(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: -)
التحقيقات على شرح الجلال للورقات القسم: أصول الفقه
الكتاب: التحقيقات على شرح الجلال للورقات
المؤلف: أبو زكريا فضل بن عبد الله مراد
الطبعة: الأولى، 1440 هـ - 2019 م
الناشر: (مركز الراسخون، دار الظاهرية) - الكويت
عدد الصفحات: 388
[ترقيم الكتاب موافق للمطبوع]
تاريخ النشر بالشاملة: 22 جُمادَى الأولى 1442
আত-তাহক্বীক্বাত ‘আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত বিভাগ: উসুলুল ফিকহ
গ্রন্থ: আত-তাহক্বীক্বাত ‘আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
লেখক: আবু যাকারিয়া ফাযল বিন আব্দুল্লাহ মুরাদ
সংস্করণ: প্রথম، ১৪৪০ হিজরী - ২০১৯ খ্রিস্টাব্দ
প্রকাশক: (মারকাযুর রাসিখুন، দারুজ জাহিরিয়্যাহ) - কুয়েত
পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৩৮৮
[গ্রন্থের পৃষ্ঠা সংখ্যা মুদ্রণ অনুযায়ী করা হয়েছে]
শামিলাতে প্রকাশের তারিখ: ২২ জুমাদাল উলা ১৪৪২
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩)
التحقيقات
على
شرح الجلال للورقات
تأليف
أبي زكريا
فضل بن عبد الله مراد
الأستاذ بكلية الشريعة جامعة قطر
أستاذ مقاصد الشريعة والفقه وأصوله وقواعده بجامعة الإيمان سابقًا
গবেষণামূলক পর্যালোচনাসমূহ
উপরে
আল-ওয়ারাকাত-এর ওপর আল-জালাল-এর ব্যাখ্যার
রচনায়
আবু যাকারিয়া
ফাদল বিন আব্দুল্লাহ মুরাদ
কাতার বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহ অনুষদের অধ্যাপক
ইতিপূর্বে আল-ঈমান বিশ্ববিদ্যালয়ের শরীয়াহর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, ফিকহ, ফিকহের মূলনীতি ও বিধিবিধানের অধ্যাপক
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৫)
بسم الله الرحمن الرحيم
وبه ثقتي
الحمد لله رب العالمين والصلاة على سيد المرسلين محمد وعلى آله وصحبه وسلم وبعد.
[الشرح والإيضاح] يقول أفقر العباد إلى ربه ومولاه أبو زكريا فضل بن عبد الله مراد اليماني
بسم الله والحمد لله والصلاة والسلام على الصادق المصدوق، أما بعد فهذا إيضاح وشرح على شرح الجلال المحلي للورقات.
جمعت تحقيقاته وفرائده من كتب الأصول؛ لينتفع بها المدرس للورقات وشرحه، وتبصرة للطالب النبيه على المباحث المتعلقة بالكتاب تعلقا قريبا.
وقد نقلت المذاهب من الكتب الأصول بلا واسطة، وحققت مذاهب القوم في المسائل التي نسب إليهم خلاف ما ذهبوا إليه.
وبنيت الفروع الفقهية على تلك الأصول؛ ليتضح للطالب بالمثال ما لا يتضح بالمقال.
وأسأل الله أن يجعله خالصا لوجهه وينفع به قارئه والناظر فيه، طالبا الدعاء لي ولوالدي ومشايخي، موقنا أن الخلل وارد على الإنسان فمن رأى ذلك سدد وقارب وبالله ثقتي وعليه اعتمادي وتوكلي وهو حسبي ونعم الوكيل.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এবং তাঁরই ওপর আমার ভরসা।
সকল প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্য, এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক রাসূলগণের সরদার মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার ও সকল সাহাবীর প্রতি। অতঃপর:
[ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ] তাঁর রব ও মাওলার মুখাপেক্ষী বান্দা আবু যাকারিয়া ফাদল বিন আব্দুল্লাহ মুরাদ আল-ইয়ামানি বলছেন:
আল্লাহর নামে, সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য এবং দরুদ ও সালাম বর্ষিত হোক সত্যবাদী ও সত্যয়নকৃত রাসূলের (সা.) ওপর। অতঃপর: এটি আল-ওয়ারাখাত-এর ওপর জালাল আল-মাহাল্লির শারহ (ব্যাখ্যা)-এর একটি স্পষ্টীকরণ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থ।
আমি উসূলের কিতাবসমূহ থেকে এর তাহকীক ও দুর্লভ বিষয়গুলো সংগ্রহ করেছি; যাতে এর মাধ্যমে আল-ওয়ারাখাত ও এর ব্যাখ্যা প্রদানকারী শিক্ষকগণ উপকৃত হতে পারেন এবং এটি মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য কিতাব সংশ্লিষ্ট নিকটবর্তী বিষয়গুলোর ওপর একটি আলোকবর্তিকা হয়।
আমি কোনো মাধ্যম ছাড়াই মূল উসূলের কিতাবসমূহ থেকে বিভিন্ন মাযহাবের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছি এবং যে সকল মাসআলায় আলেমগণের দিকে তাদের মতের বিপরীত মত সাব্যস্ত করা হয়েছিল, সেগুলোতে তাদের প্রকৃত মাযহাবের তাহকীক করেছি।
আর আমি সেই উসূলগুলোর ওপর ফিকহী শাখাগুলো বিন্যস্ত করেছি; যাতে বক্তব্যের মাধ্যমে যা স্পষ্ট হয় না, উদাহরণের মাধ্যমে তা শিক্ষার্থীর কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।
আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন একে তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কবুল করেন এবং এর পাঠক ও পর্যবেক্ষককে এর দ্বারা উপকৃত করেন। আমি নিজের জন্য, আমার পিতা-মাতার জন্য এবং উস্তাদদের জন্য দোয়ার দরখাস্ত করছি। আমি এই দৃঢ় বিশ্বাস রাখি যে, মানুষের কাজে ভুলত্রুটি আসা স্বাভাবিক; সুতরাং যে ব্যক্তি কোনো ভুল দেখবেন, তিনি যেন তা সংশোধন করেন ও মধ্যপন্থা অবলম্বন করেন। আল্লাহর ওপরই আমার আস্থা এবং তাঁরই ওপর আমার নির্ভরতা ও তাওয়াক্কুল। তিনি আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম কর্মবিধায়ক।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৬)
أقول:
إنما اقتصر الإمام الجويني على البسملة دون الحمدلة تأسياً بأول ما نزل من القرآن {اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ} [العلق: 1]، قال الحافظ: فطريق التأسي به الافتتاح بالبسملة والاقتصار عليها
… ويؤيده وقوع كتب رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الملوك، وكتبه في القضايا مفتتحة بالتسمية دون حمدلة وغيرها.
كما في حديث أبي سفيان في قصة هرقل
(1) … ، وحديث البراء في قصة سهيل ابن عمرو في صلح الحديبية
(2)، وغير ذلك من الأحاديث.
وهذا يشعر بأن لفظ الحمد والشهادة إنما يحتاج إليه في الخطب، دون الرسائل والوثائق، و"تصانيف الأئمة من شيوخ البخاري، وشيوخ شيوخه، وأهل عصره كمالك في الموطأ، وعبد الرزاق في المصنف، وأحمد في المسند، وأبي داود في السنن، إلى ما لا يحصى ممن لم يقدم في ابتداء تصنيفه خطبة ولم يزد على التسمية، وهم الأكثر، والقليل منهم افتتح كتابه بخطبة
… وقد استقر عمل الأئمة المصنفين افتتاح كتب العلم بالبسملة وكذا معظم كتب الرسائل" ا. هـ كلام الحافظ رحمه الله
(3).
وقد جرى السلف في تصانيفهم على الحمد والصلاة، والسلام لفظاً، والاكتفاء بالبسملة في الكتابة، ويؤيده ما رواه الخطيب في الجامع عن أحمد أنه كان يتلفظ بالصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم إذا كتب الحديث، ولا يكتبها.
والحامل لهم على ذلك إسراع أو غيره، أو يحمل على أنهم رأوا ذلك مختصاً بالخطب دون الكتب
(4)، وأيضاً فإن الابتداء ببسم الله الرحمن الرحيم كاف مع ما رتب عليه
--------------------------------------------
আমি বলি:
ইমাম জুওয়াইনী কেবল বিসমিল্লাহর ওপর সীমাবদ্ধ থেকেছেন এবং হামদ (আলহামদুলিল্লাহ) উল্লেখ করেননি, কুরআনের প্রথম অবতীর্ণ আয়াত—"পাঠ করুন আপনার পালনকর্তার নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন" [আলাক: ১]—এর অনুসরণস্বরূপ। হাফেজ (ইবনে হাজার) বলেন: তাঁর অনুসরণ করার পদ্ধতি হলো বিসমিল্লাহ দ্বারা শুরু করা এবং কেবল তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা
… আর একে সমর্থন করে রাজন্যবর্গের প্রতি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রেরিত পত্রাবলি এবং বিভিন্ন বিচারিক বিষয়ে তাঁর লিখিত নির্দেশনাসমূহ, যা কেবল বিসমিল্লাহর মাধ্যমে শুরু করা হয়েছে, হামদ বা অন্য কিছু ব্যতীত।
যেমনটি হিরাক্লিয়াসের ঘটনা সংক্রান্ত আবু সুফিয়ানের হাদীসে
(১) … বর্ণিত হয়েছে, এবং হুদায়বিয়ার সন্ধির সময় সুহাইল ইবনে আমর সংক্রান্ত বারা ইবনে আযিবের হাদীসে
(২) বর্ণিত হয়েছে, এছাড়াও আরও অন্যান্য হাদীস।
এটি ইঙ্গিত দেয় যে, হামদ (প্রশংসা) ও শাহাদাত (সাক্ষ্যবাণী) কেবল খুৎবা বা ভাষণে প্রয়োজন হয়, পত্রাবলি বা দলিলে নয়। এবং "ইমাম বুখারীর উস্তাদগণ, তাঁদের উস্তাদগণ এবং তাঁর সমসাময়িক ইমামগণের রচনাবলি—যেমন মুয়াত্তায় ইমাম মালিক, মুসান্নাফে আবদুর রাজ্জাক, মুসনাদে আহমাদ, সুনানে আবু দাউদ এবং আরও অসংখ্য লেখক—যাঁরা তাঁদের গ্রন্থ রচনার শুরুতে কোনো ভূমিকা পেশ করেননি এবং বিসমিল্লাহর অতিরিক্ত কিছু লিখেননি; তাঁরাই সংখ্যায় বেশি। তাঁদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই ভূমিকা দিয়ে গ্রন্থ শুরু করেছেন
… আর গ্রন্থকার ইমামগণের কর্মপদ্ধতি ইলমী কিতাবসমূহের শুরুতে বিসমিল্লাহর ওপর স্থির হয়েছে এবং অধিকাংশ পত্রাবলির ক্ষেত্রেও তাই।" হাফেজ (ইবনে হাজার) রহমতুল্লাহি আলাইহির বক্তব্য এখানেই শেষ
(৩)।
সালাফগণ তাঁদের রচনায় হামদ, সালাত ও সালাম মুখে পাঠ করতেন এবং লেখায় কেবল বিসমিল্লাহর ওপর সীমাবদ্ধ থাকতেন। আল-খতিব আল-বাগদাদী 'আল-জামে' গ্রন্থে ইমাম আহমাদ থেকে যা বর্ণনা করেছেন তা একে সমর্থন করে যে, তিনি যখন হাদীস লিখতেন তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর সালাত (দরুদ) মুখে পাঠ করতেন, কিন্তু তা লিখতেন না।
তাঁদেরকে এর প্রতি উদ্বুদ্ধকারী বিষয়টি ছিল ক্ষিপ্রতা বা অন্য কিছু, অথবা এর কারণ হতে পারে যে তাঁরা একে খুৎবার জন্য নির্দিষ্ট মনে করতেন, কিতাবের জন্য নয়
(৪)। তাছাড়া, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম দ্বারা শুরু করাই এর ওপর যা প্রতিদান নির্ধারিত রয়েছে তার জন্য যথেষ্ট।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৭)
من أسماء الصفات الرحمن الرحيم، ولا يعنى بالحمد إلا هذا لأنه الوصف بالجميل على جهة التفضيل كما أفاد العسقلاني رحمه الله.
فائدة:قال بعضهم: يجب من جهة الصنائع على كل شارع في تصنيف أربعة أمور البسملة، والحمد، والصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم، والتشهد.
ويسن له ثلاثة أمور:تسمية نفسه، وتسمية كتابه، والابتداء على المقصود وهو المعروف ببراعة الاستهلال
(1).
تنبيه: لا منافاة بين ما ذكره الحافظ من عمل السلف على الاكتفاء بالبسملة كتابةً وبين ما قاله النووي عليه رحمة الله تعالى في شرحه لمسلم: "هذا الذي فعله من ذكره الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم بعد الحمدلة عادة العلماء رضي الله عنهم"
(2). إذ المقصود في كلام الحافظ عمل المتقدمين ممن في طبقة البخاري وممن هو أعلى طبقة وكذا من نزل عن طبقته، ممن لم يقدم في ابتداءاته خطبة، ولهذا من افتتح كتابه منهم بخطبة حَمِد وشهد كما صنع مسلم وغيره"
(3).
فقول النووي عادة العلماء أي من قدم خطبة بين يدي تصنيفه والله أعلم.
--------------------------------------------
সিফাত বা গুণবাচক নামসমূহের অন্তর্ভুক্ত হলো আর-রহমান ও আর-রাহীম। হামদ (প্রশংসা) বলতে কেবল এটিই বোঝায়, কারণ এটি হলো মর্যাদার দিক থেকে উত্তম গুণের বর্ণনা, যেমনটি আসকালানী (রাহিমাহুল্লাহ) উল্লেখ করেছেন।
উপকারিতা:কেউ কেউ বলেছেন: রচনারীতির দিক থেকে প্রত্যেক গ্রন্থকারের জন্য কোনো বিষয় রচনা শুরু করার সময় চারটি বিষয় পালন করা আবশ্যক: বিসমিল্লাহ, হামদ (আল্লাহর প্রশংসা), নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দুরুদ পাঠ এবং তাশাহহুদ।
তার জন্য তিনটি বিষয় সুন্নাত:নিজের নাম উল্লেখ করা, নিজের কিতাবের নাম রাখা এবং মূল প্রসঙ্গের দিকে ইঙ্গিত করে শুরু করা, যা ‘বারাআত আল-ইস্তিহলাল’ (সূচনার কুশলতা) নামে পরিচিত
(১)।
সতর্কীকরণ: হাফিজ (ইবনে হাজার) সালাফদের আমল থেকে যা উল্লেখ করেছেন যে তাঁরা কেবল লিখিতভাবে বিসমিল্লাহর ওপর ক্ষান্ত হতেন, তার সাথে ইমাম নববী (রাহিমাহুল্লাহু তায়ালা) তাঁর মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে যা বলেছেন তার কোনো বিরোধ নেই। ইমাম নববী বলেছেন: "হামদ পাঠ করার পর নবীর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ওপর দুরুদ পাঠ করার যে আমলটি তিনি করেছেন, তা আলেমগণের (রাদিয়াল্লাহু আনহুম) চিরাচরিত অভ্যাস"
(২)। কেননা হাফিজের কথার উদ্দেশ্য হলো ইমাম বুখারীর সমসাময়িক এবং তাঁর চেয়ে উচ্চ স্তরের অগ্রজদের আমল, এবং তেমনিভাবে তাঁদের পরবর্তী স্তরের আলেমদের আমলও, যাঁরা তাঁদের রচনার শুরুতে কোনো ভূমিকা বা খুতবা প্রদান করতেন না। আর এ কারণেই তাঁদের মধ্যে যাঁরা খুতবার মাধ্যমে কিতাব শুরু করেছেন, তাঁরা আল্লাহর প্রশংসা করেছেন এবং সাক্ষ্য (তাশাহহুদ) দিয়েছেন, যেমনটি ইমাম মুসলিম এবং অন্যরা করেছেন
(৩)।
সুতরাং ইমাম নববীর বক্তব্য ‘আলেমগণের অভ্যাস’ বলতে তাঁদের বোঝানো হয়েছে যাঁরা তাঁদের রচনার শুরুতে খুতবা পেশ করতেন। আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৮)
بسم الله الرحمن الرحيم
هذه ورقات قليلة، تشتمل على معرفة فصول من أصول الفقه، ينتفع بها المبتدئ وغيره
وذلك أي لفظ أصول الفقه، مؤلف من جزئين أحدهما أصول والآخر الفقه
مفردين من الإفراد مقابل التركيب لا التثنية والجمع، والمؤلف يعرف بمعرفة ما ألف منه.
