(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: -)
شرح رسالة لطيفة جامعة في أصول الفقه المهمة   (خالد المشيقح)

القسم: أصول الفقه


الكتاب: شرح «رسالة لطيفة جامعة في أصول الفقه المهمة، للعلامة عبد الرحمن بن ناصر السعدي»

إملاء: خالد بن علي بن محمد المشيقح

(أستاذ الفقه في كلية الشريعة بجامعة القصيم)

الناشر: مكتبة الإمام الذهبي - الكويت

الطبعة: الأولى، 1437 هـ - 2016 م

عدد الصفحات: 327

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 25 ذو القعدة 1445

উসুলুল ফিকহ-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির ওপর সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ পুস্তিকার ব্যাখ্যা   (খালিদ আল-মুশাইকিহ)

বিভাগ: উসুলুল ফিকহ


বই: আল্লামা আবদুর রহমান বিন নাসির আস-সাদী বিরচিত «উসুলুল ফিকহ-এর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াদির ওপর সংক্ষিপ্ত ও পূর্ণাঙ্গ পুস্তিকা»-এর ব্যাখ্যা

অনুলিখন: খালিদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মুশাইকিহ

(কাসিম বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের ফিকহ শাস্ত্রের অধ্যাপক)

প্রকাশক: মাকতাবাতুল ইমাম আয-যাহাবী - কুয়েত

সংস্করণ: প্রথম, ১৪৩৭ হিজরি - ২০১৬ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩২৭

[বইয়ের নম্বর মুদ্রণ কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৫ যুল-ক্বাদাহ ১৪৪৫

(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৭)
بسم الله الرحمن الرحيم

إن الحمد لله، نحمده ونستعينه ونستغفره، ونعوذ بالله من شرور أنفسنا وسيئات أعمالنا، من يهده الله فلا مضل له، ومن يضلل فلا هادي له، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله، صلى الله عليه، وعلى آله وصحبه، ومن تبعهم بإحسان إلى يوم الدين.

أما بعد:

فقمت بحمد الله بشرح رسالة العلامة عبد الرحمن السعدي رحمه الله، في الأصول، والمسماة ب (رسالة لطيفة جامعة في أصول الفقه المهمة)، في عدة دورات في مناطق مختلفة من المملكة العربية السعودية والكويت.

وقد قام الأخ/ خليل بن علي المرشود وفقه الله، بالعناية بالشرح وترتيبه، وتخريج أحاديثه، ثم قمت بمراجعته، وإضافة بعض المسائل.

أسأل الله أن ينفع بها مؤلِّفها، وشارحها، والمستفيد من ذلك، آمين، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه وسلم.

 

كتبه

أ. د/ خالد بن علي بن محمد المشيقح

كلية الشريعة بالقصيم قسم الفقه

10 صفر 1437 هـ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি

নিশ্চয়ই সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আমরা তাঁরই প্রশংসা করি, তাঁরই সাহায্য চাই এবং তাঁরই নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করি। আর আমরা আমাদের নফসের অনিষ্টতা এবং আমাদের মন্দ আমলসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন, তাকে পথভ্রষ্ট করার কেউ নেই। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, তাকে পথ প্রদর্শন করার কেউ নেই। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও রাসুল। তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীগণ, আর যারা কিয়ামত পর্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবে, তাদের সকলের ওপর আল্লাহর দয়া ও শান্তি বর্ষিত হোক।

অতঃপর:

আমি আল্লাহর প্রশংসার সাথে আল্লামা আব্দুর রহমান আস-সা’দী (রাহিমাহুল্লাহ)-এর উসুল বা মূলনীতি বিষয়ক পুস্তিকা, যা ‘রিসালাহ লাতিফাহ জামি’আহ ফি উসুলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ’ নামে পরিচিত, তার ব্যাখ্যা সৌদি আরব ও কুয়েতের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক পাঠদান কর্মসূচির মাধ্যমে সম্পন্ন করেছি।

ভাই খলিল বিন আলী আল-মারশুদ (আল্লাহ তাকে তাওফিক দান করুন) এই ব্যাখ্যার যত্ন নেওয়া, এটি বিন্যস্ত করা এবং এর হাদিসগুলোর তাখরিজ (উৎস নির্দেশ) করার দায়িত্ব পালন করেছেন। অতঃপর আমি তা পর্যালোচনা করেছি এবং কিছু মাসআলা সংযোজন করেছি।

আমি আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি এর মাধ্যমে এর লেখক, ব্যাখ্যাকার এবং যারা এর থেকে উপকৃত হবে তাদের সকলকে উপকৃত করেন। আমীন। আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক।

 

লিখেছেন

প্রফেসর ড. খালিদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ আল-মুশাইকিহ

শরীয়াহ অনুষদ, কাসিম; ফিকহ বিভাগ

১০ সফর ১৪৩৭ হিজরি
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৯)
بسم الله الرحمن الرحيم


 

ابتدأ المؤلف رحمه الله رسالته بالبسملة؛ اقتداءً بكتاب الله تعالى فإنه مبدوء بالبسملة، واتباعاً لسنة نبيه صلى الله عليه وسلم، حيث إنه عليه الصلاة والسلام كان يبدأ كتبه ومراسلاته بالبسملة.

قوله: (بسم الله):

الباء: حرف جر.

واسم: اسم مجرور، وحذفت منه الألف لفظًا وخطًا، تخفيفًا لكثرة الاستعمال والجار والمجرور متعلق بفعل محذوف يقدر بما يناسب المقام، وعلى هذا يكون التقدير بسم الله أقرأ.

وقدرنا المتعلق فعلاً؛ لأن الأصل في العمل هو الأفعال، وقدرناه بما يناسب المقام؛ لأنه أدلُّ على المراد، وقدر الفعل مؤخراً؛ تبركاً بالبداءة بسم الله عز وجل، ولأن تقديم ما حقه التأخير يفيد الحصر، كقوله تعالى: {إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ} فالمعنى: لا أقرأ إلا باسم الله، ولا أتوضأ إلا باسم الله، ولا أذبح إلا باسم الله، وهكذا.

قوله: (الله):

علم على الباري جل جلاله، وهو أعرف المعارف على الإطلاق، الجامع
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।


 

লেখক (আল্লাহ তাঁকে রহমত দান করুন) তাঁর রিসালাহ বা পুস্তিকাটি বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করেছেন; মহান আল্লাহর কিতাবের অনুকরণে, যেহেতু তা বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু হয়েছে, এবং তাঁর নবী (তাঁর ওপর আল্লাহর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক)-এর সুন্নাহর অনুসরণে, কেননা তিনি (তাঁর ওপর সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক) তাঁর চিঠিপত্র ও পত্রালাপ বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করতেন।

তাঁর কথা: (আল্লাহর নামে):

বা: একটি হারফে জার (অব্যয়)।

এবং ইসম: একটি মাজরুর বিশেষ্য, এবং এখান থেকে 'আলিফ' উচ্চারণ ও লিখন উভয় ক্ষেত্র থেকে বিলুপ্ত করা হয়েছে, অধিক ব্যবহারের কারণে সহজ করার জন্য। আর জার ও মাজরুর একটি উহ্য ক্রিয়ার (ফে'ল) সাথে সংশ্লিষ্ট যা প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নির্ধারিত হয়, আর এই ভিত্তিতে এর রূপ হবে: আল্লাহর নামে আমি পাঠ করছি।

আমরা সংশ্লিষ্ট উহ্য শব্দটিকে ক্রিয়া হিসেবে নির্ধারণ করেছি; কারণ আমল বা ব্যাকরণগত ক্রিয়াশীলতার ক্ষেত্রে মূল হলো ক্রিয়াপদ। আর আমরা একে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নির্ধারণ করেছি; কারণ এটি উদ্দিষ্ট অর্থের অধিকতর স্পষ্ট নির্দেশক। আর ক্রিয়াটিকে শেষে আনা হয়েছে মহান আল্লাহর নামে শুরু করে বরকত লাভের জন্য, এবং এজন্য যে—যার স্থান পরে তাকে আগে আনা সীমাবদ্ধকরণ (হাসর) এর অর্থ প্রদান করে, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং কেবল আপনারই সাহায্য চাই}। সুতরাং অর্থ দাঁড়ায়: আমি একমাত্র আল্লাহর নামেই পাঠ করি, আমি একমাত্র আল্লাহর নামেই অজু করি, আমি একমাত্র আল্লাহর নামেই জবেহ করি, এবং এভাবেই অন্যান্য কাজ।

তাঁর কথা: (আল্লাহ):

এটি সৃষ্টিকর্তা (যাঁর মহিমা সুউচ্চ)-এর একটি সত্তাবাচক নাম, এবং এটি নিরঙ্কুশভাবে সর্বাধিক পরিচিত নির্দিষ্ট বিশেষ্য (মারেফা), যা সকল গুণাবলিকে একত্রিতকারী
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১০)
الحمد لله، نحمده على ما له من الأسماء الحسنى،


 

لمعاني الأسماء الحسنى، والصفات العليا، ولذا يضاف إليه جميع أسمائه سبحانه، فيقال مثلًا: الرحمن من أسماء الله، ولا يضاف هو إلى شيء من أسمائه سبحانه، فلا يقال: الله من أسماء الرحيم، وهو مشتق من أله يأله إذا عبد، فهو إله بمعنى مألوه أي معبود، فهو دال على صفة له وهي الإلهية.

أصله: الإله فحذفت الهمزة وأدغمت اللام باللام فقيل: الله، ومعناها: ذو الألوهية والربوبية على خلقه أجمعين، وهو من الأسماء التي اختص الله بها نفسه.

قوله: (الرحمن):

أي ذو الرحمة الواسعة، والرحمن من الأسماء التي اختص الله بها نفسه، فلا يسمى بها غيره.

قوله: (الحمد لله):

ابتدأ المؤلف رحمه الله خطبته بالحمد لله اقتداء بهدي النبي صلى الله عليه وسلم في خطبه؛ وذلك لأن النبي صلى الله عليه وسلم لم يكن يبتدئ خطبه الراتبة أو العارضة إلا بالحمد لله كما ذكر ذلك ابن القيم رحمه الله.

والحمد في اللغة: الثناء على الله بالصفات الحسنة، والأفعال الجميلة.

وفي الاصطلاح: وصف المحمود بصفات الكمال محبةً وتعظيماً(1).

وقوله: (لله): اللام حرف جر، وهي تفيد معنى الاختصاص والاستحقاق،

--------------------------------------------

(1) انظر: «بدائع الفوائد» 3/ 132.
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, আমরা তাঁর প্রশংসা করি সেই সুন্দর নামসমূহের জন্য যা তাঁর রয়েছে।


 

সুন্দর নামসমূহের অর্থ এবং সুউচ্চ গুণাবলির জন্য, আর এই কারণেই তাঁর সকল নাম তাঁর পবিত্র সত্তার দিকেই সম্বন্ধযুক্ত করা হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা হয়: 'আর-রাহমান' আল্লাহর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু আল্লাহ শব্দটি তাঁর অন্য কোনো নামের দিকে সম্বন্ধযুক্ত হয় না। সুতরাং এমনটি বলা হয় না যে: 'আল্লাহ' আর-রাহিম-এর নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত। আর 'আল্লাহ' শব্দটি 'আলাহা ইয়া'লাহু' (ইবাদত করা) ধাতু থেকে উদ্ভূত; সুতরাং তিনি 'ইলাহ' যার অর্থ হলো 'মালুহ' অর্থাৎ উপাস্য। অতএব এটি তাঁর একটি গুণের ওপর প্রমাণবহ যা হলো 'উলুহিয়্যাহ' (উপাস্য হওয়ার গুণ)।

এর মূল হলো: 'আল-ইলাহ', অতঃপর হামযা বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং লাম-কে লামের সাথে সন্ধি করা হয়েছে, ফলে বলা হয়: 'আল্লাহ'। এর অর্থ হলো: তাঁর সকল সৃষ্টির ওপর উপাস্যত্ব ও প্রভুত্বের অধিকারী। আর এটি এমন একটি নাম যা আল্লাহ তাঁর নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন।

তাঁর উক্তি: (আর-রাহমান):

অর্থাৎ প্রশস্ত দয়ার অধিকারী। আর 'আর-রাহমান' আল্লাহর সেই সব নামের অন্তর্ভুক্ত যা তিনি নিজের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন, তাই অন্য কাউকে এই নামে নামকরণ করা হয় না।

তাঁর উক্তি: (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য):

লেখক (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) তাঁর ভাষণ আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে শুরু করেছেন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ভাষণের আদর্শ অনুসরণ করে; কারণ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর নিয়মিত বা বিশেষ কোনো ভাষণই আল্লাহর প্রশংসা ছাড়া শুরু করতেন না, যেমনটি ইবনুল কাইয়্যিম (আল্লাহ তাঁর ওপর রহমত বর্ষণ করুন) উল্লেখ করেছেন।

আভিধানিক অর্থে 'হামদ' হলো: সুন্দর গুণাবলি এবং চমৎকার কর্মসমূহের মাধ্যমে আল্লাহর গুণগান বর্ণনা করা।

পারিভাষিক অর্থে: মহব্বত ও সম্মানের সাথে প্রশংসিত সত্তাকে পূর্ণতার গুণাবলির মাধ্যমে বর্ণনা করা।(১)।

আর তাঁর উক্তি: (আল্লাহর জন্য): এখানে 'লাম' একটি অব্যয়, যা নির্দিষ্টকরণ ও মালিকানার অর্থ প্রকাশ করে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: 'বাদাউল ফাওয়ায়িদ' ৩/ ১৩২।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১১)
والصفات الكاملة العليا، وعلى أحكامه القدرية العامة لكل مكون وموجود، وأحكامه الشرعية الشاملة لكل مشروع، وأحكام الجزاء بالثواب للمحسنين


 

ولفظ الجلالة مجرور بها، والجار والمجرور متعلقان بمحذوف هو خبر (الحمد) تقديره: مستحق، أو واجب أو ثابت لله.

ومعنى (الحمد لله): أي أن الحمد المطلق لله وحده، فهو المستحق له المختص به دون سواه، وحمده تعالى هو وصفه عز وجل بصفات الكمال اللازمة والمتعدية، كمال العظمة وكمال الإحسان والنعمة مع المحبة والتعظيم له والرضا عنه والخضوع له، لأنه المنعم بأكبر النعم وأعظمها.

قال شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: «والحمد نوعان: حمد على إحسانه إلى عباده وهو من الشكر، وحمد لما يستحقه هو بنفسه من نعوت كماله، وهذا الحمد لا يكون إلا على ما هو في نفسه مستحق»(1).

وقوله: «لله» اللام للجنس المفيدة للاستغراق.

فالحمد كله له إما ملكا، وإما استحقاقا، فحمده لنفسه استحقاق، وحمد العباد له وحمد بعضهم لبعض ملك له.

وأيضا تفيد هذه اللام الاختصاص، فالمستحق للحمد المطلق الكامل هو سبحانه، أما غيره فيحمد على أشياء خاصة.

