(খণ্ড: ১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: -)
موسوعة أحكام الطهارة - الدبيان - ط 3   (دبيان الدبيان)

القسم: الفقه العام


الكتاب: موسوعة أحكام الطهارة، أدلة ومسائل وقواعد وضوابط

المؤلف: دبيان بن محمد الدبيان

الناشر: (بدون ناشر)

الطبعة: الثالثة، 1436 هـ (صرح المؤلف بأن هذه الطبعة ناسخة لما قبلها)

عدد الأجزاء: 10

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 27 جُمادَى الأولى 1442

পবিত্রতার বিধিবিধানের বিশ্বকোষ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ   (দুবইয়ান আদ-দুবইয়ান)

বিভাগ: সাধারণ ফিকহ


বই: পবিত্রতার বিধিবিধানের বিশ্বকোষ, দলিল, মাসায়েল, উসুল ও নীতিমালা

লেখক: দুবইয়ান বিন মুহাম্মাদ আদ-দুবইয়ান

প্রকাশক: (প্রকাশকবিহীন)

সংস্করণ: তৃতীয়, ১৪৩৬ হিজরি (লেখক স্পষ্ট করেছেন যে এই সংস্করণটি পূর্ববর্তী সংস্করণগুলোর স্থলাভিষিক্ত)

খণ্ড সংখ্যা: ১০

[বইয়ের পৃষ্ঠা সংখ্যা ছাপানো কপির অনুরূপ]

শামেলায় প্রকাশের তারিখ: ২৭ জুমাদাল উলা ১৪৪২

(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৪)
موسوعة

أحكام الطهارة

أدلة ومسائل وقواعد وضوابط

 

القسم الأول

طهارة الحدث

 

المجلد الأول

أحكام المياه

 

تأليف

دبيان بن محمد الدبيان
বিশ্বকোষ

পবিত্রতার বিধানসমূহ

দলিলসমূহ, মাসআলাসমূহ, মূলনীতিসমূহ এবং নিয়মাবলী

 

প্রথম বিভাগ

হাদাস থেকে পবিত্রতা

 

প্রথম খণ্ড

পানির বিধানসমূহ

 

রচনা

দুবইয়ান বিন মুহাম্মাদ আদ-দুবইয়ান
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة الطبعة الثالثة

بسم الله الرحمن الرحيم

الحمد لله الذي علم بالقلم، علم الإنسان ما لم يعلم، القائل في كتابه:

(وَاللَّهُ أَخْرَجَكُم مِّن بُطُونِ أُمَّهَاتِكُمْ لا تَعْلَمُونَ شَيْئًا وَجَعَلَ لَكُمُ الْسَّمْعَ وَالأَبْصَارَ وَالأَفْئِدَةَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ) [النحل: 79].

وأصلي وأسلم على عبد الله ورسوله، وخيرته من خلقه، محمد بن عبد الله، وعلى آل بيته، وعلى صحابته، ومن اقتدى بهديهم إلى يوم الدين، أما بعد.

فقد كان كتابي أحكام الطهارة، أول كتبي تأليفًا، وكأي عمل تطرقه لأول مرة يكون فيه ما يوجب المراجعة، ذلك أن الإنسان كل ما كثرت ممارسته للكتابة زادت مهارته، وارتقت خبرته، لهذا كنت أمارس النقد على كتابتي، وأكتشف الأخطاء بنفسي، فكان ذلك يجمع في نفسي النقيضين: كراهة الخطأ والفرح بالتغير الذي يمن الله به على عبده، وكنت قد كتبت أحكام الطهارة وأنا شاب في منتصف الثلاثينيات من عمري، فكنت كل ما راجعت بعض مسائله التي بحثتها أدركت حاجة الكتاب إلى مراجعة شاملة، وكنت أعتذر لنفسي عن مراجعته بأني مشغول في كتاب المعاملات المالية، وحين من الله علي بإتمامه، وهممت أن أبدأ بكتاب الصلاة رأيت لزامًا علي أن أعيد النظر في كتاب الطهارة بعد سبع عشرة سنة من كتابة أغلب بحوثه، لهذا عملت مراجعة شاملة للكتاب اختلف فيها هذا الكتاب عن سابقه شكلًا ومضمونًا، مما جعلني أعتبر هذه الطبعة هي المعتمدة لكتابي أحكام الطهارة، وناسخة لغيرها، وقد اشتملت هذه المراجعة على الأمور التالية:
তৃতীয় সংস্করণের ভূমিকা

পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন, মানুষকে শিক্ষা দিয়েছেন যা সে জানত না; যিনি তাঁর কিতাবে বলেছেন:

(আর আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের মায়েদের গর্ভ থেকে এমন অবস্থায় বের করেছেন যে তোমরা কিছুই জানতে না এবং তিনি তোমাদের জন্য কান, চোখ ও অন্তরসমূহ সৃষ্টি করেছেন যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো) [আন-নাহল: ৭৯]।

আমি দরুদ ও সালাম পেশ করছি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল এবং তাঁর সৃষ্টির মধ্যে মনোনীত ব্যক্তি মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহর প্রতি, আর তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা তাঁর হিদায়াতের অনুসরণ করবে তাদের প্রতি। অতঃপর:

আমার রচিত বইগুলোর মধ্যে 'আহকামুত তাহারাহ' (পবিত্রতার বিধানসমূহ) ছিল প্রথম গ্রন্থ। প্রথমবার করা যেকোনো কাজের মতো এটিতেও এমন কিছু বিষয় ছিল যা পুনর্বিবেচনা করা আবশ্যক ছিল। কারণ মানুষ যত বেশি লেখালেখির চর্চা করে, তার দক্ষতা তত বৃদ্ধি পায় এবং অভিজ্ঞতা পরিপক্ক হয়। এই কারণে আমি আমার নিজের লেখার ওপর সমালোচনা করতাম এবং নিজেই নিজের ভুলগুলো আবিষ্কার করতাম। এটি আমার মনে দুটি বিপরীতমুখী বিষয়ের সমাবেশ ঘটাত: ভুলের প্রতি অপছন্দ এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর বান্দার প্রতি দানকৃত পরিবর্তনের (উন্নতির) জন্য আনন্দ। আমি যখন 'আহকামুত তাহারাহ' লিখেছিলাম তখন আমি তিরিশের দশকের মাঝামাঝি বয়সের একজন যুবক ছিলাম। ফলে আমি যখনই আমার গবেষণাকৃত কিছু মাসআলা পর্যালোচনা করতাম, তখনই কিতাবটির একটি সর্বাত্মক পরিমার্জনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করতাম। আমি নিজেকে এই বলে প্রবোধ দিতাম যে, আমি আর্থিক লেনদেন (মুআমালাত মালিয়া) সংক্রান্ত কিতাব নিয়ে ব্যস্ত আছি। যখন আল্লাহ আমাকে সেটি সম্পন্ন করার অনুগ্রহ দান করলেন এবং আমি নামাযের কিতাব শুরু করার ইচ্ছা করলাম, তখন আমি এর অধিকাংশ গবেষণা সম্পন্ন করার সতেরো বছর পর তাহারাত কিতাবটির ওপর পুনরায় দৃষ্টিপাত করা অপরিহার্য মনে করলাম। এই কারণে আমি কিতাবটির একটি সর্বাত্মক পরিমার্জন সম্পন্ন করেছি, যার ফলে বর্তমান কিতাবটি তার পূর্ববর্তী সংস্করণ থেকে রূপ ও বিষয়বস্তুর দিক দিয়ে ভিন্ন হয়েছে। এটি আমাকে এই সংস্করণটিকে আমার 'আহকামুত তাহারাহ' কিতাবের জন্য নির্ভরযোগ্য এবং পূর্বের সংস্করণগুলোর রহিতকারী হিসেবে গণ্য করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। এই পরিমার্জনটি নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করেছে:
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৬)
(1) أضفت في مدخل كل مسألة مجموعة من الضوابط والقواعد الفقهية التي تعين على فهم الخلاف والوصول إلى الراجح، ليكون الكتاب شاملًا للأحاديث والآثار، والمسائل الفقهية، والضوابط والقواعد الفقهية والأصولية.

فما كان منها محل وفاق جزمت به، وما كان منها محل خلاف، ذكرت الصيغة إما على سبيل الاستفهام، وأغلب هذه الضوابط منقولة، وبعضها حورته ليناسب المسألة الفقهية، وفي قليل منها اجتهدت في صياغته، وفي حين أعرض هذه الضوابط على شكل سؤال لاستثارة الأفهام.

مثال:

• إذا اختلط طاهر بماء مطلق، فتغير به، فهل يسلبه الطهورية بمطلق التغير؟ أو لا حتى يغلب على أجزائه؟

• اختصاص الماء بالطهورية، هل هو تعبد لا يعقل معناه، أو لاختصاصه بنوع من الرقة واللطافة والنفوذ؟

• ما غلب على لون الماء، فإن كان موافقًا للماء في الطهارة والتطهير كالتغير بالتراب لم يسلبه واحدة منها، وإن كان مخالفًا للماء في الطهارة والتطهير كالتغير بالنجاسة سلبه الوصفين معًا، وإن كان موافقًا للماء في الطهارة دون التطهير لم يسلبه الطهارة لموافقته لها، وهل يسبله الطهورية بمطلق التغير، أو لا حتى يغلب على أجزائه؟

وربما أشرت إلى الخلاف بقولي: على الصحيح، أو في الأصح.

مثال ذلك:

-الحكم بنجاسة الماء هو تغيره بالنجاسة، لا اتصاله بها على الصحيح؟

- كل عين نجسة فإنه يجوز الانتفاع بها في غير الأكل على الصحيح على وجه لا يتعدى.
(১) আমি প্রত্যেক মাসআলার শুরুতে একগুচ্ছ ফিকহী নীতিমালা ও নিয়মাবলী যুক্ত করেছি যা মতভেদ বুঝতে এবং রাজীহ (অগ্রগণ্য) সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সহায়তা করে, যাতে কিতাবটি হাদীস, আছার, ফিকহী মাসআলা এবং ফিকহ ও উসূলে ফিকহের নীতিমালা ও নিয়মাবলীর একটি পূর্ণাঙ্গ সংকলন হয়ে ওঠে।

যেসব ক্ষেত্রে ঐক্যমত রয়েছে আমি তা দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেছি, আর যেসব ক্ষেত্রে মতভেদ রয়েছে তা আমি কখনও প্রশ্নবোধক বাক্যে উল্লেখ করেছি। এই নীতিমালার অধিকাংশ বর্ণিত, আবার কিছু মাসআলার সাথে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য পরিমার্জন করা হয়েছে। অল্প কিছু নীতিমালার বিন্যাসে আমি নিজে ইজতিহাদ করেছি। কখনও কখনও আমি এই নীতিমালাগুলো প্রশ্ন আকারে উপস্থাপন করেছি যাতে তা চিন্তাশক্তিকে জাগ্রত করে।

উদাহরণ:

• যদি কোনো পবিত্র বস্তু সাধারণ পানির সাথে মিশে যায় এবং এর ফলে পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে কি সাধারণ পরিবর্তনের কারণে পানিটি তার পবিত্র করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে? নাকি যতক্ষণ না তা পানির অধিকাংশ অংশে প্রাধান্য বিস্তার করে ততক্ষণ হারাবে না?

• পানির মাধ্যমেই পবিত্রতা অর্জনের বিষয়টি কি কেবল একটি ইবাদত যার মূল রহস্য মানুষের অবোধগম্য, নাকি পানির বিশেষ সূক্ষ্মতা, তারল্য ও অনুপ্রবেশ ক্ষমতার কারণে?

• যা পানির রঙের ওপর প্রাধান্য পায়; যদি তা পবিত্রতা ও পবিত্র করার ক্ষমতার ক্ষেত্রে পানির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—যেমন মাটি দ্বারা পরিবর্তন—তবে তা পানির কোনো গুণকেই নষ্ট করবে না। আর যদি তা পবিত্রতা ও পবিত্র করার ক্ষমতার ক্ষেত্রে পানির বিপরীত হয়—যেমন নাপাকি দ্বারা পরিবর্তন—তবে তা উভয় গুণকেই নষ্ট করে দিবে। আর যদি তা পবিত্রতার ক্ষেত্রে পানির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় কিন্তু পবিত্র করার ক্ষমতার ক্ষেত্রে নয়, তবে সামঞ্জস্যতার কারণে তা পবিত্রতা গুণটি নষ্ট করবে না। এখন প্রশ্ন হলো, সাধারণ পরিবর্তনের কারণে কি তা পবিত্র করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে, নাকি যতক্ষণ না তা পানির অধিকাংশ অংশে প্রাধান্য বিস্তার করে ততক্ষণ হারাবে না?

আমি কখনও কখনও 'সঠিক মত অনুযায়ী' অথবা 'অধিকতর সঠিক মতে' বলে মতভেদের প্রতি ইঙ্গিত করেছি।

এর উদাহরণ হলো:

- পানি নাপাক হওয়ার বিধানটি নাপাকির কারণে তার পরিবর্তনের ওপর নির্ভরশীল, সঠিক মত অনুযায়ী কেবল নাপাকির সংস্পর্শে আসার কারণে নয়।

- সঠিক মত অনুযায়ী, প্রতিটি অপবিত্র বস্তু থেকে খাওয়ার উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য ক্ষেত্রে এমনভাবে উপকৃত হওয়া জায়েজ যাতে তা সংক্রমিত না হয়।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৭)
-الاستحالة لها تأثير في الأحكام على الصحيح، فاستحالة الطيب إلى خبيث تجعله خبيثًا، كذا استحالة الخبيث إلى طاهر تجعله طاهرًا.

وفي أحيان قليلة يكون الخلاف ضعيفًا فلا أشير إليه في ذكر القاعدة.

ولم أتعرض إلى شرح الضوابط والقواعد، ولا إلى توثيقها لأن ذلك سوف يزيد من حجم الكتاب، والكتاب لا يشكو من قلة حجمه، خاصة أن الكتاب لم يكتب في القواعد، وإنما أضيفت لتخدم المسألة الفقهية، فهي ثانوية في مادة الكتاب.

وقد أكرر القاعدة والضابط في أكثر من موضع؛ لأنه من المعلوم أن القاعدة والضابط يدخل فيهما فروع فقهية كثيرة، فقواعد الماء المتغير يشمل مسائل كثيرة، منها الماء المتغير بمكثه، والماء المتغير بما يشق صون الماء عنه، والماء المتغير بممازج وبغير ممازج، والماء المتغير بالمجاورة، وقواعد هذه المسائل متكررة، لهذا حاولت قدر الإمكان أن أقسم القواعد على تلك المسائل بعدًا عن التكرار، أو أن أغير من صيغة القاعدة عند التكرار بحيث تشتمل على زيادة معنى ليس في غيرها إن أمكن ذلك، وإلا أعدتها بصيغتها، ويدرك القارئ طبيعة تكرار القواعد للفروع المتشابهة.

(2) أعدت تخريج جميع الأحاديث التي سبق أن خرجتها، فكان هناك مجموعة تراجعت فيها عن حكمي السابق، وما لم أراجع فيه حكمي فقد أعدت صياغته بطريقة تكون الصناعة الحديثية أوضح وأسهل للطالب.

(3) راجعت بعض ترجيحاتي الفقهية السابقة اتباعًا للحق متى ما ظهر، وابتعادًا عن التعصب.

(4) حاولت قدر الإمكان التقليل من الأخطاء، والتي كانت كثيرة في الطبعة السابقة.
বিশুদ্ধ মতানুসারে আহকাম বা বিধানের ক্ষেত্রে রূপান্তর (ইস্তিহালা)-এর প্রভাব রয়েছে। সুতরাং পবিত্র বস্তুর অপবিত্র বস্তুতে রূপান্তর তাকে অপবিত্র করে দেয়, একইভাবে অপবিত্র বস্তুর পবিত্র বস্তুতে রূপান্তর তাকে পবিত্র করে দেয়।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে মতভেদ দুর্বল হওয়ার কারণে নীতি (কায়েদা) উল্লেখ করার সময় আমি সেদিকে ইঙ্গিত করিনি।

আমি নিয়ন্ত্রণমূলক মূলনীতি (দাওয়াবিত) এবং সাধারণ মূলনীতিসমূহ (কাওয়াইদ)-এর ব্যাখ্যা বা সেগুলোর তথ্যসূত্র প্রদানের দিকে যাইনি; কারণ এটি গ্রন্থের কলেবর বৃদ্ধি করবে, আর এই গ্রন্থটি কলেবরের ক্ষুদ্রতা নিয়ে অভিযোগ করার মতো নয়। বিশেষ করে এই গ্রন্থটি মূলনীতির ওপর লেখা হয়নি, বরং এগুলো ফিকহি মাসআলাগুলোর সহায়তার জন্য যোগ করা হয়েছে। তাই গ্রন্থের মূল বিষয়ের ক্ষেত্রে এগুলো গৌণ।

আমি একাধিক স্থানে মূলনীতি ও নিয়ন্ত্রণমূলক নীতিগুলো পুনরাবৃত্তি করতে পারি; কারণ এটি সর্বজনবিদিত যে, একটি মূলনীতি বা নিয়ন্ত্রণমূলক নীতির অধীনে অনেক ফিকহি শাখা-উপশাখা অন্তর্ভুক্ত হয়। যেমন পরিবর্তিত পানির মূলনীতিগুলো অনেক মাসআলাকে অন্তর্ভুক্ত করে, যার মধ্যে রয়েছে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে পরিবর্তিত পানি, যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন এমন কিছুর মাধ্যমে পরিবর্তিত পানি, কোনো কিছুর সংমিশ্রণে বা সংমিশ্রণ ছাড়াই পরিবর্তিত পানি এবং কোনো কিছুর সান্নিধ্যে পরিবর্তিত পানি। এই মাসআলাগুলোর মূলনীতিগুলো পুনরাবৃত্তিমূলক। এজন্য আমি যথাসম্ভব পুনরাবৃত্তি এড়াতে সেই মাসআলাগুলোর ভিত্তিতে মূলনীতিগুলোকে বিন্যস্ত করার চেষ্টা করেছি, অথবা পুনরাবৃত্তির সময় মূলনীতির শব্দগত রূপ এমনভাবে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি যাতে সম্ভব হলে অন্যটির তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ প্রকাশ পায়। অন্যথায় আমি তা পূর্বের রূপেই রেখেছি। পাঠক সাদৃশ্যপূর্ণ শাখাগুলোর ক্ষেত্রে মূলনীতির পুনরাবৃত্তির প্রকৃতি বুঝতে পারবেন।

(২) আমি পূর্বে তাখরিজ করা সকল হাদিস পুনরায় তাখরিজ করেছি। ফলে এমন কিছু হাদিস পাওয়া গেছে যেগুলোর ব্যাপারে আমি আমার আগের সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে এসেছি। আর যেগুলোর ক্ষেত্রে আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করিনি, সেগুলোর ভাষাভঙ্গি এমনভাবে পুনর্গঠন করেছি যাতে হাদিসশাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ ছাত্রের নিকট আরও স্পষ্ট এবং সহজতর হয়।

(৩) আমি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তার অনুসরণকল্পে এবং গোঁড়ামি থেকে দূরে থাকতে আমার পূর্বের কিছু ফিকহি অগ্রাধিকারমূলক মত (তারজিহ) পর্যালোচনা করেছি।

(৪) আমি যথাসম্ভব ভুলত্রুটি কমিয়ে আনার চেষ্টা করেছি, যা পূর্ববর্তী মুদ্রণে অনেক বেশি ছিল।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৮)
وأسأل الله سبحانه وتعالى أن يتقبل مني هذا العمل وأن يجعله خالصًا لوجهه على هدي نبيه صلى الله عليه وسلم، وأن يتجاوز سبحانه عن الخطأ والتقصير.

