(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: -)
العقد الثمين في شرح منظومة الشيخ ابن عثيمين   (خالد المشيقح)

القسم: علوم الفقه والقواعد الفقهية


الكتاب: العقد الثمين في شرح منظومة الشيخ ابن عثيمين

في أصول الفقه وقواعده

المؤلف: أ د خالد بن علي المشيقح

(أستاذ الفقه في كلية الشريعة بجامعة القصيم)

اعتنى به وخرج أحاديثه: محمد بن مفتاح الفهمي - إبراهيم بن أحمد الحميضي

الناشر: مكتبة الإمام الذهبي - الكويت

الطبعة: الثالثة، 1436 هـ - 2015

عدد الصفحات: 309

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 ذو القعدة 1445

আল-ইকদ আল-ছামিন ফি শারহি মানজুমাহ আল-শায়খ ইবনে উসাইমিন   (খালিদ আল-মুশাইকিহ)

বিভাগ: ফিকহ শাস্ত্র এবং ফিকহী মূলনীতিসমূহ


বই: আল-ইকদ আল-ছামিন ফি শারহি মানজুমাহ আল-শায়খ ইবনে উসাইমিন

উসুল আল-ফিকহ ও এর মূলনীতি বিষয়ক

লেখক: প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী আল-মুশাইকিহ

(কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক)

তত্ত্বাবধান এবং হাদিস যাচাই ও উৎসের বর্ণনা (تخريج): মুহাম্মদ বিন মিফতাহ আল-ফাহমি - ইব্রাহিম বিন আহমাদ আল-হুমাইদি

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমাম আয-যাহাবি - কুয়েত

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৩৬ হিজরি - ২০১৫

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩০৯

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ২৫ যুল-কাদাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة الطبعة الثانية

بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، أرسله الله بالهدى ودين الحق، فبلغ الرسالة وأدى الأمانة ونصح الأمة وجاهد في الله حق جهاده حتى أتاه اليقين، فصلوات الله وسلامه عليه، وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد:

فقمت بحمد الله بشرح منظومة شيخنا العلامة محمد بن صالح العثيمين رحمه الله، آمين، في عدة دورات في مناطق مختلفة من المملكة العربية السعودية والكويت، وآخر هذه الشروح قمت به في الحرمين الشريفين، في الحرم المكي الشريف ربيع الأول عام 1434 هـ، وفي الحرم المدني في شعبان 1434 هـ.

 

‌‌وقد تميزت هذه المنظومة بأمور منها:

أولاً: سهولة اللفظ ووضوح المعنى.

ثانيًا: اشتملت على جملة من القواعد الأصولية، والقواعد الفقهية، والضوابط الفقهية، والفروق الفقهية.

ثالثًا: أن ناظمها عالم كبير له قدم راسخة في فنون العلم.

وقد أقبل عليها كثير من طلبة العلم بحفظها وتدارسها وذلك لما تقدم من سهولة لفظها ووضوح معانيها وما شملته من فنون العلم السالفة
‌‌দ্বিতীয় সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য; আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই কাছে সাহায্য চাই এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের আমলসমূহের মন্দ ফলাফল থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। আল্লাহ যাকে হেদায়াত দান করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই; আর তিনি যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তাকে হেদায়াত দেওয়ার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য মাবুদ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন; অতঃপর তিনি রিসালাতের দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছেন, আমানত আদায় করেছেন, উম্মতকে নসিহত করেছেন এবং আল্লাহর পথে যথাযথ জিহাদ করেছেন মৃত্যু পর্যন্ত। আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীগণের ওপর এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে তাদের সবার ওপর।

অতঃপর:

আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে আমাদের শায়খ আল্লামা মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমীন—আল্লাহ তাঁর ওপর রহম করুন, আমিন—এর কাব্যগ্রন্থের (منظومة) ব্যাখ্যা সৌদি আরব ও কুয়েতের বিভিন্ন অঞ্চলের বেশ কয়েকটি কোর্সে সম্পন্ন করেছি। আর এই ব্যাখ্যাগুলোর সর্বশেষটি আমি সম্পন্ন করেছি দুই পবিত্র হারাম শরীফে; ১৪৩৪ হিজরি সনের রবিউল আউয়াল মাসে মসজিদে হারাম শরীফে এবং ১৪৩৪ হিজরি সনের শাবান মাসে মসজিদে নববী শরীফে।

 

‌‌এই কাব্যগ্রন্থটি (المنظومة) বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে অনন্য, যার মধ্যে রয়েছে:

প্রথমত: শব্দের সাবলীলতা ও অর্থের স্পষ্টতা।

দ্বিতীয়ত: এটি বেশ কিছু উসুলি মূলনীতি (القواعد الأصولية), ফিকহি মূলনীতি (القواعد الفقهية), ফিকহি নীতিমালা (الضوابط الفقهية) এবং ফিকহি পার্থক্যসমূহকে (الفروق الفقهية) অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তৃতীয়ত: এর রচয়িতা একজন মহান আলেম, যার ইলমের বিভিন্ন শাখায় সুগভীর পদচারণা রয়েছে।

অনেক ইলম অন্বেষী শিক্ষার্থী এটি মুখস্থ ও অধ্যয়নের মাধ্যমে এর প্রতি আগ্রহী হয়েছেন; আর এটি হয়েছে এর ইতিপূর্বে উল্লিখিত শব্দের সাবলীলতা ও অর্থের স্পষ্টতার কারণে এবং এতে ইলমের পূর্বোক্ত বিভিন্ন শাখার সমাবেশের কারণে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৬)
الذكر.

وقد قام الأخ/ محمد بن مفتاح الفهمي وفقه الله بتفريغ الأشرطة المسجلة وترتيبها والعناية بذلك.

كما قام الأخ/ إبراهيم بن أحمد الحميضي وفقه الله بالعناية بتخريج الأحاديث، فجزاهما الله خيرًا.

أسأل الله أن ينفع بها ناظمها، وشارحها، والمستفيد من ذلك، آمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

كتبه

أ. د/ خالد بن علي بن محمد المشيقح

أستاذ الدراسات العليا بجامعة القصيم - قسم الفقه

في 15/ 6/ 1434 هـ
উল্লেখিত।

এবং ভাই মুহাম্মদ বিন মিফতাহ আল-ফাহমি (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) রেকর্ডকৃত অডিও ক্যাসেটগুলোর শ্রুতলিখন, বিন্যাস ও এর বিশেষ তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেছেন।

একইভাবে ভাই ইব্রাহিম বিন আহমাদ আল-হুমাইদি (আল্লাহ তাঁকে তাওফিক দান করুন) হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করার কাজে মনোনিবেশ করেছেন; আল্লাহ তাঁদের উভয়কে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এর রচয়িতা, ব্যাখ্যাকারী এবং এর দ্বারা যারা উপকৃত হবেন, তাদের সকলকে এর মাধ্যমে ফায়দা দান করেন, আমিন। আমাদের নবি মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবিদের ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক।

লিখেছেন

প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মুশাইকিহ

প্রফেসর, উচ্চতর গবেষণা বিভাগ, আল-কাসিম বিশ্ববিদ্যালয় - ফিকহ বিভাগ

১৫/০৬/১৪৩৪ হিজরি
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৭)
‌‌ترجمة المؤلف

فضيلة الشيخ محمد بن صالح العثيمين

‌‌نسبه:

هو أبو عبد الله محمد بن صالح بن سليمان بن عبد الرحمن ابن عثمان الوهيبي التميمي وجده الرابع أطلق عليه عثيمين فاشتهر به.

 

‌‌مولده:

ولد في مدينة عنيزة إحدى مدن القصيم في السابع والعشرين من شهر رمضان المبارك عام 1347 هـ.

 

‌‌نشأته:

قرأ القرآن الكريم على جده من جهة أمه عبد الرحمن ابن سليمان آل دامغ رحمه الله فحفظه، ثم اتجه إلى طلب العلم فتعلم الخط والحساب وبعض فنون الآداب، وكان الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله قد أقام اثنين من طلبة العلم عنده ليدرسا الطلبة الصغار أحدهما الشيخ علي الصالحي، والثاني الشيخ محمد بن عبد العزيز المطوع رحمه الله، قرأ عليه مختصر العقيدة الواسطية للشيخ عبد الرحمن السعدي، ومنهاج السالكين في الفقه للشيخ عبد الرحمن أيضًا، والأجرومية والألفية.

وقرأ على الشيخ عبد الرحمن بن علي بن عودان في الفرائض والفقه.

وقرأ على الشيخ عبد الرحمن بن ناصر السعدي الذي يعتبر شيخه الأول حيث لازمه وقرأ عليه التوحيد والتفسير والحديث والفقه وأصول
‌লেখকের জীবনী

মর্যাদাবান শায়খ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন

‌‌তাঁর বংশপরিচয়:

তিনি হলেন আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ বিন সালেহ বিন সুলাইমান বিন আবদুর রহমান ইবনে উসমান আল-উহাইবি আল-তামিমি। তাঁর চতুর্থ পিতামহকে উসাইমিন বলা হতো, যার মাধ্যমে তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেন।

 

‌‌তাঁর জন্ম:

তিনি কাসিম অঞ্চলের অন্যতম শহর উনাইজাহ-তে ১৩৪৭ হিজরি সালের ২৭শে রমজানুল মুবারক জন্মগ্রহণ করেন।

 

‌‌তাঁর লালন-পালন ও শিক্ষা:

তিনি তাঁর মাতামহ আবদুর রহমান বিন সুলাইমান আল-দামিঘ (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)-এর নিকট পবিত্র কুরআন পাঠ করেন এবং তা মুখস্থ করেন। অতঃপর তিনি জ্ঞান অন্বেষণের দিকে মনোনিবেশ করেন এবং হস্তলিপি, গণিত ও সাহিত্যের কিছু শাখা শিক্ষা করেন। শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদি (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন) তাঁর নিকট দুইজন ছাত্রকে ছোটদের পাঠদানের জন্য নিযুক্ত করেছিলেন; তাঁদের একজন শায়খ আলী আল-সালিহি এবং অন্যজন শায়খ মুহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ আল-মুতাওয়া (আল্লাহ তাঁর প্রতি দয়া করুন)। তিনি তাঁর নিকট শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদি রচিত মুখতাসার আল-আকিদাহ আল-ওয়াসিতিয়্যাহ এবং শায়খ আবদুর রহমানেরই রচিত ফিকহ (الفقه) শাস্ত্রের মিনহাজুস সালিকিন, এছাড়া আল-আজরুমিয়্যাহ ও আল-আলফিয়্যাহ পাঠ করেন।

এবং তিনি শায়খ আবদুর রহমান বিন আলী বিন আউদান-এর নিকট উত্তরাধিকার শাস্ত্র (الفرائض) ও ফিকহ (الفقه) পাঠ করেন।

এবং তিনি শায়খ আবদুর রহমান বিন নাসির আস-সাদি-এর নিকটও পাঠ গ্রহণ করেন, যাঁকে তাঁর প্রধান উস্তাদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি তাঁর দীর্ঘ সান্নিধ্যে থাকেন এবং তাঁর নিকট তাওহিদ (التوحيد), তাফসির (التفسير), হাদিস, ফিকহ (الفقه) এবং উসুল (أصول) শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৮)
الفقه والفرائض ومصطلح الحديث والنحو والصرف.

وكانت لفضيلة الشيخ منزلة عظيمة عند شيخه رحمه الله فعندما انتقل والد الشيخ محمد رحمه الله إلى الرياض إبان أول تطوره رغب في أن ينتقل معه ولده - الشيخ رحمه الله فكتب له الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله (إن هذا لا يمكن نريد محمدًا أن يمكث هنا حتى يستفيد).

ويقول فضيلة الشيخ رحمه الله: (إنني تأثرت به كثيرًا في طريقة التدريس وعرض العلم وتقريبه للطلبة بالأمثلة والمعاني، وكذلك أيضًا تأثرت به من ناحية الأخلاق لأن الشيخ عبد الرحمن رحمه الله كان على جانب كبير من الأخلاق الفاضلة، وكان رحمه الله على قدر كبير في العلم والعبادة، وكان يمازح الصغير، ويضحك إلى الكبير، وهو من أحسن من رأيت أخلاقًا).

قرأ على سماحة الشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله حيث يعتبر شيخه الثاني، فابتدأ عليه قراءة صحيح البخاري وبعض رسائل شيخ الإسلام ابن تيمية وبعض الكتب الفقهية.

يقول الشيخ (تأثرت بالشيخ عبد العزيز بن باز رحمه الله من جهة العناية بالحديث، وتأثرت به من جهة الأخلاق أيضًا وبسط نفسه للناس).

في عام 1371 هـ جلس للتدريس في الجامع، ولما فتحت المعاهد العلمية في الرياض التحق بها عام 1372 هـ، يقول الشيخ رحمه الله: (دخلت المعهد العلمي من السنة الثانية، والتحقت به بمشورة من الشيخ علي الصالحي، وبعد أن استأذنت من الشيخ عبد الرحمن السعدي عليه رحمة الله، وكان المعهد العلمي في ذلك الوقت ينقسم إلى قسمين خاص وعام، فكنت في القسم الخاص، وكان في ذلك الوقت أيضًا من شاء أن يقفز - كما يعبرون - بمعنى أنه يدرس السنة المستقبلية له في أثناء الإجازة ثم يختبرها في أول العام الثاني، فإذا نجح انتقل إلى السنة التي بعدها وبهذا اختصرت الزمن) ا هـ.
ফিকহ, ফরায়েজ, হাদিসের পরিভাষা (مصطلح الحديث), নাহু এবং সরফ।

তাঁর উস্তাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট শায়খের এক মহান মর্যাদা ছিল। যখন শায়খ মুহাম্মাদ (রহিমাহুল্লাহ)-এর পিতা রিয়াদের প্রাথমিক উন্নয়নের যুগে সেখানে স্থানান্তরিত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি চাইলেন তাঁর পুত্রও (শায়খ রহিমাহুল্লাহ) যেন তাঁর সাথে চলে যান। তখন শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদী (রহিমাহুল্লাহ) তাঁকে লিখেছিলেন, "এটি সম্ভব নয়; আমরা চাই মুহাম্মাদ এখানে অবস্থান করুক যাতে সে উপকৃত হতে পারে।"

সম্মানিত শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, "আমি পাঠদান পদ্ধতি, ইলম উপস্থাপন এবং উদাহরণ ও অর্থ ব্যাখ্যার মাধ্যমে ছাত্রদের নিকট তা সহজবোধ্য করার ক্ষেত্রে তাঁর দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয়েছি। একইভাবে, আমি তাঁর চারিত্রিক গুণাবলি দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছি; কেননা শায়খ আবদুর রহমান (রহিমাহুল্লাহ) অত্যন্ত উন্নত চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তিনি ইলম ও ইবাদতের ক্ষেত্রে সুউচ্চ মর্যাদায় সমাসীন ছিলেন। তিনি ছোটদের সাথে কৌতুক করতেন এবং বড়দের সাথে হাসিমুখে কথা বলতেন। তিনি ছিলেন আমার দেখা সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিদের অন্যতম।"

তিনি শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ)-এর নিকট পাঠ গ্রহণ করেন, যাকে তাঁর দ্বিতীয় উস্তাদ হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি তাঁর নিকট সহীহ বুখারী, শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়ার কিছু পুস্তিকা এবং কিছু ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব পাঠ করা শুরু করেন।

শায়খ বলেন, "আমি হাদিসের প্রতি গুরুত্বারোপের ক্ষেত্রে শায়খ আব্দুল আজিজ বিন বাজ (রহিমাহুল্লাহ) দ্বারা প্রভাবিত হয়েছি এবং তাঁর আখলাক ও মানুষের সাথে তাঁর অমায়িক আচরণের দ্বারাও প্রভাবিত হয়েছি।"

১৩৭১ হিজরি সালে তিনি জামে মসজিদে পাঠদানের জন্য বসেন। যখন রিয়াদে মা'আহাদ ইলমি (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ) প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তিনি ১৩৭২ হিজরি সালে সেখানে যোগদান করেন। শায়খ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, "আমি দ্বিতীয় বর্ষ থেকে মা'আহাদ ইলমিতে প্রবেশ করি। শায়খ আলী আস-সালিহির পরামর্শে এবং শায়খ আবদুর রহমান আস-সাদী (রহিমাহুল্লাহ)-এর অনুমতি গ্রহণের পর আমি এতে ভর্তি হই। তৎকালীন সময়ে মা'আহাদ ইলমি 'বিশেষ' ও 'সাধারণ'—এই দুই বিভাগে বিভক্ত ছিল। আমি বিশেষ বিভাগে ছিলাম। সে সময় কারো ইচ্ছা করলে 'লাফিয়ে চলা'—যেমনটি বলা হতো—অর্থাৎ ছুটির সময়ে পরবর্তী বছরের পাঠ্যসূচি অধ্যয়ন করে বছরের শুরুতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ ছিল। কেউ উত্তীর্ণ হলে সরাসরি পরবর্তী বর্ষে চলে যেত। এভাবে আমি সময় সংক্ষেপ করেছি।" সমাপ্ত।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৯)
وبعد سنتين تخرج وعين مدرسًا في معهد عنيزة العلمي مع مواصلة الدراسة انتسابًا في كلية الشريعة ومواصلة طلب العلم على يد الشيخ عبد الرحمن السعدي.

ولما توفي فضيلة الشيخ عبد الرحمن السعدي رحمه الله تولى إمامة الجامع الكبير بعنيزة والتدريس في مكتبة عنيزة الوطنية بالإضافة إلى التدريس في المعهد العلمي ثم انتقل إلى التدريس في كليتي الشريعة وأصول الدين بفرع جامعة الإمام محمد بن سعود الإسلامية بالقصيم بالإضافة إلى عضوية هيئة كبار العلماء بالمملكة العربية السعودية، وكان لفضيلة الشيخ رحمه الله نشاط كبير في الدعوة إلى الله عز وجل وتبصير الدعاة في كل مكان وله جهود مشكورة في هذا المجال.

والجدير بالذكر أن سماحة الشيخ محمد بن إبراهيم رحمه الله قد عرض بل ألح على فضيلة الشيخ في تولي القضاء، بل أصدر قراره بتعيينه رحمه الله تعالى رئيسًا للمحكمة الشرعية بالإحساء فطلب منه الإعفاء، وبعد مراجعات واتصال شخصي مع فضيلة الشيخ سمح رحمه الله تعالى بإعفائه من منصب القضاء.

 

‌‌مؤلفاته:

له رحمه الله تعالى مؤلفات كثيرة تزيد على المائة ما بين كتاب ورسالة.

 

‌‌وفاته:

كانت في عصر يوم الأربعاء بتاريخ 15/ 10/ 1421 هـ الموافق 10/ 11/ 2001 م وتم دفنه بمقبرة العدل بمكة المكرمة بجوار قبر شيخه العلامة عبد العزيز بن عبد الله بن باز رحمه الله.

