(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: -)
سبعون حديثا في الجهاد (ابن بطة)
القسم: كتب السنة
الكتاب: سبعون حديثاً في الجهاد
المؤلف: أبو عبد الله عبيد الله بن محمد بن محمد بن حمدان العُكْبَري المعروف بابن بَطَّة العكبري (ت 387هـ)
دراسة وتحقيق: يسري عبد الغني البشري
الناشر: مكتبة القرآن، القاهرة
عدد الصفحات: 78
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431
জিহাদ বিষয়ক সত্তরটি হাদিস (ইবনে বাত্তাহ)
বিভাগ: সুন্নাহর কিতাবসমূহ
কিতাব: জিহাদ বিষয়ক সত্তরটি হাদিস
লেখক: আবু আব্দুল্লাহ উবাইদুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন হামদান আল-উকবরি, যিনি ইবনে বাত্তাহ আল-উকবরি নামে পরিচিত (মৃত্যু ৩৮৭ হিজরি)
গবেষণা ও তাহকিক: ইউসরি আব্দুল গনি আল-বিশরি
প্রকাশক: মাকতাবাতুল কুরআন, কায়রো
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭৮
[কিতাবের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে মিল রয়েছে]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২২)
كتاب الجهاد أوسبعون حديثاً في الجهادالفصل الأولالجهاد وتأكيد وجوبهعن أنس بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {لغدوة في سبيل الله، أو روحة خير من الدنيا وما فيها..} .ولها من حديث سهل بن سعد نحوه.ولمسلم والنسائي من حديث أبي أيوب مثله، لكن قال: {.. خير مما طلعت عليه الشمس أو غربت} .
জিহাদ অধ্যায় অথবা জিহাদ সংক্রান্ত সত্তরটি হাদিসপ্রথম পরিচ্ছেদজিহাদ এবং এর অপরিহার্যতার গুরুত্বারোপআনাস ইবনে মালিক (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {এক সকাল আল্লাহর পথে, অথবা এক বিকেল অতিবাহিত করা দুনিয়া এবং এর মধ্যে যা কিছু আছে তার চেয়ে উত্তম...}।আর ইমাম বুখারি ও মুসলিমের নিকট সাহল ইবনে সা'দ বর্ণিত হাদিসেও অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে।আর মুসলিম ও নাসাঈর নিকট আবু আইয়ুব বর্ণিত হাদিসেও এর অনুরূপ রয়েছে, তবে তিনি বলেছেন: {.. তা ঐ সবকিছুর চেয়ে উত্তম যার ওপর সূর্য উদিত হয় অথবা অস্ত যায়}।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৩)
في سبيل اللهوعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {تضمن الله لمن خرج في سبيله لا يخرجه إلا جهاداً في سبيلي، وإيماناً بي، وتصديقاً برسلي فهو على ضامن أن أدخله الجنة، أو أرجعه إلى مسكنه الذي خرج منه نائلاً ما نال من أجر أو غنيمة، والذي نفس محمد بيده: ما من كلم يكلم في سبيل الله إلا جاء يوم القيامد كهيئته حين كلم لونه لون الدم، وريحه مسك، والذي نفس محمد بيده لولا أن يشق على المسلمين ما قعدت خلاف سرية تغزو في سبيل الله أبداً، ولكن لا أجد سعة فأحملهم ولا يجدون سعة، ويشق عليهم أن يتخلفوا عني، والذي نفس محمد بيده لوددت أني أغزو في سبيل الله فأقتل، ثم أغزو فأقتل، ثم أغزو فأقتل} . الشهيد من يكون؟!عن أبي مالك الأشعري رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم: {من فصل في سبيل الله فمات أو قتل فهو شهيد، أو وقصه فرسه أو
আল্লাহর পথেআবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {আল্লাহ ওই ব্যক্তির জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যে তাঁর পথে বের হয়—যাকে কেবলমাত্র আমার পথে জিহাদ, আমার প্রতি ঈমান এবং আমার রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাসই বের করেছে—সে আল্লাহর জিম্মায় রয়েছে যে, তিনি তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন অথবা সে যে সওয়াব বা গনিমত লাভ করেছে তা-সহ তাকে তার সেই আবাসে ফিরিয়ে দেবেন যেখান থেকে সে বের হয়েছিল। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ! আল্লাহর পথে যে কোনো জখমই পাওয়া হোক না কেন, কিয়ামতের দিন তা ঠিক সেই অবস্থায় আসবে যেভাবে তা জখম হওয়ার সময় ছিল; তার রঙ হবে রক্তের রঙের মতো, আর তার ঘ্রাণ হবে কস্তুরীর সুগন্ধির মতো। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ! যদি মুসলিমদের ওপর কষ্টকর হওয়ার ভয় না থাকত, তবে আল্লাহর পথে যুদ্ধযাত্রাকারী কোনো ক্ষুদ্র সেনাদলের পেছনে আমি কখনোই বসে থাকতাম না। কিন্তু আমি তাদের জন্য পর্যাপ্ত বাহনের ব্যবস্থা করতে পারছি না এবং তাদেরও সেই সামর্থ্য নেই, আর আমার পেছনে থেকে যাওয়াটা তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। যাঁর হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ তাঁর শপথ! আমি অবশ্যই কামনা করি যে আমি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করি ও নিহত হই, পুনরায় যুদ্ধ করি ও নিহত হই, পুনরায় যুদ্ধ করি ও নিহত হই।} শহীদ কে?!আবু মালেক আল-আশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বের হলো, অতঃপর মৃত্যুবরণ করল অথবা নিহত হলো, সে শহীদ; অথবা তার ঘোড়া তাকে নিচে ফেলে পিষ্ট করল কিংবা...}
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৪)
بعيره، أو لدغته هامة، أو مات على فراشه أو بأي حتف شاء الله، فإنه شهيد، وإن له الجنة} . من أجل رضاء اللهعن ابن عمر رضي الله عنهما عن النبي صلى الله عليه وسلم فيما يحكيه عن ربه قال: {أيما عبد من عبادي خرج مجاهداً في سبيل الله ابتغاء مرضاتي ضمنت له أن أرجعه، إن أرجعته بما أصاب من أجر أو غنيمة، وإن قبضته غفرت له ورحمته} . هيا نغبر الأقدام في طريق اللهعن عبد الرحمن بن جبر، رضي الله عنه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {ما اغبرت قدما عبد في سبيل الله فتمسه النار} .أو: {من اغبرت قدماه في سبيل الله فهما حرام على النار} . وحرمت عليه الناروعن عائشة رضي الله عنها قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: {ما خالط قلب امرئ رهج في سبيل الله إلا حرم الله عليه النار} .