دبيان بن محمد الدبيان

المملكة العربية السعودية

القصيم ـ بريدة

* * *
আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার নিকট প্রার্থনা করি যেন তিনি আমার পক্ষ থেকে এই আমলটি কবুল করেন এবং একে তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আদর্শ অনুযায়ী একান্তভাবে কেবল তাঁরই সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন, আর তিনি যেন ভুল ও ত্রুটিসমূহ ক্ষমা করে দেন।

দুবাইয়ান বিন মুহাম্মাদ আদ-দুবাইয়ান

সৌদি আরব সাম্রাজ্য

আল-কাসিম — বুরাইদাহ

* * *
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৯)
‌‌القسم الأول طهارة الحدث
প্রথম ভাগ: হদস থেকে পবিত্রতা
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১০)
طهارة الحدث

 

‌‌كتاب المياه

‌‌الطهارة لدى الفقهاء على ثلاثة أقسام.

‌‌القسم الأول: طهارة تعبدية غير معقولة المعنى:

وهي الطهارة من الحدث، بنوعيه الأصغر والأكبر.

وقدمت دراسة هذه الطهارة لفضلها على سائر أنواع الطهارات، من ذلك:

أنها طهارة مختصة بالمسلم، بخلاف طهارة الخبث، فلا يشترط لها الإسلام، فبدن الكافر ولباسه يوصف بالطهارة الحسية، ولكنه لا تصح منه طهارة الحدث.

ولأن طهارة الحدث شطر الإيمان كما في صحيح مسلم.

وهي عبادة مقصودة لذاتها، ووسيلة لبعض العبادات كالصلاة، والطواف ومس المصحف.

وإذا توضأ المسلم فقد جمع في ذلك بين طهارة بدنه من الحدث، وطهارته من صغائر الذنوب، فقد جاء في صحيح مسلم أنها تخرج مع الماء أو مع آخر قطر الماء.

لهذه الأسباب وغيرها قدمتها على طهارة الخبث.

ويدخل في طهارة الحدث الكتب التالية:

الكتاب الأول: أحكام المياه، وقدمته باعتباره الوسيلة للحصول على طهارة الحدث.

الكتاب الثاني: جعلته في فعل التطهير، وبدأته في الطهارة الصغرى، تناولت فيه الوضوء، فرائضه وسننه ونواقضه.

الكتاب الثالث: طهارة المسح بالماء في الطهارة الصغرى، وهو جزء من طهارة الوضوء؛ إلا أنها طهارة مخففة يكفي فيها المسح بدلًا من الغسل، من خف وعمامة وجورب، وجبيرة.
হাদাছ হতে পবিত্রতা

 

‌‌পানি বিষয়ক গ্রন্থ

‌‌ফকীহগণের নিকট পবিত্রতা তিন প্রকার.

‌‌প্রথম প্রকার: ইবাদতগত পবিত্রতা যার নিগূঢ় অর্থ যুক্তি দ্বারা বোধগম্য নয়:

আর তা হলো হাদাছ (অপবিত্রতা) হতে পবিত্রতা, যা ছোট ও বড় উভয় প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে।

অন্যান্য সকল প্রকার পবিত্রতার ওপর এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে আমি এই পবিত্রতার আলোচনাকে অগ্রগণ্য করেছি; এর কারণসমূহ হলো:

এটি এমন এক পবিত্রতা যা কেবল মুসলিমদের জন্য নির্দিষ্ট, খাবাছ (নাজাসাত) হতে পবিত্রতার মতো নয়; কেননা খাবাছ হতে পবিত্রতার জন্য ইসলাম শর্ত নয়। ফলে কাফিরের দেহ ও পোশাক বাহ্যিক পবিত্রতায় ভূষিত হলেও তার থেকে হাদাছ হতে পবিত্রতা শুদ্ধ হয় না।

কেননা হাদাছ হতে পবিত্রতা হলো ঈমানের অর্ধাংশ, যেমনটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে।

এটি স্বয়ং একটি উদ্দিষ্ট ইবাদত এবং সালাত, তাওয়াফ ও কুরআন স্পর্শ করার মতো কিছু ইবাদতের মাধ্যম।

যখন একজন মুসলিম ওজু করে, তখন সে এর মাধ্যমে তার শরীরকে হাদাছ হতে পবিত্র করার পাশাপাশি সগীরা গুনাহ থেকেও পবিত্র হওয়ার বিষয়টি একত্রিত করে। সহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে যে, গুনাহ পানির সাথে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সাথে বের হয়ে যায়।

এসব এবং অন্যান্য কারণে আমি একে খাবাছ হতে পবিত্রতার পূর্বে আলোচনা করেছি।

হাদাছ হতে পবিত্রতার অধীনে নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:

প্রথম গ্রন্থ: পানির বিধানসমূহ; একে আমি হাদাছ হতে পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম হিসেবে প্রথমে উপস্থাপন করেছি।

দ্বিতীয় গ্রন্থ: এটি আমি পবিত্রতা অর্জনের কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে নির্ধারণ করেছি এবং ছোট পবিত্রতা দিয়ে শুরু করেছি। এতে আমি ওজু, এর ফরযসমূহ, সুন্নাতসমূহ এবং ওজু ভঙ্গের কারণসমূহ আলোচনা করেছি।

তৃতীয় গ্রন্থ: ছোট পবিত্রতার ক্ষেত্রে পানি দ্বারা মাসাহ করা; এটি ওজুর পবিত্রতারই একটি অংশ, তবে এটি একটি লঘু পবিত্রতা যাতে ধৌত করার পরিবর্তে মাসাহ করাই যথেষ্ট, যেমন: মোজা, পাগড়ি, হাত মোজা এবং ব্যান্ডেজ।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১১)
الكتاب الرابع: في الطهارة من الحدث الأكبر، وتناولت فيه الغسل، موجباته، وسننه، وصفته.

الكتاب الخامس: في طهارة التيمم، وهي مختصة بطهارة الحدث على الصحيح، وأخرتها باعتبارها طهارة بدل، لا تصح إلا عند عدم الماء أو التضرر من استعماله، وتدخل في الطهارة الصغرى والكبرى.

وبهذا تنتهي طهارة الحدث لننتقل إلى القسم الثاني من الطهارة.

 

‌‌القسم الثاني من الطهارة: وهي الطهارة الحسية.

وهي محصورة في الطهارة من النجاسات، وهذا القسم يشمل الكتب التالية:

الكتاب الأول: معرفة الأعيان النجسة وكيفية الطهارة منها،، وقدمت هذا الكتاب في الطهارة من النجاسة؛ لأنه يتعين قبل الدخول في التطهر من النجاسات أن نتعرف على أعيانها، ثم ندخل إلى كيفية التطهر منها.

الكتاب الثاني: الطهارة بالاستنجاء والاستجمار. وهذا الكتاب داخل في قسم كيفية الطهارة من النجاسة، إلا أنه مختص بنوع من النجاسات وهي البول والغائط.

الكتاب الثالث والرابع: الحيض والنفاس. وهو مختص في الطهارة من الدماء الطبيعية، وهذه الطهارة تجمع بين طهارة الحدث وطهارة الخبث، وإنما جعلتها في طهارة الخبث؛ لتقدمها على طهارة الحدث، ولترتب طهارة الحدث عليها.

 

‌‌القسم الثالث: طهارة التفث.

وهي ملحقة بالطهارة الحسية إلا أنها ليست عن حدث، ولا عن خبث، وسميت شرعًا، بسنن الفطرة، كتقليم الأظفار، والختان، والاستحداد، وقص الشارب، وغسل البراجم.

ويدخل فيها كل غسل لا يوجبه حدث، ولا خبث، كغسل الجمعة، وغسل الإحرام، وغسل الطواف، والعيدين، إلا أنني ورغبة في وحدة الموضوع لم أفصل الأغسال المستحبة عن الأغسال الواجبة.

هذه الكتب التي سوف تدخل في أحكام الطهارة، وأول ما أستفتح فيه طهارة الحدث هو كتاب المياه، وإنما استفتحت طهارة الحدث بهذا الكتاب، لأن طهارة الحدث
চতুর্থ অধ্যায়: বড় নাপাকি (হাদাস আকবার) থেকে পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে। এতে আমি গোসল, এর ওয়াজিবসমূহ, সুন্নাতসমূহ এবং এর পদ্ধতি আলোচনা করেছি।

পঞ্চম অধ্যায়: তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এটি হাদাস (নাপাকি) থেকে পবিত্রতার সাথে নির্দিষ্ট। আমি একে শেষে এনেছি এই বিবেচনায় যে এটি একটি বিকল্প পবিত্রতা, যা পানি না পাওয়া গেলে অথবা পানি ব্যবহারে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকলে ছাড়া সহীহ হয় না। এটি ছোট এবং বড় উভয় প্রকার নাপাকি থেকে পবিত্রতার অন্তর্ভুক্ত।

এর মাধ্যমেই হাদাস (নাপাকি) থেকে পবিত্রতা অর্জনের আলোচনা শেষ হলো, যাতে আমরা পবিত্রতার দ্বিতীয় ভাগে প্রবেশ করতে পারি।

 

‌‌پবিত্রতার দ্বিতীয় ভাগ: ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পবিত্রতা (নাজাসাত থেকে পবিত্রতা)।

এটি অপবিত্র বস্তু (নাজাসাত) থেকে পবিত্র হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই ভাগটি নিম্নোক্ত অধ্যায়সমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে:

প্রথম অধ্যায়: অপবিত্র বস্তুসমূহ চেনা এবং সেগুলো থেকে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতি। নাজাসাত থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে আমি এই অধ্যায়টিকে আগে এনেছি; কারণ নাজাসাত থেকে পবিত্রতা অর্জনের আলোচনায় প্রবেশের পূর্বে অপবিত্র বস্তুসমূহ চেনা আবশ্যক, অতঃপর আমরা সেগুলো থেকে পবিত্র হওয়ার পদ্ধতিতে প্রবেশ করব।

দ্বিতীয় অধ্যায়: এস্তেনজা (পানি দ্বারা পবিত্রতা) এবং এস্তেজমার (পাথর বা ঢিলা দ্বারা পবিত্রতা) এর মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন। এই অধ্যায়টি নাজাসাত থেকে পবিত্রতা অর্জনের পদ্ধতির অন্তর্ভুক্ত, তবে এটি নির্দিষ্ট এক প্রকার নাজাসাতের সাথে সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো প্রস্রাব ও পায়খানা।

তৃতীয় ও চতুর্থ অধ্যায়: ঋতুস্রাব (হায়েজ) ও প্রসূতি অবস্থা (নেফাস)। এটি প্রাকৃতিক রক্ত থেকে পবিত্র হওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। এই পবিত্রতা হাদাস (নাপাকি) এবং খাবাস (অপবিত্রতা) থেকে পবিত্রতার সমন্বয় ঘটায়। আমি একে খাবাস বা নাজাসাত থেকে পবিত্রতার অধীনে এনেছি কারণ এটি হাদাস থেকে পবিত্রতার পূর্বে আসে এবং হাদাস থেকে পবিত্রতা এর ওপর নির্ভর করে।

 

‌ৃতৃতীয় ভাগ: পরিচ্ছন্নতা অর্জন (ত্বহারাতুত তাফাস)।

এটি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য পবিত্রতার সাথে সংযুক্ত, তবে এটি হাদাস (নাপাকি) বা খাবাস (নাজাসাত) থেকে নয়। শরীয়তের পরিভাষায় একে ফিতরাতগত সুন্নাত বলা হয়; যেমন—নখ কাটা, খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ ছাঁটা এবং আঙুলের গিঁটসমূহ ধৌত করা।

এর মধ্যে এমন প্রতিটি গোসল অন্তর্ভুক্ত যা হাদাস বা খাবাস (অপবিত্রতা) দ্বারা ওয়াজিব হয় না, যেমন—জুমার গোসল, এহরামের গোসল, তাওয়াফের গোসল এবং দুই ঈদের গোসল। তবে বিষয়ের একতা বজায় রাখার কামনায় আমি মুস্তাহাব গোসলগুলোকে ওয়াজিব গোসলগুলো থেকে পৃথক করিনি।

এই হলো সেই সব অধ্যায় যা পবিত্রতার বিধানাবলীর অন্তর্ভুক্ত হবে। হাদাস থেকে পবিত্রতার ক্ষেত্রে আমি সর্বপ্রথম যা দিয়ে শুরু করছি তা হলো পানির অধ্যায়। আমি হাদাস থেকে পবিত্রতা এই অধ্যায় দিয়ে শুরু করেছি কারণ হাদাস থেকে পবিত্রতা...
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১২)
تنقسم إلى قسمين:

طهارة أصلية: وهذه لا تكون إلا بالماء، فإذا كان الماء هو الوسيلة للحصول على هذه الطهارة، تعين تقديمه قبل الخوض في أحكام الطهارة؛ وذلك من أجل معرفة صفة الماء الطهور من غيره، وما يسلبه الطهورية قبل الدخول في التطهير.

وطهارة بدل: وهذه طهارة التيمم، ويشترط لصحتها عدم الماء، أو الخوف من استعماله.

• خطة البحث في هذا الكتاب

أحكام المياه يقوم على تمهيد، وأبواب، ويشتمل كل باب منها على فصول، يتفرع منه مباحث وفروع ومسائل، على النحو التالي:

التمهيد، ويشتمل على ثلاثة مباحث:

المبحث الأول: تعريف الطهارة.

المبحث الثاني: تعريف النجاسة.

المبحث الثالث: الأصل في المياه.

الباب الأول: في أقسام المياه.

الباب الثاني: الوضوء بالماء المحرم كالمغصوب ونحوه.

الباب الثالث: حكم رفع الحدث وإزالة الخبث من ماء زمزم.

الباب الرابع: في الماء المتغير، وفيه فصول.

الفصل الأول: في الماء المتغير بالطاهرات.

وفيه مباحث.

المبحث الأول: الماء المتغير بطاهر غير ممازج.

الفرع الأول: التغير بغير ممازج لا يشمل اللون والطعم.

الفرع الثاني: في حكم الماء إذا تغير بطاهر غير ممازج.

المبحث الثاني: الماء المتغير بطاهر يشق صون الماء عنه.

المبحث الثالث: الماء المتغير بطول مكثه.
এটি দুই ভাগে বিভক্ত:

মৌলিক পবিত্রতা: এটি কেবল পানির মাধ্যমেই অর্জিত হয়; সুতরাং, পানি যেহেতু এই পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যম, তাই পবিত্রতার বিধিবিধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার আগে পানির আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া আবশ্যক। এর উদ্দেশ্য হলো পবিত্র পানিকে অন্যান্য পানি থেকে পৃথক করার বৈশিষ্ট্যসমূহ জানা এবং পবিত্রতা অর্জনের কাজ শুরু করার আগে কী কী কারণে পানির পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যায় তা অবগত হওয়া।

বিকল্প পবিত্রতা: এটি হলো তায়াম্মুমের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন; এর শুদ্ধতার জন্য শর্ত হলো পানি না থাকা অথবা পানি ব্যবহারের ফলে ক্ষতির আশঙ্কা থাকা।

• এই গ্রন্থের গবেষণা পরিকল্পনা

পানির বিধানসমূহ একটি ভূমিকা ও কয়েকটি অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি অধ্যায় আবার পরিচ্ছেদে বিভক্ত, যা থেকে নিম্নোক্তভাবে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ, শাখা ও মাসআলাসমূহ বিন্যস্ত হয়েছে:

ভূমিকা, যা তিনটি অনুচ্ছেদ নিয়ে গঠিত:

প্রথম অনুচ্ছেদ: পবিত্রতার সংজ্ঞা।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অপবিত্রতার সংজ্ঞা।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: পানির মূল প্রকৃতি।

প্রথম অধ্যায়: পানির প্রকারভেদ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: হারাম পানি দ্বারা ওযু করা, যেমন জোরপূর্বক দখলকৃত পানি বা অনুরূপ।

তৃতীয় অধ্যায়: যমযম কূপের পানি দ্বারা হাদাস (অপবিত্রতা) দূর করা এবং নাপাকি পরিষ্কার করার বিধান।

চতুর্থ অধ্যায়: পরিবর্তিত পানির বিবরণ; এতে কয়েকটি পরিচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্র বস্তুর সংমিশ্রণে পরিবর্তিত পানির বিবরণ।

এতে কয়েকটি অনুচ্ছেদ রয়েছে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: অমিশ্রিত পবিত্র বস্তুর দ্বারা পরিবর্তিত পানি।

প্রথম শাখা: অমিশ্রিত বস্তুর মাধ্যমে পরিবর্তন হওয়া পানির রঙ ও স্বাদকে অন্তর্ভুক্ত করে না।

দ্বিতীয় শাখা: অমিশ্রিত পবিত্র বস্তুর দ্বারা পানি পরিবর্তিত হলে তার বিধান।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: এমন পবিত্র বস্তু যা থেকে পানিকে রক্ষা করা কঠিন, তার দ্বারা পরিবর্তিত পানি।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: দীর্ঘক্ষণ স্থির থাকার ফলে পরিবর্তিত পানি।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১৩)
المبحث الرابع: في الماء المالح.