وأسأل الله أن يرحمه رحمة واسعة وأن يجمعنا وإياه في جنات النعيم وأن يجزيه عما قدّم للإسلام والمسلمين خيرًا.
দুই বছর পর তিনি স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং উনাইজাহ সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউটে শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন, পাশাপাশি শরিয়াহ অনুষদে দূরশিক্ষণ পদ্ধতিতে পড়াশোনা এবং শেখ আব্দুর রহমান আস-সাদীর নিকট ইলম অর্জন অব্যাহত রাখেন।

যখন সম্মানিত শেখ আব্দুর রহমান আস-সাদী (রহিমাহুল্লাহ) মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি উনাইজাহর জামে আল-কবীর-এর ইমামতি এবং উনাইজাহ ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে পাঠদানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পাশাপাশি সায়েন্টিফিক ইনস্টিটিউটেও পাঠদান চালিয়ে যান। এরপর তিনি কাসিমস্থ ইমাম মুহাম্মাদ বিন সাউদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়াহ ও উসুল আদ-দীন (أصول الدين) অনুষদে শিক্ষকতা শুরু করেন। এছাড়া তিনি সৌদি আরবের সর্বোচ্চ উলামা পরিষদের সদস্য ছিলেন। মহান আল্লাহর পথে দাওয়াত প্রদান এবং সর্বত্র দাঈদের দিকনির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে শেখ (রহিমাহুল্লাহ)-এর ব্যাপক কর্মতৎপরতা ও প্রশংসনীয় প্রচেষ্টা ছিল।

উল্লেখযোগ্য যে, মহামান্য শেখ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম (রহিমাহুল্লাহ) শেখের নিকট বিচারকার্য (القضاء)-এর দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তাব দেন, এমনকি এ ব্যাপারে পীড়াপীড়ি করেন। তিনি তাঁকে আল-আহসা শরিয়াহ আদালতের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্তও জারি করেছিলেন। কিন্তু শেখ এ থেকে অব্যাহতি চান। বারবার অনুরোধ এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগের পর মহামান্য শেখ (রহিমাহুল্লাহ) তাঁকে বিচারকের পদ থেকে অব্যাহতি দিতে সম্মত হন।

 

‌‌তাঁর রচনাবলি:

তাঁর (রহিমাহুল্লাহ) একশ’রও বেশি ছোট-বড় গ্রন্থ ও পুস্তিকা রয়েছে।

 

‌‌তাঁর মৃত্যু:

তাঁর মৃত্যু হয়েছিল ১৫/১০/১৪২১ হিজরি মোতাবেক ১০/১১/২০০১ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার বিকেলে। তাঁকে মক্কা মুকাররমার ‘আল-আদল’ কবরস্থানে তাঁর উস্তাদ আল্লামা আব্দুল আজিজ বিন আব্দুল্লাহ বিন বায (রহিমাহুল্লাহ)-এর কবরের পাশে দাফন করা হয়।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন তাঁকে ব্যাপক রহমত দান করেন এবং জান্নাতুন নাঈমে আমাদের ও তাঁকে একত্রিত করেন এবং ইসলাম ও মুসলিমদের জন্য তাঁর অবদানের উত্তম প্রতিদান দান করেন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১০)
‌‌منظومة أصول الفقه وقواعده

قال الناظم الشيخ محمد بن صالح العثيمين رحمه الله:

1 - الحمدُ للهِ المُعِيد المُبْدِي … مُعْطِي النَّوالِ كُلَّ مَنْ يَسْتَجدِيِ

2 - مُثَبِّتِ الأحكامِ بالأصُولِ … مُعينِ مَنْ يَصْبُو إلى الوُصُولِ

3 - ثُمَّ الصلاةُ مَعْ سَلامٍ قدْ أَتمْ … على الذِي أُعطِي جَوامِعَ الكَلِمْ

4 - مُحَمّدِ المبعُوثِ رَحْمةَ الوَرَى … وَخَيرِ هادٍ لجَميعِ مَنْ دَرَى

5 - وبعدُ فالعلمُ بحورٌ زاخِرَهْ … لنْ يَبْلغَ الكادِحُ فِيهِ آخِرَهْ

6 - لكنَّ في أصولِهِ تَسْهِيلا … لنَيْلِه فَاحرصْ تجِدْ سَبِيلا

7 - فاغْتنِمِ القواعدَ الأصُولا … فَمْن تَفُتْهُ يُحْرَمِ الوُصولا

8 - وهَاكَ مِنْ هذِي الأصولِ جُمَلا … أرجُو بِها عالِ الجنَانِ نُزُلا

9 - قواعِدًا مِنْ قولِ أَهلِ العِلْمِ … وليس لي فيها سِوىَ ذا النظْمِ

 

‌‌القواعد والأصول

10 - الدينُ جاءَ لسعادَةِ البَشَرْ … ولانْتِفَاءِ الشَّرِّ عَنْهُم والضَّرَرْ

11 - فكُلُّ أمرٍ نافعٍ قَدْ شَرَعَه … وكُلُّ ما يَضُرُّنَا قَدْ مَنَعَهْ

12 - ومعْ تساوِي ضَرَرٍ ومَنْفَعَه … يكونُ ممنوعًا لدَرْءِ المفْسَدَهْ

13 - وكُلُّ ما كَلَّفَهُ قدْ يُسِّرَا … من أَصْلِهِ وعِندَ عارضٍ طَرَا

14 - فاجْلِبْ لتيسيرٍ بِكُلِّ ذِي شَطَطْ … فليسَ فِي الدِّين الحَنيفِ مِنْ شَطَطْ

15 - وما استطعتَ افعَلْ مِنَ المأمُورِ … واجْتَنِبِ الكُلَّ مِنَ المحظورِ

16 - والشرعُ لا يَلزمُ قبلَ العِلمِ … دَليلُهُ فِعلُ المسِيَ فَافْتَهِمِ

17 - لكنْ إذا فَرَّطَ في التَّعلُّمِ … فَذَا مَحَلُّ نَظرٍ فَلْتَعْلَمِ

18 - وكُلَّ ممنوعٍ فَللضَّرورَةِ … يُباحُ والمكْرُوهُ عِنْدَ الحَاجةِ
উসুল আল-ফিকহ এবং এর মূলনীতিমালার কাব্যসমগ্র

কাব্যকার শেখ মুহাম্মদ বিন সালেহ আল-উসাইমিন (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন:

1 - সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি পুনরুত্থানকারী ও আদি স্রষ্টা; তিনি প্রত্যেক যাঞ্চাকারীকে যাচিত বস্তু দান করেন।

2 - যিনি মূলনীতির (أصول) মাধ্যমে বিধানসমূহকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন; এবং যিনি উচ্চ সোপানে পৌঁছাতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে সাহায্য করেন।

3 - অতঃপর পূর্ণাঙ্গ দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর ওপর, যাঁকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা (জাওয়ামিউল কালিম) বলার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

4 - তিনি মুহাম্মদ (সা.), যিনি সমগ্র সৃষ্টিজগতের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরিত; এবং তিনি সকল জ্ঞানান্বেষী ব্যক্তির জন্য সর্বোত্তম পথপ্রদর্শক।

5 - অতঃপর, জ্ঞান হলো এক উত্তাল সমুদ্র; কঠোর পরিশ্রমী ব্যক্তিও এর শেষ সীমানায় পৌঁছাতে সক্ষম হবে না।

6 - কিন্তু এর মূলনীতিগুলোর (أصول) মধ্যে জ্ঞান অর্জনের সহজ পথ রয়েছে; সুতরাং তুমি সে বিষয়ে সচেষ্ট হও, তবেই তুমি পথ খুঁজে পাবে।

7 - অতএব, তুমি এই মৌল কায়দাহসমূহকে (قواعد) লুফে নাও; কেননা যে এগুলো হারাবে, সে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো থেকে বঞ্চিত হবে।

8 - আর তুমি এই মূলনীতিসমূহ (أصول) থেকে কিছু অংশ গ্রহণ করো; আমি এর মাধ্যমে জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম লাভের আশা রাখি।

9 - এগুলো আলেমগণের কথা থেকে সংগৃহীত কায়দাহসমূহ (قواعد); এতে আমার কাজ কেবল এগুলোকে ছন্দোবদ্ধ করা।

 

‌কায়দাহ ও মূলনীতিসমূহ

10 - দ্বীন এসেছে মানুষের কল্যাণের জন্য এবং তাদের থেকে মন্দ ও ক্ষতি দূর করার জন্য।

11 - কাজেই প্রতিটি উপকারী বিষয় তিনি শরিয়তসিদ্ধ করেছেন এবং প্রতিটি ক্ষতিকর বিষয় তিনি আমাদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন।

12 - যেখানে ক্ষতি ও উপকারের পরিমাণ সমান, সেখানে অনিষ্ট দূর করার (درء المفسدة) খাতিরে তা নিষিদ্ধ হবে।

13 - আল্লাহ যা কিছু পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তা মূলত সহজ করা হয়েছে; চাই তা তার মৌলিক অবস্থার ক্ষেত্রে হোক বা কোনো আকস্মিক ওযরের কারণে হোক।

14 - অতএব, প্রতিটি কঠোরতার ক্ষেত্রে সহজতা অন্বেষণ করো; কেননা এই সহজ-সরল দ্বীনের মধ্যে কোনো কঠোরতা নেই।

15 - আর আদেশকৃত বিষয়গুলো তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী পালন করো এবং নিষিদ্ধ বিষয়গুলো সম্পূর্ণ বর্জন করো।

16 - জ্ঞান লাভের পূর্বে শরিয়তের বিধান কার্যকর হয় না; এর দলিল হলো সেই ব্যক্তির ঘটনা যে ভুলভাবে সালাত আদায় করেছিল, সুতরাং বিষয়টি বুঝে নাও।

17 - কিন্তু যদি কেউ জ্ঞান অর্জনে অবহেলা করে, তবে তা খতিয়ে দেখার বিষয়; এ কথা জেনে রেখো।

18 - আর প্রতিটি নিষিদ্ধ বিষয় চরম প্রয়োজনের (ضرورة) খাতিরে বৈধ হয় এবং অপছন্দনীয় (مكروه) বিষয়গুলো সাধারণ প্রয়োজনের (حاجة) সময় অনুমোদিত হয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১১)
19 - لكنَّ ما حُرِّمَ للذَّرِيعَةِ … يَجُوزُ للحَاجَةِ كَالعَريَّةِ

20 - وما نُهِي عَنهُ من التَّعَبُّدِ … أوْ غَيرِهِ أفْسِدْه لا تَرَدَّدِ

21 - فكلُّ نَهيٍ عادَ للذَّواتِ … أو للشُروطِ مفْسِدًا سَيَاتِي

22 - وإِنْ يَعُدْ لِخَارجٍ كالعِمّهْ … فَلنْ يَضِيرَ فافْهَمَنَّ العِلَّهْ

23 - والأصلُ في الأشياءِ حِلٌّ وامْنَعِ … عِبَادَةً إلا بإذنِ الشَّارِعِ

24 - فإنْ يقعْ في الحكمِ شَكٌ فارجعِ … للأصلِ في النوعَيْنِ ثم اتبِعِ

25 - والأصلُ أنَّ الأمرَ والنَّهي حُتِمْ … إلا إذا النَّدبُ أو الكُرْهُ عُلِمْ

26 - وكلُّ مَا رُتِّبَ فِيهِ الفَضْلُ … مِنْ غَيرِ أمرٍ فهْو نَدبٌ يَجْلُو

27 - وكلُّ فِعلِ للنَّبيِّ جُرِّدَا … عن أمرِهِ فَغَيرُ وَاجِبٍ بَدَا

28 - وإِنْ يكنْ مُبيِّنًا لأمرِ … فالحُكْمُ فيه حُكمُ ذاكَ الأمْرِ

29 - وقدِّم الأعلَى لدَى التَّزاحُمِ … في صَالحٍ والعَكسُ في المظالِمِ

30 - وادفعْ خفيفَ الضَّرَرَيْنِ بالأخفْ … وخذْ بعالِي الفاضَليْنِ لا تَخَفْ

31 - إنْ يَجْتَمِعْ معَ مُبِيحٍ ما مُنِعْ … فَقَدِّمَنْ تغليبًا الذي مُنِعْ

32 - وكلُّ حكمٍ فَلِعِلَّةٍ تَبِعْ … إِنْ وُجِدَتْ يُوجَدْ وإلا يَمْتَنِعْ

33 - وأَلْغِ كلَّ سابقٍ لسببِهْ … لا شرطِهِ فادْرِ الفروقَ وانتبهْ

34 - والشَيءُ لا يَتِمُّ إلا أنْ تَتِمْ … شُروطُه ومَانِعٌ مِنهُ عُدِمْ

35 - والظنُّ فِي العِبَادةِ المُعْتَبَرُ … ونَفسَ الامرِ في العُقُودِ اعتَبَرُوا

36 - لكنْ إذَا تَبَيَّنَ الظنُّ خَطَا … فأبْرِيءِ الذّمةَ صَحِّحِ الخَطَا

37 - كَرَجُلٍ صَلَّى قُبَيْلَ الوَقْتِ … فَلْيُعِدِ الصَّلاةَ بَعْدَ الوَقتِ

38 - والشَّكُّ بعدَ الفِعلِ لا يُؤثِّرُ … وهكذَا إذا الشُّكُوكُ تَكْثُرُ

39 - أوْتَكُ وَهْمًا مِثلَ وَسْوَاسٍ فَدَعْ … لِكلِّ وَسْوَاسٍ يَجِي بِه لُكَعْ

40 - ثمَّ حديثُ النفسِ مَعْفُوٌّ فَلا … حُكمَ لهُ مَا لمْ يُؤَثِّرْ عَمَلا

41 - والأمرُ للفَورِ فَبَادِرِ الزَّمَنْ … إِلا إذَا دَلَّ دَليلٌ فاسْمَعَنْ

42 - والأمرُ إنْ رُوعيَ فيهِ الفَاعلُ … فَذَاكَ ذُوعَيْنٍ وذَاكَ الفَاضِلُ

43 - وإنْ يُرَاعَ الفِعْلُ معْ قطعِ النَّظَرْ … عنْ فاعِلِ فَذو كِفَايةٍ أُثِرْ

44 - والأمرُ بعدَ النَّهيِ للحِلّ وَفيِ … قولٍ لِرفعِ النهي خُذْ بِه تَفِي
19 - কিন্তু যা কোনো মাধ্যমকে (الذريعة) রুদ্ধ করার জন্য হারাম করা হয়েছে … তা বিশেষ প্রয়োজনে বৈধ (يجوز) হয়, যেমন আরিয়্যাহ (العرية) লেনদেন।

20 - ইবাদত কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে যা কিছু নিষিদ্ধ (منهي عنه) করা হয়েছে … তাকে বাতিল (أفسد) গণ্য করুন, এতে কোনো দ্বিধা করবেন না।

21 - সুতরাং প্রতিটি নিষেধাজ্ঞা (نهي) যা মূল সত্তা (الذوات) অথবা শর্তাবলির (الشروط) দিকে ফিরে যায় … তা সংশ্লিষ্ট বিষয়কে বাতিল বা ফাসিদ (مفسد) সাব্যস্ত করে।

22 - আর যদি তা বহির্ভূত কোনো বিষয়ের দিকে ফিরে যায়—যেমন আত্মসাৎকৃত পাগড়ি (العمة)— … তবে তা কোনো ক্ষতি করবে না; সুতরাং এই কারণটি (العلة) অনুধাবন করুন।

23 - বস্তুর ক্ষেত্রে মূল নীতি হলো বৈধতা (حل); তবে বিধানদাতার (الشارع) অনুমতি ব্যতীত যেকোনো ইবাদত নিষিদ্ধ।

24 - যদি হুকুমের বিষয়ে কোনো সন্দেহ (شك) সৃষ্টি হয়, তবে উভয় প্রকারের ক্ষেত্রে মূল নীতির (الأصل) দিকে ফিরে যান এবং তা অনুসরণ করুন।

25 - মূল নীতি হলো আদেশ (الأمر) এবং নিষেধাজ্ঞা (النهي) দ্বারা বিষয়টি অবধারিত হওয়া; যতক্ষণ না মুস্তাহাব (الندب) বা অপছন্দনীয়তার (الكره) প্রমাণ পাওয়া যায়।

26 - যে কাজে কেবল ফজিলতের উল্লেখ রয়েছে কিন্তু কোনো আদেশ (أمر) দেওয়া হয়নি … তা সুস্পষ্টভাবেই মুস্তাহাব (ندب)।

27 - নবী (সা.)-এর এমন প্রতিটি কর্ম যা আদেশ (أمر) হতে মুক্ত … তা দৃশ্যত আবশ্যক বা ওয়াজিব (واجب) নয়।

28 - আর যদি তা কোনো আদেশের ব্যাখ্যাকর্তা (مبين) হয় … তবে তার বিধান সেই আদেশের বিধানেরই অনুরূপ হবে।

29 - কল্যাণকর কাজের মধ্যে সংঘাত (التزاحم) সৃষ্টি হলে উচ্চতর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিন; আর মন্দের ক্ষেত্রে এর বিপরীতটি করুন।

30 - লঘুতর ক্ষতির মাধ্যমে গুরুতর ক্ষতিকে প্রতিহত করুন … এবং দুটি উত্তম বিষয়ের মধ্যে শ্রেষ্ঠতরটি গ্রহণ করুন, দ্বিধা করবেন না।

31 - যদি অনুমোদিত (مبيح) এবং নিষিদ্ধ (منع) বিষয় একত্রিত হয় … তবে নিষেধাজ্ঞার (منع) দিকটিকেই প্রাধান্য দিয়ে অগ্রগণ্য করুন।

32 - প্রতিটি বিধান তার কারণের (العلة) অনুসারী … কারণটি পাওয়া গেলে বিধানটি থাকবে, অন্যথায় তা বিলুপ্ত হবে।

33 - কারণের (السبب) আগে যা কিছু ঘটে তা বাতিল বলে গণ্য করুন, তবে শর্তের (الشرط) ক্ষেত্রে নয়; এ পার্থক্যটি জানুন এবং সতর্ক হোন।

34 - কোনো বিষয় ততক্ষণ পূর্ণ হয় না, যতক্ষণ না তার শর্তাবলি (شروط) পূর্ণ হয় এবং কোনো প্রতিবন্ধক (مانع) না থাকে।

35 - ইবাদতের ক্ষেত্রে প্রবল ধারণা (الظن) নির্ভরযোগ্য (المعتبر); তবে চুক্তির ক্ষেত্রে তারা প্রকৃত অবস্থাকে (نفس الأمر) ধর্তব্য মনে করেছেন।

36 - কিন্তু যদি প্রবল ধারণাটি ভুল (خطأ) প্রমাণিত হয় … তবে দায়মুক্ত হওয়ার লক্ষ্যে ভুলটি সংশোধন করে নিন।

37 - যেমন কোনো ব্যক্তি ওয়াক্ত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে সালাত আদায় করল … তাকে ওয়াক্ত হওয়ার পর পুনরায় সালাত আদায় করতে হবে।

38 - কাজ শেষ হওয়ার পর সন্দেহ (الشك) কোনো প্রভাব ফেলে না; একইভাবে যদি সন্দেহের আধিক্য ঘটে।

39 - অথবা যদি তা কেবল ওয়াসওয়াসার (وسواس) মতো কল্পনা হয় তবে তা বর্জন করুন … কেননা নির্বোধেরাই এ জাতীয় ওয়াসওয়াসা নিয়ে আসে।

40 - অতঃপর মনের কল্পনা বা সংকল্প ক্ষমাযোগ্য (معفو) … যতক্ষণ না তা আমলে কোনো প্রভাব ফেলে, ততক্ষণ তার কোনো বিধান নেই।

41 - আদেশ (الأمر) অবিলম্বে পালনের দাবি রাখে, তাই সময়ের সদ্ব্যবহার করুন … তবে এর বিপরীতে কোনো দলিল (دليل) থাকলে তা ভিন্ন কথা।

42 - আদেশের ক্ষেত্রে যদি ব্যক্তিবিশেষকে (الفاعل) প্রাধান্য দেওয়া হয় … তবে তা ব্যক্তিগত বাধ্যবাধকতা (ذو عين) এবং সেটিই শ্রেষ্ঠ।