قوله: (وعلى أحكامه القدرية العامة لكل مكون موجود، وأحكامه الشرعية الشاملة لكل مشروع، وأحكام الجزاء بالثواب للمحسنين

--------------------------------------------

(1) جامع الرسائل والمسائل (5/ 49).
এবং সুউচ্চ ও পরিপূর্ণ গুণাবলির ওপর, এবং তাঁর সেই তকদিরি বা ভাগ্য-নির্ধারিত বিধানাবলির ওপর যা প্রতিটি সৃষ্টি ও বিদ্যমান বস্তুর জন্য সাধারণ, এবং তাঁর সেই শরয়ি বিধানাবলির ওপর যা প্রতিটি শরয়ি বিষয়ের জন্য ব্যাপক, এবং নেককারদের সওয়াব বা পুরস্কারের মাধ্যমে প্রতিদান প্রদানের বিধানাবলির ওপর।


 

এবং আল্লাহর মহান শব্দটি (লফজুল জালালাহ) এর দ্বারা মাজরুর (জেরযুক্ত) হয়েছে, আর জার ও মাজরুর একটি উহ্য শব্দের সাথে সংশ্লিষ্ট যা 'আল-হামদু' (প্রশংসা) এর খবর। যার সম্ভাব্য রূপ হলো: আল্লাহর জন্য প্রাপ্য, অথবা আবশ্যক, অথবা সাব্যস্ত।

'আলহামদুলিল্লাহ' (সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য)-এর অর্থ হলো: অর্থাৎ নিরঙ্কুশ প্রশংসা কেবল এককভাবে আল্লাহরই জন্য। তিনি এর যোগ্য এবং তিনি ব্যতীত অন্য কেউ এর সাথে বিশিষ্ট নয়। আর মহান আল্লাহর প্রশংসা হলো তাঁকে তাঁর পূর্ণতার গুণাবলি দ্বারা গুণান্বিত করা, হোক তা সত্তাগত বা কর্মগত; যেমন মহত্ত্বের পূর্ণতা এবং অনুগ্রহ ও নিআমতের পূর্ণতা, আর এর সাথে তাঁর প্রতি ভালোবাসা, সম্মান প্রদর্শন, তাঁর প্রতি সন্তুষ্টি এবং তাঁর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করা। কারণ তিনি হলেন সবচেয়ে বড় ও মহান নিআমতসমূহের দাতা।

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: «হামদ বা প্রশংসা দুই প্রকার: তাঁর বান্দাদের প্রতি অনুগ্রহের জন্য প্রশংসা—যা শুকরিয়ার অন্তর্ভুক্ত, এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলির কারণে তিনি নিজে যা পাওয়ার যোগ্য তার জন্য প্রশংসা। আর এই প্রশংসা কেবল সেই গুণের জন্যই হয় যার তিনি নিজ সত্তাগতভাবে যোগ্য»(১)।

এবং তাঁর উক্তি: «লিল্লাহ» (আল্লাহর জন্য), এখানে 'লাম' বর্ণটি আভিজাত্য বা শ্রেণি (জিনস) বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে যা ব্যাপকতার অর্থ প্রদান করে।

সুতরাং সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য—মালিকানা হিসেবে হোক অথবা পাওনা হিসেবে হোক। অতএব, তাঁর নিজের জন্য নিজের প্রশংসা হলো পাওনা বা অধিকার হিসেবে, আর বান্দাদের তাঁর প্রতি প্রশংসা এবং একে অপরের প্রতি প্রশংসা মূলত তাঁরই মালিকানাধীন।

এছাড়াও এই 'লাম' বর্ণটি নির্দিষ্টকরণ বা বিশিষ্টতা বুঝায়। সুতরাং নিরঙ্কুশ ও পূর্ণাঙ্গ প্রশংসার একমাত্র যোগ্য সত্তা হলেন মহান পবিত্র আল্লাহ। তবে অন্য কারো প্রশংসা করা হয় বিশেষ বিশেষ বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে।

তাঁর উক্তি: (এবং তাঁর সেই তকদিরি বিধানাবলির ওপর যা প্রতিটি সৃষ্টি ও বিদ্যমান বস্তুর জন্য সাধারণ, এবং তাঁর সেই শরয়ি বিধানাবলির ওপর যা প্রতিটি শরয়ি বিষয়ের জন্য ব্যাপক, এবং নেককারদের সওয়াব প্রদানের মাধ্যমে প্রতিদান দানের বিধানাবলির ওপর)

--------------------------------------------

(১) জামেউর রাসায়িল ওয়াল মাসায়িল (৫/ ৪৯)।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১২)
والعقاب للمجرمين.

وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له


 

والعقاب للمجرمين).

ومعنى ذلك: أن الأحكام من الله تعالى تنقسم إلى ثلاثة أقسام:

* القسم الأول: أحكام قدرية: وهي ما يجري في هذا الكون مما يتعلق بكل مكوّن وموجود من الخلق والرزق والإحياء والإماتة والعز والذل والفقر والغنى ونحو ذلك.

* الثاني: أحكام شرعية: وهي ما يتعلق بالمكلفين من الأحكام العلمية والعملية.

* الثالث: أحكام أخروية: وهي ما يتعلق بالدار الآخرة من أحكام الجزاء على الأعمال بالثواب أو العقاب.

قوله: (وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له).

قوله: (أشهد): بمعنى أقر موقناً بقلبي ناطقاً بلساني أن لا معبود حق إلا الله، و (أن): مخففة من الثقيلة، و (لا): نافية للجنس، و (إله) اسمها، والخبر محذوف تقديره حق، فيكون المعنى: لا معبود حقٌ إلا الله، ولفظ الجلالة بدل من الخبر المحذوف.

قوله: (وحده): تأكيدٌ للإثبات، إثبات الألوهية لله عز وجل.

قوله: (لا شريك له): تأكيدٌ لنفي ألوهية من سوى الله عز وجل.

قوله: (وأشهد أن محمداً عبده ورسوله): بمعنى أقر موقناً بقلبي
এবং অপরাধীদের জন্য শাস্তি।

আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই।


 

এবং অপরাধীদের জন্য শাস্তি)।

এর অর্থ হলো: আল্লাহ তাআলার বিধানসমূহ তিন ভাগে বিভক্ত:

* প্রথম ভাগ: তাকদিরি বিধানসমূহ: এগুলো হলো এই মহাবিশ্বে সৃষ্টি, রিযিক, জীবন দান, মৃত্যু দান, সম্মান, অপমান, অভাব, প্রাচুর্য এবং এই জাতীয় যা কিছু প্রতিটি সৃষ্টি ও বিদ্যমান বস্তুর সাথে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সংঘটিত হয়।

* দ্বিতীয়: শরয়ি বিধানসমূহ: এগুলো ইলমি (জ্ঞানগত) এবং আমলি (কর্মগত) ঐ সকল বিধান যা মুকাল্লাফ বা শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের সাথে সংশ্লিষ্ট।

* তৃতীয়: আখিরাত বিষয়ক বিধানসমূহ: এগুলো হলো পরকাল সংক্রান্ত ঐ সকল বিধান যা আমলের প্রতিফল হিসেবে সওয়াব বা শাস্তির সাথে সংশ্লিষ্ট।

তাঁর উক্তি: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই)।

তাঁর উক্তি: (আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি): এর অর্থ হলো আমি আমার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস রেখে এবং মুখে উচ্চারণ করে এই স্বীকৃতি দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। এখানে (আন) শব্দটি 'মুকাফফাফাহ মিনাস সাকিলাহ' (ভারী আন-এর হালকা রূপ), এবং (লা) শব্দটি 'নাফিয়াহ লিল জিনস' (জাতিনিষেধবাচক না), এবং (ইলাহ) হলো এর 'ইসম' (উদ্দেশ্য), আর এর 'খবর' (বিধেয়) এখানে উহ্য রয়েছে যার সম্ভাব্য রূপ হলো 'হক' (সত্য)। ফলে এর অর্থ দাঁড়ায়: আল্লাহ ছাড়া সত্য কোনো উপাস্য নেই। আর আল্লাহ শব্দটি এখানে উহ্য খবরের 'বদল' হিসেবে এসেছে।

তাঁর উক্তি: (তিনি একক): এটি ইতিবাচকতাকে সুদৃঢ় করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যা মহান আল্লাহর জন্য উলুহিয়াত বা উপাস্য হওয়ার গুণটি সাব্যস্ত করে।

তাঁর উক্তি: (তাঁর কোনো শরিক নেই): এটি মহান আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো উপাস্য হওয়ার বিষয়টিকে নাকচ করার জন্য তাকিদ বা গুরুত্ব হিসেবে এসেছে।

তাঁর উক্তি: (এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও রাসূল): অর্থাৎ আমি আমার অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস রেখে এই স্বীকৃতি দিচ্ছি যে
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৩)
في الأسماء والصفات والعبادة والأحكام، وأشهد أن محمداً عبده ورسوله، الذى بين الحكم والأحكام، ووضح الحلال والحرام، وأصل الأصول وفصلها، حتى استتم هذا الدين واستقام، اللهم صل وسلم على محمد


 

ناطقاً بلساني أن محمد بن عبد الله بن هاشم بن عبد المطلب عبد لله ليس له شيء من خصائص الألوهية، ورسوله أي مرسل إلى الثقلين كافة، وقال الشيخ محمد بن عبد الوهاب رحمه الله في معنى شهادة أنَّ محمدًا رسول الله: «طاعته فيما أمر، وتصديقه فيما أخبر، واجتناب ما نهى عنه وزجر، وأن لا يعبد الله إلا بما شرع»(1).

قوله: (الذي بيّن الحكم والأحكام، ووضح الحلال والحرام، وأصل الأصول وفصلها حتى استتم هذا الدين واستقام).

الحكم: جمع حكمة، والحكمة: وضع الشيء في موضعه اللائق به.

الأحكام: جمع حكم، ويأتي تعريفه إن شاء الله.

هذا الكلام من المؤلف رحمه الله يسميه العلماء ببراعة الاستهلال، وذلك أن يُضمّن المؤلف خطبة كتابه بما يدل على مراده بالتأليف، وهنا يفهم من خطبة المؤلف رحمه الله: أنه سيكتب في الأصول وقواعد الأحكام والحلال والحرام.

قوله: (اللهم صل وسلم على محمد).

اللهم: أصلها يا الله، حذفت يا النداء، والميم بدل عن الياء، وقال الفراء أصله: يا الله أُمَّنا بخير، فحذف حرف النداء.

--------------------------------------------

(1) انظر: «ثلاثة الأصول».
নামসমূহ, গুণাবলি, ইবাদত এবং বিধানাবলির ক্ষেত্রে; আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ তাঁর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি প্রজ্ঞা ও বিধানাবলি বর্ণনা করেছেন, হালাল ও হারাম স্পষ্ট করেছেন, এবং মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় করেছেন ও সেগুলোকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, এমনকি এই দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন।


 

আমার জিহ্বা দ্বারা উচ্চারণ করছি যে, মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে হাশেম ইবনে আব্দুল মুত্তালিব আল্লাহর বান্দা, তাঁর মধ্যে উলুহিয়্যাতের কোনো বৈশিষ্ট্য নেই; এবং তিনি তাঁর রাসূল অর্থাৎ সকল জিন ও ইনসানের প্রতি প্রেরিত। শায়খ মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহহাব (রহিমাহুল্লাহ) 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল'—এই সাক্ষ্যের অর্থ সম্পর্কে বলেছেন: «তিনি যা নির্দেশ দিয়েছেন তাতে তাঁর আনুগত্য করা, তিনি যা সংবাদ দিয়েছেন তাতে তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, তিনি যা থেকে নিষেধ করেছেন ও ধমক দিয়েছেন তা বর্জন করা এবং আল্লাহকে কেবল সেই নিয়মেই ইবাদত করা যা তিনি শরীয়তভুক্ত করেছেন»(১)।

তাঁর উক্তি: (যিনি প্রজ্ঞা ও বিধানাবলি বর্ণনা করেছেন, হালাল ও হারাম স্পষ্ট করেছেন, এবং মূলনীতিসমূহ সুদৃঢ় করেছেন ও সেগুলোকে বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন, এমনকি এই দ্বীন পূর্ণতা লাভ করেছে এবং সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে)।

হিকাম: এটি হিকমত-এর বহুবচন; আর হিকমত হলো: কোনো বস্তুকে তার সঠিক ও উপযুক্ত স্থানে স্থাপন করা।

আহকাম: এটি হুকুম-এর বহুবচন, আর ইনশাআল্লাহ অচিরেই এর সংজ্ঞা আসবে।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ)-এর এই কথাকে আলেমগণ 'বারাআতুল ইস্তিহলাল' (সূচনার চমৎকারিত্ব) বলে অভিহিত করেন। আর তা হলো, লেখক তাঁর বইয়ের ভূমিকায় এমন কিছু বিষয় অন্তর্ভুক্ত করবেন যা তাঁর রচনার উদ্দেশ্যকে নির্দেশ করে। এখানে লেখকের ভূমিকা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে: তিনি মূলনীতি, আহকামের নিয়মাবলি এবং হালাল ও হারাম সম্পর্কে লিখবেন।

তাঁর উক্তি: (হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মদের ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষণ করুন)।

আল্লাহুম্মা: এর মূল হলো 'ইয়া আল্লাহ', এখানে আহ্বানের 'ইয়া' বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং 'মীম' বর্ণটি 'ইয়া'-এর পরিবর্তে এসেছে। আল-ফাররা বলেন, এর মূল হলো: 'ইয়া আল্লাহু উমমানা বি-খাইর' (হে আল্লাহ! আপনি আমাদের কল্যাণের দিকে পরিচালিত করুন), অতঃপর আহ্বানের হরফটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন: «সালালাতুল উসুল» (তিনটি মূলনীতি)।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৪)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

قوله: «صل» قال الأزهري رحمه الله في تعريفها: (معناها من الله الرحمة، ومن الملائكة الاستغفار، ومن الآدميين الدعاء والتضرع).

والراجح ما قاله أبو العالية رحمه الله كما في صحيح البخاري: (الصلاة من الله ثناؤه على عبده في الملأ الأعلى)(1).

وقال ابن القيم رحمه الله في كتابه جلاء الأفهام: (الصلاة المأمور بها هي الطلب من الله ما أخبر به عن صلاته وصلاة ملائكته وهي ثناء عليه، وإظهار شرفه، وإرادة تكريمه وتقريبه)(2) فإذا قلنا: اللهم صلِّ على محمد؛ فإننا ندعو الله عز وجل أن يفعل ذلك بنبيه صلى الله عليه وسلم وهو الثناء عليه، وأن يظهر شرفه، ويقربه ويكرمه.

قال ابن القيم رحمه الله: (وصلاتنا سؤال الله تعالى أن يفعل ذلك به)(3) وهذا القول هو الصواب.

وقد أطال ابن القيم رحمه الله في كتابه جلاء الأفهام في هذه المسألة، وردَّ القول بأن المراد بالصلاة الرحمة، ومما ذكر قوله تعالى: {أُولَئِكَ عَلَيْهِمْ صَلَوَاتٌ مِنْ رَبِّهِمْ وَرَحْمَةٌ وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُهْتَدُونَ} [البقرة: 157]. فإن الواو تقتضي المغايرة، وعطف الرحمة على الصلاة يدل ذلك على أن الصلاة ليست بمعنى الرحمة، وأيضًا لا خلاف في جواز الترحم على المؤمنين، واختلف

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري، باب قوله: (إن الله وملائكته يصلون على النبي يا أيها الذين آمنوا صلوا عليه وسلموا تسليما).