فالأصل الذي هو مفرد الجزء الأول ما يبنى عليه غيره
كأصل الجدار أي أساسه وأصل الشجرة أي طرفها الثابت في الأرض.
والفرع الذي هو مقابل الأصل ما يبنى على غيره كفروع الشجرة لأصلها وفروع الفقه لأصوله.
[الشرح والإيضاح] -
قوله فهذه ورقات.
جمع سلامة منكر وهي تدل على القلة، وإنما صرح الشارح بقوله قليلة مع فهمه من قوله ورقات؛ للتنصيص على استعمال هذا الجمع في موضوعه لئلا يتوهم خروجه عنه إذ يستعمل للكثرة.
وقد أطال المحشون هنا الكلام على مرجع الإشارة هل هو ما في الذهن أو ما في الخارج أو الألفاظ أو النقوش أو المعاني بما لا طائل تحته.
- قوله: فصول.
الفصل: جملة مختصة من العلم مشتملة على مسائل غالباً، وسمي فصلاً لانفصاله عن غيره بمغايرته له وتميزه عنه.
পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে।
এটি অল্প কয়েকটি পৃষ্ঠা, যা উসূলুল ফিকহ-এর বিভিন্ন পরিচ্ছেদ সম্পর্কে জ্ঞান সংবলিত, যা দ্বারা প্রাথমিক শিক্ষার্থী এবং অন্যরা উপকৃত হবেন।
আর তা অর্থাৎ ‘উসূলুল ফিকহ’ শব্দসমষ্টি দুটি অংশের সমন্বয়ে গঠিত; যার একটি হলো ‘উসূল’ এবং অপরটি হলো ‘ফিকহ’।
শব্দ দুটি এখানে একক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে যা যৌগিকতার বিপরীত, দ্বিবচন বা বহুবচনের বিপরীত নয়। আর কোনো যৌগিক বিষয়কে চেনা যায় তার উপাদানসমূহের পরিচয়ের মাধ্যমে।
সুতরাং ‘আসল’ (মূল), যা প্রথম অংশের একক রূপ, তা হলো এমন বিষয় যার ওপর অন্য কিছু ভিত্তি করে গড়ে ওঠে।
যেমন দেয়ালের মূল অর্থাৎ তার ভিত্তি এবং গাছের মূল অর্থাৎ তার সেই প্রান্ত যা মাটিতে দৃঢ়ভাবে প্রোথিত।
আর ‘ফার’ (শাখা), যা আসলের বিপরীত, তা হলো এমন বিষয় যা অন্য কিছুর ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে; যেমন গাছের মূলের ওপর তার ডালপালা এবং উসূলের ওপর ফিকহ-এর শাখাসমূহ।
[ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ] -
তার উক্তি: “এটি অল্প কিছু পৃষ্ঠা”।
এটি একটি অনির্দিষ্ট ‘জামে সালামাহ’ (সুস্থ বহুবচন), যা স্বল্পতা প্রকাশ করে। ব্যাখ্যাকার এখানে ‘অল্প’ শব্দটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যদিও তা ‘ওয়ারাকাত’ শব্দ থেকেই বোঝা যায়; যেন এই বহুবচনটি তার মূল অর্থেই ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায় এবং এটি অধিক সংখ্যা বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে বলে কোনো ভ্রম না ঘটে।
টীকাকারগণ এখানে ইশারা বা নির্দেশের উৎস নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন—তা কি মনে বিদ্যমান কোনো বিষয়, নাকি বাহ্যিক কোনো সত্তা, নাকি শব্দাবলি, নাকি লিপি, নাকি অর্থ—যার মধ্যে বিশেষ কোনো ফায়দা নেই।
- তার উক্তি: পরিচ্ছেদসমূহ।
‘ফাসল’ বা পরিচ্ছেদ হলো জ্ঞানের এমন এক সুনির্দিষ্ট অংশ যা সাধারণত বিভিন্ন মাসআলা বা বিষয়াবলীকে অন্তর্ভুক্ত করে। একে ‘ফাসল’ (বিচ্ছেদকারী) নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি অন্য অংশ থেকে তার ভিন্নতা ও স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কারণে পৃথক।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৯)
- قوله: ينتفع بها المبتدئ وغيره.
انتفاع المبتدئ بالتعلم، وغيره باستفادة ما فيها، أو تذكره لجلالة فوائدها وعزة كثير منها.
قوله: أصول الفقه … فيه مسألتان-
الأولى: تعريف الأصل لغةعرفه المصنف لغة، فقال: ما يُبنى عليه غيره، أي: بناءً حسيا، كالجدار على أساسه أو معنوياً، كالفقه على أصوله.
وقد اعترض على هذا بالوالد وفرعه فإنه لا يبنى عليه بل يتفرع منه؛ ولذلك قال بعضهم: ما منه الشيء. ولكنه غير جامع لخروج أصل الجدار.
ولذلك قال الآمدي: أصل كل شيء هو: ما يستند تحقق ذلك الشيء إليه
(1).
وقال الإمام: ما يحتاج إليه الشيء
(2).
الثانية: تعريف الأصل اصطلاحاً.
لم يتعرض المصنف للأصل اصطلاحاً.
وله أربعة معان مشهورة
(3):
الأول: الدليل كقولهم أصل هذه المسألة الكتاب والسنة، أي: دليلها.
قال في الكوكب: "وهذا الإطلاق هو المراد هنا"
(4) ا. هـ.
--------------------------------------------
তাঁর উক্তি: এর দ্বারা নতুন শিক্ষার্থী ও অন্যরা উপকৃত হবেন।
নতুন শিক্ষার্থীর উপকারিতা হলো শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমে, এবং অন্যদের উপকারিতা হলো এতে যা আছে তা থেকে ফায়দা লাভ করা অথবা এর অনেক উপকারের মাহাত্ম্য ও দুর্লভতার কারণে তা স্মরণ করার মাধ্যমে।
তাঁর উক্তি: উসুলুল ফিকহ … এতে দুটি মাসআলা রয়েছে-
প্রথমটি: আভিধানিকভাবে 'আসল'-এর সংজ্ঞাগ্রন্থকার একে আভিধানিকভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন, তিনি বলেছেন: যার ওপর অন্য কিছু নির্মিত হয়; অর্থাৎ তা দৃশ্যত নির্মাণ হতে পারে যেমন দেয়াল তার ভিত্তির ওপর, অথবা ভাবগত হতে পারে যেমন ফিকহ তার মূলনীতির ওপর।
এর ওপর পিতা ও তার শাখা (সন্তান) দিয়ে আপত্তি করা হয়েছে, কেননা সন্তান পিতার ওপর নির্মিত হয় না বরং তা থেকে শাখা হিসেবে নির্গত হয়; এই কারণে কেউ কেউ বলেছেন: যা থেকে কোনো বস্তুর উদ্ভব হয়। তবে এটি সর্বব্যাপী সংজ্ঞা নয় কারণ এতে দেয়ালের ভিত্তি বহির্ভূত হয়ে যায়।
এই কারণে আমেদি বলেছেন: প্রত্যেক বস্তুর 'আসল' হলো তা যার ওপর সেই বস্তুর অস্তিত্ব লাভ করা নির্ভরশীল।
(১)এবং ইমাম বলেছেন: বস্তু যার মুখাপেক্ষী হয়।
(২)
দ্বিতীয়টি: পারিভাষিক অর্থে ‘আসল’-এর সংজ্ঞাগ্রন্থকার পারিভাষিক আসলের সংজ্ঞার অবতারণা করেননি।
এর চারটি প্রসিদ্ধ অর্থ রয়েছে:
(৩)প্রথম: দলিল (প্রমাণ), যেমন পণ্ডিতদের উক্তি: এই মাসআলার 'আসল' হলো কিতাব ও সুন্নাহ, অর্থাৎ এর দলিল।
কাওকাব গ্রন্থে বলা হয়েছে: "আর এখানে এই প্রয়োগটিই উদ্দেশ্য।"
(৪) ইতি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১০)
الثاني: الرجحان كقولهم: الأصل في الكلام الحقيقة، أي الراجح عند السامع الحقيقة لا المجاز، ـ
الثالث: القاعدة المستمرة. كقولهم: إباحة الميتة للمضطر على خلاف الأصل.
الرابع: المقيس عليه. وبعضهم جعل بدلاً عن هذه (القاعدة). كما يقال الفاعل مرفوع أصل من أصول النحو
(1).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়: প্রাধান্য। যেমন তাঁদের উক্তি: বক্তব্যের ক্ষেত্রে 'আসল' (মূল) হলো হাকীকত (আক্ষরিক অর্থ); অর্থাৎ শ্রোতার নিকট হাকীকত অর্থটিই প্রাধান্যপ্রাপ্ত, মাজায (রূপক অর্থ) নয়। ـ
তৃতীয়: নিরবচ্ছিন্ন মূলনীতি। যেমন তাঁদের উক্তি: নিরুপায় ব্যক্তির জন্য মৃত জন্তু হালাল হওয়া মূলনীতির পরিপন্থী।
চতুর্থ: যার সাথে তুলনা করা হয় (মাক্বীস আলাইহি)। তাঁদের কেউ কেউ এর পরিবর্তে (কায়েদা বা নীতি) শব্দটিকে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। যেমন বলা হয়: ‘ফায়েল’ (কর্তা) মারফু’ হওয়া নাহুর (আরবি ব্যাকরণ) অন্যতম একটি মূলনীতি
(১)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১১)
والفقه الذي هو الجزء الثاني، له معنى لغوي وهو الفهم.
[الشرح والإيضاح]
بيان معنى الفقه:
المسألة الأولى: قوله في تعريف الفقه لغة: الفهم
أقول صرح أهل اللغة كما في القاموس مادة ف. ق. هـ
أن الفقه بالكسر: العلم بالشيء، والفهم له، والفطنة، وغلب على علم الدين لشرفه ا. هـ. وفي مختار الصحاح الفقه الفهم هذا أصله ثم خص به علم الشريعة ا. هـ.
وفي الأساس للزمخشري: قال أعرابي لقيس بن عمر: شهدت عليك بالفقه. أي: بالفهم والفطنة
(1)وذكر ابن منظور هذه القصة في اللسان، وقال: الفقه العلم بالشيء، والفهم له. وغلب على علم الدين لسيادته، وشرفه، وفضله على سائر أنواع العلم ....
والفقه في الأصل الفهم يقال: أوتي فلان فقهاً في الدين أي: فهماً فيه، قال الله عز وجل: "لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ" [التوبة: 122]، أي ليكونوا علماء به
… وفقه فقهاً بمعنى علم علماً
… الخ
(2)فتحصل من هذا: أن كلام أهل العربية متوارد على أن الأصل في الفقه: الفهم، ويطلق كذلك على العلم، والفطنة.
--------------------------------------------
এবং ফিকহ যা দ্বিতীয় অংশ, এর একটি আভিধানিক অর্থ রয়েছে, আর তা হলো অনুধাবন।
[ব্যাখ্যা ও স্পষ্টীকরণ]
ফিকহের অর্থের বর্ণনা:
প্রথম মাসআলা: ফিকহের আভিধানিক সংজ্ঞায় তাঁর উক্তি: অনুধাবন
আমি বলব, ভাষাবিদগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যেমন ‘আল-কামুস’-এর ‘ফা. কা. হা.’ (ف. ق. هـ) মূলে রয়েছে যে,
কাসরাসহ ‘ফিকহ’ হলো: কোনো কিছু সম্পর্কে জানা, তা অনুধাবন করা এবং প্রজ্ঞা; আর এর মর্যাদার কারণে এটি দ্বীনি ইলমের ওপর প্রাধান্য পেয়েছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)। আর ‘মুখতারুস সিহাহ’-তে রয়েছে: ফিকহ হলো অনুধাবন, এটিই এর মূল অর্থ; পরবর্তীতে এটি শরীয়তের ইলমের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে গেছে। (উদ্ধৃতি সমাপ্ত)।
আর যামাখশারীর ‘আল-আসাস’-এ রয়েছে: এক গ্রাম্য আরব কায়স ইবনে উমরকে বলেছিলেন: আমি আপনার ফিকহের সাক্ষ্য দিচ্ছি। অর্থাৎ: আপনার অনুধাবন ও প্রজ্ঞার।
(১)ইবনে মঞ্জুর ‘আল-লিসান’-এ এই ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন এবং বলেছেন: ফিকহ হলো কোনো কিছু সম্পর্কে জানা এবং তা অনুধাবন করা। এর নেতৃত্ব, মর্যাদা এবং অন্যান্য সকল প্রকার ইলমের ওপর এর শ্রেষ্ঠত্বের কারণে এটি দ্বীনি ইলমের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পেয়েছে...
ফিকহ মূলত অনুধাবন করা। বলা হয়: অমুককে দ্বীনের ফিকহ দান করা হয়েছে, অর্থাৎ: তাতে অনুধাবন ক্ষমতা; মহান আল্লাহ বলেছেন: "যাতে তারা দ্বীন সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারে" [আত-তাওবাহ: ১২২], অর্থাৎ যাতে তারা এ বিষয়ে আলেম হতে পারে... এবং ‘ফাক্বিহা ফিক্বহান’ অর্থ হলো ‘আলিমা ইলমান’ (সে জেনেছে)... ইত্যাদি।
(২)এ থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় যে: আরবী ভাষাবিদদের বক্তব্য একমত যে ফিকহের মূল অর্থ হলো: অনুধাবন; আর এটি একইভাবে জ্ঞান ও প্রজ্ঞার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১২)
المسألة الثانية: قولا الشيرازي والرازي في معنى الفقه وتحقيق المقامومن العلماء (الشيرازي) من زاد قيدا آخر هو الفهم الدقيق، وزاد غيره (الرازي) بأنه فهم غرض المتكلم
ولمناقشة ذلك نقول:
1_ تخصيصه بالفهم الدقيق إخراج له عن أصل وضعه اللغوي وملاحظة الوضع الاصطلاحي، فأنت ترى أهل اللسان لم يذكروا هذا القيد.
والذي قيده بهذا القيد هو الإمام الشيرازي في شرح اللمع، كما نبه عليه الإمام القرافي في نفائس الأصول وأقره
(1)، ولم ينتبه الطوفي أنه في شرح اللمع لا في اللمع فقال: ولم أجده في اللمع فلعله في غيره أو في غير مظنته
(2).
وفي البحر المحيط نسبته إلى أبي إسحاق الشيرازي وصاحب اللباب من الحنفية
(3).
وقد اطلعت بعد هذا على كلام للإمام الإسنوي في شرحه لمنهاج البيضاوي يرد به كلام الشيرازي مستدلاً بكلام أهل اللسان فقال: "وقال الشيخ أبو إسحاق في شرح اللمع، هو فهم الأشياء الدقيقة فلا يقال: فقهت أن السماء فوقنا، وقال الآمدي: هو الفهم.