43 - আর যদি ব্যক্তি নির্বিশেষে কেবল কাজের প্রতি দৃষ্টি দেওয়া হয় … তবে তাকে সামষ্টিক দায়িত্ব বা ফরজে কিফায়া (ذو كفاية) হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

44 - নিষেধাজ্ঞার পর আদেশ (الأمر) বৈধতার (الحل) অর্থ প্রকাশ করে; অন্য এক মতে তা কেবল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য হয়; এটি গ্রহণ করলেই আপনার লক্ষ্য পূর্ণ হবে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১২)
45 - وافْعَلْ عَبادةً إذا تَنَوَّعَتْ … وُجُوهُهَا بِكلِّ مَا قَدْ وَرَدَتْ

46 - لِتَفْعَلَ السُّنَّةَ في الوَجْهَيْنِ … وتحفظَ الشَّرْعَ بِذِي النّوعَيْنِ

47 - والْزَمْ طرِيقَةَ النَّبِيِّ المُصْطفَى … وَخُذْ بِقَوْلِ الرَّاشِدِين الخُلَفَا

48 - قولُ الصَّحابِيْ حُجَّةٌ على الأصَحْ … ما لمْ يُخالِفْ مِثلَه فمَا رَجَحْ

49 - وحجَّةُ التّكْلِيفِ خُذهَا أربعَهْ … قرآنُنَا وَسُنَّةٌ مُثَبَّتَهْ

50 - مِنْ بَعدِها إجماعُ هذِي الأُمَّهْ … والرَّابعُ القياسُ فَافْهَمَنَّهْ

51 - واحْكُمْ لِكلِّ عَامَلٍ بنيّتِه … واسْدُدْ على المحتَالِ بابَ حيلتِهْ

52 - فإنَّما الأعمالُ بالنَّيَّاتِ … كَما أَتَى في خبرِ الثِّقاتِ

53 - ويَحْرُمُ المُضِيُّ فيما فَسَدَا … إلا بحجِّ واعْتِمَارٍ أَبَدَا

54 - والنَّفلُ جوِّزْ قطعَهُ مَا لم يَقَعْ … حَجًا وعُمرةً فَقَطعُهُ امْتَنَع

55 - والإثمُ والضَّمانُ يَسقُطانِ … بِالجَهْلِ والإكراهِ والنِّسْيَانِ

56 - إن كان ذا في حقِّ مولانا ولا … تُسقطْ ضمانًا في حقوق للمَلا

57 - وكلُّ مُتْلَفٍ فمضمونٌ إذا … لَمَ يكْن الاتلافُ مِنْ دَفع الأَذَى

58 - أويكُ مأذونًا به مِنْ مالكِ … أو ربِّنَا ذي المِلكِ خيرِ مالكِ

59 - فكُلُّ ما يحصلُ مما قدْ أُذِنْ … فليس مضمونًا وعكسُهُ ضُمِنْ

60 - ويُضْمَنُ المثليُّ بالمثلِ ومَا … ليس بمثليَّ بما قد قُوِّمَا

61 - وما على المُحسنِ مِنْ سبيلِ … وعكسُهُ الظالمُ فاسْمَع قِيْلِي

62 - ثمَّ العُقودُ إنْ تَكُنْ مُعاوضَهْ … فَحَرِّرَنْهَا ودَعِ المخَاطَرَهْ

63 - وإنْ تكُنْ تَبَرُّعًا أو تَوْثِقهْ … فأمْرُها أخفُّ فادْرِ التفرِقَهْ

64 - لأنَّ ذِي إنْ حَصَلَتْ فَمَغْنَمْ … وإنْ تَفُتْ فَلَيس فِيها مَغْرَمْ

65 - وكُلُّ ما أَتَى وَلمْ يُحَدَّدِ … بالشَّرِع كالحرْزِ فبالعُرفِ احْدُدِ

66 - منْ ذاكَ صِيغاتُ العُقُودِ مُطلقًا … ونحوُها في قَولِ مَنْ قَدْ حَقَّقَا

67 - واجْعَلْ كَلَفْظٍ كُلَّ عُرْفٍ مُطَّرِدْ … فَشَرطُنَا العُرفيُّ كَاللفْظِيْ يَرِدْ

68 - وشَرْطُ عَقْدٍ كوْنُه منْ مَالكِ … وكلُّ ذِي ولايَةٍ كالمالكِ

69 - وكلُّ مَنْ رِضاه غيرُ مُعْتَبَرْ … كُمْبْرَإٍ فعلمُهُ لا يُعْتَبَرْ

70 - وكُلُّ دَعوَى لِفسادِ العَقْدِ … مَعَ ادِّعاءِ صِحَّةٍ لا تُجْدِي
45 - যখন কোনো ইবাদতের রূপ বৈচিত্র্যময় হয়, তখন তা পালন করো … তার সকল পদ্ধতিতে যা বর্ণিত হয়েছে

46 - যাতে উভয় পদ্ধতিতে সুন্নাহ পালিত হয় … এবং উভয় প্রকারের মাধ্যমে শরিয়ত সংরক্ষিত থাকে

47 - আর মনোনীত নবীর পথকে আঁকড়ে ধরো … এবং হেদায়েতপ্রাপ্ত খুলাফায়ে রাশিদীনের কথা গ্রহণ করো

48 - সাহাবীর কথা বিশুদ্ধতম (الأصح) মতানুযায়ী প্রমাণ (حجة) … যতক্ষণ না তিনি তাঁর মতো অন্য কারও বিরোধিতা করেন; সেক্ষেত্রে যা অগ্রগণ্য (الراجح) তাই গ্রহণীয়

49 - বিধানের দলিল (حجة) চারটি মনে রেখো … আমাদের কুরআন এবং প্রতিষ্ঠিত সুন্নাহ

50 - অতঃপর এই উম্মতের ঐক্যমত (إجماع) … আর চতুর্থটি হলো কিয়াস (القياس), তা অনুধাবন করো

51 - প্রত্যেক আমলকারীর বিচার করো তার নিয়ত অনুযায়ী … এবং প্রতারকের জন্য তার প্রতারণার পথ বন্ধ করো

52 - নিশ্চয়ই সকল আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল … যেমনটি নির্ভরযোগ্য (الثقات) বর্ণনাকারীদের খবরে (خبر) এসেছে

53 - যা বাতিল (فساد) হয়ে গেছে তাতে অগ্রসর হওয়া হারাম … তবে হজ ও উমরাহর ক্ষেত্রে তা সর্বদা প্রযোজ্য

54 - নফল (النفل) ইবাদত মাঝপথে ত্যাগ করা জায়েজ … তবে হজ ও উমরাহ হলে তা ত্যাগ করা নিষিদ্ধ

55 - গুনাহ এবং দায়বদ্ধতা রহিত হয়ে যায় … অজ্ঞতা, জবরদস্তি এবং বিস্মৃতির কারণে

56 - যদি তা আমাদের রবের হকের ক্ষেত্রে হয় … তবে মানুষের হকের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা রহিত করো না

57 - প্রতিটি বিনষ্ট বস্তুর ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, যদি … সেই বিনাশ অনিষ্ট দূর করার জন্য না হয়

58 - অথবা যদি তা মালিকের পক্ষ থেকে অনুমোদিত হয় … অথবা আমাদের রবের পক্ষ থেকে, যিনি সর্বোত্তম মালিক

59 - অনুমতি সাপেক্ষে যা কিছু ঘটবে … তার কোনো দায় নেই, আর এর বিপরীতটি দায়বদ্ধ

60 - সমজাতীয় (المثلي) বস্তুর ক্ষতিপূরণ সমজাতীয় বস্তু দিয়ে … আর যা সমজাতীয় নয় তা মূল্যের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে

61 - ইহসানকারীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের পথ নেই … আর যালিমের বিষয়টি এর বিপরীত, আমার কথা শোনো

62 - অতঃপর চুক্তিগুলো (العقود) যদি বিনিময়মূলক হয় … তবে তা সুস্পষ্ট করো এবং ঝুঁকি পরিহার করো

63 - আর যদি তা দান কিংবা জামানত হয় … তবে তার বিধান শিথিল, তাই এই পার্থক্যটি জেনে রেখো

64 - কারণ এগুলো অর্জিত হলে তা লাভ … আর অর্জিত না হলে তাতে কোনো লোকসান নেই

65 - শরিয়তে যা কিছু এসেছে কিন্তু তা সংজ্ঞায়িত হয়নি … যেমন হেফাজত, তা প্রচলিত প্রথা (العرف) দ্বারা নির্ধারণ করো

66 - চুক্তির শব্দাবলিও এর অন্তর্ভুক্ত … এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ, গবেষক (حقق) আলেমদের মতানুযায়ী

67 - প্রচলিত প্রথাকে উচ্চারিত শব্দের মতো গণ্য করো … কেননা আমাদের প্রথাগত শর্তটি শাব্দিক শর্তের মতোই গণ্য হয়

68 - চুক্তির (عقد) শর্ত হলো তা মালিকের পক্ষ থেকে হতে হবে … আর যার অভিভাবকত্ব আছে সে মালিকের সমতুল্য

69 - যার সন্তুষ্টি ধর্তব্য নয়—যেমন ঋণমুক্তি—তার জানাও ধর্তব্য নয়

70 - চুক্তির সঠিকতা দাবির সাথে তার বাতুলতার (فساد) দাবি করা কোনো কাজে আসে না
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৩)
71 - وكُلُّ مَا يُنكِرهُ الحِسُّ امنَعَا … سَمَاعَ دَعْواهُ وضِدَّهُ اسْمعَا

72 - بيَّنةً أَلْزِمْ لكُلِّ مُدَّعِ … وَمُنْكِرًا أَلْزِمْ يمينًا تُطِعِ

73 - كُلُّ أمِينٍ يدّعي الرَّدَّ قُبِلْ … مَالمْ يَكُنْ فِيمَا لَه حظٌ حَصَلْ

74 - وَأطْلِق القَبُولَ في دَعْوَى التلَفْ … وكُلُّ مَنْ يُقْبَل قولُه حَلَفْ

75 - أدِّ الأمانَ لِلذي قدْ أَمَّنَكْ … ولا تَخُنْ مَنْ خَان فَهْوَ قدْ هَلك

76 - وَجَائِزٌ أخذُك مالًا استُحِقْ … شَرعًا ولو سِرًّا كَضَيفٍ فهْو حَقْ

77 - قد يَثْبُتُ الشَّيءُ لغيرِهِ تَبَعْ … وإنْ يَكُنْ لوِ استَقَلَّ لا مْتَنَعْ

78 - كَحَامِلٍ إنْ بِيعَ حَمْلُها امْتَنَعْ … وَلَوْ تُباعُ حَامِلًا لم يَمْتَنِعْ

79 - وكُلُّ شَرطٍ مُفْسِدٍ للعقدِ … بِذِكرِهِ يُفسِدُهُ بِالقصْدِ

80 - مِثْلُ نِكَاحِ قاصِدِ التَّحْلِيلِ … ومَنْ نَوى الطلاقَ للرَّحِيلِ

81 - لكنَّ مَنْ يَجْهلُ قَصْدَ صاحبِهْ … فالعقْدُ غيرُ فاسدٍ مِنْ جانبِهْ

82 - لأنَّه لا يَعلمُ الذي أَسَرْ … فَأُجْرِيَ العَقْدُ على ما قدْ ظَهَرْ

83 - والشَّرطُ والصُّلحُ إذا ما حلَّلا … مُحرَّمًا أو عكسُه لنْ يُقْبَلا

84 - وكُلُّ مَشْغُولٍ فَليسَ يُشْغَلُ … بِمُسْقِطٍ لِما بِهِ يَنْشَغِلُ

85 - كَمُبْدَلٍ في حُكْمِهِ اجعَلْ بَدَلا … ورُبَّ مَفْضُولٍ يكونُ أَفْضَلَا

86 - كُلُّ استِدَامَةٍ فأقوى مِنْ بَدَا … فِي مِثْلِ طِيبِ مُحْرِمٍ ذَا قَدْ بَدَا

87 - وكلُّ مَعلومٍ وجُودًا أو عَدَمْ … فالأصْلُ أنْ يَبْقَى على ما قد عُلِمْ

88 - والنَّفْيُ للوُجُودِ ثُمَّ الصِّحهْ … ثُمّ الكَمَالِ فارْعَيَنَّ الرُتْبَهْ

89 - وَالأصْلُ في القَيْدِ احترازٌ وَيَقِلْ … لِغَيْرِهِ كَكَشفِ تَعْليل جُهِلْ

90 - وَإنْ تَعَذَّرَ اليَقِينُ فارْجِعَا … لِغَالِبِ الظَّنِّ تكنْ مُتَّبِعَا

91 - وكلُّ مَا لأمرُ بِهِ يَشْتَبِهُ … مِنْ غَيْرِ مَيْزٍ قُرعَةٌ تُوْضِحُهُ

92 - وكلُّ مَنْ تَعَجَّلَ الشَّيءَ علَى … وجْهٍ مُحَرَّمٍ فَمَنْعُه جَلا

93 - وَضَاعِفِ الغُرْمَ عَلى مَنْ ثَبَتَتْ … عُقُوبةٌ عَلَيْهِ ثُمَّ سَقَطَتْ

94 - لِمَانعٍ كسارقٍ مِنْ غيرِ مَا … مُحَرَّزٍ وَمَنْ لِضالٍ كَتَمَا

95 - وكلُّ مَا أُبِينَ مِنْ حَيِّ جُعِلْ … كَمَيْتِهِ في حُكْمِهِ طُهْرًا وَحِلْ

96 - وكانَ تَأتي للدَّوَامِ غالبًا … وليس ذا بِلازِمٍ مُصَاحِبًا
71 - ইন্দ্রিয় যা অস্বীকার করে তার দাবি গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকুন... তার দাবি শ্রবণ করা বর্জন করুন এবং এর বিপরীতটি শ্রবণ করুন।

72 - প্রত্যেক দাবিদারের ক্ষেত্রে প্রমাণ (بينة) উপস্থাপন আবশ্যক করুন... এবং অস্বীকারকারীর ওপর শপথ (يمين) গ্রহণ আবশ্যক করুন, তবেই আপনি আনুগত্য পাবেন।

73 - প্রত্যেক আমানতদার (أمين) যখন আমানত ফেরত দেওয়ার দাবি করে তখন তা গৃহীত হবে... যতক্ষণ না এমন বিষয়ে হয় যেখানে তার নিজের কোনো স্বার্থ নিহিত থাকে।

74 - কোনো সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাওয়ার দাবিতে নিঃশর্ত গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করুন... আর যার কথাই গ্রহণযোগ্য হয়, তাকেই শপথ করতে হবে।

75 - যে আপনাকে বিশ্বাস করেছে তার আমানত (أمانة) আদায় করুন... এবং যে আপনার সাথে খিয়ানত করেছে তার সাথেও খিয়ানত করবেন না, কেননা সে তো ধ্বংস হয়ে গেছে।

76 - আপনার প্রাপ্য সম্পদ যদি শরিয়তসম্মত হয় তবে তা গ্রহণ করা বৈধ... এমনকি যদি তা গোপনেও হয়, যেমন মেহমানের হকের মতো।

77 - কোনো বস্তু অন্যের অনুগামী (تبع) হিসেবে সাব্যস্ত হতে পারে... যদিও স্বতন্ত্রভাবে সেটি সাব্যস্ত হওয়া অসম্ভব হতো।

78 - যেমন গর্ভবতী পশুর গর্ভস্থ ভ্রূণ পৃথকভাবে বিক্রয় করা অসম্ভব বা নিষিদ্ধ (امتنع)... কিন্তু গর্ভবতী পশুকে বিক্রয় করলে তা নিষিদ্ধ নয়।

79 - চুক্তিকে বিনষ্টকারী প্রত্যেকটি শর্ত... যদি তা উল্লেখ করার মাধ্যমে চুক্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্য থাকে।

80 - যেমন হালাল করার উদ্দেশ্যে (تحليل) বিবাহ করা... কিংবা প্রস্থানের প্রাক্কালে তালাকের নিয়ত করা।

81 - কিন্তু যে ব্যক্তি তার সঙ্গীর গোপন উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবগত নয়... তবে তার পক্ষ থেকে চুক্তিটি ফাসেদ (فاسد) বা ত্রুটিযুক্ত হবে না।

82 - কারণ সে অন্যের মনের লুকায়িত বিষয় জানে না... তাই যা প্রকাশ্য (ظاهر) তার ভিত্তিতেই চুক্তিটি পরিচালিত হবে।

83 - শর্ত এবং আপস (صلح) যদি কোনো হারামকে হালাল করে... অথবা কোনো হালালকে হারাম করে, তবে তা গ্রহণ করা হবে না।

84 - যা বর্তমানে কোনো কাজে নিয়োজিত আছে তা অন্য কোনো কাজে নিয়োজিত করা যাবে না... যা তার বর্তমান ব্যস্ততাকে বাতিল করে দেয়।

85 - মূলের স্থলাভিষিক্ত বা বিকল্পকে (بدل) মূলের বিধানের অন্তর্ভুক্ত করুন... এবং অনেক সময় অপেক্ষাকৃত কম মর্যাদাপূর্ণ (مفضول) বিষয়টি অধিক উত্তম (أفضل) হতে পারে।

86 - কোনো বিষয়ের স্থায়িত্ব (استدامة) তার সূচনার চেয়েও শক্তিশালী... যেমন ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।

87 - অস্তিত্ব বা অনস্তিত্বের বিষয়ে জানা আছে এমন সব কিছু... মূলনীতি (أصل) হলো তা যেভাবে জানা আছে সেভাবেই বহাল থাকবে।

88 - কোনো কিছুর নেতিবাচকতা প্রথমে অস্তিত্ব (وجود), এরপর বৈধতা (صحة)... এবং এরপর পূর্ণতার (كمال) ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, তাই এই ক্রমটি অনুসরণ করুন।

89 - কোনো বিধানে শর্ত বা সীমাবদ্ধতা (قيد) আরোপের মূল উদ্দেশ্য হলো সতর্কতা... তবে খুব কম ক্ষেত্রে তা অন্য কারণে হয়, যেমন কোনো অজানা কারণ বা ইল্লত (تعليل) প্রকাশ করা।

90 - যদি নিশ্চিত বিশ্বাস অর্জন করা অসম্ভব হয়, তবে প্রবল ধারণার (غالب الظن) দিকে ফিরে যান, তবেই আপনি অনুসরণকারী হতে পারবেন।

91 - যখনই কোনো বিষয় অস্পষ্ট বা সন্দেহযুক্ত (اشتبه) হয়ে যায়... এবং আলাদা করার কোনো উপায় থাকে না, তখন লটারি (قرعة) তা স্পষ্ট করে দেয়।

92 - যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ (محرم) পন্থায় কোনো কিছু পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো করবে... তবে তাকে সেই জিনিস থেকে বঞ্চিত করা সুনিশ্চিত।

93 - জরিমানা দ্বিগুণ করুন তার ওপর যার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে... কিন্তু এরপর কোনো কারণে তার ওপর থেকে শাস্তি (عقوبة) রহিত হয়ে গেছে।

94 - কোনো প্রতিবন্ধকের কারণে, যেমন অরক্ষিত স্থান থেকে চুরি করা চোর... এবং যে ব্যক্তি হারানো প্রাপ্ত বস্তু গোপন করে রাখে।

95 - জীবিত প্রাণী থেকে বিচ্ছিন্ন (أبين) করা প্রতিটি অংশ সেই প্রাণীর... মৃতদেহের মতো পবিত্রতা (طهر) ও বৈধতার (حل) বিধানে গণ্য হবে।

96 - ‘কানা’ (كان) শব্দটি সাধারণত স্থায়িত্ব বা সর্বদা হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হয়... তবে এটি সবসময় অপরিহার্য কোনো বিষয় নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৪)
97 - وإِنْ يُضَفْ جَمعٌ وَمُفردٌ يَعُمْ … والشَّرطُ والموصُولُ ذا لهُ انحتَم

98 - مُنَكَّرٌ إِنْ بَعدَ إثباتٍ يَرِدْ … فَمُطلقٌ ولِلعُمومِ إنْ يَرِدْ

99 - مِنْ بَعدِ نَفْيٍ نَهْيٍ استفهامِ … شَرْطٍ وَفي الإثبات للإنعامِ

100 - واعتبرِ العمومَ فِي نصًّ أُثِرْ … أمّا خُصُوصُ سَبَبٍ فَمَا اعْتُبِرْ

101 - ما لمْ يَكُنْ مُتَّصِفًا بِوَصْفِ … يُفيدُ عِلةً فَخُذْ بِالوَصْفِ

102 - وخَصِّصِ العامَّ بِخاصٍ وَرَدَا … كَقَيْدِ مُطلقٍ بِما قد قُيِّدَا

103 - ما لمْ يكُ التِّخْصيصُ ذِكرَ البعضِ … مِنَ العُمُومِ فالعُمُومَ أَمْضِ
97 - আর যখন বহুবচন ও একবচন শব্দ সম্বন্ধযুক্ত (إضافة) হয় তখন তা ব্যাপকতা (عام) প্রদান করে ... এবং শর্ত (شرط) ও সম্বন্ধসূচক শব্দের (موصول) ক্ষেত্রে এটি অবধারিত।

98 - ইতিবাচক বাক্যের পর অনির্দিষ্ট (منكر) শব্দ আসলে তা নিরঙ্কুশ (مطلق) হয়; আর ব্যাপকতার (عموم) জন্য হবে যদি তা আসে...