...তার উট [থেকে পড়ে], অথবা বিষধর প্রাণীর দংশনে, অথবা তার বিছানায় মৃত্যু বরণ করে কিংবা আল্লাহ যেভাবে চান সেভাবে মৃত্যুবরণ করে, তবে সে শহীদ এবং তার জন্য জান্নাত রয়েছে।} . আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যেইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর রব থেকে যা বর্ণনা করেছেন তাতে তিনি বলেন: {আমার বান্দাদের মধ্যে যে কেউ আমার সন্তুষ্টির অন্বেষণে আল্লাহর পথে মুজাহিদ হিসেবে বের হয়, আমি তার জিম্মাদার হই যে তাকে ফিরিয়ে আনব—যদি আমি তাকে ফিরিয়ে আনি তবে সওয়াব বা গণিমত সহকারে ফিরিয়ে আনব, আর যদি আমি তার জান কবজ করি তবে আমি তাকে ক্ষমা করে দেব এবং তার প্রতি রহমত করব।} . এসো আল্লাহর পথে পা ধূলিধূসরিত করিআবদুর রহমান ইবনে জাবর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {আল্লাহর পথে কোনো বান্দার দুই পা ধূলিধূসরিত হলে তাকে জাহান্নামের আগুন স্পর্শ করবে না।} .অথবা: {যার দুই পা আল্লাহর পথে ধূলিধূসরিত হয়েছে, সেই দুই পা জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম।} . এবং তার ওপর জাহান্নাম হারাম করা হয়েছেআয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: {আল্লাহর পথে কোনো ব্যক্তির অন্তরে যুদ্ধের ধুলোবালি প্রবেশ করলে আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন।} .
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৫)
أي الناس أفضلوعن أبي سعيد الخدري رضي الله عنه، قال: أتى رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: أي الناس أفضل؟ قال: {مؤمن يجاهد بنفسه وبماله في سبيل الله تعالى} ، قال: ثم من؟ قال: {ثم مؤمن في شعب من الشعاب يعبد الله، ويدع الناس من شره} .وفي رواية … أي المؤمنين أكلم غيماناً؟ قال: {الذي يجاهد بنفسه..} الحديث نحوه، وقال في آخره: {وقد كفى الناس شره} . الذي يعدل الجهاد والمجاهدعن أبي هريرة رضي الله عنه قال: قيل: يا رسول الله، ما يعدل الجهاد في سبيل الله؟ قال: {لا تستطيعونه} فأعادوا عليه مرتين أو ثلاثاً، كل ذلك يقول: {لا تستطيعونه} ، ثم قال: {مثل المجاهد في سبيل الله كمثل
মানুষের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠআবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল: মানুষের মধ্যে শ্রেষ্ঠ কে? তিনি বললেন: {সেই মুমিন ব্যক্তি, যে আল্লাহর পথে নিজের জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করে।} সে জিজ্ঞাসা করল: তারপর কে? তিনি বললেন: {অতঃপর ওই মুমিন ব্যক্তি, যে কোনো এক পাহাড়ি উপত্যকায় আল্লাহর ইবাদত করে এবং মানুষকে নিজের অনিষ্ট থেকে নিরাপদ রাখে।}অন্য এক বর্ণনায় এসেছে … মুমিনদের মধ্যে কার ঈমান সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ? তিনি বললেন: {যে নিজের জান দিয়ে জিহাদ করে..} হাদিসটি অনুরুপ, এবং এর শেষে বলা হয়েছে: {এবং সে মানুষকে নিজের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে।} যা জিহাদ ও মুজাহিদের সমতুল্যআবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: জিজ্ঞাসা করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর পথে জিহাদের সমতুল্য আমল কোনটি? তিনি বললেন: {তোমরা তা করতে সক্ষম হবে না।} তারা দুই বা তিনবার এটি পুনরায় জিজ্ঞাসা করল, প্রতিবারই তিনি বললেন: {তোমরা তা করতে সক্ষম হবে না।} অতঃপর তিনি বললেন: {আল্লাহর পথে জিহাদকারীর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির ন্যায়-
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৬)
الصائم القائم القانت بآيات الله لا يفتر من صلاة ولا صيام حتى يرجع المجاهد في سبيل الله} . مائة درجة للمجاهد في الجنةعن أبي هريرة رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {إن في الجنة مائة درجة أعدها الله للمجاهدين في سبيل الله، ما بين الدرجتين كما بين السماء والأرض} . الله ربنا والإسلام ديننا ومحمد رسولناعن أبي سعيد رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {من رضي بالله ربا، وبالإسلام ديناً، وبمحمد صلى الله عليه وسلم رسولاً، وجبت له الجنة} .فعجب لها أبو سعيد، فقال: أعدها يا رسول الله؟ فأعادها عليه ثم قال: {وأخرى يرفع الله بها للعبد مائة درجة في الجنة ما بين كل درجتين كما بين السماء والأرض} . قال: وما هي يا رسول الله؟ قال: {الجهاد في سبيل الله} . وحرم على وجهه النارروى عن عمرو بن عبسة عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: {من قاتل في
সেই রোযাদার, দণ্ডায়মান ইবাদতকারী এবং আল্লাহর আয়াত পাঠকারীর মতো যে নামায ও রোযা থেকে বিরত হয় না, যতক্ষণ না আল্লাহর পথে জিহাদকারী ফিরে আসে।} । জান্নাতে মুজাহিদের জন্য একশটি স্তরআবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {নিশ্চয়ই জান্নাতে একশটি স্তর রয়েছে যা আল্লাহ আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন; প্রতিটি দুই স্তরের মধ্যবর্তী দূরত্ব আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়} । আল্লাহ আমাদের রব, ইসলাম আমাদের দ্বীন এবং মুহাম্মদ আমাদের রাসূলআবু সাঈদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে রাসূল হিসেবে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট হয়েছে, তার জন্য জান্নাত অবধারিত হয়ে গিয়েছে} ।এতে আবু সাঈদ বিস্মিত হলেন এবং বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! এটি আমার নিকট পুনরায় ব্যক্ত করুন। তখন তিনি তা পুনরায় বললেন এবং অতঃপর বললেন: {এবং অন্য একটি বিষয় রয়েছে যার মাধ্যমে আল্লাহ জান্নাতে বান্দার জন্য একশটি স্তর বৃদ্ধি করে দেন, যার প্রতিটি দুই স্তরের ব্যবধান আসমান ও যমীনের মধ্যবর্তী দূরত্বের ন্যায়} । তিনি বললেন: সেটি কী হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেন: {আল্লাহর পথে জিহাদ} । তার চেহারার জন্য জাহান্নাম হারাম করা হয়েছেআমর ইবনে আবাসা থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে যুদ্ধ করবে...