وهذا هو الصواب، فقد قال الجوهري: الفقه الفهم، تقول: فقهت كلامك بكسر القاف أفقه بفتحها في المضارع أي فهمت أفهم، قال الله تعالى: " فَمَالِ هَؤُلاءِ الْقَوْمِ لا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ حَدِيثاً " [النساء: 78]. وقال تعالى: " مَا نَفْقَهُ كَثِيراً مِمَّا تَقُولُ " [هود: 91]. وقال تعالى: "وَلَكِنْ لا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ " [الإسراء: 44]. ا. هـ كلامه
(4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসআলা: ফিকহ-এর অর্থের ক্ষেত্রে শিরাজি ও রাজির বক্তব্য এবং এই অবস্থানের পর্যালোচনাউলামাদের মধ্যে কেউ (শিরাজি) এমন আছেন যিনি আরেকটি শর্ত যোগ করেছেন, তা হলো সূক্ষ্ম উপলব্ধি; আবার অন্য কেউ (রাজি) অতিরিক্ত শর্তারোপ করেছেন যে, এটি হলো বক্তার উদ্দেশ্য বোঝা।
এটি পর্যালোচনার জন্য আমরা বলব:
১_ ফিকহকে সূক্ষ্ম উপলব্ধির সাথে সুনির্দিষ্ট করা একে এর মৌলিক আভিধানিক অর্থ থেকে বিচ্যুত করা এবং কেবল পারিভাষিক অর্থের দিকে লক্ষ্য রাখা; আপনি দেখতে পাবেন যে ভাষাবিদগণ এই শর্তটি উল্লেখ করেননি।
যিনি একে এই শর্তে সীমাবদ্ধ করেছেন তিনি হলেন ইমাম শিরাজি তার 'শারহুল লুমা' গ্রন্থে, যেমনটি ইমাম কারাফি 'নাফাইসুল উসুল'-এ নির্দেশ করেছেন এবং তা সমর্থন করেছেন
(১)। তুফি লক্ষ্য করেননি যে এটি 'শারহুল লুমা'-তে রয়েছে, 'লুমা'-তে নয়; তাই তিনি বলেছিলেন: "আমি এটি লুমা-তে খুঁজে পাইনি, সম্ভবত এটি অন্য কোনো কিতাবে আছে অথবা এমন কোনো স্থানে আছে যা আমার ধারণায় নেই"
(২)।
'আল-বাহরুল মুহিত' গ্রন্থে এই মতটি আবু ইসহাক শিরাজি এবং হানাফিদের মধ্য থেকে 'আল-লুবাব' গ্রন্থকারের দিকে সম্বন্ধ করা হয়েছে
(৩)।
এরপর আমি ইমাম ইসনাভির একটি বক্তব্যের সন্ধান পেয়েছি বাইদাউয়ির মিনহাজের ব্যাখ্যাগ্রন্থে (শারহু মিনহাজিল বাইদাউয়ি), যেখানে তিনি ভাষাবিদদের বক্তব্যের মাধ্যমে শিরারিজির কথা খণ্ডন করেছেন। তিনি বলেছেন: "শাইখ আবু ইসহাক 'শারহুল লুমা' গ্রন্থে বলেছেন যে, ফিকহ হলো সূক্ষ্ম বিষয়াবলি বোঝা, তাই বলা যায় না: 'আমি ফিকহ করেছি (বুঝেছি) যে আকাশ আমাদের উপরে'। আর আমেদি বলেছেন: ফিকহ হলো উপলব্ধি।"
আর এটিই সঠিক। কেননা জাওহারি বলেছেন: ফিকহ হলো উপলব্ধি। আপনি যখন বলেন 'ফাক্বিহতু কালামাকা' (অতীতকালে কাফ বর্ণে কাসরা এবং বর্তমানকালে ফাতহা যোগে), তখন এর অর্থ হয় 'আমি তোমার কথা বুঝেছি'। মহান আল্লাহ বলেছেন: "তবে এ কওমের কী হলো যে, তারা কোনো কথা বুঝতে চায় না?" [নিসা: ৭৮]। তিনি আরও বলেছেন: "তুমি যা বলো তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না" [হুদ: ৯১]। তিনি আরও বলেছেন: "কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বুঝতে পারো না" [ইসরা: ৪৪]। এখানে তার বক্তব্য শেষ হলো
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৩)
ونحوه قال الرهوني في شرحه على المختصر وصحح ما ذهب إليه الأكثر من أن الفقه الفهم
(1). وهذا هو مذهب أكثر الأصوليين غير أبي إسحاق الشيرازي ومن تبعه
(2).
وقد حقق الطوفي الكلام على المسألة ونقل فيها قول الشيرازي وغيره ثم قال: فقد تحقق بما ذكرته أن الفقه هو الفهم. ا. هـ
(3).
2_ وقيده الإمام الرازي بالخطاب فقال: "الفقه في اللغة: فهم غرض المتكلم من كلامه" وتعقب بأنه: "يرد عليه أن المنقول عن اللغة أن الفقه هو مطلق الفهم"
(4). ا. هـ.
وأصل هذا للإمام أبي الحسن في المعتمد،
(5) وتبعه في المحصول كما قال الزركشي في البحر ورده،
(6) ونقل عن ابن دقيق العيد قوله: وهذا تقييد للمطلق بما لا يتقيد به.
ودليل الإمام استعمالها في الخطاب في قوله تعالى: {مَا نَفْقَهُ كَثِيراً مِمَّا تَقُولُ} [هود: 91]. ونحوها من الآيات أي ما نفهم خطابك، وأورد عليه أهل الأصول نحو قوله تعالى: {لَهُمْ قُلُوبٌ لا يَفْقَهُونَ بِهَا} [الأعراف: 179].
قال في البحر: وهذا لا يختص بالفهم من الخطاب بل عدم الفهم مطلقاً من الأدلة العقلية والسمعية وطرق الاعتبار
(7). وقال الإمام الهندي: وأما من فسره بأنه عبارة عن فهم غرض المتكلم فقد زاد قيداً غير معتبر في مفهومه يدل عليه ما أنشدناه من الشعر، وقوله تعالى: "وَلَكِنْ لا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ" [الإسراء: 44]. لأنه نفي عنهم فقه تسبيحهم، وتسبيحهم ليس بالكلام على ما هو مذهب المحققين
(8). ا. هـ، ومن العلماء من قال الفقه
--------------------------------------------
আল-রাহুনী তাঁর 'শারহুল মুখতাসার'-এ অনরূপ বলেছেন এবং অধিকাংশ আলিম যে মত পোষণ করেছেন তা বিশুদ্ধ ঘোষণা করেছেন যে, ফিকহ অর্থ হলো অনুধাবন বা বুঝ
(১)। আবু ইসহাক আল-শিরাজী এবং তাঁর অনুসারীগণ ব্যতীত অধিকাংশ উসুলবিদদের অভিমত এটাই
(২)。
আত-তুফী এই মাসআলাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এবং এতে শিরাজী ও অন্যদের বক্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। অতঃপর তিনি বলেছেন: আমি যা উল্লেখ করেছি তা দ্বারা এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, ফিকহ হলো অনুধাবন বা বুঝ। [সমাপ্ত]
(৩)。
২- ইমাম আল-রাযী একে 'খিতাব' (সম্বোধন) এর সাথে সীমাবদ্ধ করেছেন। তিনি বলেছেন: "অভিধানে ফিকহ হলো: বক্তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য অনুধাবন করা।" এর সমালোচনা করে বলা হয়েছে: "এর বিপরীতে আপত্তি হলো যে, আভিধানিক বর্ণনা অনুযায়ী ফিকহ হলো যেকোনো সাধারণ অনুধাবন"
(৪)। [সমাপ্ত]।
এর মূল উৎস হলো ইমাম আবুল হাসানের 'আল-মুতামাদ' গ্রন্থে
(৫), এবং ইমাম আল-যারকশী তাঁর 'আল-বাহর'-এ যেমনটি বলেছেন, তিনি (রাযী) 'আল-মাহসুল' গ্রন্থে তাঁর অনুসরণ করেছেন এবং তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন
(৬)। ইবনু দাকীকিল ঈদ থেকে তাঁর এই উক্তিটি উদ্ধৃত করা হয়েছে: এটি একটি সাধারণ বিষয়কে এমন কিছু দিয়ে সীমাবদ্ধ করা, যার মাধ্যমে তা সীমাবদ্ধ হয় না।
ইমামের (রাযীর) দলীল হলো মহান আল্লাহর বাণীতে 'খিতাব' বা সম্বোধনের ক্ষেত্রে এর ব্যবহার: "আপনি যা বলেন তার অনেক কিছুই আমরা বুঝি না" [হূদ: ৯১]। এবং অনুরূপ আয়াতসমূহ, অর্থাৎ আমরা আপনার সম্বোধন বুঝি না। এর বিপরীতে উসুলবিদগণ মহান আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে আপত্তি তুলেছেন: "তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা অনুধাবন করে না" [আল-আরাফ: ১৭৯]।
'আল-বাহর' গ্রন্থে বলা হয়েছে: এটি কেবল সম্বোধন অনুধাবনের সাথে সুনির্দিষ্ট নয়, বরং বুদ্ধিভিত্তিক দলিল, শ্রুত দলিল এবং পর্যালোচনার পদ্ধতিসমূহ থেকে যেকোনো ধরনের অনুধাবন না হওয়াকে বোঝায়
(৭)। ইমাম আল-হিন্দী বলেছেন: আর যে ব্যক্তি এর ব্যাখ্যা করেছেন যে এটি বক্তার উদ্দেশ্য অনুধাবন করার নামান্তর, তিনি এর সংজ্ঞায় এমন একটি শর্ত যোগ করেছেন যা ধর্তব্য নয়। আমরা যে কবিতা আবৃত্তি করেছি এবং মহান আল্লাহর বাণী: "কিন্তু তোমরা তাদের তাসবীহ (পবিত্রতা ঘোষণা) বুঝতে পারো না" [আল-ইসরা: ৪৪]—তা এরই প্রমাণ বহন করে। কারণ এখানে তাদের থেকে তাসবীহ অনুধাবনের বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে, আর মুহাক্কিক আলিমদের অভিমত অনুযায়ী তাদের তাসবীহ কোনো (মানুষের মতো) বক্তব্য নয়
(৮)। [সমাপ্ত]। আর আলিমদের মধ্যে কেউ কেউ বলেছেন, ফিকহ
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৪)
لغةً: العلم، كالقاضي أبي يعلي في العدة
(1).
قلت: وهو وارد في كلام العرب كما عرفت مما سقته لك من نقل عن أهل اللسان، لكنه في أصل الوضع اللغوي بمعنى الفهم كما صرح به في اللسان.
إذاً الفقه في اللغة يطلق على:
- الفهم: كقوله تعالى: {وَلَكِنْ لا تَفْقَهُونَ تَسْبِيحَهُمْ} [الإسراء: 44].
- العلم: ومنه قوله: {لِيَتَفَقَّهُوا فِي الدِّينِ} [التوبة: 122]، أي: ليكونوا علماء به.
--------------------------------------------
ভাষাগতভাবে: জ্ঞান, যেমনটি কাজি আবু ইয়ালা 'আল-উদ্দাহ' গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।
(১)আমি বলি: এটি আরবদের বক্তব্যে প্রচলিত রয়েছে, যেমনটি আমি আপনার জন্য ভাষাবিদদের উদ্ধৃতি থেকে পেশ করেছি; তবে মৌলিক ভাষাগত প্রয়োগ অনুযায়ী এটি 'উপলব্ধি' (ফাহম) অর্থেই আসে, যেমনটি 'লিসানুল আরব' গ্রন্থে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে।
অতএব, আভিধানিক অর্থে 'ফিকহ' শব্দটি নিচের অর্থগুলোতে ব্যবহৃত হয়:
- উপলব্ধি বা বুঝ: যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: {কিন্তু তোমরা তাদের পবিত্রতা ঘোষণা বুঝতে পারো না} [আল-ইসরা: ৪৪]।
- জ্ঞান: যেমন মহান আল্লাহর বাণী: {যাতে তারা দ্বীনের জ্ঞান অর্জন করতে পারে} [আত-তাওবাহ: ১২২], অর্থাৎ: যাতে তারা দ্বীনের আলিম হতে পারে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৫)
ومعنى شرعي وهو معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد، كالعلم بأن النية في الوضوء واجبة وأن الوتر مندوب.
[الشرح والإيضاح]
تعريف الفقه اصطلاحاً:فيه مسائل
المسألة الأولى: الكلام عن المعرفة وبيان حقيقتهاالمعرفة ترادف العلم في اللسان:
قال الجوهري: "علمت الشيء أعلمه علماً: عرفته". وفي القاموس: "عرفه معرفةً
… علمه".
وفي علم: قال: علمه، كسمعه، علماً، بالكسر: عرفه.
وفي اللسان مادة عرف: العرفان: العلم وفيه في مادة علم: وعلمت الشيء أعلمته علماً: عرفته، ويجوز أن تقول علمت الشيء بمعنى عرفته وخبرته.
وفي مختار الصحاح: (العارف) بمعنى كالعليم، والعالم.
وفي مادة علم: "وعلم الشيء بالكسر يعلمه علماً عرفه".
وتعبير المصنف في تعريف الفقه بالمعرفة، وقوله فيما سيجيء: العلم معرفة، كأنه حاول به التنبيه على أن المراد بالمعرفة والعلم واحد، لا كما اصطلح عليه البعض من التفرقة
(1).
--------------------------------------------
এবং শরয়ি অর্থ হচ্ছে এমন শরয়ি বিধানসমূহ সম্পর্কে অবগতি লাভ করা যার মাধ্যম হলো ইজতিহাদ; যেমন এই জ্ঞান থাকা যে, ওজুতে নিয়ত করা ওয়াজিব এবং বিতর নামাজ মানদুব (মুস্তাহাব)।
[ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ]
পরিভাষায় ফিকহ-এর সংজ্ঞা:এতে কয়েকটি মাসআলা (আলোচ্য বিষয়) রয়েছে
প্রথম মাসআলা: 'মা'রিফাত' (অবগতি) সম্পর্কে আলোচনা এবং এর প্রকৃত রূপের বর্ণনাভাষাগতভাবে 'মা'রিফাত' শব্দটি 'ইলম' (জ্ঞান)-এর সমার্থক:
আল-জাওহারি বলেছেন: "আমি বিষয়টি জেনেছি (আলিমতুশ শাইয়া), আমি এটি জানি (আ'লামুহু), এটি একটি জ্ঞান (ইলম); অর্থাৎ: আমি এটি চিনেছি বা জেনেছি (আরাফতুহু)।" আর কামুস গ্রন্থে আছে: "সে তাকে চিনেছে বা জেনেছে (আরাফাহু), এটি একটি মা'রিফাত... অর্থাৎ সে জেনেছে (আলি মাহু)।"
এবং 'ইলম' (জ্ঞান) অধ্যায়ে বলা হয়েছে: সে জেনেছে (আলি মাহু), 'সামিআ' এর ওজনে, ইলমান (জের সহকারে); অর্থাৎ: সে চিনেছে বা জেনেছে (আরাফাহু)।
লিসানুল আরব গ্রন্থের 'আরাফা' মূলধাতুর আলোচনায় আছে: 'ইরফান' মানে 'ইলম' (জ্ঞান)। এবং সেখানে 'আলিমা' মূলধাতুর আলোচনায় আছে: আমি বিষয়টি জেনেছি (আলিমতুশ শাইয়া), আমি এটি জানি (আ'লামতুহু), এটি একটি জ্ঞান (ইলম); অর্থাৎ আমি এটি চিনেছি বা জেনেছি (আরাফতুহু)। আর 'আলিমতুশ শাইয়া' বলাও বৈধ, যার অর্থ হলো আমি এটি চিনেছি এবং এ সম্পর্কে অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।
মুখতারুস সিহাহ গ্রন্থে আছে: 'আল-আরিফ' শব্দটি 'আল-আলিম' বা 'জ্ঞানী' অর্থেই ব্যবহৃত হয়।
এবং 'আলিমা' মূলধাতুর আলোচনায় বলা হয়েছে: "জের সহকারে কোনো বিষয় জানা (আলিমা), সে জানে (ইয়া'লামুহু), এটি একটি জ্ঞান (ইলমান); অর্থাৎ সে চিনেছে বা জেনেছে (আরাফাহু)।"
ফিকহ-এর সংজ্ঞায় গ্রন্থকার কর্তৃক 'মা'রিফাত' শব্দের ব্যবহার এবং পরবর্তীতে তাঁর এই উক্তি: "ইলম হলো মা'রিফাত", এর দ্বারা তিনি যেন এই বিষয়ে সতর্ক করতে চেয়েছেন যে, মা'রিফাত এবং ইলম দ্বারা উদ্দেশ্য মূলত একই; বিষয়টি তেমন নয় যেমনটি কেউ কেউ এই দুটির মধ্যে পার্থক্য করার পরিভাষা গ্রহণ করেছেন।
(১)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৬)
المسألة الثانية: الفرق بين المعرفة والعلم:قال العلماء: إن المعرفة في الاصطلاح إدراك البسائط تصوراً، أو تصديقاً.
أو هي: إدراك الجزئيات.
أو هي: الإدراك بعد الجهل.
أو هي: الإدراك الأخير من إدراكين لشيء واحد يتخللهما عدمٌ
(1).
والعلم: يختص بإدراك المركبات تصوراً أو تصديقاً.
ويقال: عرفت الله دون علمته
(2)، وفي شرح المواقف: إن علمه تعالى لا يسمى معرفة إجماعاً لا اصطلاحاً، ولا لغة
(3).
وهكذا يقال في البقية.
فالعلم يختص بإدراك الكليات أعم من أن يكون مفهوماً كلياً أو قاعدة كلية.
وكما أن المعرفة تختص بأنها: إدراك بعد جهل، أو إدراك الأخير من إدراكين
… الخ.
فالعلم بخلاف ذلك.
