. سير الأعلام: 2/ 426. البداية والنهاية: 8/ 29. طبقات ابن سعد: 1/ 37، 2/ 22، 107، 3/ 31، 70، 81، 182، 212، 4/ 211، 5/ 14، 36، 43. الثقات: 3/ 135. أسماء الصحابة الرواة: ت 785.
এবং তাঁদের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিগণ। তিনি একই বছরে মৃত্যুবরণ করেন যে বছর তিনি এবং আবু আইয়ুব আল-আনসারি, আবু বাকরা আস-সাকাফি, কাব বিন উজরাহ ও আমির মুয়াবিয়া বিন হুদাইজ মৃত্যুবরণ করেন। এই পাঁচজনই ছিলেন এমন সাহাবিদের অন্তর্ভুক্ত যারা সিফফিনের যুদ্ধ থেকে দূরে ছিলেন—আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হোন—তবে আবু আইয়ুবের ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

১৫- ১৫/ ১- যায়েদ বিন সাবিত বিন আদ-দাহহাক বিন যায়েদ বিন লাওজান বিন আমরু বিন আবদ আউফ বিন গানাম বিন মালিক বিন আন-নাজ্জার, আবু সাঈদ এবং আবু খারিজাহ আল-আনসারি আল-খাজরাজি আন-নাজ্জারি, ক্বারি ও ফারায়েজ বিশেষজ্ঞ: তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওহি লেখক ছিলেন। তাঁর পিতা বুয়াস যুদ্ধের দিন নিহত হন; যা হিজরতের পূর্বে আউস ও খাজরাজ গোত্রের মধ্যকার যুদ্ধ ছিল। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় আগমন করেন, যায়েদ ছিলেন এগারো বছর বয়সী এক বুদ্ধিমান ও মেধাবী কিশোর। তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে ইহুদিদের লিপি শেখার নির্দেশ দেন। তিনি লিখন পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন করেন এবং ওহি লিখে রাখতেন। তিনি কুরআন মুখস্থ করেন ও তাতে ব্যুৎপত্তি লাভ করেন এবং উত্তরাধিকার আইন সুনিপুণভাবে আয়ত্ত করেন। তিনি খন্দক ও পরবর্তী যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণ করেন। আবু বকর সিদ্দিক রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁকে কুরআন সংকলনের দায়িত্ব দেন, ফলে তিনি তা অন্বেষণ করেন এবং অত্যন্ত পরিশ্রমের সাথে তা সংকলন করেন। পরবর্তীতে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু তাঁর মুখস্থ শক্তি, দ্বীনদারি, আমানতদারি ও সুন্দর হস্তাক্ষরের ওপর আস্থা রেখে তাঁকে পবিত্র মুসহাফ (কুরআন) প্রতিলিপি করার জন্য নিযুক্ত করেন। একদল বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর নিকট কুরআন তিলাওয়াত করেন, যাঁদের মধ্যে ইবনে আব্বাস ও আবু আবদুর রহমান আস-সুলামি অন্যতম। তাঁর থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন তাঁর পুত্র খারিজাহ, আনাস বিন মালিক, ইবনে উমর, মারওয়ান, উবাইদ বিন আস-সাব্বাক, আতা বিন ইয়াসার, বিশর বিন সাঈদ, হুজর আল-মাদারি ও তাউস। এছাড়া উরওয়াহ এবং আরও অনেকে তাঁর নিকট থেকে বর্ণনা করেছেন। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন হজ্জে যেতেন, তখন তাঁকে মদিনার প্রতিনিধি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করতেন। তাঁর গুণাবলি অসংখ্য।

ওয়াকিদি তাঁর বর্ণনাকারীদের সূত্রে এবং ইয়াহইয়া বিন বুকাইর, খলিফা ও ইবনে নুমাইরের বক্তব্য অনুযায়ী তিনি ৪৫ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। কেউ কেউ বলেন তিনি ৫৪ হিজরিতে, আবার কেউ বলেন ৫৫ হিজরিতে মারা যান।

জারির বিন হাযিম বর্ণনা করেন, কাইস বিন সাদ মাকহুল থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, উবাদাহ বিন আস-সামিত বায়তুল মাকদিসের নিকট তাঁর বাহনটি ধরার জন্য এক ব্যক্তিকে ডাকলেন। সে তা করতে অস্বীকার করলে তিনি তাকে প্রহার করেন এবং তার মাথা ফাটিয়ে দেন। লোকটি উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর কাছে বিচার চাইলে তিনি জিজ্ঞেস করলেন: এটি কী? উবাদাহ বললেন: আমি তাকে আমার বাহনটি ধরতে বলেছিলাম কিন্তু সে অস্বীকার করল, আর আমি কিছুটা রাগী মানুষ, তাই তাকে প্রহার করেছি। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: কিসাসের (প্রতিশোধের) জন্য বসুন। তখন যায়েদ বিন সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন: আপনি কি আপনার ভাইয়ের থেকে আপনার দাসের জন্য কিসাস নেবেন? ফলে তিনি কিসাস ত্যাগ করলেন এবং দিয়ত (রক্তপণ) গ্রহণে সম্মত হলেন।

খারিজাহ বিন যায়েদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনায় আসলেন, তখন আমি সতেরোটি সূরা পাঠ করেছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের সম্মুখে সেগুলো তিলাওয়াত করলাম এবং এটি তাঁর খুব পছন্দ হলো।

--------------------------------------------

১৫- তাহজিবুত তাহজিব: ৩/ ৩৯৯। তাকরিবুত তাহজিব: ১/ ২৭২। খুলাসাতু তাহজিবিল কামাল: ১/ ৩৫০। তারিখুল বুখারি আল-কাবির: ৩/ ৩৮০। তারিখুল বুখারি আস-সাগির: ১/ ৩৪, ৪২, ৪৬, ৮১, ১০১, ১২০, ১৭৩, ১৭৪। আসাদুল গাবাহ: ২/ ২৭৮। তাজরিদু আসমাইস সাহাবাহ: ১/ ১৯৭। আল-ইসাবাহ: ২/ ৫৯২। আল-ইসতিয়াব: ২/ ৫৩৭। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: ১৫/ ২৪। শাযারাত: ১/ ৫৪, ৬২। সিয়ারু আলামিন নুবালা: ২/ ৪২৬। আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ: ৮/ ২৯। তাবাকাত ইবনে সাদ: ১/ ৩৭, ২/ ২২, ১০৭, ৩/ ৩১, ৭০, ৮১, ১৮২, ২/ ১২, ৪/ ২১১, ৫/ ১৪, ৩৬, ৪৩। আস-সিকাত: ৩/ ১৩৫। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: হাদিস ৭৮৫।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وقال: يا زيد تعلم لي كتابة يهود فإنى ما آمنهم على كتابي، قال: فحذقته في نصف شهر.

قال أنس: جمع القرآن على عهد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أربعة من الأنصار: أبي وزيد بن ثابت ومعاذ وأبو زيد رضي الله عنهم. وفي حديث خالد الحذاء عن أبي قلابة عن أنس مرفوعا: "أفرض أمتى زيد بن ثابت". وروى عاصم الأحول عن الشعبي قال: غلب زيد الناس على اثنتين: الفرائض والقرآن. وروى مطرف عن الشعبي عن مسروق قال: كان أصحاب الفتوى من الصحابة عمر وعلي وعبد الله وزيد وأبي وأبو موسى. وعن سليمان بن يسار قال: ما كان عمر وعثمان يقدمان على زيد أحدا في الفتوى والفرائض والقراءة. وروى حجاج بن أرطأة عن نافع أن عمرا استعمل زيدا على القضاء وفرض له رزقا. قال أحمد العجلي: الناس على قراءة زيد وفرض زيد. وعن بن عباس قال: زيد بن ثابت كان من الراسخين في العلم وكان يأخذ له بالركاب.

قال يحيى بن سعيد الأنصاري: لما مات زيد قال أبو هريرة: مات حبر الأمة، ولعل الله أن يجعل في ابن عباس منه خلفا، وقال علي بن رباح: كان زيد بن ثابت إذا سأله رجل عن شيء قال: آلله كان هذا؟ فإن قال: نعم، أفتى وإلا سكت.