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৭)
سبيل الله فواق ناقة حرم الله على وجهه النار} . أبواب الجنة تحت ظلال السيوفعن أبي بكر موسى الأشعري قال: سمعت أبي وهو بحضرة العدو يقول: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {إن أبواب الجنة تحت ظلال السيوف} ، فقام رجل رث الهيئة، فقال: يا أبا موسى أنت سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول هذا؟ قال: نعم، فرجع إلى أصحابه فقال: أقرأ عليكم السلام. ثم كسر جفن سيفه فألقاه، ثم مشى بسيفه إلى العدو فضرب به حتى قتل. ساعتانعن سهل بن سعد رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
আল্লাহর পথে একটি মাদি উট দোহনের মধ্যবর্তী সময়টুকু অবস্থানকারীর ওপর আল্লাহ জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিয়েছেন।} . জান্নাতের দরজাসমূহ তরবারির ছায়ার নিচেআবু বকর ইবনে আবু মুসা আল-আশআরী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি শত্রুর উপস্থিতিতে আমার পিতাকে বলতে শুনেছি যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {নিশ্চয়ই জান্নাতের দরজাসমূহ তরবারির ছায়ার নিচে}। তখন জীর্ণবেশধারী এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললেন: হে আবু মুসা, আপনি কি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এটি বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন: হ্যাঁ। অতঃপর সেই ব্যক্তি তাঁর সঙ্গীদের কাছে ফিরে গিয়ে বললেন: আমি তোমাদের সালাম জানাচ্ছি। এরপর তিনি তাঁর তরবারির খাপটি ভেঙে ফেলে দিলেন এবং তরবারি নিয়ে শত্রুর দিকে অগ্রসর হলেন। অতঃপর তিনি তা দিয়ে লড়াই করতে থাকলেন যতক্ষণ না তিনি নিহত হলেন। দুটি সময়সাহল ইবনে সাদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ২৮)
{ساعات تفتح فيهما أبواب السماء، وقلما ترد على داع دعوته: عند حضور النداء للصلاة، والصف في سبيل الله} .وفي رواية: {ثنتان لا تردان، أو قلما تردان: الدعاء عند النداء، وعند البأس حين يلحم بعضهم بعضاً} .وفي رواية ثالثة: {ساعتان لا ترد على داع دعوته: حين تقام الصلاة، وفي الصف في سبيل الله} .
{এমন দুটি সময় রয়েছে যখন আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং খুব কমই কোনো দুআকারীর দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয়: নামাজের আজানের সময় এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধের সারিবদ্ধ অবস্থায়।} .অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে: {দুটি দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না অথবা খুব কমই ফিরিয়ে দেওয়া হয়: আজানের সময়ের দুআ এবং যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তের দুআ যখন একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে পড়ে (তীব্র লড়াই শুরু হয়)।} .তৃতীয় একটি বর্ণনায় রয়েছে: {এমন দুটি সময় রয়েছে যখন কোনো দুআকারীর দুআ ফিরিয়ে দেওয়া হয় না: যখন নামাজের ইকামত প্রদান করা হয় এবং আল্লাহর পথে যুদ্ধের সারিবদ্ধ অবস্থায়।} .
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩০)
الفصل الثانيإخلاص النية في الجهادعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رجلاً قال: يا رسول الله صلى الله عليه وسلم، رجل يريد الجهاد، وهو يريد عرضاً من الدنيا؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {لا أجر له} . فأعظم ذلك الناس؛ فقالوا للرجل: عد لرسول الله فلعلك لم تفهمه، فعاد الرجل، فأعاد كلامه، فقال: {لا أجر له} . حتى فعلوا ذلك ثلاث مرات. ولتكن كلمة الله هي العلياعن أبي موسى الأشعري: أن أعرابياً أتى النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، الرجل يقاتل للمغنم، والرجل يقاتل ليذكر، والرجل يقاتل ليرى مكانه؛ فمن في سبيل الله؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {من قاتل لتكون كلمة الله هي العليا فهو في سبيل الله} . الأعمال دائماً بالنياتعن عمر بن الخطاب قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: {إنما الأعمال بالنية، وإنما لكل امرئ ما نوى، فمن كانت هجرته إلى الله
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদজিহাদে নিয়তের বিশুদ্ধতাআবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম), এক ব্যক্তি জিহাদ করতে চায়, অথচ সে পার্থিব কোনো তুচ্ছ সম্পদও আকাঙ্ক্ষা করে? তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: {তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই}। এতে লোকজন অত্যন্ত বিচলিত বোধ করল এবং লোকটিকে বলল: তুমি আল্লাহর রাসূলের কাছে পুনরায় যাও, সম্ভবত তুমি তাকে সঠিকভাবে বুঝতে পারোনি। তখন লোকটি ফিরে গেল এবং পুনরায় একই কথা বলল। তিনি বললেন: {তার জন্য কোনো প্রতিদান নেই}। তারা এভাবে তিনবার করল। যাতে আল্লাহর বাণীই হয় সুউচ্চআবু মুসা আল-আশআরি থেকে বর্ণিত: এক গ্রাম্য আরব নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল: হে আল্লাহর রাসূল, কোনো ব্যক্তি গনিমতের মাল লাভের জন্য যুদ্ধ করে, কেউ খ্যাতির জন্য যুদ্ধ করে, আবার কেউ তার বীরত্ব ও অবস্থান দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে; তবে এদের মধ্যে কে আল্লাহর পথে? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর বাণীকে সুউচ্চ করার লক্ষ্যে যুদ্ধ করে, সে-ই আল্লাহর পথে রয়েছে}। আমলসমূহ সর্বদা নিয়তের ওপর নির্ভরশীলউমর ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: {নিশ্চয়ই আমলসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল, আর প্রত্যেক ব্যক্তি তা-ই পাবে যা সে নিয়ত করেছে। সুতরাং যার হিজরত আল্লাহর দিকে...
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩১)
ورسوله فهجرته إلى الله ورسوله، ومن كانت هجرته إلى دنيا يصيبها، أو امرأة ينكحها فهجرته إلى ما هاجر إليه} . أجر الغزوة والسريةعن عبد الله بن عمرو بن العاص قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {ما من غازية، أو سرية تغزو في سبيل الله يسلمون ويصيبون إلا تعجلوا ثلثي أجرهم، وما من غازية، أو سرية تخفق وتخوف، وتصاب إلا تم أجرهم} .وفي رواية: {وما من غازية، أو سرية تغزو في سبيل الله، فيصيبون الغنيمة إلا تعجلوا ثلثي أجرهم من الآخرة، ويبقى لهم الثلث وإن لم يصيبوا غنيمة تم لهم أجرهم} .
এবং তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে, তবে তার হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত পার্থিব কোনো সুবিধা অর্জনের জন্য যা সে লাভ করতে চায়, কিংবা কোনো নারীকে বিবাহ করার উদ্দেশ্যে হয়, তবে তার হিজরত সেই বিষয়ের জন্যই গণ্য হবে যার উদ্দেশ্যে সে হিজরত করেছে।} . গাযওয়া ও সারিয়্যাহর প্রতিদানআবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {যখনই কোনো বড় বাহিনী অথবা ক্ষুদ্র সেনাদল আল্লাহর পথে যুদ্ধে যায় এবং তারা নিরাপদে ফিরে আসে ও গনীমত লাভ করে, তবে তারা তাদের প্রতিদানের দুই-তৃতীয়াংশ দুনিয়াতেই অগ্রিম গ্রহণ করে নিল। আর যখনই কোনো বড় বাহিনী অথবা ক্ষুদ্র সেনাদল ব্যর্থ হয় এবং বিপদগ্রস্ত হয়, তখন তাদের প্রতিদান পূর্ণ হয়।} .অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: {যখনই কোনো বড় বাহিনী অথবা ক্ষুদ্র সেনাদল আল্লাহর পথে যুদ্ধে যায় এবং তারা গনীমত লাভ করে, তবে তারা আখেরাতের প্রতিদানের দুই-তৃতীয়াংশ অগ্রিম গ্রহণ করে নিল এবং তাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট রইল। আর যদি তারা গনীমত লাভ না করে, তবে তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে বজায় থাকে।} .