ولهذا لا يوصف الباري تعالى بالعارف ويوصف بالعالم، إذ علمه تعالى لا عن جهل سبق، ولا عن إدراكين بينهما عدم.
ولكن ينسب إليه الفعل من باب المقابلة، والمشاكلة ولذلك قال شيخ الإسلام أبو زرعة العراقي في نكته على منهاج الأُصول: وقد وقع إطلاق المعرفة على الله تعالى في
--------------------------------------------
দ্বিতীয় মাসয়ালা: মারেফাত (পরিচয়) এবং ইলম (জ্ঞান)-এর মধ্যে পার্থক্য:ওলামায়ে কেরাম বলেন: পারিভাষিক অর্থে মারেফাত হলো মৌলিক বিষয়াবলির ধারণা করা কিংবা সত্যায়ন করা।
অথবা এটি হলো: আংশিক বা বিশেষ বিষয়াবলির উপলব্ধি।
অথবা এটি হলো: অজ্ঞতার পরের উপলব্ধি।
অথবা এটি হলো: একটি জিনিসের দুটি উপলব্ধির মধ্যে পরবর্তী উপলব্ধি, যে দুটির মাঝে বিচ্ছেদ রয়েছে
(১)।
আর ইলম: এটি জটিল বা যৌগিক বিষয়াবলির ধারণা করা কিংবা সত্যায়ন করার সাথে বিশিষ্ট।
আর বলা হয়: আমি আল্লাহকে চিনেছি, আমি আল্লাহকে জেনেছি বলা হয় না
(২)। শারহুল মাওয়াকিফে আছে: আল্লাহ তাআলার ইলমকে সর্বসম্মতিক্রমে মারেফাত বলা হয় না, পারিভাষিক অর্থেও নয় এবং আভিধানিক অর্থেও নয়
(৩)।
এভাবেই অবশিষ্টাংশের ক্ষেত্রেও বলা হয়।
সুতরাং ইলম হলো সামগ্রিক বিষয়াবলির উপলব্ধির সাথে খাস, চাই তা সামগ্রিক কোনো ধারণা হোক বা সামগ্রিক কোনো নীতি।
আর ঠিক যেমনিভাবে মারেফাত এ বৈশিষ্ট্যে বিশিষ্ট যে, তা হলো: অজ্ঞতার পরের উপলব্ধি কিংবা দুটি উপলব্ধির মধ্যে পরবর্তীটি... ইত্যাদি।
ইলম এর বিপরীত।
এই কারণেই আল্লাহ তাআলাকে 'আরিফ' হিসেবে গুণান্বিত করা হয় না, বরং 'আলিম' হিসেবে গুণান্বিত করা হয়। কারণ আল্লাহ তাআলার জ্ঞান কোনো পূর্ববর্তী অজ্ঞতা থেকে অর্জিত নয় এবং এমন দুটি উপলব্ধির সমষ্টিও নয় যার মাঝে বিচ্ছেদ রয়েছে।
তবে আল্লাহ তাআলার প্রতি ক্রিয়া বা কাজের সম্পৃক্ততা মুকাবালা (প্রতিদান) এবং মুশাকলা (ভাষাগত সাদৃশ্য) এর পরিভাষা হিসেবে করা হয়। আর এই কারণেই শায়খুল ইসলাম আবু জুরআ আল-ইরাকি 'নুকাতু আলা মিনহাজিল উসুল' গ্রন্থে বলেন: আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে মারেফাত শব্দের প্রয়োগ ঘটেছে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৭)
كلام النبي صلى الله عليه وسلم، وأقوال أصحابه، وأهل اللغة
(1)قلت: ومنه الحديث المشهور: إحفظ الله تجده تجاهك تعرف إلى الله في الرخاء يعرفك في الشدة
(2).
المسألة الثالثة: استعمال العلم، والظن كل واحد مكان الآخر ثابت لغة وشرعاً وعرفاً.
قلت: بيّن في اللسان في مادة ظن: أن الظن يطلق في لغة العرب ويراد به اليقين أي: يقين الفكر، والتدبر، لا يقين العيان. فإنه لا يقال فيه إلا علم
(3).
وما نحن فيه من الأول.
فعليه يجوز إطلاق العلم بمعنى الظن حقيقة لغوية وعرفية للفقهاء ونحوهم.
بل وشرعية كما في قوله تعالى: " الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُمْ مُلاقُو رَبِّهِمْ " [البقرة: 46]. أي: يعلمون علم اليقين مع أن هذا في مقام ثناء ومدح، ولا يستعمل فيه إلا ما يدل على أرفع الصفات الممدوحة فلا يمدحون بشيء محتمل للذم، فدل على أن الظن بمعنى العلم وارد في لغة العرب، والقرآن، واستعمال الفقهاء، فهو حقيقة على أي وجه والتفرقة بينهما اصطلاح حادث.
المسألة الرابعة: هل يصلح المجاز في التعاريف؟
المجاز المشهور في التعاريف وارد. بل قال العلامة ابن السبكي في منع الموانع: "وأما دخول المجاز في الحد فجائز إذا كان مشهوراً ". وأنا أقول: إني لم أر تعريفاً إلى الآن لا مجاز فيه، لا في المنطق، ولا في الكلام، ولا في الأصول، وهي العلوم التي تحرر فيها التعاريف أكثر من غيرها فما ظنك بغيرها. ا. هـ
(4).
--------------------------------------------
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, তাঁর সাহাবীগণের বক্তব্য এবং ভাষাবিদগণের উক্তি
(১)আমি বলছি: এরই অন্তর্ভুক্ত হলো সেই প্রসিদ্ধ হাদীস: তুমি আল্লাহর বিধানের হেফাযত করো, তবে তাঁকে তোমার সামনে পাবে; সচ্ছলতার সময় আল্লাহকে চিনে রাখো (তাঁর অনুগত হও), তিনি তোমাকে কঠিন সময়ে চিনবেন (সাহায্য করবেন)
(২)।
তৃতীয় মাসআলা: ইলম (জ্ঞান) এবং যন (ধারণা)-এর একটির স্থলে অন্যটির ব্যবহার ভাষাগত, শরঈ এবং প্রথাগতভাবে সুসাব্যস্ত।
আমি বলছি: লিসানুল আরব অভিধানে ‘যন’ মূলধাতুর আলোচনায় স্পষ্ট করা হয়েছে যে: আরবদের ভাষায় ‘যন’ শব্দটির প্রয়োগ হয় এবং এর দ্বারা ‘ইয়াকীন’ বা দৃঢ় বিশ্বাস উদ্দেশ্য নেওয়া হয়; অর্থাৎ চিন্তা ও গবেষণালব্ধ দৃঢ় বিশ্বাস, প্রত্যক্ষ দর্শনের মাধ্যমে অর্জিত দৃঢ় বিশ্বাস নয়। কারণ প্রত্যক্ষ দর্শনের ক্ষেত্রে কেবল ‘ইলম’ শব্দই ব্যবহৃত হয়
(৩)।
আর আমাদের আলোচ্য বিষয়টি প্রথম প্রকারের (গবেষণালব্ধ বিশ্বাস) অন্তর্ভুক্ত।
অতএব, ফকীহগণ এবং তাঁদের সমগোত্রীয়দের নিকট ভাষাগত ও প্রথাগত প্রকৃত অর্থ (হাকীকত) হিসেবেই ‘যন’-এর অর্থে ‘ইলম’ শব্দের প্রয়োগ করা বৈধ।
বরং এটি শরঈ দিক থেকেও সিদ্ধ, যেমন আল্লাহ তাআলার বাণী: "যারা ধারণা (বিশ্বাস) করে যে তারা তাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে" [সূরা আল-বাকারাহ: ৪৬]। অর্থাৎ: তারা দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে জানে। অথচ এই আয়াতটি প্রশংসা ও গুণকীর্তনের স্থানে বর্ণিত হয়েছে, আর প্রশংসার ক্ষেত্রে কেবল এমন শব্দই ব্যবহৃত হয় যা সর্বোচ্চ প্রশংসনীয় গুণাবলি নির্দেশ করে। সুতরাং তাদের এমন কোনো গুণের মাধ্যমে প্রশংসা করা হবে না যাতে নিন্দার সামান্যতম সম্ভাবনা থাকে। এটি প্রমাণ করে যে, ‘ইলম’-এর অর্থে ‘যন’ শব্দের ব্যবহার আরবদের ভাষা, কুরআন এবং ফকীহগণের পরিভাষায় বিদ্যমান। সুতরাং যেকোনো বিচারেই এটি প্রকৃত অর্থ, আর এ দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করাটা হলো পরবর্তীকালের উদ্ভাবিত একটি পরিভাষা মাত্র।
চতুর্থ মাসআলা: সংজ্ঞার ক্ষেত্রে কি মাজায বা রূপক অর্থ সঠিক?
সংজ্ঞার ক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ মাজায বা রূপক অর্থের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। বরং আল্লামা ইবনে সুবকী ‘মানউল মাওয়ানি’ গ্রন্থে বলেছেন: "আর সংজ্ঞার মধ্যে রূপক অর্থের অনুপ্রবেশ জায়েয যদি তা প্রসিদ্ধ হয়।" আমি বলছি: আমি এখন পর্যন্ত এমন কোনো সংজ্ঞা দেখিনি যাতে রূপক অর্থ নেই—তা চাই তর্কবিদ্যা (মানতিক), ধর্মতত্ত্ব (ইলমুল কালাম) কিংবা মূলনীতিশাস্ত্র (উসূল) যা-ই হোক না কেন; অথচ এই শাস্ত্রগুলোতেই অন্যান্য শাস্ত্রের তুলনায় অধিক সূক্ষ্মভাবে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়; তাহলে অন্য শাস্ত্রগুলোর অবস্থা কী হতে পারে (তা সহজেই অনুমেয়)। [সমাপ্ত]
(৪).
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৮)
وقال ابن الأمير: "وقد يقال (يعني العلم) على: ما يشمل الظن. وكثيراً ما يستعمله الفقهاء في هذا الأخير، وهو معناه الأعم.
(1)والمراد به هنا ما يشمل المعنيين جميعاً- أي: الاعتقاد الجازم
… الخ والظن فقط. فإن كان لفظ العلم مشترك بينهما، فاستعمال المشترك في معنييه- وإن كان مهجوراً في التعاريف- فالمقام هنا مشعر بالمراد فتزول الجهالة، وإن كان ليس بمشترك كما أفاده في المواقف، فإنه قال: إن تسمية الظن علماً، وجعله مندرجاً فيه كما ذهب إليه الحكماء، مخالف لاستعمال اللغة، والعرف، والشرع.
فقد قيل عليه إنه لا مانع من إطلاقه عليه مجازاً، والتعريف بالمجاز المشهور قد أجازوه. ا. هـ.
ولو سلم كونه مجازاً فهو مجاز مشهور يجوز استعماله في الحدود كما تقدم وإن سلم
(2) "فالتقييد بالحصول عن الاجتهاد قرينة واضحة لهذا المجاز، لوضوح أن الحاصل عن الاجتهاد لا يكون إلا ظنياً"
(3).
قلت: وقد عرفناك أن العلم بمعنى الظن حقيقة في اللغة، والقرآن، وعرف الفقه، فقول صاحب المواقف غير صحيح بل هو محاكمة للفظ إلى الاصطلاح الحادث.
والخلاصة:
1 - أن استعمال العلم بمعنى الظن حقيقة لغوية، عرفية، شرعية.
2 - أن المجاز المشهور سائغ في الحدود.
3 - أن العلم هنا بمعنى الظن لتقييد حصوله عن اجتهاد.
--------------------------------------------
ইবনুল আমীর বলেন: "কখনও কখনও এটি (অর্থাৎ জ্ঞান বা ইলম) এমন বিষয়ের ওপর বলা হয় যা ধারণাকে (যন) অন্তর্ভুক্ত করে। ফকিহগণ প্রায়শই একে এই শেষোক্ত অর্থে ব্যবহার করেন, আর এটিই এর ব্যাপকতর অর্থ।
(১)আর এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো যা উভয় অর্থকেই অন্তর্ভুক্ত করে—অর্থাৎ: দৃঢ় বিশ্বাস
… ইত্যাদি এবং কেবল ধারণা। যদি 'জ্ঞান' শব্দটি উভয়ের মধ্যে সাধারণ (মুশতারাক) হয়, তবে উভয় অর্থে সাধারণ শব্দের ব্যবহার—যদিও তা সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বর্জনীয়—তথাপি এখানকার প্রসঙ্গ উদ্দেশ্যকে স্পষ্ট করে দেয়, ফলে অস্পষ্টতা দূর হয়। আর যদি এটি সাধারণ (মুশতারাক) না হয়, যেমনটি 'মাওয়াকিফ' গ্রন্থে ব্যক্ত করা হয়েছে; কেননা তিনি বলেছেন: ধারণাকে 'জ্ঞান' হিসেবে নামকরণ করা এবং একে এর অন্তর্ভুক্ত গণ্য করা—যেমনটি দার্শনিকগণ মনে করেন—তা ভাষা, প্রথা এবং শরয়ি ব্যবহারের পরিপন্থী।
এর উত্তরে বলা হয়েছে যে, একে রূপক হিসেবে ব্যবহারে কোনো বাধা নেই, আর প্রসিদ্ধ রূপকের মাধ্যমে সংজ্ঞা প্রদান করাকে তারা বৈধ বলেছেন। সমাপ্ত।
যদি একে রূপক হিসেবে মেনেও নেওয়া হয়, তবুও এটি একটি প্রসিদ্ধ রূপক যা সংজ্ঞার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা জায়েয, যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর যদি মেনে নেওয়া হয় যে
(২) "ইজতিহাদের মাধ্যমে অর্জিত হওয়ার শর্তটি এই রূপকের জন্য একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত, কারণ এটি স্পষ্ট যে ইজতিহাদের মাধ্যমে যা অর্জিত হয় তা কেবল ধারণালব্ধই হয়ে থাকে।"
(৩)আমি বলি: আমরা আপনাকে অবহিত করেছি যে, ধারণার (যন) অর্থে 'জ্ঞান' (ইলম) শব্দের ব্যবহার ভাষা, কুরআন এবং ফিকহী পরিভাষায় একটি প্রকৃত অর্থ (হাকিকত), সুতরাং 'মাওয়াকিফ' গ্রন্থের লেখকের বক্তব্য সঠিক নয়; বরং এটি একটি শব্দকে পরবর্তীকালে উদ্ভাবিত পরিভাষার মানদণ্ডে বিচার করার নামান্তর।
সারকথা:
১ - ধারণা অর্থে জ্ঞানের ব্যবহার একটি ভাষাগত, প্রথাগত ও শরয়ি প্রকৃত অর্থ।
২ - প্রসিদ্ধ রূপক সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বৈধ।
৩ - এখানে জ্ঞান শব্দটি ধারণা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, যেহেতু এর অর্জিত হওয়াকে ইজতিহাদের সাথে শর্তযুক্ত করা হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ১৯)
المسألة الخامسة: قوله: معرفة الأحكامهل المراد بمعرفة الأحكام جميعها، أم بعضها، أم غالبها.
فإن قلنا بالأول: استحال أن يوجد فقيه أو مجتهد.
وإن قلنا بالثاني: كان جميع الناس مستحقين لهذا الوصف، فيصح حينئذ وصف المقلد والعامي بذلك.
وإن قلنا بالغالب: قيل الغلبة لا تنضبط، وغير المضبوط لا يضبط به.
وسبب ورود ذلك في المسألة الاختلاف في حقيقة -أل- في الأحكام هل هي للجنس الاستغراقي أم لا؟
فعلى الأول: لا يكون الحد جامعاً لخروج كثير من المجتهدين، وعلى الثاني: لا يكون الحد مانعاً لدخول المقلد والعامي.
والجواب أن المراد "بمعرفة الأحكام"، أي: معرفة بالاجتهاد تحقيقاً، وتهيؤاً قريباً. وإنما قيدناها بالقرب ليخرج التهيؤ البعيد كتهيؤ العامي والمقلد
(1).
وقيل إن التعريف صحيح على كلا التقديرين.
1) فعلى تقدير أنها للاستغراق المقصود تهيؤه تهيؤاً قريباً بحيث لو تأمل في المسألة أدركها.
2) وعلى تقدير عدم الاستغراق فالمقصود ما حصل عن ظن ومعرفة استدلالية، وهذا لا يكون في العامي والمقلد.