(2) (1/ 62).

(3) المرجع السابق.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

তাঁর উক্তি: "দরুদ পাঠ করুন" - আল-আযহারী রহিমাহুল্লাহ এর সংজ্ঞায় বলেন: (এর অর্থ আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত, ফেরেশতাদের পক্ষ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা এবং মানুষের পক্ষ থেকে দোয়া ও বিনতি)।

আর অগ্রগণ্য মত হলো সেটিই যা আবুল আলিয়া রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, যেমনটি সহীহ বুখারীতে রয়েছে: (আল্লাহর পক্ষ থেকে সালাত হলো ঊর্ধ্বজগতে ফেরেশতাদের নিকট তাঁর বান্দার প্রশংসা করা)(১)।

ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর 'জালাউল আফহাম' কিতাবে বলেছেন: (যে সালাতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তা হলো আল্লাহর কাছে সেই প্রার্থনা করা যা তিনি তাঁর নিজের সালাত ও তাঁর ফেরেশতাদের সালাত সম্পর্কে খবর দিয়েছেন; আর তা হলো তাঁর প্রশংসা করা, তাঁর মর্যাদা প্রকাশ করা এবং তাঁকে সম্মানিত ও নিকটবর্তী করার ইচ্ছা পোষণ করা)(২) সুতরাং যখন আমরা বলি: হে আল্লাহ! আপনি মুহাম্মাদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন; তখন মূলত আমরা মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি যেন তিনি তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতি সেটি করেন, আর তা হলো তাঁর প্রশংসা করা, তাঁর সম্মান প্রকাশ করা এবং তাঁকে নিকটবর্তী ও মহিমান্বিত করা।

ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন: (আমাদের সালাত হলো মহান আল্লাহর নিকট তাঁর জন্য এমনটি করার প্রার্থনা)(৩) আর এই মতটিই সঠিক।

ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ তাঁর 'জালাউল আফহাম' কিতাবে এই বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন এবং 'সালাত' দ্বারা 'রহমত' উদ্দেশ্য হওয়ার মতটিকে খণ্ডন করেছেন। তিনি যা উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে মহান আল্লাহর বাণী: {তাদের ওপরই তাদের রবের পক্ষ থেকে সালাত ও রহমত বর্ষিত হয় এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত} [আল-বাকারাহ: ১৫৭]। কেননা এখানে 'এবং' অব্যয়টি ভিন্নতা দাবি করে; আর সালাতের ওপর রহমতকে সংযুক্ত করা একথাই প্রমাণ করে যে, সালাত রহমতের অর্থে নয়। অধিকন্তু, মুমিনদের জন্য রহমতের দোয়া করার বৈধতার ব্যাপারে কোনো মতভেদ নেই, তবে মতভেদ হয়েছে

--------------------------------------------

(১) বুখারী বর্ণনা করেছেন, অধ্যায়: আল্লাহর বাণী: (নিশ্চয় আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতাগণ নবীর প্রতি সালাত পাঠ করেন। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তাঁর প্রতি সালাত ও সালাম পাঠ করো)।

(২) (১/ ৬২)।

(৩) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

السلف في جواز الصلاة على غير الأنبياء.

قوله: (مع سلام): السلام: اسم مصدر من سلم، ومصدره تسليم، والسلام اسم من أسماء الله عز وجل كما قال تعالى: {هُوَ اللَّهُ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْمَلِكُ الْقُدُّوسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللَّهِ عَمَّا يُشْرِكُونَ} [الحشر: 23].

فهو سبحانه السالم من مماثلة أحد من خلقه، والسالم من النقص، ومن كل ما ينافي كماله.

والسلام أيضًا يطلق على التحية، وعلى الأمان، فإذا قلت: (السلام عليك أيها النبي) فأنت تدعو للنبي صلى الله عليه وسلم بالسلامة من كل آفة، والدعاء للنبي صلى الله عليه وسلم بالسلامة ينقسم قسمين:

القسم الأول: دعاء بالسلامة الحسية.

القسم الثاني: دعاء بالسلامة المعنوية.

أما الدعاء بالسلامة الحسية: ففي حياته: أن يحفظ بدن النبي صلى الله عليه وسلم من النقائص والآفات ونحو ذلك، وبعد مماته: بأن يسلمه الله عز وجل من أهوال يوم القيامة؛ فإن الرسل يجثون على ركبهم من شدة هول ذلك اليوم ويدعون «اللهم سلِّم سلِّم»(1).

وأما الدعاء بالسلامة المعنوية: فهي أن تدعو لسنته وشرعه بالسلامة من تأويل المبطلين وانتحال الغالين.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري رقم (806) ومسلم رقم (182).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

নবীগণ ব্যতীত অন্যদের ওপর দরূদ পাঠের বৈধতার বিষয়ে সালাফগণের অভিমত।

তাঁর বাণী: (সালামসহ): আস-সালাম: এটি 'সাল্লামা' ক্রিয়ামূলের বিশেষ্য, আর এর মূল ক্রিয়ামূল হলো 'তাসলীম'। আস-সালাম মহান আল্লাহর নামসমূহের মধ্য হতে একটি নাম, যেমনটি তিনি বলেছেন: {তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো সত্য উপাস্য নেই; তিনিই অধিপতি, অতীব পবিত্র, শান্তি ও নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল প্রতাপান্বিত, অতীব মহিমান্বিত; তারা যা শরীক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র।} [আল-হাশর: ২৩]।

সুতরাং তিনি সুবহানাহু তাঁর সৃষ্টির কারো সদৃশ হওয়া থেকে মুক্ত, এবং সকল ত্রুটি ও তাঁর পূর্ণতার পরিপন্থী সব কিছু থেকে নিরাপদ ও মুক্ত।

আস-সালাম শব্দটি অভিবাদন এবং নিরাপত্তার অর্থেও ব্যবহৃত হয়। সুতরাং আপনি যখন বলেন: (হে নবী, আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক), তখন আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য সকল আপদ-বিপদ থেকে নিরাপত্তার দুআ করছেন। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্য নিরাপত্তার দুআ দুই প্রকার:

প্রথম প্রকার: বাহ্যিক নিরাপত্তার দুআ।

দ্বিতীয় প্রকার: অর্থগত বা আদর্শিক নিরাপত্তার দুআ।

বাহ্যিক নিরাপত্তার দুআ প্রসঙ্গে: তাঁর জীবদ্দশায় এর অর্থ হলো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র দেহকে সকল ত্রুটি, রোগ-বালাই ও এই জাতীয় বিষয় থেকে রক্ষা করা। আর তাঁর ইন্তেকালের পর: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা যেন তাঁকে কিয়ামত দিবসের ভয়াবহতা থেকে নিরাপদ রাখেন; কেননা সেই দিনের ভয়াবহতার তীব্রতায় রাসূলগণ হাঁটু গেড়ে বসে পড়বেন এবং দুআ করবেন, "হে আল্লাহ, নিরাপদ রাখুন, নিরাপদ রাখুন"(১)।

আর অর্থগত বা আদর্শিক নিরাপত্তার দুআ প্রসঙ্গে: এটি হলো তাঁর সুন্নাহ ও শরীয়তের নিরাপত্তার জন্য দুআ করা—যাতে তা বাতিলপন্থীদের অপব্যাখ্যা এবং অতিরঞ্জনকারীদের বিকৃতি থেকে মুক্ত থাকে।

--------------------------------------------

(১) বুখারী হাদীস নং (৮০৬) এবং মুসলিম হাদীস নং (১৮২)।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৬)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

واجتماع الصلاة والسلام يعني الدعاء بالفوز بالمطلوب والنجاة من المرهوب، فبالصلاة يحصل الفوز بالمطلوب، وبالسلامة تحصل النجاة من المرهوب.

و (محمد): اسم من أسماء النبي صلى الله عليه وسلم قال تعالى: {وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ} [آل عمران: 144].

والنبي صلى الله عليه وسلم له أسماء:

1 محمد كما ذكره المؤلِّف رحمه الله.

2 أحمد كما قال تعالى: {وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ} [الصف: 6].

3 الحاشر. 4 العاقب. 5 المُقَفِّي.

6 الماحي. 7 نبي الرحمة. 8 نبي التوبة.

لما روى جبير بن مطعم رضي الله عنه قال صلى الله عليه وسلم: «إن لي أسماء: أنا محمد، وأنا أحمد، وأنا الماحي الذي يمحو الله بي الكفر، وأنا الحاشر الذي يحشر الناس على قدمي، وأنا العاقب الذي ليس بعده أحد»(1) متفق عليه.

وروى أبو موسى الأشعري رضي الله عنه قال: كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يسمي لنا نفسه أسماء فقال: «أنا محمد، وأحمد، والمُقَفِّي، والحاشر، ونبي التوبة، ونبي الرحمة»(2).

ومحمد على وزن مُفَعَّل سمي بذلك؛ لكثرة محامده صلى الله عليه وسلم فإنه صلى الله عليه وسلم له

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري رقم (4396) ومسلم رقم (2354).

(2) أخرجه مسلم رقم (2355).
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

সালাত ও সালামের একত্রে আসার অর্থ হলো—কাঙ্ক্ষিত বিষয় অর্জনের এবং আশঙ্কাজনক বিষয় থেকে মুক্তি পাওয়ার দোয়া করা। সালাতের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত বিষয় প্রাপ্তি ঘটে এবং সালামের মাধ্যমে আশঙ্কাজনক বিষয় হতে নিরাপত্তা অর্জিত হয়।

এবং (মুহাম্মদ): এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নামসমূহের একটি। আল্লাহ তাআলা বলেন: {আর মুহাম্মদ একজন রাসূল ছাড়া আর কিছুই নন; তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন} [আলে ইমরান: ১৪৪]।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেশ কিছু নাম রয়েছে:

১. মুহাম্মদ; যেমনটি লেখক (রহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন।

২. আহমাদ; যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেন: {এবং এমন এক রাসূলের সুসংবাদদাতা হিসেবে, যিনি আমার পরে আসবেন, যাঁর নাম হবে আহমাদ} [আস-সাফ: ৬]।

৩. আল-হাশির। ৪. আল-আকিব। ৫. আল-মুকাফফি।

৬. আল-মাহু। ৭. রহমতের নবী। ৮. তাওবার নবী।

যেহেতু যুবায়ের ইবনে মুতয়িম (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আমার কয়েকটি নাম রয়েছে: আমি মুহাম্মদ, আমি আহমাদ, আমি আল-মাহু (বিদূরণকারী) যার মাধ্যমে আল্লাহ কুফরকে মিটিয়ে দেন, আমি আল-হাশির (একত্রকারী) যার পায়ের কাছে মানুষকে সমবেত করা হবে, এবং আমি আল-আকিব (সর্বশেষ) যার পরে আর কেউ নেই»(১) মুত্তাফাকুন আলাইহি (বুখারি ও মুসলিম)।

আবু মুসা আল-াশআরি (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের কাছে নিজের কয়েকটি নাম উল্লেখ করতেন, তিনি বলতেন: «আমি মুহাম্মদ, আহমাদ, আল-মুকাফফি, আল-হাশির, তাওবার নবী এবং রহমতের নবী»(২)।

মুহাম্মদ শব্দটি 'মুফা'আল' (مُفَعَّل) ছন্দে গঠিত; তাঁর প্রশংসনীয় গুণাবলির আধিক্যের কারণে তাঁর এই নামকরণ করা হয়েছে। কেননা তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জন্য রয়েছে...

--------------------------------------------

(১) বুখারি, হাদিস নং ৪৩৯৬ এবং মুসলিম, হাদিস নং ২৩৫৪।

(২) মুসলিম, হাদিস নং ২৩৫৫।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৭)
وعلى آله وأصحابه وأتباعه، خصوصاً العلماء الأعلام.

أما بعد؛


 

محامد فاق بها بقية البشر فهو صلى الله عليه وسلم يحمد أكثر وأفضل مما يحمد غيره.

وقوله: (وعلى آله وأصحابه وأتباعه).

اختلف أهل العلم في تفسير آل النبي صلى الله عليه وسلم، والصواب في ذلك أن آل النبي صلى الله عليه وسلم هم أتباعه على دينه، إلا إذا دلت القرائن على أن المراد به أقاربه المؤمنون، فإذا قيل: اللهم صل على محمد وآله وأصحابه وأتباعه فإن المراد أقاربه المؤمنون به، وأما إذا قيل: اللهم صل على محمد وآله فإن المراد أتباعه على دينه وهذا هو الصواب.

قوله: (وأصحابه).

الأصحاب: جمع صاحب، والصحابي هو كل من اجتمع بالنبي صلى الله عليه وسلم مؤمناً به ومات على ذلك، ولو لم تكن مدة الصحبة طويلة، وهذا من خصائص صحبة النبي صلى الله عليه وسلم.

أتباعه: جمع تابع، أي أتباعه على دينه.

قوله: (أما بعد).

(أما): حرف تفصيل مضمنٌ معنى الشرط، ومعناها: مهما يكن من شيء بعد.

(بعد): ظرف مبني على الضم.

والفائدة من هذه الكلمة هي الانتقال من المقدمة إلى صلب الموضوع.

وقيل: بأنه يؤتى بها للانتقال من أسلوب إلى أسلوب.
এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও তাঁর অনুসারীদের ওপর, বিশেষ করে প্রথিতযশা আলেমগণের ওপর।

অতঃপর;


 

এমন সব প্রশংসা যার মাধ্যমে তিনি অবশিষ্ট মানবজাতির ঊর্ধ্বে চলে গেছেন; তাই তাঁকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) অন্যান্যদের তুলনায় অধিক ও সর্বোত্তমভাবে প্রশংসা করা হয়।

এবং তাঁর কথা: (এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও তাঁর অনুসারীদের ওপর)।

নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'আল' (পরিবার)-এর ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে আহলে ইলমগণ মতভেদ করেছেন। এ বিষয়ে সঠিক মত হলো, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর 'আল' হলেন তাঁর দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসারীগণ; তবে যদি কোনো প্রমাণ বা ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে এর দ্বারা তাঁর ঈমানদার নিকটাত্মীয়দের বোঝানো হয়েছে (তবে তাই উদ্দেশ্য হবে)। সুতরাং যখন বলা হয়: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও তাঁর অনুসারীদের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন", তখন এর দ্বারা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নিকটাত্মীয়দের বোঝানো হয়। আর যখন বলা হয়: "হে আল্লাহ! মুহাম্মদ ও তাঁর পরিবারের ওপর দরুদ বর্ষণ করুন", তখন এর দ্বারা তাঁর দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসারীদের বোঝানো হয় এবং এটাই সঠিক মত।

তাঁর কথা: (এবং তাঁর সঙ্গী-সাথীদের ওপর)।

'আসহাব' হলো 'সাহিব'-এর বহুবচন। আর সাহাবী হলেন সেই ব্যক্তি যিনি ঈমানের সাথে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং সেই ঈমানের ওপরই মৃত্যুবরণ করেছেন, যদিও সাহচর্যের সময়কাল দীর্ঘ না-ও হয়। এটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহচর্যের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

তাঁর অনুসারীগণ: এটি 'অনুসারী' শব্দের বহুবচন, অর্থাৎ তাঁর দ্বীনের ওপর তাঁর অনুসারীগণ।

তাঁর কথা: (অতঃপর)।

(আম্মা): এটি শর্তের অর্থ সম্বলিত একটি বর্ণনামূলক অব্যয়, যার অর্থ হলো: এরপর যা কিছুই হোক না কেন।

(বাদু): এটি পেশযুক্ত একটি ক্রিয়া-বিশেষণ পদ।

এই শব্দটির উপকারিতা হলো ভূমিকা থেকে মূল বিষয়ের দিকে প্রবেশ করা।

আরও বলা হয়েছে যে, এক শৈলী থেকে অন্য শৈলীতে উত্তরণের জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৮)
فهذه رسالة لطيفة في أصول الفقه، سهلة الألفاظ، واضحة المعاني، معينة على تعلم الأحكام لكل متأمل معاني.