16- 16/ 1ع- أبو هريرة الدوسي اليماني الحافظ الفقيه صاحب رسول الله صلى الله عليه وسلم عبد الرحمن بن صخر على الأشهر: كان اسمه في الجاهلية عبد شمس، وقال: كنانى أبي بأبي هريرة لأنى كنت أرعى غنما فوجدت أولاد هرة وحشية فلما أبصرهن وسمع أصواتهن أخبرته فقال: أنت أبو هر وكان اسمى عبد شمس.

قدم أبو هريرة مهاجرا ليالي فتح خيبر حفظ عن النبي صلى الله عليه وآله وسلم الكثير وعن أبي بكر وعمر وأبي بن كعب وكعب1 وعنه الأغر أبو مسلم وسعيد بن المسيب وبشير بن نهيك وحفص بن عاصم وحميد بن عبد الرحمن الزهرى وحميد بن عبد الرحمن الحميري وأبو صالح السمان وخلاس بن عمرو وسالم أبو الغيث وسعيد المقبري وأبوه أبو سعيد وسعيد بن مرجانة وسلمان الأغر وأبو حازم سلمان الأشجعي وأبو

--------------------------------------------

16- تهذيب الكمال: 2/ 795. تهذيب التهذيب: 6/ 199 "401". تقريب التهذيب: 1/ 485 "981". خلاصة تهذيب الكمال:2/ 397. الكاشف: 2/ 169. الجرح والتعديل: 5/ ص 246. أسد الغابة: 6/ 318. طبقات ابن سعد: 4/ 52. أسماء الصحابة الرواة: ب1. نقعةالصديان: ت232. ديوان الإسلام: ت 2145.

1 روى عنه جماعة عن الصحابة منهم ابن عمر وابن عباس وجابر وأنس وواثلة كما في الاستيعاب.
এবং তিনি বললেন: হে যায়েদ, তুমি আমার জন্য ইহুদিদের লিখন পদ্ধতি শিখে নাও, কারণ আমি আমার পত্রের বিষয়ে তাদের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না। তিনি (যায়েদ) বলেন: আমি পনেরো দিনের মধ্যেই তাতে পারদর্শী হয়ে গেলাম।

আনাস বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের যুগে আনসারদের মধ্য থেকে চারজন ব্যক্তি কুরআন একত্রিত করেছিলেন: উবাই, যায়েদ বিন সাবিত, মুয়াজ এবং আবু যায়েদ (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)। খালেদ আল-হাজ্জা কর্তৃক বর্ণিত আবু কিলাবা থেকে আনাস (রা.)-এর সূত্রে মারফু হাদীসে এসেছে: "আমার উম্মতের মধ্যে উত্তরাধিকার আইন (ফারায়েজ) সম্পর্কে সবচেয়ে বড় বিশেষজ্ঞ হলেন যায়েদ বিন সাবিত।" আসেম আল-আহওয়াল আশ-শা'বী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যায়েদ দুটি বিষয়ে সকল মানুষের ঊর্ধ্বে ছিলেন: উত্তরাধিকার আইন এবং কুরআন। মুতাররিফ আশ-শা'বী থেকে এবং তিনি মাসরুক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: সাহাবীদের মধ্যে ফতোয়া প্রদানকারী বিশেষজ্ঞ ছিলেন উমর, আলী, আবদুল্লাহ, যায়েদ, উবাই এবং আবু মুসা। সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: উমর ও উসমান (রা.) ফতোয়া, উত্তরাধিকার আইন এবং কিরাআতের ক্ষেত্রে যায়েদের ওপর কাউকে প্রাধান্য দিতেন না। হাজ্জাজ বিন আরতাহ নাফে’ থেকে বর্ণনা করেন যে, উমর (রা.) যায়েদকে বিচারকার্যে নিয়োজিত করেছিলেন এবং তাঁর জন্য ভাতা নির্ধারণ করেছিলেন। আহমাদ আল-ইজলি বলেন: মানুষ যায়েদের কিরাআত এবং যায়েদের (নির্ধারিত) উত্তরাধিকার আইনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: যায়েদ বিন সাবিত ছিলেন জ্ঞানের গভীরে প্রবিষ্ট (রাসিকুন ফিল ইলম) ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত; আর ইবনে আব্বাস তাঁর সাওয়ারির রেকাব ধরে (সম্মান প্রদর্শন করে) সাথে চলতেন।

ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-আনসারী বলেন: যখন যায়েদ মৃত্যুবরণ করলেন, আবু হুরায়রা (রা.) বললেন: আজ এই উম্মতের মহান পণ্ডিত বিদায় নিলেন; সম্ভবত আল্লাহ ইবনে আব্বাসের মাঝে তাঁর উত্তরসূরি দান করবেন। আলী বিন রাবাহ বলেন: যায়েদ বিন সাবিতকে যখন কেউ কোনো বিষয়ে জিজ্ঞাসা করত, তিনি বলতেন: আল্লাহর কসম, এটি কি আসলেই ঘটেছে? যদি সে বলত: হ্যাঁ, তবেই তিনি ফতোয়া দিতেন, অন্যথায় তিনি চুপ থাকতেন।

১৬- ১৬/ ১আ- আবু হুরায়রা আদ-দাওসী আল-ইয়ামানী, হাফেজ, ফকিহ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী, প্রসিদ্ধ মতে তাঁর নাম আবদুর রহমান বিন সাখর: জাহেলিয়াতের যুগে তাঁর নাম ছিল আবদু শামস। তিনি বলেন: আমার পিতা আমার উপনাম রেখেছিলেন আবু হুরায়রা (বিড়ালের পিতা), কারণ আমি বকরী চরাতাম এবং একদিন বন্য বিড়ালের কতগুলো ছানা খুঁজে পেলাম। যখন তিনি সেগুলো দেখলেন এবং তাদের ডাক শুনলেন, আমি তাঁকে জানালাম। তখন তিনি বললেন: তুমি তো বিড়ালের পিতা (আবু হির)। তখন আমার নাম ছিল আবদু শামস।

আবু হুরায়রা খায়বার বিজয়ের সময়কালে হিজরত করে আগমন করেন। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রচুর হাদিস মুখস্থ করেছিলেন, আর বর্ণনা করেছিলেন আবু বকর, উমর, উবাই বিন কাব এবং কাব থেকে। তাঁর থেকে যারা বর্ণনা করেছেন তারা হলেন আল-আগার আবু মুসলিম, সাঈদ বিন আল-মুসায়্যিব, বশির বিন নাহিক, হাফস বিন আসিম, হুমায়দ বিন আবদুর রহমান আজ-জুহরি, হুমায়দ বিন আবদুর রহমান আল-হিময়ারি, আবু সালেহ আস-সাম্মান, খিলাস বিন আমর, সালিম আবু আল-গাইস, সাঈদ আল-মাকবুরি এবং তাঁর পিতা আবু সাঈদ, সাঈদ বিন মারজানা, সালমান আল-আগার, আবু হাযেম সালমান আল-আশজায়ি এবং আবু...

--------------------------------------------

১৬- তাহজীবুল কামাল: ২/ ৭৯৫। তাহজীবুত তাহজীব: ৬/ ১৯৯ "৪০১"। তাকরীবুত তাহজীব: ১/ ৪৮৫ "৯৮১"। খুলাসাতু তাহজীবিল কামাল: ২/ ৩৯৭। আল-কাশিফ: ২/ ১৬৯। আল-জারহ ওয়াত তা'দীল: ৫/ পৃষ্ঠা ২৪৬। আসাদুল গাবাহ: ৬/ ৩১৮। তাবাকাত ইবনে সাদ: ৪/ ৫২। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: বি১। নাকয়াতুস সিয়ান: ত২৩২। দিওয়ানুস ইসলাম: ত ২১৪৫।

১ সাহাবীদের একটি দল তাঁর থেকে বর্ণনা করেছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন ইবনে উমর, ইবনে আব্বাস, জাবির, আনাস এবং ওয়াসিলা, যেমনটি আল-ইসতি'আব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٢٩)
يونس سليم بن جبير وسليمان بن يسار وشهر بن حوشب وصالح مولى التوءمة وضمضم بن جوس وطاوس والشعبي وأبو إدريس الخولاني وأبو عثمان النهدي وعبد الرحمن الأعرج وعراك بن مالك وعكرمة وعروة وعطاء ومجاهد وابن سيرين ومحمد بن زياد الجمحي ومحمد بن كعب وموسى بن وردان ونعيم المجمر ونافع مولى ابن عمر وهمام بن منبه وخلق كثير. وكان من أوعية العلم ومن كبار أئمة الفتوى مع الجلالة والعبادة والتواضع قال البخاري: روى عنه ثمانمائة نفس أو أكثر.