--------------------------------------------
পঞ্চম মাসআলাহ: তাঁর উক্তি: "আহকাম (বিধানাবলী) সম্পর্কে জ্ঞান"আহকাম বা বিধানাবলী সম্পর্কে জ্ঞান বলতে কি এর সবগুলো বুঝানো হয়েছে, নাকি এর কিছু অংশ, নাকি এর অধিকাংশ?
যদি আমরা প্রথমটি বলি, তবে কোনো ফকিহ বা মুজতাহিদের অস্তিত্ব থাকা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
আর যদি আমরা দ্বিতীয়টি বলি, তবে সকল মানুষই এই গুণের অধিকারী হওয়ার যোগ্য হয়ে যাবে, ফলে তখন একজন মুকাল্লিদ (অনুসারী) এবং একজন সাধারণ মানুষকেও এই বিশেষণে বিশেষিত করা সঠিক হবে।
আর যদি আমরা অধিকাংশের কথা বলি, তবে বলা হয় যে, এই 'অধিকাংশ' হওয়ার বিষয়টি সুনির্দিষ্ট নয়, আর যা সুনির্দিষ্ট নয় তা দ্বারা অন্য কোনো কিছু সুনির্দিষ্ট করা যায় না।
এই মাসআলায় এমনটি হওয়ার কারণ হলো 'আল-আহকাম' (বিধানাবলী) শব্দের 'আল' (আলিফ-লাম) এর প্রকৃতি নিয়ে মতভেদ যে, এটি কি ব্যাপকতা (ইস্তিগরক) বুঝানোর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে নাকি নয়?
প্রথম মত অনুযায়ী: সংজ্ঞাটি 'জামি' (সবগুলোকে অন্তর্ভুক্তকারী) হবে না, কারণ এতে অনেক মুজতাহিদ সংজ্ঞার বাইরে চলে যাবেন। আর দ্বিতীয় মত অনুযায়ী: সংজ্ঞাটি 'মানি' (অন্যকে প্রতিরোধকারী) হবে না, কারণ এতে মুকাল্লিদ ও সাধারণ মানুষ অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
এর উত্তর হলো, "আহকাম সম্পর্কে জ্ঞান" বলতে উদ্দেশ্য হলো: ইজতিহাদের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান যা বাস্তবে অর্জিত হয়েছে অথবা যা অর্জনের জন্য নিকটতম প্রস্তুতি বিদ্যমান। আমরা একে 'নিকটতম' (প্রস্তুতি) দ্বারা সীমাবদ্ধ করেছি যাতে দূরতম প্রস্তুতি বাদ পড়ে যায়, যেমন সাধারণ মানুষ ও মুকাল্লিদের প্রস্তুতি।
(১)আর বলা হয়েছে যে, সংজ্ঞাটি উভয় বিবেচনাতেই সঠিক।
১) যদি 'আল' ব্যাপকতা (ইস্তিগরক) বুঝানোর জন্য ধরা হয়, তবে উদ্দেশ্য হবে তার নিকটতম প্রস্তুতি এমনভাবে থাকা যে, সে যদি কোনো মাসআলায় গভীরভাবে চিন্তা করে তবে তা উপলব্ধি করতে সক্ষম হবে।
২) আর যদি ব্যাপকতা না বুঝানোর বিষয়টি ধরা হয়, তবে উদ্দেশ্য হলো যা ধারণা এবং দলীলভিত্তিক জ্ঞানের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে, যা কোনো সাধারণ মানুষ বা মুকাল্লিদের ক্ষেত্রে সম্ভব নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২০)
المسألة السادسة خرج "بالأحكام"
" الذوات، والصفات، والأفعال " قاله في الحاصل
(1).
وبيانه أن العلم لا بد له من معلوم وهذا المعلوم أربعة:
1) الجسم أو الذات.
2) الفعل.
3) الصفة.
4) الحكم.
فالذات كالإنسان، والفعل كالضرب، والصفة كالسمرة والبياض، ونحوها والحكم هو: نسبة الفعل إلى الذات فتقول ضرب زيدٌ عمراً.
ووجه هذا الحصر
(2): "أن المعلوم إن لم يكن محتاجاً إلى محل يقوم به فهو الجوهر كالجسم، وإن احتاج فإن كان سبباً للتأثير في غيره فهو الفعل كالضرب والشتم، وإن لم يكن سبباً فإن
كان نسبة بين الأفعال والذوات فهو الحكم، وإن لم يكن فهو الصفة كالحمرة والسواد. فلما قيد العلم "المعرفة" بالحكم كان مخرجاً للثلاثة"
(3).
المسألة السابعة: خرج بقوله الشرعية.
العقلية. كالعلم بأن الواحد نصف الاثنين، وأن الكل أعظم من الجزء، والعادية كالطب والهندسة، وعن اللغوية والحسية كالعلم بأن النار محرقة
(4)--------------------------------------------
ষষ্ঠ মাসআলা: "আহকাম" (বিধানসমূহ) শব্দের মাধ্যমে
"সত্তা, গুণাবলী এবং কার্যাবলী" বহির্ভূত হয়েছে—এটি ‘আল-হাসিল’ গ্রন্থে বলা হয়েছে
(১)।
এর ব্যাখ্যা হলো, জ্ঞানের জন্য অবশ্যই একটি জ্ঞাত বিষয় (মালুম) থাকতে হয় এবং এই জ্ঞাত বিষয় চার প্রকার:
১) দেহ বা সত্তা।
২) কাজ।
৩) গুণ।
৪) বিধান।
সত্তা যেমন মানুষ, কাজ যেমন প্রহার করা, গুণ যেমন তামাটে বা সাদা বর্ণ এবং এই জাতীয়। আর বিধান হলো: সত্তার সাথে কাজের সম্বন্ধ করা, যেমন আপনি বলেন ‘জায়েদ আমরকে প্রহার করেছে’।
এই সীমাবদ্ধকরণের কারণ হলো
(২): "জ্ঞাত বিষয়টি যদি এমন হয় যা বিদ্যমান থাকার জন্য কোনো আধারের মুখাপেক্ষী নয়, তবে তা হলো ‘জাওহার’ (মৌলিক পদার্থ) যেমন দেহ। আর যদি মুখাপেক্ষী হয়, তবে তা যদি অন্য কিছুর ওপর প্রভাব বিস্তারের কারণ হয়, তবে তা হলো ‘কাজ’ যেমন প্রহার করা ও গালি দেওয়া। আর যদি প্রভাবের কারণ না হয়, তবে
তা যদি কাজ ও সত্তার মধ্যে সম্বন্ধ হয়, তবে তা হলো ‘বিধান’। আর যদি তা না হয়, তবে তা হলো ‘গুণ’ যেমন লাল বা কালো বর্ণ। সুতরাং যখন ‘জ্ঞান’ (মা’রিফাত)-কে ‘বিধান’ দ্বারা সীমাবদ্ধ করা হলো, তখন তা অপর তিনটিকে বহির্ভূত করে দিল"
(৩)।
সপ্তম মাসআলা: তাঁর "শারয়ি" (শরয়ি) উক্তির মাধ্যমে বহির্ভূত হয়েছেযুক্তিনির্ভর বিষয়সমূহ। যেমন এই জ্ঞান যে, এক হলো দুইয়ের অর্ধেক, এবং সমষ্টি তার অংশের চেয়ে বড়। আর অভ্যাসগত বিষয়সমূহ যেমন চিকিৎসা ও প্রকৌশল বিদ্যা। এবং ভাষাতাত্ত্বিক ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়সমূহ যেমন এই জ্ঞান যে, আগুন দহনকারী
(৪)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২১)
المسألة الثامنة: قوله التي طريقها الاجتهاد.
هذه يجب أن تكون صفة لـ "معرفة"، أي: معرفة طريقها الاجتهاد؛ لأن هناك معرفة طريقها التقليد؛ لإخراج فقه المقلد والخلافي الآخذ عن إمامه المسألة بدليلها؛ وإنما نبهنا على هذا لأن المتبادر إلى الفهم أنها صفة للأحكام فيدخل علم المقلد في الحد.
ولا يقال إن جعل (التي طريقها الاجتهاد) قيداً للأحكام كافٍ عن جعلها قيداً للمعرفة، لأنا نقول: لا يقتضى تقييد الاحكام بذلك ألا يدخل في الحد علم المقلد؛ لأن علم المقلد يصدق عليه أنه "معرفة الأحكام الشرعية التي طريقها الاجتهاد"، إذ إن المقلد يعلم المسألة التي طريقها الاجتهاد ويعرفها، ولكن لا بالمعرفة الاجتهادية بل بالمعرفة التقليدية لإمامه. فتنبه لهذه الدقيقة وقد قرر شراح الكتاب ذلك؛ منهم بالتصريح: كالتاج الفزاري، والعبادي في شرحه على شرح المحلى، والدمياطي في حاشيته
(1)، ومنهم بغيره: كالمحلى لما قال: "بخلاف ما ليس طريقه الاجتهاد"، فيه إشارة إلى أن المقصود العلم الذي طريقه الاجتهاد.
أي المعرفة التي طريقها الاجتهاد كما تقدم فيخرج به علم المقلد، ويخرج كذلك علم الباري سبحانه وتعالى، وعلم جبريل، وعلم رسول الله صلى الله عليه وسلم
(2):
أما علم الله فلا يوصف بأنه مكتسب، ولا ضروري:
أما الأول: فلإشعار الاكتساب بسبق الجهل المحال عليه تعالى، وأما الثاني: فلأن الضروري يطلق على معنيين:
1. على ما لا يفتقر إلى نظر واستدلال.
--------------------------------------------
অষ্টম মাসআলা: তাঁর কথা "যার পথ হলো ইজতিহাদ".
এটি "মারেফাত" (জ্ঞান)-এর বিশেষণ হওয়া আবশ্যক। অর্থাৎ: এমন জ্ঞান যার পথ হলো ইজতিহাদ; কারণ এমন জ্ঞানও রয়েছে যার পথ হলো তাকলীদ। এর উদ্দেশ্য হলো মুকাল্লিদ (অনুসারী) এবং ঐ সকল মতভেদপূর্ণ মাসআলা পারদর্শী আলিমের ফিকহকে সংজ্ঞার বাইরে রাখা যারা তাদের ইমামের কাছ থেকে দলীলসহ মাসআলা গ্রহণ করেন। আমরা এই বিষয়ে সতর্ক করেছি কারণ সাধারণ বুদ্ধিতে এটি মনে হতে পারে যে, এটি "আহকাম" (বিধানসমূহ)-এর বিশেষণ, যার ফলে মুকাল্লিদের জ্ঞানও সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।
একথা বলা যাবে না যে, (যার পথ হলো ইজতিহাদ)-কে বিধানসমূহের (আহকাম) জন্য শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করাই একে জ্ঞানের (মারেফাত) শর্ত হিসেবে নির্ধারণ করার বিকল্প হিসেবে যথেষ্ট। কারণ আমরা বলি: বিধানসমূহকে এর দ্বারা শর্তযুক্ত করা হলে মুকাল্লিদের জ্ঞান সংজ্ঞার বাইরে থাকা আবশ্যক হয় না; কারণ মুকাল্লিদের জ্ঞানের ক্ষেত্রেও এটি সত্য হয় যে, তা "শরয়ী বিধানসমূহের জ্ঞান যার পথ হলো ইজতিহাদ"। কেননা মুকাল্লিদ এমন মাসআলা জানেন এবং চেনেন যার পথ হলো ইজতিহাদ, তবে তা ইজতিহাদমূলক জ্ঞানের মাধ্যমে নয় বরং তার ইমামের তাকলীদ ভিত্তিক জ্ঞানের মাধ্যমে। সুতরাং এই সূক্ষ্ম বিষয়টি লক্ষ্য করুন। কিতাবটির ব্যাখ্যাকারগণ এটি সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন; তাদের মধ্যে কেউ কেউ এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন: যেমন তাজ আল-ফাযারী, এবং আল-মাহাল্লীর ব্যাখ্যার ওপর আল-আব্বাদীর ব্যাখ্যায়, এবং আদ-দামইয়াতি তাঁর হাশিয়াতে
(১)। আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ ভিন্নভাবে এটি উল্লেখ করেছেন: যেমন আল-মাহাল্লী যখন বলেছেন: "যা ইজতিহাদ ভিত্তিক নয় তার বিপরীত", এতে এই ইঙ্গিত রয়েছে যে উদ্দেশ্য হলো এমন জ্ঞান যার পথ হলো ইজতিহাদ।
অর্থাৎ এমন জ্ঞান যার পথ হলো ইজতিহাদ যেমনটি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে মুকাল্লিদের জ্ঞান সংজ্ঞার বাইরে চলে যায়, এবং একইভাবে মহান স্রষ্টা আল্লাহ তাআলার জ্ঞান, জিবরাঈল (আ.)-এর জ্ঞান এবং আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর জ্ঞানও বহির্ভূত হয়ে যায়
(২):
আল্লাহর জ্ঞানকে অর্জিত (মুকতাসাব) বা আবশ্যকীয় (জরুরী) হিসেবে বিশেষিত করা যায় না:
প্রথমটির ক্ষেত্রে কারণ: অর্জন করার অর্থ হলো পূর্বে অজ্ঞতা থাকা, যা আল্লাহ তাআলার ক্ষেত্রে অসম্ভব। দ্বিতীয়টির ক্ষেত্রে কারণ: "জরুরী" (আবশ্যকীয়) শব্দটি দুটি অর্থে ব্যবহৃত হয়:
১. যা চিন্তা ও দলীলের মুখাপেক্ষী নয়।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২২)
2. وعلى ما قارنه الاحتياج إليه.
وهو بالمعنى الأول لا خير في إطلاقه على علم الله تعالى؛ ولكن لما كان يطلق على الثاني المنزه عنه علمه تعالى كان إطلاق الضروري على علمه تعالى موهماً إرادة المعنى الثاني فامتنع إطلاقه لذلك.
وأما علم جبريل فهو بما ينزل إليه من عند الله، بخلق علم ضروري يستفيد به الحكم منه، لا بواسطة النظر والاستدلال.
كذا قالوا وهو ضرب من الكلام علي الغيب بلا برهان من كتاب ولا سنة.
وعلم النبي صلى الله عليه وسلم الأحكام مما يوحى إليه.
وهذا واضح بناء على أن ذلك من النظر في الأدلة، ويحتمل عدم تسميته فقهاً بناءً على أن الله يخلق له علماً ضروريًّا يدرك به ما اجتهد فيه. قولان
(1).
فائدة ـ من هو الخلافي؟
الخلافي المراد به: من يأخذ من المجتهد الحكم بدليل خاص إجمالي.
وهل المراد الأخذ من نفس المجتهد كأخذ ابن القاسم عن مالك، والمزني عن الشافعي، أم المراد به كل حافظ لقول إمامه يريد تأييده في أي عصر ولو لم يشافه إمامه؟
أخذ العطار في حاشيته بالثاني
(2)، ورد الأول وأشار إلى أنه وهم.
بل الخلافي منسوب لعلم الخلاف أي المشتغل به في أي عصر.
--------------------------------------------
২. এবং যাতে তার প্রতি মুখাপেক্ষিতা যুক্ত থাকে।
আর এটি প্রথম অর্থ অনুযায়ী মহান আল্লাহর ইলমের (জ্ঞানের) ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা কল্যাণকর নয়; কিন্তু যেহেতু এটি দ্বিতীয় অর্থের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় যার থেকে মহান আল্লাহর ইলম পবিত্র, তাই মহান আল্লাহর ইলমের ওপর 'জরুরি' (আবশ্যিক) শব্দটি প্রয়োগ করা দ্বিতীয় অর্থটি বুঝানোর ভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, ফলে সে কারণে এর প্রয়োগ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আর জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর ইলম হলো আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর কাছে যা নাজিল হয় তার মাধ্যমে; অর্থাৎ একটি জরুরি ইলম সৃষ্টির মাধ্যমে যার দ্বারা তিনি আল্লাহর কাছ থেকে বিধান আহরণ করেন, কোনো গবেষণা ও যুক্তিনির্ভর প্রমাণের মাধ্যম ছাড়া।
তাঁরা এমনটিই বলেছেন, তবে এটি কিতাব বা সুন্নাহর কোনো প্রমাণ ছাড়া অদৃশ্যের বিষয়ে এক প্রকার কথা বলা।
এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বিধানাবলির ইলম হলো তাঁর প্রতি যা ওহি করা হয় তার অন্তর্ভুক্ত।
এবং এটি এই ভিত্তির ওপর স্পষ্ট যে তা দলীলসমূহের গবেষণার অন্তর্ভুক্ত, আর একে 'ফিকহ' নাম না দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে এই ভিত্তির ওপর যে, আল্লাহ তাঁর জন্য একটি জরুরি ইলম সৃষ্টি করেন যার মাধ্যমে তিনি তাঁর ইজতিহাদকৃত বিষয় উপলব্ধি করেন। এ বিষয়ে দুটি অভিমত রয়েছে
(১)।
ফায়দা — খিলাফি কে?