99 - না-বোধক (نفي), নিষেধাজ্ঞা (نهي), প্রশ্নবোধক (استفهام) ও শর্তের (شرط) পরে; এবং ইতিবাচক বাক্যে অনুগ্রহ প্রকাশের জন্য তা ব্যাপকতা (عموم) প্রদান করে।

100 - বর্ণিত পাঠের ক্ষেত্রে ব্যাপকতাকেই (عموم) বিবেচনা করো; আর প্রেক্ষাপটের বিশেষত্ব (خصوص سبب) এক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য নয়।

101 - যতক্ষণ না সেটি এমন বিশেষণে গুণান্বিত হয় যা কার্যকর কারণ (علة) নির্দেশ করে; এমতাবস্থায় সেই বিশেষণটিই গ্রহণ করো।

102 - আর আগত বিশেষ (خاص) দলিলের মাধ্যমে ব্যাপক (عام) বিধানকে সুনির্দিষ্ট করো, যেমনটি নিরঙ্কুশ (مطلق) বিধানকে সীমাবদ্ধ (مقيد) করা হয়।

103 - যতক্ষণ না এই সুনির্দিষ্টকরণ (تخصيص) ব্যাপকতার (عموم) কোনো অংশকে কেবল উল্লেখ করা হয়; এমতাবস্থায় ব্যাপকতাকেই (عموم) কার্যকর রাখো।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৫)
‌‌التمهيد

الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على أشرف الأنبياء والمرسلين سيدنا ونبينا محمد صلى الله عليه وسلم وعلى آله وصحبه أجمعين.

أما بعد:

فعنوان هذه المنظومة: (منظومة في أصول الفقه وقواعد الفقه).

قوله: (منظومة) النظم لغة: يطلق على معان منها: التأليف، والترتيب. والنظم خلاف النثر.

والمراد: الكلام المقفى الموزون.

والأصول: جمع أصل: وهو ما يُبنى عليه غيره، أو ما يتفرع منه غيره، وسيأتي أن العلماء يطلقون الأصل ويريدون به عدة أشياء.(1)

والفقه في اللغة: الفَهْم، ومنه قوله تعالى: {وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِنْ لِسَانِي (27) يَفْقَهُوا قَوْلِي} [طه: 27، 28].

واصطلاحًا: معرفة الأحكام الشرعية العملية المكتسبة من أدلتها التفصيلية.

قولنا: (معرفة): يشمل العلم والظن؛ لأن إدراك الأحكام الفقهية قد يكون يقينيًا، وقد يكون ظنيًا.

قولنا: (الأحكام): يأتي تعريف الأحكام عند الكلام على البيت الثاني من هذه المنظومة.

--------------------------------------------

(1) انظر البيت رقم (49).
উপক্রমণিকা

সকল প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক নবি ও রাসুলদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ, আমাদের নেতা ও নবি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সকল সাহাবীর ওপর।

অতঃপর:

এই কাব্যগ্রন্থটির শিরোনাম হলো: (উসুলুল ফিকহ ও কাওয়াইদুল ফিকহ বিষয়ক কাব্যগ্রন্থ)।

তাঁর উক্তি: (মানজুমা), আভিধানিক অর্থে ‘নাজম’ বা কাব্য শব্দটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে: সংকলন ও বিন্যাস। আর কাব্য হলো গদ্যের বিপরীত।

এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো: ছন্দোবদ্ধ ও অন্ত্যমিলযুক্ত বাক্য।

‘উসুল’ (الأصول) হলো ‘আসল’ (أصل) শব্দের বহুবচন: আর তা হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে, অথবা যা থেকে অন্য কিছু শাখা হিসেবে বের হয়। অচিরেই সামনে আসবে যে, ওলামায়ে কিরাম ‘আসল’ (মূলনীতি) শব্দটি প্রয়োগ করেন এবং এর দ্বারা বেশ কিছু বিষয় উদ্দেশ্য নিয়ে থাকেন।(১)

আভিধানিক অর্থে ‘ফিকহ’ হলো: উপলব্ধি বা বুঝা। মহান আল্লাহর বাণী এর অন্তর্ভুক্ত: {এবং আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন, (২৭) যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।} [ত্বহা: ২৭, ২৮]।

পারিভাষিক (اصطلاحًا) অর্থে: বিস্তারিত দলিল-প্রমাণাদি থেকে অর্জিত আমলি বা ব্যবহারিক শরয়ি বিধানাবলি (الأحكام الشرعية العملية) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

আমাদের উক্তি: ‘জ্ঞান লাভ’ (معرفة); এটি নিশ্চিত জ্ঞান (علم) এবং প্রবল ধারণা (ظن) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ ফিকহি বিধানাবলি উপলব্ধি করা কখনো নিশ্চিত (يقيني) হতে পারে, আবার কখনো ধারণাপ্রসূত (ظني) হতে পারে।

আমাদের উক্তি: ‘বিধানাবলি’ (الأحكام); এই কাব্যগ্রন্থের দ্বিতীয় পঙক্তি আলোচনার সময় বিধানাবলি বা আহকামের সংজ্ঞা প্রদান করা হবে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন পঙক্তি নম্বর (৪৯)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৬)
وقولنا: (الشرعية): أي: المتلقاة من الشرع، كالوجوب والحرمة. فخرج به الأحكام العقلية، كمعرفة أن الكل أكبر من الجزء، والعادية كمعرفة أن الماء مروٍ، وأن الخبز مُشبع.

قولنا: (العملية): يخرج الاعتقادية كتوحيد الله، ومعرفة أسمائه وصفاته، فلا يسمى ذلك فقهًا اصطلاحًا.

وقولنا: (المكتسبة من الأدلة التفصيلية): أي: أن هذه الأحكام من الأدلة المفصِّلة للأحكام فخرج بذلك أصول الفقه؛ لأنه مكتسب من الأدلة الإجمالية.

وتعريف أصول الفقه باعتباره فنًا مستقلًا هو: أدلة الفقه الإجمالية، وكيفية الاستفادة منها، وحال المستفيد.

فقولنا: (أدلة الفقه الإجمالية): يشمل الأدلة المتفق عليها، والأدلة المختلف فيها؛ لأن أدلة الفقه تنقسم قسمين:

القسم الأول: أدلة متفق عليها.

القسم الثاني: أدلة مختلف فيها، كما سيأتي إن شاء الله الإشارة إليه في النظم.(1)

وقولنا: (الإجمالية): يخرج أدلة الفقه، فإن أدلة الفقه تفصيلية.

وقولنا: (كيفية الاستفادة منها): يعني معرفة طرق الاستنباط: الأمر، والنهي، والمطلق، والمقيد، والعام، والخاص … إلخ.

وقولنا: (حال المستفيد): المستفيد: هو المجتهد، ففي أصول الفقه تُبْحَثُ أحكامُ المجتهد وما يُلحق بذلك من أحكام الفتوى، والتعارض، والترجيح؛ لأنها من خصائص المجتهد، وتدخل مباحث التقليد لكون المقلّد تابعًا له.

--------------------------------------------

(1) انظر ص (268).
এবং আমাদের কথা: (শরয়ি (الشرعية)): অর্থাৎ: যা শরিয়ত থেকে প্রাপ্ত, যেমন ওয়াজিব (الوجوب) হওয়া এবং হারাম (الحرمة) হওয়া। এর মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক বিধানসমূহ (الأحكام العقلية) বাদ পড়ে যায়, যেমন এটি জানা যে সমষ্টি তার অংশের চেয়ে বড়; আর জাগতিক নিয়মাবলি (العادية) সংক্রান্ত জ্ঞানও বাদ পড়ে যায়, যেমন পানি তৃষ্ণা নিবারক এবং রুটি ক্ষুধা নিবারক।

আমাদের কথা: (ব্যবহারিক (العملية)): এর মাধ্যমে বিশ্বাসগত (الاعتقادية) বিষয়সমূহ বাদ পড়ে যায়, যেমন আল্লাহর তাওহিদ (توحيد), তাঁর নামসমূহ ও গুণাবলি (صفات) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। পরিভাষাগতভাবে একে ফিকহ (فقه) বলা হয় না।

এবং আমাদের কথা: (বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত (المكتسبة من الأدلة التفصيلية)): অর্থাৎ: এই বিধানসমূহ আহকামের বিস্তারিত দলিলসমূহ (الأدلة التفصيلية) থেকে সংগৃহীত। এর মাধ্যমে উসুলুল ফিকহ (أصول الفقه) বাদ পড়ে যায়; কারণ এটি সামগ্রিক দলিলসমূহ (الأدلة الإجمالية) থেকে অর্জিত হয়।

একটি স্বতন্ত্র শাস্ত্র হিসেবে উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা হলো: ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ (الأدلة الإجمالية), সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা।

সুতরাং আমাদের কথা: (ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ (أدلة الفقه الإجمالية)): এটি সর্বসম্মত দলিলসমূহ (الأدلة المتفق عليها) এবং মতভেদপূর্ণ দলিলসমূহকে (الأدلة المختلف فيها) অন্তর্ভুক্ত করে; কারণ ফিকহের দলিলসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: সর্বসম্মত দলিলসমূহ (الأدلة المتفق عليها)।

দ্বিতীয় প্রকার: মতভেদপূর্ণ দলিলসমূহ (الأدلة المختلف فيها), যেমনটি ইনশাআল্লাহ সামনে পদ্যে নির্দেশ করা হবে।(1)

এবং আমাদের কথা: (সামগ্রিক (الإجمالية)): এর মাধ্যমে ফিকহের দলিলসমূহ বাদ পড়ে যায়, কারণ ফিকহের দলিলসমূহ হলো বিস্তারিত (تفصيلية)।

এবং আমাদের কথা: (সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি (كيفية الاستفادة منها)): অর্থাৎ ইস্তিনবাত বা বিধান উদ্ভাবনের পদ্ধতিসমূহ (طرق الاستنباط) সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা: যেমন নির্দেশ (الأمر), নিষেধ (النهي), শর্তহীন (المطلق), শর্তযুক্ত (المقيد), সাধারণ (العام), বিশেষ (الخاص) … ইত্যাদি।

এবং আমাদের কথা: (আহরণকারীর অবস্থা (حال المستفيد)): আহরণকারী হলেন মুজতাহিদ (المجتهد)। সুতরাং উসুলুল ফিকহে মুজতাহিদের বিধানাবলি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ফতোয়া (الفتوى), দালিলিক বৈপরীত্য (التعارض) ও দালিলিক অগ্রাধিকার (الترجيح) প্রদান সংক্রান্ত বিধানসমূহ নিয়ে আলোচনা করা হয়; কারণ এগুলো মুজতাহিদের বৈশিষ্ট্যের অন্তর্ভুক্ত। আর তাকলিদ (التقليد) সংক্রান্ত আলোচনাগুলোও এর অন্তর্ভুক্ত হয়, যেহেতু মুকাল্লিদ (المقلد) তার অনুসারী হয়ে থাকে।

--------------------------------------------

(1) দ্রষ্টব্য পৃষ্ঠা (২৬৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৭)
والقواعد لغة: جمع قاعدة، وهي تنقسم قسمين:

القسم الأول: قواعد حسية مثل: قواعد البيت وأساسه قال تعالى: {وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ} [البقرة: 127].

القسم الثاني: قواعد معنوية مثل: قواعد الفقه: [لا ضرر ولا ضرار]، و [الأمور بمقاصدها] … إلخ، والفقه سبق تعريفه(1).

وعُرّفت القواعد الفقهية في الاصطلاح بتعاريف كثيرة. وهي - وإن اختلفت عباراتها - متقاربة المعنى وهي: حكم أغلبي ينطبق على معظم جزئياته لتُعرف أحكامها منها.

قولنا: (حكم) سيأتي تعريفه.(2)

وقولنا: (أغلبي): ليس كليًا وهذا من الفروق بين القواعد الفقهية، والقواعد الأصولية، فالقواعد الأصولية قواعد كلية، تندرج جميع الجزئيات تحتها. وأما القواعد الفقهية فهي أغلبية.

وقولنا: (حكم أغلبي): أي أن هناك مسائل مستثناة من تلك القواعد تخالف أحكامها حكم القاعدة، وهذا الاستثناء لا ينقض كلية تلك القواعد ولا يقدح في عمومها للأسباب الآتية:

أولًا: ما ذكره الشاطبي في موافقاته بقوله: إن الأمر الكلي إذا ثبت فتخلف بعض الجزئيات عن مقتضاه لا يخرجه عن كونه كليًا، وأيضًا فإن الغالب الأكثري معتبر في الشريعة اعتبار القطعي.

ثانيًا: إن المتخلفات الجزئية لا ينتظم منها كلي يعارض هذا الكلي الثابت، وإنما يتصور أن يكون تخلف بعض الجزئيات قادحًا في الكليات العقلية.

--------------------------------------------

(1) سبق تعريفه قريبًا.

(2) انظر البيت رقم (2).
‘কাওয়ায়িদ’ (قواعد) আভিধানিকভাবে: ‘কায়িদাহ’ (قاعدة)-এর বহুবচন, আর এটি দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য মূলনীতি (قواعد حسية), যেমন: ঘরের ভিত্তি ও তার অবকাঠামো। মহান আল্লাহ বলেন: {আর স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম ও ইসমাইল কাবার ভিত্তি (الْقَوَاعِدَ) স্থাপন করছিল (এবং বলছিল), ‘হে আমাদের রব, আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ’} [সূরা আল-বাকারা: ১২৭]।

দ্বিতীয় প্রকার: তাত্ত্বিক মূলনীতি (قواعد معنوية), যেমন: ফিকহী মূলনীতিসমূহ (قواعد الفقه): [ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া যাবে না], এবং [কাজসমূহ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল] … ইত্যাদি। আর ফিকহ-এর সংজ্ঞা পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে(১)।

পারিভাষিক পরিভাষায় ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) অনেক সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। যদিও সেগুলোর শব্দশৈলী ভিন্ন, তবে অর্থগতভাবে সেগুলো কাছাকাছি। আর তা হলো: এমন এক অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান (حكم أغلبي), যা তার অধিকাংশ শাখা-প্রশাখার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়, যেন সেগুলোর বিধান এর মাধ্যমেই জানা যায়।

আমাদের বক্তব্য: (বিধান) এর সংজ্ঞা সামনে আসবে।(২)

আমাদের বক্তব্য: (অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য): এটি সামগ্রিক (كلي) নয়। আর এটিই ফিকহী মূলনীতি (القواعد الفقهية) এবং উসূলী মূলনীতিসমূহের (القواعد الأصولية) মধ্যে অন্যতম পার্থক্য। কেননা উসূলী মূলনীতিসমূহ হলো সামগ্রিক মূলনীতি (قواعد كلية), যার অধীনে সকল শাখা-প্রশাখা অন্তর্ভুক্ত থাকে। আর ফিকহী মূলনীতিসমূহ হলো অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য (أغلبية)।

আমাদের বক্তব্য: (অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান): অর্থাৎ এমন কিছু মাসআলা রয়েছে যা এই মূলনীতিগুলো থেকে ব্যতিক্রম, যেগুলোর বিধান মূলনীতির বিধানের পরিপন্থী। আর এই ব্যতিক্রম হওয়া উক্ত মূলনীতিগুলোর সামগ্রিকতাকে খণ্ডন করে না এবং নিম্নোক্ত কারণে সেগুলোর ব্যাপকতার ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি সৃষ্টি করে না:

প্রথমত: ইমাম শাতবি তাঁর ‘মুওয়াফাকাত’ গ্রন্থে যা উল্লেখ করেছেন, তিনি বলেছেন: "যখন কোনো সামগ্রিক বিষয় (الأمر الكلي) সাব্যস্ত হয়, তখন এর দাবি থেকে কিছু শাখা-প্রশাখার বিচ্যুতি একে সামগ্রিক হওয়া থেকে বিচ্যুত করে না। তদুপরি, শরিয়তে অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে যা সাব্যস্ত হয়, তা সুনিশ্চিত (قطعي) বিষয়ের মতোই গণ্য।"

দ্বিতীয়ত: বিচ্যুত শাখা-প্রশাখাগুলো এমন কোনো সামগ্রিক রূপ গঠন করে না যা এই প্রতিষ্ঠিত সামগ্রিক বিষয়ের (الكلي) বিরোধিতা করতে পারে। বস্তুত কোনো কোনো শাখা-প্রশাখার বিচ্যুতি কেবল বুদ্ধিবৃত্তিক সামগ্রিক বিষয়সমূহের (الكليات العقلية) ক্ষেত্রেই ত্রুটি হিসেবে গণ্য করা সম্ভব।

--------------------------------------------

(১) এর সংজ্ঞা অচিরেই অতিক্রান্ত হয়েছে।

(২) দেখুন পঙ্ক্তি নম্বর (২)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৮)
فالكليات الاستقرائية صحيحة وإن تخلف عن مقتضاها بعض الجزئيات.

ثالثًا: إن تخلف مسألة ما عن حكم قاعدة لا يلزم منه اندراج هذه المسألة تحت حكم قاعدة أخرى، فالمسألة المُخرَّجة تندرج ظاهرًا تحت حكم قاعدة، ولكنها في الحقيقة مندرجة تحت حكم قاعدة أخرى. وهذا من باب تنازع المسألة بين قاعدتين.

فليس إذًا استثناء جزئية من قاعدة ما بقادح في كلية هذه القاعدة ولا بمخرج لتلك الجزئية عن الاندراج تحت قاعدة أخرى.

وقولنا: (لتعرف أحكامها منها): هذه فائدة القواعد الفقهية أنك تعرف الحكم من هذه القاعدة، فقد لا تستحضر الدليل لكن إذا استحضرت القاعدة الفقهية فإنك تعرف الحكم منها.

مثال ذلك: من القواعد الفقهية: [الأصل في المياه الطهارة] فإنك تستدل بهذه القاعدة على أن الماء الذي غمس فيه يد قائم من نوم ليل ناقض لوضوء طهور؛ لأن الأصل في المياه الطهارة، فهذا الماء طهور يرفع الحدث، ويزيل الخبث، وأيضًا الماء المستعمل في رفع الحدث طهور … إلخ، فإذا كانت عندك هذه القاعدة فإنك تعرف الأحكام من هذه القاعدة.

