(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: -)
نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر - ت عتر   (ابن حجر العسقلاني)

القسم: علوم الحديث


الكتاب: نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر

المؤلف: أحمد بن علي بن محمد بن حجر العسقلاني (773 - 852 هـ)

حققه وعلق عليه: نور الدين عتر (على نسخه مقروءة على المؤلف)

الناشر: مطبعة الصباح، دمشق - سوريا

الطبعة: الثالثة، 1421 هـ - 2000 م

عدد الصفحات: 175

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 8 ذو الحجة 1431

নুজহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকিক: ইতর   (ইবনে হাজার আল-আসকালানি)

বিভাগ: হাদিস শাস্ত্র


গ্রন্থ: নুজহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার ফী মুসতালাহি আহলিল আসার

লেখক: আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আল-আসকালানি (৭৭৩ - ৮৫২ হিজরি)

তাহকিক ও টীকা প্রদান: নূরুদ্দীন ইতর (লেখকের নিকট পঠিত একটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে)

প্রকাশক: মাতবাআতুস সাবাহ، দামেস্ক - সিরিয়া

সংস্করণ: তৃতীয়، ১৪২১ হিজরি - ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৭৫

[গ্রন্থের পৃষ্ঠা নম্বর মুদ্রণ কপির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৮ জিলহজ ১৪৩১

(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١)
شرح النخبة نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر

 

تأليف

الإمام الحافظ ابن حجر أمير المؤمنين في الحديث أحمد بن علي بن محمد بن حجر العسقلاني

(ولد سنة 773 هـ وتوفي سنة 852 هـ) رحمه الله تعالى

 

حققه على نسخة مقروءة على المؤلف وعلق عليه

نور الدين عتر

رئيس قسم علوم القرآن والسنة بجامعة دمشق، أستاذ التفسير والحديث في كليات الشريعة والآداب بجامعتي دمشق وحلب
শরহে নুখবা: নুজহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার ফী মুসতালাহ (مصطلح) আহলে আসার

 

রচনায়

ইমাম আল-হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার, হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মু’মিনিন, আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন হাজার আল-আসকালানি

(জন্ম ৭৭৩ হিজরি এবং মৃত্যু ৮৫২ হিজরি) রহমাতুল্লাহি তাআলা আলাইহি

 

লেখকের নিকট পঠিত একটি পাণ্ডুলিপির ভিত্তিতে এটি তাহকিক (تحقيق) বা সম্পাদনা এবং টীকা প্রদান করেছেন

নুরুদ্দিন আতার

দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও সুন্নাহ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান; দামেস্ক ও আলেপ্পো বিশ্ববিদ্যালয়ের শরিয়া ও কলা অনুষদের তাফসির ও হাদিসের অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٣)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

 

شرحُ النُّخْبَةِ نُزْهَةُ النَّظَرِ فِي تَوْضِيحِ نُخْبَةِ الفِكَرِ فِي مُصْطَلَحِ أهْل الأثَرِ
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

 

শরহু নুখবাহ: নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার (হাদিস বিশারদগণের (أهل الأثر) পরিভাষা (مصطلح) ব্যাখ্যায় চিন্তা-গবেষণার প্রমোদোদ্যান)।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٤)
‌‌تقْرِيظُ شرح النخبَةِ وتحقيقه (*)

أبدعتَ يا حَبرُ فِي كلّ الفنُون بما … صَنَعْتَ في العِلم مِنْ بَسْطٍ وَمختَصَرِ

عِلم الحَديثِ بهِ أصْبَحت منفَرِدًا … وللأنامِ فكم أبرزْتَ مِن غُرَرِ

لقَد جلوتَ عَروس الحُسنِ مُبتكرًا … فيما أتيتَ بهِ من نخبَةِ الفِكَرِ

إذا تَأَمّلهَا بالفِكْرِ ناظِرُها … تهمى فوائِدُها للفِكر كالمطَرِ

أتى بهَا البَدرُ نورُ الدّين قدوَتُنَا … هَذا المفسِّرُ للآثَارِ وَالسُّوَرِ

هذا المحقّقُ في شرح لنخبَتِنَا … كمَن يُدقّقُ لِلألماسِ وَالدُّرَرِ

فكان كالغيْثِ أهدَانا منابِعَهُ … فأصبَح الرَّوضُ أشجَارًا مِنَ الثَّمَرِ

لا زالَ يُثري علومَ الدِّينِ هِمَّتُهُ … بِكُلِّ صِدقٍ وَإِخلَاصٍ مَعَ العِبَرِ

فباركَ اللهُ جهدًا قامَ يَبذلهُ … وَزَادَهُ اللهُ مِنْ خيراتِهِ الكُثُرِ

--------------------------------------------

(*) الأبيات الأربعة الأولى للشاعِر الشيخ سراج الدّين عمر بن محمّد بن علي الجعبري الخليلي شيخ مدينة الخليل أنشدها يخاطب الحافظ ابن حجر بها، أكملها الأديب الشاعر الأستاذ خالد الزيّات حفظه الله وأجزلَ مثوبته.

‌শারহু নুখবাহ-র প্রশংসা ও এর তাহকিক (تحقيق) (*)

হে জ্ঞানসমুদ্র! আপনি প্রতিটি শাস্ত্রে চমৎকারিত্ব দেখিয়েছেন … ইলমের ময়দানে আপনি যা কিছু বিস্তারিত (مبسوط) এবং সংক্ষেপে (مختصر) রচনা করেছেন তার মাধ্যমে।

হাদিস শাস্ত্রে আপনি অনন্য হয়ে উঠেছেন … আর মানবজাতির জন্য কতই না উজ্জ্বল রত্নরাজি আপনি প্রকাশ করেছেন।

আপনি এক অপরূপ সৌন্দর্যের নববধূর রূপ উন্মোচন করেছেন … 'নুখবাতুল ফিকার'-এ আপনি যা কিছু উপস্থাপন করেছেন তার মাধ্যমে।

যখন কোনো চিন্তাশীল ব্যক্তি গভীর ভাবনার সাথে এটি প্রত্যক্ষ করেন … তখন এর উপকারিতাগুলো তাঁর চিন্তাজগতে বৃষ্টির মতো বর্ষিত হয়।

আমাদের আদর্শ পূর্ণিমার চাঁদ সমতুল্য নূরুদ্দীন একে নিয়ে এসেছেন … যিনি আসার (آثار) এবং কুরআনের সূরাসমূহের ব্যাখ্যাকারী।

আমাদের এই 'নুখবাহ'-র ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এই গবেষক (محقق) … যেন হীরা ও মুক্তার সূক্ষ্ম বিচারক।

তিনি ছিলেন বৃষ্টির মতো, যিনি আমাদের তাঁর প্রস্রবণগুলো উপহার দিয়েছেন … ফলে এই উদ্যান ফলেভরা বৃক্ষে সুশোভিত হয়েছে।

তাঁর উচ্চাশা দ্বীনি জ্ঞানসমূহকে সমৃদ্ধ করে চলেছে … পূর্ণ সততা ও ইখলাসের সাথে উপদেশমালার মাধ্যমে।

আল্লাহ তাঁর এই প্রচেষ্টায় বরকত দান করুন যা তিনি ব্যয় করছেন … এবং আল্লাহ তাঁকে তাঁর অজস্র কল্যাণ থেকে আরও বৃদ্ধি করে দিন।

--------------------------------------------

(*) প্রথম চারটি পঙক্তি কবি শেখ সিরাজুদ্দীন উমর ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আলী আল-জা’বারী আল-খালিলি-এর, যিনি খলিল শহরের শেখ ছিলেন; তিনি হাফেজ (حافظ) ইবনে হাজারকে সম্বোধন করে এগুলো আবৃত্তি করেছিলেন। সাহিত্যিক ও কবি উস্তাদ খালিদ আল-যায়্যাত (আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন এবং তাঁকে উত্তম প্রতিদান দান করুন) এগুলো পরিপূরণ করেছেন।

(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٥)
بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ

الحمدُ لله ربِّ العالمين، اختَصَّ مَنْ شاءَ مِنْ عباده بما شاءَ مِنْ فَضْله العظيم. وأفضلُ الصلاةِ وأتمُّ التسليم، على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه ومَنْ تَبِعَهُم بإحسانٍ إلى يومِ الدِّين.

أمَّا بَعْدُ:

فإنّ هذا الكتابَ شَرْحَ النُّخْبَةِ: "نُزْهَة النَّظَرِ في توضيحِ نُخْبَةِ الفِكَر" للإمام الحافظِ أبي الفَضْل ابنِ حجر، أميرِ المؤمنين في الحديثِ، كتابٌ جليلٌ، قدِ احتلَّ مكانةَ الأساسِ في فَنِّ أصولِ الحديث، لِمَا امتازَ به من إيجازِ ألفاظهِ، وغَزَارةِ فوائدهِ، ودِقَّةِ تحقيقاتِه، ولطريقةِ عَرْضِه التي بُنِيَتْ على التقسيم الدقيق، والتي تمتازُ بأنَّها تُقَدِّمُ صيغةً مُتميِّزةً وتَصَوُّرًا فريدًا لهذا العِلْمِ: عِلْمِ المُصْطلَح، ليس في غيرهِ مِنْ كُتُبِ هذا الفَنِّ، حتى صارَ الكتابُ بهذه المزايا كتابَ الخاصِّ والعامِّ مِنْ رَاغِبِي عِلْمِ الحديث، وحَثَّ العُلماءُ على دِرَاسَتِه، وحَضُّوا على استِحْفَاظِه.

لكنَّ هذا الكتابَ لم يُطْبَعْ حتى الآنَ مُحقَّقًا على مخطوطٍ مُعْتَمَدٍ يُوْثَقُ به، فَضْلًا عن كَثْرةِ الأخطاء التي قد تُخِلُّ بالمعنى، أو تُوَعِّر سبيلَه، إضافةً إلى إغفالِ المطبوعاتِ مِنْ ضَبْطِ ما يُشْكِلُ، وخُلُوِّ تعليقاتِ مَنْ عَلَّقَ عليه مِنْ إيضاحِ ما يَغْمُضُ، بل قد وَقَعَ في تعليقِ مَنْ عَلَّقَ عليه الخَلْطُ في مسائلِ عِلْمِ المصطلَحِ، والغَلَطُ في تراجمِ الأعلامِ، وفي تخريج الأحاديثِ .. ؟!.

وقَدْ منَّ اللهُ الكريمُ، ذو الفضلِ العظيمِ بنُسَخٍ خَطِّيَّةٍ قَيِّمة، تتقدَّمُها
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।

সমস্ত প্রশংসা জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, যিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাঁর মহান অনুগ্রহের মাধ্যমে বিশিষ্টতা দান করেছেন। আর আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবার-পরিজন, সাহাবীগণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করবেন, তাঁদের প্রতি বর্ষিত হোক সর্বোত্তম সালাত ও পূর্ণাঙ্গ সালাম।

অতপর:

ইমাম হাফিজ আবুল ফজল ইবনে হাজার—যিনি হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনীন হিসেবে খ্যাত—তাঁর রচিত 'নুখবা'র ব্যাখ্যাগ্রন্থ: "নুজহাতুন নাযার ফী তাওযীহি নুখবাতিল ফিকার" একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ গ্রন্থ। হাদিস শাস্ত্রের মূলনীতি (أصول الحديث) বিদ্যায় এটি একটি মৌলিক স্থান দখল করে আছে; যার মূলে রয়েছে এর শব্দগত সংক্ষিপ্ততা, প্রচুর উপকারিতা, সূক্ষ্ম গবেষণা এবং এর উপস্থাপনা পদ্ধতি যা অত্যন্ত নিখুঁত বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে রচিত। এটি এই পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) এমন এক অনন্য রূপরেখা ও অদ্বিতীয় ধারণা পেশ করে যা এই বিষয়ের অন্য কোনো কিতাবে পাওয়া যায় না। এসকল বৈশিষ্ট্যের কারণে কিতাবটি হাদিস শাস্ত্রানুরাগী বিশেষ ও সাধারণ সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছে এবং উলামায়ে কিরাম এটি পাঠ করতে উৎসাহ দিয়েছেন ও মুখস্থ করার তাকিদ দিয়েছেন।

কিন্তু এই কিতাবটি এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য (موثوق به) কোনো পাণ্ডুলিপির ওপর ভিত্তি করে যথাযথভাবে সম্পাদিত (محقق) হয়ে মুদ্রিত হয়নি। তদুপরি এতে এমন প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি রয়েছে যা অর্থকে বিকৃত করে দেয় কিংবা বিষয়বস্তু অনুধাবন করাকে কঠিন করে তোলে। পাশাপাশি ইতিপূর্বে মুদ্রিত কপিগুলোতে জটিল বিষয়গুলোর সঠিক বিন্যাস ও নির্ভুলতা (ضبط) নিশ্চিত করতে উদাসীনতা প্রদর্শন করা হয়েছে এবং ব্যাখ্যাকারীদের টীকাসমূহ অস্পষ্ট বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা থেকে শূন্য। বরং কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারীর টীকায় পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) মাসআলাসমূহে সংমিশ্রণ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের জীবনী (تراجم الأعلام) ও হাদিসের উৎস নির্দেশের (تخريج) ক্ষেত্রে ভুল পরিলক্ষিত হয়।

মহান দাতা ও শ্রেষ্ঠ অনুগ্রহকারী আল্লাহ তাআলা কিছু মূল্যবান পাণ্ডুলিপি লাভের মাধ্যমে অনুগ্রহ করেছেন, যেগুলোর অগ্রভাগে রয়েছে...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٦)
نُسخَةٌ يَعِزُّ أنْ تضاهِيَها في المخطوطاتِ نُسْخَةٌ، قُرِئَتْ هذه النُّسْخَةُ على الإمامِ المُصَنِّفِ ابنِ حَجَرٍ نَفْسِه قراءةَ بحثٍ ودِرايةٍ، وأَثْبَتَ خَطَّه عليها في مواضعَ كثيرةٍ لِلْغَاية، وقد سُجِّلَتْ هذه النُّسْخَةُ في التاريخ ووُصِفَتْ بقراءةِ الفقيه المُحَدِّثِ ناسِخِها قراءةَ بحثٍ على الإمامِ مُؤَلِّفِها، فاعتمدْنَا هذه النُّسْخَةَ أصلًا في التحقيق، وَذَيَّلْنَا الكتابَ بما تَمَسُّ إليه الحاجةُ مِنْ شَرْحِ غامِضٍ أو تسهيلِ عَوِيْصٍ، ومِنْ تكميلِ فائدةٍ وزيادةِ عائدةٍ.

وتتميزُ هذه الطبعةُ الثالثةُ: بمزيدٍ من الدِّقَّة والفائدةِ، بإعادةِ مقابلةِ الكتابِ على أصله الوثيقِ، وزيادةِ التَّحري في التَّدقيقِ، وتحقيقِ تعليقاته، وتَلافِي أخطاء السَّهوِ والطِّباعةِ بغاية الاستقصاءِ مع إعادة النظر في المراجع والشروح، مستفيدين من قراءَته في مجالسَ كثيرةٍ لطلبة العلمِ، وما حَصَل من إفادة بعضِ فُضَلائهم، وَفَّقَهُمُ الله جميعًا ونفع بهم العلم والدين.

كما تتميز بترقيم فِقْراتها ومصطلحاتِ المُحَدِّثين، وبفهرسها الموسوعي الذي يساعد كثيرًا على حسن الإفادة منها.

وبهذا جاءَ الكتابُ على الغاية من الإتقانِ، وأفادَ طالبَ الحديثِ إفادةً لا يَجِدُها في غيرِ هذا الكتابِ، على اختصاره شرحًا وتعليقًا.

واللهَ تعالى نسألُ، وإليه تباركَتْ أسماؤه نتوسلُ، أَنْ يتقبَّلَه بمنِّه وكَرَمِهِ، ويُبَلِّغَ مُحَقِّقَه وقارئَه ومُسْتَحْفِظَه غايةَ أَمَلِهِ.

وصلّى اللهُ على سيّدِنا محمدٍ وآله وصَحْبهِ وسَلَّمَ، وعلى جميعِ الأنبياءِ والمُرسلينَ. والحمدُ للهِ ربِّ العالمينَ.

كتبه

نور الدين عتر

خادم علوم القرآن والسنة في كليات الشريعة والآداب بدمشق
এটি এমন একটি অনুলিপি যার সমকক্ষ পাণ্ডুলিপি মেলা ভার। এই অনুলিপিটি স্বয়ং ইমাম গ্রন্থকার ইবনে হাজারের সম্মুখে গবেষণা ও অনুধাবন (دراية) মূলক পাঠ হিসেবে পড়া হয়েছে এবং তিনি বহু স্থানে এতে তাঁর নিজ হস্তাক্ষর দ্বারা সত্যায়ন করেছেন। ইতিহাসে এই অনুলিপিটি নথিবদ্ধ হয়েছে এবং এর অনুলিপিকার ফকিহ ও মুহাদ্দিস (المحدث) কর্তৃক মূল লেখকের নিকট গবেষণামূলক পাঠ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। তাই আমরা পাণ্ডুলিপি সম্পাদনা (التحقيق) এর ক্ষেত্রে এই অনুলিপিটিকেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি। আমরা গ্রন্থটির শেষে অস্পষ্ট বিষয়ের ব্যাখ্যা, জটিল বিষয়ের সহজীকরণ এবং উপকারিতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় টীকা যুক্ত করেছি।

এই তৃতীয় সংস্করণটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর অধিকতর নির্ভুলতা ও উপযোগিতা। একে পুনরায় এর নির্ভরযোগ্য মূল পাণ্ডুলিপির সাথে মিলিয়ে দেখা হয়েছে এবং সূক্ষ্ম যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। এর টীকাগুলো সম্পাদনা (التحقيق) করা হয়েছে এবং অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে অনিচ্ছাকৃত ও মুদ্রণজনিত ভুলত্রুটি সংশোধন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন তথ্যসূত্র ও ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ (الشروح) পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং জ্ঞানান্বেষী ছাত্রদের বিভিন্ন পাঠদান মজলিস ও বিজ্ঞ ব্যক্তিদের থেকে প্রাপ্ত উপকারের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাদের সকলকে তাওফিক দান করুন এবং তাদের মাধ্যমে জ্ঞান ও দ্বীনের কল্যাণ সাধন করুন।

এছাড়া এটি এর অনুচ্ছেদ নম্বর বিন্যাস এবং মুহাদ্দিসগণের পরিভাষা (مصطلحات المحدثين) চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এর রয়েছে একটি বিশ্বকোষীয় নির্ঘণ্ট যা এটি থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হতে অত্যন্ত সহায়ক।

এর ফলে বইটি পূর্ণাঙ্গতা লাভ করেছে এবং এটি হাদিসের শিক্ষার্থীকে এমন এক বিশেষ উপকার প্রদান করেছে যা এর সংক্ষিপ্ততা সত্ত্বেও অন্য কোনো ব্যাখ্যা ও টীকায় পাওয়া যায় না।

আমরা মহান আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি এবং তাঁর বরকতময় নামের অসিলা নিয়ে আবেদন করি, তিনি যেন তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে এটি কবুল করেন এবং এর সম্পাদক (المحقق), পাঠক ও হিফজকারীকে তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেন।

আমাদের নেতা মুহাম্মদ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবীর ওপর আল্লাহর রহমত ও শান্তি বর্ষিত হোক এবং সকল নবী ও রাসুলগণের ওপরও। সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।

লিখেছেন

নূরুদ্দীন ইতর

দামেস্কের শরিয়াহ ও সাহিত্য অনুষদসমূহের কুরআন ও সুন্নাহ বিষয়ক বিজ্ঞানের সেবক
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٧)
تصدير نزهة النظر في توضيح نخبة الفكر في مصطلح أهل الأثر

 

بقلم المحقق

نُورُ الدِّينِ عِتْر

رَئِيسُ قِسْمِ عُلُومِ القُرآنِ وَالسُّنَّةِ بجَامِعَةِ دِمَشْق، أستَاذُ التّفسِيرِ وَالحَدِيث في كُليَّاتِ الشَّريعَةِ وَالآداب
নুজহাতুন নাজার ফী তাওদ্বীহি নুখবাতিল ফিকার ফী মুসত্বলাহি আহলিল আসার-এর ভূমিকা

 

গবেষকের কলমে

নূরুদ্দীন ইতর

দামেস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের কুরআন ও সুন্নাহ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান, শরীয়া ও কলা অনুষদের তাফসির ও হাদিস বিষয়ের অধ্যাপক
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٩)
الإمامُ الحافِظُ ابنُ حَجَرٍ العَسْقَلانيُّ أميرُ المؤمنينَ في الحديثِ

شيخُ الإسلامِ، قاضي القُضَاةِ، أميرُ المؤمنين في الحديثِ، خاتِمَةُ الحُفَّاظِ أحمدُ بنُ عليّ بن محمدِ بنِ حَجَرٍ العسقَلَانيُّ، المصريُّ الشافعيُّ، كُنْيَتُه أبو الفَضْلِ، ولَقَبُهُ شِهابُ الدِّين، الشهيرُ بابن حَجَرٍ: لَقَبٌ لبعضِ آبائِه، وقيلَ نِسْبَةٌ إلى آلِ الحَجَرِ، وهُمْ قَومٌ يسكنُونَ الجنُوبَ من بلاد الجريد، وأرضُهم قابِسُ، قال بذلك ابنُ العِمَادِ في شَذَراتِ الذَّهَبِ، وقد تابعَ ابنُ العِمادِ في هذه النِّسْبَةِ (إلى آل الحَجَر) أبا المحاسِن ابنَ تَغْرِي بَرْدِي، وعدَّها السَّخاويُّ مِنْ جُملةِ أوهامِه فتعقَّبَه في ترجمتهِ في "الضوءِ اللامع".