وقيل: كان آدم بعيد ما بين المنكبين أفرق الثنيتين له ضفيرتان يخضب بالحمرة، وكان من أصحاب الصفة فقيرا ذاق جوعا وفاقة ثم بعد النبي صلى الله عليه وسلم صلح حاله وكثر ماله وكان كثير التعبد والذكر ولي إمرة المدينة وناب أيضا عن مروان في امرتها، وكان يمر في السوق يحمل الحزمة وهو يقول: أوسعوا الطريق للأمير، وكان فيه دعابة رضي الله عنه.

قال أبو القاسم بن النحاس: سمعت أبا بكر بن أبي داود يقول: رأيت في النوم- وأنا بسجستان أصنف حديث أبي هريرة، أبا هريرة كث اللحية أسمر عليه ثياب غلاظ فقلت له: إنى أحبك فقال: أنا أول صاحب حديث كان في الدنيا.

إسماعيل بن أبي خالد عن قيس عن أبي هريرة قال: لما قدمت على النبي صلى الله عليه وآله وسلم قلت في الطريق.

يا ليلة من طولها وعنائها … على أنها من دارة الكفر نجت

قال: وأبق لي غلام فلما قدمت وبايعت إذ طلع الغلام فقال النبي صلى الله عليه وآله وسلم: "هذا غلامك يا أبا هريرة"، فقلت: هو حر لوجه الله فأعتقته.

أيوب عن محمد أن أبا هريرة كان يقول لبنته: لا تلبسي الذهب فإنى أخشى عليك اللهب.

سليم بن حيان عن أبيه عن أبي هريرة قال: نشأت يتيما، وهاجرت مسكينا، وكنت أجيرا لابنة غزوان بطعام بطني وعقبة رجلي، أحدو بهم إذا ركبوا وأحتطب إذا نزلوا، فالحمد لله الذي جعل الدين قواما وأبا هريرة إماما.

الزهرى عن سالم سمع أبا هريرة قال: سألني قوم محرمون عن محلين أهدوا لهم صيدا فأمرتهم بأكله ثم لقيت عمر فأخبرته فقال: لو أفتيتهم بغير هذا لأوجعتك.

أبو بكر الحنفي أنا عبد الله بن أبي يحيى سمعت سعيد بن أبي هند يحدث عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قال: "ألا تسألني من هذه الغنائم؟ " فقلت
ইউনুস, সালিম বিন জুবায়ের, সুলায়মান বিন ইয়াসার, শাহর বিন হাওশব, সালিহ মাওলা আত-তাওআমা, দমদম বিন জাওস, তাউস, আশ-শা’বী, আবু ইদ্রিস আল-খাওলানি, আবু উসমান আন-নাহদী, আবদুর রহমান আল-আরাজ, ইরাক বিন মালিক, ইকরিমাহ, উরওয়াহ, আতা, মুজাহিদ, ইবনে সিরীন, মুহাম্মদ বিন যিয়াদ আল-জুমাহী, মুহাম্মদ বিন কা’ব, মুসা বিন ওয়ারদান, নুআইম আল-মুজমির, ইবনে উমরের মুক্তদাস নাফি, হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ এবং অসংখ্য লোক। তিনি ছিলেন জ্ঞানের আধার এবং বড় ফতোয়া প্রদানকারী ইমামগণের অন্তর্ভুক্ত, সেই সাথে ছিল তাঁর মর্যাদা, ইবাদত এবং বিনয়। বুখারী বলেছেন: তাঁর থেকে আটশ বা তারও বেশি ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন।

বলা হয়েছে: আবু হুরায়রা ছিলেন শ্যামবর্ণ, প্রশস্ত কাঁধ বিশিষ্ট, তাঁর সামনের দাঁতগুলোর মাঝে ফাঁকা ছিল এবং তাঁর দুটি বেণী ছিল, তিনি লাল রং দিয়ে খিযাব লাগাতেন। তিনি ‘আহলুস সুফফাহ’ এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন, অত্যন্ত দরিদ্র এবং ক্ষুধা ও অভাব সহ্য করেছেন। এরপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের ওফাতের পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয় এবং তাঁর সম্পদ বৃদ্ধি পায়। তিনি প্রচুর ইবাদত ও যিকর করতেন। তিনি মদীনার শাসনভার গ্রহণ করেন এবং মারওয়ানের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বোঝা কাঁধে নিয়ে বাজারের মধ্য দিয়ে যেতেন এবং বলতেন: ‘আমিরের জন্য পথ ছেড়ে দাও’। তাঁর মাঝে কৌতুকপ্রিয়তাও ছিল, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

আবু কাসিম বিন আন-নাহহাস বলেন: আমি আবু বকর বিন আবু দাউদকে বলতে শুনেছি: আমি স্বপ্নে দেখেছি—যখন আমি সিজিস্তানে আবু হুরায়রার হাদিস সংকলন করছিলাম—আবু হুরায়রার ঘন দাড়ি, শ্যামবর্ণ গায়ের রং এবং পরনে ছিল মোটা কাপড়। আমি তাঁকে বললাম: আমি আপনাকে ভালোবাসি। তিনি বললেন: আমিই দুনিয়ার প্রথম হাদিস চর্চাকারী।

ইসমাইল বিন আবু খালিদ, কায়স থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: যখন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের কাছে এলাম, তখন পথিমধ্যে এই কবিতাটি বললাম।

হে রাত! এর দীর্ঘতা ও ক্লান্তির কী অবস্থা! … তবুও এটি কুফরের ঘর থেকে মুক্তি দিয়েছে।

তিনি বলেন: আমার এক গোলাম পালিয়ে গিয়েছিল। যখন আমি পৌঁছালাম এবং বায়আত গ্রহণ করলাম, তখন গোলামটি উপস্থিত হলো। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ‘হে আবু হুরায়রা, এটি তোমার গোলাম।’ আমি বললাম: সে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুক্ত। অতঃপর আমি তাকে স্বাধীন করে দিলাম।

আইয়ুব, মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা তাঁর কন্যাকে বলতেন: তুমি সোনা পরিধান করো না, কারণ আমি তোমার জন্য আগুনের শিখার ভয় করছি।

সালিম বিন হাইয়ান তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: আমি এতিম হিসেবে বেড়ে উঠেছি, নিঃস্ব অবস্থায় হিজরত করেছি এবং পেটের অন্ন ও ভ্রমণের বাহনের বিনিময়ে ইবনাত গাযওয়ানের মজুর হিসেবে কাজ করেছি। তারা আরোহণ করলে আমি তাদের উট চালাতাম এবং তারা যাত্রা বিরতি করলে আমি লাকড়ি কুড়াতাম। সুতরাং সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি দ্বীনকে সুদৃঢ় করেছেন এবং আবু হুরায়রাকে ইমাম বানিয়েছেন।

যুহরী, সালিম থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: একদল মুহরিম লোক আমাকে এমন দুই হালাল ব্যক্তি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল যারা তাদের জন্য শিকার করা প্রাণী উপহার দিয়েছিল। আমি তাদের তা খাওয়ার নির্দেশ দিলাম। এরপর আমি উমরের সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি বললেন: যদি তুমি তাদের এছাড়া অন্য কোনো ফতোয়া দিতে, তবে আমি তোমাকে কঠোর শাস্তি দিতাম।

আবু বকর আল-হানাফি বলেন: আমাকে আবদুল্লাহ বিন আবু ইয়াহইয়া বলেছেন যে, তিনি সাঈদ বিন আবু হিন্দকে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: ‘তুমি কি আমাকে এই গণিমতগুলো সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞাসা করবে না?’ তখন আমি বললাম—
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣٠)
أسألك أن تعلمني مما علمك الله، فنزع صرة على ظهري فبسطها بيني وبينه حتى كأني أنظر الى القمل تدب عليها فحدثني حتى إذا استوعبت حديثه قال: اجمعها فصرها إليك، قال فأصبحت لا أسقط حرفا مما حدثني.

خالد الحذاء عن عكرمة قال: قال أبو هريرة: إني لأستغفر الله وأتوب إليه كل يوم اثنى عشر ألف مرة، وذلك على قدر ذنبى.