وقولنا: (لتعرف أحكامها منها): هذا بيان لثمرة القاعدة، وقد قيل: إن ثمرة الشيء لا تدخل في حقيقته.

 

‌‌الفرق بين القاعدة الفقهية، والضابط الفقهي:

الفقهاء كثيرًا ما يستعملون لفظ «القاعدة» ويَعْنُون بها الضابط ويستعملون لفظ «الضابط» ويَعْنُون به القاعدة لكن ثمة فروقًا بين القاعدة والضابط هي:

الفرق الأول: أن القاعدة - كما سبق - تجمع فروعًا من أبواب شتى،
আরোহমূলক সামগ্রিক মূলনীতিসমূহ সঠিক (صحيح), যদিও কিছু আংশিক বিষয় সেগুলোর দাবি থেকে বিচ্যুত হয়।

তৃতীয়ত: কোনো নির্দিষ্ট মাসআলা কোনো নিয়মের বিধান থেকে বিচ্যুত হওয়ার অর্থ এই নয় যে, উক্ত মাসআলাটি অন্য কোনো নিয়মের বিধানের অন্তর্ভুক্ত হওয়া আবশ্যক। বরং যে মাসআলাটি উৎসারিত হয়েছে, তা বাহ্যিকভাবে একটি নিয়মের অধীনে অন্তর্ভুক্ত মনে হলেও বাস্তবে তা অন্য কোনো নিয়মের বিধানের অন্তর্ভুক্ত। আর এটি হলো দুটি নিয়মের মাঝে কোনো মাসআলার দ্বান্দ্বিক অবস্থানের পর্যায়ভুক্ত।

অতএব, কোনো নিয়ম থেকে একটি আংশিক বিষয়কে ব্যতিক্রম গণ্য করা সেই নিয়মের সামগ্রিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না, আর না সেই আংশিক বিষয়টিকে অন্য কোনো নিয়মের অন্তর্ভুক্ত হওয়া থেকে বের করে দেয়।

আর আমাদের কথা—(যাতে এ থেকে এগুলোর বিধান জানা যায়): এটি হলো ফিকহি নিয়মগুলোর উপকারিতা যে, আপনি উক্ত নিয়ম থেকে বিধানটি জানতে পারবেন। হতে পারে আপনার দলিলটি তাৎক্ষণিক স্মরণে নেই, কিন্তু ফিকহি নিয়মটি স্মরণ থাকলে আপনি তা থেকে বিধানটি জেনে নিতে পারবেন।

এর উদাহরণ: ফিকহি নিয়মাবলির মধ্যে একটি হলো— [পানির মূল প্রকৃতি হলো পবিত্রতা]। আপনি এই নিয়মের মাধ্যমে দলিল পেশ করতে পারেন যে, রাতের ঘুম—যা অজু ভঙ্গকারী—তা থেকে জাগ্রত ব্যক্তি যদি পবিত্র পানিতে তার হাত ডুবিয়ে দেয়, তবে সেই পানি পবিত্র হিসেবেই থাকে; কারণ পানির মূল প্রকৃতি হলো পবিত্রতা। সুতরাং এই পানি পবিত্র, যা অপবিত্রতা দূর করে এবং নাপাকি দূরীভূত করে। তদ্রূপ অপবিত্রতা দূর করার কাজে ব্যবহৃত পানিও পবিত্র … ইত্যাদি। সুতরাং আপনার যদি এই নিয়মটি জানা থাকে, তবে আপনি এ থেকে বিধানগুলো জানতে পারবেন।

আর আমাদের কথা—(যাতে এ থেকে এগুলোর বিধান জানা যায়): এটি নিয়মের ফলাফলের বর্ণনা। আর বলা হয়ে থাকে যে, কোনো বিষয়ের ফল তার মূল সত্তার অন্তর্ভুক্ত হয় না।

 

‌‌ফিকহি কায়েদাহ এবং ফিকহি দাবিত-এর মধ্যে পার্থক্য:

ফকিহগণ প্রায়শই 'কায়েদাহ' শব্দটি ব্যবহার করেন এবং তা দ্বারা 'দাবিত' উদ্দেশ্য নেন, আবার 'দাবিত' শব্দটি ব্যবহার করে তা দ্বারা 'কায়েদাহ' উদ্দেশ্য নেন। তবে কায়েদাহ এবং দাবিত-এর মাঝে কিছু পার্থক্য রয়েছে, যা হলো:

প্রথম পার্থক্য: কায়েদাহ—যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে—বিভিন্ন অধ্যায়ের বহু শাখা-প্রশাখাকে একত্রিত করে,
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ১৯)
ويندرج تحتها من مسائل الفقه ما لا يحصى، وأما الضابط فإنه يختص بباب واحد من أبواب الفقه تعلل به مسائله، أو يختص بفرع واحد فقط مثاله: [كل ما صح بيعه صح رهنه]، فهو خاص بباب الرهن.

الفرق الثاني: أن القاعدة في الأعم الأغلب متفق على مضمونها بين المذاهب أو متفق على أكثرها، وأما الضابط فقد يختص بمذهب معين بل منه ما يكون وجهة نظر فقيه واحد في مذهب معين قد يخالفه فيه فقهاء آخرون من المذهب نفسه مثاله: «المُحْرِمُ إذا أخر النسك عن وقته أو قدمه لزمه دم «هذا ضابطٌ» عند أبي حنيفة. وخالفه في ذلك غيره؛ منهم تلميذاه أبو يوسف، ومحمد بن الحسن.

الفرق الثالث: أن القاعدة الفقهية فيها إشارة لمأخذ الحكم ودليل الحكم مثل: [الأمور بمقاصدها] فيه إشارة لمأخذ الحكم. بينما الضابط الفقهي لا يشير إلى مأخذ المسألة ودليلها، ومن أمثلة الضابط الفقهي: [ما جاز في الفريضة من الصلوات جاز في النفل] وطريقة جمهور من يصنّف في قواعد الفقه بحسب التتبع أنهم لا يفرقون بين القاعدة الفقهية، و الضابط الفقهي.

وهذا يقع كثيرًا في قواعد ابن رجب رحمه الله، وفي كتاب الفروق للقَرَافي وغيرهم، بل إن بعضهم قد يذكر ضوابط كثيرة ويسميها كتاب القواعد، أو قواعد الفقه، وكثير منهم قد فرق بينهما من جهة الاصطلاح لكنه لم يفرق من جهة العمل والتطبيق.

 

‌‌الفرق بين قواعد الأصول وقواعد الفقه:

إذا نظرنا في قواعد الأصول وقواعد الفقه رأينا أن فروقًا عدة تميز بينهما منها:

أولًا: أن قواعد الأصول تتعلق بالألفاظ ودلالاتها على الأحكام في غالب أحوالها، وأما قواعد الفقه فتتعلق بالأحكام ذاتها.
এর অধীনে ফিকহ শাস্ত্রের অগণিত মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়। আর ‘দাবিত’ (الضابط) বা বিশেষ মূলনীতি ফিকহ শাস্ত্রের কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট থাকে, যার মাধ্যমে সেই অধ্যায়ের মাসআলাগুলোর কারণ ব্যাখ্যা করা হয়; অথবা এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট শাখার (فرع) সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে। যেমন: [যা বিক্রয় করা বৈধ, তা বন্ধক রাখা বৈধ], এটি কেবল বন্ধক অধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট।

দ্বিতীয় পার্থক্য: কায়িদা (القاعدة) বা সাধারণ মূলনীতির মূল বক্তব্যের ওপর সাধারণত সকল মাযহাবের মধ্যে ঐক্যমত থাকে অথবা এর অধিকাংশের ওপর ঐক্যমত পাওয়া যায়। তবে ‘দাবিত’ (الضابط) কখনো নির্দিষ্ট কোনো মাযহাবের (مذهب معين) জন্য খাস হতে পারে, এমনকি এটি কোনো একটি নির্দিষ্ট মাযহাবের একজন ফকিহ (فقيه)-এর ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গিও হতে পারে যার সাথে একই মাযহাবের অন্যান্য ফকিহগণ দ্বিমত পোষণ করেছেন। উদাহরণস্বরূপ: "ইহরামকারী (المحرم) ব্যক্তি যদি হজের আমল (النسك) তার নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্ব করে বা আগে করে ফেলে, তবে তার ওপর দম বা রক্ত প্রদান (دم) আবশ্যক হবে"—এটি আবু হানিফার নিকট একটি ‘দাবিত’ (ضابط)। তবে অন্যরা এ বিষয়ে তাঁর বিরোধিতা করেছেন; যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন তাঁর দুই ছাত্র আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ ইবনুল হাসান।

তৃতীয় পার্থক্য: ফিকহি কায়িদা (القاعدة الفقهية)-তে বিধানের উৎস (مأخذ الحكم) এবং বিধানের দলিলের (دليل الحكم) প্রতি ইঙ্গিত থাকে, যেমন: [সকল বিষয় তার উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল]—এর মধ্যে বিধানের উৎসের প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যদিকে ফিকহি দাবিত (الضابط الفقهي) কোনো মাসআলার উৎস বা দলিলের প্রতি ইঙ্গিত করে না। ফিকহি দাবিতের একটি উদাহরণ হলো: [সালাতের ক্ষেত্রে যা ফরজ (الفريضة) সালাতে বৈধ, তা নফল (النفل) সালাতেও বৈধ]। ফিকহ শাস্ত্রের মূলনীতি রচনায় অনুসন্ধানমূলক পদ্ধতিতে জুমহুর (جمهور) বা অধিকাংশ আলিমদের অনুসৃত পদ্ধতি হলো যে, তাঁরা ফিকহি কায়িদা (القاعدة الفقهية) এবং ফিকহি দাবিত (الضابط الفقهي)-এর মধ্যে কোনো পার্থক্য করেন না।

এটি ইবনে রজব (রহিমাহুল্লাহ)-এর সংকলিত কায়িদাসমূহ, আল-কারাফির আল-ফুরুক এবং অন্যান্যদের কিতাবে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এমনকি তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ অনেকগুলো ‘দাবিত’ (ضوابط) উল্লেখ করেছেন অথচ কিতাবটির নাম দিয়েছেন ‘কিতাবুল কাওয়ায়িদ’ বা ‘কাওয়ায়িদুল ফিকহ’। তাঁদের অনেকেই পারিভাষিক (الاصطلاح) দিক থেকে এ দুটির মধ্যে পার্থক্য করলেও আমল ও প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য করেননি।

 

‌‌উসুলের মূলনীতি এবং ফিকহের মূলনীতির মধ্যে পার্থক্য:

যদি আমরা উসুলের মূলনীতি (قواعد الأصول) এবং ফিকহের মূলনীতিসমূহের (قواعد الفقه) দিকে লক্ষ করি, তবে দেখতে পাব যে এ দুটির মাঝে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো:

প্রথমত: উসুলের মূলনীতিসমূহ (قواعد الأصول) অধিকাংশ ক্ষেত্রে শব্দাবলি এবং আহকামের ওপর তাদের নির্দেশনার (دلالاتها) সাথে সংশ্লিষ্ট। আর ফিকহের মূলনীতিসমূহ (قواعد الفقه) স্বয়ং আহকাম বা বিধানসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২০)
ثانيًا: أن قواعد الأصول إنما وضعت لتضبط للمجتهد طرق الاستنباط واستدلاله، وترسم للفقيه مناهج البحث والنظر في استخراج الأحكام الكلية من الأدلة الإجمالية. وأما قواعد الفقه فإنما يراد بها ربط المسائل المختلفة الأبواب برباط متحد وحكم واحد هو الحكم الذي سيقت القاعدة لأجله.

ثالثًا: أن قواعد الأصول إنما تبنى عليها الأحكام الإجمالية. وعن طريقها يستنبط الفقيه أحكام المسائل الجزئية من الأدلة التفصيلية.

وأما قواعد الفقه فإنما تعلل بها أحكام الحوادث المتشابهة وقد تكون أصلًا لها.

رابعًا: أن قواعد الأصول محصورة في أبواب الأصول ومواضعه ومسائله، وأما قواعد الفقه فليست محصورة أو محدودة العدد، بل هي كثيرة جدًا منثورة في كتب الفقه العام وكتب الفتاوى في جميع المذاهب.

خامسًا: أن قواعد الأصول إذا اتفق على مضمونها لا يستثنى منها شيء فهي قواعد كلية مطردة - كقواعد العربية - بلا خلاف.

وأما قواعد الفقه فهي مع الاتفاق على مضمون كثير منها يستثنى من كل منها مسائل تخالف حكم القاعدة بسبب من الأسباب كالاستثناء بالنص، أو الإجماع، أو الضرورة، أو غير ذلك من أسباب الاستثناء، ولذلك يطلق عليها كثيرون بأنها قواعد أغلبية أكثرية لا كليَّة مطردة.

ومع وضوح الفروق بين القواعد الأصولية والقواعد الفقهية فقد نجد قواعد مشتركة بين العلمين ولكن تختلف فيهما زاوية النظر، حيث إن القاعدة الأصولية ينظر إليها من حيث كونها دليلًا إجماليًا يستنبط منه حُكم كلي، والقاعدة الفقهية ينظر إليها من حيث كونها حكمًا جزئيًا لفعل من أفعال المكلفين.

فمثلًا قاعدة: [الاجتهاد لا ينقض بمثله أو بالاجتهاد]:

ينظر إليها
দ্বিতীয়ত: উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ (قواعد الأصول) মূলত এজন্য প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে তা মুজতাহিদ (مجتهد)-এর নিকট ইস্তিম্বাত (استنباط) বা বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং তাঁর দলীল পেশ করার প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খল করে দেয়, এবং ফকিহ (فقيه)-এর নিকট সামষ্টিক প্রমাণাদি (الأدلة الإجمالية) থেকে সামষ্টিক বিধানসমূহ (الأحكام الكلية) বের করার ক্ষেত্রে গবেষণা ও পর্যালোচনার পদ্ধতিসমূহ অঙ্কন করে দেয়। আর ফিকহি মূলনীতিসমূহ (قواعد الفقه) বলতে বুঝানো হয় বিভিন্ন অধ্যায়ের বিবিধ মাসআলাসমূহকে একটি ঐক্যবদ্ধ বন্ধন ও একক বিধানের সাথে গেঁথে দেওয়া; আর এটিই হলো সেই বিধান যার উদ্দেশ্যে মূলনীতিটি বর্ণিত হয়েছে।

তৃতীয়ত: উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ (قواعد الأصول)-এর ওপর ভিত্তি করেই সামষ্টিক বিধানসমূহ (الأحكام الإجمالية) সাব্যস্ত হয়। আর এগুলোর মাধ্যমেই ফকিহ (فقيه) বিস্তারিত প্রমাণাদি (الأدلة التفصيلية) থেকে আংশিক মাসআলাসমূহের বিধানসমূহ ইস্তিম্বাত (استنباط) করে থাকেন।

পক্ষান্তরে ফিকহি মূলনীতিসমূহ (قواعد الفقه) দ্বারা সাদৃশ্যপূর্ণ ঘটনাবলীর বিধানের কারণ বর্ণনা করা হয় এবং কখনো কখনো তা ঐসব বিধানের মূল ভিত্তি হয়ে থাকে।

চতুর্থত: উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ (قواعد الأصول) উসূলের অধ্যায়, ক্ষেত্র ও মাসআলাসমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ; কিন্তু ফিকহি মূলনীতিসমূহ (قواعد الفقه) কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ বা নির্দিষ্ট নয়, বরং এগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি এবং সাধারণ ফিকহ শাস্ত্রের কিতাব ও সকল মাযহাব (مذاهب)-এর ফাতাওয়া বিষয়ক গ্রন্থগুলোতে ছড়িয়ে আছে।

পঞ্চমত: উসূলে ফিকহের মূলনীতিসমূহ (قواعد الأصول)-এর সারবস্তুর ওপর যদি ঐকমত্য হয়, তবে তা থেকে কোনো কিছুই ব্যতিক্রম হয় না; বরং এগুলো আরবি ভাষার ব্যাকরণের ন্যায় কোনো প্রকার বিরোধ ছাড়াই সার্বজনীন ও অব্যাহত মূলনীতি (قواعد كلية مطردة)।

আর ফিকহি মূলনীতিসমূহ (قواعد الفقه)-এর অধিকাংশের সারবস্তুর ওপর ঐকমত্য থাকা সত্ত্বেও প্রতিটি থেকে এমন কিছু মাসআলা ব্যতিক্রম হয় যা মূলনীতির বিধানের পরিপন্থী। এর পেছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে, যেমন: নস (النص), ইজমা (الإجماع), জরুরত (الضرورة) বা অন্য কোনো ব্যতিক্রমী কারণ। এজন্য অনেকে এগুলোকে সার্বজনীন ও অব্যাহত মূলনীতি (قواعد كلية مطردة) না বলে অধিকাংশের ওপর ভিত্তি করে গঠিত মূলনীতি (قواعد أغلبية أكثرية) হিসেবে অভিহিত করেন।

উসূলি মূলনীতি এবং ফিকহি মূলনীতির মধ্যে পার্থক্যসমূহ স্পষ্ট হওয়া সত্ত্বেও আমরা উভয় শাস্ত্রের মধ্যে কিছু অভিন্ন মূলনীতি দেখতে পাই, তবে সেগুলোর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির দিক থেকে ভিন্নতা থাকে। যেমন উসূলি মূলনীতিকে এই দিক থেকে বিবেচনা করা হয় যে, এটি একটি সামষ্টিক দলিল (دليل إجمالي) যা থেকে একটি সামষ্টিক বিধান ইস্তিম্বাত (استنباط) করা হয়। আর ফিকহি মূলনীতিকে এই দিক থেকে বিবেচনা করা হয় যে, এটি মুকাল্লাফ (مكلف) বা শরয়ি বিধানের দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কোনো একটি কাজের জন্য একটি আংশিক বিধান (حكم جزئي)।

উদাহরণস্বরূপ একটি মূলনীতি হলো: [ইজতিহাদ (الاجتهاد) অনুরূপ ইজতিহাদ দ্বারা বাতিল হয় না]:

এর প্রতি বিবেচনা করা হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২১)
الأصولي من حيث كونها دليلًا يعتمد عليه في بيان عدم جواز نقض أحكام القضاة وفتاوى المفتين إذا تعلقت بها الأحكام على سبيل العموم والإجمال. وينظر إليها الفقيه من حيث تعليل فعل من أفعال المكلفين فيبين حكمه من خلالها.

উসূলবিদ (الأصولي) একে এমন একটি প্রমাণ (دليل) হিসেবে বিবেচনা করেন যার ওপর ভিত্তি করে বিচারকদের রায় এবং মুফতিদের ফতোয়া নাকচ করার অবৈধতা বর্ণনা করা হয়, যখন বিধানসমূহ তাতে সাধারণ (عموم) ও সংক্ষিপ্ত (إجمال) পন্থায় সংশ্লিষ্ট থাকে। আর ফকিহ (الفقيه) একে বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কোনো কাজের কারণ উদ্ঘাটন (تعليل) করার দিক থেকে দেখেন এবং এর মাধ্যমে তিনি উক্ত কাজের বিধান (حكم) স্পষ্ট করেন।

(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌ميزة القواعد الفقهية وفوائدها

‌‌الميزة الأولى:

ما ذكره القَرَافي: إن القواعد ليست مستوعبة في أصول الفقه، بل للشريعة قواعد كثيرة جدًا عند أئمة الفتوى والفقهاء لا توجد في كتب أصول الفقه أصلا.