وكان ابنُ حَجَرٍ أحدَ أعلامِ الإسلامِ الذين تمكَّنُوا من مُختَلِفِ علوم عَصْرِهم الشرعيَّة واللُّغوية، ورسَخَتْ قَدَمُهُ فيها رُسُوخًا عميقًا وُفِّقَ له منذُ نشأتِه.

 

‌‌مولده وظروف نشأته:

وُلِدَ الحافظُ بِمصْرَ (القاهرة المُعِزِّيَّة) في الثاني والعشرين من شهرِ شَعْبانَ سَنَةَ 773 هـ. ولم يَلْبَثْ أنْ ذاقَ قَسْوةَ الدُّنيا، فتُوفِّي والِدهُ وهو طِفْلٌ في الرابعة من العُمر (سنة 777 هـ)، وتَدُلُّنا المعلوماتُ على أنَّه نشأ في بيئة تَعرِفُ العِلْمَ وتُقَدِّرُه، فقد ذكروا أنه أفادَ في كثيرٍ من العُلُومِ
ইমাম হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার আসকালানী, হাদিসের আমিরুল মুমিনীন (أمير المؤمنিন)

শাইখুল ইসলাম, প্রধান বিচারপতি (قاضي القضاة), হাদিসের আমিরুল মুমিনীন (أمير المؤمنিন في الحديث), হাফিজদের (الحفاظ) সমাপ্তকারী আহমদ বিন আলী বিন মুহাম্মদ বিন হাজার আসকালানী, আল-মিসরি আশ-শাফিঈ। তাঁর কুনিয়া (كنية) আবু ফজল এবং উপাধি (لقب) শিহাবুদ্দীন। তিনি ইবনে হাজার নামে প্রসিদ্ধ—এটি তাঁর জনৈক পূর্বপুরুষের উপাধি; আবার কারো মতে এটি ‘আল-হাজার’ পরিবারের সাথে সম্পর্কিত একটি নিসবত (نسبة), যারা জারিদ অঞ্চলের দক্ষিণে বসবাসকারী একটি গোষ্ঠী এবং তাদের এলাকা ছিল গাবেস। ইবনুল ইমাদ ‘শাজারাতুজ জাহাব’ গ্রন্থে এই মত ব্যক্ত করেছেন। ইবনুল ইমাদ এই নিসবতের (نسبة) ক্ষেত্রে (আল-হাজারের দিকে) আবুল মাহাসিন ইবনে তাগরি বার্দিকে অনুসরণ করেছেন, তবে সাখাভী একে তাঁর ভুলসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন এবং ‘আদ-দাউউল লামি’ গ্রন্থে তাঁর জীবনবৃত্তান্ত বর্ণনাকালে এর সমালোচনা করেছেন।

ইবনে হাজার ইসলামের সেই সকল বরেণ্য মনীষীদের একজন ছিলেন, যারা তাদের সমসাময়িক বিভিন্ন শরয়ী ও ভাষাগত বিদ্যায় পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন। শৈশব থেকেই তিনি এই বিষয়গুলোতে এমন গভীর বুৎপত্তি অর্জনের তাওফিক লাভ করেছিলেন যা তাকে সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছিল।

 

‌‌তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট:

হাফিজ (الحافظ) মিশরে (কাহেরা আল-মুইজ্জিয়্যাহ) ৭৭৩ হিজরি সালের ২২শে শাবান জন্মগ্রহণ করেন। অনতিবিলম্বেই তিনি জাগতিক কঠোরতার সম্মুখীন হন; মাত্র চার বছর বয়সে (৭৭৭ হিজরি সালে) তাঁর পিতা ইন্তেকাল করেন। তথ্যাদি আমাদের নির্দেশ করে যে, তিনি এমন এক পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন যা ইলম বা জ্ঞান সম্পর্কে অবগত ছিল এবং তাকে মূল্যায়ন করত। উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বহু জ্ঞান-শাখায় ব্যুৎপত্তি অর্জন করেছিলেন।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٠)
من عِنايةِ والدِه به وبسلوكِهِ سبيلَ العِلْم، فقد ظلَّتْ توصيةُ هذا الوالِدِ تُظِلُّ هذا النَّجْلَ حتى أتَى بعبقريةٍ ضَنَّ الزمانُ بعدَها بِمَثيلٍ لها، حَفِظَ القرآنَ وهو ابنُ تِسْعٍ، وألفيةَ العراقِي في علومِ الحديثِ، ومُختصَرَ ابنِ الحاجبِ في أصولِ الفِقْهِ.

وهنا نُسَجِّلُ مزيّةَ المجتمعِ الإسلامي الذي تنهضُ فيه المواهبُ والعبقرياتُ، أيًّا كانَتْ ظروفُها في الحياة والعَيْش، فلا يَخْمُلُ ذكيٌّ ونَابِهٌ لفَقْرٍ نازِلٍ به، ولا يَضِيعُ يَتِيمٌ ذو موهبةٍ لِيُتْمِه، كيف والنبيُّ صلى الله عليه وسلم هو القُدوةُ المُثلى لكلّ مسلم قد وُلِد يتيمًا، ثم شَقَّ صلى الله عليه وسلم طريقَ الحياة بنفسه فرَعى الغنمَ ثم اتَّجَر بأموال الرِّجَال. لِتكونَ حياتُه صلى الله عليه وسلم أُسوةً بالصبر والمُصابَرة ..

ويأتي الحافِظُ ابنُ حَجَرٍ واسِطَةَ العِقْدِ لِثلاثةٍ من الأعلام الأئمّة الأيتامِ، فكان قَبْلَه شيخُه ومُخَرِّجُه الإمامُ الحافِظُ عبدُ الرحيم بنُ الحُسين العِراقي وقد نشأ يتيمًا، وكان بعدَه الحافِظُ جلالُ الدِّين عبدُ الرحمنِ السُّيوطِيّ وقد نشأ كذلك يتيمًا(1).

إِنّها خُصوصِيَّةُ العَطاءِ والتَّراحُمِ والإخَاء في المسلمين، لا تُظْلَمُ فيهم مَوْهِبَةٌ ولا مَقْدِرَةٌ لأيِّ إنسانٍ، ولا تَشُوبُ تكوينَه عُقْدَةُ نَقْصٍ أو شُعورٌ بحِرمان، لأنّ المجتمع يُحقِّق بالعمل الواقعي قولَه تعالى: {إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ إِخْوَةٌ} وقولَه صلى الله عليه وسلم: "مَثَلُ المؤمنينَ في تَوَادِّهم وتَرَاحُمِهم وتعاطُفِهم مَثَلُ الجَسَدِ، إذا اشتكى منه عُضْوٌ تداعى له سائرُ الجَسَدِ بالسَّهَرِ والحُمَّى"(2).

 

‌‌نَجَابتُه مُنْذُ صِغَرِهِ:

وقَدْ بَدَتْ على ابنِ حَجَرٍ النَّجَابَةُ منذُ نُعومةِ أظفارهِ حينَ أُدْخِلَ

--------------------------------------------

(1) وإنها لمنَاسبةٌ نذكّر فيها أولياءَ الأيتام والمُرَبّين في المدارس بمسؤوليتهم الضخمة عن البراعم الرَّطْبَةِ (الأطفال)، الذين أُوكِلَ إليهم أمرُ تربيتِهم وتعليمهم، لِيتَّقوا اللهَ فإنَّ مسؤوليتَهم جليلةٌ، تَمَسُّ مستقبلَ الأُمَّة.

(2) مُتَّفقٌ عليه: البخاري في الأدب (رحمة الناس .. ): 8: 10 ومسلم بلفظه في البِرّ: 8: 20.

পিতার বিশেষ যত্ন এবং জ্ঞান অর্জনের পথে তাঁর দিকনির্দেশনার কারণেই এই পিতার অসিয়ত বা উপদেশ এই সন্তানকে ছায়ার মতো আগলে রেখেছিল, যতক্ষণ না তিনি এমন এক অনন্য প্রতিভা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন যার সমতুল্য মেধা কালপরিক্রমায় বিরল। তিনি মাত্র নয় বছর বয়সে কুরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। পাশাপাশি হাদিস শাস্ত্রের (علوم الحديث) ওপর ইরাকির আলফিয়্যাহ এবং উসুল আল-ফিকহ (أصول الفقه) বিষয়ে ইবনুল হাজিবের মুখতাসার মুখস্থ করেন।

এখানে আমরা ইসলামি সমাজের সেই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করতে পারি, যেখানে মেধা ও প্রতিভার বিকাশ ঘটে জীবনের পরিস্থিতি ও জীবিকা নির্বাহের অবস্থা যেমনই হোক না কেন। এখানে কোনো তীক্ষ্ণ মেধা ও বুদ্ধিমান ব্যক্তি দারিদ্র্যের কারণে অখ্যাত বা বিস্মৃত হয়ে থাকে না, আর কোনো প্রতিভাবান ইয়াতীমও তার পিতৃহীনতার কারণে হারিয়ে যায় না। আর তা হবেই না কেন, যেখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হলেন প্রত্যেক মুসলমানের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ, যিনি স্বয়ং ইয়াতীম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অতঃপর তিনি নিজেই জীবনের পথ প্রশস্ত করেছিলেন; তিনি বকরি চরিয়েছেন এবং পরবর্তীতে অন্যের অর্থ নিয়ে ব্যবসা করেছেন। যাতে তাঁর জীবন ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকে।

আল-হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার তিনজন প্রখ্যাত ইমাম ও মহৎ ব্যক্তির মধ্যম মণি হিসেবে আবির্ভূত হন যারা ইয়াতীম ছিলেন। তাঁর পূর্বে ছিলেন তাঁর শিক্ষক এবং তাঁর হাদিস বিশদ বর্ণনাকারী (مخرج) ইমাম আল-হাফিজ (الحافظ) আব্দুর রহিম ইবনুল হুসাইন আল-ইরাকি, যিনি ইয়াতীম হিসেবে বেড়ে উঠেছিলেন। আর তাঁর পরে ছিলেন আল-হাফিজ (الحافظ) জালালুদ্দিন আব্দুর রহমান আস-সুয়ূতি, তিনিও একইভাবে ইয়াতীম হিসেবে বড় হয়েছিলেন(১)।

নিশ্চয়ই এটি মুসলমানদের মধ্যকার দানশীলতা, পারস্পরিক দয়া এবং ভ্রাতৃত্বের এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এখানে কোনো মানুষের মেধা বা যোগ্যতা জুলুমের শিকার হয় না এবং কারো গড়ে ওঠার পেছনে হীনম্মন্যতা বা বঞ্চনার বোধ বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। কারণ, সমাজ বাস্তব কর্মতৎপরতার মাধ্যমে মহান আল্লাহর এই বাণীর প্রতিফলন ঘটায়: "নিশ্চয়ই মুমিনরা পরস্পর ভাই।" এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এই বাণীরও: "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও সহমর্মিতার উদাহরণ একটি দেহের ন্যায়; যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ ব্যথিত হয়, তখন পুরো দেহ অনিদ্রা ও জ্বরে তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে।"(২)।

 

‌‌শৈশব থেকেই তাঁর প্রখর মেধা:

ইবনে হাজারের মধ্যে শৈশব থেকেই প্রখর মেধার চিহ্ন প্রকাশ পেয়েছিল যখন তাঁকে প্রবেশ করানো হয়েছিল...

--------------------------------------------

(১) এটি এমন একটি উপলক্ষ যেখানে আমরা ইয়াতীমদের অভিভাবক এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সেই বিশাল দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিই যা এই কোমলমতি শিশুদের প্রতি তাঁদের ওপর অর্পিত হয়েছে। যাদের লালন-পালন ও শিক্ষার ভার তাঁদের দেওয়া হয়েছে, তাঁরা যেন আল্লাহকে ভয় করেন; কারণ তাঁদের এই দায়িত্ব অত্যন্ত মহান, যা উম্মাহর ভবিষ্যতের সাথে জড়িত।

(২) সর্বসম্মত (متفق عليه): বুখারি, আদাব অধ্যায় (মানুষের প্রতি দয়া...): ৮: ১০ এবং মুসলিম, বির (সদাচরণ) অধ্যায়ে এই শব্দেই বর্ণিত: ৮: ২০।

(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١١)
الكُتّابَ في سِنِّ الخامسة، فبدا منه ذكاءٌ وقوةُ حِفْظٍ يُزَيِّنُهما وَجْهٌ صبيح وهَامَةٌ وافية، تَرعْرَعَ في ظِلِّ العِلْمِ والقرآنِ وأخلاقِ القرآن فكان عاليَ الهِمَّةِ، مُتواضعًا حَسَنَ الخُلُقِ، حاضِرَ البديهة آخذًا بالاحتياط والوَرَع.

وفي نفحاتِ الحَرَمِ ظهرَتْ بوادِرُ أَلْمَعيَّتِه بعد حَجَّتِه الأُولى سَنَة 784 هـ في مجاورته سنة 785 ودراسته على شيوخِ مكَّةَ، ومُدارسَتِهم وقد أَتمَّ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ سَنَةً فقد بَحَثَ في "عُمْدَةِ الأحكامِ" للمَقْدسيّ على الحافظ أبي حامد محمدِ بن ظهيرة (المتوفى سنة 787 هـ) بحثًا استنباطيًّا، وصلّى التراويحَ في المسجد الحَرام بالقرآن الكريم.

 

‌‌حياتُه العِلْمِيَّة:

وقد سَرَدَتِ المصادرُ أحداثَ حياةِ الحافِظِ ابنِ حَجَرٍ حَسبَما اتَّفَقَ اجتماعُ المعلوماتِ فيها، وقد رأَيْنا لِكَيْ نُلْقِيَ عليها الضوءَ المُوَضِّح في هذا البحثِ المختصر أنْ نبتكرَ لها تصنيفًا يضعُ الأمورَ أمامَ القُرَّاءِ جَلِيَّةً نَيِّرة.

وقد وَجَدْنَا في ضَوْءِ دراسةِ حياتهِ العِلْمِيّة فيما بَيْن أيدينا من المراجِع أنه يُمكِنُ أنْ نُقَسِّمَها إلى ثلاثِ مَراحِلَ نُبيِّنُها فيما يأتي:

المرحلةُ الأولى: بَدْءُ نَبَاهَتِه وتحصيله، وكان اشتغالُه فيها بالأدب والتاريخ، وقد بَدَا فيها صفاءُ طَبْعِه ورِقَّةُ حِسِّه مع ما كان عليه من التَّمَكُّنِ في اللُّغة العربية وبلاغتِها وأساليبِها، فقد نَظَمَ الشِّعْرَ الحَسَنَ وأجادَ فيه، حتَّى شَهِدَ له الباحثونَ بأنّه كانَ شاعِرًا طبعًا، وترجَمَه بَدْرُ الدِّين البَشْتَكِيّ في كتابه "طبقات الشُّعَراء". وله ديوانُ شِعْرٍ طُبِعَ في مُجَلَّدٍ واحدٍ في الهِنْد.

ومِنْ لطيفِ شِعْرِهِ قولُه:

ثلاثٌ مِنَ الدُّنْيَا إذا هي حُصِّلتْ … لشخصٍ فلَنْ يخشى من الضُّرّ والضَّيْرِ

غِنًى عن بَنيها والسلامةُ منهُمُ … وصِحَّةُ جِسْمٍ ثُمَّ خاتِمةُ الخَيْرِ
পাঁচ বছর বয়সে তিনি মক্তবে ভর্তি হন। তখন থেকেই তাঁর মাঝে প্রখর মেধা ও অসাধারণ মুখস্থশক্তির প্রতিফলন ঘটে, যা একটি উজ্জ্বল অবয়ব ও মহৎ ব্যক্তিত্ব দ্বারা সুশোভিত ছিল। তিনি জ্ঞান, কুরআন এবং কুরআনি চরিত্রের ছায়াতলে বেড়ে ওঠেন। তিনি ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী, বিনয়ী, সচ্চরিত্রবান ও উপস্থিত বুদ্ধি সম্পন্ন; সেই সাথে তিনি অত্যন্ত সতর্কতা ও পরহেজগারির অনুসারী ছিলেন।

হারামাইন শরিফাইনের পবিত্র পরিবেশে তাঁর অসাধারণ মেধার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। ৭৮৪ হিজরিতে তাঁর প্রথম হজের পর, ৭৮৫ হিজরিতে সেখানে অবস্থানকালে মক্কার শায়খদের কাছে তিনি জ্ঞান অর্জন ও পর্যালোচনা শুরু করেন। মাত্র বারো বছর বয়সেই তিনি হাফিজ (الحافظ) আবু হামিদ মুহাম্মদ বিন জুহাইরা (মৃত্যু ৭৮৭ হিজরি)-র নিকট মাকদিসি রচিত "উমদাতুল আহকাম" গ্রন্থটি গবেষণামূলক ও বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতিতে অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন এবং মসজিদুল হারামে আল-কুরআন খতমের মাধ্যমে তারাবিহ নামাজ পড়ান।

 

‌‌তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন:

উৎস গ্রন্থগুলো হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজারের জীবনের ঘটনাবলিকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে ক্রমানুসারে বর্ণনা করেছে। এই সংক্ষিপ্ত গবেষণায় আমরা বিষয়টির ওপর সুস্পষ্ট আলোকপাত করার লক্ষ্যে একে একটি নতুন বিন্যাসে সাজিয়েছি, যা পাঠকদের সামনে বিষয়গুলোকে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলবে।

আমাদের হাতে থাকা তথ্যসূত্রগুলোর আলোকে তাঁর জ্ঞানতাত্ত্বিক জীবন অধ্যয়ন করে আমরা একে তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত করেছি, যা নিচে বর্ণিত হলো:

প্রথম পর্যায়: তাঁর মেধার বিকাশ ও জ্ঞানার্জনের সূচনা। এই পর্যায়ে তিনি সাহিত্য ও ইতিহাস চর্চায় মগ্ন ছিলেন। এখানে তাঁর স্বভাবজাত স্বচ্ছতা ও সূক্ষ্ম অনুভূতি প্রকাশিত হয়, পাশাপাশি আরবি ভাষা, অলংকারশাস্ত্র ও শৈলীর ওপর তাঁর গভীর পাণ্ডিত্য ফুটে ওঠে। তিনি চমৎকার কবিতা রচনা করতেন এবং এতে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, এমনকি গবেষকরাও সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি জন্মগতভাবেই একজন কবি ছিলেন। বদরুদ্দিন আল-বাশতাকি তাঁর "তাবাকাতুশ শুয়ারা" গ্রন্থে তাঁর জীবনী সংকলন করেছেন। তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থ (দিওয়ান) রয়েছে যা ভারতে এক খণ্ডে মুদ্রিত হয়েছে।

তাঁর চমৎকার কিছু কাব্যমালার মধ্যে একটি হলো:

দুনিয়ার তিনটি বিষয় যখন অর্জিত হয় … কোনো ব্যক্তির জন্য, তখন সে আর ক্ষতি বা বিপদের ভয় করবে না

মানুষের থেকে অমুখাপেক্ষিতা ও তাদের থেকে নিরাপত্তা … শরীরের সুস্থতা এবং পরিশেষে শুভ পরিণাম।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٢)
والجديرُ بالذِّكْرِ أَنَّ التَّمَكُّنَ في عُلوم اللغةِ العربيةِ ليسَ مصادفَةً هنا في حياة الحافِظ، بل هو رُكْنٌ من منهج الأسلافِ كُلِّهم في التكوين العِلْمِيّ أَنْ يُبْتَنى مُنْذُ خُطواتِه الأولى على أُسُسٍ متينةٍ من علوم العربية، خِلافًا لِمَا يُظْهِرُه بعضُ المُتَعالِمينَ في هذا الزمن من الاستخفافِ بها، وقد حذَّر العلماءُ طالِبَ الحديثِ من التهاوُنِ باللغةِ والنحو تحذيرًا شديدًا، ومِنْ ذلك قولُهم: إنَّ أَخْوَفَ ما أخافُ على طالبِ العِلْمِ إذا لم يَعْرِفِ النحوَ أنْ يدخُلَ في جُملةِ قولِ النبيِّ صلى الله عليه وسلم: "مَنْ كَذَبَ عَلَيَّ مُتَعَمِّدًا فَلْيتَبوَّأْ مقعدَهُ من النارِ"(1).

