(খণ্ড: ১)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: -)
أسد الغابة في معرفة الصحابة - ط الشعب القسم: التراجم والطبقات
الكتاب: أسد الغابة في معرفة الصحابة
المؤلف: عز الدين ابن الأثير، أبو الحسن علي بن محمد الجزري (555 - 630 هـ)
تحقيق: محمد إبراهيم البنا - محمد أحمد عاشور - محمود عبد الوهاب فايد
الناشر: كتاب الشعب، القاهرة - مصر
وصوّرتها: بعض دُور النشر
عام النشر: (1390 - 1393 هـ) = (1970 - 1973 م)
عدد الأجزاء: 7
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 2 ذو القعدة 1445
উসদুল গাবাহ ফী মা'রিফাতিস সাহাবাহ - আশ-শা'ব সংস্করণ বিভাগ: জীবনী ও স্তরসমূহ
গ্রন্থ: উসদুল গাবাহ ফী মা'রিফাতিস সাহাবাহ (সাহাবীদের পরিচয়ে বনের সিংহ)
লেখক: ইযযুদ্দীন ইবনুল আসীর, আবু আল-হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ আল-জাজারী (৫৫৫ - ৬৩০ হিজরী)
সম্পাদনা: মুহাম্মদ ইব্রাহীম আল-বান্না - মুহাম্মদ আহমদ আশুর - মাহমুদ আব্দুল ওয়াহহাব ফায়েদ
প্রকাশক: কিতাবুশ শা'ব, কায়রো - মিশর
পুনর্মুদ্রণ: কিছু প্রকাশনা সংস্থা
প্রকাশের বছর: (১৩৯০ - ১৩৯৩ হিজরী) = (১৯৭০ - ১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দ)
খণ্ড সংখ্যা: ৭
[গ্রন্থের নম্বর বিন্যাস মূল মুদ্রণের অনুরূপ]
শামিলায় প্রকাশের তারিখ: ২ যিলকদ ১৪৪৫
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٣)
بسم الله الرحمن الرحيم
تقديم الحمد للَّه والصلاة والسلام على رسول اللَّه، وعلى آله وصحبه ومن اتبع هداه
وبعد، فإن الأمم الحية الناهضة تهتم بتاريخها، وتعتنى بدراسته دراسة فاحصة تكشف كل ما تضمنه من آثار وأسرار وأخبار، وتجلو ما فيه من عبر ينتفع بها أولو الأبصار.
وليس ذلك لونا من ألوان الترف الفكري، وإنما هو ضرورة تقتضيها مصلحة الأمة ربطا للحاضر بالماضي وليكون بناء المجتمع على أساس متين.
وأمة العرب أمة ناهضة ازدهر تاريخها منذ الإسلام، وكان لها في قارات العالم أثر أي أثر، كان لها أثر في آسيا وفي إفريقيا وفي أوروبا، لقد حملت إلى هذه القارات مشاعل الهداية والعلم، والحضارة والمدنية، حملت إليها الرسالة المحمدية بكل مبادئها وتعاليمها وفضائلها ومثلها، وأثرت فيها تأثيرا كبيرا.
والشخصيات التي حملت هذا العبء بعد صاحب الرسالة هي شخصيات الصحابة أولئك الذين كانوا مفخرة العالم، وهداة الإنسانية، وروادها الأفاضل.
ولا عجب فقد كان لهم الفضل عليها حين حملوا إليها تعاليم الرسالة وصورة الرسول متمثلة في أقوالهم وأفعالهم ورواياتهم.
لقد كان كل منهم يحرص على أن يحاكيه في حركاته وسكناته وكلماته.
كان كل منهم يحرص على أن يعيش في ظلال صاحب الرسالة ليذكر بذكره، ويحظى بشرف الانتساب إليه لقد خرّجت المدرسة المحمدية في سنوات قليلة لم تزد على ثلاثة وعشرين عاما تلاميذ يعدون بالآلاف، لم يستطع التاريخ المنصف على الرغم من كثرتهم ووفرتهم أن يتجاهل واحدا منهم حتى أولئك الذين لم يبلغوا الحلم بل جاء إليهم حاني الرأس في إجلال وإكبار يفتش عن أخبارهم وينقب عن آثارهم، ويتعمق في البحث عن أسرار حياتهم.
ولم توجد مدرسة في الدنيا قديما ولا حديثا اهتم التاريخ بتقصى أخبار جميع أبنائها صغارا وكبارا غير المدرسة المحمدية، فهي وحدها التي عنى بها التاريخ وظفر جميع المنتسبين إليها باهتمامه البالغ.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ভূমিকা সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আল্লাহর রাসূলের ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন, তাঁর সঙ্গী-সাথী ও যারা তাঁর হেদায়াতের অনুসরণ করেছেন তাদের ওপর।
অতঃপর, নিশ্চয়ই জীবন্ত ও প্রগতিশীল জাতিসমূহ তাদের ইতিহাসের প্রতি গুরুত্বারোপ করে এবং এর নিবিড় অধ্যয়নে যত্নবান হয়, যা এতে নিহিত সমস্ত নিদর্শন, রহস্য ও সংবাদসমূহ উন্মোচন করে এবং এতে বিদ্যমান শিক্ষাগুলোকে স্পষ্ট করে, যা থেকে বিবেকসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপকৃত হয়।
আর এটি কোনো প্রকার বুদ্ধিবৃত্তিক বিলাসিতা নয়, বরং জাতির কল্যাণার্থে এটি একটি অপরিহার্যতা, যাতে বর্তমানের সাথে অতীতের সংযোগ স্থাপন করা যায় এবং সমাজের ভিত্তি যেন সুদৃঢ় হয়।
আরব জাতি একটি উদীয়মান জাতি যাদের ইতিহাস ইসলামের আবির্ভাবের পর থেকেই সমৃদ্ধ হয়েছে এবং বিশ্বের মহাদেশসমূহে তাদের এক বিশাল প্রভাব ছিল। এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপে তাদের প্রভাব ছিল অনস্বীকার্য। তারা এই মহাদেশগুলোতে হেদায়াত ও জ্ঞান এবং কৃষ্টি ও সভ্যতার মশাল বহন করে নিয়ে গিয়েছিল। তারা সেখানে মুহাম্মদী রিসালাতকে এর সকল মূলনীতি, শিক্ষা, শ্রেষ্ঠত্ব এবং আদর্শসহ পৌঁছে দিয়েছিল এবং সেখানে এক সুদূরপ্রসারী প্রভাব বিস্তার করেছিল।
রিসালাত বহনকারীর পর যারা এই মহান দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তারা হলেন সাহাবীগণ; যারা ছিলেন বিশ্বের অহংকার, মানবতার দিশারী এবং তাদের শ্রেষ্ঠ পথপ্রদর্শক।
আর এতে আশ্চর্যের কিছু নেই, কারণ তাঁদের মাধ্যমেই সেই জাতির ওপর অনুগ্রহ বর্ষিত হয়েছে যখন তাঁরা সেখানে রিসালাতের শিক্ষা এবং রাসূলের আদর্শকে তাঁদের কথা, কাজ এবং বর্ণনার মাধ্যমে মূর্ত করে তুলেছিলেন।
তাঁদের প্রত্যেকেই রাসূলের প্রতিটি নড়াচড়া, স্থিতি এবং কথাকে হুবহু অনুকরণ করতে সচেষ্ট থাকতেন।
তাঁদের প্রত্যেকেই রিসালাতের অধিকারীর ছায়াতলে জীবন অতিবাহিত করতে সচেষ্ট ছিলেন যাতে তাঁর স্মরণের মাধ্যমে তাঁরা স্মরিত হন এবং তাঁর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। মুহাম্মদী মাদ্রাসা মাত্র তেইশ বছরেরও কম সময়ে এমন হাজার হাজার ছাত্র তৈরি করেছিল যে, নিরপেক্ষ ইতিহাস তাঁদের সংখ্যার আধিক্য সত্ত্বেও কাউকে উপেক্ষা করতে পারেনি। এমনকি যারা তখনও বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছায়নি, ইতিহাস তাঁদের কাছেও সশ্রদ্ধ মস্তকে বিনম্রভাবে এসেছে তাঁদের খবরাখবর অন্বেষণে, তাঁদের পদচিহ্ন অনুসন্ধানে এবং তাঁদের জীবনের রহস্য উদ্ঘাটনে গভীরভাবে নিমগ্ন হয়েছে।
পৃথিবীতে প্রাচীন বা আধুনিক কালে এমন কোনো শিক্ষা বা প্রতিষ্ঠান নেই যার প্রতিটি সদস্যের—ছোট হোক বা বড়—খবরাখবর অনুসন্ধানে ইতিহাস এত গুরুত্বারোপ করেছে, মুহাম্মদী মাদ্রাসা ব্যতিরেকে। কেবল এটিই সেই প্রতিষ্ঠান যার প্রতি ইতিহাস সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এবং এর সাথে সম্পৃক্ত সকলেই ইতিহাসের চরম মনোযোগ লাভ করেছে।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٤)
فضل الصحابة والكتب التي ألفت فيهميكفى الصحابة تنويها بهم وإشادة بفضلهم قوله تعالى:
{مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَماءُ بَيْنَهُمْ تَراهُمْ رُكَّعاً سُجَّداً يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً سِيماهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْراةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْأَهُ فَآزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوى عَلى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزُّرَّاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحاتِ مِنْهُمْ مَغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً} سورة الفتح-29 {لِلْفُقَراءِ الْمُهاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيارِهِمْ وَأَمْوالِهِمْ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِنَ اللَّهِ وَرِضْواناً وَيَنْصُرُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ أُولئِكَ هُمُ الصَّادِقُونَ، وَالَّذِينَ تَبَوَّؤُا الدَّارَ وَالْإِيمانَ مِنْ قَبْلِهِمْ يُحِبُّونَ مَنْ هاجَرَ إِلَيْهِمْ وَلا يَجِدُونَ فِي صُدُورِهِمْ حاجَةً مِمَّا أُوتُوا وَيُؤْثِرُونَ عَلى أَنْفُسِهِمْ وَلَوْ كانَ بِهِمْ خَصاصَةٌ وَمَنْ يُوقَ شُحَّ نَفْسِهِ فَأُولئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ، وَالَّذِينَ جاؤُ مِنْ بَعْدِهِمْ يَقُولُونَ رَبَّنَا اغْفِرْ لَنا وَلِإِخْوانِنَا الَّذِينَ سَبَقُونا بِالْإِيمانِ وَلا تَجْعَلْ فِي قُلُوبِنا غِلًّا لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنا إِنَّكَ رَؤُفٌ رَحِيمٌ} سورة الحشر 8 - 10 {وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهاجِرِينَ وَالْأَنْصارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُمْ بِإِحْسانٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهارُ خالِدِينَ فِيها أَبَداً ذلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ} سورة التوبة-100 ويكفى الصحابة تكريما
قول النبي صلى الله عليه وسلم:
«اللَّه اللَّه في أصحابي لا تتخذوهم غرضا بعدي فمن أحبهم فبحبي أحبهم ومن أبغضهم فببغضي أبغضهم ومن آذاهم فقد آذاني ومن آذاني فقد آذى اللَّه ومن آذى اللَّه يوشك أن يأخذه» أخرجه ابن حبان في صحيحه وأخرجه أيضا الترمذي 2 - 319 وبشرح ابن العربيّ 13 - 244
عن عبد اللَّه بن مغفل وقوله صلى الله عليه وسلم:
«لا تسبوا أصحابي» لا تسبوا أصحابي، فو الّذي نفسي بيده، لو أن أحدكم أنفق مثل أحد ذهباً ما أدرك مُد أحدهم ولا نصيفه» أخرجه مسلم عن أبي هريرة 4 - 1967 وأخرجه ابن ماجة ولفضل الصحابة الّذي نوه به الكتاب وأشادت به السنة اهتم العلماء من قديم بضبط أسمائهم وتاريخهم، وقد ألف في الصحابة:
1 - الإمام أبو الحسن علي بن عبد اللَّه شيخ البخاري المولود سنة 161، المتوفى سنة 234.
2 - الإمام محمد بن إسماعيل البخاري، صاحب الصحيح المولود سنة 194 المتوفى سنة 256.
সাহাবীগণের মর্যাদা এবং তাঁদের বিষয়ে রচিত কিতাবসমূহসাহাবীগণের উচ্চ মর্যাদা বর্ণনা ও তাঁদের শ্রেষ্ঠত্বের গুণকীর্তনে আল্লাহ তাআলার এই বাণীই যথেষ্ট:
{মুহাম্মদ আল্লাহর রাসূল; এবং তাঁর সাথে যারা আছে তারা কাফিরদের প্রতি অত্যন্ত কঠোর, নিজেদের মধ্যে অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি লাভের কামনায় আপনি তাদেরকে রুকু ও সিজদাবনত অবস্থায় দেখবেন। তাদের চেহারায় সিজদার চিহ্ন বর্তমান। তাওরাতে তাদের দৃষ্টান্ত এরূপ এবং ইনজীলে তাদের দৃষ্টান্ত একটি চারাগাছের মতো, যা থেকে অঙ্কুর নির্গত হয়, অতঃপর তাকে শক্তিশালী করে, এরপর তা পুষ্ট হয় এবং পরে নিজ কাণ্ডের ওপর সোজা হয়ে উঠে দাঁড়ায়, যা চাষীকে আনন্দিত করে, যাতে তিনি তাদের দ্বারা কাফিরদের অন্তর্জ্বালা সৃষ্টি করেন। তাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদের জন্য ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের ওয়াদা করেছেন।} সূরা আল-ফতহ-২৯ {সেই দরিদ্র মুহাজিরদের জন্য, যারা নিজেদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছে, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সাহায্য করে। তারাই তো সত্যবাদী। আর যারা তাদের আগে এই নগরীতে (মদীনা) বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে, তারা মুহাজিরদের ভালোবাসে এবং মুহাজিরদের যা দেওয়া হয়েছে তার জন্য নিজেদের অন্তরে কোনো আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে না। তারা নিজেদের ওপর অন্যদের অগ্রাধিকার দেয়, যদিও তারা অভাবগ্রস্ত হয়। যাদেরকে আত্মার কার্পণ্য থেকে রক্ষা করা হয়েছে, তারাই সফলকাম। আর যারা তাদের পরে এসেছে, তারা বলে: হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের এবং আমাদের সেই ভাইদের ক্ষমা করুন যারা ঈমানের পথে আমাদের অগ্রবর্তী হয়েছে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদের প্রতি আমাদের অন্তরে কোনো বিদ্বেষ রাখবেন না। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি অত্যন্ত দয়াবান ও পরম দয়ালু।} সূরা আল-হাশর ৮ - ১০ {আর মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে যারা প্রথম অগ্রবর্তী এবং যারা নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসরণ করেছে, আল্লাহ তাঁদের ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তাঁরাও তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হয়েছেন। তিনি তাঁদের জন্য প্রস্তুত রেখেছেন এমন জান্নাত, যার পাদদেশে নদীসমূহ প্রবাহিত, সেখানে তাঁরা চিরকাল থাকবেন। এটাই মহাসাফল্য।} সূরা আত-তাওবাহ-১০০ আর সাহাবীগণের সম্মানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই বাণীই যথেষ্ট:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:
«আমার সাহাবীগণের ব্যাপারে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, আল্লাহকে ভয় করো! আমার পরে তাঁদেরকে সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু বানিও না। সুতরাং যে তাঁদেরকে ভালোবাসবে, সে আমাকে ভালোবাসার কারণেই তাঁদের ভালোবাসবে; আর যে তাঁদের প্রতি ঘৃণা পোষণ করবে, সে আমার প্রতি ঘৃণার কারণেই তাঁদের ঘৃণা করবে। যে ব্যক্তি তাঁদের কষ্ট দিল, সে যেন আমাকেই কষ্ট দিল; আর যে আমাকে কষ্ট দিল, সে যেন আল্লাহকে কষ্ট দিল। আর যে আল্লাহকে কষ্ট দিল, শীঘ্রই তিনি তাকে পাকড়াও করবেন» এটি ইবনে হিব্বান তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং তিরমিযী ২ - ৩১৯ ও ইবনুল আরাবীর ব্যাখ্যাসহ ১৩ - ২৪৪ এ বর্ণনা করেছেন
আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী:
«তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালি দিও না, তোমরা আমার সাহাবীগণকে গালি দিও না! সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের কেউ যদি ওহুদ পাহাড় পরিমাণ সোনাও ব্যয় করো, তবে তাঁদের কারো এক 'মুদ' (এক আজলা) বা তার অর্ধেক পরিমাণ দানের সমান সওয়াবও অর্জন করতে পারবে না» এটি মুসলিম আবু হুরায়রা (রা.) থেকে ৪ - ১৯৬৭ এ বর্ণনা করেছেন এবং ইবনে মাজাহ-ও এটি বর্ণনা করেছেন। কুরআন ও সুন্নাহয় সাহাবীগণের যে ফযীলত ও শ্রেষ্ঠত্বের কথা আলোচিত হয়েছে, তার কারণে প্রাচীনকাল থেকেই উলামায়ে কেরাম তাঁদের নাম ও ইতিহাস সংরক্ষণে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছেন। সাহাবীগণের বিষয়ে কিতাব রচনা করেছেন:
১ - ইমাম আবুল হাসান আলী বিন আবদুল্লাহ, যিনি বুখারীর উস্তাদ, জন্ম ১৬১ হিজরী, মৃত্যু ২৩৪ হিজরী।
২ - ইমাম মুহাম্মদ বিন ইসমাঈল বুখারী, সহীহ বুখারীর রচয়িতা, জন্ম ১৯৪ হিজরী, মৃত্যু ২৫৬ হিজরী।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٥)
3 - محمد بن سعد بن منيع الزهري، صاحب الطبقات، المولود سنة 168 المتوفى سنة 230.
4 - خليفة بن خياط المحدث النسابة، المتوفى سنة 240.
5 - يعقوب بن سفيان الفسوي، المتوفى سنة 277.
6 - أبو بكر بن أبي خيثمة، المتوفى سنة 279.
7 - الإمام محمد بن عبد اللَّه بن عيسى المروزي، المولود سنة 220 والمتوفى سنة 293، 8 - مطين الحافظ أبو جعفر محمد بن عبد اللَّه بن سليمان الحضرميّ، المولود سنة 202، والمتوفى سنة 297.
9 - عبدان الحافظ أبو محمد عبد اللَّه بن أحمد بن موسى بن زياد الأهوازي، المتوفى سنة 306.
10 - الحافظ أبو بكر عبد اللَّه بن أبي داود، المتوفى سنة 316.
11 - الحافظ البغوي عبد اللَّه بن محمد بن عبد العزيز، المتوفى سنة 330.
12 - الحافظ بن قانع عبد الباقي بن قانع بن مرزوق بن واثق، المولود سنة 265، والمتوفى سنة 351 بدمشق.
13 - الحافظ بن السكن أبو علي سعيد بن عثمان بن سعيد بن السكن، المتوفى سنة 353.
14 - الحافظ أبو حاتم محمد بن حبان البستي، المتوفى سنة 354.
15 - الحافظ الطبراني سليمان بن أحمد، المتوفى سنة 360.
16 - الحافظ أبو حفص عمر بن أحمد المعروف بابن شاهين، المتوفى سنة 385، بقي أربعة أئمة أعلام يلزمنا أن نقف عندهم وقفة قصيرة وهؤلاء هم:
1 - محمد بن يحيى بن إبراهيم (منده) بن الوليد بن سندة بن بطة بن استندار واسمه (فيرازان) بن جهار يخت العبديّ مولاهم الأصبهاني أبو عبد اللَّه جد الحافظ أبى عبد اللَّه محمد بن إسحاق. روى عن لوين وأبى كريب وخلق وحدث عنه الطبراني وغيره، وكان من الثقات وتوفى سنة 301.
2 - أبو نعيم: أحمد بن عبد اللَّه بن أحمد الأصبهاني، حافظ من الثقات في الحفظ والرواية. ولد ومات في أصبهان من تصانيفه: حلية الأولياء، ومعرفة الصحابة ودلائل النبوة، وتاريخ أصبهان، ولد سنة 336، ومات سنة 430 هـ.
৩ - মুহাম্মদ বিন সাদ বিন মানি’ আজ-জুহরি, ‘তাবাকাত’-এর লেখক, ১৬৮ হিজরিতে জন্ম এবং ২৩০ হিজরিতে মৃত্যু।
৪ - খলিফা বিন খইয়্যাত, মুহাদ্দিস ও বংশবিদ, ২৪০ হিজরিতে মৃত্যু।
৫ - ইয়াকুব বিন সুফিয়ান আল-ফাসাউয়ি, ২৭৭ হিজরিতে মৃত্যু।
৬ - আবু বকর বিন আবি খাইসামা, ২৭৯ হিজরিতে মৃত্যু।
৭ - ইমাম মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ঈসা আল-মারওয়াযি, ২২০ হিজরিতে জন্ম এবং ২৯৩ হিজরিতে মৃত্যু, ৮ - মুতাইন আল-হাফিজ আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন সুলাইমান আল-হাদরামি, ২০২ হিজরিতে জন্ম এবং ২৯৭ হিজরিতে মৃত্যু।
৯ - আবদান আল-হাফিজ আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমদ বিন মুসা বিন জিয়াদ আল-আহওয়াযি, ৩০৬ হিজরিতে মৃত্যু।
১০ - আল-হাফিজ আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন আবি দাউদ, ৩১৬ হিজরিতে মৃত্যু।
১১ - আল-হাফিজ আল-বাগাওয়ি আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ, ৩৩০ হিজরিতে মৃত্যু।
১২ - আল-হাফিজ ইবনে কানি’ আব্দুল বাকি বিন কানি’ বিন মারজুক বিন ওয়াসিক, ২৬৫ হিজরিতে জন্ম এবং ৩৫১ হিজরিতে দামেস্কে মৃত্যু।
১৩ - আল-হাফিজ ইবনে আস-সাকান আবু আলী সাঈদ বিন উসমান বিন সাঈদ বিন আস-সাকান, ৩৫৩ হিজরিতে মৃত্যু।
১৪ - আল-হাফিজ আবু হাতিম মুহাম্মদ বিন হিব্বান আল-বুস্তি, ৩৫৪ হিজরিতে মৃত্যু।
১৫ - আল-হাফিজ আত-তাবারানি সুলাইমান বিন আহমদ, ৩৬০ হিজরিতে মৃত্যু।
১৬ - আল-হাফিজ আবু হাফস উমর বিন আহমদ, যিনি ইবনে শাহিন নামে পরিচিত, ৩৮৫ হিজরিতে মৃত্যু। চারজন বিশিষ্ট ইমাম বাকি রয়েছেন যাদের সম্পর্কে আমাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা প্রয়োজন, তারা হলেন:
১ - মুহাম্মদ বিন ইয়াহইয়া বিন ইবরাহিম (মানদাহ) বিন আল-ওয়ালিদ বিন সানদাহ বিন বাত্তাহ বিন আসতান্দার, এবং তার নাম হলো (ফিরাযান) বিন জাহার ইয়াখত আল-আবদি (তাদের মুক্তদাস), আল-আসবাহানি আবু আব্দুল্লাহ, যিনি হাফিজ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসহাকের দাদা। তিনি লুওয়াইন, আবু কুরাইব এবং বহু সংখ্যক রাবি থেকে বর্ণনা করেছেন। তার থেকে তাবারানি এবং অন্যরা হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি নির্ভরযোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এবং ৩০১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
২ - আবু নুয়াইম: আহমদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আহমদ আল-আসবাহানি, হিফজ ও বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য একজন হাফিজ। তিনি আসবাহানে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করেন। তার রচনাবলীর মধ্যে রয়েছে: হিলয়াতুল আউলিয়া, মা’রিফাতুস সাহাবা, দালাইলুন নুবুওয়াহ এবং তারিখ আসবাহান। তিনি ৩৩৬ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৪৩০ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٦)
3 - أبو عمر يوسف بن عبد اللَّه بن محمد بن عبد البر النمري القرطبي المالكي، حافظ المغرب، ولد بقرطبة سنة 368، ورحل رحلات طويلة، وولى قضاء لشبونة وشنترين، وتوفى سنة 463 بشاطبه، وله كتاب الاستيعاب في أسماء الأصحاب، لكنه لم يستوعب، وجمع فيه من ذكر باسمه أو كنيته، أو حصل له فيه وهم وعدد من ذكر فيه 4225 على ترقيم طبعة مكتبة نهضة مصر، وقد ذيل عليه أبو بكر بن فتحون ذيلا حافلا بكثير من أسماء الصحابة الذين فاته أن يذكرهم، وذيل آخرون ذيولا أخرى لطيفة.
4 - أبو موسى محمد بن عمر بن أحمد الأصبهاني المديني، من حفاظ الحديث، مولده ووفاته بأصبهان، وإليها ينتسب كما في وفيات الأعيان. رحل إلى بغداد وهمذان، ولد سنة 501 ومات سنة 581، وقد ألف ذيلا كبيرا على كتاب ابن منده مشتملا على أسماء الكثيرين من الصحابة.
ابن الأثير وكتابه أسد الغابةبعد هؤلاء طلع علينا ابن الأثير بكتابه المعروف باسم «أسد الغابة» فاعتمد في تأليفه على كتب الذين سبقوه ولا سيما مؤلفات الأربعة الذين تحدثنا عنهم آنفا، فقد اعتمد عليها لكنه أضاف أسماء كثير من الصحابة إليها.
يقول الحافظ بن حجر: «في أوائل القرن السابع جمع عز الدين بن الأثير كتابا حافلا سماه أسد الغابة جمع فيه كثيرا من التصانيف المتقدمة».
وفي كتاب أسد الغابة تراجم ل 7554 صحابي.
ميزات أسد الغابةلكتاب أسد الغابة ميزات أهمها:
1 - أنه رتب تراجم الصحابة ترتيبا دقيقا حسب حروف الهجاء التي يبتدئ بها كل اسم مثبتا مراجعة التي نبه عليها بالرمز ومراجع أخرى كثيرة في مختلف العلوم ذكرها بالاسم وصنيعه هذا يشهد بأن العرب كانوا أسبق من الأوربيين في تنسيق الحقائق العلمية وتبويبها وترتيبها وإثبات مصادرها فأبطل قول من يزعم أن المستشرقين والكتاب الأوربيين هم أصحاب الفضل في ذلك. ولا شك أنه بهذا يسر على القارئ سبيل الانتفاع بكتابه.
3 - আবু ওমর ইউসুফ বিন আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল বার আন-নামারি আল-কুরতুবি আল-মালিকি, মাগরিবের হাফেজ, ৩৬৮ হিজরিতে কর্ডোভায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘ দেশভ্রমণ করেন এবং লিসবন ও সান্তারেনের বিচারকের (কাযি) দায়িত্ব পালন করেন। ৪৬৩ হিজরিতে শাতিবায় তার মৃত্যু হয়। সাহাবীদের নামের বর্ণনায় তার 'আল-ইসতিয়াব' নামক কিতাব রয়েছে, তবে এটি সর্বাত্মক বা পূর্ণাঙ্গ নয়। এতে তিনি তাদেরই সংকলন করেছেন যাদের নাম বা উপনাম পাওয়া যায় অথবা যাদের ব্যাপারে সংশয় ছিল। মাকতাবাতু নাহদাতু মিসর সংস্করণের সংখ্যাতত্ত্ব অনুযায়ী এতে উল্লিখিত ব্যক্তির সংখ্যা ৪২২৫ জন। আবু বকর বিন ফাতহুন এই কিতাবের ওপর একটি বিস্তৃত পরিশিষ্ট (যাইল) লিখেছেন, যাতে এমন অনেক সাহাবীর নাম যুক্ত করেছেন যা ইবন আব্দুল বার উল্লেখ করতে পারেননি। এছাড়া অন্যান্যগণও আরও কিছু চমৎকার পরিশিষ্ট রচনা করেছেন।
4 - আবু মুসা মুহাম্মদ বিন ওমর বিন আহমাদ আল-আসফাহানি আল-মাদিনি, তিনি হাদিস বিশারদদের (হাফেজ) অন্তর্ভুক্ত। 'ওয়াফায়াতুল আইয়ান' গ্রন্থের বর্ণনা অনুযায়ী আসফাহানেই তার জন্ম ও মৃত্যু এবং সেখানের সাথেই তার সম্বন্ধ (নিসবত) করা হয়। তিনি বাগদাদ ও হামাদানে সফর করেন। তিনি ৫০১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৫৮১ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ইবনে মানদাহর কিতাবের ওপর একটি বিশাল পরিশিষ্ট রচনা করেছেন, যা অনেক সাহাবীর নাম সংবলিত।
ইবনুল আসির ও তাঁর গ্রন্থ উসদুল গাবাহএঁদের পরে ইবনুল আসির তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ 'উসদুল গাবাহ' নিয়ে আবির্ভূত হন। এটি রচনায় তিনি তাঁর পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহের ওপর নির্ভর করেছেন, বিশেষ করে ইতিপূর্বে উল্লিখিত চারজন লেখকের রচনার ওপর; তিনি সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই এতে আরও অনেক সাহাবীর নাম যোগ করেছেন।
হাফেজ ইবনে হাজার বলেন: "সপ্তম শতাব্দীর শুরুর দিকে ইজ্জুদ্দিন ইবনুল আসির একটি সমৃদ্ধ কিতাব সংকলন করেন এবং এর নাম দেন 'উসদুল গাবাহ', যাতে তিনি পূর্ববর্তী অনেক সংকলনকে একত্রিত করেছেন।"
'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থে ৭৫৫৪ জন সাহাবীর জীবনী স্থান পেয়েছে।
উসদুল গাবাহর বৈশিষ্ট্যসমূহ'উসদুল গাবাহ' গ্রন্থের বেশ কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যার মধ্যে প্রধান হলো:
1 - তিনি সাহাবীদের জীবনীসমূহ প্রতিটি নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছেন এবং প্রতীকের মাধ্যমে এর উৎসগুলো নির্দেশ করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন শাস্ত্রের আরও অনেক সূত্রের নামও তিনি সরাসরি উল্লেখ করেছেন। তাঁর এই কর্মপদ্ধতি প্রমাণ করে যে, বৈজ্ঞানিক তথ্যাবলীর বিন্যাস, অধ্যায় নির্ধারণ এবং উৎস নির্দেশনার ক্ষেত্রে আরবগণ ইউরোপীয়দের চেয়ে অনেক অগ্রগামী ছিলেন। এর মাধ্যমে সেই সব লোকের দাবি বাতিল হয়ে যায় যারা মনে করে প্রাচ্যবিদ ও ইউরোপীয় লেখকরাই এই পদ্ধতির উদ্ভাবক। নিঃসন্দেহে এর মাধ্যমে তিনি পাঠকের জন্য কিতাবটি থেকে উপকৃত হওয়ার পথ সহজ করে দিয়েছেন।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٧)
2 - ضبط بالحروف الأسماء المتشابهة التي تتفق رسما وتختلف نطقا.