খিলাফি বলতে উদ্দেশ্য হলো: যে ব্যক্তি মুজতাহিদের কাছ থেকে একটি বিশেষ সারসংক্ষেপ দলীলের ভিত্তিতে বিধান গ্রহণ করে।
আর এর দ্বারা কি খোদ মুজতাহিদের কাছ থেকে গ্রহণ করা উদ্দেশ্য, যেমন ইবনুল কাসিম ইমাম মালিকের কাছ থেকে এবং আল-মুযানী ইমাম শাফিঈর কাছ থেকে গ্রহণ করেছেন? নাকি এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিজ ইমামের উক্তির প্রতিটি এমন সংরক্ষণকারী, যে যেকোনো যুগে তার সমর্থন করতে চায় যদিও সে তার ইমামের সরাসরি মুখনিঃসৃত কথা না শুনে থাকে?
আল-আত্তার তাঁর হাশিয়াতে (টীকায়) দ্বিতীয় মতটি গ্রহণ করেছেন
(২), এবং প্রথমটিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং ইঙ্গিত করেছেন যে এটি একটি বিভ্রম।
বরং খিলাফি শব্দটি ইলমুল খিলাফ-এর সাথে সম্পর্কিত, অর্থাৎ যেকোনো যুগে এতে নিয়োজিত ব্যক্তি।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৩)
المسألة التاسعة: لماذا أغفل المصنف قيد "العملية" في تعريف الفقه وتحقيق المقام بما لا تجده في غيره؟
أغفل إمام الحرمين قيداً مشهوراً عند الأصوليين وهو "العملية" صفة للشرعية، مع أن غرض بعض أهل الفن من هذا القيد إخراج الأحكام الشرعية العلمية، أي الاعتقادية: كالعلم بأن الله واحد، وأنه يُرى في الآخرة، وأن الجنة والنار مخلوقتان
(1).
والجواب -والله أعلم-: أن المصنف أغفله ليدخل علم الاعتقاد، والأخلاق، والسلوك في حد الفقه، لأنه يتعلق به كيفية معاملة الخالق سبحانه، وهو فقه بل هو الفقه الأكبر فوجوب الصدق والإيمان، والبر، والتقوى، حكم فقهي، وحرمة الكذب، والخيانة، والفسق، والحسد، والقنوط كذلك حكم فقهي.
وهكذا وجوب معاملة الخالق، وحرمة الشرك، والعقائد الفاسدة، كل هذا من الفقه الأكبر وهو فقه الأصول، وذاك فقه الفروع هذا ما ظهر لي. ثم تتبعت كلام المصنفين في الأصول فترجح عندي ذلك.
وبيان ذلك بمباحث:
تحقيق هام لمعنى "العملية " في تعريف الفقه وما يتعلق بها من مباحث:الأول: معنى العملية.
الثاني: ما يحترز بها.
الثالث: من زادها أو أغفلها أو أبدلها.
أما المبحث الأول: فهو معنى العملية (2):
العمل المراد به هنا ما يشمل عمل الجوارح الظاهرة والباطنة من الأفعال والأقوال.
--------------------------------------------
নবম মাসআলাহ: কেন গ্রন্থকার ফিকহের সংজ্ঞায় 'ব্যবহারিক' শর্তটি বাদ দিয়েছেন এবং এমন একটি বিষয়ের পর্যালোচনা যা অন্য কোথাও আপনি পাবেন না?ইমামুল হারামাইন উসুলবিদদের নিকট প্রসিদ্ধ একটি শর্ত বাদ দিয়েছেন, যা হলো 'ব্যবহারিক', যা শরয়ি বিষয়ের বিশেষণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যদিও শাস্ত্রের কতিপয় পণ্ডিতের এই শর্তটি ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল জ্ঞানতাত্ত্বিক শরয়ি বিধানসমূহকে বাদ দেওয়া, অর্থাৎ বিশ্বাসগত বিষয়সমূহ: যেমন—আল্লাহ এক, পরকালে তাঁকে দেখা যাবে এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে—এই মর্মে জ্ঞান লাভ করা।
(১)এর উত্তর—আল্লাহই ভালো জানেন—হলো: গ্রন্থকার এটি বাদ দিয়েছেন যাতে আকিদাহ, আখলাক এবং সুলুক (আচরণ) ফিকহের সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত হয়। কারণ এটি মহান স্রষ্টার সাথে আচরণের পদ্ধতির সাথে সম্পৃক্ত, আর এটিও ফিকহ, বরং এটিই হলো 'আল-ফিকহুল আকবার'। সুতরাং সত্যবাদিতা, ঈমান, সদাচরণ এবং তাকওয়ার আবশ্যকতা একটি ফিকহি বিধান। তেমনিভাবে মিথ্যা, খিয়ানত, ফাসেকী, হিংসা এবং নিরাশার হারাম হওয়াও ফিকহি বিধান।
একইভাবে স্রষ্টার সাথে আচরণের আবশ্যকতা, শিরক এবং ভ্রান্ত আকিদাহর হারাম হওয়া—এসবই আল-ফিকহুল আকবারের অন্তর্ভুক্ত, যা হলো মূলনীতির ফিকহ (ফিকহুল উসুল), আর অন্যটি হলো শাখা-প্রশাখার ফিকহ (ফিকহুল ফুরু)। এটিই আমার নিকট স্পষ্ট হয়েছে। এরপর আমি উসুল শাস্ত্রের গ্রন্থকারদের বক্তব্য অনুসন্ধান করেছি এবং আমার কাছে এটাই প্রাধান্য পেয়েছে।
আর এর বর্ণনা কয়েকটি আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া হলো:
ফিকহের সংজ্ঞায় 'ব্যবহারিক' শব্দের অর্থ এবং এ সংক্রান্ত পর্যালোচনাসমূহের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্লেষণ:প্রথম: ব্যবহারিক-এর অর্থ।
দ্বিতীয়: এর মাধ্যমে যা থেকে সতর্ক থাকা হয়।
তৃতীয়: যারা এটি যোগ করেছেন, বাদ দিয়েছেন বা পরিবর্তন করেছেন।
প্রথম পরিচ্ছেদ: ব্যবহারিক-এর অর্থ (২):
এখানে আমল বা কাজ বলতে যা উদ্দেশ্য তা হলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের কাজ, যা কথা ও কাজ উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৪)
هذا بالاتفاق، وسواء الأعمال القلبية كوجوب النية أو غيرها، وسيأتي لهذه الأخيرة مزيد من التحقيق فيما يأتي:
فالمراد بالعملية إذاً الأحكام المتعلقة بالعمل من حيث الكيفية، والكيفية هي الوجوب وأخواته فنقول مثلاً: "الوتر عملٌ".
وبأي كيفية يتعلق بعمل المكلف، فنقول بكيفية الندبية، فنقول الوتر مندوب. فالكيفية التي هي الندب هنا صفة للعمل الذي هو الوتر.
فالعمل هو المحكوم عليه، ومتعلق النسبة التي هي الحكم صفة له.
وكذا يقال: النية في الوضوء واجبة، المحكوم عليه فيه هو النية التي هي عمل قلبي، والمحكوم به الوجوب والحكم ثبوت الوجوب للنية ومتعلقه الذي هو الوجوب وصف للنية.
والفقه هو العلم بذلك الحكم أي: إدراك المسمى تصديقاً.
فالفقه في المثالين المذكورين: معرفة ثبوت الوجوب للنية من أدلتها، ومعرفة ثبوت الندبية للوتر.
مناقشة بعض الايرادات.
الأول: قيل إن كون الأحكام الفقهية عملية حكم أغلبي، وإلا فمنها ما ليس عملياً كطهارة الخمر إذا تخلل، وكمنع الرق الإرث، وغير ذلك.
والجواب: أن تعلق الفقه بها من حيث أن استعمال الخمر المستحيل خلاً جائز، وقسمة التركة على الأحرار واجبٌ وهكذا
(1).
قلت فيندفع هنا ما قاله ابن قاسم في الآيات البينات:
--------------------------------------------
এটি সর্বসম্মতভাবে স্বীকৃত, আর এটি অন্তরের কার্যাবলি (যেমন নিয়তের আবশ্যকতা) কিংবা অন্যকিছুর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য। শেষোক্ত বিষয়টি সম্পর্কে সামনে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা আসবে:
সুতরাং 'আমলী' (ব্যবহারিক) বলতে সেই সমস্ত আহকাম বা বিধানকে বোঝানো হয়েছে যা আমল বা কার্যের পদ্ধতির (কাইফিয়্যাত) সাথে সংশ্লিষ্ট। আর পদ্ধতি হলো ওয়াজিব হওয়া এবং এর সমগোত্রীয় বিষয়গুলো। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলি: "বিতর একটি আমল"।
আর এটি মুকাল্লাফের আমলের সাথে কোন পদ্ধতির ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট? আমরা বলি মুস্তাহাব (মানদুব) হওয়ার পদ্ধতির ভিত্তিতে; অর্থাৎ আমরা বলি বিতর হলো মুস্তাহাব। সুতরাং এখানে 'মানদুব' বা মুস্তাহাব হওয়ার যে পদ্ধতি, তা হলো 'বিতর' নামক আমলটির একটি গুণ বা বৈশিষ্ট্য।
অতএব, আমল হলো 'মাহকুম আলাইহি' (যার উপর বিধান কার্যকর হয়), আর সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়টি—যা হলো 'হুকুম' (বিধান)—তা ওই আমলের একটি গুণ।
অনুরূপভাবে বলা হয়: ওযুর ক্ষেত্রে নিয়ত করা ওয়াজিব। এখানে 'মাহকুম আলাইহি' হলো নিয়ত, যা একটি অন্তরের কাজ। আর 'মাহকুম বিহি' (যা দ্বারা বিধান দেওয়া হয়েছে) হলো ওয়াজিব হওয়া। আর হুকুম বা বিধানটি হলো নিয়তের জন্য ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হওয়া; এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয় অর্থাৎ 'ওয়াজিব' হওয়া বিষয়টি হলো নিয়তের একটি গুণ।
আর ফিকহ হলো সেই বিধান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা; অর্থাৎ সত্যায়নের মাধ্যমে নামকৃত বিষয়টি উপলব্ধি করা।
সুতরাং উল্লিখিত উদাহরণ দুটিতে ফিকহ হলো: সংশ্লিষ্ট দলিলসমূহ থেকে নিয়তের জন্য ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি জানা এবং বিতরের জন্য মুস্তাহাব হওয়া সাব্যস্ত হওয়ার বিষয়টি জানা।
কিছু আপত্তির পর্যালোচনা.
প্রথমত: বলা হয়ে থাকে যে, ফিকহী আহকামসমূহ 'আমলী' বা ব্যবহারিক হওয়া একটি আধিক্যভিত্তিক বিষয়। নতুবা এমন কিছু বিধান রয়েছে যা ব্যবহারিক নয়, যেমন মদ সিরকায় রূপান্তরিত হলে তা পবিত্র হওয়া, দাসত্ব উত্তরাধিকার লাভে প্রতিবন্ধক হওয়া ইত্যাদি।
এর উত্তর হলো: এই বিষয়গুলোর সাথে ফিকহের সংশ্লিষ্টতা এই দিক থেকে যে, সিরকায় পরিণত হওয়া মদের ব্যবহার জায়েজ এবং স্বাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে মিরাস বা পরিত্যক্ত সম্পদ বণ্টন করা ওয়াজিব, ইত্যাদি
(১)।
আমি বলব, এর মাধ্যমে ইবনে কাসিম 'আল-আয়াতুল বাইয়্যিনাত' গ্রন্থে যা বলেছেন তার খণ্ডন হয়ে যায়:
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৫)
الثاني: أفعال الصبي والمجنون، ومُتلَف البهائم. راجع إلى البحث عن فعل المكلف، ولا تكليف على صبي، ومجنون، وبهيمة.
إذاً فتؤول حتى ترجع إلى فعل الولي، والمالك، وهكذا.
بيان ذلك أنه يمنع من المحرمات كالزنا، وشرب الخمر، وأنه يؤمر بالطاعات كالصلاة، فينبغي تعميم الكيفية لنحو المنع في قولنا: زنا الصبي يمنع منه، ويؤدب عليه وجوباً على وليه، ولنحو الأمر والضرب في قولنا: صلاة الصبي يؤمر بها لسبع، ويضرب عليها لعشر وإتلاف البهائم يضمنه صاحبها وقس على ذلك
(1).
تحقيق كلام أهل الأصول في إدخال مسائل الاعتقاد في الفقه.
هل المراد بالعمل ما يشمل الاعتقاد أم لا؟
قال الإسنوي في نهاية السول
(2): " العملية احترز به عن العلم بالأحكام الشرعية غير العملية وهو أصول الدين، كالعلم بكون الإله واحداً، سميعاً بصيراً
(3) " ا. هـ.
ونُقِلَ هذا عن الباجي
(4).
--------------------------------------------
দ্বিতীয়ত: শিশু ও পাগলের কাজ এবং চতুষ্পদ জন্তুর মাধ্যমে বিনষ্টকৃত বিষয়। এটি মুকাল্লাফের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) কর্ম সংক্রান্ত পর্যালোচনার দিকে প্রত্যাবর্তন করে, আর শিশু, পাগল ও চতুষ্পদ জন্তুর উপর কোনো বাধ্যবাধকতা (তাকলিফ) নেই।
সুতরাং বিষয়টিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা হবে যেন তা অভিভাবক ও মালিকের কর্মের দিকে ফিরে যায়, এবং অনুরূপ বিষয়সমূহও।
এর ব্যাখ্যা হলো, তাকে (শিশুকে) যিনা এবং মদ্যপানের মতো হারাম কাজ থেকে বিরত রাখা হবে এবং সালাতের মতো আনুগত্যের কাজের আদেশ দেওয়া হবে। সুতরাং আমাদের কথা: "শিশুর যিনা থেকে তাকে বিরত রাখা হবে এবং তার অভিভাবকের উপর তাকে শাসন করা ওয়াজিব" - এর মধ্যে 'বিরত রাখা' বা নিষেধাজ্ঞার ধরনটিকে সাধারণ করা উচিত। আর আমাদের কথা: "শিশুকে সাত বছর বয়সে সালাতের আদেশ দেওয়া হবে এবং দশ বছর বয়সে (সালাত না পড়লে) প্রহার করা হবে" - এর ক্ষেত্রে আদেশ ও প্রহারের বিধানটির ওপর কিয়াস করতে হবে। আর চতুষ্পদ জন্তুর মাধ্যমে যা কিছু বিনষ্ট হবে তার ক্ষতিপূরণ মালিক বহন করবে এবং এর ওপর ভিত্তি করে অন্যান্য বিষয় অনুমান করে নিন
(১)।
ফিকহের মধ্যে আকিদাহর মাসয়ালাসমূহ অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে উসুলবিদগণের বক্তব্যের বিশ্লেষণ।
আমল বা কর্ম বলতে কি আকিদাহকেও অন্তর্ভুক্ত করা উদ্দেশ্য নাকি নয়?
ইসনাভী 'নিহায়াতুস সুল' গ্রন্থে বলেছেন
(২): "'ব্যবহারিক' (আমলী) শব্দটির মাধ্যমে এমন শরয়ী বিধানের জ্ঞান থেকে বেঁচে থাকা হয়েছে যা ব্যবহারিক নয়, আর তা হলো দ্বীনের মূলনীতি (আকিদাহ); যেমন: ইলাহ (মাবুদ) এক, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বদ্রষ্টা হওয়ার বিষয়টি জানা
(৩)" সমাপ্ত।
এবং এটি বাজি থেকেও বর্ণিত হয়েছে
(৪)।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৬)
وجزم به الجلال في شرحه على الجمع فقال: "وبقيد العملية: العلمُ بالأحكام الشرعية العلمية أي: الاعتقادية، كالعلم بأن الله واحد وأنه يُرى في الآخرة".
وكذا السعد في التلويح
(1).