المرحلة الثانية: اشتغالُه بالحديث الشريف وفُنونِه:

وتبدأُ مِنْ سَنَةِ 796 هـ. وهي المرحلةُ التي سَمَا بها قَدْرُهُ وعَلَا نَجْمُه، وكأنَّ القَدَرَ هيَّأهُ لِتِلْكَ الفترةِ من تاريخ الحديثِ أَوْ هَيَّأَ تلك الظروفَ مِنْ أَجْلهِ، فقد وافَى بعبقريَّتهِ وذكائِه وسُرعةِ حِفْظِه مجموعةً مِنَ الشيوخ قَلَّ أنْ يَجْتمِعَ لأحدٍ مِثْلُهم، اكتملَ كلُّ واحدٍ منهم في فَنِّهِ حتى صارَ بَحْرًا في اختصاصِه، وإمامًا في عِلْمهِ الذي اشتَهَرَ به، فتَلَقَّى عنهم الحافِظُ واستوعَبَ ما لَدَيْهم، حتى اجتمع عِنْدَه ما تفرَّقَ في غَيْرِه، فصارَ فَرْدًا في أُمَّتِهِ، وأُمَّةً في أقرانه.

 

‌‌فكان مِنْ شيوخه:

أبو إسحاقَ إبراهيمُ بنُ أحمدَ التنوخِيّ البَعْلَبَكِّيّ في القراءات وكان عاليَ السَّنَدِ فيها.

والحافِظُ الإمامُ زَيْنُ الدِّين عبدُ الرحيم العِراقِيّ، الإِمامُ في علوم الحديثِ ومُتَعَلَّقاتِه أميرُ المؤمنين في الحديث.

ونورُ الدِّين علي الهَيثمي وكان حافِظًا للمُتُون، وهو صاحب مجمع الزوائد ومنبع الفوائد.

--------------------------------------------

(1) علوم الحديث لابنِ الصلاح: 217، وإرشاد طلاب الحقائق للنووي: 157. والحديث متواتِر مُتَّفَقٌ على تواتره.

উল্লেখ্য যে, আরবি ভাষা বিজ্ঞানে দক্ষতা অর্জন হাফিজের জীবনে কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং এটি ইলমি গঠনের ক্ষেত্রে পূর্বসূরিদের সামগ্রিক মানহাজের একটি স্তম্ভ যে, প্রাথমিক ধাপ থেকেই যেন শিক্ষার ভিত্তি আরবি ভাষার সুদৃঢ় বুনিয়াদের ওপর গড়ে তোলা হয়; এটি বর্তমান সময়ের কিছু স্বঘোষিত পণ্ডিতদের আচরণের বিপরীত, যারা আরবি ভাষাকে অবজ্ঞা করে। ওলামায়ে কেরাম হাদিসের ছাত্রকে ভাষা ও নাহু (ব্যাকরণ) নিয়ে অবহেলা করার ব্যাপারে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তাঁদের একটি উক্তি হলো: "আমি ইলমের একজন ছাত্রের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যে ভয়টি পাই তা হলো, সে যদি নাহু না জানে তবে সে নবী সাল্লাল্লাহু عليه وسلم-এর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারে: 'যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়'।"(1).

দ্বিতীয় পর্যায়: হাদিস শরিফ এবং এর সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শাস্ত্র নিয়ে তাঁর নিমগ্নতা:

এবং এটি ৭৯৬ হিজরি থেকে শুরু হয়। এটি এমন এক পর্যায় যখন তাঁর মর্যাদা ও সুখ্যাতি সুউচ্চ শিখরে পৌঁছেছিল, যেন নিয়তি তাঁকে হাদিসের ইতিহাসের সেই বিশেষ সময়ের জন্য প্রস্তুত করেছিল অথবা তাঁর জন্যই সেই অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছিল। তিনি তাঁর প্রখর মেধা, বুদ্ধিমত্তা এবং দ্রুত মুখস্থ করার ক্ষমতার বদৌলতে এমন একদল মহান শিক্ষকের (শায়খ) সান্নিধ্য লাভ করেন, যাদের সমতুল্য শিক্ষক কারও ভাগ্যে মেলা ভার। তাঁদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ বিদ্যায় এতটাই পূর্ণতা লাভ করেছিলেন যে, তাঁরা স্ব স্ব বিশেষত্বে একেকজন সমুদ্র এবং নিজ ইলমে ইমাম হিসেবে প্রসিদ্ধ ছিলেন। হাফিজ তাঁদের নিকট থেকে ইলম গ্রহণ করেন এবং তাঁদের জ্ঞানরাজিকে আত্মস্থ করেন, যার ফলে অন্যের কাছে যা বিক্ষিপ্ত অবস্থায় ছিল তা তাঁর মাঝে এসে সমবেত হয়েছিল। এভাবে তিনি তাঁর উম্মতের মধ্যে একক ব্যক্তিত্বে পরিণত হন এবং সমসাময়িকদের মধ্যে নিজেই এক অনন্য প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠেন।

 

‌‌তাঁর শিক্ষকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:

কিরাত শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ আবু ইসহাক ইব্রাহিম ইবনে আহমদ আত-তানুখি আল-বালাবাক্কি; এই শাস্ত্রে তাঁর সনদটি ছিল উচ্চতর পর্যায়ের (عالي السند)।

এবং হাফিজ ইমাম যাইনুদ্দিন আবদুর রহিম আল-ইরাকি, যিনি হাদিস বিজ্ঞান (علوم الحديث) ও এর সংশ্লিষ্ট বিষয়াবলীতে ইমাম এবং হাদিস শাস্ত্রে আমিরুল মুমিনিন (أمير المؤمنين في الحديث) ছিলেন।

এবং নুরুদ্দিন আলী আল-হাইসামি, যিনি হাদিসের মূল পাঠ বা মতন (المتون) সংরক্ষণে হাফিজ ছিলেন; তিনি মাজমাউয যাওয়াইদ ওয়া মানবাউল ফাওয়াইদ গ্রন্থের রচয়িতা।

--------------------------------------------

(1) উলূমুল হাদিস লিবনিস সালাহ: ২১৭, এবং ইরশাদুল তুল্লাবিল হাকাইক লিন-নববি: ১৫৭। হাদিসটি মুতাওয়াতির (متواتر) এবং এর মুতাওয়াতির হওয়ার ব্যাপারে ঐক্যমত রয়েছে।

(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٣)
والبُلْقِيني سراج الدين أبو حفص عمر بن رسلان الحافظ الفقيه.

وابنُ المُلَقِّنِ سِرَاجُ الدِّين أبو حفصٍ عمرُ بن علي صاحبُ التصانيفِ.

والإمامُ محمدُ ابنُ جَمَاعَة الذي كان مُتَفنِّنًا في علومٍ كثيرةٍ مُستَنبِطًا خَفاياها، حتى كان يقولُ: أنَا أقرأُ في خَمْسَةَ عَشَرَ عِلْمًا لا يَعْرِفُ عُلَمَاءُ عصري أسماءَها.

ومِنَ النِّساءِ: السيدةُ مريمُ بِنْتُ الأذْرَعِيّ.

والسيدتانِ فاطمةُ وعائِشةُ بِنْتَا محمدِ بن عبدِ الهادي، وغيرُهن.

وغيرُ مَنْ ذكَرْنا مِنْ سائِرِ الشيوخ، وقد جَمَعَ هو أسماءَهم في مَرْجِعٍ كبيرٍ وَقَفْنَا على نُسْخَتهِ الخَطِّيَّة وهو "المَجْمَعُ المُؤَسِّسُ للمُعْجَم المُفَهْرِس" ترجمَ فيه لشيوخه وذكَرَ في ترجمةِ كُلِّ واحدٍ منهم ما تَلَقَّاهُ عنه من الكُتُب والرِّواية أو الدِّراية. وقدَّمَ فيه فهرسًا لمكتبةٍ كبيرةٍ متنوعةِ الفُنونِ حَوَاهَا صَدْرُه.

ويَضُمُّ هذا المعجمُ نُخْبَةً مِنْ عُلماءِ ذلك العَصْرِ في أقطارٍ عديدةٍ من العالَمِ الإسلامي لَقِيَهُمُ الحافِظُ في مِصْر، أو رَحَلَ إليهم في مُخْتَلِفِ البلاد، فقد رَحَلَ إلى مكَّةَ وحَجَّ مَرَّاتٍ عديدةً. ولَقِيَ فيها في الموسمِ جماعاتٍ منَ العُلماءِ قَدِمُوا للحَجِّ وأَخَذَ منهم وأفادَ، ورَحَلَ إلى الإسكندريةِ وقُوْصَ والصعيدِ والقُدْسِ ونَابُلُسَ والرَّمْلَةِ وغَزَّةَ ودِمَشْقَ، وغيرِها من البلاد. وقد طُبعَ هذا المعجمُ، فجاء مع فهارسه مرجعًا حافلًا.

ويَدُلُّنا البحثُ العِلْمِيُّ على أنَّ الفَضْلَ الأكبرَ في تخريجِ الحافِظِ ابنِ حَجَرٍ يَرْجِعُ إلى إمامِ عصرهِ في الحديث الإمامِ الحافِظِ عبدِ الرحيمِ العِراقيِّ المُتوفَّى سَنَة 806 هـ. ولا نُحِيلُ القارِئَ على شرحِ العِراقيّ للتِّرمِذىّ الذي اطَّلَعْنَا على نُسْخَتِه الخطيَّةِ في مكتباتِ المدينةِ وإستانبول لِيرَى
আর আল-বুলকিনি সিরাজুদ্দিন আবু হাফস উমর বিন রাসলান, যিনি ছিলেন হাফিজ (الحافظ) ও ফকিহ (الفقيه)।

এবং ইবনুল মুলাক্কিন সিরাজুদ্দিন আবু হাফস উমর বিন আলি, যিনি বহু গ্রন্থের রচয়িতা।

এবং ইমাম মুহাম্মদ ইবনে জামাআহ, যিনি বহু বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন এবং সেগুলোর সূক্ষ্ম রহস্যসমূহ উদ্ঘাটন করতেন; এমনকি তিনি বলতেন: "আমি এমন পনেরোটি শাস্ত্র অধ্যয়ন করি যেগুলোর নাম আমার সমসাময়িক আলেমরাও জানেন না।"

আর নারীদের মধ্যে রয়েছেন: সায়্যিদা মারইয়াম বিনতে আল-আজরুয়ি।

এবং সায়্যিদা ফাতিমা ও আয়েশা—মুহাম্মদ বিন আব্দুল হাদীর দুই কন্যা—এবং আরও অনেকে।

আমাদের উল্লিখিত শায়খগণ ছাড়াও অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন। তিনি (ইবনে হাজার) তাঁদের নামসমূহ একটি বৃহৎ গ্রন্থে সংকলন করেছেন, যার পাণ্ডুলিপি আমরা দেখেছি; গ্রন্থটি হলো "আল-মাজমাউল মুআসসিস লিল মুজামিল মুফাহরিস"। এতে তিনি তাঁর শায়খদের জীবনী বর্ণনা করেছেন এবং প্রত্যেকের জীবনীর অধীনে তাঁদের নিকট থেকে প্রাপ্ত কিতাবসমূহ এবং বর্ণনা (رواية) বা অনুধাবন (دراية) উল্লেখ করেছেন। এই গ্রন্থে তিনি তাঁর মেধা ও স্মৃতিতে সংরক্ষিত বিভিন্ন বিষয়ের একটি বিশাল গ্রন্থাগারের সূচি পেশ করেছেন।

এই মুজামটি তৎকালীন ইসলামি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের একদল শ্রেষ্ঠ আলেমকে অন্তর্ভুক্ত করেছে, যাঁদের সাথে হাফিজ (الحافظ) মিশরে সাক্ষাৎ করেছেন অথবা বিভিন্ন দেশে তাঁদের নিকট সফর করেছেন। তিনি মক্কায় সফর করেছেন এবং বহুবার হজ পালন করেছেন। সেখানে হজের মৌসুমে আগত একদল আলেমের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ ঘটে, তাঁদের নিকট থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেন এবং উপকৃত হন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়া, কুস, আপার ইজিপ্ট (সাঈদ), কুদস (জেরুজালেম), নাবলুস, রামলা, গাজা, দামেস্ক এবং অন্যান্য শহরেও সফর করেছেন। এই মুজামটি মুদ্রিত হয়েছে এবং এর সূচিপত্রসহ এটি একটি সমৃদ্ধ তথ্যসূত্রে পরিণত হয়েছে।

বৈজ্ঞানিক গবেষণা আমাদের নির্দেশ করে যে, হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজারের উচ্চতর পাণ্ডিত্য অর্জন বা বিনির্মাণে (تخريج) সবচেয়ে বড় অবদান ছিল তাঁর যুগের হাদিস বিশারদ ইমাম হাফিজ (الحافظ) আব্দুর রহিম আল-ইরাকির (মৃত্যু ৮০৬ হিজরি)। আমরা পাঠককে তিরমিজি-এর ওপর আল-ইরাকির সেই ব্যাখ্যার প্রতি নির্দেশ করছি না—যার পাণ্ডুলিপি আমরা মদিনা ও ইস্তাম্বুলের লাইব্রেরিগুলোতে দেখেছি—যাতে তিনি দেখতে পারেন...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٤)
ما أفادَه منه الحافظُ في الفتح، بل حَسْبُنا مُقابلَةُ شرحِهِ "طَرْحِ التثريبِ" الذي شرح ما جَمَعَه من أحاديثَ رُويَتْ من أَصحِّ الأسانيدِ لِيجدَ كيف اعتمدَ عليه الحافِظُ في "فَتْح الباري".

وكان الحافِظُ مع سُرعةِ حِفْظِه سريعَ القراءةِ حتى إِنَّه قَرَأَ صحيحَ البُخاريّ في عَشَرَةِ مجالِسَ كلُّ واحدٍ منها مِنْ بَعْدِ صلاةِ الظُّهر إلى العَصْر، وقرأ صحيحَ مُسلمٍ في خمسةِ مَجالِسَ في نَحْوِ يومَيْنِ وشَطْرِ يومٍ، ومِنْ أَغْرَبِ ما وقَعَ له من الإسراعِ إسراعُهُ في وقتهِ الضيِّقِ في رحلتهِ الشامِيَّةِ فقرأَ فيها المعجمَ الصغيرَ للطبرانيّ في مجلسٍ واحدٍ فيما بينَ صلاةِ الظُّهر والعَصْر، وقرأ في مُدَّةِ إقامَتِه بدِمَشْقَ -وهي شَهْرَانِ وثُلثُ شهرٍ تقريبًا- قريبًا من مئةِ مُجلَّد مع ما يُعَلِّقُهُ.

المرحلةُ الثالثةُ: نبوغهُ في العِلْمِ وإمامَتهُ:

ويَرْجِعُ ذلكَ إلى عصْرٍ مُبَكِّرٍ نستطيعُ أنْ نُحَدِّدَهُ بحوالَيْ سَنَة 810 هـ فقَدْ تَصدَّرَ مجالِسَ العِلْمِ في فنون عدَّة، وأَفْتَى، وأَمْلَى الحديثَ ووُلِّىَ القضاء، وطارتْ شهرته بمعرفة فنون الحديث ولاسيما رجاله وما يتعلَّق بهم، وأسانيد الحديث، واشتَهرَ ذِكْرهُ وبَعُدَ صِيْتُه وارتحلَ الأئمةُ إليه، وتَبَجَّحَ الفُضَلاءُ بالوُفودِ عليه، وكثُرَتْ طَلَبَتُهُ حتى كان رؤوسُ العلماءِ في كلِّ مذهبٍ وكلِّ قُطْرٍ مِنْ تلامِذَتِه، وظَهَرَ سُلْطانُه عليهم بذكائه وشُفُوفِ نَظَرِه وسُرْعَةِ إِدْرَاكِهِ واستِحْضَارِهِ للأطْرَافِ المُتَفَرِّقةِ من المسألة، والأشتاتِ المُوَزَّعَةِ من أسانيد الحديث وشواهِدِه وأقوالِ العُلَماءِ فيه، ودَرَّسَ التفسيرَ والفِقْهَ والحديثَ في معاهِدَ عِلْمِيَّةٍ كثيرةٍ شهيرةٍ آنذاك، وتَوَلَّى الإفتاءَ بدار العَدْلِ، والخَطَابَةَ بالجامعِ الأزهرِ ثُمَّ جامعِ عَمْرو بنِ العاص، وأَمْلَى مِنْ حِفظِه ما يَنيفُ على ألفِ مجلسٍ من مَجالِسِ الحديثِ، وفوَّضَ إليه المَلِكُ المُؤيَّدُ القَضَاءَ بالدِّيارِ الشامِيَّة مِرارًا فأبى، ثُمَّ باشَرَ القضاءَ في مِصْرَ، وأصبح في مركز رئاسةِ القضاءِ، لكنَّه لم يَرْضَ عن هذا المَنْصبِ الدُّنيوي الذي كثيرًا ما يُضَحي أناسٌ لأحْقَرَ منه بنفيسِ
হাফিজ (ইবনে হাজার) 'ফাতহুল বারি'তে তার থেকে যা গ্রহণ করেছেন তা-ই যথেষ্ট নয়, বরং আমাদের জন্য তার রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'তারহুত তাশরিব'-এর সাথে তুলনা করাই যথেষ্ট, যেখানে তিনি বিশুদ্ধতম সনদ (أصح الأسانيد)-এর ভিত্তিতে বর্ণিত হাদিসসমূহ ব্যাখ্যা করেছেন। এর মাধ্যমে অনুধাবন করা যাবে যে, হাফিজ 'ফাতহুল বারি' রচনায় কতটা তার ওপর নির্ভর করেছেন।

হাফিজ তার প্রখর মুখস্থ শক্তির পাশাপাশি অত্যন্ত দ্রুত পঠনে সক্ষম ছিলেন। এমনকি তিনি সহিহ বুখারি মাত্র দশটি মজলিসে শেষ করেছেন, যার প্রতিটি ছিল জোহর থেকে আসর নামাজের মধ্যবর্তী সময়ে। তিনি সহিহ মুসলিম প্রায় আড়াই দিনে পাঁচটি মজলিসে পাঠ করেছেন। তার দ্রুত পঠনের বিস্ময়কর ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো সিরিয়া সফরকালে সময়ের সংকীর্ণতা সত্ত্বেও ইমাম তাবারানির 'আল-মু'জাম আস-সাগির' জোহর ও আসরের মধ্যবর্তী সময়ের মধ্যে মাত্র এক মজলিসে পড়ে শেষ করেছেন। দামেস্কে অবস্থানের সময়—যা ছিল প্রায় দুই মাস দশ দিন—সেখানে তিনি টীকা রচনাসহ প্রায় একশত খণ্ড কিতাব পাঠ করেছেন।