وروى زيد بن الحباب عن عبد الواحد بن موسى أنا أبو نعيم بن المحرر بن أبي هريرة عن جده أنه كان له خيط فيها ألفا عقدة لا ينام حتى يسبح به.

قيس بن أبي حازم عن أبي هريرة قال: جئت يوم خيبر بعد ما فرغوا من القتال قال بن سيرين: قال أبو هريرة: لقد رأيتني أصرع بين القبر والمنبر من الجوع حتى يقولوا مجنون، فيجلس الرجل على صدري فأرفع رأسي فأقول: ليس الذي ترى؛ إنما هو الجوع.

روى أحمد في مسنده عن أبي كثير السحيمي عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم: "اللهم حبب عُبَيدك هذا -يعنى أبا هريرة وأمه- إلى عبادك المؤمنين وحببهم إليهما".

قال أبو نضرة العبدي عن الطفاوي قال نزلت على أبي هريرة بالمدينة ستة اشهر فلم أر رجلا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أشد تشميرا ولا أقوم على ضيف منه.

ابن أبي ذئب عن المقبري عن أبي هريرة قال: حفظت من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وعائين فأما أحدهما فبثثته في الناس وأما الآخر فلو بثثته لقطع هذا البلعوم قال الأعمش عن أبي صالح السمان كان أبو هريرة من أحفظ أصحاب محمد صلى الله عليه وآله وسلم.

وقال الشافعي: أبو هريرة أحفظ من روى الحديث في دهره وروى كهمس عن عبد الله بن شقيق قال: قال أبو هريرة: لا أعرف أحدا من أصحاب رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم أحفظ لحديثه منى.

أبو داود الطيالسي أنا عمران القطان عن بكر بن عبد الله عن أبي رافع عن أبي هريرة أنه لقى كعبا فجعل يحدثه ويسأله فقال كعب: ما رأيت أحدًا لم يقرأ التوراة أعلم بما فيها من أبي هريرة.

هشيم عن يعلى بن عطاء عن الوليد بن عبد الرحمن عن بن عمر أنه قال: يا أبا هريرة إن كنت لألزمنا لرسول الله صلى الله عليه وسلم وأعلمنا بحديثه.
আমি আপনার কাছে আবেদন করছি যে, আল্লাহ আপনাকে যা শিখিয়েছেন তা থেকে আমাকে কিছু শিখিয়ে দিন। তখন তিনি আমার পিঠ থেকে একটি পুটলি (চাদর) সরিয়ে নিলেন এবং সেটি আমার ও তাঁর মাঝে বিছিয়ে দিলেন, এমনকি আমার মনে হচ্ছিল আমি যেন তার উপর উকুনদের হেঁটে বেড়াতে দেখছি। এরপর তিনি আমাকে হাদীস শুনিয়ে গেলেন। যখন আমি তাঁর কথাগুলো পুরোপুরি আয়ত্ত করে নিলাম, তখন তিনি বললেন: "এটি একত্রিত করো এবং নিজের বুকের সাথে জাপটে ধরো।" তিনি (আবু হুরায়রা) বলেন, এরপর থেকে তিনি আমাকে যা শুনিয়েছেন তার একটি অক্ষরও আমি ভুলিনি।

খালিদ আল-হাজ্জা ইকরিমাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা বলেছেন: "নিশ্চয়ই আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে বারো হাজার বার ক্ষমা প্রার্থনা করি এবং তাঁর নিকট তওবা করি, আর তা আমার গুনাহের পরিমাণ অনুযায়ী।"

যায়েদ ইবনে আল-হুবাব আব্দুল ওয়াহিদ ইবনে মুসা থেকে বর্ণনা করেছেন, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম বিন আল-মুহাররির বিন আবি হুরায়রা তাঁর দাদা থেকে যে, তাঁর একটি সুতা ছিল যাতে দুই হাজার গিঁট ছিল; তিনি তার মাধ্যমে তাসবীহ পাঠ না করে ঘুমাতেন না।

কাইস ইবনে আবি হাযিম আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি খায়বারের যুদ্ধের দিন তারা লড়াই শেষ করার পর এসেছিলাম। ইবনে সীরীন বলেন: আবু হুরায়রা বলেছেন: "আমি নিজেকে এমন অবস্থায় দেখেছি যে ক্ষুধার তাড়নায় আমি রাসূলুল্লাহর কবর এবং মিম্বরের মাঝখানে বেহুঁশ হয়ে পড়ে থাকতাম, এমনকি মানুষ বলত যে লোকটা পাগল। তখন কোনো ব্যক্তি এসে আমার বুকের উপর বসত, আর আমি মাথা তুলে বলতাম: তুমি যা দেখছ বিষয়টি তেমন নয়; বরং এটি কেবল ক্ষুধা।"

ইমাম আহমাদ তাঁর মুসনাদে আবু কাসীর আস-সুহাইমি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "হে আল্লাহ, আপনার এই ছোট বান্দাকে —অর্থাৎ আবু হুরায়রা ও তাঁর মাকে— আপনার মুমিন বান্দাদের নিকট প্রিয় করে দিন এবং মুমিনদেরকেও তাঁদের নিকট প্রিয় করে দিন।"

আবু নাদরা আল-আবদি আত-তুফাউয়ি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি মদীনায় আবু হুরায়রা-র নিকট ছয় মাস অবস্থান করেছি। আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে তাঁর চেয়ে কঠোর পরিশ্রমী এবং মেহমানের আপ্যায়নে অধিক যত্নবান আর কাউকে দেখিনি।

ইবনে আবি যিব আল-মাকবুরি থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম) থেকে দুই পাত্র (ভর্তি) জ্ঞান অর্জন করেছি। তার মধ্যে একটি তো আমি মানুষের মধ্যে প্রচার করেছি, কিন্তু অন্যটি যদি আমি প্রচার করতাম তবে এই কণ্ঠনালী কেটে ফেলা হতো।" আমাশ আবু সালিহ আস-সাম্মান থেকে বর্ণনা করেন যে, আবু হুরায়রা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হাদীস সংরক্ষণকারী ছিলেন।

ইমাম শাফেঈ বলেছেন: আবু হুরায়রা তাঁর সমসাময়িক হাদীস বর্ণনাকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুখস্থকারী ছিলেন। কাহমাস আব্দুল্লাহ ইবনে শাকীক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আবু হুরায়রা বলেছেন: "আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের মধ্যে এমন কাউকে চিনি না যে তাঁর হাদীস সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি মুখস্থকারী ছিল।"

আবু দাউদ আত-তায়ালিসি ইমরান আল-কাত্তান থেকে, তিনি বকর ইবনে আব্দুল্লাহ থেকে, তিনি আবু রাফে থেকে এবং তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি কা'ব-এর সাথে সাক্ষাৎ করলেন। কা'ব তাঁকে হাদীস শোনাতে লাগলেন এবং তাঁকে প্রশ্ন করতে লাগলেন। তখন কা'ব বললেন: "আমি এমন কাউকে দেখিনি যে তাওরাত পাঠ করেনি অথচ তাওরাতের বিষয়াবলী সম্পর্কে আবু হুরায়রার চেয়ে বেশি জ্ঞানী।"

হুশাইম ইয়ালা ইবনে আতা থেকে, তিনি ওয়ালীদ ইবনে আব্দুর রহমান থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (ইবনে উমর) বলেন: "হে আবু হুরায়রা! আপনি আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সান্নিধ্যে সবচেয়ে বেশি থাকতেন এবং তাঁর হাদীস সম্পর্কে আমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জানতেন।"
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣١)
حماد بن زيد عن عباس الجريري سمعت أبا عثمان النهدي قال تضيفت أبا هريرة سبعا فكان هو وامرأته وخادمه يعتقبون الليل أثلاثا يصلي هذا ثم يوقظ الآخر فيصلي ثم يوقظ الثالث.

أخبرنا إبراهيم بن يوسف، أنا ابن رواحة أنا السلفي أنا ابن البسري أنا السكري أنا الصفار أنا الرمادي أنا عبد الرزاق أنا معمر عن محمد بن زياد قال كان معاوية يبعث أبا هريرة على المدينة، فإذا غضب عليه بعث مروان وعزله فلم يلبث أن بعث أبا هريرة ونزع مروان فقال لغلام أسود قف على الباب فلا تمنع إلا مروان ففعل الغلام ثم جاء مروان نوبة فدخل وقال حجبنا قال إن أحق من لا أنكر هذا لأنت. توفي أبو هريرة سنة ثمان وخمسين قاله جماعة وقال آخرون سنة تسع وقيل سنة سبع وخمسين رضي الله عنه.