هذه المقولة تعطينا ميزات عظيمة من ميزات القواعد الفقهية وهي كونها قواعد كثيرة جدًا غير محصورة بعدد، وهي منثورة في كتب الفقه العام والفتاوى والأحكام، وهو رحمه الله قد أراد من تأليف كتابه (الفروق) جمع هذه القواعد في كتاب واحد يجمع شتاتها ويكشف أسرارها وحكمها.

 

‌‌والميزة الثانية:

إيجاز عبارتها مع عموم معناها وسعة استيعابها للمسائل الجزئية إذْ تصاغ القاعدة في جملة مفيدة مكونة من كلمتين، أو بضع كلمات من ألفاظ العموم، مثل قاعدة [العادة محكمة] وقاعدة: [الأمور بمقاصدها] وقاعدة: [المشقة تجلب التيسير] فكلٌّ من هذه القواعد تعتبر من جوامع الكلم؛ إذ يندرج تحت كل منها ما لا يحصى من المسائل الفقهية المختلفة.

 

‌‌والميزة الثالثة:

أن كلًا منها ضابط يضبط فروع الأحكام العملية ويربط بينها برابطة
‌‌ফিকহী মূলনীতিসমূহের বৈশিষ্ট্য ও উপকারিতা

‌‌প্রথম বৈশিষ্ট্য:

ইমাম আল-কারাফি যা উল্লেখ করেছেন: ফিকহী মূলনীতিসমূহ কেবল উসুলুল ফিকহের (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি) মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং শরীয়তের এমন অনেক মূলনীতি ফতোয়া প্রদানকারী ইমাম ও ফকীহগণের নিকট বিদ্যমান, যা উসুলুল ফিকহের গ্রন্থসমূহে আদতে পাওয়াই যায় না।

এই উক্তিটি আমাদের ফিকহী মূলনীতিসমূহের অন্যতম একটি মহান বৈশিষ্ট্যের কথা জানান দেয়, আর তা হলো—এগুলো সংখ্যায় অনেক বেশি এবং নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। এগুলো সাধারণ ফিকহ, ফতোয়া ও আহকামের কিতাবসমূহে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। তিনি (ইমাম কারাফি রহ.) মূলত তাঁর 'আল-فুরুক' গ্রন্থটি রচনার মাধ্যমে এই বিচ্ছিন্ন মূলনীতিগুলোকে একটি গ্রন্থে সংকলন করতে চেয়েছেন, যা সেগুলোকে একত্রিত করবে এবং এর রহস্য ও হিকমতসমূহ উন্মোচন করবে।

 

‌‌দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য:

এর শব্দচয়ন সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থ ব্যাপক এবং শাখা-প্রশাখামূলক মাসআলাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এর পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। প্রতিটি মূলনীতি এমন একটি সার্থক বাক্যে গঠিত যা মাত্র দুটি শব্দ বা কয়েকটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দের সমন্বয়ে তৈরি। যেমন—'রীতি বা প্রথা ফয়সালাকারী' মূলনীতি, 'কার্যাবলি উদ্দেশ্যের ওপর নির্ভরশীল' মূলনীতি এবং 'কষ্ট সহজতা বয়ে আনে' মূলনীতি। এই প্রতিটি মূলনীতিই 'সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক বাণীর' (جوامع الكلم) অন্তর্ভুক্ত; কারণ এগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে অসংখ্য ভিন্ন ভিন্ন ফিকহী মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়।

 

‌‌তৃতীয় বৈশিষ্ট্য:

এগুলোর প্রতিটিই হলো এক একটি সুশৃঙ্খলকারী মানদণ্ড (ضابط), যা আমলী হুকুমের শাখা-প্রশাখাগুলোকে সুসংবদ্ধ করে এবং সেগুলোর মাঝে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২৩)
تجمعها وإن اختلفت موضوعاتها وأبوابها.

وأما فوائد القواعد الفقهية فهي كثيرة جدًا نكتفي بذكر بعضٍ منها:

أولًا: أنها تضبط الفروع الفقهية وتجمع شتاتها تحت ضابط واحد مهما اختلفت موضوعاتها إذا اتحد حكمها.

فهي بذلك تيسر على الفقهاء والمفتين ضبط الفقه بأحكامه كما قال القرافي: (من ضبط الفقه بقواعده استغنى عن حفظ أكثر الجزئيات لاندراجها في الكليات).

لأن حفظ جزئيات الفقه وفروعه يستحيل أن يقدر عليه إنسان، لكن حفظ القواعد مهما كثرت تدخل تحت الإمكان.

ثانيًا: أنها تكوِّن عند الباحث ملكة فقهية قوية تُنير أمامه الطريق لدراسة أبواب الفقه الواسعة والمتعددة، ومعرفة الأحكام الشرعية، واستنباط الحلول للوقائع المتجددة والمسائل المتكررة.

ثالثًا: أنها تعين القضاة والمفتين والحكام عند البحث عن حلول للمسائل المعروضة والنوازل الطارئة بأيسر سبيل وأقرب طريق.

ولذلك قال بعضهم: إن حكم دراسة القواعد الفقهية والإلمام بها على القضاة والمفتين فرض عين، وعلى غيرهم فرض كفاية.

رابعًا: أنها تربي عند الباحث ملكة المقارنة بين المذاهب المختلفة، وتوضح له وجهًا من وجوه الاختلاف وأسبابه بين المذاهب.

خامسًا: أنها تظهر مدى استيعاب الفقه الإسلامي للأحكام، ومراعاته للحقوق والواجبات، وتسهل على غير المختصين بالفقه الاطلاع على محاسن هذا الدين، وتبطل دعوى من ينتقصون الفقه الإسلامي، ويتهمونه بأنه إنما يشتمل على حلول جزئية وليس قواعد كلية.
এগুলো বিষয়বস্তু ও অধ্যায় ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোকে একত্রিত করে।

আর ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) উপকারিতা অনেক; আমরা এখানে কেবল কিছু উল্লেখ করছি:

প্রথমত: এটি ফিকহী শাখাসমূহকে (الفروع الفقهية) সুশৃঙ্খল করে এবং এদের বিধান অভিন্ন হলে বিষয়বস্তু ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও এগুলোকে একটি নিয়ামকের (ضابط) অধীনে একত্রিত করে।

এর মাধ্যমে এটি ফকীহ ও মুফতিদের জন্য ফিকহ ও এর বিধানসমূহ আয়ত্ত করা সহজ করে দেয়, যেমনটি আল-কারাফি বলেছেন: (যে ব্যক্তি ফিকহকে তার মূলনীতিসমূহের (قواعد) মাধ্যমে আয়ত্ত করেছে, সে অধিকাংশ খুঁটিনাটি বিষয় মুখস্থ করার প্রয়োজনীয়তা থেকে মুক্তি পেয়েছে; কারণ সেগুলো সামগ্রিক মূলনীতিসমূহের (الكليات) অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়)।

কেননা ফিকহের খুঁটিনাটি বিষয় ও শাখাসমূহ মুখস্থ করা কোনো মানুষের পক্ষে অসম্ভব, তবে মূলনীতিসমূহ (القواعد) যত বেশিই হোক না কেন, তা মুখস্থ করা আয়ত্তের মধ্যে থাকে।

দ্বিতীয়ত: এটি গবেষকের মধ্যে একটি শক্তিশালী ফিকহী দক্ষতা (ملكة) তৈরি করে, যা তার সামনে ফিকহের বিস্তৃত ও বহুমুখী অধ্যায়গুলো অধ্যয়ন করা, শরয়ি বিধানসমূহ জানা এবং নতুন নতুন ঘটনা ও পৌনঃপুনিক মাসআলাসমূহের সমাধান উদ্ভাবনের (استنباط) পথকে আলোকিত করে।

তৃতীয়ত: এটি বিচারক, মুফতি ও শাসকদেরকে উপস্থাপিত মাসআলা এবং সমসাময়িক উদ্ভূত সমস্যাবলির (النوازل) সহজতম ও নিকটতম উপায়ে সমাধান অনুসন্ধানে সহায়তা করে।

এই কারণেই কেউ কেউ বলেছেন: বিচারক ও মুফতিদের জন্য ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) অধ্যয়ন করা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান রাখা ব্যক্তিগত আবশ্যকতা (فرض عين) এবং অন্যদের জন্য এটি সামষ্টিক আবশ্যকতা (فرض كفاية)।

চতুর্থত: এটি গবেষকের মধ্যে বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে তুলনামূলক আলোচনার দক্ষতা (ملكة) গড়ে তোলে এবং বিভিন্ন মাযহাবের মধ্যে পার্থক্যের দিক ও তার কারণগুলো সুস্পষ্ট করে দেয়।

পঞ্চমত: এটি ইসলামী ফিকহ কতটা ব্যাপকভাবে বিধানসমূহকে ধারণ করে এবং অধিকার ও কর্তব্যের প্রতি লক্ষ্য রাখে তা ফুটিয়ে তোলে; পাশাপাশি যারা ফিকহ বিশেষজ্ঞ নন, তাদের জন্য এই দ্বীনের সৌন্দর্য অবলোকন করা সহজ করে দেয়। এটি ঐসব ব্যক্তিদের দাবিকে নস্যাৎ করে যারা ইসলামী ফিকহকে খাটো করে দেখে এবং অভিযোগ করে যে এটি কেবল আংশিক সমাধান নিয়ে গঠিত, কোনো সামগ্রিক মূলনীতি (قواعد كلية) নিয়ে নয়।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌مراتب القواعد الفقهية

القواعد الفقهية ليست نوعًا واحدًا، ولا في مرتبة واحدة، وإنما هي أنواع ومراتب:

المرتبة الأولى: القواعد الكلية الكبرى ذوات الشمول العام للفروع والمسائل؛ حيث يندرج تحت كلِّ منها جُلُّ أبواب الفقه ومسائله وأفعال المكلفين.

وهذه القواعد ست هي:

1 - قاعدة: [إنما الأعمال بالنيات أو الأمور بمقاصدها].

2 - قاعدة: [اليقين لا يزول - أو لا يرتفع - بالشك].

3 - قاعدة: [المشقة تجلب التيسير].

4 - قاعدة: [لا ضرر ولا ضرار أو الضرر يزال].

5 - قاعدة: [العادة محكّمة].

6 - قاعدة: [إعمال الكلام أولى من إهماله].

المرتبة الثانية: قواعد أضيق مجالًا من سابقاتها - وإن كانت ذوات شمول واسع - حيث يندرج تحت كل منها أعداد لا تحصى من مسائل الفقه في الأبواب المختلفة.

ومثال ذلك قاعدة: [الاجتهاد لا ينقض بالاجتهاد - أو بمثله].

وقاعدة: [تصرف الإمام على الرعية منوط بالمصلحة].

المرتبة الثالثة: القواعد ذوات المجال الضيق التي لا عموم فيها حيث تختص بباب أو جزء باب، وهذه التي تسمى بالضوابط جمع ضابط وفي
‌‌ফিকহী মূলনীতিসমূহের (القواعد الفقهية) স্তরবিন্যাস (مراتب)

ফিকহী মূলনীতিসমূহ (القواعد الفقهية) কেবল এক প্রকারের নয় এবং একই স্তরেরও নয়; বরং এগুলো বিভিন্ন প্রকার ও স্তরের (مراتب) হয়ে থাকে:

প্রথম স্তর: প্রধান সর্বজনীন মূলনীতিসমূহ (القواعد الكلية الكبرى), যেগুলোর শাখা-প্রশাখা ও মাসআলা-মাসায়েলের ক্ষেত্রে ব্যাপক পরিধি রয়েছে; যেখানে এগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে ফিকহের অধিকাংশ অধ্যায়, মাসআলা এবং শরীয়ত কর্তৃক দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কার্যাবলি অন্তর্ভুক্ত হয়।

এই মূলনীতিগুলো (القواعد) হলো ছয়টি:

১ - মূলনীতি (قاعدة): [নিশ্চয়ই সমস্ত আমল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল অথবা কার্যাবলি তার উদ্দেশ্য অনুযায়ী বিবেচিত হয়]।

২ - মূলনীতি (قاعدة): [নিশ্চিত বিশ্বাস (اليقين) সন্দেহের (الشك) কারণে দূরীভূত হয় না - অথবা অপসারিত হয় না -]।

৩ - মূলনীতি (قاعدة): [কষ্ট বা কাঠিন্য সহজসাধ্যতাকে আনয়ন করে]।

৪ - মূলনীতি (قاعدة): [ক্ষতি করা যাবে না এবং ক্ষতির বিনিময়ে ক্ষতিও করা যাবে না অথবা ক্ষতি দূর করতে হবে]।

৫ - মূলনীতি (قاعدة): [প্রথা বা রীতিনীতি ফয়সালাকারী হিসেবে গণ্য]।

৬ - মূলনীতি (قاعدة): [কথার প্রয়োগ করা তাকে অবজ্ঞা বা বাদ দেওয়ার চেয়ে উত্তম]।

দ্বিতীয় স্তর: এমন কিছু মূলনীতি (قواعد) যেগুলোর ক্ষেত্র পূর্ববর্তীগুলোর তুলনায় সংকীর্ণ - যদিও সেগুলোর ব্যাপকতা অনেক - এগুলোর প্রত্যেকটির অধীনে বিভিন্ন অধ্যায়ের অসংখ্য ফিকহী মাসআলা অন্তর্ভুক্ত হয়।

এর উদাহরণ হলো এই মূলনীতি (قاعدة): [ইজতিহাদ (الاجتهاد) অন্য ইজতিহাদ (الاجتهاد) দ্বারা - অথবা তার সমজাতীয় কিছু দ্বারা - বাতিল হয় না]।

এবং এই মূলনীতি (قاعدة): [জনগণের ওপর ইমাম বা শাসকের পরিচালনা জনকল্যাণের (المصلحة) সাথে সম্পৃক্ত]।

তৃতীয় স্তর: সংকীর্ণ ক্ষেত্রের মূলনীতিসমূহ (القواعد) যেগুলোর মধ্যে কোনো সর্বজনীনতা (عموم) নেই, যেহেতু এগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট অধ্যায় বা অধ্যায়ের অংশের সাথে সুনির্দিষ্ট; আর এগুলোকেই সুনির্দিষ্ট নীতিমালা (الضوابط) বলা হয়, যা 'দ্ববিত' (ضابط)-এর বহুবচন এবং...
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২৫)
هذا يقول عبد الوهاب بن السبكي رحمه الله فالقاعدة: «الأمر الكلي الذي ينطبق عليه جزئيات كثيرة تفهم أحكامها منها» ومنها ما لا يختص بباب كقولنا: [اليقين لا يرفع الشك] ومنها ما يختص كقولنا: [كل كفارة سببها معصية فهي على الفور].

والغالب فيما قصد بباب وقُصد به نظم صور متشابهة أن يسمى ضابطًا.

المرتبة الرابعة: القواعد المذهبية التي تختص بمذهب دون مذهب، أو يعمل بمضمونها بعض الفقهاء دون الآخرين مع شمولها وسعة استيعابها لكثير من مسائل الفقه من أبواب مختلفة.

وهذه تعتبر من أسباب اختلاف الفقهاء في إصدار الأحكام تبعًا لاختلاف النظرة في مجال تعليل الأحكام.

ومن أمثلة هذه المرتبة: قاعدة: [لا حجة مع الاحتمال الناشئ عن دليل] وأساسها قولهم: [إن التهمة إذا تطرقت إلى فعل الفاعل حكم بفساد فعله] وهذه القاعدة يعمل بها الحنفية والحنابلة دون الشافعية، وقد يعمل بها المالكية ضمن قيود، ومنها عند الحنفية: [الأصل أن جواز البيع يتبع الضمان] وأما عند الشافعي: [فإن جواز البيع يتبع الطهارة] .... إلخ.

 

‌‌موضوع أصول الفقه: هو معرفة الأدلة ومراتبها وأحوالها.

‌‌مصادر أصول الفقه: المقصود بها: الأدلة والأصول التي بنيت عليها قواعده وهي:

1 - استقراء نصوص الكتاب والسنة الصحيحة.

2 - الآثار المروية عن الصحابة والتابعين.

3 - إجماع السلف الصالح.

4 - قواعد اللغة العربية وشواهدها المنقولة عن العرب.

5 - الفطرة والعقل السليم.
আব্দুল ওয়াহহাব ইবনে আস-সুবকী (রহ.) এখানে বলছেন, মূলনীতি বা কায়েদা হলো: “এমন এক সামগ্রিক বিষয় যা অনেকগুলো আংশিক বিষয়ের ওপর প্রযোজ্য হয় এবং যার মাধ্যমে সেগুলোর বিধানাবলী বোঝা যায়।” এর মধ্যে কিছু আছে যা কোনো নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সীমাবদ্ধ নয়, যেমন আমাদের এই কথা: [নিশ্চয়তা সংশয় দ্বারা দূরীভূত হয় না]। আবার কিছু আছে যা নির্দিষ্ট অধ্যায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন আমাদের এই কথা: [যে কাফফারা বা প্রায়শ্চিত্তের কারণ হলো গুনাহ, তা অবিলম্বে আদায় করা আবশ্যক]।

আর যা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট অধ্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট হয় এবং যার লক্ষ্য সদৃশ বিষয়গুলোকে সুবিন্যস্ত করা, তাকে সচরাচর দ্বাবিত (ضابط) বলা হয়।

চতুর্থ স্তর: মাযহাবী মূলনীতিসমূহ যা অন্য মাযহাব বাদ দিয়ে কেবল একটি মাযহাবের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকে, অথবা অন্য ফকিহগণ বাদ দিয়ে কেবল কিছু ফকিহ এর মর্ম অনুযায়ী আমল করেন। যদিও তা ব্যাপক অর্থবহ এবং ফিকহের বিভিন্ন অধ্যায়ের অনেক মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করে।

আর এগুলোকে বিধান প্রদানের ক্ষেত্রে ফকিহগণের মধ্যকার মতভেদের অন্যতম কারণ হিসেবে গণ্য করা হয়, যা বিধানের কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্যের ওপর ভিত্তি করে হয়ে থাকে।

এই স্তরের উদাহরণগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি মূলনীতি: [দলিল থেকে উদ্ভূত কোনো সম্ভাবনার উপস্থিতিতে কোনো যুক্তি বা দলিল গ্রহণযোগ্য হয় না]। আর এর ভিত্তি হলো ফকিহগণের এই উক্তি: [যদি কোনো কাজের কর্তার কাজের মধ্যে কোনো সন্দেহ বা অভিযোগের অবকাশ তৈরি হয়, তবে তার কাজটি ফাসিদ বা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার ফয়সালা দেওয়া হবে]। হানাফী ও হাম্বলী মাযহাবে এই মূলনীতি অনুযায়ী আমল করা হয় কিন্তু শাফেয়ীদের নিকট নয়। মালিকীরা কিছু শর্তসাপেক্ষে এটি প্রয়োগ করতে পারেন। হানাফীদের নিকট আরেকটি উদাহরণ হলো: [মূল কথা হলো, ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়া দায় বা জামানতের অনুগামী]। আর ইমাম শাফেয়ীর নিকট: [ক্রয়-বিক্রয় বৈধ হওয়া পবিত্রতার অনুগামী] .... ইত্যাদি।

 

‌উসূলে ফিকহের আলোচ্য বিষয়: তা হলো দলিলসমূহ, সেগুলোর স্তরবিন্যাস এবং অবস্থা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

‌উসূলে ফিকহের উৎসসমূহ: এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সেই সকল দলিল ও মূলনীতি যার ওপর এর নিয়মকানুনসমূহ প্রতিষ্ঠিত। আর সেগুলো হলো:

১ - কুরআন এবং সহিহ (صحيح) সুন্নাহর নস বা পাঠসমূহের পুঙ্খানুপুঙ্খ অনুসন্ধান।

২ - সাহাবী ও তাবেয়ীদের থেকে বর্ণিত আছার বা নিদর্শনসমূহ।

৩ - সালাফে সালেহীনদের ইজমা (إجماع)।

৪ - আরবি ভাষার ব্যাকরণ এবং আরবদের থেকে বর্ণিত এর ভাষাগত প্রমাণসমূহ।

৫ - ফিতরাত বা স্বভাবজাত প্রবৃত্তি এবং সুস্থ বিবেক।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২৬)
6 - اجتهاد أهل العلم واستنباطاتهم وفق الضوابط الشرعية.