الفرع الأول: في تغير الماء بملح موضوع فيه.

الفرع الثاني: الخلاف في طهورية ماء البحر.

المبحث الخامس: إذا تغير الماء بشيء طاهر.

وفيه فرعان:

الفرع الأول: الماء المتغير بطاهر يمكن التحرز منه.

الفرع الثاني: خلاف العلماء في الطهارة بالنبيذ.

الفصل الثاني: الماء المتغير بالنجاسة، وفيه مبحثان:

المبحث الأول: الماء المتغير بمجاورة نجاسة.

الفرع الأول: المقصود من التغير بالمجاورة.

الفرع الثاني: حكم الماء المتغير بالمجاورة.

المبحث الثاني: الماء المتغير بممازجة النجاسة.

الباب الخامس: في الماء المستعمل.

الفصل الأول: حكم الماء المستعمل في رفع الحدث.

المبحث الأول: في تعريف الماء المستعمل.

المبحث الثاني: خلاف العلماء في الماء المستعمل في رفع الحدث.

الفصل الثاني: الماء المستعمل في طهارة مستحبة.

الفصل الثالث: الماء المستعمل في طهارة غير مشروعة.

الفصل الرابع: الماء المستعمل في التبرد والنظافة.

الفصل الخامس: الماء المستعمل في غمس يد القائم من النوم.

الفرع الأول: حكم غسل اليد قبل إدخالها الإناء.

الفرع الثاني: في التماس العلة في غسل اليد قبل إدخالها الإناء.

الفرع الثالث: هل يختص الحكم في القيام من نوم الليل أو يشمل كل نوم.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: লোনা পানি প্রসঙ্গে।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: পানিতে রাখা লবণের কারণে পানির পরিবর্তন প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: সমুদ্রের পানির পবিত্রতা নিয়ে মতভেদ।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: যখন পানি কোনো পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত হয়।

এতে দুটি উপ-পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: এমন পবিত্র বস্তু দ্বারা পরিবর্তিত পানি যা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নাবীজ দ্বারা পবিত্রতা অর্জন নিয়ে আলেমদের মতভেদ।

দ্বিতীয় অধ্যায়: অপবিত্রতা দ্বারা পরিবর্তিত পানি, এবং এতে দুটি পরিচ্ছেদ রয়েছে:

প্রথম পরিচ্ছেদ: নাপাক বস্তুর নৈকট্যের কারণে পরিবর্তিত পানি।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: নৈকট্যের কারণে পরিবর্তন বলতে যা বোঝায়।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: নৈকট্যের কারণে পরিবর্তিত পানির বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নাপাক বস্তু মিশ্রিত হওয়ার কারণে পরিবর্তিত পানি।

পঞ্চম অধ্যায়: ব্যবহৃত পানি প্রসঙ্গে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতা দূরীকরণে ব্যবহৃত পানির বিধান।

প্রথম পরিচ্ছেদ: ব্যবহৃত পানির সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতা দূরীকরণে ব্যবহৃত পানি নিয়ে আলেমদের মতভেদ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: মুস্তাহাব পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহৃত পানি।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: শরীয়ত বহির্ভূত পবিত্রতা অর্জনে ব্যবহৃত পানি।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: শীতলতা অর্জন এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য ব্যবহৃত পানি।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: ঘুম থেকে উঠে হাত ডুবানোর ফলে ব্যবহৃত পানি।

প্রথম উপ-পরিচ্ছেদ: পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে হাত ধোয়ার বিধান।

দ্বিতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: পাত্রে হাত প্রবেশ করানোর আগে হাত ধোয়ার কারণ অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে।

তৃতীয় উপ-পরিচ্ছেদ: এই বিধান কি কেবল রাতের ঘুম থেকে ওঠার সাথে নির্দিষ্ট নাকি তা সকল ঘুমকে অন্তর্ভুক্ত করে।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১৪)
الفصل السادس: الماء المستعمل في إزالة النجاسة.

الباب السادس: في الطهارة من فضل الوضوء.

الفصل الأول: حكم وضوء الرجال والنساء جميعًا إذا كانوا من المحارم.

الفصل الثاني: في فضل وضوء المرأة.

الفصل الثالث: في الوضوء بفضل الرجل.

الباب السابع: في الشك والاشتباه.

الفصل الأول: في حكم الماء ونحوه إذا كان مشكوكًا فيه.

الفصل الثاني: إذا اشتبه الماء الطهور بالماء النجس.

الفصل الثالث: إذا اشتبه ماء طهور بماء طاهر.

الفصل الرابع: إذا اشتبهت ثياب طاهرة بمحرمة أو نجسة.

الفصل الخامس: في الإخبار بنجاسة الماء.

المبحث الأول: إذا أخبره رجل أو امرأة بنجاسة الماء.

المبحث الثاني: إذا أخبره صبي عن طهارة أو نجاسة الماء.

المبحث الثالث: إذا أخبره فاسق عن نجاسة الماء.

المبحث الرابع: في السؤال عن الماء.

الباب الثامن: في الماء النجس.

الفصل الأول: في الماء القليل إذا لاقته نجاسة ولم يتغير.

الفصل الثاني: في الماء الكثير إذا لاقته نجاسة.

المبحث الأول: في الماء الكثير إذا لاقته نجاسة فلم تغيره.

المبحث الثاني: في الماء الكثير إذا غيرته النجاسة.

الفرع الأول: في الكلام على بئر المقبرة.

الفرع الثاني: في الوضوء من بئر ثمود.

الفصل الثالث: في المائع غير المائي تخالطه النجاسة.
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ: অপবিত্রতা দূরীকরণে ব্যবহৃত পানির বিধান।

ষষ্ঠ অধ্যায়: ওযুর অবশিষ্ট পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন প্রসঙ্গে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: পুরুষ ও নারী মাহরাম হলে তাদের একত্রে ওযু করার বিধান।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নারীর ওযুর অবশিষ্ট পানি প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পুরুষের ওযুর অবশিষ্ট পানি দ্বারা ওযু করা প্রসঙ্গে।

সপ্তম অধ্যায়: সন্দেহ ও অস্পষ্টতা প্রসঙ্গে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: পানি ও অনুরূপ বিষয়ে সন্দেহ হলে তার বিধান প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: যখন পবিত্রকারী পানি ও অপবিত্র পানি অস্পষ্ট হয়ে যায়।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: যখন পবিত্রকারী পানি ও পবিত্র পানি অস্পষ্ট হয়ে যায়।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: যখন পবিত্র পোশাক নিষিদ্ধ বা অপবিত্র পোশাকের সাথে অস্পষ্ট হয়ে যায়।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: পানির অপবিত্রতা সম্পর্কে সংবাদ প্রদান প্রসঙ্গে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: যখন কোনো পুরুষ বা নারী পানির অপবিত্রতা সম্পর্কে সংবাদ দেয়।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: যখন কোনো শিশু পানির পবিত্রতা বা অপবিত্রতা সম্পর্কে সংবাদ দেয়।

তৃতীয় অনুচ্ছেদ: যখন কোনো ফাসেক পানির অপবিত্রতা সম্পর্কে সংবাদ দেয়।

চতুর্থ অনুচ্ছেদ: পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা প্রসঙ্গে।

অষ্টম অধ্যায়: অপবিত্র পানি প্রসঙ্গে।

প্রথম পরিচ্ছেদ: অল্প পানিতে অপবিত্রতা পতিত হওয়ার পর তা পরিবর্তিত না হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: অধিক পানিতে অপবিত্রতা পতিত হওয়া প্রসঙ্গে।

প্রথম অনুচ্ছেদ: অধিক পানিতে অপবিত্রতা পতিত হওয়া সত্ত্বেও তা পরিবর্তিত না হওয়া প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: অধিক পানি যখন অপবিত্রতার কারণে পরিবর্তিত হয়ে যায়।

প্রথম শাখা: কবরস্থানের কূপ সংক্রান্ত আলোচনা।

দ্বিতীয় শাখা: সামুদ জাতির কূপ থেকে ওযু করা প্রসঙ্গে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পানি ব্যতীত অন্যান্য তরল পদার্থে অপবিত্রতা মিশ্রিত হওয়া প্রসঙ্গে।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১৫)
الفصل الرابع: في الماء المسخن.

المبحث الأول: الماء المسخن بنجاسة.

المبحث الثاني: الماء المسخن بالشمس.

الباب التاسع: في تطهير الماء المتنجس.

المبحث الأول: نجاسة الماء نجاسة حكمية.

المبحث الثاني: خلاف العلماء في كيفية تطهير الماء المتنجس.

الباب العاشر: في الآنية.

تمهيد.

الفصل الأول: في الأواني الثمينة من غير الذهب والفضة.

الفصل الثاني: في الأواني من الذهب والفضة.

المبحث الأول: في حكم الأكل والشرب في أواني الذهب والفضة.

المبحث الثاني: في استعمال أواني الذهب والفضة في غير الأكل والشرب.

المبحث الثالث: في الطهارة من آنية الذهب والفضة.

المبحث الرابع: في اتخاذ أواني الذهب والفضة.

الفصل الثالث: في الأواني المضببة بالذهب والفضة.

المبحث الأول: في تضبيب الأواني بالذهب.

الفرع الأول: في تعريف الضبة.

الفرع الثاني: في حكم تضبيب الأواني بالذهب.

المبحث الثاني: خلاف العلماء في التضبيب بالفضة.

الفصل الرابع: في آنية الكفار.

الفصل الخامس: في الأواني المتخذة من جلود الميتة.

المبحث الأول: في الأواني المتخذة من جلود الميتة.

المبحث الثاني: في الآنية المتخذة من عظام الميتة وقرنها وحافرها.
চতুর্থ পরিচ্ছেদ: উত্তপ্ত পানি সম্পর্কে।

প্রথম আলোচনা: অপবিত্রতা দ্বারা উত্তপ্ত পানি।

দ্বিতীয় আলোচনা: রৌদ্রতপ্ত পানি।

নবম অধ্যায়: অপবিত্র পানি পবিত্রকরণ সম্পর্কে।

প্রথম আলোচনা: পানির অপবিত্রতা হুকমি অপবিত্রতা হওয়া।

দ্বিতীয় আলোচনা: অপবিত্র পানি পবিত্র করার পদ্ধতি সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মতভেদ।

দশম অধ্যায়: পাত্র সম্পর্কে।

ভূমিকা।

প্রথম পরিচ্ছেদ: সোনা ও রুপা ছাড়া অন্যান্য মূল্যবান পাত্র সম্পর্কে।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: সোনা ও রুপার পাত্র সম্পর্কে।

প্রথম আলোচনা: সোনা ও রুপার পাত্রে পানাহারের বিধান সম্পর্কে।

দ্বিতীয় আলোচনা: পানাহার ছাড়া অন্যান্য প্রয়োজনে সোনা ও রুপার পাত্র ব্যবহারের বিধান সম্পর্কে।

তৃতীয় আলোচনা: সোনা ও রুপার পাত্র ব্যবহার করে পবিত্রতা অর্জন সম্পর্কে।

চতুর্থ আলোচনা: সোনা ও রুপার পাত্র সংগ্রহে রাখার বিধান সম্পর্কে।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ: সোনা ও রুপার তালিযুক্ত পাত্র সম্পর্কে।

প্রথম আলোচনা: সোনা দিয়ে পাত্রে তালি লাগানো সম্পর্কে।

প্রথম শাখা: তালির সংজ্ঞা প্রসঙ্গে।

দ্বিতীয় শাখা: সোনা দিয়ে পাত্রে তালি লাগানোর বিধান সম্পর্কে।

দ্বিতীয় আলোচনা: রুপার তালি লাগানো সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মতভেদ।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ: কাফেরদের ব্যবহৃত পাত্র সম্পর্কে।

পঞ্চম পরিচ্ছেদ: মৃত প্রাণীর চামড়া দিয়ে তৈরি পাত্র সম্পর্কে।

প্রথম আলোচনা: মৃত প্রাণীর চামড়া থেকে তৈরিকৃত পাত্র।

দ্বিতীয় আলোচনা: মৃত প্রাণীর হাড়, শিং ও খুর থেকে তৈরিকৃত পাত্র সম্পর্কে।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১৬)
المبحث الثالث: في الآنية المتخذة من شعر الميتة، وصوفها ووبرها.

هذه خريطة البحث في كتاب المياه سائلًا المولى سبحانه وتعالى أن يجعل العمل خالصًا لوجهه، وأن يتقبله مني بقبول حسن، وأن ينفع به، وأنه يجعله من العمل الصالح الذي لا ينقطع، إنه ولي ذلك والقادر عليه.

* * *
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: মৃত পশুর চুল, পশম এবং লোম দ্বারা প্রস্তুতকৃত পাত্রসমূহ প্রসঙ্গে।

এটি পানি সম্পর্কিত অধ্যায়ের গবেষণার রূপরেখা; আমি মহান রবের নিকট প্রার্থনা করছি যেন তিনি এই কাজটিকে একমাত্র তাঁর চেহারার জন্য নিবেদিত করেন এবং আমার পক্ষ থেকে একে উত্তমভাবে কবুল করেন। তিনি যেন এর দ্বারা সকলকে উপকৃত করেন এবং একে এমন নেক আমল হিসেবে সাব্যস্ত করেন যা কখনো বন্ধ হবে না; নিশ্চয়ই তিনি এর অভিভাবক এবং তিনি এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।

* * *
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌تمهيد

‌‌المبحث الأول تعريف الطهارة

تعريف الطهارة اصطلاحًا(1):

--------------------------------------------

(1) أما تعريف الطهارة لغةً، فسوف أذكر من التعريفات اللغوية ما يحتاج إليها في الفقه، وما يعين على ضبط الشكل، وأما بقي المعاني اللغوية فيجدها القارئ في كتب اللغة، وليس هذا من مظان بحثها طلبًا للاختصار.

الفعل: (طهر) فعل ماض على وزن (فَعَل وفَعُل) بفتح العين وضمها من بابي قتل وقرب. والمصدر: طَهَارة. والاسم: الطُّهر بضم الطاء: وهو النقاء من الدنس والنجس.

قال أهل اللغة: الطُهور بالضم التطهر (الفعل)، وبالفتح اسم ما يتطهر به من الماء أو الصعيد، قال تعالى: (وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا) [الفرقان: 48] وقال صلى الله عليه وسلم: التراب طَهور المسلم. ومثله: الوَضُوء اسم للماء والوُضُوء الفعل. والسَحُور اسم لما يتسحر به من طعام وشراب، والسُحُور الفعل. ومثله السَّعوط. قال تعالى: (وَسَقَاهُمْ رَبُّهُمْ شَرَاباً طَهُوراً) [الإنسان: 21]. اسم للماء وقال النبي صلى الله عليه وسلم: لا يقبل الله صلاة امرئ بغير طُهور. اسم للفعل.

قال الأزهري: الطَهور في اللغة: هو الطاهر المطهر؛ لأنه لا يكون طَهُورًا إلا وهو يتطهر به، كالوضوء: لما يتوضأ به، والفَطور لما يفطر به، وسئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ماء البحر، فقال: هو الطَهور ماؤه، الحل ميتته: أي الطاهر المطهر.

وقال سيبويه: الطَهور بالفتح يقع على الماء والمصدر معًا.