17- 17/ 1ع- عبد الله بن عمر بن الخطاب الإمام رضي الله عنهما أبو عبد الرحمن العدوى المدني الفقيه: أحد الأعلام في العلم والعمل، شهد الخندق وهو من أهل بيعة الرضوان وممن كان يصلح للخلافة فعين لذلك يوم الحكمين مع وجود مثل الإمام على وفاتح العراق سعد ونحوهما رضي الله عنهما ومناقبه جمة أثنى عليه النبي صلى الله عليه وآله وسلم، ووصفه بالصلاح.

قال محمد بن إسماعيل الأحمسي أنا أحمد بن يعقوب بن المسعودي أنا إسحاق بن سعيد بن عمرو القرشي عن أبيه عن ابن عمر أنه قام والحجاج يخطب فقال: عدو الله استحل حرم الله وخرب بيت الله وقتل أولياء الله فقال الحجاج من هذا فقيل: عبد الله بن عمر فقال الحجاج: اسكت يا شيخا قد خرف فلما صدر الحجاج أمر بعض الأعوان فأخذ حربة مسمومة فضرب بها رجل عبد الله بن عمر فمرض ومات منها ودخل عليه الحجاج عائدا فسلم ولم يرد عليه وكلمه فلم يجبه أخرجه البخاري مختصرا.

الزهري عن عبيد الله قال: كان البر لا يعرف على عمر وابن عمر حتى يقولا أو

--------------------------------------------

17- تهذيب الكمال: 2/ 713. تهذيب التهذيب: 5/ 328 "565". تقريب التهذيب: 1/ 435 "491". خلاصة تهذيب الكمال: 2/ 81. الكاشف: 2/ 112. تاريخ البخاري الكبير: 5/ 2، 145. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 154، 157. الجرح والتعديل: 5/ 107. أسد الغابة: 3/ 340. تجريد أسماء الصحابة: 1/ 325. الإصابة: 4/ 181. الاستيعاب: "3-4" 950.الوافي بالوفيات: 13/ 262. طبقات ابن سعد: 9/ 120. والفهرس. سير الأعلام: 3/ 203. الثقات: 3/ 209. أسماء الصحابة الرواة: ت2.
হাম্মাদ বিন যায়েদ আব্বাস আল-জারীরী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আবু উসমান আন-নাহদীকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: "আমি আবু হুরাইরার কাছে সাত দিন মেহমান হিসেবে ছিলাম। তিনি, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁর খাদেম রাতকে তিন ভাগে ভাগ করে নিতেন। একজন সালাত আদায় করতেন, তারপর অন্যজনকে জাগিয়ে দিতেন, তিনি সালাত আদায় করতেন, তারপর তৃতীয় জনকে জাগিয়ে দিতেন।"

ইবরাহীম বিন ইউসুফ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে রাওয়াহা আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আস-সালাফী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনুল বিসরী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আস-সুককারী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আস-সাফফার আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আর-রিমাদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আব্দুর রাজ্জাক আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মা'মার মুহাম্মদ বিন যিয়াদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: "মুআবিয়া আবু হুরাইরাকে মদীনার শাসনকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতেন। যখন তিনি তাঁর ওপর রাগান্বিত হতেন, তখন মারওয়ানকে পাঠিয়ে তাঁকে বরখাস্ত করতেন। এরপর বেশি সময় অতিবাহিত হতো না যে, পুনরায় আবু হুরাইরাকে পাঠিয়ে মারওয়ানকে সরিয়ে দিতেন। (একবার আবু হুরাইরা) এক কৃষ্ণাঙ্গ গোলামকে বললেন: 'দরজায় দাঁড়িয়ে থাকো এবং মারওয়ান ছাড়া আর কাউকে বাধা দিয়ো না।' গোলামটি তাই করল। এরপর মারওয়ানের পালা এলে তিনি প্রবেশ করে বললেন: 'আমাদেরকে কি বাধা দেওয়া হলো?' তিনি (আবু হুরাইরা) বললেন: 'নিশ্চয়ই এই বিষয়টি অস্বীকার না করার সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আপনিই।' একদল আলিমের মতে আবু হুরাইরা আটান্ন হিজরীতে ইন্তেকাল করেন, অন্যরা বলেন ঊনষাট হিজরীতে, আবার কারো মতে সাতান্ন হিজরীতে। আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন।"

১৭- ১৭/ ১আ- আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন আল-খাত্তাব, ইমাম, আল্লাহ তাঁদের উভয়ের ওপর সন্তুষ্ট হোন, আবু আব্দুর রহমান আল-আদাবী আল-মাদানী আল-ফকিহ: ইলম ও আমলের ক্ষেত্রে অন্যতম এক দিকপাল। তিনি খন্দকের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং বাইয়াতে রিদওয়ান কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। তিনি খিলাফতের যোগ্য ব্যক্তিদের একজন ছিলেন, তাই ইমাম আলী এবং ইরাক বিজয়ী সা’দ ও তাঁদের মতো ব্যক্তিদের উপস্থিতিতেও সালিশির দিনে তাঁকে খিলাফতের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তাঁর অনেক ফযীলত রয়েছে; নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে নেককার হিসেবে অভিহিত করেছেন।

মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল আল-আহমাসী বলেন, আহমদ বিন ইয়াকুব বিন আল-মাসউদী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইসহাক বিন সাঈদ বিন আমর আল-কুরাশী তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেন যে, হাজ্জাজ যখন খুৎবা দিচ্ছিলেন তখন ইবনে উমর দাঁড়িয়ে বললেন: "হে আল্লাহর শত্রু! তুমি আল্লাহর পবিত্র বিষয়সমূহকে হালাল করে নিয়েছ, আল্লাহর ঘর ধ্বংস করেছ এবং আল্লাহর বন্ধুদের হত্যা করেছ।" হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করল: "এ কে?" বলা হলো: "আব্দুল্লাহ বিন উমর।" তখন হাজ্জাজ বলল: "চুপ করো ওহে বৃদ্ধ, তুমি ভীমরতিগ্রস্ত হয়েছ।" এরপর হাজ্জাজ যখন চলে গেল, তখন সে তার এক সহযোগীকে নির্দেশ দিল, সে একটি বিষাক্ত বর্শা দিয়ে আব্দুল্লাহ বিন উমরের পায়ে আঘাত করল। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং তাতেই তাঁর মৃত্যু হলো। হাজ্জাজ তাঁকে দেখতে এসে সালাম দিলে তিনি উত্তর দিলেন না। হাজ্জাজ তাঁর সাথে কথা বললেও তিনি কোনো জবাব দিলেন না। বুখারী এটি সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন।

আয-যুহরী উবাইদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: "উমর এবং ইবনে উমরের নিকট পুণ্য বা নেক কাজ স্পষ্ট হতো না যতক্ষণ না তাঁরা বলতেন অথবা...

--------------------------------------------

১৭- তাহযীবুল কামাল: ২/৭১৩। তাহযীবুত তাহযীব: ৫/৩২৮ "৫৬৫"। তাকরীবুত তাহযীব: ১/৪৩৫ "৪৯১"। খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল: ২/৮১। আল-কাশিফ: ২/১১২। তারিখুল বুখারী আল-কাবীর: ৫/২, ১৪৫। তারিখুল বুখারী আস-সাগীর: ১/১৫৪, ১৫৭। আল-জারহু ওয়াত তা’দীল: ৫/১০৭। আসাদুল গাবাহ: ৩/৩৪০। তাজরীদু আসমায়িস সাহাবাহ: ১/৩২৫। আল-ইসাবাহ: ৪/১৮১। আল-ইসতিয়াব: "৩-৪" ৯৫০। আল-ওয়াফী বিল ওফায়াত: ১৩/২৬২। তাবাকাতু ইবনে সাদ: ৯/১২০ এবং সূচিপত্র। সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৩/২০৩। আস-সিকাত: ৩/২০৯। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ত২।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣٢)
يفعلا. عن نافع قال دخل بن عمر الكعبة فسمعته يقول في سجوده ما يمنعني من مزاحمة قريش في هذا الأمر إلا خوفك.