3 - شرح الكلمات الغريبة التي وردت في ثنايا التراجم فوفر على القارئ مئونة البحث عن الألفاظ الصعبة.
4 - صوب بعض الأخطاء التي رأى أن من سبقه وقع فيها.
نعم
… لقد بذل ابن الأثير جهده في تحرير كتابه وتنسيقه، وإذا كانت هناك بعض مؤاخذات هينة أخذت عليه، فذلك يتمشى مع طبيعة البشر، فالكمال للَّه وحده وصدق اللَّه العظيم إذ يقول: {وَلَوْ كانَ مِنْ عِنْدِ غَيْرِ اللَّهِ لَوَجَدُوا فِيهِ اخْتِلافاً كَثِيراً}.
ويرحم اللَّه ابن الأثير، فقد قال في خطبة كتابه معتذرا عن ذلك «وما يشاهده الناظر في كتابي هذا من خطأ ووهم فليعلم أنى لم أقله من نفسي، وإنما نقلته من كلام العلماء وأهل الحفظ والإتقان، ويكون الخطأ يسيرا إلى ما فيه من الفوائد والصواب، ومن اللَّه سبحانه أستمد الصواب في القول والعمل. فرحم اللَّه امرأ أصلح فاسده، ودعا لي بالمغفرة والعفو عن السيئات وأن يحسن منقلبنا إلى دار السلام عند مجاورة الأموات والسلام».
ترجمة ابن الأثيرفي بيئة دينية عريقة في التدين، وبين أسرة علمية أصيلة في العلم، نشأ عز الدين أبو الحسن علي بن أبي الكرم محمد بن محمد بن عبد الكريم بن عبد الواحد الشيباني المعروف بابن الأثير الجزري، والجزري نسبة إلى جزيرة ابن عمر وهي - كما في المراصد 1/ 333 - بلدة فوق الموصل بينهما ثلاثة أيام، لها رستاق مخصب يحيط بها دجلة إلا من ناحية واحدة شبه الهلال، فعمل له خندق أجرى فيه الماء فأحاط الماء بها وسميت بذلك نسبة إلى يوسف بن عمر الثقفي أمير العراقين أو عبد العزيز بن عمر من أهل برقعيد أو أوس وكامل ابني عمر كما في وفيات الأعيان 3/ 35. كان والده ثريا يمتلك عدة بساتين بقرية العقيمة - إحدى قرى جزيرة ابن عمر - وكان يملك قرية يقال لها (قصر حرب) بجنوب الموصل، وكان يشتغل بالتجارة إلى جانب وظائفه الحكومية في جزيرة ابن عمر التابعة للموصل. فقد كان رئيس ديوانها ونائب وزير الموصل فيها.
له أخوان أحدهما أكبر منه وهو (مجد الدين أبو السعادات) المبارك، ولد سنة 544 وتوفى سنة 606. وهو أحد العلماء الأفذاذ له كتاب (جامع الأصول في أحاديث الرسول)، وكتاب (النهاية في غريب الحديث والأثر). والآخر أصغر منه، هو (ضياء الدين أبو الفتح) نصر اللَّه، ولد سنة 558 وتوفى سنة 637. كان من ذوى
2 - এমন সদৃশ নামসমূহকে হরফের মাধ্যমে বিন্যস্ত করা হয়েছে যা দেখতে এক হলেও উচ্চারণে ভিন্ন।
3 - জীবনীসমূহের ভেতরে আসা কঠিন শব্দগুলোর ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে, যা পাঠককে কঠিন শব্দাবলী অনুসন্ধানের কষ্ট থেকে রেহাই দিয়েছে।
4 - এমন কিছু ভুল সংশোধন করেছেন যা তিনি তাঁর পূর্বসূরিদের মধ্যে দেখতে পেয়েছিলেন।
হ্যাঁ
… ইবনুল আসীর তাঁর গ্রন্থ সম্পাদনা ও সুবিন্যস্তকরণে তাঁর সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা ব্যয় করেছেন। আর যদি তাঁর প্রতি কিছু সামান্য অভিযোগ থাকে, তবে তা মানুষের স্বভাবজাত প্রকৃতির সাথেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা পূর্ণতা একমাত্র আল্লাহর জন্যই এবং মহান আল্লাহ সত্যই বলেছেন যখন তিনি বলেন: {আর তা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতো, তবে তারা তাতে অনেক মতপার্থক্য দেখতে পেত}।
আল্লাহ ইবনুল আসীরের প্রতি রহম করুন; তিনি তাঁর গ্রন্থের ভূমিকায় এ বিষয়ে ওজর পেশ করে বলেছেন: "আমার এই গ্রন্থে পাঠক যে কোনো ভুল বা ভ্রান্তি লক্ষ্য করবেন, তিনি যেন জেনে রাখেন যে আমি তা নিজের পক্ষ থেকে বলিনি, বরং আলেম এবং হিফজ ও দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিদের কথা থেকেই তা উদ্ধৃত করেছি। আর এতে বিদ্যমান উপকারিতা ও সঠিক তথ্যের তুলনায় ভুলের পরিমাণ খুবই সামান্য। আমি মহান আল্লাহর নিকট কথা ও কাজে সঠিকতা লাভের সাহায্য কামনা করি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যিনি এর ত্রুটি সংশোধন করবেন এবং আমার জন্য ক্ষমা ও পাপ মোচনের দোয়া করবেন এবং মৃত্যুপরবর্তীতে শান্তির আবাসে আমাদের প্রত্যাবর্তনকে যেন তিনি সুন্দর করেন, ওয়াসসালাম।"
ইবনুল আসীরের জীবনীএক ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় পরিবেশে এবং ইলমি আভিজাত্যে ধন্য এক জ্ঞানী পরিবারে ইজ্জুদ্দীন আবুল হাসান আলী বিন আবিল কারাম মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল কারীম বিন আব্দুল ওয়াহিদ আশ-শাইবানী লালিত-পালিত হন, যিনি ইবনুল আসীর আল-জাযারী নামে পরিচিত। 'আল-জাযারী' নিসবতটি 'জাযীরাতে ইবনে উমর'-এর দিকে সম্পৃক্ত, যা আল-মারাসিদ (১/৩৩৩) অনুযায়ী- মসুলের উত্তর দিকে অবস্থিত একটি শহর, যার দূরত্ব মসুল থেকে তিন দিনের পথ। এর রয়েছে এক উর্বর পল্লী অঞ্চল, যাকে এক পাশ ছাড়া—যা অর্ধচন্দ্রের মতো—টাইগ্রিস (দজলা) নদী ঘিরে রেখেছে। ফলে সেখানে একটি খাল খনন করে পানি প্রবাহিত করা হয়েছে যা তাকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এর নামকরণ করা হয়েছিল দুই ইরাকের আমীর ইউসুফ বিন উমর আস-সাকাফী, অথবা বারকাইদের অধিবাসী আব্দুল আযীয বিন উমর অথবা উমর-এর দুই পুত্র আওস ও কামিল-এর নামানুসারে, যেমনটি ওফায়াতুল আইয়ান (৩/৩৫)-এ বর্ণিত হয়েছে। তাঁর পিতা ছিলেন একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি, জাযীরাতে ইবনে উমরের অন্যতম গ্রাম আল-আকীমাহ-তে তাঁর বেশ কয়েকটি বাগান ছিল। এছাড়া মসুলের দক্ষিণে 'কাসর হারব' নামক একটি গ্রামের মালিকও তিনি ছিলেন। জাযীরাতে ইবনে উমরে—যা মসুলের অন্তর্ভুক্ত ছিল—তাঁর সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি ব্যবসার সাথেও যুক্ত ছিলেন। তিনি সেখানকার দেওয়ান প্রধান এবং মসুলের উজিরের প্রতিনিধি ছিলেন।
তাঁর দুই ভাই ছিল। তাদের মধ্যে বড় ছিলেন (মাজদুদ্দীন আবুস সাআদাত) আল-মুবারাক; তিনি ৫৪৪ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬০৬ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন অন্যতম এক অনন্য আলেম, যাঁর রচিত গ্রন্থ হলো 'জামি উল উসুল ফি আহাদিসির রাসুল' এবং 'আন-নিহায়া ফি গারিবিল হাদিসি ওয়াল আসার'। অন্য ভাইটি তাঁর থেকে ছোট ছিলেন, তিনি হলেন (যিয়াউদ্দীন আবুল ফাতহ) নাসরুল্লাহ; তিনি ৫৫৮ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩৭ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ছিলেন...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٨)
النبوغ في العلوم الأدبية، وله كتب قيمة منها (المثل السائر في أدب الكاتب والشاعر) و (الوشي المرقوم في حلى المنظوم).
أما صاحبنا عز الدين، فقد كان واسطة العقد، ولد في الجزيرة سنة 555، هـ ومات بالموصل سنة 630 هـ. وكان له باع في التاريخ، ألف في التاريخ العام كتاب (الكامل) وهو مرجع مهم في تاريخ الحملات الصليبية التي شاهد بعضا منها إلى وفاته، وفي كتابه (الكامل) تحدث أيضا عن هجوم التتار وكأنه كان على موعد مع الحملات التي شنت على بلاد الإسلام من الشرق ومن الغرب.
وألف في التاريخ الخاص كتاب (أسد الغابة في معرفة الصحابة). وكتابه هذا يعلن عن سعة اطلاعه، ومعرفته بالأخبار، وغرامة بالبحث ودقته في النقد، وأصالته في التأليف.
4 من ربيع الآخر 1390
9 من يونيو 1970
(المحققون)
সাহিত্যিক বিজ্ঞানে অসাধারণ ব্যুৎপত্তি, এবং তাঁর মূল্যবান গ্রন্থাবলি রয়েছে, যার মধ্যে (আল-মাছালুস সাইর ফি আদাবিল কাতিবি ওয়াশ শায়ির) এবং (আল-ওয়াশয়ুল মারকুম ফি হুলাল মানযুম) অন্যতম।
আর আমাদের সুহৃদ ইযযুদ্দিন ছিলেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, তিনি ৫৫৫ হিজরি সনে জাজিরায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ৬৩০ হিজরি সনে মসুলে ইন্তেকাল করেন। ইতিহাসে তাঁর বিশেষ পারদর্শিতা ছিল। তিনি সাধারণ ইতিহাসের ওপর (আল-কামিল) গ্রন্থটি রচনা করেন, যা ক্রুসেড যুদ্ধের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যসূত্র; যার কিছু অংশ তিনি ইন্তেকাল পর্যন্ত প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর (আল-কামিল) গ্রন্থে তিনি তাতারদের আক্রমণ সম্পর্কেও আলোচনা করেছেন, যেন তিনি পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে ইসলামি ভূখণ্ডগুলোর ওপর পরিচালিত এই অভিযানগুলোর পূর্বনির্ধারিত প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন।
তিনি বিশেষ ইতিহাসের ওপর (উসদুল গাবাহ ফি মা'রিফাতিস সাহাবাহ) নামক গ্রন্থটি রচনা করেছেন। তাঁর এই গ্রন্থটি তাঁর জ্ঞানের ব্যাপকতা, ইতিহাসের সংবাদ সম্পর্কে গভীর জ্ঞান, গবেষণার প্রতি অনুরাগ, সূক্ষ্ম সমালোচনা এবং গ্রন্থ রচনায় তাঁর মৌলিকত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
৪ রবিউস সানি ১৩৯০
৯ জুন ১৯৭০
(গবেষকবৃন্দ)
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٩)
بسم الله الرحمن الرحيم
مقدمة ابن الأثيرقال الشيخ الإمام العالم، الحافظ البارع الأوحد، بقية السلف عز الدين أبو الحسن علي بن محمد ابن عبد الكريم الجزري، المعروف بابن الأثير رضي الله عنه:
الحمد للَّه الذي هدانا لهذا وما كنا لنهتدي لولا أن هدانا اللَّه، والحمد للَّه المنزه عن أن يكون له نظراء وأشباه، المقدس فلا تقرب الحوادث حماه، الذي اختار الإسلام ديناً، وارتضاه، فأرسل به محمدا صلى الله عليه وسلم، واصطفاه، وجعل له أصحاباً فاختار كلاً منهم لصحبته واجتباه، وجعلهم كالنجوم بأيهم اقتدى الإنسان اهتدى إلى الحق واقتفاه، فصلى اللَّه عليه وعلى آله وأصحابه صلاة توجب لهم رضاه، أحمده على نعمه كلها حمداً يقتضي الزيادة من نعمه، ويجزل لنا النصيب من قسمه.
أما بعد فلا علم أشرف من علم الشريعة فإنه يحصل به شرف الدنيا والآخرة، فمن تحلى به فقد فاز بالصفقة الرابحة، والمنزلة الرفيعة الفاخرة، ومن عري منه فقد حظي بالكرة الخاسرة.
والأصل في هذا العلم كتاب اللَّه، عز وجل، وسنة رسوله صلى الله عليه وسلم، فأما الكتاب العزيز فهو متواتر مجمع عليه غير محتاج إلى ذكر أحوال ناقليه، وأما سنة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فهي التي تحتاج إلى شرح أحوال رواتها وأخبارهم.
وأول رواتها أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ولم يضبطوا ولا حفظوا في عصرهم كما فعل بمن بعدهم من علماء التابعين وغيرهم إلى زماننا هذا؛ لأنهم كانوا مقبلين على نصرة الدين وجهاد الكافرين إذ كان المهم الأعظم؛ فإن الإسلام كان ضعيفاً وأهله قليلون، فكان أحدهم يشغله جهاده ومجاهدة نفسه في عبادته عن النظر في معيشته والتفرغ لمهم، ولم يكن فيهم أيضاً من يعرف الخط إلا النفر اليسير، ولو حفظوا ذلك الزمان لكانوا أضعاف من ذكره العلماء، ولهذا اختلف العلماء في كثير منهم؛ فمنهم من جعله بعض العلماء من الصحابة، ومنهم من لم يجعله فيهم، ومعرفتهم ومعرفة أمورهم وأحوالهم وأنسابهم وسيرتهم مهم في الدين.
ولا خفاء على من كان له قلب أو ألقى السمع وهو شهيد أن من تبوأ الدار والإيمان من المهاجرين والأنصار والسابقين إلى الإسلام والتابعين لهم بإحسان الذين شهدوا الرسول صلى الله عليه وسلم وسمعوا كلامه وشاهدوا أحواله ونقلوا ذلك إلى من بعدهم من الرجال والنساء من الأحرار والعبيد والإماء أولى بالضبط والحفظ، وهم الذين آمَنُوا ولم يَلْبِسُوا إيمَانَهُم بِظُلْم أولئِكَ لهم الأمن وهم مهتدون بتزكية اللَّه، سبحانه وتعالى لهم وثنائه عليهم، ولأن السنن التي عليها مدار تفصيل الأحكام ومعرفة الحلال والحرام إلى غير ذلك
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
ইবনুল আসিরের ভূমিকাশায়খ ইমাম আলিম, অনন্য দক্ষ হাফেজ, সালাফদের উত্তরসূরি ইযযুদ্দীন আবুল হাসান আলী ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল কারীম আল-জাযারি, যিনি ইবনুল আসির নামে পরিচিত (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হন), বলেছেন:
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের এই পথের দিশা দিয়েছেন, আর আল্লাহ আমাদের দিশা না দিলে আমরা হেদায়েত পেতাম না। সকল প্রশংসা সেই আল্লাহর, যিনি সমকক্ষ ও সদৃশ থেকে পবিত্র। তিনি অত্যন্ত পবিত্র, কোনো নশ্বরতা তাঁর সান্নিধ্য লাভ করতে পারে না। যিনি ইসলামকে দ্বীন হিসেবে বেছে নিয়েছেন এবং তা পছন্দ করেছেন, আর সেই দ্বীনসহ মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে প্রেরণ করেছেন এবং তাঁকে মনোনীত করেছেন। তিনি তাঁর জন্য সাহাবী দান করেছেন এবং তাঁদের প্রত্যেককে তাঁর সাহচর্যের জন্য মনোনীত ও নির্বাচিত করেছেন। তিনি তাঁদেরকে নক্ষত্রতুল্য করেছেন, মানুষ তাঁদের মধ্যে যাকেই অনুসরণ করবে সত্যের দিশা পাবে এবং তার অনুগামী হবে। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার ও সাহাবীদের ওপর এমন রহমত বর্ষণ করুন যা তাঁদের জন্য তাঁর সন্তুষ্টিকে অবধারিত করে। আমি তাঁর সকল নিয়ামতের জন্য তাঁর প্রশংসা করি, এমন প্রশংসা যা তাঁর নিয়ামত বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করে এবং তাঁর বরাদ্দ থেকে আমাদের জন্য অংশকে পরিপূর্ণ করে।
অতঃপর, শরীয়াহর ইলমের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান কোনো জ্ঞান নেই, কারণ এর মাধ্যমেই দুনিয়া ও আখেরাতের মর্যাদা অর্জিত হয়। যে ব্যক্তি এর দ্বারা সুশোভিত হয়, সে লাভজনক ব্যবসায় এবং উচ্চ ও গৌরবময় মর্যাদায় সফল হয়। আর যে ব্যক্তি তা থেকে বঞ্চিত হয়, সে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়।
এই ইলমের মূল ভিত্তি হলো মহান আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহ। আর মহাগ্রন্থ আল-কুরআন তো মুতাওয়াতির (নিরবচ্ছিন্নভাবে বর্ণিত) এবং সর্বসম্মত, এর বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনার প্রয়োজন নেই। তবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সুন্নাহর ক্ষেত্রে বর্ণনাকারীদের অবস্থা এবং তাদের সংবাদসমূহ ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন রয়েছে।
সুন্নাহর প্রথম বর্ণনাকারী হলেন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাহাবীগণ। তাঁরা তাঁদের যুগে সেভাবে তা বিন্যস্ত বা সংরক্ষণ করেননি যেভাবে তাঁদের পরবর্তী তাবিঈ এবং অন্যান্য আলিমগণ আমাদের এই সময় পর্যন্ত করেছেন। কারণ তাঁরা দ্বীনের সাহায্য এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদে মগ্ন ছিলেন, যা ছিল সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তখন ইসলাম ছিল দুর্বল এবং ইসলামের অনুসারীরা ছিল সংখ্যায় অল্প। তাই তাদের কেউ তার জিহাদ এবং ইবাদতে নিজের নফসকে প্রচেষ্টারত রাখা নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকতেন যে, নিজের জীবিকার প্রতি লক্ষ্য করা বা কোনো নির্দিষ্ট কাজের জন্য অবসর হওয়ার সুযোগ পেতেন না। তাঁদের মধ্যে হাতেগোনা কয়েকজন ব্যতীত লেখার কৌশল জানতেন এমন কেউও ছিলেন না। যদি তাঁরা সেই সময়ে তা সংরক্ষণ করতেন, তবে আলিমগণ যাদের কথা উল্লেখ করেছেন তাঁরা তার বহুগুণ হতেন। এই কারণেই আলিমগণ তাঁদের অনেকের ব্যাপারে মতভেদ করেছেন; কোনো আলিম কাউকে সাহাবী হিসেবে গণ্য করেছেন, আবার কেউ তাঁকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেননি। তাঁদেরকে চেনা এবং তাঁদের বিষয়াদি, অবস্থা, বংশপরিচয় ও জীবনচরিত জানা দ্বীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
যার অন্তঃকরণ আছে অথবা যে একাগ্রচিত্তে শ্রবণ করে তার কাছে এ কথা অস্পষ্ট নয় যে, মুহাজির, আনসার, ইসলামের অগ্রপথিক এবং নিষ্ঠার সাথে তাঁদের অনুসারী তাবিঈগণ—যাঁরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে দেখেছেন, তাঁর কথা শুনেছেন এবং তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং তা পরবর্তী পুরুষ ও নারী, স্বাধীন ও ক্রীতদাসদের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন—তাঁরাই এটি বিন্যস্ত ও মুখস্থ করার ক্ষেত্রে অগ্রগণ্য। তাঁরাই সেই সব লোক যাঁরা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে জুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি; তাদের জন্যই নিরাপত্তা এবং তারাই সুপথপ্রাপ্ত। এটি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁদের পবিত্রতা ঘোষণা ও প্রশংসার কারণে। কারণ শরীয়াহর বিধানাবলির বিস্তারিত বিবরণ, হালাল ও হারামের জ্ঞান ইত্যাদি যে সুন্নাহর ওপর আবর্তিত...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٠)
من أمور الدين، إنما ثبتت بعد معرفة رجال أسانيدها ورواتها، وأولهم والمقدم عليهم أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم؛ فإذا جهلهم الإنسان كان بغيرهم أشد جهلاً، وأعظم إنكاراً، فينبغي أن يعرفوا بأنسابهم وأحوالهم هم وغيرهم من الرواة، حتى يصح العمل بما رواه الثقات منهم، وتقوم به الحجة، فإن المجهول لا تصح روايته، ولا ينبغي العمل بما رواه، والصحابة يشاركون سائر الرواة في جميع ذلك إلا في الجرح والتعديل، فإنهم كلهم عدول لا يتطرق إليهم الجرح؛ لأن اللَّه عز وجل ورسوله زكياهم وعدلاهم، وذلك مشهور لا نحتاج لذكره، ويجيء كثير منه في كتابنا هذا، فلا نطول به هنا.
وقد جمع الناس في أسمائهم كتباً كثيرة، ومنهم من ذكر كثيراً من أسمائهم في كتب الأنساب والمغازي وغير ذلك، واختلفت مقاصدهم فيها، إلا أن الذي انتهى إليه جمع أسمائهم الحافظان أبو عبد اللَّه ابن منده
(1) وأبو نعيم أحمد بن عبد اللَّه الأصفهانيان
(2)، والإمام أبو عمر بن عبد البر
(3) القرطبي رضي الله عنهم، وأجزل ثوابهم، وحمد سعيهم، وعظم أجرهم وأكرم مآبهم، فلقد أحسنوا فيما جمعوا، وبذلوا جهدهم وأبقوا بعدهم ذكراً جميلاً؛ فاللَّه تعالى يثيبهم أجراً جزيلاً؛ فإنهم جمعوا ما تفرق منه.
فلما نظرت فيها رأيت كلاً منهم قد سلك في جمعه طريقاً غير طريق الآخر، وقد ذكر بعضهم أسماء لم يذكرها صاحبه، وقد أتى بعدهم الحافظ أبو موسى محمّد بن أبي بكر بن أبي عيسى الأصفهاني
(4)، فاستدرك على ابن منده ما فاته في كتابه، فجاء تصنيفه كبيراً نحو ثلثي كتاب ابن منده.
فرأيت أن أجمع بين هذه الكتب، وأضيف إليها ما شذ عنها مما استدركه أبو علي الغساني
(5)، على أبي عمر بن عبد البر، كذلك أيضاً ما استدركه عليه آخرون وغير من ذكرنا فلا نطول بتعداد أسمائهم هنا، ورأيت ابن منده وأبا نعيم وأبا موسى عندهم أسماء ليست عند ابن عبد البر، وعند ابن عبد البر أسماء ليست عندهم. فعزمت أن أجمع بين كتبهم الأربعة، وكانت العوائق تمنع والأعذار تصد عنه، وكنت حينئذ ببلدي وفي وطني، وعندي كتبي وما أراجعه من أصول سماعاتي، وما أنقل منه، فلم يتيسر ذلك لصداع الدنيا وشواغلها.
--------------------------------------------
দ্বীনের বিষয়াবলি কেবল তাদের সনদ ও বর্ণনাকারীদের পরিচয় জানার পরই প্রতিষ্ঠিত হয়। তাঁদের মধ্যে প্রথম ও অগ্রগণ্য হলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ। যদি মানুষ তাঁদের সম্পর্কেই অজ্ঞ থাকে, তবে অন্যদের সম্পর্কে তারা আরও বেশি অজ্ঞ হবে এবং তাঁদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা আরও ভয়াবহ হবে। তাই তাঁদের এবং অন্যান্য বর্ণনাকারীদের বংশপরিচয় ও অবস্থা জানা আবশ্যক, যাতে তাঁদের মধ্যকার নির্ভরযোগ্যদের বর্ণিত হাদিসের ওপর আমল করা সঠিক হয় এবং তা দলিল হিসেবে গৃহীত হয়। কারণ, অজ্ঞাত ব্যক্তির (মাজহুল) বর্ণনা বিশুদ্ধ নয় এবং তা অনুযায়ী আমল করা উচিত নয়। 'জারহ ও তাদিল' (সমালোচনা ও গুণগান) ব্যতীত অন্য সকল ক্ষেত্রে সাহাবীগণ অন্যান্য বর্ণনাকারীদের মতোই। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে 'জারহ' (সমালোচনা) খাটে না; কারণ আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা এবং তাঁর রাসূল তাঁদেরকে পবিত্র ও ন্যায়পরায়ণ বলে ঘোষণা করেছেন। এটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ, তাই তা উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। আমাদের এই কিতাবে এর অনেক কিছুই আসবে, তাই এখানে তা দীর্ঘ করছি না।
মানুষ তাঁদের নাম সম্পর্কে অনেক কিতাব সংকলন করেছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ বংশপরিচয়, মাগাজি (যুদ্ধাভিযান) এবং অন্যান্য কিতাবে সাহাবীদের অনেকের নাম উল্লেখ করেছেন। এ সকল রচনায় তাঁদের উদ্দেশ্য ভিন্ন ভিন্ন ছিল। তবে সাহাবীদের নাম সংগ্রহের ক্ষেত্রে হাফেজ আবু আব্দুল্লাহ ইবনে মান্দাহ
(১), আবু নুয়াইম আহমদ বিন আব্দুল্লাহ আসফাহানিদ্বয়
(২) এবং ইমাম আবু উমর বিন আব্দুল বার
(৩) কুরতুবী (আল্লাহ তাঁদের প্রতি সন্তুষ্ট হন, তাঁদের উত্তম প্রতিদান দান করুন, তাঁদের প্রচেষ্টাকে কবুল করুন, তাঁদের পুরস্কার মহান করুন এবং তাঁদের প্রত্যাবর্তনস্থলকে সম্মানিত করুন) যে পর্যায়ে পৌঁছেছেন, অন্য কেউ সেখানে পৌঁছাতে পারেনি। তাঁরা যা সংগ্রহ করেছেন তাতে অত্যন্ত চমৎকার কাজ করেছেন, নিজেদের প্রচেষ্টাকে ব্যয় করেছেন এবং তাঁদের উত্তরসূরিদের জন্য উত্তম স্মৃতি রেখে গিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে মহান প্রতিদান দান করুন; কারণ তাঁরা বিক্ষিপ্ত বিষয়গুলোকে একত্রিত করেছেন।
আমি যখন এসকল কিতাব নিয়ে চিন্তা করলাম, তখন দেখলাম তাঁদের প্রত্যেকেই সংগ্রহের ক্ষেত্রে অন্যের চেয়ে ভিন্ন পথ অবলম্বন করেছেন। কেউ এমন কিছু নাম উল্লেখ করেছেন যা অন্যজন করেননি। তাঁদের পরে হাফেজ আবু মুসা মুহাম্মদ বিন আবু বকর বিন আবু ঈসা আসফাহানি
(৪) এসেছেন এবং তিনি ইবনে মান্দাহর কিতাবের অসম্পূর্ণতাগুলো পূরণ করেছেন। ফলে তাঁর সংকলনটি বিশাল হয়েছে, যা ইবনে মান্দাহর কিতাবের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের সমান।
তাই আমি মনস্থ করলাম যে, এই কিতাবগুলোকে একত্রিত করব এবং এর সাথে আবু আলী আল-গাসসানি
(৫) কর্তৃক আবু উমর বিন আব্দুল বারের ওপর যে সংযোজনী রয়েছে তা যোগ করব। একইভাবে অন্যদের সংযোজনীও যুক্ত করব এবং যাঁদের নাম উল্লেখ করেছি তাঁরা ছাড়া অন্যদেরও, তবে নামের তালিকা দীর্ঘ হওয়ার ভয়ে এখানে তাঁদের উল্লেখ করছি না। আমি দেখলাম যে ইবনে মান্দাহ, আবু নুয়াইম এবং আবু মুসার কাছে এমন কিছু নাম আছে যা ইবনে আব্দুল বারের কাছে নেই, আবার ইবনে আব্দুল বারের কাছে এমন কিছু নাম আছে যা তাঁদের কাছে নেই। তাই আমি তাঁদের এই চারটি কিতাবকে একত্রিত করার সংকল্প করলাম। কিন্তু বিভিন্ন বাধা-বিপত্তি ও ওজর আমাকে তা থেকে বিরত রেখেছিল। তখন আমি আমার শহর ও জন্মভূমিতে ছিলাম এবং আমার কাছে আমার কিতাবসমূহ ও মূল পাণ্ডুলিপিগুলো ছিল যেখান থেকে আমি তথ্য নিতাম। কিন্তু দুনিয়াবি ঝামেলা ও ব্যস্ততার কারণে তখন তা সহজ হয়নি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١١)
فاتفق أني سافرت إلى البلاد الشامية عازماً على زيارة البيت المقدس، جعله اللَّه سبحانه وتعالى داراً للإسلام أبداً؛ فلما دخلتها اجتمع بي جماعة من أعيان المحدثين، وممن يعتني بالحفظ والإتقان فكان فيما قالوه: إننا نرى كثيراً من العلماء الذين جمعوا أسماء الصحابة يختلفون في النسب والصحبة والمشاهد التي شهدها الصاحب، إلى غير ذلك من أحوال الشخص ولا نعرف الحق فيه، وحثوا عزمي على جمع كتاب لهم في أسماء الصحابة، رضي الله عنهم؛ أستقصي فيه ما وصل إلي من أسمائهم، وأبين فيه الحق فيما اختلفوا فيه، واللَّه يهدي من يشاء إلى صراط مستقيم؛ مع الإتيان بما ذكروه واستدراك ما فاتهم، فاعتذرت إليهم بتعذر وصولي إلى كتبي وأصولي وأنني بعيد الدار عنها، ولا أرى النقل إلا منها فألحوا في الطلب؛ فثار العزم الأول وتجدد عندي ما كنت أحدث به نفسي، وشرعت في جمعه والمبادرة إليه، وسألت اللَّه تعالى أن يوفقني إلى الصواب في القول والعمل، وأن يجعله خالصاً لوجهه الكريم بمنه وكرمه واتفق أن جماعة كانوا قد سمعوا علي أشياء بالموصل وساروا إلى الشام فنقلت منها أحاديث مسندة وغير ذلك، ثم إنني عدت إلى الوطن بعد الفراغ منه وأردت أن أكثر الأسانيد وأخرج الأحاديث التي فيه بأسانيدها، فرأيت ذلك متعباً يحتاج أن أنقض كل ما جمعت، فحملني الكسل وحب الدعة والميل إلى الراحة إلى أن نقلت ما تدعو الضرورة إليه، مما لا يخل بترتيب، ولا يكثر إلى حد الإضجار والإملال، وأنا أذكر كيفية وضع هذا الكتاب، ليعلم من يراه شرطنا وكيفيته، واللَّه المستعان فأقول:
إني جمعت بين هذه الكتب كما ذكرته قبل، وعلمت على الاسم علامة ابن منده صورة (د) وعلامة أبي نعيم صورة (ع)، وعلامة ابن عبد البر صورة (ب) وعلامة أبي موسى صورة (س) فإن كان الاسم عند الجميع علمت عليه جميع العلائم، وإن كان عند بعضهم علمت عليه علامته، وأذكر في آخر كل ترجمة اسم من أخرجه؛ وإن قلت أخرجه الثلاثة فأعني ابن منده وأبا نعيم وأبا عمر بن عبد البر؛ فإن العلائم ربما تسقط من الكتابة وتنسى، ولا أعني بقولي أخرجه فلان وفلان أو الثلاثة أنهم أخرجوا جميع ما قلته في ترجمته؛ فلو نقلت كل ما قالوه لجاء الكتاب طويلاً؛ لأن كلامهم يتداخل ويخالف بعضهم البعض في الشيء بعد الشيء، وإنما أعني أنهم أخرجوا الاسم.