نسأل الله أن ينفع بها جامعها وقارئها، إنه جواد كريم.


 

قوله: (فهذه رسالة لطيفة في أصول الفقه).

المؤلف رحمه الله وصف الرسالة بأنها لطيفة، واللطيف من الكلام رقيقه، ثم ذكر رحمه الله أن رسالته تميزت بعدد من المميزات:

الأولى: (سهلة الألفاظ).

الثانية: (واضحة المعاني).

الثالثة: (معينة على تعلم الأحكام لكل متأملٍ معاني).

قوله: (نسأل الله أن ينفع بها جامعها، وقارئها إنه جواد كريم).

ختم الشيخ رحمه الله خطبة الرسالة بهذا الدعاء الجامع النافع، وهو أن ينفع الله تعالى بهذه الرسالة جامعها وقارئها، وأنا أقول: وشارحها وقارئ شرحها إنه قريبٌ مجيد جواد كريم، وصلى الله وسلم على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين.

و (جواد): الجودُ: خلاف البخلِ، ويقال: جاد جوداً.

والجود: المطر الغزيرُ، فالجواد: كثير العطاء.

و (الكريم): الكثير الخير الجواد المنعم المفضل.
এটি উসূলে ফিকহ বা ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতির ওপর একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা, যা প্রাঞ্জল শব্দে ও স্পষ্ট অর্থে রচিত এবং প্রতিটি অর্থ অনুধাবনকারীর জন্য আহকাম বা বিধানাবলি শেখার ক্ষেত্রে সহায়ক।

আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর সংকলক ও পাঠকারীকে এর মাধ্যমে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতিশয় দয়ালু।


 

তাঁর উক্তি: (এটি উসূলে ফিকহের ওপর একটি সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা)।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) পুস্তিকাটিকে 'লতিফ' বা সংক্ষিপ্ত ও সূক্ষ্ম বলে বর্ণনা করেছেন। কথার ক্ষেত্রে 'লতিফ' মানে হলো তার সূক্ষ্ম ও সুচারু রূপ। অতঃপর তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর এই পুস্তিকাটি বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যে অনন্য:

প্রথমত: (সহজ ও প্রাঞ্জল শব্দ)।

দ্বিতীয়ত: (স্পষ্ট অর্থ)।

তৃতীয়ত: (অর্থ অনুধাবনকারী প্রত্যেকের জন্য বিধানাবলি শেখার ক্ষেত্রে সহায়ক)।

তাঁর উক্তি: (আমরা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি এর সংকলক ও পাঠকারীকে এর মাধ্যমে উপকৃত করেন; নিশ্চয়ই তিনি পরম দাতা ও অতিশয় দয়ালু)।

শায়খ (রাহিমাহুল্লাহ) এই ব্যাপক ও কল্যাণকর দোয়ার মাধ্যমে পুস্তিকাটির ভূমিকা সমাপ্ত করেছেন, আর তা হলো মহান আল্লাহ যেন এই পুস্তিকার মাধ্যমে এর সংকলক ও পাঠকারীকে উপকৃত করেন। আমি বলি: এবং এর ব্যাখ্যাকারী ও ব্যাখ্যার পাঠকারীকেও; নিশ্চয়ই তিনি নিকটবর্তী, মহিমান্বিত, পরম দাতা ও অতিশয় দয়ালু। আমাদের নবী মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক।

এবং 'জাওয়াদ' (পরম দাতা): 'জুদ' বা দানশীলতা হলো কৃপণতার বিপরীত। বলা হয়ে থাকে: তিনি অকাতরে দান করেছেন।

আর 'জুদ' অর্থ মুষলধারে বৃষ্টিও হয়; সুতরাং 'জাওয়াদ' অর্থ অত্যন্ত দানশীল।

এবং 'কারিম' (অতিশয় দয়ালু): যিনি প্রচুর কল্যাণ দানকারী, পরম দাতা, নিআমত প্রদানকারী ও অনুগ্রহকারী।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ১৯)
‌‌فصل

تعريف أصول الفقه

أصول الفقه: هي العلم بأدلة الفقه الكلية.


 

قوله: (أصول الفقه: هي العلم بأدلة الفقه الكلية).

عرف المؤلف رحمه الله أصول الفقه باعتباره علَماً على هذا الفن، والعلماء رحمهم الله يعرفون أصول الفقه باعتبارين:

* الأول: باعتباره مركباً:

الأصول في اللغة: جمع أصل، وهو الأساس والمعتمد، والأصل ما يبنى عليه غيره أو ما يتفرع منه غيره، وذلك مثل: أساسات الجدران فهي أصول يبنى عليها غيرها، وأصل الشجرة الثابت في الأرض يتفرع منه غيره، والأب وإن علا فهو أصل يتفرع منه غيره.

وأما في الاصطلاح فإن الأصل يطلق على عدَّة إطلاقات:

الأول: الدليل، فيقولون: الأصل في وجوب الصيام قول الله تعالى: {يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ} [البقرة: 183] أي الدليل على وجوب الصيام.

الثاني: القاعدة المستمرة، كقولهم: إباحة الميتة للمضطر على خلاف الأصل، وكقولهم: الأصل في الأمر الوجوب.
পরিচ্ছেদ

উসুলুল ফিকহ-এর সংজ্ঞা

উসুলুল ফিকহ: হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান।


 

তাঁর উক্তি: (উসুলুল ফিকহ: হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান)।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) উসুলুল ফিকহকে এই শাস্ত্রের একটি নাম হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। আর ওলামায়ে কেরাম (রাহিমাহুমুল্লাহ) উসুলুল ফিকহকে দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে সংজ্ঞায়িত করেন:

* প্রথম: যৌগিক শব্দ হিসেবে:

আভিধানিক অর্থে উসুল: এটি ‘আসল’ শব্দের বহুবচন, যার অর্থ ভিত্তি ও নির্ভরযোগ্য স্থান। আর ‘আসল’ হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু গড়ে ওঠে অথবা যা থেকে অন্য কিছু শাখা হিসেবে নির্গত হয়। যেমন: দেয়ালের ভিত্তি; যা হলো মূল ভিত্তি যার ওপর অন্য কিছু নির্মাণ করা হয়। আর মাটির গভীরে প্রোথিত গাছের শিকড়, যা থেকে অন্যান্য শাখা-প্রশাখা নির্গত হয়। এবং পিতা ও তাঁর ঊর্ধ্বতনগণ হলেন মূল ভিত্তি, যাঁদের থেকে উত্তরসূরিগণ জন্ম নেয়।

আর পারিভাষিক অর্থে ‘আসল’ শব্দটি কয়েকটি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

প্রথম: দলিল বা প্রমাণ। যেমন তাঁরা বলেন: রোজা ফরজ হওয়ার মূল (আসল) হলো মহান আল্লাহর বাণী: {হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে} [আল-বাকারা: ১৮৩]। অর্থাৎ রোজা ফরজ হওয়ার দলিল।

দ্বিতীয়: স্থায়ী মূলনীতি। যেমন তাঁদের বক্তব্য: নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত পশু হালাল হওয়া মূল নিয়মের (আসলের) পরিপন্থী। অথবা তাঁদের কথা: নির্দেশের ক্ষেত্রে মূল নীতি (আসল) হলো সেটি ওয়াজিব হওয়া।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

الثالث: المقيس عليه، كقولهم: الخمر أصل النبيذ في التحريم.

الرابع: الراجح، كقولهم: الأصل في الحلي عدم الوجوب، أي الراجح فيها.

والفقه في اللغة: مطلق الفهم، وقيل: بأنه الفهم الدقيق.

وأما في الاصطلاح: فهو معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد.

وقيل: بأنه معرفة الأحكام الشرعية بأدلتها التفصيلية.

قولهم: (معرفة): يشمل اليقين والظن.

مثال اليقين: معرفة أن الصلوات الخمس واجبة، وهذا معلوم من الدين بالضرورة، ومثال الظن: معرفة أن الوتر سنة مؤكدة.

قولهم: (معرفة الأحكام الشرعية): الأحكام: جمع حكم.

والحكم في اللغة: المنع.

وأما في الاصطلاح: فهو إثبات أمرٍ لأمر، أو نفيه عنه.

* والأحكام يقسمها العلماء ثلاثة أقسام:

القسم الأول: أحكام شرعية.

القسم الثاني: أحكام عقلية.

القسم الثالث: أحكام عادية.

والحكم الشرعي: هو خطاب الشارع المتعلِّق بأفعال المكلَّفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

তৃতীয়: যার সাথে তুলনা করা হয় (মাক্বীস আলাইহি), যেমন উসূলবিদদের উক্তি: হারামের বিধানের ক্ষেত্রে মদ হলো নাবীযের মূল ভিত্তি।

চতুর্থ: প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত (রাজীহ্), যেমন তাদের উক্তি: অলংকারের ক্ষেত্রে মূল বিধান (আসল) হলো ওয়াজিব না হওয়া, অর্থাৎ এতে এটিই প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত।

শাব্দিক অর্থে ফিকহ হলো: সাধারণ বুঝ বা উপলব্ধি; আবার বলা হয়েছে যে, এটি হলো সূক্ষ্ম ও গভীর বুঝ।

আর পারিভাষিক অর্থে ফিকহ হলো: সেই সকল শারঈ আহকাম বা বিধান সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা, যা ইজতিহাদের মাধ্যমে অর্জিত হয়।

আবার বলা হয়েছে যে, এটি হলো বিস্তারিত দলিল-প্রমাণসহ শারঈ আহকাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।

তাদের উক্তি: (জ্ঞান বা মা'রিফাহ): এটি নিশ্চিত জ্ঞান (ইয়াকীন) এবং প্রবল ধারণা (যান্ন) উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।

ইয়াকীনের উদাহরণ: পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ওয়াজিব হওয়ার জ্ঞান লাভ করা, আর এটি দ্বীনের এমন বিষয় যা অকাট্যভাবে প্রমাণিত (মা’লুম মিনাদ দ্বীন বিয-যারুরাহ্); আর যানের উদাহরণ: বিতরের সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ হওয়ার জ্ঞান লাভ করা।

তাদের উক্তি: (শারঈ আহকাম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা): এখানে 'আহকাম' শব্দটি 'হুকুম'-এর বহুবচন।

শাব্দিক অর্থে হুকুম হলো: প্রতিরোধ করা বা বাধা প্রদান করা।

আর পারিভাষিক অর্থে হুকুম হলো: কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের জন্য সাব্যস্ত করা অথবা তা থেকে কোনো বিষয়কে অস্বীকার বা নাকচ করা।

* আলেমগণ হুকুমকে তিন ভাগে বিভক্ত করেছেন:

প্রথম প্রকার: শারঈ আহকাম (শরীয়ত নির্ধারিত বিধান)।

দ্বিতীয় প্রকার: আকলী আহকাম (বুদ্ধিভিত্তিক বিধান)।

তৃতীয় প্রকার: আদিয়্যাহ আহকাম (অভ্যাসগত বা প্রকৃতিগত বিধান)।

শারঈ হুকুম হলো: দাবি বা নির্দেশ (ইকতিযা), ঐচ্ছিকতা বা ইচ্ছাধিকার প্রদান (তাখয়ীর) অথবা পরিস্থিতি নির্ধারণ (ওয়াদই)-এর সাথে সংশ্লিষ্ট মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তিদের কার্যাবলীর ব্যাপারে শারীয়াত প্রণেতার বক্তব্য বা সম্বোধন।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

والأحكام الشرعية يقسمها الأصوليون إلى قسمين:

القسم الأول: الأحكام التكليفية.

والحكم التكليفي: هو خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير.

القسم الثاني: الأحكام الوضعية.

والحكم الوضعي: هو خطاب الشارع المتعلّق بجعل الشيء سببًا لشيء، أو شرطًا له، أو مانعًا منه، أو كونه صحيحًا، أو فاسدًا، أو رخصة، أو عزيمة، أو أداء، أو إعادة، أو قضاء.

والفرق بين الأحكام التكليفية والأحكام الوضعية:

أن الحكم التكليفي أمر وطلب، كالأمر بالصلاة، أما الوضعي فهو إخبار.

والحكم التكليفي يشترط فيه: علم المكلف، وقدرته على الفعل، كالصلاة والصيام مثلًا، بخلاف الحكم الوضعي، كالصبي مثلًا فإنه وإن لم يكن مكلفًا فهو يغرم المتلفات.

والحكم العقلي: هو معرفة نسبة أمر لأمر، أو نفيه عنه عقلًا؛ مثال ذلك: الكل أكبر من الجزء.

والحكم العادي: هو معرفة نسبة أمر لأمر، أو نفيه عنه عادة، مثال ذلك: الماء مرو، والخبز مشبع، والنار حارة.

وقولهم: (الشرعية): قيد يخرج الأحكام العادية والعقلية، فهذه ليست داخلة في الفقه.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

উসুলবিদগণ শরয়ি বিধানসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করেন:

প্রথম প্রকার: হুকুম তকলিফি (বাধ্যতামূলক বিধান)।

হুকুম তকলিফি হলো: মুকাল্লাফদের (শরয়ি বিধান পালনে দায়বদ্ধ ব্যক্তি) কার্যাবলির সাথে সংশ্লিষ্ট বিধানদাতার সেই সম্বোধন, যা কোনো কিছু করার দাবি জানায় অথবা পছন্দের সুযোগ দেয়।

দ্বিতীয় প্রকার: হুকুম ওয়াদঈ (নির্ধারণী বিধান)।

হুকুম ওয়াদঈ হলো: বিধানদাতার সেই সম্বোধন যা কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের কারণ, শর্ত কিংবা প্রতিবন্ধক হিসেবে নির্ধারণ করার সাথে অথবা তা সহিহ, ফাসিদ, রুখসত, আজিমত, আদায়, ইয়াদাহ কিংবা কাজা হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।

হুকুম তকলিফি ও হুকুম ওয়াদঈর মধ্যে পার্থক্য:

হুকুম তকলিফি হলো আদেশ ও চাহিদা জ্ঞাপক, যেমন সালাতের নির্দেশ; পক্ষান্তরে হুকুম ওয়াদঈ হলো সংবাদ বা তথ্য প্রদানমূলক।

হুকুম তকলিফির ক্ষেত্রে শর্ত হলো: মুকাল্লাফের জ্ঞান এবং কর্মটি করার সক্ষমতা থাকা, যেমন সালাত ও সিয়াম; হুকুম ওয়াদঈর বিষয়টি এর ভিন্ন, যেমন কোনো শিশু—সে মুকাল্লাফ না হওয়া সত্ত্বেও কোনো সম্পদ নষ্ট করলে তাকে ক্ষতির দায়ভার বহন করতে হয়।

হুকুম আক্বলি (বুদ্ধিবৃত্তিক বিধান): এটি হলো বিবেকের মাধ্যমে এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয়ের সম্বন্ধ জানা বা তা অস্বীকার করা; উদাহরণস্বরূপ: পূর্ণাঙ্গ বস্তু তার অংশের চেয়ে বড়।

হুকুম আদি (প্রথাগত বিধান): এটি হলো অভ্যাসের ভিত্তিতে এক বিষয়ের সাথে অন্য বিষয়ের সম্বন্ধ জানা বা তা অস্বীকার করা; উদাহরণস্বরূপ: পানি তৃষ্ণা নিবারক, রুটি ক্ষুধা নিবারক এবং আগুন গরম।

তাদের পরিভাষা ‘শরইয়্যাহ’ (শরয়ি) একটি শর্ত যা প্রথাগত ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিধানসমূহকে বাদ দিয়ে দেয়; কারণ এগুলো ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত নয়।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

قولهم: (بأدلتها التفصيلية): قيد يخرج أصول الفقه، فإن أصول الفقه يبحث في أدلة الفقه الإجمالية.