 

‌‌فائدة أصول الفقه: من فوائد علم أصول الفقه:

الفائدة الأولى: ضبط أصول الاستدلال، وذلك ببيان الأدلة الصحيحة من الزائفة.

الفائدة الثانية: إيضاح الوجه الصحيح للاستدلال، فليس كل دليل صحيح يكون الاستدلال به صحيحًا.

الفائدة الثالثة: تيسير عملية الاجتهاد وإعطاء الحوادث الجديدة ما يناسبها من الأحكام.

الفائدة الرابعة: بيان ضوابط الفتوى، وشروط المفتي، وآدابه.

الفائدة الخامسة: معرفة الأسباب التي أدت إلى وقوع الخلاف بين العلماء والتماس الأعذار لهم في ذلك.

الفائدة السادسة: الدعوة إلى اتباع الدليل حيثما كان، وترك التعصب والتقليد الأعمى.

الفائدة السابعة: حفظ العقيدة الإسلامية بحماية أصول الاستدلال، والرد على شبه المحرفين.

الفائدة الثامنة: صيانة الفقه الإسلامي من الانفتاح المترتب على وضع مصادر جديدة.

الفائدة التاسعة: ضبط قواعد الحوار والمناظرة؛ وذلك بالرجوع إلى الأدلة الصحيحة المعتبرة.

الفائدة العاشرة: الوقوف على سماحة الشريعة ويسرها والاطلاع على محاسن هذا الدين.

• • •
৬ - শরয়ি নীতিমালার আলোকে আলিমগণের গবেষণা (اجتهاد) ও উদ্ভাবন (استنباط)।

 

‌‌উসুল আল-ফিকহ-এর উপকারিতা: উসুল আল-ফিকহ শাস্ত্রের কিছু উপকারিতা নিম্নরূপ:

প্রথম উপকারিতা: দলিল উপস্থাপনের মূলনীতিগুলো সুসংহত করা, আর তা সঠিক (صحيح) দলিল ও অসার দলিলের মধ্যকার পার্থক্য বর্ণনার মাধ্যমে।

দ্বিতীয় উপকারিতা: দলিল উপস্থাপনের সঠিক পদ্ধতি স্পষ্ট করা; কারণ প্রতিটি সঠিক (صحيح) দলিল দ্বারা করা দলিল উপস্থাপন সর্বদা সঠিক নাও হতে পারে।

তৃতীয় উপকারিতা: গবেষণা (اجتهاد) প্রক্রিয়া সহজতর করা এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধান প্রদান করা।

চতুর্থ উপকারিতা: ফতোয়া প্রদানের নীতিমালা, মুফতির শর্তাবলি ও আদবসমূহ বর্ণনা করা।

পঞ্চম উপকারিতা: আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি হওয়ার কারণসমূহ জানা এবং এ ক্ষেত্রে তাঁদের অপারগতার বিষয়টি অনুধাবন করা।

ষষ্ঠ উপকারিতা: যেখানেই দলিল পাওয়া যাবে তার অনুসরণ করা এবং গোঁড়ামি ও অন্ধ অনুসরণ (تقليد) পরিহার করার আহ্বান জানানো।

সপ্তম উপকারিতা: দলিল উপস্থাপনের মূলনীতিসমূহ হেফাযতের মাধ্যমে ইসলামি আকিদাহ সংরক্ষণ করা এবং বিকৃতকারীদের সংশয়ের জবাব দেওয়া।

অষ্টম উপকারিতা: নতুন কোনো উৎসের অনুপ্রবেশের ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা থেকে ইসলামি ফিকহকে রক্ষা করা।

নবম উপকারিতা: সংলাপ ও বিতর্কের (مناظرة) নিয়মাবলি সুসংহত করা; আর তা গ্রহণযোগ্য সঠিক (صحيح) দলিলের দিকে প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে।

দশম উপকারিতা: শরিয়তের উদারতা ও সহজসাধ্যতা সম্পর্কে অবগত হওয়া এবং এই দ্বীনের সৌন্দর্যসমূহ প্রত্যক্ষ করা।

• • •
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২৭)
أهم المؤلفات في القواعد الفقهية

المؤلفات في القواعد الفقهية كثيرة، ومن أهم هذه الكتب:

في مذهب الحنفية:

1 - أصول الكرخي (ت 340 هـ).

2 - تأسيس النظر لأبي زيد الدبوسي (ت 430 هـ).

3 - الأشباه والنظائر لابن نجيم (ت 970 هـ).

وفي مذهب المالكية:

1 - كتاب الفروق للقرافي (ت 684 هـ).

2 - القواعد لمحمد بن محمد المقري (ت 758 هـ).

3 - إيضاح المسالك إلى قواعد الإمام مالك، لأحمد بن يحيى الونشريسي (ت 914 هـ).

وفي مذهب الشافعية:

1 - قواعد الأحكام في مصالح الأنام، لعز الدين بن عبد السلام (ت 660 هـ).

2 - الأشباه والنظائر، لتاج الدين عبد الوهاب السبكي (ت 771 هـ).

3 - الأشباه والنظائر، لجلال الدين السيوطي (ت 911 هـ).

ومن كتب الحنابلة:

1 - القواعد النورانية الفقهية، لشيخ الإسلام ابن تيمية (ت 728 هـ).

2 - كتاب تقرير القواعد وتحرير الفوائد، لابن رجب (ت 795 هـ).
ফিকহি নীতিমালা (القواعد الفقهية) বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ রচনাবলি

ফিকহি নীতিমালা (القواعد الفقهية) বিষয়ক রচনাবলি অনেক, এবং এই বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো:

হানাফি মাজহাবের মধ্যে:

1 - উসুলুল কারখি (মৃত্যু: ৩৪০ হিজরি)।

2 - আবু জায়েদ আদ-দাব্বুসি (মৃত্যু: ৪৩০ হিজরি) রচিত তাসিসুন নাজার।

3 - ইবনে নুজাইম (মৃত্যু: ৯৭০ হিজরি) রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর।

মালিকি মাজহাবের মধ্যে:

1 - আল-কারাফি (মৃত্যু: ৬৮৪ হিজরি) রচিত কিতাবুল ফুরুক।

2 - মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মাক্কারি (মৃত্যু: ৭৫৮ হিজরি) রচিত আল-কাওয়াইদ।

3 - আহমাদ বিন ইয়াহইয়া আল-ওয়ানশারিসি (মৃত্যু: ৯১৪ হিজরি) রচিত ইজাহুল মাসালিক ইলা কাওয়াইদিল ইমাম মালিক।

শাফেয়ি মাজহাবের মধ্যে:

1 - ইজ্জুদ্দিন বিন আব্দুস সালাম (মৃত্যু: ৬৬০ হিজরি) রচিত কাওয়াইদুল আহকাম ফি মাসালিহিল আনাম।

2 - তাজউদ্দীন আব্দুল ওয়াহাব আল-সুবকি (মৃত্যু: ৭৭১ হিজরি) রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর।

3 - জালালুদ্দীন আল-সুয়ূতী (মৃত্যু: ৯১১ হিজরি) রচিত আল-আশবাহ ওয়ান নাজাইর।

হাম্বলি মাজহাবের গ্রন্থসমূহের মধ্যে:

1 - শায়খুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (মৃত্যু: ৭২৮ হিজরি) রচিত আল-কাওয়াইদ আন-নুরানিয়্যাহ আল-ফিকহিয়্যাহ।

2 - ইবনে রজব (মৃত্যু: ৭৯৫ হিজরি) রচিত কিতাবুত তাকরিরুল কাওয়াইদ ওয়া তাহরিরুল ফাওয়াইদ।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২৮)
العقد الثمين في شرح منظومة ابن عثيمين

 

قال المؤلف رحمه الله: [بسم الله الرحمن الرحيم]:

[الباء]: حرف جر للمصاحبة أو للاستعانة وكسرت الباء وإن كان حق الحروف المفردة الفتح للزومها الحرفية والجر، ولِتشابهِ حركتها عملها.

و [اسم]: اسم مجرور بالباء وحذفت الألف من (اسم)؛ لكثرة الاستعمال، والجار والمجرور مُتعلق بمحذوف وهذا المحذوف نقدره فعلًا مؤخرًا مناسبًا للمقام وإنما قدره العلماء فعلًا؛ لأن الأصل في العمل الأفعال، ونقدره مؤخرًا لأمرين:

الأمر الأول: التبرك بالبداءة باسم الله عز وجل.

الأمر الثاني: الحصر؛ لأن تقديم ما حقه التأخير يفيد الحصر.

وقدرناه مناسبًا للمقام؛ لأنه أدل على المراد، فمثلًا إذا أردت أن تقرأ تقول: (باسم الله) التقدير باسم الله أقرأ، وإذا أردت أن تذبح قلت: (باسم الله) فالتقدير: باسم الله أذبح هذا أدل على المراد من قولنا: (باسم الله ابتدئ) فكونك تقدره بأقرأ إذا أردت أن تقرأ أولى من أن تقدره بابتديء؛ لأن أقرأ أدل على المراد الذي تريد أن تفعله.

[والله]: أصله الإله حُذفت الهمزة وأُدغمت اللام في اللام فقيل: (الله)، ومعنى (الله) أي ذي الألوهية والربوبية على خلقه أجمعين. فإذا جُمِع بين لفظ الجلالة وبين الرب فإن (لفظ الجلالة) يُفسَّر بتوحيد الألوهية يعني ذا الألوهية على خلقه أجمعين، (والرب) يفسَّر بتوحيد
ইবনে উসাইমীনের কাব্যগ্রন্থের ব্যাখ্যায় মূল্যবান হার

 

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: [বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম]:

[বা (الباء)]: এটি সাহচর্য (المصاحبة) অথবা সাহায্য প্রার্থনার (الاستعانة) জন্য ব্যবহৃত একটি অব্যয় (حرف جر)। একাক্ষর বিশিষ্ট হরফসমূহ সাধারণত যবর (ফাতহা) হওয়ার নিয়ম থাকলেও এখানে ‘বা’ বর্ণটিতে যের (কাসরা) প্রদান করা হয়েছে; কারণ এটি সর্বদা অব্যয় বা হরফ হিসেবে এবং ‘যার’ (الجر) প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এর হরকত তার আমল বা কাজের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এবং [ইসম (اسم)]: এটি ‘বা’ এর কারণে মাজরুর (مجرور) হয়েছে এবং অধিক ব্যবহারের কারণে ‘ইসম’ থেকে আলিফ বিলুপ্ত হয়েছে। এখানে ‘যার’ এবং ‘মাজরুর’ (الجار والمجرور) একটি উহ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট (متعلق)। আমরা এই উহ্য বিষয়টি একটি ক্রিয়া হিসেবে শেষভাগে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নির্ধারণ করব। উলামাগণ একে ক্রিয়া হিসেবে নির্ধারণ করেছেন; কারণ ব্যাকরণগত আমলে ক্রিয়াই হলো মূল। আর একে শেষে নির্ধারণ করার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে:

প্রথম কারণ: আল্লাহর নামের মাধ্যমে শুরুতে বরকত লাভ করা।

দ্বিতীয় কারণ: সীমাবদ্ধ করা (حصر); কেননা ব্যাকরণগত নিয়ম অনুযায়ী যা পরে আসার কথা তা আগে নিয়ে আসা সীমাবদ্ধতার (حصر) অর্থ প্রদান করে।

আমরা একে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী উপযুক্ত শব্দ দিয়ে নির্ধারণ করেছি; কারণ এটি উদ্দিষ্ট অর্থের অধিক স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। উদাহরণস্বরূপ, যখন আপনি পাঠ করতে চাইবেন তখন বলবেন: (বিসমিল্লাহ), তখন এর অর্থ হবে আল্লাহর নামে আমি পাঠ করছি। আর যখন আপনি যবেহ করতে চাইবেন তখন বলবেন: (বিসমিল্লাহ), তখন অর্থ হবে আল্লাহর নামে আমি যবেহ করছি। এটি আমাদের এই কথা: (আল্লাহর নামে আমি শুরু করছি) বলার চেয়ে অধিক অর্থবহ। সুতরাং আপনি যা পাঠ করতে চান, সে ক্ষেত্রে ‘আমি পাঠ করছি’ উহ্য ধরা ‘আমি শুরু করছি’ উহ্য ধরার চেয়ে উত্তম; কারণ ‘আমি পাঠ করছি’ শব্দটি আপনার উদ্দিষ্ট কাজের অধিক নিকটবর্তী।

[আল্লাহ]: এর মূল শব্দ হলো ‘আল-ইলাহ’ (الإله), এখানে হামজা বিলুপ্ত করে এক ‘লাম’কে অপর ‘লাম’-এর সাথে সন্ধি বা ইদগাম (إدغام) করা হয়েছে, ফলে শব্দটি হয়েছে: (আল্লাহ)। ‘আল্লাহ’ শব্দের অর্থ হলো—যিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টির ওপর উলুহিয়্যাত (ألوهية) বা উপাস্য হওয়ার গুণ এবং রুবুবিয়্যাত (ربوبية) বা প্রভুত্বের গুণের অধিকারী। যখন মহান আল্লাহর নাম (আল্লাহ) এবং (রব) একত্রে উল্লেখ করা হয়, তখন আল্লাহর নামের ব্যাখ্যা তাওহিদে উলুহিয়্যাত (توحيد الألوهية) দ্বারা করা হয়, অর্থাৎ তিনি তাঁর সমস্ত সৃষ্টির একমাত্র উপাস্য। আর ‘রব’ শব্দের ব্যাখ্যা তাওহিদে রুবুবিয়্যাত (توحيد الربوبية) দ্বারা করা হয়...
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ২৯)
الربوبية يعني ذا الربوبية على خلقه أجمعين.

وأما إذا قيل: (الله) فقط في بسم الله فإن لفظ الجلالة نُفسره بذي الألوهية والربوبية على خلقه أجمعين، ومعنى (ذو الألوهية) أي الذي تألهه القلوب محبة وتعظيمًا، (ومعنى الربوبية) أي المالك الخالق المدبر وهو الذي ربَّى عباده تربية عامة وتربية خاصة فالله عز وجل ربّاهم وأوجدهم من العدم ورزقهم من النعم.

وقوله: [الله]: علم على الباري جل وعلا من أسمائه الخاصة وهو أعرف المعارف الجامع لمعاني الأسماء الحسنى والصفات العليا، ولذا يضاف إليه بقية أسماء الله فيقال: الرحمن، والرحيم من أسماء الله ولا يقال: (الله) من أسماء الرحمن أو الرحيم … إلخ.

قوله: [الرحمن]: هذا أيضًا من أسماء الله عز وجل الخاصة به وهو ذو الرحمة الواسعة.

قوله: [الرحيم]: أي ذو الرحمة الواصلة.

• • •
রুবুবিয়্যাহ অর্থ হলো তাঁর সকল সৃষ্টির ওপর তাঁর প্রভুত্ব ও কর্তৃত্বের অধিকারী হওয়া।

আর যখন কেবল 'আল্লাহ' বলা হয়—যেমন 'বিসমিল্লাহ'-এর মধ্যে—তখন এই মহিমান্বিত শব্দের ব্যাখ্যায় আমরা মহান আল্লাহকে তাঁর সকল সৃষ্টির ওপর উলুহিয়্যাহ (উপাস্য হওয়ার বৈশিষ্ট্য) এবং রুবুবিয়্যাহ (প্রভুত্ব)-এর অধিকারী বলে গণ্য করি। 'উলুহিয়্যাহর অধিকারী' অর্থ হলো—সেই সত্তা, ভালোবাসা ও মহত্ত্বের কারণে হৃদয়সমূহ যাঁর প্রতি অনুগত হয়। আর 'রুবুবিয়্যাহর অর্থ' হলো—মালিক, স্রষ্টা ও পরিচালক; তিনিই তাঁর বান্দাদের সাধারণ এবং বিশেষ—উভয় পদ্ধতিতে প্রতিপালন করেছেন। সুতরাং মহান আল্লাহ তাঁদের অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে এনেছেন এবং নানা নিয়ামত দ্বারা তাঁদের রিযিক দান করেছেন।

তাঁর বাণী: [আল্লাহ]: এটি মহান স্রষ্টার একটি নাম যা তাঁর জন্যই নির্দিষ্ট। এটি সকল প্রকার সুনির্ধারিত বিশেষ্যের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিত নাম, যা আল্লাহর সকল সুন্দর নাম এবং উচ্চতর গুণাবলির অর্থকে অন্তর্ভুক্ত করে। এই কারণেই আল্লাহর অন্যান্য নামসমূহকে এই নামের দিকেই সম্বন্ধ করা হয়। তাই বলা হয়: 'আর-রহমান' ও 'আর-রাহিম' হলো আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত; কিন্তু এমনটি বলা হয় না যে, 'আল্লাহ' হলো আর-রহমান বা আর-রাহিমের নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত … ইত্যাদি।

তাঁর বাণী: [আর-রহমান]: এটিও মহান আল্লাহর অন্যতম বিশেষ নাম এবং তিনি প্রশস্ত রহমতের অধিকারী।

তাঁর বাণী: [আর-রাহিম]: অর্থাৎ যাঁর রহমত সৃষ্টির নিকট পৌঁছায়।

• • •
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌1 - الحمدُ للهِ المُعِيد المُبْدِي … مُعْطِي النَّوالِ كُلَّ مَنْ يَسْتَجدِيِ

قوله: [الحمد لله]: الحمد عُرّف لغة: بأنه الثناء بالصفات الجميلة والأفعال الحسنة، سواء أكان ذلك في مقابلة نعمة أم لم يكن كذلك.

وفي الاصطلاح: قيل: بأنه فعل ينبئ عن تعظيم المنعم بسبب كونه منعمًا على الحامد أو غيره، وفيه إشارة إلى أن الحمد متعلق بالإنعام وليس كذلك بل يتعلق بجميع صفات الكمال.

وعرفه شيخ الإسلام ابن تيمية وابن القيم رحمهما الله بأنه: (وصف المحمود بصفات الكمال محبة وتعظيمًا). قال ابن القيم رحمه الله: (فإن تجرد الحمد عن المحبة والتعظيم فهو مدح، وإن اقترن بالحمد محبة وتعظيمًا فهو حمد) وبهذا نَعْرِف الفرق بين الحمد والمدح؛ فالحمد يكون مع المحبة والتعظيم، والمدح لا يكون معهما.

وهنا الألف واللام للجنس المفيدة للاستغراق، فالمحامد كلها لله عز وجل إما مِلْكًا وهذا فيما يتعلق بحمد العباد له سبحانه، وحمد العباد بعضهم لبعض، أو استحقاقًا وهذا فيما يتعلق بحمد الله عز وجل لنفسه.

قوله: [لله]: اللام للاختصاص، والاستحقاق، ولفظ الجلالة سبق تعريفه.

والحمد ينقسم قسمين:

القسم الأول: حمد مطلق، وهذا خاص بالله عز وجل؛ فالله يُحمد على كل صفاته وكل أسمائه وأفعاله.