جرير بن حازم عن يعلى عن نافع قال: لما قدم أبو موسى وعمرو بن العاص أيام حكما قال أبو موسى: لا أرى لها غير ابن عمر، فقال عمرو له: إنا نريد أن نبايعك فهل لك أن تعطى مالا عظيما على أن تدع هذا الأمر لمن هو أحرص عليه منك؟ فغضب فقام فأخذ ابن الزبير بطرف ثوبه فقال: يا أبا عبد الرحمن إنما قال تعطينى مالا على أن أبايعك فقال ابن عمر ويحك يا عمرو فقال إنما قلت لأجربك قال: لا والله لا أعطى عليها ولا أقبل عليها ولا أفعلها إلا عن رضى من المسلمين.

يحيى الحماني أنا شريك عن سعيد بن مسروق عن منذر الثوري عن ابن الحنفية قال كان ابن عمر حبر هذه الأمة. وروى قتادة عن سعيد بن المسيب قال: لو شهدت لأحد أنه من أهل الجنة لشهدت لابن عمر.

وقال سلام بن مسكين سمعت الحسن يقول أتوا ابن عمر فقالوا: أنت سيد الناس وابن سيدهم والناس بك راضون اخرج نبايعك، قال لا والله لا يهراق في محجمة دم.

ابن عيينة عن عمر بن محمد بن زيد سمعت أبي يقول: ما ذكر ابن عمر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم قط إلا بكى وما مر على ربعهم إلا غمض عينيه وما أحسن قول سفيان الثوري: يقتدى بعمر في الجماعة وبابنه في الفرقة.

الضحاك بن عثمان عن بكير بن الأشج عن سليمان بن يسار قال كنت أقسم نفسي بين ابن عباس وابن عمر فكنت أكثر ما أسمع بن عمر يقول: لا أدري، وابن عباس لا يرد أحدا فسمعت ابن عباس يقول عجبا لابن عمر ورده الناس ألا ينظر في ما يشك فإن كانت مضت به سنة قال بها وإلا قال برأيه قال: سمعت بن عباس وسئل عن مسألة فارتج فيها فقال: البلاء موكل بالقول.

عتيق بن يعقوب سمعت مالكا يقول قال لي ابن شهاب: لا تعدلن برأي ابن عمر فإنه أقام ستين سنة بعد رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم فلم يخف عليه شيء من أمره ولا من أمر أصحابه.

قال يحيى بن يحيى التميمي قلت لمالك؟ أليس قلت سمعت المشايخ يقولون من أخذ بقول بن عمر لم يدع من الاستقصاء شيئا؟ قال: نعم.

وذكر نافع أن عبد الله تتبع أمر رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وآثاره وأفعاله حتى كأنه خيف على عقله.
নাফে থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: ইবনে উমর কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন। আমি তাকে সিজদাবনত অবস্থায় বলতে শুনলাম, "হে আল্লাহ! আপনার ভয় ছাড়া কুরাইশদের সাথে এই বিষয়ে (নেতৃত্বের প্রশ্নে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আমাকে অন্য কিছুই বাধা দিচ্ছে না।"

জারীর বিন হাযিম ইয়ালা থেকে এবং তিনি নাফে থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: যখন আবু মুসা ও আমর ইবনুল আস শালিসি বৈঠকের দিনগুলোতে আসলেন, তখন আবু মুসা বললেন: আমি এই পদের জন্য ইবনে উমর ছাড়া অন্য কাউকে যোগ্য মনে করি না। তখন আমর তাকে বললেন: আমরা আপনার নিকট বায়আত হতে চাই, তবে আপনি কি বিপুল পরিমাণ সম্পদ গ্রহণের বিনিময়ে এই বিষয়টি আপনার চেয়েও অধিক লালায়িত কোনো ব্যক্তির জন্য ছেড়ে দেবেন? এতে তিনি রাগান্বিত হয়ে দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন ইবনে যুবাইর তাঁর কাপড়ের আঁচল ধরে বললেন: হে আবু আবদুর রহমান! তিনি তো মূলত এ কথাই বলেছেন যে, আপনি আমাকে সম্পদ প্রদান করবেন যাতে আমি আপনার নিকট বায়আত হই। ইবনে উমর বললেন: ধিক্কার তোমাকে হে আমর! তখন আমর বললেন: আমি কেবল আপনাকে পরীক্ষা করার জন্য এটি বলেছি। তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম! আমি এর জন্য কোনো কিছু দেব না এবং এর বিনিময়ে কোনো কিছু গ্রহণও করব না। আর মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ সম্মতি ছাড়া আমি এই কাজ করব না।

ইয়াহইয়া আল-হিমমানি আমাদের নিকট শারীকের সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি সাঈদ বিন মাসরুক থেকে, তিনি মুনযির আল-সাওরী থেকে এবং তিনি ইবনুল হানাফিয়্যাহ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন: ইবনে উমর ছিলেন এই উম্মতের বিজ্ঞ পণ্ডিত। কাতাদাহ সাঈদ ইবনুল মুসায়্যিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি যদি কারো জান্নাতী হওয়ার ব্যাপারে সাক্ষ্য দিতাম, তবে অবশ্যই ইবনে উমরের জন্য সাক্ষ্য দিতাম।

সাল্লাম বিন মিসকিন বলেন, আমি হাসান বসরীকে বলতে শুনেছি যে, লোকেরা ইবনে উমরের নিকট এসে বলল: আপনি মানুষের নেতা এবং নেতার সন্তান, আর আপনার প্রতি সকল মানুষ সন্তুষ্ট। আপনি বেরিয়ে আসুন আমরা আপনার নিকট বায়আত হই। তিনি বললেন: না, আল্লাহর কসম! (এই কারণে) এক সিঙা পরিমাণ রক্তও প্রবাহিত হবে না।

ইবনে উয়াইনাহ উমর বিন মুহাম্মদ বিন যায়েদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, ইবনে উমর যখনই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের কথা স্মরণ করতেন, তখনই তিনি কেঁদে ফেলতেন। আর তিনি যখনই তাঁদের (নবী পরিবারের) বাসস্থানের পাশ দিয়ে যেতেন, তখনই নিজের চোখ বন্ধ করে নিতেন। সুফিয়ান সাওরির উক্তিটি কতই না চমৎকার: ঐক্যের সময় উমরকে অনুসরণ করা হয়, আর বিভেদের সময় তাঁর পুত্রকে অনুসরণ করা হয়।

দাহহাক বিন উসমান বুকাইর বিন আশাজ থেকে এবং তিনি সুলাইমান বিন ইয়াসার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: আমি ইবনে আব্বাস ও ইবনে উমরের মজলিস সমভাবে ভাগ করে নিয়েছিলাম। আমি ইবনে উমরকে অধিকাংশ সময় বলতে শুনতাম: 'আমি জানি না'। অন্যদিকে ইবনে আব্বাস কাউকে (জিজ্ঞাসা করলে) ফিরিয়ে দিতেন না। আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি: ইবনে উমরের প্রতি বিস্ময় জাগে যে তিনি মানুষকে ফিরিয়ে দেন; তিনি কি সেই বিষয়ে অনুসন্ধান করেন না যেটিতে তিনি সংশয় বোধ করেন? যদি সে বিষয়ে কোনো সুন্নাহ বর্ণিত থাকে তবে তিনি তা বলবেন, অন্যথায় তিনি নিজ অভিমত ব্যক্ত করবেন। বর্ণনাকারী বলেন: আমি ইবনে আব্বাসকে দেখেছি যে তাঁকে একটি মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি দ্বিধাবোধ করেন এবং বলেন: বিপদ তো কথার সাথেই যুক্ত।

আতীক বিন ইয়াকুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি মালিককে বলতে শুনেছি যে, ইবনে শিহাব আমাকে বলেছেন: তুমি ইবনে উমরের রায়ের সমকক্ষ কাউকে মনে করো না; কেননা তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের পর আরও ষাট বছর জীবিত ছিলেন এবং রাসূলুল্লাহর কোনো বিষয় কিংবা তাঁর সাহাবীদের কোনো বিষয়ই তাঁর কাছে অস্পষ্ট ছিল না।

ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া আল-তামিমী বলেন, আমি মালিককে জিজ্ঞাসা করলাম: আপনি কি বলেননি যে আপনি শায়খদের বলতে শুনেছেন—যে ব্যক্তি ইবনে উমরের কথা গ্রহণ করল, সে কোনো সূক্ষ্ম অনুসন্ধানেরই বাকি রাখল না? তিনি বললেন: হ্যাঁ।

নাফে উল্লেখ করেছেন যে, আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়াসাল্লামের আদর্শ, তাঁর পদাঙ্ক এবং তাঁর কর্মসমূহ এমন একনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করতেন যে, এমনকি তাঁর মানসিক সুস্থতার ব্যাপারেও আশঙ্কা করা হতো।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣٣)
محمد بن سوقة عن أبي جعفر محمد بن علي قال: لم يكن أحد من الصحابة إذا سمع من رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم حديثا احذر أن لا يزيد فيه أو ينقص منه ولا ولا من بن عمر.