الثاني: باعتباره علماً على هذا الفن:

فإن المؤلف رحمه الله قال: (هو العلم بأدلة الفقه الكلية).

وقيل: أدلة الفقه الإجمالية وكيفية الاستفادة منها وحال المستفيد.

وقولهم: (أدلة الفقه الكليَّة): احتراز من الأدلة التفصيلية، فإنها شأن الفقيه، وأما في أصول الفقه فتبحث الأدلة على سبيل الإجمال أي كيف يستدل بهذه الأدلة على القواعد العامة، وهذا يشمل الأدلة المتفق عليها والأدلة المختلف فيها:

والأدلة المتفق عليها مثل: الكتاب، والسنة، والإجماع، والقياس.

والأدلة المختلف فيها مثل: قول الصحابي، الاستحسان، الاستصحاب، المصالح المرسلة.

وقولهم: (وكيفية الاستفادة منها): أي كيفية استفادة الأحكام الشرعية من الأدلة الإجمالية:

وذلك بمعرفة طرق الاستنباط ودلالات الألفاظ، كدراسة العام والخاص، ومتى يقدم الخاص على العام، والمطلق والمقيد، ومتى يحمل المطلق على المقيد، والمجمل والمبين، وقواعد الأمر والنهي

قولنا: (وحال المستفيد): والمستفيد هو المجتهد، ويدخل في ذلك، وغيرها من القواعد التي تدرس في أصول الفقه.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

তাদের উক্তি: (এর বিস্তারিত দলিলের মাধ্যমে): এটি এমন একটি শর্ত যা উসুলুল ফিকহকে পৃথক করে দেয়, কারণ উসুলুল ফিকহ মূলত ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ নিয়ে আলোচনা করে।

দ্বিতীয়ত: এই শাস্ত্রের একটি সংজ্ঞাগত নাম হিসেবে:

কেননা লেখক (রহিমাহুল্লাহ) বলেছেন: (এটি হলো ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ সম্পর্কিত জ্ঞান)।

আর বলা হয়েছে: ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ, সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা।

তাদের উক্তি: (ফিকহের সামগ্রিক দলিলসমূহ): এটি বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে সতর্কতামূলক বর্জন, কারণ বিস্তারিত দলিল নিয়ে কাজ করা ফকিহ বা ফিকহবিদের বৈশিষ্ট্য। আর উসুলুল ফিকহের ক্ষেত্রে দলিলসমূহ সামগ্রিকভাবে আলোচিত হয়, অর্থাৎ কীভাবে এই দলিলগুলোর মাধ্যমে সাধারণ নিয়মাবলির ওপর প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়। এটি সর্বসম্মত দলিল এবং মতভেদপূর্ণ দলিল উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে:

সর্বসম্মত দলিলসমূহ যেমন: কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ, ইজমা এবং কিয়াস।

মতভেদপূর্ণ দলিলসমূহ যেমন: সাহাবীর উক্তি, ইস্তিহসান, ইস্তিসহাব, মাসালিহে মুরসালাহ।

তাদের উক্তি: (এবং সেগুলো থেকে বিধান আহরণের পদ্ধতি): অর্থাৎ সামগ্রিক দলিলসমূহ থেকে শরয়ি বিধানসমূহ বের করার পদ্ধতি:

আর তা হলো বিধান আহরণের পদ্ধতি এবং শব্দের অর্থগত তাৎপর্য (দালালাতুল আলফাজ) জানার মাধ্যমে; যেমন—আম (সাধারণ) ও খাস (বিশেষ) সংক্রান্ত আলোচনা, কখন খাস-কে আম-এর ওপর প্রাধান্য দেওয়া হবে, মুতলাক (শর্তহীন) ও মুকাইয়্যাদ (শর্তযুক্ত), কখন মুতলাককে মুকাইয়্যাদ-এর ওপর প্রয়োগ করা হবে, মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) ও মুবায়্যান (সুস্পষ্ট), এবং আদেশ ও নিষেধের নিয়মাবলি সম্পর্কে জানা।

আমাদের উক্তি: (এবং বিধান আহরণকারীর অবস্থা): আর বিধান আহরণকারী হলেন মুজতাহিদ। এটি এবং উসুলুল ফিকহে পঠিত অন্যান্য নিয়মাবলি এর অন্তর্ভুক্ত।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وذلك: أن الفقه:

إما مسائل يطلب الحكم عليها بأحد الأحكام الخمسة،

وإما دلائل يستدل بها على هذه المسائل.


 

دراسة مباحث التعارض والترجيح، ودراسة أحكام الفتوى والتقليد.

وقد بين هذا التعريف شيئًا من موضوعات أصول الفقه.

1 الأدلة الإجمالية: وهذا يشمل الأدلة المتفق عليها والمختلف فيها.

2 دلالات الألفاظ: وهي المباحث اللفظية ذات الأثر ببناء الأحكام على الأدلة واستخراجها منها كالأمر والنهي والعام والخاص وغيرها.

3 الأحكام التكليفية كالواجب والمندوب، والأحكام الوضعية كالسبب والمانع والشرط.

4 الاجتهاد والتقليد.

5 والتعارض والترجيح.

قوله: (وذلك أن الفقه إما مسائل يطلب الحكم عليها بأحد الأحكام الخمسة).

المسائل: جمع مسألة: وهي ما يبرهن له في العلم.

والأحكام الخمسة يعنى بها الأحكام التكليفية، حيث إن الأحكام الشرعية تنقسم إلى قسمين:

* القسم الأول: أحكام تكليفية: وهي الوجوب، والتحريم، والاستحباب، والكراهة، والإباحة.
এবং তা এই যে: ফিকহ হলো:

হয় এমন সব মাসআলা (বিষয়) যার ওপর পাঁচটি বিধানের কোনো একটির মাধ্যমে বিধান তলব করা হয়,

অথবা এমন সব দলিল যার মাধ্যমে এই মাসআলাগুলোর ওপর প্রমাণ পেশ করা হয়।


 

পারস্পরিক বিরোধ ও অগ্রাধিকারের বিষয়াবলি অধ্যায়ন, এবং ফতোয়া ও তাকলীদের বিধানাবলির অধ্যায়ন।

আর এই সংজ্ঞা উসূলে ফিকহের বিষয়বস্তুসমূহের কিছু অংশ স্পষ্ট করেছে।

১. সামগ্রিক দলিলসমূহ: এটি ঐকমত্যপূর্ণ এবং মতভেদপূর্ণ দলিলসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে।

২. শব্দের অর্থগত নির্দেশনা: এগুলো হলো শব্দকেন্দ্রিক এমন সব আলোচনা যা দলিলের ভিত্তিতে বিধান গঠন এবং তা থেকে বিধান উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে প্রভাব রাখে; যেমন- আদেশ, নিষেধ, সাধারণ (আম), বিশেষ (খাস) ইত্যাদি।

৩. তাকলিফী বিধানসমূহ যেমন- ওয়াজিব ও পছন্দনীয় (মানদুব), এবং আনুষঙ্গিক (ওয়াদয়ী) বিধানসমূহ যেমন- কারণ (সবব), প্রতিবন্ধক (মানে) ও শর্ত।

৪. ইজতিহাদ ও তাকলীদ।

৫. পারস্পরিক বিরোধ ও অগ্রাধিকার।

লেখকের বক্তব্য: (এবং তা এই যে: ফিকহ হলো হয় এমন সব মাসআলা যার ওপর পাঁচটি বিধানের কোনো একটির মাধ্যমে বিধান তলব করা হয়)।

মাসায়েল: এটি মাসআলা-এর বহুবচন; আর তা হলো যা কোনো বিদ্যায় প্রমাণ দ্বারা সাব্যস্ত করা হয়।

আর পাঁচটি বিধান বলতে তাকলিফী বিধানসমূহকে বোঝানো হয়েছে, যেহেতু শরয়ী বিধানসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত:

* প্রথম ভাগ: তাকলিফী বিধানসমূহ: আর সেগুলো হলো— ওয়াজিব (আবশ্যকতা), তাহরীম (হারাম হওয়া), ইস্তিহবাব (পছন্দনীয় হওয়া), কারাহাত (অপছন্দনীয় হওয়া) এবং ইবাহাত (বৈধতা)।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)
فالفقه: هو معرفة المسائل والدلائل.

وهذه الدلائل نوعان:

كلية، تشمل كل حكم من جنس واحد من أول الفقه إلى آخره، كقولنا: الأمر للوجوب، والنهي للتحريم، ونحوهما؛ وهذه هي أصول الفقه.

وأدلة جزئية تفصيلية،


 

* الثاني: أحكام وضعية: وهي ما يتعلق بالشرط والسبب والمانع ويأتي بيانها إن شاء الله.

قوله: (فالفقه: هو معرفة المسائل والدلائل).

عرف المؤلف رحمه الله الفقه في الاصطلاح بتعريف مختصر ومفيد فقال: «معرفة المسائل والدلائل» ويعني بذلك معرفة كل مسألة بدليلها، مثال ذلك: حكم صلاة الوتر سنة مؤكدة، ودليل ذلك قول عائشة رضي الله عنها أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يصلي ما بين صلاة العشاء إلى طلوع الفجر إحدى عشرة ركعة. رواه مسلم(1).

قوله: (وهذه الدلائل نوعان: كلية تشمل كل حكم من جنس واحد من أول الفقه إلى آخره، كقولنا: الأمر للوجوب، والنهي للتحريم ونحوهما، وهذه هي أصول الفقه.

وأدلة جزئية تفصيلية).

أي أنّ الدلائل التي يقوم عليها الفقه نوعان:

--------------------------------------------

(1) رواه مسلم (636).
ফিকহ হলো: মাসআলা এবং দলীলসমূহ জানা।

আর এই দলীলসমূহ দুই প্রকার:

সামগ্রিক, যা ফিকহের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই জাতীয় প্রতিটি বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন আমাদের বক্তব্য: নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য, এবং নিষেধ হারাম হওয়ার জন্য, এবং এজাতীয় অন্যান্য; আর এগুলোই হলো উসূলে ফিকহ।

এবং আংশিক বিস্তারিত দলীলসমূহ,


 

* দ্বিতীয়: আহকামে ওয়াদয়িয়্যাহ (প্রবর্তিত বিধান): এটি শর্ত, কারণ এবং প্রতিবন্ধকতার সাথে সংশ্লিষ্ট এবং ইনশাআল্লাহ এর বর্ণনা সামনে আসবে।

তাঁর উক্তি: (ফিকহ হলো: মাসআলা এবং দলীলসমূহ জানা)।

লেখক (রাহিমাহুল্লাহ) পারিভাষিক অর্থে ফিকহের একটি সংক্ষিপ্ত ও সারগর্ভ সংজ্ঞা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন: «মাসআলা এবং দলীলসমূহ জানা» এবং এর দ্বারা তিনি উদ্দেশ্য নিয়েছেন প্রতিটি মাসআলা তার দলীলসহ জানা। উদাহরণস্বরূপ: বিতর সালাতের বিধান হলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ, আর এর দলীল হলো আয়েশা (রাযিয়াল্লাহু আনহা)-এর উক্তি যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইশার সালাত থেকে ফজর উদিত হওয়া পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এগারো রাকাত সালাত আদায় করতেন। এটি মুসলিম বর্ণনা করেছেন(১)।

তাঁর উক্তি: (আর এই দলীলসমূহ দুই প্রকার: সামগ্রিক যা ফিকহের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই জাতীয় প্রতিটি বিধানকে অন্তর্ভুক্ত করে, যেমন আমাদের বক্তব্য: নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার জন্য এবং নিষেধ হারাম হওয়ার জন্য এবং এজাতীয় অন্যান্য; আর এগুলোই হলো উসূলে ফিকহ।

এবং আংশিক বিস্তারিত দলীলসমূহ)।

অর্থাৎ, ফিকহ যে দলীলসমূহের উপর প্রতিষ্ঠিত তা দুই প্রকার:

--------------------------------------------

(১) মুসলিম বর্ণনা করেছেন (৬৩৬)।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৫)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

* الأول: أدلة كلية:

وهي القواعد العامة التي تضمنها أصول الفقه كقولنا: إن الأصل في الأمر الوجوب حتى تصرفه قرينة إلى غيره، والنهي للتحريم حتى تصرفه قرينة إلى غيره، والعام شامل لجميع أفراده حتى يثبت تخصيصه، ويعمل بالمطلق حتى يثبت تقييده وغير ذلك من الأدلة الكلية العامة والتي تشمل كل الأبواب.

* الثاني: أدلة جزئية:

وهي كل دليل يختص بمسألة معينة كقوله تعالى: «وأقيموا الصلاة» فهو يختص بوجوب إقامة الصلاة، وقوله تعالى: {وَلَا تَقْرَبُوا الزِّنَا} فهو يختص بحرمة الزنى، وقوله صلى الله عليه وسلم: «السواك مطهرة للفم مرضاة للرب»(1) يختص باستحباب السواك، وهذه الأدلة التفصيلية تحتاج إلى أن تبنى على الأدلة الكلية كما سيأتي.

وقد دل كلام الشيخ رحمه الله على أن الفقه يقوم على الأدلة الكلية التي هي القواعد الأصولية، وعلى الأدلة الجزئية، والتي هي: الكتاب والسنة وما يستند إليهما من الإجماع والقياس، وهو بهذا يؤكد على أن الفقه يحتاج إلى الأدلة الكلية، وأن الفقه لابد أن يؤسس على القواعد الأصولية، يقول شيخ الإسلام ابن تيمية رحمه الله: «الفقه لا يكون إلا بفهم الأدلة الشرعية بأدلتها السمعية الثبوتية من الكتاب والسنة والإجماع نصاً واستنباطاً»(2) ويقول:

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري معلَّقًا، كتاب الصوم، باب سواك الرطب واليابس للصائم.

(2) «الاستقامة» ابن تيمية 1/ 61.