وامرأة: طاهر: أي من الحيض، وإذا قيل: طاهرة أي من الأدناس، كما يقال: امرأة حامل وحائض فيما لا يشاركها فيه الرجل فلا يحتاج إلى تاء التأنيث، بخلاف حاملة أي لمتاعها فرقًا بين المذكر والمؤنث. انظر لسان العرب (4/ 504، 505)، تاج العروس (12/ 446)، القاموس المحيط (ص: 554)، العين (4/ 18، 19)، مختار الصحاح (2/ 379)، المصباح المنير (ص: 169)، وانظر أنيس الفقهاء (ص: 46)، طلبة الطلبة (ص: 24).
উপক্রমণিকা

প্রথম পরিচ্ছেদ: পবিত্রতার সংজ্ঞা

পরিভাষায় পবিত্রতার সংজ্ঞা(১):

--------------------------------------------

(১) পবিত্রতার শাব্দিক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে, আমি শাব্দিক সংজ্ঞাগুলোর মধ্যে কেবল সেগুলোই উল্লেখ করব যা ফিকহ শাস্ত্রে প্রয়োজন এবং যা শব্দের সঠিক উচ্চারণ ও রূপ নির্ধারণে সহায়ক। আর শাব্দিক অর্থগুলোর বাকি অংশ পাঠক অভিধানের গ্রন্থগুলোতে পাবেন। সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে এখানে সেগুলো বিস্তারিত আলোচনার স্থান নয়।

ক্রিয়া: (ত্বহারা) এটি 'ফা'আলা' এবং 'ফা'উলা' (আইন বর্ণে ফাতহাহ ও দম্মাহ যোগে) ওজনে একটি অতীতকালীন ক্রিয়া, যা 'কাতলা' এবং 'কুরবা' অধ্যায় থেকে আগত। এর মাসদার (ক্রিয়ামূল) হলো 'ত্বহারাহ' (পবিত্রতা)। আর ইসম (বিশেষ্য) হলো 'ত্বহর' (ত্ব-বর্ণে দম্মাহ যোগে): যার অর্থ ময়লা ও অপবিত্রতা থেকে পরিচ্ছন্ন হওয়া।

ভাষাবিদগণ বলেছেন: 'ত্বুহুর' (ত্ব-বর্ণে দম্মাহ যোগে) অর্থ পবিত্রতা অর্জন করা (ক্রিয়া), আর 'ত্বহুর' (ত্ব-বর্ণে ফাতহাহ যোগে) হলো সেই বস্তুর নাম যার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা হয়, যেমন পানি বা মাটি। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং আমি আকাশ হতে পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি।" [আল-ফুরকান: ৪৮]। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "মাটি হলো মুসলিমের জন্য পবিত্রকারী।" অনুরূপভাবে: 'ওয়াদূ' হলো পানির নাম এবং 'উদূ' হলো ওযু করার কাজ। 'সাহুর' হলো সেই পানাহার যা সাহরি হিসেবে গ্রহণ করা হয় এবং 'সুহুর' হলো সাহরি খাওয়ার কাজ। অনুরূপভাবে 'সাউত' (নস্যি)। আল্লাহ তাআলা বলেন: "এবং তাদের পালনকর্তা তাদেরকে পবিত্র পানীয় পান করাবেন।" [আল-ইনসান: ২১]। এখানে এটি পানির নাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আল্লাহ তাআলা পবিত্রতা (উযূ) ব্যতীত কোনো ব্যক্তির সালাত কবুল করেন না।" এখানে এটি ক্রিয়ার নাম।

আযহারী বলেছেন: অভিধানে 'ত্বহুর' অর্থ হলো যা নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী; কারণ কোনো কিছু 'ত্বহুর' হয় না যতক্ষণ না তার দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা যায়। যেমন 'ওয়াদূ' যা দ্বারা ওযু করা হয়, 'ফাত্বুর' যা দ্বারা ইফতার করা হয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সমুদ্রের পানি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন: "এর পানি পবিত্রকারী এবং এর মৃত প্রাণী হালাল।" অর্থাৎ: নিজে পবিত্র ও অন্যকে পবিত্রকারী।

সিবওয়াইহি বলেছেন: 'ত্বহুর' (ত্ব-বর্ণে ফাতহাহ যোগে) একইসাথে পানি এবং মাসদার (ক্রিয়ামূল) উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়।

আর মহিলার ক্ষেত্রে 'ত্বাহির' অর্থ: ঋতুস্রাব থেকে মুক্ত হওয়া। আর যখন 'ত্বাহিরাহ' বলা হয়, তার অর্থ হলো চারিত্রিক কলুষতা থেকে মুক্ত হওয়া। যেমন 'হামিল' (গর্ভবতী) এবং 'হাইদ' (ঋতুমতী) বলা হয় সেই গুণাবলীর ক্ষেত্রে যাতে পুরুষ অংশীদার নয়, তাই সেখানে স্ত্রীলিঙ্গের 'তা' যুক্ত করার প্রয়োজন হয় না। পক্ষান্তরে 'হামিলাহ' বলা হয় বোঝা বহনকারিণীর ক্ষেত্রে, যা পুরুষ ও মহিলার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য ব্যবহৃত হয়। দেখুন: লিসানুল আরব (৪/ ৫০৪, ৫০৫), তাজুল আরুস (১২/ ৪৪৬), আল-কামুসুল মুহিত (পৃষ্ঠা: ৫৫৪), আল-আইন (৪/ ১৮, ১৯), মুখতারুস সিহাহ (২/ ৩৭৯), আল-মিসবাহুল মুনির (পৃষ্ঠা: ১৬৯), এবং দেখুন: আনিসুল ফুকাহা (পৃষ্ঠা: ৪৬), তালাবাতুত তালাবাহ (পৃষ্ঠা: ২৪)।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১৮)
• تعريف الحنفية:

قال في الجوهرة النيرة: الطهارة: عبارة عن رفع حدث وإزالة نجس، حتى يسمى الدباغ والتيمم طهارة(1).

فشمل التعريف طهارتين: طهارة الحدث بالماء والتراب، كالوضوء والتيمم.

وطهارة الخبث وذلك بإزالة النجاسة بمطهر، كالاستنجاء والدباغ.

• تعريف المالكية:

جاء في مواهب الجليل: تطلق الطهارة في الشرع على معنيين:

أحدهما: الصفة الحكمية القائمة بالأعيان التي توجب لموصوفها استباحة الصلاة به أو فيه أوله، كما يقال: هذا الشيء طاهر.

والمعنى الثاني: إطلاق الطهارة على التطهير، وهو رفع الحدث وإزالة النجاسة، كما في قولهم: الطهارة واجبة.

وفي كلام القرافي: أن المعنى الأول حقيقة، والثاني مجاز(2).

واعترض ابن عرفة على من عرف الطهارة بالمعنى الثاني فقال: وقول المازري وغيره: الطهارة إزالة النجس، أو رفع مانع الصلاة بالماء أو في معناه، إنما يتناول التطهير، والطهارة غير التطهير لثبوتها فيما لم يتنجس، وفي المطهر بعد الإزالة(3).

والصحيح أن الطهارة كما تكون صفة للأعيان الطاهرة، تكون نتيجة للتطهير أيضًا. قال تعالى: (وَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً طَهُورًا) [الفرقان: 48]. أي طاهر. وقال تعالى: (وَيُنَزِّلُ عَلَيْكُم مِّن السَّمَاءِ مَاءً لِّيُطَهِّرَكُم بِهِ) [الأنفال: 11]. فالماء كما يوصف بأنه طهور في ذاته كذلك يحصل منه الطهارة بالتطهير.

--------------------------------------------

(1) الجوهرة النيرة (1/ 3)، وانظر البحر الرائق (1/ 8)، والعناية شرح الهداية (1/ 12).

(2) مواهب الجليل (1/ 43).

(3) مواهب الجليل (1/ 43، 44)، وانظر شرح حدود ابن عرفة (ص: 12)، الخرشي (1/ 60، 61)، الفواكه الدواني (1/ 122).
• হানাফী মাযহাবের সংজ্ঞা:

আল-জাওহারাতুন নাইয়িরাহ গ্রন্থে বলা হয়েছে: পবিত্রতা হলো হাদাছ (অশুচিতা) দূর করা এবং নাজাসাত (অপবিত্রতা) অপসারণ করার একটি অভিব্যক্তি, এমনকি চামড়া পাকা করা এবং তায়াম্মুমকেও পবিত্রতা বলা হয়(১)।

এই সংজ্ঞাটি দুই প্রকার পবিত্রতাকে অন্তর্ভুক্ত করে: পানি এবং মাটি দ্বারা হাদাছ থেকে পবিত্রতা লাভ, যেমন অযু এবং তায়াম্মুম।

এবং খাবাছ (দৃশ্যমান অপবিত্রতা) থেকে পবিত্রতা লাভ, আর তা হলো কোনো পবিত্রকারক বস্তু দ্বারা নাজাসাত অপসারণ করা, যেমন ইসতিনজা এবং চামড়া পাকা করা।

• মালিকী মাযহাবের সংজ্ঞা:

মাওয়াহিবুল জলীল গ্রন্থে এসেছে: শরীআতের পরিভাষায় পবিত্রতা শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:

প্রথমটি: বস্তুসমূহের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিধানিক বৈশিষ্ট্য, যা সেই গুণে গুণান্বিত ব্যক্তির জন্য উক্ত বস্তুর মাধ্যমে, তাতে অথবা তার জন্য নামায বৈধ হওয়াকে অপরিহার্য করে, যেমন বলা হয়: এই বস্তুটি পবিত্র।

দ্বিতীয় অর্থ: পবিত্রকরণ (তাতহীর) অর্থে পবিত্রতা শব্দটির ব্যবহার, আর তা হলো হাদাছ দূর করা এবং নাজাসাত অপসারণ করা, যেমন তাদের বক্তব্য: পবিত্রতা ওয়াজিব।

আল-কারাফীর বক্তব্যে রয়েছে যে: প্রথম অর্থটি প্রকৃত এবং দ্বিতীয়টি রূপক(২)।

ইবনে আরাফাহ সেই ব্যক্তির ওপর আপত্তি করেছেন যিনি পবিত্রতাকে দ্বিতীয় অর্থে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তিনি বলেন: আল-মাযেরী এবং অন্যদের উক্তি: "পবিত্রতা হলো নাজাসাত দূর করা অথবা পানি বা সমজাতীয় উপাদানের মাধ্যমে নামাযের প্রতিবন্ধকতা দূর করা", এটি কেবল পবিত্রকরণ (তাতহীর) প্রক্রিয়াকে বুঝায়। অথচ পবিত্রতা (তাহারাহ) পবিত্রকরণ (তাতহীর) থেকে ভিন্ন; কারণ যা অপবিত্র হয়নি এবং অপবিত্রতা অপসারণের পর যা পবিত্রকারক হয়, তাতেও পবিত্রতা সাব্যস্ত থাকে(৩)।

সঠিক কথা হলো, পবিত্রতা যেমন পবিত্র বস্তুসমূহের একটি বৈশিষ্ট্য হয়, তেমনি এটি পবিত্রকরণের ফলাফল হিসেবেও অর্জিত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন: (এবং আমি আকাশ থেকে অতিশয় পবিত্র পানি বর্ষণ করেছি) [আল-ফুরকান: ৪৮]। অর্থাৎ যা নিজে পবিত্র। আল্লাহ তাআলা আরও বলেন: (এবং তিনি তোমাদের ওপর আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করেন যাতে এর মাধ্যমে তোমাদের পবিত্র করেন) [আল-আনফাল: ১১]। সুতরাং পানি যেমন নিজ সত্তায় পবিত্র হওয়ার গুণে গুণান্বিত, তেমনি এর মাধ্যমে পবিত্রকরণের দ্বারা পবিত্রতাও অর্জিত হয়।

--------------------------------------------

(১) আল-জাওহারাতুন নাইয়িরাহ (১/ ৩), আরও দেখুন আল-বাহরুর রায়েক (১/ ৮), এবং আল-ইনায়াহ শারহুল হিদায়াহ (১/ ১২)।

(২) মাওয়াহিবুল জলীল (১/ ৪৩)।

(৩) মাওয়াহিবুল জলীল (১/ ৪৩, ৪৪), আরও দেখুন শারহু হুদুদি ইবনি আরাফাহ (পৃষ্ঠা: ১২), আল-খারশী (১/ ৬০, ৬১), আল-ফাওয়াকিহুদ দাওয়ানী (১/ ১২২)।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ১৯)
• تعريف الشافعية والحنابلة:

قالوا: الطهارة: هي ارتفاع الحدث، وما في معناه، وزوال الخبث(1).

وقد اشتمل التعريف على ثلاثة أقسام، كل منها يطلق عليه طهارة شرعية.

الأول: رفع الحدث.

الثاني: إزالة النجاسة.

الثالث: ما في معناهما.

فأما رفع الحدث: فلا شك أن ارتفاع الحدث يسمى طهارة شرعية، سواء كان الحدث أصغر أو أكبر، فإذا توضأ الإنسان أو اغتسل من الحدث فقد تطهر، قال تعالى، بعد أن ذكر طهارة الوضوء من الحدث الأصغر والأكبر، في طهارة الماء والتيمم (مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ) [المائدة: 6].

وفي مسلم من حديث ابن عمر: لا تقبل صلاة بغير طهور(2).

والذي لم يتطهر يقال له محدث بنص السنة.

(1) فقد جاء في الصحيحين من طريق عبد الرزاق، عن معمر، عن همام،

عن أبي هريرة، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: لا يقبل الله صلاة أحدكم إذا أحدث حتى يتوضأ(3).

الثاني من أقسام الطهارة: إزالة النجاسة.

فإذا أزيلت النجاسة عن المحل فقد حصلت له طهارة شرعية من هذه النجاسة.

--------------------------------------------

(1) انظر في كتب الشافعية: المجموع (1/ 123)، أسنى المطالب (1/ 4)، شرح البهجة (1/ 13)، حاشيتا قليوبي وعميرة (1/ 19)، وانظر في كتب الحنابلة: كشاف القناع (1/ 23)، المطلع على أبواب المقنع (ص: 5).

(2) مسلم (224).

(3) البخاري (135)، ومسلم (2/ 225).
• শাফেঈ ও হাম্বলিগণের সংজ্ঞা:

তারা বলেছেন: পবিত্রতা (তাহারাত) হলো—হাদাস (অপবিত্রতা) দূর হওয়া, এবং যা এর সমপর্যায়ের, আর নাপাকি (খাবাস) অপসারিত হওয়া(১)।

এই সংজ্ঞাটি তিনটি বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যার প্রত্যেকটিকেই শরয়ি পবিত্রতা বলা হয়।

প্রথম: হাদাস দূর করা।

দ্বিতীয়: নাপাকি অপসারিত করা।

তৃতীয়: যা এই দুইটির সমপর্যায়ের।

হাদাস দূর করার বিষয়টি হলো: এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, হাদাস দূর হওয়াকে শরয়ি পবিত্রতা বলা হয়, চাই সেই হাদাস ছোট হোক বা বড়। সুতরাং যখন কোনো মানুষ ওজু করে বা বড় নাপাকি থেকে গোসল করে, তখন সে পবিত্রতা অর্জন করল। মহান আল্লাহ পানি দিয়ে পবিত্রতা অর্জন এবং তায়াম্মুমের ক্ষেত্রে ছোট ও বড় নাপাকি থেকে ওজুর পবিত্রতার কথা উল্লেখ করার পর বলেছেন, (আল্লাহ তোমাদের ওপর কোনো সংকীর্ণতা তৈরি করতে চান না, বরং তিনি তোমাদের পবিত্র করতে চান) [আল-মায়িদাহ: ৬]।

মুসলিম শরিফে ইবনে উমরের বর্ণিত হাদিসে এসেছে: পবিত্রতা ছাড়া কোনো সালাত কবুল করা হয় না(২)।

আর সুন্নাহর ভাষ্য অনুযায়ী যে ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জন করেনি, তাকে ‘মুহদিস’ (অপবিত্র) বলা হয়।

(১) সহিহাইন (বুখারি ও মুসলিম)-এ আবদুর রাজ্জাক থেকে, তিনি মা’মার থেকে, তিনি হাম্মাম থেকে,

আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কেউ যখন অপবিত্র হয়ে পড়ে, তখন ওজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার সালাত কবুল করেন না(৩)।

পবিত্রতার দ্বিতীয় প্রকার: নাপাকি অপসারিত করা।

যখন কোনো স্থান থেকে নাপাকি অপসারিত হয়, তখন সেই স্থানটি উক্ত নাপাকি থেকে শরয়ি পবিত্রতা লাভ করে।

--------------------------------------------

(১) দেখুন শাফেঈ মাজহাবের কিতাবসমূহ: আল-মাজমু (১/ ১২৩), আসনী আল-মাতালিব (১/ ৪), শারহুল বাহজাহ (১/ ১৩), হাশিয়াতা কলিউবি ওয়া উমাইরাহ (১/ ১৯); এবং হাম্বলি মাজহাবের কিতাবসমূহ দেখুন: কাশশাফ আল-কিনা (১/ ২৩), আল-মুতলি আলা আবওয়াবিল মুকনি (পৃ: ৫)।

(২) মুসলিম (২২৪)।

(৩) বুখারি (১৩৫), এবং মুসলিম (২/ ২২৫)।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২০)
(2) روى مسلم في صحيحه من طريق محمد بن سيرين، وهمام بن منبه كلاهما

عن أبي هريرة. قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: طهور إناء أحدكم إذا ولغ فيه الكلب أن يغسله سبع مرات أولاهن بالتراب(1).

فالطهارة التي ذكرها رسول الله صلى الله عليه وسلم لهذا الإناء ليست من الحدث، ولكنها طهارة من الخبث، وهي النجاسة، ومع ذلك اعتبرها الشارع طهارة شرعية، بل لو قيل: إن الطهارة من النجاسة هي الأصل في إطلاق الطهارة لم يكن القول بعيدًا من حيث اللغة؛ لأن الطاهر عكس النجس، بخلاف طهارة الحدث فإنها ليست عن نجاسة، وقد لا يزال بها وساخة.

وبهذه الأدلة تبين لنا أن رفع الحدث طهارة، وزوال النجاسة طهارة أيضًا. وقد جمع الله سبحانه وتعالى طهارة الحدث، وطهارة النجاسة في آية واحدة في سورة البقرة على القول الصحيح. قال تعالى: (وَلا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّى يَطْهُرْنَ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ) [البقرة: 122].

فقوله سبحانه: (حَتَّى يَطْهُرْنَ). أي من النجاسة، التي هي انقطاع دم الحيض. وقوله: (فَإِذَا تَطَهَّرْنَ): أي من الحدث الأكبر بالغسل بعد الطهارة من الحيض.

النوع الثالث: هناك طهارة لا يرتفع بها الحدث، ولا تزال بها النجاسة، وهي مع ذلك طهارة شرعية. سماها الفقهاء: (في معنى ارتفاع الحدث)، وفي معنى إزالة النجاسة.

فالطهارة التي في معنى ارتفاع الحدث كتجديد الوضوء، فهو طهارة شرعية، ومع ذلك لم يرتفع بها الحدث؛ لأن الحدث قد ارتفع، ومثله الأغسال المستحبة شرعًا، ومثله الغسلة الثانية والثالثة في الوضوء، ومثله تغسيل الميت.