তৃতীয় পর্যায়: ইলমি প্রতিভা ও ইমামত (নেতৃত্ব):

এর সূচনা হয়েছিল অনেক আগে থেকেই, যা আমরা আনুমানিক ৮১০ হিজরি হিসেবে নির্ধারণ করতে পারি। তখন থেকেই তিনি বিভিন্ন শাস্ত্রে ইলমি মজলিসসমূহের নেতৃত্ব দিয়েছেন, ফতোয়া প্রদান করেছেন এবং হাদিস ইমলা (أملى) করেছেন। তাকে বিচারপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল। হাদিসের বিভিন্ন শাখা, বিশেষ করে বর্ণনাকারী (رجال) ও তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি এবং হাদিসের সনদ (أسانيد) সম্পর্কে তার পাণ্ডিত্য ও খ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার সুখ্যাতি সুদূরপ্রসারী হয় এবং শীর্ষস্থানীয় ইমামগণ তার নিকট সফর করতে শুরু করেন। গুণী ব্যক্তিরা তার সান্নিধ্যে আসাকে গৌরবের বিষয় মনে করতেন। তার ছাত্রসংখ্যা এত বৃদ্ধি পায় যে, প্রতিটি মাজহাব ও প্রতিটি অঞ্চলের প্রধান প্রধান আলেমগণ তার ছাত্রে পরিণত হন। তার প্রখর মেধা, গভীর অন্তর্দৃষ্টি, দ্রুত উপলব্ধি ক্ষমতা এবং কোনো বিষয়ের বিচ্ছিন্ন দিকগুলো কিংবা হাদিসের সনদ (أسانيد), এর শাহেদ (شواهد) ও এ বিষয়ে আলেমদের মতামতসমূহ একত্রিত করার অসামান্য যোগ্যতার কারণে তাদের ওপর তার শ্রেষ্ঠত্ব ও কর্তৃত্ব ফুটে ওঠে। তিনি তৎকালীন বহু প্রসিদ্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাফসির, ফিকহ ও হাদিস অধ্যাপনা করেছেন। তিনি 'দারুল আদল'-এ ফতোয়া প্রদানের দায়িত্ব পালন করেন এবং জামে আজহার ও পরবর্তীতে জামে আমর ইবনে আস-এ খতিব হিসেবে নিযুক্ত হন। তিনি নিজ স্মৃতিশক্তি থেকে হাদিসের এক হাজারের বেশি মজলিসে ইমলা (أملى) করেছেন। সুলতান মুয়াইয়্যাদ তাকে বারবার সিরিয়ার বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরবর্তীতে তিনি মিশরের বিচার বিভাগের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং প্রধান বিচারপতির পদে অধিষ্ঠিত হন। তবে তিনি পার্থিব এই পদমর্যাদায় সন্তুষ্ট ছিলেন না, যার জন্য অনেক মানুষ তাদের মূল্যবান সম্পদ বিসর্জন দেয়।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٥)
الدِّين والنَّفْسِ، فاعتزلَ القضاءَ، وكُلِّفَ بالعودةِ إليه مرارًا فكان يعودُ إليه ويَعتزِلُه، ثُمَّ اعتزلَه ولم يَقْبَلْ إليه رُجوعًا أبدًا، ونِعِمّا فَعَلَ، فقد تفرَّغَ بذلك لِنَشْر العِلْمِ وخدمةِ الحديثِ النبوي .. وهكذا ينبغي لِلعالِم أنْ يُزيحَ ما يعوقُ نشاطَه وحركتَه في خدمة العِلْمِ وإِنْ كان مَنْصِبًا ذا وَجَاهَةٍ أو مال، وتبلُغُ المُدَّةُ لِولاياتِ الحافظِ ابنِ حَجَرٍ القضاءَ واعتزالِها فيما بين تلك المرَّاتِ عشرين سَنَةً كما ذَكَرَ الحافظُ السَّخاوِيّ. . . وقد ترجمَ الحافِظُ لِنَفْسِهِ في القُضَاةِ في كتابهِ "رَفْعُ الإصْرِ عن قُضَاةِ مِصْر".

 

‌‌مؤلَّفاتُه العِلْمِيَّة:

ابتدأَ الحافِظُ ابنُ حَجَرٍ في التصنيفِ مُنْذُ وقْتِ الشبابِ، ونستطيعُ بالبحثِ والتأمُّلِ أنْ نُحدِّدَ ذلك بحوالي سَنَةِ 796 هـ.

وتدلُّ أوائلُ تصنيفاتهِ على بدايةٍ عملية بارعة في التصنيف، فقد كان من أولِ كتبه كتابُهُ القَيِّمُ "تغليقُ التعليقِ" جَمَعَ فيه الأحاديثَ المُعَلَّقةَ في صحيحِ البخاري، وخرّجها وبيّن الأسانيدَ الموصولةَ التي رُويَتْ بها في شتّى المصادرِ الحديثية، وهو عَمَلٌ عظيم يدل على براعةٍ نادرة واستحضارٍ وسَعَةِ اطلاعٍ بعِيدَيْ المَدَى.

وقد ضَرَبَ في التصنيف مُثُلًا بعيدةً بكَثْرةِ مصنَّفاتهِ وتعدُّدِ فُنونِها وتنوُّعِها، حتى بلغَتْ ما يزيدُ على الخمسين ومئة مُصَنَّفٍ ما بين مَراجعَ ضخمةٍ مِثْلِ فَتْحِ الباري، وتهذيبِ التهذيبِ، ورسالةٍ صغيرةٍ نافعة مِثْلِ مَتْنِ نُخْبَةِ الفِكَرِ، وَشَرْحِهِ "نُزْهَةِ النظَر" الذي طار صيتهُ في الآفاق، وعوَّلَ عليه مَنْ جاء بعدَه.

وامتازَتْ مصنَّفاتهُ بالإتقان والإفادة التي لا توجدُ في غيرِها، وكان كثيرَ المراجَعةِ لها والمراجَعَةِ لِنَفْسِهِ، خِلافًا لِمَا يفعَلهُ بعضُ العصريين من التعالُمِ بالتصميم على الإثم والإصرار على الرأي الشاذّ المُخالِف للسُّنَّة الصحيحة والإجماع، وكان سريعَ الكتابة جدًّا مع حُسْنِ الضَّبْطِ، ولكَوْنه
দীন ও নফসের [হেফাজতে], তিনি বিচারপতির পদ ত্যাগ করেন। তাঁকে বারবার পুনরায় এই পদে ফিরে আসার অনুরোধ করা হয়েছিল, ফলে তিনি ফিরে আসতেন এবং পুনরায় পদত্যাগ করতেন। এরপর তিনি চূড়ান্তভাবে পদত্যাগ করেন এবং পুনরায় ফিরে আসার প্রস্তাব কখনোই গ্রহণ করেননি। আর তিনি যা করেছিলেন তা কতই না উত্তম ছিল, কারণ এর মাধ্যমে তিনি জ্ঞান প্রচার এবং নববী হাদিসের সেবায় আত্মনিয়োগ করতে পেরেছিলেন। এভাবেই একজন আলেমের উচিত তাঁর জ্ঞানচর্চা ও প্রচারের পথে যা কিছু বাধা সৃষ্টি করে তা দূর করে দেওয়া, হোক তা সম্মানজনক কোনো পদমর্যাদা কিংবা সম্পদ। হাফেজ ইবনে হাজারের বিচারপতির দায়িত্ব পালন ও পদত্যাগের মধ্যবর্তী এই সময়কাল ছিল বিশ বছর, যেমনটি হাফেজ সাখাভী উল্লেখ করেছেন। হাফেজ ইবনে হাজার নিজেই তাঁর 'রাফউল ইসর আন কুদাত মিশর' গ্রন্থে বিচারপতিদের জীবনী আলোচনায় নিজের জীবনী বর্ণনা করেছেন।

 

‌‌তাঁর জ্ঞানগর্ভ রচনাবলি:

হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর যৌবনকাল থেকেই গ্রন্থ রচনার কাজ শুরু করেন। গবেষণা ও পর্যালোচনার মাধ্যমে আমরা নির্ধারণ করতে পারি যে, তা আনুমানিক ৭৯৬ হিজরি সনের দিকে ছিল।

তাঁর প্রাথমিক রচনাবলি গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে এক দক্ষ ও প্রায়োগিক সূচনার প্রমাণ দেয়। তাঁর প্রথম দিককার গ্রন্থগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তাঁর মূল্যবান গ্রন্থ 'তাগলিকুত তায়লিক'। এতে তিনি সহিহ বুখারির ঝুলন্ত (معلقة) হাদিসগুলো একত্রিত করেছেন এবং বিভিন্ন হাদিস শাস্ত্রীয় উৎস থেকে সেগুলো তাখরিজ করেছেন এবং সেই সংযুক্ত (موصولة) সনদ (أسانيد) বর্ণনা করেছেন যার মাধ্যমে সেগুলো বর্ণিত হয়েছে। এটি এক মহান কর্ম যা তাঁর বিরল প্রজ্ঞা, বিরল স্মৃতিশক্তি এবং সুদূরপ্রসারী পাণ্ডিত্যের প্রমাণ দেয়।

গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে তিনি তাঁর রচনার আধিক্য, বিষয়ের বহুমুখিতা ও বৈচিত্র্যের মাধ্যমে এক সুউচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থের সংখ্যা দেড় শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে, যার মধ্যে ফাতহুল বারী ও তাহজিবুত তাহজিবের মতো বিশাল আকর গ্রন্থ রয়েছে, আবার নুখবাতুল ফিকার এবং এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ 'নুজহাতুন নাজার'-এর মতো ছোট কিন্তু অত্যন্ত উপকারী পুস্তিকাও রয়েছে, যার খ্যাতি দিগ দিগন্তে ছড়িয়ে পড়েছে এবং পরবর্তী আলেমগণ যার ওপর নির্ভর করেছেন।

তাঁর রচনাবলি এমন নিখুঁত বিন্যাস ও বিশেষত্বের জন্য স্বতন্ত্র যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। তিনি প্রায়শই নিজের লেখাগুলো সংশোধন ও পর্যালোচনা করতেন, যা বর্তমানকালের তথাকথিত কিছু পণ্ডিতদের আচরণের বিপরীত যারা ভুলের ওপর অটল থাকে এবং সহিহ (صحيحة) সুন্নাহ ও ইজমার পরিপন্থী বিচ্ছিন্ন (شاذ) মতামতের ওপর গোঁড়ামি প্রদর্শন করে। তিনি অত্যন্ত দ্রুত লিখতে পারতেন এবং একই সাথে তাঁর নির্ভুলতা (ضبط) ছিল অত্যন্ত চমৎকার...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٦)
كثيرَ التراجُعِ كانَتْ تصيرُ مُبيضتهُ مُسَوَّدَةً، لذلك اختَلَفَتْ نُسَخُ مؤلَّفاتِه واحتاج المحَقِّقُ لها إلى كثير من الإمعان والتثبُّتِ حتى يقفَ على الصيغة النِّهائية لكتابه.

وقد كُتِبَ لمؤلَّفاته الحظُّ الوافرُ مِنَ القَبولِ في عصره وبَعْدَه، فانتشرَتْ كُتبهُ أيامَ حياتِهِ، وأَقرأَ الكثيرَ منها، وتهادَتها المُلوكُ والأكابِرُ، واعتنى بتحصيلِها كثيرٌ مِنْ شُيوخِه وأقرانهِ.

ومع ذلك فقد قال تلميذُه الحافِظُ السَّخَاوِىُّ: سَمعْتُ ابنَ حَجَرٍ يقولُ: "لسْتُ راضيًا عن شيء من تصانيفي لأني عَمِلْتُها في ابتداء الأمر، ثُمَّ لم يَتهيأْ لي مَنْ يُحرِّرُها معي. سِوى شرحِ البخاري، ومقدِّمتهِ، والمُشتَبِهِ، والتهذيب، ولسانِ الميزان، وأمّا سائرُ المجموعاتِ فهي كثيرةُ العدَدِ واهيةُ العُدَدِ. ضعيفةُ القُوى، ظامِئَةُ الرِّوَى".

وما ذلك إلَّا لِتَواضُعِه، وسَعَةِ بَحْرِهِ ومَعارِفِه المتجدِّدة كما قال أستاذُنا الشيخُ عبدُ الوهاب عبدُ اللطيف رحمه الله.

فيا لَلْعَجَبِ مِنْ بعضِ أُناسٍ يَتسوَّرُ أحدُهم مَنْصِبَ الاجتهادِ، فيَقْذِفُ للناس في يوم من الأيام كتابًا أو بحثًا فَجًّا مغلقًا، ثُمَّ لا يَقْبلُ فيه تصويبًا أو تصحيحًا؛ جمودًا على رأي سَبَقَ له، وتعصّبًا لِهوًى سِيقَ له. إنه الفرقُ بين العالِم الكبير الأصيل والدَّعِيِّ اللصيق، وإنه الفرقُ بين الأمانةِ على العِلْمِ والدِّين، والتسوُّرِ على مِنَصَّةِ التمَجْهُدِ والزَّعامة والجاه باسمِ العِلْمِ والدِّين.

وهذه المؤلَّفاتُ التي استحسنَها ورَضِيَها مِنْ كُتبهِ تبلُغُ وحدَها الأربعينَ من المجلَّدات تقريبًا، ناهِيكَ عن مصنَّفاته الأُخرى النَّفيسةِ، مِثْل: "تعجيل المنفعة، والإصابة في تمييز الصحابة -4 مجلدات-، والدُّرَر الكامِنة في أعيانِ المئة الثامنة -10 مجلدات-، والمطالِب العالية بزوائد المسانيد الثمانية -4 مجلدات-، والتلخيص الحبير بتخريج أحاديثِ
তিনি প্রচুর পরিমাণে সংশোধন বা পূর্বমত পরিবর্তন (تراجع) করতেন, যার ফলে তাঁর পরিষ্কার পাণ্ডুলিপিগুলো পুনরায় খসড়ায় পরিণত হতো। এ কারণে তাঁর রচনাবলির অনুলিপিগুলোর মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় এবং এর গবেষক-সম্পাদকের (محقق) জন্য অত্যন্ত গভীর মনোযোগ ও যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন পড়ে, যাতে তিনি কিতাবটির চূড়ান্ত রূপ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেন।

তাঁর রচনাবলি তাঁর সমসাময়িককালে এবং পরবর্তী যুগে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করেছিল। তাঁর জীবদ্দশাতেই তাঁর কিতাবসমূহ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং তিনি সেগুলোর অনেক পাঠদান করেছিলেন। রাজা-বাদশাহ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এগুলো একে অপরকে উপহার দিতেন এবং তাঁর অনেক উস্তাদ ও সমসাময়িক পণ্ডিতগণ এগুলো সংগ্রহের প্রতি অত্যন্ত যত্নশীল ছিলেন।

তা সত্ত্বেও তাঁর ছাত্র হাফিজ সাখাভী বলেন: আমি ইবনে হাজারকে বলতে শুনেছি: "আমি আমার কোনো রচনার ওপরই সন্তুষ্ট নই, কারণ আমি সেগুলো প্রাথমিক অবস্থায় তৈরি করেছিলাম, এরপর আমার সাথে সেগুলো পরিমার্জন করার মতো কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ, এর ভূমিকা, আল-মুশতাবিহ, আত-তহজীব এবং লিসানুল মিজান ব্যতীত। আর অবশিষ্ট সংকলনগুলো সংখ্যায় অনেক হলেও সেগুলোর প্রস্তুতি অত্যন্ত শিথিল, শক্তিতে দুর্বল (ضعيفة) এবং পর্যাপ্ত তাত্ত্বিক উপকরণহীন।"

আমাদের উস্তাদ শাইখ আবদুল ওয়াহহাব আবদুল লতিফ (রহিমাহুল্লাহ) যেমনটি বলেছেন, এটি কেবল তাঁর বিনয় এবং তাঁর জ্ঞানের গভীর সমুদ্র ও নিত্য-নতুন অর্জিত প্রজ্ঞার কারণেই ছিল।

অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো সেইসব মানুষ, যাদের কেউ কেউ ইজতিহাদ (اجتهاد)-এর আসনে আরোহণ করতে চায়; এরপর কোনো একদিন মানুষের সামনে একটি অপরিপক্ক ও অস্পষ্ট কিতাব বা গবেষণা পেশ করে এবং পরে তাতে কোনো সংশোধন বা শুদ্ধকরণ (تصحيح) গ্রহণ করে না। এটি কেবল নিজের পূর্ববর্তী মতের ওপর অনড় থাকা এবং প্রবৃত্তির অন্ধ আনুগত্যের কারণেই ঘটে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এটিই একজন বড় মাপের মৌলিক আলেম এবং একজন জ্ঞানপাপী ভণ্ড দাবিদারের মধ্যে পার্থক্য। আর এটিই হলো ইলম ও দ্বীনের আমানতদারিতা এবং ইলম ও দ্বীনের নাম ভাঙিয়ে মেকি পাণ্ডিত্য ও নেতৃত্বের মঞ্চ দখলের মধ্যে ব্যবধান।

তাঁর রচনাবলির মধ্য থেকে যেগুলোকে তিনি পছন্দ করেছেন ও যেগুলোর ব্যাপারে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, কেবল সেগুলোই প্রায় চল্লিশ খণ্ডের মতো হবে। এছাড়া তাঁর অন্যান্য মূল্যবান রচনা তো রয়েছেই, যেমন: 'তাজিলুল মানফায়াহ', 'আল-ইসাবাহ ফি তাময়িজিস সাহাবাহ' (৪ খণ্ড), 'আদ-দুরারুল কামিনাহ ফি আয়ানিল মিআতিল সামিনাহ' (১০ খণ্ড), 'আল-মাতালিবুল আলিয়াহ বি জাওয়াইদিল মাসানিদিস সামানিয়াহ' (৪ খণ্ড) এবং হাদিসের তাখরিজ (تخريج) বিষয়ক গ্রন্থ 'আত-তালখিসুল হাবির'...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٧)
شرح الرافعي الكبير -4 مجلدات-، والدِّراية لتخريج أحاديث الهدايةِ في جزأين. . . وغيرِها وغيرِها.

وكتابهُ (فَتْحُ الباري بشرحِ "صحيح البخاري") جاء مَرْجِعًا حديثيًّا حافِلًا وشرحًا كاملًا لصحيح البخاري، لِمَا اشتمل عليه من الفوائد الحديثية والنُّكات الأدبية، والاستنباطات للأحكام الفِقهية وغيرِها من الفوائد من الحديث، وامتاز بجَمْع طُرُق الحديث وإيرادِ الشواهد والرواياتِ التي تتعلقُ بمضمون الحديث. ولِما أنَّ البخاريَّ يُكرِّرُ الحديثَ في مواضعَ عديدةٍ قد تكثرُ كثيرًا فقد سَلكَ الحافظُ في شرحه طريقةَ جَمْعِ الشرحِ في موضعٍ واحد منها، ويَشرحُ في بقية المواضع بقَدْرِ ما يوضِّحُ مَقْصِدَ البخاري من إيراد الحديث في ذلك الموضع ثم يُحيلُ القارئَ على الموضع المشروح فيه، ومن هنا كانت طبعاتُ الشرحِ بحاجةٍ إلى تحقيق نصِّ الكِتَابِ وبَحْثٍ في هذه الإحالاتِ، لِتَسْهُلَ الفائدة على القارئ ويُختصر عليه الوَقْتُ والعَنَاءُ.

واتَّبعَ في تأليف هذا الكتاب خُطَّةَ الشُّورى العِلْمية على الطريقة التي كان عليها الإمامُ أبو حنيفةَ رضي الله عنه مع أصحابه في استنباط الفِقْه؛ فكان الإمامُ الحافِظُ ابنُ حَجَرٍ يكتُبُ بخطِّه الكُرَّاسَةَ ثم يَكتبُها جماعةٌ من الأئمّة المُعتَبَرين، ويَجتمعُ بهم في يوم من الأسبوع للمُبَاحَثَةِ في هذا الشرح، وتصحيحِ النُّسَخِ المكتوبة واستمر ذلك زمنًا طَويلًا من سنة 817 هـ حتى أولِ يوم من رجب سنة 842 هـ فأقام لإتمامه وليمةً عظيمةً دعا إليها وجُوهَ المسلمين وقُرِئَ فيها المجلسُ الأخير من الكتاب بحضور الأئمة.

وكان عمل له (سنة 813 هـ) مقدِّمةً في جُزأين، هي "هَدْيُ الساري مُقَدِّمةُ فَتْحِ الباري" قسَّمها على عَشَرَةِ فُصول، خَصَّ كُلَّ فصلٍ منها بجانبٍ من الدراسات الحديثية العامة للبخاري مِثْل فصلِ المُبهَمات، وفصلِ الأحاديثِ المُعلَّقة، وفصلِ الرِّجال الذين تُكُلِّمَ فيهم مِنْ رُواةِ الصحيح، وفصل الأحاديثِ التي طُعِنَ علَيها وهي في صحيح البخاري.
আশ-শারহুর রাফেয়িল কাবীর - ৪ খণ্ড -, এবং আদ-দিরায়া লি তাখরিজি আহাদিসিল হিদায়া - ২ খণ্ড... এবং আরও অন্যান্য গ্রন্থ।

তাঁর কিতাব (ফাতহুল বারী বিশারহি সহীহ বুখারী) সহীহ বুখারীর একটি সমৃদ্ধ হাদিস-বিষয়ক আকর গ্রন্থ (مرجع) এবং এক পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যাগ্রন্থ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এর কারণ এতে হাদিস-বিষয়ক নানাবিধ ফায়দা বা উপকারিতা, সাহিত্যিক সূক্ষ্মতা, ফিকহী বিধানের ইস্তিনবাত (استنباط) তথা উদ্ঘাটন এবং হাদিস থেকে প্রাপ্ত অন্যান্য নানাবিধ শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এটি হাদিসের সনদ বা সূত্রসমূহ (طرق) একত্রিত করা এবং হাদিসের মূল বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট শাহিদ বা সমর্থক বর্ণনা (الشواهد) ও বর্ণনা (الروايات) উপস্থাপনের মাধ্যমে অনন্য বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হয়েছে। যেহেতু ইমাম বুখারী অনেক ক্ষেত্রে বহু স্থানে একই হাদিসের পুনরাবৃত্তি করেছেন যা সংখ্যায় অনেক হতে পারে, তাই হাফেজ (ইবনে হাজার) তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে সেগুলোর ব্যাখ্যা এক স্থানে পুঞ্জীভূত করার পদ্ধতি অবলম্বন করেছেন। বাকি স্থানগুলোতে তিনি ততটুকুই ব্যাখ্যা করেন যা সংশ্লিষ্ট স্থানে হাদিসটি উল্লেখ করার পেছনে ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য স্পষ্ট করার জন্য যথেষ্ট, এবং এরপর তিনি পাঠককে ইতিপূর্বে ব্যাখ্যাত মূল স্থানের দিকে নির্দেশ করেন। এজন্য এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটির মুদ্রিত সংস্করণগুলো মূল পাঠের তাহকীক (تحقيق) তথা পাঠ-সম্পাদনা এবং এই নির্দেশনাগুলোর বিষয়ে গবেষণার মুখাপেক্ষী ছিল, যাতে পাঠকের জন্য এর দ্বারা উপকৃত হওয়া সহজ হয় এবং সময় ও শ্রম সংক্ষেপ হয়।

এই গ্রন্থটি রচনার ক্ষেত্রে তিনি সেই জ্ঞানতাত্ত্বিক পরামর্শের (শূরা) নীতি অনুসরণ করেছেন, যে পদ্ধতিতে ইমাম আবু হানিফা (রা.) তাঁর শিষ্যদের নিয়ে ফিকহ ইস্তিনবাত (استنباط) করতেন। হাফেজ ইবনে হাজার নিজ হাতে পাণ্ডুলিপি লিখতেন, অতঃপর বরেণ্য ইমামদের একটি জামাত তা অনুলিপি করতেন। সপ্তাহে একদিন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থটি নিয়ে পর্যালোচনার জন্য এবং অনুলিপিকৃত পাণ্ডুলিপিগুলো সংশোধনের জন্য তাঁরা একত্রিত হতেন। ৮১৭ হিজরী থেকে শুরু করে ৮৪২ হিজরীর পহেলা রজব পর্যন্ত দীর্ঘকাল ধরে এই ধারা অব্যাহত ছিল। এর সমাপ্তি উপলক্ষে তিনি এক বিশাল ভোজের আয়োজন করেন যেখানে মুসলিম বিশ্বের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং ইমামদের উপস্থিতিতে কিতাবটির সর্বশেষ মজলিস পাঠ করা হয়।

তিনি ৮১৩ হিজরীতে এর জন্য দুই খণ্ডের একটি ভূমিকা প্রস্তুত করেন, যা হলো "হাদয়ুস সারী মুকাদ্দিমা ফাতহুল বারী"। তিনি এটিকে দশটি পরিচ্ছেদে ভাগ করেছেন। প্রতিটি পরিচ্ছেদকে তিনি বুখারীর সাধারণ হাদিস-তাত্ত্বিক আলোচনার একেকটি বিশেষ বিষয়ের জন্য নির্দিষ্ট করেছেন। যেমন: মুবহামাত বা অস্পষ্ট বর্ণনাকারী (المبهمات) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, মুআল্লাক (المعلقة) হাদিস সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ, সহীহ বুখারীর সেই সমস্ত বর্ণনাকারী (الرجال) সংক্রান্ত পরিচ্ছেদ যাদের সমালোচনা করা হয়েছে এবং সহীহ বুখারীতে থাকা সেই সকল হাদিস যা আপত্তির সম্মুখীন হয়েছে তার ওপর ভিত্তি করে রচিত পরিচ্ছেদ।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٨)
وقد طارَتْ شُهْرَةُ الفَتْحِ فَوْرَ اكتمالِهِ، وطَلَبَهُ مُلوكُ الأطرافِ والعلماءُ في شتى الأقطار حتى قالوا فيه: "لا هِجرةَ بعدَ الفتحِ".

وقال الحافظُ السَّخَاوِيُّ: "ولو لم يكنْ له إلَّا شرحُ البخاري لَكَانَ كافيًا في عُلُوِّ مِقْدَاره، ولو وَقَفَ عليه ابنُ خلدون القائلُ بأنَّ شَرْحَ البخاري إلى الآن دَينٌ على هذه الأمة لَقَرَّتْ عينُهُ بالوفاء والاستيفاء".

ولم يزَلْ الحافظ ابن حجر على جلالَتهِ في العِلْم وعظمَتهِ في النفوس ومداومَتهِ على أنواع الخيرات إلى أنْ تُوفيَ بعدَ العِشَاء مِنْ ليلةِ السبت الثامنِ والعشرين من ذي الحِجَّة سنة (852 هـ) وصُلِّيَتْ عليه صلاةُ الجَنازةِ من الغَدِ في مشهدٍ عظيمٍ لم يَر مَنْ حَضَرَهُ مِثْلَه، وكان ممَّنْ حَمَلَ نَعْشَه السُّلطانُ فَمَنْ دُونَه من الرؤساء والعلماء حتى دُفِنَ بالقَرافة الصغرى في تُربة بني الخَرُّوبي، بين تُربة الشافعيّ ومسلم السلَمِيّ، بالقرب من الإمامِ اللَّيْثِ بن سعد رضي الله عنهم أجمعين.

قال الإمام السيوطي: "وقد غَلِقَ بَعْدَه الباب، وخُتِمَ به هذا الشأنُ".

وقال الحافظ السَّخاوي تلميذهُ: "وخَصائِلُه لم تجتمعْ لأحدٍ من أهل عصره، وقد شَهِدَ له القُدماءُ بالحِفْظِ والمعرفة التامَّةِ، والذِّهْنِ الوقَّادِ، والذكاء المُفْرِط، وسَعَةِ العِلْمِ في فُنُونٍ شتّى، وشَهِدَ له شيخهُ الحافظُ العِراقي بأنّه أعلمُ أصحابه بالحديث، وقال التقيُّ الفاسي والبرهانُ الحلبي: ما رأينا مثله. وسأله الأمير تغري برمش: أرأيت مِثْلَ نَفْسِك؟ فقال: قال اللهُ سبحانه وتعالى: {فَلَا تُزَكُّوا أَنْفُسَكُمْ هُوَ أَعْلَمُ بِمَنِ اتَّقَى}.

وقد عُرِفَ الحافظُ ابن حجر بالفضائل النفسيَّةِ، وأثنى الناسُ عَليه لِمزيدِ أدبهِ مع الأئمة المتقدِّمين والمتأخِّرين، بل مع كلِّ مَنْ يجالِسُه مِنْ كبير وصغير، ولِمحبَّته لأهلِ العِلْمِ والفَضْل والتنويه بذكرهم وعدم إطراء نَفْسهِ أو المُباهاةِ بما ينقدِحُ في ذِهنه، مع كَثْرةِ تحقيقاته الفريدةِ التي لا يكادُ يخلو بَحْثٌ من أبحاثه عنها.
ফাতহুল বারী পূর্ণ হওয়ার পরপরই এর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশ-বিদেশের রাজন্যবর্গ ও উলামায়ে কেরাম এটি সংগ্রহ করতে থাকেন, এমনকি এটি সম্পর্কে বলা হতে থাকে: "ফাতহ (ফাতহুল বারী) রচনার পর আর কোনো হিজরতের প্রয়োজন নেই।"

হাফিজ (الحافظ) সাখাভী বলেন: "যদি তাঁর এই বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) ছাড়া অন্য কিছু নাও থাকত, তবুও তাঁর সুউচ্চ মর্যাদা প্রমাণের জন্য এটিই যথেষ্ট হতো। ইবনে খালদুন—যিনি বলেছিলেন যে বুখারীর একটি ব্যাখ্যা (شرح) রচনা করা এই উম্মতের উপর এখনো ঋণ হয়ে আছে—তিনি যদি এটি দেখার সুযোগ পেতেন, তবে এর পূর্ণতা ও যথাযথ হক আদায় দেখে তাঁর চক্ষু শীতল হতো।"

হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার তাঁর ইলমী শ্রেষ্ঠত্ব, মানুষের হৃদয়ে তাঁর বিশালতা এবং নিরন্তর নেক কাজে মশগুল থাকা অবস্থায় ৮৫২ হিজরি সনের ২৮শে জিলহজ শনিবার দিবাগত রাতে এশার নামাজের পর ইন্তেকাল করেন। পরদিন এক বিশাল জানাজার মাধ্যমে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়, যার প্রত্যক্ষদর্শীরা এর আগে এমন দৃশ্য আর কখনো দেখেনি। সুলতান থেকে শুরু করে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও আলেমগণ তাঁর খাটিয়া বহন করেন। অবশেষে তাঁকে কারাফাতুস সুগরা-তে বনু খাররুবী কবরস্থানে, ইমাম শাফেয়ী ও মুসলিম আস-সালামীর কবরের মাঝে এবং ইমাম লাইস ইবনে সা'দ (রা.)-এর কবরের সন্নিকটে দাফন করা হয়। আল্লাহ তাঁদের সকলের প্রতি সন্তুষ্ট হোন।

ইমাম সুয়ূতী বলেন: "তাঁর পর এই জ্ঞানের দরজা রুদ্ধ হয়ে গেছে এবং তাঁর মাধ্যমেই এই বিষয়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।"

তাঁর ছাত্র হাফিজ (الحافظ) সাখাভী বলেন: "তাঁর গুণাবলি তাঁর সমসাময়িক কারো মাঝে একত্রিত হয়নি। পূর্ববর্তীগণ তাঁর মুখস্থশক্তি (الحفظ), নিখুঁত জ্ঞান, প্রখর মেধা, প্রখর বুদ্ধিমত্তা এবং বিভিন্ন বিদ্যায় তাঁর অগাধ পাণ্ডিত্যের সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর উস্তাদ হাফিজ (الحافظ) ইরাকী তাঁর সম্পর্কে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর ছাত্রদের মধ্যে হাদিস শাস্ত্রে সর্বাধিক পারদর্শী। তাকিউল ফাসী এবং বুরহান আল-হালাবী বলেন: 'আমরা তাঁর মতো কাউকে দেখিনি।' আমির তাগরি বারমাশ তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন: 'আপনি কি নিজের মতো কাউকে দেখেছেন?' উত্তরে তিনি বললেন: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা এরশাদ করেছেন: {অতএব তোমরা আত্মপ্রশংসা করো না, তিনিই ভালো জানেন কে মুত্তাকী}।"

হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার তাঁর চারিত্রিক মাধুর্যের জন্য পরিচিত ছিলেন এবং পূর্ববর্তী ও পরবর্তী ইমামগণের প্রতি, এমনকি তাঁর সাথে বসা ছোট-বড় প্রত্যেকের প্রতি তাঁর অতিশয় শিষ্টাচারের জন্য মানুষ তাঁর প্রশংসা করত। জ্ঞান ও গুণের অধিকারীদের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, তাঁদের আলোচনা করা এবং নিজেকে জাহির না করা বা নিজের মেধা নিয়ে দম্ভ না করার গুণ তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল। এর পাশাপাশি ছিল তাঁর অসংখ্য অনন্য গবেষণা (تحقيق), যা তাঁর প্রায় প্রতিটি আলোচনাতেই পরিলক্ষিত হয়।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ١٩)
‌‌مصادر ترجمته:

وقد عُرِفَ بين العلماء بمناقبه وزَخَرَتْ كتبُ التراجمِ بفضائله ومحاسِنهِ، ومِنْ أهمِّها كتاب: "الجواهِرُ والدُّرَرُ في ترجمة شيخ الإسلام ابنِ حَجَر" للحافظ شمسِ الدين السخاوي وهو مرجعٌ حافِلٌ يقَعُ في مُجلَّدين، وترجَمَهُ السَّخاويُّ أيضًا في كتابه الكبير "الضوءُ اللامِعُ في تراجِم أهلِ القَرْنِ التاسع"، وذكَرَهُ التقيُّ الفاسيُّ في "ذَيْلهِ على التقييد" لابنِ نُقطةَ، والبَدْرُ البشتكي في "طبقاتِ الشعراء"، والتقيُّ المقريزي في "العقود الفريدة"، والتقيُّ ابنُ فهدٍ المكّي في "ذَيْل طبقاتِ الحُفَّاظ"، والسيوطي في "حُسْنِ المحاضرة"، وابنُ العمادِ الحنبليُّ في "شَذَرَاتِ الذَّهَب"، والشَّوْكاني في "البَدْر الطالعِ"، وغيرُ ذلك من المصادِر التي ترجمَتْ له، رضي الله عنه وأرضاهُ وأَعْلى مقامَهُ ومَثْواهُ.

* * *

 

شرْحُ النُّخْبَةِ ومَنْهَجُ الحافِظِ ابنِ حَجَرٍ فيه

كتابُ "نُزهةِ النظرِ في توضيح نُخْبَةِ الفِكَر" سار ذِكرُه في الخاصِّ والعامِّ، واستَشهدَتْ بتحقيقاته مؤلَّفاتُ العلماءِ الأئمّةِ الأعلامِ، واسمهُ كما هو مُثْبَتٌ على النُّسخَةِ الأصليَّةِ الأُمِّ التي اعتمدنا عليها هكذا "نُزهَةُ النَّظرِ في توضيح نُخبةِ الفِكَر في مصطلح أهل الأثَر".

سببُ تصنيفِ مَتْنِ النُّخْبَةِ:

أوضحَ لنا الحافظُ ابنُ حَجَر دوافعَ تأليفهِ لهذا الكتابِ، فقال -بعد أَنْ ذكَرَ كثرَةَ الكتبِ المؤلَّفة في اصطلاح أهل الحديث-: "فسألني بعضُ الإخوانِ أنْ أُلَخِّصَ له المُهِمَّ من ذلك، فلخّصْتُهُ في أوراقٍ لطيفةٍ،
‌তাঁর জীবনীর উৎসসমূহ:

তিনি আলেমদের নিকট তাঁর মহৎ গুণাবলির জন্য সুপরিচিত ছিলেন এবং জীবনচরিতের গ্রন্থসমূহ তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রশংসনীয় গুণাবলির বর্ণনায় পরিপূর্ণ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাফিজ (الحافظ) শামসুদ্দিন সাখাভী রচিত "আল-জাওয়াহির ওয়া আদ-দুরার ফি তারজামাতিল শাইখিল ইসলাম ইবনে হাজার" নামক গ্রন্থটি। এটি একটি সমৃদ্ধ রেফারেন্স যা দুই খণ্ডে সমাপ্ত। সাখাভী তাঁর বিশাল গ্রন্থ "আদ-দাও আল-লামি' ফি তারাজিমি আহলিল করনিন তাসি" গ্রন্থেও তাঁর জীবনী আলোচনা করেছেন। এছাড়া তাকি আল-ফাসি ইবনু নুকতার "যাইল আলা আত-তাকয়িদ" গ্রন্থে, বদর আল-বাশতাকি "তাবাকাতুশ শুয়ারা" গ্রন্থে, তাকি আল-মাকরিজি "আল-উকুদ আল-ফারিদাহ" গ্রন্থে, তাকি ইবনু ফাহাদ আল-মাক্কি "যাইল তাবাকাতিল হাফিজ" গ্রন্থে, সুয়ুতি "হুসনুল মুহাদারা" গ্রন্থে, ইবনুল ইমাদ আল-হাম্বলি "শাযারাতুয যাহাব" গ্রন্থে এবং শাওকানি "আল-বদর আত-তালি" গ্রন্থে তাঁর কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়াও আরও অনেক উৎস রয়েছে যেখানে তাঁর জীবনী বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন, তাঁকে সন্তুষ্ট করুন এবং তাঁর মর্যাদা ও আবাস্থলকে উন্নত করুন।

* * *

 

নুখবার ব্যাখ্যা এবং এতে হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজারের পদ্ধতি (منهج)

"নুযহাতুন নাযার ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার" গ্রন্থটির খ্যাতি সর্বসাধারণের মাঝে ছড়িয়ে পড়েছে এবং শীর্ষস্থানীয় ইমাম ও আলেমগণের রচনাবলিতে এর সূক্ষ্ম বিশ্লেষণসমূহ থেকে উদ্ধৃতি প্রদান করা হয়েছে। আমরা যে মূল পাণ্ডুলিপির ওপর নির্ভর করেছি, তাতে এর নাম এভাবে সাব্যস্ত আছে: "নুযহাতুন নাযার ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার ফি মুসতালাহি (مصطلح) আহলিল আসার"।

নুখবা মূলপাঠের (متن) সংকলনের কারণ:

হাফিজ (الحافظ) ইবনে হাজার আমাদের নিকট এই গ্রন্থটি রচনার প্রেক্ষাপট স্পষ্ট করেছেন। হাদিসের পরিভাষা (اصطلاح) বিষয়ে রচিত গ্রন্থের আধিক্যের কথা উল্লেখ করার পর তিনি বলেন: "কিছু ভাই আমাকে অনুরোধ করেন যেন আমি তাঁদের জন্য এ বিষয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তাকারে তুলে ধরি। তাই আমি একে কিছু সংক্ষিপ্ত পৃষ্ঠায় সংক্ষেপ করি।"
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٠)
سمَّيْتُها "نُخْبَة الفِكَر في مصطلح أهلِ الأثَر" على ترتيبٍ ابتكرتهُ وسبيلٍ انتهجْتُه".

إذنْ لهذا السببِ صَنَّفَ المَتْنَ، فلم يكُنِ القصدُ مُجرَّدَ الاختصار الشديد، الذي تُعَبِّر عنه كلمةُ "أوراقٍ لطيفةٍ"، بل كان القصدُ أيضًا ترتيبًا مُبتَكَرًا لِعِلْمِ المُصطَلح، ومنهجًا خاصًّا سَلَكَه فيه.

سببُ تأليفِ الشَّرحِ:

فلِماذا الشرحُ وماذا فيه؟

يتحدَّث الحافظُ عن ذلك فيقول:

"فَرَغِب إليّ ثانيًا أن أضَعَ عليها شرْحًا يَحُلّ رُموزَها، ويفتَحُ كُنوزَها، ويُوَضِّحُ ما خَفِيَ على المُبتدِئ من ذلك، فأَجَبْتهُ إلى سؤاله رَجاءَ الاندراجِ في تِلكَ المَسَالِكِ. . . وظَهَرَ لي أنَّ إيرادَه على صُورةِ البَسْط أَلْيَقُ، ودَمْجَها ضِمْنَ توضيحِها أَوْفَقُ. . .".

وقد وجدْنَا في آخِرِ نُسخةٍ صحيحةٍ عند آخِرِ شَرْح النُّخْبَةِ في الحاشية عن المؤلِّف الحافظِ ابن حَجَر ما يلي نصُّه(1):

"عَلَّقَه مؤلِّفهُ أحمدُ بن علي بن حَجَرٍ، وفَرَغَ منه في مُسْتَهَلِّ ذي الحِجَّةِ سَنَةَ ثماني عَشْرَةَ وثمان مئة، حامِدًا اللهَ تعالى ومُصَلِّيًا على نبيِّه سيِّدنا محمد وعلى آله وصَحبه ومُسَلِّمًا" انتهى.

وهذا يدلُّ على ما سَبَقَ بيانهُ من نُبوغِ الحافظِ وابتكارِه، مُنذُ عصرٍ مُبَكِّر، في بدايات تصنيفِهِ في الحديث وعُلومِه.

--------------------------------------------

(1) بخَطِّ خيرِ الله محمدِ بن عثمان بن سفيان بن مُراد خَان. والنُّسخةُ المُشَارُ إليها منقولةٌ عن نُسخَةٍ مقروءةٍ على المُصَنِّف قراءةَ بَحْثٍ، وظهرَ لنا أنَّها نُسْخَتُنا التي اعتَمَدْنَاها.

আমি এর নামকরণ করেছি "নুখবাতুল ফিকার ফি মুসতালাহি আহলিল আসার", যা আমি উদ্ভাবিত এক বিন্যাস ও আমার অনুসৃত এক পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে সংকলন করেছি।

সুতরাং, এই কারণেই তিনি মূল পাঠ (متن) সংকলন করেছেন; কেবল অত্যন্ত সংক্ষেপ করা উদ্দেশ্য ছিল না, যা "অল্প কিছু পৃষ্ঠা" কথাটি দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে, বরং উদ্দেশ্য ছিল হাদিস পরিভাষা বিজ্ঞানের (علم المصطلح) জন্য একটি উদ্ভাবিত বিন্যাস এবং একটি বিশেষ পদ্ধতি যা তিনি এতে অনুসরণ করেছেন।

ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) রচনার কারণ:

তবে কেন এই ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) এবং এতে কী রয়েছে?

হাফিজ (ইবনে হাজার) এ সম্পর্কে বলেন:

"এরপর দ্বিতীয়বার আমার নিকট অনুরোধ করা হয় যেন আমি এর ওপর একটি ব্যাখ্যাগ্রন্থ (شرح) লিখি, যা এর রহস্যসমূহ উন্মোচন করবে, এর গুপ্তভাণ্ডার প্রকাশ করবে এবং নতুন শিক্ষার্থীর (مبتدئ) কাছে যা অস্পষ্ট তা স্পষ্ট করবে। তাই সেই পথে যুক্ত হওয়ার আশায় আমি তাঁর অনুরোধ গ্রহণ করলাম। . . এবং আমার নিকট প্রতীয়মান হলো যে, বিষয়গুলোকে বিস্তারিতভাবে (بسط) উপস্থাপন করা অধিকতর উপযোগী এবং মূল পাঠকে ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত করে দেওয়া অধিকতর সংগতিপূর্ণ। . . ."

আমরা নুখবাতুল ফিকারের ব্যাখ্যাগ্রন্থের শেষে একটি সঠিক পাণ্ডুলিপির (نسخة) টীকা অংশে লেখক হাফিজ ইবনে হাজার থেকে বর্ণিত নিম্নোক্ত পাঠটি পেয়েছি(১):

"এর লেখক আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার এটি লিপিবদ্ধ করেছেন এবং ৮১৮ হিজরী সনের জিলহজ মাসের শুরুতে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করে এবং তাঁর নবী আমাদের সরদার মুহাম্মদ এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করে এটি সম্পন্ন করেছেন।" সমাপ্ত।

এটি হাফিজের সেই মেধা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রমাণ দেয় যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে, যা তাঁর হাদিস ও হাদিস বিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থ রচনার প্রাথমিক যুগ থেকেই প্রকাশ পেয়েছিল।

--------------------------------------------

(১) খাইরুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে উসমান ইবনে সুফিয়ান ইবনে মুরাদ খানের হস্তাক্ষরে। উল্লিখিত পাণ্ডুলিপিটি (نسخة) এমন একটি পাণ্ডুলিপি (نسخة) থেকে নকল করা হয়েছে যা লেখকের সামনে গবেষণামূলক পাঠের (قراءة بحث) মাধ্যমে পড়া হয়েছিল এবং আমাদের নিকট স্পষ্ট হয়েছে যে এটিই আমাদের সেই পাণ্ডুলিপি (نسخة) যার ওপর আমরা নির্ভর করেছি।

(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢١)
منهجُ الحافِظِ في شَرْحِ النُّخْبَةِ

ونُلَخِّصُ منهجَ الحافظِ ابنِ حَجَرٍ في هذا الكتابِ بما يأتي:

1 - تقديمُ علوم الحديثِ في صياغةٍ جديدةٍ مُبتَكَرة، لم يُسبَقْ إليها، وهذه الصياغةُ تأليفٌ جديد لعلوم الحديث، يقوم على الدراسة الاستقرائية لأحوال السَّنَدِ والمَتْن، ويُقَدِّمُ هذه الأنواعَ الحاصِلَةَ للسَّنَدِ والمَتْنِ على ترتيبٍ عِلْمِيٍّ في غايةِ الدِّقَّةِ يُعرَفُ عِنْدَ الأُصوليّين بالسَّبْرِ والتقسيم.

ومعنى السَّبْرِ والتقسيم: اختبارُ الموضوعِ المدروسِ وتقسيمُ أحوالهِ وأحكامِها، بحَسَبِ هذا الاختبارِ المُتَعَمِّقِ، الذي تُستقصى فيه كُلُّ الأحوال والاحتمالاتِ، وتُعطى حُكْمَهَا المُلائِمَ، وتُفَرَّعُ عليها الفُروعُ والمسائلُ العلميَّة.

وقد بدأ أَوّلًا بتقسيم الخَبَرِ إلى هذه الأقسامِ:

إما أن يكونَ له طُرُقٌ غَيْرُ محصورةٍ بعدَدٍ مُعيَّن.

أو تكونَ طُرُقُه محصورةً بعددٍ مُعيَّن فوق الاثنين.

أو يكونَ له طريقانِ فقط.

أو تنحصرُ روايته بطريقٍ واحدٍ.

ثُمَّ أخذَ يدرسُ هذه الأقسامَ ويبيّنُ أحكامَها، وفُروعَ ما يتفرعُ منها على الطريقة التي فَرَّعَ التقسيمَ الرئيسَ لأنواعِ الحديثِ هنا.

وأَدخلَ فِي ضِمْنِ التقسيمَ تَكْمِلاتٍ، لِيكونَ شامِلًا لجميعِ أنواعِ الحديث، مِثْلُ استطرادهِ إلى تعريفِ الصَّحابيِّ (ص 111)، واختتَمَهُ بدراساتٍ متنوِّعَةٍ تُكَمِّلُ هذا التقسيمَ. بأنْ يشمَلَ الكتابُ على إيجازِهِ كُلَّ أنواعِ "عُلومِ الحديثِ".

2 - أَدْخَلَ تقسيماتٍ للحديثِ ومسائلَ ليسَتْ من أبحاثِ مُصطَلحِ
নুখবাহ-এর ব্যাখ্যায় হাফিজের পদ্ধতি

আমরা এই গ্রন্থে হাফিজ ইবনে হাজারের পদ্ধতি নিম্নোক্তভাবে সংক্ষেপ করছি:

1 - হাদিস বিজ্ঞানকে (علوم الحديث) এক নতুন ও অভিনব আঙ্গিকে উপস্থাপন করা, যার নজির ইতিপূর্বে কেউ স্থাপন করতে পারেনি। এই বিন্যাসটি হাদিস বিজ্ঞানের একটি নতুন সংকলন, যা সনদ (السند) ও মতন (المتن)-এর অবস্থার আরোহী বা পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি সনদ ও মতনের এই লব্ধ প্রকারগুলোকে অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক বিন্যাসে বিন্যস্ত করেছেন যা উসুলবিদদের নিকট পরীক্ষা ও শ্রেণিবিন্যাস (السبر والتقسيم) নামে পরিচিত।

পরীক্ষা ও শ্রেণিবিন্যাস (السبر والتقسيم)-এর অর্থ হলো: পর্যালোচিত বিষয়বস্তুকে যাচাই-বাছাই করা এবং এই গভীর বিশ্লেষণের নিরিখে এর অবস্থা ও বিধানসমূহকে বিভক্ত করা, যার মাধ্যমে সকল অবস্থা ও সম্ভাবনাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে অনুসন্ধান করা হয় এবং সেগুলোর জন্য উপযুক্ত বিধান প্রদান করা হয়, আর তার ওপর ভিত্তি করে জ্ঞানতাত্ত্বিক শাখা-প্রশাখা ও মাসয়ালাসমূহ উদ্ভূত হয়।

তিনি সর্বপ্রথম খবরকে (الخبر) নিম্নোক্ত বিভাগসমূহে বিভক্ত করার মাধ্যমে শুরু করেছেন:

হয়তো এর সূত্রসমূহ (طرق) কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়।

অথবা এর সূত্রসমূহ (طرق) দুইয়ের অধিক কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ।

অথবা এর মাত্র দুটি সূত্র (طريقان) রয়েছে।

অথবা এর বর্ণনা একটি মাত্র সূত্রে (طريق واحد) সীমাবদ্ধ।

অতঃপর তিনি এই বিভাগগুলো নিয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন এবং এগুলোর বিধান ও এ থেকে উদ্ভূত শাখাগুলো সেই পদ্ধতিতে বর্ণনা করেন যেভাবে তিনি এখানে হাদিসের প্রকারভেদের মূল বিভাজন করেছিলেন।

তিনি এই বিভাজনের মধ্যে কিছু পরিপূরক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাতে এটি হাদিসের সকল প্রকারকে শামিল করে; যেমন সাহাবীর (الصحابي) সংজ্ঞায় তাঁর প্রাসঙ্গিক আলোচনা (পৃষ্ঠা ১১১)। তিনি এই বিভাজনটি বিভিন্ন জ্ঞানতাত্ত্বিক পর্যালোচনার মাধ্যমে সমাপ্ত করেছেন যা একে পূর্ণতা দান করে, যেন বইটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও হাদিস বিজ্ঞানের (علوم الحديث) সকল প্রকারকে অন্তর্ভুক্ত করে।

2 - তিনি হাদিসের এমন কিছু বিভাজন ও মাসয়ালা অন্তর্ভুক্ত করেছেন যা হাদিস পরিভাষার (مصطلح) আলোচনার অন্তর্ভুক্ত নয়...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٢)
الحديث، بل هي مِنْ بُحوثِ أُصُولِ الفِقْه، كَبَحْثِ المُستفيضِ (ص 46)، وبَحْثِ تَلَقّي الأُمَّةِ للحديث بالقَبولِ (ص 52). . . لأنّها تُكَمِّلُ فوائدَ الكتابِ وتُغني قارِئَه.

3 - الاختصارُ وتحاشي الفُضُولِ في الشَّرْحِ.

4 - صياغَةُ الشَّرحِ على طريقةِ البَسْطِ، وذلك بأنْ يَدْخُلَ المَتْنُ في ضِمنِ الشرحِ، ويندمجَ فيه، بِحَيثُ لو حُذِفَتِ الأقواسُ التي تُميِّزُ المَتْنَ، تُصبِحُ العباراتُ شيئًا واحدًا لا يتميَّزُ فيه الشرحُ عن المَتْنِ.

مزايا شرحِ النُّخْبَةِ:

ويَمتازُ كتابُ "نُزهَةِ النَّظَرِ" بمزايا مهمة، منها:

1 - الابتكارُ والتجديدُ في صِياغَةِ عُلومِ الحديثِ، وأنَّ هذا الابتكارَ ليس بِمُجَرَّدِ تقديمٍ وتأخيرٍ لِمَا رَتَّبَ السابقون، بَلْ إنّه يُقَدِّمُ لِدارِسِه تصوُّرًا جديدًا شامِلًا لِعلومِ الحديث، بطريقةِ السَّبْرِ والتقسيمِ التي اتَّبَعَها، ومِنْ ثَمَّ فإنه يُفيدُ قارِئَهُ نوعًا جديدًا من التصوّرِ لهذا العِلْمِ، كما يُكْسِبُه التعمُّقَ في فَهْمِ منهجِ النقد الحديثي.

2 - الدِّقَّةُ والشُّمُولُ، لأنَّ طريقةَ التأليفِ هذه تقوم على الدِّقَّةِ في الدراسة، وتَمَيُّزِ الفُروع والأنواع، والشمولِ لهذه الفُروع التي يُنتِجُها التقسيمُ العقليّ.

3 - رَبْطُ أنواعِ الحديثِ ببعضِها، وبيانُ العلاقةِ بينَ أنواعِ الحديثِ وصِلَتِها ببعضِها البعض، لأنَّ التقسيمَ هو إخراجٌ للأقسام من الأصل الشامل، وذلك يُفيدُ معرفةَ نوعِ الصِّلَةِ بين أنواع الحديث، وقد صَرَّحَ الإمامُ ابنُ حَجَرٍ في شرحِه ببيانِ كثيرٍ من هذه الفوائد، مِثْل بيانِ الصِّلَةِ بين المتواتِر والمشهورِ والمُستَفِيضِ (ص 43 و 46)، والصِّلَةِ بين المُعَلَّقِ والمُعْضَل (ص 80).

4 - تمحيصُ المسائلِ المُخْتَلَفِ فيها، والقضايا الشَّائِكةِ، واستخراجُ
হাদিস, বরং এগুলো উসুলুল ফিকহের (أصول الفقه) গবেষণার অন্তর্ভুক্ত, যেমন মুস্তাফিয (المستفيض) বিষয়ক গবেষণা (পৃ. ৪৬), এবং উম্মত কর্তৃক হাদিসকে গ্রহণের (تلقي الأمة بالقبول) মাধ্যমে প্রাপ্ত নিশ্চয়তা বিষয়ক গবেষণা (পৃ. ৫২)... কারণ এগুলো কিতাবের উপকারিতাকে পূর্ণতা দেয় এবং এর পাঠককে সমৃদ্ধ করে।

৩ - সংক্ষিপ্তকরণ এবং ব্যাখ্যায় বাহুল্য বর্জন করা।

৪ - ব্যাখ্যার বিন্যাস বিস্তৃত পদ্ধতিতে করা, যাতে মূল পাঠ (المتن) ব্যাখ্যার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায় এবং এর সাথে এমনভাবে মিশে যায় যে, যদি মূল পাঠকে পৃথককারী বন্ধনীগুলো মুছে দেওয়া হয়, তবে বাক্যগুলো একটি অবিচ্ছিন্ন রূপ ধারণ করবে যেখানে মূল পাঠ থেকে ব্যাখ্যাকে আলাদা করা যাবে না।

নুখবাতুল ফিকারের ব্যাখ্যার বৈশিষ্ট্যসমূহ:

"নুজহাতুন নাযার" কিতাবটি কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যে অনন্য, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - উলূমুল হাদিসের বিন্যাসে উদ্ভাবন ও নতুনত্ব। আর এই উদ্ভাবন কেবল পূর্বসূরিদের বিন্যাসকে আগে-পিছে করা নয়; বরং এটি শিক্ষার্থীর সামনে উলূমুল হাদিস সম্পর্কে একটি নতুন ও সামগ্রিক ধারণা পেশ করে। এটি তাঁর অনুসৃত পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবিন্যাস (السبر والتقسيم) পদ্ধতির মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এটি এর পাঠককে এই শাস্ত্র সম্পর্কে এক নতুন ধরনের ধারণা প্রদান করে এবং হাদিস সমালোচনার (النقد الحديثي) পদ্ধতি গভীরভাবে বোঝার সক্ষমতা তৈরি করে।

২ - সূক্ষ্মতা ও ব্যাপকতা। কারণ এই রচনাশৈলীটি গবেষণার সূক্ষ্মতা, শাখা ও প্রকারভেদের স্বাতন্ত্র্য এবং যৌক্তিক বিভাজনের মাধ্যমে উদ্ভূত শাখাগুলোর ব্যাপকতার ওপর প্রতিষ্ঠিত।

৩ - হাদিসের প্রকারগুলোকে একে অপরের সাথে সম্পৃক্ত করা এবং হাদিসের বিভিন্ন প্রকারের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও যোগসূত্র স্পষ্ট করা। কারণ বিভাজন মূলত একটি সামগ্রিক মূলনীতি থেকে বিভিন্ন শাখা বের করে আনা। এটি হাদিসের প্রকারগুলোর মধ্যে সম্পর্কের ধরন বুঝতে সাহায্য করে। ইমাম ইবনে হাজার তাঁর ব্যাখ্যাগ্রন্থে এ জাতীয় অনেক উপকারিতা স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। যেমন: মুতাওয়াতির (المتواتر), মশহুর (المشهور) এবং মুস্তাফিযের (المستفيض) মধ্যকার সম্পর্ক স্পষ্ট করা (পৃ. ৪৩ ও ৪৬), এবং মুআল্লাক (المعلق) ও মুদালের (المعضل) মধ্যকার সম্পর্কের বর্ণনা (পৃ. ৮০)।

৪ - মতভেদপূর্ণ মাসআলাসমূহ ও জটিল বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করা এবং নির্যাস বের করা...
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٣)
زُبْدَةِ التحقيقِ فيها، وذلك كثيرٌ في هذا الكتاب على إيجازه واختصاره.

5 - تحاشي المآخِذ التي وردَتْ على المؤلِّفين السابقين، بأنهم لم يتَّبعوا نظامًا مُعَيَّنًا في تصنيفِ كُتُبِهم وترتيبِ أنواع الحديثِ فيها. فجاءَ هذا الكتابُ بطريقةِ السَّبْرِ والتقسيمِ لِيلتزِمَ نظامًا دقيقًا، يستوعبُ كُلَّ مجموعةٍ من علوم الحديث في ظِلِّ قِسْمٍ واحدٍ يَجْمعُها في موضعٍ واحد.

أهميةُ شرحِ النُّخْبَةِ:

بهذه المزايا التي تميَّزَ بها شرحُ النُّخْبَةِ للحافظ ابنِ حَجَرٍ كان له مكانةٌ كبيرةٌ عالية في عِلْمِ الحديث، جعلَتْه مَطْمَحَ أنظارِ طَلَبةِ الحديث، وعُلَمائِه والمُصَنِّفين فيه، ونُلَخِّصُ أبرزَ جوانبِ ذلك فيما يأتي:

1 - الأَثَرُ الواضِحُ الذي خلَّفَه في مصطلحاتِ الحديث، فما اختارَه في هذه المصطلحاتِ جرى عليه العملُ، واستقرَّ عليه المُحَدِّثون بعدَه، مِثْلُ اختيارِه في الشاذِّ والمُنْكَر (ص 71 و 72)، ومِثْلُ تَمييزِهِ أنواعَ الحديثِ المقبولِ بهذه الإضافاتِ: الصحيحِ لِذَاتِه (ص 58)، الصحيح لِغَيْرهِ (ص 58 و 66)، الحَسَنِ لِذَاتِه (ص 58 و 65)، الحَسَنِ لِغَيْرِهِ (ص 58 و 67 و 105).

فكانَ له أَثَرٌ في تحديد الاصطلاحاتِ واستقرارِها، ولم يكن ذلك إلّا لأفذاذٍ من المتقدِّمين الكبار.

2 - إنَّ شرحَ النُّخْبَةِ له أهميةٌ عِلْمِيةٌ بالِغَةٌ من حيثُ إنه خُلاصَةُ الفِكرِ النقدي لأَعظمِ مُحدِّث في زمنه، وقد لَقَّبوه "أمير المؤمنين في الحديث". وأنّه يضُمُّ زُبْدَةَ تحقيقاتِ هذا الإمامِ في مسائلِ عُلومِ الحديثِ، لذلك نجدُ مسائلَ كثيرةً من بُحوثه مُتَناقَلةً في المراجِعِ العلميّة. ومُعْتَمَدًا عليها.

3 - شَحْذُه لِذِهْنِ دارِسِه، بسببِ إيجازهِ وغزارة مادته العلمية، ثُمّ اتّباعِه طريقةَ السَّبْرِ والتقسيم، التي تقومُ على بحثِ العقل في احتمالاتِ الأحوال المُمكنة للشيء المدروس، والقِسْمِ الذي تُفَرَّعُ فُروعُه.
এসব বিষয়ে গবেষণার সারমর্ম; আর এই কিতাবটি সংক্ষিপ্ত হওয়া সত্ত্বেও এতে এ জাতীয় বিষয় প্রচুর রয়েছে।

৫ - পূর্ববর্তী লেখকদের ওপর যেসব ত্রুটি বা সমালোচনা এসেছিল তা পরিহার করা; কারণ তাঁরা তাঁদের কিতাব সংকলনে এবং এর মধ্যে হাদিসের প্রকারসমূহ বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেননি। ফলে এই কিতাবটি বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবিন্যাস (السبر والتقسيم) পদ্ধতিতে রচিত হয়েছে যাতে একটি সূক্ষ্ম নিয়ম অনুসরণ করা যায়, যা হাদিস বিজ্ঞানের প্রতিটি বিষয়কে একটি নির্দিষ্ট বিভাগের অধীনে একই স্থানে অন্তর্ভুক্ত করে।

শারহু নুখবা-র গুরুত্ব:

হাফিজ ইবনে হাজার রহ. প্রণীত শারহু নুখবা যেসব বৈশিষ্ট্যে অনন্য, তার ফলে হাদিস শাস্ত্রে এটি এক সুউচ্চ মর্যাদা লাভ করেছে। এটি হাদিসের শিক্ষার্থী, গবেষক এবং এই বিষয়ের লেখকদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। নিচে আমরা এর প্রধান দিকগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরছি:

১ - হাদিসের পরিভাষাসমূহে এটি যে সুস্পষ্ট প্রভাব রেখেছে; তিনি এসব পরিভাষার ক্ষেত্রে যা চয়ন করেছেন, পরবর্তীতে মুহাদ্দিসগণের নিকট সেটিই অনুসৃত ও স্থির হয়েছে। যেমন: ব্যতিক্রমী (الشاذ) এবং অস্বীকৃত (المنكر) (পৃষ্ঠা ৭১ ও ৭২) এর ক্ষেত্রে তাঁর চয়ন, এবং গ্রহণযোগ্য (المقبول) হাদিসের প্রকারসমূহকে এই পরিভাষাগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা: স্বয়ংসম্পূর্ণ বিশুদ্ধ (الصحيح لذاته) (পৃষ্ঠা ৫৮), অন্যের কারণে বিশুদ্ধ (الصحيح لغيره) (পৃষ্ঠা ৫৮ ও ৬৬), স্বয়ংসম্পূর্ণ হাসান (الحسن لذاته) (পৃষ্ঠা ৫৮ ও ৬৫), এবং অন্যের কারণে হাসান (الحسن لغيره) (পৃষ্ঠা ৫৮, ৬৭ ও ১০৫)।

এভাবে পরিভাষাগুলো সুনির্দিষ্টকরণ ও সুসংহত করার ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অবদান ছিল, যা কেবল পূর্ববর্তী বড় মাপের অনন্য মনীষীদের পক্ষেই সম্ভব ছিল।

২ - শারহু নুখবা-র অত্যন্ত জ্ঞানতাত্ত্বিক গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এটি তাঁর সময়ের শ্রেষ্ঠ মুহাদ্দিস, যাকে ওলামায়ে কেরাম "আমিরুল মুমিনীন ফিল হাদিস" উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, তাঁর সমালোচনামূলক চিন্তাধারার নির্যাস। এতে হাদিস বিজ্ঞানের বিভিন্ন মাসআলায় এই ইমামের সূক্ষ্ম গবেষণার সারমর্ম বিদ্যমান; যার ফলে আমরা তাঁর গবেষণার অনেক বিষয় জ্ঞানতাত্ত্বিক উৎসগুলোতে ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত এবং নির্ভরযোগ্য হিসেবে দেখতে পাই।

৩ - এর সংক্ষিপ্ততা এবং জ্ঞানগর্ভ বিষয়ের প্রাচুর্যের কারণে এটি শিক্ষার্থীর মেধাকে শাণিত করে। এরপর এতে বিশ্লেষণ ও শ্রেণিবিন্যাস (السبر والتقسيم) পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা আলোচ্য বিষয়ের সম্ভাব্য অবস্থা এবং এর শাখা-প্রশাখাগুলোর যৌক্তিক পর্যালোচনার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٤)
نُسَخُ الكتابِ الخَطيّةُ:

كتابُ "نُزهة النظَرِ في توضيحِ نُخْبَةِ الفِكَرِ" معروفٌ عندَ خاصِّ أهلِ العِلْمِ، والعامِّ، قَلّ أنْ تخلو مكتبةٌ عن نُسخةٍ منه أو نُسَخٍ، وهذه النُّسَخُ كُلُّها مُتوافِقةٌ في مضمونها فيما لَحَظْنَا، عَدَا خِلافاتٍ يسيرةٍ من النُسَّاخِ، وربما كان بعضُها مِنْ تعديلِ المُصنِّف الإمامِ ابنِ حَجَر، والبقيةُ مِنْ سَهْوِ القَلَم، وقد وُفِّقَتْ لنا مجموعةُ نُسَخٍ صحيحةٍ مُوثَّقة توثيقًا عِلْميًّا، حَسَبَ أُصولِ المُحَدِّثين، صَوَّرناها من مكتباتٍ شتّى، وكان التوفيقُ البالِغُ أقصى غايةٍ في نُسخةٍ صحيحةٍ جدًّا هي الغايةُ في الصِّحَّةِ حتى قد سُجِّلَتْ وكان لها ذِكْرٌ وتسجيلٌ في التاريخ، جعلناها الأصلَ في هذا العَمَلِ.

التعريفُ بالنُّسخَةِ الأصْلِ:

نُسْخَتُنا التي أشرْنَا إليها هي المخطوطةُ المحفوظةُ في دار الكُتب الظاهرية بدمشقَ برقم/ 4895/ وعددُ أوراقِها/ 31/ ورقةً، أسطرُ صفحاتِها 20 سطرًا أو 18، بخَطٍّ نَسْخِيّ واضحٍ جيّد، ثَبَتَ عُنوانُ الكتابِ على ظهر الورقةِ الأُولى هكذا "كتابُ نُزهة النَّظَرِ في توضيح نُخبةِ الفِكَرِ في مُصطَلَحِ أهلِ الأثَرِ".

وهكذا ثَبَتَ العُنوانُ بهذا اللفظِ في كلِّ المخطوطاتِ الصحيحةِ التي وَقَفْنَا عليها مِنْ هذا الكتابِ، مِمّا يَدُلُّ على أنَّ ما زُعِمَ مُحقَّقًا من الطبَعاتِ الموجودةِ الآنَ ليس مُحقَّقًا.

وقد أُدْمِجَ المَتْنُ مع الشرحِ في هذه النُّسخَةِ لم يُمَيَّزْ عنه بشيءٍ إطلاقًا، وكُتِبَتْ على حَواشيها تعليقاتٌ لبَعضِ العلماءِ. وهذه النُّسخَةُ قد كُتِبَتْ في آخرِ عهدِ المؤلِّف، وقُرِئَتْ عليه قراءةَ بحثٍ وأَثْبَتَ خَطَّهُ عليها بذلك في مواضعَ كثيرةٍ تَبْلُغُ خمسًا وعِشرين، بَلْ أَثْبَتَ خَطَّه مَرَّتَيْنِ على الصَّفحةِ الواحدةِ في بعضِ الأحيانِ.
বইটির পাণ্ডুলিপিগুলো:

"নুজহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার" গ্রন্থটি বিদগ্ধ আলেম সমাজ এবং সাধারণ সবার কাছে সুপরিচিত। এমন গ্রন্থাগার খুব কমই আছে যেখানে এর এক বা একাধিক কপি নেই। আমাদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই সকল পাণ্ডুলিপি বিষয়বস্তুর দিক থেকে অভিন্ন; তবে অনুলিপিকারীদের মাধ্যমে সামান্য কিছু পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। এর মধ্যে কিছু পার্থক্য সম্ভবত গ্রন্থকার ইমাম ইবনে হাজারের পক্ষ থেকে পরিমার্জনার কারণে হয়েছে, আর বাকিগুলো ছিল নিছক লিখনশৈলীর ত্রুটি। আমরা মুহাদ্দিসগণের মূলনীতি অনুযায়ী বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাইকৃত একদল বিশুদ্ধ (صحيحة) ও নির্ভরযোগ্য (موثقة) পাণ্ডুলিপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি, যা আমরা বিভিন্ন গ্রন্থাগার থেকে সংগ্রহ করেছি। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সফলতা ছিল অত্যন্ত বিশুদ্ধ একটি পাণ্ডুলিপি পাওয়া, যা নির্ভুলতার দিক থেকে অনন্য উচ্চতায় ছিল, এমনকি ইতিহাসে যার স্বতন্ত্র উল্লেখ ও নিবন্ধন পাওয়া যায়। আমরা এই পাণ্ডুলিপিটিকেই এই কাজের মূল ভিত্তি (الأصل) হিসেবে গ্রহণ করেছি।

মূল পাণ্ডুলিপির পরিচয়:

আমরা যে পাণ্ডুলিপিটির কথা উল্লেখ করেছি, সেটি দামেস্কের দারুল কুতুব আজ-জাহিরিয়া-তে ৪৮৯৫ নম্বরে সংরক্ষিত রয়েছে। এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ৩১ এবং প্রতি পৃষ্ঠায় ২০ বা ১৮টি করে লাইন রয়েছে। এটি চমৎকার ও স্পষ্ট নাসখ লিপিতে লিখিত। প্রথম পৃষ্ঠার উল্টো পিঠে বইটির শিরোনাম এভাবে লিপিবদ্ধ হয়েছে: "কিতাবুন নুজহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার ফী মুসতালাহি আহলিল আসার"।

আমরা এই বইটির যতগুলো বিশুদ্ধ (صحيحة) পাণ্ডুলিপি দেখেছি, সবগুলোতে শিরোনামটি এই শব্দেই সাব্যস্ত হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে, বর্তমানে প্রচলিত সংস্করণগুলোর মধ্যে যেগুলোকে সম্পাদিত বা তাহকিককৃত বলে দাবি করা হয়, সেগুলো প্রকৃতপক্ষে যথাযথভাবে সম্পাদিত নয়।

এই পাণ্ডুলিপিতে মূল পাঠ (متن) ও ব্যাখ্যাকে একত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং একে অন্যের থেকে মোটেও পৃথক করা হয়নি। এর পার্শ্বটীকায় কিছু আলেমের মন্তব্য লিখিত রয়েছে। এই পাণ্ডুলিপিটি লেখকের শেষ জীবনে লেখা হয়েছে এবং এটি তাঁর সামনে পর্যালোচনামূলক পাঠ করা হয়েছিল। তিনি এর ২৫টি স্থানে তাঁর নিজ হস্তাক্ষরের মাধ্যমে এর সত্যায়ন করেছেন; এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই পৃষ্ঠায় দুইবার তাঁর দস্তখত প্রদান করেছেন।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٥)
وجاءَ في آخِرِها بخَطِّ الناسخِ نَفْسِه ما يأتي:

"عَلَّقَ ذلك لنَفْسِه الفقيرُ المُذْنِبُ العاصي أحمدُ بنُ محمدِ بن الأَخْصَاصِي الشافعيّ، اللَّهُمَّ أحسِنْ إليه ولِوالدَيْه ولجميعِ المسلمينَ، ووافَقَ الفَراغُ مِنْ نَسْخِها في العَشْرِ الأوْسَطِ من شَهْرِ رمضانَ سَنَةَ إِحدى وخَمسينَ وثمان مئة". أي قبل وفاة المؤلف الحافظ ابنِ حَجَرٍ بسنة واحدة وثلاثة أشهر تقريبًا.

وبِإزاءِ ذلك في الحاشيةِ بخَطِّ المصنِّفِ: "بَلَغَ صاحِبُه قراءةً عَلَيَّ. كَتبَهُ ابنُ حَجَرٍ".

وعلى آخِرِ النُّسخَةِ تحتَ هذا في الطَّرَفِ الأيسَرِ من أسفلِ الصفحةِ بَلاغُ قراءةِ النسخةِ إلى آخِرِها على الشيخِ عبدِ القادرِ الصَّفوريِّ سَنَةَ 1077، وبِجانبهِ إلى اليمين وَقْفٌ على طَلَبةِ العِلْمِ مُؤَرَّخٌ بِسَنَةِ 1246.

وابنُ الأخصاصي المذكورُ هو الفقيهُ المُحَدِّثُ شِهابُ الدِّينِ أحمدُ بنُ محمدِ بن محمد الدِّمَشْقِيُّ الشافعيّ ويُعْرَفُ بِابْنِ الأَخصاصي وُلد سنة 818 بدمشقَ ونشأ فيها، وقرأ الفِقْهَ على العلماءِ وسَمِعَ الحديثَ على ابنِ ناصِرِ الدِّين. قال السَّخَاوِيُّ: "ارتحلَ فقرأ على شيخنا شَرْحَ النُّخْبَةِ له بَحثًا، وأَذِنَ له، وكَتبَ بخطِّه أشياءَ كالبخاري وشرحِهِ لِشَيخِنا.

وسمعتُ مِنْ نَظْمِه وفوائدِه وكان الغالِبُ عليه الخَيرَ والانجماعَ والتواضُعَ والتَّودُّدَ والرَّغبةَ في الصالحِين ماتَ سنة 889 بدمشقَ.

له في الوعظِ حادي الأسرار في عَشْرِ مجلَّداتٍ. وشرح أبي شُجَاع في الفقه"(1).

--------------------------------------------

(1) الضوءُ اللامِعُ لأهل القَرْنِ التاسع، للسَّخاوِي مُختَصَرًا 2: 194. نَشْر دار مكتبة الحياة - بيروت.

এর শেষে খোদ লিপিকারের হস্তাক্ষরে যা এসেছে তা নিম্নরূপ:

"পাপী ও গুনাহগার মুখাপেক্ষী বান্দা আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন আল-আখসাসি আশ-শাফিঈ এটি নিজের জন্য লিপিবদ্ধ করেছেন। হে আল্লাহ! আপনি তার প্রতি, তার পিতা-মাতার প্রতি এবং সকল মুসলিমের প্রতি অনুগ্রহ করুন। ৮৫১ হিজরির রমজান মাসের মধ্যম দশকে এটি অনুলিপি করার কাজ সমাপ্ত হয়েছে।" অর্থাৎ, লেখক হাফেজ ইবনে হাজার-এর ইন্তেকালের প্রায় এক বছর তিন মাস পূর্বে।

এর ঠিক বিপরীতে পার্শ্বটীকায় লেখকের হস্তাক্ষরে রয়েছে: "এর অধিকারী (পাণ্ডুলিপির মালিক) আমার নিকট এটি পাঠ (قراءة) সমাপ্ত করেছেন। এটি ইবনে হাজার লিখেছেন।"

পাণ্ডুলিপির শেষে এর নিচে পৃষ্ঠার বাম দিকের নিচের অংশে ১০৭৭ হিজরিতে শেখ আব্দুল কাদির আস-সাফুরি-র নিকট সম্পূর্ণ পাণ্ডুলিপিটি পাঠ করার একটি সমাপনলিপি (بلاغ قراءة) রয়েছে। আর এর পাশে ডান দিকে ১২৪৬ হিজরির তারিখ সম্বলিত তালিবে ইলমদের (শিক্ষার্থীদের) জন্য একটি ওয়াকফনামা রয়েছে।

উল্লেখিত ইবনুল আখসাসি হলেন ফকিহ (فقيه) ও হাদিসবিদ (محدث) শিহাবুদ্দিন আহমদ বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আদ-দিমাশকি আশ-শাফিঈ, যিনি ইবনুল আখসাসি নামে পরিচিত। তিনি ৮১৮ হিজরিতে দামেস্কে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তিনি উলামাদের নিকট ফিকহ পাঠ করেন এবং ইবনে নাসিরুদ্দিনের নিকট হাদিস শ্রবণ (سماع) করেন। সাখাভি বলেন: "তিনি সফর করেছেন এবং আমাদের শায়খের নিকট তার রচিত শারহুন নুখবাহ গবেষণামূলকভাবে পাঠ করেছেন। শায়খ তাকে অনুমতি (إجازة) দিয়েছেন এবং তিনি তার নিজ হাতে সহিহ বুখারি এবং আমাদের শায়খের এর ওপর লিখিত শারহ-এর মতো কিছু বিষয় লিপিবদ্ধ করেছেন।

আমি তার কাব্য ও ফাওয়ায়িদ (فوائد) শ্রবণ করেছি। তিনি অধিকাংশ সময় কল্যাণময় কাজে মগ্ন থাকতেন এবং নিভৃতচারিতা, বিনয়, সোহার্দ্য ও নেককারদের প্রতি অনুরাগী হওয়া তার স্বভাবজাত বৈশিষ্ট্য ছিল। তিনি ৮৮৯ হিজরিতে দামেস্কে ইন্তেকাল করেন।

ওয়াজ বা নসিহতের ক্ষেত্রে তার দশ খণ্ডের 'হাদিল আসরার' এবং ফিকহ শাস্ত্রের 'শারহু আবি শুজা' নামক গ্রন্থ রয়েছে।(১)

--------------------------------------------

(১) আদ-দউউল লামি লি আহলিল কারনিত তাসে, সাখাভি রচিত, সংক্ষেপে ২: ১৯৪। প্রকাশনায়: দারু মাকতাবাতিল হায়াত - বৈরুত।

(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٦)
وهذا التعريفُ مُهِمٌّ يَدُلُّنا على أمورٍ في غايةِ الأهمية. منها:

1 - أنَّ ابنَ الأخصاصي كان من أهلِ العِلْمِ وخصوصًا الفِقه والحديث، وهذا يجعلُ نَسْخَهُ في غايةِ الإتقانِ.

2 - أنه كان من خَواصِّ الحافظِ ابنِ حَجَر، وأنه كان عُمْدَةً عِندَه في النَّسْخِ حتى نَسَخَ له شرحَ البخاري، أي فَتْحَ الباري.

3 - الأهميةُ البالِغةُ لِنُسخَته مِنْ شَرْحِ النُّخبة، حتى ذَكرَها السَّخَاوي وأنه قرأها على مُؤلِّفها بحثًا، أي قراءةَ تدقيقٍ وشرحٍ لها، وذلك يُوجِبُ تدقيقَ المصنِّف لها كلمةً كلمةً.

وهكذا جاءَتْ هذه النسخةُ أُمًّا في الصِّحَّةِ والثُّبوتِ، تُغني عن غيرِها، وجَعلْناها الأصلَ في إثباتِ نصِّ الكتابِ. واكتفَيْنا بها عن غيرِها مِنَ النُّسَخِ الصحيحة المتعدِّدةِ التي وَقَفْنَا عَليها وصوَّرْنَا جُملَةً منها.

 

‌‌عمَلُنَا في تحقيقِ الكتابِ والتعليقِ عليه

كان يُلْحَظُ في هذا الكتابِ "نُزهة النظرِ" عُمْقٌ وحاجةٌ إلى مزيدٍ من التفكيرِ لفَهْمِ معانيه، وقد وجدْنَا بإقرائنا المتكرِّر لهذا الكتابِ أنَّ قسِمًا كبيرًا من صُعوبته يَرجِعُ إلى طريقةِ إخراجِه وتقطيعهِ بالأقواسِ التي تَفْصِلُ المَتْنَ عن الشرحِ وتجعلُ المَتْنَ في أعلى الصَّفحةِ، ثُمَّ تعليقاتٍ في الأسفلِ، إنْ وُجِدَتِ التعليقاتُ. زاد في أَثَر ذلك ضَعْفُ التصرُّفِ في علاماتِ الترقيم وسوءُ التقسيمِ لفقرات الكتاب، فَضْلًا عن الأخطاءِ والسَّقَطِ المُفْسِدِ للمعنى في الطبعاتِ المُتداوَلة.

وقد وضعْنَا نُصْبَ أَعيُننا تمهيدَ سبيلِ الإفادة من الكتاب، وتسهيلَ الوصولِ إلى مَكنوناته، فاتّبعْنَا في تحقيق الكتابِ وإخراجهِ الخُطَّةَ الملائمةَ لذلك، نُوضِّحُها فيما يأتي:
এই পরিচিতিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা আমাদের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় কিছু বিষয়ের প্রতি পথনির্দেশ করে। তার মধ্যে রয়েছে:

১ - ইবনুল আখসাসি ইলমের অধিকারী ছিলেন, বিশেষ করে ফিকহ ও হাদিসশাস্ত্রে; আর এটিই তাঁর পাণ্ডুলিপি তৈরির (نسخ) কাজটিকে অত্যন্ত নিপুণ (إتقان) করে তুলেছে।

২ - তিনি হাফেজ ইবনে হাজারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং পাণ্ডুলিপি প্রতিলিপিকরণের (نسخ) ক্ষেত্রে তিনি ইবনে হাজারের নিকট অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন; এমনকি তিনি তাঁর জন্য বুখারির ব্যাখ্যাগ্রন্থ অর্থাৎ ফাতহুল বারি প্রতিলিপি করেছিলেন।

৩ - শারহুন নুখবার ক্ষেত্রে তাঁর পাণ্ডুলিপির (نسخة) গুরুত্ব অপরিসীম, এমনকি ইমাম সাখাভি এর উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এটি এর রচয়িতার নিকট অত্যন্ত গভীর পর্যালোচনার (بحثًا) সাথে পাঠ করেছেন—অর্থাৎ সূক্ষ্ম যাচাই (تدقيق) ও ব্যাখ্যামূলক পাঠ—যা মূলত গ্রন্থকার কর্তৃক পাণ্ডুলিপিটির প্রতিটি শব্দ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করাকে আবশ্যক করে তোলে।

এভাবেই এই পাণ্ডুলিপিটি বিশুদ্ধতা (صحة) ও প্রামাণিকতার (ثبوت) ক্ষেত্রে একটি মূল উৎস হিসেবে পরিগণিত হয়েছে, যা অন্য সবকিছুর অভাব পূরণ করে দেয়। তাই আমরা কিতাবটির মূল পাঠ্য বা টেক্সট নির্ধারণে একেই মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি এবং এর মাধ্যমে অন্যান্য একাধিক সহিহ (صحيح) পাণ্ডুলিপি থেকে অমুখাপেক্ষী হয়েছি, যেগুলোর সন্ধান আমরা পেয়েছিলাম এবং যেগুলোর একটি বড় অংশ আমরা সংগ্রহ করেছিলাম।

 

‌‌কিতাবটির তাহকিক (تحقيق) ও এর ওপর টীকা প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের কর্মপদ্ধতি

"নুজহাতুন নাজার" নামক এই কিতাবটিতে এক ধরণের গভীরতা এবং এর অর্থগুলো অনুধাবনের জন্য অধিকতর চিন্তাশীলতার প্রয়োজন লক্ষ্য করা যায়। আমরা বারবার কিতাবটি পাঠ করানোর মাধ্যমে অনুভব করেছি যে, এর জটিলতার একটি বড় অংশ এর বিন্যাস পদ্ধতি এবং ব্র্যাকেট বা বন্ধনীর মাধ্যমে কিতাবটিকে খণ্ডিত করার কারণে সৃষ্টি হয়েছে, যা মূল পাঠ বা মতনকে (متن) ব্যাখ্যা (شرح) থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে এবং মতনকে (متن) পৃষ্ঠার উপরিভাগে রাখে, আর নিচে থাকে টীকা (যদি টীকা থেকে থাকে)। যতি চিহ্নের দুর্বল প্রয়োগ এবং কিতাবের অনুচ্ছেদগুলোর ত্রুটিপূর্ণ বিন্যাস এর প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি প্রচলিত সংস্করণগুলোতে বিভিন্ন ভুল এবং অর্থ বিকৃতকারী বিলুপ্তি (سقط) তো রয়েছেই।

আমরা এই কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার পথ সুগম করা এবং এর নিগূঢ় বিষয়বস্তু সহজে নাগালে পাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষ্য রেখেছি। তাই কিতাবটির তাহকিক (تحقيق) ও সম্পাদনার ক্ষেত্রে আমরা একটি উপযুক্ত পরিকল্পনা অনুসরণ করেছি, যা নিম্নে স্পষ্ট করা হলো:
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٧)
أولًا: تحقيقُ الكتابِ وإخراجُه:

1 - اعتمدْنَا النُّسخَةَ المقروءةَ على المصنِّفِ الحافظِ ابنِ حَجَرٍ أصلًا في إثباتِ نصِّ الكتاب.

2 - سَرَدْنَا شَرْحَ النُّخْبَةِ مع مَتْنِها سَرْدًا واحدًا مُمتَزجَيْن ببعضهما، دُونَ أيِّ فَصْلٍ لِلمَتْنِ عن الشَّرْحِ بأقواسٍ أو بشيءٍ آخَرَ، وذلك تسهيلًا لتسلسُلِ الذِّهْنِ وانسيابهِ في دراسةِ الكتابِ، واقْتِفَاءً لِطَريقِ النُّسْخَةِ الأصْلِ ولِنُسَخٍ أُخرى صحيحةٍ.

لكنْ ميَّزْنَا التعاريفَ بحرفٍ أسودَ، لأنها قاعدةُ البحثِ، ومَطْلَعُ دراسَتِه.

3 - عُنينَا بعلاماتِ الترقيم، وتفصيلِ فِقْرات الكتاب وتمييزِها، لأهمّيةِ ذلك البالِغَةِ في تيسيرِ فَهْمِ المعنى.

4 - أَوْرَدْنَا مَتْنَ النُّخبَةِ مُفْرَدًا، في نهايةِ الشرحِ، لِتسهيلِ حِفْظِه، فقد كان إيرادُه في أعلى الشرح غَيْرَ ذي جَدْوَى، لِبُعْدِ المسافاتِ بينَ عباراتِه، وبيَّنَّا رَقْمَ صَفَحاتِ الشرحِ التي تتناولُ المَتْنَ، فصار مفيدًا -مع إثبات نصه- لفهرسٍ موضوعي تفصيلي شامل ومختصر للكتاب والتعليقات عليه.

5 - لم يضَعِ الحافظُ ابنُ حَجَرٍ عناوينَ لِفِقْراتِ كتابهِ وموضوعاتِه، مِثْل: الحديثُ الصحيح، الحديثُ الحَسَن. . . فاضفْنَا إلى الكتابِ عناوينَ تُبَيِّنُ موضوعاتِه، وأثبتْنَاها في حواشي الصفحاتِ ورقمناها بأرقام متسلسلة، لِزيادةِ التيسيرِ في الدراسةِ والمراجَعَةِ، وصُنْعِ الفهارِسِ.

ثانيًا: التعليقُ على الكتاب:

1 - عرَّفْنَا أنواعَ الحديثِ التي لم يُصَرِّحْ الحافظُ ابنُ حَجَرٍ بتعريفِها،
প্রথমত: কিতাবটির সম্পাদনা ও প্রকাশনা:

1 - আমরা কিতাবের মূল পাঠ প্রমাণের ক্ষেত্রে হাফেজ ইবনে হাজার-এর নিকট পঠিত পাণ্ডুলিপিটিকে মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছি।

2 - আমরা ‘নুখবাহ’-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থকে (শারহ) এর মূল পাঠের (মতন) সাথে এমনভাবে একীভূত করে ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করেছি যাতে মূল পাঠ ও ব্যাখ্যার মাঝে বন্ধনী বা অন্য কিছুর মাধ্যমে কোনো পার্থক্য করা হয়নি। এটি কিতাবটি অধ্যয়নের সময় চিন্তার ধারাবাহিকতা ও সাবলীলতা বজায় রাখা এবং মূল পাণ্ডুলিপি ও অন্যান্য বিশুদ্ধ (صحيحة) পাণ্ডুলিপির অনুসরণ করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।

তবে আমরা সংজ্ঞাগুলোকে মোটা অক্ষরে পৃথক করে দিয়েছি, কারণ সেগুলোই হলো গবেষণার ভিত্তি এবং জ্ঞানার্জনের প্রারম্ভিকা।

3 - আমরা যতিচিহ্নের ব্যবহার এবং কিতাবের অনুচ্ছেদগুলোর বিন্যাস ও পার্থক্যের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি, কারণ অর্থ বোঝার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।

4 - আমরা মুখস্থ করার সুবিধার্থে ব্যাখ্যার শেষে ‘নুখবাহ’-এর মূল পাঠটি স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখ করেছি। কারণ ব্যাখ্যার উপরিভাগে এটি উল্লেখ করা ফলপ্রসূ ছিল না, যেহেতু এর বাক্যগুলোর মধ্যে ব্যবধান অনেক বেশি। আমরা ব্যাখ্যাগ্রন্থের সেই পৃষ্ঠাসমূহও উল্লেখ করেছি যেখানে মূল পাঠটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ফলে মূল পাঠের উপস্থাপনের পাশাপাশি এটি কিতাব ও এর টীকাগুলোর একটি বিস্তারিত, ব্যাপক ও সংক্ষিপ্ত বিষয়ভিত্তিক সূচি হিসেবেও কার্যকর হয়েছে।

5 - হাফেজ ইবনে হাজার তাঁর কিতাবের অনুচ্ছেদ ও বিষয়গুলোর জন্য কোনো শিরোনাম প্রদান করেননি, যেমন: সহিহ (صحيح) হাদিস, হাসান (حسن) হাদিস... তাই আমরা কিতাবটিতে বিষয়বস্তু নির্দেশক শিরোনাম যুক্ত করেছি এবং সেগুলো পৃষ্ঠার পার্শ্বটীকায় উল্লেখ করে ধারাবাহিকভাবে নম্বর প্রদান করেছি, যাতে অধ্যয়ন, পুনরাবৃত্তি এবং সূচি তৈরিতে আরও সহজ হয়।

দ্বিতীয়ত: কিতাবটির ওপর টীকা প্রদান:

1 - আমরা হাদিসের সেই প্রকারগুলোর সংজ্ঞা প্রদান করেছি যেগুলোর সংজ্ঞা হাফেজ ইবনে হাজার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٨)
وذلك أنه اعتمدَ في كثير من هذه التعاريف على استنتاجِ القارئ لها من تَتَبُّعِ التقسيم، فأثبتنا هذه التعاريفَ في التعليق على الكتاب لِمُساعدَةِ القارئِ، وتسهيلِ الفائدةِ عليه.

2 - رَبطْنَا أجزاءَ الكتابِ ببعضِها لِتَيسيرِ فَهْمِه، وتحصيلِ الصُّورَة العامَّةِ التي يُحَصِّلُها الكتابُ نتيجةَ مُتابَعةِ السَّبْرِ والتقسيم.

فإنَّ المصنِّفَ رحمه الله يَشْرَعُ في قِسْمٍ من الأقسامِ العامَّةِ ويُفَرِّعُ فُروعَه، ثُمَّ يَرجِعُ إلى تفصيلِ قِسْمٍ آخَرَ سَبَقَ له أنْ أشَارَ إليه، فاحتاجَ إلى تفسيرِ ذلك.

3 - تَكميلُ فوائدِ الكتابِ، بإيضاحِ ما يَغْمُضُ منه، أو زيادةِ فائدةٍ مهمة يَتِمُّ بها الموضوعُ، ومنها فوائد لا توجد في الشروح المصنفة على هذا الكتاب، وذلك مع مُراعاةِ الاختصارِ قَدْرَ الإمكانِ.

ونُحِيلُ القارئَ للاستِزادَةِ من الفائدة على مؤلَّفاتِنا الأُخرى وتحقيقاتِنا، وهي:

منهجُ النقدِ في عُلومِ الحديثِ.

الإمامُ التِّرمِذِيُّ والموازنةُ بين جامِعهِ وبين الصحيحَيْن.

شرحُ عِلَلِ التِّرمذيِّ للحافظِ ابنِ رجَبٍ وتعليقاتُنَا الواسِعةُ عليه.

هذه الكُتبُ كافيةٌ لِمَنْ تزوَّدَ بها وأحسَنَ دراستَها أنْ يدخُلَ إن شاءَ اللهُ تعالى في عِدَادِ الباحِثينَ في الحديث الشريف، تصحيحًا وتضعيفًا، وتجريحًا وتعديلًا.

4 - خرَّجْنَا أحاديثَ الكتاب، مع مُراعاةِ الاختصارِ، بالقَدْرِ الذي يحتاجُ إليه مَقامُ استشهادِ الإمامِ المصنِّفِ بالحديثِ الذي أَوْرَدَهُ.

5 - ترجمْنَا الأعلامَ الواردةَ في الكتاب باختصارٍ، ودُونَ تطويلٍ.
কারণ তিনি এই সংজ্ঞাগুলোর অধিকাংশ ক্ষেত্রে শ্রেণী বিন্যাস (تقسيم) অনুসরণের মাধ্যমে পাঠকের অনুমানের ওপর নির্ভর করেছেন। তাই আমরা পাঠকের সহায়তার জন্য এবং তার কাছে এর উপকারিতা সহজ করার লক্ষ্যে কিতাবটির টীকায় এই সংজ্ঞাগুলো সন্নিবেশিত করেছি।

2 - আমরা কিতাবটির বিভিন্ন অংশকে একে অপরের সাথে সংযুক্ত করেছি যাতে এটি বোঝা সহজ হয় এবং পর্যবেক্ষণ ও শ্রেণী বিন্যাস (السبر والتقسيم) অনুসরণের মাধ্যমে কিতাবটি যে সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে তা অর্জন করা যায়।

কেননা গ্রন্থকার (রহিমাহুল্লাহ) কোনো একটি সাধারণ বিভাগ (قسم) নিয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং তার শাখা-প্রশাখা বর্ণনা করেন, এরপর তিনি পূর্বে ইঙ্গিত দেওয়া অন্য কোনো বিভাগের বিস্তারিত আলোচনায় ফিরে আসেন, যা ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে।

3 - কিতাবটির অস্পষ্ট বিষয়গুলো স্পষ্ট করার মাধ্যমে বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে বিষয়টিকে পূর্ণতা দান করা, যার ফলে বিষয়টি সম্পূর্ণ হয়। এর মধ্যে এমন সব তথ্য রয়েছে যা এই কিতাবের ওপর রচিত ব্যাখ্যাগ্রন্থগুলোতে (شروح) পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা বজায় রাখা হয়েছে।

অধিকতর উপকারের জন্য আমরা পাঠককে আমাদের অন্যান্য রচনা ও গবেষণা (تحقيقات) দেখার অনুরোধ করছি, সেগুলো হলো:

মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস।

আল-ইমাম আল-তিরমিজি ওয়াল মুওয়াযানাতু বাইনা জামি'য়িহি ওয়া বাইনাস সহিহাইন।

হাফেজ ইবনে রজব রচিত শারহু ইলালিত তিরমিজি এবং তার ওপর আমাদের বিস্তারিত টীকা।

এই কিতাবগুলো সেই ব্যক্তির জন্য যথেষ্ট হবে যে এগুলো সংগ্রহ করবে এবং ভালোভাবে অধ্যয়ন করবে, যাতে সে ইনশাআল্লাহ হাদিস শরিফের বিশুদ্ধকরণ (تصحيح) ও দুর্বলকরণ (تضعيف) এবং দোষারোপ (تجريح) ও গুণাবলি বর্ণনার (تعديل) ক্ষেত্রে গবেষকদের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

4 - আমরা যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ততা বজায় রেখে কিতাবটির হাদিসসমূহের উৎস নির্দেশ (تخريج) করেছি, যা ইমাম গ্রন্থকারের উপস্থাপিত হাদিসের মাধ্যমে দলিল পেশ করার ক্ষেত্রে প্রয়োজন।

5 - আমরা কিতাবে উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গের সংক্ষিপ্ত জীবনী (ترجمة) কোনো দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই তুলে ধরেছি।
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٢٩)
وفي الخِتَامِ أَوَدُّ تذكيرَ القارئِ الكريمِ بِهَدَفٍ أساسيٍّ يُفيدُه العملُ في تحقيقِ هذا الكتابِ "نُزهة النظرِ" والتعليقِ عليه، وهو تسهيلُ تَصوُّرِ عِلْمِ مُصطلَحِ الحديث تصوُّرًا شاملًا، وَفْقَ الصيغةِ التي قدَّمَها إمامٌ جليلٌ هو أميرُ المؤمنينَ في الحديثِ الحافظُ أبو الفَضْلِ أحمدُ بنُ عليِّ بنِ حَجَرٍ العَسْقَلانِيُّ، وهو تَصَوُّرٌ فريدٌ، انفردَ به في هذا الكتابِ عن كلِّ المؤلَّفاتِ في هذا العِلْمِ بتوفيق الله تعالى.

كما أَوَدُّ التذكيرَ بأنَّه من الضروريِّ لِدَارِسِ الحديثِ أنْ يُحيطَ بصورةِ عِلْمِ المُصطَلحِ الكُلِّيَّةِ في مُختلِفِ مناهِجِ التأليفِ لهذا العِلْمِ، ولا سيّما المُحاوَلات التي بُذِلَتْ لِتقديمِ نِظامٍ جامعٍ لعِلْمِ المُصطَلحِ خاصَّةً، كما هو مُشَاهَدٌ في "نُزهة النظرِ في توضيح نُخْبَةِ الفِكَر"، أو نظريةٍ شاملةٍ، كما في كتابنا "منهجِ النقدِ في علوم الحديث".

وما تَوفيقي إلّا باللهِ. عليه توكَّلْتُ وإليه أُنيْبُ.

* * *
পরিশেষে আমি সম্মানিত পাঠককে একটি মৌলিক উদ্দেশ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যা এই 'নুজহাতুন নজর' কিতাবটির সম্পাদনা এবং এর ওপর টীকা প্রদানের কাজ থেকে অর্জিত হবে; আর তা হলো হাদিস শাস্ত্রের পরিভাষা (علم مصطلح الحديث) সম্পর্কে একটি সামগ্রিক ধারণা লাভ সহজতর করা। এটি এমন এক বিন্যাসে উপস্থাপিত হয়েছে যা একজন মহান ইমাম পেশ করেছেন, যিনি হলেন হাদিস শাস্ত্রের আমিরুল মুমিনিন, হাফিজ (الحافظ) আবুল ফজল আহমদ ইবনে আলী ইবনে হাজার আল-আসকালানি। এটি একটি অনন্য রূপরেখা, যা আল্লাহর তাওফিকে তিনি এই কিতাবে এই শাস্ত্রের অন্যান্য সকল রচনার চেয়ে স্বতন্ত্রভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন।

সেই সাথে আমি আরও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, হাদিসের শিক্ষার্থীর জন্য এই শাস্ত্র রচনার বিভিন্ন পদ্ধতির আলোকে পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) সামগ্রিক রূপরেখাটি আয়ত্ত করা অপরিহার্য। বিশেষত পরিভাষা শাস্ত্রের (علم المصطلح) জন্য একটি সমন্বিত বিধান (نظام جامع) প্রদানের ক্ষেত্রে যে প্রচেষ্টাগুলো চালানো হয়েছে—যেমনটি 'নুজহাতুন নজর ফি তাওদিহি নুখবাতিল ফিকার' গ্রন্থে পরিলক্ষিত হয়, অথবা একটি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব (نظرية شاملة), যেমনটি আমাদের রচিত গ্রন্থ 'মানহাজুন নাকদ ফি উলূমিল হাদিস'-এ দেখা যায়।

আমার সাফল্য কেবল আল্লাহরই সাহায্যে। তাঁর ওপরই আমি ভরসা করেছি এবং তাঁর দিকেই আমি প্রত্যাবর্তন করি।

* * *
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٣٠)
صفحة العنوان من النسخة الخطية
পাণ্ডুলিপির শিরোনাম পাতা
(খণ্ড: ১) নুযহাতুন নাযার ফী তাওদীহি নুখবাতিল ফিকার - তাহকীক ইতর (পৃষ্ঠা: ٣١)
صحيفة عليها خط الحافظ ابن حجر في الهامش الأيسر آخر الصفحة
একটি পৃষ্ঠা যার শেষাংশের বাম পার্শ্বটীকায় হাফেজ (الحافظ) ইবনে হাজার-এর হস্তলিপি রয়েছে।