(3) «مجموع الفتاوى» ابن تيمية 13/ 118.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

* প্রথমত: সামগ্রিক দলিলসমূহ:

এগুলো হলো সেই সাধারণ মূলনীতিসমূহ যা উসুলুল ফিকহ বা ফিকহের মূলনীতিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে। যেমন আমাদের কথা: আদেশের মূল ভিত্তি হলো ওয়াজিব হওয়া, যতক্ষণ না কোনো লক্ষণ তাকে অন্য দিকে সরিয়ে নেয়। আর নিষেধাজ্ঞার মূল ভিত্তি হলো হারাম হওয়া, যতক্ষণ না কোনো লক্ষণ তাকে অন্য দিকে সরিয়ে নেয়। সাধারণ (আম) শব্দ তার প্রতিটি একককে অন্তর্ভুক্ত করে যতক্ষণ না তার নির্দিষ্টকরণ (তাখসিস) প্রমাণিত হয়। এবং নিঃশর্ত (মুতলাক) বিষয়ের ওপর আমল করা হবে যতক্ষণ না তার শর্তারোপ (তাকয়ীদ) প্রমাণিত হয়। এ ছাড়া আরও অনেক সাধারণ ও সামগ্রিক দলিল রয়েছে যা প্রতিটি অধ্যায়কে অন্তর্ভুক্ত করে।

* দ্বিতীয়ত: আংশিক বা বিশেষ দলিলসমূহ:

এটি হলো এমন প্রতিটি দলিল যা কোনো নির্দিষ্ট মাসআলার সাথে সংশ্লিষ্ট, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা সালাত কায়েম করো"। এটি সালাত কায়েম করার ওয়াজিব হওয়ার বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: "তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না"। এটি ব্যভিচারের হারামের বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট। এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: "মিসওয়াক হলো মুখের পবিত্রতা এবং রবের সন্তুষ্টির কারণ"(১) এটি মিসওয়াক করা মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়ের সাথে নির্দিষ্ট। আর এই বিস্তারিত দলিলসমূহ সামগ্রিক দলিলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তোলা প্রয়োজন যেমনটি সামনে আসবে।

শায়খের (রাহিমাহুল্লাহ) কথা একথারই প্রমাণ দিচ্ছে যে, ফিকহ সামগ্রিক দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা মূলত উসুলি নীতিমালা; এবং আংশিক বা বিশেষ দলিলের ওপর প্রতিষ্ঠিত যা হলো: কুরআন, সুন্নাহ এবং এ দুইটির ওপর ভিত্তি করে যা সাব্যস্ত হয় যেমন—ইজমা ও কিয়াস। এর মাধ্যমে তিনি এই বিষয়টি নিশ্চিত করছেন যে, ফিকহের জন্য সামগ্রিক দলিলের প্রয়োজন এবং ফিকহ অবশ্যই উসুলি নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: "ফিকহ কেবল শরয়ি দলিলসমূহ বুঝার মাধ্যমেই হতে পারে যা কুরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা হতে শ্রুত ও প্রমাণিত হয়েছে—তা নস (সরাসরি পাঠ) বা ইস্তিনবাত (উদ্ভাবন) উভয়ভাবেই হতে পারে"(২) এবং তিনি বলেন:

--------------------------------------------

(১) ইমাম বুখারি এটি মুয়াল্লাক হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সিয়াম অধ্যায়, রোযাদারের জন্য কাঁচা ও শুকনা মিসওয়াকের পরিচ্ছেদ।

(২) আল-ইস্তিকামাহ, ইবনু তাইমিয়্যাহ ১/৬১।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া, ইবনু তাইমিয়্যাহ ১৩/১১৮।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৬)
تفتقر إلى أن تبنى على الأدلة الكلية، فإذا تمت حكم على الأحكام بها.

فالأحكام مضطرة إلى أدلَّتها التفصيلية، والأدلة التفصيلية مضطرَّة إلى الأدلَّة الكليَّة. وبهذا نعرف الضرورة والحاجة إلى معرفة أصول الفقه وأنها معينة عليه، وهي أساس النظرة والاجتهاد في الأحكام.


 

«الفقه لا يكون فقهاً إلا من المجتهد المستدل»(3).

قوله: (فالأحكام مضطرة إلى أدلتها التفصيلية، والأدلة التفصيلية مضطرة إلى الأدلة الكلية).

هذا توضيح لما سبق، فإن أي حكم شرعي لابد له من دليل يدل عليه وهو الدليل التفصيلي، وهذا الدليل التفصيلي مفتقر إلى الدليل الكلي في أصول الفقه، إذ لا يتم الاستدلال والاستنباط إلا بواسطته.

مثال ذلك: الحكم الشرعي: وجوب صلاة الجماعة.

دليلها التفصيلي: قوله تعالى: {وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ} [البقرة: 43].

فهذا الدليل التفصيلي يدل على وجوب صلاة الجماعة بناء على الدليل الكلي، وهو القاعدة الأصولية: الأمر المطلق المجرد عن القرائن يقتضي الوجوب.

قوله: (وبهذا نعرف الضرورة والحاجة إلى معرفة أصول الفقه وأنها معينة عليه، وهي أساس النظرة والاجتهاد في الأحكام).

ذكر المؤلف رحمه الله فائدة من فوائد معرفة أصول الفقه وهذه الفائدة بينها بقوله: «الأحكام مضطرة إلى أدلتها التفصيلية، والأدلة التفصيلية مضطرة
এটি সামগ্রিক দলীলসমূহের ওপর ভিত্তি করার মুখাপেক্ষী, আর যখন তা পূর্ণ হয়, তখন এর মাধ্যমে বিধানাবলির ওপর হুকুম প্রদান করা হয়।

সুতরাং বিধানাবলি তাদের বিস্তারিত দলীলের মুখাপেক্ষী, আর বিস্তারিত দলীলসমূহ সামগ্রিক দলীলের মুখাপেক্ষী। এর মাধ্যমেই আমরা উসূলে ফিকহ জানার প্রয়োজনীয়তা ও আবশ্যকতা সম্পর্কে জানতে পারি এবং এটি যে ফিকহ অর্জনে সহায়ক তাও বুঝতে পারি, আর এটিই বিধানাবলির ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ ও ইজতিহাদের মূল ভিত্তি।


 

“ফিকহ ততক্ষণ পর্যন্ত ফিকহ হয় না যতক্ষণ না তা দলীল উপস্থাপনকারী মুজতাহিদের পক্ষ থেকে আসে”(৩)।

তাঁর উক্তি: (সুতরাং বিধানাবলি তাদের বিস্তারিত দলীলের মুখাপেক্ষী, আর বিস্তারিত দলীলসমূহ সামগ্রিক দলীলের মুখাপেক্ষী)।

এটি পূর্বালোচনার ব্যাখ্যা। কেননা যেকোনো শারয়ি বিধানের জন্য অবশ্যই এমন একটি দলীলের প্রয়োজন যা তার ওপর প্রমাণ বহন করে, আর তা হলো বিস্তারিত দলীল। আর এই বিস্তারিত দলীলটি উসূলে ফিকহের সামগ্রিক দলীলের মুখাপেক্ষী, কারণ এর মাধ্যম ব্যতীত দলীল উপস্থাপন ও মাসআলা উদ্ভাবন (ইস্তিনবাত) সম্পন্ন হয় না।

উদাহরণস্বরূপ: শারয়ি বিধান: জামায়াতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব।

এর বিস্তারিত দলীল: আল্লাহ তাআলার বাণী: {এবং তোমরা রুকুকারীদের সাথে রুকু করো} [আল-বাকারাহ: ৪৩]।

এই বিস্তারিত দলীলটি সামগ্রিক দলীলের ভিত্তিতে জামায়াতে সালাত ওয়াজিব হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করে, আর সেটি হলো উসূলের মূলনীতি: পারিপার্শ্বিক আলামত মুক্ত সাধারণ নির্দেশ ওয়াজিব হওয়ার দাবি রাখে।

তাঁর উক্তি: (এর মাধ্যমেই আমরা উসূলে ফিকহ জানার প্রয়োজনীয়তা ও আবশ্যকতা সম্পর্কে জানতে পারি এবং এটি যে ফিকহ অর্জনে সহায়ক তাও বুঝতে পারি, আর এটিই বিধানাবলির ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ ও ইজতিহাদের মূল ভিত্তি)।

লেখক (রহিমাহুল্লাহ) উসূলে ফিকহ জানার অন্যতম একটি উপকারিতা উল্লেখ করেছেন এবং তিনি এই উপকারিতাটি তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করেছেন: “বিধানাবলি তাদের বিস্তারিত দলীলের মুখাপেক্ষী, আর বিস্তারিত দলীলসমূহ মুখাপেক্ষী”
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৭)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

إلى الأدلة الكلية».

وهناك فوائد أخرى تبين أهمية دراسة أصول الفقه منها:

* الأولى: ضبط أصول الاستدلال ببيان الأدلة الصحيحة من غيرها.

* الثانية: بيان الوجه الصحيح للاستدلال، فقد يستدل أحدهم بدليل صحيح لكن على غير وجهه فينتج عن ذلك خطأً في الحكم والنتيجة، بينما دراسة أصول الفقه تضبط الوجه الصحيح للاستدلال.

* الثالثة: تيسير عملية الاجتهاد وإعطاء الحوادث الجديدة والنوازل ما يناسبها من الأحكام الشرعية.

* الرابعة: بيان ضوابط الفتوى.

* الخامسة: صيانة الفقه الإسلامي من الانفتاح المترتب على وضع مصادر جديدة للتشريع لم ترد في الكتاب ولا في السنة.

* السادسة: صيانته من دعوى الجمود المترتب على إغلاق باب الاجتهاد، فيصان الفقه من إيجاد أدلة لم ترد.

* السابعة: الدعوة إلى اتباع الدليل.

تنبيه:

أصول الفقه ليس خاصا بالفقه الذي هو علم الفروع، بل أصول الفقه قواعد في الاستدلال لكل أحكام الشريعة في العقيدة والآداب والأخلاق،
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

সামগ্রিক দলীলসমূহের দিকে।»

উসূলুল ফিকহ (ফিকহশাস্ত্রের মূলনীতি) অধ্যয়নের গুরুত্ব স্পষ্টকারী আরও কিছু উপকারিতা রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

* প্রথমত: সঠিক দলীলসমূহকে অন্যগুলো থেকে পৃথক করে বর্ণনা করার মাধ্যমে দলীল উপস্থাপনের মূলনীতিসমূহকে সুসংহত করা।

* দ্বিতীয়ত: দলীল গ্রহণের সঠিক পদ্ধতি বর্ণনা করা। কেননা কেউ হয়তো একটি সঠিক দলীল দ্বারা দলীল পেশ করতে পারে, কিন্তু তা সঠিক পদ্ধতিতে না হওয়ার কারণে বিধান ও ফলাফলে ভুল হতে পারে। পক্ষান্তরে উসূলুল ফিকহ অধ্যয়ন দলীল গ্রহণের সঠিক পদ্ধতিকে সুশৃঙ্খল করে।

* তৃতীয়ত: ইজতিহাদ প্রক্রিয়াকে সহজতর করা এবং নতুন উদ্ভূত পরিস্থিতি ও ঘটনাবলিকে সেগুলোর উপযোগী শরয়ী বিধান প্রদান করা।

* চতুর্থত: ফতোয়া প্রদানের নীতিমালা বর্ণনা করা।

* পঞ্চমত: কুরআন ও সুন্নাহতে বর্ণিত হয়নি এমন কোনো নতুন আইন প্রণয়নের উৎস তৈরির ফলে সৃষ্ট লাগামহীনতা থেকে ইসলামি ফিকহকে রক্ষা করা।

* ষষ্ঠত: ইজতিহাদের দরজা বন্ধ হওয়ার ফলে সৃষ্ট স্থবিরতার দাবি থেকে একে রক্ষা করা, ফলে তা এমন সব দলীল উদ্ভাবন থেকে সংরক্ষিত থাকে যা বর্ণিত হয়নি।

* সপ্তমত: দলীলের অনুসরণের প্রতি আহ্বান জানানো।

সতর্কতা:

উসূলুল ফিকহ কেবল ফিকহ শাস্ত্রের সাথে নির্দিষ্ট নয় যা শাখা-প্রশাখার জ্ঞান (ইলমুল ফুরু), বরং উসূলুল ফিকহ হলো আকীদা, আদব ও আখলাকসহ শরীয়তের সকল বিধানের ক্ষেত্রে দলীল গ্রহণের মূলনীতিমালা।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৮)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

والتفسير والحديث، وإضافة أصول للفقه ليست إضافة حصر، وإنما من باب التغليب، ولهذا بعض المحققين يسمونه أصول الشريعة، كما فعل ذلك الجصاص والجويني، وسمى الشاطبي كتابه الموافقات في أصول الشريعة، والغزالي سمى كتابه المستصفى من علم الأصول، والسمعاني سمى كتابه قواطع الأدلة في الأصول، والشوكاني سمى كتابه: إرشاد الفحول.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

এবং তাফসীর ও হাদীস। ফিকহের সাথে উসূলের সম্পৃক্তকরণ কেবল সীমাবদ্ধ করার জন্য নয়, বরং এটি প্রাধান্য প্রদানের অন্তর্ভুক্ত। একারণেই কোনো কোনো গবেষক একে শরীয়তের মূলনীতি (উসূলুশ শরীয়াহ) নামে অভিহিত করেন, যেমনটি করেছেন জাসসাস ও জুওয়াইনী। শাতিবী তার গ্রন্থের নাম রেখেছেন 'আল-মুওয়াফাকাত ফী উসূলিশ শরীয়াহ', গাযালী তার গ্রন্থের নাম রেখেছেন 'আল-মুস্তাসফা মিন ইলমিল উসূল', সামআনী তার গ্রন্থের নাম রেখেছেন 'কাওয়াতিউল আদিল্লাহ ফিল উসূল' এবং শাওকানী তার গ্রন্থের নাম রেখেছেন 'ইরশাদুল ফুহূল'।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ২৯)
‌‌فصل

الأحكام التي يدور عليها الفقه

الأحكام التي يدورُ الفقه عليها خمسة:


 

الأحكام في اللغة: جمع حكم، ويطلق على معان منها القضاء والفصل والمنع، ومن ذلك قوله تعالى: {لِتَحْكُمَ بَيْنَ النَّاسِ بِمَا أَرَاكَ اللَّهُ} [النساء: 105] أي: لتقضي بما أراك الله، وقوله تعالى: {فَاحْكُمْ بَيْنَ النَّاسِ} [ص: 26] يعني اقض وافصل بين الناس لكي تمنع عدوان بعضهم على بعض.

وأما في الاصطلاح: فهو خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين بالاقتضاء أو التخيير أو الوضع.

قولنا: (خطاب الشارع) لإخراج الحكم العقلي والحكم العادي.

والحكم العقلي: إثبات أمر لأمر أو نفيه عنه عقلا، وذلك مثل: الكل أكبر من الجزء.

والحكم العادي: هو ما تعرف فيه النسبة عن طريق العادة، وذلك مثل: الخبز مشبع.

وقولنا: (المتعلق بأفعال المكلفين) المكلف هو البالغ العاقل فيخرج بذلك الصبي والمجنون.