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৩)
الفصل الثالثالنفقة في سبيل اللهعن خزيم بن فاتك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {من أنفق نفقة في سبيل الله كتبت بسبعمائة ضعف} . الذي جهز فقد غزاعن زيد بن خالد الجهني رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {من جهز غازياً في سبيل الله فقد غزا، ومن خلف غازياً في أهله بخير فقد غزا} .وفي رواية: {كتب الله له مثل أجره حتى أنه لا ينقص من أجر الغازي شيء} وفي رواية: {فله مثل أجره..} .
তৃতীয় পরিচ্ছেদআল্লাহর পথে ব্যয়খুযাইম ইবনে ফাতিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোনো কিছু ব্যয় করবে, তার জন্য তা সাতশ গুণ বাড়িয়ে লেখা হবে।}। যিনি সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিলেন তিনি যুদ্ধ করলেনযায়েদ ইবনে খালিদ আল-জুহানি রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: {যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোনো যোদ্ধার যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দিল, সে অবশ্যই যুদ্ধ করল; আর যে ব্যক্তি কোনো যোদ্ধার অনুপস্থিতিতে তার পরিবারের উত্তমরূপে দেখাশোনা করল, সেও অবশ্যই যুদ্ধ করল।}।অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: {আল্লাহ তার জন্য সেই যোদ্ধার অনুরূপ সওয়াব লিখে দেন, এমনকি সেই যোদ্ধার সওয়াব থেকেও সামান্যতম হ্রাস করা হয় না।} অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে: {তার জন্য তার অনুরূপ সওয়াব রয়েছে...}।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৫)
الفصل الرابعالرباط في سبيل اللهعن سهل بن سعد الساعدي. أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {رباط يوم في سبيل الله خير من الدنيا، وما فيها} . رباط اليوم والليلةعن سلمان قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: {رباط يوم وليلة خير من صيام شهر وقيامه، وإن مات فيه جرى عليه عمله الذي كان يعمل، وأجرى عليه رزقه، وأمن من الفتان} .وفي رواية زاد بعضهم: {وبعث يوم القيامة شهيداً} .
চতুর্থ অধ্যায়আল্লাহর পথে সীমান্ত পাহারা দেওয়াসহল ইবনে সাদ আস-সাঈদী থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {আল্লাহর পথে একদিন সীমান্ত পাহারা দেওয়া দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম।} একদিন ও একরাত সীমান্ত পাহারা দেওয়াসালমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি: {একদিন ও একরাত সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক মাস রোজা রাখা ও রাত জেগে ইবাদত করার চেয়ে উত্তম। আর যদি সে এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে, তবে সে যে আমল করত তা তার জন্য জারি থাকবে, তার রিজিক অব্যাহত রাখা হবে এবং সে কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকবে।}অন্য একটি বর্ণনায় কেউ কেউ বৃদ্ধি করেছেন: {এবং কিয়ামতের দিন সে শহীদ হিসেবে পুনরুত্থিত হবে।}
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৬)
المرابط لا يعرف فتنة القبروعن فضالة بن عبيد رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {كل ميت يختم على عمله إلا المرابط في سبيل الله فإنه ينمي له عمله إلى يوم
সীমান্তরক্ষী কবরের ফিতনার সম্মুখীন হয় নাফাদালাহ ইবনে উবাইদ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির আমল বন্ধ করে দেওয়া হয়, কেবল আল্লাহর পথে সীমান্তরক্ষীর আমল ব্যতীত; কেননা কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তার আমল তার জন্য বৃদ্ধি পেতে থাকে
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৭)
القيامة، ويأمن من فتنة القبر} .وزاد بعضهم في رواية: {والمجاهد من جاهد نفسه لله عز وجل} .
কিয়ামত, এবং কবরের ফিতনা হতে নিরাপদ থাকবে।এবং তাদের কেউ কেউ একটি বর্ণনায় যোগ করেছেন: {আর মুজাহিদ সেই ব্যক্তি যে মহান আল্লাহর জন্য নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে}।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৩৯)
الفصل الخامسالحراسة في سبيل اللهعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: {ألا أنبئكم بليلة أفضل من ليلة القدر؟ حارس حرس في أرض خوف لعله أن يجرع إلى أهله} . ليلة أفضل من ألف ليلةعن عثمان رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: {حرس ليلة في سبيل الله أفضل من ألف ليلة يقام ليلها، ويصام نهارها} .
পঞ্চম অধ্যায়আল্লাহর পথে পাহারাদারীআবদুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {আমি কি তোমাদের এমন এক রাত সম্পর্কে সংবাদ দেব না, যা লাইলাতুল কদর অপেক্ষা উত্তম? এক পাহারাদার, যে ভীতিসঙ্কুল জনপদে পাহারাদারী করে, যেন সে তার পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারে}। হাজার রাত অপেক্ষা উত্তম এক রাতউসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: {আল্লাহর পথে এক রাত পাহারাদারী করা এমন এক হাজার রাত অপেক্ষা উত্তম, যার রাতগুলোতে নফল নামাজ পড়া হয় এবং দিনগুলোতে রোজা রাখা হয়}।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪১)
الفصل السادساحتباس الخيل للجهادعن ابن عمر رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {الخيل معقود في نواصيها الخير إلى يوم القيامة} . الخيل والخيرعن عروة بن أبي الجعد رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: {الخيل معقود في نواصيها الخير: الأجر والمغنم إلى يوم القيامة} . البركة في نواصي الخيلوعن أنس رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {البركة في
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদজিহাদের জন্য ঘোড়া লালন-পালন করাইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {কিয়ামত পর্যন্ত ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বাঁধা রয়েছে।}। ঘোড়া এবং কল্যাণউরওয়াহ ইবনে আবিল জা’দ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {ঘোড়ার কপালে কল্যাণ বাঁধা রয়েছে: (আর তা হলো) কিয়ামত পর্যন্ত সওয়াব ও গনিমত।}। ঘোড়ার কপালে বরকতএবং আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {বরকত নিহিত রয়েছে
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪২)
نواصي الخيل} . اشتر فرساًعن عقبة بن عامر رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: {إذا أردت أن تغزو فاشتر فرساً أدهم أغر محجلاً مطلق المنى فإنك تغنم وتسلم} . الخيل الجيدعن أبي وهب رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {عليكم من الخيل بكل كميت أغر محجل أو أشقر أغر محجل أو أدهم أغر محجل} .
ঘোড়ার কপালের চুল। ঘোড়া ক্রয় করাউকবাহ বিন আমির (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {যখন তুমি যুদ্ধে যাওয়ার ইচ্ছা করবে, তখন কুচকুচে কালো, কপালে উজ্জ্বল সাদা তিলকযুক্ত এবং পায়ে সাদা চিহ্নবিশিষ্ট এমন ঘোড়া ক্রয় করো যার ডান পা শুভ্রতামুক্ত; তবেই তুমি গনিমত লাভ করবে এবং নিরাপদ থাকবে।} উত্তম ঘোড়াআবু ওয়াহাব (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: {তোমরা ঘোড়ার মধ্যে লালচে-কালো বর্ণের কপালে ও পায়ে সাদা চিহ্নবিশিষ্ট ঘোড়া, অথবা লাল বর্ণের কপালে ও পায়ে সাদা চিহ্নবিশিষ্ট ঘোড়া, অথবা কুচকুচে কালো বর্ণের কপালে ও পায়ে সাদা চিহ্নবিশিষ্ট ঘোড়া গ্রহণ করো।}
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৪)
الفصل السابعفي فضل الشهداءعن أنس رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: {ما أحد يدخل الجنة يحب أن يرجع إلى الدنيا، وإن له ما على الأرض من شيء إلا الشيهد؛ فإنه يتمنى أن يرجع إلى الدنيا فيقتل عشر مرات لما يرى من الكرامة} .وفي رواية: {لما يرى من فضل الشهادة} .