حماد بن زيد عن هشام بن حسان عن محمد أن الحجاج خطب فقال: إن ابن الزبير بدل كلام الله، فقام بن عمر فقال: كذب لم يكن بن الزبير يستطيع أن يبدل كلام الله ولا أنت، قال إنك شيخ قد خرفت اقعد، قال أما أنك لو عدت عدت.

عمران بن حدير عن أبي مجلز شهدت بن عمر والناس يسألونه فقال: إياكم عنى إياكم عني فأنى كنت مع من هو أفقه مني، ولو علمت أني أبقى حتى يفتقر إلي لتعلمت لكم.

توفي ابن عمر في أول سنة أربع وسبعين1 وهو شقيق أم المؤمنين حفصة رضي الله عنها، قال جابر: ما منا إلا من مالت به الدنيا ومال بها الا عبد الله بن عمر رضي الله عنهما.

18- 18/ 1ع- عبد الله بن عباس بن عبد المطلب رضي الله عنهما الإمام البحر عالم العصر أبو العباس الهاشمي بن عم رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم وأبو الخلفاء: مات رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم ولعبد الله ثلاث عشرة سنة وقد دعا له النبي صلى الله عليه وآله وسلم أن يفقهه الله في الدين ويعلمه التأويل.

خالد الحذاء قال عن عكرمة عن ابن عباس قال مسح النبي صلى الله عليه وسلم رأسي ودعا لي بالحكمة.

أبو عاصم أنا شبيب بن بشر أنا عكرمة عن بن عباس قال دخل رسول الله صلى الله عليه وآله وسلم المخرج ثم خرج فإذا تور مغطى فقال: "من صنع هذا؟ " قال عبد الله فقلت: أنا، فقال: "اللهم علمه تأويل القرآن ".

--------------------------------------------

1 وقيل سنة 73.

18- تهذيب الكمال: 2/ 698. تهذيب التهذيب: 5/ 276 "474". تقريب التقريب: 1/ 425 "404". خلاصة تهذيب الكمال: 2/ 69، 172. الكاشف: 2/ 100. تاريخ البخاري الكبير: 2/ 3، 5/ 3، 7/ 2. الجرح والتعديل: 5/ 116. الثقات: 3/ 207. أسد الغابة: 3/ 290. الحلية: 1/ 314، 329. البداية والنهاية: 8/ 295. تجريد: 1/ 320. الإصابة: 1/ 322، 4/ 131. الاستيعاب: 3/ 933. طبقات ابن سعد: 9/ 118، 119. الوافي بالوفيات: 17/ 231. أسماء الصحابة الرواة: ت5.
মুহাম্মদ ইবনে সুকা আবু জাফর মুহাম্মদ ইবনে আলী থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম থেকে কোনো হাদিস শোনার পর তাতে কোনো কিছু বৃদ্ধি না করা বা তা থেকে কোনো কিছু হ্রাস না করার ব্যাপারে সাহাবীদের মধ্যে ইবনে উমরের চেয়ে বেশি সতর্ক আর কেউ ছিলেন না।

হাম্মাদ ইবনে যাইদ হিশাম ইবনে হাসসান থেকে এবং তিনি মুহাম্মদ থেকে বর্ণনা করেন যে, হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ ভাষণ দিতে গিয়ে বললেন: ইবনুল জুবাইর আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করে ফেলেছেন। তখন ইবনে উমর দাঁড়িয়ে বললেন: তুমি মিথ্যা বলেছ। আল্লাহর কালাম পরিবর্তন করার ক্ষমতা ইবনুল জুবাইরের ছিল না এবং তোমারও নেই। হাজ্জাজ বললেন: আপনি একজন বৃদ্ধ মানুষ, আপনার মতিভ্রম হয়েছে, বসুন। তিনি বললেন: তুমি যদি পুনরায় এমন বলো, তবে আমিও পুনরায় এর প্রতিবাদ করব।

ইমরান ইবনে হুদাইর আবু মিজলাজ থেকে বর্ণনা করেন যে, আমি ইবনে উমরের কাছে উপস্থিত ছিলাম এবং মানুষ তাকে নানা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছিল। তখন তিনি বললেন: তোমরা আমাকে ছেড়ে দাও, আমাকে ছেড়ে দাও; কেননা আমি এমন ব্যক্তিদের সাথে ছিলাম যারা আমার চেয়ে বেশি ফকীহ ছিলেন। আমি যদি জানতাম যে আমি এমন সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকব যখন মানুষেরা আমার মুখাপেক্ষী হবে, তবে আমি তোমাদের জন্য আরও বেশি জ্ঞান অর্জন করতাম।

ইবনে উমর চুয়াত্তর হিজরি সালের শুরুর দিকে ইন্তেকাল করেন (১) এবং তিনি ছিলেন উম্মুল মুমিনিন হাফসা রাদিয়াল্লাহু আনহার আপন ভাই। জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যাকে দুনিয়া তার দিকে আকর্ষণ করেনি অথবা সে দুনিয়ার প্রতি ঝুঁকে পড়েনি, একমাত্র আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা ব্যতীত।

১৮- ১৮/ ১আইন- আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা; তিনি ছিলেন ইমাম, ইলমের সমুদ্র, যুগের শ্রেষ্ঠ আলেম, আবু আব্বাস হাশেমি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লামের চাচাতো ভাই এবং খলিফাদের পিতা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম যখন ইন্তেকাল করেন তখন আবদুল্লাহর বয়স ছিল তেরো বছর। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জন্য দোয়া করেছিলেন যেন আল্লাহ তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন এবং তাকে কুরআনের ব্যাখ্যা শিক্ষা দেন।

খালিদ আল-হাদ্দা ইকরিমাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিলেন এবং আমার জন্য হিকমতের দোয়া করেছিলেন।

আবু আসিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শাবিব ইবনে বিশর থেকে এবং তিনি ইকরিমাহ থেকে এবং তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি ওয়া সাল্লাম শৌচাগারে প্রবেশ করলেন। এরপর যখন বের হলেন তখন সেখানে একটি ঢাকা দেওয়া পাত্র দেখতে পেলেন। তিনি বললেন: "এটি কে রেখেছে?" আবদুল্লাহ বলেন, আমি বললাম: আমি। তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহ, তাকে কুরআনের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিন।"

--------------------------------------------

১. মতান্তরে ৭৩ হিজরি।

১৮- তাহজিবুল কামাল: ২/৬৯৮। তাহজিবুত তাহজিব: ৫/২৭৬ "৪৭৪"। তাকরিবুত তাকরিব: ১/৪২৫ "৪০৪"। খুলাসা তাহজিবিল কামাল: ২/৬৯, ১৭২। আল-কাশিফ: ২/১০০। তারিখুল বুখারি আল-কাবির: ২/৩, ৫/৩, ৭/২। আল-জারহু ওয়াত তাদিল: ৫/১১৬। আস-সিকাত: ৩/২০৭। উসদুল গাবাহ: ৩/২৯০। আল-হিলয়াহ: ১/৩১৪, ৩২৯। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া: ৮/২৯৫। তাজরিদ: ১/৩২০। আল-ইসাবাহ: ১/৩২২, ৪/১৩১। আল-ইসতিআব: ৩/৯৩৩। তাবাকাত ইবনে সাদ: ৯/১১৮, ১১৯। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: ১৭/২৩১। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ত ৫।
(খণ্ড: ١) তাযকিরাতুল হুফফাজ = তাবাকাতুল হুফফাজ লিয-যাহাবী (পৃষ্ঠা: ٣٤)
الأعمش عن أبي الضحى عن مسروق قال بن مسعود: نعم ترجمان القرآن ابن عباس لو أدرك أسناننا ما عاشره منا أحد.