وقولنا: (بالاقتضاء) يعني بالطلب، وهذا الطلب على قسمين:
পরিচ্ছেদ

ফিকহ যে সকল বিধানের ওপর আবর্তিত হয়

ফিকহ যে সকল বিধানের ওপর আবর্তিত হয় তা পাঁচটি:


 

আভিধানিক অর্থে আহকাম (বিধানসমূহ): এটি ‘হুকুম’ শব্দের বহুবচন। এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যেমন: বিচার (ফয়সালা), মীমাংসা এবং বাধা প্রদান। আল্লাহ তাআলার বাণী এ অর্থেরই অন্তর্ভুক্ত: {যাতে আপনি মানুষের মধ্যে বিচার করতে পারেন আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী} [আন-নিসা: ১০৫] অর্থাৎ: যাতে আপনি আল্লাহ আপনাকে যা দেখিয়েছেন সে অনুযায়ী ফয়সালা করেন। এবং আল্লাহ তাআলার বাণী: {অতএব আপনি মানুষের মধ্যে বিচার করুন} [ছোয়াদ: ২৬] অর্থাৎ আপনি মানুষের মাঝে ফয়সালা ও মীমাংসা করুন যাতে একে অপরের প্রতি সীমালঙ্ঘন করা থেকে একে অপরকে বাধা প্রদান করতে পারেন।

আর পারিভাষিক সংজ্ঞায়: তা হলো মুকাল্লাফ বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট শরীয়ত প্রণেতার সেই সম্বোধন যা দাবি, ঐচ্ছিকতা অথবা বিধিবদ্ধকরণের (ওয়াদ‘) সাথে সম্পৃক্ত।

আমাদের কথা: (শরীয়ত প্রণেতার সম্বোধন) এর মাধ্যমে বুদ্ধিবৃত্তিক বিধান এবং প্রথাগত বিধানকে সংজ্ঞার বাইরে রাখা হয়েছে।

বুদ্ধিবৃত্তিক বিধান: বুদ্ধির নিরিখে কোনো বিষয়ের জন্য কোনো কিছু সাব্যস্ত করা অথবা তা থেকে কোনো কিছু নাকচ করা। যেমন: পূর্ণাঙ্গ বিষয়টি তার খণ্ডাংশের চেয়ে বড়।

প্রথাগত বিধান: যাতে অভ্যাসের মাধ্যমে সম্বন্ধ জানা যায়। যেমন: রুটি ক্ষুধা নিবারক।

আমাদের কথা: (মুকাল্লাফদের কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট) মুকাল্লাফ হলেন সেই ব্যক্তি যিনি প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবেকবান। এর মাধ্যমে শিশু ও পাগল ব্যক্তিকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

আমাদের কথা: (দাবি হিসেবে) অর্থাৎ চাওয়ার মাধ্যমে। আর এই চাওয়া বা তলব দুই প্রকার:
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩০)
الواجب: الذي يثاب فاعله ويعاقب تاركه.


 

* الأول: طلب فعل وهو إما:

على وجه اللزوم ويسمى الواجب.

أو على غير وجه اللزوم ويسمى المستحب.

* الثاني: طلب ترك وهو إما:

على وجه اللزوم ويسمى المحرم.

أو على غير وجه اللزوم ويسمى المكروه.

وقولهم: (أو التخيير) وهو المباح.

وقولهم: (أو الوضع) أي: الحكم الوضعي، ما دل عليه خطاب الشارع بجعل شيء علامة على شيء.

قوله: (الواجب: الذي يثاب فاعله ويعاقب تاركه).

الواجب في اللغة: الساقط واللازم ومن ذلك قوله تعالى: {فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا} [الحج: 26] يعني سقطت، وقوله صلى الله عليه وسلم في حديث أبي سعيد رضي الله عنه: «غسل يوم الجمعة واجب على كل محتلم»(1).

ثم عرفه المؤلف بقوله: «الذي يثاب فاعله ويعاقب تاركه» وهذا تعريف بالحكم وفيه نظر، والتعريف يكون لحقيقة الشيء لا لحكمه، فحكمه وثمرته: الذي يثاب فاعله امتثالاً ويعاقب تاركه استحقاقاً.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (858) ومسلم (846).
ওয়াজিব: যার সম্পাদনকারী সওয়াব লাভ করে এবং বর্জনকারী শাস্তি পায়।


 

* প্রথম: কোনো কাজ করার তলব বা দাবি, যা হয়:

অপরিহার্যতার ভিত্তিতে, যাকে ওয়াজিব বলা হয়।

অথবা অনাবশ্যকতার ভিত্তিতে, যাকে মুস্তাহাব বলা হয়।

* দ্বিতীয়: কোনো কাজ বর্জনের তলব বা দাবি, যা হয়:

অপরিহার্যতার ভিত্তিতে, যাকে হারাম বলা হয়।

অথবা অনাবশ্যকতার ভিত্তিতে, যাকে মাকরূহ বলা হয়।

এবং তাঁদের উক্তি: (অথবা পছন্দের অবকাশ রাখা) যা হলো মুবাহ।

এবং তাঁদের উক্তি: (অথবা আল-ওয়াদ'অ) অর্থাৎ: হুকমে ওয়াদ'য়ী; যা শারিয়াহ প্রদানকারীর সম্বোধন দ্বারা কোনো বিষয়কে অন্য কোনো বিষয়ের চিহ্ন হিসেবে নির্ধারণ করাকে বুঝায়।

তাঁর উক্তি: (ওয়াজিব: যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তি পায়)।

আভিধানিক অর্থে ওয়াজিব হলো: পতিত হওয়া এবং অপরিহার্য হওয়া। এর উদাহরণ মহান আল্লাহর বাণী: {অতঃপর যখন তাদের পার্শ্বদেশ জমিনে পড়ে যায়} [হজ: ২৬] অর্থাৎ পড়ে যায়। এবং আবু সাঈদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদিসে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী: "জুমার দিনের গোসল প্রত্যেক সাবালকের ওপর ওয়াজিব।"(১).

অতঃপর গ্রন্থকার একে সংজ্ঞায়িত করে বলেছেন: "যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তি পায়"। এটি হুকুম বা বিধানের মাধ্যমে প্রদানকৃত সংজ্ঞা, যাতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে। কারণ সংজ্ঞা হওয়া উচিত কোনো বিষয়ের হাকিকত বা প্রকৃত সত্তার ভিত্তিতে, তার হুকুমের ভিত্তিতে নয়। সুতরাং এর হুকুম ও ফলাফল হলো: যে ব্যক্তি আনুগত্যের সাথে এটি সম্পাদন করবে সে সওয়াব পাবে এবং যে এটি বর্জন করবে সে শাস্তির যোগ্য হিসেবে শাস্তি পাবে।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (৮৫৮) ও মুসলিম (৮৪৬) এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩১)
والحرام: ضده.


 

والأحسن في تعريف الواجب أن يقال: هو خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين بطلب الفعل على وجه اللزوم.

قولنا: (بطلب الفعل) لإخراج المكروه والمحرم؛ لأنهما طلب ترك.

وقولنا: (على وجه اللزوم) لإخراج المستحب؛ لأن المستحب لا على وجه اللزوم.

وأمثلة الواجب كثيرة منها:

الصلاة.

الزكاة.

الصيام.

ويعرف الواجب بألفاظ ودلالات كثيرة منها:

الأمر، والتصريح بالإيجاب مثل: قول النبي صلى الله عليه وسلم: «غسل يوم الجمعة واجب على كل محتلم»(1)، والفعل المضارع المقرون بلام الأمر، واسم فعل الأمر، ومنها الجملة الإسمية التي يراد بها الطلب.

وقد يفهم بالفرض والكتب، والوجوب، وبالوعيد على تركه، وبذم تاركه، وبأنه حق على المؤمنين، وبإحباط العمل بتركه وعدم فعله.

وقوله: (والحرام ضده).

الحرام في اللغة: الممنوع.

--------------------------------------------

(1) أخرجه البخاري (879).
এবং হারাম হলো এর বিপরীত।


 

ওয়াজিবের সংজ্ঞায় সবচেয়ে উত্তম কথা হলো: এটি শরীয়তদাতার এমন সম্বোধন, যা মুকাল্লাফদের (যাদের ওপর শরীয়তের বিধান কার্যকর হয়) কর্মের সাথে সম্পৃক্ত এবং যা বাধ্যতামূলকভাবে কোনো কাজ করার দাবি জানায়।

আমাদের উক্তি: (কাজ করার দাবি) এটি মাকরূহ ও হারামকে সংজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য; কারণ সেই দুটি হলো কাজ বর্জনের দাবি।

আর আমাদের উক্তি: (বাধ্যতামূলকভাবে) এটি মুস্তাহাবকে সংজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য; কারণ মুস্তাহাব বাধ্যতামূলকভাবে দাবি করা হয় না।

ওয়াজিবের উদাহরণ অনেক, তার মধ্যে রয়েছে:

সালাত।

জাকাত।

সিয়াম।

ওয়াজিব অনেক শব্দ ও নিদর্শনের মাধ্যমে চেনা যায়, যার মধ্যে রয়েছে:

আদেশ এবং স্পষ্টভাবে ওয়াজিব হওয়া উল্লেখ করা। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী: «জুমার দিনের গোসল প্রত্যেক সাবালকের ওপর ওয়াজিব»(১), এছাড়া 'লামে আমর' (আদেশসূচক লাম) যুক্ত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কালীন ক্রিয়া, আদেশসূচক ক্রিয়া-বিশেষ্য এবং এমন বিশেষ্যবাচক বাক্য যা দ্বারা কোনো কাজ করার দাবি করা উদ্দেশ্য হয়।

কখনো এটি 'ফরজ', 'লিখন' (অপরিহার্যতা) এবং 'ওয়াজিব' শব্দগুলোর মাধ্যমেও বোঝা যায়। এছাড়া ওয়াজিব বর্জনের ওপর শাস্তির হুমকি, বর্জনকারীর নিন্দা করা, এটি মুমিনদের ওপর একটি হক হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং এটি সম্পাদন না করার মাধ্যমে আমল নষ্ট হয়ে যাওয়ার বর্ণনার দ্বারাও তা বোঝা যায়।

আর তাঁর কথা: (এবং হারাম হলো এর বিপরীত)।

আভিধানিক অর্থে হারাম হলো: নিষিদ্ধ বা বারণকৃত।

--------------------------------------------

(১) বুখারী কর্তৃক বর্ণিত (৮৭৯)।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩২)
والمسنون: الذي يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه.


 

وضده على تعريف المؤلف للواجب: «الذي يعاقب فاعله ويثاب تاركه»، وتقدم في الواجب أن هذا التعريف فيه نظر.

والأحسن في تعريف الحرام: أن يقال: خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين بطلب الترك على وجه اللزوم.

قولنا: (طلب الترك) لإخراج الواجب والمستحب؛ لأنهما طلب فعل.

وقولنا: (على وجه اللزوم) لإخراج المكروه؛ لأن المكروه طلب للترك لا على وجه اللزوم.

فرع: يعرف المحرم بألفاظ ودلالات منها:

أن ينص الله ورسوله صلى الله عليه وسلم على تحريمه، أو بيان أنه محظور أو مكروه أو ممنوع.

ومنها: النهي عنه؛ فإن الأصل في النهي التحريم.

ومنها: أن يأتي الأمر باجتنابه.

ومنها: الوعيد على الفعل بعقوبة، أو ذم فاعله.

قوله: (والمسنون: الذي يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه).

السنة في اللغة: هي الطريقة.

وأما في الاصطلاح فعرفه المؤلف: الذي يثاب فاعله ولا يعاقب تاركه، وفيه نظر كما تقدم في تعريف الواجب.

والأحسن أن يقال: خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين بطلب
মাসনুন হলো: যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তি পায় না।


 

ওয়াজিব সম্পর্কে লেখকের দেওয়া সংজ্ঞার বিপরীত হলো (হারাম): «যার সম্পাদনকারী শাস্তি পায় এবং বর্জনকারী সওয়াব পায়», আর ওয়াজিবের আলোচনায় ইতিপূর্বে অতিবাহিত হয়েছে যে, এই সংজ্ঞার ব্যাপারে আপত্তি রয়েছে।

হারামের সংজ্ঞায় অধিকতর উত্তম হলো এটি বলা: শরীয়তদাতার সেই সম্বোধন যা মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত) ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে আবশ্যিক বর্জনের দাবির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট।

আমাদের উক্তি: (বর্জনের দাবি) ওয়াজিব ও মুস্তাহাবকে সংজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য; কারণ সেই দুটি হলো কাজ করার দাবি।

আমাদের উক্তি: (আবশ্যিক ভাবে) মাকরুহকে সংজ্ঞার বাইরে রাখার জন্য; কারণ মাকরুহ হলো বর্জনের দাবি কিন্তু তা আবশ্যিক ভাবে নয়।

শাখা মাসআলা: হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয় বিভিন্ন শব্দ ও দলিলের মাধ্যমে চেনা যায়, যার মধ্যে রয়েছে:

আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক সেটি হারাম হওয়ার ব্যাপারে সুস্পষ্ট বর্ণনা প্রদান করা, অথবা এটি নিষিদ্ধ, অপছন্দনীয় বা বারণকৃত হওয়ার বর্ণনা থাকা।

তন্মধ্যে রয়েছে: তা থেকে নিষেধ করা; কারণ নিষেধের ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো হারাম হওয়া।

তন্মধ্যে রয়েছে: তা পরিহার করার নির্দেশ আসা।

তন্মধ্যে রয়েছে: সেই কাজের উপর শাস্তির ধমকি আসা, অথবা তার সম্পাদনকারীর নিন্দা করা।

তাঁর উক্তি: (মাসনুন হলো: যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তি পায় না)।

আভিধানিক অর্থে সুন্নাত হলো: পদ্ধতি বা পথ।

আর পরিভাষায় লেখক এর সংজ্ঞা দিয়েছেন: যার সম্পাদনকারী সওয়াব পায় এবং বর্জনকারী শাস্তি পায় না; তবে এতে আপত্তি রয়েছে যেমনটি ওয়াজিবের সংজ্ঞার আলোচনায় গত হয়েছে।

আর অধিকতর উত্তম হলো এটি বলা: শরীয়তদাতার সেই সম্বোধন যা মুকাল্লাফ ব্যক্তিদের কার্যাবলীর সাথে দাবির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৩)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

الفعل لا على وجه اللزوم.

قولنا: (بطلب الفعل) لإخراج المحرم والمكروه؛ فإن المحرم والمكروه كلاهما طلب ترك.

قولنا: (لا على وجه اللزوم) لإخراج الواجب؛ فإن الواجب طلب فعل على وجه اللزوم.

فرع: ويسمى المندوب والنافلة والتطوع، والرغيبة والفضيلة، قال بعض الأصوليين: هي من باب المترادف، وقال بعضهم: من باب المتباين، وعلى هذا تنقسم ثلاثة أقسام:

1 السنة المؤكدة، أو المندوب المؤكد، وهو ما داوم عليه الرسول صلى الله عليه وسلم كالوتر والسنن الرواتب.

2 مطلق السنة: وهو الذي لم يحفظ أن النبي صلى الله عليه وسلم داوم عليه كسنة الضحى.

3 التطوع، وهو فضائل الأعمال المطلقة التي لم تحد بقدر ولا وقت.

فرع: يعرف المسنون:

بورود الصارف من الوجوب إلى الندب.

ومنها: أن يعقب الأمر بقول لمن شاء.