সপ্তম অধ্যায়শহীদগণের মর্যাদা প্রসঙ্গেআনাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: "জান্নাতে প্রবেশকারী এমন কেউ নেই যে দুনিয়াতে ফিরে আসতে পছন্দ করবে, যদিও পৃথিবীর সবকিছু তার হয়ে যায়; কেবল শহীদ ব্যতীত। কেননা সে (জান্নাতে) যে সম্মান ও মর্যাদা প্রত্যক্ষ করে, তার কারণে সে পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে গিয়ে দশবার শহীদ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে।"অন্য এক বর্ণনায় এসেছে: "শাহাদাতের যে মর্যাদা সে প্রত্যক্ষ করে, তার কারণে (সে পুনরায় দুনিয়াতে ফিরে গিয়ে শহীদ হতে চায়)।"
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৫)
لا ذنب للشهيدعن عبد الله بن عمرو بن العاص رضي الله عنهما: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {يغفر للشهيد كل ذنب غلا الدين} . ريح الجنةعن أنس رضي الله عنه قال: غاب عمى أنسُ بن النضر عن قتال بدر. فقال: يا رسول الله؛ غبت عن أول قتال قاتلت المشركين، لئن أشهدني الله قتال المشركين ليرين الله ما أصنع. فلما كان يوم أحد، وانكشف المسلمون فقال لهم: {اللهم أعتذر إليك مما صنع هؤلاء - يعني أصحابه - وأبرأ إليك مما صنع هؤلاء} - يعني المشركين - ثم تقدم فاستقبله سعد بن معاذ، فقال: {يا سعد بن معاذ الجنة ورب النضر إني أجد ريحها دون أحد} .
শহীদের কোনো গুনাহ নেইআব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত: নিশ্চয়ই রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "ঋণ ব্যতীত শহীদের প্রতিটি গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।" জান্নাতের সুঘ্রাণআনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার চাচা আনাস ইবনুন নাদর বদরের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের বিরুদ্ধে আপনার প্রথম যুদ্ধে আমি অনুপস্থিত ছিলাম। আল্লাহ যদি আমাকে মুশরিকদের বিরুদ্ধে কোনো যুদ্ধে উপস্থিত হওয়ার সুযোগ দান করেন, তবে আমি কী করি তা আল্লাহ অবশ্যই দেখবেন। অতঃপর যখন উহুদ যুদ্ধের দিন এলো এবং মুসলিমগণ ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়লেন, তখন তিনি বললেন: "হে আল্লাহ! এরা (অর্থাৎ তাঁর সাথীরা) যা করেছে আমি তার জন্য আপনার নিকট ওজর পেশ করছি এবং ওরা (অর্থাৎ মুশরিকরা) যা করেছে তা থেকে আমি আপনার নিকট দায়মুক্তি ঘোষণা করছি।" এরপর তিনি সামনে অগ্রসর হলেন এবং সাদ ইবনে মুআজের সাথে তাঁর দেখা হলো। তখন তিনি বললেন: "হে সাদ ইবনে মুআজ! নাদরের রবের কসম, জান্নাত! নিশ্চয়ই আমি উহুদের নিকটবর্তী স্থান থেকেই এর সুঘ্রাণ পাচ্ছি।"
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৬)
قال سعد: فما استطعت يا رسول الله ما صنع.قال أنس: فوجدنا به بضعاً وثمانين ضربة بالسيف، أو طعنة برمح، أو رمية بسهم، ووجدناه قد قتل، وقد مثل به المشركون، فما عرفه أحد إلا أخته ببناته، فقال أنس: كنا نرى أو نظن أن هذه الآية نزلت فيه، وفي أشباهه: (مِن المُؤمِنينَ رِجالٌ صَدَقوا ما عاهَدوا اللَهَ عَلَيهِ) . مازالت الملائكة تظله بأجنحتهاعن جابر بن عبد الله رضي الله عنهما قال: جيئ بأبي إلى النبي صلى الله عليه وسلم قد مثل به فوضع بين يديه، فذهبت أكشف عن وجهه، فنهاني قومي فسمع صوته صارخة فقيل: ابنة عمرو؟ أو أخت عمرو؟ فقال: {لم تبكي؟} أو قال: {لا تبكي، مازالت الملائكة تظله بأجنحتها} . وكلم الله أبا جابروعن جابر رضي الله عنه: أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لما جيئ بأبيه: {يا جابر ألا أخبرك ما قال الله لأبيك؟} قلت: بلى. قال: {ما كلم الله أحداً إلا من وراء حجاب، وكلم أباك كفاحاً، فقال: يا عبد الله، تمن
সাদ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! তিনি যা করেছেন তা করার সামর্থ্য আমার ছিল না।আনাস বললেন: আমরা তাঁর দেহে তলোয়ারের আঘাত, বর্শার খোঁচা অথবা তীরের জখম মিলিয়ে আশিরও বেশি চিহ্ন দেখতে পেলাম। আমরা তাঁকে মৃত অবস্থায় পেলাম এবং মুশরিকরা তাঁর দেহ বিকৃত করেছিল। তাঁর বোন তাঁর আঙুলের ডগা দেখে চেনা ছাড়া আর কেউ তাঁকে চিনতে পারেনি। আনাস বলেন: আমরা মনে করতাম বা ধারণা করতাম যে, এই আয়াতটি তাঁর এবং তাঁর মতো ব্যক্তিদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে: (মুমিনদের মধ্যে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে কৃত তাদের অঙ্গীকার সত্যে পরিণত করেছে)। ফেরেশতারা নিরন্তর তাদের ডানা দিয়ে তাঁকে ছায়া দিচ্ছিলজাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমার পিতাকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট আনা হলো, তাঁর দেহ বিকৃত করা হয়েছিল এবং তাঁকে তাঁর সামনে রাখা হলো। আমি তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরাতে যাচ্ছিলাম, কিন্তু আমার কওম আমাকে নিষেধ করল। তখন এক ক্রন্দনকারিণীর শব্দ শোনা গেল। বলা হলো: ইনি কি আমরের কন্যা? অথবা আমরের বোন? তখন তিনি বললেন: {তুমি কেন কাঁদছো?} অথবা বললেন: {কেঁদো না, ফেরেশতারা নিরন্তর তাদের ডানা দিয়ে তাকে ছায়া দিচ্ছে}। আল্লাহ জাবিরের পিতার সাথে কথা বলেছেনজাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: যখন তাঁর পিতাকে নিয়ে আসা হলো, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: {হে জাবির! আমি কি তোমাকে জানাব না আল্লাহ তোমার পিতাকে কী বলেছেন?} আমি বললাম: অবশ্যই। তিনি বললেন: {আল্লাহ পর্দার আড়াল ছাড়া কারও সাথে কথা বলেননি, কিন্তু তোমার পিতার সাথে তিনি সরাসরি কথা বলেছেন। তিনি বললেন: হে আব্দুল্লাহ, তুমি আমার কাছে কিছু চাও...}
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৭)
على أعطك. قال: يا رب، تحييني فأقل فيك ثانية. قال: إنه سبق مني أنهم إليها لا يرجعون. قال: يا رب فأبلغ من ورائي، فأنزل الله هذه الآية: (وَلا تَحسَبَنَّ الَّذينَ قُتِلوا في سَبيلِ اللَهِ أَمواتاً) . هَنيئاً يا بن جعفرعن عبد الله بن جعفر رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {هنيئاً يا عبد الله بن جعفر، أبوك يطير مع الملائكة في السماء} .