ومما يجب التنبه له أن المقصود بالباجي هنا هو: أبو الحسن علي بن محمد بن عبد الرحمن بن خطاب علاء الدين الباجي المولود في سنة إحدى وثلاثين وستمائة 631 هـ والمتوفي في السادس من ذي القعدة سنة أربع وعشرين وسبعمائة وهو شيخ العلامة السبكي صاحب الإبهاج المتوفي سنة 756 هـ، فلا يشتبه بأبي الوليد الباجي المالكي الأندلسي سليمان بن خلف الباجي فإنه آخر، وهو من علماء القرن الخامس توفي سنة 474 هـ فليتنبه
(2).
فهؤلاء العلماء (الإسنوي ـ الجلال والسعد ـ الباجي) نقل عنهم إخراج مسائل الاعتقاد، والمتبادر إلى الأفهام إخراجُها على وجه الإطلاق، ولكن عند تتبع كلام علماء أهل الأصول في ذلك تبين معنى كلام الثلاثة، وأن له معنى غير المتبادر من أول وهلة، وبيان ذلك كما يلي:
أ. النظر إلى مسائل الاعتقاد من جهتين:الأولى: من جهة أنها خبريات، فهذا راجع إلى النظريات، وهو من علم العقيدة المسمى: بعلم الكلام. كالعلم بأن الله واحد، وأنهُ يَرى في الآخرة، وأن الجنة والنار مخلوقتان.
فهذه وأمثالها خبريات راجعة إلى الجانب النظري لا العلمي، وبرجوعها إلى جانب
--------------------------------------------
জালাল 'জামউল জাওয়ামি'র ব্যাখ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন: "ব্যবহারিক (আমলি) শর্তের মাধ্যমে: তাত্ত্বিক শরয়ী বিধানাবলির জ্ঞান (বাদ যাবে), অর্থাৎ: আকিদাগত বিষয়সমূহ; যেমন আল্লাহ এক এবং পরকালে তাঁকে দেখা যাবে -এই জ্ঞান।"
অনুরূপ কথা সাদ 'তালবীহ' গ্রন্থে বলেছেন
(১)।
একটি বিষয়ে সতর্ক থাকা আবশ্যক যে, এখানে 'বাজী' বলতে উদ্দেশ্য হলেন: আবুল হাসান আলী বিন মুহাম্মদ বিন আব্দুর রহমান বিন খাত্তাব আলাউদ্দীন আল-বাজী, যিনি ৬৩১ হিজরিতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ৭২৪ হিজরির ৬ই যিলকদ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি 'আল-ইব হাজ' এর রচয়িতা আল্লামা সুবকী (মৃত্যু: ৭৫৬ হি)-র উস্তাদ। সুতরাং তাকে মালিকি আন্দালুসি আবু ওয়ালিদ আল-বাজী সুলাইমান বিন খালাফ আল-বাজীর সাথে গুলিয়ে ফেলা যাবে না; কারণ তিনি ভিন্ন ব্যক্তি এবং তিনি পঞ্চম শতাব্দীর আলেমদের অন্তর্ভুক্ত ও ৪৭৪ হিজরিতে মৃত্যুবরণ করেছেন। অতএব এ বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত
(২)।
সুতরাং এই উলামায়ে কেরাম (ইসনভী, জালাল, সাদ এবং বাজী) থেকে আকিদাগত মাসয়ালাসমূহকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বর্ণিত হয়েছে। আর সাধারণভাবে এটিই বোঝা যায় যে, এগুলোকে নিঃশর্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ বিষয়ে উসুলবিদ আলেমদের বক্তব্য পর্যালোচনার মাধ্যমে এই তিনজনের বক্তব্যের প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট হয়ে যায়, আর তা হলো—প্রথম দেখায় যা মনে হয় তার বাইরে এর ভিন্ন অর্থ রয়েছে। এর ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:
ক. আকিদাগত মাসয়ালাসমূহকে দুই দিক থেকে বিবেচনা করা হয়:প্রথমত: সংবাদমূলক হওয়ার দিক থেকে; এটি তাত্ত্বিক বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি আকিদা শাস্ত্রের অংশ যাকে 'ইলমুল কালাম' বলা হয়। যেমন- আল্লাহ এক, পরকালে তাঁকে দেখা যাবে এবং জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে—এই জ্ঞান।
এই বিষয়গুলো এবং এর সদৃশ বিষয়সমূহ সংবাদমূলক যা তাত্ত্বিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট, ব্যবহারিক দিকের সাথে নয়। এবং এগুলোকে এই দিকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৭)
النظريات دخلت في علم العقائد وخرجت عن علم الفقه؛ لأن الفقه هو تنزيل الأحكام الخمسة على أفعال المكلفين.
والثانية: النظر إلى هذه من جهة أنها إنشائيات متعلقة بعمل قلبي، فقولنا: الجنة والنار مخلوقتان أمرٌ خبري يتعلق به عمل هو: الإيمان بذلك فالإيمان هو عمل القلب، والمحكوم به هو: الوجوب، والحكم (ثبوت وجوب الإيمان بأن الجنة والنار مخلوقتان).
والفقه: إدراك ومعرفة ثبوت ذلك على المكلف بالأدلة التفصيلية بالاستدلال هذا هو إيضاح ما غمض في المسألة في كلام المتقدمين، فالفقه بهذا المعنى المبسط هو: معرفة ثبوت حكم شرعي من الأحكام الخمسة على فعل من أفعال المكلف فمن عرف الأحكام الشرعية وعرف اثباتها وتنزيلها على الواقع الذي هو من فعل المكلف فهو العالم الفقيه.
إذاً: فعلمك بوجوب اعتقاد أن الله واحدٌ فقه، وعلمك أن الله واحد ليس بفقه بل هو من علم الكلام فالمتكلم يثبت الوحدانية، والفقيه يثبت وجوبها هكذا قرروا كاصطلاح وإلا فالفقه الأكبر معرفة الله سبحانه.
وقال العلامة الشربيني: "والحاصل أنه من حيث أنه حكم إنشائي تعلق به الخطاب من الفقه
… ومن حيث أنه يثبت له الاعتقاد من الكلام. وقد تقرر أن الموضوع للعلمين قد يكون واحداً والاختلاف بالحيثية فليتأمل"
(1).
وقال السبكي في الإبهاج: " يراد بالحكم الإنشائي لا الخبري
… وأما وجوب اعتقاد ذلك فهو حكم شرعي إنشائي"
(2).
وفي منع الموانع: المراد بالحكم الإنشائي لا الخبري، وما لا يثبت إلا بالسمع ينظر
--------------------------------------------
তাত্ত্বিক বিষয়গুলো আকিদাহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং ফিকহ শাস্ত্র থেকে বের হয়ে গেছে; কারণ ফিকহ হলো মুকাল্লাফদের (শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) কর্মের উপর পাঁচটি বিধান প্রয়োগ করা।
দ্বিতীয়ত: বিষয়গুলোকে এই দিক থেকে দেখা যে এগুলো অন্তরের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট সৃষ্টিমূলক (ইনশায়ী) বিষয়। সুতরাং আমাদের কথা: 'জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে'—এটি একটি সংবাদমূলক বিষয়, যার সাথে একটি কর্ম সংশ্লিষ্ট, আর তা হলো: সেটির প্রতি ঈমান আনা। সুতরাং ঈমান হলো অন্তরের কর্ম, আর যা সাব্যস্ত করা হয়েছে তা হলো: ওয়াজিব বা আবশ্যকতা। আর বিধানটি হলো: (জান্নাত ও জাহান্নাম সৃষ্টি করা হয়েছে—এ বিষয়ে ঈমান আনার আবশ্যকতা সাব্যস্ত হওয়া)।
আর ফিকহ হলো: দলিলের মাধ্যমে মুকাল্লাফের ওপর উক্ত বিষয়টি সাব্যস্ত হওয়ার উপলদ্ধি ও জ্ঞান লাভ করা। পূর্বসূরীদের বক্তব্যে এই মাসআলায় যা অস্পষ্ট ছিল, এটি তারই স্পষ্টীকরণ। সুতরাং এই সহজতর অর্থে ফিকহ হলো: মুকাল্লাফের কোনো কর্মের ওপর পাঁচটি শরয়ি বিধানের মধ্য থেকে কোনো একটি বিধান সাব্যস্ত হওয়া সম্পর্কে জানা। অতএব, যে ব্যক্তি শরয়ি বিধানসমূহ জানে এবং মুকাল্লাফের কর্মের বাস্তবতার ওপর সেগুলোর প্রয়োগ ও সাব্যস্তকরণ সম্পর্কে জানে, সেই হলো বিজ্ঞ ফকিহ।
সুতরাং: আল্লাহ এক—এরূপ বিশ্বাস করা ওয়াজিব হওয়ার ব্যাপারে আপনার জ্ঞান হলো ফিকহ। কিন্তু আল্লাহ যে এক—সেই জ্ঞান ফিকহ নয়, বরং তা ইলমুল কালামের অন্তর্ভুক্ত। কারণ ইলমুল কালামের পণ্ডিতগণ একত্ববাদ সাব্যস্ত করেন, আর ফকিহগণ এর আবশ্যকতা সাব্যস্ত করেন। পারিভাষিক হিসেবে তারা এভাবেই নির্ধারণ করেছেন, নতুবা মূলত ফিকহুল আকবার হলো মহান আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা।
আল্লামা শারবিনী বলেন: "সারকথা হলো, এটি যেহেতু একটি সৃষ্টিমূলক বিধান যার সাথে শরয়ি সম্বোধন সংশ্লিষ্ট, তাই এটি ফিকহ শাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত
… আর যেহেতু এতে বিশ্বাস সাব্যস্ত করা হয়, তাই এটি ইলমুল কালামের অন্তর্ভুক্ত। এটি সাব্যস্ত হয়েছে যে, উভয় শাস্ত্রের আলোচ্য বিষয় এক হতে পারে, তবে দৃষ্টিভঙ্গি বা প্রেক্ষিত ভিন্ন হয়। সুতরাং বিষয়টি অনুধাবন করুন"
(১)।
সুবকি 'আল-ইব হাজ' গ্রন্থে বলেন: "এখানে সৃষ্টিমূলক বিধান উদ্দেশ্য, সংবাদমূলক বিধান নয়
… আর সেই বিষয়ে বিশ্বাস রাখার আবশ্যকতা হলো একটি সৃষ্টিমূলক শরয়ি বিধান"
(২)।
এবং 'মানউল মাওয়ানি' গ্রন্থে রয়েছে: এখানে সৃষ্টিমূলক বিধান উদ্দেশ্য, সংবাদমূলক নয়। আর যা কেবল শ্রুতির মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তা বিবেচ্য
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৮)
فيه من جهتين:
- إحداهما: أصل ثبوته وذلك ليس بإنشاء لأن السمع فيه مخبر لا منشئ كقولنا "الجنة مخلوقة، والصراط حق".
- والثانية: وجوب اعتقاده وذلك حكم شرعي إنشائي وهو عندنا عمل من مسائل الفقه، وهو داخل في قولنا "الحكم خطاب الله المتعلق بفعل المكلف".
ب) أعمال القلب داخلة في قيد العملية وتحقيق المسألة:أعمال القلب داخلة في قولهم "العملية"، وذلك أن العمل موزع على الجوارح واللسان والقلب وهذا أمر ظاهر مشتهر بين أهل الأصول، ولذلك تعقب القرافي المحصول في الإتيان بلفظة "العملية" للاحتراز على الأعمال القلبية مع أنها داخلة في الفعل، قائلاً: فقوله -يعني الرازي: "العملية يقتضي الاحتراز عن الأحكام الشرعية العملية الكائنة بالقلب دون عمل الجوارح، وعلى هذا يخرج بعض الفقه من الحد، لأن الفقيه كما يكون فقيهاً بالعلم بوجوب الصلاة والصوم، يكون فقيهاً بالعلم بوجوب النية والإخلاص، وتحريم الربا والحسد، وأمور كثيرة لا توجد إلا في القلب، فقد تعلق الفقه بعمل الجوارح والقلب أيضاً، فإخراجه يقتضي إخراج بعض المحدود فلا يكون الحد جامعاً"
(1).
ووافقه السبكي فقال: "إن أريد بالعمل عمل الجوارح والقلب، فلا تخرج- يعني الاعتقادات- لدخولها في أعمال القلب، وإن أريد بالعمل عمل الجوارح فقط خرجت النية وكثير من المسائل التي تكلم الفقهاء فيها كالردة وغيرها مما يتعلق بالقلب، ولذلك ترك الآمدي وابن الحاجب لفظ العملية وقالا: الفرعية؛ لأن النية من مسائل الفروع وإن كانت عمل قلب"
(2).
--------------------------------------------
এতে দুটি দিক রয়েছে:
- এক: এর সাব্যস্ত হওয়ার মূল ভিত্তি; আর তা ইনশা (প্রবর্তন) নয়, কারণ এক্ষেত্রে শ্রুত দলিল বর্ণনাকারী হিসেবে কাজ করে, প্রবর্তনকারী হিসেবে নয়। যেমন আমাদের কথা "জান্নাত সৃষ্ট" এবং "সিরাত সত্য"।
- দুই: এটি বিশ্বাস করা ওয়াজিব হওয়া; আর তা একটি ইনশায়ি (প্রবর্তনমূলক) শারঈ হুকুম। আমাদের নিকট এটি ফিকহশাস্ত্রের মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত একটি আমল (কাজ), যা আমাদের এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত যে, "হুকুম হলো মুকাল্লাফ (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি)-এর কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর বাণী।"
খ) অন্তরের আমলসমূহ 'আমালি' (ব্যবহারিক) শর্তের অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং বিষয়টির তাহকীক:অন্তরের আমলসমূহ তাদের "আমালি" (عملية) শব্দের অন্তর্ভুক্ত। এর কারণ হলো, আমল বা কাজ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, জিহ্বা এবং অন্তরের মধ্যে বণ্টিত। এটি উসুলবিদদের নিকট একটি সুস্পষ্ট ও প্রসিদ্ধ বিষয়। এই কারণেই আল-কারাফি 'আল-মাহসুল' কিতাবের উপর পর্যালোচনা করতে গিয়ে অন্তরের আমলসমূহকে বাদ দেওয়ার জন্য "আমালি" শব্দ ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন, অথচ সেগুলো 'ফি'ল' বা কাজেরই অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন: তার—অর্থাৎ আর-রাযির—উক্তি "আমালি" শব্দটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমল ব্যতীত অন্তরের মাধ্যমে সম্পাদিত আমলমূলক শারঈ হুকুমগুলোকে বাদ দেওয়ার দাবি রাখে। এমতাবস্থায় ফিকহের কিছু অংশ সংজ্ঞা থেকে বের হয়ে যাবে। কেননা একজন ফকিহ যেমন সালাত ও সওম ওয়াজিব হওয়ার ইলমের মাধ্যমে ফকিহ হন, তেমনি তিনি নিয়ত ও ইখলাস ওয়াজিব হওয়া এবং সুদ ও হিংসা হারাম হওয়া এবং এমন অনেক বিষয়ের ইলমের মাধ্যমেও ফকিহ হন যা কেবল অন্তরেই বিদ্যমান থাকে। সুতরাং ফিকহ যেমন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আমলের সাথে সংশ্লিষ্ট, তেমনি অন্তরের আমলের সাথেও সংশ্লিষ্ট। তাই একে বের করে দেওয়ার অর্থ হলো সংজ্ঞায়িত বিষয়ের একাংশকে বের করে দেওয়া, ফলে সংজ্ঞাটি 'জামে' (পূর্ণাঙ্গ) হবে না।
(১)আস-সুবকি তার সাথে একমত পোষণ করে বলেছেন: "যদি আমল দ্বারা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও অন্তরের আমল উদ্দেশ্য হয়, তবে তা—অর্থাৎ বিশ্বাসসমূহ—বের হয়ে যাবে না, কারণ তা অন্তরের আমলের অন্তর্ভুক্ত। আর যদি আমল দ্বারা কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কাজ উদ্দেশ্য হয়, তবে নিয়ত এবং ফকিহগণ আলোচনা করেছেন এমন অনেক মাসআলা—যেমন ধর্মত্যাগ ও অন্তরের সাথে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়সমূহ—বের হয়ে যাবে। এই কারণেই আল-আমিদি এবং ইবনুল হাজিব 'আমালি' শব্দের পরিবর্তে 'ফারয়ি' (শাখা-প্রশাখাগত) শব্দ ব্যবহার করেছেন; কারণ নিয়ত শাখা-প্রশাখাগত মাসআলার অন্তর্ভুক্ত, যদিও তা অন্তরের আমল।"
(২)--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ২৯)
وفي منع الموانع قال: "وقولكم: هل تسمى الاعتقادات، والنيات، والأقوال أفعالاً؟ جوابه أنها تسمى، وأما كون ذلك بالحقيقة، أو المجاز فيتوقف على نقل اللغة، والأظهر عندي أنه بالحقيقة"
(1).