ثم إني لا أقتصر على ما قالوه إنما أذكر ما قاله غيرهم من أهل العلم، وإذا ذكرت اسماً ليس عليه علامة أحدهم فهو ليس في كتبهم. ورأيت ابن منده وأبا نعيم قد أكثرا من الأحاديث والكلام عليها، وذكرا عللها، ولم يكثرا من ذكر نسب الشخص، ولا ذكر شيء من أخباره وأحواله، وما يعرف به، ورأيت أبا عمر قد استقصى ذكر الأنساب وأحوال الشخص ومناقبه، وكل ما يعرفه به؛ حتى إنه يقول: هو ابن أخي فلان وابن عم فلان وصاحب الحادثة الفلانية، وكان هذا هو المطلوب من التعريف؛ أما ذكر الأحاديث وعللها وطرقها فهو بكتب الحديث أشبه؛ إلا أني نقلت من كلام كل واحد منهم أجوده وما تدعو الحاجة إليه طلباً للاختصار، ولم أخل بترجمة واحدة من كتبهم جميعها بل أذكر الجميع، حتى إنني أخرج الغلط كما ذكره المخرج له، وأبين الحق والصواب فيه إن علمته؛ إلا أن يكون أحدهم قد أعاد الترجمة بعينها، فأتركها وأذكر ترجمة واحدة، وأقول: قد أخرجها فلان في موضعين من كتابه.
এটি নির্ধারিত ছিল যে আমি সিরিয়ার দেশগুলোর অভিমুখে সফর করেছি পবিত্র বাইতুল মাকদিস যিয়ারতের সংকল্প নিয়ে, আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা একে চিরকাল ইসলামের আবাসভূমি করুন। সেখানে পৌঁছালে প্রখ্যাত মুহাদ্দিসদের এক জামাত এবং মুখস্থ ও নিখুঁত বর্ণনায় যত্নশীল ব্যক্তিবর্গ আমার সাথে একত্রিত হন। তাদের বক্তব্যের সারমর্ম ছিল: আমরা দেখি যে অনেক আলেম যারা সাহাবীদের নাম সংকলন করেছেন, তারা বংশপরিচয়, সাহাবিত্ব এবং কোনো সাহাবী কোন যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন সে বিষয়ে এবং ব্যক্তির অন্যান্য অবস্থা সম্পর্কে মতভেদ করেন এবং এ ব্যাপারে সঠিক বিষয়টি আমাদের জানা থাকে না। তারা সাহাবীদের (আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হোন) নামের ওপর তাদের জন্য একটি গ্রন্থ সংকলন করতে আমাকে উৎসাহিত করেন; যাতে আমার কাছে পৌঁছানো তাদের নামসমূহ আমি সবিস্তারে বর্ণনা করব এবং যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছেন তাতে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করব। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সরল পথ প্রদর্শন করেন। সাথে সাথে তারা যা উল্লেখ করেছেন তা নিয়ে আসব এবং যা তাদের বাদ পড়েছে তা সংযোজন করব। আমি তাদের কাছে ওজর পেশ করলাম যে আমার কিতাবাদি ও মূল পান্ডুলিপিগুলো আমার কাছে নেই এবং আমার আবাসস্থল তা থেকে অনেক দূরে, আর সেগুলো ছাড়া আমি কোনো কিছু উদ্ধৃত করা সমীচীন মনে করি না। কিন্তু তারা তাদের অনুরোধে অনড় থাকলেন; ফলে আমার পূর্ব সংকল্প জাগ্রত হলো এবং মনে মনে যা ভাবতাম তা নতুন করে দানা বাঁধল। আমি এটি সংকলন করতে এবং এতে দ্রুত অগ্রসর হতে শুরু করলাম। আমি মহান আল্লাহর কাছে কথা ও কাজে সঠিক পথে থাকার তাওফীক প্রার্থনা করলাম এবং তাঁর অনুগ্রহ ও দয়ায় একে কেবল তাঁর মহান সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করার তাওফীক চাইলাম। এটিও ঘটেছিল যে, একদল লোক মসুলে আমার কাছে কিছু বিষয় শ্রবণ করেছিলেন এবং তারা সিরিয়ায় চলে গিয়েছিলেন, ফলে আমি সেখান থেকে সনদযুক্ত ও সনদবিহীন কিছু হাদীস গ্রহণ করলাম। এরপর কাজ শেষ করে আমি স্বদেশে ফিরে এলাম এবং চেয়েছিলাম সনদের সংখ্যা বাড়াতে এবং এতে থাকা হাদীসগুলো তাদের সনদসহ উল্লেখ করতে। কিন্তু আমি দেখলাম এটি অত্যন্ত ক্লান্তিকর এবং আমার সংকলিত সবকিছু নতুন করে বিন্যাস করা প্রয়োজন। ফলে অলসতা, আয়েশপ্রিয়তা এবং বিশ্রামের প্রতি ঝোঁক আমাকে বাধ্য করল কেবল ততটুকুই গ্রহণ করতে যা অপরিহার্য, যাতে বিন্যাস ক্ষুণ্ণ না হয় এবং একঘেয়েমি ও বিরক্তি সৃষ্টি না করে। এখন আমি এই গ্রন্থের বিন্যাস পদ্ধতি উল্লেখ করছি, যাতে পাঠক আমার শর্ত ও পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে পারেন। আর আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাই। আমি বলছি:
আমি ইতিপূর্বে উল্লিখিত কিতাবগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধন করেছি এবং ইবনে মান্দাহ-এর নামের ওপর ‘দাল’ প্রতীকের চিহ্ন, আবু নুআইম-এর প্রতীকরূপে ‘আইন’ চিহ্ন, ইবনে আব্দুল বার-এর প্রতীকরূপে ‘বা’ চিহ্ন এবং আবু মুসা-এর প্রতীকরূপে ‘সিন’ চিহ্ন ব্যবহার করেছি। যদি নামটি সবার কাছে থাকে তবে আমি তার ওপর সব প্রতীক চিহ্ন দিয়েছি, আর যদি তাদের কয়েকজনের কাছে থাকে তবে তাদের প্রতীকগুলো দিয়েছি। প্রত্যেকটি জীবনী আলোচনার শেষে আমি বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করেছি। যদি আমি বলি ‘এটি তিনজন বর্ণনা করেছেন’, তবে আমার উদ্দেশ্য হলো ইবনে মান্দাহ, আবু নুআইম এবং আবু উমর ইবনে আব্দুল বার। কারণ লেখার সময় প্রতীকগুলো কখনো বাদ পড়ে যেতে পারে বা বিস্মৃত হতে পারে। ‘অমুক ও অমুক বা তারা তিনজন বর্ণনা করেছেন’ বলার অর্থ এই নয় যে, আমি তাদের জীবনীতে যা বলেছি তার সবকিছুই তারা বর্ণনা করেছেন। কারণ তারা যা বলেছেন তার সবটুকু উদ্ধৃত করলে গ্রন্থটি অনেক দীর্ঘ হয়ে যেত; যেহেতু তাদের কথাগুলো একে অপরের সাথে মিশে যায় এবং কোনো কোনো বিষয়ে একে অপরের বিরোধিতা করে। বরং আমার উদ্দেশ্য হলো তারা এই নামটি উল্লেখ করেছেন।
এরপর আমি কেবল তাদের কথার ওপরই সীমাবদ্ধ থাকিনি, বরং অন্যান্য আহলে ইলম যা বলেছেন তাও উল্লেখ করেছি। যদি আমি এমন কোনো নাম উল্লেখ করি যার ওপর কারো প্রতীক নেই, তবে বুঝতে হবে তা তাদের কিতাবসমূহে নেই। আমি দেখেছি ইবনে মান্দাহ এবং আবু নুআইম হাদীস ও তার ওপর পর্যালোচনার আধিক্য ঘটিয়েছেন এবং এর ত্রুটিগুলো উল্লেখ করেছেন, কিন্তু ব্যক্তির বংশপরিচয় এবং তার সংবাদ ও অবস্থা এবং যার মাধ্যমে তাকে চেনা যায়—সেসব বর্ণনায় তারা খুব বেশি বিস্তার ঘটাননি। আর আমি দেখেছি আবু উমর বংশপরিচয়, ব্যক্তির অবস্থা, তার মর্যাদা এবং যার মাধ্যমে তাকে চেনা যায় তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন; এমনকি তিনি বলেন: সে অমুকের ভাতিজা, অমুকের চাচাতো ভাই এবং অমুক ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত। পরিচিতি প্রদানের ক্ষেত্রে এটিই ছিল কাম্য। পক্ষান্তরে হাদীস, তার ত্রুটি ও সূত্রসমূহ উল্লেখ করা হাদীসের কিতাবগুলোর সাথেই বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে আমি সংক্ষেপণের উদ্দেশ্যে তাদের প্রত্যেকের কথা থেকে যা সর্বোত্তম এবং যা প্রয়োজন তা গ্রহণ করেছি। আমি তাদের সকল কিতাব থেকে একটি জীবনীও বাদ দিইনি বরং সব উল্লেখ করেছি। এমনকি বর্ণনাকারী যেভাবে ভুল উল্লেখ করেছেন, আমি সেই ভুলটিও উল্লেখ করেছি এবং আমার জানা থাকলে সঠিক বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছি। তবে যদি তাদের কেউ একই জীবনী হুবহু পুনরাবৃত্তি করেন, তবে আমি তা ছেড়ে দিয়ে কেবল একটি জীবনী উল্লেখ করেছি এবং বলেছি: অমুক ব্যক্তি তার কিতাবের দুই স্থানে এটি বর্ণনা করেছেন।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٢)
وأما ترتيبه ووضعه فإنني جعلته على حروف أ، ب، ت، ث، ولزمت في الاسم الحرف الأول والثاني والثالث وكذلك إلى آخر الاسم، وكذلك أيضاً في اسم الأب والجد ومن بعدهما والقبائل أيضاً.
مثاله: أنني أقدم «أبانا» على إبراهيم؛ لأن ما بعد الباء في أبان ألف، وما بعدها في إبراهيم راء، وأقدم إبراهيم بن الحارث، على إبراهيم بن خلاد، لأن الحارث بحاء مهملة وخلاد بخاء معجمة، وأقدم أبانا العبدي على أبان المحاربي، وكذلك أيضاً فعلت في التعبيد
(1) فإني ألزم الحرف الأول بعد عبد، وكذلك في الكنى فإني ألزم الترتيب في الاسم الذي بعد «أبو» فإني أقدم أبا داود على أبي رافع، وكذلك في الولاء، فإني أقدم أسود مولى زيد على أسود مولى عمرو، وإذا ذكر الصحابي ولم ينسب إلى أب بل نسب إلى قبيلة فإنني أجعل القبيلة بمنزلة الأب مثاله: زيد الأنصاري أقدمه على زيد القرشي، ولزمت الحروف في جميع أسماء القبائل.
وقد ذكروا جماعة بأسمائهم، ولم ينسبوهم إلى شيء، فجعلت كل واحد منهم في آخر ترجمة الاسم الذي سمى به مثاله: زيد، غير منسوب، جعلته في آخر من اسمه زيد، وأقدم ما قلت حروفه على ما كثرت؛ مثاله: أقدم «الحارث» على «حارثه».
وقد ذكر ابن منده، وأبو نعيم، وأبو موسى في آخر الرجال والنساء جماعة من الصحابة والصحابيات لم تعرف أسماؤهم؛ فنسبوهم إلى آبائهم؛ فقالوا ابن فلان، وإلى قبائلهم وإلى أبنائهم، وقالوا: فلان عن عمه، وفلان عن جده وعن خاله، وروى فلان عن رجل من الصحابة؛ فرتبتهم أولاً بأن ابتدأت بابن فلان، ثم بمن روى عن أبيه؛ لأن ما بعد الباء في ابن نون، وما بعدها في أبيه ياء، ثم بمن روى عن جده، ثم عن خاله، ثم عن عمه؛ لأن الجيم قبل الخاء، وهما قبل العين، ثم بمن نسب إلى قبيلة، ثم بمن روى عن رجل من الصحابة؛ ثم رتبت هؤلاء أيضاً ترتيباً ثانياً؛ فجعلت من روى عن ابن فلان مرتبين على الآباء، مثاله: ابن الأدرع أقدمه على ابن الأسفع، وأقدمهما على ابن ثعلبة، وأرتب من روى عن أبيه على أسماء الآباء، مثاله: إبراهيم عن أبيه أجعله قبل الأسود عن أبيه، وجعلت من روى عن جده على أسماء الأحفاد، مثاله: أقدم جد الصلت على جد طلحة وجعلت من روى عن خاله على أسماء أولاد الأخوات، مثاله: أقدم خال البراء على خال الحارث، ومن روى عن عمه جعلتهم على أسماء أولاد الإخوة، مثاله: عم أنس مقدم على عم جبر، ومن نسب إلى قبيلته ولم يعرف اسمه جعلتهم مرتبين على أسماء القبائل؛ فإنني أقدم الأزدي على الخثعمي.
وقد ذكروا أيضاً جماعة لم يعرفوا إلا بصحبة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فرتبتهم على أسماء الراوين عنهم، مثاله: أَنَسُ بنُ مَالك عن رَجُل من الصحابة أقدمه على ثَابِتُ بن السِّمط عن رجل من الصحابة، وإن عرفت في هذا جميعه اسم الصحابي ذكرت اسمه ليعرف ويطلب من موضعه.
--------------------------------------------
আর এর বিন্যাস ও স্থাপনের ক্ষেত্রে আমি একে আলিফ, বা, তা, সা-এর অক্ষরের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি। আমি নামের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় অক্ষরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছি এবং নামের শেষ পর্যন্ত এই নিয়ম বজায় রেখেছি। একইভাবে পিতা, পিতামহ এবং তাদের পরবর্তী বংশধরদের নাম এবং গোত্রের নামের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম অনুসরণ করেছি।
উদাহরণস্বরূপ: আমি ‘আবান’ (Aban)-কে ‘ইব্রাহিম’ (Ibrahim)-এর আগে রেখেছি; কারণ আবান-এ ‘বা’ অক্ষরের পরে ‘আলিফ’ রয়েছে, আর ইব্রাহিম-এ ‘বা’-এর পরে রয়েছে ‘রা’। আমি ‘ইব্রাহিম বিন আল-হারিস’-কে ‘ইব্রাহিম বিন খাল্লাদ’-এর আগে রেখেছি, কারণ ‘হারিস’ শব্দটি নুকতাহীন ‘হা’ দিয়ে এবং ‘খাল্লাদ’ শব্দটি নুকতাহযুক্ত ‘খা’ দিয়ে শুরু হয়েছে। আমি ‘আবান আল-আবদি’-কে ‘আবান আল-মুহারিবি’-র আগে রেখেছি। একইভাবে আমি ‘তাবেয়িদ’ বা ‘আবদ’ দিয়ে শুরু হওয়া নামগুলোর ক্ষেত্রেও একই নিয়ম অনুসরণ করেছি,
(১) অর্থাৎ ‘আবদ’ শব্দের পরের প্রথম অক্ষরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছি। উপনামের (কুনিয়া) ক্ষেত্রেও আমি ‘আবু’ শব্দের পরের নামের বর্ণানুক্রমিক বিন্যাস মেনে চলেছি; যেমন আমি ‘আবা দাউদ’-কে ‘আবি রাফে’-র আগে রেখেছি। একইভাবে আযাদকৃত দাসদের (ওয়ালা) ক্ষেত্রে আমি ‘আদহাম মাওলা যায়িদ’-কে ‘আদহাম মাওলা আমর’-এর আগে স্থান দিয়েছি। যখন কোনো সাহাবীর উল্লেখ পাওয়া যায় কিন্তু তাঁর পিতার দিকে সম্বন্ধ না করে কোনো গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়, তখন আমি সেই গোত্রকে পিতার স্থলাভিষিক্ত ধরেছি। উদাহরণস্বরূপ: ‘যায়িদ আল-আনসারি’-কে আমি ‘যায়িদ আল-কুরাশি’-র আগে রেখেছি। আমি সমস্ত গোত্রের নামের ক্ষেত্রেও অক্ষরের এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছি।
কিছু ব্যক্তি এমন আছেন যাদের কেবল নাম উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু অন্য কিছুর সাথে সম্বন্ধ করা হয়নি। আমি তাদের প্রত্যেককে সেই নামের আলোচনার শেষে স্থান দিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ: পরিচয়হীন ‘যায়িদ’-কে আমি যায়িদ নামের ব্যক্তিদের তালিকার সর্বশেষে রেখেছি। আবার কম অক্ষরের নামকে অধিক অক্ষরের নামের আগে রেখেছি; যেমন: ‘আল-হারিস’ (Al-Harith)-কে ‘হারিসাহ’ (Harithah)-র আগে স্থান দিয়েছি।
ইবনে মানদাহ, আবু নুয়াইম এবং আবু মুসা পুরুষ ও মহিলা সাহাবীদের আলোচনার শেষে এমন একদল সাহাবীর কথা উল্লেখ করেছেন যাদের নাম জানা যায়নি। তারা তাদের পিতার দিকে সম্বন্ধ করে বলেছেন ‘অমুকের পুত্র’, অথবা তাদের গোত্রের দিকে কিংবা তাদের সন্তানদের দিকে সম্বন্ধ করেছেন। আবার কেউ বলেছেন: ‘অমুক তার চাচা থেকে’, ‘অমুক তার দাদা থেকে’, ‘অমুক তার মামা থেকে’ বর্ণনা করেছেন, অথবা ‘অমুক ব্যক্তি জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন’। আমি তাদের বিন্যস্ত করার ক্ষেত্রে প্রথমেই ‘ইবনে ফুলান’ (অমুকের পুত্র) দিয়ে শুরু করেছি, এরপর যারা তাদের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের উল্লেখ করেছি; কারণ ‘ইবনে’ শব্দের ‘বা’-এর পরে ‘নুন’ রয়েছে, আর ‘আবিহি’ (তার পিতা) শব্দের ‘বা’-এর পরে রয়েছে ‘ইয়া’। এরপর যারা তাদের দাদা থেকে, এরপর মামা থেকে এবং এরপর চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; কারণ ‘জিম’ বর্ণটি ‘খা’-এর আগে এবং এই উভয় বর্ণ ‘আইন’-এর আগে অবস্থিত। এরপর যাদের কোনো গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে তাদের এবং সবশেষে যারা জনৈক সাহাবী থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের স্থান দিয়েছি। এরপর আমি এদেরকে দ্বিতীয়বার বিন্যস্ত করেছি; যারা ‘ইবনে ফুলান’ থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের পিতার নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ: ‘ইবনুল আদরা’-কে ‘ইবনুল আসফা’-র আগে এবং এই উভয়কে ‘ইবনে সালাবা’-র আগে রেখেছি। যারা তাদের পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের পিতার নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; উদাহরণস্বরূপ: ‘ইব্রাহিম তার পিতা থেকে’ এই বর্ণনাকে ‘আসওয়াদ তার পিতা থেকে’ বর্ণনার আগে রেখেছি। যারা তাদের দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের নাতিদের নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; উদাহরণস্বরূপ: ‘সালত-এর দাদা’-কে ‘তালহা-র দাদা’-র আগে রেখেছি। যারা তাদের মামা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের বোনদের সন্তানদের (ভাগ্নেদের) নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; যেমন: ‘বারা-র মামা’-কে ‘হারিস-এর মামা’-র আগে রেখেছি। আর যারা তাদের চাচা থেকে বর্ণনা করেছেন তাদের ভাইদের সন্তানদের (ভাতিজাদের) নামের ক্রমানুসারে সাজিয়েছি; যেমন: ‘আনাস-এর চাচা’-কে ‘জাবর-এর চাচা’-র আগে স্থান দিয়েছি। যাদের নাম জানা যায়নি কিন্তু কোনো গোত্রের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে, তাদের গোত্রের নামের বর্ণানুক্রমিক ভিত্তিতে সাজিয়েছি; যেমন আমি ‘আল-আযদি’-কে ‘আল-খাসআমি’-র আগে রেখেছি।
তাঁরা এমন একদল ব্যক্তির কথাও উল্লেখ করেছেন যারা কেবল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভের মাধ্যমেই পরিচিত হয়েছেন। আমি তাদের বিন্যস্ত করেছি তাঁদের থেকে যারা বর্ণনা করেছেন (বর্ণনাকারী) তাঁদের নামের ভিত্তিতে। উদাহরণস্বরূপ: ‘আনাস বিন মালিক জনৈক সাহাবী থেকে’ এই বর্ণনাটিকে ‘সাবিত বিন সিমত জনৈক সাহাবী থেকে’ বর্ণনার আগে রেখেছি। এই সবকিছুর মধ্যে যদি কোনো সাহাবীর নাম আমার জানা থাকে, তবে আমি তাঁর নাম উল্লেখ করে দিয়েছি যাতে তাঁকে চেনা যায় এবং তাঁর নির্দিষ্ট স্থান থেকে খুঁজে নেওয়া যায়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٣)
ورأيت جماعة من المحدثين إذا وضعوا كتابا على الحروف يجعلون الاسم الذي أوله «لا»، مثل:
لاحق ولا شر في باب مفرد عن حرف اللام، وجعلوه قبل الياء، فجعلتها أنا من حرف اللام في باب اللام مع الألف فهو أصح وأجود، وكذلك أفعل في النساء سواء.
وإذا كان أحد من الصحابة مشهوراً بالنسبة إلى غير أبيه ذكرته بذلك النسب: كشر حبيل بن حسنة، أذكره فيمن أول اسم أبيه حاء، ثم أبين اسم أبيه، ومثل شريك بن السحماء، وهي أمه، أذكره أيضاً فيمن أول اسم أبيه سين، ثم أذكر اسم أبيه، أفعل هذا قصداً للتقريب وتسهيل طلب الاسم.
واذكر الأسماء على صورها التي ينطق بها لا على أصولها، مثل: أحمر، أذكره في الهمزة ولا أذكره في الحاء، ومثل أسود في الهمزة أيضاً، ومثل عمار أذكره في «عما» ولا أذكره في «عمم»؛ لأن الحرف المشدد حرفان الأول منهما ساكن؛ فعلته طلباً للتسهيل.
وأقدم الاسم في النسب على الكنية، إذا اتفقا، مثاله: أقدم عبد اللَّه بن ربيعة على: عبد اللَّه بن أبي ربيعة، وأذكر الأسماء المشتبهة في الخط وأضبطها بالكلام لئلا تلتبس؛ فإن كثيراً من الناس يغلطون فيها، وإن كانت النعتية التي ضبطها تعرف الاسم وتبينه، ولكني أزيده تسهيلاً ووضوحاً، مثال ذلك: سلمة في الأنصار، بكسر اللام، والنسبة إليه سلمي، بالفتح في اللام والسين، وأما سليم فهو ابن منصور من قيس عيلان.
وأشرح الألفاظ الغريبة التي ترد في حديث بعض المذكورين في آخر ترجمته.
وأذكر في الكتاب فصلاً يتضمن ذكر الحوادث المشهورة للنبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه، كالهجرة إلى الحبشة، وإلى المدينة، وبيعة العقبة، وكل حادثة قتل فيها أحد من الصحابة؛ فإن الحاجة تدعو إلى ذلك؛ لأنه يقال: أسلم فلان قبل دخول رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم دار الأرقم، أو وهو فيها، وهاجر فلان إلى الحبشة، وإلى المدينة، وشهد بدراً، وشهد بيعة العقبة، وبيعة الرضوان وقتل فلان في غزوة كذا أذكر ذلك مختصراً؛ فليس كل الناس يعرفون ذلك ففيه زيادة كشف.
وأذكر أيضاً فصلاً أضمنه أسانيد الكتب التي كثر تخريجى منها؛ لئلا أكرر الأسانيد في الأحاديث طلباً للاختصار.
وقد ذكر بعض مصنفي معارف الصحابة جماعة ممن كان في زمن النبي صلى الله عليه وسلم ولم يره، ولم يصحبه ساعة من نهار، كالأحنف بن قيس وغيره، ولا شبهة في أن الأحنف كان رجلاً في حياة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ولم يره؛ ودليل أنه كان رجلاً في حياة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قدومه على عمر بن الخطاب رضي الله عنه في وفد أهل البصرة، وهو رجل من أعيانهم، والقصة مشهورة إلا إنه لم يفد إلى النبي صلى الله عليه وسلم ولم يصحبه، فلا أعلم لم ذكروه وغيره ممن هذه حاله؟ فإن
আমি একদল মুহাদ্দিসকে দেখেছি যে, যখন তাঁরা বর্ণানুক্রমিকভাবে কোনো কিতাব রচনা করেন, তখন তাঁরা 'লা' (لا) দিয়ে শুরু হওয়া নামগুলোকে—যেমন: লাহিক এবং লা-শার—লাম বর্ণের একটি স্বতন্ত্র অধ্যায়ে ইয়া বর্ণের পূর্বে স্থান দেন। কিন্তু আমি সেগুলোকে লাম বর্ণের অন্তর্ভুক্ত 'লামের সাথে আলিফ' (লাম-আলিফ) অধ্যায়ে রেখেছি, যা অধিকতর সঠিক ও উত্তম। মহিলাদের ক্ষেত্রেও আমি একইভাবে করেছি।
যদি কোনো সাহাবী তাঁর পিতার নাম ব্যতিরেকে অন্য কোনো পরিচয়ে প্রসিদ্ধ হন, তবে আমি তাঁকে সেই পরিচয় অনুসারেই উল্লেখ করেছি। যেমন: শারহাবীল ইবনে হাসানাহ—তাঁকে আমি সেই ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ করেছি যাদের পিতার নামের প্রথম অক্ষর 'হা', অতঃপর আমি তাঁর পিতার নাম স্পষ্ট করেছি। তেমনিভাবে শারীক ইবনে সাহমা—যিনি তাঁর মায়ের পরিচয়ে পরিচিত—তাঁকেও আমি সেই ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখ করেছি যাদের পিতার নামের প্রথম অক্ষর 'সীন', অতঃপর তাঁর পিতার নাম উল্লেখ করেছি। আমি এটি করেছি নাম খুঁজে পাওয়া সহজ ও নিকটবর্তী করার উদ্দেশ্যে।
আমি নামগুলোকে সেগুলোর উচ্চারিত রূপ অনুযায়ী উল্লেখ করেছি, সেগুলোর মূল ধাতু অনুযায়ী নয়। যেমন: আহমার—একে আমি হামজা বর্ণের অধীনে উল্লেখ করেছি, হা বর্ণের অধীনে নয়। তেমনিভাবে আসওয়াদকেও হামজা বর্ণের অধীনে রেখেছি। আবার আম্মার নামটিকে আমি 'আইন-মীম-আলিফ' (عما) বর্ণানুক্রমে উল্লেখ করেছি, 'আইন-মীম-মীম' (عمم) মূল ধাতু অনুযায়ী নয়; কারণ তাশদীদযুক্ত বর্ণটি মূলত দুটি বর্ণ যার প্রথমটি সাকিন। আমি এটি করেছি সহজীকরণের উদ্দেশ্যে।
যদি নাম এবং কুনিয়াতের ক্ষেত্রে বংশগত সম্পর্ক মিলে যায়, তবে আমি কুনিয়াতের আগে মূল নামটিকে প্রাধান্য দিয়েছি। উদাহরণস্বরূপ: আমি 'আবদুল্লাহ ইবনে রাবীআহ'-কে 'আবদুল্লাহ ইবনে আবি রাবীআহ'-এর আগে উল্লেখ করেছি। আমি সেই নামগুলোকেও উল্লেখ করেছি যেগুলো লেখায় একই রকম দেখায় এবং সেগুলোকে বর্ণনার মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট করেছি যাতে বিভ্রান্তি না ঘটে; কারণ অনেক মানুষ এগুলোতে ভুল করে থাকে। যদিও গুণবাচক বিশেষণের মাধ্যমে নাম পরিচিত ও স্পষ্ট হয়ে যায়, তবুও আমি অতিরিক্ত সহজ ও পরিষ্কার করার জন্য এটি করেছি। উদাহরণস্বরূপ: আনসারদের মধ্যে 'সালামাহ', যেখানে 'লাম' বর্ণে কাসরা (জের) হবে এবং এর সাথে সম্পর্কিত নিসবত হলো 'সালামী', যেখানে 'লাম' ও 'সীন' বর্ণে ফাতহা (জবর) হবে। অন্যদিকে 'সুলাইম' হলো কায়স আয়লানের বংশোদ্ভূত মানসুরের পুত্র।
উল্লিখিত কোনো কোনো ব্যক্তির হাদিসে আসা অপরিচিত বা কঠিন শব্দগুলো আমি তাঁর জীবনীর শেষে ব্যাখ্যা করেছি।
আমি এই কিতাবে এমন একটি অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করেছি যা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীদের প্রসিদ্ধ ঘটনাবলি ধারণ করে; যেমন—আবিসিনিয়ায় হিজরত, মদীনায় হিজরত, বায়আতে আকাবাহ এবং এমন প্রতিটি ঘটনা যেখানে কোনো সাহাবী শহীদ হয়েছেন। এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য; কারণ বলা হয়ে থাকে: অমুক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দারুল আরকামে প্রবেশের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছেন অথবা তিনি সেখানে থাকাকালীন ইসলাম গ্রহণ করেছেন। অমুক ব্যক্তি আবিসিনিয়ায় এবং মদীনায় হিজরত করেছেন, বদর যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন, বায়আতে আকাবাহ ও বায়আতে রিদওয়ানে অংশগ্রহণ করেছেন এবং অমুক যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। আমি এই বিষয়গুলো সংক্ষেপে উল্লেখ করেছি; যেহেতু সব মানুষ এগুলো জানে না, তাই এতে আরও স্পষ্টতা আসবে।
আমি আরও একটি অধ্যায় যুক্ত করেছি যেখানে আমি সেই কিতাবগুলোর সনদসমূহ (সূত্র) উল্লেখ করেছি যেখান থেকে আমি অধিক পরিমাণে উদ্ধৃতি সংগ্রহ করেছি; যাতে সংক্ষেপ করার উদ্দেশ্যে হাদিসগুলোতে সনদের পুনরাবৃত্তি করতে না হয়।
সাহাবীদের পরিচিতি বিষয়ক কিছু লেখক এমন একদল ব্যক্তিকে উল্লেখ করেছেন যারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে বর্তমান ছিলেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি এবং দিনের কোনো এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর সাহচর্য পাননি; যেমন—আহনাফ ইবনে কায়স এবং অন্যরা। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আহনাফ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় একজন পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ছিলেন কিন্তু তাঁকে দেখেননি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবদ্দশায় তিনি যে পূর্ণবয়স্ক পুরুষ ছিলেন তার প্রমাণ হলো বসরার প্রতিনিধি দলের সাথে উমর ইবনুল খাত্তাব রাযিয়াল্লাহু আনহু-এর কাছে তাঁর আগমন, এবং তিনি তাঁদের মধ্যে একজন গণ্যমান্য ব্যক্তি ছিলেন। এই ঘটনাটি প্রসিদ্ধ, তবে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট প্রতিনিধি হিসেবে আসেননি এবং তাঁর সাহচর্য লাভ করেননি। তাই আমি জানি না কেন তাঁরা তাঁকে এবং এই অবস্থায় থাকা অন্যদের উল্লেখ করেছেন? কারণ...