...তোমাকে দান করার জন্য। তিনি বললেন: হে আমার রব, আপনি আমাকে পুনরায় জীবিত করুন যাতে আমি আপনার পথে দ্বিতীয়বার নিহত হতে পারি। তিনি বললেন: নিশ্চয়ই আমার পক্ষ থেকে পূর্বেই এটি নির্ধারিত হয়েছে যে, তারা সেখানে আর ফিরে যাবে না। তিনি বললেন: হে আমার রব, তবে আমার পেছনে যারা রয়ে গেছে তাদের নিকট এই সংবাদটি পৌঁছে দিন। তখন আল্লাহ এই আয়াতটি নাযিল করলেন: (আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে তোমরা কখনও মৃত মনে করো না)। অভিনন্দন হে জাফর-পুত্রআবদুল্লাহ ইবনে জাফর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {অভিনন্দন হে আবদুল্লাহ ইবনে জাফর, তোমার পিতা আসমানে ফেরেশতাদের সাথে উড়ছেন}।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৮)
هذا هو الجهاد الأفضلعن جابر رضي الله عنه قال: قال رجل: يا رسول الله، أي الجهاد أفضل؟ قال: {أن يعقر جوادك ويهراق دمك} . الشهداء على نهر الجنةعن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {الشهداء على بارق نهر الجنة في قبة خضراء يخرج عليهم رزقهم من الجنة بكرةً وعشياً} .
এটিই হলো সর্বোত্তম জিহাদজাবির (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: এক ব্যক্তি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! কোন জিহাদটি সর্বোত্তম? তিনি বললেন: {তোমার ঘোড়াটি আহত হওয়া এবং তোমার রক্ত প্রবাহিত হওয়া}। জান্নাতের নদীর তীরে শহীদগণইবনে আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {শহীদগণ জান্নাতের প্রবেশপথের ‘বারেক’ নামক নদীর তীরে একটি সবুজ গম্বুজের মধ্যে অবস্থান করবেন, সকাল ও সন্ধ্যায় জান্নাত থেকে তাদের নিকট তাদের রিযিক পৌঁছে দেওয়া হবে}।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৪৯)
الشهداء في أجواف طير خضرعن كعب بن مالك رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {إن أرواح الشهداء في أجواف طير خضر تعلق من ثمرة الجنة أو شجر الجنة} . الشهداء أحياء عند ربهمعن مسروق قال: سألنا عبد الله (هو ابن مسعود) عن هذه الآية: (وَلا تَحسَبَن الَّذينَ قُتِلوا في سَبيلِ اللَهِ أَمواتاً بَل أحياءٌ عِندَ رَبِهُم يُرزَقون) فقال: أما إنا قد سألنا عن ذلك رسول الله صلى الله عليه وسلم، فقال:
সবুজ পাখির উদরে শহিদগণকাব বিন মালিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {নিশ্চয়ই শহিদদের আত্মা সবুজ পাখির উদরে থাকে, যা জান্নাতের ফলমূল অথবা জান্নাতের গাছ থেকে আহার করে।} । শহিদগণ তাদের রবের নিকট জীবিতমাসরূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমরা আবদুল্লাহকে (তিনি হলেন ইবনে মাসউদ) এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম: (আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের কখনো মৃত মনে করো না, বরং তারা তাদের রবের নিকট জীবিত এবং রিযিকপ্রাপ্ত হয়)। তখন তিনি বললেন: জেনে রাখো, আমরা এ সম্পর্কে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন:
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫০)
{أرواحهم في جوف طير لها قناديل معلقة بالعرش تسرح من الجنة حيث شاءت، ثم تأوى إلى تلك القناديل، فاطلع إليهم ربهم اطلاعة، فقال: هل تشتهون شيئاً، قالوا: أي شيء نشتهي، ونحن نسرح من الجنة حيث شئنا؟ ففعل ذلك بهم ثلاث مرات، فلما رأوا أنهم لن يتركوا من أن يسألوا، قالوا: يا رب نريد أن ترد أرواحنا في أجسادنا حتى نقتل في سبيلك مرة أخرى، فلما رأى أن ليس لهم حاجة تركوا} . شفاعة الشهيدعن أبي الدرداء رضي الله عنه قال: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: {يشفع الشهيد في سبعين من أهل بيته} .عن عتبد بن عبد السلمي وكان من أصحاب النبي صلى الله عليه وسلم: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {القتلى ثلاثة: رجل مؤمن جاهد بنفسه وماله في
{তাদের আত্মাসমূহ পাখির উদরে অবস্থান করে, যাদের জন্য আরশের সাথে ঝুলন্ত কিছু লণ্ঠন রয়েছে। তারা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করে, অতঃপর সেই লণ্ঠনগুলোতে ফিরে আসে। এরপর তাদের প্রতিপালক তাদের দিকে একবার দৃষ্টিপাত করলেন এবং বললেন: তোমরা কি কিছু কামনা করো? তারা বলল: আমরা আর কী কামনা করব, অথচ আমরা জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা বিচরণ করছি? তিনি তাদের সাথে তিনবার এরূপ করলেন। যখন তারা দেখল যে কোনো কিছু প্রার্থনা করা ব্যতীত তাদের নিষ্কৃতি নেই, তখন তারা বলল: হে রব, আমরা চাই আপনি আমাদের আত্মাসমূহ আমাদের দেহে ফিরিয়ে দিন যেন আমরা পুনরায় আপনার পথে শহীদ হতে পারি। যখন তিনি দেখলেন যে তাদের আর কোনো প্রয়োজন নেই, তখন তাদের ছেড়ে দেওয়া হলো।} . শহীদের সুপারিশআবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি: {শহীদ তার পরিবারের সত্তর জন সদস্যের জন্য সুপারিশ করবেন}।উতবা ইবনে আবদ আস-সুলামী থেকে বর্ণিত, আর তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: {নিহত ব্যক্তিগণ তিন প্রকার: একজন মুমিন ব্যক্তি, যে তার জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে...