ومن هنا يُعلم أن عدول الآمدي، وابن الحاجب وغيرهما عن لفظ العملية إلى لفظ الفرعية احتجاجاً بأن النية من مسائل الفروع وليست عملاً ليس بجيد لأنها عمل
(2).
جـ ـ والاعتقادات من حيث طرق استفادتها وثبوتها مقسمة إلى ثلاثة أقسام:1 - ما يثبت بالعقل: كوجود الباري.
2 - ما ثبت بالعقل، والسمع: كالوحدانية. وهذان خرجا بقولنا الشرعية، وهي ما يتوقف على الشرع.
3 - ومنه ما لا يثبت إلا بالسمع: كمسألة رؤية المؤمنين لربهم، وأن الجنة مخلوقة، ونحو ذلك، وهذا "قد يقال أنه داخل في الشرعية"
(3).
"لأنه ينظر إليه من جهتين: أحدهما أصل ثبوته، وليس ذلك بإنشاء لأن السمع فيه مخبر لا منشئ كقولنا الجنة مخلوقة والصراط حق.
والثانية: وجوب اعتقاده، وذلك حكم شرعي إنشائي، وهو عندنا عملي من مسائل الفقه، وهو داخل في قولنا: الحكم: خطاب الله المتعلق بأفعال المكلف
(4).
أقول: وعندي أن الجميع راجع إلى الشرع، وذلك أن ما ثبت بالعقل لا يخلو: إما أن يوافقه الشرع، أو لا يوافقه؛ فإن وافقه فهو راجع إلى الشرع، وإن خالفه بطل أصلاً، وأما
--------------------------------------------
'মানউল মাওয়ানি' গ্রন্থে তিনি বলেন: "আপনাদের প্রশ্ন: বিশ্বাস, নিয়ত এবং কথাকে কি 'কাজ' বলা হয়? এর উত্তর হলো, সেগুলোকে কাজ বলা হয়। আর তা কি প্রকৃত অর্থে নাকি রূপক অর্থে, তা ভাষাগত প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে। আমার কাছে এটিই স্পষ্টতর যে, এগুলো প্রকৃত অর্থেই কাজ"
(১).
এখান থেকে জানা যায় যে, আমেদি, ইবনে হাজিব এবং অন্যদের 'আমালি' (কার্যকরী) শব্দের পরিবর্তে 'ফারইয়ি' (শাখা-প্রশাখা সংক্রান্ত) শব্দ ব্যবহার করার যুক্তিটি সঠিক নয়—এই যুক্তিতে যে নিয়ত শাখা-প্রশাখার মাসআলা এবং এটি কোনো কাজ নয়; কারণ নিয়ত প্রকৃতপক্ষে একটি কাজই
(২).
গ— বিশ্বাসসমূহ অর্জনের পদ্ধতি এবং প্রমাণের ভিত্তিতে তিন ভাগে বিভক্ত:১ - যা বিবেকের মাধ্যমে প্রমাণিত: যেমন স্রষ্টার অস্তিত্ব।
২ - যা বিবেক এবং শ্রুতি (ওহী) উভয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত: যেমন আল্লাহর একত্ববাদ। আমাদের 'শরয়ী' (শরীয়তসম্মত) কথাটির মাধ্যমে এই দুটি বিষয় বহির্ভূত হয়ে যায়; কারণ শরয়ী হলো তা যা শরীয়তের ওপর নির্ভরশীল।
৩ - যার মধ্যে এমন কিছু আছে যা কেবল শ্রুতি (ওহী) ব্যতীত প্রমাণিত হয় না: যেমন মুমিনদের তাদের প্রতিপালককে দর্শন করার মাসআলা, জান্নাত সৃষ্টি হয়ে থাকা এবং এই জাতীয় বিষয়াদি। আর এটি সম্পর্কে "বলা হয়ে থাকে যে তা শরীয়তের অন্তর্ভুক্ত"
(৩).
"কেননা একে দুটি দিক থেকে দেখা হয়: একটি হলো এর প্রমাণের মূল ভিত্তি, আর এটি কোনো নতুন বিধান প্রণয়ন নয়। কারণ এক্ষেত্রে শ্রুতি (ওহী) কেবল সংবাদ দানকারী, বিধান প্রণেতা নয়; যেমন আমাদের এই কথা— জান্নাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং সিরাত সত্য।
দ্বিতীয়টি হলো: তা বিশ্বাস করা ওয়াজিব বা আবশ্যক হওয়া। আর এটি একটি শরয়ী বিধান যা নতুন করে সাব্যস্ত করা হয়েছে। আমাদের মতে এটি ফিকহ শাস্ত্রের আমল সংক্রান্ত মাসআলাসমূহের অন্তর্ভুক্ত এবং এটি আমাদের এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত যে— হুকুম হলো মুকাল্লাফ বা শরীয়তের বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তির কার্যাবলীর সাথে সংশ্লিষ্ট আল্লাহর সম্বোধন
(৪).
আমি বলছি: আমার মতে এই সব কিছুই শরীয়তের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে। কারণ বিবেকের মাধ্যমে যা প্রমাণিত হয় তা দুটি অবস্থা থেকে মুক্ত নয়: হয় শরীয়ত তার অনুকূলে হবে, নতুবা প্রতিকূলে হবে। যদি শরীয়ত তার অনুকূলে হয়, তবে তা শরীয়তের দিকেই প্রত্যাবর্তনশীল। আর যদি শরীয়ত তার প্রতিকূলে হয়, তবে তা মূলে বাতিল বলে গণ্য হবে। আর...
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩০)
ما ثبت بالسمع والعقل فراجع كذلك إلى الشرع لافتقاره لموافقته. وعليه فالاعتقادات داخلة تحت قولهم: "الشرعية".
والخلاصة: أن الاعتقادات داخلة في الشرعية، وأنها من أعمال القلب، وأن الفقه متعلق بالأعمال على وجه العموم. فيتحصل من هذا: أن الأعمال القلبية فقه، وأنها الفقه الأكبر؛ لتعلقها بمعاملة الباري سبحانه، وأن حد الفقه شامل لها من حيث أنها عمل للمكلف. والله أعلم.
وبهذا التحقيق والتحرير تكشف سبب إغفال إمام الحرمين في متن الورقات لهذه اللفظة أعني "العملية" وذلك لما يرد عليها من إيرادات وما توهمه من إيهامات الحق خلافها.
وسيزداد الأمر جلاءاً في المباحث الآتية الثاني وما يليه.
যা কিছু শ্রুতি ও বিবেকের মাধ্যমে সাব্যস্ত হয়, তা একইভাবে শরয়ি বিধানের দিকেই প্রত্যাবর্তন করে; কারণ তা শরয়ি অনুমোদনের মুখাপেক্ষী। এর ওপর ভিত্তি করে বিশ্বাসসমূহ ফকিহদের ব্যবহৃত "শরয়ি" পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত।
সারসংক্ষেপ হলো: বিশ্বাসসমূহ শরয়ি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং সেগুলো অন্তরের কর্মসমূহের অংশ। আর ফিকহ সাধারণভাবে মানুষের কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, অন্তরের আমলসমূহও ফিকহ এবং সেগুলোই হলো 'বৃহত্তর ফিকহ'; যেহেতু তা মহান সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর ফিকহের সংজ্ঞা এগুলোকে শামিল করে, কারণ এগুলো শরয়ি দায়বদ্ধ ব্যক্তির আমল হিসেবে গণ্য। আর আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।
এই বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে ইমামুল হারামাইন তাঁর 'মাতনুল ওরাকাত'-এ কেন "আমলি" বা কর্মগত শব্দটি বর্জন করেছেন, তার কারণ উন্মোচিত হয়েছে। এর কারণ হলো উক্ত শব্দের ওপর আসা বিভিন্ন আপত্তি এবং এর ফলে সৃষ্ট নানাবিধ সংশয়, যা প্রকৃত সত্যের পরিপন্থী।
দ্বিতীয় এবং পরবর্তী পরিচ্ছেদসমূহের আলোচনায় বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট হবে।
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩১)
المبحث الثاني: ما يحترز بهذه اللفظة "العملية":
العمليه احتراز عن أصول الفقه "العلم بكون الإجماع، وخبر الواحد، والقياس حجة؛ فإن كل ذلك أحكام شرعية، مع أن العلم بها ليس من الفقه؛ لأن العلم بها ليس علماً بكيفية عمل
(1) " بمعنى أنها ليست علماً بحكم عمل المكلف.
إذ هي "أمور تعلم ولا تعمل، ولا يقال للعالم بها: فقيه في العرف، بل أصولي فاحتاج لإخراجها عن الحد
(2) ".
وقال الأصفهاني
(3): خرج به أصول الفقه، فإنه ليس بعملي، أي: ليس علماً بكيفية عمل. قال ابن دقيق العيد: وفيه نظر، لأن الغاية المطلوبة منها العمل، فكيف يخرج بالعملية؟
وقيل: احتراز عن أصول الديانات وقد تقدم تحقيق ذلك.
--------------------------------------------
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ: "ব্যবহারিক" শব্দ দ্বারা যা থেকে সতর্ক করা হয়েছে:
ব্যবহারিক শব্দটি উসূলুল ফিকহ থেকে সতর্ক করার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে, যা হলো "ইজমা, খবরে ওয়াহিদ এবং কিয়াস দলীল হওয়ার জ্ঞান; কারণ এ সবই শরয়ী বিধান হওয়া সত্ত্বেও এগুলোর জ্ঞান ফিকহের অন্তর্ভুক্ত নয়; কারণ এগুলোর জ্ঞান কোনো কাজের পদ্ধতি সংক্রান্ত জ্ঞান নয়" অর্থাৎ এটি মুকাল্লাফ ব্যক্তির কাজের বিধান সংক্রান্ত জ্ঞান নয়।
যেহেতু এগুলো "এমন বিষয় যা জানা হয় কিন্তু তা দিয়ে সরাসরি আমল করা হয় না, এবং পরিভাষায় এর বিজ্ঞ ব্যক্তিকে ফকীহ বলা হয় না, বরং উসূলী বলা হয়; তাই সংজ্ঞা থেকে একে বাদ দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে।"
আসফাহানি বলেছেন: এর মাধ্যমে উসূলুল ফিকহ বাদ পড়েছে, কারণ এটি ব্যবহারিক নয়, অর্থাৎ এটি কাজের পদ্ধতি সংক্রান্ত জ্ঞান নয়। ইবন দাকীক আল-ঈদ বলেন: এতে পর্যালোচনার অবকাশ রয়েছে, কারণ এসব থেকে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্যই হলো আমল করা, তাহলে এটি ব্যবহারিক শব্দ দ্বারা কীভাবে বাদ যায়?
বলা হয়েছে: এটি দ্বারা দ্বীনের মূলনীতিসমূহ (আকীদা) থেকে সতর্ক করা হয়েছে এবং এর বিশ্লেষণ আগে অতিক্রান্ত হয়েছে।
--------------------------------------------
(খণ্ড: ১)
আত-তাহকীকাতু আলা শারহিল জালাল লিল-ওয়ারাকাত
(পৃষ্ঠা: ৩২)
المبحث الثالث: من زادها من علماء الأصول ومن أغفلها ومن عدل عنها لغيرها:ذكرها الإمام الرازي فقال "العلم بالأحكام الشرعية العملية المستدل على أعيانها، بحيث لا يعلم كونها في الدين ضرورة"
(1)والبيضاوي: "العلم بالأحكام الشرعية العملية المكتسب من أدلتها التفصيلية"
(2)، وزادها في جمع الجوامع، ومختصراته، ومنظوماته.
ومنهم من ذكرها بطريقة أخرى كالإمام الغزالي "العلم بالأحكام الشرعية الثابتة لأفعال المكلفين" 1/ 4. وكذا الهندي في النهاية 20/ 1.
وصدر الشرعية في التنقيح 1/ 10: معرفة النفس ما لها وما عليها عملاً.
وعدل عنها ابن الحاجب، والآمدي إلى الفرعية وقد تقدم ذلك.
وأغفلها إمام الحرمين في الورقات، والشيرازي "وتعريفه كتعريف إمام الحرمين في الورقات" في اللمع، وأبو الحسن البصري في المعتمد 1/ 4 إذ قال: "جملة من العلوم بأحكام شرعية".
والحاصل: أن من أغفلها فعل ذلك لما يرد عليها من إيراد وما توهمه مما ليس مراداً. ومن ذكرها قصد إخراج علم أصول الفقه كالرازي، أو إخراج أصول الديانات من جهة معينة، وهي حيث لم يتعلق بها كيفية عمل كما سبق تحقيقه.
فتبين من هذا ما المقصود من ذكرها، أو إغفالها. والله أعلم.
--------------------------------------------
তৃতীয় পরিচ্ছেদ: উসুল শাস্ত্রের যে সকল আলেম একে যুক্ত করেছেন, যারা একে উপেক্ষা করেছেন এবং যারা এর পরিবর্তে অন্য পরিভাষা গ্রহণ করেছেন:ইমাম রাজি এটি উল্লেখ করে বলেছেন, "শরয়ি আমলি (ব্যবহারিক) বিধানাবলি সংক্রান্ত এমন জ্ঞান যা সেগুলোর সুনির্দিষ্ট দলিল থেকে আহরিত এবং যা দ্বীনের অলঙ্ঘনীয় ও স্বতঃসিদ্ধভাবে জ্ঞাত বিষয় (জরুরিয়াতে দ্বীন) হিসেবে পরিচিত নয়।"
(১)বায়জাবি বলেছেন: "শরয়ি আমলি বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান যা বিস্তারিত দলিলসমূহ থেকে অর্জিত।"
(২) এবং তিনি একে 'জামউল জাওয়ামি', এর সংক্ষিপ্তসারসমূহ এবং কাব্যগ্রন্থগুলোতে যুক্ত করেছেন।
তাদের মধ্যে কেউ কেউ একে ভিন্ন পদ্ধতিতে উল্লেখ করেছেন, যেমন ইমাম গাজালি: "মুকাল্লাফ (শরয়ি বিধান পালনে বাধ্য ব্যক্তি) ব্যক্তিদের কার্যাবলির জন্য সাব্যস্ত শরয়ি বিধানাবলি সংক্রান্ত জ্ঞান" ১/ ৪। তদ্রূপ হিন্দি 'আন-নিহায়া' ২০/ ১-এ একই কাজ করেছেন।
সাদরুশ শরিয়াহ 'আত-তানকিহ' ১/ ১০-এ উল্লেখ করেছেন: আমলগতভাবে আত্মার পাওনা এবং তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব সম্পর্কে অবগতি।
ইবনে হাজিব এবং আমেদি একে পরিহার করে 'ফারয়িয়া' (শাখাগত) পরিভাষাটি গ্রহণ করেছেন, যা ইতিপূর্বে আলোচিত হয়েছে।
ইমামুল হারামাইন 'আল-ওয়ারাকাত'-এ এবং শিরাজি 'আল-লুমা' গ্রন্থে একে উপেক্ষা করেছেন (এবং শিরাজির সংজ্ঞা 'আল-ওয়ারাকাত'-এ ইমামুল হারামাইনের সংজ্ঞার অনুরূপ)। তদ্রূপ আবুল হাসান আল-বাসরি 'আল-মুতামাদ' ১/ ৪-এ উপেক্ষা করেছেন যখন তিনি বলেছেন: "শরয়ি বিধানাবলি সংক্রান্ত একগুচ্ছ জ্ঞান।"
সারকথা হলো: যারা একে উপেক্ষা করেছেন তারা এর ওপর উত্থাপিত হতে পারে এমন আপত্তি এবং অনভিপ্রেত অর্থের বিভ্রান্তি এড়ানোর জন্য তা করেছেন। আর যারা একে উল্লেখ করেছেন, তাদের উদ্দেশ্য ছিল উসুলুল ফিকহ শাস্ত্রকে বাদ দেওয়া যেমনটি রাজি করেছেন, অথবা আকিদা বা ধর্মতত্ত্বকে একটি নির্দিষ্ট দিক থেকে বাদ দেওয়া; আর তা হলো—যেখানে আমল বা কাজের পদ্ধতির সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, যেমনটি ইতিপূর্বে সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হলো যে, একে উল্লেখ করা বা উপেক্ষা করার উদ্দেশ্য কী ছিল। আর আল্লাহই সর্বজ্ঞ।
--------------------------------------------