ومنها: أن يكون الشيء منهيا عنه ثم يؤمر به بعد ذلك.

ومنها: أن يأمر النبي صلى الله عليه وسلم بشيء ثم يتركه.
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .


 

কর্ম সম্পাদন, তবে আবশ্যকতার ভিত্তিতে নয়।

আমাদের কথা: (কাজ চাওয়ার মাধ্যমে) দ্বারা হারাম এবং মাকরুহ বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ হারাম এবং মাকরুহ উভয়ই হচ্ছে বর্জন করার দাবি।

আমাদের কথা: (আবশ্যকতার ভিত্তিতে নয়) দ্বারা ওয়াজিব বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ ওয়াজিব হলো আবশ্যকতার ভিত্তিতে কাজ করার দাবি।

শাখা: একে মানদুব, নাফিলা, তাতাউউ, রাগিবা এবং ফাদিলা বলা হয়। কোনো কোনো উসুলবিদ বলেছেন: এগুলো সমার্থক শব্দের অন্তর্ভুক্ত, আবার কেউ কেউ বলেছেন: এগুলো ভিন্নার্থবোধক শব্দের অন্তর্ভুক্ত। এর ভিত্তিতে এটি তিন ভাগে বিভক্ত:

১. সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ বা মানদুবে মুয়াক্কাদাহ: এটি এমন আমল যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করেছেন, যেমন বিতর এবং সুন্নতে রাওয়াতীব।

২. মুতলাক সুন্নাহ: এটি এমন আমল যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিয়মিত পালন করেছেন বলে বর্ণিত নেই, যেমন চাশতের সুন্নাহ।

৩. তাতাউউ: এটি এমন সাধারণ নেক আমল যা কোনো পরিমাণ বা সময়ের দ্বারা সীমাবদ্ধ নয়।

শাখা: কোনো কাজ সুন্নাহ হওয়ার বিষয়টি জানা যায়:

ওয়াজিব থেকে মানদুবের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো নির্দেশক আসার মাধ্যমে।

তার মধ্যে রয়েছে: আদেশের পর "যে চায়" (তার জন্য) কথাটি যুক্ত হওয়া।

তার মধ্যে রয়েছে: কোনো বিষয় আগে নিষিদ্ধ ছিল, অতঃপর সেটি পালনের আদেশ দেওয়া।

তার মধ্যে রয়েছে: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো বিষয়ে আদেশ দিলেন, অতঃপর তিনি নিজে তা বর্জন করলেন।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৪)
والمكروه ضده


 

ومنها: فعل النبي صلى الله عليه وسلم المجرد تقربا من غير أن يأمر به.

ومنها: الترغيب فيه بذكر ثوابه من غير أمر، وبيان محبة الله للفعل، ومدح فاعله.

قوله: (والمكروه ضده).

المكروه في اللغة: هو المبغض، مأخوذ من الكريهة، وهي شدة الحرب.

وأما في الاصطلاح فعرفه المؤلف بقوله: «ضده» أي ضد المسنون، والمقصود: «الذي يثاب تاركه ولا يعاقب فاعله» وفيه نظر كما تقدَّم في تعريف الواجب.

والأحسن في تعريف المكروه أن يقال: خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين بطلب الترك لا على وجه اللزوم.

قولنا: (طلب الترك) لإخراج الواجب والمستحب؛ لأنهما طلب فعل.

وقولنا: (لا على وجه اللزوم) لإخراج المحرم؛ لأن المحرم طلب ترك على وجه اللزوم.

فرع: يعرف المكروه بوجود الصارف من التحريم إلى الكراهة، وأن يترتب على فعل الشيء الحرمان من فضيلة.

مثل: أكل الثوم والبصل، فمن أكلهما ممنوع من دخول المسجد.

فرع: على لسان الشارع يأتي المكروه، ويراد به المحرَّم؛ لأن الله تعالى
এবং মাকরূহ তার বিপরীত


 

আর এর অন্তর্ভুক্ত হলো: আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কৃত নিছক কোনো কাজ, যা করার জন্য তিনি নির্দেশ দেননি।

এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো: কোনো আদেশ ছাড়াই সাওয়াবের বর্ণনার মাধ্যমে কোনো কাজের প্রতি উৎসাহিত করা, এবং সেই কাজের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসার বর্ণনা করা ও তার সম্পাদনকারীর প্রশংসা করা।

তাঁর কথা: (এবং মাকরূহ তার বিপরীত)।

আভিধানিক অর্থে মাকরূহ: তা হলো অপছন্দনীয় বিষয়; এটি 'কারীহা' শব্দ থেকে গৃহীত, যার অর্থ হলো যুদ্ধের তীব্রতা।

আর পারিভাষিক অর্থে লেখক একে সংজ্ঞায়িত করেছেন তাঁর এই উক্তির মাধ্যমে: «তার বিপরীত» অর্থাৎ মাসনুন (সুন্নাত)-এর বিপরীত। এর উদ্দেশ্য হলো: «যার বর্জনকারী সওয়াব প্রাপ্ত হয় কিন্তু সম্পাদনকারী দণ্ডিত হয় না»। আর এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, যেমনটি ওয়াজিবের সংজ্ঞার ক্ষেত্রে পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে।

মাকরূহের সংজ্ঞায় অধিকতর উত্তম হলো এটি বলা: মুকাল্লাফদের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট শরীয়ত প্রণেতার এমন সম্বোধন, যা কোনো কাজ বর্জনের দাবি জানায় কিন্তু তা আবশ্যকীয় নয়।

আমাদের উক্তি: (বর্জনের দাবি) এর মাধ্যমে ওয়াজিব ও মুস্তাহাবকে বের করে দেওয়া হয়েছে; কারণ এই দুটি হলো কোনো কাজ করার দাবি।

আর আমাদের উক্তি: (আবশ্যকীয়ভাবে নয়) এর মাধ্যমে হারামকে বের করে দেওয়া হয়েছে; কারণ হারাম হলো আবশ্যকীয়ভাবে বর্জনের দাবি।

একটি শাখা মাসআলা: মাকরূহ চেনা যায় এমন কোনো প্রমাণ উপস্থিত থাকার মাধ্যমে যা কোনো বিষয়কে হারাম থেকে মাকরূহের দিকে ফিরিয়ে দেয়, এবং কোনো কাজ করার ফলে কোনো ফযীলত থেকে বঞ্চিত হওয়া অবধারিত হয়।

যেমন: রসুন ও পিঁয়াজ খাওয়া; কেননা যে ব্যক্তি তা আহার করে, সে মসজিদে প্রবেশ করা থেকে নিষিদ্ধ।

একটি শাখা মাসআলা: শরীয়ত প্রণেতার বাণীতে কখনও 'মাকরূহ' শব্দটি আসে এবং তার দ্বারা 'হারাম' উদ্দেশ্য নেওয়া হয়; কারণ আল্লাহ তাআলা
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৫)
والمباح: مستوي الطرفين


 

ذكر بعض المحرمات، ثم قال: {كُلُّ ذَلِكَ كَانَ سَيِّئُهُ عِنْدَ رَبِّكَ مَكْرُوهًا} [الإسراء: 38]، وقال صلى الله عليه وسلم: «إن الله حرم عليكم عقوق الأمهات، ووأد البنات، ومنعا وهات، وكره لكم قيل وقال، وكثرة السؤال، وإضاعة المال»(1).

وعند الحنفية يطلق المكروه على شيئين:

1 المكروه كراهة تحريم: وهو ما نهى عنه الشرع نهيا جازما، ولكنه ثبت بطريق ظني، مثل: أكل كل ذي ناب من السباع، وكل ذي مخلب من الطير.

2 المكروه كراهة تنزيه: وهو ما نهى عنه الشرع نهيا غير جازم، وهو مرادف للمكروه عند الجمهور.

قوله: (والمباح: مستوي الطرفين).

المباح لغة: المعلن والمأذون، أخذا من الإباحة، وهي الإظهار والإعلان، وقيل: من باحة الدار، وهي: ساحتها، وفيه معنى السعة.

وقيل في تعريفه: خطاب الشارع المتعلق بأفعال المكلفين بالتخيير.

وقال بعض العلماء: هو ما لا يتعلق بفعله مدح ولا ذم.

فرع: ويعرف المباح بأمور منها:

أنه الأصل، فالأصل في الأعيان من مطاعم وآلات وغيرها الإباحة.

--------------------------------------------

(1) رواه البخاري (2408)، ومسلم (593).
এবং মুবাহ: যার উভয় দিক সমান


 

কিছু হারাম বিষয় উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: {এসবের মধ্যে যা মন্দ, তা তোমার রবের নিকট অপছন্দনীয়} [আল-ইসরা: ৩৮]। এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: «নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের জন্য মায়েদের অবাধ্য হওয়া, কন্যাদের জীবন্ত দাফন করা এবং (অধিকার) প্রদান না করা ও (অন্যায়ভাবে) দাবি করা হারাম করেছেন। আর তিনি তোমাদের জন্য ভিত্তিহীন কথা বলা, অধিক প্রশ্ন করা এবং সম্পদ নষ্ট করা অপছন্দ করেছেন»(১)।

হানাফিদের নিকট মাকরূহ শব্দটি দুটি বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়:

১. মাকরূহে তাহরিমি: এটি এমন বিষয় যা শরিয়ত অকাট্যভাবে নিষেধ করেছে, তবে তা ধারণাপ্রসূত (যন্নী) দলিলের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে। যেমন: হিংস্র দাঁতবিশিষ্ট সকল পশু এবং নখরবিশিষ্ট সকল পাখি খাওয়া।

২. মাকরূহে তানযীহি: এটি এমন বিষয় যা শরিয়ত অকাট্য নয় এমনভাবে নিষেধ করেছে; এটি জুমহুর উলামার নিকট মাকরূহ শব্দের সমার্থক।

তাঁর উক্তি: (এবং মুবাহ: যার উভয় দিক সমান)।

মুবাহ-এর আভিধানিক অর্থ: যা প্রকাশ করা হয়েছে এবং যার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এটি 'ইবাহাহ' শব্দ থেকে গৃহীত যার অর্থ হলো প্রকাশ করা ও ঘোষণা করা। আবার বলা হয়েছে: এটি ঘরের 'বাহাহ' থেকে এসেছে, যার অর্থ প্রশস্ত আঙিনা; এর মধ্যে প্রশস্ততার অর্থ নিহিত রয়েছে।

এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: শরিয়তদাতার সেই সম্বোধন যা মুকাল্লাফ বা শরয়ি দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির কাজের সাথে পছন্দের অবকাশ প্রদানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট।

জনৈক আলেম বলেছেন: এটি এমন বিষয় যার সম্পাদনের সাথে কোনো প্রশংসা বা নিন্দা জড়িত নয়।

শাখা আলোচনা: মুবাহ কয়েকটি বিষয়ের মাধ্যমে জানা যায়, তন্মধ্যে রয়েছে:

এটিই মূল ভিত্তি। সুতরাং খাদ্যদ্রব্য, সরঞ্জামাদি ও অন্যান্য বস্তুর ক্ষেত্রে মূল বিধান হলো বৈধতা।

--------------------------------------------

(১) বুখারি (২৪০৮) ও মুসলিম (৫৯৩) বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ১) শারহু রিসালাতিন লাতিফাতিন জামিআতিন ফী উসূলিল ফিকহিল মুহিম্মাহ (পৃষ্ঠা: ৩৬)
وينقسم الواجب إلى:

فرض عين، يطلب فعله من كل مكلف بالغ عاقل، وهو جمهور أحكام الشريعة الواجبة.

وإلى فرض كفاية، وهو الذي يطلب حصوله وتحصيله من المكلفين، لا من كل واحد بعينه، كتعلم العلوم والصناعات النافعة والأذان والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر، ونحو ذلك.


 

ومنها: دلالة الكتاب والسنة على أنه مباح.

ومنها: أن يكون الحكم مسكوتا عنه.

ومنها: الأمر الوارد بعد الحظر.

ومنها: النص على التخيير بين الفعل والترك.

ومنها: نفي الإثم والمؤاخذة.

قوله: (وينقسم الواجب إلى فرض عين يطلب فعله من كل مكلف بالغ عاقل وهو جمهور أحكام الشريعة الواجبة.

وإلى فرض كفاية وهو الذي يطلب حصوله وتحصيله من المكلفين، لا من كل واحد بعينه، كتعلم العلوم والصناعات النافعة والأذان، والأمر بالمعروف والنهي عن المنكر ونحو ذلك).

أي الواجب له عدة تقسيمات، من هذه التقسيمات ما ذكره المؤلف رحمه الله باعتبار الفاعل فإنه ينقسم إلى قسمين:

* الأول: فرض عين: وهو الذي لا تدخله النيابة مع القدرة، بل
ওয়াজিব বিভক্ত হয়:

ফরজে আইন, যার সম্পাদন প্রত্যেক বালেগ, বুদ্ধিমান ও মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) থেকে চাওয়া হয়; আর এটিই শরিয়তের ওয়াজিব বিধানসমূহের অধিকাংশ।

এবং ফরজে কিফায়া, এটি এমন বিষয় যার অর্জন মুকাল্লাফদের সমষ্টির নিকট চাওয়া হয়, প্রত্যেকের নিকট থেকে ব্যক্তিগতভাবে নয়; যেমন: উপকারী জ্ঞান ও শিল্প শিক্ষা করা, আজান দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো।


 

তার মধ্যে রয়েছে: কিতাব ও সুন্নাহর কোনো বিষয় মুবাহ (বৈধ) হওয়ার ওপর প্রমাণ পেশ করা।

তার মধ্যে রয়েছে: যে বিধানটি সম্পর্কে নীরবতা পালন করা হয়েছে।

তার মধ্যে রয়েছে: নিষেধাজ্ঞার পরে আসা নির্দেশ।

তার মধ্যে রয়েছে: কাজ করা এবং বর্জন করার মধ্যে ইখতিয়ার বা পছন্দের বিষয়ে সুস্পষ্ট নস (দলিল)।

তার মধ্যে রয়েছে: গুনাহ এবং জবাবদিহিতা নাকচ করা।

তাঁর বক্তব্য: (ওয়াজিব বিভক্ত হয় ফরজে আইনে, যার সম্পাদন প্রত্যেক বালেগ, বুদ্ধিমান ও মুকাল্লাফ থেকে চাওয়া হয় এবং এটিই শরিয়তের অধিকাংশ ওয়াজিব বিধান।

আর ফরজে কিফায়া হলো যা মুকাল্লাফদের থেকে অর্জন করা চাওয়া হয়, নির্দিষ্টভাবে প্রত্যেকের থেকে নয়; যেমন উপকারী জ্ঞান ও শিল্প শিক্ষা করা, আজান দেওয়া, সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা এবং এই জাতীয় বিষয়গুলো)।

অর্থাৎ ওয়াজিবের বেশ কিছু প্রকারভেদ রয়েছে, এই প্রকারভেদগুলোর মধ্যে লেখক (রহিমাহুল্লাহ) সম্পাদনকারীর বিবেচনায় যা উল্লেখ করেছেন তা দুই ভাগে বিভক্ত:

* প্রথমটি: ফরজে আইন: এটি এমন বিষয় যাতে সক্ষমতা থাকা অবস্থায় প্রতিনিধিত্ব চলে না, বরং