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫১)
سبيل الله حتى إذا لقي العدو، قاتلهم حتى يقتل، فذلك الشهيد الممتحن في جنة الله تحت عرشه لا يفضله النبيون إلا بفضل درجة النبوة، ورجل فرق على نفسه من الذنوب والخطايا ثم جاهد بنفسه وماله في سبيل الله حتى إذا لقي العدو قاتل حتى يقتل فتلك مصمصة محت ذنوبه وخطاياه، إن السيف محاء الخطايا، وأدخل من أي أبواب الجنة شاء، فإن لها ثمانية أبواب، ولجهنم سبعة أبواب، وبعضها أفضل من بعض، ورجل منافق جاهد بنفسه وماله حتى إذا لقي العدو قاتل في سبيل الله عز وجل حتى يقتل، فذلك في النار، إن السيف لا يمحو النفاق} . الصامدون هم الشهداء الحقيقيونعن نعيم بن همار رضي الله عنه أن رجلاً سأل رسول الله صلى الله عليه وسلم: أي الشهداء أفضل؟ قال: {الذين إن يلقوا في الصف لا يلفتون وجوههم حتى يقتلوا، أولئك ينطلقون في الغرف العلى من الجنة ويضحك إليهم ربك، وإذا ضحك ربك إلى عبد في الدنيا فلا حساب عليه} . هؤلاء هم الدعاةعن أنس رضي الله عنه قال: جاء ناس إلى النبي صلى الله عليه وسلم فقالوا ان أبعث معنا رجالاً يعلموننا القرآن والسنة، فبعث إليهم سبعين رجلاً من
আল্লাহর পথে, অবশেষে যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যতক্ষণ না সে নিহত হয়; তবে সে হলো আল্লাহর জান্নাতে তাঁর আরশের নিচে অবস্থানকারী সেই পরীক্ষিত শহীদ, নবীরা কেবল নবুওয়াতের মর্যাদাগত কারণে তাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর এমন এক ব্যক্তি যে নিজের গুনাহ ও ভুলের ভারে নিজের ওপর অবিচার করেছিল, অতঃপর সে আল্লাহর পথে নিজের জীবন ও সম্পদ দিয়ে জিহাদ করল, এমনকি যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হলো তখন নিহত হওয়া পর্যন্ত লড়াই করল; এটি একটি মার্জনাকারী বিষয় যা তার গুনাহ ও ভুলগুলো মুছে দিয়েছে। নিশ্চয়ই তলোয়ার হলো পাপ মোচনকারী। তাকে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে ইচ্ছা প্রবেশ করানো হবে; নিশ্চয়ই জান্নাতের আটটি দরজা এবং জাহান্নামের সাতটি দরজা রয়েছে এবং এর কোনো কোনোটি অন্যটির চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর এমন এক মুনাফিক ব্যক্তি যে তার জান ও মাল দিয়ে জিহাদ করল, অবশেষে যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হলো তখন মহান আল্লাহর পথে লড়াই করল যতক্ষণ না সে নিহত হলো; সে জাহান্নামে যাবে। নিশ্চয়ই তলোয়ার নিফাককে (ভণ্ডামি) মুছে দেয় না।} . অটল অবিচলরাই প্রকৃত শহীদনুয়াইম ইবনে হাম্মার রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন: কোন শহীদরা সর্বোত্তম? তিনি বললেন: {যারা যুদ্ধের সারিতে শত্রুর মুখোমুখি হয়ে তাদের চেহারা অন্য দিকে ফিরিয়ে নেয় না যতক্ষণ না তারা নিহত হয়, তারা জান্নাতের সুউচ্চ কক্ষগুলোতে বিচরণ করবে এবং তোমার রব তাদের দিকে তাকিয়ে হাসবেন। আর তোমার রব যখন দুনিয়াতে কোনো বান্দার দিকে তাকিয়ে হাসেন, তখন তার কোনো হিসাব হবে না।} . এরাই হলেন দাওয়াত প্রদানকারী (দাঈগণ)আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: কিছু লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, আমাদের সাথে এমন কিছু লোক পাঠান যারা আমাদের কুরআন ও সুন্নাহ শিক্ষা দেবেন। তখন তিনি তাদের কাছে সত্তর জন লোক পাঠালেন যারা...
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫২)
الأنصار يقال لهم القراء، فيهم خالي حرام، يقرأون القرآن ويتدار سونه بالليل يتعلمون، وكانوا بالنهار يجيئون بالماء، فيضعونه في المسجد ويحتطبون فيبيعونه، ويشترون به الطعام لأهل الصفة وللفقراء، فبعثهم النبي صلى الله عليه وسلم إليهم، فعرضوا لهم، فقتلوهم قبل أن يبلغوا المكان، فقالوا: اللهم بلغ عنا نبينا أنا قد لقيناك فرضينا عنك ورضيت عنا، قال: وأتى رجل حراماً خال أنس من خلفه فطعنه برمح حتى أنفذه، فقال حرام: فزت، ورب الكعبة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم لأصحابه: {إن إخوانكم قد قتلوا، وإنهم قالوا: اللهم بلغ عنا نبينا أنا قد لقيناك فرضينا عنك، ورضي عنا} . نريد الغزوعن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم مر بخباء أعرابي وهو في أصحابه يريدون الغزو، فرفع الأعرابي ناحية من الخباء فقال: من القوم؟
আনসারদের বলা হতো 'কুররা' (কুরআন পাঠকারী), তাদের মাঝে আমার মামা হারামও ছিলেন। তারা রাতে কুরআন পাঠ করতেন এবং তা একে অপরের সাথে অধ্যয়ন করতেন। দিনের বেলায় তারা পানি বহন করে এনে মসজিদে রাখতেন এবং কাঠ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করতেন। সেই বিক্রয়লব্ধ অর্থ দিয়ে তারা 'আহলে সুফফা' ও অভাবী লোকদের জন্য খাদ্য ক্রয় করতেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদেরকে প্রেরণ করলেন। পথিমধ্যে তারা (শত্রুপক্ষের) বাধার সম্মুখীন হলেন এবং তারা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছার পূর্বেই তাদেরকে হত্যা করা হলো। তখন তারা (শহীদগণ) বলেছিলেন: "হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ হতে আমাদের নবীর নিকট এই সংবাদ পৌঁছে দিন যে, আমরা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করেছি, ফলে আমরা আপনার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি এবং আপনিও আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন।" আনাস (রা.) বলেন: এক ব্যক্তি মামা হারামের পিছন দিক থেকে এসে তাকে বর্শা বিদ্ধ করল এবং তা দেহ ভেদ করে আরপার হয়ে গেল। তখন হারাম বললেন: "কাবার রবের কসম! আমি সফল হয়ে গেছি।" এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের বললেন: "তোমাদের ভাইদের হত্যা করা হয়েছে এবং তারা বলেছে: 'হে আল্লাহ! আমাদের পক্ষ হতে আমাদের নবীর নিকট এই সংবাদ পৌঁছে দিন যে, আমরা আপনার সাথে সাক্ষাৎ করেছি, ফলে আমরা আপনার ওপর সন্তুষ্ট হয়েছি এবং তিনি (আল্লাহ) আমাদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন'।" আমরা যুদ্ধে যেতে চাইইবনে উমর (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের সাথে যুদ্ধের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পথে এক বেদুইনের তাঁবুর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন সেই বেদুইন তাঁবুর এক পাশ তুলে ধরল এবং জিজ্ঞাসা করল: আপনারা কারা?