الأعمش عن أبي وائل استعمل على ابن عباس على الحج فخطب يومئذ خطبة لو سمعها الترك والروم لأسلموا ثم قرأ عليهم سورة النور فجعل يفسرها.

المدائني عن نعيم بن حفص قال أبو بكر: قدم بن عباس علينا البصرة وما في العرب مثله جسما وعلما وبيانا وجمالا وكمالا.

عبد الرزاق عن معمر قال: عامة علم ابن عباس من ثلاثة: عمر وعلي وأبي بن كعب رضي الله عنهم.

أبو بكر بن عياش عن محمد بن عمرو عن أبي سلمة عن بن عباس قال: كنت أسمع بالرجل عنده، الحديث، فآتيه فأجلس حتى يخرج فأسأله ولو شئت أن أستخرجه لفعلت.

زائدة أنا عبد الرحمن بن عبد الله بن الأصبهاني أنا عبد الله بن شداد قال قال لي بن عباس: يا ابن شداد ألا تعجب؟ جاءني الغلام وقد أخذت مضجعي للقيلولة فقال: هذا رجل بالباب يستأذن، فقلت ما جاء به إلا حاجة، إيذن له قال فدخل فقال ألا تخبرنى عن ذاك الرجل؟ قلت أي رجل؟ قال علي بن أبي طالب متى يبعث؟ قلت: سبحان الله، إذا بعث من في القبور، فقال، ألا أراك تقول كما يقول هؤلاء الحمقى، فقلت أخرجوه أو لأضربنه.

معمر عن قتادة عن مطرف سمعت بن عباس يقول: مذاكرة العلم ساعة خير من إحياء ليلة.

توفي ابن عباس بالطائف في سنة ثمان وستين فصلى عليه محمد بن الحنفية وقال: اليوم مات ربانى هذه الأمة رضي الله عنه.

19- 19/ 1ع- عبد الله بن عمرو بن العاص العالم الربانى رضي الله عنهما أبو محمد

--------------------------------------------

19- تهذيب الكمال: 2/ 716. تهذيب التهذيب: 5/ 337 "575". تقريب التهذيب: 1/ 436 "502". خلاصة تهذيب الكمال: 2/ 83. الكاشف: 2/ 113. تاريخ البخاري الكبير: 5/ 5. تاريخ البخاري الصغير: 1/ 124، 239. الجرح والتعديل: 5/ 116. الثقات: 3/ 210. أسد الغابة: 3/ 349. تجريد أسماء الصحابة: 1/ 326. الإصابة: 4/ 192. الاستيعاب: "3، 4" 956". الوافي بالوفيات: 17/ 380. طبقات ابن سعد: 9/ 120 والفهرس. الأنساب 7/ 317. سير الأعلام: 3/ 79. أسماء الصحابة الرواة: ت9.
আমাশ আবু দুহা থেকে, তিনি মাসরূক থেকে বর্ণনা করেন, ইবনে মাসউদ (রা.) বলেছেন: ইবনে আব্বাস কুরআনের কতই না চমৎকার ব্যাখ্যাকারী! তিনি যদি আমাদের সমবয়সী হতেন, তবে আমাদের মধ্যে কেউ তাঁর সমকক্ষ হতে পারত না।

আমাশ আবু ওয়াইল থেকে বর্ণনা করেন, ইবনে আব্বাসকে হজ্জের আমীর নিযুক্ত করা হয়েছিল। সেদিন তিনি এমন এক খুতবা প্রদান করেন যে, যদি তুর্কি ও রোমানরা তা শুনত, তবে তারা ইসলাম গ্রহণ করত। এরপর তিনি তাঁদের সামনে সূরা আন-নূর তিলাওয়াত করেন এবং এর ব্যাখ্যা করতে শুরু করেন।

মাদায়েনি নুয়াইম ইবনে হাফস থেকে বর্ণনা করেন, আবু বকর বলেছেন: ইবনে আব্বাস আমাদের কাছে বসরায় আসলেন; তখন আরবদের মাঝে দৈহিক গঠন, জ্ঞান, প্রাঞ্জলতা, সৌন্দর্য এবং পূর্ণতায় তাঁর মতো আর কেউ ছিল না।

আবদুর রাজ্জাক মা’মার থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাসের অধিকাংশ জ্ঞান অর্জিত হয়েছে তিনজনের কাছ থেকে: উমর, আলী এবং উবাই ইবনে কাব (রাদিয়াল্লাহু আনহুম)।

আবু বকর ইবনে আইয়াশ মুহাম্মদ ইবনে আমর থেকে, তিনি আবু সালামাহ থেকে, তিনি ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমি যখন শুনতাম কোনো ব্যক্তির কাছে একটি হাদিস আছে, তখন আমি তার কাছে আসতাম এবং সে বের না হওয়া পর্যন্ত তাঁর দরজায় বসে থাকতাম, অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করতাম। আমি যদি তাকে ডেকে বের করে আনতে চাইতাম, তবে অবশ্যই তা পারতাম।

যাইদাহ আবদুর রহমান বিন আবদুল্লাহ বিন আল-আসবাহানি থেকে, তিনি আবদুল্লাহ বিন শাদ্দাদ থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: ইবনে আব্বাস আমাকে বললেন: হে ইবনে শাদ্দাদ, তুমি কি আশ্চর্য হবে না? আমি যখন দ্বিপ্রহরের বিশ্রামের জন্য শুয়েছিলাম, তখন এক বালক এসে বলল: দরজায় এক ব্যক্তি অনুমতি চাচ্ছে। আমি বললাম, কোনো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া সে আসেনি, তাকে অনুমতি দাও। ইবনে আব্বাস বলেন, সে প্রবেশ করল এবং বলল: আপনি কি আমাকে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে সংবাদ দেবেন না? আমি বললাম, কোন ব্যক্তি? সে বলল, আলী ইবনে আবি তালিব—কবে তাঁকে পুনরুত্থিত করা হবে? আমি বললাম: সুবহানাল্লাহ! যখন কবরের বাসিন্দাদের পুনরুত্থিত করা হবে। তখন সে বলল, আমি কি আপনাকে ঐসব নির্বোধদের মতো কথা বলতে দেখছি না? তখন আমি বললাম: একে বের করে দাও, নতুবা আমি একে প্রহার করব।

মা’মার কাতাদাহ থেকে, তিনি মুতাররিফ থেকে বর্ণনা করেন, আমি ইবনে আব্বাসকে বলতে শুনেছি: এক মুহূর্ত ইলম নিয়ে আলোচনা করা সারা রাত ইবাদতে কাটিয়ে দেওয়ার চেয়ে উত্তম।

৬৮ হিজরি সনে ইবনে আব্বাস তায়েফে ইন্তেকাল করেন। মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়্যাহ তাঁর জানাযার সালাত পড়ান এবং বলেন: আজ এই উম্মতের রাব্বানী আলেম মৃত্যুবরণ করলেন (রাদিয়াল্লাহু আনহু)।

১৯- ১৯/ ১আ- আবদুল্লাহ বিন আমর বিন আল-আস, রাব্বানী আলেম (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা), আবু মুহাম্মদ।

--------------------------------------------

১৯- তাহযীবুল কামাল: ২/৭১৬। তাহযীবুত তাহযীব: ৫/৩৩৭ "৫৭৫"। তাকরীবুত তাহযীব: ১/৪৩৬ "৫০২"। খুলাসাতু তাহযীবিল কামাল: ২/৮৩। আল-কাশিফ: ২/১১৩। তারিখুল বুখারি আল-কাবীর: ৫/৫। তারিখুল বুখারি আস-সাগীর: ১/১২৪, ২৩৯। আল-জারহু ওয়াত তা'দীল: ৫/১১৬। আস-সিকাত: ৩/২১০। আসাদুল গাবাহ: ৩/৩৪৯। তাজরীদু আসমাউস সাহাবাহ: ১/৩২৬। আল-ইসাবাহ: ৪/১৯২। আল-ইসতিয়াব: "৩, ৪/৯৫৬"। আল-ওয়াফি বিল ওয়াফায়াত: ১৭/৩৮০। তাবাকাত ইবনে সাদ: ৯/১২০ এবং নির্ঘণ্ট। আল-আনসাব ৭/৩১৭। সিয়ারু আলামিন নুবালা: ৩/৭৯। আসমাউস সাহাবাহ আর-রুওয়াত: ত৯।