والطهارة التي في معنى إزالة النجاسة طهارة المستحاضة، فإنه يحكم لها بالطهارة

--------------------------------------------

(1) مسلم (91، 29 - 279).
(২) ইমাম মুসলিম তাঁর সহীহ গ্রন্থে মুহাম্মদ ইবনে সীরীন এবং হাম্মাম ইবনে মুনাব্বিহ—উভয়ের সূত্রে আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: তোমাদের কারো পাত্রে কুকুর মুখ দিলে সেটিকে পবিত্র করার উপায় হলো, তা সাতবার ধৌত করা, যার প্রথমবার হবে মাটি দিয়ে(১)।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এই পাত্রের জন্য যে পবিত্রতার কথা উল্লেখ করেছেন, তা 'হাদাস' (অপ্রতীয়মান অপবিত্রতা) থেকে নয়, বরং তা 'খাবাস' তথা নাপাকি থেকে পবিত্রতা। তা সত্ত্বেও শরীয়ত প্রণেতা একে শরয়ী পবিত্রতা হিসেবে গণ্য করেছেন। বরং যদি বলা হয় যে, পবিত্রতা শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়াটিই হলো মূল ভিত্তি, তবে ভাষাগত দিক থেকে এই কথাটি অযৌক্তিক হবে না; কারণ পবিত্র হলো অপবিত্রের বিপরীত। পক্ষান্তরে 'হাদাস' থেকে পবিত্রতা কোনো চাক্ষুষ নাপাকির কারণে নয়, বরং কখনও এর মাধ্যমে চাক্ষুষ ময়লা দূর নাও হতে পারে।

এই প্রমাণাদি থেকে আমাদের কাছে স্পষ্ট হয় যে, হাদাস দূর করা পবিত্রতা এবং নাপাকি দূর করাও পবিত্রতা। আর আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা সহীহ মত অনুযায়ী সূরা বাকারার একটি আয়াতে হাদাস ও নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়াকে একত্রে উল্লেখ করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন: (এবং তোমরা তাদের নিকটবর্তী হয়ো না যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়। অতঃপর যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্র হবে, তখন তোমরা তাদের নিকট আসো যেভাবে আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিয়েছেন) [আল-বাকারা: ২২২]।

সুতরাং মহান আল্লাহর বাণী: (যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়) এর অর্থ হলো নাপাকি থেকে পবিত্র হওয়া, যা হলো ঋতুস্রাব বন্ধ হওয়া। আর তাঁর বাণী: (অতঃপর যখন তারা উত্তমরূপে পবিত্র হবে) এর অর্থ হলো ঋতুস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার পর গোসলের মাধ্যমে বড় হাদাস থেকে পবিত্র হওয়া।

তৃতীয় প্রকার: এমন কিছু পবিত্রতা আছে যার মাধ্যমে হাদাস দূর হয় না এবং নাপাকিও দূরীভূত হয় না, তা সত্ত্বেও তা শরয়ী পবিত্রতা। ফকীহগণ একে নামকরণ করেছেন: 'হাদাস দূর হওয়ার অর্থে' এবং 'নাপাকি দূর করার অর্থে' পবিত্রতা।

'হাদাস দূর হওয়ার অর্থে' যে পবিত্রতা, তার উদাহরণ হলো অযুর নবায়ন। এটি একটি শরয়ী পবিত্রতা, অথচ এর মাধ্যমে নতুন করে কোনো হাদাস দূর হয় না; কারণ হাদাস আগেই দূর হয়ে গেছে। এর অনুরূপ হলো শরীয়তসম্মত মুস্তাহাব গোসলসমূহ, অযুর দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার ধৌত করা এবং মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া।

আর 'নাপাকি দূর করার অর্থে' যে পবিত্রতা, তা হলো ইস্তিহাযাগ্রস্ত নারীর পবিত্রতা, কেননা তাকে পবিত্র হিসেবে গণ্য করা হয়।

--------------------------------------------

(১) মুসলিম (৯১, ২৯ - ২৭৯)।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২১)
وإن كان الحدث مستمرًا، ومثله من به سلس بول، ومن قال: إن هذه استباحة وليست طهارة فالخلاف معه قريب من اللفظي(1)؛ لأننا إذا أبحنا له فعل الصلاة، فقد حكمنا له بالطهارة. وقد قال الرسول صلى الله عليه وسلم: لا يقبل الله صلاة بغير طهور.

وقد سبق تخريجه(2). فلما أذن له شرعًا بالصلاة علم أنها هذه طهارته.

* * *

--------------------------------------------

(1) وقد يقال: إنه خلاف معنوي، وله ثمرة، حيث إنهم يوجبون على المتيمم التيمم لكل صلاة، ولو لم يحدث، والمخالف لهم يبيح له الصلاة بتيممه ما لم يحدث، أو يمكنه استعمال الماء.

(2) انظر تخريجه في صفحة (19).
যদি অশুচিতা (হাদাস) নিরবচ্ছিন্ন হয়, আর এর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তি যার প্রস্রাব ঝরা রোগ রয়েছে। আর যারা বলেন যে, এটি (তায়াম্মুম) কেবল সালাতকে বৈধ করে মাত্র, কিন্তু এটি পবিত্রতা নয়—তাদের সাথে এই মতবিরোধটি প্রায় শাব্দিক(১); কারণ যখন আমরা তাকে সালাত আদায়ের অনুমতি প্রদান করি, তখন আমরা তাকে পবিত্র হিসেবেই গণ্য করি। আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ পবিত্রতা ব্যতীত সালাত কবুল করেন না।

এর তাখরিজ (তথ্যসূত্র) ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে(২)। সুতরাং যখন তাকে শরীয়তগতভাবে সালাত আদায়ের অনুমতি দেওয়া হলো, তখন জানা গেল যে এটিই তার পবিত্রতা।

* * *

--------------------------------------------

(১) আবার বলা যেতে পারে যে, এটি একটি অর্থগত মতবিরোধ এবং এর ব্যবহারিক ফলাফল রয়েছে; যেহেতু তারা তায়াম্মুমকারীর জন্য প্রত্যেক সালাতের জন্য নতুন করে তায়াম্মুম করা ওয়াজিব করেন, যদিও সে পুনরায় অশুচি না হয়। আর তাদের বিপরীত মতাবলম্বীরা তার তায়াম্মুমের মাধ্যমে সালাত আদায় করাকে বৈধ বলেন যতক্ষণ না সে অশুচি হয় অথবা পানি ব্যবহার করতে সক্ষম হয়।

(২) এর তাখরিজ দেখুন ১৯ নং পৃষ্ঠায়।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২২)
‌‌المبحث الثاني تعريف النجاسة

تعريف النجاسة اصطلاحا(1):

النجاسة: ضد الطهارة، وهناك تعريفات كثيرة للنجاسة نقتصر على بعضها:

• التعريف الأول:

قيل: النجاسة عين مستقذرة شرعًا(2).

فقوله: (عين) أي ذات وجرم محسوس، من لون أو طعم أو ريح، وخرج بهذا القيد الوصف؛ فإنه عرض من المعاني.

--------------------------------------------

(1) نجس فيها لغتان: الأولى: نَجِس بكسر الجيم على وزن فَعِل مضارعه على وزن يفْعَل كعلم يعلم وطرب يطرب.

والثانية: نَجُسَ على وزن فَعُل مضارعه على وزن يفْعُل من باب شرف يشرف. قال في تاج العروس (16/ 535): نَجِس ثوبه كسَمِع وكرُم. وانظر المعجم الوسيط الصادر عن مجمع اللغة العربية مادة (نجس) (ص: 940)، والمطلع على أبواب المقنع (ص: 18)، واقتصر معجم الصحاح (ص: 1023) على (فَعِل).

وزاد صاحب المصباح المنير (ص: 306) (نَجَسَ) ينجُس من باب قتل. فتكون هذه لغة ثالثة.

وإذا قُلْتَ: رَجُلٌ نَجِسٌ - بكسر الجيم - ثَنَّيْتَ وجَمَعْتَ، وإذا قُلْتَ: نَجَسٌ بفَتحِها لم تُثَنِّ ولم تَجْمَع وقُلْتَ: رَجُلٌ نَجَسٌ ورَجُلانِ نَجَسٌ ورِجالٌ نَجَسٌ وامرأةٌ نَجَسٌ ونِساءٌ نَجَسٌ. قال تعالى: (إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ) [التوبة: 28]. العين (6/ 55)، مختار الصحاح (ص: 28)، المصباح المنير (ص: 306)، العباب الزاخر (1/ 202).

والنجاسة حسية وهي الأصل، ومعنوية، ومنه: (إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ) [التوبة: 28]. كالطهارة حسية كالاستنجاء، ومعنوية: كقوله: صلى الله عليه وسلم: إن المؤمن لا ينجس. ولا يقصد النجاسة الحسية فإن المؤمن كغيره تلحقه النجاسة الحسية.

(2) حاشية ابن عابدين (1/ 85).
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: নাপাকির সংজ্ঞা

পারিভাষিক অর্থে নাপাকির সংজ্ঞা(১):

নাপাকি: এটি পবিত্রতার বিপরীত। নাপাকির অনেকগুলো সংজ্ঞা রয়েছে, আমরা কেবল কয়েকটির উল্লেখ করব:

• প্রথম সংজ্ঞা:

বলা হয়েছে: নাপাকি হলো শরিয়তের দৃষ্টিতে একটি অপবিত্র বস্তু(২)।

এখানে (বস্তু) বলতে এমন সত্তা ও দৃশ্যমান অস্তিত্বকে বোঝানো হয়েছে যা বর্ণ, স্বাদ অথবা ঘ্রাণযুক্ত; এবং এই শর্তের মাধ্যমে গুণ বা বৈশিষ্ট্য বাদ পড়ে গেছে, কারণ তা একটি বিমূর্ত অবস্থা মাত্র।

--------------------------------------------

(১) ‘নাজাস’ শব্দটির ক্ষেত্রে দুটি উচ্চারণরীতি রয়েছে: প্রথমটি হলো জীম বর্ণে কাসরা যোগে ‘নাজিসা’ (ফায়িলা-র ওজনে), যার বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন রূপ ‘ইয়াফআলু’ এর ওজনে হয়—যেমন ‘আলিমা-ইয়ালামু’ এবং ‘তারিবা-ইয়াতরাবু’।

দ্বিতীয়টি হলো ‘নাজুসা’ (ফাউলা-র ওজনে), যার বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন রূপ ‘ইয়াফউলু’ এর ওজনে হয়—যেমন ‘শারাফা-ইয়াশরাফু’। ‘তাজুল আরুস’ গ্রন্থে (১৬/৫৩৫) বলা হয়েছে: ‘নাজিসা সাওবুহু’ (তার কাপড়টি অপবিত্র হয়েছে) যা ‘সামিয়া’ এবং ‘কারুমা’ এর ওজনে ব্যবহৃত হয়। দেখুন: আরবি ভাষা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত ‘আল-মুজামুল ওয়াসিত’, (না-জা-সা) অনুচ্ছেদ (পৃ. ৯৪০); ‘আল-মুতলি আলা আবওয়াবিল মুকনি’ (পৃ. ১৮); এবং ‘আস-সিহাহ’ অভিধানে (পৃ. ১০২৩) কেবল ‘ফায়িলা’ (নাজিসা) রূপটি উল্লেখ করা হয়েছে।

‘আল-মিসবাহুল মুনির’ এর লেখক (পৃ. ৩০৬) ‘নাজাসা-ইয়ানজুসু’ (কাতলা-ইয়াকতুলু-র ওজনে) একটি তৃতীয় রূপের কথা উল্লেখ করেছেন।

আর আপনি যখন বলবেন: ‘রজুলুন নাজিসুন’ (জীম বর্ণে কাসরা যোগে), তখন দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রে এর রূপ পরিবর্তন করবেন। কিন্তু যদি জীম বর্ণে ফাতহা যোগে ‘নাজাসুন’ বলেন, তবে দ্বিবচন বা বহুবচনের ক্ষেত্রে তা পরিবর্তন করবেন না; বরং আপনি বলবেন: একজন ব্যক্তি ‘নাজাসুন’, দুইজন ব্যক্তি ‘নাজাসুন’, অনেক ব্যক্তি ‘নাজাসুন’, একজন নারী ‘নাজাসুন’ এবং অনেক নারী ‘নাজাসুন’। আল্লাহ তাআলা বলেন: (নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র) [আত-তাওবাহ: ২৮]। আল-আইন (৬/৫৫), মুখতারুস সিহাহ (পৃ. ২৮), আল-মিসবাহুল মুনির (পৃ. ৩০৬), আল-উবাবুজ জাখির (১/২০২)।

নাপাকি দৃশ্যমান হতে পারে যা মূলগত প্রকার, আবার তা ভাবগতও হতে পারে। যার উদাহরণ হলো: (নিশ্চয়ই মুশরিকরা অপবিত্র) [আত-তাওবাহ: ২৮]। যেমন পবিত্রতাও দৃশ্যমান হয়—যেমন ইস্তিঞ্জা করা; আবার ভাবগতও হয়, যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী: “নিশ্চয়ই মুমিন নাপাক হয় না।” এখানে দৃশ্যমান নাপাকি উদ্দেশ্য নয়, কারণ মুমিন ব্যক্তিও অন্যদের মতোই দৃশ্যমান নাপাকির সংস্পর্শে আসতে পারে।

(২) হাশিয়া ইবনে আবিদিন (১/৮৫)।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২৩)
وقوله: (مستقذرة شرعًا) خرج به المستقذر بالطبع، ولم يأت الشرع بتنجيسه، كالمخاط والبصاق.

• التعريف الثاني:

النجاسة: كل عين حرم تناولها على الإطلاق، مع إمكان التناول لا لحرمتها(1).

قال: وقولنا: (على الإطلاق) احتراز من السموم التي هي نبات؛ فإنها لا يحرم تناولها على الإطلاق، بل يباح القليل منها، وإنما يحرم الكثير الذي فيه ضرر.

قال: وقولنا: (مع إمكان التناول) احتراز من الأشياء الصلبة؛ لأنه لا يمكن تناولها.

وقولنا: (لا لحرمته) احتراز من الآدمي.

وانتقد النووي هذا التعريف، وقال النووي: يدخل في التعريف التراب والحشيش المسكر والمخاط والمني وكلها طاهرة مع أنها محرمة. وفي المني وجه أنه يحل أكله، فينبغي أن يضم إليها لا لحرمتها أو استقذارها أو ضررها في بدن أو عقل والله أعلم(2).

وزاد بعضهم قيدًا آخر، وهو كونه في حالة الاختيار؛ لأن الضرورة لا تحريم معها(3).

• التعريف الثالث:

النجاسة: هي كل عين جامدة، يابسة أو رطبة أو مائعة، يمنع منها الشرع بلا ضرورة، لا لأذى فيها طبعًا، ولا لحق الله أو غيره شرعًا(4).

--------------------------------------------

(1) المجموع (2/ 565)، المنثور في القواعد (3/ 248)، الإنصاف (1/ 26).

(2) المجموع (2/ 565)، المنثور في القواعد (3/ 248)، الإنصاف (1/ 26).

(3) المطلع على أبواب المقنع (ص: 7)، والمنثور في القواعد (3/ 248)، أسنى المطالب (1/ 9).

(4) الإنصاف (1/ 26).
এবং তাঁর কথা: (শরীয়ত মোতাবেক ঘৃণ্য) এর মাধ্যমে যা স্বভাবত ঘৃণ্য তা বাদ পড়েছে, এবং শরীয়ত সেগুলোকে নাপাক হিসেবে নির্ধারণ করেনি, যেমন সর্দি ও থুতু।

• দ্বিতীয় সংজ্ঞা:

নাপাকি: এমন প্রতিটি বস্তু যা গ্রহণ করা নিঃশর্তভাবে হারাম, অথচ তা গ্রহণ করা সম্ভব এবং তা সম্মানিত হওয়ার কারণে হারাম নয়(১)।

তিনি বলেন: আমাদের কথা: (নিঃশর্তভাবে) এর মাধ্যমে উদ্ভিদজাত বিষসমূহকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কেননা সেগুলো গ্রহণ করা নিঃশর্তভাবে হারাম নয়, বরং তার সামান্য পরিমাণ বৈধ, কেবল সেই অধিক পরিমাণটুকু হারাম যাতে ক্ষতি রয়েছে।

তিনি বলেন: আমাদের কথা: (গ্রহণের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও) এর মাধ্যমে কঠিন বস্তুসমূহকে বাদ দেওয়া হয়েছে; কারণ সেগুলো গ্রহণ করা সম্ভব নয়।

এবং আমাদের কথা: (সম্মানিত হওয়ার কারণে নয়) এর মাধ্যমে মানুষকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

ইমাম নববী এই সংজ্ঞার সমালোচনা করেছেন এবং তিনি বলেছেন: এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় মাটি, নেশাজাতীয় ঘাস (ভাং), সর্দি এবং বীর্য; অথচ এগুলোর সবই পবিত্র হওয়া সত্ত্বেও (গ্রহণের ক্ষেত্রে) হারাম। বীর্যের ব্যাপারে একটি মত রয়েছে যে তা খাওয়া বৈধ। সুতরাং সংজ্ঞার সাথে এটি যুক্ত করা উচিত যে— তা সম্মানিত হওয়ার কারণে নয়, অথবা ঘৃণ্য হওয়ার কারণে নয়, অথবা শরীর কিংবা বিবেকের ক্ষতির কারণে নয়। আর আল্লাহই ভালো জানেন(২)।

কেউ কেউ আরেকটি শর্ত যুক্ত করেছেন, আর তা হলো 'স্বেচ্ছাধীন অবস্থায়' হওয়া; কারণ নিরুপায় অবস্থায় কোনো হারাম থাকে না(৩)।

• তৃতীয় সংজ্ঞা:

নাপাকি: এটি হলো প্রতিটি এমন জড় বস্তু, শুকনো হোক বা ভেজা কিংবা তরল, যা শরীয়ত নিরুপায় অবস্থা ব্যতীত নিষিদ্ধ করেছে; যা স্বভাবগত কষ্টের কারণে নয় এবং শরীয়ত নির্ধারিত আল্লাহর হক কিংবা অন্য কারো হকের কারণেও নয়(৪)।

--------------------------------------------

(১) আল-মাজমু (২/ ৫৬৫), আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়েদ (৩/ ২৪৮), আল-ইনসাফ (১/ ২৬)।

(২) আল-মাজমু (২/ ৫৬৫), আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়েদ (৩/ ২৪৮), আল-ইনসাফ (১/ ২৬)।

(৩) আল-মুতলি আলা আবওয়াবিল মুকনি (পৃষ্ঠা: ৭), এবং আল-মানসুর ফিল কাওয়ায়েদ (৩/ ২৪৮), আসনা আল-মাতালিব (১/ ৯)।

(৪) আল-ইনসাফ (১/ ২৬)।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২৪)
وهذا التعريف قريب من التعريف الذي قبله، والتعريف الأول أرجح؛ لأنه أسهل وأسلم من غيره، وإن كان قد يعترض عليه بأن كسب الحجام خبيث، ومع ذلك ليس بنجس لكن قد يقال: إن الخبث هنا يعني الرديء، وليس الخبث الذي هو النجاسة، والله أعلم.