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٤)
كانوا ذكروهم لأنهم كانوا موجودين على عهد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم مسلمين فكان ينبغي أن يذكروا كل من أسلم في حياته ووصل إليهم اسمه، لأن الوفود في سنة تسع وسنة عشر قدموا على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من سائر العرب بإسلام قومهم؛ فكان ينبغي أن يذكروا الجميع قياساً على من ذكروه.
وأذكر فيه في فصل جميع ما في هذا الكتاب من الأنساب، وجعلتها على حروف المعجم، ولم أذكر من الأنساب إلا ما في هذا الكتاب؛ لئلا يطول ذلك، وإنما فعلت ذلك؛ لأن بعض من وقف عليه من أهل العلم والمعرفة أشار به ففعلته، وليكون هذا الكتاب أيضاً جامعاً لما يحتاج إليه الناظر فيه غير مفتقر إلى غيره. وما يشاهده الناظر في كتابي هذا من خطأ ووهم فليعلم أنى لم أقله من نفسي، وإنما نقلته من كلام العلماء وأهل الحفظ والإتقان، ويكون الخطأ يسيرا إلى ما فيه من الفوائد والصواب، ومن اللَّه سبحانه أستمد الصواب في القول والعمل، فرحم اللَّه امرأ أصلح فاسده، ودعا لي بالمغفرة والعفو عن السيئات، وأن يحسن منقلبنا إلى دار السلام عند مجاورة الأموات والسلام.
فصليذكر فيه أسانيد الكتب الكبار التي خرجت منها الأحاديث وغيرها، وقد تكرر ذكرها في الكتاب؛ لئلا يطول الإسناد ولا أذكر في أثناء الكتاب إلا اسم المصنف وما بعده، فليعلم ذلك:
تفسير القرآن المجيد لأبى إسحاق الثعلبي (1):
أخبرنا به أَبو العباس أَحمد بن عثمان بن أَبي علي بن مهدي الزرزاري الشيخ الصالح رحمه اللَّه تعالى قال:
أخبرنا الرئيس مسعود بن الحسن القاسم الأصبهاني، وأبو عبد اللَّه الحسن بن العباس الرستمي؛ قالا:
أخبرنا أحمد بن خلف الشيرازي، قال: أنبأنا أبو إِسحاق أَحمد بن محمد بن إِبراهيم الثعلبي بجميع كتاب «الكشف والبيان في تفسير القرآن»، سمعت عليه من أول الكتاب إلى آخر سورة النساء، وأما من أول سورة المائدة إلى آخر الكتاب، فإنه حصل لي بعضه سماعاً وبعضه إجازة، واختلط السماع بالإجازة فأنا أقول فيه: أخبرنا به إجازة إن لم يكن سماعاً.
فإذا قلت: أخبرنا أحمد بإسناده إلى الثعلبي، فهو بهذا الإسناد.
الوسيط في التفسير أيضاً للواحدي (2):
أخبرنا بجميع كتاب «الوسيط في تفسير القرآن المجيد» أبو محمد عبد اللَّه محمد بن علي بن سويدة التكريتي قال: أنبأنا أبو عبد اللَّه محمد بن الحسين بن الفرخان السمناني، وعبد الرحمن بن أبي الخير بن
--------------------------------------------
তাঁরা তাঁদের উল্লেখ করেছেন কারণ তাঁরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে মুসলিম হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অতএব, তাঁর জীবনকালে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং যাঁদের নাম তাঁদের নিকট পৌঁছেছে, তাঁদের সকলকে উল্লেখ করা সংগত ছিল; কারণ নবম ও দশম হিজরি সনে সমগ্র আরব থেকে বিভিন্ন প্রতিনিধি দল তাদের গোত্রের ইসলাম গ্রহণের সংবাদ নিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসেছিলেন। সুতরাং যাঁদের কথা তাঁরা উল্লেখ করেছেন, তাঁদের সাথে তুলনা করে সকলের কথা উল্লেখ করা সংগত ছিল।
আর আমি এতে একটি পরিচ্ছেদে এই কিতাবে বর্ণিত সকল বংশপরিচয় (নাসাব) উল্লেখ করব এবং আমি সেগুলোকে বর্ণানুক্রমিকভাবে সাজিয়েছি। আমি এই কিতাবে বর্ণিত বংশপরিচয় ব্যতীত অন্য কিছু উল্লেখ করিনি যাতে বিষয়টি দীর্ঘ না হয়। আমি কেবল একারণেই এটি করেছি যে, ইলম ও জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ এ বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাই আমি তা পালন করেছি। আর যাতে এই কিতাবটিও এমন একটি সংকলন হয় যা পাঠকের প্রয়োজন মেটাবে এবং অন্য কোনো কিতাবের মুখাপেক্ষী হতে হবে না। আমার এই কিতাবে পাঠক কোনো ভুল বা ভ্রান্তি লক্ষ্য করলে তিনি যেন জেনে রাখেন যে, আমি তা নিজের পক্ষ থেকে বলিনি, বরং উলামায়ে কেরাম এবং হাফেজ ও সুনিপুণ ব্যক্তিদের কথা থেকেই তা বর্ণনা করেছি। আর এতে বিদ্যমান উপকারিতা ও সঠিক বিষয়ের তুলনায় ভুলের পরিমাণ হবে অতি সামান্য। মহান আল্লাহর নিকট আমি কথা ও কাজে সঠিকতা কামনা করছি। আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন যে ভুল সংশোধন করে দেয় এবং আমার জন্য মাগফিরাত ও গুনাহ থেকে ক্ষমার দোয়া করে। আর মৃতদের সান্নিধ্যে যাওয়ার সময় আমাদের প্রত্যাবর্তন যেন শান্তিনিকেতনে সুন্দর হয়। আসসালাম।
পরিচ্ছেদএতে বড় বড় কিতাবসমূহের সনদ উল্লেখ করা হচ্ছে যেখান থেকে হাদিস ও অন্যান্য বিষয় চয়ন করা হয়েছে। কিতাবে এগুলোর বর্ণনা বারবার এসেছে; তাই সনদ যেন দীর্ঘ না হয় সে উদ্দেশ্যে কিতাবের মাঝে আমি কেবল মূল গ্রন্থকারের নাম ও পরবর্তী অংশ উল্লেখ করব। বিষয়টি যেন স্মরণে থাকে:
আবু ইসহাক আস-সা'লাবী রচিত তাফসিরুল কুরআনিল মাজীদ (১):
আমাদের নিকট এটি বর্ণনা করেছেন পুণ্যবান শাইখ আবুল আব্বাস আহমাদ বিন উসমান বিন আবি আলি বিন মাহদী আজ-জারজারি (আল্লাহ তাআলা তাঁর ওপর রহম করুন), তিনি বলেন:
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন প্রধান মাসউদ বিন হাসান কাসেম আল-আসফাহানি এবং আবু আব্দুল্লাহ হাসান বিন আব্বাস আল-রুস্তামি; তাঁরা উভয়ে বলেন:
আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন আহমাদ বিন খালাফ আশ-শিরাজি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম আস-সা'লাবী তাঁর পূর্ণ কিতাব 'আল-কাশফ ওয়াল বায়ান ফি তাফসিরিল কুরআন' সম্পর্কে। আমি তাঁর নিকট কিতাবের শুরু থেকে সূরা আন-নিসা পর্যন্ত সরাসরি শ্রবণ করেছি। আর সূরা আল-মায়িদাহর শুরু থেকে কিতাবের শেষ পর্যন্ত কিছু অংশ শ্রবণ করেছি এবং কিছু অংশের অনুমতি (ইজাজাহ) লাভ করেছি। যেহেতু সরাসরি শ্রবণ এবং ইজাজাহর বিষয়টি মিশে গিয়েছে, তাই আমি এ সম্পর্কে বলছি: যদি সরাসরি শ্রবণ করা না-ও হয়ে থাকে তবে ইজাজাহর মাধ্যমে তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন।
যখন আমি বলি: 'আহমাদ তাঁর সনদে আস-সা'লাবী থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন', তখন তা এই সনদকেই বোঝাবে।
আল-ওয়াহিদী রচিত তাফসিরের কিতাব আল-ওয়াসীত (২):
আমাদের নিকট পূর্ণ 'আল-ওয়াসীত ফি তাফসিরিল কুরআনিল মাজীদ' কিতাবটি বর্ণনা করেছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আলি বিন সুইদাহ আত-তিকরিতি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আল-ফারখান আস-সামনানি এবং আব্দুর রহমান বিন আবিল খায়ের বিন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٥)
سعيد الميهنى، كلاهما إجازة؛ قالا: أَنبأَنا أَبو الحسن علي بن أَحمد بن متويه الواحدي (ح) قال أبو محمد:
وأخبرنا أبو الفضل أحمد بن أبي الخير بن سعيد قراءة عليه وأنا أسمع قال: أنبأنا الواحدي.
فإذا قلت: أخبرنا أبو محمد بن سويدة قال: أخبرنا الواحدي فهو بهذا الإسناد.
صحيح محمد بن إسماعيل البخاري (1)أخبرنا بجميع «الجامع الصحيح» تأليف الإمام أبي عبد اللَّه محمد بن إسماعيل البخاري، رضي الله عنه أبو عبد اللَّه محمد بن محمد بن سرايا بن علي، وأبو الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز الواسطي، وأبو بكر مسمار بن عمر بن العويس النيار البغدادي، وأَبو عبد اللَّه الحسين بن أَبي صالح بن فنا خسرو الديلمي التكريتي الضرير، قالوا: أخبرنا أبو الوقت عبد الأول بن عيسى بن شعيب السجزي، قال:
قال: أخبرنا أبو الحسن عبد الرحمن بن محمد الداودي، أخبرنا أبو محمد عبد اللَّه بن أحمد الحموي السرخسي، قال: أخبرنا محمد بن يوسف الفربري، أخبرنا محمد بن إسماعيل.
فإذا قلت: أخبرنا أحد هؤلاء أو كلهم بإسنادهم عن البخاري، وذكرت إسناده إلى النبي صلى الله عليه وسلم فهو بهذا الإسناد.
صحيح مسلم بن الحجاج (2)أخبرنا بجميع «الصحيح» تأليف أبي الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري، رضي الله عنه، أبو الفرج يحيى بن محمود بن سعد الأصفهاني الثقفي قراءة عليه، وأنا أسمع، قال: أخبرنا عم جدي أَبو الفضل جعفر بن عبد الواحد بن محمد الثقفي قراءة عليه وأنا أسمع، وأبو عبد اللَّه محمد بن الفضل الفراوي إجازة، قال جعفر: أجاز لنا، وقال الفراوي: أخبرنا سماعاً أبو الحسين عبد الغافر بن محمد الفارسي؛ أخبرنا أبو أحمد محمد بن عيسى ابن عمرويه الجلودي، أخبرنا أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن سفيان الفقيه، أخبرنا أبو الحسين مسلم بن الحجاج النيسابوري.
فإذا قلت: أخبرنا يحيى وأبو
(3) ياسر بإسنادهما عن مسلم، فهو بهذا الإسناد.
الموطأ لمالك بن أنس(4) رواية يحيى بن يحيى (5)أخبرنا به الشيخ أبو الحرم مكي بن زيان ابن شبه المقري النحوي الماكسيني رحمه الله، أخبرنا أبو بكر يحيى بن سعدون بن تمام الأزدي القرطبي، أخبرنا الفقيه أبو محمد عبد الرحمن بن محمد بن عتاب، أخبرنا
--------------------------------------------
সাঈদ আল-মিহানি, তারা উভয়েই ইজাজাহ সূত্রে (বর্ণনা করেছেন); তারা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ বিন মাতওয়ায় আল-ওয়াহিদি (হা), আবু মুহাম্মদ বলেন:
এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাদল আহমাদ বিন আবিল খায়ের বিন সাঈদ, তার নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনেছি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ওয়াহিদি।
সুতরাং যখন আমি বলি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ বিন সুয়াইদাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-ওয়াহিদি, তবে তা এই সনদে।
মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারীর সহীহ (১)ইমাম আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন ইসমাইল আল-বুখারী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রচিত পূর্ণ ‘আল-জামি আস-সহীহ’ গ্রন্থের সংবাদ আমাদের দিয়েছেন: আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ বিন সারায়া বিন আলী, আবুল ফারাজ মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন আবিল ইজ্জ আল-ওয়াসিতি, আবু বকর মিসমার বিন উমর বিন আল-উওয়াইস আন-নায়্যার আল-বাগদাদী এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন আবি সালিহ বিন ফানা খুসরু আদ-দাইলামি আত-তিকরিতি আদ-দরির। তারা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ওয়াক্ত আব্দুল আউয়াল বিন ঈসা বিন শুয়াইব আস-সিজজি, তিনি বলেন:
তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ আদ-দাউদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ আল-হামাউয়ি আস-সারখাসি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-ফিরাবরি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুহাম্মদ বিন ইসমাইল।
সুতরাং যখন আমি বলি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাদের একজন অথবা তারা সকলে বুখারী থেকে তাদের সনদে, এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) পর্যন্ত তার সনদ উল্লেখ করি, তবে তা এই সনদে।
মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজের সহীহ (২)আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নিসাবুরি (রাযিয়াল্লাহু আনহু) রচিত পূর্ণ ‘আস-সহীহ’ গ্রন্থের সংবাদ আমাদের দিয়েছেন আবুল ফারাজ ইয়াহইয়া বিন মাহমুদ বিন সাদ আল-আসফাহানি আস-সাকাফি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনেছি। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদার চাচা আবুল ফাদল জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আস-সাকাফি, তাঁর নিকট পাঠ করা হয়েছে এবং আমি তা শুনেছি, এবং আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ বিন আল-ফাদল আল-ফাররাউয়ি ইজাজাহ সূত্রে। জাফর বলেন: তিনি আমাদের ইজাজাহ দিয়েছেন। এবং আল-ফাররাউয়ি বলেন: শ্রবণের মাধ্যমে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আব্দুল গাফির বিন মুহাম্মদ আল-ফারিসি; আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন আমরুয়াহ আল-জালুদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন সুফিয়ান আল-ফাকিহ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন মুসলিম বিন আল-হাজ্জাজ আন-নিসাবুরি।
সুতরাং যখন আমি বলি: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইয়াহইয়া এবং আবু
(৩) ইয়াসির মুসলিম থেকে তাদের সনদে, তবে তা এই সনদে।
মালিক বিন আনাসের(৪) মুয়াত্তা, ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়ার বর্ণনা (৫)এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন শায়খ আবুল হারাম মক্কি বিন জিয়ান ইবনে শিব্বাহ আল-মুকরি আন-নাহবি আল-মাকসিনি (রাহিমাহুল্লাহ), আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর ইয়াহইয়া বিন সাদুন বিন তামাম আল-আজদি আল-কুরতুবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকিহ আবু মুহাম্মদ আব্দুর রহমান বিন মুহাম্মদ বিন আত্তাব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٦)
القاضي أبو الوليد يونس بن عبد اللَّه بن مغيث، أخبرنا أبو عيسى يحيى بن عبيد اللَّه، أخبرنا عم أبي عبيد اللَّه بن يحيى، أخبرنا أبو يحيى بن يحيى، أخبرنا الإمام مالك بن أنس رضي الله عنه.
فإذا قلت: أخبرنا أبو الحرم بإسناده عن يحيى بن يحيى عن مالك، فهو بهذا الإسناد.
الموطأ لمالك أيضاً رواية القعنبي (1)أخبرنا به أَبو المكارم فِتْيان بن أَحمد بن محمد بن سمينة الجوهري، أخبرنا أبو عبد اللَّه الحسين بن محمد بن نصر بن خميس الفقيه، أخبرنا أبو الحسن أحمد بن عبد القادر بن يوسف، أَنبأَنا أَبو عمرو عثمان ابن محمد بن يوسف العلاف، أخبرنا أبو بكر محمد بن عبد اللَّه بن إبراهيم الشافعي، أخبرنا أبو يعقوب إسحاق بن الحسن بن ميمون بن سعد الحربي، أخبرنا القعنبي عن مالك رضي الله عنه.
مسند أَحمد بن حنبل (2)أَخبرنا به أَبو ياسر عبد الوهاب بن هبة اللَّه بن أبي حبة قال: أخبرنا أبو القاسم هبة اللَّه بن محمد بن عبد عبد الواحد بن الحصين، أخبرنا أبو علي الحسن بن علي بن المذهب الواعظ، أخبرنا أبو بكر بن مالك القطيعي، أخبرنا عبد اللَّه بن أحمد بن حنبل، حدثني أبي رضي الله عنه.
فكل ما فيه أخبرنا أبو ياسر أو عبد الوهاب بإسناده، عن عبد اللَّه: حدثني أبي، فهو بهذا الإسناد.
مسند أبي داود الطيالسي (3)أخبرنا به الخطيب أبو الفضل عبد اللَّه بن أحمد بن عبد القاهر الطوسي، أخبرنا أبو سعد محمد بن ابن محمد المطرز الفقيه إذناً، أخبرنا أبو نُعَيم أحمد بن عبد اللَّه بن إسحاق الأصفهاني، وأبو عبد اللَّه الحسين بن إبراهيم الجمال، قالا: أخبرنا أبو محمد عبد اللَّه بن جعفر بن فارس، أخبرنا يونس بن حبيب، أخبرنا أبو داود الطيالسي رضي الله عنه.
فإذا قلت: قال أبو داود الطيالسي، فهو بهذا الإسناد.
الجامع الكبير للترمذي (4)أخبرنا به أجمع أبو الفداء إسماعيل بن علي بن عبيد الواعظ الموصلي وأبو جعفر عبيد اللَّه بن أحمد بن علي بن السمين، وأخبرنا به ما عدا أبواب الطهارة الفقيه أبو إسحاق إبراهيم بن محمد بن مهران الشافعي، قالوا: أخبرنا أبو الفتح عبد الملك بن أبي القاسم بن أبي سهل الكروخي، قال: أخبرنا القاضي أبو عامر محمود بن القاسم بن محمد بن محمد الأزدي، وأبو نصر عبد العزيز بن محمد بن علي الترياقي، وأبو بكر
--------------------------------------------
বিচারক আবু আল-ওয়ালিদ ইউনুস বিন আব্দুল্লাহ বিন মুগীস, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা ইয়াহইয়া বিন উবায়দুল্লাহ থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন তাঁর চাচার পিতা উবায়দুল্লাহ বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইমাম মালিক বিন আনাস (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে।
সুতরাং যখন আমি বলি: "আবু আল-হারাম আমাদের তাঁর সনদে ইয়াহইয়া বিন ইয়াহইয়া থেকে মালিকের সূত্রে সংবাদ দিয়েছেন", তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।
মালিকের ‘আল-মুওয়াত্তা’ও, কা’নাবীর বর্ণনা অনুযায়ী (১)এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল মাকারিম ফিতয়ান বিন আহমাদ বিন মুহাম্মদ বিন সামীনাহ আল-জাওহারী, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন মুহাম্মদ বিন নাসর বিন খামিস আল-ফকীহ থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আহমাদ বিন আব্দুল কাদির বিন ইউসুফ থেকে, তিনি আমাদের অবহিত করেছেন আবু আমর উসমান ইবনে মুহাম্মদ বিন ইউসুফ আল-আল্লাফ থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইবরাহীম আশ-শাফিঈ থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াকুব ইসহাক বিন আল-হাসান বিন মাইমুন বিন সা’দ আল-হারবী থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-কা’নাবী থেকে, তিনি মালিক (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে।
মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বল (২)এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়াসির আব্দুল ওয়াহহাব বিন হিবাতুল্লাহ বিন আবু হাব্বাহ, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম হিবাতুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন আল-حصিন (হুসাইন) থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী আল-হাসান বিন আলী বিন আল-মুযহিব আল-ওয়ায়েজ থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর বিন মালিক আল-ক্বাতীঈ থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন হাম্বল থেকে, তিনি বলেন: আমার পিতা (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন।
সুতরাং এতে যা কিছু আছে "আবু ইয়াসির অথবা আব্দুল ওয়াহহাব তাঁর সনদে আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন: আমার পিতা আমার নিকট বর্ণনা করেছেন", তা এই সনদের মাধ্যমেই।
মুসনাদে আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (৩)এটি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খতিব আবু আল-ফাযল আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আব্দুল কাদির আত-তুসী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সা’দ মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-মুতাররিয আল-ফকীহ অনুমতিপ্রাপ্ত হয়ে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নুআইম আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন ইসহাক আল-আসফাহানী এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হুসাইন বিন ইবরাহীম আল-জাম্মাল থেকে, তাঁরা উভয়ে বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বিন জাফর বিন ফারিস থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ইউনুস বিন হাবীব থেকে, তিনি আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ আত-তায়ালিসি (আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হোন) থেকে।
সুতরাং যখন আমি বলি: "আবু দাউদ আত-তায়ালিসি বলেছেন", তখন তা এই সনদের মাধ্যমেই।
তিরমিযীর ‘আল-জামি আল-কাবীর’ (৪)এটি আমাদের পূর্ণাঙ্গভাবে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন আলী বিন উবাইদ আল-ওয়ায়েজ আল-মাওসিলি এবং আবু জাফর উবায়দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলী বিন আস-সামীন, এবং এটি পবিত্রতা অধ্যায় ব্যতীত বাকি অংশ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন ফকীহ আবু ইসহাক ইবরাহীম বিন মুহাম্মদ বিন মিহরান আশ-শাফিঈ, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাতহ আব্দুল মালিক বিন আবুল কাসিম বিন আবু সাহল আল-কারুখি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু আমির মাহমুদ বিন আল-কাসিম বিন মুহাম্মদ বিন মুহাম্মদ আল-আযদি, এবং আবু নাসর আব্দুল আজিজ বিন মুহাম্মদ বিন আলী আত-তিরিয়াকী, এবং আবু বকর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٧)
عبد الصمد بن أبي الفضل الفورجي، قالوا: أخبرنا أبو محمد بن أبي الجراح الجراحي المروري، أخبرنا أبو العباس المحبوبي، أخبرنا أبو عيسى محمد بن عيسى بن سورة الترمذي، رضي الله عنه،
سنن أبي داود السجستاني (1)أخبرنا به أَبو أَحمد عبد الوهاب بن علي بن علي بن الأمين الصوفي الشيخ الصالح المعروف بابن سكينة رضي الله عنه، أخبرنا أبو غالب محمد بن الحسن الماوَرْدِيَّ، أخبرنا أبو علي بن أحمد التستري، أخبرنا أبو عمر القاسم بن جعفر الهاشمي، أخبرنا أبو علي محمد بن أحمد اللؤلؤي، أخبرنا أبو داود سليمان بن الأشعث السجستاني.
فإذا قلت: أخبرنا أبو أحمد بإسناده عن أبي داود، فهو بهذا الإسناد.
سنن أبي عبد الرحمن النسائي (2)أخبرنا به أبو القاسم يعيش بن صدقة بن علي الفقيه الشافعي الضرير، رضي الله عنه، قال: أخبرنا أبو الحسن علي بن أحمد بن محمويه اليزدي، أخبرنا أبو محمد عبد الرحمن بن الحسن الدوني، أخبرنا أبو نصر أحمد بن الحسين الكسار، أخبرنا أبو بكر أحمد بن محمد السبتي، أخبرنا أبو عبد الرحمن أحمد بن شعيب النسائي، رضي الله عنه.
فإذا قلت: أخبرنا أبو القاسم أو يعيش باسناده إلى أبى عبد الرحمن، أو أحمد بن شعيب، فهو بهذا الإسناد.
مسند أبي يعلى الموصلي (3)أخبرنا به أبو الفضل المنصور بن أبي الحسن بن أبي عبد اللَّه الطبري الفقيه المخزومي المعروف بالديني، أخبرنا أبو القاسم زاهر بن طاهر الشحامي، أخبرنا أبو سعيد محمد بن عبد الرحمن الكنجرودي، أخبرنا أبو عمرو بن حمدان، أخبرنا أبو يعلى أحمد بن علي بن المثنى الموصلي رضي الله عنه.
مغازي ابن إسحاق (4)أخبرنا به أبو جعفر عبيد اللَّه بن أحمد بن علي، أخبرنا أبو الفضل محمد بن ناصر بن علي، قال:
أخبرنا أبو الحسين أحمد بن محمد بن النقور إجازة (ح) قال أبو جعفر: وأخبرنا أبو الحسن علي بن عساكر
--------------------------------------------
আবদুস সামাদ ইবনে আবিল ফাদল আল-ফাওরাজি, তাঁরা বলেছেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ ইবনে আবিল জাররাহ আল-জাররাহি আল-মারওয়ারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল আব্বাস আল-মাহবুবি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ঈসা মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা ইবনে সাওরা আত-তিরমিজি, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন।
সুনানে আবু দাউদ আস-সিজিস্তানি (১)আমাদের এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন আবু আহমাদ আবদুল ওয়াহহাব ইবনে আলী ইবনে আলী ইবনুল আমিন আস-সুফি, যিনি ইবনে সাকিনা নামে পরিচিত নেককার শায়খ, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু গালিব মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আল-মাওয়ারদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী ইবনে আহমাদ আত-তুস্তারি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ওমর আল-কাসিম ইবনে জাফর আল-হাশেমি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আলী মুহাম্মাদ ইবনে আহমাদ আল-লুলুয়ি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু দাউদ সুলাইমান ইবনুল আশআস আস-সিজিস্তানি।
সুতরাং যখন আমি বলব: "আবু আহমাদ তাঁর সনদে আবু দাউদ থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন", তবে তা এই সনদের মাধ্যমেই হবে।
সুনানে আবু আবদির রহমান আন-নাসায়ি (২)আমাদের এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন আবু কাসিম ইয়াইশ ইবনে সাদাকা ইবনে আলী আশ-শাফিয়ি আদ-দারির, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন। তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আহমাদ ইবনে মাহমুয়াহ আল-ইয়াযদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মুহাম্মাদ আবদুর রহমান ইবনুল হাসান আদ-দুনি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু নাসর আহমাদ ইবনুল হুসাইন আল-কাসসার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ আস-সাবতি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আবদির রহমান আহমাদ ইবনে শুআইব আন-নাসায়ি, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন।
সুতরাং যখন আমি বলব: "আবু কাসিম অথবা ইয়াইশ তাঁর সনদে আবু আবদির রহমান অথবা আহমাদ ইবনে শুআইব থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন", তবে তা এই সনদের মাধ্যমেই হবে।
মুসনাদে আবু ইয়ালা আল-মাওসিলি (৩)আমাদের এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাদল আল-মানসুর ইবনে আবিল হাসান ইবনে আবি আবদিল্লাহ আত-তাবারী আল-ফকিহ আল-মাখজুমি, যিনি আদ-দিনি নামে পরিচিত। আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু কাসিম জাহির ইবনে তাহির আশ-শাহামি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ মুহাম্মাদ ইবনুল আবদুর রহমান আল-কানজারুদি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ওমর ইবনে হামদান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু ইয়ালা আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল মুসান্না আল-মাওসিলি, আল্লাহ তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হন।
মাগাজি ইবনে ইসহাক (৪)আমাদের এ বিষয়ে সংবাদ দিয়েছেন আবু জাফর উবায়দুল্লাহ ইবনে আহমাদ ইবনে আলী, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফাদল মুহাম্মাদ ইবনে নাসির ইবনে আলী। তিনি বলেন:
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হুসাইন আহমাদ ইবনে মুহাম্মাদ ইবনুল নাক্কুর ইজাযতক্রমে (হ)। আবু জাফর বলেন: এবং আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল হাসান আলী ইবনে আসাকির
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٨)
البطائحي، أخبرنا أبو بكر محمد بن الحسين بن علي المرزوقي، أَخبرنا أَبو الحسين بن النَّقُور، أَخبرنا أَبو طاهر محمد بن عبد الرحمن المخلص، أخبرنا أبو الحسين رضوان بن أحمد الصيدلاني، أخبرنا أبو عمر أحمد بن عبد الجبار العطاردي، حدثنا يونس بن بكير، عن ابن إسحاق.
فإذا قلت في الكتاب بهذا الإسناد، فهو معروف.
الآحاد والمثاني لابن أبي عاصم (1)أخبرنا به أبو الفرج يَحْيى بن محمود الثقفي إجازة أخبرنا عم جدي الرئيس أبو الفضل جعفر بن عبد الواحد بن محمد الثقفي قال: أخبرنا أبو القاسم عبد الرحمن الأصبهاني، أخبرنا أبو القاسم عبد الرحمن ابن أبي بكر بن محمد بن أبي علي أحمد بن عبد الرحمن الذكواني، أخبرنا أبو بكر عبد اللَّه بن محمد بن العتاب، أخبرنا القاضي أبو بكر أحمد بن عمرو بن أبي عاصم المصنف.
فكل ما في هذا الكتاب عن ابن أبي عاصم فهو بهذا الإسناد، وإذا كان بغيره ذكرته.
طبقات محدثي الموصلأخبرنا به أبو منصور بن مكارم بن أحمد بن سعد المؤدب الموصلي، أخبرنا أبو القاسم نصر بن محمد بن صفوان، أخبرنا أبو البركات سعد بن محمد بن إدريس والخطيب أبو الفضائل الحسن بن هبة اللَّه، قالا: أخبرنا أبو الفرج محمد بن إدريس بن محمد إدريس قال: أخبرنا أبو منصور المظفر بن محمد الطوسي، أخبرنا أبو زكريا يزيد بن محمد بن إياس بن القاسم الأزدي المصنف.
مسند المعافى بن عمران (2)أخبرنا به أبو منصور بن مكارم، أيضاً أخبرنا به أبو القاسم ابن صفوان، أخبرنا الخطيب أبو الحسن علي بن إبراهيم السّراج، أخبرنا أبو طاهر هبة اللَّه بن إبراهيم بن أنس، أخبرنا أبو الحسن علي بن عبيد اللَّه بن طوق، أخبرنا أبو جابر زيد بن عبد العزيز بن حبان، حدثنا محمد بن عبد اللَّه بن عمار، أخبرنا المعافى بن عمران الأزدي، رضي الله عنه.
فهذه الكتب التي كثر النقل منها، وما عداها فإنني أذكر إسنادي إليها لأنها لا تتكرر كثيراً، واللَّه ولي التوفيق.
فصل نذكر فيه من يطلق عليه اسم الصحبةقال الإمام أبو بكر أحمد بن علي الحافظ بإسناده عن سعيد بن المسيب أنه قال: الصحابة لا نعدهم إلا من أقام مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم سنة أو سنتين وغزا معه غزوة أو غزوتين.
--------------------------------------------
বাতাইহি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন বিন আলী আল-মারজুকি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন বিন আন-নাকুর, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান আল-মুখলিস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হুসাইন রিদওয়ান বিন আহমদ আস-সাইদালানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু উমর আহমদ বিন আব্দুল জাব্বার আল-উতারিদি, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ইউনুস বিন বুকাইর, ইবনে ইসহাক থেকে।
সুতরাং আমি যখন এই কিতাবে এই সনদে বলি, তখন তা সুপরিচিত।
ইবনে আবি আসিম রচিত আল-আহাদ ওয়াল মাছানি (১)আমাদের নিকট এটি ইজাজাহ বা অনুমতির মাধ্যমে সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ ইয়াহইয়া বিন মাহমুদ আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আমার দাদার চাচা রঈস আবু আল-ফাদল জাফর বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আস-সাকাফি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান আল-আসফাহানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম আব্দুর রহমান ইবনে আবি বকর বিন মুহাম্মদ বিন আবি আলী আহমদ বিন আব্দুর রহমান আজ-জাকওয়ানি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু বকর আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন আল-াত্তাব, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন বিচারক আবু বকর আহমদ বিন আমর বিন আবি আসিম গ্রন্থকার।
ইবনে আবি আসিম থেকে এই কিতাবে যা কিছু আছে, তা এই সনদের মাধ্যমেই; আর যদি অন্য কোনো সনদে হয় তবে আমি তা উল্লেখ করব।
মাওসিলের হাদিস বিশারদগণের স্তরসমূহ (তাবাকাতু মুহাদ্দিসিল মাওসিল)আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর বিন মাকারিম বিন আহমদ বিন সাদ আল-মুয়াদ্দিব আল-মাওসিলি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম নাসর বিন মুহাম্মদ বিন সাফওয়ান, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-বারাকাত সাদ বিন মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস এবং খতিব আবু আল-ফাদাইল আল-হাসান বিন হিবাতুল্লাহ, তাঁরা উভয়ে বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ মুহাম্মদ বিন ইদ্রিস বিন মুহাম্মদ ইদ্রিস, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর আল-মুজাফফর বিন মুহাম্মদ আত-তুসি, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাকারিয়া ইয়াজিদ বিন মুহাম্মদ বিন ইয়াস বিন আল-কাসিম আল-আজদি গ্রন্থকার।
মুসনাদুল মুআফা বিন ইমরান (২)আমাদের এটি সংবাদ দিয়েছেন আবু মানসুর বিন মাকারিম, তিনিও আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-কাসিম ইবনে সাফওয়ান থেকে, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন খতিব আবু আল-হাসান আলী বিন ইব্রাহিম আস-সাররাজ, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু তাহের হিবাতুল্লাহ বিন ইব্রাহিম বিন আনাস, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-হাসান আলী বিন উবায়দুল্লাহ বিন তওক, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু জাবির যাইদ বিন আব্দুল আজিজ বিন হাব্বান, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আম্মার, আমাদের সংবাদ দিয়েছেন মুআফা বিন ইমরান আল-আজদি (আল্লাহ তাঁর ওপর সন্তুষ্ট হোন)।
এসব কিতাব থেকেই অধিক উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, আর এগুলো ছাড়া অন্যগুলোর ক্ষেত্রে আমি সেগুলোর সনদ উল্লেখ করব কারণ সেগুলো বারবার ব্যবহৃত হয় না। আর আল্লাহই তাওফিক দাতা।
পরিচ্ছেদ: যাতে আমরা তাদের কথা উল্লেখ করব যাদের ওপর সাহাবী শব্দটি প্রয়োগ করা হয়ইমাম আবু বকর আহমদ বিন আলী আল-হাফিয তার সনদে সাঈদ বিন আল-মুসাইয়িব থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: সাহাবী হিসেবে আমরা কেবল তাকেই গণ্য করি যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে এক বা দুই বছর অবস্থান করেছেন এবং তাঁর সাথে একটি বা দুটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ١٩)
قال الواقدي: ورأينا أهل العلم يقولون: كل من رأى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وقد أدرك الحلم فأسلم، وعقل أمر الدين ورضيه، فهو عندنا ممن صحب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ولو ساعة من نهار، ولكن أصحابه على طبقاتهم وتقدمهم في الإسلام.
وقال أحمد بن حنبل: أصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم كل من صحبه شهراً أو يوماً أو ساعة أو رآه، وقال محمد بن إسماعيل البخاري: من صحب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أو رآه من المسلمين فهو من أصحابه.
وقال القاضي أبو بكر محمد بن الطيب
(1): لا خلاف بين أهل اللغة في أن الصحابي مشتق من الصحبة وأنه ليس مشتقاً على قدر مخصوص منها؛ بل هو جار على كل من صحب قليلاً كان أو كثيراً، وكذلك جميع الأسماء المشتقة من الأفعال ولذلك يقال: صحبت فلاناً حولاً وشهراً ويوماً وساعة، فيوقع اسم الصحبة لقليل ما يقع عليه منها وكثيره، قال: ومع هذا فقد تقرر للأمة عرف، أنهم لا يستعملون هذه التسمية إلا فيمن، كثرت صحبته، ولا يجيزون ذلك إلا فيمن كثرت صحبته، لا على من من لقيه ساعة أو مشى معه خطاً، أو سمع منه حديثاً؛ فوجب لذلك أن لا يجري هذا الاسم إلا على من هذه حاله، ومع هذا فإن خبر الثقة الأمين عنه مقبول ومعمول به، وإن لم تطل صحبته ولا سمع منه إلا حديثاً واحداً، ولو رد قوله أنه صحابي لرد خبره عن الرسول.
وقال الإمام أبو حامد الغزالي: لا يطلق اسم الصحبة إلا على من صحبه، ثم يكفي في الاسم من حيث حيث الوضع الصحبة ولو ساعة، ولكن العرف يخصصه بمن كثرت صحبته.
قلت: وأصحاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على ما شرطوه كثيرون؛ فإن رسول اللَّه شهد حنيناً ومعه اثنا عشر ألفاً سوى الأتباع والنساء، وجاء إليه هوازن مسلمين فاستنقذوا حريمهم وأولادهم، وترك مكة مملوءة ناساً، وكذلك المدينة أيضاً، وكل من اجتاز به من قبائل العرب كانوا مسلمين، فهؤلاء كلهم لهم صحبة، وقد شهد معه تبوك من الخلق الكثير ما لا يحصيهم ديوان، وكذلك حجة الوداع، وكلهم له صحبة، ولم يذكروا إلا هذا القدر، مع أن كثيراً منهم ليست له صحبة، وقد ذكر الشخص لواحد في عدة تراجم، ولكنهم معذورون، فإن من لم يرو ولا يأتي ذكره في رواية كيف السبيل إلى معرفته!.
وهذا حين فراغنا من الفصول المقدمة على الكتاب، ثم نخوض غمرته فنقول:
نبدأ بذكر سيدنا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم تبركاً باسمه، وتشريفاً للكتاب بذكره المبارك، ولأن معرفة المصحوب ينبغي أن تقدم على معرفة الصاحب، وإن كان أظهر من أن يعرف.
لقد ظهرت فما تخفى على أحد
… إلا على أحد لا يعرف القمرا
لكن الأكثر يعرفونه جملة فارغة عن معرفة شيء من أحواله، ونحن نذكر جملاً من تفاصيل أموره على سبيل الاختصار، فنقول وباللَّه التوفيق وهو حسبنا ونعم الوكيل:
--------------------------------------------
আল-ওয়াকিদি বলেন: আমরা ইলম অন্বেষণকারীদের বলতে শুনেছি: যে ব্যক্তিই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছেন, সাবালকত্বে পৌঁছেছেন, ইসলাম গ্রহণ করেছেন এবং দ্বীনের বিষয়াবলি অনুধাবন ও পছন্দ করেছেন, তিনি আমাদের নিকট আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্যে ধন্যদের অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা দিনের কোনো এক মুহূর্তের জন্য হয়। তবে তাঁর সাহাবীগণ তাঁদের স্তরবিন্যাস এবং ইসলামে অগ্রবর্তিতার দিক থেকে ভিন্ন ভিন্ন মর্যাদার অধিকারী।
আহমাদ ইবনে হাম্বল বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবী হলেন তিনি, যিনি এক মাস, একদিন, এক ঘণ্টা তাঁর সাহচর্যে ছিলেন অথবা তাঁকে দেখেছেন। মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল আল-বুখারী বলেন: মুসলিমদের মধ্যে যিনি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহচর্য লাভ করেছেন অথবা তাঁকে দেখেছেন, তিনিই তাঁর সাহাবীগণের অন্তর্ভুক্ত।
কাজী আবু বকর মুহাম্মাদ ইবনে আত-তায়্যিব
(১) বলেন: ভাষাবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই যে, 'সাহাবী' শব্দটি 'সাহচর্য' (সুহবাত) থেকে উদ্ভূত এবং এটি সাহচর্যের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং অল্প বা অধিক সময় সাহচর্যে থাকা প্রত্যেকের ক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। অনুরূপভাবে, ক্রিয়া থেকে উদ্ভূত সকল বিশেষ্যের ক্ষেত্রেও এটি ঘটে। এ কারণেই বলা হয়: আমি অমুকের সাথে এক বছর, এক মাস, একদিন বা এক ঘণ্টা ছিলাম। ফলে অল্প বা অধিক যে কোনো সাহচর্যের ক্ষেত্রেই 'সাহচর্য' শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। তিনি বলেন: এর সাথে সাথে উম্মতের মধ্যে এই পরিভাষাটি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, তারা এই নামটিকে কেবল তাঁর ক্ষেত্রেই ব্যবহার করেন যার সাহচর্য দীর্ঘ ছিল। তারা কেবল দীর্ঘ সাহচর্য লাভকারীর ক্ষেত্রেই এটি অনুমোদন করেন, তাঁর ক্ষেত্রে নয় যিনি তাঁর সাথে এক মুহূর্তের জন্য সাক্ষাৎ করেছেন বা তাঁর সাথে কয়েক কদম হেঁটেছেন অথবা তাঁর থেকে একটি হাদীস শুনেছেন। তাই এ নামটি কেবল তাদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়া আবশ্যক যাদের অবস্থা এরূপ। এতদসত্ত্বেও, তাঁর সম্পর্কে সত্যবাদী ও আমানতদার ব্যক্তির সংবাদ গ্রহণযোগ্য এবং তা কার্যকর হবে, যদিও তার সাহচর্য দীর্ঘ না হয় এবং তিনি তাঁর থেকে মাত্র একটি হাদীসও শুনে থাকেন। যদি তার সাহাবী হওয়ার দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে রাসূলের পক্ষ থেকে তার বর্ণনাও প্রত্যাখ্যাত হবে।
ইমাম আবু হামিদ আল-গাজালি বলেন: সাহচর্যের নাম কেবল তাঁর ওপরই প্রযোজ্য হয় যিনি তাঁর সাহচর্য লাভ করেছেন। অতঃপর শব্দতাত্ত্বিক গঠনের দিক থেকে এই নামের জন্য এক মুহূর্তের সাহচর্যই যথেষ্ট, তবে লোকপ্রথা একে কেবল তাদের জন্য নির্দিষ্ট করে যাদের সাহচর্য দীর্ঘ ছিল।
আমি বলছি: তাঁদের শর্তানুসারে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ সংখ্যায় অনেক। কেননা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুনাইনের যুদ্ধে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁর সাথে অনুসারী ও নারী ব্যতীত বারো হাজার লোক ছিল। আর হাওয়াজিন গোত্র মুসলিম হিসেবে তাঁর কাছে এসেছিল এবং তারা তাদের নারী ও শিশুদের উদ্ধার করেছিল। তিনি মক্কাকে লোকে লোকারণ্য রেখে এসেছিলেন এবং মদীনাকেও তদ্রূপ। আরব গোত্রসমূহের মধ্য থেকে যারা তাঁর পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছিল তারা সবাই মুসলিম ছিল। সুতরাং এই সবারই সাহচর্য বিদ্যমান। তাঁর সাথে তাবুকের যুদ্ধেও বিশাল জনবাহিনী উপস্থিত ছিল যাদের গণনা করা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে বিদায় হজ্জেও ছিল। তাঁদের সবারই সাহচর্য রয়েছে। আর তাঁরা কেবল এই পরিমাণই উল্লেখ করেছেন, যদিও তাঁদের অনেকেরই বিস্তারিত সাহচর্যের বিবরণ নেই। অনেক ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন জীবনী গ্রন্থে আলাদা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁরা অপারগ, কারণ যার থেকে কোনো বর্ণনা নেই বা বর্ণনায় যার কথা আসেনি, তাকে চেনার কোনো উপায় নেই!
এটি কিতাবের ভূমিকা সংবলিত পরিচ্ছেদসমূহ সমাপ্ত করার মুহূর্ত। অতঃপর আমরা এর মূল আলোচনায় প্রবেশ করছি এবং বলছি:
আমরা আমাদের নেতা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের স্মরণের মাধ্যমে শুরু করছি তাঁর নামের বরকত হাসিলের জন্য এবং তাঁর বরকতময় স্মরণের মাধ্যমে কিতাবটিকে সম্মানিত করার জন্য। কারণ যাঁর সাহচর্য লাভ করা হয়েছে তাঁর পরিচয় সাহাবীর পরিচয়ের আগে হওয়া উচিত, যদিও তিনি পরিচিত হওয়ার ঊর্ধ্বে সুপ্রসিদ্ধ।
আপনি এমনভাবে প্রকাশিত হয়েছেন যে কারো কাছেই গোপন নন
… কেবল সেই ব্যক্তি ব্যতীত যে চাঁদকে চেনে না।
কিন্তু অধিকাংশ মানুষ তাঁর সম্পর্কে ভাসাভাসা জানে, তাঁর অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানে না। আমরা সংক্ষেপে তাঁর কার্যাবলীর বিস্তারিত থেকে কিছু অংশ উল্লেখ করছি। আমরা আল্লাহর তাওফিক কামনা করে বলছি এবং তিনিই আমাদের জন্য যথেষ্ট ও সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٠)
محمد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلمهو محمد بن عبد اللَّه بن عبد المطلب بن هاشم بن عبد مناف بن قصي بن كلاب بن مرة بن كعب ابن لُؤَيِّ بن غَالب بن فِهْر بن مالك بن النضر بن كنانة بن خزيمة بن مدركة بن إلياس بن مضر بن نزار ابن معد بن عدنان أبو القاسم، سيد ولد آدم صلى الله عليه وسلم.
فأما ما بعد عدنان من آبائه إلى إسماعيل بن إبراهيم الخليل صلى اللَّه عليهما وسلم، ففيه اختلاف كثير في العدد والأسماء، لا ينضبط ولا يحصل منه غرض فتركناه لذلك، ومصر وربيعة هم صريح ولد إسماعيل باتفاق جميع أهل النسب، وما سوى ذلك فقد اختلفوا فيه اختلافاً كثيراً، وأُم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم آمنة بنت وهْب بن عبد مَنَاف بن زُهْرة بن كلاب بن مرة القرشية الزهرية، تجتمع هي وعبد اللَّه اللَّه في كلاب.
خرج عبد المطلب بابنه عبد اللَّه إلى وهب بن عبد مناف، فزوجه ابنته آمنة، وقيل كانت آمنة في حجر عمها وهيب بن عبد مناف، فأتاه عبد المطلب، فخطب إليه ابنته هالة بنت وهيب لنفسه، وخطب على ابنه عبد اللَّه ابنة أخيه آمنة بنت وهب، فتزوجا في مجلس واحد فولدت هالة لعبد المطلب حمزة.
أخبرنا عبيد اللَّه بن أحمد بن علي بن جعفر بإسناده عن يونس بن بكير، عن ابن إسحاق، قال:
وكانت آمنة بنت وهب تحدث أنها أتيت حين حملت برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فقيل لها: إنك حملت بسيد هذه الأمة
(1) فسميه محمداً .. فلما وضعته أرسلت إلى جده عبد المطلب تقول: قد ولد لك الليلة ولد فانظر إليه، فلما جاءها أخبرته بالذي رأت.
وكان أبوه عبد اللَّه قد توفي وأمه حامل به، وقيل: توفي وللنبي صلى الله عليه وسلم ثمانية وعشرون شهراً وقيل:
كان له سبعة أشهر، والأول أثبت، وكانت وفاته بالمدينة عند أخواله بني عدي بن النجار، وكان أبوه عبد المطلب بعثه إلى المدينة يمتار
(2) تمراً، فمات، وقيل: بل أرسله إلى الشام في تجاره فعاد من غزة مريضاً فتوفي بالمدينة، وكان عمره خمساً وعشرين سنة ويقال: كان عمره ثمانياً وعشرين سنة.
وإنما قيل لبني عدي أخواله لأن أم عبد المطلب سلمى بنت زيد، وقيل بنت عمرو بن زيد، من بني عدي بن النجار.
وكان عبد المطلب قد أرسل ابنه الزبير بن عبد المطلب إلى أخيه عبد اللَّه بالمدينة فشهد وفاته، ودفن في دار النابغة.
--------------------------------------------
মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)তিনি হলেন মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল মুত্তালিব বিন হাশিম বিন আব্দু মানাফ বিন কুসাই বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কাব বিন লুয়াই বিন গালিব বিন ফিহর বিন মালিক বিন নাদর বিন কিনানাহ বিন খুজাইমাহ বিন মুদরিকাহ বিন ইলিয়াস বিন মুদার বিন নিজার বিন মাদ বিন আদনান, আবুল কাসিম, আদম সন্তানদের সরদার (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।
আদনানের পরবর্তী তাঁর পূর্বপুরুষদের থেকে শুরু করে ইব্রাহিম খলিল (আলাইহিস সালাম)-এর পুত্র ইসমাইল (আলাইহিস সালাম) পর্যন্ত বংশপরম্পরায় সংখ্যা ও নামের ক্ষেত্রে অনেক মতভেদ রয়েছে, যা সুনির্দিষ্ট নয় এবং এর দ্বারা কোনো উদ্দেশ্যও সাধিত হয় না, তাই আমরা তা পরিহার করেছি। মুদার এবং রাবিআহ সকল বংশবিশারদদের ঐক্যমতে নিঃসন্দেহে ইসমাইলের সন্তান। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয়ে তাদের মধ্যে অনেক মতভেদ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর মাতা হলেন আমিনাহ বিনতে ওয়াহাব বিন আব্দু মানাফ বিন জুহরাহ বিন কিলাব বিন মুররাহ আল-কুরাশিয়্যাহ আজ-জুহরিয়্যাহ। তিনি এবং আব্দুল্লাহ কিলাব-এর বংশে গিয়ে একত্রিত হন।
আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র আব্দুল্লাহকে নিয়ে ওয়াহাব বিন আব্দু মানাফের কাছে যান এবং তিনি তাঁর কন্যা আমিনাহকে তাঁর সাথে বিয়ে দেন। বলা হয়ে থাকে যে, আমিনাহ তাঁর চাচা উহাইব বিন আব্দু মানাফের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। আব্দুল মুত্তালিব তাঁর কাছে এসে নিজের জন্য উহাইবের কন্যা হালাহ বিনতে উহাইবকে এবং নিজের পুত্র আব্দুল্লাহর জন্য তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্র আমিনাহ বিনতে ওয়াহাবকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। অতঃপর তারা একই মজলিসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং হালাহ আব্দুল মুত্তালিবের ঔরসে হামযাহকে জন্ম দেন।
উবাইদুল্লাহ বিন আহমাদ বিন আলী বিন জাফর তাঁর সনদের মাধ্যমে ইউনুস বিন বুকাইর থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আমিনাহ বিনতে ওয়াহাব বর্ণনা করতেন যে, তিনি যখন রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে গর্ভে ধারণ করেছিলেন, তখন তাঁর কাছে বলা হয়েছিল: "নিশ্চয়ই আপনি এই উম্মতের সরদারকে গর্ভে ধারণ করেছেন
(১) সুতরাং তাঁর নাম রাখবেন মুহাম্মাদ।" অতঃপর যখন তিনি তাঁকে প্রসব করলেন, তখন তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিবের কাছে এই বলে সংবাদ পাঠালেন: "আজ রাতে আপনার একটি নাতি ভূমিষ্ঠ হয়েছে, সুতরাং আপনি তাকে এসে দেখুন।" তিনি যখন তাঁর কাছে আসলেন, তখন তিনি যা দেখেছিলেন সে সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করলেন।
তাঁর পিতা আব্দুল্লাহ ইন্তেকাল করেছিলেন যখন তাঁর মাতা গর্ভবতী ছিলেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বয়স যখন আটাশ মাস তখন তিনি মারা যান। আবার কেউ কেউ বলেছেন:
তাঁর বয়স ছিল সাত মাস। তবে প্রথম বক্তব্যটিই অধিকতর নির্ভরযোগ্য। তাঁর মৃত্যু মদিনায় তাঁর মামার গোষ্ঠী বনু আদি বিন নাজ্জারের কাছে হয়েছিল। তাঁর পিতা আব্দুল মুত্তালিব তাঁকে মদিনায় খেজুর সংগ্রহ করার
(২) জন্য পাঠিয়েছিলেন, সেখানেই তিনি মারা যান। কেউ কেউ বলেন: বরং তিনি তাঁকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে শামে পাঠিয়েছিলেন, ফেরার পথে গাজা থেকে অসুস্থ অবস্থায় ফিরে আসেন এবং মদিনায় ইন্তেকাল করেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর; কেউ কেউ বলেন তাঁর বয়স ছিল আটাশ বছর।
বনু আদি গোত্রকে তাঁর মামার বংশ বলা হয় কারণ আব্দুল মুত্তালিবের মাতা সালমা বিনতে যাইদ (মতান্তরে আমর বিন যাইদের কন্যা) ছিলেন বনু আদি বিন নাজ্জার গোত্রের।
আব্দুল মুত্তালিব তাঁর পুত্র জুবায়ের বিন আব্দুল মুত্তালিবকে মদিনায় তাঁর ভাই আব্দুল্লাহর কাছে পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাঁর মৃত্যুতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁকে দারুন নাবিগাহ-তে দাফন করা হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢١)
وكان عبد اللَّه والزبير وأبو طالب إخوة لأب وأم؛ أمهم فاطمة بنت عمرو بن عائذ بن عمران بن مخزوم.
وورث النبي صلى الله عليه وسلم من أبيه أم أيمن وخمسة أجمال وقطيع غنم، وسيفاً مأثوراً وورقاً، وكانت أم أيمن تحضنه.
قال: أخبرنا ابن إسحاق قال: حدثني المطلب بن عبد اللَّه بن قيس عن أَبيه عن جده قيس بن مَخْرَمَة قال: ولدت أَنا ورسول اللَّه صلى الله عليه وسلم عام الفيل كنا لدتين قيل: وكان مولد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يوم الاثنين لعشر ليال خلون من ربيع الأول، ويقال لليلتين خلتا منه، وقيل لثمان خلون منه عام الفيل، وذلك لأربعين سنة مضت من ملك كسرى أنوشروان بن قباذ، وكان ملك أنوشروان سبعاً وأربعين سنة وثمانية أشهر.
ولما ولد ختنه جده عبد المطلب في اليوم السابع، وقيل ولد مختوناً مسروراً، وقد استقصينا ذكر آبائه وأسمائهم وأحوالهم في الكامل في التاريخ فلا نطول بذكره هنا؛ فإننا نقصد ذكر الجمل لا التفصيل، ولما ولد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم التمسوا له الرضعاء، فاسترضع له امرأة من بنى سعد بن بكر ابن هوازن بن منصور، يقال لها: حليمة بنت أبي ذؤيب واسمه الحارث، فليطلب خبرها من ترجمتها، ومن ترجمة أخته من الرضاعة: الشيماء، فقد ذكرناهما.
قال ابن إسحاق:
قالت حليمة: «فلم نزل يرينا اللَّه البركة ونتعرفها تعني برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم حتى بلغ سنتين، فقدمنا به على أمه ونحن أضن شيء به مما رأينا فيه من البركة؛ فلما رأته قلنا لها: دعينا نرجع به هذه السنة الأخرى فإنا نخشى عليه وباء مكة، فسرحته معنا، فأقمنا به شهرين أو ثلاثة؛ فبينا هو خلف بيوتنا مع أخ له إذ جاء أخوه يشتد
(1)، فقال: أخي القرشي قد جاء رجلان فأضجعاه وشقا بطنه، فخرجت أنا وأبوه نشتد نحوه، فنجده قائماً ممتقعاً لونه، فاعتنقه أبوه وقال: أي بني، ما شأنك؟ فقال:
جاءني رجلان عليهما ثياب بياض فشقا بطني فاستخرجا منه شيئاً ثم رداه فقال أبوه: لقد خشيت أن يكون قد أصيب، فلنرده إلى أهله قبل أن يظهر به ما نتخوف، قالت: فاحتملناه؛ فقالت أمه: ما ردكما به فقد كنتما عليه حريصين؟ فقلنا: إن اللَّه قد أدى عنا وقضينا الذي علينا، وإنا نخشى عليه الأحداث، فقالت: أصدقاني شأنكما، فأخبرناها خبره، فقالت: أخشيتما عليه الشيطان؟ كلا، واللَّه إني رأيت حين حملت به أنه خرج مني نور أضاءت له قصور الشام، فدعاه عنكما».
وأرضعته أيضاً ثويبة مولاة أبي لهب أياماً قبل حليمة بلبن ابن لها يقال له مسروح، وأرضعت قبله حمزة عمه، وأرضعت بعده أبا سلمة بن عبد الأسد، ولما هاجر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم كان يبعث إلى ثوبية بصلة وكسوة حتى توفيت منصرفه من خيبر سنة سبع، فسأل عن ابنها مسروح فقيل: توفي قبلها، فقال: هل ترك من قرابة؟ فقيل: لم يبق له أحد.
--------------------------------------------
আব্দুল্লাহ, যুবাইর এবং আবু তালিব ছিলেন সহোদর ভাই (একই পিতা-মাতার সন্তান); তাঁদের মাতা ছিলেন ফাতিমা বিনতে আমর ইবনে আইজ ইবনে ইমরান ইবনে মাখজুম।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে উম্মে আয়মান, পাঁচটি উট, এক পাল ছাগল, একটি মাছুর নামক তলোয়ার এবং কিছু রৌপ্য মুদ্রা লাভ করেছিলেন। উম্মে আয়মান তাঁকে লালন-পালন করতেন।
তিনি বলেন: আমাদের নিকট ইবনে ইসহাক বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমার নিকট মুত্তালিব ইবনে আব্দুল্লাহ ইবনে কাইস তাঁর পিতা হতে, তিনি তাঁর দাদা কাইস ইবনে মাখরামাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হস্তী বর্ষে জন্মগ্রহণ করেছি, আমরা সমবয়সী ছিলাম। বলা হয়ে থাকে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্ম হয়েছিল হস্তী বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের দশ রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর সোমবার দিনে। কেউ কেউ বলেন দুই রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর, আবার কেউ বলেন আট রাত অতিক্রান্ত হওয়ার পর। এটি ছিল কিসরা আনুশিরওয়ান বিন কুবাজের রাজত্বের চল্লিশ বছর অতিবাহিত হওয়ার পর। আর আনুশিরওয়ানের রাজত্বকাল ছিল সাতচল্লিশ বছর আট মাস।
যখন তিনি জন্মগ্রহণ করেন, তাঁর দাদা আব্দুল মুত্তালিব সপ্তম দিনে তাঁর খতনা করান। কেউ কেউ বলেন তিনি খতনা করা এবং নাভি কাটা অবস্থায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আমরা আল-কামিল ফিত তারিখ গ্রন্থে তাঁর পিতৃপুরুষদের নাম ও অবস্থা বিস্তারিত আলোচনা করেছি, তাই এখানে দীর্ঘ করছি না; কারণ আমাদের উদ্দেশ্য হলো সংক্ষিপ্ত আলোচনা, বিস্তারিত নয়। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করলেন, তখন তাঁরা তাঁর জন্য দুধমাতা অনুসন্ধান করলেন। বনু সাদ ইবনে বকর ইবনে হাওয়াজিন ইবনে মনসুর গোত্রের এক মহিলার কাছে তাঁকে দুধ পান করাতে দেওয়া হলো, যাঁকে হালিমা বিনতে আবি জুয়াইব বলা হয়, তাঁর পিতার নাম হারিস। তাঁর সম্পর্কে তথ্য তাঁর জীবনী এবং তাঁর দুধ-বোন শায়মার জীবনী থেকে জেনে নেওয়া যেতে পারে, যেহেতু আমরা তাঁদের কথা উল্লেখ করেছি।
ইবনে ইসহাক বলেন:
হালিমা বলেন: «আল্লাহ আমাদের বরকত দেখাতে থাকলেন এবং আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাধ্যমে তা উপলব্ধি করতে পারলাম, যতক্ষণ না তাঁর বয়স দুই বছর পূর্ণ হলো। অতঃপর আমরা তাঁকে তাঁর মায়ের কাছে নিয়ে এলাম, যদিও তাঁর মধ্যে দেখা বরকতের কারণে আমরা তাঁকে ফেরত দেওয়ার ব্যাপারে অত্যন্ত কৃপণ ছিলাম (অর্থাৎ তাঁকে আমাদের কাছেই রাখতে চাচ্ছিলাম)। তাঁর মা যখন তাঁকে দেখলেন, আমরা তাঁকে বললাম: এই পরবর্তী বছরটিও তাঁকে আমাদের কাছে থাকতে দিন, কারণ আমরা তাঁর ব্যাপারে মক্কার মহামারীর ভয় করছি। ফলে তিনি তাঁকে আমাদের সাথে পাঠিয়ে দিলেন। আমরা তাঁকে নিয়ে দুই বা তিন মাস অবস্থান করলাম। একদিন তিনি আমাদের ঘরের পেছনে তাঁর এক (দুধ) ভাইয়ের সাথে ছিলেন, এমতাবস্থায় তাঁর ভাই দৌড়ে
(১) এল এবং বলল: আমার কুরাইশ ভাইটির কাছে দুইজন লোক এসেছে, তারা তাঁকে শুইয়ে দিয়ে তাঁর পেট চিরে ফেলেছে। তখন আমি এবং তাঁর পিতা দৌড়ে তাঁর দিকে গেলাম। আমরা তাঁকে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পেলাম, তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে গিয়েছিল। তাঁর পিতা তাঁকে জড়িয়ে ধরলেন এবং বললেন: হে প্রিয় পুত্র, তোমার কী হয়েছে? তিনি বললেন:
সাদা পোশাক পরিহিত দুইজন লোক আমার কাছে এল এবং আমার পেট চিরে ফেলল। এরপর তারা সেখান থেকে কিছু একটা বের করে আবার তা ঠিক করে দিল। তখন তাঁর পিতা বললেন: আমার ভয় হচ্ছে যে তাঁকে কোনো কিছু আক্রমণ করেছে, তাই যা আমরা ভয় করছি তা প্রকাশ পাওয়ার আগেই তাঁকে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিই। হালিমা বলেন: অতঃপর আমরা তাঁকে বহন করে নিয়ে এলাম। তাঁর মা বললেন: তোমরা কেন তাঁকে ফিরিয়ে আনলে অথচ তোমরা তো তাঁর জন্য খুব আগ্রহী ছিলে? আমরা বললাম: আল্লাহ আমাদের দায়িত্ব আদায় করেছেন এবং আমরা আমাদের কর্তব্য পালন করেছি, আর আমরা তাঁর ব্যাপারে দুর্ঘটনার ভয় করছি। তিনি বললেন: তোমরা আমাকে সত্য করে সব বলো। তখন আমরা তাঁকে ঘটনাটি জানালাম। তিনি বললেন: তোমরা কি তাঁর ওপর শয়তানের ভয় করছ? কখনোই না। আল্লাহর কসম! আমি যখন গর্ভবতী ছিলাম, তখন দেখেছিলাম যে আমার থেকে এমন একটি নূর (আলো) বের হয়েছে যা দিয়ে শাম দেশের রাজপ্রাসাদসমূহ আলোকিত হয়ে গিয়েছিল। সুতরাং তোমরা তাঁকে আমার কাছে রেখে যাও।»
আবু লাহাবের দাসী সুওয়াইবিয়াও হালিমার আগে কিছুদিন তাঁকে তাঁর মাসরুহ নামক পুত্রের দুধ পান করিয়েছিলেন। তিনি তাঁর আগে তাঁর চাচা হামজাকে এবং তাঁর পরে আবু সালামা ইবনে আব্দুল আসাদকে দুধ পান করিয়েছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিজরত করলেন, তখন তিনি সুওয়াইবিয়াকে উপহার ও পোশাক পাঠাতেন, যতক্ষণ না সপ্তম হিজরি সনে খায়বার থেকে ফেরার পথে তিনি মারা যান। তিনি তাঁর পুত্র মাসরুহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন, তখন জানানো হলো যে সে তাঁর আগেই মারা গেছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন: তাঁর কি কোনো আত্মীয় বেঁচে আছে? বলা হলো: তাঁর কেউ অবশিষ্ট নেই।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٢)
ذكر وفاة أمه وجده وكفالة عمه أبي طالب لهوبالإسناد عن ابن إسحاق قال: حدثني عبد اللَّه بن أبي بكر [بن محمد
(1)] بن عمرو بن حزم، قال:
قدمت آمنة بنت وهب أم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على أخواله بني عدي بن النجار المدينة، ثم رجعت فماتت بالأبواء
(2) ورسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ابن ست سنين، وقيل: ماتت بمكة ودفنت في شعب بي دب، والأول أصح.
قال ابن إسحاق: وكان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم مع جده عبد المطلب قال: فحدثني العباس بن عبد اللَّه بن معبد عن بعض أهله قال: كان يوضع لعبد المطلب فراش في ظل الكعبة، وكان لا يجلس عليه أحد من بنيه إجلالاً له، وكان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يأتي حتى يجلس عليه، فيذهب أعمامه يؤخرونه، فيقول عبد المطلب:
دعوا ابني، ويمسح على ظهره، ويقول: أن لابني هذا لشأناً، فتوفي عبد المطلب، والنبي ابن ثمان سنين، وكان قد كف بصره قبل موته.
وكان عبد المطلب أول من خضب بالوسمة، ولما حضره الموت جمع بنيه وأوصاهم برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فاقترع الزبير وأبو طالب أيهما يكفل رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، فأصابت القرعة أبا طالب فأخذه إليه، وقيل: بل اختاره رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على الزبير، وكان ألطف عميه به، وقيل: أوصى عبد المطلب أبا طالب به، وقيل: بل كفله الزبير حتى مات، ثم كفله أبو طالب بعده، وهذا غلط، لأن الزبير شهد حلف الفضول بعد موت عبد المطلب، ولرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يومئذ نيف وعشرون سنة.
وأجمع العلماء أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم شخص مع عمه أبي طالب إلى الشام بعد موت عبد المطلب بأقل من خمس سنين؛ فهذا يدل على أن أبا طالب كفله، ثم إن أبا طالب سار إلى الشام وأخذ معه رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وكان عمره اثنتي عشرة سنة وقيل: تسع سنين والأول أكثر، فرآه بحيرا
(3) الراهب، ورأى علائم النبوة، وكانوا يتوقعون ظهور نبي من قريش، فقال لعمه: ما هذا منك؟ قال: ابني، قال: لا ينبغي أن يكون أبوه حياً، قال: هو ابن أخي. قال: إني لأحسبه الذي بشر به عيسى؛ فإن زمانه قد قرب فاحتفظ به، فرده إلى مكة.
ثمّ إن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم شهد مع عمومته حرب الفجار
(4)، يوم نخلة، وهو من أعظم أيام الفجار. والفجار حرب كانت بين قريش ومعها كنانة، وبين قيس وقد ذكرناه في الكامل، وهو من أعظم أيام العرب، وكان يناولهم النبل ويحفظ متاعهم، وكان عمره يومئذ نحو عشرين سنة أو ما يقاربها.
--------------------------------------------
তাঁর মাতা ও পিতামহের মৃত্যু এবং তাঁর চাচা আবু তালিবের তত্ত্বাবধানের বর্ণনাএবং ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত সনদে তিনি বলেন: আমাকে আবদুল্লাহ ইবনে আবু বকর [ইবনে মুহাম্মদ
(১)] ইবনে আমর ইবনে হাযম হাদীস বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাতা আমিনা বিনতে ওয়াহাব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সাথে নিয়ে মদিনায় তাঁর মামা বনু আদি ইবনে নাজ্জারের কাছে গিয়েছিলেন। অতঃপর ফিরে আসার পথে তিনি আবওয়া
(২) নামক স্থানে ইন্তেকাল করেন। সে সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল ছয় বছর। কেউ কেউ বলেছেন: তিনি মক্কায় ইন্তেকাল করেছেন এবং শেব-ই আবি দাবে দাফন করা হয়েছে, তবে প্রথমটিই অধিকতর সঠিক।
ইবনে ইসহাক বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পিতামহ আবদুল মুত্তালিবের সাথে থাকতেন। তিনি বলেন: আব্বাস ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাবাদ তাঁর পরিবারের জনৈক সদস্য থেকে আমার কাছে বর্ণনা করেছেন যে, কাবার ছায়ায় আবদুল মুত্তালিবের জন্য একটি বিছানা বিছানো হতো। তাঁর সম্মানে তাঁর সন্তানদের কেউ সেখানে বসতেন না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে সেখানে বসতেন, তখন তাঁর চাচারা তাঁকে সরিয়ে দিতে যেতেন। তখন আবদুল মুত্তালিব বলতেন:
“আমার এই পুত্রকে ছেড়ে দাও,” এবং তিনি তাঁর পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেন আর বলতেন: “নিশ্চয়ই আমার এই পুত্রের এক মহান মর্যাদা রয়েছে।” অতঃপর আবদুল মুত্তালিব ইন্তেকাল করেন যখন নবীর বয়স আট বছর। মৃত্যুর আগে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন।
আবদুল মুত্তালিবই ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি ওসমা দিয়ে খিযাব লাগিয়েছিলেন। যখন তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এল, তিনি তাঁর সন্তানদের একত্র করলেন এবং তাঁদেরকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ব্যাপারে অসিয়ত করলেন। অতঃপর যুবাইর এবং আবু তালিবের মধ্যে লটারি হলো যে, তাঁদের মধ্যে কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দায়িত্ব নেবেন। লটারিতে আবু তালিবের নাম উঠল এবং তিনি তাঁকে নিজের কাছে নিয়ে নিলেন। কেউ কেউ বলেছেন: বরং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজেই যুবাইরের পরিবর্তে তাঁকে পছন্দ করেছিলেন, আর তিনি তাঁর চাচাদের মধ্যে তাঁর প্রতি সবচেয়ে বেশি দয়ালু ছিলেন। আবার কেউ বলেছেন: আবদুল মুত্তালিব আবু তালিবকে তাঁর ব্যাপারে অসিয়ত করেছিলেন। কেউ কেউ বলেছেন: বরং যুবাইর তাঁর মৃত্যু পর্যন্ত রাসূলুল্লাহর দেখাশোনা করেছিলেন এবং তাঁর পরে আবু তালিব দায়িত্ব নিয়েছিলেন; কিন্তু এটি ভুল, কারণ যুবাইর আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পর হিলফুল ফুযুলে উপস্থিত ছিলেন এবং তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর বয়স ছিল বিশ বছরের কিছু বেশি।
আলেমগণ একমত যে, আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যুর পাঁচ বছরেরও কম সময়ের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচা আবু তালিবের সাথে সিরিয়ায় গিয়েছিলেন। এটি প্রমাণ করে যে আবু তালিবই তাঁর দায়িত্ব নিয়েছিলেন। অতঃপর আবু তালিব যখন সিরিয়ার পথে রওনা হলেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাঁর সাথে নিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল বারো বছর, কেউ বলেছেন নয় বছর, তবে প্রথমটিই অধিক প্রসিদ্ধ। সেখানে বাহিরা
(৩) পাদ্রি তাঁকে দেখলেন এবং নবুওয়াতের নিদর্শনাবলী প্রত্যক্ষ করলেন। তাঁরা কুরাইশদের মধ্য থেকে একজন নবীর আবির্ভাবের প্রতীক্ষায় ছিলেন। তিনি তাঁর চাচাকে জিজ্ঞেস করলেন: “এই বালকটি তোমার কে হয়?” তিনি বললেন: “আমার পুত্র।” পাদ্রি বললেন: “তাঁর পিতার জীবিত থাকা উচিত নয়।” তিনি বললেন: “সে আমার ভ্রাতুষ্পুত্র।” পাদ্রি বললেন: “আমি মনে করি তিনিই সেই ব্যক্তি যাঁর সুসংবাদ ঈসা দিয়েছিলেন; কারণ তাঁর সময় নিকটবর্তী হয়েছে, তাই তাঁকে সাবধানে রেখো।” অতঃপর তিনি তাঁকে মক্কায় ফেরত পাঠিয়ে দিলেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাচাদের সাথে নাখলার দিন ফিজার যুদ্ধে
(৪) অংশগ্রহণ করেন এবং এটি ফিজারের যুদ্ধগুলোর মধ্যে অন্যতম বড় যুদ্ধ ছিল। ফিজার যুদ্ধ ছিল কুরাইশ ও তাঁদের মিত্র কেনানার সাথে কায়েস গোত্রের মধ্যে, যা আমরা আল-কামিল গ্রন্থে উল্লেখ করেছি। এটি আরবদের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ যুদ্ধ ছিল। তিনি তখন তাঁদেরকে তীর এগিয়ে দিতেন এবং তাঁদের আসবাবপত্র রক্ষা করতেন। সে সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় বিশ বছর বা তার কাছাকাছি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٣)
وقيل: إنه شهد يوم شمطة أيضاً وهو من أعظم أيام الفجار وكانت الهزيمة فيه على قريش وكنانة، قال الزهري: لم يشهد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم هذا اليوم، ولو شهده لم تنهزم قريش، وهذا ليس بشيء؛ فإن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قد انهزم أصحابه عنه يوم أحد، وكثر القتل فيهم.
ذكر تزوج رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم خديجة وذكر أولادهقال: وأخبرنا يونس عن ابن إسحاق قال: وكانت خديجة بنت خويلد امرأة ذات شرف ومال، تستأجر له الرجال، أو تضاربهم بشيء تجعله لهم منه، فلما بلغها عن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ما بلغها من صدق حديثه، وعِظَم أمانته، وكرم أخلاقه، بعثت إليه، فعرضت عليه أن يخرج في مالها إلى الشام مع غلام لها يقال له: ميسرة، فقبله منها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وخرج في مالها إلى الشام، فرآه راهب اسمه نسطور، فأخبر ميسرة أنه نبي هذه الأمة، ثم باع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم واشترى ما أراد، ثم أقبل قافلاً، فلما قدم مكة على خديجة بمالها باعته فأضعف أو قريباً، وحدّثها ميسرة عن قول الراهب، فأرسلت إلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إني قد رُغِبتُ فيك، لقرابتك مني، وشرفك وأمانتك، وحسن خلقك، وصدق حديثك، وعرضت عليه نفسها، فخطبها وتزوجها على اثنتي عشرة أوقية ونش
(1) والأوقية أربعون درهماً. وقد ذكرنا ذلك في ترجمة خديجة رضي الله عنها.
وولد له من الولد بناته كلهن، وأولاده الذكور كلهم من خديجة إلا إبراهيم، فأما البنات فزينب ورقية وأم كلثوم وفاطمة، رضي الله عنهن، وأما الذكور فالقاسم، وبه كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يكنى، والطاهر والطيب وقيل: القاسم والطاهر، وعبد اللَّه وهو الطيب؛ لأنه ولد في الإسلام، وقيل:
القاسم وعبد اللَّه وهو الطاهر والطيب، فمات القاسم بمكة وهو أول من مات من ولده، ثم عبد اللَّه قاله الزبير بن بكار. وقد ذكرت في خديجة وفي بناته رضي الله عنهن أكثر من هذا.
ولما تزوج خديجة كان عمره خمساً وعشرين سنة، وكانت هي ابنة أربعين سنة، وقيل غير ذلك.
ذكر بناء الكعبة ووضع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الحجر الأسودقال ابن إسحاق: كانت الكعبة رضماً
(2) فوق القامة، فأرادت قريش أن يهدموها ويرفعوها ويسقفوها، وكانوا يهابون هدمها، فاتفق أن نفراً من قريش سرقوا كنز الكعبة، وكان
(3) يكون في جوف الكعبة، وكان البحر قد ألقى سفينة إلى جدة لرجل من الروم، فتحطمت، فأخذوا خشبها فأعدوه لسقفها، فاجتمعت قريش على هدمها، وذلك بعد الفجار بخمس عشرة سنة، ورسول صلى الله عليه وسلم إذ ذاك ابن خمس وثلاثين سنة، فلما أجمعوا على هدمها قام أبو وهب بن عمرو بن عائذ بن عمران
--------------------------------------------
বলা হয়ে থাকে যে, তিনি শামতাহর যুদ্ধেও উপস্থিত ছিলেন, যা ছিল ফিজার যুদ্ধের দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ দিন এবং এতে কুরাইশ ও কিনানাহর পরাজয় ঘটেছিল। যুহরি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই দিনে উপস্থিত ছিলেন না, যদি তিনি উপস্থিত থাকতেন তবে কুরাইশ পরাজিত হতো না। তবে এই বক্তব্যের কোনো ভিত্তি নেই; কারণ উহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণ তাঁর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খাদিজাকে বিবাহ করা এবং তাঁর সন্তানদের বর্ণনাবর্ণনাকারী বলেন: ইউনুস ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: খুওয়াইলিদ-কন্যা খাদিজা ছিলেন একজন উচ্চমর্যাদা সম্পন্ন ও সম্পদশালী নারী। তিনি পুরুষদের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে নিয়োগ করতেন অথবা মুনাফার নির্দিষ্ট অংশের চুক্তিতে (মুদারাবাহ) ব্যবসায়িক কাজে নিয়োজিত করতেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সত্যবাদিতা, সুমহান আমানতদারি এবং তাঁর চরিত্রের মাহাত্ম্যের সংবাদ খাদিজার কাছে পৌঁছাল, তখন তিনি তাঁর কাছে প্রস্তাব পাঠালেন। তিনি প্রস্তাব দিলেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেন তাঁর ব্যবসায়িক মাল নিয়ে তাঁর 'মায়সারা' নামক এক দাসের সাথে সিরিয়া সফরে যান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর এই প্রস্তাব গ্রহণ করলেন এবং তাঁর মাল নিয়ে সিরিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। সেখানে নাসতুরা নামক এক পাদ্রী তাঁকে দেখলেন এবং মায়সারাকে অবহিত করলেন যে, তিনি এই উম্মতের নবী। এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পন্ন করে মক্কার অভিমুখে ফিরে চললেন। যখন তিনি মক্কায় খাদিজার কাছে তাঁর মাল নিয়ে পৌঁছালেন, তখন খাদিজা তা বিক্রয় করে দ্বিগুণ বা এর কাছাকাছি মুনাফা অর্জন করলেন। মায়সারা তাঁকে পাদ্রীর বক্তব্য সম্পর্কে অবহিত করলেন। এরপর খাদিজা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বার্তা পাঠালেন যে, 'আপনার সাথে আমার আত্মীয়তা, আপনার সুমহান মর্যাদা, আপনার আমানতদারি, সচ্চরিত্র এবং সত্যবাদিতার কারণে আমি আপনার প্রতি আগ্রহী হয়েছি।' তিনি নিজেই বিবাহের প্রস্তাব দিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কাছে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে গেলেন এবং বারো উকিয়া ও এক নাশর
(১) বিনিময়ে তাঁকে বিবাহ করলেন। এক উকিয়া সমান চল্লিশ দিরহাম। আমরা খাদিজা রাদিয়াল্লাহু আনহার জীবনী আলোচনা করতে গিয়ে এটি উল্লেখ করেছি।
ইব্রাহিম ব্যতীত তাঁর সকল কন্যা এবং সকল পুত্রই খাদিজার গর্ভে জন্মগ্রহণ করেছেন। কন্যাদের মধ্যে ছিলেন যায়নাব, রুকাইয়া, উম্মে কুলসুম এবং ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না। আর পুত্রদের মধ্যে ছিলেন কাসিম—যার নামানুসারে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কুনিয়া (উপনাম) ছিল, এবং তাহির ও তায়্যিব। অন্য মতে: কাসিম, তাহির এবং আবদুল্লাহ—যিনি তায়্যিব নামে পরিচিত; কারণ তিনি ইসলাম আসার পর জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আবার বলা হয়েছে:
কাসিম এবং আবদুল্লাহ—যিনি তাহির ও তায়্যিব হিসেবে পরিচিত। কাসিম মক্কায় ইন্তেকাল করেন এবং তিনি ছিলেন সন্তানদের মধ্যে প্রথম ইন্তেকালকারী। এরপর আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন; জুবাইর ইবনে বাক্কার এটি উল্লেখ করেছেন। খাদিজা এবং তাঁর কন্যাদের (রাদিয়াল্লাহু আনহুন্না) বর্ণনায় আমি এর চেয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেছি।
যখন তিনি খাদিজাকে বিবাহ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল পঁচিশ বছর এবং খাদিজার বয়স ছিল চল্লিশ বছর। এ বিষয়ে ভিন্ন মতও বর্ণিত আছে।
কাবা নির্মাণ এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাজরে আসওয়াদ স্থাপন করার বর্ণনাইবনে ইসহাক বলেন: কাবা ছিল মানুষের উচ্চতার চেয়ে কিছুটা বেশি উঁচু অসম পাথরস্তূপের
(২) ন্যায়। কুরাইশগণ এটি ভেঙে আরও উঁচুতে নির্মাণ করতে এবং এর ওপর ছাদ দিতে চাইল। কিন্তু তারা এটি ভেঙে ফেলতে ভয় পাচ্ছিল। ইত্যবসরে কুরাইশদের একদল লোক কাবার কোষাগার চুরি করল, যা
(৩) কাবার অভ্যন্তরে সংরক্ষিত থাকত। এদিকে সমুদ্রের ঢেউ জেদ্দার উপকূলে একজন রোমান ব্যক্তির একটি জাহাজ তীরে আছড়ে ফেলল এবং সেটি ভেঙে গেল। তারা জাহাজটির কাঠ সংগ্রহ করে কাবার ছাদ তৈরির জন্য তা প্রস্তুত করল। অতঃপর কুরাইশগণ কাবা পুনর্নির্মাণের উদ্দেশ্যে তা ভেঙে ফেলার ব্যাপারে একমত হলো। এটি ছিল ফিজার যুদ্ধের পনেরো বছর পরের ঘটনা। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বয়স ছিল পঁয়ত্রিশ বছর। যখন তারা এটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন আবু ওয়াহাব ইবনে আমর ইবনে আয়িয ইবনে ইমরান উঠে দাঁড়ালেন...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٤)
ابن مخزوم، وهو جد سعيد
(1) بن المسيب بن حزن بن أبي وهب، فتناول حجراً من الكعبة فوثب من يده فرجع إلى موضعه، فقال يا معشر قريش، لا تدخلن في بنيانها من كسبكم إلا طيباً، ولا تدخلوا فيها مهر بغي
(2)، ولا رباً
(3) ولا مظلمة.
وقيل: إن الوليد بن المغيرة قال هذا.
فهدموها واقتسمت قريش عمارة البيت، فكان الباب لبني عبد مناف وبني زهرة، وكان ما بين الركن الأسود واليماني لبني مخزوم وتيم وقبائل من قريش، وكان ظهرها لسهم وجمح، وكان شق الحجر لبني عبد الدار وبني أسد، وبني عدي بن كعب؛ فبنوا حتى بلغ البناء موضع الركن
(4)، فكانت كل قبيلة تريد أن ترفعه حتى تجاذبوا وتخالفوا وأعدوا للقتال، فبقوا أربع ليال أو خمس ليال،
فقال أبو أمية المخزومي: يا معشر قريش، اجعلوا بينكم أول من يدخل من باب المسجد، فلما توافقوا على ذلك ورضوا به، دخل رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فقالوا: هذا الأمين قد رضينا به، فلما انتهى إليهم أخبروه الخبر، فقال: هلموا ثوباً، فأتوه به، فوضع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الركن فيه بيده، ثم قال: لتأخذ كل قبيلة بناحية من الثوب، ثم ارفعوا جميعاً، فرفعوه حتى إذا بلغوا به موضعه، وضعه رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بيده، ثم بنى عليه.
وكان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يسمى في الجاهلية: الأمين، قبل أن يوحى إليه.
وقيل: كان سبب بنائها أن السيل ملأ الوادي، ودخل الكعبة فتصدعت، فبنتها قريش.
وقيل: إن الذي أشار بأول من يدخل أبو حذيفة بن المغيرة، وكانت هذه فضيلة لرسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على سائر قريش، ومما قدمه اللَّه له قبل المبعث من الكرامة.
ذكر المبعثقالوا: بعث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم، وله أربعون سنة، وذلك في ملك أبرويز بن هرمز بن كسرى أنوشروان ملك الفرس.
وقال ابن المسيب: بعثه اللَّه، عز وجل، وله ثلاث وأربعون سنة، فأقام بمكة عشراً، وبالمدينة عشراً.
وقال ابن إسحاق: بعثه اللَّه وله أربعون سنة، فأقام بمكة ثلاث عشرة سنة، وبالمدينة عشراً.
وقيل: إنه كتم أمره ثلاث سنين، فكان يدعو مستخفياً إلى أن أنزل اللَّه تعالى «{وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ}
(5)» فأظهر الدعوة.
--------------------------------------------
ইবনে মাখজুম—যিনি সাঈদ
(১) ইবনুল মুসায়্যিব ইবনে হাযন ইবনে আবি ওয়াহবের পিতামহ—কাবা ঘর থেকে একটি পাথর নিলেন, কিন্তু সেটি তাঁর হাত থেকে লাফিয়ে পড়ে স্বস্থানে ফিরে গেল। তখন তিনি বললেন, ‘হে কুরাইশ সম্প্রদায়! এর নির্মাণকাজে তোমাদের উপার্জন থেকে কেবল পবিত্র অর্থই ব্যয় করো। এতে কোনো ব্যভিচারিণীর উপার্জিত অর্থ
(২), সুদ
(৩) কিংবা অন্যায়ভাবে নেওয়া সম্পদ অন্তর্ভুক্ত করো না।’
কারো কারো মতে, ওয়ালিদ ইবনুল মুগিরা এ কথা বলেছিলেন।
এরপর তারা তা ভেঙে ফেলল এবং কুরাইশরা কাবা নির্মাণের দায়িত্ব নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিল। দরজার অংশটি পেল বনু আবদু মানাফ ও বনু যুহরা। হাজরে আসওয়াদ ও রুকনে ইয়ামানীর মধ্যবর্তী অংশ পেল বনু মাখজুম, বনু তাইম ও কুরাইশদের কিছু গোত্র। কাবার পেছনের অংশ পেল বনু সাহাম ও বনু জুমাহ। কাবার হাতিমের (পাথরের) দিকের অংশ পেল বনু আবদুদ দার, বনু আসাদ ও বনু আদি ইবনে কাব। তারা নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে থাকল, এমনকি যখন নির্মাণকাজ হাজরে আসওয়াদের
(৪) স্থানে পৌঁছাল, তখন প্রতিটি গোত্রই তা স্থাপন করতে চাইল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিবাদ ও মতভেদ শুরু হলো এবং তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিল। এভাবে তারা চার বা পাঁচ রাত অতিবাহিত করল।
তখন আবু উমাইয়া আল-মাখজুমি বললেন, ‘হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমাদের মধ্যে ফয়সালাকারী হিসেবে তাকেই মেনে নাও, যে সর্বপ্রথম মসজিদের দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে।’ যখন তারা এ বিষয়ে একমত ও সন্তুষ্ট হলো, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তারা তাঁকে দেখে বলল, ‘এই তো আল-ামিন (বিশ্বস্ত), আমরা তাঁর ফয়সালায় সন্তুষ্ট।’ তিনি তাদের কাছে পৌঁছালে তারা তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেন, ‘আমাকে একটি চাদর এনে দাও।’ তারা তা নিয়ে এলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাজরে আসওয়াদটি তাঁর হাত দিয়ে তার ওপর রাখলেন। এরপর বললেন, ‘প্রত্যেক গোত্র চাদরের এক একটি প্রান্ত ধরো, তারপর সবাই মিলে সেটি উত্তোলন করো।’ তারা সেটি উত্তোলন করল। যখন তারা যথাস্থানে পৌঁছাল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাথরটি তাঁর হাত দিয়ে সেখানে স্থাপন করলেন এবং এরপর এর ওপর নির্মাণ কাজ চলল।
ওহি অবতীর্ণ হওয়ার আগে জাহেলি যুগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম 'আল-ামিন' নামে অভিহিত হতেন।
বলা হয়ে থাকে, কাবা পুনর্নির্মাণের কারণ ছিল এই যে, প্রবল বন্যায় উপত্যকা প্লাবিত হয়ে কাবার ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছিল এবং দেয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই কুরাইশরা এটি নির্মাণ করেছিল।
কারো মতে, প্রথম প্রবেশকারী ব্যক্তিকে ফয়সালাকারী মানার পরামর্শ দিয়েছিলেন আবু হুজাইফা ইবনুল মুগিরা। এটি ছিল অন্য সব কুরাইশদের ওপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক শ্রেষ্ঠত্ব এবং নবুওয়াত প্রাপ্তির আগে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁকে প্রদত্ত এক বিশেষ মর্যাদা।
নবুওয়াত প্রাপ্তির বিবরণইতিহাসবিদরা বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন নবুওয়াত লাভ করেন তখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। এটি ছিল পারস্য সম্রাট কিসরা আনুশিরওয়ানের পৌত্র এবং হরমুজের পুত্র আবরুইজের রাজত্বকালে।
ইবনুল মুসায়্যিব বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁকে যখন নবুওয়াত দান করেন তখন তাঁর বয়স ছিল তেতাল্লিশ বছর। এরপর তিনি মক্কায় দশ বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন।
ইবনে ইসহাক বলেন: আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত দান করেন যখন তাঁর বয়স ছিল চল্লিশ বছর। এরপর তিনি মক্কায় তের বছর এবং মদিনায় দশ বছর অবস্থান করেন।
বলা হয় যে, তিনি তিন বছর তাঁর দাওয়াত গোপন রেখেছিলেন এবং গোপনে দাওয়াত দিচ্ছিলেন, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন— ‘আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন
(৫)’। এরপর তিনি প্রকাশ্যে দাওয়াত শুরু করেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٥)
قال أبو عمر: بعثه اللَّه، عز وجل، نبياً يوم الاثنين لثمان من ربيع الأول سنة إحدى وأربعين من عام الفيل.
أخبرنا أبو جعفر عبيد اللَّه بن أحمد بإسناده عن يونس عن ابن إسحاق، حدثني عبد الملك بن عبد اللَّه
(1) ابن أبي سفيان بن جارية الثقفي - وكان واعية - عن بعض أهل العلم أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم حين أراد اللَّه كرامته
(2) وابتدأه بالنبوة؛ فكان لا يمر بحجر ولا شجر إلا سلم عليه وسمع منه، فيلتفت رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم خلفه، وعن يمينه وشماله، فلا يرى إلا الشجر وما حوله من الحجارة، وهي تقول:
السلام عليك يا رسول اللَّه.
وأخبرنا غير واحد بإسنادهم عن محمد بن إسماعيل، أخبرنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عُقَيل، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزُّبَيْر، عن عائشة أنها قالت: «أوّل ما بدئَ به رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من الوحي الرؤيا الصالحة في النوم؛ كان لا يرى رؤيا إلا جاءت مثل فلق الصبح، ثم حبب إليه الخلاء؛ فكان يخلو بغار حراء فيتحنث فيه - وهو التعبد - الليالي ذوات العدد، حتى جاءه الحق، وهو في غار حراء، فجاءه الملك فقال: اقرأ، فقال: ما أنا بقارئ، قال: فأخذني فغطني
(3) حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني، فقال: اقرأ فقلت: ما أنا بقارئ قال: فأخذني فغطني الثانية حتى بلغ مني الجهد، ثم أرسلني فقال: اقرأ، قلت: ما أنا بقارئ فأخذني فغطني الثالثة، ثم أرسلني فقال: {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ، خَلَقَ الْإِنْسانَ مِنْ عَلَقٍ. اقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ}
(4) فرجع بها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يرجف فؤاده، فدخل على خديجة، وذكر الحديث في ذهابها إلى ورقة بن نوفل.
وروي عن جابر بإسناد صحيح: أن أول ما نزل من القرآن {يا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ}.
أخبرنا أبو جعفر بإسناده عن يونس، عن ابن إسحاق قال: فابتدئ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بالتنزيل يوم الجمعة في رمضان بقول اللَّه، عز وجل، {شَهْرُ رَمَضانَ الَّذِي أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ} إلى آخر الآية
(5). وقال تعالى: {وَما أَنْزَلْنا عَلى عَبْدِنا يَوْمَ الْفُرْقانِ يَوْمَ الْتَقَى الْجَمْعانِ}
(6) وذلك ملتقى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم والمشركين يوم بدر صبيحة الجمعة لسبع عشرة مضت من رمضان.
وقال يونس عن بشر بن أبي حفص الكندي الدمشقي قال: حدثني مكحول أن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قال لبلال: «لا يغادرنك صيام يوم الاثنين؛ فإني ولدت يوم الاثنين، وأوحي إلي يوم الاثنين، وهاجرت يوم الاثنين».
ثم إن جبريل عليه السلام علم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الوضوء، والصلاة ركعتين، فأتى خديجة فأخبرها، فتوضأت وصلت ركعتين معه، وقيل: كانت الصلاة الضحى والعصر.
--------------------------------------------
আবু উমর বলেন: আল্লাহ তাআলা তাঁকে হস্তী বাহিনীর বছরের একচল্লিশতম বর্ষে রবিউল আউয়াল মাসের আট তারিখ সোমবার নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন।
আবু জাফর উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ তাঁর সনদে ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: আব্দুল মালিক বিন আব্দুল্লাহ
(১) ইবনে আবি সুফিয়ান বিন জারিয়া আস-সাকাফি—যিনি একজন প্রাজ্ঞ বর্ণনাকারী ছিলেন—তিনি জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তির সূত্রে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, যখন আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্মানিত করার ইচ্ছা করলেন এবং নবুওয়াতের সূচনা করলেন; তখন তিনি কোনো পাথর বা গাছের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেই তা তাঁকে সালাম দিত এবং তিনি তা শুনতে পেতেন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পিছনে, ডানে এবং বামে তাকাতেন, কিন্তু সেখানে সেই গাছ এবং চারপাশের পাথর ছাড়া আর কিছুই দেখতেন না, আর সেগুলো বলছিল:
আস-সালামু আলাইকা ইয়া রাসূলুল্লাহ (আপনার ওপর শান্তি বর্ষিত হোক, হে আল্লাহর রাসূল)।
একাধিক ব্যক্তি তাঁদের সনদে মুহাম্মদ বিন ইসমাইল থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: ইয়াহইয়া বিন বুকাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: লাইস আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন উকাইল থেকে, তিনি ইবনে শিহাব থেকে, তিনি উরওয়াহ বিন যুবাইর থেকে, তিনি আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন: «রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট ওহী বা প্রত্যাদেশ আসার সূচনা হয়েছিল ঘুমের মধ্যে সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে; তিনি যে স্বপ্নই দেখতেন তা সুবহে সাদেকের আলোর মতো প্রকাশ পেত। এরপর তাঁর কাছে নির্জনতা প্রিয় হয়ে উঠল; তিনি হেরা গুহায় নির্জনে অবস্থান করতেন এবং সেখানে বেশ কয়েক রাত একাধারে 'তাহান্নুস'—অর্থাৎ ইবাদত—করতেন। অবশেষে তাঁর কাছে সত্যের আগমন ঘটল, যখন তিনি হেরা গুহায় ছিলেন। ফেরেশতা তাঁর নিকট এসে বললেন: পড়ুন। তিনি বললেন: আমি তো পড়তে জানি না। তিনি (রাসূল) বলেন: তখন তিনি আমাকে জাপটে ধরলেন এবং প্রবলভাবে চাপ দিলেন
(৩) এমনকি আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো পড়তে জানি না। তিনি আমাকে দ্বিতীয়বার জাপটে ধরে প্রবলভাবে চাপ দিলেন এমনকি আমি অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়লাম। এরপর তিনি আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললেন: পড়ুন। আমি বললাম: আমি তো পড়তে জানি না। এরপর তিনি আমাকে তৃতীয়বার জাপটে ধরে প্রবলভাবে চাপ দিলেন, অতঃপর ছেড়ে দিয়ে বললেন: {পড়ুন আপনার রবের নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন মানুষকে জমাট রক্ত থেকে। পড়ুন এবং আপনার রব মহিমান্বিত}
(৪)। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কম্পিত হৃদয়ে ফিরে এলেন। তিনি খাদিজার নিকট প্রবেশ করলেন এবং তাঁর ওরাকা বিন নওফলের কাছে যাওয়ার বিষয়টি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।»
জাবির (রা.) থেকে সহিহ সনদে বর্ণিত হয়েছে যে: কুরআনের যা প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে তা হলো—{হে চাদর আবৃতকারী}।
আবু জাফর তাঁর সনদে ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওপর ওহী নাযিল শুরু হয়েছিল রমজান মাসের এক জুমুআ বারে, মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে—{রমজান মাস, যাতে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে} আয়াতের শেষ পর্যন্ত
(৫)। আর আল্লাহ তাআলা বলেছেন: {এবং যা আমি আমার বান্দার ওপর ফয়সালার দিনে অবতীর্ণ করেছি, যেদিন দুই দল পরস্পর সম্মুখীন হয়েছিল}
(৬)। আর তা ছিল বদরের দিন জুমুআর সকালে রমজানের সতেরো তারিখ অতিবাহিত হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও মুশরিকদের মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা।
ইউনুস বিশর বিন আবি হাফস আল-কিন্দি আদ-দিমাশকি থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: মাকহুল আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলালকে বলেছিলেন: «সোমবারের রোজা যেন তোমাকে ছেড়ে না যায়; কেননা আমি সোমবার জন্মগ্রহণ করেছি, সোমবার আমার ওপর ওহী অবতীর্ণ হয়েছে এবং সোমবার আমি হিজরত করেছি।»
এরপর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম) রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে ওযু এবং দুই রাকাত সালাত শিক্ষা দিলেন। তিনি খাদিজার নিকট এসে তাঁকে তা জানালেন, তখন তিনি ওযু করলেন এবং তাঁর সাথে দুই রাকাত সালাত আদায় করলেন। আর বলা হয়েছে যে: সেই সালাত ছিল চাশত ও আসরের।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٦)
ثم دعا الناس إلى الإسلام، وقد ذكرنا أول من أسلم في أبي بكر، وعلي، وزيد بن حارثة، واستجاب له نفر من الناس سراً حتى كثروا فظهر أمرهم، والوجوه من كفار قريش غير منكرين لما يقول، وكان إذا مر بهم يقولون: «إن محمداً يكلم من السماء» فلم يزالوا كذلك، حتى أظهر عيب آلهتهم، وأخبرهم أن آباءهم ماتوا على الكفر والضلال، وأنهم في النار، فعادوه وأبغضوه، وآذوه، وكان أصحابه إذا صلوا انطلقوا إلى الأودية وصلوا سراً، ولما أظهرت قريش عداوته حدب عليه أبو طالب عمه ونصره ومنعه، ثمّ إن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لما خاف كفار قريش، اختفى هو ومن معه في دار الأرقم بن أبي الأرقم المخزومي إلى أن أسلم عمر فخرجوا، ووثبت قريش على من فيها من المستضعفين فعذبوهم، وذكرنا ذلك في أسمائهم مثل: بلال، وعمار، وصهيب وغيرهم، ثم إن المسلمين هاجروا إلى الحبشة هجرتين على ما نذكره، إِن شاءَ اللَّه تعالى، وأرادت قريش قتل رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وإنْ يترك أبو طالب بينهم وبينه، فلم يفعل؛ فكتبوا صحيفة. على أن يقاطعوا بني هاشم وبني المطلب ومن أسلم معهم ولا يناكحوهم ولا يبايعوهم ولا يكلموهم ولا يجلسوا إليهم؛ على ما نذكره، إِن شاءَ اللَّه تعالى.
ذكر وفاة خديجة وأبى طالب وذهاب رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إلى الطائف وعودهقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «ما زالت قريش كاعة
(1) عني حتى مات عمي أبو طالب». وفي السنة العاشرة أول ذي القعدة وقيل: النصف من شوال توفي أبو طالب وكان عمره بضعاً وثمانين سنة، ثم توفيت بعده خديجة بثلاثة أيام، وقيل بشهر، وقيل: كان بينهما شهر وخمسة أيام، وقيل: خمسون يوماً ودفنها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بالحجون
(2)، ولم تكن الصلاة على الجنائز يومئذ، وقيل: إنها ماتت قبل أبي طالب وكان عمرها خمساً وستين سنة، وكان مقامها مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بعد ما تزوجها أربعاً وعشرين سنة وستة أشهر، وكان موتها قبل الهجرة بثلاث سنين وثلاثة أشهر ونصف، وقيل: قبل الهجرة بسنة، واللَّه أعلم.
قال عروة: ما ماتت خديجة إلا بعد الإسراء، وبعد أن صلت الفريضة مع رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وسلم، ولما اشتد بأبي طالب مرضه دعا بني عبد المطلب فقال: إنكم لن تزالوا بخير ما سمعتم قول محمد واتبعتم أمره؛ فاتبعوه وصدقوه ترشدوا.
أخبرنا عبيد اللَّه بن أحمد بإسناده عن يونس بن بكير عن ابن إسحاق قال: ثم إن خديجة وأبا طالب ماتا في عام واحد؛ فتتابعت على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم المصائب، وكانت خديجة وزير صدق على الإسلام، وكان يسكن إليها
(3)، ولم يتزوج عليها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم حتى ماتت.
ولما توفيا خرج رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إلى الطائف لثلاث بقين من شوال سنة عشر من المبعث، ومعه مولاه زيد بن حارثة، يدعوهم إلى الإسلام؛ فآذته ثقيف وسمع منهم ما يكره، وأغروا به سفهاءهم، وذكرنا القصة في «عداس» وغيره، ولما عاد من الطائف أرسل إلى المطعم بن عدي يطلب منه أن يجيره،
--------------------------------------------
ثم তিনি মানুষকে ইসলামের দিকে দাওয়াত দিলেন। আমরা ইতিপূর্বে আবু বকর, আলী ও যায়েদ বিন হারিসাহ-এর ইসলাম গ্রহণের আলোচনার মাধ্যমে প্রথম ইসলাম গ্রহণকারীদের কথা উল্লেখ করেছি। একদল লোক গোপনে তাঁর ডাকে সাড়া দিলেন এবং এক পর্যায়ে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেল ও তাদের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ল। কুরাইশ কাফিরদের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তিনি যা বলতেন তা অস্বীকার করত না। যখন তিনি তাদের পাশ দিয়ে যেতেন, তখন তারা বলত: "নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ আসমানের সাথে কথা বলেন।" তারা এভাবেই ছিল, যতক্ষণ না তিনি তাদের উপাস্যদের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করলেন এবং তাদের খবর দিলেন যে তাদের পূর্বপুরুষরা কুফর ও গোমরাহির উপর মৃত্যুবরণ করেছে এবং তারা জাহান্নামে যাবে। তখন তারা তাঁর সাথে শত্রুতা শুরু করল, তাঁকে ঘৃণা করল এবং কষ্ট দিতে লাগল। তাঁর সাহাবীরা যখন সালাত আদায় করতেন, তখন তারা উপত্যকায় চলে যেতেন এবং গোপনে সালাত আদায় করতেন। যখন কুরাইশরা তাঁর সাথে শত্রুতা প্রকাশ করল, তখন তাঁর চাচা আবু তালিব তাঁর প্রতি সদয় হলেন, তাঁকে সাহায্য করলেন এবং তাঁকে রক্ষা করলেন। এরপর যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ কাফিরদের ভয় পেলেন, তখন তিনি ও তাঁর সাথে থাকা ব্যক্তিরা আরকাম বিন আবি আরকাম মাখজুমির ঘরে আত্মগোপন করলেন, যতক্ষণ না উমর ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তারা সেখান থেকে বের হলেন। কুরাইশরা সেখানে থাকা দুর্বল মুসলমানদের উপর চড়াও হলো এবং তাদের নির্যাতন করল। আমরা তাদের নামের আলোচনায় বিলাল, আম্মার, সুহাইব ও অন্যদের কথা উল্লেখ করেছি। এরপর মুসলমানরা আবিসিনিয়ায় দুইবার হিজরত করেন, যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা উল্লেখ করব। কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে হত্যা করতে চাইল এবং চাইল যেন আবু তালিব তাঁদের ও তাঁর মধ্যে হস্তক্ষেপ না করেন। কিন্তু তিনি তা করতে অস্বীকার করলেন। ফলে তারা একটি চুক্তিপত্র লিখল এই মর্মে যে, তারা বনু হাশিম ও বনু মুত্তালিব এবং তাদের সাথে যারা ইসলাম গ্রহণ করেছে, তাদের বয়কট করবে; তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না, কেনাবেচা করবে না, কথা বলবে না এবং তাদের সাথে বসবে না; যা আমরা ইনশাআল্লাহ তাআলা উল্লেখ করব।
খাদিজা ও আবু তালিবের মৃত্যু এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তায়েফ গমন ও ফিরে আসার বিবরণরাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "আমার চাচা আবু তালিবের মৃত্যু পর্যন্ত কুরাইশরা আমার ব্যাপারে ভীরুতা
(১) প্রদর্শন করত।" নবুওয়াতের দশম বছরে জিলকদ মাসের শুরুতে, আর মতান্তরে শাওয়াল মাসের মাঝামাঝি সময়ে আবু তালিব ইন্তেকাল করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল আশির কিছু বেশি। তারপর তাঁর তিন দিন পর খাদিজা ইন্তেকাল করেন। কারো মতে এক মাস পর। আবার বলা হয়েছে: তাদের দুজনের মৃত্যুর মধ্যে ব্যবধান ছিল এক মাস পাঁচ দিন, কারো মতে পঞ্চাশ দিন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে হাজুন-এ
(২) দাফন করেন। তখন পর্যন্ত জানাজার সালাত প্রচলিত ছিল না। বলা হয়েছে যে, তিনি আবু তালিবের আগেই মারা গেছেন এবং তাঁর বয়স ছিল পঁয়ষট্টি বছর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বিয়ের পর তিনি চব্বিশ বছর ছয় মাস অবস্থান করেছিলেন। তাঁর মৃত্যু হিজরতের তিন বছর তিন মাস পনের দিন আগে হয়েছিল। কেউ বলেছেন: হিজরতের এক বছর আগে। আর আল্লাহই ভালো জানেন।
উরওয়াহ বলেছেন: খাদিজা ইসরা-এর পরেই মারা গেছেন এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ফরজ সালাত আদায়ের পর। আবু তালিবের রোগ যখন কঠিন হলো, তিনি বনু আবদিল মুত্তালিবকে ডেকে বললেন: "তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত কল্যাণের উপর থাকবে যতক্ষণ তোমরা মুহাম্মাদের কথা শুনবে এবং তাঁর আদেশ অনুসরণ করবে। অতএব তোমরা তাঁর অনুসরণ করো এবং তাঁকে সত্য বলে বিশ্বাস করো, তবেই তোমরা সঠিক পথ পাবে।"
উবায়দুল্লাহ বিন আহমদ তাঁর সনদসহ ইউনুস বিন বুকাইর হতে এবং তিনি ইবনে ইসহাক হতে আমাদের সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি বলেছেন: অতঃপর খাদিজা ও আবু তালিব একই বছরে মারা যান। ফলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর একের পর এক বিপদ আসতে থাকে। খাদিজা ছিলেন ইসলামের একনিষ্ঠ পরামর্শদাতা এবং তিনি তাঁর কাছে প্রশান্তি লাভ করতেন
(৩)। তিনি মারা যাওয়ার আগে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কোনো বিয়ে করেননি।
তারা যখন ইন্তেকাল করলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নবুওয়াতের দশম বছরের শাওয়াল মাসের তিন দিন বাকি থাকতে তায়েফের উদ্দেশ্যে বের হলেন। তাঁর সাথে তাঁর মুক্তদাস যায়েদ বিন হারিসাহ ছিলেন। তিনি তাদের ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকলেন। কিন্তু সাকিফ গোত্র তাঁকে কষ্ট দিল এবং তিনি তাদের কাছ থেকে অপ্রীতিকর কথা শুনলেন। তারা তাদের নির্বোধদের তাঁর পেছনে লেলিয়ে দিল। আমরা 'আদ্দাস' ও অন্যদের ঘটনা উল্লেখ করেছি। যখন তিনি তায়েফ থেকে ফিরলেন, তখন তিনি মুতয়িম বিন আদির কাছে বার্তা পাঠালেন এই মর্মে যে, তিনি যেন তাঁকে আশ্রয় দেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٧)
فأجاره فدخل المسجد معه، وكان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم يشكرها له، وكان دخوله من الطائف لثلاث وعشرين ليلة خلت من ذي القعدة.
ذكر الإسراءأُسرِيَ برسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من المسجد الحرام إلى المسجد الأقصى، وقد اختلفوا في المكان الذي أسري به منه فقيل: المسجد. وقيل: كان في بيته. وقيل: كان في بيت أم هانئ ومن قال هذين قال: المدينة كلها مسجد.
واختلفوا في الوقت الذي أسرى به فيه، فروى عمرو بن شعيب عن أَبيه عن جده أنه أسري به ليلة سبع من ربيع الأول قبل الهجرة بسنة، وقال ابن عباس وأنس: أسري به قبل الهجرة بسنة. وقال السدي:
قبل الهجرة بستة أشهر. وقال الواقدي: أسري به لسبع عشرة من رمضان قبل الهجرة بثمانية عشر شهراً، وقيل: أسري به في رجب.
أخبرنا أبو الفرج محمد بن عبد الرحمن بن أبي العز الواسطي، والحسين بن صالح بن فنا خسرو التكريتي وغيرهما، قالوا بإسنادهم عن محمد بن إسماعيل قال: حدثنا هدبة بن خالد، حدثنا همام بن يحيى، حدثنا قتادة، عن أنس بن مالك، عن مالك بن صعصعة أن نبي اللَّه صلى الله عليه وسلم حدثهم عن ليلة أسرى به قال: «بينما أنا في الحطيم - وربما قال في الحجر - مضطجعاً إذ أتاني آت فقد قال، وسمعته يقول: فشق ما بين هذه إلى هذه فقلت للجارود - وهو إلى جنبي - ما يعني؟ قال من ثغرة نحره إلى شعرته فاستخرج قلبي، ثم أتيت بطست من ذهب مملوءة إيماناً، فغسل قلبي، ثم حشي ثم أعيد، ثم أتيت بدابة دون البغل وفوق الحمار أبيض، فقال له الجارود: هو البراق يا أبا حمزة؟ قال: نعم، يضع خطوه عند أقصى طرفه، فحملت عليه، فانطلق بي جبريل حتى أتى السماء الدنيا، فاستفتح قيل: من هذا؟ قال:
جبريل قيل: ومن معك؟ قال: محمد. قيل: أوقد أرسل إليه؟ قال: نعم، قيل: مرحباً، فنعم المجيء جاء».
وذكر الحديث في صعوده إلى السماء السابعة وإلى سدرة المنتهى قال: «فمررت على موسى فقال لي: بم أمرت؟ قلت أمرت بخمسين صلاة كل يوم. قال: إن أمتك لا تستطيع ذلك؛ قد جربت بني إسرائيل قبلك، فارجع إلى ربك فسله التخفيف لأمتك، فرجعت فوضع عني عشراً، فرجعت إلى موسى، فقال مثله، فرجعت فوضع عني عشراً، فرجعت إلى موسى فأخبرته، فقال: إن أمتك لا تطيق ذلك. فلم أزل بين ربي وموسى حتى جعلها خمساً، فقال موسى: إن أمتك لا تطيق ذلك فسله التخفيف، قال: قلت قد سألت ربي حتى استحييت، فلما جاوزت نادى مناد: قد أمضيت فريضتي، وخففت عن عبادي».
قال أحمد بن يحيى بن جابر البلاذري قالوا: قرض على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الصلاة ركعتين ركعتين ثم أتمت صلاة المقيم أربعاً، وبقيت صلاة المسافر على حالها، وذلك قبل قدومُ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إلى المدينة مهاجراً بشهر.
অতঃপর তিনি তাঁকে আশ্রয় দিলেন এবং তিনি তাঁর সাথে মসজিদে প্রবেশ করলেন। আর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ ছিলেন। তায়েফ থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তন হয়েছিল যিলকদ মাসের তেইশ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর।
ইসরা-এর আলোচনাআল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত নৈশভ্রমণ (ইসরা) করানো হয়েছিল। যে স্থান থেকে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে বিষয়ে আলেমগণ মতভেদ করেছেন। কেউ বলেছেন: মসজিদ থেকে। আবার বলা হয়েছে: তা ছিল তাঁর ঘর থেকে। কেউ বলেছেন: তা ছিল উম্মে হানির ঘর থেকে। আর যারা শেষোক্ত দুটি কথা বলেছেন, তাঁরা মনে করেন যে পুরো মদিনা শহরই মসজিদ।
কোন সময়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে ব্যাপারেও তাঁরা মতভেদ করেছেন। আমর ইবন শুআইব তাঁর পিতা থেকে এবং তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, হিজরতের এক বছর পূর্বে রবিউল আউয়াল মাসের সাত তারিখ রাতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইবনে আব্বাস এবং আনাস বলেছেন: হিজরতের এক বছর আগে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সুদ্দি বলেছেন:
হিজরতের ছয় মাস আগে। ওয়াকিদি বলেছেন: হিজরতের আঠারো মাস আগে সতেরো রমজানে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আবার বলা হয়েছে: রজব মাসে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু আল-ফারাজ মুহাম্মাদ ইবন আবদুর রহমান ইবন আবিল ইজ্জ আল-ওয়াসিতি এবং হুসাইন ইবন সালিহ ইবন ফানা খুসরু আত-তিকরিতি ও অন্যরা। তাঁরা তাঁদের সনদে মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হুদবা ইবন খালিদ, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন হাম্মাম ইবন ইয়াহইয়া, আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন কাতাদা, তিনি আনাস ইবন মালিক থেকে এবং তিনি মালিক ইবন সা'সাআ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের কাছে সেই রাতের কথা বর্ণনা করেছেন যেদিন তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি বললেন: «একদা আমি হাতিমে — সম্ভবত তিনি হিজর (কা’বা সংলগ্ন স্থান) বলেছিলেন — শায়িত ছিলাম, এমতাবস্থায় এক আগন্তুক আমার কাছে আসলেন। তিনি যা বললেন তা আমি শুনলাম। তিনি এখান থেকে ওখান পর্যন্ত চিরে ফেললেন। আমি আমার পাশে বসা জারুদকে জিজ্ঞেস করলাম: এর অর্থ কী? তিনি বললেন: কণ্ঠনালীর উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত। এরপর তিনি আমার কলিজা বের করলেন। অতঃপর ঈমানে পরিপূর্ণ একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হলো এবং আমার কলিজা ধৌত করা হলো। তারপর তা পূর্ণ করা হলো এবং যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া হলো। এরপর খচ্চরের চেয়ে ছোট এবং গাধার চেয়ে বড় একটি সাদা জন্তু আনা হলো। তখন জারুদ তাঁকে বললেন: হে আবু হামজাহ! এটি কি বুরাক? তিনি বললেন: হ্যাঁ, তা তার দৃষ্টির শেষ সীমানায় পা রাখে। আমাকে তার ওপর আরোহণ করানো হলো এবং জিবরাঈল আমাকে নিয়ে চললেন এবং প্রথম আসমানে আসলেন। তিনি দরজা খুলতে বললেন। জিজ্ঞেস করা হলো: ইনি কে? তিনি বললেন:
জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হলো: আপনার সাথে কে? তিনি বললেন: মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো: তাঁর কাছে কি দূত পাঠানো হয়েছিল? তিনি বললেন: হ্যাঁ। বলা হলো: মারহাবা! কতই না উত্তম তাঁর আগমন।»
এরপর তিনি সপ্তম আকাশ এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত তাঁর আরোহণের হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: «অতঃপর আমি মূসার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি আমাকে বললেন: আপনি কী আদিষ্ট হয়েছেন? আমি বললাম: আমাকে প্রতিদিন পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের আদেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বললেন: আপনার উম্মত তা পারবে না; আমি আপনার পূর্বে বনী ইসরাঈলদের পরীক্ষা করেছি। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান এবং আপনার উম্মতের জন্য সহজ করার আবেদন করুন। তখন আমি ফিরে গেলাম এবং তিনি আমার থেকে দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মূসার কাছে ফিরে এলাম, তিনি আবার একই কথা বললেন। আমি আবার ফিরে গেলাম এবং তিনি আরও দশ ওয়াক্ত কমিয়ে দিলেন। আমি পুনরায় মূসার কাছে ফিরে এসে তাঁকে জানালাম। তিনি বললেন: আপনার উম্মত তা সহ্য করতে পারবে না। এভাবে আমি আমার রব এবং মূসার মাঝে যাতায়াত করতে থাকলাম, যতক্ষণ না তিনি তা পাঁচ ওয়াক্ত করে দিলেন। মূসা বললেন: আপনার উম্মত তা সহ্য করতে পারবে না, আপনি সহজ করার আবেদন করুন। তিনি বললেন: আমি আমার রবের কাছে এতবার চেয়েছি যে এখন লজ্জা বোধ করছি। যখন আমি অতিক্রম করলাম, তখন এক ঘোষক ঘোষণা করলেন: আমি আমার ফরয কার্যকর করলাম এবং আমার বান্দাদের জন্য সহজ করে দিলাম।»
আহমদ ইবন ইয়াহইয়া ইবন জাবির আল-বালাজুরি বলেন, তাঁরা বলেছেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর দুই রাকাত দুই রাকাত করে নামায ফরয করা হয়েছিল। পরবর্তীতে মুকিম বা স্থায়ী বাসিন্দার জন্য তা চার রাকাত পূর্ণ করা হয়, আর মুসাফিরের নামায আগের মতোই বহাল থাকে। এটি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হিজরত করে মদিনায় পৌঁছানোর এক মাস পূর্বের ঘটনা।
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٨)
الهجرة إلى المدينةلما بايعت الأنصار رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم على ما نذكره، إن شاء اللَّه تعالى، أمر أصحابه فهاجروا إلى المدينة، وبقي هو وأبو بكر وعلي فخرج هو وأبو بكر مستخفيين من قريش فقصدا غارا بحبل ثور، فأقاما به ثلاثة، وقيل أكثر من ذلك؛ ثم سارا إلى المدينة ومعهما عامر بن فهيرة مولى أبى أبي بكر، ودليلهم عبد اللَّه بن أُريقط، وكان مقامه بمكة عشر سنين، وقيل ثلاثَ عشرةَ سنة، وقيل خمس عشرة سنة، والأكثر ثلاث عشرة سنة. وكان قدومُ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إلى المدينة في قول ابن إسحاق يوم الاثنين لاثنتي عشرة خلت من ربيع الأول، وقال الكلبي: خرج من الغار أول ربيع الأول، وقدم المدينة لاثنتي عشرة خلت منه يوم الجمعة، واللَّه تعالى أعلم.
ذكر الحوادث بعد الهجرةأخبرنا أبو الفرج بن أبي الرَّجاء الأصبهاني، أخبرنا الأديب أبو الطيب طلحة بن أبي منصور الحسين ابن أبي ذر الصالحاني، أخبرنا جدي أبو ذر محمد بن إبراهيم سبط الصالحاني، أخبرنا أبو الشيخ الحافظ، حدثنا ابن أبي حاتم، حدثنا الفضل بن شاذان، حدثنا محمد بن عمرو زنيج، حدثنا أبو زهير، حدثنا الحجاج بن أبي عثمان الصواف عن أبي الزبير عن جابر قال: غزا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم إحدى وعشرين غزوة بنفسه، شهدت منها تسع عشرة غزوة وغبت عن اثنتين.
أخبرنا عبيد اللَّه بن أحمد بن علي بإسناده، عن يونس عن ابن إسحاق قال: فجميع ما غزا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بنفسه ست وعشرون غزوة.
وأول غزوة غزاها «ودان
(1)» وهي الأبواء؛ قال ابن إسحاق: وكان آخر غزوة غزاها رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم حتى قبضه اللَّه تعالى تبوك، وبالإسناد عن ابن إسحاق قال: وكانت سرايا رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وبعوثه فيما بين أن قدم المدينة إلى أن قبضه اللَّه خمسة وثلاثين من بعث وسرية.
وفي السنة الأولى من الهجرة بعد شهر من مقدمة المدينة، جعلت الصلاة أربع ركعات، وكانت ركعتين.
وفيها صلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الجمعة لما ارتحل من قباء إلى المدينة، صلاها في طريقه في بني سالم وهي أول جمعة صليت، وخطبهم وهي أول خطبة في الإسلام.
وفيها بَنَى رسولُ اللَّه صلى الله عليه وسلم مسجده ومساكنه ومسجده قباء.
وفيها أري عبد اللَّه بن زيد الأذان
(2)، فعلمه بلالا المؤذن.
وفيها آخى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بين المهاجرين والأنصار، بعد ثمانية أشهر.
وفي السنة الثانية كانت غزوة بدر العظمى في شهر رمضان.
--------------------------------------------
মদীনায় হিজরতআনসাররা যখন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট সেই বিষয়ের ওপর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করল যা আমরা ইনশাআল্লাহ বর্ণনা করব, তখন তিনি তাঁর সাহাবীদের নির্দেশ দিলেন এবং তারা মদীনায় হিজরত করলেন। তিনি, আবু বকর এবং আলী মক্কায় থেকে গেলেন। অতঃপর তিনি এবং আবু বকর কুরাইশদের থেকে আত্মগোপন করে বের হলেন এবং সওর পাহাড়ের একটি গুহার দিকে যাত্রা করলেন। সেখানে তাঁরা তিন দিন অবস্থান করলেন, কারো মতে এর চেয়েও বেশি; এরপর তাঁরা মদীনার পথে যাত্রা করলেন। তাঁদের সাথে ছিলেন আবু বকরের মুক্তদাস আমির বিন ফুহাইরা এবং তাঁদের পথপ্রদর্শক ছিলেন আবদুল্লাহ বিন উরাইকিত। মক্কায় তাঁর অবস্থানের সময়কাল ছিল দশ বছর, কারো মতে তেরো বছর, আবার কারো মতে পনেরো বছর; তবে অধিকাংশের মতে তেরো বছর। ইবনে ইসহাকের মতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মদীনায় আগমন ছিল রবিউল আউয়াল মাসের বারো তারিখ সোমবার। কালবী বলেন: তিনি রবিউল আউয়ালের শুরুতে গুহা থেকে বের হন এবং রবিউল আউয়ালের বারো তারিখ শুক্রবার মদীনায় পৌঁছান। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ।
হিজরত পরবর্তী ঘটনাবলীর বর্ণনাআবু আল-ফারাজ বিন আবিল রাজা আল-আসবাহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, সাহিত্যিক আবু তৈয়ব তালহা বিন আবু মনসুর আল-হুসাইন ইবনে আবু যর আল-সালিহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আমার দাদা আবু যর মুহাম্মদ বিন ইব্রাহিম সিবত আল-সালিহানী আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু শেখ আল-হাফিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ইবনে আবি হাতিম আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, ফজল বিন শাযান আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, মুহাম্মদ বিন আমর যানিজ আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, আবু যুহাইর আমাদের সংবাদ দিয়েছেন, হাজ্জাজ বিন আবু উসমান আল-সওয়াফ আবু যুবাইর থেকে, তিনি জাবির থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং একুশটি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন। আমি তার মধ্যে উনিশটিতে উপস্থিত ছিলাম এবং দুটিতে অনুপস্থিত ছিলাম।
উবাইদুল্লাহ বিন আহমদ বিন আলী তাঁর সনদে ইউনুস থেকে, তিনি ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণনা করেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বয়ং সর্বমোট ছাব্বিশটি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তাঁর পরিচালিত প্রথম যুদ্ধ ছিল «ওয়াদ্দান
(১)» যা আল-আবওয়া নামে পরিচিত; ইবনে ইসহাক বলেন: আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিচালিত সর্বশেষ যুদ্ধ ছিল তাবুক, যার পর আল্লাহ তাআলা তাঁর জান কবজ করেন। ইবনে ইসহাক থেকে বর্ণিত সনদে আরও আছে: মদীনায় আগমন থেকে তাঁর ওফাত পর্যন্ত আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রেরিত ছোট অভিযান ও বাহিনীর সংখ্যা ছিল পঁয়ত্রিশটি।
হিজরতের প্রথম বছর মদীনায় আগমনের এক মাস পর, নামায চার রাকাত নির্ধারণ করা হয়, যা পূর্বে দুই রাকাত ছিল।
এই বছরই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুবা থেকে মদীনায় যাওয়ার পথে বনু সালিম গোত্রে জুমার নামায আদায় করেন। এটিই ছিল প্রথম আদায়কৃত জুমার নামায এবং তিনি সেখানে তাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন, যা ইসলামের প্রথম খুতবা।
এই বছরই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর মসজিদ, তাঁর বাসস্থানসমূহ এবং কুবা মসজিদ নির্মাণ করেন।
এই বছরই আবদুল্লাহ বিন জায়েদকে আযান
(২) দেখানো হয়, অতঃপর তিনি তা মুয়াজ্জিন বিলালকে শিখিয়ে দেন।
এই বছরই মদীনায় আগমনের আট মাস পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব বন্ধন স্থাপন করেন।
দ্বিতীয় হিজরীতে রমজান মাসে বদরের মহাযুদ্ধ সংঘটিত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٢٩)
وفيها، في شعبان، فرض صوم رمضان، وأَمر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بزكاة الفطر.
وفيها، في شعبان، أيضاً صرفت القبلة عن البيت المقدس إلى الكعبة، وقيل في رجب.
وفيها فرضت زكاة الفطر قبل العيد بيومين.
وفيها ضحى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بالمدينة، وخرج بالناس إلى المصلى، وذبح بيده شاتين، وقيل شاة، وفي السنة الثالثة كانت غزوة أحد في شوال، وفيها، وقيل سنة أربع، حرمت الخمر في ربيع الأول
وفي سنة أربع صلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم صلاة الخوف في غزوة ذات الرقاع، وقيل: إن فيها قصرت الصلاة.
وفيها رجم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم اليهودي واليهودية والقصة معروفة
(1).
وفيها نزلت آية التيمم
(2).
وفي سنة خمس نزلت آية الحجاب
(3) في ذي القعدة.
وفيها
زلزلت المدينة، فقال رسول اللَّه» صلى الله عليه وسلم: «إن اللَّه عز وجل يستعتبكم فأعتبوه»
(4) وفيها كانت غزوة الخندق.
وفي سنة ست قال أهل الإفك ما قالوا في غزوة بني المصطلق
(5).
وفيها قال عبد اللَّه بن أبي بن سلول رأس المنافقين: «لَئِنْ رَجَعْنا إِلَى الْمَدِينَةِ لَيُخْرِجَنَّ الْأَعَزُّ مِنْهَا الْأَذَلَّ
(6).» وفيها كسفت الشمس، فصلى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم صلاة الكسوف وهي أول ما صليت.
وفيها في ذي القعدة اعتمر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم عمرة الحديبية، وبايع بيعة الرضوان تحت الشجرة.
وفيها قحط الناس
فاستسقى رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فأتاهم المطر ودام، فقال له رجل:
يا رسول اللَّه، انقطعت الطرق وتهدمت المنازل؛ فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم «اللَّهمّ حوالينا ولا علينا» فانقشع السحاب عن المدينة.
وفيها
سابق رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بين الرواحل، فسبق قعود لرجل من العرب القصواء ناقة رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ولم تكن تسبق قبلها، فاشتد ذلك على المسلمين، فقال رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم: «حق على اللَّه أن لا يرفع شيئا من الدنيا إلا وضعه».
وفيها أيضاً سابق بين الخيل، فسبق فرس لأبي بكر فأخذ السبق؛ وهذان أول مسابقة كانت في الإسلام
وفي سنة سبع اعتمر رسول اللَّه عمرة القضاء، قضاء عن عمرة الحديبية، حيث صده المشركون، فاضطبع
(7) فيها رسول اللَّه والمسلمون ورملوا، وهو أول اضطباع ورمل كان في الإسلام.
--------------------------------------------
এবং এতে (অর্থাৎ ২য় হিজরিতে), শাবান মাসে, রমজানের রোজা ফরজ করা হয় এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাদাকাতুল ফিতরের আদেশ দেন।
এবং এতে, শাবান মাসেই, কিবলা বাইতুল মুকাদ্দাস থেকে কাবার দিকে পরিবর্তন করা হয়; কেউ কেউ বলেছেন এটি রজব মাসে হয়েছিল।
এবং এতে ঈদের দুই দিন আগে সাদাকাতুল ফিতর ফরজ করা হয়।
এবং এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় কোরবানি করেন, তিনি লোকদের নিয়ে ঈদগাহে বের হন এবং স্বহস্তে দুটি ভেড়া জবেহ করেন, কেউ কেউ বলেছেন একটি। আর তৃতীয় হিজরির শাওয়াল মাসে ওহুদের যুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং এতেই, কারো মতে চতুর্থ হিজরিতে, রবিউল আউয়াল মাসে মদ হারাম করা হয়।
এবং চতুর্থ হিজরিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাতুর রিকা যুদ্ধে সালাতুল খাউফ (ভয়ের নামাজ) আদায় করেন; কেউ কেউ বলেন এতেই নামাজ কসর করা শুরু হয়েছিল।
এবং এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইহুদি পুরুষ ও ইহুদি নারীকে রজম (পাথর মেরে মৃত্যুদণ্ড) করেন, যার ঘটনা সুবিদিত
(১)।
এবং এতে তায়াম্মুমের আয়াত নাজিল হয়
(২)।
এবং পঞ্চম হিজরির জিলকদ মাসে পর্দার আয়াত নাজিল হয়
(৩)।
এবং এতে
মদিনায় ভূমিকম্প হয়, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: «নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তোমাদের কাছে সন্তুষ্টি কামনা করছেন, অতএব তোমরা তাঁকে সন্তুষ্ট করো»
(৪) আর এতেই খন্দকের যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
এবং ষষ্ঠ হিজরিতে বনু মুস্তালিকের যুদ্ধে অপবাদদানকারীরা যা বলার বলেছিল
(৫)।
এবং এতে মুনাফিকদের সর্দার আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ইবনে সুলুল বলেছিল: «যদি আমরা মদিনায় ফিরে যাই, তবে অবশ্যই সেখান থেকে শক্তিশালীরা হীনদের বহিষ্কার করবে
(৬)।» এবং এতে সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের নামাজ আদায় করেন এবং এটিই প্রথম আদায়কৃত এই নামাজ ছিল।
এবং এতে জিলকদ মাসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হুদায়বিয়ার উমরাহ পালন করেন এবং গাছের নিচে বায়আতুর রিদওয়ান সম্পন্ন করেন।
এবং এতে মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা করেন। ফলে তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং তা চলতেই থাকে। তখন এক ব্যক্তি তাকে বলল:
হে আল্লাহর রাসূল, রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে; তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «হে আল্লাহ, আমাদের চারপাশে বর্ষণ করুন, আমাদের ওপর নয়» এতে মদিনা থেকে মেঘ সরে গেল।
এবং এতে
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাহনগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেন। তখন জনৈক আরবের একটি উট রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উষ্ট্রী কাসওয়ার আগে চলে যায়, যা এর আগে কখনো অন্য কোনো উটের পেছনে থাকেনি। এতে মুসলমানদের কাছে বিষয়টি কঠিন মনে হলো। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: «আল্লাহর ওপর এটি অবধারিত যে, দুনিয়ার কোনো কিছু উঁচুতে উঠলে তিনি তাকে নিচে নামাবেন»।
এবং এতে তিনি ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতাও করেন, তাতে আবু বকরের ঘোড়া প্রথম হয়ে পুরস্কার লাভ করে। এই দুটিই ছিল ইসলামের প্রথম প্রতিযোগিতা।
এবং সপ্তম হিজরিতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উমরাতুল কাজা আদায় করেন, যা ছিল হুদায়বিয়ার উমরার কাজা, যেখানে মুশরিকরা তাঁকে বাধা দিয়েছিল। এতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং মুসলমানগণ ইজতিবা এবং রামল করেন। এটিই ছিল ইসলামের প্রথম ইজতিবা ও রামল।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٣٠)
وفيها كانت غزوة خيبر.
وفيها سم صلى الله عليه وسلم، سمته امرأة اسمها زينب امرأة سلام
(1) بن مشكم، أهدت له شاة مسمومة فأكل منها.
وفيها بعث رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الرسل إلى الملوك: كسرى وقيصر والنجاشي وملك غسان وهوذة بن علي، واتخذ رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم الخاتم وختم به الكتب التي سيرها إلى الملوك.
وفيها حرم رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم لحوم الحمر الأهلية، ومتعة النساء يوم خيبر.
وفي سنة ثمان عمل منبر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فخطب عليه، وكان يخطب إلى جزع فحن الجذع حتى سمع الناس صوته، فنزل إليه فوضع يده عليه فسكن، وهو أول منبر عمل في الإسلام.
وفيها أقاد رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم رجلا من هذيل برجل من بني ليث، وهو أول قود كان في الإسلام.
وفيها فتح رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم مكة، وحصر الطائف، ونصب عليه المنجنيق وهو أول منجنيق نصب في الإسلام.
وفي سنة تسع آلى رسول اللَّه من نسائه، وأقسم أن لا يدخل عليهن شهراً، والقصة مشهورة.
وفيها هدم رسول اللَّه مسجد الضرار بالمدينة، وكان المنافقون بنوه، وكان هدمه بعد عود رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من تبوك.
وفيها قدمت الوفود على رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم من كل النواحي وكانت تسمى سنة الوفود.
وفيها لاعن رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم بين عويمر العجلاني، وبين امرأته في مسجده بعد العصر في شعبان، وكان عويمر قدم من تبوك فوجدها حبلى.
وفيها في شوال مات عبد اللَّه بن أبي بن سلول المنافق، فصلى عليه رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم ولم يصل بعدها على منافق، لأن اللَّه أنزل «{وَلا تُصَلِّ عَلى أَحَدٍ مِنْهُمْ ماتَ أَبَداً}
(2)».
وفيها أمر رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم أبا بكر على الحج، فحج بالناس، وأمر علي بن أبي طالب أن يقرأ سورة براءة على المشركين وينبذ إليهم عهدهم، وأن لا يحج بعد العام مشرك، ولا يطوف بالبيت عريان، وهي آخر حجة حجها المشركون.
وفي سنة عشر نزلت {يا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِيَسْتَأْذِنْكُمُ الَّذِينَ مَلَكَتْ أَيْمانُكُمْ وَالَّذِينَ لَمْ يَبْلُغُوا الْحُلُمَ مِنْكُمْ ثَلاثَ مَرَّاتٍ}
(3) وكانوا لا يفعلونه قبل ذلك.
وفيها حج رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم حجة الوداع، وقيل: إنه اعتمر معها، ولم يحج رسول اللَّه بعد الهجرة غيرها.
--------------------------------------------
এবং এই বছরেই খায়বারের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
এবং এই বছরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল; জয়নব নামের এক নারী, যে সাল্লাম
(১) বিন মিশকামের স্ত্রী ছিল, সে তাঁকে বিষমিশ্রিত একটি বকরি উপহার দিয়েছিল এবং তিনি তা থেকে আহার করেছিলেন।
এবং এই বছরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন রাজাদের নিকট দূত প্রেরণ করেন: কিসরা, কায়সার, নাজাশী এবং গাসসানের রাজা ও হাওজাহ বিন আলীর নিকট। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি মোহর (আংটি) তৈরি করেছিলেন এবং রাজাদের নিকট প্রেরিত পত্রগুলোতে তা দ্বারা মোহরাঙ্কিত করেছিলেন।
এবং এই বছরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারের যুদ্ধের দিন গৃহপালিত গাধার গোশত এবং নারীদের সাথে মুতআ বিবাহ নিষিদ্ধ করেন।
এবং অষ্টম হিজরীতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মিম্বর তৈরি করা হয়েছিল এবং তিনি তার ওপর দাঁড়িয়ে খুতবা দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি একটি খর্জুর কাণ্ডের ওপর ভর দিয়ে খুতবা দিতেন; ফলে (মিম্বর তৈরির পর) সেই কাণ্ডটি বিরহ ব্যথায় এমনভাবে ক্রন্দন করেছিল যে লোকজন তার শব্দ শুনতে পাচ্ছিল। তখন তিনি মিম্বর থেকে নেমে তার ওপর নিজের হাত রাখলেন, ফলে সেটি শান্ত হলো। এটিই ছিল ইসলামের ইতিহাসে নির্মিত প্রথম মিম্বর।
এবং এই বছরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বনী লাইস গোত্রের এক ব্যক্তির হত্যার বিনিময়ে হুযাইল গোত্রের এক ব্যক্তির নিকট থেকে কিসাস (মৃত্যুদণ্ড) কার্যকর করেন; এটিই ছিল ইসলামের ইতিহাসে প্রথম কিসাস।
এবং এই বছরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কা বিজয় করেন এবং তায়েফ অবরোধ করেন। তিনি সেখানে মিনজানিক (পাথর নিক্ষেপক যন্ত্র) স্থাপন করেছিলেন, যা ইসলামের ইতিহাসে প্রথম মিনজানিক স্থাপন।
এবং নবম হিজরীতে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রীদের সাথে ইলা (দূরত্ব বজায় রাখার শপথ) করেছিলেন এবং কসম করেছিলেন যে এক মাস তাঁদের নিকট প্রবেশ করবেন না; এই ঘটনাটি অত্যন্ত প্রসিদ্ধ।
এবং এই বছরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদিনায় মসজিদ-ই-যিরার ধ্বংস করেন, যা মুনাফিকরা নির্মাণ করেছিল। তাবুক যুদ্ধ থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসার পর এটি ধ্বংস করা হয়েছিল।
এবং এই বছরেই সবদিক থেকে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট প্রতিনিধি দলসমূহ আসতে শুরু করে, যে কারণে এই বছরকে প্রতিনিধি দলের বছর (আমুল উফুদ) বলা হয়।
এবং এই বছরেই শাবান মাসে আসরের নামাজের পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজের মসজিদে উওয়াইমির আল-আজলানি ও তার স্ত্রীর মধ্যে লিয়ান করান; উওয়াইমির তাবুক থেকে ফিরে এসে তার স্ত্রীকে গর্ভবতী দেখতে পেয়েছিলেন।
এবং এই বছরের শাওয়াল মাসে মুনাফিক আব্দুল্লাহ বিন উবাই বিন সালুল মৃত্যুবরণ করে। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযার সালাত আদায় করেছিলেন, কিন্তু এরপর তিনি আর কখনো কোনো মুনাফিকের জানাযা পড়েননি; কারণ আল্লাহ তাআলা নাজিল করেছিলেন: "{আর তাদের মধ্যে কেউ মারা গেলে কখনো তার জন্য জানাযার সালাত পড়বেন না}
(২)"।
এবং এই বছরেই আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকরকে হজ্জের আমীর নিযুক্ত করেন, ফলে তিনি লোকদের নিয়ে হজ্জ সম্পাদন করেন। তিনি আলী বিন আবু তালিবকে নির্দেশ দেন যেন তিনি মুশরিকদের সামনে সুরা বারাত (তওবা) পাঠ করে শোনান এবং তাদের সাথে করা চুক্তিগুলো বাতিল ঘোষণা করেন; আর এই মর্মে ঘোষণা দেন যে, এই বছরের পর আর কোনো মুশরিক হজ্জ করতে পারবে না এবং কোনো নগ্ন ব্যক্তি কাবা তওয়াফ করতে পারবে না। এটিই ছিল মুশরিকদের হজ্জ করার শেষ বছর।
এবং দশম হিজরীতে এই আয়াতটি নাজিল হয়: "{হে মুমিনগণ! তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীরা এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি, তারা যেন তিন সময়ে তোমাদের কাছে অনুমতি গ্রহণ করে}
(৩)"। এর আগে তারা এটি পালন করত না।
এবং এই বছরে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিদায় হজ্জ সম্পাদন করেন; কেউ কেউ বলেন যে তিনি হজ্জের সাথে ওমরাহও করেছিলেন। হিজরতের পর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই একটি হজ্জই করেছিলেন।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ١)
আসাদুল গাবাহ ফী মারিফাতিস সাহাবাহ - তাবাহ আশ-শাআব
(পৃষ্ঠা: ٣١)
ذكر صفته وشيء من أخلاقه صلى الله عليه وسلمأخبرنا الحسين بن توحن بن أبوية بن النعمان الباورى، وأحمد بن عثمان بن أبي علي، قالا: أخبرنا أبو الفضل محمد بن عبد الواحد بن محمد النيلي الأصفهاني، أخبرنا أبو القاسم أحمد بن منصور الخليلي البلخي، أخبرنا أبو القاسم علي بن أحمد بن محمد الخزاعي، أخبرنا أبو سعيد الهيثم بن كليب الشاشي، حدثنا محمد بن عيسى بن سورة الترمذي، حدثنا سفيان بن وكيع، حدثنا جُمَيع بن عمر بن عبد الرحمن العجلي، حدثني رجل من وفد أبي هالة زوج خديجة، يكنى: أبا عبد اللَّه، عن ابن أبي هالة، عن الحسن بن علي رضي الله عنهما قال:
سألت خالي هند بن أبي هالة، وكان وصافاً، عن حلية رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم وأنا أشتهي أن يصف لي منها شيئاً أتعلق به، فقال:
كان رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم فخماً
(1) مفخَّماً، يتلألأُ وجهه تَلألُؤَ القمر ليلة البدر، أطول من المربوع وأقصر من المُشَذَّب، عظيمَ الهامة، رَجِل الشَّعر، إن انفرقت عقيصته فرق، وإلا فلا يجاوز شعره شحمة أُذنيه إذا هو وَفَّرَه، أزهرَ اللون، واسعَ الجبين، أزجَّ الحَواجب سَوَابِغَ في غير قَرَن، بينهما عِرْق يُدِرّه الغضب أقنى العِرْنين، له نورٌ يعلوه، يحسبه من لم يتأَمَّله أشمّ، كث اللِّحية، سهل الخدين، ضَلِيع الفم، مفلَّج الأسنان، دقيق المسربة، كأن عنقه جيدُ دُمية في صفاء الفضة، معتدل الخلق، بادن متماسك، سَواء البطن والصدر، بعيد ما بين المنكبين، ضخم الكراديس، أنور المتجرَّد، موصول ما بين السُّرَّة واللَّبّة بشعر يجري كالخط، عاري الثديين والبطن مما سوى ذلك، أشعر الذراعين والمنكبين وأعالي الصدر، رحب الراحة، شثن الكفين والقدمين، سائل الأطراف، أو سائن الأطراف، خُمْصان، الأخمصين مسيح القدمين ينبو عنهما الماء إذا زال زال قلعاً يخطو تكفياً، ويمشي هوناً ذَرِيع المِشية، إذا مشى كأنما ينحط من صَبَب، وإذا التفت التفت جميعاً، خافض الطرف، نظرُه إلى الأرض أطولُ من نظره إلى السماء، جل نَظَره الملاحظة يسوق أصحابه، يبدر من لقي بالسلام.
قال: وحدثنا محمد بن عيسى، أحمد بن عبدة الضبي، وعلي بن حجر، وأبو جعفر محمد بن الحسين وهو ابن أبي حليمة، المعنى واحد، قالوا حدثنا عيسى بن يونس، عن عمر بن عبد اللَّه مولى غفرة، حدثنا إبراهيم بن محمد من ولد علي بن أبي طالب قال:
كان علي رضي الله عنه إذا وصف رسول اللَّه صلى الله عليه وسلم قال: لم يكن بالطويل الممغط ولا بالقصير المتردد، كان ربعة من القوم، لم يكن بالجعد القطط ولا بالسبط، كان جعداً رجلاً، ولم يكن بالمطهم ولا بالمكلثم كان في وجهه تدوير أبيض مشرب، أدعج العينين أهدب الأشفار، جليل المشاش والكتد، أجرد ذو مسربة، شثن الكفين والقدمين، إذا مشى تقلع كأنما ينحط من صبب، إذا التفت التفت معاً، بين كتفيه خاتم النبوة، وهو خاتم النبيين، أجرأ الناس صدراً وأصدق الناس لهجة، وألينهم عريكة، وأكرمهم عشرة، من رآه بديهة هابه، ومن خالطه معرفة أحبه، يقول ناعته: لم أر قبله ولا بعده مثله صلى الله عليه وسلم.
--------------------------------------------
তাঁর শারীরিক বৈশিষ্ট্য এবং তাঁর চরিত্রের কিছু দিক বর্ণনা (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আল-হুসাইন বিন তাওহান বিন আবুয়্যাহ বিন আল-নুমান আল-বাওয়ারি এবং আহমদ বিন উসমান বিন আবি আলী; তাঁরা বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল ফজল মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহিদ বিন মুহাম্মদ আল-নাইলী আল-আসফাহানি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আহমদ বিন মনসুর আল-খলিলি আল-বালখি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবুল কাসিম আলী বিন আহমদ বিন মুহাম্মদ আল-খুজায়ি, তিনি বলেন: আমাদের সংবাদ দিয়েছেন আবু সাঈদ আল-হাইসাম বিন কুলাইব আল-শাশি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ঈসা বিন সাওরা আল-তিরমিজি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন সুফিয়ান বিন ওয়াকি, তিনি বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন জুমাই বিন উমর বিন আব্দুল রহমান আল-ইজলি, তিনি বলেন: আমার নিকট বর্ণনা করেছেন আবু হালা-এর (খাদিজা রা.-এর স্বামী) গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, যার উপনাম ছিল আবু আব্দুল্লাহ, তিনি ইবনে আবু হালা থেকে, তিনি হাসান ইবনে আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবি হালাকে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর শারীরিক অবয়ব ও রূপসৌষ্ঠব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম—তিনি মানুষের রূপের অত্যন্ত চমৎকার বর্ণনা দিতেন। আমার প্রবল আকাঙ্ক্ষা ছিল যে তিনি আমার কাছে তাঁর কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করবেন, যা আমি আঁকড়ে ধরতে পারি। তখন তিনি বললেন:
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বয়ং অত্যন্ত মহিমান্বিত এবং অন্যের দৃষ্টিতে অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন। তাঁর চেহারা মোবারক পূর্ণিমার চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল ও জ্যোতির্ময় ছিল। তিনি মাঝারি গড়নের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ এবং কৃশকায় দীর্ঘ ব্যক্তির চেয়ে কিছুটা খাটো ছিলেন। তাঁর মাথা মোবারক বড় ছিল, চুল ছিল সামান্য কোঁকড়ানো। যদি তাঁর চুলের সিঁথি নিজে থেকে আলাদা হয়ে যেত তবে তিনি তা আলাদা রাখতেন, অন্যথায় (তা নিজে থেকে না হলে) তিনি সিঁথি করতেন না। যখন তিনি তাঁর চুল পর্যাপ্ত রাখতেন, তখন তা কানের লতি অতিক্রম করত না। তাঁর গায়ের রঙ ছিল উজ্জ্বল শ্বেত-রক্তিম, কপাল ছিল প্রশস্ত। তাঁর ভ্রুদ্বয় ছিল সরু, দীর্ঘ ও ঘন, যা পরস্পরের সাথে মিলিত ছিল না। ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে একটি রগ ছিল যা রাগের সময় ফুলে উঠত। তাঁর নাক ছিল দীর্ঘ ও উন্নত, নাকের উপর একটি নূর বা আভা চমকাত, যা কোনো গভীর পর্যবেক্ষক ছাড়া সাধারণ কেউ দেখলে মনে করত তাঁর নাকটি বুঝি উঁচু। তাঁর দাড়ি ছিল ঘন, গাল ছিল কোমল ও সমতল। তাঁর মুখগহ্বর ছিল প্রশস্ত, দাঁতগুলো ছিল সুবিন্যস্ত ও উজ্জ্বল। বুকের উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি চিকন রেখা ছিল। তাঁর ঘাড় মোবারক ছিল রূপার শুভ্রতা মিশ্রিত কোনো প্রতিমার গ্রীবার ন্যায় সুন্দর। শরীরের গঠন ছিল সুষম, সুগঠিত ও মাংসল। পেট ও বুক ছিল সমান। দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। হাড়ের জোড়াগুলো ছিল বড় ও মজবুত। শরীরের যে অংশ অনাবৃত থাকত তা উজ্জ্বল দেখাত। বুকের উপরিভাগ থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা প্রবহমান ছিল। স্তনযুগল ও পেট এই পশম রেখা ছাড়া অন্য পশমমুক্ত ছিল। তাঁর দুই হাত, কাঁধ এবং বুকের উপরিভাগে পশম ছিল। হাতের তালু ছিল প্রশস্ত, হাত ও পায়ের পাতা ছিল সুপুষ্ট। হাত ও পায়ের আঙ্গুলগুলো ছিল লম্বা। পায়ের তলার মধ্যভাগ ছিল কিছুটা শূন্য (মাটি স্পর্শ করত না), পায়ের উপরিভাগ ছিল মসৃণ, যার ওপর পানি পড়লে গড়িয়ে পড়ে যেত। যখন তিনি হাঁটতেন, তখন অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে কদম রাখতেন এবং সামনের দিকে ঝুঁকে দ্রুত হাঁটতেন। তাঁর হাঁটা ছিল সহজ ও সাবলীল। যখন তিনি হাঁটতেন তখন মনে হতো যেন তিনি কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কারও দিকে তাকাতেন, তখন পুরো শরীর ঘুরিয়ে তাকাতেন। তাঁর দৃষ্টি ছিল অবনত, আকাশের চেয়ে জমিনের দিকেই তাঁর দৃষ্টি দীর্ঘ হতো। তাঁর অধিকাংশ দৃষ্টি ছিল পর্যবেক্ষণমূলক। তিনি তাঁর সাহাবীদের আগে আগে চলতেন এবং যার সাথেই দেখা হতো তাকেই আগে সালাম দিতেন।
বর্ণনাকারী বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ বিন ঈসা, আহমদ বিন আবদাহ আল-দাব্বি, আলী বিন হুজর এবং আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আল-হুসাইন (যিনি ইবনে আবি হালিমা নামে পরিচিত); তাঁদের সকলের বর্ণিত অর্থের সারমর্ম এক। তাঁরা বলেন: আমাদের নিকট বর্ণনা করেছেন ঈসা বিন ইউনুস, উমর বিন আব্দুল্লাহ (গাফরার মুক্তদাস) থেকে, তিনি ইব্রাহিম বিন মুহাম্মদ (যিনি আলী বিন আবি তালিবের বংশধর) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন:
আলী (রাদিয়াল্লাহু আনহু) যখনই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর বর্ণনা দিতেন, তখন বলতেন: তিনি অত্যধিক দীর্ঘকায় বা একেবারে বেঁটে ছিলেন না। তিনি ছিলেন লোকদের মাঝে মাঝারি গড়নের। তাঁর চুল খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না আবার একেবারে সোজাও ছিল না, বরং তা ছিল সামান্য ঢেউ খেলানো। তিনি অত্যধিক স্থূলদেহী ছিলেন না এবং তাঁর মুখমণ্ডল একেবারে গোল ছিল না, তবে তাতে কিছুটা গোলাকৃতি ছিল। তাঁর গায়ের রঙ ছিল শ্বেত-রক্তিম। তাঁর চোখ দুটি ছিল ঘোর কৃষ্ণবর্ণ, চোখের পাপড়ি ছিল দীর্ঘ। হাড়ের জোড়া ও কাঁধের হাড় ছিল মজবুত ও বড়। তাঁর শরীর ছিল পশমমুক্ত (অপ্রয়োজনীয় স্থানে), তবে বুক থেকে নাভি পর্যন্ত চিকন পশমের রেখা ছিল। তাঁর হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল সুপুষ্ট। যখন তিনি হাঁটতেন, তখন তেজোদীপ্তভাবে কদম ফেলতেন, যেন তিনি কোনো ঢালু জায়গা দিয়ে নিচের দিকে নামছেন। যখন তিনি কারো দিকে ফিরে তাকাতেন, তখন পূর্ণভাবে ফিরতেন। তাঁর দুই কাঁধের মাঝখানে নবুওয়াতের মোহর ছিল এবং তিনি ছিলেন সর্বশেষ নবী। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে সর্বাধিক সাহসী হৃদয়ের অধিকারী, সর্বাধিক সত্যবাদী, স্বভাবের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল এবং মেলামেশার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সম্মানজনক আচরণের অধিকারী। যে ব্যক্তি তাঁকে হঠাৎ দেখত সে তাঁকে ভয় মিশ্রিত শ্রদ্ধা করত, আর যে ব্যক্তি তাঁকে চিনে তাঁর সাথে মিশত সে তাঁকে ভালোবেসে ফেলত। তাঁর গুণাবলী বর্ণনাকারী এই কথা বলতে বাধ্য হন যে: "আমি তাঁর আগে কিংবা পরে তাঁর মতো আর কাউকে দেখিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)।"
--------------------------------------------