القسم الثاني: حمد مُقيّد وهذا يكون للمخلوق؛ فالمخلوق لا يُحمد حمدًا مطلقًا وإنما يُحمد حمدًا مقيدًا، يُحمد على هذا الفعل ولا يُحمد على ذلك الفعل؛ لأن المخلوق ناقص، ولهذا يأتينا أن الناظم رحمه الله ذكر من أسماء النبي صلى الله عليه وسلم محمد(1) وسُمي بذلك؛ لكثرة محامده.

--------------------------------------------

(1) انظر ص (58).
‌‌১ - সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি সৃষ্টির পুনরাবর্তনকারী ও প্রারম্ভকারী … যিনি যাচনাকারীকে দান করেন।

তাঁর উক্তি: [আলহামদুলিল্লাহ]: আভিধানিকভাবে ‘হামদ’ (الحمد)-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে যে: এটি হচ্ছে সুন্দর গুণাবলি এবং উত্তম কার্যাবলির মাধ্যমে গুণকীর্তন করা, চাই তা কোনো নিআমতের বিনিময়ে হোক বা না হোক।

পারিভাষিক (اصطلاح) সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: এটি এমন একটি কাজ যা নিআমতদাতার শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে, কারণ তিনি প্রশংসাকারী বা অন্য কারো প্রতি নিআমত দান করেছেন। এতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, ‘হামদ’ (الحمد) নিআমত প্রদানের সাথে সংশ্লিষ্ট, তবে বিষয়টি কেবল তা-ই নয়, বরং এটি সমস্ত পূর্ণাঙ্গ গুণের (صفات الكمال) সাথে সংশ্লিষ্ট।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ এবং ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুমুল্লাহ) এর সংজ্ঞা দিয়েছেন এভাবে: (ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির (صفات الكمال) মাধ্যমে বর্ণনা করা)। ইবনুল কায়্যিম (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: (যদি প্রশংসা ভালোবাসা ও সম্মান বর্জিত হয় তবে তা হলো সাধারণ গুণকীর্তন (مدح), আর যদি প্রশংসার সাথে ভালোবাসা ও সম্মান যুক্ত থাকে তবে তা হলো প্রশংসামূলক ‘হামদ’ (حمد))। এর মাধ্যমেই আমরা ‘হামদ’ (الحمد) ও ‘মাদহ’ (المدح)-এর মধ্যকার পার্থক্য জানতে পারি; কেননা ‘হামদ’ (الحمد) ভালোবাসা ও সম্মানের সাথে হয়ে থাকে, আর ‘মাদহ’ (المدح) এই দুইয়ের উপস্থিতি ছাড়াও হতে পারে।

এখানে ‘আলিফ-লাম’ (الألف واللام) শব্দটি জাতিগত অর্থ প্রদানকারী (للجنس) যা ব্যাপকতা (استغراق) নির্দেশ করে। সুতরাং সকল প্রশংসা আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার জন্য; মালিকানা (ملكًا) হিসেবে—যা বান্দাদের আল্লাহর প্রশংসা করা এবং একে অপরের প্রশংসা করার সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা অধিকার (استحقاقًا) হিসেবে—যা মহান আল্লাহর নিজ সত্তার প্রশংসা করার সাথে সংশ্লিষ্ট।

তাঁর উক্তি: [লিল্লাহ]: এখানে ‘লাম’ (اللام) অক্ষরটি বিশিষ্টতা (اختصاص) এবং অধিকার (استحقاق) বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, আর ‘লফযুল জালালাহ’ (لفظ الجلالة) তথা আল্লাহ শব্দের পরিচয় পূর্বে আলোচিত হয়েছে।

আর প্রশংসা (الحمد) দুই ভাগে বিভক্ত:

প্রথম প্রকার: নিরঙ্কুশ প্রশংসা (حمد مطلق), এটি মহান আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট; কেননা আল্লাহ তাঁর সকল গুণাবলি, সকল নাম এবং সকল কার্যাবলির জন্য প্রশংসিত হন।

দ্বিতীয় প্রকার: সীমাবদ্ধ প্রশংসা (حمد مُقيّد), এটি সৃষ্টির জন্য হতে পারে; কেননা সৃষ্টিকে নিরঙ্কুশভাবে প্রশংসা করা যায় না বরং সীমাবদ্ধভাবে প্রশংসা করা হয়। তাকে বিশেষ কোনো কাজের জন্য প্রশংসা করা হয় আবার অন্য কোনো কাজের জন্য করা হয় না; কারণ সৃষ্টি অপূর্ণাঙ্গ। এই কারণেই আমরা দেখতে পাই যে, লেখক (রহিমাহুল্লাহ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামসমূহের মধ্যে ‘মুহাম্মাদ’(১) নামটি উল্লেখ করেছেন; আর তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলির আধিক্যের কারণেই তাঁকে এই নামে নামকরণ করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন পৃষ্ঠা (৫৮)।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৩১)
قوله: [المعيد]: هذه صفة من صفات الله عز وجل؛ فالذي يُعيد الأشياء - يعني يرجعها مرة بعد أخرى - هو الله عز وجل فالله عز وجل المنفرد بإبداء الخلق، وإعادته مرة أخرى، فلا يشاركه في ذلك مشارك، وهو الذي يبعث الشمس ثم يعيدها مرة أخرى بعد غروبها.

قوله: [المبدي]: بدأ الله عز وجل الخلق أي خلقهم وهاتان صفتان لله عز وجل: الإعادة والابتداء قال تعالى: {وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنُ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ} [الروم: 27] وقوله تعالى: {إِنَّهُ هُوَ يُبْدِئُ وَيُعِيدُ} [البروج: 13].

قوله: [معطِي النَّوالِ]: معطي هذا ظاهر. والنَّوال: هو العطاء وهو المفعول الأول لاسم الفاعل معطي؛ لأن أعطى تنصب مفعولين: المفعول الأول (النَّوال)، والمفعول الثاني (كل).

قوله: [كل من يستجدي]: الاستجداء: الطلب، والمعنى أن الله تعالى يعطي العطاء كل من يطلبه منه.

• • •
তাঁর বাণী: [আল-মুয়ীদ]: এটি মহান আল্লাহর গুণাবলির (صفة) একটি। যিনি বিষয়সমূহকে পুনরায় ফিরিয়ে আনেন—অর্থাৎ বারবার ফিরিয়ে আনেন—তিনিই মহান আল্লাহ। আল্লাহ তাআলা একাই সৃষ্টির সূচনা এবং তা পুনরায় ফিরিয়ে আনায় একক সত্তা, এ ক্ষেত্রে তাঁর কোনো অংশীদার নেই। তিনিই সূর্যকে উদিত করেন এবং অস্তমিত হওয়ার পর তাকে পুনরায় ফিরিয়ে আনেন।

তাঁর বাণী: [আল-মুবদি]: মহান আল্লাহ সৃষ্টির সূচনা করেছেন অর্থাৎ তাদের সৃষ্টি করেছেন। এই দুটিই আল্লাহর গুণ (صفة): পুনরায় ফিরিয়ে আনা (الإعادة) এবং সূচনা করা (الابتداء)। মহান আল্লাহ বলেন: "আর তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনি তা পুনরায় সৃষ্টি করবেন; আর এটি তাঁর জন্য অত্যন্ত সহজ। আসমান ও যমীনে সর্বোচ্চ গুণাবলি তাঁরই এবং তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।" [আর-রুম: ২৭]। আর আল্লাহ তাআলার বাণী: "নিশ্চয়ই তিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেন এবং পুনরায় সৃষ্টি করবেন।" [আল-বুরুজ: ১৩]।

তাঁর বাণী: [মা’তিন নাওয়াল]: 'মা’তি' শব্দটি স্পষ্ট। আর 'নাওয়াল' হলো দান; এটি কর্তৃবাচক বিশেষ্য (اسم الفاعل) 'মা’তি' এর প্রথম কর্ম (مفعول)। কেননা 'আ’তা' ক্রিয়াটি দুটি কর্ম (مفعول) গ্রহণ করে: প্রথম কর্ম হলো (নাওয়াল), আর দ্বিতীয় কর্ম হলো (কুল্ল)।

তাঁর বাণী: [কুল্লা মান ইয়াসতাজদি]: 'আল-ইস্তিজদা' এর অর্থ হলো প্রার্থনা বা আবেদন। এর অর্থ হলো, মহান আল্লাহ তাঁর নিকট প্রার্থনাকারী প্রত্যেককেই দান করেন।

• • •
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৩২)
‌‌2 - مُثَبِّتِ الأحكامِ بالأصُولِ … مُعينِ مَنْ يَصْبُو إلى الوُصُولِ

قوله: [مثبت الأحكام]: يعني أن الأحكام تؤخذ من الأصول والمراد بالأصول هنا الأدلة فالأحكام تثبت وتؤخذ من الأصول والأحكام جمع حكم.

والحكم في اللغة: المنع.

وأما في الاصطلاح: فهو إثبات أمرٍ لأمر، أو نفيه عنه.

والأحكام يقسمها العلماء ثلاثة أقسام:

القسم الأول: أحكام شرعية.

القسم الثاني: أحكام عقلية.

القسم الثالث: أحكام عادية.

والأحكام الشرعية يقسمها الأصوليون إلى قسمين:

القسم الأول: الأحكام التكليفية، والحكم التكليفي: هو خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير.

القسم الثاني: الأحكام الوضعية: والحكم الوضعي: هو خطاب الشارع المتعلّق بجعل الشيء سببًا لشيء، أو شرطًا له، أو مانعًا منه، أو كونه صحيحًا، أو فاسدًا، أو رخصة، أو عزيمة، أو أداء، أو إعادة، أو قضاء.

والفرق بين الأحكام التكليفية والأحكام الوضعية:

أن الحكم التكليفي أمر، وطلب كالأمر بالصلاة، أما الوضعي فهو إخبار.

والحكم التكليفي يشترط فيه علم المكلف وقدرته على الفعل كالصلاة والصيام مثلًا بخلاف الحكم الوضعي، كالصبي مثلًا فإنه وإن لم يكن مكلفًا يغرم المتلفات.

والحكم الشرعي: هو خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين
২ - মূলনীতির (الأصول) মাধ্যমে বিধানসমূহের (الأحكام) স্থায়িত্বকারী … সেই ব্যক্তির সাহায্যকারী যে (আল্লাহর) সান্নিধ্য লাভে ব্যাকুল।

তাঁর উক্তি: [বিধানসমূহের স্থায়িত্বকারী]: এর অর্থ হলো, বিধানসমূহ (الأحكام) মূলনীতিসমূহ (الأصول) থেকে গ্রহণ করা হয় এবং এখানে মূলনীতি বলতে দলীলসমূহ (الأدلة) উদ্দেশ্য। সুতরাং বিধানসমূহ (الأحكام) মূলনীতিসমূহ (الأصول) থেকে সাব্যস্ত ও গৃহীত হয় এবং 'আহকাম' শব্দটি 'হুকুম' (حكم) শব্দের বহুবচন।

আভিধানিক অর্থে 'হুকুম' (حكم) হলো: বারণ করা (المنع)।

আর পারিভাষিক অর্থে (اصطلاح): তা হলো এক বিষয়কে অন্য বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা অথবা তা থেকে অস্বীকার করা।

আর উলামায়ে কেরাম বিধানসমূহকে (الأحكام) তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম প্রকার: শরয়ী বিধানসমূহ (أحكام شرعية)।

দ্বিতীয় প্রকার: বুদ্ধিভিত্তিক বিধানসমূহ (أحكام عقلية)।

তৃতীয় প্রকার: অভ্যাসগত বা প্রাকৃতিক বিধানসমূহ (أحكام عادية)।

আর মূলনীতিবিদগণ (الأصوليون) শরয়ী বিধানসমূহকে (الأحكام الشرعية) দুই ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম প্রকার: দায়িত্বারোপকারী বিধানসমূহ (الأحكام التكليفية); আর দায়িত্বারোপকারী বিধান (الحكم التكليفي) হলো: কোনো কিছু দাবি করা বা ইখতিয়ার প্রদানের ক্ষেত্রে শরীয়ত প্রণেতার সেই সম্বোধন, যা মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট।

দ্বিতীয় প্রকার: নিরূপক বিধানসমূহ (الأحكام الوضعية); আর নিরূপক বিধান (الحكم الوضعي) হলো: শরীয়ত প্রণেতার সেই সম্বোধন যা কোনো বিষয়কে অন্য বিষয়ের কারণ (سببًا), শর্ত (شرطًا), কিংবা প্রতিবন্ধক (مانعًا) হিসেবে নির্ধারণ করার সাথে সংশ্লিষ্ট, অথবা তা সঠিক (صحيحًا), বাতিল (فاسدًا), সহজীকরণ (رخصة), মূল বিধান (عزيمة), যথাসময়ে আদায় (أداء), পুনরায় আদায় (إعادة) কিংবা কাজা (قضاء) হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।

দায়িত্বারোপকারী বিধান (الأحكام التكليفية) এবং নিরূপক বিধানের (الأحكام الوضعية) মধ্যে পার্থক্য:

দায়িত্বারোপকারী বিধান (الحكم التكليفي) হলো আদেশ ও চাহিদা, যেমন সালাতের আদেশ; পক্ষান্তরে নিরূপক বিধান (الوضعي) হলো সংবাদ বা বর্ণনা মাত্র।

আর দায়িত্বারোপকারী বিধানে (الحكم التكليفي) মুকাল্লাফের (المكلف) জ্ঞান থাকা এবং কাজটি সম্পাদনের সক্ষমতা থাকা শর্ত, যেমন উদাহরণস্বরূপ সালাত ও সিয়াম; যা নিরূপক বিধানের (الحكم الوضعي) বিপরীত। যেমন শিশু, সে যদিও শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ (مكلفًا) নয়, তবুও সে কোনো কিছু নষ্ট করলে তার জরিমানা দিতে হয়।

আর শরয়ী বিধান (الحكم الشرعي) হলো: মুকাল্লাফ বা দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের (المكلفين) কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট শরীয়ত প্রণেতার সম্বোধন।
(খণ্ড: ১) আল-ইকদুত সামীন ফী শারহি মানযূমাতিশ শায়খ ইবনে উসাইমীন (পৃষ্ঠা: ৩৩)
بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع.

والحكم العقلي: هو معرفة نسبة أمر لأمر، أو نفيه عنه عقلًا؛ مثل الكل أكبر من الجزء.

والحكم العادي: هو معرفة نسبة أمر لأمر، أو نفيه عنه عادة مثل الماء مرو، والخبز مشبع، والنار حارة .... إلخ.

قوله: [بالأصول]: الأصول: جمع أصل، وتقدم أن الأصل ما يُبنى عليه غيره أو ما يتفرع منه غيره.

واعلم أن العلماء رحمهم الله يطلقون الأصل على عدة إطلاقات:

الإطلاق الأول: الدليل فمثلًا يقولون: الأصل في وجوب الصوم قوله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ} [البقرة: 183].

ويقولون أيضًا: الأصل في وجوب الصلاة والزكاة قوله تعالى: {وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ} [البقرة: 43].

الإطلاق الثاني: القاعدة المستمرة فمثلًا يقولون: إباحة الميتة للمضطر على خلاف الأصل؛ لأن الأصل تحريم الميتة.

الإطلاق الثالث: في باب القياس فيُطلقون الأصل على المقيس عليه؛ لأن القياس له أركان أربعة:

الركن الأول: الأصل: وهو المقيس عليه.

الركن الثاني: الفرع: وهو المقيس.

الركن الثالث: العلة الجامعة.

الركن الرابع: الحكم: وهو محل القياس.

الإطلاق الرابع: الراجح.

قوله: [من يصبو]: أي يميل.

قوله: [إلى الوصول]: أي إلى مقصوده من تعلم العلم والوصول إلى
দাবিকরণ (الاقتضاء), ঐচ্ছিককরণ (التخيير) অথবা নির্ধারণের (الوضع) মাধ্যমে।

এবং বুদ্ধিভিত্তিক বিধান (الحكم العقلي) হলো: কোনো বিষয়ের সাথে অন্য কোনো বিষয়ের সম্বন্ধ বা তা থেকে অন্য কোনো বিষয়ের নেতিবাচকতা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে অনুধাবন করা; যেমন—সমগ্র অংশ অপেক্ষা বড়।

এবং অভ্যাসগত বিধান (الحكم العادي) হলো: কোনো বিষয়ের সাথে অন্য কোনো বিষয়ের সম্বন্ধ বা তা থেকে অন্য কোনো বিষয়ের নেতিবাচকতা অভ্যাসের মাধ্যমে অনুধাবন করা; যেমন—পানি তৃষ্ণা নিবারক, রুটি ক্ষুধা নিবারক এবং আগুন উত্তপ্ত... ইত্যাদি।

তাঁর কথা: [মূলনীতিসমূহ (الأصول) দ্বারা]: উসুল (الأصول) হলো আসল (أصل)-এর বহুবচন। পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, আসল হলো যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে অথবা যা থেকে অন্য কিছুর শাখা বের হয়।

জেনে রাখুন যে, উলামায়ে কেরাম (رحمهم الله) ‘আসল’ (الأصل) শব্দটিকে কয়েকটি অর্থে ব্যবহার করে থাকেন:

প্রথম ব্যবহার: দলিল (الدليل)। উদাহরণস্বরূপ তাঁরা বলেন: সিয়াম ফরজ হওয়ার আসল (الأصل) বা দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: “হে মুমিনগণ, তোমাদের ওপর সিয়াম ফরজ করা হয়েছে, যেমনিভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করতে পারো।” [আল-বাকারাহ: ১৮৩]।

তাঁরা আরও বলেন: সালাত ও জাকাত ফরজ হওয়ার আসল (الأصل) বা দলিল হলো মহান আল্লাহর বাণী: “আর তোমরা সালাত কায়েম করো এবং জাকাত প্রদান করো।” [আল-বাকারাহ: ৪৩]।

দ্বিতীয় ব্যবহার: চলমান সাধারণ নীতি (القاعدة المستمرة)। উদাহরণস্বরূপ তাঁরা বলেন: নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত প্রাণী ভক্ষণ বৈধ হওয়াটি আসলের (الأصل) পরিপন্থী; কারণ আসল বা মূলনীতি হলো মৃত প্রাণী হারাম হওয়া।

তৃতীয় ব্যবহার: কিয়াস (القياس)-এর অধ্যায়ে। তাঁরা আসল (الأصل) শব্দটিকে যার সাথে তুলনা করা হয় (المقيس عليه) তার ক্ষেত্রে ব্যবহার করেন; কারণ কিয়াসের রুকন (ركن) বা স্তম্ভ চারটি:

প্রথম রুকন (الركن): আসল (الأصل), আর এটি হলো যার সাথে তুলনা করা হয় (المقيس عليه)।

দ্বিতীয় রুকন (الركن): ফারউ (الفرع) বা শাখা, আর এটি হলো যাকে তুলনা করা হয় (المقيس)।

তৃতীয় রুকন (الركن): সাধারণ ইল্লত (العلة الجامعة) বা যোগসূত্রকারী কারণ।

চতুর্থ রুকন (الركن): হুকুম (الحكم) বা বিধান, যা কিয়াসের মূল বিষয়।

চতুর্থ ব্যবহার: অগ্রগণ্য (الراجح)।

তাঁর কথা: [যে অনুরাগী হয় (من يصبو)]: অর্থাৎ ঝুঁকে পড়ে বা আগ্রহী হয়।

তাঁর কথা: [পৌঁছানোর (إلى الوصول) দিকে]: অর্থাৎ জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে স্বীয় উদ্দেশ্য হাসিল করা এবং পৌঁছানোর দিকে।