* * *
আর এই সংজ্ঞাটি তার পূর্ববর্তী সংজ্ঞার নিকটবর্তী, এবং প্রথম সংজ্ঞাটিই অধিক অগ্রগণ্য; কারণ এটি অন্যগুলোর তুলনায় সহজ এবং অধিক নিরাপদ। যদিও এর ওপর এই আপত্তি তোলা হতে পারে যে, শিঙা প্রদানকারীর উপার্জন নিকৃষ্ট (খবীস), তবুও তা নাপাক নয়। তবে বলা যেতে পারে যে, এখানে ‘খুবছ’ বা নিকৃষ্টতা দ্বারা নিম্নমানের বিষয় বোঝানো হয়েছে, সেই ‘খুবছ’ নয় যা অপবিত্রতা বা নাপাকি নির্দেশ করে। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

* * *
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌المبحث الثالث الأصل في المياه

[م-1] الأصل في المياه الطهارة، بل الأصل طهارة الأعيان كلها(1).

قال ابن رشد في المقدمات: «الأصل في المياه كلها الطهارة والتطهير، ماء السماء وماء البحر وماء الأنهار وماء العيون وماء الآبار، عذبة كانت أو مالحة … »(2).

 

•‌‌ دليل هذه القاعدة:

‌‌الدليل الأول:

الإجماع، وقد نقل الإجماع على هذا الأصل ابن تيمية، قال: الفقهاء كلهم اتفقوا على أن الأصل في الأعيان الطهارة، وأن النجاسات محصاة مستقصاة، وما خرج عن الضبط والحصر فهو طاهر، كما يقولونه فيما ينقض الوضوء ويوجب الغسل، وما لا يحل نكاحه وشبه ذلك(3).

وقال أيضًا: الأصل الجامع طهارة جميع الأعيان حتى تتبين نجاستها فكل ما لم يبين لنا أنه نجس فهو طاهر(4).

 

‌‌الدليل الثاني:

قوله تعالى: (وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ) [الأنعام: 119].

--------------------------------------------

(1) أحكام القرآن للجصاص (1/ 33)، تفسير القرطبي (1/ 251)، المقدمات الممهدات (1/ 58)، مواهب الجليل (1/ 51).

(2) المقدمات الممهدات (1/ 86).

(3) مجموع الفتاوى (21/ 542، 591).

(4) المرجع السابق.
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: পানির মূল বিধান

[মাসয়ালা-১] পানির মূল বিধান হলো পবিত্রতা; বরং সমস্ত বস্তুর মূল বিধানই হলো পবিত্রতা(১)।

ইবনে রুশদ আল-মুকাদ্দিমাত গ্রন্থে বলেন: «সমস্ত পানির মূল বিধান হলো তা পবিত্র এবং পবিত্রকারী; আসমানের পানি, সমুদ্রের পানি, নদীর পানি, ঝরনার পানি এবং কূপের পানি—তা মিষ্টি হোক বা লোনা হোক...»(২)।

 

•‌এই মূলনীতির দলিল:

‌প্রথম দলিল:

ইজমা (ঐক্যমত্য); ইবনে তাইমিয়্যাহ এই মূলনীতির ওপর ইজমা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: ফকিহগণ সকলে একমত হয়েছেন যে, বস্তুর মূল বিধান হলো পবিত্রতা এবং নাপাক বস্তুসমূহ সুনির্দিষ্ট ও সীমাবদ্ধ। যা এই সীমার বাইরে তা পবিত্র; যেমনটি তারা অজু ভঙ্গকারী বিষয়, গোসল ওয়াজিবকারী বিষয়, যাদের সাথে বিবাহ হারাম এবং এই জাতীয় বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে বলে থাকেন(৩)।

তিনি আরও বলেন: একটি সমন্বিত মূলনীতি হলো সমস্ত বস্তুর পবিত্রতা, যতক্ষণ না তার নাপাকি স্পষ্ট হয়। সুতরাং যা কিছু আমাদের কাছে নাপাক হিসেবে স্পষ্ট নয়, তা পবিত্র(৪)।

 

‌দ্বিতীয় দলিল:

মহান আল্লাহর বাণী: (অথচ তিনি তোমাদের জন্য বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন যা তিনি তোমাদের ওপর হারাম করেছেন) [আল-আনআম: ১১৯]।

--------------------------------------------

(১) আহকামুল কুরআন লিল জাসসাস (১/ ৩৩), তাফসিরে কুরতুবি (১/ ২৫১), আল-মুকাদ্দিমাত আল-মুমাহহাদাত (১/ ৫৮), মাওয়াহিবুল জলিল (১/ ৫১)।

(২) আল-মুকাদ্দিমাত আল-মুমাহহাদাত (১/ ৮৬)।

(৩) মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/ ৫৪২, ৫৯১)।

(৪) পূর্বোক্ত উৎস।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২৬)
قال ابن تيمية على هذه الآية: التفصيل: التبيين، فبين سبحانه وتعالى أنه بين المحرمات، فما لم يبين تحريمه ليس بمحرم، وما ليس بمحرم فهو حلال، إذ ليس إلا حلال أو حرام(1).

قال الشوكاني: «حق استصحاب البراءة الأصلية، وأصالة الطهارة، أن يطالب من زعم بنجاسة عين من الأعيان بالدليل، فإن نهض به كما في نجاسة بول الآدمي وغائطه والروثة فذاك، وإن عجز عنه، أو جاء بما لا تقوم به الحجة، فالواجب علينا الوقوف على ما يقتضيه الأصل والبراءة»(2).

وعليه فلا يطالب من يدعي طهارة عين أو إباحتها بالدليل؛ لأن دليله الأصل والبراءة، ولكن يطالب من زعم أن عينًا من الأعيان نجسة أو محرمة.

وهذا أصل عظيم من أصول الشريعة، يحتاج إليه الفقيه في كثير من الأعيان المختلف في نجاستها.

* * *

--------------------------------------------

(1) مجموع الفتاوى (21/ 536).

(2) السيل الجرار (1/ 31).
ইবনে তাইমিয়্যাহ এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন: বিস্তারিত বর্ণনা (তাফসিল) হলো স্পষ্ট করা। সুতরাং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, তিনি হারাম বিষয়গুলো বর্ণনা করেছেন। তাই যার হারামের ব্যাপারে তিনি কোনো বর্ণনা দেননি তা হারাম নয়; আর যা হারাম নয় তা হালাল, কেননা (শরীয়তে) হালাল অথবা হারাম ছাড়া অন্য কিছু নেই(১)।

শাওকানি বলেছেন: "মূল দায়মুক্তির ধারাবাহিকতা (ইসতিসহাবুল বারাআহ আল-আসলিয়্যাহ) এবং পবিত্রতার মূলনীতির দাবি হলো—যে ব্যক্তি কোনো বস্তুকে অপবিত্র বলে দাবি করবে, তাকেই দলিল পেশ করতে বলা হবে। সে যদি দলিল উপস্থাপন করতে সক্ষম হয়—যেমনটি মানুষের প্রস্রাব, মল এবং পশুর বিষ্ঠার অপবিত্রতার ক্ষেত্রে হয়েছে—তবে তো হলোই; আর যদি সে অক্ষম হয় অথবা এমন কিছু নিয়ে আসে যা দ্বারা দলিল সাব্যস্ত হয় না, তবে আমাদের ওপর ওয়াজিব হলো মূলনীতি এবং দায়মুক্তির চাহিদার ওপর অটল থাকা"(২)।

সেই অনুযায়ী, যে ব্যক্তি কোনো বস্তুর পবিত্রতা বা বৈধতা দাবি করে, তার কাছে প্রমাণ চাওয়া হবে না; কারণ তার প্রমাণ হলো মূলনীতি এবং দায়মুক্তি। কিন্তু প্রমাণ চাওয়া হবে সেই ব্যক্তির কাছে, যে দাবি করে যে কোনো বস্তু অপবিত্র বা হারাম।

আর এটি শরীয়তের অন্যতম একটি মহান মূলনীতি, যেটির প্রয়োজনীয়তা ফকিহগণের নিকট সেই সব বস্তুর ক্ষেত্রে অনেক বেশি দেখা দেয় যেগুলোর অপবিত্রতার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে।

* * *

--------------------------------------------

(১) মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/ ৫৩৬)।

(২) আস-সাইলুল জাররার (১/ ৩১)।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌الباب الأول في أقسام المياه

مدخل في ذكر الضوابط الفقهية:

• الماء إما مطلق أو مضاف.

• المطلق ما صدق عليه اسم ماء بلا قيد، ويقابله المقيد: وهو ما لا يصدق عليه اسم الماء إلا بقيد من إضافة كماء الورد، أو وصف، كماء نجس.

• الأصل المجمع عليه أن الماء طاهر مطهر، فلا ينتقل عن ذلك إلا بناقل صحيح صالح للاحتجاج.

• إذا اختلط شيء طاهر بماء مطلق، فتغير به، فهل يسلبه الطهورية بمطلق التغير؟ أو لا حتى يغلب على أجزائه(1).

• اختصاص الماء بالطهورية، هل هو تعبد لا يعقل معناه، أو لاختصاصه بنوع من الرقة واللطافة والنفوذ؟

--------------------------------------------

(1) انظر الأشباه والنظائر (ص: 96)، وجاء في تبيين الحقائق (1/ 20): «عن أبي يوسف: ماء الصابون إذا كان ثخينًا قد غلب على الماء لا يتوضأ به، وإن كان رقيقًا يجوز، وكذا ماء الأشنان».

وجاء في مجمع الأنهر في بيان حد الغلبة (1/ 28): «أو بغلبة غيره: بأن يكون أجزاء المخالط أزيد من أجزاء الماء، وهو قول أبي يوسف في الصحيح؛ لأنه غلبه حقيقة لرجوعها إلى الذات بخلاف الغلبة باللون فإنها راجعة إلى الوصف ومحمد اعتبر الغلبة باللون».

وجاء في البحر الرائق (1/ 72): «في الهداية: والغلبة بالأجزاء لا بتغير اللون، هو الصحيح وقد حكي خلاف بين أبي يوسف ومحمد، ففي المجمع والخانية وغيرهما أن أبا يوسف يعتبر الغلبة بالأجزاء، ومحمد باللون، وفي المحيط عكسه، والأصح من الخلاف الأول كما صرحوا به».
প্রথম অধ্যায়: পানির প্রকারভেদ সম্পর্কে

ফিকহী মূলনীতি বর্ণনার ভূমিকা:

• পানি হয় মুতলাক (সাধারণ) অথবা মুদাফ (সংযুক্ত)।

• মুতলাক হলো সেই পানি যাকে কোনো শর্ত ছাড়াই পানি বলা যায়। এর বিপরীতে রয়েছে মুকায়্যাদ (শর্তযুক্ত): যাকে কোনো অতিরিক্ত সংযুক্তি ব্যতীত পানি বলা যায় না, যেমন গোলাপজল; অথবা কোনো বিশেষণের সংযুক্তি ব্যতীত পানি বলা যায় না, যেমন অপবিত্র পানি।

• সর্বসম্মত মূলনীতি হলো, পানি নিজে পবিত্র এবং অন্যকে পবিত্রকারী। সুতরাং কোনো সহীহ এবং দলিল হিসেবে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ ব্যতিরেকে এই মূলনীতি থেকে বিচ্যুত হওয়া যাবে না।

• যদি কোনো পবিত্র বস্তু মুতলাক পানির সাথে মিশ্রিত হয় এবং এর ফলে পানির পরিবর্তন ঘটে, তবে কি কেবল সাধারণ পরিবর্তনের কারণেই তা তার পবিত্র করার ক্ষমতা হারাবে? নাকি যতক্ষণ না তা পানির উপাদানের ওপর প্রবল হয় ততক্ষণ হারাবে না?(১)

• পবিত্র করার ক্ষেত্রে পানির এই বৈশিষ্ট্য কি নিছক একটি ইবাদত (তাআব্বুদী) যার নিগূঢ় অর্থ বুদ্ধিগ্রাহ্য নয়, নাকি পানির বিশেষ তারল্য, সূক্ষ্মতা এবং অনুপ্রবেশ ক্ষমতার কারণে?

--------------------------------------------

(১) দেখুন: আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর (পৃষ্ঠা: ৯৬); তাবয়ীনুল হাকায়েক (১/ ২০) গ্রন্থে এসেছে: «ইমাম আবু ইউসুফ থেকে বর্ণিত: সাবান মিশ্রিত পানি যদি ঘন হয়ে পানির ওপর প্রবল হয়ে যায় তবে তা দিয়ে অজু করা যাবে না। আর যদি তা পাতলা থাকে তবে জায়েজ। উশনান (এক প্রকার পরিষ্কারক ঘাস) মিশ্রিত পানির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য»।

প্রাবল্যের সীমা বর্ণনায় মাজমাউল আনহুর (১/ ২৮) গ্রন্থে এসেছে: «অথবা অন্য কিছুর প্রাবল্যের মাধ্যমে: অর্থাৎ মিশ্রিত বস্তুর উপাদানসমূহ পানির উপাদানের চেয়ে বেশি হওয়া। সহীহ বর্ণনা অনুযায়ী এটিই ইমাম আবু ইউসুফের অভিমত; কারণ এটি হাকীকীভাবে (প্রকৃতপক্ষে) প্রবল হওয়া যা সত্তার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, পক্ষান্তরে রঙের মাধ্যমে প্রাবল্য গুণের দিকে প্রত্যাবর্তন করে। ইমাম মুহাম্মদ রঙের প্রাবল্যকে ধর্তব্য মনে করেছেন»।

আল-বাহরুর রায়েক (১/ ৭২) গ্রন্থে এসেছে: «হিদায়া গ্রন্থে রয়েছে: উপাদানসমূহের প্রাবল্যই ধর্তব্য, রঙের পরিবর্তন নয়—এটিই সঠিক। ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ বর্ণিত হয়েছে। আল-মাজমা, আল-খানিয়্যাহ এবং অন্যান্য গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইমাম আবু ইউসুফ উপাদানের প্রাবল্যকে ধর্তব্য ধরতেন এবং ইমাম মুহাম্মদ রঙের প্রাবল্যকে। তবে আল-মুহীত গ্রন্থে এর বিপরীতটি বর্ণিত হয়েছে। ওলামায়ে কেরাম যেমনটি স্পষ্ট করেছেন, সেই অনুযায়ী প্রথমোক্ত মতভেদটিই সঠিক»।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২৮)
[م-2] اختلف العلماء في أقسام المياه:

فقيل: ثلاثة: طهور، وطاهر، ونجس، وهو قول الجمهور(1).

وقيل: قسمان: طهور، ونجس.

وهو رواية عن الإمام أحمد، نص عليها في أكثر أجوبته(2)، ومال إليه ابن قدامة، ورجحه ابن تيمية، والشوكاني، وذكره ابن تيمية مذهبًا لأبي حنيفة(3).

 

•‌‌ أدلة القائلين بأن الماء ثلاثة أقسام:

‌‌الدليل الأول:

من القرآن قوله تعالى: (فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا) [المائدة: 6].

وجه الاستدلال:

الماء ورد في الآية مطلقًا لم يقيد بشيء، والماء المطلق هو الماء الباقي على خلقته.

--------------------------------------------

(1) أي في الجملة وإن اختلفوا في بعض أنواع المياه هل تلحق بالطاهر أم بالطهور، فالذي يعنينا أن الماء عندهم ثلاثة أنواع بمعنى: أنهم أثبتوا قسم الطاهر، وهو النوع المختلف فيه، وأما الطهور والنجس فلم يختلف أحد من أهل العلم في ثبوتهما.

انظر إثبات قسم الطاهر في مذهب الحنفية في: بدائع الصنائع (1/ 66، 67)، وحاشية ابن عابدين (1/ 200، 201)، والبناية (1/ 349)، وفتح القدير (1/ 87)، تبيين الحقائق (1/ 19).

وفي مذهب المالكية: المقدمات الممهدات (1/ 86)، وبداية المجتهد (1/ 271)، والكافي في فقه أهل المدينة (ص: 15).

وفي مذهب الشافعية: مغنى المحتاج (1/ 18)، والمجموع (1/ 150)، وكفاية الأخيار (1/ 23)، والحاوي الكبير (1/ 46).

وفي مذهب الحنابلة: كشاف القناع (1/ 30)، وشرح منتهى الإرادات (1/ 14) والفروع (1/ 79)، والمبدع (1/ 41).

(2) الفتاوى (21/ 25). وانظر شرح الزركشي (1/ 119).

(3) المغني (1/ 21)، الكافي (1/ 7)، السيل الجرار (1/ 56) مجموع الفتاوى (21/ 25)، والذي في كتب الحنفية: إثبات الماء الطاهر في الماء المستعمل في طهارة شرعية (واجبة أو مستحبة) فالمشهور عنهم أنه طاهر غير مطهر، وقيل نجس، ولم يأت في كتبهم البتة أنه طهور. والله أعلم.
[ম-২] পানির প্রকারভেদ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম মতভেদ করেছেন:

বলা হয়েছে: পানি তিন প্রকার: তহুর (পবিত্র ও পবিত্রকারী), তাহির (পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়) এবং নাজিস (নাপাক)। এটি জমহুর বা অধিকাংশ আলেমের অভিমত(১)।

আবার বলা হয়েছে: পানি দুই প্রকার: তহুর এবং নাজিস।

এটি ইমাম আহমাদ থেকে একটি বর্ণনা, যা তিনি তাঁর অধিকাংশ উত্তরে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন(২)। ইবনু কুদামা এই মতের প্রতি ঝুঁকেছেন এবং ইবনু তাইমিয়্যাহ ও শাওকানী একে প্রধান্য দিয়েছেন। ইবনু তাইমিয়্যাহ একে ইমাম আবু হানিফার মাযহাব হিসেবেও উল্লেখ করেছেন(৩)।

 

•‌‌ যারা পানি তিন প্রকার বলেন তাদের দলীলসমূহ:

‌‌প্রথম দলীল:

কুরআন থেকে মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর যদি তোমরা পানি না পাও, তবে তায়াম্মুম করো) [আল-মায়িদাহ: ৬]।

দলীল উপস্থাপনের পদ্ধতি:

আয়াতে 'পানি' শব্দটি সাধারণভাবে (মুতলাক) এসেছে, একে কোনো কিছুর সাথে শর্তযুক্ত করা হয়নি। আর 'মায়ে মুতলাক' বা সাধারণ পানি হলো সেই পানি যা তার প্রাকৃতিক অবস্থার ওপর বহাল রয়েছে।

--------------------------------------------

(১) অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে, যদিও তারা পানির কিছু প্রকার নিয়ে মতভেদ করেছেন যে তা 'তাহির' এর অন্তর্ভুক্ত হবে নাকি 'তহুর' এর অন্তর্ভুক্ত। আমাদের মূল বিবেচ্য বিষয় হলো তাদের নিকট পানি তিন প্রকার, যার অর্থ তারা 'তাহির' নামক প্রকারটিকে সাব্যস্ত করেছেন—যা একটি মতভেদপূর্ণ প্রকার। আর 'তহুর' ও 'নাজিস' হওয়ার ব্যাপারে আলেমদের মাঝে কোনো মতভেদ নেই।

হানাফী মাযহাবে 'তাহির' প্রকারটি সাব্যস্ত করার বিষয়টি দেখুন: বাদায়েউস সানায়ে (১/ ৬৬, ৬৭), হাশিয়া ইবনু আবিদীন (১/ ২০০, ২০১), আল-বিনায়াহ (১/ ৩৪৯), ফাতহুল কাদির (১/ ৮৭), তাবয়ীনুল হাকায়েক (১/ ১৯)।

মালিকী মাযহাবে: আল-মুকাদ্দিমাতুল মুমাহহিদাত (১/ ৮৬), বিদায়াতুল মুজতাহিদ (১/ ২৭১), আল-কাফী ফী ফিকহি আহলিল মাদীনাহ (পৃ. ১৫)।

শাফেঈ মাযহাবে: মুগনিল মুহ তাজ (১/ ১৮), আল-মাজমু' (১/ ১৫০), কিফায়াতুল আখইয়ার (১/ ২৩), আল-হাউয়িল কাবীর (১/ ৪৬)।

হাম্বলী মাযহাবে: কাশশাফুল কিনা (১/ ৩০), শারহু মুনতাহাল ইরাদাত (১/ ১৪), আল-ফুরু (১/ ৭৯), আল-মুবদি (১/ ৪১)।

(২) আল-ফাতাওয়া (২১/ ২৫)। আরও দেখুন শারহুয যারকাশী (১/ ১১৯)।

(৩) আল-মুগনী (১/ ২১), আল-কাফী (১/ ৭), আস-সাইলুল জাররার (১/ ৫৬), মাজমুউল ফাতাওয়া (২১/ ২৫)। হানাফী কিতাবগুলোতে যা রয়েছে তা হলো: শরয়ি পবিত্রতায় (ওয়াজিব বা মুস্তাহাব) ব্যবহৃত পানিকে 'তাহির' সাব্যস্ত করা। তাদের নিকট প্রসিদ্ধ মত হলো এটি পবিত্র কিন্তু পবিত্রকারী নয়, আবার কেউ কেউ বলেছেন এটি নাপাক। তবে তাদের কিতাবগুলোতে এটি 'তহুর' হওয়ার কথা একেবারেই আসেনি। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ২৯)
أما الماء المتغير فلا يسمى ماء مطلقًا، إنما يضاف إلى تلك المادة التي تغير بها كأن يقال: ماء ورد، أو زعفران، أو مستعمل، ونحو ذلك.

فالآية دلت على أن الطهارة بالماء المطلق، فإن لم يوجد انتقلنا إلى التيمم(1).

• وأجيب:

بأن كلمة (ماء) في قوله: (فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً) [المائدة: 6]، نكرة في سياق النفي، فتعم كل ماء إلا ما دل الإجماع على خروجه، وهو الماء النجس.

 

‌‌الدليل الثاني:

(3) ما رواه أحمد من طريق مالك، عن صفوان بن سليم، عن سعيد بن سلمة من آل ابن الأزرق، عن المغيرة بن أبي بردة،

عن أبي هريرة، عن النبي صلى الله عليه وسلم قال في ماء البحر: هو الطهور ماؤه الحلال ميتته(2).

[الحديث صحيح](3).

--------------------------------------------

(1) بتصرف - الفتاوى (21/ 24)، والحاوي الكبير (1/ 48)، والأوسط (1/ 257).

(2) أحمد (2/ 237).

(3) الحديث اختلف في إسناده، وله طرق عن أبي هريرة:

الطريق الأول: عن المغيرة بن أبي بردة، عن أبي هريرة.

رواه مالك في الموطأ (1/ 22) عن صفوان بن سليم، عن سعيد بن سلمة، عن المغيرة بن

أبي بردة عن أبي هريرة.

ولفظه عن أبي هريرة: جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، إنا نركب البحر، ونحمل معنا القليل من الماء، فإن توضأنا به عطشنا، أفنتوضأ به؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم: هو الطهور ماؤه، الحل ميتته.

ورواه أحمد (2/ 237)، و (2/ 393)، والدارقطني (1/ 36) من طريق عبد الرحمن بن مهدي.

والترمذي (69)، النسائي في الكبرى (58) والصغرى (59، 332) من طريق قتيبة بن سعيد.

وأبو داود (83)، وابن حبان (1243، 5258)، والدارقطني (1/ 36)، والمستدرك (1/ 140، 141) من طريق القعنبي.

وابن ماجه (386) من طريق هشام بن عمار. =
কিন্তু পরিবর্তিত পানিকে সাধারণভাবে 'পানি' বলা হয় না, বরং একে সেই বস্তুর সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে বলা হয় যার দ্বারা এটি পরিবর্তিত হয়েছে, যেমন: গোলাপ জল, জাফরান মিশ্রিত পানি, অথবা ব্যবহৃত পানি এবং এজাতীয়।

সুতরাং আয়াতটি প্রমাণ করে যে, পবিত্রতা অর্জন সাধারণ পানি দ্বারা হতে হবে; যদি তা না পাওয়া যায়, তবে আমরা তায়াম্মুমের দিকে ফিরে যাব(১)।

• এর উত্তরে বলা হয়:

(فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً) [আল-মায়িদাহ: ৬]—এই বাণীতে ‘পানি’ শব্দটি না-বোধক প্রেক্ষাপটে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য হিসেবে এসেছে, যা সর্বপ্রকার পানিকে অন্তর্ভুক্ত করে; কেবল ইজমা বা ঐকমত্যের ভিত্তিতে যা বাদ পড়েছে তা ব্যতিরেকে, আর তা হলো অপবিত্র পানি।

 

‌‌দ্বিতীয় দলিল:

(৩) ইমাম আহমাদ মালেক-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি ইবনে আজরাক পরিবারের সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি মুগিরা ইবনে আবি বুরদাহ থেকে,

তিনি আবু হুরাইরা থেকে, তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, সমুদ্রের পানি সম্পর্কে তিনি বলেছেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল"(২)।

[হাদিসটি সহিহ](৩)।

--------------------------------------------

(১) পরিমার্জিত - আল-ফাতাওয়া (২১/ ২৪), আল-হাবি আল-কাবির (১/ ৪৮), এবং আল-আওসাত (১/ ২৫৭)।

(২) আহমাদ (২/ ২৩৭)।

(৩) হাদিসটির সনদে মতভেদ রয়েছে, আবু হুরাইরা থেকে এর একাধিক সূত্র বর্ণিত হয়েছে:

প্রথম সূত্র: মুগিরা ইবনে আবি বুরদাহ-এর সূত্রে, আবু হুরাইরা থেকে।

ইমাম মালেক এটি মুওয়াত্তায় (১/ ২২) সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি মুগিরা ইবনে

আবি বুরদাহ থেকে, তিনি আবু হুরাইরা থেকে বর্ণনা করেছেন।

আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত হাদিসের শব্দগুলো হলো: এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, আমরা সমুদ্রে সফর করি এবং আমাদের সাথে সামান্য পানি রাখি, যদি আমরা তা দিয়ে ওযু করি তবে তৃষ্ণার্ত হয়ে পড়ব, এমতাবস্থায় আমরা কি সমুদ্রের পানি দিয়ে ওযু করতে পারি? তখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: "এর পানি পবিত্র এবং এর মৃত (প্রাণী) হালাল।"

ইমাম আহমাদ এটি (২/ ২৩৭) ও (২/ ৩৯৩) এবং দারাকুতনি (১/ ৩৬) আবদুর রহমান ইবনে মাহদি-এর সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন।

তিরমিজি (৬৯), নাসায়ি ‘আল-কুবরা’ (৫৮) এবং ‘আস-সুগরা’ (৫৯, ৩৩২) কুতাইবা ইবনে সাঈদ-এর সূত্র থেকে।

আবু দাউদ (৮৩), ইবনে হিব্বান (১২৪৩, ৫২৫৮), দারাকুতনি (১/ ৩৬), এবং আল-মুস্তাদরাক (১/ ১৪০, ১৪১) আল-ক্বানাবি-এর সূত্র থেকে।

ইবনে মাজাহ (৩৮৬) হিশাম ইবনে আম্মার-এর সূত্র থেকে।
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৩০)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= والدارمي (729، 2011) من طريق محمد بن المبارك.

وأحمد (2/ 361) من طريق أبي سلمة.

وابن خزيمة (1/ 59) من طريق عبد الله بن وهب.

والشافعي في مسنده (1/ 23)، ومن طريقه البيهقي (1/ 3)، والخطيب في تاريخ بغداد (9/ 129).

والدارقطني (1/ 36) من طريق أحمد بن إسماعيل المدني.

وابن الجارود في المنتقى (43) من طريق بشر بن عمر، عشرتهم رووه عن مالك به.

وقد تابع أبو أويس، وإسحاق بن إبراهيم بن سعيد المزني، وعبد الرحمن بن إسحاق تابعوا مالكًا، فروواه عن صفوان بن سليم كما رواه مالك.

فأما متابعة أبي أويس: فقد أخرجه أحمد (2/ 392) قال: حدثنا حسين، قال: حدثنا أبو أويس، حدثنا صفوان بن سليم مولى حميد بن عبد الرحمن بن عوف، عن سعيد بن سلمة بن الأزرق المخزومي، عن أبي بردة بن عبد الله أحد بني عبد الدار بن قصي، عن أبي هريرة.

وهنا قال أبو أويس: عن أبي بردة بن عبد الله، ولم يقل: عن المغيرة بن أبي بردة.

قال ابن حجر: وأبو بردة: هو المغيرة بن أبي بردة، وهو أبو بردة المغيرة بن عبد الله بن أبي بردة، نسب في رواية مالك إلى جده، وسمي ونسب في رواية أبي أويس إلى أبيه، وكني. انظر أطراف المسند (10309)، وإتحاف المهرة لابن حجر (19986).

وأبو أويس: هو عبد الله بن عبد الله بن أويس، ضعفه أحمد مرة، وقال في أخرى: لا بأس به، وقال فيه أيضًا: صالح، وسئل عنه يحيى بن معين أكثر من مرة، فقال: ضعيف، وقال مرة: صالح الحديث، وقال أيضًا: صدوق وليس بحجة. وقال النسائي وغيره: ليس بالقوي. وقال الدارقطني: في حفظه شيء. وفي التقريب: صدوق يهم.

فهذا إسناد مقبول في المتابعات، وهي متابعة صالحة لرواية مالك.

وأما متابعة عبد الرحمن بن إسحاق:

فقد انفرد الحاكم بروايتها من طريقين:

أحدهما: أخرجه الحاكم في المستدرك (1/ 141) من طريق عبد الله بن أيوب بن زاذان، حدثنا محمد بن المنهال، عن يزيد بن زريع، ثنا عبد الرحمن بن إسحاق، ثنا صفوان بن سليم به.

وهذا إسناد فيه عبد الله بن أيوب بن زاذان، قال عنه الدارقطني: متروك. انظر تاريخ بغداد (9/ 413).

والثاني: أخرجه الحاكم (1/ 141)، والبيهقي في معرفة السنن والآثار (1/ 225) من طريق محمد بن أبي بكر، عن يزيد بن زريع به. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং দারেমি (৭২৯, ২০১১) মুহাম্মদ বিন আল-মুবারক-এর সূত্র থেকে।

এবং আহমাদ (২/ ৩৬১) আবু সালামাহ-এর সূত্র থেকে।

এবং ইবনে খুজাইমাহ (১/ ৫৯) আবদুল্লাহ বিন ওয়াহাব-এর সূত্র থেকে।

এবং শাফেয়ি তাঁর মুসনাদ-এ (১/ ২৩), এবং তাঁর সূত্র থেকে বায়হাকি (১/ ৩), এবং খাতীব বাগদাদি তাঁর ‘তারিখ বাগদাদ’-এ (৯/ ১২৯)।

এবং দারা কুতনি (১/ ৩৬) আহমাদ বিন ইসমাইল আল-মাদানি-এর সূত্র থেকে।

এবং ইবনুল জারুদ ‘আল-মুনতাকা’-তে (৪৩) বিশর বিন উমর-এর সূত্র থেকে; তাঁরা দশজনই মালিক থেকে এটি বর্ণনা করেছেন।

আর আবু উওয়াইস, ইসহাক বিন ইব্রাহিম বিন সাইদ আল-মুজানি এবং আবদুর রহমান বিন ইসহাক মালিকের অনুসরণ (corroboration) করেছেন; তাঁরা এটি সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে বর্ণনা করেছেন যেভাবে মালিক বর্ণনা করেছেন।

আবু উওয়াইসের অনুসরণের ক্ষেত্রে: এটি আহমাদ (২/ ৩৯২) বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেছেন: হুসাইন আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি বলেন: আবু উওয়াইস আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, সাফওয়ান বিন সুলাইম (যিনি হুমাইদ বিন আবদুর রহমান বিন আউফের মুক্তদাস) আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি সাঈদ বিন সালামাহ বিন আল-আযরাক আল-মাখযুমি থেকে, তিনি বনু আবদুদ-দার বিন কুসাই গোত্রের আবু বারদাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এবং এখানে আবু উওয়াইস বলেছেন: ‘আবু বারদাহ বিন আবদুল্লাহ থেকে’, তিনি ‘মুগিরাহ বিন আবু বারদাহ থেকে’ বলেননি।

ইবনে হাজার বলেছেন: আর আবু বারদাহ হলেন মুগিরাহ বিন আবু বারদাহ, তিনি হলেন আবু বারদাহ মুগিরাহ বিন আবদুল্লাহ বিন আবু বারদাহ; মালিকের বর্ণনায় তাঁকে তাঁর দাদার দিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে, এবং আবু উওয়াইসের বর্ণনায় তাঁর নাম ও তাঁর বাবার নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং তাঁর উপনাম (কুনিয়াহ) দেওয়া হয়েছে। দেখুন ‘আত্রাফুল মুসনাদ’ (১০৩০৯) এবং ইবনে হাজারের ‘ইতহাফুল মাহরাহ’ (১৯৯৮৬)।

আর আবু উওয়াইস হলেন আবদুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উওয়াইস; আহমাদ একবার তাঁকে দুর্বল বলেছেন, অন্যবার বলেছেন: এতে কোনো সমস্যা নেই, আবার তাঁকে ‘সালিহ’ (সৎ/যোগ্য) বলেও অভিহিত করেছেন। ইয়াহইয়া বিন মাঈনকেও তাঁর সম্পর্কে একাধিকবার জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তিনি বলেছেন: দুর্বল, আবার একবার বলেছেন: হাদীসের ক্ষেত্রে সালিহ, আরও বলেছেন: তিনি সত্যবাদী (সাদুক) তবে হুজ্জাত (দলীলযোগ্য) নন। নাসাঈ ও অন্যান্যরা বলেছেন: তিনি শক্তিশালী নন। দারা কুতনি বলেছেন: তাঁর স্মৃতিশক্তিতে কিছু সমস্যা আছে। ‘আত-তাকরীব’-এ আছে: তিনি সত্যবাদী তবে ভ্রম করেন।

সুতরাং এটি অনুসরণের (mutaba'at) ক্ষেত্রে একটি গ্রহণযোগ্য সনদ, এবং এটি মালিকের বর্ণনার জন্য একটি উপযুক্ত অনুসরণ।

আর আবদুর রহমান বিন ইসহাক-এর অনুসরণের ক্ষেত্রে:

আল-হাকিম এটি দুটি সূত্র থেকে বর্ণনা করার ক্ষেত্রে একক ছিলেন:

প্রথমটি: হাকিম তাঁর ‘আল-মুসতাদরাক’-এ (১/ ১৪১) আবদুল্লাহ বিন আইয়ুব বিন জাযান-এর সূত্র থেকে বর্ণনা করেছেন; তিনি বলেন: মুহাম্মদ বিন আল-মিনহাল আমাদের হাদীস শুনিয়েছেন, তিনি ইয়াযিদ বিন যুরাই থেকে, তিনি আবদুর রহমান বিন ইসহাক থেকে, তিনি সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে এই সূত্রে বর্ণনা করেছেন।

এটি এমন একটি সনদ যাতে আবদুল্লাহ বিন আইয়ুব বিন জাযান রয়েছেন; দারা কুতনি তাঁর সম্পর্কে বলেছেন: মাতরুক (পরিত্যক্ত)। দেখুন ‘তারিখ বাগদাদ’ (৯/ ৪১৩)।

দ্বিতীয়টি: হাকিম (১/ ১৪১) এবং বায়হাকি ‘মা’রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার’-এ (১/ ২২৫) মুহাম্মদ বিন আবু বকর-এর সূত্র থেকে, ইয়াযিদ বিন যুরাই থেকে সেই একই সূত্রে বর্ণনা করেছেন। =
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৩১)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= فهذا إسناد صالح في المتابعات، رجاله ثقات إلا عبد الرحمن بن إسحاق قال فيه أحمد: صالح الحديث، ووثقه أبو داود، وضعفه بعضهم، قال البخاري: ليس ممن يعتمد على حفظه، وقال ابن حجر: صدوق، فهذا صالح في المتابعات، يضاف إلى ما سبق من رواية مالك وأبي أويس.

وأما متابعة إسحاق بن إبراهيم المزني:

فقد أخرجه الحاكم أيضًا (1/ 141) ومن طريقه البيهقي في المعرفة (1/ 225) من طريق الكيليني، عن سعيد بن كثير بن يحيى بن حميد الأنصاري، ثنا إسحاق بن إبراهيم، عن صفوان ابن سليم به.

وهذا إسناد ضعيف، فيه الكيليني: محمد بن صالح الكيليني، وشيخه سعيد بن كثير بن يحيى، وكلاهما فيه جهالة.

وكما توبع مالك توبع أيضًا صفوان بن سليم.

فقد تابعه الجلاح أبو كثير عند الحاكم (1/ 141)، والبيهقي في السنن (1/ 3) وفي المعرفة (1/ 226) من طريق عبيد بن عبد الواحد بن شريك، قال: حدثنا يحيى بن بكير، قال: حدثنا الليث، عن يزيد بن أبي حبيب، قال: حدثني الجلاح أبو كثير، أن ابن سلمة المخزومي أخبره، أن المغيرة بن أبي بردة أخبره أنه سمع أبا هريرة فذكر نحوه.

وهذا إسناد رجاله كلهم ثقات إلا عبيد بن عبد الواحد بن شريك، فإنه صدوق، وقد تغير بآخرة، ولا يضر ذلك لأنه قد توبع في هذا كما سيأتي بيانه إن شاء الله تعالى.

واختلف على الليث فيه:

فرواه يحيى بن بكير، عن الليث، عن يزيد بن حبيب، عن الجلاح، عن سعيد بن سلمة، عن المغيرة بن أبي بردة، عن أبي هريرة، كما سبق.

ورواه الإمام أحمد (2/ 378) والدولابي في الكنى والأسماء (1637)، من طريق قتيبة بن سعيد، عن الليث، عن الجلاح، عن المغيرة، عن أبي هريرة.

فالليث تارة يحدث به عن يزيد بن حبيب، عن الجلاح كما في رواية يحيى بن بكير عنه وتارة يحدث به الليث عن الجلاح مباشرة كما في رواية قتيبة بن سعيد عنه.

ومخالفة أخرى:

فيحيى بن بكير في روايته عن الليث جعل بين الجلاح وبين المغيرة بن أبي بردة: سعيد بن سلمة كما في رواية مالك. بينما قتيبة بن سعيد في روايته عن الليث جعل الجلاح يروى عن المغيرة مباشرة.

وهذا الاختلاف يمكن فيه الترجيح فلا يحكم له بالاضطراب، والراجح والله أعلم رواية يحيى بن بكير الموافقة لرواية مالك بذكر سعيد بن سلمة بين الجلاح والمغيرة. =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এটি মুতাবাআতের (সমর্থনমূলক বর্ণনার) ক্ষেত্রে একটি গ্রহণযোগ্য সনদ। এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য, তবে আব্দুর রহমান বিন ইসহাক ব্যতীত। ইমাম আহমাদ তার সম্পর্কে বলেছেন: তার হাদিস গ্রহণযোগ্য। আবু দাউদ তাকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন। কেউ কেউ তাকে দুর্বল বলেছেন। ইমাম বুখারী বলেছেন: সে এমন কেউ নয় যার মুখস্থ শক্তির ওপর নির্ভর করা যায়। ইবনে হাজার বলেছেন: সে সত্যবাদী। সুতরাং এটি মুতাবাআতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য, যা মালিক ও আবু উওয়াইসের পূর্ববর্তী বর্ণনার সাথে যুক্ত হবে।

আর ইসহাক বিন ইবরাহিম আল-মুজানীর মুতাবাআতের (সমর্থনমূলক বর্ণনা) বিষয়টি হলো:

এটি ইমাম হাকিমও (১/১৪১) বর্ণনা করেছেন এবং তার সূত্র ধরে বাইহাকী 'আল-মা'রিফাহ' (১/২২৫) গ্রন্থে আল-কাইলিনী সূত্রে, তিনি সাঈদ বিন কাসীর বিন ইয়াহইয়া বিন হুমাইদ আল-আনসারী থেকে, তিনি ইসহাক বিন ইবরাহিম থেকে, তিনি সাফওয়ান বিন সুলাইম থেকে একই মর্মে বর্ণনা করেছেন।

এটি একটি দুর্বল সনদ। এতে আল-কাইলিনী: অর্থাৎ মুহাম্মদ বিন সালিহ আল-কাইলিনী এবং তার উস্তাদ সাঈদ বিন কাসীর বিন ইয়াহইয়া রয়েছেন; তাদের উভয়ের পরিচয় অজ্ঞাত।

আর যেভাবে মালিকের মুতাবাআত করা হয়েছে, তেমনি সাফওয়ান বিন সুলাইমেরও মুতাবাআত করা হয়েছে।

হাকিম (১/১৪১) এবং বাইহাকী 'আস-সুনান' (১/৩) ও 'আল-মা'রিফাহ' (১/২২৬) গ্রন্থে আল-জুলাহ আবু কাসীর তার মুতাবাআত করেছেন উবাইদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন শারীকের সূত্রে। তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন বুকাইর আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন ইয়াজিদ বিন আবু হাবিব থেকে, তিনি বলেন: আল-জুলাহ আবু কাসীর আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, ইবনে সালামাহ আল-মাখজুমী তাকে জানিয়েছেন যে, আল-মুগীরা বিন আবু বুরদাহ তাকে জানিয়েছেন যে তিনি আবু হুরায়রাকে বলতে শুনেছেন, অতঃপর তিনি অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।

এটি এমন একটি সনদ যার সকল বর্ণনাকারী নির্ভরযোগ্য, উবাইদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন শারীক ব্যতীত। কেননা সে সত্যবাদী, তবে শেষ বয়সে তার স্মৃতিশক্তির পরিবর্তন ঘটেছিল। এটি কোনো ক্ষতি করবে না, কারণ এ ক্ষেত্রে তার মুতাবাআত পাওয়া গেছে, যা ইনশাআল্লাহ সামনে স্পষ্ট করা হবে।

আর এ বিষয়ে লাইসের বর্ণনায় মতভেদ হয়েছে:

ইয়াহইয়া বিন বুকাইর লাইস থেকে, তিনি ইয়াজিদ বিন হাবিব থেকে, তিনি আল-জুলাহ থেকে, তিনি সাঈদ বিন সালামাহ থেকে, তিনি আল-মুগীরা বিন আবু বুরদাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে এটি বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

ইমাম আহমাদ (২/৩৭৮) এবং দুলাবী 'আল-কুনা ওয়াল আসমা' (১৬৩৭) গ্রন্থে কুতাইবা বিন সাঈদ সূত্রে লাইস থেকে, তিনি আল-জুলাহ থেকে, তিনি আল-মুগীরা থেকে, তিনি আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন।

সুতরাং লাইস কখনো ইয়াজিদ বিন হাবিব থেকে, তিনি আল-জুলাহ থেকে—এভাবে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি ইয়াহইয়া বিন বুকাইরের বর্ণনায় এসেছে। আবার কখনো লাইস সরাসরি আল-জুলাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, যেমনটি কুতাইবা বিন সাঈদের বর্ণনায় পাওয়া যায়।

আরেকটি বিরোধ (মুখালাফাহ):

ইয়াহইয়া বিন বুকাইর লাইস থেকে তার বর্ণনায় আল-জুলাহ এবং আল-মুগীরা বিন আবু বুরদাহর মাঝে সাঈদ বিন সালামাহকে উল্লেখ করেছেন, যেমনটি মালিকের বর্ণনায় রয়েছে। অপরদিকে কুতাইবা বিন সাঈদ লাইস থেকে তার বর্ণনায় আল-জুলাহকে সরাসরি আল-মুগীরা থেকে বর্ণনা করেছেন।

এই মতভেদের ক্ষেত্রে প্রাধান্য (তারজীহ) দেওয়া সম্ভব, তাই একে ইযতিরাব (বিশৃঙ্খল মতভেদ) বলা যাবে না। আর সঠিক হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা (রাজীহ)—আল্লাহই ভালো জানেন—হলো ইয়াহইয়া বিন বুকাইরের বর্ণনাটি, যা মালিকের বর্ণনার অনুরূপ, যেখানে আল-জুলাহ ও আল-মুগীরার মাঝে সাঈদ বিন সালামাহর নাম উল্লেখ রয়েছে। =
(খণ্ড: ৩১) মাওসূআতু আহকামিত তাহারাহ - আদ-দুবইয়ান - ৩য় সংস্করণ (পৃষ্ঠা: ৩২)
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= ورجحت رواية يحيى، وإن كان قتيبة أحفظ منه وأضبط للأسباب التالية:

أولًا: أن يحيى بن بكير، قال فيه ابن عدى: كان جارًا لليث بن سعد، وهو من أثبت الناس فيه. انظر تهذيب التهذيب (11/ 238)، ولم أجده في الكامل.

وقال فيه الحافظ: (7580): ثقة في الليث.

ثانيًا: أن يحيى بن بكير لم ينفرد به. فقد توبع

تابعه على ذلك اثنان:

أحدهما: عبد الله بن صالح، كما التاريخ الكبير للبخاري (3/ 478) وقال عبد الله -يعني ابن صالح كاتب الليث- حدثنا الليث حدثنا يزيد بن أبي حبيب به.

الثاني: أبو النظر، فقد أخرج أبو عبيد في كتابة الطهور (ص: 294)، قال: حدثنا أبو النضر ويحيى بن بكير عن الليث به.

وأبو النضر: هو هاشم بن القاسم بن سلمة الليثى. قال فيه الحافظ (7256): ثقه ثبت.

وقال بعضهم: إن الراوي عن يحيى بن بكير هو عبيد بن عبد الواحد بن شريك فيه كلام. فقد جاء في الترجمة من تاريخ بغداد (11/ 99).

قال الدارقطنى: صدوق.

وقال أبو مزاحم موسى بن عبيد الله: كان أحد الثقات، ولم أكتب عنه في تغيره شيئًا.

وعن محمد بن العباس قال: قرئ على علي بن المنادى -وأنا أسمع- قال: عبيد بن عبد الواحد ابن شريك أبو محمد البزار، أكثر الناس عنه، ثم أصابه أذى فغيره في آخر أيامه، وكان على ذلك صدوقًا. وقال إسماعيل بن على الخطبي: لم أكتب عنه شيئًا ..... إلخ».

فالجواب: أنه لم يتفرد به عبيد بن عبد الواحد بن شريك فقد تابعه القاسم بن سلام فى كتابه الطهور (294).

والقاسم بن سلام إمام لا يحتاج إلى من يترجم له.

ثالثًا: ومما يرجح أيضًا أن سعيد بن سلمة هو الراوي عن المغيرة كما في رواية يحيى بن بكير، أن النسائي قد رواه (59) عن قتيبة بن سعيد نفسه، عن مالك، عن صفوان بن سليم، عن سعيد ابن سلمة عن المغيرة به، فرواية قتيبة بن سعيد عن مالك أرجح من روايته عن الليث.

يضاف إلى ذلك أن عمرو بن الحارث المصري تابع يزيد بن أبي حبيب، فقد رواه البخاري في التاريخ الكير (3/ 478) والبيهقي في المعرفة (1/ 227) من طريق ابن وهب قال: أخبرني عمرو بن الحارث، عن الجلاح، عن سعيد بن سلمة، عن المغيرة بن أبي بردة، عن أبي هريرة. فذكر في الإسناد سعيد بن سلمة بين الجلاح والمغيرة.

واختلف على يزيد بن أبي حبيب فيه: =
. . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . . .

--------------------------------------------

= এবং আমি ইয়াহিয়ার বর্ণনাকে প্রাধান্য দিয়েছি, যদিও কুতাইবা তাঁর চেয়ে অধিক মুখস্থকারী ও নির্ভুল ছিলেন, নিচের কারণসমূহের জন্য:

প্রথমত: ইয়াহিয়া ইবনে বুকাইর সম্পর্কে ইবনে আদি বলেছেন: তিনি লাইস ইবনে সা'দ-এর প্রতিবেশী ছিলেন এবং তাঁর (লাইসের) বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। দেখুন: তাহজিবুত তাহজিব (১১/২৩৮), তবে আমি এটি আল-কামিল গ্রন্থে পাইনি।

এবং হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন (৭৫৮০): লাইসের বর্ণনার ক্ষেত্রে তিনি নির্ভরযোগ্য।

দ্বিতীয়ত: ইয়াহিয়া ইবনে বুকাইর এই বর্ণনায় একাকী নন। বরং তাঁর মুতাবায়াত (অনুসরণ) করা হয়েছে।

এই ক্ষেত্রে দুইজন তাঁর অনুসরণ করেছেন:

তাদের একজন: আবদুল্লাহ ইবনে সালিহ, যেমনটি বুখারীর আত-তারিখুল কাবির (৩/৪৭৮) গ্রন্থে এসেছে। আবদুল্লাহ—অর্থাৎ লাইসের লেখক ইবনে সালিহ—বলেছেন: লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন, ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিব আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন (একই সূত্রে)।

দ্বিতীয়জন: আবু নাদর। আবু উবাইদ তাঁর কিতাবুত তুহুর (পৃষ্ঠা: ২৯৪) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন: আবু নাদর এবং ইয়াহিয়া ইবনে বুকাইর আমাদের নিকট লাইস থেকে বর্ণনা করেছেন (একই সূত্রে)।

আর আবু নাদর হলেন: হাশিম ইবনুল কাসিম ইবনে সালামাহ আল-লাইসি। হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর সম্পর্কে বলেছেন (৭২৫৬): তিনি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও সুদৃঢ়।

কেউ কেউ বলেছেন: ইয়াহিয়া ইবনে বুকাইর থেকে বর্ণনাকারী ব্যক্তি হলেন উবাইদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে শারিক, যার সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে। তারিখু বাগদাদ (১১/৯৯) এর জীবনী অংশে এ বিষয়ে আলোচনা এসেছে।

আদ-দারা কুতনি বলেছেন: তিনি সত্যবাদী।

আবু মুজাহিম মুসা ইবনে উবায়দুল্লাহ বলেছেন: তিনি নির্ভরযোগ্য ব্যক্তিদের একজন ছিলেন, এবং তাঁর (স্মৃতি) পরিবর্তনের সময় আমি তাঁর থেকে কিছু লিপিবদ্ধ করিনি।

মুহাম্মদ ইবনুল আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: আলী ইবনুল মুনাদির সামনে পড়া হচ্ছিল এবং আমি শুনছিলাম, তিনি বলেন: উবাইদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে শারিক আবু মুহাম্মদ আল-বাজ্জার থেকে অনেক লোক বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন যা তাঁর শেষ জীবনে তাঁর মধ্যে পরিবর্তন নিয়ে আসে, তবে তা সত্ত্বেও তিনি সত্যবাদী ছিলেন। ইসমাইল ইবনে আলী আল-খতবি বলেছেন: আমি তাঁর থেকে কিছুই লিখিনি... ইত্যাদি।

উত্তর হলো: উবাইদ ইবনে আবদুল ওয়াহিদ ইবনে শারিক এটি বর্ণনায় একাকী নন, বরং কাসিম ইবনে সালাম তাঁর কিতাবুত তুহুর (২৯৪) গ্রন্থে তাঁর মুতাবায়াত করেছেন।

আর কাসিম ইবনে সালাম এমন একজন ইমাম যার পরিচিতি দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

তৃতীয়ত: ইয়াহিয়া ইবনে বুকাইরের বর্ণনার মতো মুগিরা থেকে বর্ণনাকারী হিসেবে সাঈদ ইবনে সালামাহর নাম থাকাকে যা আরও জোরালো করে তা হলো—নাসায়ি এটি (৫৯) খোদ কুতাইবা ইবনে সাঈদ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি মালিক থেকে, তিনি সাফওয়ান ইবনে সুলাইম থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি মুগিরা থেকে বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মালিকের সূত্রে কুতাইবা ইবনে সাঈদের বর্ণনাটি লাইসের সূত্রে তাঁর বর্ণনার চেয়ে বেশি অগ্রগণ্য।

এর সাথে আরও যোগ করা যায় যে, মিসরীয় আমর ইবনুল হারিস ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবের মুতাবায়াত করেছেন। ইমাম বুখারী আত-তারিখুল কাবির (৩/৪৭৮) গ্রন্থে এবং বাইহাকী আল-মা'রিফা (১/২২৭) গ্রন্থে ইবনে ওয়াহবের সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। তিনি (ইবনে ওয়াহব) বলেন: আমর ইবনুল হারিস আমাকে খবর দিয়েছেন জুলাহ থেকে, তিনি সাঈদ ইবনে সালামাহ থেকে, তিনি মুগিরা ইবনে আবি বুরদাহ থেকে, তিনি আবু হুরায়রা (রাযি.) থেকে। এখানে সনদে জুলাহ এবং মুগিরার মাঝখানে সাঈদ ইবনে সালামাহর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আর ইয়াজিদ ইবনে আবি হাবিবের বর্ণনার ক্ষেত্রে এ বিষয়ে মতভেদ করা হয়েছে: =