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫৩)
فقيل: النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه يريدون الغزو، فقال: هل من عرض الدنيا يصيبون؟، قيل له: نعم يصيبون الغنائم، ثم تقسم بين المسلمين. فعمد إلى بكر له فاعتقله وسار معهم، فجعل يدنو إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم، وجعل أصحابه يذودون بكره عنه، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: {دعوا لي النجدي فوالذي نفسي بيده إنه لمن ملوك الجنة} ، قال: فلقوا العدو فاستشهد فأخبر بذلك النبي صلى الله عليه وسلم فأتاه فقعد عند رأسه مستبشراً. أو قال: مسروراً يضحك، ثم أعرض عنه. فقلنا: يا رسول الله رأيناك مستبشراً تضحك، ثم أعرضت عنه؟!، فقال: {أما رأيتم من استبشاري، أو قال: من سروري، فلما رأيت من كرامة روحه على الله عز وجل، وأما إعراضي عنه، فإن زوجته من الحور العين الآن عند رأسه} .
বলা হলো: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং তাঁর সাহাবীগণ যুদ্ধের সংকল্প করেছেন। তখন তিনি বললেন: তারা কি পার্থিব কোনো সম্পদ লাভ করবেন? তাঁকে বলা হলো: হ্যাঁ, তারা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ লাভ করবেন, যা পরবর্তীতে মুসলিমদের মধ্যে বণ্টন করা হবে। তখন তিনি তাঁর একটি উটের বাচ্চার কাছে গেলেন, সেটিকে প্রস্তুত করলেন এবং তাদের সাথে চলতে লাগলেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর নিকটবর্তী হতে চাইলেন, কিন্তু সাহাবীগণ তাঁর উটটিকে নবীজির কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: {নজদি ব্যক্তিকে আমার কাছে আসতে দাও। সেই সত্তার কসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ, নিশ্চয়ই সে জান্নাতের রাজাদের অন্তর্ভুক্ত}। বর্ণনাকারী বলেন: অতঃপর তারা শত্রুর মুখোমুখি হলেন এবং তিনি শাহাদাত বরণ করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে এ সংবাদ জানানো হলে তিনি তাঁর নিকট আসলেন এবং অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে তাঁর শিয়রে বসলেন। অথবা বর্ণনাকারী বলেছেন: আনন্দিত হয়ে হাসছিলেন, এরপর তিনি তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আপনাকে অত্যন্ত আনন্দিত হয়ে হাসতে দেখলাম, এরপর আপনি তাঁর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন কেন?! তিনি বললেন: {তোমরা আমার যে আনন্দ দেখলে—অথবা বললেন: প্রফুল্লতা দেখলে—তা ছিল মহান আল্লাহর নিকট তাঁর রূহের মর্যাদা প্রত্যক্ষ করার কারণে। আর তাঁর থেকে আমার মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ হলো, হুরুল ঈনদের মধ্য থেকে তাঁর স্ত্রী এখন তাঁর শিয়রে উপস্থিত রয়েছে}।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫৪)
سيعقر جوادك وتستشهدعن عامر بن سعد عن أبيه أن رجلاً جاء إلى الصلاة والنبي صلى الله عليه وسلم يصلي، فقال حين انتهى إلى الصف: اللهم آنني أفضل ما آتيت عبادك الصالحين، فلما قضى النبي صلى الله عليه وسلم الصلاة، قال: {من المتكلم آنفاً؟} فقال الرجل: أنا يا رسول الله. قال: {إذاً يعقر جوادك وتستشهد} .
তোমার ঘোড়াটি জখম করা হবে এবং তুমি শাহাদাত বরণ করবেআমির ইবনে সাদ তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি সালাতে আসলেন যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত আদায় করছিলেন। তিনি যখন কাতারে এসে পৌঁছালেন, তখন বললেন: হে আল্লাহ, আপনি আপনার নেককার বান্দাদের যা শ্রেষ্ঠ কিছু দান করেন, আমাকেও তা দান করুন। যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাত শেষ করলেন, তখন তিনি বললেন: {এইমাত্র কে কথা বলেছিল?} লোকটি বলল: আমি, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি বললেন: {তাহলে তোমার ঘোড়াটি জখম করা হবে এবং তুমি শাহাদাত বরণ করবে}।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫৬)
الفصل الثامنأنواع موت الشهداءعن أبي هريرة رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: {الشهداء خمسة: المبطون، والمطعون، والغريق، وصاحب الهدم، والشهيد في سبيل الله} . إذا مات فلا تبكين باكيةعن جابر بن عتيك رضي الله عنه: أن رسول الله صلى الله عليه وسلم جاء يعود عبد الله بن ثابت فوجده غلب عليه فصاح به فلم يجبه، فاسترجع رسول الله صلى الله عليه وسلم {غلبنا عليك يا أبا الربيع} فصاحت النسوة وبكين، وجعل ابن عتيك يسكتهن، فقال له النبي صلى الله عليه وسلم: {دعهن فإذا وجب فلا تبكين باكية} قالوا: وما الوجوب يا رسول الله؟ قال: {إذا مات} . قالت ابنته: والله إني لأرجو أن تكون شهيداً، فإنك كنت قد قضيت جهازك.
অষ্টম অধ্যায়শহীদদের মৃত্যুর প্রকারভেদআবু হুরায়রা (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: {শহীদ পাঁচ প্রকার: পেটের রোগে মৃত, প্লেগ রোগে মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত এবং আল্লাহর পথে শহীদ।}। যখন মৃত্যু ঘটে তখন যেন কোনো বিলাপকারী না কাঁদেজাবির ইবনে আতিক (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত: আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আবদুল্লাহ ইবনে সাবিতকে দেখতে আসলেন এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় পেলেন। তিনি তাকে উচ্চস্বরে ডাকলেন কিন্তু সে কোনো উত্তর দিল না। তখন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইস্তিরজা (ইন্নালিল্লাহ...) পাঠ করলেন এবং বললেন, {হে আবু রাবি’, আমরা তোমার ব্যাপারে পরাস্ত হলাম (অর্থাৎ মৃত্যু তোমাকে নিয়ে গেল)।} তখন নারীরা চিৎকার করে কাঁদতে লাগল এবং ইবনে আতিক তাদের চুপ করাতে লাগলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাকে বললেন: {তাদের ছেড়ে দাও; তবে যখন ওয়াজিব হয়ে যাবে তখন যেন কোনো ক্রন্দনকারী আর না কাঁদে।} তারা জিজ্ঞেস করল: হে আল্লাহর রাসূল, ওয়াজিব হওয়া কী? তিনি বললেন: {যখন সে মারা যায়।} তখন তার মেয়ে বলল: আল্লাহর শপথ, আমি আশা করি আপনি শহীদ হবেন, কেননা আপনি আপনার যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে ফেলেছিলেন।
(খণ্ড: ১)
সাবঊনা হাদীসান ফীল জিহাদ
(পৃষ্ঠা: ৫৭)
هؤلاء هم الشهداء- أو قال فقال النبي صلى الله عليه وسلم: {الشهادة سبع - سوى القتل في سبيل الله: المبطون شهيد، الغريق شهيد، وصاحب ذات الجنب شهيد، والمطعون شهيد، وصاحب الحريق شهيد، والذي يموت تحت الهدم شهيد، والمرأة تموت بجمع شهيدة،
এরাই হলেন শহীদগণ- অথবা তিনি বললেন, অতঃপর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: {আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ব্যতীত শাহাদাত সাত প্রকার: পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী শহীদ, পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, পার্শ্বশূল রোগে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, মহামারিতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণকারী শহীদ এবং যে নারী গর্ভাবস্থায় বা প্রসবকালে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ,