(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: -)
التبيان في قواعد النحو وتقويم اللسان   (عبد الفتاح مصيلحي)

القسم: النحو والصرف


الكتاب: التبيان في قواعد النحو وتقويم اللسان

المؤلف: عبد الفتاح بن محمد مصيلحي

الناشر: دار اللؤلؤة - المنصورة، مصر

الطبعة: الأولى، 1444 هـ - 2023 م

عدد الصفحات: 198

[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]

تاريخ النشر بالشاملة: 4 صفر 1446

আত-তিবিয়ান ফি কাওয়ায়িদিন নাহবি ওয়া তাকউইমিল লিসান (নাহুর নিয়মাবলি এবং ভাষার পরিশুদ্ধি বিষয়ক সুস্পষ্ট বর্ণনা)   (আব্দুল ফাত্তাহ মুসাইলহি)

বিভাগ: নাহু ও সারফ


বই: আত-তিবিয়ান ফি কাওয়ায়িদিন নাহবি ওয়া তাকউইমিল লিসান

লেখক: আব্দুল ফাত্তাহ ইবনে মুহাম্মদ মুসাইলহি

প্রকাশক: দারুল লুলুয়াহ - মানসুরা، মিশর

সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪৪ হিজরি - ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

পৃষ্ঠা সংখ্যা: ১৯৮

[বইয়ের পৃষ্ঠা নম্বর মূল মুদ্রিত কপির অনুরূপ]

শামিলা লাইব্রেরিতে প্রকাশের তারিখ: ৪ সফর ১৪৪৬

(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৫)
‌‌مقدمة المؤلف

الحمد لله رب العالمين، والصلاة والسلام على المبعوث رحمة للعالمين، وأشهد أن لا إله إلا الله وحده لا شريك له، وأشهد أن محمدًا عبده ورسوله صلى الله عليه وعلى آله وصحبه.

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ حَقَّ تُقَاتِهِ وَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنْتُمْ مُسْلِمُونَ (102)}(1).

{يَاأَيُّهَا النَّاسُ اتَّقُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَخَلَقَ مِنْهَا زَوْجَهَا وَبَثَّ مِنْهُمَا رِجَالًا كَثِيرًا وَنِسَاءً وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلَيْكُمْ رَقِيبًا (1)}(2).

{يَاأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَقُولُوا قَوْلًا سَدِيدًا (70) يُصْلِحْ لَكُمْ أَعْمَالَكُمْ وَيَغْفِرْ لَكُمْ ذُنُوبَكُمْ وَمَنْ يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ فَازَ فَوْزًا عَظِيمًا (71)}(3).

أما بعد: فإنَّ أصدق الحديث كتاب الله، وخير الهدى هدى محمد صلى الله عليه وسلم، وشر الأمور محدثاتها، وكل محدثة بدعة، وكل بدعة ضلالة، وكل ضلالة فى النار.

وبعد:

فإنَّ علوم اللغة العربية وخاصة علم النحو من الأهمية بمكان، حيث إنها تراث الأمة ولغتها، بل ولغة القرآن الكريم والسنة المطهرة، وعليه فإنه لا يتم فهم كلام الله ونبيه صلى الله عليه وسلم على الوجه الأكمل إلا بتعلم اللغة العربية وعلومها، فدل ذلك على أنها من الأمور الواجبة التى لا يتم الواجب إلا بها.

وصدق الشافعى حيث قال: يجب على كل مسلم أن يتعلم من لسان العرب ما يبلغه جهده فى أداء فرضه(4).

وإنَّ هذه اللغة العظيمة وقع الإهمال فيها من الكثير، وعدم الشعور بأهميتها مع

--------------------------------------------

(1) سورة آل عمران الآية 102.

(2) سورة النساء: الآية 1.

(3) سورة الأحزاب الآية 70، 71.

(4) البحر المحيط ج 6 ص 202.
লেখকের ভূমিকা

সকল প্রশংসা বিশ্বজগতের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য, আর রহমত হিসেবে প্রেরিত (রাসূলের) ওপর দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো সত্য ইলাহ নেই, তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল। আল্লাহ তাঁর ওপর এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সাহাবীবর্গের ওপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন।

{হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে যথাযথভাবে ভয় করো এবং মুসলিম না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না। (১০২)}(১)।

{হে মানবকুল! তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো, যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকে তার জোড়া সৃষ্টি করেছেন, আর তাঁদের উভয় থেকে বহু নর-নারী ছড়িয়ে দিয়েছেন। আর আল্লাহকে ভয় করো যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচনা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা থেকে সতর্ক থাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রাখেন। (১)}(২)।

{হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সঠিক কথা বলো (৭০)। তিনি তোমাদের আমলসমূহ সংশোধন করে দেবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে অবশ্যই এক মহা সাফল্য অর্জন করল (৭১)}(৩)।

অতঃপর: নিশ্চয়ই সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব, আর সর্বোত্তম পথনির্দেশ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথনির্দেশ। আর নিকৃষ্টতম বিষয় হলো (দ্বীনের মধ্যে) নবউদ্ভাবিত বিষয়সমূহ, আর প্রতিটি নবউদ্ভাবিত বিষয়ই বিদআত, আর প্রতিটি বিদআতই ভ্রষ্টতা, আর প্রতিটি ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।

আর এরপর:

নিশ্চয়ই আরবি ভাষার জ্ঞান, বিশেষ করে নাহু (ব্যাকরণ) শাস্ত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি এই উম্মতের ঐতিহ্য ও ভাষা, বরং এটি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর ভাষা। সে অনুযায়ী, আরবি ভাষা ও এর জ্ঞান অর্জন ব্যতীত আল্লাহর কালাম ও তাঁর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বাণী যথাযথভাবে অনুধাবন করা সম্ভব নয়। ফলে এটি প্রমাণিত হয় যে, এটি সেই সকল আবশ্যকীয় বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত যা ব্যতীত অন্য কোনো আবশ্যকতা (ওয়াজিব) পূর্ণ হয় না।

ইমাম শাফেয়ী সত্যই বলেছেন: "প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তার সাধ্য অনুযায়ী আরবের ভাষা শেখা ওয়াজিব, যাতে সে তার ফরজসমূহ পালন করতে পারে।"(৪)।

এই মহান ভাষাটি অনেকের পক্ষ থেকেই অবহেলার শিকার হয়েছে এবং এর গুরুত্ব অনুধাবনের অভাব দেখা দিয়েছে...

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ইমরান আয়াত ১০২।

(২) সূরা আন-নিসা: আয়াত ১।

(৩) সূরা আল-অহযাব আয়াত ৭০, ৭১।

(৪) আল-বাহরুল মুহিত, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০২।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৬)
عظم مكانتها وعلو قدرها، مما يجعل الأمانة ثقيلة، ومع ثقل الأمانة فإنه يجب على حامليها أن يؤدوها على قدرطاقتهم، بعدطلب العون من الله ثم النظرإلى قدر هذاالتراث الذى حفظه أجدادنا وقادوا به العالم دينًا ودنيا، حتى كانت اللغة العربية يومًا هى لغة العلم، ولذا كان يقال: من أراد أن يتعلم العلم فليتعلم اللغة العربية لأنها لغة العلم.

لذا كان لزامًا علينا أن نعود إلى هذا التراث الذاخر، نبحث فى أصوله ونقف على أركانه، لعلنا نصل بذلك إلى فهم كتاب ربنا وسنة نبينا صلى الله عليه وسلم على الوجه الأكمل، ونزيل عجمة الألسنة التى دامت طويلًا إن شاء الله تعالى.

وإسهامًا فى هذاالعمل، ومعذرة إلى الله، وفرارًا من التقصير فى إخراج هذا التراث وبيانه للناس كان الجمع لهذه الوريقات التى هى قليلة الحجم كثيرة الفائدة إن شاء الله تعالى، سميتها (التبيان فى قواعد النحو وتقويم اللسان) أسأل الله أن ينفع بها وأن يحفظنا من الزلل.

 

‌‌الخطوات التى اتبعتها فى هذا الكتاب:

1 - حاولت فى هذا الكتاب وضع التأصيل لهذا العلم الهام وإن لم أتناول كل تفريعاته.

2 - حاولت ربط علم اللغة بعلوم الشريعة والكتاب والسنة محاولًا جعل المرجعية فى الدليل وإن كان فى علوم اللغة، لذا حاولت قدر الاستطاعة جعل الأمثلة من الكتاب والسنة ثم كلام العرب.

3 - حاولتُ تسهيل العبارة وكثرة الأمثلة محاولًا بذلك إزالة الحاجز الذى بين كثير من طلبة العلم وهذا العلم الهام.

4 - قمتُ بإعراب أكثر الأمثلة حتى يتسنى لطالب العلم التطبيق العملى لِمَا درسه نظريًّا، وأيضًا يساعده على مراجعة وتذكر المعلومات السابقة دائمًا.

5 - التزمتُ فى الإعراب فى أكثر الأحوال محل الشاهد فقط لعدم الإطالة.

6 - رتبتُ العلم ترتيبًا مرضيًا إن شاء الله تعالى قصدتُ به مساعدة طالب العلم فى
এর সুউচ্চ মর্যাদা এবং সুমহান গুরুত্ব একে এক ভারী আমানতে পরিণত করেছে। আমানত ভারী হওয়া সত্ত্বেও এর বাহকদের উচিত তাদের সাধ্যমতো তা আদায় করা; আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার পর আমাদের পূর্বপুরুষদের সংরক্ষিত এই ঐতিহ্যের গুরুত্বের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, যার মাধ্যমে তারা দ্বীন ও দুনিয়া উভয় ক্ষেত্রেই বিশ্বকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এমনকি একদা আরবি ভাষাই ছিল জ্ঞানের ভাষা। এজন্য বলা হতো: যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জন করতে চায়, সে যেন আরবি ভাষা শেখে, কারণ এটিই হলো জ্ঞানের ভাষা।

তাই আমাদের জন্য এই সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের দিকে ফিরে যাওয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে, যাতে আমরা এর মূলনীতিগুলো নিয়ে গবেষণা করতে পারি এবং এর রুকন বা ভিত্তিগুলোর ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারি। এর মাধ্যমে সম্ভবত আমরা আমাদের রবের কিতাব এবং আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে সক্ষম হব এবং আল্লাহ তাআলা চাহেন তো দীর্ঘকাল ধরে জিহ্বায় জেঁকে বসা অনারবীয় জড়তা দূর করতে পারব।

এই কাজে অবদান রাখা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং এই ঐতিহ্য প্রকাশ ও মানুষের কাছে তা ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ত্রুটি থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যেই এই ক্ষুদ্র পুস্তিকাটি সংকলন করা হয়েছে, যা পরিমাণে কম হলেও ইনশাআল্লাহ অত্যন্ত উপকারী হবে। আমি এর নাম দিয়েছি 'আত-তিবইয়ান ফি কাওয়ায়িদুন নাহবি ওয়া তাকভীমুল লিসান' (ব্যাকরণের নিয়মাবলি এবং জিহ্বা সংশোধনের সুস্পষ্ট বর্ণনা)। আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি তিনি যেন এর মাধ্যমে উপকার দান করেন এবং আমাদেরকে পদস্খলন থেকে রক্ষা করেন।

 

‌‌এই বইটিতে আমি যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করেছি:

১ - আমি এই বইটিতে এই গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানের মৌলিক ভিত্তি স্থাপনের চেষ্টা করেছি, যদিও আমি এর সমস্ত শাখা-প্রশাখা নিয়ে আলোচনা করিনি।

২ - আমি ভাষা বিজ্ঞানকে শরিয়ত, কিতাব ও সুন্নাহর সাথে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করেছি এবং দলিলের ক্ষেত্রে এগুলোকেই মূল রেফারেন্স হিসেবে রাখার চেষ্টা করেছি, যদিও বিষয়টি ভাষাবিজ্ঞানের। তাই আমি সাধ্যমতো উদাহরণগুলো কুরআন, সুন্নাহ এবং এরপর আরবদের কথা থেকে গ্রহণ করার চেষ্টা করেছি।

৩ - আমি সহজ বর্ণনা এবং প্রচুর উদাহরণের মাধ্যমে অনেক তালিবে ইলম বা শিক্ষার্থী এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানের মাঝখানে থাকা অন্তরায় দূর করার চেষ্টা করেছি।

৪ - আমি অধিকাংশ উদাহরণের ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব) করে দিয়েছি যাতে শিক্ষার্থীরা তাদের তাত্ত্বিকভাবে শেখা বিষয়গুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগ করতে পারে এবং এটি তাদের পূর্ববর্তী তথ্যগুলো সর্বদা পুনরাবৃত্তি ও স্মরণে রাখতে সাহায্য করবে।

৫ - আলোচনা দীর্ঘ না করার জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রে আমি শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় অংশের (মাহাল্লুশ শাহিদ) ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ উল্লেখ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থেকেছি।

৬ - ইনশাআল্লাহ, আমি জ্ঞানটিকে একটি সন্তোষজনক বিন্যাসে সাজিয়েছি, যার উদ্দেশ্য হলো তালিবে ইলমদের সাহায্য করা...
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৭)
تصور العلم جملة، ثم تفصيلًا؛ فإن معرفة الشئ فرع عن تصوره.

7 - أتبعتُ كل مبحث بأسئلة نظرية تمكن من مراجعة ما سبق ومعرفة أوجه القصور.

8 - أتبعتُ الكتاب بامتحان نهائى لتختبر قدر تحصيلك الإجمالى والنهائى.

9 - ختمتُ الكتاب ببعض التدريبات العملية التى هى غاية من ضمن غايات تعلم هذا العلم المبارك.

وأسأل الله أن يجعل كل عملنا صوابًا على السنة، وأن يجعله خالصًا لوجهه، وأن يوفقنا لما يحب ويرضى، وأسأله تعالى أن ينفع به، وأن يكتب له القبول، والله الهادى والموفق إلى صراطه المستقيم.

 

الفقير إلى عفو ربه

أبو سلسبيل

عبد الفتاح بن محمد مصيلحي

انتهيتُ منه بفضل الله وتوفيقه

 

يوم الجمعة

6 ذوالحجة 1434 هـ

الموافق 11/ 10/ 2013 م
ইলমের সামগ্রিক ধারণা লাভ করা, অতঃপর বিস্তারিত; কেননা কোনো বিষয় সম্পর্কে জানা ওই বিষয়ের ধারণারই একটি শাখা।

৭ - আমি প্রতিটি আলোচনার শেষে তাত্ত্বিক প্রশ্নাবলি যুক্ত করেছি, যা পূর্বের বিষয়গুলো পুনরালোচনা করতে এবং সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম করবে।

৮ - আপনার সামগ্রিক ও চূড়ান্ত অর্জনের মাত্রা পরীক্ষা করার জন্য আমি বইটির শেষে একটি চূড়ান্ত পরীক্ষা যুক্ত করেছি।

৯ - আমি বইটি কিছু ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে সমাপ্ত করেছি, যা এই বরকতময় ইলম শেখার উদ্দেশ্যসমূহের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য।

আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি যেন তিনি আমাদের সকল কাজ সুন্নাহ অনুযায়ী সঠিক করে দেন, সেগুলোকে কেবল তাঁর সন্তুষ্টির জন্য একনিষ্ঠ করেন, এবং যা তিনি পছন্দ করেন ও যাতে তিনি সন্তুষ্ট হন তা করার তাওফিক দান করেন। আমি মহান আল্লাহর কাছে আবেদন করি যেন এর দ্বারা তিনি উপকার দান করেন এবং একে কবুলিয়াত দান করেন; আর আল্লাহই হেদায়েতদানকারী এবং তাঁর সরল পথের তাওফিকদাতা।

 

তাঁর রবের ক্ষমার মুখাপেক্ষী

আবু সালসাবিল

আবদুল ফাত্তাহ বিন মুহাম্মাদ মুসাইলহি

আল্লাহর অনুগ্রহ ও তাওফিকে এর কাজ শেষ হলো

 

জুমুয়াবার

৬ই জিলহজ, ১৪৩৪ হিজরি

মোতাবেক ১১/ ১০/ ২০১৩ খ্রিস্টাব্দ
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৮)
‌‌مبادئ علم النحو

يقول الصبان:

إنَّ مبادئ كل فن عشرة … الحد والموضوع ثم الثمرة

وفضله ونسبة والواضع … والاسم الاستمداد حكم الشارع

فمسائلُ والبعض بالبعض اكتفى … ومن درى الجميع حاز الشرفا

 

‌‌أولًا: الحد:

حد النحو لغة: يطلق على معان منها:

1 - المقدار: مثال: كان قيام النبى صلى الله عليه وسلم نحوا من سورة البقرة: أى بمقدار سورة البقرة.

2 - المِثْل أو الشبيه: مثل « ................. جبرال علاه السلام نحو من دحاةَ الكلبى ............ »(1) يعنى: شبيهًا به إذا جاء فى سورة رجل.

3 - الجهة: مثل (سرتُ نحو المسجدِ) أى فى اتجاه المسجد.

اصطلاحًا: هوالعلم بالقواعد التى يعرف بها أحوال أواخر الكلمات حال تركيبها من إعراب وبناء ونحو ذلك.

العلم بالقواعد التى يعرف بها أحوال أواخر الكلمات:

علم النحو يبحث فى أواخرالكلمة، بخلاف علم الصرف الذي يبحث فى بنية الكلمة.

مثال: (أكرمَ محمدٌ عليًّا).

فالذى قام بالإكرام هو محمد والذى وقع عليه الإكرام علىٌّ.

وإن قلت: (أكرمَ محمدًا علىٌّ) فالذى قام بالإكرام هو على والذى وقع عليه الإكرام محمدٌ.

--------------------------------------------

(1) عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال «كان جبريل يأتى النبى صلى الله عليه وسلم فى صورة دحية الكلبى» صححه الألبانى فى السلسلة الصحيحة.
‌নাহু শাস্ত্রের মূলনীতিসমূহ

আস-সাব্বান বলেন:

নিশ্চয়ই প্রতিটি শাস্ত্রের মূলনীতি হলো দশটি … সংজ্ঞা, আলোচ্য বিষয় এবং ফলাফল

তার শ্রেষ্ঠত্ব, সম্পর্ক এবং প্রবর্তক … নাম, উৎস এবং শরয়ী বিধান

অতঃপর মাসআলাসমূহ; কেউ কেউ আংশিক জেনেই সন্তুষ্ট থাকে … আর যে ব্যক্তি সব জানবে সে-ই পূর্ণ মর্যাদা লাভ করবে

 

‌প্রথমত: সংজ্ঞা:

নাহু-এর আভিধানিক সংজ্ঞা: এটি কয়েকটি অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছে:

১ - পরিমাণ: উদাহরণ: নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দণ্ডায়মান হওয়া ছিল সূরা বাকারার সমপরিমাণ। অর্থাৎ সূরা বাকারার পরিমাণের মতো।

২ - সদৃশ বা অনুরূপ: যেমন: "...... জিবরীল আলাইহিস সালাম দিহইয়াতুল কালবীর সদৃশ ......"(১) অর্থাৎ: যখন তিনি মানুষের আকৃতিতে আসতেন তখন তিনি তাঁর সদৃশ হতেন।

৩ - দিক বা অভিমুখ: যেমন (আমি মসজিদের দিকে চললাম) অর্থাৎ মসজিদের অভিমুখে।

পারিভাষিক সংজ্ঞা: এটি হচ্ছে ঐ সকল নিয়ম-কানুন বা মূলনীতির জ্ঞান, যার মাধ্যমে বাক্যের গঠন অবস্থায় শব্দের শেষ ভাগের অবস্থা তথা ইরাব (শব্দবিভক্তি), বিনাহ (অপরিবর্তনীয়তা) এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিষয় জানা যায়।

ঐ সকল নিয়ম-কানুন বা মূলনীতির জ্ঞান যার মাধ্যমে শব্দের শেষ ভাগের অবস্থা জানা যায়:

নাহু শাস্ত্র শব্দের শেষাংশ নিয়ে আলোচনা করে, ইলমুস সরফ (শব্দতত্ত্ব)-এর বিপরীত; কারণ ইলমুস সরফ শব্দের মূল গঠন নিয়ে আলোচনা করে।

উদাহরণ: (মুহাম্মাদ আলীকে সম্মান করেছে)।

এখানে যিনি সম্মান করার কাজ সম্পাদন করেছেন তিনি হলেন মুহাম্মাদ এবং যার ওপর সম্মান করার কাজ পতিত হয়েছে তিনি হলেন আলী।

আর যদি আপনি বলেন: (আলী মুহাম্মাদকে সম্মান করেছে), তবে এখানে যিনি সম্মান করার কাজ সম্পাদন করেছেন তিনি হলেন আলী এবং যার ওপর সম্মান করার কাজ পতিত হয়েছে তিনি হলেন মুহাম্মাদ।

--------------------------------------------

(১) আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট দিহইয়াতুল কালবীর আকৃতিতে আসতেন।" আলবানী সিলসিলাতুস সহীহাহ-তে একে সহীহ বলেছেন।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৯)
فترتيب الكلمات فى الجملتين واحد لكن تغيير العلامة الإعرابية أدى إلى تغيير فى المعنى.

مثال آخر: {وَكَلَّمَ اللَّهُ مُوسَى تَكْلِيمًا (164)}(1) فالذى تكلم هو الله والذى كلمه الله موسى عليه السلام وإن كانت الآية {وَكَلَّمَ اللهَ مُوسى تَكْلِيمًا} لكان الذى تكلم هو موسى وكلم اللهَ عز وجل.

(حال تركيبها):

أى إذا وضعت فى جملة لأن الكلمة المفردة لا علامة لها.

مثال: محمدْ، لا يصح أن أقول (محمدٌ أو محمدًا أو محمدٍ)، لماذا؟ لأنها مفردة فلا علامة لها أما إذا ركبت فى جملة توضع عليها علامتها نحو: (جاء محمدٌ، أكرمتُ محمدًا، مررتُ بمحمدٍ)، فتظهر العلامة عند التركيب.

 

‌‌ثانيًا: الموضوع:

هو الكلمات العربية.

وقيل: أواخر الكلمات العربية حال تركيبها.

 

‌‌ثالثًا: الثمرة:

وعلم النحو له فوائد عدة منها:

1 - تقويم اللسان: فالعرب لم يكن عندهم تدوين لعلم النحو، لكن لغتهم العربية الفصيحة جعلت لسانهم عربيًا بالسليقة، فكانت قواعده موجودة فى الأذهان، ثم بعد ذلك دوِّن كما فعل أبو الأسود الدؤلى فوُجد وجودًا رسميًّا، فلما ذهب من الأذهان يراد بتعلُّمه أن يعود إلى أصله مرة ثانية فى الأذهان وهذا هو المراد أن يكون علم النحو فى الذهن، وفى اللسان كما هو مدون بالرسم والبنان.

ولأن لسان العرب كان لسانًا فصيحًا بالسليقة كان اللحن عندهم شديد القبح، فعبد الملك بن مروان كان يقول اللحن في الكلام أقبح من الجدرى فى الوجه.

وكان الأعرابى يقول لابنه يا بنى إن الرجل تنوبه النائبة -أى المصيبة- فيستعير من أخيه ثيابه ومن صديقه دابته ولكن يا بنى من يعيره لسانه.

والمعنى: أن المصيبة قد تكون في الثياب فيستعير ثيابًا ولا يعلم أحد بما أصابه،

--------------------------------------------

(1) سورة النساء الآية 164.
বাক্য দুটিতে শব্দের বিন্যাস একই, কিন্তু ব্যাকরণিক চিহ্নের পরিবর্তন অর্থের পরিবর্তনের দিকে নিয়ে গেছে।

অন্য একটি উদাহরণ: {আর আল্লাহ মূসার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন (১৬৪)}(১) এখানে যিনি কথা বলেছেন তিনি হলেন আল্লাহ এবং যার সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন তিনি হলেন মূসা আলাইহিস সালাম। আর যদি আয়াতটি এমন হতো {আর মূসা আল্লাহর সাথে কথা বলেছেন (আল্লাহ শব্দটিতে যবর হতো)}, তবে যিনি কথা বলতেন তিনি হতেন মূসা এবং তিনি মহান আল্লাহর সাথে কথা বলতেন।

(বাক্যে বিন্যস্ত থাকা অবস্থায়):

অর্থাৎ যখন তাকে একটি বাক্যের মধ্যে স্থাপন করা হয়, কারণ একক শব্দের কোনো ব্যাকরণিক চিহ্ন থাকে না।

উদাহরণ: মুহাম্মদ; এখানে (মুহাম্মাদুন, মুহাম্মাদান বা মুহাম্মাদিন) বলা সঠিক নয়। কেন? কারণ এটি একক শব্দ, তাই এর কোনো চিহ্ন নেই। কিন্তু যখন একে কোনো বাক্যের মধ্যে বিন্যস্ত করা হবে, তখন এর ওপর চিহ্ন প্রদান করা হবে। যেমন: (মুহাম্মদ এসেছেন, আমি মুহাম্মদকে সম্মান করেছি, আমি মুহাম্মদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করেছি); সুতরাং বাক্যে বিন্যস্ত করার সময়ই চিহ্ন প্রকাশ পায়।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: আলোচ্য বিষয়:

তা হলো আরবি শব্দসমূহ।

আর বলা হয়েছে: বাক্যে বিন্যস্ত থাকা অবস্থায় আরবি শব্দসমূহের শেষাংশ।

 

‌‌তৃতীয়ত: সুফল:

নাহু শাস্ত্রের অনেক উপকারিতা রয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে:

১ - জিহ্বাকে সংশোধন করা: কেননা আরবদের কাছে নাহু শাস্ত্রের কোনো লিপিবদ্ধ সংকলন ছিল না, তবে তাদের প্রাঞ্জল আরবি ভাষা সহজাতভাবেই তাদের জিহ্বাকে আরবি করে তুলেছিল। ফলে এর নিয়মাবলী তাদের হৃদয়ে বিদ্যমান ছিল। অতঃপর পরবর্তীকালে এটি সংকলিত হয় যেমনটি আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি করেছিলেন, ফলে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। এরপর যখন তা মানুষের অন্তর থেকে বিলীন হতে শুরু করল, তখন এটি শেখার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হলো তা যেন পুনরায় তার মূল রূপে অন্তরে ফিরে আসে। আর এটাই লক্ষ্য যে, নাহু শাস্ত্র যেন অন্তরে এবং জিহ্বায় এমনভাবে থাকে যেমনটি এটি লেখনী ও কাগজের পাতায় লিপিবদ্ধ আছে।

আর যেহেতু আরবদের ভাষা সহজাতভাবেই প্রাঞ্জল ছিল, তাই তাদের কাছে ব্যাকরণিক ভুল (লাহন) ছিল অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ। আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ান বলতেন, কথায় ব্যাকরণিক ভুল করা মুখে বসন্তের দাগের চেয়েও বেশি কুৎসিত।

জনৈক বেদুইন তার ছেলেকে বলতেন, হে বৎস! মানুষের ওপর বিপদ-আপদ আপতিত হয়—অর্থাৎ মুসিবত—তখন সে তার ভাইয়ের কাছ থেকে কাপড় ধার নেয় এবং বন্ধুর কাছ থেকে তার বাহন ধার নেয়; কিন্তু হে বৎস! কে তাকে তার জিহ্বা (ভাষা) ধার দেবে?

এর অর্থ হলো: বিপদ হয়তো কাপড়ের ক্ষেত্রে হতে পারে, তখন সে কাপড় ধার নিতে পারে এবং তার ওপর কী বিপদ এসেছে তা কেউ জানতে পারে না,

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১৬৪।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১০)
وربما تكون فى الدابة فيستعير غيرها، أما إذا كانت المصيبة فى اللسان من يعيره لسانه!

لذلك كانوا يعلمون أبناءهم اللغة ويستعظمون الخطأ فى لسانهم، فإن أبا الأسود الدؤلى سمع ابنته تقول: (ما أحسنُ السماءِ) أرادت أن تتعجب من السماء ولكن ما قالته تجعل العبارة استفهامية بدلًا من أن تكون تعجبية، فقال أبو الأسود لابنته (نجومُها) أى أحسن شئ فى السماء نجومها، وهو يعلم ماذا تريد فقالت: ما أردت هذا وإنما أردت التعجب فقال قولى: ما أحسنَ السماءَ، وافتحى فاكِ.

وكانوا يقولون: المرء مخبون تحت لسانه إذا تكلم ظهر.

2 - تحسين الأفهام: أى تجعل المسلم يحسن فهم الكتاب والسنة فهمًا صحيحًا

لذا قال أبو هلال العسكرى: علم العربية من خاص ما يحتاج إليه الإنسان لجماله فى دنياه وكمال آلته فى دينه، وعلى حسب تقدم العالم فيه وتأخره يكون رجحانه ونقصانه إذا ناظر أو صنَّف.

مثال: تقول عائشة رضي الله عنها، قال لى النبى صلى الله عليه وسلم: «ناولينى الخُمْرَةَ من المسجد» فقلت إنى حائض فقال: «إن حيضتك ليست فى يدك»(1)

هنا اختلف العلماء فى الحديث على اختلاف تصورهم لمتعلق الجملة، كيف ذلك؟

إن الجار والمجرور مثل: (من المسجد) له متعلق أى شئ يتعلق به مثل جئت من البيت هذا متعلق بالمجئ.

مثال آخر: (ذهبت إلى المسجد) هذا متعلق بالذهاب وتغير المتعلق للجار والمجرور يُغير المعنى، فقول عائشة قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: «ناولينى الخمرة من المسجد» ف: (من المسجد) جار ومجرور متعلقة بشئ قبلها وهو الفعل وفى الحديث فعلان: قال - ناولينى

فبعضهم قال (من المسجد) متعلقة بقال والمعنى: قال «من المسجد ناولينى

--------------------------------------------

(1) عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال لى النبى صلى الله عليه وسلم: «ناولينى الخمرة من المسجد» فقلت إنى حائض فقال: «إن حيضتك ليست فى يدك» أخرجه أبو داود بسند صحيح برقم 261.
কখনো কখনো বিপদ পশুর ক্ষেত্রে হতে পারে, তখন সে অন্য একটি পশু ধার করতে পারে; কিন্তু বিপদ যদি জিহ্বার (ভাষার) ক্ষেত্রে হয়, তবে তাকে কে তার জিহ্বা ধার দেবে!

একারণেই তারা তাদের সন্তানদের ভাষা শিক্ষা দিতেন এবং তাদের ভাষায় ভুল করাকে বড় অপরাধ মনে করতেন। আবুল আসওয়াদ আদ-দুয়ালি তার মেয়েকে বলতে শুনলেন: "আকাশের কোন জিনিসটি সবচেয়ে সুন্দর?" সে আকাশ দেখে বিস্মিত হতে চেয়েছিল, কিন্তু সে যা বলেছে তা বাক্যটিকে বিস্ময়সূচক হওয়ার পরিবর্তে প্রশ্নবোধক করে তুলেছে। তখন আবুল আসওয়াদ তার মেয়েকে বললেন, "এর নক্ষত্ররাজি।" অর্থাৎ আকাশের সবচেয়ে সুন্দর বস্তু হলো এর নক্ষত্রগুলো। তিনি জানতেন সে আসলে কী বুঝাতে চেয়েছিল। তখন মেয়েটি বলল, "আমি এটি বুঝাতে চাইনি, বরং আমি বিস্ময় প্রকাশ করতে চেয়েছিলাম।" তখন তিনি বললেন, "তবে বলো: আকাশ কতই না সুন্দর!, এবং তোমার মুখ খুলে (শেষ অক্ষরে জবর দিয়ে) উচ্চারণ করো।"

তারা বলতেন: মানুষ তার জিহ্বার নিচে লুকায়িত থাকে, যখন সে কথা বলে তখনই তার প্রকৃত রূপ প্রকাশ পায়।

২ - বোধগম্যতা উন্নত করা: অর্থাৎ এটি একজন মুসলিমকে কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক সম্যক অনুধাবনে সহায়তা করে।

একারণেই আবু হিলাল আল-আসকারি বলেছেন: "আরবি ভাষা শিক্ষা মানুষের জন্য একটি বিশেষ প্রয়োজনীয় বিষয়, যা তার পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং দ্বীনি বিষয়ের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ হাতিয়ার। এই বিদ্যায় একজন আলেমের অগ্রসরতা বা পশ্চাৎপদতার ওপর ভিত্তি করেই তার বিতর্ক বা রচনার শ্রেষ্ঠত্ব ও ত্রুটি নির্ধারিত হয়।"

উদাহরণ: আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: "মসজিদ থেকে আমাকে জায়নামাজটি দাও।" আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। তখন তিনি বললেন: "তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নেই।"(১)

এখানে আলেমরা হাদিসটির ব্যাখ্যায় ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন বাক্যের সংশ্লিষ্ট অংশের (মুতাআল্লাক) ভিন্ন ভিন্ন ধারণার কারণে। সেটি কীভাবে?

অব্যয় ও অব্যয়যুক্ত পদ (জার ও মাজরুর) যেমন: "মসজিদ থেকে" এর একটি সংশ্লিষ্ট বিষয় থাকে যার সাথে এটি যুক্ত হয়। যেমন: "আমি বাড়ি থেকে এসেছি", এখানে 'বাড়ি থেকে' অংশটি 'আসা' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট।

অন্য একটি উদাহরণ: "আমি মসজিদে গিয়েছি", এটি 'যাওয়া' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। আর জার ও মাজরুর-এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পরিবর্তনে অর্থের পরিবর্তন ঘটে। আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা)-এর বর্ণনায় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: "মসজিদ থেকে আমাকে জায়নামাজটি দাও।" এখানে "মসজিদ থেকে" জার ও মাজরুরটি তার পূর্ববর্তী কোনো বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা হলো একটি ক্রিয়া। আর এই হাদিসে দুটি ক্রিয়া রয়েছে: 'বলেছেন' এবং 'দাও'।

তাই তাদের কেউ কেউ বলেছেন, "মসজিদ থেকে" অংশটি 'বলেছেন' ক্রিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট। তখন এর অর্থ দাঁড়ায়: তিনি মসজিদ থেকে (অবস্থান করে) বললেন, "আমাকে দাও..."

--------------------------------------------

(১) আয়েশা (রাদিয়াল্লাহু আনহা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাকে বললেন: "মসজিদ থেকে আমাকে জায়নামাজটি দাও।" আমি বললাম, আমি তো ঋতুবতী। তখন তিনি বললেন: "তোমার ঋতু তো তোমার হাতে নেই।" এটি আবু দাউদ সহিহ সনদে বর্ণনা করেছেন, হাদিস নম্বর ২৬১।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১১)
الخمرة» إذًا كان النبى صلى الله عليه وسلم فى المسجد والخمرة كانت خارج المسجد.

وبعضهم قال: متعلقة بناولينى، والمعنى قال: «ناولينى من المسجد الخمرة» وعليه فالخمرة في المسجد وعلى عائشة أن تذهب إلى المسجد، وعلي هذا الأساس اختلفوا هل الحائض تدخل المسجد أم لا.

مثال آخر: (لن) حرف نفى مثل (لن آكل، لن أشرب، لن أقرأ) عامة العلماء على أنها حرف نفى ويقول الزمخشرى - وهو من علماء اللغة إلا أنه كان معتزلى العقيدة- قال: أن لن تفيد النفى للتأبيد والمعنى: لن آكل أبدا، ولن أشرب أبدا، ولن أقرأ أبدًا.

فإذا نظرت إليه وهو يتكلم فى العقيدة فى مسألة الرؤية تجده يقول: إن الناس لن يروا الله تعالى أبدًا لا فى الدنيا ولا فى الآخرة لقوله تعالى {لَنْ تَرَانِي}(1) فإذا كان موسى عليه السلام لا يرى الله فمن باب أولى غيره، لكن الصحيح: أن لن تفيد النفى فقط كما قال ابن هشام وابن عقيل وغيرهما.

فإذا كانت القواعد صوابًا نفهم الأدلة فهمًا صحيحًا صوابًا، وإذا كانت القواعد خطأً نفهم الأدلة فهمًا خطأً.

3 - يزيد فى العقل: قال شعبة: تعلم العربية يزيد فى العقل.

4 - يرقق الطبع: يقول الإمام الشافعى من تعلم القرآن عظمت قيمته، ومن تعلم الحديث قويت حجته، ومن نظر فى الفقه نبل قدره، ومن تعلم العربية رق طبعه، ومن تعلم الحساب جزل رأيه، ومن لم يصن نفسه لم ينفعه علمه(2).

 

‌‌رابعًا: فضله:

هو من أهم العلوم وأجلها بالنظر إلى فائدته.

وصدق القائل:

النحو يصلح من لسان الألكنِ … والمرء تكرمه إذا لم يلحن

وإذا أردت من العلوم أجلها … فأجلها قدرًا مقيم الألسن

 

‌‌خامسًا: نسبته:

هو من علوم العربية.

--------------------------------------------

(1) سورة الأعراف الآية 143.

(2) الرسالة ص 57.
খুমরাহ (ছোট জায়নামাজ)"; সুতরাং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মসজিদে ছিলেন এবং খুমরাহটি মসজিদের বাইরে ছিল।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন: এটি 'নাউয়িলিনি' (আমাকে দাও) ক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত, আর অর্থ হলো: "মসজিদ থেকে আমাকে খুমরাহটি দাও"। সেই অনুযায়ী খুমরাহটি মসজিদের ভেতরে ছিল এবং আয়েশা (রা.)-কে মসজিদে যেতে হতো; আর এই ভিত্তির ওপরই তারা মতভেদ করেছেন যে, ঋতুবতী নারী মসজিদে প্রবেশ করতে পারবে কি না।

অন্য একটি উদাহরণ: (লান) একটি না-বোধক অব্যয়, যেমন (আমি খাব না, আমি পান করব না, আমি পড়ব না)। অধিকাংশ আলেমদের মতে এটি কেবল একটি না-বোধক অব্যয়। তবে যামাখশারী—যিনি একজন ভাষাবিদ হওয়া সত্ত্বেও আকিদাগতভাবে মুতাজিলা ছিলেন—তিনি বলেছেন: 'লান' অব্যয়টি চিরস্থায়ী নেতিবাচকতা বা অস্বীকৃতি বোঝায়। এর অর্থ দাঁড়াবে: আমি কখনোই খাব না, আমি কখনোই পান করব না এবং আমি কখনোই পড়ব না।

সুতরাং আপনি যখন আকিদার বিষয়ে আল্লাহর দর্শনের মাসআলায় তার বক্তব্য দেখবেন, তখন তাকে বলতে দেখবেন যে: মানুষ কখনোই আল্লাহ তাআলাকে দেখবে না, দুনিয়াতেও না এবং আখিরাতেও না; যার সপক্ষে তিনি আল্লাহর এই বাণী পেশ করেন: {তুমি আমাকে কখনোই দেখতে পাবে না}(১)। তার মতে, যদি মূসা আলাইহিস সালাম আল্লাহকে দেখতে না পান, তবে অন্য কেউ না দেখা তো আরও বেশি স্বাভাবিক। কিন্তু সঠিক কথা হলো: 'লান' কেবল না-বোধক অর্থ প্রকাশ করে (চিরস্থায়ী হওয়া জরুরি নয়), যেমনটি ইবনে হিশাম, ইবনে আকিল এবং অন্যরা বলেছেন।

অতএব, যদি মূলনীতিসমূহ সঠিক হয় তবে আমরা দলিলসমূহ সঠিকভাবে বুঝতে পারব, আর যদি মূলনীতিগুলো ভুল হয় তবে আমরা দলিলগুলোও ভুলভাবে বুঝব।

৩ - বুদ্ধি বৃদ্ধি করে: শু'বা বলেছেন: আরবি ভাষা শেখা বুদ্ধি বৃদ্ধি করে।

৪ - স্বভাবকে কোমল করে: ইমাম শাফেয়ী বলেন: যে ব্যক্তি কুরআন শেখে তার মর্যাদা বৃদ্ধি পায়, যে হাদিস শেখে তার প্রমাণ বা দলিল শক্তিশালী হয়, যে ফিকহ নিয়ে গবেষণা করে তার গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়, যে আরবি শেখে তার স্বভাব কোমল হয়, যে গণিত শেখে তার বিচারবুদ্ধি প্রখর হয়, আর যে ব্যক্তি নিজের আত্মসম্মান রক্ষা করে না তার জ্ঞান তার কোনো উপকারে আসে না(২)।

 

‌‌চতুর্থ: এর শ্রেষ্ঠত্ব:

উপকারিতার দিক থেকে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ একটি ইলম।

আর কবির কথাটি সত্য:

নাহু বা ব্যাকরণ তোতলামি দূর করে জিহ্বাকে সংশোধন করে … আর মানুষ তখনই সম্মানিত হয় যখন সে ভুল উচ্চারণ করে না।

যদি তুমি ইলমসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠটি অর্জন করতে চাও … তবে রসনাকে সঠিককারী ইলমটিই (নাহু) মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ।

 

‌‌পঞ্চম: এর সম্বন্ধ:

এটি আরবি ভাষা বিষয়ক ইলমসমূহের অন্তর্ভুক্ত।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আরাফ, আয়াত ১৪৩।

(২) আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ৫৭।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১২)
‌‌سادسًا: الواضع:

أول من دون فيه هو أبو الأسود الدؤلى.

وكان ذلك بأمر أمير المؤمنين على رضي الله عنه.

وذلك أنه لما حدث اختلاط بين العرب والعجم وظهر اللحن فى الكلام أخبر أبو الأسود الدؤلى رحمه الله أمير المؤمنين عليًا رضي الله عنه فوضع أمير المؤمنين علىٌّ بعض القواعد والأبواب، مثل: باب كان وأخواتها، التعجب وغير ذلك، ثم قال لأبى الأسود: انح هذا النحو أى أكمل القواعد على هذا الشكل، لذلك سُمى علم النحو بذلك من كلمة علىّ رضي الله عنه انح هذا النحو.

فمن قال: أول من وضعه هو علىّ رضي الله عنه باعتبار ابتدائه لبعض القواعد، ومن قال: أبو الأسود الدؤلى بالنظر لإتمام عامة القواعد.

 

‌‌سابعًا: الاسم:

اسمه علم النحو.

 

‌‌ثامنًا: الاستمداد:

الصحيح أن علم النحو يستمد من الكتاب والسنة وكلام العرب شعرًا ونثرًا.

واشتُرط فى الاستمداد الكتاب والسنة مع كلام العرب، لأنه قد يوجد فى قواعد اللغة ما يخالف الكتاب والسنة، نقول بل يحكم بالكتاب والسنة.

مثال: القاعدة فى الضمائر (الضمير الواقع فى محل جر بحرف الجر لا يصح العطف عليه إلا بتكرار حرف الجر). مثال: (مررتُ بكَ وبمحمد)

فلا يصح أن أقول (مررتُ بكَ ومحمدٍ) بل أقول: مررت بك وبمحمد، (ذهبتُ إليك وإلى محمد، مررتُ عليك وعلى محمد)، فإذا ورد خلاف ذلك فى كتاب الله فالحكم لكتاب الله على اللغة، لا للُّغة على كتاب الله.
ষষ্ঠত: প্রণেতা:

সর্বপ্রথম যিনি এটি সংকলন করেন তিনি হলেন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি।

আর এটি ছিল আমিরুল মুমিনীন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর নির্দেশে।

ঘটনাটি হলো, যখন আরব ও অনারবদের মধ্যে সংমিশ্রণ ঘটল এবং কথাবার্তায় ভাষাগত ভুল প্রকাশ পেল, তখন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি (রাহিমাহুল্লাহ) আমিরুল মুমিনীন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-কে এ বিষয়ে অবহিত করলেন। তখন আমিরুল মুমিনীন আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) কিছু নিয়ম ও অধ্যায় প্রণয়ন করে দিলেন, যেমন: 'কানা ও তার সমজাতীয় ক্রিয়াসমূহ' এর অধ্যায়, বিস্ময়সূচক বাক্যের অধ্যায় এবং আরও অন্যান্য। এরপর তিনি আবু আল-আসওয়াদকে বললেন: "এই পথ বা ধারা অনুসরণ করো", অর্থাৎ এই পদ্ধতিতে নিয়মগুলো পূর্ণ করো। এই কারণেই আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু)-এর সেই উক্তি "এই ধারা (নাহু) অনুসরণ করো" থেকে এই শাস্ত্রের নাম 'ইলমুন নাহু' রাখা হয়েছে।

সুতরাং যারা বলেন যে, আলী (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এর প্রথম প্রণেতা, তারা মূলত কিছু নিয়ম প্রবর্তনের সূচনা করার বিচারে বলেন; আর যারা বলেন আবু আল-আসওয়াদ আদ-দুওয়ালি, তারা সাধারণ নিয়মাবলীর পূর্ণতা প্রদানের বিচারে বলেন।

 

সপ্তমত: নাম:

এর নাম হলো ইলমুন নাহু (ব্যাকরণ শাস্ত্র)।

 

অষ্টমত: উৎস (ইস্তিমদাদ):

সঠিক অভিমত হলো, ইলমুন নাহু-এর নিয়মাবলী গৃহীত হয় আল্লাহর কিতাব (কুরআন), সুন্নাহ এবং আরবদের গদ্য ও পদ্য থেকে।

আরবদের বক্তব্যের সাথে কিতাব ও সুন্নাহকে উৎস হিসেবে শর্তযুক্ত করা হয়েছে কারণ ভাষার ব্যাকরণিক নিয়মে এমন কিছু পাওয়া যেতে পারে যা কিতাব ও সুন্নাহর ব্যবহারের পরিপন্থী; এমতাবস্থায় আমরা বলি যে, কিতাব ও সুন্নাহর প্রয়োগই চূড়ান্ত ফয়সালাকারী হবে।

উদাহরণ: সর্বনাম সংক্রান্ত একটি নিয়ম হলো (যে সর্বনাম অব্যয়ের কারণে মাজরুর বা 'জার' অবস্থায় থাকে, অব্যয়টি পুনরায় উল্লেখ করা ছাড়া তার ওপর অন্য কিছুর সংযোগ বা আতফ করা ব্যাকরণগতভাবে সঠিক নয়)। উদাহরণ: (আমি তোমার পাশ দিয়ে এবং মুহাম্মাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম)।

সুতরাং (আমি তোমার এবং মুহাম্মাদের পাশ দিয়ে গেলাম—এখানে মুহাম্মাদের আগে 'দিয়ে' অব্যয়টি পুনরায় উল্লেখ না করে) বলা ব্যাকরণবিদদের নিকট সঠিক নয়, বরং বলতে হবে: আমি তোমার পাশ দিয়ে এবং মুহাম্মাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম, (আমি তোমার কাছে এবং মুহাম্মাদের কাছে গেলাম, আমি তোমার ওপর দিয়ে এবং মুহাম্মাদের ওপর দিয়ে অতিক্রম করলাম)। অতএব, যদি আল্লাহর কিতাবে এর বিপরীত কোনো প্রয়োগ পরিলক্ষিত হয়, তবে ভাষার নিয়মের ওপর আল্লাহর কিতাবের প্রয়োগই প্রাধান্য পাবে, আল্লাহর কিতাবের ওপর ভাষার ব্যাকরণিক নিয়ম প্রাধান্য পাবে না।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১৩)
مثال يقول الله تعالى {وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي تَسَاءَلُونَ بِهِ وَالْأَرْحَامَ}(1) ففى قراءة حمزة (والأرحامِ) فعلى القاعدة يقول وبالأرحام لكن وجدناها عطفت من غير تكرار حرف الجر فخطَّأ البعض القراءة ورد كلام الله والصحيح أن القاعدة خطأ إن خالفت كلام الله.

 

‌‌تاسعًا: حكم الشارع:

حكم تعلمه فرض كفاية أى إذا قام به البعض الكافي سقط الإثم عن الجميع.

مسألة: أيهما أفضل فرض العين أم فرض الكفاية؟ قيل: فرض العين وقيل: فرض الكفاية أفضل من فرض العين لماذا؟ لأن فرض العين منفعة لصاحبه أما فروض الكفاية فائدتها تعود على الأمة والأجر يعود على من قام بها.

لذلك يقول الشاطبى رحمه الله: إذا نظرت إلى فرض الكفاية نظرة عامة لوجدته كفرض العين فيجب على القادر أن يقوم به ويجب على غير القادر أن يقيمه.

مثال: شاب يريد أن يتعلم وليس معه مال يتقوى به على العلم وآخر ميسور يملك المال لكن لا يستطيع التعلم فيجب على الثانى أن يقيم الأول.

وبعض العلماء يقول: إن تعلم لسان العرب فرض عين على كل إنسان على قدر جهده.

يقول الشافعى: فعلى كل مسلم أن يتعلم من لسان العرب ما بلغه جهده(2).

يقول الإمام الماوردى: معرفة لسان العرب فرض على كل مسلم من مجتهد وغيره(3).

حيث إن علم الشريعة واجب تعلمه وفهمه ولا يتم ذلك إلا بتعلم لغة العرب، فيصبح تعلم لغة العرب واجبًا من باب ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب.

 

‌‌عاشرًا: مسائله:

هى القواعد التى يعرف بها أحوال أواخر الكلمات حال تركيبها.

--------------------------------------------

(1) سورة النساء الآية 1.

(2) الرسالة ص 124.

(3) إرشاد الفحول ص 823، والبحر المحيط ج 6 ص 202.
উদাহরণ হিসেবে আল্লাহ তাআলা বলেন, {আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো, যাঁর নামে তোমরা একে অপরের কাছে যাচ্ঞা করো এবং আত্মীয়তার বন্ধন সম্পর্কে সচেতন থাকো}(১)। হামজার কিরাআতে 'আরহামি' (জের যুক্ত) পড়া হয়েছে। ব্যাকরণিক নিয়ম অনুযায়ী এখানে 'বিল আরহামি' অর্থাৎ অব্যয়ের পুনরাবৃত্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আমরা এখানে অব্যয় বা হারফে জারের পুনরাবৃত্তি ছাড়াই শব্দের সংযুক্তি দেখতে পাই। ফলে কেউ কেউ এই কিরাআতকে ভুল আখ্যা দিয়েছেন এবং আল্লাহর কালামকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। অথচ সঠিক কথা হলো, নিয়মটিই ভুল যদি তা আল্লাহর বাণীর সাথে সাংঘর্ষিক হয়।

 

‌‌নবম: শরয়ি বিধান:

এর জ্ঞান অর্জন করা ফরজে কিফায়া। অর্থাৎ, যদি পর্যাপ্ত সংখ্যক লোক তা সম্পাদন করে, তবে সকলের পক্ষ থেকে গুনাহ রহিত হয়ে যায়।

মাসআলা: ফরজে আইন এবং ফরজে কিফায়ার মধ্যে কোনটি অধিক উত্তম? বলা হয়েছে: ফরজে আইন। আবার বলা হয়েছে: ফরজে কিফায়া ফরজে আইনের চেয়েও উত্তম। কেন? কারণ ফরজে আইনের উপকারিতা কেবল সম্পাদনকারীর নিজের জন্য, পক্ষান্তরে ফরজে কিফায়ার উপকারিতা উম্মতের সাধারণ কল্যাণে নিহিত এবং এর সওয়াব সম্পাদনকারী ব্যক্তি লাভ করেন।

এ কারণেই শাতবি (রহিমাহুল্লাহ) বলেন: আপনি যদি ফরজে কিফায়াকে সামগ্রিক দৃষ্টিতে দেখেন, তবে একে ফরজে আইনের মতোই পাবেন। সুতরাং সক্ষম ব্যক্তির ওপর তা সম্পাদন করা ওয়াজিব এবং অক্ষম ব্যক্তির ওপর কর্তব্য হলো সক্ষম ব্যক্তিকে তা পালনে সহযোগিতা করা।

উদাহরণ: এক যুবক জ্ঞান অর্জন করতে চায় কিন্তু তার জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ নেই। অন্যদিকে অপর এক ব্যক্তি সচ্ছল কিন্তু সে নিজে জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম নয়। এমতাবস্থায় দ্বিতীয় ব্যক্তির ওপর কর্তব্য হলো প্রথম ব্যক্তিকে জ্ঞান অর্জনে প্রতিষ্ঠিত করা।

কোনো কোনো আলেম বলেন: আরবি ভাষা শিক্ষা করা প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী ফরজে আইন।

ইমাম শাফিঈ বলেন: প্রত্যেক মুসলমানের জন্য তার সাধ্য অনুযায়ী আরবি ভাষা শেখা আবশ্যক(২)।

ইমাম মাওয়ার্দি বলেন: আরবি ভাষা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ, চাই তিনি মুজতাহিদ হোন বা সাধারণ অনুসারী(৩)।

যেহেতু শরিয়তের জ্ঞান অর্জন করা এবং তা অনুধাবন করা ওয়াজিব, আর তা আরবি ভাষা শেখা ছাড়া সম্ভব নয়, সেহেতু আরবি ভাষা শেখাও ওয়াজিব। এটি সেই মূলনীতির অন্তর্ভুক্ত যে—"যা ব্যতীত ওয়াজিব সম্পন্ন হয় না, তা-ও ওয়াজিব।"

 

‌‌দশম: এর আলোচ্য বিষয়সমূহ:

এগুলো হলো এমন কিছু মূলনীতি যার মাধ্যমে বাক্য গঠনকালে শব্দের শেষাংশের অবস্থা সম্পর্কে জানা যায়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আন-নিসা, আয়াত ১।

(২) আর-রিসালাহ, পৃষ্ঠা ১২৪।

(৩) ইরশাদুল ফুহুল, পৃষ্ঠা ৮২৩ এবং আল-বাহরুল মুহিত, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২০২।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১৪)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আসমানে আরশের উপর উঠেছেন। তিনি তাঁর সকল সৃষ্টির ঊর্ধ্বে এবং সৃষ্টিজগত থেকে সম্পূর্ণ পৃথক। তবে তিনি তাঁর সৃষ্টির সাথেই আছেন (তাঁর ইলম বা জ্ঞানের মাধ্যমে), তারা যেখানেই থাকুক না কেন; তারা যা কিছু করে সে সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত।

আল্লাহর প্রতি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হলো ঐ সকল গুণাবলির প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা যা তিনি নিজের জন্য সাব্যস্ত করেছেন অথবা তাঁর রাসূল (সা.) তাঁর জন্য সাব্যস্ত করেছেন। যেমন: আল্লাহ তায়ালা প্রতি রাতের শেষ তৃতীয়াংশে দুনিয়ার আসমানে নেমে আসেন। কিয়ামতের দিন তিনি বিচারের ফয়সালা করার জন্য আসবেন।

কুরআন ও সুন্নাহর বর্ণনা অনুযায়ী আমরা আল্লাহর জন্য ঐ সকল গুণাবলি সাব্যস্ত করি যা তিনি নিজের জন্য উল্লেখ করেছেন। যেমন: তাঁর চেহারা রয়েছে, আল্লাহর হাত রয়েছে এবং আল্লাহর পা রয়েছে। এসকল বিষয় কোনো প্রকার বিকৃতি (তাহরিফ), অস্বীকার (তাতিল), ধরন নির্ধারণ (তাকয়িফ) বা সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য প্রদান (তামসিল) ছাড়াই সাব্যস্ত করতে হবে।

(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১৫)
علم النحو علم النحو: ينقسم إلى قسمين:

1 - المقدمة.

2 - التطبيقات.

أولًا: المقدمة: ويكون الكلام فيها عن الكلمة وأقسامها.

والكلمة تنقسم إلى ثلاثة أقسام: الاسم، الفعل، الحرف.

ثانيًا: التطبيقات:

تنقسم إلى ثلاثة أقسام:

1 - المرفوعات: وهى (المبتدأ - الخبر - الفاعل - نائب الفاعل - اسم كان - خبرإنَّ).

2 - المنصوبات: وهى (المفعول به - المفعول له - المفعول معه - المفعول فيه - المفعول المطلق - الحال - الاستثناء - التمييز- المنادى ......... ).

3 - المخفوضات: وهى (مخفوض بالحرف مخفوض بالإضافة).

وهناك عامل مشترك بين الجميع وهو: (التبعية).

وهى: (النعت - البدل - العطف - التوكيد).
নাহু শাস্ত্র নাহু শাস্ত্র: এটি দুই ভাগে বিভক্ত:

১ - ভূমিকা।

২ - প্রয়োগ।

প্রথমত: ভূমিকা: এতে শব্দ এবং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।

শব্দ তিন ভাগে বিভক্ত: বিশেষ্য (ইসিম), ক্রিয়া (ফে'ল), অব্যয় (হরফ)।

দ্বিতীয়ত: প্রয়োগ:

এটি তিন ভাগে বিভক্ত:

১ - মরফূ'আত (পেশযুক্ত শব্দসমূহ): সেগুলো হলো (মুবতাদা - খবর - ফায়িল - নায়েবে ফায়িল - কান-এর ইসিম - ইন্না-র খবর)।

২ - মানসূবাত (যবরযুক্ত শব্দসমূহ): সেগুলো হলো (মাফ'উলে বিহি - মাফ'উলে লাহু - মাফ'উলে মা'আহু - মাফ'উলে ফীহি - মাফ'উলে মুতলাক - হাল - ইসতিসনা - তামিইয - মুনাদা ......... )।

৩ - মাখফূযাত (জেরযুক্ত শব্দসমূহ): সেগুলো হলো (হরফের মাধ্যমে জেরপ্রাপ্ত এবং ইযাফাতের মাধ্যমে জেরপ্রাপ্ত)।

আর এই সবগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ বিষয় রয়েছে, যা হলো: (অনুসরণ)।

সেগুলো হলো: (নাত বা গুণ - বদল - আতফ বা সংযোজক - তাকিদ বা দৃঢ়তা)।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১৬)
‌‌أولًا: المقدمة
প্রথমত: ভূমিকা
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১৭)
‌‌الكلمة وأقسامها

الكلمة: هى القول المفرد الدال على معنى، وقد تطلق على الجمل المفيدة.

 

تنقسم الكلمة إلى ثلاثة أقسام: ‌‌(الاسم - الفعل - الحرف)

1 - الاسم هو: كلمة تدل على معنى فى نفسها ولم تقترن بزمن.

مثال: (أحمد) فالمعنى: من الحمد، ولم يقترن بزمن.

مثال آخر: (علىٌّ) فالمعنى: من العلو، ولم يقترن بزمن.

2 - الفعل هو: كلمة تدل على معنى فى نفسها واقترنت بأحد الأزمنة الثلاثة.

مثال: قرأَ - يقرأُ - اقرأْ.

3 - الحرف هو: كلمة دلت على معنى فى غيرها أو مع غيرها.

مثال: (علىٌّ فى المسجدِ): أى داخل المسجد.

مثال آخر: قال تعالى { .... وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ فِي جُذُوعِ النَّخْلِ … }(1) أى على جذوع النخل.

ولو تأملت فى هذين المثالين لوجدت أن حرف الجر واحد وهو (فى) لكن معناه قد اختلف حسب تركيبه فى الجملة.

 

‌‌الفرق بين الاسم والفعل:

الاسم الفعل
1 - يدل على الثبات 1 - يدل علي الحدوث والتجدد
2 - لا توجد جملة تستغنى عن الاسم 2 - قد تستغنى الجملة عن الفعل.
3 - عدد الحروف فى الاسم أقلها ثلاثة أحرف وأكثرها سبعة أحرف مثل استخراج 3 - أقل الأفعال حرفان وأكثر الأفعال ستة أحرف مثل استخرج.
4 - الاسم يسند ويسند إليه
وعليه فالجملة الاسمية أفضل من الجملة الفعلية، لذا نقدم المبتدأ فى التطبيقات على الفاعل
. 4 - الفعل يسند فقط.

--------------------------------------------

(1) سورة طه الآية 71.
শব্দ এবং এর প্রকারভেদ

শব্দ: এটি হলো এমন একক উক্তি যা কোনো অর্থ নির্দেশ করে, এবং কখনও কখনও এটি অর্থবোধক বাক্যের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।

 

শব্দ তিন ভাগে বিভক্ত: ‌‌(বিশেষ্য - ক্রিয়া - অব্যয়)

১ - বিশেষ্য হলো: এমন শব্দ যা নিজের সত্তাগত অর্থ প্রকাশ করে এবং কোনো কালের সাথে যুক্ত হয় না।

উদাহরণ: (আহমাদ), এর অর্থ: 'হামদ' বা প্রশংসা থেকে উদ্ভূত, এবং এটি কোনো কালের সাথে যুক্ত নয়।

অন্য উদাহরণ: (আলী), এর অর্থ: 'উলুউ' বা উচ্চতা থেকে উদ্ভূত, এবং এটি কোনো কালের সাথে যুক্ত নয়।

২ - ক্রিয়া হলো: এমন শব্দ যা নিজের সত্তাগত অর্থ প্রকাশ করে এবং তিন কালের (অতীত, বর্তমান বা ভবিষ্যৎ) যেকোনো একটির সাথে যুক্ত থাকে।

উদাহরণ: সে পড়েছে - সে পড়ছে - পড়।

৩ - অব্যয় হলো: এমন শব্দ যা অন্য শব্দের সাহায্য ছাড়া বা অন্য শব্দ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ অর্থ প্রকাশ করতে পারে না।

উদাহরণ: (আলী মসজিদের ভেতরে আছে): অর্থাৎ মসজিদের অভ্যন্তরে।

অন্য উদাহরণ: আল্লাহ তাআলা বলেছেন { .... এবং আমি অবশ্যই তোমাদেরকে খেজুর গাছের কান্ডে ক্রুশবিদ্ধ করব … }(১) অর্থাৎ খেজুর গাছের কান্ডের উপরে।

আপনি যদি এই দুটি উদাহরণের দিকে গভীরভাবে লক্ষ্য করেন, তবে দেখবেন যে অব্যয়টি একই, কিন্তু বাক্যে এর গঠন ও ব্যবহারের ধরণ অনুযায়ী অর্থ ভিন্ন হয়েছে।

 

‌‌विशेष্য ও ক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্য:

বিশেষ্য ক্রিয়া
১ - এটি স্থায়িত্ব নির্দেশ করে। ১ - এটি নতুনভাবে সংঘটিত হওয়া ও পরিবর্তনশীলতা নির্দেশ করে।
২ - বিশেষ্য ছাড়া কোনো বাক্য গঠিত হতে পারে না। ২ - বাক্য ক্রিয়া ছাড়াই গঠিত হতে পারে।
৩ - বিশেষ্যের বর্ণ সংখ্যা সর্বনিম্ন তিনটি এবং সর্বোচ্চ সাতটি, যেমন: 'ইস্তিখরাজ' (নিষ্কাশন)। ৩ - ক্রিয়ার সর্বনিম্ন বর্ণ সংখ্যা দুটি এবং সর্বোচ্চ ছয়টি, যেমন: 'ইস্তাকরাজা' (সে নিষ্কাশন করেছে)।
৪ - বিশেষ্যকে অন্যের দিকে সম্বন্ধিত করা যায় এবং এর দিকেও অন্য কিছুকে সম্বন্ধিত করা যায়।
এ কারণে বিশেষ্যপ্রধান বাক্য (জুমলা ইসমিয়া) ক্রিয়াপ্রধান বাক্যের (জুমলা ফেইলিয়া) চেয়ে শ্রেষ্ঠ; তাই আমরা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কর্তার (ফায়িল) আগে উদ্দেশ্যকে (মুবতাদা) প্রাধান্য দিই।
৪ - ক্রিয়াকে শুধুমাত্র অন্য কিছুর দিকে সম্বন্ধিত করা যায়।

--------------------------------------------

(১) সূরা তাহা, আয়াত ৭১।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১৮)
مثال: قال تعالى { ............ فَقَالُوا سَلَامًا قَالَ سَلَامٌ ........... }(1).

فقالت الملائكة (سلامًا) والمعنى: نسلم سلامًا.

وإبراهيم عليه السلام قال: (سلامٌ) والمعنى سلام عليكم.

فالجملة الأولى من الملائكة فعلية، والثانية من إبراهيم عليه السلام اسمية وقيل فهذا من باب قوله تعالى {وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا ........... }(2).

 

‌‌علامات الاسم:

وهذه العلامات توضح كيفية التعرف على نوع الكلمة هل هى اسم أم لا، وهى:

1 - الجر: والجر إما أن يكون بالحرف أو بالإضافة أو التبعية.

- بالحرف: مثل والله، بالله.

- بالإضافة: مثل محمد رسول الله، فلفظ الجلالة مجرور بالإضافة.

- بالتبعية: مثل محمد رسول الله الرحمنِ فلفظ الرحمن مجرور بالتبعية لأنه صفة للفظ الجلالة المجرور.

وقد تجتمع الأنواع معًا مثل: (بسم الله الرحمن الرحيم).

اسم: مجرور بالحرف.

الله: لفظ الجلالة مجرور بالإضافة.

الرحمن الرحيم: مجرور بالتبعية.

2 - التنوين: هو نون تلحق آخر الاسم نطقًا لا كتابة يستعاض عنها بتكرار الحركة.

ومعنى يستعاض عنها بتكرار الحركة أقول: (محمد) إذا أضفت إليها التنوين تكون (محمدُنْ) فهنا أحذف النون وأكرر الحركة الأخيرة حتى تكون هكذا: (محمدٌ).

القاعدة العامة فى التنوين هى: أن التنوين لا يدخل إلا على الأسماء فإذا وجدت

--------------------------------------------

(1) سورة الذاريات الآية 25.

(2) سورة النساء الآية 86.
उदाहरण: মহান আল্লাহ বলেন { ............ অতঃপর তারা বলল, ‘সালাম’। তিনি বললেন, ‘সালাম’ ........... }(১).

ফেরেশতারা বলেছিল (সালামা-ন) যার অর্থ: আমরা আপনাদের সালাম দিচ্ছি।

আর ইবরাহীম আলাইহিস সালাম বলেছিলেন: (সালামু-ন) যার অর্থ: আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

সুতরাং ফেরেশতাদের প্রথম বাক্যটি ছিল ক্রিয়ামূলক (ফেলিয়া), আর ইবরাহীম আলাইহিস সালামের দ্বিতীয় বাক্যটি ছিল নামবাচক (ইসমিয়া)। আর বলা হয়েছে যে, এটি মহান আল্লাহর এই বাণীর অন্তর্ভুক্ত {আর যখন তোমাদের অভিবাদন জানানো হয়, তখন তোমরা তার চেয়ে উত্তম অভিবাদন জানাও ........... }(২).

 

‌‌বিশেষ্যের (ইসিম) চিহ্নসমূহ:

এই চিহ্নগুলো কোনো শব্দের ধরন চেনার পদ্ধতি স্পষ্ট করে যে, সেটি বিশেষ্য কি না। আর সেগুলো হলো:

১ - জার (জের হওয়া): এই জার বা জের হওয়া তিনভাবে হতে পারে—অব্যয় (হরফ) দ্বারা, সম্বন্ধ (ইযাফাত) দ্বারা অথবা অনুসরণ (তাবেয়িয়্যাত) দ্বারা।

- অব্যয় দ্বারা: যেমন—আল্লাহর শপথ (ওয়াল্লাহি), আল্লাহর কসম (বিল্লাহি)।

- সম্বন্ধ দ্বারা: যেমন—মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল; এখানে আল্লাহ শব্দটি সম্বন্ধ বা ইযাফাতের কারণে মাজরুর (জেরযুক্ত)।

- অনুসরণ দ্বারা: যেমন—মুহাম্মাদ পরম দয়াময় (আর-রহমানি) আল্লাহর রাসূল; এখানে ‘আর-রহমান’ শব্দটি অনুসরণের কারণে মাজরুর হয়েছে, কারণ এটি পূর্ববর্তী মাজরুর শব্দ ‘আল্লাহ’-এর গুণ (সিফাত)।

কখনো এই তিনটি প্রকার একত্রেও থাকতে পারে যেমন: (পরম করুণাময় অতি দয়ালু আল্লাহর নামে - বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম)।

নাম (ইসম): অব্যয় দ্বারা মাজরুর।

আল্লাহ: পবিত্র শব্দটি সম্বন্ধ বা ইযাফাত দ্বারা মাজরুর।

পরম করুণাময় ও অতি দয়ালু (আর-রহমান আর-রাহীম): অনুসরণ বা তাবেয়িয়্যাত দ্বারা মাজরুর।

২ - তানভীন: এটি এমন একটি ‘নুন’ যা বিশেষ্যের শেষে উচ্চারণে যুক্ত হয় কিন্তু লেখায় নয়, যার পরিবর্তে হরকতকে (স্বরচিহ্ন) দ্বিগুণ করা হয়।

হরকত দ্বিগুণ করার অর্থ হলো, আমি যদি বলি: (মুহাম্মাদ) আর তার সাথে তানভীন যুক্ত করি তবে তা উচ্চারণে হবে (মুহাম্মাদুন); এখানে আমি ‘নুন’ বর্ণটি বাদ দেব এবং শেষ হরকতটি দ্বিগুণ করব যাতে তা এভাবে লেখা হয়: (মুহাম্মাদুন - দুই পেশসহ)।

তানভীনের সাধারণ নিয়ম হলো: তানভীন কেবল বিশেষ্যের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। সুতরাং যখনই আপনি দেখবেন...

--------------------------------------------

(১) সূরা আয-যারিয়াত, আয়াত ২৫।

(২) সূরা আন-নিসা, আয়াত ৮৬।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ১৯)
فعلًا منونًا، أو حرفًا منونًا فاعلم أن هذا ليس التنوين المقصود.

مثال ذلك: قال تعالى { ......... لَنَسْفَعًا بِالنَّاصِيَةِ}(1)، فالتنوين هنا ليس تنوينًا إنما هو نون توكيد خفيفة وهى: تكون نونًا ساكنة تلحق آخر الفعل نطقًا وكتابة، لكن فى الرسم العثمانى تكتب نون التوكيد الخفيفة تنوينًا.

قال تعالى: { ............ وَلَئِنْ لَمْ يَفْعَلْ مَا آمُرُهُ لَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونًا مِنَ الصَّاغِرِينَ (32)}(2) فهذه أيضًا نون التوكيد الخفيفة.

3 - النداء: وهو دعاء بحرف من حروف النداء وهى (يا - أيا - هيا - أى - أ).

تنبيه: فإذا دخل حرف النداء على فعل أو حرف فله وجهان، فإما أن يكون حرف تنبيه، وإما أن يكون هناك اسم محذوف بعد حرف النداء.

مثال: قال تعالى {أَلَّا يَسْجُدُوا لِلَّهِ}(3) قرأها الكسائى «ألَا يا اسجُدوا لله» والمعنى: ياقوم اسجدوا لله، أو يا هؤلاء اسجدوا لله، أو أنَّ «يا» هنا ليست للنداء بل للتنبيه مثل «ها» الداخلة على اسم الإشارة فإنها للتنبيه، وفى الحرف مثل قوله تعالى { .... يَالَيْتَنِي مِتُّ قَبْلَ هَذَا ...... }(4)

4 - دخول ال التعريفية: هى التى، إذا دخلت على الاسم تكسبه التعريف، أما إن وجدتها داخلة على الفعل فليست التعريفية إنما هى الموصولة.

ومنه قول القائل:

ما أنت بالحكم التُرضى حكومته … ولا الأصيل ولا ذى الرأى والجدل

مثال التعريفية: (رجل) إذا دخلت عليه (ال) تكسبه التعريف بعد أن كان نكرة فيصبح (الرجل)

5 - الإسناد: مثل: ءامن علىٌّ: فهنا أسندت إلى علىٍّ الإيمان.

--------------------------------------------

(1) سورة العلق الآية 15.

(2) سورة يوسف الآية 32.

(3) سورة النمل الآية 25.

(4) سورة مريم الآية 23.
তানভীনযুক্ত কোনো ক্রিয়া অথবা তানভীনযুক্ত কোনো হরফ দেখলে জেনে রাখুন যে, এটি সেই কাঙ্ক্ষিত তানভীন নয়।

এর উদাহরণ: মহান আল্লাহ বলেন { ......... আমরা অবশ্যই তাকে ললাট ধরে টেনে হিঁচড়াবো}(১), এখানে তানভীনটি তানভীন নয়, বরং এটি হলো 'নূনে তাকিদ খাফিফাহ' (হালকা গুরুত্ববাচক নূন)। আর তা হলো: একটি সাকিন নূন যা উচ্চারণে এবং লেখায় ক্রিয়ার শেষে যুক্ত হয়, তবে উসমানী লিপিতে নূনে তাকিদ খাফিফাহ-কে তানভীন হিসেবে লেখা হয়।

মহান আল্লাহ বলেন: { ............ আর আমি যা আদেশ করি তা যদি সে না করে, তবে সে অবশ্যই কারারুদ্ধ হবে এবং লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত হবে (৩২)}(২) এটিও নূনে তাকিদ খাফিফাহ।

৩ - নিদা (আহ্বান): এটি হলো আহ্বানের কোনো একটি হরফের মাধ্যমে ডাকা। হরফগুলো হলো (ইয়া - আয়া - হাইয়া - আই - আ)।

সতর্কীকরণ: যদি আহ্বানের হরফ কোনো ক্রিয়া বা হরফের আগে আসে, তবে তার দুটি দিক থাকে; হয় এটি সতর্কীকরণ সূচক হরফ হবে, অথবা আহ্বানের হরফের পরে কোনো একটি বিশেষ্য উহ্য থাকবে।

উদাহরণ: মহান আল্লাহ বলেন {যাতে তারা আল্লাহকে সিজদা না করে}(৩) ইমাম কিসায়ী এটিকে পড়েছেন ‘আলা ইয়া-সজুদু লিল্লাহ’ হিসেবে এবং এর অর্থ হলো: হে আমার জাতি, তোমরা আল্লাহকে সিজদা করো; অথবা হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহকে সিজদা করো। অথবা এখানে ‘ইয়া’ আহ্বানের জন্য নয় বরং সতর্কীকরণের জন্য, যেমন ইশারাবাচক শব্দের শুরুতে ‘হা’ যুক্ত হয় সতর্কীকরণের জন্য। হরফের ক্ষেত্রে উদাহরণ যেমন মহান আল্লাহর বাণী { .... হায়, আমি যদি এর আগেই মারা যেতাম ...... }(৪)

৪ - ‘আল’ তারিফিয়্যাহ-এর প্রবেশ: এটি সেই ‘আল’ যা কোনো বিশেষ্যের শুরুতে যুক্ত হয়ে তাকে নির্দিষ্টতা দান করে। তবে আপনি যদি একে কোনো ক্রিয়ার শুরুতে যুক্ত দেখেন, তবে তা নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক ‘আল’ নয় বরং তা ‘আল’ মাওসুলাহ (সংযোজক)।

যেমন কবির উক্তি:

তুমি সেই বিচারক নও যার ফয়সালা সন্তোষজনক … না তুমি সম্ভ্রান্ত, না তুমি সঠিক মত ও বিতর্কের অধিকারী

নির্দিষ্টতা জ্ঞাপক ‘আল’-এর উদাহরণ: (রাজুল - একজন ব্যক্তি) যখন এর শুরুতে (আল) যুক্ত হয়, তখন এটি অনির্দিষ্ট থাকার পর নির্দিষ্ট হয়ে যায় এবং হয় (আর-রাজুল - ব্যক্তিটি)।

৫ - ইসনাদ (সম্বন্ধন): যেমন: আলী ঈমান এনেছে: এখানে আলীর দিকে ঈমানকে সম্বন্ধযুক্ত করা হয়েছে।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আলাক, আয়াত ১৫।

(২) সূরা ইউসুফ, আয়াত ৩২।

(৩) সূরা আন-নামল, আয়াত ২৫।

(৪) সূরা মারইয়াম, আয়াত ২৩।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২০)
مثال آخر قال تعالى {مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ .......... }(1) أسند إلى محمد الرسالة.

والإسناد أصدق علامة فى باب الاسمية، لماذا؟ لأن به اكتشفت اسمية الضمائر أى أنها العلامة الظاهرة فى علامات الاسم مثل: أكرمتك فالتاء هنا هى المسند إليه فدل الإسنادعلى اسمية الضمير.

--------------------------------------------

(1) سورة الفتح الآية 29.
আরেকটি উদাহরণ, মহান আল্লাহ বলেছেন {মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল...}(১) এখানে মুহাম্মাদ-এর প্রতি রিসালাতকে সম্বন্ধযুক্ত (ইসনাদ) করা হয়েছে।

আর 'ইসনাদ' বা সম্বন্ধযুক্ত করা বিশেষ্য হওয়ার অধ্যায়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চিহ্ন। কেন? কারণ এর মাধ্যমেই সর্বনামসমূহের বিশেষ্য হওয়া উদঘাটিত হয়েছে, অর্থাৎ এটি বিশেষ্যের আলামতসমূহের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট আলামত। যেমন: 'আকরামতুকা' (আমি তোমাকে সম্মানিত করেছি); এখানে 'তা' হলো মুসনাদ ইলাইহি, ফলে এই ইসনাদ সর্বনামের বিশেষ্য হওয়ার প্রমাণ দেয়।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-ফাতহ, আয়াত ২৯।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২১)
‌‌الفعل

تعريفه: هو كلمة دلت على معنى فى نفسها واقترنت بأحد الأزمنة الثلاثة. وهوثلاثة أنواع:

1 - فعل ماضى: هو ما دل على حدوث شئ فى الزمن الماضى مثل قوله تعالى {آمَنَ الرَّسُولُ ........ }(1).

2 - فعل مضارع: هو ما دل على حدوث شئ فى الزمن الحاضر مثل قوله تعالى {يُرِيدُونَ أَنْ يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ .......... }(2)، أو المستقبل مثل قوله تعالى {سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي ........ }(3)، والمضارع أى المشابه لأنه يشابه الاسم.

3 - فعل أمر: هو ما دل علي طلب حدوث شئ فى الزمن المستقبل.

 

‌‌علامات الفعل:

هناك علامات مشتركة وعلامات خاصة:

 

‌‌أولًا: العلامات المشتركة:

هناك علامات مشتركة بين الفعل الماضى والفعل المضارع، وعلامات مشتركة بين الفعل المضارع والفعل الأمر، وعلامات مشتركة بين الجميع.

 

‌‌أ) العلامات المشتركة بين الفعل الماضى والفعل المضارع هى:

دخول «قد» فإذا دخلت «قد» على الفعل الماضى يكون لها معنيان:

- المعنى الأول: تفيد التحقيق مثل: قوله تعالى {قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ}(4) ومثل: (قد غربت الشمس) وكان ذلك بعد الغروب.

- المعنى الثانى: تفيد التقريب مثل: قد قامت الصلاة فالمعنى اقتربت من القيام.

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة الآية 285.

(2) سورة التوبة الآية 32.

(3) سورة يوسف الآية 98.

(4) سورة المؤمنون الآية 1.
ক্রিয়া

এর সংজ্ঞা: এটি এমন একটি শব্দ যা নিজে নিজেই নিজের অর্থ প্রকাশ করে এবং তিন কালের যে কোনো একটির সাথে সম্পৃক্ত হয়। আর এটি তিন প্রকার:

১ - অতীতকালীন ক্রিয়া: এটি অতীত কালে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া বোঝায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {রাসূল ঈমান এনেছেন ........ }(১)।

২ - বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া: এটি বর্তমান কালে কোনো কাজ সংঘটিত হওয়া বোঝায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {তারা আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায় .......... }(২), অথবা ভবিষ্যৎ কাল বোঝায়, যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {সত্বর আমি তোমাদের জন্য আমার প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করব ........ }(৩)। আর 'মুদারে' অর্থ সদৃশ, কারণ এটি বিশেষ্যের (ইসম) সাথে সাদৃশ্য রাখে।

৩ - আদেশসূচক ক্রিয়া: এটি ভবিষ্যৎ কালে কোনো কাজ করার অনুরোধ বা দাবি করা বোঝায়।

 

ক্রিয়ার চিহ্নসমূহ:

এখানে কিছু সাধারণ চিহ্ন এবং কিছু বিশেষ চিহ্ন রয়েছে:

 

প্রথমত: সাধারণ চিহ্নসমূহ:

অতীতকালীন ক্রিয়া ও বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার মধ্যে কিছু সাধারণ চিহ্ন রয়েছে, বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া ও আদেশসূচক ক্রিয়ার মধ্যে কিছু সাধারণ চিহ্ন রয়েছে এবং সব প্রকার ক্রিয়ার মধ্যে কিছু সাধারণ চিহ্ন রয়েছে।

 

ক) অতীতকালীন ক্রিয়া ও বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়ার মধ্যকার সাধারণ চিহ্নগুলো হলো:

‘ক্বাদ’ (قد) এর আগমন। সুতরাং ‘ক্বাদ’ যখন অতীতকালীন ক্রিয়ার পূর্বে আসে, তখন এর দুটি অর্থ হয়:

- প্রথম অর্থ: এটি নিশ্চয়তা প্রদান করে। যেমন: মহান আল্লাহর বাণী {নিশ্চয় মুমিনগণ সফল হয়েছে}(৪) এবং যেমন: (সূর্য নিশ্চয়ই অস্তমিত হয়েছে), যা সূর্যাস্তের পর বলা হয়।

- দ্বিতীয় অর্থ: এটি নিকটবর্তী হওয়া বোঝায়। যেমন: (নামাজ দাঁড়িয়ে গেছে), এর অর্থ হলো নামাজ শুরু হওয়া নিকটবর্তী।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাক্বারাহ, আয়াত ২৮৫।

(২) সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত ৩২।

(৩) সূরা ইউসুফ, আয়াত ৯৮।

(৪) সূরা আল-মুমিনুন, আয়াত ১।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২২)
* إذا دخلت على الفعل المضارع تفيد ثلاثة أشياء:

1 - التقليل، مثل: قد ينجح الكسول، ومثل: قد يغلب الضعيف.

2 - التكثير مثل: قد ينجح المجتهد، ومثل: قد يغلب القوى.

3 - التحقيق: مثل قوله تعالى {قَدْ يَعْلَمُ اللَّهُ الْمُعَوِّقِينَ مِنْكُمْ ........ }(1)، ومثل قوله تعالى: { ............... قَدْ يَعْلَمُ مَا أَنْتُمْ عَلَيْهِ ............... }(2).

 

‌‌ب) العلامات المشتركة بين الفعل المضارع والفعل الأمر:

1 - دخول نون التوكيد الثقيلة أو الخفيفة:

مثال لنون التوكيد الثقيلة: (يقرأُ) إذا أدخلت عليها نون التوكيد الثقيلة تنطق هكذا (يقرأَنَّ)، وإذا دخلت على فعل الأمر تكون (اقرأَنَّ).

الكلمة إعرابها
يقرأَنَّ يقرأَ: فعل مضارع مبنى على الفتح لاتصاله بنون التوكيد الثقيلة اتصالا مباشرًا.
ونون التوكيد الثقيلة: حرف مبنى على الفتح لا محل له من الإعراب.
اقرأَنَّ اقرأ: فعل أمر مبنى على الفتح لاتصاله بنون التوكيد الثقيلة اتصالا مباشرًا.ونون التوكيد الثقيلة: حرف مبنى على الفتح لا محل له من الإعراب.

مثال: لنون التوكيد الخفيفة: (يقرأُ) إذا دخلت عليها نون التوكيد الخفيفة تكون هكذا (يقرأَنْ)، وإذا دخلت على فعل الأمر تكون (اقرأَن).

الكلمة إعرابها
يقرأَنْ يقرأَ: فعل مضارع مبنى على الفتح الظاهر لاتصاله بنون التوكيد الخفيفة.
ونون التوكيد الخفيفة: حرف مبنى على السكون لا محل له من الإعراب
اقرأَنْ اقرأَ: فعل أمر مبنى على الفتح لاتصاله بنون التوكيد الخفيفة.
ونون التوكيد الخفيفة: حرف مبنى على السكون لا محل له من الإعراب.

--------------------------------------------

(1) سورة الأحزاب الآية 18.

(2) سورة النور الآية 64.
* যদি এটি মুদারে ক্রিয়ার (বর্তমান/ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) শুরুতে আসে, তবে তা তিনটি অর্থ প্রদান করে:

১ - স্বল্পতা বুঝাতে, যেমন: অলস ব্যক্তি কদাচিৎ সফল হয়, এবং যেমন: দুর্বল ব্যক্তি কদাচিৎ জয়ী হয়।

২ - আধিক্য বুঝাতে, যেমন: পরিশ্রমী ব্যক্তি প্রায়ই সফল হয়, এবং যেমন: শক্তিশালী ব্যক্তি প্রায়ই জয়ী হয়।

৩ - নিশ্চয়তা বুঝাতে: যেমন মহান আল্লাহর বাণী {আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের মধ্য থেকে বাধাদানকারীদের জানেন ........ }(১), এবং যেমন মহান আল্লাহর বাণী: { ............... তিনি অবশ্যই জানেন তোমরা কিসের ওপর আছো ............... }(২)।

 

‌‌খ) মুদারে ক্রিয়া এবং আমর ক্রিয়ার (আদেশসূচক ক্রিয়া) মধ্যকার সাধারণ আলামতসমূহ:

১ - নুনে তাকিদ সাকিলা (ভারী নুন) অথবা খাফিফা (হালকা নুন) যুক্ত হওয়া:

নুনে তাকিদ সাকিলা-এর উদাহরণ: (সে পড়ে) শব্দটির সাথে যখন নুনে তাকিদ সাকিলা যুক্ত হয়, তখন তার উচ্চারণ হয় (সে অবশ্যই অবশ্যই পড়বে), আর যখন এটি আমর ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয় তখন হয় (তুমি অবশ্যই অবশ্যই পড়ো)।

শব্দ ইরাব বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
সে অবশ্যই অবশ্যই পড়বে পড়বে: মুদারে ক্রিয়া, যা ফাতাহ-এর ওপর মাবনি; কারণ এটি সরাসরি নুনে তাকিদ সাকিলা-এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
নুনে তাকিদ সাকিলা: এটি ফাতাহ-এর ওপর মাবনি একটি হরফ বা বর্ণ, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে (ইরাবে) এর কোনো স্থান নেই।
তুমি অবশ্যই অবশ্যই পড়ো পড়ো: আমর ক্রিয়া, যা ফাতাহ-এর ওপর মাবনি; কারণ এটি সরাসরি নুনে তাকিদ সাকিলা-এর সাথে যুক্ত হয়েছে। নুনে তাকিদ সাকিলা: এটি ফাতাহ-এর ওপর মাবনি একটি হরফ, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই।

নুনে তাকিদ খাফিফা-এর উদাহরণ: (সে পড়ে) শব্দটির সাথে যখন নুনে তাকিদ খাফিফা যুক্ত হয়, তখন তা হয় (সে অবশ্যই পড়বে), আর যখন এটি আমর ক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয় তখন হয় (তুমি অবশ্যই পড়ো)।

শব্দ ইরাব বা ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
সে অবশ্যই পড়বে পড়বে: মুদারে ক্রিয়া, যা দৃশ্যমান ফাতাহ-এর ওপর মাবনি; কারণ এটি নুনে তাকিদ খাফিফা-এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
নুনে তাকিদ খাফিফা: সুকুন-এর ওপর মাবনি একটি হরফ, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই।
তুমি অবশ্যই পড়ো পড়ো: আমর ক্রিয়া, যা ফাতাহ-এর ওপর মাবনি; কারণ এটি নুনে তাকিদ খাফিফা-এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
নুনে তাকিদ খাফিফা: সুকুন-এর ওপর মাবনি একটি হরফ, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-আহযাব, আয়াত ১৮।

(২) সূরা আন-নূর, আয়াত ৬৪।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২৩)
2 - دخول ياء المخاطبة: مثل (تقرأُ) بعد دخول ياء المخاطبة تكون هكذا (تقرئين).

مثال لفعل الأمر: (اقرأ) تكون بعد دخول ياء المخاطبة (اقرئى).

 

‌‌ج) العلامات المشتركة بين الجميع:

1 - ألف الاثنين مثل:

- الفعل الماضى (ءامنَ) (ءامنَا).

- الفعل المضارع (يؤمنُ) (يؤمنان).

- الفعل الأمر (ءامنْ) (ءامِنَا).

2 - واو الجماعة:

- الفعل الماضى: (أسلمَ) (أسلموا).

- الفعل المضارع: (يسلمُ) (يسلمون).

- الفعل الأمر: (أسلمْ) (أسلِموا).

3 - نون النسوة:

- الفعل الماضى (قرأَ) (قرأْنَ).

- الفعل المضارع (يقرأُ) (يقرأْنَ).

- الفعل الأمر (اقرأْ) (اقرأْنَ).

تنبيه: الفرق بين نون التوكيد الخفيفة وبين نون النسوة:

- الفعل مع نون التوكيد الخفيفة يُبنى على الفتح، ومع نون النسوة يُبنى على السكون.

- نون التوكيد الخفيفة تبنى على السكون، ونون النسوة تبنى على الفتح.

 

‌‌ثانيًا: العلامات الخاصة:

‌‌أ) العلامات الخاصة بالفعل الماضى هى:

1 - دخول تاء التأنيث الساكنة مثل: (ضرب): إذا اقترنت بها تاء التأنيث الساكنة (ضربَتْ).

2 - دخول تاء الفاعل مثل: (ضرب): إذا اقترنت بها تاء الفاعل (ضربْتُ).
২ - ইয়া আল-মুখাতাবাহ (স্ত্রীবাচক সম্বোধনের ইয়া) এর ব্যবহার: যেমন (তুমি পড়ছ - পুরুষবাচক) ইয়া আল-মুখাতাবাহ যুক্ত হওয়ার পর তা এরূপ হয় (তুমি পড়ছ - স্ত্রীবাচক)।

আমর (আদেশসূচক) ক্রিয়ার উদাহরণ: (তুমি পড় - পুরুষবাচক) ইয়া আল-মুখাতাবাহ যুক্ত হওয়ার পর হয় (তুমি পড় - স্ত্রীবাচক)।

 

‌‌গ) সকলের মধ্যে সাধারণ চিহ্নসমূহ:

১ - আলিফ আল-ইথনাইন (দ্বিবচনের আলিফ) যেমন:

- মাযি (অতীতকাল) ক্রিয়া (সে ঈমান এনেছে) (তারা দুইজন ঈমান এনেছে)।

- মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) ক্রিয়া (সে ঈমান আনছে) (তারা দুইজন ঈমান আনছে)।

- আমর (আদেশসূচক) ক্রিয়া (তুমি ঈমান আনো) (তোমরা দুইজন ঈমান আনো)।

২ - ওয়াও আল-জামাআহ (বহুবচনের ওয়াও):

- মাযি (অতীতকাল) ক্রিয়া: (সে ইসলাম গ্রহণ করেছে) (তারা সকলে ইসলাম গ্রহণ করেছে)।

- মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) ক্রিয়া: (সে ইসলাম গ্রহণ করছে) (তারা সকলে ইসলাম গ্রহণ করছে)।

- আমর (আদেশসূচক) ক্রিয়া: (তুমি ইসলাম গ্রহণ করো) (তোমরা সকলে ইসলাম গ্রহণ করো)।

৩ - নুন আন-নিসওয়াহ (স্ত্রীবাচক বহুবচনের নুন):

- মাযি (অতীতকাল) ক্রিয়া (সে পড়েছে) (তারা সকল নারী পড়েছে)।

- মুদারে (বর্তমান/ভবিষ্যৎকাল) ক্রিয়া (সে পড়ছে) (তারা সকল নারী পড়ছে)।

- আমর (আদেশসূচক) ক্রিয়া (তুমি পড়) (তোমরা সকল নারী পড়)।

সতর্কতা: নুন আত-তাওকিদ আল-খাফিফাহ (হালকা গুরুত্ব প্রদানকারী নুন) এবং নুন আন-নিসওয়াহ এর মধ্যে পার্থক্য:

- নুন আত-তাওকিদ আল-খাফিফাহ যুক্ত ক্রিয়া ফাতহাহ (যবর)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয় (মাবনি আলাল ফাতহ), এবং নুন আন-নিসওয়াহ যুক্ত ক্রিয়া সুকুন (যযম)-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয় (মাবনি আলাস সুকুন)।

- নুন আত-তাওকিদ আল-খাফিফাহ নিজে সুকুন-যুক্ত হয়, এবং নুন আন-নিসওয়াহ ফাতহাহ-যুক্ত হয়।

 

‌‌দ্বিতীয়ত: বিশেষ চিহ্নসমূহ:

‌‌ক) মাযি (অতীতকাল) ক্রিয়ার বিশেষ চিহ্নসমূহ হলো:

১ - সুকুনযুক্ত তা-আত-তানিথ (স্ত্রীবাচক তা) এর ব্যবহার, যেমন: (সে প্রহার করেছে - পুরুষ): যখন এর সাথে সুকুনযুক্ত তা-আত-তানিথ যুক্ত হয় (সে প্রহার করেছে - নারী)।

২ - তা-আল-ফায়িল (কর্তৃবাচক তা) এর ব্যবহার, যেমন: (সে প্রহার করেছে): যখন এর সাথে তা-আল-ফায়িল যুক্ত হয় (আমি প্রহার করেছি)।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২৪)
‌‌ب) العلامات الخاصة بالفعل المضارع:

1 - دخول السين وسوف وهى تسمى بحروف التنفيس، وحروف التنفيس تدل على الزمن المستقبل.

فالسين: حرف تنفيس للقريب. مثال: قال تعالي {سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَنْ قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا ................. }(1).

وسوف: حرف تنفيس للبعيد.

مثال قوله تعالى { ............ سَوْفَ أَسْتَغْفِرُ لَكُمْ رَبِّي .............. }(2) قيل: أخرهم إلى السَّحر، واستُنبِط ذلك لأن الفعل المضارع اقترن ب (سوف) التى تدل على التنفيس البعيد، فأخرج السَّحَر من معنيين الأول: أن سوف للتنفيس البعيد،

والثانى: المعنى الشرعى أن السَّحَرَ أفضل أوقات الاستغفار.

2 - لم الجازمة: وتأتى مفصلة فى الفعل المضارع إن شاء الله.

 

‌‌ج) العلامات الخاصة بفعل الأمر: وهى قبول ياء المخاطبة مع دلالته على الطلب بنفسه فدلالته على الطلب بنفسه مثل: أسرعْ - أسجدْ، وبدلالته على الطلب بنفسه أخرج الفعل المضارع لأنه يدل على الطلب بلام الأمر، مثل: (لينفقْ) (ليضربْ) (ليقرأْ)

وقبول ياء المخاطبة أخرج اسم فعل الأمر حيث إنه يدل على الطلب بنفسه لكنه لا يقبل ياء المخاطبة.

مثال: اسم فعل الأمر مثل (صهْ) بمعنى اسكت، يدل على الطلب بنفسه ولا يقبل ياء المخاطبة.

--------------------------------------------

(1) سورة البقرة الآية: 142.

(2) سورة يوسف الآية 98.
‌‌খ) ফে’লে মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া)-এর বিশেষ চিহ্নসমূহ:

১ - 'সিন' এবং 'সাওফা' এর প্রবেশ; এদেরকে অবকাশসূচক বা ভবিষ্যৎ প্রকাশক হরফ (হুরুফুত তানফিস) বলা হয়। আর এই হরফসমূহ ভবিষ্যৎ কালের অর্থ প্রদান করে।

'সিন': এটি নিকটবর্তী ভবিষ্যৎ প্রকাশক হরফ। উদাহরণ: মহান আল্লাহ বলেন, {মানুষদের মধ্যে যারা নির্বোধ তারা অচিরেই বলবে, তারা যে কিবলার ওপর ছিল, তা থেকে কিসে তাদেরকে ফিরিয়ে দিল? ................. }(১)।

'সাওফা': এটি দূরবর্তী ভবিষ্যৎ প্রকাশক হরফ।

উদাহরণ হিসেবে মহান আল্লাহর বাণী: { ............ আমি অচিরেই তোমাদের জন্য আমার প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব .............. }(২) বলা হয়েছে যে: তিনি তাদেরকে শেষ রাত (সাহরী) পর্যন্ত বিলম্বিত করেছিলেন। আর এই বিষয়টি এ থেকে উদ্ঘাটিত হয়েছে যে, এখানে ফে’লে মুদারে ‘সাওফা’ এর সাথে যুক্ত হয়েছে যা দূরবর্তী ভবিষ্যৎ নির্দেশ করে। সুতরাং শেষ রাতের বিষয়টি দুটি অর্থ থেকে প্রতিপন্ন হয়, প্রথমত: ‘সাওফা’ শব্দটি দূরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য ব্যবহৃত হয়,

এবং দ্বিতীয়ত: শরয়ি অর্থ হলো এই যে, শেষ রাত বা সাহরীর সময় হলো ক্ষমা প্রার্থনার সর্বশ্রেষ্ঠ সময়।

২ - জজম প্রদানকারী ‘লাম’: ইনশাআল্লাহ ফে’লে মুদারে এর আলোচনায় এর বিস্তারিত বিবরণ আসবে।

 

‌‌গ) ফে’লে আমর (আদেশসূচক ক্রিয়া)-এর বিশেষ চিহ্নসমূহ: তা হলো শব্দটির নিজস্ব গঠনের মাধ্যমে কোনো কিছু চাওয়া বা নির্দেশ করা বুঝানোর সাথে সাথে ‘ইয়ায়ে মুখাতাবাহ’ (স্ত্রীবাচক সম্বোধনের ‘ইয়া’) গ্রহণ করা। নিজস্ব গঠনের মাধ্যমে নির্দেশ করা বুঝানোর দ্বারা ফে’লে মুদারে এর সংজ্ঞাকে পৃথক করা হয়েছে; কেননা সেটি ‘লামে আমর’ এর মাধ্যমে নির্দেশের অর্থ প্রদান করে, যেমন: (সে যেন ব্যয় করে), (সে যেন প্রহার করে), (সে যেন পাঠ করে)।

আর ‘ইয়ায়ে মুখাতাবাহ’ গ্রহণ করার শর্তের দ্বারা ‘ইসমু ফে’লে আমর’ পৃথক হয়ে গেছে; কারণ তা নিজস্বভাবে নির্দেশের অর্থ প্রকাশ করলেও ‘ইয়ায়ে মুখাতাবাহ’ গ্রহণ করে না।

উদাহরণ: ‘ইসমু ফে’লে আমর’ যেমন (সাহ), যার অর্থ ‘চুপ করো’। এটি নিজস্ব সত্ত্বায় নির্দেশের অর্থ প্রদান করে কিন্তু ‘ইয়ায়ে মুখাতাবাহ’ গ্রহণ করে না।

--------------------------------------------

(১) সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৪২।

(২) সূরা ইউসুফ, আয়াত: ৯৮।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২৫)
‌‌أحوال البناء في الأفعال

‌‌أحوال بناء الفعل الماضي:

القاعدة العامة فى الفعل الماضى: أن الفعل الماضى مبني دائمًا.

1 - يُبنى على الفتح الظاهر إذا كان صحيح الآخر، أو كان معتل الآخر بالياء أو الواو ولم يتصل به شيء، أو اتصل به ألف الاثنين.

الكلمة إعرابها
ضربَ فعل ماضى مبنى على الفتح الظاهر لأنه صحيح الآخر ولم يتصل به شيء لا محل له من الإعراب.
رضيَ فعل ماضى مبنى على الفتح الظاهر لا محل له من الإعراب.

وإذا كان معتل الآخر بالألف يُبنى على الفتح المقدر مثل (سعى).

الكلمة إعرابها
سعى فعل ماضى مبنى على الفتح المقدر لأنه معتل الآخر بالألف منع من ظهوره التعذر لا محل له من الإعراب.

الخلاصة: الفعل الماضى يُبنى على الفتح الظاهر إذا كان صحيح الآخر، أو كان معتلًّا بالواو أو الياء ولم يتصل به شيء، أو اتصل به ألف الاثنين، ويُبنى على الفتح المقدر إذا كان معتل الآخر بالألف.

2 - يُبنى على السكون إذا اتصل به ضمير رفع متحرك.

وضمائر الرفع قسمان:

أ) ضمائر الرفع الساكنة هى (ألف الاثنين - واو الجماعة - ياء المخاطبة).

ب) ضمائر الرفع المتحركة هى (تاء الفاعل - نون النسوة - نا الفاعلين)

مثال: ءامن - ءامنتُ.
ক্রিয়ার মাবনি (অপরিবর্তনীয়) হওয়ার অবস্থাসমূহ

ফেলে মাজি (অতীতকালীন ক্রিয়া) মাবনি হওয়ার অবস্থাসমূহ:

ফেলে মাজির ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম হলো: ফেলে মাজি সর্বদা মাবনি হয়ে থাকে।

১ - এটি দৃশ্যমান ফাতহা (যবর)-এর ওপর মাবনি হয় যদি এর শেষ বর্ণটি সহীহ (ব্যঞ্জনবর্ণ) হয়, অথবা যদি এর শেষ বর্ণটি ইয়া বা ওয়াও বিশিষ্ট মু'তাল (স্বরবর্ণযুক্ত) হয় এবং তার সাথে অন্য কিছু যুক্ত না হয়, অথবা যদি তার সাথে দ্বিবচনের আলিফ যুক্ত হয়।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
দারাবা (সে প্রহার করল) এটি ফেলে মাজি, যা দৃশ্যমান ফাতহার ওপর মাবনি; কারণ এটি সহীহুল আখির (শেষ বর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ) এবং এর সাথে কোনো কিছু যুক্ত হয়নি। ইরাবের ক্ষেত্রে এর কোনো স্থান নেই।
রাদিয়া (সে সন্তুষ্ট হলো) এটি ফেলে মাজি, যা দৃশ্যমান ফাতহার ওপর মাবনি। ইরাবের ক্ষেত্রে এর কোনো স্থান নেই।

আর যদি এর শেষ বর্ণটি আলিফ বিশিষ্ট মু'তাল (স্বরবর্ণযুক্ত) হয়, তবে এটি প্রচ্ছন্ন বা উহ্য ফাতহার ওপর মাবনি হয়, যেমন— (সা'আ)।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
সা'আ (সে চেষ্টা করল) এটি ফেলে মাজি, যা প্রচ্ছন্ন ফাতহার ওপর মাবনি; কারণ এটি আলিফ বিশিষ্ট মু'তাল। উচ্চারণের অসম্ভবতার (তা'আযযুর) কারণে এখানে ফাতহা প্রকাশ পাওয়া সম্ভব নয়। ইরাবের ক্ষেত্রে এর কোনো স্থান নেই।

সারসংক্ষেপ: ফেলে মাজি দৃশ্যমান ফাতহার ওপর মাবনি হয় যখন সেটি সহীহুল আখির হয়, অথবা ওয়াও বা ইয়া বিশিষ্ট মু'তাল হয় এবং তার শেষে কিছু যুক্ত না হয়, অথবা তার সাথে দ্বিবচনের আলিফ যুক্ত হয়। আর এটি প্রচ্ছন্ন ফাতহার ওপর মাবনি হয় যখন তার শেষ বর্ণটি আলিফ বিশিষ্ট মু'তাল হয়।

২ - ফেলে মাজির সাথে যখন হরকতযুক্ত মারফু যমীর (কর্তৃবাচক সর্বনাম) যুক্ত হয়, তখন এটি সুকুন-এর ওপর মাবনি হয়।

মারফু যমীর দুই প্রকার:

ক) সাকিন মারফু যমীরগুলো হলো (দ্বিবচনের আলিফ, বহুবচনের ওয়াও, সম্বোধিত স্ত্রীলিঙ্গের ইয়া)।

খ) হরকতযুক্ত মারফু যমীরগুলো হলো (কর্তাবাচক 'তা', স্ত্রীলিঙ্গবাচক 'নুন', কর্তাবাচক 'না')।

উদাহরণ: আমানা - আমানতু।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২৬)
3 - البناء على الضم فى حالة واحدة وهى: إذا اتصل الفعل بواو الجماعة مثل: أسلموا.

الكلمة إعرابها
أسلموا أسلم: فعل ماضى مبنى على الضم لاتصاله بواو الجماعة.
وواو الجماعة ضمير رفع متصل مبنى على السكون فى محل رفع فاعل.
৩ - একটি অবস্থায় 'দম্মা' (পেশ) এর ওপর ভিত্তি (মাবনি) হওয়া, আর তা হলো: যখন ক্রিয়াটি 'ওয়াও আল-জামাআহ' (বহুবচনের ওয়াও) এর সাথে যুক্ত হয়। যেমন: আসলামু।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
আসলামু আসলাম: 'ওয়াও আল-জামাআহ' এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে 'দম্মা'র ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত (মাবনি) একটি অতীতকালীন ক্রিয়া।
এবং 'ওয়াও আল-জামাআহ' হলো একটি সংযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তিপ্রাপ্ত এবং কর্তার (ফায়েল) স্থানে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২৭)
‌‌فعل الأمر

أحوال بنائه:

1 - البناءعلى السكون: إذا كان صحيح الآخر ولم يتصل به شيء، أو اتصل به نون النسوة مثل: (أقمْ - أقمْنَ).

الكلمة إعرابها
أقمْ فعل أمر مبنى على السكون لأنه صحيح الأخر ولم يتصل به شيء لا محل له من الإعراب.
أقمْنَ أقمْ: فعل أمر مبنى على السكون لاتصاله بنون النسوة.
ونون النسوة: ضمير رفع متصل مبنى على الفتح فى محل رفع فاعل.

2 - البناء على الفتح: إذا اتصل به نون التوكيد الثقيلة أو الخفيفة اتصالًا مباشرًا:

مثال: (اضرب) نضيف إليها نون التوكيد الخفيفة تكون (اضربَنْ)، وإذا أضفنا إليها نون التوكيد الثقيلة تكون (اضربَنَّ).

الكلمة إعرابها
اضربَنَّ اضرب: فعل أمر مبنى على الفتح الظاهر لاتصاله بنون التوكيد الثقيلة اتصالًا مباشرًا.
ونون التوكيد المثقلة حرف مبنى على الفتح لا محل له من الإعراب

* فائدة: واشترط أن يكون الاتصال مباشرًا، أى لا يفصل بين الفعل وبين نون التوكيد شئ، كالضمائر فإن كان الاتصال غير مباشر لا يبنى على الفتح.

مثال (اضربوا) إذا أدخلنا عليها نون التوكيد تكون هكذا (اضربونَّ) يلتقى الساكنان فتحذف (و) لالتقاء الساكنين فيكون الفعل هكذا (اضربُنَّ).
অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া (ফেলে আমর)

এর গঠনগত অবস্থা (বিনা):

১ - সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়া (মাবনি আলাস সুকুন): যদি ক্রিয়ার শেষ বর্ণটি সঠিক (সহীহুল আখের) হয় এবং এর সাথে কোনো কিছু যুক্ত না হয়, অথবা যদি এর সাথে স্ত্রীবাচক নুন (নুনুন নিসওয়াহ) যুক্ত হয়। যেমন: (প্রতিষ্ঠা করো - তোমরা মহিলারা প্রতিষ্ঠা করো)।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
প্রতিষ্ঠা করো এটি একটি অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া যা সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত (মাবনি), কারণ এর শেষ বর্ণটি সঠিক এবং এর সাথে কোনো কিছু যুক্ত হয়নি; ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর বিশেষ কোনো স্থান (মাহাল) নেই।
তোমরা মহিলারা প্রতিষ্ঠা করো প্রতিষ্ঠা করো (অংশটি): এটি অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া যা স্ত্রীবাচক নুন-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুন-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে।
আর স্ত্রীবাচক নুন: এটি একটি সংযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম যা ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং এটি কর্তার (ফায়েল) স্থলে রয়েছে।

২ - ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হওয়া (মাবনি আলাল ফাতহ): যদি ক্রিয়ার সাথে গুরুত্বারোপকারী ভারী (সাকিলাহ) অথবা হালকা (খফিফাহ) নুন সরাসরি যুক্ত হয়:

উদাহরণ: (তুমি প্রহার করো) এর সাথে যদি আমরা হালকা গুরুত্বারোপকারী নুন যুক্ত করি তবে তা হবে (তুমি অবশ্যই প্রহার করবে - হালকা), আর যদি এর সাথে ভারী গুরুত্বারোপকারী নুন যুক্ত করি তবে তা হবে (তুমি অবশ্যই প্রহার করবে - ভারী)।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ
তুমি অবশ্যই প্রহার করবে (ভারী) প্রহার করো (অংশটি): অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া যা প্রকাশ্য ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত, কারণ এটি সরাসরি ভারী গুরুত্বারোপকারী নুন-এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
আর ভারী গুরুত্বারোপকারী নুন: এটি একটি বর্ণ যা ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত এবং ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই।

* বিশেষ দ্রষ্টব্য: শর্ত হলো এই সংযোগটি অবশ্যই সরাসরি হতে হবে, অর্থাৎ ক্রিয়া এবং গুরুত্বারোপকারী নুন-এর মাঝে কোনো কিছু (যেমন সর্বনাম) ব্যবধান তৈরি করবে না। যদি এই সংযোগ পরোক্ষ হয়, তবে তা ফাতাহ-এর ওপর ভিত্তি করে গঠিত হবে না।

উদাহরণ: (তোমরা সকলে প্রহার করো) এর সাথে যদি গুরুত্বারোপকারী নুন যুক্ত করা হয় তবে তা মূলগতভাবে এমন হবে (তোমরা সকলে অবশ্যই অবশ্যই প্রহার করবে)। এখানে দুটি সাকিন বর্ণ পাশাপাশি আসার কারণে (ওয়াও) বর্ণটি বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং ক্রিয়াটি এমন রূপ পরিগ্রহ করবে (তোমরা অবশ্যই প্রহার করবে)।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২৮)
الكلمة إعرابها
اضربُنَّ اضربوا: فعل أمر مبنى على حذف النون لاتصاله بواو الجماعة.
وواو الجماعة المحذوفة: ضمير رفع مبنى على السكون فى محل رفع فاعل ونون التوكيد: حرف مبنى على الفتح لا محل له من الإعراب.

مثال آخر: (أَسلِمِي) عند إضافة نون التوكيد (أسلمينَّ) فتحذف الياء لالتقاء الساكنين فتكون (أسلمِنَّ).

3 - البناء على حذف حرف العلة: إذا كان معتل الآخر بالألف أو الواو أو الياء مثل: (دعا - يدعو - ادعُ).

الكلمة إعرابها
ادعُ فعل أمر مبنى على حذف حرف العلة وهو الواو لا محل له من الإعراب.
اسعَ فعل أمر مبنى على حذف حرف العلة وهو الألف لا محل له من الإعراب.
امشِ فعل أمر مبنى على حذف حرف العلة وهو الألف لا محل له من الإعراب.

4 - البناء على حذف النون: إذا اتصل به ألف الاثنين أو واو الجماعة أو ياء المخاطبة مثل (أسلما - ءامنوا - اقنتي) أى: إذا كان مضارعه من الأفعال الخمسة.

الكلمة إعرابها
أسلما فعل أمر مبنى على حذف النون لاتصاله بألف الاثنين.
وألف الاثنين: ضمير رفع متصل مبنى على السكون فى محل رفع فاعل.
ءامنوا فعل أمر مبنى على حذف النون لاتصاله بواو الجماعة.
وواو الجماعة: ضمير رفع متصل مبنى على السكون فى محل رفع فاعل.
اقنتى فعل أمر مبنى على حذف النون لاتصاله بياء المخاطبة.
وياء المخاطبة: ضمير رفع متصل مبنى على السكون فى محل رفع فاعل.
শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (এ’রাব)
ইদরিবুন্না ইদরিবু: আমরের ক্রিয়া যা নুন বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি, যেহেতু এটি ওয়াও আল-জামাআহ-এর সাথে যুক্ত হয়েছে।
এবং বিলুপ্ত ওয়াও আল-জামাআহ: রাফা-বাচক সর্বনাম যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে মাবনি এবং ফায়িল-এর স্থানে অবস্থিত; আর তাকিদের নুন: একটি হরফ যা ফাতহার ওপর ভিত্তি করে মাবনি, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই।

অন্য একটি উদাহরণ: (আসলিমি) যখন তাকিদের নুন যুক্ত করা হয় (আসলিমান্না), তখন দুটি সুকুন একত্রিত হওয়ার কারণে ‘ইয়া’ বিলুপ্ত হয়ে যায়, ফলে তা হয় (আসলিমান্না)।

৩ - ইল্লাত বর্ণ বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি হওয়া: যখন এর শেষ বর্ণটি আলিফ, ওয়াও অথবা ইয়া-এর মাধ্যমে ‘মু’তাল’ (দুর্বল) হয়। যেমন: (দআ - ইয়াদউ - উদউ)।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (এ’রাব)
উদউ আমরের ক্রিয়া যা ইল্লাত বর্ণ ‘ওয়াও’ বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই।
ইসআ আমরের ক্রিয়া যা ইল্লাত বর্ণ ‘আলিফ’ বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই।
ইমশি আমরের ক্রিয়া যা ইল্লাত বর্ণ ‘আলিফ’ বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি, ব্যাকরণিক বিশ্লেষণে এর কোনো স্থান নেই।

৪ - নুন বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি হওয়া: যদি এর সাথে আলিফ আল-ইসনাইন, ওয়াও আল-জামাআহ অথবা ইয়া আল-মুখাতিবাহ যুক্ত হয়। যেমন: (আসলিমা - আমেনু - উকনুতি)। অর্থাৎ: যদি এর মুদারি’ ‘আফআলুল খামসাহ’ (পাঁচটি ক্রিয়ারূপ)-এর অন্তর্ভুক্ত হয়।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (এ’রাব)
আসলিমা আমরের ক্রিয়া যা আলিফ আল-ইসনাইন-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে নুন বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি।
আলিফ আল-ইসনাইন: সংযুক্ত রাফা-বাচক সর্বনাম যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে মাবনি এবং ফায়িল-এর স্থানে অবস্থিত।
আমেনু আমরের ক্রিয়া যা ওয়াও আল-জামাআহ-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে নুন বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি।
ওয়াও আল-জামাআহ: সংযুক্ত রাফা-বাচক সর্বনাম যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে মাবনি এবং ফায়িল-এর স্থানে অবস্থিত।
উকনুতি আমরের ক্রিয়া যা ইয়া আল-মুখাতিবাহ-এর সাথে যুক্ত হওয়ার কারণে নুন বিলুপ্ত হওয়ার ওপর ভিত্তি করে মাবনি।
ইয়া আল-মুখাতিবাহ: সংযুক্ত রাফা-বাচক সর্বনাম যা সুকুনের ওপর ভিত্তি করে মাবনি এবং ফায়িল-এর স্থানে অবস্থিত।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ২৯)
أسئلة

س 1) اذكر المبادئ العشرة لعلم النحو؟

س 2) عرف كلًا من (الاسم - الفعل - الحرف)، ثم بيِّن شرف الاسم عليهما؟

س 3) بيِّن علامات الاسم بالتفصيل مع التمثيل؟

س 4) عرف الفعل؟ ثم بيِّن أقسامه؟

س 5) اذكر العلامات الخاصة والمشتركة للأفعال مع التمثيل؟

س 6) عرف الفعل الماضى؟ ثم اذكر أحوال بنائه مع التمثيل؟

س 7) عرف الفعل الأمر؟ ثم اذكر أحوال بنائه مع التمثيل؟
প্রশ্নাবলি

প্রশ্ন ১) নাহু শাস্ত্রের দশটি মূলনীতি উল্লেখ করো?

প্রশ্ন ২) ইসম (বিশেষ্য), ফেইল (ক্রিয়া) ও হারফ (অব্যয়)—প্রতিটির সংজ্ঞা দাও, অতঃপর ওই দুটির ওপর ইসম-এর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করো?

প্রশ্ন ৩) উদাহরণসহ ইসম-এর চিহ্নসমূহ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করো?

প্রশ্ন ৪) ফেইল-এর সংজ্ঞা দাও এবং এর প্রকারভেদসমূহ বর্ণনা করো?

প্রশ্ন ৫) উদাহরণসহ ক্রিয়াসমূহের একক ও সাধারণ চিহ্নসমূহ উল্লেখ করো?

প্রশ্ন ৬) মাজি (অতীতকালীন ক্রিয়া)-এর সংজ্ঞা দাও এবং উদাহরণসহ এর গঠনগত অবস্থাসমূহ উল্লেখ করো?

প্রশ্ন ৭) আমর (অনুজ্ঞাসূচক ক্রিয়া)-এর সংজ্ঞা দাও এবং উদাহরণসহ এর গঠনগত অবস্থাসমূহ উল্লেখ করো?
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৩০)
‌‌أحوال بناء الفعل المضارع

1 - يبنى على الفتح فى حالة واحدة وهى: إذا اتصل به نون التوكيد الثقيلة أو الخفيفة اتصالًا مباشرًا مثل: (يقرأُ) تدخل عليها نون التوكيد الثقيلة تكون هكذا (يقرأَنَّ).

الكلمة إعرابها
يقرأَنَّ يقرأَ: فعل مضارع مبنى على الفتح لاتصاله بنون التوكيد الثقيلة اتصالًا مباشرًا.
ونون التوكيد الثقيلة: حرف مبنى على الفتح.

نون التوكيد الخفيفة: (يقرأُ) بعد إضافة نون التوكيد الخفيفة تكون هكذا (يقرأَنْ).

الكلمة إعرابها
يقرأَنْ يقرأَ: فعل مضارع مبنى على الفتح لاتصاله بنون التوكيد الخفيفة اتصالًا مباشرًا.
ونون التوكيد الخفيفة: حرف مبنى على السكون.

2 - يبنى على السكون إذا اتصل به نون النسوة: مثل: (يقرأُ) بعد إضافة نون النسوة تكون هكذا (يقرأْنَ).

الكلمة إعرابها
يقرأْنَ يقرأْ: فعل مضارع مبنى على السكون لاتصاله بنون النسوة، ونون النسوة: ضمير رفع متصل مبنى على الفتح فى محل رفع فاعل.
ফেলে মুদারে (বর্তমান ও ভবিষ্যৎকালীন ক্রিয়া) মাবনী হওয়ার অবস্থাসমূহ

১ - এটি একটি অবস্থায় ফাতাহ-এর ওপর মাবনী হয়, আর তা হলো: যখন এর সাথে সরাসরি নূনে তাকিদ সাকিলাহ (গুরুত্ববোধক ভারী নূন) অথবা নূনে তাকিদ খাফিফাহ (গুরুত্ববোধক হালকা নূন) যুক্ত হয়। যেমন: (ইয়াকরাউ - সে পড়ছে/পাঠ করছে), এর সাথে নূনে তাকিদ সাকিলাহ যুক্ত হলে তা হবে (ইয়াকরাআন্না)।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
ইয়াকরাআন্না ইয়াকরাআ: নূনে তাকিদ সাকিলাহ সরাসরি যুক্ত হওয়ার কারণে ফাতাহ-এর ওপর মাবনী মুদারে ক্রিয়া।
আর নূনে তাকিদ সাকিলাহ: ফাতাহ-এর ওপর মাবনী একটি বর্ণ।

নূনে তাকিদ খাফিফাহ: (ইয়াকরাউ) এর সাথে নূনে তাকিদ খাফিফাহ যুক্ত করার পর তা হবে (ইয়াকরাআন)।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
ইয়াকরাআন ইয়াকরাআ: নূনে তাকিদ খাফিফাহ সরাসরি যুক্ত হওয়ার কারণে ফাতাহ-এর ওপর মাবনী মুদারে ক্রিয়া।
আর নূনে তাকিদ খাফিফাহ: সুকুন-এর ওপর মাবনী একটি বর্ণ।

২ - এটি সুকুন-এর ওপর মাবনী হয় যখন এর সাথে নূনে নিসওয়া (স্ত্রীবাচক বহুবচন নূন) যুক্ত হয়। যেমন: (ইয়াকরাউ) এর সাথে নূনে নিসওয়া যুক্ত করার পর তা হবে (ইয়াকরা'না)।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
ইয়াকরা'না ইয়াকরা': নূনে নিসওয়া যুক্ত হওয়ার কারণে সুকুন-এর ওপর মাবনী মুদারে ক্রিয়া। আর নূনে নিসওয়া হলো: ফাতাহ-এর ওপর মাবনী একটি সংযুক্ত কর্তৃবাচক সর্বনাম (জমিরে মারফু মুত্তাসিল), যা কর্তা (ফায়েল) হিসেবে রাফ-এর স্থলে রয়েছে।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৩১)
‌‌أحوال إعراب الفعل المضارع

1 - إذا كان صحيح الآخر ولم يتصل به شيء يكون علامة رفعه الضمة الظاهرة، وعلامة نصبه الفتحة الظاهرة، وعلامة جزمه السكون مثال (يؤمنُ).

الكلمة إعرابها
يؤمنُ فعل مضارع مرفوع لتجرده من الناصب والجازم وعلامة رفعه الضمة الظاهرة لأنه صحيح الآخر ولم يتصل به شيء.

مثال آخر (لن يؤمنَ):

الكلمة إعرابها
لن يؤمنَ يؤمنَ: فعل مضارع منصوب ب- لن- وعلامة نصبه الفتحة الظاهرة.

مثال آخر (لم يؤمنْ):

الكلمة إعرابها
لم يؤمنْ يؤمنْ: فعل مضارع مجزوم ب- لم- وعلامة جزمه السكون.

2 - إذا كان معتل الآخر ب (الألف) يرفع بالضمة المقدرة وينصب بالفتحة المقدرة والمانع من ظهورهاالتعذر ويجزم بحذف حرف العلة نحو (يسعى).

الكلمة إعرابها
يسعى فعل مضارع مرفوع لتجرده من الناصب والجازم وعلامة رفعه الضمة المقدرة منع من ظهورها التعذر.

 

الكلمة إعرابها
لن يسعى يسعى: فعل مضارع منصوب ب - لن - وعلامة نصبه الفتحة المقدرة منع من ظهورها التعذر.

 

الكلمة إعرابها
لم يسعَ يسعَ: فعل مضارع مجزوم ب - لم - وعلامة جزمه حذف حرف العلة.
ফেল মুদারে-র ইরাব-এর অবস্থাসমূহ

১ - যদি ক্রিয়াটি সহীহুল আখির (শেষে হরফে ইল্লতহীন) হয় এবং তার শেষে কোনো কিছু যুক্ত না হয়, তবে তার রাফা-এর আলামত হবে প্রকাশ্য দম্মাহ, নাসব-এর আলামত হবে প্রকাশ্য ফাতহাহ এবং জাযম-এর আলামত হবে সুকুন। উদাহরণ: (ইউ'মিনু)।

শব্দ ইরাব
ইউ'মিনু নাসিব (নাসব দানকারী) ও জাযিম (জাযম দানকারী) থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে এটি মারফু মুদারে ক্রিয়া এবং এর রাফা-এর আলামত হলো প্রকাশ্য দম্মাহ; কারণ এটি সহীহুল আখির এবং এর শেষে কোনো কিছু যুক্ত হয়নি।

অন্য উদাহরণ (লান ইউ'মিনা):

শব্দ ইরাব
লান ইউ'মিনা ইউ'মিনা: ‘লান’ দ্বারা মানসুব হওয়া মুদারে ক্রিয়া এবং এর নাসব-এর আলামত হলো প্রকাশ্য ফাতহাহ।

অন্য উদাহরণ (লাম ইউ'মিন):

শব্দ ইরাব
লাম ইউ'মিন ইউ'মিন: ‘লাম’ দ্বারা মাজযুম হওয়া মুদারে ক্রিয়া এবং এর জাযম-এর আলামত হলো সুকুন।

২ - যদি ক্রিয়াটি ‘আলিফ’ দ্বারা মু'তাল্লুল আখির (শেষে হরফে ইল্লতযুক্ত) হয়, তবে তা তাকদিরি (উজ্জ্ব) দম্মাহ দ্বারা মারফু হবে এবং তাকদিরি ফাতহাহ দ্বারা মানসুব হবে; যা প্রকাশে তাআযযুর (অসম্ভবতা) বাধা প্রদান করে। আর এটি হরফে ইল্লত বিলোপের মাধ্যমে মাজযুম হবে। যেমন: (ইয়াসআ)।

শব্দ ইরাব
ইয়াসআ নাসিব ও জাযিম থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে এটি মারফু মুদারে ক্রিয়া এবং এর রাফা-এর আলামত হলো তাকদিরি দম্মাহ; যা প্রকাশে তাআযযুর বাধা প্রদান করেছে।

 

শব্দ ইরাব
লান ইয়াসআ ইয়াসআ: ‘লান’ দ্বারা মানসুব হওয়া মুদারে ক্রিয়া এবং এর নাসব-এর আলামত হলো তাকদিরি ফাতহাহ; যা প্রকাশে তাআযযুর বাধা প্রদান করেছে।

 

শব্দ ইরাব
লাম ইয়াসআ ইয়াসআ: ‘লাম’ দ্বারা মাজযুম হওয়া মুদারে ক্রিয়া এবং এর জাযম-এর আলামত হলো হরফে ইল্লত বিলোপ হওয়া।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৩২)
3 - إذا كان معتل الآخر ب (و، ى) يرفع بالضمة المقدرة منع من ظهورها الثقل، وينصب بالفتحة الظاهرة، ويجزم بحذف حرف العلة.

مثال: (يمشى)، وهو فعل مضارع مرفوع وعلامة رفعه الضمة المقدرة منع من ظهورها الثقل.

والثقل هو: ثقل نطق الضمة مع إمكانية وضعها على الحرف.

الكلمة إعرابها
يمشى يمشى: فعل مضارع مرفوع لتجرده من الناصب والجازم، وعلامة رفعه الضمة المقدرة منع من ظهورها الثقل.

وينصب بالفتحة الظاهرة، مثال (لن يمشىَ):

الكلمة إعرابها
لن يمشىَ يمشىَ: فعل مضارع منصوب ب- لن - وعلامة نصبه الفتحة الظاهرة، وظهرت الفتحة هنا لخفتها على الياء.

* مثال آخر (لم يمشِ):

الكلمة إعرابها
لم يمشِ يمشِ: فعل مضارع مجزوم ب - لم - وعلامة جزمه حذف حرف العلة.

4 - إذا كان من الأفعال الخمسة - أو الأوزان الخمسة أو الأمثلة الخمسة - وهى: كل فعل مضارع اتصل به (واو الجماعة، أو ألف الاثنين، أو ياء المخاطبة) يرفع بثبوت النون، وينصب ويجزم بحذف النون.

مثال: (يعملُ) بعد دخول ألف الاثنين تكون هكذا (يعملان).

(يوحِّدُ) بعد دخول واو الجماعة تكون هكذا (يوحدون).

(تسلمُ) بعد دخول ياء المخاطبة تكون هكذا (تسلمين).

الكلمة إعرابها
يعملان فعل مضارع مرفوع لتجرده من الناصب والجازم وعلامة رفعه ثبوت النون لأنه من الأفعال الخمسة.
وألف الاثنين: ضمير رفع متصل فى محل رفع فاعل.
৩ - যদি (ওয়াও, ইয়া) দ্বারা শেষে হারফে ইল্লত (দুর্বল বর্ণ) বিশিষ্ট হয়, তবে তা প্রচ্ছন্ন পেশ (যম্মাহ মুকাদ্দারা) দ্বারা রফ' প্রাপ্ত হয় যা উচ্চারণের ভারের কারণে প্রকাশ পায় না। আর দৃশ্যমান জবর (ফাতহা যাহিরা) দ্বারা নসব প্রাপ্ত হয় এবং হারফে ইল্লত বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে জযম প্রাপ্ত হয়।

উদাহরণ: (ইয়ামশী - সে হাঁটছে), এটি একটি রফ' প্রাপ্ত মুযারি' ক্রিয়া এবং এর রফ'-এর আলামত হলো প্রচ্ছন্ন পেশ যা উচ্চারণের ভারের কারণে প্রকাশ পায়নি।

আর ভার (সিকাল) হলো: বর্ণের ওপর পেশ প্রদান করা সম্ভব হওয়া সত্ত্বেও তা উচ্চারণে কষ্ট হওয়া।

শব্দ এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
ইয়ামশী ইয়ামশী: নসব দানকারী ও জযম দানকারী আমেল থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে এটি একটি রফ' প্রাপ্ত মুযারি' ক্রিয়া, এবং এর রফ'-এর আলামত হলো প্রচ্ছন্ন পেশ যা উচ্চারণের ভারের কারণে প্রকাশ পায়নি।

আর দৃশ্যমান জবর দ্বারা নসব প্রাপ্ত হয়, উদাহরণ (লান ইয়ামশিয়া - সে কখনোই হাঁটবে না):

শব্দ এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
লান ইয়ামশিয়া ইয়ামশিয়া: ‘লান’ এর কারণে নসব প্রাপ্ত মুযারি' ক্রিয়া এবং এর নসব-এর আলামত হলো দৃশ্যমান জবর; আর এখানে ‘ইয়া’ বর্ণের ওপর হালকা হওয়ার কারণে জবর প্রকাশ পেয়েছে।

* অন্য উদাহরণ (লাম ইয়ামশি - সে হাঁটেনি):

শব্দ এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
লাম ইয়ামশি ইয়ামশি: ‘লাম’ এর কারণে জযম প্রাপ্ত মুযারি' ক্রিয়া এবং এর জযম-এর আলামত হলো হারফে ইল্লত বিলুপ্ত হওয়া।

৪ - যদি ‘পাঁচটি ক্রিয়া’ (আফ’আলুল খামসাহ) - অথবা পাঁচটি ওজন বা পাঁচটি উদাহরণের - অন্তর্ভুক্ত হয়, আর সেগুলো হলো: প্রতিটি মুযারি' ক্রিয়া যার সাথে (জামাতের ওয়াও, দ্বিবচনের আলিফ অথবা সম্বোধনের ইয়া) যুক্ত হয়; তবে তা নূন স্থির থাকার মাধ্যমে রফ' প্রাপ্ত হয় এবং নূন বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে নসব ও জযম প্রাপ্ত হয়।

উদাহরণ: (ইয়া'মালু - সে কাজ করছে) এর সাথে দ্বিবচনের আলিফ যুক্ত হওয়ার পর তা হবে (ইয়া'মালানি - তারা দুজন কাজ করছে)।

(ইউয়াহহিদু - সে একত্ববাদ ঘোষণা করছে) এর সাথে জামাতের ওয়াও যুক্ত হওয়ার পর তা হবে (ইউয়াহহিদুনা - তারা একত্ববাদ ঘোষণা করছে)।

(তুসলিমু - তুমি আত্মসমর্পণ করছো) এর সাথে সম্বোধনের ইয়া যুক্ত হওয়ার পর তা হবে (তুসলিমি-না - তুমি [নারী] আত্মসমর্পণ করছো)।

শব্দ এর ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
ইয়া'মালানি এটি নসব দানকারী ও জযম দানকারী আমেল থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে রফ' প্রাপ্ত মুযারি' ক্রিয়া এবং এর রফ'-এর আলামত হলো নূন স্থির থাকা, কারণ এটি পাঁচটি ক্রিয়ার (আফ’আলুল খামসাহ) অন্তর্ভুক্ত।
আর দ্বিবচনের আলিফ: এটি একটি সংযুক্ত রফ' বিশিষ্ট জমির (সর্বনাম) যা ফায়িল (কর্তা) হিসেবে স্থলাভিষিক্ত।
(খণ্ড: ১) আত-তিবইয়ান ফী কাওয়ায়িদিল নাহবি ওয়া তাকবীমিল লিসান (পৃষ্ঠা: ৩৩)
الكلمة إعرابها
يوحدون فعل مضارع مرفوع لتجرده من الناصب والجازم وعلامة رفعه ثبوت النون لأنه من الأوزان الخمسة.
وواو الجماعة: ضمير رفع متصل فى محل رفع فاعل.
تسلمين فعل مضارع مرفوع لتجرده من الناصب والجازم وعلامة رفعه ثبوت النون لأنه من الأوزان الخمسة.
وياء المخاطبة: ضمير رفع متصل فى محل رفع فاعل.

وفى حالة النصب والجزم تكون هذه الأمثلة هكذا (لن تعملا، لن توحدوا، لم تسلمى).

الكلمة إعرابها
لن تعملا تعملا: فعل مضارع منصوب ب - لن - وعلامة نصبه حذف النون لأنه من الأوزان الخمسة.
وألف الاثنين: ضمير رفع فى محل رفع فاعل.
لن توحدوا توحدوا: فعل مضارع منصوب ب- لن - وعلامة نصبه حذف النون لأنه من الأمثلة الخمسة.
وواو الجماعة: ضمير رفع فى محل رفع فاعل.
لم تسلمى تسلمى: فعل مضارع مجزوم ب- لم - وعلامة جزمه حذف النون لأنه من الأوزان الخمسة.
وياء المخاطبة. ضمير رفع فى محل رفع فاعل.
শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
ইউয়াহহিদিনা মুদারে ক্রিয়া, যা নসব ও জযম প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে মারফু এবং এর রাফ-এর চিহ্ন হলো নুন অক্ষরের উপস্থিতি; কারণ এটি 'আওযানে খামসাহ' (পাঁচটি ওজন)-এর অন্তর্ভুক্ত।
এবং জামাতের 'ওয়াও': মারফু মুত্তাসিল যমীর, যা ফায়িল (কর্তা) হিসেবে রাফ-এর স্থলে রয়েছে।
তুসলিমিনা মুদারে ক্রিয়া, যা নসব ও জযম প্রদানকারী আমেল থেকে মুক্ত হওয়ার কারণে মারফু এবং এর রাফ-এর চিহ্ন হলো নুন অক্ষরের উপস্থিতি; কারণ এটি 'আওযানে খামসাহ' (পাঁচটি ওজন)-এর অন্তর্ভুক্ত।
এবং সম্বোধনের 'ইয়া': মারফু মুত্তাসিল যমীর, যা ফায়িল (কর্তা) হিসেবে রাফ-এর স্থলে রয়েছে।

আর নসব এবং জযম-এর অবস্থায় এই উদাহরণগুলো নিম্নরূপ হবে (লান তা'মালা, লান তুওয়াহহিদি, লাম তুসলিমি)।

শব্দ ব্যাকরণিক বিশ্লেষণ (ইরাব)
লান তা'মালা তা'মালা: 'লান' দ্বারা মানসুব হওয়া মুদারে ক্রিয়া এবং এর নসব-এর চিহ্ন হলো নুন বিলুপ্ত হওয়া; কারণ এটি 'আওযানে খামসাহ' (পাঁচটি ওজন)-এর অন্তর্ভুক্ত।
এবং দ্বিবচনের 'আলিফ': রাফ-এর স্থলে থাকা ফায়িল-এর যমীর।
লান তুওয়াহহিদি তুওয়াহহিদি: 'লান' দ্বারা মানসুব হওয়া মুদারে ক্রিয়া এবং এর নসব-এর চিহ্ন হলো নুন বিলুপ্ত হওয়া; কারণ এটি 'আমসিলায়ে খামসাহ' (পাঁচটি উদাহরণ)-এর অন্তর্ভুক্ত।
এবং জামাতের 'ওয়াও': রাফ-এর স্থলে থাকা ফায়িল-এর যমীর।
লাম তুসলিমি তুসলিমি: 'লাম' দ্বারা মাজযুম হওয়া মুদারে ক্রিয়া এবং এর জযম-এর চিহ্ন হলো নুন বিলুপ্ত হওয়া; কারণ এটি 'আওযানে খামসাহ' (পাঁচটি ওজন)-এর অন্তর্ভুক্ত।
এবং সম্বোধনের 'ইয়া': রাফ-এর স্থলে থাকা ফায়িল-এর যমীর।